(খণ্ড: ১)
মা ওয়াদাহা ওয়াসতাবানা ফী ফাদায়িলি শাহরি শা-বান
(পৃষ্ঠা: -)
ما وضح واستبان في فضائل شهر شعبان القسم: كتب السنة
الكتاب: ما وضح واستبان في فضائل شهر شعبان
المؤلف: أبو الخطاب عمر بن حسن الأندلسي الشهير بابن دحية الكلبي (ت 633هـ)
قرأه وعلق عليه: جمال عَزُّون
الناشر: مكتبة أضواء السلف، الرياض
الطبعة: الأولى، 1424 هـ - 2003 م
عدد الصفحات: 49
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
শা'বান মাসের ফজিলত সম্পর্কে যা সুস্পষ্ট ও সাব্যস্ত হয়েছে বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ
গ্রন্থ: শা'বান মাসের ফজিলত সম্পর্কে যা সুস্পষ্ট ও সাব্যস্ত হয়েছে
লেখক: আবু আল-খাত্তাব উমর ইবনে হাসান আল-আন্দালুসি, যিনি ইবনে দিহইয়াহ আল-কালবি নামে প্রসিদ্ধ (মৃত্যু ৬৩৩ হিজরি)
পঠন ও টীকা প্রদান: জামাল আজ্জুন
প্রকাশক: মাকতাবাতু আদওয়াউস সালাফ, রিয়াদ
সংস্করণ: প্রথম, ১৪২৪ হিজরি - ২০০৩ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪৯
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
মা ওয়াদাহা ওয়াসতাবানা ফী ফাদায়িলি শাহরি শা-বান
(পৃষ্ঠা: ১১)
بسم الله الرحمن الرحيم
أَمَّا بَعْدُ:
حَمْدًا لِلَّهِ الْمُنْفَرِدِ بِالْوَحْدَانِيَّةِ وَالْكِبْرِيَاءِ وَالْعَظَمَةِ، الْعَزِيزِ الصَّمَدِ الرَّحْمَنِ، الَّذِي جَعَلَ أَهْلَ التَّوْحِيدِ بِتَوْحِيدِهِ مِنْ عَذَابِهِ فِي أَمَانٍ، وَلَمْ يَرْضَ لِعِبَادِهِ الْمُطِيعِينَ الْكُفْرَ، وَرَضِيَ لَهُمُ الإِسْلامَ دِينًا، وَزَيَّنَهُمْ بِحُلَى الإِيمَانِ، وَلَمْ يَجْعَلْ حَظَّهُمْ مِنْهُ الْحُصُولَ عَلَى الْخُسْرَانِ وَالْحِرْمَانِ، وَالصَّلاةُ عَلَى جَوْهَرَةِ الشَّرَفِ الْيَتِيمَةِ الَّذِي تَحَلَّى بِجُودِهَا جَيِّدُ الزَّمَانِ، مُحَمَّدٌ نَبِيُّهُ وَخَلِيلُهُ وَصَفِيُّهُ وَأَمِينُهُ عَلَى وَحْيِهِ الَّذِي شَرُفَ زَمَانُهُ عَلَى جَمِيعِ الأَزْمَانِ، وَجَعَلَهُ مِنْ عِصْمَتِهِ فِي ذِمَّةٍ وَضَمَانٍ، وَخَصَّهُ بِنَهْرِ الْكَوْثَرِ الَّذِي مِسَاحَتُهُ مِنْ بُصْرَى إِلَى عُمَانَ، الَّذِي جِبَالُهُ الْمِسْكُ، وَحَافَّتَاهُ قِبَابُ اللُّؤْلُؤِ الْمُجَوَّفِ الْمُدَحْرَجِ كَالْجُمَانِ،
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
অতঃপর:
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি একত্ববাদ, মহত্ত্ব ও মহিমায় একক; যিনি মহাপরাক্রমশালী, অমুখাপেক্ষী ও পরম দয়ালু; যিনি তাওহীদপন্থীদের তাদের তাওহীদের কারণে তাঁর আযাব থেকে নিরাপদ রেখেছেন। তিনি তাঁর অনুগত বান্দাদের জন্য কুফরকে পছন্দ করেননি, বরং তাদের জন্য দ্বীন হিসেবে ইসলামকে মনোনীত করেছেন এবং তাদেরকে ঈমানের অলঙ্কারে ভূষিত করেছেন; তিনি তাদের নসিবকে ক্ষতি ও বঞ্চনার শিকার হতে দেননি। আর দরুদ বর্ষিত হোক সেই অনন্য শ্রেষ্ঠ রত্নের প্রতি, যাঁর বদান্যতায় কালের কণ্ঠদেশ সুশোভিত হয়েছে; তিনি মুহাম্মদ—আল্লাহর নবী, তাঁর খলীল, তাঁর মনোনীত বান্দা এবং তাঁর ওহীর আমানতদার; যাঁর যুগ সকল যুগের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করেছে এবং আল্লাহ তাঁকে নিজ সুরক্ষায় স্বীয় জিম্মাদারী ও আশ্রয়ে রেখেছেন। আর তাঁকে বিশেষভাবে দান করেছেন কাউসার নদী, যার প্রশস্ততা বুসরা থেকে ওমান পর্যন্ত; যার পাহাড়গুলো কস্তুরীর এবং যার উভয় তীর হচ্ছে ফাঁপা মুক্তার গম্বুজ, যা সুগোল বড় মতির মতো।
(খণ্ড: ১)
মা ওয়াদাহা ওয়াসতাবানা ফী ফাদায়িলি শাহরি শা-বান
(পৃষ্ঠা: ১২)
صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَعَلَى آلِهِ، الَّذِينَ بَلَغُوا رَايَاتِ الْمَلَوَانِ بِإِيمَانٍ، وَالسَّلامُ الطَّيِّبُ عَلَيْهِ، وَالتَّحِيَّةُ الْمُبَارَكَةُ كَصَبَا الْحَذِيَّةِ فِي نُعْمَانٍ، أَوْ كُلَّمَا قَالَ الشُّعَرَاءُ فِي وَصْفِ خَامَاتِ الزَّرْعِ وَشَقَائِقِ النُّعْمَانِ.
فَإِنِّي ذَاكِرٌ فِي هَذَا الْجُزْءِ إِنْ شَاءَ اللَّهُ مَا جَاءَ فِي اشْتِقَاقِ شَهْرِ شَعْبَانَ، وَمَا لاحَ مِنْ فَضْلِ صِيَامِهِ وَبَانَ.
وَفِيهِ نَزَلَتْ فَرِيضَةُ شَهْرِ رَمَضَانَ، وَفِي النِّصْفِ مِنْهُ حُوِّلَتِ الْقِبْلَةُ مِنَ الْمَسْجِدِ الأَقْصَى إِلَى الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ الْمَحْفُوفِ بِالرَّحْمَةِ وَالْغُفْرَانِ، فَشَقَّ ذَلِكَ عَلَى الْيَهُودِ وَعُبَّادِ الصُّلْبَانِ وَالأَوْثَانِ، وَجَدَّ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي إِعْلاءِ كَلِمَةِ اللَّهِ غَيْرُ مُقَصِّرٍ وَلا وَانِ.
আল্লাহ তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজনের ওপর রহমত বর্ষণ করুন, যাঁরা ঈমানের সাথে দিন ও রাত্রির পতাকাসমূহকে সমুন্নত করেছেন। তাঁর ওপর পবিত্র সালাম এবং বরকতময় অভিবাদন বর্ষিত হোক, যেমন নু’মান উপত্যকায় বয়ে যাওয়া কস্তুরীভরা সুগন্ধি বাতাস, অথবা কবিগণ শস্যের কচি চারা এবং রক্তিম পপি ফুলের বর্ণনায় যা কিছু বলে থাকেন।
আমি এই খণ্ডে ইনশাআল্লাহ শাবান মাসের নামকরণের ব্যুৎপত্তি এবং এর সিয়ামের যে ফযিলত প্রকাশিত ও সুস্পষ্ট হয়েছে তা উল্লেখ করব।
আর এই মাসেই রমজান মাসের রোজা ফরজ হওয়ার বিধান অবতীর্ণ হয়েছে এবং এর মধ্যভাগে কিবলা মসজিদে আকসা থেকে রহমত ও ক্ষমায় পরিবেষ্টিত মসজিদে হারামের দিকে পরিবর্তন করা হয়েছে। এটি ইহুদি, ক্রুশপূজারী এবং মূর্তিপূজকদের জন্য অত্যন্ত কঠিন প্রতীয়মান হয়েছিল। আর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর বাণীকে সমুন্নত করার ক্ষেত্রে কোনো প্রকার ত্রুটি বা অলসতা ছাড়াই সচেষ্ট ছিলেন।
(খণ্ড: ১)
মা ওয়াদাহা ওয়াসতাবানা ফী ফাদায়িলি শাহরি শা-বান
(পৃষ্ঠা: ১৩)
حَدَّثَنِي الْمُسْنِدُ أَبُو جَعْفَرٍ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ نَصْرٍ سِبْطُ أَبِي عَلِيٍّ الْحُسَيْنِ وَأَنَا حَاضِرٌ، ثنا أَبُو نُعَيْمٍ، أَنْبَأَنَا اللُّغَوِيُّ أَبُو عُمَرَ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْوَاحِدِ الْمُطَرِّزُ، ثنا أَحْمَدُ بْنُ يَحْيَى الشَّيْبَانِيُّ ثَعْلَبٌ قَالَ: وَكَانَ شَعْبَانُ شَهْرًا تَتَشَعَّبُ فِيهِ الْقَبَائِلُ، أَيْ: تَتَفَرَّقُ لِقَصْدِ الْمُلُوكِ وَالْتِمَاسِ الْعَطِيَّةِ، وَيَقُولُونَ: شَعْبَانَاتٌ وَشَعَابِينُ وَأَمَّا فَضْلُهُ الثَّابِتُ عَنْ سَيِّدِ الْبَرِيَّةِ فَهُوَ مَا:
أنا بِهِ الْفَقِيهُ أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ الْحُسَيْنِ فِي مَنْزِلِهِ بِمَدِينَةِ فَاسَ سَنَةَ ثَلاثٍ وَسَبْعِينَ وَخَمْسِ مِائَةٍ، وَفِيهَا مَاتَ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ أَحْمَدُ بْنُ
মুসনিদ আবু জাফর মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে নাসর, যিনি আবু আলী আল-হুসাইনের দৌহিত্র, তিনি আমার উপস্থিতিতে আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু নুয়াইম আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, ভাষাবিদ আবু উমর মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওয়াহিদ আল-মুতররিজ আমাদের অবহিত করেছেন, আহমদ ইবনে ইয়াহইয়া আশ-শাইবানি সা'লাব আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: শাবান ছিল এমন একটি মাস যাতে গোত্রগুলো বিভিন্ন শাখায় বিভক্ত হয়ে যেত, অর্থাৎ: তারা বাদশাহদের নিকট যাওয়ার এবং দান-অনুগ্রহ লাভের উদ্দেশ্যে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ত। তারা (এর বহুবচন হিসেবে) বলত: শাবানাত এবং শা’য়াবিন। আর সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ (রাসূলুল্লাহ ﷺ) থেকে এই মাসের যে ফযিলত প্রমাণিত আছে, তা হলো:
ফকিহ আবু আল-হাসান আলী ইবনে আল-হুসাইন পাঁচশত তেয়াত্তর হিজরি সনে ফাস নগরীতে তাঁর নিজ বাসভবনে আমাকে এটি অবহিত করেছেন, আর সেই বছরই আবু আব্দুল্লাহ আহমদ ইবনে... মৃত্যুবরণ করেন।
(খণ্ড: ১)
মা ওয়াদাহা ওয়াসতাবানা ফী ফাদায়িলি শাহরি শা-বান
(পৃষ্ঠা: ১৪)
مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ غَلبُونَ، ثنا أَبُو عَمْرٍو عُثْمَانُ بْنُ أَحْمَدَ اللَّخْمِيُّ، ثنا أَبُو عِيسَى يَحْيَى بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، ثنا عَمُّ أَبِي أَبُو مَرْوَانَ عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ يَحْيَى، ثنا أَبِي الْفَقِيهُ أَبُو مُحَمَّدٍ يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، قَالَ: عَرَضْتُ عَلَى مَالِكِ بْنِ أَنَسٍ، عَنْ أَبِي النَّضْرِ مَوْلَى عُمَرَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ عَائِشَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهَا قَالَتْ: «كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم
يَصُومُ حَتَّى نَقُولَ لا يُفْطِرُ، وَيُفْطِرُ حَتَّى نَقُولَ لا يَصُومُ، وَمَا رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم اسْتَكْمَلَ صِيَامَ شَهْرٍ قَطُّ إِلا رَمَضَانَ، وَمَا رَأَيْتُهُ فِي شَهْرٍ أَكْثَرَ صِيَامًا مِنْهُ فِي شَعْبَانَ» .
هَذَا حَدِيثٌ مُجْمَعٌ عَلَى صِحَّتِهِ أَخْرَجَهُ الْبُخَارِيُّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ يُوسُفَ، قَالَ: أنا مَالِكٌ، وَأَخْرَجَهُ مُسْلِمٌ
মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ বিন আবদুর রহমান বিন গালবুন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আমর উসমান বিন আহমদ আল-লাখমি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু ঈসা ইয়াহইয়া বিন আবদুল্লাহ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আমার পিতার চাচা আবু মারওয়ান উবাইদুল্লাহ বিন ইয়াহইয়া, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আমার পিতা ফকিহ আবু মুহাম্মদ ইয়াহইয়া বিন ইয়াহইয়া, তিনি বলেন: আমি মালিক বিন আনাসের নিকট পাঠ করেছি, তিনি আবু আন-নাদর (উমর বিন আবদুল্লাহর মুক্ত দাস) থেকে, তিনি আবু সালামা বিন আবদুর রহমান থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্ত্রী আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: «রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
রোজা রাখতেন এমনকি আমরা বলতাম যে তিনি আর রোজা ভঙ্গ করবেন না, এবং তিনি বিরতি দিতেন এমনকি আমরা বলতাম যে তিনি আর রোজা রাখবেন না। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে রমজান ব্যতীত অন্য কোনো পূর্ণ মাস রোজা পালন করতে কখনো দেখিনি, এবং শাবান মাসের চেয়ে অন্য কোনো মাসে তাঁকে অধিক রোজা পালন করতে দেখিনি।»
এটি একটি হাদিস যার বিশুদ্ধতার ওপর ঐকমত্য রয়েছে, ইমাম বুখারী এটি আবদুল্লাহ বিন ইউসুফ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মালিক আমাকে সংবাদ দিয়েছেন; এবং ইমাম মুসলিমও এটি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
মা ওয়াদাহা ওয়াসতাবানা ফী ফাদায়িলি শাহরি শা-বান
(পৃষ্ঠা: ১৫)
عَنْهُ يَحْيَى بْنُ يَحْيَى التَّمِيمِيُّ، قَالَ: قَرَأْتُ عَلَى مَالِكٍ، وَاللَّفْظُ الَّذِي أَوْرَدْنَاهُ عَلَى لَفْظِ بْنِ يَحْيَى.
وَأَبُو النَّضْرِ: اسْمُهُ سَالِمُ بْنُ أَبِي أُمَيَّةَ، أَحَدُ الثِّقَاتِ الأَثْبَاتِ مِنْ أَهْلِ الْمَدِينَةِ، وَكَانَ كَاتِبًا لِمَوْلاهُ عُمَرَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَعْمَرٍ الْقُرَشِيِّ التَّيْمِيِّ، رَأَى مِنَ الصَّحَابَةِ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ وَابْنَ أَبِي أَوْفَى وَالسَّائِبَ بْنَ يَزِيدَ، وَجَمَاعَةً مِنَ التَّابِعِينَ، رَوَى عَنْهُ جَمَاعَةٌ مِنَ الأَئِمَّةِ مِنْهُمْ مَالِكٌ وَسُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ وَسُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ وَغَيْرُهُمْ، تُوُفِّيَ سَنَةَ ثَلاثٍ وَثَلاثِينَ، وَقِيلَ: سَنَةَ ثَلاثِينَ وَمِائَةٍ
قُلْتُ: وَسَمِعْتُ الإِمَامَ فَقِيهَ الْعَارِفِينَ أَبَا الْفُتُوحِ الْعِجْلِيَّ يَقُولُ:
তাঁর থেকে ইয়াহইয়া ইবনে ইয়াহইয়া আত-তামীমী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি মালিকের নিকট পাঠ করেছি, এবং আমরা যে শব্দগুলো উল্লেখ করেছি তা ইবনে ইয়াহইয়ার বর্ণিত শব্দ অনুযায়ী।
আর আবু আন-নাদর: তাঁর নাম সালিম ইবনে আবু উমাইয়্যাহ, তিনি মদিনাবাসীদের মধ্য হতে অন্যতম নির্ভরযোগ্য ও সুপ্রতিষ্ঠিত বর্ণনাকারী ছিলেন। তিনি তাঁর অভিভাবক উমর ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে মামার আল-কুরাশী আত-তাইমীর লেখক ছিলেন। তিনি সাহাবীদের মধ্য হতে আবদুল্লাহ ইবনে উমর, ইবনে আবু আওফা এবং আস-সাইব ইবনে ইয়াযীদকে দেখেছেন, এবং তাবেঈদের একটি দলকে প্রত্যক্ষ করেছেন। তাঁর থেকে একদল ইমাম বর্ণনা করেছেন, যাদের মধ্যে মালিক, সুফিয়ান আস-সাওরী, সুফিয়ান ইবনে উয়াইনাহ, আবদুল্লাহ ইবনে উমর এবং আরও অনেকে রয়েছেন। তিনি একশত তেত্রিশ হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন, আর কেউ কেউ বলেছেন: একশত ত্রিশ হিজরীতে।
আমি বলছি: আমি ইমাম, আরিফগণের ফকীহ আবুল ফুতুহ আল-ইজলীকে বলতে শুনেছি:
(খণ্ড: ১)
মা ওয়াদাহা ওয়াসতাবানা ফী ফাদায়িলি শাহরি শা-বান
(পৃষ্ঠা: ১৬)
احْتَجَّ الشَّافِعِيُّ فِي الْقَدِيمِ بِهَذَا الْحَدِيثِ، فَقَالَ: وَأَكْرَهُ أَنْ يَتَّخِذَهُ الرَّجُلُ صَوْمَ شَهْرٍ يُكْمِلُهُ كَمَا يُكْمِلُ رَمَضَانَ، وَكَذَلِكَ يَوْمًا مِنَ الأَيَّامِ.
قَالَ: وَإِنَّمَا كَرِهْتُهُ أَنْ لا يَتَأَسَّى رَجُلٌ جَاهِلٌ فَيَظُنُّ أَنَّ ذَلِكَ وَاجِبٌ، وَإِنْ فُعِلَ فَحَسَنٌ.
قُلْتُ: وَهَذَا الَّذِي قَالَهُ الشَّافِعِيُّ تَرُدُّهُ السُّنَّةُ الثَّابِتَةُ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، وَلَوْ حَفِظَ الشَّافِعِيُّ رحمه الله ذَلِكَ لَرَجَعَ إِلَيْهِ وَتَرَكَ كَلامَهُ؛ لِمَا رَوَاهُ عَنْهُ الْفَقِيهُ أَبُو يَعْقُوبَ يُوسُفُ بْنُ يَحْيَى الْبُوَيْطِيُّ، قَالَ: سَمِعْتُ الشَّافِعِيَّ يَقُولُ: " لَقَدْ أَلَّفْتُ هَذِهِ الْكُتُبَ وَلَمْ آلُ فِيهَا، وَلا بُدَّ أَنْ يُوجَدَ فِيهَا الْخَطَأُ، لأَنَّ اللَّهَ تَعَالَى يَقُولُ: {وَلَوْ كَانَ مِنْ عندِ غَيْرِ اللَّهِ
ইমাম শাফেয়ী তাঁর পুরাতন (কাদিম) মতবাদে এই হাদিস দ্বারা দলিল পেশ করেছেন, তিনি বলেছেন: "আমি অপছন্দ করি যে কোনো ব্যক্তি একে রমজান পূর্ণ করার মতো একটি পূর্ণ মাসের রোজা হিসেবে গ্রহণ করবে, তেমনিভাবে অন্য দিনগুলোর ক্ষেত্রেও।"
তিনি বলেন: "আমি এটি অপছন্দ করেছি শুধুমাত্র এই কারণে যাতে কোনো অজ্ঞ ব্যক্তি এর অনুসরণ করে এটিকে ওয়াজিব মনে না করে। তবে যদি তা করা হয়, তবে তা উত্তম।"
আমি বলছি: শাফেয়ী যা বলেছেন, আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত সাব্যস্ত সুন্নাহ তা খণ্ডন করে। ইমাম শাফেয়ী (রাহিমাহুল্লাহ) যদি তা জানতে পারতেন তবে অবশ্যই তিনি তাঁর কথা ছেড়ে দিয়ে সেটির দিকে ফিরে আসতেন; কারণ ফকিহ আবু ইয়াকুব ইউসুফ ইবনে ইয়াহইয়া আল-বুয়াইতি তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি শাফেয়ীকে বলতে শুনেছি: "আমি এই কিতাবগুলো সংকলন করেছি এবং এতে চেষ্টার কোনো ত্রুটি করিনি, তবুও এতে অবশ্যই ভুল পাওয়া যাবে; কারণ মহান আল্লাহ বলেন: {যদি এটি আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো পক্ষ থেকে হতো...}
(খণ্ড: ১)
মা ওয়াদাহা ওয়াসতাবানা ফী ফাদায়িলি শাহরি শা-বান
(পৃষ্ঠা: ১৭)
لَوَجَدُوا فِيهِ اخْتِلافًا كَثِيرًا} [النساء: 82] ، فَمَا وَجَدْتُمْ فِي كُتُبِي هَذِهِ مِمَّا يُخَالِفُ الْكِتَابَ وَالسُّنَّةِ فَقَدْ رَجَعْتُ عَنْهُ ".
كَتَبَ بِذَلِكَ إِلَيَّ الْحَافِظُ أَبُو طَاهِرٍ السِّلَفِيُّ، بِحَقِّ سَمَاعِهِ عَلَى الشَّيْخِ أَبِي الْحَسَنِ عَلِيِّ بْنِ الْحَسَنِ الْمَوَازِينِيِّ، فِي جُزْءٍ فِيهِ فَضَائِلُ أَبِي عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدِ بْنِ إِدْرِيسَ الشَّافِعِيِّ، مِنْ تَأْلِيفِ أَبِي عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرِو بْنِ شَاكِرٍ الْقَطَّانِ، يَرْوِيهِ الْمَوَازِينِيُّ بِدِمَشْقَ فِي النِّصْفِ مِنْ ذِي الْقَعْدَةِ سَنَةَ خَمْسَ عَشْرَةَ وَخَمْسِ مِائَةٍ عَنِ الْقُضَاعِيِّ عَنْهُ.
"...তবে তারা তাতে অনেক বৈপরীত্য পেত" [আন-নিসা: ৮২], সুতরাং আমার এই গ্রন্থগুলোতে আপনারা কিতাব ও সুন্নাহর পরিপন্থী যা কিছু পাবেন, আমি তা থেকে প্রত্যাবর্তন করলাম।"
হাফিজ আবু তাহির আস-সিলাফি শায়খ আবুল হাসান আলি ইবনে আল-হাসান আল-মাওয়াজিনির নিকট তাঁর শ্রবণের অধিকারসূত্রে এই মর্মে আমার নিকট লিখেছেন—যা আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইদরিস আশ-শাফিয়ির মর্যাদা বিষয়ক একটি পুস্তিকার অন্তর্ভুক্ত, যা আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আমর ইবনে শাকির আল-কাত্তান কর্তৃক সংকলিত। আল-মাওয়াজিনি এটি ৫১৫ হিজরি সনের যুল-কাদাহ মাসের মাঝামাঝি সময়ে দামেস্কে আল-কুযায়ির মাধ্যমে তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
মা ওয়াদাহা ওয়াসতাবানা ফী ফাদায়িলি শাহরি শা-বান
(পৃষ্ঠা: ১৮)
وَقَدْ ثَبَتَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَصُومُ شَعْبَانَ كُلَّهُ، وَلَمْ يَأْمُرْنَا اللَّهُ بِاتِّبَاعِ أَحَدٍ إِلا اتِّبَاعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، وَفِيهِ الأُسْوَةُ الْحَسَنَةُ الَّتِي جَزَاؤُهَا الْجَنَّةُ.
وَالْحَدِيثُ الَّذِي ذَكَرْنَاهُ أَخْرَجَهُ الْبُخَارِيُّ فِي بَابِ الصِّيَامِ فِي بَابِ صَوْمِ شَعْبَانَ عَنْ مُعَاذِ بْنِ فَضَالَةَ، ثنا هِشَامٌ، عَنْ يَحْيَى، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، أَنَّ عَائِشَةَ حَدَّثَتْهُ قَالَتْ: "
এটি প্রমাণিত হয়েছে যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পুরো শাবান মাস রোজা রাখতেন। আর আল্লাহ আমাদের রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর অনুসরণ ব্যতীত অন্য কারো অনুসরণের নির্দেশ দেননি। আর তাঁর মধ্যেই রয়েছে উত্তম আদর্শ, যার বিনিময় হলো জান্নাত।
আর আমরা যে হাদীসটি উল্লেখ করেছি, তা ইমাম বুখারী সিয়াম অধ্যায়ের ‘শাবান মাসের রোজা’ পরিচ্ছেদে মুয়াজ ইবনে ফাদালা থেকে বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন—আমাদের নিকট হিশাম হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি ইয়াহইয়া থেকে, তিনি আবু সালামাহ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) তাকে হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: "
(খণ্ড: ১)
মা ওয়াদাহা ওয়াসতাবানা ফী ফাদায়িলি শাহরি শা-বান
(পৃষ্ঠা: ১৯)
لَمْ يَكُنِ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَصُومُ شَهْرًا أَكْثَرَ مِنْ شَعْبَانَ، فَإِنَّهُ كَانَ يَصُومُ شَعْبَانَ كُلَّهُ، وَكَانَ يَقُولُ: خُذُوا مِنَ الْعَمَلِ مَا تُطِيقُونَ؛ فَإِنَّ اللَّهَ لا يَمَلُّ حَتَّى تَمَلُّوا، وَأَحَبُّ الصَّلاةِ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مَا دُووِمَ عَلَيْهِ وَإِنْ قَلَّتْ، وَكَانَ إِذَا صلى الله عليه وسلم صَلاةً دَاوَمَ عَلَيْهَا ".
هَذَا حَدِيثٌ لا مَطْعَنَ فِيهِ، وَقَدْ أَخْرَجَهُ مُسْلِمٌ مِنْ طَرِيقِ سُفْيَانَ بْنِ عُيَيْنَةَ، عَنِ ابْنِ أَبِي لَبِيدٍ وَاسْمُهُ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَبِي لَبِيدٍ مَوْلَى الأَخْنَسِ مِنْ أَهْلِ الْمَدِينَةِ وَقَدِمَ الْكُوفَةَ، وَرَوَى عَنْهُ سُفْيَانُ بْنُ سَعِيدٍ الثَّوْرِيُّ وَسُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ وَمُحَمَّدُ بْنُ عَمْرِو بْنِ عَلْقَمَةَ، وَكَانَ مِنْ عُبَّادِ الْمَدِينَةِ.
قَالَ يَحْيَى بْنُ مَعِينٍ: ثِقَةٌ.
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শাবান মাসের চেয়ে অধিক অন্য কোনো মাসে রোজা রাখতেন না; কেননা তিনি প্রায় পুরো শাবান মাসই রোজা রাখতেন। তিনি বলতেন: "তোমরা আমল থেকে ততটুকুই গ্রহণ করো যতটুকু তোমরা সামর্থ্য রাখো; কেননা আল্লাহ ক্লান্ত হন না যতক্ষণ না তোমরা নিজেরা ক্লান্ত হয়ে পড়ো।" নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট সর্বাধিক প্রিয় সালাত ছিল তা-ই যা নিয়মিত আদায় করা হতো, যদিও তা পরিমাণে অল্প হতো। তিনি যখন কোনো সালাত আদায় করতেন, তখন তা নিয়মিত পালন করতেন।
এটি এমন একটি হাদিস যাতে আপত্তির কোনো অবকাশ নেই। ইমাম মুসলিম এটি সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনাহর সূত্রে ইবনে আবি লাবিদ থেকে বর্ণনা করেছেন; তাঁর নাম হলো আবদুল্লাহ ইবনে আবি লাবিদ, তিনি আখনাসের আযাদকৃত দাস এবং মদিনার অধিবাসীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন ও পরবর্তীতে কুফায় এসেছিলেন। তাঁর থেকে সুফিয়ান ইবনে সাঈদ আস-সাওরি, সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনাহ এবং মুহাম্মদ ইবনে আমর ইবনে আলকামা বর্ণনা করেছেন। তিনি মদিনার বিশিষ্ট ইবাদতগুজারগণের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।
ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন বলেছেন: তিনি নির্ভরযোগ্য।
(খণ্ড: ১)
মা ওয়াদাহা ওয়াসতাবানা ফী ফাদায়িলি শাহরি শা-বান
(পৃষ্ঠা: ২০)
وَقَالَ أَحْمَدُ: مَا أَعْلَمُ بِحَدِيثِهِ بَأْسًا.
وَقَالَ أَبُو حَاتِمٍ الرَّازِيُّ: صَدُوقُ الْحَدِيثِ.
وَقَالَ الْبُخَارِيُّ: " قَالَ الدَّرَاوَرْدِيُّ: لَمْ يَشْهَدْ صَفْوَانُ بْنُ سُلَيْمٍ جِنَازَتَهُ ".
وَذَلِكَ وَاللَّهُ أَعْلَمُ لأَنَّهُ كَانَ يُرْمَى بِالْقَدَرِ، وَتَفَرَّدَ بِالإِخْرَاجِ عَنْهُ مُسْلِمٌ لِثِقَتِهِ عِنْدَهُ.
عَنْ أَبِي سَلَمَةَ قَالَ: سَأَلْتُ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهَا عَنْ صِيَامِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم؟ فَقَالَتْ: " كَانَ يَصُومُ حَتَّى نَقُولَ: قَدْ صَامَ، وَيُفْطِرُ حَتَّى نَقُولُ: قَدْ
আহমাদ বলেছেন: তাঁর বর্ণিত হাদিসে কোনো সমস্যা আছে বলে আমি জানি না।
আবু হাতিম আর-রাজি বলেছেন: তিনি হাদিসের ক্ষেত্রে সত্যবাদী।
বুখারি বলেছেন: "আদ-দারাওয়ার্দি বলেছেন: সাফওয়ান বিন সুলাইম তাঁর জানাজায় উপস্থিত হননি।"
আর এটি—আল্লাহই ভালো জানেন—এ কারণে যে, তাঁর প্রতি তাকদির অস্বীকারের অভিযোগ আনা হতো, এবং ইমাম মুসলিম তাঁর নিকট নির্ভরযোগ্য হওয়ার কারণে এককভাবে তাঁর থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন।
আবু সালামাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আয়িশা (রাযিয়াল্লাহু তাআলা আনহা)-কে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর রোজা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন: "তিনি রোজা রাখতেন এমনকি আমরা বলতাম: তিনি অবশ্যই রোজা রাখছেন, এবং তিনি রোজা ভঙ্গ করতেন এমনকি আমরা বলতাম: তিনি অবশ্যই..."
(খণ্ড: ১)
মা ওয়াদাহা ওয়াসতাবানা ফী ফাদায়িলি শাহরি শা-বান
(পৃষ্ঠা: ২১)
أَفْطَرَ، وَلَمْ نَرَهُ صَائِمًا مِنْ شَهْرٍ قَطُّ أَكْثَرَ مِنْ صِيَامِهِ مِنْ شَعْبَانَ، كَانَ يَصُومُ شَعْبَانَ إِلا قَلِيلا ".
هَكَذَا أُورِدَ فِي صَحِيحِ مُسْلِمٍ بِنَقْلِ الْعَدْلِ عَنِ الْعَدْلِ.
وَرَوَى الْحَافِظُ أَبُو عِيسَى التِّرْمِذِيُّ فِي جَامِعِهِ الْكَبِيرِ قَالَ: وَرُوِيَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْمُبَارَكِ أَنَّهُ قَالَ فِي هَذَا الْحَدِيثِ: هُوَ جَائِزٌ فِي كَلامِ الْعَرَبِ إِذَا صَامَ أَكْثَرَ شَهْرٍ أَنْ يُقَالَ: صَامَ الشَّهْرَ كُلَّهُ، وَيُقَالُ: قَامَ فُلانٌ لَيْلَهُ أَجْمَعَ، وَلَعَلَّهُ تَعَشَّى وَاشْتَغَلَ بِبَعْضِ أَمْرِهِ، كَأَنَّ ابْنَ الْمُبَارَكِ قَدْ رَأَى كِلا الْحَدِيثَيْنِ مُتَّفِقَيْنِ يَقُولُ: إِنَّمَا مَعْنَى هَذَا الْحَدِيثِ أَنَّهُ كَانَ يَصُومُ أَكْثَرَ الشَّهْرِ.
...রোজা ভঙ্গ করতেন; আর আমরা তাঁকে শাবান মাসের চেয়ে অধিক অন্য কোনো মাসে রোজা রাখতে দেখিনি। তিনি অল্প কয়েক দিন ব্যতীত প্রায় পুরো শাবান মাসই রোজা রাখতেন।"
এভাবেই নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীর সূত্রে সহীহ মুসলিমে এটি বর্ণিত হয়েছে।
এবং হাফেজ আবু ঈসা আত-তিরমিযী তাঁর জামেউল কাবীরে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক থেকে এই হাদীস সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: আরবদের বাচনভঙ্গিতে এটি বৈধ যে, যখন কেউ কোনো মাসের অধিকাংশ দিন রোজা রাখে, তখন বলা হয়: সে পুরো মাস রোজা রেখেছে। আরও বলা হয়: অমুক ব্যক্তি সারা রাত জেগে ইবাদতে দাঁড়িয়ে কাটিয়েছে, অথচ হয়তো সে রাতের খাবার খেয়েছে এবং নিজের কোনো কাজে ব্যস্ত ছিল। মনে হয় ইবনুল মুবারক উভয় হাদীসকে সামঞ্জস্যপূর্ণ মনে করেছেন; তিনি বলছেন: মূলত এই হাদীসের অর্থ হলো তিনি মাসের অধিকাংশ সময় রোজা রাখতেন।
(খণ্ড: ১)
মা ওয়াদাহা ওয়াসতাবানা ফী ফাদায়িলি শাহরি শা-বান
(পৃষ্ঠা: ২২)
وَقَدْ أَمَرَ عِمْرَانَ بْنَ حُصَيْنٍ أَوِ السَّائِلَ الَّذِي سَأَلَهُ أَنْ يَصُومَ مِنْ سُرَّةِ شَعْبَانَ، أَعْنِي: وَسَطَهُ عَلَى اخْتِلافِ أَهْلِ اللُّغَةِ فِي هَذِهِ اللَّفْظَةِ.
عَنْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ لَهُ أَوْ لآخَرٍ: " أَصُمْتَ مِنْ سَرَرِ شَعْبَانَ؟ قَالَ: لا، قَالَ: فَإِذَا أَفْطَرْتَ فَصُمْ يَوْمَيْنِ ".
وَفِي رِوَايَةٍ: «إِذَا أَفْطَرْتَ رَمَضَانَ فَصُمْ يَوْمًا أَوْ يَوْمَيْنِ» - شُعْبَةُ الَّذِي يَشُكُّ فِيهِ - قَالَ: وَأَظُنُّهُ قَالَ: يَوْمَيْنِ.
قَالَ أَبُو عُبَيْدٍ: سَرَارِ الشَّهْرِ: آخِرُهُ حَيْثُ يَسْتَتِرُ الْهِلالُ، وَسَرَرُهُ أَيْضًا.
তিনি ইমরান ইবনুল হুসাইন অথবা জনৈক প্রশ্নকারীকে শাবান মাসের 'সুররাহ' থেকে রোজা রাখার নির্দেশ দিয়েছিলেন, অর্থাৎ: এর মধ্যভাগ, যদিও ভাষাবিদদের নিকট এই শব্দটির প্রয়োগে মতপার্থক্য রয়েছে।
ইমরান ইবনুল হুসাইন থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে অথবা অন্য ব্যক্তিকে জিজ্ঞেস করলেন: "তুমি কি শাবানের শেষাংশ থেকে রোজা রেখেছ?" তিনি বললেন: "না।" নবীজি বললেন: "তাহলে তুমি যখন রমজানের রোজা সম্পন্ন করবে, তখন দুই দিন রোজা রেখো।"
অন্য এক বর্ণনায় রয়েছে: "যখন তুমি রমজান মাসের রোজা শেষ করবে, তখন এক দিন বা দুই দিন রোজা রেখো।"— বর্ণনাকারী শু'বাহ এ বিষয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন— তিনি বলেন: আমার ধারণা নবীজি 'দুই দিন' বলেছিলেন।
আবু উবাইদ বলেন: মাসের 'সারার' হলো এর শেষ ভাগ যখন চাঁদ অদৃশ্য থাকে, এবং 'সারারু' শব্দটিও একই অর্থ প্রকাশ করে।
(খণ্ড: ১)
মা ওয়াদাহা ওয়াসতাবানা ফী ফাদায়িলি শাহরি শা-বান
(পৃষ্ঠা: ২৩)
وَقَدْ أَنْكَرَهُ النَّاسُ عَلَيْهِ وَقَالُوا: لَمْ يَأْتِ فِي صَوْمِ آخِرِ الشَّهْرِ حَضٌّ، وَسَرَارُ كُلِّ شَيْءٍ وَسَطُهُ وَأَفْضَلُهُ، فَكَأَنَّهُ يُرِيدُ الأَيَّامَ الْغُرَّ مِنْ وَسَطِ الشَّهْرِ.
وَقَالَ ابْنُ السِّكِّيتِ: سَرَارُ الشَّهْر وَسِرَارُهُ بِالْفَتْحِ وَالْكَسْرِ.
قَالَ الْفَرَّاءُ: وَالْفَتْحُ أَجْوَدُ.
وَقَالَ الأَزْهَرِيُّ: سَرَرُ الشَّهْرِ وَسِرَارُهُ وسَرَارُهُ ثَلاثُ لُغَاتٍ.
وَقَالَ الأَوْزَاعِيُّ وَسَعِيدُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ: سَرُّهُ: أَوَّلُهُ، وَقَدْ جَاءَ فِي مُصَنَّفِ أَبِي دَاوُدَ، وَأَثْبَتَهُ بَعْضُهُمْ
মানুষ তার এই অভিমতকে প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং তাঁরা বলেছেন: মাসের শেষে রোজা রাখার ব্যাপারে কোনো উৎসাহমূলক বর্ণনা আসেনি; আর প্রতিটি বস্তুর 'সারার' হলো তার মধ্যভাগ ও সর্বোত্তম অংশ, তাই প্রতীয়মান হয় যে তিনি মাসের মধ্যভাগের উজ্জ্বল দিনসমূহকে বুঝিয়েছেন।
ইবনুল সিক্কিত বলেছেন: মাসের 'সারার' এবং 'সিরার'—শব্দটি সীন বর্ণে যবর এবং যের উভয়ভাবেই উচ্চারিত হয়।
আল-ফাররা বলেছেন: যবর দিয়ে পড়াই অধিকতর বিশুদ্ধ।
আল-আযহারী বলেছেন: মাসের ক্ষেত্রে 'সারারু', 'সিরারু' এবং 'সারারু'—এই তিনটি ভাষাগত রূপ রয়েছে।
আওযায়ী এবং সাঈদ ইবনে আব্দুল আজিজ বলেছেন: মাসের 'সার' হলো তার প্রথমাংশ। এটি আবু দাউদের মুসান্নাফ গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে এবং কেউ কেউ একে সাব্যস্ত করেছেন।
(খণ্ড: ১)
মা ওয়াদাহা ওয়াসতাবানা ফী ফাদায়িলি শাহরি শা-বান
(পৃষ্ঠা: ২৪)
وَلَمْ يَعْرِفْهُ الأَزْهَرِيُّ، وَكَذَلِكَ أَنْكَرَهُ الْخَطَّابِيُّ أَيْضًا، وَذَكَرَ قَوْلَ الأَوْزَاعِيِّ: سرُّهُ: آخِرُهُ، وَقَالَ: سُمِّيَ آخِرُهُ سِرًّا، لاسْتِسْرَارِ الْقَمَرِ فِيهِ.
قُلْتُ: وَرِوَايَةُ مُسْلِمٍ: حَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَسْمَاءَ الضُّبَعِيُّ، ثنا مَهْدِيٌّ وَهُوَ ابْنُ مَيْمُونٍ، ثنا غَيْلانُ بْنُ جَرِيرٍ، عَنْ مُطَرِّفٍ، عَنْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ لَهُ: أَوْ
আল-আজহারি এটি জানতেন না, এবং একইভাবে আল-খাত্তাবিও একে অস্বীকার করেছেন। তিনি আল-আওজায়ি-এর উক্তি উল্লেখ করেছেন যে: এর ‘সির’ হলো এর শেষ অংশ। তিনি আরও বলেছেন: এর শেষ অংশকে ‘সির’ নামকরণ করা হয়েছে কারণ তাতে চাঁদ অদৃশ্য হয়ে থাকে।
আমি বলছি: আর মুসলিমের বর্ণনা হলো: আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আসমা আদ-দুবায়ি আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, মাহদি—যিনি ইবনে মাইমুন—আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, গাইলান ইবনে জারির আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন মুতাররিফ থেকে, তিনি ইমরান ইবনে হুসাইন থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে বলেছেন: অথবা
(খণ্ড: ১)
মা ওয়াদাহা ওয়াসতাবানা ফী ফাদায়িলি শাহরি শা-বান
(পৃষ্ঠা: ২৫)
قَالَ لِرَجُلٍ وَهُوَ يَسْمَعُ: " يَا فُلانُ، أَصُمْتَ سُرَّةَ هَذَا الشَّهْرِ؟ قَالَ: لا، قَالَ: فَإِذَا أَفْطَرْتَ فَصُمْ يَوْمَيْنِ ".
هَكَذَا قَيَّدْنَاهُ فِيهِ: «مِنْ سُرَّةِ هَذَا الشَّهْرِ» بِضَمِّ السِّينِ يَقْضِي عَلَى الْجَمِيعِ، وَيَدُلُّ عَلَى أَنَّهُ أَرَادَ وَسَطَهُ.
فَحَضَّ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلَى صِيَامِ هَذَا الشَّهْرِ، وَأَمَرَ مَنْ لَمْ يَصُمْ مِنْهُ أَنْ يَصُومَ بَعْدَ فِطْرِ رَمَضَانَ يَوْمَيْنِ، وَذَلِكَ لِبَرَكَةِ شَعْبَانَ.
তিনি এক ব্যক্তিকে উদ্দেশ্য করে বললেন এবং তিনি তা শুনছিলেন: "হে অমুক, তুমি কি এই মাসের মধ্যভাগে রোজা রেখেছ? সে বলল: না। তিনি বললেন: তাহলে তুমি যখন রমজানের রোজা শেষ করবে, তখন দুটি রোজা রেখে নিও।"
আমরা একে এভাবেই লিপিবদ্ধ করেছি: "এই মাসের মধ্যভাগ থেকে" - 'সিন' বর্ণে পেশ যোগ করে, যা সকলের নিকট গ্রহণযোগ্য এবং এটি নির্দেশ করে যে তিনি এর দ্বারা মাসের মধ্যভাগকে উদ্দেশ্য করেছেন।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই মাসে রোজা রাখার প্রতি উৎসাহিত করেছেন এবং যিনি এতে রোজা রাখেননি তাকে রমজানের রোজা শেষ করার পর দুটি রোজা রাখার নির্দেশ দিয়েছেন, আর তা শাবান মাসের বরকতের কারণে।
(খণ্ড: ১)
মা ওয়াদাহা ওয়াসতাবানা ফী ফাদায়িলি শাহরি শা-বান
(পৃষ্ঠা: ২৬)
وَفِيهِ مِنَ الْفِقْهِ دَلِيلٌ عَلَى أَنَّ النَّوَافِلَ إِذَا فَاتَتْ فَإِنَّهَا تُقْضَى وَأَمَّا قَوْلُهُ صلى الله عليه وسلم: «لا يَتَقَدَّمَنَّ أَحَدُكُمْ صِيَامَ رَمَضَانَ بِصَوْمِ يَوْمٍ أَوْ يَوْمَيْنِ» يَعْنِي: لِمَنْ لَمْ تَجْرِ لَهُ عَادَةٌ بِصِيَامِ شَعْبَانَ، وَدَلِيلُ ذَلِكَ قَوْلُهُ فِي آخِرِ الْحَدِيثِ: «إِلا رَجُلٌ كَانَ يَصُومُ صَوْمًا فَلْيَصُمْهُ» .
وَالْحَدِيثُ مُجْمَعٌ عَلَى صِحَّتِهِ إِلا أَنَّ الْحَافِظَ أَبَا عِيسَى التِّرْمِذِيَّ ذَكَرَ فِي جَامِعِهِ الْمُسْنَدِ الْكَبِيرِ، فِي بَابِ مَا جَاءَ فِي كَرَاهِيَةِ الصَّوْمِ فِي النِّصْفِ الْبَاقِي مِنْ شَعْبَانَ لِحَالِ رَمَضَانَ: ثنا قُتَيْبَةُ، ثنا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُحَمَّدٍ، عَنِ الْعَلاءِ بْنِ
এতে ফিকহ শাস্ত্রের এই দলিল রয়েছে যে, নফল ইবাদতসমূহ যখন ছুটে যায়, তখন তা কাজা করা হয়। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: "তোমাদের কেউ যেন রমজানের আগে একদিন বা দুইদিন রোজা রাখার মাধ্যমে রমজানকে এগিয়ে না আনে," অর্থাৎ: যার শাবান মাসে রোজা রাখার অভ্যাস ছিল না তার জন্য। আর এর দলিল হলো হাদিসের শেষাংশে তাঁর এই কথা: "তবে এমন ব্যক্তি ব্যতীত যে নিয়মিত রোজা রাখত, সে যেন তা পালন করে।"
হাদিসটির বিশুদ্ধতার ওপর ঐকমত্য রয়েছে, তবে হাফেজ আবু ঈসা আত-তিরমিজি তাঁর জামেউল মুসনাদ আল-কবিরে, 'রমজানের কারণে শাবানের অবশিষ্ট অর্ধাংশে রোজা রাখার অপছন্দনীয়তা সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে' অধ্যায়ে উল্লেখ করেছেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন কুতায়বাহ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল আজিজ ইবনে মুহাম্মদ, আল-আলা ইবনে... থেকে।
(খণ্ড: ১)
মা ওয়াদাহা ওয়াসতাবানা ফী ফাদায়িলি শাহরি শা-বান
(পৃষ্ঠা: ২৭)
عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «إِذَا بَقِيَ نِصْفٌ مِنْ شَعْبَانَ فَلا تَصُومُوا» .
قَالَ أَبُو عِيسَى: " حَدِيثُ أَبِي هُرَيْرَةَ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ، وَلا نَعْرِفُهُ إِلا مِنْ هَذَا الْوَجْهِ عَلَى هَذَا اللَّفْظِ، وَمَعْنَى هَذَا الْحَدِيثِ عِنْدَ بَعْضِ أَهْلِ الْعِلْمِ: أَنْ يَكُونَ الرَّجُلُ مُفْطِرًا، فَإِذَا بَقِيَ شَيْءٌ مِنْ شَعْبَانَ أَخَذَ فِي الصَّوْمِ بِحَالِ شَهْرِ رَمَضَانَ " وَأَمَّا قَوْلُهُ صلى الله عليه وسلم: «فَإِنَّ اللَّهَ لا يَمَلُّ حَتَّى تَمَلُّوا» .
وَالْمَلَلُ مِنْ صِفَاتِ بَعْضِ الْمَخْلُوقِينَ مِمَّا يَدُلُّ بِهِ الإِنْسَانُ، وَهُوَ: تَرْكُ الشَّيْءِ اسْتِثْقَالا وَكَرَاهِيَةً لَهُ بَعْدَ حِرْصٍ عَلَيْهِ وَمَحَبَّةٍ.
আব্দুর রহমান থেকে, তাঁর পিতা থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "যখন শাবান মাসের অর্ধেক অবশিষ্ট থাকে, তখন তোমরা রোজা রেখো না।"
আবু ঈসা বলেন: "আবু হুরায়রার হাদিসটি হাসান সহিহ, এবং আমরা এই শব্দে এটি কেবল এই সূত্রেই জানি। কিছু আহলে ইলমের নিকট এই হাদিসের অর্থ হলো: কোনো ব্যক্তি রোজা রাখছিল না, অতঃপর যখন শাবান মাসের কিছু অংশ বাকি থাকল, তখন সে রমজান মাসের ন্যায় রোজা রাখা শুরু করল।" আর তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বাণী: "নিশ্চয়ই আল্লাহ ক্লান্ত হন না যতক্ষণ না তোমরা ক্লান্ত হও।"
আর ক্লান্তি হলো কতিপয় সৃষ্টির বৈশিষ্ট্য যা মানুষ প্রকাশ করে থাকে, আর তা হলো: কোনো বিষয়ের প্রতি প্রবল আগ্রহ ও ভালোবাসার পর তা ভারী মনে করে এবং অপছন্দ করে বর্জন করা।
(খণ্ড: ১)
মা ওয়াদাহা ওয়াসতাবানা ফী ফাদায়িলি শাহরি শা-বান
(পৃষ্ঠা: ২৮)
قَالَ أَهْلُ اللُّغَةِ: إِنَّ «حَتَّى» هَاهُنَا عَلى بَابِهَا مِنَ الْغَايَةَ، أَيْ: لا يَمَلُّ لِثَوَابِهِمْ مَلَلا مُقَابَلَةً لِمَلَلِهِمْ، خَرَجَ الْكَلامُ مَخْرَجَ قَوْلِهِمْ: «حَتَّى يَشِيبَ الْغُرَابُ وَيَبْيَضُّ الْقَارُّ» وَهُوَ الزِّفْتُ، وَلا يَشِيبُ الْغُرَابُ أَبَدًا، وَلا يَبْيَضُّ الْقَارُّ، فَذَلِكَ عَلَى نَفْيِ الْقُصَّةِ لا عَلَى وُجُودِهَا، أَيْ: إِنَّ اللَّهَ لا يَمَلُّ وَلا يَلِيقُ بِهِ الْمَلَلُ إِنْ مَلِلْتُمْ أَنْتُمْ، وَهُوَ مِنَ الْمُقَابَلَةِ بَيْنَ الْكَلامَيْنِ، أَيْ: لا يَتْرُكُ ثَوَابَكُمْ حَتَّى تَمَلُّوا وَتَتْرُكُوا بِمَلَلِكُمْ عِبَادَتَهُ؛ فَسَمَّى تَرْكَهُ لِثَوَابِهِمْ مَلَلا، وَمِنْهُ قَوْلُهُ: تَعَالَى: {فَمَنِ اعْتَدَى عَلَيْكُمْ فَاعْتَدُوا عَلَيْهِ بِمِثْلِ مَا اعْتَدَى عَلَيْكُمْ} [البقرة: 194] ؛
ভাষাবিদগণ বলেছেন: নিশ্চয় এখানে ‘হাত্তা’ শব্দটি তার আভিধানিক অর্থ তথা সীমা বা ব্যপ্তি বোঝাতে ব্যবহৃত হয়েছে। অর্থাৎ, তাদের ক্লান্তির বিপরীতে তিনি তাদের সওয়াব প্রদানের ক্ষেত্রে কোনো ক্লান্তি বোধ করেন না। কথাটি আরবদের এই প্রবাদের আদলে বলা হয়েছে: “যতক্ষণ না কাক সাদা হয় এবং আলকাতরা শ্বেতবর্ণ ধারণ করে।” আর ‘ক্বার’ হলো আলকাতরা। অথচ কাক কখনো সাদা হয় না এবং আলকাতরাও কখনো সাদা হয় না। সুতরাং এটি বিষয়টি ঘটার প্রমাণ হিসেবে নয়, বরং তা নাকচ করার জন্য বলা হয়েছে। অর্থাৎ: নিশ্চয় আল্লাহ ক্লান্তি বোধ করেন না এবং ক্লান্তি তাঁর শানে সাজে না, যদিও তোমরা ক্লান্ত হয়ে পড়ো। এটি মূলত দুই বাক্যের মধ্যকার সামঞ্জস্য বা ‘মুক্বাবালা’ রক্ষা করার জন্য বলা হয়েছে। অর্থাৎ: তিনি তোমাদের সওয়াব প্রদান করা বন্ধ করবেন না যতক্ষণ না তোমরা ক্লান্ত হয়ে পড়ো এবং ক্লান্তির কারণে তাঁর ইবাদত বর্জন করো। এখানে সওয়াব প্রদান বন্ধ করাকে ‘ক্লান্তি’ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। এরই অনুরূপ হলো মহান আল্লাহর বাণী: “সুতরাং যে ব্যক্তি তোমাদের ওপর সীমালঙ্ঘন করেছে, তোমরাও তার ওপর তদ্রূপ সীমালঙ্ঘন করো যেমন সে তোমাদের ওপর করেছে” [আল-বাকারা: ১৯৪]।
(খণ্ড: ১)
মা ওয়াদাহা ওয়াসতাবানা ফী ফাদায়িলি শাহরি শা-বান
(পৃষ্ঠা: ২৯)
فَالأَوَّلُ: ظُلْمٌ إِذْ الاعْتِدَاءُ: تَجَاوُزُ الْحَدِّ فِي الظُّلْمِ، يُقَالُ: اعْتَدَى اعْتِدَاءً، وَهُوَ مُعْتَدٍ، وَعَدَا يَعْدُو عُدْوَانَا، وَالثَّانِي: قِصَاصٌ لَيْسَ بِاعْتِدَاءٍ.
وَكَذَلِكَ قَوْلُهُ جَلَّ مِنْ قَائِلٍ: {وَجَزَاءُ سَيِّئَةٍ سَيِّئَةٌ مِثْلُهَا} [الشورى: 40] ، وَالثَّانِيَةُ لَيْسَتْ سَيِّئَةٌ وَلَكِنَّهَا حِكْمَةٌ مُسْتَحْسَنَةٌ، وَالْعَرَبُ تَقُولُ: الْجَزَاءُ بِالْجَزَاءِ، وَنَحْوُهُ قَوْلُ الشَّاعِرِ:
أَلا لا يَجْهَلَنَّ أَحَدٌ عَلَيْنَا
… فَنَجْهَلُ فَوْقَ جَهْلِ الْجَاهِلِينَا
وَقِيلَ: أَرَادَ لا يَمْلَلُ إِذَا مَلِلْتُمْ، يَقَالُ: هَذَا الْفَرَسُ لا يَفْتُرُ حَتَّى تَفْتُرَ الْخَيْلُ، مَعْنَاهُ: لا يَفْتُرُ إِذَا فَتَرَتْ.
قَالَ تَأَبَّطَ شَرًّا، وَقِيلَ: هِيَ لابْنِ أُخْتِهِ، وَقِيلَ: صَنَعَهَا خَلَفٌ الأَحْمَرُ اللُّغَوِيُّ، وَقِيلَ: هِيَ لِلْشَنْفَرَى:
প্রথমটি হলো জুলুম; যেহেতু ‘ই’তিদা’ (সীমালঙ্ঘন) হলো জুলুমের ক্ষেত্রে সীমা অতিক্রম করা। বলা হয়: ‘ই’তাদা ই’তিদান’ (সে সীমালঙ্ঘন করেছে), আর সে হলো ‘মু’তাদি’ (সীমালঙ্ঘনকারী); এবং ‘আদা ইয়া’দু উদওয়ানান’। আর দ্বিতীয়টি হলো কিসাস (প্রতিশোধ), যা কোনো সীমালঙ্ঘন নয়।
অনুরূপভাবে মহান আল্লাহর বাণী: {আর মন্দের প্রতিফল হলো অনুরূপ মন্দ} [আশ-শুরা: ৪০], এখানে দ্বিতীয়টি মন্দ নয় বরং তা একটি প্রশংসনীয় হিকমত (প্রজ্ঞা)। আর আরবরা বলে থাকে: প্রতিদান প্রতিদানের বিনিময়ে। এ প্রসঙ্গে কবির উক্তি:
সাবধান! কেউ যেন আমাদের সাথে মূর্খতা না করে
… নতুবা আমরা অন্য সকল মূর্খদের মূর্খতার চেয়েও বড় মূর্খতা প্রদর্শন করব।
বলা হয়েছে: তিনি উদ্দেশ্য করেছেন যে, তোমরা যখন ক্লান্ত হবে তখনও তিনি ক্লান্ত হবেন না। যেমন বলা হয়: এই ঘোড়াটি ততক্ষণ নিস্তেজ হয় না যতক্ষণ না অন্য ঘোড়াগুলো নিস্তেজ হয়। এর অর্থ হলো: যখন অন্যান্য ঘোড়াগুলো নিস্তেজ হয়ে পড়ে, তখন এটি নিস্তেজ হয় না।
এটি তাআববাতা শাররান বলেছেন। আবার বলা হয়েছে: এটি তাঁর ভাগ্নের উক্তি। আবার বলা হয়েছে: ভাষাবিদ খালাফ আল-আহমার এটি রচনা করেছেন। আবার বলা হয়েছে: এটি শানফারার উক্তি:
(খণ্ড: ১)
মা ওয়াদাহা ওয়াসতাবানা ফী ফাদায়িলি শাহরি শা-বান
(পৃষ্ঠা: ৩০)
صَلَيَتْ مِنِّي هُذَيْلُ بِخِرْقٍ
… لا يَمَلُّ الشَّرَّ حَتَّى تَمَلُّوا
مَعْنَاهُ: أَنْتُمْ تَمَلُّونَ الشَّرَّ، وَهُوَ لا يَمَلُّهُ، وَلَوْ أَرَادَ: يَمَلُّ إِذَا مَلُّوا مَا كَانَ فِيهِ مَدْحٌ.
وَالْخِرْقُ بِالْكَسْرِ: السَّخِيُّ مِنَ الرِّجَالِ الَّذِي يَتَخَرَّقُ فِي الْعَطَاءِ.
فَثَبَتَ بِذَلِكَ أَنَّ قَوْلَهُ صلى الله عليه وسلم: «فَإِنَّ اللَّهَ لا يَمَلُّ حَتَّى تَمَلُّوا» أَيْ: لا يَمَلُّ اللَّهُ أَصْلا وَأَنْتُمْ تَمَلُّونَ.
وَقَدْ رَوَى النَّاسُ الأَغْفَالُ فِي صَلاةِ لَيْلَةِ النِّصْفِ مِنْ شَعْبَانَ أَحَادِيثَ مَوْضُوعَةً، وَوَاحِدًا مَقْطُوعًا؛ فَكَلَّفُوا عِبَادَ اللَّهِ بِالأَحَادِيثِ الْمَوْضُوعَةِ فَوْقَ طَاقَتِهِمْ مِنْ صَلاةِ مِائَةِ رَكْعَةٍ، فِي كُلِّ رَكْعَةٍ الْحَمْدُ مَرَّةً، وَقُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ عَشْرَ مَرَّاتٍ، فَيَنْصَرِفُونَ وَقَدْ غَلَبَهُمُ النَّوْمُ، فَتَفُوتُهُمْ صَلاةُ الصُّبْحِ الَّتِي ثَبَتَ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ: «مَنْ صَلَّى الْعِشَاءَ فِي جَمَاعَةٍ
হুজাইল আমার পক্ষ থেকে এমন এক তেজস্বী ব্যক্তির দ্বারা দগ্ধ হয়েছে
… যে মন্দ (যুদ্ধ) নিয়ে ক্লান্ত হয় না যতক্ষণ না তোমরা ক্লান্ত হও।
এর অর্থ হলো: তোমরা মন্দের কারণে ক্লান্ত হয়ে পড়ো, কিন্তু সে তাতে ক্লান্ত হয় না। আর তিনি যদি এটিই উদ্দেশ্য করতেন যে: 'তারা ক্লান্ত হলে সেও ক্লান্ত হয়', তবে তাতে কোনো প্রশংসা থাকত না।
'খিরক' শব্দটি কাসরা (জের) সহকারে: এমন দানশীল ব্যক্তি যে দানের ক্ষেত্রে নিজেকে অকাতরে বিলিয়ে দেয়।
এর মাধ্যমে প্রমাণিত হলো যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: "নিশ্চয়ই আল্লাহ ক্লান্ত হন না যতক্ষণ না তোমরা ক্লান্ত হও" এর অর্থ হলো: আল্লাহ আদতেই ক্লান্ত হন না, বরং তোমরাই ক্লান্ত হয়ে পড়ো।
অসচেতন লোকেরা শাবানের মধ্য রজনীর সালাত সম্পর্কে কিছু জাল হাদিস এবং একটি বিচ্ছিন্ন বর্ণনা বর্ণনা করেছে; ফলে তারা আল্লাহর বান্দাদের ওপর সেই জাল হাদিসগুলোর মাধ্যমে তাদের সাধ্যাতীত বোঝা চাপিয়ে দিয়েছে, যেমন একশ রাকাত সালাত পড়া—যার প্রতি রাকাতে একবার আল-হামদু (সুরা ফাতিহা) এবং দশবার 'কুল হুওয়াল্লাহু আহাদ' (সুরা ইখলাস) পড়তে হয়। ফলে তারা এমন অবস্থায় প্রস্থান করে যখন ঘুম তাদের ওপর প্রবল হয়ে যায়, আর তাদের ফজরের সালাত ছুটে যায়, যার সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে প্রমাণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: "যে ব্যক্তি জামাতের সাথে এশার সালাত আদায় করল...
(খণ্ড: ১)
মা ওয়াদাহা ওয়াসতাবানা ফী ফাদায়িলি শাহরি শা-বান
(পৃষ্ঠা: ৩১)
فَكَأَنَّمَا قَامَ نِصْفَ اللَّيْلِ، وَمَنْ صَلَّى الصُّبْحَ فِي جَمَاعَةٍ فَكَأَنَّمَا صَلَّى اللَّيْلَ كُلَّهُ» .
رَوَاهُ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ذُو النُّورَيْنِ أَمِيرُ الْمُؤْمِنِينَ عُثْمَانُ بْنُ عَفَّانَ عَلَى مَا أَخْرَجَهُ مُسْلِمٌ فِي صَحِيحِهِ.
وَرَوَى جُنْدُبُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ: «مَنْ صَلَّى الصُّبْحَ فَهُوَ فِي ذِمَّةِ اللَّهِ، فَلا يَطْلُبَنَّكُمُ اللَّهُ فِي ذِمَّتِهِ بِشَيْءٍ، فَإِنَّهُ مَنْ يَطْلُبْهُ مِنْ ذِمَّتِهِ بِشَيْءٍ يُدْرِكْهُ، ثُمَّ يَكُبَّهُ عَلَى وَجْهِهِ فِي نَارِ جَهَنَّمَ» ، وَلَهُ طُرُقٌ فِي صَحِيحِ مُسْلِمٍ.
فَقَوْلُهُ: «فِي ذِمَّةِ اللَّهِ» أَيْ: فِي عَهْدِ اللَّهِ.
وَقَوْلُهُ: «فَلا يَطْلُبَنَّكُمُ اللَّهُ بِشَيْءٍ مِنْ ذِمَّتِهِ» : يَعْنِي: لا تَعْصُوهُ؛ فَتَتْرُكُوا الصَّلاةَ فَتَخْفُرُوا ذِمَّتَهُ، فَيَطْرَحْكُمْ عَلَى وُجُوهِكُمْ فِي نَارِ جَهَنَّمَ.
...যেন সে অর্ধেক রাত ইবাদতে কাটাল; আর যে ব্যক্তি জামাতের সাথে ফজরের সালাত আদায় করল, সে যেন সারা রাত সালাত আদায় করল।
এটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন যুন-নূরাইন আমীরুল মুমিনীন উসমান ইবনে আফফান, যেমনটি ইমাম মুসলিম তাঁর সহীহ গ্রন্থে সংকলন করেছেন।
এবং জুনদুব ইবনে আব্দুল্লাহ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: "যে ব্যক্তি ফজরের সালাত আদায় করল, সে আল্লাহর জিম্মায় থাকল। সুতরাং আল্লাহ যেন তাঁর জিম্মার কোনো বিষয়ের জন্য তোমাদের পাকড়াও না করেন। কেননা, আল্লাহ তাঁর জিম্মার কোনো বিষয়ের জন্য যাকে পাকড়াও করবেন, তাকে তিনি পাকড়াও করবেনই, অতঃপর তাকে উপুড় করে জাহান্নামের আগুনে নিক্ষেপ করবেন।" সহীহ মুসলিমে এর একাধিক সূত্র রয়েছে।
তাঁর বাণী: "আল্লাহর জিম্মায়" অর্থাৎ: আল্লাহর অঙ্গীকার ও নিরাপত্তায়।
আর তাঁর বাণী: "আল্লাহ যেন তাঁর জিম্মার কোনো বিষয়ের জন্য তোমাদের পাকড়াও না করেন": অর্থাৎ: তোমরা তাঁর নাফরমানি করো না; ফলে তোমরা সালাত বর্জন করে তাঁর জিম্মা তথা নিরাপত্তা বিনষ্ট করবে, আর তিনি তোমাদের উপুড় করে জাহান্নামের আগুনে নিক্ষেপ করবেন।
(খণ্ড: ১)
মা ওয়াদাহা ওয়াসতাবানা ফী ফাদায়িলি শাহরি শা-বান
(পৃষ্ঠা: ৩২)
وَقَوْلُهُ: «ثُمَّ يَكُبَّهُ عَلَى وَجْهِهِ فِي نَارِ جَهَنَّمَ» ، يُقَالُ: كَبَّهُ اللَّهُ لِوَجْهِهِ، أَيْ: طَرَحَهُ عَلَى وَجْهِهِ.
فَأَمَّا الْحَدِيثُ الْمَنْسُوبُ إِلَى الْمُرْتَضَى، ذِي السِّبْطَيْنِ أَمِيرِ الْمُؤْمِنِينَ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ فَأَسْنَدَهُ عَنْهُ مُحَمَّدُ بْنُ مُهَاجِرٍ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، وَصَنَعَ فِيهِ أَسْمَاءَ رِجَالٍ لا يُعْرَفُونَ.
قَالَ أَبُو حَاتِمٍ مُحَمَّدُ بْنُ حِبَّانَ: كَانَ مُحَمَّدُ بْنُ الْمُهَاجِرِ يَضَعُ الْحَدِيثَ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم.
এবং তাঁর বাণী: "অতঃপর তিনি তাকে জাহান্নামের আগুনে তার চেহারার ওপর উপুড় করে নিক্ষেপ করবেন", বলা হয়: আল্লাহ তাকে তার চেহারার ওপর উপুড় করেছেন, অর্থাৎ: তাকে তার চেহারার ওপর নিক্ষেপ করেছেন।
আর আল-মুরতাজা, দুই দৌহিত্রের অধিকারী, আমিরুল মুমিনীন আলী ইবনে আবি তালিবের প্রতি যে হাদিসটি সম্বন্ধ করা হয়েছে, মুহাম্মাদ ইবনে মুহাজির তা তাঁর সূত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন এবং তিনি এতে এমন সব ব্যক্তির নাম অন্তর্ভুক্ত করেছেন যাদের কোনো পরিচয় জানা নেই।
আবু হাতিম মুহাম্মাদ ইবনে হিব্বান বলেন: মুহাম্মাদ ইবনে মুহাজির রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নামে হাদিস জাল করতেন।
(খণ্ড: ১)
মা ওয়াদাহা ওয়াসতাবানা ফী ফাদায়িলি শাহরি শা-বান
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
حَدَّثَنِي بِذَلِكَ الْفَقِيهُ الْمُفْتِي أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ الْحُسَيْنِ فِي مَنْزِلِهِ بِمَدِينَةِ فَاسَ سَنَةَ ثَلاثٍ وَسَبْعِينَ وَفِيهَا مَاتَ.
حَدَّثَنِي أَبُو عَبْدِ اللَّهِ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ غلبُونَ سَنَةَ إِحْدَى وَخَمْسِ مِائَةٍ، أَنْبَأَنَا الْحَافِظُ أَبُو ذَرٍّ عَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ الْهَرَوِيُّ، نا النَّاقِدُ أَبُو الْحَسَنِ الدَّارَقُطْنِيُّ، عَنْ أَبِي حَاتِمٍ مُحَمَّدِ بْنِ حِبَّانَ.
وَأَمَّا حَدِيثُ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ خَادِمِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ أُمِّ الْمُؤْمِنِينَ عَائِشَةَ رضي الله عنها: فَقَرَأْتُهُ بِجَامِعِ قُرْطُبَةَ عَلَى بَقِيَّةِ مَشَايِخِهَا الْمُسْنِدِ الْمُؤَرِّخِ الْقَاضِي بِمَدِينَةِ أَرْكُشَ، أَبِي الْقَاسِمِ خَلَفِ بْنِ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ بَشْكُوَالَ وَذَلِكَ فِي شَهْرِ رَبِيعٍ الأَوَّلِ، سَنَةَ أَرْبَعٍ وَسَبْعِينَ وَخَمْسِ مِائَةٍ
ثنا الشَّيْخُ الْفَقِيهُ أَبُو مُحَمَّدِ بْنُ عَتَّابٍ قِرَاءَةً عَلَيْهِ فِي ذِي الْقَعْدَةِ سَنَةَ سَبْعَ عَشْرَةَ وَخَمْسِ مِائَةٍ.
قَالَ الْمُصَنِّفُ: ثُمَّ قَرَأْتُهُ عَلَى الشَّيْخِ الْمُحَدِّثِ اللُّغَوِيِّ الْمَحُوزُ لِقَصَبِ السَّبْقِ فِي كُلِّ خَيْرٍ أَبِي بَكْرٍ مُحَمَّدِ بْنِ خَيْرٍ، وَصَحَّحْتُ أَلْفَاظَهُ، وَحَدَّثَنِي بِهِ عَنِ الْفَقِيهِ أَبِي مُحَمَّدِ بْنِ عَتَّابٍ إِجَازَةً لَهُ، سَنَةَ ثَمَانِي عَشْرَةَ وَخَمْسِ مِائَةٍ، أنا
আমাকে এই বিষয়ে সংবাদ দিয়েছেন ফকিহ মুফতি আবুল হাসান আলী বিন আল-হুসাইন, ফাস নগরীতে তাঁর নিজ বাসভবনে, পাঁচশত তিয়াত্তর সালে এবং সেই বছরই তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
আমাকে আবু আব্দুল্লাহ আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রহমান বিন গালবুন পাঁচশত এক সালে হাদীস শুনিয়েছেন; (তিনি বলেন) হাফেজ আবু যার আবদ বিন হুমাইদ আল-হারাউয়ি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন; (তিনি বলেন) সমালোচক আবুল হাসান আদ-দারা কুতনি আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আবু হাতিম মুহাম্মদ বিন হিব্বান থেকে।
আর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খাদেম আনাস বিন মালিকের বর্ণিত হাদীসটি, যা উম্মুল মুমিনীন আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত: আমি তা কর্ডোভার জামে মসজিদে সেখানকার অবশিষ্ট শায়খদের নিকট পাঠ করেছি, যিনি একজন মুসনিদ, ঐতিহাসিক এবং আরকুশ শহরের বিচারক, তিনি হলেন আবুল কাসিম খালাফ বিন আব্দুল মালিক বিন বাশকুওয়াল; আর এটি ছিল পাঁচশত চুয়াত্তর হিজরী সালের রবিউল আউয়াল মাসে।
শায়খ ফকিহ আবু মুহাম্মদ বিন আত্তাব পাঁচশত সতেরো হিজরী সালের যিলকদ মাসে তাঁর সামনে পাঠ করার মাধ্যমে আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন।
গ্রন্থকার বলেন: অতঃপর আমি এটি শায়খ মুহাদ্দিস ও ভাষাবিদ, সকল কল্যাণে শ্রেষ্ঠত্বের অধিকারী আবু বকর মুহাম্মদ বিন খাইরের নিকট পাঠ করেছি এবং আমি এর শব্দাবলী সংশোধন করেছি। তিনি ফকিহ আবু মুহাম্মদ বিন আত্তাব থেকে প্রাপ্ত অনুমতির ভিত্তিতে পাঁচশত আঠারো সালে আমার নিকট এটি বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন...
(খণ্ড: ১)
মা ওয়াদাহা ওয়াসতাবানা ফী ফাদায়িলি শাহরি শা-বান
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
الْحَافِظُ أَبُو عَمْرٍو عُثْمَانُ بْنُ أَبِي بَكْرِ بْنِ حَمُّودٍ الصُّوفِيُّ يُعْرَفُ بِابْنِ الضَّابِطِ، قَدِمَ عَلَيْنَا الأَنْدَلُسَ وَكَتَبَ لِي بِخَطِّهِ: نا إِسْمَاعِيلُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْحَافِظُ إِمْلاءً بِدِمَشْقَ، أنا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْحَافِظُ، ثنا أَبُو جَعْفَرٍ مُحَمَّدُ بْنُ صَالِحِ بْنِ هَانِئٍ، ثنا إِبْرَاهِيمُ بْنُ إِسْحَاقَ الْغَسِيلِيُّ، نا وَهْبٌ، نا سَعِيدُ بْنُ عَبْدِ الْكَرِيمِ الْوَاسِطِيُّ، عَنْ أَبِي النُّعْمَانِ السَّعْدِيِّ، عَنْ أَبِي رَجَاءٍ الْعُطَارِدِيِّ، عَنْ أَبِي حَمْزَةَ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ: "
হাফেজ আবু আমর উসমান ইবনে আবি বকর ইবনে হাম্মুদ আল-সুফি, যিনি ইবনে আদ-দাবিত নামে পরিচিত, তিনি আমাদের নিকট আন্দালুসে আগমন করেন এবং আমার জন্য তাঁর নিজ হাতের লেখায় লিখেছেন: হাফেজ ইসমাইল ইবনে আবদুর রহমান দামেস্কে শ্রুতলিখন (ইমলা) প্রদানের মাধ্যমে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হাফেজ মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু জাফর মুহাম্মদ ইবনে সলিহ ইবনে হানি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইব্রাহিম ইবনে ইসহাক আল-গাসিলি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ওয়াহাব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সাঈদ ইবনে আবদিল কারিম আল-ওয়াসিতি আবু নুমান আস-সা’দি থেকে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি আবু রাজা আল-উতারিদি থেকে, তিনি আবু হামজাহ আনাস ইবনে মালিক থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "
(খণ্ড: ১)
মা ওয়াদাহা ওয়াসতাবানা ফী ফাদায়িলি শাহরি শা-বান
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
بَعَثَنِي النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم إِلَى مَنْزِلِ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهَا فِي حَاجَةٍ، فَقُلْتُ لَهَا: أَسْرِعِي فَإِنِّي تَرَكْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُحَدِّثُهُمْ عَنْ لَيْلَةِ النِّصْفِ مِنْ شَعْبَانَ، فَقَالَتْ: يَا أُنَيْسُ اجْلِسْ حَتَّى أُحَدِّثَكَ بِحَدِيثِ لَيْلَةِ النِّصْفِ مِنْ شَعْبَانَ، إِنَّ تِلْكَ اللَّيْلَةَ كَانَتْ لَيْلَتِي مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَجَاءَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَدَخَلَ مَعِي فِي لِحَافِي، فَانْتَبَهْتُ مِنَ اللَّيْلِ فَلَمْ أَجِدْهُ، فَقُمْتُ فَطُفْتُ فِي حُجَرِ نِسَائِهِ فَلَمْ أَجِدْهُ، فَقُلْتُ لَعَلَّهُ ذَهَبَ إِلَى جَارِيَتِهِ مَارِيَّةَ الْقِبْطِيَّةِ، فَخَرَجْتُ فَمَرَرْتُ فِي الْمَسْجِدِ، فَوَقَعَتْ رِجْلِي عَلَيْهِ وَهُوَ سَاجِدٌ يَقُولُ سَجَدَ لَكَ خَيَالِي وَسَوَادِي، وَآمَنَ بِكَ فُؤَادِي، وَهَذِهِ يَدِي الَّتِي جَنَيْتُ بِهَا عَلَى نَفْسِي، فَيَا عَظِيمُ هَلْ يَغْفِرُ الذَّنْبَ الْعَظِيمَ إِلا الرَّبُّ الْعَظِيمُ، فَاغْفِرْ لِي الذَّنْبَ الْعَظِيمَ، قَالَتْ: ثُمَّ رَفَعَ رَأْسَهُ وَهُوَ يَقُولُ: هَبْ لِي قَلْبًا تَقِيًّا نَقِيًّا، مِنَ الشِّرْكِ بَرِيًّا، لا كَافِرًا وَلا شَقِيًّا، ثُمَّ عَادَ فَسَجَدَ وَهُوَ يَقُولُ: أَقُولُ لَكَ كَمَا قَالَ أَخِي دَاوُدُ: أُعَفِّرُ وَجْهِي فِي التُّرَابِ
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে কোনো এক প্রয়োজনে আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহার ঘরে পাঠিয়েছিলেন। তখন আমি তাঁকে বললাম, “আপনি দ্রুত করুন, কারণ আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে লোকদের নিকট মধ্য শাবানের রজনী সম্পর্কে আলোচনা করা অবস্থায় রেখে এসেছি।” তখন তিনি বললেন, “হে উনাইস! বসো, যাতে আমি তোমাকে মধ্য শাবানের রজনী সম্পর্কে একটি হাদিস শোনাতে পারি। সেই রাতটি ছিল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আমার নিকট অবস্থানের নির্ধারিত রাত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আসলেন এবং আমার সাথে আমার লেপের নিচে প্রবেশ করলেন। অতঃপর আমি রাতের বেলা জাগ্রত হয়ে তাঁকে আর খুঁজে পেলাম না। তখন আমি দাঁড়ালাম এবং তাঁর অন্যান্য পত্নীদের কক্ষসমূহে তালাশ করলাম, কিন্তু সেখানেও তাঁকে পেলাম না। আমি মনে করলাম, সম্ভবত তিনি তাঁর দাসী মারিয়া কিবতিয়ার নিকট গিয়েছেন। এরপর আমি বের হলাম এবং মসজিদের মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময় আমার পা তাঁর ওপর পড়ল, তখন তিনি সিজদাবনত ছিলেন এবং বলছিলেন: ‘আপনার উদ্দেশ্যে সিজদাবনত হয়েছে আমার সত্তা ও প্রতিচ্ছবি, এবং আপনার প্রতি ঈমান এনেছে আমার অন্তর। আর এই আমার হাত, যার দ্বারা আমি নিজ নফসের ওপর অপরাধ করেছি। হে মহান! মহান রব ব্যতীত আর কে মহান পাপ ক্ষমা করতে পারে? সুতরাং আপনি আমার মহান পাপসমূহ ক্ষমা করে দিন।’” আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বললেন, “এরপর তিনি তাঁর মস্তক উত্তোলন করলেন এবং বলছিলেন: ‘আমাকে এমন এক তাকওয়াশীল ও পরিচ্ছন্ন অন্তর দান করুন যা শিরক থেকে মুক্ত হবে এবং অবাধ্য ও হতভাগ্য হবে না।’ এরপর তিনি পুনরায় সিজদায় গেলেন এবং বলছিলেন: ‘আমি আপনার নিকট তা-ই বলছি যা আমার ভাই দাউদ বলেছিলেন: আমি মাটির ওপর আমার চেহারাকে ধূলিমলিন করছি’।”
(খণ্ড: ১)
মা ওয়াদাহা ওয়াসতাবানা ফী ফাদায়িলি শাহরি শা-বান
(পৃষ্ঠা: ৩৬)
لِسَيِّدِي، وَحُقَّ لِسَيِّدِي أَنْ تُعَفَّرَ الْوُجُوهُ لِوَجْهِهِ، ثُمَّ رَفَعَ رَأْسَهُ، فَقُلْتُ: بِأَبِي وَأُمِّي، أَنْتَ فِي وَادٍ وَأَنَا فِي وَادٍ، قَالَتْ: فَسَمِعَ حِسَّ قَدَمِي، فَدَخَلَ الْحُجْرَةَ وَقَالَ: يَا حُمَيْرَاءُ، أَمَا تَعْلَمِينَ أَنَّ هَذِهِ اللَّيْلَةَ لَيْلَةُ النِّصْفِ مِنْ شَعْبَانَ، لِلَّهِ فِي هَذِهِ اللَّيْلَةِ عُتَقَاءُ مِنَ النَّارِ بِعَدَدِ شَعْرِ غَنَمِ كَلْبٍ، قَالَتْ: قُلْتُ: وَمَا بَالُ غَنَمِ كَلْبٍ؟ فَقَالَ: لَمْ يَكُنْ فِي الْعَرَبِ قَوْمٌ أَكْثَرَ غَنَمًا مِنْهُمْ، لا أَقُولُ: فِيهِمْ سِتَّةُ نَفَرٍ: مُدْمِنُ خَمْرٍ، وَعَاقٌّ لِوَالِدَيْهِ، وَلا مُصِرٌّ عَلَى زِنًا، وَلا مُصَارِمٌ، وَلا مُصَوِّرٌ، وَلا قَتَّاتٌ ".
আমার প্রভুর জন্য; আর আমার প্রভুর জন্যই সমীচীন যে তাঁর চেহারার উদ্দেশ্যে চেহারাগুলো ধূলিমলিন করা হোক। অতঃপর তিনি তাঁর মাথা তুললেন। তখন আমি বললাম: আমার পিতা ও মাতা আপনার জন্য উৎসর্গিত হোন, আপনি এক ধ্যানে মগ্ন ছিলেন আর আমি ছিলাম অন্য চিন্তায়। তিনি (আয়েশা) বললেন: অতঃপর তিনি আমার পদশব্দ শুনতে পেলেন এবং কামরায় প্রবেশ করে বললেন: হে হুমায়রা! তুমি কি জানো যে এই রাতটি হলো শাবান মাসের মধ্যবর্তী রাত? এই রাতে আল্লাহ তাআলা কালব গোত্রের ভেড়ার পশম সমপরিমাণ সংখ্যক ব্যক্তিকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দান করেন। তিনি (আয়েশা) বললেন: আমি বললাম, তবে কালব গোত্রের ভেড়ার বিষয়টি কী? তিনি বললেন: আরবদের মধ্যে তাদের চেয়ে অধিক ভেড়ার মালিক কোনো সম্প্রদায় ছিল না। আমি এ কথা বলছি না (যে সবাই ক্ষমাপ্রাপ্ত), বরং তাদের মাঝে ছয় ব্যক্তি রয়েছে: মদ্যপানে আসক্ত, পিতা-মাতার অবাধ্য সন্তান, ব্যভিচারে অবিচল থাকা ব্যক্তি, আত্মীয়তা বিচ্ছেদকারী, প্রতিকৃতি নির্মাণকারী এবং চোগলখোর।
(খণ্ড: ১)
মা ওয়াদাহা ওয়াসতাবানা ফী ফাদায়িলি শাহরি শা-বান
(পৃষ্ঠা: ৩৭)
هَذَا حَدِيثٌ مَوْضُوعٌ مَصْنُوعٌ؛ إِبْرَاهِيمُ بْنُ إِسْحَاقَ مِنْ وَلَدِ حَنْظَلَةَ بْنِ أَبِي عَامِرٍ الرَّاهِبِ
فَأَمَّا حَنْظَلَةُ رضي الله عنه فَهُوَ غَسِيلُ الْمَلائِكَةِ الْكِرَامِ يَوْمَ أُحُدٍ، وَأَبُوهُ أَبُو عَامِرٍ الرَّاهِبُ الَّذِي سَمَّاهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِالْفَاسِقِ عَدُوِّ اللَّهِ وَعَدُوِّ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، مَاتَ كَافِرًا.
وَأَمَّا إِبْرَاهِيمُ هَذَا قَالَ فِيهِ الْحَافِظُ أَبُو حَاتِمٍ مُحَمَّدُ بْنُ حِبَّانَ: «كَانَ يقلبُ الأَخْبَارَ، وَيَسْرِقُ الْحَدِيثَ» ، وَشَيْخُهُ
এটি একটি জাল এবং বানোয়াট হাদিস; ইব্রাহিম বিন ইসহাক হলেন হানজালা বিন আবু আমির আর-রাহিবের বংশধর।
আর হানজালা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) সম্পর্কে বলা যায় যে, তিনি হলেন সেই ব্যক্তি যাকে উহুদের দিন সম্মানিত ফেরেশতারা গোসল করিয়েছিলেন। আর তার পিতা আবু আমির আর-রাহিব, যাকে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) 'ফাসেক' হিসেবে অভিহিত করেছিলেন, যে ছিল আল্লাহর শত্রু এবং আল্লাহর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) শত্রু; সে কাফের অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছে।
আর এই ইব্রাহিম সম্পর্কে হাফেজ আবু হাতিম মুহাম্মদ বিন হিব্বান বলেছেন: "সে বর্ণনা বা সংবাদসমূহ উলট-পালট করত এবং হাদিস চুরি করত।" এবং তার শিক্ষক...
(খণ্ড: ১)
মা ওয়াদাহা ওয়াসতাবানা ফী ফাদায়িলি শাহরি শা-বান
(পৃষ্ঠা: ৩৮)
وَهْبٌ قَالَ: «هُوَ أَكْذَبُ النَّاسِ» ، وَسَعِيدُ بْنُ عَبْدِ الْكَرِيمِ مَتْرُوكٌ، قَالَهُ الأَزْدِيُّ الْحَافِظُ أَبُو الْفَتْحِ.
وَقَدْ خَرَّجَ التِّرْمِذِيُّ فِي جَامِعِهِ حَدِيثَ لَيْلَةِ النِّصْفِ مِنْ شَعْبَانَ مِنْ طَرِيقِ مِنْ طَرِيقِ الْحَجَّاجِ بْنِ أَرْطَاةَ فَقَالَ فِي بَابِ مَا جَاءَ فِي لَيْلَةِ النِّصْفِ مِنْ شَعْبَانَ: ثنا أَحْمَدُ بْنُ مَنِيعٍ، ثنا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، أنا الْحَجَّاجُ بْنُ أَرْطَاةَ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ: " فَقَدْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَخَرَجْتُ فَإِذَا هُوَ بِالْبَقِيعِ، فَقَالَ: أَكُنْتِ تَخَافِينَ أَنْ يَحِيفَ اللَّهُ عَلَيْكِ وَرَسُولُهُ؟ قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، ظَنَنْتُ أَنَّكَ أَتَيْتَ بَعْضَ نِسَائِكَ، فَقَالَ: إِنَّ اللَّهَ يَنْزِلُ لَيْلَةَ النِّصْفِ مِنْ شَعْبَانَ إِلَى سَمَاءِ الدُّنْيَا، فَيَغْفِرُ لأَكْثَرَ مِنْ عَدَدِ شَعْرِ غَنَمِ كَلْبٍ ".
ওহাব বলেছেন: “সে মানুষের মাঝে সবচেয়ে বড় মিথ্যাবাদী”, আর সাঈদ ইবনে আব্দুল কারীম পরিত্যক্ত; হাফেজ আবুল ফাতহ আল-আজদি এ কথা বলেছেন।
আর ইমাম তিরমিজি তাঁর জামে’ গ্রন্থে হাজ্জাজ ইবনে আরতাতের সূত্রে শাবান মাসের মধ্যরাত্রির হাদিসটি বর্ণনা করেছেন। তিনি ‘শাবান মাসের মধ্যরাত্রি সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে’ নামক অধ্যায়ে বলেছেন: আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আহমাদ ইবনে মানি‘, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন ইয়াজিদ ইবনে হারুন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হাজ্জাজ ইবনে আরতাত, ইয়াহইয়া ইবনে আবি কাসির থেকে, তিনি উরওয়াহ থেকে, তিনি আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: “আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে না পেয়ে খুঁজতে বের হলাম, হঠাত দেখি তিনি বাকী’ কবরস্থানে আছেন। তখন তিনি বললেন: তুমি কি আশঙ্কা করছিলে যে আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল তোমার প্রতি অবিচার করবেন? আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, আমি ভেবেছিলাম আপনি হয়তো আপনার অন্য কোনো স্ত্রীর নিকট গিয়েছেন। তখন তিনি বললেন: নিশ্চয়ই আল্লাহ শাবান মাসের মধ্যরাত্রিতে দুনিয়ার আকাশে অবতরণ করেন, এরপর তিনি কালব গোত্রের ভেড়ার পশমের সংখ্যার চেয়েও অধিক সংখ্যক লোককে ক্ষমা করে দেন।”
(খণ্ড: ১)
মা ওয়াদাহা ওয়াসতাবানা ফী ফাদায়িলি শাহরি শা-বান
(পৃষ্ঠা: ৩৯)
قَالَ التِّرْمِذِيُّ: «سَمِعْتُ مُحَمَّدًا يُضَعِّفُ هَذَا الْحَدِيثَ» .
وَقَالَ: «يَحْيَى بْنُ أَبِي كَثِيرٍ لَمْ يَسْمَعْ مِنْ عُرْوَةَ» .
قَالَ مُحَمَّدٌ: وَالْحَجَّاجُ لَمْ يَسْمَعْ مِنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ ".
قُلْتُ: فَالْحَدِيثُ مَقْطُوعٌ، وَلا لأَحَدٍ مِنْ أَصْحَابِهِ إِجَازَةٌ فَيَرْوِي عَنْهُ بِهَا، مَعَ أَنَّ الْحَجَّاجَ لَيْسَ بِحُجَّةٍ.
قَالَ الْفَقِيهُ أَبُو يَحْيَى السَّاجِيُّ فِي كِتَابِ الْجَرْحِ: حَجَّاجٌ لَيْسَ بِحُجَّةٍ فِي الأَحْكَامِ وَالْفُرُوجِ.
وَقَالَ الْحَافِظُ أَبُو جَعْفَرٍ الْعُقَيْلِيُّ فِي تَجْرِيحِهِ: حَجَّاجُ بْنُ أَرْطَاةَ أَبُو أَرْطَاةَ النَّخَعِيُّ الْكُوفِيُّ.
وَذَكَرَ بِسَنَدِهِ أَنَّ زَائِدَةَ أَمَرَ أَنْ نَتْرُكَ حَدِيثَ حَجَّاجِ بْنِ أَرْطَاةَ.
ইমাম তিরমিযী বলেন: "আমি মুহাম্মদকে এই হাদিসটিকে দুর্বল বলতে শুনেছি।"
এবং তিনি বলেছেন: "ইয়াহইয়া বিন আবি কাসীর উরওয়াহ থেকে শ্রবণ করেননি।"
মুহাম্মদ বলেন: "এবং হাজ্জাজ ইয়াহইয়া বিন আবি কাসীর থেকে শ্রবণ করেননি।"
আমি (গ্রন্থকার) বলছি: সুতরাং হাদিসটি বিচ্ছিন্ন (মাকতূ'), এবং তাঁর কোনো শিষ্যের এমন কোনো অনুমতি (ইজাযাহ) নেই যার মাধ্যমে তিনি তাঁর থেকে বর্ণনা করতে পারেন, পাশাপাশি হাজ্জাজ কোনো নির্ভরযোগ্য দলিল নন।
ফকিহ আবু ইয়াহইয়া আস-সাজি তাঁর 'কিতাবুল জারহ'-এ বলেন: "বিধান (আহকাম) এবং বৈবাহিক বিষয়ের (ফুরূজ) ক্ষেত্রে হাজ্জাজ নির্ভরযোগ্য দলিল নন।"
হাফিয আবু জাফর আল-উকাইলি তাঁর জারহ (সমালোচনা) গ্রন্থে বলেছেন: "হাজ্জাজ বিন আরতাত আবু আরতাত আন-নাখয়ী আল-কুফী।"
এবং তিনি তাঁর সনদের সাথে উল্লেখ করেছেন যে, যায়িদাহ হাজ্জাজ বিন আরতাতের হাদিস বর্জন করার নির্দেশ দিয়েছেন।