(খণ্ড: ১)
আর-রিসালাতুল মিসরিইয়্যাহ - যিমনা নাওয়াদিরিল মাখতুদাত
(পৃষ্ঠা: -)
الرسالة المصرية - ضمن نوادر المخطوطات القسم: البلدان والرحلات
الكتاب: الرسالة المصرية
[مطبوع ضمن كتاب «نوادر المخطوطات»]
المؤلف: أبو الصلت أمية بن عبد العزيز الأندلسى (470 - 528 هـ)
تحقيق: عبد السلام هارون
الناشر: شركة مكتبة ومطبعة مصطفى البابي الحلبي وأولاده بمصر
الطبعة: الثانية، 1393 هـ - 1972 م
عدد الصفحات: 52
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 5 محرم 1444
আর-রিসালাতুল মিসরিয়্যাহ - নাওয়াদিরুল মাখতুতাত-এর অন্তর্ভুক্ত বিভাগ: দেশ ও ভ্রমণবৃত্তান্ত
বই: আর-রিসালাতুল মিসরিয়্যাহ
[«নাওয়adirুল মাখতুতাত» বইটির অন্তর্ভুক্ত হিসেবে মুদ্রিত]
লেখক: আবুস সালত উমাইয়া বিন আব্দুল আজিজ আল-আন্দালুসি (৪৭০ - ৫২৮ হিজরি)
সম্পাদনা: আব্দুস সালাম হারুন
প্রকাশক: মুস্তফা আল-বাবি আল-হালাবি অ্যান্ড সন্স লাইব্রেরি ও প্রেস কোম্পানি, মিশর
সংস্করণ: দ্বিতীয়, ১৩৯৩ হিজরি - ১৯৭২ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫২
[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণ কপির অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৫ মহররম ১৪৪৪
(খণ্ড: ১)
আর-রিসালাতুল মিসরিইয়্যাহ - যিমনা নাওয়াদিরিল মাখতুদাত
(পৃষ্ঠা: ৫)
الرسالة المصرية لأبي الصلت أمية بن عبد العزيز الأندلسي 470 - 528
আবুস সালত উমাইয়াহ বিন আবদুল আজিজ আল-আন্দালুসি-এর মিসরীয় পত্র ৪৭০ - ৫২৮
(খণ্ড: ১)
আর-রিসালাতুল মিসরিইয়্যাহ - যিমনা নাওয়াদিরিল মাখতুদাত
(পৃষ্ঠা: ৬)
مقدمةنزح كثيرون من رجال الأندلس إلى الشرق طلباً للعلم أو المال أو الجاه، أو رغبة في أداء فريضة الحج، وكان من أولئك النازحين إلى مصر رجل جمع إلى الأدب الحكمة، وإلى الطب التنجيم والموسيقى والرياضة، والبراعة في علم الحيل. هذا الرجل هو أبو الصلت أمية بن عبد العزيز بن أبي الصلت، المولود في مدينة دانية، من بلاد الأندلس سنة 470 هـ.
قدم أبو الصلت إلى الإسكندرية ومعه أمه - فيما يروى ابن خلكان - سنة 487، أي في أيام الخليفة الفاطمي المستنصر بالله أبي تميم معد بن الظاهر بالله على بن الحاكم بأمر الله؛ ووزيره إذ ذاك والقائم بأمر دولته الأفضل شاهنشاه ابن أمير الجيوش بدر الجمالي الأرمني.
وكان يأمل أبو الصلت من وراء رحلته هذه بسطةً في العيش، وثراء من المال، كما أشار إلى ذلك في صدر رسالته. ويبدو أنه ظل دهراً خاملاً يتحين الفرص، إلى أن أتيح له أن يتصل بأحد المقربين إلى الوزير الأفضل
(1)، في أيام الخليفة الآمر
(2)، وذلك الرجل هو تاج المعالي مختار
(3)، فخدمه بصناعتى الطبّ
--------------------------------------------
ভূমিকাআন্দালুসের বহু লোক জ্ঞানার্জন, অর্থবিত্ত, মান-মর্যাদার খোঁজে অথবা হজ্জ পালনের ইচ্ছায় প্রাচ্যের দিকে হিজরত করেছিলেন। মিশরে হিজরতকারী সেই ব্যক্তিদের মধ্যে এমন একজন ব্যক্তি ছিলেন, যিনি সাহিত্যের পাশাপাশি প্রজ্ঞা এবং চিকিৎসার পাশাপাশি জ্যোতির্বিদ্যা, সংগীত, গণিত ও প্রকৌশল বিদ্যায় পারদর্শিতা অর্জন করেছিলেন। এই ব্যক্তি হলেন আবুস সলত উমাইয়া বিন আব্দুল আজিজ বিন আবিস সলত, যিনি ৪৭০ হিজরি সনে আন্দালুসের দানিয়া শহরে জন্মগ্রহণ করেন।
ইবনে খাল্লিকানের বর্ণনা অনুযায়ী, আবুস সলত ৪৮৭ হিজরি সনে তার মায়ের সাথে আলেকজান্দ্রিয়ায় আসেন; অর্থাৎ ফাতেমি খলিফা আল-মুস্তানসির বিল্লাহ আবু তামিম মা'দ বিন আজ-জহির বিল্লাহ আলী বিন আল-হাকিম বি-আমরিল্লাহর শাসনামলে। তখন তার উজির এবং রাষ্ট্রীয় কার্যাবলী পরিচালনাকারী ছিলেন আল-আফদাল শাহেনশাহ বিন আমিরুল জুয়ুশ বদর আল-জামালি আল-আরমানি।
আবুস সলত তার এই সফরের মাধ্যমে সচ্ছল জীবন ও অগাধ ধন-সম্পদের আশা করেছিলেন, যেমনটি তিনি তার চিঠির শুরুতে ইঙ্গিত দিয়েছেন। মনে হয় তিনি দীর্ঘ সময় অখ্যাত অবস্থায় সুযোগের অপেক্ষায় ছিলেন, শেষ পর্যন্ত খলিফা আল-আমিরের যুগে উজির আল-আফদালের জনৈক ঘনিষ্ঠ ব্যক্তির সাথে যোগাযোগের সুযোগ পান। সেই ব্যক্তিটি ছিলেন তাজুল মা'আলি মুখতার, তিনি তাকে চিকিৎসা শাস্ত্রের সেবার মাধ্যমে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রিসালাতুল মিসরিইয়্যাহ - যিমনা নাওয়াদিরিল মাখতুদাত
(পৃষ্ঠা: ৭)
والتنجيم، فأعجب به، ووصفه بحضرة الأفضل وأثنى عليه، وكان كاتب الأفضل ينفس عليه ذلك، ويخشى بأس تاج المعالي، وحدث أن تتابعت من تاج المعالي السقطات فأدى ذلك إلى أن يقبض عليه الأفضل ويعتقله، فيجد كاتب الأفضل الفرصة سانحة للقضاء على أبي الصلت، فيختلق له ما يدفع الأفضل إلى أن يلقى به في سجن المعونة
(1) بمصر، مدة ثلاث سنين وشهر
(2)، بعد الذي دبج فيه من المدائح والشعر
(3).
ويروى ابن أبي أصيبعة في طبقات الأطباء. أن دخول أبي الصلت إلى مصر كان في حدود سنة 510 هـ، وأنه حبس في الإسكندرية في خلافة الآمر بأحكام الله ووزارة الأفضل
(4). فإن صحت هذه الرواية كانت سنداً في أن أبا الصلت ورد مرة أخرى بعد وفاة ولي نعمته أبي الطاهر يحيى بن تميم بن المعز ابن باديس
(5) المتوفى سنة 509، وهي سنة خروجه من مصر.
--------------------------------------------
এবং জ্যোতিষশাস্ত্র; এতে তিনি অভিভূত হলেন এবং আল-আফদালের উপস্থিতিতে তার প্রশংসা করলেন ও গুণগান গাইলেন। আল-আফদালের লেখক এতে তার প্রতি ঈর্ষান্বিত হলেন এবং তাজুল মা’আলীর প্রতাপকে ভয় পেলেন। এক পর্যায়ে তাজুল মা’আলীর পক্ষ থেকে একের পর এক বিচ্যুতি ঘটতে থাকল, যার ফলে আল-আফদাল তাকে পাকড়াও ও বন্দি করলেন। এতে আল-আফদালের লেখক আবুস সালতকে শেষ করে দেওয়ার এক সুবর্ণ সুযোগ পেয়ে গেলেন। তিনি আল-আফদালের কাছে এমন কিছু বানোয়াট তথ্য উপস্থাপন করলেন যা তাকে আবুস সালতকে মিশরের 'হাবসুল মাউনা' (সহায়তা কারাগার)
(১)-এ নিক্ষেপ করতে প্ররোচিত করল। সেখানে তিনি তিন বছর এক মাস বন্দি ছিলেন
(২), অথচ এর আগে তিনি আল-আফদালের প্রশংসায় অনেক স্তুতিবাক্য ও কবিতা রচনা করেছিলেন
(৩)।
ইবনে আবি উসাইবিয়া 'তাবাকাতুল আতিব্বা' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন যে, মিশরে আবুস সালতের প্রবেশ ছিল ৫১০ হিজরি সালের দিকে এবং তিনি খলিফা আল-আমির বি-আহকামিল্লাহর শাসনামলে ও আল-আফদালের মন্ত্রী থাকাকালীন আলেকজান্দ্রিয়ায় কারারুদ্ধ হন
(৪)। যদি এই বর্ণনাটি সঠিক হয়, তবে এটি একটি প্রমাণ হিসেবে কাজ করে যে, আবুস সালত তার অভিভাবক আবু তাহির ইয়াহইয়া বিন তামিম বিন আল-মুইজ ইবনে বাদিসের
(৫) (মৃত্যু ৫০৯ হিজরি) মৃত্যুর পর পুনরায় মিশরে এসেছিলেন, আর ৫০৯ হিজরিই ছিল তার প্রথমবার মিশর ত্যাগের বছর।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রিসালাতুল মিসরিইয়্যাহ - যিমনা নাওয়াদিরিল মাখতুদাত
(পৃষ্ঠা: ৮)
ضاق أبو الصلت ذرعاً بمصر، وما لقى فيها من الخيبة والعنت. قال القفطي
(1):
«ودخل مصر في أيام أفضلها فلم ينل منه إفضالاً، وقصده للنيل فلم يجد لديه نوالاً». فحينئذ شد رحاله إلى المغرب في سنة 506، واستعاد صلته بحضرة أبي الطاهر يحيى بن تميم بن باديس، الذي وضع له هذه «الرسالة المصرية».
يصف له فيها ما عاينه في مصر وما عاناه، وتناول في هذه الرسالة القيمة:
1 - الوصف البلداني للديار المصرية ونيلها.
2 - ثم أخذ في تصوير جمال ربوعها ومغانيها تارة بالشعر وأخرى بالنثر.
3 - وعقب على ذلك بالكلام في سكانها وأجناسهم ومذاهبهم وأخلاقهم وعقائدهم، منذ عهد الفراعنة إلى ظهور الإسلام.
4 - وتحدث بعد ذلك فيما تحتويه من الآثار العجيبة، كالهرمين والبرابي.
5 - وذكر عواصم مصر في القديم والحديث.
6 - وقدامى العلماء من اليونان والروم، مستطرداً بذلك إلى ندرة من لقيه بمصر من المشتغلين بالعلم والحكمة والطب.
7 - وعجب من جهل من لقي بها من الأطباء، ونوه بفضل بعض الأطباء البارعين.
8 - وتحدث في ولوع المصريين بأحكام النجوم وكثرة استعمالهم لها، وأورد في ذلك نوادر وطرائف.
9 - ثم عرج على ذكر من لقيه بها من الأدباء والظرفاء.
فهذه الرسالة تضرب بأسباب إلى علوم وفنون شتى، وتعدّ اليوم كما عدت
--------------------------------------------
আবুস সালত মিশরে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিলেন এবং সেখানে যে ব্যর্থতা ও লাঞ্ছনার সম্মুখীন হয়েছিলেন তাতে তিনি বিরক্ত ছিলেন। আল-কিফতি
(১) বলেছেন:
«তিনি মিশরের শ্রেষ্ঠ দিনগুলোতে সেখানে প্রবেশ করেছিলেন কিন্তু তার থেকে কোনো অনুগ্রহ লাভ করেননি; তিনি বদান্যতার উদ্দেশ্যে তার কাছে গিয়েছিলেন কিন্তু কোনো দান খুঁজে পাননি»। অতঃপর তিনি ৫০৬ হিজরিতে মাগরিবের দিকে যাত্রা করেন এবং আবু তাহির ইয়াহইয়া ইবনে তামিম ইবনে বাদিসের দরবারের সাথে পুনরায় সম্পর্ক স্থাপন করেন, যার জন্য তিনি এই «আর-রিসালাতুল মিসরিয়্যাহ» (মিশরীয় পত্র) রচনা করেছিলেন।
এতে তিনি মিশরে যা প্রত্যক্ষ করেছেন এবং যা ভোগ করেছেন তার বর্ণনা দিয়েছেন। এই মূল্যবান পত্রে তিনি আলোচনা করেছেন:
১ - মিশরীয় ভূখণ্ড এবং এর নীল নদের ভৌগোলিক বর্ণনা।
২ - অতঃপর তিনি কখনও কবিতার মাধ্যমে আবার কখনও গদ্যের মাধ্যমে এর বিভিন্ন অঞ্চল ও আবাসস্থলের সৌন্দর্যের চিত্র তুলে ধরেছেন।
৩ - এরপর তিনি ফেরাউনদের যুগ থেকে ইসলামের আবির্ভাব পর্যন্ত এর অধিবাসী, তাদের জাতিসত্তা, মাজহাব, চরিত্র এবং আকিদা-বিশ্বাস নিয়ে আলোচনা করেছেন।
৪ - এরপর তিনি সেখানে বিদ্যমান বিস্ময়কর প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনসমূহ, যেমন দুই পিরামিড এবং প্রাচীন মন্দিরগুলো নিয়ে কথা বলেছেন।
৫ - তিনি মিশরের প্রাচীন ও আধুনিক রাজধানীগুলোর কথা উল্লেখ করেছেন।
৬ - গ্রিক ও রোমক দেশীয় প্রাচীন আলেম বা পণ্ডিতদের কথা আলোচনা করেছেন, সেই সাথে মিশরে বিজ্ঞান, প্রজ্ঞা ও চিকিৎসাশাস্ত্রে নিয়োজিত ব্যক্তিদের মধ্যে যাদের সাথে তার সাক্ষাৎ হয়েছিল, তাদের স্বল্পতার কথা প্রাসঙ্গিকভাবে উল্লেখ করেছেন।
৭ - সেখানে যে চিকিৎসকদের সাথে তার সাক্ষাৎ হয়েছিল তাদের মূর্খতায় তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেছেন এবং কিছু দক্ষ চিকিৎসকের শ্রেষ্ঠত্ব তুলে ধরেছেন।
৮ - জ্যোতিষশাস্ত্রের বিধানের প্রতি মিশরীয়দের আসক্তি এবং এর ব্যাপক ব্যবহারের কথা আলোচনা করেছেন এবং এ বিষয়ে কিছু বিরল ও কৌতুকপূর্ণ ঘটনা উল্লেখ করেছেন।
৯ - পরিশেষে তিনি সেখানে যেসব সাহিত্যিক ও রুচিবান ব্যক্তিদের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন তাদের বর্ণনায় ফিরে এসেছেন।
সুতরাং এই পত্রটি বিভিন্ন বিজ্ঞান ও কলার সাথে নিবিড় সম্পর্ক রাখে এবং আজও একে গণ্য করা হয় যেমনটি আগে করা হতো...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রিসালাতুল মিসরিইয়্যাহ - যিমনা নাওয়াদিরিল মাখতুদাত
(পৃষ্ঠা: ৯)
بالأمس، وثيقة يرجع إليها البلداني، والمؤرخ، وباحث الآثار، والاجتماعي، والحكيم، والطبيب، والمنجم، والأديب.
هذه الرسالة الصغيرة الحجم العظيمة القدر كانت متعارفة متداولة بين كبار العلماء والمؤرخين، ثم أضحت نادرة مجهولة، إلى أن تمكن المغفور له العلامة أحمد تيمور باشا - طيب الله ثراه - من اقتنائها في مكتبته الخاصة، وهي برقم 601 أدب. وعلى هذه النسخة الوحيدة في العالم - كما يتضح من مراجعة فهارس بروكلمان
(1) - أعتمد في نشر هذه الرسالة الفريدة، التي أورد طرفاً منها ياقوت في «إرشاد الأريب»، والعماد في «الخريدة»، والقفطي في «إخبار العلماء»، وابن أبي أصيبعة في «عيون الأنباء»، والأسعد بن مماتي في «قوانين الدولة»، والمقرى في «نفح الطيب»، والمقريزي في «الخطط»، والأدفوى في «الطالع السعيد»، والسّيوطى في «حسن المحاضرة»، كما سيتضح لك عند تحقيق نصوصها.
ولأبي الصلت غير الرسالة المصرية «كتاب الحديقة» على أسلوب «يتيمة الدهر» للثعالبي، وقد نقل منه العماد في «الخريدة». وله أيضاً «الأدوية المفردة» وهو محفوظ في مكتبة بودليان؛ و «رسالة في العمل بالأسطرلاب» في برلين وليدن وبودليان، و «تقويم الذهن» في المنطق، بمكتبة الإسكوريال، و «أوراق من كتاب في الفلك» بالإسكريال، و «كتاب في المعاني المختلفة للفظة نقطة» في مكتبة ليدن، و «قصيدة» بمكتبة برلين.
--------------------------------------------
গতকালের এই দলিলটি ভূগোলবিদ, ঐতিহাসিক, প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষক, সমাজবিজ্ঞানী, মনীষী, চিকিৎসক, জ্যোতির্বিদ এবং সাহিত্যিকদের নিকট একটি আকর গ্রন্থ।
আকারে ক্ষুদ্র হলেও গুরুত্বের দিক থেকে মহিমান্বিত এই পত্রটি (রিসালাহ) বরেণ্য আলেম ও ঐতিহাসিকদের নিকট সুপরিচিত ও প্রচলিত ছিল। পরবর্তীতে এটি দুর্লভ ও বিস্মৃত হয়ে পড়ে, যতক্ষণ না মরহুম আল্লামা আহমদ তাইমুর পাশা - আল্লাহ তাঁর সমাধিকে সুগন্ধিময় করুন - এটি তাঁর ব্যক্তিগত লাইব্রেরির জন্য সংগ্রহ করতে সমর্থ হন; এর সংগ্রহ নম্বর হলো ৬০১ (সাহিত্য)। বিশ্বের এই একমাত্র পাণ্ডুলিপিটির ওপর ভিত্তি করেই - যা ব্রোকলম্যানের সূচিপত্র
(১) পর্যালোচনা করলে স্পষ্ট হয় - আমি এই অনন্য পত্রটি প্রকাশের কাজে নির্ভর করেছি। এর কিছু অংশ ইয়াকুত তাঁর «ইরশাদুল আরিব», ইমাদ «আল-খারিদাহ», কিফতি «ইখবারুল উলামা», ইবনে আবি উসাইবিয়াহ «উয়ুনুল আনবা», আসআদ ইবনে মামাতি «কাওয়ানিনুদ দাওলাহ», মাকারি «নাফহুত তিব», মাকরিজি «আল-খিতাত», আদফুয়ি «আত-তালিউস সাঈদ» এবং সুয়ূতি «হুসনুল মুহাদারা» গ্রন্থে উদ্ধৃত করেছেন। এর মূল পাঠ্যসমূহ সম্পাদনার সময় বিষয়টি আপনার কাছে আরও স্পষ্ট হবে।
আবু আল-সলতের 'মিশরীয় পত্র' (আর-রিসালাতুল মিসরিয়্যাহ) ছাড়াও «কিতাবুল হাদিকা» নামক একটি গ্রন্থ রয়েছে, যা আস-সাআলিবির «ইয়াতিমাতুদ দাহর»-এর শৈলীতে রচিত। ইমাদ তাঁর «আল-খারিদাহ» গ্রন্থে এটি থেকে উদ্ধৃতি দিয়েছেন। এছাড়াও তাঁর «আল-আদউইয়াতুল মুফরাদাহ» রয়েছে যা বোডলিয়ান লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত; বার্লিন, লাইডেন ও বোডলিয়ান লাইব্রেরিতে রয়েছে «রিসালাহ ফিল আমালি বিল আসতুরলাব» (অ্যাস্ট্রোলেব ব্যবহারের নিয়মাবলি সংক্রান্ত পত্র); এস্কোরিয়াল লাইব্রেরিতে রয়েছে তর্কশাস্ত্র বিষয়ক «তাকউিমুল জিহন»; এস্কোরিয়ালেই রয়েছে «জ্যোতির্বিদ্যা বিষয়ক গ্রন্থের কিছু পাতা»; লাইডেন লাইব্রেরিতে রয়েছে «নুকতাহ (বিন্দু) শব্দের বিভিন্ন অর্থ বিষয়ক গ্রন্থ» এবং বার্লিন লাইব্রেরিতে তাঁর একটি «কাসিদা» (কবিতা) রয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রিসালাতুল মিসরিইয়্যাহ - যিমনা নাওয়াদিরিল মাখতুদাত
(পৃষ্ঠা: ১০)
وقد صنف معظم هذه الكتب وهو في اعتقال الأفضل بمصر، كما نص ابن خلكان.
انتهت أيام أبي الصلت في المهدية، وقد اختلف المؤرخون في سنة وفاته، فقيل سنة 520 وقيل سنة 528
(1).
وإليك الرسالة:
--------------------------------------------
এবং তিনি এই বইগুলোর অধিকাংশ রচনা করেছেন যখন তিনি মিশরে আল-আফদালের কারাবাসে ছিলেন, যেমনটি ইবনে খাল্লিকান উল্লেখ করেছেন।
মাহদিয়াতে আবুস সালতের দিনগুলো শেষ হলো, এবং ঐতিহাসিকগণ তাঁর মৃত্যুসন নিয়ে মতভেদ করেছেন; বলা হয়ে থাকে ৫২০ হিজরি এবং বলা হয়ে থাকে ৫২৮ হিজরি
(১)।
আর এই হলো সেই রিসালা:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রিসালাতুল মিসরিইয়্যাহ - যিমনা নাওয়াদিরিল মাখতুদাত
(পৃষ্ঠা: ১১)
بسم الله الرحمن الرحيم
قال الشيخ أبو الصلت أمية بن عبد العزيز بن أبي الصلت رحمه الله تعالى:
كنت إبان عصر الشباب مونق، وغصن الصّبا مورق.
إذ لمتي مسودة
… ولماء وجهي رونق
(1)ممن سامحه الدهر بغفلة من غفلاته، وتجافى له عن غفوة من غفواته، فعاش آمن السرب، سائغ الشرب، لا يتفرغ من أدب يرود رياضه، ويرد حياضه، إلا إلى طرب يعمر ميدانه؟؟؟، ويسحب ذيوله وأردانه. ثم تلون فقلب لي ظهر مجنه، وسقاني دردى دنه، فتدارك ما أغفله، واسترد ما بذله، واضطررت إلى مفارقة الوطن، والخروج عن العطن، فتماسكت إشفاقاً من مفارقة أول أرض مس جلدي ترابها، وشدت على التمائم بها
(2). وجاءت أمور لا تطاق كبار، فلما لم يمكن القرار، ولم يبق إلا الفرار، قلت: ليس لي إلا أن أرمي بنفسي كل مرمى، وأطرحها كل مطرح.
لأبلغ عذرا أو أنالَ رغيبة
… ومبلغ نفس عذرها مثل منجح
(3)وسكت إلى البيت المشهور:
--------------------------------------------
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
শায়খ আবুস সালত উমাইয়া বিন আব্দুল আজিজ বিন আবুস সালত (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) বলেন:
আমি ছিলাম আমার যৌবনকালের সূচনালগ্নে লাবণ্যময়, আর শৈশবের ডালপালা ছিল সবুজ-শ্যামল।
যখন আমার চুলের গুচ্ছ ছিল কৃষ্ণবর্ণ
… এবং আমার চেহারার লাবণ্যে ছিল দীপ্তি
(১)আমি তাদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম যাদের প্রতি কাল বা সময় তার অসতর্ক মুহূর্তগুলোতে উদারতা দেখিয়েছে এবং তার তন্দ্রাচ্ছন্ন অবস্থায় বিমুখতা প্রকাশ করেছে; ফলে সে নিরাপদ ও শান্তিতে বসবাস করেছে, তার পানীয় ছিল সুস্বাদু। সে সাহিত্যের বাগিচায় বিচরণ করা এবং তার সরোবরে উপস্থিত হওয়া থেকে অবসর পেলেই কেবল এমন উল্লাস ও আনন্দে লিপ্ত হতো যা তার প্রাঙ্গণকে মুখরিত রাখত এবং তাতে সে তার কাপড়ের আঁচল ও আস্তিন টেনে হেলেদুলে বেড়াত। এরপর সময়ের রঙ বদলে গেল এবং তা আমার প্রতি বিমুখ হলো, আর আমাকে তার জারের তলানি পান করালো। সে যা অবহেলা করেছিল তা সংশোধন করল এবং যা দান করেছিল তা ফিরিয়ে নিল। ফলে আমি স্বদেশ ত্যাগ করতে এবং আপন আবাসভূমি থেকে বেরিয়ে যেতে বাধ্য হলাম। আমি সেই প্রথম ভূমির বিচ্ছেদ ভয়ে নিজেকে সংবরণ করার চেষ্টা করলাম, যার মাটি আমার চামড়া স্পর্শ করেছিল এবং যেখানে আমার রক্ষাকবচসমূহ বাঁধা হয়েছিল
(২)। এরপর এমন সব গুরুতর বিষয় উপস্থিত হলো যা অসহনীয় ছিল। যখন স্থির থাকা আর সম্ভব হলো না এবং পলায়ন ব্যতীত আর কোনো উপায় থাকল না, তখন আমি বললাম: এখন প্রতিটি সম্ভাব্য গন্তব্যে নিজেকে নিক্ষেপ করা এবং প্রতিটি স্থানে নিজেকে সঁপে দেওয়া ছাড়া আমার আর কোনো উপায় নেই।
যাতে আমি ওজর পেশ করার অবস্থানে পৌঁছাতে পারি অথবা কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন করতে পারি
… আর যে ব্যক্তি নিজের ওজর পেশ করার পর্যায়ে পৌঁছায়, সে সফল ব্যক্তির মতোই
(৩)এবং আমি প্রসিদ্ধ সেই কবিতাটির দিকে ধাবিত হলাম:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রিসালাতুল মিসরিইয়্যাহ - যিমনা নাওয়াদিরিল মাখতুদাত
(পৃষ্ঠা: ১২)
تلقى بكل بلاد إن حللت بها
… أهلاً بأهل وأوطاناً بأوطان
(1)وإن كان يقول العامة: ليس بين بلد وبلد نسب، فخير البلاد ما حملك - فجعلت أستقري البلاد لأتيمم أوفقها للمقام، وأعونها على مقارعة الأيام، فكانت مصر مما وقع عليه إختياري، وصدقت حسن ظني قبل اختباري، وسرت قاصداً إليها أعتسف المجاهل والتنائف، وأخوض المهالك والمتالف، فطوراً أمتطي كل حالكة الإهاب
(2)، مسودة الجلباب، ثابتة كصبغة الشباب، قد فسح ميدانها، ووضع براحة الريح عنانها، فجرت جري الطرف الجموح، وفاتت مدى الطرف الطموح؛ وطوراً كل نقب الأياطل، كالهياطل
(3)، سبط المشافر جعد الأشعار، أحتذى العقيق، أو الصنو الشقيق، إن علاقات ظليم خاضب، وإن هوى قلت شهاب ثاقب، يصل الذميل بالوخاد
(4)، وبلتهم التهائم والنجاد. فكم جزع واد جزعته، وجلباب ليل أدرعته، وكم بر خرقت مخارمه وفجاجه، وبحر شققت غواربه وأمواجه، وليس لي غير مصر مقصد، ولا وراءها مذهب، ولا دونها للغنى متطلب.
وكم في الأرض من بلد ولكن
… عليك لشقوتي وقع اختياري
فلما تغمّرت ركابي من النيل، واستذرت بظل المقطم، ألقيت عصا التسيار، واستقرت بي النوى، وخفت ظهورهن من الرحال، وأرحتهن من الحل والترحال، وقلت: ضالتي المنشودة، وبغيتي المقصودة، هاهنا ألبث وأقيم،
--------------------------------------------
আপনি যেখানেই পদার্পণ করবেন প্রতিটি দেশেই পাবেন
... স্বজনের পরিবর্তে স্বজন এবং স্বদেশের পরিবর্তে স্বদেশ।
(১)যদিও সাধারণ মানুষ বলে থাকে: 'এক দেশের সাথে অন্য দেশের কোনো আত্মীয়তা নেই', তবে সর্বোত্তম দেশ সেটিই যা আপনাকে ধারণ করে। তাই আমি বসবাসের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত এবং প্রতিকূল সময়ের মোকাবিলায় সবচেয়ে বেশি সহায়ক স্থানটি খুঁজে বের করার উদ্দেশ্যে দেশগুলো পর্যবেক্ষণ করতে শুরু করলাম। অবশেষে মিশরই আমার পছন্দের স্থানে পরিণত হলো এবং আমার অভিজ্ঞতার পূর্বেই তা আমার সুধারণাকে সত্য প্রমাণ করল। আমি তার সংকল্প করে অজানা মরুপ্রান্তর ও জনহীন কান্তার পাড়ি দিয়ে এবং ধ্বংসাত্মক ও বিপজ্জনক পথ অতিক্রম করে যাত্রা করলাম। কখনো আমি কৃষ্ণবর্ণের আবরণবিশিষ্ট জলযানে আরোহণ করেছি, যা দেখতে কালো চাদরের মতো এবং তার রং যৌবনের রঞ্জনের মতো চিরস্থায়ী; যার বিচরণক্ষেত্র প্রশস্ত করা হয়েছে এবং বাতাসের করতলে যার লাগাম রাখা হয়েছে। ফলে তা দুর্দান্ত তেজি ঘোড়ার মতো দ্রুতবেগে ধাবিত হয় এবং উচ্চাভিলাষী দৃষ্টির সীমানাকে ছাড়িয়ে যায়। আবার কখনো আমি শীর্ণ পার্শ্বদেশবিশিষ্ট উটে চড়েছি যা নেকড়ের মতো ক্ষিপ্রগতির, যার ওষ্ঠাধর দীর্ঘ এবং লোমগুলো কোঁকড়ানো। আমি রক্তিম আকিক পাথর অথবা তার সদৃশ মরুভূমির লাল বালুকারাশির ওপর দিয়ে পথ চলেছি। যখন সে উঁচুতে ওঠে, মনে হয় যেন রঞ্জিত উটপাখি; আর যখন নিচে নামে, মনে হয় যেন এক উজ্জ্বল উল্কাপিণ্ড। সে মন্থর গতির সাথে দ্রুত গতিকে মিলিয়ে দেয় এবং সমতল ও উচ্চভূমি বিদীর্ণ করে। কত উপত্যকা আমি অতিক্রম করেছি, কত নিশীথিনীর অন্ধকার চাদর আমি পরিধান করেছি। কত স্থলপথের গিরিপথ ও প্রশস্ত পথ আমি পাড়ি দিয়েছি এবং সমুদ্রের উত্তাল তরঙ্গ ও ঢেউরাজি চিরে এগিয়ে গিয়েছি। মিশর ব্যতীত আমার অন্য কোনো গন্তব্য ছিল না, তার বাইরে যাওয়ার কোনো পথ ছিল না এবং সমৃদ্ধি অর্জনের জন্য তাকে ছাড়া অন্য কোনো উপায় ছিল না।
পৃথিবীতে কত দেশই না রয়েছে, কিন্তু
... আমার দুর্ভাগ্যবশত তোমার ওপরই আমার পছন্দ স্থির হয়েছে।
অতঃপর যখন আমার বাহন নীল নদের পানিতে সিক্ত হলো এবং আমি মোকাত্তাম পাহাড়ের ছায়াতলে আশ্রয় নিলাম, তখন আমি আমার সফরের যষ্টি নামিয়ে রাখলাম এবং আমার গন্তব্য স্থির হলো। বাহনগুলোর পিঠ থেকে হাওদা ও আসবাবপত্রের ভার নেমে গেল এবং আমি সেগুলোকে নিরন্তর ভ্রমণ ও যাত্রার ক্লান্তি থেকে মুক্তি দিলাম। আমি বললাম: এটাই আমার কাঙ্ক্ষিত হারানো বস্তু, এটাই আমার অন্বেষিত লক্ষ্য; এখানেই আমি অবস্থান করব এবং বসতি স্থাপন করব।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রিসালাতুল মিসরিইয়্যাহ - যিমনা নাওয়াদিরিল মাখতুদাত
(পৃষ্ঠা: ১৩)
فلا أبرح ولا أريم، «بلذة طيبة ورب غفور». وحيث التفت فروضه وغدير، وخورنق وسدير، وظل ظليل، ونسيم عليل.
وكم تمنيت أن ألقى بها أحداً
… يسلى من الهم أو يعدى على النوب
(1)فما وجدت سوى قوم إذا صدقوا
… كانت مواعيدهم كالآل في الكذب
(2)وكان لي سبب قد كنت أحسبني
… أحظى به فإذا دائي من السبب
فما مقلم أظفاري سوى قلمي
… ولا كتائب أعدائي سوى كتبي
(3)ولم تطل مدة اللبث حتى تبينت بما شاهدته أنى فيها مبخوس البضاعة، موكوس الصناعة، مخصوص بالإهانة والإضاعة؛ وأن عيشها الرغد، مقصور على الوغد، وعقابها المر، موقوف على الحر، فلو تقدمت فعلمت ذلك لخف عنها مركبي
(4) وصرفت إلى سواها وجه مطلبي، ولكان لي في الأرض مرمى شاسع، ومنتاب واسع، بل تثبطت، حتى تورطت، حتى عوملت بما يعامل به ذوو الجرائر والذنوب، وجرعت من المذلة بأوفى ذنوب. هذا مع ما حبرته من المدح التي اشتهرت شهرة الصباح، وهبت هبوب الرياح، ولهج بها الحادي والملاح
(5).
فسار بها من لا يسير مشمراً
… وغنى بها من لا يغني مغرداً
إلا أن الله جلت آلاؤه، وقدست أسماؤه، تدارك برحمته فأزال تلك المحنة بالمنحة، ونسخ تلك النقمة بالنعمة، وختم بالوصول إلى حضرة الملك الأجل أبي الطاهر يحيى بن تميم بن المعز بن باديس، الذي لم تزل حضرته مصاد
--------------------------------------------
আমি সরব না বা প্রস্থান করব না, "উত্তম আনন্দ ও ক্ষমাশীল রবের সান্নিধ্যে"। যেখানেই আমি দৃষ্টি ফিরাই সেখানেই বাগান ও জলাশয়, প্রাসাদ ও কানন, সুনিবিড় ছায়া ও মৃদু মন্দ বাতাস।
আমি কতই না আকাঙ্ক্ষা করেছি যে সেখানে এমন কারো দেখা পাব
… যে দুশ্চিন্তা দূর করবে অথবা বিপদে সাহায্য করবে
(১)কিন্তু আমি এমন এক সম্প্রদায় ছাড়া আর কাউকে পাইনি যারা যদি সত্যও বলে
… তবে তাদের প্রতিশ্রুতিগুলো মিথ্যার দিক থেকে মরীচিকার মতোই হয়ে থাকে
(২)আমার একটি উপায় ছিল যা নিয়ে আমি ভাবতাম যে
… আমি এর দ্বারা সৌভাগ্য লাভ করব, কিন্তু দেখা গেল আমার রোগটি সেই উপায় থেকেই জন্মেছে
আমার কলম ছাড়া আমার নখ কাটার আর কেউ নেই
… আর আমার গ্রন্থগুলো ছাড়া আমার শত্রুদের কোনো সৈন্যবাহিনী নেই
(৩)আমার অবস্থানের সময় দীর্ঘ হয়নি যতক্ষণ না আমি যা প্রত্যক্ষ করেছি তা দ্বারা আমার কাছে স্পষ্ট হয়েছে যে, সেখানে আমার পুঁজি তুচ্ছ, আমার শিল্প মূল্যহীন এবং আমি বিশেষভাবে অবজ্ঞা ও অবহেলার পাত্র; আর সেখানকার স্বাচ্ছন্দ্যময় জীবন কেবল নীচদের জন্য নির্ধারিত, এবং সেখানকার তিক্ত শাস্তি কেবল স্বাধীনচেতাদের জন্য নির্দিষ্ট। যদি আমি আগেভাগে তা জানতাম তবে আমার যাত্রাপথ হালকা হতো
(৪) এবং আমি আমার গন্তব্য অন্য দিকে ঘুরিয়ে দিতাম। পৃথিবীর প্রশস্ত প্রান্তরে আমার জন্য বিশাল লক্ষ্যস্থল এবং বিচরণভূমি থাকত। বরং আমি দ্বিধাগ্রস্ত ছিলাম, এমনকি আমি বিপদে জড়িয়ে পড়লাম এবং আমার সাথে অপরাধী ও পাপীদের মতো আচরণ করা হলো। আমি লাঞ্ছনার পেয়ালা পূর্ণমাত্রায় পান করলাম। আর এটি ঘটল সেই সুনিপুণ প্রশংসা কাব্যগুলো রচনার পরেও যা প্রভাতের আলোর মতো প্রসিদ্ধি লাভ করেছিল, বাতাসের মতো প্রবাহিত হয়েছিল এবং যা উষ্ট্রচালক ও নাবিকদের মুখে মুখে ছিল
(৫)।
ফলে তা নিয়ে এমন ব্যক্তি পথ চলেছে যে কখনো দ্রুত চলেনি
… আর তা গেয়েছেন এমন ব্যক্তি যিনি কখনো সুমিষ্ট স্বরে গাননি
তবে আল্লাহ—যাঁর নেয়ামতসমূহ মহিমান্বিত এবং যাঁর নামসমূহ পবিত্র—তাঁর রহমত দ্বারা আমাকে উদ্ধার করলেন। ফলে তিনি সেই বিপদকে দানে এবং সেই আযাবকে নেয়ামতে রূপান্তরিত করলেন। আর তিনি মহান সম্রাট আবু তাহির ইয়াহিয়া বিন তামিম বিন আল-মুইজ বিন বাদিসের দরবারে পৌঁছানোর মাধ্যমে এর পরিসমাপ্তি ঘটালেন, যাঁর দরবার সর্বদা...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রিসালাতুল মিসরিইয়্যাহ - যিমনা নাওয়াদিরিল মাখতুদাত
(পৃষ্ঠা: ১৪)
العناة
(1)، ومراد العفاة، ومجتمع الفضائل، ومنتجع الأفاضل، ومشرع الجود، ومشعر الوفود. فلما استترت بجناحه، واستظهرت باستماحه، أعذب لي بسماحة الدهر جناه، واعتذر لي مما جناه، فكف دوني كفه، وصرف عني صرفه.
كريم رفضت الناس لما بلغته
… كأنهم ما خف من زاد قادم
فكنت فيما مضيت عليه، وآلت حالي إليه، من إشراقها بعد الأفول، وإيراقها بعد الذبول، كنصل أهمل أمره، من جهل قدره، ولما وقع إلى الخبير به صان صفحته وحده، وحلى حمائله وغمده، ثم ادخره فيما يدخر وأعده، فإن انتضاه، يوماً ارتضاه، وإن جرده، أحمده، وإن هزه، سره في الضريبة حزه.
ولكن أبى الله أن يكون الفضل إلا لمن نشأ في مغارسه، ونجم في منابته، وربى في جحره، وغذى بدره.
فلم أستسغ إلا نداه فلم يكن
… ليعدل عندي ذا الجناب جناب
فما كل إنعام يخف احتماله
… وإن هطلت منه علىّ رباب
(2)ولكن أجلّ الصنع ما جىّ ربه
… ولم يأت باب دونه وحجاب
وما شئت إلا أن أدل عواذلي
… على أن رأيي في هواك صواب
(3)وأعلم قوماً خالفوني فشرقوا
… وغربت أني قد ظفرت وخابوا
والأولى أن أضرب عما سلف، وأترك ما فرط، وآخذ فيما أجريت إليه وقصدته، ونحوته واعتمدته، مما آثرت به الحضرة السامية
(4) - أدام الله
--------------------------------------------
বন্দীদের আশ্রয়স্থল, যাঞ্চাকারীদের উদ্দেশ্য, শ্রেষ্ঠ গুণাবলির মিলনকেন্দ্র, গুণীজনদের বিচরণভূমি, দানশীলতার উৎস এবং আগত প্রতিনিধিদের মিলনস্থল। যখন আমি তাঁর ডানার আশ্রয়ে প্রচ্ছন্ন হলাম এবং তাঁর মহানুভবতার সাহায্য প্রার্থনা করলাম, তখন মহাকাল তার দাক্ষিণ্যের মাধ্যমে আমার কাছে তার ফলকে সুমিষ্ট করে তুলল এবং সে আমার প্রতি ইতিপূর্বে যা করেছিল তার জন্য যেন ওজর পেশ করল; ফলে সে আমার দিক থেকে তার হাত গুটিয়ে নিল এবং তার প্রতিকূলতাকে আমার থেকে সরিয়ে দিল।
তিনি এমন এক মহানুভব, যাঁর নিকট পৌঁছানোর পর আমি অন্য সব মানুষকে ত্যাগ করেছি... যেন তারা কোনো আগন্তুকের সেই পাথেয় যা তুচ্ছ হওয়ার কারণে বর্জন করা হয়েছে।
অতঃপর আমি অতীতে যে অবস্থায় ছিলাম এবং বর্তমানে আমার অবস্থা যে রূপ ধারণ করেছে—অস্ত যাওয়ার পর পুনরায় উদিত হওয়া এবং শুকিয়ে যাওয়ার পর সজীব হওয়ার মতো—তা ঠিক সেই তরবারির ফলার মতো, যার মূল্য না জানার কারণে যাকে অবহেলা করা হয়েছিল। কিন্তু যখন তার সমঝদার বা বিশেষজ্ঞ ব্যক্তির নিকট সেটি পৌঁছাল, তখন তিনি এর উজ্জ্বলতাকে রক্ষা করলেন, এর অলঙ্কার ও খাপকে সজ্জিত করলেন, অতঃপর সেটিকে বিশেষ সময়ের জন্য জমা রাখলেন। যদি কোনোদিন তিনি তা কোষমুক্ত করেন, তবে তিনি সন্তুষ্ট হবেন; আর যদি তা উন্মুক্ত করেন, তবে তিনি তার প্রশংসা করবেন; আর যদি তিনি তা নাড়াচাড়া করেন, তবে লক্ষ্যবস্তুতে তার নিখুঁত কর্তন ক্ষমতা তাঁকে আনন্দিত করবে।
কিন্তু আল্লাহ এটিই অবধারিত করেছেন যে, শ্রেষ্ঠত্ব কেবল তাদেরই হবে যারা এর চারা রোপণের স্থানে বড় হয়েছে, এর উৎপত্তিস্থলে বিকশিত হয়েছে, এর কোলে লালিত-পালিত হয়েছে এবং এর দুগ্ধে পুষ্টি লাভ করেছে।
আমি তাঁর দান ব্যতীত অন্য কিছুই গ্রহণ করিনি, তাই তাঁর সান্নিধ্যের সমতুল্য অন্য কোনো সান্নিধ্য আমার কাছে হতে পারে না।
সব অনুগ্রহ বহন করা সহজ নয়, যদিও তা মেঘমালা হতে আমার উপর বর্ষিত হয়।
(২)কিন্তু সর্বোত্তম অনুগ্রহ সেটিই যা তার দাতা নিজেই প্রদান করেন... এবং যার মাঝে কোনো দ্বার বা অন্তরায় থাকে না।
আমি কেবল আমার নিন্দুকদের এটিই দেখাতে চেয়েছিলাম যে, আপনার ভালোবাসার বিষয়ে আমার সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল।
(৩)আর আমি সেই সম্প্রদায়কে জানাতে চাই যারা আমার বিরোধিতা করে পূর্বে চলে গিয়েছিল এবং আমি পশ্চিমে গিয়েছিলাম যে, আমি সফল হয়েছি আর তারা ব্যর্থ হয়েছে।
আর এখন এটিই সমীচীন হবে যে, যা গত হয়েছে তা আমি পরিহার করি, যা অতিক্রান্ত হয়েছে তা ত্যাগ করি এবং যে দিকে আমি ধাবিত হয়েছি, যা ইচ্ছা করেছি, যে পথ অবলম্বন করেছি এবং যার ওপর নির্ভর করেছি—অর্থাৎ এই উচ্চমর্যাদা সম্পন্ন দরবারে
(৪) যা আমি নিবেদন করেছি—তা বর্ণনা করতে শুরু করি—আল্লাহ তা স্থায়িত্ব দান করুন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রিসালাতুল মিসরিইয়্যাহ - যিমনা নাওয়াদিরিল মাখতুদাত
(পৃষ্ঠা: ১৫)
سموها - من وصف ما عانيته من أرض مصر وعاينته، والاقتصار على الذي رأيته دون ما رويته، فليس من يقول: علمت هذا من طريق العلم والسماع، كمن يقول: تحققته بالمشاهدة والاطلاع، فإن ذا اللب الأمين لا ينخدع بمحال، ولا يرضى بانتحال.
وأنا أبتدئ بذكر هذه البلاد وموقعها في المعمورة ومجرى النيل منها، وغنائه فيها، وأشفع ذلك بنبذ من ذكر أحوال أهلها في أخلاقهم، وسيرهم وعاداتهم، وما يتصل بذلك وينجرّ معه، ويجيء بسببه، ويدخل في تضاعيفه.
وها أنا ذا آخذ في ذلك، وبالله أستعين، وعليه التوكل.
(1) أرض مصر بأسرها واقعة من المعمورة في قسمي الإقليم الثاني والإقليم الثالث، ومعظمها في الثالث.
وحكى المعتنون بأخبارها وتواريخها أن حدها في الطول
(2) من مدينة برقة التي في جنوب البحر الرومي، إلى أيلة من ساحل الخليج الخارج من بحر الحبشة والزنج والهند والصين. ومسافة ذلك قريب من أربعين يوما.
قالوا: وحدها في العرض من مدينة أسوان وما سامتها من الصعيد الأعلى المتاخم لأرض النوبة، إلى رشيد
(3) وما حاذاها من مساقط النيل في البحر الرومي، ومسافة ذلك قريب من ثلاثين يوماً. ويكتنفها من مبدئها في العرض إلى منتهاها جبلان [أحدهما في الضفة الشرقية من النيل، وهو المقطم، والآخر في الضفة الغربية منه. والنيل منسرب فيما بينهما. وهما
(4)] أجردان غير شامخين، يتقاربان
--------------------------------------------
তারা এর নামকরণ করেছেন - মিসর ভূমিতে আমি যা ভোগ করেছি এবং প্রত্যক্ষ করেছি তার বর্ণনা থেকে, এবং আমি যা দেখেছি তার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকেছি, যা বর্ণিত হয়েছে তা নয়। কেননা, যে ব্যক্তি বলে: 'আমি এটি জ্ঞান ও শ্রুতির মাধ্যমে জেনেছি', সে ঐ ব্যক্তির মতো নয় যে বলে: 'আমি পর্যবেক্ষণ ও দর্শনের মাধ্যমে এটি নিশ্চিত করেছি'। কেননা বিশ্বস্ত বিবেকবান ব্যক্তি অসম্ভব দ্বারা প্রতারিত হয় না এবং কোনো প্রকার মিথ্যা আরোপে সন্তুষ্ট হয় না।
আমি এই দেশসমূহের আলোচনা, জনবসতিপূর্ণ পৃথিবীতে এর অবস্থান, এতে নীল নদের প্রবাহ এবং সেখানে এর উপকারিতা বর্ণনার মাধ্যমে শুরু করছি। এর সাথে আমি সেখানকার অধিবাসীদের চরিত্র, জীবনযাত্রা ও অভ্যাস সংক্রান্ত অবস্থা এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট, এর অনুগামী ও এর কারণে উদ্ভূত বিষয়সমূহ যা এর অন্তর্ভুক্ত হয়, তা সংক্ষেপে যোগ করব।
এখন আমি তা শুরু করছি, আমি আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করছি এবং তাঁরই ওপর ভরসা করছি।
(১) সমগ্র মিসর ভূমি জনবসতিপূর্ণ পৃথিবীর দ্বিতীয় ও তৃতীয় জলবায়ু অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত, যার অধিকাংশ তৃতীয় অঞ্চলে অবস্থিত।
এর সংবাদ ও ইতিহাসের প্রতি যত্নশীলগণ বর্ণনা করেছেন যে, লম্বালম্বিভাবে এর সীমানা রোমান সাগরের দক্ষিণে অবস্থিত বারকা শহর থেকে শুরু করে হাবশা, জাঞ্জ, ভারত ও চীন সাগর থেকে উদ্ভূত উপসাগরের উপকূলবর্তী আয়লা পর্যন্ত বিস্তৃত। এই পথের দূরত্ব প্রায় চল্লিশ দিনের।
তাঁরা বলেছেন: চওড়াভাবে এর সীমানা আসওয়ান শহর এবং উচ্চ মিসরের নুবিয়া ভূখণ্ডের সংলগ্ন অঞ্চল থেকে শুরু করে রাশিদ এবং এর সমান্তরালে রোমান সাগরে নীল নদের মোহনা পর্যন্ত বিস্তৃত। এর দূরত্ব প্রায় ত্রিশ দিনের। এর প্রস্থের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত দুটি পাহাড় একে পরিবেষ্টন করে আছে [একটি নীল নদের পূর্ব তীরে, যা হলো মুকাত্তাম এবং অন্যটি এর পশ্চিম তীরে। নীল নদ এই দুইয়ের মাঝখান দিয়ে প্রবাহিত। এই পাহাড় দুটি] বৃক্ষলতাহীন এবং খুব একটা উঁচু নয়, তারা একে অপরের নিকটবর্তী হয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রিসালাতুল মিসরিইয়্যাহ - যিমনা নাওয়াদিরিল মাখতুদাত
(পৃষ্ঠা: ১৬)
جداَ في وضعيهما، من لدن مدينة أسوان إلى أن ينتهي إلى الفسطاط، فثم تتسع مسافة ما بينهما وتنفرج قليلاً، ويأخذ المقطم منهما مشرقاً والآخر مغرباً على وراب في أخذيهما
(1) وتفريج
(2) في مسلكيهما، فتتسع أرض مصر من الفسطاط إلى ساحل البحر الرومي الذي عليه الفرماء
(3) وتنيس ودمياط ورشيد والاسكندرية، وهناك تنقطع في عرضها الذي هو مسافة [ما بين] أوغلها في الجنوب و [أوغلها] في الغرب والشمال. وإذا ما مسحت بالطريق البرهانية في طريق هذه المسافة [من الأميال
(4)] لم تبلغ ثلاثين ميلاً
(5)، بل تنقص عنها نقصاً ما له قدر، وذلك لأن فضل ما بين عرض أسوان التي هي أوغلها في الجنوب وعرض مدينة تنيس التي هي أوغلها في الشمال، تسعة أجزاء ونحو سدس جزء من الأجزاء التي بها تحيط الدائرة العظمى، [وهي
(6)] ثلاثمائة وستون جزءاً. وليس بين طوليهما فضل يقع بسببه في هذا الحساب ماله قدر يعتد به. فإذا ضاعفنا هذا العدد بما يخص الدرجة الواحدة من محاذاة ذلك من الأميال، وذلك ستة وخمسون ميلاً وثلثا ميل على ما دل علية البرهان، كان ذلك
(7) نحو خمسمائة وعشرين ميلاً بالتقريب، وذلك مسافة سير عشرين يوماً أو قريب من ذلك
(8). وفي هذه المدة من الزمان يقطع السفار أبدا ما بين هذين البلدين بالسير المعتدل في أكثر من ذلك قليلاً، لما في الطريق من التعريج وعدم الاستقامة
(9).
--------------------------------------------
তাদের অবস্থানে অত্যন্ত সংকীর্ণ, আসওয়ান শহর থেকে শুরু করে ফুসতাত পর্যন্ত; এরপর তাদের মধ্যবর্তী দূরত্ব প্রশস্ত হয় এবং কিছুটা উন্মুক্ত হয়ে যায়। সেগুলোর একটি অর্থাৎ মুকাত্তাম পর্বত পূর্ব দিকে এবং অন্যটি পশ্চিম দিকে বক্রভাবে তাদের গতিপথ
(১) ও চলাচলের পথের প্রশস্ততায়
(২) অগ্রসর হয়। এভাবে মিশরের ভূমি ফুসতাত থেকে রোম সাগরের উপকূল পর্যন্ত প্রশস্ত হয়, যার ওপর আল-ফারামা
(৩), তেনিস, দমিইয়াত, রশিদ এবং আলেকজান্দ্রিয়া অবস্থিত। সেখানে এর প্রস্থে এসে শেষ হয়, যা হলো এর দক্ষিণের দূরতম বিন্দু এবং পশ্চিম ও উত্তরের [দূরতম বিন্দুর] মধ্যবর্তী দূরত্ব। আর যদি এই দূরত্বের পথে [মাইলসমূহের
(৪)] প্রমাণসিদ্ধ উপায়ে পরিমাপ করা হয়, তবে তা ত্রিশ মাইলে
(৫) পৌঁছাবে না, বরং তার চেয়ে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কম হবে। আর তা এজন্য যে, আসওয়ানের অক্ষাংশ যা দক্ষিণের দূরতম প্রান্ত এবং তেনিস শহরের অক্ষাংশ যা উত্তরের দূরতম প্রান্ত, এই দুটির মধ্যবর্তী ব্যবধান হলো নয় ভাগ এবং এক ভাগের প্রায় এক-ষষ্ঠাংশ—সেই ভাগগুলোর মধ্যে যা দ্বারা মহাবৃত্ত পরিবেষ্টিত, [আর তা হলো
(৬)] তিনশ ষাট ভাগ। আর তাদের দ্রাঘিমাংশের মধ্যে এমন কোনো উল্লেখযোগ্য ব্যবধান নেই যা এই গণনায় কোনো প্রভাব ফেলবে। সুতরাং আমরা যদি এই সংখ্যাকে প্রতি ডিগ্রির সমপরিমাণ মাইল দ্বারা গুণ করি—যা প্রমাণ অনুযায়ী ছাপান্ন মাইল এবং এক মাইলের দুই-তৃতীয়াংশ—তবে তা
(৭) আনুমানিক পাঁচশ বিশ মাইলের মতো হবে। আর এটি হলো বিশ দিনের সফরের দূরত্ব বা তার কাছাকাছি
(৮)। আর এই সময়ের মধ্যেই মুসাফিরগণ সর্বদা এই দুই শহরের মধ্যবর্তী পথ সাধারণ গতিতে অতিক্রম করেন, তবে রাস্তার বক্রতা ও অসরলতার কারণে তা থেকে কিছুটা বেশি সময় লাগে
(৯)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রিসালাতুল মিসরিইয়্যাহ - যিমনা নাওয়াদিরিল মাখতুদাত
(পৃষ্ঠা: ১৭)
وليس تشتمل أرض مصر بعد الفسطاط الذي هو مقر الملك وكرسي الدولة، على مدائن لها قدر في كثرتها ولا فخامتها، لكن أجل مدائنها وأفخرها أما في الجهة الشمالية من الفسطاط فالاسكندرية وتنيس ودمياط، وأما في الجهة الجنوبية إلى أقصى الصعيد فقوص وقفط. فهذه صفة أرض مصر على الجملة.
(1) وأما النيل فينبوعه من وراء خط الاستواء، من جبل هناك يعرف بجبل القمر، فإنه يبتدئ بالتزيد في شهر أبيب
(2)، الذي هو بالرومية يولية
(3).
والمصريون يقولون: «إذا دخل أبيب، كان للماء دبيب». وعند ابتدائه في التزيد
(4) تتغير جميع كيفياته وتفسد، والسبب الموجب لذلك مروره بنقائع مياه آجنة
(5) يخالطها فيجتلبها، ويستخرجها معه ويستصحبها، إلى غير ذلك مما يحتمل
(6). فتصير مثل الحال التي وصفه بها الأمير تميم بن المعز لدين الله:
أما ترى الرعد بكى فاشتكى
… والبرق قد أومض فاستضحكا
(7)فاشرب على غيم كصبغ الدجى
… أضحك وجه الأرض لما بكى
(8)[وقد حكى العود أنين الهوى
… لكنّه جوّد فيما حكى]
(9)--------------------------------------------
ফুসতাতের পর মিসর ভূখণ্ডে—যা রাজকীয় আবাসস্থল ও রাষ্ট্রের কেন্দ্র—এমন কোনো শহর নেই যা সংখ্যা বা মহিমায় বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ। তবে এর সবচেয়ে মহান ও গৌরবময় শহরগুলোর মধ্যে ফুসতাতের উত্তর দিকে রয়েছে আলেকজান্দ্রিয়া, তেনিস এবং দমইয়াত। আর দক্ষিণ দিকে উর্ধ্ব-মিসরের শেষ প্রান্ত পর্যন্ত রয়েছে কুস এবং কিফত। এটিই হলো মোটামুটিভাবে মিসর ভূখণ্ডের বর্ণনা।
(১) আর নীল নদের কথা বলতে গেলে, এর উৎস বিষুবরেখার ওপারে অবস্থিত একটি পাহাড় থেকে, যা সেখানে 'জাবালুল কামার' (চন্দ্র পাহাড়) নামে পরিচিত। এটি আবিব মাসে
(২) বৃদ্ধি পেতে শুরু করে, যা রোমান ক্যালেন্ডারে জুলাই
(৩) মাস।
আর মিসরীয়রা বলে থাকে: "যখন আবিব প্রবেশ করে, পানির স্রোত সঞ্চারিত হয়।" এর বৃদ্ধি
(৪) শুরু হওয়ার সময় পানির সমস্ত গুণাগুণ পরিবর্তিত ও দূষিত হয়ে যায়। এর কারণ হলো এটি কিছু স্থবির পচা পানির ডোবা
(৫) অতিক্রম করে, যা এর সাথে মিশ্রিত হয়ে যায় এবং এটি সেগুলোকে সাথে টেনে আনে ও বের করে আনে। এছাড়াও আরও কিছু কারণ থাকতে পারে
(৬)। তখন এর অবস্থা ঠিক সেরকম হয়ে যায় যা আমির তামিাম বিন আল-মুইজ লি-দিনিল্লাহ বর্ণনা করেছেন:
তুমি কি দেখছ না যে মেঘের গর্জন কেঁদে অভিযোগ করছে... এবং বিদ্যুৎ চমকিয়ে হাসছে?
(৭)অতএব গাঢ় অন্ধকারের মতো মেঘের ছায়ায় পান করো... যা কেঁদে জমিনের মুখকে হাসিয়েছে।
(৮)[এবং উদ যেন প্রেমের হাহাকার বর্ণনা করছে... তবে সে যা বর্ণনা করেছে তা চমৎকারভাবেই করেছে]
(৯)--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রিসালাতুল মিসরিইয়্যাহ - যিমনা নাওয়াদিরিল মাখতুদাত
(পৃষ্ঠা: ১৮)
وانظر لماء النيل في مده
… كأنما صندل أو مسكا
أو كما قال غيره من أهل العصر، من قصيدة يصف فيها أرض مصر:
ولله مجرى النيل منها إذا الصّبا
… أرتنا به في مرها عسكراً مجرا
(1)فشط يهز السمهرية ذبلا
… وموج يهز البيض هندية تبرا
إذا مدّ حاكى الورد غضا وإن صفا
… حكى ماءه لونا ولم يعده نشرا
(2)وهذا نظير ما أنشدنيه عبد الله بن سرية لنفسه:
راقني النهر صفاء
… بعد شوقي لصفائه
كان مثل الورد غضا
… ثم قد صار كمائه
ولأبي بكر الصنوبري
(3) في مثل هذا المعنى:
ولقد طربت إلى الفرا
… ت بكل ذي كرم ومجد
والشمس عند غروبها
… صفراء مذهبة الفرند
والماء حاشيتاه
… خضراوان من آس ورند
(4)تحبوه أيدي الريح إن
… هبت على قرب وبعد
بطرائف من فضة
… وطرائف من لازورد
والسفن كالطير انبرت
… في الجو من مثنى وفرد
حتى إذا جزر الفرا
… ت مضى وأعقبه بمدّ
(5)--------------------------------------------
নীল নদের পানির জোয়ারের সময় তার দিকে তাকাও
… যেন তা চন্দন বা কস্তুরী।
অথবা সমসাময়িক অন্য কবি যেমনটি বলেছেন, একটি কসিদায় যেখানে তিনি মিশরের ভূমির বর্ণনা করেছেন:
আল্লাহর কসম, মিশরে নীল নদের প্রবাহ যখন পুবালি বাতাস
… তার বয়ে চলার মাঝে আমাদের এক বিশাল বাহিনী দেখায়
(১)।
তখন এর তীর সোজা ও মসৃণ বল্লম নাড়ায়
… আর এর ঢেউগুলো হিন্দুস্তানি খাঁটি ও উজ্জ্বল তলোয়ার নাড়ায়।
যখন এর পানির বাড়বৃদ্ধি ঘটে, তখন তা তাজা গোলাপের সাদৃশ্য লাভ করে; আর যখন স্বচ্ছ হয়
… তখন তা রঙের দিক থেকে গোলাপ জলকে অনুকরণ করে এবং সুঘ্রাণেও তার ব্যতিক্রম হয় না
(২)।
এটি আব্দুল্লাহ বিন সারিয়্যাহ আমাকে নিজের রচিত যে কবিতা শুনিয়েছিলেন তার অনুরূপ:
নদীটির স্বচ্ছতা আমাকে মুগ্ধ করেছে
… এর স্বচ্ছতা দর্শনের তীব্র আকাঙ্ক্ষার পর।
এটি ছিল সতেজ গোলাপের মতো
… অতঃপর এটি গোলাপ জলের মতো (স্বচ্ছ) হয়ে গেল।
আর একই অর্থে আবু বকর আস-সুনোবরী
(৩)-এর কবিতা:
আমি ফোরাত নদীর দর্শনে আনন্দিত হয়েছি
… সম্মান ও মর্যাদাসম্পন্ন প্রত্যেক ব্যক্তির সাথে।
এবং সূর্যাস্তের সময় সূর্য ছিল
… হলুদ বর্ণধারী, যেন সোনার প্রলেপ মাখানো উজ্জ্বল তলোয়ার।
পানির দুই প্রান্ত
… আস এবং রান্দ বৃক্ষ দ্বারা সুশোভিত ও সবুজ হয়ে ছিল
(৪)।
বাতাসের হাতগুলো তাকে উপহার দেয়, যখন
… তা নিকট থেকে বা দূর থেকে প্রবাহিত হয়।
রূপার কারুকাজখচিত উপঢৌকন
… এবং নীলকান্তমণির দুর্লভ উপহার দ্বারা।
আর নৌকাগুলো যেন আকাশে ডানা মেলা পাখির মতো
… জোড়ায় জোড়ায় অথবা এককভাবে।
পরিশেষে যখন ফোরাতের ভাটা
… চলে গেল এবং তার পিছু পিছু জোয়ার এল
(৫)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রিসালাতুল মিসরিইয়্যাহ - যিমনা নাওয়াদিরিল মাখতুদাত
(পৃষ্ঠা: ১৯)
أبصرته وكأنه
… ملقى عليه رداء ورد
متململاً كالصب أو
… ذن من أحبته بصد
وكأنما بحشاه ما
… بحشاي من قلق ووجد
وقال تميم المعز، وأحسن التشبيه
(1):
يوم لنا بالنيل مختصر
… وبكل يوم مسرة قصر
والسفن تصعد كالخيول بنا
… فيه وجيش الماء ينحدر
فكأنما أمواجه غرف
… وكأنما داراته سرر
وقال محمد بن الحسن:
النهر مكسو من الأزهار
… برداً أنيقاً مثل ثوب
…يجري بمسك أو بذوب نضار
(2)وإذا استقام رأيت صفحة منصل
… وإذا استدار رأيت عطف سوار
وقال أبو الحسن محمد بن الوزير، في تدرج زيادة الماء إصبعاً إصبعاً، ومنفعة ذلك التدرج:
أرى أبداً كثيراً من قليل
… وبدراً في الحقيقة من هلال
فلا تعجب فكل قليل ماء
… بمصر مسبب لخليج مال
زيادة إصبع في كل يوم
… زيادة أذرع في حسن حال
فإذا كان في الخامس عشر ذراعاً وزاد من السادس عشر إصبعاً واحدة كسر الخليج
(3).
ولكسره يوم معدود، ومقام مشهود، ومجتمع غاص، يحضره العام والخاص. وإذا كسر فتحت التّرع - وهي فوّهات الخلجان - ففاض الماء
--------------------------------------------
আমি তাকে দেখলাম যেন
… তার ওপর একটি গোলাপের চাদর বিছানো রয়েছে
প্রেমিকের মতো অস্থির বা
… যাকে তার প্রিয়জনরা বিমুখ হয়ে ত্যাগ করেছে
যেন তার অন্তরে রয়েছে সেই
… উদ্বেগ ও তীব্র অনুরাগ যা আমার অন্তরে বিদ্যমান
তামীম আল-মুইয বলেছেন, এবং তিনি চমৎকার উপমা দিয়েছেন
(১):
নীল নদের তীরে আমাদের একটি সংক্ষিপ্ত দিন
… আর আনন্দের প্রতিটি দিনই সংক্ষিপ্ত হয়
জাহাজগুলো আমাদের নিয়ে ঘোড়ার মতো ওপরে উঠে
… আর সেখানে পানির স্রোত নিচের দিকে ধাবিত হয়
যেন এর ঢেউগুলো একেকটি কক্ষ
… আর এর আবর্তনগুলো একেকটি পালঙ্ক
মুহাম্মদ ইবনুল হাসান বলেছেন:
নদীটি ফুলে ফুলে আচ্ছাদিত
… যেন একটি চমৎকার ও পরিপাটি চাদর
…এটি মিশক অথবা গলিত স্বর্ণের প্রবাহ নিয়ে বয়ে চলে
(২)যখন এটি সোজা পথে চলে, আপনি যেন একটি উন্মুক্ত তরবারির ঝিলিক দেখেন
… আর যখন এটি বাঁক নেয়, আপনি যেন একটি চুড়ির ভাঁজ দেখেন
আবু আল-হাসান মুহাম্মদ ইবনুল উযাইর, পানির উচ্চতা এক আঙ্গুল এক আঙ্গুল করে বৃদ্ধি পাওয়া এবং সেই ক্রমবৃদ্ধির উপকারিতা সম্পর্কে বলেছেন:
আমি সর্বদা সামান্য থেকেই বেশির উদ্ভব দেখি
… আর প্রকৃতপক্ষে হিলাল (সরু চাঁদ) থেকেই পূর্ণিমার চাঁদের সৃষ্টি হয়
কাজেই আশ্চর্যান্বিত হবেন না, কেননা মিশরের প্রতিটি সামান্য পরিমাণ পানিই
… সম্পদের খালের কারণ হয়ে দাঁড়ায়
প্রতিদিন এক আঙ্গুল পরিমাণ বৃদ্ধি
… মূলত সামগ্রিক অবস্থার উন্নতির ক্ষেত্রে কয়েক হাত বৃদ্ধির সমান
অতঃপর যখন পানির উচ্চতা পনের হাত হয় এবং ষোলো হাতের কোঠায় আরও এক আঙ্গুল পরিমাণ বৃদ্ধি পায়, তখন খালটি উন্মুক্ত করা হয়
(৩)।
এটি উন্মুক্ত করার জন্য একটি নির্ধারিত দিন, একটি সুপরিচিত স্থান এবং একটি বিশাল জনসমাবেশ রয়েছে, যেখানে সাধারণ ও বিশিষ্ট সর্বস্তরের মানুষ উপস্থিত থাকেন। যখন এটি উন্মুক্ত করা হয়, তখন খালগুলোর মুখসমূহ—যা খালের প্রবেশদ্বার—খুলে দেওয়া হয় এবং পানি উপচে প্রবাহিত হয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রিসালাতুল মিসরিইয়্যাহ - যিমনা নাওয়াদিরিল মাখতুদাত
(পৃষ্ঠা: ২০)
وساح، وعم الغيطان والبطاح
(1)، وانضم الناس إلى أعلى مساكنهم من الضياع والمنازل، وهي على آكام وربى لا ينتهي إليها الماء، ولا يتسلط السيل عليها، فتعود عند ذلك أرض مصر بأسرها بحراً غامراً لما بين جبليها المكتنفين لها.
وتثبت على هذه الحال ريثما يبلغ الحد المحدود، في مشيئة الرب المعبود. وأكثر ذلك يحوم حول ثمانية عشر ذراعاً، ثم يأخذ عائداً في منصبه، إلى مجرى النيل [ومسربه، فينضب أولاً عما كان
(2)] من الأرض مشرفا عاليا، وبصير فيما كان منها متطامناً
(3)، فيترك كل قرارة كالدرهم، ويغادر كل تلعة كالبرد المسهم. وفي هذا الوقت من السنة تكون أرض مصر أحسن شيء منظراً، ولا سيما متنزهاتها المشهورة، ودياراتها المطروقة، كالجزيرة، وبركة الحبش
(4) وما جرى مجراها من المواضع التي يطرقها أهل الخلاعة، وينتابها ذو والأدب والطرب.
واتفق أن خرجنا في مثل هذا الزمان إلى بركة الحبش، فافترشنا من زهرها أحسن بساط، واستظللنا من دوحها بأوفى رواق، وطلعت علينا من زجاجات الأقداح شموس في خلع البدور، ونجوم
(5) بالصفاء تنور، إلى أن جرى ذهب الأصيل على لجين الماء، ونشبت نار الشفق بفحمة الظلماء، فقال في ذلك بعضنا
(6)--------------------------------------------
এবং তা ছড়িয়ে পড়ল এবং মাঠ-ঘাট ও সমভূমিকে প্লাবিত করল
(১)। মানুষ তাদের খামার ও ঘরবাড়ির সবচেয়ে উঁচু অংশগুলোতে আশ্রয় নিল; যেগুলো টিলা ও পাহাড়ের ওপর অবস্থিত, যেখানে পানি পৌঁছাতে পারে না এবং প্লাবন যার ওপর প্রাধান্য বিস্তার করতে পারে না। তখন সমগ্র মিসর ভূমি তার দুই পার্শ্বস্থ পাহাড়ের মধ্যবর্তী স্থানে একটি নিমজ্জিত সমুদ্রে পরিণত হয়।
এটি এই অবস্থায় স্থির থাকে যতক্ষণ না তা মাবুদ রবের ইচ্ছায় নির্ধারিত সীমায় পৌঁছায়। এর উচ্চতা অধিকাংশ সময় আঠারো হাতের কাছাকাছি থাকে, অতঃপর তা তার পূর্বস্থানে, নীল নদের মূল প্রবাহে [ও তার গতিপথে ফিরে যেতে শুরু করে। ফলে ভূমি থেকে পানি প্রথমে সেই অংশ থেকে শুকিয়ে যায় যা উঁচু ও উন্নত ছিল, এবং তা নিচু ভূমির দিকে ধাবিত হয়
(৩)। তখন প্রতিটি গর্তকে দিরহামের ন্যায় গোল এবং প্রতিটি উঁচু টিলাকে নকশা করা চাদরের ন্যায় রেখে যায়। বছরের এই সময়ে মিসর ভূমি দর্শনে সবচেয়ে সুন্দর মনে হয়, বিশেষ করে এর সুপ্রসিদ্ধ বিহারস্থল ও জনাকীর্ণ এলাকাগুলো; যেমন জাজিরা ও বিরকাতুল হাবাশ
(৪) এবং এ জাতীয় অন্যান্য স্থানসমূহ যেখানে আমোদ-প্রমোদকারীরা যাতায়াত করে এবং সাহিত্য ও সংগীতানুরাগী ব্যক্তিরা ভিড় জমায়।
একদা আমরা এমন এক সময়ে বিরকাতুল হাবাশের উদ্দেশ্যে বের হলাম। আমরা সেখানকার ফুল দিয়ে চমৎকার শয্যা বিছিয়ে নিলাম এবং বড় বড় গাছের সুনিবিড় ছায়াতলে আশ্রয় নিলাম। পানপাত্রের কাঁচ থেকে পূর্ণিমার চাঁদের পোশাকে সূর্যের উদয় হলো এবং স্বচ্ছতায় নক্ষত্ররাজী
(৫) উদ্ভাসিত হলো, যতক্ষণ না পড়ন্ত বিকেলের স্বর্ণালী আভা পানির রূপালী রঙের ওপর ছড়িয়ে পড়ল এবং গোধূলির লাল আভা অন্ধকারের কৃষ্ণিমায় দাউদাউ করে জ্বলে উঠল। তখন আমাদের মধ্য থেকে কেউ
(৬) এ সম্পর্কে বললেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রিসালাতুল মিসরিইয়্যাহ - যিমনা নাওয়াদিরিল মাখতুদাত
(পৃষ্ঠা: ২১)
لله يومي ببركة الحبش
… والأفق بين الضياء والغبش
والنيل تحت الرياح مضطرب
… كصارم في يمين مرتعش
قد نسجتها يد الغمام لنا
… فنحن من نسجها على فرش
ونحن في روضة مفوفة
… دبج بالنور عطفها ووشى
(1)فعاطني الراح، إن تاركها
… من سورة الهم غير منتعش
وسقني بالكبار مترعة
… فهن أروى لشدة العطش
(2)فأثقل الناس كلهم رجل
… دعاه داعي الصبا فلم يطش
(3)وقال أيضاً:
علل فؤادك باللذات والطّرب
… وباكر الرّاح بالغايات والنخب
أما ترى البركة الغناء لابسة
… وشياً من النّور حاكته يد السّحب
وأصبحت من جديد النبت في حلل
… قد أبرز القطر منها كل محتجب
من سوسن شرق بالطل محجره
… وأقحوان شهى الظلم والشنب
وانظر إلى الورد يحكى خد محتشم
… من نرجس ظل يبدي لحظ مرتقب
والياسمين وقد أربى على درر
… والراح من درر تطفو على ذهب
كم مرة قد شفينا فيه غلتنا
… بجاحم من فم الإبريق ملتهب
(4)شمس من الراح حيانا بها قمر
… موف على غصن يهتز في كثب
أرخى ذوائبه، وانهز منعطفاً
… كصعدة الرمح، في مسودة العذب
فاطرب ودونكها فاشرب فقد نغبت
… على التصابي دواعي اللهو والطرب
ومما يتعلق بوصف النيل من أبيات له كتبها إلى الأفضل ليلة المهرجان:
--------------------------------------------
আল্লাহর জন্যই (প্রশংসিত) আমার দিনটি হাবাশ জলাশয়ে
… আর দিগন্ত আলো ও অন্ধকারের সন্ধিক্ষণে
আর বাতাসের বেগে নীল নদ আন্দোলিত
… যেন এক কম্পমান ডান হাতের তীক্ষ্ণ তরবারি
মেঘের হাত আমাদের জন্য এটি বুনেছে
… তাই আমরা তার বুনন করা শয্যার উপরে আছি
এবং আমরা এক কারুকার্যময় উদ্যানে আছি
… যার প্রান্তদেশ আলো দিয়ে অলঙ্কৃত ও খচিত করা হয়েছে
(১)সুতরাং আমাকে সুরা দাও, কেননা যে তা বর্জন করে
… সে উদ্বেগের তীব্রতা থেকে আরোগ্য লাভ করে না
এবং আমাকে পূর্ণ বড় পেয়ালায় পান করাও
… কেননা তা প্রচণ্ড পিপাসায় অধিক তৃপ্তিদায়ক
(২)সব মানুষের মধ্যে সেই ব্যক্তিই সবচেয়ে বিরক্তিকর
… যাকে যৌবনের আহ্বানকারী ডাকল অথচ সে চঞ্চল হলো না
(৩)তিনি আরও বলেছেন:
আনন্দ ও উল্লাস দিয়ে তোমার হৃদয়কে শান্ত করো
… আর ভোরেই সর্বোত্তম ও বাছাইকৃত সুরা গ্রহণ করো
তুমি কি দেখছ না সেই সমৃদ্ধ জলাশয়টি পরিধান করে আছে
… আলোর এক কারুকাজ যা মেঘের হাত বুনেছে
আর তা নবীন উদ্ভিদের পোশাকে সজ্জিত হয়েছে
… বৃষ্টির ধারা তার প্রতিটি লুকায়িত বিষয়কে প্রকাশ করে দিয়েছে
এমন সব শাপলা যার আঁখি কোটর শিশিরে সিক্ত
… আর এমন সব গুলবাহার যার শুভ্রতা ও শীতলতা কাঙ্ক্ষিত
আর গোলাপের দিকে তাকাও, তা যেন কোনো লজ্জাশীলের গণ্ডদেশ
… আর নার্গিস ফুল যেন এক অপেক্ষমাণ দৃষ্টি মেলে ধরছে
আর জেসমিন যা মুক্তাকেও ছাড়িয়ে গেছে
… আর সুরা যেন সোনার উপর ভাসমান মুক্তাবিন্দু
কতবার আমরা সেখানে আমাদের পিপাসা মিটিয়েছি
… জগ বা পাত্রের মুখ থেকে নির্গত প্রজ্বলিত শিখার মাধ্যমে
(৪)সুরার এক সূর্য যার মাধ্যমে এক চন্দ্রমত কিশোর আমাদের অভিবাদন জানিয়েছে
… যে বালিয়াড়িতে দোদুল্যমান এক শাখার উপর অবস্থান করছে
সে তার অলকগুচ্ছ ছেড়ে দিয়েছে, এবং দুলতে দুলতে অগ্রসর হচ্ছে
… যেন বর্শার দণ্ড, যার অগ্রভাগ কৃষ্ণবর্ণ
অতএব আনন্দ করো এবং একে গ্রহণ করে পান করো, কেননা যৌবনোচিত আচরণের উপর
… আমোদ-প্রমোদ ও উল্লাসের কারণগুলো চুমুক দিয়েছে
এবং আল-আফদালের নিকট উৎসবের রাতে লেখা তার সেই কবিতাগুলোর অন্তর্ভুক্ত যা নীল নদের বর্ণনার সাথে সংশ্লিষ্ট:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রিসালাতুল মিসরিইয়্যাহ - যিমনা নাওয়াদিরিল মাখতুদাত
(পৃষ্ঠা: ২২)
أبدعت للناس منظرا عجبا
… لا زلت تحيى السرور والطربا
ألّفت بين الضّدّين مقتدرا
… فمن رأى الماء خالط اللهبا
كأنّما النيل والشموع به
… أفق سماء تألّقت شهبا
قد كان من فضّة فصار سما
… وتحسب النار فوقه ذهبا
وقد تعاور الشعراء ..... شعاع على صبح
[*]. ومن مليح ما قيل فى ذلك قول بعض أهل العصر، وهو أبو الحسن على بن أبى البشر الكاتب:
شربنا مع غروب الشمس شمسا
… مشعشعة إلى وقت الطلوع
وضوء الشمع فوق النيل باد
… كأطراف الأسنة فى الدّروع
وأنشد أبو منصور الثعالبى (فى يتيمة الدهر) لمنصور بن كيغلغ
(1):
قام الغلام يديرها فى كفه
… فحسبت بدر التّمّ يحمل كوكبا
والبدر يجنح للأفول كأنه
… قد سلّ فوق الشطّ سيفا مذهبا
(2)وأنشد فيه
(3) للقاضى أبى القاسم على بن إبراهيم بن أبى الفهم التنوخى:
أحسن بدجلة والدّجى متصوّب
… والبدر فى أفق السماء مغرّب
فكأنها فيه بساط أزرق
… وكأنه فيها طراز مذهب
(4)وقال ابن وكيع التّنّيسى:
غدير يدرّج أمواجه
… هبوب الشمال ومرّ الصّبا
إذا الشمس من فوقه أشرقت
… توهّمته جوشنا مذهبا
--------------------------------------------
আপনি মানুষের জন্য এক বিস্ময়কর দৃশ্য তৈরি করেছেন
… আপনি আনন্দ ও উল্লাসকে সর্বদা সজীব রাখেন।
আপনি সক্ষমতার সাথে দুই বিপরীত বস্তুর মধ্যে মিলন ঘটিয়েছেন
… কে দেখেছে পানিকে আগুনের শিখার সাথে মিশে যেতে?
যেন নীল নদ এবং তাতে প্রজ্জ্বলিত মোমবাতিগুলো
… আকাশের দিগন্ত যা উল্কাপিন্ডের আলোয় উদ্ভাসিত।
তা ছিল রূপার মতো, অতঃপর তা আকাশ হয়ে গেল
… এবং আপনি তার উপরের আগুনকে স্বর্ণ মনে করবেন।
আর কবিরা পালাক্রমে বর্ণনা করেছেন ..... আলোর আভা সকালের ওপর
[*]। এ বিষয়ে যা বলা হয়েছে তার মধ্যে সুন্দর হলো বর্তমান যুগের একজনের বক্তব্য, তিনি হলেন লেখক আবু আল-হাসান আলী বিন আবি আল-বাশর:
সূর্যাস্তের সাথে সাথে আমরা পান করেছি এক সূর্য
… যা উদয়কাল পর্যন্ত ছিল উজ্জ্বল প্রদীপ্ত।
নীল নদের ওপর মোমবাতির আলো প্রকাশমান
… যেন বর্মের ওপর বর্শার ফলার অগ্রভাগ।
আবু মানসুর আল-সা'আলিবি (ইয়াতীমাত আদ-দাহর গ্রন্থে) মানসুর বিন কাইগালাগের কবিতাটি পাঠ করেছেন
(১):
বালকটি তার হাতের তালুতে তা ঘুরাতে ঘুরাতে দাঁড়ালো
… তখন আমার মনে হলো পূর্ণ চাঁদ যেন একটি নক্ষত্র বহন করছে।
আর চাঁদটি অস্তমিত হওয়ার দিকে ঝুঁকছে যেন
… তীরের ওপর একটি সোনালী তলোয়ার কোষমুক্ত করা হয়েছে।
(২)তাতে
(৩) কাজী আবুল কাসিম আলী বিন ইব্রাহিম বিন আবিল ফাহম আল-তানুখীর এই পঙ্ক্তিটিও পাঠ করেছেন:
দজলা নদী কতই না সুন্দর যখন অন্ধকার নেমে আসে
… আর চাঁদটি আকাশের দিগন্তে অস্তমিত হয়।
মনে হয় যেন নদীটি তার মাঝে এক নীল গালিচা
… আর চাঁদটি তাতে এক স্বর্ণখচিত অলংকরণ।
(৪)ইবনুল ওয়াকি আল-তান্নিসি বলেছেন:
এমন এক জলাশয় যার ঢেউগুলোকে আন্দোলিত করে
… উত্তুরে হাওয়া এবং পূবালী বাতাসের প্রবাহ।
যখন সূর্য তার ওপর উদিত হয়
… তখন আপনি একে একটি সোনালী বর্ম বলে ভ্রম করবেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রিসালাতুল মিসরিইয়্যাহ - যিমনা নাওয়াদিরিল মাখতুদাত
(পৃষ্ঠা: ২৩)
وقال بعض أهل العصر من قصيدة:
باطى نهر كان الر
… وهو اللجين به ذوبا
(1)إذا حمشته الصبا رأيته
… كأنه زردا مذهبا
[*]وقال أبو عبادة البحترىّ يصف بركة:
إذا علتها الصبا أبدت بها حبكا
… مثل الجواشن مصقولا حواشيها
(2)إذا النّجوم تراءت فى جوانبها
… ليلا حسبت سماء ركّبت فيها
وقد أحسن عبد الله بن المعتز فى قوله:
وتبدّى لهن بالنّجف المق
… فر ماء صافى الجمام غرىّ
(3)فإذا قابلته درّة شمس
… خلته كسّرت عليه الحلىّ
(4)وقال ابن التّمّار الواسطى يصف ضوء القمر على دجلة:
قف فانتصف من صروف الدهر والنّوب
… واجمع بكأسك شمل اللهو والطّرب
أما ترى الليل قد ولّت عسا كره
… مهزومة وجيوش اللهو فى الطلب
والبدر فى الأفق الغربىّ تحسبه
… قد مدّ جسرا على الشّطّين من ذهب
وقال محمد بن عبد الله السّلامى:
ونهر تمرح الأمواج فيه
… مراح الخيل فى رهج الغبار
إذا اصفرّت عليه الشمس خلنا
… نمير الماء يمزج بالعقار
***
وأمّا سكّان أرض مصر فأخلاط من الناس مختلفة الأصناف
(5): من قبط وروم وعرب وبربر وأكراد وديلم وحبشان وأرمن
(6)، وغير ذلك من
--------------------------------------------
বর্তমান যুগের কোনো এক কবি তাঁর এক কসিদায় বলেছেন:
নদীর তীরে, যেন কাঁচ এবং
... স্বচ্ছ রূপা তাতে গলিয়ে দেওয়া হয়েছে।
(১)যখন পুবালি বাতাস তাকে স্পর্শ করে, তুমি তাকে
... সোনালি বর্মের মতো দেখতে পাবে।
[*]আবু উবাদাহ আল-বুহতুরি একটি জলাধারের বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেছেন:
যখন তার ওপর দিয়ে পুবালি বাতাস বয়ে যায়, তখন তাতে ঢেউয়ের ভাঁজ সৃষ্টি হয়
... যা উজ্জ্বল প্রান্তবিশিষ্ট বর্মের মতো দেখায়।
(২)রাতে যখন এর চারপাশ দিয়ে নক্ষত্ররাজি উঁকি দেয়
... তখন মনে হয় যেন আকাশটিকেই এর ভেতর স্থাপন করা হয়েছে।
আবদুল্লাহ ইবনুল মুতায তাঁর এই উক্তিতে অত্যন্ত চমৎকার বর্ণনা দিয়েছেন:
নাজাফের নির্জন প্রান্তরে
... তাদের সামনে স্বচ্ছ ও শীতল পানি দৃশ্যমান হলো।
(৩)যখন সূর্যের কিরণ তাতে প্রতিফলিত হয়
... তখন মনে হয় যেন এর ওপর অলঙ্কার চূর্ণ করে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
(৪)ইবনুত তাম্মার আল-ওয়াসিতি দজলা নদীর ওপর চাঁদের আলোর বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেছেন:
দাঁড়াও এবং কালের বিবর্তন ও বিপদাপদ থেকে নিজের অধিকার বুঝে নাও
... আর তোমার পানপাত্রে আমোদ-প্রমোদের সকল উপকরণ একত্রিত করো।
তুমি কি দেখছো না যে, রাতের বাহিনী পরাজিত হয়ে
... পলায়ন করছে আর আমোদ-প্রমোদের বাহিনী তাদের পিছু তাড়া করছে?
পশ্চিম দিগন্তের পূর্ণচন্দ্রকে দেখে তোমার মনে হবে
... যেন সে দুই তীরের মাঝে একটি সোনালি সেতু তৈরি করে দিয়েছে।
মুহাম্মাদ ইবনে আবদুল্লাহ আস-সালামি বলেছেন:
এমন এক নদী যাতে ঢেউগুলো এমনভাবে খেলা করে
... যেমন ঘোড়া ধূলিঝড়ের মাঝে দাপিয়ে বেড়ায়।
যখন এর ওপর সূর্যের সোনালি আভা পড়ে, তখন আমাদের মনে হয়
... যেন স্বচ্ছ পানির সাথে লাল শরাব মিশ্রিত করা হয়েছে।
***
আর মিসর ভূখণ্ডের অধিবাসীরা বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের সংমিশ্রণ
(৫): কিবতি, রোমান, আরব, বারবার, কুর্দি, দায়লামি, হাবশি এবং আরমানি
(৬), এবং আরও অন্যান্য জাতির সমন্বয়ে গঠিত...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রিসালাতুল মিসরিইয়্যাহ - যিমনা নাওয়াদিরিল মাখতুদাত
(পৃষ্ঠা: ২৪)
الأصناف والأجناس على حسب اختلافاتهم، وقالوا: إن السبب فى اختلافهم، والموجب لاختلاطهم، اختلاط المالكين لها، والمتغلّبين عليها، من العمالقة واليونانيين والروم والعرب وغيرهم، فلهذا اختلطت أنسابهم فاقتصروا من التعريف بأنفسهم على الانتساب إلى مواضعهم
(1)، والانتماء إلى مساقطهم ومواقعهم.
وحكى جماعة من المؤرّخين أنهم كانوا فى الزمن السالف عبّاد أصنام، ومدبرى هياكل، إلى أن ظهر دين النّصرانية وغلب على أرض مصر فتنصّروا، وبقوا على ذلك إلى أن فتحها المسلمون فى أيام عمر بن الخطاب رضى الله عنه، فأسلم بعضهم وبقى بعض على دين النصرانية، ومذهبهم مذهب اليعاقبة.
وأما أخلاقهم فالغالب عليهم اتّباع الشهوات، والانهماك فى اللذات، والاشتغال بالتّرّهات، والتصديق بالمحالات، وضعف المرائر والعزمات، إلى غير ذلك مما حكاه أبو الحسين على بن رضوان فى ذلك واقتصّه، وأورده من الأمور الطبيعية وموجبه
(2)، وكفى به حكما منصفا، وشاهدا عدلا.
وحكى الوصيفىّ فى كتابه الذى ألّفه فى أخبار مصر أنّ أهلها فى الزمن السابق كانوا يعتقدون أنّ هذا العالم، الذى هو عالم الكون والفساد أقام برهة من الدهر خاليا من نوع الإنسان، عامرا بأنواع أخر غير الإنسان، وأن تلك الأنواع مختلفة على خلق فاذّة
(3)، وهيئات شاذّة، ثم حدث نوع الإنسان فنازع تلك الأنواع فغلبها واستولى عليها، وأفنى أكثرها قتلا، وشرّد ما بقى منها إلى القفار، وأن تلك المشرّدة هى الغيلان والسّعالى وغير ذلك، مما حكاه من اعتقاداتهم المستحيلة، وتصوّراتهم الفاسدة، وتوهّماتهم النافرة. إلا أنّه يظهر من
--------------------------------------------
বিভিন্ন প্রকার ও জাতি তাদের ভিন্নতা অনুযায়ী; তারা বলেছে যে, তাদের এই ভিন্নতার কারণ এবং তাদের মিশ্রিত হওয়ার হেতু হলো সেই সব মালিক ও বিজয়ীদের সংমিশ্রণ, যারা ছিল আমালেকাইট, গ্রীক, রোমান, আরব এবং অন্যান্য জাতি। এই কারণে তাদের বংশধারা সংমিশ্রিত হয়ে গিয়েছিল, ফলে তারা নিজেদের পরিচয়ের ক্ষেত্রে কেবল তাদের অঞ্চলের সাথে সম্বন্ধযুক্ত হওয়া
(১) এবং তাদের জন্মভূমি ও বাসস্থানের দিকে নিজেদের পরিচয় প্রদান করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে।
একদল ঐতিহাসিক বর্ণনা করেছেন যে, অতীতকালে তারা মূর্তিপূজারী এবং মন্দিরের রক্ষণাবেক্ষণকারী ছিল, যতক্ষণ না খ্রিস্টধর্মের আবির্ভাব ঘটে এবং মিসর ভূমিতে তা প্রবল হয়, ফলে তারা খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করে। উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর যুগে মুসলমানদের দ্বারা মিসর বিজিত হওয়া পর্যন্ত তারা সেই ধর্মেই অটল ছিল। অতঃপর তাদের কেউ কেউ ইসলাম গ্রহণ করে এবং কেউ কেউ খ্রিস্টধর্মেই রয়ে যায়; তাদের মতবাদ ছিল ইয়াকুবী মতবাদ।
আর তাদের চরিত্রের ব্যাপারে বলা যায় যে, তাদের ওপর প্রবৃত্তি অনুসরণ, আমোদ-প্রমোদে মগ্ন থাকা, অসার কাজে লিপ্ত হওয়া, অসম্ভব বিষয়ে বিশ্বাস স্থাপন এবং সংকল্প ও দৃঢ়তার দুর্বলতা প্রবল। এ ছাড়া আবু আল-হুসাইন আলী ইবনে রিদওয়ান এ বিষয়ে যা বর্ণনা করেছেন, বিস্তারিত বলেছেন এবং প্রাকৃতিক বিষয় ও এর কারণসমূহ
(২) থেকে যা উল্লেখ করেছেন তা তো আছেই; একজন ন্যায়নিষ্ঠ বিচারক এবং ন্যায়পরায়ণ সাক্ষী হিসেবে তিনিই যথেষ্ট।
আল-ওসিফী মিসরের ইতিহাস নিয়ে রচিত তার গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন যে, প্রাচীনকালে সেখানকার অধিবাসীগণ বিশ্বাস করত যে, এই জগৎ—যা সৃষ্টি ও ধ্বংসের জগত—তা দীর্ঘকাল মানবজাতি শূন্য ছিল এবং মানুষ ছাড়া অন্য প্রজাতির দ্বারা আবাদ ছিল। সেই প্রজাতিগুলো ছিল স্বতন্ত্র
(৩) শারীরিক গঠন ও অদ্ভুত আকৃতিসম্পন্ন। অতঃপর মানবজাতির উদ্ভব ঘটে এবং তারা সেই প্রজাতিগুলোর সাথে বিবাদে লিপ্ত হয়, তাদের পরাজিত করে এবং তাদের ওপর কর্তৃত্ব স্থাপন করে। তাদের অধিকাংশকেই হত্যার মাধ্যমে নির্মূল করে এবং অবশিষ্টদের মরুপ্রান্তরে বিতাড়িত করে। সেই বিতাড়িতরাই হলো গিলাান, সুআলা এবং এই জাতীয় অন্যান্য সৃষ্টি—যা তিনি তাদের অসম্ভব বিশ্বাস, ভ্রান্ত ধারণা এবং অদ্ভুত কল্পনা থেকে বর্ণনা করেছেন। তবে এটি প্রতীয়মান হয় যে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রিসালাতুল মিসরিইয়্যাহ - যিমনা নাওয়াদিরিল মাখতুদাত
(পৃষ্ঠা: ২৫)
أمرهم أنه كان فيهم طائفة من ذوي المعارف والعلوم، خصوصاً بعلم الهندسة والنجوم
(1). ويدل على ذلك ما خلفوه من الأشغال
(2) البديعة المعجزة، كالأهرام والبرابي، فإنها من الآثار التي حيرت الأذهان
(3) [الثاقبة، واستعجزت الأفكار الراجحة]، وتركت لها شغلاً بالتعجب منها، والتفكر فيها. وفي مثلها يقول أبو العلاء أحمد بن سليمان المعري في قصيدته التي يرثي بها أباه
(4):
تضلّ العقول الهبر زيّات رشدها
… ولا يسلم الرأي القويم من الأفن
وقد كان أرباب الفصاحة كلما
… رأوا حسناً عدّوه من صنعة الجن
وأي شيء أعجب وأغرب بعد مقدورات الله ومصنوعاته، من القدرة على بناء جسم [جسيم
(5)] من أعظم الحجارة، مربع القاعدة مخروط الشكل، ارتفاع عموده ثلاثمائة ذراع ونحو سبعة عشر ذراعاً
(6) يحيط به أربعة سطوح مثلثات متساويات الأضلاع، طول كل ضلع منها أربعمائة ذراع وستون ذراعاً
(7) وهو مع هذا العظم
(8)، من إحكام الصنعة وإتقانها
(9)، في غاية من حسن التقدير بحيث لم يتأثر
(10) إلى هلم جرا
(11) بعصف الرياح وهطل السحاب،
--------------------------------------------
তাদের বিষয়টি হলো এই যে, তাদের মধ্যে জ্ঞান-বিজ্ঞানে পারদর্শী একদল লোক ছিল, বিশেষ করে জ্যামিতি ও জ্যোতির্বিজ্ঞানে
(১)। তারা যেসব অপূর্ব ও অলৌকিক কাজ
(২) রেখে গেছে, যেমন পিরামিড ও প্রাচীন মন্দিরসমূহ, তা-ই এর প্রমাণ দেয়। কেননা এগুলো এমন সব নিদর্শন যা [তীক্ষ্ণ] মেধাকে
(৩) কিংকর্তব্যবিমূঢ় করে দেয় [এবং বিজ্ঞ চিন্তাধারাকে হার মানায়], আর এগুলো সম্পর্কে বিস্ময় ও চিন্তাগবেষণায় নিমগ্ন থাকতে বাধ্য করে। এ জাতীয় নিদর্শনের ক্ষেত্রেই আবুল আলা আহমদ বিন সুলাইমান আল-মা’আররি তার পিতাকে নিয়ে লেখা শোকগাথায় বলেন
(৪):
তীক্ষ্ণ বুদ্ধিমানদের মগজও তাদের সঠিক পথ হারিয়ে ফেলে
… আর সঠিক মতামতও দুর্বলতা থেকে রেহাই পায় না
বাগ্মিতার অধিকারীরা যখনই কোনো
… সৌন্দর্য প্রত্যক্ষ করত, তখনই তারা তাকে জিনের কারসাজি বলে গণ্য করত
আল্লাহর কুদরত ও সৃষ্টির পর বিশাল পাথর দিয়ে নির্মিত [বিশালকায়
(৫)] দেহ অপেক্ষা অধিক বিস্ময়কর ও অদ্ভুত আর কী হতে পারে? যার ভিত্তি বর্গাকার ও আকৃতি মোচাকার, যার স্তম্ভের উচ্চতা তিনশ সতেরো হাত এবং সতেরো হাতের মতো
(৬)। একে চারটি ত্রিভুজাকার তল বেষ্টন করে আছে যাদের বাহুগুলো সমান, এবং প্রতিটি বাহুর দৈর্ঘ্য চারশ ষাট হাত
(৭)। এর বিশালতা
(৮) সত্ত্বেও এর নির্মাণশৈলীর সুনিপুণতা ও পরিপক্কতা
(৯) অত্যন্ত চমৎকার মানের, যা অদ্যাবধি
(১০) ঝোড়ো হাওয়া বা অবিরাম বৃষ্টিপাতেও ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি
(১১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রিসালাতুল মিসরিইয়্যাহ - যিমনা নাওয়াদিরিল মাখতুদাত
(পৃষ্ঠা: ২৬)
وزعزعة الزلازل. وهذه صفة كل واحد من الهرمين المحاذيين للفسطاط من الجانب الغربي، على ما شاهدناه منهما
(1).
وقال بعضهم وقد ذكر عجائب مصر: «وما على وجه الأرض بنية إلا وأنا أرثي لها من الليل والنهار، إلا الهرمين فإني أرثى لليل والنهار منهما».
وهذان الهرمان
(2) لهما إشراف على أرض مصر وإطلال [على] بطائحها، وإصعاد على ذراها. وهما اللذان أراد أبو الطيب المتنبي بقوله:
أين الذي الهرمان من بنيانه
… ما قومه، ما يومه، ما المصرع
(3)كنا نظن دياره مملوءة
… ذهباً فمات وكل دار بلقع
(4)تتخلف الآثار عن أربابها
… حيناً ويدركها الخراب فتتبع
(5)واتفق أن خرجنا يوماً إليهما، فلما أطفنا بهما واستدرنا حولهما كثر تعجبنا منهما، فتعاطينا القول فيهما، فقال بعضنا
(6):
بعيشك هل أبصرت أعجب منظراً
… على طول ما أبصرت من هرمي مصر
(7)[أنافا عناناً للسماء وأشرفا
… على الجوّ إشراف السّماك أو النّسر
(8)--------------------------------------------
...এবং ভূমিকম্পের কম্পন। আর ফাসতাতের পশ্চিম দিকে অবস্থিত সেই পিরামিড দুটির প্রতিটির বৈশিষ্ট্য এই রূপই, যা আমরা সেগুলোর মধ্যে প্রত্যক্ষ করেছি
(১)।
মিশরের বিস্ময়কর বিষয়াবলি সম্পর্কে কেউ কেউ বলেছেন: «পৃথিবীর বুকে এমন কোনো স্থাপনা নেই যার জন্য আমি দিন ও রাতের আবর্তনের কারণে করুণা বোধ করি না, কেবল পিরামিড দুটি ছাড়া; কারণ আমি এগুলোর স্থায়িত্ব দেখে বরং দিন ও রাতের জন্যই করুণা বোধ করি (যেহেতু তারা পিরামিডের কোনো ক্ষতি করতে পারছে না)।’
আর এই পিরামিড দুটির
(২) মিশরের ভূমির ওপর এক বিশেষ প্রাধান্য রয়েছে এবং এর বিস্তৃত প্রান্তর ও সুউচ্চ শিখরগুলোর ওপর এদের দৃষ্টি নিবদ্ধ। আবু তৈয়ব আল-মুতানাব্বি তার এই পঙ্ক্তিতে এগুলোকেই উদ্দেশ্য করেছেন:
কোথায় সেই ব্যক্তি, যার নির্মিত স্থাপনা হলো এই পিরামিডদ্বয়
… তার জাতিই বা কে ছিল, তার সময়কাল কী ছিল এবং তার মৃত্যুর স্থানই বা কোথায়?
(৩)আমরা মনে করতাম তার আবাসস্থলগুলো স্বর্ণে পরিপূর্ণ
… অথচ সে মারা গেল এবং প্রতিটি ঘরই আজ জনশূন্য মরুভূমি।
(৪)কীর্তিস্তম্ভগুলো কিছু সময়ের জন্য তাদের মালিকদের থেকে টিকে থাকে
… এরপর ধ্বংস সেগুলোকে গ্রাস করে এবং তারাও মালিকদের অনুসরণ করে বিলীন হয়ে যায়।
(৫)একদিন আমাদের সেই পিরামিড দুটির দিকে যাওয়ার সুযোগ হলো। যখন আমরা সেগুলোকে প্রদক্ষিণ করলাম এবং এগুলোর চারপাশে ঘুরলাম, তখন আমাদের বিস্ময় অনেক বেড়ে গেল। আমরা এগুলো নিয়ে আলোচনায় মত্ত হলাম, তখন আমাদের মধ্য থেকে একজন বললেন
(৬):
তোমার জীবনের শপথ! তুমি কি তোমার সুদীর্ঘ জীবনে মিশরের এই পিরামিড দুটির চেয়ে বিস্ময়কর কোনো দৃশ্য দেখেছ?
(৭)[এগুলো আকাশের উচ্চতা স্পর্শ করেছে এবং বায়ুমণ্ডলে এমনভাবে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে যেমন সিমাক বা নাসর (নক্ষত্র) অবস্থান করে।]
(৮)--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রিসালাতুল মিসরিইয়্যাহ - যিমনা নাওয়াদিরিল মাখতুদাত
(পৃষ্ঠা: ২৭)
وقد وافياً نشزاً من الأرض عالياً
… كأنهما نهدان قاما على صدر
(1)وزعم قوم أن الأهرام قبور ملوك عظام، آثروا أن يتميزوا بها على سائر الملوك بعد مماتهم، كما تميزوا عنهم في حياتهم، وتوخوا أن يبقى ذكرهم بسببها على تطاول الدهور، وتراخي العصور.
ولما وصل الخليفة المأمون إلى مصر
(2) أمر بنقبها، فنقب أحد الهرمين المحاذيين للفسطاط بعد جهد شديد، وعناء طويل، فوجدوا داخله مهاوي ومراقي يهول أمرها، ويعسر السلوك فيها، ووجدوا في أعلاها بيتاً مكعباً، طول كل من أضلاعه نحو من ثمانية أذرع، وفي وسطه حوض رخام مطبق، فلما كشف غطاؤه لم يجدوا فيه غير رمة بالية، قد أتت عليها العصور الخالية، فعند ذلك أمر المأمون بالكف عن نقب ما سواه. ويقال: إن النفقة على نقبه كانت عظيمة، والمئونة شديدة.
ومن الناس من زعم أن هرمس الأول، المدعو بالمثلث بالنبوة والملك والحكمة، وهو الذي يسميه العبرانيون خنوخ بن يرد بن مهلائيل بن قينان بن أنوش بن شيث بن آدم عليه السلام وهو إدريس عليه السلام استدل من أحوال الكواكب على كون الطوفان يعم الأرض، فأكثر من بنيان الأهرام، وإيداعها الأموال وصحائف العلوم، وما يشفق عليه من الذهاب والدروس، حفظاً لها، واحتياطاً عليها. ويقال: إن الذي بناها ملك اسمه سوريد بن سهلوق بن سرياق. وقال آخرون: إن الذي بنى الهرمين المحاذيين للفسطاط شداد بن عاد، لرؤيا رآها. والقبط تنكر دخول العمالقة بلد مصر،
--------------------------------------------
তারা উঁচু ভূমির একটি উন্নত অংশে দাঁড়িয়ে আছে
… যেন দুটি স্তন যা একটি বক্ষের ওপর দাঁড়িয়ে আছে
(১)একদল লোক দাবি করেন যে, পিরামিডগুলো মহান রাজাদের সমাধি; তারা চেয়েছিলেন তাদের মৃত্যুর পর এগুলোর মাধ্যমে অন্যান্য রাজাদের থেকে স্বতন্ত্র হতে, যেমনটি তারা তাদের জীবদ্দশায় হয়েছিলেন। তারা লক্ষ্য করেছিলেন যে, এগুলোর কারণে মহাকালের বিবর্তনে এবং যুগের পর যুগ অতিবাহিত হওয়ার পরেও তাদের স্মৃতি টিকে থাকবে।
খলিফা আল-মামুন যখন মিশরে পৌঁছালেন
(২) তখন তিনি সেগুলো খনন করার নির্দেশ দিলেন। অত্যন্ত কঠোর পরিশ্রম এবং দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর ফুসতাতের নিকটবর্তী দুটি পিরামিডের একটি খনন করা হলো। তারা এর ভেতরে এমন কিছু গভীর গর্ত এবং সিঁড়ি দেখতে পেলেন যা আতঙ্ক জাগানিয়া এবং সেগুলোর মধ্য দিয়ে চলাফেরা করা অত্যন্ত দুঃসাধ্য। তারা এর উপরিভাগে একটি ঘনকাকৃতির ঘর দেখতে পেলেন, যার প্রতিটি বাহুর দৈর্ঘ্য ছিল প্রায় আট হাত। এর মাঝখানে একটি ঢাকা দেওয়া মার্বেল পাথরের পাত্র ছিল। যখন এর ঢাকনা খোলা হলো, তখন তাতে জীর্ণ হাড় ছাড়া আর কিছুই পাওয়া গেল না, যা বিগত যুগসমূহের আবর্তনে ক্ষয়প্রাপ্ত হয়েছিল। তখন আল-মামুন অন্যগুলো খনন করা থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিলেন। বলা হয় যে, এটি খননের ব্যয় ছিল বিশাল এবং পরিশ্রম ছিল অত্যন্ত বেশি।
মানুষের মধ্যে কেউ কেউ দাবি করেন যে, প্রথম হের্মেস—যিনি নবুওয়ত, রাজত্ব ও হিকমতের কারণে ‘ত্রি-গুণান্বিত’ নামে অভিহিত এবং যাকে হিব্রুগণ কীনান বিন আনুশ বিন শীষ বিন আদম আলাইহিস সালাম-এর বংশধর হানুখ বিন ইয়ারদ বিন মাহলাইল বলে ডাকেন, আর তিনিই হলেন ইদরীস আলাইহিস সালাম—নক্ষত্ররাজির অবস্থা থেকে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছিলেন যে, এক মহাপ্লাবন পৃথিবীকে গ্রাস করবে। তাই তিনি পিরামিড অধিক সংখ্যায় নির্মাণ করেন এবং সেগুলোতে সম্পদ ও বিজ্ঞানের পাণ্ডুলিপিসমূহ গচ্ছিত রাখেন, যা হারিয়ে যাওয়া বা মুছে যাওয়ার আশঙ্কা ছিল; মূলত সেগুলোকে সংরক্ষণ ও নিরাপত্তার খাতিরেই তিনি এমনটি করেছিলেন। বলা হয় যে: এটি নির্মাণকারী রাজার নাম ছিল সুরিদ বিন সাহলুক বিন সারইয়াক। অন্যেরা বলেন যে: ফুসতাতের নিকটবর্তী দুটি পিরামিড আদ জাতির শাদ্দাদ নির্মাণ করেছিলেন, একটি স্বপ্নের কারণে যা তিনি দেখেছিলেন। তবে কিবতিরা মিশরে আমালিকা সম্প্রদায়ের প্রবেশের বিষয়টি অস্বীকার করে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রিসালাতুল মিসরিইয়্যাহ - যিমনা নাওয়াদিরিল মাখতুদাত
(পৃষ্ঠা: ২৮)
وتحقق أن بانيهما سوريد
(1)، لرؤيا رآها، وهي أن آفة تنزل من السماء، وهي الطوفان. وقالوا إنه بناهما في مدة ستة أشهر، وغشاهما بالديباج الملون، وكتب عليهما:
«قد بنيناهما في ستة أشهر، قل لمن يأتي من بعدنا يهدمهما في ستمائة سنة، فالهدم أيسر من البنيان، وكسوناهما الديباج الملون فليكسهما حصراً، فالحصر أهون من الديباج».
ورأينا سطوح كل واحد من هذين الهرمين مخطوطة من أعلاها إلى أسفلها بسطور متضايقة متوازية، من كتابة بانيها، لا تعرف اليوم أحرفها، ولا تفهم معانيها. وبالجملة الأمر فيها عجيب، حتى إن غاية الوصف لها والإغراق في العبارة عن حقيقة الموصوف منها، بخلاف ما قاله على
(2)] بن العباس الرومي، وإن تباعد الموصوفان، وتباين المقصودان، إذ يقول:
إذا ما وصفت امرأ لا مرئ
… فلا تغل في وصفه واقصد
فإنّك إن تغل تغل الظنو
… ن فيه إلى الغرض الأبعد
فيصغر من حيث عظمته
… لفضل المغيب على المشهد
وكذلك أمر البرابى، كبربا إخميم، وبربا سمنود
(3)، وبربا دندرا
(4)، فإن فيها من الإحكام وجودة الشكل وحسن التصوير، ما يدل على أن عمّارها
--------------------------------------------
এটি নিশ্চিত করা হয়েছে যে, এ দুটির নির্মাতা ছিলেন সুরিদ
(১), একটি স্বপ্নের কারণে যা তিনি দেখেছিলেন। তা ছিল এই যে, আকাশ থেকে একটি আপদ নেমে আসবে, আর সেটি হলো মহাপ্লাবন। তারা বলেছে যে, তিনি এ দুটিকে ছয় মাস সময়ের মধ্যে নির্মাণ করেছিলেন এবং এগুলোকে রঙিন রেশমি বস্ত্রে আবৃত করেছিলেন। আর এ দুটির ওপর লিখেছিলেন:
«আমরা এ দুটিকে ছয় মাসে নির্মাণ করেছি; আমাদের পরে যারা আসবে তাদের বলো এ দুটি যেন তারা ছয়শ বছরে ধ্বংস করে। কেননা ধ্বংস করা নির্মাণের চেয়ে সহজ। আর আমরা এ দুটিকে রঙিন রেশমি কাপড় পরিয়েছি, তারা যেন এগুলোকে চাটাই দিয়ে আবৃত করে, কারণ চাটাই রেশমি কাপড়ের চেয়ে সহজলভ্য»।
এবং আমরা এই পিরামিড দুটির প্রত্যেকটির উপরিভাগ উপর থেকে নিচ পর্যন্ত ঘন ও সমান্তরাল লাইনে খোদাই করা অবস্থায় দেখেছি, যা এর নির্মাতার লিপি; বর্তমানে এর বর্ণগুলো চেনা যায় না এবং এর অর্থও বোঝা যায় না। মোটের ওপর, এর ব্যাপারটি বিস্ময়কর, এমনকি এর বর্ণনার চরম পর্যায় এবং এর বর্ণনার বাস্তবতাকে প্রকাশ করার ক্ষেত্রে অতিরঞ্জন আলী
(২) ইবনে আব্বাস আল-রুমির কথার বিপরীত—যদিও বর্ণিত বিষয় দুটি ভিন্ন এবং উদ্দেশ্যও স্বতন্ত্র—যখন তিনি বলেন:
যখন তুমি এমন এক ব্যক্তির বর্ণনা দাও যাকে দেখা যায় না ... তবে তার বর্ণনায় অতিরঞ্জন কোরো না এবং মধ্যপন্থা অবলম্বন করো
কেননা তুমি যদি অতিরঞ্জন করো, তবে তা ধারণাগুলোকে ... সুদূরপ্রসারী লক্ষ্যের দিকে নিয়ে যাবে
ফলে তার মহত্ত্বের দিক থেকে সে তুচ্ছ হয়ে পড়বে ... যেহেতু যা অদৃশ্য তা দৃশ্যমান বিষয়ের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব রাখে
একইভাবে প্রাচীন মন্দিরগুলোর (বারাবি) বিষয়টিও, যেমন ইখমিমের মন্দির, সামানুদের মন্দির
(৩) এবং দান্দারার মন্দির
(৪)। এগুলোর মধ্যে এমন সুদৃঢ় নির্মাণশৈলী, উন্নত আকৃতি এবং সুনিপুণ কারুকার্য রয়েছে, যা প্রমাণ করে যে এগুলোর নির্মাতারা
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রিসালাতুল মিসরিইয়্যাহ - যিমনা নাওয়াদিরিল মাখতুদাত
(পৃষ্ঠা: ২৯)
ذوو عقول راجحة، وأنه قد كانت لهم بالحكمة عناية بالغة، لا سيما بصناعتى الهندسة والنجوم.
وقال بعض أهل العناية بأخبار الأمم وتواريخهم: كان بمصر بعد الطوفان علماء بضروب الحكمة، من العلوم الرياضيّة والطبيعية ولإلهيّة، ومتحقّقون بعلم المرايا المحرقة، وبالطّلّسمات والنّير نجيات وغير ذلك.
والملك بمصر من قديم الزمان بمدينة منف، وهي في غربي النيل، على مسافة اثني عشر ميلاً من الفسطاط. ولما بنى الإسكندر مدينة (الإسكندرية) منذ نحو ألف سنة وأربعمائة سنة وأربعين سنة، رغب الناس في عمارتها
(1)، وكانت دار العلم، ومقر الحكمة، إلى أن تغلّب عليها المسلمون في خلافة عمر بن الخطاب، رضوان الله عليه، واختط عمرو بن العاص مدينته المعروفة (بالفسطاط) فانسرب أهل مصر وغيرهم من العرب والعجم إلى سكناها، فصارت قاعدة ديار مصر ومركزها إلى وقتنا هذا.
فيقال إن من قدماء أهل العلم بها هرمس الثالث
(2)، وكان فيلسوفاً جوالاً في البلاد، طوافاً في المدائن، عالماً بنصبتها
(3)، وطوالعها وطبائع أهلها، وله تصانيف جليلة مفيدة في فنون من الحكمة.
ومنهم دبوفنطس
(4) صاحب المقالات الموضوعة في علم العدد وخواصه على طريق الجبر والمقابلة.
--------------------------------------------
তারা ছিলেন প্রখর বুদ্ধিমত্তার অধিকারী এবং হিকমতের (প্রজ্ঞা) প্রতি তাদের বিশেষ মনোযোগ ছিল, বিশেষ করে জ্যামিতি ও জ্যোতির্বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে।
জাতিসমূহের সংবাদ ও ইতিহাসের প্রতি আগ্রহী একদল বিশেষজ্ঞ বলেছেন: মহাপ্লাবনের পর মিশরে প্রজ্ঞার নানা শাখায় যেমন—গণিত, পদার্থবিদ্যা ও ধর্মতত্ত্বের (ইলাহিয়্যাত) পণ্ডিতগণ ছিলেন; এবং তারা দহনকারী দর্পণ, তিলিসমাত (জাদুকরী নকশা), ইন্দ্রজাল বিদ্যা ও অন্যান্য বিদ্যায় পারদর্শী ছিলেন।
প্রাচীনকাল থেকেই মিশরের রাজত্ব ছিল মেম্ফিস (মানফ) শহরে, যা নীল নদের পশ্চিমে ফুসতাত থেকে বারো মাইল দূরত্বে অবস্থিত। যখন আলেকজান্ডার প্রায় চৌদ্দশ চল্লিশ বছর আগে আলেকজান্দ্রিয়া শহরটি নির্মাণ করেন, তখন মানুষ তা আবাদ করতে আগ্রহী হয়
(১), এবং এটি জ্ঞানের গৃহ ও প্রজ্ঞার আবাসস্থলে পরিণত হয়। মুসলিমরা উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর খিলাফতকালে এটি জয় করা পর্যন্ত এই অবস্থা বজায় ছিল। অতঃপর আমর ইবনুল আস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) তার সুপরিচিত শহর ‘ফুসতাত’ নির্মাণ করেন এবং মিশরের অধিবাসীসহ অন্যান্য আরব ও অনারবরা সেখানে বসবাস করতে শুরু করে। ফলে তা বর্তমান সময় পর্যন্ত মিশর ভূখণ্ডের রাজধানী ও কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।
বলা হয় যে, সেখানকার প্রাচীন জ্ঞানীদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন তৃতীয় হারমেস
(২)। তিনি ছিলেন দেশ-দেশান্তর ভ্রমণকারী একজন দার্শনিক এবং শহরগুলো পরিভ্রমণকারী। তিনি শহরগুলোর অবস্থান
(৩), নক্ষত্রের উদয়স্থল এবং অধিবাসীদের স্বভাব সম্পর্কে সুগভীর জ্ঞান রাখতেন। প্রজ্ঞার নানা শাখায় তার অত্যন্ত মূল্যবান ও উপকারী বহু রচনা রয়েছে।
তাদের মধ্যে দিওফ্যান্টাস
(৪) অন্যতম, যিনি বীজগণিত ও সমীকরণ পদ্ধতিতে সংখ্যাতত্ত্ব ও এর বৈশিষ্ট্য বিষয়ক প্রবন্ধাবলির রচয়িতা।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রিসালাতুল মিসরিইয়্যাহ - যিমনা নাওয়াদিরিল মাখতুদাত
(পৃষ্ঠা: ৩০)
ومنهم الإسكندراني
(1) صنف كتاب الأفلاك، وكتاب القانون في تقويم الكواكب.
ومنهم روسم
(2) صاحب التصانيف في الكيميا.
ومنهم أنقلاؤس الإسكندري
(3) وأصحابه، الذين اختصروا كتب جالينوس في صناعة الطب، وألفوها على طريق المسألة والجواب، يدل حسن اختصارهم لها على وفور علمهم، وفضل معرفتهم.
ومنهم واليس
(4) صاحب الكتاب المعروف بالبريدج الرومي، المصنف في المواليد وما يتقدمها من المدخل إلى علم أحكام النجوم. ويقال إنه الذي استخرج بطول التحري
(5) ومواصلة العناء، جدود المصريين.
فهؤلاء هم المشهورون من أهل الحكمة بمصر في ذلك الزمان. وأما زماننا هذا فقد دثر منها كل علم وامحي رسمه، وجهل اسمه، ولم يبق إلا رعاع وغثاء وجهلة دهماء، وعامة عمياء، وجلهم أهل رعانة
(6) ولهم خبرة بالكيد والمكر،
--------------------------------------------
ومنهم الإسكندراني
(১) صنف كتاب الأفلاك، وكتاب القانون في تقويم الكواكب।
ومنهم روسم
(২) صاحب التصانيف في الكيميا।
ومنهم أنقلاؤس الإسكندري
(৩) وأصحابه، الذين اختصروا كتب جالينوس في صناعة الطب، وألفوها على طريق المسألة والجواب، يدل حسن اختصارهم لها على وفور علمهم، وفضل معرفتهم।
ومنهم واليس
(৪) صاحب الكتاب المعروف بالبريدج الرومي، المصنف في المواليد وما يتقدمها من المدخل إلى علم أحكام النجوم। ويقال إنه الذي استخرج بطول التحري
(৫) ومواصلة العناء، جدود المصريين।
فهؤلاء هم المشهورون من أهل الحكمة بمصر في ذلك الزمان। وأما زماننا هذا فقد دثر منها كل علم وامحي رسمه، وجهل اسمه، ولم يبق إلا رعاع وغثاء وجهلة دهماء، وعامة عمياء، وجلهم أهل رعانة
(৬) ولهم خبرة بالكيد والمكر،
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রিসালাতুল মিসরিইয়্যাহ - যিমনা নাওয়াদিরিল মাখতুদাত
(পৃষ্ঠা: ৩১)
وفيهم بالفطرة قوة عليه وتلطف فيه وهداية إليه، لما في أخلاقهم من الملق والسياسة
(1) التي أربوا فيها على كل من تقدم وتأخر، وخصوا بالإفراط فيها دون جميع الأمم، حتى صار أمرهم في ذلك مشهوراً، والمثل بهم مضروباً.
وفي خبثهم ومكرهم يقول أبو نواس
(2):
محضتكم يا أهل مصر نصيحتي
… ألا فخذوا من ناصح بنصيب
(3)رما كم أمير المؤمنين بحية
… أكول لحيات البلاد شروب
[ولا تثبوا وثب السفاة فتركبوا
… على حد] حامي الظهر غير ركوب
(4)فإن يك باقي إفك فرعون فيكم
… فإن عصا موسى بكف خصيب
وأما حال المنتسبين إلى العلم منهم فأنا ذاكر منها ما وقفت عليه، وكشفت بالمحنة عنه. كنت في أول جلوسي بها شديد العناية بكتب جالينوس وبقراط، باحثاً عن مشكلها، فاحصاً عن مستغلقها، فحرصت كل الحرص، وجهدت كل الجهد على أن أجد من أهل هذه الصناعة من أستفيد منه وأستزيد بمذاكرته وأقدح خاطري بمفاوضته، فلم أجد غير قوم طبع الله على قلوبهم وأعمى أبصارهم، وطمس أفهامهم، وحال بين الحكمة وبينهم، فكانوا وإياي، كما قال الشاعر:
قوم إذا جالستهم
… صدئت بقربهم العقول
لا يفهموني قولهم
… ويدق عنهم ما أقول
فهم كثير بي كما
… أنّى بجمعهم قليل
--------------------------------------------
তাদের স্বভাবজাত প্রকৃতিতে এর প্রতি একটি শক্তি, এতে সূক্ষ্মতা এবং এর দিকে এক প্রকার পথনির্দেশনা বিদ্যমান। কারণ তাদের চরিত্রের মধ্যে এমন চাটুকারিতা ও কূটনীতি রয়েছে, যাতে তারা পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকলকে ছাড়িয়ে গেছে। সকল জাতির মধ্যে তারাই এর অতিশয্যে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত হয়েছে, এমনকি এ বিষয়ে তাদের বিষয়টি সুপ্রসিদ্ধ হয়ে উঠেছে এবং তাদের নিয়ে প্রবাদ সৃষ্টি হয়েছে।
তাদের অপকৌশল ও চাতুর্য সম্পর্কে আবু নুওয়াস বলেন:
হে মিশরের অধিবাসীগণ, আমি তোমাদের আমার একনিষ্ঠ উপদেশ দিয়েছি
… শোনো, তোমরা একজন হিতাকাঙ্ক্ষীর কাছ থেকে উপদেশের অংশ গ্রহণ করো
আমিরুল মুমিনীন তোমাদের প্রতি এমন এক সর্প নিক্ষেপ করেছেন
… যে দেশের অন্যান্য সর্পদের গ্রাসকারী এবং রক্তপানে অভ্যস্ত
[তোমরা নির্বোধদের মতো লাফিয়ে ওঠো না, নতুবা তোমরা সওয়ার হবে
… এমন এক] সংরক্ষিত পিঠের উপর যা আরোহণের অযোগ্য
যদি ফেরাউনের মিথ্যাচারের কোনো অবশিষ্টাংশ তোমাদের মধ্যে থাকে
… তবে মূসার লাঠি তো খাসিবের হাতে রয়েছে
আর তাদের মধ্য থেকে যারা জ্ঞানের সাথে সম্পৃক্ত, তাদের অবস্থা সম্পর্কে আমি যা প্রত্যক্ষ করেছি এবং পরীক্ষার মাধ্যমে যা উদঘাটন করেছি তা উল্লেখ করছি। সেখানে আমার অবস্থানের শুরুতে আমি গ্যালেন এবং হিপোক্রেটিসের গ্রন্থসমূহের প্রতি অত্যন্ত মনোযোগী ছিলাম, সেগুলোর জটিল বিষয়গুলো অনুসন্ধান করতাম এবং দুর্বোধ্য বিষয়গুলো পরীক্ষা করতাম। আমি অত্যন্ত আগ্রহী ছিলাম এবং সাধ্যমতো চেষ্টা করেছিলাম যেন এই শাস্ত্রের পারদর্শী এমন কাউকে পাই যার থেকে আমি উপকৃত হতে পারি, যার সাথে জ্ঞানচর্চার মাধ্যমে আমার জ্ঞান বৃদ্ধি করতে পারি এবং যার সাথে আলোচনার মাধ্যমে আমার চিন্তাশক্তিকে প্রদীপ্ত করতে পারি। কিন্তু আমি এমন এক কওম ছাড়া আর কাউকে পাইনি যাদের অন্তরে আল্লাহ মোহর মেরে দিয়েছেন, তাদের দৃষ্টি অন্ধ করে দিয়েছেন, তাদের বোধশক্তি বিলুপ্ত করে দিয়েছেন এবং প্রজ্ঞা ও তাদের মাঝে আড়াল তৈরি করে দিয়েছেন। আমার ও তাদের অবস্থা ছিল ঠিক সেরকম যেমন জনৈক কবি বলেছেন:
এমন এক জাতি যাদের সান্নিধ্যে বসলে
… তাদের নৈকট্যের কারণে বুদ্ধি মরিচা ধরে যায়
তারা তাদের কথা আমাকে বোঝাতে পারে না
… আর আমি যা বলি তা বুঝতে তারা অক্ষম
আমার তুলনায় তারা সংখ্যায় অনেক
… অথচ তাদের ভিড়ে আমি বড়ই নগণ্য
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রিসালাতুল মিসরিইয়্যাহ - যিমনা নাওয়াদিরিল মাখতুদাত
(পৃষ্ঠা: ৩২)
وقد تخلقوا بكثرة الخلاف، وقلة الإنصاف، ولزموا البهت والمعاندة، والشغب والمكابرة، وجهلهم بصناعة الكتب وخلوهم من أداتها، وعدمهم لعددها وآلاتها، وإهمالهم لشرائطها، وإغفالهم للوازمها، وقصور أذهانهم عن إدراك دقائقها، وبعد عقولهم عن تصور حقائقها، ولم يعلموا أن الطبيب محتاج إلى أشياء تعينه في صناعته، وتفتح له مغالقها، وتوضح مشكلها، وتشرح مشتبهها، وتبين له مستعجمها، وتذيقه برد اليقين
(1)، وتجلو عن عين بصيرته ظلم الشكوك والظنون، وهي العلوم الطبيعية التي تعرفه مبادئها وأوائلها، وتعطيه استقصّاتها وعناصرها
(2)، والقوانين القياسية التي تسدد ذهنه نحو الصواب فيما يلتمس علمه، ويتطلب فهمه، وتعرفه كيف يحيل
(3) مطلوباتها إليه، ويبنى قياساته عليها، وكيف يتطرق من جليها إلى خفيها، ويستدل بظاهرها على غائبها، ويأمن الزلل، ووقوع الخطل والخلل، ويحقّق الأسباب والعلل.
ولا بدّ لمن أراد أن يكون طبيباً كاملاً، وحكيماً فاضلاً، من النظر في العلوم الرياضية، ولا سيما النجومية منها والموسيقاوية. وأولى الناس بأن يكون على هذه الصفة أطباء الملك التبعى الألمعى، الذي إنما يستعمل الطبيب والمنجم على جهة الاستظهار، لا على جهة الافتقار والاضطرار. وكيف ونظره الأعلى، وقدحه المعلى، وسهمه الأسد، وباعه الأمد. ومن كان مثله - ولا مثل له في تطبيق المفاصل، وإصابة الشواكل - فخليق به أن يختار، ولا يختار، ويستبد، ولا يستمدّ.
--------------------------------------------
তারা অত্যধিক মতভেদ ও ইনসাফের স্বল্পতায় অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে এবং অপবাদ, একগুঁয়েমি, বিশৃঙ্খলা ও হঠকারিতাকে আঁকড়ে ধরেছে। গ্রন্থ রচনার শিল্প সম্পর্কে তাদের অজ্ঞতা, এর প্রয়োজনীয় উপকরণের শূন্যতা, সরঞ্জাম ও যন্ত্রপাতির অভাব, এর শর্তাবলির প্রতি অবহেলা, এর আবশ্যকীয় বিষয়গুলোর প্রতি অসতর্কতা এবং এর সূক্ষ্ম বিষয়গুলো উপলব্ধিতে তাদের মেধার সীমাবদ্ধতা ও এর প্রকৃত স্বরূপ অনুধাবনে তাদের বুদ্ধিবৃত্তিক দূরত্বের কারণে তারা এটা জানে না যে, একজন চিকিৎসকের এমন কিছু জিনিসের প্রয়োজন যা তার পেশায় তাকে সহায়তা করবে, এর রুদ্ধদ্বারগুলো তার কাছে উন্মুক্ত করবে, জটিল বিষয়গুলো স্পষ্ট করবে, অস্পষ্ট বিষয়গুলোর ব্যাখ্যা দেবে, এর দুর্বোধ্য বিষয়গুলো তার নিকট ব্যক্ত করবে, তাকে নিশ্চিত বিশ্বাসের শীতলতা আস্বাদন করাবে
(১) এবং তার অন্তর্দৃষ্টির সামনে থেকে সন্দেহ ও সংশয়ের অন্ধকার দূর করবে। আর সেগুলো হলো প্রাকৃতিক বিজ্ঞান যা তাকে এর মূলনীতি ও প্রারম্ভিক বিষয়গুলো সম্পর্কে পরিচয় করিয়ে দেয় এবং তাকে এর মূল উপাদান ও মৌলিক উপাদানসমূহ প্রদান করে
(২); আর সেই সাথে যৌক্তিক নিয়মাবলি যা তার জ্ঞান অন্বেষণ ও উপলব্ধির প্রচেষ্টায় মেধাকে সঠিক পথের দিশা দেয় এবং তাকে শিক্ষা দেয় কীভাবে সে তার কাঙ্ক্ষিত বিষয়গুলোকে আহরণ করবে
(৩), কীভাবে তার ওপর ভিত্তি করে যুক্তি দাঁড় করাবে, কীভাবে স্পষ্ট বিষয় থেকে অস্পষ্ট বিষয়ের দিকে ধাবিত হবে, কীভাবে দৃশ্যমান বিষয়ের মাধ্যমে অদৃশ্য বিষয়ের প্রমাণ পেশ করবে এবং পদস্খলন ও ত্রুটি-বিচ্যুতির হাত থেকে নিরাপদ থেকে সঠিক কারণ ও উৎসসমূহ সাব্যস্ত করবে।
যিনি একজন পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসক ও শ্রেষ্ঠ প্রজ্ঞাবান হতে চান, তাঁর জন্য গাণিতিক বিজ্ঞানসমূহ, বিশেষ করে জ্যোতির্বিদ্যা ও সংগীতবিদ্যা নিয়ে গবেষণা করা অপরিহার্য। আর এই গুণের অধিকারী হওয়ার জন্য সবচেয়ে বেশি উপযুক্ত হলেন সেই তীক্ষ্ণধী রাজার চিকিৎসকগণ, যিনি চিকিৎসক ও জ্যোতির্বিদকে কেবল সহায়তার জন্য নিয়োজিত করেন, অভাব বা নিরুপায় হয়ে নয়। তা কেন হবে না, যেখানে তাঁর দৃষ্টি সুদূরপ্রসারী, তাঁর বিচারবুদ্ধি শ্রেষ্ঠ, তাঁর লক্ষ্য অব্যর্থ এবং তাঁর সামর্থ্য অসীম। যাঁর গুণাবলি এমন—আর জোড় মেলানো ও সমস্যা সমাধানে যাঁর কোনো সমতুল্য নেই—তাঁর জন্যই সমীচীন যে তিনি নির্বাচন করবেন, কিন্তু তাঁকে কেউ নির্বাচন করবে না; তিনি স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেবেন, কারো মুখাপেক্ষী হবেন না।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রিসালাতুল মিসরিইয়্যাহ - যিমনা নাওয়াদিরিল মাখতুদাত
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
هيهات أن يأتي الزمان بمثله
… إن الزمان بمثله لبخيل
فلما [لم] يأخذوا نفوسهم بالإتقان لما قد سلف تعديده، بل استطالوه، واستبعدوا الأمد إليه، ورأوا أن غرضهم من صناعة الطب الذي هو عندهم وبحسب رأيهم، التكسب بما يتم لهم بأقرب مما شرطه الأوائل متناولاً، وأسهل مراماً، لم يحفظوا
(1) غير أسماء أدوية قليلة العدد يصرفونها في مداواة كل مرض دون إعمال فكرهم في حقيقة نوعه وسببه، ومقتضيه وموجبه.
وقد ذم جالينوس من فرق الطب الثلاث الفرقة الجبلية
(2)، لحذقها جميع لوازم الصناعة الطبية، واقتصارها في المداواة على النظر في المرض، هل من جنس الاستفراغ فيقابل بالإمساك، أو من جنس الإمساك فيقابل بالاستفراغ، دون الفحص عن أمر المزاج والسن والسجية، والبلد والعادة والماهية. فما ظنك بجالينوس لو شاهد هؤلاء الذين لا يثبتون على نحلة، ولا ينتسبون إلى فرقة، فإن برئ على أيديهم عليل فبرؤه على جهة الاتفاق، وإن هلك فبالواجب والاستحقاق، وهم كما قال الشاعر في مثلهم:
وطبيب مجرب ما له بال
… نجح في كل ما يجرب عادة
مر يوماً على عليل فقلنا
… قر عيناً فقد رزقت الشهادة
وكما قال الآخر في بعض حكمائنا المشهورين عند العوام بالحذق والتقدم:
قل للوبا أنت وابن زهر
… قد جزتما الحد والنهاية
ترفقا بالورى قليلاً
… في واحد منكما كفاية
أو كما قال بعض أهل العصر أيضاً فيهم:
وطبيب مشعبذ
… يمزج الطب بالرّقى
--------------------------------------------
অসম্ভব যে কাল তার মতো কাউকে আবার আনবে
… নিশ্চয়ই কাল তার মতো কাউকে দিতে কৃপণ।
যখন তারা পূর্বে উল্লিখিত বিষয়গুলো নিখুঁতভাবে আয়ত্ত করার জন্য নিজেদের প্রবৃত্তিকে নিয়োজিত করল না, বরং সেটিকে দীর্ঘ মনে করল এবং এর সময়সীমাকে অনেক দূরবর্তী জ্ঞান করল; এবং তারা মনে করল যে, তাদের নিকট তাদের মতানুসারে চিকিৎসাবিদ্যার উদ্দেশ্য হলো এমন উপায়ে উপার্জন করা যা পূর্ববর্তীদের শর্তারোপিত পদ্ধতির চেয়ে নিকটতর এবং সহজে অর্জনযোগ্য—তখন তারা অল্প কয়েকটি ওষুধের নাম মুখস্থ করা ছাড়া আর কিছুই করল না। তারা প্রতিটি রোগের চিকিৎসায় সেগুলো ব্যবহার করে, অথচ রোগের প্রকৃত ধরন, কারণ, এর চাহিদা ও অপরিহার্যতা নিয়ে তাদের চিন্তাশক্তি প্রয়োগ করে না।
গ্যালেন (জালিনুস) চিকিৎসাবিদ্যার তিনটি সম্প্রদায়ের মধ্যে জিবলিয়া সম্প্রদায়কে নিন্দা করেছেন। কারণ তারা চিকিৎসা শিল্পের সমস্ত প্রয়োজনীয় বিষয় আয়ত্ত করা সত্ত্বেও চিকিৎসাক্ষেত্রে কেবল রোগের বাহ্যিক অবস্থার ওপর দৃষ্টি সীমাবদ্ধ রাখে—রোগটি কি নিঃসরণ (ইস্তিফরাগ) জাতীয়, ফলে তার বিপরীতে আটকে রাখার (ইমসাক) ব্যবস্থা নিতে হবে, নাকি তা আটকে থাকা জাতীয়, ফলে তার বিপরীতে নিঃসরণ করার ব্যবস্থা নিতে হবে; কিন্তু তারা মেজাজ, বয়স, স্বভাব, দেশ, অভ্যাস এবং রোগের প্রকৃত স্বরূপ সম্পর্কে কোনো অনুসন্ধান করে না। তাহলে গ্যালেন সম্পর্কে আপনার ধারণা কী হবে যদি তিনি বর্তমানের এদের দেখতেন, যারা কোনো নির্দিষ্ট মতাদর্শে অটল থাকে না এবং কোনো সুনির্দিষ্ট দলের অন্তর্ভুক্ত নয়? যদি তাদের হাতে কোনো রোগী আরোগ্য লাভ করে, তবে তা নিছক কাকতালীয়ভাবে; আর যদি সে মারা যায়, তবে তা যেন অবধারিত ও প্রাপ্য হিসেবেই গণ্য হয়। তাদের সম্পর্কে কবি যেমনটি বলেছেন:
আর এক অভিজ্ঞ চিকিৎসক যার কোনো বোধ নেই
… সে যা কিছু পরীক্ষা করে তাতেই সাধারণত সফল হয়।
একদিন সে এক রোগীর পাশ দিয়ে যাচ্ছিল তখন আমরা বললাম
… তোমার চোখ জুড়িয়ে যাক, কারণ তুমি শাহাদাত লাভ করেছ।
যেমনটি অন্যজন আমাদের সেই হেকিমদের সম্পর্কে বলেছেন যারা সাধারণ মানুষের কাছে দক্ষতা ও শ্রেষ্ঠত্বের জন্য পরিচিত:
মহামারিকে বলো, তুমি এবং ইবনে জুহর
… তোমরা দুজনেই সীমা ও অন্তিম পর্যায় অতিক্রম করেছ।
সৃষ্টির প্রতি একটু সদয় হও
… তোমাদের দুজনের মধ্যে যেকোনো একজনই যথেষ্ট।
অথবা বর্তমান যুগের কেউ কেউ যেমনটি তাদের সম্পর্কে বলেছেন:
আর এক ভেলকিবাজ চিকিৎসক
… যে চিকিৎসাবিদ্যাকে জাদুমন্ত্রের সাথে মিশ্রিত করে।
--------------------------------------------