(খণ্ড: ১) আদ-দিফাউ আনিস সুন্নাহ - জামিয়াতুল মদীনা (মাজিসতির) (পৃষ্ঠা: -)
الدفاع عن السنة - جامعة المدينة (ماجستير)   (جامعة المدينة العالمية)

القسم: علوم الحديث


الكتاب: الدفاع عن السنة

كود المادة: GUHD5303

المرحلة: ماجستير

المؤلف: مناهج جامعة المدينة العالمية

الناشر: جامعة المدينة العالمية

عدد الصفحات: 432

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 26 جُمادَى الآخرة 1433

সুন্নাহর প্রতিরক্ষা - মদিনা বিশ্ববিদ্যালয় (মাস্টার্স)   (মদিনা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি)

বিভাগ: হাদিস শাস্ত্র (علوم الحديث)


গ্রন্থ: সুন্নাহর প্রতিরক্ষা

বিষয় কোড: GUHD5303

স্তর: মাস্টার্স

লেখক: মদিনা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির পাঠ্যক্রম

প্রকাশক: মদিনা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪৩২

[গ্রন্থের নম্বরবিন্যাস মূল মুদ্রণের অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ২৬ জুমাদাল আখিরাহ ১৪৩৩

(খণ্ড: ১) আদ-দিফাউ আনিস সুন্নাহ - জামিয়াতুল মদীনা (মাজিসতির) (পৃষ্ঠা: -)
-[الدفاع عن السنة]-

كود المادة: GUHD5303

المرحلة: ماجستير

المؤلف: مناهج جامعة المدينة العالمية

الناشر: جامعة المدينة العالمية

عدد الأجزاء: 1

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
-[সুন্নাহর প্রতিরক্ষা]-

বিষয় কোড: GUHD5303

স্তর: মাস্টার্স

লেখক: আল-মদিনা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির পাঠ্যক্রম

প্রকাশক: আল-মদিনা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি

খণ্ড সংখ্যা: ১

[বইটির সংখ্যায়ন মূল মুদ্রণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
(খণ্ড: ১) আদ-দিফাউ আনিস সুন্নাহ - জামিয়াতুল মদীনা (মাজিসতির) (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌الدرس: 1 السنة عند أهل الاختصاص.

بسم الله الرحمن الرحيم

الدرس الأول

(السنة عند أهل الاختصاص)

 

‌‌معنى " السنة " و"الحديث " في اللغة والاصطلاح

الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على خاتم الأنبياء والمرسلين سيدنا محمد، وعلى آله وأحبابه وأصحابه، وأزواجه الطيبين الطاهرين، ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين، ثم أما بعد:

فنبدأ -بتوفيق من الله- بتعريف موجز عن "السنة" في اللغة وفي الاصطلاح، ونستعرض معانيها عند أهل التخصصات المختلفة؛ تمهيدا للدخول في مفردات المنهج بعد ذلك -إن شاء الله.

معنى "السنة" في اللغة:

يقول صاحب (لسان العرب): وسنة الله: أحكامه، وأمره، ونهيه. وسنها الله للناس: بينها. وسنة الله سنة أي: بيَّن طريقًا قويمًا؛ قال تعالى: {سُنَّةَ اللَّهِ فِي الَّذِينَ خَلَوْا مِنْ قَبْلُ} (الأحزاب: 38). والسنة: السيرة، حسنة كانت أو قبيحة. قال خالد بن عتبة الهزيلي:

فلا تجزعن من سيرة أنت سرتها

فأول راض سنة من يسيرها

وفي التنزيل العزيز: {وَمَا مَنَعَ النَّاسَ أَنْ يُؤْمِنُوا إِذْ جَاءَهُمُ الْهُدَى وَيَسْتَغْفِرُوا رَبَّهُمْ إِلَّا أَنْ تَأْتِيَهُمْ سُنَّةُ الْأَوَّلِينَ} (الكهف: 55). وسننتها سنًّا، واست ن نتها أي: سرتها. وسننت لكم سنة أي: فاتبعوها، وفي الحديث الشريف: ((من سن في الإسلام سنة حسنة فله أجرها، وأجر من عمل بها بعده من غير أن ينقص من أجورهم شيئًا، ومن سن في الإسلام سنة سيئة كان عليه وزرها، ووزر من عمل بها من بعده من غير أن ينقص من أوزراهم شيء)).
পাঠ: ১ বিশেষজ্ঞগণের (أهل الاختصاص) নিকট সুন্নাহ (السنة).

বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম

প্রথম পাঠ

(বিশেষজ্ঞগণের (أهل الاختصاص) নিকট সুন্নাহ (السنة))

 

আভিধানিক (اللغة) ও পারিভাষিক (اصطلاح) অর্থে "সুন্নাহ (السنة)" ও "হাদিস" এর মর্মার্থ

সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক সর্বশেষ নবী ও রাসূল আমাদের নেতা মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবার-পরিজন, তাঁর প্রিয়জন ও সঙ্গী-সাথীগণ, তাঁর পবিত্র ও পরিচ্ছন্ন পত্নীগণ এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবেন তাঁদের সকলের উপর। অতঃপর:

আমরা আল্লাহর তাওফিকে "সুন্নাহ (السنة)" এর আভিধানিক (اللغة) ও পারিভাষিক (اصطلاح) সংজ্ঞার একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণের মাধ্যমে শুরু করছি। এরপর পাঠ্যক্রমের বিস্তারিত আলোচনায় প্রবেশের উপক্রমণিকা হিসেবে বিভিন্ন শাস্ত্রের বিশেষজ্ঞগণের (أهل الاختصاص) নিকট এর অর্থসমূহ পর্যালোচনা করব—ইনশাআল্লাহ।

আভিধানিক (اللغة) অর্থে "সুন্নাহ (السنة)":

লিসানুল আরব প্রণেতা বলেন: আল্লাহর সুন্নাহ (سنة الله) হলো—তাঁর বিধানসমূহ (أحكام), তাঁর আদেশ ও তাঁর নিষেধ। আর ‘আল্লাহ মানুষের জন্য এটি বিধিবদ্ধ করেছেন (سنها الله للناس)’ অর্থ হলো—তিনি তা বর্ণনা করেছেন। ‘আল্লাহ সুন্নাহ (سنة) হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন’ অর্থাৎ—তিনি একটি সঠিক পথ বর্ণনা করেছেন। মহান আল্লাহ বলেন: {আল্লাহর এই সুন্নাহ (سنة) তাদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য ছিল যারা পূর্বে গত হয়েছে} (সূরা আল-আহজাব: ৩৮)। আর সুন্নাহ (السنة) হলো—জীবন পদ্ধতি বা পথ (سيرة), তা ভালো হোক বা মন্দ। খালিদ বিন উতবাহ আল-হুজালি বলেছেন:

তুমি যে পথে (سيرة) চলেছ তাতে ভীত হয়ো না

কারণ যে ব্যক্তি কোনো পথ (سنة) প্রবর্তন করে, সে-ই প্রথম তার প্রতি সন্তুষ্ট থাকে

মহাগ্রন্থ আল-কুরআনে এসেছে: {লোকদের কাছে যখন হেদায়াত আসলো তখন তাদেরকে ঈমান আনতে ও তাদের প্রতিপালকের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতে কেবল এটাই বাধা দিল যে, তাদের নিকট পূর্ববর্তীদের সুন্নাহ (سنة) আসুক} (সূরা আল-কাহাফ: ৫৫)। আর ‘আমি একটি পথ (سنة) প্রবর্তন করেছি’ এবং ‘আমি একটি পথ অনুসরণ করেছি’ উভয়ের অর্থই হলো—আমি সেই পথে (سيرة) চলেছি। ‘আমি তোমাদের জন্য একটি সুন্নাহ (سنة) প্রবর্তন করেছি’ অর্থ হলো—তোমরা তা অনুসরণ করো। হাদিস শরীফে এসেছে: ((যে ব্যক্তি ইসলামে কোনো উত্তম সুন্নাহ (سنة) বা পদ্ধতির সূচনা করল, সে তার প্রতিদান পাবে এবং পরবর্তী যারা সে অনুযায়ী আমল করবে তাদের সওয়াবও সে পাবে, তবে তাদের সওয়াব থেকে বিন্দুমাত্র কমানো হবে না। আর যে ব্যক্তি ইসলামে কোনো মন্দ সুন্নাহ (سنة) বা পদ্ধতির সূচনা করল, তার ওপর সেই কাজের গুনাহ বর্তাবে এবং পরবর্তী যারা সে অনুযায়ী আমল করবে তাদের গুনাহও তার ওপর বর্তাবে, তবে তাদের গুনাহ থেকে সামান্যও কমানো হবে না))।
(খণ্ড: ১) আদ-দিফাউ আনিস সুন্নাহ - জামিয়াতুল মদীনা (মাজিসতির) (পৃষ্ঠা: ১০)
فأول معنى للسنة هي: الطريقة، وفي (الصحاح) للجوهري: السنن أو السَّنن: الطريقة، يقال: استقام فلان على سنن فلان، ويقال: امض على سننك وسنتك أي: على وجهك. والسنة بمعنى السيرة، هذا كلام الجوهري، وسبق كلام صاحب اللسان، وأيضًا نفس الكلام في (القاموس المحيط)، وبالتالي نستطيع أن نقول: أن السنة في اللغة تأتي بمعنى الطريقة، مثل: قوله سبحانه وتعالى: {سُنَّةَ اللَّهِ فِي الَّذِينَ خَلَوْا مِنْ قَبْلُ وَلَنْ تَجِدَ لِسُنَّةِ اللَّهِ تَبْدِيلًا} (الأحزاب: 62). وقال صلى الله عليه وسلم: ((تلك سنتي فمن رغب عن سنتي فليس مني)) هذا حديث أو جزء من حديث رواه الإمام البخاري في كتاب النكاح، باب: الترغيب في النكاح، من حديث أنس رضي الله عنه في قصة: جاء ثلاثة رهط إلى النبي صلى الله عليه وسلم، وفي النهاية قال لهم النبي صلى الله عليه وسلم: ((تلك سنتي، فمن رغب عن سنتي فليس مني)) أي: هذه طريقتي، فمن رغب عن طريقتي فليس مني.

أيضًا سنة الله: هذا منهج الله، وطريقة الله في الذين خلوا من قبل، ولن يغير الله منهجه الذي كان سائدًا وحاكمًا للسابقين من الأمم.

إذًا، تأتي السنة بمعنى السيرة، وتأتي بمعنى الطريقة، والمعنيان قريبان من بعضها ليس بعيدين تماما، إنما هما قريبان، صاحب اللسان يقول: وكل من ابتدأ أمرًا عمل به قوم بعده، قيل: هو الذي سنه، فكأنها تطلق على أول الشيء، ويقال أيضًا السنة في اللغة بمعنى: اللعب. في حديث رواه البخاري في كتاب الجهاد من قول أبي هرير ة رضي الله عنه بعد أن ذكر الحديث: ((الخيل لثلاثة)) قال: إن فرس المجاهد ليستن في طوله، فيكتب له حسنات. يستن يعني: يلعب ويلهو ويمرح، يعني: معنى الجملة: أن الفرس الذي أعده المجاهد للجهاد به في سبيل الله كل أحواله تصبح في ميزان حسناته حتى في الأوقات
সুন্নাহ (السنة)-র প্রথম অর্থ হলো: পদ্ধতি (الطريقة)। জওহরীর আস-সিহাহ গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে: আস-সুনান বা আস-সানান অর্থ হলো পদ্ধতি (الطريقة)। বলা হয়ে থাকে: অমুক ব্যক্তি অমুকের পদ্ধতির (سنن) ওপর অটল রয়েছে। আরও বলা হয়: তুমি তোমার সুন্নাহ (سنتك) বা পদ্ধতির (سنتك) ওপর অবিচল থাকো, অর্থাৎ তোমার লক্ষ্যের দিকে অগ্রসর হও। সুন্নাহ (السنة) জীবন চরিত (السيرة) অর্থেও ব্যবহৃত হয়—এটি জওহরীর বক্তব্য। লিসানুল আরবের লেখকের বক্তব্যও ইতিপূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে। অনুরূপ বক্তব্য আল-কামুস আল-মুহিত গ্রন্থেও বিদ্যমান। ফলশ্রুতিতে আমরা বলতে পারি: আভিধানিক দৃষ্টিকোণ থেকে সুন্নাহ (السنة) পদ্ধতি (الطريقة) অর্থে ব্যবহৃত হয়; যেমন মহান আল্লাহর বাণী: “পূর্ববর্তীদের ক্ষেত্রে আল্লাহর বিধান (سنة الله) এমনই ছিল। আর আপনি আল্লাহর বিধানে কখনো কোনো পরিবর্তন পাবেন না।” (সূরা আল-আহযাব: ৬২)। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “এটিই আমার সুন্নাহ (سنتي), সুতরাং যে ব্যক্তি আমার সুন্নাহ (سنتي) থেকে বিমুখ হবে সে আমার অন্তর্ভুক্ত নয়।” এটি একটি হাদিস অথবা হাদিসের অংশ যা ইমাম বুখারি কিতাবুন নিকাহ-এর ‘বিবাহের প্রতি উৎসাহ প্রদান’ অনুচ্ছেদে আনাস (রা.)-এর বর্ণিত সেই ঘটনায় উদ্ধৃত করেছেন যেখানে তিন ব্যক্তির একটি দল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এসেছিলেন। পরিশেষে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের বলেছিলেন: “এটিই আমার সুন্নাহ (سنتي), সুতরাং যে ব্যক্তি আমার সুন্নাহ (سنتي) থেকে বিমুখ হবে সে আমার অন্তর্ভুক্ত নয়।” অর্থাৎ: এটিই আমার পদ্ধতি (طريقتي), সুতরাং যে আমার পদ্ধতি (طريقتي) থেকে বিমুখ হবে সে আমার অন্তর্ভুক্ত নয়।

অনুরূপভাবে ‘সুন্নাতুল্লাহ’: এটি হলো আল্লাহর কর্মপন্থা (المنهج) এবং পূর্ববর্তীদের ক্ষেত্রে আল্লাহর অনুসৃত নিয়ম। আল্লাহ তাঁর সেই নীতি বা কর্মপন্থা (المنهج) পরিবর্তন করবেন না যা বিগত উম্মতদের মাঝে প্রচলিত ও নিয়ন্ত্রক হিসেবে বিদ্যমান ছিল।

অতএব, সুন্নাহ (السنة) শব্দটি জীবন চরিত (السيرة) এবং পদ্ধতি (الطريقة) উভয় অর্থেই ব্যবহৃত হয়। এই অর্থদ্বয় পরস্পরের অত্যন্ত নিকটবর্তী, পুরোপুরি ভিন্ন নয় বরং সামঞ্জস্যপূর্ণ। লিসানুল আরবের লেখক বলেন: যে ব্যক্তি কোনো বিষয়ের সূচনা করল এবং পরবর্তী কোনো জাতি তা অনুসরণ করল, তবে বলা হয় যে সে ব্যক্তিই এর প্রচলন (سنه) করেছে। যেন এটি কোনো বিষয়ের প্রারম্ভিক অবস্থার ওপর প্রয়োগ করা হয়। আভিধানিক অর্থে সুন্নাহ (السنة) ক্রীড়া বা খেলাধুলা (اللعب) অর্থেও ব্যবহৃত হয়। ইমাম বুখারি কিতাবুল জিহাদ-এ আবু হুরায়রা (রা.)-এর উক্তি থেকে একটি হাদিস বর্ণনা করেছেন। হাদিসটি বর্ণনার পর তিনি বলেন: “ঘোড়া তিন প্রকার”। সেখানে বলা হয়েছে: মুজাহিদের ঘোড়া তার দীর্ঘ রশিতে বাঁধা অবস্থায় খেলাধুলা (ليستن) করলেও তার জন্য নেকি লেখা হয়। ‘ইয়াসতান্নু’ (يستن) অর্থ হলো: সে খেলা করে, আমোদ-প্রমোদ করে এবং চঞ্চলতা প্রকাশ করে। অর্থাৎ এই বাক্যটির মর্মার্থ হলো: মুজাহিদ আল্লাহর পথে জিহাদের জন্য যে ঘোড়া প্রস্তুত করেছেন, তার প্রতিটি অবস্থাই তার নেকির পাল্লায় যুক্ত হবে, এমনকি ওই মুহূর্তগুলোতেও
(খণ্ড: ১) আদ-দিফাউ আনিস সুন্নাহ - জামিয়াতুল মদীনা (মাজিসতির) (পৃষ্ঠা: ১১)
التي يلهو فيها الفرس، ويلعب، ويمرح، ويجري هنا وهناك، ويعدو نشاطًا وفرحًا، وهمة. هذه أيضًا مكتوبة في ميزان حسنات صاحبه ما دام قد أعده للجهاد.

السنة في المعنى الاصطلاحي:

السنة لها معان متعددة عند أهل كل مصطلح، أو عند أهل كل تخصص من تخصصات العلم، فالسنة مثلًا عند الفقهاء -ونحن نعلم أن الفقهاء معنيون ببيان ما يجب على المكلف، وما يحرم عليه، وما يستحب في حقه، وما يكره، وما هو مباح له، والتي يعبر عنها بالأحكام التكليفية الخمسة.

عندنا الواجب، وهو ما يثاب فاعله ويعاقب تاركه، وعندما أمور شرعية مطلوبة، لكنها قد لاتصل إلى درجة الوجوب في طلبها يعني: مطلوبة. ويستحب للمسلم أن يأتي بها لكنها لم تصل إلى درجة الوجوب. فاصطلح أهل الفقه على تسميتها بالسنة، فإذا كان الواجب هو ما يثاب فاعله، ويعاقب تاركه؛ لأنه حتم عليه أن يفعله، فإن السنة هي ما يثاب فاعلها، ولا يعاقب تاركها. يعني: هي لا تصل إلى درجة الوجوب الذي إذا تركه صاحبه بدون عذر فهو آثم. فهي عند الفقهاء أقل إلزامًا من الفرض.

أما علماء الأصول: فإن بحثهم يتجه إلى مصادر الشريعة، واستمداد الأدلة الشرعية من النصوص، واستنباط الأحكام منها. ومن هنا، كان اهتمامهم بالسنة؛ لأنها المصدر الثاني للتشريع بعد كتاب الله تعالى. فهي مصدر من مصادر التشريع عندهم، المصدر الأول: هو كتاب الله تعالى. المصدر الثاني: هو السنة المطهرة.
যেখানে ঘোড়াটি খেলাধুলা করে, প্রমোদ বিহার করে, আনন্দ-স্ফূর্তি করে এবং এখানে-সেখানে ছোটাছুটি করে এবং সক্রিয়তা, আনন্দ ও উদ্দীপনার সাথে দৌড়ায়। এই সব কিছুও তার মালিকের নেক আমলের পাল্লায় লিপিবদ্ধ হবে, যতক্ষণ পর্যন্ত সে একে জিহাদের জন্য প্রস্তুত রাখবে।

পারিভাষিক অর্থে সুন্নাহ (السنة):

প্রতিটি শাস্ত্রীয় পরিভাষার বিশেষজ্ঞ অথবা ইলমের প্রতিটি বিশেষায়িত শাখার পণ্ডিতগণের নিকট সুন্নাহর (السنة) একাধিক অর্থ রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, ফকিহগণের নিকট সুন্নাহ (السنة)—আর আমরা জানি যে ফকিহগণ মুকাল্লাফ (المكلف) বা শরীয়তের বিধান পালনে বাধ্য ব্যক্তির ওপর যা ওয়াজিব (الواجب), যা তার জন্য হারাম (الحرام), যা তার ক্ষেত্রে মুস্তাহাব (المستحب), যা মাকরূহ (المكروه) এবং যা তার জন্য মুবাহ (المباح), তা বর্ণনা করার বিষয়ে নিবিষ্ট থাকেন; যেগুলোকে পাঁচটি শরয়ী বিধান (الأحكام التكليفية الخمسة) দ্বারা ব্যক্ত করা হয়।

আমাদের নিকট ওয়াজিব (الواجب) রয়েছে; এটি এমন বিষয় যার সম্পাদনকারী সওয়াব লাভ করে এবং বর্জনকারী শাস্তির সম্মুখীন হয়। আবার কিছু শরয়ী বিষয় রয়েছে যা আকাঙ্ক্ষিত, কিন্তু চাওয়ার ক্ষেত্রে তা ওয়াজিবের (الوجوب) স্তরে পৌঁছায় না; অর্থাৎ তা কাম্য। একজন মুসলিমের জন্য তা সম্পাদন করা মুস্তাহাব (المستحب), তবে তা ওয়াজিবের (الوجوب) স্তরে পৌঁছায়নি। ফিকহ শাস্ত্রবিদগণ এর নামকরণ করেছেন সুন্নাহ (السنة) হিসেবে। সুতরাং ওয়াজিব (الواجب) যদি এমন হয় যার সম্পাদনকারী সওয়াব পায় এবং বর্জনকারী শাস্তির সম্মুখীন হয়—কেননা তা সম্পাদন করা তার ওপর অবধারিত—তবে সুন্নাহ (السنة) হলো এমন বিষয় যার সম্পাদনকারী সওয়াব পায় কিন্তু বর্জনকারী শাস্তির সম্মুখীন হয় না। অর্থাৎ, এটি ওয়াজিবের (الوجوب) সেই পর্যায়ে পৌঁছায় না যেখানে কোনো ওজর ছাড়া তা বর্জন করলে ব্যক্তি গুনাহগার হয়। ফকিহগণের নিকট এটি ফরজ (الفرض) অপেক্ষা কম বাধ্যতামূলক।

পক্ষান্তরে উসুলবিদগণের (علماء الأصول) নিকট: তাদের গবেষণার লক্ষ্য হলো শরীয়তের উৎসসমূহ, মূল পাঠ (নুসুস) থেকে শরয়ী দলিল আহরণ এবং তা থেকে বিধান উদ্ঘাটন করা। এখান থেকেই সুন্নাহর (السنة) প্রতি তাদের গুরুত্বারোপ; কারণ এটি মহান আল্লাহর কিতাবের পর শরীয়ত প্রণয়নের (تشريع) দ্বিতীয় উৎস। এটি তাদের নিকট শরীয়ত প্রণয়নের (تشريع) অন্যতম উৎস। প্রথম উৎস হলো মহান আল্লাহর কিতাব এবং দ্বিতীয় উৎস হলো পবিত্র সুন্নাহ (السنة)।
(খণ্ড: ১) আদ-দিফাউ আনিস সুন্নাহ - জামিয়াতুল মদীনা (মাজিসতির) (পৃষ্ঠা: ১২)
السنة عند أهل الأصول: ما أضيف إلى النبي صلى الله عليه وسلم من قول، أو فعل، أو تقرير، مما يصلح أن يكون دليلًا لحكم شرعي.

وننتبه إلى أهمية هذا القيد الأخير، مما يصلح أن يكون دليلًا لحكم شرعي. السنة: هي ما جاءنا عن النبي صلى الله عليه وسلم من قول، أو فعل، أو تقرير، أو صفة خَلقية، أو خُلقية .. إلخ.

هل يعتبر من ذلك الصفات الخلقية والخلقية عند أهل الأصول؟ نحن قلنا: إن أهل الأصول معنيون باستمداد الأدلة من النصوص، فهم يريدون من السنة النصوص التي يمكن أن تستنبط منها أدلة على الأحكام الشرعية. أما إذا كان النص يصف مثلًا خلقا للنبي صلى الله عليه وسلم أو مثلًا يحث على أمر فيه من الفضائل، فقد لا يكون في هذه الحالة دليلًا على حكم شرعي، وبالتالي لا يصبح جزءًا من السنة عند أهل الأصول.

فإذا كان أهل الأصول قد اصطلحوا على أن السنة هي ما أضيف إلى النبي صلى الله عليه وسلم من قول، أو فعل، أو تقرير مما يصلح أن يكون دليلًا للحكم الشرعيّ فهم لا ينكرون بقية التعريف الذي اصطلح عليه أهل الحديث، إنما فقط اقتصروا من السنة على الجزء الذي يعنيهم في تخصصهم، وهو ما أضيف إلى النبي صلى الله عليه وسلم من قول، أو فعل، أو تقرير؛ لأن هذه الأمور الثلاثة في نظرهم هي الأمور التي من الممكن أن يستمد منها الدليل على الحكم الشرعي.

أيضًا هناك استعمالات لكلمة السنة تفهم في سياقها، مثلًا: قد تطلق السنة، ويراد بها الجانب العملي الذي نقل لنا عن رسول الله صلى الله عليه وسلم وعن صحابته الكرام.
উসুল শাস্ত্রবিদদের (أهل الأصول) নিকট সুন্নাহ (السنة) হলো: যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দিকে তাঁর কথা (قول), কাজ (فعل) বা মৌনসম্মতি (تقرير) হিসেবে সম্পৃক্ত করা হয়েছে এবং যা কোনো শরয়ি বিধানের (حكم شرعي) দলিল (دليل) হওয়ার যোগ্যতা রাখে।

এবং আমাদের এই শেষ শর্তটির (قيد) গুরুত্বের প্রতি লক্ষ্য রাখা উচিত, যা হলো— "যা কোনো শরয়ি বিধানের দলিল হওয়ার যোগ্যতা রাখে"। সুন্নাহ (السنة) হলো: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে আমাদের নিকট যা কিছু কথা (قول), কাজ (فعل), মৌনসম্মতি (تقرير), শারীরিক বৈশিষ্ট্য (صفة خَلقية) বা চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য (صفة خُلقية) ইত্যাদি হিসেবে পৌঁছেছে।

উসুল শাস্ত্রবিদদের (أهل الأصول) নিকট কি শারীরিক ও চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যগুলো এর অন্তর্ভুক্ত বলে গণ্য হবে? আমরা বলেছি যে: উসুল শাস্ত্রবিদরা মূল পাঠ (نصوص) থেকে দলিল আহরণ করার সাথে সংশ্লিষ্ট। তাই তাঁরা সুন্নাহ (السنة) বলতে সেইসব পাঠকে বোঝাতে চান যেখান থেকে শরয়ি বিধানের দলিলসমূহ উদ্ভাবন (استنباط) করা সম্ভব। পক্ষান্তরে, যদি কোনো পাঠে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কোনো চরিত্রের বর্ণনা থাকে কিংবা কোনো ফজিলতপূর্ণ (فضائل) বিষয়ের প্রতি উৎসাহ প্রদান করা হয়, তবে তা এই অবস্থায় কোনো শরয়ি বিধানের দলিল নাও হতে পারে; ফলস্বরূপ তা উসুল শাস্ত্রবিদদের নিকট সুন্নাহর অংশ হিসেবে গণ্য হয় না।

সুতরাং উসুল শাস্ত্রবিদরা (أهل الأصول) যদি এই পরিভাষা (اصطلاح) গ্রহণ করে থাকেন যে, সুন্নাহ (السنة) হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দিকে সম্পৃক্ত কথা (قول), কাজ (فعل) বা মৌনসম্মতি (تقرير) যা শরয়ি বিধানের দলিল হওয়ার যোগ্য, তবে তাঁরা হাদিস শাস্ত্রবিদদের (أهل الحديث) প্রচলিত সংজ্ঞার বাকি অংশকে অস্বীকার করেন না। বরং তাঁরা সুন্নাহর মধ্য থেকে কেবল সেই অংশটুকুর ওপর সীমাবদ্ধ থেকেছেন যা তাঁদের বিশেষায়িত বিষয়ের (تخصص) সাথে সংশ্লিষ্ট, আর তা হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দিকে সম্পৃক্ত কথা, কাজ বা মৌনসম্মতি; কারণ তাঁদের দৃষ্টিতে এই তিনটি বিষয়ই হলো এমন ক্ষেত্র যেখান থেকে শরয়ি বিধানের দলিল আহরণ করা সম্ভব।

এছাড়াও 'সুন্নাহ' শব্দের এমন কিছু ব্যবহার রয়েছে যা এর প্রাসঙ্গিকতা (سياق) থেকে বোঝা যায়; যেমন: কখনো 'সুন্নাহ' বলতে সেই প্রায়োগিক দিকটিকে (الجانب العملي) বোঝানো হয় যা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর সম্মানিত সাহাবীগণের (صحابة) থেকে আমাদের নিকট বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আদ-দিফাউ আনিস সুন্নাহ - জামিয়াতুল মদীনা (মাজিসতির) (পৃষ্ঠা: ১৩)
أما الحديث: فهو الأخبار التي نقلت لنا عن النبي صلى الله عليه وسلم. كأن السنة هي الجانب العملي، والحديث هو الإخبار بما جاءنا عن النبي صلى الله عليه وسلم، فمثلًا: من الممكن أن تقول: من السنة صيام ثلاثة أيام من كل شهر، من السنة أن يستاك الإنسان عند القيام من نومه، وعند الوضوء، وعند الصلاة، وهكذا السنة في هذه الحالة مقصود بها: الجانب العملي من الإسلام، وقد توضع السنة في مقابلة البدعة، فيقال: هذا من السنة، وهذا من البدعة، والسنة في هذه الحالة معناها: أنها الأمر المتوافق مع أدلة الشرع المستنبطة من القرآن ومن السنة، فهي ليست مقصورة في هذه الحالة على الحديث النبوي، ولا يقصد بها النصوص النبوية فقط، وإنما يقصد بها: الحكم الشرعي المستمد من خلال النصوص الشرعية الواردة في المسألة، سواء من أدلة القرآن الكريم، أو من أدلة السنة المطهرة. فيقال: هذا من السنة، ويقال: هذا من البدعة، فمثلًا: نقول من السنة قص الأظافر، ومن البدعة تركها، أو ترك بعض الأصابع. البدعة في هذه الحالة: هي المخالف لمنهج الشرع، والسنة في هذا السياق: هي ما وافق الشرع المأخوذ من كتاب الله تبارك وتعالى ومن سنة نبيه صلى الله عليه وسلم.

ولذلك؛ حين يقول النبي صلى الله عليه وسلم: ((عليكم بستني وسنة الخلفاء الراشدين المهديين من بعدي)) في الحديث الذي رواه الترمذي في كتاب العلم، باب: ما جاء في الأخذ بالسنة، كجزء من حديث طويل نصه من حديث العرباض بن سارية رضي الله عنه قال: ((صلى بنا النبي صلى الله عليه وسلم الصبح ذات يوم، ثم أقبل علينا فوعظنا موعظة بليغة ذرفت منها العيون، ووجلت منها القلوب، فقال قائل: يا رسول الله، كأنها موعظة مودع فماذا تعهد إلينا؟ فقال صلى الله عليه وسلم: أوصيكم بتقوى الله، والسمع والطاعة، وإن كان عبدا حبشيًا -أي وإن تأمر عليكم عبد حبشي- فإنه من يعش منكم بعدي فسيرى اختلافا كثيرا)) ما هي العصمة من هذا الاختلاف؟
পক্ষান্তরে হাদিস হলো সেই সকল সংবাদ যা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে আমাদের নিকট বর্ণিত হয়েছে। যেন সুন্নাহ হলো ব্যবহারিক দিক, আর হাদিস হলো নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে আমাদের কাছে যা পৌঁছেছে তার সংবাদ প্রদান করা। উদাহরণস্বরূপ: আপনি বলতে পারেন, প্রতি মাসে তিন দিন রোজা রাখা সুন্নাহর অন্তর্ভুক্ত; ঘুম থেকে ওঠার সময়, ওজুর সময় এবং নামাজের সময় মেসওয়াক করা সুন্নাহর অন্তর্ভুক্ত। এভাবে এই ক্ষেত্রে সুন্নাহ বলতে ইসলামের ব্যবহারিক দিকটি উদ্দেশ্য। কখনও কখনও বিদআতের (البدعة) বিপরীতে সুন্নাহ শব্দটি ব্যবহৃত হয়, তখন বলা হয়: এটি সুন্নাহর অন্তর্ভুক্ত এবং এটি বিদআতের (البدعة) অন্তর্ভুক্ত। আর এই অবস্থায় সুন্নাহর অর্থ হলো: এমন বিষয় যা কুরআন ও সুন্নাহ থেকে সংগৃহীত শরীয়তের দলিল (أدلة) সমূহের সাথে সংগতিপূর্ণ। সুতরাং এই ক্ষেত্রে এটি কেবল নববী হাদিসের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় এবং এর দ্বারা শুধু নববী নصوص (النصوص) বা পাঠসমূহ উদ্দেশ্য নয়, বরং এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো সংশ্লিষ্ট মাসআলায় বর্ণিত শরয়ী নصوص (النصوص) থেকে গৃহীত শরয়ী হুকুম (الحكم الشرعي), চাই তা পবিত্র কুরআনের দলিল (أدلة) থেকে হোক বা পবিত্র সুন্নাহর দলিল (أدلة) থেকে। তাই বলা হয়: এটি সুন্নাহর অন্তর্ভুক্ত এবং এটি বিদআতের (البدعة) অন্তর্ভুক্ত। যেমন: আমরা বলি নখ কাটা সুন্নাহর অন্তর্ভুক্ত এবং তা বর্জন করা অথবা কিছু আঙুলের নখ না কাটা বিদআতের (البدعة) অন্তর্ভুক্ত। এই ক্ষেত্রে বিদআত (البدعة) হলো যা শরীয়তের মানহাজের (منهج) পরিপন্থী, আর এই প্রসঙ্গে সুন্নাহ হলো তা যা মহান আল্লাহর কিতাব এবং তাঁর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সুন্নাহ থেকে গৃহীত শরীয়তের সাথে সংগতিপূর্ণ।

আর এই কারণেই যখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন: ((তোমরা আমার সুন্নাহ এবং আমার পরবর্তী হিদায়েতপ্রাপ্ত খুলাফায়ে রাশিদীনের সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরো)) তিরমিজি কর্তৃক কিতাবুল ইলম-এর 'সুন্নাহ অনুসরণের বর্ণনা' অধ্যায়ে বর্ণিত হাদিসে, যা একটি দীর্ঘ হাদিসের অংশ এবং যার পাঠ (نص) ইরবাদ ইবনে সারিয়া (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: ((একদিন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের নিয়ে ফজরের নামাজ পড়লেন, তারপর আমাদের দিকে ফিরে অত্যন্ত হৃদয়স্পর্শী নসিহত করলেন, যাতে চোখ ফেটে পানি আসছিল এবং অন্তরসমূহ প্রকম্পিত হচ্ছিল। তখন একজন বললেন: হে আল্লাহর রাসুল! এটি যেন বিদায়ী ব্যক্তির উপদেশ, অতএব আপনি আমাদের কী অসিয়ত করছেন? তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: আমি তোমাদেরকে আল্লাহভীতি এবং (নেতার আদেশ) শ্রবণ ও আনুগত্য করার অসিয়ত করছি, যদিও সে একজন হাবশি গোলাম হয়—অর্থাৎ যদিও তোমাদের ওপর একজন হাবশি গোলামকে আমির নিযুক্ত করা হয়—কেননা আমার পর তোমাদের মধ্যে যারা বেঁচে থাকবে তারা অনেক মতপার্থক্য দেখতে পাবে))। এই মতপার্থক্য থেকে বাঁচার উপায় কী?
(খণ্ড: ১) আদ-দিফাউ আনিস সুন্নাহ - জামিয়াতুল মদীনা (মাজিসতির) (পৃষ্ঠা: ১৪)
يقول النبي صلى الله عليه وسلم: ((فعليكم بسنتي، وسنة الخلفاء الراشدين المهديين، تمسكوا بها، وعضوا عليها بالنواجذ، وإياكم محدثات الأمور؛ فإن كل محدثة بدعة، وكل بدعة ضلالة)) هنا السنة وضعت في مقابلة محدثات الأمور، أي: البدع. ونبه النبي صلى الله عليه وسلم أن كل محدثة بدعة، وأن كل بدعة ضلالة، فالسنة في هذا السياق هي الموافق لسلوك النبي صلى الله عليه وسلم، ولسلوك الخلفاء الراشدين المهديين من بعده رضي الله عنهم أجمعين-، ولذلك نستطيع في ضوء ذلك أن فهم بعض أقوال أهل العلم، مثل: قول عبد الرحمن بن مهدي -رحمه الله تعالى- وهو واحد من أفذاذ علم الحديث ورجاله، ومن كبار العلماء بالسنة، حينما سئل عن مالك بن أنس، والأوزاعي، وسفيان بن عيينة فقال: الأوزاعي إمام في السنة، وليس بإمام في الحديث، وسفيان إمام في الحديث، وليس بإمام في السنة، ومالك إمام فيهما. وإجابة عبد الرحمن بن مهدي -رحمه الله تعالى- في مثل هذا الاستعمال، إنما يراد بها الجانب العملي في الإسلام.

أما الحديث: فهو الاشتغال بما نقل لنا عن رسول الله صلى الله عليه وسلم من أقواله، وأفعاله، وتقريراته. ولذلك في هذا المعنى يقول خامس الخلفاء الراشدين عمر بن عبد العزيز رضي الله عنه: سن رسول الله صلى الله عليه وسلم، وولاة الأمور بعده سننا، الأخذ بها تصديق لكتاب الله، واستكمال لطاعة الله، وقوة على دين الله، من عمل بها فهو مهتد، ومن خالفها اتبع غير سبيل المؤمنين، إلى آخر ما قال -رحمه الله تعالى ورضي عنه-.

فهذه السياقات تبين أن السنة عند أهل الحديث هي: كل ما نقل عن النبي صلى الله عليه وسلم، أو كل ما جاءنا عن النبي صلى الله عليه وسلم، أو كل ما صدر عن النبي صلى الله عليه وسلم من قول، أو فعل، أو إقرار، أو صفة خَلقية، أو خلقية، حتى الحركات والسكنات في اليقظة، وفي المنام قبل البعثة أو بعدها.
নবী (সা.) ইরশাদ করেছেন: "তোমরা আমার সুন্নাহ এবং আমার পরবর্তী হিদায়াতপ্রাপ্ত খুলাফায়ে রাশিদীনের সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরো। একে দৃঢ়ভাবে ধারণ করো এবং দাঁত দিয়ে কামড়ে ধরে থাকো। আর তোমরা দ্বীনের নব উদ্ভাবিত বিষয়সমূহ (محدثات الأمور) থেকে বেঁচে থাকো; কারণ প্রতিটি নব উদ্ভাবিত বিষয়ই বিদআত (بدعة), আর প্রতিটি বিদআত (بدعة) হলো ভ্রষ্টতা (ضلالة)।" এখানে সুন্নাহ শব্দটি নব উদ্ভাবিত বিষয়সমূহ (محدثات الأمور) তথা বিদআত (بدعة)-এর বিপরীতে ব্যবহার করা হয়েছে। নবী (সা.) সতর্ক করেছেন যে, প্রতিটি নব উদ্ভাবিত বিষয়ই বিদআত (بدعة) এবং প্রতিটি বিদআত (بدعة) হলো ভ্রষ্টতা (ضلالة)। সুতরাং এই প্রেক্ষাপটে সুন্নাহ হলো তা-ই, যা নবী (সা.)-এর পবিত্র আচরণ এবং তাঁর পরবর্তী হিদায়াতপ্রাপ্ত খুলাফায়ে রাশিদীনের (রা.) আচরণের সাথে সংগতিপূর্ণ। আর এ কারণেই এর আলোকে আমরা আলেমগণের (أهل العلم) কিছু উক্তি বুঝতে পারি। যেমন: আব্দুর রহমান ইবনে মাহদী (রহ.)-এর উক্তি; যিনি হাদিস শাস্ত্র ও এর বর্ণনাকারীগণের (رجال) ইলমের ক্ষেত্রে এক অনন্য ব্যক্তিত্ব এবং সুন্নাহর বিজ্ঞ আলেমদের একজন। যখন তাঁকে মালিক ইবনে আনাস, আওযায়ী এবং সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনাহ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, তখন তিনি বলেছিলেন: "আওযায়ী হলেন সুন্নাহর ইমাম, কিন্তু তিনি হাদিসের ইমাম নন; আর সুফিয়ান হলেন হাদিসের ইমাম, কিন্তু তিনি সুন্নাহর ইমাম নন; অন্যদিকে মালিক উভয় বিষয়েরই ইমাম।" আব্দুর রহমান ইবনে মাহদী (রহ.)-এর এই উত্তরের মাধ্যমে এই ধরনের ব্যবহারের ক্ষেত্রে ইসলামের ব্যবহারিক বা আমলি দিকটিকেই উদ্দেশ্য করা হয়েছে।

পক্ষান্তরে হাদিস হলো: রাসূলুল্লাহ (সা.) থেকে আমাদের নিকট যা কিছু তাঁর কথা, কাজ ও মৌনসম্মতি (تقريرات) হিসেবে বর্ণিত হয়েছে, তা নিয়ে চর্চা করা। এ কারণেই এই অর্থে পঞ্চম খলিফা উমর ইবনে আব্দুল আজিজ (রা.) বলেছেন: "রাসূলুল্লাহ (সা.) এবং তাঁর পরবর্তী শাসকবর্গ কতগুলো রীতি বা সুন্নাহ প্রবর্তন করেছেন; যা গ্রহণ করা হলো আল্লাহর কিতাবকে সত্য বলে মেনে নেওয়া, আল্লাহর আনুগত্যকে পূর্ণতা দান করা এবং আল্লাহর দ্বীনের ওপর শক্তিশালী হওয়া। যে ব্যক্তি এর ওপর আমল করবে সে সুপথপ্রাপ্ত (مهتد), আর যে এর বিরোধিতা করবে সে মুমিনদের পথ বহির্ভূত পথ অনুসরণ করল..." তাঁর বক্তব্যের শেষ পর্যন্ত (রহ. ও রা.)।

সুতরাং এই প্রেক্ষাপটগুলো স্পষ্ট করে যে, হাদিস বিশারদগণের (أهل الحديث) নিকট সুন্নাহ হলো: নবী (সা.) থেকে বর্ণিত প্রতিটি বিষয়, অথবা নবী (সা.) থেকে আমাদের কাছে যা পৌঁছেছে, অথবা তাঁর থেকে প্রকাশিত প্রতিটি কথা, কাজ, মৌনসম্মতি (إقرار), শারীরিক গঠন (صفة خلقية) কিংবা চারিত্রিক গুণাবলি (صفة خلقية); এমনকি জাগ্রত অবস্থায় কিংবা ঘুমের ঘোরে নবুওয়াত প্রাপ্তির আগে বা পরের সমস্ত নড়াচড়া ও স্থিরতা।
(খণ্ড: ১) আদ-দিফাউ আনিস সুন্নাহ - জামিয়াতুল মদীনা (মাজিসতির) (পৃষ্ঠা: ১৫)
الجوانب التي تشملها السنة من كل الوجوه:

ما جاءنا عن النبي صلى الله عليه وسلم من قول نسميها: السنة القولية، ونقصد بها: ما قالها النبي صلى الله عليه وسلم بلسانه من غير أن يكون هذا القول مقترنًا بفعل منه صلى الله عليه وسلم. هذه السنة القولية قد تتضمن فعلًا، لكنه حين قالها لم يفعل، فهي سنة قولية، حتى وإن تضمنت الأمر للأمة بفعل، مثلًا: حين يقول النبي صلى الله عليه وسلم: عودوا المريض هو يأمرنا هنا بفعل بزيارة المريض، حين يقول: فكوا العاني، أي: فكوا الأسير، هذا أمر بفعل، أي: علينا أن نعمل على فكاك الأسير بكل الطرق الممكنة، لكنها سنة قولية؛ لأنه صلى الله عليه وسلم لم يقترن قوله بفعل منه حين قال.

أما السنة الفعلية: فهي التي كان فيها فعل. السنة الفعلية فيها عمل، فيها فعل من النبي صلى الله عليه وسلم، وقد يكون مع هذا الفعل قول، وقد لا يكون هناك قول مع هذا الفعل، بمعنى: أن الرواية التي تردنا قد تقتصر على الفعل فقط يعني: على حكاية فعل النبي صلى الله عليه وسلم، فهي سنة عملية، وقد يقترن مع القول فعل، عندي مثال للفعل الذي لم يقترن بقول، فمثلًا: أمنا عائشة رضي الله عنها تقول: كان النبي صلى الله عليه وسلم يصلي العصر، والشمس لم تخرج من حجرتها، يعني: والشمس مرتفعة، وهذا رواه الإمام البخاري -رحمه الله تعالى- في كتاب مواقيت الصلاة، باب: وقت العصر.

هنا حكاية لفعل النبي صلى الله عليه وسلم وليس معه قول، وأيضًا مثال آخر: ما قاله أنس بن مالك -رضي الله تعالى عنه- حكاية عن صفة صلاته صلى الله عليه وسلم، فيقول: كان النبي صلى الله عليه وسلم يوجز الصلاة، ويكملها يعني: صلاة النبي صلى الله عليه وسلم كاملة وتامة، وفي غير إطالة مرهقة. يوجز، لكن بغير خلل، بغير نقصان يوجز الصلاة، ويكملها.

وهذا حديث رواه الإمام البخاري في كتاب الأذان، باب: من شكى إمامه إذا طول، وفي بعض النسخ أيضًا باب: الإيجاز في الصلاة وإكمالها، وأيضًا من
সুন্নাহর সমস্ত দিকসমূহ:

নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে আমাদের কাছে যে সকল বক্তব্য এসেছে তাকে আমরা মৌখিক সুন্নাহ (السنة القولية) বলি। এর মাধ্যমে আমরা উদ্দেশ্য করি: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর পবিত্র জবান দ্বারা যা বলেছেন এবং যা তাঁর কোনো কাজের সাথে সম্পৃক্ত ছিল না। এই মৌখিক সুন্নাহ (السنة القولية) হয়তো কোনো কাজের নির্দেশনা অন্তর্ভুক্ত করে, কিন্তু যখন তিনি তা বলছিলেন তখন তিনি সেটি স্বয়ং পালন করছিলেন না; তাই এটি মৌখিক সুন্নাহ (السنة القولية), এমনকি যদি তা উম্মতকে কোনো কাজ করার আদেশ প্রদান করে তবুও। উদাহরণস্বরূপ: যখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন: ‘তোমরা অসুস্থ ব্যক্তির সেবা করো’, তিনি এখানে আমাদের রোগী পরিদর্শনের কাজ করার আদেশ দিচ্ছেন। আবার যখন তিনি বলেন: ‘তোমরা বন্দীকে মুক্তি দাও’, অর্থাৎ যুদ্ধবন্দীকে মুক্ত করো; এটি একটি কাজের আদেশ, অর্থাৎ আমাদের সম্ভাব্য সকল উপায়ে বন্দীকে মুক্ত করার জন্য প্রচেষ্টা চালাতে হবে। তবে এটি মৌখিক সুন্নাহ (السنة القولية); কারণ বলার সময় নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর এই বক্তব্যের সাথে কোনো কাজের সংশ্লিষ্টতা ছিল না।

আর কর্মগত সুন্নাহ (السنة الفعلية) হলো: যাতে কোনো কাজ বিদ্যমান ছিল। কর্মগত সুন্নাহ (السنة الفعلية)-এর মধ্যে আমল বা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পক্ষ থেকে কোনো কাজ থাকে। এই কাজের সাথে কোনো কথা থাকতেও পারে আবার নাও থাকতে পারে। এর অর্থ হলো: আমাদের কাছে যে বর্ণনা (رواية) পৌঁছেছে তা হয়তো কেবল কাজের বিবরণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ, অর্থাৎ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাজের বর্ণনার ওপর; ফলে সেটি ব্যবহারিক সুন্নাহ (سنة عملية)। আবার কখনও কথার সাথে কাজও যুক্ত থাকতে পারে। আমার কাছে এমন কাজের উদাহরণ আছে যা কথার সাথে যুক্ত নয়; যেমন: আমাদের মাতা আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আসরের সালাত আদায় করতেন যখন সূর্য তখনও তাঁর কামরা থেকে বের হয়নি, অর্থাৎ সূর্য উঁচুতে থাকতো। এটি ইমাম বুখারী (রহমাতুল্লাহি তা'আলা) সহীহ বুখারী গ্রন্থের কিতাবুল মাওয়াকিত, পরিচ্ছেদ: আসরের ওয়াক্ত-এ বর্ণনা করেছেন।

এখানে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাজের বর্ণনা দেওয়া হয়েছে যার সাথে কোনো কথা নেই। এছাড়াও অন্য একটি উদাহরণ হলো: আনাস ইবনে মালিক (রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু) নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সালাতের ধরন সম্পর্কে যা বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সালাত সংক্ষেপ করতেন এবং তা পূর্ণাঙ্গভাবে আদায় করতেন। অর্থাৎ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সালাত ছিল ত্রুটিমুক্ত ও পরিপূর্ণ এবং ক্লান্তিকর দীর্ঘসূত্রিতা বর্জিত। তিনি সংক্ষেপ করতেন, তবে কোনো ত্রুটি বা ঘাটতি ছাড়াই সালাত সংক্ষেপ করতেন এবং তা পূর্ণাঙ্গ করতেন।

এটি একটি হাদিস যা ইমাম বুখারী সহীহ বুখারী গ্রন্থের কিতাবুল আযান, পরিচ্ছেদ: ইমাম দীর্ঘ করলে যার পক্ষ থেকে অভিযোগ আসে-এ বর্ণনা করেছেন। কোনো কোনো পাণ্ডুলিপিতে (نسخة) এই পরিচ্ছেদটি ‘সালাত সংক্ষেপ করা ও তা পূর্ণাঙ্গ করা’ শিরোনামেও এসেছে। এবং আরও...
(খণ্ড: ১) আদ-দিফাউ আনিস সুন্নাহ - জামিয়াতুল মদীনা (মাজিসতির) (পৃষ্ঠা: ১৬)
حديث عبد الله بن عمر -رضي الله تعالى عنهما- يقول: كان النبي صلى الله عليه وسلم يقرأ علينا السورة فيها السجدة، فيسجد، ونسجد حتى ما يجد أحدنا موضع جبهته، يعني: لدرجة أن البعض منها قد لا يجد موضعًا لجبهته من الزحام على السجود. هذا أيضًا رواه الإمام البخاري في كتاب سجود القرآن، باب: من سجد لسجود القارئ. وكلها -كما نرى- حكاية لفعل النبي صلى الله عليه وسلم.

أما السنة الفعلية التي اقترنت بقول، وأيضًا تسمى سنة فعلية؛ لاقترانها بفعل منه صلى الله عليه وسلم: فقد روى البخاري -رحمه الله تعالى- عن جندب بن عبد الله البجلي، قال: ((صلى النبي صلى الله عليه وسلم يوم النحر، ثم خطب، ثم ذبح وقال: من ذبح قبل أن يصلي فليذبح أخرى مكانها، ومن لم يذبح فليذبح باسم الله)). هنا الرواية تقول صلى النبي صلى الله عليه وسلم يوم النحر، ثم خطب، ثم ذبح. هذه حكاية لفعل النبي صلى الله عليه وسلم، وهذا هو الجانب العملي في الحديث، ومن ذلك نضعه تحت السنة العملية، ثم بعد أن فعل النبي صلى الله عليه وسلم ذلك، قال: من ذبح قبل أن يصلي فليذبح أخرى مكانها، ومن لم يذبح فليذبح باسم الله.

وأيضًا في حجة الوداع النبي صلى الله عليه وسلم قام بأداء المناسك أمام أصحابه، مثل: الطواف، مثل: السعي، مثل: الوقوف بعرفة، والرمي، والحلق، أعمال الحج، وبعد أن أداها أمام قال: ((لتأخذوا عني مناسككم)) وهذا أيضًا رواه الإمام مسلم في كتاب الحج، باب: يوم النحر، وباب: استحباب رمي جمرة العقبة يوم النحر راكبا … الخ.

الأمثلة على هذا كثيرة على الجانب في الجانب العملي أو فعل السنة مع اقترانها بالقول أو بدون اقترانها.
আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত একটি হাদিস, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের সামনে এমন সূরা তিলাওয়াত করতেন যাতে সিজদা থাকত; তখন তিনি সিজদা করতেন এবং আমরাও সিজদা করতাম, এমনকি আমাদের কেউ তার কপাল রাখার জায়গা পেত না। অর্থাৎ: সিজদা করার ভিড়ের কারণে অবস্থা এমন হতো যে, তাদের মধ্যে কেউ কেউ সিজদার জন্য কপাল রাখার স্থান খুঁজে পেত না। এটি ইমাম বুখারি তাঁর 'কিতাব সুজুদুল কুরআন'-এর 'অধ্যায়: যে ব্যক্তি তিলাওয়াতকারীর সিজদার কারণে সিজদা করে' অনুচ্ছেদে বর্ণনা করেছেন। আর এই সবকিছুই—যেমনটি আমরা দেখছি—নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কর্মের বিবরণ।

আর যে কর্মগত সুন্নাহ (سنة فعلية) যা কথার সাথে সংশ্লিষ্ট, তাকেও কর্মগত সুন্নাহ (سنة فعلية) বলা হয়; কারণ এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর একটি কর্মের সাথে যুক্ত। ইমাম বুখারি (রাহিমাহুল্লাহ) জুনদুব ইবনে আবদুল্লাহ আল-বাজালি থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোরবানির দিন সালাত আদায় করলেন, এরপর খুতবা দিলেন, এরপর পশু জবেহ করলেন এবং বললেন: “যে ব্যক্তি সালাত আদায়ের পূর্বে জবেহ করেছে, সে যেন তার পরিবর্তে অন্য একটি পশু জবেহ করে। আর যে ব্যক্তি এখনো জবেহ করেনি, সে যেন আল্লাহর নামে জবেহ করে।” এখানে বর্ণনাটি (رواية) বলছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোরবানির দিন সালাত আদায় করেছেন, এরপর খুতবা দিয়েছেন, এরপর জবেহ করেছেন। এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কর্মের একটি বিবরণ, এবং এটিই হাদিসের ব্যবহারিক দিক। এই কারণে আমরা এটিকে কর্মগত সুন্নাহর (سنة عملية) অন্তর্ভুক্ত করি। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেই কাজ করার পর বললেন: “যে ব্যক্তি সালাত আদায়ের পূর্বে জবেহ করেছে, সে যেন তার পরিবর্তে অন্য একটি পশু জবেহ করে। আর যে ব্যক্তি এখনো জবেহ করেনি, সে যেন আল্লাহর নামে জবেহ করে।”

একইভাবে বিদায় হজের সময় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবীদের সামনে হজের কার্যাবলি (مناسك) সম্পাদন করেন; যেমন: তাওয়াফ, সায়ী, আরাফায় অবস্থান, পাথর নিক্ষেপ, মাথা মুণ্ডানো তথা হজের আমলসমূহ। সেগুলো সাহাবীদের সামনে সম্পাদন করার পর তিনি বললেন: “তোমরা আমার কাছ থেকে তোমাদের হজের নিয়মাবলি শিখে নাও।” এটিও ইমাম মুসলিম 'কিতাবুল হজ'-এর 'অধ্যায়: কোরবানির দিন' এবং 'অধ্যায়: কোরবানির দিন সওয়ার অবস্থায় জামরাতুল আকাবায় পাথর নিক্ষেপ মুস্তাহাব হওয়ার বর্ণনা' … ইত্যাদি অনুচ্ছেদে বর্ণনা করেছেন।

ব্যবহারিক দিক থেকে বা কর্মগত সুন্নাহর (فعل السنة) ক্ষেত্রে এমন উদাহরণ প্রচুর রয়েছে, যা কখনো কথার সাথে সংশ্লিষ্ট আবার কখনো কথার সংশ্লিষ্টতা ছাড়াই বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আদ-দিফাউ আনিস সুন্নাহ - জামিয়াতুল মদীনা (মাজিসতির) (পৃষ্ঠা: ১৭)
‌‌تعريف الإقرار لغة واصطلاحًا

ثم نأتي إلى الإقرار -وهو جزء من السنة-:

الإقرار: في اللغة بمعنى الاعتراف، وبمعنى الموافقة، أقررته على كذا يعني: وافقته. أقررته أو قررته. الماضي قرر أو أقر. أقررته: وافقته، وقررته أيضًا وافقته. {أَأَقْرَرْتُمْ وَأَخَذْتُمْ عَلَى ذَلِكُمْ إِصْرِي قَالُوا أَقْرَرْنَا قَالَ فَاشْهَدُوا وَأَنَا مَعَكُمْ مِنَ الشَّاهِدِينَ} (آل عمران: 81)، إذًا، الإقرار أيضًا يأتي بمعنى الاعتراف، أقر فلان بكذا يعني: اعترف بكذا، وماعز لما جاء للنبي صلى الله عليه وسلم أقر أربع مرات بفعلته أمام النبي صلى الله عليه وسلم، حتى إذا أقر على نفسه أربع مرات، النبي صلى الله عليه وسلم سأله بعض الأسئلة، هذا من ناحية اللغة.

أما الإقرار عند أهل الاصطلاح، أو عند اصطلاح المحدثين: لابد أن يتضمن ثلاثة أمور لابد من تواجدها في الإقرار:

أولًا: هو من فعل الصحابي.

ثانيًا: أن يعلم به النبي صلى الله عليه وسلم.

ثالثًا: أن يوافق عليه.

إذًا، الإقرار بداية ليس من قول النبي صلى الله عليه وسلم، ولا من فعله، وإنما هو من قول الصحابي، أو فعله. ثانيا: النبي صلى الله عليه وسلم علم به؛ لأنه لو لم يعلم به لا نستطيع أن
ভাষাগত ও পারিভাষিক অর্থে মৌন সম্মতির (الإقرار) সংজ্ঞা

এরপর আমরা আসছি মৌন সম্মতির (الإقرار) আলোচনায় -যা সুন্নাহর (السنة) একটি অংশ-:

মৌন সম্মতি (الإقرار): আভিধানিক অর্থে এর অর্থ হলো স্বীকারোক্তি (الاعتراف) এবং সমর্থন বা একমত হওয়া (الموافقة)। 'আমি তাকে অমুক বিষয়ে স্বীকৃতি দিয়েছি' (أقررته على كذا) এর অর্থ হলো: আমি তার সাথে একমত হয়েছি বা তাকে সমর্থন দিয়েছি। 'আকররতুহু' (أقررته) অথবা 'কররতুহু' (قررته)। এর অতীতকালীন ক্রিয়ারূপ হলো 'করর' (قرر) অথবা 'আকর' (أقر)। 'আকররতুহু' (أقررته) মানে: আমি তাকে সমর্থন করেছি, আর 'কররতুহু' (قررته) মানেও আমি তাকে সমর্থন করেছি। "তোমরা কি স্বীকৃতি দিলে (أأقررتم) এবং এই শর্তে আমার অঙ্গীকার গ্রহণ করলে? তারা বলল, আমরা স্বীকৃতি দিলাম (أقرنا)। তিনি বললেন, তবে তোমরা সাক্ষী থাকো এবং আমি ও তোমাদের সাথে সাক্ষীদের অন্তর্ভুক্ত রইলাম।" (আলে ইমরান: ৮১)। সুতরাং, মৌন সম্মতি (الإقرار) স্বীকারোক্তি (الاعتراف) অর্থকেও শামিল করে। 'অমুক ব্যক্তি অমুক বিষয়ে স্বীকৃতি দিয়েছে' (أقر فلان بكذا) মানে হলো: সে বিষয়টি স্বীকার করেছে। মা'ইয যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে আসলেন, তখন তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সামনে নিজের কৃতকর্মের বিষয়ে চারবার স্বীকারোক্তি (أقر) দিলেন। এমনকি যখন তিনি নিজের বিরুদ্ধে চারবার স্বীকারোক্তি (أقر) দিলেন, তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে কিছু প্রশ্ন করলেন। এটি হলো ভাষাগত দিক থেকে।

আর পরিভাষাবিদদের মতে বা হাদিস বিশারদদের (المحدثين) পরিভাষায় (اصطلاح): মৌন সম্মতির (الإقرار) ক্ষেত্রে তিনটি বিষয় থাকা আবশ্যক যা অবশ্যই বিদ্যমান থাকতে হবে:

প্রথমত: এটি সাহাবীর (الصحابي) কোনো কর্ম হতে হবে।

দ্বিতীয়ত: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সে সম্পর্কে অবগত হবেন।

তৃতীয়ত: তিনি সেটির ওপর সমর্থন (يوافق عليه) প্রদান করবেন।

সুতরাং, প্রাথমিকভাবে মৌন সম্মতি (الإقرار) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিজের কোনো বাণী নয় এবং তাঁর নিজের কোনো কাজও নয়, বরং এটি হলো কোনো সাহাবীর (الصحابي) কথা বা কাজ। দ্বিতীয়ত: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ সম্পর্কে অবগত ছিলেন; কেননা তিনি যদি সে সম্পর্কে অবগত না থাকতেন, তবে আমরা সেটিকে (মৌন সম্মতি হিসেবে) গণ্য করতে পারতাম না।
(খণ্ড: ১) আদ-দিফাউ আনিস সুন্নাহ - জামিয়াতুল মদীনা (মাজিসতির) (পৃষ্ঠা: ১৮)
نتأكد أنه قد وافق عليه، فلابد أن يعلم به ولماذا اختار العلماء عبارة: يعلم به النبي صلى الله عليه وسلم ولم يقولوا مثلًا: ورآه النبي صلى الله عليه وسلم، أو سمع به النبي صلى الله عليه وسلم؛ لأننا لو قلنا مثلًا: الصحابي فعل فعلًا، واشتراطنا أن يكون هذا الفعل أمام النبي صلى الله عليه وسلم، فكأننا نضيق الإقرار. هب أنه فعل الأمر بعيدًا عن النبي صلى الله عليه وسلم، لكنه في النهاية النبي صلى الله عليه وسلم علم به، وهذا هو الأهم.

وثم يأتي بعد ذلك الأمر الثالث: وهو هل وافق عليه أم لم يوافق؟ يبقى الإقرار لابد أن تتوافر له الأركان الثلاثة.

قد يطرح هنا سؤال، وهو إذا كان الإقرار ليس من فعل النبي صلى الله عليه وسلم، ولا من قوله، فكيف يعتبر من السنة؟ هو من السنة بموافقة النبي صلى الله عليه وسلم عليه؛ لأنه من فعل الصحابي، لكن النبي صلى الله عليه وسلم علم به، ووافق عليه، ليس شرطًا أن يوافق النبي صلى الله عليه وسلم بالكلام، بل يكفي أن يسكت مثلًا، يسمونه: بالإقرار السكوتي، فمثلًا: بالنسبة للإقرار السكوتي: الحديث المشهور لما وجه النبي صلى الله عليه وسلم أصحابه إلى قتال بني قريظة -وهم طائفة من اليهود- وكان ذلك بعد غزة الأحزاب وقال لهم: ((لا يصلين أحد العصر إلا في بني قريظة))، وسار الصحابة فأدركهم العصر في الطريق، فقال بعضهم: نصلي العصر هنا، أي: في الطريق. وقال البعض الآخر: لا نصلي إلا في بني قريظة. وكل فريق فعل ما انتهى إليه اجتهاده؛ صلى البعض في الطريق، وانتظر البعض حتى وصلوا إلا ديار بني قريظة، فكانت النتيجة أن خرج العصر عن وقته. لما رفعوا الأمر إلى النبي صلى الله عليه وسلم وافق كلًّا من الفريقين على فهمه، وعلى فعله.

هذه الموافقة لم ينقل لنا فيها كلام، وإنما ذكرت الروايات أن النبي صلى الله عليه وسلم أقر كلا من الفريقين على فهمه الذي فهمه في نص الحديث، وبالتالي على الفعل الذي فعله بناء على هذا الفعل.
আমরা নিশ্চিত হচ্ছি যে তিনি এটি অনুমোদন করেছেন, তাই অবশ্যই এটি তাঁর অবগত হওয়া আবশ্যক। কেন উলামাগণ এই অভিব্যক্তিটি চয়ন করেছেন যে: 'নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ সম্পর্কে অবগত হয়েছেন' এবং তাঁরা কেন এমনটি বলেননি যে: 'নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এটি দেখেছেন' অথবা 'নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এটি শুনেছেন'? কারণ যদি আমরা বলি যে একজন সাহাবী একটি কাজ করেছেন এবং আমরা যদি শর্ত আরোপ করি যে এই কাজটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সামনে হতে হবে, তবে যেন আমরা মৌন সম্মতি (إقرار)-এর ক্ষেত্রকে সংকুচিত করে ফেললাম। ধরে নেওয়া যাক, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুপস্থিতিতে কোনো কাজ করেছেন, কিন্তু পরিশেষে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ সম্পর্কে জানতে পেরেছেন; আর এটিই হলো সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

এরপর তৃতীয় বিষয়টি আসে: আর তা হলো তিনি কি এটি অনুমোদন করেছেন নাকি করেননি? সুতরাং মৌন সম্মতি (إقرار)-এর ক্ষেত্রে তিনটি রুকন বা স্তম্ভ বিদ্যমান থাকা আবশ্যক।

এখানে একটি প্রশ্ন উঠতে পারে, আর তা হলো যদি মৌন সম্মতি (إقرار) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিজের কোনো কাজ বা কথা না হয়ে থাকে, তবে তা কীভাবে সুন্নাহর অন্তর্ভুক্ত হিসেবে গণ্য হবে? এটি সুন্নাহর অন্তর্ভুক্ত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুমোদনের কারণে; যেহেতু এটি ছিল একজন সাহাবীর কাজ, কিন্তু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ সম্পর্কে অবগত হয়েছিলেন এবং তা অনুমোদন করেছিলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কথার মাধ্যমে অনুমোদন দিতে হবে এমনটি শর্ত নয়, বরং উদাহরণস্বরূপ তাঁর নীরব থাকাই যথেষ্ট। তাঁরা একে মৌন সম্মতি (الإقرار السكوتي) বলে অভিহিত করেন। যেমন: মৌন সম্মতি (الإقرار السكوتي)-এর ক্ষেত্রে একটি প্রসিদ্ধ হাদিস হলো, যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবীদের বনু কুরাইজা—যারা ছিল ইহুদিদের একটি দল—তাদের সাথে যুদ্ধের জন্য নির্দেশ প্রদান করলেন। আর এটি ছিল আহজাব যুদ্ধের পরবর্তী ঘটনা। তিনি তাঁদের বলেছিলেন: "তোমাদের কেউ যেন বনু কুরাইজায় না পৌঁছে আসরের সালাত আদায় না করে।" সাহাবীগণ পথ চলতে শুরু করলেন এবং পথিমধ্যে আসরের সময় হয়ে গেল। তখন তাঁদের কেউ কেউ বললেন: আমরা এখানেই অর্থাৎ পথেই আসরের সালাত আদায় করে নেব। আবার অন্যেরা বললেন: আমরা বনু কুরাইজায় না পৌঁছে সালাত আদায় করব না। প্রত্যেক দলই তাদের নিজস্ব গবেষণা (اجتهاد) অনুযায়ী যে সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন সে অনুযায়ী আমল করলেন; কেউ পথেই সালাত আদায় করলেন, আবার কেউ বনু কুরাইজার এলাকায় পৌঁছানো পর্যন্ত অপেক্ষা করলেন, যার ফলে আসরের সময় অতিক্রান্ত হয়ে গিয়েছিল। যখন তাঁরা বিষয়টি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে পেশ করলেন, তখন তিনি উভয় দলের বুঝ এবং কাজের অনুমোদন দিলেন।

এই অনুমোদনের ক্ষেত্রে আমাদের কাছে কোনো কথা বর্ণিত হয়নি, বরং বর্ণনা (روايات) সমূহে উল্লেখ করা হয়েছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উভয় দলকে হাদিসের পাঠের ক্ষেত্রে তাঁদের স্ব-স্ব বুঝ এবং সেই অনুযায়ী কৃত কাজের জন্য মৌন সম্মতি (أقر) প্রদান করেছেন।
(খণ্ড: ১) আদ-দিফাউ আনিস সুন্নাহ - জামিয়াতুল মদীনা (মাজিসতির) (পৃষ্ঠা: ১৯)
ورغم أن ظاهر الحديث، أو أن نص الحديث واضح في أنه لا صلاة إلى بعد الوصول إلى ديار بني قريظة إلا أن الفريق الذي صلى في الطريق صرف اللفظ عن ظاهره ليس بهواه، وإنما بما يفهمه من شرع الله، وهو أنه قد وردت أحاديث كثيرة، وآيات قرآنية تبين أن الصلاة لها أوقاتها المحددة، ولا يجوز إخراجها عن تلك الأوقات إلا لضرورة أو لعذر مثل قوله تعالى: {إِنَّ الصَّلَاةَ كَانَتْ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ كِتَابًا مَوْقُوتًا} (النساء: 103)، وغير ذلك.

وفي الحديث المتفق على صحته في كتاب الجهاد، عن البخاري وغيره، من حديث عبد الله بن مسعود رضي الله عنه: ((سألت رسول الله صلى الله عليه وسلم أي العمل أفضل؟ قال: إيمان بالله، أو الإيمان بالله. قلت: ثم أي؟ قال: الصلاة لوقتها)) أي: لأول وقتها. فالفريق الذي صلى في الطريق فهم من هذه الأدلة الشرعية أن النبي صلى الله عليه وسلم لا يقصد إخراج الوقت عن حدوده المقررة شرعًا، أو عن زمنه المقرر شرعًا، وإنما يقصد أن نسرع؛ لنصل مسرعين أو مبكرين إلى ديار بني قريظة، فصلوا في الطريق. إذًا، هم صرفوا اللفظ عن ظاهره في ضوء الأدلة الشرعية.

وأما الأمثلة الإقرار الكلامي -أي: أن النبي صلى الله عليه وسلم أقر بالكلام- فكثير جدًّا، ونكتفي بهذا النموذج مثلًا: أن رسول الله صلى الله عليه وسلم بعث رجلا على سرية -يعني: أمره أميرًا على سرية- وكان يقرأ لأصحابه في صلاتهم، فيختم القراءة ب {قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ} (الأخلاص: 1)، يعني: يقرأ الفاتحة في الصلاة الجهرية، ويقرأ ما شاء الله تعالى له أن يقرأ من القرآن الكريم، ثم يختم قراءته بقل هو الله أحد (سورة الإخلاص). لما رجعوا ذكروا ذلك للنبي صلى الله عليه وسلم فقال: ((سلوه لأي شيء يفعل ذلك؟)) فسألوه، فقال الرجل: لأنها صفة الرحمن؛ فأنا أحب أن أقرأ
যদ্যপি হাদিসের বাহ্যিক (ظاهر) দিক, অথবা হাদিসের সুস্পষ্ট পাঠ (نص) থেকে এটি প্রতীয়মান হয় যে, বনু কুরাইজার এলাকায় পৌঁছানোর আগে সালাত আদায় করা যাবে না; তবুও যে দলটি পথিমধ্যে সালাত আদায় করেছিলেন, তারা শব্দকে তার বাহ্যিক (ظاهر) অর্থ থেকে সরিয়ে ব্যাখ্যা করেছিলেন। তারা এটি নিজ খেয়ালখুশি মতো করেননি, বরং আল্লাহর শরিয়ত (شرع) সম্পর্কে তাদের প্রজ্ঞা অনুযায়ী করেছিলেন। আর তা হলো, এমন অনেক হাদিস এবং কুরআনের আয়াত বর্ণিত হয়েছে যা স্পষ্ট করে যে, সালাতের নির্দিষ্ট সময় রয়েছে এবং জরুরি প্রয়োজন বা কোনো ওজর (عذر) ব্যতীত সালাতকে তার নির্ধারিত সময় থেকে বের করা বৈধ নয়। যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {নিশ্চয়ই মুমিনদের ওপর নির্দিষ্ট সময়ে সালাত আদায় করা একটি ফরজ বিধান} (আন-নিসা: ১০৩), এবং আরও অন্যান্য দলিল।

বুখারি এবং অন্যান্য গ্রন্থে জিহাদ অধ্যায়ে বর্ণিত, যার বিশুদ্ধতা (صحة) সর্বসম্মত (متفق عليه), এমন একটি হাদিসে আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত: "আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করলাম, কোন আমলটি সর্বশ্রেষ্ঠ? তিনি বললেন: আল্লাহর প্রতি ঈমান। আমি বললাম: তারপর কোনটি? তিনি বললেন: যথাসময়ে সালাত আদায় করা।" অর্থাৎ, ওয়াক্তের শুরুতে। সুতরাং যারা পথে সালাত আদায় করেছিলেন, তারা এই শারয়ি দলিলসমূহ (الأدلة الشرعية) থেকে এটি বুঝেছিলেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাতের ওয়াক্তকে তার শরিয়ত নির্ধারিত সীমা বা সময় থেকে বের করে দেওয়া উদ্দেশ্য করেননি; বরং তিনি আমাদের দ্রুত চলার তাগিদ দিয়েছিলেন; যেন আমরা দ্রুত বা আগেভাগে বনু কুরাইজার এলাকায় পৌঁছাতে পারি। তাই তারা পথেই সালাত আদায় করে নেন। অতএব, তারা শারয়ি দলিলের আলোকে শব্দকে তার বাহ্যিক (ظاهر) অর্থ থেকে সরিয়ে অন্য অর্থে গ্রহণ করেছেন।

আর মৌখিক অনুমোদন (إقرار)—অর্থাৎ যেখানে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কথার মাধ্যমে সম্মতি দিয়েছেন—তার উদাহরণ অনেক। আমরা উদাহরণস্বরূপ এই নমুনাটি উল্লেখ করছি: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তিকে একটি ক্ষুদ্র বাহিনী বা সারিয়া (سرية)-এর আমির নিযুক্ত করে পাঠালেন। তিনি সালাতে তাঁর সাথীদের ইমামতি করার সময় কিরাতের শেষে {কুল হুয়াল্লাহু আহাদ} (আল-ইখলাস: ১) পাঠ করতেন। অর্থাৎ, তিনি উচ্চস্বরের সালাতে সুরা ফাতিহা পাঠ করতেন এবং পবিত্র কুরআন থেকে যা ইচ্ছা পাঠ করতেন, কিন্তু কিরাত শেষ করতেন সুরা আল-ইখলাস দিয়ে। তারা যখন ফিরে এলেন, তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে বিষয়টি উল্লেখ করলেন। তিনি বললেন: "তাকে জিজ্ঞাসা করো কেন সে এমনটি করে?" তারা তাকে জিজ্ঞাসা করলে লোকটি বললেন: "কারণ এটি দয়াময় আল্লাহর গুণ (صفة) সম্বলিত সুরা; তাই আমি এটি পাঠ করতে ভালোবাসি।"
(খণ্ড: ১) আদ-দিফাউ আনিস সুন্নাহ - জামিয়াতুল মদীনা (মাজিসতির) (পৃষ্ঠা: ২০)
بها. فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((أخبروه أن الله يحبه)). هذا حديث رواه البخاري في كتاب التوحيد، في الباب الأول منه، ورواه مسلم -رحمه الله تعالى- في كتاب صلاة المسافرين، باب: فضل قراءة {قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ} واللفظ الذي أوردناه هنا هو لفظ مسلم -رحم الله الجميع-.

إذًا، هذه أمثلة للإقرار، وأمثلته كثيرة جدًّا في السنة. أما الصفات الخلقية: مثل: ما ورد في وصفه صلى الله عليه وسلم من حديث البراء بن عازب: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم أحسن الناس وجهًا، وأحسنهم خلقًا، ليس بالطويل البائن، وليس بالقصير، وهو وسط بين الطول والقصر. والبراء أيضًا سئل: أكان وجهه صلى الله عليه وسلم مثل السيف؟ قال: لا، بل مثل القمر. يقصد: أن وجه رسول الله صلى الله عليه وسلم مشرق منير مثل القمر، وليس لامعا فقط مثل السيف. وهذا حديث أيضًا من الأحاديث المتكررة في صفات النبي صلى الله عليه وسلم الخلقية، رواها البخاري في كتاب المناقب، باب: صفة النبي صلى الله عليه وسلم. وروى الإمام مسلم معظمها أيضًا في كتاب الفضائل، والألفاظ التي معنا من عند البخاري -رحمه الله تعالى- وغير ذلك كثير.

كل كتب السيرة عنيت بذكر أوصافه صلى الله عليه وسلم، وهي من السنة؛ لأننا لابد أن نعلم ما هي الصفات الخلقية للنبي صلى الله عليه وسلم ولكي نتأكد أنه صلى الله عليه وسلم قد خلق على نفس الصفات التي وجدت له في الكتب السابقة. وقد ورد ذكره بخُلقه وخَلقه في الكتب السابقة؛ وأيضًا لكي نتشبه بما يمكن أن نتشبه به، وأن نقتدي به من الصفات الخلقية، مثل: هيئة اللحية، وهيئة الشعر، وهيئة المشي، وما إلى ذلك. كل هذه جوانب وإن كانت خلقية، لكننا نستطيع أن نجعلها جزءا من سلوكنا؛ اقتداء بالنبي صلى الله عليه وسلم؛ وأيضًا لنتأكد أن الله تعالى قد خلقه على أكمل هيئة وأحسن صورة؛ ولكي ندافع عنه صلى الله عليه وسلم إذا وصفه أحد في خلقه بما ليس فيه صلى الله عليه وسلم.
অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন: "তাকে জানিয়ে দাও যে, আল্লাহ তাকে ভালোবাসেন।" এই হাদিসটি ইমাম বুখারি কিতাবুত তাওহিদের প্রথম অধ্যায়ে বর্ণনা করেছেন এবং ইমাম মুসলিম (রাহিমাহুল্লাহ) কিতাব সালাতিল মুসাফিরিনের 'সুরা ইখলাস পাঠের মর্যাদা' অধ্যায়ে বর্ণনা করেছেন। এখানে আমরা যে শব্দবিন্যাস (لفظ) উল্লেখ করেছি তা ইমাম মুসলিমের (আল্লাহ সকলের প্রতি দয়া করুন)।

সুতরাং এগুলো হলো মৌনসম্মতি (إقرار)-এর উদাহরণ এবং সুন্নাহর মধ্যে এমন উদাহরণ অনেক রয়েছে। আর শারীরিক বৈশিষ্ট্য (الصفات الخلقية) সংক্রান্ত আলোচনা: যেমন— বারা ইবনে আযিব (রা.) বর্ণিত হাদিসে নবী (সা.)-এর বর্ণনায় এসেছে: "রাসূলুল্লাহ (সা.) ছিলেন মানুষের মধ্যে সুন্দরতম চেহারার অধিকারী এবং শারীরিক অবয়বে সবার চেয়ে উত্তম। তিনি অস্বাভাবিক দীর্ঘও ছিলেন না, আবার খাটোও ছিলেন না; বরং তিনি ছিলেন দীর্ঘ ও খাটোর মাঝামাঝি।" বারা (রা.)-কে আরও জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: নবী (সা.)-এর চেহারা কি তলোয়ারের মতো ছিল? তিনি বললেন: "না, বরং চাঁদের মতো।" এর উদ্দেশ্য হলো— রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর চেহারা ছিল চাঁদের মতো উজ্জ্বল ও দীপ্তিময়, তলোয়ারের মতো শুধু চমকদার নয়। এটিও নবী (সা.)-এর শারীরিক বৈশিষ্ট্য (الصفات الخلقية) সংক্রান্ত বারবার বর্ণিত হাদিসগুলোর একটি, যা ইমাম বুখারি কিতাবুল মানাকিবের 'নবী (সা.)-এর বৈশিষ্ট্য' অধ্যায়ে বর্ণনা করেছেন। ইমাম মুসলিমও এর অধিকাংশ হাদিস কিতাবুল ফাযায়িল-এ বর্ণনা করেছেন এবং আমাদের এখানে ব্যবহৃত শব্দবিন্যাস (لفظ) ইমাম বুখারির (রাহিমাহুল্লাহ), এ ছাড়া আরও অনেক বর্ণনা রয়েছে।

সিরাতের সকল গ্রন্থেই নবী (সা.)-এর গুণাবলি (أوصاف) বর্ণনার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে এবং তা সুন্নাহর অংশ; কারণ আমাদের নবী (সা.)-এর শারীরিক বৈশিষ্ট্য (الصفات الخلقية) সম্পর্কে জানা প্রয়োজন, যাতে আমরা নিশ্চিত হতে পারি যে তিনি পূর্ববর্তী কিতাবসমূহে বর্ণিত বৈশিষ্ট্য অনুযায়ীই সৃষ্টি হয়েছেন। পূর্ববর্তী কিতাবসমূহে তাঁর চারিত্রিক ও শারীরিক উভয় প্রকার গুণাবলি উল্লেখ করা হয়েছিল। এ ছাড়া যেসব ক্ষেত্রে অনুসরণ করা সম্ভব, সেগুলোতে তাঁর সাদৃশ্য গ্রহণ এবং তাঁর শারীরিক বৈশিষ্ট্যসমূহের (الصفات الخلقية) অনুকরণ করার জন্য; যেমন: দাড়ির অবয়ব, চুলের ধরন, হাঁটার ভঙ্গি ইত্যাদি। যদিও এগুলো শারীরিক বিষয়, তবুও আমরা রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর অনুকরণের উদ্দেশ্যে এগুলোকে আমাদের আচরণের অংশ করে নিতে পারি। তদুপরি, যেন আমরা নিশ্চিত হতে পারি যে, আল্লাহ তাআলা তাঁকে অত্যন্ত পূর্ণাঙ্গ ও সুন্দর অবয়বে সৃষ্টি করেছেন এবং যাতে কেউ নবী (সা.)-এর শারীরিক গঠন সম্পর্কে এমন কোনো বর্ণনা দেয় যা তাঁর মধ্যে বিদ্যমান ছিল না, তবে আমরা যেন তাঁর পক্ষ হয়ে প্রতিরক্ষা করতে পারি।
(খণ্ড: ১) আদ-দিফাউ আনিস সুন্নাহ - জামিয়াতুল মদীনা (মাজিসতির) (পৃষ্ঠা: ২১)
كل هذه الأسباب وغيرها جعلت العلماء يعتبرون الصفات الخلقية أو الخلقية جزءا من السنة المطهرة، أما الصفات الخلقية: فهي اللباب -الخلق الحسن- مثل: الحلم، والصبر، والشجاعة، والعفة، والطهارة، والاستقامة، والتواضع، وما إلى ذلك، كل ذلك عليه أمثلة لا حصر لها من سيرة النبي صلى الله عليه وسلم، ومن كتب السنة المطهرة.

مثلًا: حديث: ((ما خير رسول الله بين أمرين إلا أخذ أيسرهما ما لم يكن إثما، فإن كان إثما كان أبعد الناس منه، وما انتقم رسول الله صلى الله عليه وسلم لنفسه في شيء قط إلا أن تنتهك حرمة الله، فينتقم لله به)) رواه مسلم -رحمه الله تعالى- في كتاب الفضائل، باب: مباعدته صلى الله عليه وسلم للآثام والأوزار.

الأحاديث التي تتكلم عن أخلاق النبي صلى الله عليه وسلم كثيرة جدًّا، وهي جزء هام من السنة، وما جاءنا عن النبي صلى الله عليه وسلم من قول، أو فعل، أو إقرار، أو صفة خلقية، أو خلقية، حتى حركاته وسكناته. في الحديث المشهور: ((التقوى ها هنا، المسلم أخو المسلم، لا يظلمه، ولا يسلمه، ولا يخذله، ولا يحقره، بحسب امرئ من الشر أن يحقر أخاه المسلم)) التقوى ها هنا، وأشار إلى صدره الشريف ثلاث مرات. العلماء استنبطوا منها أن التقوى محلها القلب، وأنه يجوز للإنسان يستعمل وسائل الإيضاح؛ حتى يبرز المعنى الذي يريد توضحيه. وأيضًا: ((ألا أنبئكم بأكبر الكبائر؟ قالوا: بلى يا رسول الله. قال: الإشراك بالله، وعقوق الوالدين، وشهادة الزور، ومازال يكررها حتى قلنا: ليته سكت)) هذا رواه البخاري رحمه الله في كتاب الشهادات، باب: ما قيل في شهادة الزور، وأيضًا رواه الإمام مسلم في كتاب الإيمان، باب: بيان الكبائر وأكبرها، ومحل الشاهد فيه: أنه صلى الله عليه وسلم كان متكئا فجلس، وما زال يكررها حتى قلنا: ليته سكت. فجلوسه بعد
এই সকল কারণ এবং আরও অন্যান্য বিষয় ওলামায়ে কেরামকে এই সিদ্ধান্তে উপনীত করেছে যে, শারীরিক গঠন (خلقية) কিংবা চারিত্রিক গুণাবলি (خلقية) উভয়ই পবিত্র সুন্নাহর অংশ হিসেবে গণ্য। আর চারিত্রিক গুণাবলির বিষয়টি হলো মূল সারবস্তু—তথা সচ্চরিত্র; যেমন: সহনশীলতা, ধৈর্য, বীরত্ব, চারিত্রিক পবিত্রতা, শুদ্ধতা, অটলতা, বিনয় এবং এই জাতীয় অন্যান্য গুণাবলি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সিরাত এবং হাদিসের গ্রন্থসমূহে এর অগণিত উদাহরণ বিদ্যমান।

উদাহরণস্বরূপ একটি হাদিস: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে যখনই দুটি বিষয়ের মধ্যে কোনো একটি বেছে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হতো, তিনি সহজটিই গ্রহণ করতেন, যদি না তা গুনাহর কাজ হতো। আর যদি তা গুনাহর কাজ হতো, তবে তিনি তা থেকে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দূরে থাকতেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজের কোনো ব্যক্তিগত বিষয়ে কখনো কারোর থেকে প্রতিশোধ নেননি; কিন্তু যখন আল্লাহর কোনো বিধান লংঘন করা হতো, তখন তিনি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য এর প্রতিশোধ নিতেন।" এটি ইমাম মুসলিম—রাহিমাহুল্লাহু তাআলা—বর্ণনা করেছেন কিতাবুল ফাদায়িল-এর "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পাপ ও গুনাহ থেকে দূরে থাকা" পরিচ্ছেদে।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চরিত্র সম্পর্কিত হাদিসসমূহ সংখ্যায় অনেক এবং তা সুন্নাহর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে আমাদের নিকট যা কিছু পৌঁছেছে—চাই তা মৌখিক উক্তি (قول), কর্ম (فعل), মৌনসম্মতি (إقرار) কিংবা শারীরিক গঠন (خلقية) অথবা চারিত্রিক (خلقية) বৈশিষ্ট্য হোক, এমনকি তাঁর নড়াচড়া এবং স্থিরতাও এর অন্তর্ভুক্ত। একটি প্রসিদ্ধ (مشهور) হাদিসে এসেছে: "তাকওয়া এখানে, একজন মুসলিম অপর মুসলিমের ভাই; সে তার ওপর জুলুম করে না, তাকে শত্রুর হাতে সোপর্দ করে না, তাকে অসহায় অবস্থায় পরিত্যাগ করে না এবং তাকে তুচ্ছজ্ঞান করে না। একজন মানুষের মন্দ হওয়ার জন্য এটুকুই যথেষ্ট যে, সে তার মুসলিম ভাইকে তুচ্ছজ্ঞান করবে।" "তাকওয়া এখানে"—এ কথা বলে তিনি তাঁর পবিত্র বক্ষের দিকে তিনবার ইশারা করেন। ওলামায়ে কেরাম এ থেকে এই সিদ্ধান্তে উপনীত (استنباط) হয়েছেন যে, তাকওয়ার স্থান হলো অন্তর। আর কোনো বিষয়কে স্পষ্ট করার জন্য দৃষ্টান্ত বা দৃশ্যমান মাধ্যম ব্যবহার করা বৈধ, যাতে উদ্দিষ্ট অর্থটি স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে। আরও বর্ণিত আছে: "আমি কি তোমাদেরকে কবিরা গুনাহসমূহের মধ্যে সবচেয়ে বড় গুনাহ কোনটি তা জানাব না? তাঁরা বললেন: অবশ্যই, হে আল্লাহর রাসূল! তিনি বললেন: আল্লাহর সাথে শরিক করা, পিতা-মাতার অবাধ্য হওয়া এবং মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়া। তিনি কথাটি বারবার বলছিলেন, এমনকি আমরা বলতে লাগলাম: তিনি যদি এখন থামতেন!" এটি ইমাম বুখারি রাহিমাহুল্লাহ বর্ণনা করেছেন কিতাবুশ শাহাদাত-এর "মিথ্যা সাক্ষ্যদান সম্পর্কে যা বলা হয়েছে" পরিচ্ছেদে এবং ইমাম মুসলিমও এটি বর্ণনা করেছেন কিতাবুল ইমান-এর "কবিরা গুনাহ এবং তার মধ্যে বড়টি বর্ণনা" পরিচ্ছেদে। এই বর্ণনায় প্রমাণের মূল অংশ (محل الشاهد) হলো: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হেলান দিয়ে ছিলেন, এরপর তিনি সোজা হয়ে বসলেন এবং কথাটি বারবার বলতে থাকলেন, এমনকি আমরা আকাঙ্ক্ষা করলাম যে তিনি যদি এখন চুপ হতেন। সুতরাং তাঁর এই সোজা হয়ে বসার বিষয়টি...
(খণ্ড: ১) আদ-দিফাউ আনিস সুন্নাহ - জামিয়াতুল মদীনা (মাজিসতির) (পৃষ্ঠা: ২২)
اتكائه صلى الله عليه وسلم يفيدنا: أن الإنسان يغير من هيئته؛ لكي يبين أهمية الموضوع الذي يتحدث فيه.

أما الرؤى المنامية: فهي جزء من السنة، وذلك ثابت بالقرآن الكريم في قصة سيدنا إبراهيم في ذبحه لولده: {يَا بُنَيَّ إِنِّي أَرَى فِي الْمَنَامِ أَنِّي أَذْبَحُكَ} (الصافات: 102)، وولده علم أن هذا وحي وأمر من الله تعالى، فقال له: {يَا أَبَتِ افْعَلْ مَا تُؤْمَرُ سَتَجِدُنِي إِنْ شَاءَ اللَّهُ مِنَ الصَّابِرِينَ} (الصافات: 102).

وعندنا رؤى كثيرة: {إِذْ يُرِيكَهُمُ اللَّهُ فِي مَنَامِكَ قَلِيلًا وَلَوْ أَرَاكَهُمْ كَثِيرًا} (الأنفال: 43) فالله تعالى هو الذي أراه {لَقَدْ صَدَقَ اللَّهُ رَسُولَهُ الرُّؤْيَا بِالْحَقِّ} (الفتح: 27) فما يراه الأنبياء في نومهم هو من وحي الله تعالى لهم؛ ولذلك كل كتب السنة جعلت قسمًا منها خاصًّا بالرؤى، على اعتبار أنها جزء من السنة، عند الإمام البخاري رؤى النبي صلى الله عليه وسلم وسماه: كتاب التعبير أي: تأويل الرؤيا، وعند الإمام مسلم سماه: كتاب الرؤيا، وموجود في كل كتب السنة؛ ليدلنا على أن الرؤيا -بالألف- أي: التي يراها النائم في نومه بالنسبة للأنبياء هي جزء من الوحي، أو بالمعنى الأدق: هي صورة من صور الوحي، فهي وحي من الله تعالى لهم؛ ولذلك هو جزء من السنة.

بقي الجزء الأخير وهو ما يتعلق بقبل البعثة أو بعدها، بعد البعثة أمر مفهوم؛ أصبح نبيًّا، وصرنا مأمورين بالاقتداء به صلى الله عليه وسلم، أما قبل البعثة، ولم يكن بعد نبيًّا، ولم يطلب منا أن نقتدي به قبل نبوته صلى الله عليه وسلم: فكيف تعتبر أحواله من السنة قبل البعثة؟ والحقيقة، أهل العلم جعلوا هذا الأمر جزءا من السنة؛ لأن فيه إثباتًا لصدق نبوته صلى الله عليه وسلم، يعني: هي لست كل الأمور قبل البعثة من السنة باعتبارها هديًا نقتدي به، وإنما أحواله الكثيرة قبل البعثة تضمنت الأدلة على صدق بعثته، وعلى صدق نبوته، وعلى أنه صادق أمين فيما يخبر به عن الله تبارك وتعالى.
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর হেলান দিয়ে বসা আমাদের এই বার্তা প্রদান করে যে: মানুষ তার শারীরিক ভঙ্গি পরিবর্তন করতে পারেন; যাতে তিনি যে বিষয়ে আলোচনা করছেন তার গুরুত্ব ফুটিয়ে তুলতে পারেন।

আর স্বপ্নকালীন দর্শনের (رؤى منامية) ক্ষেত্রে বলা যায়: এটি সুন্নাহর একটি অংশ। বিষয়টি পবিত্র কুরআনে আমাদের নেতা ইব্রাহিম (আলাইহিস সালাম)-এর তাঁর সন্তানকে জবেহ করার ঘটনার মাধ্যমে প্রমাণিত: {হে বৎস! আমি স্বপ্নে দেখেছি যে, আমি তোমাকে জবেহ করছি} (আস-সাফফাত: ১০২)। তাঁর সন্তান জানতেন যে এটি ওহী (وحي) এবং আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে একটি আদেশ, তাই তিনি তাঁকে বলেছিলেন: {হে আমার পিতা! আপনাকে যা আদেশ করা হয়েছে তা পালন করুন। ইনশাআল্লাহ আপনি আমাকে ধৈর্যশীলদের অন্তর্ভুক্ত পাবেন} (আস-সাফফাত: ১০২)।

আমাদের নিকট এ সংক্রান্ত আরও অনেক স্বপ্নদর্শন রয়েছে: {যখন আল্লাহ তোমাকে তোমার স্বপ্নে তাদের সংখ্যা অল্প করে দেখিয়েছিলেন...} (আল-আনফাল: ৪৩)। সুতরাং আল্লাহ তাআলাই তাঁকে তা দেখিয়েছিলেন {নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর রাসূলের স্বপ্নকে সত্যে পরিণত করেছেন...} (আল-ফাতহ: ২৭)। নবীগণ ঘুমের ঘোরে যা দেখেন তা আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে তাঁদের প্রতি ওহী (وحي)। এই কারণেই সুন্নাহর সকল কিতাবে স্বপ্নদর্শনের জন্য একটি বিশেষ অধ্যায় রাখা হয়েছে, একে সুন্নাহর অংশ হিসেবে গণ্য করে। ইমাম বুখারির কিতাবে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর স্বপ্নসমূহ বর্ণিত হয়েছে এবং তিনি এর নাম দিয়েছেন: ‘কিতাবুত তাবীর’ অর্থাৎ স্বপ্নের ব্যাখ্যা। ইমাম মুসলিম এর নাম দিয়েছেন: ‘কিতাবুর রুইয়া’। সুন্নাহর সকল কিতাবেই এটি বিদ্যমান, যা আমাদের এই নির্দেশনা দেয় যে, স্বপ্ন (رؤيا) — অর্থাৎ নবীগণের ক্ষেত্রে ঘুমের মধ্যে যা দেখা হয় — তা ওহী (وحي)-র একটি অংশ, অথবা আরও সুনির্দিষ্ট অর্থে: এটি ওহী (وحي)-র বিভিন্ন রূপের মধ্যে একটি রূপ। সুতরাং এটি তাঁদের প্রতি আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে আসা ওহী (وحي); তাই এটি সুন্নাহর অন্তর্ভুক্ত।

এখন শেষ অংশটি বাকি রইল, যা নবুয়ত প্রাপ্তির পূর্বের বা পরের সময়ের সাথে সংশ্লিষ্ট। নবুয়ত প্রাপ্তির পরের বিষয়টি সুস্পষ্ট; তিনি নবী হয়েছেন এবং আমরা তাঁর অনুসরণ করতে আদিষ্ট হয়েছি। কিন্তু নবুয়ত প্রাপ্তির পূর্বে, যখন তিনি নবী হননি এবং আমাদের তাঁর নবুয়ত পূর্ববর্তী জীবনের অনুসরণ করতে বলা হয়নি, তখন সেই সময়ের অবস্থাসমূহ কীভাবে সুন্নাহ হিসেবে গণ্য হবে? প্রকৃতপক্ষে, বিজ্ঞ আলিমগণ একে সুন্নাহর অংশ হিসেবে গণ্য করেছেন কারণ এতে তাঁর নবুয়তের সত্যতার প্রমাণ রয়েছে। অর্থাৎ, নবুয়ত পূর্ববর্তী সকল বিষয় সুন্নাহ হিসেবে এমন নয় যে তা অনুসরণীয় আদর্শ (هدي) হিসেবে গণ্য, বরং নবুয়ত পূর্ববর্তী তাঁর অনেক অবস্থার মধ্যে তাঁর নবুয়ত ও প্রেরিত হওয়ার সত্যতার দলিলসমূহ নিহিত রয়েছে। এবং এটি প্রমাণ করে যে, তিনি আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলার পক্ষ থেকে যা সংবাদ প্রদান করেন সে বিষয়ে সত্যবাদী ও বিশ্বস্ত (صادق أمين)।
(খণ্ড: ১) আদ-দিফাউ আনিস সুন্নাহ - জামিয়াতুল মদীনা (মাজিসতির) (পৃষ্ঠা: ২৩)
والقرآن الكريم نفسه استعمل هذا المنهج في إثبات نبوته في مثل قوله تعالى: {وَمَا كُنْتَ تَتْلُو مِنْ قَبْلِهِ مِنْ كِتَابٍ وَلَا تَخُطُّهُ بِيَمِينِكَ إِذًا لَارْتَابَ الْمُبْطِلُونَ} (العنكبوت: 48). هو هنا يتحدث عن أميته قبل البعث، وأنت كنت أميًّا لا تقرأ {وَمَا كُنْتَ تَتْلُو مِنْ قَبْلِهِ مِنْ كِتَابٍ وَلَا تَخُطُّهُ بِيَمِينِكَ} أي: ولو كنت كذلك لارتاب المبطلون المشككون، وقالوا: إن القرآن ليس من عند الله، ولكنه من كلام محمد صلى الله عليه وسلم، لكنه أمي لا يقرأ ولا يكتب. وأيضًا: {أَلَمْ يَجِدْكَ يَتِيمًا فَآوَى * وَوَجَدَكَ ضَالًّا فَهَدَى} (الضحى: 6 - 7) إلى آخر الآيات، وأيضا. {وَمَا صَاحِبُكُمْ بِمَجْنُونٍ} (التكوير: 22)

القرآن الكريم آثر، أو عبر بلفظ الصحبة؛ ليبين للأمة، أو للخلق جميعًا، ولكفار قريش، أنكم صحبتموه مدة طويلة من الدهر قبل أن يبعث، وما جربتم عليه كذبا، ولا جربتم جنونًا، وأنتم الآن تفترون عليه بهذه الدعاوى الباطلة، فلم يقل مثلًا: وما محمد بمجنون، وإنما قال: وما صاحبكم بمجنون؛ ليبين أن هذا الاتهام الظالم ليس له أساس، وأنتم أول من يعلم الكذب في هذا الاتهام؛ لأنكم قد صحبتموه على الأقل مدة أربعين سنة قبل أن يوحى إليه صلى الله عليه وسلم.

من أمثلة الرؤى التي هي جزء من السنة: ما روته أمنا عائشة رضي الله عنها قالت: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم مخاطبا إياها: ((أريتك في المنام مرتين -هذا في المنام- إذا رجل يحملك في سرقة من حرير، فيقول: هذه امرأتك. فأكشفها فإذا هي أنت، فأقول: إن يكن هذا من عند الله يمضه)) هذا رواه البخاري في كتاب فضائل الصحابة، وفي كتاب النكاح: نكاح الأبكار، وأيضًا في كتاب النظر إلى المرأة قبل التزويج، في كتاب النكاح. ورواه الإمام مسلم أيضًا في كتاب النكاح في النظر إلى المرأة.
মহাগ্রন্থ আল-কুরআন নিজেই তাঁর নবুওয়াত প্রমাণের ক্ষেত্রে এই পদ্ধতিটি ব্যবহার করেছে, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: "আপনি তো এর পূর্বে কোনো কিতাব পাঠ করতেন না এবং স্বহস্তে তা লিখতেন না; এমন হলে বাতিলপন্থীরা অবশ্যই সন্দেহ পোষণ করত" (আনকাবুত: ৪৮)। তিনি এখানে নবুওয়াত প্রাপ্তির পূর্বের নিরক্ষরতা (أمي) সম্পর্কে আলোচনা করছেন; অর্থাৎ আপনি নিরক্ষর (أمي) ছিলেন, পড়তেন না— "আপনি তো এর পূর্বে কোনো কিতাব পাঠ করতেন না এবং স্বহস্তে তা লিখতেন না"—অর্থাৎ: আপনি যদি তেমন হতেন তবে সংশয়বাদী বাতিলপন্থীরা সন্দেহ পোষণ করত এবং বলত: এই কুরআন আল্লাহর পক্ষ থেকে নয়, বরং এটি মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কথা; অথচ তিনি নিরক্ষর (أمي), পড়তে বা লিখতে জানেন না। আরও এরশাদ হয়েছে: "তিনি কি আপনাকে এতিম হিসেবে পাননি? অতঃপর তিনি আশ্রয় দিয়েছেন। আর তিনি আপনাকে পথপ্রদর্শকহীন অবস্থায় পেয়েছেন, অতঃপর পথপ্রদর্শন করেছেন" (আদ-দুহা: ৬-৭) আয়াতের শেষ পর্যন্ত। এবং আরও: "তোমাদের সঙ্গী পাগল নন" (তাকউইর: ২২)।

আল-কুরআনুল কারীম এখানে 'সাহচর্য' (صحبة) শব্দটিকে প্রাধান্য দিয়েছে বা এই শব্দ দ্বারা ব্যক্ত করেছে; যেন উম্মাহ বা সমগ্র সৃষ্টির নিকট এবং কুরাইশ কাফেরদের নিকট এটি স্পষ্ট করা যায় যে, তোমরা তাঁর নবুওয়াত প্রাপ্তির পূর্বে দীর্ঘকাল তাঁর সাহচর্যে (صحبة) ছিলে এবং তোমরা তাঁর নিকট কখনো কোনো মিথ্যার অভিজ্ঞতা পাওনি, কোনো উন্মাদনাও দেখনি; অথচ তোমরা এখন তাঁর ওপর এই সব ভিত্তিহীন অপবাদ আরোপ করছ। উদাহরণস্বরূপ, এখানে এমনটি বলা হয়নি: "মুহাম্মাদ পাগল নন", বরং বলা হয়েছে: "তোমাদের সঙ্গী পাগল নন"; যেন এটি স্পষ্ট হয় যে, এই যালিমোচিত অপবাদের কোনো ভিত্তি নেই এবং তোমরাই এই অপবাদের অসারতা সম্পর্কে সবচেয়ে ভালো জানো; কারণ ওহী নাযিল হওয়ার আগে অন্তত চল্লিশ বছর তোমরা তাঁর সাহচর্যে (صحبة) ছিলে।

সুন্নাহর (سنة) অংশ এমন স্বপ্নদর্শনের উদাহরণসমূহের মধ্যে রয়েছে: আমাদের মাতা আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁকে সম্বোধন করে বলেছেন: "তোমাকে স্বপ্নে দুইবার দেখানো হয়েছে—এটি স্বপ্নের বিষয়—যখন একজন ব্যক্তি রেশমি কাপড়ে তোমাকে বহন করে আনছিল এবং বলছিল: ইনি আপনার স্ত্রী। আমি পর্দা উন্মোচন করে দেখলাম যে সেটি তুমি। তখন আমি বললাম: এটি যদি আল্লাহর পক্ষ থেকে হয়ে থাকে, তবে তিনি তা বাস্তবায়ন করবেন।" এটি বুখারি সাহাবীদের মর্যাদা অধ্যায়ে এবং নিকাহ অধ্যায়ের অন্তর্গত: কুমারী বিবাহ পরিচ্ছেদে এবং নিকাহ অধ্যায়েরই বিবাহের পূর্বে পাত্রী দেখা পরিচ্ছেদে বর্ণনা করেছেন। ইমাম মুসলিমও এটি নিকাহ অধ্যায়ে পাত্রী দেখা পরিচ্ছেদে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আদ-দিফাউ আনিস সুন্নাহ - জামিয়াতুল মদীনা (মাজিসতির) (পৃষ্ঠা: ২৪)
إذن الملك الذي جاء على هيئة رجل يحمل أمنا عائشة في سرقة من حرير، يقول للنبي صلى الله عليه وسلم: هذه امرأتك. فأكشفها فإذا هي أنت. وكلمة النبي صلى الله عليه وسلم: ((إن يكن هذا من عند الله يمضه)) هي كلمة فيها تواضع، أو فيها تفويض الأمر لله تعالى، وإلا فإنها من عند الله. وقد أمضاه الله تعالى، وأصبحت أمنا عائشة من أزواجه صلى الله عليه وسلم، وأصبحت واحدة من أمهات المؤمنين رضي الله عنهن جميعًا-.

أما أحواله قبل البعثة: فنحن عندنا أدلة كثيرة، ومنها: حديث أبي سفيان رضي الله عنه وهو في كتاب بدأ الوحي عند البخاري، حينما ذهبت رسالة النبي صلى الله عليه وسلم إلى هرقل، وسأل أبا سفيان عن النبي صلى الله عليه وسلم، سأله عن أحوال كثيرة قبل البعثة، هل هو فيكم ذو نسب؟ هل كان من آبائه من ملك؟ هل كان يكذب؟ وأجاب أبو سفيان عن أسئلة تتعلق بالنبي صلى الله عليه وسلم قبل بعثته، وهرقل سأل أسئلة أخرى عن أحواله بعد البعثة، وعن مضموم رسالته … الخ. لكن محل الشاهد: الأسئلة التي سألها عن أحواله قبل البعثة، ومنها: هل هو فيكم ذو نسب؟ قال أبو سفيان: نعم، هو فينا ذو نسب. قال: وكذلك الأنبياء يبعثون في شرف أقوامهم. هل من آبائه ملك؟ قال: ليس من آبائه ملك. قال: لو كان من آبائه ملك لقلت: ربما أنه يقصد من هذه الدعوى أن يعيد ملك آبائه. هل كان يكذب؟ قال أبو سفيان: لا، لم يكن يكذب … الخ. فهنا استنتج هرقل في نهاية الحديث أنه صلى الله عليه وسلم صادق مأمون في كل ما أخبر به عن الله تعالى.

وصلى وسلم وبارك على سيدنا محمد وعلى آله وصحبه وسلم.
সুতরাং ফেরেশতা যিনি একজন মানুষের বেশে এসেছিলেন এবং আমাদের মাতা আয়েশাকে এক টুকরো রেশমি কাপড়ে বহন করছিলেন, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলছিলেন: "ইনি আপনার স্ত্রী।" অতঃপর আমি তাঁর চেহারা থেকে কাপড় সরালাম এবং দেখলাম তিনি আপনিই। আর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর এই বাণী: "যদি এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে হয়ে থাকে, তবে তিনি তা কার্যকর করবেন"—এটি এমন একটি বাক্য যাতে বিনয় প্রকাশ পেয়েছে অথবা এতে আল্লাহর নিকট বিষয়টি সোপর্দ (تفويض) করা হয়েছে; নতুবা এটি তো আল্লাহর পক্ষ থেকেই ছিল। এবং আল্লাহ তাআলা তা কার্যকর করেছেন। ফলে আমাদের মাতা আয়েশা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর স্ত্রীদের অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন এবং উম্মুল মুমিনীনদের অন্যতম ব্যক্তিতে পরিণত হয়েছেন—আল্লাহ তাঁদের সকলের প্রতি সন্তুষ্ট হোন।

আর নবুওয়াত লাভের পূর্বের অবস্থা সম্পর্কে আমাদের কাছে অনেক দলিল রয়েছে। তার মধ্যে অন্যতম হলো আবু সুফিয়ান (রা.)-এর হাদিস, যা বুখারীর ‘কিতাব বাদউল ওহী’-তে বর্ণিত হয়েছে। যখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পত্র হিরাক্লিয়াসের নিকট পৌঁছাল, তখন তিনি আবু সুফিয়ানকে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সম্পর্কে এবং নবুওয়াত লাভের পূর্বের অনেক অবস্থা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন: "তোমাদের মধ্যে তাঁর বংশমর্যাদা কেমন? তাঁর পূর্বপুরুষদের মধ্যে কি কেউ বাদশাহ ছিলেন? তিনি কি মিথ্যা বলতেন?" আবু সুফিয়ান নবুওয়াত লাভের পূর্বের নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সংক্রান্ত প্রশ্নগুলোর উত্তর দিলেন। আর হিরাক্লিয়াস নবুওয়াত পরবর্তী অবস্থা এবং তাঁর পত্রের বিষয়বস্তু সম্পর্কে আরও অন্যান্য প্রশ্ন করেছিলেন … ইত্যাদি। তবে আলোচনার মূল লক্ষ্যস্থল (محل الشاهد) হলো সেই প্রশ্নগুলো যা তিনি নবুওয়াত পূর্ববর্তী অবস্থা সম্পর্কে করেছিলেন। যেমন: "তোমাদের মধ্যে তাঁর বংশমর্যাদা কেমন?" আবু সুফিয়ান বললেন: "হ্যাঁ, তিনি আমাদের মধ্যে উচ্চ বংশীয়।" তিনি বললেন: "নবীরা এভাবেই তাঁদের কওমের সম্মানিত বংশে প্রেরিত হন।" "তাঁর পূর্বপুরুষদের মধ্যে কি কেউ বাদশাহ ছিলেন?" তিনি বললেন: "তাঁর পূর্বপুরুষদের মধ্যে কেউ বাদশাহ ছিলেন না।" তিনি বললেন: "যদি তাঁর পূর্বপুরুষদের মধ্যে কেউ বাদশাহ থাকতেন, তবে আমি বলতাম যে, সম্ভবত তিনি এই দাবির মাধ্যমে তাঁর পূর্বপুরুষদের রাজত্ব ফিরে পেতে চাইছেন।" "তিনি কি মিথ্যা বলতেন?" আবু সুফিয়ান বললেন: "না, তিনি মিথ্যা বলতেন না" … ইত্যাদি। সুতরাং এখানে হিরাক্লিয়াস হাদিসের শেষে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হলেন যে, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে যা কিছু সংবাদ দিচ্ছেন তাতে সত্যবাদী (صادق) ও বিশ্বস্ত (مأمون)।

আর আমাদের নেতা মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম), তাঁর পরিবারবর্গ ও তাঁর সাহাবীদের ওপর আল্লাহর রহমত, শান্তি ও বরকত বর্ষিত হোক।
(খণ্ড: ১) আদ-দিফাউ আনিস সুন্নাহ - জামিয়াতুল মদীনা (মাজিসতির) (পৃষ্ঠা: ২৫)
‌‌الدرس: 2 علاقة السنة بالقرآن الكريم.
পাঠ: ২ পবিত্র কুরআনের সাথে সুন্নাহ (السنة)-র সম্পর্ক
(খণ্ড: ১) আদ-দিফাউ আনিস সুন্নাহ - জামিয়াতুল মদীনা (মাজিসতির) (পৃষ্ঠা: ২৭)
بسم الله الرحمن الرحيم

الدرس الثاني

(علاقة السنة بالقرآن الكريم)

 

‌‌دور السنة مع القرآن الكريم

الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على خاتم الأنبياء والمرسلين، سيدنا محمد، وعلى آله وأحبابه وأصحابه، وأزواجه الطيبين الطاهرين، ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين، ثم أما بعد:

ف نتكلم عن مكانة أو علاقة السنة بالقرآن الكريم:

هذه السنة التي عرفناها وهي: ما جاءنا عن النبي صلى الله عليه وسلم من قول أو فعل أو إقرار إلى آخر التعريف، ما دورها في التشريع؟ ما مكانتها، ما منزلتها؟ هل لها دور مع القرآن الكريم؟

هذا الموضوع مهم جدًّا؛ لأنه يعني يجيب على سؤال، هل من الممكن أن نكتفي بالقرآن الكريم عن السنة المطهرة؟ خصوصًا أننا بعد أن نشرح العلاقة بين القرآن الكريم، وعن دور السنة مع القرآن الكريم، وعن منزلتها في التشريع.

سنتعرض لبعض الشبهات التي تتعلق بهذا الموضوع، خصوصًا أن مادتنا هي دفاع عن السنة المطهرة، ونحن نعلم أنه توجد مدرسة، أو تحاول أن تسمي نفسها مدرسة الآن، وتسمي نفسها بالمدرسة القرآنية على زعمهم، وتزعم أنها من الممكن أن تكتفي بالقرآن الكريم، وتحاول أن تثير شبهًا حول منزلة السنة، وأن تستدل على موقفها، وأنها موافق للشرع.

نبدأ على كل ببيان دور السنة مع القرآن الكريم، نستطيع أن نقول عن هذا الموضوع يعني: نضع له عنوانًا، فنقول: علاقة السنة بالقرآن الكريم، أو إن شئنا قلنا: منزلة السنة من التشريع، أو إن شئنا قلنا: دور السنة مع القرآن الكريم، من أي عنوان من هذه العناوين نختاره، لكننا نتكلم عن مسألة هامة، كما قلنا تتعلق بمنزلة السنة، وأهميتها في حياة المسلمين، وفي دينهم، وفي ديناهم.

السنة لها أدوار مع القرآن الكريم، بادئ ذي بدئ ننطلق في هذا الأمر من المهمة، التي ذكرها الله تعالى في القرآن الكريم لرسوله صلى الله عليه وسلم، وهذه المهمة قد جاءت في أكثر
বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম

দ্বিতীয় পাঠ

(কুরআন মাজিদের সাথে সুন্নাহর সম্পর্ক)

 

‌‌কুরআন মাজিদের সাথে সুন্নাহর ভূমিকা

সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, আর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক নবী ও রাসুলগণের মোহর, আমাদের নেতা মুহাম্মদ (সা.), তাঁর পরিবার-পরিজন, তাঁর প্রিয়জন, তাঁর সাহাবীগণ, তাঁর পবিত্র ও পরিচ্ছন্ন পত্নীগণ এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবেন তাদের ওপর। অতঃপর:

আমরা কুরআন মাজিদের সাথে সুন্নাহর মর্যাদা বা সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করব:

এই সুন্নাহ যার পরিচয় আমরা জেনেছি, তা হলো: নবী (সা.) থেকে আমাদের কাছে যা কিছু কথা, কাজ বা মৌনসম্মতি (إقرار) হিসেবে পৌঁছেছে—সংজ্ঞার শেষ পর্যন্ত; শরয়ি বিধান প্রণয়নে (التشريع) এর ভূমিকা কী? এর মর্যাদা ও অবস্থান কী? কুরআন মাজিদের সাথে কি এর কোনো ভূমিকা আছে?

এই বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ; কারণ এটি একটি প্রশ্নের উত্তর দেয়—তা হলো, পবিত্র সুন্নাহর পরিবর্তে আমরা কি কেবল কুরআন মাজিদ নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে পারি? বিশেষ করে যখন আমরা কুরআন মাজিদ ও সুন্নাহর মধ্যকার সম্পর্ক, কুরআনের সাথে সুন্নাহর ভূমিকা এবং শরয়ি বিধান প্রণয়নে (التشريع) এর মর্যাদা ব্যাখ্যা করব।

আমরা এই বিষয় সংক্রান্ত কিছু সংশয়ের (شبهات) মুখোমুখি হব, বিশেষ করে যেহেতু আমাদের পাঠ্যবিষয়টি হলো পবিত্র সুন্নাহর প্রতিরক্ষা। আমরা জানি যে, একটি ধারা বা মতবাদ আছে—বা তারা বর্তমানে নিজেদের একটি স্বতন্ত্র ধারা হিসেবে পরিচয় দেওয়ার চেষ্টা করছে এবং নিজেদের দাবি অনুযায়ী তারা নিজেদের 'কুরআনি স্কুল' বা 'আহলুল কুরআন' বলে অভিহিত করে। তারা দাবি করে যে, কেবল কুরআন মাজিদ দিয়েই চলা সম্ভব এবং তারা সুন্নাহর মর্যাদা নিয়ে বিভিন্ন সংশয় (شبهات) তৈরি করার চেষ্টা করে। তারা তাদের এই অবস্থানের পক্ষে দলিল পেশ করতে চায় এবং দাবি করে যে এটি শরিয়তের (الشرع) অনুকূল।

যা-ই হোক, আমরা কুরআন মাজিদের সাথে সুন্নাহর ভূমিকার বর্ণনা দিয়ে শুরু করছি। আমরা এই বিষয়টিকে একটি শিরোনাম দিতে পারি এবং বলতে পারি: কুরআন মাজিদের সাথে সুন্নাহর সম্পর্ক; অথবা আমরা চাইলে বলতে পারি: শরয়ি বিধান প্রণয়নে (التشريع) সুন্নাহর মর্যাদা; অথবা বলতে পারি: কুরআন মাজিদের সাথে সুন্নাহর ভূমিকা। আমরা এর মধ্যে যেকোনো শিরোনামই বেছে নেই না কেন, আমরা মূলত একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে কথা বলছি যা সুন্নাহর মর্যাদা এবং মুসলমানদের জীবন, ধর্ম ও পার্থিব জীবনে এর গুরুত্বের সাথে সম্পর্কিত।

কুরআন মাজিদের সাথে সুন্নাহর কয়েকটি ভূমিকা রয়েছে। শুরুতেই আমরা সেই মহান দায়িত্ব থেকে আলোচনা শুরু করছি, যা আল্লাহ তাআলা কুরআন মাজিদে তাঁর রাসুল (সা.)-এর জন্য উল্লেখ করেছেন। আর এই দায়িত্বের কথা কুরআনের অনেক আয়াতে বর্ণিত হয়েছে...
(খণ্ড: ১) আদ-দিফাউ আনিস সুন্নাহ - জামিয়াতুল মদীনা (মাজিসতির) (পৃষ্ঠা: ২৮)
من آية، في سورة النحل {وَأَنْزَلْنَا إِلَيْكَ الذِّكْرَ لِتُبَيِّنَ لِلنَّاسِ مَا نُزِّلَ إِلَيْهِمْ وَلَعَلَّهُمْ يَتَفَكَّرُونَ} (النحل: 44)، فالله تعالى قد فوَّض رسوله صلى الله عليه وسلم في بيان القرآن الكريم للناس؛ وذلك بنص الآية التي أشرنا إليها.

وفي سورة النحل أيضًا قبل ذلك {وَمَا أَنْزَلْنَا عَلَيْكَ الْكِتَابَ إِلَّا لِتُبَيِّنَ لَهُمُ الَّذِي اخْتَلَفُوا فِيهِ وَهُدًى وَرَحْمَةً لِقَوْمٍ يُؤْمِنُونَ} (النحل: 64)، أنت الذي ستبين الكتاب يا رسول الله، وأنت الذي ستبين للناس ما اختلفوا فيه، فالمهمة المجملة الموجزة للسنة، ولرسول الله صلى الله عليه وسلم هي أنها تبين القرآن الكريم في جزء من علاقتها بالقرآن الكريم، لكن هذه إشارة موجزة.

لكننا الآن ننتقل إلى التفصيل، فأنواع العلاقة بين القرآن الكريم وبين السنة المطهرة، يمكن حصرها في ثلاثة: أن تأتي السنة موافقة لما جاء في القرآن الكريم، هذه أول علاقة بين القرآن الكريم وبين السنة المطهرة، بمعنى: أن المعنى يأتي في القرآن الكريم، ويأتي أيضًا في السنة المطهرة، فمثلًا يقول الله تعالى: {إِنَّمَا الْمُؤْمِنُونَ إِخْوَةٌ} (الحجرات: 10)، ويأتي النبي صلى الله عليه وسلم، ويقول: ((المسلم أخو المسلم، لا يظلمه، ولا يسلمه، ولا يخذله، ولا يحقره)) إلخ.

فأكد النبي صلى الله عليه وسلم هذه الأخوة، بقوله صلى الله عليه وسلم: ((المسلم أخو المسلم))، ((المسلم أخو المسلم)) ما العلاقة بينه، وبين قول الله تعالى: {إِنَّمَا الْمُؤْمِنُونَ إِخْوَةٌ}؟ العلاقة علاقة توافق بمعنى: أن المعنى جاء في القرآن الكريم، ووافقته السنة المطهرة بقوله: صلى الله عليه وسلم: ((المسلم أخو المسلم)) يعني: ((المسلم أخو المسلم)) هذا جزء من حديث طويل، رواه الإمام مسلم في كتاب البر والآداب والصلة، في باب تحريم ظلم المسلم.
সূরা আন-নাহলের একটি আয়াতে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: {আর আমি আপনার প্রতি যিকির নাযিল করেছি, যাতে আপনি মানুষের জন্য তা সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করেন যা তাদের প্রতি নাযিল করা হয়েছে এবং যাতে তারা চিন্তা-গবেষণা করে} (আন-নাহল: ৪৪), সুতরাং আল্লাহ তাআলা তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে মানুষের নিকট কুরআনুল কারীম বর্ণনা (بيان) করার দায়িত্ব অর্পণ করেছেন; এটি আমাদের উল্লেখ করা আয়াতের স্পষ্ট পাঠ (نص) দ্বারাই প্রমাণিত।

এবং সূরা আন-নাহলের এর আগের একটি আয়াতে ইরশাদ হয়েছে: {আমি আপনার প্রতি কিতাব নাযিল করিনি, কিন্তু একারণে যে, আপনি তাদের নিকট তা সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করবেন যে বিষয়ে তারা মতভেদ করছে এবং এটি মুমিন সম্প্রদায়ের জন্য হেদায়েত ও রহমত} (আন-নাহল: ৬৪), হে আল্লাহর রাসূল! আপনিই সেই ব্যক্তি যিনি কিতাব বর্ণনা (بيان) করবেন এবং মানুষের মাঝে যে বিষয়ে মতভেদ রয়েছে তা স্পষ্ট করবেন। সুতরাং কুরআনুল কারীমের সাথে সম্পর্কের একটি অংশ হিসেবে সুন্নাহ এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সংক্ষিপ্ত (مجملة) ও সারসংক্ষেপ দায়িত্ব হলো কুরআনুল কারীমকে বর্ণনা (بيان) করা, তবে এটি একটি সংক্ষিপ্ত ইঙ্গিত মাত্র।

কিন্তু এখন আমরা বিস্তারিত আলোচনায় যাব। কুরআনুল কারীম এবং পবিত্র সুন্নাহর মধ্যকার সম্পর্কের ধরনগুলোকে তিন ভাগে সীমাবদ্ধ করা যেতে পারে: সুন্নাহ কুরআনুল কারীমে যা এসেছে তার সামঞ্জস্যপূর্ণ (موافقة) হওয়া। এটি কুরআনুল কারীম এবং পবিত্র সুন্নাহর মধ্যকার প্রথম সম্পর্ক। অর্থাৎ এর অর্থটি কুরআনুল কারীমেও আসবে এবং পবিত্র সুন্নাহতেও আসবে। উদাহরণস্বরূপ, আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: {নিশ্চয়ই মুমিনরা পরস্পর ভাই} (আল-হুজুরাত: ১০), আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: ((এক মুসলিম অপর মুসলিমের ভাই, সে তার ওপর জুলুম করে না, তাকে শত্রুর হাতে সঁপে দেয় না, তাকে অসহায় অবস্থায় ছেড়ে দেয় না এবং তাকে তুচ্ছজ্ঞান করে না)) ইত্যাদি।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে: ((এক মুসলিম অপর মুসলিমের ভাই)), এই ভ্রাতৃত্বকে সুনিশ্চিত করেছেন। ((এক মুসলিম অপর মুসলিমের ভাই))—এই বাণীর সাথে আল্লাহ তাআলার বাণী {নিশ্চয়ই মুমিনরা পরস্পর ভাই}-এর সম্পর্ক কী? এই সম্পর্কটি হলো সঙ্গতিপূর্ণ (توافق) হওয়ার সম্পর্ক। অর্থাৎ মূল অর্থটি কুরআনুল কারীমে এসেছে এবং পবিত্র সুন্নাহ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: ((এক মুসলিম অপর মুসলিমের ভাই)) দ্বারা তার সাথে একাত্মতা প্রকাশ করেছে। অর্থাৎ ((এক মুসলিম অপর মুসলিমের ভাই)) এটি একটি দীর্ঘ হাদিসের অংশ, যা ইমাম মুসলিম ‘কিতাবুল বিররি ওয়াস-সিলাতি ওয়াল আদাব’-এর ‘এক মুসলিমের ওপর জুলুম হারাম হওয়া’ অধ্যায়ে (باب) বর্ণনা (رواه) করেছেন।
(খণ্ড: ১) আদ-দিফাউ আনিস সুন্নাহ - জামিয়াতুল মদীনা (মাজিসতির) (পৃষ্ঠা: ২৯)
إذن العلاقة بين هذه الآية، وبين هذا الحديث هي علاقة الموافقة، وأيضًا في قوله تبارك وتعالى: {وَكَذَلِكَ أَخْذُ رَبِّكَ إِذَا أَخَذَ الْقُرَى وَهِيَ ظَالِمَةٌ إِنَّ أَخْذَهُ أَلِيمٌ شَدِيدٌ} (هود: 102) ونفس المعنى تقريبًا في قول النبي صلى الله عليه وسلم: ((إن الله ليملي للظالم حتى إذا أخذه، لم يفلته))، هذا أيضًا حديث رواه الإمام البخاري في كتاب التفسير، باب تفسير سورة هود، ورواه الإمام مسلم في كتاب البر باب تحريم الظلم.

الآية قالت: {وَكَذَلِكَ أَخْذُ رَبِّكَ} يعني: هذا عقاب ربك {إِذَا أَخَذَ الْقُرَى وَهِيَ ظَالِمَةٌ} أي: بسبب ظلمها فإن عقابه أليم شديد، وكذلك قال النبي صلى الله عليه وسلم: ((إن الله ليملي للظالم فإذا أخذه لم يفلته))، أي: لن يتركه بدون عقاب، فالآية والحديث توافقتا على إثبات المعنى المقصود، وهو أن عقاب الله شديد للظالمين إذا أخذهم، وأنه قد يتركهم بعض الوقت إملاءً لهم، أو لعلهم يراجعون أنفسهم، فإذا استمروا في غيهم وظلمهم فسوف يعاقبوا.

العلاقة في هذه الحالة علاقة توافق أو موافقة، وهذا دور للسنة مع القرآن الكريم، قد لا يقتنع به البعض قد يعقب البعض على هذا، فيقول: يكفينا القرآن، ولا نحتاج إلى أي شيء يوافقه، ومن ثم فإن هذا النوع من أنواع العلاقة بين القرآن الكريم، وبين السنة المطهرة لن يوضح الصورة تمامًا في أهمية السنة، أو في شدة الاحتياج إليها في الإسلام بشكل عام، وأنه لا يمكن الاستغناء عنها أبدًا، فنقول: ننتقل إلى النوع الثاني من أنواع العلاقة بين القرآن الكريم، وبين السنة المطهرة، هذه العلاقة أيضًا مأخوذة من الآيات، التي ذكرنها في سورة النحل، يعني: أن الله عز وجل {وَمَا أَنْزَلْنَا عَلَيْكَ الْكِتَابَ إِلَّا لِتُبَيِّنَ لَهُمُ الَّذِي اخْتَلَفُوا فِيهِ وَهُدًى وَرَحْمَةً لِقَوْمٍ يُؤْمِنُونَ} (النحل: 64).
সুতরাং এই আয়াত এবং এই হাদিসের মধ্যকার সম্পর্ক হলো সামঞ্জস্যপূর্ণ (موافقة) সম্পর্ক। মহান আল্লাহ তায়ালার বাণীতেও রয়েছে: {এভাবেই তোমার পালনকর্তার পাকড়াও হয়, যখন তিনি পাকড়াও করেন জনপদসমূহকে এমতাবস্থায় যে তারা জালিম ছিল; নিশ্চয় তাঁর পাকড়াও যন্ত্রণাদায়ক, অতি কঠোর} (হূদ: ১০২)। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণীতেও প্রায় একই অর্থ বর্ণিত হয়েছে: ((নিশ্চয়ই আল্লাহ জালিমকে অবকাশ দেন, অবশেষে যখন তিনি তাকে পাকড়াও করেন, তখন আর তাকে ছেড়ে দেন না))। এটিও একটি হাদিস যা ইমাম বুখারি কিতাবুত তাফসির-এর সূরা হূদ-এর তাফসির অনুচ্ছেদে বর্ণনা করেছেন এবং ইমাম মুসলিম কিতাবুল বির-এর জুলুমের নিষিদ্ধতা অনুচ্ছেদে বর্ণনা করেছেন।

আয়াতে বলা হয়েছে: {এভাবেই তোমার পালনকর্তার পাকড়াও}, অর্থাৎ: এটি তোমার রবের শাস্তি {যখন তিনি পাকড়াও করেন জনপদসমূহকে এমতাবস্থায় যে তারা জালিম ছিল} অর্থাৎ: তাদের জুলুমের কারণে; কারণ তাঁর শাস্তি অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক ও কঠোর। অনুরূপভাবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ((নিশ্চয়ই আল্লাহ জালিমকে অবকাশ দেন, অতঃপর যখন তিনি তাকে পাকড়াও করেন তখন তাকে আর রেহাই দেন না))। অর্থাৎ: তাকে শাস্তি প্রদান ব্যতিরেকে ছেড়ে দেন না। সুতরাং আয়াত ও হাদিস উভয়ই উদ্দিষ্ট অর্থ সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে সামঞ্জস্যপূর্ণ (موافقة) হয়েছে। আর তা হলো জালিমদের পাকড়াও করার সময় আল্লাহর শাস্তি অত্যন্ত কঠোর হওয়া; এবং তিনি তাদের অবকাশ স্বরূপ কিছু সময় ছেড়ে দিতে পারেন যাতে সম্ভবত তারা নিজেদের শুধরে নেয়, কিন্তু তারা যদি তাদের বিভ্রান্তি ও জুলুমে লিপ্ত থাকে, তবে অবশ্যই তাদের শাস্তি দেওয়া হবে।

এই ক্ষেত্রে সম্পর্কটি হলো ঐকমত্য বা সামঞ্জস্যপূর্ণ (موافقة) সম্পর্ক। পবিত্র কুরআনের সাথে সুন্নাহর এটি একটি ভূমিকা। কেউ হয়তো এতে সন্তুষ্ট নাও হতে পারেন অথবা কেউ এর ওপর মন্তব্য করে বলতে পারেন: 'কুরআনই আমাদের জন্য যথেষ্ট, আমাদের এর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ (موافقة) অন্য কিছুর প্রয়োজন নেই'। ফলস্বরূপ, পবিত্র কুরআন এবং পবিত্র সুন্নাহর মধ্যকার সম্পর্কের এই ধরনটি ইসলামের সুন্নাহর গুরুত্ব বা এর অপরিহার্যতা পুরোপুরি ফুটিয়ে তুলবে না এবং এটিও স্পষ্ট করবে না যে সুন্নাহ ব্যতিরেকে চলা কখনোই সম্ভব নয়। তাই আমরা বলব: আমরা পবিত্র কুরআন ও পবিত্র সুন্নাহর মধ্যকার সম্পর্কের দ্বিতীয় প্রকারের দিকে দৃষ্টিপাত করি। এই সম্পর্কটিও সূরা আন-নাহল-এর ঐ সকল আয়াত থেকে গৃহীত যা আমরা ইতিপূর্বে উল্লেখ করেছি। মহান আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন: {আমি তোমার প্রতি কিতাব অবতীর্ণ করেছি কেবল একারণে যে, তারা যে বিষয়ে মতভেদ করছে তা তুমি তাদের নিকট সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা (تبيين) করে দিবে এবং এটি মুমিনদের জন্য হিদায়াত ও রহমত স্বরূপ} (আন-নাহল: ৬৪)।
(খণ্ড: ১) আদ-দিফাউ আনিস সুন্নাহ - জামিয়াতুল মদীনা (মাজিসতির) (পৃষ্ঠা: ৩০)
إذن النبي صلى الله عليه وسلم {وَأَنْزَلْنَا إِلَيْكَ الذِّكْرَ لِتُبَيِّنَ لِلنَّاسِ مَا نُزِّلَ إِلَيْهِمْ} (النحل: 44)، فالذي يبين كتاب الله تعالى للخلق جميعًا إلى يوم القيامة، هو رسول الله صلى الله عليه وسلم، وأعرف الخلق بمراد الله تبارك وتعالى الذي يبلغ عن الله هو خير خلق الله، وهو سيدنا محمد صلى الله عليه وسلم، إذن السنة تبين القرآن الكريم، ولولا بيان السنة للقرآن الكريم لما استطعنا أن نفهمه، وبالتالي لما استطعنا أن نطبقه.

الأول: نتكلم عن أنواع البيان وأمثلة له، ثم نتكلم عن أهمية المسألة، هذه كلمة موجزة: السنة تبين القرآن الكريم، كيف تبينه؟ تبينه بأنواع من البيان كثيرة منها مثلًا: تفصيل المجمل يعني: السنة تفصل مجمل القرآن الكريم، الشيء يأتي مجملًا، وموجزًا في القرآن الكريم، لا نستطيع أن نفهم المراد منه إلا بعد تفصيله، فتتولى السنة ذلك التفصيل، من ذلك مثلًا: ما ورد في القرآن الكريم عن الصلاة، وأنا هنا سأختار الأمثلة من خلال أركان الإسلام لماذا؟ يعني: أريد أن أقول من خلال هذه الأمثلة، وهي أمثلة مختصرة أو قليلة جدًّا في هذه الجزئية بالذات، يعني أريد أن أقول: إننا لن نفهم أركان الإسلام ولن نستطيع أن نطبقها إلا في ضوء السنة.

فمثلًا: الركن الأول بعد الشهادتين وهو الصلاة، ماذا جاء في القرآن الكريم عنه؟ قال الله تعالى: {إِنَّ الصَّلَاةَ كَانَتْ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ كِتَابًا مَوْقُوتًا} (النساء: 103)، فالآية تحث المؤمنين على المحافظة على الصلاة في أوقاتها، وقال -سبحانه-: {وَأَقِيمُوا الصَّلَاةَ} (البقرة: 43) فعل أمر بإقامة الصلاة ورد في أكثر من سورة، وامتدح الله تعالى المؤمنين، فقال -سبحانه -: {وَالَّذِينَ هُمْ عَلَى صَلَوَاتِهِمْ يُحَافِظُونَ} (المؤمنون: 9) {وَالَّذِينَ هُمْ عَلَى صَلَاتِهِمْ يُحَافِظُونَ} (المعارج: 34)، وآيات كثيرة أيضًا تبين حث القرآن الكريم على الصلاة، وعلى أنها تنهى عن الفحشاء والمنكر … إلخ.
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দায়িত্ব সম্পর্কে ইরশাদ হয়েছে: {আর আমি আপনার প্রতি যিক্‌র (কুরআন) অবতীর্ণ করেছি, যাতে আপনি মানুষের কাছে তা স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেন যা তাদের প্রতি নাযিল করা হয়েছে} (আন-নাহল: ৪৪)। সুতরাং কিয়ামত পর্যন্ত সমগ্র সৃষ্টির জন্য আল্লাহর কিতাবকে যিনি স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা (بيان) করেন, তিনি হলেন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। আল্লাহর পক্ষ থেকে যিনি বাণী পৌঁছে দেন, তিনি সৃষ্টির মাঝে মহান আল্লাহর উদ্দেশ্য সম্পর্কে সর্বাধিক অবগত এবং তিনি আল্লাহর সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি আমাদের নেতা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। অতএব সুন্নাহ (سنة) পবিত্র কুরআনকে স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করে। সুন্নাহ (سنة) কর্তৃক কুরআনের এই ব্যাখ্যা (بيان) না থাকলে আমরা তা বুঝতে সক্ষম হতাম না এবং ফলস্বরূপ তা বাস্তবায়নও করতে পারতাম না।

প্রথমত: আমরা ব্যাখ্যার (بيان) প্রকারভেদ ও এর উদাহরণ নিয়ে আলোচনা করব, এরপর এই বিষয়ের গুরুত্ব নিয়ে কথা বলব। সংক্ষেপে কথা হলো: সুন্নাহ (سنة) পবিত্র কুরআনকে ব্যাখ্যা করে। এটি কীভাবে ব্যাখ্যা করে? এটি অনেক প্রকার ব্যাখ্যার (بيان) মাধ্যমে তা সম্পন্ন করে, যার একটি হলো: সংক্ষিপ্ত বিষয়ের বিস্তারিত ব্যাখ্যা (تفصيل المجمل)। অর্থাৎ সুন্নাহ (سنة) পবিত্র কুরআনের সংক্ষিপ্ত বা অস্পষ্ট (مجمل) বিষয়গুলোকে বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করে। কুরআনে কোনো বিষয় সংক্ষিপ্ত ও সারসংক্ষেপ হিসেবে আসে, যার উদ্দেশ্য বিস্তারিত বর্ণনা (تفصيل) ছাড়া বোঝা সম্ভব নয়; সুন্নাহ (سنة) সেই বিস্তারিত বর্ণনার (تفصيل) দায়িত্ব পালন করে। এর একটি উদাহরণ হলো: নামাজ সম্পর্কে পবিত্র কুরআনে যা বর্ণিত হয়েছে। আমি এখানে ইসলামের রোকন বা স্তম্ভগুলো থেকে উদাহরণ নির্বাচন করব। কেন? এই উদাহরণগুলোর মাধ্যমে—যা এই নির্দিষ্ট অংশে খুবই সংক্ষিপ্ত বা সামান্য—আমি এটি বলতে চাই যে, আমরা ইসলামের রোকনগুলো বুঝতে পারব না এবং সুন্নাহর (سنة) আলোকপাত ছাড়া সেগুলো বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হব না।

উদাহরণস্বরূপ: শাহাদাতাইনের পর প্রথম রোকন হলো নামাজ। এ সম্পর্কে পবিত্র কুরআনে কী এসেছে? মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন: {নিশ্চয়ই নামাজ মুমিনদের ওপর নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ফরজ করা হয়েছে} (আন-নিসা: ১০৩)। এই আয়াতটি মুমিনদেরকে তাদের নিজ নিজ সময়ে নামাজের প্রতি যত্নশীল হওয়ার জন্য উদ্বুদ্ধ করে। মহান আল্লাহ আরও বলেন: {তোমরা নামাজ কায়েম করো} (আল-বাকারাহ: ৪৩)। নামাজ কায়েম করার এই আদেশসূচক বাক্যটি একাধিক সূরায় বর্ণিত হয়েছে। মহান আল্লাহ মুমিনদের প্রশংসা করে বলেন: {আর যারা তাদের নামাজসমূহের হেফাজত করে} (আল-মুমিনুন: ৯) {আর যারা তাদের নামাজের ব্যাপারে যত্নবান} (আল-মাআরিজ: ৩৪)। এছাড়া আরও অনেক আয়াত রয়েছে যা নামাজের প্রতি পবিত্র কুরআনের গুরুত্বারোপ এবং এটি যে অশ্লীল ও মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখে সে বিষয়টি বর্ণনা (بيان) করে … ইত্যাদি।
(খণ্ড: ১) আদ-দিফাউ আনিস সুন্নাহ - জামিয়াতুল মদীনা (মাজিসতির) (পৃষ্ঠা: ৩১)
هذه الآيات ماذا استفدنا منها؟ تبين أن الله تعالى قد أوجب الصلاة على المؤمنين، لكن لم يبين لنا أوقاتها، ولم يبين لنا الفرائض الواجبة علينا في كل يوم، ولم يبين عدد ركعات كل فرض، وأركان الصلاة، شروط الصلاة، سنن الصلاة غير ذلك مما يتعلق بالصلاة، جاءت السنة الشريفة، وفصلت ذلك المجمل، وعلمت الناس الصلاة، وعلمتهم كل ما يتعلق بتفصيلاتها، ولولا السنة لما عرفنا كيف نصلي، ونقولها بملء الفم لا نستطيع أن نصلي أبدًا الصلاة، التي نعرفها جميعًا بكل تفصيلاتها في ضوء القرآن الكريم وحده، وإنما لا بد من السنة، التي تبين لنا كيف تكون الصلاة بكل ما أشرنا إليه من تفصيلات.

ومثل ما نقوله عن الصلاة نقوله عن سائر العبادات، من زكاة، ومن صيام ومن حج، الزكاة أيضًا وردت الآيات تطلب: إيتاء الزكاة، وآيات كثيرة مدحت المتصدقين، {وَالَّذِينَ فِي أَمْوَالِهِمْ حَقٌّ مَعْلُومٌ * لِلسَّائِلِ وَالْمَحْرُومِ} (المعارج: 24، 25) إلى آخر الآيات، لكن ما هي تفصيلات الزكاة؟ من الذي يستطيع أن يستخرج لنا من القرآن زكاة الأموال مثلًا؟، يعني: يبين لنا نصابها يبين لنا القدر المطلوب إذا بلغ المال النصاب، يذكر لنا شروط إخراج الزكاة.

أيضًا زكاة الزروع والثمار ورد مجملًا {وَآتُوا حَقَّهُ يَوْمَ حَصَادِهِ} (الأنعام: 141) فقط، لكن التفصيلات في زكاة المواشي عروض التجارة الركاز، … إلخ كل ذلك تكفلت ببيانه السنة المطهرة، وقل مثل ما شئت أو مثل ما قلنا عن الصلاة والزكاة، قل عن الصيام {شَهْرُ رَمَضَانَ الَّذِي أُنْزِلَ فِيهِ الْقُرْآنُ هُدًى لِلنَّاسِ وَبَيِّنَاتٍ مِنَ الْهُدَى وَالْفُرْقَانِ فَمَنْ شَهِدَ مِنْكُمُ الشَّهْرَ فَلْيَصُمْهُ} (البقرة: 185) فليصمه فعل مضارع اقترن بلام الأمر فأفاد الوجوب، صيام رمضان واجب على كل مسلم ومسلمة، متى نبدأ الصيام؟ ومتى ننتهي؟ وما هي المفطرات، وما هي كذا وكذا؟ كل ذلك تكلفت ببيانه السنة وكذلك الحج.
এই আয়াতগুলো থেকে আমরা কী শিক্ষা লাভ করলাম? এটি স্পষ্ট করে যে, আল্লাহ তাআলা মুমিনদের ওপর সালাত ফরজ (فرض) করেছেন, কিন্তু তিনি আমাদের জন্য এর ওয়াক্তসমূহ বর্ণনা করেননি, প্রতিদিন আমাদের ওপর যে আমলগুলো আবশ্যক (واجب) তা-ও বর্ণনা করেননি, প্রতিটি ফরজের রাকাত সংখ্যা, সালাতের রুকনসমূহ (أركان), সালাতের শর্তসমূহ (شروط), সালাতের সুন্নাতসমূহ (سنন) এবং সালাত সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়াবলিও বর্ণনা করেননি। অতঃপর সুন্নাহ শরিফ এসেছে এবং সেই সংক্ষিপ্ত (مجمل) বিষয়গুলোর বিস্তারিত বর্ণনা প্রদান করেছে। সুন্নাহ মানুষকে সালাত শিক্ষা দিয়েছে এবং সালাতের খুঁটিনাটি সকল বিষয় তাদের শিখিয়েছে। যদি সুন্নাহ না থাকত তবে আমরা জানতাম না কীভাবে সালাত আদায় করতে হয়। আমরা দ্ব্যর্থহীনভাবে বলতে পারি যে, শুধুমাত্র পবিত্র কুরআনের আলোকে আমরা কখনোই সেই সালাত আদায় করতে সক্ষম হতাম না যা আমরা এর যাবতীয় খুঁটিনাটিসহ জানি। বরং সুন্নাহ অপরিহার্য, যা আমাদের নিকট ইতিপূর্বে উল্লিখিত বিস্তারিত বিবরণ অনুযায়ী সালাতের পদ্ধতি বর্ণনা করে।

সালাত সম্পর্কে আমরা যা বলেছি, অন্যান্য ইবাদত যেমন যাকাত, সিয়াম ও হজ সম্পর্কেও একই কথা প্রযোজ্য। যাকাতের ক্ষেত্রেও আয়াতসমূহ এসেছে যাকাত প্রদানের নির্দেশ নিয়ে এবং বহু আয়াতে দানশীলদের প্রশংসা করা হয়েছে: {এবং যাদের সম্পদে নির্দিষ্ট হক রয়েছে, যাঞ্চাকারী ও বঞ্চিতদের জন্য} (আল-মাআরিজ: ২৪, ২৫) আয়াতের শেষ পর্যন্ত। কিন্তু যাকাতের বিস্তারিত বিবরণ কী? যেমন- কে আমাদের জন্য কুরআন থেকে সম্পদের যাকাত বের করতে সক্ষম হবে? অর্থাৎ, কে আমাদের জন্য এর নিসাব (نصاب) স্পষ্ট করবে, সম্পদ নিসাব পরিমাণ হলে প্রদেয় মালের পরিমাণ বর্ণনা করবে কিংবা যাকাত আদায়ের শর্তসমূহ (شروط) উল্লেখ করবে।

তদ্রূপ শস্য ও ফলের যাকাতও সংক্ষিপ্ত (مجمل) আকারে এসেছে: {আর তোমরা ফসল কাটার দিনে তার হক আদায় করো} (আল-আনআম: ১৪১) - স্রেফ এতটুকুই। কিন্তু গবাদি পশু, ব্যবসায়িক পণ্য, খনিজ সম্পদ (الركاز) ইত্যাদির যাকাতের বিস্তারিত বিবরণ... … ইত্যাদি সবকিছুর বর্ণনার দায়িত্ব পবিত্র সুন্নাহ গ্রহণ করেছে। আপনি সালাত ও যাকাত সম্পর্কে যা ইচ্ছা বা আমরা যা বলেছি তা-ই বলুন; সিয়াম সম্পর্কেও তাই বলুন: {রমজান মাস, যাতে কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে মানুষের জন্য হিদায়াতস্বরূপ এবং হিদায়াতের সুস্পষ্ট নিদর্শন ও সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারী হিসেবে। সুতরাং তোমাদের মধ্যে যে এই মাস পায়, সে যেন তাতে রোজা রাখে} (আল-বাকারাহ: ১৮৫)। এখানে "সে যেন রোজা রাখে" শব্দটি মুদারে (مضارع) ক্রিয়া যা লামে আমর (لام الأمر) এর সাথে যুক্ত হয়ে আবশ্যকতা (وجوب) হওয়ার অর্থ প্রদান করেছে। রমজানের সিয়াম প্রত্যেক মুসলিম নর-নারীর ওপর আবশ্যক (واجب)। আমরা কখন সিয়াম শুরু করব? কখন শেষ করব? রোজা ভঙ্গকারী বিষয়সমূহ (المفطرات) কী কী? আর এটা সেটা কী? এই সবকিছুর বর্ণনার ভার সুন্নাহ নিয়েছে এবং হজের ক্ষেত্রেও বিষয়টি অনুরূপ।
(খণ্ড: ১) আদ-দিফাউ আনিস সুন্নাহ - জামিয়াতুল মদীনা (মাজিসতির) (পৃষ্ঠা: ৩২)
والعلماء يقولون: إن القرآن الكريم قد ذكر أركان الحج في القرآن، يعني: قد ذكر أركان الحج في كثير من آياته، مثلًا: ذكر الله تعالى الطواف {وَلْيَطَّوَّفُوا بِالْبَيْتِ الْعَتِيقِ} (الحج: 29)، وذكر السعي {إِنَّ الصَّفَا وَالْمَرْوَةَ مِنْ شَعَائِرِ اللَّهِ} (البقرة: 158)، وذكر الحلق والتقصير {لَقَدْ صَدَقَ اللَّهُ رَسُولَهُ الرُّؤْيَا بِالْحَقِّ لَتَدْخُلُنَّ الْمَسْجِدَ الْحَرَامَ إِنْ شَاءَ اللَّهُ آمِنِينَ مُحَلِّقِينَ رُءُوسَكُمْ وَمُقَصِّرِينَ} (الفتح: 27)، ذكر الوقوف بعرفة {فَإِذَا أَفَضْتُمْ مِنْ عَرَفَاتٍ} (البقرة: 199)، وهو أهم أركان الحج … إلخ.

لكنه ترك التفصيلات للسنة، ذكره كركن بإجمال، لكن مثلًا هل نستطيع أن نعلم أن يوم عرفة هو اليوم التاسع من ذي الحجة؟ هل نعلم أن الوقوف على عرفة يبتدأ من الزوال، حتى المغرب، هل نعلم ماذا نقول في يوم عرفة؟ كل ذلك تكلفت ببيانه السنة المطهرة، أنا لا زلت أتكلم عن نوع واحد من أنواع بيان السنة المطهرة للقرآن الكريم، وهو تفصيل المجمل، وضربت أمثلة بالعبادات، أو بأركان الإسلام الأربعة بعد الشهادتين؛ لأبين أن أركان الإسلام، وما أدراك ما أركان الإسلام بنيانه الأول، الأساس في بنيانه، الذي لن يقبل عمل منه بعد ذلك إلا على أساس هذه الأركان، لن نستطيع أن نفهمها، ولا أن نطبقها إلا في ضوء السنة المطهرة.

فكأن الذي لن يفهم السنة، ولن يحتج بها لن يستطيع أن يصلي، ولن يستطيع أن يحج أو يصوم أو يؤدي زكاته … إلخ وتفصيل المجمل أي: تفصيل مجمل القرآن من السنة لم يقتصر على أركان الإسلام فقط، أنا نضرب الأمثلة بأهم الأشياء، إنما إذا نزلت إلى أمثلة أخرى، فحدث ولا حرج، وأكرر أنني ما زلت في نوع واحد وهو تفصل المجمل، مثلًا: حين يقول الله تعالى: {وَأَحَلَّ اللَّهُ الْبَيْعَ وَحَرَّمَ الرِّبَ ا} (البقرة: 275) ما هو الربا؟ وما هي الأصناف التي يدخلها، وما هي الأصناف التي لا يدخلها؟ حين يقول مثلًا: البيع {وَأَحَلَّ اللَّهُ الْبَيْعَ} ما هو البيع الحلال، وما صوره وما شروطه، وكيف يمضي ومتى يفسد ومتى يصح؟ إلى آخر.
আলেমগণ বলেন: পবিত্র কুরআন হজের রুকনসমূহ কুরআনেই উল্লেখ করেছে, অর্থাৎ: এটি এর অনেক আয়াতে হজের রুকনসমূহ উল্লেখ করেছে। উদাহরণস্বরূপ: মহান আল্লাহ তাওয়াফ উল্লেখ করেছেন {এবং তারা যেন প্রাচীন গৃহের তাওয়াফ করে} (আল-হজ: ২৯), সাঈ উল্লেখ করেছেন {নিশ্চয়ই সাফা ও মারওয়া আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্তর্ভুক্ত} (আল-বাকারা: ১৫৮), মাথা মুণ্ডন ও চুল ছোট করা উল্লেখ করেছেন {আল্লাহ অবশ্যই তাঁর রাসূলের স্বপ্ন সত্যে পরিণত করেছেন, ইনশাআল্লাহ তোমরা অবশ্যই মসজিদে হারামে প্রবেশ করবে নিরাপদ অবস্থায়, কেউ মস্তক মুণ্ডনকারী অবস্থায় এবং কেউ চুল ছোট করা অবস্থায়} (আল-ফাতহ: ২৭), আরাফায় অবস্থান উল্লেখ করেছেন {অতঃপর যখন তোমরা আরাফাত থেকে প্রত্যাবর্তন করবে} (আল-বাকারা: ১৯৯), আর এটিই হজের প্রধান রুকন... ইত্যাদি।

কিন্তু তিনি বিস্তারিত বিবরণ সুন্নাহর ওপর ছেড়ে দিয়েছেন। রুকন হিসেবে তিনি তা সংক্ষিপ্ত (مجمل) আকারে উল্লেখ করেছেন। তবে উদাহরণস্বরূপ, আমরা কি জানতে পারতাম যে আরাফার দিনটি হলো যিলহজ মাসের নবম দিন? আমরা কি জানতে পারতাম যে আরাফায় অবস্থান শুরু হয় সূর্য ঢলে পড়া থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত? আমরা কি জানতে পারতাম আরাফার দিনে আমাদের কী বলতে হবে? এ সবকিছুর বর্ণনার দায়িত্ব পবিত্র সুন্নাহ গ্রহণ করেছে। আমি এখনও পবিত্র সুন্নাহর মাধ্যমে পবিত্র কুরআনের ব্যাখ্যার ধরনগুলোর মধ্যে কেবল একটি ধরন নিয়ে কথা বলছি, আর তা হলো সংক্ষিপ্ত বিষয়ের বিস্তারিত বর্ণনা (تفصيل المجمل)। আমি ইবাদতসমূহ বা শাহাদাতদ্বয়ের পরবর্তী ইসলামের চারটি রুকন দ্বারা উদাহরণ পেশ করেছি; যাতে এটি স্পষ্ট হয় যে ইসলামের রুকনসমূহ—আর আপনি কি জানেন ইসলামের রুকনসমূহ কী!—তা হলো ইসলামের ইমারতের প্রথম ভিত্তি। এই ভিত্তির ওপরই এর গঠন নির্ভর করে, যা এই রুকনসমূহের ভিত্তি ছাড়া কবুল হবে না। পবিত্র সুন্নাহর আলোকবর্তিকা ছাড়া আমরা এগুলো বুঝতেও পারতাম না এবং প্রয়োগ করতেও সক্ষম হতাম না।

ফলত, যে ব্যক্তি সুন্নাহ বুঝবে না এবং একে দলিল (حجة) হিসেবে গ্রহণ করবে না, সে সালাত আদায় করতে সক্ষম হবে না, এবং সে হজ, সিয়াম বা জাকাত আদায় করতে পারবে না... ইত্যাদি। সংক্ষিপ্ত বিষয়ের বিস্তারিত বর্ণনা (تفصيل المجمل) অর্থাৎ সুন্নাহর মাধ্যমে কুরআনের সংক্ষিপ্ত (مجمل) বিষয়ের বিস্তারিত ব্যাখ্যা কেবল ইসলামের রুকনসমূহের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। আমি কেবল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো দিয়ে উদাহরণ দিচ্ছি; নতুবা আপনি যদি অন্যান্য উদাহরণের দিকে যান, তবে সেখানে আলোচনার কোনো শেষ নেই। আমি পুনরায় বলছি যে, আমি এখনও কেবল একটি প্রকার অর্থাৎ সংক্ষিপ্ত বিষয়ের বিস্তারিত বর্ণনা (تفصيل المجمل) নিয়ে আলোচনা করছি। উদাহরণস্বরূপ: যখন মহান আল্লাহ বলেন: {আর আল্লাহ ব্যবসাকে হালাল করেছেন এবং সুদকে হারাম করেছেন} (আল-বাকারা: ২৭৫)। এখন সুদ (ربا) কী? এটি কোন কোন শ্রেণীর পণ্যে অন্তর্ভুক্ত হয় এবং কোনগুলোতে হয় না? যেমন যখন বলা হয়েছে: ক্রয়-বিক্রয় {আল্লাহ ব্যবসাকে হালাল করেছেন}—তখন হালাল ক্রয়-বিক্রয় কোনটি, এর স্বরূপ ও শর্তাবলি কী কী, এটি কীভাবে বাস্তবায়িত হয় এবং কখন তা বাতিল (فساد) হয় ও কখন তা শুদ্ধ (صحة) হয়? ইত্যাদি।
(খণ্ড: ১) আদ-দিফাউ আনিস সুন্নাহ - জামিয়াতুল মদীনা (মাজিসতির) (পৃষ্ঠা: ৩৩)
تفصيلات هي تفصيلات الحياة ذاتها، أيضًا مثلًا: حين يقول الله تعالى: {وَأَنْكِحُوا الْأَيَامَى مِنْكُمْ} (النور: 32) الناكح ماذا يفعل، من يخطب وما علاقته بها أثناء الخطبة، وبعد العقد وبعد الدخول؟ كيف يربي أولاده، كيف كيف؟ مال الإنسان الذي في جيبه، لن تزول قدم عبد يوم القيامة إلا بعد أن يسأل، ومن بين ما يسأل عنه، عن ماله من أين اكتسبه وفيما أنفقه، يعني حركة اكتساب المال وحركة إنفاقه، واكتساب المال وإنفاقه هما معًا يمثلان جوانب الحركة الاقتصادية في المال لكل المجتمعات على وجه الأرض، المال في خلاصته عبارة عن اكتساب، وعبارة عن إنفاق.

ما هي صور المال الحلال التي يكتسب منها؟ وما هي صور المال الحرام التي يحرم عليه أن أن يتكسب منها؟ … إلخ كل ذلك تكفلت ببيانه السنة المشرفة المطهرة، ونستطيع أن نمضي مع الأمثلة فيطول بنا المقام جدًّا، وأقول: وما زلنا مع النوع الأول من أنواع بيان السنة للقرآن، وهو تفصيل المجمل، إذن هذا نوع واحد من أنواع بيان السنة للقرآن، يبين لنا أن الناس في عبادتهم، وفي عقائدهم، وفي معاملاتهم، وفي تشريعاتهم، وفي علاقاتهم الاجتماعية يتوقف كل ذلك في أدائه الدقيق الصحيح على السنة المطهرة، ولولا ذلك لما استطعنا أن نقيم بنيان الإسلام.

 

‌‌تخصيص العام

تخصيص العام يعني: العام هذا لفظ ينطبق على الكثيرين، لو بقي على عمومه لطبقناه على كل الأفراد الذين ينطبق عليهم.

إذا أنا قلت مثلًا: كل الطلاب مطالبون بأن يذاكروا هذا الكتاب مثلًا، أي كتاب أقصد؟ كل الطلاب تشمل كل طالب لا أقول: في بلد ولا في كلية، في الدنيا ما دام طالبًا، فهو ينطبق عليه هذا القول؛ لأن لفظ الطلاب لفظ عام، ينطبق
এগুলো খোদ জীবনেরই বিস্তারিত বিবরণ; যেমন মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন: {তোমাদের মধ্য হতে যারা অবিবাহিত তাদের বিবাহ সম্পন্ন করো} (আন-নূর: ৩২)। বিবাহকারী কী করবে, সে কার কাছে বিবাহের প্রস্তাব দেবে এবং প্রস্তাবকালীন সময়ে ও বিয়ের চুক্তির পর এবং বাসর ঘরের পর তার সাথে কীরূপ সম্পর্ক থাকবে? সে কীভাবে তার সন্তানদের লালন-পালন করবে, কীভাবে কী করবে? মানুষের পকেটে যে অর্থ রয়েছে—কিয়ামতের দিন কোনো বান্দার পা এক কদমও নড়বে না যতক্ষণ না তাকে প্রশ্ন করা হবে; আর যা কিছু সম্পর্কে তাকে জিজ্ঞাসা করা হবে তার মধ্যে অন্যতম হলো তার সম্পদ সম্পর্কে—সে তা কোত্থেকে উপার্জন করেছে এবং কোন পথে ব্যয় করেছে। অর্থাৎ, অর্থ উপার্জনের প্রক্রিয়া এবং তা ব্যয়ের প্রক্রিয়া। অর্থ উপার্জন ও ব্যয়—এই দুটি বিষয় একত্রে পৃথিবীর প্রতিটি সমাজের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের গতিপ্রকৃতিকে উপস্থাপন করে। সংক্ষেপে, সম্পদ মানেই হলো উপার্জন ও ব্যয়।

বৈধ উপার্জনের স্বরূপগুলো কী কী? আর অবৈধ উপার্জনের পন্থাগুলোই বা কী যা থেকে উপার্জন করা তার জন্য হারাম? … ইত্যাদি। এই সবকিছুর বর্ণনার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে পবিত্র ও বরকতময় সুন্নাহ। আমরা যদি এভাবে উদাহরণ দিয়ে এগিয়ে যেতে থাকি তবে আলোচনা অনেক দীর্ঘ হয়ে যাবে। আমি বলব: আমরা এখনও কুরআনের বর্ণনায় সুন্নাহর ভূমিকার প্রথম প্রকারের মধ্যেই রয়েছি, আর তা হলো—সংক্ষিপ্তের বিস্তারিত ব্যাখ্যা (تفصيل المجمل)। সুতরাং, এটি কুরআনের বর্ণনায় সুন্নাহর প্রকারভেদগুলোর মধ্যে কেবল একটি প্রকার; যা আমাদের সামনে স্পষ্ট করে যে, মানুষের ইবাদত, আকিদা-বিশ্বাস, লেনদেন, শরয়ি বিধান এবং সামাজিক সম্পর্কের প্রতিটি ক্ষেত্রে নির্ভুল ও সূক্ষ্মভাবে আমল করা পবিত্র সুন্নাহর ওপরই নির্ভরশীল। আর এটি যদি না হতো, তবে আমরা ইসলামের এই সুউচ্চ অট্টালিকা গড়ে তুলতে সক্ষম হতাম না।

 

‌‌সাধারণকে বিশেষায়িত করা (تخصيص العام)

সাধারণকে বিশেষায়িত করা (تخصيص العام) অর্থ হলো: সাধারণ (عام) এমন একটি শব্দ যা বহুজনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয়। যদি এটি তার সাধারণ (عموم) অবস্থাতেই বহাল থাকত, তবে যাদের ওপর এটি প্রযোজ্য তাদের প্রত্যেকের ক্ষেত্রেই আমরা এটি প্রয়োগ করতাম।

উদাহরণস্বরূপ যদি আমি বলি: 'সকল ছাত্রের জন্য এই বইটি অধ্যয়ন করা আবশ্যক', এখানে আমি কোন বিষয়টি বোঝাচ্ছি? 'সকল ছাত্র' বলতে দুনিয়ার প্রতিটি ছাত্রকেই অন্তর্ভুক্ত করে, আমি এখানে কোনো নির্দিষ্ট দেশ বা কলেজের কথা বলছি না; যতক্ষণ পর্যন্ত সে একজন ছাত্র, ততক্ষণই তার ওপর এই কথাটি প্রযোজ্য হবে। কারণ 'ছাত্র' শব্দটি একটি সাধারণ (عام) শব্দ, যা...
(খণ্ড: ১) আদ-দিফাউ আনিস সুন্নাহ - জামিয়াতুল মদীনা (মাজিসতির) (পৃষ্ঠা: ৩৪)
على كل طالب في الدنيا، فإذا جئت وقلت بعد: أقصد طلاب مثلًا جامعة كذا، ماذا فعلت جملة أقصد طلاب جامعة كذا مع الجملة الأولى: كل الطلاب مطالبون بأن يذاكروا هذا الكتاب؟

خصصتها ما معنى خصصتها؟ يعني: قصرت الحكم العام على بعض أفراده، بدل أن كان الحكم عامًّا يشمل كل من يدخل تحت هذا اللفظ، أو تحت هذا العموم اقتصر على بعض الأفراد، فأصبح المراد ليس كل الأفراد، الذين ينطبق عليهم اللفظ العام، وإنما بعض الأفراد فقط، لماذا صرفنا اللفظ العام عن عمومه؟ بذلك المخصص الذي جاء، ليخصص المعنى، أضرب مثالًا من تخصيص عام القرآن الكريم جاءت به السنة المطهرة، وهو مثال مشهور، وتتداوله كل كتب السنة.

في آية المواريث، قال الله تعالى: {يُوصِيكُمُ اللَّهُ فِي أَوْلَادِكُمْ لِلذَّكَرِ مِثْلُ حَظِّ الْأُنْثَيَيْنِ} (النساء: 11) هذه آية عامة، الله يوصينا ويكلفنا ويأمرنا بأن يكون توزيع التركة على الوجه، الذي سيذكره ربنا بعد {يُوصِيكُمُ اللَّهُ فِي أَوْلَادِكُمْ لِلذَّكَرِ مِثْلُ حَظِّ الْأُنْثَيَيْنِ فَإِنْ كُنَّ نِسَاءً فَوْقَ اثْنَتَيْنِ فَلَهُنَّ ثُلُثَا مَا تَرَكَ وَإِنْ كَانَتْ وَاحِدَةً فَلَهَا النِّصْفُ} (النساء: 11) إلى آخر الأحكام، الآية تشمل كل أصل موروث يرثه فرع وارث، لم تستثن أحدًا أبدًا، كل من سيورث سنسميه أصلًا موروثًا، توزيع إرثه على فروعه الوراثة سيكون على النحو المذكور في الآية.

هذا الأصل الموروث يشمل كل واحد، ما دام قد مات وانتقل إلى الرفيق الأعلى، فإن توزيع تركته سيكون على الوجه الذي تضمنته الآية، والآية التي بعدها وكل آيات المواريث، يدخل فيها الأنبياء؟ نعم ما الذي يجعلنا نخرج الأنبياء من الآية بظاهرها؟ {يُوصِيكُمُ اللَّهُ فِي أَوْلَادِكُمْ} يدخل فيها الأنبياء، يدخل فيها الأب الموروث، الذي قتله ابنه الوارث؟ نعم هات من خلال الآية ما يمنع
পৃথিবীর প্রতিটি ছাত্রের ক্ষেত্রে; আপনি যদি এর পরে এসে বলেন: 'আমি উদাহরণস্বরূপ অমুক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের বোঝাচ্ছি', তবে 'আমি অমুক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের বোঝাচ্ছি'—এই বাক্যটি প্রথম বাক্য—'সকল ছাত্রকে এই বইটি অধ্যয়ন করতে হবে'—এর সাথে কী করল?

সেটিকে নির্দিষ্ট (خصصتها) করেছে। নির্দিষ্ট করা (خصصتها) বলতে কী বোঝায়? অর্থাৎ: সাধারণ হুকুমকে (الحكم العام) এর কিছু বিষয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ করা। হুকুমটি আগে সাধারণ (عام) ছিল যা এই শব্দের বা এই ব্যাপকতার (عموم) অধীনে আসত, তাদের সকলের পরিবর্তে এখন কেবল কিছু বিষয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে গেল। ফলে এখন আর উদ্দেশ্য সেই সমস্ত ব্যক্তি নয় যাদের ওপর সাধারণ (عام) শব্দটি প্রযোজ্য হতো, বরং উদ্দেশ্য কেবল কিছু নির্দিষ্ট ব্যক্তি। কেন আমরা সাধারণ (عام) শব্দটিকে তার ব্যাপকতা (عموم) থেকে সরিয়ে নিলাম? সেই নির্দিষ্টকারী (مخصص) দলিলের কারণে যা অর্থটিকে নির্দিষ্ট (تخصيص) করার জন্য এসেছে। আমি পবিত্র কুরআনের সাধারণ (عام) বিষয়কে পবিত্র সুন্নাহ দ্বারা নির্দিষ্ট করার (تخصيص) একটি উদাহরণ দিচ্ছি, যা একটি অতি প্রসিদ্ধ উদাহরণ এবং যা সুন্নাহর সকল কিতাবে উদ্ধৃত হয়েছে।

উত্তরাধিকার সংক্রান্ত আয়াতে মহান আল্লাহ বলেছেন: "আল্লাহ তোমাদের সন্তানদের সম্পর্কে তোমাদেরকে নির্দেশ দিচ্ছেন: এক পুত্রের অংশ দুই কন্যার অংশের সমান" (আন-নিসা: ১১)। এটি একটি সাধারণ (عام) আয়াত। আল্লাহ আমাদের নির্দেশ দিচ্ছেন, দায়িত্ব দিচ্ছেন এবং আদেশ করছেন যেন পরিত্যক্ত সম্পত্তির বণ্টন সেই পদ্ধতিতে হয় যা আমাদের রব এর পরে উল্লেখ করবেন: "আল্লাহ তোমাদের সন্তানদের সম্পর্কে তোমাদেরকে নির্দেশ দিচ্ছেন: এক পুত্রের অংশ দুই কন্যার অংশের সমান। যদি তারা কেবল দুইয়ের অধিক নারী হয়, তবে তাদের জন্য পরিত্যক্ত সম্পত্তির তিন ভাগের দুই ভাগ। আর যদি সে একা হয়, তবে তার জন্য অর্ধেক" (আন-নিসা: ১১)—আদেশের শেষ পর্যন্ত। এই আয়াতটি এমন প্রত্যেক মূল উত্তরাধিকারদাতাকে (أصل موروث) অন্তর্ভুক্ত করে যার থেকে কোনো উত্তরাধিকারী (فرع وارث) সম্পদ লাভ করে; এটি কাউকে বাদ দেয়নি। যার থেকে উত্তরাধিকার পাওয়া যাবে তাকে আমরা মূল উত্তরাধিকারদাতা (أصل موروث) বলব এবং তার উত্তরাধিকারীদের (فروعه الوراثة) মধ্যে সম্পদের বণ্টন আয়াতে উল্লিখিত পদ্ধতিতেই হবে।

এই মূল উত্তরাধিকারদাতা (أصل موروث) প্রত্যেক ব্যক্তিকে অন্তর্ভুক্ত করে; যতক্ষণ সে মৃত্যুবরণ করে মহান রবের সান্নিধ্যে চলে যায়, ততক্ষণ তার পরিত্যক্ত সম্পত্তির বণ্টন এই আয়াত এবং এর পরবর্তী আয়াতসমূহ ও উত্তরাধিকার সংক্রান্ত সকল আয়াতের বর্ণনা অনুযায়ী হবে। এর মধ্যে কি নবীগণও অন্তর্ভুক্ত? হ্যাঁ, আয়াতের প্রকাশ্য অর্থ (ظاهر) অনুযায়ী নবীগণকে এর বাইরে রাখার অবকাশ কোথায়? "আল্লাহ তোমাদের সন্তানদের সম্পর্কে তোমাদেরকে নির্দেশ দিচ্ছেন"—এর মধ্যে নবীগণও অন্তর্ভুক্ত হন। আবার সেই পিতাও কি এর অন্তর্ভুক্ত হন যাকে তার উত্তরাধিকারী পুত্র হত্যা করেছে? হ্যাঁ, আয়াতের মধ্য থেকে এমন কিছু নিয়ে আসুন যা একে বাধা দেয়।
(খণ্ড: ১) আদ-দিফাউ আনিস সুন্নাহ - জামিয়াতুল মদীনা (মাজিসতির) (পৃষ্ঠা: ৩৫)
ذلك، فلن تجد، عند اختلاف الديانتين هل يتم التوارث؟ نعم الآية لا تمنع، لكن جاءت مخصصات من السنة، لم يأت مخصص واحد وإنما مخصصات، فمثلًا: ((نحن معاشر الأنبياء لا نورث)) أو برواية أخرى ((لا نورث ما تركناه صدقة)) وهذا رواه الإمام البخاري في كتاب الفرائض، باب قوله: لا نورث، ورواه الإمام مسلم في كتاب الجهاد، باب قول النبي صلى الله عليه وسلم: ((لا نورث)).

إذن الحديث إذا سألتك: ما علاقة هذا الحديث ((لا نورث ما تركناه صدقة))، وفي بعض الروايات: ((نحن معاشر الأنبياء لا نورث ما تركناه صدقة)) ما علاقته بآية المواريث؟ خصص آية المواريث، الآية بظاهرها الأنبياء يدخلون فيها؛ لأنها لم تستثنهم، ولو لم يأت ذلك المخصص من السنة لطبقنا الآية، أو لطبقت الآية على الأنبياء أيضًا، لكن جاء الحديث وخصص الآية يعني: قصر الحكم على بعض الأفراد، واستثنى بعض الأفراد، ومن ضمن الذين استثنوا هم الأنبياء -صلوات الله وسلامه عليهم-.

طيب هل اقتصر التخصيص على هذا الحديث فقط؟ لا حديث آخر: ((لا يرث القاتل))، وهذا رواه الإمام أحمد -رحمه الله تعالى- في (مسنده) في جزء واحد ص49، ورواه أبو داود في كتاب الديات يعني: القاتل ما دام قد قتل أصله الموروث، سواء كان بغرض أن يرث أو بأي غرض آخر، فما دام قد قتله فإنه لا يرثه، حتى ولو كان من أصحاب الفروض، كأن يكون ابنًا أو أخًا أو زوجًا أو زوجة، ما دام قد قتل فإن القتل منع الإرث؛ ولذلك علماء الفرائض يدرسون لطلابهم موانع الإرث، ومن بينها ألا يكون الوارث قد قتل أصله الموروث.

يعني: خصصنا الأنبياء استثنينا الأنبياء، واستثنينا أيضًا القاتل، استثنينا ((الكافر لا يرث المسلم، والمسلم لا يرث الكافر))، وهذا نص الحديث: ((لا يرث المسلم الكافر، ولا يرث الكافر مسلمًا))، وهذا رواه الإمام البخاري -رحمه الله تعالى-
এ ক্ষেত্রে, আপনি পাবেন না যে, দুই ভিন্ন ধর্মের অনুসারীদের মধ্যে কি উত্তরাধিকার কার্যকর হবে? হ্যাঁ, কুরআনের আয়াত এটি নিষিদ্ধ করে না, তবে সুন্নাহ থেকে কিছু বিশেষ বিধানকারী (مخصصات) দলিল এসেছে। কেবল একটি নয়, বরং একাধিক বিশেষ বিধানকারী (مخصصات) দলিল এসেছে। যেমন: "আমরা নবীদের দল, আমাদের কোনো উত্তরাধিকারী হয় না" অথবা অন্য বর্ণনায় (رواية) এসেছে: "আমরা যা কিছু রেখে যাই তা সদকা হিসেবে গণ্য হয়, আমাদের কোনো উত্তরাধিকারী হয় না।" এটি ইমাম বুখারি কিতাবুল ফারায়িদ-এর 'আল্লাহর রাসূলের বাণী: আমাদের কোনো উত্তরাধিকারী হয় না' অধ্যায়ে বর্ণনা করেছেন এবং ইমাম মুসলিম কিতাবুল জিহাদ-এর 'নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: আমাদের কোনো উত্তরাধিকারী হয় না' অধ্যায়ে বর্ণনা করেছেন।

সুতরাং আমি যদি আপনাকে জিজ্ঞাসা করি: এই হাদিস "আমরা যা কিছু রেখে যাই তা সদকা হিসেবে গণ্য হয়, আমাদের কোনো উত্তরাধিকারী হয় না", আর কিছু বর্ণনায় (روايات) এসেছে: "আমরা নবীদের দল, আমরা যা কিছু রেখে যাই তা সদকা, আমাদের কোনো উত্তরাধিকারী হয় না" - মিরাস সংক্রান্ত আয়াতের সাথে এর সম্পর্ক কী? এটি মিরাস সংক্রান্ত আয়াতকে সুনির্দিষ্ট (خصص) করেছে। আয়াতের প্রকাশ্য (ظاهر) অর্থ অনুযায়ী নবীরাও এর অন্তর্ভুক্ত হতেন; কারণ আয়াত তাঁদেরকে বাদ দেয়নি। সুন্নাহ থেকে যদি এই বিশেষ বিধানকারী (مخصص) দলিলটি না আসত, তবে আমরা আয়াতটি নবীদের ক্ষেত্রেও প্রয়োগ করতাম। কিন্তু হাদিস এসে আয়াতটিকে সুনির্দিষ্ট (خصص) করে দিয়েছে, অর্থাৎ হুকুম বা বিধানটিকে নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তির মধ্যে সীমাবদ্ধ করে দিয়েছে এবং কিছু ব্যক্তিকে এর বাইরে রেখেছে। আর যাদেরকে এর বাইরে রাখা হয়েছে, তাঁরা হলেন নবীগণ (আলাইহিমুস সালাতু ওয়াস সালাম)।

আচ্ছা, এই সুনির্দিষ্টকরণ (تخصيص) কি কেবল এই হাদিসটির মধ্যেই সীমাবদ্ধ? না, অন্য হাদিসও রয়েছে: "হত্যাকারী উত্তরাধিকারী হয় না।" এটি ইমাম আহমাদ (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর মুসনাদ-এর ১ম খণ্ডের ৪৯ পৃষ্ঠায় বর্ণনা করেছেন এবং আবু দাউদ কিতাবুল দিয়াত-এ বর্ণনা করেছেন। অর্থাৎ, হত্যাকারী যতক্ষণ না তার সেই মূল ব্যক্তিকে হত্যা করেছে যার কাছ থেকে সে উত্তরাধিকার লাভ করত, চাই তা উত্তরাধিকার পাওয়ার উদ্দেশ্যে হোক বা অন্য কোনো উদ্দেশ্যে, যেহেতু সে তাকে হত্যা করেছে, সে তার উত্তরাধিকার পাবে না। এমনকি সে যদি নির্ধারিত অংশের হকদার (أصحاب الفروض) হয়, যেমন পুত্র, ভাই, স্বামী বা স্ত্রী—যেহেতু সে হত্যা করেছে, তাই এই হত্যাকাণ্ড মিরাস প্রাপ্তিতে বাধা হবে। এ কারণেই ফারায়িদ শাস্ত্রের পণ্ডিতগণ তাঁদের ছাত্রদের মিরাস প্রাপ্তির প্রতিবন্ধকতা (موانع الإرث) পড়িয়ে থাকেন, যার মধ্যে একটি হলো উত্তরাধিকারী যেন তার সেই মূল ব্যক্তিকে হত্যা না করে যার থেকে সে মিরাস লাভ করবে।

অর্থাৎ, আমরা নবীদের সুনির্দিষ্ট (خصصنا) করেছি তথা তাঁদেরকে ব্যতিক্রম হিসেবে গণ্য করেছি, আবার হত্যাকারীকেও ব্যতিক্রম হিসেবে গণ্য করেছি। আমরা আরও ব্যতিক্রম হিসেবে গণ্য করেছি: "কাফের মুসলমানের উত্তরাধিকারী হবে না এবং মুসলমান কাফেরের উত্তরাধিকারী হবে না।" হাদিসের পাঠ (نص) হলো: "মুসলমান কাফেরের উত্তরাধিকারী হয় না এবং কাফের মুসলমানের উত্তরাধিকারী হয় না।" এটি ইমাম বুখারি (রাহিমাহুল্লাহ) বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আদ-দিফাউ আনিস সুন্নাহ - জামিয়াতুল মদীনা (মাজিসতির) (পৃষ্ঠা: ৩৬)
في كتاب الفرائض باب: لا يرث المسلم الكافر، وأيضًا رواه الإمام مسلم في أول كتاب الفرائض، من حديث أسامة بن زيد -رضي الله تعالى عنهما، إذن أصبح للآية ثلاثة مخصصات.

المخصص الأول: حديث ((لا نورث ما تركناه صدقة))، والمخصص الثاني: ((لا يرث القاتل))، والمخصص الثالث: ((لا يرث المسلم الكافر، ولا يرث الكافر مسلما))، وكأن معنى الآية بعد هذه المخصصات، أو بعد هذا التخصيص كله، هو أن كل موروث من أب أو أم، أو أي موروث يرثه أبناؤه، أو يرثه أصحاب الفروض، يرثونه إلا أن يكون الموروث نبيًّا فإن الأنبياء لا يورثون، وإلا أن يكون الوارث قاتلًا لأصله الموروث، فإنه في هذه الحالة لا يرث، وإلا أن يختلف الدين بين المورث أو بين الموروث والوارث، فإن في هذه الحالة لا توارث، ويقتصر الأمر على ما سوى ذلك من أصحاب الفروض على الوجه، الذي ذكرته الآية كما ذكرنا.

ولولا السنة لطبقنا الآية على غير مراد الله، فالذي بين مراد الله تعالى، وكما قلنا: هو أعلم الخلق بمراد الله هو رسول الله صلى الله عليه وسلم الذي هو المبلغ عن الله، وهو الذي أوكل الله تعالى إليه بيان مهمة ما في القرآن الكريم، وهو الذي نأخذ عنه بيانه للقرآن الكريم؛ ولذلك اصطلح العلماء جميعًا على أن أولى التفاسير، التي يفسر بها الآية القرآن يفسر بعضه بعضًا، ثم ننتقل إلى السنة، فإن رسول الله صلى الله عليه وسلم هو أعلم الأمة بمراد ربه -جل في علاه-.

هذا مثال آخر لتخصيص العام في سورة الأنعام، نزل قول الله تعالى: {الَّذِينَ آمَنُوا وَلَمْ يَلْبِسُوا إِيمَانَهُمْ بِظُلْمٍ أُولَئِكَ لَهُمُ الْأَمْنُ وَهُمْ مُهْتَدُونَ} (الأنعام: 82) هذه الآية معناها بإيجاز: أن الذين لهم الأمن ولهم الهداية هم فقط، الذين آمنوا،
উত্তরাধিকার (ফারায়েজ) অধ্যায়ের 'মুসলমান কাফেরের উত্তরাধিকারী হবে না' পরিচ্ছেদে এবং ইমাম মুসলিমও উত্তরাধিকার (ফারায়েজ) অধ্যায়ের শুরুতে উসামা ইবনে যায়েদ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বর্ণিত হাদিসে এটি বর্ণনা করেছেন। সুতরাং এই আয়াতের জন্য তিনটি সুনির্দিষ্টকারী (مخصصات) সাব্যস্ত হয়েছে।

প্রথম সুনির্দিষ্টকারী (المخصص): "আমাদের কোনো উত্তরাধিকারী নেই, আমরা যা রেখে যাই তা সদকা" শীর্ষক হাদিস। দ্বিতীয় সুনির্দিষ্টকারী (المخصص): "হত্যাকারী উত্তরাধিকারী হবে না" শীর্ষক হাদিস। এবং তৃতীয় সুনির্দিষ্টকারী (المخصص): "মুসলমান কাফেরের উত্তরাধিকারী হবে না এবং কাফের মুসলমানের উত্তরাধিকারী হবে না" শীর্ষক হাদিস। এই সুনির্দিষ্টকারী (مخصصات) সমূহের পর অথবা এই সামগ্রিক বিশেষীকরণ (تخصيص) এর পর আয়াতটির মর্মার্থ দাঁড়ায়: পিতা বা মাতা অথবা অন্য যে কোনো ব্যক্তি থেকে প্রাপ্ত উত্তরাধিকার তার সন্তানরা অথবা নির্ধারিত অংশের অধিকারী (أصحاب الفروض) ব্যক্তিগণ লাভ করবেন, যদি না সেই মৃত ব্যক্তি কোনো নবী হন; কেননা নবীদের কোনো উত্তরাধিকারী থাকে না। আর যদি উত্তরাধিকারী ব্যক্তি তার মূল উত্তরাধিকার প্রদানকারীর হত্যাকারী হয়, তবে সেই অবস্থায় সে উত্তরাধিকার পাবে না। তদুপরি, যদি উত্তরাধিকার প্রদানকারী এবং গ্রহণকারীর মধ্যে ধর্মের ভিন্নতা থাকে, তবে সেক্ষেত্রেও কোনো উত্তরাধিকার কার্যকর হবে না। বিষয়টি কেবল আয়াতের বর্ণনা অনুযায়ী উল্লেখিত অন্যান্য নির্ধারিত অংশের অধিকারী (أصحاب الفروض) ব্যক্তিদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে, যা আমরা ইতিপূর্বে উল্লেখ করেছি।

সুন্নাহ না থাকলে আমরা আয়াতটিকে আল্লাহর উদ্দেশ্য বহির্ভূতভাবে প্রয়োগ করতাম। সুতরাং যিনি আল্লাহর উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করেছেন—এবং যেমনটি আমরা বলেছি: সৃষ্টির মধ্যে আল্লাহর উদ্দেশ্য সম্পর্কে সবচেয়ে বেশি অবগত হলেন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম), যিনি আল্লাহর পক্ষ থেকে বাণী পৌঁছে দানকারী। আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনের বিষয়সমূহ ব্যাখ্যা করার দায়িত্ব তাঁর ওপরই অর্পণ করেছেন এবং তাঁর মাধ্যমেই আমরা পবিত্র কুরআনের ব্যাখ্যা গ্রহণ করি। এই কারণেই সকল আলেম একমত হয়েছেন যে, কোনো আয়াতের ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে সর্বোত্তম পদ্ধতি হলো—কুরআনের এক অংশ দিয়ে অন্য অংশের ব্যাখ্যা করা, এরপর সুন্নাহর দিকে অগ্রসর হওয়া। কারণ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর সুমহান রবের উদ্দেশ্য সম্পর্কে উম্মতের মধ্যে সর্বাধিক জ্ঞাত।

এটি সূরা আল-আনআমের সাধারণ নির্দেশের বিশেষীকরণের (تخصيص العام) আরেকটি উদাহরণ। আল্লাহ তাআলার বাণী অবতীর্ণ হয়েছে: "যারা ঈমান এনেছে এবং তাদের ঈমানকে জুলুমের সাথে সংমিশ্রণ করেনি, নিরাপত্তা তাদেরই জন্য এবং তারাই হেদায়েতপ্রাপ্ত।" (সূরা আল-আনআম: ৮২)। সংক্ষেপে এই আয়াতের অর্থ হলো: কেবল তারাই নিরাপত্তা ও হেদায়েত লাভ করবে যারা ঈমান এনেছে,
(খণ্ড: ১) আদ-দিফাউ আনিস সুন্নাহ - জামিয়াতুল মদীনা (মাজিসতির) (পৃষ্ঠা: ৩৭)
ولم يلبسوا إيمانهم بظلم ما معنى لم يلبسوا؟ الذين آمنوا ولم يلبسوا: أي ولم يخلطوا إيمانهم بأي نوع من أنواع الظلم، هؤلاء فقط الذين لهم الأمن ولهم الهداية.

ما هو الظلم؟ الظلم هو وضع الشيء في غير محله، أي شيء تضعه في غير محله هذا ظلم، هذا المعنى العام للظلم، من يستعمل نعمة البصر في غير ما خلقت له بأن يسلطها مثلًا للنظر على الحرام، أو انتهاك الحرمات، أو ما شاكل ذلك هذا ظلم؛ لأنه استعمال للنعمة في غير ما خلقها الله، أو ما أراده الله لها، أيضًا من يسلط نعمة السمع فيستمع للحرام، ولا يستمع للذكر أو للقرآن أو العلم، أو ما شاكل ذلك هذا ظلم.

وهكذا لو استعرضنا صور الظلم سنجده يشمل كل جوانب حياتنا، فأي شيء تستعمله، وتضعه في غير محله الشرعي، فأنت ظالم على هذا المعنى، هل يوجد أحد من المسلمين لم يظلم نفسه؟ كلنا قد وقع في الظلم بشكل أو بآخر، ومن الذي لم يفعل يومًا أمرًا، أو لم يضع شيئًا في غير موضعه؛ لذلك؛ ولأن الصحابة يفهمون هذا المعنى العام للظلم، وأقول: المعنى العام؛ لأننا أمام مثال لتخصيص العام، وجلت قلوبهم واضطربت أفئدتهم، خافوا أهؤلاء فقط الذين آمنوا ولم يلبسوا إيمانهم بظلم، هؤلاء فقط الذين لهم الأمن ولهم الهداية؟ إذن هم لقليل.

ولذلك خافوا ورفعوا الأمر إلى النبي صلى الله عليه وسلم، والحديث عند البخاري رواه بسنده إلى عبد الله بن مسعود -رضي الله تعالى عنه- قال: ((لما نزلت {الَّذِينَ آمَنُوا وَلَمْ يَلْبِسُوا إِيمَانَهُمْ بِظُلْمٍ} (الأنعام: 82) قلنا -أي: الصحابة-: يا رسول الله أينا لا يظلم نفسه؟ -أي من منا الذي لم يظلم نفسه- قال صلى الله عليه وسلم هنا يوضح لهم هذا بيان السنة للقرآن يوضح لهم الآية والمقصود بها، ويخصصها لهم كما سنقول فيقول لهم صلى الله عليه وسلم: ليس كما تقولون، لم يلبسوا إيمانهم بظلم أي: بشرك أولم تسمعوا إلى قول لقمان لابنه {يَا بُنَيَّ لَا تُشْرِكْ بِاللَّهِ إِنَّ الشِّرْكَ لَظُلْمٌ عَظِيمٌ})) (لقمان: 13)؟ هذه الآية في سورة لقمان جاءت في القرآن على لسان لقمان، وهو يعظ ابنه.
"এবং তারা তাদের ঈমানকে অবিচারের (ظلم) সাথে মিশ্রিত করেনি" - 'মিশ্রিত করেনি' এর অর্থ কী? যারা ঈমান এনেছে এবং তারা তাদের ঈমানকে কোনো ধরনের অবিচারের (ظلم) সাথে মিশ্রিত করেনি; কেবল তারাই নিরাপত্তা ও হেদায়েত লাভ করবে।

অবিচার (ظلم) কী? অবিচার (ظلم) হলো কোনো বস্তুকে তার সঠিক স্থান ব্যতীত অন্য স্থানে রাখা; অর্থাৎ আপনি কোনো কিছুকে তার যথোপযুক্ত স্থান ছাড়া অন্য কোথাও রাখলে তা-ই অবিচার (ظلم)। এটি অবিচারের (ظلم) সাধারণ অর্থ। যে ব্যক্তি দৃষ্টির নেয়ামতকে তা সৃষ্টির উদ্দেশ্য ব্যতীত অন্য কাজে ব্যবহার করে, যেমন: হারামের দিকে তাকানো, বা পবিত্রতা লঙ্ঘন করা, অথবা এই জাতীয় অন্য কিছু, তা অবিচার (ظلم); কারণ এটি নেয়ামতকে আল্লাহ যা করার জন্য সৃষ্টি করেছেন বা যা চেয়েছিলেন তা ছাড়া অন্য কাজে ব্যবহার করা। একইভাবে, যে ব্যক্তি শ্রবণের নেয়ামতকে হারামে ব্যবহার করে এবং জিকির, কুরআন বা জ্ঞানার্জন ইত্যাদি শোনার ক্ষেত্রে ব্যবহার করে না, তাও অবিচার (ظلم)।

এভাবে আমরা যদি অবিচারের (ظلم) বিভিন্ন রূপ পর্যালোচনা করি, তবে দেখতে পাব যে তা আমাদের জীবনের সকল দিককে পরিবেষ্টন করে আছে। সুতরাং আপনি যা কিছু ব্যবহার করছেন এবং যদি তা শরিয়তসম্মত স্থান ছাড়া অন্য কোথাও প্রয়োগ করেন, তবে এই অর্থ অনুযায়ী আপনি একজন জালেম বা অবিচারকারী। মুসলিমদের মধ্যে এমন কি কেউ আছেন যিনি নিজের প্রতি অবিচার (ظلم) করেননি? আমরা সবাই কোনো না কোনোভাবে অবিচারের (ظلم) মধ্যে নিপতিত হয়েছি। এমন কে আছে যে কোনোদিন এমন কোনো কাজ করেনি বা কোনো বস্তুকে তার অনুপযুক্ত স্থানে রাখেনি? এই কারণে এবং যেহেতু সাহাবীগণ অবিচারের (ظلم) এই সাধারণ অর্থটি বুঝতে পেরেছিলেন—আর আমি এখানে 'সাধারণ অর্থ' বলছি কারণ আমরা এখানে সাধারণকে সুনির্দিষ্টকরণের (تخصيص العام) একটি উদাহরণের সামনে রয়েছি—তাদের অন্তর ভীত হয়ে পড়েছিল এবং হৃদয় বিচলিত হয়েছিল। তারা শঙ্কিত হয়েছিলেন যে, কেবল কি তারাই নিরাপত্তা ও হেদায়েত পাবে যারা ঈমান এনেছে এবং তাদের ঈমানকে কোনো অবিচারের (ظلم) সাথে কলুষিত করেনি? তবে তো তাদের সংখ্যা খুবই নগণ্য।

তাই তারা ভীত হয়ে বিষয়টি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে পেশ করলেন। এই হাদিসটি সহিহ বুখারি গ্রন্থে তাঁর বর্ণনাপরম্পরার (سند) মাধ্যমে আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেন: যখন এই আয়াতটি অবতীর্ণ হলো— "যারা ঈমান এনেছে এবং তাদের ঈমানকে অবিচারের (ظلم) সাথে মিশ্রিত করেনি" (আল-আনআম: ৮২), তখন আমরা অর্থাৎ সাহাবীগণ বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, আমাদের মধ্যে এমন কে আছে যে নিজের প্রতি অবিচার (ظلم) করেনি? তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের কাছে বিষয়টি পরিষ্কার করলেন—আর এটি হলো কুরআনের ক্ষেত্রে সুন্নাহর বিশদ ব্যাখ্যা (بيান السنة)—তিনি তাদের নিকট আয়াতটি এবং এর উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করলেন এবং তাদের জন্য এটিকে সুনির্দিষ্ট (تخصيص) করে দিলেন যেমনটি আমরা বলব। তিনি তাদের বললেন: "তোমরা যা বলছ বিষয়টি তেমন নয়; 'তাদের ঈমানকে অবিচারের (ظلم) সাথে মিশ্রিত করেনি' এর অর্থ হলো শিরক (شرك) মিশ্রিত করেনি। তোমরা কি লোকমানের প্রতি তাঁর পুত্রের উপদেশ শোননি? {হে বৎস, আল্লাহর সাথে শিরক (شرك) করো না, নিশ্চয়ই শিরক (شرك) হলো চরম অবিচার (ظلم عظيم)}" (লোকমান: ১৩)। লোকমান সূরার এই আয়াতটি কুরআনে লোকমানের জবানিতে এসেছে যখন তিনি তাঁর পুত্রকে উপদেশ দিচ্ছিলেন।