(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াসীত ফী তারাজিমু উদাবা শিনক্বীত
(পৃষ্ঠা: -)
الوسيط في تراجم أدباء شنقيط القسم: التراجم والطبقات
الكتاب: الوسيط في تراجم أدباء شنقيط والكلام على تلك البلاد تحديدا وتخطيطا وعاداتهم وأخلاقهم وما يتعلق بذلك
المؤلف: أحمد بن الأمين الشّنْقِيطي (ت 1331هـ)
عني بتصحيحه وتنقيحه: المؤلف
الناشر: الشركة الدولية للطباعة - مصر
الطبعة: الخامسة، 1422 هـ - 2002 م
عدد الصفحات: 580
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 22 جُمادَى الأولى 1433
শানক্বীতের সাহিত্যিকদের জীবনীগ্রন্থ আল-ওয়াসীত বিভাগ: জীবনী ও স্তরসমূহ
বই: শানক্বীতের সাহিত্যিকদের জীবনী এবং উক্ত ভূখণ্ডের সুনির্দিষ্ট পরিচয়, মানচিত্র, তাদের রীতিনীতি, চরিত্র ও তৎসংশ্লিষ্ট আলোচনার মধ্যস্থতাকারী গ্রন্থ
লেখক: আহমাদ বিন আল-আমীন আশ-শানক্বীতী (মৃত্যু ১৩৩১ হিজরী)
সংশোধন ও পরিমার্জনে যত্নবান হয়েছেন: লেখক নিজে
প্রকাশক: আশ-শারিকাহ আদ-দাওলিয়্যাহ লিত-তিত্ববাআহ (আন্তর্জাতিক মুদ্রণ সংস্থা) - মিশর
সংস্করণ: পঞ্চম, ১৪২২ হিজরী - ২০০২ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫৮০
[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত সংস্করণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ২২ জুমাদাল উলা ১৪৩৩ হিজরী
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াসীত ফী তারাজিমু উদাবা শিনক্বীত
(পৃষ্ঠা: ١)
قَبيلَةُ إِدَوْعَلِعبد الله بن محمد بن عبد الله بن الطالب بن حبيب بن أبيج ينتهي نسبه إلى يحيى العلوي الجد الجامع لأكثر القبيلة في تلك البلاد، يعرف بـ
ابن رازكهبكاف معقودة وهي أمه، ويعرف أبوه بمحم وجده بالغاظي (بالظاء والغين المعجمتين تصحيف القاضي) ويعرف أيضا بقاضي البراكنة العالم النحرير، المقدَّم على أهل قطره من غير نكير. كل عن مداه كل جواد، يعترف بذلك الحاضر والباد، وانتشر صيته في تلك الصحارى والأقطار، حتى صار كالشمس في رابعة النهار، وضُرب بفهمه المثل. واستوى في معرفته السهل والجبل.
وكان مولده في أرض القبلة، ثم نشأ بها إلى أن ترعرع، فطمحت نفسه إلى العلوم، فاشتغل بها حتى تضلع. وكان ذلك على طريق خرق العادة، إذ مدة طلبه لما نال ليست معتادة. ثم جعل يرجع إلى بلدة تارة والى مسقط رأسه أخرى. ثم طمحت نفسه إلى الأعتاب السلطانية. وكان ذلك في إقبال الدولة العلوية. فاتصل بأمير المؤمنين مولاي إسماعيل رحمه الله، فحظي عنده. وكان ذلك وقت نبوغ المولى محمد بن مولاي إسماعيل المعروف بالعالم، الذي اشتهر علمُه وفضله فكان من خاصته. وكان يكرمه بما لم يقصر عما يذكر من إكرام الرشيد وأضرابه لمن توجهوا إليه، فكان يفد إليه ثم يرجع إلى بلاده، فإذا تذكر تلك الشمائل العالمية، والأيادي الحاتمية. تتصاغر عنده الصحراء وأهلها، ثم يرجع إلى الحضرة السلطانية. وكان له صديق من الترأرزه، اسمه أعل شنذوره، جد محمد لحبيب الأمير المشهور. وكان تضطهده أبناء رزك، لشوكتهم في ذلك العصر، فأخذه مرة وتوجه به إلى مكناسة الزيتون حرسها الله، ولما قدماها ونزلا عند المولى إسماعيل أكرمهما، وقال سيدي محمد العالم يرحب بهما:
ইদাওয়ালি গোত্রআবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ বিন আল-তালিব বিন হাবিব বিন আবিজ; তাঁর বংশধারা সেই অঞ্চলের অধিকাংশ গোত্রের সাধারণ পূর্বপুরুষ ইয়াহইয়া আল-আলাবি পর্যন্ত গিয়ে সমাপ্ত হয়। তিনি পরিচিত ছিলেন-
ইবনে রাজকাহমায়ের নামানুসারে 'কাফ মা'কুদা' (বিশেষ এক প্রকার কাফ) সহযোগে তিনি এই নামে অভিহিত হতেন। তাঁর পিতা 'মুহাম্ম' এবং তাঁর দাদা 'আল-গাজী' (যা মূলত 'আল-কাদি' শব্দের অপভ্রংশ) নামে পরিচিত ছিলেন। এ ছাড়া তিনি ব্রাকনা অঞ্চলের অত্যন্ত বিজ্ঞ ও অগাধ পাণ্ডিত্যের অধিকারী বিচারক হিসেবে সুপরিচিত ছিলেন, যাঁর শ্রেষ্ঠত্বের ব্যাপারে তাঁর অঞ্চলের অধিবাসীদের মাঝে কোনো দ্বিমত ছিল না। প্রতিটি দ্রুতগামী ঘোড়া যেন তাঁর লক্ষ্যস্থলের কাছে পৌঁছাতে ক্লান্ত হয়ে পড়ত (অর্থাৎ তাঁর সমকক্ষ কেউ ছিল না); স্থায়ী বাসিন্দা ও যাযাবর নির্বিশেষে সকলে এটি স্বীকার করত। সেই সব মরুভূমি ও জনপদসমূহে তাঁর সুখ্যাতি এমনভাবে ছড়িয়ে পড়েছিল যে, তিনি মধ্যগগনের সূর্যের মতো উজ্জ্বল হয়ে উঠেছিলেন। তাঁর প্রজ্ঞা প্রবাদে পরিণত হয়েছিল এবং তাঁর পরিচিতি পাহাড় ও সমতল ভূমিতে সমানভাবে বিস্তৃত হয়েছিল।
তাঁর জন্ম হয়েছিল কিবলাহ অঞ্চলে এবং সেখানেই তিনি বেড়ে ওঠেন ও পরিণত বয়সে পৌঁছান। এরপর তাঁর মন জ্ঞান-বিজ্ঞানের প্রতি ধাবিত হয় এবং তিনি তাতে এমনভাবে আত্মনিয়োগ করেন যে গভীর ব্যুৎপত্তি অর্জন করেন। তাঁর এই জ্ঞান অর্জন ছিল এক প্রকার অলৌকিক বিষয়ের মতো; কেননা তিনি যে স্তরের জ্ঞান লাভ করেছিলেন, তা অর্জনের সময়কাল ছিল সাধারণ রীতির বহির্ভূত। এরপর তিনি কখনো (তদানীন্তন প্রধান) শহরে, আবার কখনো নিজের জন্মস্থানে যাতায়াত করতে শুরু করেন। অতঃপর তাঁর মনে রাজদরবারের সান্নিধ্য লাভের উচ্চাকাঙ্ক্ষা জাগল। আর এটি ছিল আলাবি সালতানাতের উত্থানকাল। তিনি আমিরুল মুমিনিন মাওলাই ইসমাইল (রাহিমাহুল্লাহ)-এর সান্নিধ্য লাভ করেন এবং তাঁর নিকট বিশেষ মর্যাদা লাভ করেন। এটি ছিল 'আল-আলিম' নামে খ্যাত মাওলাই মুহাম্মদ বিন মাওলাই ইসমাইলের বিকাশের সময়, যাঁর জ্ঞান ও মর্যাদা সর্বজনবিদিত ছিল; তিনি তাঁর ঘনিষ্ঠজনদের অন্তর্ভুক্ত হন। তিনি তাঁকে এমনভাবে সম্মানিত করতেন যা হারুনুর রশীদ ও তাঁর সমগোত্রীয়দের গুণগ্রাহিতার চেয়ে কোনো অংশে কম ছিল না। তিনি প্রায়ই তাঁর নিকট আসতেন এবং পুনরায় নিজ দেশে ফিরে যেতেন। কিন্তু যখনই তিনি সেই রাজকীয় সুমহান গুণাবলি ও হাতিম তায়ীর মতো বদান্যতার কথা স্মরণ করতেন, তখন তাঁর নিকট এই মরুভূমি ও এর অধিবাসীরা অতি তুচ্ছ মনে হতো এবং পুনরায় তিনি সুলতানি দরবারে ফিরে যেতেন। ত্রারজা গোত্রের তাঁর এক বন্ধু ছিল, যাঁর নাম আ'লি শানজুরা, যিনি বিখ্যাত আমির মুহাম্মদ আল-হাবিবের দাদা। সেই যুগে বনু রিজক তাদের প্রভাব-প্রতিপত্তির কারণে তাঁকে নিপীড়ন করত। একদা তিনি তাঁকে সাথে নিয়ে মিকনাসা আল-জায়তুন (আল্লাহ তা হিফাযত করুন) অভিমুখে রওনা হলেন। তাঁরা যখন সেখানে পৌঁছালেন এবং মাওলাই ইসমাইলের আতিথ্য গ্রহণ করলেন, তখন তিনি তাঁদের যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করলেন এবং সিদি মুহাম্মদ আল-আলিম তাঁদের স্বাগত জানিয়ে বললেন:
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াসীত ফী তারাজিমু উদাবা শিনক্বীত
(পৃষ্ঠা: ٢)
مكناسة الزيتون فخراً أصبحت
… تزهو وترفلُ في ملاءِ أخضرِ
فرَحاً بعبدِ الله نجل محمدٍ
… قاضي القضاة ومن ذؤابة مغفرِ
ثم ذكرا للسلطان صولة أبناء رزك في أرض القبلة، فأمدهما بمحلة كبيرة وأمر عليها أعل شنذوره، فسار بها إلى أن وصل أرض القبلة، فأباد أبناء رزك ولم يبق إلا مواليهم من ذلك الوقت.
ولم يزل سيدي عبد الله يعود إلى ارض المغرب مرة بعد مرة، إلى أن ثار المولى محمد صاحبه بأرض السوس على أخيه، وله فيه قصيدتان جيدتان سأورد ما تذكرت منهما.
وكان عبد الله المذكور متفننا في فنون شتى. منها: النحو. والعربية. والبيان. والمنطق. والفقه. والهندسة. والرياضة. والتربيع وغير ذلك، ولم نر من أخذ عليه شيئا إلا ما قيل عن بعضهم، إنه غلطه في فائيته حيث يقول:
قفوت بها الشاميّ في الفاءِ موقناً
… بأني وإن دون إدراكه ضعفا
قال: لأن الذي تقدمه في هذا الروي واقتفاه، هو ابن هانئ الأندلسي وهو مغربي، فكيف يقول إنه شاميّ، وهذا غير صحيح، لأن الشامي الذي يعني، هو أبو الحسن علي بن أحمد الشامي المغربي، وإنما لقب أبو الحسن هذا بالشامي، لان جده قدم من الشام على حضرة فاس حرسها الله، فاشتهرت بنوه بالنسبة إلى الشام. وأبو الحسن هذا، مات بعد الثلاثين والألف، ويدل عليه أن فائية عبد الله المذكورة في مدح نعال النبي صلى الله عليه وسلم، كما أن قصيدة أبي الحسن الشامي كذلك. أما فائية ابن هانئ المعروف بمتنبي، المغرب فإنه مدح بها جعفر بن عليّ صاحب الزاب. قالوا وأخذ عليه أيضا قوله:
ترى عَين الفتى جناتِ عَدْنٍ
… وتُصلى قلبهُ نار الجحيم
لأن هذا البيت هو بيت المتنبي:
حَشايَ على جمرٍ ذكيّ من الغضى
… وعَينايَ في روضٍ من الحسن ترتع
মিকনাসাতুজ যায়তুন (যয়তুনের মিকনাস) গর্বে পরিণত হয়েছে
… তা সবুজ পোশাকে সগর্বে বিচরণ করছে এবং সুশোভিত হচ্ছে।
মুহাম্মদের পুত্র আবদুল্লাহর আগমনে আনন্দিত হয়ে
… যিনি প্রধান বিচারপতি এবং উচ্চ বংশীয় আভিজাত্যের শিখর হতে আগত।
অতঃপর তাঁরা সুলতানের কাছে কিবলা ভূখণ্ডে রিজক বংশের সন্তানদের প্রতাপের কথা উল্লেখ করলেন। ফলে সুলতান তাঁদের বিরুদ্ধে একটি বিশাল বাহিনী পাঠালেন এবং আ'লা শানজুরাকে তার ওপর সেনাপতি নিযুক্ত করলেন। তিনি সেই বাহিনী নিয়ে অগ্রসর হলেন যতক্ষণ না কিবলা ভূখণ্ডে পৌঁছালেন। অতঃপর তিনি রিজক বংশের সন্তানদের নির্মূল করলেন এবং সেই সময় থেকে কেবল তাঁদের অনুসারীরাই অবশিষ্ট রইল।
এবং সিদি আবদুল্লাহ বারবার মরক্কো ভূখণ্ডে ফিরে আসতেন, যতক্ষণ না তাঁর বন্ধু মাওলা মুহাম্মদ সুস ভূখণ্ডে তাঁর ভাইয়ের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করলেন। তাঁর সম্পর্কে আবদুল্লাহর দুটি চমৎকার কাসিদা রয়েছে, যার মধ্যে যা আমার স্মরণে আছে তা আমি উল্লেখ করব।
উল্লেখিত আবদুল্লাহ বিভিন্ন বিদ্যায় পারদর্শী ছিলেন। তার মধ্যে রয়েছে: নাহু (ব্যাকরণ), আরবি সাহিত্য, বালাগাত (অলঙ্কারশাস্ত্র), যুক্তিবিদ্যা, ফিকহ (ইসলামি আইন), জ্যামিতি, গণিত, ক্ষেত্রফল নির্ণয় এবং আরও অনেক কিছু। আমরা দেখিনি যে কেউ তাঁর কোনো ভুল ধরেছেন, তবে কারো কারো সম্পর্কে বলা হয় যে, তারা তাঁকে তাঁর ‘ফা-ইয়্যাহ’ (ফা অন্ত্যমিলের কবিতা) কবিতায় ভুল সাব্যস্ত করেছেন যেখানে তিনি বলেছেন:
আমি নিশ্চিত হয়ে ‘ফা’ অন্ত্যমিলে শামিকে অনুসরণ করেছি
… যদিও আমি জানি যে তাঁর উচ্চতায় পৌঁছানোর ক্ষেত্রে আমি দুর্বল।
তিনি (সমালোচক) বললেন: কারণ যে ব্যক্তি এই অন্ত্যমিলে তাঁর আগে গত হয়েছেন এবং যাকে তিনি অনুসরণ করেছেন, তিনি হলেন ইবনে হানি আল-আন্দালুসি, যিনি একজন মাগরেবি। তাহলে তিনি কীভাবে বলেন যে তিনি ‘শামি’? অথচ এটি সঠিক নয়। কারণ তিনি যে ‘শামি’ বুঝিয়েছেন, তিনি হলেন আবুল হাসান আলী বিন আহমদ আশ-শামি আল-মাগরেবি। মূলত এই আবুল হাসানকে ‘শামি’ উপাধি দেওয়া হয়েছে কারণ তাঁর দাদা শাম থেকে ফেজ নগরীতে—আল্লাহ একে রক্ষা করুন—এসেছিলেন, ফলে তাঁর বংশধরেরা শামের নিসবতে প্রসিদ্ধি লাভ করেন। এই আবুল হাসান এক হাজার ত্রিশ হিজরির পর ইন্তেকাল করেছেন। এর প্রমাণ হলো আবদুল্লাহর উল্লেখিত ‘ফা-ইয়্যাহ’ কবিতাটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পাদুকার প্রশংসায় রচিত, যেমনটি আবুল হাসান শামির কবিতাও ছিল। আর ইবনে হানি—যিনি মাগরেবের মুতানাব্বি হিসেবে পরিচিত—তাঁর ‘ফা-ইয়্যাহ’ কবিতাটি ছিল জাবেরের অধিপতি জাফর বিন আলীর প্রশংসায়। তাঁরা আরও বলেন যে, তাঁর এই চরণের ওপরও আপত্তি করা হয়েছে:
যুবকের চোখ যেন আদন জান্নাত দেখছে
… অথচ তাঁর হৃদয় জাহান্নামের আগুনে দগ্ধ হচ্ছে।
কারণ এই পঙ্ক্তিটি মূলত মুতানাব্বির পঙ্ক্তি:
আমার নাড়িভুঁড়ি গাদা কাঠের জ্বলন্ত কয়লার ওপর
… অথচ আমার দুচোখ সৌন্দর্যের উদ্যানে বিচরণ করছে।
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াসীত ফী তারাজিমু উদাবা শিনক্বীত
(পৃষ্ঠা: ٣)
وهذا غير صحيح، لان قوله جنات عدن، أبلغ من روض من الحسن، ولأن نار الجحيم أحر من جمر الغضى، فاستحق هذا المعنى بما زاد فيه. قالوا وأخذ عليه أيضا قوله - وكان: يقرأ بين يدي المولى إسماعيل أو ابنه مولاي محمد العالم - فقال: الوخيذ بالذال المعجمة، فأرجعه السلطان أو ابنه. فقال: إنه بالذال المعجمة وبالمهملة، فطلب منه شاهدا على ذلك فارتجل:
أقولُ لصاحبي لما ارتحلنا
… وأسرَعنا النجائبَ في الوخيذِ
تمتّع من لذيذ كلام حورا
… فما بعدَ العشيةِ من لذيذِ
وهذا مغالطة منه، والجواب عن هذا أن ذلك يغتفر كما وقع لأبي العباس المبرد فإنه ورد الدينور زائرا لعيسى بن ماهان، فأول ما دخل عليه وقضى سلامه. قال له عيسى: أيها الشيخ! ما الشاة المجثمة التي نهى النبي صلى الله عليه وسلم عن أكل لحمها. فقال: هي الشاة القليلة اللبن مثل اللجبة. فقال: هل من شاهد؟ قال نعم، قول الراجز:
لم يبق من آل الحميد نسمه
… إلا عنيز لجبة مجثمه
فإذا الحاجب يستأذن لأبي حنيفة الدينوري، فلما دخل عليه قال: أيها الشيخ ما الشاة المجثمة التي نهينا عن أكل لحمها؟ فقال: هي التي جثمت على ركبها، وذبحت من خلف قفاها، فقال: كيف تقول ذلك، وهذا شيخ أهل العراق يقول: هي مثل اللجبة، وأنشده الشعر. فقال أبو حنيفة: إيمان البيعة تلزم أبا حنيفة أن كان هذا التفسير سمعه هذا الشيخ أو قرأه، وإن كان هذا الشعر إلا لساعته، هذه فقال أبو العباس: صدق الشيخ، فإنني أنفت أن أرد عليك من العراق، وذكرى ما قد شاع، فأول ما تسألني عنه لا أعرفه، فاستحسن منه هذا الاعتذار. ولعمري أن بيتيه أحسن من بيت أبي العباس عند المنصف.
ولنبدأ بقصيدته التي مدح بها نعله صلى الله عليه وسلم وهي:
আর এটি সঠিক নয়, কারণ তাঁর উক্তি ‘জান্নাতে আদন’ (চিরস্থায়ী জান্নাত), ‘রওদুম মিনাল হুসন’ (সৌন্দর্যের বাগান) অপেক্ষা অধিক প্রাঞ্জল। এবং জাহান্নামের আগুন ‘জামরুল গদা’ (গদা কাঠের অঙ্গার) অপেক্ষা অধিক উত্তপ্ত। সুতরাং এতে যা বৃদ্ধি করা হয়েছে তার কারণে এটি এই অর্থের দাবি রাখে। তারা বলেন: তাঁর বিরুদ্ধে এই অভিযোগও তোলা হয়েছে যে—তিনি যখন মৌলা ইসমাঈল অথবা তাঁর পুত্র মৌলা মুহাম্মদ আল-আলিমের সামনে পাঠ করছিলেন—তখন তিনি ‘আল-ওয়াখিজ’ শব্দটি ‘যাল’ বর্ণযোগে উচ্চারণ করেছিলেন। তখন সুলতান বা তাঁর পুত্র তাঁকে সংশোধন করে দেন। এরপর তিনি বললেন: এটি ‘যাল’ এবং ‘দাল’ উভয় বর্ণেই পাঠ করা যায়। তাঁর কাছে এর সপক্ষে প্রমাণ চাওয়া হলে তিনি তাৎক্ষণিক এই কবিতাটি আবৃত্তি করেন:
আমার সঙ্গীকে বললাম যখন আমরা যাত্রা করলাম
… এবং আমরা দ্রুতগামী উটগুলোকে দ্রুতগতিতে চালনা করলাম।
হূরদের সুমিষ্ট কথা থেকে আনন্দ গ্রহণ করো
… কারণ এই সন্ধ্যার পর আর কোনো মাধুর্য নেই।
আর এটি ছিল তাঁর একটি চাতুরি। এর উত্তর হলো, এটি ক্ষমাযোগ্য যেমনটি আবু আব্বাস আল-মুবররাদের ক্ষেত্রে ঘটেছিল। তিনি যখন ঈসা ইবনে মাহানের সাথে সাক্ষাৎ করতে দীনওয়ারে এসেছিলেন, প্রবেশের পর সালাম বিনিময়ের পরপরই ঈসা তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন: হে শায়খ! ‘মুজাচ্ছামা’ বকরি কোনটি, যার গোশত খেতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিষেধ করেছেন? তিনি উত্তর দিলেন: এটি হলো স্বল্প দুগ্ধবতী বকরি যেমন ‘লাজবাহ’। ঈসা বললেন: এর কি কোনো প্রমাণ আছে? তিনি বললেন: হ্যাঁ, জনৈক রাজেয-কবির উক্তি:
আল-হামিদের বংশধরের মধ্যে কোনো প্রাণ অবশিষ্ট নেই
… কেবল একটি ছোট স্বল্প দুগ্ধবতী কুণ্ডলী পাকানো বকরি ছাড়া।
ইতোমধ্যে দ্বাররক্ষী আবু হানিফা আদ-দীনওয়ারীর প্রবেশের অনুমতি চাইল। তিনি যখন প্রবেশ করলেন, ঈসা তাঁকে বললেন: হে শায়খ! ‘মুজাচ্ছামা’ বকরি কোনটি, যার গোশত খেতে আমাদের নিষেধ করা হয়েছে? তিনি বললেন: এটি হলো সেই বকরি যা তার হাঁটুর ওপর ভর দিয়ে বসে থাকে এবং একে ঘাড়ের পেছন থেকে জবাই করা হয়। তখন ঈসা বললেন: আপনি এটি কীভাবে বলছেন, অথচ ইরাকের এই শায়খ বলছেন এটি ‘লাজবাহ’ (স্বল্প দুগ্ধবতী বকরি) এর মতো, আর তিনি এর সপক্ষে কবিতাও পাঠ করেছেন। তখন আবু হানিফা বললেন: আবু হানিফার ওপর বায়আতের শপথ বর্তাবে যদি এই শায়খ ইতিপূর্বে এই ব্যাখ্যা শুনে থাকেন বা পড়ে থাকেন; বরং এই কবিতাটি তো এই মুহূর্তেই রচিত হয়েছে। তখন আবু আব্বাস বললেন: শায়খ সত্য বলেছেন। আমি ইরাক থেকে আপনার কাছে আসা মাত্রই এবং আমার প্রসিদ্ধি থাকা সত্ত্বেও প্রথম জিজ্ঞাসিত বিষয়েই ‘জানি না’ বলতে লজ্জাবোধ করেছি। ঈসা তাঁর এই ওজরকে উত্তম বলে গ্রহণ করলেন। আমার জীবনের কসম! ইনসাফকারীর নিকট তাঁর এই দুই পঙ্ক্তি আল-মুবররাদের পঙ্ক্তির চেয়ে অধিক সুন্দর।
এবার আমরা তাঁর সেই কবিতাটি দিয়ে শুরু করি যাতে তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পাদুকার প্রশংসা করেছেন, আর সেটি হলো:
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াসীত ফী তারাজিমু উদাবা শিনক্বীত
(পৃষ্ঠা: ٤)
غرام سقى قلبي مدامته صرفا
… ولمّا يقمٍ للعذل عدلا ولا صرفا
قضي فيه قاضي الحب بالهجر مذ غدى
… مريضاً بداءِ لا يطبُّ ولا يُشفى
نهاريَ نهرٌ بين جَفنيَ والكرى
… وليلىَ بحرٌ مرسَلٌ دونهُ سَجفا
جريحُ سهام الحب عاث به الهوى
… فأبدى الذي أبدا وأخفى الذي أخفى
توطّنتِ الأشواقُ سوْداَء قلبهُ
… فترفعهُ ظرْفاً وتخفضهُ ظرْفا
يحاولُ سلواني الأحبة عُذَّلى
… وهل يجد السلوان مَنْ يفقد الإلفا
سهرنا فناموا ثم عابوا جفوننا
… لقد صدقونا المُرهُ لا تشبه الوُطْفا
فحسبُ المحبّ الصادقِ الودّ قلبهُ
… جفاء بشكواهُ مرارة ما يخفى
وما ضرّ أوصالَ المحبّ مقوّتاً
… رجاء وصال الحب إسناتُها عجفا
لئن فاتنا عين الحبيب فإنما
… بآثاره الحسنى اكتفاء من استكفى
فإن لم تر النعل الشريفة فانخفض
… لتمثالها واعكف على لثمها عكفا
وقف رائماً إشمام ريا عبيرها
… حشاشة نفس ودّعت جسمها وقفا
ولا ترض في تقبيل إلف تحبهُ
… إذا أمكن التقبيل ألفاً ولا ضعفا
بدت روضة مسكية النشر أوشكت
… لطيب شذاها العين أن تحسد الأنفا
أيمكن رس ضمه الفم دونها
… أيملك جفن غضه دونها الطرفا
ترد الردى المخشىّ وشْكُ بلائه
… ولولا قضاءٌ سابقٌ ردّت الحتفا
وتجلب في سوق التكسب طرْفةً
… وتجنب في مضمارِ نيل العلى طرْفا
ورمحاً ردينياً وسهماً مفوَّقاً
… وسيفاً سريجياً وسابغة زَغْفا
فشمِّر وأظهرْ كل شرّ تضمهُ
… وإياك والإضمارَ في الشرح والحذفا
وحكم لها من هنَّ بالفصلِ حُكَّم
… ثلاثتهن الشرع والعقل والعرفا
এক তীব্র অনুরাগ আমার হৃদয়কে তার বিশুদ্ধ সুধা পান করিয়েছে
… আর নিন্দুকের নিন্দার জন্য কোনো ন্যায়বিচার বা অবকাশ রাখেনি।
প্রেমের বিচারক তাতে বিচ্ছেদের ফয়সালা করেছেন যখন থেকে সে
… এমন এক ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়েছে যার কোনো চিকিৎসা নেই এবং যা নিরাময়যোগ্য নয়।
আমার দিবস হলো আমার চোখের পাতা ও ঘুমের মধ্যবর্তী এক নদী
… আর আমার রজনী হলো এক অবারিত সমুদ্র যার সামনে যবনিকা ঝোলানো রয়েছে।
প্রেমের তিরে আহত অবস্থায় প্রবৃত্তি তাকে নিয়ে খেলা করেছে
… ফলে সে যা প্রকাশ করার তা প্রকাশ করেছে এবং যা গোপন করার তা গোপন রেখেছে।
তার হৃদয়ের অন্তঃস্থলে আকাঙ্ক্ষাসমূহ আবাস গেড়েছে
… যা তাকে কখনো এক অবস্থায় উচ্চে তুলে ধরে আবার অন্য অবস্থায় নিচে নামিয়ে দেয়।
নিন্দুকেরা আমাকে প্রিয়জনদের কথা ভুলিয়ে সান্ত্বনা দিতে চায়
… কিন্তু যে তার অন্তরঙ্গ বন্ধুকে হারিয়েছে সে কি কখনো সান্ত্বনা পেতে পারে?
আমরা জাগ্রত রইলাম আর তারা ঘুমিয়ে পড়ল, অতঃপর তারা আমাদের চোখের পাতার দোষ ধরল
… তারা সত্যই বলেছে, ক্লিষ্ট নির্ঘুম চোখ কখনো প্রশান্ত চোখের মতো হয় না।
সত্যনিষ্ঠ প্রেমিকের হৃদয়ের জন্য তার গোপন অনুযোগের তিক্ততা
… এবং অবহেলার যন্ত্রণাই যথেষ্ট।
প্রেমের মিলনের আশা যাকে পুষ্ট করে, তার শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের
… জীর্ণতা বা কৃশতা তার কোনো ক্ষতি করতে পারে না।
যদি প্রিয়তমের চাক্ষুষ সাক্ষাৎ আমাদের হাতছাড়া হয়ে থাকে, তবে
… যে তুষ্ট হতে চায় তার জন্য তাঁর উত্তম নিদর্শনগুলোই যথেষ্ট।
তুমি যদি সেই সম্মানিত জুতো (নাল শরিফ) দেখতে না পাও, তবে তার
… প্রতিকৃতির সামনে বিনত হও এবং তা চুম্বনে একনিষ্ঠভাবে নিমগ্ন থাকো।
এর সুগন্ধি ঘ্রাণ নেওয়ার সংকল্প নিয়ে দাঁড়িয়ে যাও; এমন এক প্রাণের
… শেষ স্পন্দন নিয়ে যা তার দেহ থেকে বিদায় নিয়ে অপেক্ষমাণ রয়েছে।
তুমি যাকে ভালোবাসো তাকে চুম্বনের ক্ষেত্রে একবার বা দুইবারে
… সন্তুষ্ট হয়ো না, যদি হাজার বার বা তার বেশি চুম্বন করা সম্ভব হয়।
কস্তুরীর সুবাস ছড়ানো এক উদ্যান উদ্ভাসিত হলো, যার চমৎকার
… ঘ্রাণের কারণে চোখ নাসিকার প্রতি ঈর্ষান্বিত হওয়ার উপক্রম হলো।
একে স্পর্শ করা বা মুখ দিয়ে চুম্বন করা ছাড়া কি থাকা সম্ভব?
… একে দেখা ছাড়া কি চোখের পাতা পলক ফেলার ক্ষমতা রাখে?
এটি ভীতিপ্রদ ধ্বংস ও আসন্ন বিপদকে প্রতিহত করে;
… আর যদি পূর্বনির্ধারিত ভাগ্য না থাকত, তবে এটি মৃত্যুকেও ফিরিয়ে দিত।
এটি উপার্জনের বাজারে এক দুর্লভ বস্তু নিয়ে আসে
… এবং উচ্চমর্যাদা লাভের প্রতিযোগিতায় শ্রেষ্ঠ অশ্বকে পরিচালিত করে।
আর এটি যেন রুদাযিনি বর্শা, নিপুণভাবে তৈরি তির,
… সুরাইজি তলোয়ার এবং প্রশস্ত ও মজবুত বর্ম।
সুতরাং তুমি কোমর বেঁধে লেগে যাও এবং তোমার অন্তরে থাকা সব প্রকাশ করো;
… ব্যাখ্যা প্রদানের ক্ষেত্রে কোনো কিছু লুকিয়ে রাখা বা বাদ দেওয়া থেকে সতর্ক থাকো।
আর এই তিন বিচারকের মাধ্যমে এর স্বপক্ষে চূড়ান্ত ফয়সালা গ্রহণ করো:
… শরিয়ত, বিবেক এবং প্রথা।
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াসীত ফী তারাজিমু উদাবা শিনক্বীত
(পৃষ্ঠা: ٥)
مضى سلف في خدمة النعل صالح
… فكن خَلَفاً فيما تعاطوه لا خَلْفا
رأوا تلك في الدنيا الدنية قربة
… إلى الله في الأخرى مقربةً زلْفى
أرى الشعراء الهائمين تشببوا
… بذكر المحاكي من يحبونه وصفا
يُذيعون ذكر البان والحقف ذي النقي
… ويطرون ذات الخشف بالقول والخشفا
فها أنا في تمثال نعليك سيدي
… مضيت على التحقيق في الوصف كالأشفا
وإني وتوصافي بديع حلاهما
… كمن همَّ بالبحرين يفنيهما غرفا
موازي ترابَ النعل بالتبر سائمٌ
… جبال شروري السمَّ أن تزن الزفا
أيا من سَقَتْ ألفاً ظماء بنانهُ
… كما وهبت ألفاً كما هزمت ألفا
يد سميت في فادح الفقر راحة
… كما سميت في كفها للعدى كفا
ومن قام في الإسراء والحشرِ خلَفه
… نبيؤ إله الحق كلهم صفا
نبي وقانا صرفيِ الدهر يمنه
… فها نحن لا أزلا نخاف ولا عنفا
له مكنة في علم كل خبيئة
… يقيناً ولم يخطط على مُهْرَقٍ حرفا
تناهي إليه علم ما كان أودعت
… بنات لبيدٍ بيرَ ذروان والجفا
وما في ذراع الشاة مما تعمدت
… يهود ولكن ما أعفّ وما أعفا
وما ملكوت العرش عنه مغيباً
… يعاينه والعين نائمة كشفا
يجوز عليه النوم شرعا وما سهى
… له قلبه اليقظان قط وما أغفا
وما أرضة البيت الحرام تعقبت
… كتاب قريش إذ نفت كل ما ينفي
لمولدك الميمون آيٌ شهيرةٌ
… شفت غُلَّةَ الراوين من قولها الشفا
وفيما رأت عينا حليمة مذ رأت
… تبنيك هو إلا حظي شفاء من استشفى
ولو لم يجبك البدر لما دعوتهُ
… لما شئت لم ينفكُّ نصفين أو نصفا
ولم تك أمّ المؤمنين وإن سخت
… لتفنى لولا كيلها ما على الرفا
সৎ পূর্বসূরিগণ সেই জুতা মুবারকের খিদমতে অতিবাহিত হয়েছেন
… সুতরাং তারা যা সম্পাদন করেছেন তাতে আপনি তাদের যোগ্য উত্তরসূরি হোন, অযোগ্য নয়।
তাঁরা এই নগণ্য দুনিয়ায় সেই খিদমতকে এক মহান নৈকট্য হিসেবে দেখেছিলেন
… যা পরকালে আল্লাহর সান্নিধ্যে অতি নিকটবর্তী হওয়ার মাধ্যম।
আমি দেখতে পাই বিভ্রান্ত কবিগণ রূপক বর্ণনা ও প্রেমের পংক্তি রচনা করেন
… তাদের প্রিয়জনদের সদৃশ গুণাবলি বর্ণনার মাধ্যমে।
তারা ‘বান’ বৃক্ষ ও বালিয়াড়ির কথা ছড়িয়ে দেয়
… আর তারা সুন্দরীদের রূপ ও চঞ্চল চলনের প্রশংসা করে।
হে আমার সরওয়ার! আপনার জুতা মুবারকের প্রতিকৃতি বর্ণনায় আমি
… পুঙ্খানুপুঙ্খ বর্ণনার ক্ষেত্রে পারদর্শীদের ন্যায় অগ্রসর হয়েছি।
নিশ্চয়ই আমি এবং আমার বর্ণনায় এই জোড়া জুতার অপূর্ব সৌন্দর্য
… ঐ ব্যক্তির মতো যে দুই সমুদ্রের পানিকে আঁজলা ভরে শেষ করার সংকল্প করে।
জুতার ধূলিকণাকে স্বর্ণের সমতুল্য মনে করা এক ব্যর্থ চেষ্টা
… শারুরি পাহাড়ের তুলাদণ্ডের ভার বহন করা কি সম্ভব?
ওগো সেই সত্তা! যাঁর আঙুল মুবারক হাজারো তৃষ্ণার্তকে পানি পান করিয়েছে
… যেমন তা হাজারো দান করেছে এবং হাজারো শত্রুকে পরাজিত করেছে।
এমন এক হাত যা চরম দারিদ্র্যের সময় ‘স্বস্তি’ হিসেবে অভিহিত হয়েছে
… ঠিক যেমন শত্রুদের প্রতিরোধের জন্য তা এক ‘দৃঢ় ঢাল’ হিসেবে পরিচিত।
মিরাজ ও হাশরের ময়দানে যাঁর পেছনে দণ্ডায়মান ছিলেন
… সত্য ইলাহ-র সকল নবীগণ কাতারবদ্ধ হয়ে।
এমন এক নবী যাঁর বরকতে কালচক্রের বিপর্যয় থেকে আমরা সুরক্ষিত হয়েছি
… তাই আমরা অভাব-অনটন কিংবা কঠোরতার ভয় করি না।
প্রতিটি গোপন রহস্যের জ্ঞানে তাঁর পূর্ণ অধিকার রয়েছে
… সুনিশ্চিতভাবে, যদিও তিনি কাগজের ওপর কোনো অক্ষর লেখেননি।
লবিদের কন্যারা যারওয়ান কূপ ও আবর্জনার স্তূপের ভেতরে যা কিছু লুকিয়ে রেখেছিল
… সেই গূঢ় রহস্যের জ্ঞান তাঁর নিকট পৌঁছে গিয়েছিল।
আর বকরির বাহুর (গোশত) মাঝে ইহুদিরা যা করার ষড়যন্ত্র করেছিল তাও তিনি জানতেন
… কিন্তু তিনি কতই না পবিত্র ও ক্ষমাশীল ছিলেন!
আরশের রাজত্ব তাঁর নিকট অদৃশ্য নয়
… চক্ষু নিদ্রিত থাকলেও তিনি চাক্ষুষভাবে তা প্রত্যক্ষ করেন।
তাঁর জন্য শরীয়ত মোতাবেক নিদ্রা বৈধ, কিন্তু তিনি কখনো উদাসীন হননি
… তাঁর জাগ্রত অন্তর কখনো তন্দ্রাচ্ছন্ন বা বিমোহিত হয়নি।
আর বায়তুল্লাহর উইপোকাগুলো কীভাবে কুরাইশদের সেই চুক্তিনামার পেছনে লেগেছিল
… যখন তারা ন্যায়সঙ্গত সবকিছুকে অস্বীকার করেছিল।
আপনার বরকতময় জন্মের জন্য এমন সব প্রসিদ্ধ নিদর্শন রয়েছে
… যা বর্ণনাকারীদের জ্ঞানতৃষ্ণাকে পরিপূর্ণরূপে নিবারণ করেছে।
হালিমা যখন থেকে আপনাকে পালক পুত্র হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন তখন থেকে যা কিছু দেখেছিলেন
… তা ছিল সুস্থতা প্রত্যাশীদের জন্য এক মহৌষধ।
আপনি যখন পূর্ণিমাকে ডাক দিয়েছিলেন, সে যদি সাড়া না দিত
… তবে আপনার ইচ্ছায় তা দুই খণ্ডে বিভক্ত হতো না।
আর মুমিনদের জননী (আয়েশা রা.)-এর খাদ্যভাণ্ডার যদিও তিনি অকাতরে দান করতেন
… তা কখনো শেষ হতো না, যদি না তিনি তা মেপে দেখতেন।
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াসীত ফী তারাজিমু উদাবা শিনক্বীত
(পৃষ্ঠা: ٦)
إلى معجزات أنجم الجوِّ دونها
… نُمُوًّا وحُسناً وارتفاعاً ومُصْطَفا
فلا الدهرُ يحصيهنَّ عدًّا ولو غدت
… مداداُ لياليه وأيامه صُحْفا
بك الله نادى عالم العقل باليًا
… فأغواهُم عدلا ووفقهم لطفا
تأثل منك النجم كيفية الهدى
… وشمس الضحى الإشراق والعنبر العرقا
ورشدك ما أبداه فانكشف العمى
… ووجهك ما أبهى وقلبك ما أصفا
ونوَّرت أضغان العدوّ موالياً
… عليهم هدى الآيات يشرقن والزحفا
ولي فيك عيم ما أن العين ثرة
… حكتها ولا هامى الحيا مثلها وكفا
وخد كما تحت المحيط من الثرى
… فآليته لاجف إلا إذا جفا
وفكرة حيران الحجا قذفت به
… نَوًى شُطُرٌ من حيث لم يحتسب قذفا
وقلب تولى الحب تصوير شكله
… صنوبرة ثم استبد به حلفا
فكان سواء عذبه وعذابه
… عليه فما استعفاه قط ولا أعفا
وشعر بديع لو حوى الفتح شينه
… تمنت عذارى الحيّ وارده الوحفا
فإن لم يكن حق النبيّ فزخرف
… إذا زلزلت للحشر ألفيته كهفا
قفوت بها الشاميّ في الفاءِ موقناً
… بأدنى وإن دون إدراكه ضعفا
أنا التابع النعّات فيك مؤكداً
… بيانهمُ أرجو به عندك العطفا
تخذتك كهفاً دون ما أنا خائفٌ
… فلم أخش في أعقاب حادثة لهفا
فرشني ومن راشت يداك جناحه
… يكن آمناً ما عاش من دهره النتفا
وأطلق سراحي من ذنوب عظيمة
… تعاظمني إبثاقها ليتني أكفى
عيك صلاة الله جمعاء كلها
… وتسليمه ما طاش عقلٌ وما ألفى
وآلك والصحب للذين علاهُم
… أقلتهمُ أرضاً أظلتهمُ سقفا
এমন সব মুজিযাসমূহ যার তুলনায় আকাশের নক্ষত্ররাজি
… প্রবৃদ্ধি, সৌন্দর্য, উচ্চতা ও শ্রেষ্ঠত্বের দিক থেকে তুচ্ছ।
মহাকাল সেগুলোকে গণনা করে শেষ করতে পারবে না, যদিও তার রাতগুলো
… কালি হয়ে যায় এবং দিনগুলো হয়ে যায় পৃষ্ঠা বা পাণ্ডুলিপি।
আপনার মাধ্যমে আল্লাহ জরাজীর্ণ বিবেক-বুদ্ধির জগতকে আহ্বান করেছেন
… অতঃপর তিনি ইনসাফবশত কাউকে পথভ্রষ্ট করেছেন এবং অনুগ্রহবশত কাউকে তাওফিক দান করেছেন।
আপনার থেকেই নক্ষত্র লাভ করেছে হেদায়াতের পদ্ধতি
… আর পূর্বাহ্নের সূর্য লাভ করেছে তার প্রখর দীপ্তি এবং আম্বর লাভ করেছে সুগন্ধি আপনার ঘাম থেকে।
আপনার সঠিক পথ প্রদর্শনের ফলেই অন্ধত্ব দূরীভূত হয়েছে
… আপনার চেহারা কতই না উজ্জ্বল এবং আপনার অন্তর কতই না স্বচ্ছ!
আপনি শত্রুর অন্তরের বিদ্বেষকেও অনুগত ও বন্ধুতে রূপান্তরিত করেছেন
… তাদের উপর হেদায়াতের আয়াতসমূহের নূর এবং সত্যের অভিযান উদ্ভাসিত হওয়ার মাধ্যমে।
আপনার প্রতি আমার রয়েছে এমন ব্যাকুলতা যা কোনো প্রবহমান ঝরনা
… অনুকরণ করতে পারেনি, আর না বৃষ্টির বর্ষণ তার সমতুল্য হতে পেরেছে।
আর অশ্রুসিক্ত গাল যেন সমুদ্রের তলদেশের সিক্ত মাটি
… আমি শপথ করেছি যে, প্রিয়জন বিমুখ না হওয়া পর্যন্ত এ গাল শুকাবে না।
বিস্ময়াভিভূত বুদ্ধিবৃত্তির চিন্তা তাকে নিক্ষেপ করেছে
… দূর-দূরান্তের এমন প্রান্তে যে নিক্ষেপের কথা সে কল্পনাও করেনি।
এমন এক হৃদয় যার আকৃতি অঙ্কনের দায়িত্ব নিয়েছে স্বয়ং প্রেম
… হৃদপিণ্ড সদৃশ করে, অতঃপর দৃঢ় প্রতিজ্ঞার সাথে তা নিজের কর্তৃত্বে নিয়েছে।
তার কাছে প্রেমের মিষ্টতা ও তার যন্ত্রণা সমান হয়ে গিয়েছে
… তাই সে কখনো মুক্তি চায়নি এবং তাকে মুক্তি দেওয়াও হয়নি।
এমন এক চমৎকার কাব্য, যদি তার 'শিন' অক্ষরটি বিজয়ের সৌভাগ্য লাভ করত
… তবে গোত্রের কুমারীরা তার ঘন কৃষ্ণাভ সৌন্দর্য কামনা করত।
যদি এটি নবীর হকের জন্য না হতো তবে তা হতো অলঙ্করণ মাত্র
… যখন হাশরের ময়দানে পৃথিবী প্রকম্পিত হবে, আপনি একে আশ্রয়স্থল হিসেবে পাবেন।
আমি নিশ্চিত বিশ্বাস নিয়ে 'ফা' অক্ষরের অন্ত্যমিলে সেই শামী (সিরীয়) কবির পদাঙ্ক অনুসরণ করেছি
… সামান্যতম অর্জনের আশায়, যদিও তার সমপর্যায়ে পৌঁছাতে আমার সামর্থ্য সীমিত।
আমি আপনার গুণকীর্তনকারীদের একজন অনুসারী হয়ে তাদের বর্ণনাকে দৃঢ় করছি
… যার মাধ্যমে আপনার নিকট আমি দয়া ও করুণা প্রত্যাশা করি।
আমি আপনাকে আমার ভয়ের বিরুদ্ধে আশ্রয়স্থল হিসেবে গ্রহণ করেছি
… তাই কোনো দুর্ঘটনার পরিণামে আমি পরিতাপের আশঙ্কা করি না।
আপনি আমাকে সমৃদ্ধ করুন; কারণ আপনার হাত যার ডানায় পালক গজিয়ে দেয়
… সে তার জীবনের কঠিন সময়েও নিরাপদ থাকে।
আমাকে মুক্ত করে দিন সেই মহা পাপসমূহ থেকে
… যার প্রাবল্য আমাকে কাবু করে ফেলেছে, হায় যদি আমি তা থেকে মুক্তি পেতাম!
আপনার প্রতি আল্লাহর পূর্ণ রহমত বর্ষিত হোক
… এবং তাঁর সালাম বর্ষিত হোক যতক্ষণ কোনো বিবেক বিস্মৃত হয় কিংবা প্রশান্তি খুঁজে পায়।
এবং আপনার পরিবারবর্গ ও সেই সকল সাহাবীর প্রতি যাদের মর্যাদা সুউচ্চ
… পৃথিবী যাদের বহন করেছে এবং আকাশ যাদের ছায়া দিয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াসীত ফী তারাজিমু উদাবা শিনক্বীত
(পৃষ্ঠা: ٧)
وهذه قصيدة علي بن أحمد الشامي المغربي التي تقدمت الإشارة إليها:
دعوا شفة المشتاق من سقمها تشفى
… وترشف من اسآر ترب الهدى رشفا
وتلثم تمثالا لنعل كريمةٍ
… بها الدهر يستسقى الغمام ويستشفى
ولا تصرفوها عن هواها وسؤْلها
… بعدلكم فالعدل يمنعها الصرفا
ولا تعتبوها فالعتاب يزيدها
… هياماً ويسقيها مدام الهوى صرفا
جفتها بكتم الدمع بخلا جفونها
… فمن لامها في اللثم فهو لها أجفى
لئن حجبت بالبعد عنهم فهذه
… مكارمهم لم تبق ستراً ولا سجفا
وإن كان ذاك الحيف ملفى وصالهم
… فها نفحة الإفضال قربت الملفى
فحركت الأشواق منا لروضة
… أباح لنا الإسعاد من زهرها قطفا
زماناً به موصولنا نال عائداً
… وأكد نعت الوصل من نحوهم عطفا
تولى كمثل الطيف أن زارفى الكرى
… وإلا كمثل البرق أن سارع الخطفا
ومنها:
كأنا وما كنا نحوب منازلا
… يود بها المشتاق لو راهق الحتفا
ولم تبصر الأبصار منها محاسنا
… ولم تسمع الآذان من ذكرها هتفا
كذاك الليالي لم تحل عن طباعها
… متى واصلت يوما تصل قطعها ألفا
فلا عيش لي أرجوه من بعد بعدهم
… وهيهات يرجو العيش من فارق الإلفا
ومنها:
أيا من نأت عنه ديارُ أحبةٍ
… فمن بعدهم مثلى على الهلك قد أشفى
لئن فاتنا وصل بمنزل خيفهم
… فها نفحة من عرفهم للحشا أشفى
وهاذيك أنفاس الرياض تنفست
… برياهُم فاستشفينَّ بها تشفى
وقل للأولى هاموا اشتياقاً لبابهم
… هلموا لعرف البان نستنشق العرفا
فصفحة هذا الطرس أبدت نعالهم
… وصارت له ظرفاً فيا حسنه ظرفاً
تعالوا نغالى في مديح علائها
… فرُب غلوٍ لم يعب ربه عُرفا
ولله قوم في هوانا تنافسوا
… وقد غرفوا من بحر أمداحها غرفا
এবং এটি আলী বিন আহমদ আশ-শামী আল-মাগরিবি-এর সেই কসিদা যার দিকে পূর্বে ইঙ্গিত করা হয়েছে:
বিরহকাতরের অধরকে তার অসুস্থতা থেকে মুক্তি পেতে দাও
… আর হিদায়াতের ধূলিকণার অবশিষ্টাংশ থেকে তাকে এক চুমুক পান করতে দাও
আর তাকে এক মহিমান্বিত জুতার প্রতিকৃতি চুম্বন করতে দাও
… যার অসীলায় মহাকাল মেঘমালা থেকে বৃষ্টি প্রার্থনা করে এবং আরোগ্য কামনা করে
তোমাদের ইনসাফের দোহাই দিয়ে একে তার অনুরাগ ও আকাঙ্ক্ষা থেকে ফিরিয়ে দিয়ো না
… কারণ ইনসাফই একে বিমুখ হতে বাধা দেয়
তাকে তিরস্কার করো না, কারণ তিরস্কার তার ব্যাকুলতাকে বাড়িয়ে দেয়
… এবং তাকে বিশুদ্ধ অনুরাগের সুধা পান করায়
তার চোখের পাতাগুলো অশ্রু গোপন করে কার্পণ্যবশত তার সাথে রূঢ় আচরণ করেছে
… সুতরাং যে তাকে চুম্বনের জন্য তিরস্কার করবে, সে তার প্রতি আরও বেশি রূঢ়
যদি দূরত্বের কারণে তাদের থেকে সে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে, তবে এই তো তাদের মহানুভবতা
… যা কোনো আবরণ বা পর্দা অবশিষ্ট রাখেনি
যদি সেই বঞ্চনাই তাদের মিলনের ক্ষেত্র হয়ে থাকে
… তবে এই তো অনুগ্রহের সুবাতাস যা মিলনের স্থানকে নিকটে নিয়ে এসেছে
আর তা আমাদের মাঝে সেই বাগিচার প্রতি ব্যাকুলতা জাগিয়ে তুলেছে
… যার ফুল আহরণের অনুমতি সৌভাগ্য আমাদের দান করেছে
এমন এক সময় যাতে আমাদের নৈকট্য লাভকারী প্রতিদান পেয়েছে
… এবং তাদের পক্ষ থেকে মিলনের বৈশিষ্ট্য অনুরাগকে আরও সুদৃঢ় করেছে
তা ঘুমের ঘোরে দেখা স্বপ্নের মতো চলে গেছে
… অথবা চোখের পলকে ছিনিয়ে নেওয়া বিদ্যুতের মতো দ্রুত চলে গেছে
এর মধ্য থেকে:
মনে হচ্ছে আমরা যেন সেই ঘরগুলোর চারপাশ প্রদক্ষিণ করছি (যদিও বাস্তবে করছি না)
… যেখানে বিরহকাতর ব্যক্তি মৃত্যু কামনা করে
চোখসমূহ তার সৌন্দর্য দেখেনি
… এবং কানসমূহ তার উল্লেখের কোনো আহ্বান শোনেনি
এভাবেই রাতগুলো তার স্বভাব পরিবর্তন করেনি
… যখনই তা একদিনের জন্য মিলন ঘটায়, তার বদলে হাজার দিনের বিচ্ছেদ মিলিয়ে দেয়
তাদের দূরত্বের পর আমি আর কোনো জীবনের আশা করি না
… আর যে তার প্রিয়জনকে হারিয়েছে, সে কীভাবে জীবনের আশা করতে পারে!
এর মধ্য থেকে:
হে ঐ ব্যক্তি, যার কাছ থেকে প্রিয়জনদের আবাসস্থল দূরে সরে গেছে
… তাদের বিরহে আমার মতো ব্যক্তি তো ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছে
যদি তাদের ‘খাইফ’ নামক আবাসে আমাদের মিলন সম্ভব না হয়
… তবে এই তো তাদের সুঘ্রাণ মিশ্রিত সুবাতাস যা অন্তরের জন্য অধিক নিরাময়ক
ঐ যে বাগিচার নিঃশ্বাসগুলো তাদের সুবাস ছড়িয়ে বইছে
… সুতরাং এর মাধ্যমে আরোগ্য কামনা করো, তুমি সুস্থ হয়ে যাবে
আর যারা তাদের দুয়ারের ব্যাকুলতায় দিশেহারা, তাদের বলো
… এসো 'বান' বৃক্ষের সুবাসের কাছে, আমরা এর ঘ্রাণ গ্রহণ করি
কারণ এই কাগজের পাতাটি তাদের জুতার প্রতিকৃতি প্রকাশ করেছে
… এবং এটি তার আধার হয়ে উঠেছে; আহা, কতই না সুন্দর এই আধার!
এসো, আমরা এর সুউচ্চ মর্যাদার প্রশংসায় পঞ্চমুখ হই
… কারণ অনেক অতিশয়োক্তিই প্রথাগতভাবে প্রশংসার যোগ্য
আল্লাহর জন্যই সেই জাতি, যারা আমাদের ভালোবাসায় প্রতিযোগিতা করেছে
… এবং যারা তার প্রশংসার সমুদ্র থেকে অঞ্জলি ভরে নিয়েছে
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াসীত ফী তারাজিমু উদাবা শিনক্বীত
(পৃষ্ঠা: ٨)
وإنا وإن كنا على الكل لم نطق
… نحاول بعض البعض من بعض ما يلفى
لئن قبلوا ألفاً نزد نحن بعدهم
… على الألف ما يستغرق الفرد والألفا
وإن وصفوا واستغرقوا الوصف حسبنا
… نجيل بروض الحسن من وصفهم طرفا
ونقبس من آثارهم قدر وسعنا
… ونركض في مضمار آثارهم طِرْفا
ومن مديحها في سيد البشر، الشافع المشفع في المحشر، صلى الله عليه وسلم:
أُناديك يا خير البرية كلها
… نداء عبيد يرتجى العفو واللطفا
وأين محق في هوى حبك الذي
… يفل جيوش الهم أن أقبلت زحفاً
وما أنا فيه بالذي قال هازلا
… أليلتنا إذ أرسلت وارداً وحفاً
وأشار بهذا إلى قصيدة ابن هانئ الاندلسي، التي تقدمت الإشارة اليها ومطلعها:
أليلتنا إذ أرسلت وارداً وحفاً
… وبتنا نرى الجوزاَء في أذنها شنفاً
وهي مشهورة فلا نطيل بذكرها، وإنما الغرض تبرئة المترجم من الغلط.
وقال أيضا ملغزاً في قوله تعالى (ثم استخرجها من وعاء أخيه) ويخاطب علماء فاس عموما، ويخص العلامة ابن زكري:
شيوخ البيان الذائقين حلاوة
… من العلم لم تطعم لغير ذويه
سلام من الله السلام ورحمة
… يعمانكم من خامل ونويهِ
سؤال غريب دون شنجيط أرضه
… من البعد تيه يتصلن بتيه
إذا شبَّه الهادي بها وجه مرشد
… تشابه في عينيه وجه مُتِيهِ
قِراهُ لديكم أهْل فاس جوابهُ
… بنص بيان في البيان وجيهِ
سما بكمُ علم البيان وحقه
… إذا ما هوى ظن بمختلجيهِ
أسائلكم ما سر إظهار ربنا
… تبارك مجداً من وعاءِ أخيهِ
فلم يأت عنه منه أو من وعائه
… لأمر دقيق جلّ ثم يخيهِ
فإن تك أسرار المعاني خفية
… فمرآتها أفكار كل نبيهِ
وأنت ابنَ زكريّ نبيهٌ محقق
… تفرَّدْتَ في الدنيا بغير شبيهِ
إذا غصت في بحث حصلت بدره
… وخليت عن سفسافِه ورديهِ
যদ্যপি আমরা সকল বিষয়ের ওপর সক্ষম নই
… তবুও যা দৃষ্টিগোচর হয় তার কিছু অংশ প্রাপ্তির চেষ্টা করি।
যদি তারা হাজার গ্রহণ করে, তবে আমরা তাদের পরে সেই হাজারের ওপর এমন কিছু বৃদ্ধি করব যা একক এবং হাজারকে পরিব্যপ্ত করে।
আর যদি তারা প্রশংসা করেন এবং প্রশংসায় পূর্ণতা আনেন, তবে আমাদের জন্য তাদের বর্ণনার সৌন্দর্যের উদ্যানে একপলক দৃষ্টি বুলানোই যথেষ্ট।
আমরা আমাদের সাধ্যমতো তাদের পদাঙ্ক থেকে আলো গ্রহণ করি এবং তাদের কর্মের ময়দানে দ্রুতগামী ঘোড়ার মতো দৌড়াই।
মানবজাতির সরদার, হাশরের ময়দানে কবুলযোগ্য সুপারিশকারী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর প্রশংসায় তাঁর রচিত কবিতা থেকে:
আমি আপনাকে ডাকি হে সমগ্র সৃষ্টির শ্রেষ্ঠতম সত্তা, এক দাসের ন্যায় যে ক্ষমা ও করুণার প্রত্যাশা করে।
আর আপনার ভালোবাসার অনুরাগে নিমগ্ন সেই সত্যনিষ্ঠ ব্যক্তি কোথায়, যে ভালোবাসা দুশ্চিন্তার বাহিনীকে পরাজিত করে যখন তারা দলবদ্ধভাবে এগিয়ে আসে।
আর আমি এই ক্ষেত্রে সেই ব্যক্তির মতো নই যে উপহাস করে বলেছিল— ওগো আমাদের সেই রাত, যখন সে তার ঘন কৃষ্ণ কেশরাজি মেলে ধরেছিল।
এর মাধ্যমে তিনি ইবনে হানি আল-আন্দালুসীর কবিতার দিকে ইশারা করেছেন, যার কথা ইতিপূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে এবং যার শুরুটা হলো:
ওগো আমাদের সেই রাত, যখন সে তার ঘন কৃষ্ণ কেশরাজি মেলে ধরল, আর আমরা সারারাত কালপুরুষ নক্ষত্রকে তার কানের দুল হিসেবে দেখতে পেলাম।
এটি অত্যন্ত প্রসিদ্ধ, তাই বিস্তারিত বলে দীর্ঘ করছি না; উদ্দেশ্য কেবল জীবনীকারকে ভুল থেকে নির্দোষ প্রমাণ করা।
মহান আল্লাহর বাণী "অতঃপর তিনি তা তাঁর ভাইয়ের থলে থেকে বের করলেন" (সূরা ইউসুফ: ৭৬)-এর মর্ম নিয়ে একটি ধাঁধার ছলে তিনি আরও কিছু পঙক্তি বলেছেন। এতে তিনি সাধারণভাবে ফাস শহরের আলেমদের এবং বিশেষভাবে আল্লামা ইবনে জাকারিকে সম্বোধন করেছেন:
হে অলঙ্কারশাস্ত্রের শাইখগণ, যারা ইলমের সেই মিষ্টতা আস্বাদন করেছেন যা এর উপযুক্ত লোক ছাড়া অন্য কেউ পায় না।
শান্তি ও নিরাপত্তা প্রদানকারী আল্লাহর পক্ষ থেকে শান্তি ও রহমত আপনাদের সবার ওপর বর্ষিত হোক—অখ্যাত থেকে শুরু করে প্রসিদ্ধ সবার ওপর।
একটি অদ্ভুত প্রশ্ন, যা শিনকিত ভূখণ্ডের চেয়েও দূরবর্তী প্রান্তর থেকে এসেছে, যেখানে মরুর পর মরু বিস্তৃত।
পথপ্রদর্শক যদি এর সাথে কোনো দিশারীর চেহারার তুলনা করেন, তবে বিভ্রান্ত ব্যক্তির চেহারাও তার চোখে অভিন্ন মনে হবে।
হে ফাসবাসী, আপনাদের নিকট এর আপ্যায়ন হলো এর যথাযথ উত্তর, যা সুস্পষ্ট ও গ্রহণযোগ্য অলঙ্কারপূর্ণ বর্ণনায় সমৃদ্ধ।
অলঙ্কারশাস্ত্র আপনাদের মাধ্যমে উচ্চ শিখরে পৌঁছেছে এবং এর প্রকৃত রূপ প্রকাশ পেয়েছে, যখন এর চর্চাকারীদের মনে কোনো সংশয় দেখা দেয়।
আমি আপনাদের নিকট জানতে চাই—আমাদের প্রতিপালক (যাঁর মহিমা বরকতময়) কেন ‘তার ভাইয়ের থলে থেকে’ (প্রকাশ করার) রহস্য ব্যক্ত করলেন?
কেন তিনি ‘তার পক্ষ থেকে’ অথবা ‘তার থলে থেকে’—এমনটি বললেন না? এটি এক সূক্ষ্ম বিষয়ের কারণে যা অতি মহান ও নিগূঢ়।
যদি অর্থসমূহের রহস্য গোপনও থাকে, তবে প্রতিটি বুদ্ধিমান ব্যক্তির চিন্তাশক্তিই হলো তার আয়না।
আর হে ইবনে জাকারি, আপনি একজন প্রখর মেধাবী ও সত্যসন্ধানী আলেম; আপনি এই দুনিয়ায় অনন্য ও অতুলনীয়।
আপনি যখন কোনো গবেষণায় ডুব দেন, তখন তার মুক্তা আহরণ করেন এবং অসার ও নিকৃষ্ট অংশগুলো পরিত্যাগ করেন।
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াসীত ফী তারাজিমু উদাবা শিনক্বীত
(পৃষ্ঠা: ٩)
يمدك في إتقان علم تبثه
… قياس أصوليّ ونص فقيهِ
وقاك الذي أبداك كالنجم يتقى
… به الغيَّ من يبغي الهدى ويعيه
وقد أجاب هذا اللغز، محمد بن سعيد اليدالي الديماني، بقصيدة طويلة. قال في الذهب اقتصرنا منها على محل الفائدة وهو:
سؤال بليغ في البيان نبيه
… أديب من أرباب الهدى وذويهِ
عليه مدار العصر في العلم سيما
… علوم المعاني وهو قطب رحيه
سبوق لدى قيد الشوارد راكب
… من الفهم متنيئ لاحق ووجيه
عن السرّ في إتيان ربي بظاهرٍ
… مكان ضمير في وعاء أخيهِ
معَمًّى قد أعيا أهل فاس وغيرهم
… فكنا بحمد الله مفتتحيهِ
وكلَّفني نصحُ البرية فكّهُ
… فأعْظِمْ بما قد كان كلفنيهِ
فقلب وبالله الصَّوَابُ مجاوباً
… له بقياسِ في الأصول وجيه
ولكنه صعْبُ المدارك معْسِرٌ
… على ضُعفَاءِ الفهم مُنْتَقَصَيه
فهذا بحمد الله إيضاح لُغْزِهِ
… مساوٍ له في بحره ورويهِ
فلو قال فرضاً ربنا من وعائه
… فذالكم بعد التفكرِ فيهِ
يؤدي إلى عود الضميرِ ليوسفٍ
… فيفسد معناه لمختبريه
لأنّ الضميرَ في الصناعة عائد
… لأقرب مذكور هناك يليه
وإن قال منه اختل أيضاً لأنه
… يؤدي لعود مضمر لأخيه
فتنزع منه الصاع لا من وعائه
… وتأنف من ذا نفس كل نزيه
لما في انتزاع من أذىً ومهانةٍ
… ولم يرد الرحمن من ذا بنبيهِ
ونص على هذا السيوطي فهاكه
… بوجه بياني ونص فقيه
ويعرف هذا الذائقون حلاوة ال
… معاني ومن يدري الهدى ويعيه
وفي فضلك اجمع شملنا ربنا كما
… فعلت بيعقوب النبي وبنيهِ
وصل على الهادي وسلم وآله
… وأصحابه طرًّا ومتبعيه
তিনি তোমাকে এমন ইলম নিখুঁত করার ব্যাপারে সাহায্য করবেন যা তুমি প্রচার করবে
… উসূলের কিয়াস এবং ফকীহর উদ্ধৃতি দ্বারা।
সেই সত্তা তোমাকে রক্ষা করুন যিনি তোমাকে নক্ষত্রের মতো প্রকাশ করেছেন
… যার দ্বারা বিভ্রান্তি থেকে বাঁচা যায় সেই ব্যক্তির জন্য যে হিদায়াত চায় এবং তা হৃদয়ে ধারণ করে।
আর মুহাম্মদ বিন সাঈদ আল-ইদালি আদ-দাইমানি এই ধাঁধার উত্তর দিয়েছেন একটি দীর্ঘ কবিতার মাধ্যমে। 'আয-যাহাব' গ্রন্থে তিনি বলেছেন, আমরা সেখান থেকে কেবল প্রয়োজনীয় অংশটুকু গ্রহণ করেছি এবং তা হলো:
বর্ণনায় এক প্রাঞ্জল ও বুদ্ধিদীপ্ত প্রশ্ন
… হিদায়াতপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত এক সাহিত্যিকের পক্ষ থেকে।
ইলমের ক্ষেত্রে বর্তমান যুগের আবর্তন তাঁর ওপরই নির্ভর করে, বিশেষ করে
… ইলমুল মা'আনির ক্ষেত্রে, আর তিনি এর মূল কেন্দ্র।
দুর্লভ বিষয়গুলোকে আয়ত্ত করার ক্ষেত্রে অগ্রগামী, উপলব্ধির সওয়ারি হয়ে
… সুউচ্চ মর্যাদার অধিকারী, উত্তরসূরি ও সমাদৃত।
আমার রবের পক্ষ থেকে 'তার ভাইয়ের পাত্র'-এর বর্ণনায় সর্বনামের পরিবর্তে প্রকাশ্য বিশেষ্য ব্যবহার করার রহস্য সম্পর্কে।
এটি একটি জটিল ধাঁধা যা ফাস শহর এবং অন্যান্য জায়গার অধিবাসীদের ক্লান্ত করে দিয়েছিল
… আল্লাহর প্রশংসা যে, আমরাই তা উন্মোচন করেছি।
সৃষ্টির কল্যাণকামনা আমাকে এটি সমাধানের দায়িত্ব দিয়েছে
… আর তিনি আমাকে যে দায়িত্ব দিয়েছেন তা কতই না মহান!
সুতরাং হে অন্তর, আল্লাহর সাহায্য নিয়ে এবং সঠিক উত্তরের তাওফীক চেয়ে জবাব দাও
… উসূলে ফিকহের এক গ্রহণযোগ্য কিয়াসের মাধ্যমে।
কিন্তু এটি অনুধাবন করা কঠিন এবং দুরূহ
… যারা দুর্বল বোধশক্তি সম্পন্ন এবং স্বল্প জ্ঞানের অধিকারী তাদের জন্য।
আল্লাহর প্রশংসায় এটিই তাঁর ধাঁধার ব্যাখ্যা
… যা তাঁর কবিতার ছন্দ ও অন্ত্যমিলে সমান।
যদি তর্কের খাতিরে ধরে নেওয়া হয় যে, আমাদের রব বলেছেন "তার পাত্র থেকে"
… তবে গভীরভাবে চিন্তা করার পর বোঝা যায় যে,
এটি সর্বনামকে ইউসুফের দিকে ফিরিয়ে দেয়
… ফলে যারা এটি পরীক্ষা করবে তাদের কাছে এর অর্থ নষ্ট হয়ে যাবে।
কারণ ব্যাকরণিক নিয়ম অনুযায়ী সর্বনাম
… তার নিকটতম উল্লিখিত বিষয়ের দিকেই ফিরে যায়।
আর যদি বলা হতো "তার থেকে", তাহলেও অর্থের ব্যাঘাত ঘটত; কারণ
… এটি সর্বনামকে তাঁর ভাইয়ের দিকে ফিরিয়ে দিত।
ফলে পাত্র থেকে নয়, বরং তাঁর শরীর থেকে পরিমাপক পাত্রটি বের করা হয়েছে বলে বোঝাত
… আর যেকোনো পরিচ্ছন্ন রুচির মানুষ একে অপছন্দ করবে।
কারণ শরীর থেকে টেনে বের করার মধ্যে কষ্ট ও অপমান রয়েছে
… আর দয়াময় আল্লাহ তাঁর নবীর ব্যাপারে এমনটি চাননি।
আল্লামা সুয়ূতীও এটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন, সুতরাং এটি গ্রহণ করো
… অলঙ্কারশাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা এবং ফকীহর ভাষ্য অনুযায়ী।
আর এটি কেবল তারাই উপলব্ধি করতে পারে যারা অর্থের মাধুর্য আস্বাদন করেছে
… এবং যারা হিদায়াত জানে ও তা ধারণ করে।
হে আমাদের রব! আপনার অনুগ্রহে আমাদের বিচ্ছিন্নতাকে একত্রিত করে দিন, যেমনভাবে
… আপনি নবী ইয়াকুব এবং তাঁর সন্তানদের একত্রিত করেছিলেন।
আর আপনি সালাত ও সালাম বর্ষণ করুন পথপ্রদর্শক রাসূলের ওপর, তাঁর পরিবার
… এবং তাঁর সকল সাহাবী ও অনুসারীদের ওপর।
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াসীত ফী তারাজিমু উদাবা শিনক্বীত
(পৃষ্ঠা: ١٠)
وقائل هذا ابن السعيد محمد
… محبُّ النبيَّ المصطفى وسميه
وله أيضا يشكو حال بعض علماء وقته:
سقى دمن الحي الحيا المتفائض
… وفي وجهه برقٌ من البشرِ وامض
يَصُبُّ عليهنّ المياهَ كأنه
… لما دنّس العصران منهن راحض
معاهد أرآم الأنيس فأصبحت
… وفيها لأرآم الفضاء مرابض
رياض لوى بيض العمائم حزنها
… كما قمِّصَت خضر الملاء الربائض
تذكرنا هاتى بتلك تشابهاً
… يبين فيخفيه الشوى والمآبض
فتلك التي يغذو صناب وناطف
… وهاتى التي يغذو كباث وبارض
أثار الدكارُ العنبرية حبها
… ففاض على الأحشاء والصبر غائض
وليل قضينا فيه للأنس حقهُ
… فتمت بما نهوى الأماني الغوائض
تدوِّم غربان الدجى فتردها
… إلى الجوحيات الشماع النضائض
زمان توانى في المصالح أهله
… وكلهم نحو المفاسد راكض
يقولون خير الدين والعلم سعيهم
… وسعيهمُ للدين والعلم هائض
عجزت فأظهرت القبول كتابع
… عجوزا يصلى خلفها وهي حائض
فلو كنت أرجو الودَّ منهم تواخياً
… وما منهمُ إلا عدُوٌ مباغِضُ
لكنت كراج للنوافل حفظها
… لدى مَنْ مضاعاتٌ لديه الفرائض
وراج لداءٍ طب من هو مشكل
… عليه مريض الماءِ والمتمارض
كما خض ماء الشنّ جرَّا إتائه
… ومُطّلب عنّاهُ أبلق ماخض
إلى كم وهذا الجور يبرم حكمهُ
… ولم يتعقبه من العدل ناقض
ولم يبق إلا مغمض متباصر
… يخاف أذاه مبصر متغامض
আর এই পংক্তিগুলোর প্রণেতা হলেন ইবনে আল-সাঈদ মুহাম্মদ
… যিনি নবী মুস্তফা (সা.)-এর প্রেমিক এবং তাঁর নামধারী।
তিনি তাঁর সমসাময়িক কিছু আলিমের অবস্থার অভিযোগ করে আরও বলেন:
জনপদের ধ্বংসাবশেষকে প্রচুর প্রবাহমান বৃষ্টি সিক্ত করেছে
… আর তার সম্মুখে আনন্দের এক ক্ষণস্থায়ী বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে।
সে সেগুলোর উপর পানি ঢালছে যেন সে
… দিন ও রাতের পরিক্রমায় সেগুলোতে যা কলুষিত হয়েছে তা ধৌতকারী।
এগুলো ছিল মানুষের পরিচিত হরিণীদের বিচরণস্থল, যা এখন
… নির্জন প্রান্তরের বন্য হরিণদের শয়নস্থলে পরিণত হয়েছে।
এমন বাগান যার বালিয়াড়ির রুক্ষতাকে সাদা মেঘমালা আবৃত করেছে
… যেমনটি সবুজ টিলাগুলো ঘন সবুজ আচ্ছাদনে আবৃত থাকে।
এই দৃশ্যগুলো আমাদের সেই দৃশ্যগুলোর সাদৃশ্যের কথা মনে করিয়ে দেয়
… যা স্পষ্ট হয়, আবার হাত-পা ও অঙ্গপ্রত্যঙ্গ তা আড়াল করে দেয়।
ঐগুলো ছিল রাই ও মিষ্টান্ন দ্বারা পুষ্ট
… আর এগুলো হলো পিলু ফল ও কচি ঘাস দ্বারা পুষ্ট।
স্মৃতিচারণ তার আম্বরীয় সুবাসিত ভালোবাসাকে জাগ্রত করেছে
… ফলে তা অন্তরের অন্তস্থলে উপচে পড়ল, আর ধৈর্য তখন তলিয়ে গেল।
কত রাত আমরা তাতে হৃদ্যতার হক আদায় করে কাটিয়েছি
… ফলে আমাদের কাঙ্ক্ষিত সকল গভীর আশা-আকাঙ্ক্ষা পূর্ণ হয়েছিল।
অন্ধকারের কাকগুলো ঘুরপাক খায়, কিন্তু উজ্জ্বল প্রদীপ্ত আলোকশিখা
… সেগুলোকে বিতাড়িত করে দেয়।
এমন এক সময় যখন মানুষ জনকল্যাণের কাজে অলসতা করে
… অথচ তাদের প্রত্যেকেই অনিষ্টের দিকে দৌড়াচ্ছে।
তারা বলে যে তাদের প্রচেষ্টা দ্বীন ও ইলমের কল্যাণের জন্য
… অথচ তাদের প্রচেষ্টা দ্বীন ও ইলমকে ধ্বংস করার জন্য।
আমি অপারগ হয়ে অনুসারী হিসেবে আনুগত্য প্রকাশ করলাম
… যেন এক বৃদ্ধা নারী, যার ঋতুবতী অবস্থায় তার পিছনে কেউ সালাত আদায় করছে।
যদি আমি তাদের কাছে ভ্রাতৃত্বের খাতিরে ভালোবাসা প্রত্যাশা করতাম
… অথচ তাদের মধ্যে বিদ্বেষপরায়ণ শত্রু ছাড়া আর কেউ নেই।
তবে আমি হতাম সেই ব্যক্তির মতো, যে নফল আমল সংরক্ষণের আশা করে
… এমন ব্যক্তির কাছে যার নিকট ফরজ কাজগুলোই অবহেলিত ও বিনষ্ট।
এবং যে ব্যক্তি এমন একজনের কাছে রোগের চিকিৎসা আশা করে
… যার কাছে প্রকৃত রোগী এবং রোগী সাজার ভানকারীর পার্থক্য করা কঠিন।
যেমন কেউ পুরোনো মশক থেকে মাখন বের করার জন্য পানি নাড়াচাড়া করে
… অথবা এমন এক অন্বেষণকারী যাকে গর্ভবতী চিত্রবিচিত্র ঘোড়া ক্লান্ত করে দিয়েছে।
আর কতকাল এই জুলুম তার শাসন বলবৎ রাখবে?
… অথচ এর পেছনে ইনসাফের কোনো রদবদলকারী আসছে না।
এখন কেবল এমন বিচক্ষণ ব্যক্তিই অবশিষ্ট আছে যে চোখ বন্ধ করে থাকে
… সে এমন এক ব্যক্তির অনিষ্টকে ভয় পায় যে দেখেও না দেখার ভান করে।
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াসীত ফী তারাজিমু উদাবা শিনক্বীত
(পৃষ্ঠা: ١١)
يروح جراب الباطل الفعم جهده
… وما في جراب الحق إلا نفائض
على صورة الإنسان غطيت صورة ال
… حمارِ وغطتها الثيابُ الفضافض
سأعصى عذولي في السُّرى وهو ناصح
… وأغتشه في نصحه وهو ماحض
وتطوى عواصى القفر عيسى بأذرع
… طوال التمشي بالخضم النضائض
إلى حيث صيرُ الشرع لا نهج ظاهر
… ولا باطل من حكمه متناقض
ومن عد للجُلّى وحملان عِبْئِها
… تأَرَّضَ عنه المُسْتَطيلُ الجُرائض
إذا ما اللحى لم تَسْعَ في النفع أهلها
… لأهليهمُ فلتسع فيها المقارِضُ
ولىّ حفيّ بالمريد فعذقه
… بجنته والداء أدوءُ نابض
يرجيه عند البسط والله باسط
… ويخفيه عند القبض والله قابض
وقال أيضا يمدح أبناء أحمد من دامان في أول القصيدة، ثم عاد إلى الغزل، ثم استأنف مدح العلامة محمد كريم الديماني الفاضلي، مجيباً له عن قصيدة مدحه بها لم تحضرني:
تخافقت البروق على الغميم
… شفاؤك يا مقيلة أن تشيم
مخيّم جيرة شُمّ كرام
… طهارى أوجهٍ بيض وخيم
أعزاءُ القنا حيٌّ لَقاحٌ
… يرون الموت في عيش المضيم
مُسِيموا الغضْيَبات بكل أرضٍ
… حَماما الخوْفُ غاشيةَ المسيم
فوارس يركضون بنات عوج
… أتوا وأتين بالعجب الجسيم
حقيقة أن جنس الليث يعدو
… إلى الهيجا على جنس الظليم
بُناتُ الرَّيط في الفلوات يبدو
… على الأميال كالرمل العظيم
خيام الناسِ لكن كل سجف
… يزاوج بين قسورة وريم
سقاةُ الضّيفِ ألبان المهارى
… ومن عادوه بالآن الحميم
ففي أسيافهم حنف الأعادي
… وفي راحاتهم كسب العديم
মিথ্যার পূর্ণ থলে তার সর্বোচ্চ চেষ্টায় ধাবিত হয়
… অথচ সত্যের থলেতে কেবল যৎসামান্য অবশিষ্টাংশই থাকে।
মানুষের আকৃতির ওপর গাধার আকৃতিকে
… ঢেকে রাখা হয়েছে, আর তা ঢেকেছে ঢিলেঢালা প্রশস্ত পোশাকসমূহ।
আমি নৈশযাত্রায় আমার নিন্দুককে অমান্য করব যদিও সে হিতাকাঙ্ক্ষী
… এবং তার উপদেশে তাকে সন্দেহ করব যদিও সে তা একনিষ্ঠভাবে প্রদান করে।
মরুভূমির দুর্গম পথগুলোকে শুভ্র উষ্ট্রীরা অতিক্রম করে এমন বাহু দ্বারা
… যা বিশাল জনহীন প্রান্তরে দীর্ঘ পদক্ষেপে বিচরণ করে।
এমন এক স্থানে যেখানে শরীয়তের গন্তব্য, যার পথ অস্পষ্ট নয়
… এবং তার বিধানে কোনো বাতিল বা স্ববিরোধিতা নেই।
যে ব্যক্তি কঠিন বিপদ ও তার গুরুভার বহনের জন্য প্রস্তুত হয়
… দাম্ভিক ও পেটুক ব্যক্তি তার সামনে নতজানু হয়।
যদি দাড়ি তার অধিকারীদের উপকারে তাদের পরিবারের জন্য সচেষ্ট না হয়
… তবে তাতে কাঁচি চালানোই শ্রেয়।
এমন এক অভিভাবক যিনি মুরিদের প্রতি অত্যন্ত দয়ালু, যার শাখা
… জান্নাতে রয়েছে, আর ব্যাধি হলো স্পন্দিত এক কঠিন পীড়া।
তিনি প্রশস্ততার সময় আল্লাহর নিকট আশা পোষণ করেন আর আল্লাহ প্রশস্তকারী
… এবং সংকীর্ণতার সময় তিনি তাকে সংগুপ্ত রাখেন আর আল্লাহ সংকীর্ণকারী।
তিনি আরও বলেছেন, কাসিদার শুরুতে দামানের আহমদের সন্তানদের প্রশংসা করে, অতঃপর গজল বর্ণনা করেছেন, এরপর পুনরায় আল্লামা মুহাম্মদ কারীম আদ-দায়মানি আল-ফাদিলির প্রশংসা শুরু করেছেন, তাঁর রচিত একটি কাসিদার উত্তর হিসেবে যা তিনি আমাকে লিখেছিলেন কিন্তু এখন আমার নিকট উপস্থিত নেই:
মেঘমালার ওপর বিদ্যুৎ চমকালো
… হে বিশ্রামের স্থান অন্বেষণকারী, তোমার নিরাময় হলো তা প্রত্যক্ষ করা।
উচ্চমর্যাদাশীল ও সম্মানিত প্রতিবেশীদের আস্তানা
… যাদের মুখমণ্ডল পবিত্র ও উজ্জ্বল এবং চরিত্র ও আবাস নিষ্কলঙ্ক।
বল্লমধারী সম্মানিত এক স্বাধীন গোত্র
… যারা লাঞ্ছনার জীবনে মৃত্যুকে শ্রেয় মনে করে।
তারা উটগুলোকে প্রতিটি ভূমিতে চারণ করে
… ভয়ের কবুতরগুলো চারণকারীর ওপর ছায়া বিস্তার করে।
অশ্বারোহীরা শ্রেষ্ঠ ঘোটকীগুলোকে ছুটিয়ে নিয়ে যায়
… তারা এসেছে এবং মহাবিস্ময়কর বীরত্ব নিয়ে এসেছে।
বাস্তবতা এই যে, সিংহের জাতি যুদ্ধের ময়দানে
… উটপাখির ন্যায় দ্রুতগামী বাহনের ওপর চড়ে আক্রমণ চালায়।
মরুপ্রান্তরে মিহিবস্ত্রের তাবুগুলো দৃষ্টিগোচর হয়
… মাইলের পর মাইল যেন বিশাল বালুকা রাশি।
মানুষের তাবু, কিন্তু প্রতিটি পর্দার অন্তরালে
… বীর সিংহ ও হরিণীর (সাহসী পুরুষ ও সুন্দরী নারী) মিলন ঘটে।
তারা মেহমানদের মাদী উটের দুধ পান করায়
… আর শত্রুদের আপ্যায়ন করে ফুটন্ত উত্তপ্ত পানি দ্বারা।
তাদের তলোয়ারে রয়েছে শত্রুদের বিনাশ
… আর তাদের হাতের তালুতে রয়েছে নিঃস্বদের জন্য সঞ্চয়।
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াসীত ফী তারাজিমু উদাবা শিনক্বীত
(পৃষ্ঠা: ١٢)
نأوا بخريدة غيداَء رأدٍ
… ونيم للغواني أيُّ نيم
طَوتْ كشحِي على جمرٍ تلظى
… غضى طيانةُ الكشح الهضيم
أثيثَةُ وحْفِها الحاكي اسوداداً
… وطولا ليل عاشقها السليم
يصول إلى مُخلخلها هُوِيًّا
… لينقذه من الحِجْلِ الفصيم
ترى عين الفتى جناتِ عدن
… وتُصلى قلبه نار الجحيم
قواطع في حشا المصغي إليها
… مقاطع درّ منطقها الرخيم
وتسرى في حُشاشته فيحيى
… حميا الكأس في قلب النديم
أقرَّ الحُسْنُ ملكا في يديها
… وتيرةَ ذي الأناة المستديم
أردتُ وصالها طمعاً فهِمنا
… بأودية الغرام المستهيم
وحالت دُونَ رُقباها خيالا
… عوارضُ من عذاب هوىً أليم
مُبينةُ خُلْفِ عُرقوب وحقٌّ
… لديها واجبٌ مَطْلُ الغريم
ثنا القرطان أذنيها وأصغا
… هما الشنفان للواشي النميم
لرِدْفيها وخصْرَيها اختلاف
… رجاجةُ مقعدٍ وضوًى مقيم
وأنوارُ الدَّرَاري والزهاوي
… تلاشت في محياها الوسيم
رَدَاحٌ فَعْمَةُ اللاذي اليماني
… روى ماَء الشبيبة والنعيم
وما أدرى أعارت أم أعيرت
… محاجرها بنات مها الصريم
أألبسها الكمالَ كما اكتساهُ
… محمدٌ الكريم بن الكريم
إمامٌ بلغت يده المعالي
… محلاً لم تَرُمْهُ يَدا أريم
كأنْ قد خُوطبت فيه استقرى
… لديه كيف شاَء ولا تريم
يدافع عن حقائق كل مجدٍ
… مدافعة الغيور عن الحريم
لآل الفاضل الفضلاءِ أيد
… شددن على عُرى المجد الصميم
كُسُوا حُلَلَ التقى الضُّفْيا وأع
… طوا تمام الخُلق والخَلق التميمي
তারা এক কোমল লাবণ্যময়ী যুবতীকে নিয়ে দূরে চলে গেল
… আর রূপসীরা গভীর নিদ্রায় আচ্ছন্ন হলো।
সে আমার পার্শ্বদেশকে প্রজ্জ্বলিত আঙ্গারার ওপর স্থাপন করল
… সেই কৃশ কটিদেশের দহনে।
তার ঘন কালো চুল সেই অন্ধকারের কথা বলে
… এবং তা তার প্রেমিকের যন্ত্রণাদায়ক দীর্ঘ রাতের ন্যায় লম্বা।
তা তার নূপুরের দিকে নুয়ে পড়ে
… যেন তাকে সেই ভাঙা বেড়ি থেকে উদ্ধার করতে পারে।
যুবকের চোখ জান্নাতে আদন অবলোকন করে
… অথচ তার হৃদয় জাহান্নামের আগুনে দগ্ধ হয়।
শ্রবণকারীর অন্তরের গভীরে বিদীর্ণ করে
… তার সুমধুর বাণীর মুক্তোরাজি।
তা তার প্রাণে প্রবাহিত হয় এবং তাকে সঞ্জীবিত করে
… যেভাবে সহচরের হৃদয়ে পানপাত্রের মাদকতা কাজ করে।
সৌন্দর্য তার হাতে রাজত্ব অর্পণ করেছে
… একজন ধৈর্যশীল ও স্থায়ী অধিকারীর ন্যায়।
আমি লোভে তার সান্নিধ্য চেয়েছিলাম, তাই আমরা বিভ্রান্ত হলাম
… উন্মত্ত প্রেমের উপত্যকাগুলোতে।
তার সাক্ষাতের পথে এক কাল্পনিক ছায়া বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে
… যা যন্ত্রণাদায়ক প্রেমের কষ্টের অন্তরায়।
সে উরকুবের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের দৃষ্টান্ত স্পষ্ট করে দেয়
… আর তার কাছে পাওনাদারের দেনা পরিশোধে বিলম্ব করাই যেন আবশ্যক কর্তব্য।
দুল দুটি তার কানের দিকে ঝুঁকে পড়েছে এবং কান পেতেছে
… অলঙ্কারগুলো যেন কোনো কুৎসা রটনাকারীর কথা শুনছে।
তার নিতম্ব ও কোমরের মাঝে বৈপরীত্য বিদ্যমান
… একটির ভারে টলমল অবস্থা এবং অন্যটির স্থায়ী কৃশতা।
উজ্জ্বল নক্ষত্ররাজি ও জ্যোতিষ্কসমূহের আলো
… তার কমনীয় মুখমণ্ডলের সামনে ম্লান হয়ে গেছে।
সে ভারী নিতম্ব বিশিষ্ট, ইয়েমেনি রেশমে আবৃত এক নারী
… যে তারুণ্য ও নেয়ামতের বারি পান করেছে।
আমি জানি না সে কি ধার দিয়েছে নাকি ধার নিয়েছে
… তার চোখের মণিগুলো বুনো হরিণের চোখের ন্যায়।
সে কি পূর্ণতাকে পরিধান করেছে যেমনটি পরিধান করেছেন
… মুহম্মদ, যিনি নিজে সম্মানিত এবং সম্মানিতের সন্তান?
এমন এক ইমাম যার হাত উচ্চমর্যাদায় পৌঁছেছে
… এমন এক স্থানে যা কোনো পরাক্রমশালীর হাতও কামনা করেনি।
যেন তাকে সম্বোধন করে বলা হয়েছে: সান্নিধ্য লাভ করো
… তার কাছে যেভাবে চাও, এবং কখনো তাকে ছেড়ে যেও না।
তিনি সকল গৌরবের সত্যকে রক্ষা করেন
… যেভাবে একজন আত্মমর্যাদাশীল ব্যক্তি তার সম্মান রক্ষা করেন।
সেই মহান গুণী পরিবারের হাত রয়েছে
… যারা অকৃত্রিম মর্যাদার বন্ধনগুলোকে সুদৃঢ় করেছে।
তাদের তাকওয়ার প্রশস্ত পোশাকে ভূষিত করা হয়েছে এবং প্রদান করা হয়েছে
… পূর্ণ চারিত্রিক সৌন্দর্য ও সুঠাম অবয়ব।
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াসীত ফী তারাজিমু উদাবা শিনক্বীত
(পৃষ্ঠা: ١٣)
هم الأمثال في الآفاق سارت
… مسير الشمس بالضوء العميم
لشرحِهمُ خبايا كل فن
… جهلنا ما البليد من الفهيم
فما نخشى الضلال وهم نجومٌ
… ترينا الهدْى في الليل البهيم
أئمة حِزْبِ أحمد ما نعيهم
… مكايد حزب إبليس الرجيم
سعت في الخدمة الدنيا عليهم
… وهم في خدمة الدين القويم
ثِمالُ الناسِ في اللأواء يسلى
… بهم فقدان كلّ أب رحيم
جميلٌ ليس معزواً إليهم
… بلا حاءِ ولا دال وميم
بيانُ محمدٍ صبحٌ منيرٌ
… فأفحم كل ذي جَدَلٍ خصيم
مُجَلَّي حلْبة الأدب المسمى
… مسابقة المبرز باللطيم
أبو الطلاّب لا ينفك منهم
… حنانَ الأمِّ بالطفل الفطيم
أقول لحاسدٍ رام اعتسافاً
… يسابقه ركبت على مليم
تيقظ من كرى حسد مخلٍّ
… شبعت به من البنج المنيم
فأمَّ كوالديك بوالديه
… به أمُّ الصراط المستقيم
عسيرٌ ما تعالجه فأولى
… علاجك داَء خاطرك السقيم
فما ساع إلى مجد بجدٍ
… كمتكل على عظم رميم
أترضى ويح أمك ما يؤدِّي
… إلى تعقيب أقضية الحكيم
زَعمنك بيننا ملكا مُطاعاً
… لِيهنئكَ الخُرَاجُ بغير جيم
ظنناك الزعيم وما صدفْنا
… وفزنا منه بالرجل الزعيم
شفى السُّؤَّال إلا حاسديه
… وهل يشفى الزلال غليلَ هيم
أسيدىَ العزيز علىَّ قدراً
… رضيتُ له بمسكنة الخديم
أخلت فتاك محظوظاً بعلم
… فخفتَ عليه تعلاك الشكيم
দিগন্তজুড়ে তারা সেই দৃষ্টান্ত যা ছড়িয়ে পড়েছে
… পরিব্যাপ্ত আলোর ন্যায় সূর্যের গতির মতো
প্রতিটি শিল্পের রহস্য উন্মোচনে তাদের অবদানের কারণে
… আমরা নির্বোধ ও বুদ্ধিমানের পার্থক্য জানতে পেরেছি
আমরা পথভ্রষ্ট হওয়ার ভয় করি না, যেহেতু তারা নক্ষত্রতুল্য
… যারা আমাদের ঘোর অন্ধকার রজনীতে হিদায়াতের পথ দেখান
তারা আহমাদ (সা.)-এর দলের ইমাম, তারা মোটেও বেখবর নন
… বিতাড়িত ইবলিসের দলের ষড়যন্ত্র সম্পর্কে
দুনিয়া তাদের সেবায় সচেষ্ট ছিল
… অথচ তারা ছিলেন সুপ্রতিষ্ঠিত দ্বীনের সেবায় নিমগ্ন
কঠিন বিপদে তারা মানুষের আশ্রয়স্থল
… তাদের সান্নিধ্যে প্রতিটি দয়ালু পিতার অভাব ভুলে থাকা যায়
সৌন্দর্য যা তাদের দিকেই সম্বন্ধযুক্ত
… ‘হা’, ‘দাল’ ও ‘মিম’ (হামদ) ব্যতীত নয়
মুহাম্মাদের বর্ণনা উজ্জ্বল প্রভাততুল্য
… যা প্রত্যেক বিবাদকারী তার্কিককে নিশ্চুপ করে দেয়
সাহিত্যের ময়দানে তিনি অগ্রগামী বিজয়ী
… যা শ্রেষ্ঠ প্রতিযোগীর লতিম বিজয়ের ন্যায়
তিনি ছাত্রদের পিতা, যিনি তাদের থেকে কখনো বিচ্ছিন্ন হন না
… যেন দুগ্ধপোষ্য সন্তানের প্রতি মায়ের মমতা
আমি সেই হিংসুককে বলি যে অন্যায় আচরণের ইচ্ছা পোষণ করে
… তুমি তো এক নিন্দিত বাহনের ওপর চড়ে তার সাথে পাল্লা দিতে চাইছ
ক্ষতিকর হিংসার তন্দ্রা থেকে জাগ্রত হও
… যার ঘুম পাড়ানি নেশায় তুমি বিভোর হয়ে আছ
তোমার পিতা-মাতার প্রতি তোমার আচরণের ন্যায় তার পিতা-মাতার প্রতি লক্ষ্য করো
… তার মাধ্যমেই সিরাতে মুস্তাকিমের মূল ভিত্তি নিহিত
তুমি যা প্রতিকারের চেষ্টা করছ তা অত্যন্ত কঠিন; বরং শ্রেয় হলো
… তোমার রুগ্ন হৃদয়ের ব্যাধির চিকিৎসা করা
যে ব্যক্তি প্রচেষ্টার মাধ্যমে মর্যাদা অন্বেষণ করে
… সে গলিত অস্থির ওপর ভরসা করা ব্যক্তির মতো নয়
ধিক তোমার মায়ের ওপর! তুমি কি এমন কাজে সন্তুষ্ট যা
… প্রজ্ঞাবান আল্লাহর ফয়সালার বিরোধিতার দিকে নিয়ে যায়?
আমরা তোমাকে আমাদের মাঝে এক মান্যবর সম্রাট মনে করেছিলাম
… ‘জিম’ অক্ষরহীন সেই ‘খুরাজ’ তোমাকে মোবারক হোক
আমরা তোমাকে নেতা ভেবেছিলাম কিন্তু আমাদের ধারণা সঠিক হয়নি
… বরং আমরা তার কাছ থেকে কেবল সেই মিথ্যাবাদী লোককেই পেয়েছি
তিনি সাহায্যপ্রার্থীদের তৃষ্ণা মিটিয়েছেন কেবল হিংসুকরা ছাড়া
… আর সুশীতল স্বচ্ছ পানি কি অত্যন্ত তৃষ্ণার্তের জ্বালা মিটাতে পারে?
হে আমার মর্যাদাশালী প্রিয় মনিব!
… আমি তার জন্য হীন সেবকের অবস্থাতেই সন্তুষ্ট
তুমি কি তোমার যুবককে ইলমের অধিকারী মনে করে ভাগ্যবান ভেবেছিলে
… অতঃপর তুমি তার ওপর লাগামের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ভয় পেয়েছ
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াসীত ফী তারাজিমু উদাবা শিনক্বীত
(পৃষ্ঠা: ١٤)
أفادك محض وُدِّك فيه ظنَّا
… جميلا صنع ذي قلب سليم
فَلِمْ ولديك روض العلم غضًّا
… رعاك الله تُعنى بالهشيم
وكائنْ حزت من مرعىَ مريئٍ
… فأيَّةُ حاجةٍ لك بالوخيم
وشرٌّ إصابة الدنيا كريما
… إذا ما أحوجته إلى لئيم
ينال ابن الكريمة شَرُّ خطب
… ولا يرضى التخلص بالذميم
أجلْ درجات أهل العلم شتى
… تناهيها إلى الله العليم
لأمرٍ في ازدياد العلم سارت
… إلى الخضر العزيمة بالكليم
عدمنا قبل شعرك كون شعر
… قوافيه من الدرّ اليتيم
جواب عنه جهد أخ مقل
… جزاء الترب عن تبر فخيم
ترى العينان في رشّات مسك
… لأول وهلة شبه الوَنيم
فتفصل مِسْك تُبّتَ دون لَبْسٍ
… من الحتيتِ جارِحَةُ الشميم
وما العرّارُ كالرئبال بطشاً
… وإن حاكاه في رجع النئيم
إليك فأغض جحمرشٌ عجوز
… تقص معالم الزمن القديم
لها في اللهو ضرب بعد ضرب
… على آذان أصحاب الرقيم
فتاة حين جُرهم استعاذوا
… وطافوا بالمقام وبالحطيم
وإذ بكرت على طَسْم جديسٌ
… وإذ خربت ديار بني أمِيمِ
وإذ صَليت تميم نار عمرو
… مُضيِف البُرْجُمي إلى تميم
هدية عبدك البادي المساوي
… فغطَّ مساويَ العبد الجريم
আপনার প্রতি তাঁর নিছক ভালোবাসা আপনার মনে এক সুন্দর ধারণা সৃষ্টি করেছে
… যা এক প্রশান্ত হৃদয়ের অধিকারীর কর্ম।
অতএব, আপনার নিকট যখন ইলমের সজীব উদ্যান বিদ্যমান
… তবে কেন আপনি—আল্লাহ আপনাকে হিফাযত করুন—শুষ্ক ও অসার বস্তুর পেছনে পড়ে আছেন?
আপনি কতই না তৃপ্তিদায়ক চারণভূমি লাভ করেছেন
… তবে অস্বাস্থ্যকর চারণভূমির প্রতি আপনার কী এমন প্রয়োজন?
দুনিয়ার সবচেয়ে বড় বিপদ হলো একজন সম্মানিত ব্যক্তিকে
… যখন তা নিকৃষ্ট ব্যক্তির মুখাপেক্ষী হতে বাধ্য করে।
এক সম্ভ্রান্ত মায়ের সন্তান কঠিনতম বিপদে আক্রান্ত হতে পারে
… কিন্তু সে নিন্দনীয় পন্থায় তা থেকে মুক্তি পাওয়াকে পছন্দ করে না।
নিশ্চয়ই ইলমের অধিকারীদের মর্যাদা বিভিন্ন স্তরের
… যার পরম সমাপ্তি সর্বজ্ঞাত আল্লাহর কাছে।
ইলম বৃদ্ধির উদ্দেশ্যেই তো সেই সুদৃঢ় সংকল্প কালিমকে (মূসা আ.) নিয়ে
… খিজিরের পানে অগ্রসর হয়েছিল।
আপনার কাব্যের পূর্বে আমরা এমন কাব্যের অস্তিত্ব পাইনি
… যার অন্ত্যমিলগুলো ছিল অনন্য মুক্তার ন্যায়।
এটি তার একটি উত্তর, যা এক নিঃস্ব ভাইয়ের প্রচেষ্টা মাত্র
… যা বিশাল স্বর্ণের বিনিময়ে মাটির প্রতিদান স্বরূপ।
কস্তুরীর ছিটাগুলোর মাঝে দুচোখ প্রথম দেখায়
… সামান্য ময়লার সদৃশ মনে করে।
অতঃপর ঘ্রাণেন্দ্রিয় কোনো সংশয় ছাড়াই তিব্বতের কস্তুরীকে
… তুচ্ছ চূর্ণ-বিচূর্ণ বস্তু থেকে পৃথক করে ফেলে।
বন্য গরু বিক্রমে সিংহের মতো হতে পারে না
… যদিও সে গর্জনের অনুকরণে তাকে নকল করার চেষ্টা করে।
এদিকে দৃষ্টি দিন এবং চোখ নিচু করুন; এক বৃদ্ধা মহিলা
… প্রাচীন কালের চিহ্নসমূহ বর্ণনা করছে।
আমোদ-প্রমোদে তার রয়েছে একের পর এক আঘাত
… আসহাবে রাকীমের (গুহাবাসীদের) কর্ণকুহরে।
সে ছিল এক যুবতী যখন জুরহুম গোত্র আশ্রয় প্রার্থনা করেছিল
… এবং তারা মাকাম ও হাতীমে তওয়াফ করেছিল।
আর যখন জাদীস গোত্র অতি প্রত্যুষে তাসম গোত্রের ওপর চড়াও হয়েছিল
… এবং যখন বনী আমীমের ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল।
আর যখন তামীম গোত্র আমর-এর অগ্নিতে দগ্ধ হয়েছিল
… যে বুর্জুমিকে তামীম গোত্রের সাথে যুক্ত করেছিল।
এটি আপনার সেই দাসের উপহার যার ত্রুটিসমূহ প্রকাশ্য
… অতএব এই অপরাধী দাসের ত্রুটিসমূহ আপনি ঢেকে দিন।
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াসীত ফী তারাজিমু উদাবা শিনক্বীত
(পৃষ্ঠা: ١٥)
خدمتُ مقامك الأعلا امتداحاً
… أتيت به على نمط عقيم
لشعري منهُ عزاً وارتفاعاً
… نصيب السلك من شرَفِ النظيم
ودادك في مشيج دمي ولحمي
… وفي عظمي وفي ضاحي أديم
صلاة الله أزكى ما يحيىِّ
… زُجاجةَ ذلك الوجهِ الوسيم
مطايا الشوق في قلب المعنى
… إليك الدهرَ عاملةُ الرسيم
وفضَّ تحيتيك ختامُ مسك
… يُذيع أريجَه طيب النسيم
وقال أيضا يرثي أعمر آكجيل (بكاف معقودة) ابن هد التروزي:
هو الموت عضب لا تخون مضاربه
… وحوض زعاف كل من عاش شاربهْ
وما الناس إلا واردوه فسابقٌ
… إليه ومسبوق تخِبُّ نجائبهْ
يحبُّ الفتى إدراك ما هو راغبٌ
… ويدركه لابد ما هو راهبهْ
فكم لابس ثوب الحياة فجاَءه
… على فَجْأَةٍ عادٍ من الموت سالبهْ
ولم يقه فرعونَ عونٌ أعده
… ولا مُرْدُ نَمْرُودٍ حمت وأشائبهْ
وهل كان أبقى بُخْتَنَصَّر بَخْتُه
… وأنصاره لمَّا تحدّاه واجبهْ
فما صان حبراً علمه وكتابه
… ولا ملكا أعلامه وكتائبُهْ
ولسنا نسب الدهر فيما يصيبنا
… فلا الدهرُ جاليه ولا هو جالِبُهْ
مضى مشرق الأيام حتى إذا انقضتْ
… ليالي أبي حفص تولت غياهِبُه
نقيبٌ نسينا كل شيءٍ لرزئهِ
… تُذكرناه كلَّ أن مناقِبُه
أناعيَه أرسلت عزلاء مهجتي
… فهادَمها حملاق جفنىَ ساكُبهْ
طوى نعيه وعيى فها أنا غائب
… عن الحسّ فيه ذاهل العقل ذاهبه
تمكن من نفسي بنفس سماعه
… جوىً فيه كُلّى ذاب قلبي وقالَبُه
فلاقيته لقيا شج متعلّلٍ
… بصدق الأماني والأماني كواذبه
عزاء حيٍّ عمه الشجو لا يني
… تساوره حياتُه وعقاربُه
আমি আপনার সুউচ্চ মাকামের খেদমত করেছি প্রশংসাগাথার মাধ্যমে
… যা আমি এক অনন্য ও অতুলনীয় রীতিতে পেশ করেছি।
আমি এর মাধ্যমে লাভ করেছি মর্যাদা ও উচ্চতা
… যেমন মতির হারের সুতো লাভ করে হারের আভিজাত্যের অংশ।
আপনার ভালোবাসা মিশে আছে আমার রক্ত ও মাংসে
… এবং আমার হাড়ে ও শরীরের চর্মের উপরিভাগে।
আল্লাহর পক্ষ থেকে বর্ষিত হোক পবিত্রতম সালাত ও অভিবাদন
… সেই সুশ্রী চেহারার স্বচ্ছ উজ্জ্বলতার ওপর।
অনুরাগী হৃদয়ে আপনার প্রতি অনুরাগের বাহনগুলো
… যুগের পর যুগ দ্রুতগতিতে আপনার দিকেই ধাবমান।
আপনার সেই দুই সালামের মোহর যখন উন্মোচিত হলো, তখন কস্তুরীর সুবাস ছড়িয়ে পড়ল
… যার সুগন্ধি মলয় সমীরণ চারদিকে বিকীর্ণ করে দিচ্ছে।
তিনি আরও বলেছেন আম্মার আকজিল (আরবি ‘ক্বাফ’ বর্ণের বিশেষ উচ্চারণসহ) ইবনে হাদ্দ আত-তারুজির শোকগাথা প্রসঙ্গে:
মৃত্যু হলো এক ধারালো তলোয়ার যার আঘাত কখনো লক্ষ্যভ্রষ্ট হয় না
… আর এটি এমন এক বিষাক্ত জলাধার যার সুধা প্রত্যেক জীবিত সত্তাকেই পান করতে হবে।
মানুষ তো কেবল সেখানে আগমনকারী মুসাফির; কেউ আগে পৌঁছায়
… আর কাউকে পেছনে ফেলে তার বাহন দ্রুতপদে সেই লক্ষ্যের দিকেই এগিয়ে যায়।
যৌবনদীপ্ত ব্যক্তি যা পেতে চায় তা অর্জন করতে ভালোবাসে
… কিন্তু যাকে সে ভয় পায়, তা অনিবার্যভাবেই তাকে পেয়ে বসে।
কতজনই তো জীবনের পোশাক পরিধান করে আছে, এমতাবস্থায় অতর্কিতভাবে
… মৃত্যুর এক আগ্রাসী থাবা এসে তা ছিনিয়ে নিয়ে গেল।
ফেরাউন যে সাহায্য সরঞ্জাম প্রস্তুত করেছিল তা তাকে রক্ষা করতে পারেনি
… আর নমরুদের কিশোর সৈন্যদল ও বিচিত্র বাহিনীও তাকে কোনো নিরাপত্তা দেয়নি।
বখত-নাসরের ভাগ্য কি তাকে টিকিয়ে রাখতে পেরেছিল
… কিংবা তার সাহায্যকারীরা কি পেরেছিল যখন তার অমোঘ পরিণতি তাকে আহ্বান করেছিল?
কোনো জ্ঞানতাপসকে তার জ্ঞান ও কিতাব রক্ষা করতে পারেনি
… আর কোনো রাজাকে তার সুউচ্চ ঝাণ্ডা ও সেনাবাহিনী বাঁচাতে পারেনি।
আমাদের ওপর যা আপতিত হয় সেজন্য আমরা কাল বা সময়কে গালি দেই না
… কারণ কাল তো বিপদ দূরকারীও নয়, আবার আনয়নকারীও নয়।
উজ্জ্বল দিনগুলো অতিবাহিত হয়ে গেল, এমনকি যখন ফুরিয়ে এলো
… আবু হাফসের রাতগুলো, তখন তার অন্ধকারও বিদায় নিল।
তিনি ছিলেন এমন এক নেতা যার বিয়োগব্যথায় আমরা সবকিছু বিস্মৃত হয়েছি
… তবে প্রতিক্ষণেই তাঁর সুমহান গুণাবলী আমাদের তাঁর কথা মনে করিয়ে দেয়।
হে মৃত্যুসংবাদ ঘোষণাকারী! তুমি আমার আত্মাকে নিরুপায় অবস্থায় ছেড়ে দিয়েছ
… ফলে আমার চোখের পলক থেকে ঝরা অশ্রুধারা একে বিধ্বস্ত করে দিয়েছে।
তাঁর মৃত্যুসংবাদ আমার চেতনাকে আচ্ছন্ন করে ফেলেছে, ফলে আমি এখন বাহ্যিক বোধশক্তিহীন
… এক কিংকর্তব্যবিমূঢ় ও বুদ্ধিহারা সত্তায় পরিণত হয়েছি।
সংবাদটি শোনার সাথে সাথেই আমার অন্তরে এক গভীর শোক আসন গেড়েছে
… যাতে আমার অস্তিত্বের প্রতিটি অণু-পরমাণু, আমার অন্তর ও অবয়ব গলে নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছে।
আমি সংবাদটির মুখোমুখি হলাম এক ভগ্নহৃদয় ব্যথিতের ন্যায়, যে সান্ত্বনা খুঁজছে
… সত্য প্রত্যাশার মাঝে, যদিও সে সব প্রত্যাশা আজ অলীক।
এমন এক জীবিত সত্তার ধৈর্য ও সান্ত্বনা যাকে শোক গ্রাস করে নিয়েছে এবং তা বিরামহীন
… যার জীবনকে তার নিজেরই দুঃখ-বেদনার সর্প ও বিচ্ছুরা দংশন করে চলেছে।
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াসীত ফী তারাজিমু উদাবা শিনক্বীত
(পৃষ্ঠা: ١٦)
أعاتبه فيما أقام ولم يقم
… على حجة المعذور فيما أعاتبهْ
أهاذي السحاب الغر وهي مُلثَّةٌ
… بواكيه أم تلك الرعود نواديه
تضعضعتِ الدنيا فسلمى رأيته
… لفقد ابن هَدِّ هُدَّ بالهم جانبه
فلا حَيَّ إلا وهو أصبح مأتماً
… تداوله أشياخه وكواعبه
فقد صح موت المكرمات بموته
… وصرح ناعيه ولوَّح ناعبه
إلى أين منْ أيامه العيد كلها
… مآكله مصفوفة ومواكبه
دعاه السميع المستجاب وطالما
… دعي الأجفلي والعام أشهب آدبه
ألازمه المكتوب أن حل رأبنا
… ولكن نظام العالم انحل كاتبه
وما مثل الدنيا وراء خصاله
… بشيءٍ سوى ليل تهاوت كواكبه
فيا طِرفه ما كنت كالخيل لا أرى
… سواكَ غداة الهيعة البدُّ راكبه
هو السيد الممتد في الناس ذكره
… وفي البُؤْس كفاه وفي البأس قاضبه
يلاين مرتاضاً أريباً وينبري
… هزبراً أبا أجرٍ على من يغاضبه
فتىً يهب الآلاف عفواً وتنكفي
… مخافته الآلاف حين تحاربه
تنوع فيه الناس بوع فكلهم
… إلى كل جنس كامل الوصف ناسبه
فللأبحر الراوون أخبار جوده
… وللقمر الراؤون كيف مناصِبُهْ
وللأسُد الواعون شدة بأسه
… وما دافعت في كل هيجا مَناكِبُهْ
مذاهب من يولى الجزيل ويقتنى
… به الوفرَ مَنْ أعيت عليه مذاهبه
يجد فيفنى من يناوي مهابَةً
… ويجدي ويفني من يوالي مواهبه
علانية يأتمه الجم وارداً
… فيضربه أو مارداً فيضاربه
يناجى بما في نفس عافيه قلبه
… فيتحفه ما فيه نيطت مآربه
আমি তাকে অভিযুক্ত করি যা সে করেছে এবং যা করেনি সে ব্যাপারে
… ওজর পেশকারীর দলীলের ভিত্তিতে আমি তাকে কী নিয়ে অভিযুক্ত করব?
এই কি উজ্জ্বল শুভ্র মেঘমালা যা অবিরত বর্ষণ করছে
… তার জন্য ক্রন্দনরতা? নাকি ঐ গর্জনগুলো তার বিলাপ সভা?
পৃথিবী বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে, আমি সালমাকে দেখলাম
… ইবনে হাদ্দ-এর বিয়োগে ব্যথায় তার এক পাশ ভেঙে পড়েছে।
এমন কোনো জনপদ নেই যা এখন শোকালয়ে পরিণত হয়নি
… যার প্রবীণ ও নবীন নারীরা একে একে শোক প্রকাশ করছে।
তার মৃত্যুতে মহান গুণাবলির মৃত্যু সুনিশ্চিত হয়েছে
… তার মৃত্যুসংবাদদাতা তা স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছে এবং বিলাপকারী ইঙ্গিত দিয়েছে।
তার সেই দিনগুলো কোথায় গেল যা সবই ঈদের মতো ছিল
… যেখানে তার দস্তরখান সাজানো থাকত এবং তার মিছিল থাকত মহিমান্বিত।
সর্বশ্রোতা ও দুআ কবুলকারী (আল্লাহ) তাকে ডেকে নিয়েছেন, অথচ দীর্ঘকাল ধরে
… তাকে সাধারণ ভোজের জন্য ডাকা হতো যখন বছর হতো দুর্ভিক্ষপীড়িত।
ভাগ্য কি তাকে অপরিহার্য করেছিল যে আমাদের সংস্কার ভেঙে পড়বে
… কিন্তু বিশ্বব্যবস্থার রচয়িতা নিজেই তা খুলে দিয়েছেন।
তার গুণাবলির অনুপস্থিতিতে এই দুনিয়ার দৃষ্টান্ত আর কিছুই নয়
… কেবল এমন এক রাত ছাড়া যার নক্ষত্ররাজি খসে পড়েছে।
হে তার ঘোড়া! তুমি অন্য ঘোড়াদের মতো ছিলে না, আমি দেখি না
… যুদ্ধের সকালে তোমাকে ছাড়া অন্য কাউকে যার সওয়ারি এত অটল।
তিনি সেই সরদার মানুষের মাঝে যার আলোচনা ছড়িয়ে আছে
… দুর্দিনে তার দুই হাত এবং সংকটে তার তীক্ষ্ণ তলোয়ার।
তিনি শিক্ষিত ও বুদ্ধিমানের সাথে কোমল আচরণ করেন এবং আবির্ভূত হন
… এক কেশরী সিংহের ন্যায় তার বিরুদ্ধে যে তাকে রাগান্বিত করে।
এমন এক যুবক যে অনায়াসেই হাজার হাজার দান করে, আর তার ভয়ে
… হাজার হাজার শত্রু পিছু হটে যখন তারা তার সাথে যুদ্ধ করে।
মানুষেরা তার মাঝে বহুমুখী গুণ দেখতে পায়, তাই তারা সবাই
… তাকে প্রত্যেক পূর্ণ গুণের অধিকারী শ্রেণির সাথে সম্বন্ধযুক্ত করে।
সমুদ্রগুলোর জন্য রয়েছে তার দানশীলতার সংবাদ বর্ণনাকারীরা
… আর চাঁদের জন্য রয়েছে তারা যারা দেখে তার সুউচ্চ মর্যাদা কেমন।
সিংহদের জন্য রয়েছে তারা যারা তার বীরত্বের তীব্রতা সম্পর্কে সচেতন
… এবং প্রতিটি যুদ্ধে তার স্কন্ধদেশ যা কিছু প্রতিহত করেছে।
তার পথ হলো তাকে দান করা যাকে অনেক দেওয়া হয়, এবং তার মাধ্যমে
… প্রাচুর্য লাভ করে সে যার সব পথ রুদ্ধ হয়ে গিয়েছিল।
তিনি প্রচেষ্টা করেন ফলে ধ্বংস হয় যে তাকে ভীতিপ্রদর্শন করে
… আর তিনি দান করেন এবং নিঃশেষ করে দেন তাকে যে তার অনুগ্রহ লাভ করে।
প্রকাশ্যে এক বিশাল জনতা তাকে অনুসরণ করে পানির ঘাটে আসার ন্যায়
… অতঃপর তিনি তাকে আঘাত করেন অথবা কোনো অবাধ্যকে মোকাবিলা করেন।
তার কাছে সাহায্যপ্রার্থীর মনের কথা তার হৃদয়ে পৌঁছে যায়
… ফলে তিনি তাকে এমন কিছু উপহার দেন যাতে তার প্রয়োজনগুলো মিশে থাকে।
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াসীত ফী তারাজিমু উদাবা শিনক্বীত
(পৃষ্ঠা: ١٧)
أبا فَضْلُهُ الحذّاقَ أن يحذقوا به
… فلا اليد تحصيه ولا الفم حاسبه
فلم يغنه المجد الذي هو حائز
… تراثاً عن المجد الذي هو كاسبه
علا حزمه من طبعه متعقب
… يباعده الأمر الملوم مقاربه
فما سَدُّه مستأنساً ما يريبه
… محاكيه السد الذي شادَ ماربه
معاطفه ما ضقن ذرعا بحادث
… جليل وإن كانت تخاف مَعَاطبه
إمامُ نديً في جامع المجدِ راتبٌ
… تحيل القضايا أن تنال مراتبه
منّور مرآت الفؤادِ مَوفّقٌ
… تراءى له من كل أمر عواقبه
تفرِّق ما يكفي البرِيَّة كفُه
… وتجمع من فوق التراب ترائبه
نسوجٌ على منوال ما كان ناسجاً
… على ذكره من عهد يحيى عناكبه
على يده الطولى تقمَّصت مِطرفا
… من العز والإثراء ها أنا ساحبه
أيجتمع البحران إلا إذا رسا
… سفينٌ مدنّات إليه قواربه
يحكمه ربَّاته في نفيسها
… ويدعوه فيما يصطفى فيجاوبه
فيصدر ركبا بعد ركب ثقيلة
… بما وهبت تلك اليمين ركائبه
فنبصره عذبا فراتا غطمطما
… يذِلُّ له حقو الاجاج وغاربه
تزاحم في بث الجميل تسابقاً
… إلى شكره أفواهه وحقائِبُهْ
إلى بابه في كل تيهاَء منهج
… يؤدي إليه طالبَ العرف لاحبُهْ
عجبتُ لأيدٍ كيف وارت بمضجع
… غمام أيادٍ يوعبُ الأرض صائِبُهْ
سقى الله قبراً ضمُه وبلَ رحمةٍ
… من الرَّوح والرَّيحان تهمى سحائبه
وأوفض في وحش التراب بروحهِ
… إلى حيث أترابُ الجنانِ تلاعبه
فصاحب علىَّ الصبرَ فيه وآخِه
… فمحمودة عقبي من الصبر صاحبه
তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব পারদর্শীদের তাঁর নাগাল পেতে অস্বীকার করেছে
… সুতরাং কোনো হাত তা গণনা করতে পারে না এবং কোনো মুখও তা হিসাব করতে পারে না।
তিনি উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত যে মর্যাদার অধিকারী ছিলেন, তা তাঁকে নিজের উপার্জিত মর্যাদা থেকে অমুখাপেক্ষী করতে পারেনি।
তাঁর স্বভাবজাত দৃঢ়সংকল্প উচ্চতর হয়েছে যা তাঁকে অনুসরণ করে; যেকোনো নিন্দনীয় বিষয় যখন তাঁর নিকটবর্তী হয়, তিনি তা থেকে নিজেকে দূরে রাখেন।
সংশয়যুক্ত কোনো বিষয়ে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করা তাঁর স্বভাববিরুদ্ধ... তাঁর এই দৃঢ়তা যেন মারিব কর্তৃক নির্মিত সেই শক্তিশালী বাঁধের মতো।
তাঁর সহনশীলতা কোনো মহান বিপদে সংকীর্ণ হয়ে পড়েনি, যদিও তার ধ্বংসাত্মক পরিণতির আশঙ্কা ছিল।
তিনি মর্যাদার সমাবেশে প্রতিষ্ঠিত বদান্যতার এক ইমাম; জাগতিক ঘটনাবলি তাঁর সুউচ্চ মাকাম স্পর্শ করতে অক্ষম।
তিনি হৃদয়ের আয়নাকে আলোকিতকারী এবং সফল; প্রতিটি বিষয়ের পরিণাম তাঁর সামনে স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
তাঁর হাতের তালু সৃষ্টির জন্য যা যথেষ্ট তা বিলিয়ে দেয়, আর তাঁর বক্ষপিঞ্জরের হাড়গুলো মাটির উপরে একত্রিত হয়।
তিনি সেই পথেই বয়ন করে গেছেন যেভাবে বয়ন করা হয়েছিল; ইয়াহইয়ার যুগ থেকেই তাঁর স্মৃতির ওপর মাকড়সা জাল বুনে আসছে।
তাঁর মহানুভব হাতের বদৌলতে আমি সম্মান ও প্রাচুর্যের এমন এক চাদর পরিধান করেছি, যা আমি বর্তমানে বহন করছি।
দুই সমুদ্র কি মিলিত হয়—যদি না তাতে কোনো জাহাজ নোঙর করে, যার নিকটবর্তী ছোট নৌকাগুলো ভিড়ে থাকে?
সম্পদের মালিকরা মূল্যবান বিষয়ে তাঁকে বিচারক মান্য করে এবং তারা যা নির্বাচন করে সে বিষয়ে তাঁকে আহ্বান জানালে তিনি সাড়া দেন।
অতঃপর তাঁর ডান হাত যা দান করেছে, তার ভারে একেকটি ভারি কাফেলা একের পর এক প্রস্থান করে।
আমরা তাঁকে সুপেয়, মিষ্ট ও উত্তাল দরিয়া হিসেবে দেখি, যার সামনে লোনা পানির গভীরতা ও তরঙ্গসমূহ নতি স্বীকার করে।
তাঁর সুকীর্তি প্রচারের প্রতিযোগিতায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশের জন্য মানুষের মুখ এবং তাদের থলেসমূহ ভিড় জমায়।
প্রতিটি বিজন প্রান্তরে তাঁর দরবারের দিকে একটি পথ রয়েছে; প্রকাশ্য রাস্তাটি অনুগ্রহ অন্বেষীকে তাঁর নিকট পৌঁছে দেয়।
আমি সেই হাতগুলোর ব্যাপারে বিস্মিত হই, যারা কীভাবে কবরে এমন এক অনুগ্রহের মেঘকে দাফন করল, যার বৃষ্টি পৃথিবীকে প্লাবিত করত।
আল্লাহ সেই কবরকে রহমতের বারিধারায় সিক্ত করুন যা তাঁকে আগলে রেখেছে; যার প্রশান্তি ও সুগন্ধির মেঘমালা বর্ষণরত থাকে।
এবং তিনি যেন একাকী মাটির জগত থেকে তাঁর রূহকে দ্রুত সেই স্থানে নিয়ে যান, যেখানে জান্নাতের সাথীরা তাঁর সাথে আমোদ-প্রমোদ করবে।
সুতরাং তাঁর বিয়োগব্যথায় ধৈর্য ধারণ করো এবং ধৈর্যের সাথে ভ্রাতৃত্ব স্থাপন করো; কেননা ধৈর্যধারণকারীর জন্য ধৈর্যের পরিণাম অত্যন্ত প্রশংসনীয়।
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াসীত ফী তারাজিমু উদাবা শিনক্বীত
(পৃষ্ঠা: ١٨)
فما حان حتى بان منك سميذع
… يجاريه في ميدانه ويجاذبه
هو الفاعل الخيرات قدِّر حتفه
… فثق بوجوب الرفع إنك نائبه
تبارَيتما بدرين في أفُقِ العُلا
… وقد سُرَّ باديه وأحْزَنَ غائبه
وما قلدوك الأمر إلا تيقناً
… لإدراكك الأمر الذي أنت طالبه
فقم راشداً واقصد عدوَّك واثقاً
… بفتحكه إذ همُّ خوفك ناصبه
فيؤيدكَ الله الذي هو باسط
… يديك فمغلوب به من تغالبه
فلا يَثْنِكَ الحساد عما تشاؤه
… فلن يمنع الحساد ما الله واهبه
فأموالهم ما أنت بالسَّيْنِ واهبٌ
… وأعمارهم ما أنت بالسيف ناهبه
كما لك يا إنسان عين زمانه
… تكنفه حفظ من الله حاجبه
وقال أيضا يرثي العلامة أحمد بن يوسف البوحسني:
هو الأجل الموقوت لا يتخلّفُ
… وليس يرد الفائتَ المتأسِفُّ
رضينا قضاء الله جل جلاله
… وإن ضَلَّ فيه الجاهلُ المتعَسِفُّ
هو الحق يحزينا ثواب صنيعه
… وننفق من خيراته وهو يُخْلِفُ
يعافى ويعفو عن كثير ولم يزل
… حليما وما زلنا نسئُ ونسرِفُ
فكيف يؤدّى حمدَهُ حق حمدِه
… كما ينبغي مجداً لِسانٌ وأحرفُ
إلهي عجزنا دون ما أنت أهله
… وخفنا ونرجو ما لديك ونرجفُ
أشارت يد الدنيا بتوديع أهلها
… وكدنا نرى الأشراطَ والله يلطف
رجوناك مِفضالا وخفناك عادلا
… فهب ما نرجِّى واكف ما نتخوّف
هي الجسر للأخرى فِسر ضيف ليلة
… عليها فكلْ ما تْستضاف وتعلَفُ
تكلفنا أشياَء لا نستطيعها
… ونعلق فيها بالمحال ونكلفُ
فأما هوانا طولها فلأَنفس
… شديد عليها ترك ما كان تألفُ
শীঘ্রই তোমার পক্ষ থেকে এক মহান বীর আবির্ভূত হলেন
… যিনি তার ময়দানে তার সাথে পাল্লা দেন এবং তাকে টক্কর দেন।
তিনি কল্যাণকর কাজ সম্পাদনকারী, তার মৃত্যু নির্ধারিত ছিল
… অতএব সমুন্নত হওয়ার নিশ্চয়তায় বিশ্বাস রাখো, কারণ তুমিই তার স্থলাভিষিক্ত।
তোমরা উভয় উচ্চতার দিগন্তে দুই পূর্ণিমার চাঁদের মতো প্রতিযোগিতা করেছ
… যার উদয় আনন্দিত করেছে এবং যার তিরোধান ব্যথিত করেছে।
তারা কেবল নিশ্চিত হয়েই তোমার ওপর এই দায়িত্ব অর্পণ করেছে
… যে বিষয় তুমি অন্বেষণ করছ তা অর্জনে তোমার সক্ষমতার কারণে।
সুতরাং সঠিক পথে পরিচালিত হয়ে দাঁড়াও এবং আত্মবিশ্বাসের সাথে তোমার শত্রুর দিকে অগ্রসর হও
… তোমার বিজয়ের ব্যাপারে, যখন তোমার ভয়ের দুশ্চিন্তা তাকে ক্লান্ত করে ফেলেছে।
অতঃপর আল্লাহ তোমাকে সাহায্য করবেন, যিনি তোমার হাতকে প্রশস্তকারী
… সুতরাং তুমি যার ওপর জয়ী হতে চাও সে তাঁর দ্বারাই পরাজিত হবে।
হিংসুকরা যেন তোমাকে তোমার ইচ্ছা থেকে ফিরিয়ে না রাখে
… কারণ আল্লাহ যা দানকারী, হিংসুকরা তা প্রতিরোধ করতে পারবে না।
তাদের সম্পদ এমন নয় যা তুমি অনুগ্রহ হিসেবে দান করবে
… আর তাদের আয়ু এমন নয় যা তুমি তলোয়ার দিয়ে ছিনিয়ে নেবে।
হে যুগের নয়নমণি মানুষ, তোমার জন্য যেমন রয়েছে
… আল্লাহর পক্ষ থেকে এমন এক হেফাজত যা তাকে বেষ্টন করে রেখেছে।
আল্লামা আহমাদ বিন ইউসুফ আল-বুহাসনি-এর শোকগাঁথা গেয়ে তিনি আরও বলেন:
এটি এক নির্ধারিত সময় যা পিছিয়ে যায় না
… আর অনুতপ্ত ব্যক্তি বিগত সময়কে ফিরিয়ে আনতে পারে না।
আমরা মহান আল্লাহর ফয়সালায় সন্তুষ্ট হয়েছি
… যদিও এতে বিভ্রান্ত ও অত্যাচারী মূর্খরা পথভ্রষ্ট হয়েছে।
তিনিই সত্য, যিনি আমাদের তাঁর কর্মের সওয়াব প্রদান করেন
… আর আমরা তাঁর নেয়ামত থেকে ব্যয় করি এবং তিনি তার প্রতিদান দেন।
তিনি সুস্থতা দান করেন এবং অনেক ক্ষমা করেন, তিনি সর্বদা
… ধৈর্যশীল, আর আমরা সর্বদা মন্দ কাজ করি ও সীমা লঙ্ঘন করি।
সুতরাং ভাষা ও বর্ণমালা কীভাবে তাঁর প্রশংসার হক আদায় করবে
… যেভাবে তাঁর মর্যাদার জন্য যথাযথ হয়।
হে আমার ইলাহ! আপনি যার যোগ্য তা পালনে আমরা অক্ষম
… আমরা ভয় পাই এবং আপনার নিকট যা রয়েছে তার আশা করি ও প্রকম্পিত হই।
দুনিয়ার হাত তার অধিবাসীদের বিদায় জানানোর ইঙ্গিত দিয়েছে
… এবং আমরা যেন কিয়ামতের আলামত দেখতে পাচ্ছিলাম, আর আল্লাহ দয়া করেন।
আমরা দাতা হিসেবে আপনার আশা করেছি এবং ন্যায়বিচারক হিসেবে আপনাকে ভয় করেছি
… সুতরাং আমরা যা আশা করি তা দান করুন এবং যা ভয় করি তা থেকে রক্ষা করুন।
এটি পরকালের সেতু, সুতরাং এক রাতের মেহমান হয়ে এর ওপর দিয়ে চলো
… আর মেহমানদারিতে যা পেশ করা হয় তা গ্রহণ করো।
আমরা নিজেদের ওপর এমন বিষয়ের বোঝা চাপিয়েছি যা আমরা করতে সক্ষম নই
… এবং আমরা অসম্ভব বিষয়ে লিপ্ত হই ও কষ্ট স্বীকার করি।
আমাদের দীর্ঘ জীবনের আকাঙ্ক্ষার কারণ হলো সেই প্রবৃত্তি
… যার জন্য তার অভ্যস্ত বিষয়গুলো ত্যাগ করা অত্যন্ত কঠিন।
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াসীত ফী তারাজিমু উদাবা শিনক্বীত
(পৃষ্ঠা: ١٩)
تصرَّفت الهوجاء فينا على عَمًى
… فلا غرض تبغيه فيما تصرف
وما ذاك إلا أنها جد كلبة
… وما طبعت إلا على الكلب تصرفُ
يبشُّ محياها إلى كل ناقص
… وتعْبِس في وجه الكريم وتصدفُ
وليس يفي فيما يفيدُ سرُورها
… بأحْزانها فيما تبيد وتتلفُ
فلا ترضها جمعاَء كتعاء جملةً
… تحلّةَ ما تولى عليه وتحلفُ
ولا دار سكنى وهي قصرٌ مُشَيَّدٌ
… فكيف وهذا قاعُهَا وهي صفصفُ
وما الزهدُ في إلغَائها وهي علقمٌ
… زعاقٌ ولكن وهْيَ صهباء قرقفُ
مضت غير ما سوف على زَرَجُونها
… ولكن على مثل ابن يوسف يؤسف
فتانا ومفتينا المصيب وشيخنا
… ونبراسنا فيما يهم ويسدف
يعاين أعقاب الأمور فراسة
… إياسيه تلقى إليه وتهتفُ
وتسمع عنه بالعجيب وما ترى
… بأحسن مما كان يروى وأظرفُ
تهم قلوب الحاسدين بغمصه
… فتسبقهم أفواههم فتشرِّفُ
بصيرٌ بحل المشكلات كأنما
… يكاشف عن أسرارها ثم يكشفُ
حكيمٌ تلاشى فيه سَحبان وائلٍ
… وقس وأفعى الجرهمي وقِلطفُ
ورسْطا وقسْطا وابن سينا وهُرْمِسٌ
… وإقليدس ذو الجوسقين وأسقفُ
অন্ধের মতো অশান্ত কাল আমাদের ওপর প্রভাব বিস্তার করেছে
… তার এই কর্মকাণ্ডে কোনো সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নেই
এটি একারণেই যে, তা চরম তুচ্ছ ও হীন
… আর হীনতার ওপরই তার প্রকৃতি গঠিত
তার মুখমণ্ডল প্রতিটি অযোগ্য ব্যক্তির প্রতি হাস্যোজ্জ্বল থাকে
… আর মহানুভব ব্যক্তির প্রতি সে ভ্রুকুটি করে এবং মুখ ফিরিয়ে নেয়
এটি যে আনন্দ প্রদান করে, তা সেই দুঃখ-বেদনার সমকক্ষ নয়
… যা তা ধ্বংস ও বিনাশের মাধ্যমে সৃষ্টি করে
সুতরাং একে কোনোভাবেই সম্পূর্ণরূপে গ্রহণ করো না
… যা কিছু অর্পিত হয়েছিল তার বিচ্যুতি ও শপথ ভঙ্গের ন্যায়
এটি বসবাসের যোগ্য গৃহ নয়, এমনকি যদি তা সুউচ্চ প্রাসাদও হয়
… তবে এর অবস্থা কেমন হবে যখন এটি জনশূন্য প্রান্তর ও সমতল ভূমি মাত্র
যখন দুনিয়া তিক্ত ও বিস্বাদ হয় তখন তাকে বর্জন করা বৈরাগ্য নয়
… বরং প্রকৃত বৈরাগ্য হলো তখন, যখন তা উজ্জ্বল ও মোহনীয় মদিরার মতো হয়
সময়ের স্রোত তার সম্পদের ওপর কোনো অনুশোচনা ছাড়াই অতিবাহিত হয়েছে
… তবে ইবনে ইউসুফের মতো ব্যক্তির বিয়োগেই কেবল শোক প্রকাশ করা যায়
তিনি আমাদের যুবক, আমাদের সঠিক ফতোয়া প্রদানকারী মুফতি ও আমাদের শাইখ
… এবং গুরুত্বপূর্ণ ও অন্ধকারাচ্ছন্ন বিষয়ে আমাদের আলোকবর্তিকা
তিনি দূরদর্শিতার মাধ্যমে বিষয়ের পরিণাম প্রত্যক্ষ করেন
… যেন ইয়াসের প্রজ্ঞা তাঁর প্রতি অর্পিত হয়েছে এবং তাঁকে আহ্বান করছে
আপনি তাঁর সম্পর্কে বিস্ময়কর বিষয় শুনবেন এবং যা বর্ণনা করা হয়েছে
… তার চেয়ে অধিক সুন্দর ও চমৎকার আর কিছুই দেখতে পাবেন না
হিংসুকদের অন্তর তাঁকে অবজ্ঞা করার সংকল্প করে
… কিন্তু তাদের মুখ তাদের অগ্রগামী হয়ে তাঁকে সম্মানিত করে ফেলে
সমস্যা সমাধানে তিনি এমন অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন যেন
… তাঁর সামনে রহস্যসমূহ উন্মোচিত হয় এবং অতঃপর তিনি তা প্রকাশ করেন
তিনি এমন এক প্রাজ্ঞ ব্যক্তি যার সামনে সাহবান ওয়ায়েল
… কুস, আফআ আল-জুরহুমি এবং কিলতিফ ম্লান হয়ে যায়
আর আরিসতু, কিসতা, ইবনে সিনা ও হরমিস
… দুই প্রাসাদের অধিকারী ইউক্লিড এবং বিশপও তাঁর তুলনায় নগণ্য
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াসীত ফী তারাজিমু উদাবা শিনক্বীত
(পৃষ্ঠা: ٢٠)
غمامٌ بماءْ المزن ينهل مزنه
… وبحر بأصداف المكارم يقذفُ
تملك أطراف القضاء وفقهه
… وما هو إلا مالك أو مطرفُ
تخاطبنا كبرى ابن يوسف عنده
… دعوا كثرة الآراءِ هذا المصنفُ
درى في اللغَى والنحو ما شاَء في الصبّا
… فشبَّ على تحقيقه يتفلسَفُ
يجوّدُ آيات الكتاب فصدرُه
… لِمَجْموع ذي النورين عثمانَ مصحفُ
عواطل آذان من العلم لم يكن
… يقرّطها تدريسه ويشنفُ
يفسرُه تفسير حبر موفق
… يسنى له فيض العلوم فيغرفُ
نضت جودها في كفّهِ كفُّ حاتم
… وزرَّ عليه جبة الحلم أحنفُ
أشَمُّ المعالي همه وهو همها
… ويشغف فيها مثل ما فيه تشغفُ
قَصرن عليه الطَّرف وهو كأنما
… برؤيا سواها كان يقذى ويطرفُ
وما كنت أدرى قبله الموت زعزعا
… يدك جوديّ المعالي وينسفُ
ولا حاجياً أن يستهلَّ ابن ليلة
… على الناس بدراً كاملا ثم يكسفُ
توغلت سجن الهم فاصبره حسبة
… يجازيك من مجزيِّ يوسفَ يوسفُ
أراد بك الله التي هي عنده
… أحَظُّ وأحظى بالمفاز وأشرفُ
ولو أن آثام البرية كِفَّةٌ
… لخفت بما فيها ثوابك يصرفُ
وبَخْ بَخْ وبشّرِ أمّ أحمد بالذي
… يثنى لها من أجرها ويضعّفُ
فلا تجزعا يا ولديه فربه
… برُّ به من والديه وأرأفُ
وخلى ومن أصفيت ودي ومن به
… أقيم اعوجاجي كله وأَثَقّفُ
وأفرشتني شوك القتاد وإنما
… فراشاك في الفردوس لاذٍ ورفرفُ
وجازاك عنها خير خير يناله
… ويُجْزَى به الدَّيانة المتحنِفُ
وخلَّي لمولاه الحضيضَ وأهلَه
… فليس له إلا إليه التشوّفُ
وتعزوه للأحداث سن صغيرة
… ويعزوه للأشياخ علم يؤلفُ
বৃষ্টির পানিতে সিক্ত মেঘমালা যার বৃষ্টি ঝরে পড়ে
… আর এমন এক সমুদ্র যা মহত্ত্বের মুক্তা নিক্ষেপ করে।
তিনি বিচারব্যবস্থার সকল দিক ও তার ফিকহ আয়ত্ত করেছিলেন
… তিনি তো কেবল মালেক কিংবা মুতরিফের ন্যায়।
ইবনে ইউসুফের 'কুবরা' গ্রন্থটি তাঁর কাছে আমাদের সম্বোধন করে বলে
… তোমরা মতামতের আধিক্য ত্যাগ করো, এই তো সেই সংকলক।
তিনি ভাষা ও ব্যাকরণ শাস্ত্রে শৈশবেই যা ইচ্ছা তা অর্জন করেছিলেন
… অতঃপর তার গবেষণার ওপর ভিত্তি করেই তিনি দার্শনিক প্রজ্ঞায় বেড়ে ওঠেন।
তিনি কিতাবুল্লাহর আয়াতসমূহ উত্তমরূপে পাঠ করতেন, ফলে তাঁর বক্ষ
… যুন-নুরাইন উসমানের সংকলিত সেই মাসহাফে পরিণত হয়।
ইলমহীন কানগুলো অলঙ্কারহীন ছিল, যা
… তাঁর পাঠদান কর্ণভূষণ হয়ে অলঙ্কৃত ও সুশোভিত করেনি।
তিনি তার এমন ব্যাখ্যা করেন যেন এক সফল বিজ্ঞ আলিম
… যাঁর জন্য ইলমের প্রস্রবণ সহজ করে দেওয়া হয়েছে, আর তিনি সেখান থেকে অঞ্জলি ভরে নিচ্ছেন।
হাতেমের হাত যেন তাঁর করপুটে নিজের দানশীলতা উজাড় করে দিয়েছে
… আর আহনাফ তাঁকে সহনশীলতার জুব্বা পরিয়ে দিয়েছেন।
সুউচ্চ মর্যাদা তাঁর লক্ষ্য আর তিনিও সেই মর্যাদার লক্ষ্যবস্তু
… তিনি তাতে মগ্ন যেমনটি মর্যাদা তাঁর প্রতি অনুরাগী।
দৃষ্টিসমূহ তাঁর ওপর নিবদ্ধ ছিল, আর তিনি যেন
… অন্য কিছুর দর্শনে পীড়িত ও নিমীলিত হতেন।
আমি তাঁর পূর্বে জানতাম না যে মৃত্যু এমন এক প্রবল ঝড়
… যা মর্যাদার পাহাড়কে চূর্ণ-বিচূর্ণ ও ধূলিসাৎ করে দেয়।
আর আমি ভাবিনি যে এক রাতের চাঁদ
… মানুষের মাঝে পূর্ণিমার চাঁদের ন্যায় উদিত হবে এবং তারপরই গ্রহণ লেগে যাবে।
আপনি দুশ্চিন্তার কারাগারে প্রবেশ করেছেন, তাই সওয়াবের আশায় ধৈর্য ধরুন
… ইউসুফের প্রতিদানদাতার পক্ষ থেকে ইউসুফ আপনাকে প্রতিদান দেবেন।
আল্লাহ আপনার জন্য সেটিই চেয়েছেন যা তাঁর নিকট রয়েছে
… যা অধিক সৌভাগ্যের, অধিক সফলতার এবং অধিক সম্মানের।
যদি সৃষ্টির গোনাহসমূহ এক পাল্লায় রাখা হতো
… তবে আপনার সওয়াবের আধিক্যে তা তুচ্ছ হয়ে যেত।
চমৎকার! চমৎকার! উম্মে আহমাদকে সুসংবাদ দাও সেই জিনিসের
… যা তাঁর জন্য দ্বিগুণ এবং বহুগুণ করা হবে।
হে তাঁর দুই সন্তান! তোমরা বিচলিত হয়ো না, কারণ তাঁর রব
… তাঁর প্রতি তাঁর পিতামাতার চেয়েও অধিক দয়ালু ও করুণাময়।
হে আমার অকৃত্রিম বন্ধু, যাঁর প্রতি আমার ভালোবাসা একনিষ্ঠ এবং যাঁর মাধ্যমে
… আমি আমার সকল বক্রতা সংশোধন ও মার্জিত করতাম।
আপনি আমাকে কণ্টকশয্যায় রেখে গিয়েছেন, অথচ আপনার
… জান্নাতুল ফিরদাউসে বিছানা হলো রেশম ও গালিচার।
আল্লাহ আপনাকে এর বিনিময়ে সর্বোত্তম প্রতিদান দিন যা কোনো ব্যক্তি লাভ করে
… এবং যা দ্বারা একনিষ্ঠ দ্বীনদার ব্যক্তিকে পুরস্কৃত করা হয়।
তিনি তাঁর মাবুদের উদ্দেশ্যে এই নশ্বর পৃথিবী ও এর বাসিন্দাদের ত্যাগ করেছেন
… এখন কেবল তাঁর দিকেই তাঁর পূর্ণ মনোযোগ।
অল্প বয়স তাঁকে তরুণদের অন্তর্ভুক্ত করে
… কিন্তু তাঁর সংকলিত ইলম তাঁকে শাইখদের বা প্রবীণদের মর্যাদায় আসীন করে।
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াসীত ফী তারাজিমু উদাবা শিনক্বীত
(পৃষ্ঠা: ٢١)
تعجبت من تقديمه عند عدهم
… وهم وهو عقد السؤدد المحض نيفُ
تغلغل في علم التصوّف آخذاً
… على نفسه دون الحظوظ التصوفُ
وأدناك إذ لم ترض نفسك حية
… بما ليس يدنى من رضاه ويزلفُ
وغل لساني فيك ما غمّ خاطري
… فها أنا أرسو في الكلام وأرسفُ
ولم أقض أدنى حقه غير أنني
… أبهرج في تأبينه وأزخرفُ
رثاه الذي لا يسخط اللهَ قولُهُ
… ويحزن منه القلب والعين تذرفُ
تمنيت ولو أعطيت في القول بَسْطة
… فأهتف فيه بالذي أنا أعرفُ
نعم كيف يفْنى غارف متحفِّنٌ
… بغرفته البحر المحيط وينزفُ
له شيمٌ مثل النجوم عديدة
… فمنهن موصوفٌ وما ليس يوصفُ
وغايات سبق في الكمالات تنتهي
… جياد القوافي دونهن وتوقفُ
وقال أيضا يمدح سيدي محمد بن مولاي إسماعيل الذي اشتهر فضله بين الخاصة والعامة (ومن أراد أن يقف على بعض مآثره فلينظر في كتاب الاستقصا، ومن سمع ما ترويه مشايخ الصحراء علم إنه ما استقصى):
دع العيس والبيداء تذرعها شطحا
… وسِمْها بحورَ الآل تسبحها سبحا
ولا ترعها إلا الذميل فطالما
… رعت ناضر القيصوم والشيح والطلحا
ولا تصغ للناهين فيما نويته
… وخف حيث يخفى الغش من يظهر النصحا
فكن قمراً يفْرى الدجى كل ليلة
… ولا تك كالقمريّ يستعذب الصدحا
وقارض هموم النفس بالسير والسرى
… على ثقة بالله في نيلك الربحا
وأمّ بساط ابن الشريف محمد
… مبيد العدا ذكرا ومبدي الهدى صبحا
فتى يسع الدنيا كما هي صدره
… فأضحى به صدر الديانة مندَحّا
ومن هو غيث أخضل الأرض روضه
… فلا يظمأ الآوي إليه ولا يضحى
فتى يستقل البحر جود بنانه
… على حالة استكثار حاتم الرشحا
تزيد على الفاقات فيضات كفه
… فيغرق في التيار من يأمل النضحا
তাদের গণনার সময় তার অগ্রগামিতা দেখে আমি আশ্চর্যান্বিত হয়েছি
… আর তিনি ও তারা হলেন খাঁটি শ্রেষ্ঠত্বের এক সুউচ্চ শিখর।
তিনি তাসাউফ বিজ্ঞানে গভীরভাবে প্রবেশ করেছিলেন
… নিজের নফসের পার্থিব স্বার্থ ত্যাগ করে তিনি তাসাউফকেই নিজের ওপর আবশ্যক করে নিয়েছিলেন।
তিনি আপনাকে নিকটবর্তী করেছেন যখন আপনার আত্মা জীবিত অবস্থায় সন্তুষ্ট ছিল না
… এমন কিছুর মাধ্যমে যা আল্লাহর সন্তুষ্টির নিকটবর্তী করে না এবং নৈকট্য দান করে না।
আপনার শোকে আমার মনের বিষাদ আমার জিহ্বাকে আড়ষ্ট করে দিয়েছে
… তাই আমি কথা বলতে গিয়ে থমকে যাচ্ছি এবং শৃঙ্খলিত অনুভব করছি।
আমি তার হকের সামান্যতম অংশও আদায় করতে পারিনি, কেবল এই যে
… আমি তার শোকগাথায় অলংকার প্রয়োগ করছি এবং তা সজ্জিত করছি।
তাকে এমন ব্যক্তি শোকবার্তা জানিয়েছেন যার কথা আল্লাহকে অসন্তুষ্ট করে না
… অথচ তার জন্য অন্তর ব্যথিত হয় এবং চক্ষু অশ্রু বিসর্জন দেয়।
আমি আকাঙ্ক্ষা করেছিলাম যদি আমাকে বাকপটুতা দান করা হতো
… তবে আমি তার ব্যাপারে উচ্চস্বরে তাই বলতাম যা আমি জানি।
হ্যাঁ, কীভাবে সেই ব্যক্তি নিঃশেষ হবে যে দুই হাতে অকাতরে গ্রহণ করছে
… এমন এক বিশাল সমুদ্র থেকে যা পরিবেষ্টনকারী এবং প্রবাহমান।
নক্ষত্ররাজির ন্যায় তার অসংখ্য সচ্চরিত্র রয়েছে
… যার কিছু বর্ণিত হয়েছে আর কিছু বর্ণনাতীত।
পূর্ণতার শিখরে পৌঁছানোর এমন সব লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে যা অর্জন করতে গিয়ে
… শ্রেষ্ঠ কাব্যগাঁথাগুলোও তার নিচে থমকে দাঁড়ায়।
তিনি সিদি মুহাম্মাদ বিন মাওলানা ইসমাইলের প্রশংসায় আরও বলেন, যার ফযীলত ও শ্রেষ্ঠত্ব বিশিষ্ট ও সাধারণ সকলের মাঝে প্রসিদ্ধ (আর যে ব্যক্তি তার কীর্তিগাথার কিছু অংশ জানতে চায়, সে যেন ‘আল-ইস্তিকসা’ কিতাবটি দেখে নেয়; আর যে ব্যক্তি সাহারার মাশায়েখদের বর্ণিত ঘটনাবলি শুনেছে, সে জানবে যে ঐ কিতাবে সবকিছু পুঙ্খানুপুঙ্খ আসেনি):
উষ্ট্রীদলকে এবং মরুভূমিকে ছেড়ে দাও যা তুমি উদ্দেশ্যহীনভাবে পাড়ি দিচ্ছ
… আর মরীচিকার সমুদ্রে তাদের সন্তরণ করতে দাও।
তাদের দ্রুতগতি ছাড়া অন্য কিছুতে পরিচালিত করো না, কারণ দীর্ঘকাল
… তারা সতেজ কাইসুম, শিহ ও তালহ বৃক্ষ ভক্ষণ করেছে।
তুমি যা সংকল্প করেছ সে বিষয়ে নিষেধকারীদের কথায় কর্ণপাত করো না
… আর যেখানে প্রতারণা লুকিয়ে থাকে সেখানে ভয় করো, যদিও কেউ সদুপদেশ প্রকাশ করে।
তুমি এমন এক চাঁদ হও যা প্রতি রাতে অন্ধকারকে বিদীর্ণ করে
… আর সেই কপোতের মতো হয়ো না যে কেবল মিষ্টি সুরে গান গাইতে পছন্দ করে।
ভ্রমণ ও নৈশযাত্রার মাধ্যমে মনের দুশ্চিন্তাগুলোকে বিনিময় করে নাও
… লাভ অর্জনে আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসা রেখে।
ইবনে শরীফ মুহাম্মাদের দরবারের দিকে যাত্রা করো
… যিনি শত্রুদের নাম-নিশানা মিটিয়ে দেন এবং প্রভাতের ন্যায় হেদায়েত প্রকাশ করেন।
তিনি এমন এক যুবক যার বক্ষদেশ যেন সমগ্র দুনিয়াকে ধারণ করতে পারে
… যার ফলে দ্বীনের অন্তর আজ প্রশস্ত হয়ে উঠেছে।
তিনি এমন এক বৃষ্টি যার বাগিচা ভূমিকে সিক্ত ও উর্বর করে দিয়েছে
… ফলে তার কাছে আশ্রয় গ্রহণকারী তৃষ্ণার্ত হয় না এবং রোদে কষ্ট পায় না।
তার অঙ্গুলিপ্রসূত দানশীলতার কাছে সমুদ্রও সামান্য মনে হয়
… এমনকি হাতেম তায়ীর দানকেও যেখানে অতি সামান্য বলে গণ্য করা হয়।
তার করতল থেকে প্রবাহিত দান অভাব-অনটনের চেয়েও অধিক
… ফলে সামান্য সিঞ্চনের আশাকারীরাও সেই প্রবল স্রোতে ডুবে যায়।
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াসীত ফী তারাজিমু উদাবা শিনক্বীত
(পৃষ্ঠা: ٢٢)
وَمنْ هديه ساوى النهار وليله
… فأمسى ينير الخافقين كما أضحى
أميرٌ ملوك الكفر أضحت بسيفه
… كما تتبغّى الذبح في عيدها الأضحى
مساعيه في الخطب الجليل يرومه
… كآمال من يرجوه تستصْحب النجحا
صفات كدُرِّ البحر صفواً ولجه
… حساباً فمن تأتى على مائه نزحا
وآيات علم أغمد الجهل نورها
… وغايات جد ليس تطلابها مزْحا
وكَفٌّ تُرى وكْف الحيا كيف ينهمي
… إلى خُلْق يرى نسيم الصبا النفحا
وبشرُ محيا علَّم الصبح ما السنا
… وقبض أرى النار التأجُّجَ واللفْحا
وتأليفه أشتَات كل فضيلة
… ومكرمة غراء تعجزنا شرحا
ومنها:
أبوك لحكم الشرع ولاّك عهده
… فلم تلق كدًّا للسؤال ولا كدحا
وأعطاكه إذ ليس غيرك أهله
… وللعقل نور ميز الحسن والقبحا
كفى باتخاذ المال في القصد يمنه
… فلسنا نخط الرمل أو نضرب القِدْحا
مهيب مخوف بطشه تحت حلمه
… عفوٌّ يرى إلا عن الباطل الصفحا
فهل كان معزوا إلى الحلم قبله
… نعم أو كريم يَدَّعِى غيره السمحا
فأقدم حتى فارق الجبن صافرٌ
… وجاد إلى أن عاف مادِرٌ الشحا
ولم تُذْعِنِ الأعداء محض مودَّة
… إليه ولكن إنما كرهوا القرحا
رأوا ضيغما يعطى الحروب حقوقها
… وإن تضع الأوزار يُبْرِمْ لها صلحا
ويستغرق الأوقات في الجد كلها
… ولا يهب التَّلعاب ما يسع اللمحا
مواصلة حبل الجهاد جياده
… ووقفا على غزو العدا عدوها ضبْحا
معادية مُعْطىً بالحياة منية
… وبالجنة الأخرى وبالسُّنْدس المُسْحَا
أبي ابن أمير المؤمنين وسيفه
… وصمصامه أن يرفع الضرب والنطحا
تشابهه خَلْقا وخُلْقا فسامه
… إلى الفلك الأعلى فإنك لا تلجا
তাঁর হেদায়েতের মাধ্যমে তিনি দিন ও রাতকে সমান করেছেন
… ফলে তা উভয় দিগন্তকে এমনভাবে আলোকিত করে যেমনটা প্রভাতে করে।
এমন এক আমির যার তলোয়ারের কারণে কুফরি রাজারা এমন অবস্থায় উপনীত হয়েছে
… যেমন ঈদুল আযহায় জবাইয়ের জন্য অপেক্ষমাণ পশু।
মহান কার্যাদিতে তাঁর প্রচেষ্টাসমূহ সফলতাকে সাথে নিয়েই লক্ষ্যপানে ধাবিত হয়
… যেমন তাঁর কাছে প্রত্যাশাকারীদের আশা পূর্ণতা পায়।
তাঁর গুণাবলী সমুদ্রের মুক্তার ন্যায় স্বচ্ছ এবং গভীর
… যদি কেউ এর পরিমাপ করতে চায়, তবে সে এর বারিধারায় সিক্ত হয়ে ফিরে আসে।
জ্ঞান ও প্রজ্ঞার এমন নিদর্শন যার আলো মূর্খতাকে পরাভূত করেছে
… আর তাঁর সংকল্পের লক্ষ্যসমূহ কোনো কৌতুক নয়।
এবং তাঁর এমন এক হাত দেখা যায় যা বৃষ্টির ন্যায় অকাতরে দান করে
… এমন এক চরিত্রের সান্নিধ্যে যা পূবালী বাতাসের স্নিগ্ধতার মতো।
তাঁর প্রফুল্ল মুখমণ্ডল প্রভাতকে শিখিয়েছে ঔজ্জ্বল্য কী
… আর তাঁর কঠোরতা অগ্নিকে শিখিয়েছে প্রজ্বলন ও দহন।
তিনি সকল প্রকার শ্রেষ্ঠত্বের খণ্ডিতাংশগুলোকে নিজের মাঝে সমবেত করেছেন
… এবং এমন এক উজ্জ্বল মহত্ত্ব যা বর্ণনা করা আমাদের পক্ষে অসম্ভব।
এবং এরই অংশবিশেষ:
তোমার পিতা শরীয়তের বিধান মোতাবেক তোমাকে উত্তরাধিকার দান করেছেন
… ফলে তোমাকে কোনো যাচনা বা কঠোর পরিশ্রম করতে হয়নি।
তিনি তোমাকে তা দান করেছেন কারণ তুমি ছাড়া এর যোগ্য কেউ ছিল না
… আর বুদ্ধির রয়েছে এমন আলো যা সুন্দর ও কুৎসিতের মাঝে পার্থক্য করে।
মহৎ উদ্দেশ্যে সম্পদ ব্যয় করাই বরকতের জন্য যথেষ্ট
… কারণ আমরা বালিতে ভাগ্যরেখা টানি না বা তীরের মাধ্যমে ভাগ্য পরীক্ষা করি না।
তিনি প্রভাবশালী ও দাপুটে, যাঁর ধৈর্য ও সহনশীলতার নিচে কঠোর প্রতাপ লুকায়িত
… তিনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল, তবে বাতিলের ক্ষেত্রে তিনি কোনো ক্ষমা প্রদর্শন করেন না।
তাঁর পূর্বে কি আর কেউ এমন সহনশীলতার গুণে গুণান্বিত ছিল?
… হ্যাঁ, অথবা এমন কোনো দানশীল ব্যক্তি যে অন্যের ঔদার্যের দাবি করতে পারে?
তিনি সাহসিকতার সাথে অগ্রসর হয়েছেন এমনকি ভীরুতাও পলায়ন করেছে
… এবং তিনি এত দান করেছেন যে কৃপণও কার্পণ্য করা ছেড়ে দিয়েছে।
শত্রুরা নিছক ভালোবাসার বশবর্তী হয়ে তাঁর আনুগত্য করেনি
… বরং তারা যুদ্ধের ক্ষত ও আঘাতকে অপছন্দ করত বলেই বশ্যতা স্বীকার করেছে।
তারা এমন এক সিংহকে দেখেছে যে যুদ্ধের পূর্ণ হক আদায় করে
… আর যখন যুদ্ধের অবসান হয়, তখন সে শান্তির চুক্তিকে দৃঢ় করে।
তিনি তাঁর প্রতিটি মুহূর্ত একনিষ্ঠ কর্মতৎপরতায় ব্যয় করেন
… এবং ক্রীড়া-কৌতুককে চোখের পলক পরিমাণ সময়ও দেন না।
তাঁর অশ্বগুলো নিরবচ্ছিন্ন জিহাদের বন্ধনে আবদ্ধ
… আর শত্রুদের সাথে যুদ্ধের ময়দানে তাদের ঊর্ধ্বশ্বাসে দৌড়ানোর শব্দ শোনা যায়।
তাঁর শত্রুরা ইহলৌকিক জীবনের বিনিময়ে মৃত্যুকে বরণ করে নেয়
… আর মুমিনদের জন্য রয়েছে পরকালের জান্নাত ও রেশমি পোশাক।
তিনি আমীরুল মুমিনীনের তেজস্বী পুত্র এবং তাঁর তীক্ষ্ণ তলোয়ার
… এবং এমন এক অস্ত্র যা সকল আঘাত ও আক্রমণ প্রতিহত করে।
অবয়ব এবং চরিত্রে তুমি তাঁরই সদৃশ, ফলে তিনি তোমাকে সুউচ্চ মর্যাদায় আসীন করেছেন
… যা আকাশসম উচ্চতায় অবস্থিত এবং সেখানে অন্যের প্রবেশাধিকার নেই।
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াসীত ফী তারাজিমু উদাবা শিনক্বীত
(পৃষ্ঠা: ٢٣)
تهندست العليا فأحرزت جسمها
… لإحرازك النقطات والخط والسَّطْحا
ومنها:
فأعطيتني الأعيان والعين والكسى
… وبيض الظبا والنوق والخيل والطلحا
فخذها ابنةَ الحاء التي الحمد مبتدأ
… لها وبها خلاّقها كمل المدحا
وقال يمدحه أيضا:
أثار الهوى سجع الحمام المغَرد
… وأَرَّقني الطيف الذي لم أطِرّدِ
ومسرى نسيم من أكَيْناف حائل
… وبرق سقى هاميه برقة ثهْمِدِ
وذكر التي بالقلب خيَّم حبها
… وألبسني شوقا علالة مكمد
فبت أقاسي ليلة نابغيَّة
… تعرفني هم السليم المُسَهَّدِ
طويلة أذيال الدجى دب نجمها
… إلى الغرب مشْىَ الحائر المتردِّدِ
ويزعج وُرَّاد الكرى دون مقلتي
… بُعُوث غرامٍ من لدنْ أم مَعْبَدِ
بنفسيَ عرقوبية الوعد ما نوت
… وإن حلفت قط الوفاء بموعدِ
تردُّ إلى دين الصبابة والهوى
… فؤاد الحليم الراهب المُتَعَبِّدِ
وتقصد في قتل الأحبة قربة
… بشرعة ديان الهوى المتأكّد
سبتني فقبَّلت الثرى متخلصا
… أمام امتداح ابن الشريف محمد
هو الوارث الفضلَ النبيئيَّ خالصا
… من المجد والعليا ومن طيب مَحتِدِ
بمال اليتامى والأيامى موكلٌ
… بتفريج غماءِ الشجيّ المكمدِ
وضاع أكثرها من حفظي. وله أيضا:
يَتَفَيْهَقُ الغمر المغمر مُسْهَباً
… والمِصْقَعُ العِدُّ القريحة موجزُ
كالوعد يقوى المخلفون بحمله
… ويهاب عهدةَ عقده مَنْ يُنْجِزُ
وله أيضا:
إلى الله أشكو طوع نفسيَ للهوى
… وإسرافها في غيها وعيوبَها
উচ্চতা প্রকৌশলী রূপ লাভ করেছে, ফলে তার দেহ অর্জিত হয়েছে
… আপনার বিন্দু, রেখা এবং তল অর্জনের জন্য।
এবং তা থেকে:
সুতরাং আপনি আমাকে দিয়েছেন গণ্যমান্যদের, স্বর্ণ এবং পোশাক
… আর শাণিত তলোয়ার, উষ্ট্রী, ঘোড়া ও বৃক্ষরাজি।
সুতরাং এটি গ্রহণ করুন—সেই ‘হা’ এর কন্যা, যার শুরু ‘হামদ’ (প্রশংসা) দিয়ে
… এবং যার মাধ্যমে তার স্রষ্টা প্রশংসা পূর্ণ করেছেন।
এবং তিনি তার প্রশংসায় আরও বলেন:
কলকাকলি মুখর কবুতরের ডাক আকাঙ্ক্ষাকে জাগ্রত করেছে
… আর সেই কাল্পনিক অবয়ব আমাকে বিনিদ্র রেখেছে যাকে আমি তাড়িয়ে দেইনি।
আর হা-ইলের প্রান্তর থেকে বয়ে আসা মৃদুমন্দ বাতাস
… এবং এমন বিদ্যুৎ যার বারিধারা থাহমাদের মরুপ্রান্তরকে সিক্ত করেছে।
আর সেই রমণীর স্মৃতি যার ভালোবাসা হৃদয়ে তাবু গেড়েছে
… এবং আমাকে এক গভীর দুঃখাতুর ব্যক্তির ন্যায় আকাঙ্ক্ষার পোশাকে আবৃত করেছে।
ফলে আমি এক দীর্ঘ ও যন্ত্রণাদায়ক রাত অতিবাহিত করলাম
… যা আমাকে দংশিত ও অনিদ্রাতুর ব্যক্তির উদ্বেগের সাথে পরিচয় করিয়ে দিল।
অন্ধকারের আঁচল বড়ই দীর্ঘ, যার নক্ষত্ররাজি ধীরগতিতে চলেছে
… পশ্চিম পানে, এক দ্বিধাগ্রস্ত ও বিভ্রান্ত পথিকের ন্যায়।
আর উম্মে মা’বাদের পক্ষ থেকে আসা প্রেমের প্রেরিত দল
… আমার চোখের কোল থেকে ঘুমের অতিথিদের তাড়িয়ে দিচ্ছে।
আমার প্রাণ উৎসর্গ হোক সেই রমণীর তরে যার প্রতিশ্রুতি ‘আর্কুব’-এর ন্যায় (মিথ্যা), সে কখনোই তা পূরণের নিয়ত করেনি
… যদিও সে কখনো অঙ্গীকার পূর্ণ করার শপথ করেছিল।
সে আসক্তি ও প্রেমের ধর্মের দিকে ফিরিয়ে আনে
… একজন সহনশীল, সন্ন্যাসী ও ইবাদতগুজার ব্যক্তির হৃদয়কে।
এবং সে প্রেমিকদের হত্যা করার মাধ্যমে নৈকট্য লাভ করতে চায়
… প্রেমের সুপ্রতিষ্ঠিত বিচারকের বিধান অনুযায়ী।
সে আমাকে বন্দি করেছে, তাই আমি মুক্তির পথ হিসেবে মাটি চুম্বন করেছি
… ইবনে শরীফ মুহাম্মাদের প্রশংসার সামনে।
তিনিই সেই ব্যক্তি যিনি বিশুদ্ধভাবে নববী শ্রেষ্ঠত্বের উত্তরাধিকারী
… মর্যাদা, আভিজাত্য এবং পবিত্র বংশধারার দিক থেকে।
এতিম ও বিধবাদের সম্পদের রক্ষণাবেক্ষণে নিয়োজিত
… এবং ব্যথিত ও শোকাতুর ব্যক্তির দুঃখ মোচনে সচেষ্ট।
এবং এর অধিকাংশ আমার স্মৃতি থেকে হারিয়ে গেছে। এবং তাঁর আরও কবিতা রয়েছে:
অজ্ঞ ও অনভিজ্ঞ ব্যক্তি প্রগলভতা ও বাচালতার সাথে কথা বলে
… অথচ প্রখর মেধার অধিকারী বাগ্মী ব্যক্তি সংক্ষেপেই কথা বলেন।
প্রতিশ্রুতির ন্যায়, যারা তা ভঙ্গ করে তারা তা বহনে নিজেদের শক্তিশালী মনে করে
… অথচ যে ব্যক্তি তা পূর্ণ করে, সে এর চুক্তির দায়বদ্ধতাকে ভয় পায়।
এবং তাঁর আরও কবিতা রয়েছে:
আল্লাহর কাছে আমি আমার নফসের প্রবৃত্তির আনুগত্যের অভিযোগ করছি
… এবং তার পথভ্রষ্টতা ও ত্রুটির সীমা লঙ্ঘনের বিষয়ে নালিশ জানাচ্ছি।
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াসীত ফী তারাজিমু উদাবা শিনক্বীত
(পৃষ্ঠা: ٢٤)
إذا سقتُها للصالحات تَقَعَّسَتْ
… ودبَّتْ على كره إليها دبِيبَها
وتشتد نحو الموبقات نشيطة
… إذا فاوقتها الريحُ فاقت هبوبَها
وما هي إلا كالفراشة إنها
… ترى النار ناراً ثم تصلى لهيبَها
ومن بديع قوله:
ألا إني خليلك يا حويري
… ومبسمك المُبَرِّدِ للغليل
فقولي للنحاة حمايَ عنه
… دعوا بين المبرد والخليل
وسواء فتحت راء المبرد أو كسرتها كما ضبط بالوجهين. ومما أنشدني له العلامة أستاذنا المختار بن ألما الديماني رحمه الله تعالى من أبيات:
إذا جلت فكراً في العلوم عويصها
… ومادت به الأفراح كل مميدِ
تصاغرت الدنيا لدىّ وأهلها
… وجئتُ بما يشفى غليل مريدِ
ونلتُ لذيذ العلم بالذوق وحده
… وكل لذيذ غيره كهبيدِ
هذا ما علق في الخاطر من شعره ومحاضراته، سوى قصيدة ستأتي في ترجمة اليدالي ولم ننقل شيئا من الغرائب التي تتداولها العامة من أخباره لعدم صحتها. وكان رحمه الله تعالى موجودا في صدر القرن الثاني عشر.
حرم بن عبد الجليل العلويويقال له حرمة الله وحرمة الرحمن بن الحاج ابن سيدي الحسن بن القاضي، يجتمع فيه مع الذي قبله علامة عصره. وأعجوبة دهره. جدَّ واجتهد حتى ظفر
بمناه، وأقام بمدينة شنقيط وآطار لطلب العلم. وكان أبوه من أمثل قبيلته يقطن أرض القبلة، فلما تأخرت عنه المؤونة لقلة القادمين، كتب إلى أهله يعرض لهم، بأن كثرة مالهم لم يحصل منها على طائل في وقت الحاجة إليه فقال:
عليكم سلام مارست ضمُّ يذبل
… وما جال ذكر الزاد في قلب مرمل
وما انشرحت نفس امرئٍ متغرب
… لثوب قشيب ناله بعدَ مسمل
যখন আমি তাকে (প্রবৃত্তি) সৎকর্মের দিকে চালিত করি, সে পিছিয়ে যায়
… এবং অনিচ্ছা সত্ত্বেও তার দিকে অতি মন্থর গতিতে এগিয়ে যায়।
আর পাপাচারের দিকে সে অতিশয় ক্ষিপ্র ও সক্রিয়
… যদি সে বাতাসের সাথে প্রতিযোগিতা করে, তবে তার গতিকেও ছাড়িয়ে যায়।
সে তো পতঙ্গের মতো, যে
… আগুনকে আগুন হিসেবেই দেখে, তবুও তার শিখায় পুড়ে মরে।
তার চমৎকার উক্তিগুলোর মধ্যে রয়েছে:
ওহে ক্ষুদ্র হুরিয়া, আমিই তো তোমার খলীল (বন্ধু)
… এবং তোমার ওষ্ঠাধর পিপাসার্তের জন্য শীতলকারী (মুবররিদ)।
তাই ব্যাকরণবিদদের বলো তারা যেন আমার থেকে দূরে থাকে
… এবং মুবররিদ ও খলীলের মাঝখানে তারা যেন নাক না গলায়।
মুবররিদ শব্দের ‘রা’ অক্ষরে ফাতহা বা কাসরা উভয়ভাবেই পড়া যায়, যেমনটি উভয় রূপেই লিপিবদ্ধ হয়েছে। আমাদের উস্তাদ আল্লামা মুখতার ইবন আলমা আদ-দাইমানি (রহিমাহুল্লাহ) তার কিছু পঙক্তি আমাকে শুনিয়েছেন:
যখন আমি জ্ঞানের জটিল বিষয়গুলো নিয়ে গভীর চিন্তা করি
… এবং তাতে পরমানন্দ পূর্ণরূপে আন্দোলিত হয়।
তখন দুনিয়া ও তার অধিবাসীরা আমার কাছে অতি তুচ্ছ হয়ে যায়
… এবং আমি এমন কিছু নিয়ে আসি যা জ্ঞানপিপাসুর তৃষ্ণা মেটায়।
আমি কেবল রুচিবোধের মাধ্যমেই ইলমের স্বাদ আস্বাদন করেছি
… আর ইলম ছাড়া অন্য সব স্বাদ তিতা ফল হানজালের মতো।
তার কবিতা ও আলোচনা থেকে এগুলোই স্মৃতিতে স্মরিত হয়েছে, তবে একটি কাসিদা বাকি আছে যা সামনে আল-ইয়াদালির জীবনীতে আসবে। তার ব্যাপারে সাধারণ মানুষের মাঝে প্রচলিত আজগুবি গল্পের কিছুই আমরা বর্ণনা করিনি, কারণ সেগুলো সঠিক নয়। তিনি (রহিমাহুল্লাহ) দ্বাদশ শতাব্দীর শুরুর দিকে জীবিত ছিলেন।
হারাম বিন আব্দুল জালীল আল-আলাওয়িতাকে হুরমাতুল্লাহ এবং হুরমাতুর রহমান বিন আল-হাজ ইবন সিদি আল-হাসান ইবন আল-কাজিও বলা হয়। তার মাঝে এবং তার পূর্ববর্তীদের মাঝে যুগের শ্রেষ্ঠ আল্লামা এবং সময়ের বিস্ময় হওয়ার গুণাবলী একত্রিত হয়েছিল। তিনি কঠোর পরিশ্রম ও সাধনা করেছেন যতক্ষণ না নিজ লক্ষ্যে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছেন। ইলম অন্বেষণের জন্য তিনি শিনকিত এবং আতার শহরে অবস্থান করেছিলেন। তার পিতা ছিলেন তার গোত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি এবং তিনি ক্বিবলা অঞ্চলে বসবাস করতেন। যখন যাতায়াতকারীদের স্বল্পতার কারণে তার কাছে রসদ পৌঁছাতে বিলম্ব হচ্ছিল, তখন তিনি তার পরিবারের কাছে তাদের উদ্দেশে একটি পত্র লিখলেন যে, প্রয়োজনের সময় তাদের অঢেল সম্পদ কোনো কাজে আসছে না। তিনি বললেন:
তোমাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক যতক্ষণ ইয়াদবুল পাহাড়ের আলিঙ্গন বজায় থাকে
… এবং যতক্ষণ কোনো নিঃস্ব ব্যক্তির হৃদয়ে রসদের চিন্তা উদয় না হয়।
আর কোনো পরবাসী ব্যক্তির মন সেই নতুন পোশাকে আনন্দিত হয় না
… যা সে দীর্ঘকাল জীর্ণ পোশাক পরার পর লাভ করেছে।
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াসীত ফী তারাজিমু উদাবা শিনক্বীত
(পৃষ্ঠা: ٢٥)
وبعد فبرق خلب متألق
… على البعد لم تمرع به أرض ممحل
ومن لا يغادر ثلمة في المَنِيل لا
… يسدُّ جداه ثلمة المتنوّل
ويحكى عنه من الاجتهاد في طلب العلم، وتحمل المشاق والصبر، شيء عجيب. ومن شعره في جواب أبيات لمحمد بن الطلبة اليعقوبي، يسأله إعارة كتاب التبصرة لابن فرحون.
يا ابن المشايخ والأشياخ أسلافه
… جزاء من يسعف العافين إسعافُهْ
لكنَّ تبصرة الحُكَّام مَبْخَلَةٌ
… ولؤلؤ وسواد القلب أصدافُهْ
ومن أعار سواد القلب أتلفه
… لكن يهون علينا فيك إتلافُهْ
ومن أشهر مشايخه المختار بن بون، وكان عليه اعتماده من كل طلبته، ولم يحمل عنه أحد من علمه ما حمل، وكان يساعده في نظم التسهيل حتى إنه قال: لو أخذت ما يخصني لم يبق منه ما يسمى به.
وكان حرمة الله هذا رحمه الله، من عجائب الدهر، ولما تضلع من ابن بون، جلس لإفادة الناس، وضربت إليه أكباد الإبل، وانتفع به خلق كثير، ولم يبلغ أحد من تلامذته مبلغ الشيخ سيدي ومحنض بن سيدي عبد الله الشقروي، وكانت له اليد الطولى في جميع العلوم. أما النحو فاشتهر به بعد ابن بون. وأما الفقه فكان المرجع فيه إليه أيضا، ويدل على تفننه قوله، وقد مر بربع خلا كانوا يطلبون العلم فيه على بن بون:
دمن دعتك إلى القريض فإن تجب
… فلمثلها يهدى القريض ويندبُ
وإذا سكتّ عن الجواب لشِرَّةٍ
… فاضت فذاك من الإجابة أصوبُ
أما النسيبُ فلا يسوغك ذكرهُ
… عصر التعلم والمشايخ يعذبُ
كنا مع البونيِّ في عرصاتها
… هالات بدر لم يشبها غيهبُ
فيها تجمَّعَ سيبويهِ ويوسفٌ
… والكاتبي والأشعريّ وأشهبُ
شاقتك أطلال يَلِين لهم وما
… شاقتك سعدى إذ نأتْكَ وزينبُ
অতঃপর এটি একটি ঝলমলে প্রতারণাপূর্ণ বিদ্যুৎ যা দূর থেকে চমকায়
… কিন্তু শুষ্ক ভূমিকে সিক্ত করতে পারে না।
আর যে ব্যক্তি দান করার সুযোগে কোনো ত্রুটি রাখে না
… তার দান সাহায্যপ্রার্থীর অভাব পূরণ করতে ব্যর্থ হয় না।
তাঁর সম্পর্কে জ্ঞান অর্জনে কঠোর পরিশ্রম, কৃচ্ছ্রসাধন এবং ধৈর্য ধারণের এমন সব বিষ্ময়কর ঘটনা বর্ণিত আছে যা আশ্চর্যজনক। ইবনে ফারহুনের ‘তাবসিরাহ’ গ্রন্থটি ধার দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে মুহাম্মদ ইবনুত তালাবাহ আল-ইয়াকুবির প্রেরিত কবিতার জবাবে তাঁর রচিত কিছু পঙক্তি নিম্নরূপ:
হে মাশায়েখদের সন্তান এবং সেইসব মাশায়েখদের উত্তরসূরি যাঁদের পূর্বপুরুষগণও ছিলেন মহান
… সাহায্যপ্রার্থীদের সহায়তাকারীর প্রতিদান হলো তাকেও সহায়তা করা।
কিন্তু ‘তাবসিরাতুল হুক্কাম’ গ্রন্থটি যেন একটি কৃপণতার আধার
… এর জ্ঞান হলো মুক্তাসম এবং হৃদয়ের অন্তঃস্থল যেন তার ঝিনুক।
আর যে ব্যক্তি তার হৃদয়ের অন্তঃস্থল ধার দেয় সে যেন তা বিলীনই করল
… তবে আপনার খাতিরে আমাদের নিকট তা বিলীন করা অতি তুচ্ছ বিষয়।
তাঁর সুপ্রসিদ্ধ শিক্ষকদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন আল-মুখতার ইবনে বুন। তাঁর সকল ছাত্রের মধ্যে তিনিই ছিলেন তাঁর নিকট সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য, আর তাঁর অর্জিত ইলম অন্য কেউ সেভাবে ধারণ করতে পারেনি। তিনি ‘আত-তাসহিল’ গ্রন্থটির কাব্যরূপ দানে তাঁকে সাহায্য করতেন, এমনকি তিনি (ইবনে বুন) বলতেন: আমি যদি আমার নিজস্ব অংশটুকু নিয়ে নিতাম, তবে তাতে এমন কিছু অবশিষ্ট থাকত না যা কোনো নামে অভিহিত করা যায়।
এই হুরমাতুল্লাহ (রহিমাহুল্লাহ) ছিলেন কালের এক বিষ্ময়। তিনি যখন ইবনে বুনের নিকট থেকে জ্ঞান অর্জনে পূর্ণতা লাভ করলেন, তখন তিনি মানুষের উপকারের জন্য শিক্ষকতায় আত্মনিয়োগ করলেন। দূর-দূরান্ত থেকে উটের পিঠে চড়ে জ্ঞানপিপাসুরা তাঁর নিকট আসতে শুরু করল এবং এক বিশাল সৃষ্টি তাঁর দ্বারা উপকৃত হলো। তাঁর ছাত্রদের মধ্যে শেখ সিদি এবং মুহাননাদ ইবনে সিদি আব্দুল্লাহ আশ-শাকরাউয়ি-র স্তরে কেউ পৌঁছাতে পারেনি। সকল জ্ঞানে তাঁর অগাধ পাণ্ডিত্য ছিল। ব্যাকরণ শাস্ত্রে তিনি ইবনে বুনের পর খ্যাতি লাভ করেন। আর ফিকহ শাস্ত্রেও তিনিই ছিলেন প্রধান নির্ভরস্থল। তাঁর বহুমুখী পাণ্ডিত্যের প্রমাণ পাওয়া যায় তাঁর সেই উক্তিতে, যখন তিনি এমন এক জনবসতি অতিক্রম করছিলেন যেখানে আগে শিক্ষার্থীরা ইবনে বুনের নিকট ইলম অর্জন করত:
ধ্বংসাবশেষগুলো তোমাকে কাব্য রচনায় আহ্বান করছে; তুমি যদি সাড়া দাও
… তবে এমন স্থানের জন্যই কাব্য উপহার দেওয়া হয় এবং বিলাপ করা হয়।
আর তীব্র আবেগের কারণে তুমি যদি উত্তর দিতে না পেরে নীরব থাকো
… তবে অশ্রু বিসর্জন করাই হবে অধিকতর সঠিক উত্তর।
আর বিরহ-প্রেমের কথা উল্লেখ করা তো তোমার জন্য শোভা পায় না
… কারণ জ্ঞান অর্জনের সময় ও মাশায়েখদের সাহচর্য অত্যন্ত স্বাদময়।
আমরা ইবনে বুনের সাথে এই প্রাঙ্গণগুলোতে এমনভাবে অবস্থান করতাম
… যেন আমরা পূর্ণিমার চাঁদের আলোর বলয়, যাকে কোনো অন্ধকার স্পর্শ করতে পারেনি।
সেখানে সিবওয়াইহ, ইউসুফ
… আল-কাতিবি, আল-আশআরি এবং আশহাবের মতো জ্ঞানীদের সমাবেশ ঘটেছিল।
'ইয়ালিন' এর ধ্বংসাবশেষগুলো তোমাকে স্মৃতিকাতর করছে
… কিন্তু সুআদা বা জয়নাব দূরে চলে গেলে তোমাকে এমন কাতর করত না।
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াসীত ফী তারাজিমু উদাবা শিনক্বীত
(পৃষ্ঠা: ٢٦)
ومن عجيب أمره، إنه لما كبر أصيب ببصره، فكان لا يميز الناس ولا الدواب ولكنه يقرأ الكتب، وقد حدثني عمنا العلامة البركة مأمون، إنه كان يكتفي في الليل بضوء قليل يقرأ الكتب عليه، وهذا شائع هناك. وله شواهد منها قول العلامة باب الآتي يرثيه من منظومة:
أغناه نور القلب عن نور البصر
… يطالع الكتب ولا يرى البشر
وقال ابن عيد الجكني يخاطبه ويشكو إليه ناسا من أقاربه هجوه:
يا حرمة الله يا نبراس ذي العُصُرى
… يا من بصيرته أغنت عن البصرِ
ماذا تقول لمن أمسى يخاطرني
… من خاطر البزل لم يسلم من الخطرِ
وكان مع علمه وصلاحه يجيد النسيب. ومن بديع قوله:
إلى متى تظهرُ السلوان والفكرُ
… تعلو بقلبك أحياناً وتنحدرُ
ما أنت أوّل من أفنى تجلده
… وصبره دعج العينين والحورُ
ولو مرّ أهيفُ مجدولٌ على حجر
… صبا له أن رآه ذلك الحجرُ
هيف الخصور خدال السُّوق قد صرعت
… قَيساً وقِيساً وغيلانا وما انتصروا
جرَّ عن عروة كأس الموت قبلهم
… وقال فيهنَّ ما قد قاله عمرُ
عراك منذ شهور ما ألمَّ بهم
… رِدْ مثل ما ردوا واصدر كما صدروا
لا يصدر الطرف عن جيدا منعمة
… إلا امرؤ لم يكن في وجهه بصرُ
واجعل سريرك رحلا فوق يعملة
… من شدة الخطو لا يبدو لها أثرُ
ساير براحا عليها كل هاجرة
… وأدلج كما تدلج الجوزاءُ والقمرُ
حتى تُؤَوِّب غزلاناً تسامرها
… يا حبذا تلكم الغزلان والسمرُ
إن شاكلت كل خضر أدمنة زَهَراً
… يا حبذا الدمن اللاتي بها الخضرُ
ماذا تضرُّ عروقٌ غير طيبة
… أن طاب للمجتني أثمارها الثمرُ
তাঁর জীবনের অন্যতম বিস্ময়কর বিষয় হলো, তিনি যখন বার্ধক্যে উপনীত হলেন তখন দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলেন। ফলে তিনি মানুষ ও পশুপাখির মধ্যে পার্থক্য করতে পারতেন না, কিন্তু তিনি কিতাব পাঠ করতে পারতেন। আমাদের চাচা বরকতময় আল্লামা মামুন আমাকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি রাতে সামান্য আলোতেই কিতাব পাঠ করতেন, আর এটি সেখানে একটি পরিচিত ঘটনা ছিল। এর সপক্ষে অনেক প্রমাণ রয়েছে, যার মধ্যে আল্লামা বাবা আল-আতির একটি শোকগাথার পঙ্ক্তি উল্লেখযোগ্য:
হৃদয়ের নূর তাকে চোখের জ্যোতির মুখাপেক্ষীহীন করে দিয়েছে
… তিনি কিতাব পাঠ করেন অথচ মানুষকে দেখতে পান না
ইবনে ঈদ আল-জাকনি তাঁকে সম্বোধন করে এবং তাঁর কিছু আত্মীয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে যারা তাঁকে নিয়ে উপহাস করেছিল, বলেন:
হে আল্লাহর সম্মানের পাত্র! হে কালের প্রদীপ!
… হে সেই সত্তা, যাঁর অন্তর্দৃষ্টি চোখের জ্যোতির অভাব পূরণ করেছে!
আপনি সেই ব্যক্তিকে কী বলবেন যে আমাকে বিপদে ফেলতে চায়?
… যে ব্যক্তি শক্তিশালী উটকে বিপদে ফেলে, সে বিপদ থেকে রক্ষা পায় না।
তাঁর ইলম ও তাকওয়ার পাশাপাশি তিনি প্রেমগাথা রচনায় পারদর্শী ছিলেন। তাঁর চমৎকার কিছু কথা হলো:
কতদিন আর তুমি ধৈর্য ও দুশ্চিন্তা প্রকাশ করবে?
… যা তোমার হৃদয়ে কখনো উথলে ওঠে, আবার কখনো থিতিয়ে পড়ে।
তুমিই প্রথম নও যার ধৈর্য ও সহনশীলতাকে
… কালো ও ডাগর চোখের অধিকারিণী সুন্দরীরা নিঃশেষ করে দিয়েছে।
যদি কোনো সুঠাম ও লাবণ্যময়ী পাথরের ওপর দিয়ে হেঁটে যেত
… তবে তাকে দেখে সেই পাথরও প্রেমে আসক্ত হতো।
ক্ষীণ কটি ও সুপুষ্ট নলার অধিকারিণী সেই সুন্দরীরা ধরাশায়ী করেছে
… কায়েস, কিস এবং গায়লানদের, আর তারা জয়ী হতে পারেনি।
তাদের পূর্বেই তারা 'উরওয়ার জন্য মৃত্যুর পেয়ালা টেনে এনেছে
… এবং তাদের সম্পর্কে উমর যা বলেছিলেন, তিনিও তাই বলেছিলেন।
কয়েক মাস ধরে যা তাদের ওপর আপতিত হয়েছিল তা তোমাকেও পেয়ে বসেছে
… তারা যেভাবে ফিরেছিল তুমিও সেভাবে ফেরো এবং তারা যেভাবে প্রস্থান করেছিল তুমিও সেভাবে প্রস্থান করো।
কোনো সুশোভিত ঘাড় থেকে দৃষ্টি ফেরানো যায় না
… কেবল সেই ব্যক্তি ছাড়া যার চেহারায় কোনো চোখ নেই।
তুমি তোমার শয্যাকে একটি শক্তিশালী উটের পিঠের হাওদার ওপর স্থাপন করো
… যার দ্রুতগতির কারণে কোনো পদচিহ্ন অবশিষ্ট থাকে না।
প্রতিটি তপ্ত দুপুরে খোলা ময়দানে চলো
… আর রাতের শেষাংশে পথ চলো যেমন কালপুরুষ ও চন্দ্র পরিভ্রমণ করে।
যতক্ষণ না তুমি সেই হরিণীদের কাছে ফিরে যাও যাদের সাথে তুমি নৈশকালীন গল্পগুজব করবে
… কতই না চমৎকার সেই হরিণীরা আর সেই রাতের আলাপচারিতা!
যদি ধূলিমলিন স্থানগুলো সবুজ শ্যামলিমায় সুশোভিত হয়
… তবে কতই না চমৎকার সেই স্থানগুলো যেখানে শ্যামলিমা বিদ্যমান!
অশুদ্ধ মূলের কী ক্ষতি হবে
… যদি ফল আহরণকারীর কাছে তার ফলগুলো সুস্বাদু হয়?
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াসীত ফী তারাজিমু উদাবা শিনক্বীত
(পৃষ্ঠা: ٢٧)
ومن جيد نظمه:
لقد عادني ما خلته غير عائدي
… بساسية الأنساب في حيي عائدِ
ضنَى من هواها واصلي وهي لم تصل
… ولابد للموصول من عود عائد
وقال أيضا في حرب أهل شنقيط وأهل وادان:
إذا الدهر بالمكروه سامك فاصبرا
… ولا تجزعن منه أقلَّ أو أكثرا
فما دام شجو لامرئٍ أو مسرَّة
… أرى الدهر من هذا وهذاك أكثرا
لقد كنت أحجو الهجر أكبر فاجع
… فألفيته من أصغر البين أصغرا
أرى البين عن ساقيه أضحى مشمرا
… وشجوك لما شمر البين شمرا
وليس يرد الحزن مَنْ شط ولْيُها
… فأقصر عن الأحزان أن كنت مقصرا
تغيرت أحوالا كما أن رسمها
… وحق له من بعدها قد تغيرا
غداً رائح الأرواح والمغتدى به
… إذاً بدلا منه أصمَّ أو أعورا
ومنها:
تقول وقد أضمرت ما بي أن رتضى
… هوى لم يزل في مضمر القلب مضمراً
فقلت لها أضحى وأصبح أمرهُ
… من الشمس أو من فتح وادان أظهرا
أقرّ بذاك الفتح من كان منكراً
… له وغدا من كان يخفيه مظهرا
وأدلج إدلاجاً به كل راكب
… على رغم أنف الحاسدين وهجّرا
فصير في الآفاق أمر وقائع
… تطيل إذا فكرت فيها التفكرا
دعا عاجل الآجال للحين معشرا
… بوادان لن يدعى مدى الدهر معشرا
فشنجيط ظنوا هدمه متبسرا
… فألفوه من إحياء كبَّادِ أعسرا
كأنهم لم يعرفوا بأس أهله
… ولو سألوا بان أمُّ والمسك أخبرا
তাঁর চমৎকার পদ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে:
নিশ্চয়ই আমার কাছে ফিরে এসেছে এমন কিছু যা আমি মনে করেছিলাম আর ফিরবে না
… আয়েদ গোত্রের বংশমর্যাদা সম্পন্ন সাসিয়াতে।
তার ভালোবাসায় জীর্ণ হয়ে আমি মিলিত হলাম অথচ সে মিলিত হয়নি
… আর যে মিলিত হয় তার জন্য তো প্রত্যাবর্তনকারীর প্রত্যাবর্তন অনিবার্য।
তিনি শিনকিত ও ওয়াদানবাসীদের যুদ্ধের বিষয়েও বলেছেন:
যখন কাল তোমাকে অপছন্দনীয় বিষয়ের স্বাদ আস্বাদন করায় তখন ধৈর্য ধরো
… আর তার কারণে সামান্য বা অধিক অস্থির হয়ো না।
কেননা কোনো মানুষের দুঃখ বা আনন্দ চিরস্থায়ী হয় না
… আমি কালকে দেখি এটা এবং ওটা প্রচুর পরিমাণে বিলিয়ে দিতে।
আমি বিচ্ছেদকে সবচাইতে বড় বিপদ মনে করতাম
… কিন্তু আমি একে ক্ষুদ্রতম বিয়োগের চাইতেও ক্ষুদ্রতর পেয়েছি।
আমি দেখছি বিয়োগ তার পায়ের গোছা উন্মুক্ত করেছে
… আর যখন বিয়োগ কোমর বেঁধেছে তখন তোমার দুঃখও জেগে উঠেছে।
শোক তাকে ফিরিয়ে আনে না যার সান্নিধ্য দূরে চলে গেছে
… সুতরাং তুমি যদি বিরত থাকতে চাও তবে শোক থেকে বিরত থাকো।
অবস্থাগুলো পরিবর্তিত হয়ে গেছে যেমন তার চিহ্নসমূহ বদলে গেছে
… আর তার পরে তো সেটির বদলে যাওয়াটাই ছিল স্বাভাবিক।
আগামী দিন রুহসমূহের ঘ্রাণ ও যা নিয়ে সকাল অতিবাহিত হয়েছিল
… তার বদলে তখন বধির অথবা অন্ধ কোনো কিছু আসবে।
কবিতাটির অংশবিশেষ:
সে বলছে, অথচ আমি যা পোষণ করছি তা সে গোপন রেখেছে
… এমন এক ভালোবাসা যা অন্তরের মণিকোঠায় সর্বদা সুপ্ত রয়ে গেছে।
আমি তাকে বললাম, এর বিষয়টি সকাল-সন্ধ্যায়
… সূর্যের চাইতেও অথবা ওয়াদান বিজয়ের চাইতেও অধিক স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
যে ব্যক্তি সেই বিজয়কে অস্বীকার করত সে তা স্বীকার করে নিয়েছে
… আর যে তা গোপন করত সে এখন তা প্রকাশ করছে।
হিংসুকদের নাসিকা ধূলিমলিন করে প্রত্যেক আরোহী
… এটি নিয়ে শেষ রাতে এবং দ্বিপ্রহরে পথ চলেছে।
এটি দিগন্তজুড়ে এমন এক ঐতিহাসিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে
… যার কথা চিন্তা করলে তোমার চিন্তাকে দীর্ঘায়িত করবে।
আকস্মিক মৃত্যু ওয়াদানে একদল মানুষকে ধ্বংসের দিকে আহ্বান করেছে
… যাদেরকে মহাকালের এই সময়ে আর কখনো দল হিসেবে ডাকা হবে না।
শিনকিতবাসীরা মনে করেছিল তাকে ধ্বংস করা সহজ হবে
… কিন্তু তারা একে কাব্বাদকে পুনরুজ্জীবিত করার চাইতেও কঠিনতর পেল।
যেন তারা সেই অঞ্চলের লোকদের বিক্রম সম্পর্কে জানত না
… যদি তারা জিজ্ঞাসা করত তবে ভূমি এবং কস্তুরী তাদের সংবাদ দিত।
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াসীত ফী তারাজিমু উদাবা শিনক্বীত
(পৃষ্ঠা: ٢٨)
لئن وردت شنجيط يوماً ظماؤهم
… لقد شربوا زعقاً من الموت أكدرا
وكان لهم شر الموَاردِ موْرِداً
… وكان لهم شرُّ المصادرِ مصدرا
همُ حزب الأحزابَ من كل جانب
… كما حَزّبت أحزابها أهلُ خيبرا
أتوا بالرعايا ينشرون وعيدهم
… فصاروا على البطحاء لحماً منشرا
وفاض أتىٌّ من نجيعِ دمائهم
… به شجر البطحاءِ أصبح مثمرا
ومنها:
غدت كنتَ تقضى دونهم ما ينوبهم
… من الأمر كانوا غائبين وحُضّرا
أتوا بخميس لم نكن خمس خمسه
… فقل فيه لو ساواه أو كان أكثرا
وأقبل من آكان جند لنصرهم
… وقد فرَّعنه النصر إذ فرَّ مذعَرا
فمن كرًّ منهم قد تكسر عمرُه
… ومن فرَّ منهم صبره قد تكسرا
نجا مذعراً مما رأت عينه وما
… نجا من نجا من مأزِقِ الحرب مذعرا
إذا هو في المرآة أبصرَ وجههُ
… توهم وجه القِرن ما كان أبصرا
وإن نام لو حفته منه عساكرٌ
… رأى مشرفياً فوق فوديه أحمرا
بدا إذ رأى ما قد رآه تواضعٌ
… لمن كان منهم طاغياً متكبرا
فقال زعيم القوم أصبحت راضياً
… بما كان في أمر القديرِ مقدّرا
فنالوا إذاً عبداً ببعض دمائهم
… ونيما وتنُّورَيْن والبعض أهدرا
دمٌ أهدرتهُ سادة علوية
… وما كان فيهم مثل ذلك منكرا
وما استنصروا غير الصوارم ناصرا
… وأغنتهم عمن أتى متنصرا
يخوضون يوم الروع في لجج الردى
… لأنّ منالَ العز فيهنّ أبحرا
يسابق عَزْرائيلَ وقعُ سيوفهم
… إذا ما مُحَيَّا الحرب أصبح مسفرا
فكم مشهد في الحرب يثنى عليهمُ وكم معشر من بأسهم كان أزورا
تراهم وليس الدهرُ إلا نوائباً
… إذا كبرت تلك النوائب أكبرا
যদি শিনকিতের তৃষ্ণার্তরা কোনদিন সেখানে পৌঁছে থাকে
... তবে তারা মৃত্যুর এক তিক্ত ও ঘোলাটে পানীয় পান করেছে।
তাদের জন্য সেই অবতরণস্থল ছিল নিকৃষ্টতম অবতরণস্থল
... আর সেই উৎস ছিল তাদের জন্য নিকৃষ্টতম উৎস।
তারা ছিল চতুর্দিক থেকে আসা সেই সম্মিলিত বাহিনী
... যেমন খায়বারবাসীরা তাদের দলসমূহকে সংগঠিত করেছিল।
তারা তাদের অনুসারীদের নিয়ে এসেছিল তাদের হুমকি ছড়িয়ে দিতে
... কিন্তু তারা উন্মুক্ত প্রান্তরে ছড়িয়ে থাকা গোশতের টুকরোয় পরিণত হলো।
তাদের গাঢ় লাল রক্তের এক প্লাবন বয়ে গেল
... যার দ্বারা সেই প্রান্তরের গাছপালা ফলবান হয়ে উঠল।
এবং এর মধ্য থেকে:
কুন্তাহ গোত্র তাদের উপর আপতিত বিপদসমূহের ফয়সালা করতে লাগল
... সে বিষয়ে তারা অনুপস্থিত থাকুক বা উপস্থিত।
তারা এমন এক বিশাল বাহিনী নিয়ে এসেছিল যার পঁচিশ ভাগের এক ভাগও আমরা ছিলাম না
... সেই বাহিনী সম্পর্কে তুমি যা ইচ্ছা বল, তা আমাদের সমান হোক বা তার চেয়েও বেশি।
আর আকান থেকে তাদের সাহায্যের জন্য এক সৈন্যদল এগিয়ে এল
... কিন্তু সাহায্য তাদের ছেড়ে পালিয়ে গেল যখন সে আতঙ্কিত হয়ে পলায়ন করল।
তাদের মধ্যে যে আক্রমণ করেছিল, তার জীবন প্রদীপ নিভে গেল
... আর যে পলায়ন করেছিল, তার ধৈর্য চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে গেল।
তার চক্ষু যা দেখেছিল তাতে সে আতঙ্কিত হয়ে রক্ষা পেল
... আর যুদ্ধের সেই সংকীর্ণ স্থান থেকে যে-ই রক্ষা পেয়েছে, সে আতঙ্কিত অবস্থাতেই রক্ষা পেয়েছে।
সে যখন আয়নায় নিজের মুখ দেখে
... তখন সে তার সেই প্রতিপক্ষের চেহারা কল্পনা করে যা সে আগে দেখেছিল।
সে যদি ঘুমিয়ে পড়ে আর তাকে যদি লশকরও ঘিরে থাকে
... তবুও সে তার ললাটের উপরে লাল মাশরাফী তলোয়ার দেখতে পায়।
সে যা দেখেছিল তা দেখার পর বিনয় প্রকাশ পেল
... তাদের মধ্যে যারা অবাধ্য ও অহঙ্কারী ছিল তাদের মাঝে।
তখন কওমের নেতা বলল, "আমি সন্তুষ্ট হয়েছি
... সর্বশক্তিমান আল্লাহর ফয়সালায় যা নির্ধারিত ছিল।"
অতঃপর তারা কিছু রক্তের বিনিময়ে একজন দাস লাভ করল
... এবং কিছু আসবাব ও দু'টি তন্দুর, আর বাকিটুকু বৃথা গেল।
সেই রক্ত যা আলভী সর্দারগণ ঝরিয়েছেন
... আর তাদের মধ্যে এমন কাজ আপত্তিকর ছিল না।
তারা তীক্ষ্ণ তরবারি ছাড়া অন্য কোনো সাহায্যকারী কামনা করেনি
... আর সেই তরবারিই তাদেরকে সাহায্যপ্রার্থীদের থেকে অমুখাপেক্ষী করে দিয়েছে।
যুদ্ধের দিনে তারা ধ্বংসের অতল গহ্বরে ঝাঁপিয়ে পড়ে
... কারণ মর্যাদার প্রাপ্তি সেই সমুদ্রসমূহের মধ্যেই নিহিত।
তাদের তলোয়ারের আঘাত আযরাঈলের সাথে পাল্লা দেয়
... যখন যুদ্ধের চেহারা উজ্জ্বল ও ভয়াবহ হয়ে ওঠে।
যুদ্ধে কতই না এমন দৃশ্য রয়েছে যা তাদের প্রশংসা গায়, আর কতই না দল তাদের বীরত্বের সামনে নতজানু হয়েছে।
তুমি তাদেরকে দেখতে পাও যখন কালচক্র কেবল বিপদই নিয়ে আসে
... যখন সেই বিপদসমূহ বিশাল আকার ধারণ করে, তখন তারাও আরও মহত্তর হয়ে ওঠে।
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াসীত ফী তারাজিমু উদাবা শিনক্বীত
(পৃষ্ঠা: ٢٩)
سما للمعالي من تقدَّم منهم
… ويسمو على آثاره من تأخرا
مآثرهم حَلْيُ الزمان لو إنه
… على صورة الإنسان كان مصوّرا
فكم من فتى منهم يروقك علمه
… ويهزم من أنجاد وادان عسكرا
ويجعل في إحدى يديه مهندا
… طريراً وفي الأخرى كتاباً مطرَّرا
يحب الردى يوم الوغى فكأنه
… إذا مات فيه لا يزال معمَّرا
بطرفك فانظر كَيْ ترى بعض مجدهم
… إذا أنت عن إدراكه كنت مُقْصرا
وأنت ترى كيف نزه شعره عن هجو أعدائه مع ظفر قومه.
وله من أبيات يخاطب فيها العلامة بُلَاّ بن مكبد الشقروى، وكان مدحه بقصيدة فأطال غزلها، ثم نال من ابن أحمد دام، وسأذكرهما في موضعهما أن شاء الله تعالى:
دع التطويل في ذكر الغواني
… ودع عنك البكاء على المغان
أسن الدهر عن هذا فقصِّرْ
… عنان الشوق وأنن من العنان
فإن المرَء يحسن في زمانٍ
… عليه ما يشنَّع في زمان
ووقعت بينه وبين ابن عمه باب الآتي، مناظرات ومشاعرات في مسائل فقهية، ومع محنض بابه الديماني. وكنت أظنه ممن أدرك المائة الثالثة عشرة، فوجدت في رسالة للعلامة ولى الله، سيدي أحمد بن محمد الآتي، يخاطب فيها العلامة الحارث بن محنض ما نصه: (وقبولك لكلام الدسوقي، وهو ووالدك متعاصران منه أقدم، لأنه ينقل في حاشيته عن الأمير، من غير سماع منه، معبرا عنه بخاتمة المحققين، والأمير وحرم ولدا في عام واحد، فقد قال في مجموعه: شرعت فيه
وأنا ابن إحدى وعشرين سنة في القرن الثاني عشر، ثم تم تبيضه سنة ست وستين ومائة وألف، وحرم مات عام ثلاث وأربعين قبل لمليح بأربعة أعوام، وهو شيخ والدك، فهلا نقلت عن والدك) انتهى.
তাদের মধ্যে যারা অগ্রগামী ছিলেন তারা উচ্চমর্যাদায় আরোহণ করেছেন
… আর যারা পশ্চাদগামী তারা তাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে উচ্চতায় আরোহণ করছেন।
তাদের গৌরবোজ্জ্বল কীর্তিসমূহ কালের অলংকার; যদি কালকে মানুষের অবয়বে চিত্রিত করা হতো তবে তাই হতো তার রূপ।
তাদের মধ্যে কত এমন যুবক রয়েছে যার জ্ঞান আপনাকে মুগ্ধ করবে
… এবং সে আনজাদ ও আদানের বিশাল বাহিনীকে পরাজিত করবে।
সে তার এক হাতে শাণিত তরবারি রাখে
… আর অন্য হাতে সুশোভিত কিতাব।
রণক্ষেত্রে সে মৃত্যুকে এমনভাবে ভালোবাসে যে মনে হয়
… যদি সে সেখানে মৃত্যুবরণও করে তবুও সে চিরঞ্জীব।
তোমার দৃষ্টি নিবদ্ধ করো যাতে তাদের গৌরবের কিছু অংশ দেখতে পাও
… যদি তুমি তা পূর্ণ অনুধাবনে অক্ষম হয়ে থাকো।
আর আপনি লক্ষ্য করছেন কীভাবে তিনি নিজের গোত্রের বিজয় সত্ত্বেও শত্রুদের নিন্দা করা থেকে নিজের কাব্যকে মুক্ত রেখেছেন।
আল্লামা বুল্লা ইবনে মুকবিদ আশ-শাকরাভীর উদ্দেশে রচিত তাঁর কিছু পঙক্তি রয়েছে; বুল্লা তাকে একটি কাসিদার মাধ্যমে প্রশংসা করেছিলেন তবে তার গজল (প্রেমমূলক প্রারম্ভিক অংশ) দীর্ঘ করেছিলেন, অতঃপর তিনি ইবনে আহমদ দাম সম্পর্কে কিছু নেতিবাচক মন্তব্য করেন। আমি ইনশাআল্লাহ উভয় বিষয় যথাস্থানে উল্লেখ করব:
সুন্দরী রমণীদের স্মরণে দীর্ঘ আলাপ বর্জন করো
… আর বিরাণ ভূমির জন্য ক্রন্দন করা পরিহার করো।
কাল এখন বার্ধক্যে উপনীত, তাই সংক্ষেপ করো
… অনুরাগের লাগাম টেনে ধরো এবং শান্ত হও।
কেননা মানুষ কোনো এক সময়ে যা সুন্দর মনে করে
… অন্য সময়ে তা-ই তার নিকট কুৎসিত বলে গণ্য হয়।
তাঁর এবং তাঁর চাচাতো ভাই বাব আল-আতির মধ্যে ফিকহী মাসআলা নিয়ে বিভিন্ন বিতর্ক ও কাব্যিক লড়াই সংঘটিত হয়েছিল, এবং মুহনাদ বাবাহ আদ-দাইমানীর সাথেও। আমি তাকে ত্রয়োদশ শতাব্দীর সমসাময়িক মনে করতাম, কিন্তু আল্লাহর ওলী আল্লামা সিদি আহমদ বিন মুহাম্মদ আল-আতির একটি পত্রে দেখলাম, যেখানে তিনি আল্লামা আল-হারিস বিন মুহনাদকে সম্বোধন করে লিখেছেন: (আর তোমার দসুকির বক্তব্য গ্রহণ করা, অথচ তিনি এবং তোমার পিতা সমসাময়িক ছিলেন বরং তিনি তাঁর চেয়েও প্রাচীন। কারণ তিনি তাঁর হাশিয়ায় আমীর থেকে সরাসরি শ্রবণ না করেই উদ্ধৃতি প্রদান করেন এবং তাঁকে 'খাতিমাতুল মুহাক্কিকীন' (গবেষকদের শিরোমণি) হিসেবে অভিহিত করেন। আমীর এবং হারাম একই বছর জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তিনি তাঁর সংকলনে বলেছেন: আমি এটি রচনা শুরু করি
যখন আমার বয়স ছিল একুশ বছর, সেটা ছিল দ্বাদশ শতাব্দীতে। অতঃপর ১১৬৬ হিজরিতে এর পাণ্ডুলিপি চূড়ান্ত করা হয়। আর হারাম ১২৪৩ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন, যা 'লামলিহ'-এর মৃত্যুর চার বছর পূর্বে। তিনি তোমার পিতার উস্তাদ ছিলেন, এমতাবস্থায় তুমি কেন তোমার পিতার থেকে বর্ণনা করলে না?) সমাপ্ত।