(খণ্ড: ১)
আদ-দীনুল আলামী ওয়া মানহাজুদ দাওয়াতি ইলাইহি
(পৃষ্ঠা: -)
الدين العالمي ومنهج الدعوة إليه القسم: كتب عامة
الكتاب: الدين العالمي ومنهج الدعوة إليه
المؤلف: عطية صقر
الناشر: مجمع البحوث الإسلامية، القاهرة - جمهورية مصر العربية
عام النشر: 1408 هـ - 1988 م
عدد الصفحات: 220
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ربيع الآخر 1433
বিশ্বজনীন ধর্ম এবং এর দাওয়াত পদ্ধতি বিভাগ: সাধারণ বইসমূহ
বই: বিশ্বজনীন ধর্ম এবং এর দাওয়াত পদ্ধতি
লেখক: আতিয়্যাহ সাকর
প্রকাশক: ইসলামিক রিসার্চ একাডেমি، কায়রো - আরব প্রজাতন্ত্র মিশর
প্রকাশকাল: ১৪০৮ হিজরি - ১৯৮৮ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২২০
[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ রবিউস সানি ১৪৩৩
(খণ্ড: ১)
আদ-দীনুল আলামী ওয়া মানহাজুদ দাওয়াতি ইলাইহি
(পৃষ্ঠা: -)
الدين العالمي ومنهج الدعوة إليه
تأليف
فضيلة الشيخ عطية صقر
عضو مجمع البحوث الإسلامية
سلسلة البحوث الإسلامية
السنة الثامنة عشرة - الكتاب الخامس
বিশ্বজনীন ধর্ম এবং এর দাওয়াত পদ্ধতি
রচনায়
ফযীলাতুশ শায়খ আতিয়্যাহ সাকর
ইসলামিক রিসার্চ একাডেমির সদস্য
ইসলামিক রিসার্চ সিরিজ
অষ্টাদশ বর্ষ - পঞ্চম গ্রন্থ
(খণ্ড: ১)
আদ-দীনুল আলামী ওয়া মানহাজুদ দাওয়াতি ইলাইহি
(পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم
تقديمللأستاذ الدكتور عبد الفتاح عبد الله بركة الأمين العام لمجمع البحوث الإسلامية
الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على أشرف المرسلين، سيدنا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين.
أما بعد: فنقدم للقراء الطبعة الثانية من كتاب:
"الدين العالمى ومنهج الدعوة إليه"
الذى يتحدث عن عالمية الدين الإسلامى وصلاحيته لكل زمان ومكان، على الرغم من أن الرسول الذى أرسل به عربى، والكتاب الذي أنزل عليه أنزل باللسان العربى، فهو عليه الصلاة والسلام كما قال عنه ربه: {وَمَا أَرْسَلْنَاكَ إِلَّا رَحْمَةً لِلْعَالَمِينَ}، والكتاب كما قال عنه سبحانه: {تَبَارَكَ الَّذِي نَزَّلَ الْفُرْقَانَ عَلَى عَبْدِهِ لِيَكُونَ لِلْعَالَمِينَ نَذِيرًا}.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
উপস্থাপনাইসলামিক রিসার্চ একাডেমির মহাসচিব প্রফেসর ডক্টর আব্দুল ফাত্তাহ আব্দুল্লাহ বারাকা-এর পক্ষ থেকে
সকল প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক রাসুলগণের মধ্যে শ্রেষ্ঠতম ব্যক্তিত্ব, আমাদের নেতা মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর।
অতঃপর: আমরা পাঠকদের সম্মুখে নিম্নোক্ত কিতাবটির দ্বিতীয় সংস্করণ পেশ করছি:
"বিশ্বজনীন দ্বীন এবং এর দাওয়াতের কর্মপদ্ধতি"
যা ইসলাম ধর্মের বিশ্বজনীনতা এবং প্রতিটি যুগ ও স্থানের জন্য এর উপযোগিতা সম্পর্কে আলোচনা করে; যদিও যে রাসুলের মাধ্যমে তা প্রেরিত হয়েছে তিনি আরবি এবং যে কিতাবটি তাঁর ওপর অবতীর্ণ হয়েছে তা আরবি ভাষায় নাযিলকৃত। তাঁর ওপর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক, যেমনটি তাঁর প্রতিপালক তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: {আর আমি আপনাকে সমগ্র বিশ্ববাসীর জন্য কেবল রহমত হিসেবেই প্রেরণ করেছি}, এবং কিতাব সম্পর্কে মহান আল্লাহ বলেছেন: {পরম মহিমান্বিত সেই সত্তা, যিনি তাঁর বান্দার ওপর ফুরকান অবতীর্ণ করেছেন, যাতে তা বিশ্ববাসীর জন্য সতর্ককারী হতে পারে}।
(খণ্ড: ১)
আদ-দীনুল আলামী ওয়া মানহাজুদ দাওয়াতি ইলাইহি
(পৃষ্ঠা: ৪)
وهذا الكتاب الذى نقدمه يؤكد هذه الحقيقة بما لا يدع مجالا للشك؛ وذلك من واقع النصوص القرآنية، والأحاديث النبوية ليزداد المؤمن إيمانا، ومن واقع العوامل الذاتية التى رشحت هذا الدين ليكون دينا عالميا، وليكون حجة الله على من يتطلعون إلى دين يلائم الطبيعة البشرية، ويساير تطور الحياة الفكرية والعملية، ومن الواقع التاريخى الذى أثبت جدارة الإسلام بهداية البشرية إلى أقوم الطرق، حيث تقبلته كل الأجناس، وعاش فى كل البيئات، وما يزال غضا طريا على الرغم من تعاقب الأجيال.
والكتاب ينبه إلى خطر الجبهات التى تحاول أن تقلص من ظله، وتحد من مده، وسنرى من خلالها أن بعض المعاصرين يثيرون من الشبهات ما أثاره الأعداء منذ مئات السنين، وتكاد الألفاظ التى تجرى على ألسنتهم تطابق تماما ما قاله أولئك المغرضون.
وهو إذ يبرز أن الإسلام هو الدين العالمى الوحيد الذى يلبى حاجة الإنسانية فى هذا العصر وفى جميع العصور، لم ينس أن يصنع المنهج الصحيح للدعوة إليه، من واقع النصوص وهدى السلف وتجارب العصر، حتى لا يقحم نفسه على الدعوة من ليس أهلا لها، وحتى لا تشوه الصورة النقية للإسلام من سلوك بعض من لا يحسنون الدعوة إليها.
আমরা যে গ্রন্থটি পেশ করছি তা এই সত্যকে এমনভাবে সুনিশ্চিত করে যা সন্দেহের কোনো অবকাশ রাখে না; আর তা করা হয়েছে কুরআনিক বক্তব্য এবং নববী হাদিসসমূহের বাস্তবতা থেকে যাতে মুমিনের ঈমান বৃদ্ধি পায়। এছাড়া সেই সকল অভ্যন্তরীণ উপাদানের বাস্তবতা থেকেও, যা এই দ্বীনকে একটি বিশ্বজনীন দ্বীন হওয়ার উপযোগী করে তুলেছে এবং একে তাদের ওপর আল্লাহর পক্ষ থেকে অকাট্য দলিল হিসেবে সাব্যস্ত করেছে যারা এমন এক দ্বীনের প্রত্যাশী যা মানব প্রকৃতির অনুকূল এবং বুদ্ধিবৃত্তিক ও ব্যবহারিক জীবনের ক্রমবিকাশের সাথে সংগতিপূর্ণ। সেই সাথে ঐতিহাসিক বাস্তবতা থেকেও এটি প্রমাণিত যে, ইসলাম মানবজাতিকে সর্বোত্তম পথে পরিচালিত করার ক্ষেত্রে পূর্ণ যোগ্যতার পরিচয় দিয়েছে; যেখানে সকল বর্ণের মানুষ একে গ্রহণ করেছে এবং এটি সকল পরিবেশে টিকে রয়েছে, আর প্রজন্মের পর প্রজন্ম অতিবাহিত হওয়া সত্ত্বেও এটি আজও সজীব ও প্রাণবন্ত রয়ে গেছে।
এই গ্রন্থটি সেই সকল অপশক্তির বিপদ সম্পর্কেও সতর্ক করে যারা ইসলামের প্রভাবকে সংকুচিত করতে এবং এর অগ্রযাত্রাকে সীমাবদ্ধ করতে সচেষ্ট। আমরা এর মাধ্যমে দেখতে পাব যে, বর্তমানকালের কিছু মানুষ এমন সব সংশয় উসকে দিচ্ছে যা শত শত বছর আগে শত্রুরা উত্থাপন করেছিল; তাদের মুখে যে সকল শব্দ ও পরিভাষা উচ্চারিত হচ্ছে তা সেই সকল উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ব্যক্তিদের বক্তব্যের সাথে প্রায় হুবহু মিলে যায়।
ইসলামই একমাত্র বিশ্বজনীন দ্বীন যা এই যুগে এবং সকল যুগে মানবতার চাহিদা পূরণ করে—এটি ফুটিয়ে তোলার পাশাপাশি কিতাবটি দাওয়াতের সঠিক পদ্ধতি প্রণয়ন করতেও বিস্মৃত হয়নি। এটি করা হয়েছে ধর্মীয় মূল পাঠসমূহ, সালাফদের হিদায়াত এবং বর্তমান যুগের অভিজ্ঞতার আলোকে; যাতে অযোগ্য কেউ দাওয়াতের কাজে নিজেকে জড়িয়ে না ফেলে এবং দাওয়াতের সঠিক পদ্ধতি সম্পর্কে অজ্ঞ ব্যক্তিদের আচরণের কারণে ইসলামের নির্মল ভাবমূর্তি যেন কলুষিত না হয়।
(খণ্ড: ১)
আদ-দীনুল আলামী ওয়া মানহাজুদ দাওয়াতি ইলাইহি
(পৃষ্ঠা: ৫)
والكتاب فى صورته المصغرة المنتقاة من مؤلف ضخم فى هذا الموضوع، شاهد صدق من الشواهد الكثيرة على أن الأزهر الذى ظل منارة الثقافة الإسلامية أكثر من ألف عام، لم يغب عن الساحة مطلقًا، فهو بجميع هيئاته حاضر يتفاعل مع الأحداث، ويشق طريقه فى الإصلاح بكل ثقة وصبر ومصابرة راجيا من الله المثوبة، وداعيا للأمة الإسلامية أن يلهمها الله الرشد حتى تعود إلى الدين الذى يخرجهم من الظلمات إلى النور، وصدقا الله العظيم إذ يقول: {فَمَنِ اتَّبَعَ هُدَايَ فَلَا يَضِلُّ وَلَا يَشْقَى} وبالله التوفيق، ، ،
الأمين العام لمجمع البحوث الإسلامية
أ. د/ عبد الفتاح بركة
এই বিষয়ের ওপর রচিত একটি সুবিশাল গ্রন্থ থেকে সংকলিত এবং সংক্ষিপ্ত রূপের এই বইটি সেই বহুবিধ নিদর্শনের একটি সত্য সাক্ষ্য যে, আল-আযহার—যা এক হাজার বছরেরও বেশি সময় ধরে ইসলামি সংস্কৃতির আলোকবর্তিকা হিসেবে টিকে আছে—কখনোই ময়দান থেকে বিচ্যুত হয়নি। বরং এটি তার সকল অঙ্গ-সংগঠনসহ সক্রিয় থেকে সমসাময়িক ঘটনাবলির সাথে মিথস্ক্রিয়া করছে এবং আল্লাহর নিকট প্রতিদানের প্রত্যাশা রেখে অত্যন্ত আস্থা (ثقة), ধৈর্য ও স্থৈর্যের সাথে সংস্কারের পথে অগ্রসর হচ্ছে। সেই সাথে মুসলিম উম্মাহর জন্য আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করছে যেন তিনি তাদের সঠিক পথের দিশা দান করেন, যাতে তারা সেই দ্বীনের পথে ফিরে আসতে পারে যা তাদের অন্ধকার থেকে আলোর পথে বের করে আনে। মহান আল্লাহ সত্যই বলেছেন: "অতঃপর যে আমার প্রদর্শিত পথ অনুসরণ করবে, সে পথভ্রষ্ট হবে না এবং দুর্ভাগাও হবে না।" আর আল্লাহর কাছেই সকল তাওফিক।
মহাসচিব, ইসলামি গবেষণা কমপ্লেক্স
অধ্যাপক ড. আবদ আল-ফাত্তাহ বারাকা
(খণ্ড: ১)
আদ-দীনুল আলামী ওয়া মানহাজুদ দাওয়াতি ইলাইহি
(পৃষ্ঠা: ৬)
بسم الله الرحمن الرحيم
مقدمةالحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على أشرف المرسلين، سيدنا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين.
أما بعد: فقد اقتضت حكمة الله تعالى ألا يدع عباده يسيرون فى الحياة على غير هدى، ولا أن يتركهم لعقولهم التى قد تغلبها الأهواء فتضل وتغوى، فأرسل إليهم رسلا حدد مهمتهم بقوله: "رسلا مبشرين ومنذرين" (1)، وبين حكمة إرسالهم بقوله: {لِئَلَّا يَكُونَ لِلنَّاسِ عَلَى اللَّهِ حُجَّةٌ بَعْدَ الرُّسُلِ} (2)، وكان فى كل جماعة من الجماعات البشرية الهامة من يرشدها كما قال سبحانه: {وَإِنْ مِنْ أُمَّةٍ إِلَّا خَلَا فِيهَا نَذِيرٌ} (3)، وكان هؤلاء المرشدون من الكثرة بحيث قال الله فيهم: {وَكَمْ أَرْسَلْنَا مِنْ نَبِيٍّ فِي الْأَوَّلِينَ} (4)، على ما تفيده "كم" الخبرية من التكثير، وكفانا مئونة عدهم فقال:
--------------------------------------------
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
ভূমিকাসমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। আর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক রাসূলগণের মধ্যে শ্রেষ্ঠতম আমাদের নেতা মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সকল সঙ্গীদের ওপর।
অতঃপর: মহান আল্লাহর প্রজ্ঞার দাবি ছিল এই যে, তিনি তাঁর বান্দাদেরকে হেদায়াতহীন অবস্থায় জীবনে চলতে দেবেন না এবং তাদেরকে তাদের নিজস্ব বুদ্ধিবৃত্তির ওপর ছেড়ে দেবেন না, যাকে প্রবৃত্তি পরাভূত করতে পারে, ফলে তা পথভ্রষ্ট ও বিভ্রান্ত হতে পারে। তাই তিনি তাদের কাছে রাসূলগণকে পাঠিয়েছেন এবং তাঁদের দায়িত্ব নির্দিষ্ট করে দিয়ে বলেছেন: "রাসূলগণ সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে" (১)। আর তিনি তাঁদের প্রেরণের হিকমত বর্ণনা করে বলেছেন: {যাতে রাসূলগণের পর আল্লাহর বিরুদ্ধে মানুষের কোনো অজুহাত না থাকে} (২)। আর প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ মানবগোষ্ঠীর মধ্যেই এমন কেউ ছিলেন যারা তাদের পথপ্রদর্শন করতেন, যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: {এমন কোনো জাতি নেই যার মধ্যে একজন সতর্ককারী অতিক্রান্ত হয়নি} (৩)। এই পথপ্রদর্শকগণ সংখ্যায় এত অধিক ছিলেন যে, তাঁদের সম্পর্কে আল্লাহ বলেছেন: {পূর্ববর্তীদের মধ্যে আমি কত নবী পাঠিয়েছি!} (৪); এখানে খবরিয়্যাহ "কাম" শব্দটি আধিক্য প্রকাশ করছে। আর তিনি তাঁদের গণনা করার শ্রম থেকে আমাদের নিষ্কৃতি দিয়ে বলেছেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদ-দীনুল আলামী ওয়া মানহাজুদ দাওয়াতি ইলাইহি
(পৃষ্ঠা: ৭)
{وَلَقَدْ أَرْسَلْنَا رُسُلًا مِنْ قَبْلِكَ مِنْهُمْ مَنْ قَصَصْنَا عَلَيْكَ وَمِنْهُمْ مَنْ لَمْ نَقْصُصْ عَلَيْكَ} (1)، وبين المقصد اللأكبر من "بعثهم فقال: "ولقد بعثنا فى كل أمة رسولا أن اعبدوا الله واجتنبوا الطاغوت" (2)، فقد وجهوا اهتمامهم أولا إلى إصلاح العقيدة ثم إلى إصلاح ما يرونه فى حاجة إلى إصلاح من السلوك.
ومما لا شك فيه أن البشرية فى تغير دائم ورقى مستمر، وأن المشاكل تزداد تعقدا كلما تعقدت الحياة وكثرت مطالبها، ولهذا كانت النظم والشرائع التى جاءت بها الرسل فى تغير وتطور، ما يصلح منها لجماعة لا يصلح لأخرى كما قال سبحانه: {لِكُلٍّ جَعَلْنَا مِنْكُمْ شِرْعَةً وَمِنْهَاجًا} (3).
والقرآن الكريم حين تحدث عن هذه الرسالات تحدث عنها فى إطار الخصوصية للأمم التى جاءت اليها، فكل رسالة للأمة لا تكلف بها أمة أخرى، وكل شريعة ينتهى عهدها بانتهاء من جاء بها، كما قال سبحانه: {وَإِذْ قَالَ عِيسَى ابْنُ مَرْيَمَ يَابَنِي إِسْرَائِيلَ إِنِّي رَسُولُ اللَّهِ إِلَيْكُمْ مُصَدِّقًا لِمَا بَيْنَ يَدَيَّ مِنَ التَّوْرَاةِ وَمُبَشِّرًا بِرَسُولٍ يَأْتِي مِنْ بَعْدِي اسْمُهُ أَحْمَدُ} (4).
--------------------------------------------
{নিশ্চয়ই আমি আপনার পূর্বে অনেক রাসূল (رسل) পাঠিয়েছি; তাদের মধ্যে কারো কাহিনী আমি আপনার কাছে বর্ণনা করেছি এবং কারো কাহিনী আমি আপনার কাছে বর্ণনা করিনি} (১), এবং তাদের প্রেরণের প্রধান উদ্দেশ্য স্পষ্ট করে তিনি বলেন: "নিশ্চয়ই আমি প্রত্যেক উম্মতের মধ্যে একজন রাসূল (رسول) পাঠিয়েছি এই নির্দেশ দিয়ে যে, তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো এবং তাগুতকে বর্জন করো" (২)। তারা তাদের মনোযোগ সর্বপ্রথম আকিদা (عقيدة) সংস্কারের দিকে নিবদ্ধ করেছিলেন এবং এরপর আচরণের সেই দিকগুলোর দিকে যা তারা সংস্কারের প্রয়োজন মনে করেছিলেন।
এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, মানবজাতি সর্বদা পরিবর্তনশীল এবং ক্রমাগত উন্নতির দিকে ধাবমান। জীবন যত জটিল হচ্ছে এবং এর চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে, সমস্যাগুলোও তত বেশি জটিল হচ্ছে। এই কারণেই রাসূলগণ যে সকল বিধান ও শরিয়তসমূহ (شرائع) নিয়ে এসেছিলেন, তাতেও পরিবর্তন ও বিবর্তন ছিল। কোনো এক সম্প্রদায়ের জন্য যা উপযোগী ছিল, তা অন্যের জন্য উপযোগী ছিল না, যেমনটি সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেছেন: {আমি তোমাদের প্রত্যেকের জন্য একটি শরিয়ত (شرعة) ও একটি কর্মপন্থা (منهاজ) নির্ধারণ করেছি} (৩)।
কুরআনুল কারিম যখন এই রিসালাতসমূহ (رسالات) সম্পর্কে আলোচনা করেছে, তখন তা সংশ্লিষ্ট উম্মতদের জন্য নির্দিষ্টতার প্রেক্ষাপটেই করেছে। সুতরাং কোনো উম্মতের জন্য নির্ধারিত রিসালাতের (رسالة) দায়িত্ব অন্য উম্মতের ওপর অর্পণ করা হয়নি এবং প্রতিটি শরিয়তের (شريعة) কার্যকাল তা আনয়নকারীর প্রস্থানের মাধ্যমেই সমাপ্ত হয়েছে; যেমনটি সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেছেন: {এবং স্মরণ করুন যখন মারইয়াম-তনয় ঈসা বলেছিলেন: হে বনী ইসরাইল! আমি তোমাদের প্রতি আল্লাহর প্রেরিত রাসূল (رسول), আমার পূর্ববর্তী তাওরাতের সত্যায়নকারী এবং আমার পরে আহমদ নামে যে রাসূল (رسول) আসবেন, আমি তাঁর সুসংবাদদাতা} (৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদ-দীনুল আলামী ওয়া মানহাজুদ দাওয়াতি ইলাইহি
(পৃষ্ঠা: ৮)
وكانت الإنسانية من عهد بعيد تستعد لطور جديد من الرقى الفكرى والاجتماعى، وإلى رسالة تتناسب مع ما بلغته من نضج ورشد، كما كان العالم قبيل ظهور الإسلام فى حاجة ماسة إلى من يأخذ بيده مما ارتكس فيه من ضلال، والى رسول تقوم دعوته على الأصول الإنسانية العامة التى تتخطى حواجز الجنس والبيئة والزمن والفوارق العارضة الأخرى، وعلى الإصلاح الشامل الذى يأسو كل جراح، ويروى كل ظمأ، ويحل كل عقدة، ويعالج كل مشكلة، وعلى تنظيم دقيق يساعد كل حى على أن يأخذ حقه فى الحياة فى عدالة تامة ومساواة شاملة، وحرية كاملة، وفى ظل من الأخوة والرحمة والمحبة والتعاون، وعلى منهج يصحح العقيدة، ويقوم الفكر، ويصلع الفاسد من السلوك، ويضع قواعد الاجتماع ونظام الحكم على أساس سليم. فكانت رسالة الإسلام، وكان محمد صلى الله عليه وسلم، كانت رسالة الإسلام العامة الخالدة، الصالحة لكل زمان ومكان، وكان محمد خاتم الأنبياء والمرسلين.
وسأحاول فى هذا البحث أن أجلح فى اختصار بالغ -عالمية الدين الاسلامى، وكيف انتشر نوره، واستفاد العالم من هدايته، وما يجب علينا إزاء الدعوة إليه
মানবজাতি সুদূর অতীত থেকেই বুদ্ধিবৃত্তিক ও সামাজিক প্রগতির এক নতুন স্তরের এবং তাদের অর্জিত পরিপক্কতা ও প্রজ্ঞার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি বার্তার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিল। ঠিক যেমন ইসলাম আবির্ভাবের প্রাক্কালে বিশ্ব এমন একজনের মুখাপেক্ষী ছিল, যিনি তাদেরকে সেই পথভ্রষ্টতা থেকে উদ্ধার করবেন যাতে তারা নিমজ্জিত ছিল। বিশ্ব এমন এক রাসূলের প্রত্যাশী ছিল যার দাওয়াত (دعوة) এমন সব সাধারণ মানবিক মূলনীতির (أصول) ওপর প্রতিষ্ঠিত হবে যা জাতি, পরিবেশ, কাল এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক পার্থক্যের দেয়াল অতিক্রম করে যায়; এবং যা এমন এক সামগ্রিক সংস্কারের ওপর ভিত্তি করে যা প্রতিটি ক্ষত নিরাময় করে, সকল তৃষ্ণা নিবারণ করে, সকল জটিলতা নিরসন করে এবং প্রতিটি সমস্যার সমাধান দেয়। পাশাপাশি এটি এমন এক নিখুঁত শৃঙ্খলার ওপর প্রতিষ্ঠিত যা প্রতিটি প্রাণীকে পূর্ণ ন্যায়বিচার, ব্যাপক সমতা এবং পূর্ণ স্বাধীনতার সাথে জীবনে তার প্রাপ্য অধিকার আদায়ে সহায়তা করে এবং যেখানে ভ্রাতৃত্ব, রহমত, ভালোবাসা ও সহযোগিতার ছায়া বিদ্যমান থাকে। অধিকন্তু এটি এমন একটি পদ্ধতির (منهج) ওপর প্রতিষ্ঠিত যা আকিদাকে (عقيدة) সংশোধন করে, চিন্তাধারাকে সুসংহত করে, আচরণের কলুষতা সংস্কার করে এবং সমাজ ও শাসন ব্যবস্থার নিয়মাবলিকে এক সুদৃঢ় ভিত্তির ওপর স্থাপন করে। অতঃপর ইসলামের রিসালাত আসলো এবং মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রেরিত হলেন। এটি ছিল ইসলামের সর্বজনীন ও শাশ্বত রিসালাত, যা সর্বকাল ও সর্বস্থানের জন্য উপযোগী; আর মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ছিলেন নবী ও রাসূলগণের পরিসমাপ্তি।
আমি এই গবেষণাপত্রে অত্যন্ত সংক্ষেপে ইসলাম ধর্মের বিশ্বজনীনতা, কীভাবে এর আলো বিচ্ছুরিত হলো, বিশ্ব কীভাবে এর হেদায়াত (هداية) দ্বারা উপকৃত হলো এবং এই দাওয়াতের (دعوة) প্রতি আমাদের করণীয় কী—তা সুস্পষ্ট করার চেষ্টা করব।
(খণ্ড: ১)
আদ-দীনুল আলামী ওয়া মানহাজুদ দাওয়াতি ইলাইহি
(পৃষ্ঠা: ৯)
فى كل أقطار العالم، تحقيقا لقوله تعالى: {هُوَ الَّذِي أَرْسَلَ رَسُولَهُ بِالْهُدَى وَدِينِ الْحَقِّ لِيُظْهِرَهُ عَلَى الدِّينِ كُلِّهِ وَكَفَى بِاللَّهِ شَهِيدًا} (1).
والله أسأل أن يجعله خالصا لوجهه، وأن يوفقنا للعمل بما فيه، إنه سميع مجيب، ، ،
عطية صقر
--------------------------------------------
বিশ্বের সকল প্রান্তে, মহান আল্লাহর এই বাণীর বাস্তবায়ন স্বরূপ: {তিনিই তাঁর রসূলকে হিদায়াত ও সত্য দ্বীনসহ প্রেরণ করেছেন যেন তিনি একে সকল দ্বীনের ওপর বিজয়ী করেন; আর সাক্ষী হিসেবে আল্লাহই যথেষ্ট} (১)।
আর আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন একে একান্তভাবে তাঁর সন্তুষ্টির জন্য কবুল করেন এবং এতে যা রয়েছে তা অনুযায়ী আমল করার তাওফিক দান করেন; নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা, প্রার্থনা কবুলকারী...
আতিয়্যাহ সাকর
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদ-দীনুল আলামী ওয়া মানহাজুদ দাওয়াতি ইলাইহি
(পৃষ্ঠা: ১০)
معنى عالمية الدينالدين هو الوضع الإلهى الذى اختاره الله لعباده ليصلحهم فى الحياتين، ويكون عالميا بعدم اختصاصه بجنس من الأجناس البشرية، وبعدم انحصار تطبيقه فى إقليم خاص أو بيئة معينة، وبامتداد هدايته أزمانا طويلة تتجاوز العصر الذى بدأت فيه، بمعنى أن يكون الدين صالحًا لكل جنس وكل جيل، أو لكل زمان ومكان، أو بمعنى آخر أن يكون الدين شريعة الإنسان من حيث هو إنسان، بقطع النظر عن العوامل والفوارق العارضة، التى لا تدخل فى ماهية الإنسان كإنسان، وبدون ذلك لا يتحقق معنى العالمية فى أى دين.
فهو لا يكون دين جنس تميزه فصيلة الدم، أو سمة اللون، أو ظاهرة اللغة، بل دينا لا يفرقا بين العربى والعجمى والحبشي والرومى، ولا بين الأبيض والأسود والأحمر والأصفر، ولا يمنع من أن يستظل بلوائه متكلم بأية لغة من اللغات، وهو لا يكون دينا محليا تحده حدود جغرافية واعتبارات إقليمية، بل يصلح لكل البيئات وكل الأجواء ويتناسب مع كل بقعة زراعية وصناعية وتجارية، برية وبحرية، بدوية
দীনের বিশ্বজনীনতার (عالمية) অর্থদীন হলো আল্লাহ প্রদত্ত সেই খোদায়ী বিধান (الوضع الإلهى) যা তিনি তাঁর বান্দাদের জন্য মনোনীত করেছেন যাতে উভয় জীবনে তাদের সংশোধন ও কল্যাণ সাধিত হয়। কোনো বিশেষ মানবজাতির সাথে নির্দিষ্ট না হওয়া, কোনো বিশেষ অঞ্চল বা নির্দিষ্ট পরিবেশে এর প্রয়োগ সীমাবদ্ধ না থাকা এবং এর হিদায়াত (هداية) এর ব্যাপ্তি এর সূচনাকালীন সময়কে অতিক্রম করে সুদীর্ঘ কাল পর্যন্ত বিস্তৃত হওয়ার মাধ্যমেই এটি বিশ্বজনীন (عالمي) হয়ে থাকে। এর অর্থ হলো, এই দীন প্রতিটি জাতি ও প্রতিটি প্রজন্মের জন্য, অথবা প্রতিটি কাল ও স্থানের জন্য উপযোগী। অন্য কথায়, মানুষ হিসেবে মানুষের জন্য এই দীন হবে একটি জীবনবিধান (شريعة); যেখানে মানুষের মানুষ হওয়ার মৌল সত্তার (ماهية) বহির্ভূত আপতিক বিষয় ও পার্থক্যসমূহকে বিবেচনা করা হবে না। এই বৈশিষ্ট্যগুলো ব্যতিরেকে কোনো দীনের মধ্যেই বিশ্বজনীনতার (عالمية) মর্মার্থ বাস্তবায়িত হয় না।
এটি এমন কোনো বিশেষ জাতির দীন নয় যা রক্তের গ্রুপ, বর্ণের বৈশিষ্ট্য কিংবা ভাষার নিরিখে স্বতন্ত্র; বরং এটি এমন এক দীন যা আরব (عربي), অনারব (عجمي), হাবশি (حبشي) ও রোমানদের (رومي) মধ্যে কোনো পার্থক্য করে না, এবং শ্বেতাঙ্গ, কৃষ্ণাঙ্গ, লাল কিংবা পীত বর্ণের মানুষের মধ্যে কোনো বিভেদ করে না। যেকোনো ভাষায় কথা বলা মানুষের জন্য এই দীনের পতাকাতলে আশ্রয় গ্রহণে কোনো বাধা নেই। এটি কোনো আঞ্চলিক দীন নয় যা ভৌগোলিক সীমানা ও আঞ্চলিক বিবেচনার দ্বারা সীমাবদ্ধ, বরং এটি সকল পরিবেশ ও পরিস্থিতির জন্য উপযোগী এবং প্রতিটি কৃষি, শিল্প ও বাণিজ্যিক জনপদ—তা স্থলভাগ হোক বা জলভাগ, যাযাবর (بدوية)
(খণ্ড: ১)
আদ-দীনুল আলামী ওয়া মানহাজুদ দাওয়াতি ইলাইহি
(পৃষ্ঠা: ১১)
وحضرية على اختلاف المستويات المادية والاعتبارات الأخرى.
وهو لا يكون دينا عالميا إلا إذا صحب الإنسان فى جميع أزمانه المتطورة، وعصوره المتلاحقة، بمعنى أن يكون خالدا لا يعتريه نسخ أو زوال، ولا عقم أو جمود، موفيا بجميع مطالبه المتنوعة المتجددة في الميادين السياسية والثقافية والاقتصادية والاجتماعية، وفى كل الميادين التى يزاول فيها الإنسان بعقله الواسع نشاطه الكامل من كل نوع.
ولا يوجد دين من الأديان السماوية أو الوضعية فيه هذه المواصفات التى تجعله عالميا إلا دين الإسلام، فالدينان السماويان الكبيران وهما اليهودية والنصرانية، كل منهما خاص بقومه وبعصره.
فاليهودية لا تصلح أن تكون دينا عالميا لأنها مرتبطة بشعب معين تعرض للتشريد غير مرة، تقوم حياته على العصبية الحادة والعنصرية الجامحة، ذلك أنهم يحاولون أن يستأثروا بعبادة إله وصفوه بأوصاف خاصة، ويعتقدون أنهم شعب الله المختار وأن غيرهم أميون، ويستبيحون من غيرهم ما لا يستبيحون من أنفسهم كالربا، فهل مثل هذا الدين يصلح أن يكون عالميًا؟ .
এবং বস্তুগত স্তর ও অন্যান্য অনুষঙ্গের বৈচিত্র্য সত্ত্বেও তা নাগরিক জীবনের উপযোগী।
আর কোনো ধর্ম ততক্ষণ পর্যন্ত বিশ্বজনীন হতে পারে না, যতক্ষণ না তা বিবর্তনশীল সকল জামানায় এবং পরবর্তী যুগসমূহে মানুষের সহগামী হয়। অর্থাৎ একে এমন শাশ্বত হতে হবে যা কোনো রহিতকরণ (نسخ) বা বিলুপ্তির সম্মুখীন হবে না এবং যাতে কোনো বন্ধ্যাত্ব বা স্থবিরতা থাকবে না। এটি রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রসহ সকল পরিমণ্ডলে মানুষের বিচিত্র ও নিত্যনতুন প্রয়োজন পূরণ করবে, যেখানে মানুষ তার সুবিস্তৃত প্রজ্ঞা দ্বারা যাবতীয় কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে।
আসমানি বা মানব রচিত ধর্মসমূহের মধ্যে ইসলাম ব্যতীত এমন কোনো ধর্ম নেই যা এই বৈশিষ্ট্যগুলো ধারণ করে এবং যা তাকে বিশ্বজনীন করতে পারে। কেননা প্রধান দুটি আসমানি ধর্ম—ইহুদি ও খ্রিষ্টধর্ম—তাদের প্রত্যেকের নির্দিষ্ট জাতি ও সময়ের জন্য সীমিত ছিল।
ইহুদি ধর্ম বিশ্বজনীন হওয়ার যোগ্য নয়, কারণ এটি একটি নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর সাথে সম্পৃক্ত যারা একাধিকবার বাস্তুচ্যুতির শিকার হয়েছে। তাদের জীবনধারা চরম গোত্রবাদ ও বলগাহীন বর্ণবাদের ওপর প্রতিষ্ঠিত। কারণ তারা এমন এক উপাস্যের ইবাদতকে নিজেদের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে চায় যাকে তারা বিশেষ কিছু গুণের মাধ্যমে বিশেষায়িত করেছে। তারা বিশ্বাস করে যে, তারা আল্লাহর মনোনীত জাতি এবং অন্যরা অশিক্ষিত (أميون)। তারা অন্যদের ক্ষেত্রে এমন বিষয়কে বৈধ মনে করে যা নিজেদের জন্য বৈধ মনে করে না, যেমন সুদ। এমতাবস্থায় এ জাতীয় ধর্ম কি বিশ্বজনীন হওয়ার যোগ্য হতে পারে?
(খণ্ড: ১)
আদ-দীনুল আলামী ওয়া মানহাজুদ দাওয়াতি ইলাইহি
(পৃষ্ঠা: ১২)
على أنه لا يوجد نص فى التوراة يتحدث عن هذه العالمية، فهى دين أسرة بشرية واحدة هى بنو إسرائيل وهم يكرهون أن يدخل بينهم غير عنصرهم. يقول المسيو (جوليان ويل) حاخام باريس فى كتابه (اليهودية): يجب على كل ربانى أن يرد كل طالب الدخول فى عهد إبراهيم ثلاث مرات، لافتا نظره إلى الصعوبات التى سيصادفها، والتكاليف الشاقة التى سيتحملها، والأخطار التى سيتعرض لها، فإذا أصر على طلبه وتحقق الربانى أن الدواعى التى تحدوه للتهود طاهرة ونزيهة فيمكنه أن يقبله فى حظيرة البيعة. ثم قال: هذا التحفظ فى أمر طالبى التهود دعت إليه طبيعة اليهودية ونظامها الخاص الذى لا يقصد به إلا الإسرائيلى بأدق معانى هذه الكلمة، وأوجبه كذلك ما فى اليهودية من التكاليف الكثيرة التى يستدعى العمل بها نكران الذات والأخشيشان والثبات والشجاعة وأحيانا البطولة أيضًا (1).
وغاية ما يتمسك به اليهود فى ادعاء عموم رسالتهم ما ورد فى كتابهم من أن بنى إسرائيل سيكونون محكمين للأمم، ومربين للشعوب القوية، وأنه -قبيل قيام الساعة- سيتفق العالم كله على عبادة الله اتباعا
--------------------------------------------
তাওরাতে এমন কোনো নস (نص) বিদ্যমান নেই যা এই বিশ্বজনীনতা নিয়ে আলোচনা করে; বরং এটি একটি মাত্র মানবীয় পরিবারের ধর্ম, আর তা হলো বনী ইসরাঈল। তারা তাদের মাঝে নিজ বংশোদ্ভূত নয় এমন কারো অনুপ্রবেশ অপছন্দ করে। প্যারিসের রিব্বি জুলিয়েন ওয়েল তার 'আল-ইয়াহুদিয়্যাহ' নামক গ্রন্থে বলেন: "প্রত্যেক রিব্বির কর্তব্য হলো ইব্রাহিমী চুক্তিতে প্রবেশ করতে ইচ্ছুক প্রত্যেক প্রার্থীকে তিনবার প্রত্যাখ্যান করা; তাকে সেই সব সমস্যার প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করা যা সে মোকাবিলা করবে, যে কষ্টসাধ্য বিধানগুলো তাকে বহন করতে হবে এবং যে বিপদের সম্মুখীন সে হতে পারে সে সম্পর্কে তাকে সচেতন করা। অতঃপর যদি সে তার দাবিতে অটল থাকে এবং রিব্বি নিশ্চিত হন যে তার ইহুদি হওয়ার পেছনে প্রেরণাগুলো পবিত্র ও নিষ্কলুষ, তবে তিনি তাকে এই ধর্মীয় সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত করে নিতে পারেন।" এরপর তিনি বলেন: "ইহুদি হতে ইচ্ছুকদের ব্যাপারে এই সতর্কতা অবলম্বনের কারণ হলো ইহুদিবাদের প্রকৃতি ও এর বিশেষ ব্যবস্থা, যা কেবল ইসরাঈলিদের জন্যই নির্দিষ্ট—এই শব্দের অতি সূক্ষ্ম অর্থ অনুযায়ী। একইভাবে এটি আবশ্যক হওয়ার কারণ হলো ইহুদি ধর্মে বিদ্যমান অসংখ্য বিধান বা দায়-দায়িত্ব, যা পালন করার জন্য আত্মত্যাগ, কঠোর কৃচ্ছ্রসাধন, অবিচলতা, সাহসিকতা এবং কখনও কখনও বীরত্বেরও প্রয়োজন হয় (১)।"
ইহুদিরা তাদের দাওয়াতের সর্বজনীনতা দাবির স্বপক্ষে সর্বোচ্চ যা আঁকড়ে ধরে তা হলো তাদের কিতাবে যা বর্ণিত হয়েছে যে, বনী ইসরাঈল হবে জাতিসমূহের বিচারক এবং শক্তিশালী জাতিসমূহের শিক্ষক। আর কিয়ামতের (قيام الساعة) পূর্বমুহূর্তে পুরো বিশ্ব আল্লাহর ইবাদতের আনুগত্যের ক্ষেত্রে একমত হবে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদ-দীনুল আলামী ওয়া মানহাজুদ দাওয়াতি ইলাইহি
(পৃষ্ঠা: ১৩)
لديانة بنى إسرائيل، إذ يكونون قد عقدوا مع الخالق عهدا جديدا، فيضطر الناس إلى القيام عليه.
لكن هذا القول يثبت أن دينهم لا يصلح الآن، ولا فى عهده الأول لقيادة البشر عامة، بل سيكون ذلك، على زعمهم، قبيل قيام الساعة، على فرض صحة هذه النصوص. وأنى لها أن تكون صحيحة وقد حكم القرآن بأنهم حرفوا الكلم عن مواضعه، وبدلوا كتاب الله، وغيروا معالمه؛ لقد استبدلوا به (تلمودا) مملوءا بالتعاليم الشاذة القائمة على الفساد والإفساد ليبسطوا نفوذهم على العالم كله بأية وسيلة تكون.
ولو نظرنا إلى المسيحية لرأينا أنها عند تقرير العقيدة لا تعتمد على الدليل المقنع، بل توجب أن تؤخذ بالتسليم المطلق، والعقول فى تطورها جريا على سنن الله الكونية، تأبى أن تظل حبيسة التقليد أو التلقين.
كما أنها تنادى بالزهد البالغ والرهبانية الشديدة، وتحرم الأغنياء أن يدخلوا ملكوت السموات، ويعقب على هذا أحد كتابهم وهو "الدكتور نظمى لوقا" فى كتابه "محمد، الرسالة والرسول" فيقول: وهذا السلوك لا يصلح له كل قلب، ولم تنضج البشرية
বনী ইসরায়েলের ধর্মের ক্ষেত্রে, তারা স্রষ্টার সাথে একটি নতুন অঙ্গীকারে আবদ্ধ হয়েছে বলে মনে করা হয়, যার ফলে মানুষ তা মেনে চলতে বাধ্য হয়।
কিন্তু এই বক্তব্য এটিই প্রমাণ করে যে, তাদের ধর্ম বর্তমানে কিংবা তার প্রাথমিক যুগে—সাধারণভাবে মানবজাতিকে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য উপযুক্ত নয়। বরং তাদের দাবি অনুযায়ী, এই পাঠ্যগুলোর বিশুদ্ধতা (صحة) ধরে নিলেও এটি কেবল কেয়ামতের পূর্বমুহূর্তে কার্যকর হবে। কিন্তু এগুলো কীভাবে বিশুদ্ধ (صحيح) হতে পারে, যখন কুরআন ফয়সালা দিয়েছে যে তারা শব্দগুলোকে তাদের সঠিক স্থান থেকে বিচ্যুত করেছে, আল্লাহর কিতাব পরিবর্তন করেছে এবং এর নিদর্শনসমূহ বদলে দিয়েছে? তারা এর পরিবর্তে এমন এক 'তালমুদ' গ্রহণ করেছে যা ফিতনা ও ফাসাদের ওপর প্রতিষ্ঠিত এবং বিভ্রান্তিকর শিক্ষায় পূর্ণ, যাতে তারা যেকোনো উপায়ে পুরো বিশ্বের ওপর তাদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে পারে।
আর আমরা যদি খ্রিস্টধর্মের দিকে তাকাই, তবে দেখব যে আকিদা নির্ধারণের ক্ষেত্রে এটি কোনো সন্তোষজনক প্রমাণের ওপর নির্ভর করে না, বরং নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের দাবি রাখে। অথচ মানুষের বুদ্ধি-বিবেচনা আল্লাহর মহাজাগতিক নিয়মানুযায়ী বিবর্তনের ধারায় অন্ধ অনুকরণ বা কেবল নির্দিষ্ট বুলি গেলা শিক্ষার শিকলে বন্দি থাকতে অস্বীকার করে।
একইভাবে তা চরম বৈরাগ্য ও কঠোর সন্ন্যাসবাদের আহ্বান জানায় এবং ধনীদের জন্য আসমানি সাম্রাজ্যে প্রবেশ করা নিষিদ্ধ করে। এ বিষয়ে তাদেরই একজন লেখক 'ডক্টর নাজমি লুকা' তাঁর 'মুহাম্মদ: আর-রিসালাহ ওয়ার রাসুল' গ্রন্থে মন্তব্য করতে গিয়ে বলেন: "এই আচরণ সব হৃদয়ের জন্য উপযুক্ত নয়, এবং মানবজাতি (এতে) পরিপক্বতা অর্জন করেনি..."
(খণ্ড: ১)
আদ-দীনুল আলামী ওয়া মানহাজুদ দাওয়াতি ইলাইহি
(পৃষ্ঠা: ১৪)
نضوجا تاما متساوقا، ليمكنها أن تتلقى هذا التعليم، فلا يصلح لذلك إلا الأفذاذ من الناس. أما السواد الأعظم فللحس على قلوبهم أبدا سلطان غير مجحود ولا مردود (1).
وفى المسيحية تسامح متناه وعفو واسع، ومن المعلوم أن امتثال هذه الأوامر يتعذر على غير الأذلة المستضعفين من الناس، وقد يكون من أكبر المفاسد بإغراء الأقوياء بالضعفاء الخاضعين.
وكانت هذه السياسة صالحة لتقاوم بها عوامل التنافس والصراع المادى اليهودى، ولا تصلح لعمران يراد له أن يطمئن على حقوقه ومقدساته.
على أن سيدنا عيسى عليه السلام بدأ دعوته ببنى إسرائيل خاصة، كما جاء فى إنجيل متى وهو يقص محاورة المرأة الكنعانية لعيسى، وهى غير إسرائيلية، فأجاب عيسى وقال: لم أرسل إلا إلى خراف بني إسرائيل الضالة (2). فليس فى المسيحية نص على عالميتها، وما نشطت الدعوة إليها إلا بعد اعتناق الرومان لها، وقد بقيت نحو ثلاثة قرون محصورة فى طوائف مبعثرة، ولم تقم لها دولة إلى أن تولى
--------------------------------------------
পূর্ণাঙ্গ ও সুসংগত পরিপক্কতা, যাতে তারা এই শিক্ষা গ্রহণ করতে সক্ষম হয়। তাই মানুষের মধ্যে কেবল অসাধারণ ও অনন্য ব্যক্তিরাই এর উপযুক্ত হতে পারেন। পক্ষান্তরে, সাধারণ জনগণের হৃদয়ের ওপর ইন্দ্রিয়লব্ধ অনুভূতির এক অনস্বীকার্য ও অখণ্ডনীয় কর্তৃত্ব সর্বদা বিদ্যমান থাকে (১)।
খ্রিস্টধর্মে রয়েছে চরম সহনশীলতা ও ব্যাপক ক্ষমাশীলতা। এটা সুবিদিত যে, লাঞ্ছিত ও দুর্বল শ্রেণির মানুষ ছাড়া অন্যদের পক্ষে এসব নির্দেশ পালন করা দুঃসাধ্য। আর এটি শক্তিশালী পক্ষকে অনুগত ও দুর্বলদের ওপর চড়াও হতে প্ররোচিত করার মাধ্যমে এক ভয়াবহ বিপর্যয়ের কারণ হতে পারে।
এই নীতি ইহুদিদের জাগতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও সংঘাতের উপাদানগুলো প্রতিহত করার জন্য উপযোগী ছিল; তবে এটি এমন কোনো সভ্যতার জন্য উপযোগী নয়, যা তার অধিকার ও পবিত্র বিষয়গুলোর সুরক্ষায় নিশ্চিন্ত হতে চায়।
তাছাড়া, আমাদের সাইয়্যিদুনা ঈসা আলাইহিস সালাম বিশেষভাবে বনী ইসরাঈলের নিকট তাঁর দাওয়াত শুরু করেছিলেন, যেমনটি মথি লিখিত সুসমাচারে বর্ণিত হয়েছে। সেখানে ঈসা (আ.)-এর সাথে একজন কনানীয় নারীর কথোপকথন উল্লেখ করা হয়েছে, যিনি ইসরাঈলী ছিলেন না। তখন ঈসা (আ.) উত্তর দিয়ে বললেন: “আমি কেবল বনী ইসরাঈলের হারানো মেষদের কাছেই প্রেরিত হয়েছি” (২)। সুতরাং খ্রিস্টধর্মে এর বৈশ্বিকতা সম্পর্কে কোনো সুস্পষ্ট পাঠ (نص) নেই। রোমানরা এটি গ্রহণ করার আগ পর্যন্ত এর দাওয়াতী তৎপরতা জোরদার হয়নি। প্রায় তিন শতাব্দী পর্যন্ত এটি বিচ্ছিন্ন কিছু দলের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল এবং এর জন্য কোনো রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়নি যে পর্যন্ত না...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদ-দীনুল আলামী ওয়া মানহাজুদ দাওয়াতি ইলাইহি
(পৃষ্ঠা: ১৫)
الامبراطورية الرومانية (قسطنطين الأول) وكانت أمه قد ربته على المسيحية فحمل قومه عليها، وأمر بتحطيم الهياكل والمعابد الوثنية، واعتبر النصرانية دينا رسميا للإمبراطورية (274 - 337 م). ومن ذلك الحين قام النصارى بإرسال بعثات التبشير إلى البلاد النائية.
وإذا كان هذا شأن الدينين الكبيرين بعد الإسلام، فأولى بعدم العالمية الأديان الأخرى.
রোমান সাম্রাজ্য (প্রথম কনস্টানটাইন), তাঁর মা তাঁকে খ্রিস্টধর্মের আদর্শে লালন-পালন করেছিলেন, ফলে তিনি তাঁর জাতিকে এই ধর্মের অনুসারী হতে উদ্বুদ্ধ করেন। তিনি মূর্তিপূজকদের উপাসনালয় ও মন্দিরসমূহ ধ্বংস করার নির্দেশ প্রদান করেন এবং খ্রিস্টধর্মকে সাম্রাজ্যের রাষ্ট্রীয় ধর্ম হিসেবে ঘোষণা করেন (২৭৪ - ৩৩৭ খ্রি.)। সেই সময় থেকেই খ্রিস্টানরা দূরদূরান্তের দেশগুলোতে ধর্ম প্রচারক দল পাঠাতে শুরু করে।
ইসলামের পর এই দুটি বৃহৎ ধর্মের অবস্থা যদি এমন হয়, তবে অন্যান্য ধর্মগুলোর বিশ্বজনীন না হওয়াটাই অধিক যুক্তিযুক্ত।
(খণ্ড: ১)
আদ-দীনুল আলামী ওয়া মানহাজুদ দাওয়াতি ইলাইহি
(পৃষ্ঠা: ১৬)
الإسلام هو الدين العالمىهذه قضية لابد لها من أدلة تدعمها وشواهد تثبتهما، وسأحاول أن أجعلها فى مجموعات ثلاثة: مجموعة الأدلة النقلية، ومجموعة الأدلة الذاتية، ومجموعة الأدلة الواقعية.
وأعنى بالمجموعة الأولى، الأدلة الواردة فى الكتاب والسنة من قول النبي صلى الله عليه وسلم وفعله، وهى التى يقتنع بها المؤمنون المصدقون بهما، وهؤلاء فى غير حاجة إلى إيرادها لأن العقيدة الدينية لا تدع فى قلوب المؤمنين مجالا للشك في هذه القضية، وإلا كان كفرا. ولكننا نوردها لنزيدهم إيمانا، وليعرفها من يجهلها، ولنرد بها على من طعنوا فى الإسلام بأن عالميته من اختراع أتباعه، لا من نصوصه.
ومجموعة الأدلة الثانية أقصد بها المقومات الأساسية والعوامل الرئيسية التى اشتمل عليها الدين، وهذا الأسلوب فى الاستدلال يعتمد على فقه الموضوع وتحليل نصوص الدعوة، وتلمس النواحى المشرقة الحية فى مبادئها، وربطها بواقع الحياة وسنن الكون، وبيان مقدار ملاءمتها للسلوك الإنسانى فى جميع أطواره،
ইসলাম হলো বিশ্বজনীন ধর্মএটি এমন একটি বিষয় যার সমর্থনে দলিল এবং যা প্রমাণে নিদর্শনের আবশ্যকতা রয়েছে। আমি এই দলিলগুলোকে তিনটি শ্রেণিতে বিন্যস্ত করার চেষ্টা করব: শ্রুতিনির্ভর দলিলের (الأدلة النقلية) সমষ্টি, সত্তাগত দলিলের সমষ্টি এবং বাস্তবধর্মী দলিলের সমষ্টি।
প্রথম শ্রেণি বলতে আমি কিতাব ও সুন্নাহতে বর্ণিত সেই দলিলসমূহকে বোঝাচ্ছি যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী ও কর্ম থেকে প্রাপ্ত। যারা এ দুটির প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করেছেন ও সত্যায়ন করেছেন, তারা এগুলোর ব্যাপারে সন্তুষ্ট। তাদের কাছে এগুলো উপস্থাপনের প্রয়োজন নেই, কারণ ধর্মীয় আকিদা মুমিনদের অন্তরে এই বিষয়ে সন্দেহের কোনো অবকাশ রাখে না; অন্যথায় তা কুফর হিসেবে গণ্য হবে। কিন্তু আমরা এগুলো উল্লেখ করছি তাদের ঈমান বৃদ্ধি করার জন্য, যারা এ বিষয়ে অবগত নন তাদের জানানোর জন্য এবং ইসলামের ওপর যারা অপবাদ দেয় যে, এর বিশ্বজনীনতা কেবল তার অনুসারীদের উদ্ভাবন, এর মূল পাঠসমূহ (النصوص) থেকে উৎসারিত নয়—তাদের জবাব দেওয়ার জন্য।
দ্বিতীয় শ্রেণির দলিল বলতে আমি ধর্মের অন্তর্ভুক্ত মৌলিক উপাদান ও প্রধান কারকগুলোকে উদ্দেশ্য করেছি। দলিল উপস্থাপনের এই পদ্ধতিটি সংশ্লিষ্ট বিষয়ের প্রাজ্ঞতা এবং দাওয়াতের মূল পাঠসমূহের (النصوص) বিশ্লেষণের ওপর নির্ভরশীল। এটি এর আদর্শিক মূলনীতিসমূহের উজ্জ্বল ও প্রাণবন্ত দিকগুলো অন্বেষণ করে, জীবনের বাস্তবতা ও মহাবিশ্বের নিয়মের সাথে সেগুলোর সমন্বয় ঘটায় এবং মানবীয় আচরণের সকল স্তরে এগুলোর উপযোগিতার মাত্রা স্পষ্ট করে।
(খণ্ড: ১)
আদ-দীনুল আলামী ওয়া মানহাজুদ দাওয়াতি ইলাইহি
(পৃষ্ঠা: ১৭)
وعلى مدى عصوره وأزمانه، وهذه المجموعة من الأدلة القائمة على هذا المنهج تفيد الباحثين من الأجانب عن الإسلام، وتفيد فى الرد على المتشككين فى صلاحيته لقيادة البشرية قيادة رشيدة.
والواقع التاريخى الذى جعلناه دليلا على عالمية الدين يعتبر تطبيقا لمبادئ هذه الدعوة وبيان حسن إنتاجها فى الحقل الذى زرعت فيه، وهى دليل صدق على فاعلية الأدلة الذاتية الموجودة فى المجموعة الثانية، وهذه الأدلة كلها متضامنة فى إثبات صدق هذه القضية، وهى عالمية الدين الإسلامى، وإليكم الحديث عن هذه الأدلة بنوع من التفصيل.
الأدلة النقلية على عالمية الدين الإسلامى:1 - من القرآن. جاءت آيات مكية تدل على أن وصف العالمية لازم الدعوة الإسلامية من أيامها الأولى، وترد على من زعموا أن عالمية الإسلام فكرة لم تكن عند محمد حين أرسل به، بل جاءت فى عهد خلفائه الذين تاقوا إلى القتال والتوسع بالفتوح، كما ردد ذلك "وليم موير" فى كتابه عن "الخلافة" (1) وردده
--------------------------------------------
এর যুগ ও কালপরিক্রমায়, এই পদ্ধতির ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা প্রমাণের এই সমষ্টি ইসলাম বহির্ভূত বিদেশি গবেষকদের জন্য যেমন ফলপ্রসূ, তেমনি এটি মানবজাতিকে সঠিক পথে পরিচালনার ক্ষেত্রে ইসলামের যোগ্যতার বিষয়ে সংশয়বাদীদের প্রতিউত্তর প্রদানেও কার্যকর।
ঐতিহাসিক বাস্তবতা—যাকে আমরা দ্বীনের বিশ্বজনীনতার প্রমাণ হিসেবে সাব্যস্ত করেছি—তা এই দাওয়াতের মূলনীতিসমূহের বাস্তব প্রয়োগ এবং যে ক্ষেত্রে এটি বপন করা হয়েছিল সেখানে এর উৎকৃষ্ট ফলাফলেরই বহিঃপ্রকাশ। এটি দ্বিতীয় ভাগে বিদ্যমান অভ্যন্তরীণ প্রমাণসমূহের কার্যকারিতার এক অকাট্য সত্য দলিল। ইসলামি দ্বীনের বিশ্বজনীনতার বিষয়টি প্রমাণে এই সকল দলিল সম্মিলিতভাবে কাজ করে। নিচে এই প্রমাণসমূহ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা তুলে ধরা হলো।
ইসলামি দ্বীনের বিশ্বজনীনতার সপক্ষে বর্ণনাভিত্তিক প্রমাণাদি (الأدلة النقلية):১ - আল-কুরআন হতে: এমন বহু মক্কী আয়াত অবতীর্ণ হয়েছে যা প্রমাণ করে যে, ইসলামি দাওয়াতের সূচনালগ্ন থেকেই এর সাথে বিশ্বজনীনতার বৈশিষ্ট্য ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিল। এটি সেই সব ব্যক্তিদের দাবিকে খণ্ডন করে যারা মনে করে যে, মুহাম্মদ (সা.) যখন প্রেরিত হয়েছিলেন তখন ইসলামি বিশ্বজনীনতার কোনো ধারণা ছিল না; বরং এটি তাঁর পরবর্তী খলিফাদের আমলে জন্ম নিয়েছে যারা যুদ্ধ ও বিজয়ের মাধ্যমে সাম্রাজ্য বিস্তারে আগ্রহী ছিলেন। যেমনটি "উইলিয়াম মুয়ার" তার "দ্য খিলাফত" (১) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন এবং পুনরাবৃত্তি করেছেন
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদ-দীনুল আলামী ওয়া মানহাজুদ দাওয়াতি ইলাইহি
(পৃষ্ঠা: ১৮)
أيضًا "ساوندوز" المحاضر الأول للتاريخ في جامعة كنتر برى بزيلندة الجديدة، ونشرته مجلة التاريخ المعاصر في مارس وإبريل سنة 1961 (1) ومن هذه الآيات ما يأتى:
1 - قوله تعالى: {وَمَا هُوَ إِلَّا ذِكْرٌ لِلْعَالَمِينَ} (2).
3 - قوله تعالى: {إِنْ هُوَ إِلَّا ذِكْرٌ لِلْعَالَمِينَ} (3).
3 - قوله تعالى: {قُلْ يَاأَيُّهَا النَّاسُ إِنِّي رَسُولُ اللَّهِ إِلَيْكُمْ جَمِيعًا} (4)
4 - قوله تعالى: {إِنْ هُوَ إِلَّا ذِكْرٌ وَقُرْآنٌ مُبِينٌ (69) لِيُنْذِرَ مَنْ كَانَ حَيًّا وَيَحِقَّ الْقَوْلُ عَلَى الْكَافِرِينَ} (5).
ومعنى من كان حيا، كل من ثبت له الحياة، ولفظ "من" من صيغ العموم.
5 - قوله تعالى: {تَبَارَكَ الَّذِي نَزَّلَ الْفُرْقَانَ عَلَى عَبْدِهِ لِيَكُونَ لِلْعَالَمِينَ نَذِيرًا} (6).
--------------------------------------------
আরও "সাউন্ডার্স", যিনি নিউজিল্যান্ডের ক্যান্টারবেরি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসের প্রধান প্রভাষক ছিলেন; এটি ১৯৬১ সালের মার্চ ও এপ্রিল মাসে সমকালীন ইতিহাস বিষয়ক সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছিল (১)। এই আয়াতগুলোর মধ্যে নিম্নোক্তগুলো অন্তর্ভুক্ত:
১ - মহান আল্লাহর বাণী: {আর এটি বিশ্বজগতের জন্য উপদেশ ছাড়া আর কিছু নয়} (২)।
৩ - মহান আল্লাহর বাণী: {এটি তো কেবল বিশ্বজগতের জন্য এক উপদেশ} (৩)।
৩ - মহান আল্লাহর বাণী: {বলুন, হে মানুষ! আমি তোমাদের সবার প্রতি আল্লাহর রাসূল} (৪)
৪ - মহান আল্লাহর বাণী: {এটি তো কেবল একটি উপদেশ এবং সুস্পষ্ট কুরআন। (৬৯) যাতে তিনি সতর্ক করেন তাকে যে জীবিত, আর যাতে কাফিরদের বিরুদ্ধে সত্য বাণী প্রতিষ্ঠিত হয়} (৫)।
'যে জীবিত' কথাটির অর্থ হলো, যার মধ্যে জীবন সাব্যস্ত হয়েছে; আর "মান" (من) শব্দটি ব্যাপকতা (عموم)-এর অন্যতম একটি শব্দরূপ (صيغة)।
৫ - মহান আল্লাহর বাণী: {পরম বরকতময় তিনি, যিনি তাঁর দাসের প্রতি ফুরকান অবতীর্ণ করেছেন, যাতে তিনি বিশ্বজগতের জন্য সতর্ককারী হতে পারেন} (৬)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদ-দীনুল আলামী ওয়া মানহাজুদ দাওয়াতি ইলাইহি
(পৃষ্ঠা: ১৯)
6 - قوله تعالى: {وَأُوحِيَ إِلَيَّ هَذَا الْقُرْآنُ لِأُنْذِرَكُمْ بِهِ وَمَنْ بَلَغَ} (1).
ومعنى "من بلغ" من وصل حد التكليف من أى جنس ولون، أو من بلغه القرآن من غير المخاطبين به عند نزوله.
7 - قوله تعالى: {وَمَا أَرْسَلْنَاكَ إِلَّا كَافَّةً لِلنَّاسِ بَشِيرًا وَنَذِيرًا} (2).
8 - قوله تعالى: {وَكَذَلِكَ أَوْحَيْنَا إِلَيْكَ قُرْآنًا عَرَبِيًّا لِتُنْذِرَ أُمَّ الْقُرَى وَمَنْ حَوْلَهَا} (3).
فأم القرى هى مكة، ومن حولها يشمل كل الناس، غير المقيمين فيها، فكل حي على وجه الأرض مقيم حول مكة، فهى مركز الدائرة، وقطرها ممتد بين كل نقطتين على المحيط العالمى.
9 - قوله تعالى: {وَمَا أَرْسَلْنَاكَ إِلَّا رَحْمَةً لِلْعَالَمِينَ} (4).
هذه هى معظم الآيات المكية وتضاف إليها الآيات المدنية التالية.
--------------------------------------------
6 - মহান আল্লাহর বাণী: {আর আমার প্রতি এই কুরআন প্রত্যাদেশ (وحي) করা হয়েছে যাতে আমি তোমাদের এবং যার কাছে তা পৌঁছাবে তাকে সতর্ক করতে পারি} (১)।
"যার কাছে পৌঁছাবে (من بلغ)" এর অর্থ হলো- যে কোনো বংশ বা বর্ণের অন্তর্ভুক্ত ধর্মীয় দায়বদ্ধতার (تكليف) সীমানায় পৌঁছানো ব্যক্তি, অথবা অবতীর্ণ হওয়ার সময় যারা সরাসরি সম্বোধিত ছিল না কিন্তু পরবর্তীতে যাদের নিকট কুরআন পৌঁছেছে।
7 - মহান আল্লাহর বাণী: {আর আমি তো আপনাকে সমগ্র মানবজাতির জন্য সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে পাঠিয়েছি} (২)।
8 - মহান আল্লাহর বাণী: {আর এভাবেই আমি আপনার প্রতি আরবী ভাষায় কুরআন প্রত্যাদেশ (وحي) করেছি, যাতে আপনি জনপদসমূহের মূল (أم القرى) এবং তার আশপাশের লোকদের সতর্ক করতে পারেন} (৩)।
'উম্মুল কুরা' (أم القرى) হলো মক্কা, আর 'তার আশপাশ' বলতে সেখানে বসবাসকারী ব্যতীত সকল মানুষকে অন্তর্ভুক্ত করে। সুতরাং পৃথিবীর বুকে প্রতিটি জীবন্ত মানুষই মক্কার চারপাশে বসবাসকারী হিসেবে গণ্য, কারণ মক্কা হলো একটি বৃত্তের কেন্দ্রবিন্দু এবং এর ব্যাসার্ধ বৈশ্বিক পরিধির প্রতিটি বিন্দুর মাঝে বিস্তৃত।
9 - মহান আল্লাহর বাণী: {আর আমি তো আপনাকে বিশ্বজগতের জন্য কেবল করুণা (رحمة) হিসেবেই পাঠিয়েছি} (৪)।
এগুলো হলো মক্কী (مكية) আয়াতসমূহের অধিকাংশ এবং এর সাথে পরবর্তী মাদানী (مدنية) আয়াতসমূহ যুক্ত হবে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদ-দীনুল আলামী ওয়া মানহাজুদ দাওয়াতি ইলাইহি
(পৃষ্ঠা: ২০)
1 - قوله تعالى: {وَقُلْ لِلَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ وَالْأُمِّيِّينَ أَأَسْلَمْتُمْ فَإِنْ أَسْلَمُوا فَقَدِ اهْتَدَوْا} (1).
فالدعوة فيها موجهة إلى اليهود والنصارى وهم أهل الكتاب وإلى غيرهم من الحرب الذين يطلق عليهم الأميون.
3 - قوله تعالى: {قُلْ يَاأَهْلَ الْكِتَابِ تَعَالَوْا إِلَى كَلِمَةٍ سَوَاءٍ بَيْنَنَا وَبَيْنَكُمْ أَلَّا نَعْبُدَ إِلَّا اللَّهَ وَلَا نُشْرِكَ بِهِ شَيْئًا
… } (2).
3 - قوله تعالى: {وَمَنْ يَبْتَغِ غَيْرَ الْإِسْلَامِ دِينًا فَلَنْ يُقْبَلَ مِنْهُ} (3). فكل إنسان لا يدين بدين الإسلام لا يقبل منه ما دان به، فهو دين الجميع.
2 - قوله تعالى: {هُوَ الَّذِي أَرْسَلَ رَسُولَهُ بِالْهُدَى وَدِينِ الْحَقِّ لِيُظْهِرَهُ عَلَى الدِّينِ كُلِّهِ} (4).
(ب) من السنة، إلى جانب السنة الفعلية حين بلغ الرسول الدعوة جاءت النصوص القولية الآتية:
1 - (كان كل نبى يبعث إلى قومه خاصة، وبعثت إلى كل أحمر وأسود) (5).
--------------------------------------------
১ - মহান আল্লাহর বাণী: {আর যাদের কিতাব দেওয়া হয়েছে এবং যারা নিরক্ষর তাদের বলো, 'তোমরা কি ইসলাম গ্রহণ করেছ?' তারা যদি ইসলাম গ্রহণ করে তবে তারা হেদায়াত লাভ করবে} (১)।
এতে দাওয়াত ইহুদি ও খ্রিস্টানদের প্রতি নির্দেশিত হয়েছে—যারা কিতাবধারী—এবং তাদের বাইরে যারা যুদ্ধরত (الحرب) পক্ষভুক্ত, যাদের নিরক্ষর বলা হয়।
৩ - মহান আল্লাহর বাণী: {বলো, 'হে কিতাবধারীগণ, তোমরা এমন এক কথার দিকে আসো যা আমাদের ও তোমাদের মধ্যে অভিন্ন; তা এই যে, আমরা আল্লাহ ছাড়া আর কারও ইবাদত করব না এবং তাঁর সাথে কোনো কিছুকে শরিক করব না...'} (২)।
৩ - মহান আল্লাহর বাণী: {আর যে ইসলাম ছাড়া অন্য কোনো দীন তালাশ করবে, তার থেকে তা কখনো গ্রহণ করা হবে না} (৩)। সুতরাং যে ব্যক্তি ইসলাম ধর্মকে নিজের দীন হিসেবে গ্রহণ করে না, তার থেকে তা কবুল করা হবে না; কেননা এটিই সবার জন্য একমাত্র দীন।
২ - মহান আল্লাহর বাণী: {তিনিই তাঁর রাসূলকে হেদায়াত ও সত্য দীনসহ প্রেরণ করেছেন, যাতে তিনি একে সকল দীনের ওপর বিজয়ী করেন} (৪)।
(খ) সুন্নাহ থেকে: রাসূল যখন দাওয়াত পৌঁছে দিচ্ছিলেন, তখন তাঁর কর্মগত সুন্নাহর (السنة الفعلية) পাশাপাশি নিম্নোক্ত বাচনিক পাঠসমূহ (النصوص القولية) বর্ণিত হয়েছে:
১ - (প্রত্যেক নবীই কেবল তাঁর স্বজাতির কাছে বিশেষভাবে প্রেরিত হতেন, আর আমি লাল ও কালো নির্বিশেষে সবার কাছে প্রেরিত হয়েছি) (৫)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদ-দীনুল আলামী ওয়া মানহাজুদ দাওয়াতি ইলাইহি
(পৃষ্ঠা: ২১)
وجاء بروايات مختلفة، فى بعضها (وبعثت إلى الناس عامة)، (وبعثت إلى الخلق كافة).
3 - (إنى رسول الله إليكم خاصة، وإلى الناس كافة) (1)، وكان ذلك فى إحدى الخطب الأولى بمكة.
3 - فى كتاب النبي صلى الله عليه وسلم إلى جيفر وعبدا بنى الجلندي ملكي عمان قوله (فإنى رسول الله إلى الناس كافة، لأنذر من كان حيا ويحق القول على الكافرين) (2).
4 - فى حديث البراء بن عازب عند حفر الخندق في غزوة الأحزاب، وقد اعترضت المسلمين صخرة وهم يحفرون جاء قوله (فاشتكينا ذلك للنبي صلى الله عليه وسلم، فجاء وأخذ المعول فقال: بسم الله. ثم ضربه فنشر ثلثها). وفى رواية: (فخرج نور أضاء ما بين لابتى المدينة وقال: الله أكبر، أعطيت مفاتيح الشام، والله إنى لأرى قصورها الحمر الساعة من مكانى هذا. قال: ثم ضرب الثانية فقال: بسم الله فقطع ثلثا آخر، فقال: الله أكبر، أعطيت مفاتيح فارس، والله إنى لأبصر قصر المدائن الأبيض وفي رواية: لأبصر قصور الحيرة ومدائن كسرى كأنها أنياب الكلاب من مكاني هذا: وأخبرنى جبريل أن أمتي ظاهرة عليها. ثم ضرب
--------------------------------------------
এটি বিভিন্ন বর্ণনার (روايات) মাধ্যমে এসেছে, যার কয়েকটিতে রয়েছে (এবং আমি সমগ্র মানবজাতির নিকট প্রেরিত হয়েছি), (এবং আমি সকল সৃষ্টির নিকট প্রেরিত হয়েছি)।
৩ - (নিশ্চয়ই আমি বিশেষভাবে তোমাদের নিকট এবং সাধারণভাবে সকল মানুষের নিকট আল্লাহর রাসূল) (১), আর এটি ছিল মক্কায় প্রদত্ত প্রাথমিক ভাষণগুলোর একটিতে।
৩ - ওমানের দুই রাজা জাফার ও আবদ ইবনে আল-জুলান্দির নিকট নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর প্রেরিত পত্রে তাঁর এই উক্তিটি রয়েছে: (নিশ্চয়ই আমি সকল মানুষের নিকট আল্লাহর রাসূল, যাতে আমি জীবিতদের সতর্ক করতে পারি এবং কাফিরদের বিরুদ্ধে সত্য প্রতিষ্ঠিত হয়) (২)।
৪ - আহযাব যুদ্ধের সময় পরিখা খননকালে বারা ইবনে আযিব-এর হাদিসে এসেছে যে, যখন তারা খনন করছিলেন তখন একটি বিশাল পাথর মুসলমানদের সামনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করল। সেখানে বর্ণিত হয়েছে (আমরা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে এ বিষয়ে অভিযোগ করলাম, তখন তিনি আসলেন এবং কুড়াল হাতে নিয়ে বললেন: বিসমিল্লাহ। অতঃপর তিনি সেটিতে আঘাত করলেন এবং এর এক-তৃতীয়াংশ চূর্ণ করলেন)। অন্য একটি বর্ণনায় (رواية) এসেছে: (সেখান থেকে একটি আলো নির্গত হলো যা মদিনার দুই পাথুরে অঞ্চলের মধ্যবর্তী স্থানকে আলোকিত করে তুলল। তিনি বললেন: আল্লাহু আকবার, আমাকে শামের চাবিকাঠি প্রদান করা হয়েছে। আল্লাহর শপথ, আমি এই স্থান থেকেই এই মুহূর্তে সেখানকার লাল প্রাসাদগুলো দেখতে পাচ্ছি। তিনি বলেন: অতঃপর তিনি দ্বিতীয়বার আঘাত করলেন এবং বললেন: বিসমিল্লাহ। এতে পাথরের আরও এক-তৃতীয়াংশ কেটে গেল। তিনি বললেন: আল্লাহু আকবার, আমাকে পারস্যের চাবিকাঠি প্রদান করা হয়েছে। আল্লাহর শপথ, আমি মাদা-ইনের সাদা প্রাসাদ দেখতে পাচ্ছি)। অন্য এক বর্ণনায় (رواية) আছে: (আমি এই স্থান থেকেই হীরাহ-র প্রাসাদসমূহ এবং কিসরার শহরগুলো এমনভাবে দেখতে পাচ্ছি যেন তা কুকুরের দাঁতের মতো; এবং জিবরাঈল আমাকে অবহিত করেছেন যে, আমার উম্মত এগুলোর ওপর বিজয়ী হবে)। অতঃপর তিনি আঘাত করলেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদ-দীনুল আলামী ওয়া মানহাজুদ দাওয়াতি ইলাইহি
(পৃষ্ঠা: ২২)
ثالثة وقال: بسم الله، فقطع الحجر وقال: الله أكبر، أعطيت مفاتيح اليمن، والله إنى لأبصر باب صنعاء) (1)
قال ابن إسحاق: وحدثنى من لا أتهم عن أبي هريرة أنه كان يقول حين فتحت هذه الأمصار فى زمان عمر وزمان عثمان من بعده: افتتحوا ما بدا لكم، فوالذى نفس أبى هريرة بيده ما افتتحتم من مدينة ولا تفتتحونها إلى يوم القيامة إلا وقد أعطى الله سبحانه محمدًا صلى الله عليه وسلم مفاتيحها قبل ذلك. هذا وقد كان المرتابون يقولون عن الرسول: يخبركم أنه يبصر من يثرب قصور الحيرة ومدائن كسرى وأنتم تحفرون الخندق ولا تستطيعون أن تبرزوا. وفيهم قال الله تعالى: {وَإِذْ يَقُولُ الْمُنَافِقُونَ وَالَّذِينَ فِي قُلُوبِهِمْ مَرَضٌ مَا وَعَدَنَا اللَّهُ وَرَسُولُهُ إِلَّا غُرُورًا} (2).
5 - عن عدي أن النبي صلى الله عليه وسلم قال له: (ولئن طالت بك حياة لتفتحن كنوز كسرى) قلت: كنوز كسرى ابن هرمز؟ قال: (كنوز كسرى بن هرمز). وكنت فيمن افتتح كنوز كسرى بن هرمز) (3).
--------------------------------------------
তৃতীয়বার এবং তিনি বললেন: "বিসমিল্লাহ", অতঃপর তিনি পাথরটি খণ্ডবিখণ্ড করলেন এবং বললেন: "আল্লাহু আকবার, আমাকে ইয়ামানের চাবিকাঠি প্রদান করা হয়েছে; আল্লাহর কসম, আমি অবশ্যই এখান থেকে সান'আর ফটক দেখতে পাচ্ছি।" (১)
ইবনে ইসহাক বলেন: আমার নিকট এমন একজন বর্ণনা করেছেন যাকে আমি অভিযুক্ত করি না (من لا أتهم), তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, যখন ওমর এবং তাঁর পরবর্তী উসমানের (রা.) সময়ে এই শহরগুলো বিজিত হচ্ছিল, তখন তিনি বলতেন: "তোমাদের যা ইচ্ছা বিজয় করো। সেই সত্তার কসম যাঁর হাতে আবু হুরায়রার প্রাণ, তোমরা কিয়ামত পর্যন্ত যে শহরই বিজয় করো না কেন, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা এর পূর্বেই মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তার চাবিকাঠি দান করেছেন।" এদিকে সংশয়বাদীরা রাসূল সম্পর্কে বলত: "তিনি তোমাদের বলছেন যে, তিনি ইয়াসরিব থেকে হীরা নগরীর প্রাসাদসমূহ এবং কিসরার শহরগুলো দেখতে পাচ্ছেন, অথচ তোমরা পরিখা খনন করছ এবং বাইরে বের হতে পারছ না।" তাদের সম্পর্কেই আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {এবং যখন মুনাফিকরা ও যাদের অন্তরে ব্যাধি ছিল তারা বলছিল, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল আমাদের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তা প্রতারণা ছাড়া আর কিছুই নয়} (২)।
৫ - আদি (রা.) থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বলেছিলেন: "যদি তোমার হায়াত দীর্ঘ হয়, তবে অবশ্যই তুমি কিসরার ধনভাণ্ডার বিজয় করবে।" আমি বললাম: "হরমুজ-পুত্র কিসরার ধনভাণ্ডার?" তিনি বললেন: "হরমুজ-পুত্র কিসরার ধনভাণ্ডার।" (আদি বলেন,) "আমি তাদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম যারা হরমুজ-পুত্র কিসরার ধনভাণ্ডার বিজয় করেছিলেন।" (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদ-দীনুল আলামী ওয়া মানহাজুদ দাওয়াতি ইলাইহি
(পৃষ্ঠা: ২৩)
6 - (إنكم ستفتحون مصر، وهى أرض يسمى فيها القيراط فإذا فتحتموها فأحسنوا إلى أهلها، فإن لهم ذمة ورحما) أو قال (ذمة وصهرا) (1).
فالأحاديث المبشرة بالفتح تدل على عالمية الدين الإسلامي وإنه سينتشر فى هذه الأصقاع وغيرها.
ومن الأدلة على خلود الرسالة ودوامها إلى آخر الدنيا ما يأتى:
1 - قوله تعالى: {مَا كَانَ مُحَمَّدٌ أَبَا أَحَدٍ مِنْ رِجَالِكُمْ وَلَكِنْ رَسُولَ اللَّهِ وَخَاتَمَ النَّبِيِّينَ} (2).
2 - قول النبي صلى الله عليه وسلم: (مثلى ومثل الأنبياء قبلى كمثل رجل بنى بيتا فأحسنه وأكمله إلا موضع لبنة من زاوية من زواياه، فجعل الناس يطوفون به ويتعجبون له ويقولون: هلا وضعت هذه اللبنة! ! فأنا تلك اللبنة وأنا خاتم النبيين) (3).
3 - قوله أيضًا: (وأرسلت إلى الخلق كافة، وختم بي النبيون) (4).
--------------------------------------------
৬ - (তোমরা অবশ্যই মিশর জয় করবে, এটি এমন এক ভূমি যেখানে কিরাত (قيراط) প্রচলিত। সুতরাং যখন তোমরা তা জয় করবে, তখন সেখানকার অধিবাসীদের সাথে সদাচরণ করবে; কেননা তাদের জন্য রয়েছে নিরাপত্তা (ذمة) ও আত্মীয়তার অধিকার (رحما)) অথবা তিনি বলেছেন (নিরাপত্তা (ذمة) ও বৈবাহিক সম্পর্কের অধিকার (صهرا)) (১)।
বিজয়ের সুসংবাদ সম্বলিত হাদিসসমূহ ইসলামি দ্বীনের বিশ্বজনীনতা এবং এই দ্বীন যে অদূর ভবিষ্যতে এই সকল অঞ্চলে ও অন্যান্য স্থানে ছড়িয়ে পড়বে, তার প্রমাণ বহন করে।
পৃথিবীর শেষ সময় পর্যন্ত এই রিসালাতের অমরত্ব ও স্থায়িত্বের প্রমাণসমূহের মধ্যে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো অন্যতম:
১ - মহান আল্লাহর বাণী: {মুহাম্মদ তোমাদের পুরুষদের মধ্যে কারও পিতা নন; বরং তিনি আল্লাহর রাসূল এবং শেষ নবী (خاتم النبيين)} (২)।
২ - নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: (আমার এবং আমার পূর্ববর্তী নবীদের উদাহরণ হলো এমন এক ব্যক্তির ন্যায় যে একটি ঘর নির্মাণ করল এবং সেটিকে অত্যন্ত সুন্দর ও নিখুঁত করল, কেবল তার এক কোণের একটি ইটের স্থান ব্যতীত। অতঃপর মানুষ তার চারপাশে ঘুরে দেখতে লাগল এবং বিস্ময় প্রকাশ করে বলতে লাগল: কেন এই ইটটি এখানে স্থাপন করা হলো না! আমিই হলাম সেই ইট এবং আমিই শেষ নবী (خاتم النبيين)) (৩)।
৩ - তাঁর আরও বাণী: (আমাকে সমগ্র সৃষ্টির নিকট প্রেরণ করা হয়েছে এবং আমার মাধ্যমেই নবুওয়াতের সমাপ্তি ঘটানো হয়েছে) (৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদ-দীনুল আলামী ওয়া মানহাজুদ দাওয়াতি ইলাইহি
(পৃষ্ঠা: ২৪)
4 - قوله تعالى: (أنت منى بمنزلة هارون من موسى، إلا أنه لا نبى بعدى) (1).
وقد بلغ النبي محمد صلى الله عليه وسلم الدعوة بصفتها العالمية على ما سيأتى بيانه.
الأدلة الذاتية أو العوامل الأساسية لعالمية الدين الإسلامي: -
إن الأدلة الذاتية على عالمية الدين الإسلامى كثيرة، وقد تعرض الباحثون للحديث عنها، وعنى بعضهم بمجموعة خاصة لأهميتها فى نظرهم، وقد لخص كثيرا، منها المرحوم "محمد فريد وجدي" فقال فيما قال: إن المقومات الأساسية الخالدة للإسلام هى: أنه دين الفطرة وأنه قائم على العقل والبرهان، وأن هناك أصولا أولية يتألف منها دستور علمى يوجه إلى ينابيع الحكمة وهى تنحصر فى هذه الكليات التى أجمعت عليها كل فلسفات العالم، وهى: دوام النظر والتفكير فى الوجود إجمالا، وفى الكائنات التى فيه تفصيلا ودرس أحوال الأمم والاعتبار بها، وتنور نواميس الاجتماع من خلالها، والاستهداء بالأعلام الإلهية المنصوبة فى الوجود لهداية السالكين إلى الحقائق
--------------------------------------------
৪ - মহান আল্লাহর বাণী: (তুমি আমার কাছে হারুনের মর্যাদায়, মূসার কাছে তিনি যেমন ছিলেন; তবে আমার পরে কোনো নবী নেই) (১)।
নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইসলামি দাওয়াতকে তার বিশ্বজনীন রূপ অনুযায়ী পৌঁছে দিয়েছেন, যেমনটি সামনে ব্যাখ্যা করা হবে।
ইসলাম ধর্মের বিশ্বজনীনতার স্বকীয় প্রমাণসমূহ বা মৌলিক উপাদানসমূহ: -
ইসলাম ধর্মের বিশ্বজনীনতার স্বকীয় প্রমাণসমূহ অনেক। গবেষকগণ এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন এবং তাদের কেউ কেউ এর গুরুত্ব বিবেচনা করে কিছু সুনির্দিষ্ট প্রসঙ্গের প্রতি মনোনিবেশ করেছেন। মরহুম "মুহাম্মদ ফরিদ ওয়াজদি" এর অনেকগুলো সারসংক্ষেপ তুলে ধরেছেন; তিনি যা বলেছেন তার সারমর্ম হলো: ইসলামের চিরন্তন মৌলিক উপাদানসমূহ হলো—এটি স্বভাবজাত ধর্ম এবং এটি যুক্তি ও প্রমাণের ওপর প্রতিষ্ঠিত। এতে এমন কিছু প্রাথমিক মূলনীতি রয়েছে যা একটি জ্ঞানতাত্ত্বিক সংহিতায় রূপ নিয়েছে এবং যা প্রজ্ঞার উৎসের দিকে পরিচালিত করে। এগুলো এমন কিছু সামষ্টিক বিষয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ যেগুলোর ওপর বিশ্বের সকল দর্শন একমত হয়েছে। সেগুলো হলো: সামগ্রিকভাবে মহাবিশ্ব এবং বিস্তারিতভাবে এর অন্তর্ভুক্ত সৃষ্টিজগত নিয়ে নিরন্তর পর্যবেক্ষণ ও চিন্তা করা, বিভিন্ন জাতির অবস্থা পর্যালোচনা করা ও তা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করা, এর মাধ্যমে সামাজিক নিয়ম-কানুন সম্পর্কে অবগত হওয়া এবং সত্যের পথে চলনকারীদের হাকিকতের দিকে দিশা দেওয়ার জন্য মহাবিশ্বে স্থাপিত ঐশ্বরিক নিদর্শনসমূহ থেকে পথনির্দেশ গ্রহণ করা।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদ-দীনুল আলামী ওয়া মানহাজুদ দাওয়াতি ইলাইহি
(পৃষ্ঠা: ২৫)
الخالصة من الشوائب، والتجرد من جميع الصبغ الوضعية ومن الهوى في الحكم على الأشياء، والاجتهاد في تحصيل العلم حيث كان، وعند أية أمة وجد، والأخذ بالأحسن من كل شيء، والعمل بمبدأ حرية البحث وعدم الاستخذاء للتقليد، وعدم الجمود على شيء والجري على سنة التجديد، استبقاء للتناسب بين أهله وبين كل جديد، واعتبار الفضائل وسائل لبلوغ الكمال الذي قدره الخالق للإنسان في هذا العالم، واعتبار وحدة الإنسانية وأن الناس ما انقسموا إلى أمم وشعوب وقبائل ليتخالفوا ويتناكروا، ولكن ليتعارفوا ويتحابوا، وأن باب الاجتهاد في الدين وفي الأحكام مفتوح إلى يوم القيامة، لا تختص به طائفة ولا تستأثر به أسرة.
هذه هي الأصول الأساسية في الإسلام، وكلها كما ترى أصول حاصلة على إجماع أهل العلم والفلسفة في العصر الحديث، وهي مع هذا أصول خالدة قابلة للتطبيق في كل زمان ومكان، وفي كل أمة من أمم الأرض كتب لها السمو وطول البقاء. فهل نعجب بعد هذا البيان من قولنا: إن تعاليم الإسلام خالدة خلود النواميس الطبيعية وأنها تصلح لكل زمان ومكان؟ (1)
--------------------------------------------
কলুষমুক্ত বিশুদ্ধতা, বিষয়াদির ওপর বিচার-সিদ্ধান্ত প্রদানের ক্ষেত্রে সকল প্রকার মানব রচিত মতাদর্শ ও প্রবৃত্তি (هوى) থেকে বিমুক্ত থাকা, জ্ঞান যেখানেই থাকুক এবং যে জাতির নিকটই পাওয়া যাক না কেন তা অর্জনে ইজতিহাদ (اجتهاد) বা সাধনা করা, সবকিছুর মধ্য থেকে যা সর্বোত্তম তা গ্রহণ করা, গবেষণার স্বাধীনতার নীতি অনুযায়ী আমল করা এবং তাকলিদ বা অন্ধ অনুকরণের (تقليد) কাছে হীনম্মন্যতা প্রকাশ না করা, কোনো বিষয়ে স্থবির না থাকা এবং তাজদিদ বা সংস্কারের (تجديد) পথে পরিচালিত হওয়া; যাতে এর অনুসারীগণ এবং প্রতিটি নতুন বিষয়ের মধ্যে সামঞ্জস্য বজায় থাকে। সচ্চরিত্র বা গুণাবলিকে সেই পূর্ণতা লাভের মাধ্যম হিসেবে গণ্য করা যা মহান স্রষ্টা এই জগতে মানুষের জন্য নির্ধারিত করেছেন। মানবজাতির ঐক্যকে বিবেচনায় রাখা এবং এটি বিশ্বাস করা যে, মানুষ বিভিন্ন জাতি, গোষ্ঠী ও গোত্রে বিভক্ত হয়েছে একে অপরের বিরোধিতা বা একে অপরকে অস্বীকার করার জন্য নয়, বরং একে অপরের সাথে পরিচিত হওয়া ও সৌহার্দ্য স্থাপনের জন্য। এবং দীন ও আহকাম বা বিধানের (أحكام) ক্ষেত্রে ইজতিহাদের (اجتهاد) দ্বার কিয়ামত পর্যন্ত উন্মুক্ত; এটি কোনো বিশেষ গোষ্ঠী বা পরিবারের জন্য নির্দিষ্ট বা একচেটিয়া নয়।
এগুলোই হলো ইসলামের মৌলিক উসুল (أصول), যার প্রতিটিই—আপনি দেখতে পাচ্ছেন—আধুনিক যুগের জ্ঞান ও দর্শনের পণ্ডিতদের ইজমা বা ঐকমত্য (إجماع) লাভ করেছে। এতদসত্ত্বেও এগুলো এমন চিরন্তন উসুল (أصول) যা সর্বকাল ও সর্বস্থানে এবং পৃথিবীর সেই সকল জাতির ক্ষেত্রে প্রয়োগযোগ্য যাদের জন্য শ্রেষ্ঠত্ব ও দীর্ঘস্থায়িত্ব অবধারিত হয়েছে। সুতরাং এই বর্ণনার পর আমাদের এই উক্তিতে কি অবাক হওয়ার কিছু আছে যে: ইসলামের শিক্ষা প্রকৃতির চিরন্তন নিয়মের মতোই শাশ্বত এবং তা সর্বকাল ও সর্বস্থানের জন্য উপযোগী? (১)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদ-দীনুল আলামী ওয়া মানহাজুদ দাওয়াতি ইলাইহি
(পৃষ্ঠা: ২৬)
هذا هو كلام بعض مفكري الإسلام في القواعد الأساسية للدين العالمي، وفلاسفة الغرب ومن يحاولون البحث عن دين جديد للبشرية عامة، وضعوا قواعد لهذا الدين الذي أسموه "الدين الفطري أو الطبيعي". واعتبروها نموذجًا عاليًا لكل دين من الأديان، يقول أحد كبار أشياعها وهو الفيلسوف "كارو" في كتابه "البحوث الأدبية على العصر الحاضر": أصول الديانة الطبيعية هي الاعتقاد بوجود إله مختار خلق الكائنات وعنى بها، وهو متميز عن العوالم الكونية وعن النوع الإنساني، ووجود روح الإنسان متصفة بالإدراك والحرية ومحبوسة في هذا الجثمان المادي أمدا لتبتلى فيه، وهذه الروح تستطيع بإرادتها أن تطهر هذا الجثمان وتنقيه إذا عرجت به نحو السماء، ويمكنها أن تسفله بأخلادها إلى المادة الصماء، والاعتقاد المطلق بسمو العقل على الحس ووضع الحرية الخلقية، التي هي ينبوع وأصل جميع الحريات، تحت سيطرة الاعتدال، وإعطاء الصفات الفاضلة اسمها الحقيقي وهو الامتحان والابتلاء، وتحديد غرضها الصحيح وهو التخليص التدريجي للنفس من علائق الجسم، والتهيؤ لساعة الموت للزهادة وأخيرًا الاعتراف بناموس الترقي ولكن بدون فصل ترقى الإنسان في مدارج
এটি হলো বিশ্বজনীন ধর্মের মৌলিক নীতিমালা সম্পর্কে ইসলামের কিছু চিন্তাবিদ এবং সেইসব পাশ্চাত্য দার্শনিকদের বক্তব্য, যারা সমগ্র মানবজাতির জন্য একটি নতুন ধর্মের সন্ধান করার চেষ্টা করছেন। তাঁরা এই ধর্মের জন্য কিছু মূলনীতি নির্ধারণ করেছেন যাকে তাঁরা "স্বভাবজাত বা প্রাকৃতিক ধর্ম" (الدين الفطري أو الطبيعي) বলে অভিহিত করেছেন। তাঁরা একে প্রতিটি ধর্মের জন্য একটি উচ্চতর আদর্শ হিসেবে গণ্য করেছেন। এই মতাদর্শের অন্যতম প্রধান অনুসারী দার্শনিক "কারো" তাঁর "বর্তমান যুগের সাহিত্যিক গবেষণা" নামক গ্রন্থে বলেন: প্রাকৃতিক ধর্মের মূলনীতিসমূহ (أصول) হলো এমন এক স্বাধীন ইচ্ছাশক্তিসম্পন্ন ইলাহের অস্তিত্বে বিশ্বাস করা, যিনি সৃষ্টিজগত সৃষ্টি করেছেন এবং এর তত্ত্বাবধান করেন; তিনি মহাজাগতিক বিশ্ব এবং মানবজাতি থেকে স্বতন্ত্র। আরও বিশ্বাস করা যে, মানুষের রুহ উপলব্ধি ও স্বাধীনতার গুণে গুণান্বিত এবং এক নির্দিষ্ট সময়ের জন্য এই জড়দেহে অবরুদ্ধ, যাতে সেখানে তাকে পরীক্ষা (ابتلاء) করা যায়। এই রুহ আপন ইচ্ছায় এই দেহকে পবিত্র ও পরিচ্ছন্ন করতে পারে যদি সে একে ঊর্ধ্বজগতের দিকে নিয়ে যায়, আবার সে একে জড়পদার্থের সাথে মিশিয়ে দিয়ে অধঃপতিত করতে পারে। সেই সাথে ইন্দ্রিয়ের ওপর বিবেকের শ্রেষ্ঠত্বে পূর্ণ বিশ্বাস রাখা এবং নৈতিক স্বাধীনতাকে—যা সকল স্বাধীনতার উৎস ও মূলনীতি (أصل)—পরিমিতিবোধের নিয়ন্ত্রণে রাখা। এছাড়া মহৎ গুণাবলিকে তাদের প্রকৃত নামে অভিহিত করা, যা হলো পরীক্ষা ও কষ্টিপাথর (الامتحان والابتلاء), এবং এগুলোর সঠিক লক্ষ্য নির্ধারণ করা, যা হলো শারীরিক সম্পর্ক থেকে আত্মাকে ক্রমান্বয়ে মুক্ত করা। বৈরাগ্যের মাধ্যমে মৃত্যুর সময়ের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করা এবং পরিশেষে উন্নতির শাশ্বত নিয়মের (ناموس) স্বীকৃতি প্রদান করা, তবে মানুষের মর্যাদাক্রমের উন্নতিকে বিচ্ছিন্ন না করে...
(খণ্ড: ১)
আদ-দীনুল আলামী ওয়া মানহাজুদ দাওয়াতি ইলাইহি
(পৃষ্ঠা: ২৭)
السعادة المادية عن العواطف الفاضلة التي هي وحدها تبرر تلك السعادة (1).
ويقول الفيلسوف "كانت": الديانة الحقة الوحيدة هي التي لا تحتوي إلا على قوانين، أعني قواعد صالحة للجري عليها، نشعر من ذاتنا بضرورتها المطلقة، وتكون مجردة عن الأساطير والتعاليم الكهنوتية (2).
لقد اضطر هؤلاء المفكرون إلى اقتراح الديانة الطبيعية لأنهم لم يجدوها في الديانات القائمة التي تعتمد في الكثير من مسائلها على الشروح والتأويلات التي تعمل فيها الأهواء عملها، ولا تتفق ومقررات العلم، ولا تساير التطور وحاجات البشر في قطاعاتها المختلفة، ولو أنهم نظروا بحق في الدين الإسلامي المأخوذ من منابعه الصافية لوجدوا فيه أسمى دين يريدونه لإسعاد البشرية في الحياتين.
هؤلاء الناس يريدون أدلة على صدق الدين من الدين نفسه، وعلى صلاحيته للعالمية من مبادئه الأساسية. وكل ما يريده هؤلاء وأحسن منه وأكثر موجود في الدين الإسلامي، ولو شئنا لأتينا بكل الأدلة على ما وضعوه من مبادئ، وكان معنى ذلك هو الحديث عن الدين
--------------------------------------------
পার্থিব সুখ কেবল সেই মহৎ আবেগসমূহ থেকে নিঃসৃত হয় যা একাই এই সুখের ন্যায্যতা প্রতিপাদন করে (১)।
দার্শনিক "কান্ট" বলেন: একমাত্র সত্য ধর্ম সেটিই যা কেবল বিধিসমূহ ধারণ করে; অর্থাৎ এমন সব নিয়ম যা অনুসরণের যোগ্য, যেগুলোর পরম আবশ্যকতা আমরা নিজেদের ভেতর থেকে অনুভব করি এবং যা রূপকথা ও পুরোহিততান্ত্রিক শিক্ষা থেকে মুক্ত (২)।
এই চিন্তাবিদগণ প্রাকৃতিক ধর্মের প্রস্তাব দিতে বাধ্য হয়েছিলেন কারণ তারা প্রচলিত ধর্মগুলোর মধ্যে তা খুঁজে পাননি, যা অনেক ক্ষেত্রেই এমন ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণের ওপর নির্ভরশীল যেখানে প্রবৃত্তি তার কাজ করে যায়, এবং যা বিজ্ঞানের স্বীকৃত সত্যের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয় এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিবর্তন ও মানুষের প্রয়োজনের সাথে তাল মেলাতে পারে না। অথচ তারা যদি স্বচ্ছ উৎস থেকে গৃহীত ইসলাম ধর্মকে সঠিকভাবে পর্যবেক্ষণ করতেন, তবে তারা একেই মানবজাতির ইহলৌকিক ও পারলৌকিক কল্যাণের জন্য তাদের কাঙ্ক্ষিত সর্বোচ্চ ধর্ম হিসেবে খুঁজে পেতেন।
এই লোকগুলো ধর্মের সত্যতার প্রমাণ খোদ ধর্ম থেকেই চায় এবং এর বিশ্বজনীনতার প্রমাণ চায় এর মৌলিক নীতিসমূহ থেকে। তারা যা চায় তার সবই বরং তার চেয়েও উত্তম ও অধিক ইসলাম ধর্মের মধ্যে বিদ্যমান। আমরা চাইলে তাদের নির্ধারিত নীতিমালার স্বপক্ষে সকল প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারতাম, আর এর অর্থ হতো ধর্ম সম্পর্কে আলোচনা করা।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদ-দীনুল আলামী ওয়া মানহাজুদ দাওয়াতি ইলাইহি
(পৃষ্ঠা: ২৮)
كله أو معظم ما فيه، وليس مجاله هنا فحسبنا من ذلك إشارات خفيفة لبعض ما جاء فى الإسلام من هذه المبادئ لنبرهن به على عالميته الأصيلة الذاتية.
(1) إن عالمية الدين، كما قدمنا، تكون إذا كانت شريعته موضوعة لصالح الإنسان من حيث هو إنسان، ومعنى هذا أن تكون شريعة الفطرة التى فطر الله الناس عليها، وقد قال الله تعالى فى شأن الإسلام: {فَأَقِمْ وَجْهَكَ لِلدِّينِ حَنِيفًا فِطْرَتَ اللَّهِ الَّتِي فَطَرَ النَّاسَ عَلَيْهَا لَا تَبْدِيلَ لِخَلْقِ اللَّهِ ذَلِكَ الدِّينُ الْقَيِّمُ وَلَكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ لَا يَعْلَمُونَ} (1).
وقال صلى الله عليه وسلم: "ما من مولود إلا يولد على الفطرة، فأبواه يهودانه أو ينصرانه أو يمجسانه كما تنتج البهيمة بهيمة جمعاء -تامة الخلق- هل تحسون فيها من جدعاء؟ -مقطوعة الأذن أو الأنف أو ناقصة الخلق -ثم- يقول أبو هريرة راوي الحديث: "فطرة الله التي فطر الناس عليها لا تبديل لخلق الله، ذلك الدين القيم" (2).
وقال أيضًا "يقول الله: إني خلقت عبادي حنفاء،
--------------------------------------------
এর সবটুকু বা এর অধিকাংশ, আর এটি এখানে আলোচনার ক্ষেত্র নয়। ইসলামের এই মূলনীতিগুলো সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে তার কিছু সংক্ষিপ্ত ইঙ্গিত দেওয়াই আমাদের জন্য যথেষ্ট, যাতে আমরা এর মৌলিক ও স্বকীয় বিশ্বজনীনতা প্রমাণ করতে পারি।
(১) দ্বীনের বিশ্বজনীনতা—যেমনটি আমরা পূর্বে উল্লেখ করেছি—তখনই সম্ভব যখন এর শরিয়ত মানুষের কল্যাণের জন্য প্রণীত হয় মানুষ হিসেবেই। এর অর্থ হলো, এটি হবে সেই স্বভাবজাত প্রকৃতির (ফিতরাত) শরিয়ত, যার ওপর আল্লাহ মানুষকে সৃষ্টি করেছেন। আল্লাহ তাআলা ইসলামের বিষয়ে ইরশাদ করেছেন: "কাজেই আপনি একনিষ্ঠভাবে নিজেকে দ্বীনে প্রতিষ্ঠিত রাখুন। আল্লাহর সেই স্বভাবজাত প্রকৃতি যার ওপর তিনি মানুষ সৃষ্টি করেছেন। আল্লাহর সৃষ্টির কোনো পরিবর্তন নেই। এটিই সুপ্রতিষ্ঠিত দ্বীন; কিন্তু অধিকাংশ মানুষ জানে না।" (১)।
এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "প্রত্যেক নবজাতক স্বভাবজাত প্রকৃতির ওপরই জন্মগ্রহণ করে। এরপর তার পিতামাতা তাকে ইহুদি, খ্রিস্টান বা অগ্নিপূজক হিসেবে গড়ে তোলে। যেমন চতুস্পদ জন্তু একটি পূর্ণাঙ্গ শাবক জন্ম দেয়—যা সৃষ্টিগতভাবে পূর্ণ— তোমরা কি তাতে কোনো কানকাটা বা খুঁতযুক্ত কিছু অনুভব করো? —অর্থাৎ যার কান বা নাক কাটা অথবা সৃষ্টিগতভাবে অপূর্ণ— অতঃপর হাদিসের বর্ণনাকারী (راوي) আবু হুরায়রা বলেন: 'আল্লাহর সেই স্বভাবজাত প্রকৃতি যার ওপর তিনি মানুষ সৃষ্টি করেছেন। আল্লাহর সৃষ্টির কোনো পরিবর্তন নেই। এটিই সুপ্রতিষ্ঠিত দ্বীন'।" (২)।
তিনি আরও বলেছেন: "আল্লাহ তাআলা বলেন: নিশ্চয়ই আমি আমার বান্দাদের একনিষ্ঠ হিসেবে সৃষ্টি করেছি..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদ-দীনুল আলামী ওয়া মানহাজুদ দাওয়াতি ইলাইহি
(পৃষ্ঠা: ২৯)
فجاءتهم الشياطين فاجتالتهم عن دينهم" أى حولتهم (1).
الفطرة المذكورة فى الآية والحديث هى الجبلة والطبيعة والخليقة الإنسانية الجامعة بين العالمين المادى والروحى، والمستعدة لمعرفة عالم الغيب والشهادة، وما أودع فيها من غريزة التدين المطلق، الذى هو الشعور الوجدانى بسلطان غيبى فوق قوى الكون والسنن والأسباب التى قام بها نظام كل شيء.
والإسلام قد راعى الفطرة فى بناء التكاليف عليها بحيث لا تكون مصطدمة معها، أو مهملة لمقتضياتها المادية والروحية، وفى تقرير الأدلة وسلوك السبل للدعوة وغرس المبادئ، كل ذلك كان مستوحى من الفطرة ومستخدما إياها فى هذا الغرض النبيل.
ففى مبادئ الإسلام ما يشير إليه قوله تعالى: {وَابْتَغِ فِيمَا آتَاكَ اللَّهُ الدَّارَ الْآخِرَةَ وَلَا تَنْسَ نَصِيبَكَ مِنَ الدُّنْيَا} (2). وقول النبي صلى الله عليه وسلم: "إن لبدنك عليك حقا ولربك عليك حقا" (3)، وغير ذلك من النصوص والتشريعات المراعية لطبيعة النفس وحاجات الجسم
--------------------------------------------
"অতঃপর শয়তানরা তাদের নিকট এসে তাদেরকে তাদের দ্বীন থেকে বিচ্যুত করল" অর্থাৎ তাদেরকে সত্য থেকে সরিয়ে নিল (১)।
আয়াত এবং হাদিসে উল্লিখিত 'ফিতরাত' (স্বভাবজাত প্রকৃতি) হলো মানুষের সেই সৃজনশৈলী, স্বভাব ও সৃষ্টিগত বৈশিষ্ট্য যা বস্তুগত ও আধ্যাত্মিক উভয় জগতের সমন্বয়কারী এবং যা দৃশ্য ও অদৃশ্যের জগত সম্পর্কে জ্ঞান লাভের জন্য প্রস্তুত। এটি হলো মানুষের অন্তরে প্রোথিত চিরন্তন ধার্মিকতার প্রবৃত্তি, যা মহাবিশ্বের শক্তি, নিয়ম ও কারণসমূহ—যার মাধ্যমে সবকিছুর শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠিত—সেগুলোর ঊর্ধ্বে এক অতিপ্রাকৃত অদৃশ্যের প্রভাবের প্রতি এক আবেগীয় অনুভূতি।
ইসলাম শরিয়তের বিধানসমূহ (তাকলিফ) আরোপের ক্ষেত্রে ফিতরাতের প্রতি লক্ষ্য রেখেছে, যাতে তা স্বভাবজাত প্রকৃতির সাথে সাংঘর্ষিক না হয় অথবা এর বস্তুগত ও আধ্যাত্মিক চাহিদাকে উপেক্ষা না করে। দলীলসমূহ নির্ধারণ, দাওয়াতের পথ অবলম্বন এবং মূলনীতিসমূহ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে সবকিছুই ফিতরাত থেকে অনুপ্রাণিত এবং এই মহৎ উদ্দেশ্যে তা ব্যবহৃত হয়েছে।
ইসলামের মূলনীতিসমূহে আল্লাহ তাআলার এই বাণী সেদিকেই ইঙ্গিত দেয়: {আল্লাহ তোমাকে যা দান করেছেন তা দিয়ে পরকাল অনুসন্ধান করো এবং দুনিয়া থেকে তোমার অংশ ভুলে যেয়ো না} (২)। এবং নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: "নিশ্চয়ই তোমার ওপর তোমার শরীরের অধিকার রয়েছে এবং তোমার ওপর তোমার প্রতিপালকের অধিকার রয়েছে" (৩)। এছাড়াও অন্যান্য ধর্মতাত্ত্বিক পাঠ ও বিধি-বিধানসমূহ মানুষের মনস্তাত্ত্বিক প্রকৃতি ও দৈহিক চাহিদার প্রতি লক্ষ্য রেখেছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদ-দীনুল আলামী ওয়া মানহাজুদ দাওয়াতি ইলাইহি
(পৃষ্ঠা: ৩০)
ومتطلبات العقل، وفي الدعوة كانت أساليب الترغيب والترهيب، واستعمال وسائل الإيضاح وعوامل التشويق، وترويض النفس بالصبر على البلاء والشكر على الرخاء، وبيان أثر القدوة والاستهواء ومراعاة حكم البيئة وعوامل الوراثة وما إلى ذلك.
وبهذه الميزة كان الإسلام ملائما لجميع الأجناس البشرية، فالفطرة الأصيلة واحدة، وتقبلته النفوس على اختلاف مستوياتها، ومتمشيا مع مطالب الحياة بالقدر الذى يصلحها ويجعل النشاط فيها ينتج انتاجا مثمرا مفيدا.
(ب) ومن قيام الإسلام على العقل. وتكريمه له نرى أن معجزته الكبرى عقلية وهى القرآن الكريم، كما يقول النبي صلى الله عليه وسلم: "ما من الأنبياء من نبي إلا وقد أعطى من الآيات ما مثله آمن عليه البشر، وإنما الذى أوتيته وحيا أوحاه الله إلى، وأرجو أن أكون أكثرهم تابعا يوم القيامة" (1).
وفى القرآن الكريم آيات كثيرة تدعو إلى استعمال العقل، فقد تكرر كثيرا قوله تعالى "أفلا تعقلون".
--------------------------------------------
এবং বুদ্ধিবৃত্তিক চাহিদা; দাওয়াতের ক্ষেত্রে ছিল উৎসাহ প্রদান ও ভীতি প্রদর্শনের পদ্ধতিসমূহ, এবং ব্যাখ্যার মাধ্যম ও আগ্রহ সঞ্চারের উপাদানসমূহের ব্যবহার, বিপদে ধৈর্য ধারণ ও স্বাচ্ছন্দ্যে কৃতজ্ঞতা প্রকাশের মাধ্যমে নফসকে বশীভূত করা, আর আদর্শের প্রভাব ও আকর্ষণ বর্ণনা এবং পরিবেশের প্রভাব ও বংশগতির উপাদানসমূহের বিবেচনা ইত্যাদি।
এই বৈশিষ্ট্যের কারণেই ইসলাম সকল মানবজাতির জন্য উপযোগী হয়েছে, কারণ মানুষের আদি স্বভাব অভিন্ন। মানুষের মন তার বিভিন্ন স্তর নির্বিশেষে একে গ্রহণ করেছে। এটি জীবনের দাবিগুলোর সাথে এমন মাত্রায় সংগতিপূর্ণ যা জীবনকে সংশোধন করে এবং এর কর্মতৎপরতাকে ফলপ্রসূ ও উপকারী করে তোলে।
(খ) ইসলামের ভিত্তি বুদ্ধিবৃত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত হওয়া এবং বুদ্ধিবৃত্তিকে এর সম্মান প্রদর্শনের একটি দিক হলো, আমরা দেখতে পাই যে এর সর্বশ্রেষ্ঠ মুজিজা হলো বুদ্ধিবৃত্তিক—আর তা হলো পবিত্র কুরআন। যেমনটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "নবীদের মধ্যে এমন কোনো নবী নেই যাঁকে এমন নিদর্শন প্রদান করা হয়নি যা দেখে মানুষ ঈমান এনেছে। আর আমাকে যা প্রদান করা হয়েছে তা হলো ওহি, যা আল্লাহ আমার নিকট অবতীর্ণ করেছেন। আমি আশা করি যে কিয়ামতের দিন আমি তাঁদের মধ্যে সর্বাধিক অনুসারীর অধিকারী হবো।" (১)।
পবিত্র কুরআনে এমন অনেক আয়াত রয়েছে যা বুদ্ধি ব্যবহারের আহ্বান জানায়। মহান আল্লাহর এই বাণী "তবে কি তোমরা অনুধাবন করবে না?" অনেকবার এসেছে।
--------------------------------------------