(খণ্ড: ১) তাজকিরাতুল মুহতাজ ইলা আহাদিসিল মিনহাজ (পৃষ্ঠা: -)
تذكرة المحتاج إلى أحاديث المنهاج   (ابن الملقن)

القسم: التخريج والأطراف


الكتاب: تذكرة المحتاج إلى أحاديث المنهاج (تخريج منهاج الأصول للبيضاوي)

المؤلف: ابن الملقن سراج الدين أبو حفص عمر بن علي بن أحمد الشافعي المصري (ت 804 هـ)

المحقق: حمدي عبد المجيد السلفي [ت 1433 هـ]

الناشر: المكتب الإسلامي - بيروت

الطبعة: الأولى، 1994

عدد الصفحات: 145

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

তাজকিরাতুল মুহتاج ইলা আহাদিসিল মিনহাজ   (ইবনুল মুলাক্কিন)

বিভাগ: তাখরিজ ও আতরাফ


বই: তাজকিরাতুল মুহتاج ইলা আহাদিসিল মিনহাজ (বাইযাভী রচিত মিনহাজুল উসূল-এর তাখরিজ)

লেখক: ইবনুল মুলাক্কিন সিরাজুদ্দীন আবু হাফস উমর বিন আলী বিন আহমদ আশ-শাফিঈ আল-মিসরী (মৃ. ৮০৪ হিজরি)

সম্পাদক: হামদী আব্দুল মাজীদ আস-সালাফী [মৃ. ১৪৩৩ হিজরি]

প্রকাশক: আল-মাকতাবুল ইসলামী - বৈরুত

সংস্করণ: প্রথম، ১৯৯৪

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৪৫

[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) তাজকিরাতুল মুহতাজ ইলা আহাদিসিল মিনহাজ (পৃষ্ঠা: -)
ـ[تذكرة الْمُحْتَاج إِلَى أَحَادِيث الْمِنْهَاج]ـ

الْمُؤلف: ابْن الملقن سراج الدَّين أَبُو حَفْص عمر بن عَلّي بن أَحْمد الشَّافِعِي الْمصْرِيّ (الْمُتَوفَّى: 804هـ)

الْمُحَقق: حمدي عبد الْمجِيد السلَفِي

الناشر: الْمكتب الإسلامي - بيروت

الطبعة: الأولَى، 1994

عدد الْأَجْزَاء: 1

[ترقيم الْكتاب مُوَافق للمطبوع]
[তাদকিরাতুল মুহ্তাজ ইলা আহাদিসিল মিনহাজ]

লেখক: ইবনুল মুলাক্কিন সিরাজুদ্দীন আবু হাফস উমর বিন আলী বিন আহমাদ আশ-শাফিয়ী আল-মিসরী (মৃত্যু: ৮০৪ হিজরী)

গবেষক: হামদী আব্দুল মাজীদ আস-সালাফী

প্রকাশক: আল-মাকতাব আল-ইসলামী - বৈরুত

সংস্করণ: প্রথম, ১৯৯৪

খণ্ড সংখ্যা: ১

[গ্রন্থের নম্বরবিন্যাস মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
(খণ্ড: ১) তাজকিরাতুল মুহতাজ ইলা আহাদিসিল মিনহাজ (পৃষ্ঠা: ৯)
بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم رب يسر

 

الْحَمد لله حمد الشَّاكِرِينَ، وصلواته عَلَى سيدنَا مُحَمَّد وَآله وَصَحبه أَجْمَعِينَ.

وَبعد فَهَذَا تَعْلِيق نَافِع إِن شَاءَ الله تَعَالَى عَلَى‌‌ الْأَحَادِيث والْآثَار الْوَاقِعَة فِي منهاج الْأُصُول للْقَاضِي نَاصِر الدَّين الْبَيْضَاوِيّ، قدس الله روحه، وَنور ضريحه، عَلَى سَبِيل الِاخْتِصَار، وقدمت الْكَلَام عَلَى الْأَحَادِيث عَلَى الْكَلَام عَلَى الْآثَار.

1 -‌‌ الحَدِيث الأول: قَوْله عَلَيْهِ أفضل الصَّلَاة وَالسَّلَام: «إِنَّمَا الْأَعْمَال بِالنِّيَّاتِ» .

أخرجه البُخَارِيّ فِي سَبْعَة مَوَاضِع من صَحِيحه.

وَمُسلم فِي الْجِهَاد.

وَكَذَا هُوَ فِي بَاقِي السّنَن الْأَرْبَعَة من حَدِيث عمر بن الْخطاب رضي الله عنه.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। হে রব! সহজ করে দিন।

 

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি কৃতজ্ঞদের প্রশংসার যোগ্য; এবং তাঁর সালাত বর্ষিত হোক আমাদের নেতা মুহাম্মদ, তাঁর পরিবার-পরিজন ও তাঁর সকল সাহাবীর ওপর।

অতঃপর, এটি একটি উপকারী টীকা, ইনশাআল্লাহ তাআলা, যা কাজী নাসিরুদ্দিন আল-বায়দাভী (আল্লাহ তাঁর আত্মাকে পবিত্র করুন এবং তাঁর কবরকে আলোকিত করুন) বিরচিত ‘মিনহাজুল উসুল’-এ বর্ণিত হাদিসসমূহ ও আছারসমূহের ওপর সংক্ষিপ্তাকারে সংকলিত। আমি হাদিস বিষয়ক আলোচনাকে আছার বিষয়ক আলোচনার ওপর অগ্রাধিকার দিয়েছি।

১ - প্রথম হাদিস: তাঁর বাণী (তাঁর ওপর সর্বোত্তম সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক): «নিশ্চয়ই আমলসমূহ নিয়তের ওপর নির্ভরশীল»।

ইমাম বুখারী এটি তাঁর ‘সহীহ’ গ্রন্থের সাতটি স্থানে বর্ণনা করেছেন।

এবং ইমাম মুসলিম ‘জিহাদ’ অধ্যায়ে (এটি বর্ণনা করেছেন)।

অনুরূপভাবে ওমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত এই হাদিসটি অবশিষ্ট চারটি ‘সুনান’ গ্রন্থেও রয়েছে।
(খণ্ড: ১) তাজকিরাতুল মুহতাজ ইলা আহাদিসিল মিনহাজ (পৃষ্ঠা: ১০)
وَلم ينْفَرد بِهِ كَمَا ادَّعَاهُ الْبَزَّار وَابْن السكن.

بل رَوَاهُ نَحْو عشْرين من الصَّحَابَة كَمَا ذكرهم ابْن مَنْدَه.

و [كَذَا] هُوَ حَدِيث فَرد غَرِيب، وَلَيْسَ بمتواتر كَمَا يظنّ.

2 -‌‌ الحَدِيث الثَّانِي: قَوْله صلى الله عليه وسلم َ: «وَالله لأغزون قُريْشًا» ثَلَاثًا.

هَذَا الحَدِيث رَوَاهُ أَبُو دَاوُد من حَدِيث عِكْرِمَة.

وَقَالَ: قد أسْندهُ غير وَاحِد عَن عِكْرِمَة عَن ابْن عَبَّاس.

قَالَ أَبُو حَاتِم: وَالْأول أشبه.

وَقَالَ عبد الْحق: إِنَّه الصَّحِيح.

وَأما ابْن حبَان فَأخْرجهُ فِي صَحِيحه مُسْندًا.
তিনি এতে একক ছিলেন না, যেমনটি আল-বাযযার এবং ইবনে আস-সাকান দাবি করেছেন।

বরং ইবনে মানদাহ যেমন উল্লেখ করেছেন, প্রায় বিশজন সাহাবী এটি বর্ণনা করেছেন।

এবং এটি একটি ফারদ গরীব হাদিস, যেমনটি ধারণা করা হয় তেমন মুতাওয়াতির নয়।

২ -‌‌ দ্বিতীয় হাদিস: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: "আল্লাহর কসম, আমি অবশ্যই কুরাইশদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করব", তিনি এটি তিনবার বলেছেন।

এই হাদিসটি আবু দাউদ ইকরিমার হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন।

তিনি (আবু দাউদ) বলেছেন: একাধিক বর্ণনাকারী এটিকে ইকরিমা হয়ে ইবনে আব্বাস থেকে মুসনাদ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

আবু হাতিম বলেছেন: প্রথমটিই অধিকতর সাদৃশ্যপূর্ণ।

আব্দুল হক বলেছেন: এটিই সঠিক।

আর ইবনে হিব্বান এটিকে তাঁর সহীহ গ্রন্থে মুসনাদ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) তাজকিরাতুল মুহতাজ ইলা আহাদিসিল মিনহাজ (পৃষ্ঠা: ১১)
3 -‌‌ الحَدِيث الثَّالِث: حَدِيث: «وَمن عصاهما فقد غَوى … » إِلَى آخِره.

هَذَا الحَدِيث رَوَاهُ مُسلم من حَدِيث عدي بن حَاتِم مُنْفَردا بِهِ، وَلَفظه أَن رجلا خطب عِنْد رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ فَقَالَ: وَمن يطع الله وَرَسُوله فقد رشد، وَمن يعصهما فقد غَوى، فَقَالَ عليه الصلاة والسلام: «بئس الْخَطِيب أَنْت، قل وَمن يعْص الله وَرَسُوله» .

زَاد فِي رِوَايَة «فقد غَوى» .

وَأما الْحَاكِم فَذكره فِي مُسْتَدْركه، وَقَالَ: صَحِيح عَلَى شَرط الشَّيْخَيْنِ.

وَلَا يحسن استدراكه عَلَى مُسلم، لِأَنَّهُ فِيهِ كَمَا علمت.

4 -‌‌ الحَدِيث الرَّابِع: حَدِيث: «فِي سَائِمَة الْغنم الزَّكَاة»

هَذَا الحَدِيث رَوَاهُ البُخَارِيّ بِمَعْنَاهُ فِي كتاب أبي بكر الصّديق. وَهَذَا
৩ -‌‌ তৃতীয় হাদীস: হাদীস: «আর যে ব্যক্তি তাদের উভয়ের অবাধ্য হলো সে অবশ্যই পথভ্রষ্ট হলো … » শেষ পর্যন্ত।

এই হাদীসটি ইমাম মুসলিম এককভাবে আদী ইবনে হাতিম (রা.)-এর হাদীস থেকে বর্ণনা করেছেন। এর শব্দাবলী হলো: এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট খুতবা প্রদান কালে বলল: "যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করল সে সঠিক পথ পেল, আর যে ব্যক্তি তাদের উভয়ের অবাধ্য হলো সে অবশ্যই পথভ্রষ্ট হলো।" তখন তিনি (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) বললেন: «তুমি কতই না মন্দ বক্তা! তুমি বলো: আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অবাধ্য হলো»।

একটি বর্ণনায় বর্ধিত হয়েছে: «সে অবশ্যই পথভ্রষ্ট হলো»।

আর ইমাম হাকিম এটি তাঁর মুস্তাদরাক-এ উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: এটি শাইখাইন (বুখারী ও মুসলিম)-এর শর্তানুসারে সহীহ।

তবে ইমাম মুসলিমের ওপর এর ‘ইসতিদরাক’ করা (পরিশিষ্ট বা অতিরিক্ত হিসেবে গণ্য করা) সংগত নয়, কারণ এটি তাঁর কিতাবেই রয়েছে যেমনটি আপনি জেনেছেন।

৪ -‌‌ চতুর্থ হাদীস: হাদীস: «তৃণভোজী ছাগলের ওপর যাকাত রয়েছে»

এই হাদীসটি ইমাম বুখারী আবু বকর সিদ্দীক (রা.)-এর পত্রের বর্ণনায় এর মর্মার্থ উল্লেখ করেছেন। আর এটি
(খণ্ড: ১) তাজকিরাতুল মুহতাজ ইলা আহাদিসিল মিনহাজ (পৃষ্ঠা: ১২)
لَفظه: «وَفِي صَدَقَة الْغنم فِي سائمتها إِذا كَانَت أَرْبَعِينَ إِلَى عشْرين ومئة شَاة» الحَدِيث بِطُولِهِ.

وَفِي رِوَايَة لأبي دَاوُد: «وَفِي سَائِمَة الْغنم إِذا كَانَت أَرْبَعِينَ فَفِيهَا شَاة» إِلَى آخر تَفْصِيل النصب.

وَفِي صَحِيح ابْن حبَان وَغَيره عَن أبي بكر بن مُحَمَّد بن عَمْرو بن حزم عَن أَبِيه عَن جده فِي الْكتاب الَّذِي كتبه النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ لعَمْرو بن حزم: «فِي كل أَرْبَعِينَ شَاة سَائِمَة شَاة» .

قَالَ الشَّيْخ تَقِيّ الدَّين ابْن الصّلاح فِي كَلَامه عَلَى الْوَسِيط: أَحسب أَن قَول الْفُقَهَاء والأصوليين: «فِي سَائِمَة الْغنم الزَّكَاة» اخْتِصَار مِنْهُم للمفصل فِي لفظ الحَدِيث من مقادير الزَّكَاة الْمُخْتَلفَة باخْتلَاف النصب.

5 -‌‌ الحَدِيث الْخَامِس: قَوْله عليه الصلاة والسلام. [صلى الله عليه وسلم َ] : «مطل الْغَنِيّ ظلم» .
এর শব্দাবলি হলো: "তৃণভোজী বকরির জাকাতের ক্ষেত্রে, যখন তা সংখ্যায় চল্লিশ থেকে একশত বিশটি পর্যন্ত হয়..." দীর্ঘ হাদিসটি।

আবু দাউদের এক বর্ণনায় রয়েছে: "তৃণভোজী বকরির ক্ষেত্রে যখন তা সংখ্যায় চল্লিশটি হয়, তখন তাতে একটি বকরি (জাকাত দিতে হবে)..." নিসাবের পূর্ণ বিবরণ পর্যন্ত।

সহীহ ইবনে হিব্বান ও অন্যান্য গ্রন্থে আবু বকর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আমর ইবনে হাযম থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি তাঁর দাদা থেকে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমর ইবনে হাযমের নিকট যে লিপিটি লিখেছিলেন তাতে ছিল: "প্রত্যেক চল্লিশটি তৃণমূলভোজী বকরির ক্ষেত্রে একটি বকরি (জাকাত দিতে হবে)।"

শায়খ তাকিউদ্দীন ইবনুস সালাহ 'আল-ওয়াসীত' গ্রন্থের ওপর তাঁর আলোচনায় বলেছেন: আমি মনে করি ফকিহ ও উসুলবিদগণের কথা— "তৃণভোজী বকরির ক্ষেত্রে জাকাত ওয়াজিব"—এটি মূলত হাদিসের শব্দাবলির সংক্ষিপ্ত রূপ, যেখানে নিসাবের বিভিন্নতা অনুযায়ী জাকাতের বিভিন্ন পরিমাণের বিস্তারিত বিবরণ রয়েছে।

৫ -‌‌ পঞ্চম হাদিস: তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বাণী: "ধনী ব্যক্তির (পাওনা পরিশোধে) টালবাহানা করা জুলুম।"
(খণ্ড: ১) তাজকিরাতুল মুহতাজ ইলা আহাদিসিল মিনহাজ (পৃষ্ঠা: ১৩)
هَذَا الحَدِيث صَحِيح، رَوَاهُ البُخَارِيّ وَمُسلم من حَدِيث أبي هُرَيْرَة.

وَانْفَرَدَ ابْن مَاجَه بِإِخْرَاجِهِ من حَدِيث ابْن عمر.

6 -‌‌ الحَدِيث السَّادِس: قَوْله عليه الصلاة والسلام: «كل مِمَّا يليك» .

هَذَا الحَدِيث صَحِيح، رَوَاهُ الشَّيْخَانِ من رِوَايَة عمر بن أبي سَلمَة مطولا بِقصَّة، وَهُوَ الْمَقُول لَهُ ذَلِك.

وَوَقع فِي الْمُسْتَصْفَى للغزالي أَنه عليه الصلاة والسلام قَالَ ذَلِك لِابْنِ عَبَّاس.
এই হাদিসটি সহিহ, এটি বুখারি ও মুসলিম আবু হুরায়রা-এর হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন।

এবং ইবনে মাজাহ এককভাবে ইবনে উমর-এর হাদিস থেকে এটি বর্ণনা করেছেন।

৬ -‌‌ ষষ্ঠ হাদিস: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর বাণী: "তোমার সামনের অংশ থেকে খাও।"

এই হাদিসটি সহিহ, শায়খাইন এটি উমর ইবনে আবি সালামাহ-এর বর্ণনা থেকে একটি দীর্ঘ ঘটনার সাথে বর্ণনা করেছেন, এবং তাকেই এই কথাটি বলা হয়েছিল।

গাজালির আল-মুসতাসফা গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই কথাটি ইবনে আব্বাসকে বলেছিলেন।
(খণ্ড: ১) তাজকিরাতুল মুহতাজ ইলা আহাদিসিল মিনহাজ (পৃষ্ঠা: ১৪)
وَهُوَ غَرِيب.

7 -‌‌ الحَدِيث السَّابِع: قَوْله صلى الله عليه وسلم َ: «إِذا لم تَسْتَحي فَاصْنَعْ مَا شِئْت» .

هَذَا الحَدِيث صَحِيح، رَوَاهُ البُخَارِيّ مُنْفَردا بِهِ من حَدِيث أبي مَسْعُود عقبَة بن عَمْرو الْأنْصَارِيّ رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ: «إِن مِمَّا أدْرك النَّاس من كَلَام النُّبُوَّة الأولَى إِذا لم تَسْتَحي فَاصْنَعْ مَا شِئْت» .

وَفِي رِوَايَة للطبراني فِي أكبر معاجمه: «آخر مَا كَانَ من كَلَام النُّبُوَّة إِذا لم تَسْتَحي فافعل مَا شِئْت» .

8 -‌‌ الحَدِيث الثَّامِن: قَوْله عليه الصلاة والسلام: «لَا تنْكح الْمَرْأَة الْمَرْأَة» .

هَذَا الحَدِيث رَوَاهُ ابْن مَاجَه من حَدِيث أبي هُرَيْرَة بِإِسْنَاد ضَعِيف.
এবং এটি গরীব (একক সূত্রীয়)।

৭ -‌‌ সপ্তম হাদিস: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: "যদি তোমার লজ্জা না থাকে, তবে যা ইচ্ছা করো।"

এই হাদিসটি সহিহ, ইমাম বুখারি এককভাবে এটি বর্ণনা করেছেন আবু মাসউদ উকবা ইবনে আমর আল-আনসারি (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে। তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "পূর্ববর্তী নবুওয়াতের বাণীসমূহ থেকে মানুষ যা পেয়েছে, তার মধ্যে একটি হলো: যদি তোমার লজ্জা না থাকে, তবে যা ইচ্ছা করো।"

এবং তাবারানির তাঁর বড় মু'জাম-এর একটি বর্ণনায় রয়েছে: "নবুওয়াতের বাণীর সর্বশেষ যা অবশিষ্ট ছিল তা হলো: যদি তোমার লজ্জা না থাকে, তবে যা ইচ্ছা করো।"

৮ -‌‌ অষ্টম হাদিস: রাসূলুল্লাহ (তাঁর ওপর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক)-এর বাণী: "কোনো নারী অন্য কোনো নারীকে বিয়ে দেবে না।"

এই হাদিসটি ইবনে মাজাহ আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে একটি দুর্বল সনদে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) তাজকিরাতুল মুহতাজ ইলা আহাদিসিল মিনহাজ (পৃষ্ঠা: ১৫)
. … ... … ... … ... … ... … ... . .... … ... … ... … ... … ... … . .
. … ... … ... … ... … ... … ... . .... … ... … ... … ... … ... … . .
(খণ্ড: ১) তাজকিরাতুল মুহতাজ ইলা আহাদিসিল মিনহাজ (পৃষ্ঠা: ১৬)
وَرَوَاهُ الدَّارَقُطْنِيّ بِإِسْنَاد عَلَى شَرط مُسلم.

وَنقل عبد الْحق عَنهُ تَصْحِيحه.

9 -‌‌ الحَدِيث التَّاسِع: حَدِيث ذمّ أبي سعيد بن الْمُعَلَّى.

هَذَا الحَدِيث رَوَاهُ البُخَارِيّ.

وَهُوَ مَعْدُود من أَفْرَاده، وَوَقع فِي الْكتاب الْخُدْرِيّ، وَهُوَ وهم تبع فِيهِ صَاحب «الْحَاصِل» و «الْمَحْصُول» و «الْمُسْتَصْفَى» فاجتنبه. وَوَقع لأبي بن كَعْب مثل مَا وَقع لأبي سعيد كَمَا أوضحته فِي تَخْرِيج أَحَادِيث الْمُهَذّب.
এবং ইমাম দারাকুতনি এটি ইমাম মুসলিমের শর্তানুযায়ী সনদে বর্ণনা করেছেন।

এবং আব্দুল হক তাঁর থেকে এর বিশুদ্ধতার কথা বর্ণনা করেছেন।

৯ -‌‌ নবম হাদিস: আবু সাঈদ ইবনুল মুআল্লার নিন্দা বিষয়ক হাদিস।

এই হাদিসটি ইমাম বুখারি বর্ণনা করেছেন।

এটি তাঁর একক বর্ণনাসমূহের অন্তর্ভুক্ত বলে গণ্য। কিতাবে ‘আল-খুদরি’ নাম এসেছে, যা একটি বিভ্রান্তি; এক্ষেত্রে তিনি ‘আল-হাসিল’, ‘আল-মাহসুল’ এবং ‘আল-মুসতাসফা’ গ্রন্থের রচয়িতাদের অনুসরণ করেছেন, সুতরাং এটি পরিহার করুন। আর উবাই ইবনে কাবের ক্ষেত্রেও আবু সাঈদের মতো একই বিষয় ঘটেছে, যেমনটি আমি ‘তাখরিজু আহাদিসিল মুহায্যাব’ গ্রন্থে স্পষ্ট করেছি।
(খণ্ড: ১) তাজকিরাতুল মুহতাজ ইলা আহাদিসিল মিনহাজ (পৃষ্ঠা: ১৭)
10 -‌‌ الحَدِيث الْعَاشِر: عَن عبد الله بن مُعَاوِيَة رَفعه: «ثَلَاث من فعلهن طعم طعم الْإِيمَان، من أعْطى زَكَاة مَاله طيبَة بهَا نَفسه كل عَام … » الحَدِيث.

هَذَا الحَدِيث رَوَاهُ أَبُو دَاوُد غير مَوْصُول بِهِ سَنَده [مَوْصُول بِسَنَدِهِ] ، بل قَالَ: قَرَأت فِي كتاب عبد الله بن سَالم بحمص فَذكره.

وَوَصله أَبُو الْقَاسِم الْبَغَوِيّ وَالطَّبَرَانِيّ وَغَيرهمَا.

وَهَذَا الحَدِيث لم يذكرهُ المُصَنّف كَذَلِك، وَإِنَّمَا أَشَارَ إِلَيْهِ بقوله: لَعَلَّه عليه الصلاة والسلام بَين تكْرَار - وجوب الزَّكَاة -.

11 -‌‌ الحَدِيث الْحَادِي عشر: حَدِيث النَّهْي عَن بيع الْحَصَاة.

هَذَا الحَدِيث رَوَاهُ مُسلم من رِوَايَة أبي هُرَيْرَة.
১০ -‌‌ দশম হাদিস: আবদুল্লাহ ইবনে মুয়াবিয়া থেকে বর্ণিত, তিনি এটি মারফু হিসেবে (রাসূলুল্লাহ পর্যন্ত) বর্ণনা করেছেন: «তিনটি কাজ যে ব্যক্তি করবে সে ঈমানের স্বাদ আস্বাদন করবে; যে ব্যক্তি প্রতি বছর সানন্দে নিজের সম্পদের জাকাত প্রদান করবে … » হাদিস।

এই হাদিসটি আবু দাউদ তাঁর সনদে সরাসরি সংযুক্ত না করে বর্ণনা করেছেন [অন্য বর্ণনায় তাঁর সনদে সংযুক্ত রয়েছে], বরং তিনি বলেছেন: আমি হিমসে আবদুল্লাহ ইবনে সালিমের কিতাবে পড়েছি, এরপর তিনি এটি উল্লেখ করেছেন।

আর আবুল কাসিম আল-বাগাওয়ী, তাবারানি এবং অন্যান্যরা এটি সংযুক্ত সনদে বর্ণনা করেছেন।

আর গ্রন্থকার এই হাদিসটি এভাবে উল্লেখ করেননি, বরং তিনি কেবল তাঁর এই বক্তব্যের মাধ্যমে এর প্রতি ইঙ্গিত করেছেন: সম্ভবত তিনি (তাঁর ওপর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক) জাকাত ওয়াজিব হওয়ার পুনরাবৃত্তি বর্ণনা করেছেন।

১১ -‌‌ একাদশ হাদিস: পাথর নিক্ষেপের মাধ্যমে ক্রয়-বিক্রয় নিষিদ্ধ হওয়া সংক্রান্ত হাদিস।

এই হাদিসটি আবু হুরায়রাহ-এর বর্ণনা থেকে ইমাম মুসলিম বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) তাজকিরাতুল মুহতাজ ইলা আহাদিসিল মিনহাজ (পৃষ্ঠা: ১৮)
وَهُوَ مَعْدُود من أَفْرَاده.

12 -‌‌ الحَدِيث الثَّانِي عشر: حَدِيث النَّهْي عَن بيع الملاقيح.

هَذَا الحَدِيث رَوَاهُ مَالك مُرْسلا عَن سعيد بن الْمسيب [لَا رَبًّا فِي الْحَيَوَان وَإِنَّمَا نهي من الْحَيَوَان عَن ثَلَاثَة: عَن المضامين والملاقيح وحبل الحبلة] .

وَرَوَاهُ مُسْندًا أَبُو هُرَيْرَة وَعمْرَان بن حُصَيْن وَابْن عَبَّاس.

وَقد ذكرت من خرجهم فِي تَخْرِيج أَحَادِيث الرَّافِعِيّ والوسيط، فسارع إِلَيْهِ.

13 -‌‌ الحَدِيث الثَّالِث عشر: قَوْله صلى الله عليه وسلم َ: «أمرت أَن أقَاتل النَّاس حَتَّى يَقُولُوا: لَا إِلَه إِلَّا الله» .

هَذَا الحَدِيث صَحِيح، رَوَاهُ الشَّيْخَانِ فِي صَحِيحَيْهِمَا من حَدِيث ابْن عمر رضي الله عنهما.
এবং এটি এর এককসমূহের মধ্যে গণ্য।

১২ -‌‌ দ্বাদশ হাদিস: মালাকিহ (ভ্রূণ) বিক্রয় নিষিদ্ধকরণ সংক্রান্ত হাদিস।

এই হাদিসটি ইমাম মালিক সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব থেকে মুরসাল হিসেবে বর্ণনা করেছেন [প্রাণীর ক্ষেত্রে কোনো সুদ নেই, বরং প্রাণীর ক্ষেত্রে তিনটি বিষয় থেকে নিষেধ করা হয়েছে: মাদামিন (পুরুষ প্রাণীর বীর্য), মালাকিহ (স্ত্রী প্রাণীর গর্ভস্থ ভ্রূণ) এবং হাবালুল হাবালা (গর্ভস্থ সন্তানের গর্ভ)]।

আর এটি মুসনাদ হিসেবে বর্ণনা করেছেন আবু হুরায়রা, ইমরান ইবনে হুসাইন এবং ইবনে আব্বাস।

আমি রাফিয়ি ও ওয়াসিত গ্রন্থের হাদিসসমূহের তাখরিজ গ্রন্থে যারা এটি বর্ণনা করেছেন তাদের উল্লেখ করেছি, সুতরাং আপনি দ্রুত সেখানে তা দেখে নিন।

১৩ -‌‌ ত্রয়োদশ হাদিস: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: "আমি মানুষের সাথে যুদ্ধ করার জন্য আদিষ্ট হয়েছি যতক্ষণ না তারা বলে: আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই।"

এই হাদিসটি সহিহ, শায়খাইন (বুখারি ও মুসলিম) ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বর্ণিত হাদিস থেকে তাদের নিজ নিজ সহিহ গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) তাজকিরাতুল মুহতাজ ইলা আহাদিসিল মিনহাজ (পৃষ্ঠা: ১৯)
14 -‌‌ الحَدِيث الرَّابِع عشر: حَدِيث: «الْأَئِمَّة من قُرَيْش» .

هَذَا الحَدِيث رَوَاهُ النَّسَائِيّ من حَدِيث أنس.

وَفِي سَنَده بكير بن وهب الْجَزرِي.

قَالَ ابْن الْقطَّان: لَا يعرف حَاله.

وَقَالَ الذَّهَبِيّ فِي «الْمِيزَان» : يجهل، وَعنهُ عَلّي أَبُو الْأسود فَقَط.
14 -‌‌ চতুর্দশ হাদীস: হাদীস: «ইমামগণ কুরাইশ বংশ থেকে হবে»।

এই হাদীসটি আন-নাসায়ী আনাস (রা.)-এর বর্ণিত হাদীস থেকে বর্ণনা করেছেন।

এবং এর সনদে বুকাইর বিন ওয়াহাব আল-জাযারি রয়েছে।

ইবনুল কাত্তান বলেছেন: তার অবস্থা জানা নেই।

এবং আয-যাহাবি ‘আল-মিজান’-এ বলেছেন: সে অজ্ঞাত, এবং তার থেকে কেবল আলী আবুল আসওয়াদ বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) তাজকিরাতুল মুহতাজ ইলা আহাদিসিল মিনহাজ (পৃষ্ঠা: ২০)
قلت: عَنهُ غَيره.

وَذكره ابْن حبَان فِي ثقاته.

وَلم ينْفَرد، وتوبع كَمَا هُوَ مَذْكُور فِي تَخْرِيج أَحَادِيث الرَّافِعِيّ.
আমি বলছি: তাঁর থেকে অন্যরাও বর্ণনা করেছেন।

এবং ইবনু হিব্বান তাঁর ‘আস-সিকাত’ গ্রন্থে তাঁকে উল্লেখ করেছেন।

এবং তিনি (বর্ণনায়) একক ছিলেন না, বরং তাঁর অনুসরণ করা হয়েছে (তাবে’ বিদ্যমান) যেমনটি রাফিয়ি’র হাদিসসমূহের তাখরিজে উল্লেখ করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) তাজকিরাতুল মুহতাজ ইলা আহাদিসিল মিনহাজ (পৃষ্ঠা: ২১)
15 -‌‌ الحَدِيث الْخَامِس عشر: حَدِيث: «نَحن معاشر الْأَنْبِيَاء لَا نورث» .

هَذَا الحَدِيث رَوَاهُ النَّسَائِيّ كَذَلِك فِي سنَنه الْكُبْرَى، بِلَفْظ «إِنَّا» بدل «نَحن» ، وَهُوَ هُوَ، من رِوَايَة عمر وَغَيره من الصَّحَابَة فاستفده.
১৫ -‌‌ পঞ্চদশ হাদীস: হাদীস: «আমরা নবী সম্প্রদায়, আমাদের কোনো উত্তরাধিকারী রাখা হয় না (অর্থাৎ আমাদের পরিত্যক্ত সম্পদ উত্তরাধিকারীদের মাঝে বণ্টন হয় না)»।

এই হাদীসটি নাসায়ী একইভাবে তাঁর সুনানে কুবরা গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন, তবে সেখানে «আমরা» শব্দের পরিবর্তে «নিশ্চয়ই আমরা» শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে, আর উভয়টিই অভিন্ন। এটি ওমর এবং অন্যান্য সাহাবীদের বর্ণনা থেকে বর্ণিত, সুতরাং তা জেনে নাও।
(খণ্ড: ১) তাজকিরাতুল মুহতাজ ইলা আহাদিসিল মিনহাজ (পৃষ্ঠা: ২২)
فَإِن بعض من خرج أَحَادِيث ابْن الْحَاجِب قَالَ: إِنَّه بِهَذَا اللَّفْظ غير مَذْكُور فِي الْكتب السِّتَّة، وَقد علمت أَنه فِي النَّسَائِيّ الْكَبِير، وَهُوَ من أجلهَا.

وَفِي الصَّحِيحَيْنِ من حَدِيث أبي بكر وَعَائِشَة: «لَا نورث مَا تركنَا صَدَقَة» .

وَفِي الْمسند للْإِمَام أَحْمد من حَدِيث أبي بكر مَرْفُوعا: «إِن النَّبِي لَا يُورث، وَإِنَّمَا مِيرَاثه فِي فُقَرَاء الْمُسلمين وَالْمَسَاكِين» .

16 -‌‌ الحَدِيث السَّادِس عشر: قَوْله صلى الله عليه وسلم َ: «إِذا بلغ المَاء قُلَّتَيْنِ لم يحمل خبثا» .

هَذَا الحَدِيث صَحِيح، رَوَاهُ أَبُو دَاوُد وَالتِّرْمِذِيّ وَالنَّسَائِيّ وَابْن مَاجَه
প্রকৃতপক্ষে ইবনুল হাজিবের হাদিসসমূহ যারা তাখরিজ করেছেন তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলেছেন: এই শব্দে এটি কুতুবে সিত্তাহর মধ্যে উল্লিখিত হয়নি। অথচ আপনি জেনেছেন যে, এটি নাসাঈ আল-কাবিরে রয়েছে, আর তা সেগুলোর মধ্যে অন্যতম শ্রেষ্ঠ কিতাব।

আর সহীহাইন-এ আবু বকর ও আয়েশা থেকে বর্ণিত হাদিসে রয়েছে: "আমাদের কোনো উত্তরাধিকারী হয় না, আমরা যা রেখে যাই তা সদকাহ"।

ইমাম আহমদের মুসনাদে আবু বকর থেকে মারফু’ সূত্রে বর্ণিত রয়েছে: "নিশ্চয়ই নবী কোনো উত্তরাধিকারী রেখে যান না, বরং তার মিরাস বা পরিত্যক্ত সম্পদ অভাবী মুসলিম ও মিসকিনদের জন্য"।

১৬ -‌‌ ষোড়শ হাদিস: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণী: "যখন পানি দুই কুল্লা পরিমাণ হয়, তখন তা অপবিত্রতা বহন করে না"।

এই হাদিসটি সহীহ, এটি বর্ণনা করেছেন আবু দাউদ, তিরমিজি, নাসাঈ এবং ইবনু মাজাহ।
(খণ্ড: ১) তাজকিরাতুল মুহতাজ ইলা আহাদিসিল মিনহাজ (পৃষ্ঠা: ২৩)
من حَدِيث ابْن عمر، وَصَححهُ ابْن خُزَيْمَة وَابْن حبَان وَابْن مَنْدَه والطَّحَاوِي الْحَنَفِيّ وَالْحَاكِم، وَزَاد أَنه عَلَى شَرط البُخَارِيّ وَمُسلم.

وَفِي رِوَايَة لأبي دَاوُد وَابْن حبَان: «فَإِنَّهُ لَا ينجس» .

قَالَ يَحْيَى بن معِين: إسنادها جيد.

17 -‌‌ الحَدِيث السَّابِع عشر: حَدِيث الرُّخْصَة فِي الْعَرَايَا.

هَذَا الحَدِيث مُتَّفق عَلَيْهِ من حَدِيث سهل بن أبي حثْمَة رضي الله عنه.
ইবনে ওমরের বর্ণিত হাদীস থেকে, একে সহীহ সাব্যস্ত করেছেন ইবনে খুযাইমা, ইবনে হিব্বান, ইবনে মানদাহ, ত্বহাবী আল-হানাফী এবং আল-হাকিম। তিনি (হাকিম) আরও যোগ করেছেন যে, এটি বুখারী ও মুসলিমের শর্তানুযায়ী।

আবু দাউদ ও ইবনে হিব্বানের এক বর্ণনায় রয়েছে: "নিশ্চয়ই তা অপবিত্র হয় না।"

ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন বলেন: এর সনদ উত্তম।

১৭ -‌‌ সপ্তদশ হাদীস: আরাইয়া (গাছে থাকা ফল অনুমানের ভিত্তিতে বিক্রয়) সংক্রান্ত অনুমতির হাদীস।

এই হাদীসটি সাহল ইবনে আবী হাসমা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, যা মুত্তাফাকুন আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম কর্তৃক সর্বসম্মত)।
(খণ্ড: ১) তাজকিরাতুল মুহতাজ ইলা আহাদিসিল মিনহাজ (পৃষ্ঠা: ২৪)
18 -‌‌ الحَدِيث الثَّامِن عشر: حَدِيث «الإثنان فَمَا فَوْقهمَا جمَاعَة» .

هَذَا الحَدِيث رَوَاهُ ابْن مَاجَه وَالْحَاكِم وَالْبَيْهَقِيّ والعقيلي من رِوَايَة أبي مُوسَى الْأَشْعَرِيّ.

وَالْبَيْهَقِيّ أَيْضا من رِوَايَة أنس.

وَالدَّارَقُطْنِيّ من رِوَايَة عَمْرو بن شُعَيْب عَن أَبِيه عَن جده.

وَابْن عدي من رِوَايَة الحكم بن عُمَيْر.
১৮ -‌‌ অষ্টাদশ হাদিস: হাদিস: "দুই জন বা তার অধিক ব্যক্তি হলো জামাত"।

এই হাদিসটি ইবনে মাজাহ, আল-হাকিম, আল-বাইহাকি এবং আল-উকাইলি আবু মুসা আল-আশআরির বর্ণনা থেকে বর্ণনা করেছেন।

এবং আল-বাইহাকি এটি আনাসের বর্ণনা থেকেও বর্ণনা করেছেন।

এবং আদ-দারাকুতনি এটি আমর ইবনে শুআইব থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি তাঁর দাদা থেকে—এই সূত্রে বর্ণনা করেছেন।

এবং ইবনে আদি আল-হাকাম ইবনে উমাইরের বর্ণনা থেকে এটি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) তাজকিরাতুল মুহতাজ ইলা আহাদিসিল মিনহাজ (পৃষ্ঠা: ২৫)
وَكلهَا ضَعِيفَة. وَأما ابْن السكن الْحَافِظ فَأخْرج حَدِيث أبي مُوسَى فِي سنَنه الصِّحَاح المأثورة، وَلَيْسَ بجيد مِنْهُ، فَإِن فِي سَنَده الرّبيع بن بدر الْمَعْرُوف بعليلة، وَقد وهنوه.

قَالَ الذَّهَبِيّ: ووالد الرّبيع مَجْهُول، وَكَذَا جده.

19 -‌‌ الحَدِيث التَّاسِع عشر: حَدِيث: «لَا صَلَاة إِلَّا بِطهُور» .

هَذَا الحَدِيث رَوَاهُ الدَّارَقُطْنِيّ من رِوَايَة عَائِشَة كَذَلِك وَضَعفه.

وَلم يظفر بِهِ بعض من تكلم عَلَى أَحَادِيث ابْن الْحَاجِب بِهَذَا اللَّفْظ، بل تمحل لَهُ وطوّل، وَاعْترض، وَقد توبع عَلَى ذَلِك فاستفده أَنْت.

20 -‌‌ الحَدِيث الْعشْرُونَ: حَدِيث: «الْقَاتِل لَا يَرث» .

هَذَا الحَدِيث رَوَاهُ ابْن مَاجَه وَالتِّرْمِذِيّ من رِوَايَة أبي هُرَيْرَة.
এবং সেগুলোর সবই দুর্বল। তবে হাফেজ ইবনে আস-সাকান তার 'আস-সুনান আস-সিহাহ আল-মাসুরা' গ্রন্থে আবু মুসার হাদিসটি বর্ণনা করেছেন, কিন্তু এটি তার পক্ষ থেকে সঠিক হয়নি; কারণ এর সনদে রাবি বিন বদর রয়েছেন যিনি 'আলিলা' নামে পরিচিত, এবং মুহাদ্দিসগণ তাকে দুর্বল সাব্যস্ত করেছেন।

যাহাবি বলেন: রাবির পিতা অজ্ঞাত, এবং একইভাবে তার দাদাও।

১৯ -‌‌ ঊনবিংশ হাদিস: হাদিস: «পবিত্রতা ব্যতীত কোনো সালাত নেই»।

এই হাদিসটি ইমাম দারাকুতনি আয়েশা-এর বর্ণনা থেকে একইভাবে বর্ণনা করেছেন এবং একে দুর্বল বলেছেন।

যারা ইবনে আল-হাজিবের হাদিসসমূহ নিয়ে আলোচনা করেছেন তাদের মধ্যে কেউ কেউ এই শব্দে হাদিসটি পাননি, বরং এর জন্য কষ্টসাধ্য ব্যাখ্যা দিয়েছেন ও দীর্ঘ আলোচনা করেছেন এবং আপত্তি তুলেছেন। এ ব্যাপারে তাদের অনুসরণ করা হয়েছে, তাই আপনি তা জেনে নিন।

২০ -‌‌ বিংশ হাদিস: হাদিস: «হত্যাকারী উত্তরাধিকার লাভ করে না»।

এই হাদিসটি ইবনে মাজাহ ও তিরমিযি আবু হুরায়রা-এর বর্ণনা থেকে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) তাজকিরাতুল মুহতাজ ইলা আহাদিসিল মিনহাজ (পৃষ্ঠা: ২৬)
وَقَالَ: لَا يَصح.

وَضعف الْبَيْهَقِيّ إِسْحَاق بن عبد الله أحد رُوَاته.

إِلَّا أَن لَهُ شَوَاهِد تقويه.

وَقَالَ يَحْيَى بن معِين: رِجَاله كلهم ثِقَات إِلَّا إِسْحَاق هَذَا.

قلت: وَله طرق أُخْرَى مُتَكَلم فِيهَا.

نعم ابْن عبد الْبر جود حَدِيث عَمْرو بن شُعَيْب عَن أَبِيه عَن جده
এবং তিনি বলেছেন: এটি সহীহ নয়।

এবং বায়হাকী এর অন্যতম বর্ণনাকারী ইসহাক ইবনে আব্দুল্লাহকে দুর্বল সাব্যস্ত করেছেন।

তবে এর কিছু সমর্থক বর্ণনা রয়েছে যা একে শক্তিশালী করে।

এবং ইয়াহইয়া ইবনে মায়ীন বলেছেন: এই ইসহাক ব্যতীত এর সকল বর্ণনাকারী বিশ্বস্ত।

আমি বলছি: এর আরও কিছু সূত্র রয়েছে যা সমালোচিত।

হ্যাঁ, ইবনে আব্দুল বার আমর ইবনে শুয়াইব কর্তৃক তার পিতা ও তার দাদা থেকে বর্ণিত হাদিসটিকে উত্তম বলেছেন।
(খণ্ড: ১) তাজকিরাতুল মুহতাজ ইলা আহাদিসিল মিনহাজ (পৃষ্ঠা: ২৭)
قَالَ: قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ: «لَيْسَ للْقَاتِل من الْمِيرَاث شَيْء» .

رَوَاهُ النَّسَائِيّ.

لَكِن هَذَا الحَدِيث من رِوَايَة إِسْمَاعِيل بن عَيَّاش عَن غير الشاميين، وَهُوَ ضَعِيف فِيهَا عِنْد البُخَارِيّ وَغَيره.

وَأما المُصَنّف فغلا فَجعله متواترا.

21 -‌‌ الحَدِيث الْحَادِي وَالْعشْرُونَ: حَدِيث رجمه الْمُحصن.

هَذَا الحَدِيث صَحِيح، رَوَاهُ الشَّيْخَانِ من حَدِيث أبي هُرَيْرَة فِي قصَّة مَاعِز.

22 -‌‌ الحَدِيث الثَّانِي وَالْعشْرُونَ: حَدِيث: «إِذا رُوِيَ عني حَدِيث فاعرضوه عَلَى كتاب الله، فَإِن وَافق فاقبلوه، وَإِن خَالف فَردُّوهُ» .

هَذَا الحَدِيث لَهُ طرق:

أَحدهَا: من رِوَايَة عَلّي كرم الله وَجهه، رَوَاهُ الدَّارَقُطْنِيّ من رِوَايَة جبارَة بن الْمُغلس - وَهُوَ ضَعِيف - عَن أبي بكر بن عَيَّاش، عَن عَاصِم بن أبي النجُود، عَن زر، عَن عَلّي رَفعه: «إِنَّهَا سَيكون بعدِي رُوَاة يروون عني الحَدِيث، فأعرضوا حَدِيثهمْ عَلَى الْقُرْآن، فَمَا وَافق الْقُرْآن فَخُذُوا بِهِ، وَمَا لم يُوَافق الْقُرْآن فَلَا تَأْخُذُوا بِهِ» .
তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "হত্যাকারীর জন্য উত্তরাধিকারের কিছুই নেই।"

এটি ইমাম নাসাঈ বর্ণনা করেছেন।

তবে এই হাদিসটি ইসমাইল ইবনে আইয়াশের অ-শামি (শাম দেশের বাইরের বর্ণনাকারী) থেকে বর্ণনার অন্তর্ভুক্ত, যা ইমাম বুখারি এবং অন্যান্য মুহাদ্দিসগণের মতে দুর্বল।

আর গ্রন্থকার এক্ষেত্রে অতিশয়োক্তি করেছেন এবং একে মুতাওয়াতির (অকাট্যভাবে প্রমাণিত) বলে অভিহিত করেছেন।

২১ -‌‌ একুশতম হাদিস: বিবাহিত ব্যভিচারীকে রজম করার হাদিস।

এই হাদিসটি সহিহ। মাঈজের ঘটনায় আবু হুরায়রা (রা.) থেকে শায়খাইন (বুখারি ও মুসলিম) এটি বর্ণনা করেছেন।

২২ -‌‌ বাইশতম হাদিস: হাদিস: "যখন আমার পক্ষ থেকে কোনো হাদিস বর্ণিত হয়, তখন তা আল্লাহর কিতাবের (কুরআনের) সামনে পেশ করো; যদি তা সামঞ্জস্যপূর্ণ হয় তবে তা গ্রহণ করো, আর যদি বিরোধী হয় তবে তা প্রত্যাখ্যান করো।"

এই হাদিসটির কয়েকটি সূত্র রয়েছে:

প্রথমটি: আলী (কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু)-এর বর্ণনা থেকে; ইমাম দারা কুতনি এটি জাবারাহ ইবনুল মুগাল্লিস —যিনি দুর্বল— থেকে, তিনি আবু বকর ইবনে আইয়াশ থেকে, তিনি আসিম ইবনে আবিন নাজুদ থেকে, তিনি যির থেকে, তিনি আলী (রা.) থেকে মারফু সূত্রে বর্ণনা করেছেন: "নিশ্চয়ই আমার পরে এমন সব বর্ণনাকারী আসবে যারা আমার পক্ষ থেকে হাদিস বর্ণনা করবে। সুতরাং তোমরা তাদের বর্ণিত হাদিস কুরআনের সামনে পেশ করো। যা কুরআনের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে তা গ্রহণ করো, আর যা কুরআনের সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ হবে তা গ্রহণ করো না।"
(খণ্ড: ১) তাজকিরাতুল মুহতাজ ইলা আহাদিসিল মিনহাজ (পৃষ্ঠা: ২৮)
ثمَّ قَالَ: هَذَا وهم، وَالصَّوَاب عَن عَاصِم عَن زيد بن عَلّي مُرْسلا عَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ.

الثَّانِي: من حَدِيث ابْن عمر، رَوَاهُ الطَّبَرَانِيّ فِي أكبر معاجمه من حَدِيث الْوَضِين بن عَطاء، عَن سَالم، عَن أَبِيه مَرْفُوعا: «مَا أَتَاكُم من حَدِيثي فاقرأوا كتاب الله واعتبروه، فَمَا وَافق كتاب الله فَأَنا قلته، وَمَا لم يُوَافق كتاب الله فَلم أَقَله» .

الْوَضِين قَالَ أَحْمد: مَا بِهِ من بَأْس.

وَلينه غَيره.

الطَّرِيق الثَّالِث: من حَدِيث ثَوْبَان رضي الله عنه، رَوَاهُ الطَّبَرَانِيّ أَيْضا من حَدِيث يزِيد بن ربيعَة، عَن أبي الْأَشْعَث، عَن ثَوْبَان مَرْفُوعا: «إِن رَحى الإِسلام دَائِرَة» قَالُوا: كَيفَ نصْنَع يَا رَسُول الله؟ قَالَ: «اعرضوا حَدِيثي عَلَى الْكتاب، فَمَا وَافقه فَهُوَ مني، وَأَنا قلته» .

يزِيد هَذَا قَالَ البُخَارِيّ: أَحَادِيثه مَنَاكِير.
এরপর তিনি বললেন: এটি একটি ভ্রম, আর সঠিক হলো আসেম থেকে, যায়িদ বিন আলী থেকে মুরসাল হিসেবে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণিত।

দ্বিতীয়টি: ইবনে ওমরের হাদিস থেকে, তাবারানি তার সর্ববৃহৎ মুজামে ওয়াদিন বিন আতা থেকে, সালেম থেকে, তার পিতা থেকে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন: "আমার পক্ষ থেকে তোমাদের কাছে যে হাদিস পৌঁছাবে, তোমরা আল্লাহর কিতাব পাঠ করো এবং তা বিবেচনা করো। যা আল্লাহর কিতাবের সাথে সংগতিপূর্ণ হবে, তা আমি বলেছি। আর যা আল্লাহর কিতাবের সাথে সংগতিপূর্ণ হবে না, তা আমি বলিনি।"

ওয়াদিন সম্পর্কে আহমদ বলেছেন: তার মধ্যে কোনো দোষ নেই।

আর অন্যরা তাকে দুর্বল বলেছেন।

তৃতীয় সূত্র: সাওবান রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর হাদিস থেকে, তাবারানি এটিও ইয়াজিদ বিন রাবিআ থেকে, আবু আশ'আস থেকে, সাওবান থেকে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন: "নিশ্চয়ই ইসলামের যাঁতাকল আবর্তিত হচ্ছে।" তারা জিজ্ঞেস করলেন: হে আল্লাহর রাসূল! আমরা তখন কী করব? তিনি বললেন: "তোমরা আমার হাদিসকে কিতাবের সামনে পেশ করো, যা তার সাথে মিলে যাবে তা আমার পক্ষ থেকেই এবং আমিই তা বলেছি।"

এই ইয়াজিদ সম্পর্কে বুখারি বলেছেন: তার বর্ণিত হাদিসসমূহ মুনকার।
(খণ্ড: ১) তাজকিরাতুল মুহতাজ ইলা আহাদিসিল মিনহাজ (পৃষ্ঠা: ২৯)
وَقَالَ النَّسَائِيّ: مَتْرُوك.

الطَّرِيق الرَّابِع: من حَدِيث أبي هُرَيْرَة رضي الله عنه، رَوَاهُ الْهَرَوِيّ فِي ذمّ الْكَلَام من حَدِيث صَالح بن مُوسَى، عَن عبد الْعَزِيز بن رفيع، عَن أبي صَالح، عَن أبي هُرَيْرَة مَرْفُوعا: «إِنَّه سَيَأْتِيكُمْ عني أَحَادِيث مُخْتَلفَة، فَمَا جَاءَكُم مُوَافقا لكتاب الله وسنتي فَهُوَ مني، وَمَا جَاءَكُم مُخَالفا لكتاب الله وسنتي فَلَيْسَ مني» .

وَصَالح هَذَا هُوَ الطلحي الواهي.

قَالَ النَّسَائِيّ: مَتْرُوك.
ইমাম নাসাঈ বলেছেন: পরিত্যক্ত।

চতুর্থ সূত্র: আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিস থেকে; আল-হারাওয়ী এটি 'যাম্মুল কালাম' গ্রন্থে সালেহ ইবনে মুসা, তিনি আবদুল আজিজ ইবনে রাফি‘, তিনি আবু সালেহ এবং তিনি আবু হুরায়রা থেকে মারফু সূত্রে বর্ণনা করেছেন: «নিশ্চয়ই আমার পক্ষ থেকে তোমাদের কাছে বিভিন্ন হাদিস আসবে। সুতরাং যা তোমাদের কাছে আল্লাহর কিতাব ও আমার সুন্নাহর অনুকূলে আসবে তা আমার পক্ষ থেকে; আর যা আল্লাহর কিতাব ও আমার সুন্নাহর পরিপন্থী হবে তা আমার পক্ষ থেকে নয়»।

আর এই সালেহ হলেন অত্যন্ত দুর্বল বর্ণনাকারী তালহী।

ইমাম নাসাঈ বলেছেন: পরিত্যক্ত।
(খণ্ড: ১) তাজকিরাতুল মুহতাজ ইলা আহাদিসিল মিনহাজ (পৃষ্ঠা: ৩০)
وَأخرجه الْبَيْهَقِيّ فِي الْمعرفَة من حَدِيث أبي جَعْفَر رَفعه: «مَا جَاءَكُم عني فاعرضوه عَلَى كتاب الله فَمَا وَافقه فَأَنا قلته، وَمَا خَالفه فَلم أَقَله» .

قَالَ الشَّافِعِي فِي رسَالَته: هَذَا الحَدِيث رَوَاهُ رجل مَجْهُول، وَهُوَ مُنْقَطع، وَلم يروه أحد يثبت حَدِيثه.

قَالَ الْبَيْهَقِيّ: وَكَأَنَّهُ أَرَادَ بِالْمَجْهُولِ خَالِد بن أبي كَرِيمَة، فَلم يعرف من ذَلِك مَا يثبت بِهِ خَبره.

قلت: إِن كَانَ هُوَ الرَّاوِي عَن عِكْرِمَة وَمُعَاوِيَة بن قُرَّة فقد عرف، رَوَى عَنهُ شُعْبَة ووكيع وَجَمَاعَة، وَوَثَّقَهُ أَحْمد وَأَبُو دَاوُد.

وَقَالَ النَّسَائِيّ: لَيْسَ بِهِ بَأْس.

وَقَالَ أَبُو حَاتِم: لَيْسَ بِالْقَوِيّ.

وَقَالَ ابْن معِين: ضَعِيف الحَدِيث.

قَالَ الْبَيْهَقِيّ: وَرُوِيَ من أوجه أخر كلهَا ضَعِيفَة قد بينتها فِي الْمدْخل.

قلت: أخرجه فِي الْمدْخل من حَدِيث الْأَصْبَغ بن مُحَمَّد بن أبي مَنْصُور بلاغاً بِنَحْوِهِ.
আল-বাইহাকী 'আল-মা'রিফা' গ্রন্থে আবু জা'ফরের হাদিস থেকে মারফু সূত্রে এটি উদ্ধৃত করেছেন: "আমার পক্ষ থেকে তোমাদের নিকট যা পৌঁছায়, তা আল্লাহর কিতাবের সামনে পেশ করো। যা তার সাথে মিলবে, তা আমি বলেছি। আর যা তার বিপরীত হবে, তা আমি বলিনি।"

ইমাম শাফিঈ তাঁর 'রিসালা' গ্রন্থে বলেছেন: এই হাদিসটি একজন অপরিচিত ব্যক্তি বর্ণনা করেছেন এবং এটি একটি সূত্রবিচ্ছিন্ন (মুনকাতি) বর্ণনা; এমন কেউ এটি বর্ণনা করেননি যার হাদিস নির্ভরযোগ্য হিসেবে সাব্যস্ত হয়।

আল-বাইহাকী বলেছেন: মনে হচ্ছে তিনি অপরিচিত ব্যক্তি বলতে খালিদ বিন আবি কারিমাকে বুঝিয়েছেন; তার সম্পর্কে এমন কিছু জানা যায়নি যা দিয়ে তার বর্ণিত সংবাদ সাব্যস্ত হতে পারে।

আমি বলি: যদি তিনি ইকরিমাহ ও মুয়াবিয়া বিন কুররাহ থেকে বর্ণনাকারী সেই ব্যক্তি হন, তবে তিনি পরিচিত। তাঁর থেকে শু'বাহ, ওয়াকি' এবং একদল বর্ণনাকারী বর্ণনা করেছেন এবং আহমাদ ও আবু দাউদ তাঁকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন।

আন-নাসায়ী বলেছেন: তাঁর মধ্যে কোনো সমস্যা নেই।

আবু হাতিম বলেছেন: তিনি শক্তিশালী নন।

ইবনে মাঈন বলেছেন: তিনি হাদিস বর্ণনায় দুর্বল।

আল-বাইহাকী বলেছেন: এটি অন্যান্য সূত্রেও বর্ণিত হয়েছে যার সবগুলোই দুর্বল, যা আমি 'আল-মাদখাল' গ্রন্থে স্পষ্ট করেছি।

আমি বলি: তিনি এটি 'আল-মাদখাল' গ্রন্থে আসবাগ বিন মুহাম্মাদ বিন আবি মানসুরের হাদিস থেকে অসম্পূর্ণ সনদ (বালাগান) হিসেবে অনুরূপ শব্দে উদ্ধৃত করেছেন।
(খণ্ড: ১) তাজকিরাতুল মুহতাজ ইলা আহাদিসিল মিনহাজ (পৃষ্ঠা: ৩১)
ثمَّ قَالَ: رِوَايَة مُنْقَطِعَة عَن رجل مَجْهُول.

ثمَّ رَوَاهُ من طَرِيق الدَّارَقُطْنِيّ، ثمَّ من وَجه آخر ضَعِيف.

وَقَالَ: هَذَا إِسْنَاد لَا يحْتَج بِهِ.

وَقَالَ فِي كتاب الْمدْخل إِلَى دَلَائِل النُّبُوَّة: الحَدِيث الَّذِي رُوِيَ فِي عرض الحَدِيث عَلَى الْقُرْآن بَاطِل لَا يَصح.

قَالَ: وَهُوَ ينعكس عَلَى نَفسه بِالْبُطْلَانِ، فَلَيْسَ فِي الْقُرْآن دلَالَة عَلَى عرض الحَدِيث عَلَى الْقُرْآن.

[قلت: فَهَذَا الحَدِيث لَهُ طرق كَمَا ترَى.

وَمن الْأَعَاجِيب قَول بعض شرَّاح هَذَا الْكتاب: إِنَّه غير مَعْرُوف] من حَدِيث أبي هُرَيْرَة.

وَقَالَ: تفرد بِهِ صَالح الطلحي، وَهُوَ ضَعِيف لَا يحْتَج بِهِ، قَالَه الدَّارَقُطْنِيّ.

23 -‌‌ الحَدِيث الثَّالِث وَالْعشْرُونَ: حَدِيث: «خلق الله المَاء طهُورا لَا يُنجسهُ شَيْء إِلَّا مَا غلب عَلَى رِيحه وطعمه ولونه» .
এরপর তিনি বলেন: এটি একজন অজ্ঞাত ব্যক্তি থেকে বর্ণিত একটি বিচ্ছিন্ন বর্ণনা।

এরপর তিনি এটি দারাকুতনী-র সূত্রে বর্ণনা করেছেন, অতঃপর অন্য একটি দুর্বল সূত্রে।

এবং তিনি বলেছেন: এটি এমন এক সনদ যা দলিল হিসেবে গ্রহণের যোগ্য নয়।

এবং তিনি 'আল-মাদখাল ইলা দালাউলিন নুবুওয়াহ' গ্রন্থে বলেছেন: কুরআনের নিকট হাদিস পেশ করা (যাচাই করা) প্রসঙ্গে যে হাদিসটি বর্ণিত হয়েছে তা বাতিল, এটি সহিহ নয়।

তিনি বলেন: এটি নিজেই নিজের অসারতা প্রমাণ করে, কেননা কুরআনের কোথাও কুরআনের নিকট হাদিস পেশ করার কোনো প্রমাণ নেই।

[আমি বলছি: এই হাদিসটির একাধিক সূত্র রয়েছে যেমনটি আপনি দেখছেন।

এবং আশ্চর্যজনক বিষয় হলো এই গ্রন্থের কোনো কোনো ব্যাখ্যাকারকের বক্তব্য যে: এটি আবু হুরায়রা (রা.)-এর হাদিস হিসেবে পরিচিত নয়।]

এবং তিনি বলেন: সালিহ আত-তালহি এটি এককভাবে বর্ণনা করেছেন, আর তিনি দুর্বল, তার বর্ণনা দলিল হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়; এটি দারাকুতনী বলেছেন।

২৩ -‌‌ তেইশতম হাদিস: হাদিস: «আল্লাহ পানিকে পবিত্রকারী হিসেবে সৃষ্টি করেছেন, কোনো কিছুই একে অপবিত্র করে না কেবল তা ব্যতীত যা এর ঘ্রাণ, স্বাদ এবং বর্ণের ওপর প্রভাব বিস্তার করে (পরিবর্তন করে)»।
(খণ্ড: ১) তাজকিরাতুল মুহতাজ ইলা আহাদিসিল মিনহাজ (পৃষ্ঠা: ৩২)
هَذَا الحَدِيث رَوَاهُ ابْن مَاجَه من رِوَايَة أبي أُمَامَة بِلَفْظ «المَاء طهُور … » إِلَى آخِره.

وَفِي إِسْنَاده رشدين بن سعد، وَقد ضَعَّفُوهُ.

لَكِن قَالَ أَحْمد مرّة: أَرْجُو أَنه صَالح الحَدِيث:

24 -‌‌ الحَدِيث الرَّابِع وَالْعشْرُونَ: حَدِيث: «حكمي عَلَى الْوَاحِد حكمي عَلَى الْجَمَاعَة» .

هَذَا الحَدِيث لم أره بِهَذَا اللَّفْظ، وَقد توقف المُصَنّف فِي ثُبُوته.

وَأنْكرهُ الحافظان الْمزي والذهبي.

لَكِن فِي سنَن النَّسَائِيّ من حَدِيث أُمَيْمَة بنت رقيقَة رفعته: «مَا قولي لإمرأة وَاحِدَة إِلَّا كَقَوْلي لمئة امْرَأَة» .
এই হাদিসটি ইবনে মাজাহ আবু উমামা এর সূত্রে এই শব্দে বর্ণনা করেছেন: «পানি পবিত্র …» শেষ পর্যন্ত।

এবং এর বর্ণনাসূত্রে রুশদীন ইবনে সা'দ রয়েছেন, যাঁকে মুহাদ্দিসগণ দুর্বল বলেছেন।

তবে ইমাম আহমাদ একবার বলেছেন: আমি আশা করি তিনি হাদিসের ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য (সালিহুল হাদিস):

২৪ -‌‌ চব্বিশতম হাদিস: হাদিস: «একজনের প্রতি আমার বিধান বা ফয়সালা জামাত বা সমষ্টির প্রতি আমার বিধানের মতোই»।

এই হাদিসটি আমি এই শব্দে দেখিনি, এবং গ্রন্থকার এটি সাব্যস্ত হওয়ার বিষয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন।

এবং হাফেজ মিযযী ও যাহাবী একে অস্বীকার (মুনকার) করেছেন।

তবে সুনান আন-নাসায়ীতে উমাইমাহ বিনতে রুকাইকাহ এর মারফু বর্ণনায় এসেছে: «একজন নারীর প্রতি আমার কথা একশত নারীর প্রতি আমার কথার মতোই»।
(খণ্ড: ১) তাজকিরাতুল মুহতাজ ইলা আহাদিসিল মিনহাজ (পৃষ্ঠা: ৩৩)
وَرَوَاهُ التِّرْمِذِيّ بِلَفْظ «إِنَّمَا قولي لمئة امْرَأَة كَقَوْلي لامْرَأَة وَاحِدَة» .

ثمَّ قَالَ التِّرْمِذِيّ: هَذَا الحَدِيث حسن صَحِيح.

وَرَوَاهُ الإِمَام أَحْمد فِي مُسْنده باللفظين.

وَقد صَحَّ فِي الصَّحِيحَيْنِ أَنه صلى الله عليه وسلم َ قَالَ فِي خطبَته حجَّة الْوَدَاع: «هَل بلغت؟» قَالُوا: نعم، قَالَ: «فليبلغ الشَّاهِد مِنْكُم الْغَائِب، فَرب مبلغ أوعى من سامع» .

25 -‌‌ الحَدِيث الْخَامِس وَالْعشْرُونَ: حَدِيث أبي هُرَيْرَة فِي الْغسْل من ولوغ الْكَلْب سبعا.

هَذَا الحَدِيث رَوَاهُ الشَّيْخَانِ فِي صَحِيحَيْهِمَا.

وَقد خَالفه أَبُو هُرَيْرَة، فَكَانَ يغسل ثَلَاثًا، كَذَا اسْتدلَّ بِهِ المُصَنّف.

قَالَ النَّوَوِيّ فِي شرح الْمُهَذّب: وَلَيْسَ بِثَابِت عَنهُ، بل نقل ابْن الْمُنْذر عَنهُ وجوب الْغسْل سبعا.
ইমাম তিরমিযী এটি এই শব্দে বর্ণনা করেছেন: "নিশ্চয়ই একশ নারীর প্রতি আমার কথা একজন নারীর প্রতি আমার কথার মতোই।"

অতঃপর তিরমিযী বলেছেন: এই হাদীসটি হাসান সহীহ।

এবং ইমাম আহমাদ তাঁর মুসনাদে উভয় শব্দে এটি বর্ণনা করেছেন।

সহীহাইন-এ এটি সাব্যস্ত হয়েছে যে, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর বিদায় হজের ভাষণে বলেছিলেন: "আমি কি পৌঁছে দিয়েছি?" তারা বললেন: "হ্যাঁ।" তিনি বললেন: "অতএব তোমাদের মধ্যে উপস্থিত ব্যক্তি যেন অনুপস্থিত ব্যক্তির নিকট পৌঁছে দেয়, কারণ যার কাছে পৌঁছে দেওয়া হয় সে অনেক সময় শ্রবণকারীর চেয়ে অধিক সংরক্ষণকারী হয়।"

২৫ -‌‌ পঁচিশতম হাদীস: কুকুরের চাটলে সাতবার ধৌত করা সম্পর্কে আবু হুরায়রা বর্ণিত হাদীস।

এই হাদীসটি শাইখাইন (বুখারী ও মুসলিম) তাঁদের সহীহ গ্রন্থদ্বয়ে বর্ণনা করেছেন।

অথচ আবু হুরায়রা এর বিপরীত আমল করেছেন, তিনি তিনবার ধৌত করতেন; গ্রন্থকার এভাবেই এর মাধ্যমে দলিল পেশ করেছেন।

ইমাম নববী শারহুল মুহাযযাবে বলেছেন: এটি তাঁর থেকে সাব্যস্ত নয়, বরং ইবনুল মুনযির তাঁর থেকে সাতবার ধৌত করা ওয়াজিব হওয়ার বিষয়টিই বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) তাজকিরাতুল মুহতাজ ইলা আহাদিসিল মিনহাজ (পৃষ্ঠা: ৩৪)
26 -‌‌ الحَدِيث السَّادِس وَالْعشْرُونَ: قَوْله عليه الصلاة والسلام: «أَيّمَا إهَاب دبغ فقد طهر» .

هَذَا الحَدِيث صَحِيح، رَوَاهُ الشَّافِعِي وَالتِّرْمِذِيّ [وَاللَّفْظ لَهُ] وَابْن حبَان من رِوَايَة ابْن عَبَّاس كَذَلِك سَوَاء.

قَالَ التِّرْمِذِيّ: حسن صَحِيح.

وَأخرجه مُسلم فِي صَحِيحه من هَذِه الطَّرِيق بِلَفْظ: «إِذا دبغ الإهاب فقد طهر» .

وَهُوَ مَعْدُود من أَفْرَاده، وَوهم صَاحب «التنقيب عَلَى الْمُهَذّب» فَعَزاهُ إِلَى البُخَارِيّ.

وَقد بحث الشَّيْخ تَقِيّ الدَّين فِي شرح الْإِلْمَام عَن السَّبَب الَّذِي لم يُخرجهُ البُخَارِيّ بِمَا أَفْضَى إِلَى أَنه عَلَى شَرطه.

27 -‌‌ الحَدِيث السَّابِع وَالْعشْرُونَ: حَدِيث: «دباغها طهورها» فِي شَاة مَيْمُونَة.

هَذَا الحَدِيث رَوَاهُ الطَّبَرَانِيّ فِي أكبر معاجمه، وَالْبَزَّار فِي مُسْنده، وَالْبَيْهَقِيّ فِي خلافياته من حَدِيث يَعْقُوب بن عَطاء عَن أَبِيه عَن ابْن عَبَّاس
26 -‌‌ ছাব্বিশতম হাদিস: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণী: "যেকোনো পশুর চামড়া যখন পাকা করা হয়, তখন তা পবিত্র হয়ে যায়।"

এই হাদিসটি সহিহ। এটি বর্ণনা করেছেন ইমাম শাফেঈ, তিরমিজি [শব্দগুলো তাঁরই] এবং ইবনে হিব্বান ইবনে আব্বাসের বর্ণনা থেকে একইভাবে।

তিরমিজি বলেছেন: এটি হাসান সহিহ।

মুসলিম তাঁর সহিহ গ্রন্থে এই সূত্রেই এই শব্দে বর্ণনা করেছেন: "যখন চামড়া পাকা করা হয়, তখন তা পবিত্র হয়ে যায়।"

এটি মুসলিমের একক বর্ণনাগুলোর অন্তর্ভুক্ত হিসেবে গণ্য। 'আত-তানকিব আলাল মুহাজ্জাব' গ্রন্থের লেখক ভ্রমবশত একে বুখারির বর্ণনা হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

শেখ তাকিউদ্দিন 'শারহুল ইলমাম' গ্রন্থে সেই কারণটি অনুসন্ধান করেছেন কেন ইমাম বুখারি এটি বর্ণনা করেননি, যার ফলাফল এই যে এটি তাঁর (বুখারির) শর্তানুযায়ীই ছিল।

27 -‌‌ সাতাইশতম হাদিস: মায়মুনার বকরির ক্ষেত্রে বর্ণিত হাদিস: "চামড়া পাকা করাই এর পবিত্রতা।"

এই হাদিসটি তাবারানি তাঁর সর্ববৃহৎ মুজামে, বাযযার তাঁর মুসনাদে এবং বায়হাকি তাঁর খেলাফিয়্যাত গ্রন্থে ইয়াকুব ইবনে আতা সূত্রে তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) তাজকিরাতুল মুহতাজ ইলা আহাদিসিল মিনহাজ (পৃষ্ঠা: ৩৫)
رَضِيَ اللَّهُ عَنْه قَالَ: مَاتَت شَاة لميمونة فَقَالَ النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ: [أ] فَلَا استمتعتم بإهابها؟ فَإِن دباغ الْأَدِيم طهوره» .

ثمَّ قَالَ الْبَزَّار: لَا نعلم رَوَاهُ عَن يَعْقُوب بن عَطاء عَن أَبِيه عَن ابْن عَبَّاس إِلَّا شُعْبَة.

قلت: لَا يضرّهُ ذَلِك، فَإِن شُعْبَة إِمَام، وَتفرد الثِّقَة بِالْحَدِيثِ لَا يضر.

نعم الشَّأْن فِي يَعْقُوب بن عَطاء - وَهُوَ ابْن أبي رَبَاح - فقد قَالَ أَحْمد فِي حَقه: مُنكر الحَدِيث.

وَقَالَ ابْن معِين وَأَبُو زرْعَة: ضَعِيف.

وَأما ابْن حبَان فَذكره فِي الثِّقَات.

28 -‌‌ الحَدِيث الثَّامِن وَالْعشْرُونَ: قَوْله عليه الصلاة والسلام: «أَلا لَا يقتل مُسلم بِكَافِر، وَلَا ذُو عهد فِي عَهده» .

هَذَا الحَدِيث رَوَاهُ أَبُو دَاوُد من حَدِيث عَمْرو بن شُعَيْب، عَن أَبِيه، عَن جده.

وَفِي أَفْرَاد البُخَارِيّ من حَدِيث عَلّي كرم الله وَجهه الْقطعَة الأولَى من هَذَا الحَدِيث.
আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন, তিনি বলেছেন: মাইমুনার একটি ছাগল মারা গিয়েছিল, তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: «তোমরা কেন এর চামড়া দ্বারা উপকৃত হলে না? নিশ্চয়ই চামড়া পাকা করাই তার পবিত্রতা»।

অতঃপর বাযযার বলেন: শু'বা ব্যতীত ইয়াকুব ইবনে আতা থেকে, তাঁর পিতার সূত্রে, ইবনে আব্বাসের এই বর্ণনাটি অন্য কেউ বর্ণনা করেছেন বলে আমাদের জানা নেই।

আমি বলি: এটি তার জন্য কোনো ক্ষতিকর বিষয় নয়, কেননা শু'বা একজন ইমাম, আর নির্ভরযোগ্য রাবীর একক বর্ণনা কোনো ক্ষতির কারণ হয় না।

হ্যাঁ, সমস্যা হলো ইয়াকুব ইবনে আতা—যিনি ইবনে আবি রাবাহ—এর ব্যাপারে; ইমাম আহমাদ তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: তিনি মুনকারুল হাদীস।

ইবনে মাঈন ও আবু যুরআ বলেছেন: তিনি দুর্বল।

আর ইবনে হিব্বান তাঁকে নির্ভরযোগ্যদের তালিকায় উল্লেখ করেছেন।

২৮ -‌‌ আটাশতম হাদীস: তাঁর (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) বাণী: «সাবধান, কোনো কাফিরের বদলে কোনো মুসলিমকে হত্যা করা যাবে না, এবং কোনো অঙ্গীকারাবদ্ধ ব্যক্তিকে তার চুক্তিকালীন সময়ে হত্যা করা যাবে না»।

এই হাদীসটি আবু দাউদ আমর ইবনে শুয়াইব থেকে, তাঁর পিতা ও তাঁর দাদার সূত্রে বর্ণনা করেছেন।

আর ইমাম বুখারীর একক বর্ণনাসমূহের মধ্যে আলীর (আল্লাহ তাঁর চেহারাকে মর্যাদাপূর্ণ করুন) হাদীস থেকে এই হাদীসের প্রথম অংশটি বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) তাজকিরাতুল মুহতাজ ইলা আহাদিসিল মিনহাজ (পৃষ্ঠা: ৩৬)
وَوهم بعض العصريين، فَجَعلهَا من الْمُتَّفق عَلَيْهِ، فاجتنبه.

29 -‌‌ الحَدِيث التَّاسِع وَالْعشْرُونَ: حَدِيث: «رفع عَن أمتِي الْخَطَأ وَالنِّسْيَان وَمَا اسْتكْرهُوا عَلَيْهِ» .

رَوَاهُ ابْن مَاجَه، لَكِن بِلَفْظ «وضع» بدل «رفع» من حَدِيث ابْن عَبَّاس.

وَصَححهُ ابْن حبَان وَالْحَاكِم وَقَالَ: عَلَى شَرط الشَّيْخَيْنِ، وَلَفْظهمَا «تجَاوز الله عَن أمتِي الْخَطَأ … » إِلَى آخِره.

وَاعْلَم أَن لَفظه [لفظ] «رفع» فِي هَذَا الحَدِيث تَعب عَلَيْهَا بعض الْفُقَهَاء الشاميين، وَقَالَ: إِنَّه لم يرهَا، وَسَأَلَ عَنْهَا بعض الحفّاظ فِي ذَلِك، فَكتب ورقة، وَلم يذكرهُ فِيهَا بِهَذَا اللَّفْظ، واستفدت أَنْت أَن ابْن عدي رَوَاهَا من حَدِيث جَعْفَر بن جسر بن فرقد، حَدثنِي أبي، عَن الْحسن، عَن
বর্তমান যুগের কেউ কেউ ভ্রান্ত ধারণার শিকার হয়েছেন এবং একে সর্বসম্মত (মুত্তাফাকুন আলাইহি) হাদিস হিসেবে গণ্য করেছেন, সুতরাং তা বর্জন করুন।

২৯ -‌‌ ঊনত্রিশতম হাদিস: হাদিস: "আমার উম্মতের ভুলভ্রান্তি, বিস্মৃতি এবং যে বিষয়ের ওপর তাদের বাধ্য করা হয়েছে, তা তুলে নেওয়া হয়েছে।"

এটি ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেছেন, তবে ইবনে আব্বাসের হাদিসে 'তুলে নেওয়া' শব্দের পরিবর্তে 'ছেড়ে দেওয়া' শব্দে বর্ণিত হয়েছে।

একে ইবনে হিব্বান ও হাকেম সহিহ বলেছেন এবং হাকেম বলেছেন: এটি শাইখাইনের (বুখারি ও মুসলিম) শর্তানুযায়ী সহিহ। আর তাঁদের উভয়ের শব্দ হলো "আল্লাহ আমার উম্মতের ভুলভ্রান্তি ..." শেষ পর্যন্ত।

জেনে রাখুন যে, এই হাদিসে 'তুলে নেওয়া' শব্দটির ব্যবহারের ব্যাপারে শামের কিছু ফকিহ অনুসন্ধান করতে গিয়ে ক্লান্ত হয়েছেন এবং বলেছেন যে, তিনি এটি দেখেননি। তিনি এ বিষয়ে কিছু হাফেজকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, তখন তিনি একটি পত্র লিখেছিলেন কিন্তু তাতে এই শব্দে হাদিসটি উল্লেখ করেননি। আর আপনি জানতে পেরেছেন যে, ইবনে আদি এটি জাফর ইবনে জিসর ইবনে ফারকাদ-এর হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার পিতা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি হাসান থেকে, তিনি...