(খণ্ড: ১)
তানযীহুল কুরআনিল কারীম আন দাআওয়িল মুবতিলীন
(পৃষ্ঠা: -)
تنزيه القرآن الكريم عن دعاوى المبطلين القسم: كتب عامة
الكتاب: تنزيه القرآن الكريم عن دعاوى المبطلين
المؤلف: منقذ بن محمود السقار
الناشر: رابطة العالم الإسلامي
عدد الصفحات: 307
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 7 ربيع الآخر 1433
বাতিলপন্থীদের ভিত্তিহীন দাবি থেকে পবিত্র কুরআনের পবিত্রতা ঘোষণা বিভাগ: সাধারণ বইসমূহ
গ্রন্থ: বাতিলপন্থীদের ভিত্তিহীন দাবি থেকে পবিত্র কুরআনের পবিত্রতা ঘোষণা
লেখক: মুনকিজ বিন মাহমুদ আস-সাক্কার
প্রকাশক: রাবেতাতুল আলম আল-ইসলামী (মুসলিম ওয়ার্ল্ড লিগ)
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩০৭
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৭ রবিউল আখির ১৪৩৩
(খণ্ড: ১)
তানযীহুল কুরআনিল কারীম আন দাআওয়িল মুবতিলীন
(পৃষ্ঠা: -)
تنزيه القرآن الكريم
عن دعاوى المبطلين
رابطة العالم الإسلامي
تنزيه القرآن الكريم
عن دعاوى المبطلين
د. منقذ بن محمود السقار
الباحث في رابطة العالم الإسلامي
পবিত্র কুরআনের পবিত্রতা ঘোষণা
বাতিলপন্থীদের ভিত্তিহীন দাবিসমূহ থেকে
রাবেতাতুল আলম আল-ইসলামী (মুসলিম ওয়ার্ল্ড লিগ)
পবিত্র কুরআনের পবিত্রতা ঘোষণা
বাতিলপন্থীদের ভিত্তিহীন দাবিসমূহ থেকে
ড. মুনকিজ বিন মাহমুদ আস-সাক্কার
রাবেতাতুল আলম আল-ইসলামী-এর গবেষক
(খণ্ড: ১)
তানযীহুল কুরআনিল কারীম আন দাআওয়িল মুবতিলীন
(পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم
পরম করুণাময়, অতি দয়ালু আল্লাহর নামে।
(খণ্ড: ১)
তানযীহুল কুরআনিল কারীম আন দাআওয়িল মুবতিলীন
(পৃষ্ঠা: ৫)
مقدمةالحمد لله، والصلاة والسلام على رسول الله، وعلى آله وصحبه ومن والاه واتبع هداه إلى يوم الدين، وبعد:
فإن الله أرسل الرسل لتقوم بهم حجته على خلقه، وأنزل عليهم كتبه؛ ملؤها الهدى والنور، ليقيموا بها شرعة الله ويهدوا بها إلى منهجه القويم {لَقَدْ أَرْسَلْنَا رُسُلَنَا بِالْبَيِّنَاتِ وَأَنزَلْنَا مَعَهُمُ الْكِتَابَ وَالْمِيزَانَ لِيَقُومَ النَّاسُ بِالْقِسْطِ} (الحديد: 25).
ثم ختم الله رسالاته بمحمد صلى الله عليه وسلم، وأنزل عليه القرآن مصدقاً لما أنزله - من قبلُ - على إخوانه الأنبياء {نَزَّلَ عَلَيْكَ الْكِتَابَ بِالْحَقِّ مُصَدِّقاً لِّمَا بَيْنَ يَدَيْهِ وَأَنزَلَ التَّوْرَاةَ وَالإِنجِيلَ مِن قَبْلُ هُدًى لِّلنَّاسِ وَأَنزَلَ الْفُرْقَانَ إِنَّ الَّذِينَ كَفَرُوا بِآيَاتِ الله لَهُمْ عَذَابٌ شَدِيدٌ وَالله عَزِيزٌ ذُو انتِقَامٍ} (آل عمران: 3 - 4).
فالقرآن كتاب الله الأخير، وهو مصدق ومكمل لما أوحاه الله في كتب الأنبياء السابقين، وهو أيضاً مهيمن عليها {وَأَنزَلْنَا إِلَيْكَ الْكِتَابَ بِالْحَقِّ مُصَدِّقاً لِّمَا بَيْنَ يَدَيْهِ مِنَ الْكِتَابِ وَمُهَيْمِناً عَلَيْهِ} (المائدة: 48)، لكون هذه الكتب نزلت إلى أقوام مخصوصين في أزمنة معينة لإصلاح ذنوب وعيوب تلك الأمم، في حين أن القرآن مشتمل على كل ما تحتاجه الإنسانية إلى قيام الساعة، لأنه رسالة الله الخاتمة إلى الناس أجمعين على اختلاف أزمانهم وأمكنتهم {قُلْ يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنِّي رَسُولُ اللهِ إِلَيْكُمْ جَمِيعاً الَّذِي لَهُ مُلْكُ السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضِ لا إِلَهَ إِلَاّ هُوَ يُحْيِي وَيُمِيتُ فَآمِنُوا بِالله وَرَسُولِهِ النَّبِيِّ الأُمِّيِّ الَّذِي يُؤْمِنُ بِاللهِ وَكَلِمَاتِهِ وَاتَّبِعُوهُ لَعَلَّكُمْ تَهْتَدُونَ} (الأعراف: 158).
وحتى تبقى كلمة الله شاهدة على خلقه إلى يوم القيامة، فقد تكفل بحفظ كتابه الأخير {إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لَحَافِظُونَ} (الحجر: 9)، وهكذا أضحى القرآن الكتاب الوحيد المحفوظ بحفظ الله له {وَإِنَّهُ لَكِتَابٌ عَزِيزٌ لَا يَأْتِيهِ الْبَاطِلُ مِن بَيْنِ
উপক্রমণিকাসমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসূলের ওপর, তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীগণ এবং যারা তাঁর আনুগত্য করেছে ও কিয়ামত পর্যন্ত তাঁর হিদায়াতের অনুসরণ করবে তাদের ওপর। অতঃপর:
নিশ্চয়ই আল্লাহ রাসূলগণকে প্রেরণ করেছেন যেন তাঁদের মাধ্যমে তাঁর সৃষ্টির ওপর তাঁর প্রমাণ (حجة) প্রতিষ্ঠিত হয়, এবং তিনি তাঁদের ওপর স্বীয় কিতাবসমূহ অবতীর্ণ করেছেন; যা হিদায়াত ও নূরে পরিপূর্ণ, যেন তাঁরা এর মাধ্যমে আল্লাহর শরীআত কায়েম করেন এবং তাঁর সঠিক মানহাজ (منهج)-এর দিকে পরিচালিত করেন। {নিশ্চয়ই আমি আমার রাসূলদেরকে স্পষ্ট প্রমাণাদিসহ পাঠিয়েছি এবং তাঁদের সাথে কিতাব ও তুলাদণ্ড অবতীর্ণ করেছি যাতে মানুষ ইনসাফের ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকে} (আল-হাদীদ: ২৫)।
অতঃপর আল্লাহ মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর মাধ্যমে তাঁর রিসালাতসমূহের পরিসমাপ্তি ঘটিয়েছেন, এবং তাঁর ওপর কুরআন অবতীর্ণ করেছেন যা ইতিপূর্বে তাঁর ভ্রাতৃপ্রতিম নবীগণের ওপর যা অবতীর্ণ হয়েছিল তার সত্যায়নকারী। {তিনি সত্যসহ আপনার প্রতি কিতাব অবতীর্ণ করেছেন, যা তার সম্মুখস্থ বিষয়সমূহের সত্যায়নকারী। আর তিনি মানুষের হিদায়াতের জন্য ইতিপূর্বে তাওরাত ও ইঞ্জিল অবতীর্ণ করেছিলেন এবং ফুরকান অবতীর্ণ করেছেন। নিশ্চয়ই যারা আল্লাহর আয়াতসমূহকে অস্বীকার করে, তাদের জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি। আর আল্লাহ মহাপরাক্রমশালী, প্রতিশোধ গ্রহণকারী} (আল-ইমরান: ৩ - ৪)।
সুতরাং কুরআন হলো আল্লাহর সর্বশেষ কিতাব, এবং তা পূর্ববর্তী নবীগণের কিতাবসমূহে আল্লাহ যা ওহী করেছেন তার সত্যায়নকারী ও পূর্ণতাদানকারী, আর সেগুলোর ওপর তদারককারীও (মুহাইমিন)। {আর আমি আপনার প্রতি সত্যসহ কিতাব অবতীর্ণ করেছি যা তার সম্মুখস্থ কিতাবসমূহের সত্যায়নকারী এবং সেগুলোর ওপর তদারককারী} (আল-মায়িদাহ: ৪৮)। কারণ পূর্ববর্তী এই কিতাবসমূহ নির্দিষ্ট সময়ের জন্য নির্দিষ্ট কওমের নিকট সেই সব জাতির পাপাচার ও ত্রুটি সংশোধনের লক্ষ্যে অবতীর্ণ হয়েছিল। পক্ষান্তরে, কুরআন কিয়ামত পর্যন্ত মানবতার জন্য প্রয়োজনীয় সকল বিষয়ের ধারক, কারণ এটি স্থান-কাল নির্বিশেষে সকল মানুষের প্রতি আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রেরিত সর্বশেষ বাণী। {বলুন, হে মানুষ! আমি তোমাদের সবার প্রতি আল্লাহর সেই রাসূল, যাঁর হাতে আসমান ও যমীনের রাজত্ব; তিনি ছাড়া অন্য কোনো ইলাহ নেই, তিনি জীবন দান করেন ও মৃত্যু ঘটান। অতএব তোমরা আল্লাহ ও তাঁর উম্মী নবী রাসূলের প্রতি ঈমান আনো, যিনি আল্লাহ ও তাঁর বাণীসমূহের ওপর ঈমান রাখেন, আর তোমরা তাঁর অনুসরণ করো যাতে তোমরা সঠিক পথ পাও} (আল-অরাফ: ১৫৮)।
আর যেন কিয়ামত পর্যন্ত আল্লাহর বাণী তাঁর সৃষ্টির ওপর সাক্ষী হিসেবে থাকে, সেজন্য তিনি স্বয়ং তাঁর সর্বশেষ কিতাব সংরক্ষণের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। {নিশ্চয়ই আমি যিকর (الذكر) অবতীর্ণ করেছি এবং আমিই এর সংরক্ষণকারী} (আল-হিজর: ৯)। এভাবেই কুরআন একমাত্র কিতাব হিসেবে পরিগণিত হয়েছে যা আল্লাহর সরাসরি তদারকিতে সংরক্ষিত। {আর নিশ্চয়ই এটি এক সম্মানিত কিতাব, কোনো মিথ্যা (বা বাতিল) এতে প্রবেশ করতে পারে না এর সামনে থেকেও নয়...}
(খণ্ড: ১)
তানযীহুল কুরআনিল কারীম আন দাআওয়িল মুবতিলীন
(পৃষ্ঠা: ৬)
يَدَيْهِ وَلَا مِنْ خَلْفِهِ تَنزِيلٌ مِّنْ حَكِيمٍ حَمِيدٍ} (فصلت: 41 - 42)، في حين أن الله وكل حفظ الكتب السابقة إلى أصحابها {بِمَا اسْتُحْفِظُوا مِن كِتَابِ اللهِ وَكَانُوا عَلَيْهِ شُهَدَاء} (المائدة: 44)، فحرفوها وأضاعوا منها ما أضاعوا {يُحَرِّفُونَ الْكَلِمَ عَن مَّوَاضِعِهِ وَنَسُوا حَظّاً مِّمَّا ذُكِّرُوا بِهِ} (المائدة: 13)، بل وزادوا عليها ما لم يوح به الله {فَوَيْلٌ لِّلَّذِينَ يَكْتُبُونَ الْكِتَابَ بِأَيْدِيهِمْ ثُمَّ يَقُولُونَ هَذَا مِنْ عِندِ اللهِِ لِيَشْتَرُوا بِهِ ثَمَناً قَلِيلاً فَوَيْلٌ لَّهُم مِّمَّا كَتَبَتْ أَيْدِيهِمْ وَوَيْلٌ لَّهُمْ مِّمَّا يَكْسِبُونَ} (البقرة: 79).
لقد أقبل المسلمون في كل عصر وحين على مائدة القرآن ينهلون منها بحفظه وتدبره وتعلمه، فخصوه بعناية ومدارسة لم تكن لكتاب قبله، حفظه الملايين من أطفالهم في كل عصر؛ على اختلاف ألسنتهم ولهجاتهم، يتلونه آناء الليل وأطراف النهار، يبتغون فيه موعود الله ورسوله صلى الله عليه وسلم لأهل القرآن: «يقال لصاحب القرآن: اقرأ، وارق، ورتل كما كنت ترتل في الدنيا، فإن منزلتك عند آخر آية تقرؤها» (1).
وعمد علماء الإسلام إلى ترسيخ علومه وفنونه وتفسيره وبيان أحكامه وهديه، فألفت في خدمة القرآن آلاف الكتب التي تزخر بها المكتبة الإسلامية.
وأدرك أعداء الإسلام أهمية القرآن في نفوس المسلمين، ومدى تعلقهم به، وأنه مستمسك عقيدتهم، ومصدر شريعتهم، وأنه باعث نهضتهم، وضمان مستقبلهم، وأن تمسكهم به يجعلهم أمة عصية على الهوان والذل والاستعباد، فأضمروا له العداء، ونصبوا بينه وبين المسلمين السدود {وَقَالَ الَّذِينَ كَفَرُوا لَا تَسْمَعُوا لِهَذَا الْقُرْآنِ وَالْغَوْا فِيهِ لَعَلَّكُمْ تَغْلِبُونَ} (فصلت: 26).
وما أدركه أعداء القرآن في القديم أدركه الأعداء الجدد، يقول حاخام إسرائيل الأكبر مردخاي الياهو: "هذا الكتاب الذي يسمونه القرآن هو عدونا الأكبر والأوحد، هذا العدو لا تستطيع وسائلنا العسكرية مواجهته، كيف يمكن تحقيق
--------------------------------------------
যার সামনে থেকে কিংবা এর পেছন থেকে কোনো মিথ্যা আসতে পারে না; এটি প্রজ্ঞাময়, চিরপ্রশংসিত সত্তার পক্ষ থেকে অবতীর্ণ} (ফুসসিলাত: ৪১ - ৪২), পক্ষান্তরে আল্লাহ পূর্ববর্তী কিতাবসমূহ সংরক্ষণের দায়িত্ব তাদের অধিকারীদের ওপর ন্যস্ত করেছিলেন {যেহেতু তাদেরকে আল্লাহর কিতাব সংরক্ষণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল এবং তারা ছিল এর ওপর সাক্ষী} (আল-মায়িদাহ: ৪৪)। ফলে তারা তা বিকৃত করেছে এবং এর অনেক অংশ তারা হারিয়ে ফেলেছে {তারা শব্দসমূহকে তাদের স্বস্থান থেকে বিচ্যুত করে এবং তাদেরকে যে উপদেশ দেওয়া হয়েছিল, তার একাংশ তারা ভুলে গিয়েছে} (আল-মায়িদাহ: ১৩)। এমনকি তারা তাতে এমন কিছু সংযোজন করেছে যা আল্লাহ ওহী হিসেবে অবতীর্ণ করেননি {সুতরাং দুর্ভোগ তাদের জন্য, যারা নিজ হাতে কিতাব লেখে এবং সামান্য মূল্যের বিনিময়ে বলে, এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে—যাতে তারা এর বিনিময়ে সামান্য মূল্য গ্রহণ করতে পারে। অতএব তাদের হাত যা লিখেছে তার জন্য তাদের দুর্ভোগ এবং তারা যা উপার্জন করে তার জন্যও তাদের দুর্ভোগ} (আল-বাক্বারাহ: ৭৯)।
নিশ্চয়ই মুসলিমরা প্রতিটি যুগে ও সময়ে কুরআনের দস্তরখানের দিকে অগ্রসর হয়েছে; তারা তা মুখস্থ করা, অনুধাবন করা এবং শিক্ষা গ্রহণের মাধ্যমে তা থেকে জ্ঞান লাভ করেছে। তারা একে এমন যত্ন ও পঠন-পাঠনের মাধ্যমে বিশেষায়িত করেছে যা এর পূর্ববর্তী কোনো কিতাবের ক্ষেত্রে ঘটেনি। প্রতি যুগে তাদের লক্ষ লক্ষ শিশু ভাষার ভিন্নতা ও উপভাষার বৈচিত্র্য সত্ত্বেও তা মুখস্থ করেছে। তারা দিবা-রাত্রির বিভিন্ন প্রহরে তা তিলাওয়াত করে এবং এতে কুরআনের ধারকদের জন্য আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (সা.)-এর প্রতিশ্রুত সওয়াব অন্বেষণ করে: «কুরআনের ধারককে বলা হবে: পাঠ করো এবং উচ্চ সোপানে আরোহণ করো, আর তারতীলের সাথে তিলাওয়াত করো যেমনটি তুমি দুনিয়াতে করতে; কেননা তোমার মর্যাদা হবে তোমার পঠিত সর্বশেষ আয়াতের নিকট» (১)।
ইসলামি পণ্ডিতগণ এর উলুম (علوم), শিল্পকলা, তাফসীর এবং এর বিধান ও হেদায়েতের বর্ণনার ভিত্তি সুদৃঢ় করার সংকল্প করেছেন। ফলে কুরআনের সেবায় হাজার হাজার গ্রন্থ রচিত হয়েছে, যা দ্বারা ইসলামি গ্রন্থাগারসমূহ সমৃদ্ধ।
ইসলামের শত্রুরা মুসলিমদের হৃদয়ে কুরআনের গুরুত্ব এবং এর প্রতি তাদের গভীর অনুরাগের বিষয়টি অনুধাবন করেছে। তারা বুঝেছে যে, এটি তাদের আকিদার মূল ভিত্তি, শরীয়তের উৎস, তাদের জাগরণের চালিকাশক্তি এবং তাদের ভবিষ্যতের নিশ্চয়তা। আরও বুঝতে পেরেছে যে, একে আঁকড়ে ধরা তাদের এমন এক জাতিতে পরিণত করে যারা হীনম্মন্যতা, লাঞ্ছনা ও দাসত্বের কাছে মাথানত করে না। তাই তারা এর প্রতি শত্রুতা পোষণ করেছে এবং এটি ও মুসলিমদের মাঝে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে {আর কাফিররা বলল, তোমরা এই কুরআন শ্রবণ করো না এবং এতে শোরগোল সৃষ্টি করো, যাতে তোমরা জয়ী হতে পারো} (ফুসসিলাত: ২৬)।
প্রাচীনকালের কুরআনের শত্রুরা যা বুঝতে পেরেছিল, আধুনিক শত্রুরাও তা উপলব্ধি করেছে। ইসরায়েলের প্রধান রাব্বি মরডেকাই ইলিয়াহু বলেন: "এই কিতাবটি যাকে তারা কুরআন বলে, সেটিই আমাদের একমাত্র ও প্রধান শত্রু। এই শত্রুকে আমাদের সামরিক শক্তি দিয়ে মোকাবেলা করা সম্ভব নয়। কীভাবে সম্ভব..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তানযীহুল কুরআনিল কারীম আন দাআওয়িল মুবতিলীন
(পৃষ্ঠা: ৭)
السلام في وقت يقدس العرب والمسلمون فيه كتاباً يتحدث عنا بكل هذه السلبية؟! " (1).
ويقول الحاكم الفرنسي للجزائر إبان الاستعمار الفرنسي: "إننا لن ننتصر على الجزائريين ما داموا يقرؤون القرآن، ويتكلمون العربية" (2).
ويقول وليم جيفور بالكراف: "متى توارى القرآن ومدينة مكة عن بلاد العرب، يمكننا حينئذ أن نرى العربي يتدرج في طريق الحضارة الغربية بعيداً عن محمد وكتابه" (3) ومقصود بالكراف بالحضارة الغربية ما نشاهده في الغرب اليوم من تحلل أخلاقي وتفكك اجتماعي ومظاهر سلبية استعصت على الإحصاء والإحاطة، ألا تباً لها من حضارة؛ إن صحت تسميتها (حضارة)، وما أعظمه من كتاب ذاك الذي يتصدى لهكذا حضارة!.
ويقول اللورد كرومر المندوب السامي البريطاني في مصر: "جئت لأمحو ثلاثاً: القرآن والكعبة والأزهر" (4).
وأما المبشر جون تاكلي فيقول: "يجب أن نستخدم القرآن - وهو أمضى سلاح - ضد الإسلام نفسه، بأن نعلِّم هؤلاء الناس [يعني المسلمين] أن الصحيح في القرآن ليس جديداً، وأن الجديد ليس صحيحاً" (5).
وهكذا توجهت هِمَم القوم الشريرة إلى إبعاد الأمة المسلمة عن القرآن عبر صنوف من الافتراءات والأكاذيب التي بلغت من كثرتها الألوف من الكتب كما
--------------------------------------------
...শান্তি এমন এক সময়ে যখন আরব এবং মুসলিমরা এমন একটি কিতাবকে পবিত্র জ্ঞান করে যা আমাদের সম্পর্কে এত নেতিবাচক কথা বলে?!" (১)।
ফরাসি উপনিবেশের সময় আলজেরিয়ার ফরাসি শাসক বলেন: "আমরা আলজেরীয়দের ওপর ততক্ষণ পর্যন্ত বিজয়ী হতে পারব না, যতক্ষণ তারা কুরআন পাঠ করবে এবং আরবিতে কথা বলবে" (২)।
উইলিয়াম গিফোর্ড পালগ্রেভ বলেন: "যখন আরব ভূখণ্ড থেকে কুরআন এবং মক্কা নগরী অদৃশ্য হয়ে যাবে, কেবল তখনই আমরা আরবদের মুহাম্মদ এবং তাঁর কিতাব থেকে দূরে সরে গিয়ে পাশ্চাত্য সভ্যতার পথে অগ্রসর হতে দেখতে পাব" (৩)। আর পালগ্রেভ পাশ্চাত্য সভ্যতা বলতে বুঝিয়েছেন আজ আমরা পাশ্চাত্যে যে নৈতিক অবক্ষয়, সামাজিক ভাঙন এবং অগণিত নেতিবাচক দিক দেখতে পাই যা গণনা বা আয়ত্ত করা দুঃসাধ্য, ধ্বংস হোক এমন সভ্যতা; যদি একে 'সভ্যতা' বলা সঠিক হয়। আর কতই না মহান সেই কিতাব, যা এমন সভ্যতার মোকাবিলা করে!.
মিশরে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাই কমিশনার লর্ড ক্রোমার বলেন: "আমি তিনটি বিষয় মুছে ফেলতে এসেছি: কুরআন, কাবা এবং আজহার" (৪)।
আর ধর্মপ্রচারক জন তাকলি বলেন: "আমাদের অবশ্যই কুরআনকে—যা একটি অত্যন্ত ধারালো অস্ত্র—খোদ ইসলামের বিরুদ্ধেই ব্যবহার করতে হবে; আর তা হবে এই লোকদের [অর্থাৎ মুসলিমদের] এটা শেখানোর মাধ্যমে যে, কুরআনের যা সঠিক (صحيح) তা নতুন কিছু নয়, আর যা নতুন তা সঠিক (صحيح) নয়" (৫)।
এভাবেই এই কওমের অশুভ সংকল্পগুলো বিভিন্ন প্রকার অপবাদ ও মিথ্যার মাধ্যমে মুসলিম উম্মাহকে কুরআন থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়ার দিকে পরিচালিত হয়েছে, যা সংখ্যায় হাজার হাজার কিতাবে পৌঁছেছে যেমন—
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তানযীহুল কুরআনিল কারীম আন দাআওয়িল মুবতিলীন
(পৃষ্ঠা: ৮)
نقل ادوارد سعيد في مقال له في مجلة " التايم " في إبريل 1979م بقوله: " إن أكثر من ستين ألفاً من الكتب ألفت ضد الإسلام بواسطة المسيحيين الغربيين" (1)، فكم تراه ألف بواسطة الشرقيين!!
إذا ما خلا الجبان بأرض
… طلب الطعن وحده والنزالا
هذه الكثرة الكاثرة من كتب الأباطيل لم تفلح ـ بفضل الله ـ في إبعاد المسلمين عن القرآن، ولم تشغلهم عن حفظه ومدارسته، فطاشت جهود أهل الباطل أدراج الرياح، بل كشفت أباطيلُهم - لمتأملها والناظر في ضحالتها - المزيدَ من صور عظمة القرآن وعوار الباطل وأهله الذين {يُرِيدُونَ أَن يُطْفِؤُوا نُورَ الله بِأَفْوَاهِهِمْ وَيَأْبَى الله إِلَاّ أَن يُتِمَّ نُورَهُ وَلَوْ كَرِهَ الْكَافِرُونَ} (التوبة: 32).
ويلحظ المتتبع لهذه الشبهات تكراراً ممجوجاً - في الغالب - لأباطيل قديمة أجاب عن معظمها الإمام الباقلاني (ت 403هـ)، بل أجاب عن بعضها النبي صلى الله عليه وسلم بنفسه قبل أن تلوكها الألسنة بأزيد من ألف سنة، وأما الجديد في هذه الشبهات فإنما أورده القوم بقدر ما استجد عندهم من جهل سبقوا في ظلماته أسلافهم {بَلْ كَذَّبُوا بِالْحَقِّ لَمَّا جَاءهُمْ فَهُمْ فِي أَمْرٍ مَّرِيجٍ} (ق: 5).
وقد أعرضت عن التصريح بأسماء أصحاب هذه الأباطيل لتعدد جهاتهم، فلم تعد هذه الأباطيل حبيسة كتب المستشرقين وأزلامهم، بل أضحت بضاعة تلوكها الألسنة في القنوات الفضائية ويتناقلها رواد مواقع الإنترنت، وكثيراً ما استقبلت بعضها على بريدي الإلكتروني، فلشيوعها وتعدد مصادرها أجملت نسبتها إلى قائليها، بقولي: (قالوا).
وما كان لهذه الأباطيل أن تؤثر في المسلمين أو تهز ثقتهم بقرآنهم إبان نهضتهم الحضارية وتمام معرفتهم بدينهم وإلمامهم بلغة العرب وضروب البيان فيها، لكن
--------------------------------------------
এডওয়ার্ড সাঈদ ১৯৭৯ সালের এপ্রিলে "টাইম" ম্যাগাজিনে প্রকাশিত তাঁর একটি নিবন্ধে উদ্ধৃত করেছেন: "পশ্চিমা খ্রিস্টানদের দ্বারা ইসলামের বিরুদ্ধে ষাট হাজারেরও বেশি বই রচিত হয়েছে" (১), তবে প্রাচ্যবিদদের দ্বারা কত যে বই রচিত হয়েছে তা ভেবে দেখুন!!
যখন কোনো কাপুরুষ একাকী কোনো জনমানবহীন প্রান্তরে অবস্থান করে
… তখন সে নিজেই আঘাত ও যুদ্ধের আহ্বান জানায়।
মিথ্যাচার (أباطيل) সম্বলিত বইয়ের এই বিশাল আধিক্য—আল্লাহর অনুগ্রহে—মুসলিমদের কুরআন থেকে দূরে সরিয়ে দিতে সফল হয়নি এবং একে সংরক্ষণ ও অধ্যয়ন থেকেও তাদের বিচ্যুত করতে পারেনি। ফলে বাতিল (باطل) পন্থীদের প্রচেষ্টা বাতাসের সাথে ধুলোর মতো উড়ে গেছে; বরং তাদের এসব মিথ্যাচার (أباطيل)—চিন্তাশীল ব্যক্তি এবং এর অসারতা পর্যবেক্ষণকারীর কাছে—কুরআনের মাহাত্ম্য এবং বাতিল (باطل) ও তার অনুসারীদের দোষ-ত্রুটিকে আরও বেশি উন্মোচিত করে দিয়েছে, যারা {তারা তাদের মুখের ফুৎকারে আল্লাহর নূরকে নিভিয়ে দিতে চায়, আর আল্লাহ তাঁর নূরকে পূর্ণতা দান করা ছাড়া অন্য কিছু চান না, যদিও কাফিররা তা অপছন্দ করে} (আত-তাওবাহ: ৩২)।
এই সংশয়গুলো (شبهات) পর্যবেক্ষণকারী সাধারণত পুরনো মিথ্যাচারের (أباطيل) এক বিরক্তিকর পুনরাবৃত্তি লক্ষ্য করবেন, যার বেশিরভাগেরই উত্তর ইমাম বাকিল্লানি (মৃত্যু: ৪০৩ হিজরি) প্রদান করেছেন। এমনকি কোনো কোনোটির উত্তর স্বয়ং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজেই প্রদান করেছেন তা মানুষের মুখে মুখে ঘোরার এক হাজার বছরেরও বেশি সময় আগে। আর এই সংশয়গুলোর (شبهات) মধ্যে যা নতুন, তা কেবল তাদের নবসৃষ্ট মূর্খতার ফসল, যার অন্ধকারে তারা তাদের পূর্বসূরিদেরও ছাড়িয়ে গেছে {বরং সত্য যখন তাদের কাছে আসল, তখন তারা তাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করল, তাই তারা এক বিভ্রান্তিকর অবস্থায় পতিত আছে} (ক্বফ: ৫)।
আমি এই মিথ্যাচারীদের নাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা থেকে বিরত থেকেছি কারণ তাদের পক্ষগুলো বহুবিধ। এই মিথ্যাচারগুলো (أباطيل) এখন আর কেবল প্রাচ্যবিদ ও তাদের অনুসারীদের বইয়ের পাতায় সীমাবদ্ধ নেই, বরং এগুলো এখন স্যাটেলাইট চ্যানেলগুলোতে চর্চিত বিষয়ে পরিণত হয়েছে এবং ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরা একে অন্যের কাছে আদান-প্রদান করছে। প্রায়শই আমার ই-মেইলেও আমি এমন কিছু পেয়ে থাকি। তাই এর ব্যাপকতা এবং উৎসের আধিক্যের কারণে আমি এদের প্রবক্তাদের প্রতি ইঙ্গিত করে সংক্ষেপে বলেছি: (তারা বলেছে)।
মুসলিমদের সভ্যতার উত্থান এবং দ্বীন সম্পর্কে পূর্ণ জ্ঞান ও আরবি ভাষা ও এর অলঙ্কারশাস্ত্রে ব্যুৎপত্তি থাকাকালীন সময়ে এই মিথ্যাচারগুলো (أباطيل) মুসলিমদের প্রভাবিত করতে পারতো না বা কুরআনের প্রতি তাদের আস্থায় চিড় ধরাতে পারতো না, কিন্তু
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তানযীহুল কুরআনিল কারীম আন দাআওয়িল মুবতিলীন
(পৃষ্ঠা: ৯)
الشكوك في القرآن تقذف ـ اليوم ـ في أفئدة خاوية من أبناء المسلمين؛ تستغل جهلاً مطبقاً عندهم بلغة العرب؛ جهلٌ انضاف إليه سوء فهم لموارد الكلام وقلة علم ودراية بفنون التفسير والبيان.
وقد انبرى علماء الإسلام قديماً في التصدي لهذه الأباطيل، وبرعوا في تفنيدها في كتبهم التي خصوها لبيان غريب القرآن وكشف مشكله، كما تعرض المفسرون لكثير من موارد سوء الفهم لآيات القرآن الكريم.
وأجاد طلاب العلم من بعدهم تبسيط علوم السابقين وتقريبها لعوام المسلمين اليوم، لتتكامل الجهود بما لم يبق مطمعاً لصاحب دلو راغب في إضافة جديد إلى بحر علومهم الرقراق.
وقد أقبلتُ على كتبهم وبحوثهم ومقالاتهم ومواقعهم الإلكترونية متعلماً، ثم رأيتُ أن أبدأ من حيث انتهوا، فأكمل جهودهم بمزيد عناية واستدلال لهذه الأطياب الفواحة، لتكون قريبة إلى عوام المسلمين اليوم؛ مجردة عن الأقوال المطولة والوجوه الكثيرة المتشعبة في الأجوبة، فتشعبها قد يطرب له العلماء، لكن يتيه في غوره ولجته المبتدئون، وما أكثرهم في هذا الزمان.
ولست أزعم أني قد تتبعت كل الشبهات والأباطيل المتعلقة بالقرآن، لكني جهدت في استقصاء أهمها بما قدرت عليه، وقد أعرضت عن شبهات وأباطيل يطرحها بعض المشككين لضعفها وتهافتها، ومن ذلك استنكار البعض مسألة نجاة فرعون ببدنه التي ذكرها القرآن (انظر يونس: 92)، بينما هو يذكر في موضع آخر غرقه، فنجاة البدن - كما لا يخفى - إنما كانت بعد موته وغرقه.
ومثله - كذلك - استنكار البعض ذكر القرآن صوم مريم، مع قوله: {وَهُزِّي إِلَيْكِ بِجِذْعِ النَّخْلَةِ تُسَاقِطْ عَلَيْكِ رُطَباً جَنِيّاً فَكُلِي وَاشْرَبِي} (مريم: 25 - 26)، إذ صيامها مختص بالكلام، لا بالطعام والشراب {إِنِّي نَذَرْتُ لِلرَّحْمَنِ
বর্তমানে মুসলিম সন্তানদের রিক্ত হৃদয়ে কুরআনের ব্যাপারে সন্দেহ ছুড়ে দেওয়া হচ্ছে; যা তাদের মধ্যে আরবি ভাষার প্রতি বিদ্যমান চরম অজ্ঞতাকে কাজে লাগাচ্ছে; এমন এক অজ্ঞতা যার সাথে যুক্ত হয়েছে বাক্যের প্রয়োগস্থল সম্পর্কে ভুল বুঝাবুঝি এবং তাফসীর ও অলঙ্কারশাস্ত্রের বিভিন্ন কলাকৌশল সম্পর্কে জ্ঞান ও প্রজ্ঞার অভাব।
প্রাচীনকালে ইসলামের আলেমগণ এই সকল অসার বিষয়সমূহ (أباطيل) মোকাবিলায় সচেষ্ট হয়েছিলেন এবং তারা 'গারীবুল কুরআন' (কুরআনের অস্পষ্ট শব্দাবলি) বর্ণনা এবং এর জটিল বিষয়াবলি (مشكله) উন্মোচনের জন্য নিবেদিত গ্রন্থসমূহে এসব বিষয় খণ্ডন করতে পারদর্শিতা দেখিয়েছেন। একইভাবে মুফাসসিরগণ পবিত্র কুরআনের আয়াতসমূহের ভুল বুঝাবুঝির অনেক ক্ষেত্র নিয়ে আলোচনা করেছেন।
তাদের পরবর্তী ইলম অন্বেষণকারীগণ পূর্ববর্তীদের জ্ঞানকে সহজবোধ্য করা এবং বর্তমান সময়ের সাধারণ মুসলিমদের নিকটবর্তী করার ক্ষেত্রে শ্রেষ্ঠত্ব দেখিয়েছেন, যাতে এই প্রচেষ্টাসমূহ এমনভাবে পূর্ণতা লাভ করে যেখানে তাদের স্বচ্ছ জ্ঞান-সমুদ্রে নতুন কিছু যোগ করার আগ্রহীর জন্য আর কোনো বিশেষ অবকাশ বাকি না থাকে।
আমি একজন শিক্ষার্থী হিসেবে তাদের কিতাবসমূহ, গবেষণা, প্রবন্ধ এবং ওয়েবসাইটসমূহের প্রতি মনোনিবেশ করেছি। অতঃপর আমি সংকল্প করেছি যে, তারা যেখানে শেষ করেছেন সেখান থেকেই আমি শুরু করব। তাই আমি এই সুবাসিত জ্ঞানভাণ্ডারকে অধিকতর যত্ন ও দলীল-প্রমাণের (استدلال) মাধ্যমে তাদের প্রচেষ্টাকে পূর্ণ করতে চেয়েছি, যাতে তা বর্তমান সময়ের সাধারণ মুসলিমদের নিকটবর্তী হয়; যেখানে দীর্ঘ আলোচনা এবং উত্তরের ক্ষেত্রে বহুবিধ জটিল দিকগুলো বর্জন করা হয়েছে। কেননা, এই সকল জটিল শাখা-প্রশাখা আলেমদের নিকট আনন্দদায়ক হতে পারে, কিন্তু এর গভীরতা ও অতল গহ্বরে নবীন শিক্ষার্থীরা দিশেহারা হয়ে পড়ে, আর বর্তমান যুগে তাদের সংখ্যাই অধিক।
আমি এমন দাবি করছি না যে, আমি কুরআন সংশ্লিষ্ট সকল সংশয় ও অসার বিষয় (أباطيل) অনুসন্ধান করেছি, তবে আমি আমার সাধ্যমতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো সবিস্তারে খতিয়ে দেখার চেষ্টা করেছি। আমি এমন কিছু সংশয় ও অসার দাবি (أباطيل) এড়িয়ে গিয়েছি যা কিছু সংশয়বাদী তাদের দুর্বলতা (ضعف) ও অসারতার কারণে উত্থাপন করে থাকে। এর মধ্যে রয়েছে ফেরাউনের দেহ রক্ষার বিষয়টি নিয়ে কারও কারও আপত্তি যা কুরআনে বর্ণিত হয়েছে (দ্রষ্টব্য ইউনুস: ৯২), অথচ অন্য জায়গায় তার ডুবে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে। অথচ দেহের মুক্তি বা রক্ষা পাওয়া—যা কোনো গোপন বিষয় নয়—তা তো ছিল তার মৃত্যু ও ডুবে যাওয়ার পরেই।
অনুরূপভাবে, মারইয়াম (আ.)-এর রোজা সম্পর্কে কুরআনের বর্ণনার ওপর কারও কারও আপত্তি, অথচ আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {আর তুমি খেজুর গাছের কাণ্ড ধরে নিজের দিকে নাড়া দাও, তা তোমার ওপর তাজা পাকা খেজুর ঝরিয়ে দেবে। সুতরাং আহার করো ও পান করো} (মারইয়াম: ২৫-২৬)। কেননা তার রোজা ছিল কথা বলা থেকে বিরত থাকা সংক্রান্ত, খাদ্য ও পানীয় থেকে নয় {নিশ্চয়ই আমি পরম দয়াময়ের উদ্দেশ্যে মানত (نذر) করেছি...}
(খণ্ড: ১)
তানযীহুল কুরআনিল কারীম আন দাআওয়িল মুবতিলীন
(পৃষ্ঠা: ১০)
صَوْماً فَلَنْ أُكَلِّمَ الْيَوْمَ إِنسِيّاً} (مريم: 26).
ويسر رابطة العالم الإسلامي أن تتقدم بهذا الجهد ذَبَّاً عن القرآن الكريم وقياماً ببعض الواجب تجاه كتاب ربنا العزيز، ونسأل الله أن يبارك في هذا الجهد، وأن يثيبنا عليه، إنه ولي ذلك والقادر عليه.
...রোজা; সুতরাং আজ আমি কোনো মানুষের সাথে কথা বলব না} (মারইয়াম: ২৬)।
মুসলিম ওয়ার্ল্ড লীগ অত্যন্ত আনন্দের সাথে পবিত্র কুরআনের সুরক্ষায় এবং আমাদের মহান প্রতিপালকের কিতাবের প্রতি অর্পিত কিঞ্চিৎ কর্তব্য পালনের লক্ষ্যে এই প্রচেষ্টাটি পেশ করছে। আমরা আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি এই প্রচেষ্টায় বরকত দান করেন এবং আমাদের এর জন্য প্রতিদান দান করেন; নিশ্চয়ই তিনি এর অভিভাবক এবং এটি সম্পাদনে পূর্ণ সক্ষম।
(খণ্ড: ১)
তানযীহুল কুরআনিল কারীম আন দাআওয়িল মুবতিলীন
(পৃষ্ঠা: ১১)
منهج المبطلين في إثارة الأباطيل عن القرآنلعل من المناسب قبل الشروع بذكر تفاصيل الأباطيل المثارة عن القرآن أن نتوقف مع بعض معالم المنهج الذي درج عليه مثيروها، حين افتقدوا كل صور الموضوعية العلمية، ولم يتركوا لمتابع منصف باباً للاعتذار لهم بعذر الجهل أو سوء الفهم، كيف يعذرهم وهو يلمح في هذه الشبهات والأباطيل معالم رئيسة مخزية لا تخطئها عين متأمل حصيف:
أ. الكذب في اختراع الأُبطولة:
الكذب حيلة من لا حيلة عنده ولا دليل، وهو مسلك درج في ظلماته مثيرو الشبهات والأباطيل حول القرآن الكريم حين أعيتهم الحيل أن يجدوا في القرآن مطعناً وملمزاً، فلما علموا أن الكذب بضاعة ينطلي باطلها على الكثيرين من الدهماء والعامة الذين لن يتيسر لهم اكتشاف هذه الأكاذيب؛ أشرعوا فيه سفنهم، فما زالوا يكذبون، حتى إخالهم لكثرته صدقوا أنفسهم فيما يدَّعون.
وصور كذبهم كثيرة، أكتفي بالتمثيل لها مبتدئاً بما قاله وهيب خليل في سياق حديثه عن معجزات المسيح المذكورة في القرآن: "وإن كان بعض المفسرين يحاولون أن يقللوا من شأن السيد المسيح في المقدرة قائلين: إنه يصنع هذا بأمر الله، فنجد أن الإسلام يشهد أن هذه المقدرة هي لله فقط" (1).
ومن المعلوم عند كل مسلم أو غيره مطلع على القرآن الكريم أن الذي أحال معجزات المسيح إلى قدرة الله وإذنه هو القرآن الكريم، وليس مفسروه {وَإِذْ تَخْلُقُ مِنَ الطِّينِ كَهَيْئَةِ الطَّيْرِ بِإِذْنِي فَتَنفُخُ فِيهَا فَتَكُونُ طَيْراً بِإِذْنِي} (المائدة: 110).
ومن الكذب زعم مؤلفي كتاب شهير؛ اختص بإثارة الأكاذيب على القرآن "التعليقات على القرآن" أن حفاظ القرآن الأربعة ماتوا قبل جمع القرآن في عهد
--------------------------------------------
কুরআন সম্পর্কে মিথ্যাচার (أباطيل) উত্থাপনে বাতিলপন্থীদের কর্মপন্থাকুরআন সম্পর্কে উত্থাপিত মিথ্যাচারগুলোর বিস্তারিত বিবরণে যাওয়ার আগে, যারা এগুলো উত্থাপন করেন তাদের অনুসৃত কর্মপন্থার কিছু বৈশিষ্ট্যের দিকে দৃষ্টিপাত করা সম্ভবত যুক্তিযুক্ত হবে। তারা যখন বৈজ্ঞানিক বস্তুনিষ্ঠতার সমস্ত রূপ হারিয়ে ফেলেছেন এবং কোনো ইনসাফকারী অনুসরণকারীর জন্য অজ্ঞতা বা ভুল বোঝাবুঝির অজুহাত দেওয়ার কোনো সুযোগ বাকি রাখেননি; তখন কীভাবে তাদের ক্ষমা করা যেতে পারে? অথচ একজন বিচক্ষণ পর্যবেক্ষক এই সংশয় ও মিথ্যাচারগুলোর (أباطيل) মধ্যে এমন কিছু প্রধান লজ্জাজনক বৈশিষ্ট্য দেখতে পান যা তার দৃষ্টি এড়াতে পারে না:
ক. মিথ্যা (كذب) উদ্ভাবনে মিথ্যাচারের আশ্রয় গ্রহণ:
মিথ্যা (كذب) হলো এমন ব্যক্তির কৌশল যার কোনো উপায় নেই এবং কোনো দলিল নেই। কুরআনুল কারীমের ব্যাপারে যারা সংশয় ও মিথ্যাচার (أباطيل) ছড়ায়, তারা যখন কুরআনের কোনো ছিদ্র বা খুঁত খুঁজে পেতে ব্যর্থ হয়েছে, তখন তারা এই অন্ধকারের পথই বেছে নিয়েছে। তারা যখন জানতে পারল যে, মিথ্যা (كذب) এমন একটি পণ্য যার অন্তঃসারশূন্যতা অনেক সাধারণ মানুষ ও জনসাধারণের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়ে যায়, যাদের পক্ষে এই মিথ্যাগুলো (أكاذيب) ধরা সম্ভব হবে না; তখন তারা তাতে তাদের তরী ভাসিয়ে দিল। তারা ক্রমাগত মিথ্যা (يكذبون) বলতে লাগল, এমনকি আমার ধারণা—মিথ্যার প্রাচুর্যের কারণে তারা নিজেরাও যা দাবি করছে তা বিশ্বাস করতে শুরু করেছে।
তাদের মিথ্যাচারের (كذبهم) রূপ অনেক। আমি ওহীব খলিল মসীহের মুজিযা সম্পর্কে যা বলেছেন তা দিয়ে উদাহরণ হিসেবে শুরু করছি: "যদিও কিছু ব্যাখ্যাকারী মসীহ আলাইহিস সালামের সামর্থ্যকে খাটো করে দেখানোর চেষ্টা করেন এই বলে যে: তিনি এটি আল্লাহর আদেশে করেন, কিন্তু আমরা দেখি যে ইসলাম সাক্ষ্য দেয় এই সামর্থ্য কেবল আল্লাহর জন্য" (১)।
প্রত্যেক মুসলিম বা কুরআন সম্পর্কে অবগত অমুসলিমদের কাছে এটি সুবিদিত যে, মসীহ আলাইহিস সালামের মুজিযাগুলোকে আল্লাহর ক্ষমতা ও অনুমতির দিকে সম্পৃক্ত করেছে স্বয়ং কুরআনুল কারীম, তাঁর ব্যাখ্যাকারীরা নন। {এবং যখন তুমি কাদা থেকে আমার অনুমতিক্রমে পাখির আকৃতির মতো তৈরি করতে, অতঃপর তাতে ফুঁ দিতে আর তা আমার অনুমতিক্রমে পাখি হয়ে যেত} (আল-মায়িদাহ: ১১০)।
একটি বিখ্যাত বইয়ের লেখকদের মিথ্যার (كذب) অন্তর্ভুক্ত হলো—যা কুরআনের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার (أكاذيب) ছড়ানোর জন্য বিশেষভাবে রচিত "আল-তালিকাত আলা আল-কুরআন"—তাদের দাবি যে, কুরআনের চারজন হাফেজ (حفاظ) কুরআনের সংকলনের পূর্বেই মৃত্যুবরণ করেছেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তানযীহুল কুরআনিল কারীম আন দাআওয়িল মুবতিলীন
(পৃষ্ঠা: ১২)
أبي بكر الصديق رضي الله عنه: "أبو الدرداء، ومعاذ بن جبل، وزيد بن ثابت، وأبو زيد .. فإن هؤلاء الأربعة ماتوا قبل جمع القرآن .. ولما رأى أبو بكر هذا الحال جزع من ضياع القرآن" (1).
وقولهم هذا كذب صراح ولا ريب، لأن هؤلاء الأربعة أدركوا جميعاً عهد الخليفة الثاني عمر بن الخطاب رضي الله عنه، أي أدركوا جمع أبي بكر رضي الله عنه، فأبو الدرداء رضي الله عنه ولي قضاء دمشق في عهد عمر رضي الله عنه، ومات قبل موت عثمان رضي الله عنه بسنتين.
ومعاذ بن جبل رضي الله عنه مات في خلافة عمر رضي الله عنه في طاعون عمواس سنة 17هـ.
وأما ثالثهم زيد بن ثابت فهو من جمع القرآن في عهد الصديق ثم عثمان، ومات سنة 45 هـ، أي في زمن معاوية رضي الله عن الجميع.
ورابعهم أبو زيد سعد بن عبيد الأنصاري رضي الله عنه، وقد قتل يوم القادسية في زمن الخليفة عمر بن الخطاب رضي الله عنه (2).
ومن صور الكذب أيضاً طعن القس العربي الفلسطيني أنيس شروش في عربية القرآن أمام جمهور من الأعاجم الذين لا يعرفون العربية، بقوله: "لكن محمداً استعمل كثيراً من الكلمات والجمل الأجنبية في القرآن
… في كتاب ادعى أن الله أوحاه بالعربية" (3)، ومن المؤكد أن القارئ العربي يعرف أنه لا يوجد في القرآن جملة واحدة غير عربية، فقد نزل بلسان عربي مبين، لكن الدكتور شروش يهذي بهذا أمام أعاجم، ولا يستحي من الكذب عليهم.
ولما أراد القبطي الأرثوذكسي ثروت سعيد تزكية المسيحيين واعتبارهم مؤمنين بشهادة القرآن الكريم قال في كتابه "حقيقة التجسد"، الذي قدمه
--------------------------------------------
আবু বকর সিদ্দিক (রা.) সম্পর্কে বলা হয়েছে: "আবু দারদা, মুয়াজ ইবনে জাবাল, যায়েদ ইবনে সাবিত এবং আবু যায়েদ.. নিশ্চয়ই এই চারজন কুরআন সংকলনের পূর্বেই মৃত্যুবরণ করেছেন.. এবং যখন আবু বকর এই অবস্থা দেখলেন, তখন তিনি কুরআন বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়লেন" (১)।
এবং তাদের এই কথাটি নিঃসন্দেহে একটি সুস্পষ্ট মিথ্যা (كذب صراح), কারণ এই চারজনই দ্বিতীয় খলিফা উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-এর যুগ পেয়েছিলেন; অর্থাৎ তারা আবু বকর (রা.)-এর কুরআন সংকলনের সময়কাল পেয়েছিলেন। আবু দারদা (রা.) উমর (রা.)-এর যুগে দামেস্কের বিচারপতির দায়িত্ব পালন করেন এবং উসমান (রা.)-এর মৃত্যুর দুই বছর আগে তিনি ইন্তেকাল করেন।
আর মুয়াজ ইবনে জাবাল (রা.) উমর (রা.)-এর খিলাফতকালে ১৭ হিজরিতে 'আমওয়াস' মহামারীতে ইন্তেকাল করেন।
তৃতীয়জন যায়েদ ইবনে সাবিত (রা.)-এর ব্যাপারে বলা যায় যে, তিনিই আবু বকর সিদ্দিক (রা.) এবং পরবর্তীতে উসমান (রা.)-এর যুগে কুরআন সংকলন করেছিলেন এবং তিনি ৪৫ হিজরিতে অর্থাৎ মুয়াবিয়া (রা.)-এর শাসনামলে ইন্তেকাল করেন।
আর চতুর্থজন হলেন আবু যায়েদ সাদ ইবনে উবায়েদ আনসারী (রা.), তিনি খলিফা উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-এর সময়ে কাদিসিয়ার যুদ্ধে শহীদ হন (২)।
মিথ্যার (كذب) আরেকটি রূপ হলো ফিলিস্তিনি আরব পাদ্রী আনিস শোরোশ-এর পক্ষ থেকে একদল অনারব—যারা আরবি জানে না—তাদের সামনে কুরআনের আরবি ভাষার বিশুদ্ধতা নিয়ে কটাক্ষ করা। তিনি বলেন: "কিন্তু মুহাম্মদ কুরআনে অনেক বিদেশি শব্দ এবং বাক্য ব্যবহার করেছেন... এমন একটি কিতাবে যেটিকে তিনি আল্লাহর পক্ষ থেকে আরবি ভাষায় অবতীর্ণ বলে দাবি করেছেন" (৩)। অথচ যেকোনো আরবি ভাষাভাষী পাঠক নিশ্চিতভাবে জানেন যে, কুরআনে একটি বাক্যও অনারবি নেই; এটি সুস্পষ্ট আরবি ভাষায় অবতীর্ণ হয়েছে। কিন্তু ডক্টর শোরোশ অনারবদের সামনে এই প্রলাপ বকছেন এবং তাদের কাছে মিথ্যা (كذب) বলতে লজ্জা পাচ্ছেন না।
যখন অর্থোডক্স কিবতি থারওয়াত সাঈদ খ্রিস্টানদের প্রশংসা (تزكية) করতে এবং পবিত্র কুরআনের সাক্ষ্যের ভিত্তিতে তাদেরকে মুমিন হিসেবে গণ্য করতে চাইলেন, তখন তিনি তার 'হাকিকাতুত তাজাসসুদ' গ্রন্থে বলেন, যা তিনি উপস্থাপন করেছেন
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তানযীহুল কুরআনিল কারীম আন দাআওয়িল মুবতিলীন
(পৃষ্ঠা: ১৩)
وراجعه له كل من الأنبا الكاثوليكي يؤانس زكريا والقس البرتستنتي الدكتور منيس عبد النور: "إذا كان اعتقاد القرآن بشرك النصارى؛ فلماذا يصرح في آياته بحلال الزواج من أهل الكتاب .. كما أن نبي الإسلام تزوج من اليهوديات والمسيحيات، وهن: مريم القبطية، وأنجب منها إبراهيم (المسيحية)، وريحانة بنت شمعون النضيرية (اليهودية)، وصفية بنت حيي بن أخطب القريظية (اليهودية)، وجويرية بنت الحارث المصطلقية (اليهودية) " (1).
وقوله بزواج النبي صلى الله عليه وسلم من يهوديات ومسيحية كذب صراح، فإنما تزوجهن رسول الله صلى الله عليه وسلم بعد دخولهن في الإسلام.
ويكفي في بيانه أن ننقل بعضاً من الحوار الذي جرى بين النبي صلى الله عليه وسلم وصفية حين أراد الزواج بها، فقد قال لها: «اختاري، فإن اخترت الإسلام أمسكتك لنفسي، وإن اخترت اليهودية فعسى أن أعتقك فتلحقي بقومك». فقالت صفية: يا رسول الله، لقد هويتُ الإسلام، وصدقتُ بك قبل أن تدعوني حيث صرت إلى رحلك، وما لي في اليهودية أرب، وما لي فيها والد ولا أخ، وخيرتني الكفر والإسلام، فالله ورسوله أحب إلي من العتق وأن أرجع إلى قومي (2). فتزوجها رسول الله صلى الله عليه وسلم وهي مسلمة.
وأما ريحانة فتكذب دعوى المبطلين، وتذكر أن رسول الله تزوجها بعد أن أسلمت، وتقول: إني أختار الله ورسوله، فلما أسلمت أعتقني رسول الله وتزوجني، وأصدقني اثنتي عشرة أوقية (3).
ويواصل ثروت سعيد الكذب فيزعم أن قوله تعالى: {وَإِنْ مِنْكُمْ إِلا وَارِدُهَا} (مريم: 71) ينبئ بدخول النار والإحراق فيها لكل بني آدم، وينقل عن
--------------------------------------------
ক্যাথলিক বিশপ ইয়ুয়ানিস জাকারিয়া এবং প্রোটেস্ট্যান্ট যাজক ডক্টর মেনিস আব্দুল নূর এটি পর্যালোচনা করেছেন: "যদি কুরআনের বিশ্বাস অনুযায়ী খ্রিস্টানরা শিরককারী হয়, তবে কেন এর আয়াতগুলোতে আহলে কিতাবদের সাথে বিবাহ বৈধ হওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়েছে? তদুপরি ইসলামের নবী ইহুদি ও খ্রিস্টান নারীদের বিবাহ করেছিলেন, তাঁরা হলেন: মারিয়া কিবতিয়া (খ্রিস্টান)—যাঁর গর্ভে ইব্রাহিমের জন্ম হয়েছিল, রায়হানা বিনতে শামউন আন-নাজিরিয়া (ইহুদি), সাফিয়া বিনতে হুয়াই ইবনে আখতাব আল-কুরাইজিয়া (ইহুদি) এবং জুওয়াইরিয়া বিনতে আল-হারিস আল-মুস্তালিকিয়া (ইহুদি)।" (১)।
নবী (সা.)-এর ইহুদি ও খ্রিস্টান নারীদের বিবাহ করার দাবিটি একটি সুস্পষ্ট মিথ্যা (كذب صراح) কথা, কারণ রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁদের ইসলাম গ্রহণের পরেই কেবল বিবাহ করেছিলেন।
বিষয়টি স্পষ্ট করার জন্য নবী (সা.) এবং সাফিয়ার মধ্যে বিবাহের প্রাক্কালে যে কথোপকথন হয়েছিল তার কিয়দাংশ উল্লেখ করাই যথেষ্ট। তিনি তাঁকে বলেছিলেন: "তুমি বেছে নাও; যদি তুমি ইসলামকে বেছে নাও তবে আমি তোমাকে নিজের জন্য গ্রহণ করব, আর যদি তুমি ইহুদি ধর্মের ওপর থাকতে চাও তবে সম্ভবত আমি তোমাকে মুক্ত করে দেব যেন তুমি তোমার স্বগোত্রের সাথে মিলিত হতে পারো।" সাফিয়া বললেন: "হে আল্লাহর রাসুল! আমি তো ইসলামকেই চেয়েছি এবং আপনি ডাকার আগেই আপনাকে সত্য বলে সাক্ষ্য দিয়েছি যখন আমি আপনার শিবিরে পৌঁছেছিলাম। ইহুদি ধর্মে আমার কোনো প্রয়োজন নেই, সেখানে আমার পিতা বা কোনো ভাইও নেই। আপনি আমাকে কুফর ও ইসলামের মধ্যে ইখতিয়ার বা নির্বাচনের সুযোগ দিয়েছেন; সুতরাং আল্লাহ ও তাঁর রাসুল আমার নিকট মুক্তির বিনিময়ে নিজ গোত্রের কাছে ফিরে যাওয়ার চেয়েও অধিক প্রিয়।" (২)। অতঃপর রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁকে মুসলিম হওয়া অবস্থায় বিবাহ করেন।
আর রায়হানার বিষয়টি বাতিলপন্থীদের দাবিকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে। তিনি বর্ণনা করেন যে, রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁর ইসলাম গ্রহণের পরেই তাঁকে বিবাহ করেছিলেন। তিনি বলেন: "আমি আল্লাহ ও তাঁর রাসুলকে বেছে নিলাম।" অতঃপর যখন তিনি ইসলাম গ্রহণ করলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁকে মুক্ত করে বিবাহ করলেন এবং বারো উকিয়া মোহরানা প্রদান করলেন। (৩)।
সাওয়াত সাঈদ তাঁর মিথ্যাচার অব্যাহত রেখে দাবি করেন যে, মহান আল্লাহর বাণী: "তোমাদের মধ্যে এমন কেউ নেই যাকে তা (জাহান্নাম) অতিক্রম করতে হবে না" (মারইয়াম: ৭১) আদম সন্তানের প্রত্যেকের জাহান্নামে প্রবেশ ও সেখানে দগ্ধ হওয়ার সংবাদ দিচ্ছে। তিনি উদ্ধৃতি দিচ্ছেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তানযীহুল কুরআনিল কারীম আন দাআওয়িল মুবতিলীন
(পৃষ্ঠা: ১৪)
"جلال الدين يفسر كلمة {وَارِدُهَا} بالدخول والاحتراق" (1)، وقد كذب في نِسبة الإحراق إلى السيوطي، فهو غير موجود في شيء من كتبه.
ثم يمضي المبطِل فيستشهد لكذبه وباطله بقول النبي صلى الله عليه وسلم: «الورود الدخول، ولا يبقى برٌّ ولا فاجر إلا دخلها»، والحديث الذي يستشهد به ضعيف لا يصح نسبته إلى النبي صلى الله عليه وسلم، وهو أمر قد يجهله فيعفى عنه في ذلك، لكن شيئاً لن يبرر نقله من الحديث ما يروق له، وإعراضه عن تمامه، لمناقضته قوله ودحضه كذبه، فالحديث بتمامه: «الورود الدخول، ولا يبقى برٌّ ولا فاجر إلا دخلها، فتكون على المؤمن برداً وسلاماً كما كانت على إبراهيم حتى إن للنار - أو قال: لجهنم - ضجيجاً من بردهم {ثُمَّ يُنَجِّيْ اللهُ الذِّيْنَ اتْقَوا وَيَذَرُ الظَّالِمِيْنَ فِيْهَا جِثِيًّا} (مريم: 72)» (2)، فخاتمة الحديث تثبت نجاة المؤمنين من الإحراق، لكن الكذب والتدليس حيلة من لا حيلة عنده.
ب. تحريف معاني النصوص وتفسيرها بمعان مشكلة:
يلجأ الطاعنون في القرآن إلى تحريف ألفاظ النصوص الإسلامية وتفسيرها بمعان مشكلة لا يوافق عليها عالم من علماء المسلمين، ومن ذلك قول البابا شنودة: "ولم يقتصر القرآن على الأمر بحسن مجادلة أهل الكتاب، بل أكثر من هذا، وضع القرآن النصارى في مركز الإفتاء في الدين، فقال: {فَإِن كُنتَ فِي شَكٍّ مِّمَّا أَنزَلْنَا إِلَيْكَ فَاسْأَلِ الَّذِينَ يَقْرَؤُونَ الْكِتَابَ مِن قَبْلِكَ} (يونس: 94)، وقال أيضاً: {وَمَا أَرْسَلْنَا مِن قَبْلِكَ إِلَاّ رِجَالاً نُّوحِي إِلَيْهِمْ فَاسْأَلُوا أَهْلَ الذِّكْرِ إِن كُنتُمْ لَا تَعْلَمُونَ} (النحل: 43) (3).
--------------------------------------------
"জালালুদ্দিন {ওয়ারিদুহা} (তার ওপর আগমনকারী) শব্দটিকে প্রবেশ করা এবং দগ্ধ হওয়ার মাধ্যমে ব্যাখ্যা করেছেন" (১), আর আল-সুয়ুতির দিকে দগ্ধ হওয়ার বিষয়টি সম্বন্ধ করার ক্ষেত্রে তিনি মিথ্যাচার করেছেন, কারণ তাঁর কোনো গ্রন্থেই এটি বিদ্যমান নেই।
অতঃপর সেই বাতিলপন্থী তার মিথ্যা ও অসার দাবির স্বপক্ষে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণীর উদ্ধৃতি প্রদান করেন: «আগমন অর্থ প্রবেশ করা; কোনো পুণ্যবান বা পাপাচারী অবশিষ্ট থাকবে না যে তাতে প্রবেশ করবে না», অথচ তিনি যে হাদিসের উদ্ধৃতি দিয়েছেন তা দুর্বল (ضعيف), যা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর দিকে সম্বন্ধ করা সহিহ (صحيح) নয়। এটি এমন একটি বিষয় যা সম্পর্কে তিনি অজ্ঞ হতে পারেন এবং সে জন্য তাকে ক্ষমা করা যেতে পারে, কিন্তু কোনো কিছুই হাদিসের সেই অংশটুকু গ্রহণ করাকে সমর্থন করে না যা তার পছন্দ হয়েছে এবং এর পূর্ণাঙ্গ রূপ থেকে বিমুখ হওয়াকে জায়েজ করে না; কারণ এটি তার দাবিকে খণ্ডন করে এবং তার মিথ্যাকে ধূলিসাৎ করে দেয়। হাদিসটি পূর্ণাঙ্গভাবে হলো: «আগমন অর্থ প্রবেশ করা; কোনো পুণ্যবান বা পাপাচারী অবশিষ্ট থাকবে না যে তাতে প্রবেশ করবে না। তবে তা মুমিনের জন্য শীতল ও শান্তিময় হয়ে যাবে, যেমনটি ইব্রাহিম (আলাইহিস সালাম)-এর জন্য হয়েছিল। এমনকি আগুনের—অথবা তিনি বলেছেন: জাহান্নামের—মুমিনদের শীতলতার কারণে একটি আর্তনাদ থাকবে {অতঃপর যারা তাকওয়া অবলম্বন করেছে আমি তাদেরকে নাজাত দেব এবং জালেমদেরকে সেখানে নতজানু অবস্থায় ছেড়ে দেব} (মারইয়াম: ৭২)» (২)। সুতরাং হাদিসের শেষাংশ দহন থেকে মুমিনদের নাজাত বা মুক্তির বিষয়টি প্রমাণ করে, কিন্তু মিথ্যাচার ও প্রতারণা (تدليس) হলো সেই ব্যক্তির কৌশল যার কোনো সঠিক উপায় নেই।
খ. মূল পাঠের অর্থের বিকৃতি ঘটানো এবং সেগুলোকে বিভ্রান্তিকর অর্থে ব্যাখ্যা করা:
যারা কুরআনের সমালোচনা করে তারা ইসলামি দলিলসমূহের শব্দাবলি বিকৃত করার এবং সেগুলোকে এমন সব বিভ্রান্তিকর অর্থে ব্যাখ্যা করার আশ্রয় নেয় যা মুসলিম আলেমদের কেউ সমর্থন করেন না। এরই একটি উদাহরণ হলো পোপ শেনুদার বক্তব্য: "কুরআন কেবল আহলে কিতাবদের সাথে উত্তম পন্থায় বিতর্কের নির্দেশ দিয়েই ক্ষান্ত হয়নি, বরং এর চেয়েও বেশি কিছু করেছে; কুরআন খ্রিস্টানদের দ্বীনি ফতোয়া প্রদানের কেন্দ্রে বসিয়েছে। সে বলেছে: {আমি তোমার প্রতি যা নাজিল করেছি সে সম্পর্কে যদি তুমি সন্দেহে থাকো, তবে তোমার পূর্বের কিতাব পাঠকারীদের জিজ্ঞেস করো} (ইউনুস: ৯৪)। এবং আরও বলেছে: {তোমার পূর্বে আমি ওহীসহ পুরুষদেরই প্রেরণ করেছি, সুতরাং তোমরা যদি না জানো তবে আহলে জিকরদের (জ্ঞানীদের) জিজ্ঞেস করো} (নাহল: ৪৩)" (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তানযীহুল কুরআনিল কারীম আন দাআওয়িল মুবতিলীন
(পৃষ্ঠা: ১৫)
ومثله في تحريف معاني النص القرآني قول مؤلفي كتاب "تعليقات على القرآن" في تعليقهم على قوله تعالى: {مَّا فَرَّطْنَا فِي الكِتَابِ مِن شَيْءٍ} (الأنعام: 38): "ولا شك أن القرآن لا يشتمل على أكثر العلوم من المسائل الأصولية والطبيعية والرياضية والطبية، ولا على الحوادث اليومية، بل ولا على ذات قصص الأنبياء؛ فإذن لا يكون كلامه هذا مطابقاً للواقع" (1)، فقد جهلوا أو تجاهلوا أن آية سورة الأنعام لا تتعلق بالقرآن، بل باللوح المحفوظ الذي كتب الله فيه مقادير كل شيء، قال الطبري: "فالرب الذي لم يضيع حفظ أعمال البهائم والدواب في الأرض، والطير في الهواء، حتى حفظ عليها حركاتها وأفعالها، وأثبت ذلك منها في أم الكتاب، وحشرها ثم جازاها على ما سلف منها في دار البلاء؛ أحرى أن لا يضيع أعمالكم، ولا يفرط في حفظ أفعالكم التي تجترحونها" (2).
والآية بمنطوقها واضحة في الدلالة على هذا المعنى الذي ذكره الطبري: {وَمَا مِن دَآبَّةٍ فِي الأَرْضِ وَلَا طَائِرٍ يَطِيرُ بِجَنَاحَيْهِ إِلَاّ أُمَمٌ أَمْثَالُكُم مَّا فَرَّطْنَا فِي الكِتَابِ مِن شَيْءٍ ثُمَّ إِلَى رَبِّهِمْ يُحْشَرُونَ} (الأنعام: 38)، ومثلها قول الله: {وَمَا مِن دَآبَّةٍ فِي الأَرْضِ إِلَاّ عَلَى اللهِ رِزْقُهَا وَيَعْلَمُ مُسْتَقَرَّهَا وَمُسْتَوْدَعَهَا كُلٌّ فِي كِتَابٍ مُّبِينٍ} (هود: 6)، فالكتاب الذي حوى مقادير الخلائق وأرزاقها هو اللوح المحفوظ؛ لا القرآن الكريم.
ثم لو فرضنا أن القرآن هو مقصود قوله تعالى: {مَّا فَرَّطْنَا فِي الكِتَابِ مِن شَيْءٍ} فإن هذا العموم يفهم منه العقلاء معنى مخصوصاً يفهم من السياق، إذ من السخف بل والخبل أن يظن ظان أن النبي صلى الله عليه وسلم حين قرأ هذه الآية قصد أن القرآن يحوي أسماء رجال قريش أو أطعمة فارس أو أسماء البهائم التي خلقها الله، فهذا
--------------------------------------------
কুরআনের মূল পাঠ (نص) এর অর্থ বিকৃতির ক্ষেত্রে অনুরূপ একটি উদাহরণ হলো "তালিকাত আলাল কুরআন" গ্রন্থের লেখকদের বক্তব্য। তারা মহান আল্লাহর বাণী: {আমি কিতাবে কোনো কিছুই বাদ দিইনি} (আল-আনআম: ৩৮) এর ব্যাখ্যায় বলেছেন: "নিঃসন্দেহে কুরআন উসূল বা নীতিগত (أصولية), প্রাকৃতিক বিজ্ঞান, গণিত ও চিকিৎসা বিজ্ঞানের অধিকাংশ বিষয়াবলি এবং দৈনন্দিন ঘটনাবলি, এমনকি নবীদের কাহিনীসমূহকেও অন্তর্ভুক্ত করে না; সুতরাং তাঁর এই কথা বাস্তবের সাথে সংগতিপূর্ণ নয়।" (১) অথচ তারা জানতেন না অথবা জেনেশুনে এড়িয়ে গেছেন যে, সূরা আল-আনআমের এই আয়াতটি কুরআনের সাথে সংশ্লিষ্ট নয়, বরং এটি লাওহে মাহফুজ (সংরক্ষিত ফলক) এর সাথে সংশ্লিষ্ট যাতে আল্লাহ প্রতিটি জিনিসের তকদির লিখে রেখেছেন। ইমাম তাবারী বলেন: "সেই প্রতিপালক, যিনি জমিনের পশু-পাখি ও চতুষ্পদ জন্তু এবং শূন্যে উড়ন্ত পাখিদের আমল সংরক্ষণে কোনো ত্রুটি করেননি, এমনকি তিনি তাদের নড়াচড়া ও কর্মকাণ্ডকেও উম্মুল কিতাবে সংরক্ষণ করে রেখেছেন এবং তাদের পুনরুত্থান ঘটাবেন, অতঃপর দুনিয়ায় তাদের কৃতকর্মের জন্য প্রতিদান দেবেন; তিনি তোমাদের আমলসমূহ হারিয়ে যেতে দেবেন না এবং তোমাদের অর্জিত কর্মকাণ্ড সংরক্ষণে অবহেলা করবেন না—এটাই অধিক সমীচীন।" (২).
আয়াতটি তার শাব্দিক ও স্পষ্ট অর্থের (منطوق) মাধ্যমে তাবারী উল্লেখিত এই বিষয়ের ওপর স্পষ্টভাবে দালালত (নির্দেশ) করে: {ভূপৃষ্ঠে বিচরণশীল এমন কোনো প্রাণী নেই এবং এমন কোনো পাখি নেই যা তার দুই ডানায় ভর করে ওড়ে, যারা তোমাদের মতো এক একটি উম্মত নয়। আমি কিতাবে কোনো কিছু বাদ দিইনি। অতঃপর তাদেরকে তাদের প্রতিপালকের কাছে সমবেত করা হবে} (আল-আনআম: ৩৮), অনুরূপ মহান আল্লাহর বাণী: {ভূপৃষ্ঠে বিচরণশীল এমন কোনো প্রাণী নেই যার রিজিকের দায়িত্ব আল্লাহর ওপর নেই। তিনি জানেন তাদের অবস্থানস্থল ও রাখা হওয়ার স্থান। সবকিছুই একটি সুস্পষ্ট কিতাবে লিপিবদ্ধ আছে} (হুদ: ৬)। সুতরাং যে কিতাব সৃষ্টির তকদির ও রিজিকসমূহ শামিল করেছে, সেটি হলো লাওহে মাহফুজ; পবিত্র কুরআন নয়।
অতঃপর যদি আমরা ধরেও নিই যে, মহান আল্লাহর বাণী: {আমি কিতাবে কোনো কিছু বাদ দিইনি} দ্বারা কুরআনকেই উদ্দেশ্য করা হয়েছে, তবে এই সাধারণ ব্যাপকতা (عموم) থেকে বিবেকবানরা পূর্বাপর প্রসঙ্গের (سياق) আলোকে একটি বিশেষ অর্থ (مخصوص) বুঝে নেবেন। কারণ কোনো ধারণাকারীর এমন ধারণা করা চরম মূর্খতা এমনকি পাগলামি যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন এই আয়াতটি পাঠ করেছেন, তখন তিনি উদ্দেশ্য করেছেন যে কুরআনে কুরাইশ পুরুষদের নাম বা পারস্যের খাবারসমূহ অথবা আল্লাহর সৃষ্টি করা পশুদের নামসমূহ রয়েছে। কারণ এটি...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তানযীহুল কুরআনিল কারীম আন দাআওয়িল মুবতিলীন
(পৃষ্ঠা: ১৬)
لا يخطر ببال عاقل ولو كفر بالقرآن وجحده، لأنه سيحمل العموم في قوله {مِن شَيْءٍ} على المعنى المخصوص اللائق به ككتاب ديني، أي ما فرطنا في الكتاب من شيء يصلح حياة الإنسان في دنياه وأخراه، فالقرآن حوى كل ما تحتاجه البشرية مما تختص بذكره النبوات (1).
ومن صور التحريف للمعاني ما صنعه القس أنيس شروش مع مستمعيه الإنجليز بقوله: "أنتم معشر المسلمين تعتقدون أن المسيح ما زال على قيد الحياة .. لكننا إذا قارنا هذا بما جاء في القرآن؛ فإننا سنجد تناقضاً، فإن القرآن يقول: {وَالسَّلَامُ عَلَيَّ يَوْمَ وُلِدتُّ وَيَوْمَ أَمُوتُ وَيَوْمَ أُبْعَثُ حَيّاً} (مريم: 33) " قرأها بالعربية صحيحة، ثم ترجمها لمستمعيه: "وسلام علي يوم ولدت، ويوم مت، ويوم أبعث حياً" (2)، فحوَّل الأفعال المضارعة - التي يراد منها المستقبل - إلى أفعال ماضية؛ مستغلاً جهل مستمعيه بلغة العرب.
ومن تحريف المعاني زعم القمّص زكريا بطرس في برنامجه في قناة الحياة أن في القرآن كلمة يستحي القمص من قولها أمام المشاهدين، وهي كلمة (النكاح) التي يفهمها - عقله الكليل- بمعنى الجماع (3).
--------------------------------------------
কোনো বিবেকসম্পন্ন ব্যক্তির মনে এ ধারণা উদিত হবে না, এমনকি সে যদি কুরআনের প্রতি কুফরি করে এবং একে অস্বীকারও করে; কারণ সে {مِن شَيْءٍ} (কোনো কিছু) বাণীর ব্যাপকতা (العموم)-কে একটি ধর্মীয় কিতাব হিসেবে এর জন্য উপযুক্ত সুনির্দিষ্ট (المخصوص) অর্থের ওপর প্রয়োগ করবে। অর্থাৎ, আমরা কিতাবে এমন কোনো কিছুই বাদ দিইনি যা মানুষের দুনিয়া ও আখিরাতের জীবনকে সংশোধন করে। সুতরাং কুরআন এমন সবকিছুই ধারণ করেছে যা মানবজাতির প্রয়োজন এবং যা নবুওয়াতী শিক্ষার বিশেষ বিষয়বস্তুর অন্তর্ভুক্ত (১)।
অর্থের বিকৃতির (التحريف) অন্যতম রূপ হলো যা পাদ্রি আনিস শোরোশ তার ইংরেজ শ্রোতাদের সামনে করেছিলেন এই বলে যে: "আপনারা মুসলিম সম্প্রদায় বিশ্বাস করেন যে মসীহ এখনও জীবিত আছেন... কিন্তু আমরা যদি কুরআনে যা এসেছে তার সাথে তুলনা করি, তবে আমরা বৈপরীত্য খুঁজে পাব। কারণ কুরআন বলে: {وَالسَّلَامُ عَلَيَّ يَوْمَ وُلِدتُّ وَيَوْمَ أَمُوتُ وَيَوْمَ أُبْعَثُ حَيّاً} (মারইয়াম: ৩৩)।" তিনি এটি আরবিতে সঠিকভাবে পাঠ করেন, অতঃপর তার শ্রোতাদের জন্য অনুবাদ করেন: "আমার ওপর শান্তি যেদিন আমি জন্মেছি, যেদিন আমি মারা গেছি এবং যেদিন আমি জীবিত অবস্থায় পুনরুত্থিত হয়েছি" (২)। এভাবে তিনি বর্তমান ও ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়া (المضارع)—যা দ্বারা ভবিষ্যৎ উদ্দেশ্য—সেগুলোকে অতীতকালীন ক্রিয়ায় (الماضي) রূপান্তর করেছেন; যা তিনি করেছিলেন তার শ্রোতাদের আরবি ভাষা সম্পর্কে অজ্ঞতার সুযোগ নিয়ে।
অর্থের বিকৃতির (التحريف) আরেকটি উদাহরণ হলো পাদ্রি জাকারিয়া বুতরাসের দাবি, যা তিনি আল-হায়াত চ্যানেলে তার প্রোগ্রামে করেছিলেন যে, কুরআনে এমন একটি শব্দ আছে যা দর্শকদের সামনে বলতে পাদ্রি লজ্জাবোধ করেন। শব্দটি হলো 'নিকাহ' (النكاح), যা তার স্থবির মস্তিষ্ক কেবল যৌন মিলন হিসেবেই বোঝে (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তানযীহুল কুরআনিল কারীম আন দাআওয়িল মুবতিলীন
(পৃষ্ঠা: ১৭)
ج. بتر النصوص وإخراجها عن مساقها:
ويعمد مثيرو الأباطيل - وهم يستشهدون بالمصادر الإسلامية - إلى بتر النصوص واجتزائها، فيختارون من النص ما يعجبهم، ويدَعون ما لا يوافق هواهم وباطلهم، ومن ذلك ما صنعه القمُّص زكريا بطرس وهو يستدل لعقيدة التثليث بقوله تعالى: {إِنَّمَا الْمَسِيحُ عِيسَى ابْنُ مَرْيَمَ رَسُولُ اللهِ وَكَلِمَتُهُ أَلْقَاهَا إِلَى مَرْيَمَ وَرُوحٌ مِّنْهُ} (النساء: 171)، فقد تعامى عن أول الآية وتمامها؛ لما فيهما من تنديد بالتثليث ووعيد لأهله {يَا أَهْلَ الْكِتَابِ لَا تَغْلُوا فِي دِينِكُمْ وَلَا تَقُولُوا عَلَى الله إِلَاّ الْحَقِّ إِنَّمَا الْمَسِيحُ عِيسَى ابْنُ مَرْيَمَ رَسُولُ الله وَكَلِمَتُهُ أَلْقَاهَا إِلَى مَرْيَمَ وَرُوحٌ مِّنْهُ فَآمِنُوا بِالله وَرُسُلِهِ وَلَا تَقُولُوا ثَلَاثَةٌ انتَهُوا خَيْراً لَّكُمْ إِنَّمَا الله إِلَهٌ وَاحِدٌ سُبْحَانَهُ أَن يَكُونَ لَهُ وَلَدٌ لَّهُ مَا فِي السَّمَاوَات وَمَا فِي الأَرْضِ وَكَفَى بِالله وَكِيلاً لَّن يَسْتَنكِفَ الْمَسِيحُ أَن يَكُونَ عَبْداً لله وَلَا الْمَلآئِكَةُ الْمُقَرَّبُونَ وَمَن يَسْتَنكِفْ عَنْ عِبَادَتِهِ وَيَسْتَكْبِرْ فَسَيَحْشُرُهُمْ إِلَيهِ جَمِيعاً} (النساء: 171 - 172).
وهذا البتر للنصوص عادة للقمُّص زكريا بطرس لا يمل من معاودتها في برامجه الفضائية، فحين أراد الاستدلال على صحة كتابه المقدس زعم أن القرآن لا يقول بالتحريف اللفظي للتوراة والإنجيل، بل يقول بوقوع التحريف المعنوي فقط، واستدل لذلك بما جاء في تفسير البيضاوي بعد اجتزاء كلام البيضاوي وبتره، فيقول القمص: (يقول البيضاوي: " {أَفَتَطْمَعُونَ أَن يُؤْمِنُوا لَكُمْ} يعني اليهود، {وَقَدْ كَانَ فَرِيقٌ مّنْهُمْ} طائفة من أسلافهم {يَسْمَعُونَ كلام الله} يعني التوراة، {ثُمَّ يُحَرّفُونَه} أي تأويله فيفسرونه بما يشتهون")، ثم عقب على كلام البيضاوي بالقول: (مش [لم] يغيروا الألفاظ والكلام).
وقد تعمد القمص بتر كلام البيضاوي الذي تحدث عن نوعين من التحريف: أولهما تحريف الألفاظ، والآخر تحريف المعاني الذي ذكره القمُّص،
গ. মূল পাঠ কর্তন করা এবং তা প্রসঙ্গ থেকে বিচ্ছিন্ন করা:
মিথ্যা অপবাদ বিস্তারকারীরা—ইসলামি উৎসসমূহ থেকে প্রমাণ উপস্থাপনের ছলে—মূল পাঠকে কর্তন ও খণ্ডিত করার পথ অবলম্বন করে। তারা পাঠ্যের সেই অংশটুকুই গ্রহণ করে যা তাদের মনঃপুত হয় এবং যা তাদের প্রবৃত্তি ও মিথ্যার অনুকূলে যায় না, তা বর্জন করে। এর একটি উদাহরণ হলো ফাদার জাকারিয়া বুতরস যা করেছেন; তিনি ত্রিত্ববাদের সপক্ষে দলিল হিসেবে মহান আল্লাহর এই বাণীটি পেশ করেন: {মসীহ ঈসা ইবনে মারইয়াম তো কেবল আল্লাহর রাসূল এবং তাঁর বাণী, যা তিনি মারইয়ামের নিকট পাঠিয়েছিলেন এবং তাঁর পক্ষ থেকে এক রূহ} (আন-নিসা: ১৭১)। অথচ তিনি আয়াতের প্রথম অংশ এবং শেষ অংশকে এড়িয়ে গেছেন; কারণ আয়াতের ওই দুই অংশে ত্রিত্ববাদের কঠোর নিন্দা এবং এর অনুসারীদের প্রতি সতর্কবাণী উচ্চারিত হয়েছে: {হে আহলে কিতাবগণ! তোমরা তোমাদের দ্বীনের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করো না এবং আল্লাহর সম্বন্ধে সত্য ছাড়া কিছু বলো না। মসীহ ঈসা ইবনে মারইয়াম তো কেবল আল্লাহর রাসূল এবং তাঁর বাণী, যা তিনি মারইয়ামের নিকট পাঠিয়েছিলেন এবং তাঁর পক্ষ থেকে এক রূহ। অতএব তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলগণের প্রতি ঈমান আনো এবং বলো না যে, আল্লাহ তিন। এটা থেকে বিরত হও, এটি তোমাদের জন্য কল্যাণকর। আল্লাহ তো কেবল একমাত্র ইলাহ, তাঁর কোনো সন্তান হওয়া থেকে তিনি পবিত্র। আসমানসমূহে যা কিছু আছে এবং যমীনে যা কিছু আছে সব তাঁরই। আর কর্মবিধায়ক হিসেবে আল্লাহই যথেষ্ট। মসীহ আল্লাহর বান্দা হতে কখনো কুণ্ঠিত হন না এবং নিকটবর্তী ফেরেশতারাও নয়। আর যারা তাঁর ইবাদত করতে কুণ্ঠিত হবে এবং অহঙ্কার করবে, তিনি তাদের সবাইকে তাঁর কাছে একত্রিত করবেন} (আন-নিসা: ১৭১-১৭২)।
মূল পাঠের এই রূপ বিকৃতি ও কর্তন করা ফাদার জাকারিয়া বুতরসের একটি চিরাচরিত অভ্যাসে পরিণত হয়েছে, যা তিনি তাঁর স্যাটেলাইট টেলিভিশন অনুষ্ঠানগুলোতে বারবার করতে কুণ্ঠাবোধ করেন না। যখন তিনি তাঁর তথাকথিত পবিত্র গ্রন্থের বিশুদ্ধতা প্রমাণের প্রয়াস পান, তখন তিনি দাবি করেন যে, কুরআন তাওরাত ও ইঞ্জিলের শাব্দিক বিকৃতির (التحريف اللفظي) কথা বলে না, বরং কেবল অর্থগত বিকৃতি (التحريف المعنوي) সংঘটিত হওয়ার কথা বলে। এর স্বপক্ষে তিনি তাফসিরে বায়যাভী থেকে বায়যাভীর কথাকে খণ্ডিত ও কর্তন করে পেশ করেন। ফাদার বলেন: (বায়যাভী বলেছেন: “{তবে কি তোমরা আশা করো যে তারা তোমাদের প্রতি ঈমান আনবে?} অর্থাৎ ইহুদিরা, {অথচ তাদের একদল ছিল} তাদের পূর্বপুরুষদের একটি দল, {যারা আল্লাহর কালাম শ্রবণ করত} অর্থাৎ তাওরাত, {অতঃপর তারা তা বিকৃত করত} অর্থাৎ এর ব্যাখ্যা পরিবর্তন করত এবং নিজেদের ইচ্ছামতো ব্যাখ্যা করত”)। এরপর তিনি বায়যাভীর বক্তব্যের ওপর মন্তব্য করে বলেন: (তারা শব্দ ও বাক্য পরিবর্তন করেনি)।
অথচ এই ফাদার ইচ্ছাকৃতভাবে বায়যাভীর বক্তব্য থেকে কিছু অংশ কর্তন করেছেন, যেখানে তিনি দুই ধরনের বিকৃতি সম্পর্কে আলোচনা করেছিলেন: প্রথমটি হলো শাব্দিক বিকৃতি (تحريف الألفاظ), এবং দ্বিতীয়টি হলো অর্থগত বিকৃতি (تحريف المعاني) যা ফাদার উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
তানযীহুল কুরআনিল কারীম আন দাআওয়িল মুবতিলীন
(পৃষ্ঠা: ১৮)
وعبارة البيضاوي بتمامها: " {ثُمَّ يُحَرّفُونَهُ} كنعت محمد صلى الله عليه وسلم، وآية الرجم. أو تأويله فيفسرونه بما يشتهون" (1)، فحذف من عبارة البيضاوي قوله: "كنعت محمد صلى الله عليه وسلم وآية الرجم" لما فيها من إشارة إلى تحريف الألفاظ.
وأعاد القمص هذا الصنيع ثانية، وهو ينقل قول البيضاوي في تفسير قول الله تعالى: {مِّنَ الَّذِينَ هَادُوا يُحَرِّفُونَ الْكَلِمَ عَن مَّوَاضِعِهِ}، فنقل عن البيضاوي أنه قال بالتحريف المعنوي دون اللفظي، فقال: (قال البيضاوي: " {يُحَرِّفُونَ الْكَلِمَ} أي يميلونه عن مواضعه التي وضعه الله فيها؛ أي يؤولونه على ما يشتهون، فيميلونه عما أنزل الله فيه").
وقد بتر منه ما يخالف مقصده ويفند استدلاله، فعبارة البيضاوي بتمامها: " {يُحَرِّفُونَ الْكَلِمَ} أي يميلونه عن مواضعه التي وضعه الله فيها؛ بإزالته عنها وإثبات غيره فيها. أو يؤولونه على ما يشتهون فيميلونه عما أنزل الله فيه" (2).
ومن صور البتر والتحريف ما رأيته عند عدد من كُتَّاب النصارى وقسسهم (3)، فقد زعموا أن الرازي كان يستشكل القول بنجاة المسيح من الصلب ووقوع الشبه على غيره، ونقلوا عنه قوله: "بالجملة فكيفما كان، ففي إلقاء شبهه على الغير إشكالات: الإشكال الأول: إنا لو جوزنا إلقاء شبه إنسان على إنسان آخر لزم السفسطة .. "، ثم يسوقون كلاماً طويلاً للرازي ملخصه أن القول بصلب غير المسيح بدلاً عنه فيه ست إشكالات، نقل هذه الإشكالات عنه ثروت سعيد، وعقَّب عليها بالقول: "انتهى للإمام فخر الدين الرازي، ولا تعليق"،
--------------------------------------------
বায়দ্বাভীর পূর্ণ উক্তিটি হলো: "{অতঃপর তারা তা বিকৃত করে} যেমন মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর গুণাবলি এবং রজম (পাথর নিক্ষেপে হত্যা) সংক্রান্ত আয়াত। অথবা এর অপব্যাখ্যা করা, ফলে তারা একে তাদের খেয়ালখুশি মতো ব্যাখ্যা করে" (১)। বায়দ্বাভীর উক্তি থেকে "যেমন মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর গুণাবলি এবং রজমের আয়াত" কথাটি বাদ দেওয়া হয়েছে, কারণ এতে শাব্দিক বিকৃতির (تحريف الألفاظ) ইঙ্গিত রয়েছে।
পাদ্রি এই কাজটি দ্বিতীয়বার করেছেন, যখন তিনি মহান আল্লাহর বাণী: {ইহুদিদের মধ্যে কেউ কেউ শব্দগুলোকে তার সঠিক স্থান থেকে বিচ্যুত করে} এর তাফসিরে বায়দ্বাভীর উক্তি উদ্ধৃত করছিলেন। তিনি বায়দ্বাভী থেকে উদ্ধৃত করেছেন যে, তিনি শাব্দিক বিকৃতির পরিবর্তে অর্থগত বিকৃতির (التحريف المعنوي) কথা বলেছেন। তিনি বলেন: (বায়দ্বাভী বলেছেন: "{তারা শব্দগুলোকে বিচ্যুত করে} অর্থাৎ তারা সেগুলোকে তাদের স্বীয় স্থান থেকে সরিয়ে দেয় যেখানে আল্লাহ তা স্থাপন করেছেন; অর্থাৎ তারা নিজেদের খেয়ালখুশি মতো এর অপব্যাখ্যা করে, ফলে আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন তা থেকে একে বিচ্যুত করে দেয়")।
অথচ তিনি এখান থেকে এমন অংশ কর্তন করেছেন যা তার উদ্দেশ্যের পরিপন্থী এবং তার যুক্তিকে খণ্ডন করে। বায়দ্বাভীর পূর্ণ উক্তিটি হলো: "{তারা শব্দগুলোকে বিচ্যুত করে} অর্থাৎ তারা সেগুলোকে তাদের স্বীয় স্থান থেকে সরিয়ে দেয় যেখানে আল্লাহ তা স্থাপন করেছেন; তা অপসারণ করার মাধ্যমে এবং তার পরিবর্তে অন্য কিছু সেখানে স্থাপন করার মাধ্যমে। অথবা তারা নিজেদের খেয়ালখুশি মতো এর অপব্যাখ্যা করে, ফলে আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন তা থেকে একে বিচ্যুত করে দেয়" (২)।
কর্তন ও বিকৃতির (التحريف) অন্যতম রূপ হলো যা আমি বেশ কিছু খ্রিস্টান লেখক ও তাদের পাদ্রীদের (৩) মাঝে দেখেছি। তারা দাবি করেছে যে, রাজি ঈসা (আ.)-এর ক্রুশবিদ্ধ হওয়া থেকে মুক্তি পাওয়া এবং অন্য কারো উপর সাদৃশ্য পতিত হওয়ার বিষয়টি নিয়ে সংশয় প্রকাশ করতেন। তারা তার পক্ষ থেকে উদ্ধৃত করেছে: "সারকথা হলো, বিষয়টি যেমনই হোক না কেন, অন্যের উপর তার সাদৃশ্য নিক্ষেপ করার ক্ষেত্রে কিছু জটিলতা রয়েছে: প্রথম জটিলতা: আমরা যদি একজনের সাদৃশ্য অন্যজনের ওপর পতিত হওয়া বৈধ মনে করি তবে কুতর্ক (السفسطة) অনিবার্য হয়ে পড়ে..."। এরপর তারা রাজির দীর্ঘ কথা উপস্থাপন করে যার সারসংক্ষেপ হলো ঈসা (আ.)-এর পরিবর্তে অন্য কাউকে ক্রুশবিদ্ধ করার মতামতের পেছনে ছয়টি জটিলতা রয়েছে। ছারওয়াত সাইদ এই জটিলতাগুলো তার পক্ষ থেকে উদ্ধৃত করেছেন এবং তার ওপর এই মন্তব্য করেছেন: "ইমাম ফখরউদ্দিন রাজির বক্তব্য এখানেই শেষ, কোনো মন্তব্য নেই।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তানযীহুল কুরআনিল কারীম আন দাআওয়িল মুবতিলীন
(পৃষ্ঠা: ১৯)
وهو يوهم قراءه أن هذه الإشكالات يستشكلها الرازي، فيقول: "ولهذا لم يكن بُدٌّ لعالم نزيه كالإمام العلامة فخر الدين الرازي أن يفند قصة الشبه تفنيداً محكماً" (1).
والحق أن الرازي رحمه الله ذكر الإشكالات الستة التي يستشكلها النصارى وغيرهم على قول القرآن بنجاة المسيح، ثم لما انتهى من سردها شرع في الرد عليها جميعاً، فقال: " فهذا جملة ما في الموضع من السؤالات: والجواب عن الأول
… والجواب عن الثاني
… ".
وبعد أن رد عليها واحداً واحداً؛ ختم بنتيجة شافية كافية فقال: "وبالجملة فالأسئلة التي ذكروها أمور تتطرق الاحتمالات إليها من بعض الوجوه، ولما ثبت بالمعجز القاطع صدق محمد صلى الله عليه وسلم في كل ما أخبر عنه؛ امتنع صيرورة هذه الأسئلة المحتملة معارضة للنص القاطع" (2)، فتعامى ثروت سعيد وغيره من المبطلين عن إتمام قول الرازي، ووقعوا في التدليس المشين حين نسبوا إليه قول النصارى الذي كان يرد عليه.
د. محاكمة القرآن إلى مصادر ومعلومات غير موثوقة:
ويلجأ الطاعنون في القرآن من النصارى في إلقاء شبهاتهم إلى محاكمة القرآن إلى مصادر مرفوضة ومطعون في موثوقيتها كالكتاب المقدس الذي يرى المسلمون والمحققون من أهل الكتاب أنه أسفار تاريخية كتبها مجهولون، ونُسبت إلى الأنبياء بلا سند يوثقها، وعليه فهذه الكتب مجروح في شهادتها، ولا اعتداد ولا موثوقية في أخبارها، التي يحاكم الطاعنون القرآن بموجبها، فيعرضونها وكأنها مستندات ووثائق تاريخية متفق على صحتها، ثم يخطِّئون القرآن حين يخالفها ويناقضها، أما إذا رأوه موافقاً لها فإنهم لا يخجلون من الزعم بأنه نقل منها، فلا يسلم منهم
--------------------------------------------
এটি তার পাঠকদের মনে এই ভ্রান্ত ধারণা দেয় যে, এই আপত্তিগুলো রাযী নিজেই উত্থাপন করেছেন। তিনি বলেন: "এ কারণেই ইমাম আল্লামা ফখরুদ্দীন রাযীর মতো একজন ন্যায়নিষ্ঠ পণ্ডিতের জন্য 'শুবহ' (সাদৃশ্য দান)-এর কাহিনীকে অকাট্যভাবে খণ্ডন করা ছাড়া কোনো উপায় ছিল না" (১)।
প্রকৃত সত্য হলো, রাযী (রহ.) সেই ছয়টি আপত্তির কথা উল্লেখ করেছেন যা খ্রিস্টান ও অন্যরা ঈসা (আ.)-এর পরিত্রাণ লাভের ব্যাপারে কুরআনের বক্তব্যের বিরুদ্ধে উত্থাপন করে থাকে। অতঃপর যখন তিনি সেগুলো বর্ণনা করা শেষ করেন, তখন সেগুলোর সবকটির উত্তর দিতে শুরু করেন। তিনি বলেন: "এই স্থানে উত্থাপিত প্রশ্নাবলির সারসংক্ষেপ হলো এই: প্রথমটির উত্তর হলো
… এবং দ্বিতীয়টির উত্তর হলো
…"।
একে একে সেগুলোর উত্তর দেওয়ার পর তিনি একটি সন্তোষজনক ও পর্যাপ্ত ফলাফল প্রদান করে সমাপ্তি টেনে বলেন: "সারকথা হলো, তারা যেসব প্রশ্ন উল্লেখ করেছে সেগুলো এমন বিষয় যাতে বিভিন্ন দিক থেকে সম্ভাবনার অবকাশ রয়েছে। আর যখন অকাট্য মুজিযার মাধ্যমে মুহাম্মাদ (সা.)-এর সংবাদকৃত সকল বিষয়ে তাঁর সত্যবাদিতা প্রমাণিত হয়েছে, তখন এই সম্ভাব্য প্রশ্নগুলো অকাট্য দলিলের পরিপন্থী হওয়া অসম্ভব" (২)। ফলে সারওয়াত সাঈদ এবং অন্যান্য বাতিলপন্থীরা রাযীর বক্তব্যের শেষ অংশটুকু এড়িয়ে গিয়েছেন এবং তারা জঘন্য প্রতারণা (تدليس)-এর আশ্রয় নিয়েছেন যখন তারা খ্রিস্টানদের ঐসব কথাকে তাঁর (রাযীর) বক্তব্য হিসেবে চালিয়ে দিয়েছেন যা তিনি মূলত খণ্ডন করছিলেন।
ঘ. অনির্ভরযোগ্য উৎস ও তথ্যের ভিত্তিতে কুরআনকে বিচার করা:
খ্রিস্টানদের মধ্য থেকে যারা কুরআনের সমালোচক, তারা সংশয় সৃষ্টির উদ্দেশ্যে কুরআনকে এমন সব বর্জনীয় এবং নির্ভরযোগ্যতাহীন (مطعون) উৎসের মানদণ্ডে বিচার করার আশ্রয় নেয়, যেমন—বাইবেল। মুসলিম ও আহলে কিতাবের গবেষকদের মতে বাইবেল হলো কিছু ঐতিহাসিক সংকলন যা অজ্ঞাত ব্যক্তিরা লিখেছে এবং কোনো নির্ভরযোগ্য সনদ (سند) ছাড়াই তা নবীদের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়েছে। ফলে এই বইগুলোর সাক্ষ্য প্রত্যাখ্যাত বা প্রশ্নবিদ্ধ (مجروح) এবং এদের সংবাদের কোনো গ্রহণযোগ্যতা বা নির্ভরযোগ্যতা নেই, যার ভিত্তিতে এই সমালোচকরা কুরআনকে বিচার করতে চায়। তারা এগুলোকে এমনভাবে উপস্থাপন করে যেন এগুলো সর্বসম্মতভাবে সঠিক বা সহিহ (صحيح) ঐতিহাসিক দলিল ও নথিপত্র। অতঃপর কুরআন যখন সেগুলোর পরিপন্থী বা বিরোধী হয়, তখন তারা কুরআনকে ভুল সাব্যস্ত করে। আবার যদি তারা দেখে যে কুরআন সেগুলোর সাথে মিলে যাচ্ছে, তখন তারা নির্লজ্জভাবে দাবি করে বসে যে কুরআন সেখান থেকে কপি করেছে। ফলে তাদের হাত থেকে কোনো কিছুই নিরাপদ নয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তানযীহুল কুরআনিল কারীম আন দাআওয়িল মুবতিলীন
(পৃষ্ঠা: ২০)
القرآن حال الموافقة ولا المخالفة.
ومن ذلك تكذيبهم القرآن حين خالفهم في تسمية والد إبراهيم عليه السلام بـ "آزر" (انظر الأنعام: 74)، وحجتهم أن التوراة سمته "تارح" (انظر التكوين 11/ 27).
وكذلك كذبوا القرآن الكريم حين تحدث عن كفالة زوجة فرعون لموسى (انظر القصص: 9)، لأن التوراة تقول: إن الذي كفله ابنة فرعون (انظر الخروج 2/ 5 - 7).
وكذلك كذبوا أن يكون لون بقرة بني إسرائيل الصفار الفاقع (انظر البقرة: 69)، لأن التوراة تقول تجعلها حمراء اللون (انظر العدد 19/ 1 - 4)، وكل هذه الأخبار التوراتية خاطئة، لا اعتداد بها، وهي أضعف من أن تكون حجة على إخباري أو مؤرخ؛ فضلاً عن القرآن العظيم.
كما يولع الطاعنون في القرآن بالغرائب الموجودة في كتب بعض المفسرين، وهي في جملتها منقولة من مرويات وأخبار أهل الكتاب، فيخلطون بينها وبين القرآن، ويجعلون معانيها المنكرة حجة عليه، وفي هذا مجافاة للموضوعية؛ فإن كتب الرجال يحتج لها بالقرآن، ولا يحتج بها عليه.
ولعل من أهم صور ذلك قصة الغرانيق التي أطبق على ذكرها الطاعنون في القرآن، وقد بين علماء الإسلام بطلانها؛ وإن أوردها مفسرون ومؤرخون وصفهم القاضي عياض بأنهم "المولعون بكل غريب، المتلقفون من الصحف كل صحيح وسقيم" (1)، فلولعهم بذكر الغرائب أُثقلت مؤلفاتهم العظيمة بالإسرائيليات وسخيف مقولات الأمم التي تروي ما ترويه بلا زمام ولا قيد؛ فنقل الطاعنون هذه المرويات، ولبّسوا على عوام المسلمين حين أوهموهم بصحة
--------------------------------------------
কুরআন হলো সামঞ্জস্য কিংবা বৈসাদৃশ্য—উভয় অবস্থার মানদণ্ড।
এর অন্তর্ভুক্ত হলো কুরআনের প্রতি তাদের মিথ্যাচার যখন তা ইবরাহিম (আলাইহিস সালাম)-এর পিতার নাম ‘আজর’ রাখার ক্ষেত্রে তাদের বিরোধিতা করেছে (দেখুন আনআম: ৭৪), আর তাদের দলিল হলো তাওরাত তাকে ‘তারাহ’ নামকরণ করেছে (দেখুন আদিপুস্তক ১১/ ২৭)।
একইভাবে তারা আল-কুরআনুল কারিমের প্রতিও মিথ্যাচার করেছে যখন তা ফেরাউনের স্ত্রীর পক্ষ হতে মুসার লালন-পালনের কথা আলোচনা করেছে (দেখুন কাসাস: ৯), কারণ তাওরাত বলে: তাকে যে লালন-পালন করেছে সে হলো ফেরাউনের কন্যা (দেখুন যাত্রাপুস্তক ২/ ৫ - ৭)।
তদ্রূপ তারা বনী ইসরাঈলের গাভীর রং উজ্জ্বল হলুদ হওয়াকেও অস্বীকার করেছে (দেখুন বাকারা: ৬৯), কারণ তাওরাত বলে সেটিকে লাল বর্ণের করা হোক (দেখুন গণনা পুস্তক ১৯/ ১ - ৪)। তাওরাতের এই সকল সংবাদই ভুল, এগুলোর কোনো নির্ভরযোগ্যতা নেই। এমনকি কোনো সংবাদ দাতা বা ইতিহাসবিদের বিপক্ষে দলিল হওয়ার যোগ্যতার চেয়েও এগুলো অনেক বেশি দুর্বল (ضعيف); মহান কুরআনের বিরুদ্ধে দলিল হওয়া তো অনেক দূরের কথা।
একইভাবে কুরআনের সমালোচকরা কতিপয় মুফাসসিরগণের কিতাবসমূহে বিদ্যমান অদ্ভুত বা দুর্লভ (غريب) বিষয়গুলোর প্রতি আসক্ত, যা মোটের ওপর আহলে কিতাবদের বর্ণনা ও সংবাদসমূহ হতে উদ্ধৃত। ফলে তারা এসকল বর্ণনা এবং কুরআনের মাঝে তালগোল পাকিয়ে ফেলে এবং এর প্রত্যাখ্যানযোগ্য (منكر) অর্থগুলোকে কুরআনের বিরুদ্ধে দলিল হিসেবে দাঁড় করায়। এটি বস্তুনিষ্ঠতার পরিপন্থী; কেননা রিজাল শাস্ত্রের কিতাবসমূহের গ্রহণযোগ্যতা কুরআনের মাধ্যমে যাচাই করা হয়, কুরআনের বিরুদ্ধে সেগুলো দলিল হতে পারে না।
সম্ভবত এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হলো ‘গারানিকের কিচ্ছা’, যা উল্লেখ করার ক্ষেত্রে কুরআনের সমালোচকরা ঐকমত্য পোষণ করেছে। ইসলামি স্কলারগণ এর অসারতা স্পষ্ট করেছেন; যদিও কিছু মুফাসসির ও ইতিহাসবিদ এটি উল্লেখ করেছেন যাদের সম্পর্কে কাযী আয়াজ বর্ণনা করেছেন যে, তারা “প্রতিটি অদ্ভুত (غريب) বিষয়ের প্রতি আসক্ত, যারা পাণ্ডুলিপি হতে প্রতিটি বিশুদ্ধ (صحيح) ও ত্রুটিযুক্ত (سقيم) বর্ণনা লুফে নেয়” (১)। তাদের অদ্ভুত বিষয়সমূহ বর্ণনার প্রতি অতি আগ্রহের কারণে তাদের মহান গ্রন্থসমূহ ইসরাঈলি রেওয়ায়েত এবং অন্যান্য জাতির অসার কথাবার্তায় ভারাক্রান্ত হয়ে পড়েছে, যারা কোনো লাগাম বা বাছবিচার ছাড়াই যা ইচ্ছা বর্ণনা করে। অতঃপর সমালোচকরা এই বর্ণনাগুলো গ্রহণ করেছে এবং সাধারণ মুসলিমদের মাঝে বিভ্রান্তি ছড়িয়েছে যখন তারা এগুলোর বিশুদ্ধতা (صحيح) সম্পর্কে ধারণা দিয়েছে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তানযীহুল কুরআনিল কারীম আন দাআওয়িল মুবতিলীন
(পৃষ্ঠা: ২১)
هذه الأقوال المنقولة في بعض كتب التفسير، ولا ينسى الخبثاء - في مثل هذه الحال - ذكر أرقام الصفحات التي نقلوا عنها؛ يرومون بذكر هذه التفاصيل مزيداً من الخداع لعوام المسلمين لإيهامهم بصحة ووثاقة المعاني المستقبحة الموجودة في تلك الروايات التي نقلها المسلمون الأقدمون في كتبهم عملاً بالقاعدة المشهورة عندهم "من أسند لك فقد أحالك".
ومن ذلك ما نقله الطاعنون عن بعض كتب التفسير لقوله تعالى: {وَهَلْ أَتَاكَ نَبَأُ الْخَصْمِ إِذْ تَسَوَّرُوا الْمِحْرَابَ} (ص: 21)، فقد أوردوا قصة مزعومة باطلة، وملخصها أن داود عليه السلام رأى امرأة جاره تستحم، فأولع بها، فأرسل زوجها للقتل في الحرب، ثم تزوجها، وأن الله عاتبه على فعله، فبكى أربعين يوماً حتى نبت العشب من دموع عينيه (1)، فهذه القصة الخرافية المستنكرة في معانيها منحولة في أصلها من أسفار التوراة (انظر: صموئيل (2) 11/ 1 - 26)، ولم ترد في كتب المسلمين مرفوعة إلى النبي صلى الله عليه وسلم بإسناد صحيح أو ضعيف.
ومثله استشهاد الطاعنين في القرآن بما رُوي عن بعض السلف أنهم قالوا في تفسير قوله تعالى: {ق وَالْقُرْآنِ الْمَجِيدِ} (ق: 1 - 2): "ق، جبل مُحيطٌ بجميع الأرض، يقال له جبل قاف"، وعقب ابن كثير على هذا القول الغريب: " وكأنّ هذا - والله أعلم- من خرافات بني إسرائيل التي أخذها عنهم بعضُ الناس، لِمَا رأَى من جواز الرواية عنهم مما لا يصدَّق ولا يُكَذَّب. وعندي أن هذا وأمثالَه وأشباهَه من اختلاقِ بعض زنادقتهم، يَلْبِسُون به على الناس أمرَ دينهم" (2).
ومثله الاستشهاد بما ذكره المفسرون في تفسير قول الله: {وَلَقَدْ فَتَنَّا سُلَيْمَانَ وَأَلْقَيْنَا عَلَى كُرْسِيِّهِ جَسَداً ثُمَّ أَنَابَ} (ص: 34)، فذكروا قصة عجيبة، ملخصها
--------------------------------------------
এই বক্তব্যগুলো তাফসিরের কিছু কিতাবে উদ্ধৃত হয়েছে। বিদ্বেষীরা—এই ধরনের ক্ষেত্রে—পৃষ্ঠা নম্বর উল্লেখ করতে ভোলে না যেখান থেকে তারা উদ্ধৃত করেছে; এই খুঁটিনাটি বর্ণনার মাধ্যমে তারা সাধারণ মুসলমানদের বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা চালায়। তারা বোঝাতে চায় যে, সেই বর্ণনাগুলোর (الروايات) কদর্য অর্থের বিশুদ্ধতা (صحة) ও নির্ভরযোগ্যতা (وثاقة) রয়েছে, যা প্রাচীন মুসলিম পণ্ডিতগণ তাঁদের কিতাবে এই সুপ্রসিদ্ধ নিয়মের ভিত্তিতে উল্লেখ করেছেন যে, "যে আপনার কাছে সনদ পেশ করেছে, সে বিষয়টি আপনার ওপর সোপর্দ করেছে।"
এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে যা সমালোচকরা মহান আল্লাহর এই বাণীর তাফসির হিসেবে কিছু কিতাব থেকে উদ্ধৃত করেছে: {আপনার কাছে কি সেই বিবাদকারীদের সংবাদ পৌঁছেছে, যখন তারা প্রাচীর টপকে ইবাদতখানায় ঢুকেছিল} (সোয়াদ: ২১)। তারা একটি ভিত্তিহীন বাতিল (باطلة) গল্প পেশ করেছে, যার সারসংক্ষেপ হলো: দাউদ (আ.) তাঁর প্রতিবেশীর স্ত্রীকে গোসল করতে দেখেন এবং তাঁর প্রতি আসক্ত হয়ে পড়েন। অতঃপর তিনি তার স্বামীকে যুদ্ধে হত্যার উদ্দেশ্যে পাঠিয়ে দেন এবং পরে তাকে বিবাহ করেন। আল্লাহ তাঁকে এই কাজের জন্য তিরস্কার করেন, ফলে তিনি চল্লিশ দিন ধরে এত কান্নাকাটি করেন যে তাঁর চোখের জল থেকে ঘাস গজিয়ে যায় (১)। এই রূপকথাধর্মী গল্পটি, যার অর্থ আপত্তিকর বা মুনকার (المستنكرة), মূলত তাওরাত থেকে সংগৃহীত (দেখুন: ২ শামুয়েল ১১/ ১-২৬)। মুসলিমদের কিতাবসমূহে এটি নবী (সা.) পর্যন্ত মারফু (مرفوعة) হিসেবে কোনো সহিহ (صحيح) বা দুর্বল (ضعيف) সনদসহ (بإسناد) বর্ণিত হয়নি।
একইভাবে কুরআনের সমালোচকদের একটি দলিল হলো কিছু সালাফ (السلف) থেকে বর্ণিত (رُوي) হওয়া এই বক্তব্য, যা তাঁরা আল্লাহর এই বাণীর ব্যাখ্যায় বলেছেন: {ক্বফ, এবং মহিমান্বিত কুরআন} (ক্বফ: ১-২): "ক্বফ হলো সমগ্র পৃথিবীকে বেষ্টনকারী একটি পাহাড়, যাকে ক্বফ পাহাড় বলা হয়।" ইবনে কাসির এই অদ্ভুত (الغريب) বক্তব্যটির ব্যাপারে মন্তব্য করেছেন: "সম্ভবত এটি—আল্লাহই ভালো জানেন—বনী ইসরাঈলি রূপকথাগুলোর একটি যা কিছু মানুষ তাদের থেকে গ্রহণ করেছে। কারণ তারা তাদের থেকে এমন সব বর্ণনা গ্রহণ করা বৈধ মনে করেছে যা বিশ্বাসও করা যায় না আবার মিথ্যাও প্রতিপন্ন করা যায় না। আমার মতে, এটি এবং এর সমজাতীয় বিষয়গুলো তাদের কিছু জিন্দিকদের (ধর্মদ্রোহী) আবিষ্কার, যারা মানুষের দ্বীনি বিষয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে" (২)।
অনুরূপভাবে মুফাসসিরগণ আল্লাহর এই বাণীর ব্যাখ্যায় যা উল্লেখ করেছেন তা থেকেও দলিল পেশ করা হয়: {আমি সুলায়মানকে পরীক্ষা করলাম এবং তার আসনের ওপর একটি দেহ রেখে দিলাম, অতঃপর সে ফিরে এল} (সোয়াদ: ৩৪)। এখানে তাঁরা একটি বিস্ময়কর গল্প উল্লেখ করেছেন, যার সারসংক্ষেপ হলো
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তানযীহুল কুরআনিল কারীম আন দাআওয়িল মুবতিলীন
(পৃষ্ঠা: ২২)
أن شيطاناً ألقي عليه شبه سليمان، فكان يأتي نساءه (1).
قال أبو حيان الأندلسي: "نقل المفسرون في هذه الفتنة وإلقاء الجسد أقوالاً يجب براءة الأنبياء منها، يوقف عليها في كتبهم، وهي مما لا يحل نقلها، وإنما هي من أوضاع اليهود والزنادقة، ولم يبين الله الفتنة ما هي، ولا الجسد الذي ألقاه على كرسي سليمان، وأقرب ما قيل فيه: إن المراد بالفتنة كونه لم يستثن في الحديث الذي قال: «لأطوفنّ الليلة على سبعين امرأة، كل واحدة تأتي بفارس يجاهد في سبيل الله، ولم يقل: إن شاء الله، فطاف عليهن، فلم تحمل إلا امرأة واحدة، وجاءته بشق رجل» (2).
فهذه المنقولات وأمثالها في كتب التفسير، والكثير منها لا ينسب إلى النبي صلى الله عليه وسلم بإسناد صحيح ولا ضعيف، ولا يحل أن تعتبر تفسيراً لآيات القرآن، فإن فيها ما يصد عن القرآن، ويفسح المجال لأصحاب الأباطيل للطعن في القرآن الكريم والتلبيس على الناس بهذه المرويات الفاسدة.
--------------------------------------------
যে, জনৈক শয়তানকে সুলাইমানের সাদৃশ্য দেওয়া হয়েছিল, অতঃপর সে তাঁর স্ত্রীদের নিকট আসত (১)।
আবু হাইয়ান আল-আন্দালুসি বলেন: "মুফাসসিরগণ এই ফিতনা (পরীক্ষা) এবং শরীর নিক্ষেপ করার বিষয়ে এমন সব বর্ণনা উদ্ধৃত করেছেন যা থেকে নবীদের পবিত্র রাখা আবশ্যক; এই বর্ণনাগুলো তাঁদের কিতাবসমূহে পাওয়া যায়। এগুলো উদ্ধৃত করা বৈধ নয়, বরং এগুলো ইহুদি ও জিন্দিকদের জাল করা (موضوع) বিষয়াবলি। আল্লাহ তাআলা এই ফিতনা আসলে কী ছিল এবং সুলাইমানের সিংহাসনে তিনি কোন শরীরটি নিক্ষেপ করেছিলেন, তা স্পষ্ট করেননি। এ বিষয়ে সর্বাধিক নিকটবর্তী কথা হলো: ফিতনা বলতে উদ্দেশ্য হলো তাঁর সেই বিষয়টি, যখন তিনি সেই হাদিসে 'ইনশাআল্লাহ' বলেননি যেখানে তিনি বলেছিলেন: «আমি আজ রাতে অবশ্যই সত্তরজন স্ত্রীর নিকট গমন করব, যাদের প্রত্যেকেই আল্লাহর পথে জিহাদকারী একজন করে অশ্বারোহী বীর সন্তান প্রসব করবে», কিন্তু তিনি 'ইনশাআল্লাহ' বলেননি। অতঃপর তিনি তাঁদের নিকট গমন করলেন, কিন্তু মাত্র একজন স্ত্রী গর্ভধারণ করলেন এবং তিনি একটি অপূর্ণাঙ্গ মানবাকৃতি (অর্ধ-মানব) জন্ম দিলেন" (২)।
তাফসীরের কিতাবসমূহে বিদ্যমান এই বর্ণনাগুলো এবং এ জাতীয় অন্যান্য বর্ণনা—যাদের অধিকাংশেরই কোনো সঠিক (صحيح) কিংবা দুর্বল (ضعيف) সনদ (إسناد)-এর মাধ্যমে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে কোনো সম্পৃক্ততা নেই—সেগুলোকে কুরআনের আয়াতের তাফসীর হিসেবে গণ্য করা বৈধ নয়। কারণ, এগুলোর মধ্যে এমন কিছু রয়েছে যা কুরআন থেকে বিমুখ করে দেয় এবং বাতিলপন্থীদের জন্য পবিত্র কুরআনের ওপর অপবাদ দেওয়ার ও এই সকল ভ্রান্ত বর্ণনার মাধ্যমে মানুষের মাঝে বিভ্রান্তি সৃষ্টির পথ প্রশস্ত করে দেয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তানযীহুল কুরআনিল কারীম আন দাআওয়িল মুবতিলীন
(পৃষ্ঠা: ২৩)
القرآن كتاب الله المحفوظ{إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لَحَافِظُونَ} (الحجر: 9).
عهد الله بالكتب السابقة إلى أصحابها فأضاعوها وبدلوها، فصان الله كتابه الأخير عن عبث البشر وتحريفهم، وتعهد بحفظه {وَإِنَّهُ لَكِتَابٌ عَزِيزٌ لَا يَأْتِيهِ الْبَاطِلُ مِن بَيْنِ يَدَيْهِ وَلَا مِنْ خَلْفِهِ تَنزِيلٌ مِّنْ حَكِيمٍ حَمِيدٍ} (فصلت: 41 - 42).
وإنفاذاً لوعد الله بحفظ كتابه الأخير قيض عز وجل أسباباً كثيرة؛ حفظه من خلالها، وجعلته مخصوصاً بين سائر الكتب الدينية والدنيوية بحفظ ملايين المسلمين له عبر القرون.
نزل القرآن الكريم في أمة أُمِّية تعتمد الحفظ القلبي طريقاً لحفظ تراثها وأشعارها وأنسابها، لا تجد عنه بديلاً، فراعى الله حالهم وأنزله عليهم منجماً مفرقاً في ثلاث وعشرين سنة، فسهل عليهم حفظه: {وَقَالَ الَّذِينَ كَفَرُوا لَوْلَا نُزِّلَ عَلَيْهِ الْقُرْآنُ جُمْلَةً وَاحِدَةً كَذَلِكَ لِنُثَبِّتَ بِهِ فُؤَادَكَ وَرَتَّلْنَاهُ تَرْتِيلاً} (الفرقان: 32)، {وَقُرْآناً فَرَقْنَاهُ لِتَقْرَأَهُ عَلَى النَّاسِ عَلَى مُكْثٍ وَنَزَّلْنَاهُ تَنزِيلاً} (الإسراء: 106).
وكان أول حفظ الله للقرآن أن مكنه في قلب النبي صلى الله عليه وسلم الذي حرص على تلقي القرآن بعناية وحفظ، وكان يردده حال سماعه له من جبريل عليه السلام، خشية أن يفوته منه شيء، فطمأن الله قلبه وهدأ روعه، وأعلمه أن القرآن محفوظ في قلبه بحفظ الله: {وَلَا تَعْجَلْ بِالْقُرْآنِ مِن قَبْلِ أَن يُقْضَى إِلَيْكَ وَحْيُهُ وَقُل رَّبِّ زِدْنِي عِلْماً} (طه: 114).
وهو محفوظ من بعد ذلك: {لَا تُحَرِّكْ بِهِ لِسَانَكَ لِتَعْجَلَ بِهِ إِنَّ عَلَيْنَا جَمْعَهُ وَقُرْآنَهُ} (القيامة: 16 - 17).
قال ابن كثير: "هذا تعليم من الله عز وجل لرسوله في كيفية تلقيه الوحي من الملك، فإنه كان يبادر إلى أخذه، ويسابق الملك في قراءته، فأمره الله عز وجل ـ
কুরআন আল্লাহর সংরক্ষিত কিতাব{নিশ্চয়ই আমি এই উপদেশ (কুরআন) অবতীর্ণ করেছি এবং অবশ্যই আমি এর সংরক্ষণকারী।} (আল-হিজর: ৯)।
আল্লাহ পূর্ববর্তী কিতাবসমূহ সংরক্ষণের দায়িত্ব সেগুলোর অধিকারীদের ওপর ন্যস্ত করেছিলেন, কিন্তু তারা তা নষ্ট করে ফেলেছিল এবং পরিবর্তন করে দিয়েছিল। পক্ষান্তরে আল্লাহ তাঁর সর্বশেষ কিতাবকে মানুষের অনর্থক হস্তক্ষেপ ও বিকৃতি থেকে রক্ষা করেছেন এবং তা সংরক্ষণের অঙ্গীকার করেছেন {আর এটি অবশ্যই এক সম্মানিত কিতাব। এতে সম্মুখ বা পশ্চাৎ—কোনো দিক থেকেই মিথ্যা প্রবেশ করতে পারে না। এটি প্রজ্ঞাময়, পরম প্রশংসিত সত্তার পক্ষ থেকে অবতীর্ণ।} (ফুসসিলাত: ৪১-৪২)।
সর্বশেষ কিতাব সংরক্ষণের ব্যাপারে আল্লাহর সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে মহান আল্লাহ অনেক উপকরণের ব্যবস্থা করেছেন, যার মাধ্যমে তিনি একে রক্ষা করেছেন। শতাব্দীকাল ধরে লক্ষ লক্ষ মুসলিমের স্মৃতিতে এটি সংরক্ষণের ব্যবস্থার মাধ্যমে তিনি একে অন্য সকল ধর্মীয় ও পার্থিব কিতাবের মধ্যে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য দান করেছেন।
পবিত্র কুরআন এমন এক নিরক্ষর জাতির মধ্যে অবতীর্ণ হয়েছিল যারা তাদের ঐতিহ্য, কবিতা ও বংশলতিকা সংরক্ষণের মাধ্যম হিসেবে মুখস্থ রাখার ওপর নির্ভর করত এবং এর কোনো বিকল্প তাদের কাছে ছিল না। তাই আল্লাহ তাদের অবস্থা বিবেচনা করেছেন এবং তেইশ বছর ধরে পর্যায়ক্রমে ও খণ্ড খণ্ড করে এটি অবতীর্ণ করেছেন, যাতে তাদের জন্য এটি মুখস্থ রাখা সহজ হয়: {কাফিররা বলে, কুরআন কেন তাঁর নিকট একবারে অবতীর্ণ হলো না? এভাবেই (আমি নাযিল করেছি) যাতে তোমার অন্তরকে এর মাধ্যমে সুদৃঢ় করি এবং আমি একে স্পষ্টভাবে ক্রমে ক্রমে পাঠ করেছি।} (আল-ফুরকান: ৩২), {আমি কুরআনকে খণ্ড খণ্ড করে অবতীর্ণ করেছি যাতে তুমি তা মানুষের নিকট ধীরে ধীরে পাঠ করতে পার এবং আমি এটি পর্যায়ক্রমে নাযিল করেছি।} (আল-ইসরা: ১০৬)।
কুরআন সংরক্ষণে আল্লাহর প্রথম পদক্ষেপ ছিল নবী (সা.)-এর অন্তরে তা সুপ্রতিষ্ঠিত করা, যিনি কুরআন অত্যন্ত যত্ন ও মনোযোগের সাথে গ্রহণে সচেষ্ট ছিলেন। ওহী থেকে কোনো কিছু ছুটে যাওয়ার আশঙ্কায় তিনি জিবরীল (আ.)-এর নিকট থেকে তা শ্রবণকালেই পুনরাবৃত্তি করতেন। ফলে আল্লাহ তাঁর অন্তরকে আশ্বস্ত করলেন ও তাঁর উদ্বেগ দূর করলেন এবং তাঁকে জানিয়ে দিলেন যে, আল্লাহর পক্ষ থেকে কুরআন তাঁর অন্তরে সংরক্ষিত রয়েছে: {ওহী সম্পূর্ণ হওয়ার পূর্বে তুমি কুরআন পাঠে তাড়াহুড়া করো না এবং বলো, হে আমার রব! আমার জ্ঞান বৃদ্ধি করে দাও।} (ত্ব-হা: ১১৪)।
অতঃপর এটি এভাবেও সংরক্ষিত: {তাড়াহুড়া করার জন্য তুমি তোমার জিহ্বা ওহী নিয়ে সঞ্চালন করো না। নিশ্চয়ই এর সংকলন ও পাঠ করানোর দায়িত্ব আমারই।} (আল-কিয়ামাহ: ১৬-১৭)।
ইবনে কাসীর বলেন: "এটি মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর রাসূলকে ফেরেশতার নিকট থেকে ওহী গ্রহণের পদ্ধতি শিক্ষা প্রদান। কেননা তিনি ওহী গ্রহণে ক্ষিপ্রতা দেখাতেন এবং পাঠের সময় ফেরেশতার সাথে পাল্লা দিতেন। তাই আল্লাহ তাআলা তাঁকে নির্দেশ প্রদান করেন যে—"
(খণ্ড: ১)
তানযীহুল কুরআনিল কারীম আন দাআওয়িল মুবতিলীন
(পৃষ্ঠা: ২৪)
إذا جاءه الملك بالوحي أن يستمع له، وتكفل الله له أن يجمعه في صدره، وأن ييسره لأدائه على الوجه الذي ألقاه إليه، وأن يبينه له ويفسره ويوضحه، فالحالة الأولى: جمعه في صدره، والثانية: تلاوته، والثالثة: تفسيره وإيضاح معناه" (1).
ولمزيد من الحفظ للقرآن ولتوثيق حفظ النبي صلى الله عليه وسلم كان جبريل عليه السلام ينزل عليه كل عام في شهر رمضان يدارسه القرآن، فلا يتفلت منه شيء، يقول ابن عباس رضي الله عنهما: (كان رسول الله صلى الله عليه وسلم أجود الناس، وكان أجود ما يكون في رمضان؛ حين يلقاه جبريل، وكان يلقاه في كل ليلة من رمضان، فيدارسه القرآن، فلرسول الله أجود بالخير من الريح المرسلة) (2).
وخلال ثلاث وعشرين سنة بقي القرآن الكريم موضع اهتمام النبي صلى الله عليه وسلم، يتولى بنفسه إقراء أصحابه وتعليمهم القرآن؛ بل وتحفيظهم سوره، يقول ابن مسعود: (أخذت من فيِّ رسول الله صلى الله عليه وسلم سبعين سورة) (3).
وكان هذا ديدنه صلى الله عليه وسلم حتى مع المسلمين الجدد، فكان يتعاهدهم بما قد فاتهم من القرآن، فإذا ما شُغِل أَمرَ أصحابه بتعليمهم بدلاً عنه، يقول عبادة بن الصامت: (كان رسول الله يشغل، فإذا قدم رجل مهاجر على رسول الله صلى الله عليه وسلم دفعه إلى رجل منا يعلمه القرآن، فدفع رسول الله صلى الله عليه وسلم إليَّ رجلاً، فكان معي أُعشيه عشاء أهل البيت، وأُقرئه القرآن) (4).
وبمثل هذا الحرص البالغ من النبي صلى الله عليه وسلم كان الصحابة رضوان الله عليهم، فقد كانوا يتتبعون ما ينزل من القرآن في كل يوم، ولا يشغلهم عنه شيء من أمور
--------------------------------------------
যখন ফিরিশতা তাঁর নিকট ওহি নিয়ে আসতেন, তখন তিনি যেন তা মনোযোগ দিয়ে শোনেন—এই মর্মে তাঁকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। আর আল্লাহ তাঁর জন্য তা তাঁর বক্ষে একত্রিত করার এবং তিনি যেভাবে তা তাঁর নিকট পৌঁছে দিয়েছেন সেভাবেই তা আদায়ের (তিলাওয়াত করার) সামর্থ্য দানের দায়িত্ব নিয়েছিলেন; সেই সাথে এটি তাঁর নিকট বর্ণনা করা, এর ব্যাখ্যা ও মর্ম স্পষ্ট করার দায়িত্বও আল্লাহ গ্রহণ করেছিলেন। সুতরাং প্রথম পর্যায়টি হলো: তাঁর বক্ষে এটি একত্রিত করা, দ্বিতীয়টি: এর তিলাওয়াত এবং তৃতীয়টি: এর ব্যাখ্যা ও অর্থ স্পষ্ট করা (১)।
পবিত্র কুরআনের অধিকতর হেফাযত এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মুখস্থকরণ সুদৃঢ়করণের (توثيق) লক্ষ্যে জিবরাঈল আলাইহিস সালাম প্রতি বছর রমজান মাসে তাঁর নিকট অবতীর্ণ হতেন এবং তাঁর সাথে কুরআন পাঠ পর্যালোচনা করতেন, ফলে তাঁর স্মৃতি থেকে কোনো কিছুই বিস্মৃত হতো না। ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বলেন: (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন মানুষের মধ্যে সর্বাপেক্ষা দানশীল। আর রমজানে যখন জিবরাঈল তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করতেন, তখন তিনি সবচেয়ে বেশি দানশীল হতেন; তিনি রমজানের প্রতি রাতে তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করতেন এবং তাঁর সাথে কুরআন পাঠ পর্যালোচনা করতেন। নিশ্চয়ই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কল্যাণ বিচারে প্রবাহিত (مرسلة) বায়ুর চেয়েও অধিক দানশীল ছিলেন) (২)।
তেইশ বছর যাবৎ পবিত্র কুরআন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের গভীর মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দু ছিল। তিনি নিজেই সাহাবীদের কুরআন পাঠ শোনাতেন ও তাঁদেরকে তা শিক্ষা দিতেন; এমনকি তাঁদেরকে বিভিন্ন সূরা মুখস্থ করাতেন। ইবনে মাসউদ বলেন: (আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পবিত্র মুখ থেকে সরাসরি সত্তরটি সূরা গ্রহণ করেছি) (৩)।
এমনকি নতুন মুসলিমদের ক্ষেত্রেও এটি ছিল তাঁর নিয়মিত কর্মপদ্ধতি; কুরআনের যে অংশ তাঁদের অগোচরে থাকত সে বিষয়ে তিনি তাঁদের তত্ত্বাবধান করতেন। যদি তিনি নিজে ব্যস্ত থাকতেন, তবে নিজের পরিবর্তে তাঁর সাহাবীদের তাঁদের শেখানোর নির্দেশ দিতেন। উবাদাহ ইবনে সামিত বলেন: (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ব্যস্ত থাকতেন। যখন কোনো মুহাজির ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আসতেন, তিনি তাঁকে আমাদের মধ্য থেকে কোনো একজনের নিকট সোপর্দ করতেন যেন সে তাঁকে কুরআন শিক্ষা দেয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার নিকট একজন ব্যক্তিকে সোপর্দ করলেন। সে আমার সাথেই থাকত এবং আমি তাকে আমার পরিবারের খাবারই খাওয়াতাম এবং তাকে কুরআন পাঠ করাতাম) (৪)।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই সুগভীর ব্যাকুলতার ন্যায় সাহাবায়ে কেরাম রাদিয়াল্লাহু আনহুমও অত্যন্ত সচেষ্ট ছিলেন। তাঁরা প্রতিদিন যা কিছু কুরআন অবতীর্ণ হতো তা অনুসরণ করতেন এবং পার্থিব কোনো ব্যস্ততাই তাঁদেরকে এ থেকে বিমুখ করতে পারত না
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তানযীহুল কুরআনিল কারীম আন দাআওয়িল মুবতিলীন
(পৃষ্ঠা: ২৫)
الدنيا، يقول عمر بن الخطاب رضي الله عنه: (كنت أنا وجارٌ لي من الأنصار من عوالي المدينة: وكنا نتناوبُ النزولَ على رسول الله صلى الله عليه وسلم ينزل يوماً، وأنزل يوماً، فإذا نزلتُ جئتهُ بخبر ذلك اليوم من الوحي وغيره، وإذا نزل فعلَ مثل ذلك) (1).
وأما عبد الله بن عمرو بن العاص فقد شكته زوجته إلى رسول الله لاستغراقه في العبادة وفي قراءة القرآن عن واجبات الزوجية، فسأله النبي صلى الله عليه وسلم: «وكيف تختم» فقال: كل ليلة. فقال صلى الله عليه وسلم: «صم في كل شهر ثلاثة، واقرأ القرآن في كل شهر».
لكن عبد الله كان ذا همة عالية، فقال: أطيق أكثر من ذلك. فقال صلى الله عليه وسلم: «صم أفضل الصوم صوم داود، صيام يوم وإفطار يوم، واقرأ [أي القرآن] في كل سبع ليال مرة»، فأقام دهراً يقرأ القرآن كل سبع ليال، حتى كبرت سنه، وشق عليه ذلك، فكان يقول: ليتني قبلتُ رخصة رسول الله صلى الله عليه وسلم، وذاك أني كبرت وضعفت. فكان يقرأ على بعض أهله السُّبع من القرآن بالنهار، والذي يقرؤه يعرضه من النهار؛ ليكون أخف عليه بالليل .. كراهية أن يترك شيئاً فارق النبي صلى الله عليه وسلم عليه (2).
وأما ذو النورين عثمان بن عفان صهر النبي صلى الله عليه وسلم وجامع القرآن، فتذكر زوجته نائلة بنت الفرافصة الكلبية أنه "كان يحيي الليل كله في ركعة يجمع فيها القرآن" (3).
وأما أُبي بن كعب فينقل أبو المهلب أنه كان يختم القرآن في ثمان ليال، بينما
--------------------------------------------
পৃথিবী, উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) বলেন: (আমি এবং মদিনার আওয়ালি অঞ্চলের আমার এক আনসারি প্রতিবেশী ছিলাম। আমরা আল্লাহর রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর নিকট আসার ব্যাপারে পালাবদল করতাম। তিনি একদিন আসতেন এবং আমি একদিন আসতাম। আমি যখন আসতাম, তখন সেদিনের ওহি এবং অন্যান্য বিষয়ের সংবাদ নিয়ে আসতাম; আর তিনি যখন আসতেন, তিনিও অনুরূপ করতেন) (১)।
আর আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আসের ব্যাপারটি হলো—তাঁর স্ত্রী রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর নিকট তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ করলেন যে, তিনি ইবাদতে এবং কুরআন তিলাওয়াতে এতটাই নিমগ্ন থাকেন যে বৈবাহিক দায়িত্বসমূহ পালন করতে পারেন না। তখন নবী (সা.) তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন: "তুমি কীভাবে খতম করো?" তিনি বললেন: প্রতি রাতে। তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন: "প্রতি মাসে তিনটি রোজা রাখো এবং প্রতি মাসে একবার কুরআন পাঠ করো।"
কিন্তু আবদুল্লাহ উচ্চ হিম্মতের অধিকারী ছিলেন, তাই তিনি বললেন: আমি এর চেয়ে বেশি সক্ষম। তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন: "সর্বোত্তম রোজা হলো দাউদ (আ.)-এর রোজা—একদিন রোজা রাখা এবং একদিন রোজা না রাখা। আর প্রতি সাত রাতে একবার [অর্থাৎ কুরআন] পাঠ করো।" এরপর তিনি দীর্ঘকাল প্রতি সাত রাতে একবার কুরআন খতম করতেন, এমনকি যখন তিনি বার্ধক্যে উপনীত হলেন এবং এটি তাঁর জন্য কষ্টকর হয়ে পড়ল, তখন তিনি বলতেন: হায়! আমি যদি রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর দেয়া অবকাশ গ্রহণ করতাম; কেননা এখন আমি বৃদ্ধ ও দুর্বল হয়ে পড়েছি। তিনি দিনের বেলা তাঁর পরিবারের কোনো কোনো সদস্যের সামনে কুরআনের এক-সপ্তমাংশ পাঠ করতেন এবং দিনের বেলা যা পাঠ করতেন তা ঝালাই করে নিতেন, যেন রাতের বেলা তা তাঁর জন্য সহজ হয়... এটি ছিল মূলত এই অপছন্দ থেকে যে, তিনি নবী (সা.)-এর থেকে যে অবস্থায় বিদায় নিয়েছেন, তার কোনো অংশ যেন বর্জন না হয় (২)।
আর যুন-নুরাইন উসমান ইবনে আফফান (রা.), যিনি নবী (সা.)-এর জামাতা এবং কুরআন সংকলনকারী, তাঁর স্ত্রী নায়িলা বিনতে ফারাফিসা আল-কালবিয়্যাহ উল্লেখ করেন যে, "তিনি এক রাকাআতে সারা রাত দাঁড়িয়ে পূর্ণ কুরআন খতম করতেন" (৩)।
আর উবাই ইবনে কাবের ব্যাপারে আবুল মুহাল্লাব বর্ণনা করেন যে, তিনি আট রাতে কুরআন খতম করতেন, পক্ষান্তরে
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তানযীহুল কুরআনিল কারীম আন দাআওয়িল মুবতিলীন
(পৃষ্ঠা: ২৬)
كان تميم الداري يختمه في كل سبع (1)، وأحياناً كل ليلة (2).
ويحدثنا النبي صلى الله عليه وسلم عن ظاهرة عرفها تاريخ الإسلام منذ عهد الصحابة الكرام، وهي قيام الليل بآيات وسور القرآن الكريم، فيقول: «إني لأعرف أصوات رفقةَ الأشعريين بالقرآن حين يدخلون بالليل، وأعرف منازلهم من أصواتهم بالقرآن بالليل، وإن كنتُ لم أرَ منازلهم حين نزلوا بالنهار» (3).
وحتى يثبت القرآن في صدور الصحابة نهج النبي صلى الله عليه وسلم نهجاً قويماً رسَّخ حفظهم وجوّد تعلمهم للقرآن، يقول التابعي أبو عبد الرحمن السلمي: (حدثني الذين كانوا يقرئوننا: عثمان بن عفان، وعبد الله بن مسعود، وأبي بن كعب رضي الله عنهم أن رسول الله كان يقرئهم عشر آيات، فلا يجاوزونها إلى عشر أخرى حتى يتعلموا ما فيها من العمل، قالوا: فتعلمنا القرآن والعمل معاً) (4).
وتعاهد النبي صلى الله عليه وسلم أصحابه، فكان يقرئهم، ويسمَعهم، فهذا أُبى بن كعب يأتيه رسول الله، ويقول له: «إني أمرتُ أن أقرأ عليك سورة كذا وكذا»، وفي لفظ: «إني أقرئك القرآن، قال: الله سماني لك؟ قال: «نعم»، فبكى أُبي» (5).
وهذا أبو موسى الأشعري رضي الله عنه كان من نجباء الصحابة، وكان من أحسن الناس صوتاً، سمع النبي صلى الله عليه وسلم قراءته، فقال مشجعاً له: «لقد أوتاتَ مزماراً من مزامير آل داود» (6).
وأما عبد الله بن مسعود فجلس إلى النبي صلى الله عليه وسلم فقال له: «اِقرأ علي». فقال: يا
--------------------------------------------
তামীম আদ-দারি প্রতি সাত দিনে একবার কুরআন খতম করতেন (১), এবং কখনও কখনও প্রতি রাতে (২)।
নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের এমন এক প্রপঞ্চ সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন যা ইসলামের ইতিহাসে সম্মানিত সাহাবি (صحابة) দের যুগ থেকেই সুপরিচিত ছিল, আর তা হলো কুরআনে কারিমের আয়াত ও সুরা পাঠের মাধ্যমে কিয়ামুল লাইল করা। তিনি বলেন: «নিশ্চয়ই আমি আশআরি কাফেলার লোকেদের কুরআনের আওয়াজ শুনে তাদের চিনতে পারি যখন তারা রাতে প্রবেশ করে এবং তাদের কুরআনের আওয়াজের মাধ্যমেই আমি তাদের আবাসনস্থল চিনে ফেলি, যদিও দিনের বেলা তারা যখন অবতরণ করেছিল তখন আমি তাদের আবাসনস্থল দেখিনি» (৩)।
সাহাবি (صحابة) দের অন্তরে কুরআন সুদৃঢ় করার জন্য নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি সুশৃঙ্খল পদ্ধতি অনুসরণ করেছিলেন যা তাদের মুখস্থকরণকে মজবুত করেছিল এবং কুরআন শিক্ষাকে উন্নত করেছিল। তাবেয়ি (تابعي) আবু আব্দুর রহমান আস-সুলামি বলেন: (যারা আমাদের কুরআন পাঠ করাতেন—উসমান বিন আফফান, আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ এবং উবাই বিন কাব রাদিয়াল্লাহু আনহুম—তারা আমার কাছে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন তাদের দশটি আয়াত পাঠ করাতেন, তখন তারা সেই দশ আয়াতের অন্তর্নিহিত আমল শিক্ষা না করা পর্যন্ত পরবর্তী দশ আয়াতে যেতেন না। তাঁরা বলেন: আমরা কুরআন এবং আমল উভয়ই একত্রে শিখেছি) (৪)।
নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবি (صحابة) দের তত্ত্বাবধান করতেন; তিনি তাদের কুরআন পাঠ করে শোনাতেন এবং তাদের থেকেও শুনতেন। যেমন উবাই বিন কাবের নিকট রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আসলেন এবং তাঁকে বললেন: «আমাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন আমি তোমার কাছে অমুক অমুক সুরা পাঠ করি», এবং একটি বর্ণনায় (لفظ): «আমি তোমাকে কুরআন পাঠ করে শোনাব। তিনি জিজ্ঞেস করলেন: আল্লাহ কি আমার নাম আপনার কাছে উল্লেখ করেছেন? তিনি বললেন: «হ্যাঁ», তখন উবাই কাঁদতে লাগলেন» (৫)।
আবু মুসা আল-আশআরি রাদিয়াল্লাহু আনহু ছিলেন সাহাবি (صحابة) দের মধ্যে অন্যতম প্রাজ্ঞ ব্যক্তি এবং মানুষের মধ্যে তাঁর কণ্ঠস্বর ছিল অত্যন্ত সুমধুর। নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর তিলাওয়াত শুনলেন এবং তাঁকে উৎসাহিত করে বললেন: «তোমাকে দাউদ পরিবারের বংশধরদের সুমধুর সুরের ন্যায় সুর প্রদান করা হয়েছে» (৬)।
আর আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, তিনি নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট বসলেন এবং নবিজি তাঁকে বললেন: «তুমি আমার কাছে পাঠ করে শোনাও»। তিনি বললেন: হে
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তানযীহুল কুরআনিল কারীম আন দাআওয়িল মুবতিলীন
(পৃষ্ঠা: ২৭)
رسول الله، أقرأُ عليك، وعليك أُنزل؟ قال: «نعم، أحب أن أسمعه من غيري».
يقول ابن مسعود: فقرأتُ سورة النساء حتى أتيتُ إلى هذه الآية: {فَكَيْفَ إِذَا جِئْنَا مِن كُلِّ أمَّةٍ بِشَهِيدٍ وَجِئْنَا بِكَ عَلَى هَؤُلاء شَهِيداً} (النساء:41)، فقال: «حسبك»، فإذا عيناه تذرفان (1).
وحين ولي أبو الدرداء رضي الله عنه قضاء دمشق، كان يجمع الناس على مائدة القرآن، يقول سويد بن عبد العزيز: (كان أبو الدرداء إذا صلى الغداة في جامع دمشق اجتمع الناس للقراءة عليه، فكان يجعلهم عشرة عشرة، وعلى كل عشرة عريفاً، ويقف هو في المحراب يرمقهم ببصره، فإذا غلط أحدهم يرجع إلى عريفه، وإذا غلط عريفهم يرجع إلى أبي الدرداء يسأله عن ذلك، وكان ابن عامر عريفاً على عشرةِ، فلما مات أبو الدرداء خلفه ابن عامر) (2).
وعن مسلم بن مشكم أن أبا الدرداء قال له: اعدد من يقرأ عندي القرآن؟ فعددتهم ألفاً وست مائة ونيفاً، وكان لكل عشرة منهم مقراء، وكان أبو الدرداء يكون عليهم قائماً، وإذا أحكم الرجل منهم تحول إلى أبي الدرداء رضي الله عنه (3).
إن هذا الاهتمام من أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم أثر أكيد لما رأوا من حث النبي صلى الله عليه وسلم لهم على تعلم القرآن، فقد استحث هممهم بقوله: «خيركم من تعلم القرآن وعلمه» (4)، وأخبرهم أنه «يقال لصاحب القرآن إذا دخل الجنة: اقرأ واصعد، فيقرأ، ويصعد بكل آية درجة، حتى يقرأ آخر شيء معه» (5)، فقراءة القرآن من
--------------------------------------------
হে আল্লাহর রাসূল! আমি কি আপনার নিকট পাঠ করব, অথচ আপনার নিকটই তা অবতীর্ণ হয়েছে? তিনি বললেন: «হ্যাঁ, আমি অন্যের নিকট থেকে তা শুনতে পছন্দ করি»।
ইবনে মাসউদ বলেন: অতঃপর আমি সূরা আন-নিসা পাঠ করলাম, যতক্ষণ না আমি এই আয়াতে পৌঁছলাম: {অতঃপর তখন কী অবস্থা হবে যখন আমরা প্রত্যেক উম্মত থেকে একজন সাক্ষী উপস্থিত করব এবং আপনাকে তাদের সকলের ওপর সাক্ষী হিসেবে উপস্থিত করব} (আন-নিসা: ৪১)। তখন তিনি বললেন: «তোমার জন্য এটাই যথেষ্ট», অমনি তাঁর দুই চোখ থেকে অশ্রু ঝরতে লাগল (১)।
আর যখন আবু দারদা (রা.) দামেস্কের বিচারকের দায়িত্ব গ্রহণ করলেন, তখন তিনি মানুষকে কুরআনের দস্তরখানে সমবেত করতেন। সুওয়াইদ ইবনে আবদুল আজিজ বলেন: (আবু দারদা যখন দামেস্কের জামে মসজিদে ফজরের সালাত আদায় করতেন, তখন লোকেরা তাঁর নিকট পাঠ করার জন্য সমবেত হতো। তিনি তাদের দশ জন দশ জন করে ভাগ করে দিতেন এবং প্রতি দশ জনের ওপর একজন করে তত্ত্বাবধায়ক নিযুক্ত করতেন। তিনি নিজে মেহরাবে দাঁড়িয়ে তাদের তদারকি করতেন। যখন তাদের কেউ ভুল করত, তখন সে তার তত্ত্বাবধায়কের নিকট ফিরে যেত। আর যদি তাদের তত্ত্বাবধায়ক ভুল করত, তবে সে আবু দারদার নিকট ফিরে এসে সে বিষয়ে জিজ্ঞাসা করত। ইবনে আমির দশ জনের ওপর একজন তত্ত্বাবধায়ক ছিলেন। অতঃপর যখন আবু দারদা ইন্তেকাল করলেন, তখন ইবনে আমির তাঁর স্থলাভিষিক্ত হলেন) (২)।
মুসলিম ইবনে মিশকাম থেকে বর্ণিত যে, আবু দারদা তাঁকে বললেন: আমার নিকট যারা কুরআন পাঠ করে তাদের সংখ্যা গণনা করো তো? আমি তাদের এক হাজার ছয়শ’ জনের কিছু বেশি পেলাম। তাদের প্রতি দশ জনের জন্য একজন করে শিক্ষক ছিল। আবু দারদা তাদের ওপর তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে দাঁড়িয়ে থাকতেন। যখন তাদের মধ্যে কেউ কোনো বিষয়ে দক্ষ (أحكم) হতো, তখন সে আবু দারদা (রা.)-এর নিকট চলে আসত (৩)।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীদের এই গভীর গুরুত্ব প্রদান ছিল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক তাঁদের কুরআন শিখতে উৎসাহিত করার এক সুনিশ্চিত প্রভাব। তিনি এই বলে তাঁদের হিম্মত বৃদ্ধি করতেন: «তোমাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ সেই ব্যক্তি, যে কুরআন শেখে এবং তা শিক্ষা দেয়» (৪)। তিনি তাঁদের সংবাদ দিয়েছেন যে, «কুরআনের অধিকারীকে যখন জান্নাতে প্রবেশ করবে তখন বলা হবে: পাঠ করো এবং আরোহণ করো। অতঃপর সে পাঠ করতে থাকবে এবং প্রতিটি আয়াতের সাথে একটি করে স্তর আরোহণ করতে থাকবে, যতক্ষণ না তার সাথে থাকা শেষ অংশটি সে পাঠ করে শেষ করে» (৫)। সুতরাং কুরআন পাঠ...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তানযীহুল কুরআনিল কারীম আন দাআওয়িল মুবতিলীন
(পৃষ্ঠা: ২৮)
أفضل العبادات، و «الماهر بالقرآن مع السفرة الكرام البررة، والذي يقرأ القرآن ويتتعتع فيه وهو عليه شاق؛ له أجران» (1).
وقد سارع الصحابة إلى حفظ سور القرآن ومدارستها، فكان منهم المئات من القراء، وقد أتم بعضهم حفظ كامل القرآن في عهد النبي صلى الله عليه وسلم، فقد سأل قتادة خادمَ النبي صلى الله عليه وسلم أنس بن مالك: من جمع القرآن على عهد النبي صلى الله عليه وسلم؟ فقال أنس: (أربعة، كلهم من الأنصار: أُبي بن كعب، ومعاذ بن جبل، وزيد بن ثابت، وأبو زيد) (2).
ولم يقتصر حفظه على الرجال، بل حفظته المؤمنات في خدورهن، وممن حفظه أم ورقة بنت عبد الله بن الحارث الأنصاري، فأمرها النبي صلى الله عليه وسلم أن تؤم أهل دارها، وكان لها مؤذن، فكانت تؤم أهل دارها (3).
وحتى نقف على كثرة هؤلاء القراء في أول عصور الإسلام وقبل انتشاره في الدنيا؛ يكفينا أن نذكر بأنه قد قتل منهم في يوم بئر معونة سبعون.
وبعد وفاة النبي صلى الله عليه وسلم قتل في وقعة اليمامة الكثير من القراء أيضاً مما استدعى الجمع الكتابي، فقد قال عمر بن الخطاب لخليفة المسلمين أبي بكر: (إن القتل قد استحر يوم اليمامة بقراء القرآن، وإني أخشى أن يستحر القتل بالقراء بالمواطن) (4)، فكان هذا سبباً في مبادرة الصحابة إلى جمع القرآن في مصحف واحد مكتوب في عهد الصديق.
إن الاهتمام البالغ في حفظ القرآن وتعلمه ليس خاصاً بالصحابة رضوان الله عليهم، بل هو دأب توارثته الأمة جيلاً بعد جيل، ويكفي في هذا الصدد أن ننقل بعضاً من أخبار التابعين.
--------------------------------------------
শ্রেষ্ঠ ইবাদত এবং "কুরআনে পারদর্শী ব্যক্তি সম্মানিত ও পুণ্যবান ফেরেশতাদের সঙ্গী হবে। আর যে ব্যক্তি কুরআন পাঠ করে এবং তাতে সে তোতলায় অথচ তা তার জন্য কষ্টসাধ্য, তার জন্য রয়েছে দ্বিগুণ সওয়াব।" (১)
সাহাবীগণ কুরআনের সূরাসমূহ হিফজ করতে এবং তা চর্চায় দ্রুত ধাবিত হয়েছিলেন, ফলে তাঁদের মধ্যে শত শত কারি ছিলেন। তাঁদের কেউ কেউ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগেই পূর্ণ কুরআন হিফজ সম্পন্ন করেছিলেন। কাতাদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খাদেম আনাস বিন মালিককে জিজ্ঞাসা করেছিলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে কারা কুরআন সংগ্রহ (পূর্ণ হিফজ) করেছিলেন? আনাস বললেন: "চারজন, তাঁরা সবাই আনসারী: উবাই বিন কাব, মুয়াজ বিন جবল, যায়েদ বিন সাবিত এবং আবু যায়েদ।" (২)
কুরআন হিফজ করা কেবল পুরুষদের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং মুমিন নারীরাও তাঁদের অন্দরমহলে তা হিফজ করেছিলেন। তাঁদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন উম্মু ওয়ারাকাহ বিনতে আবদুল্লাহ বিন হারিস আল-আনসারী। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে তাঁর নিজ গৃহবাসীদের ইমামতি করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। তাঁর একজন মুয়াজ্জিন ছিল এবং তিনি তাঁর গৃহবাসীদের ইমামতি করতেন। (৩)
ইসলামের প্রাথমিক যুগে এবং পৃথিবীতে এর বিস্তৃতির পূর্বে এই কারিদের আধিক্য সম্পর্কে জানতে এটাই যথেষ্ট যে, বীর মাউনার দিনে তাঁদের মধ্য থেকে সত্তরজন শহীদ হয়েছিলেন।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ইন্তেকালের পর ইয়ামামার যুদ্ধেও অনেক কারি শহীদ হন, যা লিখিত সংকলনের প্রয়োজনীয়তা তৈরি করে। উমর ইবনুল খাত্তাব মুসলিমদের খলিফা আবু বকরকে বলেছিলেন: "নিশ্চয়ই ইয়ামামার যুদ্ধে কুরআন পাঠকারীদের (কারি) শাহাদাত বরণ তীব্র রূপ নিয়েছে এবং আমি আশঙ্কা করছি যে, বিভিন্ন রণক্ষেত্রে কারিদের শাহাদাত বরণ এভাবেই তীব্র হতে পারে।" (৪) এটিই ছিল সিদ্দিকের আমলে সাহাবীগণের একটি লিখিত মুসহাফে (مصحف) কুরআন সংকলন করার উদ্যোগ গ্রহণের কারণ।
কুরআন হিফজ ও তা শিক্ষার প্রতি এই গভীর গুরুত্বারোপ কেবল সাহাবী (রাযিয়াল্লাহু আনহুম)-দের জন্যই নির্দিষ্ট ছিল না, বরং এটি এই উম্মাহর একটি উত্তরাধিকার যা প্রজন্মের পর প্রজন্ম চলে আসছে। এই প্রসঙ্গে তাবিঈদের (التابعين) কিছু সংবাদ উদ্ধৃত করাই যথেষ্ট।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তানযীহুল কুরআনিল কারীম আন দাআওয়িল মুবতিলীন
(পৃষ্ঠা: ২৯)
ونبدأ بخبر التابعي أبي عبد الرحمن السلمي، فقد تعلم القرآن من عثمان وعلي رضي الله عنهما، ثم كان يُقراء الناس في المسجد أربعين سنة، وكان يعلمهم القرآن خمس آيات خمس آيات.
وأما مجاهد المكي فيقول: "ختمت القرآن على ابن عباس تسعاً وعشرين مرة".
ولما حضرت الوفاة أبا بكر بن عياش بكتْ أخته، فقال لها: "ما يبكيك، انظري إلى تلك الزاوية، قد ختمت فيها ثماني عشرة ألف ختمة" (1).
ولقد ورد عن عدد من التابعين أنهم كانوا يختمون القرآن خلال أيام معدودات لا تكاد تتجاوز أصابع اليد الواحدة، أي كان القرآن نهمتهم في النهار وأنيسهم في الليل، ومنهم سعيد بن المسيب وعلقمة والأسود النخعيين، فقد روى البيهقي عن إبراهيم النخعي أنه قال: "كان الأسود يقرأ القرآن كل ست ليال، وكان علقمة يقرؤه في كل خمس ليال" (2).
وقال المروذي: "كان سعيد بن المسيب يختم القرآن في ليلتين، وكان ثابت البناني يقرأ القرآن في يوم وليلة .. وكان أبو حرة يختم القرآن كل يوم وليلة، وكان عطاء بن السائب يختم القرآن في كل ليلتين .. " (3).
وقد نقل القرآن الكريم إلينا بحفظ الجموع عن الجموع في كل عصر، ويحفظه اليوم الملايين من المسلمين في أصقاع الأرض، ليحقق القرآن وصف الله له بقوله في الحديث القدسي: «ومنزل عليك كتاباً لا يغسله الماء؛ تقرؤه نائماً ويقظان» (4).
--------------------------------------------
আমরা তাবিঈ (التابعي) আবু আবদুর রহমান আস-সুলামীর সংবাদ (خبر) দিয়ে শুরু করছি। তিনি উসমান ও আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে কুরআন শিখেছিলেন। অতঃপর তিনি মসজিদে দীর্ঘ চল্লিশ বছর মানুষকে কুরআন তিলাওয়াত করাতেন এবং তিনি তাদেরকে পাঁচ আয়াত পাঁচ আয়াত করে কুরআন শিক্ষা দিতেন।
আর মুজাহিদ আল-মাক্কী বলেন: "আমি ইবনে আব্বাসের নিকট ঊনত্রিশ বার কুরআন খতম করেছি।"
যখন আবু বকর ইবনে আইয়াশের মৃত্যুর সময় ঘনিয়ে এল, তখন তাঁর বোন কাঁদতে লাগলেন। তিনি তাঁকে বললেন: "কেন কাঁদছো? ঐ কোণটির দিকে তাকাও, আমি সেখানে আঠারো হাজার বার কুরআন খতম করেছি" (১)।
তাবিঈনগণের (التابعين) একদলের পক্ষ থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তাঁরা অল্প কয়েক দিনের মধ্যেই কুরআন খতম করতেন, যা এক হাতের আঙ্গুলের সংখ্যাকেও অতিক্রম করত না। অর্থাৎ দিনে কুরআন ছিল তাঁদের একমাত্র আগ্রহের বিষয় এবং রাতে ছিল তাঁদের একান্ত সঙ্গী। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব, আলক্বামাহ এবং আসওয়াদ আন-নাখায়ী। ইমাম বায়হাকী ইবরাহীম আন-নাখায়ী থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেন: "আসওয়াদ প্রতি ছয় রাতে কুরআন খতম করতেন এবং আলক্বামাহ প্রতি পাঁচ রাতে তা তিলাওয়াত করতেন" (২)।
মারওয়াযী বলেন: "সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব দুই রাতে কুরআন খতম করতেন, সাবিত আল-বুনানী এক দিনে ও এক রাতে কুরআন তিলাওয়াত করতেন... আবু হুররাহ প্রতি দিন ও রাতে একবার কুরআন খতম করতেন এবং আতা বিন সাইব প্রতি দুই রাতে একবার কুরআন খতম করতেন..." (৩)।
কুরআন মাজিদ আমাদের নিকট প্রতিটি যুগে এক বিশাল জনগোষ্ঠীর নিকট থেকে অপর এক বিশাল জনগোষ্ঠীর সংরক্ষণের মাধ্যমে পৌঁছেছে। বর্তমানে পৃথিবীর প্রান্তরে প্রান্তরে লক্ষ লক্ষ মুসলিম এটি মুখস্থ রাখছেন, যাতে কুরআনের ব্যাপারে আল্লাহর সেই বর্ণনাটি সার্থকতা পায় যা তিনি হাদিসে কুদসিতে (الحديث القدسي) বলেছেন: «আমি আপনার প্রতি এমন এক কিতাব অবতীর্ণ করব যাকে পানি ধুয়ে মুছে ফেলতে পারবে না; আপনি তা ঘুমন্ত ও জাগ্রত উভয় অবস্থায় পাঠ করবেন» (৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তানযীহুল কুরআনিল কারীম আন দাআওয়িল মুবতিলীন
(পৃষ্ঠা: ৩০)
يقول ابن الجزري: "الاعتماد في نقل القرآن على حفظ القلوب والصدور، لا على حفظ المصاحف والكتب، وهذه أشرف خصيصة من الله تعالى لهذه الأمة .. فأخبر تعالى أن القرآن لا يحتاج في حفظه إلى صحيفة تغسل بالماء، بل يقرؤه في كل حال، كما جاء في صفة أمته: «أناجيلهم في صدورهم» " (1).
وهكذا كان الإقبال على القرآن دأب الأمة المسلمة منذ الرعيل الأول وإلى يومنا هذا؛ حيث نشهد ملايين الحفاظ في أقطار الدنيا، يقرؤونه غضاً كما أنزل على محمد صلى الله عليه وسلم؛ على اختلاف ألوانهم ولغاتهم وأجناسهم؛ ليحققوا موعود الله عز وجل بحفظ كتابه {إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لَحَافِظُونَ} (الحجر: 9).
لقد حفظ القرآن كما نزل بلسان العرب، ولم يكن ذلك الحفظ مخصوصاً بالعرب دون غيرهم من المسلمين، فمئات الألوف ممن يحفظونه اليوم ليسوا من أهل العربية، بل لربما حفظه من لا يكاد يعرف شيئاً عن لغة العرب ومعاني ألفاظها، فيقرؤه بلسان عربي مبين، كما يقرؤه العربي سواء بسواء.
إن هذه الأعجوبة القرآنية لا مثيل لها عند أمة من الأمم، ومن أراد أن يقف على عظمتها فليجرب حفظ قصيدة كتبت بلغة يجهلها، ولسوف يشهد معنا أن حفظ الجموع الكاثرة من الأعاجم للقرآن برهان ساطع على أنه من عند الله، فقد يسر الله تلاوة كتابه على الناس، بحيث يقرؤه الصغير والكبير، والعالم والجاهل {وَلَقَدْ يَسَّرْنَا الْقُرْآنَ لِلذِّكْرِ فَهَلْ مِن مُّدَّكِرٍ} (القمر: 17)، فهذا التيسير لا يكون إلا لعظمة تعجز عن بلوغها قوى البشر، وتكل دونها قدراتهم.
--------------------------------------------
ইবনুল জাজারি বলেন: "কুরআন স্থানান্তরের ক্ষেত্রে নির্ভরতা হলো অন্তর ও বক্ষস্থ মুখস্থবিদ্যার ওপর, পাণ্ডুলিপি ও কিতাব সংরক্ষণের ওপর নয়। আর এটি মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে এই উম্মতের জন্য এক সুমহান বৈশিষ্ট্য... সুতরাং আল্লাহ তাআলা সংবাদ দিয়েছেন যে, কুরআন সংরক্ষণের জন্য এমন কোনো সহীফার প্রয়োজন নেই যা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলা যায়, বরং মুমিনরা এটি সর্বাবস্থায় পাঠ করে। যেমনটি তাঁর উম্মতের বৈশিষ্ট্যে বর্ণিত হয়েছে: «তাদের আসমানি কিতাবসমূহ তাদের বক্ষসমূহে»" (১)।
আর এভাবেই প্রথম প্রজন্ম থেকে আজ অবধি কুরআনের প্রতি এই একাগ্রতা মুসলিম উম্মাহর অভ্যাসে পরিণত হয়েছে; যার ফলে আমরা পৃথিবীর দিগন্তজুড়ে লক্ষ লক্ষ হাফেজ দেখতে পাই, যারা গায়ের রঙ, ভাষা এবং বংশের ভিন্নতা থাকা সত্ত্বেও কুরআনকে অবিকল ও সতেজভাবে সেভাবেই পাঠ করেন যেমনটি মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওপর অবতীর্ণ হয়েছিল; যাতে তাঁরা মহান আল্লাহর কিতাব সংরক্ষণের সেই প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করতে পারেন: {নিশ্চয়ই আমিই এই উপদেশ অবতীর্ণ করেছি এবং আমিই এর সংরক্ষণকারী} (হিজর: ৯)।
কুরআন সেভাবেই সংরক্ষিত হয়েছে যেভাবে তা আরবি ভাষায় অবতীর্ণ হয়েছিল, আর এই সংরক্ষণ কেবল আরবদের জন্য সুনির্দিষ্ট ছিল না বরং সকল মুসলিমদের জন্য। বর্তমানে যারা এটি মুখস্থ করেন, তাদের মধ্যে লক্ষ লক্ষ মানুষ এমন আছেন যারা আরবি ভাষাভাষী নন, এমনকি সম্ভবত এমন ব্যক্তিও এটি মুখস্থ করেছেন যিনি আরবি ভাষা এবং এর শব্দের অর্থ সম্পর্কে প্রায় কিছুই জানেন না, তবুও তিনি এটি সুস্পষ্ট আরবি ভাষায় পাঠ করেন, ঠিক যেমন একজন আরব এটি পাঠ করেন।
কুরআনের এই অলৌকিকত্বের কোনো নজির অন্য কোনো জাতির মধ্যে নেই। আর যে ব্যক্তি এর মাহাত্ম্য প্রত্যক্ষ করতে চায়, সে যেন তার অজানা কোনো ভাষায় রচিত একটি কবিতা মুখস্থ করার চেষ্টা করে; তবেই সে আমাদের সাথে সাক্ষ্য দেবে যে, অনারবদের বিশাল জনগোষ্ঠীর কুরআন মুখস্থ করা একটি উজ্জ্বল প্রমাণ যে এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ। কেননা আল্লাহ মানুষের জন্য তাঁর কিতাব তিলাওয়াত করা সহজ করে দিয়েছেন, ফলে ছোট-বড় এবং আলেম-অজ্ঞ নির্বিশেষে সবাই তা পাঠ করতে পারে: {আর আমি তো কুরআনকে উপদেশের জন্য সহজ করে দিয়েছি, অতএব কোনো উপদেশ গ্রহণকারী আছে কি?} (কামার: ১৭)। এই সহজীকরণ কেবল সেই মাহাত্ম্যের কারণেই সম্ভব যা অর্জনে মানুষের শক্তি অক্ষম এবং যার সামনে তাদের সামর্থ্য হার মানে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তানযীহুল কুরআনিল কারীম আন দাআওয়িল মুবতিলীন
(পৃষ্ঠা: ৩১)
الجمع الكتابي للقرآن الكريمإن تعاهد النبي صلى الله عليه وسلم أصحابه في حفظ القرآن لا يوازيه شيء إلا عنايته بالتوثيق الكتابي للنص القرآني، فقد كان النبي صلى الله عليه وسلم يتعاهد ذلك بنفسه، والصحابة يكتبون بين يديه ما ينزل من الوحي، يقول عثمان رضي الله عنه: كان صلى الله عليه وسلم إذا نزلت عليه الآيات يدعو بعض من كان يكتب له، ويقول له: «ضع هذه الآية في السورة التي يذكر فيها كذا وكذا» (1).
ولا يبطئهم عن ذلك ولا يثقلهم كثرة آيات المقدار المنزل، فقد سارعوا إلى كتابة سورة الأنعام حين نزولها، مع أنها من أطول سور القرآن، وأنها مكية نزلت زمن الاضطهاد، يقول ابن عباس: (نزلت جملة واحدة، نزلت ليلاً، وكتبوها من ليلتهم) (2).
وفي قصة إسلام عمر بن الخطاب رضي الله عنه وهو من السابقين إلى الإسلام ما يشير إلى وجود كتابة للمصحف بين يدي الصحابة الذين كانوا يقرؤون في بيت فاطمة بنت الخطاب، وكان خباب بن الأرت يقرئهم القرآن في صحيفة (3).
وقد أولى النبي صلى الله عليه وسلم المكتوب بين يديه اهتماماً بالغاً، إذ كان يستوثق من دقة المكتوب بين يديه، يقول زيد بن ثابت: كنتُ أكتب الوحي عند رسول الله صلى الله عليه وسلم وهو يملي عليَّ، فإذا فرغت، قال: «اقرأه»، فأقرأُه، فإن كان فيه سقط أقامه (4).
وخوفاً من تداخل المكتوب من القرآن مع غيره من كلام النبي صلى الله عليه وسلم أمر صلى الله عليه وسلم أن: «لا تكتبوا عني، ومن كتب عني غير القرآن فليمحه» (5).
--------------------------------------------
পবিত্র কুরআনের লিখিত সংকলনকুরআন মুখস্থ করার ব্যাপারে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাহাবীদের প্রতি যে তদারকি ছিল, কুরআনের পাঠের লিখিত প্রামাণ্যিকরণের প্রতি তাঁর গভীর মনোযোগ ব্যতিত অন্য কিছুর সাথে তার তুলনা হয় না। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নিজেই বিষয়টি তত্ত্বাবধান করতেন এবং সাহাবীগণ তাঁর সম্মুখে নাযিলকৃত ওহি লিখে রাখতেন। উসমান (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন: যখন তাঁর ওপর আয়াত নাযিল হতো, তখন তিনি তাঁর লেখকদের মধ্যে কাউকে ডাকতেন এবং বলতেন: «এই আয়াতটি সেই সূরায় রাখো যাতে অমুক অমুক বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে» (১)।
নাযিলকৃত আয়াতের আধিক্য তাঁদেরকে এ কাজ থেকে বিরত রাখত না বা তাঁদের ওপর বোঝা হয়ে দাঁড়াত না। তাঁরা সূরা আল-আনআম নাযিলের সাথে সাথেই তা লিখতে দ্রুত পদক্ষেপ নেন, যদিও এটি কুরআনের দীর্ঘ সূরাগুলোর অন্যতম এবং এটি একটি মক্কী সূরা যা নির্যাতনের যুগে নাযিল হয়েছিল। ইবনে আব্বাস বলেন: (এটি একবারে নাযিল হয়েছিল, রাতে নাযিল হয়েছিল এবং তাঁরা সেই রাতেই তা লিখে ফেলেছিলেন) (২)।
ওমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু), যিনি ইসলামের প্রথম সারির অগ্রগামীদের একজন, তাঁর ইসলাম গ্রহণের ঘটনায় সাহাবীদের কাছে কুরআনের লিখিত পান্ডুলিপি থাকার ইঙ্গিত পাওয়া যায়, যা তাঁরা ফাতেমা বিনতে খাত্তাবের বাড়িতে বসে পাঠ করতেন। এবং খাব্বাব ইবনুল আরাত একটি সহীফা (صحيفة) দেখে তাঁদেরকে কুরআন পাঠ করাতেন (৩)।
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর সামনে লিখিত পাঠের প্রতি অত্যন্ত গুরুত্বারোপ করতেন, কারণ তিনি তাঁর সামনে যা লেখা হতো তার নির্ভুলতা নিশ্চিত করতেন। জায়েদ বিন সাবিত বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট ওহি লিখতাম এবং তিনি আমাকে দিয়ে লিখাতেন। আমি শেষ করলে তিনি বলতেন: «এটি পাঠ করো», তখন আমি তা পাঠ করতাম; যদি তাতে কোনো বিচ্যুতি থাকত, তবে তিনি তা সংশোধন করে দিতেন (৪)।
কুরআনের লিখিত অংশের সাথে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর অন্য কোনো বাণীর মিশ্রণ ঘটার আশঙ্কায় তিনি নির্দেশ দিয়েছিলেন যে: «তোমরা আমার পক্ষ থেকে (কুরআন ছাড়া) কিছু লিখো না; আর কেউ যদি কুরআন ছাড়া আমার থেকে অন্য কিছু লিখে থাকো, তবে সে যেন তা মুছে ফেলে» (৫)।
--------------------------------------------