(খণ্ড: ১) মানাহিলুস সাফা ফী তাখরীজি আহাদীশিশ শিফা (পৃষ্ঠা: -)
مناهل الصفا في تخريج أحاديث الشفا   (الجلال السيوطي)

القسم: التخريج والأطراف


الكتاب: مناهل الصفا في تخريج أحاديث الشفا

المؤلف: عبد الرحمن بن أبي بكر، جلال الدين السيوطي (ت 911هـ)

المحقق: الشيخ سمير القاضي

الناشر: مؤسسة الكتب الثقافية - دار الجنان للنشر والتوزيع

الطبعة: الأولى، 1408 هـ - 1988 م

عدد الصفحات: 255

أدخله وراجعه/ فريق عمل المكتبة الشاملة

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 11 جُمادَى الأولى 1433

মানাহিলুস সাফা ফী তাখরীজি আহাদীশিল শিফা   (জালালুদ্দীন আস-সুয়ূতী)

বিভাগ: তাখরীজ ও আতরাফ (হাদীসের উৎস বিশ্লেষণ ও নির্ঘণ্ট)


গ্রন্থ: মানাহিলুস সাফা ফী তাখরীজি আহাদীশিল শিফা

লেখক: আবদুর রহমান বিন আবু বকর, জালালুদ্দীন আস-সুয়ূতী (মৃ. ৯১১ হি.)

গবেষক ও সম্পাদক: শায়খ সমীর আল-কাদী

প্রকাশক: মুয়াসসাসাতুল কুতুব আস-সাকাফিয়্যাহ - দারুল জিনান পাবলিশিং অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন

সংস্করণ: প্রথম, ১৪০৮ হি. - ১৯৮৮ খ্রি.

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৫৫

উপাত্ত সংযোজন ও পর্যালোচনায়/ মাকতাবাতুশ শামিলা কর্মীদল

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যায়ন মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ১১ জুমাদাল উলা ১৪৩৩

(খণ্ড: ১) মানাহিলুস সাফা ফী তাখরীজি আহাদীশিশ শিফা (পৃষ্ঠা: ১)
مناهل الصفا في تخريج أحاديث الشفا

بتعريف حقوق المصطفى صلى الله عليه وسلم

للقاضي عيّاض المالكي

سنة 544 هـ

تخريج

أبي الفضل جلال الدين عبد الرحمن السيوطي

المتوفى سنة 911 هـ

تحقيق

الشيخ سمير القاضي

مركز الخدمات والأبحاث الثقافية

مؤسسة الكتب الثقافية

دار الجنان
আশ-শিফা কিতাবের হাদিসসমূহের তাখরিজ বিষয়ক ‘মানাহিলুস সাফা’

মনোনীত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর অধিকারসমূহের বর্ণনার মাধ্যমে

কাজী আইয়ায আল-মালিকী প্রণীত

সন ৫৪৪ হিজরি

তাখরিজ করেছেন

আবুল ফযল জালালুদ্দিন আব্দুর রহমান আস-সুয়ূতী

মৃত্যু ৯১১ হিজরি

তাহকিক ও সম্পাদনা

শেখ সমীর আল-কাজী

সাংস্কৃতিক সেবা ও গবেষণা কেন্দ্র

সাংস্কৃতিক কিতাব সংস্থা

দারুল জিনান
(খণ্ড: ১) মানাহিলুস সাফা ফী তাখরীজি আহাদীশিশ শিফা (পৃষ্ঠা: ২)
ملتزم الطبع والنشر والتوزيع دار الجنان ومؤسسة الكتب الثقافية

الطبعة الأولى

1408 هـ - 1988 م

دار الجنان للطباعة والنشر والتوزيع

الصنائع - شارع اميل اده

سنتر لطيف - الطابق الثالث - شقة 305

هاتف: 348252

TLX: 43516MOBACOLE.ATIN.CSRC

ص. ب. 5279/ 14

بيروت - لبنان

مؤسسة الكتب الثقافية

الصنائع - بناية الإتحاد الوطني - الطابق السابع/ شقة 78

هاتف المكتب: 248263 - 244361

المنزل: 315759

ص. ب.:5115/ 114

برقيًا: الكتبكو - تلكس: 40459

بيروت - لبنان
মুদ্রণ, প্রকাশনা ও পরিবেশনার স্বত্বাধিকারী দারুল জিনান এবং মুয়াসসাসাতুল কুতুব আস-সাকাফিয়্যাহ

প্রথম সংস্করণ

১৪০৮ হিজরি - ১৯৮৮ খ্রিস্টাব্দ

মুদ্রণ, প্রকাশনা ও পরিবেশনার জন্য দারুল জিনান

আস-সানায়ে - এমিল এদদে সড়ক

লতিফ সেন্টার - তৃতীয় তলা - ফ্ল্যাট ৩০৫

টেলিফোন: ৩৪৮২৫২

ট্যালেক্স: 43516MOBACOLE.ATIN.CSRC

পোস্ট বক্স: ৫২৭৯/ ১৪

বৈরুত - লেবানন

মুয়াসসাসাতুল কুতুব আস-সাকাফিয়্যাহ

আস-সানায়ে - আল-ইত্তিহাদ আল-ওয়াতানি ভবন - সপ্তম তলা/ ফ্ল্যাট ৭৮

অফিস টেলিফোন: ২৪৮২৬৩ - ২৪৪৩৬১

বাসা: ৩১৫৭৫৯

পোস্ট বক্স: ৫১১৫/ ১১৪

টেলিগ্রাম: আল-কুতুবকো - ট্যালেক্স: ৪০৪৫৯

বৈরুত - লেবানন
(খণ্ড: ১) মানাহিলুস সাফা ফী তাখরীজি আহাদীশিশ শিফা (পৃষ্ঠা: ৩)
مناهل الصفا في تخريج أحاديث الشفا
আশ-শিফা কিতাবের হাদিসসমূহের উৎস বিশ্লেষণে স্বচ্ছতার প্রস্রবণসমূহ
(খণ্ড: ১) মানাহিলুস সাফা ফী তাখরীজি আহাদীশিশ শিফা (পৃষ্ঠা: ৪)
بسم الله الرحمن الرحيم
পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
(খণ্ড: ১) মানাহিলুস সাফা ফী তাখরীজি আহাদীশিশ শিফা (পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

‌‌مقدمة المحقق

الحمد لله الذي أعطى كل نفس خلقها، وهداها فجورها وتقواها، وألهمها وعافاها وأماتها وأحياها وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له وأشهد أن سيدنا محمدًا عبده ورسوله أرسله رحمة على من زكّاها ونقمة على من دسّاها لقوله تعالى: {قَدْ أَفْلَحَ مَنْ زَكَّاهَا} الآية صلى الله عليه وعلى آله صلاة دائمة إلى يوم نشرها وبشراها.

أما بعد:

اعلم أن أعدل أمزجة الحيوان مزاج الِإنسان، وأعدل مزاج الِإنسان مزاج المؤمنين، وأعدل المؤمنين مزاجًا مزاج الأنبياء، وأعدل الأنبياء مزاجًا مزاج الرسل، وأعدل الرسل مزاجًا مزاج أولي العزم، وأعدل أولي العزم مزاجًا مزاج سيدنا محمد صلى الله عليه وعلى آله وصحبه وسلم.

والسبب الذي صار رسول الله صلى الله عليه وسلم أعدل الخلق مزاجًا. فإن قاعدة الأطباء أن أخلاق النفس تابعة لمزاج البدن فكلما كانت أخلاق النفس أحسن كان مزاج البدن أعدل. وكانت أخلاق النفس أحسن. إذا أعلم ذلك، والحق سبحانه وتعالى قد شهد لرسوله صلى الله عليه وسلم بأنه على خلق عظيم. قالت عائشة رضي الله عنها: كان خلق رسول الله صلى الله عليه وسلم القرآن فلزم من ذلك أن مزاجه أعدل الأمزجة وكانت أخلاقه أحسن الأخلاق.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

‌‌সম্পাদকের ভূমিকা

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি প্রতিটি প্রাণকে তার অবয়ব দান করেছেন এবং তাকে তার পাপাচার ও তাকওয়ার পথ দেখিয়েছেন, তাকে ইলহাম ও সুস্থতা দান করেছেন এবং তাকে মৃত্যু ও জীবন দান করেন। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমাদের নেতা মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসূল, যাকে তিনি পাঠিয়েছেন সেই ব্যক্তির জন্য রহমতস্বরূপ যে নিজেকে পরিশুদ্ধ করেছে এবং সেই ব্যক্তির জন্য ক্রোধস্বরূপ যে নিজেকে কলুষিত করেছে; যেমনটি আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "সফল হয়েছে সেই ব্যক্তি, যে নিজেকে পরিশুদ্ধ করেছে" (আয়াতের শেষ পর্যন্ত)। আল্লাহর সালাত বর্ষিত হোক তাঁর উপর এবং তাঁর পরিবারের উপর, কিয়ামতের দিনের পুনরুত্থান ও সুসংবাদ পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্নভাবে।

অতঃপর:

জেনে রাখুন যে, প্রাণিকুলের মেজাজসমূহের মধ্যে সবচেয়ে ভারসাম্যপূর্ণ হলো মানুষের মেজাজ, আর মানুষের মেজাজের মধ্যে সবচেয়ে ভারসাম্যপূর্ণ হলো মুমিনদের মেজাজ, আর মুমিনদের মেজাজের মধ্যে সবচেয়ে ভারসাম্যপূর্ণ হলো নবীদের মেজাজ, আর নবীদের মেজাজের মধ্যে সবচেয়ে ভারসাম্যপূর্ণ হলো রাসূলদের মেজাজ, আর রাসূলদের মেজাজের মধ্যে সবচেয়ে ভারসাম্যপূর্ণ হলো উলুল আযম (দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ) রাসূলদের মেজাজ, আর উলুল আযম রাসূলদের মেজাজের মধ্যে সবচেয়ে ভারসাম্যপূর্ণ মেজাজ হলো আমাদের নেতা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাহবিহি ওয়া সাল্লামের মেজাজ।

আর যে কারণে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সৃষ্টির মধ্যে সবচেয়ে ভারসাম্যপূর্ণ মেজাজের অধিকারী হয়েছেন তা হলো—চিকিৎসকদের মূলনীতি হলো, আত্মার চরিত্র শরীরের মেজাজের অনুসারী। সুতরাং আত্মার চরিত্র যত বেশি সুন্দর হবে, শরীরের মেজাজ তত বেশি ভারসাম্যপূর্ণ হবে। আর তাঁর আত্মার চরিত্র ছিল সবচেয়ে সুন্দর। আপনি যখন এটি জানলেন, তখন আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা স্বয়ং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ব্যাপারে সাক্ষ্য দিয়েছেন যে, তিনি মহান চরিত্রের ওপর অধিষ্ঠিত। আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেছেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চরিত্র ছিল আল-কুরআন। সুতরাং এটি অনিবার্যভাবে প্রমাণিত হয় যে, তাঁর মেজাজ ছিল সকল মেজাজের মধ্যে সবচেয়ে ভারসাম্যপূর্ণ এবং তাঁর চরিত্র ছিল সর্বোত্তম চরিত্র।
(খণ্ড: ১) মানাহিলুস সাফা ফী তাখরীজি আহাদীশিশ শিফা (পৃষ্ঠা: ৬)
روى البخاري في صحيحه قال: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم أحسن الناس وجهًا وأحسنهم خلقًا وقال خدمت رسول الله صلى الله عليه وسلم عشر سنين فما قال لي أف قط لا لشىء صنعته ولا لشىء تركته لم تركته.

وقال ابن عمر: لم يكن رسول الله صلى الله عليه وسلم فاحشًا ولا متفحشًا وكان يقول خياركم أحسنكم أخلاقًا.

وروى البخاري: أن اعرابيًا جذبه برداء عن عاتق رسول الله صلى الله عليه وسلم جذبة شديدة حتى أثر ذلك في عنقه ثم قال: يا محمد مر لي من مال الله الذي عندك فالتفت إليه رسول الله صلى الله عليه وسلم ثم ضحك ثم أمر له بعطاء. فهو النبي الطاهر المطهر أحسن الناس خَلقًا وخُلقًا صلى الله عليه وسلم وعلى آله صلاة دائمة.

وقد عرف له قبل الوحي خلق الخير والزكاء ومجانبة المذمومات والرجس أجمع وهذا هو معنى العصمة وكأنه مفطور على التنزه عن المذمومات والمنافرة لها وكأنها منافية لجبلته وفي الصحيح أنه حمل الحجارة وهو غلام مع عمه العباس لبناء الكعبة فجعلها في إزاره فانكشف فسقط مغشياً عليه حتى استتر في إزاره.

ودعي إلى مجتمع وليمة فيها عرس ولعب فأصابه غشى النوم إلى أن طلعت الشمس ولم يحضر شيئاً من شأنهم بل نزهه الله عن ذلك كله حتى إنه بجبلته يتنزه عن المطعومات المستكرهة فقد كان صلى الله عليه وسلم لا يقرب البصل والثوم فقيل له في ذلك فقال إني أناجي من لا تناجون. وانظر لما أخبر النبي صلى الله عليه وسلم خديجة رضي الله عنها بحال الوحي أول ما فجأته وأرادت اختباره فقالت اجعلني بينك وبين ثوبك فلما فعل ذلك ذهب عنه فقالت: إنه ملك وليس بشيطان معناه أنه لا يقرب النساء.

وكذلك سألته عن أحب الثياب إليه أن يأتيه فيها فقال البياض والخضرة فقالت: إنه الملك يعني أن البياض والخضرة من ألوان الخير والملائكة والسواد من ألوان الشر والشياطين وأمثال ذلك.
ইমাম বুখারী তাঁর সহীহ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রসূল (তাঁর উপর আল্লাহর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক) ছিলেন মানুষের মধ্যে সবচেয়ে সুন্দর চেহারার অধিকারী এবং চরিত্রের দিক থেকে সর্বোত্তম। এবং তিনি (আনাস) বলেন, আমি দশ বছর আল্লাহর রসূলের (তাঁর উপর আল্লাহর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক) সেবা করেছি, তিনি কখনও আমাকে 'উফ' পর্যন্ত বলেননি; আমি কোনো কাজ করলে কেন করেছি বা কোনো কাজ না করলে কেন তা ছেড়ে দিয়েছি—সে বিষয়েও তিনি কিছু বলেননি।

এবং ইবনে উমর বলেন: আল্লাহর রসূল (তাঁর উপর আল্লাহর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক) অশ্লীলভাষী বা কটুভাষী ছিলেন না। তিনি বলতেন, তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তিই সর্বোত্তম যে চরিত্রে সবচেয়ে ভালো।

বুখারী আরও বর্ণনা করেছেন: এক গ্রাম্য আরব আল্লাহর রসূলের (তাঁর উপর আল্লাহর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক) কাঁধ থেকে তাঁর চাদরটি ধরে এত জোরে টান দিল যে, তাঁর ঘাড়ে তার চিহ্ন বসে গেল। এরপর সে বলল: হে মুহাম্মদ! তোমার কাছে আল্লাহর যে সম্পদ আছে তা থেকে আমাকে কিছু দেওয়ার আদেশ দাও। তখন আল্লাহর রসূল (তাঁর উপর আল্লাহর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক) তার দিকে ফিরলেন, তারপর হাসলেন এবং তাকে কিছু দেওয়ার নির্দেশ দিলেন। সুতরাং তিনিই সেই পবিত্র ও পবিত্রকারী নবী, যিনি শারীরিক অবয়ব ও চারিত্রিক গুণাবলীতে মানুষের মধ্যে সর্বোত্তম। তাঁর এবং তাঁর পরিবারের উপর সর্বদা আল্লাহর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক।

ওহী আসার পূর্বেই তাঁর মাঝে উত্তম চরিত্র, পবিত্রতা এবং সমস্ত নিন্দনীয় কাজ ও অপবিত্রতা থেকে দূরে থাকার বৈশিষ্ট্য সুপরিচিত ছিল। আর এটাই হলো ইসমা বা নিষ্পাপত্বের অর্থ। মনে হতো যেন তিনি সকল মন্দ কাজ থেকে দূরে থাকা এবং সেগুলোর প্রতি ঘৃণা পোষণ করার প্রকৃতি নিয়েই সৃজিত হয়েছেন এবং যেন মন্দ কাজগুলো তাঁর স্বভাবজাত প্রকৃতির পরিপন্থী ছিল। সহীহ গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি যখন কিশোর ছিলেন, তখন কাবার ঘর নির্মাণের জন্য তাঁর চাচা আব্বাসের সাথে পাথর বহন করছিলেন। তিনি পাথরগুলো তাঁর পরনের লুঙ্গিতে রাখলে তা উন্মোচিত হয়ে যায়, ফলে তিনি জ্ঞান হারিয়ে পড়ে যান, যতক্ষণ না তাঁকে আবার লুঙ্গি দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়।

তাঁকে একবার একটি ভোজসভায় দাওয়াত দেওয়া হয়েছিল যেখানে বিয়ে ও আমোদ-প্রমোদ চলছিল, তখন তাঁর ওপর ঘুমের আচ্ছন্নতা নেমে এলো এবং সূর্যোদয় পর্যন্ত তিনি ঘুমিয়ে থাকলেন। তিনি তাদের সেই আয়োজনের কিছুই প্রত্যক্ষ করেননি। বরং আল্লাহ তাঁকে এসব কিছু থেকে পবিত্র রেখেছেন। এমনকি তিনি তাঁর স্বভাবজাত প্রকৃতির কারণেই অপ্রীতিকর খাদ্যদ্রব্য থেকে দূরে থাকতেন। আল্লাহর রসূল (তাঁর উপর আল্লাহর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক) কখনো পেঁয়াজ ও রসুন স্পর্শ করতেন না। এ বিষয়ে তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, আমি এমন সত্তার সাথে কথোপকথন করি যার সাথে তোমরা করো না। আর লক্ষ্য করুন, যখন নবী (তাঁর উপর আল্লাহর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক) খাদিজাকে (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন) প্রথম ওহী আসার ঘটনা জানালেন, তখন তিনি তা পরীক্ষা করতে চাইলেন। তিনি বললেন, আপনি আমাকে আপনার ও আপনার পোশাকের মাঝে স্থান দিন। যখন তিনি তাই করলেন, তখন ওহী নিয়ে আসা সত্তা চলে গেলেন। এরপর খাদিজা বললেন: ইনি একজন ফেরেশতা, শয়তান নন। এর অর্থ হলো, তিনি (ফেরেশতা) নারীদের সান্নিধ্যে আসেন না।

একইভাবে তিনি তাঁকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন যে, কোন রঙের পোশাকে ওহী আসা তাঁর কাছে সবচেয়ে প্রিয়? তিনি বললেন, সাদা ও সবুজ। তখন খাদিজা বললেন: ইনি অবশ্যই ফেরেশতা। অর্থাৎ সাদা ও সবুজ হলো কল্যাণ ও ফেরেশতাদের রঙ, আর কালো হলো অকল্যাণ ও শয়তানের রঙ—অনুরূপ আরও বিষয়।
(খণ্ড: ১) মানাহিলুস সাফা ফী তাখরীজি আহাদীশিশ শিফা (পৃষ্ঠা: ৭)
وقد استدلت خديجة رضي الله عنها على صدقه صلى الله عليه وسلم بدعائه إلى الدين والعبادة من الصلاة والصدقة والعفاف وكذلك أبو بكر ولم يحتاجا في أمره إلى دليل خارج عن حاله وخلقه وفي الصحيح أن هرقل حين جاءه كتاب النبي صلى الله عليه وسلم يدعوه إلى الِإسلام أحضر من وجده ببلدة من قريش وفيهم أبو سفيان ليسألهم عن حاله فكان فيما سأل أن قال: بم يأمركم فقال أبو سفيان: بالصلاة والزكاة والصلة والعفاف إلى آخر ما سأل فأجابه، فقال إن يكن ما تقول حقًا فهو نبي وسيملك ما تحت قدمي هاتين. والعفاف الذي أشار إليه أبو سفيان هو العصمة، فانظر كيف أخذ هرقل من العصمة والدعاء إلى الدين والعبادة دليلًا على صحة نبوءته ولم يحتج إلى معجزة فدل على أن ذلك من علامات النبوءة.

وإذا تقرر هذا فاعلم أن أعظم المعجزات وأشرفها وأوضحها دلالة القرآن الكريم المنزل على سيدنا محمد صلى الله عليه وسلم. وقد قال صلى الله عليه وسلم: ما من نبي من الأنبياء إلا وأتي من الآيات ما مثله أمن عليه البشر وإنما كان الذي أوتيته وحيًا أوحي إليَّ فأنا أرجو أن أكون أكثرهم تابعًا يوم القيامة يشير إلى أن المعجزة متى كانت بهذه المثابة في الوضوح وقوة الدلالة وهو كونها نفس الوحي كان الصدق لها أكثر لوضوحها فكثر المصدق المؤمن وهو التابع والأمة.

فكما اعتنى العلماء بالقرآن بعدما وجدوه بحرًا لا تنقضي عجائبه. وطودًا شامخًا لا تتناول غرائبه. ووجدوا له فروعًا لا تحصى فنونه ولا تستقى، كذلك لم يألُ جهدًا في توجيه جهودهم بالبحث والتمحيص في معرفة السيرة النبوية المطهرة من القرآن وكتب السنة حتى جمعوا صورة مبينة رفيعة تهدي الأمة إلى كيفية التأسي به صلى الله عليه وسلم في كل شأن وكل جانب من جوانب الحياة الدينية والدنيوية.

فينبغي لكل فرد من الأمة أن يعرف حال نبيه ولا يحصل ذلك إلا بمعرفة مناقبه وشمائله وفضائله وسيرته في أحواله وأقواله.

ثم إنه لا بد من معرفة اسمه وكنيته ونسبه وعصره وبلده ثم معرفة أصحابه.
এবং খাদিজা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সত্যবাদিতার সপক্ষে তাঁর দ্বীনের প্রতি আহ্বান এবং সালাত, সদকা ও চারিত্রিক পবিত্রতার মতো ইবাদতসমূহকে দলিল হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন। একইভাবে আবু বকর (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-ও তা-ই করেছিলেন। তাঁদের উভয়েই তাঁর নবুওয়াতের বিষয়ে তাঁর অবস্থা ও চরিত্রের বহির্ভূত অন্য কোনো প্রমাণের মুখাপেক্ষী হওয়ার প্রয়োজন হয়নি। সহীহ গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে যে, হিরাক্লিয়াস যখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পক্ষ থেকে ইসলামের দাওয়াত সম্বলিত পত্র পেলেন, তখন তিনি তাঁর এলাকায় কুরাইশদের মধ্যে যাকে পেলেন—যাদের মধ্যে আবু সুফিয়ানও ছিলেন—তাঁদেরকে নবীর অবস্থা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করার জন্য উপস্থিত করলেন। তিনি যেসকল বিষয় জিজ্ঞাসা করেছিলেন তার মধ্যে একটি ছিল: "তিনি তোমাদের কিসের নির্দেশ দেন?" আবু সুফিয়ান উত্তর দিলেন: "সালাত, জাকাত, আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা এবং চারিত্রিক পবিত্রতার।" তিনি যখন তাঁর সকল প্রশ্নের উত্তর দিলেন, তখন হিরাক্লিয়াস বললেন: "তুমি যা বলছ তা যদি সত্য হয়, তবে তিনি একজন নবী এবং তিনি আমার এই দুই পায়ের নিচে যা রয়েছে তার মালিক হবেন।" আবু সুফিয়ান যে 'আফাফ' বা চারিত্রিক পবিত্রতার প্রতি ইঙ্গিত করেছেন, তা মূলত পাপমুক্ততা বা নিষ্কলুষতা। অতএব লক্ষ্য করুন, হিরাক্লিয়াস কীভাবে নিষ্কলুষতা এবং দ্বীন ও ইবাদতের প্রতি আহ্বানকে তাঁর নবুওয়াতের সত্যতার প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করেছেন এবং কোনো মুজিজার মুখাপেক্ষী হননি। এটি প্রমাণ করে যে, এই বিষয়গুলো নবুওয়াতের অন্যতম নিদর্শন।

যখন এটি প্রতিষ্ঠিত হলো, তখন জেনে রাখুন যে, আমাদের নেতা মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর অবতীর্ণ আল-কুরআনুল কারীম হলো সর্বশ্রেষ্ঠ, সর্বাধিক মর্যাদাপূর্ণ এবং স্পষ্টতম প্রমাণের মুজিজা। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "নবীগণের মধ্যে এমন কেউ নেই যাকে এমন কিছু নিদর্শন প্রদান করা হয়নি যার ওপর ভিত্তি করে মানুষ ঈমান এনেছে। আর আমাকে যা প্রদান করা হয়েছে তা হলো ওহী, যা আল্লাহ আমার প্রতি অবতীর্ণ করেছেন। অতএব আমি আশা করি কিয়ামতের দিন অনুসারীর সংখ্যায় আমিই তাঁদের সবার চেয়ে বেশি হব।" তিনি ইঙ্গিত করেছেন যে, যখন কোনো মুজিজা স্পষ্টতা ও প্রমাণের শক্তির দিক থেকে এই পর্যায়ে পৌঁছায়—যা খোদ ওহী হওয়ার বৈশিষ্ট্য—তখন তার স্পষ্টতার কারণে তার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন অধিকতর হয়, ফলে অনুসারী ও উম্মতের সংখ্যাও বৃদ্ধি পায়।

আলিমগণ কুরআনকে এক অতল সমুদ্র হিসেবে পাওয়ার পর—যার বিস্ময়াবলি কখনো শেষ হয় না এবং এক সুউচ্চ পর্বত হিসেবে যার দুর্লভ বৈশিষ্ট্যসমূহ আয়ত্ত করা সম্ভব নয়—যেভাবে এর প্রতি মনোনিবেশ করেছেন এবং এর অসংখ্য শাখা-প্রশাখা ও জ্ঞানসমূহ খুঁজে পেয়েছেন; একইভাবে তাঁরা পবিত্র সীরাত সম্পর্কে গবেষণা ও সূক্ষ্ম বিশ্লেষণের মাধ্যমে কুরআন ও সুন্নাহর গ্রন্থসমূহ থেকে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পবিত্র জীবনী জানার প্রচেষ্টায় কোনো ত্রুটি করেননি। শেষ পর্যন্ত তাঁরা এমন এক সুউচ্চ ও সুস্পষ্ট চিত্র সংকলন করেছেন যা উম্মাহকে ধর্মীয় ও পার্থিব জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে এবং প্রতিটি পদক্ষেপে তাঁর অনুসরণের সঠিক পথ প্রদর্শন করে।

সুতরাং উম্মতের প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য আপন নবী সম্পর্কে জানা কর্তব্য। আর এটি তাঁর মহিমান্বিত গুণাবলি, চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য, শ্রেষ্ঠত্ব এবং তাঁর অবস্থা ও কথা সম্বলিত জীবনী সম্পর্কে জানা ব্যতীত সম্ভব নয়।

অতঃপর তাঁর নাম, উপনাম, বংশপরিচয়, সময়কাল ও দেশ সম্পর্কে জানা এবং তাঁর সাহাবীগণ সম্পর্কে অবগত হওয়া অপরিহার্য।
(খণ্ড: ১) মানাহিলুস সাফা ফী তাখরীজি আহাদীশিশ শিফা (পৃষ্ঠা: ৮)
وقد عكف كثير من العلماء على تأليف الكتب في سيرة النبي صلى الله عليه وسلم وآثاره كما فعل البيهقي وأبو نعيم في دلائلهما وابن سعد في طبقاته وغيرهم.

وأما كتاب القاضي الشفا فقد أبدع فيه كل الِإبداع وسلم له أكفاؤه وكفاءته فيه ولم ينازعه أحد في الانفراد ولا أنكروا مزية السبق إليه بل تشوقوا للوقوف عليه وأنصفوا في الاستفادة منه وحمله الناس عنه وطارت نسخه شرقًا وغربًا.

وقد ذكر ابن المقري اليمني الشافعي رحمه الله في ديوانه، أن كتاب الشفاء مما شوهدت بركته وكان قد ابتلي بمرض فقرأه فعافاه الله منه وقال في ذلك:

ما بالكتاب هواي لكن الهوى … أمس بما أمسى به مكتوبا

كالدر يهوى العاشقون بذكرها … شغفًا بها لشمولها المحبوبا

أرجو الشفاء تفاؤلًا باسم الشفا … فحوى الشفاء وأدرك المطلوبا

وبقدر حسن الظن ينتفع الفتى … لا سيما ظن يصير مجيبا

هذا في كتاب الشفاء بعض الأحاديث الضعيفة ولم يذكر من الموضوع إلا شفا وقد نبه على ذلك كله الشيخ جلال الدين السيوطي رحمه الله تعالى في كتابه مناهل الصفا في تخريج أحاديث الشفا. وقد مدحه بعض الأدباء بقوله:

عوضت جنات عدن عياض … عن الشفا الذي ألفته عوض

جمعت فيه أحاديثاً مصححة … فهو الشفاء لمن في قلبه مرض

 

الشيخ سمير القاضي مركز الخدمات والأبحاث الثقافية
অনেক আলেম নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সীরাত ও তাঁর নিদর্শনাবলি সম্পর্কে কিতাব রচনায় আত্মনিয়োগ করেছেন, যেমনটি বাইহাকী ও আবু নুয়াইম তাঁদের 'দালাইল' গ্রন্থে এবং ইবনে সাদ তাঁর 'তাবাকাত' গ্রন্থে করেছেন এবং আরও অনেকে।

আর কাযী (আয়ায)-এর কিতাব 'আশ-শিফা'র ব্যাপারে বলা যায়, তিনি এতে তাঁর পূর্ণ সৃজনশীলতা প্রদর্শন করেছেন এবং তাঁর সমসাময়িক যোগ্য ব্যক্তিরা তাঁর এই শ্রেষ্ঠত্ব স্বীকার করে নিয়েছেন। এর অনন্য বৈশিষ্ট্যের ব্যাপারে কেউ তাঁর সাথে দ্বিমত পোষণ করেনি এবং এর শ্রেষ্ঠত্বের মর্যাদাকেও তারা অস্বীকার করেনি, বরং তারা এটি অধ্যয়ন করার জন্য আগ্রহী ছিল, এটি থেকে উপকৃত হওয়ার ক্ষেত্রে ইনসাফ প্রদর্শন করেছে, মানুষ এটি তাঁর নিকট থেকে গ্রহণ করেছে এবং এর পাণ্ডুলিপিগুলো প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যে ছড়িয়ে পড়েছে।

ইবনুল মুকরী আল-ইয়ামানী আশ-শাফিঈ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) তাঁর দিওয়ানে উল্লেখ করেছেন যে, 'আশ-শিফা' কিতাবটি এমন একটি কিতাব যার বরকত প্রত্যক্ষ করা গেছে। তিনি একটি রোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন, অতঃপর তিনি এটি পাঠ করেন এবং আল্লাহ তাঁকে তা থেকে আরোগ্য দান করেন। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন:

এই কিতাবে আমার অনুরাগ নেই, বরং অনুরাগ তো … সেই বিষয়ের প্রতি যা এতে লিপিবদ্ধ হয়েছে।

মুক্তার ন্যায়, প্রেমিকগণ যার স্মরণে ব্যাকুল হয় … প্রিয়তমকে অন্তর্ভুক্ত করার কারণে এর প্রতি তাদের গভীর অনুরাগ।

আমি 'শিফা' নামের উসিলায় আরোগ্যের সুসংবাদ কামনা করি … ফলে এটি আরোগ্য বয়ে আনল এবং উদ্দেশ্য অর্জিত হলো।

সুধারণার পরিমাণ অনুযায়ী ব্যক্তি উপকৃত হয় … বিশেষত সেই ধারণা যা কবুল হওয়ার অনুকূল হয়।

'আশ-শিফা' কিতাবে কিছু যয়ীফ (দুর্বল) হাদিস রয়েছে, আর জাল হাদিস তো নেই বললেই চলে। শাইখ জালালুদ্দিন সুয়ূতী (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) তাঁর 'মানাহিলুস সাফা ফী তাখরীজি আহাদিসিশ শিফা' কিতাবে এগুলোর ব্যাপারে সতর্ক করেছেন। কোনো কোনো সাহিত্যিক তাঁর প্রশংসা করে বলেছেন:

হে আয়ায, আপনি যে শিফা রচনা করেছেন তার পরিবর্তে … আপনাকে জান্নাতুল আদন প্রতিদান হিসেবে দেওয়া হোক।

আপনি এতে বিশুদ্ধ হাদিসসমূহ সংকলন করেছেন … ফলে যার অন্তরে ব্যাধি রয়েছে, তার জন্য এটি আরোগ্যস্বরূপ।

 

শাইখ সামীর আল-কাযী, সাংস্কৃতিক সেবা ও গবেষণা কেন্দ্র।
(খণ্ড: ১) মানাহিলুস সাফা ফী তাখরীজি আহাদীশিশ শিফা (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌ترجمة القاضي عياض

‌‌اسمه ومولده:

هو عياض بن موسى بن عياض بن عمرون بن موسى بن عياض القاضي العلامة عالم المغرب أبو الفضل اليحصبي السبتي، الحافظ سبتي الدار والميلاد أندلسي الأصل. ولد سنة ست وأربعين وأربع مائة قال ابن فرحون قال ولده محمد: كان أجدادنا في القديم بالأندلس ثم انتقلوا مدينة فاس.

وكان لهم استقرار بالقيروان، لا أدري قبل حلولهم بالأندلس أو بعد ذلك. وانتقل عمرون إلى سبته بعد سكنى فاس.

 

‌‌مكانته العلمية:

كان القاضي أبو الفضل إمام وقته في الحديث وعلومه عالمًا بالتفسير وجميع علومه فقيهًا أصوليًا عالمًا بالنحو واللغة وكلام العرب وأيامهم وأنسابهم بصيرًا بالأحكام عاقدًا للشروط بصيرًا حافظًا لمذهب مالك رحمه الله تعالى شاعرًا مجيدًا ريانا من علم الأدب خطيبًا بليغًا صبورًا حليمًا جميل العشرة جوادًا سمحًا كثير الصدقة دؤوبًا على العمل صلبًا في الحق.

 

‌‌مشائخه:

رحل القاضي إلى الأندلس سنة سبع وخمسمائة طالبًا للعلم فأخذ
কাযী আয়াযের জীবনী

তাঁর নাম ও জন্ম:

তিনি হলেন আয়ায বিন মূসা বিন আয়ায বিন আমরুন বিন মূসা বিন আয়ায, আল-কাযী, আল-আল্লামা, মাগরিবের প্রখ্যাত আলেম, আবু আল-ফজল আল-ইয়াহসুবি আস-সাবতি। তিনি হাফিজ, তাঁর আবাস ও জন্মস্থান সাবতাহ এবং তাঁর বংশমূল আন্দালুসিয়া। তিনি চারশত ছিয়াত্তর হিজরি সনে জন্মগ্রহণ করেন। ইবনে ফারহুন বলেন, তাঁর পুত্র মুহাম্মাদ বর্ণনা করেছেন: প্রাচীনকালে আমাদের পূর্বপুরুষগণ আন্দালুসিয়ায় বসবাস করতেন, অতঃপর তাঁরা ফাস নগরীতে স্থানান্তরিত হন।

কায়রোয়ানেও তাঁদের বসতি ছিল, তবে তা আন্দালুসিয়ায় গমনের আগে নাকি পরে তা আমার জানা নেই। আমরুন ফাস-এ বসবাসের পর সাবতাহ-তে চলে আসেন।

 

তাঁর ইলমী মর্যাদা:

কাযী আবু আল-ফজল হাদীস ও হাদীসশাস্ত্রে তাঁর সময়ের ইমাম ছিলেন। তিনি তাফসীর ও এর সকল শাখায় বিজ্ঞ আলেম, ফকীহ, উসূলবিদ এবং নাহু, ভাষা, আরবদের বাকরীতি, ইতিহাস ও বংশপরম্পরা বিদ্যায় পারদর্শী ছিলেন। তিনি বিচারকার্য ও বিধানাবলি সম্পর্কে সম্যক অবহিত, আইনি শর্তাবলি বা চুক্তি সম্পাদনে দক্ষ এবং ইমাম মালিকের (আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) মাযহাবের প্রখর হাফিজ ছিলেন। তিনি একজন উচ্চমানের কবি, সাহিত্যশাস্ত্রে সুগভীর জ্ঞানের অধিকারী, বাগ্মী খতীব, ধৈর্যশীল, সহনশীল, উত্তম গুণাবলি সম্পন্ন, দানশীল, উদার, অধিক সদকাকারী, কর্মতৎপর এবং সত্যের ওপর অটল ছিলেন।

 

তাঁর উস্তাদগণ:

কাযী ইলম অন্বেষণের উদ্দেশ্যে পাঁচশত সাত হিজরি সনে আন্দালুসিয়ায় সফর করেন এবং সেখান থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেন...
(খণ্ড: ১) মানাহিলুস সাফা ফী তাখরীজি আহাদীশিশ শিফা (পৃষ্ঠা: ১০)
بقرطبة عن القاضي أبي عبد الله محمد بن حمدين، وأبي الحسين بن سراج وعن أبي محمد بن عتاب وأبي علي بن سكره، وهشام بن أحمد وأبي بحر بن العاص وخلق. وتفقه بأبي عبد الله محمد بن عيسى التميمي والقاضي ابن عبد الله محمد بن عبد الله المسيلي. أجازه القاضي الحافظ أبو علي الغساني، وكان يمكنه السماع منه وهو ابن عشرين سنة وإنما دخل القاضي إلى الأندلس بعد موته.

وأخذ بالمشرق عن القاضي أبي علي حسين بن محمد الصدقي وغيره وعني بلقاء الشيوخ والأخذ عنهم وأخذ عن أبي عبد الله المازري، وكتب إليه يستجيزه.

وأجاز له الشيخ أبو بكر الطرطوشي.

ومن شيوخه القاضي أبو الوليد بن رشد. قال صاحب الصلة البشكوالية وأظنه سمع من ابن زيد وقد اجتمع له من الشيوخ بين من سمع منه وبين من أجاز له مائة شيخ.

وذكر ولده محمد منهم أحمد بن بقي وأحمد بن محمد بن محمد بن مكحول وأبو الطاهر أحمد بن محمد السلفي والحسين بن محمد بن سكره والقاضي أبو بكر بن العربي والحسن بن علي بن طريف وخلف بن إبراهيم بن النحاس ومحمد بن أحمد بن الحاج القرطبي وعبد الله بن محمد الخشني وعبد الله بن محمد البطليوسي وعبد الرحمن بن بقي بن مخلد وعبد الرحمن ابن العجوز وغيرهم ممن يطول ذكرهم.

 

‌‌حياته وآثاره:

قال ابن بشكوال: هو من أهل العلم والتفنن والذكاء والفهم استقضي بسبتة مدة طويلة حمدت سيرته فيها ثم نقل عنها إلى قضاء غرناطة فلم تطل مدته فيها وقدم علينا قرطبة فأخذنا عنه وقال الفقيه محمد بن حماد السبتي:
কর্ডোভায় তিনি কাজি আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন হামদিন, আবু আল-হুসাইন বিন সিরাজ, আবু মুহাম্মদ বিন আত্তাব, আবু আলী বিন সুক্করাহ, হিশাম বিন আহমদ, আবু বাহর বিন আল-আস এবং আরও অনেকের নিকট হতে শিক্ষা গ্রহণ করেন। তিনি আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন ঈসা আত-তামিমি এবং কাজি ইবনে আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ আল-মাসিলির নিকট ফিকহ শাস্ত্র অধ্যয়ন করেন। কাজি হাফিজ আবু আলী আল-গাসসানি তাকে ইজাজত প্রদান করেন; বিশ বছর বয়সেই তার নিকট থেকে শোনার সুযোগ ছিল, তবে কাজি তার মৃত্যুর পর আন্দালুসে প্রবেশ করেন।

তিনি প্রাচ্যে কাজি আবু আলী হুসাইন বিন মুহাম্মদ আস-সিদকি ও অন্যদের নিকট শিক্ষা লাভ করেন। তিনি শাইখদের সাথে সাক্ষাৎ এবং তাদের নিকট হতে জ্ঞান অর্জনের বিষয়ে আগ্রহী ছিলেন। তিনি আবু আব্দুল্লাহ আল-মাজিরির নিকট শিক্ষা লাভ করেন এবং তাকে ইজাজত চেয়ে পত্র লিখেছিলেন।

শাইখ আবু বকর আত-তূর্তুশি তাকে ইজাজত প্রদান করেন।

তার উস্তাদদের মধ্যে রয়েছেন কাজি আবু আল-ওয়ালিদ বিন রুশদ। ‘আস-সিলাহ’ গ্রন্থের লেখক ইবনে বাশকুওয়াল বলেন, আমার ধারণা তিনি ইবনে যায়িদের নিকট থেকে শুনেছেন। তার উস্তাদদের মধ্যে যাদের নিকট থেকে তিনি শ্রবণ করেছেন এবং যারা তাকে ইজাজত দিয়েছেন, তাদের সংখ্যা একশত জনে পৌঁছেছে।

তার পুত্র মুহাম্মদ তাদের মধ্য হতে আহমদ বিন বাকি, আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন মাকহুল, আবু তাহের আহমদ বিন মুহাম্মদ আস-সিলাফি, আল-হুসাইন বিন মুহাম্মদ বিন সুক্করাহ, কাজি আবু বকর বিন আল-আরাবি, আল-হাসান বিন আলী বিন তারিফ, খালাফ বিন ইবরাহিম বিন আন-নাহহাস, মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন আল-হাজ্জ আল-কুরতুবি, আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ আল-খুশানি, আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ আল-বাতালইউসি, আব্দুর রহমান বিন বাকি বিন মাখলাদ, আব্দুর রহমান ইবনুল আজুজ এবং আরও অনেকের কথা উল্লেখ করেছেন যাদের নাম বর্ণনা করা দীর্ঘ হবে।

 

‌‌তাঁর জীবন ও কর্ম:

ইবনে বাশকুওয়াল বলেন: তিনি ছিলেন জ্ঞান, বহুমুখী পাণ্ডিত্য, মেধা ও প্রজ্ঞার অধিকারী। তাকে দীর্ঘকাল সাবতাহয় বিচারক নিযুক্ত করা হয়েছিল, সেখানে তাঁর কর্মজীবন প্রশংসিত ছিল। এরপর তাকে সাবতাহ থেকে গ্রানাডার বিচারক হিসেবে বদলি করা হয়, তবে সেখানে তাঁর সময়কাল দীর্ঘ ছিল না। তিনি আমাদের নিকট কর্ডোভায় আসেন এবং আমরা তাঁর নিকট থেকে জ্ঞান অর্জন করি। ফকিহ মুহাম্মদ বিন হাম্মাদ আস-সাবতি বলেন:
(খণ্ড: ১) মানাহিলুস সাফা ফী তাখরীজি আহাদীশিশ শিফা (পৃষ্ঠা: ১১)
جلس القاضي للمناظرة وله نحو من ثمان وعشرين سنة، وولي القضاء وله خمس وثلاثون سنة فسار بأحسن سيرة، كان هيناً من غير ضعف، صليبا في الحق تفقّه على أبي عبد الله التميمي وصحب أبا إسحاق بن جعفر الفقيه ولم يكن أحد بسبتة في عصره أكثر تواليف منه.

قال صاحب الصلة: وقدم علينا قرطبة فأخذنا عنه بعض ما عنده.

قال ابن الخطيب: وبنى الزيادة الغربية في الجامع الأعظم وبنى في جبل المينا الراتبة الشهيرة وعظم صيته.

 

‌‌وفاته:

ولما ظهر أمر الموحدين بادر إلى المسابقة بالدخول في طاعتهم ورحل إلى لقاء أميرهم بمدينة سلا فأجزل صلته وأوجب بره إلى أن اضطربت أمور الموحدين عام ثلاثة وأربعين وخمسمائة فتلاشت حاله ولحق بمراكش مشردًا عن وطنه فكانت بها وفاته في شهر جمادى الأخيرة وقيل في شهر رمضان سنة أربع وأربعين وخمسمائة. وقيل إنه مات مسمومًا سمه يهودي ودفن رحمه الله تعالى بباب ايلان داخل المدينة.

 

‌‌تواليفه:

لم يكن أحد بسبتة في عصره أكثر تواليف منه، له التصانيف المفيدة البديعة منها:

- إكمال المعلم في شرح صحيح مسلم.

- مشارق الأنوار في تفسير غريب حديث الموطأ والبخاري ومسلم وضبط الألفاظ والتنبيه على مواضع الأوهام والتصحيفات وضبط أسماء الرجال وهو كتاب لو كتب بالذهب أو وزن بالجوهر لكان قليلًا في حقه وفيه أنشد بعضهم:

مشارق الأنوار تبت بسبتة … ومن عجب كون المشارق بالغرب
বিচারক আটাশ বছর বয়সে বিতর্কের (মুনাজারা) জন্য বসলেন এবং পঁয়ত্রিশ বছর বয়সে বিচারকের দায়িত্ব লাভ করলেন। তিনি অত্যন্ত উত্তম পন্থায় জীবন অতিবাহিত করেন। তিনি দুর্বলতা ছাড়াই কোমল স্বভাবের ছিলেন এবং সত্যের ক্ষেত্রে কঠোর ছিলেন। তিনি আবু আবদুল্লাহ আত-তামিমির নিকট ফিকহ শিক্ষা করেন এবং ফকিহ আবু ইসহাক বিন জাফরের সাহচর্য লাভ করেন। তাঁর যুগে সাবতাহ শহরে তাঁর চেয়ে অধিক গ্রন্থ রচয়িতা আর কেউ ছিল না।

'আস-সিলাহ'-এর লেখক বলেন: তিনি আমাদের নিকট কর্ডোভায় এসেছিলেন, ফলে আমরা তাঁর নিকট থেকে তাঁর জ্ঞানের কিছু অংশ গ্রহণ করেছি।

ইবনুল খাতিব বলেন: তিনি জামে আজমের পশ্চিম দিকের বর্ধিত অংশ নির্মাণ করেন এবং জাবালে মিনায় বিখ্যাত রাতিবা (স্থাপনা) নির্মাণ করেন এবং তাঁর খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে।

 

‌‌তাঁর মৃত্যু:

যখন মুওয়াহহিদুনদের শাসন প্রকাশ পেল, তিনি তাদের আনুগত্য করার ক্ষেত্রে অগ্রগামী হলেন এবং সালা শহরে তাদের আমিরের সাথে সাক্ষাৎ করতে গেলেন। আমির তাঁকে প্রচুর উপঢৌকন প্রদান করেন এবং তাঁর সম্মান নিশ্চিত করেন। অতপর ৫৪৩ হিজরি সনে মুওয়াহহিদুনদের রাজত্বে অস্থিরতা দেখা দিলে তাঁর অবস্থাও শোচনীয় হয়ে পড়ে। তিনি নিজ দেশ থেকে বিতাড়িত হয়ে মারাকেশে চলে যান এবং সেখানেই ৫৪৪ হিজরি সনের জমাদিউল আখিরা মাসে, মতান্তরে রমজান মাসে তাঁর মৃত্যু হয়। বলা হয় যে, তাঁকে বিষ প্রয়োগে হত্যা করা হয়েছিল, জনৈক ইহুদি তাঁকে বিষ দিয়েছিল। আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন, তাঁকে শহরের ভেতরে বাব আইলান নামক স্থানে দাফন করা হয়।

 

‌‌তাঁর রচনাবলি:

তাঁর যুগে সাবতাহ শহরে তাঁর চেয়ে অধিক গ্রন্থ রচয়িতা আর কেউ ছিল না। তাঁর বেশ কিছু উপকারী ও চমৎকার গ্রন্থ রয়েছে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:

- সহিহ মুসলিমের ব্যাখ্যাগ্রন্থ 'ইকমালুল মুয়াল্লিম'।

- মুয়াত্তা, বুখারি ও মুসলিমের কঠিন হাদিসের ব্যাখ্যা, শব্দের সঠিক উচ্চারণ নির্ধারণ, ভুল ও বিকৃতির স্থানগুলো চিহ্নিতকরণ এবং বর্ণনাকারীদের নামের সঠিক রূপ নির্ধারণ বিষয়ক গ্রন্থ 'মাশারিকুল আনোয়ার'। এটি এমন একটি কিতাব যা স্বর্ণাক্ষরে লেখা হলেও বা মণি-মুক্তা দিয়ে ওজন করা হলেও এর হকের তুলনায় তা নগণ্য হতো। এর সম্পর্কে জনৈক ব্যক্তি কবিতা আবৃত্তি করেছেন:

সাবতাহ শহরে 'মাশারিকুল আনোয়ার' স্থির হয়েছে … আর আশ্চর্যের বিষয় হলো উদিত হওয়ার স্থানগুলো পশ্চিমে অবস্থিত।
(খণ্ড: ১) মানাহিলুস সাফা ফী তাখরীজি আহাদীশিশ শিফা (পৃষ্ঠা: ১২)
- وكتاب التنبيهات المستنبطة على الكتب المدونة جمع فيه غرائب من ضبط الألفاظ وتحرير المسائل.

- وكتاب ترتيب المدارك وتقريب المسالك لمعرفه أعلام مذهب مالك.

- وكتاب الاعلام بحدود قواعد الِإسلام.

- وكتاب الالماع في ضبط الرواية وتقييد السماع.

- وكتاب بغية الرائد لما تضمنه حديث أم زرع من الفوائد.

- وكتاب الغنيمة في شيوخه.

- وكتاب المعجم في شيوخ ابن سكرة.

- وكتاب نظم البرهان على حجة جزم الأذان.

- وكتاب مسئلة الأهل المشروط بينهم التزاور.

ومما لم يكمله المقاصد الحسان فيما يلزم الِإنسان.

- وكتاب العيون الستة في أخبار سبتة.

- وكتاب غنية الكاتب وبغية الطالب في الصدور والترسل.

- وكتاب الأجوبة المحيرة على الأسئلة المتخيرة.

- وكتاب أجوبة القرطبيين.

- وكتاب أجوبته عما نزل في أيام قضائه من نوازل الأحكام في سفر.

- وكتاب سر السراة في أدب القضاة.

- وكتاب خطبه وكان لا يخطب إلا بإنشائه.

- وكتاب الشفا بتعريف حقوق المصطفى صلى الله عليه وسلم أبدع فيه كل الِإبداع وسلم له اكفاؤه كفاءته فيه ولم ينازعه أحد في الانفراد ولا أنكروا مزية السبق إليه بل تشوقوا للوقوف عليه واتصفوا في الاستفادة منه وحمله الناس عنه وطارت نسخه شرقًا وغربًا.
- সংকলিত গ্রন্থসমূহের ওপর উদ্ভাবিত সতর্কবার্তা সম্বলিত কিতাব, যাতে তিনি শব্দ বিন্যাস ও মাসআলাসমূহের বিশ্লেষণের বিরল তথ্যাদি একত্রিত করেছেন।

- মালিকি মাযহাবের ইমামগণের পরিচিতি ও সংশ্লিষ্ট পথসমূহ সহজীকরণ বিষয়ক গ্রন্থ।

- ইসলামের বুনিয়াদি রীতিনীতির সীমারেখা পরিচিতি বিষয়ক গ্রন্থ।

- রেওয়ায়েত সংরক্ষণ ও শ্রবণলব্ধ জ্ঞান লিপিবদ্ধকরণ বিষয়ক উজ্জ্বল নির্দেশিকা।

- উম্মে যার-এর হাদীসে বিদ্যমান কল্যাণসমূহ অন্বেষণকারীর লক্ষ্য বিষয়ক গ্রন্থ।

- তাঁর শায়খ বা শিক্ষকবৃন্দের জীবনী বিষয়ক 'আল-গানীমাহ' গ্রন্থ।

- ইবনে সাকারার শিক্ষকবৃন্দের পরিচিতি সম্বলিত অভিধান।

- আযানের প্রমাণের ওপর দলিলের বিন্যাস বিষয়ক গ্রন্থ।

- পরস্পর সাক্ষাতের শর্তযুক্ত পরিবারবর্গের মাসআলা বিষয়ক গ্রন্থ।

এবং যা তিনি সমাপ্ত করতে পারেননি— মানুষের জন্য অপরিহার্য বিষয়ে উত্তম উদ্দেশ্যসমূহ বিষয়ক গ্রন্থ।

- সেউতা নগরীর সংবাদে 'আল-উয়ুনুস সিত্তাহ' (ছয়টি উৎস) বিষয়ক গ্রন্থ।

- পাণ্ডুলিপি ও পত্রালাপের ক্ষেত্রে লেখকের পাথেয় ও শিক্ষার্থীর লক্ষ্য বিষয়ক গ্রন্থ।

- নির্বাচিত প্রশ্নসমূহের ওপর বিস্ময়কর উত্তরসমূহ সম্বলিত কিতাব।

- কর্ডোভাবাসীদের জিজ্ঞাসার উত্তর সম্বলিত কিতাব।

- সফরে থাকাকালীন তাঁর বিচারকার্যের দিনগুলোতে উদ্ভূত বিচারিক মাসআলাসমূহের উত্তর সম্বলিত কিতাব।

- বিচারকদের শিষ্টাচার বিষয়ে নেতৃবৃন্দের গোপন রহস্য বিষয়ক গ্রন্থ।

- তাঁর ভাষণসমূহের কিতাব; তিনি নিজের রচিত ভাষণ ব্যতীত অন্য কিছু পাঠ করতেন না।

- মুস্তাফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অধিকারসমূহের পরিচিতি সম্বলিত 'আশ-শিফা' নামক কিতাব; এতে তিনি চূড়ান্ত সৃজনশীলতা প্রদর্শন করেছেন এবং তাঁর সমকক্ষরা এই ক্ষেত্রে তাঁর যোগ্যতাকে অকপটে স্বীকার করেছেন। এই অনন্য সৃষ্টিতে কেউ তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেনি এবং তাঁর অগ্রগণ্যতাকেও কেউ অস্বীকার করেনি; বরং তারা এটি পর্যালোচনার জন্য উন্মুখ ছিলেন এবং এর থেকে উপকৃত হওয়ার চেষ্টায় ব্রতী হন। মানুষ তাঁর থেকে এটি গ্রহণ করে এবং এর অনুলিপিগুলো প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যে সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে।
(খণ্ড: ১) মানাহিলুস সাফা ফী তাখরীজি আহাদীশিশ শিফা (পৃষ্ঠা: ১৩)
‌‌شعره:

له شعر كثير حسن رائق فمنه قوله:

يا من تحمل عني غير مكترث … لكنه للضنا والسقم أوصى بي

تركتني مستهام القلب ذا حرق … اخا جوى وتباريح وأوصابي

أراقب النجم في جنح الدجا سمرا … كأني راصد للنجم أوصابي

وله رحمه الله تعالى:

الله يعلم أني منذ لم أركم … كطائر خانه ريش الجناحين

فلو قدرت كتب الريح نحوكم … فإن بُعدكم عني جنى حين

وله من أبيات:

إن البخيل بلحظه أو لفظه … أو عطفه أو رفقه لبخيل

وله في خامات الزرع بينها شقائق النعمان هبت عليها رياح:

انظر إلى الزرع وخامته … تحكى وقد ماست أمام الرياح

كتيبة خضراء مهزومة … شقائق النعمان فيها جراح

وله غير ذلك.

 

‌‌مصادر الترجمة.

شذرات الذهب 4/ 138.

تذكرة الحفاظ 4/ 1304.

ديباج المذهب ص /168 - 172.

ولمراجعه انظر المستدرك على معجم المؤلف ص/532.
তাঁর কাব্য:

তাঁর অনেক সুন্দর ও চমৎকার কবিতা রয়েছে, যার মধ্যে তাঁর এই উক্তিটি অন্যতম:

হে তুমি, যে আমার থেকে ভ্রুক্ষেপহীনভাবে বিদায় নিয়েছ … কিন্তু আমাকে ক্লান্তি ও রুগ্নতার হাতে সঁপে দিয়েছ।

তুমি আমাকে দগ্ধ ও দিশেহারা হৃদয়ে ফেলে গেছ … আমি এখন তীব্র বেদনা, দুঃখ ও কষ্টের সহচর।

রাতের গভীর অন্ধকারে আমি নিশীথ আলাপে তারকারাজি পর্যবেক্ষণ করি … যেন আমি কোনো নক্ষত্র পর্যবেক্ষক অথবা ব্যথায় কাতর কেউ।

তিনি (আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন) আরও বলেছেন:

আল্লাহ জানেন যে, যখন থেকে আপনাদের দেখিনি … আমি তখন থেকে এমন এক পাখির মতো যাকে তার ডানার পালকগুলো ধোঁকা দিয়েছে।

যদি সক্ষম হতাম তবে বাতাসের মাধ্যমে আপনাদের নিকট চিঠি পাঠাতাম … কেননা আপনাদের বিচ্ছেদ আমার বিনাশের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তাঁর কিছু পঙক্তি থেকে:

নিশ্চয়ই যে ব্যক্তি তার দৃষ্টি, বাক্য … মমতা অথবা কোমলতার ক্ষেত্রে কার্পণ্য করে, সে প্রকৃতপক্ষেই কৃপণ।

শস্যক্ষেতের কাণ্ড এবং এর মাঝে ফুটে থাকা লাল পপি ফুল, যার ওপর দিয়ে বাতাস বয়ে যাচ্ছে, সে সম্পর্কে তিনি বলেছেন:

শস্যক্ষেত এবং এর কাণ্ডগুলোর দিকে তাকাও … বাতাসের সামনে হেলতে দুলতে থাকা অবস্থায় সেগুলো যেন কাহিনী বলছে।

যেন এক পরাজিত সবুজ সৈন্যদল … যার মাঝে লাল পপি ফুলগুলো ক্ষতের চিহ্ন হয়ে আছে।

তাঁর আরও অনেক কবিতা রয়েছে।

 

‌‌জীবনীর উৎসসমূহ.

শাযারাতুয যাহাব ৪/ ১৩৮।

তাযকিরাতুল হুফফাজ ৪/ ১৩০৪।

দীবাজুল মাযহাব পৃ /১৬৮ - ১৭২।

আরও রেফারেন্সের জন্য দেখুন আল-মুস্তাদরাক আলা মু'জামিল মুআল্লিফিন পৃ/৫৩২।
(খণ্ড: ১) মানাহিলুস সাফা ফী তাখরীজি আহাদীশিশ শিফা (পৃষ্ঠা: ১৫)
‌‌ترجمة السيوطي

‌‌اسمه ومولده:

قال ابن العمار:

هو الحافظ جلال الدين أبو الفضل عبد الرحمن بن أبي بكر بن محمد بن سابق الدين أبي بكر بن عثمان بن محمد بن خضر بن أيوب بن محمد بن الشيخ همام الدين الخضيري السيوطي الشافعي المسند المحقق المدقق صاحب المؤلفات الفائقة النافعة.

ولد بعد المغرب ليلة الأحد مستهل رجب سنة تسع وأربعين وثمانمائة.

وعرض محافيظه على العز الكناني الحنبلي فقال له ما كنيتك فقال لا كنية لي فقال "أبو الفضل" وكتبه بخطه.

وتوفي والده وله من العمر خمس سنوات وسبعة أشهر وقد وصل في القرآن إذ ذاك إلى سورة التحريم وأسند وصايته إلى جماعة منهم الكمال بن الهمام فقرره في وظيفة الشيخوخة ولحظه بنظره وختم القرآن العظيم وله من العمر دون ثمان سنين ثم حفظ "عمدة الأحكام". ومنهاج النووي "وألفية ابن مالك". ومنهاج البيضاوي، وعرض ذلك على علماء عصره وأجازوه.

 

‌‌مشايخه:

أخذ عن الجلال المحلي والزين العقبي وأحضره والده مجلس الحافظ ابن حجر وشرع في الاشتغال بالعلم من ابتداء ربيع الأول سنة أربع وستين وثمانمائة فقرأ على الشمس البرامي صحيح مسلم إلا قليلًا منه، والشفا،
আস-সুয়ুতীর জীবনী

তাঁর নাম ও জন্ম:

ইবনুল আম্মার বলেন:

তিনি হলেন আল-হাফিজ জালালুদ্দীন আবুল ফজল আবদুর রহমান বিন আবি বকর বিন মুহাম্মাদ বিন সাবিকুদ্দীন আবি বকর বিন উসমান বিন মুহাম্মাদ বিন খিজির বিন আইয়ুব বিন মুহাম্মাদ বিন আশ-শায়খ হুমামুদ্দীন আল-খুদাইরী আস-সুয়ুতী আশ-শাফিয়ী; যিনি মুসনিদ (হাদিস বর্ণনাকারী), গবেষক, সূক্ষ্মদর্শী এবং উৎকৃষ্ট ও কল্যাণকর গ্রন্থরাজির রচয়িতা।

তিনি ৮৪৯ হিজরির রজব মাসের শুরুতে রবিবার রাতে মাগরিবের পর জন্মগ্রহণ করেন।

তিনি তাঁর মুখস্থকৃত বিষয়সমূহ ইজ্জুল কিনানী আল-হাম্বলীর নিকট পেশ করেন। তিনি তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন, "তোমার উপনাম (কুনিয়াত) কী?" তিনি উত্তর দিলেন, "আমার কোনো উপনাম নেই।" তখন তিনি বললেন, "আবুল ফজল" এবং এটি স্বহস্তে লিখে দিলেন।

যখন তাঁর বয়স পাঁচ বছর সাত মাস তখন তাঁর পিতা ইন্তেকাল করেন। সেই সময় তিনি কুরআনের সূরা আত-তাহরীম পর্যন্ত পৌঁছেছিলেন। তাঁর পিতা তাঁর অভিভাবকত্বের দায়িত্ব একদল ব্যক্তির ওপর অর্পণ করেছিলেন যাদের মধ্যে কামাল ইবনুল হুমাম অন্যতম ছিলেন; তিনি তাঁকে শায়খদের পদে অধিষ্ঠিত করেন এবং তাঁর প্রতি বিশেষ দৃষ্টি রাখেন। আট বছর বয়স হওয়ার আগেই তিনি পবিত্র কুরআন হিফজ সম্পন্ন করেন। এরপর তিনি "উমদাতুল আহকাম", নববীর "মিনহাজ", "আলফিয়্যাহ ইবনে মালিক" এবং বায়যাবীর "মিনহাজ" মুখস্থ করেন। তিনি এগুলো তাঁর সময়ের আলেমদের কাছে পেশ করেন এবং তাঁরা তাঁকে অনুমতি প্রদান করেন।

 

তাঁর শিক্ষকগণ:

তিনি জালাল আল-মহল্লী এবং জাইন আল-উক্ববীর নিকট থেকে জ্ঞান অর্জন করেন। তাঁর পিতা তাঁকে হাফেজ ইবনে হাজারের মজলিসে নিয়ে গিয়েছিলেন। তিনি ৮৬৪ হিজরির রবিউল আউয়াল মাসের শুরু থেকে জ্ঞানচর্চায় আত্মনিয়োগ করেন। তিনি শামস আল-বারামীর নিকট সহীহ মুসলিমের সামান্য অংশ ব্যতীত পূর্ণাঙ্গ কিতাব এবং আশ-শিফা পাঠ করেন।
(খণ্ড: ১) মানাহিলুস সাফা ফী তাখরীজি আহাদীশিশ শিফা (পৃষ্ঠা: ১৬)
وألفية ابن مالك فما أتمها إلا وقد صنف وأجازه بالعربية وقرأ عليه قطعة من التسهيل وسمع عليه الكثير من ابن المصنف والتوضيح وشرح الشذور، والمغني في أصول فقه الحنفي وشرح العقائد للتفتازاني وقرأ على الشمس المرزباني الحنفي الكافية وشرحها للمصنف ومقدمة ايساغوجي وشرحها للكاتي، وسمع عليه من المتوسط والشافية وشرحها للجاربردي ومن ألفية العراقي ولزمه حتى مات سنة سبع وستين وقرأ في الفرائض والحساب على علامة زمانه الشهاب الشارمساحي ثم دروس العلم البلقيني من شوال سنة خمس وستين فقرأ عليه ما لا يحصى كثره.

ولزم أيضًا الشرف المناوي إلى أن مات وقرأ عليه ما لا يحصى، ولزم دروس محقق الديار المصرية سيف الدين محمد بن محمد الحنفي ودروس العلامة التقي الشمني. ودروس الكافيجي وقرأ على العز الكناني، وفي الميقات على مجد الدين مجد السباع والعز بن محمد الميقاتي، وفي الطب على محمد بن إبراهيم الدواني لما قدم القاهرة من الروم.

وقرأ على التقي الحصكفي والشمس البابي وغيرهم.

 

‌‌مكانته العلمية:

وأجيز بالِإفتاء والتدريس وقد ذكر تلميذه الداودي في ترجمته أسماء شيوخه إجازة وقراءة وسماعًا مرتبين على حروف المعجم فبلغت عدتهم واحدًا وخمسين نفسًا واستقصى أيضًا مؤلفاته الحافلة الكثيرة الكاملة الجامعة المتقنة المحررة المعتمدة المعتبرة فنافت عدتها على خمسمائة مؤلف وشهرتها تغني عن ذكرها وقد اشتهر أكثر مصنفاته في حياته في أقطار الأرض شرقًا وغربًا وكان آية كبرى في سرعة التأليف حتى قال تلميذه الداودي عاينت الشيخ وقد كتب في يوم واحد ثلاثة كراريس تأليفًا وتحريرًا.

قال المؤلف: وكان مع ذلك يملي الحديث ويجيب عن المتعارض منه بأجوبة حسنة وكان أعلم أهل زمانه بعلم الحديث وفنونه رجالًا وغريبًا ومتنًا
এবং ইবনে মালিকের আলফিয়্যাহ; তিনি এটি সমাপ্ত করার আগেই গ্রন্থ রচনা করেন এবং আরবি ভাষায় তাঁকে অনুমতি (ইজাযাহ) প্রদান করা হয়। তিনি তাঁর কাছে 'আত-তাসহীল'-এর একটি অংশ পাঠ করেন এবং ইবনুল মুসান্নিফ, আত-তাওদীহ ও শারহুশ শুযূর-এর অনেক অংশ শ্রবণ করেন। এছাড়া হানাফি উসূলে ফিকহের কিতাব 'আল-মুগনি' এবং তাফতাজানির 'শারহুল আকাইদ' পাঠ করেন। তিনি শামস আল-মারযুবানি আল-হানাফির কাছে 'আল-কাফিয়্যাহ' ও লেখকের করা তার ব্যাখ্যাগ্রন্থ এবং 'মুকাদ্দিমাহ ঈসাগুজি' ও কাতির করা তার ব্যাখ্যাগ্রন্থ পাঠ করেন। তাঁর কাছে 'আল-মুতাওয়াসসিত', 'আশ-শাফিয়্যাহ' ও জারাবারদির করা তার ব্যাখ্যাগ্রন্থ এবং ইরাকির 'আলফিয়্যাহ' থেকে শ্রবণ করেন এবং সাতষট্টি হিজরি সনে তাঁর মৃত্যু পর্যন্ত তাঁর সান্নিধ্যে থাকেন। তিনি তাঁর সময়ের শ্রেষ্ঠ আলিম শিহাব আশ-শারামসাহির কাছে ফারায়েজ (উত্তরাধিকার আইন) ও গণিত পাঠ করেন। এরপর পষট্টি হিজরির শাওয়াল মাস থেকে আল-বুলকিনির ইলমি সবকসমূহে উপস্থিত হন এবং তাঁর কাছে অগণিত বিষয় পাঠ করেন।

তিনি শরফ আল-মুনাভির মৃত্যু পর্যন্ত তাঁর সান্নিধ্যেও থাকেন এবং তাঁর কাছে অগণিত বিষয় পাঠ করেন। তিনি মিসর ভূখণ্ডের গবেষক সাইফুদ্দীন মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ আল-হানাফি এবং আল্লামা তাকি আশ-শুমুননির সবকসমূহে নিয়মিত উপস্থিত হতেন। এছাড়া কাফিয়াজির সবক এবং ইজ্জ আল-কিনানির কাছে পাঠ গ্রহণ করেন। মিউকাত (সময় গণনা) শাস্ত্রে মাজদুদ্দীন মাজদ আস-সিবা এবং ইজ্জ বিন মুহাম্মদ আল-মিউকাতির কাছে এবং চিকিৎসাশাস্ত্রে মুহাম্মদ বিন ইবরাহিম আদ-দাওয়ানির কাছে পাঠ গ্রহণ করেন যখন তিনি রুম থেকে কায়রোতে আগমন করেন।

তিনি তাকি আল-হাসকাফি, শামস আল-বাবী এবং আরও অনেকের কাছে পাঠ গ্রহণ করেন।

 

‌‌তাঁর ইলমি মর্যাদা:

তাঁকে ফতোয়া প্রদান ও অধ্যাপনার অনুমতি দেওয়া হয়। তাঁর ছাত্র আদ-দাউদি তাঁর জীবনীতে তাঁর শায়খদের নাম—যাঁদের থেকে তিনি অনুমতি প্রাপ্ত হয়েছেন, পাঠ করেছেন অথবা শ্রবণ করেছেন—অভিধানের বর্ণানুক্রমে উল্লেখ করেছেন; যাঁদের সংখ্যা একান্ন জনে পৌঁছেছে। তিনি তাঁর সমৃদ্ধ, অসংখ্য, পূর্ণাঙ্গ, সারগর্ভ, সুসংবদ্ধ, পরিমার্জিত, নির্ভরযোগ্য ও গ্রহণযোগ্য রচনাবলিও বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করেছেন, যেগুলোর সংখ্যা পাঁচশরও বেশি। সেগুলোর প্রসিদ্ধিই তাদের আলোচনার প্রয়োজনীয়তা দূর করে দেয়। তাঁর অধিকাংশ গ্রন্থই তাঁর জীবদ্দশায় পৃথিবীর পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্তরে প্রসিদ্ধি লাভ করেছিল। গ্রন্থ রচনার ক্ষিপ্রতায় তিনি ছিলেন এক মহান নিদর্শন, এমনকি তাঁর ছাত্র আদ-দাউদি বলেছেন: "আমি শায়খকে সচক্ষে দেখেছি যে তিনি একদিনে তিন ক্রাস (পুস্তিকা) রচনা ও পরিমার্জন করে লিখতেন।"

লেখক বলেন: এর পাশাপাশি তিনি হাদিস শ্রুতিলিপি (ইমলা) করাতেন এবং আপাতবিরোধী হাদিসগুলোর চমৎকার সমাধান প্রদান করতেন। তিনি তাঁর সময়ের শ্রেষ্ঠ বিশেষজ্ঞ ছিলেন ইলমে হাদিস এবং এর বিভিন্ন শাখা তথা রিজাল (বর্ণনাকারী), গারিব হাদিস এবং মতন (মূল পাঠ) সম্পর্কে।
(খণ্ড: ১) মানাহিলুস সাফা ফী তাখরীজি আহাদীশিশ শিফা (পৃষ্ঠা: ১৭)
وسندًا واستنباطًا للأحكام منه وأخبرا عن نفسه أنه يحفظ مائتي ألف حديث قال: ولو وجدت أكثر لحفظته قال: ولعله لا يوجد على وجه الأرض الآن أكثر من ذلك.

ولما بلغ أربعين سنة أخذ في التجرد للعبادة والانقطاع إلى الله تعالى والاشتغال به صرفًا والِإعراض عن الدنيا وأهلها كأنه لم يعرف أحدًا منهم.

 

‌‌زهده وعبادته:

يقول متحدثًا عن الِإمام: وشرع في تحرير مؤلفاته وترك الإِفتاء

والتدريس واعتذر عن ذلك إلى أن مات ولم يفتح طاقات بيته التي على النيل من سكناه وكان الأمراء والأغنياء يأتون إلى زيارته ويعرضون عليه الأموال النفيسة فيردها، وأهدى إليه الفوري خصيا وألف دينار فرد الألف وأخذ الخصى فاعتقه وجعله خادماً في الحجرة النبوية، وقال القاصد السلطان لا تعد تأتينا بهدية قط فإن الله أغنانا عن مثل ذلك. وطلبه السلطان مرارًا فلم يحضر إليه.

ورؤي النبي صلى الله عليه وسلم في المنام والشيخ السيوطي يسأله عن بعض الأحاديث والنبي صلى الله عليه وسلم يقول له هات يا شيخ السنة، ورأى هو بنفسه هذه الرؤيا والنبي صلى الله عليه وسلم يقول له: هات يا شيخ الحديث.

وذكر الشيخ عبد القادر الشاذلي في كتاب ترجمته أنه كان يقول رأيت النبي صلى الله عليه وسلم يقظة فقال لي: يا شيخ الحديث: فقلت له يا رسول الله أمِنْ أهل الجنة أنا؟ قال: نعم، فقلت: من غير عذاب يسبق. فقال: لك ذلك.

وقال الشيخ عبد القادر: قلت له كم رأيت النبي صلى الله عليه وسلم يقظة فقال: بضعًا وسبعين مرة وذكر خادم الشيخ السيوطي محمد بن علي الحباك أن الشيخ قال له يومًا وقت القيلولة، وهو عند زاوية الشيخ عبد الله الجيوشي بمصر بالقرابة، أتريد أن تصلي العصر بمكة بشرط أن تكتم ذلك علي حتى أموت؟ قال:
এবং হাদীসের সনদ ও তা থেকে আহকাম (বিধিবিধান) উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে। তিনি নিজের সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি দুই লক্ষ হাদীস মুখস্থ করেছেন। তিনি বলেছেন: "যদি আমি এর চেয়ে বেশি পেতাম, তবে তাও মুখস্থ করতাম।" তিনি আরও বলেছেন: "সম্ভবত বর্তমানে ভূপৃষ্ঠে এর চেয়ে বেশি হাদীস আর বিদ্যমান নেই।"

যখন তিনি চল্লিশ বছরে উপনীত হলেন, তখন তিনি ইবাদতের জন্য নিজেকে পূর্ণরূপে নিবেদন করলেন, মহান আল্লাহর প্রতি একনিষ্ঠ হলেন এবং কেবল তাঁর ধ্যানেই নিমগ্ন হলেন। তিনি দুনিয়া ও দুনিয়াদারদের থেকে এমনভাবে বিমুখ হলেন যেন তিনি তাদের কাউকেই চেনেন না।

 

‌‌তাঁর কৃচ্ছ্রসাধনা ও ইবাদত:

ইমাম সম্পর্কে বর্ণনাকারী বলেন: তিনি তাঁর রচনাবলি সম্পাদনায় আত্মনিয়োগ করলেন এবং ফতোয়া প্রদান ও পাঠদান বর্জন করলেন। মৃত্যু পর্যন্ত তিনি এ বিষয়ে অপারগতা প্রকাশ করেন। তিনি নীল নদের তীরে অবস্থিত তাঁর বাসস্থানের জানালাগুলোও খুলতেন না। আমীর-ওমরাহ এবং ধনী ব্যক্তিরা তাঁর সাথে সাক্ষাত করতে আসতেন এবং তাঁকে মূল্যবান ধন-সম্পদ দেওয়ার প্রস্তাব দিতেন, কিন্তু তিনি তা প্রত্যাখ্যান করতেন। জনৈক ফাওরি তাঁকে একজন দাস ও এক হাজার দিনার উপহার পাঠিয়েছিলেন; তিনি এক হাজার দিনার ফেরত দিলেন এবং দাসটিকে গ্রহণ করে তাকে মুক্ত করে দিলেন এবং তাকে নবীজির (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হুজরা মোবারকের খাদেম হিসেবে নিয়োগ দিলেন। তিনি সুলতানের দূতকে বলেছিলেন, "কখনোই আমাদের জন্য কোনো উপহার নিয়ে আসবে না, কারণ আল্লাহ আমাদের এ সব থেকে অভাবমুক্ত করেছেন।" সুলতান তাঁকে বহুবার তলব করেছিলেন, কিন্তু তিনি তাঁর নিকট উপস্থিত হননি।

স্বপ্নে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে দেখা গেল যে শায়খ সুয়ূতী তাঁকে কিছু হাদীস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করছেন এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁকে বলছেন, "হে সুন্নাহর শায়খ! পেশ করো।" তিনি নিজেও এই স্বপ্ন দেখেছিলেন যেখানে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁকে বলছিলেন: "হে হাদীসের শায়খ! পেশ করো।"

শায়খ আবদুল কাদির আশ-শাজিলী তাঁর জীবনী গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি (সুয়ূতী) বলতেন: "আমি জাগ্রত অবস্থায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে দেখেছি। তিনি আমাকে বললেন: হে হাদীসের শায়খ! আমি তাঁকে বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আমি কি জান্নাতবাসীদের অন্তর্ভুক্ত? তিনি বললেন: হ্যাঁ। আমি বললাম: কোনো পূর্ববর্তী শাস্তি ভোগ করা ছাড়াই কি? তিনি বললেন: তোমার জন্য তাই হবে।"

শায়খ আবদুল কাদির বলেন: আমি তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম, আপনি কতবার জাগ্রত অবস্থায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে দেখেছেন? তিনি বললেন: সত্তরেরও বেশি বার। শায়খ সুয়ূতীর খাদেম মুহাম্মদ বিন আলী আল-হাব্বাক উল্লেখ করেছেন যে, শায়খ তাকে একদিন দুপুরের বিশ্রামের সময় বলেছিলেন—তখন তিনি মিশরের কারাবায় শায়খ আবদুল্লাহ আল-জাইউশীর খানকায় অবস্থান করছিলেন—"তুমি কি মক্কায় আসরের সালাত আদায় করতে চাও? তবে শর্ত হলো, আমার মৃত্যু পর্যন্ত এই বিষয়টি আমার পক্ষ থেকে গোপন রাখতে হবে।" সে বলল:
(খণ্ড: ১) মানাহিলুস সাফা ফী তাখরীজি আহাদীশিশ শিফা (পৃষ্ঠা: ১৮)
فقلت: نعم قال: فأخذ بيدي وقال غمض عينيك فغمضتهما فرجل إلى نحو سبع وعشرين خطوة. ثم قال لي: افتح عينيك فإذا نحن بباب المعلاة فزرنا أمنا خديجة والفضل بن عياض وسفيان بن عيينة وغيرهم. ودخلت الحرم فطفنا وشربنا من ماء زمزم وجلسنا خلف المقام حتى صلينا العصر وطفنا وشربنا من زمزم ثم قال لي: يا فلان ليس العجب من طي الأرض لنا وإنما العجب من كون أحد من أهل مصر المجاورين لم يعرفنا ثم قال: إن شئت تمضي معي وإن شئت تقيم حتى يأتي الحاج قال: فقلت: اذهب مع سيدي فمشينا إلى باب المعلاة وقال لي غمض عينيك فغمضتهما فهرول بي سبع خطوات ثم قال لي: افتح عينيك فإذا نحن بالقرب من الجيوشي فنزلنا إلى سيدي عمر بن الفارض.

وذكر الشعراوي عن الشيخ أمين الدين النجار إمام جامع الغمري ان الشيخ أخبره بدخول ابن عثمان مصر قبل أن يموت وأنه يدخلها في افتتاح سنة ثلاث وعشرين وتسعمائة وأخبره أيضًا بأمور أخرى فكان الأمر كما قال: ومناقبه لا تحصر كثرة ولو لم يكن له من الكرامات إلا كثرة المؤلفات مع تحريرها وتدقيقها لكفى ذلك شاهدًا.

 

‌‌شعره:

وله شعر كثير جيده كثير ومتوسطه أكثر وغالبه من الفوائد العلمية والأحكام الشرعية فمما أجاد فيه:

فوض أحاديث الصفا … ت لا تشبه أو تعطل

وقال:

حدثنا شيخنا الكناني … عن أبيه صاحب الخطابه

أسرع أخا العِلم من ثلاث … الأكل والمشي والكتابة
আমি বললাম: হ্যাঁ। তিনি বললেন: অতঃপর তিনি আমার হাত ধরলেন এবং বললেন, তোমার চোখ দুটি বন্ধ করো। আমি সেগুলো বন্ধ করলাম। এরপর তিনি প্রায় সাতাশ কদম হাঁটলেন। তারপর আমাকে বললেন: তোমার চোখ খোলো। তখন আমরা মাআলাহ্ এর দরজার কাছে ছিলাম। আমরা আমাদের মাতা খাদিজা, আল-ফাদল ইবনে ইয়াদ, সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনাহ এবং অন্যদের যিয়ারত করলাম। আমি হারামে প্রবেশ করলাম। আমরা তাওয়াফ করলাম এবং যমযমের পানি পান করলাম। আমরা মাকামে ইব্রাহিমের পিছনে বসলাম যতক্ষণ না আসরের নামাজ পড়লাম। এরপর পুনরায় তাওয়াফ করলাম এবং যমযম পান করলাম। তারপর তিনি আমাকে বললেন: হে অমুক, আমাদের জন্য জমিন সংকুচিত হওয়াটা আশ্চর্যের কিছু নয়, বরং আশ্চর্যের বিষয় হলো মিশরের অধিবাসী প্রতিবেশী কেউ আমাদের চিনতে পারেনি। এরপর তিনি বললেন: তুমি চাইলে আমার সাথে যেতে পারো, আর চাইলে হাজিরা আসা পর্যন্ত অবস্থান করতে পারো। আমি বললাম: আমি আমার মনিবের সাথেই যাব। আমরা মাআলাহ্ এর দরজার দিকে হাঁটলাম। তিনি আমাকে বললেন, তোমার চোখ দুটি বন্ধ করো। আমি সেগুলো বন্ধ করলাম। এরপর তিনি আমাকে নিয়ে দ্রুত সাত কদম চললেন। তারপর আমাকে বললেন: তোমার চোখ খোলো। তখন আমরা জুয়ুশি-এর সন্নিকটে ছিলাম। এরপর আমরা সাইয়্যেদ ওমর ইবনে আল-ফারিজের নিকট অবতরণ করলাম।

গুমরি মসজিদের ইমাম শায়খ আমিনুদ্দিন আন-নাজ্জার থেকে শারানি বর্ণনা করেছেন যে, শায়খ তাকে ইবনে উসমানের মৃত্যুর পূর্বে মিশরে প্রবেশের কথা জানিয়েছিলেন এবং তিনি নয়শত তেইশ হিজরি সনের শুরুতে সেখানে প্রবেশ করবেন বলে খবর দিয়েছিলেন। এছাড়াও তিনি তাকে অন্যান্য বিষয়েও সংবাদ দিয়েছিলেন এবং বিষয়টি তিনি যেমন বলেছিলেন তেমনই ঘটেছিল। তার গুণাবলি ও শ্রেষ্ঠত্ব এত বেশি যে তা গণনা করা সম্ভব নয়। যদি তার প্রচুর গ্রন্থাবলী—যা অত্যন্ত পরিমার্জিত ও সূক্ষ্মভাবে রচিত—ছাড়া আর কোনো কারামত নাও থাকত, তবে এটিই তার জন্য সাক্ষী হিসেবে যথেষ্ট হতো।

 

‌‌তার কবিতা:

তার অনেক কবিতা রয়েছে, যার মধ্যে উত্তম কবিতা অনেক এবং সাধারণ মানের কবিতা আরও বেশি। সেগুলোর অধিকাংশই বৈজ্ঞানিক উপকারিতা ও শরয়ি বিধান সমৃদ্ধ। তার চমৎকার পঙক্তিগুলোর মধ্যে রয়েছে:

সিফাত বা গুণাবলির হাদিসগুলো সোপর্দ করো … সাদৃশ্যারোপ করো না বা অর্থহীন করো না

এবং তিনি বলেছেন:

আমাদের শায়খ কিনানি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন … তার পিতা থেকে যিনি বাগ্মিতার অধিকারী ছিলেন

হে জ্ঞানের ভ্রাতা, তিনটি বিষয়ে দ্রুততা অবলম্বন করো … আহার, পথ চলা এবং লেখালেখি
(খণ্ড: ১) মানাহিলুস সাফা ফী তাখরীজি আহাদীশিশ শিফা (পৃষ্ঠা: ১৯)
وقال:

أيها السائل قومًا … قالهم في الخير مذهبْ

اتركِ الناسَ جميعًا … وإلى ربِّك فارْغب

 

وقال:

عابَ الِإملاه للحديث رجال … قد سعوا في الضلال سعيًا حثيثًا

إنما ينكر الأمالي قوم … لا يكادون يفقهون حديثًا

 

وقال:

لِمَ نرجى العفو من ربنا … وكيف لا نطمعُ في حِلمهِ

وفي الصحيحين أني أنه … بعده أرحم من أمهِ

توفي في سحر ليلة الجمعة تاسع عشر جمادى الأولى في منزله بروضة المقياس بعد أن تمرض سبعة أيام بورمٍ شديد في ذراعه الأيسر عن إحدى وستين سنة وعشرة أشهر وثمانية عشر يومًا ودفن في حوش قوصون خارج باب القرافة.

وقد اختصرنا ترجمة الِإمام مع كونه، كثير المناقب والفضائل فهو أشهر من أن أوسع القول فيه. وتصانيفه تعبر عنه، ناهيك ترجمته لنفسه وقد نقلها في كتابه حسن المحاضرة.

والمرجع التي تعرضت بالحديث عنه كثيرة منها الضوء اللامع لأهل القرن التاسع للسخاوي 4/ 65 - 70

وحسن المحاضرة في تاريخ مصر والقاهرة للسيوطي صاحب الترجمة بتحقيق محمد أبو الفضل إبراهيم الكواكب السائرة بأعيان المائة العاشرة لنجم الدين الغزي 1/ 226 - 231.

شذرات الذهب لابن العماد الحنبلي 8/ 51 - 55.

البدر الطالع بمحاسن من بعد القرن التاسع للشوكاني 1/ 328 - 335.
এবং তিনি বলেছেন:

হে এমন এক কওমের নিকট যাঞ্চাকারী … যাদের কথা কল্যাণের ক্ষেত্রে একটি আদর্শ পথ

তুমি সকল মানুষকে পরিত্যাগ করো … এবং তোমার রবের প্রতিই অনুরাগী হও

 

এবং তিনি বলেছেন:

একদল লোক হাদিস শ্রুতিলিখনের (ইমলা) নিন্দা করেছে … তারা পথভ্রষ্টতায় দ্রুত ধাবিত হয়েছে

নিশ্চয়ই এমন এক সম্প্রদায় শ্রুতিলিখন অস্বীকার করে … যারা কোনো কথা (বা হাদিস) বুঝতে সক্ষম নয়

 

এবং তিনি বলেছেন:

কেন আমরা আমাদের রবের নিকট ক্ষমা প্রত্যাশা করব না … আর কেনইবা আমরা তাঁর সহনশীলতার প্রতি লালসা পোষণ করব না

সহিহাইন (বুখারি ও মুসলিম)-এ বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি … বান্দার প্রতি তার মায়ের চাইতেও অধিক দয়ালু

তিনি উনিশশে জমাদিউল আউয়াল শুক্রবার দিবাগত শেষ রাতে রওজাতুল মিকইয়াসে অবস্থিত নিজ বাসভবনে ইন্তেকাল করেন। সাত দিন ধরে তাঁর বাম বাহুতে তীব্র ফোলাজনিত ব্যথায় ভোগার পর তিনি একষট্টি বছর দশ মাস আঠারো দিন বয়সে মৃত্যুবরণ করেন এবং তাঁকে বাবুল কারাফার বাইরে হাওশে কুসূনে দাফন করা হয়।

ইমামের অসংখ্য গুণাবলি ও মর্যাদা থাকা সত্ত্বেও আমরা তাঁর জীবনী সংক্ষিপ্ত করেছি, কারণ তিনি এতোটাই সুপ্রসিদ্ধ যে তাঁর সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনার প্রয়োজন নেই। তাঁর গ্রন্থাবলিই তাঁর শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ দেয়; তাছাড়া তিনি নিজেই নিজের জীবনী লিখেছেন এবং তা তাঁর ‘হুসনুল মুহাদারা’ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।

তাঁর সম্পর্কে আলোচনা রয়েছে এমন তথ্যসূত্র অনেক, তার মধ্যে সাখাওয়ী রচিত ‘আদ-দাওউল লামি‘ লি-আহলিল করনিত তাসি’ ৪/ ৬৫-৭০।

এবং আলোচ্য জীবনীকার সুয়ূতী রচিত ‘হুসনুল মুহাদারা ফি তারিখি মিসর ওয়াল কাহিরা’ (মুহাম্মদ আবু ফজল ইব্রাহিম সম্পাদিত); নাজমুদ্দিন গাজ্জী রচিত ‘আল-কাওয়াকিবুত সাইয়্যিরা বি-আ’য়ানিল মিআতির আশিরা’ ১/ ২২৬-২৩১।

ইবনুল ইমাদ আল-হাম্বলী রচিত ‘শাযারাতুয যাহাব’ ৮/ ৫১-৫৫।

শাওকানী রচিত ‘আল-বাদরুত তালি‘ বি-মাহাসিনি মাম বা’দাল করনিত তাসি’ ১/ ৩২৮-৩৩৫।
(খণ্ড: ১) মানাহিলুস সাফা ফী তাখরীজি আহাদীশিশ শিফা (পৃষ্ঠা: ২০)
إيضاح المكنون في الذيل على كشف الظنون 1/ 191، 220، 226، 230، 278، 421، 479، 2/ 47، 387، 465، 591، 624، 627.

وهدية العارفين للبغدادي 1/ 534، 544.

وتاريخ الأدب العربي لبروكلمان 2/ 143 - 158.

معجم المطبوعات العربية لسركيس.

وكشف الظنون لحاجي خليفة.

معجم المؤلفين 5/ 128.

وقد ذكر أسماء مؤلفاته في كتابه حسن المحاضرة، يمكنك الاطلاع عليها.

وأما كتابه الذي بين أيدينا فهو كتاب مناهل الصفا في تخريج أحاديث الشفا.

وكتاب الشفا هذا هو للِإمام الحافظ أبي الفضل عياض بن موسى القاضي اليحصبي المتوفى سنة أربع وأربعين وخمسمائة أوله الحمد المتفرد باسمه الأسمى المختص بالملك الأعز الأحمى الخ وهو أربعة أقسام، القسم الأول في تعظيم العلي الأعلى هذا النبي المصطفى صلى الله عليه وسلم قولًا وفعلًا وفيه أربعة أبواب: الأول في ثنائه تعالى وفيه عشرة فصول، الثاني في تكميله تعالى له المحاسن خلقًا وخُلقًا وفيه سبعة وعشرون فصلًا، الثالث فيما ورد من صحيح الأخبار لعظم قدره عند ربه وفيه اثنا عشر فصلًا، الرابع فيما أظهره الله تعالى على يديه من الآيات والمعجزات وفيه ثلاثون فصلًا.

والقسم الثاني فيما يجب على الأنام من حقوقه عليه الصلاة والسلام وفيه أربعة أبواب: الأول في فرض الِإيمان به والطاعة وفيه خمسة فصول، الثاني في لزوم محبته ومناصحته وفيه ستة فصول، الثالث في تعظيم أمره ولزوم توقيره وفيه سبعة فصول، الرابع في حكم الصلاة عليه وفيه عشرة فصول.
ইযাহুল মাকনুন ফীয যাইল আলা কাশফিজ জুনুন ১/ ১৯১, ২۲۰, ২২৬, ২৩০, ২৭৮, ৪২১, ৪7৯, ২/ ৪৭, ৩৮৭, ৪৬৫, ৫৯১, ৬২৪, ৬২৭।

বাগদাদীর হাদিয়াতুল আরিফীন ১/ ৫৩৪, ৫৪৪।

ব্রোকলম্যানের তারিখুল আদাবিল আরবি ২/ ১৪৩ - ১৫৮।

সারকিসের মু'জামুল মাতবুয়াত আল-আরাবিয়া।

হাজি খলিফার কাশফুজ জুনুন।

মু'জামুল মুয়াল্লিফীন ৫/ ১২৮।

তিনি তাঁর ‘হুসনুল মুহাদারা’ গ্রন্থে তাঁর রচিত গ্রন্থাবলীর নাম উল্লেখ করেছেন, আপনি চাইলে সেগুলো দেখে নিতে পারেন।

আর আমাদের সামনে বিদ্যমান এই গ্রন্থটি হলো ‘মানাহিলুস সাফা ফী তাখরীজি আহাদীশিশ শিফা’।

আর এই ‘আশ-শিফা’ গ্রন্থটি হলো ইমাম হাফেজ আবুল ফজল আইয়াজ বিন মুসা আল-কাজী আল-ইয়াহসুবি (মৃত্যু ৫৪৪ হিজরী) এর। এর প্রারম্ভিক কথা হলো: ‘সমস্ত প্রশংসা সেই আল্লাহর যিনি তাঁর সুমহান নামের মাধ্যমে অনন্য এবং যিনি অতি সম্মানিত ও সংরক্ষিত রাজত্বের একচ্ছত্র অধিকারী’ ইত্যাদি। এটি চারটি অংশে বিভক্ত। প্রথম অংশ: কথা ও কাজের মাধ্যমে মহান সুউচ্চ আল্লাহর পক্ষ থেকে এই মনোনীত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মর্যাদা বর্ণনা প্রসঙ্গে। এতে চারটি অধ্যায় রয়েছে: প্রথম অধ্যায়: মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর প্রশংসার বর্ণনায়, যাতে দশটি পরিচ্ছেদ রয়েছে। দ্বিতীয় অধ্যায়: মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর বাহ্যিক অবয়ব ও চারিত্রিক গুণাবলী পূর্ণতা প্রদানের বর্ণনায়, যাতে সাতাশটি পরিচ্ছেদ রয়েছে। তৃতীয় অধ্যায়: তাঁর রবের নিকট তাঁর সুমহান মর্যাদার বিষয়ে বর্ণিত সহীহ বর্ণনাসমূহ প্রসঙ্গে, যাতে বারোটি পরিচ্ছেদ রয়েছে। চতুর্থ অধ্যায়: আল্লাহ তাআলা তাঁর হাতে যেসব নিদর্শন ও মুজেজা প্রকাশ করেছেন সে বিষয়ে, যাতে ত্রিশটি পরিচ্ছেদ রয়েছে।

দ্বিতীয় অংশ: সৃষ্টির ওপর তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যে সকল অধিকার বা হক ওয়াজিব, সে প্রসঙ্গে। এতে চারটি অধ্যায় রয়েছে: প্রথম অধ্যায়: তাঁর প্রতি ঈমান আনয়ন ও আনুগত্যের আবশ্যকতা প্রসঙ্গে, যাতে পাঁচটি পরিচ্ছেদ রয়েছে। দ্বিতীয় অধ্যায়: তাঁর প্রতি ভালোবাসা ও একনিষ্ঠ অনুরাগের অপরিহার্যতা প্রসঙ্গে, যাতে ছয়টি পরিচ্ছেদ রয়েছে। তৃতীয় অধ্যায়: তাঁর আদেশকে সম্মান করা ও তাঁর মর্যাদা রক্ষার অপরিহার্যতা প্রসঙ্গে, যাতে সাতটি পরিচ্ছেদ রয়েছে। চতুর্থ অধ্যায়: তাঁর ওপর দরুদ পাঠের বিধান প্রসঙ্গে, যাতে দশটি পরিচ্ছেদ রয়েছে।
(খণ্ড: ১) মানাহিলুস সাফা ফী তাখরীজি আহাদীশিশ শিফা (পৃষ্ঠা: ২১)
والقسم الثالث فيما يستحيل في حقه وما يجوز وما يمتنع ويصح وهو سر الكتاب ولباب ثمرة هذه الأبواب وما قبله له كالقواعد والتمهيدات وفيه بابان: الأول فيما يختص بالأمور الدينية وفيه ستة عشر فصلًا، الثاني في أحواله الدنيوية وفيه تسعة فصول.

والقسم الرابع وجوه الأحكام على من تنقصه أو سبه وفيه بابان: الأول في بيان ما هو في حقه سب ونقص وفيه عشرة فصول، الثاني في حكم شانئه ومؤذيه وعقوبته وقال وختمناه بباب ثالث جعلناه تكملة لهذه المسئلة في حكم من سب الله سبحانه وتعالى ورسله وملائكته وكتبه وآل النبي صلى الله تعالى عليه وسلم وفيه خمسة فصول.

وهو كتاب عظيم النفع كثير الفائدة لم يؤلف مثله في الِإسلام شكر الله سبحانه وتعالى سعي مؤلفه وقابله برحمته وكرمه.

وقد اختصره الشيخ محمد بن أحمد الأسنوي الشافعي المتوفى سنة ثلاث وستين وسبعمائة وشرحه الشيخ أبو عبد الله محمد بن الحسن بن محلوف مخلوف الراشدي الحافظ.

وشرحه أبو عبد الله محمد بن علي بن أبي الشريف الحسني التلمساني سماه المنهل الأصفى في شرح ما تمس الحاجة إليه من ألفاظ الشفا في مجلدين وهو من أجود شروحه فرغ يوم الاثنين رابع عشر من صفر سنة سبع عشرة وتسعمائة. أوله: الحمد لله الذي جعل رتبة العلم أعلى المراتب الخ ذكر فيه أنه لما قرأه نظر فيما يستعين به عليه فلم يجد غير كتاب الحافظ عبد الله بن أحمد بن سعيد بن يحيى الرموري (الزموري) فاقتطع منه ما تمس إليه الحاجة وترك ما فيه من طول عبارته وأضاف إليه كثيرًا من كلام الحافظ أبي عبد الله محمد بن حسن بن محلوف (مخلوف) الراشدي المعروف بايركان إذ وضع عليه ثلاثة شروح الأول كبيرة الغنية في مجلدين والتاني غنية الوسطى وإياه اعتمد وآخر أصغر منه جرمًا. قال ومرادي بالشارح حيث ذكرت الإِمام عبد الله بن أحمد الرموري الخ ومن كلام الشمني وابن مرزوق.
তৃতীয় বিভাগটি তাঁর (রাসূলুল্লাহর) ক্ষেত্রে যা অসম্ভব, যা জায়েয এবং যা অবধারিত ও শুদ্ধ সেই বিষয়ে। এটিই হলো কিতাবটির রহস্য এবং এই অধ্যায়গুলোর মূল নির্যাস। এর পূর্ববর্তী অংশগুলো ছিল এর জন্য ভিত্তি এবং ভূমিকা স্বরূপ। এতে দুটি অধ্যায় রয়েছে: প্রথমটি দ্বীনি বিষয়াদির সাথে সংশ্লিষ্ট এবং এতে ষোলোটি পরিচ্ছেদ রয়েছে; দ্বিতীয়টি তাঁর দুনিয়াবী অবস্থা সম্পর্কে এবং এতে নয়টি পরিচ্ছেদ রয়েছে।

চতুর্থ বিভাগটি হলো তাঁর অবমাননাকারী বা গালি প্রদানকারীর বিধানের প্রকারভেদ সম্পর্কে। এতে দুটি অধ্যায় রয়েছে: প্রথমটি তাঁর শানে গালি এবং অবমাননা বলতে কী বোঝায় তার বর্ণনায়, এতে দশটি পরিচ্ছেদ রয়েছে। দ্বিতীয়টি তাঁর বিদ্বেষ পোষণকারী ও কষ্ট প্রদানকারীর বিধান ও শাস্তি সম্পর্কে। তিনি বলেছেন যে, আমরা এটি সমাপ্ত করেছি তৃতীয় একটি অধ্যায়ের মাধ্যমে, যা আমরা এই মাসআলার পরিপূরক হিসেবে নির্ধারণ করেছি; এতে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা, তাঁর রাসূলগণ, ফেরেশতাগণ, আসমানী কিতাবসমূহ এবং নবী সাল্লাল্লাহু তায়ালা আলাইহি ওয়াসাল্লামের পরিবারবর্গকে গালি প্রদানকারীর বিধান আলোচিত হয়েছে, যাতে পাঁচটি পরিচ্ছেদ রয়েছে।

এটি অত্যন্ত উপকারী এবং বহু ফায়দা সমৃদ্ধ একটি গ্রন্থ। ইসলামে এর সমতুল্য কোনো কিতাব রচিত হয়নি। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা এর লেখকের প্রচেষ্টাকে কবুল করুন এবং তাঁকে তাঁর রহমত ও করুণায় সিক্ত করুন।

শেখ মুহাম্মদ বিন আহমদ আল-আসনাবী আল-শাফিঈ (মৃত্যু ৭৬৩ হিজরি) এটি সংক্ষেপ করেছেন এবং হাফেজ শেখ আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আল-হাসান বিন মাহলুফ আল-রাশিদী এর ব্যাখ্যা গ্রন্থ লিখেছেন।

এর ব্যাখ্যা করেছেন আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আলী বিন আবিশ শরীফ আল-হাসানি আল-তিলিমসানি। তিনি এর নাম দিয়েছেন 'আল-মানহালুল আসফা ফি শারহি মা তামাসসুল হাজাতু ইলাইহি মিন আলফাযিশ শিফা'। এটি দুই খণ্ডে সমাপ্ত এবং এটি এর অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যাখ্যা গ্রন্থ। তিনি ৯১৭ হিজরির ১৪ই সফর সোমবার এটি লিখে শেষ করেন। এর শুরু হলো: 'সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি ইলমের মর্যাদাকে সর্বোচ্চ স্তরে আসীন করেছেন...' ইত্যাদি। সেখানে তিনি উল্লেখ করেছেন যে, যখন তিনি এটি পড়েন তখন এর জন্য সহায়ক কোনো গ্রন্থ খুঁজছিলেন। তিনি হাফেজ আবদুল্লাহ বিন আহমদ বিন সাঈদ বিন ইয়াহইয়া আল-রামুরি (আল-যামুরি)-এর কিতাব ছাড়া অন্য কিছু পাননি। তাই তিনি সেখান থেকে প্রয়োজনীয় অংশটুকু গ্রহণ করেছেন এবং দীর্ঘ বর্ণনা বর্জন করেছেন। এর সাথে তিনি হাফেজ আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ বিন হাসান বিন মাহলুফ আল-রাশিদী—যিনি আইরকান নামে পরিচিত—তার অনেক বক্তব্য যুক্ত করেছেন। আল-রাশিদী এই কিতাবের তিনটি ব্যাখ্যা লিখেছিলেন: প্রথমটি 'আল-গুনিয়া' (বড়) দুই খণ্ডে, দ্বিতীয়টি 'গুনিয়া আল-ওসতা' এবং তিনি এটির ওপরই নির্ভর করেছেন, এবং অপরটি এর চেয়ে ছোট। তিনি বলেছেন, আমি যেখানেই 'ব্যাখ্যাকার' শব্দটি উল্লেখ করেছি, সেখানে আমার উদ্দেশ্য হলো ইমাম আবদুল্লাহ বিন আহমদ আল-রামুরি প্রমুখ এবং আল-শুমুন্নি ও ইবনে মারজুকের বক্তব্য।
(খণ্ড: ১) মানাহিলুস সাফা ফী তাখরীজি আহাদীশিশ শিফা (পৃষ্ঠা: ২২)
وشرحه الشيخ شمس الدين محمد بن محمد الدلجي المتوفى سنة سبع وأربعين وتسعمائة سماه الاصطفا لبيان معاني الشفا أتمه في اثني عشر شوال سنة خمس وثلاثين وتسعمائة أوله: نحمدك يا من شرح صدورنا الخ.

وشرحه الشيخ الِإمام أبو الحسن علي بن محمد بن اقهرش (اقبرس) الشافعي المتوفى سنة اثنتين وستين وثمانمائة.

وشرحه أيضاً عمر العرضي في أربع مجلدات.

وأبو ذر أحمد بن إبراهيم الحلبي المتوفى سنة أريع وثمانين وثمانمائة ولم يتم.

ومن شروحه تلخيص الاكتفا في شرح ألفاظ الشفا للِإمام أبي المحاسن عبد الباقي اليماني.

وخرج جلال الدين السيوطي أحاديثه وسماه مناهل الصفا في تخريج أحاديث الشفا وعليه حاشية للشيخ تقي الدين أبي العباس أحمد بن محمد الشمني المتوفى لسنة اثنتين وسبعين وثمانمائة سماها بمزيل الخفا عن ألفاظ الشفا أولها: أما بعد حمد الله على أفضاله الخ مختصر بالقول وهو تعليق لطيف في ضبط ألفاظ الشفا لخصه من صرح البرهان الحلبي وأتى بتتمات يسيرة فيها تحقيفات دقيقة ذكره السخاوي وأتمه في ذي القعدة سنة سبع وأربعين وثمانمائة والحافظ برهان الدين إبراهيم بن محمد الحلبي سبط ابن العجمي أوله: الحمد لله الذي بنعمته تتم الصالحات الخ فرغ من تعليقه في شوال سنة سبع وتسعين وسبعمائة بحبل وهو مجلد.

وجمع تلميذه محمد بن خليل "بن أبي بكر أبو عبد الله الحلبي المعروف بالقباقبي المتوفى سنة تسع وأربعين وثمانمائة الحنفي شرحًا من شرحه وقال هذه فوائد التقطتها من تأليف شيخنا الحافظ برهان الدين الحلبي سبط ابن العجمي وسماه المقتفى في حل ألفاظ الشفا مع ما زدتها من زيادات مهمة وسميتها زبدة المقتفى في تحرير ألفاظ الشفا وفرغ من تبييضه ثالث جمادى الآخرة لسنة عشرة وثمانمائة.
এবং এর ব্যাখ্যা করেছেন শায়খ শামসুদ্দিন মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ আদ-দালজি (মৃত্যু ৯৪৭ হিজরি), তিনি এর নাম দিয়েছেন 'আল-ইসতিফা লি-বায়ানি মা'আনিল শিফা'। তিনি এটি ৯৩৫ হিজরির ১২ই শাওয়াল সম্পন্ন করেন। এর প্রারম্ভিকা হলো: "আমরা আপনার প্রশংসা করি, হে তিনি যিনি আমাদের অন্তরসমূহকে প্রশস্ত করেছেন..." ইত্যাদি।

এবং এর ব্যাখ্যা করেছেন শায়খ ইমাম আবুল হাসান আলী ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আকহরাশ (আকবারাস) আশ-শাফিয়ি (মৃত্যু ৮৬২ হিজরি)।

এবং উমর আল-আরদ্বিও এটি চার খণ্ডে ব্যাখ্যা করেছেন।

এবং আবু যার আহমদ ইবনে ইবরাহিম আল-হালাবি (মৃত্যু ৮৮৪ হিজরি) এটি শুরু করেছিলেন কিন্তু তা সম্পন্ন হয়নি।

এর ব্যাখ্যাগ্রন্থগুলোর মধ্যে একটি হলো ইমাম আবুল মাহাসিন আবদুল বাকি আল-ইয়ামানি রচিত 'তালখিসুল ইক্তিফা ফি শারহি আলফাজিশ শিফা'।

এবং জালালুদ্দিন আস-সুয়ুতি এর হাদিসগুলোর তাখরিজ (উৎস নির্ণয়) করেছেন এবং এর নাম দিয়েছেন 'মানাহিলুস সাফা ফি তাখরিজি আহাদিসিশ শিফা'। এর ওপর একটি হাশিয়া (টীকা) লিখেছেন শায়খ তাকিউদ্দিন আবুল আব্বাস আহমদ ইবনে মুহাম্মদ আশ-শুমান্নি (মৃত্যু ৮৭২ হিজরি), তিনি এর নাম দিয়েছেন 'মুজিলুল খাফা আন আলফাজিশ শিফা'। এর শুরু এভাবে: "আল্লাহর অনুগ্রহের জন্য তাঁর প্রশংসার পর..." ইত্যাদি। এটি সংক্ষেপে বর্ণিত একটি চমৎকার তালীক (টীকা), যা শিফা-র শব্দাবলি যথাযথভাবে নির্ধারণের জন্য রচিত। তিনি এটি বুরহান আল-হালাবির ব্যাখ্যা থেকে সারসংক্ষেপ করেছেন এবং এতে সূক্ষ্ম তাহকিকসহ কিছু সামান্য পরিশিষ্ট যোগ করেছেন; যা সাখাবি উল্লেখ করেছেন। তিনি এটি ৮৪৭ হিজরির জিলকদ মাসে সম্পন্ন করেন। হাফেজ বুরহানউদ্দিন ইবরাহিম ইবনে মুহাম্মদ আল-হালাবি সিবত ইবনুল আজামি-ও একটি ব্যাখ্যা লিখেছেন যার শুরু: "সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য যাঁর অনুগ্রহে নেক কাজসমূহ পূর্ণতা পায়..." ইত্যাদি। তিনি ৭৯৭ হিজরির শাওয়াল মাসে এই তালীকটি সম্পন্ন করেন এবং এটি এক খণ্ডে সমাপ্ত।

এবং তাঁর ছাত্র মুহাম্মদ ইবনে খলিল ইবনে আবু বকর আবু আবদুল্লাহ আল-হালাবি, যিনি আল-কাবাকিবি নামে পরিচিত (মৃত্যু ৮৪৯ হিজরি, হানাফি), তাঁর ব্যাখ্যা থেকে একটি শারহ সংকলন করেছেন এবং বলেছেন: "এগুলো কিছু ফায়দা যা আমি আমাদের শায়খ হাফেজ বুরহানউদ্দিন হালাবি সিবত ইবনুল আজামির রচনা থেকে চয়ন করেছি।" তিনি এর নাম দিয়েছেন 'আল-মুকতাফা ফি হাল্লি আলফাজিশ শিফা'। এর সাথে আমি আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বৃদ্ধি করেছি এবং এর নাম দিয়েছি 'জুবদাতুল মুকতাফা ফি তাহরিরি আলফাজিশ শিফা'। তিনি ৮১০ হিজরির ৩রা জুমাদাল আখিরা এটি চূড়ান্তভাবে লিপিবদ্ধ করা শেষ করেন।
(খণ্ড: ১) মানাহিলুস সাফা ফী তাখরীজি আহাদীশিশ শিফা (পৃষ্ঠা: ২৩)
وعلق الشيخ شهاب الدين أحمد بن حسين بن رسلان الرملي الشافعي المتوفى سنة أربع وأربعين وثمانمائة تعليقة جيدة أولها: الحمد لله رب العالمين.

وشرح بعض ألفاظه عماد الدين أبو الفدا إسماعيل بن إبراهيم بن جماعة الكناني القدسي المتوفى سنة إحدى وستين وثمانمائة.

ومن شروح الشفا شرح ممزوج للسيد قطب الدين عيسى الصفوي أوله أما بعد حمد الله على كمال جلاله الخ.

وشرحه الشيخ زين الدين بن الأشعاقي الحلبي ذكره الشهاب وهو من شركائه في الدرس.

وشرحه رضى الدين محمد بن إبراهيم المعروف بابن الحنبلي الحلبي وسماه موارد الصفا وموائد الشفا انتخبها من شروحها المعتبرة وقد أخبره قراءة وإجازة لباقيه أحد شراحه الستة قطب الدين عيسى ابن السيد صفي الدين محمد الأيجي واختصره محمد بن أحمد الأسنوي الصفوي أوله أما بعد حمد الله على كمال جلاله.

وشرحه كمال الدين محمد بن أبي شريف القدسي المتوفى سنة إحدى وخمسين وتسعمائة.

شرحه أبو عبد الله أحمد بن محمد بن مرزوق التلمساني المالكي المتوفى سنة إحدى وثمانين وسبعمائة وعليه تعليقه للشهاب أحمد بن حسين بن رسلان الرملي المتوفى سنة أربع وأربعين وثمانمائة ذكره الحنبلي أوله الحمد لله رب العالمين.

وللشيخ عبد الباقي القرشي اليماني حاشية على هذا الكتاب ذكرها ابن الحنبلي. ومختصر الشفا المسمى بالوفا لابن الأخيضر هو جلال الدين أحمد بن محمد الخجندي الحنفي وقطب الدين محمد بن محمد بن
শেখ শিহাবুদ্দিন আহমাদ ইবন হুসাইন ইবন রুসলান আর-রামলি আশ-শাফিঈ (মৃত্যু ৮৪৪ হিজরি) একটি উত্তম টীকা লিখেছেন, যার শুরু হলো: সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের জন্য।

এবং এর কিছু শব্দের ব্যাখ্যা করেছেন ইমাদুদ্দিন আবুল ফিদা ইসমাঈল ইবন ইব্রাহিম ইবন জামাআ আল-কিনানি আল-কুদ্সি (মৃত্যু ৮৬১ হিজরি)।

এবং আশ-শিফার ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহের মধ্যে সাইয়িদ কুতুবুদ্দিন ঈসা আস-সাফাভির একটি মিশ্র ব্যাখ্যাগ্রন্থ রয়েছে, যার শুরু হলো: আল্লাহর মহিমার পূর্ণতার ওপর তাঁর প্রশংসার পর... ইত্যাদি।

এবং এটি ব্যাখ্যা করেছেন শেখ যাইনুদ্দিন ইবনুল আশআকি আল-হালাবি; শিহাব তাঁর কথা উল্লেখ করেছেন এবং তিনি তাঁর পাঠদানের সহপাঠীদের একজন ছিলেন।

এবং এটি ব্যাখ্যা করেছেন রাযিউদ্দিন মুহাম্মদ ইবন ইব্রাহিম, যিনি ইবনুল হাম্বলি আল-হালাবি নামে পরিচিত; তিনি এর নাম দিয়েছেন 'মাওয়ারিদুস সাফা ওয়া মাওয়াইদুশ শিফা'। তিনি এটি এর নির্ভরযোগ্য ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহ থেকে চয়ন করেছেন। এর ছয়জন ব্যাখ্যাকারীর একজন, কুতুবুদ্দিন ঈসা ইবন সাইয়িদ সফিউদ্দিন মুহাম্মদ আল-আইজি তাকে এটি পাঠ করে শুনিয়েছেন এবং অবশিষ্টাংশের অনুমতি প্রদান করেছেন। আর এটি সংক্ষেপ করেছেন মুহাম্মদ ইবন আহমাদ আল-আসনাবি আস-সাফাভি, যার শুরু হলো: আল্লাহর মহিমার পূর্ণতার ওপর তাঁর প্রশংসার পর।

এবং এটি ব্যাখ্যা করেছেন কামালুদ্দিন মুহাম্মদ ইবন আবি শরিফ আল-কুদ্সি (মৃত্যু ৯৫১ হিজরি)।

এটি ব্যাখ্যা করেছেন আবু আব্দুল্লাহ আহমাদ ইবন মুহাম্মদ ইবন মারজুক আত-তিলিমসানি আল-মালিকি (মৃত্যু ৭৮১ হিজরি) এবং এর ওপর শিহাব আহমাদ ইবন হুসাইন ইবন রুসলান আর-রামলির (মৃত্যু ৮৪৪ হিজরি) একটি টীকা রয়েছে; ইবনুল হাম্বলি এটি উল্লেখ করেছেন, যার শুরু হলো: সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের জন্য।

এবং শেখ আব্দুল বাকি আল-কুরাশি আল-ইয়ামানির এই কিতাবের ওপর একটি হাশিয়া রয়েছে যা ইবনুল হাম্বলি উল্লেখ করেছেন। আর ইবনুল আখিযারের 'আল-ওয়াফা' নামক আশ-শিফার সংক্ষিপ্তসারটি হলো জালালুদ্দিন আহমাদ ইবন মুহাম্মদ আল-খুজান্দি আল-হানাফি এবং কুতুবুদ্দিন মুহাম্মদ ইবন মুহাম্মদ ইবন...
(খণ্ড: ১) মানাহিলুস সাফা ফী তাখরীজি আহাদীশিশ শিফা (পৃষ্ঠা: ২৪)
الخيضري وضع كتابًا وسماه الصفا بتحرير الشفا المتوفى سنة أربع وتسعين وثمانمائة.

ومن شروحه الاكتفاء في شرح ألفاظ الشفا للِإمام أبي المحاسن عبد الباقي اليماني وهو ابن عبد المجيد اللغوي المتوفى سنة ثلاث وأربعين وسبعمائة ولبعض الأدباء في مدحه:

عوضت جنات عدن يا عياض … عن الشفاء الذي ألفته عوض

جمعت فيه أحاديثا مصححة … فهو الشفاء لمن في قلبه مرض.
আল-খাইদারি একটি কিতাব রচনা করেছেন এবং এর নামকরণ করেছেন 'আস-সাফা বিতাহরিরিশ শিফা', যিনি আটশত চুরানব্বই হিজরি সনে ইন্তেকাল করেছেন।

এর ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহের মধ্যে ইমাম আবুল মাহাসিন আব্দুল বাকী আল-ইয়ামানি রচিত 'আল-ইকতিফা ফি শারহি আলফাজিশ শিফা' অন্যতম, তিনি ভাষাবিদ আব্দুল মাজিদের পুত্র এবং সাতশত তেতাল্লিশ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেছেন। জনৈক সাহিত্যিক তার প্রশংসায় বলেছেন:

হে আইয়াদ! আপনি আপনার রচিত 'আশ-শিফা' কিতাবের বিনিময়ে প্রতিদানস্বরূপ জান্নাতুল আদন লাভ করেছেন ...

আপনি এতে বিশুদ্ধ হাদিসসমূহ সংকলন করেছেন ... সুতরাং যার অন্তরে ব্যাধি রয়েছে, এটি তার জন্য এক মহা আরোগ্য।
(খণ্ড: ১) মানাহিলুস সাফা ফী তাখরীজি আহাদীশিশ শিফা (পৃষ্ঠা: ২৫)
‌‌منهج العمل

قمت بتحقيق هذا الكتاب على الوجه التالي:

1 - ترقيم الأحاديث.

2 - إحالة الحديث إلى المصادر المطبوعة التي ذكرها المؤلف، وذلك غالبًا، إلا بعض إحالات الدلائل لأبي نعيم لأن النسخ المطبوعة هي اختصار لكتاب الدلائل لأبي نعيم.

3 - وضع إحالة أم الحديث لكتاب الشفا الذي اعتمدنا عليه، فيجد الواقف الرقم وينتقل إلى الأصل فيجد الحديث بطوله.

 

‌‌وصف النسخة الخطية

هذه النسخة محفوظة ضمن المكتبة السليمانية/ تركيا، ضمن مجموعة.

كتبت بخط عبد الحق بن محمد الشافعي، بقلم معتاد، سنة 912 هـ.

أوراقها: 41 ق.

قياسها: 13 × 15.20 سم.
কর্মপদ্ধতি

আমি এই গ্রন্থটি নিম্নোক্ত পদ্ধতিতে সম্পাদনা করেছি:

১ - হাদীসসমূহের ক্রমিক নম্বর প্রদান।

২ - অধিকাংশ ক্ষেত্রে হাদীসগুলোকে লেখক কর্তৃক উল্লিখিত মুদ্রিত উৎসসমূহের সাথে সংশ্লিষ্ট করা হয়েছে, তবে আবু নুআইমের ‘দালাইল’ গ্রন্থের কিছু উদ্ধৃতি ব্যতীত; কারণ উক্ত গ্রন্থের মুদ্রিত কপিগুলো আবু নুআইমের ‘দালাইল’ গ্রন্থের সংক্ষিপ্ত সংস্করণ।

৩ - আমরা যে ‘আশ-শিফা’ গ্রন্থের ওপর নির্ভর করেছি, তার সাথে মূল হাদীসের উদ্ধৃতি প্রদান করা হয়েছে; ফলে পাঠক নম্বরটি দেখে মূল গ্রন্থে গিয়ে পূর্ণাঙ্গ হাদীসটি খুঁজে পাবেন।

 

পাণ্ডুলিপির বিবরণ

এই পাণ্ডুলিপিটি তুরস্কের সুলাইমানিয়া লাইব্রেরির একটি সংগ্রহশালায় সংরক্ষিত আছে।

এটি ৯১২ হিজরীতে আব্দুল হক বিন মুহাম্মাদ আশ-শাফিঈর হস্তলিপিতে সাধারণ কলমে লিখিত হয়েছে।

এর পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪১টি পাতা।

এর পরিমাপ: ১৩ × ১৫.২০ সেমি।
(খণ্ড: ১) মানাহিলুস সাফা ফী তাখরীজি আহাদীশিশ শিফা (পৃষ্ঠা: ২৯)
بسم الله الرحمن الرحيم

قال الشيخ الإِمام العالم العلامة جلال الدين عبد الرحمن الأسيوطي الشافعي تغمده الله برحمته:

 

الحمد لله الذي إذا وعد وفَى، وإذا أوعد عَفى، والصلاة والسلام على محمد الذي هدى وشفى من كان من الضلالة على شقى، وعلى آله وصحبه أولي الفضل والوفا. هذا كتاب نفيس ألفته، وتأليف شريف وضعته، خرَّجت فيه أحاديث الشفا للقاضي عياض تخريجًا محررًا، سالكًا فيه طريقًا موجزًا مختصرًا. ولم أستند فيه من شيء من الكتب المؤلفة عليه، اعتمدت فيه على حفظي ونظري، وراجعت الأصول المعتمدة، والجوامع، وسميته "‌‌مناهل الصفا، في تخريج أحاديث الشفا" وعلى الله الاعتماد، وإليه الإِسناد وبه الاكتفاء.

1 - حديث أبي هريرة: "من سئل عن علم فكتمه … " الحديث. ابن ماجه 1/ 98، أبو داود 2/ 126، 1/ 31.

أسنده المصنف من طريق أبي داود، وأخرجه أيضًا الترمذي وحسنه، وابن حبان، والحاكم وصححه، وابن ماجه بسند صحيح من طريف محمد بن سيرين عن أبي هريرة.

--------------------------------------------

(1) أخرجه أبو داود 2/ 124، والترمذي 4/ 139، وابن حبان 1/ 154، والحاكم 1/ 102، وابن ماجة 1/ 98.
দয়াময় পরম দয়ালু আল্লাহর নামে।

শায়খ, ইমাম, বিজ্ঞ পণ্ডিত জালালুদ্দিন আবদুর রহমান আল-সুয়ূতী আল-শাফিঈ (আল্লাহ তাঁকে তাঁর রহমতে আবৃত করুন) বলেন:

 

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি ওয়াদা করলে তা পূর্ণ করেন এবং শাস্তির ভয় দেখালে ক্ষমা করে দেন। সালাত ও সালাম মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর প্রতি, যিনি পথ দেখিয়েছেন এবং গোমরাহীর কারণে দুর্ভাগ্যে নিমজ্জিত ব্যক্তিকে নিরাময় করেছেন, এবং তাঁর পরিবার ও সাহাবীগণের প্রতি, যারা শ্রেষ্ঠত্ব ও আনুগত্যের অধিকারী। এটি একটি মূল্যবান কিতাব যা আমি রচনা করেছি এবং একটি মর্যাদাপূর্ণ সংকলন যা আমি প্রস্তুত করেছি। এতে আমি কাজী আইয়াজের 'আল-শিফা' গ্রন্থের হাদিসসমূহের একটি পরিমার্জিত উৎস যাচাই (তাখরিজ) করেছি, যেখানে একটি সংক্ষিপ্ত ও সারসংক্ষেপ পদ্ধতি অনুসরণ করেছি। এ বিষয়ে লিখিত পূর্ববর্তী কোনো কিতাবের ওপর আমি নির্ভর করিনি; বরং আমি আমার মুখস্থ ও পর্যবেক্ষণের ওপর নির্ভর করেছি এবং নির্ভরযোগ্য মূল গ্রন্থ ও জামে গ্রন্থসমূহ পুনরায় পর্যালোচনা করেছি। আর আমি এর নাম রেখেছি "‌‌মানাহিল আস-সাফা, ফি তাখরিজি আহাদিস আল-শিফা"। আল্লাহর ওপরই ভরসা, তাঁর দিকেই সকল নির্ভরতা এবং তিনিই যথেষ্ট।

১ - আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত হাদিস: "যাকে কোনো জ্ঞান সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয় এবং সে তা গোপন করে … " হাদিস। ইবনে মাজাহ ১/৯৮, আবু দাউদ ২/১২৬, ১/৩১।

গ্রন্থকার এটি আবু দাউদের সূত্রের মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন; আর এটি তিরমিযীও বর্ণনা করেছেন এবং হাসান বলেছেন, ইবনে হিব্বান ও হাকেম বর্ণনা করেছেন এবং হাকেম একে সহীহ বলেছেন; এছাড়া ইবনে মাজাহ মুহাম্মাদ ইবনে সিরিনের সূত্রে আবু হুরায়রা (রা.) হতে সহীহ সনদে এটি বর্ণনা করেছেন।

--------------------------------------------

(১) এটি আবু দাউদ ২/১২৪, তিরমিযী ৪/১৩৯, ইবনে হিব্বান ১/১৫৪, হাকেম ১/১০২ এবং ইবনে মাজাহ ১/৯৮-এ বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) মানাহিলুস সাফা ফী তাখরীজি আহাদীশিশ শিফা (পৃষ্ঠা: ৩০)
2 - حديث أنس: "أن النبي صلى الله عليه وسلم أتي بالبراق … " الحديث 1/ 47.

أسنده المصنف من طريق الترمذي وقد حسنه، وأخرجه أيضًا أحمد والبيهقي ..

3 - قوله: "وقرأ بعضهم {من أنفَسِكم} بفتح الفاء … ". 1/ 51.

الحاكم في المستدرك عن ابن عباس أن النبي صلى الله عليه وسلم قرأها كذلك.

4 - قوله: "وإنه لم يكن في العرب قبيلة إلا ولها على رسول الله صلى الله عليه وسلم ولادة أو قرابة". 1/ 52.

أخرجه أبو نعيم في الدلائل من طريق الكلبي عن أبي صالح عن ابن عباس في قوله: {لقد جاءكم رسول من أنفسكم} قال: ليس من العرب قبيلة … فذكره.

5 - قوله: "وهو عند ابن عباس وغيره معنى قوله {إلا المودة في القربى} … " 1/ 53.

له طرق كثيرة عن ابن عباس، فأخرجه البخاري من طريق طاوس عنه قال: إن النبي صلى الله عليه وسلم لم يكن بطن من قريش إلا كان له فيهم قرابة، فقال: إلا أن تصلوا ما بيني وبينكم من القرابة.

وأخرج الطبراني نحوه من طريق سعيد بن جبير عنه. وقد استوفيت طرقه في التفسير المسند.

--------------------------------------------

(2) وأحمد 3/ 148،4/ 207،208، والبيهقي في دلائل النبوة 2/ 382. الترمذي 4/ 363.

(3) أخرجه الحاكم 2/ 240.

* التوبة: 128.

(4) أخرجه عبد بن حميد والحارث بن أبي أسامة في مسنده وابن المنذر وابن مردويه وأبو نعيم في دلائل النبوة وابن عساكر عن ابن عباس انظر الدر المنثور 4/ 327.

(5) أخرجه البخاري 3/ 107 والطبراني 11/ 435، 416.
২ - আনাস (রা.) বর্ণিত হাদিস: "নিশ্চয়ই নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট বুরাক আনা হয়েছিল..." হাদিস ১/ ৪৭।

গ্রন্থকার এটি তিরমিযীর সূত্রে বর্ণনা করেছেন এবং তিনি একে হাসান বলেছেন। এছাড়াও আহমাদ ও বায়হাকী এটি বর্ণনা করেছেন...

৩ - তাঁর বক্তব্য: "এবং তাদের কেউ কেউ 'মিন আনফাসিকুম' (ফা বর্ণে জবর যোগে) পাঠ করেছেন..."। ১/ ৫১।

হাকিম তাঁর মুস্তাদরাক গ্রন্থে ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এভাবেই এটি পাঠ করেছেন।

৪ - তাঁর বক্তব্য: "আর আরবদের এমন কোনো গোত্র ছিল না যাদের সাথে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর জন্মগত বা আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিল না।" ১/ ৫২।

আবু নুআয়ম 'দালাইল' গ্রন্থে কালবীর সূত্রে আবু সালেহ থেকে এবং তিনি ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে আল্লাহর বাণী— "নিশ্চয়ই তোমাদের মধ্য থেকে তোমাদের নিকট একজন রাসূল এসেছেন"—এর ব্যাখ্যায় বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আরবদের এমন কোনো গোত্র নেই... অতঃপর তিনি তা উল্লেখ করেন।

৫ - তাঁর বক্তব্য: "আর এটিই ইবনে আব্বাস ও অন্যান্যদের মতে আল্লাহর বাণী— 'কেবল আত্মীয়তার ভালোবাসা ব্যতীত'—এর মর্মার্থ..." ১/ ৫৩।

ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে এর অনেকগুলো সূত্র রয়েছে। ইমাম বুখারী তাউসের সূত্রে তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: কুরাইশদের এমন কোনো শাখা ছিল না যাদের সাথে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিল না। তাই তিনি বললেন: তোমরা কেবল আমার ও তোমাদের মাঝের এই আত্মীয়তার সম্পর্কটুকু বজায় রাখো।

তাবারানি সাঈদ ইবনে জুবায়েরের সূত্রে তাঁর থেকে অনুরুপ বর্ণনা করেছেন। আমি 'আত-তাফসীর আল-মুসনাদ' গ্রন্থে এর সকল সূত্র পূর্ণাঙ্গভাবে উল্লেখ করেছি।

--------------------------------------------

(২) এবং আহমাদ ৩/ ১৪৮, ৪/ ২০৭, ২০৮; এবং বায়হাকী 'দালাইলুন নুবুওয়াহ' গ্রন্থে ২/ ৩৮২; তিরমিযী ৪/ ৩৬৩।

(৩) হাকিম এটি বর্ণনা করেছেন ২/ ২৪০।

* আত-তাওবাহ: ১২৮।

(৪) আবদ ইবনে হুমাইদ, হারিস ইবনে আবু উসামা তাঁর মুসনাদে, ইবনুল মুনযির, ইবনে মারদুওয়াইহি, আবু নুআয়ম 'দালাইলুন নুবুওয়াহ' গ্রন্থে এবং ইবনে আসাকির ইবনে আব্বাস থেকে এটি বর্ণনা করেছেন; দেখুন: আদ-দুররুল মানসুর ৪/ ৩২৭।

(৫) বুখারী এটি বর্ণনা করেছেন ৩/ ১০৭ এবং তাবারানি ১১/ ৪৩৫, ৪১৬।
(খণ্ড: ১) মানাহিলুস সাফা ফী তাখরীজি আহাদীশিশ শিফা (পৃষ্ঠা: ৩১)
6 - قوله: "وروي عن علي بن أبي طالب عنه عليه الصلاة والسلام في قوله {من أنفسكم} قال: نسبًا وصهرًا … " الحديث. 1/ 54.

ابن أبي عمر العدني في مسنده.

7 - قوله: "وعن ابن عباس في قوله {وتقلبك في الساجدين} قال: من نبي إلى نبي حتى أخرجتك نبيًا" 1/ 55.

ابن سعد، والبزار، وأبو نعيم في الدلائل بسند صحيح.

8 - حديث: "حياتي خير لكم، وموتي خير لكم". الحديث 1/ 56.

ابن أبي أسامة في مسنده من حديث بكر بن عبد الله المزني، والبزار من حديث ابن مسعود بسند صحيح.

9 - حديث: "إذا أراد الله رحمة بأمة قبض قبلها فجعله لها فرطًا وسلفًا". 1/ 56.

مسلم عن أبي مالك الأشعري.

10 - قوله: "قال ابن عباس: هو رحمة للمؤمنين … " إلى آخره. 1/ 57.

ابن جرير وابن أبي حاتم في تفسيريهما، والطبراني والبيهقي في الدلائل.

11 - حديث: "أن النبي صلى الله عليه وسلم قال لجبريل: هل أصابك من هذه الرحمة شىء … " الحديث. 1/ 57.

لم أجده.

--------------------------------------------

(7) ابن سعد 1/ 25، والبزار 3/ 110، وأبو نعيم في الدلائل ص /58.

(8) أخرجه البزار 1/ 397.

(9) أخرجه مسلم 4/ 1792.

(10) أخرجه ابن جرير في تفسيره 17/ 83، والطبراني 11/ 350، والبيهقي في الدلائل 5/ 486.
6 - তাঁর কথা: "আলী ইবনে আবি তালিব থেকে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সূত্রে তাঁর বাণী {তোমাদের নিজেদের মধ্য থেকে} প্রসঙ্গে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেছেন: বংশ এবং বৈবাহিক সম্পর্কের দিক থেকে..." আল-হাদিস। ১/ ৫৪।

ইবনে আবি উমর আল-আদানি তাঁর মুসনাদে।

7 - তাঁর কথা: "এবং ইবনে আব্বাস থেকে তাঁর বাণী {এবং সিজদাকারীদের মধ্যে আপনার পদচারণা} প্রসঙ্গে বর্ণিত, তিনি বলেন: এক নবী থেকে অন্য নবী পর্যন্ত, যতক্ষণ না আমি আপনাকে নবী হিসেবে প্রকাশ করেছি।" ১/ ৫৫।

ইবনে সাদ, আল-বাযযার এবং আবু নুয়াইম 'দালায়েল' গ্রন্থে সহীহ সনদে।

8 - হাদীস: "আমার জীবন তোমাদের জন্য কল্যাণকর এবং আমার মৃত্যুও তোমাদের জন্য কল্যাণকর।" আল-হাদিস ১/ ৫৬।

ইবনে আবি উসামা তাঁর মুসনাদে বকর ইবনে আব্দুল্লাহ আল-মুযানির হাদীস থেকে, এবং আল-বাযযার ইবনে মাসউদের হাদীস থেকে সহীহ সনদে।

9 - হাদীস: "যখন আল্লাহ কোনো উম্মতের প্রতি রহমতের ইচ্ছা করেন, তখন তিনি তাদের নবীর প্রাণ তাদের আগে হরণ করেন এবং তাঁকে তাদের জন্য অগ্রগামী ও পথপ্রদর্শক বানান।" ১/ ৫৬।

মুসলিম আবু মালেক আল-আশআরি থেকে।

10 - তাঁর কথা: "ইবনে আব্বাস বলেছেন: এটি মুমিনদের জন্য রহমত..." শেষ পর্যন্ত। ১/ ৫৭।

ইবনে জারীর ও ইবনে আবি হাতিম তাঁদের তাফসীরদ্বয়ে, এবং তাবারানী ও বাইহাকী 'দালায়েল' গ্রন্থে।

11 - হাদীস: "নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জিবরাঈলকে বলেছিলেন: এই রহমত থেকে কি তোমার কাছে কিছু পৌঁছেছে..." আল-হাদিস। ১/ ৫৭।

আমি এটি খুঁজে পাইনি।

--------------------------------------------

(7) ইবনে সাদ ১/ ২৫, আল-বাযযার ৩/ ১১০, আবু নুয়াইম 'দালায়েল' গ্রন্থে পৃ./ ৫৮।

(8) আল-বাযযার এটি বর্ণনা করেছেন ১/ ৩৯৭।

(9) মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন ৪/ ১৭৯২।

(10) ইবনে জারীর তাঁর তাফসীরে এটি বর্ণনা করেছেন ১৭/ ৮৩, তাবারানী ১১/ ৩৫০, বাইহাকী 'দালায়েল' গ্রন্থে ৫/ ৪৮৬।
(খণ্ড: ১) মানাহিলুস সাফা ফী তাখরীজি আহাদীশিশ শিফা (পৃষ্ঠা: ৩২)
12 - قوله: "قال ابن عباس: شرحه بالاسلام" 1/ 60.

أخرجه ابن مردويه وابن المنذر في تفسيريهما من طريق عطاء عنه، وأخرجه ابن أبي حاتم عن عكرمة.

13 - قوله: "قال قتادة: رفع الله ذكره … " إلى آخره 1/ 62.

ابن أبي حاتم والبيهقي.

14 - قوله:"قال كعب وابن جرير … " إلى آخره.

أخرجه عنهما ابن أبي حاتم.

15 - حديث: "وروى أبو سعيد الخدري أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: أتاني جبريل فقال: إن ربي وربك يقول: تدري كيف رفعت ذكرك؟ … " الحديث 1/ 63.

أبو يعلى في مسنده، وابن حبان في صحيحه.

16 - حديث حذيفة: "لا يقولن أحدكم ما شاء الله … " الحديث. 1/ 65.

أسنده المصنف من طريق أبي داود وأخرجه أيضًا النسائي في اليوم والليلة، وابن أبي شيبة في المصنف.

17 - حديث: "أن خطيبًا خطب عند النبي صلى الله عليه وسلم فقال: من يُطع الله ورسوله … " الحديث. 1/ 65.

مسلم عن عدي بن حاتم.

--------------------------------------------

(12) أخرجه ابن مردويه وابن المنذر وابن أبي حاتم كما في الدر المنثور 8/ 547.

(13) أخرجه البيهقي في الدلائل7/ 63.

(15) أخرجه ابن حبان 5/ 162. وأبو يعلى في مسنده 2/ 522.

(16) أخرجه أبو داود في سنته 2/ 331، والثاني في عمل اليوم والليلة ص/ 544.

(17) أخرجه مسلم في الجمعة 2/ 594.
১২ - তাঁর বক্তব্য: "ইবনে আব্বাস বলেছেন: তিনি তা ইসলাম দ্বারা ব্যাখ্যা করেছেন" ১/ ৬০।

এটি ইবনে মারদুওয়াইহ এবং ইবনুল মুনযির তাদের তাফসিরদ্বয়ে আতা-এর মাধ্যমে তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন এবং ইবনে আবি হাতিম ইকরিমাহ থেকে এটি বর্ণনা করেছেন।

১৩ - তাঁর বক্তব্য: "কাতাদাহ বলেছেন: আল্লাহ তাঁর স্মরণকে সমুন্নত করেছেন ..." শেষ পর্যন্ত ১/ ৬২।

ইবনে আবি হাতিম এবং বাইহাকি।

১৪ - তাঁর বক্তব্য: "কাব এবং ইবনে জারির বলেছেন ..." শেষ পর্যন্ত।

ইবনে আবি হাতিম তাঁদের দু’জনের থেকে এটি বর্ণনা করেছেন।

১৫ - হাদিস: "আবু সাঈদ আল-খুদরি বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: জিবরীল আমার কাছে এসে বললেন: নিশ্চয়ই আমার রব এবং আপনার রব বলছেন: আপনি কি জানেন আমি কীভাবে আপনার স্মরণকে সমুন্নত করেছি? ..." হাদিসটি ১/ ৬৩।

আবু ইয়ালা তাঁর মুসনাদে এবং ইবনে হিব্বান তাঁর সহিহ গ্রন্থে।

১৬ - হুজাইফার হাদিস: "তোমাদের কেউ যেন কক্ষনো না বলে: যা আল্লাহ চেয়েছেন ..." হাদিসটি ১/ ৬৫।

গ্রন্থকার এটি আবু দাউদের সূত্রে বর্ণনা করেছেন এবং নাসায়ি ‘আল-ইয়াওম ওয়াল-লাইলাহ’ গ্রন্থে এবং ইবনে আবি শাইবাহ ‘আল-মুসান্নাফ’ গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন।

১৭ - হাদিস: "একজন খতিব নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে খুতবা দিলেন এবং বললেন: যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করবে ..." হাদিসটি ১/ ৬৫।

মুসলিম আদি বিন হাতিম থেকে বর্ণনা করেছেন।

--------------------------------------------

(১২) ইবনে মারদুওয়াইহ, ইবনুল মুনযির এবং ইবনে আবি হাতিম এটি বর্ণনা করেছেন যেমনটি ‘আদ-দুররুল মানসুর’ ৮/ ৫৪৭-এ রয়েছে।

(১৩) বাইহাকি ‘আদ-দালায়েল’ ৭/ ৬৩-এ এটি বর্ণনা করেছেন।

(১৫) ইবনে হিব্বান ৫/ ১৬২ এবং আবু ইয়ালা তাঁর মুসনাদে ২/ ৫২২-এ এটি বর্ণনা করেছেন।

(১৬) আবু দাউদ তাঁর সুনানে ২/ ৩৩১ এবং দ্বিতীয়জন (নাসায়ি) ‘আমালুল ইয়াওমি ওয়াল-লাইলাহ’ পৃষ্ঠা/ ৫৪৪-এ এটি বর্ণনা করেছেন।

(১৭) মুসলিম ‘জুমা’ অধ্যায়ে ২/ ৫৯৪-এ এটি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) মানাহিলুস সাফা ফী তাখরীজি আহাদীশিশ শিফা (পৃষ্ঠা: ৩৩)
18 - قوله: "روي عن عمر قال: من فضيلتك عند الله أن جعل طاعتك طاعته … " 1/ 66.

لم أجده.

19 - قوله: "روي أنه لما نزلت هذه الآية يعني قوله {قل إن كنتم تحبون الله} قالوا: إن محمدًا يريد أن نتخذه حنانًا … " الحديث 1/ 66.

أخرجه ابن المنذر نحوه عن مجاهد وقتادة.

20 - قوله: "قال أبو العالية والحسن البصري {الصراط المستقيم} … الخ. 1/ 67.

أخرجه بلفظ مكي ابن جرير وابن أبي حاتم، ثم أخرجه في المستدرك من رواية أبي العالية عن ابن عباس وصححه.

21 - قوله: "وعن مجاهد في قوله {ألا بذكر الله} … " الخ. 1/ 70.

ابن أبي حاتم وابن جرير.

22 - قول عبد الله بن عمرو في صفته صلى الله عليه وسلم: "في التوراة … " 1/ 72.

أسنده المصنف من طريق البخاري.

23 - قوله: "ابن سلام … " 1/ 73.

عند البخاري تعليقًا وأسنده الدارمي.

--------------------------------------------

(20) أخرجه ابن جرير في تفسيره 1/ 58، أو ابن أبي حاتم كما في الدر المنثور 1/ 40 والحاكم في مستدركه 2/ 259.

(21) أخرجه ابن أبي حاتم كما في الدر المنثور 4/ 642، وابن جرير 13/ 98.

(22) أخرجه البخاري في صحيحه 6/ 113.

(23) أخرجه الدارمي 1/ 5 والبخاري 3/ 59.
১৮ - তাঁর উক্তি: "উমর (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: আল্লাহর নিকট আপনার শ্রেষ্ঠত্ব হলো এই যে, তিনি আপনার আনুগত্যকে তাঁরই আনুগত্য সাব্যস্ত করেছেন..." ১/ ৬৬।

আমি এটি খুঁজে পাইনি।

১৯ - তাঁর উক্তি: "বর্ণিত আছে যে, যখন এই আয়াত অর্থাৎ তাঁর বাণী {বলুন, তোমরা যদি আল্লাহকে ভালোবাসো} নাজিল হলো, তখন তারা বলল: মুহাম্মদ চান আমরা যেন তাঁকে পরম প্রিয় হিসেবে গ্রহণ করি..." হাদীস ১/ ৬৬।

ইবনুল মুনযির মুজাহিদ এবং কাতাদাহ থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

২০ - তাঁর উক্তি: "আবুল আলিয়া এবং হাসান বসরী {সরল পথ} সম্পর্কে বলেছেন..." ইত্যাদি। ১/ ৬৭।

ইবনে জারীর এবং ইবনে আবি হাতিম এটি মাক্কী-র শব্দে বর্ণনা করেছেন, অতঃপর হাকেম এটি মুস্তাদরাক গ্রন্থে ইবনে আব্বাস থেকে আবুল আলিয়ার বর্ণনায় সংকলন করেছেন এবং তিনি একে সহীহ বলেছেন।

২১ - তাঁর উক্তি: "এবং মুজাহিদ থেকে তাঁর বাণী {জেনে রেখো, আল্লাহর জিকিরেই...} সম্পর্কে বর্ণিত..." ইত্যাদি। ১/ ৭০।

ইবনে আবি হাতিম এবং ইবনে জারীর।

২২ - রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে আবদুল্লাহ ইবনে আমরের উক্তি: "তাওরাতে..." ১/ ৭২।

লেখক এটি বুখারীর সূত্রের মাধ্যমে সনদসহ বর্ণনা করেছেন।

২৩ - তাঁর উক্তি: "ইবনে সালাম..." ১/ ৭৩।

বুখারীর নিকট এটি তালীক হিসেবে রয়েছে এবং দারেমী এটি সনদসহ বর্ণনা করেছেন।

--------------------------------------------

(২০) ইবনে জারীর তাঁর তাফসীরে ১/ ৫৮-এ এটি বর্ণনা করেছেন, অথবা ইবনে আবি হাতিম যেমনটি আদ-দুররুল মানসুর ১/ ৪০-এ রয়েছে এবং হাকেম তাঁর মুস্তাদরাক ২/ ২৫৯-এ।

(২১) ইবনে আবি হাতিম যেমনটি আদ-দুররুল মানসুর ৪/ ৬৪২-এ রয়েছে এবং ইবনে জারীর ১৩/ ৯৮-এ এটি বর্ণনা করেছেন।

(২২) বুখারী তাঁর সহীহ ৬/ ১১৩-এ এটি বর্ণনা করেছেন।

(২৩) দারেমী ১/ ৫ এবং বুখারী ৩/ ৫৯-এ এটি বর্ণনা করেছেন।