(খণ্ড: ১) গায়াতুল মাকসিদ ফি যাওয়ায়িদিল মুসনাদ (পৃষ্ঠা: -)
غاية المقصد فى زوائد المسند   (نور الدين الهيثمي)

القسم: كتب السنة

الكتاب: غاية المقصد فى زوائد المسند

المؤلف: أبو الحسن نور الدين علي بن أبي بكر بن سليمان الهيثمي (ت 807هـ)

المحقق: خلاف محمود عبد السميع

الناشر: دار الكتب العلمية، بيروت - لبنان

الطبعة: الأولى، 1421 هـ - 2001 م

عدد الأجزاء: 4

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

গায়াতুল মাকসাদ ফি যাওয়াইদিল মুসনাদ   (নূরুদ্দীন আল-হাইসামি)

বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ

গ্রন্থ: গায়াতুল মাকসাদ ফি যাওয়াইদিল মুসনাদ

লেখক: আবুল হাসান নূরুদ্দীন আলী বিন আবু বকর বিন সুলাইমান আল-হাইসামি (মৃত্যু ৮০৭ হি.)

তাহকীক: খিলাফ মাহমুদ আব্দুল সামী'

প্রকাশক: দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ, বৈরুত - লেবানন

সংস্করণ: প্রথম, ১৪২১ হি. - ২০০১ খ্রি.

খণ্ড সংখ্যা: ৪

[গ্রন্থের নম্বর বিন্যাস মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) গায়াতুল মাকসিদ ফি যাওয়ায়িদিল মুসনাদ (পৃষ্ঠা: -)
‌‌غاية المقصد فى زوائد المسند

 

للحافظ علي بن أبي بكر بن سليمان الهيثمى

أبي الحسن نور الدين المصري القاهري

المتوفى 807 هجرية
গায়াতুল মাকসাদ ফি যাওয়াইদিল মুসনাদ

 

হাফেজ আলী বিন আবু বকর বিন সুলাইমান আল-হাইসামীর প্রণীত

আবুল হাসান নূরুদ্দিন আল-মিসরি আল-কাহিরি

মৃত্যু ৮০৭ হিজরি
(খণ্ড: ১) গায়াতুল মাকসিদ ফি যাওয়ায়িদিল মুসনাদ (পৃষ্ঠা: ২৯)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

الحمد لله الكريم الوهاب، المعطي بغير حساب، الهادى إلى الخير من أناب وأشهد أن لا إله إلاّ الله وحده لا شريك له، شهادة تنجى قائلها من العذاب، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله المبعوث بالحق والصواب، صلى الله عليه وعلى آله وصحبه أولى الألباب وسلم إلى يوم الفصل والمآب. فقد كنت كتبت من زوائد الإمام أحمد - رضى الله عنه وأرضاه وجعل الجنة مثواه - زوائده على الكتب الستة بغير تأمل تام ولا نظر شاف، ثم شغلت عنه بزوائد أبى بكر البزار، وأبى القاسم الطبرانى وبمعجمه الأوسط والصغير، وأبى يعلى الموصلى، فرأيت حين جمعت زوائد هذه الكتب أنى قد فرطت فى زوائد المسند، لما ظهر لى من الخلل من سقوط أحاديث فيه بسبب سنن النسائى الكبير وما فيه من الزوائد على المجتبى وغير ذلك منى، فاهتممت لذلك؛ لأن إفراد السند غالبًا أصح من إفراد ما ذكرت من هذه الكتب، فصرفت إليه وسألت الله تعالى الإعانة عليه فذكرت فيه ما انفرد به الإمام أحمد وولده أبو عبد الرحمن من حديث مرفوع بتمامه، وحديث شاذ لهم فيه أو بعضهم وفيه زيادة، فربما كانت الزيادة فى أول الحديث وهو طويل فأقتصر عليها، وربما كانت فى آخره فتارة أقتصر عليها وتارة أذكره كله وأزيد بقولى: رواه فلان خلا فلان باختصار، وربما سمع عبد الله ابن الإمام أحمد الحديث من أبيه ومن شيخ أبيه فيقول: حدثنا أبى حدثنا عبد الله بن أبى شيبة وسمعته أنا من أبى شيبة، فأذكره كذلك، وما زاده عبد الله فأقول فى أوله قال عبد الله: حدثنا فلان.

وأما ما زاده النسائى فى سننه الكبرى فكتاب التفسير، والمناقب، والسير، وأكثر عشرة النساء، وبعض الصوم، فمن ذلك أحاديث: أفطر الحاجم والمحجوم، وعمل اليوم والليلة، وغير ذلك.
পরম করুণাময় দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

সকল প্রশংসা মহানুভব ও পরম দাতা আল্লাহর জন্য, যিনি হিসাব ছাড়াই দান করেন এবং সত্যের দিকে তাকেই পথপ্রদর্শন করেন যে তাঁর অভিমুখী হয়। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। এমন সাক্ষ্য যা এর পাঠকারীকে আজাব থেকে মুক্তি দেবে। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও রাসূল, যাকে সত্য ও সঠিক পথসহ প্রেরণ করা হয়েছে। আল্লাহ তাঁর উপর, তাঁর পরিবার-পরিজন এবং তাঁর সুবুদ্ধিমান সাহাবীদের উপর সালাত ও সালাম বর্ষণ করুন ফয়সালা ও প্রত্যাবর্তনের দিবস পর্যন্ত। অতঃপর, আমি ইমাম আহমাদ —আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন, তাঁকে সন্তুষ্ট করুন এবং জান্নাতকে তাঁর আবাসস্থল করুন— এর যওয়ায়েদসমূহ (অতিরিক্ত হাদিসসমূহ) লিপিবদ্ধ করেছিলাম। কুতুবে সিত্তাহর (ছয় কিতাব) ওপর তাঁর যওয়ায়েদসমূহ আমি পূর্ণ মনোযোগ ও পর্যাপ্ত অনুসন্ধান ছাড়াই লিখেছিলাম। এরপর আমি আবু বকর আল-বাজার, আবুল কাসিম আত-তাবারানি (তাঁর আল-মু'জামুল আওসাত ও আস-সগির সহ) এবং আবু ইয়ালা আল-মাওসিলির যওয়ায়েদ নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ি। যখন আমি এই কিতাবগুলোর যওয়ায়েদ সংগ্রহ করলাম, তখন দেখলাম যে আমি মুসনাদের যওয়ায়েদের ক্ষেত্রে ত্রুটি করেছি। কারণ এতে কিছু হাদিস বাদ পড়ে যাওয়ার মতো অসংগতি আমার নিকট ধরা পড়ে। এর কারণ ছিল ইমাম নাসায়ির আস-সুনানুল কুবরা এবং এতে আল-মুজতাবা ও অন্যান্য কিতাবের ওপর যে সব যওয়ায়েদ রয়েছে তা নিয়ে আমার ব্যক্তিগত অসাবধানতা। ফলে আমি এ বিষয়ে গুরুত্ব দিলাম; কেননা মুসনাদ গ্রন্থের একক বর্ণনাগুলো সাধারণত আমার উল্লিখিত কিতাবগুলোর একক বর্ণনার তুলনায় অধিকতর বিশুদ্ধ। তাই আমি এদিকে মনোনিবেশ করলাম এবং আল্লাহর কাছে এ বিষয়ে সাহায্য প্রার্থনা করলাম। অতঃপর আমি এতে ইমাম আহমাদ ও তাঁর পুত্র আবু আব্দুর রহমান এককভাবে বর্ণনা করেছেন এমন পূর্ণাঙ্গ মারফু হাদিসসমূহ উল্লেখ করেছি। এছাড়া এমন বিরল (শায হাদিস) উল্লেখ করেছি যাতে তাঁদের সবার বা কারো বর্ণনায় অতিরিক্ত অংশ রয়েছে। কখনও সেই অতিরিক্ত অংশ হাদিসের শুরুতে থাকে এবং হাদিসটি দীর্ঘ হয়, সেক্ষেত্রে আমি শুধু অতিরিক্ত অংশটুকুই বর্ণনা করি। কখনও তা হাদিসের শেষে থাকে, তখন কখনও শুধু তা-ই উল্লেখ করি, আবার কখনও পুরো হাদিসটি উল্লেখ করি এবং আমার পক্ষ থেকে এই কথাটি যোগ করি যে: "অমুক ব্যক্তি অমুক ব্যতীত সংক্ষেপে এটি বর্ণনা করেছেন।" কখনও ইমাম আহমাদের পুত্র আব্দুল্লাহ হাদিসটি তাঁর পিতা থেকে এবং তাঁর পিতার শায়খ (শিক্ষক) থেকে শ্রবণ করেন। তখন তিনি বলেন: "আমার পিতা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আব্দুল্লাহ বিন আবি শায়বা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন এবং আমিও তা আবু শায়বা থেকে শুনেছি।" তখন আমি বিষয়টি সেভাবেই উল্লেখ করি। আর আব্দুল্লাহ যা অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন, তার শুরুতে আমি বলি: "আব্দুল্লাহ বলেছেন, অমুক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন।"

আর ইমাম নাসায়ি তাঁর আস-সুনানুল কুবরা গ্রন্থে যা অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন, তার মধ্যে রয়েছে তাফসির, মানাকিব (মর্যাদা), সিয়ার (জীবনী), নারীদের সাথে মেলামেশার অধিকাংশ অধ্যায় এবং সিয়ামের কিছু অংশ। এর মধ্যে রয়েছে: "শিঙা দানকারী ও গ্রহণকারীর রোজা ভেঙে যাওয়া" সংক্রান্ত হাদিসসমূহ, দিন ও রাতের আমল এবং এ জাতীয় অন্যান্য বিষয়।
(খণ্ড: ১) গায়াতুল মাকসিদ ফি যাওয়ায়িদিল মুসনাদ (পৃষ্ঠা: ২৯)
وأذكر أيضًا ما رواه أبو داود فى المراسيل إذ انفرد به فيما لم يحصل لى روايته، وما راوه البخارى معلقًا أو خارج الصحيح، والترمذى فى الشمائل، ونحو ذلك. وقد سميته «غاية المقصد فى زوائد المسند» .

وأسال الله النفع به، آمين، وقد رتبته على كتب أذكرها:

‌‌1 - كتاب الإيمان. ‌‌⦗ص: 30⦘

‌‌2 - كتاب العلم.

‌‌3 - كتاب الطهارة.

‌‌4 - كتاب الصلاة.

‌‌5 - كتاب الجنائز وفى أوله: ما يتعلق بالعيادة والمرض من الثواب وغيره.

‌‌6 - وكتاب الزكاة وفيه صدقة التطوع.

‌‌7 - وكتاب الصيام.

‌‌8 - وكتاب الحج.

‌‌9 - وكتاب الأضاحى والعيد والذبائح وفيه: الوليمة والعقيقة.

‌‌10 - وكتاب الأحكام.

‌‌11 - وكتاب الأيمان والنذور والغصب.

‌‌12 - وكتاب الوصايا.

‌‌13 - وكتاب الفرائض.

‌‌14 - وكتاب العتق.

‌‌15 - وكتاب النكاح.

‌‌16 - وكتاب الطلاق والحدود.

‌‌17 - وكتاب الديات والخلافة وما يتعلق بالأمراء.

‌‌18 - وكتاب الجهاد.

‌‌19 - وكتاب السير.

‌‌20 - وكتاب قتال أهل البغى.

‌‌21 - وكتاب البر والصلة.

‌‌22 - وكتاب الأدب.

‌‌23 - وكتاب التعبير.

‌‌24 - وكتاب القدر.

‌‌25 - وكتاب التفسير وفيه: ما يتعلق بالقرآن وقراء القرآن.

‌‌26 - وكتاب علامات النبوة وفيه: ذكر الأنبياء. ‌‌⦗ص: 31⦘

‌‌27 - وكتاب المناقب.

‌‌28 - وكتاب الأطعمة.

‌‌29 - وكتاب الأشربة.

‌‌30 - وكتاب الطب.

‌‌31 - وكتاب اللباس والزينة.

‌‌32 - وكتاب الفتن.

‌‌33 - وكتاب الأذكار.

‌‌34 - وكتاب الأدعية.

‌‌35 - وكتاب التوبة.

‌‌36 - وكتاب الزهد.

‌‌37 - وكتاب البعث وصفة النار وصفة الجنة.

وقد أنهيت زوائد الشيخ أبو عبد الله محمد بن إسماعيل بن إبراهيم الأنصارى قراءة عليه فى الرحلة الأولى بدمشق سنة أربع وخمسين وسبعمائة.
আমি আরও উল্লেখ করছি যা আবু দাউদ 'আল-মারাসিল'-এ এককভাবে বর্ণনা করেছেন যা আমার নিকট বর্ণনাসূত্রে পৌঁছেনি, এবং যা ইমাম বুখারী 'মুআল্লাক' হিসেবে অথবা 'সহীহ' (বুখারী) এর বাইরে বর্ণনা করেছেন, এবং তিরমিযী 'আশ-শামায়েল'-এ বর্ণনা করেছেন এবং এই জাতীয় অন্যান্য বর্ণনা। আমি এর নামকরণ করেছি «গায়াতুল মাকসাদ ফি যাওয়ায়িদিল মুসনাদ»।

আমি আল্লাহর নিকট এর মাধ্যমে উপকারিতা প্রার্থনা করছি, আমীন। আমি এটি কিছু অধ্যায় অনুযায়ী বিন্যস্ত করেছি যা আমি নিচে উল্লেখ করছি:

‌‌১ - ঈমান অধ্যায়। ‌‌⦗পৃষ্ঠা: ৩০⦘

‌‌২ - জ্ঞান অধ্যায়।

‌‌৩ - পবিত্রতা অধ্যায়।

‌‌৪ - সালাত অধ্যায়।

‌‌৫ - জানাযা অধ্যায়; এর শুরুতে রয়েছে: রুগ্ন ব্যক্তিকে দেখতে যাওয়া ও অসুস্থতা সংক্রান্ত সওয়াব ও অন্যান্য বিষয়।

‌‌৬ - এবং জাকাত অধ্যায়, এতে নফল সদকার বিষয়ও রয়েছে।

‌‌৭ - এবং সিয়াম অধ্যায়।

‌‌৮ - এবং হজ অধ্যায়।

‌‌৯ - এবং কুরবানি, ঈদ ও জবেহ করার অধ্যায়; এতে রয়েছে: ওলিমা ও আকিকা।

‌‌১০ - এবং বিচারিক বিধান অধ্যায়।

‌‌১১ - এবং শপথ, মানত ও জবরদখল অধ্যায়।

‌‌১২ - এবং অসিয়ত অধ্যায়।

‌‌১৩ - এবং মিরাস বা উত্তরাধিকার আইন অধ্যায়।

‌‌১৪ - এবং দাসমুক্তি অধ্যায়।

‌‌১৫ - এবং বিবাহ অধ্যায়।

‌‌১৬ - এবং তালাক ও দণ্ডবিধি অধ্যায়।

‌‌১৭ - এবং দিয়াত (রক্তপণ), খিলাফত ও শাসক সংক্রান্ত বিষয়াদি।

‌‌১৮ - এবং জিহাদ অধ্যায়।

‌‌১৯ - এবং যুদ্ধাভিযান অধ্যায়।

‌‌২০ - এবং বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ সংক্রান্ত অধ্যায়।

‌‌২১ - এবং সদাচরণ ও আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা সংক্রান্ত অধ্যায়।

‌‌২২ - এবং আদব বা শিষ্টাচার অধ্যায়।

‌‌২৩ - এবং স্বপ্নের ব্যাখ্যা অধ্যায়।

‌‌২৪ - এবং তাকদির বা ভাগ্য অধ্যায়।

‌‌২৫ - এবং তাফসির অধ্যায়; এতে রয়েছে: কুরআন এবং কুরআনের কারীদের সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি।

‌‌২৬ - এবং নবুয়তের নিদর্শনাবলি অধ্যায়; এতে রয়েছে: নবীদের আলোচনা। ‌‌⦗পৃষ্ঠা: ৩১⦘

‌‌২৭ - এবং ফজিলত বা গুণাবলি অধ্যায়।

‌‌২৮ - এবং খাদ্যদ্রব্য অধ্যায়।

‌‌২৯ - এবং পানীয় অধ্যায়।

‌‌৩০ - এবং চিকিৎসা অধ্যায়।

‌‌৩১ - এবং পোশাক ও অলংকার অধ্যায়।

‌‌৩২ - এবং ফিতনা বা বিপর্যয় অধ্যায়।

‌‌৩৩ - এবং জিকিরসমূহ অধ্যায়।

‌‌৩৪ - এবং দোয়া বা প্রার্থনা অধ্যায়।

‌‌৩৫ - এবং তাওবা বা অনুশোচনা অধ্যায়।

‌‌৩৬ - এবং যুহদ বা দুনিয়াবিমুখতা অধ্যায়।

‌‌৩৭ - এবং পুনরুত্থান, জাহান্নামের বর্ণনা ও জান্নাতের বর্ণনা সংক্রান্ত অধ্যায়।

আমি শায়খ আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন ইসমাইল বিন ইবরাহিম আল-আনসারীর নিকট পঠিত তাঁর 'যাওয়াইদ' (অতিরিক্ত বর্ণনাসমূহ) সমাপ্ত করেছি দামেস্কে আমার প্রথম সফরের সময়, সাতশ চুয়ান্ন হিজরি সনে।
(খণ্ড: ১) গায়াতুল মাকসিদ ফি যাওয়ায়িদিল মুসনাদ (পৃষ্ঠা: ৩১)
قال: أنبأنا المسلم بن محمد بن مكى (ح) وأخبرنى به أيضًا أبو الحسن على بن أحمد ابن محمد العرضى، قال: أخبرتنا زينب بنت مكى، قالا: أنبأنا حنبل بن عبد الله الرصافى المكبر، قال: أنبأنا القاسم عبد الله بن محمد بن عبد الواحد بن الحصين، أنبأنا أبو على الحسن بن على بن المذهب، أنبأنا أبو بكر أحمد بن جعفر بن حمدان القطيعى، حدثنا أبو عبد الرحمن عبد الله بن أحمد بن محمد بن حنبل الشيبانى، حدثنى أبى أو غيره كما سيأتى.

তিনি বললেন: আমাদিগকে মুসলিম ইবন মুহাম্মদ ইবন মক্কী অবহিত করেছেন (হ) এবং আমাকে আবু আল-হাসান আলী ইবন আহমদ ইবন মুহাম্মদ আল-আরযীও এ সম্পর্কে অবহিত করেছেন, তিনি বললেন: আমাদিগকে যয়নব বিন্ত মক্কী সংবাদ দিয়েছেন, তাঁরা উভয়ে বললেন: আমাদিগকে হাম্বল ইবন আব্দুল্লাহ আর-রুসাফী আল-মুকাব্বির অবহিত করেছেন, তিনি বললেন: আমাদিগকে আল-কাসিম আব্দুল্লাহ ইবন মুহাম্মদ ইবন আব্দুল ওয়াহিদ ইবন আল-হুসাইন অবহিত করেছেন, আমাদিগকে আবু আলী আল-হাসান ইবন আলী ইবন আল-মুযহিব অবহিত করেছেন, আমাদিগকে আবু বকর আহমদ ইবন জাফর ইবন হামদান আল-কাতী‘ঈ অবহিত করেছেন, আমাদের নিকট আবু আব্দুর রহমান আব্দুল্লাহ ইবন আহমদ ইবন মুহাম্মদ ইবন হাম্বল আশ-শায়বানী বর্ণনা করেছেন; আমার নিকট আমার পিতা অথবা অন্য কেউ বর্ণনা করেছেন যেমনটি সামনে আসবে।

(খণ্ড: ১) গায়াতুল মাকসিদ ফি যাওয়ায়িদিল মুসনাদ (পৃষ্ঠা: ৩২)
‌‌كتاب الإيمان
ঈমান অধ্যায়
(খণ্ড: ১) গায়াতুল মাকসিদ ফি যাওয়ায়িদিল মুসনাদ (পৃষ্ঠা: ৩২)
‌‌باب فيمن شهد أن لا إله إلا الله
আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই মর্মে সাক্ষ্যদানকারীর বর্ণনায় পরিচ্ছেদ
(খণ্ড: ১) গায়াতুল মাকসিদ ফি যাওয়ায়িদিল মুসনাদ (পৃষ্ঠা: ৩২)
‌‌1 - حَدَّثَنَا أَبُو الْيَمَانِ، قَالَ: أَنبأَنَا شُعَيْبٌ، عَنِ الزُّهْرِىِّ، أَخْبَرَنِى رَجُلٌ مِنَ الأَنْصَارِ، مِنْ أَهْلِ الْفِقْهِ، أَنَّهُ سَمِعَ عُثْمَانَ بْنَ عَفَّانَ، رحمة الله عليه، يُحَدِّثُ: "أَنَّ رِجَالاً مِنْ أَصْحَابِ النَّبِىِّ صلى الله عليه وسلم حِينَ تُوُفِّىَ النَّبِىُّ صلى الله عليه وسلم حَزِنُوا عَلَيْهِ حَتَّى كَادَ بَعْضُهُمْ يُوَسْوِسُ، قَالَ عُثْمَانُ: وَكُنْتُ مِنْهُمْ، فَبَيْنَا أَنَا جَالِسٌ فِى ظِلِّ أُطُمٍ مِنَ الآطَامِ، مَرَّ عَلَىَّ عُمَرُ، رحمة الله عليه، فَسَلَّمَ عَلَىَّ فَلَمْ أَشْعُرْ أَنَّهُ مَرَّ وَلا سَلَّمَ، فَانْطَلَقَ عُمَرُ حَتَّى دَخَلَ عَلَى أَبِى بَكْرٍ رحمه الله، فَقَالَ لَهُ: مَا يُعْجِبُكَ أَنِّى مَرَرْتُ عَلَى عُثْمَانَ فَسَلَّمْتُ عَلَيْهِ فَلَمْ يَرُدَّ عَلَىَّ السَّلَامَ! وَأَقْبَلَ هُوَ وَأَبُو بَكْرٍ فِى وِلَايَةِ أَبِى بَكْرٍ رحمة الله عليه، حَتَّى سَلَّمَا عَلَىَّ جَمِيعًا، ثُمَّ قَالَ أَبُو بَكْرٍ: جَاءَنِى أَخُوكَ عُمَرُ فَذَكَرَ أَنَّهُ مَرَّ عَلَيْكَ فَسَلَّمَ فَلَمْ تَرُدَّ عليه السلام، فَمَا الَّذِى حَمَلَكَ عَلَى ذَلِكَ؟ قَالَ: فقُلْتُ: مَا فَعَلْتُ. فَقَالَ عُمَرُ: بَلَى، وَاللَّهِ لَقَدْ فَعَلْتَ وَلَكِنَّهَا عُبِّيَّتُكُمْ يَا بَنِى أُمَيَّةَ، قَالَ: قُلْتُ: وَاللَّهِ مَا شَعَرْتُ أَنَّكَ مَرَرْتَ وَلَا سَلَّمْتَ، قَالَ أَبُو بَكْرٍ: صَدَقَ عُثْمَانُ وَقَدْ شَغَلَكَ عَنْ ذَلِكَ أَمْرٌ، فَقُلْتُ: أَجَلْ، قَالَ: مَا هُوَ؟ فَقَالَ عُثْمَانُ رحمه الله: تَوَفَّى اللَّهُ نَبِيَّهُ صلى الله عليه وسلم قَبْلَ أَنْ أَسْأَلَهُ عَنْ نَجَاةِ هَذَا الأَمْرِ، قَالَ أَبُو بَكْرٍ: قَدْ سَأَلْتُهُ عَنْ ذَلِكَ، قَالَ: فَقُمْتُ إِلَيْهِ، فَقُلْتُ لَهُ: بِأَبِى أَنْتَ وَأُمِّى أَنْتَ أَحَقُّ لهَا، قَالَ أَبُو
‌‌১ - আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবু আল-ইয়ামান, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শুআইব, যুহরী থেকে, তিনি বলেন: আমাকে আনসারদের মধ্যে একজন ফকিহ (ধর্মতত্ত্ববিদ) ব্যক্তি সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি উসমান ইবনে আফফান (রাহমাতুল্লাহি আলাইহি)-কে কথা বলতে শুনেছেন: "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন ইন্তেকাল করলেন, তখন তাঁর সাহাবীদের মধ্যে কিছু লোক তাঁর শোকে এতই মর্মাহত হলেন যে, তাদের কেউ কেউ প্রায় বিভ্রান্ত হয়ে যাওয়ার উপক্রম হলেন। উসমান (রা.) বলেন: আমিও তাঁদের মধ্যে একজন ছিলাম। এমতাবস্থায় আমি একটি দুর্গের ছায়ায় বসে ছিলাম, তখন উমর (রাহমাতুল্লাহি আলাইহি) আমার পাশ দিয়ে অতিক্রম করলেন এবং আমাকে সালাম দিলেন। কিন্তু আমি টেরই পাইনি যে তিনি পাশ দিয়ে গিয়েছেন কিংবা সালাম দিয়েছেন। উমর (রা.) চলে গেলেন এবং আবু বকর (রাহমাতুল্লাহ)-এর কাছে প্রবেশ করে তাঁকে বললেন: আপনি কি এতে অবাক হচ্ছেন না যে, আমি উসমানের পাশ দিয়ে গেলাম এবং তাঁকে সালাম দিলাম, কিন্তু তিনি আমার সালামের জবাব দিলেন না! অতঃপর তিনি এবং আবু বকর—আবু বকর (রাহমাতুল্লাহি আলাইহি)-এর খেলাফতকালে—উভয়ে আসলেন এবং আমাকে একসাথে সালাম দিলেন। তারপর আবু বকর (রা.) বললেন: তোমার ভাই উমর আমার কাছে এসে বলল যে সে তোমার পাশ দিয়ে অতিক্রম করেছে এবং তোমাকে সালাম দিয়েছে, কিন্তু তুমি তার সালামের জবাব দাওনি। কোন বিষয়টি তোমাকে এমন করতে প্ররোচিত করল? উসমান (রা.) বলেন: আমি বললাম, আমি এমনটি করিনি। উমর (রা.) বললেন, অবশ্যই, আল্লাহর কসম! আপনি তা করেছেন। কিন্তু হে বনু উমাইয়া! এটি তো তোমাদের আভিজাত্যের অহংকার। উসমান (রা.) বলেন: আমি বললাম, আল্লাহর কসম! আমি টেরই পাইনি যে আপনি পাশ দিয়ে গিয়েছেন কিংবা সালাম দিয়েছেন। আবু বকর (রা.) বললেন, উসমান সত্য বলেছে; কোনো একটি বিষয় তোমাকে এ থেকে অন্যমনস্ক করে রেখেছিল। আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি বললেন, সেটি কী? উসমান (রাহমাতুল্লাহ) বললেন, আল্লাহ তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তুলে নিয়েছেন এর আগে যে, আমি তাঁকে এই বিষয়ের মুক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করব। আবু বকর (রা.) বললেন, আমি তাঁকে এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছি। উসমান (রা.) বলেন: তখন আমি উঠে তাঁর কাছে গেলাম এবং তাঁকে বললাম, আমার মা-বাবা আপনার প্রতি উৎসর্গ হোক, আপনিই এর জন্য অধিক যোগ্য। আবু...
(খণ্ড: ১) গায়াতুল মাকসিদ ফি যাওয়ায়িদিল মুসনাদ (পৃষ্ঠা: ৩২)
بَكْرٍ: قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، مَا نَجَاةُ هَذَا الأَمْرِ؟ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: "مَنْ قَبِلَ مِنِّى الْكَلِمَةَ الَّتِى عَرَضْتُ عَلَى عَمِّى فَرَدَّهَا عَلَىَّ فَهِىَ لَهُ نَجَاةٌ.

বকর [থেকে বর্ণিত]: আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, এই বিষয়ের নাজাত বা মুক্তি কিসে? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "আমি আমার চাচার নিকট যে কথাটি (কালিমা) পেশ করেছিলাম এবং তিনি তা আমার নিকট প্রত্যাখ্যান করেছিলেন, যে ব্যক্তি আমার নিকট থেকে সেটি গ্রহণ করবে, তা-ই হবে তার জন্য নাজাত।"

(খণ্ড: ১) গায়াতুল মাকসিদ ফি যাওয়ায়িদিল মুসনাদ (পৃষ্ঠা: ৩৩)
‌‌2 - حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ، حَدَّثَنَا أَبِى، عَنْ صَالِحٍ، قَالَ: قَالَ ابْنُ شِهَابٍ: أَخْبَرَنِى رَجُلٌ مِنَ الأَنْصَارٍ، غَيْرُ مُتَّهَمٍ، أَنَّهُ سَمِعَ عُثْمَانَ قال: يعنى حَدِيثِ أَبِى الْيَمَانِ.
২ - ইয়াকুব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমার পিতা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সালিহ থেকে, তিনি বলেন, ইবনে শিহাব বলেছেন: আনসারদের মধ্য থেকে এক ব্যক্তি—যিনি অভিযুক্ত নন—আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি উসমানকে বলতে শুনেছেন; অর্থাৎ আবুল ইয়ামানের হাদীসের মতো।
(খণ্ড: ১) গায়াতুল মাকসিদ ফি যাওয়ায়িদিল মুসনাদ (পৃষ্ঠা: ৩৩)
‌‌3 - حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ الْخَفَّافُ، حَدَّثَنَا سَعِيدٌ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ مُسْلِمِ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ حُمْرَانَ بْنِ أَبَانَ، أَنَّ عُثْمَانَ بْنَ عَفَّانَ، قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: "إِنِّى لأَعْلَمُ كَلِمَةً لا يَقُولُهَا عَبْدٌ حَقًّا مِنْ قَلْبِهِ إِلا حُرِّمَ عَلَى النَّارِ.

فَقَالَ لَهُ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ: أَلا أُحَدِّثُكَ مَا هِىَ؟ هِىَ كَلِمَةُ الإِخْلَاصِ الَّتِى أَلزمها اللَّهُ تبارك وتعالى مُحَمَّدًا صلى الله عليه وسلم وَأَصْحَابَهُ، وَهِىَ كَلِمَةُ التَّقْوَى الَّتِى أَلاصَ عَلَيْهَا نَبِىُّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَمَّهُ أَبَا طَالِبٍ عِنْدَ الْمَوْتِ شَهَادَةُ أَنْ لا إِلَهَ إِلَاّ اللَّهُ

قلت: لعمر رضى الله عنه حديث عند ابن ماجه مع طلحة بغير هذا السياق.
৩ - আমাদের নিকট আব্দুল ওয়াহহাব আল-খাফফাফ হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি সাঈদ থেকে, তিনি কাতাদাহ থেকে, তিনি মুসলিম বিন ইয়াসার থেকে, তিনি হুমরান বিন আবান থেকে বর্ণনা করেন যে, উসমান বিন আফফান রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি: "নিশ্চয়ই আমি এমন একটি বাক্য জানি, কোনো বান্দা যদি তা হৃদয়ের অন্তঃস্থল থেকে সত্য হিসেবে পাঠ করে, তবে তার জন্য জাহান্নাম হারাম হয়ে যায়।"

অতঃপর উমর বিন আল-খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু তাঁকে বললেন: "আমি কি আপনাকে সেটি কী তা বলে দেব না? সেটি হলো ইখলাসের বাণী (কালিমায়ে ইখলাস), যা আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও তাঁর সাহাবীদের জন্য অপরিহার্য করেছেন। আর এটি হলো তাকওয়ার সেই বাণী যার ওপর অটল থাকার জন্য আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর চাচা আবু তালিবকে মৃত্যুর সময় অনুরোধ করেছিলেন; আর তা হলো এই সাক্ষ্য প্রদান করা যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই।"

আমি (গ্রন্থকার) বলছি: ইবনে মাজাহ গ্রন্থে তালহার সাথে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুর একটি বর্ণনা এই প্রসঙ্গের বাইরে ভিন্নরূপে বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) গায়াতুল মাকসিদ ফি যাওয়ায়িদিল মুসনাদ (পৃষ্ঠা: ৩৩)
‌‌4 - حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، أَنبأنَا بَكْرُ بْنُ مُضَرَ، عَنِ ابْنِ الْهَادِ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الصَّلْتِ، عَنْ سُهَيْلِ ابْنِ الْبَيْضَاءِ، قَالَ: بَيْنَمَا نَحْنُ فِى سَفَرٍ مَعَ ‌‌⦗ص: 34⦘ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَأَنَا رَدِيفُهُ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: "يَا سُهَيْلُ ابْنَ الْبَيْضَاءِ. وَرَفَعَ صَوْتَهُ مَرَّتَيْنِ أَوْ ثَلَاثًا، كُلُّ ذَلِكَ يُجِيبُهُ سُهَيْلٌ، فَسَمِعَ النَّاسُ صَوْتَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَظَنُّوا أَنَّهُ يُرِيدُهُمْ، فَحُبِسَ مَنْ كَانَ بَيْنَ يَدَيْهِ وَلَحِقَهُ مَنْ كَانَ خَلْفَهُ حَتَّى إِذَا اجْتَمَعُوا، قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: "إِنَّهُ مَنْ شَهِدَ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَاّ اللَّهُ حَرَّمَهُ اللَّهُ عَلَى النَّارِ، وَأَوْجَبَت لَهُ الْجَنَّةَ.
৪ - আমাদের নিকট কুতাইবাহ ইবনে সাঈদ বর্ণনা করেছেন, বকর ইবনে মুদার আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইবনুল হাদ থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে ইবরাহিম থেকে, তিনি সাঈদ ইবনুল সালত থেকে, তিনি সুহাইল ইবনুল বায়দা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: একদা আমরা রাসুলুল্লাহ ⦗পৃষ্ঠা: ৩৪⦘ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে এক সফরে ছিলাম এবং আমি তাঁর পেছনে আরোহী ছিলাম। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "হে সুহাইল ইবনুল বায়দা!" তিনি দুই অথবা তিনবার উচ্চস্বরে ডাকলেন, আর প্রতিবারই সুহাইল তাঁর ডাকে সাড়া দিচ্ছিলেন। লোকজন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কণ্ঠস্বর শুনতে পেল এবং তারা ধারণা করল যে তিনি তাদেরই উদ্দেশ্য করছেন। ফলে যারা তাঁর সামনে ছিল তারা থেমে গেল এবং যারা পেছনে ছিল তারা এসে তাঁর সাথে মিলিত হলো। পরিশেষে যখন তারা সকলে সমবেত হলো, তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "নিশ্চয়ই যে ব্যক্তি সাক্ষ্য দেবে যে আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, আল্লাহ তার জন্য জাহান্নাম হারাম করে দেবেন এবং তার জন্য জান্নাত অবধারিত করে দেবেন।"
(খণ্ড: ১) গায়াতুল মাকসিদ ফি যাওয়ায়িদিল মুসনাদ (পৃষ্ঠা: ৩৪)
‌‌5- حدثنا يعقوب، قال: سمعت أبى يحدث، عن يزيد بن الهاد، عن محمد بن إبراهيم، عن سهيل بن بيضاء فذكر نحوه.
৫- ইয়াকুব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আমার পিতাকে ইয়াযীদ ইবনুল হাদ থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে ইবরাহীম থেকে, তিনি সুহাইল ইবনে বায়দা থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি, অতঃপর তিনি এর অনুরূপ উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ১) গায়াতুল মাকসিদ ফি যাওয়ায়িদিল মুসনাদ (পৃষ্ঠা: ৩৪)
‌‌6 - حَدَّثَنَا هَارُونُ، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، قَالَ حَيْوَةُ: حَدَّثَنِى ابْنُ الْهَادِ، عَنْ مُحَمَّدٍ بْنَ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الصَّلْتِ، عَنْ سُهَيْلِ بْنِ الْبَيْضَاءِ، مِنْ بَنِى عَبْدِ الدَّارِ، فَذَكَرَ نحوه.
6 - আমাদের নিকট হারুন বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট ইবনে ওয়াহাব বর্ণনা করেছেন, হাইওয়াহ বলেন: ইবনুল হাদ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে ইব্রাহিম থেকে, তিনি সাঈদ ইবনে সালত থেকে, তিনি বনু আবদে দারের সুহাইল ইবনে বায়দা থেকে; অতঃপর তিনি অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) গায়াতুল মাকসিদ ফি যাওয়ায়িদিল মুসনাদ (পৃষ্ঠা: ৩৪)
‌‌7 - حَدَّثَنَا مُؤَمَّلُ [بْنُ إِسْمَاعِيلَ] ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، حَدَّثَنَا أَبُو عِمْرَانَ الْجَوْنِىُّ، عَنْ أَبِى بَكْرِ بْنِ أَبِى مُوسَى، عَنْ أَبِيهِ قَالَ: أَتَيْتُ النَّبِىَّ صلى الله عليه وسلم وَمَعِى نَفَرٌ مِنْ قَوْمِى فَقَالَ: "أَبْشِرُوا وَبَشِّرُوا مَنْ وَرَاءَكُمْ، إِنَّهُ مَنْ شَهِدَ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَاّ اللَّهُ صَادِقًا بِهَا دَخَلَ الْجَنَّةَ. فَخَرَجْنَا مِنْ عِنْدِ النَّبِىِّ صلى الله عليه وسلم نُبَشِّرُ النَّاسَ، فَاسْتَقْبَلَنَا عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ، رضى الله عنه، فَرَجَعَ بِنَا إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فَقَالَ عُمَرُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، إِذَنْ يَتَّكِلَ النَّاسُ، فَسَكَتَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم
৭ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুআম্মাল [ইবনে ইসমাইল], আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাম্মাদ ইবনে সালামাহ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু ইমরান আল-জাওনী, তিনি আবু বকর ইবনে আবু মুসা থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট আসলাম এবং আমার সাথে আমার গোত্রের একদল লোক ছিল। তিনি বললেন: "তোমরা সুসংবাদ গ্রহণ করো এবং তোমাদের পেছনে যারা রয়েছে তাদেরকেও সুসংবাদ দাও যে, নিশ্চয়ই যে ব্যক্তি সত্যনিষ্ঠার সাথে সাক্ষ্য দেবে যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।" অতঃপর আমরা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট থেকে মানুষদের সুসংবাদ দিতে বের হলাম। পথিমধ্যে উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর সাথে আমাদের সাক্ষাৎ হলো। তিনি আমাদের নিয়ে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট ফিরে আসলেন। উমর বললেন: "হে আল্লাহর রাসূল! তাহলে তো মানুষ (কেবল এর ওপরই) ভরসা করে বসে থাকবে।" তখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিশ্চুপ রইলেন।
(খণ্ড: ১) গায়াতুল মাকসিদ ফি যাওয়ায়িদিল মুসনাদ (পৃষ্ঠা: ৩৫)
‌‌8 - حَدَّثَنَا بَهْزٌ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، فذكر نحوه.
8 - বাহজ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হাম্মাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, অতঃপর তিনি এর অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) গায়াতুল মাকসিদ ফি যাওয়ায়িদিল মুসনাদ (পৃষ্ঠা: ৩৫)
‌‌9 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا حَمْزَةَ جَارَنَا يُحَدِّثُ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لِمُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ: "اعْلَمْ أَنَّهُ مَنْ شْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَاّ اللَّهُ دَخَلَ الْجَنَّةَ.
৯ - মুহাম্মদ ইবনে জাফর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, শু'বাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আমাদের প্রতিবেশী আবু হামযাহকে বর্ণনা করতে শুনেছি, আনাস ইবনে মালিক হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মুয়ায ইবনে জাবালকে বলেছেন: "জেনে রেখো, যে ব্যক্তি সাক্ষ্য দিবে যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।"
(খণ্ড: ১) গায়াতুল মাকসিদ ফি যাওয়ায়িদিল মুসনাদ (পৃষ্ঠা: ৩৫)
‌‌10 - حَدَّثَنَا الحَسَنٌ، حَدَّثَنَا ابْنُ لَهِيعَةَ، عَنْ وَاهبِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّ أَبَا الدَّرْدَاءِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: "مَنْ قَالَ: لَا إِلَهَ إِلَاّ اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ دَخَلَ الْجَنَّةَ، قَالَ: قُلْتُ: وَإِنْ زَنَى وَإِنْ سَرَقَ؟ قَالَ: "وَإِنْ زَنَى وَإِنْ سَرَقَ، قُلْتُ: وَإِنْ زَنَى وَإِنْ سَرَقَ؟ قَالَ: "وَإِنْ زَنَى وَإِنْ سَرَقَ، قُلْتُ: وَإِنْ زَنَى وَإِنْ سَرَقَ؟ قَالَ: "وَإِنْ زَنَى وَإِنْ سَرَقَ، عَلَى رَغْمِ أَنْفِ أَبِى الدَّرْدَاءِ. قَالَ: فَخَرَجْتُ لأُنَادِىَ بِهَا فِى النَّاسِ فَلَقِيَنِى عُمَرُ فَقَالَ: ارْجِعْ فَإِنَّ النَّاسَ إِنْ عَلِمُوا بِهَذِهِ اتَّكَلُوا عَلَيْهَا، فَرَجَعْتُ فَأَخْبَرْتُهُ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ: "صَدَقَ عُمَرُ.
১০ - হাসান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইবনে লাহিয়া আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ওয়াহিব ইবনে আব্দুল্লাহ হতে যে, আবু দারদা (রা.) বলেছেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেছেন: "যে ব্যক্তি বলবে: আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।" তিনি (আবু দারদা) বলেন: আমি জিজ্ঞাসা করলাম: যদিও সে ব্যভিচার করে এবং যদিও সে চুরি করে? তিনি বললেন: "যদিও সে ব্যভিচার করে এবং যদিও সে চুরি করে।" আমি পুনরায় জিজ্ঞাসা করলাম: যদিও সে ব্যভিচার করে এবং যদিও সে চুরি করে? তিনি বললেন: "যদিও সে ব্যভিচার করে এবং যদিও সে চুরি করে।" আমি আবারও জিজ্ঞাসা করলাম: যদিও সে ব্যভিচার করে এবং যদিও সে চুরি করে? তিনি বললেন: "যদিও সে ব্যভিচার করে এবং যদিও সে চুরি করে; আবু দারদার নাক ধুলায় ধূসরিত হলেও (অর্থাৎ তার অনিচ্ছা সত্ত্বেও)।" তিনি বলেন: অতঃপর আমি মানুষের মাঝে এই ঘোষণা দেওয়ার জন্য বের হলাম। তখন উমরের (রা.) সাথে আমার সাক্ষাৎ হলো। তিনি বললেন: ফিরে যান, কারণ মানুষ যদি এটি জানতে পারে তবে তারা কেবল এর ওপরই নির্ভর করে বসে থাকবে। ফলে আমি ফিরে আসলাম এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে তা অবহিত করলাম। তখন তিনি বললেন: "উমর সত্য বলেছে।"
(খণ্ড: ১) গায়াতুল মাকসিদ ফি যাওয়ায়িদিল মুসনাদ (পৃষ্ঠা: ৩৫)
‌‌11 - حَدَّثَنَا عَفَّانُ، حَدَّثَنَا هَمَّامٌ، أنبأنا عَاصِمُ، عَنْ أَبِى صَالِحٍ، عَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ، أَنَّهُ إِذْ حُضِرَ قَالَ: أَدْخِلُوا عَلَىَّ النَّاسَ فَأُدْخِلُوا عَلَيْهِ، فَقَالَ: إِنِّى سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: "مَنْ مَاتَ لا يُشْرِكُ بِاللَّهِ شَيْئًا جَعَلَهُ اللَّهُ فِى الْجَنَّةِ، وَمَا كُنْتُ أُحَدِّثُكُمُوهُ إِلَاّ عِنْدَ الْمَوْتِ وَالشَّهِيدُ عَلَى ذَلِكَ عُوَيْمِرٌ أَبُو الدَّرْدَاءِ، فانطلقوا إلى أَبَا الدَّرْدَاءِ فَقَالَ: صَدَقَ أَخِى، وَمَا كَانَ يُحَدِّثُكُمْ بِهِ إِلَاّ عِنْدَ مَوْتِهِ.
১১ - আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আফফান, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন হাম্মাম, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আসিম, তিনি আবু সালিহ থেকে, তিনি মুয়াজ ইবনে জাবাল থেকে বর্ণনা করেন যে, তাঁর যখন অন্তিম সময় উপস্থিত হলো তখন তিনি বললেন: “আমার কাছে লোকদের নিয়ে এসো।” অতঃপর তাদের তাঁর কাছে নিয়ে আসা হলো। তখন তিনি বললেন: “নিশ্চয়ই আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে বলতে শুনেছি: ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে কোনো কিছু শরীক না করে মৃত্যুবরণ করবে, আল্লাহ তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন।’ আর আমি মৃত্যুর এই সময় উপস্থিত হওয়া ছাড়া তোমাদের নিকট এটি বর্ণনা করতাম না। আর এ বিষয়ে উওয়াইমির আবু দারদা সাক্ষী।” অতঃপর তারা আবু দারদার নিকট গেলেন। তিনি বললেন: “আমার ভাই সত্য বলেছেন, তিনি তাঁর মৃত্যুর সময় উপস্থিত হওয়া ছাড়া তোমাদের নিকট এটি বর্ণনা করতেন না।”
(খণ্ড: ১) গায়াতুল মাকসিদ ফি যাওয়ায়িদিল মুসনাদ (পৃষ্ঠা: ৩৬)
‌‌12 - حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مَهْدِى، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ عَيَّاشٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِى حُسَيْنٍ، عَنْ شَهْرِ بْنِ حَوْشَبٍ، عَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ، قَالَ: قَالَ لِى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: "مَفَاتِيحُ الْجَنَّةِ شَهَادَةُ أَنْ لا إِلَهَ إِلَاّ اللَّهُ.
১২ - ইবরাহীম ইবন মাহদী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইসমাঈল ইবন আইয়াশ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবদুল্লাহ ইবন আবদুর রহমান ইবন আবু হুসাইন থেকে, শাহর ইবন হাওশাব থেকে, মুআজ ইবন জাবাল থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাকে বলেছেন: "জান্নাতের চাবিকাঠি হলো এই সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই।"
(খণ্ড: ১) গায়াতুল মাকসিদ ফি যাওয়ায়িদিল মুসনাদ (পৃষ্ঠা: ৩৬)
‌‌13 - حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا هِشَامٌ الدَّسْتُوَائِىُّ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِى كَثِيرٍ، عَنْ هِلالِ بْنِ أَبِى مَيْمُونَةَ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ رِفَاعَةَ الْجُهَنِىِّ قَالَ: أَقْبَلْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَتَّى إِذَا كُنَّا بِالْكَدِيدِ أَوْ قَالَ بِقُدَيْدٍ، فَجَعَلَ رِجَالٌ يَسْتَأْذِنُونَ إِلَى أَهْلِيهِمْ فَيَأْذَنُ لَهُمْ فَقَامَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَحَمِدَ اللَّهَ وَأَثْنَى عَلَيْهِ، ثُمَّ قَالَ: "مَا بَالُ رِجَالٍ يَكُونُ شِقُّ الشَّجَرَةِ الَّتِى تَلِى رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَبْغَضَ إِلَيْهِمْ مِنَ الشِّقِّ الآخَرِ، فَلَمْ نَرَ عِنْدَ ذَلِكَ مِنَ الْقَوْمِ إِلَاّ بَاكِيًا. فَقَالَ رَجُلٌ: إِنَّ الَّذِى يَسْتَأْذِنُكَ بَعْدَ هَذَا لَسَفِيهٌ، فَحَمِدَ اللَّهَ وَقَالَ خيرًا وقال: "أَشْهَدُ عِنْدَ اللَّهِ لا يَمُوتُ عَبْدٌ يَشْهَدُ أَنْ لا إِلَهَ إِلَاّ اللَّهُ وَأَنِّى رَسُولُ اللَّهِ صِدْقًا مِنْ قَلْبِهِ ثُمَّ يُسَدِّدُ إِلَاّ سُلِكَ فِى الْجَنَّةِ. قَالَ: "وَقَدْ وَعَدَنِى رَبِّى عز وجل أَنْ يُدْخِلَ مِنْ أُمَّتِى سَبْعِينَ أَلْفًا لَا حِسَابَ عَلَيْهِمْ، وَلَا عَذَابَ وَإِنِّى لأَرْجُو أَنْ لَا يَدْخُلُوهَا حَتَّى تَبَوَّءُوا أَنْتُمْ وَمَنْ صَلَحَ مِنْ آبَائِكُمْ وَأَزْوَاجِكُمْ وَذُرِّيَّاتِكُمْ مَسَاكِنَ فِى الْجَنَّةِ.

عند ابن ماجه بعضه.
১৩ - আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন ইসমাঈল ইবনে ইবরাহিম, তিনি হিশাম আদ-দাস্তুওয়ায়ী থেকে, তিনি ইয়াহইয়া ইবনে আবি কাসীর থেকে, তিনি হিলাল ইবনে আবি মায়মুনা থেকে, তিনি আতা ইবনে ইয়াসার থেকে, তিনি রিফাআ আল-জুহানি থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে অগ্রসর হচ্ছিলাম। আমরা যখন কাদীদ নামক স্থানে পৌঁছালাম—অথবা তিনি বলেছেন কুদাইদ—তখন কিছু লোক তাদের পরিবারের কাছে ফিরে যাওয়ার অনুমতি চাইতে লাগল এবং তিনি তাদের অনুমতি দিতে থাকলেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়িয়ে আল্লাহর প্রশংসা ও গুণগান করলেন। অতঃপর তিনি বললেন: "সেই লোকদের কী হলো যাদের কাছে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পার্শ্বস্থ গাছের অংশটি অন্য দিকের চেয়ে বেশি অপ্রিয় মনে হচ্ছে?" তখন আমরা উপস্থিত লোকজনকে কেবল ক্রন্দনরত অবস্থায় দেখলাম। তখন এক ব্যক্তি বলল: "আপনার নিকট এরপর যে ব্যক্তি অনুমতি প্রার্থনা করবে সে অবশ্যই নির্বোধ।" তখন তিনি আল্লাহর প্রশংসা করলেন এবং কল্যাণের কথা বললেন। তিনি আরও বললেন: "আমি আল্লাহর নিকট সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, কোনো বান্দা যদি অন্তরের সত্যতা সহকারে এই সাক্ষ্য দেয় যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং আমি আল্লাহর রাসূল, অতঃপর সে সঠিক পথে অটল থাকে, তবে তাকে অবশ্যই জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে।" তিনি বললেন: "আমার মহিমান্বিত ও পরাক্রমশালী প্রতিপালক আমাকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, তিনি আমার উম্মতের মধ্য থেকে সত্তর হাজার ব্যক্তিকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন যাদের কোনো হিসাব হবে না এবং কোনো শাস্তিও হবে না। আর আমি আশা করি যে, তারা ততক্ষণ জান্নাতে প্রবেশ করবে না যতক্ষণ না আপনারা এবং আপনাদের পিতৃপুরুষ, স্ত্রী ও সন্তানদের মধ্য থেকে যারা সৎকর্মশীল তারা জান্নাতে নিজেদের আবাসস্থল গ্রহণ করে।"

ইবনে মাজাহ-তে এর কিছু অংশ বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) গায়াতুল মাকসিদ ফি যাওয়ায়িদিল মুসনাদ (পৃষ্ঠা: ৩৬)
‌‌14 - حَدَّثَنَا أَبُو الْمُغِيرَةِ، حَدَّثَنَا الأَوْزَاعِىُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ أَبِى كَثِيرٍ، فذكره ‌‌⦗ص: 37⦘ بنحوه، إلا أنه قَالَ: فَقَالَ أَبُو بَكْرٍ: إِنَّ الَّذِى يَسْتَأْذِنُكَ بَعْدَ هَذِهِ لَسَفِيهٌ فِى نَفْسِى.
১৪ - আমাদের নিকট আবু আল-মুগীরাহ হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল-আওযাঈ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট ইয়াহইয়া ইবনে আবি কাসীর হাদীস বর্ণনা করেছেন, এরপর তিনি তা উল্লেখ করেছেন ⦗পৃষ্ঠা: ৩৭⦘ এর অনুরূপভাবে, তবে তিনি বলেছেন: আবু বকর বললেন: নিশ্চয়ই যে ব্যক্তি এর পরে আপনার নিকট অনুমতি প্রার্থনা করবে, সে আমার দৃষ্টিতে এক নির্বোধ।
(খণ্ড: ১) গায়াতুল মাকসিদ ফি যাওয়ায়িদিল মুসনাদ (পৃষ্ঠা: ৩৭)
‌‌15 - حدثنا يحيى بن سعيد، حدثنا هشام الدستوائى، حدثنا يحيى، فذكر نحوه.
15 - ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হিশাম আদ-দাওস্তুওয়ায়ি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইয়াহইয়াও (আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন); অতঃপর তিনি এর অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) গায়াতুল মাকসিদ ফি যাওয়ায়িদিল মুসনাদ (পৃষ্ঠা: ৩৭)
‌‌16 - حَدَّثَنَا حَسَنُ بْنُ مُوسَى، حَدَّثَنَا شَيْبَانُ، عَنْ يَحْيَى فذكر نحوه.
১৬ - হাসান ইবনে মুসা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, শায়বান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি ইয়াহইয়া থেকে বর্ণনা করেছেন, অতঃপর তিনি অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) গায়াতুল মাকসিদ ফি যাওয়ায়িদিল মুসনাদ (পৃষ্ঠা: ৩৭)
‌‌17 - حَدَّثَنَا عَلِىُّ بْنُ إِسْحَاقَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ، يَعْنِى ابْنَ مُبَارَكٍ، قَالَ: أَنبأَنَا الأَوْزَاعِىُّ، قَالَ: حَدَّثَنِى الْمُطَّلِبُ بْنُ حَنْطَبٍ الْمَخْزُومِىُّ، حَدَّثَنِى عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ أَبِى عَمْرَةَ الأَنْصَارِىُّ، حَدَّثَنِى أَبِى قَالَ: كُنَّا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِى غَزَاةٍ فَأَصَابَ النَّاسَ مَخْمَصَةٌ، فَاسْتَأْذَنَ النَّاسُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِى نَحْرِ بَعْضِ ظُهُورِهِمْ، وَقَالُوا: يُبَلِّغُنَا اللَّهُ بِهِ، فَلَمَّا رَأَى عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ رضى الله عنه، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَدْ هَمَّ أَنْ يَأْذَنَ لَهُمْ فِى نَحْرِ بَعْضِ ظَهْرِهِمْ، قَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، كَيْفَ بِنَا إِذَا نَحْنُ لَقِينَا الْقَوْمَ غَدًا جِيَاعًا أَرْجَالاً، وَلَكِنْ إِنْ رَأَيْتَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَنْ تَدْعُوَ الناس بِبَقَايَا أَزْوَادِهِمْ فَتَجْمَعَهَ ثُمَّ تَدْعُوَ اللَّهَ فِيهَ بِالْبَرَكَةِ، فَإِنَّ اللَّهَ تبارك وتعالى سَيُبَارِكُ لَنَا فِى دَعْوَتِكَ، أو قَال: سَيُبَلِّغُنَا بِدَعْوَتِكَ، فَدَعَا النَّبِىُّ صلى الله عليه وسلم بِبَقَايَا أَزْوَادِهِمْ فَجَعَلَ النَّاسُ يُجِيئُونَ بِالْحَثْيَةِ مِنَ الطَّعَامِ وَفَوْقَ ذَلِكَ وَكَانَ أَعْلاهُمْ مَنْ جَاءَ بِصَاعٍ مِنْ تَمْرٍ، فَجَمَعَهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ثُمَّ قَامَ فَدَعَا مَا شَاءَ اللَّهُ أَنْ يَدْعُوَ ثُمَّ دَعَا الْجَيْشَ بِأَوْعِيَتِهِمْ، وَأَمَرَهُمْ أَنْ يَحْتَثُوا، فَمَا بَقِىَ فِى الْجَيْشِ وِعَاءٌ إِلَاّ مَلَئُوهُ، وَبَقِىَ مِثْلُهُ فَضَحِكَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَتَّى بَدَتْ نَوَاجِذُهُ، فَقَالَ: "أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَاّ اللَّهُ وَأَشْهَدُ أَنِّى رَسُولُ اللَّهِ لَا
১৭ - আমাদের নিকট আলী ইবনে ইসহাক হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট আবদুল্লাহ অর্থাৎ ইবনে মুবারক হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট আওযাঈ সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন আমার নিকট মুত্তালিব ইবনে হানতাব আল-মাখযুমী হাদীস বর্ণনা করেছেন, আমার নিকট আবদুর রহমান ইবনে আবি আমরা আল-আনসারী হাদীস বর্ণনা করেছেন, আমার নিকট আমার পিতা হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে এক যুদ্ধে ছিলাম। তখন লোকেরা তীব্র ক্ষুধার্ত হয়ে পড়ল। ফলে লোকেরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে তাদের কিছু সওয়ারী পশু যবাই করার অনুমতি চাইল এবং তারা বলল: এর মাধ্যমে আল্লাহ আমাদের গন্তব্যে পৌঁছে দেবেন। যখন উমর ইবনে খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু দেখলেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের কিছু সওয়ারী পশু যবাই করার অনুমতি দেওয়ার সংকল্প করেছেন, তখন তিনি বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আগামীকাল যখন আমরা ক্ষুধার্ত ও পদব্রজে শত্রুর মুখোমুখি হব, তখন আমাদের কী অবস্থা হবে? বরং হে আল্লাহর রাসূল, আপনি যদি সমীচীন মনে করেন তবে লোকেদের তাদের অবশিষ্ট পাথেয় নিয়ে আসতে আহ্বান করুন, এরপর আপনি সেগুলো একত্রিত করবেন এবং তাতে বরকতের জন্য আল্লাহর কাছে দুআ করবেন। কেননা আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা আপনার দুআর মাধ্যমে আমাদের বরকত দান করবেন, অথবা তিনি বললেন: আপনার দুআর মাধ্যমে আমাদের গন্তব্যে পৌঁছে দেবেন। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের অবশিষ্ট পাথেয় নিয়ে আসার নির্দেশ দিলেন। তখন লোকেরা অঞ্জলি ভরে খাদ্য এবং তার চেয়েও বেশি নিয়ে আসতে শুরু করল। তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি যে পাথেয় নিয়ে এসেছিল সে ছিল এক সা পরিমাণ খেজুর নিয়ে আসা ব্যক্তি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেগুলো একত্রিত করলেন, তারপর দাঁড়িয়ে আল্লাহ যা চাইলেন সেই অনুযায়ী দুআ করলেন। এরপর তিনি সেনাবাহিনীকে তাদের পাত্র নিয়ে আসার আহ্বান জানালেন এবং তাদের তা ভরে নিতে নির্দেশ দিলেন। ফলে সেনাবাহিনীর এমন কোনো পাত্র অবশিষ্ট রইল না যা তারা পূর্ণ করেনি, এবং সমপরিমাণ আরও অবশিষ্ট রয়ে গেল। এতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমনভাবে হাসলেন যে তাঁর মাড়ির দাঁত দৃশ্যমান হয়ে উঠল। অতঃপর তিনি বললেন: "আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আমি আল্লাহর রাসূল। কোনো..."
(খণ্ড: ১) গায়াতুল মাকসিদ ফি যাওয়ায়িদিল মুসনাদ (পৃষ্ঠা: ৩৭)
يَلْقَى اللَّهَ عَبْدٌ مُؤْمِنٌ بِهِمَا إِلَاّ حجبَتْه عَنْ النَّار يَوْمَ الْقِيَامَةِ.
কোনো মুমিন বান্দা এই দুটির সাথে আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করলে কিয়ামতের দিন এই দুটি তাকে অবশ্যই জাহান্নামের আগুন থেকে আড়াল করে দিবে।
(খণ্ড: ১) গায়াতুল মাকসিদ ফি যাওয়ায়িদিল মুসনাদ (পৃষ্ঠা: ৩৭)
‌‌18 - حَدَّثَنَا سُرَيْجُ بْنُ النُّعْمَانِ، حَدَّثَنَا نُوحُ بْنُ قَيْسٍ، عَنْ أَشْعَثَ بْنِ جَابِرٍ الْحُدَّانِىِّ، عَنْ مَكْحُولٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ عَبَسَةَ، قَالَ: جَاءَ رَجُلٌ إِلَى النَّبِىِّ صلى الله عليه وسلم شَيْخٌ كَبِيرٌ يَدَّعِمُ عَلَى عَصًا لَهُ، فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، إِنَّ لِى غَدَرَاتٍ وَفَجَرَاتٍ فَهَلْ يُغْفَرُ لِى؟ قَالَ: "أَلَسْتَ ‌‌⦗ص: 38⦘ تَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَاّ اللَّهُ؟ قَالَ: بَلَى، وَأَشْهَدُ أَنَّكَ رَسُولُ اللَّهِ، قَالَ: "قَدْ غُفِرَ لَكَ غَدَرَاتُكَ وَفَجَرَاتُكَ.
১৮ - সুরাইজ ইবনুন নুমান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, নূহ ইবনে কাইস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আশআস ইবনে জাবির আল-হুদ্দানি থেকে, তিনি মাকহুল থেকে, তিনি আমর ইবনে আবাসা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট একজন অতি বৃদ্ধ লোক আসলেন, যিনি একটি লাঠির ওপর ভর দিয়েছিলেন। তিনি বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, আমার অনেক বিশ্বাসভঙ্গ ও পাপাচার রয়েছে, তবে কি আমাকে ক্ষমা করা হবে? তিনি বললেন: "তুমি কি ⦗পৃষ্ঠা: ৩৮⦘ সাক্ষ্য দাও না যে, আল্লাহ ছাড়া আর কোনো ইলাহ নেই?" তিনি বললেন: হ্যাঁ, এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আপনি আল্লাহর রাসূল। তিনি বললেন: "তোমার বিশ্বাসভঙ্গ ও পাপাচারগুলো তোমার জন্য ক্ষমা করে দেওয়া হয়েছে।"
(খণ্ড: ১) গায়াতুল মাকসিদ ফি যাওয়ায়িদিল মুসনাদ (পৃষ্ঠা: ৩৮)
‌‌19 - حَدَّثَنَا أَبُو النَّضْرِ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، يَعْنِى شَيْبَانَ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ سَالِمِ بْنِ أَبِى الْجَعْدِ، عَنْ سَلَمَةَ بْنِ نُعَيْمٍ، وَكَانَ مِنْ أَصْحَابِ الرَّسُولِ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: "مَنْ لَقِىَ اللَّهَ لا يُشْرِكُ بِهِ شَيْئًا دَخَلَ الْجَنَّةَ، وَإِنْ زَنَى وَإِنْ سَرَقَ.
19 - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আন-নাদর, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু মুয়াবিয়া—অর্থাৎ শায়বান—মানসুর থেকে, তিনি সালিম ইবনে আবিল জা'দ থেকে, তিনি সালামাহ ইবনে নুআইম থেকে বর্ণনা করেন—আর তিনি রাসূলুল্লাহর সাহাবীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন—তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে কোনো কিছুকে শরিক না করে তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে, যদিও সে ব্যভিচার করে থাকে এবং যদিও সে চুরি করে থাকে।"
(খণ্ড: ১) গায়াতুল মাকসিদ ফি যাওয়ায়িদিল মুসনাদ (পৃষ্ঠা: ৩৮)
‌‌20 - حَدَّثَنَا حَجَّاجٌ، حَدَّثَنَا شَيْبَانُ، عَنْ مَنْصُورٌ فذكره.
20 - হাজ্জাজ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, শায়বান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মানসুর থেকে; অতঃপর তিনি তা উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ১) গায়াতুল মাকসিদ ফি যাওয়ায়িদিল মুসনাদ (পৃষ্ঠা: ৩৮)
‌‌21 - حَدَّثَنَا أَبُو أَحْمَدَ وَأَبُو نُعَيْمٍ، قَالا: حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُنْتَشِرِ، عَنْ أَبِيهِ، هَذَا فِى حَدِيثِ أَبِى أَحْمَدَ الزُّبَيْرِىِّ، قَالَ: نَزَلَ رَجُلٌ عَلَى مَسْرُوقٍ فَقَالَ: سَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ، يَقُولُ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: "مَنْ لَقِىَ اللَّهَ وَهُوَ لا يُشْرِكُ بِهِ شَيْئًا دَخَلَ الْجَنَّةَ، وَلَمْ تَضُرَّ مَعَهُ خَطِيئَةٌ، كَمَا لَوْ لَقِيَهُ وَهُوَ مُشْرِكٌ بِهِ دَخَلَ النَّارَ وَلَمْ تَنْفَعْهُ مَعَهُ حَسَنَةٌ.
২১ - আবু আহমদ ও আবু নুআইম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তাঁরা উভয়ে বলেছেন: সুফইয়ান ইবরাহীম ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আল-মুনতাশির থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন—এটি আবু আহমদ আল-যুবাইরীর হাদীসে বর্ণিত হয়েছে—তিনি বলেন: জনৈক ব্যক্তি মাসরুকের নিকট আসলেন এবং বললেন: আমি আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আসকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: "যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে কোনো কিছুকে শরিক না করে তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে এবং তার কোনো পাপই তার ক্ষতি করতে পারবে না। যেমন কেউ যদি আল্লাহর সাথে শিরক করা অবস্থায় তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করে, তবে সে জাহান্নামে প্রবেশ করবে এবং তার কোনো নেক আমলই তার উপকারে আসবে না।"