(খণ্ড: ১) আল-লুলুউল মানজূম ফী নাজমি মানসূরি ইবনি আজরুম (পৃষ্ঠা: -)
اللؤلؤ المنظوم في نظم منثور ابن آجروم   (محمد باي بلعالم)

القسم: النحو والصرف


الكتاب: اللؤلؤ المنظوم في نظم منثور ابن آجروم

(مطبوع مع الكوكب الزهري نظم مختصر الأخضري)

المؤلف: محمد باي بلعالم [ت 1430 هـ]

(إمام أستاذ ومدرس بآولف - ولاية أدرار)

الناشر: دار ابن حزم، بيروت - لبنان

الطبعة: الأولى، 1431 هـ - 2010 م

عدد الصفحات: 14

أعده للشاملة: أبو ياسر الجزائري، جزاه الله خيرا

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 6 جُمادَى الآخرة 1433

ইবন আজুররুমের গদ্যের কাব্যরূপ: আল-লুলু আল-মানজুম   (মুহাম্মদ বাই বিলালাম)

বিভাগ: নাহু ও সরফ


গ্রন্থ: আল-লুলু আল-মানজুম ফি নাজমি মানসুর ইবন আজুররুম

(আল-কাওকাব আয-যুহরি নাজমু মুখতাসার আল-আখদারি-এর সাথে মুদ্রিত)

লেখক: মুহাম্মদ বাই বিলালাম [মৃত্যু ১৪৩০ হিজরি]

(ইমাম, উস্তাদ এবং আউলফ-এর মুদাররিস - আদরার প্রদেশ)

প্রকাশক: দার ইবনে হাজম, বৈরুত - লেবানন

সংস্করণ: প্রথম, ১৪৩১ হিজরি - ২০১০ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৪

শামেলা সংস্করণের জন্য প্রস্তুত করেছেন: আবু ইয়াসির আল-জাজায়িরি, আল্লাহ তাকে উত্তম প্রতিদান দিন

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ৬ জুমাদাল আখিরাহ ১৪৩৩

(খণ্ড: ১) আল-লুলুউল মানজূম ফী নাজমি মানসূরি ইবনি আজরুম (পৃষ্ঠা: ৩৯)
بسم الله الرحمن الرحيم

وَصَلَّى اللَّهُ عَلَى سَيِّدِنَا مُحَمَّدٍ وَآلِهِ

 

الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي قَدْ فَتَحَا … أَبْوَابَ فَيْضِهِ لِمَنْ لَهُ نَحَا

صَلَّى وَسَلَّمَ عَلَى مَنْ خَفَضَا … بِالْجَزْمِ مَنْ عَنْ رَبِّهِ قَدْ أَعْرَضَا

مُحَمَّدٍ مَنْ نُورُهُ قَدِ ارْتَفَعْ … وَعَمَّ كُلَّ الْعَالَمِيْنَ إِذْ طَلَعْ

فَانْفَتَحَتْ بِهِ الْآَذَانُ الصُّمُّ … وَنَطَقَتْ بِهِ الشِّفَاهُ الْبُكْمُ

وَآلِهِ الْبُدُورِ فِي الدَّيَاجِي … وَصَحْبِهِ النُّجُومِ لِلْمِنْهَاجِي

وَبَعْدُ إِنَّ اللَّحْنَ دَاءٌ مُزْمِنُ … مُؤَثِّرٌ تَئِنُّ مِنْهُ الْأَلْسُنُ

لِذَاكَ قَدْ أَدَّى بِيَ الْفَهْمُ الضَّعِيفْ … لِنَشْأِ أَبْيَاتٍ فِي ذَا الْفَنِّ الْمُنِيفْ

سَمَّيْتُهُ بِاللُّؤْلُؤِ الْمَنْظُومِ … فِي نَظْمِ مَنْثُورِ ابْنِ آجَرُّومِ

وَإِنَّنِي مُعْتَذِرٌ مِنَ الْخَلَلْ … وَكُلٍّ مَا مِنْ الْخَطَا فِي النَّظْمِ حَلْ

إِذْ لَسْتُ لِلْمَقَايِيسِ الشِّعْرِيَّةْ … مُتَّصِفًا بِصِبْغَةٍ مَرْضِيَّةْ

يَا رَبِّ وَاجْعَلْ كُلَّ مَا نَظَمْتُ … لِوَجْهِكَ الْكَرِيمِ قَدْ عَمِلْتُ

وَجَازِ عَنَّا رَبِّ مَنْ عَلَّمَنَا … وَلِطَرِيقِ الْخَيْرِ قَدْ أَرْشَدَنَا

فَإِنَّنِي الْعَبْدُ الضَّعِيفُ الْقَاصِرْ … مُحَمَّدٌ بَايُ بْنُ عَبْدِ الْقَادِرْ
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

এবং আমাদের নেতা মুহাম্মাদ ও তাঁর পরিবারের ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক।

 

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি উন্মুক্ত করেছেন … তাঁর অভিমুখে ধাবিত ব্যক্তির জন্য তাঁর করুণার দ্বারসমূহ।

তিনি সালাত ও সালাম বর্ষণ করেছেন তাঁর ওপর, যিনি অবনমিত করেছেন … দৃঢ়তার সাথে তাকে, যে তার প্রতিপালক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে।

মুহাম্মাদ, যাঁর জ্যোতি সমুন্নত হয়েছে … এবং উদিত হওয়ার সময় সমগ্র বিশ্বকে পরিব্যাপ্ত করেছে।

ফলে তাঁর মাধ্যমে বধির কর্ণসমূহ উন্মুক্ত হয়েছে … এবং বোবা ওষ্ঠাধর বাকপটু হয়েছে।

এবং তাঁর পরিবারবর্গের ওপর, যারা অন্ধকারের পূর্ণিমা স্বরূপ … এবং তাঁর সাহাবীগণের ওপর, যারা সঠিক পথের দিশারী নক্ষত্রপুঞ্জ।

অতঃপর, নিশ্চয়ই ব্যাকরণগত ভুল একটি দীর্ঘস্থায়ী ব্যাধি … যা অত্যন্ত প্রভাবশালী এবং যার কারণে জিহ্বাগুলো আর্তনাদ করে।

সেই কারণে আমার দুর্বল (ضعيف) অনুধাবন শক্তি আমাকে পরিচালিত করেছে … এই মহান শাস্ত্রের ওপর কিছু পঙক্তি রচনা করতে।

আমি এর নামকরণ করেছি 'আল-লু'লু আল-মানজুম' … যা ইবনে আজুররুমের গদ্য রচনার একটি পদ্যরূপ।

এবং আমি ত্রুটি-বিচ্যুতি … এবং পদ্য বিন্যাসে ঘটে যাওয়া সকল ভুলের জন্য ক্ষমাপ্রার্থী।

কেননা আমি কাব্যিক মানদণ্ডের বিচারে … সন্তোষজনক গুণের অধিকারী নই।

হে আমার প্রতিপালক! আমি যা কিছু পদ্যাকারে লিখেছি … তা আপনারই মহান সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে আমল হিসেবে কবুল করুন।

এবং হে প্রতিপালক! আমাদের পক্ষ থেকে তাঁদের প্রতিদান দিন যাঁরা আমাদের শিক্ষা দিয়েছেন … এবং কল্যাণের পথে আমাদের পরিচালিত করেছেন।

কেননা আমি এক দুর্বল (ضعيف) ও অক্ষম বান্দা … মুহাম্মাদ বায়ু ইবনে আব্দুল কাদির।
(খণ্ড: ১) আল-লুলুউল মানজূম ফী নাজমি মানসূরি ইবনি আজরুম (পৃষ্ঠা: ৪০)
‌‌مُقَدِّمَةٌ

كَلَامُ أَهْلِ النَّحْوِ لَفْظٌ وَمُفِيدْ … مُرَكَّبٌ بِالْوَضْعِ مِثْلُ جَا سَعِيدْ

أَقْسَامُهُ ثَلَاثَةٌ لَا رَابِعَا … لَهَا بإِجْمَاعِ النُّحَاةِ فَاسْمَعَا

اسْمٌ وَفِعْلٌ ثُمَّ حَرْفٌ مَعْنَى … لَيْسَ الَّذِي بِهِ التَّهَجِّي يُعْنَى

فَالاِسْمُ بِالتَّنْوِينِ وَالْخَفْضِ عُرْفْ … كَذَا بِأَلْ وَبِحُرُوفِ الْخَفْضِ صِفْ

وَهِيَ مِنْ إِلَى وَعَنْ عَلَى وَفِي … وَرُبَّ وَالْبَاءُ وَلَامٌ تَقْتَفِي

وَمُنْذُ مُذْ وَالْوَاوُ وَالْبَا فِي القَسَمْ … وَالتَّاءُ فِي تَاللَّهِ لَا غَيْرَ قَسَمْ

وَالسِّينُ سَوْفَ قَدْ بِهَا الْفِعْلُ وُسِمْ … وَالْحَرْفُ مِنْ كُلِّ الْعَلَامَاتِ خُصِمْ

 

‌‌بَابُ الْإِعْرَابِ وَمَعْرِفَةُ عَلَامَاتِهِ

الْإِعْرَابُ بِالْكَسْرِ فِي الاِصْطِلَاحِ … تَغْيِيرُ عَجْزِ كَلِمٍ يَا صَاحِ

وَذَاكَ لاِخْتِلَافِ عَامِلٍ دَخَلْ … عَلَيْهِ فَالتَّغْيِيرُ مِنْ ذَاكَ حَصَلْ

لَفْظًا وَتَقْدِيرًا كَجَاءَ أَحْمَدُ … مِنْ بَعْدِ مَا قَدْ جَاءَ عِيسَى يَشْهَدُ

رَفْعٌ وَنَصْبٌ ثُمَّ خَفْضٌ جَزْمٌ … أَقْسَامُهُ أَرْبَعَةٌ فَالاِسْمُ

قَدْ خُصَّ بِالثَّلَاثِ وَالْجَزْمُ امْتَنَعْ … فِي الاِسْمِ وَالْخَفْضُ مِنَ الْفِعْلِ انْقَطَعْ

لِلرَّفْعِ ضَمٌّ ثُمَّ وَاوٌ وَأَلِفْ … كَذَاكَ نُونٌ ثَبَتَتْ بِذَا عُرِفْ

فَالضَّمُّ فِي الْمُفْرَدِ وَالْجَمْعَيْنِ … وَفِي الْمُضَارِعِ بِدُونِ مَيْنِ

مِثَالُهُ يَضْرِبُ زَيْدٌ وَالرِّجَالْ … وَتَخْتَفِي الْهِنْدَاتُ مِنْ كُلِّ الْمَجَالْ

وَالْوَاوُ فِي الْمُذَكَّرِ الَّذِي سَلِمْ … كَذَاكَ فِي الْخَمْسَةِ الْأَسْمَاءِ عُلِمْ

وَهْيَ أَبُوكَ وَأَخُوكَ وَحَمُوكْ … كَقَوْلِهِمْ كَانَ أَبُوكَ ذَا سُلُوكْ
উপস্থাপনা

নাহুবিদগণের পরিভাষায় কালাম হলো এমন অর্থবোধক শব্দ, যা উদ্দেশ্যমূলকভাবে গঠিত; যেমন: ‘সাঈদ এসেছে’।

নাহুবিদগণের সর্বসম্মতিক্রমে এর প্রকার তিনটি, চতুর্থ কোনো প্রকার নেই; অতএব তুমি তা মনোযোগ দিয়ে শ্রবণ করো।

বিশেষ্য, ক্রিয়া এবং অর্থবোধক অব্যয়; এখানে সেই বর্ণগুলো উদ্দেশ্য নয় যা দ্বারা শব্দ গঠিত হয়।

বিশেষ্যকে তানউইন এবং খাফয (তথা শব্দের শেষে জের) দ্বারা চেনা যায়; অনুরূপভাবে ‘আলিফ-লাম’ এবং খাফয প্রদানকারী অব্যয়সমূহ দ্বারাও একে চিহ্নিত করা যায়।

আর সেগুলো হলো: মিন, ইলা, আন, আলা, ফি, রুব্বা, বা এবং অনুগামী লাম।

তদ্রূপ মুনজু, মুজ এবং শপথের জন্য ব্যবহৃত ওয়াও ও বা; আর ‘তাল্লাহি’ শব্দের তা-টি কেবল শপথের জন্যই নির্দিষ্ট।

সিন, সাওফা এবং ক্বদ দ্বারা ক্রিয়াকে চিহ্নিত করা হয়। আর অব্যয় হলো যা (বিশেষ্য ও ক্রিয়ার) সকল চিহ্ন থেকে মুক্ত।

 

‌ই’রাব এবং এর চিহ্নসমূহ পরিচিতি অধ্যায়

হে বন্ধু! পরিভাষায় শব্দের শেষাংশের পরিবর্তনকে ই’রাব বলা হয়।

আর এই পরিবর্তন ঘটে শব্দের শুরুতে বিভিন্ন আমিল বা প্রভাবকের ভিন্নতার কারণে।

এই পরিবর্তন শাব্দিক হতে পারে কিংবা প্রচ্ছন্ন হতে পারে; যেমন: ‘আহমাদ এসেছে’ এবং এর পরে ‘ঈসা এসেছে’ যে সাক্ষ্য দিচ্ছে।

রফ‘, নসব, খাফয এবং জজম—এই চারটি হলো এর প্রকার। বিশেষ্য পদ

প্রথম তিনটির সাথে নির্দিষ্ট, এতে জজম হওয়া অসম্ভব। আর ক্রিয়া পদের ক্ষেত্রে খাফয হওয়া রহিত।

রফ‘-এর চিহ্ন হলো যম্মাহ, এরপর ওয়াও এবং আলিফ; তদ্রূপ নুন-এর স্থিতি দ্বারাও তা পরিচিত।

একবচন, উভয় প্রকার বহুবচন এবং কোনো প্রকার ব্যাধিহীন মুজারে ক্রিয়ার ক্ষেত্রে যম্মাহ ব্যবহৃত হয়।

এর উদাহরণ: ‘যায়েদ ও পুরুষেরা প্রহার করছে’, আর ‘হিন্দগণ সকল ক্ষেত্র হতে অদৃশ্য হয়ে যাচ্ছে’।

আর নিয়মিত পুংলিঙ্গবাচক বহুবচনে ‘ওয়াও’ ব্যবহৃত হয়; তদ্রূপ পাঁচটি বিশেষ্য পদের ক্ষেত্রেও এটি জানা যায়।

সেগুলো হলো: আবুকা, আখুকা এবং হামুকা; যেমন তাদের উক্তি: ‘তোমার পিতা সচ্চরিত্রবান ছিলেন’।
(খণ্ড: ১) আল-লুলুউল মানজূম ফী নাজমি মানসূরি ইবনি আজরুম (পৃষ্ঠা: ৪১)
وَذُو بِمَعْنَى صَاحِبٍ كَذِي الْوَفَا … وَالْفَمُ حَيْثُ الْمِيمُ مِنْهُ حُذِفَا

وَشَرْطُهَا أَنْ لَا تُصَغَّرَ وَأَنْ … تُضَافَ لَا لِلْيَا وَأَنْ تَنْفَرِدَنْ

وَأَلِفُ الْمُثَنَّى قَالَ رَجُلَانُ … نَابَ عَنِ الضَّمَّةِ فِي هَذَا الْمَكَانْ

كَالنُّونِ فِي الْمُضَارِعِ الَّذِي قُرِنْ … بِيَا وَوَاوٍ وَأَلِفٍ حُرُوفُ لِينْ

كَيَفْعَلَانِ تَفْعَلُونَ تَفْعَلِينْ … وَجَاءَ فِي التَّنْزِيلِ مَاذَا تَأْمُرِيْنْ

لِلنَّصْبِ خَمْسٌ فَتْحَةٌ كَذَا الْأَلِفْ … وَالْكَسْرُ وَالْيَاءُ وَنُونُ إِنْ حُذِفْ

فَالْفَتْحُ جَاءَ حَاوِيًا هَذَا الْمِثَالْ … تَقُولُ لَنْ أَضْرِبَ زَيْدًا وَالرِّجَالْ

فِي مُفْرَدِ الْأَسْمَاءِ وَالتَّكْسِيرِ مَعْ … مُضَارِعٍ إِنْ مَانِعٌ مِنْهُ انْتَزَعْ

وَأَلِفٌ فِي خَمْسَةِ الْأَسْمَاءِ نَابْ … عَنْ فَتْحَةٍ كَكُنْ أَخَا عِلْمٍ تُهَابْ

وَالْجَمْعُ بِالْأَلِفِ وَالتَّاءِ نُصِبْ … بِالْكَسْرِ نَحْوُ الطَّالِحَاتِ فَاجْتَنِبْ

وَالنَّصْبُ فِي الْمُذَكَّرِ الَّذِي سَلِمْ … مِثْلَ الَّذِي ثُنِّيَ بِالْيَاءِ عُلِمْ

نَحْوُ رَأَيْتُ الْمُومِنِينَ فِي الْبِلَادْ … يُؤَيِّدُونَ الْعُمَرَيْنِ فِي الْجِهَادْ

وَالْخَمْسَةُ الَّتِي بِنُونٍ رُفِعَتْ … فَإِنَّهَا بِحَذْفِهَا قَدْ نُصِبَتْ

مِثَالُهُ لَنْ تُدْرِكُوا الْكَمَالَا … حَتَّى تَكُونُوا لِلتُّقَى مِثَالَا

لِلْخَفْضِ كَسْرَةٌ وَيَاءٌ نَشَأَتْ … مِنْهَا وَفَتْحَةٌ لِكَسْرٍ خَلَفَتْ

فَالْكَسْرُ فِي الْمُنْفَرِدِ الْمُنْصَرِفِ … وَجَمْعِ تَكْسِيرٍ بِصَرْفٍ مُوصِفِ

وَفِي كَهِنْدَاتٍ وَدَوْمًا مُنْصَرِفْ … وَاجْرُرْ بِفَتْحٍ كُلَّ مَا لَا يَنْصَرِفْ

إِلاَّ إِذَا أُضِيفَ أَوْ تَبِعَ … أَلْ … فَجَرُّهُ بِكَسْرَةٍ جَازَ وَحَلْ

وَاجْرُرْ بِيَا خَمْسَةَ الْأَسْمَاءِ وَفِي … سَالِمِ جَمْعٍ وَمُثَنَّى تَقْتَفِ

وَالْجَزْمُ بِالسُّكُونِ وَالْحَذْفِ عُلِمْ … فَاجْزِمْ بِتَسْكِينٍ صَحِيحًا كَيَقُومْ

وَالْحَذْفُ فِي لَمْ يَخْشَ لَمْ يَغْزُوَ فِي … لَمْ يَفْعَلُوا لَمْ تَفْعَلِي وَلَمْ يَفِ

‘যূ’ শব্দটি ‘সাহিব’ বা অধিকারী অর্থে ব্যবহৃত হয়, যেমন আনুগত্যের অধিকারী ব্যক্তি … আর ‘ফাম’ (মুখ) শব্দটি যখন তার মধ্য হতে ‘মীম’ বর্ণটি বিলুপ্ত হয়।

এর (আসমায়ে খামসাহ-র) শর্ত হলো এই যে, তা ক্ষুদ্রার্থবোধক হবে না এবং তা … ‘ইয়া’ (মুতাকাল্লিম) ব্যতীত অন্য শব্দের সাথে সম্বন্ধযুক্ত হবে এবং তা একবচন হতে হবে।

দ্বিবচনের আলিফ—যেমন বলা হয় ‘রজুলানে’ (দুইজন ব্যক্তি) … এই স্থানে যম্মাহ-এর স্থলাভিষিক্ত হয়েছে।

যেমন ‘মুযারে’ (বর্তমান বা ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়া) এর ক্ষেত্রে ‘নুন’, যা ‘ইয়া’, ‘ওয়াও’ এবং ‘আলিফ’ নামক … কোমল বর্ণমালার সাথে যুক্ত হয়।

যেমন: ইয়াফআলা-নে, তাফআলূ-না, তাফআলী-না … এবং আল-কুরআনে অবতীর্ণ হয়েছে: “তুমি কী আদেশ করছো?”

নসব-এর জন্য পাঁচটি চিহ্ন রয়েছে: ফাতহাহ, তদ্রূপ আলিফ … কাসরাহ, ইয়া এবং নুন যদি বিলুপ্ত হয়।

ফাতহাহ এই উদাহরণটিকে অন্তর্ভুক্ত করে— … তুমি বলবে: “আমি কখনোই যায়েদ এবং পুরুষদের প্রহার করব না।”

একবচন বিশেষ্য এবং ভগ্ন বহুবচনের ক্ষেত্রে … সাথে সেই মুযারে ক্রিয়ার ক্ষেত্রেও যেখান থেকে কোনো প্রতিবন্ধক অপসারিত হয়েছে।

আর আসমায়ে খামসাহ (পাঁচটি বিশেষ্য)-র ক্ষেত্রে আলিফ … ফাতহাহ-এর স্থলাভিষিক্ত হয়, যেমন: “তুমি সেই জ্ঞানীর মতো হও যাকে শ্রদ্ধা করা হয়।”

আলিফ ও তা যুক্ত বহুবচন নসব প্রাপ্ত হয় … কাসরাহ দ্বারা, যেমন: “অসৎ নারীদের পরিহার করো।”

আর অক্ষত পুংলিঙ্গ বহুবচনের ক্ষেত্রে নসব-এর চিহ্ন … দ্বিবচনের মতোই ইয়া দ্বারা নির্ধারিত বলে জানা যায়।

যেমন: “আমি জনপদে মুমিনদের দেখেছি … যে তারা জিহাদে দুই ওমরের সমর্থন করছে।”

আর সেই পাঁচটি ক্রিয়া যা নুন দ্বারা রাফা প্রাপ্ত হয়েছিল … সেগুলো নুন বিলুপ্তির মাধ্যমেই নসব প্রাপ্ত হয়।

এর উদাহরণ: “তোমরা কখনোই পূর্ণতা অর্জন করতে পারবে না … যতক্ষণ না তোমরা তাকওয়ার আদর্শ হতে পারো।”

খাফদ বা জরের জন্য রয়েছে কাসরাহ এবং তা থেকে উৎপন্ন ইয়া … আর রয়েছে ফাতহাহ যা কাসরাহ-র স্থলাভিষিক্ত হয়।

কাসরাহ ব্যবহৃত হয় সেই একবচন বিশেষ্যের ক্ষেত্রে যা পূর্ণ রূপান্তরশীল … এবং সেই ভগ্ন বহুবচন যা রূপান্তরযোগ্য গুণের অধিকারী।

আর যেমন ‘হিন্দাত’ এবং যা সর্বদা রূপান্তরশীল; … আর যা অপূর্ণ রূপান্তরশীল, তাকে ফাতহাহ দিয়ে জর প্রদান করো।

তবে যদি তা সম্বন্ধিত হয় অথবা ‘আল’ … যুক্ত হয়, তবে কাসরাহ দ্বারা তার জর হওয়া বৈধ ও সিদ্ধ।

আসমায়ে খামসাহ-কে ইয়া দ্বারা জর করো এবং … অক্ষত বহুবচন ও দ্বিবচনের ক্ষেত্রেও এর অনুসরণ করো।

জজম বা স্থির অবস্থা সুকূন ও বিলোপের মাধ্যমে চেনা যায়; … সুতরাং সহীহ (صحيحًا) ক্রিয়াকে সুকূন দিয়ে জজম করো যেমন ‘ইয়াকূম’।

আর বিলোপ হয় ‘লাম ইয়াখশা’, ‘লাম ইয়াগযু’ এবং … ‘লাম ইয়াফআলূ’, ‘লাম তাফআলী’ ও ‘লাম ইয়াফি’ এর ক্ষেত্রে।

(খণ্ড: ১) আল-লুলুউল মানজূম ফী নাজমি মানসূরি ইবনি আজরুম (পৃষ্ঠা: ৪২)
‌‌بَابُ الْأَفْعَالِ

الْأَفْعَالُ عَدُّهَا ثَلَاثَةٌ أَتَتْ … مَاضٍ مُضَارِعٌ وَأَمْرٌ قَدْ ثَبَتْ

فَالْمَاضِي مَبْنِيٌّ بِفَتْحٍ فِي الْأَخِيرْ … إِلَّا إِذَا كَانَ فِي عَجْزِهِ ضَمِيرْ

وَفِي ضَرَبْتُ ابْنِ عَلَى السُّكُونِ … وَضَرَبُوا بِالضَّمِّ لِلتَّبْيِينِ

وَمُعْرَبُ الْأَفْعَالِ مَا يُبْتَدَأْ … بِحَرْفٍ مِنْ أَنَيْتُ مِثْلُ يَبْدَأْ

وَأَعْرِبْهُ إِنْ عَرَى عَنِ النُّونِ الَّتِي … بِهَا يُؤَكَّدُ وَنُونِ النِّسْوَةِ

وَحُكْمُهُ الرَّفْعُ إِذَا تَجَرَّدَا … عَنْ نَاصِبٍ أَوْ جَازِمٍ فِي الِابْتِدَا

أَمَّا النَّوَاصِبُ فَأَنْ وَكَيْ وَلَنْ … حَتَّى وَلَامُ كَيْ وَجُحُدٍ وَإِذَنْ

وَالْوَاوُ وَالْفَا فِي الْجَوَابِ وَبِأَوْ … بِمَعْنَى حَتَّى أَوْ إِلَى أَوْ كَيْ رَوَوْا

كَمِثْلِ أَنْ يَنْقَضَّ أَوْ لَنْ نَبْرَحَا … وَحَتَّى يَرْجِعَ لِكَيْ تَقْتَرِحَا

وَاجْزِمْ بِلَمْ لَمَّا أَلَمْ أَلَمَّا … وَلَا وَلَامِ طَلَبٍ أَلَمَّا

وَهْيَ لِجَزْمِ وَاحِدٍ وَإِنْ وَمَا … تَجْزِمُ فِعْلَيْنِ عَلَى مَا رُسِمَا

وَمَنْ وَمَهْمَا أَيُّ أَيْنَ وَمَتَى … أَيَّانَ حَيْثُمَا وَكَيْفَمَا أَتَى

أَنَّى وَإِذْ مَا وَإِذَا فِي الشِّعْرِ … جَاءَتْ فَلَا تَجْزَمْ بِهَا فِي النَّثْرِ

تَقُولُ إِنْ تَقُمْ نَقُمْ وَنَحْوُ مَا … تَفْعَلْ مِنَ الْخَيْرِ تَجِدْهُ مَغْنَمَا

 

‌‌بَابُ مَرْفُوعَاتِ الْأَسْمَاءِ

بَابٌ وَسَبْعَةٌ لَهَا الرَّفْعُ وَجَبْ … مِنَ الْأَسَامِي عِنْدَ جُمْلَةِ الْعَرَبْ

أَوَّلُهَا الْفَاعِلُ وَالْمَفْعُولُ إِنْ … بُنِيَ لِلْمَجْهُولِ فَالرَّفْعُ زُكِنْ

وَالْمُبْتْدَا وَجُزْؤُهُ الْمُتِمُّ … وَاسْمُ كَانَ رَفْعُهُ مُحَتَّمُ
‌‌ক্রিয়াসমূহ সংক্রান্ত অধ্যায়

ক্রিয়ার সংখ্যা তিনটি হিসেবে বর্ণিত হয়েছে … অতীতকালীন (ماض), বর্তমান-ভবিষ্যৎকালীন (مضارع) এবং আদেশসূচক (أمر) যা সুসাব্যস্ত।

অতীতকালীন ক্রিয়া (ماض) শেষাক্ষরে ফাতাহর ওপর ভিত্তি করে অপরিবর্তনীয় (مبني) … তবে যদি তার শেষে কোনো সর্বনাম (ضمير) যুক্ত হয় [তবে তা ভিন্ন]।

'দারাবতু' শব্দের ক্ষেত্রে সুকুনের ওপর ভিত্তি করুন … আর 'দারাবু' শব্দের ক্ষেত্রে স্পষ্টকরণের নিমিত্তে দম্মা বা পেশের ওপর ভিত্তি করুন।

ক্রিয়াসমূহের মধ্যে যা পরিবর্তনশীল (معرب), তা সেই শব্দ যা শুরু হয় … 'আনাইতু' এর কোনো একটি অক্ষর দ্বারা, যেমন: 'ইয়াবদাউ'।

একে পরিবর্তনশীল (معرب) হিসেবে গ্রহণ করুন যদি তা তাকিদ প্রদানকারী নুন … এবং স্ত্রীবাচক নুন (نون النسوة) থেকে মুক্ত থাকে।

এর বিধান হলো রফা (رفع) হওয়া, যখন এটি শুরুতে … নসবদানকারী (ناصب) অথবা জজমদানকারী (جازم) অব্যয় থেকে মুক্ত থাকে।

নসবদানকারী (ناصب) অব্যয়গুলো হলো: আন, কাই, লান … হাত্তা, লামে কাই, লামে জুহুদ এবং ইযান।

এবং জবাবের ক্ষেত্রে ওয়াও এবং ফা, এবং 'আও' … যা এমনকি, পর্যন্ত অথবা জন্য অর্থে আসে বলে তারা বর্ণনা করেছেন।

যেমন: 'আন ইয়ানকাদ্দা', 'লান নাবরাহা' … 'হাত্তা ইয়ারজি'আ' এবং 'লি-কাই তাকতারিহা'।

আর জজম (جزم) প্রদান করুন লাম, লাম্মা, আলাম, আলাম্মা … এবং নিষেধবাচক লা ও প্রার্থনাসূচক লাম দ্বারা।

এগুলো একটি ক্রিয়াকে জজম (جزم) প্রদানের জন্য; আর ইন এবং মা … নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী দুটি ক্রিয়াকে জজম (جزم) প্রদান করে।

এবং মান, মাহমা, আইয়্যু, আইনা, মাতা … আইয়ানা, হাইসুমা এবং যেভাবে আসুক না কেন কাইফামা।

আন্না, ইয মা; আর কবিতায় ইযা … জজম প্রদানের জন্য আসে, তবে গদ্যের ক্ষেত্রে তা দ্বারা জজম (جزم) প্রদান করবেন না।

আপনি বলবেন: 'ইন তাকুম নাকুম', এবং অনুরূপভাবে 'মা … তাফ'আল মিনাল খাইরি তাজিনহু মাগনামা' (তুমি যা কিছু কল্যাণকর কাজ করবে, তা প্রতিদান হিসেবে লাভ করবে)।

 

‌‌বিশেষ্যসমূহের রফা (رفع) প্রাপ্ত হওয়ার অধ্যায়

আরবদের ভাষ্য অনুযায়ী বিশেষ্যসমূহের মধ্যে … সাতটি ক্ষেত্রে রফা (رفع) হওয়া আবশ্যক।

সেগুলোর প্রথমটি হলো কর্তা (فاعل), আর কর্মটি (مفعুল) যদি … কর্মবাচ্যের (مجهول) ভিত্তিতে গঠিত হয়, তবে সেক্ষেত্রেও রফা (رفع) হওয়া সুপরিচিত।

আর উদ্দেশ্য (مبتدأ) ও তার সমাপক অংশ [বিধেয়] … এবং 'কানা' এর ইসম—এর রফা (رفع) হওয়া অবধারিত।
(খণ্ড: ১) আল-লুলুউল মানজূম ফী নাজমি মানসূরি ইবনি আজরুম (পৃষ্ঠা: ৪৩)
وَأَخَوَاتُ كَانَ مِثْلُهَا كَمَا … خَبَرُ إِنَّ رَفْعَهُ قَدْ لَزِمَا

وَتَابِعُ الْمَرْفُوعِ كَالنَّعْتِ الْبَدَلْ … وَالْعَطْفُ وَالتَّوْكِيدُ رَفْعُهُ حَصَلْ

 

‌‌بَابُ الفَاعِلِ

الْفَاعِلُ الِاسْمُ الَّذِي قَدْ رُفِعَا … بِفِعْلِهِ أَوْ شِبْهِهِ إِنْ وَقَعَا

وَهْوَ عَلَى قِسْمَيْنِ فِيمَا ذُكِرَا … فَيَأْتِي ظَاهِرًا وَيَأْتِي مُضْمَرًا

فَظَاهِرٌ كَجَاءَ زَيْدٌ وَالرِّجَالْ … وَمُضْمَرٌ كَقُمْتُ فِي سَفْحِ الْجِبَالْ

 

‌‌بَابُ النَّائِبِ عَنِ الْفَاعِلِ

أَوْجِبْ لِمَفْعُولٍ بِهِ الرَّفْعُ إِذَا … نَابَ عَنِ الْفَاعِلِ وَالنَّصْبِ انْبُذَا

وَفِي كِلَا الْفِعْلَيْنِ ضُمَّ الْأَوَّلَا … كَيُقْتَلُ الْكَافِرُ أَوْ كَقُتِلَا

وَسَابِقُ الْأَخِيرِ يُكْسَرُ لَدَى … مَاضٍ وَفَتْحٌ فِي سِوَاهُ وُجِدَا

وَسَمِّ مِنْهُ ظَاهِرًا كَضُرِبَا … زَيْدٌ وَعَمْرٌو فِي الْوَغَى قَدْ غُلِبَا

وَمُضْمَرًا نَحْوَ نُصِرْتُ بِالصَبَا … وَهُوَ حَدِيثٌ لِلصَّحِيحِ نُسِبَا

 

‌‌بَابُ الْمُبْتَدَأِ وَالْخَبَرِ

الْمُبْتَدَأُ الِاسْمُ الَّذِي قَدْ جُرِّدَا … عَنْ عَامِلِ اللَّفْظِ وَرَفْعُهُ بَدَا

وَالْخَبَرُ الِاسْمُ الَّذِي قَدْ أُسْنِدَا … لِلْمُبْتَدَأِ وَرَفْعُهُ قَدْ عُهِدَا
এবং কানার সমগোত্রীয় শব্দসমূহও তার মতোই যেমন … ইন্নাহ-এর খবরের রফ (পেশ) হওয়া আবশ্যক।

মারফু (রফার অবস্থাসম্পন্ন) পদের অনুগামী যেমন নাত (গুণ), বদল … এবং আতফ ও তাকিদও রফ প্রাপ্ত হয়।

 

‌‌ফায়েল (কর্তা) পরিচ্ছেদ

ফায়েল হলো সেই ইসিম (বিশেষ্য) যা রফ প্রাপ্ত হয় … যখন তা তার ফেল (ক্রিয়া) বা ফেল সদৃশ শব্দের পরে আসে।

উল্লিখিত বর্ণনামতে এটি দুই প্রকারের হয়ে থাকে … কখনো তা স্পষ্ট (জাহির) হিসেবে আসে, আবার কখনো গোপন (মুদমার) হিসেবে আসে।

স্পষ্টের উদাহরণ যেমন 'জা-আ যায়দুন' (যায়েদ এসেছে) ও 'আর-রিজালু' (পুরুষরা এসেছে) … আর গোপন হলো যেমন পাহাড়ের পাদদেশে আমার অবস্থান বুঝাতে 'কুমতু' (আমি দাঁড়ালাম) বাক্যে।

 

‌‌নায়েবে ফায়েল (কর্তার স্থলাভিষিক্ত) পরিচ্ছেদ

মাফউল বিহি (কর্ম)-র জন্য রফ প্রদান ওয়াজিব করো যখন তা … ফায়েলের স্থলাভিষিক্ত হয় এবং তার নসব (জবর) হওয়ার অবস্থাকে বর্জন করো।

উভয় প্রকার ফেলের (অতীত ও বর্তমান) প্রথম অক্ষরে পেশ (জম্ম) প্রদান করো … যেমন 'ইউকতালুল কাফিরু' (কাফের নিহত হচ্ছে) অথবা 'কুতিলা' (নিহত হয়েছে) এর মতো।

মাজি (অতীতকাল)-এর ক্ষেত্রে শেষ অক্ষরের পূর্ববর্তী অক্ষরে জের (কাসরা) হবে … আর তদ্ব্যতীত অন্য ক্ষেত্রে (মুজারি) জবর (ফাতহা) পাওয়া যায়।

তার মধ্য হতে যা স্পষ্ট তা উল্লেখ করো যেমন 'দুরিবা … যায়দুন' (যায়েদ প্রহৃত হয়েছে) এবং আম্‌র যুদ্ধে পরাজিত হয়েছে।

আর গোপন (মুদমার) যেমন 'নুসিরতু বিস-সাবা' (পূর্বীয় বাতাসের মাধ্যমে আমি সাহায্যপ্রাপ্ত হয়েছি) … এবং এটি একটি হাদিস যা সহিহ (صحيح) এর দিকে সম্বন্ধযুক্ত।

 

‌‌মুবতাদা ও খবর (উদ্দেশ্য ও বিধেয়) পরিচ্ছেদ

মুবতাদা হলো সেই ইসিম যা শাব্দিক আমেল (প্রভাবক) থেকে … মুক্ত এবং এর রফ হওয়া প্রকাশ্য।

আর খবর হলো সেই ইসিম যা সম্বন্ধ করা হয়েছে … মুবতাদার দিকে এবং এর রফ হওয়া সুপরিচিত।
(খণ্ড: ১) আল-লুলুউল মানজূম ফী নাজমি মানসূরি ইবনি আজরুম (পৃষ্ঠা: ৪৪)
وَظَاهِرًا يَأْتِي كَزَيْدٌ قَائِمُ … وَمُضْمَرًا كأَنْتَ عَدْلٌ حَاكِمُ

وَسَاغَ فِي الْخَبَرِ أَنْ يُكَوَّنَا … مِنْ جُمْلَةٍ وَشِبْهِهَا فَاسْتَبِنَا

فَجُمْلَةٌ كَقُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدْ … وَمِثْلُهُ زَيْدٌ أَتَى يَوْمَ الْأَحَدْ

وَشِبْهُهَا كَالْمَاءُ فِي الْبُسْتَانِ … وَالْمَالُ عِنْدَ التَّاجِرِ الْمَنَّانِ

 

‌‌بَابُ نَوَاسِخِ الِابْتِدَاءِ

"وَهِيَ كَانَ وَأَخَوَاتُهَا وَإِنَّ وَأَخَوَاتُهَا وَظَنَّ وَأَخَوَاتُهَا"

إِذَا أَرَدْتَ الْأَدَوَاتِ اللَّاتِي … تَنْسَخُ الاِبْتِدَا لَدَى النُّحَاةِ

فَهْيَ إِلَى ثَلَاثَةٍ تَنَوَّعَتْ … كَانَ وَإِنَّ وَظَنَنْتُ نَسَخَتْ

أَوَّلُهَا كَانَ الَّتِي قَدْ رَفَعَتْ … مُبْتَدَأً وَخَبَرًا قَدْ نَصَبَتْ

فَالْمُبْتَدَأُ اسْمٌ لَهَا وَالْخَبَرُ … خَبَرُهَا كَكَانَ عَدْلًا عُمَرُ

وَكَانَ مَعْ أَمْثَالِهَا قَدِ انْحَصَرْ … عَدَدُهَا إِلَى ثَلَاثَةَ عَشَرْ

فَمِنْهَا مَا يَعْمَلُ مُطْلَقًا بِلَا … شَرْطٍ وَلَا قَيْدٍ كَكَانَ مَثَلًا

وَبَاتَ أَضْحَى صَارَ ظَلَّ أَصْبَحَا … أَمْسَى وَلَيْسَ عَدُّهَا فِي رَمْزِ حَا

وَقَدِّمِ النَّفْيَ عَلَى زَالَ بَرِحْ … فَتِئَ وَانْفَكَّ وَشِبْهِهِ يَصِحْ

وَمَا عَلَى دَامَ تُقَدَّمُ كَمَا … دُمْتُ صَحِيحًا سَأَزُورُ الْعُلَمَا

وَكُلُّ مَا مِنْهَا تَصَرَّفَ وَحَلْ … مَحَلَّهَا فَأَثْبِتْ لَهُ ذَاكَ الْعَمَلْ

وَإِنَّ عَكْسُ كَانَ تَرْفَعُ الْخَبَرْ … وَتَنْصِبُ الِاسْمَ كَمَا قَدِ اسْتَقَرْ

وَأَنَّ بِالْفَتْحِ كَإِنَّ وَلَعَلْ … لَكِنَّ لَيْتَ مِثْلَ إِنَّ فِي الْعَمَلْ

تَقُولُ إِنِّي عَالِمٌ أَنَّ الْعَمَلْ … خَيْرٌ مِنَ التَّوَاكُلِ الَّذِي يُمَلْ
প্রকাশ্যরূপে তা আসে যেমন ‘যায়েদ দণ্ডায়মান’ … আর অপ্রকাশ্যরূপে আসে যেমন ‘তুমি একজন ন্যায়পরায়ণ (عدل) বিচারক’

খবরের ক্ষেত্রে এটি বৈধ যে তা গঠিত হবে … বাক্য বা বাক্যসদৃশ শব্দ দ্বারা, সুতরাং বিষয়টি স্পষ্ট করে বুঝে নাও

বাক্যের উদাহরণ যেমন: ‘বলুন, তিনিই আল্লাহ এক’ … আর অনুরূপ উদাহরণ: ‘যায়েদ রবিবার দিন এসেছে’

আর বাক্যসদৃশের উদাহরণ যেমন: ‘বাগানের মধ্যে পানি’ … এবং ‘দানশীল ব্যবসায়ীর নিকট সম্পদ’

 

‌‌প্রারম্ভিক অবস্থাকে রহিতকারী (نواسخ) বিষয়সমূহের পরিচ্ছেদ

“আর সেগুলো হলো কানা ও তার সমগোত্রীয় শব্দসমূহ, ইন্না ও তার সমগোত্রীয় শব্দসমূহ এবং জান্না ও তার সমগোত্রীয় শব্দসমূহ”

তুমি যদি সেই অব্যয়সমূহ সম্পর্কে জানতে চাও যা … ব্যাকরণবিদদের নিকট বাক্যের প্রারম্ভিক অবস্থাকে রহিত (نسخ) করে দেয়

তবে সেগুলো তিন প্রকারে বিভক্ত … কানা, ইন্না এবং জানান্তু এই রহিতকরণের কাজ করে

সেগুলোর প্রথমটি হলো ‘কানা’, যা মুবতাদাকে রাফা প্রদান করে … এবং খবরকে নাসব প্রদান করে থাকে

ফলে মুবতাদা তার ইসিম এবং খবরটি তার … খবর হিসেবে গণ্য হয়; যেমন: ‘উমর একজন ন্যায়পরায়ণ (عدل) ছিলেন’

কানা এবং তার সমজাতীয় শব্দগুলোর সংখ্যা … তেরোটির মধ্যে সীমাবদ্ধ করা হয়েছে

সেগুলোর মধ্যে কিছু শব্দ কোনো শর্ত … বা সীমাবদ্ধতা ছাড়াই নিঃশর্তভাবে আমল করে, যেমন উদাহরণস্বরূপ ‘কানা’

বাতা, আদহা, স-রা, যল্লা, আসবাহা, … আমসা এবং লাইসা; গণনার ক্ষেত্রে এগুলো ‘হা’ প্রতীকের অন্তর্ভুক্ত

যা-লা, বারিহা … ফাতিআ, আনফাক্কা ও এর সমজাতীয়গুলোর শুরুতে না-বোধক অব্যয় যুক্ত করা শুদ্ধ

আর দা-মা এর পূর্বে ‘মা’ যুক্ত করা হয় যেমন: … ‘যতক্ষণ আমি সুস্থ (صحيح) থাকব, ততক্ষণ আলেমদের জিয়ারত করব’

সেগুলোর মধ্য থেকে যেগুলোর রূপান্তর ঘটে এবং মূলের … স্থলাভিষিক্ত হয়, সেগুলোর জন্য সেই একই আমল সাব্যস্ত করো

আর ইন্না হলো কানার বিপরীত, তা খবরকে রাফা প্রদান করে … এবং ইসিমকে নাসব প্রদান করে, যেমনটি সুনির্ধারিত হয়েছে

ফাতহাসহ আন্না, লাআল্লা, … লাকিন্না এবং লাইতা আমল করার ক্ষেত্রে ইন্নার মতোই

তুমি বলো: নিশ্চয়ই আমি জানি যে কর্ম … সেই অতি-নির্ভরশীলতা অপেক্ষা উত্তম যা বিরক্তির উদ্রেক করে
(খণ্ড: ১) আল-লুলুউল মানজূম ফী নাজমি মানসূরি ইবনি আজরুম (পৃষ্ঠা: ৪৫)
وَقُلْ كَأَنَّ الْفَضْلَ لَيْثٌ وَلَعَلْ … عَمْرًا شُجَاعٌ لَيْتَ قُدْسًا مُسْتَقِلْ

وَكُلُّهَا تَضَمَّنَتْ مَعَانِي … بِهَا يَتِمُّ الْقَصْدُ لِلْبَيَانِ

أَكِّدْ بِإِنَّ أَنَّ شَبِّهْ بِكَأَنْ … وَاقْصِدْ بِالِاسْتِدْرَاكِ لَكِنْ تُدْرِكَنْ

لَعَلَّ لِلتَّرَجِّي وَالتَّوَقُّعْ … وَلَيْتَ لِلتَّمَنِّي تَأْتِي فَاسْمَعْ

وَانْصِبْ بِظَنَّ الْمُبْتَدَأَ وَالْخَبَرَا … وَمِثْلُهَا حَسِبْتُ زَيْدًا قَمَرَا

وَجَدْتُ وَاتَّخَذْتُ مَعَ عَلِمْتُ … خِلْتُ زَعَمْتُ اجْعَلْ رَأَى سَمِعْتُ

تَقُولُ قَدْ ظَنَنْتُ زَيْدًا صَادِقَا … وَقَدْ عَلِمْتُ الْمُصْطَفَى مُوَافِقَا

 

‌‌بَابُ النَّعْتِ

النَّعْتُ وَالصِّفَةُ مَعْنًى مُتَّفَقْ … وَهَكَذَا الْوَصْفُ بِذَا الْمَعْنَى أَحَقْ

فِي الرَّفْعِ وَالنَّصْبِ وَجَرٍّ تَبِعَا … مَنْعُوتَهُ وَالْعُرْفِ وَالنَّكْرِ مَعَا

مِثَالُهُ قَدْ جَاءَ زَيْدٌ الْأَدِيْبْ … وَقَدْ رَأَيْتُ الْمُصْطَفَى الْحِبْرَ النَّجِيبْ

وَامْرُرْ بِعَمْرٍو الْكَرِيمَ الْعَاقِلْ … وَاعْطِفْ عَلَى شَيْخٍ فَقِيرٍ سَائِلْ

وَالِاسْمُ مِنْهُ مَا يُسَمَّى مَعْرِفَةْ … فَهَاكَهُ مُفَصَّلًا لِتَعْرِفَهْ

فَمُضْمَرٌ كَأَنْتَ وَهْوَ وَالْعَلَمْ … زَيْدٌ وَمَكَّةُ وَالِاسْمُ الْمُنْبَهَمْ

هَذَا وَهَذِهِ وَهَؤُلَاءِ … كَذَاكَ مَا أُضِيفَ لِلْأَسْمَاءِ

كَذَا الْمُعَرَّفُ بِأَلْ قَدْ نَقَلُوا … وَالسَّادِسُ الْمَوْصُولُ لَيْسَ يُهْمَلُ

تَقُولُ سَيِّدُ الْأَنَامِ وَالرَّسُولْ … هُوَ الَّذِي يَهْدِي الْعِبَادَ لِلْوُصُولْ

وَكُلَّ اسْمٍ شَايِعٍ فَنَكِرَهْ … وَكُلُّ مَا يَقْبَلُ أَلْ كَنَمِرَهْ
আর বলুন, "ফজল যেন একটি সিংহ", এবং সম্ভবত … "আমর সাহসী", "আহা! কুদস যদি স্বাধীন হতো!"

এগুলোর প্রতিটিই এমন সব অর্থ ধারণ করে … যার মাধ্যমে বর্ণনার উদ্দেশ্য পূর্ণতা পায়।

'ইন্না' ও 'আন্না' দ্বারা বাক্যে তাকিদ বা নিশ্চয়তা প্রদান করুন, 'কাআন্না' দ্বারা তুলনা করুন … এবং 'লাকিন্না' দ্বারা সংশয় নিরসনের উদ্দেশ্য স্থির করুন যেন আপনি প্রকৃত বিষয়টি উপলব্ধি করতে পারেন।

'লাআল্লা' প্রত্যাশা ও আশঙ্কার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয় … এবং 'লায়তা' আসে আকাঙ্ক্ষা প্রকাশের জন্য; অতএব আপনি মনোযোগ সহকারে শ্রবণ করুন।

'জান্না' ক্রিয়ার মাধ্যমে মুক্তাদা ও খবরকে নাসব (জবর) প্রদান করুন … এর উদাহরণ হলো: "আমি জায়েদকে পূর্ণিমার চাঁদ মনে করেছি"।

'ওয়াজাত্তু' ও 'ইত্তাখাজতু'-এর সাথে রয়েছে 'আলিমতু' … তদ্রূপ 'খিলতু', 'যামতু', 'ইজআল', 'রাআ' এবং 'সামিআতু'।

আপনি বলবেন, "আমি জায়েদকে সত্যবাদী মনে করেছি" … এবং "আমি মুস্তফাকে ঐকমত্য পোষণকারী হিসেবে জেনেছি"।

 

‌‌গুণবাচক বিশেষণের (নাত) পরিচ্ছেদ

'নাত' এবং 'সিফাত' অর্থগতভাবে অভিন্ন … আর 'ওয়াসফ' শব্দটি এই অর্থের জন্য সমধিক উপযুক্ত।

রফ্ (পেশ), নাসব (জবর) এবং জর (জের)-এর ক্ষেত্রে এটি অনুগামী হয় … তার 'মানউত' (বিশেষ্য)-এর, একইসাথে নির্দিষ্টতা ও অনির্দিষ্টতার ক্ষেত্রেও।

এর উদাহরণ: "সুসাহিত্যিক জায়েদ এসেছে" … এবং "আমি মহাজ্ঞানী ও মহানুভব মুস্তফাকে দেখেছি"।

আপনি উদার ও বুদ্ধিমান আমরের পাশ দিয়ে গমন করুন … এবং কোনো এক অভাবী ও সাহায্যপ্রার্থী বৃদ্ধের প্রতি সদয় হোন।

বিশেষ্যের একটি প্রকার হলো যাকে 'মারিফাহ' বা নির্দিষ্ট বিশেষ্য বলা হয় … আপনার অবগতির জন্য তা বিস্তারিতভাবে উপস্থাপিত হলো।

যেমন সর্বনাম (তুমি ও সে) এবং নামবাচক বিশেষ্য … জায়েদ ও মক্কা এবং অস্পষ্ট বা নির্দেশক বিশেষ্যসমূহ।

'হাযা', 'হাযিহি' ও 'হাউলায়ি' … তদ্রূপ যা এই নামগুলোর দিকে সম্বন্ধযুক্ত (ইদাফাত) করা হয়।

তেমনিভাবে 'আল' দ্বারা নির্দিষ্টকৃত বিশেষ্য যা ভাষাবিদগণ বর্ণনা করেছেন … আর ষষ্ঠটি হলো 'মাওসুল' (সংযোজক বিশেষ্য), যা উপেক্ষা করা সমীচীন নয়।

আপনি বলবেন, "সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ এবং রাসূল" … তিনিই সেই সত্তা যিনি বান্দাদের গন্তব্যে পৌঁছানোর পথ দেখান।

আর প্রতিটি ব্যাপক অর্থবোধক সাধারণ নামই হলো 'নাকিরাহ' বা অনির্দিষ্ট … আর যা কিছু 'আল' গ্রহণ করার যোগ্যতা রাখে, যেমন 'নিমরাহ' (একটি চিতাবাঘ)।
(খণ্ড: ১) আল-লুলুউল মানজূম ফী নাজমি মানসূরি ইবনি আজরুম (পৃষ্ঠা: ৪৬)
‌‌بَابُ الْعَطْفِ

الْعَطْفُ تَابِعٌ لِمَا قَدْ عُطِفَا … عَلَيْهِ هَبْهُ ثَابِتًا أَوْ حُذِفَا

بِالْوَاوِ وَالْفَاءِ وَثُمَّ وَبِأَوْ … وَأَمْ وَإِمَّا بَلْ وَلَكِنْ لَا رَوَوْا

وَحَتَّى بَعْضُ الشَّيْءِ يَأْتِي عَطْفُهَا … نَحْوُ أَكَلْتُ الشَّاةَ حَتَّى رَأْسَهَا

وَعَطْفُكَ الْفِعْلَ عَلَى الْفِعْلِ أَتَى … عِنْدَ النُّحَاةِ دُونَ خُلْفٍ ثَبَتَا

تَقُولُ زَيْدٌ وَسَعِيدٌ فِي مِنَى … وَقَدْ رَأَيْتُ الشَّيْخَ وَالطِّفْلَ هُنَا

وَالصِّدْقُ فِي قَوْلٍ وَفِعْلٍ جَيِّدُ … وَقَامَ عَمْرٌو وَأَتَى مُحَمَّدُ

وَاعْطِفْ عَلَى الْمَجْزُومِ مَجْزُومًا كَلَمْ … يَقْرَأْ وَلَمْ يَكْتُبْ سَعِيدٌ بِالْقَلَمْ

وَاعْطِفْ عَلَى الظَّاهِرِ بِالضَّمِيرِ … وَعَكْسُهُ جَازَ بِدُونِ ضَيْرِ

 

‌‌بَابُ التَّوْكِيدِ

تَوْكِيدُنَا اللَّفْظِيُّ تِكْرَارُ الْكَلَامْ … فِي الِاسْمِ وَالْفِعْلِ وَفِي الْحَرْفِ يُرَامْ

وَالْمَعْنَوِيُّ وَهُوَ بِالذَّاتِ وُصِفْ … لِرَفْعِهِ لِلِاحْتِمَالِ الْمُكْتَنِفْ

وَهْوَ الَّذِي بِالنَّفْسِ وَالْعَيْنِ انْتَمَى … كَجَاءَ زَيْدٌ نَفْسُهُ فَغَنِمَا

وَكُلٌّ أَجْمَعُ تَوَابِعٌ لَهَا … أَكْتَعُ أَبْصَعُ إِحَاطَةٌ بِهَا

وَكُلُّ مَا اسْتَحَقَّهُ الْأَوَّلُ مِنْ … إِعْرَابٍ أَوْ تَعْرِيفٍ لِلثَّانِي قَمِنْ

فَارْفَعْهُ إِنْ رُفِعْ وَانْصِبْهُ إِذَا … نُصِبَ وَاجْرُرْهُ بِجَرٍّ يُحْتَذَى

كَوَصَلَ الْحُجَّاجُ كُلُّهُمْ مِنَى … وَذَبَحُوا الْهَدَايَا كُلَّهَا هُنَا

وَامْرُرْ بِزَيْدٍ نَفْسِهِ وَعَظِّمَا … حَمَلَةَ الْقُرْآنِ كُلَّهُمْ لِمَا
‌‌সংযোজন পরিচ্ছেদ

সংযোজন হলো তার অনুগামী যা তার সাথে যুক্ত হয়েছে … সেটি বিদ্যমান থাক কিংবা বিলুপ্ত, তাকে স্থির বলে ধরে নাও।

ওয়াও, ফা, ছুম্মা এবং আও-এর মাধ্যমে … এবং আম, ইম্মা, বাল, লাকিন ও লা — তারা বর্ণনা করেছেন।

এমনকি কোনো বিষয়ের অংশবিশেষের ক্ষেত্রে 'হাত্তা'-এর সংযোজন ঘটে … যেমন: 'আমি ছাগলটি খেয়েছি এমনকি তার মাথাটিও'।

ক্রিয়ার সাথে ক্রিয়ার সংযোজন ব্যাকরণবিদদের নিকট … কোনো মতভেদ ছাড়াই সাব্যস্ত হয়েছে।

তুমি বলবে: 'জায়েদ ও সাঈদ মিনায় রয়েছে' … এবং 'আমি এখানে শায়খ ও শিশুকে দেখেছি'।

কথায় ও কাজে সত্যবাদিতা উত্তম … আর 'আমর দাঁড়িয়েছে এবং মুহাম্মদ এসেছে'।

জজমযুক্ত শব্দের সাথে জজমযুক্ত শব্দের সংযোজন করো, যেমন সাঈদ কলম দিয়ে … 'পড়েনি এবং লেখেনি'।

প্রকাশ্য বিশেষ্যের সাথে সর্বনামের সংযোজন করো … আর এর বিপরীতটিও কোনো সংশয় ছাড়াই বৈধ।

 

‌‌দৃঢ়তা প্রদান পরিচ্ছেদ

আমাদের শাব্দিক দৃঢ়তা প্রদান হলো শব্দের পুনরাবৃত্তি … যা বিশেষ্য, ক্রিয়া ও অব্যয়ের ক্ষেত্রে কাম্য।

আর অর্থগত দৃঢ়তা প্রদান যা মূলত সত্তার গুণ হিসেবে বর্ণিত হয় … পারিপার্শ্বিক অস্পষ্টতা দূর করার জন্য।

এটি সেই বিষয় যা 'নাফস' ও 'আইন' শব্দের সাথে সম্পৃক্ত … যেমন: 'জায়েদ নিজেই এসেছে এবং সে সফল হয়েছে'।

'কুল্লুন' ও 'আজমায়ু' এবং এগুলোর অনুগামী শব্দসমূহ … যেমন 'আকতাউ' ও 'আবসাউ' ব্যাপকতা বুঝাতে ব্যবহৃত হয়।

প্রথম শব্দটি বিভক্তি বা নির্দিষ্টকরণের যে মর্যাদা লাভ করে … দ্বিতীয় শব্দটির জন্যও তা যুক্তিযুক্ত।

অতএব প্রথমটি পেশযুক্ত হলে এটিকেও পেশ দাও, যদি … জবরযুক্ত হয় তবে জবর দাও এবং জেরের ক্ষেত্রে জের প্রদান করো।

যেমন: 'হাজিরা সকলে মিনায় পৌঁছেছে' … এবং 'তারা কুরবানির পশুগুলোকে এখানেই জবাই করেছে'।

আর তুমি 'জায়েদের পাশ দিয়ে যাও যখন সে নিজেই বিদ্যমান' এবং সম্মান করো … 'কোরআনের ধারক-বাহকদের সকলকে' সেই কারণে।
(খণ্ড: ১) আল-লুলুউল মানজূম ফী নাজমি মানসূরি ইবনি আজরুম (পৃষ্ঠা: ৪৭)
‌‌بَابُ الْبَدَلِ

إِنْ أُبْدِلَ الِاسْمُ مِنَ الِاسْمِ فَحَلْ … مَحَلَّهُ وَجَازَ فِي الْفِعْلِ الْبَدَلْ

فَاحْكُمْ لَهُ بِمَا حَكَمْتَ أَو لَا … لِمُبْدَلٍ مِنْهُ فِي الْإِعْرَابِ جَلَا

وَهْوَ إِلَى أَرْبَعَةٍ قَدْ قُسِمَا … فَبَدَلَ الشَّيْءِ مِنَ الشَّيْءِ انْتَمَا

لِبَدَلِ الْكُلِّ مِنَ الْكُلِّ كَقَامْ … زَيْدٌ أَخُوكَ قَاصِدًا إِلَى الْأَمَامْ

وَبَدَلُ الْبَعْضِ كَقَوْلِكَ أَكَلْ … زَيْدٌ رَغِيفًا نِصْفَهُ فِي ذَا الْمَحَلْ

وَذُو اشْتِمَالٍ رَاقَنِي سَعِيدُ … خُلُقُهُ فَهْوَ بِهِ سَعِيدُ

وَجَاءَ زَيْدٌ الْحِمَارُ فِي الْغَلَطْ … وَخُذْ ثِيَابًا دِرْهَمًا بِلَا شَطَطْ

 

‌‌بَابُ الْمَفْعُولِ بِهِ

وَحُكْمُ مَفْعُولٍ بِهِ النَّصْبُ فَلَا … مُنَازِعٌ فِي نَصْبِهِ مِنَ الْمَلَا

مِثَالُهُ رَمَيْتُ زَيْدًا بِالْحَصَى … وَخَالِدًا ضَرَبْتُهُ لَمَّا عَصَى

وَالْأَصْلُ أَنْ يَكُونَ بَعْدَ الْفَاعِلِ … وَقَدْ يُقَدَّمُ بِحُكْمٍ عَادِلِ

وَإِنْ خَشِيْتَ اللَّبْسَ فَابْقِ الْأَوْلَى … فِي نَحْوِ قَدْ كَلَّمَ مُوسَى يَعْلَى

وَهْوَ عَلَى قِسْمَيْنِ فَالظَّاهِرُ مَا … تَقَدَّمَ الذِّكْرُ لَهُ فَلْتَعْلَمَا

وَمُضْمَرٌ وَهْوَ عَلَى قِسْمَيْنِ … مُتَّصِلٌ كَبِعْتُهُ بِالدَّيْنِ

وَمِثْلُ مَا انْفَصَلَ إِيَّاكَ أَتَى … زَيْدٌ وَإِيَّاهُ ضَرَبْتَ يَا فَتَى

 

‌‌بَابُ الْمَصْدَرِ

الْمَصْدَرُ الِاسْمُ الَّذِي يُثَلَّثُ … أَبْنِيَةَ الْفِعْلِ إِذَا مَا نَنْفُثُ
‌‌বদল (بدل) অধ্যায়

যদি কোনো বিশেষ্য (اسم) অন্য বিশেষ্যের স্থলাভিষিক্ত হয়, তবে সে তার স্থলাভিষিক্ত হবে … এবং ক্রিয়ার (فعل) ক্ষেত্রেও স্থলাভিষিক্ত হওয়া (بدل) বৈধ।

সুতরাং তার জন্য সেই বিধানই নির্ধারণ করো যা তুমি ইতিপূর্বে নির্ধারণ করেছ … যার স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে (مبدل منه) তার জন্য, যা ই’রাবের (إعراب) ক্ষেত্রে সুস্পষ্ট হয়েছে।

এটি চার ভাগে বিভক্ত; … এক বস্তু অন্য বস্তুর স্থলাভিষিক্ত হওয়া (بدل الشيء من الشيء) সেটিরই অন্তর্ভুক্ত।

যাকে পূর্ণের বদলে পূর্ণ (بدل الكل من الكل) বলা হয়, যেমন: 'জায়িদ তোমার ভাই সামনে যাওয়ার উদ্দেশ্যে … দণ্ডায়মান হয়েছে'।

এবং আংশিক স্থলাভিষিক্ত (بدل البعض), যেমন তোমার উক্তি: এই স্থানে 'জায়িদ … একটি রুটির অর্ধেক খেয়েছে'।

আর গুণবাচক স্থলাভিষিক্ত (بدل الاشتمাল); সাঈদের চরিত্র আমাকে মুগ্ধ করেছে, … ফলে সে তার মাধ্যমেই সৌভাগ্যবান।

এবং ভুলবশত স্থলাভিষিক্ত (بدل الغلط)-এর ক্ষেত্রে 'জায়িদ তথা গাধাটি এসেছে'; … আর 'তুমি কোনো বাড়াবাড়ি ছাড়াই কাপড় তথা দিরহাম গ্রহণ করো'।

 

‌‌কর্মপদ (مفعول به) অধ্যায়

কর্মপদের (مفعول به) বিধান হলো নসব (نصب) হওয়া, … সুতরাং সুধীজনদের মাঝে এর নসব হওয়ার ব্যাপারে কোনো দ্বিমত নেই।

এর উদাহরণ: 'আমি জায়িদকে কঙ্কর নিক্ষেপ করেছি' … এবং 'খালিদ অবাধ্য হওয়ায় আমি তাকে প্রহার করেছি'।

আর মূল নিয়ম হলো এটি কর্তার (فاعل) পরে আসবে, … তবে ন্যায়সংগত কারণে কখনও কখনও এটি অগ্রেও আসতে পারে।

আর যদি তুমি বিভ্রান্তির (اللبس) আশঙ্কা করো, তবে পূর্বের নিয়মই বহাল রাখো; … যেমন: 'মুসা ইয়া’লার সাথে কথা বলেছে' বাক্যের ন্যায়।

এটি দুই প্রকার; প্রকাশ্য (ظاهر) হলো সেটি যার আলোচনা … ইতিপূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে, সুতরাং তুমি তা জেনে নাও।

এবং সর্বনাম (مضمر), যা আবার দুই প্রকার; … সংযুক্ত (متصل), যেমন: 'আমি তা ঋণে বিক্রয় করেছি'।

আর বিযুক্তের (منفصل) উদাহরণ হলো: 'হে যুবক, জায়িদ কেবল তোমার কাছেই … এসেছে এবং আমি কেবল তাকেই প্রহার করেছি'।

 

‌‌মাসদার (مصدر) অধ্যায়

মাসদার (مصدر) হলো সেই বিশেষ্য (اسم) যা তৃতীয় স্থান লাভ করে … ক্রিয়ার (فعل) রূপান্তরের সময়, যখন আমরা তা উচ্চারণ করি।
(খণ্ড: ১) আল-লুলুউল মানজূম ফী নাজমি মানসূরি ইবনি আজরুম (পৃষ্ঠা: ৪৮)
وَسَمِّهِ الْمُطْلَقَ فِي الْمَفَاعِلِ … وَلَا تَكُنْ عَنْ نَصْبِهِ بِذَاهِلِ

وَقَدْ يَجِيءُ بَعْدَ مَاضٍ مِثْلُ قَدْ … ضَرَبْتُهُ ضَرْبًا شَدِيدًا إِذْ جَحَدْ

وَالْمَصْدَرُ اللَّفْظِيُّ مَا قَدْ وَافَقَا … لِلَفْظِ فِعْلِهِ فَكُنْ مُحَقِّقَا

كَجَلَسَ الشَّيْخُ جُلُوسًا فِي الْأَمَامْ … وَوَقَفَ الطِّفْلُ وُقُوفًا لِلسَّلَامْ

وَالْمَعْنَوِيُّ وَافَقَ الْمَعْنَى كَقَامْ … زَيْدٌ وُقُوفًا عِنْدَ مَنْزِلِ الْإِمَامْ

 

‌‌بَابُ الظَّرْفِ

لِلظَّرْفِ مَعْنَى فِي إِذَا مَا نُصِبَا … كَقَامَ زَيْدٌ لَيْلَةً مُحْتَسِبَا

وَاعْزُ إِلَى الزَّمَانِ مَا لَهُ بَدَا … كَغُدْوَةً وَبُكْرَةً وَكَغَدَا

وَالْيَوْمَ وَالْمَسَاءَ صُبْحًا أَمَدَا … وَسَحَرًا عَتَمَةً وَأَبَدَا

كَصُمْتُ شَهْرَ رَمَضَانَ كُلَّهُ … وَقُمْتُ لَيْلَهُ فَنِلْتُ فَضْلَهُ

وَهَكَذَا ظَرْفُ الْمَكَانِ الْمُبْهَمِ … وَنَوْعُهُ إِلَى الْجِهَاتِ يَنْتَمِي

فَوْقَ وَتَحْتَ وَوَرَاءَ وَأَمَامْ … كَذَا يَمِينَ وَشِمَالَ يَا هُمَامْ

تِجَاهَ تِلْقَاءَ وَخَلْفَ قُدَّامْ … حِذَاءَ مَعْ إِزَاءَ أَسْفَلَ الْمَقَامْ

تَقُولُ قَدْ صَعِدْتُ فَوْقَ الْمِنْبَرِ … وَجَلَسَ الْأَمِيرُ تَحْتَ الشَّجَرِ

 

‌‌بَابُ الْحَالِ

الْحَالُ فِي جَوَابِ كَيْفَ يَصْلُحُ … إِنْ قُلْتَ كَيْفَ جَاءَ يَوْمًا صَالِحُ

أَعْنِي مُفَسِّرًا لِهَيْئَةٍ أَتَى … وَصْفًا وَفَضْلَةً كَمَا قَدْ ثَبَتَا
মাফউলসমূহের মধ্যে একে মুতলাক (المطلق) নামে অভিহিত করো … এবং এর নাসব (যবর) হওয়া সম্পর্কে উদাসীন হয়ো না।

এটি কখনো ‘কাদ’ এর ন্যায় মাজি (অতীতকাল)-এর পরেও আসে … যেমন: ‘আমি তাকে কঠোরভাবে প্রহার করেছি যখন সে অস্বীকার করল’।

শব্দগত মাসদার তা-ই যা তার ক্রিয়ার শব্দের সাথে মিল রাখে … সুতরাং এ বিষয়ে তুমি সঠিক জ্ঞান অর্জন করো।

যেমন: ‘শায়খ সামনে বসলেন’ … এবং ‘শিশু সালামের জন্য দাঁড়াল’।

আর অর্থগত মাসদার তা-ই যা অর্থের সাথে মিল রাখে; যেমন: ‘যায়েদ ইমামের ঘরের নিকট দাঁড়িয়েছিল’।

 

‌‌যরফ (ক্রিয়ার আধার) অধ্যায়

যরফ যখন মানসুব হয় তখন তা ‘ফী’ (মধ্যে)-এর অর্থ প্রদান করে … যেমন: ‘যায়েদ সওয়াবের আশায় একরাত ইবাদতে দাঁড়িয়েছিল’।

আর সময়ের দিকে তাকেই সম্বন্ধ করো যা স্পষ্ট হয়েছে … যেমন: অতি প্রত্যুষ, সকাল এবং আগামীকাল।

দিন, সন্ধ্যা, সকাল এবং দীর্ঘ সময় … এবং শেষরাত, রাতের অন্ধকার ও অনন্তকাল।

যেমন: ‘আমি পুরো রমজান মাস রোজা রেখেছি … এবং এর রাতে ইবাদতে দাঁড়িয়েছি, ফলে আমি এর ফজিলত লাভ করেছি’।

একইভাবে অনির্দিষ্ট (المبهم) স্থানবাচক যরফ … এবং এর প্রকারগুলো দিকসমূহের অন্তর্ভুক্ত।

উপরে, নিচে, পিছনে এবং সামনে … একইভাবে ডানে ও বামে, হে বীরপুরুষ!

সম্মুখে, বিপরীতে, পিছনে, সামনে … নিকটে, সমান্তরালে এবং নিচু স্থানে।

তুমি বলবে: ‘আমি মিম্বরের উপরে আরোহণ করেছি’ … এবং ‘আমির গাছের নিচে বসেছেন’।

 

‌‌হাল (অবস্থা) অধ্যায়

‘কেমন’ প্রশ্নের উত্তরে ‘হাল’ বা অবস্থা হওয়া সমীচীন … যদি তুমি বলো: ‘সালিহ সেদিন কীভাবে এসেছিল?’

অর্থাৎ যা অবস্থার ব্যাখ্যাকারী হিসেবে আসে … যা গুণবাচক এবং অতিরিক্ত অংশ হিসেবে প্রমাণিত।
(খণ্ড: ১) আল-লুলুউল মানজূম ফী নাজমি মানসূরি ইবনি আজরুম (পৃষ্ঠা: ৪৯)
وَذَا اشْتِقَاقٍ وَانْتِقَالٍ عَمَّا … مُنَكَّرًا بَعْدَ كَلَامٍ تَمَّا

وَأَوَّلُ التَّنْكِيرِ إِنْ لَفْظٌ طَرَقْ … وَصَاحِبُ الْحَالِ بِتَعْرِيفٍ أَحَقْ

 

‌‌بَابُ التَّمْيِيزِ

اِسْمٌ مُفَسِّرٌ لِمَا قَدِ انْبَهَمْ … مِنَ الذَّوَاتِ فَهْوَ تَمْيِيزٌ أَتَمْ

أَوْجِبْ لَهُ النَّصْبَ وَنَكِّرْ مُطْلَقًا … نَحْوَ تَصَبَّبَ الْغُلَامُ عَرَقَا

وَطِبْتُ نَفْسًا عِنْدَمَا اشْتَرَيْتُ … عِشْرِينَ نَعْجَةً بِهَا ضَحَّيْتُ

وَزَيْدٌ أَكْرَمُ مِنَ النَّاسِ أَبَا … وَخَالِدٌ أَعْظَمُ مِنْهُمْ مَنْصِبَا

 

‌‌بَابُ الِاسْتِثْنَاءِ

حُرُوفُ الِاسْتِثْنَاءِ جَاءَتْ فِي الْعَدَدْ … إِلَّا وَغَيْرَ وَسَوَاءَ وَبَعُدْ

مِنْهَا سِوَى سُوَى حَشَى خَلَا عَدَا … تَقُولُ جَاءَ الْقَوْمُ إِلَّا أَحْمَدَا

وَهَكَذَا تَنْصِبُ إِلَّا حَيْثُمَا … تَمَّ الْكَلَامُ مُوجَبًا فَلْتَعْلَمَا

وَإِنْ يَكُنْ تَمَّ بِدُونِ مُوجَبِ … فَابْدِلْ أَوِ انْصِبْ يَا سَلِيلَ الْعَرَبِ

نَحْوُ مَا قَامَ الْقَوْمُ إِلَّا أَحْمَدُ … أَوْ أَحْمَدَ وَالرَّفْعُ طَبْعًا أَجْوَدُ

وَإِنْ يَكُنْ نَقْصٌ وَنَفْيٌ وُجِدَا … فَاجْرِ عَلَى الْعَامِلِ حَيْثُ أُسْنِدَا

نَحْوُ مَا قَامَ إِلَّا زَيْدٌ يَخْطُبُ … وَمَا رَأَيْتُ إِلَّا عَمْرًا يَكْتُبُ

مُسْتَثْنَى غَيْرٍ وَتَوَالِيهَا يُجَرْ … وَحُكْمُ عَجْزِهَا كَمُسْتَثْنَى غَبَرْ

بِدُونِ مَا خَلَا عَدَا حَشَا فَجُرْ … وَبَعْدَمَا انْصِبْ وَانْجِرَارٌ لَا يَضُرْ
এবং এটি (হাল) বুৎপন্ন ও পরিবর্তনশীল বিষয় থেকে গৃহীত... যা বাক্য পূর্ণ হওয়ার পর অনির্দিষ্ট (منكرا) হিসেবে আসে।

শব্দটি উপস্থিত হলে প্রাথমিকভাবে তা অনির্দিষ্ট (التنكير) হয়... আর অবস্থার অধিকারী (صاحب الحال) নির্দিষ্ট (بتعريف) হওয়ার অধিক যোগ্য।

 

‌‌বিশেষায়ন (التمييز) পরিচ্ছেদ

এটি এমন এক বিশেষ্য যা সত্তা বা বস্তুর অস্পষ্টতাকে ব্যাখ্যা করে... আর তাই এটি একটি পূর্ণাঙ্গ বিশেষায়ন (تمييز)।

একে সর্বদা নাসব বা নসবযুক্ত (النصب) করা আবশ্যক করো এবং অনির্দিষ্ট (نكر) রাখো... যেমন: ‘বালকটির ঘাম (عرقا) ঝরছে’।

এবং ‘আমি মনে (نفسا) প্রশান্তি পেলাম’ যখন আমি ক্রয় করলাম... বিশটি ভেড়ি যা আমি কোরবানি দিয়েছি।

এবং ‘জায়েদ লোকজনের মধ্যে পিতৃপরিচয়ে (أبا) অধিক সম্মানিত’... এবং ‘খালেদ তাদের মধ্যে পদমর্যাদায় (منصبا) অধিক মহান’।

 

‌‌ব্যতিক্রম (الاستثناء) পরিচ্ছেদ

ব্যতিক্রমের অব্যয়সমূহ (حروف الاستثناء) সংখ্যায় এসেছে... ইল্লা (إلا), গায়রা (غير), সাওয়াউন (سواء) এবং এর পরবর্তীগুলো।

সেগুলোর মধ্যে রয়েছে সিওয়া, সুওয়া, হাশা, খালা, আদা... তুমি বলবে: ‘আহমদ ব্যতীত (إلا) কওমের লোক এসেছে’।

এবং এভাবেই তুমি ‘ইল্লা’-র পরবর্তী শব্দকে নাসব বা নসব (تنصب) প্রদান করবে যখন... বাক্যটি পূর্ণ ও ইতিবাচক (موجبا) হবে; বিষয়টি জেনে রেখো।

আর যদি বাক্যটি পূর্ণ কিন্তু ইতিবাচক না (بدون موجب) হয়... তবে হে আরব বংশধর! তুমি বদল বা স্থলাভিষিক্ত (فابدل) করো অথবা নাসব বা নসব (انصب) প্রদান করো।

যেমন: ‘কওমের কেউ দাঁড়ায়নি আহমদ ব্যতীত (إلا أحمدُ)’... অথবা ‘আহমদকে (أحمدَ)’, তবে পেশ বা রফআ (والرفع) প্রদান করাই স্বভাবত উত্তম।

আর যদি বাক্যে অসম্পূর্ণতা ও নেতিবাচকতা পাওয়া যায়... তবে আমিল বা ক্রিয়ার (العامل) চাহিদা অনুযায়ী আমল দাও যার সাথে একে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়েছে।

যেমন: ‘খুতবা প্রদানরত জায়েদ ব্যতীত (إلا زيدٌ) কেউ দাঁড়ায়নি’... এবং ‘লিখনরত আমর ব্যতীত (إلا عمراً) আমি কাউকে দেখিনি’।

‘গায়রা’ (غير) এবং তার অনুগামী শব্দগুলোর পরের মুস্তাসনা বা ব্যতিক্রমী বিশেষ্যটি (مستثنى) জের বা জর (يجر) যুক্ত হবে... আর সেগুলোর শেষাংশের বিধান পূর্ববর্তী মুস্তাসনা (مستثنى) এর বিধানের মতোই।

‘মা’ (ما) বিহীন ‘খালা’, ‘আদা’ ও ‘হাশা’-র পরে জর বা জের (فجر) প্রদান করো... আর ‘মা’-র পরে নাসব বা নসব (انصب) দাও, তবে জর (وانجرار) প্রদান করাও ক্ষতিকর নয়।
(খণ্ড: ১) আল-লুলুউল মানজূম ফী নাজমি মানসূরি ইবনি আজরুম (পৃষ্ঠা: ৫০)
‌‌بَابُ لَا الَّتِي لِنَفْيِ الْجِنْسِ

وَلَا الَّتِي لِنَفْيِ حُكْمِ الْجِنْسِ … كَإِنَّ فِي الْعَمَلِ دُونَ لُبْسِ

إِنَّ بَاشَرَتْ وَلَمْ تُكَرِّرْ نَحْوُ لَا … رَجُلَ فِي الدَّارِ بِفَتْحٍ يُجْتَلَى

وَارْفَعْ وَكَرِّرْ لَا إِذَا مَا فُقِدَا … شَرْطٌ تَقَدَّمَ لِفَتْحٍ عُهِدَا

تَقُولُ لَا فِي الدَّارِ مَرْأَةٌ وَلَا … طِفْلٌ وَإِنْ عَرَّفْتَ فَاجْرِ الْمَثَلَا

وَإِنْ تَكُنْ قَدْ بَاشَرَتْ وَكُرِّرَتْ … فَخَمْسَةُ الْأَحْوَالِ فِيهَا قُرِّرَتْ

ثَلَاثَةٌ مَعْ فَتْحِ أُوْلَى قَدْ أَتَتْ … وَاثْنَانِ مَعَ رَفْعٍ لَهَا قَدْ ثَبَتَتْ

تَقُولُ إِنْ حَوْلَقْتَ لَا حَوْلَ وَلَا … قُوَّةَ إِلَّا بِالْإِلَهِ ذِي الْعُلَا

وَحَيْثُمَا الْأَوَّلُ قَدْ رُفِعَ لَا … يَجُوزُ نَصْبُ الثَّانِي يَا مَنْ عَقَلَا

 

‌‌بَابُ الْمُنَادَى

خَمْسَةُ أَحْرُفٍ بِهَا تُنَادِيَا … هَيَا وَهَمْزَةٌ وَأَيْ وَبِأَيَا

فَالْمُفْرَدُ الْعَلَمُ ضُمَّ فِي النِّدَا … كَذَا الْمُنَكَّرَ إِذَا مَا قُصِدَا

وَانْصِبْ إِذَا لَمْ يُقْصَدِ الْمُنَكَّرَا … كَذَا الْمُضَافُ وَالشَّبِيهُ لَا مِرَا

تَقُولُ يَا زَيْدُ وَيَا رَجُلُ يَا … عَبْدَ الْإِلَهِ يَا فَقِيرًا عَارِيَا

وَيَا لَطِيفًا بِالْعِبَادِ الْطُفْ بِنَا … وَالْطُفْ بِكُلِّ مُسْلِمٍ يَا رَبَّنَا
‌‌পরিচ্ছেদ: জাতিবাচক অস্বীকারকারী (نفي الجنس) ‘লা’

আর সেই ‘লা’ (لا) যা জাতির হুকুমকে অস্বীকার করার জন্য আসে … তা কোনো অস্পষ্টতা ছাড়াই আমল বা কার্যকারিতার ক্ষেত্রে ‘ইন্না’ (إن) এর মতো।

যদি তা সরাসরি (باشرت) বিশেষ্যের সাথে যুক্ত হয় এবং তার পুনরুক্তি (تكرر) না ঘটে, তবে যেমন: ‘ঘরে কোনো পুরুষ নেই’ (لا رجل في الدار), এখানে শব্দটি জবর (فتح) সহকারে সুস্পষ্ট হবে।

আর পেশ (رفع) প্রদান করো এবং ‘লা’ এর পুনরুক্তি করো যখন সেই শর্তটি অনুপস্থিত থাকবে, যা ইতিপূর্বে জবর (فتح) হওয়ার জন্য নির্ধারিত ছিল।

তুমি বলবে: ‘ঘরে কোনো নারী নেই এবং কোনো শিশুও নেই’ (لا في الدار امرأة ولا طفل), আর যদি তুমি বিশেষ্যটিকে নির্দিষ্ট (معرفة) করো, তবে এই একই উদাহরণ অনুসরণ করো।

আর যদি তা সরাসরি বিশেষ্যের সাথে যুক্ত হয় এবং তার পুনরুক্তি (تكرر) ঘটে, তবে সেক্ষেত্রে পাঁচটি অবস্থা নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রথমটির জবর (فتح) হওয়ার সাথে তিনটি অবস্থা হতে পারে, আর পেশ (رفع) হওয়ার সাথে দুটি অবস্থা সাব্যস্ত হয়েছে।

হাওকালা (حوقلة) পাঠের সময় তুমি বলো: ‘আল্লাহ ছাড়া কোনো ক্ষমতা ও কোনো শক্তি নেই’ (لا حول ولا قوة إلا بالله), যিনি সুউচ্চ।

আর যেখানেই প্রথমটি পেশ (رفع) করা হবে, সেখানে হে বুদ্ধিমান! দ্বিতীয়টিকে জবর (نصب) দেওয়া বৈধ নয়।

 

‌‌পরিচ্ছেদ: সম্বোধন (المنادى)

পাঁচটি হরফ বা বর্ণের মাধ্যমে তুমি সম্বোধন করবে … ‘হায়া’ (هيا), ‘হামযাহ’ (همزة), ‘আই’ (أي) এবং ‘আয়া’ (أيا) দ্বারা [সাথে ‘ইয়া’ (يا)]।

সম্বোধনের ক্ষেত্রে একক নামবাচক (المفرد العلم) শব্দকে পেশ (ضم) প্রদান করো … তদ্রূপ অনির্দিষ্ট (منكر) শব্দকেও, যখন তা সুনির্দিষ্টভাবে উদ্দেশ্য (مقصودة) হয়।

আর যখন অনির্দিষ্ট (منكر) শব্দটি সুনির্দিষ্টভাবে উদ্দেশ্য না হয়, তখন তাকে জবর (نصب) প্রদান করো … তদ্রূপ সম্বন্ধযুক্ত (مضاف) এবং সম্বন্ধযুক্তের সদৃশ (شبيه بالمضاف) শব্দের ক্ষেত্রেও, এতে কোনো সন্দেহ নেই।

তুমি বলবে: ‘হে যায়েদ’ (يا زيد), ‘হে পুরুষ’ (يا رجل), ‘হে আল্লাহর বান্দা’ (يا عبد الله), ‘হে নিঃস্ব ও বস্ত্রহীন’ (يا فقيرا عاريا)।

আর ‘হে বান্দাদের প্রতি দয়ালু! আমাদের প্রতি দয়া করুন … আর হে আমাদের রব! প্রত্যেক মুসলমানের প্রতি দয়া করুন’।
(খণ্ড: ১) আল-লুলুউল মানজূম ফী নাজমি মানসূরি ইবনি আজরুম (পৃষ্ঠা: ৫১)
‌‌بَابُ الْمَفْعُولِ مِنْ أَجْلِهِ

الِاسْمُ إِنْ جَاءَ بَيَانًا لِسَبَبْ … وُقُوعِ فِعْلٍ أَوْ لِعِلَّةٍ نُسِبْ

فَانْصِبْهُ بِالْمَفْعُولِ مِنْ أَجْلِهِ أَوْ … سَمِّهِ مَفْعُولًا لَهُ كَمَا رَوَوْا

كَقُمْتُ إِجْلَالًا لِقَوْمٍ بَرَرَهْ … وَحَذَرَ الْمَوْتِ أَتَى فِي الْبَقَرَهْ

 

‌‌بَابُ الْمَفْعُولِ مَعَهُ

إِنْ قُرِنَ الْفِعْلُ بِوَاوٍ تَعْنِي مَعْ … فَانْصِبْ بِهِ الِاسْمَ الَّذِي بَعْدُ وَقَعْ

كَجَاءَنَا الْأَمِيرُ وَالْجَيْشَ فَعِ … وَسِيرِي وَالنِّيْلَ إِلَى أَنْ تَقْطَعِي

 

‌‌بَابُ مَخْفُوضَاتِ الْأَسْمَاءِ

بِالْحَرْفِ وَالْإِضَافَةِ اجْرُرْ وَالتَّبَعْ … وَالْكُلُّ فِي بَسْمَلَةِ الذِّكْرِ اجْتَمَعْ

وَمَا يُجَرُّ بِالْحُرُوفِ قَدْ غَبَرْ … وَمِثْلُهُ مَا بِالتَّوَابِعِ يُجَرْ

وَجُحْرُ ضَبٍّ خَرِبٍ قَدْ سُمِعَا … بَعْضُ النُّحَاةِ قَالَهُ فَاتَّبِعَا

وَاللَّامُ أَوْ مِنْ قَدِّرْ فِي الْمُضَافِ … إِلَيْهِ عِنْدَهُمْ بِلَا خِلَافِ

نَحْوُ غُلَامُ رَجُلٍ وَبَابُ سَاجْ … وَخَاتَمُ الذَّهَبِ أَوْ قَصْرُ زُجَاجْ

قَدِ انْتَهَى وَنَسْأَلُ اللَّهَ الْعَظِيمْ … أَنْ يَجْعَلَ الْعَمَلَ لِلْوَجْهِ الْكَرِيمْ

سَنَةَ أَلْفٍ مَعَ أَرْبَعِ مِئِينْ … وَسَبْعَةٍ لِهِجْرَةِ الْهَادِي الْأَمِيْنْ

فِي شَهْرِ مَوْلِدِ النَّبِيِّ الْمُصْطَفَى … صَلَّى عَلَيْهِ رَبُّنَا وَشَرَّفَا
মাফউলে মিন আজলিহি (উদ্দেশ্যবোধক কর্ম) সংক্রান্ত অধ্যায়

যদি কোনো বিশেষ্য ক্রিয়ার সংঘটনের কারণ অথবা কোনো হেতুর ব্যাখ্যা হিসেবে আসে … তবে তাকে সেই ক্রিয়ার সাথে সম্পর্কিত করা হয়।

সুতরাং তাকে ‘মাফউলে মিন আজলিহি’ হিসেবে নসব প্রদান করো অথবা … তাকে ‘মাফউলে লাহু’ হিসেবে অভিহিত করো, যেমনটি ভাষাবিদগণ বর্ণনা (رواية) করেছেন।

যেমন: ‘আমি নেককার কওমের সম্মানে দাঁড়ালাম’ … আর সুরা আল-বাকারায় ‘মৃত্যুর ভয়ে’ কথাটি এসেছে।

 

‌‌মাফউলে মা’আহু (সাথ্যবোধক কর্ম) সংক্রান্ত অধ্যায়

ক্রিয়া যদি এমন ‘ওয়াও’ এর সাথে যুক্ত হয় যা ‘সাথে’ অর্থ প্রকাশ করে … তবে তার পরবর্তীতে আসা বিশেষ্যটিকে নসব প্রদান করো।

যেমন: ‘আমাদের কাছে আমির এবং সেনাবাহিনী (একত্রে) এসেছে’, সুতরাং তুমি এটি অনুধাবন করো … এবং ‘তুমি নীল নদ বরাবর চলো যতক্ষণ না তুমি তা অতিক্রম করো’।

 

‌‌বিশেষ্যের খফদ বা জর (বিভক্তি) সংক্রান্ত অধ্যায়

হরফ, ইযাফত (সম্বন্ধ) এবং তাবে’ (অনুসরণ) এর মাধ্যমে জর প্রদান করো … আর এর সবকটিই জিকিরের (কুরআনের) শুরুতে ‘বিসমিল্লাহ’তে একত্রিত হয়েছে।

হরফের মাধ্যমে যা মাজরুর হয় তা গত হয়েছে … আর অনুরূপভাবে যা তাবে’ এর মাধ্যমে মাজরুর হয় তাও আলোচিত হয়েছে।

আর ‘পরিত্যক্ত গুইসাপের গর্ত’ এর উদাহরণটি লোকমুখে শোনা গেছে … জনৈক ব্যাকরণবিদ এটি বলেছেন, সুতরাং তুমি তা অনুসরণ করো।

তাদের নিকট কোনো দ্বিমত ছাড়াই মুযাফ ইলাইহি-র ক্ষেত্রে … ‘লাম’ অথবা ‘মিন’ হরফকে উহ্য ধরো।

যেমন: ‘ব্যক্তির গোলাম’ এবং ‘সেগুন কাঠের দরজা’ … আর ‘সোনার আংটি’ অথবা ‘কাঁচের প্রাসাদ’।

এটি সমাপ্ত হলো এবং আমরা মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি … যেন তিনি এই আমলকে তাঁর মহান সন্তুষ্টির জন্য কবুল করেন।

এক হাজার চারশত সাত সনে … বিশ্বস্ত (الأمين) হিদায়াতকারী নবীর হিজরত অনুপাতে।

মনোনীত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্মের মাসে … আমাদের প্রতিপালক তাঁর উপর দরুদ ও উচ্চ মর্যাদা বর্ষণ করুন।
(খণ্ড: ১) আল-লুলুউল মানজূম ফী নাজমি মানসূরি ইবনি আজরুম (পৃষ্ঠা: ৫২)
وَالْآلِ وَالصُّحْبِ كَوَاكِبِ الظَّلَامْ … وَالْحَمْدُ لِلَّهِ بِهَا مِسْكُ الْخِتَامْ
এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীগণের (صحب) ওপর (সালাম), যারা অন্ধকারের নক্ষত্ররাজি … আর সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যার মাধ্যমে এর সমাপ্তি হলো সুগন্ধিময়।