(খণ্ড: ১)
উম্মুল মুমিনীন খাদীজা বিনতে খুওয়াইলিদ
(পৃষ্ঠা: -)
أم المؤمنين خديجة بنت خويلد (خالد الحمودي)
القسم: التراجم والطبقات
الكتاب: أم المؤمنين خديجة بنت خويلد
المؤلف: خالد الحمودي
الناشر: دار القاسم
عدد الصفحات: 15
[الكتاب مرقم آليا غير موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ربيع الآخر 1433
উম্মুল মুমিনীন খাদিজা বিনতে খুয়াইলিদ (খালিদ আল-হামুদি)
বিভাগ: জীবনী ও স্তরসমূহ
বই: উম্মুল মুমিনীন খাদিজা বিনতে খুয়াইলিদ
লেখক: খালিদ আল-হামুদি
প্রকাশক: দারুল কাসিম
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৫
[বইটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত যা মুদ্রিত সংস্করণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়]
শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ রবিউস সানি ১৪৩৩
(খণ্ড: ১)
উম্মুল মুমিনীন খাদীজা বিনতে খুওয়াইলিদ
(পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم مقدمةالحمد لله رب العالمين والصلاة والسلام على نبينا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين، وبعد:فحريُّ بالمسلم والمسلمة معرفة أصحاب الفضل ممن صحبوا رسول الله صلى الله عليه وسلم، وأقاموا معه وجاهدوا في سبيل الله وصبروا على المشقة والعنت والأذى، والضيق لرفعة راية هذا الدين.وممن لهم قدم صدق وجهاد معلوم أم المؤمنين خديجة بنت خويلد! فيا ترى من هي هذه الأم الفاضلة؟ نسبها وولادتها:كان والدها خويلد بن نوفل زعيم بني أسد بن عبد العزى شقيق عبد مناف وخليفته .. إليه ينتهي الفضل والكرم والسيادة بين قومه وعشيرته يطيعونه ويهابونه ويحترمون رأيه ويقدرونه.ولقد حفظت قريش له شجاعته عندما تصدى له تبع ملك اليمن حين أراد أن يحمل معه الحجر الأسود إلى بلاده فمنعه من ذلك فنصبته قريش زعيمًا عليها لا ينازعه في ذلك أحد.وكان له أخ اسمه (ورقة) اشتهر بين الناس بالحكمة وسداد الرأي وهو أحد أربعة خاصموا قريشًا في وثنيتها وعبادتها للأصنام ولما لم تستجب لهم اعتزلوها وما تعبد من دون الله.ولادتها:تزوج خويلد من فاطمة بنت زائدة بن الأحم القرشية - أجمل
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে ভূমিকাসমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নবী মুহাম্মদ (সা.), তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সঙ্গীর ওপর। অতঃপর:প্রত্যেক মুসলিম নর-নারীর জন্য সেই সকল মর্যাদাবান ব্যক্তিদের পরিচয় জানা আবশ্যক যারা রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সাহচর্য লাভ করেছেন, তাঁর সাথে অবস্থান করেছেন, আল্লাহর পথে জিহাদ করেছেন এবং এই দ্বীনের পতাকাকে সমুন্নত করতে সব ধরণের কষ্ট, ক্লেশ, নির্যাতন ও সংকীর্ণতার ওপর ধৈর্য ধারণ করেছেন।আর যাদের সত্যনিষ্ঠ অবস্থান এবং সুবিদিত জিহাদ রয়েছে, তাদের অন্যতম হলেন উম্মুল মুমিনীন খাদিজা বিনতে খুওয়ায়লিদ! দেখা যাক, কে ছিলেন এই মহীয়সী মা? তাঁর বংশ পরিচয় ও জন্ম:তাঁর পিতা খুওয়ায়লিদ ইবনে নাওফাল ছিলেন বনু আসাদ ইবনে আবদিল উযযার নেতা, যিনি আবদে মানাফের সহোদর ও প্রতিনিধি ছিলেন। তাঁর কওম ও গোত্রের মধ্যে মর্যাদা, বদান্যতা এবং নেতৃত্ব তাঁর মাধ্যমেই পূর্ণতা পেত; তারা তাঁর আনুগত্য করত, তাঁকে শ্রদ্ধা করত এবং তাঁর মতামতকে সম্মান ও মূল্যায়ন করত।কুরাইশরা তাঁর বীরত্বের কথা স্মরণ রাখত যখন তিনি ইয়ামেনের রাজা তুব্বাউ-এর মোকাবিলা করেছিলেন, যখন রাজা হাজরে আসওয়াদকে নিজ দেশে নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন। তিনি তাকে বাধা দিয়েছিলেন, যার ফলে কুরাইশরা তাঁকে তাদের নেতা নিযুক্ত করেছিল এবং কেউ এ বিষয়ে তাঁর সাথে দ্বিমত করেনি।তাঁর এক ভাই ছিলেন যার নাম (ওয়ারাকা), যিনি মানুষের মাঝে হিকমত এবং প্রাজ্ঞ মতামতের জন্য সুপরিচিত ছিলেন। তিনি ছিলেন সেই চারজন ব্যক্তির একজন যারা কুরাইশদের পৌত্তলিকতা ও মূর্তিপূজার বিরোধিতা করেছিলেন। যখন কুরাইশরা তাদের কথা শুনল না, তখন তারা তাদের থেকে এবং আল্লাহ ব্যতীত তারা যাদের ইবাদত করত তাদের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলেন।তাঁর জন্ম:খুওয়ায়লিদ ফাতিমা বিনতে যায়িদা ইবনুল আহাম আল-কুরাইশিয়ার সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন - যিনি ছিলেন অত্যন্ত সুন্দরী...
(খণ্ড: ১)
উম্মুল মুমিনীন খাদীজা বিনতে খুওয়াইলিদ
(পৃষ্ঠা: ৬)
سيدات مكة - وأكثرهن صباحة وجه، وروعة حسن، فولدت له خديجة رضي الله عنها فكانت صورة عن والدتها إذ ورثت عنها الجمال الرائع والحسن الفتان، كما ورثت عن والدها خويلد الحزم والذكاء، واكتسبت من عمها ورقة العلم والحكمة. نشأتها:نشأت خديجة رضي الله عنه في بيت طاهر كريم مترف، ولما بلغت الخامسة عشر من عمرها خطبها (أبو هالة بن زرارة) مفتي قومه بني تميم وأكثرهم مالاً وأوسعهم ثراء ..فعاشت معه تقدره ويقدرها، وولدت له بنتين هما هالة وهند .. ولكن عجل القدر بوفاة الأب قبل أن تشب الطفلتان عن الطوق، وخلف لأسرته ثروة طائلة وتجارة رائجة رابحة.ولما عرف عن خديجة رضي الله عنها من حسن وخلق، تنافس فتيان العرب على الاقتران بها، وفاز من بينهم عتيق بن عائد المخزومي.وكان القدر بالمرصاد أيضًا، فلم يدع الزوجين يهنأن وينعمان، فاختطفت يد المنون عتيقًا دون أن ينجب ولدًا. في ميدان التجارة:انتقل عتيق إلى الدار الآخرة، وقد خلف لزوجته مالاً وخيرًا وثروة عريضة وتجارة واسعة فقامت على إدارتها وتوجيهها بما أبدته من خبرة ومعرفة وذكاء واستطاعت أن تمضي في دروب الحياة وتشقها بمنتهى الحكمة والفطنة، وكانت كلما تقدم إليها خاطب
মক্কার নারীদের মধ্যে - এবং তাদের মধ্যে সবচেয়ে উজ্জ্বল চেহারা ও চমৎকার সৌন্দর্যের অধিকারিণী; তিনি তাঁর জন্য খাদিজা রাদিয়াল্লাহু আনহাকে জন্ম দেন। ফলে তিনি ছিলেন তাঁর মাতার প্রতিচ্ছবি। কেননা তিনি তাঁর থেকে চমৎকার রূপ ও মনোমুগ্ধকর সৌন্দর্য উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছিলেন, যেমনটি তিনি তাঁর পিতা খুওয়াইলিদের থেকে দৃঢ় সংকল্প ও বুদ্ধিমত্তা এবং তাঁর চাচা ওয়ারাকার থেকে জ্ঞান ও প্রজ্ঞা লাভ করেছিলেন। তাঁর বেড়ে ওঠা:খাদিজা রাদিয়াল্লাহু আনহা একটি পবিত্র, অভিজাত ও সচ্ছল গৃহে লালিত-পালিত হন। যখন তিনি পনেরো বছর বয়সে পৌঁছালেন, তখন তাঁর গোত্র বনী তামীমের মুফতি এবং তাদের মধ্যে সবচেয়ে সম্পদশালী ও প্রভাবশালী ব্যক্তি (আবু হালা বিন যুরারা) তাঁর পাণিপ্রার্থনা করেন।তিনি তাঁর সাথে বসবাস শুরু করেন, তিনি তাঁকে শ্রদ্ধা করতেন এবং তিনিও তাঁকে সম্মান করতেন। তাঁর ঔরসে দুই কন্যা হালা ও হিন্দ জন্মগ্রহণ করেন। কিন্তু দুই কন্যাসন্তান বড় হওয়ার আগেই নিয়তি পিতার মৃত্যু ত্বরান্বিত করল এবং তিনি তাঁর পরিবারের জন্য বিপুল ধন-সম্পদ ও এক রমরমা ও লাভজনক ব্যবসা রেখে গেলেন।যখন খাদিজা রাদিয়াল্লাহু আনহার রূপ-লাবণ্য ও সচ্চরিত্রের কথা জানাজানি হলো, তখন আরব যুবকরা তাঁকে জীবনসঙ্গিনী হিসেবে পাওয়ার জন্য প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হলো। তাদের মধ্যে আতিক বিন আইদ আল-মাখযুমি জয়ী হলেন।কিন্তু নিয়তি এখানেও ওত পেতে ছিল, সে এই দম্পতিকে সুখ ও শান্তিতে থাকতে দিল না। কোনো সন্তান হওয়ার আগেই মৃত্যুর হাত আতিককে ছিনিয়ে নিল। ব্যবসার ময়দানে:আতিক পরলোকে গমন করলেন এবং তাঁর স্ত্রীর জন্য বিপুল সম্পদ, কল্যাণ ও বিশাল এক ব্যবসা রেখে গেলেন। ফলে তিনি নিজের অভিজ্ঞতা, জ্ঞান ও মেধা প্রয়োগ করে সেই ব্যবসার ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি অত্যন্ত প্রজ্ঞা ও বিচক্ষণতার সাথে জীবনের পথে এগিয়ে যেতে এবং পথ তৈরি করতে সক্ষম হলেন। আর যখনই কোনো পাণিপ্রার্থী তাঁর কাছে আসত...
(খণ্ড: ১)
উম্মুল মুমিনীন খাদীজা বিনতে খুওয়াইলিদ
(পৃষ্ঠা: ৭)
ردته بأدب ولباقة .. عازفة عن الزواج: لأنها قد مرت من قبل بتجربتين مريرتين.لقد عملت خديجة رضي الله عنها في ميدان التجارة واستطاعت أن تؤسس في مكة بيتًا ضخمًا أصبح من بعد علمًا عليها، يعرف بها ورحلت قوافلها تمضي مصعدة إلى الشام أو هابطة نحو اليمن .. تغزو الأسواق تحمل منها ما يدر عليها الربح الوفير والمال الكثير. الطاهرة (سيدة قريش):لكن شهرتها رضي الله عنها لم تقف عند حد المال والجمال .. بل تعدت ذلك إلى سيرتها التي كانت نبراسًا لكل فتاة ولكل أم، فعُرفت بين القاصي والداني بلقبي (الطاهرة) و (سيدة قريش) وكانت يد العناية الإلهية هي التي تحرك وتصرف.وتعد خديجة لأن تكون بعد زمن يسير المسلمة الأولى .. وأم المؤمنين الأولى .. وسيدة نساء العالمين .. والزوجة المجاهدة الصابرة. الأمين على تجارة خديجة:كان الأمين صلى الله عليه وسلم حديث الناس في مكة بللا استثناء صفاته وأخلاقه ويحترمون أمانته وورعه، ويكبرون صدقه وصواب رأيه.ولقد ترك كل ذلك في نفوس القرشيين عمومًا والمكيين خصوصًا انطباعًا في تقديره واحترامه صلى الله عليه وسلم.وكانت خديجة بنت خويلد ممن يسمعون أخباره وأنباءه ويصغون إليها بإعجاب مشوق بلهفة، وكثيرًا ما حدثها بذلك
তিনি ভদ্রতা ও সৌজন্যের সাথে তাকে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন.. বিবাহে বিমুখ হয়ে: কারণ তিনি এর আগে দুটি তিক্ত অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গিয়েছিলেন।খাদিজাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহা) ব্যবসার ক্ষেত্রে কাজ করতেন এবং মক্কায় একটি বিশাল প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছিলেন যা পরবর্তীতে তার পরিচায়ক হয়ে ওঠে এবং যা তার নামেই পরিচিতি লাভ করে। তার বাণিজ্যিক কাফেলাগুলো শামের দিকে যাত্রা করত অথবা ইয়ামানের দিকে যেত.. বাজারগুলোতে আধিপত্য বিস্তার করত এবং সেখান থেকে প্রচুর মুনাফা ও অঢেল সম্পদ বয়ে আনত। আত-তাহিরা (কুরাইশদের নেত্রী):কিন্তু তার (রাযিয়াল্লাহু আনহা) খ্যাতি কেবল সম্পদ ও সৌন্দর্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি.. বরং তা ছাড়িয়ে গিয়েছিল তার জীবনচরিত পর্যন্ত যা প্রতিটি তরুণী ও প্রতিটি মায়ের জন্য ছিল এক উজ্জ্বল আলোকবর্তিকা। ফলে তিনি দূর-নিকট সবার কাছে 'আত-তাহিরা' (পবিত্রা) এবং 'সাইয়্যিদাতু কুরাইশ' (কুরাইশদের নেত্রী) উপাধিতে পরিচিতি লাভ করেছিলেন। আর আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহের হাতই ছিল যা সবকিছু পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ করছিল।অল্প সময় পরেই খাদিজাহ প্রস্তুত হচ্ছিলেন প্রথম মুসলিম নারী.. প্রথম উম্মুল মুমিনীন.. বিশ্ব নারী জগতের নেত্রী.. এবং জিহাদকারী ও ধৈর্যশীল স্ত্রী হওয়ার জন্য। খাদিজাহর ব্যবসায় আল-আমিন:আল-আমিন (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মক্কায় মানুষের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন, ব্যতিক্রমহীনভাবে সবাই তার গুণাবলী ও চরিত্রের প্রশংসা করত। তারা তার আমানতদারী ও পরহেজগারির প্রতি সম্মান প্রদর্শন করত এবং তার সততা ও সঠিক মতামতের কদর করত।এ সবকিছুই সাধারণভাবে কুরাইশদের এবং বিশেষভাবে মক্কাবাসীদের মনে তাকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মূল্যায়ন ও সম্মান করার ব্যাপারে একটি গভীর প্রভাব ফেলেছিল।খাদিজাহ বিনতে খুওয়াইলিদ ছিলেন তাদের একজন যারা তার সংবাদ ও ঘটনাবলী শুনতেন এবং গভীর আগ্রহ ও আকুলতার সাথে সেদিকে কান পাততেন, আর অনেকেই তাকে এ বিষয়ে জানাতেন।
(খণ্ড: ১)
উম্মুল মুমিনীন খাদীজা বিনতে খুওয়াইলিদ
(পৃষ্ঠা: ৮)
خزيمة ابن عمها صديق (محمد) ورفيقه، وتحركت في أعماق نفسها مشاعرها وأحاسيسها.فوجدت ذاتها يومًا ترسل رسولاً إلى أبي طالب تعرض عليه عرضًا سخيًا مقابل أن يتولى محمد الأمين أمر تجارتها وقوافلها المحملة بمختلف البضائع والعروض .. ورضي محمد بذلك واستبشر خيرًا بأفق جديد ينفتح في آفاق الحياة الرحبة وتهيأ للرحيل لكن (أبا طالب) كان شديد القلق على ابن أخيه الذي وصاه به خيرًا الراهب بحيرا فأتى إلى ميسرة غلام (خديجة) يحذره ويوصيه بمحمد وإزاء ذلك تركز اهتمام ميسرة على محمد صلى الله عليه وسلم يراقبه ويرعاه، تنفيذًا لوصية أبي طالب ولقد رأى ميسرة من أمر محمد العجب العجاب.شخصية خارقة، وخلق دمث، وكلمة متزنة، ومشية كلها وقار، وحديث كله عذوبة وأمانة ما بعدها، وصدق بالغ وحنكة ودراية يعجز عنها فحول التجار، ورأى ما لا يمكن أن يستهان به، أو يمر به مرور الكرام.رأى السماء تظله بظلالها حين يشتد لهيب الشمس وغمامة تتبعه في تنقلاته وتحركاته لتحميه من القيظ الشديد، وعندما آوى مرة إلى شجرة ليستريح في بعض ظلها أورقت .. واخضرت وزهت. لقد كان ما يراه ميسرة من أمر محمد صلى الله عليه وسلم غير مألوف بالنسبة إلى الناس فازداد حرصه الشديد عليه ورعايته له في الحل والترحال.
খুজাইমা তার চাচাতো ভাই (মুহাম্মাদের) বন্ধু ও সাথী ছিলেন, আর তাঁর হৃদয়ের গহীন কোণে আবেগ ও অনুভূতিসমূহ আলোড়িত হলো।অতঃপর একদিন তিনি নিজেকে এমন অবস্থায় পেলেন যে, তিনি আবু তালিবের নিকট একজন সংবাদবাহক পাঠালেন এবং তাঁর নিকট একটি উদার প্রস্তাব পেশ করলেন যাতে আল-আমিন মুহাম্মাদ তাঁর ব্যবসা এবং বিভিন্ন পণ্যসামগ্রী ও মালামালে বোঝাই কাফেলাসমূহের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন... মুহাম্মাদ এতে রাজী হলেন এবং জীবনের প্রশস্ত দিগন্তে উন্মোচিত হওয়া এক নতুন সম্ভাবনার শুভ সংবাদে আনন্দিত হলেন এবং যাত্রার জন্য প্রস্তুতি নিলেন। কিন্তু (আবু তালিব) তাঁর ভ্রাতুষ্পুত্রের ব্যাপারে অত্যন্ত চিন্তিত ছিলেন, যাঁর সম্পর্কে সন্ন্যাসী বুহাইরা তাঁকে সদুপদেশ দিয়েছিলেন। তাই তিনি (খাদিজার) গোলাম মাইসারার নিকট আসলেন এবং তাঁকে মুহাম্মাদের ব্যাপারে সতর্ক করলেন ও অসিয়ত করলেন। এর প্রেক্ষিতে আবু তালিবের অসিয়ত পালনার্থে মাইসারা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি তাঁর মনোযোগ নিবদ্ধ করলেন, তাঁকে পর্যবেক্ষণ করতে লাগলেন এবং তাঁর দেখাশোনা করতে লাগলেন। আর মাইসারা মুহাম্মাদের বিষয়ে এক পরম বিস্ময়কর ও নজিরবিহীন ব্যাপার লক্ষ্য করলেন।এক অসাধারণ ব্যক্তিত্ব, অমায়িক চরিত্র, ভারসাম্যপূর্ণ কথাবার্তা, গাম্ভীর্যপূর্ণ চালচলন এবং অত্যন্ত মাধুর্যপূর্ণ আলাপের পাশাপাশি অতুলনীয় আমানতদারি; সেই সাথে প্রখর সত্যবাদিতা, বিচক্ষণতা ও এমন প্রজ্ঞা যা বড় বড় ব্যবসায়ীদের ক্ষেত্রেও দুর্লভ। তিনি এমন কিছু লক্ষ্য করলেন যা কোনোভাবেই অবজ্ঞা করা সম্ভব নয় কিংবা যা সাধারণ কোনো বিষয় হিসেবে এড়িয়ে যাওয়া যায় না।তিনি দেখলেন যে, যখন সূর্যের উত্তাপ তীব্র হয়, তখন আকাশ তাঁর ওপর ছায়া বিস্তার করে এবং মেঘমালা তাঁর যাতায়াত ও চলাচলের সময় তাঁকে অনুসরণ করে যাতে তীব্র দাবদাহ থেকে তাঁকে রক্ষা করা যায়। আর যখন তিনি একবার একটি গাছের নিচে বিশ্রাম নেওয়ার জন্য আশ্রয় নিলেন, তখন সেটি পত্রপল্লবে সুশোভিত হলো... এবং তা সবুজ ও সজীব হয়ে উঠল। মাইসারা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বিষয়ে যা দেখছিলেন তা সাধারণ মানুষের অভিজ্ঞতার ঊর্ধ্বে ছিল; ফলে অবস্থানকালে এবং ভ্রমণে তাঁর প্রতি মাইসারার প্রগাঢ় যত্ন ও সতর্কতা আরও বৃদ্ধি পেল।
(খণ্ড: ১)
উম্মুল মুমিনীন খাদীজা বিনতে খুওয়াইলিদ
(পৃষ্ঠা: ৯)
العودة الميمونة:عندما عادت القافلة إلى البلد الحرام مكة المكرمة وقد ربحت بضاعتها وكثرت عليها وكان ربحها كثيرًا وفيرًا .. وعندما أذن مؤذن العير بالوصول فاقت خديجة رضي الله عنها على غير عادتها إلى سطح دارها تراقب القافلة، واللهفة بادية على وجهها.وبكلمة وجيزة وأدب جم ووقار باسم أمضى (محمد) إلى (خديجة) بوقائع الرحلة وبعد انصرافه صلى الله عليه وسلم من عندها حدثها غلامها ميسرة عن البيع والشراء الوفير الذي يفوق أضعاف ما كانت تكسبه في المرات السابقة .. صفى ميسرة بين يدي سيدته شئون القافلة المالية، و (خديجة) رضي الله عنها في كل ذلك سماعة له مصغية بأذنيها وعواطفها تستزيده وسرح بها خيالها فكان قلبها يزداد خفقانًا ويضج بين جوانبها. بين الواقع والرؤيا:وقد رأت رضي الله عنها في منامها الشمس عظيمة مضيئة مشرقة .. أشد ما يكون الضوء جلالاً وجمالاً وسطوعًا تهبط إلى دارها من سماء (مكة) فيغمر ضؤوها ما يحيط به من أماكن وبقاع.فسعت إلى ابن عمها (ورقة بن نوفل) تحدثه بذلك فقال لها: لك البشرى يا خديجة يا ابنة العم .. فهذه الشمس المضيئة علامة على قرب مجيء النبي الذي أظل زمانه .. ودخولها في ذلك دليل على أنك التي ستتزوجين منه.
বরকতময় প্রত্যাবর্তন:যখন কাফেলাটি তার পণ্যদ্রব্যে লাভবান হয়ে এবং প্রচুর মুনাফা নিয়ে পবিত্র নগরী মক্কায় ফিরে এল... এবং যখন কাফেলার আগমন ঘোষণা করা হলো, তখন খাদিজা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) তাঁর চিরাচরিত অভ্যাসের বিপরীতে নিজ ঘরের ছাদে উঠে কাফেলার প্রতীক্ষা করতে লাগলেন, আর তাঁর চেহারায় ব্যাকুলতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল।সংক্ষিপ্ত কথা, অত্যন্ত শিষ্টাচার এবং গাম্ভীর্যপূর্ণ স্মিতহাস্যে (মুহাম্মদ) (খাদিজা)-র নিকট সফরের ঘটনাবলি বর্ণনা করলেন। তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রস্থানের পর, তাঁর গোলাম মায়সারা তাঁকে সেই বিপুল ক্রয়-বিক্রয় সম্পর্কে অবহিত করল যা পূর্ববর্তী সময়ের তুলনায় বহুগুণ বেশি ছিল... মায়সারা তাঁর কর্ত্রীর সামনে কাফেলার আর্থিক বিষয়াদি বুঝিয়ে দিল, আর (খাদিজা) (রাদিয়াল্লাহু আনহা) অত্যন্ত মনোযোগ সহকারে তাঁর কথা শুনছিলেন এবং তাঁর আবেগ আরও জানার জন্য উন্মুখ ছিল। তাঁর কল্পনা তাঁকে আচ্ছন্ন করে ফেলল, ফলে তাঁর হৃদস্পন্দন বৃদ্ধি পেতে লাগল এবং তাঁর অন্তরাত্মায় এক আলোড়ন সৃষ্টি হলো। বাস্তবতা ও স্বপ্নের মাঝে:তিনি (রাদিয়াল্লাহু আনহা) স্বপ্নে এক বিশাল, উজ্জ্বল ও প্রদীপ্ত সূর্য দেখেছিলেন... যার আলো ছিল অত্যন্ত মহিমান্বিত, সুন্দর ও প্রখর; যা (মক্কা)-র আকাশ থেকে তাঁর ঘরে নেমে আসছিল এবং সেই আলো চারপাশের সকল স্থান ও অঞ্চলকে প্লাবিত করে দিচ্ছিল।অতঃপর তিনি তাঁর চাচাতো ভাই (ওয়ারাফা ইবনে নাওফাল)-এর কাছে ছুটে গেলেন এবং তাঁকে বিষয়টি জানালেন। তিনি বললেন: হে খাদিজা, হে চাচাতো বোন, তোমার জন্য সুসংবাদ... এই উজ্জ্বল সূর্য সেই নবীর আগমনের নিকটবর্তী সময়ের লক্ষণ, যাঁর সময় সমাগত। আর সূর্যের তোমার ঘরে প্রবেশ এই কথার দলিল যে, তুমিই তাঁর সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হবে।
(খণ্ড: ১)
উম্মুল মুমিনীন খাদীজা বিনতে খুওয়াইলিদ
(পৃষ্ঠা: ১০)
رجع الرؤيا:فكرت في ذلك مليًا، ثم استقرت على قرار، مضت إلى دار ابن عمها ورقة وحدثته من جديد بحديث ميسرة عن (محمد) والغمام الذي كان يظله في تنقلاته يحميه من وهج الشمس ولفحها وآذاها .. فهتف ورقة قدوس .. قدوس .. لقد قرب الأوان، واستدار الزمان، وآن له أن يشهد الآية الكربى وأبدت (خديجة) رغبتها لابن عمها بالاقتران من (محمد بن عبد الله) فوافقها.وغادرت إلى دار هاشم ثم أرسلت نفيسة إلى محمد صلى الله عليه وسلم تذكرها عنده وتعرض عليه نفسها، فقال صلى الله عليه وسلم لنفيسة:- ما بيدي ما أتزوج به ..- قالت: فإن كفيت ذلك .. ودعيت إلى الجمال والشرف .. ألا تجيب؟- قال: فمن هي؟- قالت: خديجة.- قال: خديجة بنت خويلد.- قالت: نعم.- قال في ابتهاج: وكيف لي بذلك؟- قالت: أنا أفعل.- فقال صلى الله عليه وسلم: وأنا رضيت. الزواج الميمون:عمت الفرحة بيوت الهاشميين، وتناقل الناس النبأ العظيم
দর্শনের প্রতিফলন:তিনি এ নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করলেন, অতঃপর একটি সিদ্ধান্তে উপনীত হলেন। তিনি তাঁর চাচাতো ভাই ওয়ারাকার বাড়িতে গেলেন এবং তাঁকে পুনরায় মাইসারার বর্ণিত (মুহাম্মদ)-এর সংবাদ এবং সেই মেঘমালা সম্পর্কে জানালেন, যা তাঁর যাতায়াতের পথে তাঁকে ছায়া দিত এবং সূর্যের প্রখর উত্তাপ ও দহন থেকে রক্ষা করত। তখন ওয়ারাকা উচ্চস্বরে বলে উঠলেন, 'পবিত্র, অতি পবিত্র... সময় ঘনিয়ে এসেছে, কালচক্র আবর্তিত হয়েছে এবং এখন তাঁর মহান নিদর্শন প্রত্যক্ষ করার সময় সমাগত।' এবং (খাদিজা) তাঁর চাচাতো ভাইয়ের কাছে (মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ)-র সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার ইচ্ছা ব্যক্ত করলেন, আর তিনি তাতে সম্মতি দিলেন।অতঃপর তিনি হাশেমের আবাসে গমন করলেন এবং নাফিসাকে মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট পাঠালেন তাঁর কথা স্মরণ করিয়ে দিতে এবং বিয়ের প্রস্তাব পেশ করতে। তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নাফিসাকে বললেন:- আমার হাতে এমন কিছু নেই যা দিয়ে আমি বিবাহ করব...- নাফিসা বললেন: যদি আপনার জন্য সেই ব্যবস্থা করে দেওয়া হয় এবং আপনাকে রূপ-লাবণ্য ও আভিজাত্যের দিকে আহ্বান করা হয়, তবে কি আপনি সাড়া দেবেন না?- তিনি বললেন: তিনি কে?- নাফিসা বললেন: খাদিজা।- তিনি বললেন: খাদিজা বিনতে খুওয়াইলিদ?- নাফিসা বললেন: হ্যাঁ।- তিনি আনন্দের সাথে বললেন: আমার জন্য তা কীভাবে সম্ভব?- নাফিসা বললেন: আমি তা সম্পন্ন করব।- অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: আমি সম্মত হলাম। কল্যাণময় বিবাহ:হাশেমী বংশের ঘরগুলোতে আনন্দ ছড়িয়ে পড়ল এবং মানুষেরা এই মহান সংবাদ একে অপরের নিকট পৌঁছে দিতে লাগল।
(খণ্ড: ১)
উম্মুল মুমিনীন খাদীজা বিনতে খুওয়াইলিদ
(পৃষ্ঠা: ১১)
وتقدم: (أبو طالب) يفتتح الحفل بالخطبة. فقال: الحمد لله الذي جعلنا من ذرية إبراهيم وزرع إسماعيل وجعل لنا بيتًا محجوبًا وحرمًا آمنًا، وجعلنا حكامًا على الناس.أما بعد .. فإن ابن أخي هذا (محمد بن عبد الله) لا يوزن برجل إلا رجح به شرفًا ونبلاً وفضلاً وعقلا، وإذا كان في المال كل فإن المال ظل زائل وأمر حائل.و(محمد) من قد عرفتم قرابته وقد خطب (خديجة بنت خويلد) وبذل ما عاجله خمسمائة درهم وهو والله بعد هذا له نبأ عظيم وخطر جليل جسيم.ثم تكلم ورقة بن نوفل ابن عم خديجة فقال:الحمد لله الذي جعلنا كما ذكرت وفضلنا على ما عددت، فنحن سادة العرب وقادتها وأنتم أهل ذلك كله، لا تنكر العشيرة فضلكم، ولا يرد أحد عن الناس فخركم وشرفكم وقد غبنا في الاتصال بحيلكم وشرفكم فاشهدوا علي يا معشر قريش بأني قد زوجت (خديجة بنت خويلد) من (محمد بن عبد الله) على الصداق المسمى. ثم سكت .. فقال له أبو طالب قد أحببت أن يشركك عمها، فقام عمرو بن أسد فقال: اشهدوا علي يا معشر قريش أني قد أنكحت (محمد بن عبد الله) (خديجة بنت خويلد) فهو والله الفحل الذي لا يقرع أنفه .. ثم احتفل بالزفاف وأمرت خديجة مواليها أن يضربن بالدفوف ويغنين، وقال أبو طالب: الحمد لله الذي أذهب عنا الكرب ودفع عنا الغموم .. وتأسس البيت النبوي الكريم.
এরপর (আবু তালিব) সামনে এগিয়ে এলেন এবং ভাষণের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা করলেন। তিনি বললেন: সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদের ইব্রাহিমের বংশধর ও ইসমাইলের সন্তান হিসেবে সৃষ্টি করেছেন এবং আমাদের জন্য একটি সংরক্ষিত ঘর ও নিরাপদ হারম (পবিত্র এলাকা) নির্ধারণ করেছেন এবং আমাদের মানুষের ওপর শাসনকর্তা বানিয়েছেন।অতঃপর... আমার এই ভ্রাতুষ্পুত্র (মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহর) সাথে অন্য কোনো ব্যক্তির তুলনা করা হলে শরাফত, মহানুভবতা, মর্যাদা ও বুদ্ধিমত্তার দিক থেকে সে-ই শ্রেষ্ঠ বিবেচিত হবে। যদিও সম্পদের দিক থেকে সে স্বল্প, কিন্তু সম্পদ তো একটি ক্ষণস্থায়ী ছায়া এবং পরিবর্তনশীল বিষয় মাত্র।আর (মুহাম্মাদ), যাঁর আত্মীয়তার সম্পর্ক আপনারা জানেন, তিনি (খাদিজাহ বিনতে খুওয়াইলিদকে) বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছেন এবং নগদ মোহর হিসেবে পাঁচশ দিরহাম প্রদান করেছেন। আল্লাহর শপথ, এর পরে তাঁর এক মহান সংবাদ এবং এক অত্যন্ত উচ্চ ও গুরুত্বপূর্ণ মর্যাদা রয়েছে।এরপর খাদিজার চাচাতো ভাই ওয়ারাকা বিন নাওফাল কথা বললেন। তিনি বললেন:সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদের তেমনটিই বানিয়েছেন যেমনটি আপনি উল্লেখ করেছেন এবং আপনি যা বর্ণনা করেছেন তার ওপর আমাদের শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন। আমরা আরবদের সরদার ও নেতা, আর আপনারাও এই সবকিছুর যোগ্য। আত্মীয়-স্বজন আপনাদের শ্রেষ্ঠত্ব অস্বীকার করে না এবং মানুষের মধ্য থেকে কেউ আপনাদের গৌরব ও মর্যাদাকে প্রত্যাখ্যান করে না। আমরা আপনাদের বংশ ও সম্মানের সাথে আত্মীয়তার বন্ধনে আবদ্ধ হতে আগ্রহী হয়েছি। সুতরাং হে কুরাইশ সম্প্রদায়, আপনারা আমার ওপর সাক্ষী থাকুন যে, আমি (খাদিজাহ বিনতে খুওয়াইলিদকে) (মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহর) সাথে নির্ধারিত মোহরের বিনিময়ে বিবাহ দান করলাম। এরপর তিনি নীরব হলেন। তখন আবু তালিব তাকে বললেন, আমি চেয়েছি যে তার চাচাও আপনার সাথে শরিক হোক। তখন আমর বিন আসাদ দাঁড়িয়ে বললেন: হে কুরাইশ সম্প্রদায়, আপনারা আমার ওপর সাক্ষী থাকুন যে, আমি (মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহর) সাথে (খাদিজাহ বিনতে খুওয়াইলিদকে) বিবাহ দান করলাম। আল্লাহর শপথ, তিনি এমন এক শ্রেষ্ঠ পুরুষ যাঁর শ্রেষ্ঠত্ব কোনোভাবেই ক্ষুণ্ণ করা যায় না। এরপর বিয়ের উৎসব উদযাপিত হলো এবং খাদিজা তাঁর দাসীদের দফ বাজাতে ও গান গাইতে নির্দেশ দিলেন। আবু তালিব বললেন: সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদের থেকে কষ্ট দূর করেছেন এবং আমাদের দুশ্চিন্তা দূরীভূত করেছেন। আর এভাবেই সম্মানিত নববী ঘরানা প্রতিষ্ঠিত হলো।
(খণ্ড: ১)
উম্মুল মুমিনীন খাদীজা বিনতে খুওয়াইলিদ
(পৃষ্ঠা: ১২)
وكانت خديجة بنت خويلد رضي الله عنها يومذاك في الأربعين من عمرها والنبي صلى الله عليه وسلم في الخامسة والعشرين.وانتقل عليه الصلاة والسلام من بيت عمه أبي طالب إلى بيت خديجة ومرت أيام الحياة الزوجية على أهنأ ما تكون، فقد كان هذا الزواج في حقيقته زواج عقل راجح إلى عقل راجح وأدب جم وطيب خلق إلى مثله. زهرات بيت النبوة:وبعد مرور عام وبعض عام أنجبت خديجة رضي الله عنها (زينب) كبرى بنات النبي صلى الله عليه وسلم فملأت البيت بالحركة والحيوية .. وبعد ذلك بعام وضعت (رقية) فكانت محل الحب والإعزاز .. ثم عقبتها (أم كلثوم) ثالثة النجوم … فتهاجس الناس في أندية قريش بأن محمدًا لا يرزق إلا بنات.وحين دخل العاشر من الزواج الميمون كانت قد حملت خديجة وتمنى المحبون الغيورون أن يكون المولود ذكرا .. وحلت في ذلك العام بقريش كارثة؛ إذ احترقت أستار الكعبة ومر بها سيل جارف فصدع جوانبها وأسقط بعض جدرانها، وتنافس الناس في البناء بعد رهبة وفزع وشمَّر الجميع عن ساعد الجد .. وحينما بلغوا موضع الحجر الأسود اختلفوا … إذ تطلعت كل قبيلة لأن تحظى بشرف إعادته إلى مكانه من الركن، ثم اشتد النزاع وامتدت الأيدي إلى مقابض السيوف، ولولا كلمة صدرت عن أمية بن المغيرة المخزومي فحجزتهم لفتك بعضهم ببعض إذ قال لهم: يا معشر قريش اجعلوا
খাদিজাহ বিনতে খুয়াইলিদ (রা.) তখন চল্লিশ বছর বয়সে ছিলেন এবং নবী (সা.) ছিলেন পঁচিশ বছর বয়সে।সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর ওপর, তিনি তাঁর চাচা আবু তালিবের ঘর থেকে খাদিজাহর ঘরে স্থানান্তরিত হলেন এবং বৈবাহিক জীবনের দিনগুলো অত্যন্ত আনন্দ ও সুখের সাথে অতিবাহিত হতে লাগল। মূলত এই বিবাহ ছিল এক প্রখর বুদ্ধিমত্তার সাথে অন্য এক প্রখর বুদ্ধিমত্তার এবং অগাধ শিষ্টাচার ও সুন্দর চরিত্রের সাথে অনুরূপ গুণের মিলন। নবুওয়াতের গৃহের পুষ্পরাজি:এক বছর এবং আরও কিছু সময় অতিবাহিত হওয়ার পর খাদিজাহ (রা.) নবী (সা.)-এর জ্যেষ্ঠ কন্যা (যায়নাব)-কে জন্ম দিলেন, ফলে ঘরটি প্রাণচঞ্চলতা ও সজীবতায় ভরে উঠল... তার এক বছর পর তিনি (রুকাইয়্যাহ)-কে জন্ম দিলেন, যিনি ছিলেন ভালোবাসা ও সম্মানের পাত্রী... এরপর তৃতীয় তারকা হিসেবে এলেন (উম্মে কুলসুম) … ফলে কুরাইশদের মজলিসগুলোতে লোকজন কানাঘুষা শুরু করল যে, মুহাম্মাদ শুধু কন্যাসন্তানই লাভ করছেন।যখন এই বরকতময় বিবাহের দশম বছর শুরু হলো, তখন খাদিজাহ গর্ভবতী হলেন এবং হিতাকাঙ্ক্ষী ও একনিষ্ঠ ভক্তরা কামনা করছিলেন যেন নবজাতকটি পুত্রসন্তান হয়... সেই বছর কুরাইশদের ওপর এক বিপর্যয় নেমে এল; কাবার পর্দা পুড়ে গেল এবং এক প্রবল বন্যা বয়ে গেল যা এর পার্শ্বদেশগুলোতে ফাটল ধরিয়ে দিল এবং এর কিছু দেয়াল ধসিয়ে দিল। আতঙ্ক ও ভীতি কাটিয়ে ওঠার পর লোকজন কাবার পুনর্নির্মাণে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হলো এবং প্রত্যেকেই অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে কোমর বেঁধে কাজে নেমে পড়ল... যখন তারা হাজরে আসওয়াদের (কালো পাথর) স্থানে পৌঁছাল, তখন তাদের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দিল … কারণ প্রতিটি গোত্রই এটিকে রুকনে (কোণে) পুনরায় স্থাপনের সম্মান অর্জনের আকাঙ্ক্ষা করছিল। এরপর বিবাদ তীব্রতর হলো এবং হাতগুলো তলোয়ারের হাতল পর্যন্ত পৌঁছে গেল। যদি উমাইয়্যাহ ইবনুল মুগিরা আল-মাখজুমির পক্ষ থেকে একটি কথা না আসত যা তাদেরকে নিবৃত্ত করেছিল, তবে তারা একে অপরকে হত্যা করত। তিনি তাদের উদ্দেশ্যে বললেন: হে কুরাইশ সম্প্রদায়, তোমরা নির্ধারণ করো...
(খণ্ড: ১)
উম্মুল মুমিনীন খাদীজা বিনতে খুওয়াইলিদ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
بينكم فيما تختلفون فيه أول من يدخل من باب هذا المسجد يقضي بينكم، فقبلوا جميعًا ثم تعلقت عيونهم على الباب تنتظر القادم المجهول .. بينما هم كذلك إذ أقبل وجه يضيء كأنه البدر ليلة التمام عليه الصلاة والسلام، فصاح الناس جميعًا: هذا محمد بن عبد الله رضينا بحكمه واستبشرنا بطلعته. الحكمة النبوية:ثم حكموه فيما هم فيه مختلفون، وبحكمته البالغة صلى الله عليه وسلم حُقنت دماء قريش في قصة معروفة وغادرهم إلى بيته قلق البال على زوجته التي تركها وهي تعاني من آلام الوضع وعلى بعد خطوات من باب بيته صلى الله عليه وسلم تلقى البشرى لقد وضعت خديجة الوليدة الجديدة الرابعة (فاطمة الزهراء) وجاءت الزهراء مع البشرى.وبعد أن رزق صلى الله عليه وسلم منها الذرية .. بدأ فجر الإسلام ينبثق فتتابعت الرؤى يردف بعضها بعضًا .. فأخذ يحدثها بكل ما يراه ويعتريه .. فتستمع له بنفس مبتهجة وصدر منشرح وجميع أحاسيسها ومشاعرها لا تفارق الابتسامة العذبة فمها ثم تثبته على ما هو فيه وتبعث في ذاته الشريف العزم والتصميم .. وفي غار حراء وعندما هل هلال رمضان من ذلك العام .. كان انصراف النبي صلى الله عليه وسلم وخلواته وتأملاته أشد من ذي قبل وأبلغ وكانت خديجة تهيئ له زاده وتوفر جو الخلوة في سكنه، داعية ربها بأن يحفظه ويكلأه ويرعاه وفي يوم البشرى هبط جبريل بالأمر إلى الرسول الأمين قائلاً له: اقرأ فقال: ما أنا بقارئ .. فغطه جبريل ثم أرسله وقال: اقرأ فعل ذلك ثلاث
তোমাদের মাঝে যে বিষয়ে তোমরা মতভেদ করছ সে সম্পর্কে এই মসজিদের দরজা দিয়ে যে ব্যক্তি সর্বপ্রথম প্রবেশ করবেন, তিনিই তোমাদের মাঝে ফয়সালা করবেন। তারা সবাই এই প্রস্তাবে রাজি হলো এবং দরজার দিকে তাকিয়ে আগন্তুক অজানা ব্যক্তির অপেক্ষায় রইল। এমন সময় সেখানে উপস্থিত হলেন উজ্জ্বল এক মুখমণ্ডল, পূর্ণিমার চাঁদের মতো যার দীপ্তি, তাঁর ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক। তখন উপস্থিত সকলে চিৎকার করে উঠল: "এই তো মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ! আমরা তাঁর ফয়সালায় সন্তুষ্ট এবং তাঁর আগমনে আমরা আনন্দিত।" নববী প্রজ্ঞা:অতঃপর তারা যে বিষয়ে মতভেদে লিপ্ত ছিল, সে ব্যাপারে তাঁকে বিচারক নিযুক্ত করল। তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সুগভীর প্রজ্ঞার মাধ্যমে কুরাইশদের রক্তপাত বন্ধ হলো—যা একটি সুপরিচিত ঘটনা। এরপর তিনি চিন্তিত মনে স্বীয় গৃহের দিকে রওনা হলেন তাঁর স্ত্রীর কথা ভেবে, যাঁকে তিনি প্রসব বেদনায় কাতর অবস্থায় রেখে এসেছিলেন। তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ঘরের দরজার মাত্র কয়েক কদম দূরে তিনি সুসংবাদ পেলেন যে, খাদিজা চতুর্থ নবজাতক কন্যা (ফাতিমা যাহরা)-কে জন্ম দিয়েছেন। সুসংবাদের সাথেই যাহরা পৃথিবীতে এলেন।তাঁকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর পক্ষ থেকে সন্তানাদি দান করার পর ইসলামের ঊষালগ্ন উদিত হতে শুরু করল। একের পর এক স্বপ্ন দেখা দিতে লাগল। তিনি যা কিছু দেখতেন এবং তাঁর সাথে যা ঘটত, তার সবই তাঁকে (খাদিজাকে) বলতেন। তিনি প্রফুল্ল চিত্তে ও প্রশস্ত হৃদয়ে তাঁর কথা শুনতেন। তাঁর সকল অনুভূতি ও আবেগের সাথে মিশে থাকত এক মিষ্টি হাসি। তিনি তাঁকে সুদৃঢ় রাখতেন এবং তাঁর মহান সত্তার মধ্যে দৃঢ় সংকল্প ও হিম্মত সঞ্চার করতেন।হেরা গুহায়, সেই বছরের রমজান মাসের নতুন চাঁদ যখন উদিত হলো, তখন নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নির্জনতা অবলম্বন ও ধ্যানমগ্নতা আগের তুলনায় অনেক বেশি গভীর ও তীব্র হয়ে উঠল। খাদিজা তাঁর পাথেয় তৈরি করে দিতেন এবং তাঁর বাসগৃহে নির্জনতার পরিবেশ নিশ্চিত করতেন। তিনি তাঁর রবের কাছে দোয়া করতেন যেন তিনি তাঁকে হেফাযত করেন ও তাঁর দেখাশোনা করেন। সেই সুসংবাদের দিনে জিবরাঈল আলাইহিস সালাম আমানতদার রাসুলের কাছে আদেশ নিয়ে অবতরণ করলেন এবং বললেন: ‘পড়ুন’। তিনি বললেন: ‘আমি পড়তে জানি না’। জিবরাঈল তাঁকে জড়িয়ে ধরে সজোরে চাপ দিলেন এবং ছেড়ে দিয়ে বললেন: ‘পড়ুন’। তিনি এভাবে তিনবার করলেন।
(খণ্ড: ১)
উম্মুল মুমিনীন খাদীজা বিনতে খুওয়াইলিদ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
مرات بعد ذلك غادر النبي صلى الله عليه وسلم إلى الصدر الحنون والقلب الكبير والنفس المواسية إلى خديجة يحدثها بما رأى وسمع وهو يقول: زملوني .. زملوني فانصاعت رضي الله عنها لطلبه وزملته وهي تقول أبشر يا ابن العم واثبت فقد أريد بك الخير العظيم وإنك والله لأهل لكل خير والله لا يخزيك أبدًا .. إنك لتصل الرحم، وتصدق الحديث، وتحمل الكل، وتقرئ الضيف، وتعين على نوائب الحق وما زالت به حتى طعم وشرب وضحك وذهب عنه روعه، ثم أنها رضي الله عنها قصدت به إلى ابن عمها ورقة بن نوفل تحدثه بحديثه وشأنه صلى الله عليه وسلم .. وما أن فرغ حتى هتف ورقة قدوس .. قدوس .. والذي نفس ورقة بيده لقد جاءك الناموس الأعظم الذي كان يأتي موسى .. وليتني أكون حيًا إذ يخرجك قومك فقال النبي صلى الله عليه وسلم: أمخرجي هم؟فأجاب ورقة: نعم .. لم يأت رجل قط بمثل ما جئت به إلا عودي، وإن يدركني يومك لأنصرنك نصرًا موزرًا.أول الناس إسلامًا خديجة رضي الله عنها وأرضاها .. أسلمت خديجة وآمنت الزوجة الوفية ولم تكتف بإسلامها وإيمانها بل قدمت كل ما لديها في سبيل الله. عام الحزن:وفي عام واحد، العام العاشر من البعثة النبوية أصيبرسول الله صلى الله عليه وسلم بحادثين جليلين جعلاه يسمي ذلك العام (عام الحزن) فقد توفي عمه أبو طالب الذي كان درعه الواقي، والذي كفله صغيرًا ورعاه يافعًا وحماه نبيًا ورسولاً ثم لحقته خديجة بعد أن
এরপর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মমতাভরা বক্ষ, বিশাল হৃদয় এবং সান্ত্বনাকারী প্রাণ খাদীজার নিকট ফিরে গেলেন। তিনি যা দেখেছিলেন ও শুনেছিলেন তা তাকে জানাচ্ছিলেন এবং বলছিলেন: আমাকে চাদর দিয়ে জড়িয়ে দাও... আমাকে চাদর দিয়ে জড়িয়ে দাও। তখন তিনি (আল্লাহ তার প্রতি সন্তুষ্ট হোন) তার অনুরোধ রক্ষা করলেন এবং তাকে চাদর দিয়ে জড়িয়ে দিলেন। তিনি বলছিলেন, "হে চাচাতো ভাই! আপনি সুসংবাদ গ্রহণ করুন এবং অবিচল থাকুন। নিশ্চয়ই আপনার মাধ্যমে মহৎ কল্যাণের ইচ্ছা করা হয়েছে। আল্লাহর কসম, আপনি সকল কল্যাণের যোগ্য। আল্লাহ আপনাকে কখনোই লাঞ্ছিত করবেন না। আপনি আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখেন, সত্য কথা বলেন, অসহায় ও অক্ষমদের বোঝা বহন করেন, মেহমানদারি করেন এবং সত্যের পথে আসা বিপদ-আপদে সাহায্য করেন।" তিনি এভাবেই তার পাশে ছিলেন যতক্ষণ না তিনি আহার ও পান করলেন এবং হাসলেন ও তাঁর ভয় দূর হলো। অতঃপর তিনি (আল্লাহ তার প্রতি সন্তুষ্ট হোন) তাকে সাথে নিয়ে তাঁর চাচাতো ভাই ওরাকা বিন নওফলের কাছে গেলেন যাতে তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) অবস্থা ও বিষয়াদি তাকে জানাতে পারেন। বর্ণনা শেষ হওয়া মাত্রই ওরাকা চিৎকার করে উঠলেন: "পবিত্র! অতি পবিত্র! যাঁর হাতে ওরাকার প্রাণ, তাঁর কসম—নিশ্চয়ই আপনার নিকট সেই মহান ফেরেশতা এসেছেন যিনি মূসার নিকট আসতেন। হায়! আমি যদি সেদিন জীবিত থাকতাম যখন আপনার সম্প্রদায় আপনাকে বের করে দেবে!" তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: "তারা কি আমাকে বের করে দেবে?"ওরাকা উত্তর দিলেন: "হ্যাঁ। আপনি যা নিয়ে এসেছেন তার অনুরূপ কিছু নিয়ে যখনই কোনো ব্যক্তি এসেছে, তার সাথেই শত্রুতা করা হয়েছে। যদি আমি আপনার সেই দিনটি পাই, তবে আমি আপনাকে বলিষ্ঠভাবে সাহায্য করব।"মানুষের মধ্যে সর্বপ্রথম ইসলাম গ্রহণকারী হলেন খাদীজা (আল্লাহ তার প্রতি সন্তুষ্ট হোন এবং তাকে সন্তুষ্ট করুন)। খাদীজা ইসলাম গ্রহণ করলেন এবং সেই বিশ্বস্ত স্ত্রী ঈমান আনলেন। তিনি কেবল নিজের ইসলাম ও ঈমানের ওপরই সীমাবদ্ধ থাকেননি, বরং আল্লাহর পথে নিজের সর্বস্ব বিলিয়ে দিয়েছিলেন। শোকের বছর:একই বছরে, অর্থাৎ নবুওয়াতের দশম বছরে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দুটি গুরুতর দুর্ঘটনার সম্মুখীন হন, যা তাকে সেই বছরটিকে 'শোকের বছর' (আমুল হুজন) হিসেবে নামকরণ করতে বাধ্য করে। তাঁর চাচা আবু তালিব ইন্তেকাল করেন যিনি ছিলেন তাঁর রক্ষাকবচ, যিনি শৈশবে তাঁকে লালন-পালন করেছিলেন, কৈশোরে তাঁর দেখাশোনা করেছিলেন এবং নবী ও রাসূল হিসেবে তাঁকে সুরক্ষা দিয়েছিলেন। এরপর খাদীজাও তাঁর অনুগামী হলেন যখন...
(খণ্ড: ১)
উম্মুল মুমিনীন খাদীজা বিনতে খুওয়াইলিদ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
مرضت واشتد بها المرض فحزن النبي صلى الله عليه وسلم وأحاط بالفراش حولها بناتها زينب ورقية وأم كلثوم وفاطمة يبكين على خير الأمهات وأكثر المجاهدات ثم دنا منها رسول الله صلى الله عليه وسلم باكيًا وهو يقول: ما أمرَّ الفراق يا خديجة سيكون قصرك في الجنة أعده الله من لؤلؤة مضيئة.فتجيبه الصديقة مع أخر نسمة من نسمات الحياة .. إن شاء الله.ويبكي النبي صلى الله عليه وسلم وتبكي بناته .. ويخلو البيت الكريم من الشعلة الإيمانية التي أضاءت جوانبه وآفاقه ثمانية وعشرين عامًا.ولحقت خديجة رضي الله عنها بالرفيق الأعلى مع الذين أنعم الله عليهم من النبيين والصديقين والشهداء والصالحين وحسن أولئك رفيقًا.
তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লেন এবং তাঁর রোগ তীব্রতর হলো। এতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ব্যথিত হলেন। তাঁর শয্যার চারপাশ ঘিরে রইলেন তাঁর কন্যারা—যয়নব, রুকাইয়া, উম্মু কুলসুম এবং ফাতিমা। তাঁরা জননীদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ এবং অন্যতম শ্রেষ্ঠ মুজাহিদা নারীর বিচ্ছেদে ক্রন্দন করছিলেন। এরপর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ক্রন্দনরত অবস্থায় তাঁর কাছে এগিয়ে এলেন এবং বলছিলেন: হে খাদিজা, বিচ্ছেদ কতই না তিক্ত! জান্নাতে তোমার একটি প্রাসাদ থাকবে যা আল্লাহ তাআলা উজ্জ্বল মুক্তা দিয়ে প্রস্তুত করেছেন।জীবনের শেষ নিঃশ্বাসের সাথে সেই সত্যবাদিনী উত্তর দিলেন—ইনশাআল্লাহ।নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাঁদছিলেন এবং তাঁর কন্যারাও কাঁদছিলেন। সেই বরকতময় গৃহটি সেই ঈমানী আলোকবর্তিকা থেকে রিক্ত হয়ে গেল, যা দীর্ঘ আঠাশ বছর ধরে এর প্রতিটি কোণ ও দিগন্তকে আলোকিত করে রেখেছিল।খাদিজা রাদিয়াল্লাহু আনহা মহান বন্ধুর সান্নিধ্যে চলে গেলেন—যাঁদের ওপর আল্লাহ অনুগ্রহ করেছেন; অর্থাৎ নবীগণ, সত্যনিষ্ঠগণ, শহীদগণ ও নেককার বান্দাদের সাথে। আর সঙ্গী হিসেবে তাঁরা কতই না উত্তম!