(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাতুল মুফতারা আলাইহা (পৃষ্ঠা: -)
السنة المفترى عليها   (سالم البهنساوي)

القسم: علوم الحديث


الكتاب: السنة المفترى عليها

المؤلف: سالم البهنساوي (ت 1427هـ)

الناشر: دار الوفاء، القاهرة، دار البحوث العلمية، الكويت

الطبعة: الثالثة، 1409 هـ - 1989 م

أعده للشاملة / توفيق بن محمد القريشي

عدد الصفحات: 363

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 29 جُمادَى الأولى 1433

সুন্নাহর ওপর অপবাদ   (সালিম আল-বাহনাসাউই)

বিভাগ: হাদিস শাস্ত্র


বই: সুন্নাহর ওপর অপবাদ

লেখক: সালিম আল-বাহনাসাউই (মৃত্যু ১৪২৭ হি.)

প্রকাশক: দার আল-ওয়াফা, কায়রো, দার আল-বুহুস আল-ইলমিয়্যাহ, কুয়েত

সংস্করণ: তৃতীয়, ১৪০৯ হি. - ১৯৮৯ খ্রি.

শামেলার জন্য প্রস্তুত করেছেন / তাওফিক বিন মুহাম্মদ আল-কুরাইশি

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৬৩

[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ২৯ জুমাদাল উলা ১৪৩৩

(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাতুল মুফতারা আলাইহা (পৃষ্ঠা: -)
السنة المفترى عليها

المستشار سالم البهنساوي

 

عدد الأجزاء: 1.

عدد الصفحات: 370.

أعده للمكتبة الشاملة / توفيق بن محمد القريشي، - غفر الله له ولوالديه -.

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع وهو مذيل بالحواشي].
অপবাদগ্রস্ত সুন্নাহ

মুস্তাশার সালিম আল-বাহনাসাবী

 

খণ্ড সংখ্যা: ১।

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৭০।

আল-মাকতাবাতুশ শামিলার জন্য প্রস্তুত করেছেন: তাওফিক বিন মুহাম্মাদ আল-কুরাইশি — আল্লাহ তাকে এবং তার পিতামাতাকে ক্ষমা করুন।

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং এটি পাদটীকা সংবলিত]।
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাতুল মুফতারা আলাইহা (পৃষ্ঠা: ৩)
المستشار

سالم علي البهنساوي

 

السُنَّة المُفتَرَى عليها

 

الهيئة العامة لمكتبة الإسكندرية

 

دار الوفاء - المنصورة.

دار البحوث العلمية - الكويت.
উপদেষ্টা

সালেম আলি আল-বাহনাসাউই

 

অপবাদগ্রস্ত সুন্নাহ

 

আলেকজান্দ্রিয়া লাইব্রেরির সাধারণ কর্তৃপক্ষ

 

দারুল ওয়াফা - মানসুরা।

দারুল বুহুস আল-ইলমিয়্যাহ - কুয়েত।
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাতুল মুফতারা আলাইহা (পৃষ্ঠা: ৪)
الطبعة الثالثة:

1409 هـ - 1989 م

 

دار الوفاء - القاهرة

 

دار البحوث العلمية للنشر والتوزيع - الكويت.
তৃতীয় সংস্করণ:

১৪০৯ হিজরি - ১৯৮৯ খ্রিষ্টাব্দ

 

দারুল ওয়াফা - কায়রো

 

দারুল বুহুস আল-ইলমিয়্যাহ প্রকাশনা ও বিতরণ - কুয়েত।
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাতুল মুফতারা আলাইহা (পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم
পরম করুণাময়, অতি দয়ালু আল্লাহর নামে।
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাতুল মুফতারা আলাইহা (পৃষ্ঠা: ৭)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

{إِنَّمَا كَانَ قَوْلَ الْمُؤْمِنِينَ إِذَا دُعُوا إِلَى اللَّهِ وَرَسُولِهِ لِيَحْكُمَ بَيْنَهُمْ أَنْ يَقُولُوا سَمِعْنَا وَأَطَعْنَا وَأُولَئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ} [سورة النور: الآية 51]
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

{মুমিনদের কথা তো কেবল এটাই, যখন তাদেরকে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের দিকে আহ্বান করা হয় যাতে তিনি তাদের মধ্যে বিচার-মীমাংসা করে দেন, তখন তারা বলে: ‘আমরা শুনলাম ও আনুগত্য করলাম’। আর তারাই হলো সফলকাম।} [সূরা আন-নূর: আয়াত ৫১]
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাতুল মুফতারা আলাইহা (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌مع الكتاب المفترى عليه:

لقد صدرت الطبعة الأولى من هذا الكتاب سنة 1399 هـ - 1977 م، وذلك للدفاع عن السُنَّةِ النَّبَوِيَّةِ وكشف خصومها المُحْدَثينَ وَالقُدَامَى وَمَنْ نَافَقُوهُمْ من العلماء حيث زعم كبيرهم أنَّ السُنَّةَ قد تراخى تدوينها فأصحبت متعارضة ونادى بالاكتفاء بالقرآن الكريم وادَّعى أنَّ عليَاً دخل الجنة بحديث نبوي ودخل النار بحديث آخر، وأنَّ عائشة ناقصة عقل بحديث ويؤخذ عنها الدين بحديث آخر.

 

وكنا نودُّ أنْ تتضافر الجهود لهدم هذه البدعة والتي خصصت بعض الأجهزة الرسمية لنشرها وحراستها وتطويق من نابذها العداء، ولكن حمى الخلافات التي سادت المجتمعات العربية قد تسربت إلى عقول بعض الكُتَّاب الإسلاميين فطالب أحدهم بمصادرة الكتاب:

[أ] لأنه خالف الإجماع في عدة مسائل وهي في الحقيقة محل خلاف واختار المؤلف أقرب الآراء في نظره إلى القرآن والسُنَّة النبوية.

[ب] أو لأنه لا يكفر بعض المذاهب التي تسب الصحابة، ولم يستجب المؤلف لهذا أو ذاك واحتج بأنَّ منهج السلف هو ألَاّ نُكَفِّرَ الواحد المعيَّن ولا نحكم بتخليده في النار لأنَّ ذلك موقوف على ثبوت شروط التكفير وانتفاء موانعه. (مجموع الفتاوى: 3/ 230 و 7/ 619).

 

ولقد اجتمعت لجنة رسمية وأخرى أهلية لبحث هذه الاتهامات وانتهت إلى سلامة الكتاب مما وُجِّهَ إليه من المطاعن؛ بل أوضح بعض المتخصِّصِين أنَّ الكتاب هو المفترى عليه.

 

وها هي الطبعة الثالثة تصدر بعد أنْ تضمَّنَت المزيد من البحوث لتفنيد مزاعم من ظنوا أنهم من المُتخصِّصين في السُنَّة وهم من ألدِّ أعدائها بعلم أو بغير علم، كما تضمَّنت تفصيل الرد على المفتريات الموجَّهة ضد هذا الكتاب. كما نقل المؤلف الحوار الخاص بالشيعة إلى كتاب باسم الحقائق الغائبة بين الشيعة وأهل السُنَّة وأبقى الحوار الخاص بالأحاديث النبوية وأضاف بحوثاً إلى بعض الفصول وفصلاً كاملاً عن الوحي الإلهي والعقل.

 

الناشر

21 رمضان 1408 هـ - 7 مايو 1988 م.
মিথ্যা অপবাদগ্রস্ত কিতাব প্রসঙ্গে:

এই কিতাবটির প্রথম সংস্করণ ১৩৯৯ হিজরী - ১৯৭৭ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত হয়েছিল, যার উদ্দেশ্য ছিল সুন্নাহে নববীকে রক্ষা করা এবং এর প্রাচীন ও আধুনিক শত্রু ও আলেমদের মধ্য থেকে যারা তাদের সাথে মুনাফেকী করেছে তাদের মুখোশ উন্মোচন করা। কারণ তাদের প্রধান ব্যক্তি দাবি করেছিল যে, সুন্নাহ সংকলন করতে বিলম্ব হয়েছে যার ফলে তা হয়ে পড়েছে স্ববিরোধী। সে শুধু কুরআন কারীমের ওপর নির্ভর করার আহ্বান জানিয়েছে এবং দাবি করেছে যে, আলী এক হাদীস অনুযায়ী জান্নাতে প্রবেশ করেছেন এবং অন্য হাদীস অনুযায়ী জাহান্নামে প্রবেশ করেছেন; আর আয়েশা এক হাদীস অনুযায়ী জ্ঞান-বুদ্ধিহীন এবং অন্য হাদীস অনুযায়ী তাঁর থেকে দ্বীন গ্রহণ করা হয়।

 

আমরা চেয়েছিলাম যে, এই বিদআতকে নির্মূল করতে সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা থাকুক, যা প্রচার ও সুরক্ষার জন্য এবং যারা এর বিরোধিতা করেছে তাদের দমনের জন্য কিছু সরকারি সংস্থা নিয়োজিত ছিল। কিন্তু আরব সমাজে বিরাজমান মতবিরোধের জোয়ার কিছু ইসলামী লেখকের মস্তিষ্কে প্রবেশ করেছে, ফলে তাদের একজন কিতাবটি বাজেয়াপ্ত করার দাবি জানিয়েছে:

[ক] কারণ এটি বেশ কিছু বিষয়ে ইজমার বিরোধী হয়েছে, অথচ সেগুলো প্রকৃতপক্ষে মতবিরোধপূর্ণ বিষয় ছিল এবং লেখক তাঁর দৃষ্টিতে কুরআন ও সুন্নাহর নিকটবর্তী অভিমতটিই পছন্দ করেছেন।

[খ] অথবা এ কারণে যে এটি সাহাবায়ে কেরামকে গালমন্দকারী কিছু মাযহাবকে কাফির বলে না। লেখক এর কোনোটিরই কর্ণপাত করেননি এবং দলিল হিসেবে উল্লেখ করেছেন যে, সালাফদের মানহাজ হলো আমরা নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তিকে কাফির বলব না এবং তার চিরস্থায়ী জাহান্নামী হওয়ার ফয়সালা দেব না, কারণ এটি তাকফীরের শর্তাবলি সাব্যস্ত হওয়া এবং প্রতিবন্ধকতাগুলো দূরীভূত হওয়ার ওপর নির্ভরশীল। (মাজমুউল ফাতাওয়া: ৩/২৩০ এবং ৭/৬১৯)।

 

এই অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখার জন্য একটি সরকারি এবং একটি বেসরকারি কমিটি গঠিত হয়েছিল এবং তারা এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে যে, কিতাবটি তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত সকল অভিযোগ থেকে মুক্ত; বরং কিছু বিশেষজ্ঞ স্পষ্ট করেছেন যে, এই কিতাবটিই আসলে মিথ্যা অপবাদের শিকার।

 

আর এখন এই তৃতীয় সংস্করণ প্রকাশিত হচ্ছে, যাতে যুক্ত হয়েছে আরও কিছু গবেষণা সেই সব লোকদের দাবি খণ্ডন করতে যারা নিজেদের সুন্নাহ বিশেষজ্ঞ মনে করে অথচ তারা জেনে বা না জেনে সুন্নাহর ঘোরতর শত্রুদের অন্তর্ভুক্ত। এছাড়াও এই কিতাবের বিরুদ্ধে উত্থাপিত মিথ্যা অপবাদসমূহের বিস্তারিত জবাব এতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। একইভাবে লেখক শিয়া বিষয়ক বিতর্কটি 'আল হাকায়িকুল গাইবাহ বাইনাশ শিয়া ওয়া আহলিস সুন্নাহ' নামক একটি কিতাবে স্থানান্তর করেছেন এবং হাদীস বিষয়ক আলোচনাটি বহাল রেখেছেন এবং কিছু অধ্যায়ে নতুন গবেষণা ও ঐশী ওহী ও বিবেক সম্পর্কে একটি পূর্ণাঙ্গ অধ্যায় যুক্ত করেছেন।

 

প্রকাশক

২১ রমজান ১৪০৮ হিজরী - ৭ মে ১৯৮৮ খ্রিষ্টাব্দ।
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাতুল মুফতারা আলাইহা (পৃষ্ঠা: ১০)
‌‌هذا الكتاب بين الشكل والمضمون:

ما أنْ ظهر كتاب " السُنَّة المفترى عليها "، حتى تلقيت أكثر من عتاب من أخوة، تركَّزت اعتراضاتهم في الآتي:

أولاً: عنوان الكتاب يفيد الافتراء على السُنَّة النبوية، مع أنَّ هذا لا قدرة للناس عليه، مما يتعيَّن معه تعديل عنوان الكتاب: والجواب على ذلك أنَّ اللفظ قد ورد في القرآن الكريم في ستين موضعاَ، نذكر منها قول الله تعالى: {فَمَنْ أَظْلَمُ مِمَّنِ افْتَرَى عَلَى اللَّهِ كَذِبًا} [سورة الأنعام، الآية: 144]، [سورة الأعراف، الآية: 37]، [سورة يونس، الآية: 17]، [سورة الكهف، الآية: 15].

 

وقوله تعالى: {أَمْ يَقُولُونَ افْتَرَاهُ قُلْ فَأْتُوا بِسُورَةٍ مِثْلِهِ} [سورة يونس، الآية: 38] وقوله تعالى: {أَمْ يَقُولُونَ افْتَرَاهُ قُلْ فَأْتُوا بِعَشْرِ سُوَرٍ مِثْلِهِ مُفْتَرَيَاتٍ} [هود: 13].

 

ثم قوله عز وجل: {فَعَلِمُوا أَنَّ الْحَقَّ لِلَّهِ وَضَلَّ عَنْهُمْ مَا كَانُوا يَفْتَرُونَ} [القصص: 75].

 

وهذه المواضع تفيد أنَّ أعداء الله كانوا يفترون على الله ورسوله، وهذا لا يعني أنَّ ما زعموه صحيحاً، أو أنَّ استخدام هذه الكلمة تفيد التسليم لهؤلاء بالقدرة على تغيير شيء من الحق الذي جاء به القرآن والسُنَّة النبوية.
এই গ্রন্থটি রূপ ও বিষয়বস্তুর মাঝে:

"আস-সুন্নাহ আল-মুফতারা আলাইহা" (অপবাদ আরোপিত সুন্নাহ) গ্রন্থটি প্রকাশের সাথে সাথেই আমি ভাইদের কাছ থেকে একাধিক অনুযোগ পেয়েছি, তাদের আপত্তিগুলো মূলত নিম্নোক্ত বিষয়গুলোতে নিহিত ছিল:

প্রথমত: বইটির শিরোনাম দ্বারা সুন্নাহে নববীর ওপর মিথ্যা রচনার বিষয় বুঝা যায়, অথচ মানুষের পক্ষে তা করার কোনো ক্ষমতা নেই। ফলে গ্রন্থের শিরোনামটি পরিবর্তন করা আবশ্যক। এর উত্তর হলো: এই শব্দটি পবিত্র কুরআনে ষাটটি স্থানে এসেছে। আমরা তন্মধ্যে মহান আল্লাহর এই বাণীটি উল্লেখ করছি: "সেই ব্যক্তির চেয়ে বড় জালেম আর কে হতে পারে, যে আল্লাহর ওপর মিথ্যা অপবাদ আরোপ করে?" [সূরা আল-আন'আম, আয়াত: ১৪৪], [সূরা আল-আ'রাফ, আয়াত: ৩৭], [সূরা ইউনুস, আয়াত: ১৭], [সূরা আল-কাহফ, আয়াত: ১৫]।

 

এবং মহান আল্লাহর বাণী: "নাকি তারা বলে যে, তিনি এটি মিথ্যা রচনা করেছেন? আপনি বলুন, তবে তোমরা এর মতো একটি সূরা নিয়ে আসো" [সূরা ইউনুস, আয়াত: ৩৮]। এবং মহান আল্লাহর বাণী: "নাকি তারা বলে যে, তিনি এটি মিথ্যা রচনা করেছেন? আপনি বলুন, তবে তোমরা এর মতো দশটি মিথ্যা রচিত সূরা নিয়ে আসো" [হূদ: ১৩]।

 

অতঃপর মহাপরাক্রমশালী আল্লাহর বাণী: "তখন তারা জানতে পারবে যে, সত্য কেবল আল্লাহরই এবং তারা যা মিথ্যা রচনা করত তা তাদের থেকে হারিয়ে যাবে" [আল-কাসাস: ৭৫]।

 

এই আয়াতগুলো একথাই প্রকাশ করে যে, আল্লাহর শত্রুরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের ওপর মিথ্যাারোপ করত। এর অর্থ এই নয় যে, তাদের দাবি সত্য ছিল, কিংবা এই শব্দের ব্যবহার দ্বারা তাদের এমন কোনো ক্ষমতার স্বীকৃতি দেওয়া হচ্ছে যে তারা কুরআন ও সুন্নাহে নববী নিয়ে আসা সত্যের কোনো কিছু পরিবর্তন করতে সক্ষম।
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাতুল মুফতারা আলাইহা (পৃষ্ঠা: ১১)
ثانياً: الكتاب فيه دعوة إلى التقريب بين المذاهب الإسلامية وهذا التقريب غاية يهودية، وأدنى ما يقال عنه إنه تنازل من كل طرف عن بعض معتقداته، وهذا فساد كبير.

 

وقد غاب عن هؤلاء ما يأتي:

1 - إنَّ التقريب بين المسلمين ليس من أعمال اليهود، وأعمالهم قد نهى الله عنها في قوله تعالى: {وَلَا تَكُونُوا كَالَّذِينَ تَفَرَّقُوا وَاخْتَلَفُوا مِنْ بَعْدِ مَا جَاءَهُمُ الْبَيِّنَاتُ وَأُولَئِكَ لَهُمْ عَذَابٌ عَظِيمٌ} [آل عمران: 105].

 

2 - إنَّ النزاع والفرقة يؤدِّيان إلى الفشل والهزيمة إذْ قال تعالى: {وَأَطِيعُوا اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَلَا تَنَازَعُوا فَتَفْشَلُوا وَتَذْهَبَ رِيحُكُمْ} [الأنفال: 46].

 

3 - إنَّ التقريب لا يعني تنازل كل فرقة عن بعض معتقداتها لتقترب من الآخرين، بل هو ما جاء في قول الله تعالى: {فَإِنْ تَنَازَعْتُمْ فِي شَيْءٍ فَرُدُّوهُ إِلَى اللَّهِ وَالرَّسُولِ} {فَإِنْ تَنَازَعْتُمْ فِي شَيْءٍ فَرُدُّوهُ إِلَى اللَّهِ وَالرَّسُولِ} [النساء: 59].

 

4 - حتى يتم التقريب بالرد إلى الكتاب والسُنّة، فإنه من الواجب أن نتعاون فيما اتفقنا عليه وأنْ يعذر بعضنا بعضاً فيما اختلفنا فيه.

 

ثالثاً: قيل إنَّ الكتاب جاء بمفهوم جديد للعصمة نفي عنهم الكفر إلا المعتقد أنَّ العصمة تتضمَّن الرواية عن الله مباشرة.

 

وقد تجاهلوا أنَّ أئمة السُنَّة لا يقولون بكفر هؤلاء، وتناسوا أنَّ العصمة التي حدَّدَ الكتاب معالمها، وحصرها في عصمة أئمة آل البيت في الرواية عن النبي صلى الله عليه وسلم؛ قد ذهب فقهاء من أهل السُنَّة إلى أنَّ هذه العصمة لازمة لجميع الرُواة وليس للأئمة
দ্বিতীয়ত: বইটিতে ইসলামী মাযহাবগুলোর মধ্যে নৈকট্য (তাকরিব) স্থাপনের আহ্বান জানানো হয়েছে, আর এই নৈকট্য স্থাপন ইহুদিদের একটি লক্ষ্য। এর সম্পর্কে ন্যূনতম যা বলা যায় তা হলো, এটি প্রতিটি পক্ষ কর্তৃক তাদের কিছু আকিদা বা বিশ্বাস থেকে সরে আসা বা ছাড় দেওয়া, যা একটি বড় ধরনের বিপর্যয়।

 

আর এদের নিকট নিম্নোক্ত বিষয়গুলো অস্পষ্ট রয়ে গেছে:

১ - মুসলমানদের মধ্যে নৈকট্য স্থাপন ইহুদিদের কাজ নয়; বরং তাদের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা তাঁর এই বাণীতে নিষেধ করেছেন: "তোমরা তাদের মতো হয়ো না, যারা তাদের নিকট স্পষ্ট নিদর্শন আসার পর বিচ্ছিন্ন হয়েছে ও মতভেদ করেছে। তাদের জন্য রয়েছে মহাশাস্তি।" [আলে ইমরান: ১০৫]।

 

২ - বিবাদ ও অনৈক্য ব্যর্থতা ও পরাজয়ের দিকে নিয়ে যায়। কেননা আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করো এবং নিজেদের মধ্যে বিবাদ করো না, নতুবা তোমরা সাহস হারিয়ে ফেলবে এবং তোমাদের প্রভাব বিলুপ্ত হবে।" [আনফাল: ৪৬]।

 

৩ - নৈকট্য স্থাপনের অর্থ এই নয় যে, প্রতিটি দল অন্যদের কাছাকাছি হওয়ার জন্য তাদের কিছু বিশ্বাস বিসর্জন দেবে। বরং এর অর্থ তা-ই যা আল্লাহ তাআলার এই বাণীতে এসেছে: "যদি তোমরা কোনো বিষয়ে বিবাদে লিপ্ত হও, তবে তা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের দিকে ফিরিয়ে দাও।" "যদি তোমরা কোনো বিষয়ে বিবাদে লিপ্ত হও, তবে তা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের দিকে ফিরিয়ে দাও।" [নিসা: ৫৯]।

 

৪ - কুরআন ও সুন্নাহর দিকে প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমে নৈকট্য অর্জনের জন্য আবশ্যক হলো, আমরা যে বিষয়গুলোতে একমত সেগুলোতে একে অপরকে সহযোগিতা করা এবং যে বিষয়গুলোতে আমাদের মধ্যে মতভেদ আছে সেখানে একে অপরকে মার্জনা করা।

 

তৃতীয়ত: বলা হয়েছে যে, বইটি ‘ইসমাত’ (অভ্রান্ততা) এর এক নতুন ধারণা নিয়ে এসেছে যা তাদের কুফরিকে অস্বীকার করে, কেবল সেই ব্যক্তির বিশ্বাস ব্যতীত যে মনে করে ‘ইসমাত’ সরাসরি আল্লাহর পক্ষ থেকে বর্ণনা করাকে অন্তর্ভুক্ত করে।

 

তারা এটি উপেক্ষা করেছে যে আহলুস সুন্নাহর ইমামগণ এদের কাফির বলেন না; আর তারা ভুলে গেছে যে, ‘ইসমাত’ যেটির রূপরেখা এই বইটিতে নির্ধারণ করা হয়েছে এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনার ক্ষেত্রে কেবল আহলে বাইতের ইমামদের মধ্যে সীমাবদ্ধ করা হয়েছে—আহলুস সুন্নাহর ফকিহগণ মনে করেন যে এই অভ্রান্ততা (নির্ভুলতা) সকল বর্ণনাকারীর জন্যই আবশ্যক, কেবল ইমামদের জন্য নয়।
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাতুল মুফতারা আলাইহা (পৃষ্ঠা: ১২)
من آل البيت فقط. فقد قال الإمام علي بن حزم: «كل عدل روى خبراً قاله رسول الله صلى الله عليه وسلم، فذلك الراوي معصوم من تَعَمُّدِ الكذب ومن جواز الوهم» وقال: «التبليغ المعصوم فيه كما هو إلى الصحابة، هو إلى غيرهم إلى يوم القيامة لأنَّ حفظ الدين لازم للصحابة كما هو لازم لمن بعدهم» (راجع " الإحكام في أصول الأحكام " لابن حزم: جـ 1 ص 117).

 

رابعًا: إنَّ الكتاب قطع بعدم وجود قرآن آخر عند الشيعة مع أنَّ مصحف فاطمة ورد ذكره في كتاب " الكافي " للكليني وفي مراجع أخرى لديهم. ولسنا ندري ماذا يضير الإسلام والمسلمين لو نقلنا عن فقهاء أخرين من الشعية - نقلاً صادقاً لا افتعال فيه - أنه لا يوجد لديهم قرآن آخر، وأنَّ ما كتب في ذلك روايات باطلة وهي من الإسرائيليات.

 

خامسًا: قيل إنَّ الكتاب أخذ برأي مرجوح في شأن سُنَّة الآحاد فأخذ بها في العقائد والمعجزات خلافاً لرأي الجمهور، وقد غاب عن هؤلاء أنَّ المنهج هو ما كان عليه صحابة رسول الله صلى الله عليه وسلم، فكانو يعملون بأحاديث الآحاد في جميع الأمور طالما رواها العدل الضابط حسبما هو مُفصَّلٌ في الكتاب، كما أنَّ الفقهاء الذين قسَّموا السُنَّة إلى قطعية وظنية مجمعون على وجوب العمل بالسُنَّة كلها، لأنَّ هذا التقسيم قد جاء لبيان حكم من رَدَّ السُنَّة كما هو مُفَصَّلٌ في مواضعه، ولو علم أصحاب هذا المصطلح أنه سيكون مستنداً لاستبعاد حكم الله في الشؤون الدستورية وفي الحدود وفي الأمور الاقتصادبة - كما هو حاصل في عصرنا - لأبطلوا هذا التقسيم وأغلقوا باب هذه الفتنة التي يُصِرُّ عليها بعض المُقلِّدين.

 

سادسًا: قيل إنَّ الكتاب تعرَّض لموقف بعض العلماء ومنهم أصحاب المدرسة الإصلاحية، ومن يقولون إنَّ الإسراء كان بالروح فقط،
শুধুমাত্র আহলে বায়ত থেকে। ইমাম আলী ইবনে হাজম বলেছেন: "প্রত্যেক ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তি যিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কোনো সংবাদ (হাদীস) বর্ণনা করেন, সেই বর্ণনাকারী ইচ্ছাকৃত মিথ্যা এবং ভুলের সম্ভাবনা থেকে সুরক্ষিত।" তিনি আরও বলেছেন: "যেভাবে সাহাবীদের নিকট দ্বীন পৌঁছে দেওয়া সুরক্ষিত ছিল, তেমনিভাবে কিয়ামত পর্যন্ত অন্যদের নিকট পৌঁছানোও সুরক্ষিত। কারণ দ্বীন সংরক্ষণ করা সাহাবীদের জন্য যেমন অপরিহার্য, তাদের পরবর্তী প্রজন্মের জন্য তেমনই অপরিহার্য।" (দেখুন ইবনে হাজমের "আল-ইহকাম ফি উসুলিল আহকাম": ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ১১৭)।

 

চতুর্থত: এই কিতাবটি অকাট্যভাবে বলেছে যে শিয়াদের নিকট অন্য কোনো কুরআন নেই, যদিও কুলাইনীর "আল-কাফি" এবং তাদের অন্যান্য উৎসগ্রন্থে 'মুসহাফে ফাতিমা'র কথা উল্লেখ রয়েছে। আমরা জানি না ইসলাম ও মুসলিমদের কী ক্ষতি হবে যদি আমরা শিয়াদের অন্যান্য ফকিহদের থেকে সত্য ও অকৃত্রিমভাবে বর্ণনা করি যে, তাদের নিকট অন্য কোনো কুরআন নেই এবং এ বিষয়ে যা কিছু লেখা হয়েছে তা বাতিল বর্ণনা এবং ইসরাঈলী রেওয়ায়েতের অন্তর্ভুক্ত।

 

পঞ্চমত: বলা হয়েছে যে, এই কিতাবটি একক বর্ণনার সুন্নাহর (সুন্নাতুল আহাদ) ক্ষেত্রে একটি দুর্বল মত গ্রহণ করেছে, ফলে জমহুর বা সংখ্যাগরিষ্ঠের মতের বিপরীতে এটি আকীদা ও মুজিজার ক্ষেত্রেও একক বর্ণনা গ্রহণ করেছে। অথচ তারা এ বিষয়টি ভুলে গেছে যে, সঠিক পদ্ধতি সেটিই যার ওপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণ ছিলেন। তারা সকল বিষয়ে একক বর্ণনার হাদীস অনুযায়ী আমল করতেন যতক্ষণ পর্যন্ত তা কোনো ন্যায়পরায়ণ ও নির্ভুল বর্ণনাকারী বর্ণনা করতেন, যেমনটি এই কিতাবে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। তেমনিভাবে যেসব ফকিহ সুন্নাহকে অকাট্য (কাতঈ) এবং ধারণাপ্রসূত (জান্নি) হিসেবে ভাগ করেছেন, তারা পুরো সুন্নাহর ওপর আমল করা ওয়াজিব হওয়ার বিষয়ে একমত। কারণ এই বিভাজনটি করা হয়েছিল কেবল সুন্নাহ প্রত্যাখ্যানকারীর বিধান বর্ণনার জন্য, যা সংশ্লিষ্ট স্থানে বিস্তারিত রয়েছে। এই পরিভাষার প্রবর্তকগণ যদি জানতেন যে, এটি সাংবিধানিক বিষয়াদি, দণ্ডবিধি (হুদুদ) এবং অর্থনৈতিক বিষয়াবলীতে আল্লাহর বিধানকে বর্জন করার অজুহাত হিসেবে ব্যবহৃত হবে—যেমনটি আমাদের যুগে ঘটছে—তবে তারা অবশ্যই এই বিভাজন বাতিল করতেন এবং এই ফিতনার পথ বন্ধ করে দিতেন যার ওপর বর্তমানে কিছু অন্ধ অনুসারী অনড় রয়েছে।

 

ষষ্ঠত: বলা হয়েছে যে, কিতাবটিতে কিছু আলেমের অবস্থানের সমালোচনা করা হয়েছে, যাদের মধ্যে সংস্কারবাদী ঘরানার অনুসারীগণ রয়েছেন, এবং যারা বলেন যে ইসরা (রাত্রি ভ্রমণ) কেবল আত্মার মাধ্যমে হয়েছিল।
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাতুল মুফতারা আলাইহা (পৃষ্ঠা: ১৩)
ومن يرُدُّون سُنَّةَ الآحاد في العقائد والمعجزات، وبهذا يكون قد وضعهم في عداد المفترين على السُنَّة النبوية.

 

وهذا الاستدلال غير صحيح، فلا تلازم بين المقدمة والنتيجة، ومع هذا فقد يفتري بعض العلماء على السُنَّة، وهم يحسبون أنهم يدافعون عنها كما فعل من ذكرنا في الفصل السابع والتاسع، وقد يظلم الإنسان نفسه ببعض الأعمال ولا يدرك ذلك. قال تعالى: {ثُمَّ أَوْرَثْنَا الْكِتَابَ الَّذِينَ اصْطَفَيْنَا مِنْ عِبَادِنَا فَمِنْهُمْ ظَالِمٌ لِنَفْسِهِ وَمِنْهُمْ مُقْتَصِدٌ وَمِنْهُمْ سَابِقٌ بِالْخَيْرَاتِ} [فاطر: 32].

 

إنَّ هذه الاعتراضات وإنْ كانت لها أسباب أخرى عند بعض النقاد قد تجنح في كثير منها نحو الحزبية، إلَاّ أنها كانت سبباً في إعادة البحث في هذه الأمور وغيرها، وفي إضافة صفحات وبنود عن سُنَّة الآحاد، وعن الفتنة الكبرى، وعن مسألة تحريف القرآن، ومصحف فاطمة، وعن العصمة والبداء.

 

ونرجو أنْ يدرك أصحاب الرأي المخالف أنَّ الحد الأدنى من شعب الإيمان بين المسلمين على اختلاف مذاهبهم، هو إصلاح النفوس حتى لا تحمل بغضاً ولا يبقى في قلوبنا غلٌّ للذين آمنوا بالله ورسوله. كما أنَّ نفي الكفر عن مذهب أو طائفة لا يعني صحة جميع ما لديهم ولا يتضمَّن الحكم بالإسلام لمن أظهر كفراً بواحاً لنا فيه برهان من الله تعالى.

 

سالم علي البهنساوي

15/ 5 / 1401 هـ - 21/ 3 / 1981 م.
এবং যারা আকিদা ও মুজিজার ক্ষেত্রে সুন্নাহে আহাদকে প্রত্যাখ্যান করে, এর মাধ্যমে তিনি তাদেরকে সুন্নাহে নববীর ওপর মিথ্যারোপকারীদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন।

 

আর এই যুক্তিটি সঠিক নয়, কারণ ভূমিকা ও ফলাফলের মধ্যে কোনো অপরিহার্য সংযোগ নেই। তা সত্ত্বেও, কিছু আলেম সুন্নাহর ওপর মিথ্যারোপ করতে পারেন, যদিও তারা মনে করেন যে তারা এটি রক্ষা করছেন—যেমনটি আমরা সপ্তম ও নবম অধ্যায়ে যাদের কথা উল্লেখ করেছি। মানুষ কখনো কখনো কিছু কাজের মাধ্যমে নিজের ওপর জুলুম করে এবং তা উপলব্ধি করতে পারে না। আল্লাহ তায়ালা বলেন: "অতঃপর আমি কিতাবের উত্তরাধিকারী করেছি আমার বান্দাদের মধ্য থেকে যাদেরকে আমি মনোনীত করেছি। তবে তাদের কেউ নিজের ওপর জুলুমকারী, কেউ মধ্যপন্থা অবলম্বনকারী এবং কেউ নেক কাজে অগ্রগামী।" [ফাতির: ৩২]।

 

এই আপত্তিগুলো, যদিও কিছু সমালোচকের কাছে এর অন্য কারণ থাকতে পারে যা অনেক ক্ষেত্রে দলাদলির দিকে ঝুঁকে পড়ে, তবে এগুলো এই বিষয়গুলো ও অন্যান্য বিষয়ে পুনরায় গবেষণার কারণ হয়েছে। এছাড়াও সুন্নাহে আহাদ, ফিতনায়ে কুবরা, কুরআনের বিকৃতি সংক্রান্ত মাসআলা, মুসহাফে ফাতিমা, এবং ইসমাতে আম্বিয়া ও বাদা (আল্লাহর সিদ্ধান্ত পরিবর্তন সংক্রান্ত ধারণা) সম্পর্কে নতুন পৃষ্ঠা ও অনুচ্ছেদ যুক্ত করার কারণ হয়েছে।

 

আমরা আশা করি যে, ভিন্নমতাবলম্বীরা বুঝতে পারবেন যে বিভিন্ন মাযহাব নির্বিশেষে মুসলমানদের মধ্যে ঈমানের শাখাগুলোর সর্বনিম্ন স্তর হলো অন্তরের সংশোধন, যাতে কোনো বিদ্বেষ পোষণ না করা হয় এবং যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের ওপর ঈমান এনেছে তাদের জন্য আমাদের অন্তরে যেন কোনো হিংসা অবশিষ্ট না থাকে। একইভাবে, কোনো মাযহাব বা গোষ্ঠী থেকে কুফরের হুকুম নাকচ করার অর্থ এই নয় যে তাদের কাছে থাকা সকল বিষয়ই সঠিক, আর এটি তাদের ক্ষেত্রে ইসলামের ফয়সালাও নিশ্চিত করে না যারা এমন সুস্পষ্ট কুফর প্রকাশ করে যার বিরুদ্ধে আমাদের কাছে আল্লাহর পক্ষ থেকে স্পষ্ট দলিল রয়েছে।

 

সালিম আলী আল-বাহনাসাওয়ী

১৫/ ৫ / ১৪০১ হিজরি - ২১/ ৩ / ১৯৮১ খ্রিস্টাব্দ।
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাতুল মুফতারা আলাইহা (পৃষ্ঠা: ১৪)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

‌‌بين يدي هذا الكتاب:

لقد أرسل الله رسوله محمداً صلى الله عليه وسلم بالهُدى ودين الحق ليظهره على المناهج والنظم المحلية والعالمية. وفي هذا قال الله تعالى: {هُوَ الَّذِي أَرْسَلَ رَسُولَهُ بِالْهُدَى وَدِينِ الْحَقِّ لِيُظْهِرَهُ عَلَى الدِّينِ كُلِّهِ وَكَفَى بِاللَّهِ شَهِيدًا} [الفتح: 28].

 

وهذه الرسالة العالمية الخاتمة للرسالات النبوية والمُتَمِّمَة والمُهيمنة عليها، قد جاءت بفضائل الأعمال، ولهذا قد رضي بحكمها الشرفاء من الناس الذين لم يؤمنوا بها. وظل يعارضها من اصطدمت هذه الرسالة بمصالحهم ونزواتهم وسلطانهم الجائر على المستضعفين من الرجال والنساء والولدان.

ولقد كانت معارضة هؤلاء لهذه الرسالة، هي الطعن في صحتها وفي صدق الرسول والرسالة، وسلكوا لذلك وسائل مختلفة ولكن ما لبثت أنْ انهارت أمام الحقائق التي أحاط بها الباحثون عن الحق والعدل.

 

ولقد كانت توجيهات الله أن يعرض المسلم عن هؤلاء المعاندين والجاهلين لأنَّ تعصُّبهم وجهالتهم ستزين لهم التكذيب دائماً، قال تعالى: {وَلَوْ فَتَحْنَا عَلَيْهِمْ بَابًا مِنَ السَّمَاءِ فَظَلُّوا فِيهِ يَعْرُجُونَ، لَقَالُوا إِنَّمَا سُكِّرَتْ أَبْصَارُنَا بَلْ نَحْنُ قَوْمٌ مَسْحُورُونَ} [الحجر: 14، 15].
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

‌‌এই কিতাবটি সম্পর্কে কিছু কথা:

নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর রাসূল মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে হিদায়াত ও সত্য দ্বীনসহ প্রেরণ করেছেন, যাতে তিনি একে সকল স্থানীয় ও বৈশ্বিক মতাদর্শ ও ব্যবস্থার ওপর বিজয়ী করেন। আর এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তাআলা বলেন: "তিনিই তাঁর রাসূলকে হিদায়াত ও সত্য দ্বীনসহ প্রেরণ করেছেন, যাতে তিনি তাকে সকল দ্বীনের ওপর বিজয়ী করেন। আর সাক্ষী হিসেবে আল্লাহই যথেষ্ট।" [সূরা আল-ফাতহ: ২৮]।

 

নবুওয়াতের ধারায় সর্বশেষ, পরিপূরক এবং পূর্ববর্তী সব বার্তার ওপর আধিপত্য বিস্তারকারী এই বিশ্বজনীন বার্তাটি সর্বোত্তম আমলসমূহ নিয়ে এসেছে। একারণেই সেই সব সম্মানিত ব্যক্তিবর্গও এর বিধানের প্রতি সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন যারা এর প্রতি ঈমান আনেননি। তবে যারা এই বার্তার সঙ্গে তাদের হীন স্বার্থ, খেয়ালখুশি এবং অসহায় পুরুষ, নারী ও শিশুদের ওপর তাদের অন্যায় শাসনের সংঘাত অনুভব করেছে, তারা সর্বদা এর বিরোধিতা করে গেছে।

এই বার্তার প্রতি তাদের বিরোধিতার স্বরূপ ছিল এর নির্ভুলতা এবং রাসূল ও বার্তার সত্যবাদিতার ওপর অপবাদ আরোপ করা। এজন্য তারা বিভিন্ন পথ অবলম্বন করেছিল, কিন্তু সত্য ও ন্যায়ের অন্বেষণকারীরা যেসব অকাট্য সত্য তুলে ধরেছেন তার সামনে সেসব শীঘ্রই ধসে পড়েছে।

 

আল্লাহর পক্ষ থেকে এই নির্দেশনা ছিল যেন মুসলিমরা এসব হঠকারী ও অজ্ঞদের উপেক্ষা করে চলে, কারণ তাদের গোঁড়ামি ও অজ্ঞতা তাদের কাছে সর্বদা সত্যকে অস্বীকার করাকেই সুশোভিত করে রাখবে। আল্লাহ তাআলা বলেন: "যদি আমি তাদের জন্য আকাশের কোনো দরজাও খুলে দিতাম এবং তারা তাতে আরোহণ করতে থাকত, তবুও তারা বলত: আমাদের দৃষ্টি আচ্ছন্ন করা হয়েছে, বরং আমরা এক জাদুগ্ৰস্ত জাতি।" [সূরা আল-হিজর: ১৪, ১৫]।
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাতুল মুফতারা আলাইহা (পৃষ্ঠা: ১৫)
كما كانت توجيها الله أنْ تمنع المسلم عن جدال أهل الكتاب من اليهود والنصارى إلَاّ بالتي هي أحسن ليتفرَّغ المسلمون إلى ما هو أجدى وأنفع، قال تعالى: {فَلِذَلِكَ فَادْعُ وَاسْتَقِمْ كَمَا أُمِرْتَ وَلَا تَتَّبِعْ أَهْوَاءَهُمْ وَقُلْ آمَنْتُ بِمَا أَنْزَلَ اللَّهُ مِنْ كِتَابٍ وَأُمِرْتُ لِأَعْدِلَ بَيْنَكُمُ اللَّهُ رَبُّنَا وَرَبُّكُمْ لَنَا أَعْمَالُنَا وَلَكُمْ أَعْمَالُكُمْ لَا حُجَّةَ بَيْنَنَا وَبَيْنَكُمُ اللَّهُ يَجْمَعُ بَيْنَنَا وَإِلَيْهِ الْمَصِيرُ} [الشورى: 15].

 

ولقد افترى كثير من المشركين وأهل الكتاب على النبي صلى الله عليه وسلم وعلى الرسالة التي جاء بها والممثلة في القرآن الكريم وفي السنة النبوية.

 

فقد وصف دِرْمِنْجْهَمْ القرآن بأنه (قصص يسمى قصص محمد وقد ورد فيه أنَّ الإسلام يجيز اشتراك جملة رجال في زوجة واحدة) كما زعم كل من نيقولا دوكور وهو تنجر ومراشي وبيبلندر وبريدو أنَّ محمداً رجل كاذب وأنَّ الإسلام من أعمال الشياطين وأنَّ المسلمين قوم هُمَّج والقرآن كتاب متناقض.

 

أما البابا اينوشاتيوس الثالث فقد زعم أنَّ محمداً هو المسيح الدجال، هذه المزاعم وغيرها وردت في كتاب انتشر في الغرب واسمه " حاضر الإسلام "، ومؤلفه هولوثروب ستوارد (جـ 1، ص 16، 83، 85) وتوجد مزاعم أخرى في كتب ومؤلفات مماثلة قديماً وحديثاً ولم تمنع هذه من دخول الغربيين في الإسلام، بأعداد كبيرة، بل تكوَّنت منظمات إسلامية في أمريكا وكندا وأوروبا وألمانيا وقد أخذت على عاتقها نشر الإسلام بين هذه الشعوب.

 

أمام هذا الفشل؛ نقلت المعركة داخل صفوف المسلمين بعد أنْ تحوَّل المبشِّرُون والمستشرقون من العداء الصريح والتكذيب المفضوح إلى التسليم بالإسلام في جانب ثم الطعن فيه من جانب أخر.
একইভাবে এটি আল্লাহর একটি নির্দেশনা ছিল যে, মুসলিমদেরকে ইহুদি ও খ্রিস্টানদের মতো আহলে কিতাবদের সাথে সর্বোত্তম পন্থা ব্যতীত তর্কে লিপ্ত হতে বিরত রাখা, যাতে মুসলিমগণ অধিকতর ফলপ্রসূ ও উপকারী কাজে আত্মনিয়োগ করতে পারে। মহান আল্লাহ বলেন: {কাজেই আপনি এর দিকেই দাওয়াত দিন এবং অটল থাকুন যেমন আপনাকে আদেশ করা হয়েছে, এবং তাদের খেয়াল-খুশির অনুসরণ করবেন না। আর বলুন, আল্লাহ যে কিতাব নাজিল করেছেন আমি তাতে ঈমান এনেছি। আর আমি তোমাদের মাঝে ন্যায়বিচার করতে আদিষ্ট হয়েছি। আল্লাহই আমাদের পালনকর্তা এবং তোমাদেরও পালনকর্তা। আমাদের আমল আমাদের জন্য এবং তোমাদের আমল তোমাদের জন্য। আমাদের ও তোমাদের মধ্যে কোনো বিবাদ নেই। আল্লাহই আমাদের সবাইকে একত্রিত করবেন এবং তাঁরই কাছে প্রত্যাবর্তন করতে হবে।} [আশ-শূরা: ১৫]।

 

অনেক মুশরিক এবং আহলে কিতাব নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তিনি যে রিসালাত নিয়ে এসেছিলেন—যা পবিত্র কুরআন ও সুন্নাহর মাধ্যমে উপস্থাপিত—তার ওপর অপবাদ ও মিথ্যারোপ করেছে।

 

যেমন ডার্মিংহাম কুরআনকে বর্ণনা করেছেন এভাবে যে, এটি (মোহাম্মদের গল্পসমূহ নামক কিছু কাহিনী এবং এতে উল্লেখ করা হয়েছে যে ইসলাম একদল পুরুষের জন্য একজন স্ত্রীকে অংশীদার করা বৈধ করে)। একইভাবে নিকোলাস ডি কৌর, হোটেঞ্জার, মারাসি, বিব্ল্যান্ডার এবং প্রিডক্স দাবি করেছেন যে মুহাম্মদ একজন মিথ্যাবাদী লোক এবং ইসলাম শয়তানদের কাজ, আর মুসলিমরা এক বর্বর জাতি এবং কুরআন একটি স্ববিরোধী কিতাব।

 

অন্যদিকে পোপ ইনোসেন্ট তৃতীয় দাবি করেছিলেন যে মুহাম্মদ হলেন দাজ্জাল। এই সমস্ত দাবি ও অন্যান্য বিষয় পশ্চিমে ছড়িয়ে পড়া "হাযিরুল ইসলাম" নামক একটি বইয়ে উল্লেখ করা হয়েছে, যার লেখক হলেন লোথ্রপ স্টোডার্ড (খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ১৬, ৮৩, ৮৫)। অনুরূপ আরও বহু দাবি অতীত ও বর্তমানের বিভিন্ন বই ও রচনায় পাওয়া যায়। তবে এসব অপপ্রচার পশ্চিমাদের বিপুল সংখ্যায় ইসলামে প্রবেশ করা থেকে বিরত রাখতে পারেনি। বরং আমেরিকা, কানাডা, ইউরোপ এবং জার্মানিতে বিভিন্ন ইসলামি সংস্থা গঠিত হয়েছে, যারা এই জাতিগুলোর মধ্যে ইসলাম প্রচারের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছে।

 

এই ব্যর্থতার মুখে, যুদ্ধটি মুসলিমদের নিজেদের কাতারে স্থানান্তরিত করা হয়; যখন মিশনারি ও প্রাচ্যবিদরা প্রকাশ্য শত্রুতা ও নির্লজ্জ মিথ্যাচারের পথ পরিবর্তন করে একদিকে ইসলামের প্রতি বাহ্যিক স্বীকৃতি প্রদান এবং অন্যদিকে অন্য দিক থেকে একে আক্রমণ করার নীতি গ্রহণ করে।
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাতুল মুফতারা আলাইহা (পৃষ্ঠা: ১৬)
أ - فوجدنا بين المسلمين من يزعم أنَّ السُنَّة النبوية لم تُدَوَّن إلَاّ بعد مدة طويلة تثير الشك في نسبتها إلى النبي صلى الله عليه وسلم مما يجعلها غير ملزمة في زعمهم.

 

وهذا أساسه ما زعمه المستشرق اليهودي جولدتسيهر من أنَّ ألوف الأحاديث النبوية من صنع علماء الإسلام في الطبقات التالية لعصر الصحابة.

 

ب - ووجدنا بين المسلمين من يزعم أنَّ علماء الحديث لم يبحثوا في صحة متن الحديث مما أدخل على السُنَّة ما ليس منها.

 

جـ - ومن المسلمين من ردَّ أحاديث الآحاد في أمور العقيدة وفي المعجزات وفي الأمور الدستورية وفي الحدود.

 

د - ومن المسلمين من ادَّعى أنَّ السُنَّة لا تستقل بتشريع الأحكام ومن ثم فلا يعمل بها إنْ أتت بحكم ليس في القرآن الكريم.

 

وكما وجد خلاف حول قدرة السُنَّة النبوية على تخصيص عموم القرآن ونسخ بعض أحكامه، وحول شبهة التعارض بين النصوص الشرعية.

 

إنه ليس غريباً أنْ يفتري أعداء الإسلام على السُنَّة النبوية، فهذه رسالتهم في الدنيا ولا ضرر على الإسلام من هؤلاء لأنَّ كفرهم ظاهر. إنما يتجسَّدُ الضرر والخطر في أولئك الذين ينتسبون إلى الإسلام ثم يُحرِّفُون نصوصه في القرآن أو السُنَّة النبوية، أو يسعون إلى الشهرة أو السلطة على حساب هذا الدين، إما لجهل أو لعمالة ظاهرة أو مستترة.

 

ولئن كان خطر هؤلاء هو كونهم يهدمون الإسلام من داخله وباسم الإسلام. فإنَّ نبي الإسلام قد أخبر عنهم وأرشد إلى مجاهدتهم، فروى عنه
ক - আমরা মুসলমানদের মধ্যে এমন কিছু লোক পেয়েছি যারা দাবি করে যে, নববী সুন্নাহ দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ার আগে সংকলিত হয়নি, যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি এর সম্বন্ধের ক্ষেত্রে সংশয় তৈরি করে, যার ফলে তাদের ধারণা অনুযায়ী এটি আর বাধ্যতামূলক থাকে না।

 

আর এর ভিত্তি হলো ইহুদি প্রাচ্যবিদ গোল্ডজিহারের সেই দাবি যে, হাজার হাজার নববী হাদিস সাহাবীদের যুগের পরবর্তী প্রজন্মের মুসলিম আলেমদের তৈরি করা।

 

খ - আমরা মুসলমানদের মধ্যে এমন ব্যক্তিও পেয়েছি যারা দাবি করে যে, হাদিস বিশারদগণ হাদিসের মূল পাঠের (মতন) বিশুদ্ধতা নিয়ে গবেষণা করেননি, যার ফলে সুন্নাহর মধ্যে এমন বিষয় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে যা তার অংশ নয়।

 

গ - মুসলমানদের মধ্যে কেউ কেউ আকিদাগত বিষয়, মুজিজা (অলৌকিক ঘটনা), সাংবিধানিক বিষয় এবং দণ্ডবিধির (হুদুদ) ক্ষেত্রে 'আহাদে হাদিস' (একক বর্ণনা) প্রত্যাখ্যান করেছেন।

 

ঘ - মুসলমানদের মধ্যে এমন লোকও রয়েছে যারা দাবি করেছে যে, সুন্নাহ স্বতন্ত্রভাবে বিধান প্রণয়ন করতে পারে না, ফলে যদি সুন্নাহ এমন কোনো বিধান নিয়ে আসে যা পবিত্র কুরআনে নেই, তবে সে অনুযায়ী আমল করা যাবে না।

 

অনুরূপভাবে কুরআনের সাধারণ বিধানকে (আম) সুন্নাহর মাধ্যমে সুনির্দিষ্ট (খাস) করা এবং এর কিছু বিধান রহিত (নাসখ) করার সক্ষমতা নিয়ে, এবং শরয়ী দলীলসমূহের মধ্যে আপাত বিরোধের সংশয় নিয়ে মতভেদ পরিলক্ষিত হয়েছে।

 

ইসলামের শত্রুরা নববী সুন্নাহর বিরুদ্ধে অপবাদ দেবে—এটি বিস্ময়কর কিছু নয়, কেননা পৃথিবীতে এটিই তাদের কাজ এবং তাদের কারণে ইসলামের কোনো ক্ষতি নেই কারণ তাদের কুফর সুষ্পষ্ট। বরং প্রকৃত ক্ষতি ও বিপদ নিহিত রয়েছে সেইসব লোকদের মধ্যে যারা ইসলামের দিকে নিজেদের সম্বন্ধ করে, এরপর কুরআন বা সুন্নাহর পাঠে বিকৃতি ঘটায়, অথবা এই দ্বীনের বিনিময়ে খ্যাতি কিংবা ক্ষমতা লাভের চেষ্টা করে—চাই তা মূর্খতার কারণে হোক কিংবা প্রকাশ্য বা গোপন কোনো দালালি বা স্বার্থসিদ্ধির জন্য হোক।

 

যদি এই ব্যক্তিদের বিপদ এটাই হয় যে তারা ভেতর থেকে এবং ইসলামের নামেই ইসলামকে ধ্বংস করছে, তবে ইসলামের নবী তাদের সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন এবং তাদের বিরুদ্ধে সংগ্রামের নির্দেশনা দিয়েছেন। তাঁর থেকে বর্ণিত হয়েছে যে—
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাতুল মুফতারা আলাইহা (পৃষ্ঠা: ১৭)
الإمام مسلم قوله: «ما بعث الله من نبي إلَاّ كان له من أمَّته حواريون وأصحاب يأخذون بسُنَّته ويتقيَّدون بأمره. ثم إنها تخلف من بعدهم خلوف يقولون ما لا يفعلون ما لا يؤمرون به، فمن جاهدهم بقلبه فهو مؤمن وليس وراء ذلك من الإيمان حبة خردل».

 

من أجل ذلك فقد فصل هذا الكتاب الشبهات التي قذف بها المستشرقون وسائر أعداء الإسلام، افتراء على الله فيما يتعلق بالسُنة النبوية التي تحولت المعركة إليها بالإنكار أو التطوير، لأنَّ هدمها هدم للدين وإضعافها إضعاف له، كما أنَّ نصر السنة وإظهارها نصر للإسلام وإظهار له على غيره.

 

وإذا كان الهدف من ذلك هو كشف وسائل هؤلاء هؤلاء الأعداء سواء كانوا كفار الصرحاء أو كانوا من المنافقين الذين يرتدون ثياب هذا الدين، فإنَّ الكتاب أيضاً قد فصل الأمور التي اختلف فيها المسلمون الأوائل حيث استغل العلمانيون وأعداء الإسلام هذا الخلاف لخدمة العلمانية، كما هو حاصل في استبعاد سنة الآحاد في الشؤون الدستورية وفي الحدود استناداً إلى ما وقع من خلاف حول قطعية ثبوتها.

 

كما كشف الكتاب أخطاء العلماء الذين حاولوا الدفاع عن الإسلام بالتسليم بأمور ليست منه، ثم محاولة تبريرها والدفاع عنها بدفاع ليس من الإسلام في شيء.

 

ونأمل أنْ تكون فصول الكتاب العشرة، قد تحقَّقت هذه الأغراض، وبالله وحده نعتصم ونتأيد.

 

سالم علي البهنساوي
ইমাম মুসলিমের বক্তব্য: "আল্লাহ যে নবীকেই প্রেরণ করেছেন, তাঁর উম্মতের মধ্যে তাঁর এমন কিছু হাওয়ারী এবং সাহাবী থাকত যারা তাঁর সুন্নাতকে গ্রহণ করত এবং তাঁর নির্দেশ মেনে চলত। এরপর তাদের পরে এমন কিছু অপদার্থ উত্তরসূরি আসবে যারা যা বলে তা নিজেরা করে না এবং যা আদেশ করা হয়নি তা করে। সুতরাং যে ব্যক্তি তার অন্তরের মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে জিহাদ করবে সে মুমিন, আর এর বাইরে সরিষার দানা সমপরিমাণ ঈমানও অবশিষ্ট নেই।"

 

এ কারণেই এই বইটি সেই সকল সংশয়কে বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করেছে যা প্রাচ্যবিদ এবং ইসলামের অন্যান্য শত্রুরা আল্লাহর ওপর মিথ্যারোপ করে নবীজির সুন্নাহ সম্পর্কে ছড়িয়েছে। সুন্নাহ এখন অস্বীকৃতি বা পরিবর্তনের মাধ্যমে যুদ্ধের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে; কারণ সুন্নাহকে ধ্বংস করা মানেই দ্বীনকে ধ্বংস করা এবং একে দুর্বল করা মানেই দ্বীনকে দুর্বল করা। ঠিক তেমনিভাবে, সুন্নাহর বিজয় এবং একে প্রকাশ করা মানেই ইসলামের বিজয় এবং অন্য সবকিছুর ওপর একে প্রকাশ করা।

 

যদি এর উদ্দেশ্য হয় ঐ সকল শত্রুদের কৌশল উন্মোচন করা—চাই তারা প্রকাশ্য কাফির হোক বা এমন মুনাফিক যারা এই দ্বীনের পোশাক পরে থাকে—তবে বইটি সেই সব বিষয়কেও বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করেছে যা নিয়ে প্রাথমিক যুগের মুসলমানরা মতভেদ করেছিলেন। কারণ ধর্মনিরপেক্ষতাবাদী এবং ইসলামের শত্রুরা ধর্মনিরপেক্ষতার স্বার্থে এই মতভেদকে কাজে লাগিয়েছে। যেমনটি ঘটেছে সাংবিধানিক বিষয় এবং দণ্ডবিধির ক্ষেত্রে ‘আহাদ’ সুন্নাহকে বর্জন করার মাধ্যমে, যা এর প্রমাণের অকাট্যতা নিয়ে সৃষ্ট মতভেদের ওপর ভিত্তি করে করা হয়েছে।

 

একইভাবে, বইটি সেই সকল আলিমদের ভুলগুলোও উন্মোচন করেছে যারা ইসলামের অংশ নয় এমন বিষয়গুলোকে মেনে নিয়ে ইসলামকে রক্ষা করার চেষ্টা করেছেন, এবং এরপর এমন সব যুক্তির মাধ্যমে সেগুলোকে সঠিক প্রমাণের ও প্রতিরক্ষার চেষ্টা করেছেন যার সাথে ইসলামের কোনো সম্পর্ক নেই।

 

আমরা আশা করি যে বইটির দশটি অধ্যায় এই উদ্দেশ্যগুলো পূরণ করতে পেরেছে। আমরা কেবল আল্লাহর কাছেই আশ্রয় প্রার্থনা করি এবং তাঁর মাধ্যমেই শক্তি অর্জন করি।

 

সালেম আলী আল-বাহনাসাবী
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাতুল মুফতারা আলাইহা (পৃষ্ঠা: ১৯)
‌‌الفَصْلُ الأَوَّلُ: بَيْنَ الرَّسُولِ وَحَقِيقَةِ السُنَّةِ:

- حقيقة السنة النبوية ومكانتها.

 

- أنواع السُنَّ ووظيفة الرسول.

 

- الجماعات الإسلامية والمنهج النبوي.

 

- السُنَّة بين النصارى والأعراب.

 

- استقلال السُنَّة بالحكم الشرعي.
প্রথম পরিচ্ছেদ: রাসূল এবং সুন্নাহর স্বরূপ:

- সুন্নাহ নববীর স্বরূপ ও এর মর্যাদা।

 

- সুন্নাহর প্রকারভেদ এবং রাসূলের দায়িত্ব।

 

- ইসলামী দলসমূহ এবং নববী মানহাজ।

 

- খ্রিস্টান এবং বেদুইনদের মাঝে সুন্নাহ।

 

- শরয়ী বিধান প্রণয়নে সুন্নাহর স্বতন্ত্রতা।
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাতুল মুফতারা আলাইহা (পৃষ্ঠা: ২১)
‌‌1 - حَقِيقَةُ السُنَّةِ النَّبَوِيَّةِ وَمَكَانَتُهَا:

السنة في اللغة العربية هي الطريقة والأسوة الحسنة أو السيئة. وفي هذا المعنى روى الإمام مسلم أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «مَنْ سَنَّ فِي الإِسْلَامِ سُنَّةً حَسَنَةً، فَلَهُ أَجْرُهَا وَأَجْرُِ مَنْ عَمِلَ بِهَا بَعْدَهُ، مِنْ غَيْرِ أَنْ يَنْقُصَ مِنْ أُجُورِهِمْ شَيْءٌ، وَمَنْ سَنَّ سُنَّةً سَيِّئَةً كَانَ عَلَيْهِ وِزْرُهَا وَوِزْرِ مَنْ عَمِلَ بِهَا مِنْ بَعْدِهِ، مِنْ غَيْرِ أَنْ يَنْقُصَ مِنْ أَوْزَارِهِمْ شَيْءٌ».

 

والسنة في القرآن الكريم هي التطبيق العملي للقرآن الكريم، قال الله تعالى: {لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِي رَسُولِ اللَّهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ لِمَنْ كَانَ يَرْجُو اللَّهَ وَالْيَوْمَ الآخِرَ وَذَكَرَ اللَّهَ كَثِيرًا} [الأحزاب: 21] كما قال تعالى: {وَأَنَّ هَذَا صِرَاطِي مُسْتَقِيمًا فَاتَّبِعُوهُ وَلَا تَتَّبِعُوا السُّبُلَ فَتَفَرَّقَ بِكُمْ عَنْ سَبِيلِهِ} [الأنعام: 153].

 

وبهذا المعنى اقترنت السنة بالكتاب، فكان التمسك بها كالتمسك بالقرآن وهجرها هجر له، قال تعالى: {وَمَنْ يُشَاقِقِ الرَّسُولَ مِنْ بَعْدِ مَا تَبَيَّنَ لَهُ الْهُدَى وَيَتَّبِعْ غَيْرَ سَبِيلِ الْمُؤْمِنِينَ نُوَلِّهِ مَا تَوَلَّى وَنُصْلِهِ جَهَنَّمَ وَسَاءَتْ مَصِيرًا} [النساء: 115].

 

وبهذا فالبدعة هي أن يدخل المسلم على الدين ما ليس منه، وفي هذا روى الإمام مسلم أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «مَنْ عَمِلَ عَمَلاً لَيْسَ عَلَيْهِ أَمْرُنَا فَهُوَ رَدٌّ». وفي رواية البخاري: «مَنْ أَحْدَثَ فِى أَمْرِنَا مَا لَيْسَ مِنْهُ فَهُوَ رَدٌّ».
১ - সুন্নাহে নববীর স্বরূপ ও এর মর্যাদা:

আরবি ভাষায় সুন্নাহ হলো ভালো কিংবা মন্দ পথ ও আদর্শ। এই অর্থে ইমাম মুসলিম বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি ইসলামে কোনো ভালো পদ্ধতির সূচনা করল, তার জন্য এর প্রতিদান রয়েছে এবং পরবর্তীতে যারা এর ওপর আমল করবে তাদের প্রতিদানও সে পাবে, এতে তাদের প্রতিদান থেকে সামান্যও কমানো হবে না। আর যে ব্যক্তি ইসলামে কোনো মন্দ পদ্ধতির সূচনা করল, তার ওপর এর পাপ বর্তাবে এবং পরবর্তীতে যারা এর ওপর আমল করবে তাদের পাপের বোঝাও তাকে বইতে হবে, এতে তাদের পাপের বোঝা থেকে সামান্যও কমানো হবে না।"

 

আর পবিত্র কুরআনে সুন্নাহ হলো পবিত্র কুরআনের প্রায়োগিক বাস্তবায়ন। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {তোমাদের মধ্যে যারা আল্লাহ ও পরকাল প্রত্যাশা করে এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ করে, তাদের জন্য আল্লাহর রাসূলের মধ্যে উত্তম আদর্শ রয়েছে} [আল-আহযাব: ২১]। যেমনটি আল্লাহ তাআলা আরও বলেছেন: {আর এটিই আমার সরল পথ, সুতরাং তোমরা এর অনুসরণ করো এবং অন্যান্য পথের অনুসরণ করো না, কেননা তা তোমাদেরকে তাঁর পথ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেবে} [আল-আনআম: ১৫৩]।

 

এই অর্থেই সুন্নাহ কিতাবুল্লাহর সাথে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। সুতরাং সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরা মানেই কুরআনকে আঁকড়ে ধরা, আর সুন্নাহ বর্জন করা মানেই কুরআনকে বর্জন করা। আল্লাহ তাআলা বলেন: {হিদায়াত স্পষ্ট হওয়ার পর যে ব্যক্তি রাসূলের বিরুদ্ধাচরণ করবে এবং মুমিনদের পথ ছেড়ে অন্য পথ অনুসরণ করবে, আমি তাকে সেদিকেই পরিচালিত করব যেদিকে সে ফিরেছে এবং তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করব; আর গন্তব্য হিসেবে তা কতই না মন্দ} [আন-নিসা: ১১৫]।

 

সেই হিসেবে বিদআত হলো কোনো মুসলিমের পক্ষে দ্বীনের মধ্যে এমন কিছু প্রবিষ্ট করা যা দ্বীনের অংশ নয়। এই প্রসঙ্গে ইমাম মুসলিম বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি এমন কোনো আমল করল যার ওপর আমাদের কোনো নির্দেশনা নেই, তা প্রত্যাখ্যাত।" বুখারীর বর্ণনায় এসেছে: "যে ব্যক্তি আমাদের এই দ্বীনের বিষয়ে নতুন কিছু উদ্ভাবন করল যা এর অন্তর্ভুক্ত নয়, তা প্রত্যাখ্যাত।"
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাতুল মুফতারা আলাইহা (পৃষ্ঠা: ২২)
كما روى الإمام مسلم أنه صلى الله عليه وسلم قال: «فَإِنَّ خَيْرَ الحَدِيثِ كِتَابُ اللَّهِ وَخَيْرُ الهُدَى هُدَى مُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم وَشَرُّ الأُمُورِ مُحْدَثَاتُهَا وَكُلُّ بِدْعَةٍ ضَلَالَةٌ».

 

والسنة النبوية عند علماء الأصول هي كل ما ثبت عن النبي صلى الله عليه وسلم من قول أو فعل أو تقرير.

 

والسنة بهذا تكون مع القرآن الكريم المصدر الأساسي للتشريع الإسلامي. وفي هذا قال الله تعالى: {فَإِنْ تَنَازَعْتُمْ فِي شَيْءٍ فَرُدُّوهُ إِلَى اللَّهِ وَالرَّسُولِ إِنْ كُنْتُمْ تُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ} [النساء: 59].

 

لما كان ذلك كذلك فإنه ليس بمسلم من ردِّ السنة النبوية حتى لو زعم أنه يؤمن بالقرآن الكريم ويعمل به، لأنَّ ردَّ السنة تكذيب لدعواه الإيمان بصدق القرآن، لأنَّ الله يقول: {فَلَا وَرَبِّكَ لَا يُؤْمِنُونَ حَتَّى يُحَكِّمُوكَ فِيمَا شَجَرَ بَيْنَهُمْ} [النساء: 65]، والمؤمن لا يمكن أنْ يتلمس من القرآن ما يظن أنه يناقض بعضه أو يناقض سنة النبي لأنَّ الله تعالى يقول: {إِنْ هُوَ إِلَاّ وَحْيٌ يُوحَى} [النجم: 4]. وقد روى أحمد وابن ماجه عن عمرو بن شعيب عن أبيه عن جده قال: سَمِعَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم قَوْمًا يَتَدَارَؤُونَ (1) فَقَالَ: «إِنَّمَا هَلَكَ مَنْ كَانَ قَبْلَكُمْ بِهَذَا ضَرَبُوا كِتَابَ اللَّهِ بَعْضَهُ بِبَعْضٍ، وَإِنَّمَا نَزَلَ كِتَابُ اللَّهِ يُصَدِّقُ بَعْضُهُ بَعْضًا فَلَا تُكَذِّبُوا بَعْضَهُ بِبَعْضٍ فَمَا عَلِمْتُمْ مِنْهُ فَقُولُوا بِهِ وَمَا جَهِلْتُمْ فَكِلُوهُ إِلَى عَالِمِهِ».

 

إنَّ الذين يَرُدُّونَ السنة النبوية في عصرنا قد يقولون إنهم لَا يَرُدُّونَ السنة التي لم تَرِدْ في القرآن الكريم، وهؤلاء قد أخبر عنهم النبي صلى الله عليه وسلم وذلك في حديث رواه أبو داود والترمذي وابن ماجه ونصه: «أَلَا إِنِّي أُوتِيتُ الكِتَابَ وَمِثْلَهُ مَعَهُ، أَلَا يُوشِكُ رَجُلٌ شَبْعَانُ عَلَى أَرِيكَتِهِ يَقُولُ عَلَيْكُمْ بِهَذَا القُرْآنِ فَمَا وَجَدْتُمْ فِيهِ مِنْ حَلَالٍ فَأَحِلُّوهُ، وَمَا وَجَدْتُمْ فِيهِ مِنْ

--------------------------------------------

(1) يتدافعون في الخصومة في فهم القرآن.
যেমন ইমাম মুসলিম বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «নিশ্চয়ই সর্বোত্তম কথা হলো আল্লাহর কিতাব এবং সর্বোত্তম হিদায়াত হলো মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর হিদায়াত। আর নিকৃষ্টতম বিষয় হলো (দ্বীনের মধ্যে) নতুন উদ্ভাবিত বিষয়সমূহ এবং প্রতিটি বিদআতই হলো পথভ্রষ্টতা।»

 

উসুল শাস্ত্রের আলেমদের নিকট সুন্নাহ হলো নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে প্রমাণিত প্রতিটি কথা, কাজ বা মৌন সম্মতি।

 

আর সুন্নাহ এভাবে পবিত্র কুরআনের সাথে ইসলামি শরীয়াহর মূল উৎস হিসেবে গণ্য হয়। এ বিষয়ে আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {যদি তোমরা কোনো বিষয়ে বিবাদে লিপ্ত হও, তবে তা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের দিকে ফিরিয়ে দাও, যদি তোমরা আল্লাহ ও শেষ দিবসের প্রতি ঈমান রাখো।} [আন-নিসা: ৫৯]।

 

যখন বিষয়টি এমন, তখন যে ব্যক্তি সুন্নাহকে অস্বীকার করে সে মুসলিম নয়, এমনকি সে যদি দাবিও করে যে সে পবিত্র কুরআনের প্রতি বিশ্বাস রাখে এবং সে অনুযায়ী আমল করে। কারণ সুন্নাহ প্রত্যাখ্যান করা মানে কুরআনের সত্যতার ওপর ঈমান আনার দাবিকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করা। কেননা আল্লাহ বলেন: {না, আপনার রবের শপথ! তারা মুমিন হতে পারবে না যতক্ষণ না তারা তাদের নিজেদের বিবাদপূর্ণ বিষয়ে আপনাকে বিচারক হিসেবে মেনে নেয়।} [আন-নিসা: ৬৫]। আর একজন মুমিনের পক্ষে কুরআন থেকে এমন কিছু তালাশ করা সম্ভব নয় যা সে মনে করে যে কুরআনের একাংশ অন্য অংশের সাথে সাংঘর্ষিক কিংবা যা নবীর সুন্নাহর বিরোধী। কারণ আল্লাহ তাআলা বলেন: {এটি তো কেবল ওহী, যা তাঁর প্রতি অবতীর্ণ হয়।} [আন-নাজম: ৪]। আহমদ এবং ইবনে মাজাহ আমর ইবনে শুআইব থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি তাঁর দাদা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) একদল লোককে বিতর্ক করতে (১) শুনলেন, তখন তিনি বললেন: «তোমাদের পূর্ববর্তীরা কেবল এ কারণেই ধ্বংস হয়েছে যে, তারা আল্লাহর কিতাবের এক অংশকে অন্য অংশের বিরুদ্ধে ব্যবহার করেছিল। অথচ আল্লাহর কিতাব অবতীর্ণ হয়েছে এর এক অংশ অন্য অংশকে সত্যয়ন করার জন্য। সুতরাং তোমরা এর এক অংশ দিয়ে অন্য অংশকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করো না। এর যা তোমরা জানো তা বলো, আর যা জানো না তা তার জাননেওয়ালার কাছে সোপর্দ করো।»

 

আমাদের যুগে যারা সুন্নাহকে অস্বীকার করে তারা হয়তো বলতে পারে যে, তারা সেই সুন্নাহকে প্রত্যাখ্যান করে না যা পবিত্র কুরআনে বর্ণিত হয়নি; এদের সম্পর্কে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আগেই সংবাদ দিয়েছেন। আবু দাউদ, তিরমিযী এবং ইবনে মাজাহ বর্ণিত হাদিসে এসেছে: «জেনে রেখো, আমাকে কিতাব এবং তার সাথে তার অনুরূপ বিষয় প্রদান করা হয়েছে। সাবধান! অচিরেই এমন এক পেটভরা লোক আসবে যে তার সুসজ্জিত আসনে হেলান দিয়ে বলবে, তোমরা কেবল এই কুরআনকেই আঁকড়ে ধরো। এতে যা হালাল পাবে তা-ই হালাল হিসেবে গ্রহণ করো, আর এতে যা পাবে...»

--------------------------------------------

(১) কুরআনের মর্ম উপলব্ধির ক্ষেত্রে একে অপরের সাথে ঝগড়া-বিবাদে লিপ্ত হওয়া।
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাতুল মুফতারা আলাইহা (পৃষ্ঠা: ২৩)
حَرَامٍ فَحَرِّمُوهُ» (1)، وأما الاحتجاج بحديث: «فما أتاكم يوافق القرآن فهو عني وما أتاكم يخالف القرآن فليس مني» فهو من وضع الزنادقة كما قال الشافعي والمديني شيخ البخاري (" لمحات في أصول الحديث " للدكتور محمد صالح: ص 37).

 

فالقرآن والسنة كلاهما من عند الله تعالى والرسول ليس إلَاّ مبلِّغاً وقد عصمه الله من الخطأ في التبليغ إذْ قال الله تعالى: {يَا أَيُّهَا الرَّسُولُ بَلِّغْ مَا أُنْزِلَ إِلَيْكَ مِنْ رَبِّكَ وَإِنْ لَمْ تَفْعَلْ فَمَا بَلَّغْتَ رِسَالَتَهُ وَاللَّهُ يَعْصِمُكَ مِنَ النَّاسِ} [المائدة: 67].

 

إنَّ الإجماع منعقد على أنَّ من رَدَّ السنة النبوية فقد ارتدَّ عن الإسلام، وفي هذا قال الفقيه ابن حزم الأندلسي: «لَوْ أَنَّ امْرِءًا قَالَ: لَا نَأْخُذُ إِلَاّ بِمَا وَجَدْنَا فِي القُرْآنِ لَكَانَ كَافَرًا بِإِجْمَاعِ الأُمَّةِ» (2).

 

إنَّ الله الذي عصم النبي في أداء الرسالة قد تعهَّد بحفظها فقال: {إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لَحَافِظُونَ} [الحجر: 9]، ولهذا كان الوحي يستدرك على الرسول إنْ اجتهد قبل أنْ ينزل الوحي. وفي هذا روى الترمذي وابن أبي شيبة والحاكم والبيهقي في " الدلائل " عن ابن مسعود قال: لَمَّا كَانَ يَوْمُ بَدْرٍ جِيئَ بِالأَسَارَى فَقَالَ أَبُو بَكْرٍ: يَا رَسُولَ اللَّهِ قَوْمُكَ وَأَهْلُكَ اسْتَبْقِهِمْ، لَعَلَّ اللَّهَ أَنْ يَتُوبَ عَلَيْهِمْ. وَقَالَ عُمَرُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ كَذَّبُوكَ وَأَخْرَجُوكَ فَاضْرِبْ أَعْنَاقَهُمْ. ولم يرد عليهم شيئاً فَقَالَ أُنَاسٌ يَأْخُذُ بِقَوْلِ أَبِى بَكْرٍ، وَقَالَ أُنَاسٌ: يَأْخُذُ بِرِاْيِ عُمَرَ، فَخَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ: «إِنَّ اللَّهَ لَيُلَيِّنُ قُلُوبَ رِجَالٍ

--------------------------------------------

(1) الحديث رواه أبو داود كما أخرجه بسياق آخر الترمذي في " باب العلم " وابن ماجه في " المقدمة " حديث رقم 12، المرجع " سنن أبي داود لشرح الخطابي ":ج 5 ص 10، وانظر " التاج الجامع للأصول ": ج 1 ص 46 والبند 3 ص 24.

(2) " الأحكام في أصول الأحكام " لابن حزم: جـ 1 ص 109.
হারাম, তাকে তোমরা হারাম হিসেবে গণ্য করো (১)। আর এই হাদিস দ্বারা দলিল পেশ করা যে: "যা তোমাদের কাছে পৌঁছেছে এবং কুরআনের সাথে মিল রাখে তা আমার পক্ষ থেকে, আর যা তোমাদের কাছে পৌঁছেছে কিন্তু কুরআনের পরিপন্থী তা আমার পক্ষ থেকে নয়" - এটি যিনদীকদের (ধর্মদ্রোহীদের) জাল করা কথা। যেমনটি শাফিয়ী এবং বুখারীর শিক্ষক আল-মাদীনী বলেছেন ("লামহাত ফি উসুলিল হাদিস", ড. মুহাম্মদ সালেহ, পৃষ্ঠা: ৩৭)।

 

সুতরাং কুরআন ও সুন্নাহ উভয়ই মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে এবং রাসূল কেবল একজন প্রচারক মাত্র। আল্লাহ তাঁকে প্রচারের ক্ষেত্রে ভুল থেকে রক্ষা করেছেন, যেহেতু মহান আল্লাহ বলেছেন: {হে রাসূল, আপনার রবের পক্ষ থেকে আপনার প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে তা প্রচার করুন। আর যদি আপনি তা না করেন, তবে আপনি তাঁর রিসালাত পৌঁছালেন না। আর আল্লাহ আপনাকে মানুষ থেকে রক্ষা করবেন।} [আল-মায়িদাহ: ৬৭]।

 

নিশ্চয়ই এ বিষয়ে ইজমা (ঐকমত্য) প্রতিষ্ঠিত হয়েছে যে, যে ব্যক্তি নবীর সুন্নাহকে প্রত্যাখ্যান করবে সে ইসলাম থেকে বিচ্যুত (মুরতাদ) হয়ে যাবে। এ প্রসঙ্গে ফকীহ ইবনে হাজম আল-আন্দালুসী বলেছেন: «যদি কোনো ব্যক্তি বলে: আমরা কেবল কুরআনে যা পেয়েছি তা-ই গ্রহণ করব, তবে সে উম্মতের ইজমা অনুযায়ী কাফির হয়ে যাবে» (২)।

 

নিশ্চয়ই যে আল্লাহ নবীকে রিসালাত পৌঁছানোর ক্ষেত্রে রক্ষা করেছেন, তিনি তা সংরক্ষণেরও অঙ্গীকার করেছেন। তিনি বলেছেন: {নিশ্চয়ই আমি উপদেশ (যিকর) অবতীর্ণ করেছি এবং আমিই তার সংরক্ষণকারী।} [আল-হিজর: ৯]। এই কারণে ওহী অবতীর্ণ হওয়ার আগে রাসূল যদি কোনো ইজতিহাদ করতেন, তবে ওহী তা সংশোধন করে দিত। এ সম্পর্কে তিরমিযী, ইবনে আবি শায়বাহ, হাকীম এবং বায়হাকী তার "আদ-দালাইল" গ্রন্থে ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: বদরের যুদ্ধের দিন যখন বন্দীদের নিয়ে আসা হলো, তখন আবু বকর বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, তারা আপনার স্বজাতি এবং আপনার পরিবার, তাদের জীবন ভিক্ষা দিন, হয়তো আল্লাহ তাদের তাওবা করার তৌফিক দিবেন। আর উমর বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, তারা আপনাকে মিথ্যাবাদী বলেছে এবং আপনাকে বের করে দিয়েছে, তাই তাদের গর্দান উড়িয়ে দিন। তিনি তাদের কোনো উত্তর দিলেন না। তখন কিছু মানুষ বলল তিনি আবু বকরের কথা গ্রহণ করবেন, আবার কিছু মানুষ বলল তিনি উমরের রায় গ্রহণ করবেন। এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বের হয়ে আসলেন এবং বললেন: «নিশ্চয়ই আল্লাহ কিছু মানুষের অন্তরকে এতটাই কোমল করে দেন যে...

--------------------------------------------

(১) হাদিসটি আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন, যেমনটি তিরমিযী "ইলম অধ্যায়ে" অন্য প্রসঙ্গে এবং ইবনে মাজাহ "মুকাদ্দিমা" অংশে হাদিস নং ১২-তে উল্লেখ করেছেন। সূত্র: খাত্তাবীর ব্যাখ্যাসহ "সুনানে আবু দাউদ": খণ্ড ৫, পৃষ্ঠা ১০; আরও দেখুন "আত-তাজ আল-জামি' লিল উসুল": খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৪৬ এবং অনুচ্ছেদ ৩, পৃষ্ঠা ২৪।

(২) ইবনে হাজম রচিত "আল-ইহকাম ফি উসুলিল আহকাম": খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ১০৯।
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাতুল মুফতারা আলাইহা (পৃষ্ঠা: ২৪)
فِيهِ حَتَّى تَكُونَ أَلْيَنَ مِنَ اللَّبَنِ وَإِنَّ اللَّهَ يُشَدِّدُ قُلُوبَ رِجَالٍ حَتَّى تَكُونَ أَشَدَّ مِنَ الْحِجَارَةِ، مَثَلَكَ يَا أَبَا بَكْرٍ كَمَثَلِ إِبْرَاهِيمَ عليه السلام قَالَ (مَنْ تَبِعَنِى فَإِنَّهُ مِنِّى وَمَنْ عَصَانِى فَإِنَّكَ غَفُورٌ رَحِيمٌ) وَإِنَّ مَثَلَكَ يَا أَبَا بَكْرٍ كَمَثَلِ عِيسَى عليه السلام قَالَ (إِنْ تُعَذِّبْهُمْ فَإِنَّهُمْ عِبَادُكَ وَإِنْ تَغْفِرَ لَهُمْ فَإِنَّكَ أَنْتَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ) وَإِنَّ مَثَلَكَ يَا عُمَرُ مَثَلُ مُوسَى عليه السلام قَالَ (رَبَّنَا اطْمِسْ عَلَى أَمْوَالِهِمْ وَاشْدُدْ عَلَى قُلُوبِهِمْ فَلَا يُؤْمِنُوا حَتَّى يَرَوُا الْعَذَابَ الأَلِيمَ) وَإِنَّ مَثَلَكَ يَا عُمَرُ كَمَثَلِ نُوحٍ عليه السلام قَالَ (رَبِّ لَا تَذَرْ عَلَى الأَرْضِ مِنَ الْكَافِرِينَ دَيَّارًا). ثُمَّ قَالَ صلى الله عليه وسلم: «أَنْتُمْ عَالَةٌ (أي فقراء) فَلَا يَنْفَلِتَنَّ أَحَدٌ مِنَ الأًسْرِى إِلَاّ بِفِدَاءٍ أَوْ ضَرْبَةِ عُنُقٍ». فَأَنْزَلَ اللَّهُ عز وجل {مَا كَانَ لِنَبِيٍّ أَنْ يَكُونَ لَهُ أَسْرَى حَتَّى يُثْخِنَ فِي الأَرْضِ تُرِيدُونَ عَرَضَ الدُّنْيَا وَاللَّهُ يُرِيدُ الآخِرَةَ وَاللَّهُ عَزِيزٌ حَكِيمٌ، لَوْلَا كِتَابٌ مِنَ اللَّهِ سَبَقَ لَمَسَّكُمْ فِيمَا أَخَذْتُمْ عَذَابٌ عَظِيمٌ} (1).

 

وبهذا عصم الله الرسالة من الخطأ في الاجتهاد وأنزل القرآن بهذه الحقيقة.

 

كما اجتهد صلى الله عليه وسلم في إعراضه عن ابن أم مكتوم، وهو الأعمى الذي جاءه وهو مشغول بعرض الإسلام على زعماء قريش وفيهم أبو جهل وعتبة بن ربيعة حسبما رواه الترمذي والحاكم وابن حبان عن عائشة وقد كان النبي يرجو إيمانهم فنزل قول الله تعالى: {عَبَسَ وَتَوَلَّى، أَنْ جَاءَهُ الأَعْمَى، وَمَا يُدْرِيكَ لَعَلَّهُ يَزَّكَّى، أَوْ يَذَّكَّرُ فَتَنْفَعَهُ الذِّكْرَى، أَمَّا مَنِ اسْتَغْنَى، فَأَنْتَ لَهُ تَصَدَّى، وَمَا عَلَيْكَ أَلَاّ يَزَّكَّى، وَأَمَّا مَنْ جَاءَكَ يَسْعَى، وَهُوَ يَخْشَى، فَأَنْتَ عَنْهُ تَلَهَّى} (2)

--------------------------------------------

(1) الآيات السابقة بهذا الترتيب في سورة إبراهيم آية 36، المائدة 118، ويونس 88، ونوح 26، والأنفال 67، 68.

(2) [عبس: 1 - 10].
তাতে [হৃদয় নরম হওয়া প্রসঙ্গে] এমনকি তা দুধের চেয়েও নরম হয়ে যায়; আর নিশ্চয়ই আল্লাহ কিছু মানুষের হৃদয়কে এমন কঠোর করে দেন যে তা পাথরের চেয়েও শক্ত হয়ে যায়। হে আবু বকর, আপনার উদাহরণ ইবরাহিম (আলাইহিস সালাম)-এর মতো, যিনি বলেছিলেন: (যে আমার অনুসরণ করবে সে আমার অন্তর্ভুক্ত, আর যে আমার অবাধ্য হবে, তবে নিশ্চয়ই আপনি ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু)। হে আবু বকর, আপনার উদাহরণ ঈসা (আলাইহিস সালাম)-এর মতো, যিনি বলেছিলেন: (যদি আপনি তাদের শাস্তি দেন তবে তারা তো আপনারই বান্দা, আর যদি তাদের ক্ষমা করেন তবে নিশ্চয়ই আপনি পরাক্রমশালী ও প্রজ্ঞাবান)। হে উমর, আপনার উদাহরণ মুসা (আলাইহিস সালাম)-এর মতো, যিনি বলেছিলেন: (হে আমাদের রব, তাদের ধন-সম্পদ ধ্বংস করে দিন এবং তাদের হৃদয়কে কঠোর করে দিন, যেন তারা যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি না দেখা পর্যন্ত ঈমান না আনে)। হে উমর, আপনার উদাহরণ নূহ (আলাইহিস সালাম)-এর মতো, যিনি বলেছিলেন: (হে আমার রব, আপনি জমিনে কাফিরদের মধ্য থেকে কাউকেও ঘরবাড়িতে বসবাসকারী হিসেবে অবশিষ্ট রাখবেন না)। এরপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: «তোমরা অভাবী, তাই মুক্তিপণ অথবা শিরশ্ছেদ ব্যতীত কোনো যুদ্ধবন্দী যেন মুক্তি না পায়»। তখন আল্লাহ আয্যা ওয়া জাল্লা নাযিল করলেন: {কোনো নবীর জন্য সংগত নয় যে, তাঁর কাছে যুদ্ধবন্দী থাকবে যতক্ষণ না তিনি জমিনে শত্রুকে সম্পূর্ণরূপে পরাভূত করবেন। তোমরা দুনিয়ার নশ্বর সম্পদ কামনা করছ আর আল্লাহ চাচ্ছেন আখিরাত; আল্লাহ পরাক্রমশালী ও প্রজ্ঞাবান। আল্লাহর পক্ষ থেকে পূর্ব নির্ধারিত বিধান না থাকলে তোমরা যা গ্রহণ করেছ তজ্জন্য তোমাদের ওপর মহা শাস্তি আপতিত হতো} (১)।

 

এভাবেই আল্লাহ তাঁর রিসালাতকে ইজতিহাদের ভুল থেকে রক্ষা করেছেন এবং এই সত্যটিসহ কুরআন নাযিল করেছেন।

 

যেমন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইবনে উম্মে মাকতুম থেকে বিমুখ হয়ে ইজতিহাদ করেছিলেন। তিনি ছিলেন এক অন্ধ ব্যক্তি, যিনি নবীজির কাছে এমন সময় এসেছিলেন যখন তিনি কুরাইশ নেতাদের কাছে ইসলাম পেশ করতে ব্যস্ত ছিলেন, যাদের মধ্যে আবু জেহেল এবং উতবাহ বিন রাবিয়াহ ছিল; যেমনটি আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে তিরমিজি, হাকিম এবং ইবনে হিব্বান বর্ণনা করেছেন। নবীজি তাদের ঈমান আনার আশা করছিলেন, তখন আল্লাহ তাআলার বাণী নাযিল হলো: {তিনি ভ্রূকুঞ্চিত করলেন এবং মুখ ফিরিয়ে নিলেন, কারণ তাঁর কাছে অন্ধ ব্যক্তিটি এল। আপনি কী জানেন, হয়তো সে পরিশুদ্ধ হতো? অথবা উপদেশ গ্রহণ করত, ফলে উপদেশ তার উপকারে আসত। পক্ষান্তরে যে বেপরোয়া, আপনি তার প্রতি মনোযোগ দিচ্ছেন; অথচ সে যদি পরিশুদ্ধ না হয় তবে আপনার কোনো দায় নেই। আর যে আপনার কাছে দৌড়ে এল এবং সে আল্লাহকে ভয় করে, আপনি তাকে অবজ্ঞা করছেন} (২)

--------------------------------------------

(১) পূর্ববর্তী আয়াতসমূহ এই ধারাবাহিকতায় সূরা ইবরাহিম আয়াত ৩৬, সূরা আল-মায়িদাহ আয়াত ১১৮, সূরা ইউনুস আয়াত ৮৮, সূরা নূহ আয়াত ২৬ এবং সূরা আল-আনফাল আয়াত ৬৭, ৬৮।

(২) [সূরা আবাসা: ১ - ১০]।
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাতুল মুফতারা আলাইহা (পৃষ্ঠা: ২৫)
إنَّ الله الذي حفظ القرآن والسنة هو المدافع عمَّن تمسك بهما إذْ قال تعالى: {إِنَّ اللَّهَ يُدَافِعُ عَنِ الَّذِينَ آمَنُوا إِنَّ اللَّهَ لَا يُحِبُّ كُلَّ خَوَّانٍ كَفُورٍ} [الحج: 38].

 

ولقد تكفَّل الله بنصره الذين ينصرون الإسلام الممثل في القرآن والسنة، قال تعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِنْ تَنْصُرُوا اللَّهَ يَنْصُرْكُمْ وَيُثَبِّتْ أَقْدَامَكُمْ} [محمد: 7].

 

لقد هزم الله المسلمين الذي هزموا الإسلام في أنفسهم وأهليهم وبلادهم وهزم الذين أضعفوا السنة النبوية وإنْ صلُّوا وصاموا وتبتلوا!!

 

‌‌2 - نُزُولُ الوَحْيِ بِالسُنَّةِ:

وكما نزل الوحي بالقرآن فقد نزل بالسنة وأخذ صوراً متعددة نذكر منها:

[1] النفث في الروع أي إلقاء المعنى في قلب النبي الذي قال: «إنّ رُوحَ القُدُسِ نَفَثَ في رُوعِي أنّهُ لنْ تَمُوتَ نَفْسٌ حَتّى تَسْتَوْفِي رِزْقَها وَأَجَلَهَا فاتّقُوا الله وأجْمِلُوا في الطَّلبِ، خُذُوا مَا حَلَّ، وَدَعُوا مَا حُرِّمَ» (رواه ابن حبان في " صحيحه " وابن كثير في " التفسير " جـ 4 ص 121).

 

[2] نزول جبريل في صورة بشر يسأل النبي ليُعَلِّمَ الناس ويتعلَّمُوا وفي هذا روى مسلم والبخاري في " كتاب الإيمان " أنَّ النبي أتاه رجل سأله عن الإيمان والإسلام والإحسان فأجابه ثم خرج فقال: «رُدُّوهُ» فلم يروا شيئاً فقال النبي: «هذا جبريل جاء يعلِّم الناس دينهم».

 

[3] نزول جبريل في صورته الملائكية وفي هذا روى البخاري ومسلم أنَّ النبي قال: «بَيْنَا أَنَا أَمْشِي إِذْ سَمِعْتُ صَوْتًا مِنْ السَّمَاءِ فَرَفَعْتُ بَصَرِي فَإِذَا المَلَكُ الَّذِي جَاءَنِي بِحِرَاءٍ، جَالِسًا عَلَى كُرْسِيٍّ بَيْنَ السَّمَاءِ وَالأَرْضِ».
নিশ্চয়ই আল্লাহ, যিনি কুরআন ও সুন্নাহকে সংরক্ষণ করেছেন, তিনিই তাদেরকে রক্ষা করেন যারা এই দুটিকে আঁকড়ে ধরে থাকে। কেননা মহান আল্লাহ বলেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ মুমিনদের রক্ষা করেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ কোনো বিশ্বাসঘাতক অকৃতজ্ঞকে পছন্দ করেন না।" [হজ: ৩৮]।

 

আর আল্লাহ সেই ব্যক্তিদের সাহায্য করার জিম্মাদারি নিয়েছেন যারা ইসলামকে সাহায্য করে, যা কুরআন ও সুন্নাহর মাধ্যমে প্রতিফলিত হয়। মহান আল্লাহ বলেছেন: "হে মুমিনগণ! তোমরা যদি আল্লাহকে সাহায্য করো, তবে তিনি তোমাদের সাহায্য করবেন এবং তোমাদের পা সুদৃঢ় করবেন।" [মুহাম্মদ: ৭]।

 

নিশ্চয়ই আল্লাহ সেই সব মুসলিমদের পরাজিত করেছেন যারা নিজেদের জীবনে, পরিবারে ও দেশে ইসলামকে পরাজিত করেছে। আর তিনি তাদেরকেও পরাজিত করেছেন যারা নববী সুন্নাহকে দুর্বল করেছে, যদিও তারা সালাত আদায় করেছে, সিয়াম পালন করেছে এবং ইবাদতে মগ্ন থেকেছে!!

 

‌‌২ - সুন্নাহর মাধ্যমে ওহী অবতীর্ণ হওয়া:

যেভাবে কুরআনের মাধ্যমে ওহী অবতীর্ণ হয়েছে, তেমনিভাবে সুন্নাহর মাধ্যমেও ওহী অবতীর্ণ হয়েছে এবং এর একাধিক রূপ রয়েছে যার কয়েকটি আমরা উল্লেখ করছি:

[১] অন্তরে ফুঁকে দেওয়া, অর্থাৎ নবীর হৃদয়ে কোনো অর্থ নিক্ষেপ করা, যিনি বলেছেন: "নিশ্চয়ই রুহুল কুদস আমার অন্তরে ফুঁকে দিয়েছেন যে, কোনো প্রাণ ততক্ষণ পর্যন্ত মৃত্যুবরণ করবে না যতক্ষণ না সে তার নির্ধারিত রিজিক ও আয়ু পূর্ণ করবে। অতএব, তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং উপার্জনের সন্ধানে উত্তম পন্থা অবলম্বন করো। যা হালাল তা গ্রহণ করো এবং যা হারাম তা বর্জন করো।" (ইবনে হিব্বান তার "সহীহ" গ্রন্থে এবং ইবনে কাসীর তার "তাফসীর" গ্রন্থের ৪র্থ খণ্ড, ১২১ পৃষ্ঠায় এটি বর্ণনা করেছেন)।

 

[২] জিবরাঈল মানুষের আকৃতিতে অবতীর্ণ হয়ে নবীকে প্রশ্ন করা যাতে তিনি মানুষকে শিক্ষা দেন এবং মানুষ তা শিখতে পারে। এই বিষয়ে মুসলিম ও বুখারী "কিতাবুল ঈমান"-এ বর্ণনা করেছেন যে, নবীর কাছে এক ব্যক্তি এসে তাঁকে ঈমান, ইসলাম ও ইহসান সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। তিনি তাকে উত্তর দিলেন। এরপর লোকটি চলে গেলে তিনি বললেন: "তাকে ফিরিয়ে আনো।" কিন্তু তারা কিছুই দেখতে পেলেন না। তখন নবী বললেন: "ইনি জিবরাঈল, মানুষকে তাদের দ্বীন শিক্ষা দিতে এসেছিলেন।"

 

[৩] জিবরাঈল তাঁর নিজস্ব ফেরেশতা আকৃতিতে অবতীর্ণ হওয়া। এই বিষয়ে বুখারী ও মুসলিম বর্ণনা করেছেন যে, নবী বলেছেন: "একদা আমি হাঁটছিলাম, হঠাৎ আকাশ থেকে একটি শব্দ শুনতে পেলাম। আমি দৃষ্টি উপরে তুললাম এবং দেখলাম, সেই ফেরেশতা যিনি হেরা গুহায় আমার কাছে এসেছিলেন, তিনি আকাশ ও পৃথিবীর মাঝে একটি আসনে বসে আছেন।"
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাতুল মুফতারা আলাইহা (পৃষ্ঠা: ২৬)
[4] نزول الوحي في صورة غير مرئية ولكن توجد أمارات تدل عليه من ذلك ما رواه البخاري ومسلم في " كتاب الحج " أنَّ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم كَانَ بِالْجِعْرَانَةِ وَمَعَهُ نَفَرٌ مِنْ أَصْحَابِهِ فَسَأَلَهُ رَجُلٌ: " كَيْفَ تَرَى فِي رَجُلٍ أَحْرَمَ بِعُمْرَةٍ وَهُوَ مُتَمَضِّخٌ بِطِيبٍ " فَسَكَتَ النَّبِيُّ سَاعَةً فَجَاءَهُ الْوَحْيُ فَإِذَا رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم مُحْمَرُّ الْوَجْهِ يَغِطُّ سَاعَةً ثُمَّ سُرِّيَ عَنْهُ فَقَالَ: «أَيْنَ الَّذِي يَسْأَلُ عَنْ الْعُمْرَةِ» فأتي بالرجل فقال النبي: اغسل الطيب الذي بك ثلاث مرات وانزع عنك الجبة واصنع في عمرتك كما تصنع في حجتك. (اللؤلؤ والمرجان: جـ 1 ص 15 حديث 733).

 

[5] نزول الوحي بالسنة أو بالقرآن متضمِّناً تصحيحاً لاجتهاد أقدم النبي عليه بفطرته البشرية ولم يكن مبلِّغاً عن الله، ففي السنة روى أحمد عن عائشة أنَّ يهودية قالت لها: وَقَاكِ اللَّهُ عَذَابَ الْقَبْرِ فسألت النبي، فقال: «كَذَبَتْ يَهُودُ، لَا عَذَابَ دُونَ يَوْمِ الْقِيَامَةِ» وهذه الرواية وردت في " صحيح مسلم " عن عائشة قالت: دَخَلَ عَلَيَّ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَعِنْدِي امْرَأَةٌ مِنْ الْيَهُودِ وَهِيَ تَقُولُ هَلْ شَعَرْتِ أَنَّكُمْ تُفْتَنُونَ فِي الْقُبُورِ قَالَتْ: فَارْتَاعَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَقَالَ إِنَّمَا تُفْتَنُ يَهُودُ، قَالَتْ عَائِشَةُ: فَسَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بَعْدُ يَسْتَعِيذُ مِنْ عَذَابِ القَبْرِ.

 

كما روى البخاري عن أسماء بنت أبي بكر أنَّ النبي صلى الله عليه وسلم قال بعد صلاة خسوف الشمس: «مَا مِنْ شَيْءٍ كُنْتُ لَمْ أَرَهُ إِلَاّ قَدْ رَأَيْتُهُ فِي مَقَامِي هَذَا حَتَّى الْجَنَّةَ وَالنَّارَ وَلَقَدْ أُوحِيَ إِلَيَّ أَنَّكُمْ تُفْتَنُونَ فِي الْقُبُورِ».

 

أما نزول الوحي بالقرآن في هذا فتذكر منه إذنه لمن تخلف عن غزوة تبوك فنزل قول الله: {عَفَا اللَّهُ عَنْكَ لِمَ أَذِنْتَ لَهُمْ حَتَّى يَتَبَيَّنَ لَكَ الَّذِينَ صَدَقُوا وَتَعْلَمَ الْكَاذِبِينَ} [التوبة: 43].

 

وفي قبوله الفداء من أسرى بدر نزل قول الله تعالى: {مَا كَانَ لِنَبِيٍّ أَنْ يَكُونَ لَهُ أَسْرَى حَتَّى يُثْخِنَ فِي الأَرْضِ} [الأنفال: 67]. وفي إعراضه عن ابن أم مكتوم لانشغاله بزعماء المشركين أملاً في إسلامهم نزل قول
[4] অদৃশ্য রূপে ওহী নাযিল হওয়া, তবে এর এমন কিছু আলামত প্রকাশ পেত যা এর ওপর দালালত করত। ইমাম বুখারী ও মুসলিম 'কিতাবুল হজ'-এ বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জিরানা নামক স্থানে ছিলেন এবং তাঁর সাথে তাঁর সাহাবীদের একটি দল ছিল। তখন জনৈক ব্যক্তি তাঁকে জিজ্ঞাসা করল: "আপনি এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে কী বলেন যে সুগন্ধি মাখা অবস্থায় উমরার ইহরাম বেঁধেছে?" নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কিছুক্ষণ নীরব থাকলেন। অতঃপর তাঁর নিকট ওহী অবতীর্ণ হলো। তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর চেহারা মুবারক লাল হয়ে গেল এবং তিনি কিছুক্ষণ সশব্দে নিশ্বাস ত্যাগ করতে লাগলেন। এরপর তাঁর থেকে সেই অবস্থা অপসারিত হলো। তিনি বললেন: «উমরা সম্পর্কে প্রশ্নকারী ব্যক্তিটি কোথায়?» লোকটিকে নিয়ে আসা হলো। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: তোমার শরীরের সুগন্ধি তিনবার ধুয়ে ফেল, তোমার জুব্বাটি খুলে ফেল এবং তোমার হজে যা করো, উমরাতেও তাই করো। (আল-লু'লু ওয়াল মারজান: ১ম খণ্ড, ১৫ পৃষ্ঠা, হাদিস ৭৩৩)।

 

[5] সুন্নাহ বা কুরআনের মাধ্যমে ওহী নাযিল হওয়া যাতে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সেই ইজতিহাদের সংশোধন অন্তর্ভুক্ত রয়েছে যা তিনি তাঁর মানবীয় ফিতরাত বা স্বভাবজাত প্রবৃত্তি অনুযায়ী করেছিলেন এবং তখন তিনি আল্লাহর পক্ষ থেকে কোনো সংবাদ পৌঁছাচ্ছিলেন না। সুন্নাহর ক্ষেত্রে ইমাম আহমাদ আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, জনৈক ইহুদি নারী তাঁকে বলল: আল্লাহ আপনাকে কবরের আজাব থেকে রক্ষা করুন। তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন: «ইহুদিরা মিথ্যা বলেছে, কিয়ামত দিবসের আগে কোনো আজাব নেই»। এই বর্ণনাটি 'সহীহ মুসলিম'-এ আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমার নিকট আসলেন, তখন আমার কাছে জনৈক ইহুদি নারী ছিল এবং সে বলছিল, আপনি কি অবগত হয়েছেন যে আপনাদের কবরে পরীক্ষা করা হবে? তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বিচলিত হয়ে বললেন, «কেবল ইহুদিদেরই পরীক্ষা করা হবে», আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) বলেন: এরপর আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে কবরের আজাব থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করতে শুনেছি।

 

যেমনটি ইমাম বুখারী আসমা বিনতে আবি বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সূর্যগ্রহণের সালাতের পর বলেছিলেন: «এমন কোনো বস্তু নেই যা আমি ইতিপূর্বে দেখিনি কিন্তু আমার এই দাঁড়ানো অবস্থায় তা দেখে ফেলেছি, এমনকি জান্নাত ও জাহান্নামও। আর আমার প্রতি ওহী করা হয়েছে যে, তোমাদেরকে কবরের মধ্যে পরীক্ষা করা হবে»।

 

আর এ বিষয়ে কুরআনের মাধ্যমে ওহী নাযিলের উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা যায় তাবুক যুদ্ধে যারা অংশগ্রহণ করেনি তাদেরকে তিনি যে অনুমতি দিয়েছিলেন, সে প্রসঙ্গে আল্লাহর বাণী নাযিল হয়েছে: {আল্লাহ আপনাকে ক্ষমা করুন; কেন আপনি তাদেরকে অনুমতি দিলেন, যতক্ষণ না আপনার কাছে সত্যবাদীরা স্পষ্ট হতো এবং আপনি মিথ্যাবাদীদের জেনে নিতেন} [আত-তাওবাহ: ৪৩]।

 

এবং বদরের যুদ্ধবন্দীদের থেকে মুক্তিপণ গ্রহণের ব্যাপারে মহান আল্লাহর বাণী নাযিল হয়েছে: {কোনো নবীর জন্য সঙ্গত নয় যে তার নিকট যুদ্ধবন্দী থাকবে যতক্ষণ না তিনি যমীনে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ করেন (শত্রুকে পরাভূত করেন)} [আল-আনফাল: ৬৭]। এবং ইবনে উম্মে মাকতুমের প্রতি তাঁর বিমুখতা প্রদর্শনের ব্যাপারে—যেহেতু তিনি মুশরিক নেতাদের ইসলামের প্রতি আশান্বিত হয়ে তাদের নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন—তখন বাণী নাযিল হলো...
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাতুল মুফতারা আলাইহা (পৃষ্ঠা: ২৭)
الله تعالى: {عَبَسَ وَتَوَلَّى، أَنْ جَاءَهُ الأَعْمَى، وَمَا يُدْرِيكَ لَعَلَّهُ يَزَّكَّى، أَوْ يَذَّكَّرُ فَتَنْفَعَهُ الذِّكْرَى، … } [عبس: 1 - 4].

 

لما كان ذلك فإنَّ كل ما صحت نسبته إلى النبي صلى الله عليه وسلم من قول وفعل وتقرير فمصدره الوحي الإلهي على النحو سالف الذكر.

 

ولقد حاول أئمة النفاق في عصرنا أنْ يرُدُّوا السنة النبوية بدعوى التمسك بالقرآن الكريم فقال محمد خلف الله: «إنَّ ما عدا القرآن فكر بشري نتعامل معه بعقولنا» وقال: «إنَّ ما ورد في القرآن غير قطعي الدلالة، لا يعمل به إلَاّ إذا جاءت السنة بنص آخر قطعي الدلالة» (1).

--------------------------------------------

(1) " الغزو الفكري " ص 275 و" منهجية جمع السنة " للدكتورة عزية طه " ص: 46، 47، 72، 73، 322، 323. و" الحكم ". الطبعة الثالثة، ص 170.
মহান আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {সে ভ্রুকুটি করল এবং মুখ ফিরিয়ে নিল, যেহেতু তার কাছে সেই অন্ধ লোকটি এসেছিল। আপনি কী করে জানবেন, হয়তো সে পরিশুদ্ধ হতো, অথবা সে উপদেশ গ্রহণ করত এবং সেই উপদেশ তার উপকারে আসত, ... } [আবাসা: ১ - ৪]।

 

যেহেতু বিষয়টি এমন, সেহেতু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী, কর্ম এবং মৌন সম্মতির মধ্য থেকে যা কিছুই তাঁর প্রতি সহিহভাবে সাব্যস্ত হয়েছে, তার উৎস হলো পূর্বোল্লিখিত নিয়মে খোদায়ী ওহি।

 

আর আমাদের বর্তমান যুগের নিফাকের ইমামরা পবিত্র কুরআনকে আঁকড়ে ধরার অজুহাতে সুন্নাতে নববিকে প্রত্যাখ্যান করার চেষ্টা করেছে। মুহাম্মদ খালাফ উল্লাহ বলেছেন: «কুরআন ব্যতীত অন্য সবকিছুই মানবীয় চিন্তা, যা আমরা আমাদের বুদ্ধি দিয়ে বিচার করি।» তিনি আরও বলেছেন: «কুরআনে যা বর্ণিত হয়েছে তা অকাট্য অর্থবোধক নয়; এর ওপর আমল করা যাবে না যতক্ষণ না সুন্নাহর মাধ্যমে অন্য কোনো অকাট্য বর্ণনা আসে» (১)।

--------------------------------------------

(১) "আল-গাযওয়ুল ফিকরি" পৃষ্ঠা ২৭৫ এবং ডক্টর আজিয়াহ ত্বহা রচিত "মানহাজিয়াতু জাময়িস সুন্নাহ" পৃষ্ঠা: ৪৬, ৪৭, ৭২, ৭৩, ৩২২, ৩২৩। এবং "আল-হুকমু"। তৃতীয় সংস্করণ, পৃষ্ঠা ১৭০।
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাতুল মুফতারা আলাইহা (পৃষ্ঠা: ২৮)
‌‌3 - أَنْوَاعُ السُنَّةِ وَوَظِيفَةِ الرَّسُولِ:

لقد أنزل الله تعالى القرآن الكريم على خاتم النبيين ليكون معجزة للناس جميعاً إلى يوم القيامة، فهو معجز في كلماته ومعجز في الحقائق والمعاني التي تضمنها في هذه الكلمات.

 

ومن قبيل الإعجاز في المعنى أن الله تعالى قد قال: {وَالسَّمَاءَ بَنَيْنَاهَا بِأَيْدٍ وَإِنَّا لَمُوسِعُونَ} [الذاريات: 47].

 

وفي السنوات الأخيرة من هذا القرن فقط أثبت العلماء أنَّ قوة الجاذبية بين أجزاء الكون تقل بالتدريج بسبب تباعدها واتساعها.

 

وأيضاً قال الله تعالى: {أَوَلَمْ يَرَ الَّذِينَ كَفَرُوا أَنَّ السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضَ كَانَتَا رَتْقًا فَفَتَقْنَاهُمَا وَجَعَلْنَا مِنَ الْمَاءِ كُلَّ شَيْءٍ حَيٍّ} [الأنبياء: 30].

 

وفي السنوات الأخيرة فقط اكتشف العلماء أنَّ مادة الكون كانت جامدة ثم حدث فيها انفجار شديد ولقد تطرَّق العالم الفرنسي موريس بوكاي إلى الحقائق العلمية الواردة في القرآن الكريم كخلق الجنين وتطوره وما يتعلق بالسماوات والأرض وما يتعلق بالنبات والإنسان وانتهى في كتابه " الكتب المقدسة في ضوء العلم الحديث "، إلى أنَّ كل ما جاء به القرآن يتَّفق تماماً مع ما توصَّل إليه العلم الحديث.
‌৩ - সুন্নাহর প্রকারভেদ এবং রাসূলের দায়িত্ব:

মহান আল্লাহ কুরআন মাজীদকে সর্বশেষ নবীর ওপর অবতীর্ণ করেছেন যেন তা কিয়ামত পর্যন্ত সকল মানুষের জন্য এক মুজিজা হয়ে থাকে। এর শব্দাবলি যেমন মুজিজা, তেমনি এই শব্দগুলোর অন্তর্ভুক্ত প্রকৃত সত্য ও অর্থসমূহও মুজিজা।

 

অর্থের দিক থেকে মুজিজার একটি উদাহরণ হলো মহান আল্লাহর এই বাণী: {আর আসমানকে আমি নির্মাণ করেছি হাতসমূহ দ্বারা এবং নিশ্চয়ই আমি এর প্রসারণকারী।} [আয-যারিয়াত: ৪৭]।

 

কেবল এই শতাব্দীর শেষ কয়েক বছরে বিজ্ঞানীরা প্রমাণ করেছেন যে, মহাবিশ্বের অংশগুলোর মধ্যকার মহাকর্ষ বল এগুলোর পারস্পরিক দূরত্ব বৃদ্ধি ও প্রসারণের ফলে ক্রমান্বয়ে হ্রাস পাচ্ছে।

 

মহান আল্লাহ আরও বলেছেন: {অবিশ্বাসীরা কি লক্ষ্য করে না যে, আসমানসমূহ ও জমিন পরস্পর সংলগ্ন ছিল, অতঃপর আমি উভয়কে পৃথক করে দিলাম এবং প্রাণবান প্রতিটি জিনিস পানি থেকে সৃষ্টি করলাম?} [আল-আম্বিয়া: ৩০]।

 

কেবল সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করেছেন যে, মহাবিশ্বের উপাদানসমূহ জমাটবদ্ধ ছিল, অতঃপর এতে এক প্রচণ্ড বিস্ফোরণ ঘটে। ফরাসি বিজ্ঞানী মরিস বুকাই কুরআন মাজীদে বর্ণিত বৈজ্ঞানিক সত্যসমূহ নিয়ে আলোচনা করেছেন, যেমন ভ্রূণ সৃষ্টি ও এর বিকাশ এবং আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী এবং উদ্ভিদ ও মানুষ সংক্রান্ত বিষয়াবলি। তিনি তার ‘আধুনিক বিজ্ঞানের আলোকে পবিত্র ধর্মগ্রন্থসমূহ’ নামক গ্রন্থে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন যে, কুরআনের প্রতিটি বিষয় আধুনিক বিজ্ঞানের অর্জিত নিরূপিত সত্যের সাথে সম্পূর্ণ সামঞ্জস্যপূর্ণ।
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাতুল মুফতারা আলাইহা (পৃষ্ঠা: ২৯)
ولقد اقتضت حكمة الله تعالى أنْ يكون الرسول مبلِّغاً لهذا القرآن ومنفِّذاً لأحكامه، ومن ثم جعل الله للنبي صفة أخرى غير التبليغ وهي التبيان {يَا أَيُّهَا الرَّسُولُ بَلِّغْ مَا أُنْزِلَ إِلَيْكَ مِنْ رَبِّكَ وَإِنْ لَمْ تَفْعَلْ فَمَا بَلَّغْتَ رِسَالَتَهُ وَاللَّهُ يَعْصِمُكَ مِنَ النَّاسِ} [المائدة: 67]. كما قال تعالى: {بِالْبَيِّنَاتِ وَالزُّبُرِ وَأَنْزَلْنَا إِلَيْكَ الذِّكْرَ لِتُبَيِّنَ لِلنَّاسِ مَا نُزِّلَ إِلَيْهِمْ وَلَعَلَّهُمْ يَتَفَكَّرُونَ} [النحل: 44].

 

وصفة البيان كما تكون بإبلاغ القرآن للناس كافة، تكون بتفصيل أحكامه العامة وتنفيذها، ولهذا وردت الآية بطاعة الله أي أحكامه الواردة في القرآن الكريم، وبطاعة الرسول أي أحكامه التي بيَّنَها وهي السُنَّة النبوية.

 

ولهذا أوجب الله طاعة الرسول والتزام سُنَّته فقال عز وجل: {وَمَا آتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوا} [الحشر: 7].

 

من أجل ذلك أوضح النبي صلى الله عليه وسلم أنَّ السُنَّة من الله تعالى وهي مثل القرآن إذ يقول في الحديث الصحيح: «إِنِّي أُوتِيتُ الْقُرْآنَ وَمِثْلَهُ مَعَهُ» (1)

 

1 - السُنَّةُ القَوْلِيَّةُ:

 

وبيان الرسول وإبلاغه للسُنَّة قد يكون بالقول مثل حديث: «لَا يَرِثُ المُسْلِمُ الكَافِرَ وَلَا يَرِثُ الكَافِرُ المُسْلِمَ» رواه البخاري ومسلم وغيرهما وحديث: «إِيَّاكُمْ وَالظَّنَّ فَإِنَّ الظَّنَّ أَكْذَبُ الْحَدِيثِ وَلَا تَجَسَّسُوا

--------------------------------------------

(1) " سنن أبي داود ": 4/ 279، و" ابن ماجه ": 1/ 6، و" الترمذي ": 3/ 374، و" المستدرك ": 1/ 109، و" الدارمي ": 1/ 140، و" ابن حبان " (" موارد الظمآن إلى زوائد ابن حبان " لليهثمي، تحقيق محمد عبد الرزاق حمزة: حديث رقم 97 ص 55).
আল্লাহ তাআলার হিকমত এটাই দাবি করেছে যে, রাসূল হবেন এই কুরআনের প্রচারকারী এবং এর বিধানসমূহ বাস্তবায়নকারী। অতঃপর আল্লাহ নবীকে প্রচারের পাশাপাশি আরেকটি বৈশিষ্ট্য দিয়েছেন, আর তা হলো বর্ণনা করা (তীবয়ান)। যেমন আল্লাহ তাআলা বলেন: {হে রাসূল, আপনার রবের পক্ষ থেকে আপনার প্রতি যা নাযিল করা হয়েছে তা প্রচার করুন। আর যদি আপনি তা না করেন, তবে আপনি তাঁর রিসালাত পৌঁছালেন না। আল্লাহ আপনাকে মানুষের অনিষ্ট থেকে রক্ষা করবেন।} [আল-মায়িদাহ: ৬৭]। তিনি আরও বলেন: {স্পষ্ট প্রমাণাদি ও আসমানী কিতাবসমূহসহ; আর আমি আপনার প্রতি যিকর (কুরআন) নাযিল করেছি, যাতে আপনি মানুষের জন্য তা বর্ণনা করে দেন যা তাদের প্রতি নাযিল করা হয়েছে এবং যাতে তারা চিন্তা-গবেষণা করে।} [আন-নাহল: ৪৪]।

 

বর্ণনা করার এই গুণটি যেমন সকল মানুষের নিকট কুরআন পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে হয়, তেমনিভাবে এর সাধারণ বিধিবিধানের বিস্তারিত ব্যাখ্যা ও তা বাস্তবায়নের মাধ্যমেও হয়। এই কারণেই আয়াতে আল্লাহর আনুগত্য বলতে কুরআনে বর্ণিত তাঁর বিধানসমূহকে বোঝানো হয়েছে, এবং রাসূলের আনুগত্য বলতে তিনি যে বিধানগুলো বর্ণনা করেছেন তা বোঝানো হয়েছে, যা হলো সুন্নাহ।

 

এই কারণে আল্লাহ রাসূলের আনুগত্য এবং তাঁর সুন্নাহর অনুসরণ আবশ্যক করেছেন। তিনি মহান পরাক্রমশালী বলেন: {রাসূল তোমাদেরকে যা দেন তা গ্রহণ করো, আর যা থেকে তোমাদের নিষেধ করেন তা হতে বিরত থাকো।} [আল-হাশর: ৭]।

 

এরই পরিপ্রেক্ষিতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্পষ্ট করেছেন যে, সুন্নাহ আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে এবং তা কুরআনের মতোই। যেমনটি তিনি সহীহ হাদীসে বলেছেন: «নিশ্চয়ই আমাকে কুরআন দেওয়া হয়েছে এবং তার সাথে তারই অনুরূপ (সুন্নাহ) দেওয়া হয়েছে» (১)

 

১ - মৌখিক সুন্নাহ:

 

রাসূলের বর্ণনা ও সুন্নাহর প্রচার কখনো মৌখিক বক্তব্যের মাধ্যমে হয়। যেমন এই হাদীসটি: «মুসলিম কাফিরের উত্তরাধিকারী হবে না এবং কাফির মুসলিমের উত্তরাধিকারী হবে না» বুখারী, মুসলিম এবং অন্যান্যরা এটি বর্ণনা করেছেন। এবং অন্য হাদীসটি: «তোমরা ধারণা করা থেকে বেঁচে থাকো, কেননা ধারণা সবচেয়ে বড় মিথ্যা কথা। আর তোমরা একে অপরের গোপন দোষ অনুসন্ধান করো না...

--------------------------------------------

(১) "সুনান আবি দাউদ": ৪/২৭৯, এবং "ইবনে মাজাহ": ১/৬, এবং "তিরমিযী": ৩/৩৭৪, এবং "আল-মুসতাদরাক": ১/১০৯, এবং "আদ-দারেমী": ১/১৪০, এবং "ইবনে হিব্বান" (হায়সামীর "মাওয়ারিদুজ জামআন ইলা যাওয়ায়িদ ইবনে হিব্বান", মুহাম্মদ আবদুর রাজ্জাক হামজার সম্পাদনা: হাদীস নং ৯৭, পৃষ্ঠা ৫৫)।
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাতুল মুফতারা আলাইহা (পৃষ্ঠা: ৩০)
وَلَا تَحَسَّسُوا وَلَا تَنَافَسُوا وَلَا تَحَاسَدُوا وَلَا تَبَاغَضُوا وَلَا تَدَابَرُوا وَكُونُوا عِبَادَ اللَّهِ إِخْوانًا كَمَا أًَمَرَكُمْ اللهُ تَعَالَى، الْمُسْلِمُ أَخُو الْمُسْلِمِ لَا يَظْلِمُهُ وَلَا يَخْذُلُهُ وَلَا يَحْقِرُهُ، بِحَسْبِ امْرئٍ مِنَ الشَّرِّ أَنْ يَحْقِرَ أَخَاهُ الْمُسْلِمَ كُلُّ الْمُسْلِمِ عَلَى الْمُسْلِمِ حَرَامٌ دَمُهُ وَمَالُهُ وَعِرْضُهُ، إِنَّ اللَّهَ لَا يَنْظُرُ إِلَى صُوَرِكُمْ وَأَجْسَادِكُمْ وَلَكِنْ يَنْظُرُ إِلَى قُلُوبِكُمْ وَأَعْمَالِكُمْ» رواه الإمام مسلم.

 

2 - السُنَّةُ العَمَلِيَّةُ:

 

وقد يكون البيان النبوي بالعمل كما هو الحال في الوضوء والصلاة والحج، فقد توضَّأ الصحابة مثل وضوئه، وصلُّوا مثل صلاته وفعلوا مثله في مناسك الحج وسائر الأمور العظيمة، ثم روى هؤلاء الصحابة ذلك إلى غيرهم دون بيان الركن من الشرط أو الفرض من المندوب، لأنه لا احتمال عندهم أنْ يترك أحد شيئاً من الدين حتى يبحثوا عن الفرض والمندور في أفعال النبي صلى الله عليه وسلم. فقد قال فيما رواه البخاري: «صَلُّوا كَمَا رَأَيْتُمُونِى أُصَلِّى». وقال كما جاء في " صحيح مسلم ": «خُذُوا عَنِّى مَنَاسِكَكُمْ».

 

3 - السُنَّةُ التَّقْرِيرِيَّةُ:

 

وتكون السُنَّة النبوية بتقرير حال أو السكوت عن أمر بما يدل على إقراره، ومثال ذلك أنَّ النبي صلى الله عليه وسلم أمر صحابته بالتوجه إلى بني قريظة لقتالهم بسبب خيانتهم في غزوة الأحزاب، وكان أمره هذا بقوله الوارد في البخاري ومسلم بلفظ: «لَا يُصَلِّيَنَّ أَحَدٌ الْعَصْرَ إِلَاّ فِي بَنِي قُرَيْظَةَ»، ولكن الإسراع وليس إرجاء الصلاة عن ميقاتها، وفهم آخرون الأمر على ظاهره فالتزموا به فلا صلاة إلَاّ في بني قريظة ولو فات وقت العصر،
"আর তোমরা একে অপরের গোপন দোষ অনুসন্ধান করো না, একে অপরের ওপর প্রাধান্য বিস্তারের প্রতিযোগিতা করো না, একে অপরের প্রতি হিংসা করো না, একে অপরের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করো না এবং একে অপরের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিও না। হে আল্লাহর বান্দারা! তোমরা ভাই ভাই হয়ে যাও যেমনটি মহান আল্লাহ তোমাদের নির্দেশ দিয়েছেন। এক মুসলিম অপর মুসলিমের ভাই; সে তার ওপর জুলুম করে না, তাকে অসহায় অবস্থায় ছেড়ে দেয় না এবং তাকে তুচ্ছজ্ঞান করে না। একজন মানুষের মন্দ হওয়ার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, সে তার মুসলিম ভাইকে তুচ্ছজ্ঞান করবে। প্রত্যেক মুসলিমের রক্ত, সম্পদ ও সম্মান অপর মুসলিমের ওপর হারাম। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের অবয়ব ও শরীরের দিকে তাকান না, বরং তিনি তোমাদের অন্তর ও আমলের দিকে তাকান।" এটি ইমাম মুসলিম বর্ণনা করেছেন।

 

২ - কর্মগত সুন্নাহ:

 

নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ব্যাখ্যা বা বর্ণনা কখনো কাজের মাধ্যমেও হয়ে থাকে, যেমনটি ওজু, নামাজ ও হজের ক্ষেত্রে ঘটেছে। সাহাবীগণ তাঁর ওজুর মতোই ওজু করেছেন, তাঁর নামাজের মতোই নামাজ পড়েছেন এবং হজের নিয়মাবলি ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তাঁর মতোই কাজ করেছেন। অতঃপর এই সাহাবীগণ রুকন ও শর্ত কিংবা ফরজ ও মুস্তাহাবের পার্থক্য বর্ণনা ছাড়াই তা অন্যদের কাছে বর্ণনা করেছেন। কারণ, তাঁদের নিকট এমন কোনো সম্ভাবনা ছিল না যে কেউ দ্বীনের কোনো বিষয় বর্জন করবে, যার ফলে তাঁদেরকে নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কার্যাবলীর মধ্যে ফরজ ও মুস্তাহাব তালাশ করতে হতো। যেমনটি ইমাম বুখারি কর্তৃক বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: "তোমরা সেভাবেই নামাজ আদায় করো যেভাবে আমাকে নামাজ পড়তে দেখেছ।" এবং সহিহ মুসলিমে যেমনটি এসেছে যে তিনি বলেছেন: "তোমরা আমার নিকট থেকে তোমাদের হজের নিয়মাবলি গ্রহণ করো।"

 

৩ - মৌন সম্মতিমূলক সুন্নাহ:

 

সুন্নাহর এই প্রকারটি কোনো অবস্থার অনুমোদন বা কোনো বিষয়ে নীরব থাকার মাধ্যমে প্রকাশ পায় যা তার বৈধতাকে নির্দেশ করে। এর উদাহরণ হলো, নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আহযাব যুদ্ধে বনু কুরাইজার বিশ্বাসঘাতকতার কারণে সাহাবীদেরকে তাদের সাথে যুদ্ধের জন্য সেখানে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। তাঁর সেই আদেশটি বুখারি ও মুসলিমে এই শব্দে বর্ণিত হয়েছে: "তোমাদের কেউ যেন বনু কুরাইজায় পৌঁছানো ছাড়া আসরের নামাজ না পড়ে।" তবে একদল সাহাবী এর দ্বারা দ্রুত গমনের উদ্দেশ্য বুঝেছিলেন, নামাজের ওয়াক্ত পার করে দেওয়া নয়। আবার অন্য একদল সাহাবী আদেশের বাহ্যিক অর্থ গ্রহণ করেছিলেন এবং বনু কুরাইজায় পৌঁছানো ছাড়া নামাজ না পড়ার সিদ্ধান্তে অটল ছিলেন, যদিও আসরের ওয়াক্ত পার হয়ে যাচ্ছিল।
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাতুল মুফতারা আলাইহা (পৃষ্ঠা: ৩১)
ولما بلغ النبي صلى الله عليه وسلم اجتهاد الطائفتين، لم ينكر على أي منهما فدلَّ سكوته على إقرار الاجتهاد في تنفيذ الأمر.

 

ومن قبيل السنة التقريرية أيضاً ما رواه أحمد وأبو داود وابن حبان والدارقطني والحاكم عن عمرو بن العاص قال: احتلمت في ليلة شديدة البرودة فأشفقت إنْ اغتسلت أنْ أهلك فتيمَّمْتُ ثم صليت بأصحابي صلاة الصبح، فلما قدمنا على رسول الله ذكروا ذلك له فقال صلى الله عليه وسلم: «يَا عَمْرُو صَلَّيْتُ بِأَصْحَابِكَ وَأَنْتَ جُنُبٌ؟». فقلتُ: يا رسول الله ذكرت قول الله عز وجل {وَلَا تَقْتُلُوا أَنْفُسَكُمْ إِنَّ اللَّهَ كَانَ بِكُمْ رَحِيمًا} [النساء: 29]، فتيمَّمت وصليت فضحك رسول الله ولم يقل شيئًا.

 

بهذا السكوت أقرَّ النبي صلى الله عليه وسلم التيمم عند الخوف من حصول ضرر من الماء إما لمرض بالجلد، أو لبرد يضر الإنسان إذ استحمَّ بهذا الماء.

 

وأيضاً يستفاد من اختلاف الصحابة في فهم قول النبي: «مَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ فَلَا يُصَلِّيَنَّ الْعَصْرَ إِلَاّ فِي بَنِي قُرَيْظَةَ» ومن اختلافهم في فهم قول الله تعالى {فَلَمْ تَجِدُوا مَاءً فَتَيَمَّمُوا} (*) [النساء: 43] و [المائدة: 6] أنَّ النبي صلى الله عليه وسلم أقرّ كل طائفة على اجتهادها في تنفيذ أوامر الشريعة.

 

والاجتهاد لا يكون في أصول الدين ومصادره (1) ولا يكون جَرْياً وراء الأهواء والمصالح ومن لا يجوز تأويل الفروع ووصفها بالأصول ليكون ذلك مبرِّراً للخلاف.

--------------------------------------------

(1) " الإحكام في أصول الأحكام " للإمام علي بن حزم: جـ 2 ص 237 وما بعدها.

 

[تَعْلِيقُ مُعِدِّ الكِتَابِ لِلْمَكْتَبَةِ الشَّامِلَةِ]:

(*) ملاحظة: كتبت الآية خطأ في الكتاب المطبوع (فإن لم تجدوا ماء فتيمَّمُوا).
যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উভয় দলের ইজতিহাদ সম্পর্কে অবগত হলেন, তিনি তাদের কাউকেই কোনো প্রকার অসম্মতি জ্ঞাপন করেননি। ফলে তাঁর এই নীরবতা নির্দেশ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ইজতিহাদের স্বীকৃতির ওপর প্রমাণ বহন করে।

 

সুন্নাতে তাকরীরির (মৌন সম্মতিমূলক সুন্নাহ) অন্তর্ভুক্ত সেই বর্ণনাটিও যা ইমাম আহমাদ, আবু দাউদ, ইবনে হিব্বান, দারা কুতনী এবং হাকেম আমর ইবনুল আস থেকে বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন: এক প্রচণ্ড শীতের রাতে আমার স্বপ্নদোষ হলো। আমি আশঙ্কা করলাম যে, যদি আমি গোসল করি তবে আমি ধ্বংস হয়ে যাব। তাই আমি তায়াম্মুম করলাম এবং আমার সাথীদের নিয়ে ফজরের সালাত আদায় করলাম। অতঃপর যখন আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট উপস্থিত হলাম, তারা তাঁর কাছে বিষয়টি উল্লেখ করলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: "হে আমর! তুমি কি অপবিত্র অবস্থায় তোমার সাথীদের নিয়ে সালাত আদায় করেছ?" আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আমি মহান আল্লাহর বাণী স্মরণ করেছি— {তোমরা নিজেদের হত্যা করো না, নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের প্রতি পরম দয়ালু} [নিসা: ২৯], তাই আমি তায়াম্মুম করেছি এবং সালাত পড়েছি। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাসলেন এবং কিছুই বললেন না।

 

এই নীরবতার মাধ্যমে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পানি দ্বারা ক্ষতির আশঙ্কা থাকলে তায়াম্মুম করার বিষয়টি অনুমোদন করেছেন; চাই তা চর্মরোগের কারণে হোক অথবা এমন শীতের কারণে যা পানি দিয়ে গোসল করলে মানুষের ক্ষতি সাধন করে।

 

অনুরূপভাবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এই বাণী: "যে ব্যক্তি আল্লাহ ও পরকালের প্রতি ঈমান রাখে, সে যেন বনু কুরাইজা ব্যতীত আসরের সালাত আদায় না করে"—এটি অনুধাবনের ক্ষেত্রে সাহাবীগণের মতপার্থক্য এবং মহান আল্লাহর বাণী: {অতঃপর তোমরা যদি পানি না পাও তবে তায়াম্মুম করো} (*) [নিসা: ৪৩ ও মায়িদা: ৬]—এর বুঝের ক্ষেত্রে তাদের মতভেদ থেকে এই শিক্ষা পাওয়া যায় যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শরীয়তের নির্দেশাবলী পালনের ক্ষেত্রে প্রতিটি দলকে তাদের নিজ নিজ ইজতিহাদের ওপর বহাল রেখেছেন।

 

আর ইজতিহাদ দীনের মৌলিক বিষয় (উসুল) ও এর উৎসসমূহের ক্ষেত্রে হবে না (১) এবং এটি প্রবৃত্তি ও পার্থিব স্বার্থের অনুগামী হয়ে করা যাবে না। আর শাখা-প্রশাখামূলক বিষয়গুলোর (ফুরু) এমন ব্যাখ্যা দেওয়া এবং সেগুলোকে মৌলিক নীতি হিসেবে বর্ণনা করা বৈধ নয়, যা মতভেদের অজুহাত হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

--------------------------------------------

(১) ইমাম আলী বিন হাজমের "আল-ইহকাম ফি উসুলিল আহকাম": ২য় খণ্ড, ২৩৭ পৃষ্ঠা ও পরবর্তী অংশ।

 

[মাকতাবাতুশ শামেলা’র জন্য গ্রন্থ প্রস্তুতকারকের মন্তব্য]:

(*) দ্রষ্টব্য: মুদ্রিত গ্রন্থে আয়াতটি ভুলভাবে (অতঃপর যদি তোমরা পানি না পাও তবে তায়াম্মুম করো) লেখা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাতুল মুফতারা আলাইহা (পৃষ্ঠা: ৩২)
‌‌4 - الجَمَاعَاتُ الإِسْلَامِيَّةُ وَالمَنْهَجِ النَّبَوِيِّ:

إنَّ سكوت النبي صلى الله عليه وسلم له حكمة بالغة وهو إقرار الاجتهاد في فهم النص الشرعي إذا كان النص يقبل التأويل وغير قطعي الدلالة، لأنَّ افتراض عدم العمل بالنص الشرعي إلَاّ إذا اجتمعت الأُمَّة على معناه فيه تعطيل لهذا الدين القيم إذا ما اختلف أحد في فهم بعض النصوص أو أكثرها، وهذا الخلاف محتمل وأمر طبيعي لاختلاف عقول الناس وإدراكهم، لهذا روى البخاري ومسلم أنَّ النبي صلى الله عليه وسلم قال: «إذَا اجْتَهَدَ الْحَاكِمُ فَأَخْطَأَ فَلَهُ أَجْرٌ».

 

إنَّ هذا المنهج قد غفلت عنه بعض الجماعات الإسلامية المعاصرة وبالتالي بذلت جهداً كبيراً في الطعن على الجماعات الإسلامية الأخرى التي تخالفها في فهم بعض النصوص الشرعية، بل من الجماعات من يعلن أنَّ ما هم عليه من التمسُّك بالسُنَّة العملية يعجعلهم الجماعة الوحيدة الناجية وغيرهم يصبح من الفرق الضالة الداخلة في النار، بل منا من جعل بعض فروع الإسلام أصولاً عقائدية يكون العمل في دائرتها جهاداً في سبيل العقيدة يقدم على القتال والجهاد بالمدفع.

 

ومن أفراد الجماعات الإسلامية من تبنَّى فهماً للنصوص التي تقبل الخلاف. وفرض هذا الفهم على أفراد جماعتهم، وقيل لهم: يأثم من خالفه لأنه في نظرهم الفهم القاطع، وبذلك يصبح الفرد مخيَّراً بين الأخذ
৪ - ইসলামি দলসমূহ এবং নববী মানহাজ:

নিশ্চয়ই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নীরবতার পেছনে এক সুগভীর প্রজ্ঞা নিহিত রয়েছে, আর তা হলো শরয়ি নস বা পাঠের মর্ম উপলব্ধির ক্ষেত্রে ইজতিহাদকে স্বীকৃতি প্রদান করা—যদি সেই নস ব্যাখ্যাযোগ্য হয় এবং তার অর্থ অকাট্য না হয়। কারণ, কোনো শরয়ি নসের অর্থের ওপর উম্মাহর ঐক্যমত না হওয়া পর্যন্ত তার ওপর আমল না করার ধারণা পোষণ করার অর্থ হলো এই সুপ্রতিষ্ঠিত দ্বীনকে অকার্যকর করে দেওয়া, যদি কেউ কিছু বা অধিকাংশ নসের বুঝের ক্ষেত্রে মতভেদ করে। আর মানুষের বুদ্ধি ও উপলব্ধির ভিন্নতার কারণে এই মতভেদ একটি স্বাভাবিক ও সম্ভাব্য বিষয়। এই কারণেই বুখারি ও মুসলিম বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «বিচারক যখন ইজতিহাদ করেন এবং ভুল করেন, তখন তার জন্য একটি সওয়াব রয়েছে»।

 

নিশ্চয়ই বর্তমানকালের কিছু ইসলামি দল এই মানহাজ বা পদ্ধতি সম্পর্কে বিমুখ হয়েছে। ফলে তারা অন্যান্য ইসলামি দলগুলোর সমালোচনা ও বিদ্ধ করার পেছনে ব্যাপক শ্রম ব্যয় করেছে, যারা কিছু শরয়ি নসের বুঝের ক্ষেত্রে তাদের সাথে ভিন্নমত পোষণ করে। এমনকি এমন কিছু দলও রয়েছে যারা ঘোষণা করে যে, আমলি সুন্নাহর ওপর তাদের এই অটল থাকাই তাদেরকে একমাত্র নাজাতপ্রাপ্ত দল হিসেবে সাব্যস্ত করে এবং অন্যরা জাহান্নামী পথভ্রষ্ট দলে পরিণত হয়। এমনকি আমাদের মধ্যে এমনও কেউ কেউ আছেন যারা ইসলামের কিছু শাখাগত বিষয়কে আকিদাগত মূলনীতি বানিয়ে নিয়েছেন, যার গণ্ডিতে আমল করাকে আকিদার পথে এমন এক জিহাদ মনে করা হয় যা লড়াই এবং কামানের জিহাদের চেয়েও অগ্রাধিকার পায়।

 

ইসলামি দলগুলোর সদস্যদের মধ্যে এমন কেউ কেউ আছেন যারা মতভেদের অবকাশ রাখে এমন নসগুলোর একটি নির্দিষ্ট বুঝ গ্রহণ করেছেন। অতঃপর তারা এই বুঝকে নিজ দলের সদস্যদের ওপর চাপিয়ে দিয়েছেন এবং তাদেরকে বলা হয়েছে: যে ব্যক্তি এর বিরোধিতা করবে সে গুনাহগার হবে, কারণ তাদের দৃষ্টিতে এটিই হলো অকাট্য বুঝ। এর ফলে ব্যক্তি এটি গ্রহণ করার ব্যাপারে পছন্দের সংকটে পড়ে...
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাতুল মুফতারা আলাইহা (পৃষ্ঠা: ৩৩)
بهذا الفهم أو ترك هذه الجماعة، وهذا كله يخالف منهج النبي صلى الله عليه وسلم الذي أقرَّ الاختلاف في فهم النصوص كما أنَّ هذه الأساليب ينطبق عليها قول الله تعالى: {وَلَا تَنَازَعُوا فَتَفْشَلُوا وَتَذْهَبَ رِيحُكُمْ} [الأنفال: 46].

 

‌‌التَّطَرُّفُ وَتَلْبِيسُ إِبْلِيسَ:

ومن السُبُلِ التي يدخل بها الشيطان على أفراد بل جماعات إسلامية تزيينه الفرقة والخلاف لهم وإيهامهم أنهم هم الناجون من عذاب الآخرة، وباقي الأفراد والجماعات الإسلامية في النار لأنَّ رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «وَسَتَفْتَرِقُ أُمَّتِي عَلَى ثَلَاثٍ وَسَبْعِينَ مِلَّةٍ كُلُّهُمْ فِي النَّارِ إِلَّا مِلَّةً وَاحِدَةً، قَالُوا: وَمَنْ هِيَ يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ قَالَ: مَا أَنَا عَلَيْهِ وَأَصْحَابِي» رواه أحمد وأبو داود والترمذي والحاكم على شرط مسلم.

 

وهؤلاء يجعلون تمسًّكهم بِالسُنَّةِ العَمَلِيَّةِ كالمحافظة على الصلاة في الجماعة، والمحافظة على السواك واللحية، هو مقومات كونهم أهل النجاة، لأنهم على مثل ما كان عليه النبي وصحابته، أما غيرهم فالنار مثواهم.

 

ولقد تناسى هؤلاء أنَّ ترك هذه السُنَّة لا يترتب عليه دخول النار لنصوص شرعية لا تُحصَى، منها ما رواه البخاري ومسلم أَنَّ أَعْرَابِيًّا سَأَلَ النَبِيَّ صلى الله عليه وسلم عَنْ عَمَلٍ يُدْخِلُهُ الْجَنَّةَ فَقَالَ: «تَعْبُدُ اللَّهَ وَلَا تُشْرِكُ بِهِ شَيْئًا وَتُقِيمُ الصَّلَاةَ الْمَكْتُوبَةَ وَتُؤَدِّي الزَّكَاةَ الْمَفْرُوضَةَ وَتَصُومُ رَمَضَانَ»، فَقَالَ الأَعْرابِيُّ: وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَا أَزِيدُ عَلَى هَذَا شَيْئًا أَبَدًا وَلَا أَنْقُصُ مِنْهُ، فَلَمَّا وَلَّى قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: مَنْ سَرَّهُ أَنْ يَنْظُرَ إِلَى رَجُلٍ مِنْ أَهْلِ الْجَنَّةِ فَلْيَنْظُرْ إِلَى هَذَا».

 

ولقد نسي هؤلاء أنَّ المقصود بالملل أو الفرق التي تفترق عن الإسلام، هي التي ترتدُّ إلى الكفر مثل البهائية والقاديانية والنُصَيْرِيَّة والإسماعلية.
এই বুঝের মাধ্যমে অথবা এই দল ত্যাগ করা—এসবই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মানহাজ বা পদ্ধতির পরিপন্থী, যিনি দলীলসমূহ বুঝার ক্ষেত্রে মতভেদকে স্বীকৃতি দিয়েছেন। তদুপরি, এই পদ্ধতিগুলোর ক্ষেত্রে মহান আল্লাহর এই বাণী প্রযোজ্য: {তোমরা পরস্পর বিবাদে লিপ্ত হয়ো না, অন্যথায় তোমরা সাহস হারিয়ে ফেলবে এবং তোমাদের শক্তি বিলুপ্ত হবে} [আল-আনফাল: ৪৬]।

 

‌‌চরমপন্থা এবং ইবলিসের প্রবঞ্চনা:

শয়তান যেসব পথে ব্যক্তিবর্গ এমনকি ইসলামি দলগুলোর মাঝে প্রবেশ করে, তার মধ্যে একটি হলো তাদের কাছে অনৈক্য ও বিবাদকে সুশোভিত করা এবং তাদের মনে এই ভ্রান্ত ধারণা দেওয়া যে, কেবল তারাই পরকালের আজাব থেকে মুক্তিপ্রাপ্ত, আর বাকি সকল ব্যক্তি ও ইসলামি দলগুলো জাহান্নামী। কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «অচিরেই আমার উম্মত তিয়াত্তরটি দলে বিভক্ত হবে, একটি দল ছাড়া তাদের সবাই জাহান্নামে যাবে। তারা জিজ্ঞাসা করলেন: হে আল্লাহর রাসূল! তারা কারা? তিনি বললেন: আমি এবং আমার সাহাবীগণ যার ওপর প্রতিষ্ঠিত আছি» আহমদ, আবু দাউদ, তিরমিযী এবং হাকিম এটি ইমাম মুসলিমের শর্তানুযায়ী বর্ণনা করেছেন।

 

আর এই লোকগুলো আমলি সুন্নাতের প্রতি তাদের অবিচল থাকাকে—যেমন জামাতের সাথে নামাজ আদায় করা এবং মেসওয়াক ও দাড়ির হেফাজত করা—তাদের মুক্তিপ্রাপ্ত দল হওয়ার মানদণ্ড হিসেবে গণ্য করে। কারণ (তাদের মতে) তারা নবী ও তাঁর সাহাবীগণ যা কিছুর ওপর ছিলেন তার ওপর প্রতিষ্ঠিত, পক্ষান্তরে অন্য সবার ঠিকানা হলো জাহান্নাম।

 

অথচ এরা ভুলে গেছে যে, এসব সুন্নাত বর্জন করা জাহান্নামে যাওয়ার কারণ হয় না, যার সপক্ষে অগণিত শরয়ি দলীল রয়েছে। তার মধ্যে একটি হলো ইমাম বুখারী ও মুসলিম কর্তৃক বর্ণিত হাদীস, যেখানে একজন গ্রাম্য ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এমন আমল সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন যা তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবে। তিনি বললেন: «তুমি আল্লাহর ইবাদত করবে এবং তাঁর সাথে কোনো কিছুকে শরিক করবে না, ফরজ নামাজ কায়েম করবে, নির্ধারিত জাকাত আদায় করবে এবং রমজানের রোজা রাখবে»। তখন ঐ ব্যক্তি বললেন: «যার হাতে আমার প্রাণ তাঁর কসম! আমি এর চেয়ে কিছুই বৃদ্ধি করব না এবং তা থেকে কিছুই কমাব না»। যখন লোকটি চলে গেল, তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: «যে ব্যক্তি জান্নাতী কোনো মানুষকে দেখে আনন্দিত হতে চায়, সে যেন এই লোকটিকে দেখে»।

 

আর তারা এটিও ভুলে গেছে যে, ইসলাম থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া যেসব দল বা উপদলের কথা বলা হয়েছে, তার দ্বারা উদ্দেশ্য হলো তারা যারা কুফরের দিকে ফিরে গেছে, যেমন বাহাই, কাদিয়ানী, নুসাইরি এবং ইসমাইলি সম্প্রদায়।
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাতুল মুফতারা আলাইহা (পৃষ্ঠা: ৩৪)
أما الفئات التي أخطأت بما لا يخرجها عن الإيمان مثل الخوراج والمعتزلة فلا يقال إنها ضمن أهل النار ومن ادَّعَى كفرها فقد تكلَّف بغير دليل من الشرع أو العقل (1)، وإنما يقال إنَّ أمرهم لا يخرج عن حكم العُصاة من المسلمين فهو متروك إلى الله إنْ شاء غفر وإنْ شاء عَذَّبَ. لقوله تعالى في سورة النساء: {إِنَّ اللَّهَ لَا يَغْفِرُ أَنْ يُشْرَكَ بِهِ وَيَغْفِرُ مَا دُونَ ذَلِكَ لِمَنْ يَشَاءُ} [النساء: 48 و 116] (1).

 

ومع هذا قال شيخ الإسلام أحمد بن تيمية: «من قال إن الثنتين وسبعين فرقة كل واحد منها يكفر كفراً ينقل عن الملة فقد خالف الكتاب والسُنَّة وإجماع الصحابة - رِضْوَانُ اللهِ عَلَيْهِمْ أَجْمَعِينَ -» (2).

 

وهذا الرأي محل نظر فقد قال الإمام إبراهيم بن موسى الشاطبي في كتابه " الاعتصام ": «إنَّ هذه الفرق تحتمل من جهة النظر أنْ يكونوا خارجين عن الملة بسبب ما أحدثوا فهم قد فارقوا أهل الإسلام بإطلاق وليس ذلك إلا الكفر … ويدل على هذا الاحتمال ظواهر من القرآن والسُنَّة كقول الله تعالى {إِنَّ الَّذِينَ فَرَّقُوا دِينَهُمْ وَكَانُوا شِيَعًا لَسْتَ مِنْهُمْ فِي شَيْءٍ} [الأنعام: 159]. ومن السُنَّة ذكر رواية للحديث نصها: «سَتَفْتَرِقُ أُمَّتِي عَلَى بِضْعٍ وَسَبْعِينَ فِرْقَةً أَعْظَمُهَا فِتْنَةً الذِينَ يَقِيسُونَ الأُمُورَ بِرَأْيهِمْ، فَيُحِلُّونَ الْحَرَامَ يُحَرِّمُونَ الحَلالَ» (3).

 

إنَّ هذا الحديث يؤكِّدُ ما تضمنته الطبعة الأولى والثانية من أنَّ الفرقة الناجية هو أهل القبلة فتشمل جميع طوائف المسلمين ويؤيِّدُ ذلك رواية ابن ماجه برقم 3992 وفيها: قِيلَ يَا رَسُولَ اللَّهِ مَنْ هُمْ؟ قَالَ: «الْجَمَاعَةُ». وقد رجحت ذلك لأنَّ بعض الأفراد والجماعات يشيعون أنهم الفرقة الموصوفة في الحديث وغيرهم في النار، وهذا كما قال الإمام محمد بن عبد الوهاب، من صفات الجاهلية وهو ادِّعاء كل طائفة حصر الحق فيها (4). وقد أبطل ابن تيمية هذا الرأي حيث ينبني عليه تكفير أهل البدع الذين هم من أهل الوعيد بمنزلة الفُساق والعُصاة (5) ويكون قول النبي صلى الله عليه وسلم «هُمْ فِي النَّارِ» أي مثل ما جاء في سائر الذنوب ولكن هذا لم يعجب أحد الدُعاة فاتَّهمنا بالجهل ومخالفة الإجماع وطلب الحجر علينا.

--------------------------------------------

(1) ورد هذا المعنى في " تلبيس إبليس " لابن الجوزي: ص 18.

(2) " مجموع الفتاوى ": ج 7 ص 218.

(3) " الاعتصام ": ج 4 ص 190.

(4) كتابه " مسائل الجاهلية ": ص 33.

(5) " مجموع الفتاوى ": ج 3 ص 346 وص 351.
পক্ষান্তরে সেই দলগুলো যারা এমন ভুল করেছে যা তাদের ঈমান থেকে বের করে দেয় না, যেমন খারেজি ও মুতাজিলা, তাদের সম্পর্কে বলা যাবে না যে তারা জাহান্নামীদের অন্তর্ভুক্ত। আর যারা তাদের কাফের হওয়ার দাবি করে, তারা শরিয়ত বা বুদ্ধিবৃত্তিক কোনো দলিল ছাড়াই অহেতুক কষ্টকল্পনা করেছে (১)। বরং এটাই বলা হবে যে, তাদের বিষয়টি মুসলিমদের মধ্যকার অবাধ্য বা গুনাহগারদের হুকুমের বাইরে নয়; সুতরাং তাদের বিষয়টি আল্লাহর ওপর ন্যস্ত, তিনি চাইলে ক্ষমা করবেন এবং চাইলে শাস্তি দেবেন। যেমনটি আল্লাহ তাআলা সূরা আন-নিসায় ইরশাদ করেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর সাথে শিরক করাকে ক্ষমা করেন না, এবং এ ছাড়া অন্য যা কিছু আছে তা যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন" [আন-নিসা: ৪৮ ও ১১৬] (১)।

 

এর সাথে শায়খুল ইসলাম আহমাদ ইবনে তাইমিয়্যাহ বলেছেন: «যে ব্যক্তি বলবে যে বাহাত্তরটি দলের প্রত্যেকটিই এমন কুফরে লিপ্ত যা তাকে ইসলাম থেকে বের করে দেয়, তবে সে কিতাব (কুরআন), সুন্নাহ এবং সাহাবীদের—তাদের সকলের ওপর আল্লাহ সন্তুষ্ট হোন—ঐকমত্যের (ইজমা) বিরোধিতা করল» (২)।

 

এই মতটি পর্যালোচনার অবকাশ রাখে। কেননা ইমাম ইব্রাহিম ইবনে মুসা আশ-শাতিবি তাঁর "আল-ইতিসাম" গ্রন্থে বলেছেন: «নিশ্চয়ই পর্যালোচনার দিক থেকে এই সম্ভাবনা রয়েছে যে, এই দলগুলো তাদের নব-উদ্ভাবিত বিষয়ের কারণে মিল্লাত বা ইসলাম থেকে বহিষ্কৃত। তারা তো সাধারণভাবে মুসলিমদের সঙ্গ ত্যাগ করেছে, আর এটি কুফর ছাড়া আর কিছু নয় … এবং কুরআন ও সুন্নাহর বাহ্যিক দলিলসমূহ এই সম্ভাবনার স্বপক্ষে প্রমাণ দেয়, যেমন আল্লাহর বাণী: {নিশ্চয়ই যারা তাদের দ্বীনকে খণ্ডবিখণ্ড করেছে এবং বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়েছে, তাদের সাথে আপনার কোনো সম্পর্ক নেই} [আল-আন-আম: ১৫৯]। এবং সুন্নাহ থেকে হাদীসের একটি বর্ণনা উল্লেখ করা হয়েছে যার পাঠ হলো: "আমার উম্মত সত্তরোর্ধ্ব দলে বিভক্ত হবে, তাদের মধ্যে সবচেয়ে বড় ফিতনা সৃষ্টিকারী তারা হবে যারা নিজেদের রায়ের (মতামত) ভিত্তিতে বিষয়গুলোকে তুলনা (কিয়াস) করবে, ফলে তারা হারামকে হালাল করবে এবং হালালকে হারাম করবে"» (৩)।

 

এই হাদীসটি প্রথম ও দ্বিতীয় সংস্করণে অন্তর্ভুক্ত এই বক্তব্যকে শক্তিশালী করে যে, নাজাতপ্রাপ্ত দল হলো আহলে কিবলা (কিবলার অনুসারী), ফলে এটি মুসলিমদের সকল উপদলকে অন্তর্ভুক্ত করে। ইবনে মাজাহ-এর ৩৯৯২ নম্বর বর্ণনাটি একে সমর্থন করে যেখানে আছে: জিজ্ঞাসা করা হলো, হে আল্লাহর রাসূল! তারা কারা? তিনি বললেন: «আল-জামাআহ (সংঘবদ্ধ সম্প্রদায়)»। আমি এই মতটিকে প্রাধান্য দিয়েছি কারণ কিছু ব্যক্তি ও দল প্রচার করে যে, হাদীসে বর্ণিত দলটি কেবল তারাই এবং অন্য সবাই জাহান্নামী। আর এটি ইমাম মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব যেমনটি বলেছেন, জাহেলিয়াতের একটি বৈশিষ্ট্য; আর তা হলো প্রত্যেক দলের দাবি করা যে সত্য কেবল তাদের মাঝেই সীমাবদ্ধ (৪)। ইবনে তাইমিয়্যাহ এই মতটিকে বাতিল করে দিয়েছেন, কেননা এর ওপর ভিত্তি করে বিদআতিদের কাফের সাব্যস্ত করা হয়, অথচ তারা শাস্তির হুমকির উপযুক্ত হওয়ার দিক থেকে ফাসেক ও গুনাহগারদের মর্যাদায় (৫)। আর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বাণী «তারা জাহান্নামে» এর অর্থ হলো যেমনটি অন্যান্য গুনাহের ক্ষেত্রে শাস্তির কথা এসেছে। কিন্তু এটি একজন দায়ীর পছন্দ হয়নি, ফলে তিনি আমাদের অজ্ঞতা ও ইজমার বিরোধিতার দায়ে অভিযুক্ত করেছেন এবং আমাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের দাবি জানিয়েছেন।

--------------------------------------------

(১) এই অর্থ ইবনে আল-জাওজির "তালবিসু ইবলিস" গ্রন্থে এসেছে: পৃ ১৮।

(২) "মাজমুউল ফাতাওয়া": খণ্ড ৭, পৃ ২১৮।

(৩) "আল-ইতিসাম": খণ্ড ৪, পৃ ১৯০।

(৪) তাঁর গ্রন্থ "মাসাইলুল জাহেলিয়্যাহ": পৃ ৩৩।

(৫) "মাজমুউল ফাতাওয়া": খণ্ড ৩, পৃ ৩৪৬ এবং পৃ ৩৫১।