(খণ্ড: ১) ফাওয়ায়িদু ইবনু আখি মীমি আদ-দাক্কাক (পৃষ্ঠা: -)
فوائد ابن أخي ميمي الدقاق   (ابن أخي ميمي)

القسم: كتب السنة


الكتاب: فوائد ابن أخي ميمي الدقاق

المؤلف: أَبُو الحُسَيْنِ مُحَمَّدُ بنُ عَبْدِ اللهِ بنِ الحُسَيْنِ بنِ عَبْدِ اللهِ بنِ هَارُوْنَ البَغْدَادِيُّ الدَّقَّاقُ المعروف بِابْنِ أَخِي مِيْمِي (ت 390هـ)

تحقيق: نبيل سعد الدين جرار

الناشر: دار أضواء السلف، الرياض [ضمن سلسلة مجاميع الأجزاء الحديثية (5)]

الطبعة: الأولى، 1426 هـ - 2005 م

عدد الصفحات: 284

أعده للشاملة: يا باغي الخير أقبل

مصدر الكتاب/ ملفات مصححة من المحقق

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 2 ربيع الأول 1433

ফাওয়াইদ ইবনে আখি মিমি আদ-দাক্কাক   (ইবনে আখি মিমি)

বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ


কিতাব: ফাওয়াইদ ইবনে আখি মিমি আদ-দাক্কাক

লেখক: আবুল হুসাইন মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আল-হুসাইন বিন আব্দুল্লাহ বিন হারুন আল-বাগদাদি আদ-দাক্কাক, যিনি ইবনে আখি মিমি নামে পরিচিত (মৃত্যু ৩৯০ হিজরি)

তাহকিক: নাবিল সাদ উদ্দিন জাররার

প্রকাশক: দার আদওয়াউস সালাফ، রিয়াদ [হাদিস বিষয়ক সংকলন সিরিজের অন্তর্ভুক্ত (৫)]

সংস্করণ: প্রথম، ১৪২৬ হিজরি - ২০০৫ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৮৪

শামেলার জন্য প্রস্তুত করেছেন: হে কল্যাণের অন্বেষী, এগিয়ে আসো

কিতাবের উৎস/ মুহাক্কিক কর্তৃক সংশোধিত পাণ্ডুলিপি

[কিতাবের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রিত কপির সাথে সংগতিপূর্ণ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৩

(খণ্ড: ১) ফাওয়ায়িদু ইবনু আখি মীমি আদ-দাক্কাক (পৃষ্ঠা: -)
مجاميع الأجزاء الحديثية (5)

 

مجموع فيه

فوائد ابن أخي ميمي الدقاق

محمد بن عبد الله بن الحسين أبو الحسين البغدادي

(390 هـ)

 

تحقيق

نبيل سعد الدين جرار

 

أضواء السلف

 

الطبعة الأولى

1426 هـ - 2005 م
হাদীস শাস্ত্রীয় ক্ষুদ্র গ্রন্থাবলির সংকলন (৫)

 

একটি সংকলন, যাতে রয়েছে:

ইবন আখি মিমি আদ-দাক্কাকের ফাওয়াইদ (উপকারিতাসমূহ)

মুহাম্মদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন আল-হুসাইন আবু আল-হুসাইন আল-বাগদাদী

(৩৯০ হিজরি)

 

তাহকিক ও সম্পাদনা

নাবিল সাদ আদ-দীন জাররার

 

আদওয়াউস সালাফ

 

প্রথম সংস্করণ

১৪২৬ হিজরি - ২০০৫ খ্রিস্টাব্দ
(খণ্ড: ১) ফাওয়ায়িদু ইবনু আখি মীমি আদ-দাক্কাক (পৃষ্ঠা: ٥)
‌‌المقدمة

إنَّ الحمدَ للهِ نحمدُه ونستعينُه ونستغفرُه، ونعوذُ باللهِ من شُرورِ أنفسِنا، ومن سيئاتِ أعمالِنا، من يهدِهِ اللهُ فلا مضلَّ له، ومن يُضللْ فلا هاديَ له. وأشهدُ أن لا إلهَ إلا اللهُ وحدَه لا شريكَ له. وأشهدُ أن محمداً عبدُه ورسولُه.

وبعدُ، فهذا هو المجموعُ الخامسُ الذي يُوفقني اللهُ لإخراجِهِ ضمنَ سلسلةِ مجاميعِ الأجزاءِ الحديثيةِ، وهو يتضمنُ تحقيقَ فوائدِ ابنِ أخي ميمي الدقاقِ.

وبدأتُ بترجمةِ ابنِ أخي ميمي الدقاقِ، ثم تراجم مختصرة لشيوخِهِ في هذا المجموعِ، ثم تكلمتُ عن فوائدِهِ والأصولِ الخطيةِ التي اعتمدتُها في التحقيقِ، ثم النصوصُ المحقَّقةُ. وختمتُ الكتابَ بالفهارسِ العلمية معتمداً على الرقمِ العام لأَحاديثِ المجموعِ كلِّه.

ومَنهجي في هذا المجموعِ كسوابقِه مِن حيثُ الاهتمامُ بضبطِ النص، وموافقةِ المطبوعِ للمخطوطِ، وتصحيحِ التحريفاتِ والتصحيفاتِ قدر الإمكان. والاكتفاءُ في التخريجِ بالعزوِ للصحيحينِ أو أحدِهما إِن وجدَ، فإن لم يكنْ فكتبُ الحديثِ المتداولةُ المشهورةُ متجنباً الإطالةَ وحشدَ المصادرِ.

واللهَ أسألُ أن يجعلَ هذا العملَ خالصاً لوجهِهِ الكريمِ، وأن يُوفقَني لإخراجِ أعمالٍ أُخرى خدمةً لسنةِ نبيِّه المصطفى صلى الله عليه وسلم، واللهُ وليُّ التوفيقِ.

وكتب

نبيل سعد الدين جرار

الأردن - عمان
ভূমিকা

নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য; আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা চাই। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ হতে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে পথ প্রদর্শন করেন, তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই; আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন, তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরীক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল।

অতঃপর, এটি হলো পঞ্চম সংকলন যা আল্লাহ তাআলা আমাকে হাদীসের বিভিন্ন সংকলন সিরিজের অধীনে প্রকাশের তাওফীক দান করেছেন। এটি ইবনে আখি মিমি আদ-দাক্কাকের ‘ফাওয়াইদ’-এর তাহকীক বা গবেষণামূলক সম্পাদনা সংবলিত।

আমি ইবনে আখি মিমি আদ-দাক্কাকের জীবনী দিয়ে শুরু করেছি, এরপর এই সংকলনে উল্লিখিত তাঁর উস্তাদগণের সংক্ষিপ্ত জীবনী প্রদান করেছি। অতঃপর আমি এর ‘ফাওয়াইদ’ এবং সম্পাদনার ক্ষেত্রে আমি যে মূল পাণ্ডুলিপিগুলোর ওপর নির্ভর করেছি, সেগুলো সম্পর্কে আলোচনা করেছি; এরপর সম্পাদিত মূল পাঠসমূহ উপস্থাপন করেছি। পরিশেষে পুরো সংকলনের হাদীসসমূহের সাধারণ নম্বরের ওপর ভিত্তি করে ইলমি সূচিপত্র প্রদানের মাধ্যমে বইটি সমাপ্ত করেছি।

এই সংকলনে আমার অনুসৃত পদ্ধতি হলো পূর্ববর্তী সংকলনগুলোর মতোই; যেখানে মূল পাঠের বিশুদ্ধতা রক্ষা, পাণ্ডুলিপির সাথে মুদ্রিত পাঠের সামঞ্জস্য বিধান এবং সাধ্যমতো পাঠ্যগত বিকৃতি ও ভুলসমূহ সংশোধনের প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। তাখরীজের ক্ষেত্রে যদি সহীহাইন (বুখারী ও মুসলিম) বা এর যেকোনো একটিতে হাদীসটি পাওয়া যায়, তবে কেবল সেটির উদ্ধৃতি দেওয়ার ওপরই সীমাবদ্ধ থেকেছি। আর সেখানে না পাওয়া গেলে অন্যান্য প্রসিদ্ধ ও প্রচলিত হাদীস গ্রন্থসমূহের উদ্ধৃতি প্রদান করেছি, এক্ষেত্রে অহেতুক দীর্ঘসূত্রিতা ও অসংখ্য উৎসের সমাহার এড়িয়ে চলেছি।

আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি, তিনি যেন এই আমলটিকে একমাত্র তাঁর মহান সন্তুষ্টির জন্য কবুল করেন এবং তাঁর মনোনীত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহর খিদমতে আমাকে আরও কাজ করার তাওফীক দান করেন। আল্লাহই তাওফীক দাতা।

লিখেছেন

নাবীল সা'দ উদ্দীন জাররার

জর্ডান - আম্মান
(খণ্ড: ১) ফাওয়ায়িদু ইবনু আখি মীমি আদ-দাক্কাক (পৃষ্ঠা: ٢٩)
‌‌الجزءُ الأولُ

مِن الفوائدِ المُنتقاةِ الغرائبِ الحِسانِ

عَنِ الشيوخِ العَوالي رضي الله عنهم

روايةُ أبي الحسينِ محمدِ بنِ عبدِاللهِ بنِ الحسينِ الدَّقاقِ المعروفِ بابنِ أَخي مِيمي رحمه الله عَنْ شيوخِهِ

روايةُ الشيخِ الجليلِ أَبِي الحسينِ أحمدَ بنِ محمدِ بنِ النَّقُّورِ البزازِ عنه رحمه الله

روايةُ أبي عبدِاللهِ الحسينِ بنِ عليِّ بنِ أحمدَ بنِ عبدِاللهِ

سبطِ أَبِي منصورٍ الخياطِ المقرئِ عَنْهُ

روايةُ الإمامِ العلامةِ تاجِ الدِّينِ رئيسِ العلماءِ أَبِي اليُمْنِ

زيدِ بنِ الحسنِ بنِ زيدِ بنِ الحسنِ الكنديِّ

نصفَه الأولَ مِن الأصلِ وَهُوَ مُعلمٌ فِي حاشيةِ هَذِهِ النسخةِ

وَأَبِي العباسِ الخضرِ بنِ كاملِ بنِ سالمٍ العابِرِ جميعَه

كِليهما عنه

سماعٌ مِنهما لعبدِالعزيزِ بنِ عبدِالملكِ بنِ تميمِ بنِ مالكٍ الشَّيبانيِّ نفعَه اللهُ به

ولسليمانَ بنِ عبدِالكريمِ بنِ عبدِالرحمنِ الأنصاريِّ
প্রথম খণ্ড

নির্বাচিত দুর্লভ ও চমৎকার উপদেশমালা থেকে

উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন শাইখদের নিকট থেকে (আল্লাহ তাঁদের ওপর সন্তুষ্ট হোন)

তাঁর শাইখদের নিকট থেকে বর্ণিত আবুল হুসাইন মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ বিন আল-হুসাইন আদ-দাক্কাক—যিনি ইবনে আখি মিমি নামে পরিচিত (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন)—এর বর্ণনা

তাঁর নিকট থেকে বর্ণিত মহান শাইখ আবুল হুসাইন আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আন-নাক্কুর আল-বাজ্জাযের (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) বর্ণনা

তাঁর নিকট থেকে বর্ণিত আবু আবদুল্লাহ আল-হুসাইন বিন আলী বিন আহমদ বিন আবদুল্লাহ

আবু মানসুর আল-খাইয়্যাত আল-মুকরির দৌহিত্রের বর্ণনা

ইমাম, প্রাজ্ঞ পণ্ডিত, তাজুদ্দিন, আলেমদের প্রধান আবু আল-ইয়ুমন

যায়েদ বিন আল-হাসান বিন যায়েদ বিন আল-হাসান আল-কিন্দির বর্ণনা

মূল পাণ্ডুলিপির প্রথম অর্ধাংশ, যা এই কপির পার্শ্বটীকায় চিহ্নিত করা হয়েছে

এবং আবুল আব্বাস আল-খিদর বিন কামিল বিন সালিম আল-আবিরের বর্ণনা, যিনি এর সম্পূর্ণটি বর্ণনা করেছেন

তাঁদের উভয়ই তাঁর নিকট থেকে বর্ণনা করেছেন

আবদুল আজিজ বিন আবদুল মালিক বিন তামীম বিন মালিক আশ-শায়বানীর তাঁদের নিকট থেকে শ্রবণ; আল্লাহ তাঁকে এর দ্বারা উপকৃত করুন

এবং সুলাইমান বিন আবদুল কারীম বিন আবদুর রহমান আল-আনসারীর শ্রবণ।
(খণ্ড: ১) ফাওয়ায়িদু ইবনু আখি মীমি আদ-দাক্কাক (পৃষ্ঠা: ٣١)
بسم الله الرحمن الرحيم

وصلَّى اللهُ عَلَى سيِّدنا محمدٍ وآلِهِ وسلَّمَ

أخبرنا الإمامُ أبواليُمْنِ زيدُ بنُ الحسنِ بنِ زيدٍ الكنديُّ إِلَى موضعِ العلامةِ، وأبوالعباسِ الخضرُ بنُ كاملِ بنِ سالمٍ الدلالُ العابرُ بجميعِ الجزءِ قِرَاءَةً عَلَى كلِّ واحدٍ مِنهما وأنا أسمعُ قالا: أخبرنا الشيخُ أبوعبدِاللهِ الحسينُ بنُ عليِّ بنِ أحمدَ بنِ عبدِاللهِ سبطُ الشيخِ السعدِ أَبِي منصورٍ المقرئُ الخياطُ قراءةً عليه ونحنُ نسمعُ ببغدادَ: أخبرنا أبوالحسينِ أحمدُ بنُ محمدِ بنِ أحمدَ بنِ النَّقُّورِ البزازُ قالَ: أخبرنا أبوالحسينِ محمدُ بنُ عبدِاللهِ بنِ الحسينِ بنِ عبدِاللهِ بنِ هارونَ الدَّقاقُ قالَ:

1 - أخبرنا أبوالقاسمِ عبدُاللهِ بنُ محمدِ بنِ عبدِالعزيزِ قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنَا أسمعُ قالَ: حَدَّثَنَا داودُ بنُ رُشيدٍ أبوالفضلِ الخوارزميُّ قالَ: حَدَّثَنَا وكيعُ بنُ الجراحِ، عَنِ الأعمشِ، عَنْ سالمِ بنِ أَبِي الجعدِ، عَنْ جابرِ بنِ عبدِاللهِ رضي الله عنه قالَ:

قالَ رسولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: "تَسمَّوا باسْمي وَلا تَكَنَّوا بكُنيتي، فإنِّي أنا أبوالقاسمِ أَقسمُ بينَكم".
পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

আল্লাহ আমাদের নেতা মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবার-পরিজনের ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন।

ইমাম আবুল ইয়ুমন যায়েদ ইবনুল হাসান ইবনে যায়েদ আল-কিন্দি (চিহ্নিত স্থান পর্যন্ত) এবং আবুল আব্বাস আল-খিদর ইবনে কামিল ইবনে সালিম আদ-দাল্লাল আল-আবির আমাদের খবর দিয়েছেন—আমি শ্রবণরত থাকা অবস্থায় তাঁদের প্রত্যেকের নিকট সম্পূর্ণ অংশটি পাঠ করা হয়। তাঁরা উভয়ে বলেন: শায়খ আবু আবদুল্লাহ আল-হুসাইন ইবনে আলী ইবনে আহমদ ইবনে আবদুল্লাহ (যিনি শায়খ আস-সাদ আবু মানসুর আল-মুকরি আল-খাইয়াতের দৌহিত্র) আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যখন বাগদাদে তাঁর নিকট পাঠ করা হয়েছিল এবং আমরা শ্রবণ করছিলাম: আবুল হুসাইন আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনুন নাক্কুর আল-বাযযায আমাদের খবর দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবুল হুসাইন মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আল-হুসাইন ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে হারুন আদ-দাক্কাক আমাদের খবর দিয়েছেন, তিনি বলেন:

1 - আবুল কাসিম আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবদুল আজিজ আমাদের খবর দিয়েছেন যখন তাঁর নিকট পাঠ করা হচ্ছিল এবং আমি শ্রবণ করছিলাম, তিনি বলেন: দাউদ ইবনে রুশাইদ আবু আল-ফাদল আল-খাওয়ারিজমি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ওয়াকি ইবনুল জাররাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-আমাশ থেকে, তিনি সালিম ইবনে আবিল জাদ থেকে, তিনি জাবির ইবনে আবদুল্লাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন:

আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তোমরা আমার নামে নাম রাখো, তবে আমার উপনামে (কুনিয়ত) উপনাম ধারণ করো না; কেননা আমি হলাম আবুল কাসিম, আমি তোমাদের মাঝে বণ্টন করি।"
(খণ্ড: ১) ফাওয়ায়িদু ইবনু আখি মীমি আদ-দাক্কাক (পৃষ্ঠা: ٣١)
2 - حدثنا محمدٌ: حدَّثنا عبدُاللهِ بنُ محمدٍ قالَ: حَدَّثَنَا داودُ بنُ رُشيدٍ قالَ: ⦗ص: 32⦘ حَدَّثَنَا وكيعٌ، عَنِ الأعمشِ، عَنْ أَبِي سفيانَ، عَنْ جابرٍ قالَ:

جاءَ رجلٌ إِلَى النبيِّ صلى الله عليه وسلم، فقالَ: يا رسولَ اللهِ رأيتُ كأنَّ رأْسي قُطعَ، قالَ: " إِذَا لعبَ الشيطانُ بأحدِكم فِي منامِهِ فَلا يُحدِّثْ به الناسَ".
২ - আমাদের নিকট মুহাম্মদ বর্ণনা করেছেন: আমাদের নিকট আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট দাউদ ইবনে রুশাইদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ⦗পৃষ্ঠা: ৩২⦘ আমাদের নিকট ওয়াকি বর্ণনা করেছেন, আমাশ থেকে, তিনি আবু সুফিয়ান থেকে, তিনি জাবির (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন:

এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এসে বলল: হে আল্লাহর রাসূল! আমি স্বপ্নে দেখেছি যেন আমার মাথা কেটে ফেলা হয়েছে। তিনি বললেন: "যখন শয়তান তোমাদের কারো সাথে তার ঘুমের মধ্যে খেলা করে, তখন সে যেন তা মানুষের কাছে বর্ণনা না করে।"
(খণ্ড: ১) ফাওয়ায়িদু ইবনু আখি মীমি আদ-দাক্কাক (পৃষ্ঠা: ٣٢)
3 - حدثنا عبدُاللهِ قالَ: حَدَّثَنَا داودُ قالَ: حَدَّثَنَا هُشيمٌ قالَ: أخبرنا أبوالزبيرِ، عَنْ جابرٍ قالَ:

بَعَثَنا النبيُّ صلى الله عليه وسلم مَعَ أَبِي عُبيدةَ بنِ الجراحِ/فنفدَ زادُنا، فمَرَرنا بحوتٍ قَدْ قذَفَه البحرُ، فأردْنا أن نأكُلَ مِنه فنَهانا أبوعُبيدةَ، ثُمَّ قالَ: نحنُ جيشُ رسولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم وَفِي سبيلِ اللهِ عز وجل، كُلوا، فأكَلْنا مِنه أَيَّامًا، فلمَّا رجعْنا إلى رسولِ اللهِ أَخبرناهُ، فقالَ: "إنْ كانَ بقيَ مَعكم مِنه شيءٌ فابعَثوا به إِلينا".
৩ - আবদুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: দাউদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হুশায়ম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু আয-যুবায়ের আমাদের জাবির থেকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন:

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের আবু উবাইদাহ ইবনুল জাররাহ-এর সাথে প্রেরণ করলেন। অতঃপর আমাদের পাথেয় শেষ হয়ে গেল। তখন আমরা একটি বৃহৎ মাছের পাশ দিয়ে অতিক্রম করলাম যা সমুদ্র উপকূলে নিক্ষেপ করেছিল। আমরা তা থেকে খেতে চাইলাম কিন্তু আবু উবাইদাহ আমাদের নিষেধ করলেন। অতঃপর তিনি বললেন: আমরা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাহিনী এবং মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর পথে রয়েছি, সুতরাং তোমরা খাও। ফলে আমরা কয়েকদিন তা থেকে আহার করলাম। অতঃপর যখন আমরা আল্লাহর রাসূলের নিকট ফিরে আসলাম এবং তাঁকে বিষয়টি অবহিত করলাম, তখন তিনি বললেন: "যদি তোমাদের কাছে তা থেকে কিছু অবশিষ্ট থাকে, তবে তা আমাদের নিকট পাঠাও।"
(খণ্ড: ১) ফাওয়ায়িদু ইবনু আখি মীমি আদ-দাক্কাক (পৃষ্ঠা: ٣٢)
4 - حدثنا عبدُاللهِ قالَ: حَدَّثَنَا داودُ قالَ: حَدَّثَنَا هشيمٌ، عَنْ أَبِي بشرٍ، عَنْ أَبِي سفيانَ، عَنْ جابرٍ،

أنَّ وفدَ ثَقيفٍ سأَلوا النبيَّ صلى الله عليه وسلم فَقالوا: إنَّ أرضَنا أرضٌ باردةٌ، فكيفَ بالغُسلِ؟ فقالَ: "أمَّا أَنا فأَحفِنُ عَلَى رأْسي - أَوْ أَحثي عَلَى رأْسي- ثَلاثًا".
৪ - আবদুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: দাউদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হুশায়ম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু বিশর থেকে, তিনি আবু সুফিয়ান থেকে, তিনি জাবির (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে,

সাকীফ গোত্রের প্রতিনিধি দল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করে বললেন: "আমাদের এলাকা অত্যন্ত শীতল এলাকা, এমতাবস্থায় গোসলের পদ্ধতি কী হবে?" তিনি বললেন: "আমি তো আমার মাথার ওপর তিনবার অঞ্জলি ভরে পানি ঢালি - অথবা (বলেছেন) তিনবার পানি ছিটিয়ে দিই।"
(খণ্ড: ১) ফাওয়ায়িদু ইবনু আখি মীমি আদ-দাক্কাক (পৃষ্ঠা: ٣٢)
5 - حدثنا عبدُاللهِ قالَ: حَدَّثَنَا داودُ قالَ: حَدَّثَنَا هشيمٌ: أَخْبَرَنَا حصينٌ، عَنْ ⦗ص: 33⦘ سالمِ بنِ أَبِي الجعدِ، عَنْ جابرٍ قالَ:

بينَما النبيُّ صلى الله عليه وسلم قائمًا يومَ الجمعةِ إِذْ قدمتْ عيرٌ إِلَى المدينةِ، فابتدَرَها أصحابُ رَسولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم حَتى لَمْ يَبقَ مَعه مِنهم إلا اثنا عشرَ رجلاً، مِنهم أبوبكرٍ وعمرُ رضي الله عنهما، قالَ: فنزلتْ هَذِه الآيةُ: {وَتَرَكُوكَ قائماً} [الجمعة: 11].
৫ - আব্দুল্লাহ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: দাউদ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: হুশাইম আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন: হুসাইন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ⦗পৃষ্ঠা: ৩৩⦘ সালিম ইবনে আবুল জাদ থেকে, তিনি জাবির (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন:

একদা জুমার দিন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় একটি বাণিজ্য কাফেলা মদীনায় আসল। তখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাহাবীগণ সেদিকে দ্রুত চলে গেলেন, এমনকি তাদের মধ্য থেকে মাত্র বারোজন ব্যক্তি ছাড়া আর কেউ তাঁর সাথে অবশিষ্ট রইলেন না, যাদের মধ্যে আবু বকর ও উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) ছিলেন। বর্ণনাকারী বলেন: তখন এই আয়াতটি নাযিল হলো: {এবং তারা আপনাকে দণ্ডায়মান অবস্থায় ফেলে রেখে গেল} [জুমুআ: ১১]।
(খণ্ড: ১) ফাওয়ায়িদু ইবনু আখি মীমি আদ-দাক্কাক (পৃষ্ঠা: ٣٣)
6 - حدثنا عبدُاللهِ قالَ: حَدَّثَنَا داودُ قالَ: حَدَّثَنَا سويدُ بنُ عبدِالعزيزِ قالَ: حدثنا سعيدٌ الجريريُّ، عن عبدِاللهِ بنِ شقيقٍ، عَنْ جابرٍ قالَ:

خرجتُ مَعَ رسولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم في سفرٍ وكنتُ عَلَى بعيرٍ فاعتَلَّ عليَّ، فكانَ رسولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم ربَّما تأخَّرَ فِي أُخْرَيَاتِ القومِ، قالَ: فبصَرَ رسولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم بسَوادِهِ فقالَ: "أَتبيعُني / بَعيرَكَ هَذَا ولكَ ظهرُهُ إِلَى رَجعَتِنا إِلَى المدينةِ؟ " فبِعتُهُ إيَّاهُ بعشرينَ دِينَارًا، قالَ: فلمَّا قدمْنا إِلَى المدينةِ أتيتُهُ بِهِ، فسلَّمَه إليَّ وأَعطاني العشرينَ ديناراً.
৬ - আব্দুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: দাউদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সুওয়াইদ ইবন আব্দুল আযীয আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সাঈদ আল-জুরায়রী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আব্দুল্লাহ ইবন শাকীক থেকে, জাবির (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন:

আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে এক সফরে বের হয়েছিলাম এবং আমি একটি উটের পিঠে ছিলাম যা অসুস্থ হয়ে পড়েছিল। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাঝেমধ্যে কাফেলার পেছনের দিকে আসতেন। তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেটির কালো অবয়ব দেখতে পেলেন এবং বললেন: "তুমি কি তোমার এই উটটি আমার কাছে বিক্রি করবে এবং মদীনায় ফিরে আসা পর্যন্ত এর পিঠ (আরোহণ) তোমার জন্যই থাকবে?" তখন আমি বিশ দীনারের বিনিময়ে সেটি তাঁর কাছে বিক্রি করলাম। তিনি বলেন: যখন আমরা মদীনায় পৌঁছলাম, আমি এটি নিয়ে তাঁর নিকট আসলাম, তখন তিনি সেটি আমাকে ফেরত দিলেন এবং আমাকে বিশ দীনারও প্রদান করলেন।
(খণ্ড: ১) ফাওয়ায়িদু ইবনু আখি মীমি আদ-দাক্কাক (পৃষ্ঠা: ٣٣)
7 - حدثنا عبدُاللهِ بنُ محمدِ بنِ عبدِالعزيزِ قالَ: حَدَّثَنَا داودُ بنُ رُشيدٍ قالَ: حَدَّثَنَا سويدٌ قالَ: حَدَّثَنَا سعيدٌ الجريريُّ، عَنْ أَبِي نَضرةَ، عَنْ جابرٍ قالَ:

قالَ رسولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: "أيُّها الناسُ، مَن ظَلمَ مِنكم مَظلمةً فِي الدُّنيا لَمْ يُرضِ ⦗ص: 34⦘ صاحِبَها مِنها، اقتَصَّ اللهُ مِنه يومَ القيامةِ".
৭ - আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবদুল আজিজ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: দাউদ ইবনে রুশাইদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সুওয়াইদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সাঈদ আল-জারীরী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু নাদারা থেকে, তিনি জাবির থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন:

আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "হে লোকসকল, তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি দুনিয়াতে কোনো যুলুম করেছে এবং সে জন্য ⦗পৃষ্ঠা: ৩৪⦘ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে সন্তুষ্ট করেনি, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তার নিকট থেকে এর প্রতিশোধ গ্রহণ করবেন।"
(খণ্ড: ১) ফাওয়ায়িদু ইবনু আখি মীমি আদ-দাক্কাক (পৃষ্ঠা: ٣٤)
8 - حدثنا عبدُاللهِ بنُ محمدٍ قالَ: حَدَّثَنَا داودُ بنُ رُشيدٍ: حَدَّثَنَا هشيمٌ: أَخْبَرَنَا الحجاجُ بنُ أَرطاةَ، عَنْ عطاءٍ، عَنْ جابرٍ قالَ:

قالَ رسولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: "مَن كانتْ لَهُ أرضٌ فلْيَزْرعْها، فإنْ عجزَ عَنْهَا فلْيَمنَحْها أَخاهُ".
৮ - আমাদের নিকট আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট দাউদ ইবনে রুশাইদ বর্ণনা করেছেন: আমাদের নিকট হুশাইম বর্ণনা করেছেন: হাজ্জাজ ইবনে আরতাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আতা থেকে বর্ণিত, জাবির (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন:

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যার নিকট কোনো জমি আছে, সে যেন তা চাষ করে। আর যদি সে তাতে অক্ষম হয়, তবে সে যেন তা তার ভাইকে দান করে।"
(খণ্ড: ১) ফাওয়ায়িদু ইবনু আখি মীমি আদ-দাক্কাক (পৃষ্ঠা: ٣٤)
9 - حدثنا عبدُاللهِ بنُ محمدٍ قالَ: حَدَّثَنَا داودُ قالَ: حَدَّثَنَا يحيى أبوزَكريا، عَنْ مُوسَى بنِ عُقبةَ، عَنْ أَبِي الزبيرِ، وَعَنْ جعفرِ بنِ محمدٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جابرٍ قالَ:

بينَما رسولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم جالسٌ فِي ملإٍ مِن أصحابِهِ، إذ دخلَ أبوبكرٍ وعمرُ رضي الله عنهما مِن بعضِ أبوابِ المسجدِ مَعهما فِئامٌ مِن الناسِ يَتمارَونَ، وَقَدِ ارتفعتْ أصواتُهم يرُدُّ بعضُهم عَلَى بعضٍ، حَتَّى انتَهوا إِلَى النبيِّ صلى الله عليه وسلم، فقالَ لَهُمْ: "مَا الَّذِي كُنتم فِيهِ تَمارَونَ قَدِ ارتفعتْ فِيهِ أَصواتُكم / وكثُرَ لَغَطُكم؟ " فقالَ بعضُهم: يَا رسولَ اللهِ، شيءٌ تكلَّمَ فِيهِ أبوبكرٍ وعمرُ رضي الله عنهما، فاختَلَفا، فاختَلفْنا لاختلافِهما، قالَ: "وَمَا ذاكَ؟ " قَالُوا: فِي القَدَرِ، قالَ أبوبكرٍ رضي الله عنه: يُقدِّرُ اللهُ عز وجل الخيرَ وَلا يُقدِّرُ الشرَّ، وقالَ عمرُ رضي الله عنه: بَلَى يُقدِّرُهما جَمِيعًا، فكُنا فِي ذَلكَ نَتَمارى حَتَّى ذكرَ كَلِمَةً، فقالَ بعضُنا مَقالةَ أَبِي بكرٍ، وقالَ بعضُنا مَقالةَ عمرَ رضي الله عنهما.

فقالَ رسولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: "أَلا أَقضي بينَكما فِيهِ بقضاءِ إسرافيلَ بينَ جبريلَ وميكائيلَ عليهم السلام؟ " فقالَ بعضُ القومِ: وَقَدْ تكلَّمَ فِيهِ جبريلُ وميكائيلُ! ⦗ص: 35⦘ فقالَ: "وَالذي بَعَثَني بالحقِّ إنَّهما لأولُ الخلائِقِ تكلَّما فِيهِ، فقالَ جبريلُ مَقالةَ عمرَ، وقالَ ميكائيلُ مَقالةَ أَبِي بكرٍ رضي الله عنهما، فقالَ جبريلُ: إنَّا إِن اختلَفْنا اختلَفَ أهلُ السماواتِ، فَهَلْ لكَ فِي قاضٍ بَيني وبينَكَ؟ فتَحاكما إِلَى إسرافيلَ، فقَضى بينَهما قَضَاءً هُوَ قَضائي بينَكما"، فَقَالوا: يَا رسولَ اللهِ مَا كانَ مِن قضائِهِ؟ قالَ: "أَوجَبَ القدرَ خيرَهُ وشرَّهُ، ضرَّهُ ونفعَهُ، حُلوَهُ ومُرَّهُ، فَهَذَا قَضائي بينَكما".

قالَ: ثُمَّ ضربَ عَلَى كتفِ أَبِي بكرٍ رضي الله عنه أَوْ فخذِهِ، وكانَ إِلَى جنبِهِ صلى الله عليه وسلم فقالَ: "يَا أَبَا بكرٍ، إنَّ اللهَ عز وجل لَوْ لَمْ يَشَأْ أَن يُعصى مَا خلقَ إبليسَ"، / فقالَ أبوبكرٍ رضي الله عنه: أستغفرُ اللهَ، كانتْ مِني يَا رسولَ اللهِ زِلةٌ أَوْ هفوةٌ، لا أعودُ لشيءٍ مِن هَذَا المنطقِ أَبَدًا. قالَ: فَمَا عادَ حَتَّى لَقِيَ اللهَ عز وجل.
৯ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন দাউদ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া আবু যাকারিয়া, মুসা ইবনে উকবা থেকে, তিনি আবু জুবায়ের থেকে এবং তিনি জাফর ইবনে মুহাম্মদ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি জাবির (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন:

একদা আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর একদল সাহাবীর মাঝে বসা ছিলেন, এমতাবস্থায় আবু বকর ও উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) মসজিদের কোনো এক দরজা দিয়ে প্রবেশ করলেন। তাঁদের সাথে একদল লোক ছিল যারা বিতর্ক করছিল। তাদের কণ্ঠস্বর উচ্চ হয়ে গিয়েছিল এবং তারা একে অপরের কথার প্রতিবাদ করছিল। শেষ পর্যন্ত তারা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট পৌঁছালেন। তিনি তাঁদের বললেন: "তোমরা কী বিষয়ে বিতর্ক করছিলে যে কারণে তোমাদের কণ্ঠস্বর উচ্চ হয়েছিল / এবং তোমাদের শোরগোল বৃদ্ধি পেয়েছিল?" তাদের কেউ কেউ বলল: হে আল্লাহর রাসুল, এটি এমন একটি বিষয় যা নিয়ে আবু বকর ও উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) কথা বলেছেন। ফলে তাঁরা মতবিরোধ করেছেন এবং তাঁদের মতবিরোধের কারণে আমরাও মতবিরোধে জড়িয়েছি। তিনি বললেন: "তা কী?" তারা বলল: তকদির (ভাগ্য) প্রসঙ্গে। আবু বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বললেন: আল্লাহ তায়ালা কেবল কল্যাণ নির্ধারণ করেন, তিনি অকল্যাণ নির্ধারণ করেন না। আর উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বললেন: বরং তিনি উভয়ই নির্ধারণ করেন। আমরা এই বিষয়েই বিতর্ক করছিলাম—এমনকি তিনি একটি কথা উল্লেখ করলেন—অতঃপর আমাদের কেউ আবু বকরের মতের অনুরূপ বলছিল এবং কেউ উমরের (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) মতের অনুরূপ বলছিল।

তখন আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: "আমি কি তোমাদের মাঝে সেই ফয়সালা করব না, যা জিবরাঈল ও মিকাইল (আলাইহিমুস সালাম)-এর মাঝে ইসরাফিল (আলাইহিস সালাম) করেছিলেন?" লোকজনের মধ্যে কেউ কেউ বলল: জিবরাঈল ও মিকাইলও কি এই বিষয়ে কথা বলেছেন! ⦗পৃষ্ঠা: ৩৫⦘ তিনি বললেন: "যিনি আমাকে সত্যসহ প্রেরণ করেছেন তাঁর শপথ! নিশ্চয়ই তাঁরা সৃষ্টির মধ্যে প্রথম যারা এই বিষয়ে কথা বলেছেন। জিবরাঈল উমরের মতের অনুরূপ বলেছিলেন এবং মিকাইল আবু বকরের (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) মতের অনুরূপ বলেছিলেন। তখন জিবরাঈল বললেন: যদি আমরা মতবিরোধ করি তবে আসমানবাসীরাও মতবিরোধ করবে। সুতরাং আপনার ও আমার মাঝে ফয়সালা করার মতো কেউ আছে কি? অতঃপর তাঁরা ইসরাফিলের নিকট বিচার চাইলেন। তিনি তাঁদের মাঝে এমন ফয়সালা করলেন যা তোমাদের মাঝে আমার ফয়সালা।" তাঁরা জিজ্ঞেস করলেন: হে আল্লাহর রাসুল, তাঁর ফয়সালা কী ছিল? তিনি বললেন: "তিনি তকদিরকে অবধারিত করেছেন—তার কল্যাণ ও অকল্যাণ, ক্ষতি ও উপকার এবং মিষ্টতা ও তিক্ততা সমেত। আর এটাই তোমাদের মাঝে আমার ফয়সালা।"

বর্ণনাকারী বলেন: অতঃপর তিনি আবু বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর কাঁধে অথবা উরুতে হাত মারলেন—আর তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পাশেই ছিলেন—এবং বললেন: "হে আবু বকর, মহান আল্লাহ যদি তাঁর অবাধ্যতা হওয়া না চাইতেন, তবে তিনি ইবলিসকে সৃষ্টি করতেন না।" / তখন আবু বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বললেন: আমি আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি। হে আল্লাহর রাসুল, এটি আমার পক্ষ থেকে একটি বিচ্যুতি বা ভুল ছিল। আমি আর কখনো এই ধরনের কথা বলব না। বর্ণনাকারী বলেন: অতঃপর তিনি আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ (মৃত্যু) পর্যন্ত আর কখনো এমন কথা বলেননি।
(খণ্ড: ১) ফাওয়ায়িদু ইবনু আখি মীমি আদ-দাক্কাক (পৃষ্ঠা: ٣٥)
10 - حدثنا عبدُاللهِ بنُ محمدِ بنِ عبدِالعزيزِ، قالَ: حَدَّثَنَا داودُ بنُ رُشيدٍ، قالَ: حَدَّثَنَا شعيبٌ، عَنْ هشامٍ، عَنْ أَبِي الزبيرِ المكيِّ، عَنْ جابرِ بنِ عَبْدِ اللهِ الأنصاريِّ قالَ:

بعَثَنا رسولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم مَعَ أَبي عُبيدةَ بنِ الجراحِ رضي الله عنه ونحنُ ثلاثُمئةٍ وبضعَ عشرةَ، وزوَّدَنا جِراباً مِن تمرٍ، فَأَعطانا مِنه قَبْضَةً قَبْضَةً، فلمَّا أَنجَزْناه أَعطانا تَمْرَةً تَمْرَةً، فكُنا نمُصُّها كَمَا يمصُّ الصبيُّ، ونشربُ عَلَيْهَا مِن الماءِ، فلمَّا فقدْناها وجدْنا فَقْدَها، ثُمَّ كُنا نخبطُ الخَبَطَ بقِسيِّنا فنَستَفُّه ونشربُ عَلَيْهِ حَتَّى سُمِّينا جيشَ الخَبَطِ، ثُمَّ أَخَذنا عَلَى الساحلِ، فَإِذَا دابةٌ ميتةٌ مثلُ الكَثيبِ يُقالُ له: العنبرُ، فقالَ أبوعُبيدةَ: ميتةٌ لا تأكُلُوها، ثُمَّ قالَ: جيشُ رسولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم فِي سبيلِ اللهِ عز وجل، ⦗ص: 36⦘ ونحنُ مُضطرُّونَ، كُلوا بسمِ اللهِ، فأكَلْنا مِنه عشرينَ أَوْ خمسةَ عشرَ لَيْلَةً وصَنَعنا مِنه وَشيقةً.

قالَ: وَلَقَدْ جلسَ ثلاثةَ عشرَ رَجُلا مِنا / في موضعِ عَينهِ، وأخذَ أبوعُبيدةَ ضِلعاً مِن أضلاعِهِ فرحَلَ أَجْسَمَ بعيرٍ فِي أباعِرِ القومِ فأجازَهُ تحتَه، فلمَّا قدِمْنا عَلَى رسولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم قالَ: "مَا حَبَسَكم؟ " قُلنا: يَا رسولَ اللهِ كُنا تَبِعْنا عِيراتِ قريشٍ، وذكَرْنا لَهُ شأنَ الدَّابةِ، فقالَ: "إنَّما هُوَ رزقٌ رَزَقكموهُ اللهُ عز وجل، أمَعَكم مِنه شيءٌ؟ " قُلنا: نَعم.
১০ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আবদুল আজিজ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন দাউদ ইবনে রুশাইদ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন শুআইব, হিশাম থেকে, তিনি আবুয যুবায়ের আল-মাক্কি থেকে, তিনি জাবির ইবনে আবদুল্লাহ আল-আনসারি (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন:

আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদেরকে আবু উবাইদাহ ইবনুল জাররাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর নেতৃত্বে পাঠালেন এবং আমরা সংখ্যায় ছিলাম তিনশ দশ থেকে ঊনিশ জনের মতো। তিনি আমাদের পাথেয় হিসেবে এক থলি খেজুর দিলেন। তিনি (আবু উবাইদাহ) সেখান থেকে আমাদের এক মুষ্টি এক মুষ্টি করে দিতেন। যখন তা ফুরিয়ে আসতে লাগল, তখন তিনি আমাদের একটি একটি করে খেজুর দিতে লাগলেন। আমরা তা শিশুর মতো চুষতাম এবং তার ওপর পানি পান করতাম। যখন আমরা তা হারিয়ে ফেললাম (অর্থাৎ খেজুর শেষ হয়ে গেল), তখন আমরা তার অভাব তীব্রভাবে অনুভব করলাম। এরপর আমরা আমাদের ধনুক দিয়ে গাছের পাতা ঝরিয়ে নিতাম, তারপর তা চূর্ণ করে খেতাম এবং তার ওপর পানি পান করতাম, এমনকি আমাদের ‘জাইশুল খাবাত’ (বৃক্ষপত্র ভক্ষণকারী বাহিনী) নামে অভিহিত করা হলো। এরপর আমরা সমুদ্র উপকূলে চললাম। হঠাৎ বালুর ঢিবির মতো একটি বড় মৃত জীব দেখা গেল, যাকে ‘আম্বার’ (তিমি) বলা হয়। আবু উবাইদাহ বললেন: এটি তো মৃত জন্তু, তোমরা তা খেও না। এরপর তিনি বললেন: (না, বরং আমরা) আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বাহিনী এবং মহান আল্লাহর পথে বের হয়েছি, ⦗পৃষ্ঠা: ৩৬⦘ আর আমরা এখন নিরুপায়। তোমরা বিসমিল্লাহ বলে খাও। অতঃপর আমরা তা থেকে পনেরো বা বিশ রাত পর্যন্ত খেলাম এবং তার মাংস রোদে শুকিয়ে দীর্ঘস্থায়ী খাবার তৈরি করলাম।

তিনি বলেন: আমাদের মধ্য থেকে তেরোজন লোক তার চোখের কোটরের জায়গায় বসেছিলেন। আবু উবাইদাহ তার পাঁজরের হাড়গুলোর একটি নিলেন এবং কাফেলার সবচেয়ে বড় উটটির পিঠে হাওদা চড়িয়ে তার নিচ দিয়ে চালিয়ে নিলেন (অর্থাৎ হাড়টি এত বিশাল ছিল যে তার নিচ দিয়ে উট অনায়াসে চলে গেল)। যখন আমরা আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট ফিরে এলাম, তিনি বললেন: "তোমাদের কিসে আটকে রেখেছিল?" আমরা বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আমরা কুরাইশদের বাণিজ্য কাফেলার পিছু নিয়েছিলাম। এরপর আমরা তাঁর কাছে সেই প্রাণীর বিষয়টি উল্লেখ করলাম। তিনি বললেন: "নিশ্চয়ই তা এমন একটি রিযিক যা মহান আল্লাহ তোমাদের জন্য বের করে দিয়েছেন। তোমাদের কাছে কি তার কিছু অংশ আছে?" আমরা বললাম: হ্যাঁ।
(খণ্ড: ১) ফাওয়ায়িদু ইবনু আখি মীমি আদ-দাক্কাক (পৃষ্ঠা: ٣٦)
11 - وقالَ: خَسفت الشمسُ عَلَى عهدِ رسولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم فِي يومٍ شديدِ الحرِّ، فصلَّى رسولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم بأصحابِهِ فأطالَ القيامَ حَتَّى جَعلوا يخرُّونَ، ثُمَّ ركعَ فأطالَ، ثُمَّ رفعَ فأطالَ، ثُمَّ ركعَ فأطالَ، ثُمَّ رفعَ فأطالَ، ثُمَّ سجدَ سَجدتينِ، ثُمَّ قامَ فصنَعَ نَحْوًا مِن ذَلِكَ، وجعلَ يتقدَّمُ ثُمَّ جعلَ يتأخَّرُ، فكانتْ أربعَ ركعاتٍ وأربعَ سجداتٍ، ثُمَّ قالَ: "إنَّه عُرضَ عليَّ كلُّ شيءٍ تُوعَدونَ بِهِ، فعُرضتْ عليَّ الجنةُ حَتَّى لَوْ أنِّي تناولتُ مِنها قِطفاً أخذتُهُ - أَوْ قالَ: تناولتُ مِنها قِطفاً فقصرتْ يَدي عَنه"، وقالَ هشامٌ: أَنا أشكُّ - قالَ: "وعُرضتْ عليَّ النارُ فجعلتُ أتأخَّرُ رَهْبَةَ أَنْ تَغشاكم، / ورأيتُ فيه امْرَأَةً حُميريةً سوداءَ طَوِيلَةً تُعذَّبُ فِي هرةٍ لَهَا ربطَتْها فَلَمْ تُطعِمْها وَلَمْ تَدَعْها تأكُلُ مِن خَشاشِ الأرضِ، ورأيتُ أَبَا ثُمامةَ عَمْرَو بنَ مالكٍ يجرُّ قُصْبَهُ فِي النارِ، وإنَّهم كَانُوا يَقولونَ: إنَّ الشمسَ والقمرَ لا يَخسِفانِ إِلا لموتِ عظيمٍ، فإنَّهما آيتانِ مِن آياتِ اللهِ عز وجل يُريكُموهما، فَإِذَا خَسفتْ فصلُّوا حتى ⦗ص: 37⦘ تَنجليَ".
১১ - এবং তিনি বললেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে অত্যন্ত গরমের একদিন সূর্য গ্রহণ লেগেছিল। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবীদের নিয়ে সালাত আদায় করলেন এবং কিয়াম দীর্ঘ করলেন, এমনকি তারা পড়ে যাচ্ছিলেন। এরপর তিনি রুকু করলেন এবং তা দীর্ঘ করলেন, তারপর মাথা তুললেন এবং দীর্ঘক্ষণ দাঁড়ালেন, তারপর আবার রুকু করলেন এবং তা দীর্ঘ করলেন, তারপর মাথা তুললেন এবং দীর্ঘক্ষণ দাঁড়ালেন। এরপর তিনি দুটি সেজদা করলেন। এরপর তিনি আবার দাঁড়ালেন এবং অনুরূপ কাজ করলেন। তিনি সামনে এগোচ্ছিলেন এবং পিছনে সরছিলেন। ফলে সালাতটি ছিল চারটি রুকু ও চারটি সেজদা বিশিষ্ট। অতঃপর তিনি বললেন: "তোমাদেরকে যে সব বিষয়ে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, তার সবকিছুই আমার সামনে পেশ করা হয়েছিল। জান্নাত আমার সামনে পেশ করা হয়েছিল, এমনকি আমি যদি সেখান থেকে একটি ফলের থোকা নিতে চাইতাম তবে অবশ্যই তা নিতাম — অথবা তিনি বলেছিলেন: আমি সেখান থেকে একটি ফলের থোকা নিতে উদ্যত হয়েছিলাম কিন্তু আমার হাত তা পর্যন্ত পৌঁছাতে পারল না।" হিশাম বলেন: আমি সংশয়ে আছি। তিনি বললেন: "আর আমার সামনে জাহান্নাম পেশ করা হয়েছিল, তখন আমি পিছিয়ে যাচ্ছিলাম এই ভয়ে যে তা যেন তোমাদেরকে গ্রাস না করে ফেলে। আর আমি সেখানে হিমইয়ার গোত্রের একজন কৃষ্ণাঙ্গ দীর্ঘদেহী নারীকে দেখলাম, যাকে একটি বিড়ালের কারণে শাস্তি দেওয়া হচ্ছিল; সে বিড়ালটিকে বেঁধে রেখেছিল, তাকে খাবার দেয়নি এবং তাকে জমিনের পোকামাকড় খাওয়ার জন্যও ছেড়ে দেয়নি। আর আমি আবু সুমামাহ আমর ইবনে মালেককে জাহান্নামে তার নাড়িভুঁড়ি টেনে নিয়ে যেতে দেখলাম। তারা বলত যে, সূর্য ও চন্দ্রের গ্রহণ কোনো মহান ব্যক্তির মৃত্যু ব্যতীত হয় না। প্রকৃতপক্ষে এ দুটি মহান আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্তর্ভুক্ত দুটি নিদর্শন যা তিনি তোমাদের দেখান। সুতরাং যখন গ্রহণ লাগবে, তখন তোমরা সালাত আদায় করো যতক্ষণ না তা ⦗পৃষ্ঠা: ৩৭⦘ পরিষ্কার হয়ে যায়।"
(খণ্ড: ১) ফাওয়ায়িদু ইবনু আখি মীমি আদ-দাক্কাক (পৃষ্ঠা: ٣٧)
12 - قالَ: وكُنا مَعَ رسولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم بنخلٍ فصلَّى بأصحابِهِ الظهرَ، فهَمَّ بِهم المُشركونَ، فَقالوا: دَعوهم فإنَّ لَهُمْ صَلاةً بعدَ هَذِهِ هِيَ أحبُّ إِلَيْهِمْ مِن أبنائِهم، قالَ: فنزلَ جبريلُ عليه السلام عَلَى رسولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم فأخبَرَه، فصلَّى بأصحابِهِ العصرَ، فصفَّهم صفَّينِ، رسولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم بينَ أَيديهم والعدوُّ بينَ يَدي رسولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم، فكبَّروا جَمِيعًا، ورَكَعوا جَمِيعًا، ثُمَّ سجدَ الذينَ يَلونَه والآخَرونَ قيامٌ، فلمَّا رَفَعوا رؤوسَهم سجدَ الآخَرونَ، ثُمَّ تقدَّمَ هؤلاءِ وتأخَّرَ هؤلاءِ، وسجدَ بالذينِ يَلونَه والآخَرونَ قِيَامًا، فلمَّا رفَعوا رؤوسَهم سجدَ الآخَرونَ.
১২ - তিনি বললেন: আমরা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে নাখল নামক স্থানে ছিলাম। তিনি তাঁর সাহাবীদের নিয়ে যোহরের সালাত আদায় করলেন। তখন মুশরিকরা তাঁদের ওপর আক্রমণ করার সংকল্প করল। তারা বলল: তোমরা তাঁদের ছেড়ে দাও, কেননা তাঁদের এমন এক সালাত (আসরের সালাত) রয়েছে যা তাঁদের নিকট তাঁদের সন্তানদের চেয়েও অধিক প্রিয়। তিনি বলেন: তখন জিবরাঈল আলাইহিস সালাম আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট অবতীর্ণ হয়ে তাঁকে বিষয়টি জানালেন। অতঃপর তিনি তাঁর সাহাবীদের নিয়ে আসরের সালাত আদায় করলেন। তিনি তাঁদের দুই কাতারে সারিবদ্ধ করলেন। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁদের সামনে ছিলেন এবং শত্রু ছিল আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সম্মুখে। তাঁরা সকলে একত্রে তাকবীর দিলেন এবং সকলে একত্রে রুকু করলেন। অতঃপর যারা তাঁর নিকটবর্তী ছিল তারা সিজদাহ করল এবং অন্যেরা দাঁড়িয়ে থাকল। যখন তারা তাদের মাথা উত্তোলন করল, তখন অন্যেরা সিজদাহ করল। অতঃপর এরা সামনে এগিয়ে এল এবং ওরা পেছনে সরে গেল। তিনি তাঁর নিকটবর্তীদের নিয়ে সিজদাহ করলেন এবং অন্যেরা দাঁড়িয়ে থাকল। যখন তারা তাদের মাথা উত্তোলন করল, তখন অন্যেরা সিজদাহ করল।
(খণ্ড: ১) ফাওয়ায়িদু ইবনু আখি মীমি আদ-দাক্কাক (পৃষ্ঠা: ٣٧)
13 - / حدثنا عبدُاللهِ بنُ محمدِ بنِ عبدِالعزيزِ، قالَ: حَدَّثَنَا داودُ بنُ رُشيدٍ، قالَ: حَدَّثَنَا شعيبٌ، عَنْ هشامٍ، عَنْ أَبِي الزبيرِ، عَنْ جابرٍ قالَ:

اشتكيتُ وعِندي سبعُ أخواتٍ لِي، فدخَلَ عليَّ رسولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم فنفَخَ فِي وَجهي فأَفقتُ، فقلتُ: يَا رسولَ اللهِ أُوصي لأَخواتي بالثُّلثينِ؟ قالَ: "أَحسِنْ" قلتُ: فالشَّطرُ؟ قالَ: "أَحسِنْ"، ثُمَّ خرجَ وَتَرَكني، ثُمَّ رَجعَ إليَّ فقالَ: "يَا جابرُ إنِّي لا أراكَ مَيتاً مِن وجعِكَ هَذَا، وإنَّ اللهَ عز وجل قَدْ أنزلَ فبيَّنَ الَّذِي لأخواتِكَ، فجعلَ لَهُمُ الثُّلثينِ"، فكانَ جابرٌ رضي الله عنه يَقولُ: أُنزلتْ هَذِهِ الآيةُ فيَّ: {يَسْتَفْتُونَكَ قُلِ اللَّهُ يُفْتِيكُمْ فِي الْكَلَالَةِ} [النساء: 176].
১৩ - আমাদের নিকট আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল আজিজ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট দাউদ ইবনে রুশাইদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট শুআইব বর্ণনা করেছেন হিশাম থেকে, তিনি আবুল জুবাইর থেকে, তিনি জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন:

আমি অসুস্থ হয়ে পড়েছিলাম এবং আমার সাতজন বোন ছিল। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার নিকট প্রবেশ করলেন এবং আমার চেহারায় ফুঁ দিলেন, ফলে আমি সচেতন হলাম। আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আমি কি আমার বোনদের জন্য দুই-তৃতীয়াংশ সম্পদের ওসিয়ত করব? তিনি বললেন: "উত্তম আচরণ করো।" আমি বললাম: তবে কি অর্ধেক? তিনি বললেন: "উত্তম আচরণ করো।" অতঃপর তিনি বের হয়ে গেলেন এবং আমাকে রেখে গেলেন। এরপর তিনি পুনরায় আমার কাছে ফিরে এলেন এবং বললেন: "হে জাবির! আমি মনে করি না যে তুমি তোমার এই অসুস্থতায় মৃত্যুবরণ করবে। আর নিশ্চয়ই আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা আয়াত অবতীর্ণ করেছেন এবং তোমার বোনদের জন্য যা প্রাপ্য তা বর্ণনা করেছেন; তিনি তাদের জন্য দুই-তৃতীয়াংশ নির্ধারণ করেছেন।" জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহু বলতেন: এই আয়াতটি আমার ব্যাপারেই অবতীর্ণ হয়েছে: {লোকেরা আপনার কাছে ফতোয়া জানতে চায়। বলুন, আল্লাহ তোমাদেরকে ‘কালালাহ’ (পিতা-মাতাহীন ও সন্তানহীন মৃত ব্যক্তি) সম্পর্কে ফতোয়া দিচ্ছেন} [সূরা আন-নিসা: ১৭৬]।
(খণ্ড: ১) ফাওয়ায়িদু ইবনু আখি মীমি আদ-দাক্কাক (পৃষ্ঠা: ٣٨)
14 - حدثنا عبدُاللهِ بنُ محمدٍ قالَ: حَدَّثَنَا داودُ قالَ: حَدَّثَنَا شعيبٌ قالَ: حَدَّثَنَا هشامٌ، عَنْ أَبِي الزبيرِ، عَنْ جابرٍ،

أنَّ النبيَّ صلى الله عليه وسلم قالَ: "أَغلِقوا الأبوابَ، وأَطفِئوا السُّرَجَ، وأَوكُوا الأَسقيةَ، وخمِّروا الطعامَ والشرابَ وَلَوْ أنْ تَعرِضوا عليه بعودٍ".
১৪ - আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: দাউদ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: শুআইব আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: হিশাম আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আবু যুবায়ের থেকে, তিনি জাবির (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে,

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "তোমরা দরজাগুলো বন্ধ করো, প্রদীপগুলো নিভিয়ে দাও, পানপাত্রের মুখ বেঁধে রাখো এবং খাদ্য ও পানীয় ঢেকে রাখো; যদিও তার ওপর একটি কাঠি আড়াআড়িভাবে রেখে দেওয়ার মাধ্যমে হয়।"
(খণ্ড: ১) ফাওয়ায়িদু ইবনু আখি মীমি আদ-দাক্কাক (পৃষ্ঠা: ٣٨)
15 - حدثنا عبدُاللهِ قالَ: حدثنا داودُ قالَ: حدثنا شعيبٌ، عن هشامٍ، عن أبي الزبيرِ، عن جابرٍ،

أنَّ رسولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قالَ: "لا تَرتَدوا الصَّمَّاءَ فِي ثوبٍ واحدٍ، وَلا يأكُلَنَّ أحدُكم بشمالِهِ، وَلا يَمشي فِي نعلٍ واحدةٍ".
১৫ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন দাউদ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন শুআইব, হিশাম থেকে, তিনি আবু যুবাইর থেকে, তিনি জাবির (রা.) হতে বর্ণনা করেন যে,

নিশ্চয়ই আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "তোমরা এক কাপড়ে 'সাম্মা' (এমনভাবে কাপড় পেঁচানো যাতে হাত বের করার পথ থাকে না) পদ্ধতিতে পরিধান করো না, এবং তোমাদের কেউ যেন তার বাম হাত দিয়ে আহার না করে এবং কেউ যেন একটি মাত্র জুতো পরিহিত অবস্থায় না হাঁটে।"
(খণ্ড: ১) ফাওয়ায়িদু ইবনু আখি মীমি আদ-দাক্কাক (পৃষ্ঠা: ٣٨)
16 - حدثنا عبدُاللهِ قالَ: حَدَّثَنَا داودُ قالَ: / حدَّثنا شعيبٌ قالَ: حَدَّثَنَا هشامٌ، عَنْ أَبِي الزبيرِ، عَنْ جابرٍ قالَ:

نَهى رسولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ بيعِ النخلِ حَتَّى يُطعِمَ.
১৬ - আবদুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: দাউদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: / শুয়াইব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হিশাম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু যুবাইর থেকে, তিনি জাবির থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন:

আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খেজুর গাছ (এর ফল) বিক্রয় করতে নিষেধ করেছেন যতক্ষণ না তা খাওয়ার উপযোগী হয়।
(খণ্ড: ১) ফাওয়ায়িদু ইবনু আখি মীমি আদ-দাক্কাক (পৃষ্ঠা: ٣٨)
17 - حدثنا عبدُاللهِ قالَ: حدثنا داودُ قالَ: حدثنا شعيبٌ، عن هشامٍ، عن أبي الزبيرِ، عن جابرٍ قالَ:

⦗ص: 39⦘

نَهانا رسولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم عَنِ البصلِ والكُراثِ، فغَلَبتْنا الحاجةُ فأكَلْنا مِنه، فقالَ رسولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: "مَن أكلَ مِن هذهِ الشجرةِ المُنتنةِ فَلا يَقربَنَّ مسجدَنا، فإنَّ الملائكةَ تتأذَّى مِما يتأذَّى مِنه الإنسُ".
১৭ - আবদুল্লাহ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: দাউদ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: শুআইব হিশাম থেকে, তিনি আবু যুবায়ের থেকে, তিনি জাবির থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন:

⦗পৃষ্ঠা: ৩৯⦘

আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের পেঁয়াজ ও কুরাস (এক ধরনের লতা) খেতে নিষেধ করেছিলেন। অতঃপর প্রয়োজনের তাড়নায় আমরা তা খেয়ে ফেললাম। তখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: "যে ব্যক্তি এই দুর্গন্ধযুক্ত উদ্ভিদ থেকে আহার করবে, সে যেন অবশ্যই আমাদের মসজিদের নিকটবর্তী না হয়; কেননা মানুষ যাতে কষ্ট পায়, ফেরেশতারাও তাতে কষ্ট পায়।"
(খণ্ড: ১) ফাওয়ায়িদু ইবনু আখি মীমি আদ-দাক্কাক (পৃষ্ঠা: ٣٩)
18 - حدثنا عبدُاللهِ بنُ محمدٍ قالَ: حَدَّثَنَا داودُ بنُ رُشيدٍ قالَ: حَدَّثَنَا شعيبٌ، عَنْ هشامٍ، عَنْ أَبِي الزبيرِ، عَنْ جابرٍ،

أنَّ رسولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قالَ: "أمسِكوا عليكُم أموالَكم لا تُعْمِروها، فإنَّ مَن أعمَرَ شَيْئًا حياتَهُ فهو له حياتَهُ وبعدَ موتِهِ".
১৮ - আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: দাউদ ইবনে রুশাইদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: শুআইব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হিশাম হতে, তিনি আবুয যুবায়ের হতে, তিনি জাবির (রাদিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণনা করেন যে,

আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "তোমরা তোমাদের সম্পদ নিজেদের কাছেই রাখো, তা 'উমরা' হিসেবে দান করো না। কেননা, যে ব্যক্তি তার জীবদ্দশায় কাউকে কোনো কিছু উমরা হিসেবে দান করে, তা তার (গ্রহীতার) হয়ে যায়—তার জীবনে এবং তার মৃত্যুর পরে।"
(খণ্ড: ১) ফাওয়ায়িদু ইবনু আখি মীমি আদ-দাক্কাক (পৃষ্ঠা: ٣٩)
19 - حدثنا عبدُاللهِ قالَ: حدثنا داودُ قالَ: حدثنا شعيبٌ، عن هشامٍ، عن أبي الزبيرِ، عن جابرٍ،

أنَّ النبيَّ صلى الله عليه وسلم قالَ: "مَن تَسمَّى باسْمي فَلا يَتكنَّى بكُنيتي، ومَن اكتَنى بكُنيتي فلا يَتسمَّى باسْمي".
১৯ - আব্দুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: দাউদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: শুআইব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হিশাম থেকে, তিনি আবুয যুবাইর থেকে, তিনি জাবির থেকে বর্ণনা করেছেন যে,

নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি আমার নামে নামকরণ করবে, সে যেন আমার কুনিয়া (উপনাম) গ্রহণ না করে; আর যে ব্যক্তি আমার কুনিয়া গ্রহণ করবে, সে যেন আমার নামে নামকরণ না করে।"
(খণ্ড: ১) ফাওয়ায়িদু ইবনু আখি মীমি আদ-দাক্কাক (পৃষ্ঠা: ٣٩)
20 - حدثنا عبدُاللهِ قالَ: حدثنا داودُ قالَ: حدثنا شعيبٌ، عن هشامٍ، عن أبي الزبيرِ، عن جابرٍ،

أنَّ رسولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم / قالَ: "مَن لقيَ اللهَ عز وجل لا يُشركُ بِهِ شَيْئًا، دَخلَ الجنةَ، وَمَن لقِيَ اللهَ عز وجل يُشركُ بِهِ شَيْئًا دخلَ النارَ".
২০ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন দাউদ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন শুআইব, হিশাম থেকে, তিনি আবুল জুবায়ের থেকে, তিনি জাবির (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে,

আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি মহামহিম আল্লাহর সাথে কোনো কিছু শরিক না করে তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে; আর যে ব্যক্তি মহামহিম আল্লাহর সাথে কোনো কিছু শরিক করে তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করবে, সে জাহান্নামে প্রবেশ করবে।"
(খণ্ড: ১) ফাওয়ায়িদু ইবনু আখি মীমি আদ-দাক্কাক (পৃষ্ঠা: ٤٠)
21 - حدثنا عبدُاللهِ قالَ: حَدَّثَنَا داودُ قالَ: حَدَّثَنَا المباركُ قالَ: حَدَّثَنَا سعيدُ بنُ مسروقٍ، عَنْ إبراهيمَ التيميِّ، عن أبي عبدِاللهِ الجَدليِّ، عَنْ خُزيمةَ بنِ ثابتٍ قالَ:

جعلَ رسولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم للمسافرِ ثلاثةَ أيامٍ ولَياليهِنَّ، وللمُقيمِ يَوْمًا وَلَيْلَةً.

ثُمَّ قالَ: وايمُ اللهِ لَوْ مَضى السائلُ - أَيِ استَزادَهُ - لجعلَها خمساً.
২১ - আবদুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: দাউদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুবারক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সাঈদ ইবনে মাসরুক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইবরাহিম আত-তাইমি থেকে, তিনি আবু আবদুল্লাহ আল-জাদালি থেকে, তিনি খুজাইমাহ ইবনে সাবিত থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন:

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুসাফিরের জন্য তিন দিন ও তিন রাত এবং মুকিমের জন্য এক দিন ও এক রাত নির্ধারণ করেছেন।

অতঃপর তিনি বলেন: আল্লাহর কসম, যদি প্রশ্নকারী আরও চেয়ে যেতেন - অর্থাৎ যদি সময় বৃদ্ধির আবেদন করতেন - তবে তিনি তা পাঁচ দিন নির্ধারণ করে দিতেন।
(খণ্ড: ১) ফাওয়ায়িদু ইবনু আখি মীমি আদ-দাক্কাক (পৃষ্ঠা: ٤٠)
22 - حدثنا عبدُاللهِ بنُ محمدٍ قالَ: حَدَّثَنَا داودُ قالَ: حَدَّثَنَا شعيبٌ، عَنِ الأوزاعيِّ، قالَ: حدَّثني يَحْيَى بنُ أبي كثيرٍ، قالَ: حدَّثني أبوقلابةَ الجَرميُّ قالَ: حدَّثني أنسُ بنُ مالكٍ قالَ:

قدمَ عَلَى رسولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم ثمانيةُ نفرٍ مِن عُكْلٍ، فاجْتَوَوا المدينةَ، فأمَرَهم رسولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم أَن يأْتوا إبلَ الصدقةِ فليشْرَبوا مِن ألبانِها وأبوالِها، فأَتوها فقَتَلوا رَاعيَها واستاقُوا الإبلَ، فبعثَ رسولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم في طلبِهم قَافَةً، فأُتي بِهم، فقطَعَ أيديَهم وأرجلَهم ثم لم يَحسِمْهم.
২২ - আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: দাউদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: শুআইব আমাদের নিকট আল-আওযায়ী থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইয়াহইয়া ইবনে আবি কাসির আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু কিলাবা আল-জারমি আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আনাস ইবনে মালিক আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন:

উক্ল গোত্রের আটজন ব্যক্তি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট আগমন করল। অতঃপর মদিনার আবহাওয়া তাদের প্রতিকূল মনে হলো। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদেরকে সদকার উটের পালের নিকট যাওয়ার এবং সেগুলোর দুধ ও মূত্র পান করার নির্দেশ দিলেন। তারা সেখানে গেল এবং এর রাখালকে হত্যা করল ও উটগুলো তাড়িয়ে নিয়ে গেল। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদের সন্ধানে পদচিহ্ন বিশারদ পাঠালেন। অতঃপর তাদেরকে ধরে আনা হলো। তখন তিনি তাদের হাত ও পা কেটে দিলেন এবং তাদের ক্ষতস্থান সেঁক দিলেন না।
(খণ্ড: ১) ফাওয়ায়িদু ইবনু আখি মীমি আদ-দাক্কাক (পৃষ্ঠা: ٤٠)
23 - حدثنا عبدُاللهِ بنُ محمدٍ قالَ: حَدَّثَنَا داودُ بنُ رُشيدٍ قالَ: حَدَّثَنَا شعيبٌ، / عَنِ الأوزاعيِّ، أنَّ عَمرو بنَ يَحْيَى بنَ عُمارةَ أخبَرَه عَنْ أبيهِ، أنَّه سمعَ أَبَا سعيدٍ الخدريَّ رضي الله عنه يقولُ:

⦗ص: 41⦘

قالَ النبيُّ صلى الله عليه وسلم: "ليسَ فيما دونَ خمسِ أَواقي صدقةٌ، وليسَ فِيمَا دونَ خمسِ ذَودٍ صدقةٌ، وليسَ فِيمَا دونَ خمسةِ أوسُقٍ صدقةٌ".
২৩ - আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: দাউদ ইবনে রুশাইদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: শুআইব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আল-আওজায়ি থেকে বর্ণিত, আমর ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে উমারা তাঁকে তাঁর পিতা থেকে সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি আবু সাঈদ আল-খুদরি (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কে বলতে শুনেছেন:

⦗পৃষ্ঠা: ৪১⦘

নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "পাঁচ উকিয়ার কমে কোনো সদকা নেই, পাঁচটি উটের কমে কোনো সদকা নেই এবং পাঁচ ওয়াসাকের কমে কোনো সদকা নেই।"
(খণ্ড: ১) ফাওয়ায়িদু ইবনু আখি মীমি আদ-দাক্কাক (পৃষ্ঠা: ٤١)
24 - حدثنا عبدُاللهِ قالَ: حَدَّثَنَا داودُ قالَ: حَدَّثَنَا سويدُ بنُ عبدِالعزيزِ قالَ: حَدَّثَنَا يَحْيَى بنُ الحارثِ، عَنِ القاسمِ أبي عبدِالرحمنِ، عَنْ أَبِي أُمامةَ،

أنَّ رسولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قامَ فِي أصحابِهِ ذاتَ يومٍ، فقالَ: "اغتسِلوا يومَ الجمعةِ، فمَن اغتسلَ يومَ الجمعةِ كانتْ لَهُ كَفَّارَةً مَا بينَ الجمعةِ إلى الجمعةِ وزيادةٌ".
২৪ - আমাদের কাছে আব্দুল্লাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের কাছে দাউদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের কাছে সুওয়াইদ ইবনে আব্দুল আজিজ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের কাছে ইয়াহইয়া ইবনে হারিস বর্ণনা করেছেন, আল-কাসিম আবু আব্দুর রহমান থেকে, তিনি আবু উমামা থেকে বর্ণনা করেন যে,

একদা আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর সাহাবীদের মাঝে দাঁড়ালেন এবং বললেন: "তোমরা জুমার দিন গোসল করো। কারণ যে ব্যক্তি জুমার দিন গোসল করবে, তা তার জন্য এক জুমা থেকে পরবর্তী জুমা পর্যন্ত (গুনাহের) কাফফারা হবে এবং আরও অতিরিক্ত।"
(খণ্ড: ১) ফাওয়ায়িদু ইবনু আখি মীমি আদ-দাক্কাক (পৃষ্ঠা: ٤١)
25 - حدثنا عبدُاللهِ قالَ: حدثنا داودُ قالَ: حدثنا الوليدُ، عن سعيدِ بنِ عبدِالعزيزِ، عَنْ أَبِي الأزهرِ، عَنْ معاويةَ،

عَنِ النبيِّ صلى الله عليه وسلم: "صُوموا الشهرَ وسَرَرَهُ".

قالَ الوليدُ: سمعتُ الأوزاعيَّ يقولُ: سَرَرُهُ آخِرُه، هُوَ كقولِهِ: صُوموا لِرؤيتِهِ وأَفطِروا لِرؤيتِهِ، فإنْ غُمَّ عليكُم فعُدُّوا ثلاثينَ.
২৫ - আমাদের নিকট আবদুল্লাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আমাদের নিকট দাউদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আমাদের নিকট আল-ওয়ালিদ বর্ণনা করেছেন সাঈদ ইবনে আব্দুল আজিজ থেকে, তিনি আবু আল-আজহার থেকে, তিনি মুয়াবিয়া থেকে বর্ণনা করেছেন,

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেছেন: "তোমরা মাসজুড়ে সিয়াম পালন করো এবং এর শেষভাগেও।"

আল-ওয়ালিদ বলেছেন: আমি আল-আওযাঈকে বলতে শুনেছি: এর 'সারার' হলো মাসের শেষভাগ। এটি তাঁর এই বাণীর মতোই: তোমরা চাঁদ দেখে সিয়াম পালন করো এবং চাঁদ দেখে ইফতার করো; যদি আকাশ তোমাদের ওপর মেঘাচ্ছন্ন থাকে তবে তোমরা ত্রিশ দিন গণনা করো।
(খণ্ড: ১) ফাওয়ায়িদু ইবনু আখি মীমি আদ-দাক্কাক (পৃষ্ঠা: ٤١)
26 - حدثنا عبدُاللهِ قالَ: حَدَّثَنَا داودُ قالَ: حَدَّثَنَا إسماعيلُ بنُ عياشٍ قالَ: حدثنا عبدُالملكِ بنُ عبدِالعزيزِ بنِ جُريجٍ، عن أبيه، عن عبدِاللهِ بنِ أَبِي مُليكةَ، ⦗ص: 42⦘ عَنْ عائشةَ رضي الله عنها،

أنَّ رسولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قالَ: "إِذَا قاءَ أحدُكم فِي صلاتِهِ أو قَلَسَ فلينصرفْ فليتوضَّأْ، ثم ليبْني / عَلَى مَا مَضى مِن صلاتِهِ مَا لَمْ يتكلَّمْ".

قالَ ابنُ جُريجٍ: فإنْ تكلَّمَ استأنَفَ الصلاةَ.
২৬ - আব্দুল্লাহ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: দাউদ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইসমাঈল ইবনে আইয়াশ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আব্দুল মালিক ইবনে আব্দুল আজিজ ইবনে জুরাইজ আমাদের নিকট তাঁর পিতার সূত্রে হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে আবু মুলাইকা থেকে, ⦗পৃষ্ঠা: ৪২⦘ আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত,

নিশ্চয়ই রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "তোমাদের কেউ যখন তার সালাতের মধ্যে বমি করে অথবা মুখ ভরে কিছু (কলাস) বেরিয়ে আসে, তখন সে যেন ফিরে গিয়ে ওজু করে নেয়, অতঃপর সে তার সালাতের অতিবাহিত অংশের ওপর ভিত্তি করে অবশিষ্ট অংশ পূর্ণ করবে / যতক্ষণ পর্যন্ত না সে কথা বলে।"

ইবনে জুরাইজ বলেন: যদি সে কথা বলে ফেলে, তবে সে সালাত নতুন করে শুরু করবে।