(খণ্ড: ১)
আল-মুরদিফাতু মিন কুরাইশ - যিমনা নাওয়াদিরিল মাখতুদাত
(পৃষ্ঠা: -)
المردفات من قريش - ضمن نوادر المخطوطات القسم: التراجم والطبقات
الكتاب: المردفات من قريش
[مطبوع ضمن كتاب «نوادر المخطوطات»]
المؤلف: أبو الحسن على بن محمد المدائنى (135 - 225 هـ)
رواية: أبي الحسن علي بن محمد بن عبيد الكوفي، عن أبي القاسم عبد الله بن محمد، عن أبى جعفر أحمد بن الحارث، عن المدائنى
تحقيق: عبد السلام هارون
الناشر: شركة مكتبة ومطبعة مصطفى البابي الحلبي وأولاده بمصر
الطبعة: الثانية، 1393 هـ - 1972 م
عدد الصفحات: 24
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 5 محرم 1444
আল-মুরদিফাত মিন কুরাইশ - নাওয়াদিরুল মাখতুতাত-এর অন্তর্ভুক্ত বিভাগ: জীবনী ও স্তরসমষ্টি (তাবারাকাত)
গ্রন্থ: আল-মুরদিফাত মিন কুরাইশ
[‘নাওয়াদিরুল মাখতুতাত’ গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত হয়ে মুদ্রিত]
লেখক: আবুল হাসান আলি বিন মুহাম্মাদ আল-মাদায়িনী (১৩৫ - ২২৫ হিজরি)
বর্ণনায়: আবুল হাসান আলি বিন মুহাম্মাদ বিন উবাইদ আল-কুফি, আবু কাসিম আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ হতে, তিনি আবু জাফর আহমাদ বিন আল-হারিস হতে, তিনি আল-মাদায়িনী হতে
সম্পাদনা ও তাহকিক: আবদুস সালাম হারুন
প্রকাশক: শারিকাহ মাকতাবাত ও মাতবাআত মুস্তফা আল-বাবি আল-হালাবি ওয়া আওলাদুহু, মিশর
সংস্করণ: দ্বিতীয়, ১৩৯৩ হিজরি - ১৯৭২ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৪
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৫ মহররম ১৪৪৪
(খণ্ড: ١)
আল-মুরদিফাতু মিন কুরাইশ - যিমনা নাওয়াদিরিল মাখতুদাত
(পৃষ্ঠা: ৫৭)
كتاب المردفات من قريش لأبي الحسن علي بن محمد المدائني 135 - 225
رواية أبي الحسن علي بن محمد بن عبيد الكوفي، عن أبي القاسم عبد اللّه بن محمد، عن أبي جعفر أحمد بن الحارث، عن المدائني
আবু আল-হাসান আলী বিন মুহাম্মাদ আল-মাদায়িনী (১৩৫ - ২২৫ হিজরী) রচিত কুরাইশ বংশের পর্যায়ক্রমিক বিবাহিতা নারীদের কিতাব
আবু আল-হাসান আলী বিন মুহাম্মাদ বিন উবাইদ আল-কুফীর বর্ণনা, আবু আল-কাসিম আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ হতে, তিনি আবু জাফর আহমদ বিন আল-হারিস হতে, তিনি আল-মাদায়িনী হতে।
(খণ্ড: ١)
আল-মুরদিফাতু মিন কুরাইশ - যিমনা নাওয়াদিরিল মাখতুদাত
(পৃষ্ঠা: ৫৮)
مقدمةهذه الرسالة القيّمة الطريفة في موضوعها - وهو موضوع حيوى اجتماعي فيه الإفصاح عن كثير من غوامض الحياة الاجتماعية في الصدر الأول من الإسلام - صنعها راوية جليل من رواة الأخبار، يعدّ في الصدر من رجالات التأليف في العصر العباسي، هو أبو الحسن المدائني علي بن محمد بن عبد اللّه بن أبي سيف.
وأبو الحسن هذا بصرى سكن المدائن، ثم انتقل عنها إلى بغداد فلم يزل بها حتى وافاه الأجل. وكان مولى لعبد الرحمن بن سمرة القرشي، وهذا يكشف لنا القناع عن سرّ تأليفه لهذه الرسالة يتناول فيها أخبار النساء المردفات من قريش.
وكان أبو الحسن ميّالا إلى التأليف في أخبار العرب وأنسابهم وأيامهم، عالما بالفتوح والمغازي، وكان لما أنعم اللّه به عليه من عمر مديد جاوز التسعين، أثر عظيم في ضخامة مكتبته التي أخرجها للناس، وتناولها ابن النديم في الفهرست بالسرد، فأربت على (مائتين وأربعين مصنفا) يلمح القارئ في عنواناتها جلال علم هذا الرجل، واتساع معارفه، وتبحّره في فنون التأليف والرواية.
ولد أبو الحسن سنة 135 وترعرع في كنف مولاه عبد الرحمن بن سمرة القرشي، وعندما انتقل إلى بغداد وصل حبله بإسحاق بن إبراهيم الموصلي فكان لا يفارق منزله. ومما هو جدير بالذكر أن أبا الحسن أغمض إغماضته الأخيرة في منزل صاحبه إسحاق الموصلي في سنة 225، وكان إسحاق يبر أبا الحسن برّا ظاهرا، ويروى أن يحيى بن معين سأله مرة وقد جاز عليه وهو على حمار فاره:
إلى أين يا أبا الحسن؟ فقال: إلى هذا الكريم الذي يملأ كمي من أعلاه إلى أسفله دنانير ودراهم. يعنى إسحاق الموصلي.
هذه المكتبة المدائنية التي ابتلعتها أحداث التاريخ فيما طوت من كنوز
ভূমিকাএই মূল্যবান এবং বিষয়বস্তুর দিক থেকে অনন্য রিসালাটি—যা একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক বিষয়বস্তুর ওপর রচিত এবং যাতে ইসলামের প্রাথমিক যুগের সামাজিক জীবনের অনেক রহস্য উন্মোচিত হয়েছে—এটি সংকলন করেছেন ইতিহাসের এক মহান বর্ণনাকারী। আব্বাসীয় যুগের লেখকবৃন্দের মধ্যে অগ্রগণ্য হিসেবে বিবেচিত সেই ব্যক্তি হলেন আবুল হাসান আল-মাদায়েনি আলী ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আবি সাইফ।
এই আবুল হাসান ছিলেন বসরার অধিবাসী, যিনি মাদায়েনে বসবাস করতেন। এরপর তিনি সেখান থেকে বাগদাদে চলে আসেন এবং মৃত্যু অবধি সেখানেই অবস্থান করেন। তিনি আব্দুর রহমান ইবনে সামুরা আল-কুরাইশীর আযাদকৃত গোলাম ছিলেন। এটি আমাদের কাছে এই রিসালাটি রচনার রহস্য উন্মোচন করে, যাতে তিনি কুরাইশ বংশের সেই নারীদের সংবাদ নিয়ে আলোচনা করেছেন যারা একের পর এক একাধিক বিবাহ করেছিলেন।
আবুল হাসান আরবদের ইতিহাস, বংশলতিকা এবং তাদের যুদ্ধ-বিগ্রহের কাহিনী সংকলনের প্রতি অনুরাগী ছিলেন। তিনি দেশবিজয়ের ইতিহাস এবং যুদ্ধ-অভিযান সম্পর্কে সুগভীর জ্ঞানের অধিকারী ছিলেন। আল্লাহ তাআলা তাকে দীর্ঘ জীবন দান করেছিলেন, যা নব্বই বছর অতিক্রম করেছিল। এই দীর্ঘ জীবনের এক বিরাট প্রভাব ছিল তার সুবিশাল লাইব্রেরির ওপর, যা তিনি মানুষের জন্য রেখে গেছেন। ইবনুন নাদিম তার 'আল-ফিহরিস্ট' গ্রন্থে এর তালিকা দিয়েছেন, যা দুইশত চল্লিশটিরও বেশি গ্রন্থ অতিক্রম করেছে। পাঠক এসব গ্রন্থের শিরোনাম থেকেই এই ব্যক্তির জ্ঞানের গাম্ভীর্য, প্রশস্ত প্রজ্ঞা এবং রচনা ও বর্ণনার শৈলীতে তার পারদর্শিতা লক্ষ্য করতে পারেন।
আবুল হাসান ১৩৫ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং তার মনিব আব্দুর রহমান ইবনে সামুরা আল-কুরাইশীর তত্ত্বাবধানে বেড়ে ওঠেন। তিনি যখন বাগদাদে স্থানান্তরিত হন, তখন ইসহাক ইবনে ইব্রাহিম আল-মাওসিলির সাথে তার সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং তিনি তার সান্নিধ্য ত্যাগ করতেন না। এটি উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, আবুল হাসান ২২৫ হিজরিতে তার বন্ধু ইসহাক মাওসিলির বাড়িতেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। ইসহাক আবুল হাসানের প্রতি অত্যন্ত স্পষ্ট সদাচার ও সম্মান প্রদর্শন করতেন। বর্ণিত আছে যে, একবার ইয়াহইয়া ইবনে মায়িন তাকে প্রশ্ন করেছিলেন, যখন তিনি একটি চমৎকার গাধার পিঠে চড়ে যাচ্ছিলেন:
হে আবুল হাসান, আপনি কোথায় যাচ্ছেন? তিনি উত্তর দিলেন: এই মহানুভব ব্যক্তির কাছে, যিনি আমার জামার আস্তিন উপর থেকে নিচ পর্যন্ত দিনার এবং দিরহাম দিয়ে পূর্ণ করে দেন। অর্থাৎ তিনি ইসহাক আল-মাওসিলিকেই বুঝিয়েছেন।
মাদায়েনির এই লাইব্রেরিটি ইতিহাসের বিভিন্ন ঘটনাপ্রবাহে বিলীন হয়ে গেছে, যা তার অনেক মূল্যবান জ্ঞানভাণ্ডারকে গ্রাস করেছে।
(খণ্ড: ١)
আল-মুরদিফাতু মিন কুরাইশ - যিমনা নাওয়াদিরিল মাখতুদাত
(পৃষ্ঠা: ৫৯)
الثقافة العربية، يقف الباحث من بعدها موقف الحسرة والأسى، وهو إنما يستروح بشئ من العزاء حينما يلمح بعض هذه الآثار في مقتبسات المؤلفين الذين رووا من تلك الكتب أطرافا، وفي طليعتهم أبو الفرج الأصبهاني صاحب كتاب الأغانى. واليوم نظفر بعزاء جديد حين ننشر على هذا الملأ من المتأدبين والعلماء قطرة من نبع آثار المدائني، هي تلك الرسالة التي تزدان بها المكتبة التيمورية التي حفظ فيها المغفور له العلّامة أحمد تيمور باشا كثيرا من نفائس الإنتاج العربي، وهي في صحبة مجموعة تشتمل على 11 رسالة رقمها 80 مجاميع، وعليها خط المغفور له الشيخ طاهر الجزائري. وقد جعل عنوان هذه الرسالة: «رسالة المتزوجات من قريش».
وهذا العنوان موضع نظر، فإن «المتزوجات» من قريش لا يحصيهنّ العدّ، وليس يخطر ببال مصنّف أن يضع في ذلك كتابا، فإن الزواج أمر عام جدّا ليس له طايع من الغرابة يسترعى النظر والاهتمام، فهذه الكلمة محرفة لا ريب.
وحين ننظر إلى موضوع الكتاب نجد أنه يتناول النساء القرشيات اللاتي أردفن زوجا بعد زوج ولم يكتفين بزوج واحد، لظروف متباينة ساقتهن إلى ذلك أو ساقت ذلك إليهن.
ثم نعود بعد ذلك إلى ثبت كتب المدائني فنجد بين كتب مناكح الأشراف وأخبار النساء كتاب «المردفات من قريش»، فكلمة «المردفات» التي يراد بها اللائي أردفن زوجا بعد زوج، هي الكلمة التي تصحح كلمة «المتزوجات» وهي الكلمة التي تنطبق على موضوع الكتاب أتمّ الانطباق.
وتبدأ سلسلة رواية هذه النسخة بأبى الحسن علي بن محمد بن عبيد الكوفي صاحب ثعلب المولود سنة 254 والمتوفى سنة 348، وتنتهى بتلميذ المدائني وراويته أحمد بن الحارث بن المبارك الخزاز المتوفى سنة 257. وهذه هي الرسالة:
আরবি সংস্কৃতি; যার অবর্তমানে গবেষক কেবল আক্ষেপ ও বেদনার সাথেই দাঁড়িয়ে থাকেন। তিনি কেবল তখনই কিছুটা সান্ত্বনা খুঁজে পান যখন তিনি সেই গ্রন্থরাজির কিছু নিদর্শন এমন লেখকদের উদ্ধৃতিতে লক্ষ্য করেন যারা সেই কিতাবগুলো থেকে অংশবিশেষ বর্ণনা করেছেন, যাদের অগ্রভাগে রয়েছেন ‘কিতাবুল আগানি’-র রচয়িতা আবু আল-ফারাজ আল-আসবাহানি। আর আজ আমরা এক নতুন সান্ত্বনা লাভ করছি যখন আমরা এই বিদগ্ধ ও আলেম সমাজের সামনে আল-মাদাইনির জ্ঞানভাণ্ডারের এক বিন্দু প্রকাশ করছি। এটি সেই রিসালা বা পুস্তিকা যার দ্বারা তাইমুরিয়া লাইব্রেরি সুশোভিত হয়েছে, যেখানে মরহুম আল্লামা আহমদ তাইমুর পাশা আরবি পাণ্ডুলিপির অনেক অমূল্য সম্পদ সংরক্ষণ করেছেন। এটি ১১টি রিসালা সম্বলিত একটি সংকলনের অন্তর্ভুক্ত যার নম্বর ৮০ (মাজামি), এবং এর ওপর মরহুম শেখ তাহের আল-জাজাইরির হস্তাক্ষর রয়েছে। এই রিসালাটির শিরোনাম দেওয়া হয়েছে: ‘রিসালাতুল মুতাযাউয়িজাত মিন কুরাইশ’ (কুরাইশের বিবাহিত নারীদের রিসালা)।
এই শিরোনামটি পর্যালোচনার দাবি রাখে; কেননা কুরাইশের ‘বিবাহিত নারী’দের সংখ্যা গণনা করে শেষ করা যাবে না। আর কোনো গ্রন্থকারের মনেই এ বিষয়ে একটি স্বতন্ত্র কিতাব রচনার চিন্তা আসার কথা নয়। কারণ বিবাহ একটি অত্যন্ত সাধারণ বিষয়, যার মধ্যে এমন কোনো বিস্ময়কর দিক নেই যা বিশেষ দৃষ্টি বা মনোযোগ আকর্ষণ করতে পারে। সুতরাং, এই শব্দটি যে মূল পাঠ থেকে বিকৃত হয়েছে তাতে কোনো সন্দেহ নেই।
যখন আমরা কিতাবটির বিষয়বস্তুর দিকে তাকাই, তখন দেখতে পাই যে এটি সেই সব কুরাইশি নারীদের নিয়ে আলোচনা করে যারা একের পর এক স্বামী গ্রহণ করেছিলেন এবং কেবল একজন স্বামীতেই সন্তুষ্ট থাকেননি; বিভিন্ন পরিস্থিতির কারণে যা তাদের সেই দিকে ধাবিত করেছিল অথবা পরিস্থিতিই তাদের সামনে তেমনটি নিয়ে এসেছিল।
অতঃপর আমরা যখন আল-মাদাইনির গ্রন্থতালিকার দিকে পুনরায় দৃষ্টিপাত করি, তখন অভিজাতদের বিবাহ ও নারীদের খবরাখবর বিষয়ক গ্রন্থাবলির মধ্যে ‘আল-মুরদিফাত মিন কুরাইশ’ নামক একটি কিতাব খুঁজে পাই। এই ‘আল-মুরদিফাত’ শব্দটি—যার অর্থ হলো যারা একের পর এক স্বামী গ্রহণ করেছেন—এমন একটি শব্দ যা ‘আল-মুতাযাউয়িজাত’ শব্দটিকে সংশোধন করে দেয় এবং এটিই কিতাবটির বিষয়বস্তুর সাথে পূর্ণরূপে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
এই পাণ্ডুলিপির বর্ণনাসূত্র শুরু হয়েছে ছা’লাবের ছাত্র আবুল হাসান আলি বিন মুহাম্মদ বিন উবাইদ আল-কুফি থেকে, যার জন্ম ২৫৪ হিজরি এবং মৃত্যু ৩৪৮ হিজরিতে। আর এর সমাপ্তি ঘটেছে আল-মাদাইনির ছাত্র ও বর্ণনাকারী আহমদ বিন আল-হারিস বিন আল-মুবারক আল-খাযযায-এর মাধ্যমে, যিনি ২৫৭ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। আর এই হলো সেই রিসালা:
(খণ্ড: ١)
আল-মুরদিফাতু মিন কুরাইশ - যিমনা নাওয়াদিরিল মাখতুদাত
(পৃষ্ঠা: ৬০)
بسم الله الرحمن الرحيم
حدثنا أبو القاسم عبد الله بن محمد قال: أنبأنا أبو جعفر أحمد بن الحارث الخزاز، قال: أنبأنا أبو الحسن المدائني علي بن محمد، قال:
1 - تزوج أم كلثوم بنت علي بن أبي طالب عليهما السلام، عمر بن الخطاب رضي الله عنه، وقُتِل عنها فخطبها سعيد بن العاص فقالت: إن مثلي لا تزوّج نفسي، فائت أهلي. فأتى الحسن بن علي عليهما السلام فخطبها فقاربه فبعث إليها سعيدٌ بمائة ألف، وكلم الحسن الحسين فأبى. وقد كان الحسن وعد سعيداً وعداً، فأتاه سعيدٌ وحده فقال: أين أبو عبد الله؟ قال الحسن: لم يحضر ولن يخالفني إذا فعلت. فقال سعيد: إني أكره أن أدخل بينكم بشئ تكرهونه فرجع ولم يرجع في المال ولم يطلبه. ثم تزوجها عون بن جعفر، ثم تزوجها محمد بن جعفر. وقد ولدت لعمر زيدا ورقيّة، فتزوج رقية إبراهيم بن نعيم النحّام
(1)، وماتت هي وابنها زيد في يوم واحد.
2 - حدثنا أحمد قال: أنبأنا أبو الحسن قال:
أم كلثوم بنت عقبة بن أبي مُعيط تزوجها زيد بن حارثة، ثم خلف عليها الزبير بن العوام فحملت. وكان الزبير شديدا على النساء، فأقام عندها سبعة أيام فولدت له ابنة، وقالت له حين ضربها المَخَاض: طيب نفسي بتطليقة. فطلّقها وخرج إلى الصلاة، فلحقه رجل فقال: قد ولدت أم كلثوم. فقال: خدعتنى خدعها اللّه! ولم يكن له عليها رجعة. وخطبها فأبت أن تزوجه. ويقال: أتى النبي عليه الصلاة والسلام فأخبره فقال: «قد مضى فيه القرآن، ولكن إن شئت خطبتها إلى نفسها». قال: لا ترجع إلىّ أبداً.
وابنتها من الزبير زينب. ثم تزوجها عبد الرحمن بن عوف بعد زيد ثم
--------------------------------------------
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
আবু আল-কাসিম আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু জাফর আহমাদ ইবনে আল-হারিস আল-খাযযায আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু আল-হাসান আল-মাদায়িনি আলি ইবনে মুহাম্মাদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন:
১ - আলি ইবনে আবি তালিব (তাদের উভয়ের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক)-এর কন্যা উম্মে কুলসুমকে উমর ইবনে আল-খাত্তাব (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন) বিবাহ করেন। উমর শহীদ হওয়ার পর সাঈদ ইবনে আল-আস তাকে বিবাহের প্রস্তাব দেন। তখন তিনি (উম্মে কুলসুম) বললেন: আমার মতো নারী নিজের বিবাহের সিদ্ধান্ত নিজে নেয় না, আপনি আমার পরিবারের কাছে যান। অতঃপর তিনি হাসান ইবনে আলি (তাদের উভয়ের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক)-এর নিকট গিয়ে বিবাহের প্রস্তাব দিলেন এবং হাসান তার প্রস্তাবে সম্মত হলেন। সাঈদ তাঁর নিকট এক লক্ষ (দিরহাম) পাঠালেন। এরপর হাসান (এই বিষয়ে) হোসাইনের সাথে কথা বললে তিনি অসম্মতি প্রকাশ করলেন। হাসান ইতিপূর্বে সাঈদকে একটি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তাই সাঈদ একা হাসানের কাছে এসে বললেন: আবু আবদুল্লাহ (হোসাইন) কোথায়? হাসান বললেন: তিনি উপস্থিত নেই, তবে আমি কোনো সিদ্ধান্ত নিলে তিনি আমার বিরুদ্ধাচরণ করবেন না। সাঈদ বললেন: আমি আপনাদের মাঝে এমন কোনো বিষয়ে জড়াতে চাই না যা আপনারা অপছন্দ করেন। অতঃপর তিনি ফিরে গেলেন এবং সেই অর্থ ফেরত নিলেন না এবং তা দাবিও করলেন না। এরপর আউন ইবনে জাফর তাকে বিবাহ করেন, তারপর মুহাম্মাদ ইবনে জাফর তাকে বিবাহ করেন। তিনি উমরের ঔরসে যায়েদ ও রুকাইয়াকে জন্ম দেন। রুকাইয়াকে ইবরাহিম ইবনে নুআইম আন-নাহহাম
(১) বিবাহ করেন। তিনি (উম্মে কুলসুম) এবং তাঁর পুত্র যায়েদ একই দিনে মৃত্যুবরণ করেন।
২ - আহমাদ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু আল-হাসান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন:
উকবা ইবনে আবি মুআইতের কন্যা উম্মে কুলসুমকে যায়েদ ইবনে হারিসাহ বিবাহ করেন। অতঃপর যুবাইর ইবনে আল-আওয়াম তার উত্তরাধিকারী হন (তাকে বিবাহ করেন) এবং তিনি গর্ভবতী হন। যুবাইর নারীদের প্রতি অত্যন্ত কঠোর মেজাজের ছিলেন। তিনি তাঁর কাছে সাত দিন অবস্থান করার পর তিনি (উম্মে কুলসুম) এক কন্যা সন্তান জন্ম দেন। প্রসব বেদনা শুরু হওয়ার সময় তিনি যুবাইরকে বলেছিলেন: একটি তালাক দিয়ে আমার মনকে শান্ত করুন। তিনি তাকে তালাক দিলেন এবং নামাজের জন্য বেরিয়ে গেলেন। তখন জনৈক ব্যক্তি তার সাথে সাক্ষাৎ করে বলল: উম্মে কুলসুম সন্তান প্রসব করেছেন। তিনি বললেন: সে আমাকে প্রতারিত করেছে, আল্লাহ তাকে প্রতারিত করুন! তখন তাকে ফিরিয়ে নেওয়ার (রুজু করার) আর কোনো সুযোগ অবশিষ্ট ছিল না। তিনি পুনরায় তাকে বিবাহের প্রস্তাব দিলেন কিন্তু তিনি (উম্মে কুলসুম) তা প্রত্যাখ্যান করলেন। বলা হয়ে থাকে যে: তিনি নবী (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক)-এর নিকট এসে বিষয়টি জানালেন। নবী (সা.) বললেন: "এ বিষয়ে কুরআনের বিধান কার্যকর হয়ে গেছে, তবে তুমি চাইলে পুনরায় তাকে বিবাহের প্রস্তাব দিতে পারো।" তিনি বললেন: সে আর কখনোই আমার কাছে ফিরে আসবে না।
যুবাইরের ঔরসে তাঁর সেই কন্যার নাম ছিল যায়নাব। যায়েদের পর আবদুর রহমান ইবনে আউফ তাকে বিবাহ করেন, তারপর...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আল-মুরদিফাতু মিন কুরাইশ - যিমনা নাওয়াদিরিল মাখতুদাত
(পৃষ্ঠা: ৬১)
الزبير. فولدت لعبد الرحمن محمداً وإبراهيم وحميداً وإسماعيل، ثم تزوجها عمرو ابن العاص فأخرجها معه إلى مصر. وكان رسول الله صلى الله عليه وسلم أخرجها معه في بعض مغازيه تداوي الجرحى وضرب لها بسهم، فقالت يوماً لخباز عمرو
(1): لا تهيّئ له اليوم طعاماً فإني قد هيأت له غداءه. ودعا عمرو بالغداء، فقال الخباز: أرسلت إليَّ أم كلثوم: لا تكلف شيئاً فقد هيأت له غداءه.
قال: فغدنا فتغدى، فلما فرغوا وخرج من حضر قال لأم كلثوم: لا تعودي فإني لم أتزوجك لتطعميني، وإنما تزوجتك لأطعمك. فماتت عنده.
3 - أحمد قال: أنبأنا أبو الحسن قال: كانت هند بنت عتبة بن ربيعة أم معاوية، عند الفاكه بن المغيرة، فقتل عنها بالغميصاء
(2) في الجاهلية، ثم خلف عليها حفص بن المغيرة، فمات عنها، فتزوجها أبو سفيان بن حرب.
4 - عاتكة ابنة زيد بن عمرو بن نفيل، أنبأنا أبو الحسن عن جويرية ابن أسماء وعامر بن حفص قالا:
عاتكة بنت زيد بن عمرو بن نفيل، أمها ميمونة بنت الحضرمي بن الصعبة
(3) كانت عند عبد الله بن أبي بكر بن أبي قحافة فأحبها، فكان ربما ترك الصلاة جماعة، فأمره أبو بكر رضي الله عنه بطلاقها وقال: قد فتنتك عن دينك، وشغلتك عن معيشتك. فطلقها. فطلقها، وقال:
ولم أر مثلي طلّق اليوم مثلها
… ولا مثلها في غير جرمٍ تطلق
لها خلقٌ سمحٌ ورأيٌ ومنصبٌ
… وخلقٌ سويٌ في الحياء ومصدق
(4)--------------------------------------------
জুবায়ের। তিনি আব্দুর রহমানের জন্য মুহাম্মদ, ইবরাহিম, হুমাইদ এবং ইসমাইলকে জন্ম দেন। অতঃপর আমর ইবনুল আস তাঁকে বিয়ে করেন এবং তাঁকে সাথে করে মিশরে নিয়ে যান। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর কোনো এক যুদ্ধে তাঁকে সাথে নিয়েছিলেন যেখানে তিনি আহতদের সেবা করেছিলেন এবং তাঁর জন্য (গণিমতের) অংশ বরাদ্দ করেছিলেন। একদিন তিনি আমরের রাঁধুনিকে
(১) বললেন: আজ তার জন্য খাবার তৈরি করো না, কারণ আমিই তার দুপুরের খাবার তৈরি করেছি। আমর দুপুরের খাবার চাইলেন, তখন রাঁধুনি বললেন: উম্মে কুলসুম আমার কাছে লোক পাঠিয়েছেন যে, আপনার কোনো কষ্ট করার দরকার নেই, তিনি নিজেই আপনার জন্য দুপুরের খাবার তৈরি করেছেন।
বর্ণনাকারী বলেন: অতঃপর আমাদের দুপুরের খাবার দেওয়া হলো এবং তিনিও আহার করলেন। যখন তাঁরা খাওয়া শেষ করলেন এবং উপস্থিত সবাই চলে গেলেন, তিনি উম্মে কুলসুমকে বললেন: এমন কাজ আর করো না, কারণ আমি তোমাকে আমাকে খাওয়ানোর জন্য বিয়ে করিনি, বরং আমি তোমাকে বিয়ে করেছি যাতে আমি তোমাকে খাওয়াতে পারি। অতঃপর তিনি তাঁর কাছে থাকা অবস্থাতেই মৃত্যু বরণ করেন।
৩ - আহমদ বলেন: আবুল হাসান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: মুয়াবিয়ার মা হিন্দ বিনতে উতবা ইবনে রাবিআ জাহেলি যুগে ফাকিহ ইবনে মুগিরার স্ত্রী ছিলেন। ফাকিহ গুমাইসাতে
(২) নিহত হন। অতঃপর হাফস ইবনে মুগিরা তাঁকে বিয়ে করেন এবং তিনিও মারা যান। এরপর আবু সুফিয়ান ইবনে হারব তাঁকে বিয়ে করেন।
৪ - আতিকা বিনতে যায়েদ ইবনে আমর ইবনে নুফাইল। আবুল হাসান জুয়াইরিয়া ইবনে আসমা এবং আমির ইবনে হাফস থেকে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তাঁরা বলেন:
আতিকা বিনতে যায়েদ ইবনে আমর ইবনে নুফাইল, তাঁর মা মায়মুনা বিনতে আল-হাদরামি ইবন আস-সাবআ।
(৩) তিনি আবু বকর ইবনে আবু কুহাফার পুত্র আব্দুল্লাহর স্ত্রী ছিলেন। আব্দুল্লাহ তাঁকে অত্যন্ত ভালোবাসতেন, এমনকি কখনও কখনও তিনি জামাতে সালাতও ছেড়ে দিতেন। তখন আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু তাঁকে তালাক দেওয়ার নির্দেশ দিলেন এবং বললেন: সে তোমাকে তোমার দ্বীন থেকে বিচ্যুত করেছে এবং তোমার জীবনযাত্রায় মগ্ন করে রেখেছে। ফলে তিনি তাঁকে তালাক দিলেন। তিনি তাঁকে তালাক দিয়ে বললেন:
আজ আমার মতো কেউ তার মতো কাউকে তালাক দেয়নি
… আর তার মতো কাউকেও কোনো অপরাধ ছাড়াই তালাক দেওয়া হয় না।
তাঁর রয়েছে কোমল স্বভাব, প্রজ্ঞা ও আভিজাত্য
… এবং লজ্জাশীলতা ও সত্যবাদিতায় এক সুষম ব্যক্তিত্ব।
(৪)--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আল-মুরদিফাতু মিন কুরাইশ - যিমনা নাওয়াদিরিল মাখতুদাত
(পৃষ্ঠা: ৬২)
أعاتكُ لا أنساكِ ما هبت الصبا
… وما ناح قمريُّ الحمامِ المطوقُ
أعاتكُ لا أنساكِ ما حجَّ راكبٌ
… وما لاح نجمٌ في السماء محلقُ
أعاتكُ قلبي كلَّ يومٍ وليلةٍ
… إليك بما تخفي النفوسُ معلقُ
ولولا اتقاء الله في حقِّ والدٍ
… وطاعته ما كان منا التفرقُ
فبلغ أبا بكر شعره فأمره فراجعها، وكانت عنده حتى مات شهيداً، أصابه سهم في حصار الطائف فانتقض به جرحه فمات، فقال لعاتكة حين احتضر: لك حديقة من مالي ولا تزوجي. ففعلت ذلك. وقال حين راجعها:
أعاتك قد طلّقت عنى بغصّة
… وراجعت للأمر الذي هو كائنُ
(1)كذلك أمر الله غادٍ ورائحٌ
… على الناس فيه ألفةٌ وتباينُ
وقد كان قلبي للتفرق طائراً
… وقلبي لما قد قرب الله ساكنُ
أعاتكُ إني لا أرى فيك سقطةً
… وإنك قد حلت عليك المحاسنُ
(2)وإنك ممن زين اللهُ أمرهُ
… وليس لما قد زين اللهُ شائنُ
(3)فمات عبد الله وترك سبعة دنانير، فقال أبو بكر: إنا لله، كيف يصبر ابني على سبع كيات
(4). فلما مات عبد الله قالت عاتكة:
فجعتُ بخير النّاس بعد نبيهم
… وبعد أبى بكر وما كان قصرا
فآليتُ لا تنفك عيني سخينةً
… عليك ولا ينفكُ جلديَ أغبرا
مدى الدهر ما غنت حمامةُ أيكةٍ
… وما طردَ الليلُ الصباحَ المنورا
فلله عينا من رأى مثله فتى
… أكرَّ وأحمى في الجهاد وأصبرا
إذا شرعت فيه الأسنةُ خاضها
… إلى الموت حتّى يترك الرّمح أحمرا
--------------------------------------------
হে আতিকাহ! আমি তোমাকে ভুলব না যতক্ষণ পুবালি বাতাস প্রবাহিত হবে
... আর যতক্ষণ কণ্ঠীবলয়ধারী ঘুঘু পাখি করুণ সুরে ডাকবে।
হে আতিকাহ! আমি তোমাকে ভুলব না যতক্ষণ কোনো আরোহী হজ পালন করবে
... আর যতক্ষণ আকাশে কোনো পরিভ্রমণকারী নক্ষত্র উদিত হবে।
হে আতিকাহ! আমার অন্তর প্রতিটি দিন ও রাতে
... তোমার প্রতি সেই অনুরাগে আসক্ত থাকে যা প্রাণসমূহ গোপন করে রাখে।
আর যদি পিতার হকের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করার এবং তাঁর আনুগত্যের বিষয় না থাকত
... তবে আমাদের মাঝে এই বিচ্ছেদ ঘটত না।
অতঃপর আবু বকর (রা.)-এর নিকট তাঁর এই কবিতা পৌঁছলে তিনি তাকে আদেশ দিলেন এবং আব্দুল্লাহ তাকে (স্ত্রীকে) ফিরিয়ে নিলেন। তিনি তাঁর নিকটই ছিলেন যতক্ষণ না তিনি শহীদ হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। তায়েফ অবরোধের সময় একটি তীর তাঁর গায়ে বিঁধেছিল, ফলে তাঁর সেই ক্ষতটি পুনরায় ফেটে গিয়ে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তিনি যখন মুমূর্ষু অবস্থায় ছিলেন, তখন আতিকাহকে বলেছিলেন: ‘আমার সম্পদ থেকে তোমার জন্য একটি বাগান রইল, তবে তুমি আর বিবাহ করো না।’ তিনি তা-ই করেছিলেন। তাঁকে ফিরিয়ে নেওয়ার সময় আব্দুল্লাহ বলেছিলেন:
হে আতিকাহ! মনের গভীর যাতনা নিয়ে আমি তোমাকে তালাক দিয়েছিলাম
... এবং সেই তকদিরের কারণেই আবার ফিরিয়ে এনেছি যা নির্ধারিত ছিল।
(১)অনুরূপভাবে আল্লাহর নির্দেশ সকাল-সন্ধ্যা আবর্তিত হয়
... এতে মানুষের মাঝে কখনো হৃদ্যতা আর কখনো বিচ্ছেদ ঘটে।
বিচ্ছেদের কারণে আমার অন্তর যেন ডানা মেলে উড়ে যাচ্ছিল
... আর আল্লাহ যা নিকটবর্তী করেছেন তাতে আমার অন্তর এখন প্রশান্ত।
হে আতিকাহ! আমি তোমার মাঝে কোনো ত্রুটি দেখি না
... বরং তোমার মাঝে সকল সৌন্দর্যই পুঞ্জীভূত হয়েছে।
(২)আর তুমি সেই ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত যাদের বিষয় আল্লাহ সুশোভিত করেছেন
... আর আল্লাহ যা সুশোভিত করেন, তা কলঙ্কিত করার কেউ নেই।
(৩)অতঃপর আব্দুল্লাহ ইন্তেকাল করলেন এবং সাতটি দিনার রেখে গেলেন। তখন আবু বকর (রা.) বললেন: ‘ইন্না লিল্লাহ, আমার ছেলে সাতটি আগুনের ছ্যাঁকা কীভাবে সহ্য করবে!’
(৪)। যখন আব্দুল্লাহ মারা গেলেন, তখন আতিকাহ বলেছিলেন:
আমি নবিগণের পর শ্রেষ্ঠ মানুষের শোকে ব্যথিত হয়েছি
... এবং আবু বকরের পর (যিনি শ্রেষ্ঠ ছিলেন), আর তিনি (আব্দুল্লাহ) কোনো গুণেই কম ছিলেন না।
তাই আমি শপথ করেছি যে, তোমার বিরহে আমার চক্ষু সর্বদা অশ্রুসিক্ত থাকবে
... আর আমার শরীর সর্বদা ধূলিমলিন থাকবে।
চিরকাল পর্যন্ত—যতক্ষণ বনের ঘুঘু গান গাইবে
... আর যতক্ষণ রাত আলোকময় সকালকে তাড়িয়ে নিয়ে যাবে।
আল্লাহর জন্য সেই চক্ষু যা তাঁর মতো একজন যুবককে দেখেছে
... যিনি জিহাদের ময়দানে ছিলেন অত্যন্ত মর্যাদাবান, রক্ষক এবং ধৈর্যশীল।
যখন সেখানে বর্শাসমূহ তাক করা হতো, তখন তিনি মৃত্যুর দিকে ঝাপিয়ে পড়তেন
... যতক্ষণ না বর্শাটি রক্তে রঞ্জিত হয়ে লাল হয়ে যেত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আল-মুরদিফাতু মিন কুরাইশ - যিমনা নাওয়াদিরিল মাখতুদাত
(পৃষ্ঠা: ৬৩)
فخطبها عمر بن الخطاب رضي الله عنه فقالت: إنّى قد جعلت على نفسي ما لا أقدر [معه] على التزويج. فقال: استفتى ابن أبي طالب رضى اللّه عنه.
فاستفتته فقال: ردي عليهم ما أخذته منهم وتزوجي. فردت الحديقة، فتزوجها عمر رضي الله عنه، فلما دخل بها أولم، فدنا علي رضي الله عنه من خدرها وقال:
فآليتُ لا تنفك عيني سخينةً
… عليك ولا ينفكُّ جلديَ أغبرا!
فبكت، فقال عمر: ما أردت إلا أن تفسد علينا أهلنا
(1). ويقال قال هذه المقالة لها عبد الرحمن بن أبي بكر. فلما قتل عمر قالت:
فجعني فيروزُ لا درَّ درهُ
… بأبيضَ تالٍ للقرآنِ منيبِ
رؤوف على الأدنى غليظٍ على العدى
… أخي ثقةٍ في النائباتِ نجيبِ
متى ما يقل لا يكذب القولَ فعله
… سريع إلى الخيرات غير قطوب
وقالت:
عينُ جودي بعبرة ونحيب
… لا تملي على الإمام النجيب
فجعتني المنونُ بالفارس المق
… دم يوم الهياج والتذبيب
(2)عصمةِ الناس والمعين على الده
… ر وغيثُ المنتاب والمحروب
قل لأهل الضراءِ والبأس موتوا
… قد سقته المنونُ كأس شعوبِ
فخطبها طلحة بن عبيد الله، فمشى في أمرها هبار بن الأسود فأفسد عليه، فتزوجها الزبير بن العوام، فنهاها عن الخروج إلى المسجد فقالت: أتنهاني عن الخروج إلى الصلاة وقد قال عليه الصلاة والسلام: «لا تمنعوا إماء اللّه من مساجد الله». فأعرض عن ذلك أياماً ثم قعد لها في طريقها ليلاً، فلما مرت به ضرب عجيزتها بيده - وكانت عظيمة العجيزة جميلة - فرجعت إلى بيتها واسترجعت وقالت: سوأة، إنا لله. وتركت الخروج، فقال لها الزبير: مالك تركت
--------------------------------------------
উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) তাঁকে বিয়ের প্রস্তাব দিলেন। তখন তিনি বললেন: "আমি নিজের ওপর এমন কিছু আবশ্যক করে নিয়েছি যার কারণে আমি বিয়ে করতে সক্ষম নই।" তিনি (উমর) বললেন: "ইবনে আবি তালিব (রা.)-এর নিকট ফতোয়া চাও।"
তিনি তাঁর নিকট ফতোয়া চাইলেন, তখন তিনি বললেন: "তাদের থেকে যা গ্রহণ করেছ তা তাদের ফিরিয়ে দাও এবং বিয়ে করো।" অতঃপর তিনি বাগানটি ফিরিয়ে দিলেন এবং উমর (রা.) তাঁকে বিয়ে করলেন। যখন তিনি বাসর করলেন এবং ওয়ালিমা সম্পন্ন করলেন, তখন আলী (রা.) তাঁর পর্দার কাছে এগিয়ে গিয়ে বললেন:
আমি শপথ করেছি যে তোমার বিয়োগে আমার চক্ষু অশ্রুসজল হওয়া থামবে না
… আর আমার দেহ ধূলিমলিন থাকা শেষ হবে না!
তখন তিনি কেঁদে ফেললেন। উমর (রা.) বললেন: "তুমি আমাদের পরিবারকে আমাদের বিরুদ্ধে বিষিয়ে তোলা ছাড়া আর কিছুই চাইলে না।"
(১) বলা হয় যে, আবদুর রহমান ইবনে আবি বকর তাঁকে এই কথাটি বলেছিলেন। উমর (রা.) যখন শহীদ হলেন, তখন তিনি বললেন:
ফিরোজ আমাকে শোকাহত করেছে—তার কল্যাণ না হোক—
… এমন এক শ্বেতশুভ্র ব্যক্তির বিয়োগে, যিনি কুরআনের তিলাওয়াতকারী ও একনিষ্ঠ অনুরাগী ছিলেন।
আপনজনদের প্রতি দয়ালু, শত্রুদের প্রতি কঠোর
… বিপদে নির্ভরযোগ্য ভাই ও মহৎ ব্যক্তিত্ব।
যখনই তিনি কিছু বলতেন, তাঁর কাজ তাঁর কথাকে মিথ্যা প্রমাণ করত না
… কল্যাণের দিকে দ্রুত ধাবমান, বিমর্ষতা যাঁকে স্পর্শ করত না।
তিনি আরও বললেন:
হে চক্ষু! অশ্রু ও বিলাপ ঢেলে দাও
… সেই মহৎ ইমামের বিরহে ক্লান্ত হয়ো না।
কাল আমাকে সেই অগ্রগামী অশ্বারোহীর বিয়োগে ব্যথিত করেছে
… যুদ্ধের ও প্রতিরোধের দিনে যিনি ছিলেন নির্ভীক।
(২)মানুষের আশ্রয়স্থল এবং কালের বিবর্তনে সাহায্যকারী
… বিপদগ্রস্ত ও সর্বস্বান্তদের জন্য সজল মেঘমালা।
দুর্দশাগ্রস্ত ও অভাবীদের বলো, তোমরাও মরে যাও
… কারণ কাল তাকে মরণ-পেয়ালা পান করিয়েছে।
এরপর তালহা ইবনে উবাইদুল্লাহ তাঁকে বিয়ের প্রস্তাব দিলেন। তখন হাব্বার ইবনুল আসওয়াদ এই বিষয়ে তৎপর হয়ে প্রস্তাবটি পণ্ড করে দিলেন। অতঃপর যুবাইর ইবনুল আওয়াম তাঁকে বিয়ে করলেন। তিনি তাঁকে মসজিদে যেতে নিষেধ করলেন। তখন তিনি বললেন: "আপনি কি আমাকে সালাতে যেতে নিষেধ করছেন, অথচ রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: 'তোমরা আল্লাহর দাসীদের আল্লাহর মসজিদে যেতে বাধা দিও না'?" যুবাইর (রা.) কয়েক দিন এ থেকে বিরত থাকলেন। এরপর এক রাতে তিনি তাঁর চলার পথে ওত পেতে বসে রইলেন। যখন তিনি পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন যুবাইর তাঁর নিতম্বে নিজের হাত দিয়ে আঘাত করলেন—আর তিনি স্থূলকায়া ও সুন্দরী ছিলেন—তখন তিনি বাড়ি ফিরে এলেন এবং 'ইন্নালিল্লাহ' পাঠ করে বললেন: "কী জঘন্য কাজ!" এরপর তিনি মসজিদে যাওয়া ছেড়ে দিলেন। তখন যুবাইর তাঁকে বললেন: "তোমার কী হলো যে তুমি যাওয়া ছেড়ে দিলে?"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আল-মুরদিফাতু মিন কুরাইশ - যিমনা নাওয়াদিরিল মাখতুদাত
(পৃষ্ঠা: ৬৪)
الصلاة في المسجد؟ قالت: قد فسد الناس أبا عبد الله! فقتل عنها فقالت:
غدرَ ابن جرموز بفارس بهمة
… يوم اللقاء وكان غير معرد
يا عمرو لو نبهته لوجدته
… لا طائشاً رعشَ الجنان ولا اليدِ
شلت يمينك إن قتلت لمسلماً
… حلت عليك عقوبةُ المتعمدِ
(1)كم غمرةٍ قد خاضها لم ينهه
… عنها طرادك يا ابن فقع القرددِ
ثم خطها علي بن أبي طالب رضي الله عنه فقالت: إني أشفق عليك من القتل، لم أتزوج رجلاً إلا قتل فتزوجها محمد بن أبي بكر فخرجت معه إلى مصر فقتل ومثل به، فقالت:
إن تقتلوا أو تمثلوا بمحمّد
… فما كان من شأنِ النساء ولا الخمرِ
(2)فتزوجها عمرو بن العاص.
أحمد قال: أنبأنا أبو الحسن، عن أبي مقرر، عن محمد بن عمرو، أن ابن أمية بن خلف
(3) رأى رؤيا لعمر بن الخطاب رضي الله عنه في خلافة أبي بكر فقصها فقال: رأيت أن هذا الرجل قد هلك، وأنت مكانه، فبعثت إلى هذه المرأة فتزوجتها - يعني عاتكة بنت زيد - فدخلت عليك وأنت عروس وعلى باب بيتك ستر. فقال عمر: بل يبقى الله خليفة رسول الله. فلما توفي أبو بكر أرسل إليها فخطبها.
5 - سكينة ابنة الحسين عليه السلام، أمها الرباب بنت امرئ القيس الكلبية
(4) تزوجها عبد الله بن الحسن وهو أبو عذرتها، فمات - ويقال قتل مع الحسين - فتزوجها مصعب بن الزبير فولدت له ابنة، فأرسل إليها: سمّيها زبراء
--------------------------------------------
মসজিদে সালাত? তিনি বললেন: হে আবু আব্দুল্লাহ, মানুষজন কলুষিত হয়ে গেছে! অতঃপর তিনি নিহত হলেন এবং তিনি (আতিকা) বললেন:
ইবনে জারমুজ এক অকুতোভয় অশ্বারোহীর সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে
… সাক্ষাতের দিনে, অথচ তিনি পলায়নকারী ছিলেন না
হে আমর! যদি তুমি তাকে সতর্ক করতে, তবে তাকে তুমি পেতে
… অস্থিরচিত্ত কিংবা কম্পিত হৃদয় ও হাতবিশিষ্ট নয়
তোমার ডান হাত অবশ হয়ে যাক যে তুমি একজন মুসলিমকে হত্যা করেছ
… তোমার ওপর অবধারিত হয়েছে ইচ্ছাকৃত হত্যাকারীর শাস্তি
(১)তিনি কত বিপদসংকুল যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন, যা থেকে তোমার আক্রমণ তাকে বিরত করতে পারেনি
… হে অনুর্বর ভূমির ব্যাঙের ছাতা সদৃশ ইবনে ফাক
এরপর আলী বিন আবি তালিব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) তাকে বিয়ের প্রস্তাব দিলেন। তখন তিনি বললেন: আমি আপনার নিহত হওয়ার ব্যাপারে আশঙ্কা করছি; আমি যাকে বিয়ে করি তিনিই নিহত হন। অতঃপর মুহাম্মাদ বিন আবি বকর তাকে বিয়ে করলেন এবং তিনি তার সাথে মিশরে গেলেন, সেখানে তিনি নিহত হন এবং তার লাশের অঙ্গহানি করা হয়। তখন তিনি বললেন:
যদি তোমরা মুহাম্মাদকে হত্যা করো অথবা তার লাশের অঙ্গহানি করো
… তবে তা নারী কিংবা মদের কারণে ছিল না
(২)অতঃপর আমর ইবনুল আস তাকে বিয়ে করলেন।
আহমাদ বলেন: আবুল হাসান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুকাররির সূত্রে মুহাম্মাদ বিন আমর থেকে যে, ইবনে উমাইয়া বিন খালাফ আবু বকরের খিলাফতকালে উমর বিন আল-খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কে নিয়ে একটি স্বপ্ন দেখেন এবং তা বর্ণনা করেন। তিনি বলেন: আমি স্বপ্নে দেখলাম যে এই ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করেছেন এবং আপনি তার স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন। অতঃপর আপনি এই মহিলার কাছে প্রস্তাব পাঠালেন এবং তাকে বিয়ে করলেন—অর্থাৎ আতিকা বিনতে যায়িদ—আর আপনি যখন বাসরঘরে প্রবেশ করলেন, তখন আপনার ঘরের দরজায় একটি পর্দা ঝোলানো ছিল। উমর বললেন: বরং আল্লাহ রাসূলুল্লাহর খলিফাকে দীর্ঘজীবী করুন। এরপর যখন আবু বকর ইন্তেকাল করলেন, তখন তিনি তার কাছে প্রস্তাব পাঠালেন এবং তাকে বিয়ে করলেন।
৫ - সুকাইনা বিনতে আল-হুসাইন (আলাইহিস সালাম), তার মাতা রাবাব বিনতে ইমরুল কায়েস আল-কালবিয়া। আবদুল্লাহ বিন আল-হাসান তাকে বিয়ে করেছিলেন এবং তিনিই ছিলেন তার প্রথম স্বামী। তিনি মারা যান—বলা হয় তিনি হুসাইনের সাথে নিহত হয়েছিলেন। এরপর মুসাব বিন আজ-জুবায়ের তাকে বিয়ে করেন এবং তার একটি কন্যা সন্তান জন্ম নেয়। মুসাব তার কাছে সংবাদ পাঠালেন: তার নাম রাখো যাবরা।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আল-মুরদিফাতু মিন কুরাইশ - যিমনা নাওয়াদিরিল মাখতুদাত
(পৃষ্ঠা: ৬৫)
قالت: أسميها باسم إحدى أمهاتي. فسمتها خديجة أو فاطمة. فماتت ابنتها من مصعب وهي صغيرة، فحملها مصعب إلى العراق فقتل عنها.
وقال ابن قيس الرقيات حين تزوج مصعب سكينة - ويقال قالها الحارث ابن خالد المخزومي حين خرج مصعب بعائشة بنت طلحة:
رحل الأمير بأحسن الخلق
… وغدا بلبكَ مطلعَ الشرقِ
(1)وبدت لنا من تحت كلتها
… كالشمس أو كغمامة البرقِ
وتنو فتثقلها عجيزتها
… مشيَ النزيف ينوءُ بالوسقِ
(2)فظللت كالمقمور خلعته
… هذا الجنون وليس بالعشقِ
(3)ما صبحت زوجاً بغرتها
… إلا غدا بكواكب الطلقِ
وتروي هذه الأبيات لرجل من ثقيف قالها في امرأة من ثقيف.
وخطب سكينة عبد الملك بن مروان فقالت أمها: والله لا أزوجها منه أبداً وقد قتل ابن أختي - تعني مصعباً
(4) - فتزوجها عبد الله بن عثمان بن عبد الله ابن حكيم بن حزام - وأم عبد الله بن عثمان رملة ابنة الزبير بن العوام - فولدت له سكينة ابناً يقال له قرين، وحكيماً، وابنة ويقال ابنتين. فمات عنها فتزوجها الأصبغ بن عبد العزيز بن مروان، فأصدقها صداقاً كثيرا، فقال
--------------------------------------------
তিনি বললেন: "আমি আমার মায়েদের একজনের নামে তার নামকরণ করব।" অতঃপর তিনি তার নাম খাদিজা অথবা ফাতিমা রাখলেন। মুসআব থেকে জন্ম নেওয়া তার সেই কন্যাটি ছোট থাকতেই মারা যায়; মুসআব তাকে ইরাকে নিয়ে গিয়েছিলেন এবং তার (স্ত্রীর) অনুপস্থিতিতে সেখানে তিনি নিহত হন।
ইবনে কায়স আর-রুকাইয়াত তখন এই কবিতা বলেছিলেন যখন মুসআব সুকায়নাকে বিয়ে করেন—আবার বলা হয় এটি হারিস ইবনে খালিদ আল-মাখযুমি বলেছিলেন যখন মুসআব আয়েশা বিনতে তালহার সাথে বের হয়েছিলেন:
আমীর প্রস্থান করলেন সর্বোত্তম চরিত্রের সাথে
… এবং প্রভাতের সূর্যের ন্যায় তোমার হৃদয়ের সঙ্গী হলেন
(১)আর তিনি আমাদের সামনে তার পর্দার অন্তরাল থেকে প্রকাশিত হলেন
… সূর্যের ন্যায় অথবা বিদ্যুদ্দীপ্ত মেঘমালার ন্যায়
তিনি দুলতে থাকেন এবং তার দেহের পশ্চাৎভাগ তাকে মন্থর করে দেয়
… যেন কোনো শ্রান্ত ব্যক্তি যে বোঝার ভারে নুয়ে নুয়ে পথ চলে
(২)ফলে আমি এমন এক ব্যক্তির ন্যায় হয়ে গেলাম যার শ্রেষ্ঠ সম্পদ জুয়ায় হাতছাড়া হয়েছে
… এটি এক প্রকার উন্মাদনা, নিছক প্রেম নয়
(৩)তিনি যখনই কোনো প্রভাতে তার স্বামীর সামনে তার উজ্জ্বল রূপ নিয়ে উপস্থিত হয়েছেন
… তখনই যেন আনন্দের উজ্জ্বল নক্ষত্ররাজির উদয় হয়েছে
এই কবিতাগুলো সাকিফ গোত্রের এক ব্যক্তির সম্পর্কেও বর্ণিত হয়, যিনি সাকিফ গোত্রেরই এক মহিলার উদ্দেশ্যে এগুলো বলেছিলেন।
আবদুল মালিক ইবনে মারওয়ান সুকায়নাকে বিয়ের প্রস্তাব দিলে তার মা বললেন: "আল্লাহর কসম, আমি কখনোই তার কাছে তাকে বিয়ে দেব না, অথচ সে আমার ভাগ্নেকে হত্যা করেছে"—তিনি মুসআবকে
(৪) উদ্দেশ্য করেছিলেন—অতঃপর আবদুল্লাহ ইবনে উসমান ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে হাকিম ইবনে হিযাম তাকে বিয়ে করেন—আর আবদুল্লাহ ইবনে উসমানের মা ছিলেন রামলা বিনতে যুবায়ের ইবনুল আওয়াম—সুকায়না তার গর্ভে কুরিন নামক এক পুত্র, হাকিম নামক এক পুত্র এবং এক কন্যা, মতান্তরে দুই কন্যা সন্তান জন্ম দেন। অতঃপর তিনি মারা গেলে আসবাগ ইবনে আবদুল আজিজ ইবনে মারওয়ান তাকে বিয়ে করেন এবং তাকে প্রচুর মোহরানা প্রদান করেন, অতঃপর তিনি বললেন
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আল-মুরদিফাতু মিন কুরাইশ - যিমনা নাওয়াদিরিল মাখতুদাত
(পৃষ্ঠা: ৬৬)
عبد الملك: إنا تزوجنا أحسابنا فلم نغرق في الصداق، طلقها. فطلقها، فقال أيمن بن خريم:
نكحت سكينةُ في الحساب ثلاثةُ
… فإذا دخلتَ بها فأنتَ الرابعُ
إن البقيعَ إذا تتابعَ زرعه
… خابَ البقيعُ وخابَ فيه الزارعُ
(1)فتزوجها زيد بن عمرو بن عثمان - وأمه أم ولد - فأصدقها صداقاً كثيراً، واشترطت عليه أن لا يعصي لها أمراُ ولا يغيرها، ولا يمنعها شيئاً تريده، ولا يمنع أحداً يدخل عليها، وأن يقيمها حيث خلّتها أم منظور
(2). فتزوجها على هذه الشروط، فقال له سليمان بن عبد الملك: يا زيد بن عمرو، إنك شرطت لسكينة أن لا تطأ جارية، وعندك أمثال المها، وأنا أعلم أنك لا تصبر وأنك قد وطئت بعضهن، وشرطت لها شروطاً لا تستطيع أن تفي بها، وقد حرمت عليك سكينة.
فطلقها زيد فتزوّجها إبراهيم بن عبد الرحمن بن عوف، فأبى أهلها أن يرضوا، فخاصموه وتحاكموا إلى إبراهيم بن هشام، فقال له: انطلق فادخل على أهلك، فإن حال بينك وبينها أحد فامنعه. وكان إبراهيم بن عبد الرحمن بن عوف شرساً كثير الشر، فجاء في رجال من بنى زهرة، فأعانه قوم من قريش، وجاء بنو هاشم وبنو أمية وأرسل عبد الله بن عمرو بن عثمان مواليه وغلمانه في السلاح، فقيل للوالي: إن لم تمنعهم تقاتلوا. فأرسل فرد الفريقين، وكتب إلى هشام فكتب إليه هشام: خيروها، فإن اختارته فاحملها إليه. فاختارت نفسها، وأتى الخبر إبراهيم فأتاها فقال: أنا خير الناس لك. قالت: ما تقول، يا بأبي؟! فعلم أنها تهزأ به، فانصرف فخيّروها فاختارت نفسها، فجاء علي بن حسين بن حسين عليهم السلام فحملها.
وكانت سكينة تقول لزوجها زيد بن عمرو بن عثمان: اخرج إلى مكة وأخرج
--------------------------------------------
আব্দুল মালিক বললেন: আমরা আমাদের বংশমর্যাদা অনুযায়ী বিবাহ করেছি এবং মোহরানা নিয়ে বাড়াবাড়ি করিনি। তাকে তালাক দাও। অতঃপর তিনি তাকে তালাক দিলেন। তখন আয়মান ইবনে খুরাইম বললেন:
সুকায়না হিসাব অনুযায়ী তিনজনকে বিবাহ করেছে
… আর যখন তুমি তার বাসর ঘরে প্রবেশ করবে, তুমি হবে চতুর্থ ব্যক্তি।
নিশ্চয়ই বাকী নামক ভূমিতে যখন ক্রমাগত ফসল চাষ করা হয়
… তখন সেই বাকী ভূমি ব্যর্থ হয় এবং তাতে চাষিও ব্যর্থ হয়।
(১)অতঃপর তাকে যায়েদ ইবনে আমর ইবনে উসমান বিবাহ করলেন—যার মা ছিলেন উম্মে ওয়ালাদ—এবং তিনি তাকে অনেক বেশি মোহরানা প্রদান করলেন। সুকায়না তার উপর শর্তারোপ করলেন যে, তিনি কোনো বিষয়ে তার অবাধ্য হবেন না, তার কোনো বিষয় পরিবর্তন করবেন না, তিনি যা চান তাতে তাকে বাধা দেবেন না, যারা তার কাছে প্রবেশ করে তাদের কাউকেও বাধা দেবেন না এবং উম্মে মানজুর তাকে যেখানে রেখেছিলেন সেখানেই তাকে থাকতে দিতে হবে।
(২)। তিনি এই শর্তগুলোর ওপরই তাকে বিবাহ করলেন। তখন সুলাইমান ইবনে আব্দুল মালিক তাকে বললেন: হে যায়েদ ইবনে আমর, তুমি সুকায়নার কাছে শর্ত দিয়েছ যে তুমি কোনো দাসীর সাথে সহবাস করবে না, অথচ তোমার কাছে বন্য হরিণীর মতো সুন্দরী নারীরা রয়েছে। আমি জানি যে তুমি ধৈর্য ধরতে পারবে না এবং তুমি ইতোমধ্যে তাদের কয়েকজনের সাথে সহবাস করেছ। তুমি তার জন্য এমন কিছু শর্ত মেনে নিয়েছ যা তুমি পূরণ করতে সক্ষম নও, আর এমতাবস্থায় সুকায়না তোমার জন্য হারাম হয়ে গেছে।
ফলে যায়েদ তাকে তালাক দিলেন। এরপর তাকে ইব্রাহিম ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে আউফ বিবাহ করলেন। কিন্তু তার পরিবার এতে রাজি হতে চাইল না। তারা তার সাথে বিবাদে লিপ্ত হলো এবং ইব্রাহিম ইবনে হিশামের কাছে বিচার নিয়ে গেল। তিনি তাকে বললেন: যাও এবং তোমার স্ত্রীর কাছে প্রবেশ করো, যদি তোমার ও তার মাঝখানে কেউ বাধা হয়ে দাঁড়ায় তবে তাকে প্রতিহত করো। ইব্রাহিম ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে আউফ ছিলেন অত্যন্ত কর্কশ স্বভাবের এবং অত্যন্ত কলহপ্রিয়। তিনি বনু জুহরার একদল লোক নিয়ে আসলেন এবং কুরাইশের একটি গোত্র তাকে সাহায্য করল। অন্যদিকে বনু হাশিম ও বনু উমাইয়া আসলো এবং আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে উসমান তার ক্রীতদাস ও ভৃত্যদের অস্ত্রসহ পাঠিয়ে দিলেন। তখন গভর্নরকে বলা হলো: আপনি যদি তাদের বাধা না দেন তবে তারা একে অপরের সাথে যুদ্ধে লিপ্ত হবে। ফলে তিনি উভয় পক্ষকে সরিয়ে দিলেন এবং হিশামের কাছে পত্র লিখলেন। হিশাম তাকে লিখে পাঠালেন: তাকে পছন্দ করার অধিকার দাও; যদি সে তাকে পছন্দ করে তবে তাকে তার কাছে নিয়ে যাও। তখন তিনি নিজেকেই (বিচ্ছেদের জন্য) বেছে নিলেন। ইব্রাহিমের কাছে যখন এই খবর পৌঁছাল, তিনি তার কাছে এসে বললেন: আমি তোমার জন্য মানুষের মধ্যে সর্বোত্তম। তিনি বললেন: আপনি কী বলছেন, আমার বাবার কসম?! তখন তিনি বুঝতে পারলেন যে সুকায়না তাকে নিয়ে উপহাস করছেন। ফলে তিনি ফিরে গেলেন এবং তারা তাকে আবার সুযোগ দিলে তিনি নিজেকেই বেছে নিলেন। এরপর আলী ইবনে হুসাইন ইবনে হুসাইন (আলাইহিমুস সালাম) আসলেন এবং তাকে নিয়ে গেলেন।
সুকায়না তার স্বামী যায়েদ ইবনে আমর ইবনে উসমানকে বলতেন: তুমি মক্কার দিকে বের হও এবং আমিও বের হচ্ছি...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আল-মুরদিফাতু মিন কুরাইশ - যিমনা নাওয়াদিরিল মাখতুদাত
(পৃষ্ঠা: ৬৭)
معك أشعب. فيخرجه ويخرج من أرادت، فإذا قضوا حجهم ورجعوا فكانوا في نصف الطريق قالت: يا ابن عثمان، ارجع إلى مكة. فيقول: نعم. فإذا صرفوا الإبل إلى مكة قال لها: يا سكينة ما أستطيع أن أخالفك وقد انصرف الناس، فإن رأيت أن تمضي معهم. فتقول: نعم فتمضي معهم يومهم ذلك، ثم تقول:
يا ابن عثمان، ارجع! فيقول: نعم. فنفعل ذلك مراراً، ومع هذا مواتاة منها وقرة عين وشفقة ونصيحة، وإنما كان ذلك كله منها مزاحاً لتسره ثم ترجع إلى ما يريد. فعتب عليها يوماً في بعض الأمر فصارمها وخرج إلى قصر له في ماله.
قال أشعب: فدعتني ليلة بعد العشاء فقالت: ويلك، هل لك أن تأتي ابن عثمان فتعلم لي علمه أية خرج وأخذ. قلت: لا أستطيع أن أذهب هذه الساعة.
قالت: فإني أعطيك ثلاثين ديناراً. قلت: ادفعيها إلي. فأعطتني ثم مضيت فانتهيت إلى القصر بعد ما هزيع من الليل، وليس على باب القصر أحد، فدخلت الدار فإذا هو بين يديه مصباح، قد نزل عن فرشه وهو ينكت في الأرض، فسمع حسي أو رأى خيالي فقال: إن في الدار إنساناً فانظروا من هو. فجاءوني فرأوني فقالوا: شعيب
(1). فدعا بي فقال: ويلك يا شعيب ما قصتك؟ قلت:
أرسلتني سكينة. قال: ولم؟ قلت: ذكرت منك ما ذكرت منها فأرسلتني أعلم لها علمك. قال: ويحك، غنني فإن جئتني بما في نفسي فلك حلتي الطبرية
(2) فقد أخذتها بثلاثمائة
(3). فغنيته:
علق القلبُ بعض ما قد شجاه
… من حبيب أمسى هوانا هواه
--------------------------------------------
আপনার সাথে আশআব আছে। অতঃপর তিনি তাকে এবং তিনি (সুকায়না) যাকে চেয়েছিলেন তাকে বের করে আনতেন। যখন তারা তাদের হজ সম্পন্ন করলেন এবং ফেরার পথে অর্ধেক রাস্তায় পৌঁছালেন, তখন তিনি বললেন: হে উসমানের পুত্র, মক্কায় ফিরে চলো। তিনি বললেন: হ্যাঁ। যখন তারা উটগুলোকে মক্কার দিকে ফেরালেন, তখন তিনি তাকে বললেন: হে সুকায়না, মানুষ চলে যাওয়ার পর আমি তোমার বিরোধিতা করতে পারছি না; যদি তুমি তাদের সাথে চলে যাওয়া সমীচীন মনে করো। তিনি বললেন: হ্যাঁ। অতঃপর তিনি সেদিন তাদের সাথে চললেন, তারপর বললেন:
হে উসমানের পুত্র, ফিরে চলো! তিনি বললেন: হ্যাঁ। আমরা এমনটা বারবার করলাম। এতদসত্ত্বেও তার পক্ষ থেকে ছিল আনুগত্য, নয়নজুড়ানো ভাব, মমতা ও সদুপদেশ। এগুলো সবই ছিল তাকে আনন্দ দেওয়ার জন্য তার পক্ষ থেকে এক প্রকার রসিকতা, এরপর তিনি যা চাইতেন তিনি সেদিকেই ফিরে আসতেন। একদিন কোনো একটি বিষয়ে তিনি তার ওপর অসন্তুষ্ট হলেন এবং তার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে নিজের সম্পদের অন্তর্ভুক্ত একটি প্রাসাদে চলে গেলেন।
আশআব বললেন: এশার পর এক রাতে তিনি আমাকে ডেকে বললেন: ধিক তোমাকে! তুমি কি উসমানের পুত্রের কাছে গিয়ে আমার জন্য তার খবর জেনে আসতে পারবে যে, তিনি কোন অবস্থায় বের হয়েছেন এবং কোন পথ ধরেছেন? আমি বললাম: এই সময়ে যাওয়া আমার পক্ষে সম্ভব নয়।
তিনি বললেন: আমি তোমাকে ত্রিশ দিনার দেব। আমি বললাম: তা আমাকে দিন। তিনি আমাকে তা দিলেন, অতঃপর আমি রওনা হলাম এবং রাতের একটি অংশ অতিবাহিত হওয়ার পর প্রাসাদে পৌঁছালাম। প্রাসাদের দরজায় কেউ ছিল না। আমি বাড়িতে প্রবেশ করলাম এবং দেখলাম তার সামনে একটি প্রদীপ রয়েছে। তিনি তার বিছানা থেকে নেমে মাটিতে কিছু একটা আঁচড় কাটছিলেন। তিনি আমার পায়ের শব্দ শুনলেন অথবা আমার ছায়া দেখলেন এবং বললেন: বাড়িতে একজন মানুষ আছে, দেখো সে কে। তারা আমার কাছে এলো এবং আমাকে দেখে বলল: শুআইব
(১)। তিনি আমাকে ডাকলেন এবং বললেন: ধিক তোমাকে হে শুআইব, তোমার ব্যাপার কী? আমি বললাম:
সুকায়না আমাকে পাঠিয়েছেন। তিনি বললেন: কেন? আমি বললাম: তিনি আপনার পক্ষ থেকে তেমনটাই অনুভব করেছেন যা আপনি তার পক্ষ থেকে করেছেন, তাই তিনি আমাকে আপনার অবস্থা জানার জন্য পাঠিয়েছেন। তিনি বললেন: ধিক তোমাকে, আমাকে গান শোনাও! যদি তুমি আমার মনের মতো কিছু শোনাতে পারো, তবে তোমাকে আমার তাবারি পোশাকটি দেব, যা আমি তিনশত
(৩) বিনিময়ে কিনেছিলাম। অতঃপর আমি তাকে গেয়ে শোনালাম:
হৃদয় তার সাথে জুড়ে গেছে যা তাকে ব্যথিত করেছে
… এমন এক প্রিয়জনের পক্ষ থেকে যার ভালোবাসা আমার ভালোবাসায় পরিণত হয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আল-মুরদিফাতু মিন কুরাইশ - যিমনা নাওয়াদিরিল মাখতুদাত
(পৃষ্ঠা: ৬৮)
ما ضراري نفسي بهجرانِ من لي
… س مسيئا ولا بعيدا نواه
قال: ما عدوت ما في نفسي. وأعطاني حلته، فرجعت إلى سكينة وهي جالسة تنتظر رجوعي، فأخبرتها عنه وعن حاله التي رأيت عليها وما قلت وما صنع. قالت: فأين الحلة؟ قلت: معي. قالت: أفتريد يا شعيب أن تلبس حلة قد لبسها ابن عثمان وتسلبه إياها، لا ولا كرامة. قلت: والله لألبسنها.
قالت: فأنا أشتريها منك. فاشترتها بمائة دينار، ويقال بثلاثين ديناراً.
وكان تزويج إبراهيم بن عبد الرحمن بها أنها مكثت حيناً بعد زيد لا تخطب، فقالت لها مولاة لها: جعلت فداك، لا أرى أهل المدينة يذكروننا.
قالت: أما والله لأجعلن لهم حديثا. فأرسلت إلى إبراهيم بن عبد الرحمن بن عوف، وكان شرسا كثير الشر، فقالت له: كيف أنت إن تزوجتك؟ قال:
تجديني خير الناس
وكانت ظريفة فقيل لها: يا سكينة، أختك ناسكة وأنت مزاحة. قالت:
إنكم سميتموها باسم جدتها المؤمنة، وسميتموني باسم جدتي التي لم تدرك الإسلام
(1).
ويقال إنها لما زفت إلى زيد فحملت، قالت لمولى لها كان يمشي مع دابتها يقال له بخة: ويلك ما لك. وقالت لرجل: قوم هذا الأديم.
وذكر الفرزدق سكينة وشبّب بها وعمر بن عبد العزيز على المدينة، فأخرجه منها ونفاه. فقال جرير في ذلك:
نفاك الأغرُّ ابن عبد العزيز
… بحقّك تنفى من المسجد
(2)--------------------------------------------
যে আমার প্রতি মন্দ আচরণ করেনি এবং যার উদ্দেশ্যও দূরে ছিল না, তাকে ত্যাগ করে আমি নিজের কোনো ক্ষতি করিনি
… তিনি বললেন: আমি আমার মনের ইচ্ছার বাইরে কিছু করিনি। অতঃপর তিনি আমাকে তাঁর আলখেল্লাটি দান করলেন। এরপর আমি সুকায়নার নিকট ফিরে এলাম, তিনি বসে আমার প্রত্যাবর্তনের অপেক্ষায় ছিলেন। আমি তাঁকে তাঁর সম্পর্কে এবং তাঁর যে অবস্থা আমি দেখেছি সে বিষয়ে এবং আমি যা বলেছি ও তিনি যা করেছেন, তা জানালাম। তিনি জিজ্ঞেস করলেন: তাহলে আলখেল্লাটি কোথায়? আমি বললাম: আমার কাছে। তিনি বললেন: হে শুআইব, তুমি কি এমন এক আলখেল্লা পরতে চাও যা ইবনে উসমান পরিধান করেছেন এবং তুমি তা তাঁর থেকে ছিনিয়ে নিতে চাও? না, এতে কোনো সম্মান নেই। আমি বললাম: আল্লাহর কসম, আমি অবশ্যই এটি পরিধান করব।
তিনি বললেন: তবে আমি এটি তোমার থেকে কিনে নেব। অতঃপর তিনি এটি একশত দিনারে ক্রয় করলেন; আবার বলা হয় ত্রিশ দিনারে।
ইব্রাহিম বিন আবদুর রহমানের সাথে তাঁর বিবাহের বিষয়টি ছিল এরূপ যে, যায়দের ইনতিকালের পর তিনি বেশ কিছুকাল কারো বাগদত্তা না হয়ে অবস্থান করেন। তখন তাঁর এক দাসী তাঁকে বলল: আমি আপনার জন্য উৎসর্গিত হই, আমি দেখছি না যে মদিনাবাসী আমাদের কথা স্মরণ করছে।
তিনি বললেন: আল্লাহর কসম! আমি অবশ্যই তাদের জন্য আলোচনার বিষয় তৈরি করব। অতঃপর তিনি ইব্রাহিম বিন আবদুর রহমান বিন আউফের নিকট লোক পাঠালেন। তিনি অত্যন্ত রুক্ষ স্বভাবের ও কলহপ্রিয় লোক ছিলেন। সুকায়না তাঁকে বললেন: আমি যদি আপনাকে বিবাহ করি তবে আপনার অবস্থা কেমন হবে? তিনি বললেন:
আপনি আমাকে মানুষের মধ্যে শ্রেষ্ঠ হিসেবে পাবেন।
তিনি অত্যন্ত রসিক ও মার্জিত ছিলেন। তাঁকে বলা হলো: হে সুকায়না, আপনার বোন একজন ইবাদতগুজার আর আপনি রসিকতাপ্রিয়। তিনি বললেন:
তোমরা তাঁর নাম রেখেছ তাঁর মুমিন দাদীর নামে, আর আমার নাম রেখেছ আমার সেই দাদীর নামে যিনি ইসলাম পাননি
(১)।
বলা হয় যে, যখন তাঁকে যায়দের কাছে বধূবেশে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল এবং সওয়ারিতে উঠানো হলো, তখন তিনি তাঁর এক ভৃত্যকে—যে তাঁর পশুর সাথে হাঁটছিল এবং যাকে বাখখা বলা হতো—বললেন: তোমার সর্বনাশ হোক, তোমার কী হয়েছে? এবং তিনি এক ব্যক্তিকে বললেন: এই চামড়াটির (সওয়ারির গদি) মূল্য নির্ধারণ করো।
ফারাজদাক সুকায়নার কথা উল্লেখ করেন এবং তাঁর প্রতি প্রণয়মূলক কবিতা রচনা করেন। তখন উমর বিন আব্দুল আজিজ মদিনার গভর্নর ছিলেন; তিনি ফারাজদাককে সেখান থেকে বের করে দিলেন এবং নির্বাসিত করলেন। এ বিষয়ে জারির বলেন:
উজ্জ্বল ললাটের অধিকারী ইবনে আব্দুল আজিজ তোমাকে বিতাড়িত করেছেন
… তোমার উপযুক্ত পাওনা হিসেবেই তোমাকে মসজিদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে
(২)--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আল-মুরদিফাতু মিন কুরাইশ - যিমনা নাওয়াদিরিল মাখতুদাত
(পৃষ্ঠা: ৬৯)
وطافت سكينة بنت حسين رضي الله عنه، فلما انتهت إلى الركن اليماني أعيت في أول طواف، ونظر إليها العرجيُّ فقال:
يقعدنَ في التطوافِ آونةً
… ويطفنَ أحياناً على فترِ
حتى استلمنَ الركنَ في آنفٍ
… من ليلهنَّ يطأن في الأزرِ
ففرغنَ في سبعٍ وقد جهدت
… أحشاؤهن موائلَ الخمرِ
فسمعت شعره امرأة ووصفته لها، فحفظت الشعر فأخبرتها، قالت: «لو أن الجمال طفن سبعا لجهدت أحشاؤهن».
وقال أبو دهبل يمدح عبد الله بن عثمان بن عبد اللّه بن حكيم بن حزام - وهو زوج سكينة، ولدت منه قريناً، وحكيماً، وابنة. وأم عبد الله بن عثمان بن عبد الله بن حكيم رملة ابنة الزبير - فقال:
أكرم بنسلٍ منكَ بين محمدٍ
… وبين عليٍ فاسمعنَّ كلامي
وبين حكيم والزّبير فلا أرى
… لهم شبهاً في منجدٍ وتهامِ
تمطتْ به بيضاء فرعُ نجيبةٍ
… حصانٌ وبعض الوالدين عرام
(1) 6 - أخبرنا أحمد قال: أنبأنا أبو الحسن قال: أم إسحاق بن طلحة بن عبيد الله كانت عند الحسن بن علي بن أبي طالب رضى اللّه عنه، فولدت له طلحة، فلما حضرته الوفاة أمر أخاه الحسين بن علىّ أن يتزوجها، فتزوجها فولدت له فاطمة بنت الحسين. فقتل الحسين فتزوجها محمد بن عبد الله بن عبد الرحمن بن أبي بكر، فولدت له آمنة.
7 - أحمد قال: أنبأنا أبو الحسن قال: ميمونة ابنة عبد الرحمن بن عبد الله ابن عبد الرحمن بن أبي بكر، كانت عند عبد العزيز بن الوليد، فولدت له عبد الملك، وعتيقاً، ثم خلف عليها محمد بن الوليد، ثم خلف عليها هشام بن عبد الملك.
--------------------------------------------
এবং সুকাইনা বিনতে হুসাইন (রাযিয়াল্লাহু আনহু) তাওয়াফ করছিলেন। যখন তিনি রুকনে ইয়ামানি পর্যন্ত পৌঁছালেন, তখন প্রথম তাওয়াফেই তিনি ক্লান্ত হয়ে পড়লেন। আল-আরজী তাঁর দিকে তাকালেন এবং বললেন:
তারা তাওয়াফের মাঝে মাঝে বিশ্রাম নেয়
… আর কখনো ক্লান্তিতে মন্থর গতিতে তাওয়াফ করে।
অবশেষে রাতের প্রথম প্রহরে রুকন স্পর্শ করে
… তারা চাদর পরিহিত অবস্থায় চলতে থাকে।
সাত চক্কর শেষ হলে তাদের উদর অবসন্ন হয়ে পড়ে
… তারা যেন ক্লান্তিতে মাতালের ন্যায় হেলে পড়ে।
এক নারী তাঁর কবিতা শুনলেন এবং তাঁর কাছে এর বর্ণনা দিলেন। তিনি কবিতাটি মুখস্থ করলেন এবং তাঁকে (সুকাইনাকে) জানালেন। তিনি (সুকাইনা) বললেন: «যদি উটও সাতবার তাওয়াফ করত, তবে তাদের উদরও অবসন্ন হয়ে যেত।»
এবং আবু দাহবাল আব্দুল্লাহ ইবনে উসমান ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে হাকিম ইবনে হিযাম-এর প্রশংসা করে কবিতা বললেন—যিনি ছিলেন সুকাইনার স্বামী, তাঁর গর্ভে তাঁর কুরাইন, হাকিম এবং এক কন্যা সন্তান জন্ম নেয়। আর আব্দুল্লাহ ইবনে উসমানের মা ছিলেন রামলা বিনতে যুবাইর—তিনি বললেন:
মুহাম্মাদ এবং আলীর বংশধরদের মাঝে তোমার বংশ কতই না সম্মানজনক
… অতএব আমার কথা শোনো।
আর হাকিম ও যুবাইরের মাঝে, আমি নজদ ও তিহামায়
… তাদের কোনো সমকক্ষ দেখি না।
এক সম্মানিতা শুভ্রবরণা উচ্চবংশীয় নারী তাঁকে গর্ভে ধারণ করেছেন
… যিনি সতী-সাধ্বী, আর কদাচিৎ পিতামাতার কঠোর স্বভাব সন্তানের মাঝে প্রকাশ পায়
(১) ৬ - আহমাদ আমাদের জানিয়েছেন, তিনি বলেন: আবুল হাসান আমাদের জানিয়েছেন, তিনি বলেন: তালহা ইবনে উবায়দুল্লাহর কন্যা উম্মু ইসহাক হাসান ইবনে আলী ইবনে আবি তালিব (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর স্ত্রী ছিলেন। তাঁর গর্ভে তালহা জন্মগ্রহণ করেন। যখন হাসানের মৃত্যুর সময় উপস্থিত হলো, তিনি তাঁর ভাই হুসাইন ইবনে আলীকে তাঁকে বিবাহ করার নির্দেশ দেন। অতঃপর তিনি তাঁকে বিবাহ করেন এবং তাঁর গর্ভে ফাতিমা বিনতে হুসাইন জন্মগ্রহণ করেন। এরপর হুসাইন শহীদ হলে মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে আবি বকর তাঁকে বিবাহ করেন এবং তাঁর গর্ভে আমিনা জন্মগ্রহণ করেন।
৭ - আহমাদ বলেন: আবুল হাসান আমাদের জানিয়েছেন, তিনি বলেন: আব্দুর রহমান ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে আবি বকরের কন্যা মায়মুনা আব্দুল আজিজ ইবনে ওয়ালিদ-এর স্ত্রী ছিলেন। তাঁর গর্ভে আব্দুল মালিক ও আতিক জন্মগ্রহণ করেন। এরপর মুহাম্মাদ ইবনে ওয়ালিদ তাঁকে বিবাহ করেন, তারপর হিশাম ইবনে আব্দুল মালিক তাঁকে বিবাহ করেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আল-মুরদিফাতু মিন কুরাইশ - যিমনা নাওয়াদিরিল মাখতুদাত
(পৃষ্ঠা: ৭০)
8 - عائشة ابنة طلحة. أنبأنا أحمد قال: أنبأنا أبو الحسن عن سحيم بن حفص قال: تزوج عائشة ابنة طلحة عبد الرحمن بن أبي بكر، وهو أبو عذرتها، فولدت له أولاداً، فابنها طلحة الذي يقول له الشاعر:
يا طلح إن كنت أعطيتني
… جماليّة تستخفّ الضفارا
(1)فما كان نفعك لي مرةً
… ولا مرتين ولكن مرارا
أبوك الذي بايع المصطفى
… وسار مع المهتدى حيث سارا
قال أبو الحسن: عن سحيم، صارمت عائشة زوجها، وكان في خلقها زعارة، خرجت وهي مصارمة له في ملحفة فمرت في المسجد حتى دخلت حجرة عائشة، فرآها أبو هريرة رضي الله عنه فسبح وقال: كأنها من الحور. فمكثت عند عائشة قريبا من أربعة أشهر، فأرسلت عائشة إلى ابن أخيها: إني أخاف عليك الإيلاء إن تمّت أربعة أشهر، فضمها إليك. وكان يلقي منها البلاء، فقيل له طلقها، فقال:
يقولون طلقها، وأصبحَ ثاويا
… مقيما عليك الهمُّ، أحلامُ نائمِ
وإنَّ فراقي أهلَ بيتٍ أودهم
… لهم زلفةٌ عندي لإحدى العظائم
فكيف بصفو العيشِ من بعدَ بينهم
… وسخطهمُ يوماً على الأنف خاطمي
وخطبها مصعب بن الزبير فقالت: إن تزوجته فهو علي كظهر أمي.
ثم سألت أهل المدينة فقالوا: أعتقي رقبة وتزوجيه. فتزوجها فأصدقها خمسمائة ألف، وأهدى لها خمسمائة ألف. فقال أنس بن أبي أنس بن زنيم:
بضعُ الفتاةِ بألفِ ألفٍ كاملٍ
… وتبيتُ ساداتُ الجنود جياعا
لو لأبي حفصٍ أقولُ مقالتي
… وأبثّه ما قد رأى لارتاعا
(2)--------------------------------------------
8 - আয়েশা বিনতে তালহা। আহমাদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবুল হাসান সুহাইম ইবনে হাফস থেকে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আয়েশা বিনতে তালহাকে আবদুর রহমান ইবনে আবি বকর বিয়ে করেছিলেন, এবং তিনি ছিলেন তাঁর প্রথম স্বামী। তিনি তাঁর গর্ভে সন্তান জন্ম দিয়েছিলেন। তাঁর পুত্র হলেন তালহা, যার সম্পর্কে কবি বলেছেন:
হে তালহা! তুমি যদি আমাকে প্রদান করতে
… একটি দ্রুতগামী উটনী যা পশমের রশিকে তুচ্ছজ্ঞান করে দ্রুত চলে
(১)আমার প্রতি তোমার উপকার কেবল একবার ছিল না
… আর না দুইবার, বরং তা ছিল বহুবার
তোমার পিতা তো সেই ব্যক্তি যিনি আল-মুস্তফার হাতে বাইয়াত করেছিলেন
… এবং তিনি যেখানেই গিয়েছেন সেই হিদায়াতপ্রাপ্ত ব্যক্তির সাথেই চলেছেন
আবুল হাসান সুহাইম থেকে বর্ণনা করেন: আয়েশা তাঁর স্বামীর সাথে মনোমালিন্য করেছিলেন, আর তাঁর স্বভাবের মধ্যে কিছুটা রুক্ষতা ছিল। তিনি স্বামীর সাথে ঝগড়া করে চাদর মুড়ি দিয়ে ঘর থেকে বের হয়ে পড়লেন এবং মসজিদের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করে (উম্মুল মুমিনীন) আয়েশা (রা.)-এর কামরায় প্রবেশ করলেন। আবু হুরায়রা (রা.) তাঁকে দেখে সুবহানাল্লাহ পাঠ করলেন এবং বললেন: মনে হচ্ছে তিনি জান্নাতের হূরদের মধ্য থেকে কেউ একজন। তিনি আয়েশা (রা.)-এর নিকট প্রায় চার মাস অবস্থান করলেন। অতঃপর আয়েশা (রা.) তাঁর ভ্রাতুষ্পুত্রকে সংবাদ পাঠালেন: "যদি চার মাস পূর্ণ হয়ে যায় তবে আমি তোমার ব্যাপারে ‘ঈলা’ (শপথের কারণে বিচ্ছেদ) হয়ে যাওয়ার ভয় করছি, সুতরাং তাঁকে তোমার কাছে ফিরিয়ে নাও।" আবদুর রহমান তাঁর থেকে অনেক কষ্ট ও পরীক্ষার সম্মুখীন হতেন। তাঁকে বলা হলো যে, আপনি তাঁকে তালাক দিয়ে দিন। তিনি বললেন:
তারা বলছে তাঁকে তালাক দিয়ে দাও, অথচ আমি হবো এক বিষাদগ্রস্ত ব্যক্তি
… তোমার বিরহে দুশ্চিন্তা স্থায়ী হবে, যেন কোনো নিদ্রিত ব্যক্তির দুঃস্বপ্ন
নিশ্চয়ই এমন এক গৃহবাসীদের থেকে আমার বিচ্ছিন্ন হওয়া যাদের আমি ভালোবাসি
… আর আমার কাছে তাদের যে গভীর মর্যাদা রয়েছে, তা হারানো এক বড় বিপর্যয়
তাদের থেকে আলাদা হওয়ার পর জীবনের নির্মলতা আর কোথায় পাওয়া যাবে?
… আর তাদের অসন্তুষ্টির লাগাম কোনো একদিন আমার নাসিকা চেপে ধরবে (আমাকে নিয়ন্ত্রণ করবে)
মুসআব ইবনে আল-যুবাইর তাঁকে বিয়ের প্রস্তাব দিলেন। তখন তিনি (আয়েশা বিনতে তালহা) বললেন: "যদি আমি তাঁকে বিয়ে করি তবে তিনি আমার জন্য আমার মায়ের পিঠের ন্যায় (হারাম) হয়ে যাবেন।"
অতঃপর তিনি মদিনার আলিমদের নিকট এ ব্যাপারে মাসআলা জিজ্ঞাসা করলেন। তাঁরা বললেন: "একটি দাস মুক্ত করো এবং তাঁকে বিয়ে করো।" অতঃপর তিনি তাঁকে বিয়ে করলেন এবং তাঁর মোহরানা ধার্য করলেন পাঁচ লক্ষ, আর উপহার হিসেবে দিলেন আরও পাঁচ লক্ষ। তখন আনাস ইবনে আবি আনাস ইবনে জুনাইম বললেন:
একজন তরুণীর পাণিগ্রহণ সম্পন্ন হলো পূর্ণ দশ লক্ষ মুদ্রায়
… অথচ সেনাবাহিনীর প্রধানরা ক্ষুধার্ত অবস্থায় রাত কাটাচ্ছেন
যদি আমি আবু হাফসের (উমর ইবনুল খাত্তাব) কাছে আমার এই কথাগুলো বলতে পারতাম
… এবং তিনি যা দেখেছেন তা তাঁকে জানাতে পারতাম, তবে তিনি নিশ্চয়ই শিউরে উঠতেন
(২)--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আল-মুরদিফাতু মিন কুরাইশ - যিমনা নাওয়াদিরিল মাখতুদাত
(পৃষ্ঠা: ৭১)
فبلغ الشعر عبد الله بن الزبير فقال: إن مصعباً قدم خيره، وأخر أيره.
وبلغ الكلام عبد الملك بن مروان فقال: لكن عبد الله قدم أيره وأخر خيره.
أحمد قال: قال أبو الحسن: قال الشعبي: كان يجالسنا أيام الفتنة رجل فقلت: من أنت؟ قال: مولى عائشة بنت طلحة، خطبها مصعب بن الزبير وتزوجها فأحبها، وكانت خطبة جميلة من امرأة في أذنها عظم، وفي ساقها حموشة
(1) وقال قوم: في قدمها عظم. فأغارها مصعب يوماً فسمته.
أنبأنا أحمد قال: قال أبو الحسن: عن علي بن مجاهد عن الشعبي قال: قال الشعبي: أخذ بيدي مصعب فمضى وأنا معه حتى دخل منزله ويده في يدي فرفع ستراً فإذا عائشة، فإذا أحسن الناس وجهاً، فأعرضت وخلاني ودخل، فرجعت ثم رحت إليه بالعشى وهو جالس فأشار إلي بيده فقال: رأيت ذاك الإنسان؟
قلت: نعم. فقال: أفرأيت مثله؟ فقلت: لا. قال: تلك ليلى التي يقول فيها الشاعر:
وما زلتُ من ليلى لدنْ طرَّ شاربي
… إلى اليوم أخفي حبها فأباينُ
(2)وأحملُ في ليلى لقلبي ضغينةً
… وتحملُ في ليلى عليَّ الضغائن
يا شعبي رأيت عائشة وما بد لك إذ رأيتها من صلة. ثم قال لابن أبي فروة:
أعط الشعبي عشرة آلاف درهم وعشرين ثوبا. فقتل عنها مصعب فخطبها بشر ابن مروان. وقدم عمر بن عبيد الله بن معمر من الشام فنزل إلى الكوفة، فبلغه أن بشراً خطب عائشة فأرسل إليها: «أنا خير لك من هذا المبسور
(3)، وأنا ابن عمك وأحق بك، وإن تزوّجت بك ملأت يتك خيراً، وملأت حرك أيرا».
فبنى بها بالحيرة فمهدت له فرشا سعة عرضها أربع أذرع، فأصبح ليلة بنائها عن
--------------------------------------------
কবিতাটি আবদুল্লাহ ইবনে যুবায়েরের নিকট পৌঁছালে তিনি বললেন: "মুসআব তার কল্যাণকে আগে বাড়িয়েছে এবং তার লিঙ্গকে পেছনে রেখেছে।"
আর এই কথা আবদুল মালিক ইবনে মারওয়ানের নিকট পৌঁছালে তিনি বললেন: "কিন্তু আবদুল্লাহ তার লিঙ্গকে আগে বাড়িয়েছে এবং তার কল্যাণকে পেছনে রেখেছে।"
আহমাদ বলেন: আবুল হাসান বলেছেন: আশ-শাবি বলেছেন: ফিতনার দিনগুলোতে এক ব্যক্তি আমাদের সাথে বসত। আমি বললাম: আপনি কে? তিনি বললেন: আয়শা বিনতে তালহার মুক্তদাস। মুসআব ইবনুল যুবায়ের তাকে বিবাহের প্রস্তাব দেন এবং তাকে বিবাহ করেন ও তাকে ভালোবাসতেন। এটি ছিল এক সুন্দরী নারীর চমৎকার বিবাহের প্রস্তাব, যার কানে হাড়ের বিশিষ্টতা ছিল এবং যার পায়ের নলা চিকন
(১) ছিল। আর এক দল লোক বলেছে: তার পায়ের পাতায় হাড়ের বিশিষ্টতা ছিল। মুসআব একদিন তাকে ঈর্ষান্বিত করলেন, তখন তিনি তার একটি নামকরণ করলেন।
আহমাদ আমাদের জানিয়েছেন, তিনি বলেন: আবুল হাসান আলী ইবনে মুজাহিদ থেকে, তিনি আশ-শাবি থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আশ-শাবি বলেছেন: মুসআব আমার হাত ধরলেন এবং আমি তার সাথে এগিয়ে গেলাম যতক্ষণ না তিনি তার ঘরে প্রবেশ করলেন, তখনো তার হাত আমার হাতে ছিল। এরপর তিনি একটি পর্দা তুললেন, সেখানে আয়শা ছিলেন; তিনি ছিলেন মানুষের মধ্যে সবচেয়ে সুন্দর চেহারার অধিকারিণী। তিনি বিমুখ হলেন এবং মুসআব আমাকে ছেড়ে ভেতরে প্রবেশ করলেন। আমি ফিরে গেলাম, এরপর সন্ধ্যায় পুনরায় তার কাছে গেলাম যখন তিনি বসা ছিলেন। তিনি তার হাত দিয়ে আমার দিকে ইশারা করে বললেন: তুমি কি সেই মানুষকে দেখেছ?
আমি বললাম: হ্যাঁ। তিনি বললেন: তুমি কি তার মতো কাউকে দেখেছ? আমি বললাম: না। তিনি বললেন: ইনিই সেই লায়লা, যার সম্পর্কে কবি বলেছেন:
আমার মোচ গজানোর সময় থেকে আজ পর্যন্ত
… আজ অবধি আমি লায়লার প্রতি ভালোবাসা গোপন রেখে চলেছি এবং তা প্রকাশ করছি
(২)আমি আমার হৃদয়ে লায়লার জন্য কষ্ট বয়ে বেড়াই
… আর লায়লা আমার বিরুদ্ধে বিদ্বেষ পোষণ করে
হে শাবি, তুমি আয়শাকে দেখেছ এবং তাকে দেখে তোমার যে উপঢৌকন পাওয়ার কথা ছিল তা তোমার জন্য প্রকাশ পেয়েছে। এরপর তিনি ইবনে আবি ফারওয়াকে বললেন:
শাবিকে দশ হাজার দিরহাম এবং বিশটি কাপড় দাও। এরপর মুসআব তার স্বামী থাকা অবস্থায় নিহত হলেন, তখন বিশর ইবনে মারওয়ান তাকে বিবাহের প্রস্তাব দিলেন। আর উমর ইবনে উবায়দুল্লাহ ইবনে মা'মার শাম থেকে কুফায় এসে অবতরণ করলেন। তার কাছে সংবাদ পৌঁছালো যে, বিশর আয়শাকে বিবাহের প্রস্তাব দিয়েছেন, তখন তিনি তার নিকট এই বার্তা পাঠালেন: "আমি তোমার জন্য এই অর্শ রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির চেয়ে উত্তম
(৩), আমি তোমার চাচাতো ভাই এবং তোমার জন্য অধিক হকদার। আমি যদি তোমাকে বিবাহ করি, তবে আমি তোমার ঘরকে কল্যাণে পূর্ণ করে দেব এবং তোমার যৌনাঙ্গকে লিঙ্গ দিয়ে পূর্ণ করব।"
অতঃপর তিনি হীরায় তার সাথে বাসর করলেন এবং তিনি তার জন্য চার হাত প্রশস্ত বিছানা প্রস্তুত করলেন। বাসর রাতের পর সকালে তিনি...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আল-মুরদিফাতু মিন কুরাইশ - যিমনা নাওয়াদিরিল মাখতুদাত
(পৃষ্ঠা: ৭২)
تسعة
(1). وكان عمر غليظاً أحمر يحتجم كل سبعة أيام، فأخرجها معه إلى فديك
(2) ولها يقول الشاعر:
أنعمْ بعيشةَ عيشاً غير ذي رنقِ
… وانبذْ برملةَ نبذ الجورب الخلقِ
وقال آخر:
من يجعل الديباج عدلاً للزّيق
- أراد الريح، وهو ريح الخميس
(3) -
بين الحواريَّ وبين الصديقْ
فمات عنها فبكته، فعلموا أنها لا تزوج.
أنبأنا أحمد قال: أنبأنا أبو الحسن، عن سحيم بن حفص قال: قالت رملة بنت طلحة بن عبد الله بن خلف الخزاعي لمولاة عائشة: أريني عائشة متجردة، ولك ألفا درهم. فقالت لمولاتها: إن رملة جعلت لي ألفي درهم إن رأتك متجردة.
قالت: فإني أتجرد لها فأعلميها. وتجردت وجعلت تغتسل مدبرة ومقبلة، ورملة تنظر إليها، ثم لبست ثيابها فأعطت رملة مولاتها ألفي درهم ثم قالت: وددت أني أعطيتك أربعة آلاف ولم أرها.
قال أبو الحسن: عن أبي عمرو طارق بن المبارك قال: قال عمر بن ربيعة لعائشة بنت طلحة يشبب بها:
أصبح القلبُ في الحبال رهيناً
… مقصداً يوم فارق الظاعنينا
لم يرعني إلا الفتاة وإلا
… دمعها في الرداء سحا سنينا
(4)عجلت حمةُ الفراق علينا
… برحيلٍ ولم تخف أن تبينا
أنتِ أهوى العبادِ قرباً وودّا
… لو تواتين عاشقا محزونا
--------------------------------------------
নয়
(১)। উমর ছিলেন স্থূলকায় ও লালচে বর্ণের, তিনি প্রতি সাত দিন অন্তর শিঙা লাগাতেন। তিনি তাকে সাথে নিয়ে ফুদাইকের
(২) দিকে বের হয়েছিলেন এবং তার উদ্দেশ্যে জনৈক কবি বলেন:
অঙ্কিলতাহীন এক স্বচ্ছ ও সুন্দর জীবন উপভোগ করো
… আর রামলাহকে পুরনো জীর্ণ মোজার মতো ছুড়ে ফেলে দাও।
অন্য একজন বলেন:
কে রেশমকে জামার কলারের সমতুল্য করে?
- তিনি এর দ্বারা বাতাস বুঝিয়েছেন, আর তা হলো খামিস নামক এক প্রকার বাতাস
(৩) -
হাওয়ারি এবং সিদ্দিকের মাঝে।
অতঃপর তিনি তার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে (মারা) গেলেন এবং সে তার জন্য বিলাপ করল, তখন তারা বুঝতে পারল যে সে আর বিয়ে করবে না।
আহমদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবুল হাসান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন সুহায়ম ইবনে হাফস থেকে, তিনি বলেন: রামলাহ বিনতে তালহা ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে খালাফ আল-খুজায়ী আয়েশার এক দাসীকে বলল: আমাকে আয়েশাকে বিবস্ত্র অবস্থায় দেখাও, বিনিময়ে তোমার জন্য দুই হাজার দিরহাম। দাসী তার মালকিনকে বলল: রামলাহ আমাকে দুই হাজার দিরহাম দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যদি সে আপনাকে বিবস্ত্র অবস্থায় দেখতে পায়।
সে বলল: আমি তার সামনে বিবস্ত্র হচ্ছি, তাকে জানিয়ে দাও। অতঃপর সে বিবস্ত্র হলো এবং এপাশ-ওপাশ ফিরে গোসল করতে লাগল, আর রামলাহ তার দিকে তাকিয়ে রইল। তারপর সে তার কাপড় পরিধান করল। তখন রামলাহ সেই দাসীকে দুই হাজার দিরহাম প্রদান করল এবং বলল: আমার আফসোস হচ্ছে, যদি আমি তোমাকে চার হাজার দিরহাম দিতাম আর তাকে না দেখতাম!
আবুল হাসান আবু আমর তারিক ইবনুল মুবারক থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: উমর ইবনে আবি রাবিয়া আয়েশা বিনতে তালহার প্রশংসায় প্রেমকাব্য করে বলেছিলেন:
হৃদয় আজ প্রেম-বন্ধনে বন্দি হয়েছে
… সেই দিন যখন কাফেলা বিদায় নিয়েছিল
সেই তরুণী এবং তার ওড়নায় গড়িয়ে পড়া অবিরাম অশ্রুধারা ছাড়া অন্য কিছুই আমাকে বিচলিত করেনি
(৪)বিচ্ছেদের তীব্রতা আমাদের ওপর ত্বরান্বিত হয়েছে
… বিদায় বেলায়, অথচ সে বিচ্ছেদের ভয় করেনি
সৃষ্টির মধ্যে তুমিই সান্নিধ্য ও ভালোবাসার সবচেয়ে প্রিয়জন
… যদি তুমি এই শোকাতুর প্রেমিকের প্রতি সদয় হতে
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আল-মুরদিফাতু মিন কুরাইশ - যিমনা নাওয়াদিরিল মাখতুদাত
(পৃষ্ঠা: ৭৩)
قاده الطرف يوم مرَّ إلى الحي
… ن جهارا ولم يخف أن يحينا
وجلا برد بركةٍ جنديٌّ
… ضوء وجهٍ يضيءُ للناظرينا
(1)فإذا ظبية تراعى نعاجا
… ومها نهّج المناظرِ عينا
قلت: من أنتمُ فصدتْ وقالت:
… أمبدٌّ سؤالك العالمينا
(2)قلت: باللهِ ذي الجلالة لمّا
… إذ تبلت الفؤاد أن تصدقينا
(3)أىّ من تجمعُ المواسمُ أنتمْ
… فأبيني لنا ولا تكذبينا
نحن من ساكني العراق وكنا
… قبلها قاطنين مكةَ حينا
قد صدقناكِ إنْ سألتِ فمن أن
… ت، عسى أن يجرّ شأن شئونا
(4)قد نرى أننا عرفناكِ بالنع
… ت بظنّ وما قتلنا يقينا
(5)بسواد الثنيتين وثغرٍ
… قد نراه لناظرٍ مستبينا
فكانت عائشة تقول: والله ما قلت له هذا وما كلمته قط.
أنبأنا أحمد قال أنبأنا أبو الحسن عبد الله بن فائد قال: دخلت عائشة بنت طلحة بمكة على الوليد بن عبد الملك فحدثته وقالت يا أمير المؤمنين، مر لي بأعوان.
فصير إليها قوماً يكونون معها، فحجت ومعها ستون بغلاً عليها الهوادج والرحائل، فقال عروة بن الزبير:
عائشُ يا ذاتَ البغال الستينْ
… أكلَّ عامٍ هكذا تحجينْ
(6) 9 - ابنة محمد بن عروة بن الزبير. أنبأنا أحمد قال: أنبأنا أبو الحسن قال:
--------------------------------------------
দৃষ্টি তাকে সেই দিন গোত্রের দিকে নিয়ে গেল … প্রকাশ্যে, আর সে আমাদের বিনাশের ভয় পায়নি।
ইয়েমেনি চাদরের কারুকার্যের মতো উজ্জ্বলতা … চেহারার নূর যা দর্শকদের জন্য আলোকিত হয়ে ওঠে।
(১)হঠাৎ দেখলাম এক হরিণী যেন বুনো মেষদের মাঝে বিচরণ করছে … আর প্রশস্ত আয়তলোচনা বুনো গাভীর মতো তার চোখ।
আমি বললাম: তোমরা কারা? সে মুখ ফিরিয়ে নিল এবং বলল: তোমার প্রশ্ন কি জগতবাসীকে অতিষ্ঠ করে তুলবে?
(২)আমি বললাম: মহিমাময় আল্লাহর কসম, যেহেতু তুমি হৃদয় হরণ করেছ … তাই আমাদের কাছে সত্য বলো।
(৩)হজের মৌসুমে সমবেত হওয়া এই কাফেলাদের মধ্যে তোমরা কারা? … আমাদের কাছে স্পষ্ট করো এবং আমাদের সাথে মিথ্যা বোলো না।
আমরা ইরাকবাসীদের অন্তর্ভুক্ত এবং এর আগে … আমরা দীর্ঘকাল মক্কায় বসবাস করতাম।
তুমি জিজ্ঞাসা করায় আমরা তোমাকে সত্য বলেছি, কিন্তু তুমি কে? … হতে পারে এক প্রসঙ্গ অন্য প্রসঙ্গের অবতারণা করবে।
(৪)আমাদের মনে হচ্ছে আমরা তোমাকে তোমার গুণাবলি দ্বারা চিনেছি … ধারণার বশবর্তী হয়ে, যদিও আমরা নিশ্চিত হতে পারিনি।
(৫)সামনের দাঁত দুটির উজ্জ্বলতা এবং সেই মুখচ্ছবি দ্বারা … যা একজন দর্শকের কাছে সুস্পষ্ট প্রতীয়মান হয়।
তখন আয়েশা বলতেন: আল্লাহর কসম, আমি তাকে এটি বলিনি এবং কখনো তার সাথে কথা বলিনি।
আহমদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, আবুল হাসান আবদুল্লাহ ইবনে ফায়িদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আয়েশা বিনতে তালহা মক্কায় ওয়ালিদ ইবনে আব্দুল মালিকের দরবারে উপস্থিত হলেন এবং তার সাথে কথা বললেন ও বললেন, হে আমিরুল মুমিনিন, আমার জন্য কিছু সাহায্যকারী নির্ধারণ করে দিন।
অতঃপর তিনি তার জন্য একদল লোক নিযুক্ত করলেন যারা তার সাথে থাকবে। এরপর তিনি হজ পালন করলেন এবং তার সাথে ছিল ষাটটি খচ্চর যার ওপর ছিল হাওদা ও মালপত্র। তখন উরওয়াহ ইবনুয যুবাইর বললেন:
হে ষাটটি খচ্চরের মালিক আয়েশা … প্রতি বছর কি তুমি এভাবেই হজ করো?
(৬) ৯ - মুহাম্মাদ ইবনে উরওয়াহ ইবনুয যুবাইরের কন্যা। আহমদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবুল হাসান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আল-মুরদিফাতু মিন কুরাইশ - যিমনা নাওয়াদিরিল মাখতুদাত
(পৃষ্ঠা: ৭৪)
ابنة محمد بن عروة بن الزبير كانت عند الحكم بن يحيى بن عروة، وعند أمية بن عبد الله بن عمرو بن عثمان، فتزوجها محمد بن عمران بن طلحة، ثم راجعها الحكم ابن يحيى بن عروة، ثم طلقها - وكان قاضياً على المدينة - واشترطت عليه أن عطاءه ما عاشت وغلة أرضه وبضع بناته إليها، تزوجهن من شاءت، ولا يغير عليها، فإن فعل فأمرها بيدها.
10 - أحمد قال: أنبأنا أبو الحسن: أم سلمة ابنة عبد الرحمن بن سهيل ابن عمرو، كانت عند الحجاج بن يوسف، فطلقها فتزوجها الوليد بن عبد الملك، فأعجلها سليمان وعليها درع فأدخله من وراء الثوب، ثم طلقها فتزوجها هشام ابن عبد الملك.
11 - أحمد قال: أنبأنا أبو الحسن قال: ربيحة بنت محمد بن علي بن عبد الله ابن جعفر، تزوجها يزيد بن عبد الملك، ثم تزوجها أبو بكر بن عبد الملك، فقتله عبد الله بن علي وتزوجها صالح بن علي، فطلقها فتزوجها إسحاق بن إبراهيم بن حسن ابن حسن بن علي عليهم السلام. وقوم ينكرون تزويج يزيد بن عبد الملك ربيحة.
12 - أحمد قال: أنبأنا أبو الحسن قال: سحيقة
(1) ابنة محمد بن عبد الله بن الحارث بن نوفل بن الحارث بن عبد المطلب، تزوجها إسماعيل بن إبراهيم بن محمد بن طلحة بن عبد الله، فولدت له ابنة، ففارقها فتزوجها إسماعيل بن إبراهيم ابن عبد الله بن جعفر، فتوفي عنها، فراجعها إسماعيل بن إبراهيم بن محمد بن طلحة، ثم طلقها فتزوجها عبد الرحمن بن عبد اللّه بن عمر بن الخطاب.
13 - أحمد قال: أنبأنا أبو الحسن قال: أم إسحاق بنت طلحة بن عبد الله كانت عند الحسن بن علي، فولدت له طلحة بن الحسن، فمات عنها وأوصى الحسين بتزوجها، فتزوجها الحسين، فولدت له فاطمة بنت حسين، فقتل عنها،
--------------------------------------------
মুহাম্মদ ইবনে উরওয়াহ ইবনুল জুবাইর-এর কন্যা হাকাম ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে উরওয়াহ-এর বিবাহাধীনে ছিলেন, এবং উমাইয়াহ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে উসমান-এর বিবাহাধীনেও ছিলেন। অতঃপর মুহাম্মদ ইবনে ইমরান ইবনে তালহা তাকে বিবাহ করেন। এরপর হাকাম ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে উرওয়াহ তাকে পুনরায় গ্রহণ করেন, অতঃপর তাকে তালাক দেন—তিনি মদিনার বিচারক ছিলেন—এবং তিনি (স্ত্রী) তাঁর ওপর শর্ত আরোপ করেছিলেন যে, তাঁর আমৃত্যু প্রাপ্ত ভাতা, তাঁর জমির ফসল এবং তাঁর কন্যাদের বিবাহের দায়িত্ব তাঁর (স্ত্রীর) হাতে থাকবে, তিনি যাদের ইচ্ছা তাদের কাছে বিবাহ দেবেন এবং তিনি (স্বামী) তাঁর এই অধিকারে কোনো পরিবর্তন করবেন না; যদি তিনি তা করেন তবে তাঁর (স্ত্রীর) বিষয়টি তাঁর নিজের হাতে থাকবে।
১০ - আহমদ বলেন: আবুল হাসান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন: আবদুর রহমান ইবনে সুহাইল ইবনে আমর-এর কন্যা উম্মে সালামাহ হাজ্জাজ ইবনে ইউসুফের বিবাহাধীনে ছিলেন। অতঃপর হাজ্জাজ তাকে তালাক দিলে ওয়ালিদ ইবনে আবদিল মালিক তাকে বিবাহ করেন। এরপর সুলায়মান তাকে দ্রুত আহ্বান করেন এমতাবস্থায় যে তিনি একটি বর্ম (বা ঢিলেঢালা কামিজ) পরিহিত ছিলেন, তিনি তা পোশাকের নিচ দিয়ে প্রবেশ করালেন। এরপর তিনি তাকে তালাক দিলে হিশাম ইবনে আবদিল মালিক তাকে বিবাহ করেন।
১১ - আহমদ বলেন: আবুল হাসান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন: মুহাম্মদ ইবনে আলী ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে জাফরের কন্যা রাবিহা-কে ইয়াজিদ ইবনে আবদিল মালিক বিবাহ করেন। এরপর তাকে আবু বকর ইবনে আবদিল মালিক বিবাহ করেন। অতঃপর আবদুল্লাহ ইবনে আলী তাকে হত্যা করেন এবং সালেহ ইবনে আলী তাকে বিবাহ করেন। এরপর তিনি তাকে তালাক দিলে ইসহাক ইবনে ইব্রাহিম ইবনে হাসান ইবনে হাসান ইবনে আলী (তাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক) তাকে বিবাহ করেন। একদল লোক ইয়াজিদ ইবনে আবদিল মালিকের সাথে রাবিহার বিবাহকে অস্বীকার করেন।
১২ - আহমদ বলেন: আবুল হাসান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন: মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে হারিস ইবনে নাওফাল ইবনে হারিস ইবনে আবদিল মুত্তালিবের কন্যা সাহিকাহ
(১)-কে ইসমাইল ইবনে ইব্রাহিম ইবনে মুহাম্মদ ইবনে তালহা ইবনে আবদুল্লাহ বিবাহ করেন এবং তাঁর একটি কন্যা সন্তান জন্মগ্রহণ করে। অতঃপর তিনি তাকে পৃথক করে দিলে ইসমাইল ইবনে ইব্রাহিম ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে জাফর তাকে বিবাহ করেন। অতঃপর তিনি মৃত্যুবরণ করলে ইসমাইল ইবনে ইব্রাহিম ইবনে মুহাম্মদ ইবনে তালহা তাকে পুনরায় বিবাহ করেন। এরপর তিনি তাকে তালাক দিলে আবদুর রহমান ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে উমর ইবনুল খাত্তাব তাকে বিবাহ করেন।
১৩ - আহমদ বলেন: আবুল হাসান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন: তালহা ইবনে আবদুল্লাহর কন্যা উম্মে ইসহাক হাসান ইবনে আলীর বিবাহাধীনে ছিলেন এবং তাঁর গর্ভে তালহা ইবনে হাসান জন্মগ্রহণ করেন। এরপর হাসান মৃত্যুবরণ করেন এবং হুসাইনকে তাঁকে বিবাহ করার অসিয়ত করে যান। অতঃপর হুসাইন তাঁকে বিবাহ করেন এবং তাঁর গর্ভে ফাতেমা বিনতে হুসাইন জন্মগ্রহণ করেন। অতঃপর হুসাইন শহীদ হন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আল-মুরদিফাতু মিন কুরাইশ - যিমনা নাওয়াদিরিল মাখতুদাত
(পৃষ্ঠা: ৭৫)
فتزوجها ابن أبي عتيق - وهو عبد الله بن محمد بن عبد الرحمن بن أبي بكر - فولدت له آمنة. ويقال تزوجها قبل ابن أبي عتيق تمام بن العباس بن عبد المطلب فهلك عنها فتزوجها ابن أبي عتيق.
14 - أنبأنا أحمد قال: أنبأنا أبو الحسن قال: ميمونة بنت عبد الرحمن ابن عبيد الله بن عبد الرحمن بن أبي بكر، كانت عند عبد العزيز بن الوليد ابن عبد الملك، فولدت له عبد الملك وعتيقاً. وكان عبد الملك من رجالهم، فمات فرثاه بعض الشعراء من كلب، فقال:
إني رأيتُ بني أمِّ البنينَ لهمْ
… مجدٌ طويلٌ وفي أعمارهم قصرُ
(1)ماتَ الهمامُ أبو مروانَ فإختشعتْ
… كلبٌ لذاك وذلتْ بعدهُ مضرُ
ولعتيق يقول الشاعر:
ذهبَ الجودُ غيرَ جودٍ عتي
… قِ ابن عبد العزيز منْ ميمونه
بنت قرم قد مهدتْ من قريشٍ
… وأبى اللهُ أن تكونَ هجينهْ
ثم تزوجها محمد بن الوليد، ثم تزوجها سليمان بن عبد الملك، ثم تزوجها هشام بن عبد الملك. ويقال: لم يتزوجها سليمان.
15 - أنبأنا أحمد قال: أنبأنا أبو الحسن قال: حفصة بنت عمران بن إبراهيم ابن محمد بن طلحة بن عبيد الله، تزوجها القاسم بن عبد الله بن عمرو بن عثمان، وهو أبو عذرها، ثم خلف عليها هشام بن عبد الملك، وكان القاسم شديد الغيرة، فسمع يوماً كلامها، أو رآها مشرفة، فدخل عليها فضربها، فأثر السوط بها،
--------------------------------------------
অতঃপর ইবনে আবি আতিক—যিনি হলেন আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুর রহমান বিন আবু বকর—তাকে বিবাহ করেন এবং তাঁর গর্ভে আমিনা জন্মগ্রহণ করেন। বলা হয়ে থাকে যে, ইবনে আবি আতিকের পূর্বে তাম্মাম বিন আব্বাস বিন আব্দুল মুত্তালিব তাকে বিবাহ করেছিলেন, অতঃপর তিনি মারা গেলে ইবনে আবি আতিক তাকে বিবাহ করেন।
১৪ - আহমদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবুল হাসান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: মাইমুনা বিনতে আব্দুর রহমান বিন উবাইদুল্লাহ বিন আব্দুর রহমান বিন আবু বকর, তিনি আব্দুল আজিজ বিন ওয়ালিদ বিন আব্দুল মালিকের স্ত্রী ছিলেন; তাঁর গর্ভে আব্দুল মালিক ও আতিক জন্মগ্রহণ করেন। আর আব্দুল মালিক ছিলেন তাদের এক বিশিষ্ট ব্যক্তি; তিনি মারা গেলে কাল্ব গোত্রের জনৈক কবি তাঁর শোকগাথা রচনা করে বলেন:
আমি উম্মুল বানিনের সন্তানদের দেখেছি, তাদের জন্য রয়েছে
… সুদীর্ঘ মর্যাদা, তবে তাদের আয়ু সংক্ষিপ্ত।
(১)মারা গেছেন সেই বীর নেতা আবু মারওয়ান, যার শোকে
… কাল্ব গোত্র বিমর্ষ হয়েছে এবং তাঁর পরে মুদার গোত্র লাঞ্ছিত হয়েছে।
আর আতিক সম্পর্কে কবি বলেন:
উদারতা বিলুপ্ত হয়েছে কেবল মাইমুনার গর্ভজাত আব্দুল আজিজের পুত্র
… আতিকের উদারতা ব্যতীত।
যিনি এমন এক নেতার কন্যা যাকে কুরাইশ বংশীয় আভিজাত্য সজ্জিত করেছে,
… আর আল্লাহ তাকে হীন বংশজাত হওয়া থেকে রক্ষা করেছেন।
অতঃপর মুহাম্মদ বিন ওয়ালিদ তাকে বিবাহ করেন, এরপর সুলাইমান বিন আব্দুল মালিক তাকে বিবাহ করেন, তারপর হিশাম বিন আব্দুল মালিক তাকে বিবাহ করেন। তবে বলা হয়ে থাকে যে: সুলাইমান তাকে বিবাহ করেননি।
১৫ - আহমদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবুল হাসান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: হাফসা বিনতে ইমরান বিন ইব্রাহিম বিন মুহাম্মদ বিন তালহা বিন উবাইদুল্লাহ; কাসেম বিন আব্দুল্লাহ বিন আমর বিন উসমান তাকে বিবাহ করেন এবং তিনিই ছিলেন তাঁর প্রথম স্বামী। অতঃপর হিশাম বিন আব্দুল মালিক তাঁর স্থলাভিষিক্ত হন (তাকে বিবাহ করেন)। কাসেম অত্যন্ত ঈর্ষাপরায়ণ ছিলেন; একদিন তিনি তাঁর কথা শুনলেন অথবা তাকে উঁচুতে আরোহন করে দেখতে পেলেন, তখন তিনি তাঁর কাছে গিয়ে তাকে প্রহার করলেন এবং চাবুকের দাগ তাঁর শরীরে পড়ে গেল।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আল-মুরদিফাতু মিন কুরাইশ - যিমনা নাওয়াদিরিল মাখতুদাত
(পৃষ্ঠা: ৭৬)
فطلقها فتزوجها هشام، فقالت له أم حكيم
(1): قل لها تريك ظهرها. فقال لها فأبت وقالت: ما تريد من ظهري، كنت عند رجل كريم غيور خير منك أماً وأباً وبيتاً، غار فضربني ضربة فصار في ظهري أثر. فطلقها فتزوجها محمد بن عبد الله بن الحسن بن الحسن، ثم تزوجها عثمان بن عروة بن الزبير.
16 - أنبأنا أحمد قال: أنبأنا أبو الحسن قال: أم كلثوم ابنة عبد الله بن جعفر، تزوجها القاسم بن محمد بن جعفر بن أبي طالب، فولدت له فاطمة، ثم تزوجها الجراح أو الحجاج
(2)، فولدت له ابنة، فطلقها، فتزوجها أبان بن عثمان ابن عفان.
17 - أنبأنا أحمد قال: أنبأنا أبو الحسن قال: أم القاسم ابنة الحسن بن الحسن بن علي، تزوجها مروان بن عثمان بن عفان، فولدت له محمداً، ثم خلف عليها علي بن حسين بن حسن بن علي، ثم تزوجها الحسن بن عبد الله بن عبيد الله ابن العباس.
18 - أحمد قال: أنبأنا أبو الحسن قال: رملة ابنة محمد بن جعفر بن أبي طالب تزوجها سليمان بن هشام، فطلقها فتزوجها أبو القاسم بن الوليد بن عتبة بن أبي سفيان، فقتله عبد الله بن علي فتزوجها إسماعيل بن علي أو صالح.
19 - أحمد قال: أنبأنا أبو الحسن قال: قريبة بنت أبي أمية بن المغيرة
(3) كانت عند عمر بن الخطاب، فرجعت إلى الكفار، فلما أسلمت تزوّجها معاوية
--------------------------------------------
তিনি তাকে তালাক দেন, এরপর হিশাম তাকে বিবাহ করেন। তখন উম্মে হাকিম
(১) তাকে বললেন: তুমি তাকে বলো যেন সে তোমাকে তার পিঠ দেখায়। তিনি তাকে বললেন, কিন্তু তিনি (স্ত্রী) অস্বীকার করলেন এবং বললেন: তুমি আমার পিঠ দিয়ে কী করবে? আমি এমন এক সম্মানিত ও আত্মমর্যাদাশীল ব্যক্তির কাছে ছিলাম, যিনি তোমার চেয়েও উত্তম পিতা, মাতা এবং বংশের অধিকারী ছিলেন। তিনি আত্মমর্যাদাবোধ থেকে আমাকে একবার আঘাত করেছিলেন, ফলে আমার পিঠে একটি চিহ্ন রয়ে গেছে। এরপর তিনি তাকে তালাক দেন এবং মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ বিন হাসান বিন হাসান তাকে বিবাহ করেন। এরপর উসমান বিন উরওয়া বিন যুবায়ের তাকে বিবাহ করেন।
১৬ - আহমদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবুল হাসান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবদুল্লাহ বিন জাফরের কন্যা উম্মে কুলসুমকে কাসিম বিন মুহাম্মদ বিন জাফর বিন আবি তালিব বিবাহ করেন, তাঁর গর্ভে ফাতেমা জন্মগ্রহণ করেন। এরপর আল-জাররাহ অথবা আল-হাজ্জাজ
(২) তাকে বিবাহ করেন, তাঁর গর্ভে একটি কন্যা সন্তান জন্ম নেয়। এরপর তিনি তাকে তালাক দিলে আবান বিন উসমান বিন আফফান তাকে বিবাহ করেন।
১৭ - আহমদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবুল হাসান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: হাসান বিন হাসান বিন আলীর কন্যা উম্মুল কাসিমকে মারওয়ান বিন উসমান বিন আফফান বিবাহ করেন, তাঁর গর্ভে মুহাম্মদ জন্মগ্রহণ করেন। এরপর আলী বিন হুসাইন বিন হাসান বিন আলী তাঁর পাণিগ্রহণ করেন। এরপর হাসান বিন আবদুল্লাহ বিন উবায়দুল্লাহ ইবনে আব্বাস তাকে বিবাহ করেন।
১৮ - আহমদ বলেন: আবুল হাসান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ বিন জাফর বিন আবি তালিবের কন্যা রামলা-কে সুলায়মান বিন হিশাম বিবাহ করেন। এরপর তিনি তাকে তালাক দিলে আবুল কাসিম বিন ওয়ালিদ বিন উতবা বিন আবি সুফিয়ান তাকে বিবাহ করেন। আবদুল্লাহ বিন আলী তাকে হত্যা করেন। এরপর ইসমাইল বিন আলী অথবা সালেহ তাকে বিবাহ করেন।
১৯ - আহমদ বলেন: আবুল হাসান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু উমাইয়া বিন মুগিরার কন্যা কুরিবা
(৩) উমর ইবনুল খাত্তাবের স্ত্রী ছিলেন। তিনি (উমরের সাথে বিচ্ছেদের পর) কাফেরদের নিকট ফিরে গিয়েছিলেন। যখন তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন, তখন মুয়াবিয়া তাকে বিবাহ করেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আল-মুরদিফাতু মিন কুরাইশ - যিমনা নাওয়াদিরিল মাখতুদাত
(পৃষ্ঠা: ৭৭)
ابن أبي سفيان، فقال له أبوه: أتزوج ظعينة أمير المؤمنين؟ أنزل عن ثقله
(1).
فطلقها فتزوجها عبد الرحمن بن أبي بكر، فولدت له محمداً. فكانت عائشة عمته، وأم حبيبة خالته، فكان يدخل عليهما.
20 - أحمد قال: أنبأنا أبو الحسن قال: أسماء بنت عميس، كانت عند جعفر بن أبي طالب
(2)، فولدت له عبد الله، ومحمداً، وعوناً، فتزوجها أبو بكر، فولدت له محمداً، فتزوجها علي عليه السلام، فولدت له يحيى
(3)، فقال لها علي:
احكمي بين بنيك. فقالت: أما بنو جعفر فبنو الطيار في الجنة
(4)، وأما ابن أبي بكر فابن الصديق، وإن ثلاثة أنت أخسها لخيار. فقال علي لابنه: يا بنىّ قد فسكلت أباك
(5).
21 - قال: وكانت عائشة بنت طلحة عند عمر بن عبد الله بن عبد الله ابن معمر ثماني سنين، ومات سنة اثنتين وثمانين، فبكته قائمة. أحمد قال:
أنبأنا أبو الحسن، عن سحيم بن حفص؛ قال: أتاها مصعب وهي نائمة متصبحة
(6)، ومعه ثماني حبات لؤلؤ قيمتها عشرون ألف دينار، ونثر اللؤلؤ في حجرها، فقالت: «نومتي كانت أحب إليَّ من هذا اللؤلؤ!». وولدت عائشة لعبد الله بن عبد الرحمن أولاداً. وجمع مصعب بينها وبين سكينة، ومات مصعب عن سكينة وعائشة وأم حبيب بنت عبد اللّه بن عامر
(7).
--------------------------------------------
ইবনে আবু সুফিয়ান; তার পিতা তাকে বললেন: "তুমি কি আমিরুল মুমিনীনের সহযাত্রী নারীকে বিবাহ করবে? তার মূল্যবান সম্পদ (মর্যাদা) থেকে দূরে সরে যাও
(১)।
অতঃপর তিনি তাকে তালাক দিলেন এবং আব্দুর রহমান ইবনে আবু বকর তাকে বিবাহ করলেন, ফলে তার গর্ভে মুহাম্মাদ জন্মগ্রহণ করল। আয়েশা (রা.) ছিলেন তার ফুফু এবং উম্মে হাবিবা (রা.) ছিলেন তার খালা; তাই তিনি তাদের নিকট প্রবেশ করতেন।
২০ - আহমাদ বলেন: আবুল হাসান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেছেন: আসমা বিনতে উমাইস জাফর ইবনে আবি তালিবের
(২) স্ত্রী ছিলেন, তিনি তাঁর ঔরসে আব্দুল্লাহ, মুহাম্মাদ এবং আউনকে জন্ম দেন। অতঃপর আবু বকর তাঁকে বিবাহ করেন এবং তিনি তাঁর ঔরসে মুহাম্মাদকে জন্ম দেন। এরপর আলী (আলাইহিস সালাম) তাঁকে বিবাহ করেন এবং তিনি তাঁর ঔরসে ইয়াহইয়াকে
(৩) জন্ম দেন। তখন আলী তাঁকে বললেন:
তোমার সন্তানদের মধ্যে বিচার করো। তিনি বললেন: জাফরের সন্তানদের কথা বলতে গেলে, তারা জান্নাতে উড়ন্ত ব্যক্তির (তৈয়ার) সন্তান
(৪); আর আবু বকরের সন্তানের কথা বলতে গেলে, সে সিদ্দীকের সন্তান। আর তুমি যদি এই তিনজনের মধ্যে নিচু পর্যায়েরও হও, তবুও তুমি শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত। তখন আলী তাঁর পুত্রকে বললেন: হে আমার বৎস, সে তো তোমার পিতাকে পেছনে ফেলে দিয়েছে
(৫)।
২১ - তিনি বলেন: আয়েশা বিনতে তালহা আট বছর যাবত উমর ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে মা'মারের স্ত্রী ছিলেন। তিনি ৮২ হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন এবং আয়েশা দাঁড়িয়ে তাঁর জন্য বিলাপ করেছিলেন। আহমাদ বলেন:
আবুল হাসান আমাদের সুহাইম ইবনে হাফসের সূত্রে সংবাদ দিয়েছেন; তিনি বলেন: মুসআব তাঁর নিকট আসলেন যখন তিনি ভোরের ঘুমে
(৬) আচ্ছন্ন ছিলেন। তাঁর সাথে আটটি মুক্তা ছিল যার মূল্য ছিল বিশ হাজার দিনার। তিনি মুক্তাগুলো তাঁর কোলে ছড়িয়ে দিলেন। তখন তিনি বললেন: «আমার এই ঘুম আমার কাছে এই মুক্তার চেয়েও প্রিয় ছিল! »। এবং আয়েশা আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুর রহমানের ঔরসে বেশ কিছু সন্তান জন্ম দেন। মুসআব তাঁকে এবং সুকাইনাকে একত্রে স্ত্রী হিসেবে রেখেছিলেন। মুসআব যখন মৃত্যুবরণ করেন, তখন তাঁর স্ত্রী হিসেবে সুকাইনা, আয়েশা এবং উম্মে হাবিব বিনতে আব্দুল্লাহ ইবনে আমির
(৭) ছিলেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আল-মুরদিফাতু মিন কুরাইশ - যিমনা নাওয়াদিরিল মাখতুদাত
(পৃষ্ঠা: ৭৮)
أحمد قال: أنبأنا أبو الحسن عن أبي إسحاق بن ربيعة قال: قال سلم بن قتيبة: رأيت عائشة بنت طلحة بمكة في المسجد، فسلمت عليها وانتسبت لها، فبكت وقالت: يرحم الله المصعب. فأرادت النهوض فأخذت امرأتان بيديها - وعندها نسوة - فاعتمدت على المرأتين، فما كادت أن تستقل [حتى] خذلها وركاها، فقالت إحدى المرأتين: إنا بك لمتعبات. وكانت مديدة الجسم كثيرة اللحم.
22 - أحمد قال: أنبأنا أبو الحسن قال: ابنة طلحة بن عمر بن عبيد الله كانت عند الحسن بن الحسن بن علي، فكان يقول له: إنها
(1) حملت وولدت وهي ما تكلمني وإنها لمصارمة لي.
23 - امرأة [من] آل أبي بكر: أحمد قال: أنبأنا أبو الحسن قال:
تزوج موسى بن عبد الله بن الحسن امرأة من ولد أبي بكر فغضبت يوماً فأمرت جواري فأمسكنه وضربنه، فأفلت وخرج، فلقيه أخوه إبراهيم فقال: مالك؟
قال: ضربتني ابنة أبى بكر. قال: خذ السوط فو اللّه لئن لم تضربها لا كلمتك.
فدخل وقام إبراهيم على الباب وقال للجواري: يا فواسق، والله لئن منعته واحدة منكن لأدخلن عليكن. وقال لموسى: اضرب وأوجعها. فقال موسى لامرأته:
إنّى زعيم أن أجئ بضرةِ
… مقابلةِ الأجداد، طيبةِ النشرِ
(2)إذا انتسبت في آل شيباز في الذرى
… وتغلبَ لم نقررْ بفضل أبي بكرِ
تحكم أحياناً علينا وتارةً
… تبدى كقرن الشمس أو صورة البدر
(3)--------------------------------------------
আহমাদ বলেন: আবু আল-হাসান আমাদের কাছে আবু ইসহাক বিন রাবিয়াহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সালাম বিন কুতাইবা বলেছেন: আমি মক্কায় মসজিদে আয়িশা বিনতে তালহাকে দেখেছি। আমি তাকে সালাম দিলাম এবং নিজের পরিচয় দিলাম। তিনি কাঁদলেন এবং বললেন: "আল্লাহ মাসআবের ওপর রহম করুন।" এরপর তিনি ওঠার ইচ্ছা করলেন, তখন দুই মহিলা তার দুই হাত ধরল—তখন তার কাছে আরও মহিলারা ছিল—তিনি ওই দুই মহিলার ওপর ভর দিলেন। তিনি সোজা হয়ে দাঁড়াতেই পারছিলেন না, তার নিতম্ব তাকে অক্ষম করে দিচ্ছিল। তখন ওই দুই মহিলার একজন বলল: "আমরা আপনাকে নিয়ে সত্যিই ক্লান্ত হয়ে গেছি।" তিনি দীর্ঘদেহী এবং বেশ স্থূলকায় ছিলেন।
২২ - আহমাদ বলেন: আবু আল-হাসান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: তালহা বিন উমর বিন উবাইদুল্লাহর কন্যা আল-হাসান বিন আল-হাসান বিন আলীর বিবাহবন্ধনে ছিলেন। তিনি (হাসান) তার সম্পর্কে বলতেন: সে
(১) গর্ভধারণ করেছে এবং সন্তান জন্ম দিয়েছে, অথচ সে আমার সাথে কথা বলে না এবং সে আমার সাথে সম্পূর্ণ সম্পর্ক ছিন্ন করে রেখেছে।
২৩ - আবু বকর পরিবারের একজন নারী: আহমাদ বলেন: আবু আল-হাসান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন:
মুসা বিন আব্দুল্লাহ বিন আল-হাসান আবু বকরের বংশধরদের এক নারীকে বিবাহ করেন। একদিন সেই নারী রাগান্বিত হলেন এবং তার দাসীদের আদেশ দিলেন; তারা তাকে (মুসাকে) ধরে ফেলল এবং প্রহার করল। তিনি কোনোমতে পালিয়ে বের হয়ে এলেন। পথে তার ভাই ইব্রাহিমের সাথে তার দেখা হলো। ইব্রাহিম বললেন: "তোমার কী হয়েছে?"
তিনি বললেন: "আবু বকরের মেয়ে আমাকে প্রহার করেছে।" ইব্রাহিম বললেন: "এই চাবুক নাও। আল্লাহর কসম! তুমি যদি তাকে প্রহার না করো, তবে আমি তোমার সাথে কথা বলব না।"
অতঃপর তিনি ভেতরে প্রবেশ করলেন এবং ইব্রাহিম দরজায় দাঁড়িয়ে দাসীদের বললেন: "ওরে পাপিষ্ঠারা! আল্লাহর কসম, তোমাদের কেউ যদি তাকে বাধা দাও তবে আমি তোমাদের ওপর চড়াও হব।" তিনি মুসাকে বললেন: "প্রহার করো এবং তাকে ব্যথিত করো।" তখন মুসা তার স্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বললেন:
নিশ্চয়ই আমি এমন এক সতিন নিয়ে আসার দায়িত্ব নিচ্ছি... যার পূর্বপুরুষগণ অত্যন্ত মর্যাদাবান এবং যার সুঘ্রাণ অতি মনোরম।
… যখন সে উচ্চ মর্যাদার আল শাইবাজ এবং তাগলিব গোত্রে নিজের বংশ পরিচয় দেবে
… তখন আমরা আবু বকরের শ্রেষ্ঠত্বের কাছে হার মানব না।
সে কখনও আমাদের ওপর হুকুম চালায়, আবার কখনও
… উদিত সূর্যের কিরণ অথবা পূর্ণিমার চাঁদের মতো প্রকাশিত হয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আল-মুরদিফাতু মিন কুরাইশ - যিমনা নাওয়াদিরিল মাখতুদাত
(পৃষ্ঠা: ৭৯)
24 - امرأة من تيم. أحمد قال: أنبأنا أبو الحسن قال: وكانت عند يحيى بن عبد اللّه بن الحسن امرأة من بنى تيم، فخاصمته إلى جعفر بن سليمان بالمدينة، فقضى عليها وقال: اذهب بها حيث شئت.
25 - قال: وكانت أم حكيم ابنة يحيى بن الحكم عند سليمان بن عبد الملك، ثم يزيد بن عبد الملك، ثم هشام بن عبد الملك
(1).
26 - قال: وتزوج عبد العزيز بن الوليد أم خالد بنت عبد الله بن أسيد، فغلبته على أمره كله، وكان يقال: عبد العزيز بن الوليد سيد الناس، إلا أن أم خالد قد غلبته على أمره. فأمره الوليد فطلقها.
27 - أم عمرو ابنة عبد الله بن خالد. قال: أم عمرو بنت عبد الله بن خالد بن أسيد، كانت عند سليمان عبد الملك، فقدم خالد وعبد الله، فوصل خالداً وفضله على عبد الله، فقالت أم عمرو: عبد الله أكرم من خالد وفضلته عليه! فقال: ويحك، إني أعرف أن عبد اللّه أسنهما ولكن خالداً كان خاصتي، وكان له عندي يد وأنا صعلوك، فإنما فضلته لذلك.
28 - قال: أنبأنا أبو الحسن قال: كانت دجاجة ابنة أسماء بن الصلت السلمي عند عامر بن كريز بن حبيب بن عبد شمس، فولدت له عبد الله بن عامر
(2). ثم تروّجها عمير الليثي فولدت عبيد بن عمير الفقيه المحدث
(3)، ثم تزوجها الأسود فولدت له عبد الله بن الأسود. فكان يقال لها أم العبادلة
(4).
--------------------------------------------
২৪ - তায়িম গোত্রের এক মহিলা। আহমাদ বলেন: আবুল হাসান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: ইয়াহইয়া ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনুল হাসানের নিকট বনু তায়িম গোত্রের এক মহিলা ছিল। সে মদীনায় জাফর ইবনে সুলাইমানের কাছে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করে। জাফর মহিলাটির বিরুদ্ধে রায় প্রদান করেন এবং বলেন: "তুমি তাকে নিয়ে যেখানে ইচ্ছা যাও।"
২৫ - তিনি বলেন: ইয়াহইয়া ইবনুল হাকামের কন্যা উম্মু হাকীম (স্ত্রী হিসেবে) সুলাইমান ইবনে আব্দুল মালিকের নিকট ছিল, এরপর ইয়াযীদ ইবনে আব্দুল মালিকের নিকট, অতঃপর হিশাম ইবনে আব্দুল মালিকের নিকট।
(১) ২৬ - তিনি বলেন: আব্দুল আযীয ইবনুল ওয়ালীদ আব্দুল্লাহ ইবনে আসীদের কন্যা উম্মু খালিদকে বিবাহ করেন। সে তার সকল বিষয়ের ওপর কর্তৃত্ব বিস্তার করেছিল। বলা হতো: আব্দুল আযীয ইবনুল ওয়ালীদ মানুষের নেতা, কিন্তু উম্মু খালিদ তার ওপর কর্তৃত্ব বিস্তার করে ফেলেছে। অতঃপর ওয়ালীদ তাকে নির্দেশ দিলে তিনি তাকে তালাক প্রদান করেন।
২৭ - আব্দুল্লাহ ইবনে খালিদের কন্যা উম্মু আমর। তিনি বলেন: আব্দুল্লাহ ইবনে খালিদ ইবনে আসীদের কন্যা উম্মু আমর সুলাইমান ইবনে আব্দুল মালিকের নিকট ছিল। একদা খালিদ ও আব্দুল্লাহ উপস্থিত হলে তিনি খালিদকে অনুদান দেন এবং আব্দুল্লাহর ওপর তাকে প্রাধান্য দেন। তখন উম্মু আমর বলল: আব্দুল্লাহ তো খালিদের চেয়েও বেশি সম্মানিত, অথচ আপনি তার ওপর তাকে প্রাধান্য দিলেন! তিনি বললেন: আক্ষেপ তোমার জন্য! আমি জানি যে আব্দুল্লাহ তাদের দুজনের মধ্যে বয়সে বড়, কিন্তু খালিদ আমার ঘনিষ্ঠ ছিল এবং আমি যখন নিঃস্ব ছিলাম তখন আমার প্রতি তার হাত (সহযোগিতা) ছিল; কেবল সেই কারণেই আমি তাকে প্রাধান্য দিয়েছি।
২৮ - তিনি বলেন: আবুল হাসান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আসমা ইবনে সালত আস-সুলামীর কন্যা দাজাজাহ আমির ইবনে কুরাইয ইবনে হাবীব ইবনে আব্দ শামসের নিকট ছিল। সে তার জন্য আব্দুল্লাহ ইবনে আমিরকে জন্ম দেয়।
(২) অতঃপর উমাইর আল-লায়সী তাকে বিবাহ করেন এবং সে ফকীহ ও মুহাদ্দিস উবাইদ ইবনে উমাইরকে জন্ম দেয়।
(৩) এরপর আসওয়াদ তাকে বিবাহ করেন এবং সে তার জন্য আব্দুল্লাহ ইবনে আসওয়াদকে জন্ম দেয়। একারণে তাকে ‘উম্মুল আবাদিলাহ’ (আব্দুল্লাহদের জননী) বলা হতো।
(৪)--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আল-মুরদিফাতু মিন কুরাইশ - যিমনা নাওয়াদিরিল মাখতুদাত
(পৃষ্ঠা: ৮০)
أنبأنا أحمد قال: أنبأنا أبو الحسن عن سحيم بن حفص
(1) قال: كان مصعب ابن الزبير لا يصل إلى عائشة إلا بشدة، ولا بقدر عليها إلا ببلاء حتى يخرق ثيابها ويضربها، فشكا ذلك إلى عبد الله بن أبي فروة كاتبه، فقال له: أفتأذن لي في الحيلة؟ قال: نعم، اصنع ما شئت فإنها أفضل ما نلت من الدنيا. فأتاها ليلاً فاستأذن عليها، فقالت له: هذه الساعة! قال: نعم، ففزعت - ومعه أسودان - فقالت له مولاة لها: ما شأنك؟ قال: شؤم مولاتك، قالت: وما لها؟ قال:
أمرني هذا الفاسق الفاجر، أسفك من خلق الله لدم حرام وأقتله للناس، أن أحتفر بئراً وأدفنها فيه حية. وقد والله حرصت أن يعفيني من هذا، فأمر بقتلي. قالت:
فأنظرني أذهب إليه. قال: لا سبيل إلى ذلك، وقال للأسودين: احفرا. فبكت عائشة ورأت الجد، وقالت: يا ابن أبي فروة، إنك لتقتلني! قال: ما منه بد، وإني لأعلم أن الله سيخزيه، ولكنه قد غضب وهو كافر الغضب. قالت:
فأي شيء أغضبه؟ قال: في امتناعك عليه، وقد ظن أنك تبغضينه وأنك تتطلعين إلى غيره، فقد جن. فقالت: أذكرك الله إلا عاودته. قال: أخاف أن يقتلني. فبكت وجواريها فقال: قد رققت وأنا أغرر بنفسي فما أقول؟ قالت:
اضمن عنى أبى لا أعود أبداً
(2). قال: فأعطيني مواثيق. فأعطته، فقال للأسودين: مكانكما. وأتى مصعباً فأخبره، فقال: استوثق منها بالإيمان.
فأتاها فقال: هذا الفاسق قد سكن بعض السكون وسكن شيطانه، فاحلفي لي أن لا تخالفيه، فوثقت له، وصلحت لمصعب.
نجز الكتاب والحمد لله وحده، وصلى الله على سيدنا محمد وعلى آله وصحبه وسلم
--------------------------------------------
আহমদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেছেন: আবু আল-হাসান আমাদের সুহায়ম বিন হাফস
(১) থেকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: মুসআব ইবনুল জুবাইর আয়েশার নিকট অত্যন্ত কঠোরতা ছাড়া পৌঁছাতে পারতেন না, এবং চরম কষ্ট করা ছাড়া তাকে আয়ত্তে আনতে পারতেন না; এমনকি তিনি তার কাপড় ছিঁড়ে ফেলতেন এবং তাকে প্রহার করতেন। তিনি তার লেখক আবদুল্লাহ বিন আবি ফারওয়ার কাছে এ বিষয়ে অভিযোগ করলেন। সে তাকে বলল: "আপনি কি আমাকে একটি কৌশলের অনুমতি দেবেন?" তিনি বললেন: "হ্যাঁ, তুমি যা চাও করো, কারণ সে দুনিয়াতে আমার পাওয়া শ্রেষ্ঠ নেয়ামত।" সে রাতের বেলা তার কাছে এল এবং ভেতরে প্রবেশের অনুমতি চাইল। তিনি তাকে বললেন: "এই সময়ে?!" সে বলল: "হ্যাঁ।" তিনি আতঙ্কিত হয়ে পড়লেন—তার সাথে ছিল দুইজন কৃষ্ণাঙ্গ ব্যক্তি—তখন তার এক দাসী তাকে বলল: "তোমার কী হয়েছে?" সে বলল: "তোমার কর্ত্রীর দুর্ভাগ্য।" সে জিজ্ঞেস করল: "তার কী হয়েছে?" সে বলল:
এই পাপাচারী দুরাচার ব্যক্তি—যে আল্লাহর সৃষ্টির মধ্যে নিষিদ্ধ রক্তপাতে সবচেয়ে বেশি লিপ্ত এবং মানুষকে হত্যাকারী—সে আমাকে নির্দেশ দিয়েছে যে আমি যেন একটি কূপ খনন করি এবং তাকে তাতে জীবন্ত সমাহিত করি। আল্লাহর কসম, আমি সচেষ্ট ছিলাম যেন তিনি আমাকে এ থেকে অব্যাহতি দেন, কিন্তু তিনি আমাকে হত্যার আদেশ দিয়েছেন। তিনি বললেন:
আমাকে সুযোগ দাও, আমি তার কাছে যাই। সে বলল: "সেটির কোনো পথ নেই।" এবং সে কৃষ্ণাঙ্গ দুজনকে বলল: "খনন করো।" তখন আয়েশা কেঁদে ফেললেন এবং বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুতর হিসেবে দেখলেন। তিনি বললেন: "হে ইবনে আবি ফারওয়া, তুমি তো আমাকে মেরেই ফেলবে!" সে বলল: "এ ছাড়া কোনো উপায় নেই, আর আমি জানি যে আল্লাহ তাকে লাঞ্ছিত করবেন, কিন্তু তিনি রাগান্বিত হয়েছেন এবং তার রাগ সীমা ছাড়িয়ে গেছে।" তিনি বললেন:
"কোন জিনিস তাকে রাগান্বিত করেছে?" সে বলল: "আপনার তাকে প্রত্যাখ্যান করার কারণে। তিনি ধারণা করেছেন যে আপনি তাকে ঘৃণা করেন এবং অন্য কারও প্রতি আপনার দৃষ্টি রয়েছে, ফলে তিনি উন্মাদপ্রায় হয়ে গেছেন।" তিনি বললেন: "আমি তোমাকে আল্লাহর দোহাই দিচ্ছি, তুমি পুনরায় তার কাছে যাও।" সে বলল: "আমি ভয় পাচ্ছি যে তিনি আমাকে মেরে ফেলবেন।" তখন তিনি এবং তার দাসীরা কেঁদে ফেললেন। সে বলল: "আমার মায়া হচ্ছে এবং আমি নিজের জীবনকে ঝুঁকির মুখে ফেলছি, তবে আমি কী বলব?" তিনি বললেন:
"আমার পক্ষ থেকে জামিন হও যে আমি আর কখনো এমনটি করব না
(২)।" সে বলল: "তাহলে আমাকে দৃঢ় অঙ্গীকার দিন।" তিনি তাকে অঙ্গীকার দিলেন। সে কৃষ্ণাঙ্গ দুজনকে বলল: "তোমরা তোমাদের স্থানেই থাকো।" এরপর সে মুসআবের কাছে এসে তাকে সংবাদ দিল। তিনি বললেন: "শপথের মাধ্যমে তার কাছ থেকে বিষয়টি সুনিশ্চিত করো।"
সে তার কাছে এসে বলল: "এই পাপাচারী কিছুটা শান্ত হয়েছে এবং তার শয়তান দমেছে, সুতরাং আমার কাছে শপথ করুন যে আপনি আর তার বিরোধিতা করবেন না।" অতঃপর তিনি তার কাছে অঙ্গীকারাবদ্ধ হলেন এবং মুসআবের সাথে তার সম্পর্ক ঠিক হয়ে গেল।
গ্রন্থটি সমাপ্ত হলো এবং সকল প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর। আমাদের নেতা মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।
--------------------------------------------