(খণ্ড: ১) মাতনুল আকিদাহ আত-তাহাবিয়্যাহ - শারহু ওয়া তালিকে আলবানী (পৃষ্ঠা: -)
متن العقيدة الطحاوية - شرح وتعليق الألباني   (الطحاوي)

القسم: العقيدة


الكتاب: العقيدة الطحاوية [لأبي جعفر الطحاوي (ت 321 هـ)]

شرح وتعليق: محمد ناصر الدين الألباني [ت 1420 هـ]

الناشر: المكتب الإسلامي - بيروت

الطبعة: الثانية، 1414 هـ

عدد الصفحات: 88

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

মাতনুল আকিদাহ আত-তাহাবিয়্যাহ - আলবানী-কৃত ব্যাখ্যা ও টিকা   (আত-তাহাবি)

বিভাগ: আকিদাহ


গ্রন্থ: আল-আকিদাহ আত-তাহাবিয়্যাহ [আবু জাফর আত-তাহাবি রচিত (মৃত্যু ৩২১ হিজরি)]

ব্যাখ্যা ও টিকা: মুহাম্মদ নাসিরুদ্দিন আল-আলবানী [মৃত্যু ১৪২০ হিজরি]

প্রকাশক: আল-মাকতাবুল ইসলামি - বৈরুত

সংস্করণ: দ্বিতীয়، ১৪১৪ হিজরি

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৮৮

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) মাতনুল আকিদাহ আত-তাহাবিয়্যাহ - শারহু ওয়া তালিকে আলবানী (পৃষ্ঠা: ৩১)
‌‌بسم الله الرحمن الرحيم وبه نستعين

الحمد لله رب العالمين

‌‌قال العلامة حجة الإسلام أبو جعفر الوراق الطحاوي بمصر رحمه الله:

‌‌هذا ذكر بيان عقيدة أهل السنة والجماعة على مذهب فقهاء الملة أبي حنيفة النعمان بن ثابت الكوفي وأبي يوسف يعقوب بن إبراهيم الأنصاري وأبي عبد الله محمد بن الحسن الشيباني رضوان الله عليهم أجمعين وما يَعْتَقِدُونَ مِنْ أُصُولِ الدِّينِ وَيَدِينُونَ بِهِ رَبَّ العالمين (1)

1 - نَقُولُ فِي تَوْحِيدِ اللَّهِ مُعْتَقِدِينَ بِتَوْفِيقِ اللَّهِ إن الله واحد لا شريك له (2)

--------------------------------------------

(1) زيادة من نسخة (خ) وغيرها

(2) إن نفي الشريك عن الله تعالى لا يتم إلا بنفي ثلاثة أنواع من الشرك:

الأول: الشرك في الربوبية وذلك بأن يعتقد أن مع الله خالقا آخر سبحانه وتعالى كما هو اعتقاد المجوس القائلين بأن للشر خالقا غير الله سبحانه. وهذا النوع في هذه الأمة قليل والحمد لله وإن كان قريبا منه قول المعتزلة: إن الشر إنما هو من خلق الإنسان وإلى ذلك الإشارة بقوله صلى الله عليه وسلم َ:

(صحيح) " القدرية مجوس هذه الأمة … " الحديث وهو مخرج في مصادر عدة عندي أشرت إليها في " صحيح الجامع الصغير وزيادته " رقم (4318) [4442]

الثاني: الشرك في الألوهية أو العبودية وهو أن يعبد مع الله غيره من الأنبياء والصالحين كالاستغاثة بهم وندائهم عند الشدائد ونحو ذلك. وهذا مع الأسف في هذه الأمة كثير ويحمل وزره الأكبر أولئك المشايخ الذين يؤيدون هذا النوع من الشرك باسم التوسل " يسمونها بغير اسمها "

الثالث: الشرك في الصفات وذلك بأن يصف بعض خلقه تعالى ببعض الصفات الخاصة به عز وجل كعلم الغيب مثلا وهذا النوع منتشر في كثير من الصوفية

ومن تأثر بهم مثل قول بعضهم في مدحه النبي صلى الله عليه وسلم َ:

فإن من جودك الدنيا وضرتها ومن علومك علم اللوح والقلم

ومن هنا جاء ضلال بعض الدجالين يزعمون أنهم يرون رسول الله صلى الله عليه وسلم َ اليوم يقظة ويسألونه عما خفي عليهم من بواطن نفوس من يخالطونهم ويريدون تأميرهم في بعض شؤونهم ورسول الله صلى الله عليه وسلم َ ما كان ليعلم مثل ذلك في حال حياته {ولو كنت أعلم الغيب لاستكثرت من الخير وما مسني السوء} [الأعراف: 188] فكيف يعلم ذلك بعد وفاته وانتقاله إلى الرفيق الأعلى؟

هذه الأنواع الثلاثة من الشرك من نفاها عن الله في توحيده إياه فوحده في ذاته وفي عبادته وفي صفاته فهو الموحد الذي تشمله كل الفضائل الخاصة بالموحدين ومن أخل بشيء منه فهو الذي يتوجه إليه مثل قوله تعالى: (لئن أشركت ليحبطن عملك ولتكونن من الخاسرين) [الزمر: 65] فاحفظ هذا فإنه أهم شيء في العقيدة فلا جرم أن المصنف رحمه الله بدأ به ومن شاء التفصيل فعليه بشرح هذا الكتاب وكتب شيوخ الإسلام ابن تيمة وابن القيم وابن عبد الوهاب وغيرهم ممن حذا حذوهم واتبع سبيلهم (ربنا اغفر لنا ولإخواننا الذين سبقونا بالإيمان) [الحشر: 10]
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে এবং তাঁরই সাহায্য প্রার্থনা করছি

সকল প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য

‌‌মিসর নিবাসী আল্লামা হুজ্জাতুল ইসলাম আবু জাফর আল-ওয়াররাক আত-তহাবী রহিমাহুল্লাহ বলেন:

‌‌এটি আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের আকিদার বর্ণনা যা মিল্লাতের ফকিহগণ—আবু হানিফা আন-নুমান ইবনে সাবিত আল-কুফী, আবু ইউসুফ ইয়াকুব ইবনে ইবরাহিম আল-আনসারী এবং আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবনে হাসান আশ-শায়বানী (রাদিয়াল্লাহু আনহুম আজমাইন)-এর মাযহাব অনুযায়ী; দ্বীনের মূলনীতিসমূহের মধ্য থেকে তাঁরা যা বিশ্বাস করতেন এবং জগৎসমূহের প্রতিপালকের প্রতি তাঁরা যে আনুগত্য পোষণ করতেন (১)

১ - আমরা আল্লাহর তাওহিদের ব্যাপারে আল্লাহর তাওফিকের ওপর বিশ্বাস রেখে বলছি যে, নিশ্চয়ই আল্লাহ এক, তাঁর কোনো শরিক নেই (২)

--------------------------------------------

(১) (খ) পাণ্ডুলিপি এবং অন্যান্য কপি থেকে অতিরিক্ত অংশ

(২) আল্লাহর সত্তা থেকে শরিককে অস্বীকার করা ততক্ষণ পূর্ণ হয় না, যতক্ষণ না তিন প্রকারের শিরক অস্বীকার করা হয়:

প্রথম: রুবুবিয়্যাতে শিরক। আর তা হলো আল্লাহর সাথে অন্য কোনো স্রষ্টা আছে বলে বিশ্বাস করা, যেখানে মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা পবিত্র ও সুমহান। এটি অগ্নিপূজকদের বিশ্বাস যারা মনে করে যে মন্দের জন্য আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা ছাড়া অন্য স্রষ্টা রয়েছে। এই উম্মতের মধ্যে এই প্রকারটি আলহামদুলিল্লাহ কম, যদিও মুতাজিলাদের বক্তব্য এর কাছাকাছি যে: মন্দ কেবল মানুষের সৃষ্টি। আর সেদিকেই রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর এই বাণীর মাধ্যমে ইঙ্গিত করা হয়েছে:

(সহিহ) "কাদারিয়া সম্প্রদায় এই উম্মতের অগ্নিপূজক..."। হাদিসটি বেশ কিছু উৎস থেকে বর্ণিত যা আমি 'সহিহুল জামিউস সাগির ওয়া যিয়াদাতুহু' (নং ৪৩১৮) [৪৪৪২]-এ উল্লেখ করেছি।

দ্বিতীয়: উলুহিয়্যাত বা ইবাদতে শিরক। আর তা হলো আল্লাহর সাথে অন্য কারো—যেমন নবি ও নেককারদের—ইবাদত করা, যেমন বিপদে তাদের কাছে উদ্ধার প্রার্থনা করা এবং তাদের ডাকা ইত্যাদি। দুর্ভাগ্যবশত এই উম্মতের মাঝে এটি অনেক বেশি এবং এর বড় দায়ভার সেই সব মাশায়েখদের ওপর বর্তায় যারা এই প্রকার শিরককে 'তাওয়াসসুল' নাম দিয়ে সমর্থন করেন "তারা বিষয়টিকে তার প্রকৃত নাম ছাড়া অন্য নামে অভিহিত করে"।

তৃতীয়: সিফাত বা গুণাবলিতে শিরক। আর তা হলো আল্লাহর কিছু বিশেষ গুণাবলি তাঁর সৃষ্টির কারো জন্য সাব্যস্ত করা, যেমন অদৃশ্য বা গায়েবের জ্ঞান (ইলমে গায়েব)। এই প্রকারটি অনেক সুফিদের মধ্যে ছড়িয়ে আছে।

আর যারা তাদের দ্বারা প্রভাবিত, যেমন তাদের কারো নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর প্রশংসায় বলা এই কবিতাটি:

"নিশ্চয়ই দুনিয়া ও আখিরাত আপনার অনুগ্রহের অংশমাত্র, আর লাওহ ও কলমের জ্ঞান আপনার জ্ঞানের অংশবিশেষ।"

এখান থেকেই কিছু দাজ্জালের বিভ্রান্তি এসেছে যারা দাবি করে যে তারা বর্তমানে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে জাগ্রত অবস্থায় দেখে এবং তাদের সাথে মেলামেশা করা লোকদের মনের গোপন কথা যা তাদের কাছে অস্পষ্ট থাকে সে সম্পর্কে তারা তাঁকে জিজ্ঞেস করে এবং তাদের কিছু বিষয়ে তাঁকে ফয়সালাকারী বানাতে চায়। অথচ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর জীবদ্দশায় এমন কিছু জানতেন না: {আমি যদি গায়েবের খবর জানতাম, তবে আমি অনেক কল্যাণ অর্জন করতাম এবং কোনো মন্দ আমাকে স্পর্শ করত না} [আরাফ: ১৮৮]। তাহলে তাঁর ওফাত এবং রফিকে আলার সান্নিধ্যে চলে যাওয়ার পর তিনি তা কীভাবে জানবেন?

যে ব্যক্তি আল্লাহর তাওহিদের ক্ষেত্রে আল্লাহর থেকে এই তিন প্রকার শিরক অস্বীকার করল—অর্থাৎ তাঁকে তাঁর সত্তায়, ইবাদতে এবং গুণাবলিতে একক সাব্যস্ত করল—সেই হলো মুওয়াহিদ বা একত্ববাদী, যে মুওয়াহিদদের জন্য নির্ধারিত সকল ফজিলতের অন্তর্ভুক্ত হবে। আর যে এর কোনো একটিতে ত্রুটি করবে, তার প্রতি আল্লাহর এই বাণীর মতো ধমক প্রযোজ্য হবে: (যদি তুমি শিরক করো, তবে তোমার আমল অবশ্যই নিষ্ফল হবে এবং তুমি অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে) [যুমার: ৬৫]। অতএব এটি মুখস্থ রাখো, কারণ এটি আকিদার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে গ্রন্থকার (রহিমাহুল্লাহ) এটি দিয়েই শুরু করেছেন। আর যে বিস্তারিত জানতে চায়, তার উচিত এই কিতাবের ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহ এবং শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ, ইবনুল কাইয়্যিম, ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব এবং যারা তাঁদের পথ ও পদ্ধতি অনুসরণ করেছেন তাঁদের কিতাবসমূহ অধ্যয়ন করা। (হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের এবং আমাদের সেই ভাইদের ক্ষমা করুন যারা ঈমানের সাথে আমাদের পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছেন) [হাশর: ১০]
(খণ্ড: ১) মাতনুল আকিদাহ আত-তাহাবিয়্যাহ - শারহু ওয়া তালিকে আলবানী (পৃষ্ঠা: ৩১)
2 - ولا شي مثله (1)

--------------------------------------------

(1) هذا أصل من أصول التوحيد وهو أن الله تعالى ليس كمثله شيء لا في ذاته ولا في صفاته ولا في أفعاله ولكن المبتدعة والمتأولة قد اتخذوه أصلا لإنكار كثير من صفات الله تبارك وتعالى فكلما ضاقت قلوبهم عن الإيمان بصفة من صفاته عز وجل سلطوا عليها معاول التأويل والهدم فأنكروها واستدلوا على ذلك بقوله تعالى: (ليس كمثله شيء) متجاهلين تمام الآية: (وهو السميع البصير) [الشورى: 11) فهي قد جمعت بين التنزيه والإثبات فمن أراد السلامة في عقيدته فعليه أن ينزه الله تعالى عن مشابهته للحوادث دون تأويل أو تعطيل وأن يثبت له عز وجل من الصفات كل ما أثبته لنفسه في كتابه أو حديث نبيه دون تمثيل وهذا هو مذهب السلف وعليه المصنف رحمه الله تبعا لأبي حنيفة وسائر الأئمة كما تراه مفصلا في الشرح (فبهداهم اقتده) [الأنعام: 90]
২ - এবং কোনো কিছুই তাঁর সদৃশ নয় (১)

--------------------------------------------

(১) এটি তাওহীদের অন্যতম একটি মূলনীতি। আর তা হলো, মহান আল্লাহ তাআলার সদৃশ কোনো কিছুই নেই—না তাঁর সত্তায়, না তাঁর গুণাবলিতে, আর না তাঁর কার্যাবলিতে। কিন্তু বিদআতী ও রূপক ব্যাখ্যাকারীরা একে বরকতময় ও মহান আল্লাহর অনেক গুণাবলি অস্বীকার করার মূলভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করেছে। ফলে যখনই মহান আল্লাহর কোনো গুণের প্রতি ঈমান আনতে তাদের অন্তর সংকীর্ণ হয়েছে, তখনই তারা সেটির ওপর রূপক ব্যাখ্যা ও ধ্বংসের কুঠার চালিয়েছে; তারা তা অস্বীকার করেছে এবং এর সপক্ষে আল্লাহর বাণী: "কোনো কিছুই তাঁর সদৃশ নয়" দ্বারা দলিল পেশ করেছে, অথচ আয়াতের অবশিষ্টাংশ: "আর তিনি সর্বশ্রোতা ও সর্বদ্রষ্টা" [আশ-শুরা: ১১] কে উপেক্ষা করেছে। মূলত এই আয়াতটি পবিত্রতা ঘোষণা (তানযীহ) ও গুণাবলি সাব্যস্তকরণের (ইসবাত) মধ্যে সমন্বয় সাধন করেছে। সুতরাং যে ব্যক্তি নিজের আকীদার নিরাপত্তা চায়, তার উচিত কোনো প্রকার রূপক ব্যাখ্যা (তাউয়িল) বা গুণাবলি অস্বীকার (তা’তীল) ছাড়াই মহান আল্লাহকে সৃষ্টির সদৃশ হওয়া থেকে পবিত্র জ্ঞান করা এবং মহান আল্লাহ তাঁর কিতাবে অথবা তাঁর নবীর হাদিসে নিজের জন্য যা কিছু গুণাবলি সাব্যস্ত করেছেন, কোনো প্রকার সাদৃশ্য স্থাপন (তামসীল) ছাড়াই সেগুলো তাঁর জন্য সাব্যস্ত করা। এটিই হলো সালাফদের মাযহাব এবং ইমাম আবু হানিফা ও অন্যান্য ইমামদের অনুকরণে গ্রন্থকার (রহিমাহুল্লাহ) এর ওপরই প্রতিষ্ঠিত রয়েছেন, যা আপনি ব্যাখ্যাগ্রন্থে বিস্তারিত দেখতে পাবেন। "সুতরাং আপনি তাদের পথ অনুসরণ করুন" [আল-আন’আম: ৯০]।
(খণ্ড: ১) মাতনুল আকিদাহ আত-তাহাবিয়্যাহ - শারহু ওয়া তালিকে আলবানী (পৃষ্ঠা: ৩১)
3 - ولا شيء يعجزه
৩ - এবং কোনো কিছুই তাঁকে অক্ষম করতে পারে না
(খণ্ড: ১) মাতনুল আকিদাহ আত-তাহাবিয়্যাহ - শারহু ওয়া তালিকে আলবানী (পৃষ্ঠা: ৩১)
4 - ولا إله غيره
৪ - এবং তিনি ছাড়া আর কোনো ইলাহ নেই
(খণ্ড: ১) মাতনুল আকিদাহ আত-তাহাবিয়্যাহ - শারহু ওয়া তালিকে আলবানী (পৃষ্ঠা: ৩৩)
5 - قديم (2) بلا ابتداء دائم بلا انتهاء

--------------------------------------------

(2) اعلم أنه ليس من أسماء الله تعالى: (القديم) وإنما هو من استعمال المتكلمين فإن القديم في لغة العرب التي نزل بها القرآن - هو المتقدم على غيره فيقال: هذا قديم للعتيق وهذا جديد للحديث ولم يستعملوا هذا الاسم إلا في المتقدم على غيره لا فيما لم يسبقه عدم كما قال تعالى: (حتى عاد كالعرجون القديم) [يس: 39] والعرجون القديم: الذي يبقى إلى حين وجود العرجون الثاني فإذا وجد الجديد قيل للأول قديم وإن كان مسبوقا بغيره كما حققه شيخ الإسلام ابن تيمية في " مجموع الفتاوى " (1 / 245) والشارح في " شرحه " لكن أفاد الشيخ ابن مانع هنا فيما نقله عن ابن القيم في " البدائع " أنه يجوز وصفع سبحانه بالقدم بمعنى أنه يخبر عنه بذلك وباب الأخبار أوسع من باب الصفات التوقيفية

قلت: ولعل هذا هو وجه استعمال شيخ الإسلام ابن تيمية هذا الوصف في بعض الأحيان كما سيأتي فيما علقه على الفقرة (45)
৫ - অনাদি (২) যার কোনো শুরু নেই, অনন্ত যার কোনো শেষ নেই।

--------------------------------------------

(২) জেনে রাখুন যে, 'আল-কাদীম' (অনাদি) মহান আল্লাহর নামসমূহের অন্তর্ভুক্ত নয়। বরং এটি ইলমুল কালাম শাস্ত্রবিদদের (মুতাকাল্লিমীন) পরিভাষা। কেননা আরবি ভাষায়—যে ভাষায় কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে—'কাদীম' বলতে এমন কিছুকে বোঝায় যা অন্য কিছুর অগ্রবর্তী। তাই পুরোনো বস্তুকে 'কাদীম' বলা হয় এবং নতুন বস্তুকে 'জাদীদ' বলা হয়। তারা এই শব্দটি কেবল এমন কিছুর ক্ষেত্রে ব্যবহার করত যা অন্য কিছুর অগ্রবর্তী, এমন কিছুর জন্য নয় যার পূর্বে অনস্তিত্ব ছিল না। যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন: "অবশেষে তা পুরোনো (কাদীম) খেজুরের শুকনো ডালের মতো হয়ে যায়।" [সূরা ইয়াসীন: ৩৯] আর 'পুরোনো শুকনো ডাল' বলতে ঐ ডালকে বোঝায় যা দ্বিতীয় ডালটি আসা পর্যন্ত অবশিষ্ট থাকে। সুতরাং যখন নতুনটি পাওয়া যায়, তখন প্রথমটিকে পুরোনো বলা হয়, যদিও তা অন্য কিছুর পরে অস্তিত্বশীল হয়ে থাকে। যেমনটি শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ 'মাজমুউল ফাতাওয়া' (১/২৪৫) গ্রন্থে এবং ব্যাখ্যাকারী তার 'শারহ'-এ বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। তবে শাইখ ইবনে মানে' এখানে ইবনুল কাইয়্যিম-এর 'আল-বাদাই' থেকে উদ্ধৃত করে জানিয়েছেন যে, মহান আল্লাহকে 'অনাদিত্ব' (ক্বিদাম) গুণে গুণান্বিত করা জায়েয এই অর্থে যে, তাঁর সম্পর্কে এর দ্বারা সংবাদ দেওয়া হচ্ছে। আর সংবাদের (ইখবার) বিষয়টি তাওকিফী সিফাতের (কুরআন-সুন্নাহ দ্বারা নির্ধারিত গুণাবলি) চেয়ে অধিক প্রশস্ত।

আমি বলছি: সম্ভবত এটিই হলো শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ কর্তৃক মাঝেমধ্যে এই বিশেষণটি ব্যবহার করার কারণ, যেমনটি ৪৫ নম্বর অনুচ্ছেদে তাঁর করা মন্তব্যে সামনে আসবে।
(খণ্ড: ১) মাতনুল আকিদাহ আত-তাহাবিয়্যাহ - শারহু ওয়া তালিকে আলবানী (পৃষ্ঠা: ৩৩)
6 - لا يفنى ولا يبيد
৬ - তিনি ধ্বংস হবেন না এবং বিলুপ্ত হবেন না।
(খণ্ড: ১) মাতনুল আকিদাহ আত-তাহাবিয়্যাহ - শারহু ওয়া তালিকে আলবানী (পৃষ্ঠা: ৩৩)
7 - ولا يكون إلا ما يريد
৭ - এবং তিনি যা ইচ্ছা করেন তা ব্যতীত কিছুই হয় না।
(খণ্ড: ১) মাতনুল আকিদাহ আত-তাহাবিয়্যাহ - শারহু ওয়া তালিকে আলবানী (পৃষ্ঠা: ৩৩)
8 - لا تبلغه الأوهام ولا تدركه الأفهام
৮ - কল্পনা তাঁকে নাগাল পায় না এবং বুদ্ধি তাঁকে আয়ত্ত করতে পারে না
(খণ্ড: ১) মাতনুল আকিদাহ আত-তাহাবিয়্যাহ - শারহু ওয়া তালিকে আলবানী (পৃষ্ঠা: ৩৩)
9 - ولا يشبه الأنام (1)

--------------------------------------------

(1) فيه رد لقول المشبهة الذين يشبهون الخالق بالمخلوق سبحانه وتعالى قال عز وجل: (ليس كمثله شيء وهو السميع البصير) [الشورى: 11]

وليس المراد نفي الصفات كما يقول أهل البدع فمن كلام أبي حنيفة رحمه الله في " الفقه الأكبر ": لا يشبه شيئا من خلقه ولا يشبهه شيء من خلقه. ثم قال بعد ذلك: وصفاته كلها خلاف صفات المخلوقين يعلم لا كعلمنا ويقدر لا كقدرتنا ويرى لا كرؤيتنا. انتهى
৯ - এবং তিনি সৃষ্টির সদৃশ নন (১)

--------------------------------------------

(১) এতে মুসাব্বিহাদের উক্তির খণ্ডন রয়েছে, যারা স্রষ্টাকে সৃষ্টির সাথে তুলনা করে। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা অত্যন্ত পবিত্র ও সুউচ্চ। মহান আল্লাহ বলেছেন: (কোনো কিছুই তাঁর সদৃশ নয় এবং তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা) [আশ-শূরা: ১১]

এর উদ্দেশ্য গুণাবলী বা সিফাত অস্বীকার করা নয়, যেমনটি বিদআতিরা বলে থাকে। ইমাম আবু হানিফা রহমতুল্লাহি আলাইহি তাঁর "আল-ফিকহুল আকবার" গ্রন্থে বলেছেন: তিনি তাঁর সৃষ্টির কোনো কিছুর সদৃশ নন এবং তাঁর সৃষ্টির কোনো কিছু তাঁর সদৃশ নয়। এরপর তিনি আরও বলেছেন: তাঁর সকল গুণাবলী সৃষ্টির গুণাবলী থেকে ভিন্ন; তিনি জানেন তবে তা আমাদের জানার মতো নয়, তিনি সক্ষম তবে তা আমাদের সক্ষমতার মতো নয় এবং তিনি দেখেন তবে তা আমাদের দেখার মতো নয়। সমাপ্ত।
(খণ্ড: ১) মাতনুল আকিদাহ আত-তাহাবিয়্যাহ - শারহু ওয়া তালিকে আলবানী (পৃষ্ঠা: ৩৪)
10 - حي لا يموت قيوم لا ينام
10 - তিনি চিরঞ্জীব, যাঁর মৃত্যু নেই; তিনি মহানিয়ন্তা, যাঁর নিদ্রা নেই।
(খণ্ড: ১) মাতনুল আকিদাহ আত-তাহাবিয়্যাহ - শারহু ওয়া তালিকে আলবানী (পৃষ্ঠা: ৩৪)
11 - خالق بلا حاجة رازق بلا مؤنة (1)

--------------------------------------------

(1) أي بلا ثقل وكلفة كما في شرح العقيدة الطحاوية (ص 125 الطبعة الرابعة) [الصفحة 122، الطبعة التاسعة]
১১ - তিনি প্রয়োজন ছাড়াই স্রষ্টা এবং কোনো প্রকার পরিশ্রম ছাড়াই রিযিকদাতা (১)

--------------------------------------------

(১) অর্থাৎ কোনো ভার এবং ক্লেশ ছাড়াই, যেমনটি শারহুল আকিদাহ আত-তাহাবিয়্যাহ-তে (পৃষ্ঠা ১২৫, চতুর্থ সংস্করণ) [পৃষ্ঠা ১২২, নবম সংস্করণ] বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) মাতনুল আকিদাহ আত-তাহাবিয়্যাহ - শারহু ওয়া তালিকে আলবানী (পৃষ্ঠা: ৩৪)
12 - مميت بلا مخافة باعث بلا مشقة
12 - মৃত্যুদানকারী কোনো ভয় ছাড়াই, পুনরুত্থানকারী কোনো কষ্ট ছাড়াই।
(খণ্ড: ১) মাতনুল আকিদাহ আত-তাহাবিয়্যাহ - শারহু ওয়া তালিকে আলবানী (পৃষ্ঠা: ৩৪)
13 - مَا زَالَ بِصِفَاتِهِ قَدِيمًا قَبْلَ خَلْقِهِ لَمْ يَزْدَدْ بِكَوْنِهِمْ شَيْئًا لَمْ يَكُنْ قَبْلَهُمْ مِنْ صِفَتِهِ وَكَمَا كَانَ بِصِفَاتِهِ أَزَلِيًّا كَذَلِكَ لَا يزال عليها أبديا
১৩ - তিনি তাঁর সৃষ্টির পূর্ব থেকেই তাঁর গুণাবলিসহ অনাদি ছিলেন। সৃষ্টিজগত অস্তিত্বে আসার কারণে তাঁর গুণাবলিতে এমন কোনো কিছুই বৃদ্ধি পায়নি যা তাদের সৃষ্টির পূর্বে তাঁর গুণে ছিল না। আর তিনি যেভাবে তাঁর গুণাবলিসহ অনাদি ছিলেন, তদ্রূপ তিনি চিরকাল সেগুলোর উপরেই থাকবেন।
(খণ্ড: ১) মাতনুল আকিদাহ আত-তাহাবিয়্যাহ - শারহু ওয়া তালিকে আলবানী (পৃষ্ঠা: ৩৪)
14 - ليس بعد خَلَقَ الْخَلْقَ اسْتَفَادَ اسْمَ (الْخَالِقِ) وَلَا بِإِحْدَاثِهِ البرية استفاد اسم (الباري)
১৪ - সৃষ্টিজগতকে সৃষ্টি করার পর তিনি ‘স্রষ্টা’ নাম লাভ করেননি এবং প্রাণীকুলকে অস্তিত্ব দান করার মাধ্যমে তিনি ‘উদ্ভাবক’ নাম অর্জন করেননি।
(খণ্ড: ১) মাতনুল আকিদাহ আত-তাহাবিয়্যাহ - শারহু ওয়া তালিকে আলবানী (পৃষ্ঠা: ৩৪)
15 - لَهُ مَعْنَى الرُّبُوبِيَّةِ وَلَا مَرْبُوبَ وَمَعْنَى الْخَالِقِ ولا مخلوق
১৫ - তাঁর জন্য রুবুবিয়্যাতের (প্রভুত্বের) অর্থ সাব্যস্ত যখন কোনো প্রতিপালিত ছিল না এবং স্রষ্টার অর্থ সাব্যস্ত যখন কোনো সৃষ্টি ছিল না।
(খণ্ড: ১) মাতনুল আকিদাহ আত-তাহাবিয়্যাহ - শারহু ওয়া তালিকে আলবানী (পৃষ্ঠা: ৩৪)
16 - وكما أنه محيي الموتى بعدما أَحْيَا اسْتَحَقَّ هَذَا الِاسْمَ قَبْلَ إِحْيَائِهِمْ كَذَلِكَ استحق اسم الخالق قبل إنشائهم
১৬ - এবং যেমন তিনি মৃতদের জীবন দান করার পর 'মৃতের জীবনদানকারী' নামের যোগ্য হয়েছেন, তেমনিভাবে তাদের জীবন দান করার পূর্বেই তিনি এই নামের যোগ্য ছিলেন; অনুরূপভাবে তিনি তাদের সৃষ্টি করার পূর্বেই 'স্রষ্টা' নামের যোগ্য হয়েছেন।
(খণ্ড: ১) মাতনুল আকিদাহ আত-তাহাবিয়্যাহ - শারহু ওয়া তালিকে আলবানী (পৃষ্ঠা: ৩৫)
17 - ذَلِكَ بِأَنَّهُ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ (2) قَدِيرٌ وَكُلُّ شيء إليه

--------------------------------------------

(2) قال الشيخ ابن مانع رحمه الله (ص 7) : " يجيء في كلام بعض الناس: وهو على ما يشاء قدير وليس ذلك بصواب بل الصواب ما جاء بالكتاب والسنة: وهو على كل شيء قدير لعموم مشيئته وقدرته تعالى خلافا لأهل الاعتزال الذين يقولون: إن الله سبحانه لم يرد من العبد وقوع المعاصي بل وقعت من العبد بإرادته لا بإرادة الله ولهذا يقول أحد ضلالهم:

زعم الجهول ومن يقول بقوله … أن المعاصي من قضاء الخالق

إن كان حقا ما يقول فلم قضا … حد الزنا وقطع كف السارق

 

وقال أبو الخطاب في بيان الحق والصواب:

قالوا فأفعال العباد فقلت ما … من خالق غير الإله الأمجد

قالوا فهل فعل القبيح مراده … قلت الإرادة كلها للسيد

لو لم يرده وكان، كان نقيصة … سبحانه عن أن يعجزه الردى

وهذه الإرادة التي ذكرها أبو الخطاب في السؤال هي الإرادة الكونية القدرية لا الإرادة الكونية الشرعية
১৭ - এটি এ কারণে যে তিনি সর্ববিষয়ে (২) ক্ষমতাবান এবং প্রতিটি বিষয় তাঁর দিকেই প্রত্যাবর্তিত হবে।

--------------------------------------------

(২) শেখ ইবনে মানে' (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন (পৃষ্ঠা ৭): "কিছু মানুষের কথাবার্তায় আসে: 'তিনি যা চান তার ওপর ক্ষমতাবান'। এটি সঠিক নয়, বরং সঠিক হলো যা কিতাব ও সুন্নাহতে এসেছে: 'তিনি সকল বস্তুর ওপর ক্ষমতাবান'। এর কারণ হলো মহান আল্লাহর ইচ্ছা ও ক্ষমতার ব্যাপকতা। এটি মুতাজিলাদের মতের বিপরীত যারা বলে যে: আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বান্দার পক্ষ থেকে পাপ সংঘটিত হওয়া চাননি, বরং তা আল্লাহর ইচ্ছা ছাড়াই কেবল বান্দার ইচ্ছায় ঘটেছে। এ কারণেই তাদের মধ্যকার জনৈক পথভ্রষ্ট ব্যক্তি বলে:

মূর্খ এবং যারা তার মতো কথা বলে তারা দাবি করে … যে পাপাচারসমূহ হলো স্রষ্টার পক্ষ থেকে নির্ধারিত ফয়সালা

যদি তার কথা সত্যই হতো, তবে কেন তিনি বিধান দিলেন … ব্যভিচারের দণ্ড এবং চোরের হাত কাটার?

 

সত্য ও সঠিক বর্ণনায় আবুল খাত্তাব বলেন:

তারা বলল, বান্দাদের কর্মসমূহ সম্পর্কে আপনার মত কী? আমি বললাম … মহিমান্বিত ইলাহ ছাড়া আর কোনো স্রষ্টা নেই

তারা বলল, তবে কি মন্দ কাজও তাঁর ইচ্ছাধীন? … আমি বললাম, সকল ইচ্ছা কেবল প্রভুরই অধিকারে

যদি তিনি তা না চাইতেন অথচ তা ঘটে যেত, তবে তা হতো এক ত্রুটি … তিনি পবিত্র এ থেকে যে কোনো ধ্বংস তাঁকে অক্ষম করবে

আবুল খাত্তাব প্রশ্নে যে ইচ্ছার কথা উল্লেখ করেছেন তা হলো সৃষ্টিগত তকদিরি ইচ্ছা (ইরাদা কাউনিয়্যাহ কাদরিয়্যাহ), শরয়ি ইচ্ছা (ইরাদা শারইয়্যাহ) নয়।
(খণ্ড: ১) মাতনুল আকিদাহ আত-তাহাবিয়্যাহ - শারহু ওয়া তালিকে আলবানী (পৃষ্ঠা: ৩৫)
فَقِيرٌ وَكُلُّ أَمْرٍ عَلَيْهِ يَسِيرٌ لَا يَحْتَاجُ إِلَى شَيْءٍ (لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ وَهُوَ السَّمِيعُ البصير) [الشورى: 11]
নিঃস্ব এবং প্রতিটি বিষয় তাঁর জন্য সহজ, তিনি কোনো কিছুর মুখাপেক্ষী নন (তাঁর সদৃশ কোনো কিছুই নেই এবং তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা) [আশ-শুরা: ১১]
(খণ্ড: ১) মাতনুল আকিদাহ আত-তাহাবিয়্যাহ - শারহু ওয়া তালিকে আলবানী (পৃষ্ঠা: ৩৫)
18 - خلق الخلق بعمله
১৮ - তিনি তাঁর কর্মের দ্বারা সৃষ্টিজগত সৃষ্টি করেছেন
(খণ্ড: ১) মাতনুল আকিদাহ আত-তাহাবিয়্যাহ - শারহু ওয়া তালিকে আলবানী (পৃষ্ঠা: ৩৫)
19 - وقدر لهم أقدارا
১৯ - এবং তিনি তাদের জন্য তাকদীরসমূহ নির্ধারণ করেছেন।
(খণ্ড: ১) মাতনুল আকিদাহ আত-তাহাবিয়্যাহ - শারহু ওয়া তালিকে আলবানী (পৃষ্ঠা: ৩৫)
20 - وضرب لهم آجالا
20 - এবং তিনি তাদের জন্য আয়ুষ্কাল নির্ধারণ করেছেন।
(খণ্ড: ১) মাতনুল আকিদাহ আত-তাহাবিয়্যাহ - শারহু ওয়া তালিকে আলবানী (পৃষ্ঠা: ৩৫)
21 - وَلَمْ يَخْفَ عَلَيْهِ شَيْءٌ قَبْلَ أَنْ يَخْلُقَهُمْ وَعَلِمَ مَا هُمْ عَامِلُونَ قَبْلَ أَنْ يَخْلُقَهُمْ
২১ - তাঁদের সৃষ্টি করার পূর্বে তাঁদের কোনো কিছুই তাঁর নিকট গোপন ছিল না এবং তাঁরা যা করবে, তা তিনি তাঁদের সৃষ্টি করার পূর্বেই জানতেন।
(খণ্ড: ১) মাতনুল আকিদাহ আত-তাহাবিয়্যাহ - শারহু ওয়া তালিকে আলবানী (পৃষ্ঠা: ৩৫)
22 - وأمرهم بطاعته ونهاهم عن معصيته
22 - এবং তিনি তাদেরকে তাঁর আনুগত্যের আদেশ দিয়েছেন এবং তাঁর অবাধ্যতা থেকে নিষেধ করেছেন।
(খণ্ড: ১) মাতনুল আকিদাহ আত-তাহাবিয়্যাহ - শারহু ওয়া তালিকে আলবানী (পৃষ্ঠা: ৩৬)
23 - وَكُلُّ شَيْءٍ يَجْرِي بِتَقْدِيرِهِ وَمَشِيئَتِهِ وَمَشِيئَتُهُ تَنْفُذُ لَا مَشِيئَةَ لِلْعِبَادِ إِلَّا مَا شَاءَ لَهُمْ فَمَا شَاءَ لَهُمْ كَانَ وَمَا لَمْ يَشَأْ لم يكن (1)

--------------------------------------------

(1) يعني أن مشيئته تعالى وإرادته شاملة لكل ما يقع في هذا الكون من خير أو شر وهدى أو ضلال والآيات الدالة على ذلك كثيرة معروفة يمكن مراجعتها في الشرح وغيره … والمقصود بهذه الفقرة الرد على المعتزلة النافين لعموم مشيئته تعالى

لكن يجب أن يعلم أنه لا يلزم من ذلك أن الله تعالى يحب كل ما يقع فالحب غير الإرادة وإلا كان لا فرق عند الله تعالى بين الطائع والعاصي وهذا ما صرح به بعض كبار القائلين بوحدة الوجود من أن كلا من الطائع والعاصي مطيع لله في إرادته ومذهب السلف والفقهاء وأكثر المثبتين للقدر من أهل السنة وغيرهم على التفريق بين الإرادة والمحبة وإلى ذلك أشار صاحب قصيدة " بدء الأمالي " بقوله:

مريد الخير والشر القبيح ولكن ليس يرضى بالمحال

وقال شيخ الإسلام ابن تيمية رَحِمَهُ اللَّهُ تعالى:

ثم قالت القدرية: هو لا يحب الكفر والفسوق والعصيان ولا يريد ذلك فيكون ما لم يشأ ويشاء ما لم يكن

وقالت طائفة من (المثبتة) : ما شاء كان وما لم يشأ لم يكن. وإذن قد أراد الكفر والفسوق والعصيان ولم يرده دينا أو أراده من الكافر ولم يرده من المؤمن فهو لذلك يحب الكفر والفسوق العصيان ولا يحبه دينا ويحبه من الكافر ولا يحبه من المؤمن

وكلا القولين خطأ مخالف للكتاب والسنة وإجماع سلف الأمة وأئمتها فإنهم متفقون على أنه ما شاء الله كان وما لم يشأ لم يكن وأنه لا يكون شيء إلا بمشيئته ومجموعه على أنه لا يحب الفساد ولا يرضى لعباده الكفر وأن الكفار (يبيتون ما لا يرضى من القول) (ا) [النساء: 108]

_________

(ا) مجموع الفتاوى (6 / 115 - 116) وقد شرح ذلك العلامة ابن القيم في " شفاء العليل " (ص 120 - 134) فراجعه فإنه مهم
২৩ - এবং সবকিছুই তাঁর নির্ধারিত ভাগ্য (তাকদির) ও ইচ্ছা অনুযায়ী পরিচালিত হয়। তাঁর ইচ্ছাই বাস্তবায়িত হয়। বান্দাদের জন্য তিনি যা ইচ্ছা করেন, তা ছাড়া তাদের নিজস্ব কোনো ইচ্ছা নেই। সুতরাং তিনি তাদের জন্য যা ইচ্ছা করেন তা-ই ঘটে, আর যা তিনি ইচ্ছা করেন না তা ঘটে না।

--------------------------------------------

(১) অর্থাৎ মহান আল্লাহর ইচ্ছা ও অভিপ্রায় এই মহাবিশ্বে সংঘটিত হওয়া প্রতিটি বিষয়কে পরিবেষ্টন করে আছে, চাই তা ভালো হোক বা মন্দ, হেদায়েত হোক বা পথভ্রষ্টতা। এর সপক্ষে প্রমাণস্বরূপ আয়াতগুলো সুপরিচিত ও অসংখ্য, যা শারহ (ব্যাখ্যাগ্রন্থ) ও অন্যান্য কিতাবে দেখা যেতে পারে... এই অনুচ্ছেদের উদ্দেশ্য হলো মুতাজিলাদের মতবাদ খণ্ডন করা, যারা মহান আল্লাহর সর্বব্যাপী ইচ্ছাকে অস্বীকার করে।

তবে এটি জানা আবশ্যক যে, কোনো কিছু ঘটার অর্থ এই নয় যে আল্লাহ তাআলা তা পছন্দ করেন। কেননা ভালোবাসা ও ইচ্ছা এক বিষয় নয়। অন্যথায় আল্লাহর নিকট অনুগত ও অবাধ্যের মধ্যে কোনো পার্থক্য থাকত না। ওয়াহদাতুল উজুদ (অস্তিত্বের অদ্বৈতবাদ) মতবাদে বিশ্বাসী কিছু বড় আলেম স্পষ্টভাবে দাবি করেছেন যে, অনুগত ও অবাধ্য উভয়ই আল্লাহর ইচ্ছার ক্ষেত্রে তাঁর অনুগত। অথচ সালফে সালেহীন, ফকিহগণ এবং আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের কদরে বিশ্বাসী অধিকাংশ আলেমের মাযহাব হলো ইচ্ছা (ইরাদা) এবং ভালোবাসা (মহব্বত)-এর মধ্যে পার্থক্য করা। 'বাদউল আমালি' কাসিদার লেখক এই দিকেই ইঙ্গিত করে বলেছেন:

তিনি কল্যাণ ও কদর্য মন্দের ইচ্ছাকারী, কিন্তু তিনি অসমীচীন বিষয়ে সন্তুষ্ট নন।

শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন:

অতঃপর কাদরিয়্যারা বলেছে: তিনি কুফরি, পাপাচার ও অবাধ্যতা পছন্দ করেন না এবং তা ইচ্ছাও করেন না; ফলে যা তিনি চান না তা-ই ঘটে এবং যা তিনি চান তা ঘটে না।

তাকদিরে বিশ্বাসী (মুসবিতা) এক দল বলেছে: যা আল্লাহ চান তা-ই হয়, আর যা চান না তা হয় না। অতএব, তিনি কুফরি, পাপাচার ও অবাধ্যতা চেয়েছেন ঠিকই, তবে দ্বীন হিসেবে চাননি; অথবা কাফিরের ক্ষেত্রে তা চেয়েছেন কিন্তু মুমিনের ক্ষেত্রে চাননি। তাই তিনি কুফরি, পাপাচার ও অবাধ্যতাকে ভালোবাসেন, তবে দ্বীন হিসেবে নয়; এবং কাফিরের পক্ষ থেকে তা ভালোবাসেন, কিন্তু মুমিনের পক্ষ থেকে নয়।

এই উভয় বক্তব্যই ভুল এবং কুরআন, সুন্নাহ ও উম্মতের সালাফ ও ইমামগণের ইজমার পরিপন্থী। কেননা তাঁরা এ ব্যাপারে একমত যে, আল্লাহ যা চান তা-ই হয় আর যা চান না তা হয় না এবং তাঁর ইচ্ছা ব্যতিরেকে কিছুই ঘটে না। তদুপরি তাঁরা এ বিষয়েও ঐক্যবদ্ধ যে, আল্লাহ বিপর্যয় পছন্দ করেন না এবং তাঁর বান্দাদের জন্য কুফরিতে সন্তুষ্ট নন; আর কাফিররা (রাতে এমন সব কথার পরামর্শ করে যা তিনি পছন্দ করেন না)। (ক) [আন-নিসা: ১০৮]

_________

(ক) মাজমুউল ফাতাওয়া (৬/১১৫-১১৬)। আল্লামা ইবনুল কাইয়্যিম 'শিফাউল আলীল' গ্রন্থে (পৃষ্ঠা ১২০-১৩৪) এটি বিস্তারিত ব্যাখ্যা করেছেন, যা দেখে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
(খণ্ড: ১) মাতনুল আকিদাহ আত-তাহাবিয়্যাহ - শারহু ওয়া তালিকে আলবানী (পৃষ্ঠা: ৩৬)
24 - يَهْدِي مَنْ يَشَاءُ وَيَعْصِمُ وَيُعَافِي فَضْلًا وَيُضِلُّ من يشاء ويخذل ويبتلي عدلا
২৪ - তিনি যাকে ইচ্ছা হিদায়াত দান করেন এবং নিজ অনুগ্রহে রক্ষা করেন ও নিরাপত্তা দান করেন; আর তিনি যাকে ইচ্ছা পথভ্রষ্ট করেন এবং নিজ ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে লাঞ্ছিত করেন ও পরীক্ষায় নিপতিত করেন।
(খণ্ড: ১) মাতনুল আকিদাহ আত-তাহাবিয়্যাহ - শারহু ওয়া তালিকে আলবানী (পৃষ্ঠা: ৩৬)
25 - وَكُلُّهُمْ يَتَقَلَّبُونَ فِي مَشِيئَتِهِ بَيْنَ فَضْلِهِ وَعَدْلِهِ
২৫ - আর তারা সকলেই তাঁর ইচ্ছার অধীন হয়ে তাঁর অনুগ্রহ ও ইনসাফের মাঝে আবর্তিত হয়।
(খণ্ড: ১) মাতনুল আকিদাহ আত-তাহাবিয়্যাহ - শারহু ওয়া তালিকে আলবানী (পৃষ্ঠা: ৩৬)
26 - وهو متعال عن الأضداد والأنداد
26 - আর তিনি প্রতিদ্বন্দ্বী ও সমকক্ষদের থেকে সুউচ্চ।
(খণ্ড: ১) মাতনুল আকিদাহ আত-তাহাবিয়্যাহ - শারহু ওয়া তালিকে আলবানী (পৃষ্ঠা: ৩৬)
27 - لَا رَادَّ لِقَضَائِهِ وَلَا مُعَقِّبَ لِحُكْمِهِ وَلَا غالب لأمره
২৭ - তাঁর ফয়সালাকে রদ করার কেউ নেই, তাঁর বিধানকে পরিবর্তন করার কেউ নেই এবং তাঁর নির্দেশের ওপর কোনো বিজয়ী নেই।
(খণ্ড: ১) মাতনুল আকিদাহ আত-তাহাবিয়্যাহ - শারহু ওয়া তালিকে আলবানী (পৃষ্ঠা: ৩৬)
28 - آمَنَّا بِذَلِكَ كُلِّهِ وَأَيْقَنَّا أَنَّ كُلًّا مِنْ عنده
২৮ - আমরা এই সবকিছুর ওপর ঈমান এনেছি এবং আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে, এই সবকিছুই তাঁর পক্ষ থেকে।