(খণ্ড: ১)
মিন সিমারিদ দাওয়াহ
(পৃষ্ঠা: -)
من ثمار الدعوة القسم: كتب عامة
الكتاب: من ثمار الدعوة
المؤلف: عبد الملك بن محمد القاسم
الناشر: دار القاسم
عدد الصفحات: 22
[الكتاب مرقم آليا غير موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ربيع الآخر 1433
দাওয়াতের কিছু ফল বিভাগ: সাধারণ গ্রন্থাবলী
গ্রন্থ: দাওয়াতের কিছু ফল
লেখক: আব্দুল মালেক ইবনে মুহাম্মদ আল-কাসিম
প্রকাশক: দারুল কাসিম
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২২
[গ্রন্থটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত, যা মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়]
শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ রবিউস সানি ১৪৩৩ হিজরি
(খণ্ড: ১)
মিন সিমারিদ দাওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৩)
المقدمةالحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على أشرف الأنبياء والمرسلين، نبينا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين،
وبعد:
فإن الدعوة إلى الله عز وجل من أجل الطاعات وأعظم القربات، وقد اصطفى الله عز وجل للقيام بها صفوة الخلق من الأنبياء والمرسلين، ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين.
وتحتاج من الجميع التفاني، والإخلاص، والجد، والمثابرة؛ لتبليغ هذا الدين والدفاع عنه، والذب عن حياضه {يَاأَيُّهَا الْمُدَّثِّرُ * قُمْ فَأَنْذِرْ} [المدثر: 1، 2]، وحتى نقوم بهذا الدين العظيم، وننهض به، ونكون دعاة إليه بالنفس والمال، والجهد، والقلم، والفكر والرأي، وغيرها كثير. أذكر طرفًا من ثمار الدعوة إلى الله عز وجل.
جعلنا الله ممن يستعمله في طاعته.
ভূমিকাযাবতীয় প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। আর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ নবী ও রাসূলগণের ওপর, আমাদের নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সকল সাহাবীর ওপর।
অতঃপর:
নিশ্চয়ই মহান আল্লাহর পথে দাওয়াত বা আহ্বান করা হলো সর্বোত্তম আনুগত্য এবং মহান নৈকট্য লাভের অন্যতম শ্রেষ্ঠ মাধ্যম। আল্লাহ তাআলা এই দায়িত্ব পালনের জন্য সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিবর্গ—নবী ও রাসূলগণকে এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবেন, তাঁদেরকে মনোনীত করেছেন।
এই দ্বীন প্রচার, এর প্রতিরক্ষা এবং এর মর্যাদা রক্ষায় প্রত্যেকের পক্ষ থেকেই আত্মত্যাগ, ইখলাস, একাগ্রতা ও অধ্যাবসায় প্রয়োজন; {হে বস্ত্রাবৃত! উঠুন এবং সতর্ক করুন} [সূরা আল-মুদ্দাসসির: ১, ২]। যাতে আমরা এই মহান দ্বীনের বিধানসমূহ পালন করতে পারি, একে সমুন্নত করতে পারি এবং নিজেদের জীবন, সম্পদ, প্রচেষ্টা, লেখনী, চিন্তা ও মতামতের মাধ্যমে এর প্রচারক হতে পারি। আমি মহান আল্লাহর পথে দাওয়াতের কতিপয় সুফলের কথা এখানে উল্লেখ করছি।
আল্লাহ আমাদের তাঁদের অন্তর্ভুক্ত করুন, যাঁদেরকে তিনি তাঁর আনুগত্যের কাজে নিয়োজিত করেন।
(খণ্ড: ১)
মিন সিমারিদ দাওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৪)
من الثمارالدعوة إلى الله عز وجل عز ما بعده عز وشرف ما بعده شرف، لمن رضي بالله ربًا، وبالإسلام دينًا .. وهي شكر ووفاء ورد حق لهذا الدين العظيم.
أخي المسلم: من قدم كتابًا فهو داعية، ومن أهدى شريطًا فهو داعية، ومن علم جاهلاً فهو داعية، ومن دل على خير فهو داعية، ومن ألقى كلمة فهو داعية، ومن أمر بالمعروف فهو داعية، ومن نهى عن المنكر فهو داعية .. إنها أبواب واسعة .. وفضل الله يؤتيه من يشاء.
ورغبة في مضاعفة العمل، وترك الكسل، وشد العزائم وحتى تقوى العزائم، ويعجب الزراع نباته، هذه بعض الثمار اليانعة لتكون حافزًا ودافعًا للاستمرار والسير في هذا المجال العظيم الذي ارتضاه الله عز وجل لأنبيائه ورسله وخيار خلقه. ومن أحق من المسلم بالمسابقة في هذا الطريق؟ !
ফসলসমূহ থেকেমহান আল্লাহর পথে দাওয়াত দেওয়া হচ্ছে এমন এক মর্যাদা যার ঊর্ধ্বে কোনো মর্যাদা নেই এবং এমন এক আভিজাত্য যার ঊর্ধ্বে কোনো আভিজাত্য নেই; সেই ব্যক্তির জন্য যে আল্লাহকে প্রতিপালক এবং ইসলামকে দ্বীন হিসেবে গ্রহণ করে সন্তুষ্ট হয়েছে। এটি এই মহান দ্বীনের প্রতি কৃতজ্ঞতা, আনুগত্য এবং এর হক আদায়েরই নামান্তর।
হে আমার মুসলিম ভাই: যে ব্যক্তি একটি কিতাব পেশ করল সে একজন দাঈ, যে একটি ক্যাসেট উপহার দিল সে একজন দাঈ, যে কোনো অজ্ঞ ব্যক্তিকে শিক্ষা দিল সে একজন দাঈ, যে কল্যাণের পথপ্রদর্শন করল সে একজন দাঈ, যে কোনো উপদেশমূলক কথা প্রদান করল সে একজন দাঈ, যে সৎ কাজের আদেশ দিল সে একজন দাঈ এবং যে মন্দ কাজ থেকে নিষেধ (منكر) করল সে একজন দাঈ... এগুলো অত্যন্ত প্রশস্ত দরজা... আর আল্লাহর অনুগ্রহ তিনি যাকে ইচ্ছা দান করেন।
কর্মতৎপরতা বৃদ্ধি, অলসতা ত্যাগ এবং সংকল্পকে সুদৃঢ় করার আকাঙ্ক্ষায়—যাতে সংকল্প আরও শক্তিশালী হয় এবং কৃষকের চারাগাছ তাকে মুগ্ধ করে—এখানে কিছু পরিপক্ক ফসল তুলে ধরা হলো। যাতে এটি সেই মহান পথে অবিচল থাকার ও এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা ও উদ্দীপক হিসেবে কাজ করে, যা মহান আল্লাহ তাঁর নবী, রাসূল এবং তাঁর সৃষ্টির মনোনীত বান্দাদের জন্য পছন্দ করেছেন। আর এই পথে প্রতিযোগিতার জন্য একজন মুসলিমের চেয়ে বেশি হকদার আর কে হতে পারে?!
(খণ্ড: ১)
মিন সিমারিদ দাওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৫)
الثمرة الأولىمتابعة الأنبياء، والاقتداء بهم، واقتفاء أثرهم، والسير في ركابهم في طريق آمن غير موحش {قُلْ هَذِهِ سَبِيلِي أَدْعُو إِلَى اللَّهِ عَلَى بَصِيرَةٍ أَنَا وَمَنِ اتَّبَعَنِي} [يوسف: 108].
قال الفراء: «حق على كل من اتبعه أن يدعو إلى ما دعا إليه، ويذكر بالقرآن والموعظة».
وقال ابن القيم رحمه الله: «فالدعوة إلى الله -تعالى- هي وظيفة المرسلين وأتباعهم».
ولو لم يقم بواجب تبليغ وحمل الرسالة العظيمة السلف الصالح لما وصلت إلينا، بل والله، قد تحملوا المصاعب والمتاعب حتى وصل الإسلام إلى أطراف الأرض، فجزاهم الله عن الإسلام خير الجزاء.
الثمرة الثانيةالتقرب إلى الله عز وجل امتثالاً لأمره الذي أمر به: {ادْعُ إِلَى سَبِيلِ رَبِّكَ بِالْحِكْمَةِ وَالْمَوْعِظَةِ الْحَسَنَةِ} [النحل: 125].
قال ابن القيم رحمه الله: «جعل الله -سبحانه- مراتب الدعوة بحسب مراتب الخلق. فالمستجيب القابل الذكي الذي لا يعاند الحق، ولا يأباه يدعى بطريق الحكمة، والقابل الذي عنده نوع غفلة وتأخر يدعى بالموعظة الحسنة وهي: الأمر والنهي المقرون بالترغيب والترهيب، والمعاند الجاحد يجادل بالتي هي أحسن.
প্রথম ফলনবীদের অনুসরণ করা, তাঁদের আদর্শ গ্রহণ করা, তাঁদের পদাঙ্ক অনুসরণ করা এবং একটি নিরাপদ ও নিঃসঙ্গতাহীন পথে তাঁদের সহযাত্রী হওয়া। {বলুন, এটিই আমার পথ। আমি এবং যারা আমার অনুসরণ করেছে, আমরা সুনিশ্চিত প্রজ্ঞার সাথে আল্লাহর দিকে আহ্বান করি।} [ইউসুফ: ১০৮]।
আল-ফাররা বলেন: «রাসূলের অনুসরণকারী প্রত্যেকের ওপর এটি কর্তব্য যে, তিনি যার দিকে আহ্বান করেছেন তার দিকে মানুষকে আহ্বান করা এবং কুরআন ও উপদেশের মাধ্যমে উপদেশ প্রদান করা।»
ইবনুল কায়্যিম (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: «আল্লাহ তাআলার দিকে দাওয়াত বা আহ্বান জানানোই হলো রাসূলগণ এবং তাঁদের অনুসারীদের মূল দায়িত্ব।»
যদি সালাফে সালেহীন এই মহান রিসালাত বা বার্তা পৌঁছানো এবং তা বহনের দায়িত্ব পালন না করতেন, তবে তা আমাদের পর্যন্ত পৌঁছাত না। বরং আল্লাহর শপথ, তাঁরা বহু দুঃখ-কষ্ট ও প্রতিকূলতা সহ্য করেছেন যতক্ষণ না ইসলাম পৃথিবীর প্রান্তসমূহ পর্যন্ত পৌঁছেছে। আল্লাহ তাঁদেরকে ইসলামের পক্ষ থেকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন।
দ্বিতীয় ফলমহান আল্লাহর আদেশের আনুগত্য করার মাধ্যমে তাঁর নৈকট্য লাভ করা, যে নির্দেশ তিনি দিয়েছেন: {আপনি আপনার রবের পথের দিকে হিকমত ও উত্তম উপদেশের মাধ্যমে আহ্বান করুন।} [আন-নাহল: ১২৫]।
ইমাম ইবনুল কায়্যিম (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: «আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা সৃষ্টির স্তর অনুযায়ী দাওয়াতের স্তরসমূহ নির্ধারণ করেছেন। সুতরাং যে সাড়াদানকারী, সত্য গ্রহণকারী ও বুদ্ধিমান ব্যক্তি হকের বিরুদ্ধাচরণ করে না এবং তা প্রত্যাখ্যান করে না, তাকে হিকমতের পদ্ধতিতে আহ্বান করা হবে। আর যে গ্রহণকারী ব্যক্তির মধ্যে কিছুটা উদাসীনতা ও স্থবিরতা রয়েছে, তাকে উত্তম উপদেশের মাধ্যমে দাওয়াত দেওয়া হবে। আর উত্তম উপদেশ হলো: উৎসাহ দান (ترغيب) ও ভীতি প্রদর্শনের (ترهيب) সাথে সংশ্লিষ্ট আদেশ ও নিষেধ। আর যে হঠকারী ও অস্বীকারকারী, তার সাথে সর্বোত্তম পন্থায় বিতর্ক করতে হবে।»
(খণ্ড: ১)
মিন সিমারিদ দাওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৬)
الثمرة الثالثةالمسارعة إلى الخيرات، والرغبة في نيل الأجر العظيم: حيث أثنى الله عز وجل على أهل الدعوة {وَمَنْ أَحْسَنُ قَوْلًا مِمَّنْ دَعَا إِلَى اللَّهِ} قال الشوكاني رحمه الله: «فلا شيء أحسن منه، ولا أوضح من طريقه، ولا أكثر ثوابًا من عمله». ومن أعظم ممن يبلغ كلام الله عز وجل وأوامره ونواهيه، ويبلغ حديث الرسول صلى الله عليه وسلم؛ ليخرج الناس من الظلمات إلى النور؟
الثمرة الرابعةالاستجابة والامتثال لأمر الله عز وجل وطاعته: {وَلْتَكُنْ مِنْكُمْ أُمَّةٌ يَدْعُونَ إِلَى الْخَيْرِ وَيَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَيَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِ} [آل عمران: 104]، {وَلْتَكُنْ مِنْكُمْ أُمَّةٌ} قال ابن كثير: «منتصبة للقيام بأمر الله في الدعوة إلى الخير والأمر بالمعروف والنهي عن المنكر» {وَأُولَئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ} قال الضحاك: «هم خاصة الصحابة وخاصة الرواة، يعني المجاهدين والعلماء»
وبالدعوة نكون من هؤلاء الذين أثنى الله عز وجل عليهم.
الثمرة الخامسةالسعي لنيل الأجور العظيمة، والحسنات الكثيرة مع المشقة القليلة - ولله الحمد- خاصة في مثل هذا الزمن: فقد بشر النبي صلى الله عليه وسلم بذلك «من دل على خير فله مثل أجر فاعله» [رواه مسلم].
قال النووي رحمه الله: «دل بالقول واللسان، والإشارة، والكتابة» وقال رحمه الله: «وفيه فضيلة الدلالة على الخير،
তৃতীয় ফলসৎকাজের দিকে ধাবমান হওয়া এবং মহান প্রতিদান অর্জনের আকাঙ্ক্ষা পোষণ করা: যেহেতু আল্লাহ আযযা ওয়া জাল দাওয়াত প্রদানকারীদের প্রশংসা করে বলেছেন: {আর ঐ ব্যক্তির চেয়ে উত্তম কথা আর কার হতে পারে যে আল্লাহর দিকে আহ্বান জানায়?} ইমাম শাওকানি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: «তার অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ কোনো কিছু নেই, তার পথের চেয়ে স্পষ্ট কোনো পথ নেই এবং তার আমলের চেয়ে অধিক সওয়াব আর কিছুতে নেই»। আর সেই ব্যক্তির চেয়ে মহান আর কে হতে পারে যে মহান আল্লাহর বাণী এবং তাঁর আদেশ ও নিষেধসমূহ পৌঁছে দেয় এবং রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর হাদিস পৌঁছে দেয়; যাতে মানুষকে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে বের করে আনা যায়?
চতুর্থ ফলআল্লাহ আযযা ওয়া জালের নির্দেশে সাড়া দেওয়া, তা বাস্তবায়ন করা এবং তাঁর আনুগত্য করা: {তোমাদের মধ্যে এমন একটি দল থাকা উচিত যারা কল্যাণের দিকে আহ্বান জানাবে, সৎকাজের আদেশ দিবে এবং মন্দ কাজ হতে নিষেধ করবে} [আল-ইমরান: ১০৪], {তোমাদের মধ্যে এমন একটি দল থাকা উচিত} ইবনে কাসির বলেন: «যারা কল্যাণের দিকে আহ্বান, সৎকাজের আদেশ এবং মন্দ কাজ থেকে নিষেধ করার মাধ্যমে আল্লাহর হুকুম পালনের জন্য সদাপ্রস্তুত থাকে» {এবং তারাই সফলকাম} দাহহাক বলেন: «তারা হলেন বিশিষ্ট সাহাবীগণ এবং বিশিষ্ট বর্ণনাকারী (الرواة), অর্থাৎ মুজাহিদ ও উলামাগণ»
আর দাওয়াতের মাধ্যমেই আমরা সেই সকল ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত হতে পারি যাদের প্রশংসা আল্লাহ আযযা ওয়া জাল করেছেন।
পঞ্চম ফলসামান্য পরিশ্রমের মাধ্যমে মহান প্রতিদান ও প্রচুর পুণ্য লাভের চেষ্টা করা—আল্লাহরই সকল প্রশংসা—বিশেষ করে বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে: কেননা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এ মর্মে সুসংবাদ দিয়েছেন যে, «যে ব্যক্তি কোনো কল্যাণের পথ দেখাবে, সে ব্যক্তি ঐ কাজ সম্পাদনকারীর অনুরূপ প্রতিদান পাবে» [মুসলিম কর্তৃক বর্ণিত]।
ইমাম নববী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: «তিনি পথ দেখিয়েছেন কথা ও জিহ্বার দ্বারা, ইশারা-ইঙ্গিতের দ্বারা এবং লিখনের দ্বারা» এবং তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) আরও বলেন: «এতে কল্যাণের পথ প্রদর্শনের ফজিলত বর্ণিত হয়েছে,»
(খণ্ড: ১)
মিন সিমারিদ দাওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
والتنبيه عليه، والمساعدة لفاعله».
وهذا التنوع في الوسائل من فضل الله عز وجل علىعباده؛ ليقوم بالدعوة كل من تيسر له ذلك.
وتأمل في دلالتك رجلاً إلى الصلاة، ثم بدأ يصليها كم لك من الأجر؟ لك مثل أجر فاعل هذا الخير، ولا ينقص منهم شيئًا، وفضل الله واسع، فما بالك بمن هدى الله على يديه أقوامًا وقبائل وأسرًا ومجتمعات؟ ولهذا فللنبي صلى الله عليه وسلم مثل أجور أمته، وللصحابة أجور من اهتدوا على أيديهم إلى يوم القيامة. وهي سلسلة طويلة من الأجور لا تنقطع.
وأذكر أن رجلا فلبينيًا كان قسيسًا، ثم من الله عليه بالإسلام فشمَّر عن ساعد الجد، وأسلم على يديه أربعة آلاف رجل من بني جلدته. وللشيخ عبد الله القرعاوي رحمه الله في الدعوة الأثر الذي يذكر حتى افتتح أكثر من ألفي مدرسة في جنوب المملكة، وأحد القضاة في شمال المملكة لديه أكثر من ألف طالب يحفظون نواقض الإسلام، وكتاب ثلاثة الأصول، وكتاب التوحيد، وأحد هؤلاء الطلاب ذهب إلى فلسطين، وأقام مدرسة لتحفيظ القرآن مع المتون التي حفظ ولا يعلم مدى هذا الخير إلا الله عز وجل
الثمرة السادسةعطاء إثر عطاء، وعمل يتبعه آخر، إنه عمل يسير نقوم به؛ لنصلح أعمالنا، وتغفر زلاتنا: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آَمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا * يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ}
...সে সম্পর্কে সতর্ক করা এবং তা সম্পাদনকারীকে সহায়তা করা।"
মাধ্যমের এই বৈচিত্র্য তার বান্দাদের ওপর আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার এক বিশেষ অনুগ্রহ; যাতে দাওয়াতের কাজ প্রত্যেকের জন্য সহজ হয় যার সামর্থ্য আছে।
আপনি কোনো ব্যক্তিকে সালাতের পথ দেখালেন এবং এরপর সে সালাত আদায় শুরু করল, এতে আপনার কতটুকু সওয়াব হবে তা চিন্তা করে দেখুন। আপনি এই নেক কাজ সম্পাদনকারীর সমান সওয়াব পাবেন এবং তাদের সওয়াব থেকে বিন্দুমাত্র কমানো হবে না। আল্লাহর অনুগ্রহ অত্যন্ত প্রশস্ত। তাহলে ভাবুন, যার হাতে আল্লাহ কোনো জাতি, গোত্র, পরিবার বা সমাজকে হিদায়াত দান করেন তার মর্যাদা কতটুকু! এই কারণেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর উম্মতের সমান সওয়াব পান এবং সাহাবীগণ কিয়ামত পর্যন্ত তাঁদের হাতে হিদায়াত প্রাপ্তদের সওয়াব পেতে থাকবেন। এটি সওয়াবের এমন এক দীর্ঘ ধারা যা কখনো ছিন্ন হয় না।
আমি একজন ফিলিপিনো লোকের কথা স্মরণ করছি যিনি আগে একজন পাদ্রী ছিলেন, এরপর আল্লাহ তাঁকে ইসলামের নেয়ামত দান করেন। তখন তিনি সর্বাত্মক প্রচেষ্টা শুরু করেন এবং তাঁর হাতে তাঁরই জাতির চার হাজার লোক ইসলাম গ্রহণ করেন। শেখ আবদুল্লাহ আল-কারয়াভি (রহিমাহুল্লাহ)-এর দাওয়াতের এমন প্রভাব রয়েছে যা আজও স্মরণীয়, এমনকি তিনি সৌদি আরবের দক্ষিণ অঞ্চলে দুই হাজারেরও বেশি মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেছেন। তেমনিভাবে রাজ্যের উত্তর অঞ্চলের একজন বিচারকের কাছে এক হাজারেরও বেশি ছাত্র রয়েছে যারা নাওয়াকিদুল ইসলাম, কিতাবু সালাসাাতিল উসুল এবং কিতাবুত তাওহিদ মুখস্থ করছে। এই ছাত্রদের মধ্যে একজন ফিলিস্তিনে গিয়েছেন এবং তাঁর মুখস্থ করা মূলপাঠসমূহের (متون) সাথে কুরআন হিফজের একটি মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেছেন। এই কল্যাণের পরিধি আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা ছাড়া আর কেউ জানেন না।
ষষ্ঠ ফলদানের পর দান এবং এক আমলের পর অন্য আমল। এটি একটি সহজ আমল যা আমরা আমাদের কাজকে সংশোধন করার এবং আমাদের ভুলত্রুটি ক্ষমা পাওয়ার জন্য করি: {হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করে দেবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করে দেবেন।}
(খণ্ড: ১)
মিন সিমারিদ দাওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৮)
[الأحزاب: 70، 71].
قال ابن كثير رحمه الله: «يقول -تعالى- آمرًا عباده المؤمنين بتقواه وأن يعبدوه عبادة من كأنه يراه وأن يقولوا {قَوْلًا سَدِيدًا} أي مستقيمًا لا اعوجاج فيه ولا انحراف، ووعدهم أنهم إذا فعلوا ذلك أثابهم عليه بأن يصلح لهم أعمالهم: أي يوفقهم للأعمال الصالحة، وأن يغفر لهم الذنوب الماضية، وما قد يقع منهم في المستقبل يلهمهم التوبة منها»
الثمرة السابعةمن ثمرات الدعوة التسديد والتوفيق، قال -تعالى-: {وَالَّذِينَ جَاهَدُوا فِينَا لَنَهْدِيَنَّهُمْ سُبُلَنَا} [العنكبوت: 69].
قال البغوي: «{وَالَّذِينَ جَاهَدُوا فِينَا} الذين جاهدوا المشركين لنصرة ديننا»
{لَنَهْدِيَنَّهُمْ سُبُلَنَا} روي عن ابن عباس قوله: «والذين جاهدوا في طاعتنا لنهدينهم سبل ثوابنا»
قال ابن القيم رحمه الله في الفوائد: «علق -سبحانه- الهداية بالجهاد، فأكمل الناس هداية أعظمهم جهادًا وأفرض الجهاد جهاد النفس، وجهاد الهوى، وجهاد الشيطان، وجهاد الدنيا، فمن جاهد في هذه الأربعة في الله هداه الله سبل رضاه الموصلة إلى جنته، ومن ترك الجهاد فإنه من الهدى بحسب ما أعطاه من الجهاد»
[আল-আহযাব: ৭০, ৭১]।
ইবনে কাসীর (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: «আল্লাহ তাআলা তাঁর মুমিন বান্দাদের তাঁর তাকওয়া অবলম্বন করার এবং তাঁকে এমনভাবে ইবাদত করার নির্দেশ দিচ্ছেন যেন তারা তাঁকে দেখতে পাচ্ছে, আর যেন তারা {সঠিক কথা} বলে, অর্থাৎ এমন কথা যা সুদৃঢ় ও ঋজু, যাতে কোনো বক্রতা বা বিচ্যুতি নেই। তিনি তাদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, তারা যদি এটি পালন করে তবে তিনি তাদের আমলসমূহ সংশোধন করে দেওয়ার মাধ্যমে এর প্রতিদান দেবেন: অর্থাৎ তিনি তাদের নেক আমল করার তাওফিক দান করবেন এবং তাদের অতীতের গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেবেন, আর ভবিষ্যতে তাদের দ্বারা যা সংঘটিত হতে পারে সেগুলো থেকে তওবা করার প্রেরণা দান করবেন»
সপ্তম ফলদাওয়াতের অন্যতম ফল হলো সঠিক পথ লাভ ও তাওফিক প্রাপ্তি। আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর যারা আমাদের পথে জিহাদ করে, অবশ্যই আমরা তাদেরকে আমাদের পথসমূহে পরিচালিত করব} [আল-আনকাবুত: ৬৯]।
আল-বাগাউই বলেন: «{আর যারা আমাদের পথে জিহাদ করে} যারা আমাদের দ্বীনকে সাহায্য করার জন্য মুশরিকদের বিরুদ্ধে জিহাদ করেছে»
{অবশ্যই আমরা তাদেরকে আমাদের পথসমূহে পরিচালিত করব} ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হয়েছে (روي) যে তিনি বলেছেন: «আর যারা আমাদের আনুগত্যের পথে জিহাদ করে, অবশ্যই আমরা তাদেরকে আমাদের পুরস্কারের পথসমূহে পরিচালিত করব»
ইবনুল কাইয়্যিম (রহিমাহুল্লাহ) আল-ফাওয়াইদ গ্রন্থে বলেন: «আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা হিদায়াতকে জিহাদের সাথে সম্পৃক্ত করেছেন। সুতরাং হিদায়াতের ক্ষেত্রে সেই ব্যক্তিই সবচেয়ে পূর্ণতা লাভ করেছে যে জিহাদের ক্ষেত্রে সবচেয়ে অগ্রগামী। আর সবচেয়ে ফরজ জিহাদ হলো নফসের বিরুদ্ধে জিহাদ, কুপ্রবৃত্তির বিরুদ্ধে জিহাদ, শয়তানের বিরুদ্ধে জিহাদ এবং দুনিয়ার বিরুদ্ধে জিহাদ। অতএব, যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে এই চারটি ক্ষেত্রে জিহাদ করবে, আল্লাহ তাকে তাঁর সন্তুষ্টির পথসমূহে পরিচালিত করবেন যা তাকে জান্নাত পর্যন্ত পৌঁছে দেবে। আর যে ব্যক্তি জিহাদ বর্জন করবে, সে জিহাদ থেকে যতটুকু বিমুখ হবে, হিদায়াত থেকেও ঠিক ততটুকু বঞ্চিত হবে»
(খণ্ড: ১)
মিন সিমারিদ দাওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
الثمرة الثامنةرجاء صلاح الذرية: فإن في ذلك قرة عين في الدنيا والآخرة، والله لا يضيع أجر من أحسن عملاً قال -تعالى-: {وَلْيَخْشَ الَّذِينَ لَوْ تَرَكُوا مِنْ خَلْفِهِمْ ذُرِّيَّةً ضِعَافًا خَافُوا عَلَيْهِمْ فَلْيَتَّقُوا اللَّهَ وَلْيَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا} [النساء: 9]، وقد ذكر الله عز وجل في القرآن قصة حفظ كنز اليتيمين بسبب صلاح الأب، فما بالك إذا كان مصلحًا وداعيًا إلى الله عز وجل؟ {وَأَمَّا الْجِدَارُ فَكَانَ لِغُلَامَيْنِ يَتِيمَيْنِ فِي الْمَدِينَةِ وَكَانَ تَحْتَهُ كَنْزٌ لَهُمَا وَكَانَ أَبُوهُمَا صَالِحًا فَأَرَادَ رَبُّكَ أَنْ يَبْلُغَا أَشُدَّهُمَا وَيَسْتَخْرِجَا كَنْزَهُمَا رَحْمَةً مِنْ رَبِّكَ} [الكهف: 82].
وهذا الأثر يراه الجميع واضحًا في غالب بيوت الدعاة والداعيات، وأهل الخير والصلاح، وأذكر أن قريبة لي صغيرة في السنة الأولى الابتدائية صامت يوم الاثنين تطوعًا، فلما سألتها من صام معك؟ سمت لي ابنة أحد الدعاة معها في المدرسة، وهي التي حثتها على ذلك، فانظر إلى الأثر، فالبيوت معادن.
الثمرة التاسعةمن ثمار الدعوة أن في القيام بها أمنة من العذاب {وَمَا كَانَ رَبُّكَ لِيُهْلِكَ الْقُرَى بِظُلْمٍ وَأَهْلُهَا مُصْلِحُونَ} [هود: 117].
قال ابن القيم في عدة الصابرين: «ليس الدين مجرد ترك المحرمات الظاهرة، بل القيام مع ذلك بالأوامر المحبوبة لله، وأكثر الديانين لا يعبئون منها إلا بما شاركهم فيه عموم الناس، وأما
অষ্টম ফলসন্তান-সন্ততির নেককার বা সৎকর্মপরায়ণ (صالح) হওয়ার আশা রাখা: কেননা এতে দুনিয়া ও আখিরাতে নয়ন জুড়ানো তৃপ্তি রয়েছে। আর আল্লাহ উত্তম আমলকারীদের প্রতিদান বিনষ্ট করেন না। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: {আর তাদের ভয় করা উচিত, যারা নিজেদের পেছনে অসহায় সন্তান-সন্ততি রেখে গেলে তাদের বিষয়ে উদ্বিগ্ন হতো; সুতরাং তারা যেন আল্লাহকে ভয় করে এবং সঠিক কথা বলে।} [নিসা: ৯]। আর আল্লাহ তাআলা কুরআনে পিতার সৎকর্মপরায়ণ (صالح) হওয়ার কারণে দুই এতিম বালকের ধনভাণ্ডার হেফাযত করার কাহিনী উল্লেখ করেছেন। তাহলে যে ব্যক্তি নিজে সংশোধনকারী (مصلح) এবং আল্লাহর দিকে আহ্বানকারী (داعي) হন, তার বিষয়টি কেমন হতে পারে? {আর ঐ দেয়ালটি ছিল শহরের দুই এতিম বালকের, তার নিচে ছিল তাদের জন্য রক্ষিত এক ধনভাণ্ডার এবং তাদের পিতা ছিল সৎকর্মপরায়ণ (صالح); সুতরাং আপনার পালনকর্তা চাইলেন যে, তারা যৌবনে পদার্পণ করুক এবং তাদের ধনভাণ্ডার বের করে আনুক আপনার পালনকর্তার রহমত স্বরূপ।} [কাহফ: ৮২]।
এই প্রভাবটি দাওয়াত প্রদানকারী নারী ও পুরুষ এবং কল্যাণ ও সৎকর্মপরায়ণ (صالح) ব্যক্তিদের অধিকাংশ ঘরে স্পষ্টভাবে দেখা যায়। আমার মনে আছে, আমার এক ছোট আত্মীয় যে কি না প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণীতে পড়ে, সে নফল হিসেবে সোমবার রোজা রেখেছিল। যখন আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম, তোমার সাথে আর কে রোজা রেখেছে? সে তখন তার সাথে স্কুলে পড়া জনৈক আহ্বানকারীর (داعي) মেয়ের নাম বলল, যে তাকে এই কাজে উৎসাহিত করেছিল। সুতরাং প্রভাবটি দেখুন; কেননা পরিবার বা বংশ হলো খনি সদৃশ।
নবম ফলদাওয়াতের অন্যতম ফল হলো, এর আঞ্জাম দেওয়ার মাধ্যমে আযাব থেকে নিরাপত্তা লাভ করা যায়। {আর আপনার পালনকর্তা এমন নন যে, জনপদসমূহকে অন্যায়ভাবে ধ্বংস করে দেবেন, যখন তার অধিবাসীরা সংশোধনকারী (مصلحون) হয়।} [হুদ: ১১৭]।
ইবনুল কাইয়্যিম উদ্দাতুস সাবেরীন গ্রন্থে বলেছেন: «দ্বীন কেবল বাহ্যিক হারাম কাজগুলো বর্জন করার নাম নয়, বরং এর পাশাপাশি আল্লাহর নিকট পছন্দনীয় নির্দেশনাসমূহ পালন করার নাম। অধিকাংশ ধার্মিক ব্যক্তি দ্বীনের ওই বিষয়গুলো ছাড়া অন্য কিছুর পরোয়া করে না যাতে সাধারণ মানুষ তাদের সাথে শরিক থাকে; পক্ষান্তরে...»
(খণ্ড: ১)
মিন সিমারিদ দাওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ১০)
الجهاد، والأمر بالمعروف والنهي عن المنكر، والنصيحة لله ورسوله وعباده، ونصرة الله ورسوله ودينه وكتابه، فهذه الواجبات لا تخطر ببالهم فضلاً عن أن يريدوا فعلها، وفضلاً عن أن يفعلوها، وأقل الناس دينًا وأمقتهم إلى الله: من ترك هذه الواجبات، وإن زهد في الدنيا جميعًا، وقل أن ترى منهم من يحمر وجهه، ويمعره لله، ويغضب لحرماته، ويبذل عرضه في نصرة دينه، وأصحاب الكبائر أحسن حالاً عند الله من هؤلاء»
الثمرة العاشرةمن ثمار الدعوة: أننا نثقل موازين حسناتنا يوم العرض؛ لقول النبي صلى الله عليه وسلم: «من دعا إلى هدى كان له من الأجور مثل من تبعه، لا ينقص من أجورهم شيئًا
… » [رواه مسلم].
قال الإمام النووي: « .. وأن من سن سنة حسنة كان له مثل أجر كل من يعمل بها إلى يوم القيامة
… ».
فكم من الواجبات تحيا، ومن السنن تقام بسبب الدعوة إلى الله عز وجل.
وتأمل في حال مدرس سن لطلابه التبرع أسبوعيًّا بريال واحد لأعمال البر منذ أربع سنوات، وترك المدرسة، ولا تزال هذه السنة جارية إلى اليوم!
وأذكر أن معلمة عينت في قرية نائية لمدة عام فنفع الله بها نفعًا عظيمًا، وحالوا في بقائها معهم، لكنها تركت المكان بعد أن جعلت لها أثرًا واضحًا.
জিহাদ, সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ, আল্লাহ, তাঁর রাসূল ও তাঁর বান্দাদের প্রতি কল্যাণকামিতা এবং আল্লাহ, তাঁর রাসূল, তাঁর দ্বীন ও তাঁর কিতাবের সাহায্য করা—এই আবশ্যিক কর্তব্যসমূহ তাদের মনেও উদিত হয় না, তা করার ইচ্ছা পোষণ করা কিংবা বাস্তবে রূপদান করা তো বহু দূরের কথা। মানুষের মাঝে ধর্মীয় দিক থেকে সবচেয়ে রিক্ত এবং আল্লাহর নিকট সবচেয়ে ঘৃণিত হলো সেই ব্যক্তি, যে এই আবশ্যিক কর্তব্যসমূহ বর্জন করে, যদিও সে পার্থিব জগত থেকে সম্পূর্ণরূপে বিমুখতা অবলম্বন করে। আপনি তাদের মধ্যে এমন লোক খুব কমই দেখবেন আল্লাহর জন্য যাদের চেহারা লাল বা বিবর্ণ হয়, যারা আল্লাহর অলঙ্ঘনীয় বিধানসমূহের অবমাননায় ক্রোধ প্রকাশ করে এবং দ্বীনের সাহায্যে নিজের মান-সম্মান বিলিয়ে দেয়। আল্লাহর নিকট এই শ্রেণির লোকেদের চেয়ে কবিরা গুনাহে লিপ্ত ব্যক্তিদের অবস্থাও উত্তম।
দশম ফলদাওয়াতের ফলসমূহের একটি হলো: হাশরের ময়দানে উপস্থাপনের দিনে এটি আমাদের নেকির পাল্লাকে ভারী করবে; কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «যে ব্যক্তি হেদায়েতের দিকে আহ্বান করবে, তার জন্য সেই পরিমাণ সওয়াব রয়েছে যা তার অনুসারীদের জন্য রয়েছে, এতে তাদের সওয়াব থেকে বিন্দুমাত্র হ্রাস করা হবে না
… » [মুসলিম বর্ণনা করেছেন]।
ইমাম নববী বলেছেন: « ...এবং যে ব্যক্তি কোনো উত্তম রীতির প্রচলন করবে, কিয়ামত পর্যন্ত যারা সেটি পালন করবে তাদের সমপরিমাণ সওয়াব সে লাভ করতে থাকবে
… »।
আল্লাহ তাআলার দিকে দাওয়াতের অসিলায় কত যে আবশ্যিক বিধান পুনর্জীবিত হয় এবং কত যে সুন্নাহ প্রতিষ্ঠিত হয়!
আপনি সেই শিক্ষকের অবস্থার কথা চিন্তা করুন, যিনি চার বছর আগে তার ছাত্রদের জন্য জনকল্যাণমূলক কাজে প্রতি সপ্তাহে এক রিয়াল করে দান করার রীতি চালু করেছিলেন, এরপর তিনি বিদ্যালয় ত্যাগ করেছেন, অথচ সেই রীতি আজ অবধি চলমান রয়েছে!
আমি এক নারী শিক্ষকের কথা স্মরণ করছি যিনি একটি প্রত্যন্ত গ্রামে এক বছরের জন্য নিযুক্ত হয়েছিলেন, যার মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা ব্যাপক কল্যাণ সাধন করেছিলেন। গ্রামবাসী তাকে সেখানে রেখে দেওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করেছিল, কিন্তু তিনি সেখানে এক সুস্পষ্ট প্রভাব রেখে সেই স্থান ত্যাগ করেন।
(খণ্ড: ১)
মিন সিমারিদ দাওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
قال تعالى: {إِنَّا نَحْنُ نُحْيِي الْمَوْتَى وَنَكْتُبُ مَا قَدَّمُوا وَآَثَارَهُمْ وَكُلَّ شَيْءٍ أحْصَيْنَاهُ فِي إِمَامٍ مُبِينٍ} [يس: 12] قال الشيخ عبد الرحمن السعدي رحمه الله في تفسير هذه الآية: {إِنَّا نَحْنُ نُحْيِي الْمَوْتَى} أي: «نبعثهم؛ لنجازيهم على أعمالهم {وَنَكْتُبُ مَا قَدَّمُوا} من الخير والشر، وهو أعمالهم التي عملوها وباشروها في حال حياتهم وآثارهم وهي آثار الخير وآثار الشر التي كانوا هم السبب في إيجادها في حال حياتهم وبعد وفاتهم، وتلك الأعمال التي نشأت من أقوالهم وأفعالهم، وأحوالهم، فكل خير عمل به أحد من الناس بسبب علم العبد وتعليمه أو نصحه أو أمره بالمعروف أو نهيه عن المنكر، أو علم أودعه عند المتعلمين أو في كتب ينتفع بها في حياته وبعد موته، أو عمل خيرًا من صلاة، أو زكاة أو صدقة، أو إحسان فاقتدى به غيره، أو عمل مسجدًا أو محلاً من المحال التي ينتفع بها الناس، وما أشبه ذلك، فإنها آثاره التي تكتب له، وكذلك عمل الشر».
الثمرة الحادية عشرةالقيام بالدعوة من أسباب الفوز والفلاح في الدنيا والآخرة: {وَالْعَصْرِ * إِنَّ الْإِنْسَانَ لَفِي خُسْرٍ * إِلَّا الَّذِينَ آَمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ وَتَوَاصَوْا بِالْحَقِّ وَتَوَاصَوْا بِالصَّبْرِ} [العصر: 1 - 3].
قال الرازي في تفسير السورة: «فيها وعيد شديد، وذلك لأن الله حكم بالخسار على جميع الناس إلا من كان آتيًا بهذه الأشياء الأربعة، وهي: الإيمان، والعمل الصالح، والتواصي بالحق، والتواصي
মহান আল্লাহ বলেন: {নিশ্চয়ই আমি মৃতদেরকে জীবিত করি এবং তারা যা অগ্রিম পাঠিয়েছে ও তাদের চিহ্নসমূহ লিখে রাখি। আর আমি প্রতিটি বিষয়ই এক সুস্পষ্ট কিতাবে সংরক্ষণ করেছি} [ইয়াসিন: ১২]। এই আয়াতের তাফসিরে শায়খ আব্দুর রহমান আস-সা’দী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: {নিশ্চয়ই আমি মৃতদেরকে জীবিত করি} অর্থাৎ: «আমি তাদের পুনরুত্থিত করব; যাতে তাদের কর্মের প্রতিদান দিতে পারি। {এবং তারা যা অগ্রিম পাঠিয়েছে লিখে রাখি} ভালো ও মন্দের মধ্য থেকে যা তারা আমল করেছে এবং তাদের জীবদ্দশায় সরাসরি সম্পাদন করেছে। আর {তাদের চিহ্নসমূহ} হলো সেই সব ভালো ও মন্দের প্রভাব যা তাদের জীবদ্দশায় এবং মৃত্যুর পর সৃষ্টি হওয়ার পেছনে তারা কারণ ছিল। আর সেই সব আমল যা তাদের কথা, কাজ এবং অবস্থা থেকে উৎসারিত হয়েছে। সুতরাং কোনো বান্দার জ্ঞান দান, শিক্ষা দান, নসিহত, সৎকাজের আদেশ কিংবা অসৎকাজের নিষেধের কারণে কোনো মানুষ যদি কোনো কল্যাণকর কাজ করে, অথবা এমন কোনো জ্ঞান যা সে শিক্ষার্থীদের মাঝে বা কিতাবসমূহে রেখে গেছে যার দ্বারা তার জীবনে ও মৃত্যুর পরে মানুষ উপকৃত হয়, অথবা সালাত, জাকাত, সদকা বা কোনো ইহসানের মতো এমন কোনো ভালো কাজ করে যা দেখে অন্যরাও তার অনুসরণ করে, অথবা কোনো মসজিদ বা এমন কোনো স্থান নির্মাণ করে যার মাধ্যমে মানুষ উপকৃত হয় এবং এই জাতীয় বিষয়সমূহ—তবে এগুলোই তার সেই চিহ্ন বা প্রভাব যা তার আমলনামায় লেখা হয়। একইভাবে মন্দ কাজের ক্ষেত্রেও এই নিয়ম প্রযোজ্য»।
একাদশ ফলদাওয়াতের কাজ পরিচালনা করা দুনিয়া ও আখিরাতে বিজয় ও সফলতার অন্যতম কারণ: {সময়ের কসম। নিশ্চয়ই মানুষ চরম ক্ষতির মধ্যে নিমজ্জিত। তবে তারা ব্যতীত যারা ঈমান এনেছে, সৎকর্ম করেছে এবং একে অপরকে সত্যের উপদেশ দিয়েছে ও একে অপরকে ধৈর্যের উপদেশ দিয়েছে} [আল-আসর: ১-৩]।
ইমাম রাযী এই সূরার তাফসিরে বলেন: «এতে কঠোর হুঁশিয়ারি রয়েছে, কারণ আল্লাহ তাআলা এই চারটি বিষয় পালনকারী ব্যক্তি ছাড়া সকল মানুষের জন্য ক্ষতির ফয়সালা দিয়েছেন। আর সেগুলো হলো: ঈমান, নেক আমল, হকের উপদেশ প্রদান এবং ধৈর্যের উপদেশ...»
(খণ্ড: ১)
মিন সিমারিদ দাওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ১২)
بالصبر، فدل ذلك على أن النجاة معلقة بمجموع هذه الأمور، وأنه كما يلزم المكلف تحصيل ما يخص نفسه، فكذلك يلزمه في غيره أمور، منها: الدعاء إلى الدين، والنصيحة، والأمر بالمعروف، والنهي عن المنكر، وأن يحب له ما يحب لنفسه».
الثمرة الثانية عشرةالدعوة إلى الله من أسباب تحقيق النصر على الأعداء الذي هو أمل يراود كل مسلم ومسلمة، قال -تعالى-: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آَمَنُوا إِنْ تَنْصُرُوا اللَّهَ يَنْصُرْكُمْ وَيُثَبِّتْ أَقْدَامَكُمْ} [محمد: 7].
لأن بالدعوة يعبد الله عز وجل بما شرع، وتزال المنكرات، ويبث في الأمة معاني العزة والكرامة، لتسير في طريق النصر والتمكين.
الثمرة الثالثة عشرنقوم بالدعوة حتى لا تصيبنا اللعنة التي أصابت الأمم السابقة جراء ترك الدعوة والأمر بالمعروف والنهي عن المنكر، كما قال -تعالى-: {لُعِنَ الَّذِينَ كَفَرُوا مِنْ بَنِي إِسْرَائِيلَ عَلَى لِسَانِ دَاوُودَ وَعِيسَى ابْنِ مَرْيَمَ ذَلِكَ بِمَا عَصَوْا وَكَانُوا يَعْتَدُونَ * كَانُوا لَا يَتَنَاهَوْنَ عَنْ مُنْكَرٍ فَعَلُوهُ} [المائدة: 78 - 79]، فإن في ترك الدعوة إلى الله عز وجل نكرانًا لحق المنعم، وجلب لحلول النقم وزوال النعم.
الثمرة الرابعة عشربالدعوة إلى الله تنال المراتب العلا: قال الشيخ عبد الرحمن
ধৈর্যের সাথে; সুতরাং এটি নির্দেশ করে যে, মুক্তি এই সকল বিষয়ের সমষ্টির ওপর নির্ভরশীল। আর যেভাবে একজন মুকাল্লাফ (দায়িত্বশীল) ব্যক্তির ওপর নিজের সংশোধন সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো অর্জন করা আবশ্যক, তেমনিভাবে অন্যের ব্যাপারেও তার ওপর কিছু বিষয় আবশ্যক হয়। তার মধ্যে রয়েছে: দ্বীনের দিকে দাওয়াত প্রদান, নসিহত করা, সৎ কাজের আদেশ (الأمر بالمعروف) দেওয়া এবং অসৎ কাজের নিষেধ (النهي عن المنكر) করা এবং নিজের জন্য যা পছন্দ করে অন্যের জন্যও তা-ই পছন্দ করা।
দ্বাদশ ফলআল্লাহর দিকে দাওয়াত প্রদান শত্রুদের বিরুদ্ধে বিজয় অর্জনের অন্যতম কারণ, যা প্রতিটি মুসলিম নর-নারীর আকাঙ্ক্ষিত স্বপ্ন। আল্লাহ তাআলা বলেন: {হে মুমিনগণ! যদি তোমরা আল্লাহকে সাহায্য করো, তবে তিনি তোমাদের সাহায্য করবেন এবং তোমাদের অবস্থান সুদৃঢ় করবেন} [মুহাম্মদ: ৭]।
কারণ দাওয়াতের মাধ্যমেই আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা-এর ইবাদত তাঁর প্রবর্তিত বিধান অনুযায়ী সম্পন্ন হয়, অপছন্দনীয় বিষয়সমূহ (المنكرات) দূরীভূত হয় এবং উম্মাহর মধ্যে মর্যাদা ও সম্মানের বোধ জাগ্রত হয়, যাতে তারা বিজয় ও সুদৃঢ় অবস্থানের পথে অগ্রসর হতে পারে।
ত্রয়োদশ ফলআমরা দাওয়াতের কাজ পরিচালনা করি যাতে আমাদের ওপর সেই অভিশাপ আপতিত না হয়, যা দাওয়াত পরিত্যাগ করা এবং সৎ কাজের আদেশ (الأمر بالمعروف) ও অসৎ কাজের নিষেধ (النهي عن المنكر) ছেড়ে দেওয়ার ফলে পূর্ববর্তী জাতিসমূহের ওপর আপতিত হয়েছিল। যেমন আল্লাহ তাআলা বলেন: {বনী ইসরাঈলের মধ্যে যারা কুফরি করেছিল, তারা দাউদ ও ঈসা ইবনে মারিয়ামের মুখে অভিশপ্ত হয়েছিল। এটি ছিল তাদের অবাধ্যতা ও সীমালঙ্ঘনের কারণে। তারা যেসব মন্দ কাজ (منكر) করত, তা থেকে একে অপরকে বাধা দিত না} [আল-মায়িদাহ: ৭৮-৭৯]। নিশ্চয়ই আল্লাহর দিকে দাওয়াত পরিত্যাগ করার মধ্যে রয়েছে নিয়ামতদাতার হকের অস্বীকৃতি, যা বিপদাপদ ডেকে আনে এবং নিয়ামতকে বিলীন করে দেয়।
চতুর্দশ ফলআল্লাহর দিকে দাওয়াতের মাধ্যমে উচ্চ মর্যাদা লাভ করা যায়: শায়খ আব্দুর রহমান বলেন-
(খণ্ড: ১)
মিন সিমারিদ দাওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
السعدي رحمه الله: وهذه المرتبة -أي مرتبة الدعوة- تمامها للصديقين الذين عملوا على تكميل أنفسهم وتكميل غيرهم، وحصلت لهم الوراثة التامة من الرسل».
وتأمل حال من يقومون بأمر الدعوة، إنما هم الرسل، ومن وفقه الله من عباده العلماء، والدعاة والمصلحين، فاسلك نفسك معهم، فإنها نعم الطريق والسبيل.
قال ابن القيم رحمه الله: «فالدعوة إلى الله أشرف مقامات العبد وأجلها وأفضلها».
الثمرة الخامسة عشرمن ثمار الدعوة: صلاح المجتمع وتقويم اعوجاجه، وهذه أمنية كل من أحب هذا الدين ورضي به، لكنها تبقى أمنية حتى يتبعها العمل والجهد والبذل والعطاء، عندها يصلح الحال، وتتغير الأمور: {الَّذِينَ إِنْ مَكَّنَّاهُمْ فِي الْأَرْضِ أَقَامُوا الصَّلَاةَ وَآَتَوُا الزَّكَاةَ وَأَمَرُوا بِالْمَعْرُوفِ وَنَهَوْا عَنِ الْمُنْكَرِ وَلِلَّهِ عَاقِبَةُ الْأُمُورِ} [الحج: 41]، فانظر في حال قرية أو منطقة أو مجتمع قام فيها داع، وكيف يكون أثره على أهلها ومجتمعها؟
وبعض المدرسين والمدرسات يعين في بلدة بعيدة نائية، ويكتب الله عز وجل على يديه من الخير وصلاح تلك البيوت في سنة واحدة ما تقر به عينه! وأذكر أن أحدهم طلب الاستمرار في قريته النائية لما وجد من ثمار الدعوة، ثم بقي سنة ثالثة ورابعة ولما سئل عن هذا البقاء إلى متى؟ ولمذا لا تنتقل إلى مسقط رأسك مثل
আস-সাদি (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: «আর এই স্তর—অর্থাৎ দাওয়াতের স্তর—এর পূর্ণতা অর্জিত হয় সেই সত্যনিষ্ঠ (الصديقين) ব্যক্তিদের মাধ্যমে যারা নিজেদের এবং অন্যদের পূর্ণতা সাধনে কাজ করেছেন এবং রাসুলদের থেকে পূর্ণ উত্তরাধিকার লাভ করেছেন।»
দাওয়াতের কাজ যারা আঞ্জাম দিচ্ছেন তাদের অবস্থার কথা চিন্তা করুন, তারা হলেন রাসুলগণ এবং আল্লাহর সেই সকল বান্দা যাদের তিনি তাওফিক দান করেছেন—আলেম, দায়ী (الدعاة) এবং সংস্কারকগণ (المصلحين)। সুতরাং নিজেকে তাদের অন্তর্ভুক্ত করুন, কারণ এটিই সর্বোত্তম পথ ও পন্থা।
ইবনুল কাইয়্যিম (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: «আল্লাহর দিকে দাওয়াত দেওয়া হলো বান্দার জন্য সবচেয়ে মহিমান্বিত, মহান এবং শ্রেষ্ঠ মাকাম।»
পঞ্চদশ ফলদাওয়াতের অন্যতম ফল হলো: সমাজের সংশোধন এবং এর বক্রতা দূর করা। এটি প্রত্যেক এমন ব্যক্তির আকাঙ্ক্ষা যে এই দ্বীনকে ভালোবাসে এবং এর ওপর সন্তুষ্ট থাকে। কিন্তু এটি কেবল আকাঙ্ক্ষাই থেকে যায় যতক্ষণ না এর পেছনে আমল, মেহনত, ত্যাগ এবং দান যুক্ত হয়; তখনই অবস্থার সংশোধন ঘটে এবং পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়: {যাদেরকে আমি জমিনে প্রতিষ্ঠা দান করলে তারা সালাত কায়েম করবে, জাকাত প্রদান করবে এবং সৎকাজের আদেশ দিবে ও অসৎকাজে নিষেধ করবে; আর সকল কাজের পরিণাম আল্লাহরই ইচ্ছাধীন।} [হজ: ৪১]। সুতরাং এমন কোনো গ্রাম, অঞ্চল বা সমাজের অবস্থার দিকে তাকান যেখানে কোনো দায়ী (داعية) দাওয়াতের কাজ পরিচালনা করেছেন; সেখানকার মানুষ ও সমাজের ওপর তার প্রভাব কেমন হয়?
অনেক শিক্ষক ও শিক্ষিকা কোনো এক দূরবর্তী নির্জন এলাকায় নিযুক্ত হন, আর আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা তাদের উসিলায় এক বছরের মধ্যেই সেই ঘরগুলোতে এমন কল্যাণ ও সংশোধন দান করেন যা দেখে তাদের চোখ জুড়িয়ে যায়! আমার মনে আছে, জনৈক ব্যক্তি তার সেই প্রত্যন্ত গ্রামেই অবস্থান চালিয়ে যাওয়ার আবেদন জানিয়েছিলেন, কারণ তিনি দাওয়াতের ফল প্রত্যক্ষ করেছিলেন। এরপর তিনি সেখানে তৃতীয় ও চতুর্থ বছরও অবস্থান করেন। যখন তাকে জিজ্ঞাসা করা হলো যে, এই অবস্থান কতদিন চলবে? এবং কেন তিনি অন্যদের মতো তার জন্মস্থানে ফিরে যাচ্ছেন না...
(খণ্ড: ১)
মিন সিমারিদ দাওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
بقية المدرسين؟ قال: فلان ذهب للتجارة، وبقي عشر سنوات في منطقة بعيدة، وما عاب عليه أحد بقاءه، ولا طلبوا عودته، بل يسمى العصامي والنشمي! أما من قام بالدعوة فالبسطاء لا يرون ذلك سببًا مقنعًا للبقاء! وما علموا أن ما عند الله خير وأبقى.
الثمرة السادسة عشرمن ثمار الدعوة: صلاة الله، وملائكته وأهل السموات والأرض على معلم الناس الخير، لأن ما يبلغه إنما هو العلم الموروث من قول الله -تعالى- وقول رسوله الكريم، قال صلى الله عليه وسلم: «إن الله وملائكته، وأهل السموات والأرض، حتى النملة في جحرها وحتى الحوت ليصلون على معلم الناس الخير» [رواه الترمذي].
الثمرة السابعة عشرمن ثمار الدعوة المحبوبة التي تسر النفس وتشرح الصدر، وتعين على الاستمرار ومجابهة الشدائد دعاء النبي صلى الله عليه وسلم بالنضارة لمبلغ مقالته: «نضر الله امرءًا سمع مقالتي فبلغها» [رواه ابن ماجه] فهنيئًا لمن أدركه هذا الدعاء ونال منه نصيبًا.
الثمرة الثامنة عشردعاء النبي صلى الله عليه وسلم بالرحمة لمبلغ حديثه من أعظم ما يعين على السير قدمًا: «رحم الله امرءًا سمع مني حديثًا فحفظه حتى يبلغه غيره
… » [رواه أحمد] واليوم توفرت شروط التبليغ فالكتاب والشريط الإسلامي يحوي كل ذلك؛ ليبلغ المدعو على أكمل وجه وأحسن حال، وأذكر أن رجلاً أسلم وذكر أنه أتى إلى هذه البلاد
অন্যান্য শিক্ষকদের কী অবস্থা? তিনি বললেন: অমুক ব্যক্তি ব্যবসার জন্য চলে গেছে এবং একটি প্রত্যন্ত অঞ্চলে দশ বছর অবস্থান করেছে। কেউ তার সেখানে থাকাকে দোষণীয় মনে করেনি এবং তার ফিরে আসার দাবিও তোলেনি। বরং তাকে স্বাবলম্বী এবং সাহসী ও কর্মঠ বলা হয়! অথচ যে ব্যক্তি দাওয়াতের কাজে আত্মনিয়োগ করে, সাধারণ মানুষ দাওয়াতের কাজকে সেখানে অবস্থানের জন্য যথেষ্ট কারণ হিসেবে মনে করে না! তারা জানে না যে আল্লাহর নিকট যা রয়েছে তা-ই উত্তম ও চিরস্থায়ী।
ষোড়শ ফলদাওয়াতের অন্যতম ফল হলো: আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতাকুল এবং আসমান ও জমিনবাসীদের পক্ষ থেকে সেই ব্যক্তির জন্য রহমত ও দোয়া প্রার্থনা করা যে মানুষকে কল্যাণ শিক্ষা দেয়। কারণ সে যা প্রচার করছে তা মূলত আল্লাহ তাআলার বাণী এবং তাঁর সম্মানিত রাসূলের বাণী থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত ইলম। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «নিশ্চয়ই আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতাকুল, আসমান ও জমিনবাসীরা, এমনকি গর্তের পিপীলিকা এবং মাছ পর্যন্ত সেই ব্যক্তির জন্য রহমত ও দোয়ার প্রার্থনা করে যে মানুষকে কল্যাণ শিক্ষা দেয়» [তিরমিযি বর্ণনা করেছেন]।
সপ্তদশ ফলদাওয়াতের একটি প্রিয় ফল যা আত্মাকে আনন্দিত করে, বক্ষকে প্রশস্ত করে এবং দাওয়াতের কাজে অবিচল থাকতে ও প্রতিকূলতা মোকাবিলা করতে সাহায্য করে, তা হলো—রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সেই ব্যক্তির চেহারায় সজীবতার জন্য দোয়া করা যে তাঁর বাণী পৌঁছে দেয়: «আল্লাহ সেই ব্যক্তিকে সজীব ও উজ্জ্বল রাখুন যে আমার কথা শুনেছে এবং তা পৌঁছে দিয়েছে» [ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেছেন]। সুতরাং সেই ব্যক্তির জন্য অভিনন্দন যাকে এই দোয়া শামিল করেছে এবং যে এর অংশীদার হতে পেরেছে।
অষ্টাদশ ফলরাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কর্তৃক তাঁর হাদিস প্রচারকারীর জন্য রহমতের দোয়া সামনে এগিয়ে চলার পথে অন্যতম শ্রেষ্ঠ সহায়ক: «আল্লাহ সেই ব্যক্তির ওপর রহম করুন যে আমার থেকে কোনো হাদিস শুনেছে, অতঃপর তা সংরক্ষণ (حفظ) করেছে যতক্ষণ না সে তা অন্যের কাছে পৌঁছে দিয়েছে...» [আহমদ বর্ণনা করেছেন]। বর্তমানে দাওয়াত প্রচারের সকল উপকরণ সহজলভ্য হয়েছে; বই এবং ইসলামি অডিও এই সবকিছুই এখন ধারণ করে আছে, যাতে দাওয়াত গ্রহণকারীর নিকট পূর্ণাঙ্গরূপে ও সর্বোত্তম পন্থায় তা পৌঁছানো যায়। আমার মনে পড়ছে এক ব্যক্তির কথা যে ইসলাম গ্রহণ করেছে এবং উল্লেখ করেছে যে সে এই দেশে এসেছে...
(খণ্ড: ১)
মিন সিমারিদ দাওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
وأقام سنوات ثم غادر إلى بلده حتى تيسرت له فرصة عمل أخرى، ورجع بعد سنة مع شركة تعمل في صيانة الشقق المفروشة، قال: فوجدت يومًا مطوية صغيرة وضعت على طاولة المطبخ بعد خروج المستأجر، فإذا بها عن الإسلام فكانت نقطة البحث عن الإسلام والسؤال عنه، حتى أسلمت وأسلم أبي وأمي وزوجتي، وأحاول أن تسلم بقية العائلة الآن، فكيف هي فرحة الداعية الذي وضع هذه المطوية يوم القيامة، إذا أقبلت هذه العائلة وغيرها وكانت في صحائفه وحسناته؟
الثمرة التاسعة عشرالدعوة إلى الله صدقة من الصدقات، قال -تعالى-: {الَّذِينَ يُؤْمِنُونَ بِالْغَيْبِ وَيُقِيمُونَ الصَّلَاةَ وَمِمَّا رَزَقْنَاهُمْ يُنْفِقُونَ}.
قال الحسن: «من أعظم النفقة نفقة العلم».
ولو أعطيت رجلاً ريالاً لنفد في حينه، ولو علمته علمًا لبقي يعمل به، وربما نقله إلى غيره، فكانت السعادة في الدارين، وما نقل إلينا القرآن والسنة وهذا الدين إلا بهذه النفقة، حيث سافر وأقام العلماء والدعاة لإنفاق علمهم، والصبر على الناس حتى تعلموا، ونقلوا العلم إلينا.
الثمرة العشرونالثمرة المهمة: الدعوة إلى الله فرض كفاية إذا قام به البعض سقط الإثم عن الباقين، لكن في هذا الزمن من يقوم بالدعوة؟ وهل تصل إلى كل مكان؟ وهل في كل مكان دعاة؟ ولهذا من ثمار
তিনি কয়েক বছর অবস্থান করলেন, তারপর নিজ দেশে ফিরে গেলেন। অবশেষে তাঁর জন্য অন্য একটি কাজের সুযোগ হলো এবং তিনি এক বছর পর সজ্জিত ফ্ল্যাট রক্ষণাবেক্ষণকারী একটি কোম্পানিতে কর্মরত অবস্থায় পুনরায় ফিরে আসলেন। তিনি বললেন: একদিন ভাড়াটিয়া চলে যাওয়ার পর আমি রান্নাঘরের টেবিলের ওপর রাখা একটি ছোট লিফলেট পেলাম। সেটি ছিল ইসলাম সম্পর্কে। আর এটিই ছিল ইসলাম সম্পর্কে অনুসন্ধান ও জিজ্ঞাসার সূচনা বিন্দু। শেষ পর্যন্ত আমি ইসলাম গ্রহণ করলাম এবং আমার বাবা, মা ও স্ত্রীও ইসলাম গ্রহণ করলেন। এখন আমি পরিবারের বাকি সদস্যদের ইসলামে আনার চেষ্টা করছি। কিয়ামতের দিন সেই দায়ী (দাওয়াত প্রদানকারী)-এর আনন্দ কেমন হবে, যিনি এই লিফলেটটি রেখেছিলেন; যখন এই পরিবার এবং অন্যরা আসবে এবং তাদের আমল তাঁর আমলনামা ও পুণ্যসমূহে যুক্ত হবে?
ঊনবিংশতম ফলআল্লাহর পথে দাওয়াত দেওয়া অন্যতম একটি সদকা। মহান আল্লাহ বলেন: "যারা অদৃশ্যে বিশ্বাস করে, যথাযথভাবে নামাজ কায়েম করে এবং আমি তাদেরকে যা জীবিকা দিয়েছি তা হতে ব্যয় করে।"
হাসান বলেন: "সর্বোত্তম দান হলো ইলম বা জ্ঞানের দান।"
আপনি যদি কোনো ব্যক্তিকে একটি রিয়াল দেন তবে তা তখনই শেষ হয়ে যাবে, কিন্তু আপনি যদি তাকে কোনো জ্ঞান শিক্ষা দেন তবে সে তার ওপর আমল করতে থাকবে এবং সম্ভবত তা অন্যের কাছেও পৌঁছে দেবে। ফলে এটি হবে উভয় জগতের সৌভাগ্য। আর এই দানের মাধ্যমেই কুরআন, সুন্নাহ এবং এই দ্বীন আমাদের কাছে পৌঁছেছে; কেননা আলেমগণ এবং দাওয়াত দানকারীগণ তাঁদের জ্ঞান বিতরণের জন্য ভ্রমণ করেছেন ও অবস্থান করেছেন এবং মানুষের ওপর ধৈর্য ধারণ করেছেন যতক্ষণ না তারা শিক্ষা গ্রহণ করেছে এবং আমাদের কাছে জ্ঞান পৌঁছে দিয়েছে।
বিংশতম ফলগুরুত্বপূর্ণ ফল: আল্লাহর পথে দাওয়াত প্রদান করা ফরজে কিফায়া (فرض كفاية); যদি একদল লোক তা পালন করে তবে বাকিদের ওপর থেকে গুনাহের বোঝা নেমে যায়। কিন্তু বর্তমান যুগে কে দাওয়াতের কাজ করছে? এটি কি সব জায়গায় পৌঁছাচ্ছে? সব জায়গায় কি দাওয়াত দানকারী রয়েছেন? আর এ কারণেই দাওয়াতের অন্যতম ফল হলো...
(খণ্ড: ১)
মিন সিমারিদ দাওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
الدعوة براءة الذمة: قال سماحة الشيخ عبد العزيز بن باز رحمه الله في كتابه «الدعوة وأخلاق الدعاة»: «فعند قلة الدعاة، وعند كثرة المنكرات، وعند غلبة الجهل كحالنا اليوم، تكون الدعوة فرض عين على كل واحد بحسب طاقته»
الثمرة الحادية والعشرونالدعوة إلى الله رفعة في الدنيا والآخرة، وهذه أمنية كل مسلم في هذه الحياة وفي الآخرة.
قال ابن القيم رحمه الله: «إن أفضل منازل الخلق عند الله منزلة الرسالة والنبوة، فالله يصطفي من الملائكة رسلاً ومن الناس».
وما رفع الله أقوامًا في الزمن القديم والحديث إلا بالدعوة إليه والذب عنه دينه.
فلموسى عليه السلام منزلة عند ربه وخصوصًا في همته الدعوية، حتى غفر الله له ما غفر لسبب همته الدعوية، كما قرر ابن تيمية رحمه الله فيما يرويه عن ابن القيم الجوزية في كتابه «مدارج السالكين» قال:
«انظر إلى موسى عليه السلام رمى الألواح فيها كلام الله الذي كتبه بيده فكسرها، وجر بلحية نبي مثله، ولطم عين ملكوت الموت ففقأها، وعاتب ربه ليلة الإسراء في محمد صلى الله عليه وسلم، وربه يحتمل له ذلك كله، ويحبه ويكرمه لأنه قام لله تلك المقامات العظيمة في مقابلة أعدى عدو له، وصدع بأمره، وعالج أمة القبط وبني إسرائيل، فكانت هذه الأمور كالشعرة في البحر، وانظر إلى يونس
দাওয়া হলো দায়মুক্তি: শায়খ আব্দুল আজিজ বিন বাজ (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর 'আদ-দাওয়া ওয়া আখলাকুদ দুআহ' গ্রন্থে বলেছেন: "দাওয়াত প্রদানকারীর স্বল্পতা, অনাচারের (منكرات) আধিক্য এবং আমাদের বর্তমান সময়ের মতো অজ্ঞতার প্রসারের সময়, সামর্থ্য অনুযায়ী দাওয়াত প্রদান করা প্রত্যেকের ওপর ব্যক্তিগত আবশ্যকতা (فرض عين) হয়ে দাঁড়ায়।"
একুশতম ফলআল্লাহর দিকে দাওয়াত দেওয়া দুনিয়া ও আখেরাতে উচ্চমর্যাদার কারণ, আর এটি এই জীবনে এবং পরকালে প্রত্যেক মুসলিমের আকাঙ্ক্ষা।
ইবনুল কাইয়্যিম (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "আল্লাহর কাছে সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ মর্যাদা হলো রিসালাত ও নবুওয়তের মর্যাদা; কেননা আল্লাহ ফেরেশতাদের মধ্য থেকে এবং মানুষের মধ্য থেকে রাসূল মনোনীত করেন।"
অতীত ও বর্তমান সময়ে আল্লাহ কোনো জাতিকে কেবল তাঁর দিকে দাওয়াত দেওয়া এবং তাঁর দ্বীনকে রক্ষার মাধ্যমেই উচ্চমর্যাদা দান করেছেন।
মুসা (আলাইহিস সালাম) তাঁর রবের কাছে বিশেষ মর্যাদার অধিকারী ছিলেন, বিশেষত তাঁর দাওয়াহর উদ্দীপনার কারণে। এমনকি তাঁর এই দাওয়াহর উদ্দীপনার কারণেই আল্লাহ তাঁকে অনেক কিছু ক্ষমা করেছিলেন, যেমনটি ইবনে তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ) ইবনুল কাইয়্যিম আল-জাওজিয়্যাহর 'মাদারিজুস সালিকিন' কিতাব থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন:
«মুসা (আলাইহিস সালাম)-এর দিকে লক্ষ করুন; তিনি (তাওরাতের) ফলকগুলো ছুড়ে ফেলেছিলেন যাতে আল্লাহর কালাম ছিল যা তিনি নিজ হাতে লিখেছিলেন, ফলে সেগুলো ভেঙে গিয়েছিল। তিনি তাঁর মতোই একজন নবীর দাড়ি ধরে টেনেছিলেন, মৃত্যুর ফেরেশতার চোখে চড় মেরেছিলেন এবং তা উপড়ে ফেলেছিলেন। মিরাজের রাতে মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ব্যাপারে তিনি তাঁর রবের কাছে অনুযোগ করেছিলেন। অথচ তাঁর রব তাঁর এই সবকিছুই সহ্য করেছেন, তাঁকে ভালোবেসেছেন এবং সম্মানিত করেছেন। কারণ তিনি আল্লাহর চরম শত্রুর মোকাবিলায় আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য সেই মহান অবস্থানগুলোতে দাঁড়িয়েছিলেন, তাঁর নির্দেশ দ্ব্যর্থহীনভাবে প্রচার করেছিলেন এবং কিবতি ও বনি ইসরাইল জাতির সংস্কারের কাজ করেছিলেন। ফলে এই বিষয়গুলো সমুদ্রের মাঝে একটি চুলের মতো ছিল (অর্থাৎ অতি নগণ্য)। আর ইউনুসের দিকে লক্ষ করুন...»
(খণ্ড: ১)
মিন সিমারিদ দাওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
-عليه السلام حيث لم يكن له هذه المقامات التي لموسى، غاضب ربه مرة، فأخذه وسجنه في بطن الحوت، ولم يحتمل له ما احتمل لموسى».
الثمرة الثانية والعشرونمن ثمار الدعوة الأجر العظيم، والثواب الجزيل: فقد دل
النبي صلى الله عليه وسلم ابن عمه علي بن أبي طالب رضي الله عنه على كنز عظيم «لئن يهدي الله بك رجلاً واحدًا خير لك من حمر النعم» [متفق عليه].
ولو قيل لرجل اليوم، إذا هدى الله عز وجل على يديك رجلاً فلك سيارة أو منزل، لسارع إلى ذلك بأقصى ما يستطع، وبذل الأسباب، وجاهد وتحمل وسعى وأقبل وأدبر، حتى يتحقق مراده ومطلوبه؛ وحمر النعم أنفس أموال العرب في حينها.
الثمرة الثالثة والعشرونمن ثمار الدعوة العظيمة التي قد يغفل عنها البعض: استمرار ثواب الداعي بعد موته، وهي كما وصفها أحد الموظفين .. مثل الراتب التقاعدي إذا توقف عنك الراتب الأساسي بعد نهاية الخدمة، يبدأ لك الراتب التقاعدي، والدعوة إلى الله أجرها في الحياة وبعد الممات؛ لأنك عملت عملاً يبقى بعد موتك، فهذا يصلي وقد علمته، وآخر يصوم التطوع وقد بشرته، وثالث ينفق وقد أعنته على نفسه، والرابع كان كافرًا فأسلم، وهكذا يستمر الأجر
لقوله صلى الله عليه وسلم: «من سن في الإسلام سنة حسنة فعمل بها بعده، كتب
-আলাইহিস সালাম—যেহেতু তাঁর জন্য মুসার মতো ওইসব মাকাম বা উচ্চমর্যাদা ছিল না—তিনি একবার তাঁর রবের প্রতি রাগান্বিত হয়েছিলেন, ফলে আল্লাহ তাঁকে পাকড়াও করেন এবং মাছের পেটে বন্দি করেন। আর মুসার ক্ষেত্রে যা সহ্য করা হয়েছিল, তাঁর ক্ষেত্রে তা করা হয়নি।
বাইশতম ফলদাওয়াতের অন্যতম ফল হলো মহান প্রতিদান এবং বিপুল সওয়াব: কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর চাচাতো ভাই আলী ইবনে আবু তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহুকে এক বিশাল সম্পদের সন্ধান দিয়ে বলেছিলেন: «তোমার মাধ্যমে আল্লাহ যদি একজন ব্যক্তিকেও হেদায়েত দান করেন, তবে তা তোমার জন্য লাল উট অপেক্ষা উত্তম» [ঐকমত্যপূর্ণ (متفق عليه)]।
আজ যদি কোনো ব্যক্তিকে বলা হতো যে, আল্লাহ যদি তোমার মাধ্যমে কাউকে হেদায়েত করেন তবে তুমি একটি গাড়ি বা একটি বাড়ি পাবে, তবে সে তার সাধ্যমতো সর্বোচ্চ চেষ্টা করত, উপায়-উপকরণ খুঁজত, পরিশ্রম করত, সহ্য করত, ছুটাছুটি করত এবং তার উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য অর্জন না হওয়া পর্যন্ত আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যেত; আর লাল উট ছিল তৎকালীন আরবদের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ।
তেইশতম ফলদাওয়াতের এমন একটি মহান ফল যা সম্পর্কে অনেকে গাফেল থাকে, তা হলো: দায়ী বা আহ্বানকারীর মৃত্যুর পর সওয়াব জারি থাকা। এটি এক চাকুরিজীবীর বর্ণনার মতো—যেমন চাকুরির মেয়াদ শেষে মূল বেতন বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর পেনশন শুরু হয়; আল্লাহর পথে দাওয়াতের সওয়াবও জীবনে এবং মরণের পরে অব্যাহত থাকে। কারণ আপনি এমন আমল করেছেন যা আপনার মৃত্যুর পরেও অবশিষ্ট থাকে। এই যে একজন নামাজ পড়ছে যাকে আপনি শিখিয়েছেন, অন্যজন নফল রোজা রাখছে যার সুসংবাদ আপনি তাকে দিয়েছিলেন, তৃতীয় একজন দান-সদকা করছে যাকে আপনি উৎসাহিত করেছিলেন, আর চতুর্থ একজন কাফের ছিল যে ইসলাম কবুল করেছে—এভাবেই সওয়াব জারি থাকে;
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী অনুযায়ী: «যে ব্যক্তি ইসলামে কোনো উত্তম রীতির সূচনা করল এবং পরবর্তীতে তা অনুসরণ করা হলো, তার জন্য (সওয়াব) লেখা হবে...»
(খণ্ড: ১)
মিন সিমারিদ দাওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
له أجر من عمل بها، ولا ينقص من أجورهم شيء» [رواه مسلم].
وقال صلى الله عليه وسلم: «من سن سنة حسنة فله أجرها ما عمل بها في حياته وبعد مماته حتى تترك» [رواه الطبراني]، وقال صلى الله عليه وسلم: «إذا مات ابن آدم انقطع عمله إلا من ثلاث» وذكر منها: «أو علم ينتفع به». وتأمل في حال أجور من دعوا هذه الأمة، وصححوا عقائدها، ونشروا كتبها كالإمام محمد بن عبد الوهاب رحمه الله وغيره بل تأمل حال شيخ الإسلام ابن تيمية الذي قل أن تجد استشهادًا شرعيًا إلا وله ومنه كلام، كم له متوفى وكم له من الأجور، والله لكأنه بيننا يدعو، ويفتي، ويرشد، ويناظر أهل البدع والزيغ والضلال.
الثمرة الرابعة والعشرونالدعوة إلى الله من الجهاد في سبيل الله، والكثير إذا سمع كلمة الجهاد اهتز شوقًا إلى ذلك، وحدثته نفسه بالمسير والأمر -والله الحمد- متيسر في مجالات كثيرة، فالجهاد صوره -ولله الحمد- متعددة وكثيرة ولا يتوقف الأمر على القتال فحسب، بل الجهاد بالنفس، والمال، والقلم، والسنان، والبيان، والدعوة، قال -تعالى-: {وَجَاهِدْهُمْ بِهِ جِهَادًا كَبِيرًا} أي بالقرآن.
قال ابن القيم: «وتبليغ سنته إلى الأمة أفضل من تبليغ السهام إلى نحور العدو؛ لأن تبليغ السهام يفعله كثير من الناس؛ أما تبليغ السنن فلا يقوم به إلا ورثة الأنبياء
… ».
যে ব্যক্তি এটি অনুসরণ করবে তার সমান সওয়াব সে পাবে, এবং তাদের সওয়াব থেকে বিন্দুমাত্র হ্রাস করা হবে না [মুসলিম কর্তৃক বর্ণিত]।
এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «যে ব্যক্তি একটি উত্তম সুন্নাহ (سنة) বা রীতির সূচনা করবে, সেটির সওয়াব সে পাবে যতক্ষণ পর্যন্ত তার জীবদ্দশায় এবং মৃত্যুর পর এটি পালিত হবে, যতক্ষণ না তা বর্জন করা হয়» [তাবারানি কর্তৃক বর্ণিত], এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «যখন আদম সন্তান মারা যায় তখন তিনটি বিষয় ব্যতীত তার আমল বন্ধ হয়ে যায়» এবং তিনি সেখানে উল্লেখ করেছেন: «অথবা এমন জ্ঞান যা দ্বারা উপকৃত হওয়া যায়»। এই উম্মতকে যারা দাওয়াত দিয়েছেন, তাদের আকিদা সংস্কার করেছেন এবং তাদের কিতাবসমূহ প্রচার করেছেন, যেমন ইমাম মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব (রাহিমাহুল্লাহ) ও অন্যান্যরা—তাদের প্রতিদানের অবস্থা একটু ভেবে দেখুন। বরং শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়ার অবস্থার কথা চিন্তা করুন, যার কোনো বক্তব্য বা উদ্ধৃতি ব্যতীত শরয়ী দলিল খুব কমই পাওয়া যায়। তিনি কতকাল পূর্বে ইন্তেকাল করেছেন অথচ তাঁর সওয়াবের পরিমাণ কতই না বিশাল! আল্লাহর কসম, মনে হয় যেন তিনি আমাদের মধ্যেই রয়েছেন—দাওয়াত দিচ্ছেন, ফতোয়া দিচ্ছেন, পথনির্দেশ করছেন এবং বিদআত (بدعة), সত্যবিচ্যুতি ও পথভ্রষ্টদের সাথে বিতর্ক করছেন।
চব্বিশতম ফলআল্লাহর পথে দাওয়াত দেওয়া আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ (جهاد)-এর অন্তর্ভুক্ত। অনেকে যখন 'জিহাদ' শব্দটি শোনে, তখন সেটির প্রতি গভীর আকাঙ্ক্ষায় আন্দোলিত হয় এবং তার মন তাকে সেই পথে পাড়ি দিতে উদ্বুদ্ধ করে। অথচ আল্লাহর শোকর যে, বিষয়টি অনেক ক্ষেত্রেই সহজসাধ্য। জিহাদের রূপ—আল্লাহর প্রশংসা—বহুমুখী ও প্রচুর এবং এটি কেবল যুদ্ধের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং জান, মাল, কলম, বর্শা, বর্ণনা এবং দাওয়াতের মাধ্যমেও জিহাদ হয়ে থাকে। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {এবং আপনি এর মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে এক বড় জিহাদ (جهاد) করুন} অর্থাৎ কুরআনের মাধ্যমে।
ইবনুল কাইয়্যিম বলেছেন: «উম্মতের কাছে তাঁর সুন্নাহ (سنة) পৌঁছে দেওয়া শত্রুর কণ্ঠনালীতে তীর নিক্ষেপ করার চেয়েও উত্তম; কারণ তীর নিক্ষেপ অনেক মানুষই করতে পারে, কিন্তু সুন্নাহসমূহ (سنن) পৌঁছে দেওয়ার কাজ কেবল নবীদের উত্তরাধিকারীগণই আঞ্জাম দিয়ে থাকেন
… »।
(খণ্ড: ১)
মিন সিমারিদ দাওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
الثمرة الخامسة والعشرونمحبة الله عز وجل لمن قام بدينه، وبلغ رسالته قال الحسن عند قوله -تعالى-: {وَمَنْ أَحْسَنُ قَوْلًا مِمَّنْ دَعَا إِلَى اللَّهِ وَعَمِلَ صَالِحًا وَقَالَ إِنَّنِي مِنَ الْمُسْلِمِينَ} [فصلت: 33]، قال: «هو المؤمن، أجاب الله في دعوته، ودعا الناس إلى ما أجاب الله فيه من دعوته، وعمل صالحًا في إجابته، فهذا حبيب الله، هذا ولي الله»
الثمرة السادسة والعشرونالقيام بالدعوة شكر للمنعم وقيام بحقه، وهي مظنة زيادة النعمة {لَئِنْ شَكَرْتُمْ لَأَزِيدَنَّكُمْ} [إبراهيم: 7] وهذا الدين الذي ارتضيناه لأنفسنا لابد من الدعوة إليه، والدفاع عنه، ونصرته والتضحية في سبيله، وبذل الغالي والنفيس لإعلائه.
الثمرة السابعة والعشرونالدعوة إلى الله من وسائل الثبات على الدين، وهي أسهل الوسائل للدفاع والتمسك بالدين، فإن الإنسان تتخطفه الفتن، والله عز وجل يعين من قام بهذا على الثبات على الدين والاستقامة، وفضل الله واسع، وهذا مجرب مشاهد، وأعرف من كانوا في أمر الدعوة شعلة من النشاط والحيوية، ولما تركوا هذا الأجر العظيم والباب الكبير تردت أحوالهم وتقاعسوا، وبدأ الفتور يدب على نفوسهم وأعمالهم.
পঁচিশতম ফলমহান আল্লাহ তাআলার ভালোবাসা ঐ ব্যক্তির জন্য, যে তাঁর দ্বীন প্রতিষ্ঠা করে এবং তাঁর বাণী পৌঁছে দেয়। হাসান (বসরী) আল্লাহ তাআলার এই বাণীর—"আর তার চেয়ে কার কথা উত্তম হতে পারে, যে আল্লাহর দিকে ডাকে, সৎকর্ম করে এবং বলে, 'নিশ্চয় আমি মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত'" [ফুসসিলাত: ৩৩]—ব্যাখ্যায় বলেছেন: "সে হলো মুমিন (مؤمن), সে আল্লাহর আহ্বানে সাড়া দিয়েছে এবং মানুষকে ঐ বিষয়ের দিকে আহ্বান করেছে যাতে সে নিজে আল্লাহর আহ্বানে সাড়া দিয়েছিল, এবং সেই সাড়াদানের ক্ষেত্রে সে সৎকর্ম (صالح) করেছে। এই ব্যক্তিই আল্লাহর প্রিয়পাত্র, এই ব্যক্তিই আল্লাহর বন্ধু (ولي)।"
ছাব্বিশতম ফলদাওয়াতের কাজ আঞ্জাম দেওয়া হলো নেয়ামতদাতার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ এবং তাঁর হক আদায় করা; আর এটি নেয়ামত বৃদ্ধির প্রবল সম্ভাবনা রাখে [যেমন আল্লাহ বলেন:] "যদি তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো, তবে আমি অবশ্যই তোমাদের নেয়ামত বাড়িয়ে দেবো" [ইবরাহিম: ৭]। আর এই দ্বীন যা আমরা নিজেদের জন্য পছন্দ করেছি, তার দিকে দাওয়াত দেওয়া, একে রক্ষা করা, একে সাহায্য করা, এর পথে আত্মত্যাগ করা এবং একে সমুন্নত করার জন্য মূল্যবান ও প্রিয় সবকিছু উৎসর্গ করা অপরিহার্য।
সাতাশতম ফলআল্লাহর দিকে আহ্বান করা দ্বীনের ওপর অবিচল থাকার অন্যতম মাধ্যম। এটি দ্বীন রক্ষা এবং দ্বীনকে আঁকড়ে ধরার সহজতম উপায়। কেননা মানুষকে ফিতনা (فتنة) গ্রাস করে নেয়, আর মহান আল্লাহ ঐ ব্যক্তিকে দ্বীনের ওপর অবিচল ও সুদৃঢ় থাকতে সাহায্য করেন যে এই দাওয়াতের দায়িত্ব পালন করে। আল্লাহর অনুগ্রহ প্রশস্ত, আর এটি পরীক্ষিত ও প্রত্যক্ষ বাস্তবতা। আমি এমন অনেককে জানি যারা দাওয়াতের কাজে অত্যন্ত চটপটে ও প্রাণবন্ত ছিলেন, কিন্তু যখনই তারা এই মহান সওয়াব ও বিশাল সুযোগটি ত্যাগ করেছেন, তাদের অবস্থার অবনতি হয়েছে এবং তারা অলস হয়ে পড়েছেন; ফলে তাদের নফস ও আমলের মধ্যে স্থবিরতা (فتور) জেঁকে বসতে শুরু করেছে।
(খণ্ড: ১)
মিন সিমারিদ দাওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ২০)
الثمرة الثامنة والعشرونمن ثمار الدعوة أن يخبو صوت الباطل ويعلو صوت الحق، وتظهر عزة المسلمين، ويندحر الكفار والمشركون، ولهذا لما سألت أم المؤمنين زينب النبي صلى الله عليه وسلم «أنهلك وفينا الصالحون؟ » قال صلى الله عليه وسلم: «نعم إذا كثر الخبث» وبالدعوة يزال الخبث ويتوارى، ولا يكون له سلطان وقوة!
الثمرة التاسعة والعشرونالاستفادة من الوقت وعمارته بما يعود على الإنسان بالخير في الدنيا والآخرة، فإنه مسئول عن عمره فيما أفناه، وشبابه فيما أبلاه.
يقول ابن القيم رحمه الله في مدارج السالكين: «والقصد: أن إضاعة الوقت الصحيح يدعو إلى درك النقيصة، إذ صاحب حفظه مترق على درجات الكمال، فإذا أضاعه لم يقف موضعه، بل ينزل إلى درجات من النقص، فإن لم يكن في تقدم فهو متأخر ولابد، فالعبد سائر لا واقف: فإما إلى فوق وإما إلى أسفل، وإما إلى أمام، وإما إلى وراء.
وليس في الطبيعة ولا في الشريعة وقوف ألبتة، ما هو إلا مراحل تطوى أسرع طي إلى الجنة أو إلى النار، فمسرع ومبطئ، ومتقدم ومتأخر، وليس في الطريق واقف ألبتة، وإنما يتخالفون في جهة المسير وفي السرعة والبطء، كما قال تعالى: {إِنَّهَا لَإِحْدَى الْكُبَرِ * نَذِيرًا لِلْبَشَرِ * لِمَنْ شَاءَ مِنْكُمْ أَنْ يَتَقَدَّمَ أَوْ يَتَأَخَّرَ}
আটাশতম ফলদাওয়াতের অন্যতম ফল হলো বাতিলের কণ্ঠস্বর স্তিমিত হওয়া এবং হকের কণ্ঠস্বর সমুন্নত হওয়া, মুসলমানদের মর্যাদা প্রকাশ পাওয়া এবং কাফির ও মুশরিকদের পরাজয় ঘটা। এই কারণেই যখন উম্মুল মুমিনীন জয়নাব নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন: "আমাদের মধ্যে নেককার লোক থাকা সত্ত্বেও কি আমরা ধ্বংস হয়ে যাব?" তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "হ্যাঁ, যখন পাপাচার বৃদ্ধি পাবে।" দাওয়াতের মাধ্যমে পাপাচার দূরীভূত ও বিলুপ্ত হয় এবং এর কোনো আধিপত্য ও শক্তি থাকে না।
ঊনত্রিশতম ফলসময়ের সদ্ব্যবহার করা এবং এমন কাজ দিয়ে তা আবাদ করা যা দুনিয়া ও আখেরাতে মানুষের জন্য কল্যাণ বয়ে আনে; কেননা মানুষ তার জীবন সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে যে তা সে কিসে অতিবাহিত করেছে এবং তার যৌবন সম্পর্কে যে তা কিসে ক্ষয় করেছে।
ইবনুল কাইয়্যিম রহমাতুল্লাহি আলাইহি মাদারিজুস সালিকীন গ্রন্থে বলেন: "উদ্দেশ্য হলো: সঠিক সময়ের অপচয় করা ত্রুটির অতল গহ্বরে নিমজ্জনের দিকে আহ্বান করে। কারণ সময়ের হেফাজতকারী ব্যক্তি পূর্ণতার স্তরে আরোহণ করতে থাকে। আর যখন সে তা অপচয় করে, তখন সে নিজ অবস্থানে স্থির থাকে না, বরং ক্রমান্বয়ে অবনতির স্তরে নেমে যেতে থাকে। সে যদি অগ্রসরমান না হয়, তবে অবশ্যই সে পশ্চাদপদ হবে। কেননা বান্দা সর্বদা চলিষ্ণু, স্থবির নয়: সে হয় উর্ধ্বমুখে ধাবিত, নতুবা নিম্নমুখে; হয় সম্মুখপানে অগ্রসর, নতুবা পশ্চাৎমুখে প্রত্যাবর্তনকারী।
প্রকৃতিগতভাবে কিংবা শরীয়তগতভাবে স্থির হয়ে থাকার কোনো অবকাশ নেই। জীবন তো কেবল কতগুলো পর্যায় যা জান্নাত কিংবা জাহান্নামের দিকে দ্রুততার সাথে অতিক্রম করা হচ্ছে। কেউ দ্রুতগামী, কেউ মন্থর; কেউ অগ্রগামী, কেউ পশ্চাদপদ। এই পথে মোটেও কোনো স্থিরতা নেই। মানুষ কেবল গন্তব্য এবং গতির দ্রুততা ও মন্থরতার ক্ষেত্রে একে অপরের থেকে ভিন্ন হয়ে থাকে। যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন: {নিশ্চয়ই এটি (জাহান্নাম) অন্যতম ভয়াবহ বিপদ। মানুষের জন্য সতর্ককারী। তোমাদের মধ্যে তার জন্য, যে সামনে অগ্রসর হতে চায় অথবা পিছিয়ে থাকতে চায়।}
(খণ্ড: ১)
মিন সিমারিদ দাওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
[المدثر: 35 - 37]، ولم يذكر واقفًا إذ لا منزل بين الجنة والنار، ولا طريق لسالك إلى غير الدارين ألبتة، فمن لم يتقدم إلى هذه الأعمال الصالحة فهو متأخر إلى تلك الأعمال السيئة.
الثمرة الثلاثونفي القيام بأمر الدعوة سعة الصدر والأنس، مما يفيض الله عز وجل به على عباده، ولعله من عاجل البشرى وهذا مجرب مشاهد.
وفي أمثلة تقديم كسرة رغيف للفقير من السرور والحبور على المتبرع، ودفع البلاء، وجلب الرخاء، ما الله به عليم. فكيف بغذاء الأرواح والنجاة من النار؟ .
وأعرف مدرسًا عين في مدرسة منتدبًا من قبل وزارة المعارف في دولة أفريقية، ورأيته بعد أربع سنوات هي نهاية إيفاده. قال: أحاول أن أجدد الإيفاد إلى هناك مرة ثانية، قلت: ما الذي دعاك؟ قال: أول ما قدمت إلى تلك المنطقة كنت في الصباح أذهب إلى المدرسة، وإذا خرجت قبيل العصر أتناول غدائي، وأجعل عيني على الساعة الكبيرة! متى يأتي الليل، فإن اللحظات طويلة والدقائق بشهور، ولما عملت في الدعوة إلى الله عز وجل ورأيت الثمار صعب علي مفارقتهم وتركهم، فلدي مدرسة بها أكثر من مئتي طالب وهناك حفر آبار، وبناء مساجد كيف أفارقها؟
[আল-মুদ্দাসসির: ৩৫-৩৭], এবং তিনি কোনো মধ্যবর্তী অবস্থানে স্থির থাকার কথা উল্লেখ করেননি; কেননা জান্নাত ও জাহান্নামের মাঝে আর কোনো আবাসস্থল নেই, আর কোনো পথিকের জন্য এই দুই আবাস ব্যতীত অন্য কোনো গন্তব্যও নেই। সুতরাং যে ব্যক্তি এই নেক আমলসমূহের দিকে অগ্রসর হবে না, সে ঐসব মন্দ আমলের দিকে পিছিয়ে পড়বে।
ত্রিশতম ফলদাওয়াতের কাজ আঞ্জাম দেওয়ার মধ্যে রয়েছে বক্ষপ্রসারতা ও প্রশান্তি, যা আল্লাহ মহান ও পরাক্রমশালী তাঁর বান্দাদের ওপর বর্ষণ করেন। সম্ভবত এটি দুনিয়াতেই প্রাপ্ত দ্রুত সুসংবাদের অন্তর্ভুক্ত, আর এটি পরীক্ষিত ও প্রত্যক্ষ বাস্তবতা।
একজন অভাবী ব্যক্তিকে এক টুকরো রুটি দেওয়ার ফলে দাতার মনে যে আনন্দ ও প্রফুল্লতা সঞ্চারিত হয় এবং এর মাধ্যমে যেভাবে বিপদ-আপদ দূর হয় ও সচ্ছলতা অর্জিত হয়, তা আল্লাহই ভালো জানেন। তাহলে রুহের খোরাক জোগানো এবং জাহান্নাম থেকে নাজাত লাভের বিষয়টি কেমন (মহিমান্বিত) হবে?
আমি একজন শিক্ষককে চিনি যাকে একটি আফ্রিকান রাষ্ট্রের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে একটি বিদ্যালয়ে প্রেষণে নিযুক্ত করা হয়েছিল। তাঁর চার বছরের প্রেষণকাল শেষে আমি তাঁকে দেখলাম। তিনি বললেন: আমি সেখানে দ্বিতীয়বারের মতো যাওয়ার জন্য আবেদন করার চেষ্টা করছি। আমি বললাম: আপনাকে কিসে অনুপ্রাণিত করল? তিনি বললেন: যখন আমি প্রথম ওই অঞ্চলে আসি, সকালে স্কুলে যেতাম এবং আসরের কিছু আগে বের হয়ে দুপুরের খাবার সেরে বড় ঘড়ির দিকে তাকিয়ে থাকতাম যে কখন রাত হবে! তখন একেকটি মুহূর্ত দীর্ঘ মনে হতো এবং একেকটি মিনিটকে মাসের মতো মনে হতো। কিন্তু যখন আমি আল্লাহর দিকে দাওয়াতের কাজে আত্মনিয়োগ করলাম এবং এর সুফল প্রত্যক্ষ করলাম, তখন তাদের ছেড়ে আসা আমার জন্য কঠিন হয়ে পড়ল। সেখানে আমার একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে যেখানে দুইশরও বেশি ছাত্র আছে, এছাড়া সেখানে কূপ খনন ও মসজিদ নির্মাণের কাজ রয়েছে; এমতাবস্থায় আমি এসব ছেড়ে কীভাবে চলে আসব?
(খণ্ড: ১)
মিন সিমারিদ দাওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
وماذا بعد الثمراتأخي الداعية: سر بعزم وهمة في طريق سار فيه نبينا محمد صلى الله عليه وسلم سنوات طويلة، وأوذي فيه، ولقي من الشدائد ما تعرف، وقبله الأنبياء عليهم السلام نوح قام بهذا الأمر ألف سنة إلا خمسين عامًا .. وموسى جابه طاغية زمانه، فما وهن ولا تراجع .. والقرآن الكريم يذكر السير العطرة في الدعوة إلى الله عز وجل فاستبق الأمر، وانظم نفسك في سلكهم، واقتف أثرهم؛ فإنك على الهدى، قال صلى الله عليه وسلم: «من خاف أدلج، ومن أدلج بلغ المنزل، ألا إن سلعة الله غالية، ألا إن سلعة الله الجنة» [السلسلة الصحيحة (6222)].
أخي الداعية: سحائب الأجور ممطرة، ونوائل الخير قريبة، وأبواب الدعوة مشرعة، والرب جواد كريم، يجازي على القليل كثيرًا، فمن شاء منكم أن يتقدم ومن عمل صالحًا فلنفسه، وما تقدموا لأنفسكم من خير تجدوه عند الله، ومن يعمل مثقال ذرة خيرًا يره. وخير الناس أنفعهم للناس، ومن فرج عن مسلم كربة من كرب الدنيا فرج الله عنه كربة من كرب يوم القيامة، فأبشروا وأملوا، إن رحمة الله قريب من المحسنين.
جعلنا الله وإياكم من أهل الدعوة إلى دينه، وغفر لنا ولوالدينا ولجميع المسلمين.
সাফল্যের পর কী?হে দাঈ ভাই: আমাদের নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যে পথে দীর্ঘ বছর ব্যাপী চলেছেন, সেখানে আপনিও দৃঢ় সংকল্প ও উচ্চাকাঙ্ক্ষার সাথে এগিয়ে যান। তিনি এই পথে নির্যাতিত হয়েছেন এবং আপনি যেমনটা জানেন, বহু প্রতিকূলতার সম্মুখীন হয়েছেন। তাঁর পূর্বে নবীগণ (আলাইহিমুস সালাম) একই পথ অনুসরণ করেছেন; নূহ (আলাইহিস সালাম) পঞ্চাশ বছর কম এক হাজার বছর এই দায়িত্ব পালন করেছেন। মুসা (আলাইহিস সালাম) তাঁর সময়ের স্বৈরশাসকের মোকাবিলা করেছেন, তবুও তিনি দুর্বল হননি কিংবা পিছু হটেননি। পবিত্র কুরআন আল্লাহর দিকে আহ্বানের পথে অতিবাহিত সুগন্ধিময় জীবনচরিতসমূহ উল্লেখ করে; সুতরাং আপনিও এই কাজে অগ্রগামী হোন, নিজেকে তাঁদের সারিতে শামিল করুন এবং তাঁদের পদাঙ্ক অনুসরণ করুন; নিশ্চয়ই আপনি সঠিক পথের ওপর রয়েছেন। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «যে ভয় পায় সে রাতের প্রথম ভাগেই যাত্রা শুরু করে, আর যে আগেভাগে যাত্রা শুরু করে সে গন্তব্যস্থলে পৌঁছায়। জেনে রেখো, আল্লাহর পণ্য অত্যন্ত মূল্যবান; জেনে রেখো, আল্লাহর পণ্য হলো জান্নাত» [সিলসিলাতুস সহীহাহ (৬২২২)]।
হে দাঈ ভাই: প্রতিদানের মেঘমালা আজ বর্ষণমুখর, কল্যাণের প্রাপ্তি অতি নিকটে, দাওয়াতের দ্বারসমূহ উন্মুক্ত, আর প্রতিপালক হলেন অত্যন্ত মহানুভব ও দয়ালু, যিনি সামান্য কাজের বিনিময়ে প্রচুর প্রতিদান দেন। সুতরাং তোমাদের মধ্যে যে চায় সে যেন অগ্রগামী হয়; আর যে ব্যক্তি সৎকর্ম করে সে নিজের কল্যাণের জন্যই তা করে। তোমরা তোমাদের নিজেদের জন্য যে কল্যাণ অগ্রিম পাঠাবে, তা আল্লাহর কাছে পেয়ে যাবে। আর যে ব্যক্তি অণু পরিমাণ সওয়াব বা কল্যাণের কাজ করবে, সে তা দেখতে পাবে। মানুষের মধ্যে সেই ব্যক্তিই উত্তম যে মানুষের জন্য অধিক উপকারী। আর যে ব্যক্তি কোনো মুসলিমের পার্থিব বিপদসমূহের মধ্য থেকে কোনো একটি বিপদ দূর করে দিবে, আল্লাহ কিয়ামতের দিনের বিপদসমূহ থেকে তার বিপদ দূর করে দিবেন। সুতরাং আপনারা সুসংবাদ গ্রহণ করুন এবং আশাবাদী হোন; নিশ্চয়ই আল্লাহর রহমত সৎকর্মশীলদের অতি নিকটে।
আল্লাহ তাআলা আমাদের এবং আপনাদেরকে তাঁর দ্বীনের দাঈদের অন্তর্ভুক্ত করুন এবং আমাদের, আমাদের পিতামাতাকে ও সকল মুসলিমকে ক্ষমা করুন।