(খণ্ড: ১) ফাযায়িলু শাহরি রামাদান লি আবদিল গানি আল-মাকদিসী (পৃষ্ঠা: -)
فضائل شهر رمضان لعبد الغني المقدسي   (عبد الغني المقدسي)

القسم: كتب السنة


الكتاب: فضائل شهر رمضان لعبد الغني المقدسي

المؤلف: عبد الغني بن عبد الواحد بن علي بن سرور المقدسي الجماعيلي الدمشقي الحنبلي، أبو محمد، تقي الدين (ت 600هـ)

تحقيق: أبي عبد الله عمار بن سعيد تمالت الجزائري

الناشر: دار ابن حزم للنشر والتوزيع، الرياض

الطبعة: الأولى، 1420 هـ - 1999 م

عدد الصفحات: 89

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আব্দুল গনি আল-মাকদিসির রমজান মাসের ফাজায়েল   (আব্দুল গনি আল-মাকদিসি)

বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ


কিতাব: আব্দুল গনি আল-মাকদিসির রমজান মাসের ফাজায়েল

লেখক: আব্দুল গনি বিন আব্দুল ওয়াহিদ বিন আলী বিন সুরুর আল-মাকদিসি আল-জামাইলি আদ-দিমাশকি আল-হাম্বলি، আবু মুহাম্মদ، তাকি উদ্দিন (মৃত্যু ৬০০ হি.)

তাহকিক: আবু আব্দুল্লাহ আম্মার বিন সাঈদ তামালত আল-জাজাইরি

প্রকাশক: দার ইবনে হাজম প্রকাশনা ও বিতরণ সংস্থা، রিয়াদ

সংস্করণ: প্রথম، ১৪২০ হিজরি - ১৯৯৯ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৮৯

[কিতাবটির নম্বর বিন্যাস মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) ফাযায়িলু শাহরি রামাদান লি আবদিল গানি আল-মাকদিসী (পৃষ্ঠা: ٣٧)
‌‌فَضَائِلُ شَهْرِ رَمَضَانَ

 

قَرَأْتُ عَلَى الشَّيْخَةِ الصَّالِحَةِ الْمُعَمَّرَةِ أَمَةِ الْعَزِيزِ ابْنَةِ إِسْمَاعِيلَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ ، قَالَتْ: أَخْبَرَنِي الشَّيْخُ الإِمَامُ الْعَالِمُ زَيْنُ الدِّينِ أَبُو الْعَبَّاسِ أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ الدَّائِمِ قَالَ: حَدَّثَنَا الشَّيْخُ الإِمَامُ الْعَالِمُ الْحَافِظُ أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ الْغَنِيِّ بْنُ عَبْدِ الْوَاحِدِ بْنِ عَلِيِّ بْنِ سُرُورٍ الْمَقْدِسِيُّ رحمه الله:
রমজান মাসের ফজিলত

 

আমি পুণ্যবতী দীর্ঘায়ুপ্রাপ্ত শায়খা আমাতুল আজিজ বিনতে ইসমাইল ইবনে ইবরাহিমের নিকট পাঠ করেছি, তিনি বলেন: আমাকে সংবাদ দিয়েছেন শায়খ, ইমাম, আলিম যাইনুদ্দিন আবুল আব্বাস আহমদ ইবনে আব্দুল দায়িম, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন শায়খ, ইমাম, আলিম, হাফেজ আবু মুহাম্মদ আব্দুল গনি ইবনে আব্দুল ওয়াহিদ ইবনে আলী ইবনে সুরূর আল-মাকদিসি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন):
(খণ্ড: ১) ফাযায়িলু শাহরি রামাদান লি আবদিল গানি আল-মাকদিসী (পৃষ্ঠা: ٣٨)
1 - أَنْبَأَنَا الْحَافِظُ أَبُو طَاهِرٍ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ السِّلَفِيُّ الأَصْبَهَانِيُّ رضي الله عنه بِثَغْرِ الإِسْكَنْدَرِيَّةِ، أَنْبَأَنَا أَبُو يَاسِرٍ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الْخَيَّاطُ، بِبَغْدَادَ، حَدَّثَنَا أَبُو الْقَاسِمِ عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بِشْرَانَ، بِبَغْدَادَ، أَنْبَأَنَا أَبُو عَلِيٍّ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ الْحَسَنِ بْنِ الصَّوَّافِ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنِي أَبِي رحمه الله، حَدَّثَنَا فَزَارَةُ، أَنْبَأَنَا فُلَيْحٌ، عَنْ هِلالِ بْنِ عَلِيٍّ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي عَمْرَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «مَنْ آمَنَ بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ، وَأَقَامَ الصَّلاةَ، وَصَامَ رَمَضَانَ، فَإِنَّ حَقًّا عَلَى اللَّهِ أَنْ يُدْخِلَهُ الْجَنَّةَ، هَاجَرَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ، أَوْ جَلَسَ فِي أَرْضِهِ الَّتِي وُلِدَ فِيهَا» .

قَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ، أَفَلا نُنَبِّئُ النَّاسَ بِذَلِكَ؟ قَالَ: «إِنَّ فِي الْجَنَّةِ مِائَةَ دَرَجَةٍ، أَعَدَّهَا اللَّهُ جَلَّ ثَنَاؤُهُ لِلْمُجَاهِدِ فِي سَبِيلِهِ، مَا بَيْنَ كُلِّ دَرَجَتَيْنِ كَمَا بَيْنَ السَّمَاءِ وَالأَرْضِ، فَإِذَا سَأَلْتُمُ اللَّهَ فَسَلُوهُ الْفِرْدَوْسَ، فَإِنَّهُ أَوْسَطُ الْجَنَّةِ، وَفَوْقَهُ عَرْشُ الرَّحْمَنِ عز وجل، وَمِنْهُ تُفَجَّرُ أَنْهَارُ الْجَنَّةِ» .

صَحِيحٌ رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ
১ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হাফেজ আবু তাহের আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইব্রাহিম আস-সিলাফি আল-আসবেহানি (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন) আলেকজান্দ্রিয়া সীমান্তে; আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু ইয়াসির মুহাম্মদ ইবনে আবদুল আজিজ ইবনে আবদুল্লাহ আল-খাইয়াত, বাগদাদে; আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আবুল কাসেম আবদুল মালিক ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে বিশরান, বাগদাদে; আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আলী মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে হাসান ইবনে আস-সাওয়াফ; আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ ইবনে আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে হাম্বল; তিনি বলেন, আমার পিতা (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত করুন) আমার নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন; আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন ফাজারা; আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ফুলাইহ, হেলাল ইবনে আলী থেকে, তিনি আবদুর রহমান ইবনে আবি আমরাহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের ওপর ঈমান আনল, সালাত কায়েম করল এবং রমজানের রোজা রাখল, আল্লাহর ওপর এটি পাওনা হয়ে যায় যে তিনি তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন, চাই সে আল্লাহর পথে হিজরত করুক অথবা তার সেই জন্মভূমিতেই বসে থাকুক যেখানে সে জন্মগ্রহণ করেছে।»

তাঁরা বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, আমরা কি মানুষকে এই সংবাদ দেব না? তিনি বললেন: «নিশ্চয় জান্নাতে একশতটি স্তর রয়েছে, যা মহান আল্লাহ তাঁর পথে জিহাদকারীদের জন্য প্রস্তুত করেছেন; প্রতিটি দুই স্তরের মধ্যবর্তী ব্যবধান আকাশ ও পৃথিবীর মধ্যবর্তী ব্যবধানের ন্যায়। সুতরাং তোমরা যখন আল্লাহর কাছে চাইবে, তখন ফেরদাউস চাইবে; কেননা তা হলো জান্নাতের মধ্যবর্তী ও সর্বোচ্চ স্তর, আর তার উপরেই রয়েছে পরম করুণাময়ের আরশ, এবং সেখান থেকেই জান্নাতের নদীসমূহ প্রবাহিত হয়।»

সহিহ, এটি বুখারি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) ফাযায়িলু শাহরি রামাদান লি আবদিল গানি আল-মাকদিসী (পৃষ্ঠা: ٣٩)
2 - أَخْبَرَنَا أَبُو طَاهِرٍ السِّلَفِيُّ، أَنْبَأَنَا أَبُو طَالِبٍ أَحْمَدُ بْنُ الْحُسَيْنِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ بْنِ الْبَصْرِيِّ، حَدَّثَنَا أَبُو الْقَاسِمِ عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بِشْرَانَ، حَدَّثَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ دَعْلَجُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ دَعْلَجٍ، حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ هَارُونَ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ عِيسَى، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ عَمْرِو بْنِ مُرَّةَ، عَنِ الْمُغِيرَةِ بْنِ سَعْدِ بْنِ الأَخْرَمِ، عَنْ أَبِيهِ، أَوْ عَنْ عَمِّهِ الأَعْمَشِ يَشُكُّ، قَالَ: أَتَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم، أُرِيدُ أَنْ أَسْأَلَهُ، فَقِيلَ لِي: هُوَ بِعَرَفَةَ، فَاسْتَقْبَلْتُهُ فَأَخَذْتُ بِزِمَامِ النَّاقَةِ، فَصَاحَ بِي النَّاسُ مِنَ الصَّحَابَةِ، فَقَالَ: «دَعُوهُ! فَإِنَّ رَبِّي جَاءَ بِهِ» .

قَالَ: قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، دُلَّنِي عَلَى عَمَلٍ يُقَرِّبُنِي مِنَ الْجَنَّةِ وَيُبَاعِدُنِي عَنِ النَّارِ.

فَقَالَ:
২ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু তাহের আস-সিলাফি, (তিনি বলেন) আমাদের অবহিত করেছেন আবু তালিব আহমাদ বিন আল-হুসাইন বিন মুহাম্মাদ বিন ইবরাহিম বিন আল-বাসরি, (তিনি বলেন) আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবুল কাসিম আবদুল মালিক বিন মুহাম্মাদ বিন আবদুল্লাহ বিন বিশরান, (তিনি বলেন) আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু মুহাম্মাদ দালাজ বিন আহমাদ বিন দালাজ, (তিনি বলেন) আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুসা বিন হারুন, (তিনি বলেন) আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ বিন আবদুল্লাহ বিন নুমাইর, (তিনি বলেন) আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া বিন ঈসা, তিনি আল-আ’মাশ থেকে, তিনি আমর বিন মুররাহ থেকে, তিনি মুগীরাহ বিন সা’দ বিন আল-আখরাম থেকে, তিনি তাঁর পিতা অথবা তাঁর চাচার থেকে—আ’মাশ এ বিষয়ে সন্দেহ পোষণ করেছেন—তিনি বলেন: আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট আসলাম, আমি তাঁকে কিছু জিজ্ঞাসা করতে চেয়েছিলাম। আমাকে বলা হলো: তিনি আরাফায় আছেন। তখন আমি তাঁর সম্মুখে উপস্থিত হলাম এবং তাঁর উটনীর লাগাম ধরলাম। তখন সাহাবীদের মধ্য থেকে লোকেরা আমার প্রতি চিৎকার করে উঠল। তখন তিনি বললেন: «তাকে ছেড়ে দাও! কেননা আমার রব-ই তাকে নিয়ে এসেছেন।»

তিনি বলেন: আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, আমাকে এমন একটি আমলের কথা বলে দিন যা আমাকে জান্নাতের নিকটবর্তী করবে এবং জাহান্নাম থেকে দূরে সরিয়ে দেবে।

অতঃপর তিনি বললেন:
(খণ্ড: ১) ফাযায়িলু শাহরি রামাদান লি আবদিল গানি আল-মাকদিসী (পৃষ্ঠা: ٤٠)
" لِئَنْ كُنْتَ أَوْجَزْتَ فِي الْخُطْبَةِ لَقَدْ أَعْظَمْتَ وَأَطْوَلْتَ الْمَسْأَلَةَ.

فَسَكَتَ سَاعَةً، ثُمَّ رَفَعَ رَأْسَهُ إِلَى السَّمَاءِ فَنَظَرَ إِلَيْهَا ثُمَّ قَالَ: تَعْبُدَ اللَّهَ وَلا تُشْرِكَ بِهِ شَيْئًا، وَتُقِيمَ الصَّلاةَ، وَتُؤْتِيَ الزَّكَاةَ، وَتَصُومَ رَمَضَانَ، وَتُحِبَّ لِلنَّاسِ مَا تُحِبُّ أَنْ يُؤْتَى إِلَيْكَ، وَمَا كَرِهْتَ لِنَفْسِكَ فَدَعِ النَّاسَ مِنْهُ خَلِّ سَبِيلَ النَّاقَةِ ".

هَكَذَا قَالَ: الْمُغِيرَةُ بْنُ سَعْدِ بْنِ الأَخْرَمِ، وَإِنَّمَا هُوَ الْمُغِيرَةُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْيَشْكُرِيُّ

3 - أَخْبَرَنَا أَبُو الْحُسَيْنِ عَبْدُ الْحَقِّ بْنُ عَبْدِ الْخَالِقِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ عَبْدِ الْقَادِرِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ يُوسُفَ الْيُوسُفِيُّ الْبَغْدَادِيُّ بِهَا، أَنْبَأَنَا أَبُو الْغَنَائِمِ مُحَمَّدُ بْنُ عَلِي بْنِ مَيْمُونٍ الْقُرَشِيُّ، أَنْبَأَنَا أَبُو أَحْمَدَ بْنُ عَبْدِ الْوَهَّابِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ مُوسَى الْغُنْدَجَانِيُّ، أَنْبَأَنَا أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ عَبْدَانَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ الْفَرَجِ الشِّيرَازِيُّ الْحَافِظُ، أَنْبَأَنَا أَبُو الْحَسَنِ مُحَمَّدُ بْنُ سَهْلٍ الْمُقْرِئُ، أَنْبَأَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ الْبُخَارِيُّ، قَالَ: قَالَ أَبُو الْيَمَانِ: أَنْبَأَنَا شُعَيْبٌ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ
যদি আপনি ভাষণে সংক্ষেপ করে থাকেন, তবুও আপনি প্রশ্নটি বিশাল ও দীর্ঘ করেছেন।

অতঃপর তিনি কিছুক্ষণ নীরব থাকলেন, তারপর আকাশের দিকে মাথা তুললেন এবং সেদিকে তাকালেন, তারপর বললেন: তুমি আল্লাহর ইবাদত করবে এবং তাঁর সাথে কোনো কিছু শরীক করবে না, সালাত কায়েম করবে, যাকাত প্রদান করবে, রমজানের সিয়াম পালন করবে, আর মানুষের জন্য তাই পছন্দ করবে যা নিজের প্রতি আচরণ হিসেবে পেতে পছন্দ করো, আর যা নিজের জন্য অপছন্দ করো তা থেকে মানুষকে মুক্ত রাখবে। উষ্ট্রীর পথ ছেড়ে দাও।

মুগীরা বিন সা'দ বিন আল-আখরাম এভাবেই বলেছেন, অথচ তিনি হলেন মুগীরা বিন আব্দুল্লাহ আল-ইয়াশকরী।

৩ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল হুসাইন আব্দুল হক বিন আব্দুল খালিক বিন আহমদ বিন আব্দুল কাদির বিন মুহাম্মদ বিন ইউসুফ আল-ইউসুফী আল-বাগদাদী সেখানে; আমাদের অবহিত করেছেন আবুল গনায়েম মুহাম্মদ বিন আলী বিন মাইমুন আল-কুরাশী; আমাদের অবহিত করেছেন আবু আহমদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব বিন মুহাম্মদ বিন মুসা আল-গুনদাজানী; আমাদের অবহিত করেছেন আবু বকর আহমদ বিন আবদান বিন মুহাম্মদ বিন আল-ফারাজ আল-শিরাজী আল-হাফিয; আমাদের অবহিত করেছেন আবু আল-হাসান মুহাম্মদ বিন সাহল আল-মুকরী; আমাদের অবহিত করেছেন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন ইসমাঈল আল-বুখারী, তিনি বলেন: আবু আল-ইয়ামান বলেছেন: আমাদের অবহিত করেছেন শুআইব, আব্দুল্লাহ থেকে।
(খণ্ড: ১) ফাযায়িলু শাহরি রামাদান লি আবদিল গানি আল-মাকদিসী (পৃষ্ঠা: ٤١)
بْنِ أَبِي حُسَيْنٍ، حَدَّثَنَا عِيسَى بْنُ طَلْحَةَ، عَنْ عَمْرِو بْنِ مُرَّةَ الْجُهَنِيِّ، قَالَ: جَاءَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم رَجُلٌ مِنْ قُضَاعَةَ، فَقَالَ: شَهِدْتُ أَنْ لا إِلَهَ إِلا اللَّهُ، وَأَنَّكَ رَسُولُ اللَّهِ، وَصَلَّيْتُ الصَّلَوَاتِ الْخَمْسَ، وَصُمْتُ الشَّهْرَ، وَقُمْتُ رَمَضَانَ ، وَآتَيْتُ الزَّكَاةَ.

قَالَ: فَقَالَ لَهُ: «مَنْ مَاتَ عَلَى هَذَا كَانَ مِنَ الصِّدِّيقِينَ وَالشُّهَدَاءِ»

4 - أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ النَّقُّورِ الْبَزَّازُ الْبَغْدَادِيُّ بِهَا، أَنْبَأَنَا أَبُو طَالِبٍ عَبْدُ الْقَادِرِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ يُوسُفَ، أَنْبَأَنَا أَبُو عَلِيٍّ الْحَسَنُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ الْمُذْهِبِ التَّمِيمِيُّ، أَنْبَأَنَا أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ جَعْفَرِ بْنِ حَمْدَانَ بْنِ مَالِكٍ الْقَطِيعِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنِي أَبِي، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ سَالِمِ بْنِ أَبِي الْجَعْدِ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ بِشْرٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ: " بُنِيَ الإِسْلامُ عَلَى خَمْسٍ: شَهَادَةِ أَلا إِلَهَ إِلا اللَّهُ، وَإِقَامِ الصَّلاةِ، وَإِيتَاءِ الزَّكَاةِ، وَحَجِّ الْبَيْتِ، وَصَوْمِ رَمَضَانَ ".

قَالَ: فَقَالَ لَهُ رَجُلٌ: وَالْجِهَادُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ عز وجل؟ ، فَقَالَ: «الْجِهَادُ حَسَنٌ؛ هَكَذَا حَدَّثَنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم»
...ইবনে আবু হুসাইন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ঈসা ইবনে তালহা, তিনি আমর ইবনে মুররাহ আল-জুহানি থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: কুযাআ গোত্রের এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এসে বলল, "আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই এবং আপনি আল্লাহর রাসূল। আমি পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করেছি, (রমযান) মাসের সিয়াম পালন করেছি, রমজানের রাতে কিয়াম (সালাত) আদায় করেছি এবং যাকাত প্রদান করেছি।"

তিনি বলেন: অতঃপর তিনি (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে বললেন: "যে ব্যক্তি এর ওপর মৃত্যুবরণ করবে, সে সিদ্দীকীন এবং শহীদদের অন্তর্ভুক্ত হবে।"

৪ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে আন-নাক্কুর আল-বাযযার আল-বাগদাদি সেখানে, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু তালিব আবদুল কাদির ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আলি আল-হাসান ইবনে আলি ইবনুল মুযহিব আত-তামিমি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর আহমদ ইবনে জাফর ইবনে হামদান ইবনে মালিক আল-কাতীয়ি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ ইবনে আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে হাম্বল, আমার নিকট বর্ণনা করেছেন আমার পিতা, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ওয়াকি, সুফিয়ান থেকে, তিনি মনসুর থেকে, তিনি সালিম ইবনে আবিল জাদ থেকে, তিনি ইয়াযিদ ইবনে বিশর থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "ইসলাম পাঁচটি স্তম্ভের ওপর নির্মিত: এই সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, সালাত কায়েম করা, যাকাত প্রদান করা, বাইতুল্লাহর হাজ্জ করা এবং রমযানের সিয়াম পালন করা।"

তিনি বলেন: তখন এক ব্যক্তি তাকে বলল: আর মহান আল্লাহর পথে জিহাদ? তিনি বললেন: "জিহাদ উত্তম; এভাবেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন।"
(খণ্ড: ১) ফাযায়িলু শাহরি রামাদান লি আবদিল গানি আল-মাকদিসী (পৃষ্ঠা: ٤٢)
5 - أَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ حَمْزَةَ بْنِ أَبِي حُمَيْدٍ الْقُرَشِيُّ الدِّمَشْقِيُّ، أَنْبَأَنَا أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ الْمُسَلَّمِ السُّلَمِيُّ، أَنْبَأَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ أَحْمَدَ التَّمِيمِيُّ، أَنْبَأَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ أَبِي نَصْرٍ، أَنْبَأَنَا جَعْفَرُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عُدُسٍ الْكِنْدِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو زَيْدٍ عَبْدُ الرَّحِيمِ بْنُ أَحْمَدَ الْحَوْطِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو الْهَيْثَمِ، حَدَّثَنَا أَبُو مَعْشَرٍ، عَنْ سَعِيدٍ الْمَقْبُرِيِّ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: «نِعْمَ الشَّهْرُ شَهْرُ رَمَضَانَ، تُفَتَّحُ فِيهِ أَبْوَابُ الْجَنَّةِ، وَتُغَلَّقُ فِيهِ أَبْوَابُ النَّارِ، وَتُصَفَّدُ فِيهِ الشَّيَاطِينُ، وَيُغْفَرُ فِيهِ، إِلا لِمَنْ أَبَى» .

قَالُوا: مَنْ يَأْبَى يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ قَالَ: «الَّذِي لا يَسْتَغْفِرُ»

6 - أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ النَّقُّورِ، أَنْبَأَنَا عَبْدُ الْقَادِرِ بْنُ مُحَمَّدٍ، أَنْبَأَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ، أَنْبَأَنَا أَحْمَدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا عَفَّانُ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، أَنْبَأَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرٍو ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ، قَالَ: وَثَابِتٌ ، عَنِ الْحَسَنِ ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: «مَنْ صَامَ رَمَضَانَ إِيمَانًا
৫ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন হামজাহ বিন আবি হুমাইদ আল-কুরাশি আদ-দিমাশকি, আমাদের জানিয়েছেন আবু আল-হাসান আলী বিন আল-মুসলিম আস-সুলামি, আমাদের জানিয়েছেন আব্দুল আজিজ বিন আহমদ আত-তামিমি, আমাদের জানিয়েছেন আবু মুহাম্মদ আব্দুর রহমান বিন আবি নাসর, আমাদের জানিয়েছেন জাফর বিন মুহাম্মদ বিন উদুস আল-কিন্দি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু যাইদ আব্দুর রহিম বিন আহমদ আল-হাওতি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আল-হাইসাম, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু মাশার, সাঈদ আল-মাকবুরি থেকে, তিনি আবু হুরাইরাহ থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: "রমজান মাস কতই না চমৎকার মাস! এতে জান্নাতের দরজাসমূহ উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়, জাহান্নামের দরজাসমূহ বন্ধ করে দেওয়া হয়, শয়তানদের শৃঙ্খলিত করা হয় এবং এতে ক্ষমা করা হয়—কেবল তাকে ছাড়া যে অস্বীকার করে।"

তারা জিজ্ঞেস করলেন: হে আল্লাহর রাসুল! কে অস্বীকার করে? তিনি বললেন: "যে ক্ষমা প্রার্থনা করে না।"

৬ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন আন-নাক্কুর, আমাদের জানিয়েছেন আব্দুল কাদির বিন মুহাম্মদ, আমাদের জানিয়েছেন আল-হাসান বিন আলী, আমাদের জানিয়েছেন আহমদ বিন জাফর, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আমার পিতা, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আফফান, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাম্মাদ বিন সালামাহ, আমাদের জানিয়েছেন মুহাম্মদ বিন আমর, তিনি আবু সালামাহ থেকে, তিনি আবু হুরাইরাহ থেকে যে, আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন; এবং ছাবিত থেকে, তিনি হাসান থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: "যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে রমজানের রোজা রাখবে..."
(খণ্ড: ১) ফাযায়িলু শাহরি রামাদান লি আবদিল গানি আল-মাকদিসী (পৃষ্ঠা: ٤٣)
وَاحْتِسَابًا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ وَمَا تَأَخَّرَ»

7 - أَخْبَرَنَا الْحَافِظُ أَبُو طَاهِرٍ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ السِّلَفِيُّ، أَنْبَأَنَا أَبُو الْخَطَّابِ نَصْرُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْبَطِرِ الْقَارِي، بِبَغْدَادَ، أَنْبَأَنَا أَبُو الْحَسَنِ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ رِزْقُوَيْهِ الْبَزَّازُ، حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ سَلْمَانَ الْفَقِيهُ النَّجَّارُ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ السُّلَمِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ الْفَضْلُ بْنُ دُكَيْنٍ،، حَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ الْجَهْضَمِيُّ، حَدَّثَنِي النَّضْرُ بْنُ شَيْبَانَ، أَنَّهُ لَقِيَ أَبَا سَلَمَةَ بْنَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ، فَقَالَ: حَدِّثْنِي أَفْضَلَ شَيْءٍ سَمِعْتَهُ يُذْكَرُ فِي رَمَضَانَ، فَقَالَ أَبُو سَلَمَةَ: حَدَّثَنِي عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَوْفٍ رضي الله عنه ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ذَكَرَ رَمَضَانَ ، فَفَضَّلَهُ عَلَى الأَشْهُرِ بِمَا فَضَّلَهُ اللَّهُ عز وجل بِهِ، وَقَالَ: «إِنَّ شَهْرَ رَمَضَانَ فَرَضَ اللَّهُ صِيَامَهُ عَلَى الْمُسْلِمِينَ، وَسَنَنْتُ قِيَامَهُ، فَمَنْ صَامَهُ وَقَامَهُ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا خَرَجَ مِنْ ذُنُوبِهِ كَيَوْمِ وَلَدَتْهُ أُمُّهُ»
এবং সওয়াবের প্রত্যাশায়, তবে তার পূর্বের ও পরের গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়।

৭ - হাফিজ আবু তাহির আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আহমাদ আস-সিলাফী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যে, আবু আল-খাত্তাব নাসর ইবনে আহমাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনুল বাতির আল-ক্বারী বাগদাদে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যে, আবু আল-হাসান মুহাম্মাদ ইবনে আহমাদ ইবনে রিজকুওয়াইহি আল-বাযযার আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আহমাদ ইবনে সালমান আল-ফকিহ আন-নাজ্জার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মাদ ইবনে ইসমাঈল আস-সুলামী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু নুআইম আল-ফাযল ইবনে দুকাইন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, নাসর ইবনে আলী আল-জাহযামী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আন-নাযর ইবনে শায়বান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যে, তিনি আবু সালামাহ ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে আউফের সাথে সাক্ষাৎ করেন এবং তাকে বলেন: আপনি রমযান সম্পর্কে যা শুনেছেন তার মধ্যে সর্বোত্তম বিষয়টি আমার নিকট বর্ণনা করুন। তখন আবু সালামাহ বলেন: আব্দুর রহমান ইবনে আউফ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) রমযান মাসের উল্লেখ করেছেন এবং আল্লাহ তাআলা একে যে মর্যাদা দান করেছেন তার মাধ্যমে তিনি একে অন্যান্য মাসের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন। তিনি বলেন: «নিশ্চয় রমযান মাস এমন মাস যার রোজা আল্লাহ মুসলিমদের ওপর ফরজ করেছেন এবং আমি এর কিয়ামকে (রাতের নামায) সুন্নাত করেছি। সুতরাং যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে ও সওয়াবের আশায় রোজা রাখবে এবং কিয়াম করবে, সে তার গুনাহসমূহ থেকে এমনভাবে মুক্ত হয়ে বের হবে যেন আজই সে তার মায়ের গর্ভ থেকে ভূমিষ্ঠ হয়েছে»
(খণ্ড: ১) ফাযায়িলু শাহরি রামাদান লি আবদিল গানি আল-মাকদিসী (পৃষ্ঠা: ٤٤)
8 - أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ، أَنْبَأَنَا نَصْرُ بْنُ أَحْمَدَ، أَنْبَأَنَا مُحَمَّدٌ، حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ سَلْمَانَ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ أَبِي طَالِبٍ، أَنْبَأَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ بْنُ عَطَاءٍ، أَنْبَأَنَا سَعِيدٌ الْجُرَيْرِيُّ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الشِّخِّيرِ، قَالَ: لَقِيَنِي رَجُلٌ بِذَاتِ عِرْقٍ فَحَدَّثَنِي عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ، قَالَ: «أَوْضَعَ مَا يُصِيبُ صَاحِبُ شَهْرِ رَمَضَانَ إِذَا أَحْسَنَ صِيَامَهُ وَقِيَامَهُ أَنْ يَخْرُجَ مِنْ ذُنُوبِهِ كَيَوْمِ وَلَدَتْهُ أُمُّهُ»

9 - أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ، حَدَّثَنَا نَصْرٌ، أَنْبَأَنَا مُحَمَّدٌ، حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ سَلْمَانَ الْفَقِيهُ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُثْمَانَ بْنِ أَبِي شَيْبَةَ الْعَبْسِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو بِلالٍ الأَشْعَرِيُّ، حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْكِنْدِيُّ، عَنِ ابْنِ أَيُّوبَ الْبَجَلِيِّ، عَنْ عَامِرٍ الشَّعْبِيِّ، عَنْ نَافِعِ بْنِ بُرْدَةَ، عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ ، قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ، يَقُولُ وَدَخَلَ شَهْرُ رَمَضَانَ، فَقَالَ: «لَوْ يَعْلَمُ النَّاسُ مَا لَهُمْ فِي شَهْرِ رَمَضَانَ لَتَمَنَّتْ أُمَّتِي أَنْ تَكُونَ السَّنَةُ كُلُّهَا شَهْرَ رَمَضَانَ. . .» ، ثُمَّ ذَكَرَ الْحَدِيثَ
8 - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আহমাদ, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন নাসর ইবনে আহমাদ, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমাদ ইবনে সালমান, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া ইবনে আবি তালিব, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্দুল ওয়াহহাব ইবনে আতা, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন সাঈদ আল-জুরায়রি, ইয়াজিদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আশ-শিখখির থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: যাত ইরাক নামক স্থানে এক ব্যক্তির সাথে আমার সাক্ষাৎ হয় এবং তিনি আবু হুরায়রা থেকে আমার নিকট বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: «রমজান মাস পালনকারী ব্যক্তি যদি তার রোজা ও কিয়াম যথাযথভাবে সম্পাদন করে, তবে তার সর্বনিম্ন প্রতিদান হলো সে তার গুনাহসমূহ থেকে এমনভাবে মুক্ত হয়ে বের হয় যেন আজই তার মা তাকে জন্ম দিয়েছেন।»

9 - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আহমাদ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন নাসর, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ফকিহ আহমাদ ইবনে সালমান, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে উসমান ইবনে আবি শায়বা আল-আবসি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু বিলাল আল-আশআরি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-হাসান ইবনে আব্দুল্লাহ আল-কিন্দি, ইবনে আইয়ুব আল-বাজালি থেকে, তিনি আমির আশ-শা’বি থেকে, তিনি নাফি ইবনে বুরদাহ থেকে, তিনি ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি—যখন রমজান মাস প্রবেশ করল, তখন তিনি বললেন: «যদি মানুষ জানত রমজান মাসে তাদের জন্য কী (ফজিলত) রয়েছে, তবে আমার উম্মত অবশ্যই আকাঙ্ক্ষা করত যেন পুরো বছরটিই রমজান মাস হতো...», এরপর তিনি হাদিসটি উল্লেখ করেন।
(খণ্ড: ১) ফাযায়িলু শাহরি রামাদান লি আবদিল গানি আল-মাকদিসী (পৃষ্ঠা: ٤٥)
10 - أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ، أَنْبَأَنَا أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيِّ بْنِ الْعَلافِ، بِبَغْدَادَ، أَنْبَأَنَا أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ عُمَرَ الْحَمَّامِيُّ الْمُقْرِي، أَنْبَأَنَا أَبُو إِسْحَاقَ إِبْرَاهِيمُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ الْحَسَنِ بْنِ مِهْرَانَ الْقِرْمِيسِينِيُّ، بِالْمَوْصِلِ، حَدَّثَنَا أَبُو مُحَمَّدِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْحَسَنِ بْنِ النُّعْمَانِ الْقَزَّازُ، إِمْلاءً، حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ عَيَّاشٍ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ، قَالَ: " إِذَا كَانَ شَهْرُ رَمَضَانَ صُفِّدَتِ الشَّيَاطِينُ، وَمَرَدَةُ الْجِنِّ، وَغُلِّقَتْ أَبْوَابُ النَّارِ، فَلَمْ يُفْتَحْ مِنْهَا بَابٌ، وَفُتِّحَتْ أَبْوَابُ الْجَنَّةِ، فَلَمْ يُغْلَقْ مِنْهَا بَابٌ، وَيُنَادِي مُنَادٍ: يَا بَاغِيَ الْخَيْرِ أَقْبِلْ، وَيَا بَاغِيَ الشَّرِّ أَقْصِرْ، وَللَّهِ عُتَقَاءُ مِنَ النَّارِ فِي كُلِّ لَيْلَةٍ "
১০ - আহমদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবুল হাসান আলী বিন মুহাম্মদ বিন আলী বিন আল-আল্লাফ বাগদাদে আমাদের অবহিত করেছেন, আবুল হাসান আলী বিন আহমদ বিন উমর আল-হাম্মামী আল-মুকরি আমাদের অবহিত করেছেন, আবু ইসহাক ইব্রাহিম বিন আহমদ বিন আল-হাসান বিন মিহরান আল-কিরমিসিনি মসুলে আমাদের অবহিত করেছেন, আবু মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আল-হাসান বিন আন-নুমান আল-কাযযায শ্রুতলিপি প্রদানের মাধ্যমে আমাদের হাদিস বর্ণনা করেছেন, আবু কুরাইব আমাদের হাদিস বর্ণনা করেছেন, আবু বকর বিন আইয়াশ আমাদের হাদিস বর্ণনা করেছেন, আমাশ থেকে, তিনি আবু সালিহ থেকে, তিনি আবু হুরাইরা থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: "যখন রমজান মাস আসে, শয়তান ও অবাধ্য জিনদের শৃঙ্খলাবদ্ধ করা হয়, জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং তার কোনো দরজাই খোলা রাখা হয় না। জান্নাতের দরজাগুলো খুলে দেওয়া হয় এবং তার কোনো দরজাই বন্ধ করা হয় না। আর একজন ঘোষণাকারী ঘোষণা করেন: হে কল্যাণের অন্বেষী, অগ্রসর হও! হে মন্দের অন্বেষী, বিরত হও! আর প্রত্যেক রাতে আল্লাহর পক্ষ থেকে জাহান্নাম থেকে মুক্তিপ্রাপ্ত অনেক লোক থাকে।"
(খণ্ড: ১) ফাযায়িলু শাহরি রামাদান লি আবদিল গানি আল-মাকদিসী (পৃষ্ঠা: ٤٦)
11 - أَخْبَرَنَا أَبُو الْقَاسِمِ هِبَةُ اللَّهِ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ هِلالٍ الدَّقَّاقُ، أَنْبَأَنَا أَبُو الْحَسَنِ عَاصِمُ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ عَاصِمٍ، أَنْبَأَنَا أَبُو عُمَرَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَهْدِيٍّ، أَنْبَأَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ مَخْلَدٍ الْعَطَّارُ الدُّورِيُّ، حَدَّثَنَا طَاهِرُ بْنُ خَالِدِ بْنِ نِزَارٍ الأَيْلِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو عَلِيٍّ أَحْمَدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا زَكَرِيَّا، يَعْنِي ابْنَ نَافِعٍ، حَدَّثَنَا عَبَّادٌ يَعْنِي الْخَوَّاصَ، عَنِ ابْنِ عَوْنٍ، عَنْ أَبِي قِلابَةَ ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم ، قَالَ: «قَدْ جَاءَكُمْ شَهْرُ رَمَضَانَ افْتَرَضَ اللَّهُ عَلَيْكُمْ صِيَامَهُ، تُفَتَّحُ فِيهِ أَبْوَابُ السَّمَاءِ، وَتُغَلُّ فِيهِ الشَّيَاطِينُ، وَتُغَلَّقُ فِيهِ أَبْوَابُ الْجَحِيمِ، وَفِيهِ لَيْلَةٌ خَيْرٌ مِنْ أَلْفِ شَهْرٍ»

12 - أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ مَحْجُوبٍ الْمُسَدِّيُّ بِالْحُرَيْمِ الطَّاهِرِيِّ، مِنْ غَرْبِيِّ بَغْدَادَ، حَدَّثَنَا الشَّرِيفُ أَبُو الْعِزِّ مُحَمَّدُ بْنُ الْمُخْتَارِ بْنِ الْمُؤَيَّدِ بِاللَّهِ، أَنْبَأَنَا أَبُو عَلِيٍّ الْحَسَنُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ الْمُذْهِبِ التَّمِيمِيُّ، حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ عُثْمَانَ، حَدَّثَنَا أَبُو عَلِيٍّ مُحَمَّدُ بْنُ سَعْدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْحَرَّانِيُّ
১১ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল কাসেম হিবাতুল্লাহ বিন আল-হাসান বিন হিলাল আদ-দাক্কাক, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল হাসান আসিম বিন আল-হাসান বিন আসিম, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু উমর আবদুর রহমান বিন মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ বিন মাহদী, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ বিন মাখলাদ আল-আত্তার আদ-দুরী, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন তাহির বিন খালিদ বিন নিযার আল-আইলি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আলী আহমদ বিন ইবরাহিম, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যাকারিয়া—অর্থাৎ ইবনে নাফি—তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্বাদ—অর্থাৎ আল-খাওওয়াস—তিনি ইবনে আউন থেকে, তিনি আবু কিলাবাহ থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «তোমাদের নিকট রমজান মাস এসেছে, আল্লাহ তোমাদের ওপর এর সিয়াম ফরজ করেছেন। এতে আসমানের দরজাগুলো খুলে দেওয়া হয়, শয়তানদেরকে শৃঙ্খলিত করা হয় এবং জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়। আর এতে এমন একটি রাত রয়েছে যা হাজার মাসের চেয়েও উত্তম।»

১২ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর মুহাম্মদ বিন আলী বিন মাহজুব আল-মুসাদ্দি, আল-হুরাইম আত-তাহিরিতে, বাগদাদের পশ্চিম প্রান্ত থেকে। তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আশ-শরিফ আবুল ইজ্জ মুহাম্মদ বিন আল-মুখতার বিন আল-মুয়াইয়াদ বিল্লাহ। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আলী আল-হাসান বিন আলী বিন আল-মুযহিব আত-তামিমি। তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন উমর বিন আহমদ বিন উসমান। তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আলী মুহাম্মদ বিন সাদ বিন আবদুর রহমান আল-হাররানি।
(খণ্ড: ১) ফাযায়িলু শাহরি রামাদান লি আবদিল গানি আল-মাকদিসী (পৃষ্ঠা: ٤٧)
بِالرَّقَّةِ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْقردوَانِيُّ، حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ سَابِقٍ الْبَرْبَرِيِّ، عَنْ أَبَانٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ ، قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: «إِنَّ أَبْوَابَ الْجِنَانِ تُفْتَحُ فِي أَوَّلِ لَيْلَةٍ مِنْ رَمَضَانَ إِلَى آخِرِ لَيْلَةٍ مِنْهُ، فَلا يُغْلَقُ مِنْهَا بَابٌ، وَتُغْلَقُ أَبْوَابُ جَهَنَّمَ مِنْ أَوَّلِ لَيْلَةٍ مِنْ رَمَضَانَ إِلَى آخِرِ لَيْلَةٍ مِنْهُ، فَلا يُفْتَحُ مِنْهَا بَابٌ، وَتُغَلُّ مَرَدَةُ الشَّيَاطِينِ؛ بِحَقِّ رَمَضَانَ وَرَحْمَتِهِ وَيَبْعَثُ اللَّهُ مُنَادِيًا يُنَادِي فِي السَّمَاءِ الدُّنْيَا كُلَّ لَيْلَةٍ مِنْ غُرُوبِ الشَّمْسِ إِلَى طُلُوعِ الْفَجْرِ يَا بَاغِيَ الْخَيْرِ هَلُمَّ، هَلْ مِنْ دَاعٍ يُسْتَجَابُ لَهُ، مِنْ سَائِلٍ يُعْطَى سُؤْلَهُ، مِنْ مُسْتَغْفِرٍ يُغْفَرُ لَهُ، مِنْ تَائِبٍ يُتَابُ عَلَيْهِ، وَللَّهِ تَعَالَى عُتَقَاءُ عِنْدَ وَقْتِ فَجْرِ كُلِّ لَيْلَةٍ مِنْ شَهْرِ رَمَضَانَ، عِبَادٌ وَإِمَاءٌ»

13 - أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدٍ، أَنْبَأَنَا نَصْرُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ الْبَطِرِ ، أَنْبَأَنَا أَبُو الْحَسَنِ بْنُ رِزْقُوَيْهِ، حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ سَلْمَانَ الْفَقِيهُ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ جَعْفَرِ بْنِ أَبِي طَالِبٍ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ، أَنْبَأَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ بْنُ عَطَاءٍ، حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ أَبِي عَرُوبَةَ، عَنْ قَتَادَةَ، قَالَ: " ذُكِرَ لَنَا لَيَالِي رَمَضَانَ وَنَهَارُهَا، تُفْتَحُ فِيهَا أَبْوَابُ السَّمَاءِ، فَيُنَادِي مُنَادٍ كُلَّ لَيْلَةٍ مِنْ أَوَّلِ اللَّيْلِ: هَلْ مِنْ دَاعٍ فَيُسْتَجَابَ لَهُ، هَلْ مِنْ
রাক্কাহতে, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ আল-কুরদওয়ানি, তিনি বলেন, আমার নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আমার পিতা, সাবিক আল-বারবারী থেকে, তিনি আবান থেকে, তিনি সাঈদ বিন জুবায়ের থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ বিন উমর (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: «নিশ্চয়ই জান্নাতের দরজাসমূহ রমজানের প্রথম রাত থেকে তার শেষ রাত পর্যন্ত খোলা রাখা হয়, ফলে তার কোনো দরজাই বন্ধ করা হয় না। আর জাহান্নামের দরজাসমূহ রমজানের প্রথম রাত থেকে তার শেষ রাত পর্যন্ত বন্ধ রাখা হয়, ফলে তার কোনো দরজাই খোলা হয় না। আর অবাধ্য শয়তানদের শিকলবদ্ধ করা হয়; রমজানের হক ও তার রহমতের কারণে। আর আল্লাহ তাআলা প্রতি রাতে সূর্যাস্ত থেকে ফজর পর্যন্ত দুনিয়ার আসমানে একজন ঘোষণাকারী পাঠান যিনি ঘোষণা করতে থাকেন: হে কল্যাণের অন্বেষী, অগ্রসর হও। কোনো দোয়াকারী আছে কি যার দোয়া কবুল করা হবে? কোনো যাঞ্চাকারী আছে কি যাকে তার যাচিত বস্তু প্রদান করা হবে? কোনো ক্ষমা প্রার্থনাকারী আছে কি যাকে ক্ষমা করা হবে? কোনো তওবাকারী আছে কি যার তওবা কবুল করা হবে? আর রমজান মাসের প্রতি রাতের ফজরের সময় আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে জাহান্নাম থেকে মুক্তিপ্রাপ্ত অনেক বান্দা ও বান্দী রয়েছে।»

১৩ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আহমদ বিন মুহাম্মদ, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন নাসর বিন আহমদ বিন আল-বাত্বির, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল হাসান বিন রিজকুওয়াইহ, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আহমদ বিন সালমান আল-ফকীহ, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া বিন জাফর বিন আবি তালিব—তার নিকট পাঠ করার মাধ্যমে—আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্দুল ওয়াহহাব বিন আতা, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন সাঈদ বিন আবি আরূবাহ, তিনি কাতাদাহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "আমাদের নিকট রমজানের রাতসমূহ ও তার দিনগুলোর কথা উল্লেখ করা হয়েছে যে, এতে আকাশের দরজাসমূহ খুলে দেওয়া হয়। অতঃপর প্রতি রাতে রাতের শুরু থেকে একজন ঘোষণাকারী ঘোষণা করতে থাকে: কোনো দোয়াকারী আছে কি যার দোয়া কবুল করা হবে? কোনো...
(খণ্ড: ১) ফাযায়িলু শাহরি রামাদান লি আবদিল গানি আল-মাকদিসী (পৃষ্ঠা: ٤٨)
سَائِلٍ فَيُعْطَى سُؤْلَهُ، هَلْ مِنْ مُسْتَغْفِرٍ فَيُغْفَرَ لَهُ، وَكَانَ يُقَالُ: مَنْ لَمْ يُغْفَرْ لَهُ فِي رَمَضَانَ فَلَنْ يُغْفَرَ لَهُ "

14 - أَخْبَرَنَا أَبُو الْقَاسِمِ هِبَةُ اللَّهِ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ هِلالٍ الدَّقَّاقُ، بِبَغْدَادَ، أَنْبَأَنَا أَبُو الْفَضْلِ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَلِيِّ بْنِ ذِكْرَى، أَنْبَأَنَا أَبُو الْحُسَيْنِ عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بِشْرَانَ، أَنْبَأَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرِو بْنِ الْبُحْتُرِيِّ، حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ الْوَلِيدِ الْفَحَّامُ، حَدَّثَنَا أَبُو أَحْمَدَ الزُّبَيْرِيُّ، حَدَّثَنَا كَثِيرُ بْنُ زَيْدٍ ، عَنْ عَمْرِو بْنِ تَمِيمٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «أَظَلَّكُمْ شَهْرُكُمْ هَذَا، بِمَحْلُوفِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، مَا مَرَّ عَلَى الْمُسْلِمِينَ شَهْرٌ خَيْرٌ لَهُمْ مِنْهُ، بِمَحْلُوفِ رَسُولِ اللَّهِ، إِنَّ اللَّهَ يَكْتُبُ أَجْرَهُ وَثَوَابَهُ مِنْ قَبْلِ أَنْ يَدْخُلَ؛ وَذَلِكَ أَنَّ الْمُؤْمِنَ يُعِدُّ فِيهِ النَّفَقَةَ لِلْقُوَّةِ فِي الْعِبَادَةِ، وَيُعِدُّ الْمُنَافِقُ فِيهِ اغْتِيَابَ الْمَؤْمِنِينَ، وَاتِّبَاعَ عَوْرَاتِهِمْ؛ فَهُوَ غُنْمٌ لِلْمُؤْمِنِ، وَمَعْصِيَةٌ لِلْفَاجِرِ» ، يَعْنِي: شَهْرَ رَمَضَانَ
যাচনাকারী কি আছে যাকে তার প্রার্থনা দান করা হবে? ক্ষমা প্রার্থনাকারী কি আছে যাকে ক্ষমা করা হবে? এবং বলা হতো: যাকে রমজানে ক্ষমা করা হয়নি, তাকে কখনই ক্ষমা করা হবে না।

১৪ - বাগদাদে আবুল কাসিম হিবাতুল্লাহ ইবনুল হাসান ইবনে হিলাল আদ-দাক্কাক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবুল ফাদল আব্দুল্লাহ ইবনে আলী ইবনে জিকরা আমাদের জানিয়েছেন, আবুল হুসাইন আলী ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে বিশরান আমাদের জানিয়েছেন, মুহাম্মদ ইবনে আমর ইবনুল বুখতুরি আমাদের জানিয়েছেন, আহমদ ইবনুল ওয়ালিদ আল-ফাহহাম আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, আবু আহমদ আজ-জুবাইরি আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, কাসীর ইবনে যাইদ আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আমর ইবনে তামীম থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "তোমাদের এই মাসটি তোমাদের নিকট উপস্থিত হয়েছে; রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর শপথ, মুসলমানদের ওপর এর চেয়ে উত্তম কোনো মাস অতিবাহিত হয়নি। রাসূলুল্লাহর শপথ, নিশ্চয়ই আল্লাহ এটি প্রবেশের পূর্বেই এর প্রতিদান ও সওয়াব লিখে রাখেন; আর তা একারণে যে, মুমিন এতে ইবাদতের শক্তির জন্য পাথেয় প্রস্তুত করে, আর মুনাফিক এতে মুমিনদের গীবত করা এবং তাদের দোষত্রুটি অন্বেষণ করার প্রস্তুতি নেয়। সুতরাং এটি মুমিনের জন্য গনীমত এবং পাপাচারীর জন্য অবাধ্যতা।" অর্থাৎ: রমজান মাস।
(খণ্ড: ১) ফাযায়িলু শাহরি রামাদান লি আবদিল গানি আল-মাকদিসী (পৃষ্ঠা: ٤٩)
15 - أَخْبَرَنَا ابْنُ النَّقُّورِ، أَنْبَأَنَا ابْنُ يُوسُفَ، أَنْبَأَنَا ابْنُ الْمُذْهِبِ، أَنْبَأَنَا ابْنُ مَالِكٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ، حَدَّثَنِي أَبِي، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، حَدَّثَنَا مَعْمَرٌ ، عَنِ الزُّهْرِيِّ ، عَنِ ابْنِ أَبِي أُنَيْسٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «إِذَا دَخَلَ شَهْرُ رَمَضَانَ فُتِحَتْ أَبْوَابُ الرَّحْمَةِ، وَأُغْلِقَتْ أَبْوَابُ جَهَنَّمَ، وَسُلْسِلَتِ الشَّيَاطِينُ» .

ابْنُ أَبِي أُنَيْسٍ اسْمُهُ نَافِعٌ

16 - أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْحَافِظُ، أَنْبَأَنَا أَبُو مُطِيعٍ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْوَاحِدِ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ الْمِصْرِيُّ، بِأَصْبَهَانَ، حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْمُعَدَّلُ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ جَعْفَرِ بْنِ فَارِسٍ، حَدَّثَنَا أَبُو مَسْعُودٍ الرَّازِيُّ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ يَزِيدَ الْقَطَّانُ، حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ الأَشْعَثِ، حَدَّثَنَا جَعْفَرُ بْنُ غِيَاثٍ، عَنْ كَثِيرِ بْنِ زَيْدٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ تَمِيمٍ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا هُرَيْرَةَ رضي الله عنه يَقُولُ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ إِذَا دَنَا رَمَضَانُ: «قَدْ أَظَلَّكُمْ شَهْرُ رَمَضَانَ فَاغْتَنِمُوهَ، بِمَحْلُوفِ رَسُولِ اللَّهِ، مَا دَخَلَ عَلَى الْمُسْلِمِينَ شَهْرٌ قَطُّ خَيْرٌ لَهُمْ مِنْهُ، وَلا دَخَلَ عَلَى الْمُنَافِقِينَ شَهْرٌ شَرٌّ مِنْهُ، بِمَحْلُوفِ رَسُولِ اللَّهِ، إِنَّ
১৫ - ইবনুন নাক্কুর আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ইবনু ইউসুফ আমাদের জানিয়েছেন, ইবনুল মুযহিব আমাদের জানিয়েছেন, ইবনু মালিক আমাদের জানিয়েছেন, আবদুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আমার পিতা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, আবদুর রাজ্জাক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মা’মার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যুহরী থেকে, তিনি ইবনু আবী উনাইস থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «যখন রমজান মাস প্রবেশ করে, তখন রহমতের দরজাসমূহ খুলে দেওয়া হয়, জাহান্নামের দরজাসমূহ বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং শয়তানদেরকে শৃঙ্খলিত করা হয়»।

ইবনু আবী উনাইস—তাঁর নাম হলো নাফে’।

১৬ - আহমাদ বিন মুহাম্মাদ আল-হাফিয আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু মুতী’ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহিদ বিন আব্দুল আযীয আল-মিসরী আসবাহানে আমাদের জানিয়েছেন, আবু বকর মুহাম্মাদ বিন আহমাদ বিন আব্দুর রহমান আল-মুআদ্দাল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আব্দুল্লাহ বিন জাফর বিন ফারিস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু মাসউদ আর-রাযী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইসমাঈল বিন ইয়াযীদ আল-কাত্তান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইব্রাহীম বিন আল-আশ’আস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, জাফর বিন গিয়াস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন কাসীর বিন যায়েদ থেকে, তিনি আমর বিন তামীম থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে বলতে শুনেছেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রমজান ঘনিয়ে আসলে বলতেন: «রমজান মাস তোমাদের ছায়া দিচ্ছে (নিকটবর্তী হয়েছে), সুতরাং তোমরা একে গনীমত হিসেবে গ্রহণ করো। রাসূলুল্লাহর শপথের কসম, মুসলমানদের ওপর এমন কোনো মাস কখনো আসেনি যা তাদের জন্য এর চেয়ে উত্তম, আর মুনাফিকদের ওপর এমন কোনো মাস কখনো আসেনি যা তাদের জন্য এর চেয়ে নিকৃষ্ট। রাসূলুল্লাহর শপথের কসম, নিশ্চয়...»
(খণ্ড: ১) ফাযায়িলু শাহরি রামাদান লি আবদিল গানি আল-মাকদিসী (পৃষ্ঠা: ٥٠)
اللَّهَ عز وجل يَكْتُبُ لِلْمُؤْمِنِ أَجْرَهُ وَنَوَافِلَهُ مِنْ قَبْلِ أَنْ يُدْخِلَهُ، وَيَكْتُبَ لِلْمُنَافِقِ شَقَاءَهُ وَوِزْرَهُ مِنْ قَبْلِ أَنْ يُدْخِلَهُ، وَذَلِكَ أَنَّ الْمُؤْمِنَ يُعِدُّ فِيهِ الْقُوَّةَ عَلَى الْعِبَادَةِ، وَالْكَفَّ عَنِ الأَذَى ، وَالانْبِسَاطَ فِي النَّفَقَةِ، وَيُعِدُّ فِيهِ الْمُنَافِقُ اتِّبَاعَ غَفَلاتِ الْمُؤْمِنِينَ، وَاتِّبَاعَ عَوْرَاتِهِمْ، وَالتَّفَرُّغَ لأَذَى الْمُسْلِمِينَ، وَهُوَ غُنْمٌ لِلْمُؤْمِنِ وَنِقْمَةٌ لِلْفَاجِرِ»

17 - أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ النَّقُّورِ، أَنْبَأَنَا أَبُو طَالِبِ بْنُ يُوسُفَ، أَنْبَأَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ، أَنْبَأَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ مَالِكٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنِي أَبِي رحمه الله، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا أَيُّوبُ، عَنْ أَبِي قِلابَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه، قَالَ: لَمَّا حَضَرَ رَمَضَانُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «قَدْ جَاءَكُمْ شَهْرُ رَمَضَانَ شَهْرٌ مُبَارَكٌ افْتَرَضَ اللَّهُ عَلَيْكُمْ صِيَامَهُ، تُفَتَّحُ فِيهِ أَبْوَابُ الْجَنَّةِ، وَتُغَلَّقُ فِيهِ أَبْوَابُ الْجَحِيمِ، وَتُغَلُّ فِيهِ الشَّيَاطِينُ، فِيهِ لَيْلَةٌ خَيْرٌ مِنْ أَلْفِ شَهْرٍ، مَنْ حُرِمَ خَيْرَهَا فَقَدْ حُرِمَ»

18 - أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدٍ، أَنْبَأَنَا نَصْرُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ الْبَطِرِ، أَنْبَأَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ رِزْقُوَيْهِ، حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ سَلْمَانَ الْفَقِيهُ، حَدَّثَنَا الْحَارِثُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ
মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহ মুমিনের জন্য তার প্রতিদান ও নফল আমলসমূহ তা (রমজান) প্রবেশের পূর্বেই লিখে দেন, আর মুনাফিকের জন্য তার দুর্গতি ও পাপ তা প্রবেশের পূর্বেই লিখে দেন। এর কারণ হলো, মুমিন এতে ইবাদতের শক্তি সঞ্চয়, কষ্ট দেওয়া থেকে বিরত থাকা এবং মুক্তহস্তে ব্যয় করার প্রস্তুতি নেয়; আর মুনাফিক এতে মুমিনদের অসতর্কতা ও তাদের গোপন ত্রুটি তালাশ করা এবং মুসলমানদের কষ্ট দেওয়ার কাজে লিপ্ত হওয়ার প্রস্তুতি নেয়। এটি মুমিনের জন্য গনিমত (লাভ) এবং পাপাচারীর জন্য বিপদ স্বরূপ।

১৭ - আবু বকর বিন আন-নাক্কুর আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু তালিব বিন ইউসুফ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আল-হাসান বিন আলী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু বকর বিন মালিক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবদুল্লাহ বিন আহমাদ বিন হাম্বল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আমার পিতা (রহিমাহুল্লাহ) আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, ইসমাঈল বিন ইব্রাহিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আইয়ুব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু কিলাবাহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: যখন রমজান উপস্থিত হলো, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: “তোমাদের নিকট রমজান মাস এসেছে, এটি একটি বরকতময় মাস। আল্লাহ তোমাদের ওপর এর রোজা ফরজ করেছেন। এতে জান্নাতের দরজাসমূহ উন্মুক্ত করা হয় এবং জাহান্নামের দরজাসমূহ বন্ধ করে দেওয়া হয়, আর শয়তানদের শৃঙ্খলিত করা হয়। এতে এমন একটি রাত রয়েছে যা এক হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। যে ব্যক্তি এর কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হলো, সে প্রকৃতপক্ষেই বঞ্চিত হলো।”

১৮ - আহমাদ বিন মুহাম্মাদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, নাসর বিন আহমাদ বিন আল-বাতির আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মুহাম্মাদ বিন আহমাদ বিন রিজকুওয়াইহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আহমাদ বিন সালমান আল-ফকিহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আল-হারিস বিন মুহাম্মাদ বিন...
(খণ্ড: ১) ফাযায়িলু শাহরি রামাদান লি আবদিল গানি আল-মাকদিসী (পৃষ্ঠা: ٥١)
أَبِي أُسَامَةَ التَّمِيمِيُّ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، أَنْبَأَنَا هِشَامُ بْنُ أَبِي هِشَامٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ الأَسْوَدِ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " أُعْطِيَتْ أُمَّتِي خَمْسَ خِصَالٍ فِي شَهْرِ رَمَضَانَ: لَمْ تُعْطَهُنَّ أُمَّةٌ قَبْلَهُمْ: خُلُوفُ فَمِ الصَّائمِ أَطْيَبُ عِنْدَ اللَّهِ مِنْ رِيحِ الْمِسْكِ، وَتَسْتَغْفِرُ لَهُمُ الْمَلائِكَةُ حَتَّى يُفْطِرُوا، وَيُزَيِّنُ اللَّهُ كُلَّ يَوْمٍ جَنَّتَهُ ثُمَّ يَقُولُ: يُوشِكُ عِبَادِي الصَّالِحُونَ أَنْ يُلْقُوا عَنْهُمُ الْمَئُونَةَ وَالأَذَى، وَيَصِيرُوا إِلَيْكِ، وَتُصَفَّدُ فِيهِ مَرَدَةُ الشَّيَاطِينِ فَلا يَخْلُصُونَ فِيهِ إِلَى مَا كَانُوا يَخْلُصُونَ إِلَيْهِ مِنْ غَيْرِهِ، وَيُغْفَرُ لَهُمْ فِي آخِرِ لَيْلَةٍ ".

قِيلَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، أَفِي لَيْلَةِ الْقَدْرِ؟ قَالَ: «لا، وَلَكِنَّ الْعَامِلَ يُوَفَّى أَجْرَهُ إِذَا قَضَى عَمَلَهُ»

19 - أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْحَافِظُ، أَنْبَأَنَا نَصْرُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ الْبَطِرِ الْقَارِئُ، أَنْبَأَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ رِزْقُوَيْهِ، حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ سَلْمَانَ الْفَقِيهُ،
আবি উসামা আত-তামিমি, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন ইয়াজিদ ইবন হারুন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হিশাম ইবন আবি হিশাম, মুহাম্মদ ইবন মুহাম্মদ ইবন আল-আসওয়াদ থেকে, তিনি আবু সালামা ইবন আবদুর রহমান থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "রমজান মাসে আমার উম্মতকে পাঁচটি বৈশিষ্ট্য দান করা হয়েছে, যা তাদের পূর্ববর্তী কোনো উম্মতকে দেওয়া হয়নি: রোজাদারের মুখের গন্ধ আল্লাহর কাছে মিশকের সুগন্ধির চেয়েও অধিক প্রিয়, ফেরেশতারা তাদের ইফতার করা পর্যন্ত তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করতে থাকে, আল্লাহ প্রতিদিন তাঁর জান্নাতকে সজ্জিত করেন, অতঃপর বলেন: শীঘ্রই আমার নেককার বান্দারা তাদের কষ্ট ও ক্লেশ ছুঁড়ে ফেলে তোমার দিকে চলে আসবে, এতে উদ্ধত শয়তানদের জিঞ্জিরে আবদ্ধ করা হয়, ফলে তারা সেইসব পাপাচার করতে সক্ষম হয় না যা তারা অন্য সময়ে করতে সক্ষম হতো, এবং শেষ রাতে তাদের ক্ষমা করে দেওয়া হয়।"

জিজ্ঞেস করা হলো: হে আল্লাহর রাসূল, তা কি লাইলাতুল কদরে? তিনি বললেন: «না, বরং শ্রমিক যখন তার কাজ সম্পন্ন করে, তখন তাকে তার পারিশ্রমিক পূর্ণরূপে প্রদান করা হয়»

১৯ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আহমদ ইবন মুহাম্মদ আল-হাফিজ, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন নাসর ইবন আহমদ ইবন আল-বাতির আল-কারি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ ইবন আহমদ ইবন রিজকুয়াহ, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আহমদ ইবন সালমান আল-ফকিহ,
(খণ্ড: ১) ফাযায়িলু শাহরি রামাদান লি আবদিল গানি আল-মাকদিসী (পৃষ্ঠা: ٥٢)
حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ يُوسُفَ الْمُطَّوِّعِيُّ، حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ مَنْصُورٍ، عَنِ الْحَسَنِ بْنِ صَالِحٍ، عَنْ أَبِي بِشْرٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، قَالَ: «تَسْبِيحَةٌ فِي شَهْرِ رَمَضَانَ أَفْضَلُ مِنْ أَلْفِ تَسْبِيحَةٍ فِي غَيْرِهِ» .

20 - أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ النَّقُّورِ الْبَزَّازُ، بِبَغْدَادَ، أَنْبَأَنَا أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ الْمُظَفَّرِ بْنِ الْحُسَيْنِ بْنِ سَوْسَنٍ التَّمَّارُ، أَنْبَأَنَا أَبُو الْقَاسِمِ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْحُرْفِيُّ، حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ سَلْمَانَ الْفَقِيهُ، حَدَّثَنَا هِلالُ بْنُ الْعَلاءِ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ، أَنْبَأَنَا الْعَوَّامُ بْنُ حَوْشَبٍ، أَنْبَأَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ السَّائِبِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «الصَّلاةُ الْمَكْتُوبَةُ إِلَى الصَّلاةِ الْمَكْتُوبَةِ الَّتِي بَعْدَهَا كَفَّارَةٌ لِمَا بَيْنَهُمَا» ، وَالْجُمُعَةُ إِلَى الْجُمُعَةِ، وَالشَّهْرُ إِلَى الشَّهْرِ، يَعْنِي شَهْرَ رَمَضَانَ، كَفَّارَةٌ لِمَا بَيْنَهُمَا، ثُمَّ قَالَ بَعْدَ ذَلِكَ: «إِلا مِنْ ثَلاثٍ» ، فَعَرَفْتُ بَعْدُ أَنَّ ذَلِكَ مِنْ أَمْرٍ
ইয়াকুব বিন ইউসুফ আল-মুত্তাউইঈ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আলি বিন জাফর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইসহাক বিন মানসুর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হাসান বিন সালিহ থেকে, তিনি আবু বিশর থেকে, তিনি যুহরি থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "রমজান মাসে একবার তাসবিহ পাঠ করা অন্য সময়ের এক হাজার তাসবিহ পাঠের চেয়ে উত্তম।"

২০ - বাগদাদে আবু বকর আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন আন-নাক্কুর আল-বাযযায আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু বকর আহমদ বিন আল-মুজাফফর বিন আল-হুসাইন বিন সাওসান আত-তাম্মার আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু আল-কাসিম আবদুর রহমান বিন আবদুল্লাহ আল-হুরফি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আহমদ বিন সালমান আল-ফকিহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হিলাল বিন আল-আলা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আমার পিতা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হুশাইম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আল-আওয়াম বিন হাওশাব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবদুল্লাহ বিন আস-সাইব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "এক ফরজ নামাজ থেকে তার পরবর্তী ফরজ নামাজ পর্যন্ত যা রয়েছে তা তাদের মধ্যবর্তী সময়ের জন্য কাফফারা (পাপমোচনকারী), এবং এক জুমা থেকে পরবর্তী জুমা পর্যন্ত, এবং এক মাস থেকে পরবর্তী মাস—অর্থাৎ রমজান মাস—তাদের মধ্যবর্তী সময়ের জন্য কাফফারা।" এরপর তিনি বললেন: "তিনটি বিষয় ব্যতীত।" পরবর্তীতে আমি জানতে পারলাম যে তা ছিল কোনো এক বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত...
(খণ্ড: ১) ফাযায়িলু শাহরি রামাদান লি আবদিল গানি আল-মাকদিসী (পৃষ্ঠা: ٥٣)
حَدَثَ، قَالَ: «إِلا مِنَ الإِشْرَاكِ بِاللَّهِ، وَنَكْثِ الصَّفْقَةِ، وَتَرْكِ السُّنَّةِ» ، قَالَ: أَمَّا نَكْثُ الصَّفْقَةِ تُبَايِعُ رَجُلا بِيَمِينِكَ ، ثُمَّ تُخَالِفُ إِلَيْهِ فَتُقَاتِلُهُ بِيَمِينِكَ، وَأَمَّا تَرْكُ السُّنَّةِ فَالْخُرُوجُ عَنِ الْجَمَاعَةِ.

أَخْرَجَهُ الإِمَامُ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ فِي السُّنَّةِ

21 - أَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ حَمْزَة الْقُرَشِيُّ الدِّمَشْقِيُّ بِهَا، أَنْبَأَنَا عَلِيُّ بْنُ الْمُسَلَّمِ السُّلَمِيُّ، أَنْبَأَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ أَحْمَدَ
তিনি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: "আল্লাহর সাথে শিরক করা, চুক্তি ভঙ্গ করা এবং সুন্নাহ পরিত্যাগ করা ব্যতীত।" তিনি বললেন: চুক্তি ভঙ্গ করা হলো এই যে, তুমি তোমার ডান হাত দিয়ে কোনো ব্যক্তির নিকট আনুগত্যের শপথ করলে, অতঃপর তার বিরুদ্ধাচরণ করলে এবং তোমার ডান হাত দিয়ে তার বিরুদ্ধে লড়াই করলে। আর সুন্নাহ পরিত্যাগ করা হলো জামাআত থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া।

ইমাম আবু আব্দুল্লাহ আহমাদ বিন হাম্বল এটি আস-সুন্নাহ গ্রন্থে উদ্ধৃত করেছেন।

২১ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন হামজাহ আল-কুরাশি আদ-দিমাশকি সেখানে, আমাদের জানিয়েছেন আলী বিন আল-মুসাল্লাম আস-সুলামি, আমাদের জানিয়েছেন আব্দুল আজিজ বিন আহমাদ।
(খণ্ড: ১) ফাযায়িলু শাহরি রামাদান লি আবদিল গানি আল-মাকদিসী (পৃষ্ঠা: ٥٤)
التَّمِيمِيُّ، أَنْبَأَنَا أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ الْحَسَنِ الْحَافِظُ، أَنْبَأَنَا أَبُو عَلِيِّ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ سَعِيدٍ الْحِمْصِيُّ، أَنْبَأَنَا الْفَضْلُ بْنُ الْمُهَاجِرِ الْمَقْدِسِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ خَالِدٍ الأُمَوِيُّ، حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، حَدَّثَنَا سَلامُ بْنُ سَوَّارٍ، حَدَّثَنَا مَسْلَمَةُ بْنُ الصَّلْتِ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «أَوَّلُ لَيْلَةٍ مِنْ شَهْرِ رَمَضَانَ رَحْمَةٌ ، وَوَسَطُهُ مَغْفِرَةٌ ، وَآخِرُهُ عِتْقٌ مِنَ النَّارِ»

22 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ حَمْزَةَ الْقُرَشِيُّ، أَنْبَأَنَا أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ الْمُسَلَّمِ السُّلَمِيُّ، أَنْبَأَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ أَحْمَدَ الصُّوفِيُّ، أَنْبَأَنَا أَبُو عُثْمَانَ هُوَ إِسْمَاعِيلُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الصَّابُونِيُّ النَّيْسَابُورِيُّ، أَنْبَأَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْحَافِظُ، حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ جَعْفَرِ بْنِ حَمْدَانَ بْنِ مَالِكٍ، حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ الْحَسَنِ الْحَرْبِيُّ، وَمُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ الْقُرَشِيُّ، قَالا: أَنْبَأَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ حَمْزَةَ الْقَيْسِيُّ أَبُو أُسَيْدٍ، حَدَّثَنَا خَلَفُ بْنُ الرَّبِيعِ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لَمَّا حَضَرَهُ رَمَضَانُ ، قَالَ: «سُبْحَانَ اللَّهِ،
আত-তামিমী, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-হাসান আলী ইবনুল হাসান আল-হাফিয, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আলী ইবনুল হাসান ইবনে সাঈদ আল-হিমসী, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আল-ফাদল ইবনুল মুহাজির আল-মাকদিসী, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আবদুল্লাহ ইবনে আহমাদ ইবনে খালিদ আল-উমাবী, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন হিশাম ইবনে আম্মার, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন সালাম ইবনে সাউওয়ার, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন মাসলামাহ ইবনুল সালত, আয-যুহরী থেকে, তিনি আবু সালামাহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রাহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «রমজান মাসের প্রথম রাত হলো রহমত, এর মধ্যভাগ হলো মাগফিরাত (ক্ষমা) এবং এর শেষ ভাগ হলো জাহান্নাম থেকে মুক্তি»

22 - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মাদ ইবনে হামযাহ আল-কুরাশী, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল হাসান আলী ইবনুল মুসাল্লাম আস-সুলামী, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবদুল আযীয ইবনে আহমাদ আস-সূফী, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু উসমান—যিনি হলেন ইসমাঈল ইবনে আবদুর রহমান আস-সাবুনী আন-নাইসাবুরী—আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবনে আবদুল্লাহ আল-হাফিয, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আবু বকর আহমাদ ইবনে জা'ফার ইবনে হামদান ইবনে মালিক, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন ইসহাক ইবনুল হাসান আল-হারবী এবং মুহাম্মাদ ইবনে ইউসুফ আল-কুরাশী, তাঁরা উভয়েই বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুসলিম ইবনে ইবরাহীম, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আমর ইবনে হামযাহ আল-কাইসী আবু উসাইদ, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন খালাফ ইবনুর রাবী, আনাস ইবনে মালিক থেকে বর্ণিত: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট যখন রমজান উপস্থিত হলো, তখন তিনি বললেন: «সুবহানাল্লাহ,
(খণ্ড: ১) ফাযায়িলু শাহরি রামাদান লি আবদিল গানি আল-মাকদিসী (পৃষ্ঠা: ٥٥)
مَاذَا تَسْتَقْبِلُونَ، وَمَاذَا يُسْتَقْبَلُ بِكُمْ؟» قَالَهَا ثَلاثًا، فَقَالَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، وَحْيٌ أُنْزِلَ، أَوْ عَدُوٌّ حَضَرَ؟ فَقَالَ: «لا ، وَلَكِنَّ اللَّهَ عز وجل يَغْفِرُ فِي أَوَّلِ لَيْلَةٍ مِنْ شَهْرِ رَمَضَانَ لِكُلِّ أَهْلِ الْقِبْلَةِ هَذِهِ» ، وَفِي نَاحِيَةِ الْقَوْمِ رَجُلٌ يَهُزُّ رَأْسَهُ، قَالَ: بَخٍ بَخٍ.

فَقَالَ لَهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: «كَأَنَّكَ ضَاقَ صَدْرُكَ مِمَّا سَمِعْتَ» ، قَالَ: لا ، وَاللَّهِ يَا رَسُولَ اللَّهِ، وَلَكِنْ ذَكَرْتُ الْمُنَافِقِينَ.

فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: «إِنَّ الْمُنَافِقَ كَافِرٌ، وَلَيْسَ لِلْكَافِرِ فِي ذَا شَيْءٌ»

23 - أَخْبَرَنَا أَبُو طَاهِرٍ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ الْحَافِظُ، أَنْبَأَنَا أَبُو يَاسِرٍ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ، حَدَّثَنَا أَبُو الْقَاسِمِ بْنُ بِشْرَانَ، أَنْبَأَنَا أَحْمَدُ بْنُ جَعْفَرِ بْنِ حَمْدَانَ بْنِ مَالِكٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُونُسَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ رَجَاءٍ الْغُدَانِيُّ، أَنْبَأَنَا جَرِيرُ بْنُ أَيُّوبَ الْبَجَلِيُّ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، عَنْ نَافِعِ بْنِ بُرْدَةَ، عَنِ
"তোমরা কিসের সম্মুখীন হতে যাচ্ছ এবং কী তোমাদের সম্মুখীন হতে যাচ্ছে?" তিনি এটি তিনবার বললেন। তখন উমর ইবনুল খাত্তাব বললেন: "হে আল্লাহর রাসূল, কোনো ওহী কি অবতীর্ণ হয়েছে, নাকি কোনো শত্রু উপস্থিত হয়েছে?" তিনি বললেন: "না, বরং মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহ রমজান মাসের প্রথম রাতে এই কিবলা অনুসারী প্রত্যেকের গুনাহ ক্ষমা করে দেন।" উপস্থিত লোকদের এক প্রান্তে একজন লোক তার মাথা নাড়ছিল এবং বলছিল: "চমৎকার, চমৎকার!"

নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে বললেন: "মনে হচ্ছে যা শুনলে তাতে তোমার মন সংকীর্ণ হয়ে গেছে।" সে বলল: "না, আল্লাহর কসম হে আল্লাহর রাসূল, বরং আমি মুনাফিকদের কথা স্মরণ করছিলাম।"

নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: "নিশ্চয়ই মুনাফিক একজন কাফির, আর এতে কাফিরের কোনো অংশ নেই।"

২৩ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু তাহের আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আহমদ আল-হাফিয, আমাদের জানিয়েছেন আবু ইয়াসির মুহাম্মদ ইবনে আবদুল আজিজ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আল-কাসিম ইবনে বিশরান, আমাদের জানিয়েছেন আহমদ ইবনে জাফর ইবনে হামদান ইবনে মালিক, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে ইউনুস, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ ইবনে রাজা আল-গুদানী, আমাদের জানিয়েছেন জারীর ইবনে আইয়ুব আল-বাজালী, তিনি শা'বী থেকে, তিনি নাফে ইবনে বুরদাহ থেকে, তিনি...
(খণ্ড: ১) ফাযায়িলু শাহরি রামাদান লি আবদিল গানি আল-মাকদিসী (পৃষ্ঠা: ٥٦)
ابْنِ مَسْعُودٍ، أَنَّهُ سَمِعَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: " إِذَا أَهَلَّ رَمَضَانُ هَبَّتْ رِيحٌ مِنْ تَحْتِ قُرَيْشٍ فَصَفَقَتْ وَرَقَ الْجِنَانِ، فَتَنْظُرُ الْحُورُ الْعِينُ إِلَى ذَلِكَ فَيَقُولُونَ: أَيْ رَبِّ، اجْعَلْ لَنَا مِنْ عِبَادِكَ فِي هَذَا الشَّهْرِ أَزْوَاجًا تَقَرُّ أَعْيُنُهُمْ بِنَا وَتَقَرُّ أَعْيُيُنَا بِهِمْ.

قَالَ: فَمَا مِنْ عَبْدٍ صَامَ رَمَضَانَ إِلا زَوَّجَهُ اللَّهُ زَوْجَةً مِنَ الْحُورِ الْعِينِ كَمَا نَعَتَ اللَّهُ عز وجل ، فَقَالَ: {حُورٌ مَقْصُورَاتٌ فِي الْخِيَامِ} [الرحمن: 72] لِكُلِّ امْرَأَةٍ مِنْهُنَّ سَبْعُونَ أَلْفَ وَصِيفٍ وَسَبْعُونَ أَلْفَ وَصِيفَةٍ لِحَاجَاتِهَا، وَلِكُلِّ امْرَأَةٍ مِنْهُنَّ أَلْفُ وَصِيفٍ بِيَدِ كُلِّ وَصِيفٍ صَحْفَةٌ مِنْ ذَهَبٍ فِيهَا لَوْنٌ مِنْ طَعَامٍ يَجِدُ لآخِرِ لُقْمَةٍ كَمَا يَجِدُ لأَوَّلِهَا، يُعْطَى زَوْجُهَا مِثْلَ ذَلِكَ عَلَى سَرِيرٍ مِنْ يَاقُوتٍ عَلَيْهِ إِكْلِيلٌ مِنْ يَاقُوتٍ، مِنْ يَدَيْهِ سِوَارَانِ، هَذَا لِكُلِّ يَوْمٍ صَامَهُ مِنْ رَمَضَانَ سِوَى مَا عَمِلَ مِنَ الْحَسَنَاتِ "
ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণিত যে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছেন: "যখন রমজান মাস শুরু হয়, তখন কুরাইশের নিচ থেকে একটি বাতাস প্রবাহিত হয় এবং জান্নাতের গাছের পাতাসমূহকে আন্দোলিত করে। তখন ডাগরচোখা হুরেরা সেদিকে তাকায় এবং বলে: হে আমাদের রব! এই মাসে আপনার বান্দাদের মধ্য থেকে আমাদের জন্য এমন স্বামী নির্ধারণ করুন যাদের চক্ষু আমাদের মাধ্যমে শীতল হবে এবং আমাদের চক্ষুও তাদের মাধ্যমে শীতল হবে।

তিনি বললেন: যে বান্দাই রমজানের রোজা পালন করে, আল্লাহ তাকে ডাগরচোখা হুরদের মধ্য থেকে এমনভাবে স্ত্রী দান করেন যেমনটি আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন: {তাঁবুতে অবস্থানকারিণী হুরগণ} [আর-রাহমান: ৭২]। তাদের প্রত্যেকের জন্য সত্তর হাজার কিশোর সেবক এবং সত্তর হাজার কিশোরী সেবিকা থাকবে তার প্রয়োজনের জন্য। তাদের প্রত্যেকের জন্য এক হাজার কিশোর সেবক থাকবে, প্রত্যেক সেবকের হাতে থাকবে স্বর্ণের পাত্র, যাতে থাকবে বিভিন্ন পদের খাবার; সে শেষ লোকমাতেও প্রথম লোকমার মতোই স্বাদ অনুভব করবে। তার স্বামীকেও ইয়াকুতের তৈরি খাটের উপর অনুরূপ নেয়ামত প্রদান করা হবে, যার উপর থাকবে ইয়াকুতের মুকুট এবং তার দুই হাতে থাকবে দুটি কঙ্কণ। এটি রমজানে রোজা রাখা প্রতিটি দিনের বিনিময়ে প্রদান করা হবে, যা সে অন্যান্য নেক আমল করেছে তার অতিরিক্ত।"
(খণ্ড: ১) ফাযায়িলু শাহরি রামাদান লি আবদিল গানি আল-মাকদিসী (পৃষ্ঠা: ٥٧)
24 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ حَمْزَةَ الْقُرَشِيُّ، أَنْبَأَنَا عَلِيُّ بْنُ الْمُسَلَّمِ، أَنْبَأَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ أَحْمَدَ، أَنْبَأَنَا أَبُو الْقَاسِمِ عَمْرُو بْنُ طِرَادِ بْنِ سَفَرٍ الأَسَدِيُّ، أَنْبَأَنَا الْقَاضِي أَبُو بَكْرٍ يُوسُفُ بْنُ الْقَاسِمِ الْمَيَانَجِيُّ.

قَالَ عَبْدُ الْعَزِيزِ: وأَنْبَأَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، أَنْبَأَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْفَضْلِ، قَالا: أَنْبَأَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ بْنِ خُزَيْمَةَ، أَنْبَأَنَا عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ، قَالَ إِسْمَاعِيلُ السَّعْدِيُّ، حَدَّثَنَا يُوسُفُ بْنُ زِيَادٍ، حَدَّثَنَا هَمَّامُ بْنُ يَحْيَى، عَنْ عَلِيِّ بْنِ زَيْدٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيِّبِ، عَنْ سَلْمَانَ ، قَالَ: خَطَبَنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي أَوَّلِ يَوْمٍ مِنْ رَمَضَانَ فَقَالَ: «أَيُّهَا النَّاسُ، قَدْ أَظَلَّكُمْ شَهْرٌ عَظِيمٌ، شَهْرٌ مُبَارَكٌ، فِيهِ لَيْلَةٌ خَيْرٌ مِنْ أَلْفِ شَهْرٍ، جَعَلَ اللَّهُ صِيَامَهُ فَرِيضَةً، وَقِيَامَ لَيْلَةٍ تَطَوُّعًا» .

قَالَ الْمَيَانَجِيُّ: مَنْ تَصَرَّفَ فِيهِ بِخَصْلَةٍ مِنَ الْخَيْرِ.

وَقَالَ إِسْمَاعِيلُ مَنْ تَفَوَّتَ فِيهِ بِخَصْلَةٍ مِنَ الْخَيْرِ ثُمَّ اتَّفَقَا كَانَ كَمَنْ أَدَّى فَرِيضَةً، وَمَنْ أَدَّى فَرِيضَةً كَانَ كَمَنْ أَدَّى سَبْعِينَ فَرِيضَةً فِيمَا سِوَاهُ، وَهُوَ شَهْرُ الصَّبْرِ، وَالصَّبْرُ ثَوَابُهُ الْجَنَّةُ، وَشَهْرُ الْمُوَاسَاةِ، وَشَهْرٌ يُزَادُ فِيهِ «وَقَالَ إِسْمَاعِيلُ فِي، ثُمَّ اتَّفَقَا» رِزْقِ الْمُؤْمِنِ.

مَنْ فَطَّرَ فِيهِ صَائِمًا كَانَ مَغْفِرَةً لِذُنُوبِهِ وَعِتْقَ رَقَبَتِهِ مِنَ النَّارِ، وَكَانَ لَهُ مِثْلُ أَجْرِهِ مِنْ غَيْرِ أَنْ يَنْقُصَ مِنْ أَجْرِهِ شَيْءٌ " زَادَ إِسْمَاعِيلُ: «لَيْسَ كُلُّنَا نَجِدُ مَا يُفَطِّرُ الصَّائِمَ» ، ثُمَّ اتَّفَقَا «وَيُعْطِي اللَّهُ عز وجل هَذَا الثَّوَابَ مَنْ فَطَّرَ صَائِمًا، عَلَى تَمْرَةٍ أَوْ شَرْبَةِ مَاءٍ» قَالَ إِسْمَاعِيلُ أَوْ «مَذْقَةِ لَبَنٍ» ، ثُمَّ اتَّفَقَا «وَهُوَ شَهْرٌ أَوَّلُهُ
২৪ - মুহাম্মাদ ইবন হামযা আল-কুরাশী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আলী ইবন আল-মুসলিম আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু মুহাম্মাদ আব্দুল আজীজ ইবন আহমাদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবুল কাসিম আমরু ইবন তরাদ ইবন সাফার আল-আসাদী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, কাযী আবু বকর ইউসুফ ইবন আল-কাসিম আল-মায়ানাজী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন।

আব্দুল আজীজ বলেছেন: এবং ইসমাইল ইবন আব্দুর রহমান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মুহাম্মাদ ইবন আল-ফাদল আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তাঁরা উভয়ে বলেছেন: মুহাম্মাদ ইবন ইসহাক ইবন খুযাইমাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আলী ইবন হুজর আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ইসমাইল আস-সাদী বলেছেন, ইউসুফ ইবন যিয়াদ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, হাম্মাম ইবন ইয়াহইয়া আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আলী ইবন যায়েদ থেকে, তিনি সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব থেকে, তিনি সালমান থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রমযানের প্রথম দিনে আমাদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দিলেন এবং বললেন: «হে লোকসকল, তোমাদের ওপর একটি মহান মাস, একটি বরকতময় মাস ছায়া ফেলেছে। এতে এমন একটি রাত আছে যা হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। আল্লাহ এর সিয়াম পালনকে ফরয করেছেন এবং এর রাতে দণ্ডায়মান হওয়াকে নফল করেছেন।»

আল-মায়ানাজী বলেছেন: যে ব্যক্তি এতে কল্যাণের কোনো একটি কাজ করবে।

আর ইসমাইল বলেছেন: যে ব্যক্তি এতে কল্যাণের কোনো একটি কাজ অর্জনে সচেষ্ট হবে, অতঃপর উভয়ে একমত হয়ে বলেছেন: সে ওই ব্যক্তির ন্যায় হবে যে একটি ফরয আদায় করল। আর যে ব্যক্তি একটি ফরয আদায় করল, সে অন্য সময়ে সত্তরটি ফরয আদায়কারীর ন্যায় হবে। এটি ধৈর্যের মাস, আর ধৈর্যের প্রতিদান হলো জান্নাত। এটি সহমর্মিতার মাস এবং এমন মাস যাতে মুমিনের রিযিক বৃদ্ধি করা হয়—ইসমাইল ‘এতে’ শব্দটি বলেছেন, অতঃপর উভয়ে একমত হয়েছেন।

যে ব্যক্তি এতে কোনো রোযাদারকে ইফতার করাবে, তা হবে তার গুনাহসমূহের জন্য ক্ষমা এবং জাহান্নাম থেকে তার গর্দান মুক্তি স্বরূপ, এবং তার জন্য রোযাদারের অনুরূপ সাওয়াব থাকবে, তাদের সাওয়াব থেকে সামান্যতমও না কমিয়ে। ইসমাইল অতিরিক্ত বলেছেন: «আমাদের প্রত্যেকের কাছে রোযাদারকে ইফতার করানোর মতো কিছু নেই», অতঃপর উভয়ে একমত হয়ে বলেছেন: «এবং মহান ও মহিমান্বিত আল্লাহ এই সাওয়াব ওই ব্যক্তিকে দান করবেন যে কোনো রোযাদারকে একটি খেজুর বা এক ঢোক পানি দিয়ে ইফতার করাবে», ইসমাইল বলেছেন অথবা «একটু দুধ মিশ্রিত পানি দিয়ে», অতঃপর তারা উভয়ে একমত হয়েছেন: «এটি এমন এক মাস যার প্রথম অংশ...
(খণ্ড: ১) ফাযায়িলু শাহরি রামাদান লি আবদিল গানি আল-মাকদিসী (পৃষ্ঠা: ٥٨)
رَحْمَةٌ وَأَوْسَطُهُ مَغْفِرَةٌ وَآخِرُهُ عِتْقٌ مِنَ النَّارِ» .

انْتَهَى حَدِيثُ الْمَيَانَجِيِّ.

وَزَادَ إِسْمَاعِيلُ: " وَاسْتَكْثِرُوا فِيهِ مِنْ أَرْبَعِ خِصَالٍ، خَصْلَتَيْنِ تُرْضُونَ بِهَا رَبَّكُمْ، وَخَصْلَتَيْنِ لا غِنَى بِكُمْ عَنْهَا، فَأَمَّا الْخَصْلَتَانِ اللَّتَانِ تُرْضُونَ بِهَا رَبَّكُمْ: فَشَهَادَةُ أَنْ لا إِلَهَ إِلا اللَّهُ، وَتَسْتَغْفِرُونَهُ، وَأَمَّا اللَّتَانِ لا غِنَى بِكُمْ عَنْهَا: فَتَسْأَلُونَ اللَّهَ عز وجل الْجَنَّةَ، وَتَعُوذُونَ بِهِ مِنَ النَّارِ، وَمَنْ أَشْبَعَ فِيهِ صَائِمًا سَقَاهُ اللَّهُ مِنْ حَوْضِي شَرْبَةً لا يَظْمَأُ حَتَّى يَدْخُلَ الْجَنَّةَ "

25 - أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ الْحَافِظُ، أَنْبَأَنَا أَبُو الْخَطَّابِ نَصْرُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ الْبَطِرِ، أَنْبَأَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ رِزْقُوَيْهِ، حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَحْمَدَ الدَّقَّاقُ، حَدَّثَنَا أَبُو الْقَاسِمِ إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ سَالِمٍ الْخُتُّلِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو عَمْرٍو الْعَلاءُ بْنُ عَمْرٍو الْخُرَاسَانِيُّ الْمَعْرُوفُ بِالسُّنِّيِّ سَنَةَ سِتٍّ وَعِشْرِينَ وَمِائَتَيْنِ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْحَكَمِ الْبَجَلِيُّ، قَالَ أَبُو عَمْرٍو: فَشَكَكْتُ فِي شَيْءٍ مِنْ هَذَا الْحَدِيثِ، فَكَتَبْتُهُ مِنَ الْحَسَنِ بْنِ زَيْدٍ، وَكُنْتُ سَمِعْتُهُ أَنَا وَالْحَسَنُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْحَكَمِ، حَدَّثَنَا الْقَاسِمُ بْنُ الْحَكَمِ الْعُرَنِيُّ، عَنِ الضَّحَّاكِ ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، رضي الله عنهما، أَنَّهُ سَمِعَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: " إِنَّ الْجَنَّةَ لَتُنَجَّدُ وَتُزَيَّنُ مِنَ الْحَوْلِ إِلَى الْحَوْلِ
রহমত, এর মধ্যভাগ ক্ষমা এবং এর শেষাংশ জাহান্নাম থেকে মুক্তি।"

মিয়ানাজীর হাদিস সমাপ্ত হলো।

এবং ইসমাইল অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন: "তোমরা এই মাসে চারটি কাজ অধিক পরিমাণে করো; দুটি কাজ এমন যার মাধ্যমে তোমরা তোমাদের প্রতিপালককে সন্তুষ্ট করবে, আর দুটি কাজ এমন যা ছাড়া তোমাদের কোনো উপায় নেই। যে দুটি কাজের মাধ্যমে তোমরা তোমাদের প্রতিপালককে সন্তুষ্ট করবে তা হলো: এ সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা। আর যে দুটি বিষয় যা ছাড়া তোমাদের কোনো উপায় নেই তা হলো: তোমরা মহান আল্লাহর কাছে জান্নাত প্রার্থনা করবে এবং জাহান্নাম থেকে তাঁর কাছে আশ্রয় চাইবে। আর যে ব্যক্তি এই মাসে কোনো রোজা পালনকারীকে পেট ভরে খাওয়াবে, আল্লাহ তাকে আমার হাউজ থেকে এমন পানীয় পান করাবেন যার পর সে জান্নাতে প্রবেশ করা পর্যন্ত আর তৃষ্ণার্ত হবে না।"

25 - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন আহমাদ আল-হাফিয, আমাদের জানিয়েছেন আবুল খাত্তাব নাসর বিন আহমাদ বিন আল-বাত্বির, আমাদের জানিয়েছেন মুহাম্মাদ বিন আহমাদ বিন রিযকুওয়াইহ, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন উসমান বিন আহমাদ আদ-দাক্কাক, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আবুল কাসিম ইসহাক বিন ইব্রাহিম বিন সালিম আল-খুত্তালি, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আবু আমর আল-আলা বিন আমর আল-খুরাসানি, যিনি আস-সুন্নি নামে পরিচিত, দুইশ ছাব্বিশ হিজরি সনে, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আবদুল্লাহ বিন আল-হাকাম আল-বাজালি; আবু আমর বলেন: আমি এই হাদিসের কোনো বিষয়ে সন্দিহান হয়ে পড়ি, তাই আমি হাসান বিন যাইদের নিকট থেকে তা লিখে নেই, আমি এবং হাসান বিন আবদুল্লাহ বিন আল-হাকাম তা শুনেছিলাম; আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন কাসিম বিন আল-হাকাম আল-উরানি, যাহহাক থেকে, ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত যে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেন: "নিশ্চয়ই জান্নাতকে এক বছর থেকে অন্য বছর পর্যন্ত সুসজ্জিত ও অলংকৃত করা হয়..."
(খণ্ড: ১) ফাযায়িলু শাহরি রামাদান লি আবদিল গানি আল-মাকদিসী (পৃষ্ঠা: ٥٩)
لِدُخُولِ شَهْرِ رَمَضَانَ، فَإِذَا كَانَتْ أَوَّلُ لَيْلَةٍ مِنْ شَهْرِ رَمَضَانَ هَبَّتْ رِيحٌ مِنْ تَحْتِ الْعَرْشِ يُقَالُ لَهَا: الْمُثِيرَةُ، فَتَصْطَفِقُ وَرَقَ أَشْجَارِ الْجِنَانِ، وَحِلَقِ الْمَصَارِيعِ، يُسْمَعُ لِذَلِكَ طَنِينٌ، لَمْ يَسْمَعِ السَّامِعُونَ أَحْسَنَ مِنْهُ، فَيُشْرِفُ الْحُورُ الْعِينُ حَتَّى يَقِفْنَ عَلَى شَجَرِ الْجِنَانِ فَيُنَادِينَ: هَلْ مِنْ خَاطِبٍ إِلَى اللَّهِ فَيُزَوِّجَهُ، ثُمَّ يَقُلْنَ: يَا رِضْوَانُ مَا هَذِهِ اللَّيْلَةُ؟ ، فَيُجِيبُهُنَّ بِالتَّلْبِيَةِ، ثُمَّ يَقُولُ: يَا خَيْرَاتُ حِسَانُ: هَذِهِ أَوَّلُ لَيْلَةٍ مِنْ شَهْرِ رَمَضَانَ فَتُفْتَحُ فِيهَا أَبْوَابُ الْجِنَانِ لِلصَّائِمِينَ مِنْ أُمَّةِ مُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم.

وَيَقُولُ اللَّهُ عز وجل: يَا رِضْوَانُ، افْتَحْ أَبْوَابَ الْجِنَانِ، يَا مَالِكُ، أَغْلِقْ أَبْوَابَ الْجَحِيمِ عَنِ الصَّائِمِينَ، مِنْ أُمَّةِ مُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم، يَا جِبْرِيلُ، اهْبِطْ إِلَى الأَرْضِ فَصَفِّدْ مَرَدَةَ الشَّيَاطِينِ وَغُلَّهُمْ فِي الأَغْلالِ، وَاقْذِفْ بِهِمْ فِي لُجَجِ الْبِحَارِ، حَتَّى لا يُفْسِدُوا عَلَى أُمَّةِ حَبِيبِي.

قَالَ: ثُمَّ يَقُولُ اللَّهُ عز وجل فِي كُلِّ لَيْلَةٍ مِنْ شَهْرِ رَمَضَانَ ثَلاثَ مَرَّاتٍ: هَلْ مِنْ سَائِلٍ فَأُعْطِيَهُ سُؤْلَهُ؟ ، هَلْ مِنْ تَائِبٍ فَأَتُوبَ عَلَيْهِ؟ ، هَلْ مِنْ مُسْتَغْفِرٍ فَأَغْفِرَ لَهُ؟ مَنْ يُقْرِضُ الْمَلِيُّ غَيْرَ الْمُعْدَمِ؟ ، الْوَفِيُّ غَيْرَ الظَّلُومِ؟ .

قَالَ: وَللَّهِ عز وجل فِي كُلِّ لَيْلَةٍ مِنْ شَهْرِ رَمَضَانَ أَلْفُ أَلْفِ عَتِيقٍ مِنَ النَّارِ، فَإِذَا كَانَ فِي لَيْلَةِ الْجُمُعَةِ، أَوْ يَوْمِ الْجُمُعَةِ أَعْتَقَ فِي كُلِّ سَاعَةٍ مِنْهَا أَلْفَ أَلْفِ عَتِيقٍ مِنَ النَّارِ، كُلِّهِمْ قَدِ اسْتَوْجَبَ الْعَذَابَ، فَإِذَا كَانَ آخِرُ لَيْلَةٍ مِنْ شَهْرِ رَمَضَانَ أَعْتَقَ اللَّهُ فِي ذَلِكَ الْيَوْمِ بِعَدَدِ مَا أَعْتَقَ مِنْ أَوَّلِ الشَّهْرِ إِلَى آخِرِهِ.

فَإِذَا كَانَتْ لَيْلَةُ الْقَدْرِ أَمَرَ اللَّهُ تبارك وتعالى جِبْرِيلَ عليه السلام، فَهَبَطَ فِي كُبْكُبَةٍ مِنَ الْمَلائِكَةِ ، وَمَعَهُ لِوَاءٌ أَخْضَرُ، فَيَرْكِزُ اللِّوَاءَ عَلَى ظَهْرِ الْكَعْبَةِ ، وَلَهُ سِتُّمِائَةِ جَنَاحٍ ، مِنْهُمَا جَنَاحَانِ لا يَنْشُرُهُمَا إِلا فِي لَيْلَةِ الْقَدْرِ، فَيَنْشُرُهُمَا تِلْكَ اللَّيْلَةَ، فَيُجَاوِزَانِ الْمَشْرِقَ وَالْمَغْرِبَ.

قَالَ: وَيَبُثُّ جِبْرِيلُ عليه السلام الْمَلائِكَةَ فِي هَذِهِ اللَّيْلَةِ،
রমজান মাস আগমনের জন্য, যখন রমজান মাসের প্রথম রাত উপস্থিত হয়, তখন আরশের নিচ থেকে একটি বাতাস প্রবাহিত হয় যাকে 'আল-মুসিরাহ' বলা হয়। এর ফলে জান্নাতের গাছপালার পাতা এবং দরজার কড়াগুলোতে টুংটাং শব্দ হয়। তা থেকে এমন এক সুমধুর আওয়াজ শ্রুত হয়, শ্রোতারা যার চেয়ে উত্তম আর কিছু কখনো শোনেনি। অতঃপর ডাগর চোখের হুরগণ উঁকি দেয় এবং জান্নাতের গাছের ওপর দাঁড়িয়ে ডাকতে থাকে: "আল্লাহর কাছে কি কোনো বিবাহের প্রস্তাবকারী আছে যে, তিনি তার সাথে বিবাহ দেবেন?" এরপর তারা বলে: "হে রিদওয়ান! এটি কোন রাত?" রিদওয়ান তাদের ডাকে সাড়া দেন এবং বলেন: "হে সুন্দরী শ্রেষ্ঠাগণ! এটি রমজান মাসের প্রথম রাত। এতে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উম্মতের রোজাদারদের জন্য জান্নাতের দরজাগুলো খুলে দেওয়া হয়।"

মহান পরাক্রমশালী আল্লাহ বলেন: "হে রিদওয়ান! জান্নাতের দরজাগুলো খুলে দাও। হে মালিক! মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উম্মতের রোজাদারদের জন্য জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে দাও। হে জিবরাইল! পৃথিবীতে অবতরণ করো এবং অবাধ্য শয়তানদেরকে শৃঙ্খলিত করো, তাদের গলায় বেড়ি পরিয়ে দাও এবং সমুদ্রের অতল গহ্বরে নিক্ষেপ করো, যাতে তারা আমার প্রিয় হাবিবের উম্মতের ইবাদতে বিঘ্ন ঘটাতে না পারে।"

তিনি বলেন: অতঃপর মহান পরাক্রমশালী আল্লাহ রমজান মাসের প্রতি রাতে তিনবার বলেন: "কোনো যাচনাকারী আছে কি যাকে আমি তার চাওয়া দান করব? কোনো তওবাকারী আছে কি যার তওবা আমি কবুল করব? কোনো ক্ষমা প্রার্থনাকারী আছে কি যাকে আমি ক্ষমা করে দেব? কে সেই সচ্ছল সত্তাকে ঋণ দেবে যিনি অভাবগ্রস্ত নন? যিনি প্রতিশ্রুতি রক্ষাকারী এবং কোনো জুলুম করেন না?"

তিনি বলেন: রমজান মাসের প্রতি রাতে মহান পরাক্রমশালী আল্লাহর পক্ষ থেকে দশ লক্ষ জাহান্নাম থেকে মুক্তিপ্রাপ্ত ব্যক্তি থাকে। যখন জুমার রাত বা জুমার দিন উপস্থিত হয়, তখন তার প্রতি ঘণ্টায় দশ লক্ষ করে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দান করা হয়, যাদের প্রত্যেকের ওপরই আজাব অবধারিত ছিল। যখন রমজান মাসের শেষ রাত আসে, তখন আল্লাহ সেই দিনে মাসের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত যতজনকে মুক্তি দিয়েছেন, তাদের সমপরিমাণ ব্যক্তিকে মুক্তি দান করেন।

যখন কদরের রাত উপস্থিত হয়, তখন বরকতময় ও সুউচ্চ আল্লাহ জিবরাইল আলাইহিস সালাম-কে নির্দেশ দেন। ফলে তিনি একদল ফেরেশতাসহ পৃথিবীতে অবতরণ করেন। তাঁর সাথে একটি সবুজ পতাকা থাকে। তিনি পতাকাটি কাবার ছাদে স্থাপন করেন। তাঁর ছয়শ ডানা রয়েছে, যার মধ্যে দুটি ডানা তিনি কেবল কদরের রাতেই প্রসারিত করেন। সেই রাতে তিনি ডানা দুটি প্রসারিত করেন যা পূর্ব ও পশ্চিম দিগন্ত ছাড়িয়ে যায়।

তিনি বলেন: এই রাতে জিবরাইল আলাইহিস সালাম ফেরেশতাদেরকে ছড়িয়ে দেন,
(খণ্ড: ১) ফাযায়িলু শাহরি রামাদান লি আবদিল গানি আল-মাকদিসী (পৃষ্ঠা: ٦٠)
فَيُسَلِّمُونَ عَلَى كُلِّ قَائِمٍ ، وَقَاعِدٍ ، وَمُصَلٍّ ، وَذَاكِرٍ، فَيُصَافِحُونَهُمْ، وَيُؤَمِّنُونَ عَلَى دُعَائِهِمْ حَتَّى مَطْلَعِ الْفَجْرِ.

فَإِنْ طَلَعَ الْفَجْرُ نَادَى جِبْرِيلُ عليه السلام: يَا مَعْشَرَ الْمَلائِكَةِ، الرَّحِيلَ الرَّحِيلَ، فَيَقُولُونَ: يَا جِبْرِيلُ ، مَا صَنَعَ اللَّهُ فِي حَوَائِجِ الْمُؤْمِنِينَ مِنْ أُمَّةِ مُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم؟ فَيَقُولُونَ: إِنَّ اللَّهَ عز وجل نَظَرَ إِلَيْهِمْ فِي هَذِهِ اللَّيْلَةِ فَعَفَى عَنْهُمْ، وَغَفَرَ لَهُمْ إِلا أَرْبَعَةً.

فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «وَهُؤَلاءِ الأَرْبَعَةُ مُدْمِنُ خَمْرٍ، وَعَاقٌّ لِوَالِدَيْهِ، وَقَاطِعُ رَحِمٍ، وَمُشَاحِنٌ» ، فَقِيلَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، وَمَا الْمُشَاحِنُ؟ قَالَ: «الْمُصَارِمُ» .

فَإِذَا كَانَتْ غَدَاةُ الْفِطْرِ يَبْعَثُ اللَّهُ تبارك وتعالى الْمَلائِكَةَ فِي كُلِّ بَلَدٍ، فَيَهْبِطُونَ إِلَى الأَرْضِ، فَيَقُومُونَ عَلَى أَفْوَاهِ السِّكَكِ ، فَيُنَادُونَ بِصَوْتٍ يَسْمَعُهُ جَمِيعُ مَنْ خَلَقَ اللَّهُ إِلا الْجِنَّ وَالإِنْسَ ، فَيَقُولُونَ: يَا أُمَّةَ مُحَمَّدٍ ، اخْرُجُوا إِلَى رَبٍّ كَرِيمٍ، يَغْفِرِ الْعَظِيمَ.

فَإِذَا بَرَزُوا فِي مُصَلاهُمْ يَقُولُ اللَّهُ عز وجل: يَا مَلائِكَتِي، مَا جَزَاءُ الأَجِيرِ إِذَا عَمِلَ عَمَلَهُ؟ تَقُولُ الْمَلائِكَةُ: إِلَهَنَا وَسَيِّدَنَا جَزَاؤُهُ أَنْ تُوَفِّيَهُ أَجْرَهُ، فَيَقُولُ اللَّهُ عز وجل: أُشْهِدُكُمْ يَا مَلائِكَتِي أَنِّي قَدْ جَعَلْتُ ثَوَابَهُمْ مِنْ صِيَامِهِمْ شَهْرِ رَمَضَانَ وَقِيَامِهِمْ رِضَايَ وَمَغْفِرَتِي.

فَيَقُولُ اللَّهُ عز وجل: سَلُونِي، فَوَعِزَّتِي وَجَلالِي لا تَسْأَلُونِي الْيَوْمَ شَيْئًا فِي جَمْعِكُمْ هَذَا لآخِرَتِكُمْ إِلا أَعْطَيْتُكُمُوهُ، وَلا لِدُنْيَاكُمْ إِلا نَظَرْتُ لَكُمْ، وَعِزَّتِي لأَسْتُرَنَّ عَلَيْكُمْ عَوْرَاتِكُمْ مَا رَاقَبْتُمُونِي، وَعِزَّتِي لا أُخْزِيكُمْ ، وَلا أَفْضَحُكُمْ بَيْنَ أَصْحَابِ الْحُدُودِ أَوِ الْجُدُودِ ، شَكَّ أَبُو عَمْرٍو، وَانْصَرِفُوا
অতঃপর তারা প্রত্যেক দণ্ডায়মান, উপবিষ্ট, নামাজরত এবং জিকিররত ব্যক্তির ওপর সালাম পেশ করেন, তাদের সাথে মুসাফাহা করেন এবং ফজর উদিত হওয়া পর্যন্ত তাদের দোয়ায় আমিন বলতে থাকেন।

অতঃপর যখন ফজর উদিত হয়, জিবরীল (আলাইহিস সালাম) ঘোষণা করেন: হে ফেরেশতাকুল, প্রস্থান করো, প্রস্থান করো। তারা বলে: হে জিবরীল, উম্মতে মুহাম্মদী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর মুমিনদের হাজত বা প্রয়োজনের বিষয়ে আল্লাহ কী ফয়সালা করেছেন? তখন তিনি বলেন: নিশ্চয়ই আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা এই রাতে তাদের প্রতি সদয় দৃষ্টি দিয়েছেন এবং চারজন ব্যতীত তাদের সকলকে মার্জনা ও ক্ষমা করে দিয়েছেন।

অতঃপর রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: “আর এই চারজন হলো—মদপানে অভ্যস্ত ব্যক্তি, পিতা-মাতার অবাধ্যচারী, আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্নকারী এবং বিদ্বেষ পোষণকারী।” জিজ্ঞেস করা হলো: হে আল্লাহর রাসুল, বিদ্বেষ পোষণকারী (মুশাহিন) কে? তিনি বললেন: “যে সম্পর্ক ছিন্ন করে।”

অতঃপর যখন ঈদুল ফিতরের সকাল হয়, আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা ফেরেশতাদেরকে প্রতিটি জনপদে পাঠান। তারা পৃথিবীতে অবতরণ করে রাস্তার মোড়গুলোতে দাঁড়িয়ে যান এবং এমন উচ্চস্বরে ডাক দেন যা জিন ও মানুষ ব্যতীত আল্লাহর সকল সৃষ্টি শুনতে পায়। তারা বলেন: হে মুহাম্মদের উম্মত, তোমরা তোমাদের দয়ালু রবের দিকে বেরিয়ে এসো, যিনি প্রচুর দান করেন এবং মহাপাপ ক্ষমা করেন।

অতঃপর তারা যখন ঈদগাহে সমবেত হয়, আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা বলেন: হে আমার ফেরেশতারা, শ্রমিকের কাজ শেষ হলে তার প্রতিদান কী হওয়া উচিত? ফেরেশতারা বলে: হে আমাদের ইলাহ ও আমাদের অধিপতি, তার প্রতিদান হলো তাকে তার পূর্ণ পারিশ্রমিক প্রদান করা। তখন আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা বলেন: হে আমার ফেরেশতারা, আমি তোমাদের সাক্ষী রাখছি যে, তাদের রমজান মাসের রোজা ও রাতের ইবাদতের বিনিময়ে আমি আমার সন্তুষ্টি ও ক্ষমা তাদের জন্য নির্ধারণ করেছি।

অতঃপর আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা বলেন: তোমরা আমার কাছে চাও। আমার মর্যাদা ও মহত্ত্বের কসম! আজ তোমাদের এই সমাবেশে তোমাদের আখিরাত সংক্রান্ত যা কিছু চাইবে আমি তোমাদের তা দান করব, আর তোমাদের দুনিয়াবি বিষয়ে যা চাইবে তাতে তোমাদের প্রতি সদয় হবো। আমার মর্যাদার কসম! যতক্ষণ তোমরা আমাকে ভয় করবে আমি তোমাদের দোষত্রুটি অবশ্যই গোপন রাখব। আমার মর্যাদার কসম! আমি তোমাদের লাঞ্ছিত করব না এবং অপরাধীদের (কিংবা পূর্বপুরুষদের—আবু আমর এখানে সন্দেহ পোষণ করেছেন) সামনে তোমাদের অপমানিত করব না; তোমরা ক্ষমাপ্রাপ্ত হয়ে ফিরে যাও।
(খণ্ড: ১) ফাযায়িলু শাহরি রামাদান লি আবদিল গানি আল-মাকদিসী (পৃষ্ঠা: ٦١)
مَغْفُورًا لَكُمْ، قَدْ أَرْضَيْتُمُونِي، وَرَضِيتُ عَنْكُمْ.

قَالَ: فَتَفْرَحُ الْمَلائِكَةُ وَيَسْتَبْشِرُونَ بِمَا يُعْطِي اللَّهُ هَذِهِ الأُمَّةَ إِذَا أَفْطَرُوا

26 - أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ، أَنْبَأَنَا أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْعَلافِ الْمُقْرِي، أَنْبَأَنَا أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ عُمَرَ الْحَمَّامِيُّ الْمُقْرِي، حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ السَّرِيِّ الْقَنْطَرِيُّ، وَأَبُو الْحَسَنِ مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ الْخَوَارَزْمِيُّ، وَأَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْوَاسِطِيُّ، وَاللَّفْظُ لِمُحَمَّدِ بْنِ السَّرِيِّ، قَالُوا: حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَرَفَةَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْحَسَنِ الْبَجَلِيُّ، حَدَّثَنَا الْقَاسِمُ بْنُ الْحَكَمِ الْعُرَنِيُّ، عَنِ الضَّحَّاكِ بْنِ مُزَاحِمٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رضي الله عنهما أَنَّهُ سَمِعَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: " إِنَّ الْجَنَّةَ لَتُزَيَّنُ وَتُنَجَّدُ مِنَ الْحَوْلِ إِلَى الْحَوْلِ لِدُخُولِ شَهْرِ رَمَضَانَ، فَإِذَا كَانَ أَوَّلُ لَيْلَةٍ مِنْ شَهْرِ رَمَضَانَ هَبَّتْ رِيحٌ مِنْ تَحْتِ الْعَرْشِ يُقَالُ لَهَا: الْمُثِيرَةُ، فَتَصْفِقُ أَوْرَاقَ أَشْجَارِ الْجِنَانِ، وَحِلَقَ مَصَارِيعِ أَبْوَابِ الْجِنَانِ، فَيُسْمَعُ لِذَلِكَ طَنِينٌ لَمْ يَسْمَعِ السَّامِعُونَ أَحْسَنَ مِنْهُ.

وَتُزَيَّنُ الْحُورُ الْعِينُ حَتَّى يَقِفْنَ بَيْنَ شُرَفِ الْجَنَّةِ، فَيُنَادِينَ: هَلْ مِنْ
তোমাদের ক্ষমা করা হয়েছে, নিশ্চয়ই তোমরা আমাকে সন্তুষ্ট করেছ এবং আমিও তোমাদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছি।

তিনি বললেন: অতঃপর ফেরেশতারা আনন্দিত হন এবং সুসংবাদ বিনিময় করেন সেই পুরস্কারের কারণে যা আল্লাহ এই উম্মতকে দান করেন যখন তারা ইফতার করে।

২৬ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন আহমাদ, আমাদের খবর দিয়েছেন আবু আল-হাসান আলী বিন মুহাম্মাদ বিন আল-আল্লাফ আল-মুকরি, আমাদের খবর দিয়েছেন আবু আল-হাসান আলী বিন আহমাদ বিন উমর আল-হাম্মামি আল-মুকরি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু বকর মুহাম্মাদ বিন আস-সারী আল-কান্তারি, এবং আবু আল-হাসান মুহাম্মাদ বিন জাফর আল-খাওয়ারিজমি ও আহমাদ বিন মুহাম্মাদ আল-ওয়াসিতি—আর এই শব্দবিন্যাস মুহাম্মাদ বিন আস-সারী-এর—তাঁরা বলেছেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-হাসান বিন আরাফাহ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ বিন আল-হাসান আল-বাজালি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-কাসিম বিন আল-হাকাম আল-উরানি, যাহহাক বিন মুজাহিম থেকে বর্ণিত, তিনি ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছেন: "নিশ্চয়ই জান্নাতকে এক বছর থেকে পরবর্তী বছর পর্যন্ত রমজান মাসের আগমনের জন্য সুসজ্জিত ও সুশোভিত করা হয়। অতঃপর যখন রমজান মাসের প্রথম রাত উপস্থিত হয়, তখন আরশের নিচ থেকে একটি বাতাস প্রবাহিত হয় যাকে 'আল-মুসিরাহ' বলা হয়। ফলে জান্নাতের বৃক্ষরাজির পাতাসমূহ এবং জান্নাতের দরজাসমূহের কড়াগুলো আন্দোলিত হয়ে বেজে ওঠে, যার ফলে এমন এক সুমধুর ঝংকার ধ্বনি শোনা যায় যার চেয়ে সুন্দর ধ্বনি শ্রবণকারীরা আর কখনো শোনেনি।

এবং ডাগর চক্ষুবিশিষ্ট হুরদের সুসজ্জিত করা হয় এমনকি তারা জান্নাতের উচ্চ বালাখানাসমূহের মাঝে অবস্থান নেয় এবং আহ্বান করে বলে: কেউ কি আছে...
(খণ্ড: ১) ফাযায়িলু শাহরি রামাদান লি আবদিল গানি আল-মাকদিসী (পৃষ্ঠা: ٦٢)
خَاطِبٍ إِلَى اللَّهِ عز وجل فَيُزَوِّجَهُ، فَيَقُلْنَ، يَا رِضْوَانُ مَا هَذِهِ اللَّيْلَةُ؟ ، فَيُجِيبُهُنَّ بِالتَّلْبِيَةِ، يَا خَيْرَاتُ حِسَانُ، هَذِهِ أَوَّلُ لَيْلَةٍ مِنْ شَهْرِ رَمَضَانَ، وَيُفْتَحُ فِيهَا أَبْوَابُ الْجِنَانِ لِلصَّائِمِينَ مِنْ أُمَّةِ مُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم.

وَيَقُولُ اللَّهُ عز وجل: يَا رِضْوَانُ، افْتَحْ أَبْوَابَ الْجِنَانِ، يَا مَالِكُ، أَطْبِقْ أَبْوَابَ الْجَحِيمِ عَنِ الصَّائِمِينَ مِنْ أُمَّةِ مُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم، يَا جِبْرِيلُ، اهْبِطْ إِلَى الأَرْضِ، فَصَفِّدْ مَرَدَةَ الشَّيَاطِينِ وَغُلَّهُمْ فِي أَغْلالٍ، ثُمَّ اقْذِفْ بِهِمْ فِي لُجَجِ الْبِحَارِ، حَتَّى لا يُفْسِدُوا عَلَى أُمَّةِ حَبِيبِي صِيَامَهُمْ.

قَالَ: وَيَقُولُ اللَّهُ عز وجل كُلَّ لَيْلَةٍ مِنْ شَهْرِ رَمَضَانَ ثَلاثَ مَرَّاتٍ: هَلْ مِنْ سَائِلٍ فَأُعْطِيَهُ سُؤْلَهُ؟ هَلْ مِنْ تَائِبٍ فَأَتُوبَ عَلَيْهِ؟ هَلْ مِنْ مُسْتَغْفِرٍ فَأَغْفِرَ لَهُ؟ مَنْ يُقْرِضُ الْمَلِيُّ غَيْرَ الْمُعْدَمِ؟ ، الْوَفِيُّ غَيْرَ الظَّلُومِ؟ .

قَالَ: وَللَّهِ عز وجل فِي كُلِّ لَيْلَةٍ مِنْ شَهْرِ رَمَضَانَ عِنْدَ الإِفْطَارِ أَلْفُ أَلْفِ عَتِيقٍ مِنَ النَّارِ.

وَإِذَا كَانَتْ لَيْلَةُ الْجُمُعَةِ أَوْ يَوْمُ الْجُمُعَةِ أَعْتَقَ اللَّهُ فِي كُلِّ سَاعَةٍ مِنْهَا أَلْفَ عَتِيقٍ مِنَ النَّارِ، كُلَّهُمْ قَدِ اسْتَوْجَبَ الْعَذَابَ.

فَإِذَا كَانَ فِي آخِرِ يَوْمٍ فِي شَهْرِ رَمَضَانَ أَعْتَقَ فِي ذَلِكَ الْيَوْمِ بِعَدَدِ مَنْ أَعْتَقَ مِنْ أَوَّلِ الشَّهْرِ إِلَى آخِرِهِ.

فَإِذَا كَانَتْ لَيْلَةُ الْقَدْرِ أَمَرَ اللَّهُ عز وجل جِبْرِيلَ ، فَيَهْبِطُ فِي كُبْكُبَةٍ مِنَ الْمَلائِكَةِ إِلَى الأَرْضِ، وَمَعَهُ لِوَاءٌ أَخْضَرُ، فَيَرْكِزُ اللِّوَاءَ عَلَى ظَهْرِ الْكَعْبَةِ، وَلَهُ سِتُّمِائَةِ جَنَاحٍ ، كُلٌّ مِنْهَا جَنَاحَانِ لا يَنْشُرُهُمَا إِلا فِي لَيْلَةِ قَدْرٍ ، فَيَنْشُرُهُمَا فِي تِلْكَ اللَّيْلَةِ، فَيُجَوِّزَانِ الْمَشْرِقَ وَالْمَغْرِبَ، وَيَبُثُّ جِبْرِيلُ عليه السلام الْمَلائِكَةَ فِي هَذِهِ اللَّيْلَةِ ، فَيُسَلِّمُونَ عَلَى كُلِّ قَائِمٍ وَقَاعِدٍ ، وَمُصَلٍّ وَذَاكِرٍ للَّهِ عز وجل، فَيُصَافِحُونَهُمْ، وَيُؤَمِّنُونَ عَلَى دُعَائِهِمْ حَتَّى يَطْلُعَ الْفَجْرُ، فَإِذَا طَلَعَ الْفَجْرُ نَادَى جِبْرِيلُ عليه السلام: يَا مَعْشَرَ الْمَلائِكَةِ، الرَّحِيلَ الرَّحِيلَ، فَتَقُولُ الْمَلائِكَةُ، يَا جِبْرِيلُ ، مَا صَنَعَ اللَّهُ فِي حَوَائِجِ الْمُؤْمِنِينَ مِنْ أُمَّةِ مُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم، فَيَقُولُ: إِنَّ اللَّهَ عز وجل نَظَرَ إِلَيْهِمْ فِي هَذِهِ اللَّيْلَةِ فَعَفَى عَنْهُمْ وَغَفَرَ لَهُمْ إِلا أَرْبَعَةً قَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ، مَنْ
মহান আল্লাহর কাছে বিবাহের প্রস্তাবকারী হয়, ফলে তিনি তাদের বিবাহ দেন। তখন তারা বলে, হে রিদওয়ান! এটি কোন রাত? তিনি তাদের উত্তর দিয়ে বলেন, হে উত্তম চরিত্রবতী রূপসীরা! এটি রমজান মাসের প্রথম রাত। এতে মুহাম্মদ (সা.)-এর উম্মতের রোজাদারদের জন্য জান্নাতের দরজাগুলো খুলে দেওয়া হয়।

আর মহান আল্লাহ বলেন: হে রিদওয়ান! তুমি জান্নাতের দরজাগুলো খুলে দাও। হে মালিক! মুহাম্মদ (সা.)-এর উম্মতের রোজাদারদের জন্য জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে দাও। হে জিবরাঈল! তুমি পৃথিবীতে অবতরণ করো, অবাধ্য শয়তানদেরকে শেকলবদ্ধ করো এবং তাদের গলায় বেড়ী পরিয়ে দাও। এরপর তাদেরকে সমুদ্রের অতল গহ্বরে নিক্ষেপ করো, যাতে তারা আমার প্রিয়তমের উম্মতের সিয়ামকে নষ্ট করতে না পারে।

তিনি বলেন: মহান আল্লাহ রমজান মাসের প্রতি রাতে তিনবার বলেন: কোনো যাঞ্চাকারী আছে কি, যাকে আমি তার যাচ্ঞা পূরণ করে দেব? কোনো তাওবাকারী আছে কি, যার তাওবা আমি কবুল করব? কোনো ক্ষমা প্রার্থনাকারী আছে কি, যাকে আমি ক্ষমা করে দেব? কে আছে এমন সত্তাকে করজ দেবে যিনি সচ্ছল ও অভাবমুক্ত? যিনি প্রতিশ্রুতি রক্ষাকারী এবং কোনো জুলুম করেন না?

তিনি বলেন: আর রমজান মাসের প্রতি রাতে ইফতারের সময় মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে দশ লক্ষ জাহান্নাম থেকে মুক্তিপ্রাপ্ত ব্যক্তি থাকে।

আর যখন জুমার রাত বা জুমার দিন উপস্থিত হয়, তখন আল্লাহ তার প্রতি মুহূর্তে এক হাজার ব্যক্তিকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেন, যাদের প্রত্যেকেই শাস্তির যোগ্য হয়েছিল।

অতঃপর যখন রমজান মাসের শেষ দিন আসে, তখন তিনি সেই দিনটিতে মাসের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত যতজনকে মুক্তি দিয়েছিলেন, সমপরিমাণ ব্যক্তিকে মুক্তি দেন।

এরপর যখন লাইলাতুল কদর উপস্থিত হয়, মহান আল্লাহ জিবরাঈলকে নির্দেশ দেন। তখন তিনি ফেরেশতাদের এক বিশাল বাহিনী নিয়ে পৃথিবীতে অবতরণ করেন। তাঁর সাথে একটি সবুজ পতাকা থাকে এবং তিনি সেই পতাকাটি কাবার ছাদে স্থাপন করেন। তাঁর ছয়শ ডানা রয়েছে, যার মধ্যে দুটি ডানা তিনি কেবল লাইলাতুল কদরের রাতেই প্রসারিত করেন। সেই রাতে তিনি ডানা দুটি প্রসারিত করলে তা পূর্ব ও পশ্চিম দিগন্ত পর্যন্ত ছাড়িয়ে যায়। জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) এই রাতে ফেরেশতাদেরকে ছড়িয়ে দেন, ফলে তারা মহান আল্লাহর ইবাদতে দণ্ডায়মান, উপবিষ্ট, নামাজরত এবং জিকিররত প্রত্যেকের ওপর সালাম পেশ করেন। তারা তাদের সাথে মুসাফাহা করেন এবং তাদের দোয়ায় আমিন বলেন যতক্ষণ না ফজর উদিত হয়। যখন ফজর উদিত হয়, তখন জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) ডাক দিয়ে বলেন: হে ফেরেশতামণ্ডলী! প্রস্থান করো, প্রস্থান করো। তখন ফেরেশতারা বলেন: হে জিবরাঈল! মুহাম্মদ (সা.)-এর উম্মতের মুমিনদের হাজত বা প্রয়োজনসমূহের ব্যাপারে আল্লাহ কী ফয়সালা করেছেন? তিনি বলেন: নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ এই রাতে তাদের প্রতি দৃষ্টি দিয়েছেন এবং চার ব্যক্তি ছাড়া তাদের সকলকে মার্জনা ও ক্ষমা করে দিয়েছেন। তারা বললেন: হে আল্লাহর রাসুল! তারা কারা?
(খণ্ড: ১) ফাযায়িলু শাহরি রামাদান লি আবদিল গানি আল-মাকদিসী (পৃষ্ঠা: ٦٣)
هَؤُلاءِ الأَرْبَعَةُ، قَالَ: " رَجُلٌ مُدْمِنُ خَمْرٍ، وَعَاقٌّ لِوَالِدَيْهِ، وَقَاطِعُ رَحِمٍ، وَمُشَاحِنٌ، قَالُوا: هُوَ الْمُصَارِمُ.

فَإِذَا كَانَتْ لَيْلَةُ الْفِطْرِ سُمِّيَتْ تِلْكَ اللَّيْلَةُ لَيْلَةَ الْجَائِزَةِ، وَإِذَا كَانَتْ غَدَاةُ الْفِطْرِ بَعَثَ اللَّهُ الْمَلائِكَةَ ، فَيَهْبِطُونَ فِي كُلِّ بِلادِ الأَرْضِ، وَيَقُومُونَ عَلَى أَفْوَاهِ السِّكَكِ فَيُنَادُونَ بِصَوْتٍ يَسْمَعُهُ جَمِيعُ مَنْ خَلَقَ اللَّهُ عز وجل ، إِلا الْجِنَّ وَالإِنْسَ، فَيَقُولُونَ: يَا أُمَّةَ مُحَمَّدٍ، اخْرُجُوا إِلَى رَبٍّ كَرِيمٍ يُعْطِي الْجَزِيلَ، وَيَغْفِرُ الذَّنْبَ الْعَظِيمَ، فَإِذَا بَرَزُوا فِي مُصَلاهُمْ يَقُولُ اللَّهُ عز وجل لِلْمَلائِكَةِ: يَا مَلائِكَتِي ، مَا جَزَاءُ الأَجِيرِ إِذَا عَمِلَ عَمَلَهُ؟ فَتَقُولُ الْمَلائِكَةُ: إِلَهَنَا وَسَيِّدَنَا جَزَاؤُهُ أَنْ يُوَفَّى أَجْرَهُ.

قَالَ: فَيَقُولُ اللَّهُ عز وجل: فَإِنِّي أُشْهِدُكُمْ يَا مَلائِكَتِي أَنِّي قَدْ جَعَلْتُ ثَوَابَهُمْ مِنْ صِيَامِهِمْ رَمَضَانَ رِضَايَ وَمَغْفِرَتِي.

قَالَ: يَقُولُ اللَّهُ عز وجل: يَا عِبَادِي، سَلُونِي فَوَعِزَّتِي لا تَسْأَلُونِي الْيَوْمَ شَيْئًا فِي جَمْعِكُمْ هَذَا لآخِرَتِكُمْ إِلا أَعْطَيْتُكُمْ ، وَلا لِدُنْيَاكُمْ إِلا نَظَرْتُ لَكُمْ، وَعِزَّتِي لأَسْتُرَنَّ عَلَيْكُمْ مَا رَاقَبْتُمُونِي، وَعِزَّتِي لا فَضَحْتُكُمْ بَيْنَ أَصْحَابِ الذُّنُوبِ، انْصَرِفُوا مَغْفُورًا لَكُمْ، فَقَدْ أَرْضَيْتُمُونِي، وَرَضِيتُ عَنْكُمْ.

قَالَ: فَتَفْرَحُ الْمَلائِكَةُ ، وَيَسْتَبْشِرُونَ بِمَا يُعْطِي اللَّهُ عز وجل هَذِهِ الأُمَّةَ ، إِذَا أَفْطَرُوا مِنْ شَهْرِ رَمَضَانَ "

27 - أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ، أَنْبَأَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ الْعَلافُ، أَنْبَأَنَا عَلِيُّ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ عُمَرَ الْحَمَّامِيُّ، حَدَّثَنَا بَكَّارٌ، حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ
এই চার ব্যক্তি। তিনি বললেন: "মদ আসক্ত ব্যক্তি, পিতা-মাতার অবাধ্য সন্তান, আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্নকারী এবং বিদ্বেষ পোষণকারী।" তারা বলল: সে হলো শত্রুতা পোষণকারী।

অতঃপর যখন ঈদুল ফিতরের রাত আসে, তখন সেই রাতকে 'পুরস্কারের রাত' বলে অভিহিত করা হয়। আর যখন ঈদুল ফিতরের সকাল হয়, তখন মহান আল্লাহ ফেরেশতাদের প্রেরণ করেন। তারা পৃথিবীর প্রতিটি জনপদে অবতরণ করেন এবং রাস্তার মোড়গুলোতে দাঁড়িয়ে উচ্চস্বরে ডাকতে থাকেন, যা মহান আল্লাহর সকল সৃষ্টি শুনতে পায়—কেবল জিন ও মানুষ ব্যতীত। তারা বলে: হে মুহাম্মাদের উম্মত! তোমরা এমন এক দয়ালু রবের দিকে বেরিয়ে এসো, যিনি প্রচুর দান করেন এবং গুরুতর অপরাধ ক্ষমা করেন। অতঃপর যখন তারা তাদের ঈদগাহে উপস্থিত হয়, তখন মহান আল্লাহ ফেরেশতাদের বলেন: হে আমার ফেরেশতারা! শ্রমিকের পারিশ্রমিক কী হওয়া উচিত যখন সে তার কাজ সম্পন্ন করে? ফেরেশতারা বলে: হে আমাদের ইলাহ ও আমাদের অধিপতি! তার পারিশ্রমিক হলো তাকে তার প্রাপ্য পূর্ণরূপে প্রদান করা।

তিনি বললেন: তখন মহান আল্লাহ বলেন: হে আমার ফেরেশতারা! আমি তোমাদের সাক্ষী রাখছি যে, আমি তাদের রমজানের রোজা পালনের বিনিময়ে আমার সন্তুষ্টি ও ক্ষমা দান করলাম।

তিনি বলেন: মহান আল্লাহ বলেন: হে আমার বান্দারা! তোমরা আমার নিকট প্রার্থনা করো। আমার মহিমার কসম! আজ তোমাদের এই সমবেত অবস্থায় তোমাদের আখেরাতের কল্যাণের জন্য যা কিছু প্রার্থনা করবে, আমি তা অবশ্যই তোমাদের প্রদান করব। আর তোমাদের পার্থিব প্রয়োজনের জন্য যা কিছু চাইবে, তাতে আমি তোমাদের অবস্থার প্রতি বিবেচনা করব। আমার মহিমার কসম! যতক্ষণ তোমরা আমাকে স্মরণে রাখবে, ততক্ষণ আমি অবশ্যই তোমাদের ত্রুটিসমূহ ঢেকে রাখব। আমার মহিমার কসম! আমি তোমাদের পাপিষ্ঠদের মাঝে লজ্জিত করব না। তোমরা ক্ষমাপ্রাপ্ত হয়ে ফিরে যাও; তোমরা আমাকে সন্তুষ্ট করেছ এবং আমিও তোমাদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছি।

তিনি বললেন: রমজান মাস শেষে এই উম্মত যখন রোজা সম্পন্ন করে, তখন মহান আল্লাহ তাদের যা কিছু দান করেন তাতে ফেরেশতারা অত্যন্ত আনন্দিত ও উল্লসিত হয়।

২৭ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন আহমাদ, আমাদের জানিয়েছেন আলী বিন মুহাম্মাদ আল-আল্লাফ, আমাদের জানিয়েছেন আলী বিন আহমাদ বিন উমর আল-হাম্মামি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন বাক্কার, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু বকর আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন...
(খণ্ড: ১) ফাযায়িলু শাহরি রামাদান লি আবদিল গানি আল-মাকদিসী (পৃষ্ঠা: ٦٤)
الْجَعْدِ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَكَّارٍ، حَدَّثَنَا هَيَّاجُ بْنُ بَسْطَامَ، حَدَّثَنَا الْعَبَّاسُ ، عَنْ نَافِعٍ ، عَنْ أَبِي سُرَيْحَةَ الْغِفَارِيِّ، أَنَّهُ سَمِعَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: «قَدْ أَهَلَّ شَهْرُ رَمَضَانَ، لَوْ يَعْلَمُ الْعِبَادُ مَالَهُمْ فِي شَهْرِ رَمَضَانَ لَتَمَنَّى الْعِبَادُ أَنْ يَكُونَ شَهْرُ رَمَضَانَ سَنَةً» .

فَقَالَ رَجُلٌ مِنْ خُزَاعَةَ: يَا نَبِيَّ اللَّهِ حَدِّثْنَا، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " إِنَّ الْجَنَّةَ لَتُزَيَّنُ لِشَهْرِ رَمَضَانَ مِنْ رَأْسِ الْحَوْلِ إِلَى الْحَوْلِ، حَتَّى إِذَا كَانَ أَوَّلُ لَيْلَةٍ مِنْهُ هَبَّتْ رِيحٌ مِنْ تَحْتِ الْعَرْشِ ، فَصَفَقَتْ وَرَقَةَ الْجَنَّةِ، فَنَظَر الْحُورُ الْعِينُ إِلَى ذَلِكَ، فَقُلْنَ: يَا رَبِّ، اجْعَلْ لَنَا مِنْ عِبَادِكَ فِي هَذَا الشَّهْرِ أَزْوَاجًا تَقَرُّ أَعْيُنُنَا بِهِمْ، وَتَقَرُّ أَعْيُنُهُمْ بِنَا، فَمَا مِنْ عَبْدٍ صَامَ شَهْرَ رَمَضَانَ إِلا زَوَّجَهُ اللَّهُ زَوْجَةً مِنَ الْحُورِ الْعِينِ فِي خَيْمَةٍ مِنْ دُرَّةٍ مُجَوَّفَةٍ، مِمَّا نَعَتَ اللَّهُ عز وجل بِهِ الْحُورَ الْعِينَ الْمَقْصُورَاتِ فِي الْخِيَامِ، عَلَى كُلِّ امْرَأَةٍ مِنْهُنَّ سَبْعُونَ حُلَّةً، لَيْسَ مِنْهَا حُلَّةٌ عَلَى لَوْنِ الأُخْرَى، وَيُعْطَى سَبْعِينَ لَوْنًا مِنَ الطِّيبِ ، لَيْسَ يُشْبِهُ الأَوَّلَ، كُلُّ امْرَأَةٍ مِنْهُنَّ عَلَى سَرِيرٍ مِنْ يَاقُوتٍ مُوَشَّحَةٍ بِالدُّرِّ، عَلَى سَبْعِينَ فِرَاشًا ، بَطَائِنُهَا مِنْ إِسْتَبْرَقٍ، وَفَوْقَ السَّبْعِينَ فِرَاشًا سَبْعُونَ أَرِيكَةٍ، وَلِكُلِّ امْرَأَةٍ مِنْهُنَّ سَبْعُونَ أَلْفَ وَصِيفٍ يَخْدِمُهَا ، وَسَبْعُونَ أَلْفَ وَصِيفٍ لِزَوْجِهَا ، مَعَ كُلِّ وَصِيفٍ صَفْحَةٌ مِنْ ذَهَبٍ، فِيهِ لَوْنٌ مِنَ الطَّعَامِ يَجِدُ لآخِرِهِ مِنَ اللَّذَّةِ كَمَا يَجِدُ لأَوَّلِهِ، وَيُعْطَى زَوْجُهَا مِثْلَ ذَلِكَ عَلَى سَرِيرٍ مِنْ يَاقُوتَةٍ حَمْرَاءَ، عَلَيْهِ سِوَارَانِ مِنْ ذَهَبٍ مُرَصَّعٍ بِالْيَاقُوتِ الأَحْمَرِ، لِكُلِّ مَنْ صَامَ شَهْرَ رَمَضَانَ، سِوَى مَا عَمِلَ الْحَسَنَاتِ "
আল-জাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মাদ ইবনে বাক্কার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হাইয়াজ ইবনে বাসতাম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আল-আব্বাস আমাদের নিকট নাফি থেকে, তিনি আবু সারীহাহ আল-গিফারী থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেন: "রমজান মাস সমাগত। যদি বান্দারা জানত যে রমজান মাসে তাদের জন্য কী (পুরস্কার) রয়েছে, তবে তারা অবশ্যই কামনা করত যে যেন পুরো বছরটিই রমজান মাস হতো।"

তখন খুজাআ গোত্রের এক ব্যক্তি বললেন: হে আল্লাহর নবী, আমাদের নিকট আরও বর্ণনা করুন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "নিশ্চয়ই জান্নাতকে বছরের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত রমজান মাসের জন্য সুসজ্জিত করা হয়। যখন রমজানের প্রথম রাত আসে, তখন আরশের নিচ থেকে একটি বাতাস প্রবাহিত হয়, যা জান্নাতের গাছের পাতাগুলোকে আন্দোলিত করে। তখন ডাগর চক্ষুবিশিষ্ট হুরেরা তা দেখে এবং বলে: হে আমাদের রব, এই মাসে আপনার বান্দাদের মধ্য থেকে আমাদের জন্য এমন স্বামী নির্ধারণ করুন যাদের দেখে আমাদের চক্ষু শীতল হবে এবং আমাদের দেখে তাদের চক্ষু শীতল হবে। যে বান্দাই রমজান মাসে রোজা পালন করে, আল্লাহ তাকে ডাগর চক্ষুবিশিষ্ট হুরদের মধ্য থেকে একটি ফাঁপা মুক্তার তাবুর ভেতরে এমন একজন স্ত্রীর সাথে বিবাহ দেন, যেমনটি আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা তাঁবুতে অবস্থানকারী হুরদের বর্ণনায় দিয়েছেন। তাদের প্রত্যেকের অঙ্গে থাকবে সত্তরটি পোশাক, যার একটির রঙ অন্যটির মতো হবে না। তাকে সত্তর প্রকার সুগন্ধি দেওয়া হবে, যার একটির ঘ্রাণ অন্যটির সাথে মিলবে না। তাদের প্রত্যেকে মুক্তাখচিত ইয়াকুত পাথরের খাটের ওপর সত্তরটি বিছানায় আসীন থাকবে, যেগুলোর আস্তর হবে পুরু রেশমের। সেই সত্তরটি বিছানার ওপর থাকবে সত্তরটি পালঙ্ক। তাদের প্রত্যেকের সেবার জন্য থাকবে সত্তর হাজার সেবক, আর তার স্বামীর জন্যও থাকবে সত্তর হাজার সেবক। প্রত্যেক সেবকের হাতে থাকবে একটি করে স্বর্ণপাত্র, যাতে থাকবে হরেক রকমের খাবার, যার শেষ লোকমায় সে ঠিক তেমন স্বাদ পাবে যেমনটি পেয়েছিল প্রথম লোকমায়। আর তার স্বামীকেও অনুরূপ মর্যাদা প্রদান করা হবে লাল ইয়াকুতের একটি খাটে, যার ওপর থাকবে লাল ইয়াকুতখচিত স্বর্ণের দুটি কঙ্কণ। এটি সেই প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য যে রমজান মাসে রোজা পালন করেছে, তার অন্যান্য নেক আমল ছাড়াও।"
(খণ্ড: ১) ফাযায়িলু শাহরি রামাদান লি আবদিল গানি আল-মাকদিসী (পৃষ্ঠা: ٦٥)
28 - أَخْبَرَنَا أَبُو طَاهِرٍ السِّلَفِيُّ، أَنْبَأَنَا أَبُو الْخَطَّابِ بْنُ الْبَطِرِ، أَنْبَأَنَا أَبُو الْحَسَنِ بْنُ رِزْقُوَيْهِ، حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ سَلْمَانَ الْفَقِيهُ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ السُّلَمِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ رَجَاءٍ، أَنْبَأَنَا جَرِيرٌ يَعْنِي ابْنَ أَيُّوبَ، حَدَّثَنِي الشَّعْبِيُّ ، عَنْ قَيْسٍ الْجُهَنِيِّ، قَالَ: «إِنَّ كُلَّ يَوْمٍ يَصُومُهُ الْعَبْدُ مِنْ رَمَضَانَ يَجِيءُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فِي غَمَامَةٍ مِنْ نُورٍ، فِي تِلْكَ الْغَمَامَةِ قَصْرٌ مِنْ دُرٍّ لَهُ سَبْعُونَ أَلْفَ بَابٍ، لِكُلِّ بَابٍ يَاقُوتَهٌ حَمْرَاءُ»

29 - أَخْبَرَنَا أَبُو الْمَعَالِي أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ الْغَنِيِّ بْنِ حَنِيفَةَ الْبَاجِسْرَائِيُّ، بِبَغْدَادَ، أَنْبَأَنَا أَبُو غَالِبٍ مُحَمَّدُ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ أَحْمَدَ الْبَاقِلانِيُّ، أَنْبَأَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْحُسَيْنِ بْنِ إِسْمَاعِيلَ بْنِ الْمَحَامِلِيِّ، أَنْبَأَنَا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ الشَّافِعِيُّ، حَدَّثَنَا مُعَاذُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، حَدَّثَنَا سَلَمَةُ بْنُ وَرْدَانَ، قَالَ: سَمِعْتُ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ ، يَقُولُ: ارْتَقَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلَى الْمِنْبَرِ
২৮ - আবু তাহির আস-সিলাফি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবুল খাত্তাব ইবনুল বাতির আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু আল-হাসান ইবনে রিজকুওয়াইহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আহমাদ বিন সালমান আল-ফকিহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মাদ বিন ইসমাঈল আস-সুলামি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবদুল্লাহ বিন রাজা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, জারীর অর্থাৎ ইবনে আইয়ুব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আশ-শা'বী কায়েস আল-জুহানি থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: «রমজান মাসে বান্দা যে প্রতিটি দিন রোজা রাখে, তা কিয়ামতের দিন নূরের এক খণ্ড মেঘমালার মধ্যে আসবে; সেই মেঘমালার মধ্যে মুক্তার একটি প্রাসাদ থাকবে যার সত্তর হাজার দরজা থাকবে এবং প্রতিটি দরজার জন্য একটি করে লাল ইয়াকুত পাথর থাকবে।»

২৯ - আবু আল-মাআলি আহমাদ ইবনে আব্দিল গনি ইবনে হানিফা আল-বাজিসরায়ি বাগদাদে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু গালিব মুহাম্মাদ ইবনুল হাসান ইবনে আহমাদ আল-বাকিল্লানি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু আব্দুল্লাহ আহমাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনুল হুসাইন ইবনে ইসমাঈল ইবনুল মাহামিলি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু বকর মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে ইব্রাহিম আশ-শাফিঈ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মুয়াজ ইবনুল মুসান্না আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আল-কা'নাবি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সালামাহ ইবনে ওয়ারদান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আনাস ইবনে মালিককে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিম্বরে আরোহণ করলেন।