(খণ্ড: ১) আলামুল মাদরাসাতিল হাদীসিয়াতিল বাগদাদিয়াতিল মুআসিরাহ (পৃষ্ঠা: -)
أعلام المدرسة الحديثية البغدادية المعاصرة   (عبد القادر المحمدي)

القسم: التراجم والطبقات


الكتاب: أعلام المدرسة الحديثية البغدادية المعاصرة - أصالة وإبداع

المؤلف: أبو ذر عبد القادر بن مصطفى بن عبد الرزاق المحمدي

الناشر: بحث مقدم في المؤتمر العلمي الثاني في جامعة الأنبار 12/جمادي الأول /1433هـ

عدد الصفحات: 33

[ترقيم الكتاب موافق لنسخة المؤلف]

تاريخ النشر بالشاملة: 29 جُمادَى الأولى 1433

সমকালীন বাগদাদী হাদিস শাস্ত্রীয় বিদ্যাপীঠের বরণীয় ব্যক্তিত্বগণ   (আবদুল কাদির আল-মুহাম্মাদী)

বিভাগ: জীবনী ও স্তরসমূহ


গ্রন্থ: সমকালীন বাগদাদী হাদিস শাস্ত্রীয় বিদ্যাপীঠের বরণীয় ব্যক্তিত্বগণ - মৌলিকতা ও সৃজনশীলতা

লেখক: আবু যার আবদুল কাদির বিন মুস্তফা বিন আবদুল রাজ্জাক আল-মুহাম্মাদী

প্রকাশক: আনবার বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় বৈজ্ঞানিক সম্মেলনে উপস্থাপিত গবেষণা ১২/জুমাদিউল আউয়াল /১৪৩৩ হিজরি

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৩

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর লেখকের মূল কপির অনুরূপ]

শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ২৯ জুমাদিউল আউয়াল ১৪৩৩

(খণ্ড: ১) আলামুল মাদরাসাতিল হাদীসিয়াতিল বাগদাদিয়াতিল মুআসিরাহ (পৃষ্ঠা: ১)
أعلام المدرسة الحديثية البغدادية المعاصرة

أصالة وابداع

 

بقلم

الأستاذ الدكتور

عبد القادر مصطفى المحمدي

الجامعة العراقية
সমসাময়িক বাগদাদী হাদিস ধারার বরেণ্য ব্যক্তিত্বগণ

মৌলিকত্ব ও সৃজনশীলতা

 

রচনায়

প্রফেসর ডক্টর

আব্দুল কাদির মুস্তাফা আল-মুহাম্মাদী

আল-ইরাকিয়া বিশ্ববিদ্যালয়
(খণ্ড: ১) আলামুল মাদরাসাতিল হাদীসিয়াতিল বাগদাদিয়াতিল মুআসিরাহ (পৃষ্ঠা: ২)
‌‌توطئة

إنّ الحمد لله، نحمده ونستعينه، من يهده الله فلا مضلَّ له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلاّ الله وحده لا شريك له، وأنّ محمداً عبده ورسوله، أما بعد:

فمن المعلوم أنّ مدينة السلام (بغداد) كان لها الدور الأكبر في نشر العلوم والثقافة في العالم، قال الخطيب البغدادي وهو يصف أقاليم الأرض،"العراق سرة الدنيا .. وفيه بغداد صفوة الأرض ووسطها" (1).

وروى الخطيب بسنده عن يونس بن عبد الأعلى، قال: قال لي محمد بن إدريس: يا يونس دخلت بغداد؟ قلت: لا. قال: يا يونس ما رأيت الدنيا، ولا رأيت الناس." (2).

وقد برع فيها أهل اللغة، والأدب، والفقه، والسياسة، والرياضيات، والفلك، والطب، الخ ....

ونال فيها علم الحديث النبوي -رواية ودراية- الحظ الأفر، فظهر فيها علماء أفذاذ، حفظة ونقدة، حفظوا سنة نبيهم من الدخلة والمنتحلين والباطنيين، فغربلوا الرويات، وميزوا الصحيح من السقيم، فكان الناس عيال على أهل العراق عامة في التفتيش عن الأسانيد والتنقيب عن الرواة، وقد نصَّ يحيى القطان أنّ عامر الشعبي الكوفي ت (103هـ) هو أوّل من فتش عن الرجال (3).وكذا الإمام محمد بن سيرين البصري ت (110هـ)،وشعبة بن الحجاج الواسطي ت (160هـ) (4)، وسفيان الثوري الكوفي ت (161هـ)،ويحيى بن سعيد القطان البصري ت (198هـ)،وعبد الله بن المبارك البصري ت (198هـ)، وعلى بن المديني الكوفي ت (234هـ)،ودرّة العراق محمد بن عبد الله بن نمير (234هـ).

أما البغاددة: فمن أجلتهم: أحمد بن نصر الخزاعي البغدادي، المصلوب ت (231هـ)،ويحيى بن معين البغدادي ت (233هـ)،وأحمد بن حنبل البغدادي (241هـ)، وأحمد بن منصور الرمادي البغدادي ت (265هـ)،وصالح بن محمد (جزرة) البغدادي ت (293هـ) وعباس بن محمد الدوري البغدادي

--------------------------------------------

(1) تاريخ بغداد 1/ 320 بتصرف يسير.

(2) تاريخ بغداد 1/ 347.ونقل مثله عن شعبة 1/ 346.

(3) ذكر من يعتمد قوله في الجرح والتعديل ص172.

(4) قال ابن حبان في الثقات 6/ 446:" هو أوّل من فتش بالعراق عن أمر المحدثين وجانب الضعفاء والمتروكين حتى صار علما يقتدى به ثم تبعه عليه بعده أهل العراق". وأصل القول هو لصالح جزرة ينظر مقدمة ابن الصلاح ص338.
ভূমিকা

নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি এবং তাঁরই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি। যাকে আল্লাহ হেদায়েত দান করেন তাকে বিভ্রান্ত করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, এক আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য উপাস্য নেই, তাঁর কোনো শরিক নেই এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসূল। অতঃপর:

এটি সুপরিচিত যে, শান্তি নগরী (বাগদাদ) বিশ্বে বিজ্ঞান ও সংস্কৃতির প্রসারে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করেছিল। খতীব আল-বাগদাদী পৃথিবীর অঞ্চলসমূহের বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেছেন, "ইরাক হলো পৃথিবীর নাভি... আর তাতে রয়েছে বাগদাদ, যা পৃথিবীর সারবস্তু ও কেন্দ্র।" (১)।

খতীব তাঁর নিজস্ব সনদে ইউনুস ইবনে আবদিল আলা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনে ইদ্রিস (ইমাম শাফেয়ী) আমাকে বললেন: হে ইউনুস, তুমি কি বাগদাদে প্রবেশ করেছ? আমি বললাম: না। তিনি বললেন: হে ইউনুস, তুমি পৃথিবী দেখোনি এবং মানুষকেও (প্রকৃতপক্ষে) দেখোনি।" (২)।

সেখানে ভাষা, সাহিত্য, ফিকহ (আইনশাস্ত্র), রাজনীতি, গণিত, জ্যোতির্বিদ্যা, চিকিৎসা বিজ্ঞান ইত্যাদির বিশেষজ্ঞরা পারদর্শিতা অর্জন করেছিলেন।

সেখানে নববী হাদীস শাস্ত্র—বর্ণনা ও বিশ্লেষণ উভয় দিক থেকেই—সর্বাধিক অংশ লাভ করেছিল। ফলে সেখানে অনন্য প্রতিভাশীল আলেম, হাফেজ ও সমালোচকদের আবির্ভাব ঘটে, যারা তাদের নবীর সুন্নাহকে বহিরাগতদের অনুপ্রবেশ, অপব্যাখ্যাকারী এবং বাতেনীদের হাত থেকে রক্ষা করেছেন। তাঁরা বর্ণনাগুলোকে যাচাই-বাছাই করেছেন এবং ত্রুটিপূর্ণ বর্ণনা থেকে বিশুদ্ধ বর্ণনাকে পৃথক করেছেন। ফলে মানুষ সাধারণত সনদ অনুসন্ধান এবং বর্ণনাকারীদের তথ্য তালাশ করার ক্ষেত্রে সামগ্রিকভাবে ইরাকবাসীদের মুখাপেক্ষী ছিল। ইয়াহইয়া আল-কাত্তান উল্লেখ করেছেন যে, কূফার আমের আশ-শা'বী (মৃ. ১০৩ হি.) হলেন সর্বপ্রথম ব্যক্তি যিনি বর্ণনাকারীদের সম্পর্কে অনুসন্ধান শুরু করেন (৩)। অনুরূপভাবে বসরার ইমাম মুহাম্মদ ইবনে সীরীন (মৃ. ১১০ হি.), ওয়াসিতের শু'বাহ ইবনুল হাজ্জাজ (মৃ. ১৬০ হি.) (৪), কূফার সুফিয়ান আস-সাওরী (মৃ. ১৬১ হি.), বসরার ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আল-কাত্তান (মৃ. ১৯৮ হি.), বসরার আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারক (মৃ. ১৯৮ হি.), কূফার আলী ইবনুল মাদীনী (মৃ. ২৩৪ হি.) এবং ইরাকের মুক্তা স্বরূপ মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে নুমায়র (মৃ. ২৩৪ হি.)।

আর বাগদাদীদের মধ্যে বিশিষ্ট ব্যক্তিগণ হলেন: আহমাদ ইবনে নাসর আল-খুযাঈ আল-বাগদাদী, যাঁকে ক্রুশবিদ্ধ করা হয়েছিল (মৃ. ২৩১ হি.), ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন আল-বাগদাদী (মৃ. ২৩৩ হি.), আহমাদ ইবনে হাম্বল আল-বাগদাদী (মৃ. ২৪১ হি.), আহমাদ ইবনে মানসুর আল-রামাদী আল-বাগদাদী (মৃ. ২৬৫ হি.), সালিহ ইবনে মুহাম্মদ (যিনি জাযারাহ নামে পরিচিত) আল-বাগদাদী (মৃ. ২৯৩ হি.) এবং আব্বাস ইবনে মুহাম্মদ আদ-দুরী আল-বাগদাদী।

--------------------------------------------

(১) তারিখ বাগদাদ ১/ ৩২০ সামান্য পরিমার্জনসহ।

(২) তারিখ বাগদাদ ১/ ৩৪৭। অনুরূপ বর্ণনা শু'বাহ থেকেও ১/ ৩৪৬-এ বর্ণিত হয়েছে।

(৩) যিকর মান ইউ'তামাদু কাওলাহু ফিল জারহি ওয়াত তা'দীল, পৃষ্ঠা ১৭২।

(৪) ইবনে হিব্বান আস-সিকাত গ্রন্থে (৬/৪৪৬) বলেছেন: "তিনিই প্রথম ব্যক্তি যিনি ইরাকে মুহাদ্দিসদের অবস্থা সম্পর্কে অনুসন্ধান শুরু করেন এবং দুর্বল ও পরিত্যক্ত বর্ণনাকারীদের বর্জন করেন, এমনকি এটি একটি অনুসৃত আদর্শে পরিণত হয় এবং পরবর্তীতে ইরাকবাসীরা তাঁর অনুসরণ করেন"। এই উক্তিটির মূল সূত্র হলো সালিহ জাযারাহ, দেখুন: মুকাদ্দিমাহ ইবনে আস-সালাহ, পৃষ্ঠা ৩৩৮।
(খণ্ড: ১) আলামুল মাদরাসাতিল হাদীসিয়াতিল বাগদাদিয়াতিল মুআসিরাহ (পৃষ্ঠা: ৩)
ت (371هـ)،والحافظ علي بن عمر الدارقطني البغدادي ت (385هـ)،والخطيب البغدادي ت (463هـ)،وغيرهم خلق كثير.

فكانت بغداد مستقر العلماء، وموطن الصالحين والأولياء، وحسب بغداد أن أخرجت لنا إمام الزهد والعلم والورع في زمانه، أحمد بن حنبل، وإمام الجرح والتعديل يحيى بن معين، وإمام التزكية والورع بشر بن الحارث الحافي رحمهم الله جميعاً، وغيرهما كثير.

فكان لزاما ً على العلم أنْ يدخل بغداد وينهل من علمائها، ويدرس في حلقاتها، ويعرض علمه بين يدي أجلة العلماء كيما يثق الناس بعلمه، ويتلقاه الناس بالقبول.

قال الحسن بن عرفة:" من لم يوثقه أهل بغداد فقد سقط، هم جهابذة العلم" (1).

قال الخطيب معقباً:" فأهل بغداد موصوفون بحسن المعرفة والتثبت في أخذ الحديث وآدابه وشدة الورع في روايته، اشتهر ذلك عنهم وعرفوا به" (2).

وكنت أحبّ أن أترجم -في هذا المؤتمر المبارك- لأعلام بغداد من المحدثين المتقدمين كالإمام ابن معين واحمد … رحمهما الله تعالى بيدأن هذا المحور-في المؤتمر- يلزمنا بالمعاصرين، وهي خطوة ممتازة يحتاجها طلبة العلم، وهو منهج أئمة التراجم والسير فهم يؤرخون لأعلام زمانهم، وغالبا ما يترجمون لأنفسهم، ومن هذا المنطلق آثرت أن أترجم لأشهر أعلام المدرسة الحديثية البغدادية من المعاصرين، ولضيق الوقت قصرت على أهم ثلاثة من هؤلاء الاعلام فابتدأت بشيخ مشايخنا العلامة عبد الكريم أبي الصاعقة رحمه الله، ثم ثنيت بشيخنا صبحي السامرائي، وختمت باستاذنا المحقق الدكتور بشار عواد معروف.

ومما يعرفه أهل التراجم والسير أنّ ترجمة الأعلام المعاصرة تعتمد على كتب التراجم وعلى المشافهات إن أمكن، لذا اعتمدت في ترجمة شيخ مشايخنا العلامة عبد الكريم أبي الصاعقة البغدادي على ما سمعته من سيرته من تلميذه النجيب شيخنا المحقق صبحي السامرائي، ومن تلميذه الشيخ ابراهيم منير المدرس، وعلى كتاب (تاريخ علماء بغداد في القرن الرابع عشر الهجري) لأستاذنا يونس ابراهيم السامرائي رحمه الله-وهو أول من ترجم له على حد علمي، ثم على ما وجدته في بعض المقالات التي نشرت على الساحة العنكبوتية

--------------------------------------------

(1) تاريخ بغداد 1/ 345.

(2) المصدر نفسه.
(মৃত্যু ৩৭১ হি.), হাফিজ আলী বিন উমর আদ-দারাকুতনী আল-বাগদাদী (মৃত্যু ৩৮৫ হি.), আল-খতিব আল-বাগদাদী (মৃত্যু ৪৬৩ হি.) এবং আরও অনেকে।

বাগদাদ ছিল উলামাদের আবাসস্থল এবং নেককার ও ওলিদের স্বদেশ। বাগদাদের জন্য এটাই যথেষ্ট যে, তা আমাদের জন্য তাঁর সময়ের যুহদ, ইলম এবং তাকওয়ার ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল, জারহ ও তা'দিলের ইমাম ইয়াহইয়া বিন মাঈন এবং আত্মশুদ্ধি ও তাকওয়ার ইমাম বিশর বিন হারিস আল-হাফীকে (আল্লাহ তাঁদের সকলের ওপর রহম করুন) উপহার দিয়েছে এবং তাঁদের মতো আরও অনেককে।

ফলে ইলম অন্বেষণকারীর জন্য বাগদাদে প্রবেশ করা, সেখানকার উলামাদের থেকে ইলম অর্জন করা, সেখানকার ইলমি হালকাসমূহে অধ্যয়ন করা এবং শ্রেষ্ঠ উলামাদের সামনে নিজের ইলম পেশ করা আবশ্যক হয়ে পড়েছিল, যাতে মানুষ তাঁর ইলমের ওপর আস্থা রাখতে পারে এবং মানুষ তা কবুল করে নেয়।

হাসান বিন আরাফাহ বলেন: "যাকে বাগদাদবাসীরা নির্ভরযোগ্য বলেনি সে প্রত্যাখ্যাত হয়েছে; তাঁরা হলেন ইলমের প্রাজ্ঞ বিশারদ" (১)।

আল-খতিব মন্তব্য করে বলেন: "বাগদাদবাসীরা প্রাজ্ঞতা, হাদিস গ্রহণ ও তার আদবসমূহের ব্যাপারে সতর্কতা এবং হাদিস বর্ণনার ক্ষেত্রে কঠোর তাকওয়ার গুণের জন্য সুপরিচিত ছিলেন, এটি তাঁদের পক্ষ থেকে প্রসিদ্ধি লাভ করেছে এবং তাঁরা এর মাধ্যমেই পরিচিত হয়েছেন" (২)।

আমি চেয়েছিলাম—এই বরকতময় সম্মেলনে—বাগদাদের পূর্ববর্তী মুহাদ্দিসগণ যেমন ইমাম ইবনে মাঈন এবং আহমাদ … (আল্লাহ তাঁদের উভয়ের ওপর রহম করুন) সম্পর্কে জীবনী লিখতে, কিন্তু সম্মেলনের এই বিষয়টি আমাদের সমসাময়িকদের জীবনী আলোচনায় সীমাবদ্ধ করে দিয়েছে। এটি একটি চমৎকার পদক্ষেপ যা ইলম অন্বেষীদের প্রয়োজন। এটিই জীবনী ও ইতিহাস লেখকদের মানহাজ; তাঁরা তাঁদের সময়ের শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিদের ইতিহাস লিপিবদ্ধ করেন এবং প্রায়শই তাঁরা নিজেদের জীবনীও লিখে থাকেন। এই দৃষ্টিকোণ থেকে আমি সমসাময়িক বাগদাদী হাদিস ধারার প্রসিদ্ধ ব্যক্তিবর্গের জীবনী লিখতে অগ্রাধিকার দিয়েছি। সময়ের স্বল্পতার কারণে আমি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তিনজনের ওপর সীমাবদ্ধ থেকেছি। আমি আমাদের শাইখদের শাইখ আল্লামা আব্দুল করিম আবিস সা-ইকাহ (রহিমাহুল্লাহ)-কে দিয়ে শুরু করেছি, এরপর আমাদের শাইখ মুহাক্কিক সুবহি আস-সামাররাঈ-এর কথা এবং শেষে আমাদের উস্তায মুহাক্কিক ডক্টর বাশার আওয়াদ মারুফ সম্পর্কে লিখেছি।

জীবনীকার ও ইতিহাসবিদগণ জানেন যে, সমসাময়িক ব্যক্তিদের জীবনী রচনার ক্ষেত্রে জীবনীগ্রন্থসমূহ এবং সম্ভব হলে সরাসরি মৌখিক শ্রবণের ওপর নির্ভর করা হয়। তাই আমাদের শাইখদের শাইখ আল্লামা আব্দুল করিম আবিস সা-ইকাহ আল-বাগদাদীর জীবনী রচনায় আমি তাঁর যোগ্য ছাত্র আমাদের শাইখ মুহাক্কিক সুবহি আস-সামাররাঈ এবং তাঁর ছাত্র শাইখ ইবরাহিম মুনীর আল-মুদাররিসের নিকট থেকে তাঁর জীবন সম্পর্কে যা শুনেছি তার ওপর নির্ভর করেছি। এছাড়া আমাদের উস্তায ইউনুস ইবরাহিম আস-সামাররাঈ (রহিমাহুল্লাহ) রচিত ‘তারিখ উলামায়ে বাগদাদ ফিল কারনিল রবি আশারা আল-হিজরি’ (হিজরি চতুর্দশ শতাব্দীতে বাগদাদের উলামাদের ইতিহাস) গ্রন্থের ওপর নির্ভর করেছি—আমার জানামতে তিনিই প্রথম তাঁর জীবনী লিখেছেন। অতঃপর ইন্টারনেট জগতে প্রকাশিত কিছু প্রবন্ধের ওপর নির্ভর করেছি।

--------------------------------------------

(১) তারিখে বাগদাদ ১/ ৩৪৫।

(২) একই উৎস।
(খণ্ড: ১) আলামুল মাদরাসাতিল হাদীসিয়াতিল বাগদাদিয়াতিল মুআসিরাহ (পৃষ্ঠা: ৪)
وأفضلها كتاب (نعمة المنان) للشيخ محمد غازي البغدادي، وهو ثبت شيخنا العلامة صبحي السامرائي البغدادي، كون المترجِم لم يدرك عصره.

وأما في ترجمة شيخنا ومجيزنا العلامة السيد صبحي السامرائي البغدادي فقد اعتمدنا أولا على مجلسه في بغداد، ومشاهداتنا في تلك المجالس، وعلى ما سمعناه بعد من أصدقائه وطلابه، وكذا على ما خطه يراع الأخ الشيخ محمد غازي في (نعمة المنان)،ثم ارسلت له هذا الملخص وأقره حفظه الله تعالى.

وفي ترجمة استاذنا ومجيزنا العلامة النقاد بشار عواد معروف العبيدي البغدادي، فقد اعتمدنا على سماعنا منه أولاً، ثم أتصلت به في عمّان أرسلت له الترجمة فأقرها ومهرها بمهره.

وأخيراً أقول: هذا جهد المقل، وبضاعة مزجاة، أسأل الله تعالى أن نكون قد وفقنا في سير هؤلاء الجهابذ، رحم الله مشياخنا وأجزل لهم العطاء في الدارين.

والحمد لله رب العالمين
এবং এগুলোর মধ্যে শ্রেষ্ঠ হলো শেখ মুহাম্মদ গাজী আল-বাগদাদির ‘নিমাতুল মান্নান’ কিতাবটি; এটি আমাদের শায়খ আল্লামা সুবহি আস-সামাররায়ি আল-বাগদাদির একটি সাবাত (সনদ সংকলন), যেহেতু জীবনীকার তাঁর সমকাল পাননি।

আর আমাদের শায়খ ও ইজাজত প্রদানকারী আল্লামা আস-সাইয়্যিদ সুবহি আস-সামাররায়ি আল-বাগদাদির জীবনীর ক্ষেত্রে আমরা প্রথমত বাগদাদে তাঁর মজলিস এবং সেই মজলিসগুলোতে আমাদের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতার ওপর নির্ভর করেছি; আরও নির্ভর করেছি পরবর্তীতে তাঁর বন্ধু ও ছাত্রদের থেকে যা শুনেছি এবং ভাই শেখ মুহাম্মদ গাজীর কলমে ‘নিমাতুল মান্নান’-এ যা লিখিত হয়েছে তার ওপর। অতঃপর আমি তাঁর নিকট এই সারসংক্ষেপটি প্রেরণ করি এবং তিনি—আল্লাহ তাআলা তাঁকে হেফাজত করুন—তা অনুমোদন করেন।

আমাদের উস্তাদ ও ইজাজত প্রদানকারী আল্লামা সমালোচক বাশার আওয়াদ মারুফ আল-উবায়দি আল-বাগদাদির জীবনীর বর্ণনায় আমরা প্রথমত সরাসরি তাঁর থেকে যা শুনেছি তার ওপর নির্ভর করেছি। অতঃপর আম্মানে আমি তাঁর সাথে যোগাযোগ করে তাঁর নিকট জীবনীটি পাঠালে তিনি সেটি অনুমোদন করেন এবং তাঁর সিলমোহর দ্বারা তা সত্যায়িত করেন।

পরিশেষে আমি বলছি: এটি এক নগণ্য সামর্থ্যের প্রচেষ্টা এবং অতি সামান্য পুঁজি। আমি আল্লাহ তাআলার কাছে প্রার্থনা করি যে, তিনি যেন আমাদের এই প্রাজ্ঞ মনীষীদের জীবন চরিত তুলে ধরার ক্ষেত্রে আমাদের তাওফিক দান করে থাকেন। আল্লাহ আমাদের শায়খদের প্রতি রহম করুন এবং উভয় জগতে তাঁদেরকে পরিপূর্ণ প্রতিদান দান করুন।

সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।
(খণ্ড: ১) আলামুল মাদরাসাতিল হাদীসিয়াতিল বাগদাদিয়াতিল মুআসিরাহ (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌المبحث الأول

ترجمة الشيخ العلامة عبد الكريم صاعقة -رحمه الله تعالى
-

‌‌أولاً: الأسرة والمولد:

عبد الكريم بن السيد عباس آل الوزير، اليماني، البغدادي، العلامة، الشَّيخ الفطن الأريب ذو السمت البَهي والذكاء، والأَدب الظَّاهر، والحفظ الباهر، والفطنة النقادة، والقريحة المنقادة، رحمه الله تعالى.

ولادته: ولد الشيخ رحمه الله تعالى ببغداد، بمحلة باب الأزج "باب الشيخ" حالياً سنة: 1285هـ-1867م. (1).

نسبه: الحسني الشيخلي الأزجي، أصله يماني (2).

لقبه: أبو الصاعقة. وقيل: لقب به نسبة الى مجلته (الصاعقة) (3).

عائلته: نزحت عائلة الشيخ رحمه الله وهي من الأشراف الحسنية من اليمن قبل قرنين من الزمن إلى حماة، ومن ثمَّ استقرت في بغداد (4).

ووالد: الحاج السيد عباس الشيخلي من أعيان بغداد، وهو تاجر سجاد (5) معروف وله مجلس أدب يحضره أكابر علماء بغداد وأعيانها.

 

‌‌ثانياً: نشأته: كان الشيخ رحمه الله وحيد والده (6)،لذا أولاه والده عناية مميزة، إذ طاف به على علماء بغداد وقتئذٍ، فترعرع بين كتاتيب بغداد إلتزم بداية حياته العلمية حلقة ومجلس علامة بغداد حينها (نعمان خير الدين الآلوسي) فتعلم القراءة والكتابة والخط وتلاوة القرآن الكريم (7).

--------------------------------------------

(1) تاريخ علماء بغداد في القرن الرابع عشر الهجري، د. يونس السامرائي ص437،ونعمة المنان ثبت شيخنا صبحي السامرائي، تأليف محمد غازي البغدادي ص22،وعلامة العراق عبد الكريم الصاعقة سيرة ودعوة، مرشد الحياني، مقال منشور على موقع معهد القراءات القرانية، ص1.

(2) تاريخ علماء بغداد ص437،ونعمة المنان ص22،وعلامة العراق عبد الكريم الصاعقة ص1.

(3) تاريخ علماء بغداد ص437.

(4) تاريخ علماء بغداد ص437،ونعمة المنان ص22،وعلامة العراق ص1.

(5) أهل العراق يسمونها بلهجتهم: (زوالي).

(6) نعمة المنان ص23.

(7) تاريخ علماء بغداد ص437.
প্রথম পরিচ্ছেদ

আল্লামা শাইখ আব্দুল কারীম সায়িকা -রাহিমাহুল্লাহু তাআলা- এর জীবনী
-

প্রথমত: পরিবার ও জন্ম:

আব্দুল কারীম ইবন আস-সাইয়্যিদ আব্বাস আল-ওয়াজির, ইয়ামানি, বাগদাদি; তিনি ছিলেন আল্লামা, অত্যন্ত তীক্ষ্ণধী ও বিচক্ষণ শাইখ, চমৎকার অবয়ব ও মেধার অধিকারী, সুপ্রসিদ্ধ শিষ্টাচার ও প্রখর স্মরণশক্তির অধিকারী, অত্যন্ত সূক্ষ্মদর্শী এবং তুখোড় ধীশক্তি সম্পন্ন ব্যক্তিত্ব, আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন।

জন্ম: শাইখ রাহিমাহুল্লাহু তাআলা ১২৮৫ হিজরি মোতাবেক ১৮৬৭ খ্রিস্টাব্দে বাগদাদের বাবুয আজাজ মহল্লায় (বর্তমানে যা ‘বাবুশ শাইখ’ নামে পরিচিত) জন্মগ্রহণ করেন। (১)।

বংশপরিচয়: হাসানি শাইখলি আজজি, তাঁর আদি নিবাস ছিল ইয়ামান (২)।

উপাধি: আবুস সায়িকা। বলা হয়ে থাকে যে, তাঁর সম্পাদিত পত্রিকা (আস-সায়িকা) এর নামানুসারে তাঁকে এই উপাধি দেওয়া হয়েছিল (৩)।

তাঁর পরিবার: শাইখ (রাহিমাহুল্লাহ)-এর পরিবার হাসানি আশরাফ বংশোদ্ভূত; তারা দুই শতাব্দী আগে ইয়ামান থেকে হামাহ্-তে হিজরত করেছিলেন এবং পরবর্তীতে বাগদাদে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন (৪)।

পিতা: আল-হাজ সাইয়্যিদ আব্বাস শাইখলি ছিলেন বাগদাদের অন্যতম গণ্যমান্য ব্যক্তিত্ব। তিনি একজন প্রসিদ্ধ কার্পেট ব্যবসায়ী (৫) ছিলেন এবং তাঁর একটি সাহিত্য মজলিস ছিল যেখানে বাগদাদের বড় বড় আলেম ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত হতেন।

 

দ্বিতীয়ত: তাঁর বেড়ে ওঠা: শাইখ (রাহিমাহুল্লাহ) ছিলেন তাঁর পিতার একমাত্র সন্তান (৬), তাই তাঁর পিতা তাঁকে বিশেষ যত্ন সহকারে বড় করেন। সেই সুবাদে তিনি তাঁকে তৎকালীন বাগদাদের আলেমদের কাছে নিয়ে যেতেন। ফলে তিনি বাগদাদের মক্তবগুলোতে বেড়ে ওঠেন। তাঁর ইলমি জীবনের শুরুতে তিনি তৎকালীন বাগদাদের আল্লামা (নুমান খাইরুদ্দিন আল-আলুসি)-র ইলমি হালকা ও মজলিসের সাথে যুক্ত হন; সেখানেই তিনি পড়তে, লিখতে, ক্যালিগ্রাফি এবং পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত শিখেন (৭)।

--------------------------------------------

(১) চতুর্দশ হিজরি শতাব্দীর বাগদাদের আলেমদের ইতিহাস, ড. ইউনুস আস-সামাররায়ি, পৃষ্ঠা ৪৩৭; এবং নে’মাতুল মান্নান সাবাতু শাইখিনা সুবজি আস-সামাররায়ি, গ্রন্থনায়: মুহাম্মদ গাজি আল-বাগদাদি, পৃষ্ঠা ২২; এবং আল্লামাতুল ইরাক আব্দুল কারীম আস-সায়িকা: সীরাত ও দাওয়াত, মুর্শিদ আল-হাইয়ানি, কুরআন তিলাওয়াত ইনস্টিটিউটের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত নিবন্ধ, পৃষ্ঠা ১।

(২) তারিখে উলামায়ে বাগদাদ, পৃষ্ঠা ৪৩৭; নে’মাতুল মান্নান, পৃষ্ঠা ২২; এবং আল্লামাতুল ইরাক আব্দুল কারীম আস-সায়িকা, পৃষ্ঠা ১।

(৩) তারিখে উলামায়ে বাগদাদ, পৃষ্ঠা ৪৩৭।

(৪) তারিখে উলামায়ে বাগদাদ, পৃষ্ঠা ৪৩৭; নে’মাতুল মান্নান, পৃষ্ঠা ২২; এবং আল্লামাতুল ইরাক, পৃষ্ঠা ১।

(৫) ইরাকবাসীরা তাদের আঞ্চলিক ভাষায় একে (জাওয়ালি) বলে থাকে।

(৬) নে’মাতুল মান্নান, পৃষ্ঠা ২৩।

(৭) তারিখে উলামায়ে বাগদাদ, পৃষ্ঠা ৪৩৭।
(খণ্ড: ১) আলামুল মাদরাসাতিল হাদীসিয়াতিল বাগদাদিয়াতিল মুআসিরাহ (পৃষ্ঠা: ৬)
‌‌ثالثاً: مذهبه الفقهي:

ابتدأ الشيخ كغيره من طلبة العلم آنذاك حياته العلمية من الحلقات العلمية في المساجد، فأخذه أبوه إلى علامة بغداد ومحدثها الشيخ الفقيه نعمان أفندي ابن أبي الثناء الآلوسي المفسر، في مدرسة الشيخ عبد القادر الجيلي رحمه الله تعالى، وهو حنفي المذهب فتتلمذ الشيخ الصاعقة على يديه ونهل من معينه الصافي، فجمع له من شيخه الألوسي، سلامة المعتقد، وفقه وأصوله وعلم حديث، "كان يستظهر الكتب الستة سنداً ومتناً، وله مؤلفات تدل على غزارة علمه وصحة عقيدته لا يزال أكثرها مخطوطاً معرضاً للتلف أو السرقة " (1).

أما عن مذهبه الفقهي فلم أقف عليه، فلعله كان على طريقة ابن تيمية رحمه الله، ومن قبله من أهل الحديث، فهو كان متأثرا جداً بشيخ الاسلام، علما أنه كان يبجل أئمة المذاهب مالك وأبي حنيفة والشافعي وأحمد، بيد أنه كان يولي مذهب الشافعي اهتماماً خاصاً فكان"يعجبه علم الشافعي ودقة استنباطه المسائل" (2)

 

‌‌رابعاً: شيوخه، وتلامذته:

حضى الشيخ عبد الكريم رحمه الله تعالى بجلة من علماء العراق يندر أن يجتمع لأحد في العراق في زمانه وبعده إلى يوم الناس، فمن أجلهم (3):

1 - الشيخ شاكر ابن أبي الثناء محمود أفندي الآلوسي.

2 - علامة العراق الأديب العلامة السيد محمود شكري الآلوسي (ت 1342هـ).

3 - الشيخ الفقيه نعمان أفندي بن أبي الثناء الآلوسي المفسر (ت 1371هـ).

4 - الشيخ محمد بن أحمد العسافي النجدي البغدادي.

--------------------------------------------

(1) نعمة المنان ص 24.

(2) تاريخ علماء بغداد ص439 … .

(3) ينظر: تاريخ علماء بغداد ص437 - 438،ونعمة المنان ص23،وعلاّمة العراق ص18.
তৃতীয়ত: তাঁর ফিকহি মাযহাব:

শাইখ সেই সময়ের অন্যান্য ইলম অন্বেষণকারীদের মতোই মাসজিদের ইলমি হালকাগুলো থেকে তাঁর ইলমি জীবন শুরু করেছিলেন। তাঁর পিতা তাঁকে বাগদাদের আল্লামা ও মুহাদ্দিস ফকিহ শাইখ নুমান আফান্দি ইবনে আবিল সানা আল-আলুসি মুফাসসিরের কাছে নিয়ে যান, যিনি শাইখ আব্দুল কাদির জিলানি (রাহিমাহুল্লাহু তাআলা)-এর মাদরাসায় নিয়োজিত ছিলেন। তিনি হানাফি মাযহাবের অনুসারী ছিলেন। ফলে শাইখ 'আস-সায়িকাহ' তাঁর নিকট শিক্ষা গ্রহণ করেন এবং তাঁর স্বচ্ছ জ্ঞানের ঝরনাধারা হতে পান করেন। তিনি তাঁর শাইখ আল-আলুসির নিকট থেকে বিশুদ্ধ আকিদাহ, ফিকহ ও উসুল এবং হাদিস শাস্ত্রের জ্ঞান অর্জন করেন। "তিনি কুতুবে সিত্তাহর সনদ ও মতন (মূল পাঠ) মুখস্থ রাখতেন। তাঁর এমন সব রচনা রয়েছে যা তাঁর জ্ঞানের গভীরতা ও আকিদাহর বিশুদ্ধতা প্রমাণ করে, যার অধিকাংশই এখনো পাণ্ডুলিপি অবস্থায় নষ্ট হয়ে যাওয়ার বা চুরির ঝুঁকিতে রয়েছে" (১)।

তাঁর ফিকহি মাযহাব সম্পর্কে আমি নিশ্চিত হতে পারিনি। সম্ভবত তিনি ইবনে তাইমিয়াহ (রাহিমাহুল্লাহ) এবং তাঁর পূর্ববর্তী আহলে হাদিসদের পদ্ধতিতে ছিলেন। তিনি শাইখুল ইসলাম দ্বারা অত্যন্ত প্রভাবিত ছিলেন। উল্লেখ্য যে, তিনি মাযহাবের ইমাম মালিক, আবু হানিফা, শাফেয়ি ও আহমাদকে অত্যন্ত শ্রদ্ধা করতেন, তবে তিনি শাফেয়ি মাযহাবের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিতেন। "শাফেয়ির ইলম এবং মাসআলা ইস্তিম্বাত বা উদ্ঘাটনের সূক্ষ্মতা তাঁকে মুগ্ধ করত" (২)

 

চতুর্থত: তাঁর শায়খ ও ছাত্রবৃন্দ:

শাইখ আব্দুল কারিম (রাহিমাহুল্লাহু তাআলা) ইরাকের এমন একদল শ্রেষ্ঠ উলামায়ে কিরামের সান্নিধ্য পেয়েছিলেন, যা তাঁর সময়ে এবং পরবর্তী সময়ে বর্তমান কাল পর্যন্ত ইরাকে অন্য কারো জন্য খুব কমই একত্রিত হয়েছে। তাঁদের মধ্যে প্রধানগণ হলেন (৩):

১ - শাইখ শাকির ইবনে আবিল সানা মাহমুদ আফান্দি আল-আলুসি।

২ - ইরাকের আল্লামা, সাহিত্যিক আল্লামা আস-সাইয়িদ মাহমুদ শুকরি আল-আলুসি (মৃত ১৩৪২ হিজরি)।

৩ - ফকিহ শাইখ নুমান আফান্দি বিন আবিল সানা আল-আলুসি মুফাসসির (মৃত ১৩৭১ হিজরি)।

৪ - শাইখ মুহাম্মাদ বিন আহমাদ আল-আসসাফি আন-নাজদি আল-বাগদাদি।

--------------------------------------------

(১) নিমাতুল মান্নান, পৃষ্ঠা ২৪।

(২) তারিখু উলামাই বাগদাদ, পৃষ্ঠা ৪৩৯ ... ।

(৩) দ্রষ্টব্য: তারিখু উলামাই বাগদাদ, পৃষ্ঠা ৪৩৭-৪৩৮, এবং নিমাতুল মান্নান পৃষ্ঠা ২৩, এবং আল্লামাতুল ইরাক পৃষ্ঠা ১৮।
(খণ্ড: ১) আলামুল মাদরাসাতিল হাদীসিয়াতিল বাগদাদিয়াতিল মুআসিরাহ (পৃষ্ঠা: ৭)
5 - الشيخ العلامة الأديب محمد بهجت الأثري البغدادي.

6 - الشيخ الأستاذ عبد اللطيف ثنيان.

7 - الشيخ الشيخ أحمد شاكر الالوسي.

8 - الشيخ عبد السلام الشواف النجدي البغدادي.

9 - الشيخ الأديب الشاعر يوسف حسن أبي إسماعيل بن قاضي القضاة في خانفور محمد حسن الخانفوري الهزاروي البنجابي.

10 - الشيخ بدر الدين الحسيني الغزي، محدث المسجد الأموي.

11 - الشيخ محسن السبيعي اليماني.

12 - الشيخ الفقيه المحدث عبد اللطيف بن عبد الرحمن آل الشيخ، وهو من اقرانه.

13 - الشيخ المحدث الشيخ شعيب بن عبد الرحمن المغربي المكي.

14 - الشيخ زين الفرقدين حسين بن محسن الانصاري السبيعي.

أما تلامذته (1):

1 - الشيخ محدث بغداد شيخنا أبو عبد الرحمن السيد صبحي البدري البغدادي.

2 - الشيخ الداعية عدنان بن عبد المجيد الطائي.

3 - الأستاذ الدكتور الشيخ عزت بن خليل العزيزي الأردني.

4 - الشيخ الداعية الشهيد -بإذن الله- عبد الخالق عثمان.

5 - الشيخ محمد سعيد العزاوي المعروف بـ (الجركجي).

6 - الشيخ صالح عبد الله سرية الفلسطيني.

7 - الاستاذ عبد الحميد نادر.

8 - الأستاذ الداعية أبو معاذ عبد الحميد الأعظمي رحمه الله.

9 - الحاج صبري الكركوكلي.

10 - الأستاذ الداعية الشيخ عبد الرزاق العاني.

--------------------------------------------

(1) نعمة المنان ص29،وعلامة العراق ص10.
৫ - শায়খ আল্লামা সাহিত্যিক মুহাম্মাদ বাহজাত আল-আসারি আল-বাগদাদি।

৬ - শায়খ উস্তাদ আব্দুল লতিফ সুনাইয়ান।

৭ - শায়খ শায়খ আহমাদ শাকির আল-আলুসি।

৮ - শায়খ আব্দুস সালাম আল-শাওওয়াফ আল-নাজদি আল-বাগদাদি।

৯ - শায়খ সাহিত্যিক কবি ইউসুফ হাসান আবু ইসমাইল বিন খানপুরের প্রধান বিচারপতি মুহাম্মাদ হাসান আল-খানফুরি আল-হাজারুয়ি আল-পাঞ্জাবি।

১০ - শায়খ বদরুদ্দিন আল-হুসাইনি আল-গাজ্জি, উমাইয়া মসজিদের মুহাদ্দিস।

১১ - শায়খ মুহসিন আল-সুবাই'য়ি আল-ইয়ামানি।

১২ - শায়খ ফকিহ মুহাদ্দিস আব্দুল লতিফ বিন আব্দুর রহমান আল শেখ, এবং তিনি ছিলেন তাঁর সমসাময়িকদের একজন।

১৩ - শায়খ মুহাদ্দিস শায়খ শুয়াইব বিন আব্দুর রহমান আল-মাগরিবি আল-মাক্কি।

১৪ - শায়খ জাইন আল-ফারকাদাইন হুসাইন বিন মুহসিন আল-আনসারি আল-সুবাই'য়ি।

আর তাঁর ছাত্ররা হলেন (১):

১ - বাগদাদের মুহাদ্দিস শায়খ আমাদের শায়খ আবু আব্দুর রহমান আস-সাইয়্যেদ সুবহি আল-বাদরি আল-বাগদাদি।

২ - শায়খ দাঈ আদনান বিন আব্দুল মাজিদ আত-তাই।

৩ - উস্তাদ ডক্টর শায়খ ইজ্জাত বিন খলিল আল-আজিজি আল-জর্ডানি।

৪ - শায়খ দাঈ শহীদ -আল্লাহর ইচ্ছায়- আব্দুল খালিক উসমান।

৫ - শায়খ মুহাম্মাদ সাঈদ আল-আজ্জাউয়ি, যিনি (আল-জারকাজি) নামে পরিচিত।

৬ - শায়খ সালিহ আব্দুল্লাহ সারিয়্যাহ আল-ফিলিস্তিনি।

৭ - উস্তাদ আব্দুল হামিদ নাদির।

৮ - উস্তাদ দাঈ আবু মুয়ায আব্দুল হামিদ আল-আজামি - আল্লাহ তাঁর প্রতি দয়া করুন।

৯ - হাজি সাবরি আল-কিরকুকলি।

১০ - উস্তাদ দাঈ শায়খ আব্দুর রাজ্জাক আল-আনি।

--------------------------------------------

(১) নি'মাতুল মান্নান পৃষ্ঠা ২৯, এবং আলামাতুল ইরাক পৃষ্ঠা ১০।
(খণ্ড: ১) আলামুল মাদরাসাতিল হাদীসিয়াতিল বাগদাদিয়াতিল মুআসিরাহ (পৃষ্ঠা: ৮)
11 - الملا صبحي الكرخي.

12 - الشيخ أبو عذراء عبد الرزاق البريد.

13 - الشيخ الفاضل أبو محمد نوري القاسم.

14 - آخر تلامذته الأستاذ عبد القادر قرأ الجزء الأول من صحيح البخاري وما أتمه حتى توفي الشيخ رحمه الله وأتم الباقي على الشيخ صبحي في جامع اللآصفية وقد درس في الأزهر.

 

‌‌خامساً: شجاعته وورعه:

كان الشيخ داعية إلى الله تعالى، آمراً بالمعروف ناهيا عن المنكر، فذكر غير واحد من تلامذته عنه:"أنّه كان جالساً في مقهى البيروتي يحث النّاس ويدعوهم فبلغ بهم الحماس أنّ خرجوا في مظاهرة حتى وصلت أمام القشلة، وهي ديوان الحكم ومركز الوالي، هاتفاً بسقوط الأتراك وإقامة دولة إسلامية، وتدرس القرآن باللغة العربية. فأصدرت الأوامر بإلقاء القبض عليه فهرب إلى حلب، فوجد جباراً من جبابرة الأرض هو الظالم جمال السفاح فخطب في الناس يحرضهم على ظلمه وعدوانه فأمر بإعدامه ففر بدينه إلى نجد" (1).

وذكر الشيخ السامرائي قصة خروجه من بغداد تختلف عنها فقال:"اضطهد أيام الاتحاديين في أواخر الحكم العثماني لاتباعهم السياسة العنصرية، وحربهم للغة العرب ودعا على صفحات جريدته (الصاعقة) إلى وحدة المسلمين بقيادة العرب إذ أنه كان يعتقد بإمامة العرب السياسية، لذلك هرب إلى نجد، ثم الحجاز أيام الشريف حسين، والتقى بأكابر العلماء هناك .. " (2).وبقي هناك قرابة العامين.

والتوفيق بينهما أنه خرج في تلك المظاهرة المشهودة ثم كتب في مجلته (الصاعقة) فحدث ما حدث والله أعلم.

ومما يذكر في شجاعته: كلامه مع الملك فيصل حول إشراف أولي الأمر على صلاة الجماعة والوعظ داخل الجيش مقارنة بالسعودية أغضبت الملك فنقل الشيخ إلى مسجد الحيدر خانة (3).

--------------------------------------------

(1) نعمة المنان ص26.

(2) تاريخ علماء بغداد ص439.

(3) المصدر نفسه.
১১ - মোল্লা সুবহি আল-কারখি।

১২ - শাইখ আবু আজরা আবদুর রাজ্জাক আল-বারিদ।

১৩ - বিশিষ্ট শাইখ আবু মুহাম্মদ নুরি আল-কাসিম।

১৪ - তাঁর সর্বশেষ ছাত্রদের মধ্যে রয়েছেন উস্তাদ আবদুল কাদির; তিনি সহীহ আল-বুখারীর প্রথম অংশ পাঠ করেছিলেন এবং শাইখের ইন্তেকাল পর্যন্ত তা সম্পন্ন করতে পারেননি (আল্লাহ শাইখের ওপর রহম করুন)। এরপর তিনি শাইখ সুবহির কাছে জামে আল-আসাফিয়্যাহ-তে বাকি অংশ সম্পন্ন করেন এবং তিনি আল-আজহারে অধ্যয়ন করেছেন।

 

‌‌পঞ্চম: তাঁর সাহসিকতা ও আল্লাহভীতি:

শাইখ ছিলেন মহান আল্লাহর দিকে আহ্বানকারী, সৎকাজের আদেশদাতা এবং মন্দ কাজের নিষেধকারী। তাঁর একাধিক ছাত্র তাঁর সম্পর্কে উল্লেখ করেছেন: "তিনি বৈরুতি কফিশপে বসে মানুষকে নসিহত করতেন এবং তাঁদের (দ্বীনের দিকে) আহ্বান জানাতেন। তাঁদের মাঝে উদ্দীপনা এতটাই বৃদ্ধি পায় যে, তাঁরা একটি মিছিল বের করেন যা আল-কিশলা—যা ছিল শাসন পরিচালনার দেওয়ান এবং ওয়ালীর কেন্দ্র—পর্যন্ত পৌঁছে যায়। সেখানে তিনি তুর্কিদের পতন এবং একটি ইসলামি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার শ্লোগান দিচ্ছিলেন, যেখানে আরবি ভাষায় কুরআন শিক্ষা দেওয়া হবে। ফলে তাঁকে গ্রেফতারের নির্দেশ জারি করা হয় এবং তিনি আলেপ্পোতে পালিয়ে যান। সেখানে তিনি যমীনের অন্যতম এক স্বৈরাচারী তথা জালেম জামাল আস-সাফফাহর দেখা পান। তিনি সেখানে মানুষের মাঝে ভাষণ দিয়ে তার যুলুম ও আগ্রাসনের বিরুদ্ধে তাদের প্ররোচিত করেন। ফলে সে তাঁর মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেয়, তখন তিনি নিজের দ্বীন রক্ষার্থে নজদে পালিয়ে যান" (১)।

শাইখ আস-সামাররাঈ তাঁর বাগদাদ ত্যাগের এক ভিন্ন ঘটনা উল্লেখ করে বলেন: "উসমানীয় শাসনের শেষ দিকে ইতিহাদিদের আমলে বর্ণবাদী নীতি অনুসরণ এবং আরবি ভাষার বিরুদ্ধে যুদ্ধের কারণে তিনি নিগৃহীত হন। তিনি তাঁর পত্রিকা 'আস-সাইকা'-এর পাতায় আরবদের নেতৃত্বে মুসলিম ঐক্যের আহ্বান জানান, কারণ তিনি আরবদের রাজনৈতিক নেতৃত্বে বিশ্বাসী ছিলেন। এজন্য তিনি নজদে পালিয়ে যান, তারপর শরীফ হোসেনের আমলে হিজাজে চলে যান এবং সেখানে বড় বড় আলেমদের সাথে সাক্ষাৎ করেন..." (২)। তিনি সেখানে প্রায় দুই বছর অবস্থান করেন।

এই দুই বর্ণনার মধ্যে সমন্বয় হলো এই যে, তিনি সেই প্রসিদ্ধ মিছিলে অংশ নিয়েছিলেন এবং পরে তাঁর সাময়িকী 'আস-সাইকা'-তে লিখেছিলেন, ফলে যা ঘটার তা-ই ঘটেছিল, আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ।

তাঁর সাহসিকতার বর্ণনায় আরও উল্লেখ করা হয়: সেনাবাহিনীর ভেতরে জামায়াতে সালাত এবং ওয়াজ-নসিহতের বিষয়ে কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধান নিয়ে কিং ফয়সালের সাথে তাঁর আলাপচারিতা (সৌদি আরবের সাথে তুলনা করে), যা রাজাকে ক্ষুব্ধ করেছিল। ফলে শাইখকে হায়দার খানা মসজিদে বদলি করা হয় (৩)।

--------------------------------------------

(১) নিয়মাতুল মান্নান, পৃষ্ঠা ২৬।

(২) তারিখ উলামা বাগদাদ, পৃষ্ঠা ৪৩৯।

(৩) একই উৎস।
(খণ্ড: ১) আলামুল মাদরাসাতিল হাদীসিয়াতিল বাগদাদিয়াতিল মুআসিরাহ (পৃষ্ঠা: ৯)
وكذا لما ورد مكة وجد بعض غلاة الصوفية آنذاك في الحرم المكي يذكرون بطريقة بدعية منكرة، فكانوا يرقصون ويقومون بالأوراد البدعية. فأنكر عليهم الشيخ، وحاربهم وعاونه في ذلك رفاقه عمر حمدان وشعيب المكي ووافقهم بأمر من الشريف حسين.

وفي يوم كان في مجلس أحد أفراد عائلة آل الشيخ الحاكمة فأنكر عليه اتخاذه النساء جوارٍ من غير حرب، فكاد هذا الرجل أن يقتله حتى أجاره أحد أحفاد آل الشيخ، ونصح الشيخ أن لا يبقى فخرج إلى الكويت (1).

وروى الشيخ عدنان الأمين قال: "جئت ذات يوم إلى مسجد عثمان أفندي ففتح الشيخ الباب، وبدأت أدرس وأقرأ درسي في (تجريد البخاري) وكان الدرس في أبواب الشفعة، فلما قرأت حديث سعد … جهش الشيخ بالبكاء حتى أشفقت عليه" (2).

وقد عاش الشيخ رحمه الله عيشة الكفاف، براتب يسير، فنقل تلامتذه الشيخ أن راتبه يكفيه لأكله وشربه وشراء الكتب وتربية القطط داخل المسجد الذي هو فيه.

وذكر أن الشيخ رفض عرضاً مغرياً قدمه له أمير الكويت حين زار العراق عام (1952)،ولم يذكر طبيعة ذلك العرض، ولكن في الغالب يكون مبلغاً مالياً أو وظيفة في الكويت، ونحوها.

 

‌‌سادساً: رحلاته في طلب العلم:

ذكرنا قريباً أنه رحمه الله فرّ متسللاً من العراق، وذلك عام 1923م لما طلب فيها فخرج الى حلب الشهباء فالتقى هناك بشيخه العلامة بدر الدين الحسيني الغزي، محدث المسجد الأموي، وغيره من أكابر علماء الشام.

ثم خرج إلى مكة المكرمة فالتقى بشيخ مشايخنا العلامة المحدث المجيز عمر بن حمدان المحرسي التونسي رحمه الله تعالى، والعلامة المحدث الشيخ شعيب بن عبد الرحمن المغربي المكي، والعلامة الفقيه المحدث عبد اللطيف بن عبد الرحمن آل الشيخ.

ثم رحل الشيخ عبد الكريم رحمه الله إلى الهند والتقى بها أكابر أهل العلم كما أخذ عن العلامة زين الفرقدين حسين بن محسن الانصاري السبيعي.

--------------------------------------------

(1) نعمة المنان ص24.

(2) نعمة المنان ص38.
একইভাবে তিনি যখন মক্কায় আসলেন, তখন তিনি মক্কার হারামে তৎকালীন সময়ের কিছু চরমপন্থী সুফিদের পেলেন যারা বিদআতী ও গর্হিত পন্থায় জিকির করছিল। তারা নাচছিল এবং বিদআতী অজিফাগুলো পালন করছিল। শায়খ তাদের প্রতিবাদ করলেন এবং তাদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করলেন। এ কাজে তাঁর সঙ্গী ওমর হামদান ও শুআইব আল-মাক্কি তাঁকে সহায়তা করলেন এবং শরীফ হুসাইনের পক্ষ থেকে প্রাপ্ত আদেশের ভিত্তিতে তাঁদের সমর্থন করা হলো।

একদিন তিনি শাসক পরিবারের সদস্য আল আশ-শায়খ পরিবারের একজনের মজলিসে উপস্থিত ছিলেন। তিনি সেই ব্যক্তির যুদ্ধ ছাড়াই মহিলাদের দাসী হিসেবে গ্রহণ করার প্রতিবাদ করলেন। এতে সেই ব্যক্তি তাঁকে প্রায় হত্যা করতে উদ্যত হলো, অবশেষে আল আশ-শায়খ পরিবারের জনৈক নাতি তাঁকে আশ্রয় প্রদান করলেন। তিনি শায়খকে সেখানে অবস্থান না করার পরামর্শ দিলেন, ফলে তিনি কুয়েতে চলে গেলেন (১)।

শায়খ আদনান আল-আমিন বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "একদিন আমি উসমান এফেন্দি মসজিদে আসলাম। শায়খ দরজা খুলে দিলেন। আমি (তাজরীদুল বুখারী)-এর পাঠ নিতে ও পড়তে শুরু করলাম। পাঠটি ছিল শুফআহ (অগ্রক্রয় অধিকার) অধ্যায়সমূহের উপর। যখন আমি সা'দ-এর হাদীসটি পড়লাম... তখন শায়খ উচ্চস্বরে কান্নায় ভেঙে পড়লেন, এমনকি আমি তাঁর প্রতি দয়াপরবশ হলাম" (২)।

শায়খ (রাহিমাহুল্লাহ) অতি সামান্য বেতনে অত্যন্ত সাদাসিধে ও কায়ক্লেশে জীবনযাপন করতেন। তাঁর ছাত্ররা বর্ণনা করেছেন যে, তাঁর বেতন কেবল তাঁর খাবার, পানীয়, বই কেনা এবং যে মসজিদে তিনি থাকতেন তার ভেতরে বিড়াল পালনের জন্যই যথেষ্ট হতো।

বর্ণিত আছে যে, কুয়েতের আমির ১৯৫২ সালে যখন ইরাক সফর করেন, তখন শায়খ তাঁর দেওয়া একটি লোভনীয় প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। সেই প্রস্তাবের প্রকৃতি সম্পর্কে উল্লেখ করা হয়নি, তবে সম্ভবত তা কোনো অংকের অর্থ বা কুয়েতে কোনো চাকরি কিংবা অনুরূপ কিছু ছিল।

 

‌‌ষষ্ঠ: ইলম অন্বেষণে তাঁর সফরসমূহ:

আমরা ইতিপূর্বে উল্লেখ করেছি যে, তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) ১৯২৩ সালে ইরাক থেকে গোপনে পালিয়ে গিয়েছিলেন যখন তাঁকে সেখানে খোঁজা হচ্ছিল। অতঃপর তিনি হালাবে (আলেপ্পো) পৌঁছেন এবং সেখানে তাঁর শায়খ উমাইয়া মসজিদের মুহাদ্দিস আল্লামা বদরুদ্দীন আল-হুসাইনী আল-গাজ্জী ও শামের অন্যান্য প্রথিতযশা আলেমদের সাথে সাক্ষাৎ করেন।

এরপর তিনি মক্কাতুল মুকাররমায় যান এবং সেখানে আমাদের শায়খদের শায়খ আল্লামা মুহাদ্দিস মুজিয ওমর ইবনে হামদান আল-মাহরিসি আত-তিউনিসি (রাহিমাহুল্লাহ), আল্লামা মুহাদ্দিস শায়খ শুআইব বিন আবদুর রহমান আল-মাগরিবী আল-মাক্কি এবং আল্লামা ফকিহ মুহাদ্দিস আব্দুল লতিফ বিন আবদুর রহমান আল আশ-শায়খের সাথে সাক্ষাৎ করেন।

এরপর শায়খ আব্দুল কারিম (রাহিমাহুল্লাহ) ভারতে সফর করেন এবং সেখানে প্রথিতযশা আলেমদের সাথে সাক্ষাৎ করেন। তেমনি তিনি আল্লামা যয়নুল ফারকাদাইন হুসাইন বিন মুহসিন আল-আনসারী আস-সুবাইয়ির নিকট থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেন।

--------------------------------------------

(১) নি’মাতুল মান্নান, পৃষ্ঠা ২৪।

(২) নি’মাতুল মান্নান, পৃষ্ঠা ৩৮।
(খণ্ড: ১) আলামুল মাদরাসাতিল হাদীসিয়াতিল বাগদাদিয়াতিল মুআসিরাহ (পৃষ্ঠা: ১০)
‌‌سابعاً: محاولة اغتيال الشيخ:

لما خرج الشيخ رحمه الله إلى الكويت بعد فراره من بلاد الحرمين الشريفين، أرسلت إليه السلطات العثمانية من يقتله، فرأى القاتل رجلاً فشبّه له بالشيخ الصاعقة فقتله، وأنجى الله الشيخ.

 

‌‌ثامناً: جريدته الصاعقة:

أنشأ الشيخ جريدته الغراء (الصاعقة) (1) التي ارتبطت به وارتبط بها، حتى أنه عرف بها (أبو الصاعقة)،فكان العدد الأول منها في (8/ 5/1911)، وكان هو المحرر ورئيس التحرير وصاحب الامتياز الوحيد فيها، وقد صدرت منها أعداد قليلة حيث أقفلتها السلطات العثمانية آنذاك، لأنه كان يكتب بقوة ووضوح، وبلسان لاذع لمنهج الحكام آنذاك.

والذي يبدو أن جريدة (الصاعقة) لم تحصل على موافقة رسمية من السلطة، ولم يكن بمقدور الشيخ الحصول على ذلك، لمعارضته للسلطة من جهة، ولكونه يمثل تياراً سلفياً من جهة ثانية، كما ذكر سليمان الفيضي في مذكراته قال:" وفي آب / 1910 ثم صدرت جريدة الرصافة لصاحبها صادق الأعرجي صدرت عوضا عنها جريدة الصاعقة التي كان يملك إمتيازها عبد الكريم الشيخلي وغضب الوالي على هذا التحايل فأوعز إلى بعض السوقة والرعاع بتقديم الشكاوى على الأعرجي وأوقفه في السراي فتجمهر خلق كثير احتجاجا على توقيفه وأمطروا استانبول بالبرقيات الشديدة اللهجة وأطلق سراحه " (2).

واسم الجريدة يدل على معناها (صاعقة)،فكانت بحق صاعقة على رؤوس المفسدين.

 

‌‌تاسعاً: وظائفه (3)

قال الدكتور يونس رحمه الله:"كان رحمه الله ورعاً زاهداً في الوظيفة فلم يقبل سوى وظيفة الإمامة والخطابة .... " (4).وهذا فيه اشارة إلى أنه قد عرضت عليه وظائف فرفضها.

بيد أنّ الأخ مرشد الحيالي قال:"لم يتم تعينه في وظيفة حكومية لموقف الحكومة العثمانية منه " (5).

--------------------------------------------

(1) ذكر الشيخ محمد غازي في نعمة المنان ص58،أنّ الشيخ أنشأ الجريدة بعد عودته من رحلته إلى نجد، والصحيح أنه أنشأها قبل رحلته لأنه رحل عام 1923م.

(2) مذكرات سليمان الفيضي، ص95،ونعمة المنان ص27.

(3) تاريخ علماء بغداد ص 438،ونعمة المنان ص 27،وص5.

(4) تاريخ علماء بغداد ص438.

(5) علامة العراق ص5.
‌‌সপ্তম: শায়খকে হত্যার প্রচেষ্টা:

শায়খ (রাহিমাহুল্লাহ) যখন হারামাইন শরিফাইন থেকে পলায়নের পর কুয়েতে গমন করেন, তখন উসমানীয় কর্তৃপক্ষ তাঁকে হত্যা করার জন্য লোক পাঠায়। ঘাতক এক ব্যক্তিকে দেখতে পেয়ে তাকে শায়খ 'আস-সাইকা' মনে করে ভুলবশত হত্যা করে এবং আল্লাহ শায়খকে রক্ষা করেন।

 

‌‌অষ্টম: তাঁর পত্রিকা 'আস-সাইকা':

শায়খ তাঁর উজ্জ্বল পত্রিকা 'আস-সাইকা' (১) প্রতিষ্ঠা করেন, যা তাঁর সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে গিয়েছিল, এমনকি তিনি 'আবুস সাইকা' নামে পরিচিতি লাভ করেন। এর প্রথম সংখ্যা প্রকাশিত হয়েছিল (৮/৫/১৯১১) তারিখে। তিনি নিজেই ছিলেন এর সম্পাদক, প্রধান সম্পাদক এবং এর একমাত্র স্বত্বাধিকারী। এর মাত্র কয়েকটি সংখ্যা প্রকাশিত হয়েছিল, কারণ তৎকালীন উসমানীয় কর্তৃপক্ষ এটি বন্ধ করে দেয়; কেননা তিনি অত্যন্ত বলিষ্ঠভাবে ও স্পষ্টভাবে এবং তৎকালীন শাসকদের কর্মপন্থার বিরুদ্ধে কঠোর ভাষায় লিখতেন।

প্রতীয়মান হয় যে, 'আস-সাইকা' পত্রিকা কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক অনুমোদন পায়নি এবং শায়খের পক্ষে তা পাওয়া সম্ভবও ছিল না। একদিকে তিনি ছিলেন কর্তৃপক্ষের বিরোধী, আর অন্যদিকে তিনি একটি সালাফি ধারার প্রতিনিধিত্ব করতেন। যেমনটি সুলাইমান আল-ফাইদি তাঁর স্মৃতিকথায় উল্লেখ করেছেন, তিনি বলেন: "১৯১০ সালের আগস্ট মাসে সাদিক আল-আরাজির মালিকানাধীন 'আর-রুসাফা' পত্রিকার পরিবর্তে 'আস-সাইকা' পত্রিকা প্রকাশিত হয়, যার স্বত্বাধিকারী ছিলেন আব্দুল করিম আশ-শায়খলি। ওয়ালি (গভর্নর) এই কৌশলে রাগান্বিত হন এবং কিছু সাধারণ ও নীচ শ্রেণির লোককে আল-আরাজির বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করতে প্ররোচিত করেন। তাকে সরাইয়ে (সরকারি ভবন) আটক করা হয়। ফলে তাঁর গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে বহু লোক সমবেত হয় এবং তারা ইস্তাম্বুলে কঠোর ভাষায় টেলিগ্রাম পাঠায়, যার ফলে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়" (২)।

পত্রিকার নামই এর অর্থ (বজ্রপাত) প্রকাশ করে; এটি প্রকৃতপক্ষে ফাসাদ সৃষ্টিকারীদের মাথার ওপর এক বজ্রপাত ছিল।

 

‌‌নবম: তাঁর কর্মজীবন (৩)

ডক্টর ইউনুস (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "তিনি পরহেজগার ছিলেন এবং পদের ব্যাপারে বিরাগী ছিলেন, তাই তিনি ইমামতি ও খতিবের দায়িত্ব ব্যতীত অন্য কোনো পদ গ্রহণ করেননি..." (৪)। এটি নির্দেশ করে যে, তাঁর সামনে বিভিন্ন পদের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল কিন্তু তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেছিলেন।

অন্যদিকে ভাই মুরশিদ আল-হায়ালি বলেছেন: "উসমানীয় সরকারের বৈরী অবস্থানের কারণে তাঁকে কোনো সরকারি পদে নিয়োগ দেওয়া হয়নি" (৫)।

--------------------------------------------

(১) শায়খ মুহাম্মদ গাজী 'নি'মাতুল মান্নান' গ্রন্থের ৫৮ পৃষ্ঠায় উল্লেখ করেছেন যে, শায়খ নজদ সফর থেকে ফেরার পর পত্রিকাটি প্রতিষ্ঠা করেন। তবে সঠিক তথ্য হলো তিনি এটি তাঁর সফরের আগেই প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, কারণ তিনি সফর করেছিলেন ১৯২৩ সালে।

(২) সুলাইমান আল-ফাইদির স্মৃতিকথা, পৃষ্ঠা ৯৫; এবং নি'মাতুল মান্নান, পৃষ্ঠা ২৭।

(3) তারিখে উলামায়ে বাগদাদ, পৃষ্ঠা ৪৩৮; নি'মাতুল মান্নান, পৃষ্ঠা ২৭ ও ৫।

(4) তারিখে উলামায়ে বাগদাদ, পৃষ্ঠা ৪৩৮।

(5) আল্লামাতুল ইরাক, পৃষ্ঠা ৫।
(খণ্ড: ১) আলামুল মাদরাসাতিল হাদীসিয়াতিল বাগদাদিয়াতিল মুআসিরাহ (পৃষ্ঠা: ১১)
1 - إمام وخطيب في مسجد المهدية قرب محلة الفضل بجانب الرصافة ببغداد عام (1921).

2 - إمام وخطيب مسجد عثمان أفندي الواقع في سوق الصاغة قرب سوق الوراقين "السراي"،وهي خلف مكتبة المثنى الآن، بجانب الرصافة ببغداد.

3 - إمام وخطيب جامع صدر الدين من 1937 - 1948 م.

 

‌‌عاشراً: صفاته:

قال شيخنا صبحي السامرائي:" كان الشيخ عبد الكريم الصاعقة رحمه الله مهيب الجانب غيوراً لله شديد الغضب لدين الله محارباً للبدع والخرافات والأهواء شديد التمسك بكتاب الله وسنة نبيه صلى الله عليه وسلم كثير الصلاة والصيام والعبادة، عفيف النفس سخياً كريماً محباً للعلم وطلبته، حريصاً على الدرس صبوراً على الفتيا رحمه الله وجعله في جنات النعيم، وكان في درسه حافظاً للمتن مستظهراً للشرح، غالباً ما يمسك بأصل كتابه عندما يقرأ الطالب ومع أحد الشروح كالفتح وغيره- وكذلك يحضر بين يديه أحد كتب الرجال مثل ميزان الاعتدال للذهبي -" (1).

 

‌‌أحد عشر: بعض آرائه الفقهية (2):

- كان يرى المسح على ظاهر الخفين مع باطنهما، وأنه يرى جواز المسح على الجوربين بدون شرط سوى إدخالها طاهرتين.

- وكان يرى كفر تارك الصلاة. الكفر الأكبر المخرج من الملة وفي ذلك قصة، أن رجلا أتاه قد طلق امرأته ثلاثا بمجلس واحد فسأله الشيخ (قبل الجواب، هل تصلي؟) فقال نعم فقال له "راجع زوجتك ولا تعد لمثلها ولو كنت لا تصلي فأنت كافر فلا تحاسب بشيء! ".

- وكان يرى وجوب قراءة الفاتحة للمأموم وإن جهر الإمام،-وهو قول بعض الصحابة والفقهاء-.

- وأن المطلق ثلاث طلقات بمجلس واحد يقع طلقة واحدة-وهي فتيا شيخ الاسلام ابن تيمية-.

- وكان يرى جواز الأخذ من اللحية.

--------------------------------------------

(1) نعمة المنان ص31.

(2) ينظر: تاريخ علماء بغداد ص440،ونعمة المنان ص38،وص
১ - ১৯২১ সালে বাগদাদের রুসাফা পার্শ্বস্থ আল-ফদল মহল্লার নিকটবর্তী মাহদিয়া মসজিদের ইমাম ও খতিব।

২ - বাগদাদের রুসাফা পার্শ্বস্থ সুকুল ওরাক্কিন "আস-সারাই" (বর্তমান আল-মুসান্না লাইব্রেরির পেছনে) এর নিকটবর্তী সুকুস সাগাহ-তে অবস্থিত ওসমান এফেন্দি মসজিদের ইমাম ও খতিব।

৩ - ১৯৩৭ - ১৯৪৮ ঈসায়ী পর্যন্ত সদরুদ্দিন জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব।

 

‌‌দশম: তাঁর গুণাবলি:

আমাদের শায়খ সুবহি আস-সামাররাঈ বলেন: "শায়খ আব্দুল কারিম আস-সাইকা (রহিমাহুল্লাহ) অত্যন্ত মর্যাদাবান ও প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বের অধিকারী ছিলেন। তিনি আল্লাহর জন্য অত্যন্ত আত্মমর্যাদাবোধ সম্পন্ন এবং আল্লাহর দ্বীনের অবমাননায় অত্যন্ত রাগান্বিত হতেন। তিনি বিদআত, কুসংস্কার ও প্রবৃত্তি পূজার বিরুদ্ধে কঠোর যোদ্ধা ছিলেন। আল্লাহর কিতাব ও তাঁর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সুন্নাহর প্রতি তিনি ছিলেন অত্যন্ত দৃঢ়পদ। তিনি প্রচুর সালাত, সিয়াম ও ইবাদত করতেন। তিনি ছিলেন পবিত্রাত্মা, দানশীল, মহানুভব এবং ইলম ও তালিবে ইলমদের প্রতি গভীর ভালোবাসা পোষণকারী। তিনি পাঠদানের বিষয়ে অত্যন্ত আগ্রহী এবং ফতোয়া প্রদানের ক্ষেত্রে অত্যন্ত ধৈর্যশীল ছিলেন। আল্লাহ তাঁকে রহম করুন এবং জান্নাতুন নাঈমে স্থান দান করুন। পাঠদানের সময় তিনি মূল পাঠ (মতন) মুখস্থ রাখতেন এবং ব্যাখ্যাগ্রন্থ (শারহ) নখদর্পণে রাখতেন। ছাত্র যখন পাঠ করত, তখন তিনি প্রায়ই মূল কিতাবটি হাতে রাখতেন এবং সাথে ফাতহুল বারীর মতো কোনো একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ থাকত। এছাড়াও তাঁর সামনে 'রিজাল' শাস্ত্রের কিতাব যেমন আয-যাহাবীর 'মিযানুল ইতিদাল' বিদ্যমান থাকত।" (১)।

 

‌‌একাদশ: তাঁর কিছু ফিকহী অভিমত (২):

- তিনি চামড়ার মোজার (খুফফাইন) উপরিভাগ ও তলদেশ উভয় স্থানে মাসাহ করা আবশ্যক মনে করতেন। আর তিনি কোনো শর্ত ছাড়াই সাধারণ মোজার (জওরাবাইন) ওপর মাসাহ করা জায়েজ মনে করতেন, তবে শর্ত হলো তা পবিত্র অবস্থায় পরিধান করতে হবে।

- তিনি সালাত পরিত্যাগকারীকে কাফির মনে করতেন—এমন কুফর যা তাকে মিল্লাত (ইসলাম) থেকে বের করে দেয়। এ বিষয়ে একটি ঘটনা আছে: এক ব্যক্তি তাঁর কাছে এল যে তার স্ত্রীকে এক মজলিসে তিন তালাক দিয়েছিল। শায়খ (উত্তর দেওয়ার আগে) তাকে জিজ্ঞেস করলেন, "তুমি কি সালাত আদায় করো?" সে বলল, "হ্যাঁ।" তখন তিনি তাকে বললেন, "তোমার স্ত্রীকে ফিরিয়ে নাও এবং পুনরায় এমন করো না। যদি তুমি সালাত আদায় না করতে, তবে তুমি কাফির হতে, আর সেক্ষেত্রে তোমার হিসাবের আর কিছু থাকত না (অর্থাৎ বিবাহ এমনিতেই ভেঙে যেত)!"

- তিনি ইমামের উচ্চস্বরে কিরাআত পাঠের সময়ও মুক্তাদীর জন্য সূরা ফাতিহা পাঠ করা ওয়াজিব মনে করতেন—এটি কিছু সাহাবী ও ফকীহগণের অভিমত।

- এক মজলিসে তিন তালাক দিলে এক তালাক গণ্য হয়—এটি শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহর ফতোয়া।

- তিনি দাড়ি ছাঁটা বা ছোট করা জায়েজ মনে করতেন।

--------------------------------------------

(১) নিয়ামাতুল মান্নান, পৃ. ৩১।

(২) দ্রষ্টব্য: তারীখ উলামায়ে বাগদাদ, পৃ. ৪৪০; নিয়ামাতুল মান্নান, পৃ. ৩৮ এবং পৃষ্ঠা...
(খণ্ড: ১) আলামুল মাদরাসাতিল হাদীসিয়াতিল বাগদাদিয়াতিল মুআসিরাহ (পৃষ্ঠা: ১২)
- وقد أفتى أهل بغداد بحرمة الصلاة في جامع عبد القادر الكيلاني، وجامع معروف الكرخي وجامع موسى الكاظم وغيرها، لأنها قبور للمسلمين بنيت عليها المساجد واتخذها الناس آلهة من دون الله.

 

‌‌اثنا عشر: وصيته ووفاته:

أوصى الشيخ رحمه الله تعالى بوقف مكتبته (1) على جامع الدهان (2)،في الأعظمية، وكتب حجة الوقفية بحضور القاضي الشرعي وشهد على الوصية تلميذاه: الشيخ عدنان، والشيخ نوري، وأعطاهما مالاً ورثه من ابن عم له "4000" ديناراً وأمرهما أن تُدفع زكاته وتوزع على فقراء أهل السنة، وإيداع الباقي، وأوصى بكتب المنطق التي عنده أن تحرق لأنها كتب ضلال واشترط في وصيته أن تكون مكتبة عامة يقصدها طلاب العلم (3).

وأصيب الشيخ رحمه الله بورم في رأسه أدى إلى وفاته عام 1379هـ، الموفق: 7/ 12/ 1959م، بعد رحلة دامت اثنتين وتسعين عاماً قضاه بين الوحيين (الكتاب والسنة)،تعليماً ودفاعاً عنهما.

ولم يترك العلم والفتيا في آخر لحظاته فكان يسأله طلابه وهو على فراش موته ويجيبهم رحمه الله.

يقول الدكتور يونس:"لم يتغير تفكيره ولم ينس شيئا، وكان يجيب المسائل وهو على فراش الموت من غير ملل ولا ضجر" (4).

وذكر صاحب نعمة المنان أن تشيعه كان مهيباً، فقال:" وحضر جنازته حشد كبير من الناس، وصلي عليه في جامع الدهان. وكانت جنازة من جنائز أهل السنة، فكانت كما قال الإمام أحمد:" يا أهل البدع بيننا وبينكم الجنائز (5) ". (6)،. ودفن رحمه الله في مقبرة الغزالي (7).

--------------------------------------------

(1) ذكر اسماءها: الأخ مرشد الحيالي، في مقال له بعنوان: (مكتبة الشيخ عبد الكريم الصاعقة رحمه الله، نشره على موقع الألوكة بتاريخ 24/ذي القعدة/1430هـ

(2) ينظر: تاريخ علماء بغداد ص438.

(3) ينظر: نعمة المنان ص38،ومكتبة الشيخ عبد الكريم الصاعقة.

(4) تاريخ علماء بغداد ص440.

(5) ذكرها الدارقطني، سؤالات السلمي (437)،وسير أعلام النبلاء 11/ 341.

(6) نعمة المنان ص38.

(7) ينظر: تاريخ علماء بغداد ص 440،ومرشد ص 17.
বাগদাদবাসীগণ আব্দুল কাদির জিলানির জামে মসজিদ, মারুফ কারখির জামে মসজিদ, মুসা কাজিমের জামে মসজিদ এবং অন্যান্য মসজিদে সালাত আদায় করা হারাম বলে ফতোয়া দিয়েছেন; কারণ এগুলো মুসলিমদের এমন সব কবর যেগুলোর ওপর মসজিদ নির্মাণ করা হয়েছে এবং মানুষ আল্লাহকে ছেড়ে এগুলোকে উপাস্য হিসেবে গ্রহণ করেছে।

 

‌‌বারো: তাঁর অসিয়ত ও মৃত্যু:

শায়খ (রাহিমাহুল্লাহ) আযমিয়ায় অবস্থিত আদ-দাহহান জামে মসজিদের (২) অনুকূলে তাঁর লাইব্রেরিটি (১) ওয়াকফ করার অসিয়ত করেন। তিনি শরয়ি কাজির উপস্থিতিতে ওয়াকফনামার দলিল লিখেন এবং তাঁর দুই ছাত্র—শায়খ আদনান ও শায়খ নুরি—এই অসিয়তের ওপর সাক্ষ্য প্রদান করেন। তিনি তাঁদের তাঁর এক চাচাতো ভাইয়ের নিকট থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত ৪০০০ দিনার প্রদান করেন এবং নির্দেশ দেন যেন এর জাকাত আদায় করা হয় ও আহলুস সুন্নাহর দরিদ্রদের মাঝে বণ্টন করা হয়, আর বাকি অংশ আমানত হিসেবে রাখা হয়। তিনি তাঁর নিকট থাকা যুক্তিবিদ্যার (মানতিক) বইগুলো পুড়িয়ে ফেলার অসিয়ত করেন, কারণ সেগুলো ভ্রান্ত কিতাব। তিনি তাঁর অসিয়তে শর্ত দিয়েছিলেন যে, এটি হবে একটি সাধারণ পাঠাগার যেখানে ইলম অন্বেষণকারীগণ যাতায়াত করবেন (৩)।

শায়খ (রাহিমাহুল্লাহ) মাথায় টিউমারে আক্রান্ত হয়েছিলেন, যা ১৩৭৯ হিজরি মুতাবেক ১৯৫৯ সালের ৭ই ডিসেম্বর তাঁর মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এটি ছিল ৯২ বছরের এক দীর্ঘ সফর যা তিনি ওহীর (কুরআন ও সুন্নাহ) শিক্ষা প্রদান ও সেগুলোর প্রতিরক্ষায় ব্যয় করেছেন।

তিনি তাঁর জীবনের শেষ মুহূর্তগুলোতেও ইলম ও ফতোয়া প্রদান ত্যাগ করেননি। মৃত্যুশয্যায় থাকা অবস্থায় তাঁর ছাত্ররা তাঁকে বিভিন্ন বিষয়ে জিজ্ঞাসা করতেন এবং তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) সেগুলোর উত্তর দিতেন।

ডক্টর ইউনুস বলেন: "তাঁর চিন্তাধারায় কোনো পরিবর্তন আসেনি এবং তিনি কিছুই ভুলে যাননি। তিনি মৃত্যুশয্যায় থাকা অবস্থায় কোনো প্রকার ক্লান্তি বা বিরক্তি ছাড়াই মাসআলাগুলোর জবাব দিচ্ছিলেন" (৪)।

'নিয়ামাতুল মান্নান'-এর লেখক উল্লেখ করেছেন যে, তাঁর জানাজা অত্যন্ত গাম্ভীর্যপূর্ণ ছিল। তিনি বলেন: "তাঁর জানাজায় মানুষের বিশাল সমাগম হয়েছিল এবং আদ-দাহহান জামে মসজিদে তাঁর জানাজা পড়া হয়। এটি ছিল আহলুস সুন্নাহর জানাজাগুলোর ন্যায় একটি জানাজা। এটি ঠিক তেমনই ছিল যেমনটি ইমাম আহমাদ বলেছিলেন: 'হে বিদআতি সম্প্রদায়! আমাদের ও তোমাদের মাঝে (সত্যের) ফয়সালা হবে জানাজার মাধ্যমে' (৫)। (৬)। তাঁকে (রাহিমাহুল্লাহ) আল-গাজালি কবরস্থানে দাফন করা হয় (৭)।

--------------------------------------------

(১) ভাই মুরশিদ আল-হায়ালি তাঁর একটি প্রবন্ধে নামগুলো উল্লেখ করেছেন যার শিরোনাম: 'শায়খ আব্দুল করিম আস-সায়িকাহ রাহিমাহুল্লাহর লাইব্রেরি', যা আল-উলুকাহ ওয়েবসাইটে ২৪ জিলকদ ১৪৩০ হিজরি তারিখে প্রকাশিত হয়েছে।

(২) দেখুন: তারিখ উলামায়ে বাগদাদ, পৃষ্ঠা ৪৩৮।

(৩) দেখুন: নিয়ামাতুল মান্নান পৃষ্ঠা ৩৮, এবং শায়খ আব্দুল করিম আস-সায়িকাহর লাইব্রেরি।

(৪) তারিখ উলামায়ে বাগদাদ পৃষ্ঠা ৪৪০।

(৫) এটি আদ-দারাকুতনি 'সুয়ালাতুস সুলামি' (৪৩৭) এবং সিয়ারু আ'লামিন নুবালা ১১/৩৪১-এ উল্লেখ করেছেন।

(৬) নিয়ামাতুল মান্নান পৃষ্ঠা ৩৮।

(৭) দেখুন: তারিখ উলামায়ে বাগদাদ পৃষ্ঠা ৪৪০, এবং মুরশিদ পৃষ্ঠা ১৭।
(খণ্ড: ১) আলামুল মাদরাসাতিল হাদীসিয়াতিল বাগদাদিয়াতিল মুআসিরাহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
‌‌ثلاثة عشر آثاره:

له مؤلفات قيمة منها (1):

1 - أصول الحديث.

2 - رسالة في مختلف الحديث.

3 - رسالة في أصول الفقه.

4 - معارضة الحنفية لأقوال خير البرية صلى الله عليه وسلم.

5 - مجموعة إجازاته العلمية.

6 - فتاوى فقهية بالدليل.

7 - نظرات في التفسير.

قلت: عرضت هذه الترجمة على تلميذه النجيب شيخنا صبحي السامرائي فأقرها ووافق عليه.

رحم الله علامتنا الكبير، وجمعنا الله به مع النبي صلى الله عليه وسلم وأصحابه الكرام.

--------------------------------------------

(1) ينظر: تاريخ علماء بغداد ص440،ونعمة المنان ص38 - 39. وذكر أبو عمر الدوسري على ملتقى أهل الحديث قصة عجيبة، في تشييع الشيخ الصاعقة:"وكان تشييعه بسيطاً ومختصراً بحيث لم يحضر لدفنه كثير من التلامذة والأحباب لظروف البلد السياسية والمضطربة عام (1959م) "؟ وهو بخلاف المشهور عن تلك الحادثة.
১৩. তাঁর রচনাবলি:

তাঁর বেশ কিছু মূল্যবান গ্রন্থ রয়েছে, তার মধ্যে অন্যতম (১):

১ - উসুলুল হাদিস।

২ - মুখতালিফুল হাদিস বিষয়ক রিসালাহ।

৩ - উসুলুল ফিকহ বিষয়ক রিসালাহ।

৪ - সৃষ্টির শ্রেষ্ঠতম সত্তা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণীর বিরুদ্ধে হানাফিদের বিরোধিতা।

৫ - তাঁর ইলমি ইজাজতসমূহের সংকলন।

৬ - দলিল ভিত্তিক ফিকহি ফতোয়াসমূহ।

৭ - নাজারাত ফিত তাফসির (তাফসির বিষয়ক পর্যবেক্ষণ)।

আমি বলছি: আমি এই জীবনীটি তাঁর মেধাবী ছাত্র আমাদের শায়খ সুবহি আস-সামাররায়ীর নিকট পেশ করেছি, তিনি এটি সাব্যস্ত করেছেন এবং এর সাথে একমত পোষণ করেছেন।

আল্লাহ তাআলা আমাদের এই মহান আল্লামাকে রহম করুন এবং আমাদেরকে তাঁর সাথে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও তাঁর সম্মানিত সাহাবীগণের কাতারে একত্রিত করুন।

--------------------------------------------

(১) দ্রষ্টব্য: তারিখে উলামায়ে বাগদাদ, পৃষ্ঠা ৪৪০; এবং নিমাতুল মান্নান, পৃষ্ঠা ৩৮-৩৯। আবু উমর আদ-দাওসারী 'মুলতাকা আহলিল হাদিস'-এ শায়খ আস-সায়িকাহর জানাজা সম্পর্কে এক বিস্ময়কর ঘটনা উল্লেখ করেছেন: "তাঁর জানাজা ছিল অত্যন্ত সাধারণ এবং সংক্ষিপ্ত, ১৯৫৯ সালের দেশের রাজনৈতিক ও অস্থির পরিস্থিতির কারণে তাঁর দাফন কার্যে ছাত্র ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের অনেকেই উপস্থিত হতে পারেননি।" অথচ এটি সেই ঘটনা সম্পর্কে প্রচলিত বর্ণনার বিপরীত।
(খণ্ড: ১) আলামুল মাদরাসাতিল হাদীসিয়াতিল বাগদাদিয়াতিল মুআসিরাহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
‌‌المبحث الثاني

الشيخ صبحي السامرائي حفظه الله

‌‌أولاً: الأسرة والمولد (1):

هو أبو عبد الرحمن، صبحي بن جاسم بن حميد بن حمد بن صالح بن مصطفى بن حسن بن عثمان بن دولة بن محمد بن بدري البدري، السامرائي، البغدادي. المحقق المتقن، كريم اليد، طيب الخلق والمعشر، الداعية.

وأمه: بنت عبد الكريم (ولادتها ببغداد عام 1910م) ابن حافظ بن محمد بن حسن بن عسّاف بن حسين بن بدر المثنى بن بدري.

* ولادته: ولد ببغداد سنة1355هـ-1936م، في محلة العاجلين قرب محلة العمّار جانب الرصافة ببغداد.

* نشأته: نشأ الشيخ في اسرة كريمة متدينة، إرسله أبوه إلى المسجد ليحفظ القرآن الكريم، فدرس الشيخ مبادئ التجويد على الشيخ الملا كاظم أحمد الشيخلي الحنفي إمام وخطيب جامع السيد سلطان علي، وهو أول شيخ له.

--------------------------------------------

(1) وينظر: تاريخ علماء بغداد ص285،نعمة المنان ص9.
‌দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

শায়খ সুব্হি আস-সামাররাঈ (আল্লাহ তাঁকে হিফাযত করুন)

‌‌প্রথমত: বংশপরিচয় ও জন্ম (১):

তিনি হলেন আবূ আবদুর রহমান, সুব্হি বিন জাসিম বিন হুমাইদ বিন হামাদ বিন সালিহ বিন মুস্তফা বিন হাসান বিন উসমান বিন দাওলা বিন মুহাম্মাদ বিন বাদরী আল-বাদরী, আস-সামাররাঈ, আল-বাগদাদী। তিনি একজন অত্যন্ত সুনিপুণ মুহাক্কিক (গবেষক), উদারহস্ত, উত্তম চরিত্র ও উন্নত সামাজিক আচরণের অধিকারী এবং দাঈ।

তাঁর মা: আবদুল কারীমের কন্যা (তাঁর জন্ম ১৯১০ সালে বাগদাদে), যিনি হাফিয বিন মুহাম্মাদ বিন হাসান বিন আসসাফ বিন হুসাইন বিন বদর আল-মুসান্না বিন বদরীর নাতনী।

* তাঁর জন্ম: তিনি ১৩৫৫ হিজরী মোতাবেক ১৯৩৬ সালে বাগদাদে, রাসাফা পার্শ্বস্থ আম্মার মহল্লার নিকটবর্তী আজিলীন এলাকায় জন্মগ্রহণ করেন।

* তাঁর বেড়ে ওঠা: শায়খ একটি সম্ভ্রান্ত ও ধার্মিক পরিবারে লালিত-পালিত হন। তাঁর পিতা তাঁকে পবিত্র কুরআন হিফয করার জন্য মসজিদে পাঠান। শায়খ তাজবীদের প্রাথমিক নিয়মাবলী শায়খ মোল্লা কাযিম আহমাদ আশ-শাইখলী আল-হানাফীর নিকট পাঠ করেন, যিনি সাইয়্যেদ সুলতান আলী জামে মসজিদের ইমাম ও খতীব ছিলেন; আর তিনি ছিলেন তাঁর প্রথম উস্তাদ।

--------------------------------------------

(১) দ্রষ্টব্য: তারিখু উলামাই বাগদাদ, পৃষ্ঠা ২৮৫; নি'মাতুল মান্নান, পৃষ্ঠা ৯।
(খণ্ড: ১) আলামুল মাদরাসাতিল হাদীসিয়াতিল বাগদাদিয়াতিল মুআসিরাহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
ثم دخل المدرسة الابتدائية، وأكمل الدراسة الثانوية، ودخل كلية الشرطة، وتخرج فيها عام 1951م، وتدرج حتى وصل إلى رتبة عقيد في الشرطة ثم أحيل على التقاعد سنة 1977م.

ومنصبه هذا كان مرموقاً جداً في ذاك الوقت، ولكنه لم يصرفه عن طلب العلم فهو لزم شيخه عبد الكريم صاعقة، واختص به حتى كان فيه أوّل، ولا يقدم عليه أحد.

 

‌‌ثانياً: شيوخه، وتلامذته (1): -

أما شيوخ الشيخ صبحي فمن أجلهم:

1 - الشيخ محدث العراق السيد عبد الكريم بن السيد عباس آل الوزير الحسني الشيخلي الأزجي الملقب بأبي الصاعقة.

2 - العلامة المحدث والفقيه الإمام البحر عبيد الله بن العلامة عبد السلام المباركفوري الرحماني صاحب "مرعاة المفاتيح شرح مشكاة المصابيح".

3 - الشيخ المحدث الفقيه المحقق حبيب الرحمن الأعظمي الهندي (1319 - 1412هـ).

4 - الشيخ المحدث الورع الإمام الرباني محمد الحافظ بن عبد اللطيف بن سالم التجاني القاهري المالكي.

5 - محدث تونس الشيخ محمد الشاذلي الشيخ محمد الصادق النيفر التونسي المالكي (1418هـ).

6 - الشيخ الأديب الفقيه السيد شاكر بن السيد محمود الحسيني البدري السامرائي ثم البغدادي.

7 - الشيخ محمد عبد الوهاب البحيري المصري.

8 - الشيخ المحدث محمد التهامي مسند المغرب.

9 - الشيخ محمود المفتي الباكستاني.

10 - الشيخ المسند السيد محمود نور الدين البريفكاني الكردي.

وأما تلامذته (2):-

فللشيخ طلبة منتشرون في أصقاع الدنيا، أكثر من أنْ أسردهم في هذا السفر الصغير، ولكن أذكر أشهرهم، فمن خارج العراق.

--------------------------------------------

(1) وينظر: تاريخ علماء بغداد ص286.

(2) ينظر: نعمة المنان ص17.
এরপর তিনি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হন, মাধ্যমিক পড়াশোনা সম্পন্ন করেন এবং পুলিশ কলেজে প্রবেশ করেন। সেখান থেকে ১৯৫১ সালে স্নাতক সম্পন্ন করেন। তিনি ক্রমান্বয়ে পদোন্নতি পেয়ে পুলিশের 'আকিদ' (কর্নেল) পদমর্যাদায় উন্নীত হন এবং ১৯৭৭ সালে অবসর গ্রহণ করেন।

সেই সময়ে তার এই পদটি অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ছিল, কিন্তু তা তাকে ইলম অর্জনে বিমুখ করতে পারেনি। তিনি তার শায়খ আব্দুল করিম সা'ইকার সান্নিধ্য আঁকড়ে ধরেন এবং তার বিশেষ শাগরিদ হয়ে ওঠেন, এমনকি এ ক্ষেত্রে তিনি প্রথম সারিতে ছিলেন এবং কেউ তার অগ্রবর্তী ছিল না।

 

‌‌দ্বিতীয়ত: তার শিক্ষকবৃন্দ ও ছাত্রগণ (১): -

শায়খ সুভহীর শিক্ষকবৃন্দের মধ্যে সবচেয়ে বিশিষ্ট হলেন:

১ - শায়খ, ইরাকের মুহাদ্দিস, সাইয়্যেদ আব্দুল করিম বিন সাইয়্যেদ আব্বাস আল-ওয়াজির আল-হাসানি আল-শাইখলি আল-আজজি, যার উপাধি ছিল আবু সা'ইকা।

২ - আল্লামা, মুহাদ্দিস ও ফকিহ, জ্ঞানসমুদ্র ইমাম উবাইদুল্লাহ বিন আল্লামা আব্দুস সালাম মুবারকপুরী রাহমানি, যিনি "মিরয়াতুল মাফাতিহ শারহ মিশকাতুল মাসাবিহ" গ্রন্থের রচয়িতা।

৩ - শায়খ, মুহাদ্দিস, ফকিহ ও গবেষক হাবিবুর রহমান আল-আ'জমি আল-হিন্দি (১৩১৯ - ১৪১২ হিজরি)।

৪ - শায়খ, মুহাদ্দিস, পরহেজগার, রব্বানি ইমাম মুহাম্মদ আল-হাফিজ বিন আব্দুল লতিফ বিন সালিম আল-তিজানি আল-কাহিরি আল-মালিকি।

৫ - তিউনিসিয়ার মুহাদ্দিস শায়খ মুহাম্মদ আল-শাজিলী শায়খ মুহাম্মদ আস-সাদিক আল-নাইফার আল-তিউনিসি আল-মালিকি (১৪১৮ হিজরি)।

৬ - শায়খ, সাহিত্যিক, ফকিহ, সাইয়্যেদ শাকির বিন সাইয়্যেদ মাহমুদ আল-হুসাইনি আল-বদরি আল-সামাররায়ি অতঃপর আল-বাগদাদি।

৭ - শায়খ মুহাম্মদ আব্দুল ওয়াহহাব আল-বুহাইরি আল-মিসরি।

৮ - শায়খ, মুহাদ্দিস মুহাম্মদ আল-তুহামি, মরক্কোর মুসনিদ।

৯ - শায়খ মাহমুদ আল-মুফতি আল-পাকিস্তানি।

১০ - শায়খ, মুসনিদ, সাইয়্যেদ মাহমুদ নূর উদ্দিন আল-বারিফকানি আল-কুর্দি।

আর তার ছাত্রগণ (২):-

পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে শায়খের অসংখ্য ছাত্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছেন, এই ক্ষুদ্র গ্রন্থে তাদের সকলের নাম উল্লেখ করা সম্ভব নয়। তবে আমি তাদের মধ্যে সবচেয়ে প্রসিদ্ধদের নাম উল্লেখ করছি, যারা ইরাকের বাইরের।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: তারিখ উলামায়ে বাগদাদ, পৃষ্ঠা ২৮৬।

(২) দেখুন: নিমাতুল মান্নান, পৃষ্ঠা ১৭।
(খণ্ড: ১) আলামুল মাদরাসাতিল হাদীসিয়াতিল বাগদাদিয়াতিল মুআসিরাহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
1 - الدكتور يوسف بن عبد الرحمن المرعشلي.

2 - الشيخ الدكتور عبد الملك بن عبد الله بن دهيش.

3 - الشيخ عبد الله العقيل.

4 - الشيخ بدر بن طامي العتيبي.

5 - الشيخ عبد الله بن ناجي المخلافي.

6 - الشيخ محمد بن ناصر العجمي.

 

وأما من العراق: فمنهم:

1 - أبو عبد الله بسام عصام الحسيني المشايخي البغدادي.

2 - أبو محمد جاسم محمد عبد الله القادري.

3 - أبو أحمد جهاد حسن الداودي البغدادي.

4 - أبو الحسنات حسنين سلمان الربيعي البغدادي.

5 - أبو عبد الرحمن رياض حسين الطائي.

6 - أبو محمد رياض هاشم العاني الأعظمي.

7 - أبو أحمد صادق جعفر العجلي.

8 - أبو حذيفة طه علي داود العبيدي الكركوكي.

9 - عبد الجبار رهيف الطائي البغدادي.

10 - عدنان عبد المجيد الأمين وهو قرينه في طلب العلم.

11 - د. فهمي أحمد القزاز.

12 - د. أبو حارث، ماهر ياسين الفحل.

13 - د. محمد حازم بن محمد نوري.

14 - أبو الطيب محمد غازي داود القرشي البغدادي.

15 - د. مصطفى اسماعيل الأعظمي.

16 - د. مظفر شاكر الحياني.

17 - د. منذر داود محمود الأزجي البغدادي.

18 - العبد الفقير إلى رحمة الرحمن عبد القادر مصطفى المحمدي كاتب هذا السفر.

وللشيخ طلبة في بلاد الله الواسعة شرقاً وغرباً.

 

‌‌رابعاً: مذهبه الفقهي:

سبق وأن ذكرنا أنّ أوّل مشايخه كاظم الشيخلي كان حنفياً، فتمذهب أولاً على المذهب الحنفي، وهو المذاهب السائد آنذاك، ثم صحب شيخه الصاعقة فتأثر، والذي يظهر لي من خلال كلام شيخنا صبحي أنّه شافعي المذهب، والله أعلم.
১ - ড. ইউসুফ বিন আবদুর রহমান আল-মার'আশলি।

২ - শেখ ড. আব্দুল মালিক বিন আব্দুল্লাহ বিন দেহীশ।

৩ - শেখ আব্দুল্লাহ আল-আকীল।

৪ - শেখ বদর বিন তামি আল-উতায়েবি।

৫ - শেখ আব্দুল্লাহ বিন নাজি আল-মিখলাফি।

৬ - শেখ মুহাম্মদ বিন নাসির আল-আজমি।

 

আর ইরাক থেকে যারা আছেন, তাদের মধ্যে রয়েছেন:

১ - আবু আব্দুল্লাহ বাসসাম ইসাম আল-হুসাইনি আল-মাশাইখি আল-বাগদাদি।

২ - আবু মুহাম্মদ জাসিম মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল-কাদরি।

৩ - আবু আহমদ জিহাদ হাসান আদ-দাউদি আল-বাগদাদি।

৪ - আবুল হাসানাত হাসনাইন সালমান আর-রাবি'য়ি আল-বাগদাদি।

৫ - আবু আবদুর রহমান রিয়াদ হুসাইন আত-তাঈ।

৬ - আবু মুহাম্মদ রিয়াদ হাশেম আল-আনি আল-আযামি।

৭ - আবু আহমদ সাদিক জাফর আল-ইজলি।

৮ - আবু হুজাইফা ত্বহা আলি দাউদ আল-উবাইদি আল-কিরকুকি।

৯ - আব্দুল জাব্বার রাহিফ আত-তাঈ আল-বাগদাদি।

১০ - আদনান আব্দুল মজিদ আল-আমিন, যিনি ইলম অর্জনে তাঁর সহপাঠী ছিলেন।

১১ - ড. ফাহমি আহমদ আল-কাযযায।

১২ - ড. আবু হারিস, মাহের ইয়াসিন আল-ফাহল।

১৩ - ড. মুহাম্মদ হাযেম বিন মুহাম্মদ নূরি।

১৪ - আবু তৈয়িব মুহাম্মদ গাযী দাউদ আল-কুরাশি আল-বাগদাদি।

১৫ - ড. মুস্তফা ইসমাইল আল-আযামি।

১৬ - ড. মুজাফফর শাকের আল-হায়য়ানি।

১৭ - ড. মুনজির দাউদ মাহমুদ আল-আযজি আল-বাগদাদি।

১৮ - রহমানের রহমতের মুখাপেক্ষী অভাবী বান্দা আব্দুল কাদির মুস্তফা আল-মুহাম্মাদি, যিনি এই কিতাবের লেখক।

আল্লাহর এই প্রশস্ত জমিনের পূর্ব ও পশ্চিমে শেখের অসংখ্য ছাত্র রয়েছে।

 

‌‌চতুর্থত: তাঁর ফিকহি মাযহাব:

আমরা ইতিপূর্বে উল্লেখ করেছি যে, তাঁর শিক্ষকদের মধ্যে প্রথমজন কাজিম আশ-শাইখলি হানাফি ছিলেন, তাই তিনি শুরুতে হানাফি মাযহাব অনুসরণ করেন, যা তৎকালীন সময়ে প্রচলিত মাযহাব ছিল। অতঃপর তিনি তাঁর শিক্ষক আস-সাইকার সান্নিধ্য লাভ করেন এবং তাঁর দ্বারা প্রভাবিত হন। আমাদের শেখ সুবহির কথাবার্তা থেকে আমার কাছে যা প্রতীয়মান হয় তা হলো, তিনি শাফি'য়ি মাযহাবের অনুসারী, আর আল্লাহই ভালো জানেন।
(খণ্ড: ১) আলামুল মাদরাসাতিল হাদীসিয়াতিল বাগদাদিয়াতিল মুআসিরাহ (পৃষ্ঠা: ১৬)
‌‌خامساً: سمته وأخلاقه (1):

عرف الشيخ بين كل طلابه بكرمه وجوده، فبالكاد تجد منزله يخلو من طلبة العلم، وما من طالب علم في الحديث وغيره إلاّ وانتفع من الشيخ صبحي ومكتبته العامرة. وقد انتفع الشيخ من عمله في جامعة الإمام محمد بن سعود، ومن رحلته فحصل على نسخ من المخطوطات الفريدة، فصوّر ما استطاع من ذلك، ومما يشهد له أنه بذلها بين يدي طلبة العلم، فلم أرَ أو اسمع في زماننا من جاد لطلبة العلم ما جاد به شيخنا فلم يبخل وكان بامكانه أن يكون تاجراً لو اراد أن يبيعها، ولكن جوده وكرمه وخلقه منعه من ذلك، وقد سمعت كبار علماء العراق يثنون على صنيعه كشيخنا الفاضل هاشم جميل، واستاذنا الدكتور بشار عواد، والشيخ حارث الضاري، وغيرهم،"فكوّن مكتبته هي الوحيدة في العراق جمعت نفائس المصورات من المخطوطات من مكتبات العالم فمن الظاهرية إلى مكتبات تركيا إلى دار الكتب المصرية إلى المغرب إلى برلين إلى جستربتي إلى برنستون، ناهيك عن مخطوطات الأوقاف ببغداد ومخطوطات الرافضة بالنجف وغيرها من المكتبات وغالب المخطوطات مفهرسة من الشيخ وله تعليقات وتنبيهات تدل على صبره وحرصه في تحصيله العلم. كما إن مكتبته جمعت درر المطبوعات في الحديث، والفقه، والأصول والنحو، والعقائد، والتفسير، والتاريخ، والأدب وله مصورات من انفس كتب الأنساب" (2).

وتميز الشيخ بتواضعه مع طلابه، فعلى هيبته وجلالة قدره لا يجد طالب العلم بينه وبين الشيخ أي حاجز يمنعه من سؤاله.

ومن أهم ميزات الشيخ حفظه الله تعالى التزامه بموعد درسه، فكان لا يتخلف ولا يتكلف الحضور إلى درسه في جامع البنية وهو يبعد كذا كيلو متر عن مسكنه، علماً أنه يأتي الى طلابه بعد انتهاء محاضراته في كلية العلوم الإسلامية أو الجامعة الاسلامية.

ومن ملامح شخصية الشيخ أنه حاد الطبع سريع الغضب (لله تعالى)،وأخاله ورثها من شيخه أبي الصاعقة رحمه الله، وهو من أجل شيوخه.

--------------------------------------------

(1) ينظر: تاريخ علماء بغداد ص288،نعمة المنان ص11.

(2) نعمة المنان ص12.
পঞ্চম: তাঁর স্বভাব ও চরিত্র (১):

শায়খ তাঁর সকল ছাত্রদের মাঝে তাঁর দানশীলতা ও বদান্যতার জন্য পরিচিত ছিলেন। তাঁর ঘর ইলম অন্বেষণকারীদের থেকে খালি পাওয়া দুষ্কর ছিল। হাদিস বা অন্যান্য বিষয়ের এমন কোনো শিক্ষার্থী ছিল না, যে শায়খ সুব্হি এবং তাঁর সমৃদ্ধ লাইব্রেরি থেকে উপকৃত হয়নি। শায়খ ইমাম মুহাম্মদ ইবন সাউদ বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁর কর্মজীবন এবং তাঁর সফরসমূহ থেকে উপকৃত হয়েছিলেন, যার ফলে তিনি দুর্লভ পাণ্ডুলিপিসমূহের অনুলিপি সংগ্রহ করেছিলেন। তিনি এগুলোর যতটুকু সম্ভব অনুলিপি করেছিলেন। তাঁর অন্যতম একটি প্রশংসনীয় দিক ছিল যে, তিনি এগুলো ইলম অন্বেষণকারীদের জন্য উন্মুক্ত করে দিয়েছিলেন। আমি আমাদের জামানায় এমন কাউকে দেখিনি বা শুনিনি, যিনি ইলম অন্বেষণকারীদের জন্য আমাদের শায়খের মতো এতো বদান্যতা দেখিয়েছেন। তিনি কৃপণতা করেননি; অথচ তিনি চাইলে এগুলো বিক্রি করে একজন ব্যবসায়ী হতে পারতেন। কিন্তু তাঁর বদান্যতা, দানশীলতা এবং চরিত্র তাঁকে তা থেকে বিরত রেখেছিল। আমি ইরাকের বড় বড় আলেমদের তাঁর এই কর্মতৎপরতার প্রশংসা করতে শুনেছি, যেমন আমাদের সম্মানিত শায়খ হাশিম জামিল, আমাদের উস্তাদ ডক্টর বাশশার আওয়াদ, শায়খ হারিস আদ-দারি এবং অন্যান্যরা। "তাঁর লাইব্রেরিটি ছিল ইরাকের একমাত্র লাইব্রেরি যেখানে বিশ্বের বিভিন্ন লাইব্রেরি থেকে সংগৃহীত দুর্লভ পাণ্ডুলিপির অনুলিপি একত্রিত করা হয়েছিল; জাহিরিয়া লাইব্রেরি থেকে শুরু করে তুরস্কের লাইব্রেরিসমূহ, মিশরের দারুল কুতুব, মরক্কো, বার্লিন, চেস্টার বিটি এবং প্রিন্সটন পর্যন্ত। বাগদাদের আওকাফ লাইব্রেরির পাণ্ডুলিপি এবং নাজাফের রাফেজিদের পাণ্ডুলিপি ও অন্যান্য লাইব্রেরির কথা তো বলাই বাহুল্য। অধিকাংশ পাণ্ডুলিপি শায়খ নিজেই সূচিবদ্ধ করেছিলেন এবং সেগুলোর ওপর তাঁর টীকা ও সতর্কবার্তা রয়েছে যা ইলম অর্জনে তাঁর ধৈর্য ও একাগ্রতার প্রমাণ দেয়। পাশাপাশি তাঁর লাইব্রেরিতে হাদিস, ফিকহ, উসুল, নাহু, আকাইদ, তাফসির, ইতিহাস এবং সাহিত্যের দুর্লভ মুদ্রিত গ্রন্থাবলি সংগৃহীত ছিল। তাঁর কাছে বংশবিদ্যার অতি মূল্যবান কিতাবসমূহের অনুলিপিও ছিল" (২)।

শায়খ তাঁর ছাত্রদের সাথে বিনয়ী ব্যবহারের জন্য স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যের অধিকারী ছিলেন। তাঁর গাম্ভীর্য ও উচ্চ মর্যাদা থাকা সত্ত্বেও, কোনো শিক্ষার্থী তাঁর এবং শায়খের মাঝে এমন কোনো বাধা অনুভব করত না যা তাকে প্রশ্ন করা থেকে বিরত রাখে।

শায়খ (আল্লাহ তাআলা তাঁকে হিফাজত করুন)-এর অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল তাঁর পাঠদানের সময়ের প্রতি নিষ্ঠা। তিনি বুনিয়া জামে মসজিদে তাঁর পাঠদানে কখনও অনুপস্থিত হতেন না এবং সেখানে উপস্থিত হতে কোনো কষ্টবোধ করতেন না, যদিও তা তাঁর বাসস্থান থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ছিল। উল্লেখ্য যে, তিনি কুল্লিয়াতুল উলুম আল-ইসলামিয়া বা ইসলামিক ইউনিভার্সিটিতে তাঁর লেকচার শেষ করার পর ছাত্রদের কাছে আসতেন।

শায়খের ব্যক্তিত্বের একটি দিক ছিল যে, তিনি প্রখর মেজাজের অধিকারী ছিলেন এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে দ্রুত রাগান্বিত হতেন। আমার ধারণা, তিনি এটি তাঁর শায়খ আবুস সা’ইকাহ (রহিমাহুল্লাহ)-এর নিকট থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছিলেন, যিনি ছিলেন তাঁর অন্যতম মহান শায়খ।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: তারিখু উলামাই বাগদাদ পৃষ্ঠা ২৮৮, নি'মাতুল মান্নান পৃষ্ঠা ১১।

(২) নি'মাতুল মান্নান পৃষ্ঠা ১২।
(খণ্ড: ১) আলামুল মাদরাসাতিল হাদীসিয়াতিল বাগদাদিয়াতিল মুআসিরাহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
‌‌سادساً: رحلاته (1):

لشيخنا صبحي حفظه الله رحلات متعددة إلى بلاد مختلفة، منها:

1 - فسمع من الشيخ المسند السيد محمود نور الدين البريفكاني الكردي. في محافظة دهوك في شمال العراق

2 - ورحل إلى مكة المكرمة، وسمع بها من المحدث والفقيه الإمام عبيد الله بن العلامة عبد السلام المباركفوري الرحماني صاحب "مرعاة المفاتيح شرح مشكاة المصابيح".وحصل على أجازة منه في الثلاثين من شهر صفر عام ألف وأربعمائة وتسع للهجرة،

وسمع بها من شيخه المحدث الفقيه المحقق حبيب الرحمن الأعظمي الهندي (1319 - 1412هـ) وأجازه إجازة عامة في رمضان سنة ألف وثلاثمائة وإحدى وتسعين.

3 - ورحل شيخنا إلى مصر الكنانة، وسمع بها من العلامة المحدث الورع الإمام الرباني محمد الحافظ بن عبد اللطيف بن سالم التجاني القاهري المالكي. وقرأ عليه في داره في الحلمية وفي زاويته بالمغربلين.

4 - ورحل الشيخ إلى تونس وسمع بها من محدث تونس الشيخ محمد الشاذلي الشيخ محمد الصادق النيفر التونسي المالكي (1418هـ).وأجازه إجازة عامة في تونس في شهر شعبان سنة 1405هـ.

5 - ورحل إلأى المغرب وسمع بها من الشيخ العلامة المحدث محمد التهامي مسند المغرب. وأجازه مشافهة سنة 1972م.

 

‌‌سابعاً: وظائفه:

مر بنا قبل أنّ الشيخ تقلد وظيفة مرموقة في سلك الشرطة، ثم تقاعد منها عام 1977م.

ثم اشتغل بعدها الشيخ بالامامة والخطابة، في مساجد عدة، منها:

1 - خلف شيخه الصاعقة في التدريس في جامع الآصفية.

2 - إمام وخطيب جامع الخاصكي (حسبةً).

3 - إمام وخطيب جامع المرادية (حسبةً).

--------------------------------------------

(1) ينظر: نعمة المنان ص76.
ষষ্ঠ: তাঁর সফরসমূহ (১):

আমাদের শাইখ সুবহী (আল্লাহ তাঁকে হিফাজত করুন)-এর বিভিন্ন দেশে একাধিক সফর রয়েছে, তার মধ্যে:

১ - তিনি উত্তর ইরাকের দেহুক প্রদেশে মুসনিদ শাইখ সাইয়্যেদ মাহমুদ নূরুদ্দীন আল-বারীফকানী আল-কুর্দি থেকে শ্রবণ করেছেন।

২ - তিনি মক্কা মুকাররমায় সফর করেন এবং সেখানে মুহাদ্দিস ও ফকিহ ইমাম উবায়দুল্লাহ বিন আল্লামা আবদুস সালাম মুবারকপুরী রহমানী—যিনি "মিরআতুল মাফাতীহ শারহু মিশকাতিল মাসাবীহ"-এর লেখক—তাঁর থেকে শ্রবণ করেন। তিনি তাঁর থেকে হিজরি ১৪০৯ সনের ৩০শে সফর মাসে ইজাযত লাভ করেন।

সেখানে তিনি তাঁর শাইখ, মুহাদ্দিস, ফকিহ ও গবেষক হাবীবুর রহমান আল-আযমী আল-হিন্দি (১৩১৯ - ১৪১২ হি.) থেকে শ্রবণ করেন এবং তিনি তাঁকে ১৩৯১ হিজরির রমজান মাসে সাধারণ ইজাযত প্রদান করেন।

৩ - আমাদের শাইখ কিনানাহ তথা মিসরে সফর করেন এবং সেখানে আল্লামা, মুহাদ্দিস, পরহেজগার ও রব্বানী ইমাম মুহাম্মদ আল-হাফিজ বিন আব্দুল লতিফ বিন সালেম আত-তিজানী আল-কাহিরাহ আল-মালিকী থেকে শ্রবণ করেন। তিনি হিলমিয়্যাহ-তে অবস্থিত তাঁর বাসভবনে এবং মাগারবিলীন-এ তাঁর খানকায় তাঁর নিকট পাঠ গ্রহণ করেন।

৪ - শাইখ তিউনিসিয়ায় সফর করেন এবং সেখানে তিউনিসিয়ার মুহাদ্দিস শাইখ মুহাম্মদ আশ-শাযিলী শাইখ মুহাম্মদ আস-সাদিক আন-নাইফার আত-তিউনিসি আল-মালিকী (১৪১৮ হি.) থেকে শ্রবণ করেন। তিনি তাঁকে ১৪০৫ হিজরির শাবান মাসে তিউনিসিয়ায় সাধারণ ইজাযত প্রদান করেন।

৫ - তিনি মরক্কোতে সফর করেন এবং সেখানে মরক্কোর মুসনিদ শাইখ আল্লামা মুহাদ্দিস মুহাম্মদ আত-তিহামীর নিকট থেকে শ্রবণ করেন। তিনি ১৯৭২ সালে তাঁকে মৌখিকভাবে ইজাযত প্রদান করেন।

 

‌‌সপ্তম: তাঁর কর্মজীবন:

আমরা ইতিপূর্বে উল্লেখ করেছি যে, শাইখ পুলিশ বিভাগে একটি মর্যাদাপূর্ণ পদে আসীন ছিলেন, এরপর তিনি ১৯৭৭ সালে সেখান থেকে অবসর গ্রহণ করেন।

এরপর শাইখ বিভিন্ন মসজিদে ইমামতি ও খুতবা প্রদানের কাজে নিয়োজিত হন, যার মধ্যে রয়েছে:

১ - জামে আল-আসিফিয়্যাহ-তে অধ্যাপনায় তাঁর শাইখ আস-সা’য়িকার স্থলাভিষিক্ত হন।

২ - জামে আল-খাসিকীর ইমাম ও খতিব (স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে)।

৩ - জামে আল-মুরাদিয়্যাহ-র ইমাম ও খতিব (স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে)।

--------------------------------------------

(১) দ্রষ্টব্য: নি'মাতুল মান্নান, পৃষ্ঠা: ৭৬।
(খণ্ড: ১) আলামুল মাদরাসাতিল হাদীসিয়াতিল বাগদাদিয়াতিল মুআসিরাহ (পৃষ্ঠা: ১৮)
4 - تعيّن إماماً وخطيباً في جامع 12 ربيع الأول، وهو آخر مساجد عمل به حتى خرج منه في عام 2006م ورحل إلى لبنان بسبب الظرف الطائفي الذي حلّ بالبلد.

 

*التدريس الاكاديمي (في داخل العراق).

1 - درّس مادة الحديث ومصطلحه وعلوم القرآن والتجويد وفقه الحديث في كلية العلوم الإسلامية جامعة بغداد.

2 - درّس مادة الحديث ومصطلحه وعلوم القرآن والتجويد وفقه الحديث والأديان والفقه المقارن في المعهد العالي لإعداد الأئمة والخطباء في بغداد (كلية الإمام الأعظم الآن).

3 - درّس مادة الحديث ومصطلحه وعلوم القرآن والتجويد وفقه الحديث في الجامعة الإسلامية ببغداد (العراقية حاليا)،وتشرفت بالدراسة عليه.

 

*خارج العراق.

1 - درّس الحديث في المسجد الحرام بمكة المكرمة.

2 - حاضر في جامعة الإمام محمد بن سعود في مخطوطات الفقه وأصوله على مذهب السادة الحنابلة.

3 - حاضر في جامعة الإمام عبد العزيز.

4 - حاضر في كلية العلوم الأثرية بجهلم- باكستان.

 

*عضويته في الجامعات والجمعيات:

1 - عضو فخري في جامعة أهل الحديث أو الجامعة السلفية -بنارس- الهند.

2 - عضو مركز البحث العلمي في المملكة العربية السعودية، وقد حدثني الشيخ أن فترة مقامه في مكة ومركز البحوث أخصب وأنشط فترة في حياته.

 

*الدروس العلمية خارج الأطار الأكاديمي (1):

1 - درّس مادة الحديث في مدرسة التربية الإسلامية.

2 - درّس العلوم الشرعية في جامع 12 ربيع الأول في الرصافة.

--------------------------------------------

(1) ينظر: نعمة المنان ص9.
৪ - তিনি ১২ রবিউল আউয়াল জামে মসজিদে ইমাম ও খতিব হিসেবে নিযুক্ত হন, এটিই ছিল তাঁর কর্মজীবনের শেষ মসজিদ যেখান থেকে তিনি ২০০৬ সালে বের হন এবং দেশে বিরাজমান সাম্প্রদায়িক পরিস্থিতির কারণে লেবাননে পাড়ি জমান।

 

*একাডেমিক অধ্যাপনা (ইরাকের অভ্যন্তরে)।

১ - তিনি বাগদাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক সায়েন্স অনুষদে হাদিস, হাদিসের পরিভাষা, কুরআনুল কারীমের উলুম, তাজবিদ এবং ফিকহুল হাদিস বিষয়ে পাঠদান করেন।

২ - তিনি বাগদাদের উচ্চতর ইমাম ও খতিব প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে (বর্তমানে কুল্লিয়াতুল ইমাম আল-আযম) হাদিস, হাদিসের পরিভাষা, কুরআনুল কারীমের উলুম, তাজবিদ, ফিকহুল হাদিস, ধর্মতত্ত্ব এবং তুলনামূলক ফিকহ বিষয়ে পাঠদান করেন।

৩ - তিনি বাগদাদের ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বর্তমানে আল-ইরাকিয়াহ বিশ্ববিদ্যালয়) হাদিস, হাদিসের পরিভাষা, কুরআনুল কারীমের উলুম, তাজবিদ এবং ফিকহুল হাদিস বিষয়ে পাঠদান করেন, এবং তাঁর কাছে ছাত্র হিসেবে পড়াশোনা করার সৌভাগ্য আমার হয়েছে।

 

*ইরাকের বাইরে।

১ - তিনি মক্কার মসজিদে হারামে হাদিসের পাঠদান করেছেন।

২ - তিনি ইমাম মুহাম্মদ বিন সাউদ বিশ্ববিদ্যালয়ে হাম্বলি মাযহাবের ফিকহ ও উসুলুল ফিকহের পাণ্ডুলিপির ওপর বক্তৃতা প্রদান করেছেন।

৩ - তিনি ইমাম আব্দুল আজিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে বক্তৃতা প্রদান করেছেন।

৪ - তিনি পাকিস্তানের ঝিলামের প্রত্নতাত্ত্বিক বিজ্ঞান অনুষদে বক্তৃতা প্রদান করেছেন।

 

*বিশ্ববিদ্যালয় ও সংস্থাসমূহে তাঁর সদস্যপদ:

১ - তিনি ভারতের বেনারসে অবস্থিত জামিয়া আহলে হাদিস বা জামিয়া সালাফিয়ার একজন সম্মানীয় সদস্য।

২ - তিনি সৌদি আরবের বৈজ্ঞানিক গবেষণা কেন্দ্রের সদস্য ছিলেন; শায়খ আমাকে জানিয়েছেন যে, মক্কায় অবস্থান এবং গবেষণা কেন্দ্রে কাটানো সময়টি ছিল তাঁর জীবনের সবচেয়ে ফলপ্রসূ ও সক্রিয় সময়।

 

*একাডেমিক কাঠামোর বাইরে ইলমি দরসসমূহ (১):

১ - তিনি মাদ্রাসা-এ-তারবিয়াতুল ইসলামিয়াতে হাদিস বিষয়ে পাঠদান করেন।

২ - তিনি রুসাফার ১২ রবিউল আউয়াল জামে মসজিদে শরয়ী শাস্ত্রসমূহ পড়িয়েছেন।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: নি’মাতুল মান্নান, পৃষ্ঠা ৯।
(খণ্ড: ১) আলামুল মাদরাসাতিল হাদীসিয়াতিল বাগদাদিয়াতিল মুআসিরাহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
3 - درّس الحديث ومصطلحه في جامع الحاج محمود البنية في الكرخ، لعدة سنوات وتشرفتُ بالدراسة عليه.

4 - درّس بعض كتب الحديث في جامع المرادية برصافة بغداد. .

5 - درّس الحديث ومصطلحه في جامع برهان الدين ملا حمادي في الكرخ. وتشرفت بحضور غالب هذه الدروس.

6 - درّس الحديث ومصطلحه وفقه السادة المالكية في المركز الثقافي السوداني ببغداد.

 

‌‌ثامناً: مصنفاته (1):

عرف الشيخ -حفظه الله تعالى - بالتحقيق وبرع به منذ دهر، وله تحقيقات نافعة ماتعة كثيرة، رفدت المكتبة الاسلامية، منها:

1 - ما لا يسع المحدث جهله لأبي حفص عمر الميانشي.

2 - الخلاصة في أصول الحديث للطيبي.

3 - علل الترمذي الكبير بترتيب أبي طالب القاضي (بالمشاركة) مع أبي المعاطي النوري ومحمود محمد الصعيدي. وكان الشيخ رحمه الله غير راضٍ عنه أولاً لما فيه من التحريف، وقد طبع طبعة جديدة

4 - شرح علل الترمذي لابن رجب الحنبلي.

5 - مجموعة رسائل في الحديث: (تسمية فقهاء الأمصار من الصحابة فمن بعدهم للنسائي والطبقات للنسائي وتسمية من لم يرو عنه غير راو واحد للنسائي مختصر نصيحة أهل الحديث للخطيب البغدادي وكتاب الرحلة في طلب الحديث للخطيب البغدادي والإجازة للمعدوم والمجهول للخطيب البغدادي).

6 - مراسيل ابن أبي حاتم الرازي، باعتناء وتقديمه.

7 - المدرج إلى المدرج للسيوطي.

8 - تذكرة المؤتسي فيمن حدّث ونسي للسيوطي.

9 - رواية الأكابر عن الأصاغر للباغندي (لم يطبع).

10 - رواية الأقران لابن حيويه، (لم يطبع).

11 - تصحيفات المحدثين للعسكري.

12 - تاريخ التصحيف للعسكري (لم يطبع)

13 - الكمال في تاريخ علم الرجال وهو في الجرح والتعديل: تأليف (لم يطبع)

--------------------------------------------

(1) ينظر: تاريخ علماء بغداد ص287 - 288،نعمة المنان ص14.
৩ - তিনি কারখের জামে আল-হাজ মাহমুদ আল-বুন্নিইয়াহতে কয়েক বছর হাদিস ও মুসতালাহুল হাদিস (হাদিস শাস্ত্রের মূলনীতি) পাঠদান করেছেন এবং আমি তার নিকট অধ্যয়নের গৌরব অর্জন করেছি।

৪ - তিনি বাগদাদের রুসাফায় জামে আল-মুরাদিয়্যাহতে হাদিসের কিছু কিতাব পাঠদান করেছেন।

৫ - তিনি কারখের জামে বুরহানুদ্দিন মোল্লা হাম্মাদিতে হাদিস ও মুসতালাহুল হাদিস পাঠদান করেছেন। আমি এই দরসগুলোর অধিকাংশতে উপস্থিত থাকার সৌভাগ্য লাভ করেছি।

৬ - তিনি বাগদাদে সুদানীয় সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে হাদিস, মুসতালাহুল হাদিস এবং মালিকি মাযহাবের ফিকহ পাঠদান করেছেন।

 

‌অষ্টম: তাঁর রচনাবলি (১):

শায়খ —আল্লাহ তাআলা তাঁকে হিফাজত করুন— দীর্ঘকাল ধরে তাহকীক (গবেষণা ও সম্পাদনা) কর্মের জন্য সুপরিচিত এবং এতে তিনি পারদর্শিতা অর্জন করেছেন। তাঁর অনেক উপকারী ও চমৎকার তাহকীককৃত গ্রন্থ রয়েছে যা ইসলামি পাঠাগারকে সমৃদ্ধ করেছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে:

১ - আবু হাফস উমর আল-মায়ানিজি রচিত 'মা লা ইয়াসাউল মুহাদ্দিসা জাহলাহু'।

২ - আল-তিবি রচিত 'আল-খুলাসাহ ফি উসুলিল হাদিস'।

৩ - আবু তালিব আল-কাদীর বিন্যাসে 'ইলালুত তিরমিজি আল-কাবীর' (যৌথভাবে), আবু আল-মাআতি আন-নুরি এবং মাহমুদ মুহাম্মদ আস-সাইদীর সাথে। শায়খ (রহিমাহুল্লাহ) বিকৃতির কারণে প্রথমে এটি নিয়ে সন্তুষ্ট ছিলেন না, পরবর্তীতে এটি নতুনভাবে মুদ্রিত হয়েছে।

৪ - ইবনে রজব আল-হাম্বলী রচিত 'শারহু ইলালিত তিরমিজি'।

৫ - হাদিস বিষয়ক কয়েকটি রিসালার সংকলন: (নাসায়ি রচিত 'তাসমিয়াতু ফুকাহাইল আমসার মিনাস সাহাবাহ ফামান বাদাহুম', নাসায়ি রচিত 'আত-তাবাকাত', নাসায়ি রচিত 'তাসমিয়াতু মান লাম ইয়ারাউ আনহু গাইরু রাওয়িন ওয়াহিদ', খতিব আল-বাগদাদি রচিত 'নাসিহাতু আহলিল হাদিস'-এর সংক্ষিপ্তসার, খতিব আল-বাগদাদি রচিত 'কিতাবুর রিহলাহ ফি তালাবিল হাদিস' এবং খতিব আল-বাগদাদি রচিত 'আল-ইজাজাহ লিল মাদুম ওয়াল মাজহুল')।

৬ - ইবনে আবি হাতিম আর-রাজি রচিত 'মারাসিল', তাঁর তত্ত্বাবধান ও ভূমিকার সাথে।

৭ - সুয়ুতী রচিত 'আল-মুদরাজ ইলাল মুদরাজ'।

৮ - সুয়ুতী রচিত 'তাযকিরাতুল মুতাসী ফীমান হাদ্দাসা ওয়া নাসিয়া'।

৯ - বাগন্দী রচিত 'রিওয়ায়াতুল আকাবির আনিল আসাগির' (মুদ্রিত হয়নি)।

১০ - ইবনে হাইয়ুওয়াহ রচিত 'রিওয়ায়াতুল আকরান' (মুদ্রিত হয়নি)।

১১ - আল-আসকারি রচিত 'তাসহিফাতুল মুহাদ্দিসীন'।

১২ - আল-আসকারি রচিত 'তারিখুত তাসহিফ' (মুদ্রিত হয়নি)।

১৩ - আল-কামাল ফি তারিখি ইলমির রিজাল, যা জারহ ওয়া তাদীল বিষয়ক একটি মৌলিক রচনা (মুদ্রিত হয়নি)।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: তারিখু উলামাই বাগদাদ পৃ. ২৮৭ - ২৮৮, নি'মাতুল মান্নান পৃ. ১৪।
(খণ্ড: ১) আলামুল মাদরাসাতিল হাদীসিয়াতিল বাগদাদিয়াতিল মুআসিরাহ (পৃষ্ঠা: ২০)
14 - تاريخ الثقات لأبي حفص عمر بن شاهين.

15 - الكامل في الضعفاء لابن عدي الجرجاني، حققه ونشرت منه المقدمة فقط.

16 - كتاب الضعفاء والمتروكين لأبي الحسن الدراقطني.

17 - أحوال الرجال لأبي إسحاق إبراهيم بن يعقوب الجُوزجاني.

18 - الكشف الحثيث عمن رمي بوضع الحديث لسبط ابن العجمي.

19 - ذيل على ميزان الاعتدال لأبي الفضل العراقي.

20 - تهذيب الأجوبة لابن حامد الحنبلي.

21 - سؤالات المروذي والميموني وصالح لأحمد.

22 - سؤالات أبي القاسم البغوي لأحمد.

23 - سؤالات الآجري لأبي داود بالاشتراك مع محمود خليل وأبي المعاطي (لم يطبع).

24 - سؤالات إسحاق بن منصور الكوسج لأحمد وإسحاق بن راهويه، (لم يطبع).

25 - بحر الدم لابن عبد الهادي، تحقيقه (لم يطبع).

26 - فن تخريج الأحاديث، بحث نشر في مجلة الرسالة الإسلامية عدد 25 - 26 عام 1325هـ ذكر ذلك العلامة الشيخ بكر بن عبد الله أبو زيد في كتابه عن التخريج.

27 - تخريج أحاديث المنهاج للبيضاوي تأليف الإمام العراقي.

28 - تخريج أحاديث المواقف للسيوطي.

29 - تخريج أحاديث العقائد للسيوطي.

30 - تخريج حديث أبي عمير، تحقيقه (لم يطبع).

31 - تخريج الأحاديث الواردة في كتاب الإمام محمد بن عبد الوهاب في رده على الرافضة، (لم يطبع).

32 - موافقة الخُبْر الخَبَر في تخريج أحاديث المنهاج والمختصر. بالإشتراك مع الشيخ حمدي السلفي.

33 - الأحكام الوسطى لعبد الحق الأشبيلي. بالإشتراك مع الشيخ حمدي السلفي.

34 - انتقاض الإعتراض للحافظ ابن حجر. بالإشتراك مع الشيخ حمدي السلفي.

35 - اختلاف الفقهاء لمحمد بن نصر المروزي.

36 - شعار أصحاب الحديث لأبي أحمد الحاكم.

37 - كتاب الأشربة للإمام أحمد بن حنبل.

38 - مسند عبد الله بن المبارك.

39 - المنتخب من مسند عبد حميد، بالاشتراك مع محمود محمد خليل الصعيدي.
১৪ - আবু হাফস উমর বিন শাহীনের ‘তারিখুস সিকাত’।

১৫ - ইবনুল আদী আল-জুরজানীর ‘আল-কামিল ফিদ দুয়াফা’, এটি তিনি সম্পাদনা করেছেন এবং কেবল এর ভূমিকাটি প্রকাশিত হয়েছে।

১৬ - আবুল হাসান আদ-দারা কুতনীর ‘কিতাবুদ দুয়াফা ওয়াল মাতরুকিন’।

১৭ - আবু ইসহাক ইব্রাহিম বিন ইয়াকুব আল-জুযজানীর ‘আহওয়ালুর রিজাল’।

১৮ - সিবত ইবনুল আজমীর ‘আল-কাশফুল হাসিস আম্মান রুমিয়া বি-ওয়াদউল হাদিস’।

১৯ - আবুল ফজল আল-ইরাকীর ‘যাইল আলা মিযানিল ইতিদাল’।

২০ - ইবনু হামিদ আল-হাম্বলীর ‘তাহযিবুল আজউয়িবা’।

২১ - আহমাদ ইবনু হাম্বলের প্রতি আল-মারওয়াযী, আল-মায়মুনী ও সালিহের প্রশ্নাবলী।

২২ - আহমাদ ইবনু হাম্বলের প্রতি আবুল কাসিম আল-বাগাওয়ীর প্রশ্নাবলী।

২৩ - মাহমুদ খলিল ও আবু মা’তীর সাথে যৌথভাবে আবু দাউদের প্রতি আল-আজুররীর প্রশ্নাবলী (এটি মুদ্রিত হয়নি)।

২৪ - আহমাদ ইবনু হাম্বল ও ইসহাক বিন রাহাওয়াইহ-এর প্রতি ইসহাক বিন মানসুর আল-কাউসাজের প্রশ্নাবলী (এটি মুদ্রিত হয়নি)।

২৫ - ইবনু আব্দুল হাদীর ‘বাহরুদ দাম’, এটি তার সম্পাদনা (এটি মুদ্রিত হয়নি)।

২৬ - ফান্নু তাখরিজিল আহাদিস (হাদিসের উৎস নির্ণয় শিল্প), এটি ১৩২৫ হিজরীতে ‘আল-রিসালা আল-ইসলামিয়্যাহ’ পত্রিকার ২৫-২৬ সংখ্যায় প্রকাশিত একটি গবেষণা। আল্লামা শায়খ বকর বিন আব্দুল্লাহ আবু যায়েদ তাখরিজ বিষয়ক তার কিতাবে এটি উল্লেখ করেছেন।

২৭ - ইমাম আল-ইরাকী কর্তৃক আল-বায়যাবীর ‘আল-মিনহাজ’ গ্রন্থের হাদিসগুলোর তাখরিজ।

২৮ - সুয়ূতী কর্তৃক ‘আল-মাওয়াকিফ’ গ্রন্থের হাদিসগুলোর তাখরিজ।

২৯ - সুয়ূতী কর্তৃক ‘আল-আকাইদ’ গ্রন্থের হাদিসগুলোর তাখরিজ।

৩০ - আবু উমাইর বিষয়ক হাদিসের তাখরিজ, এটি তার সম্পাদনা (এটি মুদ্রিত হয়নি)।

৩১ - ইমাম মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব কর্তৃক রাফেযীদের খণ্ডনে লিখিত কিতাবে বর্ণিত হাদিসগুলোর তাখরিজ (এটি মুদ্রিত হয়নি)।

৩২ - শায়খ হামদী আস-সালাফীর সাথে যৌথভাবে ‘মুওয়াফাকাতুল খুবর আল-খাবার ফি তাখরিজি আহাদিসিল মিনহাজ ওয়াল মুখতাসার’।

৩৩ - শায়খ হামদী আস-সালাফীর সাথে যৌথভাবে আব্দুল হক আল-ইশবিলীর ‘আল-আহকামুল উসতা’।

৩৪ - শায়খ হামদী আস-সালাফীর সাথে যৌথভাবে হাফিজ ইবনু হাজার আসকালানীর ‘ইনতিকাদুল ইতিরায’।

৩৫ - মুহাম্মাদ বিন নাসর আল-মারওয়াযীর ‘ইখতিলাফুল ফুকাহা’।

৩৬ - আবু আহমাদ আল-হাকিমের ‘শিআর আসহাবিল হাদিস’।

৩৭ - ইমাম আহমাদ বিন হাম্বলের ‘কিতাবুল আশরিবা’।

৩৮ - আব্দুল্লাহ বিন মুবারকের ‘মুসনাদ’।

৩৯ - মাহমুদ মুহাম্মাদ খলিল আস-সাঈদী-র সাথে যৌথভাবে ‘আল-মুনতাখাব মিন মুসনাদি আবদ ইবনু হুমাইদ’।
(খণ্ড: ১) আলামুল মাদরাসাতিল হাদীসিয়াতিল বাগদাদিয়াতিল মুআসিরাহ (পৃষ্ঠা: ২১)
40 - مسند المقلين من الأمراء والسلاطين لتمام الرازي.

41 - فضائل الكتاب الجامع لأبي عيسى الترمذي لعبيد بن محمد الإسعردي.

42 - بستان المحدثين للشاه عبد العزيز الدهلوي مترجم للعربية (لم يطبع).

43 - مجموعة إجازاتي في السنة المشرفة، تأليفه، وهو ثبت الشيخ المختصر (لم يطبع).

44 - حاشية على الرسالة المستطرفة. تأليفه (لم يطبع).

 

* أما الكتب التي لم تتم بعد:

1 - شرح سنن ابن ماجه القزويني.

2 - لطائف المنن في زوائد المستدرك على الصحيحين والسنن.

والشيخ الآن يقطن بيروت منذ سنة 2006م لمّا خرج مكرهاً من بلده، عجلّ الله رجوعه إلينا، ومتعنا به، وآخر لقائي به في بيروت العام المنصرم 2011م وهو بعافية، ولله الحمد.

قلت: عرضت هذه الترجمة على شيخنا صبحي السامرائي فاقرنا عليها ووافق على نشرها.
৪০ - তাম্মাম আল-রাজী রচিত মুসনাদুল মুকিল্লীন মিনাল উমারা ওয়াস সালাতীন (আমীর ও সুলতানদের স্বল্প সংখ্যক হাদিস বর্ণনার সংকলন)।

৪১ - উবাইদ বিন মুহাম্মদ আল-ইসআরদী রচিত আবু ঈসা তিরমিযীর আল-জামি গ্রন্থের ফাযায়েল বা মর্যাদা।

৪২ - শাহ আব্দুল আজিজ দেহলভী রচিত বুস্তানুল মুহাদ্দিসীন, যা আরবিতে অনূদিত (অপ্রকাশিত)।

৪৩ - মাজমুআতু ইজাযাতি ফিস সুন্নাতিল মুশাররাফাহ (মর্যাদাপূর্ণ সুন্নাহ বিষয়ক আমার ইজাযত বা অনুমতিপত্রের সমষ্টি), এটি তাঁর নিজস্ব সংকলন এবং এটি শায়খের সংক্ষিপ্ত 'সাবাত' বা সনদ গ্রন্থ (অপ্রকাশিত)।

৪৪ - আর-রিসালাতুল মুসতাতরাফাহ-এর ওপর তাঁর রচিত হাশিয়া বা টীকা (অপ্রকাশিত)।

 

* যে সকল গ্রন্থ এখনও সমাপ্ত হয়নি:

১ - সুনানে ইবনে মাজাহ আল-কাযভীনীর শারহ বা ব্যাখ্যাগ্রন্থ।

২ - লাতাইফুল মিনান ফী যাওয়াইদিল মুসতাদরাক আলাস সহীহাঈন ওয়াস সুনান।

শেখ ২০০৬ সাল থেকে বর্তমানে বৈরুতে বসবাস করছেন, যখন তিনি বাধ্য হয়ে নিজ দেশ ত্যাগ করেন। আল্লাহ আমাদের মাঝে তাঁর প্রত্যাবর্তনকে ত্বরান্বিত করুন এবং তাঁর মাধ্যমে আমাদের উপকৃত করুন। গত বছর ২০১১ সালে বৈরুতে তাঁর সাথে আমার শেষ সাক্ষাৎ হয়েছিল এবং আলহামদুলিল্লাহ তিনি সুস্থ ছিলেন।

আমি বলছি: এই জীবনীটি আমাদের শেখ সুবহি আল-সামাররাইয়ের নিকট পেশ করা হলে তিনি এটি সমর্থন করেছেন এবং প্রকাশের অনুমতি দিয়েছেন।
(খণ্ড: ১) আলামুল মাদরাসাতিল হাদীসিয়াতিল বাগদাদিয়াতিল মুআসিরাহ (পৃষ্ঠা: ২১)
‌‌المبحث الثالث

الدكتور بشّار عوّاد معروف العبيدي - حفظه الله
-

‌‌أولاً: الأسرة والمولد:

بَشّار بن عَوّاد بن معروف بن عبد الرزاق بن محمد بن بكر العُبَيْديُّ البَغْداديُّ الأعظميُّ. ولد في غرة شعبان سنة 1359هـ 4/ 9/ 1940 (1) م، في بلدة الأعظمية.

وُلِدَ شيخنا لأبوين عَربيين صَلِيبةً ينتميان إلى قبيلة العُبَيْد الحميرية، أكبر قبائل العراق وأشهرها، نزحت إليه من اليمن السعيد في مُدَدٍ متفاوتة، ومساكنها في الجزيرة بين دجلة والفرات ولا سيما في بَريّة سِنْجار والحَوِيجة المعروفة باسمهم اليوم ((حَوِيجةُ العُبَيْد)) (2). وهما من عشيرة ((ألبو عِلِي)) (3)، وهي من كبار عشائر العُبيد عدداً وأوسعهم انتشاراً في جميع أنحاء العراق.

وكان السلطان العثماني مراد الرابع رحمه الله قد استعان بهذه العشيرة القوية على إخراج الفرس من بغداد وتحرير العراق منهم سنة 1048هـ، وأسكن طائفة منهم في ((الأعظمية)) لحماية مرقد الإمام أبي

--------------------------------------------

(1) قال استاذنا:"وجدته مقيداً بخط والدي رحمه الله".

(2) ما يزال أصل قبيلة العُبيد موجود في اليمن بكثرة.

(3) هكذا يلفظها أهل العراق بكسر العين المهملة واللام، والنسبة إليها عند عامة الناس: ((إعْلِوِي)).
তৃতীয় পরিচ্ছেদ

ডক্টর বাশার আওয়াদ মারুফ আল-উবাইদী - আল্লাহ তাকে হিফাযত করুন
-

প্রথমত: পরিবার ও জন্ম:

বাশার বিন আওয়াদ বিন মারুফ বিন আব্দুল রায্যাক বিন মুহাম্মাদ বিন বকর আল-উবাইদী আল-বাগদাদী আল-আযামী। তিনি ১৩৫৯ হিজরির ১লা শাবান মোতাবেক ৪/৯/১৯৪০ (১) খ্রিস্টাব্দে আযামিয়া শহরে জন্মগ্রহণ করেন।

আমাদের শায়খ এক সম্ভ্রান্ত আরব দম্পতির ঘরে জন্মগ্রহণ করেন, যারা হিময়ারী উবাইদ গোত্রের অন্তর্ভুক্ত। এটি ইরাকের বৃহত্তম ও সবচেয়ে প্রসিদ্ধ গোত্রগুলোর অন্যতম। তারা বিভিন্ন সময়ে সুখী ইয়েমেন থেকে এখানে স্থানান্তরিত হয়ে আসেন। তাদের আবাসস্থল হলো দজলা ও ফোরাত নদীর মধ্যবর্তী জাযীরা অঞ্চলে, বিশেষ করে সিনজার মরুভূমি ও হাওয়িজা এলাকায়, যা বর্তমানে তাদের নামানুসারে ‘হাওয়িজাতুল উবাইদ’ (২) নামে পরিচিত। তাঁরা ‘আলবু ইলি’ (৩) বংশোদ্ভূত, যা সংখ্যায় অনেক বড় এবং ইরাকের সর্বত্র বিস্তৃত উবাইদ গোত্রের অন্যতম প্রধান শাখা।

উসমানীয় সুলতান চতুর্থ মুরাদ (রহিমাহুল্লাহ) ১০৪৮ হিজরিতে বাগদাদ থেকে পারস্যদের বিতাড়িত করতে এবং তাদের কবল থেকে ইরাককে মুক্ত করতে এই শক্তিশালী গোত্রের সাহায্য গ্রহণ করেছিলেন। তিনি তাদের একটি দলকে ‘আযামিয়া’য় বসতি স্থাপনের ব্যবস্থা করেন যাতে তারা ইমাম আবু... এর মাজার রক্ষা করতে পারে।

--------------------------------------------

(১) আমাদের উস্তাদ বলেন: "আমি এটি আমার বাবার (রহিমাহুল্লাহ) হাতের লেখায় লিপিবদ্ধ পেয়েছি।"

(২) উবাইদ গোত্রের মূল শাখা এখনও ইয়েমেনে প্রচুর সংখ্যায় বিদ্যমান আছে।

(৩) ইরাকবাসীরা ‘আইন’ ও ‘লাম’ বর্ণে কাসরা (জের) দিয়ে এভাবে উচ্চারণ করে থাকে এবং সাধারণ মানুষের মাঝে এর নিসবত বা সম্বন্ধ হলো: ‘ই'লিওয়ী’।
(খণ্ড: ১) আলামুল মাদরাসাতিল হাদীসিয়াতিল বাগদাদিয়াতিল মুআসিরাহ (পৃষ্ঠা: ২২)
حنيفة من عبثهم، فمعظم سكنة الأعظمية منهم (1).

أما والدة استاذنا فهي: الحاجة رضِيّة بنت أحمد الصالح يرحمها الله، من أشهر عوائل الأعظمية، عمها جعفر الصالح رحمه الله كان رئيس البلد في العهد العثمان وهي أكبر خالات الشاعر المشهور وليد الأعظمي رحمه الله، تعرف بالتقوى والصلاح، أخبرني الدكتور بشار أن قلبه شغف بالقرآن وتلاوته، رحمها الله تعالى.

وأستاذنا ذو شخصية متميزة، له نظرة الموضوعية، وهو مجد في البحث العلمي، نقاد للروايات والنصوص، مدقق، مستحضر في تراجمه حال الرجل باستيعاب -غالبا-، وحينما ينقل كلام علماء الجرح والتعديل، لا ينقله هكذا بل يفسر، ويجمع، وينقد، ويعلق.

 

‌‌ثانياً: النشأة والتعليم:

نشأ استاذنا نشأة اسلامية منذ نعومة اظفاره، إذ اعتنى به والده المحامي عواد معروف فأقرأه القُرآن في صغره، ودخل المدرسة الابتدائية سنة 1947،والثانوية سنة 1954، وتخرج فيها بتفوق سنة 1960، والتحق بقسم التاريخ في كلية الآداب بجامعة بغداد وتخرج فيه سنة 1964.

أخبرني استاذي أنّه حاز المرتبة الأوّلى على القسم للسنوات الأربع، ونال من أجل ذلك جائزة المجمع العلمي العراقي. وفي تلك المدة تعلّم على عدد من علماء العراق البارزين منهم: عَمّه الدكتور ناجي معروف الذي كان من رجالات العهد الهاشمي البارزين في العراق، والدكتور عبد العزيز الدوري، والدكتور صالح أحمد العلي، وأولوه عناية خاصة. ثم التحق سنة 1964 طالباً في دراسة الماجستير في دائرة التاريخ والآثار بجامعة بغداد، واختار كتاب ((التكملة لوفيات النقلة)) للحافظ زكي الدين المنذري (دراسة وتحقيق) موضوعاً لهذه الدراسة بإشراف الأستاذ الدكتور جعفر حسين خصباك (2).

واتصل آنذاك اتصالاً قوياً بالعلاّمة المحقق الدكتور مصطفى جواد رحمه الله فلازمه ودرس عليه

--------------------------------------------

(1) ما تزال محلة في ((الأعظمية)) تعرف باسم محلة ((الشيوخ)) نسبة إلى شيوخ العُبيد.

(2) هو مؤرخ عراقي غير مرضي بين طلبة العلم لآراء غريبة! ولكنه أول في تاريخ الفرق والأديان، وقد سمعته ييكثر من الثناء على استاذنا الدكتور بشار أكثر من مرة لما درسنا في الجامعة الاسلامية عام 1991م.
আবু হানিফাকে তাদের উপদ্রব থেকে; কেননা আদহামিয়ার অধিকাংশ অধিবাসী তাদের অন্তর্ভুক্ত (১)।

আমাদের উস্তাদের মাতা হলেন: হাজ্জাহ রাদিইয়াহ বিনতে আহমাদ আস-সালিহ, আল্লাহ তার ওপর রহম করুন। তিনি আদহামিয়ার অন্যতম বিখ্যাত পরিবারের সদস্য। তার চাচা জাফর আস-সালিহ (আল্লাহ তার ওপর রহম করুন) উসমানীয় আমলে নগরপ্রধান ছিলেন। তিনি বিখ্যাত কবি ওয়ালিদ আল-আদহামির (আল্লাহ তার ওপর রহম করুন) জ্যেষ্ঠ খালা। তিনি পরহেজগারি ও নেক আমলের জন্য পরিচিত ছিলেন। ডক্টর বাশার আমাকে জানিয়েছেন যে, তার অন্তর কুরআন ও তার তিলাওয়াতের প্রতি অনুরক্ত ছিল, আল্লাহ তাআলা তার ওপর রহম করুন।

আমাদের উস্তাদ এক বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বের অধিকারী, তার দৃষ্টিভঙ্গি বস্তুনিষ্ঠ। তিনি বৈজ্ঞানিক গবেষণায় অত্যন্ত পরিশ্রমী, বর্ণনা ও পাঠ্যসমূহের সমালোচক এবং সূক্ষ্মদর্শী। তিনি যখন জীবনীগ্রন্থ প্রণয়ন করেন, তখন সাধারণত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অবস্থা পূর্ণাঙ্গরূপে উপস্থাপন করেন। আর যখন তিনি জারহ ও তাদিলের ইমামদের বক্তব্য উদ্ধৃত করেন, তখন তা কেবল গতানুগতিকভাবে উদ্ধৃত করেন না, বরং তার ব্যাখ্যা প্রদান করেন, সমন্বয় করেন, সমালোচনা করেন এবং মন্তব্য করেন।

 

‌‌দ্বিতীয়: বেড়ে ওঠা ও শিক্ষা:

আমাদের উস্তাদ শৈশব থেকেই ইসলামি পরিবেশে বেড়ে উঠেছেন। কারণ তার পিতা আইনজীবী আওয়াদ মারুফ তার প্রতি যত্নবান ছিলেন এবং শৈশবেই তাকে কুরআন পাঠ করিয়েছেন। তিনি ১৯৪৭ সালে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এবং ১৯৫৪ সালে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রবেশ করেন। ১৯৬০ সালে তিনি কৃতিত্বের সাথে সেখান থেকে উত্তীর্ণ হন এবং বাগদাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের ইতিহাস বিভাগে ভর্তি হন এবং ১৯৬৪ সালে সেখান থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেন।

আমার উস্তাদ আমাকে জানিয়েছেন যে, তিনি চার বছরই বিভাগে প্রথম স্থান অধিকার করেছিলেন এবং এ কারণে তিনি ইরাকি সায়েন্টিফিক একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন। সেই সময়ে তিনি ইরাকের বেশ কয়েকজন বিশিষ্ট আলেমের কাছে শিক্ষা লাভ করেন, যাদের মধ্যে রয়েছেন: তার চাচা ডক্টর নাজি মারুফ, যিনি ইরাকে হাশেমীয় আমলের অন্যতম বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব ছিলেন, ডক্টর আব্দুল আজিজ আদ-দুরি এবং ডক্টর সালিহ আহমাদ আল-আলি। তারা তার প্রতি বিশেষ যত্ন নিতেন। এরপর ১৯৬৪ সালে তিনি বাগদাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগে স্নাতকোত্তর ছাত্র হিসেবে ভর্তি হন। তিনি তার এই গবেষণার বিষয় হিসেবে হাফেজ জাকি উদ্দিন আল-মুনজিরির "আত-তাকমিলা লি-ওয়াফায়াতিন ნაკলা" গ্রন্থটি (গবেষণা ও তাহকিক) নির্বাচন করেন, যা প্রফেসর ডক্টর জাফর হুসাইন খাসবাক-এর (২) তত্ত্বাবধানে সম্পন্ন হয়।

সেই সময়ে তিনি বিজ্ঞ গবেষক ডক্টর মুস্তফা জাওয়াদ (আল্লাহ তার ওপর রহম করুন)-এর সাথে নিবিড় সম্পর্ক গড়ে তোলেন, ফলে তার দীর্ঘ সাহচর্য অবলম্বন করেন এবং তার কাছে পাঠ গ্রহণ করেন।

--------------------------------------------

(১) আদহামিয়াতে এখনও একটি এলাকা 'মাখাল্লাতুশ শুয়ুখ' নামে পরিচিত, যা উবাইদ গোত্রের শায়খদের সাথে সম্পৃক্ত।

(২) তিনি একজন ইরাকি ঐতিহাসিক, যার কিছু অদ্ভুত মতামতের কারণে ইলম অন্বেষণকারীদের কাছে তিনি পছন্দনীয় নন! তবে তিনি ফিরকা এবং ধর্মের ইতিহাসে অগ্রগণ্য। আমি তাকে একাধিকবার আমাদের উস্তাদ ডক্টর বাশারের ভূয়সী প্রশংসা করতে শুনেছি যখন আমরা ১৯৯১ সালে ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করতাম।
(খণ্ড: ১) আলামুল মাদরাসাতিল হাদীসিয়াতিল বাগদাদিয়াতিল মুআসিরাহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
علم تحقيق النصوص، وترك بصمات واضحة في شخصية استاذنا، ظهرت بجلاء في تحقيقه لكتاب ((التكملة)) سنة 1967م، ومنح مرتبة الامتياز، قال لي استاذنا:"وهو أوّل من حصل على هذه المرتبة في تاريخ الدراسات العليا في العراق".وفي أثناء ذلك حصل على منحة من جامعة هامبورك الألمانية لتعلم اللغة الألمانية ليعيّن معلماً للغة العربية في الجامعة المذكورة، وتعلمها سنة 1965م.

وفي سنة 1967م قبل طالباً للدكتوراه في قسم اللغات الشرقية في كلية الآداب بجامعة القاهرة، وأعدّ رسالةً بعنوان ((الحضارة الإسلامية في ظل الدولة السامانية)) بإشراف الأستاذ الدكتور يحيى الخشاب رحمه الله لكنه لم يناقش هذه الرسالة لعدم تمكنه من الإقامة في القاهرة بسبب وفاة والده سنة 1968م وتحمله المسؤولية العائلية، وعودته إلى مهنته في زراعة الأرض.

وفي سنة 1976م نال مرتبة الدكتوراه من كلية الآداب بجامعة بغداد عن رسالته ((الذهبي ومنهجه في كتابه تاريخ الإسلام)) (1).

 

‌‌ثالثاً: رحلاته، وكبار مشايخه وتلامذته:

عني شيخنا بدراسة الحديث النبوي الشريف منذ شبابه، ولا سيما علم التراجم والرجال والعلل، فطاف البلاد طلباً للسماع، ومن رحلاته:

1 - رحل إلى مكّة وسمع بها من العلامة المحدث الشريف أبو محمد بديع الدين شاه الراشدي المكي بما تضمنه " ثبت الإجازة" بالرواية عنه.

--------------------------------------------

(1) حدثني استاذي د بشار أنه كتب هذه الأطروحة في أربعة أشهر: أيلول ـ كانون أول سنة 1975، ونالت بحمد الله ومَنِّه رضا أهل العلم وأثنوا عليها الثناء الحسن. وقد أثنى الشيخ عبد الفتاح أبو غدة في تقديمه لرسالة الذهبي ص149: ((ذكر من يعتمد قوله في الجرح والتعديل)) فقال: ((وخير كتاب وقفت عليه للمعاصرين ترجم للحافظ الذهبي وعَرَّف به وبمؤلفاته: كتاب ((الذهبي ومنهجه في كتابه تاريخ الإسلام))، للعلامة (كذا) المحقق الدكتور بشّار عوّاد معروف، البغدادي، المطبوع بالقاهرة سنة 1976م. بمطبعة عيسى البابي الحلبي، وقد بَلَّغ فيه آثار الذهبي ومؤلفاته من كتب وأجزاء ورسائل إلى 214 أثر، مع الإشارة إلى مواضع ذكرها من الكتب، ومواضع وجودها في المكتبات، ومنه استفدت معرفة هذه الرسالة وموضعها، فجزاه الله تعالى عني وعن العلم خيراً، فمن أراد التوسع في معرفة الإمام الذهبي، فليرجع إلى هذا الكتاب النفيس)).
পাণ্ডুলিপি সম্পাদনা বিদ্যা আমাদের উস্তাদের ব্যক্তিত্বে সুস্পষ্ট ছাপ রেখে গেছে, যা ১৯৬৭ সালে তার 'আত-তাকমিলা' গ্রন্থটি সম্পাদনার মাধ্যমে স্পষ্টভাবে প্রকাশিত হয়েছে এবং তিনি প্রথম বিভাগে (এক্সিলেন্ট) উত্তীর্ণ হয়েছেন। আমাদের উস্তাদ আমাকে বলেছেন: "ইরাকের উচ্চশিক্ষা গবেষণার ইতিহাসে এই মান অর্জনকারী তিনি প্রথম ব্যক্তি।" এর মাঝেই তিনি জার্মানির হামবুর্গ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জার্মান ভাষা শেখার জন্য একটি বৃত্তি পান যাতে উক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে আরবি ভাষার শিক্ষক হিসেবে নিযুক্ত হতে পারেন এবং ১৯৬৫ সালে তিনি তা শেখেন।

১৯৬৭ সালে তিনি কায়রো বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের প্রাচ্য ভাষা বিভাগে পিএইচডি ছাত্র হিসেবে গৃহীত হন এবং প্রফেসর ডক্টর ইয়াহইয়া আল-খাশশাব (রহিমাহুল্লাহ)-এর তত্ত্বাবধানে "সামানি সাম্রাজ্যের ছায়াতলে ইসলামী সভ্যতা" শীর্ষক একটি অভিসন্দর্ভ প্রস্তুত করেন। কিন্তু ১৯৬৮ সালে তার পিতার মৃত্যুজনিত কারণে কায়রোতে অবস্থান করা সম্ভব না হওয়ায় এবং পারিবারিক দায়িত্ব কাঁধে আসায় ও নিজ পেশা কৃষিকাজে ফিরে যাওয়ায় তিনি এই অভিসন্দর্ভটি উপস্থাপন করতে পারেননি।

১৯৭৬ সালে তিনি বাগদাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদ থেকে তার অভিসন্দর্ভ "আয-যাহাবী ও তার তারিখুল ইসলাম গ্রন্থের পদ্ধতি" (১)-এর ওপর পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন।

 

‌‌তৃতীয়ত: তার সফরসমূহ এবং তার প্রবীণ শায়েখ ও ছাত্রবৃন্দ:

আমাদের শায়েখ তার যৌবনকাল থেকেই সম্মানিত হাদিসে নববীর গবেষণায় মনোনিবেশ করেন, বিশেষ করে জীবনী অভিধান, রিজাল শাস্ত্র এবং ইল্লত (নিগূঢ় ত্রুটি) সংক্রান্ত বিদ্যায়। ফলে তিনি হাদিস শ্রবণের উদ্দেশ্যে দেশ-বিদেশে ভ্রমণ করেন। তার সফরসমূহের মধ্যে রয়েছে:

১ - তিনি মক্কায় সফর করেন এবং সেখানে প্রখ্যাত মুহাদ্দিস আল্লামা শরিফ আবু মুহাম্মদ বদিউদ্দীন শাহ আর-রাশিদী আল-মাক্কী-এর নিকট থেকে তার বর্ণিত 'সাবাতুল ইজাজাহ'-এর অন্তর্ভুক্ত বর্ণনাগুলো শ্রবণ করেন।

--------------------------------------------

(১) আমার উস্তাদ ডক্টর বাশার আমাকে বলেছেন যে, তিনি এই অভিসন্দর্ভটি চার মাসে লিখেছেন: সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত। আল্লাহর প্রশংসা ও অনুগ্রহে এটি আলেম সমাজের সন্তুষ্টি অর্জন করেছে এবং তারা এর ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। শেখ আবদাল ফাত্তাহ আবু গুদ্দাহ 'আয-যাহাবী'-এর রিসালা (পৃষ্ঠা ১৪৯: 'যিকরু মান ইউ'তামাদু কওলুহু ফিল জারহি ওয়াত তা'দীল')-এর ভূমিকায় প্রশংসা করে বলেন: "হাফেজ যাহাবীর জীবনী এবং তার রচনাবলির পরিচয়ে সমসাময়িকদের মধ্যে আমার দেখা শ্রেষ্ঠ বই হলো: আল্লামা (এভাবেই মূল পাঠে আছে) গবেষক ডক্টর বাশার আওয়াদ মারুফ আল-বাগদাদী রচিত 'আয-যাহাবী ও তার তারিখুল ইসলাম গ্রন্থের পদ্ধতি', যা ১৯৭৬ সালে কায়রোর ঈসা আল-বাবি আল-হালাবি প্রেস থেকে মুদ্রিত। এতে তিনি যাহাবীর রচনাবলি, বিভিন্ন খণ্ড ও পত্রসহ ২১৪টি নিদর্শনের কথা উল্লেখ করেছেন, পাশাপাশি বইগুলোতে সেগুলোর বর্ণনার স্থান এবং লাইব্রেরিতে সেগুলোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছেন। আমি এই রিসালা এবং এর অবস্থান সম্পর্কে এখান থেকেই উপকৃত হয়েছি। আল্লাহ তায়ালা আমার পক্ষ থেকে এবং ইলমের পক্ষ থেকে তাকে উত্তম প্রতিদান দিন। সুতরাং যারা ইমাম যাহাবী সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চান, তারা যেন এই মূল্যবান বইটির দিকে ফিরে আসেন।"
(খণ্ড: ১) আলামুল মাদরাসাতিল হাদীসিয়াতিল বাগদাদিয়াতিল মুআসিরাহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
2 - ورحل إلى الهند، وسمع بها من المحدث المحقق المدقق الشيخ حبيب الرحمن بن محمد صابر الأعظمي، وقد أجازه بجميع ما يجوز له وعنه روايته، وبما تحويه "رسالة الأوائل" للشيخ سعيد سنبل.

3 - ورحل إلى باكستان بصحبة صديقه الشيخ عبد الفتاح أبي غدة، وسمعا بها من العلامة المحدث محمد مالك الكاندهلوي، شيخ الحديث بدار الحديث الأشرفية بلاهور من بلاد باكستان، وفي هذه الرحلة أجازه الشيخ أبو غدة رحمه الله بجميع ما تجوز لها روايته.

وسمع (باقليم السند) من العلامة الفهامة الشيخ محمد عبد الحليم بن عبد الرحيم الحبشتي نزيل السند صاحب كتاب "البضاعة المزجاة لمن طالع المرقاة في شرح المشكاة، وأجازه بجميع ما تجوز له روايته عن شيوخه.

وسمع بها من العلامة الشيخ محمد حسين أحمد المعروف بالمدني رئيس المدرسين بدار العلوم الديوبندية وغيره بما تضمنه كتاب "الكلام السديد في تحرير الأسانيد".

وسمع بها من العلامة الشيخ المولوي محمد أمين بن محمد عبد الرحيم الجيفوري بجميع مروياته عن شيوخه، وفي مقدمتهم الشيخ المكرم محدث العصر محمد يوسف البنوري قال لي الدكتور بشار:"تحصَّرت من أجل الرحلة إليه، فلم يكتب لي ذلك".

وسمع بها من العلامة الشيخ محمد أنور البذخشاني وقرأ عليه بمنزله بمدينة كراتشي من بلاد باكستان.

وقد أجازه كذلك صديقه المحقق شيخنا العلامة حمدي عبد المجيد السلفي -حفظه الله-.

أما تلامذته: فهم كثر في العراق ومصر وبلاد الحرمين، والهند والباكستان، وغيرها، وأذكر منهم على سبيل الذكر لا الحصر، ممن أجازهم الدكتور:

1 - استجازه عشرات من طلبة في رحلاته المتعددة إلى مصر الكنانة، منهم: الشيخ الداعية الدكتور محمد اسماعيل المقدّم، والشيخ الدكتورأحمد معبد عبد الكريم، والشيخ صلاح فتحي هلل.

2 - الشيخ الدكتور أبو عبد الله، عزيز رشيد الدايني رحمه الله، رفيقي في طلب العلم تقبله الله في الشهداء.

3 - الشيخ الدكتور، أبو حسناء رائد يوسف العنبكي، وهو من أكثر من لازم الدكتور.

4 - الشيخ الدكتور مصطفى اسماعيل العبيدي، وهو كذلك ممن لازم الدكتور.

5 - الشيخ الدكتور أبو محمد، مهدي رزاك شاهين، وهو من خيرة طلبة العلم لكنه مغمور.
২ - তিনি ভারত সফর করেন এবং সেখানে মুহাদদ্দিস, গবেষক ও সূক্ষ্মদর্শী আলেম শায়খ হাবীবুর রহমান বিন মুহাম্মদ সাবের আল-আজমীর নিকট থেকে হাদিস শ্রবণ করেন। শায়খ তাকে তার নিজের জন্য এবং তার পক্ষ থেকে বর্ণনা করা বৈধ এমন সকল বর্ণনার ইজাজত প্রদান করেন, যার মধ্যে শায়খ সাঈদ সুনবুলের 'রিসালাতুল আওয়াইল' গ্রন্থভুক্ত বর্ণনাগুলোও অন্তর্ভুক্ত ছিল।

৩ - তিনি তার বন্ধু শায়খ আবদুল ফাত্তাহ আবু গুদ্দাহর সাথে পাকিস্তান সফর করেন। সেখানে তারা পাকিস্তানের লাহোরে অবস্থিত দারুল হাদিস আশরাফিয়ার শায়খুল হাদিস, আল্লামা মুহাদদ্দিস মুহাম্মদ মালিক কান্ধলভীর নিকট থেকে হাদিস শ্রবণ করেন। এই সফরে শায়খ আবু গুদ্দাহ (রহ.) তাকে তার বর্ণনার জন্য অনুমোদিত সকল বর্ণনার ইজাজত প্রদান করেন।

তিনি (সিন্ধু প্রদেশে) প্রাজ্ঞ আলেম শায়খ মুহাম্মদ আবদুল হালীম বিন আবদুর রহীম আল-হাবাশতী—যিনি সিন্ধুর বাসিন্দা এবং 'আল-বিদআত আল-মুজজাত লিমান তলাআল মিরকাত ফি শারহিল মিশকাত' গ্রন্থের রচয়িতা—তার নিকট থেকে হাদিস শ্রবণ করেন। তিনি তাকে তার উস্তাদদের কাছ থেকে প্রাপ্ত সকল বর্ণনার ইজাজত প্রদান করেন।

সেখানে তিনি দারুল উলুম দেওবন্দের প্রধান শিক্ষক আল্লামা শায়খ মুহাম্মদ হুসাইন আহমদ (যিনি মাদানী হিসেবে পরিচিত) এবং অন্যদের নিকট থেকে 'আল-কালাম আস-সাদীদ ফি তাহরীরিল আসানীদ' গ্রন্থে বর্ণিত বিষয়াদি শ্রবণ করেন।

তিনি সেখানে আল্লামা শায়খ মৌলভী মুহাম্মদ আমীন বিন মুহাম্মদ আবদুর রহীম আল-জাইফুরীর নিকট থেকে তার উস্তাদদের সকল বর্ণনা শ্রবণ করেন, যাদের অগ্রভাগে ছিলেন সম্মানিত শায়খ, যুগের মুহাদদ্দিস মুহাম্মদ ইউসুফ বিন্নুরী। ড. বাশার আমাকে বলেছিলেন: "তার নিকট সফরের জন্য আমি আক্ষেপ করেছি, কিন্তু আমার ভাগ্যে তা নির্ধারিত ছিল না।"

তিনি সেখানে আল্লামা শায়খ মুহাম্মদ আনোয়ার বদখশানীর নিকট থেকে হাদিস শ্রবণ করেন এবং পাকিস্তানের করাচি শহরে তার বাসভবনে তাকে কিতাব পাঠ করে শোনান।

একইভাবে তার বন্ধু গবেষক, আমাদের শায়খ আল্লামা হামদী আবদুল মাজীদ আস-সালাফী (হাফিযাহুল্লাহ) তাকে ইজাজত প্রদান করেছেন।

তার ছাত্রবৃন্দের কথা বলতে গেলে, তারা ইরাক, মিশর, হারামাইন শরিফাইন এলাকা, ভারত, পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশে অসংখ্য। ডক্টর যাদের ইজাজত প্রদান করেছেন, তাদের মধ্য থেকে কয়েকজনের নাম উল্লেখ করছি:

১ - মিশরে তার বিভিন্ন সফরের সময় কয়েক ডজন তালিবে ইলম তার কাছে ইজাজত প্রার্থনা করেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন: শায়খ দায়ী ড. মুহাম্মদ ইসমাইল আল-মুকাদ্দাম, শায়খ ড. আহমদ মাবাদ আবদুল করীম এবং শায়খ সালাহ ফাতহি হালিল।

২ - শায়খ ড. আবু আবদুল্লাহ আজীজ রশিদ আদ-দাইনী (রহ.), ইলম অন্বেষণে তিনি আমার সঙ্গী ছিলেন। আল্লাহ তাকে শহীদ হিসেবে কবুল করুন।

৩ - শায়খ ড. আবু হাসনা রায়েদ ইউসুফ আল-আনবাকী, যিনি ডক্টরের দীর্ঘ সান্নিধ্যে থাকা ব্যক্তিদের অন্যতম।

৪ - শায়খ ড. মুস্তফা ইসমাইল আল-উবাইদী, তিনিও ডক্টরের দীর্ঘ সান্নিধ্যে ছিলেন।

৫ - শায়খ ড. আবু মুহাম্মদ মাহদী রাজ্জাক শাহীন, তিনি অন্যতম শ্রেষ্ঠ তালিবে ইলম হলেও প্রচারবিমুখ।
(খণ্ড: ১) আলামুল মাদরাসাতিল হাদীসিয়াতিল বাগদাদিয়াতিল মুআসিরাহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
6 - الشيخ شيروان الكردي تقبله الله في الشهداء، وهو من تلامذة الدكتور القدماء، وكثيراً ما أثنى عليه خيراً.

7 - الشيخ الدكتور ياسر احسان النعيمي.

8 - الشيخ الدكتور، أبو حارث، ماهر ياسين فحل.

9 - الشيخ الدكتور أبو فاروق، نصير الشهرباني.

10 - الشيخ عمر مكي، وهو ممن لازم الدكتور في عمّان.

11 - العبد الفقير إلى ربه كاتب هذه السطور، أبو ذر عبد القادر مصطفى المحمدي.

ومن اقرانه من العلماء المشهورين ممن درّسه: الدكتور عبد الملك السعدي حفظه الله تعالى، والدكتور عبد العليم السعدي رحمه الله تعالى، والدكتور أحمد حسن آل طه، والأستاذ ابراهيم فاضل الدبو، والأستاذ الدكتور خليل الكبيسي رحمه الله تعالى، والأستاذ الدكتور محمد جاسم المشهداني.

 

‌‌رابعاً: وظائفه التي شغلها:

في سنة 1962م دخل أستاذنا سلك الخدمة المدنية في الحكومة العراقية، إذ عيّن بالتاريخ المذكور كاتباً في المكتبة المركزية بجامعة بغداد، ثم انتقل منها للعمل في مكتبة معهد الدراسات الإسلامية العليا بجامعة بغداد أيضاً _1963م)، ونقل إلى وظيفة معاون ملاحظ في المكتبة المذكورة (1964م)، ثم تفرّغ للدراسة العليا (1965 ـ 1967م)، وعيّن مساعد باحث في كلية الشريعة بجامعة بغداد سنة 1967م، ثم عيّن معيداً في الكلية المذكورة في السنة نفسها، ومحاضراً في كلية الإمام الأعظم وكلية الدراسات الإسلامية والجامعة المستنصرية (1967 ـ 1969م)، ثم مدرساً في قسم التاريخ بكلية الآداب (1970 ـ 1974م)، ثم أستاذاً مساعداً (1974 ـ 1980م). ثم نال مرتبة الأستاذية (بروفسور) سنة (1981م). وتولى رئاسة قسم التاريخ بكلية الآداب (1980ـ 1981م)، ثم أستاذاً متفرغاً للبحث العلمي في مركز إحياء التراث العلمي العربي بجامعة بغداد. وأشرف في أثناء ذلك على عدد كبير من رسائل الماجستير والدكتوراه. وتولى على مدى ثلاث سنوات (1989 ـ 1992م) رئاسة ((جامعة صدّام للعلوم الإسلامية)) حيث أشرف على تأسيسها ووضع مناهجها وبرامجها، وإقامة قواعدها على وفق الأسس الإسلامية الصحيحة القائمة على الكتاب والسنة والابتعاد بها عن الحزبية من كل نوع.

وهذه الجامعة تشرّفتُ بالدراسة فيها عام 1991 - 2001م، وكان أوّل دروس تتلمذت بها على
৬ - শায়খ শিরওয়ান আল-কুর্দি, আল্লাহ তাঁকে শহীদদের অন্তর্ভুক্ত করুন। তিনি ডক্টরের পুরাতন ছাত্রদের একজন ছিলেন এবং ডক্টর প্রায়ই তাঁর ভূয়সী প্রশংসা করতেন।

৭ - শায়খ ডক্টর ইয়াসির ইহসান আন-নুয়াইমি।

৮ - শায়খ ডক্টর আবু হারিস মাহের ইয়াসিন ফাহল।

৯ - শায়খ ডক্টর আবু ফারুক নাসির আশ-শাহরাবানি।

১০ - শায়খ উমর মক্কি, তিনি আম্মানে ডক্টরের সান্নিধ্যে থাকা ব্যক্তিদের একজন।

১১ - তাঁর রবের মুখাপেক্ষী এই পঙক্তিগুলোর লেখক, আবু যার আব্দুল কাদির মুস্তফা আল-মুহাম্মাদী।

তাঁর সমসাময়িক প্রখ্যাত আলেমদের মধ্যে যারা তাঁকে পাঠদান করেছেন তাঁরা হলেন: ডক্টর আব্দুল মালিক আস-সাদি (আল্লাহ তাআলা তাঁকে হেফাযত করুন), ডক্টর আব্দুল আলিম আস-সাদি (আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন), ডক্টর আহমদ হাসান আল-তহা, উস্তাদ ইব্রাহিম ফাদিল আদ-দাব্বু, উস্তাদ ডক্টর খলিল আল-কুবাইসি (আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন) এবং উস্তাদ ডক্টর মুহাম্মদ জাসিম আল-মাশহাদানি।

 

‌‌চতুর্থত: তাঁর কর্মজীবন ও দায়িত্বপ্রাপ্ত পদসমূহ:

১৯৬২ সালে আমাদের উস্তাদ ইরাক সরকারের সিভিল সার্ভিসে যোগদান করেন। উল্লিখিত তারিখে তিনি বাগদাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে লিপিকার হিসেবে নিযুক্ত হন। এরপর তিনি বাগদাদ বিশ্ববিদ্যালয়েরই উচ্চতর ইসলামি শিক্ষা ইনস্টিটিউটের গ্রন্থাগারে কাজের জন্য স্থানান্তরিত হন (১৯৬৩ সাল) এবং উক্ত গ্রন্থাগারের সহকারী পরিদর্শক পদে পদোন্নতি পান (১৯৬৪ সাল)। এরপর তিনি উচ্চশিক্ষার জন্য (১৯৬৫-১৯৬৭ সাল) সময় নিবেদিত করেন। ১৯৬৭ সালে তিনি বাগদাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের শরীয়া অনুষদে গবেষণা সহকারী হিসেবে নিযুক্ত হন এবং একই বছর উক্ত অনুষদে ‘মুয়িদ’ (টিউটর) হিসেবে নিয়োগ পান। ১৯৬৭-১৯৬৯ সাল পর্যন্ত তিনি ইমাম আযম কলেজ, ইসলামিক স্টাডিজ কলেজ এবং আল-মুস্তানসিরিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে লেকচারার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এরপর ১৯৭০-১৯৭৪ সাল পর্যন্ত কলা অনুষদের ইতিহাস বিভাগে শিক্ষক এবং ১৯৭৪-১৯৮০ সাল পর্যন্ত সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ১৯৮১ সালে তিনি প্রফেসর পদমর্যাদা লাভ করেন। তিনি ১৯৮০-১৯৮১ সাল পর্যন্ত কলা অনুষদের ইতিহাস বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং পরবর্তীতে বাগদাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের আরব বৈজ্ঞানিক ঐতিহ্য পুনরুজ্জীবন কেন্দ্রে বৈজ্ঞানিক গবেষণার জন্য পূর্ণকালীন অধ্যাপক হিসেবে নিযুক্ত হন। এই সময়ে তিনি বিপুল সংখ্যক মাস্টার্স ও পিএইচডি থিসিস তত্ত্বাবধান করেন। ১৯৮৯-১৯৯২ সাল পর্যন্ত টানা তিন বছর তিনি ‘সাদ্দাম ইউনিভার্সিটি ফর ইসলামিক সায়েন্সেস’-এর সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন, যেখানে তিনি এর প্রতিষ্ঠা, পাঠ্যক্রম ও কর্মসূচি প্রণয়ন এবং একে কিতাব ও সুন্নাহর সঠিক ইসলামি মূলনীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত করার তদারকি করেন এবং একে সব ধরনের দলীয় প্রভাব থেকে মুক্ত রাখেন।

এই বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৯৯১-২০০১ সাল পর্যন্ত অধ্যয়ন করার সৌভাগ্য আমার হয়েছিল এবং আমার শিক্ষা জীবনের প্রথম পাঠগুলো আমি যার কাছে গ্রহণ করেছিলাম তিনি হলেন...
(খণ্ড: ১) আলামুল মাদরাসাতিল হাদীসিয়াতিল বাগদাদিয়াতিল মুআসিরাহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
أستاذنا الدكتور متعنا الله به، وهذه الجامعة بحق تعد أعظم صرحٍ أكاديمي شرعي أسّس في العراق في العصر الحديث، وهي الجامعة الاسلامية الوحيدة (لأهل السنة والجماعة) لو قدّر لهذا الصرح الاستمرار، إذ أسّسها استاذنا على قواعد ومناهج رائعة، وجمع لها أساتذة وعلماء ندر أن يجتمع مثلهم في جامعة واحدة، وكان على رأسهم أستاذنا المحقق المتَرْجَم -حفظه الله- وشيخنا المحقق صبحي السامرائي، وأستاذنا الفقيه الأصولي هاشم جميل، وأستاذنا الفقيه أبو اليقظان الجبوري-رحمه الله، واستاذنا النحوي الفذ معن العجلي، وغيرهم كثير جداً، لا يتسع المقام لذكرهم، وضمّت طلاب من أصقاع الدنيا من العراق، والسعودية، والكويت، والأردن، وسوريا، وماليزيا، وقرقيزيا، ومن غالب جمهوريات روسيا الأخرى، ومن الباكستان، وأذربيجان .... ،فكنّا في سكن الطلبة آنذاك نحيا حياة طلبة العلم، فتخرج فيها طلاب انتشروا في كثير من الجامعات في العالم، فكانت شوكة في عيون أهل البدع والزيغ، ولا زال يتآمر عليها من يتآمر حتى حلّ بها ما حلّ، ولا حول ولا قوة إلا بالله العلي العظيم.

ثم كاد باستاذنا بعض النّاس ممن ضلّ الوفاءُ طريقَ قلبه! فوشيَ به إلى صدام يومئذٍ أنّه - سلفي-،وأنّه حول الجامعة إلى مرتع خصب لهذا الفكر .. وهذه لوحدها في العراق في ذاك الزمن قد توصل صاحبها إلى المشنقة دون ريبٍّ، ولكنّ الله سلّم، لما عرف عن الدكتور مواقفه القوية والواضحة تجاه الفرس الصفويين، لم تُنس له مواقفه ضد إيران إبان الحرب العراقية الإيرانية فشفعت له، فطلب الدكتور الإعفاء والتقاعد. ثم خرج إلى عمّان الأرن، وعيّن سنة 1992ـ 1994 أستاذاً للحديث والتفسير في جامعة عمان الأهلية. وأستاذاً في جامعة البلقاء التطبيقية منذ سنة 2004م، ثم أستاذاً للحديث في جامعة العلوم الإسلامية العالمية.

 

‌‌خامساً: عضويته في الجمعيات العلمية:

اختير أستاذنا منذ سنة 1981م خبيراً في المجمع العلمي العراقي، وانتخب سنة 1986م عضواً عاملاً فيه، ثم انتخب عضواً في مجمع اللغة العربية الأردني سنة 1988م، وعضواً في مجمع اللغة العربية بدمشق سنة 2002م.

وفي الرابع من ربيع الآخر سنة 1409هـ الموافق للرابع عشر من تشرين الثاني سنة 1988م صدرت الإرادة الملكية الهاشمية في عمّان بمنحه شهادة العضوية في المجمع الملكي لبحوث الحضارة الإسلامية ((مؤسسة آل البيت)) تقديراً لمكانته الفكرية وللجهود التي قدمها في بناء الحياة الثقافية الإسلامية المعاصرة، وانتخب منذ

আমাদের উস্তাদ ডক্টর, আল্লাহ আমাদের তাঁর দ্বারা উপকৃত হওয়ার তৌফিক দান করুন। এই বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রকৃতপক্ষে আধুনিক যুগে ইরাকে প্রতিষ্ঠিত শ্রেষ্ঠতম শারয়ী ও একাডেমিক স্থাপনা হিসেবে বিবেচিত। এটি আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের একমাত্র ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছিল—যদি এই প্রতিষ্ঠানটির স্থায়িত্ব নির্ধারিত থাকত। আমাদের উস্তাদ এটিকে চমৎকার সব মূলনীতি ও পাঠ্যক্রমের ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন এবং এমন সব শিক্ষক ও আলেমদের সেখানে সমবেত করেছিলেন, যাঁদের ন্যায় বিদগ্ধ ব্যক্তিদের একই বিশ্ববিদ্যালয়ে একত্রিত হওয়া ছিল এক বিরল ঘটনা। তাঁদের শীর্ষে ছিলেন আমাদের উস্তাদ মুহাক্কিক আলেম (যাঁর জীবনী বর্ণনা করা হচ্ছে)—আল্লাহ তাঁকে রক্ষা করুন—এবং আমাদের শায়খ মুহাক্কিক সুভহি আস-সামাররাঈ, আমাদের উস্তাদ ফকিহ ও উসুলবিদ হাশেম জামিল, আমাদের উস্তাদ ফকিহ আবু আল-ইয়াকজান আল-জুবুরি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন), আমাদের উস্তাদ অনন্য ব্যাকরণবিদ মান আল-ইজলি এবং আরও অনেকে, যাঁদের নাম উল্লেখ করার মতো পর্যাপ্ত পরিসর এখানে নেই। এখানে ইরাক, সৌদি আরব, কুয়েত, জর্ডান, সিরিয়া, মালয়েশিয়া, কিরগিজস্তান এবং রাশিয়ার অন্যান্য অধিকাংশ প্রজাতন্ত্র, পাকিস্তান ও আজারবাইজানসহ বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে ছাত্ররা আসত। আমরা তখন ছাত্রাবাসে ইলমে দ্বীনের ছাত্রদের ন্যায় জীবন অতিবাহিত করতাম। এখান থেকে এমন সব ছাত্ররা শিক্ষা সমাপন করেছেন যারা বিশ্বের অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে ছড়িয়ে পড়েছেন। এই প্রতিষ্ঠানটি বিদআতি ও পথভ্রষ্টদের চোখের কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারীরা ষড়যন্ত্র চালিয়েই যাচ্ছিল যতক্ষণ না এর ওপর যা আপতিত হওয়ার ছিল তা-ই হলো। আর সুউচ্চ মহান আল্লাহ ব্যতীত কোনো ক্ষমতা বা শক্তি নেই।

অতঃপর আমাদের উস্তাদের বিরুদ্ধে এমন কিছু লোক ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হলো যাদের অন্তরে বিশ্বস্ততার কোনো স্থান ছিল না! তারা তৎকালীন সময়ে সাদ্দামের কাছে তাঁর বিরুদ্ধে কুৎসা রটালো যে তিনি একজন ‘সালাফি’, এবং তিনি এই বিশ্ববিদ্যালয়কে এই চিন্তাধারার একটি চারণভূমিতে পরিণত করেছেন। সেই সময়ে ইরাকে এই বিষয়টি একাই কোনো ব্যক্তিকে নিসন্দেহে ফাঁসির মঞ্চে নিয়ে যাওয়ার জন্য যথেষ্ট ছিল। কিন্তু আল্লাহ তাঁকে রক্ষা করেছেন। কারণ পারসিক সাফাভিদের বিরুদ্ধে ডক্টরের কঠোর ও সুস্পষ্ট অবস্থান সম্পর্কে সবাই জানতেন। ইরাক-ইরান যুদ্ধের সময় ইরানের বিরুদ্ধে তাঁর অবস্থানগুলো বিস্মৃত হওয়ার মতো ছিল না, যা তাঁর জন্য সুপারিশ হিসেবে কাজ করেছিল। এরপর ডক্টর অব্যাহতি ও অবসরের আবেদন করেন। অতঃপর তিনি জর্ডানের আম্মানে চলে যান এবং ১৯৯২-১৯৯৪ সাল পর্যন্ত আম্মান আহলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে হাদিস ও তাফসীরের অধ্যাপক হিসেবে নিযুক্ত হন। ২০০৪ সাল থেকে তিনি বালকা অ্যাপ্লাইড ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক এবং পরবর্তীতে ওয়ার্ল্ড ইসলামিক সায়েন্সেস অ্যান্ড এডুকেশন ইউনিভার্সিটিতে হাদিসের অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

 

‌‌পঞ্চম: বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক ও শিক্ষা সংস্থায় তাঁর সদস্যপদ:

আমাদের উস্তাদ ১৯৮১ সাল থেকে ইরাকি সায়েন্টিফিক একাডেমির বিশেষজ্ঞ হিসেবে মনোনীত হন এবং ১৯৮৬ সালে এর কার্যকরী সদস্য নির্বাচিত হন। অতঃপর ১৯৮৮ সালে তিনি জর্ডান আরবি ভাষা একাডেমির সদস্য এবং ২০০২ সালে দামেস্ক আরবি ভাষা একাডেমির সদস্য নির্বাচিত হন।

১৪০৯ হিজরির ৪ঠা রবিউস সানি মোতাবেক ১৯৮৮ সালের ১৪ই নভেম্বর আম্মানে হাশেমি রাজকীয় ফরমান জারি হয়, যার মাধ্যমে তাঁর বুদ্ধিবৃত্তিক মর্যাদা এবং সমকালীন ইসলামী সাংস্কৃতিক জীবন বিনির্মাণে তাঁর অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে রাজকীয় আল আল-বাইত ইনস্টিটিউট ফর ইসলামিক থট-এর সদস্যপদ সনদ প্রদান করা হয়। এরপর থেকে তিনি নির্বাচিত...
(খণ্ড: ১) আলামুল মাদরাসাতিল হাদীসিয়াতিল বাগদাদিয়াতিল মুআসিরাহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
سنة 1992م عضواً في مجلس المجمع. وفي سنة 1987م انتخب عضواً في المجلس الأعلى للشؤون الإسلامية في القاهرة. وفي سنة 1988م اختير عضواً في هيئة أمناء المعهد الإسلامي العالي للدراسات الإسلامية العليا في الولايات المتحدة (كولومبيا ـ ماريلاند).وفي سنة 1989م انتخب عضواً في المجلس الأعلى العالمي للمساجد في مكة المكرمة.

 

‌‌سادساً: المؤتمرات العلمية:

للدكتور مشاركات كثيرة في مؤتمرات علمية دولية قدّم فيها بحوثاً منها:

المؤتمر الدولي للتاريخ والآثار (بغداد 1973م) ومؤتمر ابن عساكر (دمشق 1979م).وندوة دراسة جنوب الجزيرة العربية (كيمبرج 1981م)،ومؤتمر تعريب العلوم (دمشق 1982).والمؤتمر الإسلامي الشعبي الأول في بغداد (1983م).ومؤتمر اتحاد الجمعيات الإسلامية في كندا (جنيف 1983).ومؤتمر أسلمة المعرفة (ماليزيا 1983)، والندوة الإسلامية في الباكستان (إسلام آباد 1984م)، والندوة الإسلامية العالمية (داكار 1985م) والمؤتمر الإسلامي الشعبي الثاني (بغداد 1985)، حيث انتخب سكرتيراً عاماً للجنة المتابعة المنبثقة عن هذا المؤتمر ثم أميناً عاماً له. (1).

 

‌‌سابعاً: آثاره العلمية:

يعد استاذنا الدكتور بشار من أنشط من كتب في العالم الإسلامي! نعم، هناك من ألّف وحقّق أكثر منه، ولكن في ميزان الاتقان والضبط فله قصب السبق، ومن أهم ما ميّز عمّل أستاذنا الدكتور أنه جمع بين العلم الشرعي والأكاديمي وبرع في الجمع بينهما، فالمعلومة يصل إليها بمسار واضح ودقيق، فلله درّه!

أ- الكتب المؤلفة: ومن تصانيفه الماتعة:

1 - أثر الحديث في نشأة التاريخ عند المسلمين.

2 - المنذري وكتابه التكملة.

--------------------------------------------

(1) وكان أستاذنا من المؤسسين للمجلس الإسلامي العالمي للدعوة والإغاثة، وقد انتخب رئيساً للجنة النشر والإعلام في المجلس الإسلامي العالمي للدعوة والإغاثة، وعضواً في رئاسة المجلس المذكور الذي اتخذ القاهرة مقراً له. وحضر منذ سنة 1983م أكثر من ثمانين مؤتمراً إسلامياً رسمياً وشعبياً أسهم فيها إسهاماً فاعلاً وشارك في صياغة قرارات وتوصيات العديد منها.
১৯৯২ সালে তিনি একাডেমির পরিষদের সদস্য মনোনীত হন। ১৯৮৭ সালে কায়রোর ইসলামিক বিষয়ক সুপ্রিম কাউন্সিলের সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৮৮ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের (কলম্বিয়া - ম্যারিল্যান্ড) আন্তর্জাতিক ইসলামি উচ্চতর শিক্ষা ইনস্টিটিউটের ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য হিসেবে মনোনীত হন। ১৯৮৯ সালে মক্কা মুকাররামায় বিশ্ব মসজিদ বিষয়ক সুপ্রিম কাউন্সিলের সদস্য নির্বাচিত হন।

 

‌‌ষষ্ঠ: বৈজ্ঞানিক সম্মেলনসমূহ:

আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক সম্মেলনে ডক্টরের বহু অংশগ্রহণ রয়েছে, যাতে তিনি গবেষণাপত্র উপস্থাপন করেছেন। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য:

আন্তর্জাতিক ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব সম্মেলন (বাগদাদ ১৯৭৩) এবং ইবনে আসাকির সম্মেলন (দামেস্ক ১৯৭৯), দক্ষিণ আরব উপদ্বীপ অধ্যয়ন সেমিনার (কেমব্রিজ ১৯৮১), বিজ্ঞানের আরবিকরণ সম্মেলন (দামেস্ক ১৯৮২), বাগদাদে প্রথম গণ-ইসলামি সম্মেলন (১৯৮৩), কানাডায় ইসলামি সমিতি ফেডারেশনের সম্মেলন (জেনেভা ১৯৮৩), জ্ঞানের ইসলামায়ন সম্মেলন (মালয়েশিয়া ১৯৮৩), পাকিস্তানে ইসলামি সেমিনার (ইসলামাবাদ ১৯৮৪), আন্তর্জাতিক ইসলামি সেমিনার (ডাকার ১৯৮৫) এবং দ্বিতীয় গণ-ইসলামি সম্মেলন (বাগদাদ ১৯৮৫), যেখানে তিনি এই সম্মেলন থেকে উদ্ভূত ফলো-আপ কমিটির সাধারণ সম্পাদক এবং পরবর্তীতে এর মহাসচিব নির্বাচিত হন। (১)।

 

‌‌সপ্তম: তাঁর জ্ঞানতাত্ত্বিক রচনাবলি:

আমাদের শিক্ষক ডক্টর বাশার মুসলিম বিশ্বের সর্বাধিক কর্মঠ লেখকদের একজন হিসেবে গণ্য হন! হ্যাঁ, এমন অনেকেই আছেন যারা তাঁর চেয়ে বেশি গ্রন্থ রচনা ও সম্পাদনা করেছেন, কিন্তু নির্ভুলতা ও সুক্ষ্মতার বিচারে তিনিই শ্রেষ্ঠত্বের দাবিদার। আমাদের শিক্ষক ডক্টরের কাজের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো তিনি শরয়ি ও একাডেমিক জ্ঞানের মধ্যে সমন্বয় ঘটিয়েছেন এবং এই দুইয়ের সংমিশ্রণে পারদর্শিতা দেখিয়েছেন। তিনি অত্যন্ত স্পষ্ট ও সুক্ষ্ম পথে তথ্যের উৎস পর্যন্ত পৌঁছান; মহান আল্লাহ তাকে উত্তম প্রতিদান দিন!

ক- রচিত গ্রন্থাবলি: তাঁর সুখপাঠ্য রচনাবলির মধ্যে রয়েছে:

১ - মুসলিমদের নিকট ইতিহাসের উদ্ভব ও বিকাশে হাদিসের প্রভাব।

২ - আল-মুনযিরি এবং তাঁর গ্রন্থ আত-তাকমিলা।

--------------------------------------------

(১) আমাদের উস্তাদ ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক কাউন্সিল ফর দাওয়াহ অ্যান্ড রিলিফ-এর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন। তিনি এই কাউন্সিলের প্রকাশনা ও মিডিয়া কমিটির সভাপতি এবং কায়রোতে অবস্থিত এই কাউন্সিলের প্রেসিডিয়াম সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি ১৯৮৩ সাল থেকে আশিটিরও বেশি সরকারি ও বেসরকারি ইসলামি সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, যেখানে তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন এবং অনেকগুলোর সিদ্ধান্ত ও সুপারিশ প্রণয়নে অংশগ্রহণ করেন।