(খণ্ড: ১)
আদ-দাওয়াতু ইলাল্লাহি ফাওয়ায়িদু ওয়া শাওয়াাহিদ
(পৃষ্ঠা: -)
الدعوة إلى الله فوائد وشواهد القسم: كتب عامة
الكتاب: الدعوة إلى الله فوائد وشواهد
المؤلف: عبد الملك بن محمد القاسم
الناشر: دار القاسم
عدد الصفحات: 68
[الكتاب مرقم آليا غير موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ربيع الآخر 1433
আল্লাহর পথে আহ্বান: শিক্ষা ও প্রমাণসমূহ বিভাগ: সাধারণ বিষয়ক বই
বই: আল্লাহর পথে আহ্বান: শিক্ষা ও প্রমাণসমূহ
লেখক: আব্দুল মালেক বিন মুহাম্মদ আল-কাসেম
প্রকাশক: দার আল-কাসেম
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৬৮
[বইটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত, যা মুদ্রিত সংস্করণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়]
শামেলা-তে প্রকাশের তারিখ: ৮ রবিউস সানি ১৪৩৩
(খণ্ড: ১)
আদ-দাওয়াতু ইলাল্লাহি ফাওয়ায়িদু ওয়া শাওয়াাহিদ
(পৃষ্ঠা: ৩)
المقدمةالحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على أشرف الأنبياء والمرسلين نبينا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين وبعد:
فإن الدعوة إلى الله من أعظم القربات وأجل الطاعات.
وسبق أن قدمت حلقتين في بث مباشر من إذاعة القرآن الكريم بالرياض بعنوان: «الدعوة إلى الله فوائد وشواهد».
وقد رغب بعض الإخوة أن تخرج في كتيب تعيمًا للفائدة.
أسأل الله أن ينفع به وأن يجعلنا من الدعاة إلى دينه عز وجل وسنة نبيه محمد صلى الله عليه وسلم.
ভূমিকাসকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, আর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক শ্রেষ্ঠ নবী ও রাসূল আমাদের নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর ওপর এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সঙ্গীর ওপর। অতঃপর:
নিশ্চয়ই আল্লাহর পথে দাওয়াত প্রদান করা মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভের অন্যতম মাধ্যম এবং অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ইবাদতগুলোর অন্তর্ভুক্ত।
ইতোপূর্বে আমি রিয়াদের ‘রেডিও কুরআন’ থেকে সরাসরি সম্প্রচারিত একটি অনুষ্ঠানে ‘আল্লাহর পথে দাওয়াত: শিক্ষা ও দৃষ্টান্ত’ শিরোনামে দুটি পর্ব উপস্থাপন করেছিলাম।
কতিপয় দ্বীনি ভাই এর উপকারিতা ব্যাপক করার লক্ষ্যে এটি একটি পুস্তিকা আকারে প্রকাশের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন এর দ্বারা সকলকে উপকৃত করেন এবং আমাদের তাঁর মহান দ্বীন ও তাঁর নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর সুন্নাহর (سنة) দিকে আহ্বানকারীদের অন্তর্ভুক্ত করেন।
(খণ্ড: ১)
আদ-দাওয়াতু ইলাল্লাহি ফাওয়ায়িদু ওয়া শাওয়াাহিদ
(পৃষ্ঠা: ৪)
مدخلأبدأ هذا الكتاب بحمد الله وشكره امتثالاً لقوله تعالى: {لَئِنْ شَكَرْتُمْ لَأَزِيدَنَّكُمْ} [إبراهيم: 7].
أحمده أن من علينا بأعظم النعم وأجلها وأشرفها وأسماها ألا وهي نعمة الإسلام، فكم من أمم تتخبط في ظلام الشرك والكفر، وكم من حسيب ووجيه وغني ورئيس لم تدركه رحمة الله.
من استقرأ التاريخ قديمًا وحديثًا عرف نعمة الله عليه. نطل إطلالة سريعة
… ها هو فرعون من أكبر ملوك الدنيا يحكم ويدير مملكة مترامية الأطراف، وحوله الخدم والحشم والقواد والجيوش، لم تغن عنه شيئًا لما تكبر وتجبر فأغرقه الله في اليم كافرًا.
وها هو قارون رفيق دربه إلى النار وبئس الورد المورود، من أكبر تجار الدنيا ومن أغنى أغنيائها، لما ذكر الله غناه، ذكر أن مفاتيح خزائنه: {لَتَنُوءُ بِالْعُصْبَةِ أُولِي الْقُوَّةِ} [القصص: 76]، ولكنه لما طغى واستعلى ما أغنت عنه هذه الأموال والخزائن {فَخَسَفْنَا بِهِ وَبِدَارِهِ الْأَرْضَ} [القصص: 81].
بل أصحب السيادة والريادة كأبي جهل وأبي لهب ما أغنت عنهم تلك المكانة، ولا نفعتهم تلك المنزلة، قال تعالى: {تَبَّتْ يَدَا أَبِي لَهَبٍ وَتَبَّ} [المسد: 1].
وها هم أصحاب الشرف الرفيع والنسب العالي إذا لم تدركهم رحمة الله كانوا من أولئك قال عز وجل: {إِنَّكَ لَا تَهْدِي
ভূমিকাআমি মহান আল্লাহর প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের মাধ্যমে এই কিতাবটি শুরু করছি, তাঁর এই বাণীর অনুসরণে: {যদি তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো, তবে আমি অবশ্যই তোমাদেরকে আরও বাড়িয়ে দেবো} [ইব্রাহিম: ৭]।
আমি তাঁর প্রশংসা করি এ কারণে যে, তিনি আমাদের ওপর সর্বশ্রেষ্ঠ, মহান, সম্মানিত ও উচ্চতর নেয়ামত অর্থাৎ ইসলামের নেয়ামত দান করেছেন। কতো জাতিই না শিরক ও কুফরের অন্ধকারে হাবুডুবু খাচ্ছে! আর কতো উচ্চবংশীয়, প্রভাবশালী, ধনী ও নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি রয়েছে যাদের ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হয়নি।
যে ব্যক্তি প্রাচীন ও আধুনিক ইতিহাস নিবিড়ভাবে অধ্যয়ন করবে, সে নিজের ওপর আল্লাহর নেয়ামত উপলব্ধি করতে পারবে। আমরা যদি ইতিহাসের পাতায় একটি দ্রুত দৃষ্টিপাত করি
… এই তো ফেরাউন, সে ছিল পৃথিবীর প্রতাপশালী রাজাদের অন্যতম, যে এক বিশাল সাম্রাজ্য শাসন ও পরিচালনা করত। তার চারপাশ ঘিরে থাকত দাস-দাসী, অনুচর, সেনাপতি ও সেনাবাহিনী। কিন্তু যখন সে অহংকার ও জুলুম করল, তখন এসব কিছুই তার কোনো কাজে আসেনি; ফলে আল্লাহ তাকে কাফের অবস্থায় সমুদ্রে নিমজ্জিত করলেন।
আর এই হলো কারুন, জাহান্নামের পথে ফেরাউনের সঙ্গী—যা এক নিকৃষ্ট গন্তব্য। সে ছিল পৃথিবীর অন্যতম বড় ব্যবসায়ী ও শ্রেষ্ঠ ধনকুবেরদের একজন। আল্লাহ যখন তার ধন-সম্পদের বর্ণনা দিয়েছেন, তখন উল্লেখ করেছেন যে তার ধনাগারের চাবিগুলো বহন করা: {একদল শক্তিশালী মানুষের পক্ষেও কষ্টকর ছিল} [কাসাস: ৭৬]। কিন্তু যখন সে সীমালঙ্ঘন ও ঔদ্ধত্য প্রদর্শন করল, তখন এই অর্থসম্পদ ও ধনভাণ্ডার তার কোনো উপকারে আসেনি; {অতঃপর আমি তাকে ও তার প্রাসাদকে ভূগর্ভে বিলীন করে দিলাম} [কাসাস: ৮১]।
এমনকি আবু জাহল ও আবু লাহাবের মতো নেতৃত্ব ও কর্তৃত্বের অধিকারীদের সেই সামাজিক মর্যাদা কোনো কাজে আসেনি এবং সেই উচ্চ পদমর্যাদা তাদের কোনো উপকার করেনি। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: {আবু লাহাবের দুই হাত ধ্বংস হোক এবং সে নিজেও ধ্বংস হোক} [লাহাব: ১]।
আর এই তো তারা, যারা সুউচ্চ সম্মান ও সুউচ্চ বংশমর্যাদার অধিকারী হওয়া সত্ত্বেও যখন আল্লাহর রহমত তাদের ভাগ্যে জোটেনি, তখন তারা তাদেরই অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। মহান আল্লাহ বলেন: {নিশ্চয়ই আপনি যাকে চান তাকে হেদায়েত দিতে পারবেন না...
(খণ্ড: ১)
আদ-দাওয়াতু ইলাল্লাহি ফাওয়ায়িদু ওয়া শাওয়াাহিদ
(পৃষ্ঠা: ৫)
مَنْ أَحْبَبْتَ وَلَكِنَّ اللَّهَ يَهْدِي مَنْ يَشَاءُ} [القصص: 56]، ها هو سيد ووجيه قريش وعم النبي صلى الله عليه وسلم أبو طالب لم تنفعه القرابة، ولم تشفع له النصرة لهذا الدين بل مات على ملة عبد المطلب، ولعلي أختم في هذا الأمر بمن هو أقرب من أولئك .. فلذة كبد نبي وابن من أبنائه لما تمرد وطغى حرم من الهداية، كابن نوح -على نوح السلام- يناديه عليه السلام يا بني أركب معنا، {قَالَ سَآَوِي إِلَى جَبَلٍ يَعْصِمُنِي مِنَ الْمَاءِ قَالَ لَا عَاصِمَ الْيَوْمَ مِنْ أَمْرِ اللَّهِ إِلَّا مَنْ رَحِمَ وَحَالَ بَيْنَهُمَا الْمَوْجُ فَكَانَ مِنَ الْمُغْرَقِينَ} [هود: 43].
بل حرم من الهداية من هن تحت الأنبياء، كما ذكر الله عز وجل عن امرأتي نوح ولوط {ضَرَبَ اللَّهُ مَثَلًا لِلَّذِينَ كَفَرُوا اِمْرَأَةَ نُوحٍ وَامْرَأَةَ لُوطٍ كَانَتَا تَحْتَ عَبْدَيْنِ مِنْ عِبَادِنَا صَالِحَيْنِ فَخَانَتَاهُمَا فَلَمْ يُغْنِيَا عَنْهُمَا مِنَ اللَّهِ شَيْئًا وَقِيلَ ادْخُلَا النَّارَ مَعَ الدَّاخِلِينَ} [التحريم: 10].
أرأيت أخي كيف جاد الله عليك وأكرمك وهداك وفضلك على كثير ممن خلق تفضيلاً؟ فاللهم لك الحمد على نعمة الإسلام.
وما ذكرته هو هداية التوفيق، وتبقى هداية الطريق الذي نحن عليه سائرون فأسأل الله الثبات على هذا الدين إلى أن نلقاه.
ومن شكر هذه النعمة العظيمة القيام بحقوق هذا الدين العظيم والسعي في رفع رايته ونصرته وتبليغه إلى الناس، مع استشعار التقصير والعجز عن الوفاء بذلك.
{যাকে আপনি ভালোবাসেন তাকে নয়, বরং আল্লাহ যাকে ইচ্ছা হিদায়াত দান করেন} [আল-কাসাস: ৫৬]। এই যে কুরাইশদের নেতা ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চাচা আবু তালিব; আত্মীয়তা তাঁর কোনো উপকারে আসেনি এবং এই দ্বীনের প্রতি তাঁর সাহায্য-সহযোগিতাও তাঁর পক্ষে সুপারিশ করতে পারেনি, বরং তিনি আব্দুল মুত্তালিবের আদর্শের ওপরই মৃত্যুবরণ করেছেন। আর আমি সম্ভবত এই বিষয়টি এমন একজনের মাধ্যমে শেষ করব যিনি তাদের চেয়েও নিকটতর... এক নবীর কলিজার টুকরো এবং তাঁরই এক সন্তান; যখন সে বিদ্রোহ ও ঔদ্ধত্য প্রদর্শন করল তখন সে হিদায়াত থেকে বঞ্চিত হলো। যেমন নূহের পুত্র—নূহ (আলাইহিস সালাম)-এর ওপর শান্তি বর্ষিত হোক—যাকে তিনি ডেকে বলছিলেন: হে আমার প্রিয় বৎস! আমাদের সাথে আরোহণ করো। {সে বলল, আমি শীঘ্রই কোনো পাহাড়ে আশ্রয় নেব যা আমাকে পানি থেকে রক্ষা করবে। তিনি (নূহ) বললেন, আজ আল্লাহর নির্দেশ থেকে রক্ষা করার মতো কেউ নেই, তবে তিনি যাকে দয়া করবেন সে ছাড়া। আর তাদের উভয়ের মাঝে তরঙ্গ অন্তরায় হয়ে দাঁড়াল, ফলে সে নিমজ্জিতদের অন্তর্ভুক্ত হলো} [হুদ: ৪৩]।
বরং হিদায়াত থেকে তারাও বঞ্চিত হয়েছে যারা নবীদের স্ত্রী ছিলেন, যেমন আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা নূহ ও লুতের দুই স্ত্রীর ব্যাপারে উল্লেখ করেছেন: {আল্লাহ কাফেরদের জন্য নূহের স্ত্রী ও লুতের স্ত্রীর উদাহরণ পেশ করেছেন। তারা আমাদের বান্দাদের মধ্যে দুই নেককার বান্দার অধীনে ছিল, কিন্তু তারা তাদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করল। ফলে তারা (নবীগণ) আল্লাহর বিপরীতে তাদের কোনো উপকারে আসেনি এবং তাদের বলা হলো, তোমরা প্রবেশকারীদের সাথে জাহান্নামে প্রবেশ করো} [আত-তাহরীম: ১০]।
হে আমার ভাই! আপনি কি দেখেছেন কীভাবে আল্লাহ আপনার প্রতি অনুগ্রহ করেছেন, আপনাকে সম্মানিত করেছেন, আপনাকে হিদায়াত দিয়েছেন এবং তাঁর সৃষ্টির অনেকের ওপর আপনাকে বিশেষভাবে শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন? অতএব, হে আল্লাহ! ইসলামের নেয়ামতের জন্য আপনারই যাবতীয় প্রশংসা।
আমি যা উল্লেখ করেছি তা হলো তাওফিকের হিদায়াত, আর বাকি থাকল সেই পথের হিদায়াত যার ওপর আমরা চলছি। অতএব আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করছি তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করা পর্যন্ত এই দ্বীনের ওপর অবিচল থাকার জন্য।
আর এই মহান নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় হলো এই মহান দ্বীনের হকসমূহ পালন করা এবং এর ঝাণ্ডা সমুন্নত রাখতে, একে সাহায্য করতে ও মানুষের কাছে তা পৌঁছে দেওয়ার প্রচেষ্টায় লিপ্ত হওয়া; সেই সাথে এ দায়িত্ব পালনে নিজের ত্রুটি ও অক্ষমতা অনুভব করা।
(খণ্ড: ১)
আদ-দাওয়াতু ইলাল্লাহি ফাওয়ায়িদু ওয়া শাওয়াাহিদ
(পৃষ্ঠা: ৬)
مع الأسف اليوم بعض الناس يدافع وينافح عن بلدته! ! وعن جهاز جواله أكثر مما يدافع عن دينه!
والأخرى من الأخوات تجدها تنفعل وترفع صوتها لاختلاف على لون فستان أو حذاء، فأين موقع الدين من القلوب؟ وأين مكان الدعوة إلى الله في النفوس؟
وأنواع الحرمان كثيرة وليست في جانب الدعوة إلى الله فحسب أضرب مثلاً وأستدل بشواهد حية:
تجد رجلاً منفقًا صاحب كرم وجود لا يمر أسبوع إلا ولديه ضيوف يكرمهم بمائدة شهية، ويوصف بأن كما يقال صاحب ذبائح، هذا المحروم إذا جاء عيد الأضحى قدم رجلاً وأخر أخرى حتى لا يضحي، والأضحية سنة مؤكدة، هذا نوع من أنواع الحرمان وإلا فالكرم موجود لديه.
الثاني: وقد قرب موسم الحج وتجد بعضهم لم يؤد الفريضة وهي الركن الخامس من أركان الإسلام، ويدفع المبالغ الطائلة للسفر إلى الخارج مع أن تكلفة الحج لا تعادل قيمة تذكرة واحدة، وبعضهم يتعذر بالمشقة وتجده ينصب الخيام في وسط الصحراء في مكان بارد قارس أو في لهيب جو صحراوي! ويحرم نفسه أداء فريضة الحج وهي أقل مشقة وتكلفة.
الثالث: ما انتشر أخيرًا: تجد بعضهم يبخل بإرساله رسالة دعوية عبر الجوال، ثم هو في الجانب الآخر يرسل رسائل استهزاء
পরিতাপের বিষয় যে, আজ কিছু মানুষ নিজের এলাকা এবং নিজের মোবাইল ফোনের পক্ষে যতটা আত্মরক্ষা ও লড়াই করে, নিজের দ্বীনের জন্য ততটা করে না!
আবার বোনদের মধ্যে কাউকে এমন দেখা যায় যে, পোশাক বা জুতোর রঙের সামান্য ভিন্নতা নিয়ে উত্তেজিত হয়ে পড়ে এবং উচ্চবাচ্য করে; তাহলে হৃদয়ে দ্বীনের অবস্থান কোথায়? আর অন্তরে আল্লাহর দিকে দাওয়াতের স্থানই বা কোথায়?
বঞ্চিত হওয়ার ধরন অনেক প্রকার এবং তা কেবল আল্লাহর দিকে দাওয়াতের বিষয়ের মাঝেই সীমাবদ্ধ নয়। আমি একটি উদাহরণ দিচ্ছি এবং কিছু জীবন্ত সাক্ষ্য (شواهد) দ্বারা প্রমাণ পেশ করছি:
আপনি এমন একজন দানশীল ও মহানুভব ব্যক্তিকে পাবেন যার কাছে প্রতি সপ্তাহে মেহমান আসে এবং তিনি সুস্বাদু খাবারের মাধ্যমে তাদের আপ্যায়ন করেন; তাকে 'ভোজদানকারী' হিসেবে অভিহিত করা হয়। এই বঞ্চিত ব্যক্তি যখন ঈদুল আযহা আসে, তখন কুরবানি না করার জন্য টালবাহানা করে এবং নানা অজুহাত দেখায়। অথচ কুরবানি হলো একটি সুনিশ্চিত (مؤكدة) সুন্নাহ (سنة)। এটি এক প্রকারের বঞ্চিত হওয়া, অন্যথায় তার মাঝে তো দানশীলতা বিদ্যমান ছিলই।
দ্বিতীয়ত: হজের মৌসুম ঘনিয়ে এসেছে অথচ দেখবেন তাদের কেউ কেউ এখনও এই ফরজ (فريضة) ইবাদত পালন করেনি, যা ইসলামের স্তম্ভ (ركن) সমূহের মধ্যে পঞ্চম স্তম্ভ (ركن)। সে বিদেশ ভ্রমণের জন্য বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করে, অথচ হজের খরচ একটি বিমান টিকিটের মূল্যের সমানও নয়। তাদের কেউ কেউ কষ্টের অজুহাত দেয়, অথচ দেখা যায় সে মরুভূমির মাঝখানে প্রচণ্ড হাড়কাঁপানো শীতে অথবা মরুভূমির তপ্ত দহনের মাঝে তাবু গেড়ে আছে! অথচ সে নিজেকে হজের ফরজ (فريضة) পালন থেকে বঞ্চিত রাখছে, যা কি না ওইসব কর্মকাণ্ডের চেয়েও কম কষ্টকর ও ব্যয়বহুল।
তৃতীয়ত: যা সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়েছে: আপনি দেখবেন কেউ কেউ মোবাইলের মাধ্যমে দাওয়াহ সংক্রান্ত বার্তা পাঠাতে কার্পণ্য করে, অথচ অন্যদিকে সে ঠিকই বিদ্রুপাত্মক বার্তা পাঠিয়ে যাচ্ছে।
(খণ্ড: ১)
আদ-দাওয়াতু ইলাল্লাহি ফাওয়ায়িদু ওয়া শাওয়াাহিদ
(পৃষ্ঠা: ৭)
ونكت سامجة وبعضها محرم، خذ مثالاً ما نتشر أخيرًا من رسائل فيها استهزاء بالزوج السعودي وأن الزوج الآخر من غير السعودي يقول لزوجه كذا وكذا، وكذلك رسائل عن الزوجة الأجنبية وماذا تقول لزوجها؟ وكأنها صورة متعمدة لتشوية المرأة السعودية العفيفة النقية التقية، وفي هذا محاذير:
أولاً: إضاعة المال بلا فائدة، والثاني: يخشى أن يكون من إفساد الزوج على الزوجة، الزوجة على زوجها فيكون من التخبيب المحرم.
وتأمل فيمن تستهزئ به من النساء: إنها أمك وأختك وزوجتك وابنتك
الشاهد أن هذا من أنواع الحرمان والقياس كثير.
আর কুরুচিপূর্ণ কিছু কৌতুক, যার কিছু অংশ নিষিদ্ধ (محرم)। উদাহরণস্বরূপ, সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়া এমন কিছু বার্তার কথা বলা যায় যাতে সৌদি স্বামী সম্পর্কে উপহাস করা হয়েছে এবং বলা হয়েছে যে, অ-সৌদি স্বামী তার স্ত্রীকে এই এই বলে; একইভাবে বিদেশি স্ত্রী এবং সে তার স্বামীকে কী বলে সে সম্পর্কেও বার্তা রয়েছে। মনে হয় এটি সতী-সাধ্বী, পবিত্র ও পরহেজগার সৌদি নারীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার এক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপচেষ্টা। এর মধ্যে বেশ কিছু আপত্তিকর বিষয় রয়েছে:
প্রথমত: অহেতুক অর্থ অপচয়। দ্বিতীয়ত: এর মাধ্যমে স্বামীর বিরুদ্ধে স্ত্রীর অথবা স্ত্রীর বিরুদ্ধে স্বামীর মন বিষিয়ে তোলার আশঙ্কা রয়েছে, যা নিষিদ্ধ ঘরভাঙা বা প্ররোচনা (التخبيب) হিসেবে গণ্য হবে।
আর আপনি সেইসব নারীদের কথা ভেবে দেখুন যাদের নিয়ে উপহাস করা হচ্ছে: তারা তো আপনার মা, আপনার বোন, আপনার স্ত্রী এবং আপনার কন্যা।
সারকথা হলো, এটি এক প্রকার বঞ্চিত হওয়া এবং এর দৃষ্টান্ত বা সাদৃশ্য (القياس) অনেক।
(খণ্ড: ১)
আদ-দাওয়াতু ইলাল্লাহি ফাওয়ায়িদু ওয়া শাওয়াাহিদ
(পৃষ্ঠা: ৮)
وقفة مع الدعوةموضوع الدعوة موضوع طويل ومتشعب والدعوة إلى الله عز وجل من أعظم القربات وأجل الطاعات، وهي مهمة الأنبياء والمرسلين، ولهذا اصطفى الله عز وجل للقيام بها كرام الخلق من الأنبياء والعلماء ومن سار على نهجهم واقتفى أثرهم إلى يوم الدين.
قال ابن القيم رحمه الله: «فالدعوة إلى الله -تعالى- هي وظيفة المرسلين وأتباعهم».
وقد أمر الله عز وجل نبينا محمد صلى الله عليه وسلم بالقيام بأمر الدعوة: {يَاأَيُّهَا الْمُدَّثِّرُ * قُمْ فَأَنْذِرْ} [المدثر: 1، 2]، فالدعوة تحتاج إلى قيام وحركة ونشاط وتضحية وجهد وبذل.
والداعي هو الذي يسير إلى الناس ويذهب إليهم، قال الله عز وجل عن أهل النار موبخًا: {أَلَمْ يَأْتِكُمْ نَذِيرٌ * قَالُوا بَلَى قَدْ جَاءَنَا نَذِيرٌ} [الملك: 8، 9] فهو الذي يبذل ويعطي ويكد ويتعب حتى يبلغ دعوته.
والداعي سريع الحركة قوي الهمة صادق العزيمة: {وَجَاءَ مِنْ أَقْصَى الْمَدِينَةِ رَجُلٌ يَسْعَى قَالَ يَا قَوْمِ اتَّبِعُوا الْمُرْسَلِينَ} [يس: 20]، والسعي في لغة العرب الجري الشديد، وكأن هذا الداعي يسرع إلى قومه حتى لا يقعوا في نار أحاطت بهم واقتربت منهم.
والآيات في ذلك معروفة؛ بل الآيات في الدعوة إلى الله والحث عليها أكثر من آيات الحج والصيام وهما ركنان من أركان
দাওয়াত প্রসঙ্গে একটি পর্যালোচনাদাওয়াতের বিষয়টি অত্যন্ত দীর্ঘ ও বহুশাখায় বিস্তৃত। মহান আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার দিকে দাওয়াত বা আহ্বান হলো অন্যতম শ্রেষ্ঠ ইবাদত এবং মহান আনুগত্যের কাজ। এটি নবী ও রাসূলগণের পবিত্র দায়িত্ব। এই কারণেই আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা এই মহান দায়িত্ব পালনের জন্য সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ মানুষদের মধ্য থেকে নবীগণ, উলামায়ে কেরাম এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা তাদের পথে চলবেন ও তাদের পদাঙ্ক (أثر) অনুসরণ করবেন, তাদের মনোনীত করেছেন।
ইবনুল কাইয়্যিম (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: «আল্লাহ তাআলার দিকে দাওয়াত প্রদান করাই হলো রাসূলগণ এবং তাদের অনুসারীদের প্রধান কাজ বা দায়িত্ব।»
আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা আমাদের নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে দাওয়াতের নির্দেশ দিয়ে বলেছেন: {হে বস্ত্রাবৃত! উঠুন, অতঃপর সতর্ক করুন} [সূরা আল-মুদ্দাসসির: ১, ২]। সুতরাং দাওয়াতের জন্য প্রয়োজন কর্মতৎপরতা, আন্দোলন, উদ্যম, আত্মত্যাগ, শ্রম ও প্রচেষ্টা।
দাঈ হলেন তিনিই যিনি মানুষের কাছে ছুটে যান এবং তাদের নিকট পৌঁছান। জাহান্নামীদের সম্পর্কে আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা তিরস্কার করে বলেন: {তোমাদের কাছে কি কোনো সতর্ককারী আসেনি? তারা বলবে, হ্যাঁ, অবশ্যই আমাদের কাছে সতর্ককারী এসেছিল} [সূরা আল-মুলক: ৮, ৯]। সুতরাং তিনিই (দাঈ) সেই ব্যক্তি যিনি মেহনত করেন, বিলিয়ে দেন এবং কঠোর পরিশ্রম ও ক্লান্তি সহ্য করেন যতক্ষণ না তিনি তার দাওয়াত পৌঁছে দেন।
দাঈ অত্যন্ত ক্ষিপ্রগতি সম্পন্ন, সুউচ্চ হিম্মত ও দৃঢ় সংকল্পের অধিকারী হন: {শহরের প্রান্তদেশ থেকে এক ব্যক্তি ছুটে এল। সে বলল, হে আমার কওম! তোমরা রাসূলগণের অনুসরণ করো} [সূরা ইয়াসিন: ২০]। আরবি ভাষায় 'সাঈ' (سعي) বলতে অত্যন্ত দ্রুত দৌড়ানোকে বোঝায়। যেন এই দাঈ তার কওমের দিকে এই ভয়ে দ্রুত ছুটে যাচ্ছেন যাতে তারা তাদের চারপাশ ঘিরে ধরা ও নিকটবর্তী আগুনের মধ্যে নিপতিত না হয়।
এ বিষয়ে আয়াতসমূহ সুপরিচিত; বরং আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং এর প্রতি উৎসাহিত করার ব্যাপারে বর্ণিত আয়াতসমূহ হজ ও সিয়ামের আয়াতের চেয়েও বেশি, অথচ এই দুটি ইসলামের অন্যতম রুকন (ركن)...
(খণ্ড: ১)
আদ-দাওয়াতু ইলাল্লাহি ফাওয়ায়িদু ওয়া শাওয়াাহিদ
(পৃষ্ঠা: ৯)
الإسلام، واليوم تباطأ الناس في الدعوة إلى الله تباطئًا عجيبًا فالله المستعان!
ومن الأحاديث في الحث على الدعوة قول النبي صلى الله عليه وسلم: «بلغو عني ولو آية» وقوله صلى الله عليه وسلم: «من دل على خير فله مثل أجر فاعله» [رواه مسلم].
وحياة النبي صلى الله عليه وسلم وسيرته العطرة فعلاً وقولاً: دعوة إلى الله عز وجل، فقد صعد الصفا، ودعا في موسم الحج، وذهب إلى الطائف، وهاجر إلى المدينة، حتى تركنا على المحجة البيضاء وسيأتي ورود أحاديث أخرى في ثنايا الكتاب.
والطريف أن بعض الجن أفقه من بعض الإنس في هذا الجانب، لما سمع الجن القرآن يتلى كما ورد في سورة الجن: {فَقَالُوا إِنَّا سَمِعْنَا قُرْآَنًا عَجَبًا * يَهْدِي إِلَى الرُّشْدِ فَآَمَنَّا بِهِ} [الجن: 1، 2] هذه الخطوة الأولى منهم، ثم كانت الدعوة والعمل لها؛ ثم ولوا إلى قومهم منذرين: {يَا قَوْمَنَا أَجِيبُوا دَاعِيَ اللَّهِ وَآَمِنُوا بِهِ} [الأحقاف: 31]، انظر إلى تلك الهمم في الدعوة إلى الله والقيام بأمر الدين من أولئك النفر!
ومن فضل الله وجوده أن لك أيها الداعي مثل أجر من دعوته لا ينقص من أجره شيئًا، فإن أمرته بالصلاة فلك مثل أجر صلاته، وأن تحدثت عن النفقة وأنفق، لك مثل أجر نفقته، ها هو يصلي وأنت جالس، وذاك يحج وقد أعنته على الحج ودللته على الخير
ইসলাম, আর আজ আল্লাহর পথে দাওয়াতের ক্ষেত্রে মানুষের মধ্যে এক বিস্ময়কর স্থবিরতা দেখা দিয়েছে; আল্লাহর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করছি!
দাওয়াতের প্রতি উৎসাহিত করার ক্ষেত্রে বর্ণিত হাদিসসমূহের মধ্যে রয়েছে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: «আমার পক্ষ থেকে পৌঁছে দাও, যদিও তা একটি আয়াত হয়» এবং তাঁর বাণী: «যে ব্যক্তি কোনো কল্যাণের পথ প্রদর্শন করবে, সে উক্ত আমলকারীর সমান সওয়াব লাভ করবে» [বর্ণনায়: মুসলিম]।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জীবন এবং তাঁর সুগন্ধিময় সীরাত কথা ও কাজে মহান আল্লাহর দিকে দাওয়াতস্বরূপ ছিল। তিনি সাফা পাহাড়ে আরোহণ করেছেন, হজের মৌসুমে দাওয়াত দিয়েছেন, তায়েফে গিয়েছেন এবং মদিনায় হিজরত করেছেন, যতক্ষণ না তিনি আমাদের এক উজ্জ্বল ও সুস্পষ্ট পথের ওপর রেখে গেছেন। বইটির পরবর্তী পর্যায়ে এ সম্পর্কিত আরও হাদিস আসবে।
একটি চমৎকার বিষয় হলো, এই ক্ষেত্রে কিছু জিন কিছু মানুষের চেয়েও অধিক সমঝদার। জিনেরা যখন কুরআন তিলাওয়াত শুনতে পেল, যেমনটি সূরা আল-জিনে বর্ণিত হয়েছে: {তারা বলেছিল: আমরা এক বিস্ময়কর কুরআন শুনেছি, যা সঠিক পথ প্রদর্শন করে, ফলে আমরা তাতে বিশ্বাস স্থাপন করেছি} [আল-জিন: ১, ২]। এটি ছিল তাদের পক্ষ থেকে প্রথম পদক্ষেপ, এরপর শুরু হলো দাওয়াত ও সে অনুযায়ী আমল; তারপর তারা তাদের সম্প্রদায়ের নিকট সতর্ককারী হিসেবে ফিরে গেল: {হে আমাদের সম্প্রদায়! তোমরা আল্লাহর দিকে আহ্বানকারীর ডাকে সাড়া দাও এবং তাঁর ওপর ঈমান আনো} [আল-আহকাফ: ৩১]। সেই একদল জিনের মধ্যে আল্লাহর পথে দাওয়াত দেওয়া এবং দ্বীনের বিধান পালনে সেই উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও হিম্মত লক্ষ্য করুন!
আল্লাহর অনুগ্রহ ও মহানুভবতা হলো এই যে, হে আহ্বানকারী, আপনি যাকে দাওয়াত দিয়েছেন তার সমপরিমাণ সওয়াব আপনার জন্যও রয়েছে, যা তার সওয়াব থেকে বিন্দুমাত্র হ্রাস করবে না। আপনি যদি তাকে সালাতের নির্দেশ দেন, তবে তার সালাতের সমান সওয়াব আপনারও হবে। আর যদি আপনি দান-সদকা সম্পর্কে আলোচনা করেন এবং সে দান করে, তবে তার দানের সমান সওয়াবও আপনি পাবেন। দেখুন, সে সালাত আদায় করছে অথচ আপনি বসে আছেন, আর ওই ব্যক্তি হজ পালন করছে যেখানে আপনি তাকে হজের ব্যাপারে সহযোগিতা করেছেন এবং কল্যাণের পথ দেখিয়েছেন।
(খণ্ড: ১)
আদ-দাওয়াতু ইলাল্লাহি ফাওয়ায়িদু ওয়া শাওয়াাহিদ
(পৃষ্ঠা: ১০)
وأنت جالس في بيتك.
وفضل لله يؤتيه من يشاء، وقد أسلم على يد أبي بكر رضي الله عنه ستة من العشر المبشرين بالجنة منهم: عمر وعثمان وطلحة وغيرهم رضي الله عنهم.
واليوم تأمل في حال من يعملون من النصارى وأرقام التنصير المفزعة لترى أنهم يعملون ونحن نتحدث! ثم يأخذك العجب فيم نتحدث! ! !
وإذا رأيت اليوم مللاً ونحلاً باطلة تنتشر في أصقاع الأض فاعلم أن خلفها رجالاً يعملون وأناسًا يبذلون، فما الذي أدخل مثلاً في دول إسلامية الاشتراكية والشيوعية إلا أولئك، ومحبة الدين لانشك أن الجميع يقولها ويفعلها نية صادقة بقلبه لكن هذه لا تكفي لابد من العمل.
أذكر أني قرأت في صحيفة قبل سنوات أحد محبي الرياضة يقول: رهنت بيتي بمليون ريال لمصلحة النادي الفلاني! نعم أحب هذا النادي فعمل له، ونحن نحب ديننا فماذا عملنا له؟ !
والسؤال يلقي بنفسه حسرة: هل يتوقف نشر العلم الشرعي وشريعة محمد صلى الله عليه وسلم والدعوة إلى هذا الدين على أفراد قلائل من الأمة؟ !
سؤال يحتاج إلى جواب عملي ممن أنعم الله عز وجل عليه بهذا الدين وهداه إليه.
আপনি যখন আপনার ঘরে বসে আছেন।
আর এটি আল্লাহর অনুগ্রহ, তিনি যাকে ইচ্ছা তা দান করেন। আবু বকর (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাতে জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত দশজনের মধ্যে ছয়জন ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন, তাদের মধ্যে ছিলেন: উমর, উসমান, তালহা এবং অন্যান্যরা (রাযিয়াল্লাহু আনহুম)।
আর আজ খ্রিস্টানদের কর্মকাণ্ড এবং খ্রিস্টধর্ম প্রচারের আতঙ্কজনক পরিসংখ্যানগুলোর দিকে লক্ষ্য করলে দেখবেন যে তারা কাজ করে যাচ্ছে আর আমরা কেবল কথা বলছি! এরপর আপনি বিস্মিত হবেন আমরা কী নিয়ে কথা বলছি তা ভেবে! ! !
আর আজ যদি আপনি পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে বাতিল ধর্ম ও মতবাদগুলো ছড়িয়ে পড়তে দেখেন, তবে জেনে রাখুন যে এর পেছনে এমন কিছু ব্যক্তি রয়েছে যারা কাজ করছে এবং এমন কিছু মানুষ রয়েছে যারা শ্রম দিচ্ছে। মুসলিম দেশগুলোতে সমাজতন্ত্র ও সাম্যবাদের মতো মতবাদগুলো যারা প্রবেশ করিয়েছে তারা তো ওই একনিষ্ঠ ব্যক্তিরাই ছিল। দ্বীনের প্রতি ভালোবাসা—এতে কোনো সন্দেহ নেই যে সকলেই তা মুখে বলে এবং অন্তরের সত্য নিয়তে তা পোষণ করে, কিন্তু কেবল এটিই যথেষ্ট নয়; বরং অবশ্যই কর্মতৎপর হতে হবে।
আমার মনে পড়ে, কয়েক বছর আগে একটি সংবাদপত্রে পড়েছিলাম একজন ক্রীড়াপ্রেমী বলছেন: "আমি অমুক ক্লাবের স্বার্থে আমার বাড়িটি দশ লক্ষ রিয়ালে বন্ধক রেখেছি!" হ্যাঁ, তিনি এই ক্লাবটিকে ভালোবাসতেন তাই এর জন্য কাজ করেছেন; আর আমরা আমাদের দ্বীনকে ভালোবাসি, তাহলে আমরা এর জন্য কী করেছি? !
আর আক্ষেপের সাথে এই প্রশ্নটিই উদিত হয়: শরয়ি জ্ঞান ও মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর শরিয়ত প্রচার এবং এই দ্বীনের দাওয়াত কি উম্মতের গুটিকয়েক ব্যক্তির ওপরই সীমাবদ্ধ থাকবে? !
এটি এমন একটি প্রশ্ন যার জন্য সেই ব্যক্তিদের পক্ষ থেকে প্রায়োগিক উত্তরের প্রয়োজন যাদেরকে আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা এই দ্বীনের নিয়ামত দান করেছেন এবং এর দিকে হেদায়েত দিয়েছেন।
(খণ্ড: ১)
আদ-দাওয়াতু ইলাল্লাহি ফাওয়ায়িদু ওয়া শাওয়াাহিদ
(পৃষ্ঠা: ১১)
لماذا نتطرق لهذا الموضوع؟
نتطرق إلى هذا الموضوع لأسباب كثيرة لعلي أوجزها في نقاط سريعة:
أولا: قلة الكتب التي تتحدث عن هذا الجانب العظيم، جانب الدعوة إلى الله في وسائل الإعلام وخطب الجمعة والدروس والمحاضرات، بل العكس كثر المثبطون، وهناك ولله الحمد أناس كثر يعملون لدين الله من الرجال والنساء فالدين منصور.
ثانيًا: نحن في زمن الدعوة شئنا أم أبينا، فالكل يدعو إلى دينه ومذهبه، أطلق بصرك وارخ سمعك لتجد ذلك واضحًا دون عناء وصعوبة، بل وحتى أصحاب البضائع التجارية اتخذوا من وسائل الإعلام دعوة إلى منتجاتهم فيما يسمى بالإعلان التجاري.
ثالثًا: أن الله عز وجل أنعم علينا بالعلم، ويبقى العمل ثم الدعوة إلى هذا العلم الذي تعلمناه وعرفناه.
رابعًا: أننا نحب الإسلام ولا نشك في ذلك؛ لكن هذا ادعاء محبة (إذا أدرنا أن نعبر بدقة) فالمحبة دون عمل كيف تكون؟ نحب الإسلام لكن لا نعمل له، ولهذا فإن التطرق لهذا الموضوع مطلب ملح لتحريك الهمم وتقوية العزائم في أوساط الشباب والبيوت والأسر.
خامسًا: الأصل أن يكون هذا العمل (أعني الدعوة إلى الله) ديدن المسلم في يومه وليلته، يذكر إذا نسى ويقوى إذا وهن ويحتاج
আমরা কেন এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করছি?
আমরা এই বিষয়টি নিয়ে অনেক কারণে আলোচনা করছি, যা আমি সংক্ষেপে কয়েকটি পয়েন্টে তুলে ধরছি:
প্রথমত: এই মহান দিকটি নিয়ে রচিত গ্রন্থের স্বল্পতা; অর্থাৎ মিডিয়া, জুমার খুতবা, পাঠদান এবং লেকচারগুলোতে আল্লাহর পথে দাওয়াতের বিষয়টি নিয়ে আলোচনার অভাব। বরং এর বিপরীতে নিরুৎসাহিতকারীর সংখ্যাই বেড়েছে। তবে আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহর দ্বীনের জন্য কাজ করছেন এমন নারী ও পুরুষের সংখ্যা অনেক, তাই এই দ্বীন সর্বদা বিজয়ী।
দ্বিতীয়ত: আমরা দাওয়াতের যুগে রয়েছি, চাই আমরা তা পছন্দ করি বা না করি। প্রত্যেকেই নিজ নিজ ধর্ম ও মতাদর্শের দিকে ডাকছে। আপনি দৃষ্টি প্রসারিত করলে এবং কান পাতলে কোনো প্রকার কষ্ট ও পরিশ্রম ছাড়াই তা স্পষ্টভাবে দেখতে পাবেন। এমনকি বাণিজ্যিক পণ্যের মালিকরাও বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে মিডিয়াকে তাদের পণ্যের প্রচার বা দাওয়াতের মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করেছে।
তৃতীয়ত: মহান আল্লাহ আমাদের ইলম বা জ্ঞান দ্বারা ধন্য করেছেন; আর এখন সেই অর্জিত ও পরিচিত ইলমের আলোকে আমল এবং দাওয়াতের কাজই বাকি রয়ে গেছে।
চতুর্থত: আমরা ইসলামকে ভালোবাসি এবং এতে আমাদের কোনো সন্দেহ নেই; কিন্তু এটি কেবল ভালোবাসার দাবি (যদি আমরা সূক্ষ্মভাবে প্রকাশ করতে চাই)। কারণ আমল ছাড়া ভালোবাসা কীভাবে হতে পারে? আমরা ইসলামকে ভালোবাসি কিন্তু তার জন্য কাজ করি না। তাই তরুণ সমাজ, ঘরবাড়ি ও পরিবারগুলোর মাঝে উদ্দীপনা সৃষ্টি এবং সংকল্পকে সুদৃঢ় করার জন্য এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা একটি জরুরি দাবি।
পঞ্চমত: মূলনীতি হলো, এই কাজ (অর্থাৎ আল্লাহর পথে দাওয়াত) একজন মুসলিমের দিন-রাতের নিয়মিত অভ্যাস হওয়া উচিত; যা সে ভুলে গেলে তাকে স্মরণ করিয়ে দেয় এবং দুর্বল হয়ে পড়লে তাকে শক্তি জোগায় ও প্রয়োজন মেটায়।
(খণ্ড: ১)
আদ-দাওয়াতু ইলাল্লাহি ফাওয়ায়িদু ওয়া শাওয়াাহিদ
(পৃষ্ঠা: ১২)
إلى زاد في هذا الطريق الطويل، فلعل هذا الكتاب من الزاد على قلته.
سادسًا: كثرة من يعمل حولنا في الساحة من أصحاب الأفكار المنحرفة والديانات الباطلة، فحري بنا أن نتفقد أمرنا ونقوم بواجبنا حتى تبرأ الذمم أمام الله عز وجل.
سابعًا: بعض الإخوة يتحرقون شوقًا إلى خدمة الدين والقيام بأمر الدعوة إلى الله وهم يبحثون عن الوسائل والطرق المعينة لذلك لعلنا سويًا نقدم شيئًا يستفاد منه.
ثامنًا: أن البعض يمر بمرحلة فتور وتواكل وانتظار النتائج من أعمال الغير، وهنا وقفة فإن الله عز وجل لما ذكر حال مريم في كتابه الكريم قال: {وَهُزِّي إِلَيْكِ بِجِذْعِ النَّخْلَةِ تُسَاقِطْ عَلَيْكِ رُطَبًا جَنِيًّا} [مريم: 25]، كيف بامرأة في هذه الحال وتهز نخلة؟ لكنه الأمر ببذل الأسباب، ولو اجتمعنا نحن جميعًا لما استطعنا أن نحرك جذع النخلة لكننا أمرنا ببذل الأسباب وهكذا الدعوة إلى الله نتلمس الأسباب المعينة عليها.
تاسعًا: توفر الأسباب المعينة على الدعوة إلى الله عز وجل في هذه البلاد وقبول الناس لها وأذكر أن أحد الإخوة ممن يعملون في توزيع الكتب على الحجاج القادمين ذكر أنه قدم حاج من السودان ومعه كتاب قديم قال: فخشيت أن يكون من كتب أهل البدع، فقلت له: أعطني هذا الكتاب فرفض، وبعد مشقة قلت: له
দীর্ঘ এই দীর্ঘ পথের পাথেয় হিসেবে, সম্ভবত এই বইটি তার ক্ষুদ্রতা সত্ত্বেও সেই পাথেয় হিসেবে গণ্য হবে।
ষষ্ঠত: আমাদের চারপাশে কর্মক্ষেত্রে বিচ্যুত (منحرفة) চিন্তাধারা ও বাতিল (باطلة) মতাদর্শের অনুসারীদের আধিক্য; তাই আমাদের উচিত আমাদের নিজেদের অবস্থা পর্যালোচনা করা এবং আমাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করা, যাতে মহান আল্লাহর দরবারে আমরা দায়মুক্ত হতে পারি।
সপ্তমত: কিছু ভাই দ্বীনের সেবা এবং আল্লাহর পথে দাওয়াতের কাজ করার জন্য ব্যাকুল হয়ে আছেন এবং তাঁরা এর জন্য সহায়ক উপায় ও পথ খুঁজছেন; সম্ভবত আমরা সম্মিলিতভাবে এমন কিছু পেশ করতে পারব যা থেকে মানুষ উপকৃত হবে।
অষ্টমত: কেউ কেউ অবসাদ, পরমুখাপেক্ষিতা এবং অন্যের কাজের ফলাফলের অপেক্ষায় থেকে সময় পার করছেন। এখানে একটি বিষয় প্রণিধানযোগ্য যে, মহান আল্লাহ যখন তাঁর পবিত্র কিতাবে মারইয়ামের অবস্থার কথা উল্লেখ করেছেন, তখন বলেছেন: {وَهُزِّي إِلَيْكِ بِجِذْعِ النَّخْلَةِ تُسَاقِطْ عَلَيْكِ رُطَبًا جَنِيًّا} অর্থাৎ: "আর তুমি নিজের দিকে খেজুর গাছের কাণ্ডটি নাড়া দাও, তা তোমার ওপর তাজা ও পাকা খেজুর ফেলবে।" [মারইয়াম: ২৫]। এই অবস্থায় একজন মহিলার পক্ষে কীভাবে খেজুর গাছ নাড়ানো সম্ভব? কিন্তু এটি ছিল উপকরণ ও উপায় গ্রহণের নির্দেশ। আমরা সবাই মিলে একত্রিত হলেও খেজুর গাছের কাণ্ডটি নাড়াতে পারতাম না, তবে আমাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে উপায় অবলম্বনের। আল্লাহর পথে দাওয়াতের ক্ষেত্রেও আমাদের তদ্রূপ সহায়ক উপায়সমূহ সন্ধান করতে হবে।
নবমত: এই ভূখণ্ডে মহান আল্লাহর পথে দাওয়াতের সহায়ক উপকরণসমূহের সহজলভ্যতা এবং মানুষের মাঝে এর গ্রহণযোগ্যতা। আমার মনে পড়ছে যে, আগত হাজীদের মাঝে কিতাব বিতরণের কাজে নিয়োজিত এক ভাই উল্লেখ করেছেন যে, সুদান থেকে একজন হাজী এসেছেন এবং তাঁর সাথে একটি পুরনো কিতাব ছিল। সেই ভাই বললেন: আমি আশঙ্কা করেছিলাম যে এটি বিদআতীদের (أهل البدع) কোনো কিতাব হতে পারে। তাই আমি তাকে বললাম: আমাকে এই কিতাবটি দিন, কিন্তু তিনি তা দিতে অস্বীকার করলেন। এরপর অনেক কষ্টের পর আমি তাকে বললাম:
(খণ্ড: ১)
আদ-দাওয়াতু ইলাল্লাহি ফাওয়ায়িদু ওয়া শাওয়াাহিদ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
أرني الكتاب، فوافق؛ فإذا به دليل الحاج والمعتمر للشيخ عبد العزيز بن باز رحمه الله فقلت له نعطيك كتابًا لنفس المؤلف هو كتاب: التحقيق والإيضاح، وتعطينا هذا الكتاب القديم، قال: هذا الكتاب له ما يقارب من عشرين سنة لدى إمام المسجد وكل من أراد الحج يأخذه ثم يعيده إليه! وهذا الكتاب سعره لا يتجاوز ريالاً واحدًا.
عاشرًا: انصراف الناس إلى الدنيا من تجارة وأسهم وعقار حتى طغت على حياتهم ونسوا ما خلقوا له {وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالْإِنْسَ إِلَّا لِيَعْبُدُونِ} [الذاريات: 56].
وأختم بأمر هام وعظيم أن هذه البلاد بلاد الرسالة ومهبط الوحي شئنا أم أبينا والواجب علينا عظيم والمسئولية مضاعفة.
আমাকে বইটি দেখান, তিনি সম্মত হলেন; দেখা গেল সেটি শেখ আব্দুল আজিজ বিন বাজ (রহিমাহুল্লাহ)-এর লেখা 'দলিলুল হাজ্জি ওয়াল মুতামির' বইটি। আমি তাকে বললাম, আমরা আপনাকে একই লেখকের অন্য একটি বই দিচ্ছি যা হলো: 'আত-তাহকিক ওয়াল ইদাহ', আর আপনি আমাদের এই পুরনো বইটি দিয়ে দিন। তিনি বললেন: এই বইটি প্রায় বিশ বছর ধরে মসজিদের ইমামের কাছে রয়েছে এবং যে কেউ হজে যেতে চায় সে এটি নিয়ে যায় এবং পরে তাকে ফেরত দেয়! আর এই বইটির দাম এক রিয়ালের বেশি নয়।
দশম: ব্যবসা-বাণিজ্য, শেয়ার এবং স্থাবর সম্পত্তির ন্যায় পার্থিব বিষয়ের প্রতি মানুষের ঝুঁকে পড়া, এমনকি এটি তাদের জীবনের ওপর এতটাই আধিপত্য বিস্তার করেছে যে তারা যে উদ্দেশ্যে সৃষ্টি হয়েছে তা-ই ভুলে গিয়েছে {আর আমি জিন এবং মানুষকে কেবল আমার ইবাদত করার জন্যই সৃষ্টি করেছি} [আদ-ধারিয়াত: ৫৬]।
আমি একটি গুরুত্বপূর্ণ ও মহান বিষয়ের মাধ্যমে শেষ করছি যে, আমরা চাই বা না চাই, এই ভূখণ্ড হলো রিসালাতের ভূমি এবং ওহী (وحي) অবতরণের স্থান। আমাদের ওপর অর্পিত কর্তব্য অত্যন্ত মহান এবং দায়িত্ব বহুগুণ বেশি।
(খণ্ড: ১)
আদ-দাওয়াতু ইলাল্লাহি ফাওয়ায়িদু ওয়া শাওয়াাহিদ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
محاور رئيسة في الدعوة إلى الله عز وجل-
سوف أتطرق إليها على عجل؛ وهي أيضًا لا تغيب عن فطنة القارئ ويكفي من القلادة ما أحاط بالعنق.
أولاً: من شروط الداعي إلى الله، أن يكون على علم وبصيرة قال تعالى: {
… فَاعْلَمْ أَنَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَاسْتَغْفِرْ لِذَنْبِكَ} [محمد: 19]، فبدأ بالعلم قبل العمل، فإذا لم يتعلم العلم ويعرفه قد يدعو إلى بدعة مثلاً أو إلى محرم وهو لا يعرف أنه محرم، ولا يكفي حسن النية في الأعمال بل لابد أن تكون صوابًا موافقة لما جاء في الكتاب والسنة.
ثانيًا: الإخلاص لله عز وجل في هذه الدعوة رغبة في نيل ثواب الله، لا لعرض من أعراض الدنيا من مال أو جاه أو اجتماع الناس حوله، ويجب أن لا يكون للنفس حظ في هذا، وعليه أن يجاهد نفسه فالطريق طويل والشياطين في كل ناحية، وعلى الداعي أن يبتعد عن الإعجاب بعمله وقوله فإنها الهلكة.
وبعض الناس يكون ديدنه ذكر الحكايات عنه ومن اهتدى على يديه وأنه فعل وفعل وقد كان السلف رحمهم الله يخفون أعمالهم الصالحة كما نخفي سيئاتنا.
فالإخلاص هو حقيقة الدين، ومفتاح دعوة الرسل عليهم السلام قال تعالى: {وَمَا أُمِرُوا إِلَّا لِيَعْبُدُوا اللَّهَ مُخْلِصِينَ لَهُ الدِّينَ حُنَفَاءَ} [البينة: 5]، وقال تعالى: {الَّذِي خَلَقَ الْمَوْتَ وَالْحَيَاةَ
আল্লাহর দিকে দাওয়াতের প্রধান ক্ষেত্রসমূহ-
আমি এগুলোর ওপর দ্রুত আলোকপাত করব; এগুলো পাঠকের বিচক্ষণতার অগোচরে থাকার কথা নয় এবং গলার হারের জন্য সেটুকুই যথেষ্ট যা ঘাড়কে বেষ্টন করে থাকে (অর্থাৎ সংক্ষিপ্ত বর্ণনাই যথেষ্ট)।
প্রথমত: আল্লাহর দিকে আহ্বানকারীর অন্যতম শর্ত হলো জ্ঞান ও প্রজ্ঞার অধিকারী হওয়া। মহান আল্লাহ বলেন: {…অতএব জেনে রাখুন যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই এবং আপনার ত্রুটির জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন} [মুহাম্মদ: ১৯]। এখানে আমলের আগে জ্ঞানার্জনের কথা বলা হয়েছে। সুতরাং কেউ যদি জ্ঞান অর্জন না করে, তবে সে হয়তো কোনো নবউদ্ভাবনের (بدعة) দিকে অথবা কোনো নিষিদ্ধ (محرم) বিষয়ের দিকে আহ্বান করতে পারে অথচ সে জানবেও না যে এটি নিষিদ্ধ। আমলের ক্ষেত্রে কেবল সদিচ্ছাই যথেষ্ট নয়, বরং তা অবশ্যই কিতাব ও সুন্নাহর (السنة) নির্দেশনার সাথে সংগতিপূর্ণ ও সঠিক হতে হবে।
দ্বিতীয়ত: এই দাওয়াতের ক্ষেত্রে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে ইখলাস বা একনিষ্ঠতা বজায় রাখা, যা কেবল আল্লাহর প্রতিদান লাভের আশায় হবে; পার্থিব কোনো সম্পদ, পদমর্যাদা বা মানুষের ভিড় জমানোর উদ্দেশ্যে নয়। এতে প্রবৃত্তির কোনো অংশ থাকা উচিত নয়। তাকে নিজের কুপ্রবৃত্তির বিরুদ্ধে সংগ্রাম করতে হবে, কারণ পথ দীর্ঘ এবং শয়তান প্রতিটি দিকে ওত পেতে আছে। আর আহ্বানকারীকে তার কাজ ও কথার মাধ্যমে আত্মমুগ্ধতা থেকে দূরে থাকতে হবে, কারণ এটিই ধ্বংসের মূল।
কিছু মানুষের অভ্যাস হলো নিজের সম্পর্কে গালগল্প করা এবং তার হাতে কে কে হেদায়েত পেয়েছে তা বর্ণনা করা এবং সে কী কী করেছে তা জাহির করা। অথচ সালাফগণ (আল্লাহ তাঁদের ওপর রহমত বর্ষণ করুন) তাঁদের নেক আমলগুলোকে সেভাবেই গোপন রাখতেন যেভাবে আমরা আমাদের পাপসমূহ গোপন রাখি।
ইখলাস বা একনিষ্ঠতাই হলো দ্বীনের প্রকৃত স্বরূপ এবং রাসূলগণের দাওয়াতের চাবিকাঠি। মহান আল্লাহ বলেন: {তাদেরকে এছাড়া কোনো নির্দেশ দেওয়া হয়নি যে, তারা আল্লাহর ইবাদত করবে তাঁরই আনুগত্যে একনিষ্ঠ হয়ে, একমুখী হয়ে} [আল-বাইয়্যিনাহ: ৫]। মহান আল্লাহ আরও বলেন: {যিনি মৃত্যু ও জীবন সৃষ্টি করেছেন...
(খণ্ড: ১)
আদ-দাওয়াতু ইলাল্লাহি ফাওয়ায়িদু ওয়া শাওয়াাহিদ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
لِيَبْلُوَكُمْ أَيُّكُمْ أَحْسَنُ عَمَلًا} [الملك: 2].
قال الفضيل بن عياض: هو أخلصه وأصوبه، قالوا: يا أبا علي ما أخلصه وأصوبه؟ فقال: إن العمل إذا كان خالصًا ولم يكن صوابًا لم يقبل، وإذا كان صوابًا ولم يكن خالصًا لم يقبل حتى يكون خالصًا وصوابًا، والخالص: أن يكون لله، والصواب: أن يكون على السنة، ثم قرأ قوله تعالى: {فَمَنْ كَانَ يَرْجُوا لِقَاءَ رَبِّهِ فَلْيَعْمَلْ عَمَلًا صَالِحًا وَلَا يُشْرِكْ بِعِبَادَةِ رَبِّهِ أَحَدًا} [الكهف: 110].
وعن أبي هريرة مرفوعًا: «قال الله -تعالى-: أنا أغنى الشركاء عن الشرك، من عمل عملاً أشرك معي فيه غيري تركته وشركه» [رواه مسلم].
وقاله صلى الله عليه وسلم: «من صلى يرائي فقد أشرك ومن صام يرائي، فقد أشرك، ومن تصدق يرائي فقد أشرك» [رواه أحمد].
وعن عمر بن الخطاب رضي الله عنه قال سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: «إنما الأعمال بالنيات، وإنما لكل امرئ ما نوى، فمن كانت هجرته إلى الله ورسوله فهجرته إلى الله ورسوله، ومن كانت هجرته لدنيا يصيبها أو امرأة ينكحها، فهجرته إلى ما هاجر إليه» [متفق عليه].
قال سهل بن عبد الله: ليس على النفس أشق من الإخلاص؛ لأنه ليس لها فيه نصيب.
{যাতে তিনি তোমাদের পরীক্ষা করতে পারেন যে, আমলের দিক থেকে তোমাদের মধ্যে কে উত্তম।} [আল-মুলক: ২]।
ফুদাইল ইবন ইয়াদ বলেন: তা হলো সর্বাধিক একনিষ্ঠ (خالصاً) এবং সর্বাধিক সঠিক (صواباً)। তারা জিজ্ঞেস করলেন: হে আবু আলী, সর্বাধিক একনিষ্ঠ এবং সর্বাধিক সঠিক বিষয়টি কী? তিনি বললেন: আমল যখন একনিষ্ঠ (خالصاً) হয় কিন্তু সঠিক (صواباً) না হয়, তখন তা কবুল করা হয় না। আবার যখন তা সঠিক (صواباً) হয় কিন্তু একনিষ্ঠ (خالصاً) না হয়, তখনও তা কবুল করা হয় না; যতক্ষণ না তা একনিষ্ঠ (خالصاً) এবং সঠিক (صواباً) উভয়ই হয়। একনিষ্ঠতা (خالصاً) হলো যা কেবল আল্লাহর জন্য হয়, আর সঠিকতা (صواباً) হলো যা সুন্নাহ (سنة) অনুযায়ী হয়। অতঃপর তিনি মহান আল্লাহর এই বাণী তিলাওয়াত করলেন: {অতএব যে ব্যক্তি তার রবের সাক্ষাৎ কামনা করে, সে যেন সৎকর্ম সম্পাদন করে এবং তার রবের ইবাদতে কাউকে শরিক না করে।} [আল-কাহাফ: ১১০]।
আবু হুরায়রা (রা.) থেকে মারফু (مرفوعاً) সূত্রে বর্ণিত: আল্লাহ তাআলা বলেন: "আমি অংশীদারদের শিরক (অংশীবাদিত্ব) থেকে সম্পূর্ণ অমুখাপেক্ষী। যে ব্যক্তি এমন কোনো আমল করে যাতে আমার সাথে অন্য কাউকে শরিক করা হয়, আমি তাকে এবং তার শিরককে বর্জন করি।" [মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন]।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "যে ব্যক্তি লোকদেখানোর জন্য নামাজ পড়ল সে শিরক করল, যে লোকদেখানোর জন্য রোজা রাখল সে শিরক করল এবং যে লোকদেখানোর জন্য সদকা করল সে শিরক করল।" [আহমাদ এটি বর্ণনা করেছেন]।
উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রাসুল (সা.)-কে বলতে শুনেছি: "নিশ্চয়ই সমস্ত আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল, এবং প্রত্যেক ব্যক্তি তাই পায় যা সে নিয়ত করে। সুতরাং যার হিজরত আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের দিকে হয়, তার হিজরত আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের দিকেই গণ্য হবে। আর যার হিজরত দুনিয়া লাভের জন্য অথবা কোনো নারীকে বিবাহ করার উদ্দেশ্যে হয়, তবে তার হিজরত সেই উদ্দেশ্যেই গণ্য হবে যার জন্য সে হিজরত করেছে।" [সর্বসম্মত (متفق عليه)]।
সাহল ইবন আব্দুল্লাহ বলেন: নফসের বা প্রবৃত্তির নিকট একনিষ্ঠতার (إخلاص) চেয়ে কঠিন আর কিছু নেই; কারণ এতে তার কোনো পার্থিব অংশ নেই।
(খণ্ড: ১)
আদ-দাওয়াতু ইলাল্লাহি ফাওয়ায়িদু ওয়া শাওয়াাহিদ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
وروي عن بعض الحكماء أنه قال: مثل من يعمل الطاعات للرياء والسمعة كمثل رجل خرج إلى السوق وملأ كيسه حصاة، فيقول الناس: ما أملأ كيس هذا الرجل، فلا منفعة له سوى مقالة الناس، ولو أراد أن يشتري له شيئًا لا يعطى به شيئًا، كذلك الذي عمل للرياء والسمعة لا منفعة له سوى مقالة الناس، ولا ثواب له في الآخرة، كما قال تعالى: {وَقَدِمْنَا إِلَى مَا عَمِلُوا مِنْ عَمَلٍ فَجَعَلْنَاهُ هَبَاءً مَنْثُورًا} [الفرقان: 23].
أما إذا عمل العمل لله خالصًا، ثم ألقى الله الثناء الحسن في قلوب المؤمنين، ففرح بفضل الله ورحمته واستبشر بذلك لم يضره، وفي الحديث عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه سئل عن الرجل يعمل العمل من الخير يحمده الناس عليه فقال: «تلك عاجل بشرى المؤمن» [رواه مسلم].
কোনো কোনো প্রাজ্ঞ ব্যক্তির থেকে বর্ণিত (روي) হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: লোকদেখানো (الرياء) ও সুখ্যাতি (السمعة) অর্জনের লক্ষ্যে আমলকারীর উদাহরণ সেই ব্যক্তির ন্যায়, যে বাজারে বের হলো এবং নিজের থলি কঙ্কর দিয়ে পূর্ণ করল। মানুষ তখন বলতে লাগল: ‘এই লোকটির থলি কতই না ভর্তি!’ অথচ মানুষের এই উক্তি ছাড়া তার আর কোনো উপকার নেই। সে যদি তা দিয়ে কিছু ক্রয় করতে চায়, তবে তার বিনিময়ে তাকে কিছুই দেওয়া হবে না। অনুরূপভাবে, যে ব্যক্তি লোকদেখানো (الرياء) ও সুখ্যাতির (السمعة) জন্য কাজ করল, মানুষের প্রশংসা ছাড়া তার আর কোনো লাভ নেই এবং পরকালেও তার জন্য কোনো প্রতিদান নেই। যেমন মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন: {আর তারা যে আমল করেছে আমি তার প্রতি মনোনিবেশ করব, অতঃপর সেটিকে বিক্ষিপ্ত ধূলিকণায় পরিণত করব।} [আল-ফুরকান: ২৩]।
পক্ষান্তরে, যদি কেউ একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর সন্তুষ্টির নিমিত্তে কোনো আমল করে, অতঃপর আল্লাহ মুমিনদের অন্তরে তার জন্য উত্তম প্রশংসা ঢেলে দেন এবং সে আল্লাহর অনুগ্রহ ও রহমতে আনন্দিত ও প্রফুল্ল হয়, তবে তা তার কোনো ক্ষতি করবে না। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে যে, তাঁকে এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে কোনো নেক আমল করে এবং মানুষ তার প্রশংসা করে। তিনি বললেন: ‘এটি মুমিনের জন্য দুনিয়াতেই নগদ সুসংবাদ।’ [মুসলিম বর্ণনা করেছেন]।
(খণ্ড: ১)
আদ-দাওয়াতু ইলাল্লাহি ফাওয়ায়িদু ওয়া শাওয়াাহিদ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
الرفقالرفق مطلب ملح، والدعوة والرفق متلازمان لا ينفصل أحدهما عن الآخر.
الرفق في جانب الدعوة إلى الله ضروري وهام، فالداعي مثل الطبيب الذي يترفق بمريضه ويقلبه ذات اليمين وذات الشمال حتى يبرأ.
وقد حث الرسول صلى الله عليه وسلم على الرفق بقوله: «إن الرفق لا يكون في شيء إلا زانه» [رواه مسلم]، خاصة في هذا الزمن الذي تحولت فيه الطبائع وأثرت في الناس القنوات الفضائية، وكثر المعاند وشحت الأنفس.
ذلك أن المقصود من الدعوة إلى الله تبليغ شرائع الله إلى الخلق، ولا يتم ذلك إلا إذا مالت القلوب إلى الداعي، وسكنت نفوسهم لديه، وذلك إنما يكون إذا كان الداعي رحيمًا كريمًا، يتجاوز عن ذنب المسيئ، ويعفو عن زلاته، ويخصه بوجوه البر، والمكرمة والشفقة.
قال شيخ الإسلام ابن تيمية -قدس الله روحه-: «وينبغي أن يكون الداعي حليمًا صبورًا على الأذى، فإن لم يحلم ويصبر كان ما يفسد أكثر مما يصلح».
وقال رحمه الله: «ومن تدبر أصول الشرع علم أنه يتطلف بالناس في التوبة في كل طريق».
কোমলতা (الرفق)কোমলতা (الرفق) একটি অপরিহার্য দাবি; আর দাওয়াত ও কোমলতা (الرفق) একে অপরের পরিপূরক, যা কখনো একে অপর থেকে বিচ্ছিন্ন হয় না।
আল্লাহর পথে দাওয়াতের ক্ষেত্রে কোমলতা (الرفق) অত্যন্ত জরুরি ও গুরুত্বপূর্ণ। কেননা একজন দাঈ হলেন একজন চিকিৎসকের মতো, যিনি তার রোগীর প্রতি কোমল আচরণ করেন এবং সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত তাকে অত্যন্ত মমতার সাথে সেবা প্রদান করেন।
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোমলতার (الرفق) প্রতি উৎসাহিত করে বলেছেন: «নিশ্চয়ই কোনো বিষয়ের মধ্যে যখন কোমলতা (الرفق) থাকে, তখন তা তাকে সৌন্দর্যমণ্ডিত করে» [মুসলিম কর্তৃক বর্ণিত]। বিশেষ করে বর্তমান যুগে, যখন মানুষের স্বভাব পরিবর্তিত হয়েছে, স্যাটেলাইট চ্যানেলগুলো মানুষের ওপর প্রভাব বিস্তার করেছে, হঠকারীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং মানুষের অন্তর সংকীর্ণ হয়ে পড়েছে।
কেননা আল্লাহর দিকে দাওয়াতের উদ্দেশ্য হলো সৃষ্টির নিকট আল্লাহর বিধানসমূহ পৌঁছে দেওয়া। আর এটি ততক্ষণ পর্যন্ত সম্ভব নয় যতক্ষণ না অন্তরসমূহ দাঈর প্রতি আকৃষ্ট হয় এবং তাদের নিকট তিনি প্রশান্তির আধার হিসেবে গণ্য হন। এটি কেবল তখনই অর্জিত হতে পারে যখন দাঈ অত্যন্ত দয়ালু ও উদার হৃদয়ের অধিকারী হন, তিনি অপরাধীর অপরাধ উপেক্ষা করেন, তাদের বিচ্যুতিসমূহ ক্ষমা করেন এবং পুণ্য, মহানুভবতা ও সহমর্মিতার দ্বারা তাদের বিশেষভাবে সিক্ত করেন।
শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া —আল্লাহ তাঁর আত্মাকে পবিত্র করুন— বলেছেন: «দাঈর জন্য সহনশীল (حليم) হওয়া এবং কষ্টের ওপর ধৈর্যশীল (صابر) হওয়া আবশ্যক; কেননা যদি তিনি সহনশীল ও ধৈর্যশীল না হন, তবে তিনি যতটুকু সংশোধন করবেন তার চেয়ে বিনষ্ট করবেন বেশি।»
তিনি —রাহিমাহুল্লাহ— আরও বলেছেন: «যে ব্যক্তি শরিয়তের মূলনীতিসমূহ (أصول الشرع) নিয়ে গভীর চিন্তা-গবেষণা করবে, সে অনুধাবন করতে পারবে যে, মহান আল্লাহ প্রতিটি পথেই মানুষের তওবার ক্ষেত্রে তাদের সাথে অত্যন্ত সদয় ও কোমল আচরণ করেছেন।»
(খণ্ড: ১)
আদ-দাওয়াতু ইলাল্লাহি ফাওয়ায়িদু ওয়া শাওয়াাহিদ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
الرابع من المحاور الرئيسة: لين الخطاب واختيار العبارات المناسبة، فالله عز وجل خاطب الكفار في مقام الدعوة بقوله تعالى: {يَا أَهْلَ الْكِتَابِ لَا تَغْلُوا فِي دِينِكُمْ} [النساء: 171]، وقال تعالى: {قُلْ يَا أَهْلَ الْكِتَابِ تَعَالَوْا إِلَى كَلِمَةٍ سَوَاءٍ} [آل عمران: 64]، وهم يفرحون بهذا النداء وأنهم أمة كتاب.
وإبراهيم عليه السلام تلطف وترفق في دعوة والده فاسمعه يقول مرات عديدة: {يَا أَبَتِ لَا تَعْبُدِ الشَّيْطَانَ إِنَّ الشَّيْطَانَ كَانَ لِلرَّحْمَنِ عَصِيًّا * يَا أَبَتِ إِنِّي أَخَافُ أَنْ يَمَسَّكَ عَذَابٌ مِنَ الرَّحْمَنِ فَتَكُونَ لِلشَّيْطَانِ وَلِيًّا} [مريم: 44، 45].
والله عز وجل لما أرسل موسى وهارون إلى فرعون قال له سبحانه: {قُولَا لَهُ قَوْلًا لَيِّنًا لَعَلَّهُ يَتَذَكَّرُ أَوْ يَخْشَى} [طه: 44].
والنبي صلى الله عليه وسلم لما أرسل الرسائل للملوك والرؤساء يدعوهم إلى الإسلام، قال فيها صلى الله عليه وسلم: «من محمد رسول الله إلى عظيم الروم»، و «من رسول الله إلى عظيم فارس».
وسهيل بن عمر لما جلس إلى النبي صلى الله عليه وسلم في صلح الحديبية وكان في حينها كافرًا، قال له صلى الله عليه وسلم: «انتهيت، أبا الوليد» كل ذلك رغبة في فتح قلبه ودعوته.
وقد أرشد صلى الله عليه وسلم إلى ذلك في أحاديث كثيرة: «يسروا ولا تعسروا بشروا ولا تنفروا» [رواه البخاري].
ومن الوسائل في ذلك البشاشة وحسن المعاملة وهذه تحتاج
চতুর্থ মূল বিষয়: কোমল সম্বোধন এবং উপযুক্ত শব্দচয়ন। কেননা মহান আল্লাহ দাওয়াতি ক্ষেত্রে কাফিরদের সম্বোধন করে বলেছেন: {হে আহলে কিতাব, তোমরা তোমাদের দ্বীনের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করো না} [নিসা: ১৭১], এবং আল্লাহ তাআলা আরও বলেছেন: {বলুন, হে আহলে কিতাব, এসো এমন এক কথার দিকে যা আমাদের ও তোমাদের মধ্যে অভিন্ন} [আল ইমরান: ৬৪]। তারা এই আহ্বানে এবং তারা যে কিতাবধারী উম্মত—এটি ভেবে আনন্দিত হয়।
আর ইব্রাহিম (আলাইহিস সালাম) তাঁর পিতাকে দাওয়াত দেওয়ার ক্ষেত্রে অত্যন্ত কোমলতা ও নম্রতা অবলম্বন করেছিলেন। তাঁকে বারবার বলতে শুনুন: {হে আমার প্রিয় পিতা, শয়তানের ইবাদত করবেন না; নিশ্চয় শয়তান পরম দয়াময় আল্লাহর অবাধ্য। হে আমার প্রিয় পিতা, আমি ভয় পাচ্ছি যে, পরম দয়াময় আল্লাহর পক্ষ থেকে কোনো আজাব আপনাকে স্পর্শ করবে, ফলে আপনি শয়তানের বন্ধু হয়ে পড়বেন} [মারইয়াম: ৪৪, ৪৫]।
আর আল্লাহ তাআলা যখন মুসা ও হারুনকে ফেরাউনের কাছে প্রেরণ করেন, তখন তিনি তাঁদেরকে বলেছিলেন: {তোমরা তার সাথে নরম ভাষায় কথা বলবে, হয়তো সে উপদেশ গ্রহণ করবে অথবা ভয় পাবে} [ত্বহা: ৪৪]।
আর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন বিভিন্ন রাজা ও প্রধানদের কাছে ইসলামের দাওয়াত দিয়ে পত্র পাঠিয়েছিলেন, তখন তিনি সেগুলোতে লিখেছিলেন: «আল্লাহর রাসূল মুহাম্মাদের পক্ষ থেকে রোম সম্রাটের প্রতি» এবং «আল্লাহর রাসূলের পক্ষ থেকে পারস্য সম্রাটের প্রতি»।
সুহাইল ইবনে আমর যখন হুদাইবিয়ার সন্ধিকালে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে বসেছিলেন—এবং তখন তিনি কাফির ছিলেন—তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁকে বলেছিলেন: «হে আবুল ওয়ালিদ, আপনি কি শেষ করেছেন?» এর সবই ছিল তাঁর অন্তর জয় করার এবং তাঁকে দাওয়াত দেওয়ার আগ্রহ থেকে।
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) অনেক হাদিসে এ বিষয়ে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন: «তোমরা সহজ করো, কঠিন করো না; সুসংবাদ দাও, বিতৃষ্ণা সৃষ্টি করো না» [সহিহ বুখারি]।
এর অন্যতম মাধ্যম হলো হাস্যোজ্জ্বলতা ও উত্তম আচরণ, আর এর জন্য প্রয়োজন...
(খণ্ড: ১)
আদ-দাওয়াতু ইলাল্লাহি ফাওয়ায়িদু ওয়া শাওয়াাহিদ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
إلى بسط طويل
… ولين القول مع الكفار على سبيل العطف بهم، والرحمة لا على سبيل الخوف والذلة.
وفي عتاب النبي صلى الله عليه وسلم للرجل حسن أدب وتوجيهه بعيدًا عن التجريح والتعنيف اسمعه صلى الله عليه وسلم يقول: «زادك الله حرصًا ولا تعد» [رواه البخاري].
বিস্তারিত আলোচনার দিকে
… এবং কাফিরদের প্রতি সহমর্মিতা ও দয়ার বশবর্তী হয়ে তাদের সাথে নম্রভাবে কথা বলা, ভয় বা হীনম্মন্যতার কারণে নয়।
আর জনৈক ব্যক্তিকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মৃদু তিরস্কারের মধ্যে রয়েছে উত্তম শিষ্টাচার এবং ত্রুটি বর্ণনা (تجريح) ও কঠোরতা পরিহার করে তাকে সঠিক দিকনির্দেশনা প্রদান; তাঁকে সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতে শুনুন: "আল্লাহ তোমার আগ্রহ বৃদ্ধি করুন, তবে পুনরায় এমন করো না" [বুখারি বর্ণনা করেছেন]।
(খণ্ড: ১)
আদ-দাওয়াতু ইলাল্লাহি ফাওয়ায়িদু ওয়া শাওয়াাহিদ
(পৃষ্ঠা: ২০)
طريق تبليغ الدعوةتبلغ الدعوة عبر طريقين اثنين:
الأول: القدوة: قال تعالى: {لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِي رَسُولِ اللَّهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ} [الأحزاب: 21] والنبي صلى الله عليه وسلم كان قدوة للصاحبة في كل شيء، وشهد له كفار قريش بالصدق والأمانة، والإسلام في العصور الأولى انتشر في شبه القارة الهندية وأفريقيا وإندونيسيا عن طريق التجار بما يمثلونه من قدوة حسنة في التعامل والصدق في المعاملة.
وجانب القدوة تتفلت من أيدي الناس اليوم إلا من رحم ربي وقليل ما هم، وابحث إن شئت عن هذا التفلت في تعامل الموظف مع المراجعين، والتاجر مع المشترين والزوج مع زوجته والقائمة طويلة، نحتاج إلى قدوات في الأقوال والأفعال والأعمال والمظهر والمخبر.
وبعض الكفار من العمالة إذا دعوته لماذا لا تسلم؟ قال بعد نقاش طويل: الكفيل لا يعطيني مرتبي، فهو نظر إلى الإسلام في شخص هذا الكفيل، وقد يكون هذا من الصد عن دين الله! ولاشك أن القدوات من الأخيار كثر ولله الحمد لكننا نتحدث عن هذا الجانب لما له من أثر في الدعوة إلى الله.
ومن أوضح الأمثلة تأثيرًا الأب في المنزل، إذا كان قدوة في خلقه وتعامله وعبادته وصدقه طبع ذلك في أهل البيت أبناء وزجه.
দাওয়াহ্ প্রচারের পদ্ধতিদাওয়াহ্ দুটি মাধ্যমের দ্বারা পৌঁছানো যায়:
প্রথমত: আদর্শ (القدوة): মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন: {অবশ্যই তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসূলের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ (أسوة حسنة)} [আল-আহযাব: ২১]। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবীগণের জন্য সকল বিষয়ে আদর্শ (قدوة) ছিলেন। কুরাইশ কাফিররা তাঁর সত্যবাদিতা (الصدق) ও আমানতদারিতার (الأمانة) সাক্ষ্য দিয়েছিল। ইসলামের প্রাথমিক যুগে ভারতীয় উপমহাদেশ, আফ্রিকা ও ইন্দোনেশিয়ায় ইসলাম ছড়িয়ে পড়েছিল মূলত ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে; তাঁরা তাঁদের পারস্পরিক লেনদেন ও আচার-আচরণে সত্যবাদিতার (الصدق) যে উত্তম আদর্শ (القدوة الحسنة) প্রদর্শন করেছিলেন, তার মাধ্যমেই তা সম্ভব হয়েছিল।
বর্তমানে আদর্শের এই দিকটি মানুষের হাত থেকে ফসকে যাচ্ছে, তবে আমার রব যাদের প্রতি দয়া করেছেন তারা ব্যতীত, আর তাঁদের সংখ্যা খুব সামান্য। আপনি যদি চান তবে এই বিচ্যুতি খুঁজে দেখতে পারেন সেবাগ্রহীতাদের সাথে কর্মচারীদের আচরণে, ক্রেতাদের সাথে ব্যবসায়ীদের আচরণে এবং স্ত্রীর সাথে স্বামীর আচরণে; আর এ তালিকা বেশ দীর্ঘ। আমাদের কথা, কাজ, আমল, বাহ্যিক রূপ এবং অভ্যন্তরীণ বিষয়ের ক্ষেত্রে আদর্শবান ব্যক্তিত্বের প্রয়োজন।
শ্রমিকদের অন্তর্ভুক্ত কোনো কোনো অমুসলিমকে যখন দাওয়াহ্ দেওয়া হয় যে, কেন আপনি ইসলাম গ্রহণ করছেন না? দীর্ঘ আলোচনার পর সে হয়তো বলে: নিয়োগকর্তা (الكفيل) আমাকে পারিশ্রমিক প্রদান করেন না। সে মূলত ঐ নিয়োগকর্তার (الكفيل) ব্যক্তিত্বের মাঝেই ইসলামকে প্রত্যক্ষ করেছে। আর এটি আল্লাহর দ্বীন থেকে মানুষকে বিমুখ করার (الصد عن دين الله) কারণ হতে পারে! নিঃসন্দেহে পুণ্যবানদের মধ্যে আদর্শবান ব্যক্তির সংখ্যা অনেক, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য। কিন্তু আমরা এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করছি কারণ আল্লাহর পথে দাওয়াতের ক্ষেত্রে এর গভীর প্রভাব রয়েছে।
প্রভাবের ক্ষেত্রে অন্যতম সুস্পষ্ট উদাহরণ হলেন ঘরের পিতা। তিনি যদি তাঁর চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য, আচরণ, ইবাদত ও সত্যবাদিতায় (الصدق) আদর্শ (قدوة) হন, তবে তার প্রভাব পরিবারের সদস্য অর্থাৎ সন্তান ও স্ত্রীর ওপর গভীরভাবে প্রতিফলিত হয়।
(খণ্ড: ১)
আদ-দাওয়াতু ইলাল্লাহি ফাওয়ায়িদু ওয়া শাওয়াাহিদ
(পৃষ্ঠা: ২১)
وإذا كان من المفرطين انعكس ذلك على أهل البيت، وهذا واضح جلي وهو إما إلى الخير وإما إلى الشر -والعياذ بالله- فعلى كل أب أن يتفقد نفسه وكل أم أن تنظر في نفسها.
وقد رأى أحد السلف رجلاً يصلي صلاة ينقرها نقرًا، فقال: إني أرحم عياله، قالوا: كيف؟ ، قال: لأنهم يأخذونها عنه.
وأضرب مثلاً: لو أن شابًا ملتزمًا جمع الله له بين الدين والخلق تزوج بامرأة ينقصها الكثير من أمور الدين (لنقل أنها مقصرة) هي وأسرتها، ثم رأوا من الزوج حسن الخلق وطيب التعامل وحسن العشرة ألا يحبونه؟ ! وإذا أحبوه كانت النتيجة الموجوة من دعوته ألا وهي القبول.
ولو كان الأمر بالعكس، وكان فظًا غليظًا لا يحسن المعاملة ويجانب الرفق في حياته! ماذا يكون الأمر يتحول إلى زوج غير مقبول وقل مكروه، بل وتصل هذه السمعة إلى أقارب الزوجة وجيرانهم فتشوه صورة هذا الرجل.
الأول بحسن خلقه واستقامته الاستقامة الصحيحة سوف تهفو إليه قلوب العفيفات، بل والآباء والأمهات يرغبون في تزويج ابنتهم بشاب مثله! والآخر، الله المستعان.
وقد غفل الناس عن القدوة وأضاعوا أمرًا عظيمًا، وأذكر أن بعض السلف قال: كنا نمزح ونضحك فلما صار يقتدى بنا تركنا ذلك.
যদি কেউ সীমালঙ্ঘনকারীদের (مفرطين) অন্তর্ভুক্ত হয়, তবে তার প্রভাব পরিবারের সদস্যদের ওপর প্রতিফলিত হয়। এটি অত্যন্ত সুস্পষ্ট; আর এটি হয় কল্যাণের দিকে নিয়ে যায় নতুবা অকল্যাণের দিকে—আল্লাহর কাছে এ থেকে পানাহ চাই। তাই প্রত্যেক পিতার উচিত নিজ সত্তাকে যাচাই করা এবং প্রত্যেক মাতার উচিত নিজের প্রতি দৃষ্টি দেওয়া।
জনৈক পূর্বসূরি (সালাফ) এক ব্যক্তিকে এমনভাবে সালাত আদায় করতে দেখলেন যে, সে যেন পাখির মতো ঠোকর দিয়ে অতি দ্রুত রুকু-সিজদা সম্পন্ন করছিল। তখন তিনি বললেন: "আমি তার পরিবারের সদস্যদের জন্য করুণা বোধ করছি।" লোকেরা জিজ্ঞেস করল: "কীভাবে?" তিনি বললেন: "কারণ তারা তার কাছ থেকেই এটি গ্রহণ করবে (শিখবে)।"
আমি একটি উদাহরণ দিচ্ছি: যদি কোনো ধর্মপ্রাণ যুবক—যার মাঝে আল্লাহ দ্বীনদারি ও উন্নত চরিত্রের সমন্বয় ঘটিয়েছেন—এমন কোনো নারীকে বিবাহ করে যার মাঝে দ্বীনের অনেক বিষয়েই ঘাটতি রয়েছে (ধরা যাক যে সে অবহেলাকারী (مقصرة)), সে এবং তার পরিবার; অতঃপর তারা যদি স্বামীর পক্ষ থেকে সুন্দর চরিত্র, উত্তম আচরণ ও হৃদ্যতাপূর্ণ ব্যবহার দেখতে পায়, তবে তারা কি তাকে ভালোবাসবে না?! আর যদি তারা তাকে ভালোবাসে, তবে তার দাওয়াতের প্রত্যাশিত ফলাফল তথা গ্রহণযোগ্যতা অর্জিত হবে।
আর বিষয়টি যদি এর বিপরীত হয় এবং সে যদি রূঢ় ও কঠোর মেজাজের হয়, যে উত্তম আচরণ করে না এবং স্বীয় জীবনে নম্রতা পরিহার করে চলে! তবে ফলাফল কী দাঁড়াবে? সে একজন অগ্রহণযোগ্য স্বামী হিসেবে গণ্য হবে, এমনকি তাকে অপছন্দনীয় (مكروه) বলা যায়; বরং এই দুর্নাম স্ত্রীর আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীদের নিকট পর্যন্ত পৌঁছে যাবে এবং এই ব্যক্তির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করবে।
প্রথম ব্যক্তি তার সুন্দর চরিত্র ও সঠিক অবিচলতার (استقامة) কারণে সচ্চরিত্রা নারীদের হৃদয়ে স্থান করে নেবে; এমনকি পিতা-মাতারাও তার মতো যুবকের নিকট নিজেদের কন্যাদের বিবাহ দিতে আগ্রহী হবেন! আর অন্যজনের ক্ষেত্রে আল্লাহর কাছেই সাহায্য চাই।
মানুষ আজ আদর্শ হওয়ার গুরুত্ব সম্পর্কে গাফেল হয়ে পড়েছে এবং এক মহান বিষয়কে হারিয়ে ফেলেছে। আমার স্মরণে পড়ছে যে, জনৈক পূর্বসূরি (সালাফ) বলেছিলেন: "আমরা কৌতুক করতাম ও হাসাহাসি করতাম, কিন্তু যখন থেকে আমাদেরকে আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করা শুরু হলো, তখন আমরা তা বর্জন করলাম।"
(খণ্ড: ১)
আদ-দাওয়াতু ইলাল্লাহি ফাওয়ায়িদু ওয়া শাওয়াাহিদ
(পৃষ্ঠা: ২২)
ولننظر مثلاً جانب العمالة المنزلية: لو أن كل امرأة أحسنت إلى خادمتها وبدأت تعاملها المعاملة الحسنة وتعلمها العقيدة الصحيحة لتحولت الخادمة إلى داعية إذا عادت إلى بلدها، يعدن الآن وهن يتعلمن الطبخ والنفخ ويفتحن المطاعم هناك! ! !
উদাহরণস্বরূপ, আমরা গৃহকর্মীদের বিষয়টি বিবেচনা করতে পারি: যদি প্রত্যেক নারী তার গৃহকর্মীর প্রতি সদাচরণ করত এবং তার সাথে উত্তম ব্যবহার শুরু করত এবং তাকে সঠিক আকিদা (العقيدة الصحيحة) শিক্ষা দিত, তবে সেই গৃহকর্মী নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার পর একজন দ্বীন প্রচারকারিণীতে (داعية) পরিণত হতো; অথচ বর্তমানে তারা কেবল রান্না-বান্না শিখে ফিরে যাচ্ছে এবং সেখানে রেস্তোরাঁ খুলছে! ! !
(খণ্ড: ১)
আদ-দাওয়াতু ইলাল্লাহি ফাওয়ায়িদু ওয়া শাওয়াাহিদ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
البلاغالطريق الآخر في تبليغ الدعوة هو: البلاغ كما قال تعالى: {مَا عَلَى الرَّسُولِ إِلَّا الْبَلَاغُ} [المائدة: 99]، وقال تعالى: {يَا أَيُّهَا الرَّسُولُ بَلِّغْ مَا أُنْزِلَ إِلَيْكَ مِنْ رَبِّكَ} [المائدة: 67]، ويكون عبر الكلمة والرسالة والكتاب والشريط والمحادثة الشخصية أو ما يسمى بالعلاقات الشخصية، وقد توفر في عصرنا الحاضر من الوسائل ما لا يخطر على بال، أنت جالس في بيتك وبين أهلك وأولادك وتدعو من هو في أطراف الأرض عبر كلمة تقولها، أو كتاب ترسله، أو برسائل الجوال، أو الإنترنت وغيرها كثير.
في جانب الشريط والكتاب أذكر أن أشرطه قراءة أئمة الحرم تسمعها في أواسط قارة أفريقيا.
وللكتاب نصيب عظيم كوسيلة دعوية: أذكر أن بعض الإخوة ذهب إلى روسيا وحمل معه من أحد الكتيبات مائة نسخة ولما استقر به المقام وزع عليهم هذه النسخ، وفي نهاية رحلته طرح عليه المرافق رأيًا حول هذا الكتاب قال: لو تطبع هذا الكتاب في العاصمة -وكان ذاهبًا لها- لكان أوفر تكلفة مع فارق قيمة الشحن وغيرها من الصعوبات، فاستحسن الفكرة وقال: أعطني نسختك فقال: لا، وطلبها من غيره فكلهم رفضوا خشية أن لا يعود الكتاب إليهم مرة أخرى!
بل ووجد لديهم في بعض القرى كتبًا لها عشرات السنوات يتداولونها بينهم.
আল-বালাগ (বার্তা পৌঁছানো)দাওয়াত প্রচারের অন্য একটি পথ হলো: আল-বালাগ (বার্তা পৌঁছানো), যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন: {রাসূলের দায়িত্ব কেবল পৌঁছে দেওয়া ছাড়া আর কিছু নয়} [আল-মায়িদাহ: ৯৯], এবং তিনি আরও বলেছেন: {হে রাসূল, আপনার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে আপনার প্রতি যা অবতীর্ণ করা হয়েছে তা পৌঁছে দিন} [আল-মায়িদাহ: ৬৭]। আর এটি সম্পাদিত হয় কথা, বার্তা, বই, ক্যাসেট, ব্যক্তিগত আলাপচারিতা বা যাকে ব্যক্তিগত সম্পর্ক বলা হয় তার মাধ্যমে। বর্তমান যুগে এমন সব মাধ্যম সহজলভ্য হয়েছে যা কল্পনাও করা যায় না; আপনি আপনার বাড়িতে আপনার পরিবার ও সন্তানদের মাঝে বসে থেকেও পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে অবস্থানরত কাউকে কোনো কথা, প্রেরিত বই, মোবাইল বার্তা বা ইন্টারনেট এবং এমন আরও অনেক কিছুর মাধ্যমে দাওয়াত দিতে পারেন।
ক্যাসেট ও বইয়ের প্রসঙ্গে আমার মনে পড়ছে যে, হারামের ইমামদের তিলাওয়াতের ক্যাসেটগুলো আফ্রিকা মহাদেশের মধ্যভাগেও শোনা যায়।
দাওয়াতের মাধ্যম হিসেবে বইয়ের একটি বিশাল ভূমিকা রয়েছে: আমার মনে পড়ছে যে, কিছু ভাই রাশিয়া গিয়েছিলেন এবং সাথে করে একটি পুস্তিকার একশত কপি নিয়ে গিয়েছিলেন। সেখানে থিতু হওয়ার পর তারা এই কপিগুলো মানুষের মাঝে বিতরণ করেন। সফরের শেষে সফরসঙ্গী সেই বইটি সম্পর্কে একটি মত প্রকাশ করে বললেন: আপনি যদি বইটি রাজধানীতে মুদ্রণ করতেন—যেখানে তিনি যাচ্ছিলেন—তবে খরচ অনেক কম হতো এবং পরিবহন খরচ ও অন্যান্য প্রতিবন্ধকতা থেকেও বাঁচা যেত। তিনি এই প্রস্তাব পছন্দ করলেন এবং বললেন: আমাকে আপনার কপিটি দিন। তখন তিনি দিতে অস্বীকৃতি জানালেন এবং অন্যদের কাছে চাইলেন, কিন্তু তারাও এই ভয়ে তা দিতে রাজি হলেন না যে বইটি হয়তো আর তাদের কাছে ফিরে আসবে না!
এমনকি কিছু গ্রামে তাদের কাছে এমন সব বই পাওয়া গেছে যা কয়েক দশক ধরে তারা নিজেদের মধ্যে আদান-প্রদান করে আসছেন।
(খণ্ড: ১)
আদ-দাওয়াতু ইলাল্লাহি ফাওয়ায়িদু ওয়া শাওয়াাহিদ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
متى أدعوا؟
يدعو الإنسان في كل وقت؛ فالدعوة عبادة، والعبادة نهايتها الموت {وَاعْبُدْ رَبَّكَ حَتَّى يَأْتِيَكَ الْيَقِينُ} [الحجر: 99].
يراعي في ذلك المكان والمناسبة، فليس للدعوة مكانًا ولا حدًا ولا زمانًا.
أذكر أن داعية من الجنسية الفلبينية سافر معنا إلى حيث افتتاح مكتب جاليات في بلدة الحناكية على طريق مكة القديم، وكلما مررنا ببلدة أو قرية سألنا: ما أسمها؟ وكان معه دفترًا يسجل فيه كل المعلومات التي يحصل عليها.
فلما سألناه: لماذا تسجل هذه المعلومات؟ قال: حتى إذا أردت الذهاب إلى زيارة هذا المكتب في المستقبل لا يكون أمامي عقبة وليس لدي عذر فأنا أعرف الطريق، فتأمل في هذا الهم المبكر الذي حمله على السؤال والتدقيق لمعرفة الطريق.
وأذكر أن رجلاً آخر من الله عليه بالإسلام يدعو في أوساط قومه، أسلم على يديه حسب الإحصاءات الرسمية أكثر من أربعة الآف شخص ما بين رجل وامرأة!
* أيضًا: لابد من الاستفادة من المواسم والأماكن؛ فالمواسم كالحج مثلاً كتاب بريال يحمله الحاج عنك إلى بلده، لا تسافر ولا تتكلف بل هو يأخذه من هنا إلى بلاده، وقد لا تصل أنت إلى بلده لو أردت، فقد يكون بلده نائية في قمم الجبال أو في أواسط
কখন দাওয়াত দেব?
মানুষ সর্বক্ষণ দাওয়াতের কাজ করবে; কেননা দাওয়াত একটি ইবাদত, আর ইবাদতের সমাপ্তি হলো মৃত্যু। {এবং আপনার রবের ইবাদত করুন, যতক্ষণ না আপনার কাছে নিশ্চিত বিষয় (মৃত্যু) আসে} [আল-হিজর: ৯৯]।
এক্ষেত্রে স্থান ও প্রেক্ষিতের প্রতি লক্ষ্য রাখা উচিত; তবে দাওয়াতের জন্য নির্দিষ্ট কোনো স্থান, সীমা বা সময় নেই।
আমার মনে পড়ে, ফিলিপাইন বংশোদ্ভূত একজন দাঈ মক্কার পুরাতন রাস্তায় আল-হুনাকিয়াহ নামক জনপদে একটি দাওয়াহ সেন্টারের (মাকতাব জালিয়াত) উদ্বোধনের উদ্দেশ্যে আমাদের সাথে সফর করেছিলেন। আমরা যখনই কোনো জনপদ বা গ্রাম অতিক্রম করতাম, তিনি আমাদের জিজ্ঞেস করতেন: এটার নাম কী? তার সাথে একটি ডায়েরি ছিল যেখানে তিনি প্রাপ্ত সকল তথ্য লিপিবদ্ধ করতেন।
যখন আমরা তাকে জিজ্ঞেস করলাম: আপনি কেন এই তথ্যগুলো লিপিবদ্ধ করছেন? তিনি বললেন: যাতে ভবিষ্যতে যখন আমি এই সেন্টারে আসার ইচ্ছা করি, তখন আমার সামনে যেন কোনো বাধা না থাকে এবং আমার কোনো ওজরও না থাকে; কেননা আমি রাস্তা চিনি। রাস্তা চেনার জন্য তাকে যে বিষয়টি প্রশ্ন করতে ও সূক্ষ্ম পর্যবেক্ষণে উদ্বুদ্ধ করেছিল, তার সেই গভীর চিন্তা ও কর্মতৎপরতা লক্ষ্য করুন।
আমি আরও একজন ব্যক্তির কথা স্মরণ করছি, যাকে আল্লাহ ইসলাম কবুল করার তৌফিক দান করেছেন এবং তিনি নিজ সম্প্রদায়ের মাঝে দাওয়াতের কাজ করেন। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, নারী ও পুরুষ মিলিয়ে চার হাজারেরও বেশি মানুষ তার হাতে ইসলাম গ্রহণ করেছেন!
* এছাড়াও: বিভিন্ন মৌসুম ও স্থানের সুযোগ গ্রহণ করা আবশ্যক; যেমন হজের মৌসুম। এক রিয়ালের একটি বই কোনো হাজি আপনার হয়ে তার নিজ দেশে বহন করে নিয়ে যাবেন। আপনাকে সফর করতে হবে না এবং কোনো কষ্টও পোহাতে হবে না, বরং তিনিই এটি এখান থেকে তার দেশে নিয়ে যাবেন। আপনি চাইলে হয়তো তার দেশে পৌঁছাতেও পারতেন না; কারণ তার দেশ হতে পারে পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত কোনো প্রত্যন্ত অঞ্চল কিংবা জনপদের গহীনে।
(খণ্ড: ১)
আদ-দাওয়াতু ইলাল্লাহি ফাওয়ায়িদু ওয়া শাওয়াাহিদ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
الأدغال.
والأماكن فرصة لا تتكرر، مثلاً: الدراسة الجامعية سنوات، ثم تخرج من الجامعة لو أردت أن تعود لتدعو لا تستطيع وقس على ذلك كثير.
وأذكر أن امرأة مرضت فأدخلت المستشفى وقرر الأطباء تنويمها لمدة ساعة وسعى الأقارب إلى إيجاد غرفة مستقلة لها، ولكنها رفضت، وقالت: استفيد من المريضات وابقى معهن في غرفة جماعية، هذه أعلمها التوحيد وتلك فضل التوكل على الله، وأخرى أعلمها أحكام الطهارة.
وأثمن الفرص وأعظمها الفرصة التي لا تتكرر في حياة الإنسان إلا مرة واحدة! ألا وهي استغلال العمر في الدعوة إلى الله والعمل لهذا الدين، إن انتقلت إلى الدار الآخرة لن تعود مرة أخرى للدنيا لتعمل!
বন-জঙ্গল।
এবং স্থানসমূহ হলো এমন এক সুযোগ যা বারবার আসে না। উদাহরণস্বরূপ: বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েক বছরের শিক্ষা জীবন; এরপর আপনি যখন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উত্তীর্ণ হয়ে যাবেন, তখন আপনি পুনরায় দাওয়াত প্রদানের উদ্দেশ্যে সেখানে ফিরে আসতে চাইলেও আর পারবেন না। এভাবে আরও অনেক বিষয় অনুধাবন করা যায়।
আমার মনে পড়ে এক অসুস্থ নারীর কথা যাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। চিকিৎসকরা তাকে এক ঘণ্টার জন্য সেখানে ভর্তি রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তার আত্মীয়রা তার জন্য একটি পৃথক কক্ষের ব্যবস্থা করার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু তিনি তা প্রত্যাখ্যান করলেন। তিনি বললেন: "আমি অন্যান্য নারী রোগীদের সান্নিধ্যে থেকে উপকৃত হতে চাই এবং তাদের সাথে একটি সাধারণ কক্ষেই অবস্থান করতে চাই; একে আমি তাওহিদ শিক্ষা দেব, তাকে আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুলের ফজিলত সম্পর্কে বলব এবং অন্যজনকে পবিত্রতার বিধানসমূহ শিক্ষা দেব।"
আর মানুষের জীবনে সবচাইতে মূল্যবান ও মহান সুযোগ হলো সেটি যা জীবনে মাত্র একবারই আসে! আর তা হলো—আল্লাহর পথে দাওয়াত এবং এই দ্বীনের তরে কাজ করার মাধ্যমে আয়ুষ্কালকে কাজে লাগানো। আপনি যদি পরকালে পাড়ি জমান, তবে আমল করার জন্য আর কখনোই এই দুনিয়ায় ফিরে আসতে পারবেন না!
(খণ্ড: ১)
আদ-দাওয়াতু ইলাল্লাহি ফাওয়ায়িদু ওয়া শাওয়াাহিদ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
بماذا أدعو؟
تدعو بما تعرف من العلم، وكذلك عن طريق توزيع الكتب والأشرطة، ولما بعث النبي صلى الله عليه وسلم معاذًا إلى اليمن قال له: «إنك تأتي قومًا من أهل الكتاب فليكن أول ما تدعوهم إليه شهادة أن لا إله إلا الله، فإن هم أطاعوك لذلك فأعلمهم أن الله افترض عليهم خمس صلوات في كل يوم وليلة
… ».
عرفه النبي صلى الله عليه وسلم بحال المدعو حتى يتهيأ لأسئلته ونقاشه ويعرف مدخله ومخرجه ثم أعلمه إلى ماذا يدعو؟ فبدأ بالتوحيد ثم الصلاة وهكذا.
والحكمة مطلوبة في الدعوة، فالمؤمن كيس فطن أذكر موقفًا: لو كان لدينا مجموعة من المصاحف وهي مصاحف مراجعة إملائيًا وطباعيًا من الإفتاء ومن جهة إشرافية أوكلت لهما مهمة المراجعة، ومطبوع في مجمع الملك فهد بالمدينة، وفيه تصريح وأمر بالطبع من أعلى سلطة هنا، لو وقفنا في الشارع وبدأنا نوزع
… اجتمع واحد وثلاثة وعشرة وكثر الزحام وارتفعت الأصوات واختلط الحابل بالنابل، جاء رجل المرور لأننا أعقنا حركة السير، ثم جاء
… ! تحول الأمر إلى مشكلة هل أخطأنا أم لا؟ نعم، أخطأنا في آلية التوزيع وليس من الحكمة التوزيع هكذا.
قد ينتج عن هذا التصرف رد فعل قوي من الإدارة فتوقف مثلاً توزيع المصحف، فنكون بذلك من أسباب قطع هذا الخير.
لابد من مراعاة الآداب الشرعية والأخلاق المرعية حتى لا يقع الإنسان في حرج وحتى لا يفسد عليه هذا الطريق.
আমি কিসের মাধ্যমে দাওয়াত দেব?
আপনার অর্জিত ইলম বা জ্ঞান থেকে যতটুকু জানেন তার মাধ্যমে দাওয়াত দেবেন, এবং একইভাবে বই ও অডিও ক্যাসেট বিতরণের মাধ্যমেও দাওয়াত দেওয়া যায়। মহানবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন মুয়াজকে ইয়েমেনে পাঠালেন, তখন তাকে বলেছিলেন: «নিশ্চয়ই তুমি আহলে কিতাবের অন্তর্ভুক্ত একটি সম্প্রদায়ের কাছে যাচ্ছ। সুতরাং তাদের প্রতি তোমার প্রথম আহ্বান যেন হয় এই সাক্ষ্য প্রদান করা যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই। যদি তারা তোমার এই কথা মেনে নেয়, তবে তাদের জানিয়ে দাও যে, আল্লাহ তাদের ওপর দিন ও রাতে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ করেছেন
… »।
মহানবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে আমন্ত্রিত ব্যক্তিদের অবস্থা সম্পর্কে অবহিত করেছিলেন যাতে তিনি তাদের প্রশ্ন ও আলোচনার জন্য প্রস্তুতি নিতে পারেন এবং তাদের সাথে আলোচনার সূত্রপাত ও সমাপ্তি সম্পর্কে জানতে পারেন; এরপর তিনি তাকে শিখিয়ে দিলেন যে তিনি কিসের দিকে দাওয়াত দেবেন। তাই তিনি একত্ববাদ দিয়ে শুরু করলেন, এরপর নামাজ এবং এভাবেই ক্রমান্বয়ে অন্যান্য বিষয়।
দাওয়াতের ক্ষেত্রে হিকমত বা প্রজ্ঞা কাম্য, কারণ মুমিন ব্যক্তি অত্যন্ত বিচক্ষণ ও বুদ্ধিমান। আমি একটি পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করছি: যদি আমাদের কাছে একগুচ্ছ কুরআন (মুসহাফ) থাকে যা ইফতা বিভাগ এবং একটি তদারকি পর্ষদ—যাদের ওপর সংশোধনের দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে—তাদের মাধ্যমে বানান ও মুদ্রণগতভাবে নিরীক্ষিত, এবং মদিনার বাদশাহ ফাহদ কমপ্লেক্সে মুদ্রিত, আর এখানে উচ্চতর কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তা মুদ্রণের অনুমতি ও আদেশ রয়েছে; এমতাবস্থায় আমরা যদি রাস্তায় দাঁড়িয়ে সেগুলো বিতরণ শুরু করি
… এক, তিন, দশ জন করে মানুষ জড়ো হলো এবং ভিড় বেড়ে গেল, শোরগোল শুরু হলো এবং চরম বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হলো; ট্রাফিক পুলিশ চলে এলো কারণ আমরা যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটিয়েছি, তারপর
… ! বিষয়টি একটি সমস্যায় রূপ নিল। আমরা কি ভুল করেছি কি না? হ্যাঁ, আমরা বিতরণের পদ্ধতিতে ভুল করেছি এবং এভাবে বিতরণ করা প্রজ্ঞার পরিচয় নয়।
এই আচরণের ফলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর প্রতিক্রিয়া আসতে পারে, যার ফলে তারা হয়তো কুরআন বিতরণ বন্ধ করে দিতে পারে; সেক্ষেত্রে আমরা এই কল্যাণকর কাজ বন্ধ হওয়ার কারণ হয়ে দাঁড়াব।
শরিয়তের আদব এবং প্রচলিত শিষ্টাচারসমূহ অবশ্যই রক্ষা করতে হবে যাতে কোনো মানুষ বিব্রতকর অবস্থায় না পড়ে এবং এই দাওয়াতের পথটি যেন নষ্ট না হয়।
(খণ্ড: ১)
আদ-দাওয়াতু ইলাল্লাহি ফাওয়ায়িদু ওয়া শাওয়াাহিদ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
من أدعو؟
أولاً: تدعوا نفسك التي بين جنبيك قال تعالى: {يَاأَيُّهَا الْمُدَّثِّرُ * قُمْ فَأَنْذِرْ * وَرَبَّكَ فَكَبِّرْ * وَثِيَابَكَ فَطَهِّرْ * وَالرُّجْزَ فَاهْجُرْ * وَلَا تَمْنُنْ تَسْتَكْثِرُ * وَلِرَبِّكَ فَاصْبِرْ} [المدثر: 1 - 7] وهذه في تربية النفس.
وقال تعالى: {قَدْ أَفْلَحَ مَنْ زَكَّاهَا} [الشمس: 9].
قال ابن القيم رحمه الله: «جماع ذلك أن يحاسب الإنسان نفسه أولاً على الفرائض، فإن تذكر فيها نقصًا تداركه، إما بقضاء أو إصلاح، ثم يحاسب نفسه على المنهيات، فإن عرف أنه وقع في شيء منها تداركه بالتوبة والاستغفار والحسنات الماحية، ثم يحاسب نفسه على الغفلة، فإن غفل عما خلق له تداركه بالذكر والإقبال على الله -تعالى-.
وليس معنى؛ أن يدعو نفسه ويتوقف عن دعوة الآخرين، بل هنا وهناك.
ثانيًا: أن تدعو من حولك من الأقارب والوالدين وامتثالاً لأمر الله عز وجل: {وَأَنْذِرْ عَشِيرَتَكَ الْأَقْرَبِينَ} [الشعراء: 214]، من الوالدين والزوجة والأبناء والإخوة والأخوات، وهؤلاء إن استجابوا للداعي كانوا أعوانًا وأنصارًا له في دعوته، ثم تأتي إلى المجال الأوسع والأرحب أماكن العلم الدائمة، أماكن الزيارات والأمر واسع جدًا ولعلك تسد ثغرة في أسرتك، بل لعلك تفعل
আমি কাকে দাওয়াত দেব?
প্রথমত: আপনি আপনার নিজের সত্তাকে দাওয়াত দেবেন যা আপনার দুই পাঁজরের মাঝখানে অবস্থিত। মহান আল্লাহ বলেন: {হে বস্ত্রাবৃত! উঠুন এবং সতর্ক করুন। আপনার রবের শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা করুন। আপনার পোশাক পবিত্র রাখুন। অপবিত্রতা বর্জন করুন। অধিক পাওয়ার প্রত্যাশায় দান করবেন না। এবং আপনার রবের উদ্দেশ্যে ধৈর্য ধারণ করুন।} [আল-মুদ্দাসসির: ১-৭]। আর এটি হলো নফসের তারবিয়াহ বা আত্ম-গঠনের ক্ষেত্রে।
আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {নিশ্চয় সেই সফলকাম হয়েছে, যে নিজেকে পরিশুদ্ধ করেছে।} [আশ-শামস: ৯]।
ইবনুল কায়্যিম (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: "এর সারকথা হলো, মানুষ প্রথমে তার ওপর অর্পিত আবশ্যিক বিধানাবলির ব্যাপারে নিজের হিসাব নেবে; যদি সে সেখানে কোনো ত্রুটি দেখতে পায়, তবে তা কাজা বা সংশোধনের মাধ্যমে পূরণ করবে। এরপর সে নিজেকে নিষিদ্ধ বিষয়গুলোর ব্যাপারে হিসাব নেবে; যদি সে জানতে পারে যে সে এগুলোর কোনোটিতে লিপ্ত হয়েছে, তবে তাওবাহ, ইস্তিগফার এবং পাপ মোচনকারী নেক আমলের মাধ্যমে তা সংশোধন করবে। তারপর সে নিজেকে উদাসীনতার বিষয়ে হিসাব নেবে; যদি সে যাঁর জন্য তাকে সৃষ্টি করা হয়েছে সে বিষয়ে গাফেল হয়ে থাকে, তবে জিকির এবং মহান আল্লাহর প্রতি মনোনিবেশের মাধ্যমে তার প্রতিকার করবে।"
এর অর্থ এই নয় যে, সে নিজেকে দাওয়াত দেবে এবং অন্যদের দাওয়াত দেওয়া বন্ধ করে দেবে; বরং এখানে এবং সেখানে—উভয় ক্ষেত্রেই দাওয়াত দিতে হবে।
দ্বিতীয়ত: আপনার চারপাশের নিকটাত্মীয় ও পিতামাতাকে দাওয়াত দেওয়া, মহান আল্লাহ তাআলার নির্দেশের অনুসরণে: {আপনি আপনার নিকটাত্মীয়দের সতর্ক করুন} [আশ-শুয়ারা: ২১৪]। পিতামাতা, স্ত্রী, সন্তান এবং ভাই-বোনদের মধ্য থেকে যারা দাওয়াতদানকারীর আহবানে সাড়া দেবেন, তারা তার দাওয়াতী কাজে সাহায্যকারী ও সহযোগী হবেন। এরপর আপনি আরও ব্যাপক ও প্রশস্ত ক্ষেত্রের দিকে অগ্রসর হবেন, যেমন স্থায়ী জ্ঞানার্জনের কেন্দ্রসমূহ, যিয়ারতের স্থানসমূহ—এ ক্ষেত্রটি অত্যন্ত বিস্তৃত। সম্ভবত আপনি আপনার পরিবারের কোনো একটি শূন্যস্থান পূরণ করবেন, এমনকি হয়তো আপনি তা কার্যকরও করবেন।
(খণ্ড: ১)
আদ-দাওয়াতু ইলাল্লাহি ফাওয়ায়িদু ওয়া শাওয়াাহিদ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
أقاربك وتدفعهم إلى الأعمال الدعوية، وأعظم به من أجر.
ولكل ميسر لما خلق له، فكل إنسان في مجاله أرأيت العالم المشهور كيف هي دعوته؟ ثم أرأيت المعلم بين طلابه؟ أرأيت العامل في عمله؟ لكل سهم من سهام الدعوة والناس في ذلك ما بين مقل ومستكثر.
وأذكر قصة طريفة لكنها من الناحية الدعوية مهمة، موظف صغير الرتبة يعمل في قسم المواعيد في أحد المستشفيات، يحيل الرجال إلى الطبيب والنساء إلى الطبيبة، فانظر إلى عمله الدعوي البسيط في أعين بعض الناس وهو عظيم في حفظ حرمات المسلمين.
وهنا أمر هام: ألا وهو الهمة في الدعوة إذا وجدت الهمة والحرص تيسر ما بعدها، لأنه سوف يسأل ويبحث ويفكر وسوف يصل بإذن الله إلى ما يريد.
والإنسان يدعو حسب الوسائل المتيسرة، يوسف عليه السلام دعا في السجن مع عدم توفر الوسائل المعينة، موسى عليه السلام عنده ضعف في الكلام كما ذكر الله عنه، ومع ذلك بعث رسولاً نبيًا، وفي هذا حجة على من كان لديه نقص في إيصال المعلومة مثلاً، يستعين بالوسائل التي توصل المعلومة وينتهي ذلك العذر!
আপনার নিকটাত্মীয়দের দাওয়াহর কাজে সম্পৃক্ত করা এবং উৎসাহিত করা—এর প্রতিদান কতই না মহান!
যাকে যে কাজের জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে, তার জন্য সেটি সহজসাধ্য করা হয়েছে। সুতরাং প্রত্যেকেই নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে সচেষ্ট। আপনি কি প্রখ্যাত আলেমের দাওয়াহর পদ্ধতি দেখেছেন? আবার ছাত্রদের মাঝে শিক্ষকের দাওয়াহর পদ্ধতি দেখেছেন? কর্মস্থলে শ্রমিকের দাওয়াহর ধরন দেখেছেন? দাওয়াহর প্রতিটি ক্ষেত্রের জন্যই নিবেদিতপ্রাণ ব্যক্তি রয়েছেন; আর এক্ষেত্রে মানুষের মধ্যে কেউ স্বল্প আমলকারী আবার কেউ অধিক আমলকারী।
আমি একটি চমৎকার অথচ দাওয়াহর প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ঘটনার কথা উল্লেখ করছি: এক নিম্নপদস্থ কর্মচারী একটি হাসপাতালের অ্যাপয়েন্টমেন্ট বিভাগে কাজ করতেন। তিনি পুরুষ রোগীদের পুরুষ ডাক্তারের কাছে এবং নারী রোগীদের মহিলা ডাক্তারের কাছে পাঠাতেন। কিছু মানুষের চোখে এটি অত্যন্ত সাধারণ একটি দাওয়াহর কাজ মনে হতে পারে, কিন্তু মুসলিমদের পবিত্রতা ও মর্যাদা রক্ষায় এটি একটি মহান কাজ।
এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো: দাওয়াহর ক্ষেত্রে উচ্চাকাঙ্ক্ষা বা হিম্মাহ (الهمة)। যদি হিম্মাহ এবং আগ্রহ থাকে, তবে পরবর্তী পথ সুগম হয়ে যায়। কারণ তখন সে জিজ্ঞাসা করবে, অনুসন্ধান করবে এবং চিন্তা করবে; ফলে আল্লাহর ইচ্ছায় সে তার অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবে।
মানুষ তার বিদ্যমান সামর্থ্য ও উপায়-উপকরণ অনুযায়ী দাওয়াহর কাজ করবে। ইউসুফ আলাইহিস সালাম কারাগারে পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা না থাকা সত্ত্বেও দাওয়াহর কাজ করেছিলেন। মুসা আলাইহিস সালামের কথা বলায় জড়তা ছিল, যেমনটি আল্লাহ তাআলা বর্ণনা করেছেন, তবুও তিনি রসূল (رسول) ও নবী (نبي) হিসেবে প্রেরিত হয়েছিলেন। যারা তথ্য আদান-প্রদান বা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতার অজুহাত দেখায়, তাদের জন্য এটি একটি প্রমাণ (حجة)। সে তথ্য পৌঁছে দেওয়ার জন্য বিদ্যমান মাধ্যমগুলোর সাহায্য নিতে পারে, আর এর মাধ্যমেই সেই অজুহাত অপসারিত হয়!
(খণ্ড: ১)
আদ-দাওয়াতু ইলাল্লাহি ফাওয়ায়িদু ওয়া শাওয়াাহিদ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
من الوسائل المعينة على الدعوةأولاًَ: منها ما كان بالمال، وتأمل حال رجل كأبي بكر
رضي الله عنه يأتي بماله كله للنبي صلى الله عليه وسلم فيقول صلى الله عليه وسلم: «ماذا أبقيت لأهلك»؟ قال: أبقيت لهم الله ورسوله.
قال العلماء هذا من عظم التوكل على الله.
ثم تأمل في حال عمر رضي الله عنه يأتي بنصف ماله، وعثمان رضي الله عنه قصته معروفة في تجهيز جيش العسرة، وعبد الرحمن بن عوف في إنفاقه رضي الله عنهم وأرضاهم-.
فما ظنك لو جعل كل فرد منا مبلغًا سنويًا أو شهريًا للدعوة، بل دعنا نسأل أنفسنا، العام المنصرم كما أنفقنا لنصرة الدين والدفاع عنه ورفع رايته؟ كم نصيب الدعوة إلى الله من أموالنا وقد فتح لنا الرزق من أوسع أبوابه؟
وكل الآيات التي ذكر الله عز وجل فيها الجهاد قدم فيها المال على النفس عدا آية واحدة، هي قوله تعالى: {إِنَّ اللَّهَ اشْتَرَى مِنَ الْمُؤْمِنِينَ أَنْفُسَهُمْ وَأَمْوَالَهُمْ بِأَنَّ لَهُمُ الْجَنَّةَ} [التوبة: 111].
أذكر قصة واحدة في النفقة لأن فيها عبرة وعظة وفيها أسرة كاملة زوج وزوجة وأبناء!
صورة عجيبة تحكي واقع الإيمان والتصديق بوعد الله عز وجل عن عبد الله بن مسعود قال: لما نزل قول الله تعالى: {مَنْ ذَا الَّذِي يُقْرِضُ اللَّهَ قَرْضًا حَسَنًا فَيُضَاعِفَهُ لَهُ أَضْعَافًا كَثِيرَةً} [البقرة:
দাওয়াতের সহায়ক মাধ্যমসমূহের মধ্য হতেপ্রথমত: এর মধ্যে কিছু রয়েছে যা সম্পদের মাধ্যমে হয়ে থাকে। আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহুর মতো একজন ব্যক্তির অবস্থার কথা চিন্তা করুন,
যিনি তাঁর সমস্ত সম্পদ নিয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট আসলেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: “তোমার পরিবারের জন্য কী অবশিষ্ট রেখেছো?” তিনি বললেন: “আমি তাদের জন্য আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে অবশিষ্ট রেখেছি।”
উলামায়ে কেরাম বলেন, এটি আল্লাহর ওপর সুদৃঢ় নির্ভরতার এক মহান বহিঃপ্রকাশ।
অতঃপর উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুর অবস্থার দিকে লক্ষ্য করুন, তিনি তাঁর অর্ধেক সম্পদ নিয়ে আসেন; এবং উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহুর কাহিনী তো জাইশুল উসরা (অভাবকালীন সেনাবাহিনী) প্রস্তুতির ক্ষেত্রে সুপরিচিত; আর দান-সদকার ক্ষেত্রে আব্দুর রহমান বিন আউফ রাদিয়াল্লাহু আনহুমের ভূমিকাও সুবিদিত—আল্লাহ তাঁদের সকলের প্রতি সন্তুষ্ট হোন এবং তাঁদেরকে সন্তুষ্ট করুন।
আমাদের প্রত্যেকের পক্ষ থেকে যদি দাওয়াতের জন্য বাৎসরিক বা মাসিক একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ থাকত, তবে বিষয়টি কেমন হতো তা ভেবে দেখেছেন কি? বরং আসুন আমরা নিজেদেরকে প্রশ্ন করি, বিগত বছরে আমরা দ্বীনের বিজয়, এর প্রতিরক্ষা এবং এর পতাকাকে সমুন্নত করার জন্য কতটুকু ব্যয় করেছি? আমাদের সম্পদ থেকে আল্লাহর পথে দাওয়াতের অংশ কতটুকু, অথচ তিনি আমাদের জন্য রিযিকের প্রশস্ত সব দ্বার উন্মুক্ত করে দিয়েছেন?
মহান আল্লাহ যে সকল আয়াতে জিহাদের কথা উল্লেখ করেছেন, সেখানে একটি আয়াত ব্যতীত অন্য সব স্থানে জান বা প্রাণের পূর্বে মালের (সম্পদের) কথা উল্লেখ করেছেন। সেই ব্যতিক্রমী আয়াতটি হলো মহান আল্লাহর বাণী: {নিশ্চয়ই আল্লাহ মুমিনদের নিকট থেকে তাদের জান ও মাল ক্রয় করে নিয়েছেন এই বিনিময়ে যে, তাদের জন্য রয়েছে জান্নাত} [আত-তাওবাহ: ১১১]।
আমি ব্যয়ের ক্ষেত্রে একটি ঘটনার কথা উল্লেখ করছি, কারণ এতে শিক্ষা ও উপদেশ নিহিত রয়েছে এবং এতে স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানসহ একটি পূর্ণাঙ্গ পরিবারের চিত্র ফুটে উঠেছে!
এটি একটি বিস্ময়কর দৃশ্য যা আল্লাহর ওয়াদার প্রতি ঈমান ও বিশ্বাসের বাস্তবতাকে চিত্রিত করে। আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: যখন আল্লাহর এই বাণী নাযিল হলো: {কে সেই ব্যক্তি, যে আল্লাহকে উত্তম ঋণ প্রদান করবে? ফলে তিনি তার জন্য তা বহু গুণে বৃদ্ধি করে দেবেন} [আল-বাকারাহ:
(খণ্ড: ১)
আদ-দাওয়াতু ইলাল্লাহি ফাওয়ায়িদু ওয়া শাওয়াাহিদ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
245]، قال أبو الدحداح الأنصاري: يا رسول الله، وإن الله عز وجل ليريد منا القرض؟ قال: «نعم يا أبا الدحداح»، قال قد أقرضت ربي عز وجل حائطي، قال: وحائط له فيه ستمائة نخلة، وأم الداحداح فيه وعيالها، قال فجاء أبو الدحداح يا أم الدحداح قالت: لبيك، قال: اخرجي، فقد أقرضته ربي عز وجل فحملت ما لها من متاع وكان بيد أبنائها تمرة فألقتها من يده وخرجت مع صغارها!
تفكرت في حال أم الداحداح وقبولها بالأمر والفرح به وخروجها من بستان به خير عيش وحياة سعيدة في وسط ستمائة نخلة، خرجت غير باكية، ولا متسخطة على زوجها وفعله، بل تجاوزت الأمر وأسقطت ما في يد ابنها من تمرات كانت معه! لقد ربح البيع يا أم الداحداح.
وبعض الأسر اليوم تقوم فيها الدنيا ولا تقعد إذا أنفق الرجل والمرأة وتنشأ المشاكل الأسرية شحًا وبخلاً! !
أذكر أن أحد الدعاة ممن يعملون في دعوة الجاليات ذكرأنه ذهب إلى أحد الفنادق في انتظار موعد هناك، قال: فدخلت بهو الفندق ولمحت عيني رجلاً من الجنيسية الفلبينية فسارعت وجلست بجواره، وقلت في نفسي لعل الله أن يهديه على يدي، ولما تجاذبنا أطراف الحديث ذكر لي أنه مسلم، فقلت: الحمد لله، ثم ذكر لي أنه يبني مسجدًا في قريته وأن البناء توقف عند سقف المسجد؛ فكأنني
২৪৫], আবু আদ-দাহদাহ আল-আনসারী বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, মহান আল্লাহ কি আমাদের নিকট ঋণ প্রার্থনা করছেন? তিনি বললেন: «হ্যাঁ, হে আবু আদ-দাহদাহ», আবু আদ-দাহদাহ বললেন: আমি আমার মহান প্রতিপালককে আমার বাগানটি ঋণ হিসেবে প্রদান করলাম। বর্ণনাকারী বলেন: তার সেই বাগানে ছয়শত খেজুর গাছ ছিল এবং উম্মে আদ-দাহদাহ ও তার সন্তানরা সেখানে অবস্থান করছিল। আবু আদ-দাহদাহ এসে ডাক দিলেন: হে উম্মে আদ-দাহদাহ! তিনি উত্তর দিলেন: আমি উপস্থিত। আবু আদ-দাহদাহ বললেন: বেরিয়ে এসো, আমি এটি আমার মহান প্রতিপালককে ঋণ হিসেবে প্রদান করেছি। তখন তিনি তার যাবতীয় আসবাবপত্র গুছিয়ে নিলেন। তার এক সন্তানের হাতে একটি খেজুর ছিল, তিনি সেটি তার হাত থেকে ফেলে দিলেন এবং ছোট সন্তানদের নিয়ে বাগান থেকে বেরিয়ে আসলেন!
আমি উম্মে আদ-দাহদাহর অবস্থা এবং এই নির্দেশ সানন্দে গ্রহণ করা এবং ছয়শত খেজুর গাছের প্রাচুর্যের মাঝে উত্তম ও সুখময় জীবন ত্যাগ করে বাগান থেকে বেরিয়ে আসা নিয়ে চিন্তা করলাম। তিনি রোদনরত অবস্থায় বের হননি এবং তার স্বামীর সিদ্ধান্তের প্রতি কোনো অসন্তুষ্টিও প্রকাশ করেননি; বরং তিনি বিষয়টি সানন্দে গ্রহণ করেছেন এবং এমনকি তার সন্তানের হাতে থাকা খেজুরগুলোও ফেলে দিয়েছেন! হে উম্মে আদ-দাহদাহ, আপনার এই ব্যবসা সফল হয়েছে।
অথচ বর্তমান সময়ের অনেক পরিবারে স্বামী বা স্ত্রী সম্পদ ব্যয় করলে তুলকালাম কাণ্ড ঘটে যায় এবং সংকীর্ণতা ও কৃপণতার কারণে পারিবারিক সমস্যার সৃষ্টি হয়!
আমার মনে পড়ছে, প্রবাসীদের মাঝে দাওয়াত প্রচারকার্যে নিয়োজিত একজন দাঈ উল্লেখ করেছেন যে, তিনি কোনো এক সাক্ষাতের অপেক্ষায় একটি হোটেলে গিয়েছিলেন। তিনি বলেন: আমি হোটেলের লবিতে প্রবেশ করলাম এবং আমার দৃষ্টি একজন ফিলিপাইনি নাগরিকের ওপর পড়ল। আমি দ্রুত তার পাশে গিয়ে বসলাম এবং মনে মনে ভাবলাম যে, হয়তো আল্লাহ আমার মাধ্যমে তাকে হেদায়েত দান করবেন। যখন আমাদের মাঝে কথোপকথন শুরু হলো, তখন তিনি জানালেন যে তিনি একজন মুসলিম। আমি বললাম: আলহামদুলিল্লাহ। এরপর তিনি আমাকে জানালেন যে, তিনি তার গ্রামে একটি মসজিদ নির্মাণ করছেন এবং নির্মাণকাজ ছাদ পর্যন্ত পৌঁছে স্থগিত হয়ে আছে; তখন আমার মনে হলো...
(খণ্ড: ১)
আদ-দাওয়াতু ইলাল্লাহি ফাওয়ায়িদু ওয়া শাওয়াাহিদ
(পৃষ্ঠা: ৩১)
فهمت من حديثه أنه يريد تبرعًا مني لإتمام هذا المسجد فأدخلت يدي في جيبي وأخرجت ورقة من الـ (500) ريال ولما نظرت إليها أجلب علي الشيطان وقال: تدفع هذا المبلغ بهذه العجلة، لابد أن تتأكد، لا تكن عاطفي وهممت أن أعيد المبلغ إلى مكانه ولكن أبصرت الرجل ينظر إليها فاستحييت وناولتها إياه.
فسألني: ما هذا؟ قلت: مبلغًا يسيرًا للمساعدة في إتمام بناء المسجد!
فشكرني وقال: المسجد أبنيه بأموالي لا أريد أحدًا يشاركني فيه! ! !
والعجب أنه على قلة مرتباتهم فهم أكثر إنفاقًا ممن لديه الأموال الطائلة والخزائن الكثيرة؟ !
تجد من راتبه ستمائة ريال ويبني مسجدًا، وهنا تجد من راتبه يتجاوز العشرة الآف ولا يفكر في بناء مسجد، فاستغفر الله العظيم من هذا البخل!
আমি তাঁর বক্তব্য থেকে বুঝতে পারলাম যে তিনি এই মসজিদটি সম্পন্ন করার জন্য আমার নিকট থেকে একটি অনুদান কামনা করছেন। ফলে আমি পকেটে হাত প্রবেশ করিয়ে ৫০০ রিয়ালের একটি নোট বের করলাম। যখন আমি সেটির দিকে তাকালাম, শয়তান আমাকে প্ররোচিত করল এবং বলল: "তুমি কি এত ক্ষিপ্রতার সাথে এই পরিমাণ অর্থ প্রদান করছ? তোমার অবশ্যই নিশ্চিত হওয়া উচিত, আবেগপ্রবণ হওয়া চলবে না।" আমি অর্থটি পুনরায় যথাস্থানে ফিরিয়ে নিতে উদ্যত হলাম, কিন্তু দেখলাম লোকটি সেটির দিকে তাকিয়ে আছেন; তখন আমি সংকুচিত বোধ করলাম এবং তাঁকে তা প্রদান করলাম।
তখন তিনি আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন: "এটি কী?" আমি বললাম: "মসজিদের নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে সহযোগিতার জন্য সামান্য কিছু অর্থ!"
তিনি আমাকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করলেন এবং বললেন: "মসজিদটি আমি আমার নিজস্ব অর্থায়নে নির্মাণ করছি, আমি চাই না এতে অন্য কেউ অংশগ্রহণ করুক!"
আশ্চর্যের বিষয় এই যে, তাদের স্বল্প পারিশ্রমিক সত্ত্বেও তারা সেই সব ব্যক্তিদের তুলনায় অধিক ব্যয়কারী যাদের নিকট প্রচুর অর্থ-সম্পদ ও বিশাল ভাণ্ডার বিদ্যমান!
আপনি এমন ব্যক্তি পাবেন যার মাসিক বেতন মাত্র ছয়শ রিয়াল অথচ সে একটি মসজিদ নির্মাণ করছে, পক্ষান্তরে এখানে এমন ব্যক্তিও পাওয়া যায় যার বেতন দশ হাজার রিয়াল অতিক্রম করা সত্ত্বেও সে মসজিদ নির্মাণের কথা চিন্তাও করে না। এই কৃপণতা থেকে আমি মহান আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি!