(খণ্ড: ১) দাওয়ানুল মুনাউয়িঈনা লি শায়খিল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ - আরদু ওয়া নাকদ (পৃষ্ঠা: -)
دعاوى المناوئين لشيخ الإسلام ابن تيمية - عرض ونقد   (عبد الله بن صالح الغصن)

القسم: العقيدة


الكتاب: دعاوى المناوئين لشيخ الإسلام ابن تيمية - عرض ونقد

المؤلف: د. عبد الله بن صالح بن عبد العزيز الغصن

الناشر: دار ابن الجوزي للنشر والتوزيع، المملكة العربية السعودية

الطبعة: الأولى، 1424 هـ

عدد الصفحات: 661

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহর বিরোধীদের দাবিসমূহ - উপস্থাপন ও পর্যালোচনা   (আব্দুল্লাহ বিন সলিহ আল-গুসন)

বিভাগ: আকিদাহ


বই: শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহর বিরোধীদের দাবিসমূহ - উপস্থাপন ও পর্যালোচনা

লেখক: ড. আব্দুল্লাহ বিন সলিহ বিন আব্দুল আজিজ আল-গুসন

প্রকাশক: দার ইবনুল জাওযি প্রকাশনী ও পরিবেশনী, সৌদি আরব রাজ্য

সংস্করণ: প্রথম, ১৪২৪ হিজরি

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৬৬১

[বইটির পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) দাওয়ানুল মুনাউয়িঈনা লি শায়খিল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ - আরদু ওয়া নাকদ (পৃষ্ঠা: -)
دعاوى المناوئين لشيخ الإسلام ابن تيمية

عرض ونقد

 

تأليف

د. عبد الله بن صالح بن عبد العزيز الغصن
শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহর বিরোধীদের অভিযোগসমূহ

উপস্থাপন ও পর্যালোচনা

 

রচনায়

ড. আব্দুল্লাহ বিন সালিহ বিন আব্দুল আজিজ আল-গুসন
(খণ্ড: ১) দাওয়ানুল মুনাউয়িঈনা লি শায়খিল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ - আরদু ওয়া নাকদ (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌المقدمة

إن الحمد لله نحمده، ونستعينه، ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا، ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له.

وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله.

{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ} [آل عمران: 102] .

{يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالاً كَثِيراً وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيباً} [النساء: 1] .

{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلاً سَدِيداً * يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزاً عَظِيماً} [الأحزاب: 70 -71] .

أما بعد (1) :

--------------------------------------------

(1) هذه خطبة الحاجة التي كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يعلمها أصحابه أن يفتتحوا بها أكثر أمورهم، وقد أخرج حديث خطبة الحاجة: النسائي في سننه، كتاب النكاح، باب ما يستحب من الكلام عند النكاح (6/86) ، وأبو داود في سننه، كتاب النكاح، باب في خطبة النكاح (2/238) ، وابن ماجه في سننه، كتاب النكاح، باب في خطبة النكاح، حديث 1892 (1/609) ، وأحمد في مسنده (1/392 - 393، 432) من حديث عبد الله بن مسعود رضي الله عنه، والحاكم في المستدرك، كتاب النكاح (2/182 -183) ، وقد توسع الشيخ الألباني في تخريج هذا الحديث في رسالته: (خطبة الحاجة) . وصححه، انظر: صحيح سنن الترمذي له 1/321.
ভূমিকা

নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য; আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁর কাছেই সাহায্য চাই এবং তাঁর কাছেই ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করি। আল্লাহ যাকে হেদায়েত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ প্রদর্শনকারী কেউ নেই।

আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া সত্য কোনো মাবুদ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও রাসুল।

{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।} [আল-ইমরান: ১০২] ।

{হে মানুষ! তোমরা তোমাদের সেই রবের তাকওয়া অবলম্বন করো যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন, আর তাদের উভয় থেকে বহু পুরুষ ও নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর তোমরা আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন করো, যাঁর নামে তোমরা একে অপরের কাছে সাহায্য চাও এবং রক্ত-সম্পর্কীয় আত্মীয়তা (ছিন্ন করা) থেকে সতর্ক থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর পর্যবেক্ষক।} [আন-নিসা: ১] ।

{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহা সফলতা অর্জন করল।} [আল-আহজাব: ৭০-৭১] ।

অতঃপর (১) :

--------------------------------------------

(১) এটি হলো 'খুতবাতুল হাজাহ' (প্রয়োজনের খুতবা), যা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবীদের শিক্ষা দিতেন যেন তাঁরা তাঁদের অধিকাংশ গুরুত্বপূর্ণ কাজ এর মাধ্যমে শুরু করেন। খুতবাতুল হাজাহর হাদিসটি বর্ণনা করেছেন: নাসায়ি তাঁর সুনানে, কিতাবুন নিকাহ, বিবাহকালীন পঠিতব্য কথা সম্পর্কিত পরিচ্ছেদ (৬/৮৬); আবু দাউদ তাঁর সুনানে, কিতাবুন নিকাহ, বিয়ের খুতবা সম্পর্কিত পরিচ্ছেদ (২/২৩৮); ইবনে মাজাহ তাঁর সুনানে, কিতাবুন নিকাহ, বিয়ের খুতবা সম্পর্কিত পরিচ্ছেদ, হাদিস ১৮৯২ (১/৬০৯); আহমাদ তাঁর মুসনাদে (১/৩৯২-৩৯৩, ৪৩২) আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে; এবং হাকেম আল-মুস্তাদরাকে, কিতাবুন নিকাহ (২/১৮২-১৮৩)। শায়খ আলবানি তাঁর 'খুতবাতুল হাজাহ' নামক পুস্তিকায় এই হাদিসের তাহরিজ (সূত্র বিশ্লেষণ) বিস্তারিতভাবে করেছেন এবং একে সহিহ বলেছেন। দেখুন: সহিহ সুনানিত তিরমিজি ১/৩২১।
(খণ্ড: ১) দাওয়ানুল মুনাউয়িঈনা লি শায়খিল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ - আরদু ওয়া নাকদ (পৃষ্ঠা: ৬)
فإن من أعظم منن الله سبحانه وتعالى على عباده أن بعث فيهم رسلاً مبشرين ومنذرين، لئلا يكون للناس على الله حجة بعد الرسل، وهداهم إلى صراطه المستقيم.

ولقد بين الله عز وجل هذه المنة بقوله: {لَقَدْ مَنَّ اللَّهُ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ إِذْ بَعَثَ فِيهِمْ رَسُولاً مِنْ أَنْفُسِهِمْ يَتْلُو عَلَيْهِمْ آيَاتِهِ وَيُزَكِّيهِمْ وَيُعَلِّمُهُمُ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ وَإِنْ كَانُوا مِنْ قَبْلُ لَفِي ضَلالٍ مُبِينٍ) } [آل عمران: 164] .

وقد بقيت الأمة فترة من الزمن على الجادة السوية، والسيرة المرضية، تعتمد - بمجموعها - على المصدرين الأساسيين: الكتاب والسنة، وتَعُبُّ من منهلهما الروي.

ثم جاء على الأمة الزمن الذي تقاذفت فيه بها الأهواء والبدع، فابتعد فئام عن ذلك المنهل، وبدأ يدب في جسم الأمة الضعف والمهانة، وذلك وفق ما أخبر به الصادق المصدوق صلى الله عليه وسلم من افتراق الأمة، كما افترقت اليهود والنصارى، حتى جاء زمان على الأمة كانت سوق البدعة فيه رائجة، وكاد ينطفئ نور السنة، إذ كانت الدولة على خلاف السنة، فكانت الكلمة لأهل الأهواء، والسلطة بأيديهم، حتى انتشرت كثير من البدع والأهواء عند العامة والضعفاء (1) .

وكان للمبتدعة مصالح ومطامح في ظل البدعة، وغياب السنة، تغيب تلك المصالح إذا قام أئمة السنة بواجبهم، وحذروا من الدخائل على المعتقد والدين، فنهج المبتدعة نهجاً أبعدوا فيه علماء أهل السنة عن ملاقاة الناس، وأقصوهم لئلا يقولوا كلمة الحق، فيفتضح أمرهم … وكان التاريخ دولاً بين أهل السنة وأهل البدعة، فمرة تكون الغلبة لهؤلاء، ومرة لهؤلاء، وقد تكون السنة أو البدعة في مكان دون مكان.

--------------------------------------------

(1) انظر لمعرفة بدايات ظهور البدع في صدر الإسلام: الأهواء والفرق والبدع عبر تاريخ الإسلام للعقل.
নিসন্দেহে বান্দাদের প্রতি মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার শ্রেষ্ঠতম নিআমতসমূহের অন্তর্ভুক্ত হলো যে, তিনি তাদের মাঝে সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে রাসুলদের পাঠিয়েছেন, যাতে রাসুলদের আগমনের পর আল্লাহর সামনে মানুষের কোনো অজুহাত না থাকে এবং তিনি তাদের তাঁর সরল পথের দিশা দিয়েছেন।

আল্লাহ তাআলা এই অনুগ্রহের কথা তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে স্পষ্ট করেছেন: "আল্লাহ মুমিনদের প্রতি অবশ্যই অনুগ্রহ করেছেন যে, তিনি তাদের নিজেদের মধ্য থেকে একজন রাসুল পাঠিয়েছেন, যিনি তাদের কাছে তাঁর আয়াতসমূহ পাঠ করেন, তাদের পরিশুদ্ধ করেন এবং তাদের কিতাব ও হিকমত শিক্ষা দেন, যদিও তারা ইতিপূর্বে স্পষ্ট বিভ্রান্তিতে নিমজ্জিত ছিল।" [আলে ইমরান: ১৬৪]

এই উম্মত একটি সুদীর্ঘ সময় পর্যন্ত সঠিক পথ ও সন্তোষজনক আদর্শের ওপর অটল ছিল। তারা সামগ্রিকভাবে দুটি মূল উৎসের ওপর নির্ভর করত—কিতাব ও সুন্নাহ এবং এই দুই সুপেয় ঝরনাধারা হতে তৃপ্তি সহকারে পান করত।

অতঃপর উম্মতের ওপর এমন এক সময় এল যখন কুপ্রবৃত্তি ও বিদআত তাদের চারদিক থেকে গ্রাস করে ফেলল। ফলে একদল লোক সেই মূল উৎসধারা থেকে দূরে সরে গেল এবং উম্মতের দেহে দুর্বলতা ও লাঞ্ছনা দানা বাঁধতে শুরু করল। এটি সেই সংবাদ অনুযায়ীই ঘটেছে যা সত্যবাদী ও সত্য প্রত্যায়নকারী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উম্মতের অনৈক্য সম্পর্কে দিয়েছিলেন, যেমনটি ইয়াহুদি ও খ্রিস্টানরা বিভক্ত হয়েছিল। এমনকি উম্মতের ওপর এমন এক সময় এল যখন বিদআতের বাজার ছিল রমরমা এবং সুন্নাহর আলো প্রায় নিভে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল; যেহেতু রাষ্ট্র সুন্নাহর পরিপন্থী পথে পরিচালিত হচ্ছিল, তাই কুপ্রবৃত্তি পূজারীদের কথাই ছিল চূড়ান্ত এবং ক্ষমতা ছিল তাদেরই হাতে। ফলে সাধারণ মানুষ ও দুর্বলদের মাঝে বহু বিদআত ও কুপ্রবৃত্তি ছড়িয়ে পড়েছিল (১)।

বিদআতের ছায়াতলে এবং সুন্নাহর অনুপস্থিতিতে বিদআতিদের নানাবিধ স্বার্থ ও উচ্চাকাঙ্ক্ষা নিহিত ছিল। সুন্নাহর ইমামগণ যদি তাঁদের দায়িত্ব পালন করতেন এবং আকিদা ও দ্বীনের মধ্যে প্রবিষ্ট বিজাতীয় বিষয়গুলো সম্পর্কে সতর্ক করতেন, তবে তাদের সেই স্বার্থগুলো বিলুপ্ত হয়ে যেত। ফলে বিদআতিরা এমন এক পন্থা অবলম্বন করল যার মাধ্যমে তারা আহলে সুন্নাহর আলিমদের মানুষের সাথে মেলামেশা থেকে দূরে সরিয়ে দিল এবং তাঁদের কোণঠাসা করে ফেলল যাতে তাঁরা সত্য কথা বলতে না পারেন এবং তাদের (বিদআতিদের) স্বরূপ উন্মোচিত না হয়ে যায় … ইতিহাস ছিল আহলে সুন্নাহ ও আহলে বিদআতের মধ্যে জয়-পরাজয়ের পর্যায়ক্রমিক ধারা। কখনো এরা জয়ী হতো, আবার কখনো তারা। কোনো কোনো স্থানে সুন্নাহর প্রাধান্য থাকত, আবার কোথাও বিদআতের।

--------------------------------------------

(১) ইসলামের প্রারম্ভিক যুগে বিদআতের আবির্ভাব সম্পর্কে জানতে দেখুন: আল-আকল রচিত ‘ইসলামের ইতিহাসে কুপ্রবৃত্তি, দল ও বিদআত’।
(খণ্ড: ১) দাওয়ানুল মুনাউয়িঈনা লি শায়খিল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ - আরদু ওয়া নাকদ (পৃষ্ঠা: ৭)
وكان من قدر الله وتوفيقه أن يبعث على رأس كل قرن من يجدد لهذه الأمة دينها، كما جاء في الحديث الصحيح: «إن الله يبعث لهذه الأمة على رأس كل مائة سنة من يجدد لها دينها» (1) .

ومن هؤلاء الأعلام المجددين: العلامة المجاهد، الإمام الرباني، شيخ الإسلام تقي الدين أبو العباس أحمد بن عبد الحليم بن تيمية الحراني (661 - 728هـ) رحمه الله؛ ذلك العلامة الفذ الذي لا يملك منصف من الكفار أو من المسلمين، من أعدائه أو من محبيه إلا أن يثني عليه كثيراً حين ذكره، بما يحضر ذلك المثني من صفات وخصائص لابن تيمية رحمه الله؛ ولأجل أن يكون الكلام عن ابن تيمية رحمه الله منصفاً، فسأذكر مثالين لوصفه رحمه الله من قِبل معاصريه الذين رأوه، وخالطوه.

فأولهما: قول ابن الزملكاني (2)

رحمه الله عنه: (كان إذا سئل عن فن من العلم ظن الرائي والسامع أنه لا يعرف غير ذلك الفن، وحكم أن أحداً لا يعرف مثله، وكان الفقهاء من سائر الطوائف إذا جلسوا معه استفادوا من مذاهبهم منه ما لم يكونوا عرفوه قبل ذلك، ولا يُعرف أنه ناظر أحداً فانقطع معه، ولا تكلم في علم من العلوم - سواء كان من علوم الشرع أو غيرها - إلا فاق فيه أهله، والمنسوبين إليه، وكانت له اليد الطولى في حسن التصنيف، وجودة العبارة

--------------------------------------------

(1) الحديث أخرجه أبو داود في سننه 4/480 كتاب الملاحم، باب ما يذكر في قرن المائة، والحاكم في مستدركه 4/522 كتاب الفتن والملاحم، وصححه الألباني في سلسلة الأحاديث الصحيحة 2/123.

(2) ابن الزملكاني: محمد بن علي بن عبد الواحد بن عبد الكريم الأنصاري الشافعي، ابن الزملكاني، شيخ الشافعية بالشام، وانتهت إليه رئاسة المذهب في التدريس والإفتاء والمناظرة، كان جيد العبارة، حسن التقرير، قوي القريحة، كان معجباً بابن تيمية ثم تغير عليه، مات في طريقه إلى مصر، وكان في نيته أن يؤذي ابن تيمية فدعا عليه، فلم يبلغ أمله ومراده، كما يذكر ابن كثير والله أعلم بالسرائر ت سنة 727هـ.

 

انظر في ترجمته: البداية والنهاية لابن كثير 14/13، شذرات الذهب لابن العماد 6/78.
আল্লাহর নির্ধারণ এবং তাঁর তাওফীক ছিল যে, তিনি প্রতিটি শতাব্দীর শুরুতে এমন একজনকে পাঠাবেন যিনি এই উম্মতের জন্য তাদের দ্বীনকে পুনর্জীবিত করবেন, যেমনটি সহীহ হাদীসে এসেছে: “নিশ্চয়ই আল্লাহ এই উম্মতের জন্য প্রতি একশত বছরের শুরুতে এমন একজনকে পাঠাবেন যিনি তাদের জন্য তাদের দ্বীনকে পুনর্জীবিত করবেন।” (১)

আর এই বিশিষ্ট সংস্কারকদের অন্তর্ভুক্ত হলেন: আল্লামা মুজাহিদ, ইমাম রব্বানী, শাইখুল ইসলাম তাকিউদ্দীন আবুল আব্বাস আহমদ ইবনে আব্দুল হালীম ইবনে তাইমিয়্যাহ আল-হাররানী (৬৬১ - ৭২৮ হিজরী) রহিমাহুল্লাহ; তিনি এমন এক অনন্য মনীষী যে, কাফির বা মুসলিমদের মধ্যে কোনো ইনসাফকারী ব্যক্তি, চাই সে তাঁর শত্রু হোক বা প্রেমিক, তাঁর আলোচনার সময় তাঁর প্রশংসা না করে পারে না; সেই প্রশংসাকারী ইবনে তাইমিয়্যাহ রহিমাহুল্লাহ-এর যে সকল গুণাবলী ও বৈশিষ্ট্যের কথা জানে সে অনুযায়ী তা ব্যক্ত করে। আর ইবনে তাইমিয়্যাহ রহিমাহুল্লাহ সম্পর্কে আলোচনা যেন ইনসাফপূর্ণ হয়, সেজন্য আমি তাঁর সমসাময়িক ব্যক্তিবর্গের পক্ষ থেকে তাঁকে বর্ণনা করার দুটি উদাহরণ উল্লেখ করব, যারা তাঁকে দেখেছেন এবং তাঁর সাথে মেলামেশা করেছেন।

তাদের মধ্যে প্রথমটি হলো: ইবনে আল-জামলকানী (২)

রহিমাহুল্লাহ-এর উক্তি: (যখন তাঁকে বিজ্ঞানের কোনো শাখা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হতো, তখন দর্শক ও শ্রোতা মনে করতেন যে তিনি সেই শাখাটি ছাড়া আর কিছুই জানেন না এবং তারা সিদ্ধান্ত নিতেন যে তাঁর মতো কেউ এটি জানে না। আর বিভিন্ন মাযহাবের ফকীহগণ যখন তাঁর সাথে বসতেন, তখন তারা তাঁদের নিজস্ব মাযহাব সম্পর্কে তাঁর কাছ থেকে এমন সব বিষয় শিখতেন যা তারা আগে জানতেন না। এমনটি জানা নেই যে তিনি কারো সাথে বিতর্ক করেছেন আর তিনি নিরুত্তর হয়ে গেছেন। আর তিনি কোনো ইলম বা জ্ঞান নিয়ে কথা বলেননি—চাই তা শরীয়তের জ্ঞান হোক বা অন্য কিছু—যেখানে তিনি সেই বিষয়ের বিশেষজ্ঞ ও তার অনুসারীদের অতিক্রম করে যাননি। আর সুন্দর রচনাশৈলী ও চমৎকার বাচনভঙ্গিতে তাঁর অসাধারণ পারদর্শিতা ছিল।

--------------------------------------------

(১) হাদীসটি আবু দাউদ তাঁর সুনানে ৪/৪৮০, কিতাবুল মালাহিম, প্রতি শতাব্দীর শুরুতে যা বর্ণিত হয়েছে অধ্যায়; এবং হাকেম তাঁর মুস্তাদরাকে ৪/৫২২, কিতাবুল ফিতান ওয়াল মালাহিম-এ বর্ণনা করেছেন। আলবানী একে সিলসিলাতুল আহাদীস আস-সহীহা ২/১২৩-এ সহীহ বলেছেন।

(২) ইবনে আল-জামলকানী: মুহাম্মদ ইবনে আলী ইবনে আব্দুল ওয়াহিদ ইবনে আব্দুল কারীম আল-আনসারী আশ-শাফেয়ী, ইবনে আল-জামলকানী, সিরিয়ার শাফেয়ীদের শাইখ। শিক্ষকতা, ফতোয়া প্রদান এবং বিতর্কে মাযহাবের নেতৃত্ব তাঁর কাছেই সমাপ্ত হয়েছিল। তিনি চমৎকার বাচনভঙ্গি, সুন্দর উপস্থাপনা ও প্রখর মেধার অধিকারী ছিলেন। তিনি ইবনে তাইমিয়্যাহর প্রতি মুগ্ধ ছিলেন, পরবর্তীতে তাঁর মনোভাব পরিবর্তন হয়। মিশরে যাওয়ার পথে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর নিয়ত ছিল ইবনে তাইমিয়্যাহর ক্ষতি করা, তাই তিনি তাঁর বিরুদ্ধে বদদুআ করেন। কিন্তু তাঁর আশা ও উদ্দেশ্য সফল হয়নি, যেমনটি ইবনে কাসীর উল্লেখ করেছেন; আর গোপন বিষয় সম্পর্কে আল্লাহ-ই ভালো জানেন। মৃত্যু: ৭২৭ হিজরী।

 

তাঁর জীবনীর জন্য দেখুন: ইবনে কাসীরের আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া ১৪/১৩, ইবনুল ইমাদের শাযারাতুয যাহাব ৬/৭৮।
(খণ্ড: ১) দাওয়ানুল মুনাউয়িঈনা লি শায়খিল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ - আরদু ওয়া নাকদ (পৃষ্ঠা: ৮)
والترتيب، والتقسيم والتبيين) (1) .

وثانيهما: قول الإمام الذهبي (2) رحمه الله عنه: (كان يقضى منه العجب، إذا ذكر مسألة من مسائل الخلاف، يستدل ويرجح، ويجتهد، وحق له ذلك، فإن شروط الاجتهاد كانت قد اجتمعت فيه، فإنني ما رأيت أسرع انتزاعاً للآيات الدالة على المسألة التي يوردها منه، ولا أشد استحضاراً لمتون الأحاديث، وعزوها إلى الصحيح أو إلى المسند أو إلى السنن منه، كأن الكتاب والسنن نصب عينيه، وعلى طرف لسانه، بعبارة رشيقة، وعين مفتوحة، وإفحام للمخالف … وكان قوالاً بالحق، نهاءً عن المنكر، لا تأخذه في الله لومة لائم، ذا سطوة وإقدام، وعدم مداراة الأغيار، ومن خالطه وعرفه قد ينسبني إلى التقصير في وصفه، ومن نابذه وخالفه ينسبني إلى التغالي فيه … وأنا أقل من أن ينبه على قدره كلمي، أو أن يوضح نبأه قلمي … ) (3) .

وكان ابن تيمية رحمه الله يواجه التيارات البدعية في عصره، ويناقش ما تحمله من مخالفات عقدية، حريصاً على تصحيح العقيدة في نفوس الناس، وتنقيتها مما شابها من كثير من الانحرافات، إذ يرى رحمه الله أن الراد على أهل البدع مجاهد (4) ، إلا أن من كان شيخ الإسلام يهدم بنيانهم من القواعد، لم يطب لهم صنيعه، فحاولوا بشتى الوسائل تشويه صورته عند كل أحد، وبكل الوسائل، فلم يكونوا يتورعون عن سبه وشتمه، ورموه بالجهل تارة، وبالزندقة أخرى، ونسبوه إلى البدعة، ولم يبق إلا ما هو أعظم منها، ألا وهو التكفير،

--------------------------------------------

(1) انظر: الرد الوافر لابن ناصر الدين الدمشقي ص109.

(2) الذهبي: محمد بن أحمد بن عثمان الذهبي الدمشقي، التركماني الأصل، ولد بدمشق، وطلب العلم بها، من تلاميذ شيخ الإسلام ابن تيمية، له مؤلفات كثيرة ومشهورة في التاريخ والسير مثل: تاريخ الإسلام، سير أعلام النبلاء وغيرها، ت سنة 748هـ.

انظر في ترجمته: الدرر الكامنة لابن حجر 3/426، شذرات الذهب لابن العماد 6/153.

(3) ذيل تاريخ الإسلام (ضمن ثلاث تراجم مستلة منه للعجمي ص23 - 25) بتصرف.

(4) انظر: مجموع فتاوى ابن تيمية 4/13.
বিন্যাস, বিভাজন এবং স্পষ্টীকরণ) (১)।

এবং দ্বিতীয়টি হলো তাঁর সম্পর্কে ইমাম আয-যাহাবী (২) (রাহিমাহুল্লাহ)-এর উক্তি: (তাঁর থেকে বিস্ময় জাগত যখন তিনি কোনো মতভেদপূর্ণ মাসআলা উল্লেখ করতেন; তিনি দলিল পেশ করতেন, প্রাধান্য দিতেন এবং ইজতিহাদ করতেন। আর এটি তাঁর জন্য যথাযথ ছিল, কেননা ইজতিহাদের শর্তাবলি তাঁর মধ্যে পূর্ণরূপে বিদ্যমান ছিল। কোনো মাসআলার সপক্ষে দলিল হিসেবে আয়াত আহরণ করার ক্ষেত্রে আমি তাঁর চেয়ে দ্রুত আর কাউকে দেখিনি, আর না হাদীসের মূল পাঠসমূহ (মতন) স্মরণ রাখা এবং সেগুলোকে সহীহ, মুসনাদ কিংবা সুনান গ্রন্থসমূহের দিকে সম্বন্ধ করার ক্ষেত্রে তাঁর চেয়ে অধিক প্রখর কাউকে দেখেছি। যেন কিতাব ও সুন্নাহ তাঁর চোখের সামনে এবং জিহ্বার আগায় থাকত; সাবলীল প্রকাশভঙ্গি, সূক্ষ্ম দৃষ্টি এবং প্রতিপক্ষকে নিরুত্তর করার ক্ষমতার মাধ্যমে … তিনি ছিলেন সত্যের উচ্চকণ্ঠ ঘোষক, মন্দ কাজের কঠোর নিষেধকারী, আল্লাহর পথে তিনি কোনো নিন্দুকের নিন্দার পরোয়া করতেন না। তিনি ছিলেন প্রভাব ও সাহসিকতার অধিকারী এবং অন্যদের তোষামোদ করতেন না। যে ব্যক্তি তাঁর সাথে মেলামেশা করেছে এবং তাঁকে চিনেছে, সে হয়তো তাঁর গুণ বর্ণনায় আমাকে ত্রুটিপূর্ণ মনে করবে; আর যে ব্যক্তি তাঁর বিরোধিতা ও শত্রুতা করেছে, সে আমাকে তাঁর ব্যাপারে অতিরঞ্জিত মনে করবে … আমি অত্যন্ত তুচ্ছ যে আমার শব্দমালা তাঁর মর্যাদা বর্ণনা করবে অথবা আমার কলম তাঁর সংবাদ ফুটিয়ে তুলবে … ) (৩)।

ইবনে তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর যুগের বিদআতি স্রোতধারার মোকাবিলা করতেন এবং সেগুলোর আকিদাগত বিচ্যুতিসমূহ নিয়ে আলোচনা করতেন। তিনি মানুষের হৃদয়ে আকিদাহর সংস্কার এবং এর সাথে মিশে যাওয়া নানাবিধ বিচ্যুতি থেকে একে পবিত্র করার বিষয়ে অত্যন্ত সচেষ্ট ছিলেন। কেননা তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) মনে করতেন যে, বিদআতিদের প্রতিবাদকারী একজন মুজাহিদ (৪)। তবে শাইখুল ইসলাম যাদের ভিত্তিমূল ধ্বংস করে দিচ্ছিলেন, তাদের কাছে তাঁর এই কাজ পছন্দনীয় ছিল না। ফলে তারা বিভিন্ন উপায়ে প্রত্যেকের কাছে তাঁর ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা করত। তারা তাঁকে গালিগালাজ ও মন্দ কথা বলতে কুণ্ঠাবোধ করত না। কখনও তারা তাঁকে অজ্ঞতার অপবাদ দিত, কখনও যিন্দিক (ধর্মত্যাগী) হিসেবে আখ্যায়িত করত এবং তাঁকে বিদআতের দিকে নিসবত করত। শুধু এর চেয়ে বড় বিষয়টিই বাকি ছিল, আর তা হলো তাকফির (কাফির সাব্যস্ত করা)।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: ইবনুন নাসিরুদ্দিন আদ-দিমাশকী রচিত 'আর-রাদ্দুল ওয়াফির', পৃষ্ঠা ১০৯।

(২) আয-যাহাবী: মুহাম্মদ বিন আহমাদ বিন উসমান আয-যাহাবী আদ-দিমাশকী, বংশগতভাবে তুর্কমেনি। দামেস্কে জন্মগ্রহণ করেন এবং সেখানেই জ্ঞান অর্জন করেন। তিনি শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহর অন্যতম ছাত্র। ইতিহাস ও জীবনী বিষয়ে তাঁর অসংখ্য ও প্রসিদ্ধ রচনা রয়েছে, যেমন: তারিখুল ইসলাম, সিয়ারু আ'লামিন নুবালা ইত্যাদি। মৃত্যু: ৭৪৮ হিজরি।

তাঁর জীবনী সম্পর্কে দেখুন: ইবনে হাজার রচিত 'আদ-দুরারুল কামিনাহ' ৩/৪২৬, ইবনুল ইমাদ রচিত 'শাযারাতুয যাহাব' ৬/১৫৩।

(৩) যাইলু তারিখিল ইসলাম (আজমী কর্তৃক সংগৃহীত তিনটি জীবনী গ্রন্থ হতে, পৃষ্ঠা ২৩-২৫) সংক্ষেপিত।

(৪) দেখুন: মাজমুউ ফাতাওয়া ইবনে তাইমিয়য়াহ ৪/১৩।
(খণ্ড: ১) দাওয়ানুল মুনাউয়িঈনা লি শায়খিল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ - আরদু ওয়া নাকদ (পৃষ্ঠা: ৯)
وقد فعلوا، فكفروه رحمه الله ووجهوا إليه رحمه الله تُهماً في شخصه، ومنهجه، وعقيدته، وانتقدوه في مسائل علمية أخرى، فكانت بعض التُّهم والدعاوى قد وجهت إليه في حياته، فأسهم بنصيب وافر في بيان قوله، والاستدلال له وربطه بمنهج السلف ناقلاً عنهم، ومناقشاً شُبه الخصوم، ومبيناً ضعفها وعوارها، مع علمه رحمه الله بمناهج المخالفين، وأسباب تلك المخالفة؛ ولذا فقد نظر رحمه الله إلى هذه المخالفة من الجانب الإيجابي، مبيناً أن وجود المناوئين والمخالفين لعقيدة السلف، والرد عليهم، هو باب من أبواب ظهور الدين وانتشاره، قال رحمه الله: (من سنة الله: أنه إذا أراد إظهار دينه أقام من يعارضه، فيحق الحق بكلماته، ويقذف بالحق على الباطل فيدمغه فإذا هو زاهق) (1) .

واستمرت الردود والدعاوى ضد ابن تيمية رحمه الله بعد وفاته إلى هذا العصر، وهذا من سنة الله عز وجل في الحياة أن يستمر الصراع بين الحق والباطل، ومن صور استمرار هذا الصراع: أن يشكك أهل الباطل بنقلة الحق وأعلامه وأئمته، ثم التشكيك والقدح بما يحملون وما يبلغون من عقائد وعلوم، حتى لا يبقى لأهل الباطل إلا باطلهم، ومن أبرز حملات أهل الباطل على عقيدة السلف: قدحهم في ابن تيمية رحمه الله والرد عليه فألفوا المؤلفات، وكتبوا الردود والرسائل، وملؤوا الكتب بالحواشي التي ملؤوا بها زيفهم وضلالهم تجاه هذا العَلَم، وتجاه عقيدة السلف الصالح، واستنفروا شعراءهم، فكان لسلف أهل الباطل تلامذة واصلوا بث الحقد على شيخ الإسلام، وعلى منهجه، وزادوا وأوغلوا في الضلالة، ونشروا بين الناس ما كان مغموراً من ردود ومناقشات بين شيخ الإسلام رحمه الله ومخالفيه، وقامت مؤسسات لأهل الباطل، ودور نشر همها الرد على عقيدة السلف، فكان لزاماً على أهل الحق أن يقوموا بواجبهم تجاه أهل الضلال ليردوا كيدهم في نحورهم، وليعيدوهم خائبين، ببيان الحجة، ونقد الشبهة بمنهج علمي معتدل، فكانت هذه الرسالة جهداً من

--------------------------------------------

(1) مجموع فتاوى ابن تيمية 28 - 57، وانظر العقود الدرية لابن عبد الهادي ص364.
وقد فعلوا، فكفروه رحمه الله ووجهوا إليه رحمه الله تُهماً في شخصه، ومنهجه، وعقيدته، وانتقدوه في مسائل علمية أخرى، فكانت بعض التُّهم والدعاوى قد وجهت إليه في حياته، فأسهم بنصيب وافر في بيان قوله، والاستدلال له وربطه بمنهج السلف ناقلاً عنهم، ومناقشاً شُبه الخصوم، ومبيناً ضعفها وعوارها، مع علمه رحمه الله بمناهج المخالفين، وأسباب تلك المخالفة؛ ولذا فقد نظر رحمه الله إلى هذه المخالفة من الجانب الإيجابي، مبيناً أن وجود المناوئين والمخالفين لعقيدة السلف، والرد عليهم، هو باب من أبواب ظهور الدين وانتشاره، قال رحمه الله: (من سنة الله: أنه إذا أراد إظهار دينه أقام من يعارضه، فيحق الحق بكلماته، ويقذف بالحق على الباطل فيدمغه فإذا هو زاهق) (1) .

আর তারা তা-ই করেছে, তারা তাঁকে (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) কাফির সাব্যস্ত করেছে এবং তাঁর (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) ব্যক্তিত্ব, মানহাজ ও আকীদার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ উত্থাপন করেছে এবং অন্যান্য ইলমী মাসআলায় তাঁর সমালোচনা করেছে। তাঁর জীবদ্দশাতেই তাঁর বিরুদ্ধে কিছু অভিযোগ ও দাবি উত্থাপন করা হয়েছিল, ফলে তিনি তাঁর বক্তব্য স্পষ্ট করতে, সেগুলোর সপক্ষে দলিল পেশ করতে এবং সালাফদের থেকে উদ্ধৃতি প্রদানের মাধ্যমে সেগুলোকে সালাফদের মানহাজের সাথে সম্পৃক্ত করতে এক বিশাল অবদান রেখেছেন। তিনি বিরোধীদের সংশয়গুলো নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং সেগুলোর দুর্বলতা ও ত্রুটিগুলো উন্মোচন করেছেন। বিরোধীদের মানহাজ এবং সেই বিরোধের কারণগুলো সম্পর্কে তিনি (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) পূর্ণ অবগত ছিলেন; আর এই কারণেই তিনি (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) এই বিরোধকে ইতিবাচক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখেছেন। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, সালাফদের আকীদার বিরোধী ও শত্রুদের উপস্থিতি এবং তাদের খণ্ডন করা হলো দ্বীন প্রকাশ হওয়া ও প্রচার হওয়ার অন্যতম একটি মাধ্যম। তিনি (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) বলেছেন: (আল্লাহর সুন্নাত হলো: যখন তিনি তাঁর দ্বীনকে বিজয়ী করতে চান, তখন এমন কাউকে দাঁড় করিয়ে দেন যে এর বিরোধিতা করে। ফলে তিনি তাঁর বাণীর মাধ্যমে সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করেন এবং সত্যের দ্বারা মিথ্যার ওপর আঘাত হানেন, যা মিথ্যাকে চূর্ণবিচূর্ণ করে দেয় এবং তৎক্ষণাৎ তা বিলুপ্ত হয়ে যায়।) (১)।

واستمرت الردود والدعاوى ضد ابن تيمية رحمه الله بعد وفاته إلى هذا العصر، وهذا من سنة الله عز وجل في الحياة أن يستمر الصراع بين الحق والباطل، ومن صور استمرار هذا الصراع: أن يشكك أهل الباطل بنقلة الحق وأعلامه وأئمته، ثم التشكيك والقدح بما يحملون وما يبلغون من عقائد وعلوم، حتى لا يبقى لأهل الباطل إلا باطلهم، ومن أبرز حملات أهل الباطل على عقيدة السلف: قدحهم في ابن تيمية رحمه الله والرد عليه فألفوا المؤلفات، وكتبوا الردود والرسائل، وملؤوا الكتب بالحواشي التي ملؤوا بها زيفهم وضلالهم تجاه هذا العَلَم، تجاه عقيدة السلف الصالح، واستنفروا شعراءهم، فكان لسلف أهل الباطل تلامذة واصلوا بث الحقد على شيخ الإسلام، وعلى منهجه، وزادوا وأوغلوا في الضلالة، ونشروا بين الناس ما كان مغموراً من ردود ومناقشات بين شيخ الإسلام رحمه الله ومخالفيه، وقامت مؤسسات لأهل الباطل، ودور نشر همها الرد على عقيدة السلف، فكان لزاماً على أهل الحق أن يقوموا بواجبهم تجاه أهل الضلال ليردوا كيدهم في نحورهم، وليعيدوهم خائبين، ببيان الحجة، ونقد الشبهة بمنهج علمي معتدل، فكانت هذه الرسالة جهداً من

--------------------------------------------

(১) মাজমুউ ফাতাওয়া ইবনে তাইমিয়্যাহ ২৮ - ৫৭, এবং দেখুন ইবনু আবদিল হাদির আল-উকুুদ আদ-দুররিয়্যাহ পৃষ্ঠা ৩৬৪।
(খণ্ড: ১) দাওয়ানুল মুনাউয়িঈনা লি শায়খিল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ - আরদু ওয়া নাকদ (পৃষ্ঠা: ১০)
الجهود التي يقوم بها أهل السنة تجاه المبتدعة، سائلاً الله عز وجل التوفيق والقبول، كما أسأله سبحانه أن يحفظ هذه الدولة (الدولة السعودية) ، وأن ينصرها ويبارك فيها، حيث وفقها لإحياء ما اندرس من مؤلفات ابن تيمية رحمه الله، بطبعها، ونشرها، وتوزيعها، لتسهل الاستفادة منها، ولتكون في أيدي الطالبين، وذلك من بداية قيام هذه الدولة؛ إقامة للسنة، وإخماداً للبدعة، فأسأل الله أن يوفق القائمين عليها لكل خير، ويسدد خطاهم، ويعينهم على أمور دينهم ودنياهم إنه سميع مجيب.

 

‌‌أسباب اختيار البحث:

1 - أن الدفاع عن أحد أبرز أئمة أهل السنة، والرد على ما يرمى به من دعاوى، إنما هو دفاع عن المعتقد والمنهج الذي يحمله ذلك الإمام، والدفاع عن المعتقد والمنهج تتعدد صوره، ومنها: الدفاع عن أعلام ذلك المنهج بما يثار حولهم من شبهات.

2 - بيان ضعف شُبه المبتدعة ضد معتقد أهل السنة والجماعة، وذلك بعرضها، ثم مناقشتها.

3 - أن التصدي للمبتدعة والرد على شبهاتهم فرض كفاية، فلا بد من قيام طائفة تقوم بهذا الغرض من أهل العلم وطلابه، للتصدي لتلك الشبهات والرد عليها، ثم - أيضاً - إنه نوع من الجهاد، فالراد على المبتدعة مجاهد.

4 - حرص الباحث على قراءة كتب ابن تيمية رحمه الله جميعها، سواء الكتب والرسائل العقدية، أو غيرها، ذلك أن شيخ الإسلام رحمه الله يستطرد - أحياناً - في مباحث في غير مظانها، لا توجد هذه المباحث إلا في مثل هذه الاستطرادات.

5 - تنوع الموضوع، وشموله، فقد فصّل البحث في بعض مباحث الصفات، ومسألة إمكان حوادث لا أول لها وبداية خلق العالم، وأيضاً - فصّل البحث في توحيد الألوهية ببحث مسألة شد الرحل، ومسألة التوسل، ثم بيّن البحث الموقف من الصحابة - رضوان الله عليهم أجمعين -، ثم انتقل إلى
বিদআতিদের বিরুদ্ধে আহলে সুন্নাত যে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, সে বিষয়ে আমি মহান আল্লাহর কাছে তাওফিক ও কবুলিয়াত প্রার্থনা করছি। সেই সাথে আমি মহান সত্তার কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন এই রাষ্ট্রকে (সৌদি রাষ্ট্র) হিফাযত করেন এবং একে সাহায্য করেন ও এতে বরকত দান করেন; যেহেতু তিনি একে ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহ.)-এর বিলুপ্তপ্রায় রচনাবলি মুদ্রণ, প্রকাশ ও বিতরণের মাধ্যমে পুনরুজ্জীবিত করার তাওফিক দিয়েছেন, যাতে তা থেকে উপকৃত হওয়া সহজ হয় এবং তা ইলম অন্বেষণকারীদের হাতে পৌঁছায়। আর এটি এই রাষ্ট্রের সূচনালগ্ন থেকেই হয়ে আসছে; সুন্নাহ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এবং বিদআতকে নির্মূল করার জন্য। আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন এর পরিচালকদের সকল কল্যাণের তাওফিক দেন, তাঁদের পদক্ষেপসমূহকে সঠিক পথে পরিচালিত করেন এবং তাঁদের দ্বীন ও দুনিয়ার বিষয়ে সাহায্য করেন। নিশ্চয়ই তিনি শ্রবণকারী ও কবুলকারী।

 

‌‌গবেষণাটি নির্বাচনের কারণসমূহ:

১ - আহলে সুন্নাতের অন্যতম প্রধান ইমামের প্রতিরক্ষা করা এবং তাঁর বিরুদ্ধে যে সমস্ত দাবি ও অভিযোগ উত্থাপন করা হয় তার প্রতিবাদ করা মূলত সেই আকিদা ও মানহাজেরই প্রতিরক্ষা যা সেই ইমাম বহন করতেন। আর আকিদা ও মানহাজের প্রতিরক্ষা বিভিন্ন উপায়ে হতে পারে, যার একটি হলো: সেই মানহাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের ঘিরে যেসব সংশয় সৃষ্টি করা হয় তা থেকে তাঁদের প্রতিরক্ষা করা।

২ - আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের আকিদার বিরুদ্ধে বিদআতিদের সংশয়গুলোর দুর্বলতা প্রদর্শন করা; আর তা হলো সেগুলো উপস্থাপনের মাধ্যমে এবং এরপর সেগুলোর পর্যালোচনার মাধ্যমে।

৩ - বিদআতিদের মোকাবেলা করা এবং তাদের সংশয়সমূহের জবাব দেওয়া ফরজে কিফায়া। সুতরাং আলেম ও তালিবে ইলমদের মধ্য থেকে একটি দলের এই উদ্দেশ্যে নিয়োজিত থাকা আবশ্যক, যাতে তারা সেই সংশয়গুলো প্রতিহত করতে পারে এবং তার জবাব দিতে পারে। তদুপরি, এটি এক প্রকার জিহাদ; কেননা বিদআতিদের প্রতিবাদকারী একজন মুজাহিদ।

৪ - ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহ.)-এর সকল কিতাব পাঠ করার ব্যাপারে গবেষকের বিশেষ আগ্রহ, চাই তা আকিদাহ বিষয়ক কিতাব ও রিসালাহ হোক বা অন্য কিছু। কেননা শাইখুল ইসলাম (রহ.) মাঝে মাঝে এমন কিছু তাত্ত্বিক আলোচনা করেন যা মূল বিষয়ের বাইরে প্রাসঙ্গিক ক্রমে চলে আসে, যা এ জাতীয় প্রাসঙ্গিক আলোচনা ছাড়া অন্য কোথাও পাওয়া যায় না।

৫ - বিষয়ের বৈচিত্র্য ও ব্যাপকতা; এই গবেষণায় গুণাবলি সংক্রান্ত কিছু আলোচনায় বিস্তারিত বিবরণ দেওয়া হয়েছে, এবং অনাদি ঘটনার সম্ভাবনা ও জগৎ সৃষ্টির সূচনার মাসআলাটি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। এছাড়াও তাওহীদে উলুহিয়্যাহর ক্ষেত্রে কবরের উদ্দেশ্যে সফরের প্রস্তুতি গ্রহণ ও তাওয়াসসুল মাসআলাটি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। অতঃপর সাহাবায়ে কেরাম (রাদিয়াল্লাহু আনহুম আজমাঈন)-এর ব্যাপারে অবস্থানের বিষয়টি বর্ণনা করা হয়েছে, এরপর এটি স্থানান্তরিত হয়েছে...
(খণ্ড: ১) দাওয়ানুল মুনাউয়িঈনা লি শায়খিল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ - আরদু ওয়া নাকদ (পৃষ্ঠা: ১১)
مبحث من مباحث الإيمان باليوم الآخر وهو: مسألة أبدية النار وعدم فنائها، واجتماع هذه الموضوعات في بحث واحد كفيلة ببيان أهميته، وشموله.

6 - محاولة إبراز أقوال ابن تيمية رحمه الله بصورة جديدة من حيث الترتيب والعرض، ويظهر هذا الأمر في مباحث متعددة من البحث، وبالذات في فصل (إمكان حوادث لا أول لها) .

7 - تناصر أهل الباطل من أهل البدعة في الأزمان المتأخرة على دحر السنة، وتغييبها في بلدان متعددة من العالم الإسلامي، مما جعل بعض الناس يظن الحق باطلاً، والباطل حقاً، والسنة بدعة، والبدعة سنة، وجعل أهلُ الباطل أبرز أهدافهم، وموضع رمي سهامهم: شيخ الإسلام رحمه الله، وهذا يوجب على أهل السنة مجاهدة المبتدعة، ومجالدتهم، ومقارعتهم بالحجة والبرهان.

 

‌‌خطة البحث:

تتكون خطة البحث من مقدمات تعريفية بابن تيمية رحمه الله ومنهجه، وبالمناوئين، وأقسامهم، ومنهجهم، ودعاواهم حول منهج ابن تيمية رحمه الله، وهذه استغرقت التمهيد والفصل الأول.

ثم صلب الرسالة: وهو مناقشة المسائل المنتقدة العقدية على شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله واستغرق ستة فصول.

ثم خاتمة البحث، والفهارس اللازمة للبحث.

 

وتفصيل الخطة كالتالي: تتكون الخطة من مقدمة، وتمهيد، وسبعة فصول، وخاتمة، وفهارس.

أما المقدمة فتتضمن:

1 - أهمية البحث، وسبب اختياره.

2 - خطة البحث.
পরকালের প্রতি ঈমানের অন্যতম একটি আলোচিত বিষয় হলো: জাহান্নামের চিরস্থায়ী হওয়া এবং এটি নিঃশেষ না হওয়ার মাসআলা। একই গবেষণায় এই বিষয়গুলোর সমাবেশ এর গুরুত্ব ও ব্যাপকতা প্রকাশের জন্য যথেষ্ট।

৬ - ইবনে তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ)-এর উক্তিগুলোকে বিন্যাস ও উপস্থাপনার দিক থেকে একটি নতুন আঙ্গিকে ফুটিয়ে তোলার প্রচেষ্টা; যা এই গবেষণার বিভিন্ন আলোচনায় প্রকাশ পেয়েছে, বিশেষ করে (সূচনাহীন নতুন ঘটনাপ্রবাহের সম্ভাবনা) নামক পরিচ্ছেদে।

৭ - বর্তমান সময়ে সুন্নাহকে পরাজিত করতে এবং মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে তা বিলুপ্ত করতে বিদআতি বাতিলপন্থীদের পারস্পরিক সহযোগিতা; যার ফলে কিছু মানুষ সত্যকে মিথ্যা এবং মিথ্যাকে সত্য, আর সুন্নাহকে বিদআত এবং বিদআতকে সুন্নাহ মনে করতে শুরু করেছে। বাতিলপন্থীরা শায়খুল ইসলাম (রাহিমাহুল্লাহ)-কে তাদের প্রধান লক্ষ্যবস্তু ও তীরের নিশানায় পরিণত করেছে; যা আহলুস সুন্নাহর জন্য বিদআতিদের বিরুদ্ধে জিহাদ করা, তাদের প্রতিহত করা এবং দলিল-প্রমাণের মাধ্যমে তাদের মোকাবেলা করাকে আবশ্যক করে দেয়।

 

‌‌গবেষণা পরিকল্পনা:

গবেষণা পরিকল্পনাটি ইবনে তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ) ও তাঁর মানহাজ (পদ্ধতি), এবং বিরোধীদের পরিচয়, তাদের প্রকারভেদ, তাদের মানহাজ ও ইবনে তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ)-এর মানহাজ সম্পর্কে তাদের দাবি সংবলিত কিছু পরিচিতিমূলক ভূমিকার সমন্বয়ে গঠিত; যা ভূমিকা ও প্রথম পরিচ্ছেদ জুড়ে বিস্তৃত।

এরপর গবেষণার মূল বিষয়বস্তু: যা শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ)-এর ওপর আকিদাগত যেসব বিষয়ে সমালোচনা করা হয়েছে সেগুলোর পর্যালোচনা; যা ছয়টি পরিচ্ছেদ জুড়ে রয়েছে।

এরপর গবেষণার উপসংহার এবং গবেষণার জন্য প্রয়োজনীয় নির্ঘণ্টসমূহ।

 

পরিকল্পনার বিস্তারিত বিবরণ নিম্নরূপ: এই পরিকল্পনাটি একটি মুখবন্ধ, একটি ভূমিকা, সাতটি পরিচ্ছেদ, উপসংহার এবং নির্ঘণ্টের সমন্বয়ে গঠিত।

মুখবন্ধে যা রয়েছে:

১ - গবেষণার গুরুত্ব ও এটি নির্বাচনের কারণ।

২ - গবেষণা পরিকল্পনা।
(খণ্ড: ১) দাওয়ানুল মুনাউয়িঈনা লি শায়খিল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ - আরদু ওয়া নাকদ (পৃষ্ঠা: ১২)
3 - منهج البحث.

 

وأما التمهيد فذكرت فيه:

1 - ترجمة موجزة لشيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله.

2 - منهج شيخ الإسلام في تقرير العقيدة، والاستدلال عليها.

الفصل الأول: المناوئون لشيخ الإسلام، ودعاواهم حول منهجه: وفيه مبحثان:

المبحث الأول: المناوئون لشيخ الإسلام: وفيه ثلاثة مطالب:

المطلب الأول: أقسام المناوئين.

المطلب الثاني: المنهج العام للمناوئين.

المطلب الثالث: اعتراف خصومه بقدره.

المبحث الثاني: دعاوى المناوئين حول منهج شيخ الإسلام ابن تيمية.

الفصل الثاني: دعوى التجسيم والتشبيه: وفيه أربعة مباحث:

المبحث الأول: قول أهل السنة في مسألة التجسيم والتشبيه.

المبحث الثاني: دعوى أن شيخ الإسلام مجسم ومشبه، ومناقشتها.

المبحث الثالث: دعوى أن شيخ الإسلام أخذ التشبيه ممن قبله، ومناقشتها.

المبحث الرابع: دعوى قوله بالجهة والتحيز، ومناقشتها.

الفصل الثالث: دعوى القول بقدم العالم: وفيه مبحثان:

المبحث الأول: معتقد أهل السنة في إمكان حوادث لا أول لها: وفيه ثلاثة مطالب.

المطلب الأول: التسلسل: تعريفه، أقسامه، حكم كل قسم.

المطلب الثاني: الصفات الاختيارية.
৩ - গবেষণার পদ্ধতি।

 

আর ভূমিকার ক্ষেত্রে, আমি তাতে উল্লেখ করেছি:

১ - শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ রাহিমাহুল্লাহ-এর সংক্ষিপ্ত জীবনী।

২ - আকিদাহ প্রতিষ্ঠা ও সে বিষয়ে দলিল উপস্থাপনে শাইখুল ইসলামের মানহাজ (পদ্ধতি)।

প্রথম পরিচ্ছেদ: শাইখুল ইসলামের বিরোধী পক্ষ এবং তাঁর মানহাজ সম্পর্কে তাদের দাবিদাওয়াসমূহ: এতে দুটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম অনুচ্ছেদ: শাইখুল ইসলামের বিরোধী পক্ষ: এতে তিনটি উপ-অনুচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম উপ-অনুচ্ছেদ: বিরোধীদের শ্রেণিবিভাগ।

দ্বিতীয় উপ-অনুচ্ছেদ: বিরোধীদের সাধারণ কর্মপদ্ধতি।

তৃতীয় উপ-অনুচ্ছেদ: বিরোধীদের পক্ষ থেকে তাঁর মর্যাদার স্বীকৃতি।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ-এর মানহাজ সম্পর্কে বিরোধীদের দাবিদাওয়াসমূহ।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: তাজসিম (দেহবাদ) ও তাশবিহ (সাদৃশ্য প্রদান)-এর দাবি: এতে চারটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম অনুচ্ছেদ: তাজসিম ও তাশবিহ মাসআলায় আহলুস সুন্নাহর বক্তব্য।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: শাইখুল ইসলামকে মুজাসসিম ও মুশাব্বিহ বলার দাবি এবং তার পর্যালোচনা।

তৃতীয় অনুচ্ছেদ: শাইখুল ইসলাম তাঁর পূর্ববর্তীদের থেকে তাশবিহ গ্রহণ করেছেন বলে দাবিকরণ এবং তার পর্যালোচনা।

চতুর্থ অনুচ্ছেদ: তাঁর দিক (জিহাত) ও স্থান দখল (তাহাইয়্যুজ) করার মতবাদের দাবি এবং তার পর্যালোচনা।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: বিশ্বজগত অনাদি হওয়ার মতবাদের দাবি: এতে দুটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম অনুচ্ছেদ: অনাদি নতুন বিষয়াবলী সম্ভব হওয়ার ব্যাপারে আহলুস সুন্নাহর আকিদাহ: এতে তিনটি উপ-অনুচ্ছেদ রয়েছে।

প্রথম উপ-অনুচ্ছেদ: তাসালসুল (পরম্পরা): এর সংজ্ঞা, শ্রেণিবিভাগ এবং প্রতিটি প্রকারের হুকুম।

দ্বিতীয় উপ-অনুচ্ছেদ: সিফাতে ইখতিয়ারিয়্যাহ (আল্লাহর ইচ্ছাধীন গুণাবলি)।
(খণ্ড: ১) দাওয়ানুল মুনাউয়িঈনা লি শায়খিল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ - আরদু ওয়া নাকদ (পৃষ্ঠা: ১৩)
المطلب الثالث: شرح حديث عمران بن حصين (كان الله ولم يكن شيء قبله … ) .

المبحث الثاني: دعوى الخصوم أن قول شيخ الإسلام بإمكان حوادث لا أول لها يستلزم القول بقدم العالم، ومناقشتها.

الفصل الرابع: دعوى نهي ابن تيمية عن زيارة القبور: وفيه خمسة مباحث:

المبحث الأول: عقيدة أهل السنة في شد الرحال، وزيارة القبور.

المبحث الثاني: الزعم بأن شيخ الإسلام ينهى عن زيارة القبور، ومناقشته.

المبحث الثالث: دعوى أن شيخ الإسلام ينتقص من منزلة الرسول صلى الله عليه وسلم، ومناقشتها.

المبحث الرابع: دعوى مخالفة ابن تيمية الصحابة في قولهم بجواز بناء المساجد على القبور، ومناقشتها.

المبحث الخامس: دعوى أن ابن تيمية يساوي في المنزلة بين قبور الأنبياء وقبور غيرهم، ومناقشتها.

الفصل الخامس: مسألة التوسل: وفيه أربعة مباحث:

المبحث الأول: عقيدة أهل السنة والجماعة في التوسل.

المبحث الثاني: دعوى جواز التوسل بالأنبياء والصالحين، وأن شيخ الإسلام يحرم ذلك، ومناقشتها.

المبحث الثالث: دعوى أن شيخ الإسلام هو الذي ابتدع القول بعدم جواز التوسل بالنبي صلى الله عليه وسلم، ومناقشتها.

المبحث الرابع: دعوى بغض شيخ الإسلام الأنبياء والصالحين وإهانته لهم، ومناقشتها.
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: ইমরান ইবনে হুসাইন (রা.) বর্ণিত হাদিসের ব্যাখ্যা (আল্লাহ ছিলেন এবং তাঁর পূর্বে কিছুই ছিল না … ) ।

দ্বিতীয় আলোচনা: বিরোধীদের এই দাবি যে, শাইখুল ইসলামের অনাদি ঘটনার সম্ভাবনার (হাওয়াদিস লা আউয়ালা লাহা) বক্তব্যটি জগতের অনাদিত্বের (কাদাম আল-আলাম) দাবিকে অনিবার্য করে তোলে এবং এর পর্যালোচনা।

চতুর্থ অধ্যায়: ইবনে তাইমিয়্যাহ কর্তৃক কবর জিয়ারত নিষিদ্ধ করার দাবি: এতে পাঁচটি আলোচনা রয়েছে:

প্রথম আলোচনা: সফর করে জিয়ারত করা (শাদ্দুর রিহাল) এবং কবর জিয়ারত সম্পর্কে আহলে সুন্নতের আকিদা।

দ্বিতীয় আলোচনা: শাইখুল ইসলাম কবর জিয়ারত করতে নিষেধ করেন বলে যে অপবাদ দেওয়া হয়, তার পর্যালোচনা।

তৃতীয় আলোচনা: শাইখুল ইসলাম রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করেন বলে যে দাবি করা হয়, তার পর্যালোচনা।

চতুর্থ আলোচনা: কবরের ওপর মসজিদ নির্মাণ বৈধ হওয়ার বিষয়ে ইবনে তাইমিয়্যাহ সাহাবায়ে কেরামের বিরোধিতা করেছেন বলে যে দাবি করা হয়, তার পর্যালোচনা।

পঞ্চম আলোচনা: ইবনে তাইমিয়্যাহ নবীদের কবর এবং অন্যদের কবরের মর্যাদাকে সমান মনে করেন বলে যে দাবি করা হয়, তার পর্যালোচনা।

পঞ্চম অধ্যায়: তাওয়াসসুল প্রসঙ্গ: এতে চারটি আলোচনা রয়েছে:

প্রথম আলোচনা: তাওয়াসসুল বিষয়ে আহলে সুন্নত ওয়াল জামাআতের আকিদা।

দ্বিতীয় আলোচনা: নবী ও নেককারদের মাধ্যমে তাওয়াসসুল বৈধ হওয়ার দাবি এবং শাইখুল ইসলাম এটি হারাম করেছেন বলা এবং তার পর্যালোচনা।

তৃতীয় আলোচনা: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মাধ্যমে তাওয়াসসুল অবৈধ হওয়ার বক্তব্যটি শাইখুল ইসলামই প্রথম উদ্ভাবন করেছেন বলে যে দাবি করা হয়, তার পর্যালোচনা।

চতুর্থ আলোচনা: শাইখুল ইসলাম নবী ও নেককারদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করেন এবং তাঁদের অবমাননা করেন বলে যে দাবি করা হয়, তার পর্যালোচনা।
(খণ্ড: ১) দাওয়ানুল মুনাউয়িঈনা লি শায়খিল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ - আরদু ওয়া নাকদ (পৃষ্ঠা: ১৪)
الفصل السادس: موقف شيخ الإسلام من الصحابة: وفيه أربعة مباحث:

المبحث الأول: عقيدة أهل السنة والجماعة في الصحابة.

المبحث الثاني: دعوى تخطئة شيخ الإسلام الصحابة بما فيهم الخلفاء الأربعة، ومناقشتها.

المبحث الثالث: دعوى تكلف شيخ الإسلام الغمز على أهل البيت وتعمية مناقبهم، ومناقشتها.

المبحث الرابع: دعوى رد الأحاديث الصحيحة في مقام المبالغة في توهين كلام الشيعة، ومناقشتها.

الفصل السابع: مسألة دوام النار: وفيه مبحثان:

المبحث الأول: دلالة نصوص الكتاب والسنة وأقوال سلف الأمة على خلود النار.

المبحث الثاني: دعوى أن شيخ الإسلام يرى فناء النار، ومناقشتها.

الخاتمة: وتتضمن أهم نتائج البحث.

 

ثم الفهارس اللازمة للبحث.

وقد سرت على‌‌ منهج في كتابة البحث، تظهر أبرز ملامحه في الملاحظات التالية:

1 - حرصت - قدر الإمكان - على تركيز المادة العلمية، مع سهولة العرض، وتوضيح العبارة.

2 - التركيز على ربط القضايا والمسائل التي يتحدث عنها ابن تيمية رحمه الله بالكتاب والسنة، ثم بأقوال من تقدمه من سلف الأمة.

3 - كان مقصد البحث وتركيزه على عرض الدعوى، مع بيان قائلها، والإحالة إلى الكتاب الأصلي لصاحب الدعوى، ثم الرد على الدعوى، ولم يكن من منهج البحث: التتبع التاريخي لكل من قال بهذه الدعاوى،
ষষ্ঠ অধ্যায়: সাহাবীগণের প্রতি শাইখুল ইসলামের অবস্থান: এতে চারটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: সাহাবীগণের ব্যাপারে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের আকিদা।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: চার খলিফাসহ সাহাবীগণ ভুল করেছেন বলে শাইখুল ইসলাম দাবি করেন—এই অভিযোগ এবং এর পর্যালোচনা।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: আহলে বাইতকে তুচ্ছজ্ঞান করা এবং তাঁদের ফযিলতসমূহকে আড়াল করার ব্যাপারে শাইখুল ইসলামের উপর আরোপিত অভিযোগ এবং এর পর্যালোচনা।

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: শিয়াদের বক্তব্যকে দুর্বল করার আতিশয্যে সহীহ হাদিস প্রত্যাখ্যানের অভিযোগ এবং এর পর্যালোচনা।

সপ্তম অধ্যায়: জাহান্নামের স্থায়িত্বের মাসআলা: এতে দুটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: জাহান্নামের চিরস্থায়িত্বের ওপর কুরআন, সুন্নাহর নস এবং উম্মতের সালাফদের বাণীর প্রমাণ।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: শাইখুল ইসলাম জাহান্নাম নিঃশেষ হয়ে যাওয়ার পক্ষপাতী—এই দাবি এবং এর পর্যালোচনা।

উপসংহার: এতে গবেষণার গুরুত্বপূর্ণ ফলাফলসমূহ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

 

অতঃপর গবেষণার জন্য প্রয়োজনীয় সূচিপত্রসমূহ।

আমি গবেষণাটি লেখার ক্ষেত্রে একটি পদ্ধতি অনুসরণ করেছি, যার উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্যসমূহ নিম্নোক্ত বিষয়াবলিতে ফুটে উঠেছে:

১ - আমি যথাসম্ভব বৈজ্ঞানিক বিষয়বস্তুর ওপর গুরুত্বারোপ করার সাথে সাথে উপস্থাপনার সহজবোধ্যতা ও বর্ণনাভঙ্গির স্বচ্ছতার প্রতি সচেষ্ট থেকেছি।

২ - ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহিমাহুল্লাহ) যেসব বিষয় ও মাসআলা নিয়ে আলোচনা করেছেন, সেগুলোকে কুরআন ও সুন্নাহর সাথে এবং অতঃপর তাঁর পূর্ববর্তী উম্মতের সালাফদের বাণীর সাথে সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্ব প্রদান করা হয়েছে।

৩ - এই গবেষণার উদ্দেশ্য ও মূল লক্ষ্য ছিল অভিযোগটি উপস্থাপন করা, এর প্রবক্তার পরিচয় প্রদান করা এবং অভিযোগকারীর মূল কিতাবের বরাত প্রদান করা, অতঃপর সেই অভিযোগের খণ্ডন করা। এই সকল দাবি যারা করেছেন তাদের প্রত্যেকের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট অনুসন্ধান করা এই গবেষণার পদ্ধতির অন্তর্ভুক্ত ছিল না।
(খণ্ড: ১) দাওয়ানুল মুনাউয়িঈনা লি শায়খিল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ - আরদু ওয়া নাকদ (পৃষ্ঠা: ১৫)
أو حصر كل من تكلم بهذه الدعوى، ولكني اكتفيت - غالباً - بذكر قول أول من قال بهذه الدعوى؛ لأن البقية نقلة منه - غالباً - وإن كان ثمت زيادة عند المتأخر فإني أذكرها مع ذكر قائلها، والإحالة إلى كتابه، فالغرض هو ثبوت وجود الدعوى؛ لأجل الرد عليها.

4 - سلكت المنهج الاستقرائي في تتبع أقوال شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله من كتبه.

5 - في عرض الدعاوى سلكت منهجاً تميز بما يلي:

أ - فصلت الدعوى عن الرد بمطلب مستقل، وذلك لئلا يختلط الحق بالباطل، ويلتبس في ذهن القارئ الحق بالقول الباطل، خاصة وأن بعض مناوئي الشيخ من العلماء الكبار.

ب - عرضت الشُبه عرضاً مجملاً موجزاً، وأما الرد ففيه البيان والتفصيل - قدر الحاجة - وهذا هو منهج السلف في هذه المسألة.

جـ - نقلت الدعاوى من كتب المناوئين - أنفسهم - ركزت على أن تكون النقول والإحالات من كتب مشهورة عندهم - وإن كانت الشهرة نسبية -، أما الكتب المغمورة، أو المخطوطة، أو الكتب التي لا يثقون هم بها - أيضاً - فلم أنقل منها، ولم أعز إليها.

6 - إذا ذكرت عن أحد المناوئين مقولة ودعوى، فلا يلزم أن يكون قد قال بكل الدعاوى التي قيلت ضد ابن تيمية رحمه الله، ولا يلزم أن يقر بها - أيضاً - (1) .

7 - لم يكن قصد البحث استيفاء جميع جوانب وجزئيات الموضوعات الموجودة عناوينها في الخطة كالموقف من الصفات، وإمكان حوادث لا أول لها، والتوسل، والموقف من الصحابة وغير ذلك، وإنما كان

--------------------------------------------

(1) انظر: الفتوى الحموية الكبرى ص101.
অথবা এই দাবি উচ্চারণকারী প্রত্যেককে তালিকাভুক্ত করা; কিন্তু আমি অধিকাংশ ক্ষেত্রে এই দাবি উত্থাপনকারী প্রথম ব্যক্তির বক্তব্য উল্লেখ করার মাধ্যমেই ক্ষান্ত হয়েছি। কারণ বাকিরা প্রধানত তার থেকেই বর্ণনা করেছেন। তবে পরবর্তী কারো বক্তব্যে অতিরিক্ত কিছু থাকলে, আমি তা তার প্রবক্তার নাম ও কিতাবের রেফারেন্সসহ উল্লেখ করেছি। মূল উদ্দেশ্য হলো দাবির অস্তিত্ব প্রমাণ করা, যাতে তা খণ্ডন করা সম্ভব হয়।

৪ - আমি শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ)-এর কিতাবসমূহ থেকে তাঁর বক্তব্যসমূহ অনুসন্ধানে আরোহী পদ্ধতি অনুসরণ করেছি।

৫ - দাবিগুলো উপস্থাপনের ক্ষেত্রে আমি এমন এক পদ্ধতি অবলম্বন করেছি যা নিম্নোক্ত বিষয়গুলো দ্বারা বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত:

ক - আমি দাবিকে তার খণ্ডন থেকে স্বতন্ত্র একটি পরিচ্ছেদে আলাদা করেছি, যাতে সত্যের সাথে মিথ্যার মিশ্রণ না ঘটে এবং পাঠকের মনে সত্য ও মিথ্যার মাঝে বিভ্রান্তি তৈরি না হয়। বিশেষ করে শাইখের বিরোধীদের মধ্যে কেউ কেউ বড় মাপের আলেম।

খ - আমি সংশয়গুলোকে সংক্ষেপে ও সারসংক্ষেপ হিসেবে উপস্থাপন করেছি। পক্ষান্তরে খণ্ডনের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা ও বিস্তারিত বিবরণ প্রদান করেছি। আর এই বিষয়ে এটিই সালাফদের অনুসৃত পদ্ধতি।

গ - আমি দাবিগুলো খোদ বিরোধীদের কিতাবসমূহ থেকেই উদ্ধৃত করেছি। আমি মনোযোগ দিয়েছি যাতে উদ্ধৃতি ও রেফারেন্সগুলো তাদের কাছে প্রসিদ্ধ কিতাবসমূহ থেকে হয়—যদিও সেই প্রসিদ্ধি আপেক্ষিক। আর অপরিচিত কিতাব, পাণ্ডুলিপি কিংবা যেসব কিতাবের ওপর তারা নিজেরাও ভরসা করে না—সেগুলো থেকে আমি কোনো উদ্ধৃতি দেইনি এবং সেগুলোর প্রতি কোনো রেফারেন্সও প্রদান করিনি।

৬ - আমি যখন কোনো বিরোধীর পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য বা দাবি উল্লেখ করি, তার অর্থ এই নয় যে তিনি ইবনে তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ)-এর বিরুদ্ধে কৃত সকল দাবিই করেছেন, কিংবা তিনি সেগুলোর সবগুলোকে সমর্থন করেন—তাও আবশ্যক নয় (১)।

৭ - এই গবেষণার উদ্দেশ্য রূপরেখায় থাকা বিষয়গুলোর সকল দিক ও খুঁটিনাটি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পূর্ণ করা ছিল না, যেমন: আল্লাহর গুণাবলি সম্পর্কে অবস্থান, আদিহীন নতুন বিষয় সৃষ্টির সম্ভাবনা, তাওয়াসসুল, সাহাবায়ে কেরাম সম্পর্কে অবস্থান ইত্যাদি। বরং এর উদ্দেশ্য ছিল...

--------------------------------------------

(১) দেখুন: আল-ফাতওয়া আল-হামাউইয়্যাহ আল-কুবরা, পৃষ্ঠা ১০১।
(খণ্ড: ১) দাওয়ানুল মুনাউয়িঈনা লি শায়খিল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ - আরদু ওয়া নাকদ (পৃষ্ঠা: ১৬)
مقصود البحث: بيان ما أثير حول ابن تيمية رحمه الله من شبهات ودعاوى، وفي المقابل بيان مذهب ابن تيمية رحمه الله وموقفه مما أثير حوله فقط، وليس موقفه - أيضاً - من جزئيات هذه الموضوعات، ولو فصل البحث في هذه الجزئيات لطال وكثر، ولخرج عن مقصوده.

8 - عزوت الآيات إلى سورها، وذكرت رقم الآية.

9 - خرّجت الأحاديث الواردة في البحث، فما كان في الصحيحين، أو في أحدهما، فإني لا أذكر الحكم عليه لصحته، وأما ما كان في غيرهما فإني أنقل حكم أحد أئمة هذا الشأن فيه.

10 - عرفت بالفرق التي ورد ذكرها في الرسالة.

11 - شرحت الكلمات التي تحتاج إلى إيضاح، وعرّفت ببعض المصطلحات العلمية الواردة في البحث.

12 - ترجمت للأعلام الوارد ذكرهم في الرسالة، فمن كان مشهوراً اختصرت ترجمته، ومن كان غير ذلك فأترجم له ترجمة مناسبة، وهذا يكون عند أول ورود لهذا العلم، وأما بعد ذلك فإني أتبع العَلَم بذكر تاريخ وفاته.

13 - وضعت فهارس في آخر البحث وهي كما يلي:

أ - فهرس الآيات القرآنية.

ب - فهرس الأحاديث النبوية والآثار.

جـ - فهرس الأعلام المترجم لهم.

د - فهرس الفرق والطوائف.

هـ - فهرس المصطلحات والكلمات الغريبة المشروحة.

وفهرس المراجع.

ز - فهرس الموضوعات (1) .

--------------------------------------------

(1) هذه الفهارس موجودة في أصل الرسالة العلمية (الدكتوراه) ، وقد حذفت خمسة منها، ولم أبق إلا فهرست المراجع، وفهرس الموضوعات، وذلك خشية الإطالة.
গবেষণার উদ্দেশ্য: ইবনে তাইমিয়া (রহিমাহুল্লাহ)-কে কেন্দ্র করে যেসব সংশয় ও দাবি উত্থাপিত হয়েছে তা স্পষ্ট করা, এবং এর বিপরীতে কেবল ইবনে তাইমিয়া (রহিমাহুল্লাহ)-এর মাযহাব ও তাঁর ওপর উত্থাপিত বিষয়গুলোর ব্যাপারে তাঁর অবস্থান তুলে ধরা; এই বিষয়গুলোর খুটিনাটি প্রতিটি বিষয়ে তাঁর অবস্থান বর্ণনা করা এখানে উদ্দেশ্য নয়। কারণ গবেষণায় যদি এই খুটিনাটি বিষয়গুলোর বিস্তারিত বিবরণ দেওয়া হতো, তবে তা অনেক দীর্ঘ ও বিশাল হয়ে যেত এবং মূল উদ্দেশ্য থেকে বিচ্যুত হতো।

৮ - আমি আয়াতগুলোকে সেগুলোর সূরার সাথে সম্পৃক্ত করেছি এবং আয়াত নম্বর উল্লেখ করেছি।

৯ - গবেষণায় উল্লেখিত হাদিসগুলোর উৎস নির্দেশ করেছি। যা বুখারি ও মুসলিম (সহিহাইন) বা তার যেকোনো একটিতে রয়েছে, সেগুলোর বিশুদ্ধতার কারণে আমি আলাদা কোনো মন্তব্য উল্লেখ করিনি। আর যা এই দুটি ছাড়া অন্য গ্রন্থে রয়েছে, সেক্ষেত্রে আমি এই শাস্ত্রের কোনো একজন ইমামের মন্তব্য উদ্ধৃত করেছি।

১০ - এই অভিসন্দর্ভে যেসব দলের উল্লেখ এসেছে, আমি তাদের পরিচয় প্রদান করেছি।

১১ - যে শব্দগুলোর ব্যাখ্যার প্রয়োজন ছিল আমি তা ব্যাখ্যা করেছি এবং গবেষণায় আগত কিছু তাত্ত্বিক পরিভাষার পরিচয় দিয়েছি।

১২ - অভিসন্দর্ভে উল্লেখিত ব্যক্তিবর্গের সংক্ষিপ্ত জীবনী আলোচনা করেছি। যাঁরা প্রসিদ্ধ ছিলেন তাঁদের জীবনী সংক্ষেপে দিয়েছি এবং অন্য সবার ক্ষেত্রে উপযুক্ত জীবনী প্রদান করেছি। এটি উক্ত ব্যক্তির নাম প্রথমবার আসার সময় করা হয়েছে, আর পরবর্তীতে নামের সাথে শুধু তাঁর মৃত্যু সাল উল্লেখ করেছি।

১৩ - গবেষণার শেষে আমি নির্ঘণ্ট যুক্ত করেছি, যা নিম্নরূপ:

ক - কুরআনের আয়াতসমূহের নির্ঘণ্ট।

খ - হাদিস ও আসারের নির্ঘণ্ট।

গ - আলোচিত ব্যক্তিবর্গের নির্ঘণ্ট।

ঘ - ফিরকা ও দলসমূহের নির্ঘণ্ট।

ঙ - ব্যাখ্যাত পরিভাষা ও অপরিচিত শব্দসমূহের নির্ঘণ্ট।

এবং তথ্যসূত্রের নির্ঘণ্ট।

চ - বিষয়সূচি (১)।

--------------------------------------------

(১) এই নির্ঘণ্টগুলো মূল গবেষণাপত্রে (পিএইচডি থিসিস) বিদ্যমান ছিল, তবে আমি দীর্ঘ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় সেগুলোর মধ্য থেকে পাঁচটি বাদ দিয়েছি এবং কেবল তথ্যসূত্র ও বিষয়সূচি অবশিষ্ট রেখেছি।
(খণ্ড: ১) দাওয়ানুল মুনাউয়িঈনা লি শায়খিল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ - আরদু ওয়া নাকদ (পৃষ্ঠা: ১৭)
‌‌[شكر وتقدير]

هذا، وإن الشكر والحمد لصاحبه ومستحقه سبحانه وتعالى الذي أنعم عليّ بنعم كثيرة لا تحصى، {وَمَا بِكُمْ مِنْ نِعْمَةٍ فَمِنَ اللَّهِ} [النحل: 53] ، فله سبحانه الحمد والشكر حمداً وشكراً لا منتهى لحده.

وبعد شكر المولى عز وجل أرى لزاماً علي أن أزجي الشكر الجزيل، والثناء العاطر إلى كل من أعانني على إنجاز هذا العمل.

وأخص بالذكر والدي الكريمين، على ما لقيت منهما من تربية وتوجيه وتعليم، فأسأل الله أن يثقل موازينهما، وأن يعينني على برهما، والإحسان إليهما، وأخص منهما والدي فضيلة الشيخ صالح بن عبد العزيز الغصن، الذي كان فضله علي بعد الله كبيراً، فمنه تلقيت التوجيه والنصح منذ الصغر، والحث على الاستقامة، وطلب العلم الشرعي، وكان يسعى - حفظه الله ورعاه - إلى تفريغي عن كثير من المشاغل الاجتماعية أثناء إعداد الرسالة - فجزاه الله خير الجزاء -.

وفضيلة الشيخ: عبد العزيز بن عبد الله الراجحي، المشرف على هذه الرسالة، الذي أعطاني من وقته الكثير - رغم مشاغله وارتباطاته -، فكان - حفظه الله - نعم المشرف، حيث أفدت من ملحوظاته العلمية والمنهجية.

ثم لا أنسى أن أشكر جامعة الإمام محمد بن سعود الإسلامية، ممثلة في كلية أصول الدين، وقسم العقيدة والمذاهب المعاصرة فيها، على منحي هذه الفرصة لإعداد رسالة الدكتوراه.

وأشكر كل من ساعدني وأمدني بفائدة، أو دلالة على موضع كتاب، أو إعارة كتب، أو غير ذلك، فلهم جميعاً وافر الشكر وجزيله.

وختاماً، فإني لا أدّعي أني وفيت الموضوع حقه، ولا أني أصبت في كل ما قلت وقصدت؛ لأن الخطأ والزلل والنقص من طبيعة البشر، ولكن حسبي أني بذلت جهدي لإخراج هذا البحث على الصورة المرضية، فما كان فيه من صواب فمن الله وحده عز وجل، فله الفضل والمنّ والحمد، وما كان فيه من خطأ فمن نفسي ومن الشيطان، وأستغفر الله منه.
[কৃতজ্ঞতা ও স্বীকৃতি]

অতঃপর, সমস্ত শোকর ও প্রশংসা তাঁরই প্রাপ্য ও অধিকার, যিনি সুবহানাহু ওয়া তাআলা; যিনি আমাকে অসংখ্য ও অগণিত নেয়ামত দান করেছেন। {তোমাদের কাছে যে নেয়ামত রয়েছে তা আল্লাহর পক্ষ থেকেই} [আন-নাহল: ৫৩]। সুতরাং সকল প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা তাঁরই, এমন প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা যার কোনো সীমা নেই।

মহান রবের কৃতজ্ঞতা প্রকাশের পর, যারা এই কাজটি সম্পন্ন করতে আমাকে সহযোগিতা করেছেন, তাদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও সুগন্ধময় প্রশংসা জ্ঞাপন করা আমি আমার কর্তব্য বলে মনে করি।

আমি বিশেষভাবে আমার সম্মানিত পিতা-মাতার কথা উল্লেখ করছি, যাদের কাছ থেকে আমি লালন-পালন, দিকনির্দেশনা ও শিক্ষা লাভ করেছি। আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন তাঁদের আমলের পাল্লা ভারী করেন এবং আমাকে তাঁদের প্রতি অনুগত ও সদাচারী হওয়ার তাওফিক দান করেন। তাঁদের মধ্য থেকে বিশেষভাবে আমি আমার পিতা ফযীলাতুশ শাইখ সালিহ বিন আব্দুল আযীয আল-গুসন-এর কথা উল্লেখ করছি, আল্লাহর পরে যার অনুগ্রহ আমার ওপর অপরিসীম। শৈশব থেকেই আমি তাঁর কাছ থেকে দিকনির্দেশনা ও নসিহত লাভ করেছি এবং তিনি আমাকে দ্বীনের ওপর অটল থাকা ও শরয়ী জ্ঞান অন্বেষণে উদ্বুদ্ধ করেছেন। তিনি —আল্লাহ তাঁকে হিফাযত করুন ও রক্ষণাবেক্ষণ করুন— এই অভিসন্দর্ভ প্রস্তুত করার সময় আমাকে অনেক সামাজিক ব্যস্ততা থেকে মুক্ত রাখার চেষ্টা করেছেন; আল্লাহ তাঁকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন।

এবং ফযীলাতুশ শাইখ আব্দুল আযীয বিন আব্দুল্লাহ আল-রাজহী, এই অভিসন্দর্ভের তত্ত্বাবধায়ক; যিনি তাঁর ব্যস্ততা ও দায়বদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও আমাকে অনেক সময় দিয়েছেন। তিনি —আল্লাহ তাঁকে হিফাযত করুন— ছিলেন একজন উত্তম তত্ত্বাবধায়ক, যার বৈজ্ঞানিক ও পদ্ধতিগত পর্যবেক্ষণ থেকে আমি উপকৃত হয়েছি।

অতঃপর ইমাম মুহাম্মদ বিন সাউদ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে ভুলছি না, বিশেষ করে এর উসুলুদ দ্বীন অনুষদ এবং আকীদাহ ও সমকালীন মতবাদ বিভাগকে, আমাকে এই ডক্টরাল থিসিসটি প্রস্তুত করার সুযোগ দেওয়ার জন্য।

এছাড়া যারা আমাকে তথ্য দিয়ে, বইয়ের সন্ধান দিয়ে, বই ধার দিয়ে বা অন্য কোনোভাবে সাহায্য করেছেন, তাদের সকলকে আন্তরিক ও অশেষ ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

পরিশেষে, আমি এই দাবি করি না যে আমি বিষয়টির পূর্ণ হক আদায় করতে পেরেছি, কিংবা আমি যা বলেছি বা উদ্দেশ্য করেছি তার সবটুকুই সঠিক হয়েছে; কারণ ভুল, বিচ্যুতি ও অপূর্ণতা মানুষের স্বভাবজাত বৈশিষ্ট্য। তবে আমার জন্য এটাই যথেষ্ট যে, আমি এই গবেষণাটিকে একটি সন্তোষজনক রূপে উপস্থাপন করার জন্য আমার সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা ব্যয় করেছি। এতে যা কিছু সঠিক রয়েছে তা একমাত্র আল্লাহর পক্ষ থেকে, যিনি মহাপরাক্রমশালী ও মহিমান্বিত; সকল অনুগ্রহ, দান ও প্রশংসা তাঁরই। আর এতে যা কিছু ভুল রয়েছে তা আমার নিজের পক্ষ থেকে এবং শয়তানের পক্ষ থেকে, আর আমি এর জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।
(খণ্ড: ১) দাওয়ানুল মুনাউয়িঈনা লি শায়খিল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ - আরদু ওয়া নাকদ (পৃষ্ঠা: ১৮)
وأسأل الله سبحانه وتعالى بأسمائه الحسنى، وصفاته العلا، أن يرزقني الإخلاص في القول والعمل، وفي السر والعلن، وأن يبلغني رضاه، وأن يجعل هذا العمل مقبولاً عنده، وأن يريني الحق حقاً ويرزقني اتباعه، وأن يريني الباطل باطلاً ويرزقني اجتنابه، إنه سميع مجيب، وصلى الله وسلم على نبينا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين.

 

د. عبد الله بن صالح بن عبد العزيز الغصن
এবং আমি মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার নিকট তাঁর সুন্দরতম নামসমূহ এবং সুউচ্চ গুণাবলির উসিলায় প্রার্থনা করি, তিনি যেন আমাকে গোপনে ও প্রকাশ্যে, কথায় ও কাজে ইখলাস দান করেন, এবং তিনি যেন আমাকে তাঁর সন্তুষ্টির স্তরে পৌঁছান, আর এই আমলটিকে যেন তাঁর নিকট কবুল করেন। তিনি যেন আমাকে সত্যকে সত্য হিসেবে দেখান এবং তার অনুসরণের তাওফিক দান করেন, আর বাতিলকে বাতিল হিসেবে দেখান এবং তা থেকে দূরে থাকার তাওফিক দান করেন। নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা, দোআ কবুলকারী। আর আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নবী মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর।

 

ড. আবদুল্লাহ ইবনে সালিহ ইবনে আব্দুল আজিজ আল-গুসন
(খণ্ড: ১) দাওয়ানুল মুনাউয়িঈনা লি শায়খিল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ - আরদু ওয়া নাকদ (পৃষ্ঠা: ১৯)
‌‌[التمهيد]
[উপক্রমণিকা]
(খণ্ড: ১) দাওয়ানুল মুনাউয়িঈনা লি শায়খিল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ - আরদু ওয়া নাকদ (পৃষ্ঠা: ২১)
‌‌ترجمة موجزة لشيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله (1)

 

اعتنى بدراسة شخصية شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله القدامى والمحدثون، فكثرت الدراسات عنه، وتنوعت أهداف الدارسين لشخصيته، كل يأخذ منها ما يوافق تخصصه وهدفه، فهناك دراسات في سيرته الذاتية، ودراسات عن عقيدته، ودراسات عن فقهه، ودراسات عن تعمقه وإمامته في الحديث، ودراسات عن منهجه الدعوي، ودراسات عن فكره التربوي والاجتماعي، وغيرها.

وإذا استعرضت كتب التاريخ والرجال للقرن الثامن الهجري: فمن أبرز من يترجم له هو شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله.

وإذا قرأت كتبه المحققة - وهي كثيرة - فإن في مقدمتها - غالباً - ذكر شيء من ترجمته

فشهرته بلغت الآفاق، وتكاد تجمع الكتب على الثناء عليه من القديم والحديث، ولذلك يجد الكاتب في سيرته صعوبة في اختيار المناسب من سيرته لما يبحث فيه، أما التوسع في ذكر سيرته فقد أغنت شهرته عن ذلك كما يقول عنه الحافظ ابن رجب (2) رحمه الله: (وشهرته تغني عن الإطناب في ذكره، والإسهاب في أمره) (3) .

--------------------------------------------

(1) وتشمل اسمه ونسبه، ومولده ونشأته، وعصره، ومحنته، ووفاته، ومؤلفاته، وبعض ثناء الناس عليه.

(2) ابن رجب: عبد الرحمن بن أحمد بن رجب الحنبلي، الشيخ المحدث، الحافظ الفقيه، صنف تصانيف نافعة، وهو مكثر من الشيوخ، من أئمة السلف في الاعتقاد، ت سنة 795هـ.

انظر في ترجمته: الدرر الكامنة لابن حجر 2/428، شذرات الذهب لابن العماد 6/339.

(3) الذيل على طبقات الحنابلة 2/387.
শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ রহিমাহুল্লাহ-এর সংক্ষিপ্ত পরিচিতি (১)

 

প্রাচীন ও আধুনিক পণ্ডিতগণ শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ রহিমাহুল্লাহ-এর ব্যক্তিত্ব নিয়ে অধ্যয়ন করার প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন। ফলে তাঁকে নিয়ে গবেষণার সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং তাঁর ব্যক্তিত্ব নিয়ে গবেষকদের লক্ষ্যের বৈচিত্র্য দেখা গেছে। প্রত্যেকেই তাঁর ব্যক্তিত্ব থেকে ঐ অংশটুকুই গ্রহণ করেছেন যা তাঁর বিশেষত্ব ও লক্ষ্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। ফলে তাঁর জীবনচরিত নিয়ে গবেষণা হয়েছে, তাঁর আকিদাহ নিয়ে গবেষণা হয়েছে, তাঁর ফিকহ নিয়ে গবেষণা হয়েছে, হাদীস শাস্ত্রে তাঁর গভীর পাণ্ডিত্য ও ইমামত নিয়ে গবেষণা হয়েছে, তাঁর দাওয়াতি পদ্ধতি নিয়ে গবেষণা হয়েছে এবং তাঁর শিক্ষামূলক ও সামাজিক চিন্তাধারা এবং অন্যান্য বিষয় নিয়ে গবেষণা হয়েছে।

আপনি যদি অষ্টম হিজরি শতাব্দীর ইতিহাস এবং জীবনী গ্রন্থসমূহ পর্যালোচনা করেন, তবে সেখানে যাঁদের জীবনী সবচেয়ে প্রস্ফুটিতভাবে আলোচিত হয়েছে, তাঁদের মধ্যে অন্যতম হলেন শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ রহিমাহুল্লাহ।

আপনি যখন তাঁর সম্পাদিত গ্রন্থসমূহ পড়বেন—যা সংখ্যায় অনেক—সেগুলোর মুখবন্ধে সাধারণত তাঁর জীবনীর কিছুটা উল্লেখ থাকে।

তাঁর প্রসিদ্ধি দিগন্ত ছাড়িয়ে গেছে। প্রাচীন ও আধুনিক প্রায় সব কিতাবই তাঁর প্রশংসার ব্যাপারে একমত। এজন্যই তাঁর জীবনী রচয়িতারা তাঁদের গবেষণার বিষয়বস্তু অনুযায়ী তাঁর জীবনের উপযুক্ত অংশ বেছে নিতে সমস্যার সম্মুখীন হন। তবে তাঁর জীবনীর বিস্তারিত বর্ণনার ক্ষেত্রে তাঁর প্রসিদ্ধিই যথেষ্ট, যেমনটি হাফেজ ইবনে রজব (২) রহিমাহুল্লাহ তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: "তাঁর প্রসিদ্ধিই তাঁর সম্পর্কে দীর্ঘ আলোচনা ও তাঁর বিষয়টি বিস্তারিত বর্ণনা করার প্রয়োজনীয়তা দূর করে দেয়।" (৩) ।

--------------------------------------------

(১) এর অন্তর্ভুক্ত হলো তাঁর নাম ও বংশপরিচয়, তাঁর জন্ম ও বেড়ে ওঠা, তাঁর সমসাময়িক কাল, তাঁর পরীক্ষা (কারাবরণ), তাঁর মৃত্যু, তাঁর রচনাবলি এবং তাঁর সম্পর্কে মানুষের কিছু প্রশংসা।

(২) ইবনে রজব: আবদুর রহমান ইবনে আহমদ ইবনে রজব আল-হাম্বালী; শায়খ, মুহাদ্দিস, হাফেজ ও ফকিহ। তিনি অত্যন্ত উপকারী অনেক গ্রন্থ রচনা করেছেন। তাঁর উস্তাদগণের সংখ্যা অনেক। তিনি আকিদাহর ক্ষেত্রে সালাফে সালেহীনের অন্যতম ইমাম। মৃত্যু: ৭৯৫ হিজরি।

তাঁর জীবনীর জন্য দেখুন: ইবনে হাজারের আদ-দুরারুল কামিনাহ ২/৪২৮, ইবনুল ইমাদের শাযারাতুয যাহাব ৬/৩৩৯।

(৩) আয-যাইলু আলা তাবাকাতিল হানাবিলাহ ২/৩৮৭।
(খণ্ড: ১) দাওয়ানুল মুনাউয়িঈনা লি শায়খিল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ - আরদু ওয়া নাকদ (পৃষ্ঠা: ২২)
وسأحيل في نهاية الترجمة - إن شاء الله - إلى أبرز من حاول حصر المؤلفات فيه.

 

‌‌1 - اسمه ونسبه:

هو أحمد تقي الدين أبو العباس بن عبد الحليم بن عبد السلام بن عبد الله بن أبي القاسم الخضر بن محمد بن الخضر بن علي بن عبد الله بن تيمية الحراني (1) .

وذكر مترجموه أقوالاً في سبب تلقيب العائلة بآل (تيمية) منها ما نقله ابن عبد الهادي رحمه الله (2) : (أن جده محمداً كانت أمه تسمى (تيمية) ، وكانت واعظة، فنسب إليها، وعرف بها.

وقيل: إن جده محمد بن الخضر حج على درب تيماء، فرأى هناك طفلة، فلما رجع وجد امرأته قد ولدت بنتاً له فقال: يا تيمية، يا تيمية، فلقب بذلك) (3) .

 

‌‌2 - مولده ونشأته:

ولد رحمه الله يوم الاثنين، عاشر، وقيل: ثاني عشر من ربيع الأول سنة 661هـ. في حرّان. (4)

وفي سنة 667هـ أغار التتار على بلده، فاضطرت عائلته إلى ترك حران، متوجهين إلى دمشق (5) ، وبها كان مستقر العائلة، حيث طلب العلم على أيدي

--------------------------------------------

(1) انظر: العقود الدرية لابن عبد الهادي ص2، البداية والنهاية لابن كثير 14/135.

(2) ابن عبد الهادي: محمد بن أحمد بن عبد الهادي بن عبد الحميد بن قدامة المقدسي الجماعيلي، حافظ للحديث، عارف بالأدب، من كبار الحنابلة، أخذ عن ابن تيمية، وصنف في مناقبه، ورد على السبكي في الصارم المنكي، ت سنة 744هـ.

انظر في ترجمته: الدرر الكامنة لابن حجر 3/421، شذرات الذهب لابن العماد 6/141، بغية الوعاة للسيوطي 1/29.

(3) العقود الدرية ص2.

(4) انظر: العقود الدرية ص2.

(5) انظر: قطعة من ذيل تاريخ الإسلام للذهبي ص22، والأعلام العلية للبزار ص21.
এবং আমি এই জীবনীর শেষে — ইনশাআল্লাহ — তাদের প্রতি ইঙ্গিত করব যারা তাঁর গ্রন্থাবলি তালিকাভুক্ত করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি প্রচেষ্টা চালিয়েছেন।

 

‌‌১ - তাঁর নাম ও বংশপরিচয়:

তিনি হলেন আহমদ তাকিউদ্দীন আবুল আব্বাস বিন আব্দুল হালিম বিন আব্দুল সালাম বিন আব্দুল্লাহ বিন আবিল কাসিম আল-খিজর বিন মুহাম্মদ বিন আল-খিজর বিন আলী বিন আব্দুল্লাহ বিন তাইমিয়া আল-হাররানি (১)।

তাঁর জীবনীকারগণ এই পরিবারকে 'আলে তাইমিয়া' (তাইমিয়া পরিবার) উপাধিতে ডাকার কারণ সম্পর্কে বেশ কিছু মত উল্লেখ করেছেন। তার মধ্যে একটি হলো যা ইবনে আব্দুল হাদি (রহিমাহুল্লাহ) বর্ণনা করেছেন (২): "তাঁর দাদা মুহাম্মদের মায়ের নাম ছিল 'তাইমিয়া', তিনি একজন ওয়াজকারিনী (উপদেশদাত্রী) ছিলেন। ফলে তাঁর দিকেই তাঁকে সম্বন্ধ করা হয় এবং তিনি সেই নামেই পরিচিতি পান।"

বলা হয়ে থাকে যে: "তাঁর দাদা মুহাম্মদ বিন আল-খিজর তাইমা-র পথ ধরে হজে যাচ্ছিলেন, সেখানে তিনি একটি ছোট কন্যা শিশু দেখেন। এরপর তিনি যখন ফিরে আসলেন, দেখলেন তাঁর স্ত্রী একটি কন্যা সন্তান জন্ম দিয়েছেন। তখন তিনি বলে উঠলেন: হে তাইমিয়া! হে তাইমিয়া! এরপর থেকেই এই উপাধিটি পড়ে যায়" (৩)।

 

‌‌২ - তাঁর জন্ম ও বেড়ে ওঠা:

তিনি (রহিমাহুল্লাহ) ৬৬১ হিজরি সালের রবিউল আউয়াল মাসের দশ তারিখে, মতান্তরে বারো তারিখে, সোমবার হাররানে জন্মগ্রহণ করেন (৪)।

এবং ৬৬৭ হিজরি সালে তাতাররা তাঁর শহরে আক্রমণ চালায়, ফলে তাঁর পরিবার হাররান ত্যাগ করতে বাধ্য হয় এবং দামেস্কের অভিমুখে যাত্রা করে (৫)। সেখানেই পরিবারটি স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করে এবং সেখানে তিনি ইলম অন্বেষণ শুরু করেন...

--------------------------------------------

(১) দেখুন: ইবনে আব্দুল হাদির আল-উকুূদ আদ-দুররিয়্যাহ, পৃষ্ঠা ২; ইবনে কাসিরের আল-বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ, ১৪/১৩৫।

(২) ইবনে আব্দুল হাদি: মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন আব্দুল হাদি বিন আব্দুল হামিদ বিন কুদামা আল-মাকদিসি আল-জামায়িলি; তিনি ছিলেন একজন হাদিস বিশারদ (হাফিজ), সাহিত্যের বিশেষজ্ঞ এবং প্রথিতযশা হাম্বলি আলেমদের অন্তর্ভুক্ত। তিনি ইবনে তাইমিয়া থেকে জ্ঞান অর্জন করেছেন এবং তাঁর গুণাবলি বর্ণনা করে গ্রন্থ রচনা করেছেন। তিনি 'আস-সারিমুল মুনকি' গ্রন্থে আস-সুবকির প্রত্যুত্তর দিয়েছেন। তিনি ৭৪৪ হিজরি সালে ইন্তেকাল করেন।

তাঁর জীবনী সম্পর্কে দেখুন: ইবনে হাজারের আদ-দুরারুল কামিনাহ ৩/৪২১, ইবনুল ইমাদের শাযারাতুজ যাহাব ৬/১৪১, সুয়ুতির বুগয়াতুল উয়াত ১/২৯।

(৩) আল-উকুূদ আদ-দুররিয়্যাহ, পৃষ্ঠা ২।

(৪) দেখুন: আল-উকুূদ আদ-দুররিয়্যাহ, পৃষ্ঠা ২।

(৫) দেখুন: যাহাবির যাইলু তারিখিল ইসলাম-এর একটি অংশ, পৃষ্ঠা ২২; এবং আল-বাযযারের আল-আ’লামুল আলিয়্যাহ, পৃষ্ঠা ২১।
(খণ্ড: ১) দাওয়ানুল মুনাউয়িঈনা লি শায়খিল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ - আরদু ওয়া নাকদ (পৃষ্ঠা: ২৩)
علمائها منذ صغره، فنبغ ووصل إلى مصاف العلماء من حيث التأهل للتدريس والفتوى قبل أن يتم العشرين من عمره (1) .

ومما ذكره ابن عبد الهادي رحمه الله عنه في صغره أنه: (سمع مسند الإمام أحمد بن حنبل مرات، وسمع الكتب الستة الكبار والأجزاء، ومن مسموعاته معجم الطبراني الكبير.

وعني بالحديث وقرأ ونسخ، وتعلم الخط والحساب في المكتب، وحفظ القرآن، وأقبل على الفقه، وقرأ العربية على ابن عبد القوي (2) ، ثم فهمها، وأخذ يتأمل كتاب سيبويه (3) حتى فهم في النحو، وأقبل على التفسير إقبالاً كلياً، حتى حاز فيه قصب السبق، وأحكم أصول الفقه وغير ذلك.

هذا كله وهو بعد ابن بضع عشرة سنة، فانبهر أهل دمشق من فُرط ذكائه، وسيلان ذهنه، وقوة حافظته، وسرعة إدراكه) (4) .

(وقلّ كتاب من فنون العلم إلا وقف عليه، كأن الله قد خصه بسرعة الحفظ، وإبطاء النسيان لم يكن يقف على شيء أو يستمع لشيء - غالباً - إلا ويبقى على خاطره، إما بلفظه أو معناه، وكان العلم كأنه قد اختلط بلحمه ودمه وسائره.

--------------------------------------------

(1) انظر: القول الجلي لمحمد صفي الدين البخاري ص195.

(2) ابن عبد القوي: محمد بن عبد القوي بن بدران بن عبد الله المرداوي المقدسي، المحدث النحوي، درس وأفتى، وصنف وبرع في العربية واللغة، كان حسن الديانة دمث الأخلاق، كثير الإفادة، قرأ عليه ابن تيمية العربية، ت سنة 699هـ.

انظر في ترجمته: النجوم الزاهرة للأتابكي 8/192، شذرات الذهب لابن العماد 5/452.

(3) سيبويه: عمرو بن عثمان بن قنبر، أبو بشر، إمام النحو، وحجة العربية، طلب الفقه والحديث، ثم أقبل على العربية حتى صار أعلم المتقدمين بالنحو، ت سنة 180هـ.

انظر في ترجمته: تاريخ العلماء النحويين للمعري ص90، تاريخ بغداد للخطيب 12/195.

(4) العقود الدرية ص3.
শৈশব থেকেই তিনি সেখানকার আলেমদের সান্নিধ্যে ছিলেন, ফলে তিনি প্রতিভার স্বাক্ষর রাখেন এবং কুড়ি বছর বয়স হওয়ার আগেই পাঠদান ও ফতোয়া প্রদানের যোগ্যতাসম্পন্ন আলেমদের কাতারে পৌঁছে যান (১)।

ইবনে আবদিল হাদী (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর শৈশব সম্পর্কে যা উল্লেখ করেছেন তা হলো: (তিনি ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বলের 'মুসনাদ' কয়েকবার শ্রবণ করেছেন, এবং বড় ছয়টি কিতাব ও আরও বহু ছোট কিতাব ও সংকলন শুনেছেন। তাঁর শ্রুত কিতাবগুলোর মধ্যে তাবারানীর 'মুজামুল কাবীর'ও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

তিনি হাদিসের প্রতি গভীর মনোযোগী ছিলেন, তা পাঠ করেছেন ও অনুলিপি তৈরি করেছেন। মক্তবে তিনি লিপিবিদ্যা ও গণিত শিক্ষা করেন, কুরআন মুখস্থ করেন এবং ফিকহ শাস্ত্রের প্রতি নিবিষ্ট হন। তিনি ইবনে আবদিল কাভী (২)-এর নিকট আরবি ভাষা অধ্যয়ন করেন এবং তা আয়ত্ত করেন। এরপর তিনি সীবওয়াইহ-এর কিতাব (৩) নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা-ভাবনা করেন, এমনকি নাহু (ব্যাকরণ) শাস্ত্রে গভীর জ্ঞান অর্জন করেন। তিনি তাফসীরের দিকে পূর্ণরূপে মনোনিবেশ করেন, এমনকি তাতে তিনি শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেন এবং উসূলুল ফিকহ ও অন্যান্য শাস্ত্র সুনিপুণভাবে আয়ত্ত করেন।

এসবই ঘটেছিল যখন তাঁর বয়স মাত্র কৈশোরকালে। তাঁর এই প্রখর মেধা, তীক্ষ্ণ ধীশক্তি, প্রবল স্মৃতিশক্তি এবং দ্রুত অনুধাবন ক্ষমতার কারণে দামেস্কের মানুষ বিস্মিত হয়ে পড়েছিলেন) (৪)।

(জ্ঞানের বিভিন্ন শাখার খুব কম কিতাবই এমন ছিল যা তিনি গভীর পর্যালোচনার মাধ্যমে পাঠ করেননি। মনে হতো আল্লাহ তাঁকে দ্রুত মুখস্থ করার এবং ভুলে না যাওয়ার অনন্য ক্ষমতা দান করেছেন। কোনো কিছু তিনি পাঠ করলে বা শুনলে—সাধারণত—তা তাঁর স্মৃতিতে গেঁথে থাকত, হয় তার শব্দসহ অথবা মর্মসহ। ইলম বা জ্ঞান যেন তাঁর রক্ত-মাংস ও শরীরের প্রতিটি অংশের সাথে মিশে গিয়েছিল।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: মুহাম্মদ সফিউদ্দিন আল-বুখারী কৃত আল-কাওলুল জালী, পৃষ্ঠা ১৯৫।

(২) ইবনে আবদিল কাভী: মুহাম্মদ ইবনে আবদিল কাভী ইবনে বদরান ইবনে আব্দুল্লাহ আল-মারদাওয়ী আল-মাকদিসী; মুহাদ্দিস ও ব্যাকরণবিদ। তিনি পাঠদান ও ফতোয়া প্রদান করেছেন এবং আরবি ভাষা ও সাহিত্যে বহু গ্রন্থ রচনা করেছেন ও পারদর্শিতা দেখিয়েছেন। তিনি অত্যন্ত ধর্মপ্রাণ, বিনয়ী এবং জ্ঞান বিতরণে নিবেদিতপ্রাণ ছিলেন। ইবনে তাইমিয়া তাঁর নিকট আরবি ভাষা শিখেছেন। তিনি ৬৯৯ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন।

তাঁর জীবনী দেখুন: আতাবাকীর আন-নুজুমুজ জাহেরা ৮/১৯২, ইবনুল ইমাদের শাযারাতুয যাহাব ৫/৪৫২।

(৩) সীবওয়াইহ: আমর ইবনে উসমান ইবনে কানবার, আবু বিশর; ব্যাকরণ শাস্ত্রের ইমাম এবং আরবি ভাষার প্রামাণ্য ব্যক্তিত্ব। তিনি ফিকহ ও হাদিস শিক্ষা করেন, এরপর আরবির দিকে মনোনিবেশ করেন এবং ব্যাকরণশাস্ত্রে পূর্বসূরিদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ জ্ঞানী হিসেবে পরিচিত হন। তিনি ১৮০ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন।

তাঁর জীবনী দেখুন: আল-মা'ররী কৃত তারিখুল উলামাইন নাহউইয়ীন পৃষ্ঠা ৯০, খতীব আল-বাগদাদী কৃত তারিখু বাগদাদ ১২/১৯৫।

(৪) আল-উকূদুদ দুররিয়াহ, পৃষ্ঠা ৩।
(খণ্ড: ১) দাওয়ানুল মুনাউয়িঈনা লি শায়খিল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ - আরদু ওয়া নাকদ (পৃষ্ঠা: ২৪)
فإنه لم يكن مستعاراً، بل كان له شعاراً ودثاراً، ولم يزل آباؤه أهل الدراية التامة والنقد، والقدم الراسخة في الفضل، لكن جمع الله له ما خرق بمثله العادة، ووفقه في جميع عمره لأعلام السعادة، وجعل مآثره لإمامته أكبر شهادة) (1) .

وكان رحمه الله حسن الاستنباط، قوي الحجة، سريع البديهة، قال عنه البزار (2) رحمه الله (وأما ما وهبه الله تعالى ومنحه من استنباط المعاني من الألفاظ النبوية والأخبار المروية، وإبراز الدلائل منها على المسائل، وتبيين مفهوم اللفظ ومنطوقه، وإيضاح المخصص للعام، والمقيد للمطلق، والناسخ للمنسوخ، وتبيين ضوابطها، ولوازمها وملزوماتها، وما يترتب عليها، وما يحتاج فيه إليها، حتى إذا ذكر آية أو حديثاً، وبين معانيه، وما أريد فيه، يعجب العالم الفطن من حسن استنباطه، ويدهشه ما سمعه أو وقف عليه منه) (3) .

وكان رحمه الله ذا عفاف تام، واقتصاد في الملبس والمأكل، صيناً، تقياً، براً بأمه، ورعاً عفيفاً، عابداً، ذاكراً لله في كل أمر على كل حال، رجاعاً إلى الله في سائر الأحوال والقضايا، وقافاً عند حدود الله وأوامره ونواهيه، آمراً بالمعروف ناهياً عن المنكر، لا تكاد نفسه تشبع من العلم، فلا تروى من المطالعة، ولا تمل من الاشتغال، ولا تكل من البحث.

قال ابن عبد الهادي (ت - 744هـ) رحمه الله عنه: (ثم لم يبرح شيخنا رحمه الله في ازدياد من العلوم وملازمة الاشتغال والإشغال، وبث العلم ونشره، والاجتهاد

--------------------------------------------

(1) الأعلام العلية للبزار ص22.

(2) البزار: عمر بن علي بن موسى البغدادي الأزجي البزار، عني بالقرآن والحديث، وقرأ الكثير، ورحل إلى دمشق، وأخذ عن ابن تيمية وترجم له، وحج مراراً، كان حسن القراءة، ذا عبادة، ت سنة 749هـ.

انظر في ترجمته: الدرر الكامنة لابن حجر 3/256، شذرات الذهب لابن العماد 6/163.

(3) الأعلام العلية ص31، 32.
কেননা এটি ধার করা কোনো বিষয় ছিল না, বরং তা ছিল তাঁর অবিচ্ছেদ্য ভূষণ ও আচ্ছাদন। তাঁর পিতৃপুরুষগণ সর্বদা পূর্ণ প্রজ্ঞা ও বিচারবুদ্ধি এবং শ্রেষ্ঠত্বের ক্ষেত্রে সুদৃঢ় অবস্থানের অধিকারী ছিলেন। তবে আল্লাহ তাঁর মধ্যে এমন সব গুণের সমাবেশ ঘটিয়েছিলেন যা সচরাচর দেখা যায় না। তিনি সারা জীবন তাঁকে সৌভাগ্যের নিদর্শনসমূহের তৌফিক দান করেছিলেন এবং তাঁর কীর্তিসমূহকে তাঁর ইমামতির জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ সাক্ষ্য হিসেবে নির্ধারণ করেছিলেন। (১)

তিনি (রহিমাহুল্লাহ) চমৎকার উদ্ভাবনক্ষমতা, শক্তিশালী দলিল ও উপস্থিত বুদ্ধির অধিকারী ছিলেন। আল-বাযযার (২) (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: (আর মহান আল্লাহ তাঁকে নববী বাণী ও বর্ণিত হাদিসসমূহ থেকে অর্থের উদ্ভাবন, মাসআলাগুলোর সপক্ষে সেখান থেকে দলিল উপস্থাপন, শব্দের বাহ্যিক ও অন্তর্নিহিত অর্থ স্পষ্টকরণ এবং সাধারণকে বিশেষায়িত করা, অনির্ধারিতকে নির্ধারিত করা, রহিতকারী ও রহিত বিষয় স্পষ্টকরণ এবং এগুলোর নীতিমালা, আবশ্যিকতা ও অনুগামী বিষয়সমূহ এবং এর ওপর ভিত্তি করে যা কিছু সাব্যস্ত হয় ও যা কিছুর প্রয়োজন পড়ে— এসব ক্ষেত্রে আল্লাহ তাঁকে যা দান করেছেন এবং ভূষিত করেছেন তা বিস্ময়কর। এমনকি যখন তিনি কোনো আয়াত বা হাদিস উল্লেখ করতেন এবং তার অর্থ ও উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করতেন, তখন বিচক্ষণ আলেমও তাঁর চমৎকার উদ্ভাবনশৈলী দেখে বিস্মিত হতেন এবং যা শুনতেন বা দেখতেন তাতে অভিভূত হয়ে পড়তেন)। (৩)

তিনি (রহিমাহুল্লাহ) ছিলেন পূর্ণ চারিত্রিক শুদ্ধতা এবং পোশাক-পরিচ্ছদ ও আহারের ক্ষেত্রে পরিমিতিবোধ সম্পন্ন। তিনি ছিলেন আত্মমর্যাদাবান, মুত্তাকী, মায়ের প্রতি পরম সদাচারী, পরহেজগার, পবিত্র চরিত্রের অধিকারী, ইবাদতকারী, সকল বিষয়ে ও সর্বাবস্থায় আল্লাহর জিকিরকারী। সমস্ত পরিস্থিতি ও ঘটনায় তিনি আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তনকারী এবং আল্লাহর নির্ধারিত সীমারেখা ও আদেশ-নিষেধের ব্যাপারে অত্যন্ত যত্নশীল ছিলেন। তিনি সৎকাজের আদেশ দিতেন ও অসৎকাজে নিষেধ করতেন। জ্ঞানার্জনে তাঁর তৃপ্তি হতো না, অধ্যয়নে তিনি পরিতৃপ্ত হতেন না, ব্যস্ততায় ক্লান্ত হতেন না এবং গবেষণায় শ্রান্ত হতেন না।

ইবন আব্দুল হাদি (মৃত্যু - ৭৪৪ হি.) রহিমাহুল্লাহ তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: (অতঃপর আমাদের শাইখ রহিমাহুল্লাহ জ্ঞান বৃদ্ধি, জ্ঞানচর্চায় মগ্ন থাকা ও জ্ঞান বিতরণে ব্যস্ত থাকা, ইলম প্রচার ও প্রসার এবং ইজতিহাদ করার ক্ষেত্রে নিরবচ্ছিন্নভাবে রত ছিলেন...)

--------------------------------------------

(১) আল-বাযযার বিরচিত আল-আ'লামুল আলিয়্যাহ, পৃষ্ঠা ২২।

(২) আল-বাযযার: উমর বিন আলী বিন মুসা আল-বাগদাদী আল-আজজী আল-বাযযার। তিনি কুরআন ও হাদিসের প্রতি বিশেষভাবে যত্নশীল ছিলেন। তিনি প্রচুর ইলম অর্জন করেন এবং দামেশক সফর করে ইবনে তাইমিয়্যাহর নিকট থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেন ও তাঁর জীবনী রচনা করেন। তিনি কয়েকবার হজ পালন করেন। তিনি সুন্দর তিলাওয়াতকারী ও ইবাদতগুজার ব্যক্তি ছিলেন। মৃত্যু: ৭৪৯ হিজরি।

তাঁর জীবনী দেখুন: ইবনে হাজারের আদ-দুরারুল কামিনাহ ৩/২৫৬, ইবনুল ইমাদের শাযারাতুয যাহাব ৬/১৬৩।

(৩) আল-আ'লামুল আলিয়্যাহ, পৃষ্ঠা ৩১, ৩২।
(খণ্ড: ১) দাওয়ানুল মুনাউয়িঈনা লি শায়খিল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ - আরদু ওয়া নাকদ (পৃষ্ঠা: ২৫)
في سبل الخير حتى انتهت إليه الإمامة في العلم والعمل، والزهد والورع، والشجاعة والكرم، والتواضع والحلم والإنابة، والجلالة والمهابة، والأمر بالمعروف والنهي عن المنكر، وسائر أنواع الجهاد مع الصدق والعفة والصيانة، وحسن القصد والإخلاص، والابتهال إلى الله وكثرة الخوف منه، وكثرة المراقبة له وشدة التمسك بالأثر، والدعاء إلى الله وحسن الأخلاق، ونفع الخلق، والإحسان إليهم والصبر على من آذاه، والصفح عنه والدعاء له، وسائر أنواع الخير) (1) .

 

‌‌3 - عصره:

 

‌‌أولاً: الناحية السياسية:

يستطيع الواصف للحالة السياسية لعصر ابن تيمية رحمه الله أن يحدد معالمها بثلاثة أمور رئيسة:

أ - غزو التتار للعالم الإسلامي.

ب - هجوم الفرنجة على العالم الإسلامي.

جـ - الفتن الداخلية، وخاصة بين المماليك والتتار والمسلمين.

وقد ذكر ابن الأثير (2) رحمه الله وصفاً دقيقاً لذلك العصر، وهو من أهله:

فقال: (لقد بلي الإسلام والمسلمون في هذه المدة بمصائب لم يبتل بها

--------------------------------------------

(1) العقود الدرية ص6 - 7. وممن اعتنى بذكر صفات شيخ الإسلام على وجه التفصيل: الحافظ البزار في الأعلام العلية. ومحمد أبو زهرة في كتابه ابن تيمية ص82 - 94، وعمر فروخ في كتابه ابن تيمية المجتهد ص51 - 54.

(2) ابن الأثير: علي بن محمد بن عبد الكريم بن عبد الواحد الشيباني الجزري أبو الحسن، المؤرخ الإمام، من العلماء بالنسب والأدب، سكن الموصل، وتجول في البلدان، وعاد إليها وتوفي بها سنة 630هـ.

انظر في ترجمته: وفيات الأعيان لابن خلكان 3/33، طبقات الشافعية للسبكي 8/299، شذرات الذهب لابن العماد 5/137.
কল্যাণের পথে (অগ্রসর হতে হতে) শেষ পর্যন্ত জ্ঞান ও আমল, দুনিয়াত্যাগ ও পরহেজগারি, বীরত্ব ও উদারতা, বিনয়, সহনশীলতা ও আল্লাহর অভিমুখী হওয়া, মহিমা ও গাম্ভীর্য, সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধ এবং সত্যবাদিতা, পবিত্রতা ও চারিত্রিক সুরক্ষা, উত্তম সংকল্প ও একনিষ্ঠতা, আল্লাহর নিকট কায়মনোবাক্যে প্রার্থনা ও তাঁকে অত্যধিক ভয় করা, তাঁর প্রতি গভীর পর্যবেক্ষণ এবং আছারের (নবী ও সাহাবীদের বর্ণিত পথ) প্রতি দৃঢ় সংহতি, আল্লাহর দিকে দাওয়াত ও উত্তম চরিত্র, সৃষ্টির কল্যাণ সাধন, তাদের প্রতি ইহসান এবং কষ্ট দানকারীর ওপর ধৈর্য ধারণ, তাকে ক্ষমা করা ও তার জন্য দুআ করা এবং অন্যান্য সকল প্রকার কল্যাণের ক্ষেত্রে ইমামত বা নেতৃত্ব তাঁর ওপর এসে সমাপ্ত হয়েছে) (১)।

 

‌‌৩ - তাঁর যুগ:

 

‌‌প্রথমত: রাজনৈতিক দিক:

ইবনে তাইমিয়া (রাহিমাহুল্লাহ)-এর যুগের রাজনৈতিক অবস্থা বর্ণনা করতে গিয়ে একজন বর্ণনাকারী এর বৈশিষ্ট্যগুলোকে তিনটি প্রধান বিষয়ে সুনির্দিষ্ট করতে পারেন:

ক - মুসলিম বিশ্বে তাতারদের আক্রমণ।

খ - মুসলিম বিশ্বে ক্রুসেডারদের আক্রমণ।

গ - অভ্যন্তরীণ ফিতনা, বিশেষ করে মামলুক, তাতার এবং মুসলমানদের মাঝে।

ইবনুল আসীর (২) (রাহিমাহুল্লাহ) সেই যুগের একটি সূক্ষ্ম বর্ণনা দিয়েছেন, যেহেতু তিনি সেই সময়েরই মানুষ ছিলেন:

তিনি বলেছেন: (নিশ্চয়ই এই সময়ে ইসলাম ও মুসলমানরা এমন সব মুসিবতে আক্রান্ত হয়েছে যা দিয়ে (পূর্বে কখনও) পরীক্ষা করা হয়নি...

--------------------------------------------

(১) আল-উকূদ আদ-দুরিইয়্যাহ, পৃষ্ঠা ৬ - ৭। শাইখুল ইসলামের গুণাবলি বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করার ক্ষেত্রে যারা গুরুত্ব দিয়েছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন: হাফেজ আল-বাযযার ‘আল-আলামুল আলিয়্যাহ’ গ্রন্থে; মুহাম্মদ আবু জাহরা তাঁর ‘ইবনে তাইমিয়া’ গ্রন্থে, পৃষ্ঠা ৮২ - ৯৪; এবং উমর ফাররুখ তাঁর ‘ইবনে তাইমিয়া আল-মুজতাহিদ’ গ্রন্থে, পৃষ্ঠা ৫১ - ৫৪।

(২) ইবনুল আসীর: আলী বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল কারীম বিন আব্দুল ওয়াহিদ আশ-শায়বানি আল-জাযারি আবু আল-হাসান; তিনি ছিলেন একজন ইমাম ঐতিহাসিক, বংশবিদ্যা ও সাহিত্যের অন্যতম আলেম। তিনি মোসেলে বসবাস করতেন, বিভিন্ন দেশে ভ্রমণ করেছেন এবং পুনরায় সেখানে ফিরে আসেন ও হিজরি ৬৩০ সনে সেখানেই ইন্তেকাল করেন।

তাঁর জীবনী দেখুন: ইবনে খাল্লিকানের ‘ওয়াফায়াতুল আইয়ান’ ৩/৩৩, সুবকির ‘তাবাকাতুশ শাফিইয়্যাহ’ ৮/২৯৯, ইবনুল ইমাদের ‘শাযারাতুয যাহাব’ ৫/১৩৭।
(খণ্ড: ১) দাওয়ানুল মুনাউয়িঈনা লি শায়খিল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ - আরদু ওয়া নাকদ (পৃষ্ঠা: ২৬)
أحد من الأمم: منها هؤلاء التتر: فمنهم من أقبلوا من الشرق ففعلوا الأفعال التي يستعظمها كل من سمع بها.

ومنها: خروج الفرنج - لعنهم الله - من الغرب إلى الشام وقصدهم ديار مصر وامتلاكهم ثغرها - أي دمياط -، وأشرفت ديار مصر وغيرها على أن يملكوها لولا لطف الله تعالى ونصره عليهم.

ومنها: أن السيف بينهم مسلول، والفتنة قائمة) (1) .

فأما التتار: فقد كانوا فاجعة الإسلام والمسلمين في القرن السابع الهجري، في سقوط بغداد - وبها سقطت الخلافة العباسية - سنة (656هـ) (2) وما قبل سقوط بغداد بسنوات (3) ، وما بعد سقوط بغداد حيث كانت هذه الأحداث قريبة من ولادة شيخ الإسلام ابن تيمية (ولا بد أن يكون قد شاهد آثار هذا الخراب والدمار بأم عينيه، وسمع تفاصيله المؤلمة عمن رأوا مناظره وشهدوها وشاهدوها، فمن الطبيعي أن يتأثر قلبه الغيور المرهف بنكبة المسلمين هذه وذلتهم، وتمتلئ نفسه غيظاً وكراهية لأولئك الوحوش الضواري) (4) .

وأما ظهور الفرنجة أو (الحروب الصليبية) : فقد كانت ولادة ابن تيمية رحمه الله في بداية الدور الرابع لهذه الحروب الذي يمثل دور الضعف الفرنجي وتجدد قوة المسلمين، باسترداد كثير من المدن الشامية الكبرى، وإكمال مسيرة طرد الفرنج من بلاد المسلمين.

--------------------------------------------

(1) الكامل في التاريخ 9/320.

(2) انظر شيئاً من وصف هذه الفاجعة في البداية والنهاية لابن كثير 13/200 - 204 في حوادث سنة (656هـ) .

(3) كان هجوم التتار على العالم الإسلامي قبل سقوط بغداد بسنوات عدة، وقد ذكر ابن الأثير وهو المتوفى عام (630هـ) في حوادث سنة (617هـ) أنه بقي عدة سنين معرضاً عن ذكر أعمال التتار في المسلمين استعظاماً لها، ويقدم رجلاً ويؤخر أخرى قال: (فمن الذي يسهل عليه أن يكتب نعي الإسلام والمسلمين، ومن الذي يهون عليه ذكر ذلك، فياليت أمي لم تلدني، وياليتني مت قبل هذا وكنت نسياً منسياً) .

(4) شيخ الإسلام الحافظ أحمد بن تيمية لأبي الحسن الندوي ص17.
জাতিসমূহের মধ্যে অন্যতম ছিল এই তাতাররা: তাদের মধ্যে একদল ছিল যারা পূর্ব দিক থেকে ধেয়ে এসে এমন সব কর্মকাণ্ড ঘটিয়েছিল যা শ্রবণকারী মাত্রই শিউরে ওঠে।

আরও একটি বিষয় ছিল: পশ্চিম দিক থেকে সিরিয়ার (শাম) উদ্দেশ্যে ইউরোপীয়দের (ফ্রাঞ্জ) বের হওয়া - আল্লাহ তাদের অভিশাপ দিন - এবং তাদের মিশরীয় ভূখণ্ডে গমনের সংকল্প ও এর প্রবেশদ্বার—অর্থাৎ দিমইয়াত—দখল করা; আর মহান আল্লাহর দয়া ও তাদের বিরুদ্ধে তাঁর সাহায্য না থাকলে মিশর ও অন্যান্য জনপদ তাদের হস্তগত হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল।

আরেকটি বিষয় ছিল: তাদের মধ্যে তরবারি উন্মুক্ত ছিল এবং ফিতনা দণ্ডায়মান ছিল) (১)।

তাতারদের বিষয়ে বলতে গেলে: তারা হিজরি সপ্তম শতাব্দীতে ইসলাম ও মুসলমানদের জন্য এক মহাবিপদ ছিল, যা ৬৫৬ হিজরি সনে বাগদাদের পতন—যার মধ্য দিয়ে আব্বাসীয় খিলাফতের পতন ঘটে—(২) এবং বাগদাদের পতনের কয়েক বছর পূর্বে (৩) ও বাগদাদের পতনের পরবর্তী সময়ের ঘটনাবলিতে প্রকাশ পায়। যেহেতু এই ঘটনাগুলো শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহর জন্মের সমসাময়িক ছিল (এবং এটি নিশ্চিত যে তিনি এই ধ্বংস ও বিনাশের চিহ্নসমূহ স্বচক্ষে দেখেছিলেন এবং যারা এই দৃশ্য প্রত্যক্ষ করেছেন তাদের কাছ থেকে এর যন্ত্রণাদায়ক বিবরণ শুনেছেন। তাই এটি স্বাভাবিক যে, মুসলমানদের এই মহাবিপদ ও লাঞ্ছনায় তাঁর সংবেদনশীল ও মর্যাদাবোধ সম্পন্ন হৃদয় ব্যথিত হবে এবং ঐসব হিংস্র পশুর প্রতি তাঁর অন্তর প্রচণ্ড ক্ষোভ ও ঘৃণায় ভরে উঠবে) (৪)।

আর ইউরোপীয়দের (ফ্রাঞ্জ) আবির্ভাব বা (ক্রুসেড) প্রসঙ্গে: ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহিমাহুল্লাহ)-এর জন্ম হয়েছিল এই যুদ্ধসমূহের চতুর্থ পর্যায়ের শুরুতে, যা ছিল ইউরোপীয়দের দুর্বলতা এবং সিরিয়ার (শাম) অনেক বড় বড় শহর পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে মুসলমানদের শক্তি পুনর্জাগরণের সময়কাল এবং মুসলিম ভূখণ্ড থেকে ইউরোপীয়দের বিতাড়িত করার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার যুগ।

--------------------------------------------

(১) আল-কামিল ফিত তারিখ ৯/৩২০।

(২) ইবনে কাসীর রচিত আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া ১৩/২০০ - ২০৪ পৃষ্ঠায় ৬৫৬ হিজরি সনের ঘটনাবলিতে এই মহাবিপদের কিছু বিবরণ দেখুন।

(৩) বাগদাদের পতনের কয়েক বছর পূর্বেই মুসলিম বিশ্বের উপর তাতারদের আক্রমণ শুরু হয়েছিল। ৬৩০ হিজরি সনে ইন্তেকালকারী ইবনে আল-আসীর ৬১৭ হিজরি সনের ঘটনাবলিতে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি তাতারদের দ্বারা মুসলমানদের ওপর চালানো পৈশাচিক কর্মকাণ্ডের ভয়াবহতার কারণে তা বর্ণনা করা থেকে কয়েক বছর বিরত ছিলেন এবং দ্বিধাগ্রস্ত অবস্থায় বলতেন: (কার পক্ষে ইসলাম ও মুসলমানদের ধ্বংসের সংবাদ লেখা সহজ হবে? কার কাছে এটি বর্ণনা করা তুচ্ছ মনে হবে? হায়! যদি আমার জননী আমাকে জন্ম না দিতেন! হায়! যদি আমি এর আগেই মারা যেতাম এবং বিস্মৃতির অতলে হারিয়ে যেতাম!)।

(৪) আবুল হাসান নদভী রচিত 'শায়খুল ইসলাম হাফেজ আহমদ ইবনে তাইমিয়্যাহ', পৃষ্ঠা ১৭।
(খণ্ড: ১) দাওয়ানুল মুনাউয়িঈনা লি শায়খিল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ - আরদু ওয়া নাকদ (পৃষ্ঠা: ২৭)
وأما الفتن الداخلية: فما كان يحصل بين المماليك وتنازعهم على السلطة وما كان يحصل بينهم وبين التتر المسلمين، وقد كان لابن تيمية رحمه الله مشاركة في إصلاح بعض هذا، وفي مقدمة مواقف ابن تيمية رحمه الله يذكر المؤرخون قصته مع آخر أمراء المماليك وذلك بتذكيره بحقن دماء المسلمين، وحماية ذراريهم وصون حرماتهم (1) .

 

‌‌ثانياً: الناحية الاجتماعية:

كانت مجتمعات المسلمين خليطاً من أجناس مختلفة، وعناصر متباينة بسبب الاضطراب السياسي في بلادهم.

إذ اختلط التتار - القادمون من أقصى الشرق حاملين معهم عاداتهم وأخلاقهم وطباعهم الخاصة - بالمسلمين في ديار الإسلام الذين هم أقرب إلى الإسلام عقيدة وخلقاً من التتر.

ونوعية ثالثة: ألا وهي أسرى حروب الفرنجة والترك إذ كان لهم شأن في فرض بعض النظم الاجتماعية، وتثبيت بعض العوائد السيئة، والتأثير اللغوي العام على المجتمع المسلم.

إضافة إلى امتزاج أهل الأمصار الإسلامية بين بعضهم البعض بسبب الحروب الطاحنة من التتار وغيرهم، فأهل العراق يفرون إلى الشام، وأهل دمشق إلى مصر والمغرب وهكذا.

كل هذا ساعد في تكوين بيئة اجتماعية غير منتظمة وغير مترابطة، وأوجد عوائد بين المسلمين لا يقرها الإسلام، وأحدث بدعاً مخالفة للشريعة كان لابن تيمية رحمه الله أكبر الأثر في بيان الخطأ والنصح للأمة، ومقاومة المبتدعة (2) .

--------------------------------------------

(1) انظر: الأعلام العلية للبزار ص64 - 65، البداية والنهاية لابن كثير 14/89 في ترجمة محمد البالسي في حوادث سنة 718هـ.

(2) انظر: ابن تيمية لأبي زهرة ص125 - 129، شيخ الإسلام الحافظ أحمد بن تيمية للندوي ص21 - 24.
অভ্যন্তরীণ ফিতনা প্রসঙ্গে: মামলুকদের মধ্যে যা ঘটত এবং ক্ষমতার জন্য তাদের পারস্পরিক বিবাদ, আর তাদের ও মুসলিম তাতারদের মধ্যে যা সংঘটিত হতো। ইবনে তাইমিয়া (রহিমাহুল্লাহ)-এর এগুলোর কিছু সংস্কারে অবদান ছিল। ইবনে তাইমিয়া (রহিমাহুল্লাহ)-এর অবস্থানসমূহের অগ্রভাগে ঐতিহাসিকগণ মামলুকদের শেষ আমীরদের সাথে তাঁর সেই ঘটনার কথা উল্লেখ করেন, যেখানে তিনি তাদের মুসলিমদের রক্তপাত বন্ধ করা, তাদের সন্তানদের সুরক্ষা প্রদান এবং তাদের মর্যাদা রক্ষার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছিলেন (১)।

 

‌‌দ্বিতীয়ত: সামাজিক দিক:

মুসলিম সমাজগুলো তাদের দেশসমূহে রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে বিভিন্ন জাতি ও বিচিত্র উপাদানের সংমিশ্রণে গঠিত ছিল।

কেননা তাতাররা—যারা সুদূর প্রাচ্য থেকে তাদের নিজস্ব অভ্যাস, চরিত্র ও স্বভাব নিয়ে এসেছিল—তারা ইসলামি ভূখণ্ডের মুসলিমদের সাথে মিশে গিয়েছিল, যারা আকিদাহ ও চরিত্রের দিক থেকে তাতারদের তুলনায় ইসলামের অধিক নিকটবর্তী ছিল।

আর তৃতীয় একটি প্রকার ছিল: তারা হলো ক্রুসেডার ও তুর্কি যুদ্ধবন্দীগণ; মুসলিম সমাজে কিছু সামাজিক প্রথা চাপিয়ে দেওয়া, কিছু মন্দ অভ্যাস গেড়ে বসা এবং সাধারণ ভাষাগত প্রভাব বিস্তারের ক্ষেত্রে তাদের ভূমিকা ছিল।

এছাড়া তাতার ও অন্যদের ভয়াবহ যুদ্ধের কারণে বিভিন্ন মুসলিম জনপদের অধিবাসীদের একে অপরের সাথে সংমিশ্রণ ঘটেছিল। ফলে ইরাকের অধিবাসীরা শামে পালিয়ে আসত, দামেস্কের অধিবাসীরা মিসর ও মরক্কোতে চলে যেত—এভাবেই চলতে থাকত।

এ সবকিছুই একটি অনিয়মিত ও অসংলগ্ন সামাজিক পরিবেশ তৈরিতে সহায়তা করেছিল এবং মুসলিমদের মধ্যে এমন কিছু অভ্যাসের উদ্ভব ঘটিয়েছিল যা ইসলাম সমর্থন করে না। এছাড়া শরিয়ত বিরোধী এমন সব বিদআতের জন্ম দিয়েছিল যা নিরসনে ভুলগুলো স্পষ্ট করা, উম্মতকে নসিহত করা এবং বিদআতিদের প্রতিরোধ করার ক্ষেত্রে ইবনে তাইমিয়া (রহিমাহুল্লাহ)-এর বিশাল প্রভাব ছিল (২)।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: আল-বাযযার প্রণীত আল-আ’লামুল আলিয়্যাহ, পৃষ্ঠা ৬৪-৬৫; ইবনে কাসীর প্রণীত আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ১৪/৮৯, ৭১৮ হিজরির ঘটনাবলীতে মুহাম্মদ আল-বালিসির জীবনীতে।

(২) দেখুন: আবু জাহরা প্রণীত ইবনে তাইমিয়া, পৃষ্ঠা ১২৫-১২৯; নদভী প্রণীত শাইখুল ইসলাম হাফেজ আহমদ ইবনে তাইমিয়া, পৃষ্ঠা ২১-২৪।
(খণ্ড: ১) দাওয়ানুল মুনাউয়িঈনা লি শায়খিল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ - আরদু ওয়া নাকদ (পৃষ্ঠা: ২৮)
‌‌ثالثاً: الناحية العلمية:

في عصر ابن تيمية رحمه الله قل الإنتاج العلمي، وركدت الأذهان، وأقفل باب الاجتهاد وسيطرت نزعة التقليد والجمود، وأصبح قصارى جهد كثير من العلماء هو جمع وفهم الأقوال من غير بحث ولا مناقشة، فألفت الكتب المطولة والمختصرة، ولكن لا أثر فيها للابتكار والتجديد، وهكذا عصور الضعف تمتاز بكثرة الجمع وغزارة المادة مع نضوب في البحث والاستنتاج.

ويحيل بعض الباحثين ذلك الضعف إلى: سيادة الأتراك والمماليك مما سبب استعجام الأنفس والعقول والألسن، إضافة إلى اجتماع المصائب على المسلمين، فلم يكن لديهم من الاستقرار ما يمكنهم من الاشتغال بالبحث والتفكير (1) .

ولا ينكر وجود أفراد من العلماء النابهين أهل النبوغ، ولكن أولئك قلة لا تنخرم بهم القاعدة. وثمة أمر آخر في عصر ابن تيمية أثر في علمه ألا وهو: اكتمال المكتبة الإسلامية بكثير من الموسوعات الكبرى في العلوم الشرعية: من التفسير، والحديث، والفقه، وغيرها.

فالسنة مبسوطة، والمذاهب مدونة، ولم يعد من السهل تحديد الكتب التي قرأها وتأثر بها، ولا معرفة تأثير شيوخه عليه بدقة.

 

‌‌4 - محن الشيخ:

امتحن الشيخ مرات عدة بسبب نكاية الأقران وحسدهم، ولما كانت منزلة شيخ الإسلام في الشام عالية عند الولاة وعند الرعية وشى به ضعاف النفوس عند الولاة في مصر، ولم يجدوا غير القدح في عقيدته، فطلب إلى مصر، وتوجه إليها سنة 705هـ. بعدما عقدت له مجالس في دمشق لم يكن للمخالف فيها حجة (2) ، وبعد أن وصل إلى مصر بيوم عقدوا له محاكمة كان يظن شيخ

--------------------------------------------

(1) انظر: ابن تيمية السلفي لمحمد هراس ص16 - 17.

(2) انظر تفصيل ذلك في: البداية والنهاية لابن كثير 14/36 - 39، وحكاية المناظرة في العقيدة الواسطية في مجموع الفتاوى 3/160 - 194.
তৃতীয়ত: জ্ঞানতাত্ত্বিক দিক:

ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ)-এর যুগে জ্ঞানতাত্ত্বিক উৎপাদন হ্রাস পেয়েছিল, চিন্তাশক্তি স্থবির হয়ে পড়েছিল, ইজতিহাদের দরজা রুদ্ধ হয়ে গিয়েছিল এবং তাকলীদ (অন্ধ অনুসরণ) ও জড়তার প্রবণতা আধিপত্য বিস্তার করেছিল। অধিকাংশ আলিমের প্রচেষ্টার সর্বোচ্চ সীমা ছিল কোনো প্রকার গবেষণা ও পর্যালোচনা ছাড়াই বিভিন্ন মতামত সংগ্রহ করা ও তা অনুধাবন করা। ফলে দীর্ঘ ও সংক্ষিপ্ত বহু কিতাব রচিত হলেও সেগুলোতে উদ্ভাবন ও নতুনত্বের কোনো ছাপ ছিল না। এভাবেই দুর্বলতার যুগগুলো গবেষণা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে বন্ধ্যাত্বের পাশাপাশি তথ্য সংগ্রহ ও উপাদানের প্রাচুর্যের মাধ্যমে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত হয়।

কিছু গবেষক এই দুর্বলতাকে তুর্কি ও মামলুকদের আধিপত্যের কারণ বলে মনে করেন, যা মানুষের আত্মা, চিন্তা ও ভাষার ক্ষেত্রে অনারবীয় প্রভাবের (আজমিয়্যাত) সৃষ্টি করেছিল। এর সাথে যুক্ত হয়েছিল মুসলিমদের ওপর আপতিত নানাবিধ বিপদ-আপদ। ফলে গবেষণা ও চিন্তা-ভাবনায় নিমগ্ন হওয়ার মতো স্থিতিশীলতা তাদের ছিল না (১)।

তবে প্রতিভাবান ও প্রজ্ঞাবান একদল আলিমের অস্তিত্ব অস্বীকার করা যায় না, কিন্তু তারা সংখ্যায় এতই নগণ্য ছিলেন যে তাতে সাধারণ নিয়মের কোনো ব্যত্যয় ঘটে না। ইবনে তাইমিয়্যাহর যুগে আরেকটি বিষয় তাঁর জ্ঞানকে প্রভাবিত করেছিল, আর তা হলো: শরয়ী বিজ্ঞানের—যেমন তাফসীর, হাদীস, ফিকহ এবং অন্যান্য বিষয়ের—বিশাল বিশ্বকোষসমূহের সংকলনের মাধ্যমে ইসলামী গ্রন্থাগারের পূর্ণতা লাভ।

ফলে সুন্নাহ তখন বিস্তারিত আকারে বিদ্যমান ছিল এবং মাযহাবসমূহ লিপিবদ্ধ ছিল। এমতাবস্থায় তিনি কোন কোন কিতাব পাঠ করেছেন এবং কোনটি দ্বারা প্রভাবিত হয়েছেন তা সুনির্দিষ্টভাবে নির্ধারণ করা কিংবা তাঁর ওপর তাঁর উস্তাদদের প্রভাব সূক্ষ্মভাবে নিরূপণ করা আর সহজসাধ্য ছিল না।

 

‌‌৪ - শাইখের পরীক্ষা ও বিপদাপদ:

সমসাময়িকদের বিদ্বেষ ও হিংসার কারণে শাইখ বেশ কয়েকবার পরীক্ষার সম্মুখীন হন। সিরিয়ায় (শাম) শাসক ও সাধারণ জনগণের নিকট শাইখুল ইসলামের উচ্চ মর্যাদা থাকায় দুর্বল চিত্তের অধিকারীরা মিসরের শাসকদের কাছে তাঁর বিরুদ্ধে কুমন্ত্রণা দেয়। তারা তাঁর আকিদার সমালোচনা করা ছাড়া অন্য কোনো ছিদ্র খুঁজে পায়নি। ফলে তাঁকে মিসরে তলব করা হয় এবং ৭০৫ হিজরিতে তিনি সেখানে গমন করেন। এর আগে দামেস্কে তাঁর উপস্থিতিতে কয়েকটি মজলিস অনুষ্ঠিত হয়েছিল যেখানে বিরোধীদের কোনো প্রমাণ ছিল না (২)। মিসরে পৌঁছানোর পরদিন তারা তাঁর বিরুদ্ধে একটি বিচারের আয়োজন করে যেখানে শাইখ মনে করেছিলেন...

--------------------------------------------

(১) দেখুন: মুহাম্মাদ হাররাস রচিত ‘ইবনে তাইমিয়্যাহ আস-সালাফি’, পৃষ্ঠা ১৬-১৭।

(২) এ সম্পর্কে বিস্তারিত দেখুন: ইবনে কাসীর রচিত ‘আল-বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ’ ১৪/৩৬-৩৯; এবং ‘মাজমুউল ফাতাওয়া’ ৩/১৬০-১৯৪-তে আল-আকিদাহ আল-ওয়াসিতিয়্যাহ বিষয়ক মুনাজারার (বিতর্কের) বিবরণ।
(খণ্ড: ১) দাওয়ানুল মুনাউয়িঈনা লি শায়খিল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ - আরদু ওয়া নাকদ (পৃষ্ঠা: ২৯)
الإسلام رحمه الله أنها مناظرة، فامتنع عن الإجابة حين علم أن الخصم والحكم واحد (1) .

واستمر في السجن إلى شهر صفر سنة 707هـ، حيث طلب منه وفد من الشام بأن يخرج من السجن، فخرج وآثر البقاء في مصر على رغبتهم الذهاب معهم إلى دمشق.

وفي آخر السنة التي أخرج فيها من السجن تعالت صيحات الصوفية (2) في مصر، ومطالباتهم في إسكات صوت شيخ الإسلام رحمه الله فكان أن خُير شيخ الإسلام بين أن يذهب إلى دمشق أو إلى الإسكندرية أو أن يختار الحبس، فاختار الحبس، إلا أن طلابه ومحبيه أصروا عليه أن يقبل الذهاب إلى دمشق، ففعل نزولاً عند رغبتهم وإلحاحهم.

وما إن خرج موكب شيخ الإسلام من القاهرة متوجهاً إلى دمشق، حتى لحق به وفد من السلطان ليردوه إلى مصر ويخبروه بأن الدولة لا ترضى إلا الحبس.

وما هي إلا مدة قليلة حتى خرج من السجن وعاد إلى دروسه، واكب الناس عليه ينهلون من علمه.

--------------------------------------------

(1) انظر تفصيل ذلك في: العقود الدرية لابن عبد الهادي ص196 - 198.

(2) الصوفية: نسبة إلى لبس الصوف - على الصحيح - ويرى بعض الباحثين أن بداية التصوف هو الزهد في الدنيا، والتمسك بالأخلاق مثل: زهد إبراهيم بن أدهم، والفضيل بن عياض وغيرهما، ثم بعد ذلك تعددت فرق الصوفية، وازدادت بعض الفرق بعداً عن الحق وغلواً حتى قال بعضهم بالحلول والاتحاد، وقالوا بترك الواجبات وعمل المحرمات تعبداً.

انظر: تلبيس إبليس لابن الجوزي ص161، الصوفية الفقراء لابن تيمية، (ضمن مجموع الفتاوى 11/5 - 24) ، التصوف لطلعت غنام ص5 - 28، نشأة الفلسفة الصوفية وتطورها لعرفان عبد الحميد ص115 - 124، المذاهب الصوفية ومدارسها لعبد الحكيم قاسم.
শাইখুল ইসলাম (রহিমাহুল্লাহ) বুঝতে পারলেন যে এটি একটি বিতর্কসভা, তাই তিনি উত্তর দেওয়া থেকে বিরত থাকলেন যখন তিনি জানতে পারলেন যে প্রতিপক্ষ এবং বিচারক একই ব্যক্তি (১)।

তিনি ৭০৭ হিজরীর সফর মাস পর্যন্ত কারাগারে অবস্থান করেন। সে সময় সিরিয়ার (শাম) একটি প্রতিনিধি দল তাঁকে কারাগার থেকে বের হওয়ার অনুরোধ জানান। ফলে তিনি বের হন এবং তাদের সাথে দামেস্কে যাওয়ার পরিবর্তে মিশরে অবস্থান করাকেই পছন্দ করেন।

যে বছর তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পান, সেই বছরের শেষ দিকে মিশরে সুফিদের (২) চিৎকার ও শোরগোল বেড়ে যায় এবং শাইখুল ইসলাম (রহিমাহুল্লাহ)-এর কণ্ঠ স্তব্ধ করার দাবি ওঠে। এমতাবস্থায় শাইখুল ইসলামকে দামেস্ক বা আলেকজান্দ্রিয়া যাওয়া অথবা কারাবরণ—এই তিনটির মধ্যে একটি বেছে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। তিনি কারাবরণকেই বেছে নিয়েছিলেন, কিন্তু তাঁর ছাত্র ও অনুরাগীগণ দামেস্কে যাওয়ার ব্যাপারে অনেক পিড়াপিড়ি করেন। ফলে তাদের ইচ্ছা ও অনুনয় রক্ষার্থে তিনি তাতে সম্মত হন।

শাইখুল ইসলামের কাফেলা কায়রো থেকে দামেস্কের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার পরপরই সুলতানের পক্ষ থেকে একটি প্রতিনিধি দল তাঁর পিছু নেয় যাতে তাঁকে মিশরে ফিরিয়ে নেওয়া হয় এবং তাঁকে জানানো হয় যে রাষ্ট্র কেবল কারাবাসেই সন্তুষ্ট।

তবে অল্প কিছুকাল পরেই তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে তাঁর পাঠদানে ফিরে আসেন এবং মানুষ তাঁর জ্ঞানের ঝর্ণাধারা থেকে উপকৃত হতে তাঁর কাছে ভিড় জমাতে থাকে।

--------------------------------------------

(১) এর বিস্তারিত বিবরণের জন্য দেখুন: ইবনে আব্দুল হাদি বিরচিত আল-উকুুদ আদ-দুররিয়্যাহ, পৃষ্ঠা ১৯৬-১৯৮।

(২) সুফি: সঠিক মতানুযায়ী এটি পশমি বস্ত্র (সুফ) পরিধানের সাথে সম্পর্কিত। কোনো কোনো গবেষক মনে করেন যে, তাসাউউফের সূচনা হয়েছিল পার্থিব বিরাগ (জুহদ) এবং উচ্চ নৈতিকতা আঁকড়ে ধরার মাধ্যমে; যেমন: ইব্রাহিম ইবন আদহাম ও ফুদায়েল ইবন ইয়াদ প্রমুখের কৃচ্ছ্রসাধন। পরবর্তীতে সুফিদের মধ্যে অনেকগুলো উপদল তৈরি হয় এবং কিছু দল সত্য থেকে অনেক দূরে সরে যায় ও চরমপন্থায় লিপ্ত হয়, এমনকি তাদের কেউ কেউ হুলুল (সৃষ্টিকর্তার সৃষ্টিতে প্রবেশ করা) এবং ইত্তিহাদ (সৃষ্টিকর্তা ও সৃষ্টি এক হয়ে যাওয়া)-এর মতবাদ প্রচার করে। তারা ইবাদতের নামে ওয়াজিব কাজসমূহ বর্জন করা এবং হারাম কাজ করার কথা বলে।

দেখুন: ইবনুল জাওজি বিরচিত তালবিসু ইবলিস, পৃষ্ঠা ১৬১; ইবনে তাইমিয়্যাহ বিরচিত আস-সুফিয়্যাহ ওয়াল ফুকারা (মাজমুউল ফাতাওয়া ১১/৫-২৪ এর অন্তর্ভুক্ত); তালাত গান্নাম বিরচিত আত-তাসাউউফ, পৃষ্ঠা ৫-২৮; ইরফান আব্দুল হামিদ বিরচিত নাশআতুল ফালসাফাহ আস-সুফিয়্যাহ ওয়া তাতাওউরুহা, পৃষ্ঠা ১১৫-১২৪; আব্দুল হাকিম কাসেম বিরচিত আল-মাজাহিব আস-সুফিয়্যাহ ওয়া মাদারিসুহা।
(খণ্ড: ১) দাওয়ানুল মুনাউয়িঈনা লি শায়খিল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ - আরদু ওয়া নাকদ (পৃষ্ঠা: ৩০)
وفي سنة 709هـ نفي من القاهرة إلى الإسكندرية، وكان هذا من الخير لأهل الإسكندرية ليطلبوا العلم على يديه، ويتأثروا من مواعظه، ويتقبلوا منهجه، لكن لم يدم الأمر طويلاً لهم، فبعد سبعة أشهر طلبه إلى القاهرة الناصر قلاوون (1) بعد أن عادت الأمور إليه، واستقرت الأمور بين يديه، فقد كان من مناصري ابن تيمية رحمه الله وعاد الشيخ إلى دورسه العامرة في القاهرة.

وامتحن شيخ الإسلام بسبب فتواه في مسألة الطلاق (2) ، وطُلب منه أن يمتنع عن الإفتاء بها فلم يمتنع حتى سجن في القلعة من دمشق بأمر من نائب السلطنة سنة 720هـ إلى سنة 721هـ لمدة خمسة أشهر وبضعة أيام.

وبحث حساده عن شيء للوشاية به عند الولاة فزوروا كلاماً له حول زيارة القبور، وقالوا بأنه يمنع من زيارة القبور حتى قبر نبينا محمد صلى الله عليه وسلم، فكتب نائب السلطنة في دمشق إلى السلطان في مصر بذلك، ونظروا في الفتوى دون سؤال صاحبها عن صحتها ورأيه فيها، فصدر الحكم بحقه في شعبان من سنة 726هـ بأن ينقل إلى قلعة دمشق ويعتقل فيها هو وبعض أتباعه واشتدت محنته سنة 728هـ حين أُخرج ما كان عند الشيخ من الكتب والأوراق والأقلام، ومنع من ملاقاة الناس، ومن الكتابة والتأليف (3) .

 

‌‌5 - وفاته رحمه الله:

في ليلة الاثنين لعشرين من ذي القعدة من سنة (728هـ) توفي شيخ

--------------------------------------------

(1) الملك الناصر: محمد بن قلاوون بن عبد الله الصالحي، أبو الفتح، من كبار ملوك الدولة القلاوونية، ولي سلطة مصر والشام وهو صغير، وخلع منها لحداثة سنه ثم عاد بالقوة إليها، كان وقوراً مهيباً، يدعو رجاله بأجل ألقابهم، ت سنة 741هـ.

انظر في ترجمته: فوات الوفيات للكتبي 4/35، الدرر الكامنة لابن حجر 4/261، النجوم الزاهرة للأتابكي 8/41، 115.

(2) وهي فتواه رحمه الله بأن الطلاق الثلاث بلفظ واحد يقع طلقة واحدة، انظر: مجموع فتاوى ابن تيمية 33/76 - 87، وانظر: رسالة تسمية المفتين بأن الطلاق الثلاث بلفظ واحد طلقة واحدة لسليمان العمير.

(3) انظر: البداية والنهاية لابن كثير 14/123.
৭০৯ হিজরি সনে তাকে কায়রো থেকে আলেকজান্দ্রিয়ায় নির্বাসিত করা হয় এবং এটি আলেকজান্দ্রিয়াবাসীদের জন্য কল্যাণকর ছিল যাতে তারা তার নিকট ইলম অর্জন করতে পারে, তার নসিহত দ্বারা প্রভাবিত হতে পারে এবং তার মানহাজ গ্রহণ করতে পারে। কিন্তু এটি তাদের জন্য দীর্ঘস্থায়ী হয়নি; সাত মাস পর মালিক আন-নাসির কালাউন (১) পরিস্থিতি তার অনুকূলে আসার এবং সবকিছু তার নিয়ন্ত্রণে আসার পর তাকে কায়রোতে ডেকে পাঠান। তিনি ইবনে তাইমিয়্যাহর (রহিমাহুল্লাহ) সমর্থকদের একজন ছিলেন এবং শায়খ কায়রোতে তার সমৃদ্ধ পাঠদান কর্মসূচিতে ফিরে আসেন।

তালাক সংক্রান্ত (২) ফতোয়ার কারণে শায়খুল ইসলাম পরীক্ষার সম্মুখীন হন এবং তাকে ফতোয়া প্রদান থেকে বিরত থাকতে বলা হয়। কিন্তু তিনি বিরত হননি, ফলে নায়েবে সুলতানাতের আদেশে ৭২০ হিজরি থেকে ৭২১ হিজরি পর্যন্ত পাঁচ মাস কয়েক দিনের জন্য তাকে দামেস্কের দুর্গে কারারুদ্ধ করা হয়।

তার প্রতি ঈর্ষান্বিতরা শাসকদের কাছে তার বিরুদ্ধে কানকথা লাগানোর জন্য কিছু খুঁজছিল, ফলে তারা কবর জিয়ারত সম্পর্কে তার বক্তব্যের ব্যাপারে মিথ্যাচার করে। তারা বলে যে, তিনি কবর জিয়ারত করতে নিষেধ করেন, এমনকি আমাদের নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কবর জিয়ারত করতেও। ফলে দামেস্কের নায়েবে সুলতানাত মিসরের সুলতানের কাছে এই মর্মে পত্র লেখেন। তারা ফতোয়াটির সঠিকতা বা এ বিষয়ে ফতোয়া প্রদানকারীর মতামত জিজ্ঞাসা না করেই সেটি বিবেচনায় নেন। ফলে ৭২৬ হিজরির শাবান মাসে তার বিরুদ্ধে এই রায় জারি করা হয় যে, তাকে দামেস্কের দুর্গে স্থানান্তর করা হবে এবং সেখানে তাকে ও তার কয়েকজন অনুসারীকে বন্দি রাখা হবে। ৭২৮ হিজরিতে তার কঠিন পরীক্ষা শুরু হয় যখন শায়খের নিকট থাকা কিতাবপত্র, কাগজ ও কলম বের করে নেওয়া হয় এবং তাকে মানুষের সাথে সাক্ষাৎ ও লেখালেখি এবং গ্রন্থ রচনা থেকে নিষিদ্ধ করা হয় (৩)।

 

‌‌৫ - তার মৃত্যু (রহিমাহুল্লাহ):

৭২৮ হিজরির বিশে জিলকদ সোমবার রাতে শায়খ ইন্তেকাল করেন।

--------------------------------------------

(১) মালিক আন-নাসির: মুহাম্মদ বিন কালাউন বিন আব্দুল্লাহ আস-সালিহি, আবু আল-ফাতহ। তিনি কালাউন রাজবংশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ রাজা ছিলেন। অল্প বয়সে তিনি মিসর ও শামের ক্ষমতা লাভ করেন এবং বয়সের কারণে তাকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়, পরে তিনি শক্তির মাধ্যমে পুনরায় ফিরে আসেন। তিনি গাম্ভীর্যপূর্ণ ও প্রভাবশালী ছিলেন এবং তার উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের তাদের শ্রেষ্ঠ উপাধি দিয়ে সম্বোধন করতেন। মৃত্যু: ৭৪১ হিজরি।

তার জীবনী দেখুন: আল-কুতুবির ‘ফাওয়াত আল-ওয়াফায়াত’ ৪/৩৫, ইবনে হাজারের ‘আদ-দুরার আল-কামিনা’ ৪/২৬১, আল-আতবাকির ‘আন-নুজুম আজ-জাহিরা’ ৮/৪১, ১১৫।

(২) এটি তার (রহিমাহুল্লাহ) সেই ফতোয়া যে, এক শব্দে তিন তালাক দিলে তা এক তালাক হিসেবে গণ্য হয়। দেখুন: ‘মাজমুউ ফাতাওয়া ইবনে তাইমিয়্যাহ’ ৩৩/৭৬ - ৮৭ এবং সুলাইমান আল-উমায়ের রচিত ‘তাসমিয়াতুল মুফতিনা বি-আন্না তালাকাত সালাস বি-লাফজিন ওয়াহিদিন তালাকাতুন ওয়াহিদা’ রিসালাটি দেখুন।

(৩) দেখুন: ইবনে কাসিরের ‘আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া’ ১৪/১২৩।
(খণ্ড: ১) দাওয়ানুল মুনাউয়িঈনা লি শায়খিল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ - আরদু ওয়া নাকদ (পৃষ্ঠা: ৩১)
الإسلام بقلعة دمشق التي كان محبوساً فيها، وأُذن للناس بالدخول فيها، ثم غُسل فيها وقد اجتمع الناس بالقلعة والطريق إلى جامع دمشق، وصُلي عليه بالقلعة، ثم وضعت جنازته في الجامع والجند يحفظونها من الناس من شدة الزحام، ثم صُلي عليه بعد صلاة الظهر، ثم حملت الجنازة، واشتد الزحام، فقد أغلق الناس حوانيتهم، ولم يتخلف عن الحضور إلا القليل من الناس، أو من أعجزه الزحام، وصار النعش على الرؤوس تارة يتقدم، وتارة يتأخر، وتارة يقف حتى يمر الناس، وخرج الناس من الجامع من أبوابه كلها وهي شديدة الزحام (1) .

 

‌‌6 - مؤلفاته:

مؤلفات الشيخ كثيرة يصعب إحصاؤها، وعلى كثرتها فهي لم توجد في بلد معين في زمانه إنما كانت مبثوثة بين الأقطار كما قال الحافظ البزار (ت - 749هـ) رحمه الله:

(وأما مؤلفاته ومصنفاته، فإنها أكثر من أن أقدر على إحصائها أو يحضرني جملة أسمائها. بل هذا لا يقدر عليه غالباً أحد؛ لأنها كثيرة جداً، كباراً وصغاراً، أو هي منشورة في البلدان فقل بلد نزلته إلا ورأيت فيه من تصانيفه) (2) .

وقال الحافظ ابن رجب الحنبلي (ت - 795هـ) رحمه الله:

(وأما تصانيفه رحمه الله فهي أشهر من أن تذكر، وأعرف من أن تنكر، سارت سير الشمس في الأقطار، وامتلأت بها البلاد والأمصار، قد جاوزت حدّ الكثرة فلا يمكن أحد حصرها، ولا يتسع هذا المكان لعدّ المعروف منها، ولا ذكرها) (3) .

--------------------------------------------

(1) انظر: العقود الدرية لابن عبد الهادي 369، والبداية والنهاية لابن كثير 14/135 - 137، وانظر: في مراثيه العقود الدرية لابن عبد الهادي 393 - 516.

(2) الأعلام العلية ص25.

(3) الذيل على طبقات الحنابلة 2/403.
দামেস্ক দুর্গে, যেখানে তিনি বন্দী ছিলেন, সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়। দুর্গে প্রবেশের জন্য সাধারণ মানুষকে অনুমতি দেওয়া হয়। এরপর সেখানেই তাকে গোসল দেওয়া হয়। ততক্ষণে দুর্গে এবং দামেস্কের জামে মসজিদের পথে বিপুল জনসমাগম ঘটে। দুর্গের ভেতরেই তাঁর জানাজা আদায় করা হয়। এরপর তাঁর খাটিয়া জামে মসজিদে রাখা হয় এবং ভিড়ের প্রচণ্ডতার কারণে সৈন্যরা তা সাধারণ মানুষের হাত থেকে রক্ষা করছিল। অতঃপর জোহরের নামাজের পর পুনরায় তাঁর জানাজা পড়া হয়। এরপর যখন জানাজা বহন করা শুরু হয়, তখন ভিড় আরও তীব্র হয়ে ওঠে; মানুষ তাদের দোকানপাট বন্ধ করে দেয়। খুব সামান্য সংখ্যক মানুষ ছাড়া অথবা যারা প্রচণ্ড ভিড়ের কারণে অপারগ ছিল, তারা ছাড়া প্রায় সবাই উপস্থিত হয়েছিল। খাটিয়াটি মানুষের মাথার ওপর দিয়ে কখনও সামনে এগোচ্ছিল, কখনও পিছিয়ে যাচ্ছিল, আবার কখনও মানুষের ভিড় কমার অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকছিল। মানুষ মসজিদের সমস্ত দরজা দিয়ে বের হচ্ছিল এবং সেখানে প্রচণ্ড ভিড় ছিল (১)।

 

‌‌৬ - তাঁর রচনাবলি:

শাইখের রচনাবলি এত অধিক যে তা গণনা করা দুঃসাধ্য। সংখ্যায় প্রচুর হওয়া সত্ত্বেও সেগুলো কেবল তাঁর সময়ের নির্দিষ্ট কোনো দেশে সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং বিভিন্ন ভূখণ্ডে ছড়িয়ে পড়েছিল; যেমনটি হাফেজ আল-বাযযার (মৃত - ৭৪৯ হিজরি) রহিমাহুল্লাহ বলেছেন:

(আর তাঁর কিতাব ও রচনাবলি সম্পর্কে বলতে গেলে, সেগুলো গণনা করার সামর্থ্য আমার নেই অথবা সেগুলোর সকল নাম এই মুহূর্তে আমার স্মরণে নেই। বরং সচরাচর কেউ এটি করতে সক্ষম হবে না; কারণ ছোট-বড় মিলিয়ে সেগুলো সংখ্যায় অনেক বেশি। সেগুলো বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে রয়েছে; এমন জনপদ খুব কমই আছে যেখানে আমি গিয়েছি অথচ সেখানে তাঁর কোনো রচনা দেখিনি) (২)।

এবং হাফেজ ইবনে রজব আল-হাম্বলি (মৃত - ৭৯৫ হিজরি) রহিমাহুল্লাহ বলেছেন:

(আর তাঁর রচনাবলি উল্লেখ করার অপেক্ষার রাখে না এমন প্রসিদ্ধ এবং অস্বীকার করার উপায় নেই এমন পরিচিত। তা বিভিন্ন দিগন্তে সূর্যের মতো ছড়িয়ে পড়েছে এবং দেশ ও শহরগুলো তা দিয়ে পূর্ণ হয়ে গেছে। তা আধিক্যের সীমা ছাড়িয়ে গেছে, ফলে কারও পক্ষে তা সীমাবদ্ধ করা সম্ভব নয়। তাঁর পরিচিত গ্রন্থসমূহ গণনা করার বা সেগুলো উল্লেখ করার মতো পর্যাপ্ত স্থান এখানে নেই) (৩)।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: ইবনে আবদিল হাদি রচিত আল-উকু দুদ-দুরিইয়্যাহ ৩৬৯; ইবনে কাসির রচিত আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া ১৪/১৩৫ - ১৩৭; আরও দেখুন: তাঁর শোকগাঁথা সম্পর্কে আল-উকু দুদ-দুরিইয়্যাহ ৩৯৩ - ৫১৬।

(২) আল-আ’লাম আল-আলিয়্যাহ, পৃষ্ঠা ২৫।

(৩) আয-যাইল আলা তাবাকাতিল হানাবিলাহ ২/৪০৩।
(খণ্ড: ১) দাওয়ানুল মুনাউয়িঈনা লি শায়খিল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ - আরদু ওয়া নাকদ (পৃষ্ঠা: ৩২)
وذكر ابن عبد الهادي (ت - 744هـ) رحمه الله أن أجوبة الشيخ يشق ضبطها وإحصاؤها، ويعسر حصرها واستقصاؤها، لكثرة مكتوبه، وسرعة كتابته، إضافة إلى أنه يكتب من حفظه من غير نقل فلا يحتاج إلى مكان معين للكتابة، ويسئل عن الشيء فيقول: قد كتبت في هذا، فلا يدري أين هو؟ فيلتفت إلى أصحابه، ويقول: ردوا خطي وأظهروه لينقل، فمن حرصهم عليه لا يردونه، ومن عجزهم لا ينقلونه، فيذهب ولا يعرف اسمه.

ولما حبس شيخ الإسلام خاف أصحابه من إظهار كتبه، وتفرقوا في البلدان، ومنهم من تسرق كتبه فلا يستطيع أن يطلبها أو يقدر على تخليصها (1) .

 

ومن أبرز كتبه ما يلي:

1 - الاستقامة: تحقيق د. محمد رشاد سالم. طبع في جزئين.

2 - اقتضاء الصراط المستقيم لمخالفة أصحاب الجحيم: تحقيق د. ناصر العقل طبع في جزئين.

3 - بيان تلبيس الجهمية: حقق في ثمان رسائل دكتوراه، بإشراف شيخنا فضيلة الشيخ: عبد العزيز بن عبد الله الراجحي.

4 - الجواب الصحيح لمن بدل دين المسيح: طبع بتحقيق د. علي بن حسن بن ناصر، ود. عبد العزيز العسكر، ود. حمدان الحمدان، وكان في الأصل ثلاث رسائل دكتوراه (2) .

5 - درء تعارض العقل والنقل: طبع بتحقيق د. محمد رشاد سالم في عشرة

--------------------------------------------

(1) انظر: العقود الدرية ص64 - 66، وإذا أراد القاريء معرفة خصائص ابن تيمية في التأليف فيحسن الرجوع إلى: ابن تيمية لأبي زهرة ص434 - 437، شيخ الإسلام الحافظ أحمد بن تيمية لأبي الحسن الندوي ص111 - 114، وابن تيمية المجتهد لعمر فروخ ص70 - 77.

(2) ذكر ابن تيمية أنه ألف الجواب الصحيح بعد منهاج السنة كما في الجواب الصحيح 5/128، وبعد الدرء كما فيه أيضاً 5/129 وبعد الإيمان كما فيه 6/487.
ইবনে আবদিল হাদী (মৃত্যু - ৭৪৪ হি.) রহমাতুল্লাহি আলাইহি উল্লেখ করেছেন যে, শাইখের জবাবসমূহ আয়ত্ত করা ও গণনা করা কষ্টসাধ্য এবং সেগুলোকে সীমাবদ্ধ ও অনুসন্ধান করা দুষ্কর; কারণ তাঁর রচনার পরিমাণ ছিল অনেক বেশি এবং তিনি অতি দ্রুত লিখতেন। এর সাথে যোগ হয়েছে যে, তিনি কোনো কিছু থেকে নকল না করে বরং নিজের স্মৃতি থেকে লিখতেন, তাই লেখার জন্য তাঁর নির্দিষ্ট কোনো স্থানের প্রয়োজন হতো না। কোনো বিষয়ে তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলতেন: "আমি এই বিষয়ে লিখেছি", কিন্তু সেটি কোথায় আছে তা তিনি জানতেন না। তখন তিনি তাঁর সঙ্গীদের দিকে ফিরে বলতেন: "আমার হস্তলিপিগুলো ফিরিয়ে দাও এবং তা প্রকাশ করো যাতে তা প্রতিলিপি করা যায়।" কিন্তু শাইখের প্রতি তাঁদের অতি আগ্রহের কারণে তাঁরা তা ফেরত দিতেন না, আবার তাঁদের অক্ষমতার কারণে তাঁরা সেগুলো প্রতিলিপিও করতেন না। ফলে তা হারিয়ে যেত এবং তার নামও জানা যেত না।

আর যখন শাইখুল ইসলাম কারাবরণ করেন, তখন তাঁর সঙ্গীরা তাঁর কিতাবসমূহ প্রকাশ করতে ভয় পেলেন এবং তাঁরা বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়লেন। তাঁদের মধ্যে কেউ এমন ছিলেন যাঁদের কিতাবসমূহ চুরি হয়ে গিয়েছিল, ফলে তিনি সেগুলো দাবি করতে পারতেন না অথবা উদ্ধার করতে সক্ষম হতেন না (১)।

 

তাঁর উল্লেখযোগ্য কিতাবসমূহের মধ্যে রয়েছে:

১ - আল-ইস্তিকামাহ: ড. মুহাম্মদ রাশাদ সালিমের তাহকীক। দুই খণ্ডে মুদ্রিত।

২ - ইকতিদাউস সিরাতিল মুস্তাকিম লি-মুখালাফাতি আসহাবিল জাহিম: ড. নাসির আল-আকলের তাহকীক। দুই খণ্ডে মুদ্রিত।

৩ - বায়ানু তালবিসিল জাহমিয়্যাহ: আমাদের শাইখ ফযীলাতুশ শাইখ আব্দুল আযীয বিন আব্দুল্লাহ আল-রাজহী-এর তত্ত্বাবধানে আটটি ডক্টরেট গবেষণাপত্রে এটি তাহকীক করা হয়েছে।

৪ - আল-জাওয়াবুস সহীহ লি-মান বাদ্দালা দ্বীনাল মাসীহ: ড. আলী বিন হাসান বিন নাসির, ড. আব্দুল আযীয আল-আসকার এবং ড. হামদান আল-হামদান-এর তাহকীকে মুদ্রিত। এটি মূলত তিনটি ডক্টরেট গবেষণাপত্র ছিল (২)।

৫ - দারউ তাআরিজিল আকলি ওয়ান নাকলি: ড. মুহাম্মদ রাশাদ সালিমের তাহকীকে দশ খণ্ডে মুদ্রিত

--------------------------------------------

(১) দেখুন: আল-উকূদ আদ-দুররিয়্যাহ পৃষ্ঠা ৬৪-৬৬; পাঠক যদি গ্রন্থ রচনায় ইবনে তাইমিয়্যাহর বৈশিষ্ট্যসমূহ জানতে চান, তবে নিচের গ্রন্থগুলোর সাহায্য নিতে পারেন: আবু জাহরা রচিত 'ইবনে তাইমিয়্যাহ' পৃষ্ঠা ৪৩৪-৪৩৭, আবুল হাসান নাদভী রচিত 'শাইখুল ইসলাম হাফেজ আহমদ ইবনে তাইমিয়্যাহ' পৃষ্ঠা ১১১-১১৪, এবং উমর ফাররুখ রচিত 'ইবনে তাইমিয়্যাহ আল-মুজতাহিদ' পৃষ্ঠা ৭০-৭৭।

(২) ইবনে তাইমিয়্যাহ উল্লেখ করেছেন যে, তিনি 'আল-জাওয়াবুস সহীহ' গ্রন্থটি 'মিনহাজুস সুন্নাহ'র পরে রচনা করেছেন, যেমনটি 'আল-জাওয়াবুস সহীহ' ৫/১২৮-এ রয়েছে; এবং 'দারউ' এর পরেও রচনা করেছেন যেমনটি সেখানে ৫/১২৯-এ রয়েছে এবং 'আল-ঈমান' এর পরেও রচনা করেছেন যেমনটি সেখানে ৬/৪৮৭-এ রয়েছে।
(খণ্ড: ১) দাওয়ানুল মুনাউয়িঈনা লি শায়খিল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ - আরদু ওয়া নাকদ (পৃষ্ঠা: ৩৩)
أجزاء، والجزء الحادي عشر خُصص للفهارس (1) .

6 - الصفدية: تحقيق د. محمد رشاد سالم، طبع في جزئين.

7 - منهاج السنة النبوية في نقض كلام الشيعة القدرية: تحقيق د. محمد رشاد سالم، وطبع في ثمانية أجزاء، وخصص الجزء التاسع منه للفهارس (2) .

8 - النبوات: مطبوع (3) .

وله من الكتب والرسائل الكثير جداً مما طبع بعضه مستقلاً، وبعضه في مجاميع كبيرة وصغيرة، والكثير منه لا يزال مخطوطاً سواء كان موجوداً أو في عداد المفقود (4) .

 

‌‌7 - بعض ثناء الناس عليه:

قال العلامة كمال الدين بن الزملكاني (ت - 727هـ) : (كان إذا سئل عن فن من العلم ظن الرائي والسامع أنه لا يعرف غير ذلك الفن، وحكم أن أحداً لا

--------------------------------------------

(1) ألفه ابن تيمية رحمه الله بعد نقد المحصل بثلاثين سنة كما في الدرء 1/22 وقبل الفرقان بين أولياء الرحمن وأولياء الشيطان، انظر: الفرقان ص199.

(2) ألفه ابن تيمية قبل الفرقان بين وأولياء الرحمن وأولياء الشيطان كما في الفرقان ص189.

(3) ألفه ابن تيمية بعد الدرء كما في النبوات ص77، وبعد بغية المرتاد كما فيه ص120، وبعد شرح الأصفهانية كما فيه ص226، وبعد الجواب الصحيح كما فيه ص227.

(4) من كتبه التي هي في عداد المفقود: جواب الاعتراضات المصرية على الفتوى الحموية، وقد ذكرها في أكثر من موضع انظر: مجموع فتاوى شيخ الإسلام 5/240، والفتاوى الكبرى 5/37، ومن الكتب المفقودة: شرح أول المحصل للرازي، وقد ذكره ابن تيمية في الصفدية 2/151، 281، وفي منهاج السنة 1/168، ودرء تعارض العقل والنقل 1/22، ومن كتبه المفقودة الرد على ابن سينا في الإشارات، وقد ذكرها ابن تيمية في الصفدية 2/281، وفي درء تعارض العقل والنقل 4/258، وممن اعتنى بإحصاء كتب شيخ الإسلام: الحافظ ابن عبد الهادي في العقود الدرية ص26 - 67، وانظر: الثبت لعلي الشبل فقد ذكر عدداً كبيراً من مؤلفات ابن تيمية رحمه الله، ومجموعة مؤلفات شيخ الإسلام ابن تيمية للشيباني.
খণ্ডসমূহ, এবং একাদশ খণ্ডটি নির্ঘণ্টের (সূচিপত্র) জন্য নির্দিষ্ট করা হয়েছে (১)।

৬ - আস-সাফাদিয়্যাহ: ড. মুহাম্মাদ রাশাদ সালিমের সম্পাদনায়, এটি দুই খণ্ডে মুদ্রিত হয়েছে।

৭ - মিনহাজুস সুন্নাহ আন-নাবাবিয়্যাহ ফি নাকদি কালামিশ শিয়াহ আল-কাদারিইয়াহ: ড. মুহাম্মাদ রাশাদ সালিমের সম্পাদনায়, এটি আটটি খণ্ডে মুদ্রিত হয়েছে এবং এর নবম খণ্ডটি নির্ঘণ্টের জন্য নির্দিষ্ট করা হয়েছে (২)।

৮ - আন-নুবুওয়াত: মুদ্রিত (৩)।

তাঁর অনেক বই ও পত্র রয়েছে, যার কিছু স্বতন্ত্রভাবে মুদ্রিত হয়েছে, আবার কিছু বড় ও ছোট সংকলনে প্রকাশিত হয়েছে। এর মধ্যে অনেকগুলো এখনো পাণ্ডুলিপি আকারে রয়ে গেছে, চাই তা বিদ্যমান হোক বা নিখোঁজ তালিকার অন্তর্ভুক্ত হোক (৪)।

 

‌‌৭ - তাঁর সম্পর্কে মানুষের কিছু প্রশংসা:

আল্লামা কামালুদ্দিন ইবনুল জামলাকানি (মৃত্যু - ৭২৭ হিজরী) বলেন: (যখন তাঁকে জ্ঞানের কোনো শাখা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হতো, তখন দর্শক ও শ্রোতা মনে করতেন যে তিনি ওই শাখা ব্যতীত অন্য কিছু জানেন না এবং তারা সিদ্ধান্ত নিতেন যে আর কেউ...

--------------------------------------------

(১) ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহিমাহুল্লাহ) এটি 'নাকদুল মুহাসসাল' রচনার ত্রিশ বছর পর রচনা করেছেন, যেমনটি 'দারউ' ১/২২-এ উল্লেখ আছে এবং 'আল-ফুরকান বাইনা আউলিয়া ইর-রহমান ওয়া আউলিয়া ইশ-শাইতান' এর আগে। দেখুন: আল-ফুরকান পৃ. ১৯৯।

(২) ইবনে তাইমিয়্যাহ এটি 'আল-ফুরকান বাইনা আউলিয়া ইর-রহমান ওয়া আউলিয়া ইশ-শাইতান' এর আগে রচনা করেছেন যেমনটি আল-ফুরকান পৃ. ১৮৯-এ উল্লেখ আছে।

(৩) ইবনে তাইমিয়্যাহ এটি 'দারউ' এর পরে রচনা করেছেন যেমনটি 'আন-নুবুওয়াত' পৃ. ৭৭-এ আছে, এবং 'বুগইয়াতুল মুরতাদ' এর পরে যেমনটি সেখানে পৃ. ১২০-এ আছে, এবং 'শারহুল আসফাহানিয়্যাহ' এর পরে যেমনটি সেখানে পৃ. ২২৬-এ আছে এবং 'আল-জওয়াব আস-সহীহ' এর পরে যেমনটি সেখানে পৃ. ২২৭-এ আছে।

(৪) তাঁর নিখোঁজ বইগুলোর মধ্যে রয়েছে: জওয়াবুল ইতিরদাত আল-মিসরিয়্যাহ আলাল ফাতওয়া আল-হামাবিয়্যাহ, যা তিনি একাধিক স্থানে উল্লেখ করেছেন। দেখুন: মাজমুউ ফাতাওয়া শাইখিল ইসলাম ৫/২৪০, এবং আল-ফাতাওয়া আল-কুবরা ৫/৩৭। নিখোঁজ বইগুলোর মধ্যে আরও আছে: রাজির 'শারহু আওয়ালিল মুহাসসাল', যা ইবনে তাইমিয়্যাহ আস-সাফাদিয়্যাহ ২/১৫১, ২৮১ এবং মিনহাজুস সুন্নাহ ১/১৬৮ ও দারউ তাআরুদিল আকলি ওয়ান নাকলি ১/২২-এ উল্লেখ করেছেন। তাঁর নিখোঁজ বইগুলোর মধ্যে আরও রয়েছে: আল-ইশারাত গ্রন্থে ইবনে সিনার খণ্ডন, যা ইবনে তাইমিয়্যাহ আস-সাফাদিয়্যাহ ২/২৮১ এবং দারউ তাআরুদিল আকলি ওয়ান নাকলি ৪/২৫৮-এ উল্লেখ করেছেন। যারা শাইখুল ইসলামের বইগুলো গণনার ক্ষেত্রে বিশেষ যত্ন নিয়েছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন: হাফেজ ইবনে আব্দুল হাদি 'আল-উকুদ আদ-দুররিয়্যাহ' পৃ. ২৬-৬৭; আরও দেখুন: আলী আশ-শিবল রচিত 'আস-সাবত', যেখানে তিনি ইবনে তাইমিয়য়াহ (রহিমাহুল্লাহ)-এর বিশাল সংখ্যক রচনার কথা উল্লেখ করেছেন এবং শাইবানি রচিত শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহর রচনাবলির সংকলন।