(খণ্ড: ১)
আত-তাহালুফুস সিয়াসি ফিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: -)
التحالف السياسي في الإسلام القسم: السياسة الشرعية والقضاء
الكتاب: التحالف السياسي في الإسلام
المؤلف: منير محمد الغضبان
الناشر: مكتبة المنار الأردن - الزرقاء
الطبعة: الأولى، 1402هـ - 1982م
عدد الصفحات: 108
أعده للشاملة: أبو ياسر الجزائري
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 7 ربيع الآخر 1433
ইসলামে রাজনৈতিক জোট বিভাগ: সিয়াসা শারইয়্যাহ ও বিচারব্যবস্থা
গ্রন্থ: ইসলামে রাজনৈতিক জোট
লেখক: মুনীর মুহাম্মদ আল-গাদবান
প্রকাশক: মাকতাবাতুল মানার, জর্ডান - যারকা
সংস্করণ: প্রথম، ১৪০২ হিজরি - ১৯৮২ ঈসায়ী
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১০৮
শামেলার জন্য প্রস্তুত করেছেন: আবু ইয়াসির আল-জাজায়িরি
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৭ রবিউল আখির ১৪৩৩
(খণ্ড: ১)
আত-তাহালুফুস সিয়াসি ফিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ১)
التحالف السياسي
في الإسلام
الطبعة الأولى
1402هـ - 1982م
منير محمد الغضبان
مكتبة المنار الأردن - الزرقاء
রাজনৈতিক জোট
ইসলামে
প্রথম সংস্করণ
১৪০২ হিজরি - ১৯৮২ খ্রিস্টাব্দ
মুনির মুহাম্মদ আল-গাদবান
মাকতাবাতুল মানার, জর্ডান - জারকা
(খণ্ড: ১)
আত-তাহালুফুস সিয়াসি ফিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ৩)
بين يدي البحثبسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله رب العالين. والصلاة والسلام على إمام المجاهدين سيدنا محمد، وعلى آله وصحبه والتابعين وبعد.
موضوع البحث هو: في التحالف السياسي، والبناء الداخلي.
ويرد على الخاطر سؤال سريع: لماذا أصبح حديث التحالف السياسي موضوع الساعة؟ خاصة والحركة الإسلامية في الربع الأخير من القرن الماضي كان موضوع الساعة عندها هو التميز والمفاصلة.
ويبدو في النظرة العجلى للأمور أن الموضوعين متناقضان تمام التناقض. فهل انحرفت الحركة الإسلامية عن مسارها الصحيح. حتى استبدلت المفاصلة والتميز بالتحالف؟؟ أبدا. ولكن سنة التطور الربانية هي التي قادت الحركة الإسلامية إلى هذا الموقع.
لقد
ابتدأت الحركة الإسلامية مسارها الأول في ظل أنظمة تؤمن بالإسلام عقيدة وتخالفه سلوكا. فكان الطرح الإسلامي المناسب لتلك المرحلة. هو طرح المفهوم المتكامل للإسلام بصفته عقيدة وشريعة ونظام حياة.
واتجهت الكتابات الإسلامية كلها لتثبت للناس أن الإسلام بالإضافة إلى كونه عقيدة. فهو نظام سياسي واجتماعي واقتصادي يحل مشاكل الحياة برمتها.
وكأن الشعور الخفي لدى الدعاة أن هؤلاء الحكام الذين يجهلون الإسلام سيسارعون إلى تنفيذه منذ لحظات اطلاعهم على هذه المبادئ. وإذا تلكؤوا.
গবেষণার প্রাক-আলোচনাবিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম
সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক মুজাহিদদের ইমাম আমাদের নেতা মুহাম্মদ (সা.), তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীগণ এবং তাবেয়ী (تابعين) গণের ওপর। এরপর:
গবেষণার বিষয়বস্তু হলো: রাজনৈতিক জোট এবং অভ্যন্তরীণ কাঠামো গঠন।
মনে একটি দ্রুত প্রশ্ন উদিত হয়: রাজনৈতিক জোটের আলোচনা কেন বর্তমান সময়ের প্রধান বিষয়ে পরিণত হলো? বিশেষ করে গত শতাব্দীর শেষ চতুর্থাংশে যখন ইসলামী আন্দোলনের প্রধান আলোচনার বিষয় ছিল স্বকীয়তা এবং পার্থক্য বিধান।
আপাতদৃষ্টিতে মনে হতে পারে যে, বিষয় দুটি সম্পূর্ণ পরস্পরবিরোধী। তবে ইসলামী আন্দোলন কি তার সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছে, যার ফলে তারা পার্থক্য বিধান ও স্বকীয়তার পরিবর্তে জোট গঠনকে স্থলাভিষিক্ত করেছে? কক্ষনো নয়। বরং বিবর্তনের খোদায়ী নীতিই ইসলামী আন্দোলনকে এই অবস্থানে নিয়ে এসেছে।
ইসলামী আন্দোলন
তার প্রাথমিক পথচলা শুরু করেছিল এমন সব শাসনব্যবস্থার অধীনে, যারা বিশ্বাস (عقيدة) হিসেবে ইসলামকে মানত কিন্তু আচরণে তার বিরোধিতা করত। ফলে তৎকালীন সময়ের জন্য উপযুক্ত ইসলামী উপস্থাপন ছিল ইসলামের পূর্ণাঙ্গ ধারণা—বিশ্বাস (عقيدة), শরিয়ত (شريعة) ও জীবনব্যবস্থা হিসেবে তুলে ধরা।
তৎকালীন যাবতীয় ইসলামী রচনাবলি মানুষকে এটি প্রমাণ করার দিকে মনোনিবেশ করেছিল যে, ইসলাম কেবল একটি বিশ্বাস (عقيدة) হওয়ার পাশাপাশি এটি একটি রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থা, যা জীবনের যাবতীয় সমস্যার সমাধান দেয়।
দাওয়াত প্রদানকারীদের মাঝে যেন এক সুপ্ত অনুভূতি কাজ করছিল যে, ইসলাম সম্পর্কে অজ্ঞ এই শাসকরা এই মূলনীতিগুলো সম্পর্কে অবগত হওয়ার মুহূর্ত থেকেই তা বাস্তবায়নে সচেষ্ট হবে। আর যদি তারা ইতস্তত করে।
(খণ্ড: ১)
আত-তাহালুফুস সিয়াসি ফিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ৪)
فدافعهم لذلك هو الحرص على المصلحة والمنصب. وكان للإمام الرائد حسن البنا فضل في تحديد المسار والمنطلقات للحركة في تلك الظروف.
و
كانت المرحلة الثانية من تاريخ الحركة الإسلامية هي مرحلة المحن الرهيبة التي انقضت عليها ليمحص الله الذين آمنوا ويمحق الكافرين. فلقد وصل إلى حكم بعض الدول المسماة بالإسلامية والعربية جهات بدأت تطرح بدائل جديدة عن الإسلام، وحتى تفرض هذه المبادئ فرضا كان لا بد من سحق حملة لواء الإسلام. لأن هذه العقائد أعجز من أن تصل إلى ضمير الأمة بالإقناع. فسلكت طريق الإرهاب الدموي.
وإمام هذا الإرهاب العنيف تبنت الحركة الإسلامية مفهوم التميز التام عن هؤلاء الحاكمين الذين أعلنوا تبنيهم لغير شريعة الله، وعن المحكومين الذين قبلوا الاحتكام لغير شريعة الله. وانطلقت هذه الأصوات من قلب المحنة ومن وراء القضبان تؤكد وتصر على هذا المعنى. ولم يكن ((الظلال)) ((وهذا الدين)) ((والستقبل لهذا الدين)) ((والمعالم)) إلا قمة من قمم هذا الفكر، حيث سارت الكتابات الإسلامية بعدها ضمن هذا الإتجاه. وكان للإمام الشهيد سيد قطب رحمه الله دور الريادة في هذا الفكر.
(ثم
كانت المرحلة الثالثة) من حياة الحركة الإسلامية حيث تمكنت الحركة من الخطوة الحاسمة في حياتها. أن تتجاوز هذه المحن الرهيبة. وتنتفض من تحت المطرقة والموت في بعض الأقطار، لتحمل السلاح في وجه عدوها، لا مدافعة عن نفسها فحسب. بل مهاجمة هذا العدو تقض عليه مضجعه وتحاصره. لتنتزع منه قيادته الجاهلية بقوة السلاح.
وانطلق التيار الإسلامي مستعصيا على الإبادة والإفناء ماضيا في طريقه فإنما هي إحدى الحسنيين النصر أو الشهادة.
সুতরাং এর পেছনে তাদের মূল চালিকাশক্তি ছিল স্বার্থ রক্ষা ও পদের আকাঙ্ক্ষা। আর সেই পরিস্থিতিতে আন্দোলনের গতিপথ ও লক্ষ্যসমূহ নির্ধারণে অগ্রগামী ইমাম হাসানুল বান্নার বিশেষ অবদান ছিল।
আর
দ্বিতীয় পর্যায়টি ছিল ইসলামী আন্দোলনের ইতিহাসের সেই ভয়াবহ অগ্নিপরীক্ষার কাল, যা আন্দোলনের ওপর আপতিত হয়েছিল যাতে আল্লাহ মুমিনদের যাচাই করে পবিত্র করেন এবং কাফিরদের নিশ্চিহ্ন করে দেন। কেননা তথাকথিত কিছু মুসলিম ও আরব রাষ্ট্রের ক্ষমতায় এমন কিছু গোষ্ঠী আসীন হয়েছিল যারা ইসলামের পরিবর্তে নতুন বিকল্প ব্যবস্থা পেশ করতে শুরু করে; আর এই আদর্শসমূহকে জোরপূর্বক চাপিয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে ইসলামের ঝাণ্ডাবাহীদের পিষে ফেলা তাদের জন্য অনিবার্য হয়ে পড়েছিল। কারণ এই আকিদাগুলো উম্মাহর বিবেককে যুক্তির মাধ্যমে আশ্বস্ত করতে সক্ষম ছিল না। ফলে তারা রক্তক্ষয়ী সন্ত্রাসের পথ বেছে নিয়েছিল।
এই প্রচণ্ড সন্ত্রাসের মুখে ইসলামী আন্দোলন সেইসব শাসকদের থেকে সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র হওয়ার ধারণা গ্রহণ করে যারা আল্লাহর শরীয়াহ ব্যতীত অন্য বিধান অনুসরণের ঘোষণা দিয়েছিল, এবং সেইসব শাসিতদের থেকেও যারা আল্লাহর শরীয়াহ বহির্ভূত বিচারব্যবস্থা মেনে নিয়েছিল। অগ্নিপরীক্ষার কেন্দ্রস্থল এবং কারাগারের প্রকোষ্ঠ থেকে এই কণ্ঠস্বরগুলো ধ্বনিত হয়ে এই চেতনার ওপর গুরুত্বারোপ ও অবিচলতা ঘোষণা করেছিল। আর 'জিললাল', 'হাযাদ দ্বীন', 'আল-মুসতাকবাল লি-হাযাদ দ্বীন' এবং 'মাআলিম' ছিল এই চিন্তাধারার একেকটি শীর্ষবিন্দু, যার ফলে পরবর্তী ইসলামী সাহিত্যসমূহ এই ধারাতেই অগ্রসর হয়। আর এই চিন্তাধারায় শহীদ ইমাম সাইয়্যেদ কুতুব (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন)-এর অগ্রণী ভূমিকা ছিল।
(অতঃপর
তৃতীয় পর্যায়টি ছিল) ইসলামী আন্দোলনের জীবনপঞ্জির সেই সন্ধিক্ষণ, যখন এই আন্দোলন তার পথচলায় এক চূড়ান্ত পদক্ষেপ নিতে সক্ষম হয়। অর্থাৎ, এই ভয়াবহ অগ্নিপরীক্ষাগুলো অতিক্রম করা এবং কোনো কোনো জনপদে দমন-পীড়ন ও মৃত্যুর বিভীষিকা থেকে জেগে উঠে শত্রুর মোকাবেলায় অস্ত্র তুলে নেওয়া—যা কেবল আত্মরক্ষার জন্যই ছিল না; বরং শত্রুর ওপর আক্রমণ শানিত করে তাদের রাতের ঘুম কেড়ে নিতে এবং তাদের অবরুদ্ধ করতে, যাতে অস্ত্রের শক্তিতে তাদের থেকে জাহেলী নেতৃত্ব ছিনিয়ে নেওয়া যায়।
এভাবে ইসলামী ধারা বিনাশ ও নির্মূল হওয়ার সকল ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করে দিয়ে সম্মুখপানে এগিয়ে যায়; কারণ তাদের সামনে রয়েছে দুই কল্যাণের একটি—বিজয় অথবা শাহাদাত।
(খণ্ড: ১)
আত-তাহালুফুস সিয়াসি ফিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ৫)
ووقف العالم مبهوتا إمام هذه الانطلاقة الإسلامية الواضحة المتميزة التي وصلت أعلى قمم التميز والمفاصلة. حين أعلنت الحرب على الطاغوت في الأرض لتسود شريعة الله.
وكانت حركة الجهاد الإسلامي في سورية هي التي مثلت هذه الصورة.
ونظر الكثيرون إلى الساحة. فرأوا نماذج من التضحية والفداء والشجاعة قادرة حقا وبإذن الله على تحقيق النصر فبدؤوا يتعاملون مع الحركة الإسلامية تعاملهم مع الأنداد وقادة الثورات وبناة الدول. فأمكن في هذه الظروف، ومن أعلى قمم التميز والمفاصلة الحديث عن التحالف بين الاتجاه الإسلامي وغيره. وراح الدعاة ورجال الحركة يبحثون في الفقه الإسلامي والسيرة النبوية صور التحالف المشروعة وغير المشروعة. لأنها غدت موضوع الساعة فلا بد أن تحدد الحركة الإسلامية أعداءها وأصدقاءها وتتعامل معهم على ضوء ذلك.
وإيمانا منا بأهمية هذا الموضوع وخطورته. كان هذا الجهد المتواضع الذي تناول التحالف السياسي في الإسلام من خلال السيرة النبوية، ومدى الاعتماد عليه، وعلى البناء الداخلي للحركة في إقامة دولة الإسلام.
وقد اقتصر البحث على تناول موضوع التحالف في مرحلة الضعف. وفي مرحلة العمل لتأسيس الدولة الإسلامية، لأن هذا هو الموضوع العملي القائم. أما بعد انتصار الإسلام فيمكن البحث عن التحالف في تلك المرحلة، ولن نتعرض لغير السيرة إلا بمقدار الضرورة بإذن الله راجين الله تعالى أن يسدد خطانا إلى الحق، ويجنبنا اتباع الهوى وزلة الفكر وأن يجعل عملنا خالصا لوجهه وأن يكون في صحائف حسناتنا يوم القيامة إنه على كل شيء قدير وبالإجابة جدير وآخر دعوانا أن الحمد لله رب العالمين.
এই সুস্পষ্ট ও স্বতন্ত্র ইসলামী জাগরণের সামনে বিশ্ব আজ স্তম্ভিত হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা স্বাতন্ত্র্য ও পার্থক্যের সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছেছে; যখন যমিনে আল্লাহর শরীয়তকে বিজয়ী করার লক্ষ্যে তাগুতের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
সিরিয়ার ইসলামী জিহাদ আন্দোলনই মূলত এই চিত্রটির প্রতিনিধিত্ব করেছে।
অনেকেই এই ময়দানের দিকে দৃষ্টি দিয়েছেন এবং তারা কুরবানী, আত্মত্যাগ ও সাহসিকতার এমন সব নমুনা দেখেছেন যা প্রকৃতপক্ষে এবং আল্লাহর ইচ্ছায় বিজয় অর্জনে সক্ষম। ফলে তারা ইসলামী আন্দোলনের সাথে সমকক্ষ পক্ষ, বিপ্লবের নেতা ও রাষ্ট্র নির্মাতাদের ন্যায় আচরণ করতে শুরু করেছেন। এমতাবস্থায়, স্বাতন্ত্র্য ও পার্থক্যের সেই উচ্চশিখর থেকে ইসলামী ধারা ও অন্যদের মধ্যে রাজনৈতিক জোট বা মৈত্রী সম্পর্কে আলোচনা করা সম্ভব হয়েছে। আর দায়ীগণ এবং আন্দোলনের কর্মীরা ইসলামী ফিকহ ও সীরাতে নববীতে জোটের বৈধ ও অবৈধ স্বরূপগুলো অনুসন্ধান করতে শুরু করেছেন। যেহেতু এটি বর্তমান সময়ের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে, তাই ইসলামী আন্দোলনকে অবশ্যই তার শত্রু ও মিত্রদের চিহ্নিত করতে হবে এবং সেই নিরিখেই তাদের সাথে কর্মপন্থা নির্ধারণ করতে হবে।
এই বিষয়ের গুরুত্ব ও স্পর্শকাতরতার প্রতি আমাদের গভীর বিশ্বাসের কারণেই এই বিনীত প্রচেষ্টা চালানো হয়েছে, যেখানে সীরাতে নববীর আলোকে ইসলামে রাজনৈতিক জোটের বিষয়টি এবং ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় এর ওপর নির্ভরতা ও আন্দোলনের অভ্যন্তরীণ কাঠামোর ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
এই গবেষণাটি কেবল দুর্বলতার পর্যায় এবং ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করার সময়কালীন জোট সংক্রান্ত আলোচনার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে, কারণ বর্তমানে এটিই একটি প্রায়োগিক বিষয়। আর ইসলামের বিজয়ের পরবর্তী সময়ের জোট নিয়ে পরে আলোচনা করা যেতে পারে। ইনশাআল্লাহ, বিশেষ প্রয়োজন ব্যতীত আমরা সীরাত ছাড়া অন্য কোনো বিষয়ের অবতারণা করব না। আমরা মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যে, তিনি যেন আমাদের পদক্ষেপগুলোকে সত্যের দিকে পরিচালিত করেন, প্রবৃত্তি অনুসরণ ও চিন্তাগত বিচ্যুতি থেকে রক্ষা করেন এবং আমাদের এই কর্মকে কেবল তাঁর সন্তুষ্টির জন্য কবুল করেন। কিয়ামতের দিন যেন এটি আমাদের নেক আমলের খাতায় যুক্ত থাকে; নিশ্চয়ই তিনি সর্বশক্তিমান এবং প্রার্থনা কবুলের যোগ্য। আমাদের শেষ কথা হলো—সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।
(খণ্ড: ১)
আত-তাহালুফুস সিয়াসি ফিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ৬)
أولا: الحلف لغة وشرعا:يقول الإمام اللغوي الفقيه أبو منصور
… :
والحلفاء هم الذين تعاقدوا على التناصر والتمالؤ على من خالفهم.
وبهذا التعريف فقد يكون الحلف بين جماعتين إسلاميتن. وقد يكون بين الجماعة الإسلامية وأي تجمع حتى ولو كان كافرا للتناصر على عدو ثالث.
وإذا رجعنا إلى نصوص السنة لأخذ المعنى الشرعي طالعنا الحديثان التاليان حول الحلف:
ـ[الأول]ـ: روى ((مسلم وأبو داود)) عن جبير بن مطعم رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «لا حلف في الإسلام، وأيما حلف كان في الجاهلية لم يزده الإسلام إلا شدة» وقال أبوداود: يريد حلف المطيبين.
وندع شرح هذا النص للإمام المحدث ابن الأثير حيث يوضح لنا غريبه ومعناه (لا حلف في الإسلام) أصل الحلف: المعاقدة والمعاهدة على التعاضد والتساعد والاتفاق، فما كان منه في الجاهلية على الفتن والقتال بين القبائل والغارات فذلك الذي ورد النهي عنه في الإسلام بقوله صلى الله عليه وسلم لا حلف في الإسلام وما كان منه في الجاهلية على نصر المظلوم وصلة الأرحام كحلف المطيبين وما جرى مجراه فذلك الذي قال فيه صلى الله عليه وسلم: (وأيما حلف كان في الجاهلية لم يزده الإسلام إلا
شدة) يريد من المعاقدة على الخير، والنصر للحق، وبذلك يجتمع الحديثان. وقد حالف رسول الله صلى الله عليه وسلم في الإسلام
প্রথমত: আভিধানিক ও শরয়ী দৃষ্টিকোণ থেকে মৈত্রী (الحلف):ভাষাতাত্ত্বিক ও ফকিহ (الفقيه) ইমাম আবু মনসুর
… বলেন:
মিত্র (الحلفاء) হলো তারা, যারা তাদের বিরোধীদের বিরুদ্ধে একে অপরকে সাহায্য ও সহযোগিতার জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়েছে।
এই সংজ্ঞা অনুযায়ী, মৈত্রী (الحلف) দুটি ইসলামি দলের মধ্যে হতে পারে। আবার এটি কোনো ইসলামি দল এবং অন্য কোনো গোষ্ঠীর মধ্যেও হতে পারে—এমনকি তারা কাফির হলেও—তৃতীয় কোনো শত্রুর বিরুদ্ধে পারস্পরিক সহযোগিতার লক্ষ্যে।
শরয়ী অর্থ গ্রহণের জন্য যদি আমরা সুন্নাহর (السنة) দলীলসমূহের দিকে দৃষ্টিপাত করি, তবে মৈত্রী (الحلف) সংক্রান্ত নিম্নোক্ত দুটি হাদিস আমাদের সামনে আসে:
—[প্রথম]: মুসলিম ও আবু দাউদ জুবায়ের ইবনে মুতইম (রাযি.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «ইসলামে কোনো মৈত্রী (الحلف) নেই, আর জাহিলিয়্যাত (الجاهلية) যুগে যে মৈত্রী (الحلف) ছিল, ইসলাম তা কেবল আরও সুদৃঢ়ই করেছে»। আবু দাউদ বলেন: এর দ্বারা তিনি 'হিলফুল মুতাইয়্যাবীন' (حلف المطيبين) বুঝিয়েছেন।
আমরা এই পাঠের ব্যাখ্যা মুহাদ্দিস (المحدث) ইমাম ইবনুল আসিরের জন্য ছেড়ে দিচ্ছি, যেখানে তিনি এর অপরিচিত শব্দাবলী (غريب) এবং এর অর্থ স্পষ্ট করেছেন: (ইসলামে কোনো মৈত্রী নেই) মৈত্রীর (الحلف) মূল ভিত্তি হলো: পারস্পরিক সমর্থন, সহযোগিতা এবং ঐকমত্যের জন্য চুক্তিবদ্ধ হওয়া ও অঙ্গীকার করা। সুতরাং জাহিলিয়্যাত (الجاهلية) যুগে গোত্রগুলোর মধ্যে ফিতনা, যুদ্ধবিগ্রহ এবং অতর্কিত আক্রমণের জন্য যে মৈত্রী ছিল, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণী "ইসলামে কোনো মৈত্রী (الحلف) নেই" এর মাধ্যমে মূলত তা-ই নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আর জাহিলিয়্যাত (الجاهلية) যুগে মজলুমকে সাহায্য করা এবং আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা করার জন্য যে মৈত্রী ছিল, যেমন 'হিলফুল মুতাইয়্যাবীন' (حلف المطيبين) এবং এই জাতীয় অন্যান্য চুক্তি—সেগুলো সম্পর্কেই তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: (আর জাহিলিয়্যাত (الجاهلية) যুগে যে মৈত্রী (الحلف) ছিল, ইসলাম তা কেবল আরও সুদৃঢ়ই করেছে)। এর দ্বারা তিনি কল্যাণের পথে চুক্তিবদ্ধ হওয়া এবং সত্যের পক্ষে সাহায্য করা বুঝিয়েছেন। এর মাধ্যমেই হাদিস দুটির মধ্যে সমন্বয় সাধিত হয়। আর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইসলাম আসার পর মৈত্রী (الحلف) করেছিলেন।
(খণ্ড: ১)
আত-তাহালুফুস সিয়াসি ফিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ৭)
بين قريش والأنصار، يعني: آخى بينهم. وهذا هو الحلف الذي يقتضيه الإسلام، والممنوع منه: ما خالف حكم الإسلام.
ـ[الثاني]ـ رواه عاصم بن سليمان الأحول قال: قلت لأنس: أبلغك أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: لا حلف في الإسلام؟ فقال: قد حالف رسول الله صلى الله عليه وسلم بين قريش والأنصار في داري أخرجه البخاري ومسلم.
وعند أبي داود قال: سمعت أنس بن مالك يقول: حالف رسول الله صلى الله عليه وسلم في دارنا، فقيل له: أليس قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: لا حلف في الإسلام؟ فقال: حالف رسول الله صلى الله عليه وسلم بين المهاجرين والأنصار في دارنا مرتين أو ثلاثا أخرجه البخاري.
ونحن نخلص إلى أن الحظر للحلف في الإسلام هو ما يقوم على الاعتداء على الآخرين وما دون ذلك فهو جائز سواء كان بين فئات من المسلمين أو كان بين المسلمين وغيرهم. فلقد حالف رسول الله صلى الله عليه وسلم اليهود يوم دخل المدينة، ثم حاربهم قبيلة قبيلة عندما نقضوا العهد كما بقي عداء قريش مستمرا حتى السنة السادسة ثم تغيرت الخطة بعد السنة السادسة، فحالف قريشا أو صالحها، بينما شن حربه على اليهود في خيبر. ورأيناه في الخندق يحاول شق صفوف العدو بالتعاقد مع غطفان حلفاء قريش، على أن يعطيهم ثلث ثمار المدينة مقابل رجوعها عن حرب المسلمين في الوقت الذي نقض يهود بني قريظة عهدهم مع رسول الله صلى الله عليه وسلم، وأنضموا إلى أعدائه
কুরাইশ এবং আনসারদের মধ্যে, অর্থাৎ: তিনি তাদের মাঝে ভ্রাতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। এটিই সেই মৈত্রী (حلف) যা ইসলাম দাবি করে, আর যা নিষিদ্ধ তা হলো: যা ইসলামের বিধানের বিরোধী।
—[দ্বিতীয়] আসিম বিন সুলাইমান আল-আহওয়াল বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আনাস (রা.)-কে জিজ্ঞেস করলাম, আপনার কাছে কি এই সংবাদ পৌঁছেছে যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: ইসলামে কোনো মৈত্রী (حلف) নেই? তিনি বললেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) আমার ঘরে কুরাইশ এবং আনসারদের মধ্যে মৈত্রী (حلف) স্থাপন করেছিলেন। এটি বুখারি ও মুসলিম বর্ণনা (أخرجه) করেছেন।
আবু দাউদের বর্ণনায় তিনি বলেন: আমি আনাস ইবনে মালিক (রা.)-কে বলতে শুনেছি: রাসূলুল্লাহ (সা.) আমাদের ঘরে মৈত্রী (حلف) স্থাপন করেছিলেন। তখন তাকে বলা হলো: রাসূলুল্লাহ (সা.) কি বলেননি যে: ইসলামে কোনো মৈত্রী (حلف) নেই? তিনি বললেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) আমাদের ঘরে মুহাজির ও আনসারদের মধ্যে দুই বা তিনবার মৈত্রী (حلف) স্থাপন করেছিলেন। এটি বুখারি বর্ণনা (أخرجه) করেছেন।
আমরা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হই যে, ইসলামে মৈত্রীর (حلف) ওপর যে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে তা হলো সেই মৈত্রী যা অন্যের ওপর জুলুম বা অন্যায়ের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে; এর বাইরে অন্য সব মৈত্রী বৈধ (جائز), তা মুসলমানদের বিভিন্ন দলের মধ্যে হোক বা মুসলমান ও অন্যদের মধ্যে। রাসূলুল্লাহ (সা.) মদিনায় প্রবেশ করে ইহুদিদের সাথে মৈত্রী (حلف) করেছিলেন, এরপর যখন তারা প্রতিশ্রুতি (عهد) ভঙ্গ করল, তখন তিনি গোত্র ধরে ধরে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করলেন। কুরাইশদের সাথে শত্রুতা ষষ্ঠ হিজরি পর্যন্ত অব্যাহত ছিল, তারপর ষষ্ঠ হিজরির পর পরিকল্পনা পরিবর্তিত হয়, ফলে তিনি কুরাইশদের সাথে মৈত্রী (حلف) বা সন্ধি (صالح) করেন, আর খায়বারে ইহুদিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করেন। খন্দকের যুদ্ধে আমরা তাকে কুরাইশদের মিত্র (حلفاء) গাতাফান গোত্রের সাথে চুক্তির (تعاقد) মাধ্যমে শত্রুপক্ষের ঐক্যে ফাটল ধরানোর চেষ্টা করতে দেখি, যাতে মদিনার এক-তৃতীয়াংশ ফল তাদের দেওয়ার বিনিময়ে তারা মুসলমানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ থেকে ফিরে যায়; ঠিক সেই সময়েই বনু কুরাইজা ইহুদিরা রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সাথে তাদের প্রতিশ্রুতি (عهد) ভঙ্গ করেছিল এবং তার শত্রুদের সাথে যোগ দিয়েছিল।
(খণ্ড: ১)
আত-তাহালুফুস সিয়াসি ফিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ৮)
ثانيا: الأحلاف في مرحلة الضعف
أ - حلف الفضولما كان لنا أن نتعرض لحلف الفضول. وهو حلف جاهلي في الأصل وقد حضره رسول الله صلى الله عليه وسلم قبل البعثة لولا حديث الرسول صلى الله عليه عليه وسلم الذي أسبغ عليه صفة شرعية حيث قال:
… ((لقد شهدت في دار عبد الله بن جدعان حلفا ما أحب أن لي به حمر النعم، ولو أدعى به في الإسلام لأجبت)) (1)
أما طبيعة هذا الحلف فكما ذكره ابن اسحاق (2): (كان سببه أن رجلا من زبيد قدم مكة ببضاعة واشتراها منه العاص بن وائل وكان ذا قدر بمكة وشرف. فحبس عنه حقه، فاستعدى عليه الزبيدي الأحلاف (عبد الدار ومخزوما وجمحا وسهما وعديا) فأبوا أن يعينوه على العاص بن وائل. فعلا جبل أبي قبيس - وقريش في أنديتهم حول الكعبة - فنادى بشعر يصف فيه ظلامته رافعا صوته، فمشى في ذلك (الزبير بن عبد المطلب) وقال: ما لهذا مترك. فاجتمعت هاشم وزهرة وتيم بن مرة في دار ابن جدعان، فصنع لهم طعاما وتحالفوا في ذي القعدة في شهر حرام قياما، فتعاهدوا وتعاقدوا بالله ليكونن يدا واحدا مع المظلوم على الظالم حتى يؤدى إليه حقه ما بل بحر صوفة فسمت قريش ذلك الحلف (الفضول) وقالوا: لقد دخل هؤلاء في فضل من الأمر. ثم مشوا إلى العاص بن وائل فانتزعوا منه وقال الزبير بن عبد المطلب:
إن الفضول تحالفوا وتعاقدوا
… ألا يقيم ببطن مكة ظالم
أمر عليه توافقوا وتعاقدوا
… فالجار والمعتر فيهم سالم
--------------------------------------------
দ্বিতীয়ত: দুর্বলতার পর্যায়ে মৈত্রীবদ্ধতা (الأحلاف)ক - হিলফুল ফুজুলআমাদের হিলফুল ফুজুল নিয়ে আলোচনা করার প্রয়োজন হতো না—যা মূলত জাহিলি যুগের একটি মৈত্রী চুক্তি ছিল এবং রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নবুয়ত প্রাপ্তির পূর্বে তাতে উপস্থিত ছিলেন—যদি না রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর হাদিসটি একে শারয়ি মর্যাদা প্রদান করত, যেখানে তিনি বলেছেন:
... ((আমি আবদুল্লাহ ইবনে জুদআনের ঘরে এমন একটি মৈত্রী চুক্তিতে উপস্থিত ছিলাম, যার বিনিময়ে লাল উট পাওয়াও আমার নিকট অধিক পছন্দনীয় নয়; আর যদি ইসলামি যুগেও আমাকে এর জন্য আহ্বান করা হতো, তবে আমি তাতে সাড়া দিতাম।)) (১)
এই মৈত্রী চুক্তির প্রকৃতি সম্পর্কে ইবনে ইসহাক যেমনটি উল্লেখ করেছেন (২): ((এর কারণ ছিল যে, জুবাইদ গোত্রের এক ব্যক্তি কিছু পণ্য নিয়ে মক্কায় আগমন করেন এবং আস ইবনে ওয়ায়েল তা তার থেকে ক্রয় করেন; আস মক্কায় প্রভাবশালী ও মর্যাদাবান ছিলেন। সে তার পাওনা পরিশোধে গড়িমসি করল। তখন জুবাইদি ব্যক্তিটি মিত্র গোত্রগুলোর (আবদুদ দার, মাখজুম, জুমাহ, সাহম ও আদি) নিকট সাহায্য চাইল, কিন্তু তারা আস ইবনে ওয়ায়েলের বিরুদ্ধে তাকে সাহায্য করতে অস্বীকার করল। অতঃপর সে আবু কুবাইস পাহাড়ে আরোহণ করল—তখন কুরাইশরা কাবার চারপাশে তাদের সভাস্থলগুলোতে উপবিষ্ট ছিল—এবং উচ্চস্বরে কবিতা পাঠের মাধ্যমে তার প্রতি হওয়া অবিচারের বর্ণনা দিল। তখন যুবাইর ইবনে আবদুল মুত্তালিব এ বিষয়ে তৎপর হলেন এবং বললেন: "এটি এভাবে ছেড়ে দেওয়ার মতো নয়।" অতঃপর বনু হাশিম, বনু জুহরাহ এবং তায়িম ইবনে মুররাহ ইবনে জুদআনের ঘরে একত্রিত হলেন। তিনি তাদের জন্য খাবারের আয়োজন করলেন এবং তারা যিলকদ মাসে, যা একটি হারাম মাস, দাঁড়িয়ে এই শপথ গ্রহণ করলেন। তারা আল্লাহর নামে এই মর্মে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ও চুক্তিবদ্ধ হলেন যে, তারা জালেমের বিরুদ্ধে মজলুমের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ শক্তি হিসেবে কাজ করবেন যতক্ষণ না তার পাওনা আদায় হয় এবং যতক্ষণ সমুদ্রের পানি পশমের টুকরোকে সিক্ত করার ক্ষমতা রাখে। কুরাইশরা এই মৈত্রী চুক্তির নাম দিল "ফুজুল" এবং তারা বলল: "নিশ্চয়ই তারা একটি অতিরিক্ত কল্যাণকর কাজে প্রবেশ করেছে।" এরপর তারা আস ইবনে ওয়ায়েলের নিকট গিয়ে তার থেকে পাওনা আদায় করে নিলেন। এবং যুবাইর ইবনে আবদুল মুত্তালিব বললেন:
নিশ্চয়ই ফুজুলগণ মৈত্রী ও চুক্তিতে আবদ্ধ হয়েছে
... যেন মক্কার অভ্যন্তরে কোনো জালেম অবস্থান করতে না পারে।
এমন এক বিষয়ে তারা ঐকমত্য ও চুক্তিবদ্ধ হয়েছে
... যার ফলে প্রতিবেশী এবং আশ্রয়প্রার্থী তাদের মাঝে নিরাপদ থাকে।))
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাহালুফুস সিয়াসি ফিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ৯)
ونلاحظ في هذا الحلف الملاحظات التالية:
1 - هو حلف قام على أساس قبلي وحضره رسول الله صلى الله عليه وسلم بصفته فردا من بني هاشم قبيلته.
2 - هدف هذا الحلف هو نصرة المظلوم على الظالم وإيصال حقه له. ومع أنه لم يقل: ولو أدعى إلى مثله. فلا ضير في ذلك طالما أن هدفه نصر المظلومين. ونصر المظلوم هدف أساسي في الإسلام.
3 - ونفهم من هذا أن للحركة الإسلامية حرية التحالف مع أي جهة كانت من أجل نصر المظلومين والدفاع عن حقوقهم.
4 - بل بتعبير أدق، أن الحوكة الإسلامية لو وصلت إلى الحكم، وكانت الدولة قبلها قد عقدت عهودا أو موثيق هدفها نصر المظلومين. فمن حقها اعتبار هذه العهود والمواثيق سارية المفعول.
ويؤكد لنا رسول الله صلى الله عليه وسلم في هذا الحديث. أنه لا يحب أن ينكثه وأن له به حمر النعم.
وكان هذا الحلف بين المطيبين قد أدى إلى انتزاع بعض الميزات من بني عبد الدار وتم توزيعها على بقية القبائل. وكان من نصيب بني عبد مناف السقاية والرفادة. وبقي اللواء وبقيت الحجابة بيد بني عبد الدار. ثم اختصت السقاية والرفادة ببني هاشم. وبنى رسول الله صلى الله عليه وسلم آثارا عملية يوم فتح مكة على هذا التحالف.
ونذكر جميعا يوم أخذ رسول الله صلى الله عليه وسلم مفتاح الكعبة من عثمان بن طلحة العبدري الذي انتهت إليه سدانة الكعبة. وصلى فيها ثماني ركعات صلاة الفتح.
এই চুক্তির (حلف) ক্ষেত্রে আমরা নিম্নোক্ত বিষয়গুলো লক্ষ্য করি:
1 - এটি ছিল গোত্রীয় ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত একটি চুক্তি (حلف), যেখানে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর নিজস্ব গোত্র বনী হাশেমের একজন সদস্য হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
2 - এই চুক্তির (حلف) লক্ষ্য ছিল জালেমের বিরুদ্ধে মজলুমকে সাহায্য করা এবং তার প্রাপ্য অধিকার তাকে পৌঁছে দেওয়া। যদিও তিনি এটি বলেননি যে: "যদি অনুরূপ কিছুর দিকে আহ্বান করা হয়"। তাতে কোনো সমস্যা নেই যতক্ষণ পর্যন্ত এর লক্ষ্য মজলুমদের সাহায্য করা হয়। আর মজলুমকে সাহায্য করা ইসলামের একটি মৌলিক লক্ষ্য।
3 - এ থেকে আমরা এটি অনুধাবন করি যে, মজলুমদের সাহায্য এবং তাদের অধিকার রক্ষার তাগিদে ইসলামী আন্দোলনের যেকোনো পক্ষের সাথে মৈত্রী (تحالف) করার স্বাধীনতা রয়েছে।
4 - বরং আরও সুনির্দিষ্টভাবে বলতে গেলে, ইসলামী আন্দোলন যদি রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয় এবং পূর্ববর্তী রাষ্ট্র মজলুমদের সাহায্যের উদ্দেশ্যে কোনো অঙ্গীকার (عهد) বা চুক্তি (ميثاق) সম্পাদন করে থাকে, তবে সেই অঙ্গীকার ও চুক্তিগুলোকে (عهود ومواثيق) কার্যকর রাখার অধিকার তাদের রয়েছে।
আর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এই হাদিসে আমাদের এ ব্যাপারে নিশ্চিত করেছেন যে, তিনি এটি ভঙ্গ করা পছন্দ করেন না এবং এর বিনিময়ে লাল উট পাওয়াও তাঁর নিকট অধিক কাম্য নয়।
মুতাইয়্যাবীনদের (সুগন্ধি ব্যবহারকারীদের) মধ্যকার এই চুক্তি (حلف) বনী আবদুদ দার-এর কাছ থেকে কিছু বিশেষ অধিকার ছিনিয়ে নিতে সহায়ক হয়েছিল এবং তা অন্যান্য গোত্রগুলোর মাঝে বণ্টন করে দেওয়া হয়েছিল। বনী আবদু মানাফের ভাগে পড়েছিল হাজীদের পানি পান করানো (سقاية) এবং মেহমানদারির (رفادة) দায়িত্ব। আর যুদ্ধের ঝাণ্ডা (لواء) এবং কাবার চাবি সংরক্ষণ (حجابة) বনী আবদুদ দারের হাতেই বহাল থাকে। পরবর্তীতে পানি পান করানো এবং মেহমানদারির দায়িত্ব বনী হাশেমের জন্য নির্দিষ্ট হয়ে যায়। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মক্কা বিজয়ের দিন এই মৈত্রীর (تحالف) ওপর ভিত্তি করে কিছু বাস্তব পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন।
আমাদের সকলের সেই দিনের কথা মনে আছে যখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) উসমান ইবনে তালহা আল-আবদারীর কাছ থেকে কাবার চাবি গ্রহণ করেছিলেন, যার কাছে কাবার রক্ষণাবেক্ষণের (سدانة) দায়িত্ব শেষ পর্যন্ত ন্যস্ত হয়েছিল। এরপর তিনি সেখানে বিজয়ের নামাজ হিসেবে আট রাকাত নামাজ আদায় করেন।
(খণ্ড: ১)
আত-তাহালুফুস সিয়াসি ফিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ১০)
قال علي رضي الله عنه: يا رسول الله اجمع لنا الحجابة مع الرفادة، وحين يجمع الححابة لبني هاشم يعني هذا نقض الاتفاق الذي تم على آثار هذا التحالف فأجابه عليه الصلاة والسلام: اليوم يوم بر ووفاء.
ثم نادى: يا عثمان بن طلحة.
فجاء عثمان. فقال له عليه الصلاة والسلام:
هاك مفتاحك يا عثمان بن طلحة:
يا بني طلحة خذوها خالدة تالدة. لا ينزعها منكم إلا ظالم.
وبذلك أعطى عليه الصلاة والسلام هذا التأييد العظيم لحجابة الكعبة لبني عبد الدار بل اعتبر هذا جزءا من الإسلام، حين ألغى كل قيم الجاهلية. وأبقى على حجابة الكعبة. وسقاية ورفادة الحجيج فقال:
ألا كل مأثرة ودم تحت قدمي هاتين إلا الحجابة والرفادة.
وبقيت الحجابة تالدة خالدة لبني عبد الدار. حتى أيامنا هذه. فلا يزال مفتاح الكعبة بيد بني عبد الدار، أو بني طلحة بشكل أخص.
فرسول الله صلى الله عليه وسلم يؤكد أنه لن ينكث به. ولو أعطي به حمر النعم.
وهو درس بليغ لنا نحن الدعاة. بحيث نعرف قيمة العهد والميثاق الذي نعطيه حتى ولو لم نبرمه نحن إذا كان فيه رفع مظلمة أو دفع مأثمة.
আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বললেন: হে আল্লাহর রাসুল! আমাদের জন্য হাজাবা (الحجابة) ও রিফাদা (الرفادة) উভয়টি একত্রিত করে দিন। আর বনু হাশিমের অনুকূলে হাজাবাকে (الحجابة) একত্রিত করার অর্থ ছিল এই জোটের প্রেক্ষিতে যে চুক্তি সম্পাদিত হয়েছিল তা ভঙ্গ করা। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উত্তর দিলেন: আজ হলো পুণ্য ও অঙ্গীকার পূর্ণ করার দিন।
এরপর তিনি ডাক দিলেন: হে উসমান বিন তালহা।
এরপর উসমান আসলেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন:
হে উসমান বিন তালহা, এই নাও তোমার চাবিকাঠি:
হে বনু তালহা, তোমরা এটি চিরস্থায়ী ও বংশপরম্পরাক্রমে (خالدة تالدة) গ্রহণ করো। কোনো জালেম (ظالم) ব্যতীত অন্য কেউ তোমাদের থেকে এটি কেড়ে নেবে না।
এর মাধ্যমে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বনু আবদুদ দারের অনুকূলে কাবার হাজাবার (حجابة) বিষয়ে এক সুমহান সমর্থন প্রদান করলেন। বরং তিনি যখন জাহেলিয়াতের (الجاهلية) সকল মূল্যবোধ বিলুপ্ত করলেন, তখন একে ইসলামেরই একটি অংশ হিসেবে গণ্য করলেন। তিনি কাবার হাজাবা (حجابة) এবং হাজীদের পানি পান করানো (سقاية) ও আপ্যায়নের (رفادة) প্রথা বহাল রাখলেন। অতঃপর বললেন:
জেনে রেখো, হাজাবা (الحجابة) ও রিফাদা (الرفادة) ব্যতীত জাহেলিয়াতের সকল গৌরবের প্রথা (مأثرة) ও রক্তের দাবি আমার এই দুই পায়ের নিচে পিষ্ট হলো।
আর হাজাবা (الحجابة) বংশপরম্পরাক্রমে (تالدة خالدة) বনু আবদুদ দারের নিকটই রয়ে গেল, যা বর্তমান সময় পর্যন্ত বলবৎ আছে। বর্তমানেও কাবার চাবিকাঠি বনু আবদুদ দারের নিকট, বিশেষ করে সুনির্দিষ্টভাবে বনু তালহার হস্তগত থাকে।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সুনিশ্চিত করলেন যে, এই অঙ্গীকার ভঙ্গ করা হবে না, যদিও এর বিনিময়ে লাল উট (حمر النعم) প্রদান করা হয়।
আমাদের মতো দাঈদের (الدعاة) জন্য এতে এক প্রজ্ঞাপূর্ণ শিক্ষা রয়েছে। যেন আমরা আমাদের প্রদত্ত অঙ্গীকার (العهد) ও চুক্তির (الميثاق) গুরুত্ব উপলব্ধি করতে পারি, এমনকি সেই চুক্তিটি যদি আমাদের দ্বারা সম্পাদিত নাও হয়ে থাকে; যদি তাতে কোনো জুলুম (مظلمة) নিরসন বা পাপ (مأثمة) প্রতিহত করার বিষয়টি নিহিত থাকে।
(খণ্ড: ১)
আত-তাহালুফুস সিয়াসি ফিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ১১)
ب - حلف المطيبينما قلناه عن حلف الفضول نقوله عن حلف المطيبين. لأن رسول الله صلى الله عليه وسلم ذكر هذا الحلف بقوله: شهدت حلف المطيبين، وما أحب أن أنكثه وأن لي به حمر النعم.
يقول الإمام أبو منصور في كتابه:
قال شمر: سمعت ابن الأعرابي يقول: المطيبون هم خمس قبائل عبد مناف كلها، وزهرة، وأسد بن عبد العزى، وتيم، والحارث بن فهر.
قال: والأحلاف خمس قبائل: عبد الدار، وجمح، وسهم، ومخزوم، وعدي. سموا ذلك لأن بني عبد مناف لما أرادوا أخذ ما في أيدي بني عبد الدار من الحجابة والرفادة واللواء والسقاية، وأبت بنو عبد الدار، عقد كل قوم على أمرهم حلفا مؤكدا على أن لا يتخاذلوا فأخرجت بنو عبد مناف جفنة مملؤة طيبا فوضعوها لأحلافهم عند الكعبة ثم غمس القوم أيديهم فيها وتعاقدوا ثم مسحوا الكعبة بأيديهم توكيدا فسموا المطيبين.
وتعاقدت بنو عبد الدار وحلفاؤهم حلفا آخر مؤكدا على أن لا يتخاذلوا فسموا الأحلاف وقال الكميت يذكرهم نسبا:
في المطيبين وفي الأحلاف حل الذؤابة الجمهورا
وشرح ابن الأثير في كتابه القيم جامع الأصول هذا الحلف على الصورة نفسها كذلك. ولعل نظرة عميقة إلى أحداث السيرة النبوية فيما بعد توضح لنا أثر هذا التحالف على خط سير الدعوة. فلقد وجدنا الأحلاف جميعا وهم عبد
খ - হিলফুল মুতায়্যাবীনহিলফুল ফুযুল সম্পর্কে আমরা যা বলেছি, হিলফুল মুতায়্যাবীন সম্পর্কেও আমরা তাই বলব। কারণ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এই মৈত্রী সম্পর্কে উল্লেখ করে বলেছেন: "আমি হিলফুল মুতায়্যাবীন-এ উপস্থিত ছিলাম, আর লাল উট পাওয়ার বিনিময়েও আমি এই চুক্তি ভঙ্গ করা পছন্দ করব না।"
ইমাম আবু মানসুর তাঁর কিতাবে বলেন:
শিমর বলেছেন: আমি ইবনুল আরাবীকে বলতে শুনেছি: মুতায়্যাবীনরা (সুগন্ধি ব্যবহারকারীগণ) হলো পাঁচটি গোত্র—আবদ মানাফের সকল শাখা, যুহরাহ, আসাদ বিন আবদিল উযযা, তাইম এবং হারিস বিন ফিহর।
তিনি বলেন: আর "আহলাফ" (মৈত্রীচুক্তিবদ্ধরা) ছিল পাঁচটি গোত্র: আবদুদ দার, জুমাহ, সাহাম, মাখযুম এবং আদী। তাদের এই নামকরণ করার কারণ হলো, যখন বনু আবদ মানাফ বনু আবদুদ দারের নিকট থাকা হিজাবাহ (কাবাগৃহের চাবি রক্ষা), রিফাদাহ (হাজিদের মেহমানদারি), লিওয়া (যুদ্ধকালীন পতাকা) এবং সিকায়াহ (হাজিদের পানি পান করানো)-এর দায়িত্বগুলো গ্রহণ করতে চাইল এবং বনু আবদুদ দার তা অস্বীকার করল, তখন প্রতিটি পক্ষই একে অপরকে পরিত্যাগ না করার লক্ষ্যে নিজ নিজ অবস্থানের ওপর এক সুদৃঢ় মৈত্রীচুক্তি সম্পাদন করল। অতঃপর বনু আবদ মানাফ সুগন্ধিভর্তি একটি পাত্র বের করে কাবার নিকট তাদের মিত্রদের জন্য রাখল। এরপর তারা তাতে হাত ডুবিয়ে অঙ্গীকারবদ্ধ হলো এবং চুক্তি সুদৃঢ় করতে কাবার দেয়ালে হাত মুছল; একারণেই তাদের "মুতায়্যাবীন" নামকরণ করা হয়েছে।
অন্যদিকে বনু আবদুদ দার এবং তাদের মিত্ররা পরস্পরকে ছেড়ে না যাওয়ার বিষয়ে আরেকটি সুদৃঢ় মৈত্রীচুক্তি সম্পাদন করল, ফলে তারা "আহলাফ" নামে পরিচিত হলো। কবি কুমাইত তাদের বংশমর্যাদা উল্লেখ করে বলেন:
মুতায়্যাবীন ও আহলাফদের মাঝে আভিজাত্য ও জনসমষ্টির শীর্ষস্থান থিতু হয়েছে।
ইবনুল আসীর তাঁর মূল্যবান গ্রন্থ জামি উল উসুল-এ একইভাবে এই মৈত্রীর ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন। সম্ভবত সীরাতুন নববীর পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহের প্রতি গভীর দৃষ্টি দিলে দাওয়াতের অগ্রযাত্রায় এই মৈত্রীর প্রভাব আমাদের কাছে স্পষ্ট হয়ে উঠবে। কারণ আমরা দেখেছি "আহলাফ" গোত্রগুলো অর্থাৎ বনু আবদ...
(খণ্ড: ১)
আত-তাহালুফুস সিয়াসি ফিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ১২)
الدار وجمح وسهم ومخزوم وعدي من أشد الناس ضد الإسلام لطبيعة هذا التحالف.
فلقد كان بنو عبد الدار حملة لواء المشركين ويكفي أن نذكر أنه قد سقط منهم ثمانية صرعى تحت اللواء في أحد.
ونذكر من زعاء بني جمح أمية بن خلف، وأخاه أبي بن خلف أشقى هذه الأمة الذي قتله رسول الله.
ونذكر من زعاء بني سهم، العاص بن وائل. أحد المستهزئين الخمس في قريش، وهم الذين كفاهم الله تعالى نبيه فأصابهم جميعا بمقتل.
ونذكر من زعماء بني مخزوم، الوليد بن المغيرة أكثر من أنزل الله تعالى قرآنا في هجائه، وابن أخيه، أبو جهل بن هشام، فرعون هذه الأمة.
ونذكر من زعماء بني عدي، عمر بن الخطاب، الذي كان المسلمون يرون من شدته ما دفع بعضهم إلى القول: والله لن يسلم حتى يسلم حمار الخطاب.
والمسلمون الذين أسلموا من هذه القبائل. كانوا يتعرضون لأشد أنواع العذاب من قادة الكفر ورضي الله عمن أسلم
حلف أبي طالب مع رسول اللهولا بد من ذكر هذا الحلف لأنه انطلق في بداية الأمر من العرف الجاهلي ثم اتخذ صيغة محددة
… هذه الصيغة المحددة قد تمت يوم دعا رسول الله صلى الله عليه وسلم عشيرته وطلب منهم النصرة لدين الله وكان هذا على مرحلتين.
আবদুদ দার, জুমাহ, সাহম, মাখজুম এবং আদি গোত্রসমূহ এই জোটের প্রকৃতির কারণে ইসলামের বিরুদ্ধে চরম শত্রুতায় লিপ্ত ছিল।
বনু আবদুদ দার ছিল মুশরিকদের পতাকাবাহী। এটি উল্লেখ করাই যথেষ্ট যে, উহুদের যুদ্ধে তাদের পক্ষ থেকে আটজন ব্যক্তি এই পতাকার নিচে নিহত হয়ে ধরাশায়ী হয়েছিল।
বনু জুমাহর নেতাদের মধ্যে আমরা উমাইয়াহ বিন খালাফ এবং তার ভাই উবাই বিন খালাফের কথা উল্লেখ করতে পারি, যে ছিল এই উম্মতের সর্বাপেক্ষা হতভাগা এবং যাকে রাসূলুল্লাহ হত্যা করেছিলেন।
বনু সাহমের নেতাদের মধ্যে ছিলেন আস বিন ওয়াইল। তিনি কুরাইশদের সেই পাঁচজন বিদ্রূপকারীর একজন, যাদের অনিষ্ট থেকে আল্লাহ তাআলা তাঁর নবীকে রক্ষা করেছিলেন এবং তারা সবাই করুণ মৃত্যুর শিকার হয়েছিল।
বনু মাখজুমের নেতাদের মধ্যে ছিলেন ওয়ালিদ বিন মুগীরাহ—যার নিন্দায় আল্লাহ তাআলা কুরআনের সর্বাধিক আয়াত অবতীর্ণ করেছেন—এবং তার ভ্রাতুষ্পুত্র আবু জাহল বিন হিশাম, যিনি এই উম্মতের ফেরাউন।
বনু আদির নেতাদের মধ্যে ছিলেন উমর ইবনুল খাত্তাব, যাঁর কঠোরতা দেখে মুসলমানরা এমন পরিস্থিতির সম্মুখীন হতেন যা তাদের কাউকে বলতে বাধ্য করেছিল: "আল্লাহর কসম! সে ততক্ষণ পর্যন্ত ইসলাম গ্রহণ করবে না যতক্ষণ না খাত্তাবের গাধা ইসলাম গ্রহণ করে।"
এই গোত্রগুলো থেকে যারা ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন, তারা কুফরের নেতাদের পক্ষ থেকে কঠোরতম নির্যাতনের শিকার হতেন। যারা ইসলাম গ্রহণ করেছেন, আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন।
রাসূলুল্লাহর সাথে আবু তালিবের মৈত্রী চুক্তি (حلف)এই মৈত্রী চুক্তির (حلف) কথা উল্লেখ করা অপরিহার্য, কারণ এটি সূচনালগ্নে জাহেলি প্রথা (عرف) থেকে উৎসারিত হলেও পরবর্তীতে একটি নির্দিষ্ট রূপ পরিগ্রহ করে
… এই নির্দিষ্ট রূপটি তখন চূড়ান্ত হয়েছিল যখন রাসূলুল্লাহ তাঁর নিকটাত্মীয়দের দাওয়াত দেন এবং আল্লাহর দ্বীনের জন্য তাঁদের কাছে সাহায্য প্রার্থনা করেন। এটি দুই পর্যায়ে সম্পন্ন হয়েছিল।
(খণ্ড: ১)
আত-তাহালুফুস সিয়াসি ফিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ১৩)
المرحلة الأولى:وقد أوردها ابن الأثير على الشكل التالي:
(وأول ما فعل رسول الله صلى الله عليه وسلم بعد نزول هذه الآية (1) أنه دعا بني هاشم فحضروا معهم نفر من بني المطلب بن عبد مناف. فكانوا خمسة وأربعين رجلا فبادره أبو لهب وقال: هؤلاء بنو عمومتك وبنو عمك فتكلم ودع الصباة واعلم أنه ليس لقومك بالعرب قاطبة طاقة. وأنا أحق من أخذك فحسبك بنو أبيك. وإن أقمت على ما أنت عليه فهو أيسر عليهم من أن يثب بك بطون قريش وتمدهم العرب.
فما رأيت أحدا جاء على بني أبيه بشر مما جئت به. فسكت رسول الله صلى الله عليه وسلم ولم يتكلم في ذلك المجلس.
ثم دعاهم ثانية وقال: الحمد لله أحمده وأستعينه، وأؤمن به وأتوكل عليه وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شر يك له .. ثم قال: إن الرائد لا يكذب أهله والله الذي لا إله إلا هو إني رسول الله إليكم خاصة، وإلى الناس عامة، والله لتموتن كما تنامون ولتبعثن كما تستيقظون، ولتحاسبن بما تعملون، وإنها الجنة أبدا أو النار أبدا) فقال أبو طالب: ما أحب إلينا معاونتك، وأقبلنا لنصيحتك، وأشد تصديقا لحديثك. وهؤلاء بنو أبيك مجتمعون، وإنما أنا أحدهم غير أني أسرعهم إلى ما تحب فامض لما أمرت به. فوالله لا أزال أحوطك وأمنعك غير أن نفسي لا تطاوعني على فراق دين عبد المطلب فقال أبولهب: هذه والله السوأة. خذوا على يديه قبل أن يأخذه غيركم.
فقال أبو طالب: والله لنمنعنه ما بقينا (2).
--------------------------------------------
প্রথম পর্যায়:ইবনে আল-আসির এটি নিম্নোক্তভাবে বর্ণনা করেছেন:
(এই আয়াত (১) নাজিলের পর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সর্বপ্রথম যে পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন তা হলো, তিনি বনু হাশেমকে আহ্বান করলেন। ফলে তারা উপস্থিত হলেন এবং তাদের সঙ্গে বনু মুত্তালিব ইবনে আবদে মানাফের একদল লোকও ছিল। তারা সংখ্যায় মোট পঁয়তাল্লিশজন পুরুষ ছিলেন। তখন আবু লাহাব তাৎক্ষণিক কথা শুরু করে বলল: এরা তোমার পিতৃব্য ও চাচাতো ভাইদের সন্তান; সুতরাং তুমি কথা বলো এবং ধর্মত্যাগীদের পথ বর্জন করো; আর জেনে রেখো যে, সমগ্র আরবের মোকাবিলা করার শক্তি তোমার গোত্রের নেই। তোমাকে বাধা দেওয়ার ক্ষেত্রে আমিই সবচেয়ে উপযুক্ত ব্যক্তি, সুতরাং তোমার জন্য তোমার পিতৃবংশীয়রাই যথেষ্ট। তুমি যদি তোমার বর্তমান দাওয়াতের ওপর অটল থাকো, তবে কুরাইশের অন্যান্য শাখাগুলো তোমার ওপর চড়াও হওয়া এবং সমগ্র আরব জাতি তাদের সহযোগিতা করার চেয়ে এটিই তাদের (তোমার আত্মীয়দের) জন্য অধিক সহজতর হবে।
আমি এমন কাউকে দেখিনি, যে তার নিজ গোত্রের জন্য তোমার চেয়ে বড় কোনো অকল্যাণ নিয়ে এসেছে। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নীরব থাকলেন এবং সেই মজলিসে কোনো কথা বললেন না।
অতঃপর তিনি দ্বিতীয়বার তাদের আহ্বান করলেন এবং বললেন: সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমি তাঁরই প্রশংসা করি এবং তাঁরই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি। তাঁর প্রতি ঈমান রাখি এবং তাঁরই ওপর ভরসা করি। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া আর কোনো মাবুদ নেই, তিনি এক, তাঁর কোনো শরিক নেই... এরপর বললেন: নিশ্চয়ই কাফেলার পথপ্রদর্শক তার স্বজনদের সাথে মিথ্যা বলে না। সেই আল্লাহর শপথ, যিনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, নিশ্চয়ই আমি বিশেষভাবে তোমাদের প্রতি এবং সাধারণভাবে সমগ্র মানবজাতির প্রতি আল্লাহর প্রেরিত রাসূল। আল্লাহর শপথ, তোমরা অবশ্যই মৃত্যুবরণ করবে ঠিক যেমন তোমরা ঘুমিয়ে পড়ো এবং অবশ্যই পুনরুত্থিত হবে ঠিক যেমন তোমরা জাগ্রত হও। তোমাদের কৃতকর্মের হিসাব অবশ্যই গ্রহণ করা হবে; আর তা হলো চিরস্থায়ী জান্নাত অথবা চিরস্থায়ী জাহান্নাম।) তখন আবু তালিব বললেন: আমাদের কাছে তোমার সহযোগিতা অত্যন্ত প্রিয়, আমরা তোমার উপদেশের প্রতি অত্যন্ত অনুরাগী এবং তোমার বক্তব্যের প্রতি অত্যন্ত দৃঢ় বিশ্বাসী। এই যে তোমার পিতৃবংশীয়রা সমবেত হয়েছে, আমি তাদেরই একজন; তবে তোমার কাঙ্ক্ষিত বিষয়ের প্রতি আমি তাদের মধ্যে সবচেয়ে দ্রুত অগ্রসরকারী। সুতরাং তুমি যে বিষয়ে আদিষ্ট হয়েছ তা পালন করে যাও। আল্লাহর শপথ, আমি তোমাকে রক্ষা করা ও সাহায্য করা অব্যাহত রাখব, তবে আব্দুল মুত্তালিবের ধর্ম ত্যাগের ব্যাপারে আমার আত্মা আমাকে সায় দিচ্ছে না। তখন আবু লাহাব বলল: আল্লাহর শপথ, এটি অত্যন্ত মন্দ কাজ। অন্য কেউ তাকে পাকড়াও করার আগেই তোমরা তাকে বাধা দাও।
তখন আবু তালিব বললেন: আল্লাহর শপথ, আমরা যতদিন বেঁচে আছি, অবশ্যই তাকে সুরক্ষা প্রদান করব (২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাহালুফুস সিয়াসি ফিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ১৪)
هذه هي المرحلة الأولى التي أعلن فيها أبو طالب استعداده لمنع الاعتداء عن رسول الله صلى الله عليه وسلم وحمايته بصفته زعيما لبني هاشم.
المرحلة الثانية:كانت يوم أن اشتدت الأزمة بين قريش وأبي طالب وأحس أبو طالب بضراوة المعركة فاستدعى الرسول صلى الله عليه وسلم للمناقشة في هذا الأمر وذلك كما أورده ابن إسحاق في السيرة:
(ثم إنهم مشوا إلى أبي طالب مرة أخرى فقالوا له: يا أبا طالب، إن لك سنا وشرفا ومنزلة فينا. وإنا قد استنهيناك من ابن أخيك فلم تنهه عنا، وإنا والله لا نصبر على هذا من شتم آبائنا وتسفيه أحلامنا، وعيب آلهتنا، حتى تكفه عنا أو ننازله وإياك في ذلك حتى يهلك أحد الفريقين).
فالصورة الجديدة هنا تهديد بشن الحرب على أبي طالب إن استمر في حلفه وحمايته لابن أخيه. فأراد أبو طالب أن يحدد هذه الحماية بأن يكف محمد صلى الله عليه وسلم عن شيء من دينه، فاستدعاه وقال له:
يا ابن أخي إن قومك قد جاؤوني فقالوا لي كذا وكذا للذي كانوا قالوا له.
فأبق علي وعلى نفسك، ولا تحملني من الأمر ما لا أطيق. فظن رسول الله صلى الله عليه وسلم أنه قد بدا لعمه فيه بداء أنه خاذله ومسلمه، وأنه قد ضعف عن نصرته، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم:
يا عم والله لو وضعوا الشمس في يميني والقمر في يساري على أن أترك هذا الأمر حتى يظهره الله أو أهلك دونه ما تركته. ثم استعبر رسول الله صلى الله عليه وسلم فبكى ثم قام فلما ولى ناداه أبو طالب فقال:
أقبل يا ابن أخي، فأقبل رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال: اذهب يا ابن أخي فقل ما أحببت. فوالله لا أسلمك لشيء أبدا (1).
--------------------------------------------
এটি ছিল প্রথম পর্যায়, যেখানে আবু তালিব বনু হাশিমের নেতা হিসেবে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওপর আক্রমণ প্রতিহত করতে এবং তাকে সুরক্ষা প্রদান করতে নিজের প্রস্তুতির কথা ঘোষণা করেছিলেন।
দ্বিতীয় পর্যায়:এটি ছিল সেই দিন, যখন কুরাইশ ও আবু তালিবের মধ্যে সংকট ঘনীভূত হয়েছিল এবং আবু তালিব যুদ্ধের তীব্রতা অনুভব করেছিলেন। ফলে তিনি এই বিষয়ে আলোচনার জন্য রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে ডেকে পাঠান। যেমনটি ইবনে ইসহাক তাঁর সিরাত গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন:
(অতঃপর তারা পুনরায় আবু তালিবের কাছে গেল এবং তাঁকে বলল: হে আবু তালিব, আমাদের মধ্যে আপনার বয়স, সম্মান ও মর্যাদা রয়েছে। আমরা আপনাকে আপনার ভাতিজার বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে বারণ করেছিলাম, কিন্তু আপনি তাকে আমাদের থেকে বিরত রাখেননি। আল্লাহর কসম, আমাদের পূর্বপুরুষদের গালি দেওয়া, আমাদের প্রজ্ঞাকে তুচ্ছজ্ঞান করা এবং আমাদের উপাস্যদের নিন্দা করার ওপর আমরা আর ধৈর্য ধারণ করব না; যতক্ষণ না আপনি তাকে আমাদের থেকে বিরত রাখেন অথবা আমরা এ বিষয়ে আপনার ও তাঁর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে অবতীর্ণ হই, যে পর্যন্ত না কোনো এক পক্ষ ধ্বংস হয়ে যায়)।
এখানকার নতুন পরিস্থিতিটি ছিল আবু তালিবের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার হুমকি, যদি তিনি তাঁর ভাতিজার সাথে মৈত্রী ও তাঁকে সুরক্ষা প্রদান অব্যাহত রাখেন। তাই আবু তালিব এই সুরক্ষার একটি সীমা নির্ধারণ করতে চাইলেন যেন মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর দ্বীনের কিছু বিষয় থেকে বিরত থাকেন। ফলে তিনি তাঁকে ডেকে পাঠালেন এবং বললেন:
হে আমার ভাতিজা, তোমার কওমের লোকেরা আমার কাছে এসেছিল এবং তারা আমাকে অমুক অমুক কথা বলেছে, যা তারা এর আগে তাঁকে বলেছিল।
সুতরাং আমার ওপর এবং নিজের ওপর দয়া করো এবং আমার ওপর এমন বিষয়ের ভার চাপিয়ে দিয়ো না যা বহন করার ক্ষমতা আমার নেই। তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ধারণা করলেন যে, তাঁর চাচার মনোভাবের পরিবর্তন ঘটেছে এবং তিনি তাঁকে পরিত্যাগ (خذله) করবেন ও শত্রুর হাতে সঁপে দেবেন এবং তিনি তাঁকে সাহায্য করতে অক্ষম হয়ে পড়েছেন। তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন:
হে চাচাজান, আল্লাহর কসম! তারা যদি আমার ডান হাতে সূর্য এবং বাম হাতে চাঁদ এনে দেয় যেন আমি এই আদর্শ পরিত্যাগ করি, তবে যতক্ষণ না আল্লাহ একে বিজয়ী করেন অথবা আমি এর জন্য ধ্বংস হয়ে যাই, ততক্ষণ আমি তা ছাড়ব না। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আবেগাপ্লুত হলেন এবং কেঁদে ফেললেন। এরপর তিনি যখন উঠে চলে যেতে উদ্যত হলেন, তখন আবু তালিব তাঁকে ডেকে বললেন:
হে ভাতিজা, কাছে এসো। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কাছে এলে তিনি বললেন: হে আমার ভাতিজা, তুমি যাও এবং যা খুশি বলো। আল্লাহর কসম, আমি তোমাকে কখনোই কোনো কিছুর বিনিময়ে কারো হাতে সঁপে দেব না (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাহালুফুস সিয়াসি ফিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ১৫)
ونحن هنا أمام صيغة جديدة طلب فيها أبو طالب ربط حمايته للرسول صلى الله عليه وسلم بتقييد حرية الدعوة أو التخلي عن شيء من هذا الدين. فرفض رسول الله صلى الله عليه وسلم النصرة على هذا الأساس وتخلى عنها. وتراجع أبو طالب فوافق على الحماية والمنعة بدون قيد أو شرط.
ولا بد للإشارة أن هذا الأمر تم مع بقاء أبي طالب على شركه. ونفذ تعهده كاملا. قال مقاتل: كان رسول الله عند أبي طالب يدعوه إلى الإسلام فاجتمعت قريش إلى أبي طالب يريدون بالنبي سوءا فقال أبو طالب:
حين تروح الأبل فإن حنت ناقه إلى غير فصيلها دفعته إليكم، ثم قال:
والله لن يصلوا إليك بجمعهم
… حتى أوسد في التراب دفينا
فاصدع بأمرك ما عليك غضاضة
… (وابشر وقر بذاك عيونا)
ودعوتني وزعمت أنك ناصحي
… ولقد صدقت وكنت ثم أمينا
لولا الملامة أو حذار مسبة
… لوجدتني سمحا بذاك مبينا
ورغم كفره فهو لم يباد الإسلام بسوء ووضع إمكانياته وثقله في جانب الإسلام.
المرحلة الثالثةوهي التي انضم فيها بنو هاشم وبنو المطلب صفا واحدا لحماية رسول الله صلى الله عليه وسلم ومنعته وذلك بدعوة رسمية وجهت لهم من أبي طالب قال موسى بن عقبة عن ابن شهاب الزهري:
(إنهم أجمعوا على أن يقتلوا رسول الله صلى الله عليه وسلم علانية فبلغ ذلك أبا طالب فجمع بني هاشم وبني المطلب فأدخلوا رسول الله صلى الله عليه وسلم شعبهم ومنعوه ممن أراد قتله، فمنهم من فعل ذلك حمية ومنهم من فعل ذلك يقينا. (1)
--------------------------------------------
এখানে আমরা একটি নতুন পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছি যেখানে আবু তালিব রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর প্রতি তার সুরক্ষাকে দাওয়াতের স্বাধীনতা সীমিত করার অথবা এই দ্বীনের কোনো অংশ পরিত্যাগ করার শর্তের সাথে যুক্ত করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এই ভিত্তিতে সাহায্য গ্রহণ করতে অস্বীকার করেন এবং তা বর্জন করেন। অতঃপর আবু তালিব পিছিয়ে আসেন এবং কোনো প্রকার শর্ত ছাড়াই সুরক্ষা ও নিরাপত্তা প্রদানে সম্মত হন।
উল্লেখ্য যে, এই বিষয়টি আবু তালিব তার শিরকের ওপর অটল থাকা অবস্থাতেই সম্পন্ন হয়েছিল এবং তিনি তার প্রতিশ্রুতি পূর্ণরূপে পালন করেছিলেন। মুকাতিল বলেন: রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আবু তালিবের নিকট অবস্থানকালে তাকে ইসলামের দাওয়াত দিতেন। এমতাবস্থায় কুরাইশরা আবু তালিবের নিকট সমবেত হয়ে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর অনিষ্ট করার সংকল্প করল। তখন আবু তালিব বললেন:
যখন উটগুলো সন্ধ্যায় ফিরে আসে, তখন যদি কোনো উষ্ট্রী তার শাবক ব্যতীত অন্য কারো প্রতি অনুরাগী হয়, তবেই আমি তাকে তোমাদের হাতে সঁপে দেব। অতঃপর তিনি বললেন:
আল্লাহর কসম, তারা তাদের দলবল নিয়ে কখনোই আপনার নিকট পৌঁছাতে পারবে না
… যতক্ষণ না আমি মাটির নিচে শায়িত হচ্ছি।
অতএব আপনার নির্দেশ প্রকাশ্যে ঘোষণা করুন, এতে আপনার কোনো সংকোচ নেই
… (এবং আপনি সুসংবাদ গ্রহণ করুন এবং এতে আপনার চক্ষু শীতল হোক)।
আপনি আমাকে দাওয়াত দিয়েছেন এবং দাবি করেছেন যে আপনি আমার হিতাকাঙ্ক্ষী
… আপনি সত্যই বলেছেন এবং আপনি সেখানে বিশ্বস্ত (أمين) ছিলেন।
যদি লোকলজ্জার ভয় বা গালিগালাজের আশঙ্কা না থাকত
… তবে অবশ্যই আপনি আমাকে এ বিষয়ে অত্যন্ত উদার ও স্পষ্টবাদী হিসেবে দেখতে পেতেন।
তার কুফরি সত্ত্বেও তিনি ইসলামের সাথে কোনো প্রকার দুর্ব্যবহার করেননি এবং তিনি তার যাবতীয় সামর্থ্য ও প্রভাব ইসলামের পক্ষেই নিয়োজিত করেছিলেন।
তৃতীয় পর্যায়এটি সেই পর্যায় যেখানে আবু তালিবের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে আহূত হয়ে বনু হাশিম ও বনু মুত্তালিব রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সুরক্ষা ও নিরাপত্তার জন্য এক সারিতে ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল। মুসা ইবনে উকবা ইবনে শিহাব যুহরি থেকে বর্ণনা করেন:
(তারা রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে প্রকাশ্যে হত্যা করার বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেছিল। আবু তালিবের নিকট এই সংবাদ পৌঁছালে তিনি বনু হাশিম ও বনু মুত্তালিবকে একত্রিত করেন। তারা রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে তাদের উপত্যকায় (শি'ব) নিয়ে যান এবং যারা তাকে হত্যা করতে চেয়েছিল তাদের থেকে তাকে সুরক্ষা প্রদান করেন। তাদের মধ্যে কেউ এটি করেছিল গোত্রীয় সংহতির কারণে, আবার কেউ এটি করেছিল দৃঢ় বিশ্বাসের (يقين) কারণে।) (১)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাহালুফুস সিয়াসি ফিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ১৬)
أما قضية القتل فقد طلبت علانية من أبي طالب حين طلب منه أهل مكة أن يسلم محمدا صلى الله عليه وسلم مقابل استلام عمارة بن الوليد فكالت جوابه: تعطوني ابنكم أغذيه لكم وأعطيكم ابني تقتلونه.
وهنا ظهر مستوى الأعراف والأحلاف الجاهلية التي كانت بمثابة القانون الحتمي عندهم لقد طالب بنو عبد مناف أربعة هم: هاشم والمطلب ونوفل وعبد شمس.
وكانوا في الأصل يمثلون حلفا واحدا ضد بني عمهم بني عبد الدار. هو حلف المطيبين وكان المفروض أن تكون عشائر حلف المطيبين صفا واحدا. وهي التي ركز عليها أبو طالب. غير أن عشيرتين لم تنضما لحماية الرسول صلى الله عليه وسلم. من حلف المطيبين هما بنو نوفل وبنو عبد شمس. وقد ظهر هذا واضحا عندما قال المطعم بن عدي بن نوفل بن عبد مناف لأبي طالب عقب عرض المبادلة بين محمد صلى الله عليه وسلم وعمارة بن الوليد:
والله يا أبا طالب، لقد أنصفك قومك، وجهدوا على التخلص مما تكره، فما أراك تريد أن تقبل منهم شيئا. فقال: والله ما أنصفوني ولكنك قد أجمعت خذلاني ومظاهرة القوم علي. فاصنع ما بدا لك.
والمطعم زعيم بني نوفل. وعتبة بن ربيعة وأبو سفيان زعيما بني عبد شمس. وقال أبو طالب وهو يعرض بهذا التخلي عن نصرة النبي صلى الله عليه وسلم:
أرى أخوينا من أبينا وأمنا
… إذا سئلا قالا: إلي غيرنا الأمر
أخص خصوصا عبد شمس ونوفلا
… هما نبذانا مثل ما ينبذ الجمر
হত্যার বিষয়টি প্রকাশ্যে আবু তালিবের নিকট দাবি করা হয়েছিল যখন মক্কার অধিবাসীরা তাঁর নিকট প্রস্তাব দিয়েছিল যে, তারা উমারা বিন আল-ওয়ালিদকে তাঁর নিকট সমর্পণ করবে এবং বিনিময়ে তিনি মুহাম্মাদ (সা.)-কে তাঁদের হাতে তুলে দেবেন। এর জবাবে তিনি বলেছিলেন: "তোমরা তোমাদের পুত্রকে আমার নিকট দিচ্ছ যেন আমি তাকে তোমাদের জন্য লালন-পালন করি, আর আমি আমার পুত্রকে তোমাদের নিকট দেব যেন তোমরা তাকে হত্যা করো?"
এখানে জাহেলি যুগের সেই প্রথা ও জোটগুলোর (حلف) স্বরূপ প্রকাশিত হয় যা তাদের নিকট অলঙ্ঘনীয় আইনের ন্যায় ছিল। আবদ মানাফের চার সন্তান এই দাবির সম্মুখীন হয়েছিল: হাশিম, মুত্তালিব, নওফাল এবং আবদ শামস।
তারা মূলত তাদের পিতৃব্য-সন্তান বনু আবদ আদ-দারের বিরুদ্ধে একটি ঐক্যবদ্ধ জোটের (حلف) প্রতিনিধিত্ব করত। এটি ছিল ‘হিলফ আল-মুতাইয়্যাবীন’ এবং প্রত্যাশা ছিল যে, এই জোটের অন্তর্ভুক্ত গোত্রসমূহ এক কাতারভুক্ত থাকবে। আবু তালিব এই বিষয়টির ওপরই বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছিলেন। তবে এই জোটের অন্তর্ভুক্ত হওয়া সত্ত্বেও বনু নওফাল এবং বনু আবদ শামস—এই দুটি গোত্র রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুরক্ষায় অংশগ্রহণ করেনি। বিষয়টি তখন স্পষ্টভাবে প্রতিভাত হয় যখন মুহাম্মাদ (সা.) এবং উমারা বিন আল-ওয়ালিদের মধ্যকার বিনিময় প্রস্তাবের পর মুতয়িম বিন আদি বিন নওফাল বিন আবদ মানাফ আবু তালিবকে বলেছিল:
"আল্লাহর শপথ, হে আবু তালিব! আপনার কওম আপনার সাথে ন্যায়বিচার করেছে এবং যা আপনার নিকট অপছন্দনীয় তা থেকে নিষ্কৃতি দেওয়ার জন্য তারা তাদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা ব্যয় করেছে। কিন্তু আমি দেখছি আপনি তাদের কোনো প্রস্তাবই গ্রহণ করতে চাচ্ছেন না।" তখন তিনি (আবু তালিব) বললেন: "আল্লাহর শপথ, তারা আমার সাথে ইনসাফ করেনি। বরং তুমি আমাকে পরিত্যাগ করতে এবং আমার বিরুদ্ধে এই কওমের সাথে সংহতি প্রকাশে একমত হয়েছ। সুতরাং তোমার যা ইচ্ছা তা-ই করো।"
মুতয়িম ছিল বনু নওফালের নেতা। আর উতবা বিন রাবিয়া ও আবু সুফিয়ান ছিল বনু আবদ শামসের নেতা। নবি (সা.)-কে সাহায্য করা থেকে তাদের এই বিমুখতার প্রতি ইঙ্গিত করে আবু তালিব আবৃত্তি করেছিলেন:
আমি আমাদের আপন দুই ভাইকে দেখছি
… যখনই তাদের নিকট সাহায্য চাওয়া হয়, তারা বলে: এই বিষয়টি আমাদের আওতাধীন নয়।
আমি বিশেষভাবে আবদ শামস ও নওফালকে উদ্দেশ্য করছি
… তারা আমাদের এমনভাবে পরিত্যাগ করেছে যেমন জ্বলন্ত অঙ্গার ছুড়ে ফেলে দেওয়া হয়।
(খণ্ড: ১)
আত-তাহালুফুস সিয়াসি ফিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ১৭)
هما أغمرا للقوم في أخويهما
… فقد أصبحا منهم وألفهما صفرا (1).
صحيح أن رسول الله صلى الله عليه وسلم ليس هو الذي يقود الحلف أو يفاوض فيه، ولكن أبا طالب دعا إلى نصرته ومنعته انطلاقا من هذه القرابة وهذا الحلف. وبقي بنو هاشم وبنو المطلب حلفا واحدا وراء الرسول صلى الله عليه وسلم أما بنو عبد شمس وبنو نوفل فقد تخليا عن النصرة، غير أنهما لم يعاديا رسول الله صلى الله عليه وسلم كما فعل أصحاب الحلف الآخر وعلى رأسهم بنو مخزوم وبنو عبد الدار وبنو عدي وبنو سهم.
لقد استطاع الرسول صلى الله عليه وسلم بتعبيرنا المعاصر أن يجعل بني نوفل وبني عبد شمس على الحياد. ونجح في ذلك أيما نجاح. فقد خاض عتبة بن ربيعة، زعيم بني عبد شمس، في بداية الأمر حربا عنيفة ضد النبي صلى الله عليه وسلم، مثل أبي لهب، دون أن يرعى حرمة القرابة. ولكن عندما تلا عليه النبي صلى الله عليه وسلم صدر سورة فصلت اتخذ موقفا حياديا من الحرب ضده فقال: يا معشر قريش أطيعوني واجعلوها لي. خلوا بين الرجل وبين ما هو فيه فاعتزلوه. فوالله ليكونن لقوله الذي سمعت نبأ. فإن تصبه العرب فقد كفيتموه بغيركم. وإن يظهر على العرب فملكه ملككم، وعزه عزكم، وكنتم أسعد الناس به. قالوا: سحرك يا أبا الوليد بلسانه!! قال: هذا رأي فاصنعوا ما بدا لكم (2).
وكان أبو سفيان الزعيم الثاني لبني عبد شمس يتهرب من المعركة بكثرة الأسفار خارج مكة ابتغاء التجارة. وهذا ما أشار إليه أبو طالب في قصيدة أخرى يعرض فيها بتهربه. المهم أننا أمام أعراف قبلية مرتبطة بحلف وثيق تخلى بعضهم عنه، واستجاب بعضهم الآخر. ولنذكر في هذا المجال أن الحلف كله
--------------------------------------------
তারা তাদের দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে নিজেদের জাতিকে ধোঁকা দিয়েছে
… তারা তাদের অন্তর্ভুক্ত হয়েছে এবং তাদের ঐক্য শূন্যে পরিণত হয়েছে (১)।
এটি সত্য (صحيح) যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বয়ং এই জোটের নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন না বা এটি নিয়ে সমঝোতা করছিলেন না, বরং আবু তালিব এই আত্মীয়তা ও মৈত্রীর ভিত্তিতেই তাঁকে সাহায্য ও সুরক্ষা প্রদানের আহ্বান জানিয়েছিলেন। বনু হাশিম ও বনু মুত্তালিব রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সমর্থনে এক ঐক্যবদ্ধ জোটে অটল ছিল। পক্ষান্তরে বনু আবদে শামস ও বনু নাওফাল সাহায্য করা থেকে বিরত থাকে, যদিও তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে সেভাবে শত্রুতা পোষণ করেনি যেভাবে অন্য জোটের অন্তর্ভুক্ত গোত্রগুলো করেছিল; যাদের অগ্রভাগে ছিল বনু মাখজুম, বনু আবদুদ দার, বনু আদি এবং বনু সাহম।
আমাদের সমসাময়িক পরিভাষায় বলতে গেলে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বনু নাওফাল ও বনু আবদে শামসকে নিরপেক্ষ অবস্থানে রাখতে সক্ষম হয়েছিলেন। আর তিনি এতে দারুণভাবে সফল হন। বনু আবদে শামসের নেতা উতবাহ ইবনে রাবিয়াহ প্রথম দিকে আবু লাহাবের মতোই আত্মীয়তার কোনো মর্যাদা রক্ষা না করেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বিরুদ্ধে প্রচণ্ড যুদ্ধ চালিয়েছিলেন। কিন্তু যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সামনে সূরা ফুসসিলাতের প্রারম্ভিক অংশ তিলাওয়াত করলেন, তখন তিনি নবীজির বিরুদ্ধে যুদ্ধের ব্যাপারে একটি নিরপেক্ষ অবস্থান গ্রহণ করেন। তিনি বলেন: হে কুরাইশ সম্প্রদায়! তোমরা আমার কথা শোনো এবং এই বিষয়টি আমার ওপর ছেড়ে দাও। তোমরা এই ব্যক্তিকে তাঁর অবস্থার ওপর ছেড়ে দাও এবং তাঁর থেকে দূরে থাকো। আল্লাহর কসম! আমি তাঁর কাছ থেকে যা শুনেছি, তা অবশ্যই এক বড় সংবাদ হয়ে আসবে। যদি আরবরা তাঁকে শেষ করে দেয়, তবে তোমাদের পরিবর্তে অন্যদের দ্বারাই তোমাদের কাজ হয়ে গেল। আর যদি তিনি আরবদের ওপর বিজয় লাভ করেন, তবে তাঁর রাজত্ব হবে তোমাদেরই রাজত্ব, তাঁর সম্মান হবে তোমাদেরই সম্মান, আর তোমরা তাঁর মাধ্যমে সবচেয়ে সৌভাগ্যবান ব্যক্তিতে পরিণত হবে। তারা বলল: হে আবুল ওয়ালিদ! সে তো তার কথার জাদুতে আপনাকে মুগ্ধ করে ফেলেছে!! তিনি বললেন: এটি আমার অভিমত, এখন তোমাদের যা ইচ্ছা তা-ই করো (২)।
বনু আবদে শামসের দ্বিতীয় নেতা আবু সুফিয়ান ব্যবসার উদ্দেশ্যে মক্কার বাইরে অধিক ভ্রমণের মাধ্যমে যুদ্ধ এড়িয়ে চলতেন। আবু তালিব তাঁর অন্য একটি কবিতায় আবু সুফিয়ানের এই এড়িয়ে চলার প্রতি ইঙ্গিত করেছেন। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো যে, আমরা এখানে একটি শক্তিশালী মৈত্রীর সাথে জড়িত এমন কিছু গোত্রীয় প্রথা দেখতে পাচ্ছি, যেখান থেকে কেউ কেউ সরে দাঁড়িয়েছে আর কেউ কেউ তা মেনে নিয়েছে। এই প্রসঙ্গে আমাদের মনে রাখা প্রয়োজন যে, সমগ্র জোটটিই
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাহালুফুস সিয়াসি ফিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ১৮)
كان لمصلحة النبي صلى الله عليه وسلم ونصرته، دون أي تنازل مبدئي يقدمه لهم؛ إنما كانت حصافتة السياسية وحنكته تدفعهم إلى هذه المواقف.
فلنقف قليلا أمام هذه الحصافة مع رواية ابن إسحاق المذكورة عن لقاء عتبة برسول الله صلى الله عليه وسلم. رواية أخرى أوثق في مسند عبد بن حميد وأبي يعلى عن جابر بن عبد الله رضي الله عنه قال:
اجتمعت قريش يوما فقالوا: انظروا أعلمكم بالسحر والكهانة والشعر فليأت هذا الرجل الذي فرق جماعتنا وشتت أمرنا وعاب ديننا فليكلمه ولينظر ماذا يرد عليه. فقالوا: ما نعلم أحدا غير عتبة بن ربيعة. فقالوا: أنت يا أبا الوليد. فأتاه عتبه فقال. يا محمد، أنت خير أم عبد الله (يعني أبا رسول الله صلى الله عليه وسلم فسكت رسول الله صلى الله عليه وسلم، فقال أنت خير أم عبد المطلب؟. فسكت رسول الله صلى الله عليه وسلم. قال فإن كنت تزعم أن هؤلاء خير منك فقد عبدوا الآلهة التي عبت. وإن كنت تزعم أنك خير منهم فتكلم حتى نسمع قولك. إنا والله ما رأينا سخلة قط أشأم على قومك منك. فرقت جماعتنا، وشتت أمرنا، وعبت ديننا، وفضحتنا في العرب. لقد طار فيهم أن في قريش ساحرا، وأن في قريش كاهنا والله ما ننتظر إلا مثل صيحة الحبلى أن يقوم بعضنا إلى بعض في السيوف حتى نتفانى. أيها الرجل، إن كان إنما بك الحاجة جمعنا لك حتى تكون أغنى قريش. وإن كان إنما بك الباءة فاختر أي نساء قريش شئت فلنزوجك عشرا!! فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: فرغت؟! قال: نعم. فقرأ رسول الله صلى الله عليه وسلم.
(بسم الله الرحمن الرحيم. حم. تنزيل من الرحمن الرحيم) .. حتى بلغ (فإن أعرضوا فقل أنذرتكم صاعقة مثل صاعقة عاد وثمود). فقال عتبة: حسبك حسبك. ما عندك غير هذا؟ قال لا.
এটি ছিল নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর স্বার্থে এবং তাঁর সাহায্যের জন্য, তাদের প্রতি কোনো প্রকার নীতিগত আপস না করে; বরং তাঁর রাজনৈতিক বিচক্ষণতা ও অভিজ্ঞতাই তাদেরকে এই অবস্থানগুলোতে ঠেলে দিয়েছিল।
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে উতবার সাক্ষাতের বিষয়ে ইবনে ইসহাক বর্ণিত বর্ণনার পাশাপাশি আসুন আমরা এই বিচক্ষণতার সামনে কিছুক্ষণ থমকে দাঁড়াই। আবদ বিন হুমাইদ এবং আবু ইয়া'লার মুসনাদ-এ জাবির বিন আব্দুল্লাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত অধিক নির্ভরযোগ্য (أوثق) একটি বর্ণনা রয়েছে, যেখানে তিনি বলেছেন:
একদিন কুরাইশরা একত্রিত হলো এবং বলল: তোমরা তোমাদের মধ্যে যাদুবিদ্যা, গণকগিরি এবং কবিতায় সবচেয়ে পারদর্শী ব্যক্তিকে খুঁজে বের করো, যে আমাদের জামাতকে বিভক্তকারী, আমাদের বিষয়গুলোকে তছনছকারী এবং আমাদের দ্বীনকে তুচ্ছজ্ঞানকারী এই লোকটির কাছে যাবে, তার সাথে কথা বলবে এবং দেখবে সে কী জবাব দেয়। তারা বলল: আমরা উতবা বিন রাবিয়াহ ছাড়া অন্য কাউকে জানি না। তারা তাকে বলল: হে আবুল ওয়ালিদ, আপনিই (যান)। অতঃপর উতবা তাঁর কাছে এলো এবং বলল: হে মুহাম্মদ, আপনি উত্তম নাকি আব্দুল্লাহ? (অর্থাৎ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর পিতা)। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিশ্চুপ থাকলেন। সে বলল: আপনি উত্তম নাকি আব্দুল মুত্তালিব? রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তখনও নীরব থাকলেন। সে বলল: আপনি যদি দাবি করেন যে তারা আপনার চেয়ে উত্তম, তবে জেনে রাখুন তারা সেই সব মূর্তির পূজা করেছেন যাদের আপনি মন্দ বলেন। আর আপনি যদি দাবি করেন যে আপনি তাদের চেয়েও উত্তম, তবে বলুন যাতে আমরা আপনার কথা শুনতে পারি। আল্লাহর কসম, আমরা আপনার চেয়ে অধিক অশুভ কোনো সন্তান আপনার কওমের জন্য আর দেখিনি। আপনি আমাদের জামাতকে বিভক্ত করেছেন, আমাদের বিষয়াবলিকে তছনছ করেছেন, আমাদের দ্বীনকে তুচ্ছজ্ঞান করেছেন এবং আরবে আমাদের লজ্জিত করেছেন। আরবের সবার মাঝে ছড়িয়ে গেছে যে কুরাইশদের মধ্যে একজন যাদুকর আছে এবং কুরাইশদের মধ্যে একজন গণক আছে। আল্লাহর কসম, আমরা কেবল গর্ভবতী নারীর আর্তনাদের মতো একটি পরিস্থিতির অপেক্ষা করছি যে, আমরা তলোয়ার নিয়ে একে অপরের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ব যতক্ষণ না আমরা ধ্বংস হয়ে যাই। হে ব্যক্তি, আপনার যদি অভাব থাকে তবে আমরা আপনার জন্য সম্পদ জমা করব যাতে আপনি কুরাইশদের মধ্যে সবচেয়ে ধনী হতে পারেন। আর যদি আপনার বিয়ের ইচ্ছা থাকে তবে কুরাইশদের যে কোনো নারীকে পছন্দ করুন, আমরা আপনার সাথে দশজনের বিয়ে করিয়ে দেব!! তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: তোমার কথা কি শেষ হয়েছে? সে বলল: হ্যাঁ। এরপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পাঠ করলেন:
(পরম করুণাময় দয়ালু আল্লাহর নামে। হা-মীম। এটি দয়াময় দাতা আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ)... যতক্ষণ না তিনি এই আয়াতে পৌঁছালেন— (অতঃপর তারা যদি মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে বলুন: আমি তোমাদেরকে আদ ও সামূদ জাতির ওপর আপতিত বজ্রের মতো এক বজ্রের ব্যাপারে সতর্ক করছি)। তখন উতবা বলল: যথেষ্ট হয়েছে, যথেষ্ট হয়েছে! আপনার কাছে কি এর বাইরে আর কিছু নেই? তিনি বললেন: না।
(খণ্ড: ১)
আত-তাহালুফুস সিয়াসি ফিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ১৯)
فرجع إلى قريش فقالوا: ما وراءك؟ قال: ما تركت شيئا إنكم تكلمونه به إلا كلمته (1). فرسول الله صلى الله عليه وسلم لم يخض معركة جانبية حول أفضليته على أبيه وجدة أو أفضليتهما عليه. ولو فعل ذلك لقضي الأمر دون أن يسمع عتبة شيئا.
ولا خاض صلى الله عليه وسلم معركة جانبية حول العروض المغرية، وغضبه الشخصي لهذا الاتهام. إنما ترك ذلك كله لهدف أبعد. وترك عتبة يعرض كل ما عنده حتى انتهى.
وبلغ من أدبه صلى الله عليه وسلم أن قال: أفرغت يا أبا الوليد؟ فقال: نعم.
لقد كان الهدف الأبعد لرسول الله صلى الله عليه وسلم في هذه المرحلة تبليغ الدعوة. وعتبة مختار قريش للمفاوضة، فهو أعلمها بالسحر والشعر والكهانة. ولو انشغل النبي صلى الله عليه وسلم في أية معركة جانبية مما ذكرنا لامتنع عليه تحقيق هدفه.
والخطة السياسية الحكيمة للحركة الإسلامية تقتضي منها هذا الاقتداء وهذه الحصافة، بحيث تبلغ هدفها الذي تريد دون أن تستهلك بمعارك جانبية. وتقتضي منها كذلك تحييد من تستطيع من العدو. فإن عتبة وإن لم يسلم فقد انسحب من المعركة. وانسحابه يعني انسحاب عشيرته من خلفه.
المرحلة الرابعة: حصار الشعب.
كان ذلك ردا على التحالف العلني الذي قام بين بني هاشم وبني المطلب، مسلمهم ومشركهم لحماية الرسول صلى الله عليه وسلم: (فلما رأت
--------------------------------------------
অতঃপর তিনি কুরাইশদের কাছে ফিরে গেলেন। তারা জিজ্ঞাসা করল: ‘তোমার পেছনে কী খবর?’ তিনি বললেন: ‘তোমরা তাঁর সাথে যে সকল বিষয়ে আলোচনার কথা ভেবেছিলে, আমি তার কোনোটিই বলতে বাকি রাখিনি (১)।’ রাসূলুল্লাহ (সা.) তাঁর পিতা ও পিতামহের ওপর তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব অথবা তাঁর ওপর তাঁদের শ্রেষ্ঠত্ব নিয়ে কোনো পার্শ্ব-বিতর্কে লিপ্ত হননি। তিনি যদি তেমনটি করতেন, তবে উতবাহ কোনো কিছু শোনার আগেই বিষয়টি নিষ্পত্তি হয়ে যেত।
তেমনিভাবে তিনি (সা.) প্রলুব্ধকর প্রস্তাবসমূহ এবং এই অপবাদের ফলে সৃষ্ট ব্যক্তিগত ক্ষোভ নিয়ে কোনো পার্শ্ব-বিতর্কে জড়াননি। বরং তিনি এক সুদূরপ্রসারী লক্ষ্যের খাতিরে এ সবকিছু বর্জন করেছিলেন। তিনি উতবাহকে তার সব কথা পেশ করার সুযোগ দিয়েছিলেন, যতক্ষণ না সে শেষ করল।
রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর শিষ্টাচার এতোটাই উন্নত ছিল যে, তিনি বললেন: ‘হে আবুল ওয়ালিদ! আপনার কি সব বলা শেষ হয়েছে?’ সে বলল: ‘হ্যাঁ’।
এই পর্যায়ে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সুদূরপ্রসারী লক্ষ্য ছিল দাওয়াত পৌঁছে দেওয়া। আর উতবাহ ছিল আলোচনার জন্য কুরাইশদের মনোনীত ব্যক্তি; সে ছিল তাদের মধ্যে জাদুবিদ্যা, কবিতা এবং গণকবিদ্যায় সবচেয়ে পারদর্শী। নবী (সা.) যদি উল্লিখিত পার্শ্ব-বিতর্কগুলোর কোনোটিতে লিপ্ত হতেন, তবে তাঁর লক্ষ্য অর্জন করা অসম্ভব হয়ে পড়ত।
ইসলামী আন্দোলনের প্রজ্ঞাপূর্ণ রাজনৈতিক কৌশলও অনুরূপ অনুসরণ ও বিচক্ষণতা দাবি করে, যাতে এটি পার্শ্ব-বিতর্কে জড়িয়ে শক্তি অপচয় না করে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারে। এটি শত্রুদের মধ্য থেকে যাদের সম্ভব নিরপেক্ষ রাখারও দাবি করে। কারণ, উতবাহ যদিও ইসলাম গ্রহণ করেননি, তবুও তিনি লড়াই থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করে নিয়েছিলেন। আর তাঁর সরে দাঁড়ানোর অর্থ ছিল তাঁর পেছনের গোত্রেরও সরে দাঁড়ানো।
চতুর্থ পর্যায়: শিয়াবে আবি তালিবে অবরোধ।
এটি ছিল বনু হাশিম ও বনু মুত্তালিবের মুসলিম ও মুশরিক নির্বিশেষে রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে সুরক্ষা প্রদানের জন্য যে প্রকাশ্য জোট গঠিত হয়েছিল, তার পাল্টা প্রতিক্রিয়া: (যখন কুরাইশরা দেখল...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাহালুফুস সিয়াসি ফিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ২০)
قريش ذلك ((من شأن الحلف المذكور)) اجتمعوا وائتمروا أن يكتبوا كتابا على بني هاشم وبني المطلب ألا ينكحوا إليهم ولا ينكحوهم، ولا يبيعوا منهم شيئا ولا يبتاعوا منهم، ولا يقبلوا منهم صلحا أبدا، ولا تأخذهم بهم رأفة حتى يسلموا رسول الله صلى الله عليه وسلم للقتل) (1).
ولم تفلح هذه التهديدات وهذا التحالف الجديد في ثني بني هاشم وبني المطلب عن حمايته صلى الله عليه وسلم.
قال موسى بن عقبة عن ابن شهاب:
فانحاز بنو هاشم وبنو المطلب مسلمهم وكافرهم إلى أبي طالب فدخلوا معه شعبه. فأقاموا على ذلك سنتين أو ثلاثا حتى جهدوا وكان لا يصل إليهم شيء إلا سرا، وقطعت قريش على ذلك عنهم الأسواق حتى كان يسمع أصوات نسائهم وأبنائهم يتضاغون وراء الشعب من الجوع واشتدوا على من أسلم ممن لم يدخل الشعب وعظمت الفتنة وزلزلوا زلزالا شديدا.
وكان أبو طالب إذا أخذ الناس مضاجعهم أمر رسول الله صلى الله عليه وسلم فاضجع على فراشه حتى يرى ذلك من أراد اغتياله. فإذا نام الناس أمر أحد بنيه أو إخوانه أو بني عمه فاضجع على فراش رسول الله صلى الله عليه وسلم، وأمر أن يأتي بعض فرشهم
… )
و
عودة إلى الحلف السابقلم يستطع أبو طالب أن يقاوم هذا التحالف الباغي إلا بالحرب السياسية من جهة ومحاولة تفتيت هذا التحالف فعمل قصيدته - اللامية المشهورة:
--------------------------------------------
কুরাইশরা—তা ছিল (উল্লিখিত মৈত্রী চুক্তির বিষয়)—একত্রিত হলো এবং বনু হাশিম ও বনু মুত্তালিবের বিরুদ্ধে একটি চুক্তিপত্র লেখার বিষয়ে একমত হলো যে, তারা তাদের সাথে বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপন করবে না, তাদের নিকট কোনো কিছু বিক্রয় করবে না, তাদের থেকে কোনো কিছু ক্রয় করবে না, তাদের কোনো সন্ধি প্রস্তাব কখনোই গ্রহণ করবে না এবং তাদের প্রতি কোনো প্রকার মমতা প্রদর্শন করবে না—যতক্ষণ না তারা রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে হত্যার উদ্দেশ্যে তাদের নিকট সমর্পণ করে। (১)।
বনু হাশিম ও বনু মুত্তালিবকে তাঁর (সা.) সুরক্ষা প্রদান থেকে বিরত রাখতে এই হুমকি এবং এই নতুন মৈত্রী জোট সফল হতে পারেনি।
মূসা ইবনে উকবা, ইবনে শিহাব থেকে বর্ণনা করেছেন:
অতঃপর বনু হাশিম ও বনু মুত্তালিবের মুসলিম ও কাফের নির্বিশেষে সকলে আবু তালিবের নিকট সমবেত হলেন এবং তাঁর সাথে গিরিসঙ্কটে (শিআবে আবি তালিব) প্রবেশ করলেন। তারা সেখানে দুই বা তিন বছর অবস্থান করলেন, এমনকি তারা চরম কষ্টে নিপতিত হলেন। অত্যন্ত গোপনে প্রেরিত কোনো সামগ্রী ব্যতীত তাদের নিকট কিছুই পৌঁছাত না। কুরাইশরা তাদের জন্য বাজারের পথ রুদ্ধ করে দিল, যার ফলে গিরিসঙ্কটের আড়াল থেকে ক্ষুধা ও তৃষ্ণায় তাদের নারী ও শিশুদের আর্তনাদ শোনা যেত। যারা ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন কিন্তু গিরিসঙ্কটে প্রবেশ করেননি, তাদের ওপরও তারা কঠোর হয়ে উঠল। বিপর্যয় চরম আকার ধারণ করল এবং তারা ভীষণভাবে প্রকম্পিত হলেন।
যখন মানুষেরা শয্যা গ্রহণ করত, আবু তালিব তখন রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে নির্দেশ দিতেন যেন তিনি তাঁর নিজ বিছানায় শুয়ে থাকেন, যাতে কোনো সম্ভাব্য গুপ্তঘাতক তা দেখতে পায়। অতঃপর যখন সকলে ঘুমিয়ে পড়ত, তখন তিনি তাঁর পুত্র, ভাই বা চাচাতো ভাইদের একজনকে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর বিছানায় শুয়ে পড়ার নির্দেশ দিতেন এবং তাঁকে (রাসূলুল্লাহ সা.) তাদের কোনো বিছানায় চলে যেতে বলতেন
… )
এবং
পূর্ববর্তী মৈত্রী চুক্তির প্রসঙ্গে প্রত্যাবর্তনআবু তালিব এই জালেম মৈত্রী জোটের মোকাবেলা করার জন্য একদিকে রাজনৈতিক কৌশল এবং অন্যদিকে এই জোটের সংহতি বিনষ্ট করার প্রচেষ্টা ব্যতীত কোনো উপায় খুঁজে পাচ্ছিলেন না। ফলে তিনি তাঁর সুপ্রসিদ্ধ কাসিদা—'লামিয়্যাহ' রচনা করলেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাহালুফুস সিয়াসি ফিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ২১)
ولما رأيت القوم لا ود عندهم
… وقد قطعوا كل العرى والوسائل
وقد حالفوا قوما علينا أضنة
… يعضون غيظا خلفنا بالأنامل (1)
وبعد أن يعوذ برب الناس وبجبل ثور وبالبيت الحرام وبالحجر الأسود وبالمشعر الحرام وبحجيج البيت. يعلن أنه لن يتخلى عن رسول الله صلى الله عليه وسلم ولو قتلوا جميعا.
كذبتم وبيت الله نترك مكة
… ونظعن إلا أمركم في بلابل
كذبتم وبيت الله نبزى (2) محمد
… ولما نطاعن دونه ونناضل
ونسلمه حتى نصرع دونه
… ونذهل عن أبنائنا والحلائل
وينهض قوم في الحديد
…إليكم نهوض الروايا تحت ذات الصلاصل (3)
وأما سبب هذا الموقف فهو أن محمدا سيد بني هاشم وعزيز مكة.
وما ترك قوم لا أبا لك سيدا
… يحوط الذمار غير درب مواكل
وأبيض يستسقى الغمام بوجهه
… ثمال (4) اليتامى عصمة للأرامل
تلوذ به الهلاك من آل هاشم
… فهم عبده في رحمة وفواضل
إنها من أروع ما جادت به الأخلاق الجاهلية أن يقبل مشركو بني هاشم وبني المطلب كل هذا العذاب والجوع والخوف ثلاث سنوات متواصلات حماية لسيدهم رسول الله صلى الله عليه وسلم وهم على غير دينه.
--------------------------------------------
যখন আমি দেখলাম যে লোকেদের কাছে কোনো ভালোবাসা অবশিষ্ট নেই
… এবং তারা সমস্ত বন্ধন ও উপায়-উপকরণ ছিন্ন করেছে
তারা আমাদের বিরুদ্ধে এমন এক কওমের সাথে মৈত্রী করেছে যারা অত্যন্ত সংকীর্ণমনা
… তারা আমাদের অগোচরে রাগে আঙুল কামড়ায় (১)
আর মানুষের প্রতিপালক, সাওর পর্বত, বাইতুল হারাম, হাজরে আসওয়াদ, মাশআরুল হারাম এবং কাবা ঘরের হাজীদের শপথ করে আশ্রয় নেওয়ার পর, তিনি ঘোষণা করেন যে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ত্যাগ করবেন না, যদিও তারা সবাই নিহত হন তবও।
আল্লাহর ঘরের কসম! তোমরা মিথ্যা বলেছ যে আমরা মক্কা ছেড়ে চলে যাব
… এবং তোমাদের আদেশে আমরা অস্থিরতা ও সংকটের মধ্যে মক্কা থেকে প্রস্থান করব
আল্লাহর ঘরের কসম! তোমরা মিথ্যা বলছ যে মুহাম্মদকে আমাদের থেকে ছিনিয়ে নেওয়া হবে (২)
… অথচ আমরা তাঁর জন্য এখনো বর্শা ও ঢাল নিয়ে লড়াই ও সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছি
এবং আমরা কি তাঁকে তোমাদের হাতে সঁপে দেব? যতক্ষণ না আমরা তাঁর সুরক্ষায় লড়াই করে ধরাশায়ী হব
… এবং আমাদের সন্তান ও স্ত্রীদের কথা ভুলে যাব
আর লৌহবর্মে সজ্জিত একদল লোক তোমাদের দিকে ধেয়ে আসবে
… যেমন ঘণ্টার ধ্বনি তুলে পানি বহনকারী উটের দল (৩) দ্রুতবেগে এগিয়ে আসে
আর এই দৃঢ় অবস্থানের কারণ এই যে, মুহাম্মদ হলেন বনী হাশেমের নেতা এবং মক্কার এক সম্মানিত ব্যক্তি।
তোমার পিতা নির্বংশ হোক! কোনো কওম এমন নেতাকে ত্যাগ করেনি
… যিনি অলস ও পরনির্ভরশীল না হয়ে বরং পবিত্র আমানত ও মান-মর্যাদা রক্ষা করেন
আর তিনি এমন এক উজ্জ্বল কান্তির অধিকারী যাঁর চেহারার অসিলায় মেঘের নিকট বৃষ্টি প্রার্থনা করা হয়
… যিনি এতিমদের আশ্রয়দাতা (৪) এবং বিধবাদের রক্ষক
বনী হাশেমের বিপদগ্রস্তরা তাঁরই আশ্রয় গ্রহণ করে
… ফলে তারা তাঁর রহমত ও বদান্যতার ছায়াতলে নিরাপদ থাকে
জাহেলি যুগের নৈতিকতা থেকে উৎসারিত এটি এক অতি বিস্ময়কর বিষয় যে, বনী হাশেম ও বনী মুত্তালিবের মুশরিকরা তাদের নেতা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সুরক্ষার জন্য টানা তিন বছর এই সব কষ্ট, ক্ষুধা ও ভয়কে বরণ করে নিয়েছিল, যদিও তারা তখনো তাঁর দ্বীনের অনুসারী ছিল না।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাহালুফুস সিয়াসি ফিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ২২)
ولا يدع أبو طالب التعريض بحلفائه السابقين. يستثير فيهم النخوة والحمية بالانضمام إلى حلفهم الأصلي. ويغمز من قناتهم بالتخلي عن نصرته، فيقول عن زعيمي بني عبد شمس:
وسائل أبا الوليد ماذا حبوتنا
… بسعيك فينا معرضا كالمخاتل
فعتبة لا تسمع بنا قول كاشح
… حسود كذوب مبغض ذي دغاول
وكنت امرءا ممن يعاش برأيه
… ورحمته فينا ولست بجاهل
ومر أبو سفيان عني معرضا
… كما مر قيل من عظام المقاول
يفر إلي نجد وبرد مياهه
… ويزعم أني لست عنكم بغافل
ومن زعيمي بني عبد شمس إلى زعيم بني نوفل المطعم بن عدي:
أمطعم لم أخذلك في يوم نجدة
… ولا معظم عند الأمور الجلائل
جزى الله عنا عبد شمس ونوفلا
… عقوبة شر عاجلا غير آجل
ولا يكتفي بذلك بل يلمح إلي أقارب بني هاشم في قريش
فكل صديق وابن أخت نعده
… لعمري وجدنا غبه غير طائل
ونعم ابن أخت القوم غير مكذب
… زهير حساما مفردا من حمائل
وكان لهذه القصيدة أثر خطير زلزل أوضاع مكة. واستطاعت أن تحرك كامن العصبية عند أقارب بني هاشم، حيث ائتمروا سرا ودعوا إلي نقض الصحيفة.
فلقد كان أول من سعى في ذلك هشام بن عمرو، واستجاب المطعم بن عدي زعيم بني نوفل بن عبد مناف، وزهير بن أبي أمية وكان بنو هاشم أخواله لأمه عاتكة بنت عبد المطلب، وأبو البختري بن هشام وزمعة بن الأسود وكانوا
আবু তালিব তার পূর্বতন মিত্রদের প্রতি ইঙ্গিত প্রদান থেকে বিরত থাকেন না। তিনি তাদের মূল মৈত্রী চুক্তিতে যোগদানের মাধ্যমে তাদের মধ্যে আত্মমর্যাদা ও গোত্রীয় চেতনা জাগ্রত করতে সচেষ্ট হন। তাদের পক্ষ থেকে সাহায্য ত্যাগ করার বিষয়টিকে তিনি শ্লেষাত্মকভাবে আক্রমণ করেন। তিনি বনু আবদ শামসের দুই নেতা সম্পর্কে বলেন:
আবু আল-ওয়ালিদকে জিজ্ঞাসা করো, তুমি আমাদের জন্য কী সঞ্চয় করেছ
… আমাদের মাঝে তোমার প্রচেষ্টার মাধ্যমে, তুমি একজন প্রতারকের মতো বিমুখ হয়ে আছো।
অতএব হে উতবাহ, আমাদের ব্যাপারে কোনো বিদ্বেষী ব্যক্তির কথা শুনো না
… যে হিংসুক, চরম মিথ্যাবাদী (كذوب), ঘৃণাকারী এবং অনিষ্টকারী।
তুমি তো এমন এক ব্যক্তি ছিলে যার প্রজ্ঞার ওপর নির্ভর করে জীবন চলত
… এবং আমাদের মধ্যে তার দয়ার ওপর, তুমি তো অজ্ঞ নও।
আবু সুফিয়ান আমার পাশ দিয়ে বিমুখ হয়ে চলে গেল
… যেমনটি চলে যায় গোত্রপতিদের (মাকায়িল) শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিবর্গ।
সে নজদ এবং তার শীতল পানির দিকে পালিয়ে যায়
… আর দাবি করে যে, আমি তোমাদের ব্যাপারে গাফেল নই।
বনু আবদ শামসের দুই নেতা থেকে বনু নওফলের নেতা মুতইম বিন আদী সম্পর্কে তিনি বলেন:
হে মুতইম, আমি তো কোনো সাহায্যের দিনে তোমাকে একা ফেলে যাইনি
… আর না কোনো মহান ও কঠিন বিষয়ের ক্ষেত্রে।
আল্লাহ আমাদের পক্ষ থেকে আবদ শামস ও নওফলকে
… অতি দ্রুত অশুভ প্রতিফল দান করুন যা বিলম্বিত হবে না।
তিনি কেবল এতেই সন্তুষ্ট থাকেন না, বরং কুরাইশদের মাঝে বনু হাশিমের আত্মীয়দের প্রতিও ইঙ্গিত করেন:
প্রতিটি বন্ধু এবং ভাগ্নেকে আমরা যখন গণনা করি
… আমার জীবনের শপথ, আমরা তাদের শেষ পরিণতি নিরর্থক পেয়েছি।
সেই সম্প্রদায়ের শ্রেষ্ঠ ভাগ্নে হলেন যুহাইর, যিনি সত্যবাদী (غير مكذب)
… যেন তিনি কোষমুক্ত এক সুতীক্ষ্ণ তলোয়ার।
এই কাসিদার (কবিতার) একটি সুদূরপ্রসারী প্রভাব ছিল যা মক্কার সামাজিক পরিস্থিতিকে টালমাটাল করে দিয়েছিল। এটি বনু হাশিমের আত্মীয়দের মধ্যে সুপ্ত গোত্রীয় সংহতিকে জাগ্রত করতে সক্ষম হয়েছিল, যার ফলে তারা গোপনে শলাপরামর্শ করে এবং সেই জুলুমের চুক্তিপত্র বাতিলের আহ্বান জানায়।
এই লক্ষ্যে সর্বপ্রথম যিনি সচেষ্ট হন তিনি হলেন হিশাম বিন আমর; তার আহবানে সাড়া দেন বনু নওফল বিন আবদ মানাফের নেতা মুতইম বিন আদী, যুহাইর বিন আবি উমাইয়্যাহ (বনু হাশিম ছিল তার মামার বংশ, কারণ তার মা ছিলেন আতিকাহ বিনতে আব্দুল মুত্তালিব), আবু আল-বাখতারি বিন হিশাম এবং জামআ বিন আল-আসওয়াদ...
(খণ্ড: ১)
আত-তাহালুফুস সিয়াসি ফিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ২৩)
ذوي قرابة في بني هاشم. وشاءت إرادة الله تعالى أن تنصر عبده ونبيه محمدا صلى الله عليه وسلم في تظاهرة عجيبة في مكة.
قال موسى بن عقبة عن ابن شهاب:
إن الله أطلع رسوله على الذي صنع بصحيفتهم (أي أكلتها الأرضة إلا باسمك اللهم) فذكر ذلك لعمه فقال: لا والثواقب ما كذبتني. فانطلق يمشي في عصابة من بني عبد المطلب حتى أتى المسجد وهو حافل من قريش. فلما رأوهم رأوا أنهم قد خرجوا من شدة الجوع وأتوا ليعطوهم رسول الله صلى الله عليه وسلم، فتكلم أبو طالب فقال:
إنه قد حدث أمر لعله أن يكون بيننا وبينكم صلحا فأتوا بصحيفتكم- وإنما قال ذلك خشية أن ينظروا فيها قبل أن يأتوا بها (وكانت مختومة) - فأتوا معجبين لا يشكون أن رسول الله صلى الله عليه وسلم مدفوع إليهم.
قالها: (أي قريش): قد آن لكم أن تقبلوا وترجعوا فإنما قطع بيننا وبينكم رجل واحد قد جعلتموه خطرا لهلكة قومكم. فقال أبو طالب: لأعطينكم أمرا لكم فيه نصف. إن ابن أخي أخبرني ولم يكذبني أن الله بريء من هذه الصحيفة التي في أيديكم ومحا كل اسم له فيها، وترك فيها غدركم وقطيعتكم. فإن كان ما قال حقا فوالله لا نسلمه إليكم حتى نموت عن آخرنا. وإن كان الذي يقول باطلا دفعناه إليكم فقتلتموه أو استحييتموه. قالوا: رضينا.
ففتحوا الصحيفة فوجدوها كما أخبر. فقالوا: هذا سحر من صاحبكم. فارتكسوا وعادوا لشر مما كانوا عليه. فتكلم عند ذلك النفر الذين تعاقدوا ومزقت الصحيفة.
وغدا زهير بن أبي أمية عليه حلة. فطاف بالبيت سبعا، ثم أقبل على الناس
বনী হাশিমের নিকটাত্মীয়দের অবস্থা। আর মহান আল্লাহর ইচ্ছা হলো যে, তিনি তাঁর বান্দা ও নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে মক্কায় এক বিস্ময়কর নিদর্শনের মাধ্যমে সাহায্য করবেন।
মুসা ইবনে উকবা ইবনে শিহাব থেকে (عن) বর্ণনা করেছেন:
নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর রাসূলকে তাদের দলিলের (সহিফা) সাথে যা করা হয়েছে সে সম্পর্কে অবহিত করেছেন (অর্থাৎ ‘বিসমিকাল্লাহুম্মা’ ব্যতীত লিপিটির বাকি অংশ উইপোকায় খেয়ে ফেলেছে)। তিনি তাঁর চাচার কাছে বিষয়টি উল্লেখ করলেন। তখন তিনি (আবু তালিব) বললেন: না, উজ্জ্বল নক্ষত্ররাজির কসম! তিনি আমার কাছে মিথ্যা বলেননি। এরপর তিনি বনী আব্দুল মুত্তালিবের একদল লোকের সাথে অগ্রসর হলেন যতক্ষণ না তিনি মসজিদে (হারামে) পৌঁছালেন, যা কুরাইশদের উপস্থিতিতে পরিপূর্ণ ছিল। তারা যখন তাঁদের দেখল, তখন তারা ভাবল যে তাঁরা ক্ষুধার তীব্রতার কারণে বেরিয়ে এসেছেন এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে তাদের হাতে সপে দিতে এসেছেন। তখন আবু তালিব কথা বললেন এবং বললেন:
নিশ্চয়ই একটি বিষয় ঘটেছে, সম্ভবত তা আমাদের ও তোমাদের মধ্যে সমঝোতার মাধ্যম হবে; সুতরাং তোমরা তোমাদের দলিলটি নিয়ে এসো। তিনি এ কথাটি এই ভয়ে বলেছিলেন যাতে তারা সেটি আনার আগে তাতে লক্ষ্য না করে (লিপিটি মোহরকৃত ছিল)। ফলে তারা বিস্ময়ের সাথে সেটি নিয়ে এল এবং তারা এতে কোনো সন্দেহ পোষণ করেনি যে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে তাদের হাতে সপে দেওয়া হচ্ছে।
তারা (অর্থাৎ কুরাইশরা) বলল: তোমাদের জন্য এখন এটি মেনে নেওয়ার এবং ফিরে আসার সময় হয়েছে। কেবল একজন লোক আমাদের ও তোমাদের মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটিয়েছে, যাকে তোমরা তোমাদের জাতির ধ্বংসের ঝুঁকির কারণ বানিয়েছ। তখন আবু তালিব বললেন: আমি তোমাদের এমন একটি প্রস্তাব দিচ্ছি যাতে তোমাদের জন্য ন্যায়সংগত অধিকার রয়েছে। আমার ভাতিজা আমাকে সংবাদ দিয়েছেন (أخبرني)—এবং তিনি আমার কাছে মিথ্যা বলেননি—যে, নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের হাতে থাকা এই দলিলটির সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করেছেন এবং এতে থাকা তাঁর (আল্লাহর) সকল নাম মুছে দিয়েছেন, আর এতে কেবল তোমাদের বিশ্বাসঘাতকতা ও আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করার কথাগুলো অবশিষ্ট রেখেছেন। যদি তাঁর কথা সত্য হয়, তবে আল্লাহর কসম, আমাদের শেষ ব্যক্তিটি জীবিত থাকা পর্যন্ত আমরা তাঁকে তোমাদের হাতে সপে দেব না। আর যদি তিনি যা বলছেন তা মিথ্যা (باطل) হয়, তবে আমরা তাঁকে তোমাদের কাছে সপে দেব, তখন তোমরা তাঁকে হত্যা করো অথবা জীবিত রাখো। তারা বলল: আমরা সম্মত হলাম।
এরপর তারা দলিলটি খুলল এবং সেটিকে ঠিক তেমনই পেল যেমনটি তিনি সংবাদ দিয়েছিলেন (أخبر)। তখন তারা বলল: এটি তোমাদের সঙ্গীর পক্ষ থেকে একটি জাদু। ফলে তারা সত্য বিমুখ হলো এবং তাদের আগের চেয়েও মন্দ অবস্থায় ফিরে গেল। তখন সেই ব্যক্তিরা কথা বললেন যারা (চুক্তিটি ভঙ্গের জন্য) অঙ্গীকারবদ্ধ হয়েছিলেন এবং দলিলটি ছিঁড়ে ফেলা হলো।
পরদিন সকালে জুহাইর ইবনে আবি উমাইয়া একটি সুন্দর পোশাক পরিধান করে বের হলেন। তিনি বাইতুল্লাহ সাতবার তওয়াফ করলেন, এরপর মানুষের দিকে অগ্রসর হলেন।
(খণ্ড: ১)
আত-তাহালুফুস সিয়াসি ফিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ২৪)
فقال: يا أهل مكة أنأكل الطعام ونلبس الثياب، وبنو هاشم هلكى لا يباعون ولا يبتاع منهم؟! والله لا أقعد حتى تشق هذه الصحيفة الظالمة القاطعة.
فقال أبو جهل- وكان في ناحية من المسجد- كذبت، والله لا تشق.
قال زمعة بن الأسود: أنت والله أكذب. ما رضينا كتابتها يوم كتبت فقال أبو البختري: صدق زمعة. لا نرضى ما كتب فيها ولا نقربه.
فقال المطعم بن عدي: صدقتم وكذب من قال غير ذلك.
وقال هشام بن عمرو نحوا من ذلك.
فقال أبو جهل: هذا أمر قضي بليل، وتشوور فيه بغير هذا المكان. وأبو طالب جالس بناحية المسجد. فقام المطعم بن عدي إلى الصحيفة فشقها. فلما مزقت وبطل ما فيها قال أبو طالب في ما كان من أمر أولئك القوم الذين قاموا في نقضها يمدحهم شعرا.
لقد كانت حماية النبي صلى الله عليه وسلم من القتل منوطة ببني هاشم وبني المطلب، ورفضوا تسليمه لقريش. وتحملوا مصائب كادت تودي بهم ولم يتراجعوا عن هذه الحماية.
وكان لهذا التحالف أثر في الفقه الإسلامي حيث أن سهم ذوي القربى من الخمس يعطى لبني هاشم وبني المطلب. ففي كتاب كفاية الأخيار- في الفقه الشافعي-: ( .. السهم الثاني من الخمس لذوي القربى، وهم أقرباء النبي صلى الله عليه وسلم، وهم بنو هاشم وبنو المطلب دون غيرهم، لما روى جبيربن مطعم رضي الله عنه قال: (مشيت أنا وعثمان بن عفان إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم فقلنا: أعطيت بني هاشم وبني المطلب من خمس خيبر، وتركتنا، ونحن وهم بمنزلة واحدة منك!! فقال: إنما بنو هاشم وبنو المطلب شيء واحد. قال جبير: ولم يقسم رسول الله صلى الله عليه وسلم لبني عبد شمس
তিনি বললেন: হে মক্কাবাসী, আমরা খাবার খাব আর পোশাক পরিধান করব, অথচ বনু হাশিম ধ্বংস হয়ে যাবে, তাদের কাছে কোনো কিছু বিক্রি করা হবে না এবং তাদের থেকে কিছু কেনাও হবে না?! আল্লাহর শপথ, আমি ততক্ষণ বসব না যতক্ষণ না এই অবিচারকারী ও সম্পর্কচ্ছেদকারী চুক্তিপত্রটি ছিঁড়ে ফেলা হয়।
আবু জাহল—যে মসজিদের এক প্রান্তে ছিল—বলল: তুমি মিথ্যা বলেছ, আল্লাহর শপথ, এটি ছিঁড়ে ফেলা হবে না।
জুমআহ ইবনে আসওয়াদ বললেন: আল্লাহর শপথ, তুমিই বড় মিথ্যাবাদী। যেদিন এটি লেখা হয়েছিল, সেদিনই আমরা এর প্রতি সন্তুষ্ট ছিলাম না। আবু আল-বাখতারি বললেন: জুমআহ সত্য বলেছেন। এতে যা লেখা হয়েছে তাতে আমরা সন্তুষ্ট নই এবং আমরা তা গ্রহণ করব না।
মুতইম ইবনে আদি বললেন: তোমরা সত্য বলেছ এবং যে এর বাইরে কথা বলেছে সে মিথ্যা বলেছে।
হিশাম ইবনে আমরও অনুরূপ (نحوا) কিছু বললেন।
আবু জাহল বলল: এটি এমন এক বিষয় যা রাতে সাব্যস্ত করা হয়েছে এবং এই স্থান ছাড়া অন্য কোথাও এ নিয়ে পরামর্শ করা হয়েছে। তখন আবু তালিব মসজিদের এক কোণে বসা ছিলেন। এরপর মুতইম ইবনে আদি চুক্তিপত্রটির দিকে এগিয়ে গেলেন এবং সেটি ছিঁড়ে ফেললেন। যখন এটি ছিন্নভিন্ন হয়ে গেল এবং এর বিষয়বস্তু বাতিল হয়ে গেল, তখন আবু তালিব ঐ ব্যক্তিদের প্রশংসায় কবিতা আবৃত্তি করলেন যারা এটি বাতিলের জন্য দাঁড়িয়েছিলেন।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে হত্যার হাত থেকে রক্ষা করার বিষয়টি বনু হাশিম ও বনু আল-মুত্তালিবের ওপর ন্যস্ত ছিল এবং তারা তাঁকে কুরাইশদের হাতে তুলে দিতে অস্বীকার করেছিলেন। তারা এমন সব বিপদ সহ্য করেছিলেন যা প্রায় তাদের ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়েছিল, তবুও তারা এই সুরক্ষা থেকে পিছু হটেননি।
ইসলামি ফিকহশাস্ত্রে এই মৈত্রীবন্ধনের প্রভাব ছিল, যেখানে খুমুসের (এক-পঞ্চমাংশ) মধ্য থেকে নিকটাত্মীয়দের অংশ বনু হাশিম ও বনু আল-মুত্তালিবকে প্রদান করা হয়। শাফেয়ি ফিকহশাস্ত্রের গ্রন্থ কিফায়াতুল আখইয়ার-এ উল্লেখ আছে: (... খুমুসের দ্বিতীয় অংশটি নিকটাত্মীয়দের জন্য, আর তারা হলেন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আত্মীয়—অর্থাৎ বনু হাশিম ও বনু আল-মুত্তালিব, অন্য কেউ নয়। যেহেতু জুবাইর ইবনে মুতইম (রা.) বর্ণনা করেছেন (روى), তিনি বলেন: (আমি এবং উসমান ইবনে আফফান রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট গিয়ে বললাম: আপনি খাইবারের খুমুস থেকে বনু হাশিম ও বনু আল-মুত্তালিবকে দান করলেন, অথচ আমাদের ছেড়ে দিলেন, যদিও আমরা ও তারা আপনার নিকট সমান মর্যাদার!! তখন তিনি বললেন: বনু হাশিম ও বনু আল-মুত্তালিব মূলত একই সত্তা। জুবাইর বলেন: আর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বনু আব্দে শামসকে কোনো অংশ প্রদান করেননি...)
(খণ্ড: ১)
আত-তাহালুফুস সিয়াসি ফিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ২৫)
وبني نوفل شيئا) رواه البخاري. وجبير من بني نوفل، وعثمان من بني عبد شمس، ورسول الله صلى الله عليه وسلم من بني هاشم. وهاشم والمطلب ونوفل وعبد شمس هم أبناء عبد مناف. والله أعلم (1).
ويوضح ابن كثير هذا المعنى لدى تفسير قوله تعالى: {وَاعْلَمُوا أَنَّمَا غَنِمْتُمْ مِنْ شَيْءٍ فَأَنَّ لِلَّهِ خُمُسَهُ وَلِلرَّسُولِ وَلِذِي الْقُرْبَى وَالْيَتَامَى .. (2)} فيقول: (وأما سهم ذوي القربى فإنه يصرف إلى بني هاشم وبني المطلب. لأن بني المطلب وازروا بني هاشم في الجاهلية وفي أول الإسلام. ودخلوا معهم في الشعب غضبا لرسول الله صلى الله عليه وسلم وحماية لهم، مسلمهم طاعة لله ورسوله وكافرهم حمية للعشيرة وأنفة وطاعة لأبي طالب
… وأما بنو عبد شمس وبنو نوفل وإن كانوا بني عمهم فلم يوافقوهم على ذلك بل حاربوهم ونابذوهم ومالؤوا بطون قريش على حرب الرسول صلى الله عليه وسلم. ولهذا كان ذم أبي طالب لهم في قصيدته اللامية أشد من غيرهم لشدة قربهم).
وبعد أن يسوق بعض الأبيات السابقة، ويسوق الحديث المذكور عن جبير وعثمان يقول: وفي بعض روايات هذا الحديث: "إنهم لم يفارقونا في جاهلية ولا إسلام" وهذا قول جمهور العلماء أنهم بنو هاشم وبنو المطلب (3).
وهذا الاستطراد لبيان أهمية هذا الحلف، وكيف حفظه لهم رسول الله صلى الله عليه وسلم.
--------------------------------------------
...এবং বনু নওফলকে কিছু দেননি) যা বুখারি বর্ণনা করেছেন। জুবাইর ছিলেন বনু নওফলের বংশোদ্ভূত, ওসমান বনু আব্দ শামস থেকে, আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বনু হাশিম বংশের। আর হাশিম, মুত্তালিব, নওফল ও আব্দ শামস হলেন আব্দ মানাফের সন্তান। আল্লাহই সর্বজ্ঞ (১)।
ইবনে কাসির মহান আল্লাহর বাণীর তাফসির করতে গিয়ে এই অর্থটি স্পষ্ট করেছেন: {আর জেনে রাখো যে, তোমরা যা কিছু গনিমত হিসেবে লাভ করো, তার এক-পঞ্চমাংশ আল্লাহর জন্য, রাসূলের জন্য এবং নিকটাত্মীয়দের জন্য ও এতিমদের জন্য... (২)}। তিনি বলেন: (আর নিকটাত্মীয়দের অংশ বনু হাশিম এবং বনু মুত্তালিবের খাতে ব্যয় করা হয়। কারণ বনু মুত্তালিব জাহেলি যুগে এবং ইসলামের প্রাথমিক যুগে বনু হাশিমকে সাহায্য-সহযোগিতা করেছিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি মমতা এবং সুরক্ষার তাগিদে তারা তাঁদের সাথে গিরিপথে প্রবেশ করেছিল; তাদের মধ্যে যারা মুসলিম ছিল তারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্যের কারণে এটি করেছিল, আর যারা কাফির ছিল তারা গোত্রীয় সংহতি ও মর্যাদাবোধের কারণে এবং আবু তালিবের প্রতি আনুগত্যের কারণে তা করেছিল
… আর বনু আব্দ শামস এবং বনু নওফল তাদের চাচাতো ভাই হওয়া সত্ত্বেও তারা এই বিষয়ে তাঁদের সমর্থন করেনি, বরং তারা তাঁদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছে, তাঁদের বর্জন করেছে এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে কুরাইশের বিভিন্ন গোত্রের সাথে জোটবদ্ধ হয়েছিল। এ কারণেই আবু তালিব তাঁর 'লামিয়্যাহ' কবিতায় নিকটাত্মীয় হওয়া সত্ত্বেও তাদের বিরূপ আচরণের জন্য অন্যদের চেয়ে তাদের বেশি নিন্দা করেছেন)।
পূর্বোক্ত কয়েকটি পংক্তি পেশ করার পর এবং জুবাইর ও ওসমান থেকে বর্ণিত উল্লিখিত হাদিসটি উদ্ধৃত করার পর তিনি বলেন: এই হাদিসের কিছু বর্ণনায় (روايات) এসেছে: "তারা জাহেলি যুগে কিংবা ইসলামে আমাদের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়নি" আর এটি জমহুর (جمهور) আলেমদের মত যে, তারা হলেন বনু হাশিম ও বনু মুত্তালিব (৩)।
আর এই প্রাসঙ্গিক আলোচনাটি এই মৈত্রীর গুরুত্ব এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কীভাবে তাঁদের জন্য এটি রক্ষা করেছিলেন তা স্পষ্ট করার জন্য আনা হয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাহালুফুস সিয়াসি ফিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ২৬)
والذي حدا بنا إلى اعتبار هذا الحلف مع أبي طالب هو أن أبا طالب كان يمثلهم، وهو الذي حمل العبء باسمهم مع رسول الله صلى الله عليه وسلم، ووافق على بذل الحماية باسم العشيرتين دون قيد أو شرط.
ولو عدنا قليلا إلى حلف المطيبين وكيف تم الصلح فيه على أن تكون السقاية والرفادة لبني عبد مناف، وأن تكون الحجابة واللواء والندوة لبني عبد الدار، نجد أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قد أقر هذا الحلف، حتى والإسلام عزيز منيع. فقد طلب علي رضي الله عنه من رسول الله صلى الله عليه وسلم أن يجمع لبني عبد مناف الحجابة مع السقاية والرفادة فنادى عثمان بن طلحة وسلمه مفتاح الكعبة وعثمان زعيم بني عبد الدار يومئذ، وقال اليوم يوم بر ووفاء. هاك مفتاحك يا عثمان. خذوها تالدة خالدة لا ينزعها منكم إلا ظالم.
وفي الحديث الصحيح الذي رواه الإمام أحمد عن قيس بن عاصم: ما كان حلف في الجاهلية فتمسكوا به، ولا حلف في الإسلام (أي بين المسلمين). وفي رواية: ما كان من حلف في الجاهلية فإن الإسلام لم يزده إلا شدة.
ولعل حماية رسول الله صلى الله عليه وسلم كانت تطبيقا لبنود حلف الفضول الذي التقى عليه بنو هاشم وبنو المطلب وبنو زهرة وبنو تيم وكان أشدهم وفاء هذان الفرعان الكريمان.
جـ - حلف رسول الله صلى الله عليه وسلم والمطعم بن عديكانت وفاة أبي طالب بعد نقض الصحيفة بستة أشهر. وقد قلبت وفاته الموازين كلها فكثير ممن كان يشارك في حمايته أو يمتنع عن إيذائه حرمة ومهابة لشخصه. فمع وفاته بدأ الاعتداء العنيف على النبي صلى الله عليه وسلم وبدأت محاولات قتله.
আবু তালিবের সাথে এই মৈত্রী বা চুক্তিকে গণ্য করার পেছনে আমাদের যে বিষয়টি উদ্বুদ্ধ করেছে তা হলো, আবু তালিব তাদের প্রতিনিধিত্ব করছিলেন। তিনিই আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে তাদের পক্ষ হয়ে এই গুরুদায়িত্ব বহন করেছিলেন এবং কোনো শর্ত ছাড়াই দুই গোত্রের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা প্রদানে সম্মত হয়েছিলেন।
আমরা যদি 'হিলফুল মুতায়্যাবীন' (সুগন্ধি মাখানোদের চুক্তি)-এর দিকে একটু ফিরে তাকাই এবং দেখি সেখানে কীভাবে এই আপস মীমাংসা হয়েছিল যে, হাজীদের পানি পান করানো (সিকায়া) ও মেহমানদারির (রিফাদা) দায়িত্ব বনু আবদ মানাফের থাকবে এবং কাবার রক্ষণাবেক্ষণ (হিজাবা), পতাকা বহন (লিওয়া) ও পরামর্শ সভার (নাদওয়া) দায়িত্ব বনু আবদুদ দারের থাকবে; তবে আমরা দেখতে পাই যে, ইসলাম যখন অত্যন্ত শক্তিশালী ও বিজয়ী অবস্থায় ছিল তখনও আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এই মৈত্রীকে বহাল রেখেছিলেন। আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে আবেদন করেছিলেন যেন তিনি বনু আবদ মানাফের জন্য 'সিকায়া' ও 'রিফাদা'র পাশাপাশি 'হিজাবা'-র দায়িত্বও একত্রিত করে দেন। তখন তিনি উসমান ইবনে তালহাকে ডাকলেন এবং কাবার চাবি তার হাতে তুলে দিলেন—উসমান তখন বনু আবদুদ দারের নেতা ছিলেন। তিনি বললেন, "আজ পুণ্য ও প্রতিশ্রুতি রক্ষার দিন। হে উসমান, তোমার চাবি নাও। তোমরা এটি বংশপরম্পরায় চিরস্থায়ীভাবে গ্রহণ করো, কোনো জালিম ছাড়া আর কেউ তোমাদের থেকে এটি ছিনিয়ে নেবে না।"
ইমাম আহমদ কর্তৃক কায়েস বিন আসিম থেকে বর্ণিত সঠিক (صحيح) হাদিসে এসেছে: "জাহেলি যুগে যে মৈত্রী বা চুক্তি ছিল, তোমরা তা আঁকড়ে ধরো; তবে ইসলামে (অর্থাৎ মুসলমানদের মধ্যে) কোনো (নতুন) চুক্তি নেই।" অন্য এক বর্ণনা (رواية)-এ এসেছে: "জাহেলি যুগে যেসব মৈত্রী ছিল, ইসলাম তা কেবল আরও সুদৃঢ় করেছে।"
সম্ভবত আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর এই নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ ছিল 'হিলফুল ফুদুল'-এর ধারাসমূহেরই বাস্তবায়ন, যে চুক্তিতে বনু হাশিম, বনু মুত্তালিব, বনু জুহরা এবং বনু তাইম একত্রিত হয়েছিল। আর এই দুই সম্মানিত শাখা (বনু হাশিম ও বনু মুত্তালিব) ছিল তাদের মধ্যে অঙ্গীকার রক্ষায় সবচেয়ে দৃঢ়।
গ - আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এবং মুতইম বিন আদীর মধ্যে মৈত্রীসামাজিক বয়কটের দলিল (সহিফা) বাতিলের ছয় মাস পর আবু তালিবের মৃত্যু হয়। তাঁর মৃত্যু সমস্ত সমীকরণ উল্টে দিয়েছিল। কারণ অনেকেই তাঁর ব্যক্তিত্বের প্রতি সম্মান ও শ্রদ্ধাবোধ থেকে নবীজীর নিরাপত্তায় অংশ নিতেন অথবা তাঁকে কষ্ট দেওয়া থেকে বিরত থাকতেন। তাঁর মৃত্যুর সাথে সাথে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওপর তীব্র নির্যাতন শুরু হয় এবং তাঁকে হত্যার ষড়যন্ত্র শুরু হয়।
(খণ্ড: ১)
আত-তাহালুফুস সিয়াসি ফিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ২৭)
وكانت وفاة خديجة في العام نفسه، لذلك سمي العام العاشر من البعثة عام الحزن. وقد قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: (ما نالت قريش مني شيئا أكرهه حتى مات أبو طالب).
ولم يكن بقدرة العباس رضي الله عنه أن يفعل فعل أبي طالب، إذ ليس له من المهابة والطاعة والمكانة ما كان لأخيه. وفي لحظة عابرة تحركت النخوة في رأس عدو الله أبي لهب فقال لرسول الله صلى الله عليه وسلم: اذهب يا ابن أخي، وما كنت تصنعه وأبو طالب حي فاصنعه.
وكان لهذا الموقف وقع الصاعقة على قريش فشرعت بذكائها لتدمير هذا الحلف، ونجحت أيما نجاح عندما أوعزت إلى أبي لهب أن يسأل رسول الله صلى الله عليه وسلم عن عبد المطلب.
وكان رسول الله صلى الله عليه وسلم بين أمرين، والموقف حرج جدا، فإما أن تستمر الحماية مقابل مهادنة بكلمة واحدة في دين الله ومساومة .. وإما أن تنهار الحماية كلها لو تحدث عن عبد المطلب بما لا يرضيهم. وما كان لرسول الله صلى الله عليه وسلم أن يساوم على حساب العقيدة، ولو كان في ذلك حمايته ليبلغ هذه العقيدة
… فقال لعمه أبي لهب: هو في النار. فقال أبو لهب: ما زلت عدوا لك أبدا. وعاد فانضم إلى معسكر قريش.
وأمام هذا التطور انتهى النبي صلى الله عليه وسلم إلى أن مكة لم تعد مكانا آمنا لتبليغ الدعوة. وبدأ يبحث عن مكان آخر. واختار ثقيفا في الطائف. وقد ذكر المقريزي أن ثقيفا كانوا أخواله. ولا ندري على أي شيء اعتمد في هذا.
وأقام رسول الله صلى الله عليه وسلم بين أهل الطائف عشرة أيام لا يدع أحدا من أشرافهم إلا جاءه وكلمه. فقالوا: اخرج من بلادنا. وأغروا به سفهاءهم. فلما أراد الخروج تبعه سفهاؤهم وعبيدهم يسبونه ويصيحون به.
খাদিজা (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-এর ইন্তেকালও একই বছরে হয়েছিল, তাই নবুওয়াত প্রাপ্তির (بعثة) দশম বছরকে 'আমুল হুজন' বা শোকের বছর বলা হয়। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "আবু তালিবের মৃত্যু পর্যন্ত কুরাইশরা আমার এমন কোনো ক্ষতি করতে পারেনি যা আমি অপছন্দ করি।"
আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর পক্ষে আবু তালিবের মতো ভূমিকা পালন করা সম্ভব ছিল না, কারণ তাঁর ভাইয়ের যে গাম্ভীর্য, আনুগত্য এবং মর্যাদা ছিল, তা তাঁর ছিল না। হঠাৎ এক মুহূর্তের জন্য আল্লাহর শত্রু আবু লাহাবের মনে আভিজাত্যবোধ জেগে উঠল, সে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলল: হে ভ্রাতুষ্পুত্র! যাও, আবু তালিব জীবিত থাকতে তুমি যা করতে, এখনও তা-ই করো।
কুরাইশদের ওপর এই অবস্থানের প্রতিক্রিয়া ছিল বজ্রপাতের মতো; তাই তারা তাদের চতুরতা খাটিয়ে এই মৈত্রী বিনষ্ট করার পরিকল্পনা করল। তারা তখন চরমভাবে সফল হলো যখন তারা আবু লাহাবকে প্ররোচিত করল যাতে সে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে আব্দুল মুত্তালিব সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে।
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তখন দুটি বিষয়ের সন্ধিক্ষণে ছিলেন এবং পরিস্থিতি ছিল অত্যন্ত নাজুক। হয় আল্লাহর দ্বীনের ব্যাপারে একটিমাত্র আপসকামী কথার বিনিময়ে নিরাপত্তা বজায় রাখা, নতুবা আব্দুল মুত্তালিব সম্পর্কে তাদের মনঃপূত নয় এমন সত্য কথা বলে সমস্ত নিরাপত্তা হারানো। আকিদার (عقيدة) বিনিময়ে আপস করা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পক্ষে সম্ভব ছিল না, যদিও এই আকিদা (عقيدة) প্রচারের স্বার্থেই তাঁর নিরাপত্তার প্রয়োজন ছিল
… তিনি তাঁর চাচা আবু লাহাবকে বললেন: "তিনি জাহান্নামে।" তখন আবু লাহাব বলল: "আমি চিরকাল তোমার শত্রু হয়েই থাকব।" অতঃপর সে পুনরায় কুরাইশ শিবিরে ফিরে গেল।
এই পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এই সিদ্ধান্তে উপনীত হলেন যে, দাওয়াত (دعوة) প্রচারের জন্য মক্কা আর নিরাপদ স্থান নয়। তিনি বিকল্প স্থানের সন্ধান শুরু করলেন এবং তায়েফের সাকিফ গোত্রকে বেছে নিলেন। আল-মাকরিজি উল্লেখ করেছেন যে, সাকিফ গোত্র ছিল তাঁর মামার বংশ। তবে তিনি কিসের ভিত্তিতে এটি উল্লেখ করেছেন তা আমাদের জানা নেই।
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তায়েফবাসীদের মাঝে দশ দিন অবস্থান করেন। তাঁদের নেতাদের এমন কেউ ছিল না যাঁর কাছে তিনি যাননি এবং তাঁর সাথে কথা বলেননি। তারা বলল: আমাদের ভূখণ্ড থেকে বেরিয়ে যাও। তারা তাদের মধ্যকার নির্বোধদের তাঁর বিরুদ্ধে লেলিয়ে দিল। যখন তিনি বের হতে চাইলেন, তখন তাদের নির্বোধ ও ক্রীতদাসরা গালিগালাজ ও চিৎকার করতে করতে তাঁর পিছু নিল।
(খণ্ড: ১)
আত-তাহালুফুস সিয়াসি ফিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ২৮)
حتى اجتمع عليه الناس فوقفوا له سماطين (أي صفين) وجعلوا يرمونه بالحجارة. ورجموا عراقيبه حتى اختضب نعلاه بالدماء، وكان زيد بن حارثة يقيه بنفسه حتى أصابه شجاج في رأسه .. وكان هذا في شوال سنة عشر من النبوة (1).
عاد رسول الله صلى الله عليه وسلم متجها إلى مكة. فقال له زيد بن حارثة وقد أقام بنخلة أياما: كيف تدخل عليهم وقد أخرجوك؟ (يعني قريشا) قال: يا زيد، إن الله تعالى جاعل لما ترى فرجا ومخرجا. وإن الله ناصر دينه ومظهر نبيه.
وسار صلى الله عليه وسلم حتى إذا دنا من مكة مكث بحراء، وبعث رجلا من خزاعة إلى الأخنس بن شريق ليجيره. فقال: أنا حليف والحليف لا يجير. فبعث إلى سهيل بن عمرو. فقال سهيل: إن بني عامر لا تجير على بني كعب. فبعث إلى المطعم بن عدي: أأدخل في جوارك؟ قال: نعم. ثم تسلح ودعا بنيه وقومه فقال: البسوا السلاح وكونوا عند أركان البيت فإني قد أجرت محمدا. ثم بعث إلي رسول الله صلى الله عليه وسلم أن ادخل فدخل صلى الله عليه وسلم ومعه زيد بن حارثة حتى انتهى إلى المسجد الحرام. فقام المطعم بن عدي على راحلته فنادى: يا معشر قريش إني قد أجرت محمدا فلا يهيجه أحد منكم. وانتهى النبي صلى الله عليه وسلم إلى الركن فاستلمه، وصلى ركعتين وانصرف إلى بيته ومطعم وولده محدقون به بالسلاح حتى دخل بيته.
وقيل: إن أبا جهل سأل مطعما: أمجير أنت أم متابع؟ قال: بل مجير. قال: قد أجرنا من أجرت.
--------------------------------------------
এমনকি লোকজন তাঁর চারপাশে সমবেত হয়ে দুই সারিতে দাঁড়িয়ে গেল এবং তাঁকে পাথর মারতে শুরু করল। তারা তাঁর পায়ের গোড়ালিতে পাথরাঘাত করল, যার ফলে তাঁর জুতা জোড়া রক্তে রঞ্জিত হয়ে গেল। যায়েদ ইবনে হারিসাহ (রা.) নিজের শরীর দিয়ে তাঁকে রক্ষা করছিলেন, যার ফলে তাঁর মাথায় ক্ষত (شجاج) সৃষ্টি হলো... আর এটি ছিল নবুওয়াতের দশম বর্ষের শাওয়াল মাসের ঘটনা (১)।
আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মক্কার অভিমুখে ফিরে চললেন। তিনি যখন ‘নাখলাহ’ নামক স্থানে কয়েক দিন অবস্থান করলেন, তখন যায়েদ ইবনে হারিসাহ (রা.) তাঁকে বললেন: “আপনি তাদের কাছে কীভাবে প্রবেশ করবেন অথচ তারা আপনাকে বের করে দিয়েছে?” (অর্থাৎ কুরাইশরা)। তিনি বললেন: “হে যায়েদ, তুমি যা দেখছ, নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা তার জন্য কোনো প্রশস্ততা ও মুক্তির (فرجا ومخرجا) পথ বের করে দেবেন। আর নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর দ্বীনকে সাহায্য করবেন এবং তাঁর নবীকে বিজয়ী করবেন।”
তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) অগ্রসর হতে থাকলেন এবং যখন মক্কার নিকটবর্তী হলেন, তখন হেরা গুহায় অবস্থান নিলেন। তিনি খুযাআ গোত্রের এক ব্যক্তিকে আখনিস ইবনে শুরাইকের নিকট পাঠালেন যাতে সে তাঁকে আশ্রয় প্রদান করে। সে বলল: “আমি একজন মিত্র (حليف), আর মিত্র কখনও (মূল গোত্রের ওপর) আশ্রয় প্রদান করে না।” এরপর তিনি সুহাইল ইবনে আমরের নিকট লোক পাঠালেন। সুহাইল বলল: “নিশ্চয়ই বনু আমির গোত্র বনু কাআব গোত্রের বিপক্ষে কাউকে আশ্রয় প্রদান করে না।” অতঃপর তিনি মুতইম ইবনে আদির নিকট সংবাদ পাঠালেন: “আমি কি তোমার আশ্রয়ে প্রবেশ করতে পারি?” সে বলল: “হ্যাঁ।” অতঃপর সে অস্ত্র সজ্জিত হলো এবং তার সন্তানদের ও নিজ কওমকে ডেকে বলল: “ তোমরা অস্ত্র ধারণ করো এবং বায়তুল্লাহর রুকনসমূহের (কোণসমূহের) নিকট অবস্থান নাও; কারণ আমি মুহাম্মদকে আশ্রয় দিয়েছি।” এরপর সে আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট সংবাদ পাঠাল যে, তিনি যেন প্রবেশ করেন। অতঃপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রবেশ করলেন এবং তাঁর সাথে যায়েদ ইবনে হারিসাহ (রা.) ছিলেন, এমনকি তিনি মসজিদে হারামে পৌঁছালেন। অতঃপর মুতইম ইবনে আদি তার সওয়ারির ওপর দাঁড়িয়ে ঘোষণা করল: “হে কুরাইশ সম্প্রদায়, আমি মুহাম্মদকে আশ্রয় দিয়েছি, সুতরাং তোমাদের কেউ যেন তাঁকে উত্ত্যক্ত না করে।” নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রুকন পর্যন্ত পৌঁছে তা স্পর্শ করলেন এবং দুই রাকাত সালাত আদায় করে নিজের ঘরের দিকে ফিরে গেলেন। মুতইম ও তার সন্তানরা অস্ত্রসহ তাঁকে চারপাশ থেকে পরিবেষ্টন করে রেখেছিল যতক্ষণ না তিনি নিজ গৃহে প্রবেশ করলেন।
বর্ণিত আছে যে, আবু জাহল মুতইমকে জিজ্ঞাসা করেছিল: “তুমি কি আশ্রয়দাতা নাকি অনুসারী (متابع)?” সে বলল: “বরং আশ্রয়দাতা।” আবু জাহল বলল: “তুমি যাকে আশ্রয় দিয়েছ, আমরাও তাকে আশ্রয় দিলাম।”
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাহালুফুস সিয়াসি ফিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ২৯)
ولنستعرض هؤلاء الثلاثة الذين استجارهم الرسول صلى الله عليه وسلم.
ـ[أولهم]ـ: الأخنس بن شريق زعيم بني زهرة. وهؤلاء أخوال الرسول صلى الله عليه وسلم. والأخنس حليف بني هاشم. ولا بد لمن يجير أن يكون أصلا لا تابعا حسب قوانين الإجارة المكية.
وـ[ثانيهم]ـ: سهيل بن عمرو، وقد رفض الإجارة لأن بني عامر لا تجير على بني كعب، فلعلها أدنى منها نسبا. فكان لا بد من العودة إلي بني عبد مناف، فكان اللجوء إلى ثالثهم المطعم. والمطعم ممن قام بنقض الصحيفة، وممن تحسن موقفه بعد تقريع أبي طالب له، وهو زعيم بني نوفل بن عبد مناف. وإنه وإن كان جزءا من حلف المطيبين، فهو على مستوى واحد مع بني هاشم وبني عبد شمس وبني هاشم وبني المطلب.
ولم تكن هذه الإجارة مع ذلك بالأمر السهل، فلقد تحسب لها المطعم على أنها قد تجر إلى معركة، فعبأ ولده وقومه، وحضروا بسلاحهم إلى الكعبة، وكانت تظاهرة مسلحة مثيرة، فرضت الرعب في صفوف قريش، واضطرت أبا جهل لقبولها.
وقد حفظ رسول الله صلى الله عليه وسلم هذا الصنيع للمطعم بن عدي، وعرف مدى الخطورة التي عرض نفسه وولده وقومه لها من أجله، فقال عن أسارى بدر السبعين يوم أسرهم: لو كان المطعم بن عدي حيا ثم كلمني في هؤلاء لتركتهم له.
فرغم العداء الفكري فرسول الله صلى الله عليه وسلم يفرق بين من يعادي هذه العقيدة ويحاربها، ومن يناصرها ويسالمها. إنهم وإن كانوا كفارا فليس من سمة النبوة أن تتنكر للجميل.
على أن هذا الحلف كان ضعيفا. لم تكن مهمته تحمل المسؤوليات الناجمة
আসুন আমরা সেই তিন ব্যক্তির অবস্থা পর্যালোচনা করি যাদের কাছে রাসূলুল্লাহ (সা.) আশ্রয় চেয়েছিলেন।
ـ[তাদের প্রথমজন]ـ: বনু জুহরার নেতা আখনেস বিন শারিক। তারা ছিলেন রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর মামার বংশের লোক। আর আখনেস ছিলেন বনু হাশিমের মিত্র। মক্কার তৎকালীন রাজনৈতিক আশ্রয়দান আইনের নিয়ম অনুযায়ী, আশ্রয়দাতাকে অবশ্যই কোনো গোত্রের মূল বংশোদ্ভূত হতে হতো, কোনো অনুসারী বা মিত্র হলে চলত না।
এবং ـ[তাদের দ্বিতীয়জন]ـ: সুহায়েল বিন আমর। তিনি আশ্রয় দিতে অস্বীকার করেন, কারণ বনু আমের গোত্র বনু কাব গোত্রের বিপক্ষে কাউকে আশ্রয় দেয় না; সম্ভবত বংশগত মর্যাদায় তারা তাদের চেয়ে নিচের স্তরের ছিল। ফলে বনু আবদে মানাফ গোত্রের কাছে ফিরে যাওয়া ছাড়া কোনো উপায় ছিল না। তাই আশ্রয় চাওয়া হলো তাদের তৃতীয় ব্যক্তি আল-মুতয়িম (বিন আদি)-এর কাছে। মুতয়িম ছিলেন সেই ব্যক্তিদের একজন যারা (বয়কট সংক্রান্ত) চুক্তিপত্রটি বাতিলের জন্য কাজ করেছিলেন এবং আবু তালিবের তিরস্কারের পর যার অবস্থান ইতিবাচক হয়েছিল। তিনি ছিলেন বনু নওফাল বিন আবদে মানাফের নেতা। যদিও তিনি হিলফুল মুতাইয়্যাবীন (সুগন্ধি ব্যবহারকারীদের মৈত্রী)-এর অংশ ছিলেন, তবুও তিনি বনু হাশিম, বনু আবদে শামস এবং বনু মুত্তালিবের সাথে সমান মর্যাদার অধিকারী ছিলেন।
তবুও এই আশ্রয়দানের বিষয়টি সহজ ছিল না। মুতয়িম আশঙ্কা করেছিলেন যে, এর ফলে যুদ্ধ বেঁধে যেতে পারে। তাই তিনি তার সন্তান ও কওমকে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত করলেন এবং তারা অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে কাবার সামনে উপস্থিত হলেন। এটি ছিল এক চাঞ্চল্যকর সশস্ত্র মহড়া, যা কুরাইশদের মনে ভীতি ছড়িয়ে দেয় এবং আবু জাহেলকে এই আশ্রয় মেনে নিতে বাধ্য করে।
রাসূলুল্লাহ (সা.) মুতয়িম বিন আদির এই অনুগ্রহ আজীবন মনে রেখেছিলেন এবং নিজের জন্য মুতয়িম তার জীবন, সন্তান ও কওমকে যে ঝুঁকির মুখে ফেলেছিলেন তার গুরুত্ব উপলব্ধি করেছিলেন। তাই বদরের সত্তরজন যুদ্ধবন্দী সম্পর্কে তিনি বলেছিলেন: "যদি মুতয়িম বিন আদি বেঁচে থাকতেন এবং এদের ব্যাপারে আমার কাছে সুপারিশ করতেন, তবে আমি তার খাতিরে এদের সবাইকে মুক্তি দিয়ে দিতাম।"
আদর্শিক শত্রুতা থাকা সত্ত্বেও রাসূলুল্লাহ (সা.) সেই ব্যক্তির মধ্যে পার্থক্য করতেন যে এই আকিদার (বিশ্বাস) বিরোধিতা ও যুদ্ধ করে, এবং সেই ব্যক্তির মধ্যে যে একে সমর্থন করে ও শান্তিতে থাকতে দেয়। তারা কাফির হওয়া সত্ত্বেও কারো অনুগ্রহকে অস্বীকার করা নবুওয়াতের বৈশিষ্ট্য নয়।
তবে এই মৈত্রী ছিল দুর্বল। উদ্ভূত দায়িত্বভার বহনের সক্ষমতা এর ছিল না।
(খণ্ড: ১)
আত-তাহালুফুস সিয়াসি ফিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ৩০)
عن الدعوة لهذا الدين. إينما كان حماية مؤقتة. والمطعم بن عدي وقومه عاجزون عن تأمين الحماية التامة. والذي طلبه النبي صلى الله عليه وسلم هو بالنص دخوله في جواره، لا ضمان حرية الدعوة له. أي حماية شخصه أكثر من حماية حرية الدعوة له.
من أجل هذا تابع النبي صلى الله عليه وسلم بحثه عن مكان آمن للدعوة، وقبيلة ذات شكيمة قادرة على حمايته ليبلغ رسالة ربه. وكانت الفرصة موتية، فلقد أهل موسم العام العاشر للبعثة، وأزف شهر ذي الحجة، وابتدأت مرحلة التوجه إلى قبائل أخرى غير قريش وثقيف، تكون قادرة على حماية الرسول صلى الله عليه وسلم حتى يبلغ رسالة الله.
د - صور من الأحلاف لم تنجحكان رسول الله صلى الله عليه وسلم منذ أن جهر بالدعوة بعد ثلاث سنين من البعثة يرتاد الموسم وأسواق العرب، ويدعو الناس للإيمان بالله. ((قولوا لا إله إلا الله تفلحوا)) ويدعوهم إلى نبذ الأصنام والأوثان أما في موسم العام العاشر فقد اختلفت الصيغة.
يقول المقريزي في (إمتاع الأسماع): ((ثم عرض صلى الله عليه وسلم نفسه على القبائل أيام الموسم، ودعاهم إلى الإسلام، وهم بنو عامر، وغسان، وبنو فزارة، وبنو مرة، وبنو حنيفة، وبنو سليم، وبنو عبس، وبنو نصر، وثعلبة بن عكابة، وكندة، وكلب، وبنو الحارث بن كعب، وبنو عذرة، وقيس بن الخطيم، وأبو اليسر أنس بن أبي رافع)) وقد اقتص الواقدي أخبار هذه القبائل قبيلة قبيلة. ويقال إنه صلى الله عليه وسلم بدأ بكندة فدعاهم إلى
এই দ্বীনের দাওয়াতের ক্ষেত্রে। বরং এটি ছিল কেবল একটি সাময়িক সুরক্ষা। মুতইম ইবনে আদি এবং তার গোত্র পূর্ণাঙ্গ সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সক্ষম ছিল না। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা চেয়েছিলেন তা ছিল সুস্পষ্ট ভাষ্য অনুযায়ী (نص) তাঁর আশ্রয়ে প্রবেশ করা, তাঁর দাওয়াতের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা নয়। অর্থাৎ, দাওয়াতের স্বাধীনতার চেয়ে তাঁর ব্যক্তিগত সুরক্ষাই ছিল এখানে বেশি প্রাধান্যপ্রাপ্ত।
এই কারণে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাওয়াতের জন্য একটি নিরাপদ স্থান এবং তাঁর রবের বাণী পৌঁছে দেওয়ার জন্য তাঁকে সুরক্ষা দিতে সক্ষম কোনো শক্তিশালী গোত্রের অনুসন্ধান অব্যাহত রাখেন। সুযোগটিও ছিল অনুকূল, কারণ নবুওয়াতের দশম বর্ষের হজের মৌসুম সমাগত হলো এবং জিলহজ মাস ঘনিয়ে এলো। তখন কুরাইশ ও সাকিফ ছাড়া অন্য গোত্রগুলোর নিকট যাওয়ার পর্যায় শুরু হলো, যারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সুরক্ষা দিতে সক্ষম হবে যাতে তিনি আল্লাহর বাণী পৌঁছে দিতে পারেন।
ঘ - ব্যর্থ হওয়া কিছু মৈত্রীর চিত্ররাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নবুওয়াতের তিন বছর পর যখন থেকে প্রকাশ্যে দাওয়াত শুরু করেন, তখন থেকেই তিনি হজের মৌসুম ও আরবের বাজারগুলোতে যাতায়াত করতেন এবং মানুষকে আল্লাহর প্রতি ঈমান আনার আহ্বান জানাতেন। (তিনি বলতেন: "তোমরা বলো 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ', তবেই তোমরা সফল হবে") এবং তিনি তাদেরকে মূর্তিপূজা বর্জনের আহ্বান জানাতেন। তবে নবুওয়াতের দশম বর্ষের হজের মৌসুমে এই দাওয়াতের পদ্ধতিতে (صيغة) ভিন্নতা দেখা দেয়।
আল-মাকরিজি ইমতাউল আসমা গ্রন্থে বলেন: "অতঃপর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হজের দিনগুলোতে বিভিন্ন গোত্রের নিকট নিজেকে পেশ করলেন এবং তাদেরকে ইসলামের দাওয়াত দিলেন। তারা হলো: বনু আমির, গাসসান, বনু ফাজারা, বনু মুররা, বনু হানিফা, বনু সুলাইম, বনু আবস, বনু নাসর, সালাবা ইবনে উকাবা, কিনদাহ, কালব, বনু হারিস ইবনে কাব, বনু উজরাহ, কায়েস ইবনে খাতিম এবং আবুল ইয়াসার আনাস ইবনে আবি রাফে।" আল-ওয়াকিদি এই গোত্রগুলোর সংবাদ একে একে বর্ণনা করেছেন। বর্ণিত আছে যে, সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিনদাহ গোত্র দিয়ে শুরু করেছিলেন এবং তাদেরকে দাওয়াত দিয়েছিলেন...