(খণ্ড: ১)
আল-মাজীদ ফী ইরাবিল কুরআনিল মাজীদ
(পৃষ্ঠা: -)
المجيد في إعراب القرآن المجيد القسم: علوم القرآن وأصول التفسير
الكتاب: المجيد في إعراب القرآن المجيد
المؤلف: إبراهيم بن محمد بن إبراهيم القيسي السَّفَاقُسِي، أبو إسحاق: برهان الدين (ت 742 هـ)
المحقق: حاتم صالح الضامن [ت 1434 هـ]
الناشر: دار ابن الجوزي للنشر والتوزيع
الطبعة: الأولى، 1430 هـ
عدد الصفحات: 72
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 7 ربيع الآخر 1433
আল-মাজীদ ফী ই'রাবিল কুরআনিল মাজীদ বিভাগ: কুরআনের জ্ঞানসমূহ এবং তাফসীরের মূলনীতি
গ্রন্থ: আল-মাজীদ ফী ই'রাবিল কুরআনিল মাজীদ
লেখক: ইবরাহীম বিন মুহাম্মদ বিন ইবরাহীম আল-কায়সী আস-সাফাকুসী، আবু ইসহাক: বুরহানুদ্দীন (মৃত্যু ৭৪২ হিজরী)
সম্পাদক: হাতেম সালেহ আদ-দামেন [মৃত্যু ১৪৩৪ হিজরী]
প্রকাশক: দার ইবনুল জাওজী প্রকাশনী ও পরিবেশনী
সংস্করণ: প্রথম، ১৪৩০ হিজরী
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৭২
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ৭ রবিউস সানি ১৪৩৩
(খণ্ড: ১)
আল-মাজীদ ফী ইরাবিল কুরআনিল মাজীদ
(পৃষ্ঠা: ১)
المجيد في إعراب القرآن المجيد
للسّفاقسيّ المتوفّى سنة 742 هـ تحقيق الدكتور حاتم صالح الضامن
আল-মাজিদ ফি ই'রাবিল কুরআনিল মাজিদ
আস-সাফাকুসি (মৃত্যু ৭৪২ হিজরি); ড. হাতেম সালেহ আদ-দামেন-এর তাহকিক
(খণ্ড: ১)
আল-মাজীদ ফী ইরাবিল কুরআনিল মাজীদ
(পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم
المقدمةالحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على شرف خلقه النبي العربي الأمين.
وبعد؛ فإنّ صلتي بكتاب (المجيد في إعراب القرآن المجيد) للسفاقُسي تعود إلى أيام دراستي في كلية الآداب بجامعة القاهرة إذ سجلت تحقيق هذا الكتاب ودراسته موضوعا لرسالة الدكتوراة بإشراف الأستاذ الدكتور حسين نصار وقطعت شوطا في تحقيقه بعد أن تهيّب كثيرون من غمار الخوض فيه لطوله وكثرة شواهده وتفرّق نسخه المخطوطة.
ثمّ شاءت الصدف أن أترك جامعة القاهرة، وأنتقل إلى جامعة بغداد، فتمّ تسجيل موضوع آخر.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
ভূমিকাসকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ সত্তা আরবীয় আমানতদার নবীর ওপর।
অতঃপর; আস-সাফাকুসি রচিত 'আল-মাজিদ ফি ইরাবিল কুরআনিল মাজিদ' গ্রন্থের সাথে আমার সম্পর্ক কায়রো বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদে আমার অধ্যয়নকালীন সময়ের, যখন আমি প্রফেসর ড. হোসেন নাসারের তত্ত্বাবধানে এই গ্রন্থের সম্পাদনা ও গবেষণাকে পিএইচডি থিসিসের বিষয় হিসেবে নিবন্ধিত করেছিলাম। গ্রন্থটির দীর্ঘতা, উদ্ধৃতিসমূহের প্রাচুর্য এবং পাণ্ডুলিপিগুলো ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকার কারণে অনেকেই এর গভীর সমুদ্রে অবগাহন করতে দ্বিধাবোধ করলেও আমি এর সম্পাদনায় বেশ খানিকটা পথ অগ্রসর হয়েছিলাম।
এরপর ঘটনাচক্রে আমাকে কায়রো বিশ্ববিদ্যালয় ত্যাগ করে বাগদাদ বিশ্ববিদ্যালয়ে চলে যেতে হয়, ফলে সেখানে অন্য একটি বিষয় নিবন্ধিত হয়।
(খণ্ড: ১)
আল-মাজীদ ফী ইরাবিল কুরআনিল মাজীদ
(পৃষ্ঠা: ৬)
وقد ارتأيت، لأهمية هذا الكتاب النفيس الذي ما زلت أعكف على تحقيقه منذ أكثر من عشر سنوات، أن ألقي الضوء عليه معرّفا به ومحقّقا لإعراب البسملة والفاتحة منه، وسيرى القارئ مدى اهتمام علمائنا، رحمهم الله، بوجوه إعراب القرآن الكريم، إذ لولا القرآن لما كانت عربية، وستبقى اللغة العربية خالدة ما دام هناك قرآن يتلى.
والله أسأل أن يرزقني الإخلاص في القول والعمل، ويجنّبني الزيغ والزلل، فهو الهادي إلى سواء السبيل.
এই মহামূল্যবান গ্রন্থটির গুরুত্বের কারণে—যার পাণ্ডুলিপি সম্পাদনার (تحقيق) কাজে আমি দশ বছরেরও বেশি সময় ধরে ব্যাপৃত রয়েছি—আমি এর ওপর আলোকপাত করার, এর পরিচিতি উপস্থাপন করার এবং এতে বিদ্যমান ‘বিসমিল্লাহ’ ও ‘সুরা আল-ফাতিহা’-এর ব্যাকরণিক বিশ্লেষণের (إعراب) বিশুদ্ধতা যাচাই করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। পাঠক দেখতে পাবেন যে, আমাদের ওলামায়ে কেরাম (রহিমাহুমুল্লাহ) পবিত্র কুরআনের ব্যাকরণিক বিশ্লেষণের (إعراب) বিভিন্ন দিকের প্রতি কতটা যত্নবান ছিলেন। কেননা, কুরআন না থাকলে আরবি ভাষার অস্তিত্ব থাকত না; আর যতদিন কুরআন তিলাওয়াত করা হবে, ততদিন আরবি ভাষাও শাশ্বত হয়ে থাকবে।
আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাকে কথায় ও কাজে একনিষ্ঠতা (إخلاص) দান করেন এবং আমাকে সত্যচ্যুতি ও পদস্খলন থেকে রক্ষা করেন। নিশ্চয়ই তিনি সঠিক পথের দিশারি।
(খণ্ড: ১)
আল-মাজীদ ফী ইরাবিল কুরআনিল মাজীদ
(পৃষ্ঠা: ৯)
المؤلفبرهان الدين أبو إسحاق إبراهيم بن محمد بن إبراهيم بن أبي القاسم القيسي السّفاقسي المالكي.
ولد سنة 697 وقيل: 698 هـ، وسمع ببجانة من شيخها ناصر الدين، ثمّ حجّ وأخذ عن أبي حيان النحوي بالقاهرة وعن غيره، ثم قدم هو وأخوه دمشق سنة 738 هـ فسمع بها كثيرا من زينب بنت الكمال وأبي بكر بن عنتر وأبي بكر بن الرضي والإمام المزّي.
ومهر السّفاقسي في الفضائل والعلوم، قال عنه الذهبي معاصره: له همة في الفضائل والعلوم.
وكان إماما فقيها أفتى ودرس سنين، وكان معدودا من علماء المالكية.
ولا بد من الإشارة إلى أنه حينما أخذ عن أبي حيان تقدّم في حياته حتى وقف منه موقف الندّ للند إذ خالفه في كثير مما ذهب إليه، ولهذا اغتاظ أبو حيان فكتب إجازة في ذمّ تلميذه السفاقسي لرده عليه في إعراب القرآن، وقد وصلت إلينا هذه الإجازة.
وللسفاقسي مؤلفات لم يصل إلينا منها غير كتاب المجيد الذي سيأتي الحديث عنه، وقد ذكر له أصحاب التراجم كتاب (شرح ابن الحاجب في الفقه).
লেখকবুরহানুদ্দীন আবু ইসহাক ইব্রাহিম ইবন মুহাম্মদ ইবন ইব্রাহিম ইবন আবিল কাসেম আল-কায়সি আস-সাফাকুসি আল-মালিকি।
তিনি ৬৯৭ হিজরি, মতান্তরে ৬৯৮ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি বাজ্জানা অঞ্চলে সেখানকার শায়খ নাসিরুদ্দীনের নিকট জ্ঞান অর্জন করেন। অতঃপর তিনি হজ সম্পাদন করেন এবং কায়রোতে আবু হাইয়ান আন-নাহবি ও অন্যদের নিকট থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে ৭৩৮ হিজরিতে তিনি ও তাঁর ভাই দামেস্কে আগমন করেন এবং সেখানে জয়নব বিনতে আল-কামাল, আবু বকর ইবন আনতার, আবু বকর ইবনুর রাজি এবং ইমাম মিজ্জির নিকট থেকে প্রভূত জ্ঞান অর্জন করেন।
আস-সাফাকুসি উচ্চতর গুণাবলি ও জ্ঞান-বিজ্ঞানে পারদর্শী ছিলেন। তাঁর সমসাময়িক ইমাম যাহাবি তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: "উচ্চতর গুণাবলি ও জ্ঞান অর্জনে তাঁর প্রখর সংকল্প ছিল।"
তিনি ছিলেন একাধারে ইমাম ও ইসলামি আইনজ্ঞ (فقيه); তিনি বহু বছর ফতোয়া প্রদান ও পাঠদান করেছেন। তাঁকে মালিকি মাজহাবের আলেমদের অন্তর্ভুক্ত গণ্য করা হতো।
এটি উল্লেখ করা আবশ্যক যে, যখন তিনি আবু হাইয়ানের নিকট শিক্ষা গ্রহণ করছিলেন, তখন তিনি জ্ঞানগতভাবে এতটাই অগ্রসর হন যে তাঁর সমকক্ষ পর্যায়ে পৌঁছে যান; এমনকি অনেক বিষয়ে তিনি তাঁর শিক্ষকের মতের বিরোধিতা করেন। এতে আবু হাইয়ান ক্ষুব্ধ হন এবং কুরআনের ব্যাকরণগত বিশ্লেষণ (ইরাব) সংক্রান্ত বিষয়ে তাঁর আপত্তির কারণে স্বীয় ছাত্র আস-সাফাকুসির নিন্দা জানিয়ে একটি অনুমতিপত্র (إجازة) লেখেন। এই অনুমতিপত্রটি (إجازة) আমাদের নিকট পৌঁছেছে।
আস-সাফাকুসির বেশ কিছু রচনা রয়েছে যার মধ্যে 'আল-মাজিদ' নামক গ্রন্থটি ব্যতীত অন্য কিছু আমাদের নিকট পৌঁছেনি, যে সম্পর্কে সামনে আলোচনা করা হবে। জীবনীকারগণ তাঁর 'শারহু ইবনিল হাজিব ফিল ফিকহ' নামক গ্রন্থের কথা উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-মাজীদ ফী ইরাবিল কুরআনিল মাজীদ
(পৃষ্ঠা: ১০)
وكانت وفاة السّفاقسيّ سنة 742 هـ في ثامن عشر من ذي القعدة. وانفرد ابن تغري بردي فجعل سنة وفاته 743 هـ (1).
--------------------------------------------
আস-সাফাকুসির মৃত্যু ৭৪২ হিজরি সনের ১৮ই জিলকদ তারিখে হয়েছিল। তবে ইবনে তাগরি বারদি এক্ষেত্রে একক মত পোষণ করেছেন এবং তাঁর মৃত্যুসন ৭৪৩ হিজরি উল্লেখ করেছেন (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাজীদ ফী ইরাবিল কুরআনিল মাজীদ
(পৃষ্ঠা: ১১)
كتاب المجيد في إعراب القرآن المجيد
مصادره:في الكتاب نقول كثيرة، وهي تؤلف المادة الأصلية للكتاب وأكثر هذه النقول أخذها من كتاب شيخه أبي حيان وهو البحر المحيط كما أشار إلى ذلك في مقدمته.
فمصادره الأصلية كانت تتمثل في الكتب الآتية:
- البحر المحيط: لأبي حيان.
- التبيان في إعراب القرآن: للعكبري.
- المحرر الوجيز: لابن عطية.
- الكشاف: للزمخشري.
وثمة نقول كثيرة عن علماء سمّى كتب قسم منهم تارة واكتفى بذكر أسمائهم تارة أخرى وقد أثبتنا أسماء كتب قسم منهم في الحواشي.
ومن هؤلاء العلماء:
الفراء وأبو عبيدة والأخفش وأبو عبيد والطبري والزجاج وابن الأنباري وأبو جعفر النحاس وابن جني والجوهري والحوفي ومكي بن أبي طالب القيسي والمهدوي وابن سيده والطوسي والأعلم الشنتمري والسجاوندي والسهيلي والفخر الرازي وابن الحاجب وابن عصفور وابن مالك وغيرهم
…
কিতাবুল মাজীদ ফি ই'রাবিল কুরআনিল মাজীদএর উৎসসমূহ:এই গ্রন্থে প্রচুর উদ্ধৃতি রয়েছে, যা গ্রন্থটির মূল উপাদান গঠন করেছে। আর এই উদ্ধৃতিগুলোর অধিকাংশ তিনি তাঁর শায়খ আবু হাইয়ানের গ্রন্থ 'আল-বাহরুল মুহীত' থেকে গ্রহণ করেছেন, যেমনটি তিনি তাঁর মুখবন্ধে উল্লেখ করেছেন।
সুতরাং তাঁর মৌলিক উৎসসমূহ নিম্নোক্ত গ্রন্থগুলোতে নিহিত ছিল:
- আল-বাহরুল মুহীত: আবু হাইয়ান।
- আত-তিবইয়ান ফি ই'রাবিল কুরআন: আল-উকবুরী।
- আল-মুহাররারুল ওয়াজিজ: ইবনে আতিয়্যাহ।
- আল-কাশশাফ: আল-জামাশখারী।
এছাড়াও এমন অনেক আলেমদের থেকে প্রচুর উদ্ধৃতি রয়েছে যাদের কারো কারো গ্রন্থের নাম তিনি কখনও উল্লেখ করেছেন, আবার কখনও শুধু তাঁদের নাম উল্লেখ করেই ক্ষান্ত হয়েছেন। আমরা তাদের মধ্যে কয়েকজনের গ্রন্থের নাম পাদটীকায় প্রমাণ সাপেক্ষে উল্লেখ করেছি।
এই আলেমদের মধ্যে রয়েছেন:
আল-ফাররা, আবু উবাইদাহ, আল-আখফাশ, আবু উবাইদ, আত-তাবারী, আজ-জাজ্জাজ, ইবনুল আনবারী, আবু জাফর আন-নাহহাস, ইবনে জিন্নি, আল-জাওহারী, আল-হাউফী, মাক্কি বিন আবি তালিব আল-কায়সী, আল-মাহদাবী, ইবনে সীদাহ, আত-তুসী, আল-আ'লাম আশ-শান্তামারী, আস-সাজাওয়ান্দী, আস-সুহাইলী, আল-ফখর আর-রাজী, ইবনুল হাজিব, ইবনে আসফুর, ইবনে মালিক এবং অন্যান্য
…
(খণ্ড: ১)
আল-মাজীদ ফী ইরাবিল কুরআনিল মাজীদ
(পৃষ্ঠা: ১২)
منهجه:بيّن السفاقسي في مقدمته لكتابه منهجه بعد أن أشاد بشيخه أبي حيان الأندلسي لأنه سلك في إعراب القرآن في كتابه (البحر المحيط) طريقة لم يسلكها أحد من معربي القرآن
على كثرتهم، إذ سلك فيه سبيل التحقيق، وزيّف أقوال كثير من المعربين، وبيّن حيدها عن أصول المحققين، ولكنّ أبا حيان سلك في كتابه سبيل المفسرين في الجمع بين التفسير والإعراب، فتفرّق فيه هذا المقصود، وصعب جمعه إلّا بعد بذل المجهود.
ثم بيّن منهجه بعد ذلك قائلا:
فاستخرت الله تعالى في جمعه وتقريبه وتلخيصه وتهذيبه
… فجاء والحمد لله في أقرب زمان على نحو ما أمّلت، وتيسّر عليّ سبيل ما رمت وقصدت.
وبيّن عمله في كتابه فقال: ولا أقول: إنّي اخترعت، بل جمعت ولخّصت، ولا أنني أغربت، بل بيّنت وأعربت.
ثمّ قال:
ولما كان كتاب أبي البقاء المسمى ب (البيان في إعراب القرآن) كتابا قد عكف الناس عليه، ومالت نفوسهم إليه، جمعت ما بقي فيه من إعرابه مما لم يضمّنه الشيخ في كتابه، وضممت إليه من غيره ما ستقف عليه إن شاء الله تعالى
…ثمّ قال:
وجعلت علامة ما زدت على الشيخ (م)، وما يتفق لي إن أمكن فعلامته: (قلت)، وما فيه من: أعترض وأجيب وأورد ونحو ذلك مما لم أسمّ قائله فهو للشيخ.
তাঁর কর্মপদ্ধতি:আস-সাফাক্বসি তাঁর গ্রন্থের ভূমিকায় নিজের কর্মপদ্ধতি বর্ণনা করেছেন। এর আগে তিনি তাঁর উস্তাদ আবু হাইয়ান আল-আন্দালুসির প্রশংসা করেন, কারণ আবু হাইয়ান তাঁর ‘আল-বাহরুল মুহিত’ গ্রন্থে কুরআনের ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ (إعراب) করার ক্ষেত্রে এমন এক পদ্ধতি অবলম্বন করেছেন যা ইতিপূর্বে কুরআনের অন্য কোনো বৈয়াকরণ অনুসরণ করেননি,
যদিও তাদের সংখ্যা অনেক। কেননা তিনি এতে সূক্ষ্ম যাচাই ও বিশ্লেষণ (تحقيق)-এর পথ বেছে নিয়েছেন এবং অনেক বৈয়াকরণের মতামতের অসারতা প্রমাণ করেছেন। সেই সাথে তিনি মূল গবেষক ও বিশারদদের (محققين) মূলনীতি থেকে তাদের বিচ্যুতিও স্পষ্ট করেছেন। তবে আবু হাইয়ান তাঁর গ্রন্থে ব্যাখ্যা (تفسير) এবং ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ (إعراب)-কে একত্রিত করার ক্ষেত্রে তাফসিরবিদদের (مفسرين) পথ অনুসরণ করেছেন। ফলে ব্যাকরণিক আলোচনার মূল উদ্দেশ্যটি বিক্ষিপ্ত হয়ে পড়েছে এবং কঠোর পরিশ্রম ছাড়া তা এক জায়গায় পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
এরপর তিনি নিজের কর্মপদ্ধতি স্পষ্ট করে বলেন:
“আমি এটি সংকলন, সহজবোধ্যকরণ, সংক্ষেপণ ও পরিমার্জনের ব্যাপারে মহান আল্লাহর কাছে ইস্তিখারা (استخارة) করেছি
… ফলে আল্লাহর প্রশংসায় এটি অত্যন্ত অল্প সময়ের মধ্যে আমার আশানুযায়ী সম্পন্ন হয়েছে এবং আমি যা চেয়েছিলাম ও ইচ্ছা করেছিলাম তা সহজ হয়েছে।”
তিনি তাঁর গ্রন্থে নিজের কাজের পদ্ধতি সম্পর্কে বলেন: “আমি বলছি না যে আমি এটি উদ্ভাবন করেছি, বরং আমি সংকলন ও সংক্ষেপ করেছি; আর আমি বলছি না যে আমি কোনো দুর্লভ বিষয় (أغربت) নিয়ে এসেছি, বরং আমি বিষয়গুলো স্পষ্ট করেছি এবং ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ (إعراب) করেছি।”
অতঃপর তিনি বলেন:
“যেহেতু আবু আল-বাকার ‘আত-তিবিয়ান ফি ই'রাবিল কুরআন’ নামক কিতাবটি এমন এক সংকলন যার প্রতি মানুষ নিবিষ্ট এবং তাদের মন সেদিকে ঝুঁকে থাকে, তাই আমি সেই কিতাবের অবশিষ্ট ব্যাকরণিক বিশ্লেষণগুলো (إعراب) সংগ্রহ করেছি যা শায়খ (আবু হাইয়ান) তাঁর কিতাবে অন্তর্ভুক্ত করেননি। এছাড়া অন্যান্য উৎস থেকে যা আমি এতে যুক্ত করেছি, ইনশাআল্লাহ তাআলা আপনি তা দেখতে পাবেন
…”
অতঃপর তিনি বলেন:
“শায়খের আলোচনার বাইরে আমি যা বৃদ্ধি করেছি তার জন্য চিহ্ন নির্ধারণ করেছি ‘মীম’ (م), আর আমার পক্ষ থেকে যা আসার সম্ভাবনা রয়েছে তার চিহ্ন হলো: ‘আমি বলেছি’ (قلت)। আর এতে ‘আমি আপত্তি করছি’, ‘আমি উত্তর দিচ্ছি’, ‘আমি পেশ করছি’ এবং এই জাতীয় যেসকল বিষয়ের প্রবক্তার নাম আমি উল্লেখ করিনি, তা মূলত শায়খের কথা।”
(খণ্ড: ১)
আল-মাজীদ ফী ইরাবিল কুরআনিল মাজীদ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
ثمّ قال:
وقد تكون القراءة الشاذة عن أشخاص متعددين فأكتفي بذكر واحد منهم قصدا للاختصار، وما كان عن بعض القراء مشهورا أو شاذّا عزيته إليه ثم أقول: والباقون، وأريد به: من السبعة.
هذا هو منهج السّفاقسيّ في ضوء مقدمته لكتابه.
فالكتاب إذن تلخيص لكتاب البحر المحيط وهذا يردّ على السيوطي الذي قال في الإتقان: (إن أشهر كتب الإعراب كتاب العكبري، وكتاب السمين أجلها على ما فيه من حشو وتطويل، ولخصه السفاقسي فحرّره).
والصواب أنّ السفاقسي لخص كتاب البحر المحيط.
وأنّ السمين الحلبي لخص كتاب شيخه أبي حيان أيضا وسمّاه (الدرّ المصون في علوم الكتاب المكنون).
والتلخيصان، أعني المجيد والدرّ المصون، كانا في حياة شيخهما أبي حيان.
أهميته:تكمن أهمية الكتاب في أنّه في إعراب القرآن الكريم وأنّه جمع وجوه إعراب كل آية أوردها.
وقد بيّن آراء البصريين والكوفيين في إعراب هذه الآيات وضعّف قسما منها.
يعد من أهم الكتب التي بيّنت وجوه القراءات في كل آية، فهو كتاب في القراءات إضافة إلى كونه كتاب إعراب.
এরপর তিনি বলেন:
কখনো কখনো অস্বাভাবিক (شاذة) কিরাত একাধিক ব্যক্তির পক্ষ থেকে বর্ণিত হতে পারে, তবে আমি সংক্ষেপ করার উদ্দেশ্যে তাদের মধ্যে একজনের কথা উল্লেখ করেই ক্ষান্ত হই। আর কোনো কিরাত যদি নির্দিষ্ট কোনো কারীর পক্ষ থেকে প্রসিদ্ধ (مشهورا) বা অস্বাভাবিক (شاذّا) হিসেবে পরিচিত হয়, তবে আমি তা তাঁর দিকেই সম্বন্ধ করি এবং বলি: "বাকিরা", এর দ্বারা আমার উদ্দেশ্য হলো: সেই সাতজন (কিরাত বিশেষজ্ঞ)।
এটিই হলো সাফাকুসির পদ্ধতি, যা তাঁর গ্রন্থের ভূমিকার আলোকে প্রতীয়মান।
সুতরাং, এই গ্রন্থটি হলো আল-বাহরুল মুহিত গ্রন্থের সারসংক্ষেপ (تلخيص), যা ইমাম সুয়ুতির সেই বক্তব্যকে খণ্ডন করে যা তিনি আল-ইতকান গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন: (নিশ্চয় ইরাবের কিতাবসমূহের মধ্যে সবচেয়ে প্রসিদ্ধ হলো উকবারির কিতাব, আর সামিনের কিতাবটি অধিকতর মহান যদিও তাতে বাহুল্য ও দীর্ঘসূত্রিতা রয়েছে, এবং সাফাকুসি এটি সারসংক্ষেপ করে তা পরিশোধন করেছেন)।
সঠিক কথা হলো, সাফাকুসি আল-বাহরুল মুহিত গ্রন্থটি সারসংক্ষেপ করেছেন।
আর সামিন আল-হালাবিও তাঁর শাইখ আবু হাইয়ানের গ্রন্থটি সারসংক্ষেপ করেছেন এবং এর নাম রেখেছেন আদ-দুররুল মাসুন ফি উলুমিল কিতাবিল মাকনুন।
আর এই দুটি সারসংক্ষেপ—অর্থাৎ আল-মাজিদ এবং আদ-দুররুল মাসুন—উভয়টিই তাঁদের শাইখ আবু হাইয়ানের জীবদ্দশায় রচিত হয়েছে।
এর গুরুত্ব:এই গ্রন্থের গুরুত্ব নিহিত রয়েছে এতে যে, এটি পবিত্র কুরআনের ইরাব (শব্দ বিশ্লেষণ) সংক্রান্ত এবং এতে বর্ণিত প্রতিটি আয়াতের ইরাবের বিভিন্ন দিকসমূহ একত্রিত করা হয়েছে।
তিনি এই আয়াতসমূহের ইরাবের ক্ষেত্রে বসরি ও কুফি পণ্ডিতদের মতামত বর্ণনা করেছেন এবং সেগুলোর মধ্য থেকে একটি অংশকে দুর্বল (ضعّف) বলে চিহ্নিত করেছেন।
এটি সেই গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থসমূহের অন্যতম যা প্রতিটি আয়াতের কিরাতের বিভিন্ন ধরন বর্ণনা করেছে। সুতরাং এটি ইরাবের গ্রন্থ হওয়ার পাশাপাশি কিরাত সংক্রান্ত একটি গ্রন্থও বটে।
(খণ্ড: ১)
আল-মাজীদ ফী ইরাবিল কুরআনিল মাজীদ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
وامتاز الكتاب بكثرة شواهده التي أربت على الألف، وتتضح قيمة هذه الثروة الشعرية إذا ما قوبل بغيره من كتب إعراب القرآن، فقد بلغت شواهد مكي بن أبي طالب في كتابه (مشكل إعراب القرآن) اثنين وثلاثين شاهدا وبلغت عند أبي البقاء العكبري في كتابه (التبيان في إعراب القرآن) واحدا وستين شاهدا.
والكتاب غنيّ ببحوث النحو والصرف ومعاني مفردات اللغة.
لكل هذا فقد اهتم به العلماء فصنّف شمس الدين محمد بن سليمان الصّرخديّ النحويّ المتوفّى سنة 792 هـ: (مختصر إعراب السّفاقسيّ).
مخطوطات الكتاب:اعتمدت في تحقيق البسملة والفاتحة على نسختين:
الأولى- نسخة دار الكتب الظاهرية المرقمة 530 (تفسير) وهي الأصل.
والجزء الأول منها يبدأ من أول الكتاب إلى آخر سورة آل عمران.
وهي نسخة جيدة كتبت بخط جيد، وتاريخ نسخها سنة 986 هـ.
عدد أوراقها 423 ورقة، وعدد أسطر كل صفحة 17 سطرا.
الثانية- نسخة دار الكتب المصرية المرقمة 222 (تفسير). وقد رمزنا إليها بالرمز (د).
وهي نسخة تامّة عدد أوراقها 607 ورقة، وعدد أسطر كل صفحة 33 سطرا. وليس فيها تاريخ للنسخ.
বইটি এর প্রচুর প্রমাণাদি (شواهد)-র কারণে অনন্য যা এক হাজারকেও ছাড়িয়ে গিয়েছে। এই কাব্যিক সম্পদের গুরুত্ব তখন স্পষ্ট হয় যখন এটি কুরআনের ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ (إعراب) সংক্রান্ত অন্যান্য গ্রন্থের সাথে তুলনা করা হয়। মক্কি বিন আবি তালিব তার ‘মুশকিলু ইরাবিল কুরআন’ গ্রন্থে মাত্র বত্রিশটি প্রমাণাদি (شواهد) উল্লেখ করেছেন এবং আবু আল-বাকা আল-উকবারি তার ‘আল-তিবইয়ান ফি ইরাবিল কুরআন’ গ্রন্থে একষট্টিটি প্রমাণাদি (شواهد) উল্লেখ করেছেন।
বইটি ব্যাকরণ (النحو), রূপতত্ত্ব (الصرف) এবং ভাষাগত শব্দার্থের গবেষণায় সমৃদ্ধ।
এই সব কারণে আলেমগণ এর প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন, যার ফলে শামসুদ্দিন মুহাম্মদ বিন সুলাইমান আল-সারখাদি আল-নাহবি (মৃত্যু ৭৯২ হিজরি) ‘মুখতাসারু ইরাবিল সাফাক্বসি’ রচনা করেছেন।
বইটির পাণ্ডুলিপিসমূহ (مخطوطات):বিসমিল্লাহ এবং সূরা ফাতিহার সম্পাদনা (تحقيق)-র ক্ষেত্রে আমি দুটি পাণ্ডুলিপি (نسختين)-র ওপর নির্ভর করেছি:
প্রথম- দারুল কুতুব আল-জাহিরিয়া-র ৫৩০ (তাফসির) নম্বর পাণ্ডুলিপি (نسخة) যা মূল (الأصل) হিসেবে গণ্য।
এর প্রথম খণ্ডটি গ্রন্থের শুরু থেকে সূরা আল-ইমরানের শেষ পর্যন্ত বিস্তৃত।
এটি একটি উৎকৃষ্ট মানের পাণ্ডুলিপি (نسخة) যা চমৎকার হস্তাক্ষরে লিখিত এবং এর অনুলিপি তৈরির তারিখ ৯৮৬ হিজরি।
এর পৃষ্ঠা সংখ্যা ৪২৩ এবং প্রতি পৃষ্ঠার লাইন সংখ্যা ১৭।
দ্বিতীয়- দারুল কুতুব আল-মিসরিয়া-র ২২২ (তাফসির) নম্বর পাণ্ডুলিপি (نسخة)। আমরা একে (দ) প্রতীক (رمز) দ্বারা চিহ্নিত করেছি।
এটি একটি পূর্ণাঙ্গ পাণ্ডুলিপি (نسخة) যার পৃষ্ঠা সংখ্যা ৬০৭ এবং প্রতি পৃষ্ঠার লাইন সংখ্যা ৩৩। এতে অনুলিপি তৈরির কোনো তারিখ উল্লেখ নেই।
(খণ্ড: ১)
আল-মাজীদ ফী ইরাবিল কুরআনিল মাজীদ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
وقد أرفقت صورا لصفحة العنوان والورقة الأولى من كل نسخة.
ولا بد من الإشارة إلى أنّ زيادات النسخة (د) قد وضعت بين قوسين مربعين من غير إشارة إلى ذلك.
وقد اتبعت في التحقيق المنهج العلمي الذي اتسمت به المدرسة العراقية، والحمد لله أولا وآخرا.
আমি প্রতিটি পাণ্ডুলিপির (نسخة) শিরোনাম পাতা এবং প্রথম পৃষ্ঠার প্রতিলিপি সংযুক্ত করেছি।
এটি উল্লেখ করা আবশ্যক যে, 'দাল' পাণ্ডুলিপির (نسخة) অতিরিক্ত অংশগুলো (زيادات) কোনো বিশেষ সংকেত ছাড়াই বর্গাকার বন্ধনীর মধ্যে স্থাপন করা হয়েছে।
পাণ্ডুলিপি সম্পাদনার (تحقيق) ক্ষেত্রে আমি ইরাকি ঘরানার বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অনুসরণ করেছি; আর শুরুতে ও শেষে সকল প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর।
(খণ্ড: ১)
আল-মাজীদ ফী ইরাবিল কুরআনিল মাজীদ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
صفحة العنوان من نسخة دار الكتب الظاهرية.
الورقة الأولى من نسخة دار الكتب الظاهرية.
দারুল কুতুব আল-জাহিরিয়্যাহ পাণ্ডুলিপির শিরোনাম পাতা।
দারুল কুতুব আল-জাহিরিয়্যাহ পাণ্ডুলিপির প্রথম পাতা।
(খণ্ড: ১)
আল-মাজীদ ফী ইরাবিল কুরআনিল মাজীদ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
صفحة العنوان من نسخة دار الكتب المصرية.
الورقة الأولى من نسخة دار الكتب المصرية.
দারুল কুতুব আল-মিসরিয়্যাহ-এর পাণ্ডুলিপি থেকে শিরোনাম পাতা।
দারুল কুতুব আল-মিসরিয়্যাহ-এর পাণ্ডুলিপি থেকে প্রথম পাতা।
(খণ্ড: ১)
আল-মাজীদ ফী ইরাবিল কুরআনিল মাজীদ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
(1 ب) بسم الله الرّحمن الرّحيم وصلّى الله على سيدنا محمد وسلّم.
الحمد لله الذي شرّفنا بحفظ كتابه، ووفّقنا لفهم منطوقه ومفهوم خطابه، ووعدنا على تبيين معانيه وإعرابه، بجزيل مواهبه وعظيم ثوابه، وهدانا بنبيّه المصطفى ورسوله المجتبى خير مبعوث بآياته، وبالقرآن وهو أعظم معجزاته، كتاب مجيد لا يَأْتِيهِ الْباطِلُ مِنْ بَيْنِ يَدَيْهِ وَلا مِنْ خَلْفِهِ تَنْزِيلٌ مِنْ حَكِيمٍ حَمِيدٍ (42) (1)، أذلّت بلاغته أعناق أرباب الكلام، وأعجزت فصاحته ألسنة فصحاء الأنام، فبسط المؤمنون يد الإذعان والتسليم، وأطلقوا ألسنتهم بالقول الصحيح السليم إِنَّهُ لَقَوْلُ رَسُولٍ كَرِيمٍ (40) (2)، وقبض الكافرون يد الإنصاف وقيّدوا ألسنتهم بالخلاف، فخرجوا عن طرق الهدايات وحصلوا في شرك الضلالات، وَالَّذِينَ كَفَرُوا أَوْلِياؤُهُمُ الطَّاغُوتُ يُخْرِجُونَهُمْ مِنَ النُّورِ إِلَى الظُّلُماتِ (3)، فلما وقعوا على داهية دهياء أجابوا عن فطنة عمياء، فقالوا بلسان الكلال والحصر: إِنْ هذا إِلَّا سِحْرٌ يُؤْثَرُ* إِنْ هذا إِلَّا قَوْلُ الْبَشَرِ (25) (4)، أقعدتهم براعته ودهمتهم فصاحته، فأجابوا بلسان الباطل والمجنون (5)، وقالوا: أَإِنَّا لَتارِكُوا آلِهَتِنا لِشاعِرٍ مَجْنُونٍ (6)، أفحمتهم جزالة آياته ورمتهم سهام مغيّباته، (2 أ)
--------------------------------------------
(১ খ) পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। আমাদের নেতা মুহাম্মাদের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদের তাঁর কিতাব সংরক্ষণের মাধ্যমে সম্মানিত করেছেন, আমাদের এর ব্যক্তার্থ ও ইঙ্গিতার্থ বোঝার তাওফিক দান করেছেন এবং এর অর্থ ও ব্যাকরণগত বিশ্লেষণ সুস্পষ্ট করার বিনিময়ে আমাদের জন্য অঢেল দান ও মহান প্রতিদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি আমাদের হিদায়াত দিয়েছেন তাঁর মনোনীত নবী ও পসন্দনীয় রাসূলের মাধ্যমে, যিনি তাঁর নিদর্শনসমূহ সহ প্রেরিত সর্বোত্তম ব্যক্তি; এবং আল-কুরআনের মাধ্যমে, যা তাঁর সর্বশ্রেষ্ঠ মুজিজা। এটি এক মহাগ্রন্থ, "এর সামনে বা পেছন থেকে কোনো মিথ্যা এতে প্রবেশ করতে পারে না। এটি প্রজ্ঞাময়, চিরপ্রশংসিত আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ" (১)। এর অলঙ্কারশাস্ত্রীয় শ্রেষ্ঠত্ব প্রাজ্ঞ বক্তাদের মাথা নত করে দিয়েছে এবং এর প্রাঞ্জলতা মানবজাতির বাগ্মীদের জিহ্বাকে অক্ষম করে দিয়েছে। ফলে মুমিনরা আনুগত্য ও আত্মসমর্পণের হাত প্রসারিত করেছে এবং তারা তাদের জিহ্বাকে বিশুদ্ধ (صحيح) ও সঠিক বক্তব্যের মাধ্যমে মুক্ত করেছে যে, "নিশ্চয়ই এটি এক সম্মানিত রাসূলের বাণী" (২)। অপরদিকে কাফিররা ইনসাফের হাত গুটিয়ে নিয়েছে এবং বিরোধিতার মাধ্যমে তাদের জিহ্বাকে শৃঙ্খলিত করেছে। ফলে তারা হিদায়াতের পথসমূহ থেকে বিচ্যুত হয়েছে এবং গোমরাহির জালে আবদ্ধ হয়েছে। "আর যারা কুফরি করে, তাগুত তাদের অভিভাবক; তারা তাদেরকে আলো থেকে অন্ধকারের দিকে নিয়ে যায়" (৩)। অতঃপর তারা যখন এক মহাবিপদে নিপতিত হলো, তখন তারা এক অন্ধ মেধার আশ্রয় নিয়ে জবাব দিল। তারা ক্লান্তি ও অক্ষমতার ভাষায় বলল: "এটি তো লোকপরম্পরায় প্রাপ্ত জাদু বৈ কিছু নয়। এটি তো মানুষের কথা ছাড়া আর কিছু নয়" (৪)। এর শ্রেষ্ঠত্ব তাদেরকে কিংকর্তব্যবিমূঢ় করে দিল এবং এর প্রাঞ্জলতা তাদের ওপর আপতিত হলো। ফলে তারা বাতিল ও উন্মত্ততার ভাষায় উত্তর দিল (৫)। তারা বলল: "আমরা কি এক উন্মাদ কবির জন্য আমাদের উপাস্যদের বর্জন করব?" (৬)। এর আয়াতের গাম্ভীর্য তাদেরকে নির্বাক করে দিল এবং এর অদৃশ্য সংবাদের তীর তাদেরকে বিদ্ধ করল। (২ ক)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাজীদ ফী ইরাবিল কুরআনিল মাজীদ
(পৃষ্ঠা: ২০)
فتاهوا (1) في ظلمة معاند أو راعن وقالوا: هو كاهن. فيا عجبا كيف كلّت سيوف فصاحتها وعثرت فرسان بلاغتها، حتى نطقوا بكلام غير معقول، لا يرشدها
ولا يهديها عقول وأيّ عقول، ولكن كادها باريها، فالحمد لله على نعمة الهداية وله الشكر على السلامة من الضلالة والغواية.
وبعد فلمّا كان اللسان العربي هو الطريق السنيّ إلى فهم مفردات القرآن العزيز وتركيباته، وعليه المعوّل في معرفة معانيه وتدبّر آياته (2)، وبحسب قوّة الناظر فيه تلتقط (3) درر المعاني من فيه، يعرف ذلك من راض أبيّه وخاض أتيّة، وجب صرف العناية إلى ما يتعلّق به من علم اللسان من جهة مفرداته وتركيباته تصريفا وإعرابا، لكثرتهما تشعّبا واضطرابا جارين على قواعدهما مرتّبين على أصولهما، ليعرف الخطأ من الصواب، وينكشف القشر عن اللباب فيصير كالفقه إذا استخرج من قواعده واستنبط من أصوله وموارده، وقلّ من سلك هذه الطريقة من (4) المعربين واقتعد (5) غاربها من المحقّقين، إلّا الشيخ الفاضل [المحقّق] أثير الدين (6) فإنّه ضمّن كتابه المسمّى ب (البحر المحيط) (7) هذا (8) الطريق وسلك فيه (2 ب) سبيل التحقيق، وزيّف أقوال كثير من المعربين، وبيّن جيدها عن أصول المحققين. هذا مع ما له في علم
اللسان من الكتب العظيمة الشأن [جمع فيها
--------------------------------------------
অতঃপর তারা কোনো এক হঠকারী বা মূর্খের অন্ধকারে বিভ্রান্ত হলো (১) এবং বলল: সে তো একজন গণক। কতই না বিস্ময়কর! কীভাবে তাদের প্রাঞ্জলতার তলোয়ারগুলো ভোঁতা হয়ে গেল এবং তাদের অলঙ্কারশাস্ত্রের অশ্বারোহীরা হোঁচট খেল, এমনকি তারা এমন এক অযৌক্তিক কথা বলে বসল যা তাদের পথপ্রদর্শন করে না এবং কোনো বুদ্ধিই—আর সে বুদ্ধিই বা কেমন—তাকে পথ দেখাতে পারে না। বরং তাদের স্রষ্টা তাদের কৌশলে পরাস্ত করেছেন। সুতরাং হিদায়াতের নিআমতের জন্য সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর এবং পথভ্রষ্টতা ও বিভ্রান্তি থেকে নিরাপদ রাখার জন্য তাঁরই কৃতজ্ঞতা।
এরপর (আম্মা বাদ), যেহেতু আরবি ভাষা হচ্ছে মহাগ্রন্থ কুরআনের শব্দাবলি ও এর গঠনশৈলী বোঝার এক সুমহান পথ, এবং এর অর্থ অনুধাবন ও আয়াতসমূহ নিয়ে গবেষণার (২) ক্ষেত্রে এরই ওপর নির্ভর করা হয়; আর এতে বিচরণকারীর গভীরতা অনুযায়ীই (৩) এর মধ্য থেকে অর্থগত মুক্তাসমূহ আহরণ করা হয়। এটি সেই ব্যক্তিই জানেন যিনি এর অবাধ্যতাকে বশ করেছেন এবং এর প্রবাহে অবগাহন করেছেন। তাই ভাষাবিজ্ঞানের সাথে সংশ্লিষ্ট এর শব্দাবলি ও গঠনশৈলী—তথা শব্দরূপান্তর এবং বাক্যরীতি সংক্রান্ত বিষয়ের প্রতি মনোযোগ নিবদ্ধ করা ওয়াজিব হয়ে পড়েছে। কারণ এগুলোর শাখা-প্রশাখা ও বৈচিত্র্য অত্যন্ত ব্যাপক, যা নিজ নিজ কায়দা অনুযায়ী বহমান এবং নিজেদের মূলনীতি (أصول) অনুযায়ী বিন্যস্ত; যাতে সঠিক থেকে ভুলকে পৃথক করা যায় এবং মূল শাঁস থেকে খোসা উন্মোচিত হয়। ফলে এটি তখন ফিকহ শাস্ত্রের ন্যায় হয়ে ওঠে, যখন তা আপন কায়দা-কানুন থেকে উৎসারিত হয় এবং এর মূলনীতি (أصول) ও উৎস থেকে উদ্ভাবিত হয়। ব্যাকরণবিদদের (৪) মধ্যে খুব কম লোকই এই পথ অনুসরণ করেছেন এবং গবেষকদের (محققين) (৫) মধ্যে খুব কমই এর চূড়ায় আরোহণ করেছেন; তবে ফাজিল শায়খ [গবেষক (محقق)] আসিরুদ্দীন (৬) ব্যতীত। কারণ তিনি তাঁর 'আল-বাহরুল মুহিত' (৭) নামক কিতাবে এই (৮) পদ্ধতিটি সন্নিবেশিত করেছেন এবং এতে (২ খ) অনুসন্ধানের পথ অবলম্বন করেছেন। তিনি অনেক ব্যাকরণবিদের বক্তব্যকে ত্রুটিযুক্ত সাব্যস্ত করেছেন এবং গবেষকদের (محققين) মূলনীতি (أصول) অনুযায়ী সেগুলোর উৎকৃষ্টতা স্পষ্ট করেছেন। এটি ছাড়াও ভাষাবিজ্ঞানে তাঁর সুউচ্চ মর্যাদাপূর্ণ গ্রন্থসমূহ রয়েছে [যাতে তিনি সংকলন করেছেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাজীদ ফী ইরাবিল কুরআনিল মাজীদ
(পৃষ্ঠা: ২১)
ما لم يسبق إليه، ولا احتوى أحد قبله ولا يحتوي بعده عليه، فلقد أتقن ما جمع نهاية الإتقان، وأحسن إلى طلبة هذا العلم غاية الإحسان]، فجزاه الله عن (1) العلم والعلماء خيرا، وزاده شرفا كثيرا (2) لكنّه، أبقاه الله، سلك في ذلك سبيل المفسّرين في الجمع بين التفسير والإعراب فتفرق (3) فيه هذا المقصود، وصعب جمعه إلّا بعد بذل المجهود، فاستخرت الله تعالى (4) في جمعه وتقريبه وتلخيصه وتهذيبه، فوجدت لسبيل التأميل (5) مدرجا وجعل الله لي من ربقة العجز مخرجا، فشرعت فيما عزمت عليه، وامتطيت جواد الجدّ إليه، فجاء والحمد لله في أقرب زمان، على نحو ما أمّلت وتيسّر
عليّ سبيل ما رمت وقصدت، ولا أقول: إنّي اخترعت بل جمعت ولخّصت، ولا إنّي أغربت بل بيّنت وأعربت.
ولمّا كان كتاب أبي البقاء (6) المسمّى ب (البيان في إعراب القرآن) (7) كتابا قد عكف الناس عليه، ومالت نفوسهم إليه، جمعت ما بقي فيه من إعرابه مما لم يضمّنه الشيخ في كتابه وضممت إليه من غيره ما ستقف عليه إن شاء الله [تعالى] عند ذكره ليكتفي الطالب لهذا الفنّ بضيائه ولا يسير إلّا تحت لوائه.
كالشمس يستمدّ من أنوارها
… والشمس لا تحتاج لاستمداد (8).
على أنّه لو لم يشتمل على هذه الزيادة لكان فيه أعظم كفاية ومزادة، (3 أ) وبالنظر فيه ترى الفرق وتعرف الحقّ.
--------------------------------------------
এমন কিছু যা ইতিপূর্বে কেউ করতে পারেনি, আর তাঁর আগে কেউ তা ধারণ করেনি এবং তাঁর পরেও কেউ তা করতে পারবে না। তিনি যা সংকলন করেছেন তা অত্যন্ত নিপুণতার সাথে সম্পন্ন করেছেন এবং এই শাস্ত্রের শিক্ষার্থীদের প্রতি সর্বোচ্চ মহানুভবতা প্রদর্শন করেছেন। আল্লাহ তাআলা তাঁকে ইলম ও ওলামাদের পক্ষ থেকে উত্তম প্রতিদান দান করুন এবং তাঁর মর্যাদা বহুগুণ বৃদ্ধি করুন। কিন্তু তিনি—আল্লাহ তাঁকে দীর্ঘজীবী করুন—এক্ষেত্রে তাফসির ও ব্যাকরণগত বিশ্লেষণের সমন্বয়ের মাধ্যমে মুফাসসিরগণের পথ অনুসরণ করেছেন, ফলে মূল উদ্দেশ্যটি এখানে বিক্ষিপ্ত হয়ে পড়েছে এবং কঠোর পরিশ্রম ব্যতিরেকে তা সংগ্রহ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। তাই আমি এটি সংকলন, সহজবোধ্যকরণ, সারসংক্ষেপ ও পরিমার্জনের বিষয়ে আল্লাহ তাআলার নিকট ইস্তিখারা করেছি। অতঃপর আমি আমার সংকল্পের পথে একটি সোপান খুঁজে পেলাম এবং আল্লাহ আমার জন্য অক্ষমতার বেড়াজাল থেকে মুক্তির পথ করে দিলেন। সুতরাং আমি আমার সংকল্পিত কাজ শুরু করলাম এবং কঠোর পরিশ্রমের বাহনে সওয়ার হলাম। আলহামদুলিল্লাহ, এটি অত্যন্ত অল্প সময়ের মধ্যে আমার প্রত্যাশা অনুযায়ী সম্পন্ন হলো এবং আমার অভীষ্ট লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের পথ সহজ হলো। আমি এমনটি বলছি না যে, আমি এটি নতুন উদ্ভাবন করেছি, বরং আমি কেবল সংগ্রহ ও সংক্ষেপ করেছি; আর আমি এমন দাবি করছি না যে, আমি কোনো বিরল বিষয় এনেছি, বরং আমি কেবল বিষয়গুলো স্পষ্ট ও বিশ্লেষণ করেছি।
যেহেতু আবু আল-বাকা-এর 'আল-বায়ান ফি ইরাবিল কুরআন' নামক গ্রন্থটি এমন এক সংকলন যার প্রতি মানুষ নিবিষ্ট হয়েছে এবং তাদের মন যার প্রতি ঝুঁকেছে, তাই আমি এতে থাকা অবশিষ্ট ব্যাকরণগত বিশ্লেষণসমূহ—যা শাইখ তাঁর গ্রন্থে অন্তর্ভুক্ত করেননি—তা সংগ্রহ করেছি। এছাড়া অন্যান্য উৎস থেকেও আমি এতে এমন কিছু যুক্ত করেছি যা আপনি ইনশাআল্লাহ এর আলোচনার সময় প্রত্যক্ষ করবেন, যাতে এই শাস্ত্রের শিক্ষার্থী এর আলোতেই সন্তুষ্ট থাকতে পারে এবং কেবল এর পতাকাতলে বিচরণ করে।
সূর্যের মতো যার জ্যোতি থেকে সবাই শক্তি সঞ্চয় করে... অথচ সূর্যের নিজের জ্যোতি গ্রহণের প্রয়োজন নেই।
যদিও এতে এই অতিরিক্ত অংশগুলো না থাকলেও এটি অত্যন্ত যথেষ্ট ও পর্যাপ্ত হতো। (৩ ক) আর এটি পাঠ করলে আপনি পার্থক্য দেখতে পাবেন এবং সত্য অনুধাবন করতে পারবেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাজীদ ফী ইরাবিল কুরআনিল মাজীদ
(পৃষ্ঠা: ২২)
وجعلت علامة ما زدت على كتاب الشيخ (م)، وما يتّفق لي إن أمكن فعلامته (1):
(قلت). وما فيه من: اعترض (2) وأجيب وأورد ونحو ذلك مما لم أسمّ قائله فهو للشيخ.
وقد تكون (3) القراءة الشاذّة عن (4) أشخاص متعددين فأكتفي بذكر واحد منهم قصدا للاختصار. وما كان عن بعض القرّاء مشهورا أو شاذّا عزيته إليه ثمّ أقول: والباقون، وأريد به (5): من السبعة.
وسمّيته ب (المجيد في إعراب القرآن المجيد).
والله أسأل أن ينفع به وأن يجعله خالصا لوجهه بمنّه وفضله.
--------------------------------------------
আমি শাইখের মূল গ্রন্থের ওপর যা কিছু বৃদ্ধি করেছি তার চিহ্ন হিসেবে (م) বর্ণটি নির্ধারণ করেছি এবং আমার নিজস্ব কোনো বক্তব্য থাকলে সম্ভব হলে তার চিহ্ন (১) হিসেবে লিখেছি: (আমি বলেছি/قلت)। আর গ্রন্থের যেখানে 'আপত্তি' (اعترض), 'উত্তর' (أجيب), 'উপস্থাপন' (أورد) এবং এই জাতীয় শব্দ রয়েছে যেখানে আমি প্রবক্তার নাম উল্লেখ করিনি, তা শাইখের বক্তব্য হিসেবে গণ্য।
কখনও কখনও শاذ (শায/شاذة) কিরাত একাধিক ব্যক্তির থেকে বর্ণিত হতে পারে, সেক্ষেত্রে সংক্ষেপ করার উদ্দেশ্যে আমি কেবল তাদের একজনের নাম উল্লেখ করার ওপর সীমাবদ্ধ থেকেছি। আর কোনো ক্বারীর পক্ষ থেকে বর্ণিত কিরাত যদি প্রসিদ্ধ (مشهور) কিংবা শاذ (শায/شاذة) হয়, তবে আমি তা সংশ্লিষ্ট ক্বারীর দিকেই সম্বন্ধযুক্ত করেছি; এরপর আমি যখন বলি 'এবং অবশিষ্টগণ' (والباقون), তখন এর দ্বারা আমি সাতজন (সাতজন ইমাম) উদ্দেশ্য করি।
আমি এই গ্রন্থের নামকরণ করেছি আল-মাজিদ ফি ই'রাবিল কুরআনিল মাজিদ।
আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি এর মাধ্যমে উপকার দান করেন এবং তাঁর করুণা ও অনুগ্রহে একে কেবল তাঁরই সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে নিবেদিত করেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাজীদ ফী ইরাবিল কুরআনিল মাজীদ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
إعراب البسملة[معاني الباء] (1): باء الجرّ تجيء للإلصاق حقيقة، نحو: مسحت برأسي. ومجازا، نحو: مررت بزيد.
م: قال س (2): وإنّما هي للإلزاق والاختلاط، فما اتسع من هذا في الكتاب فهذا أصله. انتهى.
وللاستعانة، كما (3) في بِسْمِ اللَّهِ.
م: قال السّهيليّ (4): والمعنى أنّ المؤمن لمّا اعتقد أنّ فعله لا يجيء معتدّا (5) به في الشرع حتى يصدر (6) اسم الله [تعالى] وإلّا كان فعلا كلا فعل، فجعل (7) فعله مفعولا باسم الله، كما يفعل الكاتب بالقلم. وزاد فيها وجها آخر وهو (8) المصاحبة، أي متبرّكا باسم الله أقرأ، وهو عنده أعرب وأحسن.
وللسبب، كقوله تعالى: فَبِظُلْمٍ (9).
وللقسم، نحو: بالله.
--------------------------------------------
বিসমিল্লাহর ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ (إعراب البسملة)[‘বা’ (باء) বর্ণের অর্থসমূহ] (১): যর প্রদানকারী ‘বা’ (باء الجرّ) প্রকৃত অর্থে সংলগ্নতা (الإلصاق) বুঝাতে ব্যবহৃত হয়, যেমন: ‘আমি আমার মাথা মুছলাম’। এবং রূপক অর্থে (مجازا) ব্যবহৃত হয়, যেমন: ‘আমি যায়দকে অতিক্রম করলাম’।
ম: সিবওয়াইহ (২) বলেছেন: এটি মূলত সংলগ্নতা (الإلزاق) ও মিশ্রণের (الاختلاط) অর্থ প্রদান করে। কিতাবে এই বিষয়ে যা কিছু বিস্তারিত বর্ণিত হয়েছে, তার মূল ভিত্তি এটিই। সমাপ্ত।
এবং সাহায্য প্রার্থনার জন্য (للاستعانة) ব্যবহৃত হয়, যেমনটি (৩) ‘বিসমিল্লাহ’ (بِسْمِ اللَّهِ)-তে রয়েছে।
ম: সুহাইলি (৪) বলেছেন: এর অর্থ হলো, মুমিন যখন বিশ্বাস করে যে শরিয়তে তার আমল গ্রহণযোগ্য (معتدا) (৫) হিসেবে গণ্য হবে না যতক্ষণ না তা আল্লাহর [তাআলা] নামের মাধ্যমে শুরু (يصدر) (৬) হয়, অন্যথায় তা একটি অস্তিত্বহীন কাজের মতো গণ্য হবে; তাই সে তার আমলটিকে আল্লাহর নামের মাধ্যমে সম্পাদিত সাব্যস্ত করেছে (جعل) (৭), যেমনটি লেখক কলমের সাহায্যে লিখে থাকে। তিনি এতে আরও একটি দিক যোগ করেছেন, তা হলো সঙ্গদান (المصاحبة) (৮), অর্থাৎ আল্লাহর নামের বরকত গ্রহণ করে আমি পাঠ করছি; আর এটি তাঁর নিকট ব্যাকরণগতভাবে অধিক স্পষ্ট ও সুন্দর।
এবং কারণ বুঝাতে (للسبب), যেমন মহান আল্লাহর বাণী: ‘অতঃপর যুলমের কারণে’ (৯)।
এবং শপথের জন্য (للقسم), যেমন: ‘আল্লাহর শপথ’ (بالله)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাজীদ ফী ইরাবিল কুরআনিল মাজীদ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
وللحال، نحو: جاء زيد بثيابه.
وللظرفية، (3 ب) نحو: زيد بالبصرة.
وللنقل (1)، نحو: قمت بزيد.
وتزاد للتوكيد، نحو: ما زيد بقائم.
وزيد في معناها التبعيض، كقوله (2):
شربن بماء البحر ثمّ ترفّعت
… متى لجج خضر لهنّ نئيج
وللبدل، كقوله (3):
فليت لي بهم قوما إذا ركبوا
… شنّوا الإغارة فرسانا وركبانا
وللمقابلة، نحو (4): اشتريت الفرس بألف.
- وللمجاوزة، كقوله تعالى: تَشَقَّقُ السَّماءُ بِالْغَمامِ (5)، أي: عن الغمام (6).
وللاستعلاء: كقوله تعالى: مَنْ إِنْ تَأْمَنْهُ بِقِنْطارٍ (7)، أي: على قنطار.
وكنى بعضهم عن الحال بالمصاحبة وبمعنى (مع)، وعن الاستعانة بالسبب، وعن التعليل بموافقة اللام (8).
وتتعلّق الباء في بِسْمِ اللَّهِ بمحذوف، فقدّره البصريون: ابتدائي ثابت أو مستقرّ، فموضع المجرور عندهم رفع، وحذف المبتدأ
--------------------------------------------
এবং অবস্থা (حال) বুঝাতে, যেমন: জায়েদ তার পোশাক পরিহিত অবস্থায় এসেছে।
এবং আধার বা স্থানকাল (ظرفية) বুঝাতে, (৩ ব) যেমন: জায়েদ বসরায় আছে।
এবং সকর্মক করার (نقل) জন্য (১), যেমন: আমি জায়েদকে নিয়ে দাঁড়ালাম [তাকে দাঁড়া করালাম]।
এবং তা তাকিদ বা দৃঢ়তা (توكيد) প্রদানের জন্য অতিরিক্ত হিসেবে আসে, যেমন: জায়েদ মোটেই দণ্ডায়মান নয়।
এর অর্থের মধ্যে আংশিকতা (تبعيض) বৃদ্ধি করা হয়েছে, যেমন কবির উক্তি (২):
তারা সমুদ্রের কিছু পানি পান করল অতঃপর উপরে উঠে গেল
… যখন সবুজ গভীর জলরাশির গর্জন ধ্বনিত হয়
এবং বিনিময় (بدل) বুঝাতে, যেমন কবির উক্তি (৩):
হায়! তাদের পরিবর্তে যদি আমার এমন এক জাতি থাকত যারা সওয়ার হলে
… অশ্বারোহী ও পদাতিক হয়ে অতর্কিত আক্রমণ চালাত
এবং প্রতিদান (مقابلة) বুঝাতে (৪), যেমন: আমি ঘোড়াটি এক হাজার মুদ্রার বিনিময়ে ক্রয় করেছি।
- এবং অতিক্রম (مجاوزة) করা বুঝাতে, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: "সেদিন আকাশ মেঘমালাসহ বিদীর্ণ হবে" (৫), অর্থাৎ: মেঘমালা থেকে (عن الغمام) (৬)।
এবং উচ্চতা বা স্থিতি (استعلاء) বুঝাতে: যেমন মহান আল্লাহর বাণী: "যাদের মধ্যে এমন আছে যে, যদি তুমি তাকে একটি বিশাল সম্পদের আমানত দাও" (৭), অর্থাৎ: বিশাল সম্পদের ওপর।
তাদের কেউ কেউ অবস্থা (حال)-কে অনুষঙ্গ (مصاحبة) এবং 'সাথে' (مع) অর্থ দ্বারা ব্যক্ত করেছেন, আর সহায়তা গ্রহণ (استعانة)-কে কারণ (سبب) দ্বারা এবং হেতু বা কারণ দর্শানো (تعليل)-কে 'লাম' (لام) অক্ষরের সাথে অর্থগত সামঞ্জস্য দ্বারা ব্যক্ত করেছেন (৮)।
বিসমিল্লাহ-এর মধ্যে 'বা' (باء) হরফটি একটি উহ্য (محذوف) বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট। বসরাবাসী ব্যাকরণবিদগণ একে এভাবে নির্ধারণ করেছেন: 'আমার শুরু করা স্থির বা প্রতিষ্ঠিত', ফলে তাদের নিকট মাজরুর (مجرور) বিশিষ্ট পদটির স্থান হলো রফ (رفع), এবং মুবতাদা (مبتدأ) তথা উদ্দেশ্য পদটি উহ্য রাখা হয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাজীদ ফী ইরাবিল কুরআনিল মাজীদ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
وما يتعلق به المجرور، وقدّره الكوفيون:
بدأت، فموضعه عندهم نصب، ورجح الأول ببقاء أحد (1) جزأي الإسناد، وهو الخبر.
والثاني بأنّ الأصل في العمل للفعل.
وقدّر الزمخشري (2): أقرأ أو أتلوا مؤخّرا، أي: بسم الله اقرأ أو اتلو، .....
لأنّ (3) الذي يجيء بعد التسمية مقروء (4) والتقديم عنده يوجب الاختصاص، وردّ بمنع أنّ التقديم يوجب الاختصاص، فقد (5) نصّ سيبويه (6) على أنّ التقديم (4 أ) للاهتمام والعناية، فقال: (كأنّهم يقدّمون الذي بيانه (7) أهمّ لهم، وهم ببيانه أعنى، وإن كانا جميعا يهمانهم ويعنيانهم)، قلت: هذا موضع قد تكرّر منع الشيخ فيه للزمخشري، وقد استدلّ عليه بكلام سيبويه، فأمّا المنع فجوابه ما نقل من كلام العرب (8):
إيّاك أعني واسمعي يا جاره.
وهذا ظاهر في الحصر، لأنّ المفهوم منه أنّه لا يعني غيره ولم يستفد هذا إلّا من التقديم، والمنع في مثل هذا مكابرة. وبما حكي عن الأصمعيّ (9) أنّه مرّ ببعض أحياء العرب فشتمت رفيقه امرأة ولم يتعيّن الشتم له دون الأصمعي، ثمّ التفت إليها رفيقه فقالت: إيّاك أعني، فقال للأصمعي: انظر كيف حصرت الشتم فيّ.
--------------------------------------------
এবং যার সাথে মাজরুর (مجرور) সম্পৃক্ত, সে সম্পর্কে কুফাবাসীরা অনুমান করেছেন:
‘আমি শুরু করেছি’, তাই তাদের নিকট এর স্থান হলো নসব (نصب)। আর ইসনাদ (إسناد)-এর দুই অংশের একটি তথা খবর (خبر) অবশিষ্ট থাকার কারণে প্রথম মতটিকেই (বসরাবাসীদের মত) প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।
এবং দ্বিতীয় মতের (কুফাবাসীদের) যুক্তি হলো, আমল বা ক্রিয়াশীল হওয়ার ক্ষেত্রে মূল ভিত্তি হলো ক্রিয়া (فعل)।
আর যামাখশারী অনুমান করেছেন: ‘আমি পাঠ করছি’ অথবা ‘আমি তিলাওয়াত করছি’ ক্রিয়াটিকে শেষে উহ্য রেখে, অর্থাৎ: আল্লাহর নামে আমি পাঠ করছি বা তিলাওয়াত করছি, .....
কারণ বিসমিল্লাহর পর যা আসে তা পাঠযোগ্য বিষয়, আর তার মতে (ক্রিয়াকে পরে এনে নামকে) অগ্রবর্তী করা বিশেষত্ব (اختصاص) প্রদান করে। তবে এই মতটি এই বলে খণ্ডন করা হয়েছে যে, অগ্রবর্তী করা সর্বদা বিশেষত্ব (اختصاص) প্রদান করে না। কেননা সিবওয়াইহ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, অগ্রবর্তী করা গুরুত্ব এবং বিশেষ মনোযোগের জন্য হয়ে থাকে। তিনি বলেছেন: (তারা যেন সেই বিষয়টিকেই আগে উপস্থাপন করে যার বর্ণনা তাদের কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ এবং যার প্রতি তারা বেশি যত্নশীল, যদিও উভয় বিষয়ই তাদের কাছে গুরুত্ব বহন করে এবং উভয়টিই তাদের উদ্দেশ্য থাকে)। আমি (লেখক) বলি: এটি এমন একটি বিষয় যেখানে শায়খ (ইবনুল কাইয়্যিম) বারবার যামাখশারীর বিরোধিতা করেছেন এবং এর সপক্ষে সিবওয়াইহের বক্তব্য দ্বারা দলিল পেশ করেছেন। বিরোধিতার ক্ষেত্রে উত্তর হলো যা আরবদের কথা থেকে উদ্ধৃত করা হয়েছে:
‘আমি তোমাকেই উদ্দেশ্য করছি, আর হে প্রতিবেশী! তুমি শোনো।’
এটি সীমাবদ্ধতা (حصر) প্রকাশের ক্ষেত্রে সুস্পষ্ট, কারণ এখান থেকে বোঝা যায় যে তিনি অন্য কাউকে উদ্দেশ্য করছেন না। এই অর্থ কেবল অগ্রবর্তী করার কারণেই অর্জিত হয়েছে। এই জাতীয় ক্ষেত্রে (অর্থের এই বৈশিষ্ট্যকে) অস্বীকার করা হঠকারিতা মাত্র। যেমনটি আসমায়ী সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি আরবের কোনো এক পল্লী দিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন একজন নারী তার সঙ্গীকে গালি দিচ্ছিল, তবে সেই গালি আসমায়ীর প্রতি কি না তা নিশ্চিত ছিল না। এরপর তার সঙ্গী তার দিকে ফিরে তাকালে সে বলল: ‘আমি তোমাকেই উদ্দেশ্য করছি’। তখন সে আসমায়ীকে বলল: ‘দেখুন, সে কীভাবে গালিকে কেবল আমার মধ্যেই সীমাবদ্ধ (حصر) করে দিল।’
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাজীদ ফী ইরাবিল কুরআনিল মাজীদ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
وأمّا كلام س (1) فقد ذكره في (باب الفاعل الذي يتعدّاه فعله إلى مفعول)، قال:
(وذلك قولك: ضرب زيدا عبد الله، ثم قال: كأنّهم يقدّمون .. إلى آخره (. وليس هذا محلّ النزاع، لأنّ الكلام في تقديم المعمول على العامل، لا في تقديمه على الفاعل.
وذكره في (باب ما يكون فيه الاسم مبنيّا على الفعل) (2)، قال: (وذلك قولك: زيدا ضربت، فالاهتمام والعناية هنا في التقديم والتأخير سواء مثله في: ضرب زيد عمرا، وضرب زيدا عمرو). فهذا وإن كان محلّ النزاع فلا حجّة فيه لأنّه إنّما ذكره من الجهة التي شابه بها تقديم الفاعل على المفعول أو العكس في المثالين (4 ب) وليس فيه من هذه الجملة إلّا الاهتمام ولا ينفي ذلك الجهة التي اختصّ بها إذا تقدّم على الفاعل، وهي الحصر (3).
واختلف في حذف الفعل، فقيل: للتخفيف. وقال السّهيليّ (4): (لأنّه موطن لا
ينبغي أن يقدّم فيه إلّا ذكر الله [تعالى]، فلو (5) ذكر الفعل وهو لا يستغني عن فاعله لم يكن ذكر الله مقدّما وكان في حذفه مشاكلة اللفظ للمعنى، كما تقول في الصّلاة: الله أكبر، ومعناه: من كلّ شيء، ولكن يحذف ليكون اللفظ في اللسان مطابقا لمقصود القلب وهو أن لا يكون في القلب إلّا ذكر الله).
وردّ الأول بأنّه لو كان للتخفيف لجاز إظهاره وإضماره لكلّ (6) ما يحذف تخفيفا.
قلت: قوله: لأنّه موطن لا ينبغي أن يقدّم فيه إلّا ذكر الله، لا
--------------------------------------------
আর 'স' (س) [সিবওয়াইহ]-এর বক্তব্যের ব্যাপারে বলা যায়, তিনি তা 'কর্তার (فاعل) অধ্যায় যার ক্রিয়া (فعل) কর্মের (مفعول) দিকে অতিক্রম করে' শীর্ষক পরিচ্ছেদে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন:
(আর তা হলো তোমার কথা: 'জাইদকে আব্দুল্লাহ প্রহার করেছে', তারপর তিনি বললেন: যেন তারা অগ্রবর্তী করছেন... শেষ পর্যন্ত)। এটি বিতর্কের বিষয় নয়, কারণ এখানে আলোচনা হলো আমিল (عامل)-এর ওপর মামুল (معمول)-কে অগ্রবর্তী করা নিয়ে, কর্তার (فاعل) ওপর তাকে অগ্রবর্তী করা নিয়ে নয়।
তিনি এটি 'যেখানে বিশেষ্যটি ক্রিয়ার (فعل) ওপর ভিত্তি করে গঠিত হয়' (২) শীর্ষক অধ্যায়ে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন: (আর তা হলো তোমার কথা: 'জাইদকে আমি প্রহার করেছি', এখানে আগে আনা বা পরে নেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্ব ও মনোযোগ উভয়ই সমান, যেমনটি রয়েছে: 'জায়েদ আমরকে প্রহার করেছে' এবং 'জায়েদকে আমর প্রহার করেছে' বাক্যে)। এটি বিতর্কের বিষয় হলেও এর মধ্যে কোনো প্রমাণ নেই, কারণ তিনি এটি সেই দিক থেকে উল্লেখ করেছেন যা উদাহরণ দুটিতে (৪ খ) কর্মের (مفعول) ওপর কর্তার (فاعل) অগ্রবর্তিতা বা এর বিপরীত হওয়ার সদৃশ। আর এই আলোচনার মধ্যে কেবল গুরুত্ব প্রদানই উদ্দেশ্য, আর এটি সেই দিকটিকে নাকচ করে না যা কর্তার (فاعل) আগে আসার সাথে বিশিষ্ট, আর তা হলো সীমাবদ্ধকরণ (حصر) (৩)।
ক্রিয়া (فعل) বিলোপের (حذف) বিষয়ে মতভেদ হয়েছে। কেউ কেউ বলেছেন: তা সংক্ষেপকরণের (تخفيف) জন্য। সুহায়লী (৪) বলেছেন: (কারণ এটি এমন একটি স্থান যেখানে
আল্লাহর স্মরণ ব্যতীত অন্য কিছু আগে আসা উচিত নয়। যদি ক্রিয়া (فعل) উল্লেখ করা হতো - অথচ তা তার কর্তা (فاعل) ছাড়া অমুখাপেক্ষী নয় - তবে আল্লাহর স্মরণ অগ্রগণ্য হতো না। আর এর বিলোপের (حذف) মধ্যে শব্দের সাথে অর্থের এক প্রকার সামঞ্জস্যতা রয়েছে, যেমনটি তুমি নামাজের ক্ষেত্রে বলো: আল্লাহু আকবার, যার অর্থ হলো: সব কিছু থেকে, কিন্তু এটি বিলোপ (حذف) করা হয় যাতে জিহ্বার শব্দটি হৃদয়ের উদ্দেশ্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়, আর তা হলো হৃদয়ে আল্লাহর স্মরণ ব্যতীত আর কিছু না থাকা)।
প্রথম মতটি এই বলে খণ্ডন করা হয়েছে যে, যদি এটি সংক্ষেপকরণের (تخفيف) জন্য হতো, তবে যা কিছু সংক্ষেপকরণের (تخفيف) জন্য বিলোপ (حذف) করা হয়, সে সব ক্ষেত্রে তা প্রকাশ করা বা উহ্য রাখাও বৈধ হতো।
আমি বলছি: তার এই উক্তি: 'কারণ এটি এমন একটি স্থান যেখানে আল্লাহর স্মরণ ব্যতীত অন্য কিছু আগে আসা উচিত নয়', এটি...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাজীদ ফী ইরাবিল কুরআনিল মাজীদ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
يقتضي (1) وجوب الحذف بل يقتضي التقديم.
وقوله: وكان في حذفه مشاكلة اللفظ للمعنى، قد يمنع له أيضا أن المشاكلة تقتضي وجوب الحذف. انتهى.
«اسم»: فيه خمس لغات (2): كسر الهمزة وضمّها. وسم: بكسر السين وضمّها، وسمّى: مثل هدى.
ومادّته عند البصريين: (س م و) سين وميم وواو، وعند الكوفيين: (وس م) واو وسين وميم.
م: ورجّح الأول بأسماء وسمّي وسمّيت وأسميت. ولو كان على ما قال (3) الكوفيون لقيل: أوسام ووسيم ووسمت وأوسمت. انتهى.
والاسم: هو اللفظ الدالّ بالوضع على موجود في العيان إن كان محسوسا، وفي الأذهان إن كان معقولا، من غير تعرّض ببنيته للزمان ومدلوله هو المسمّى (4).
(5 أ) والتسمية جعل ذلك اللفظ دليلا على المعنى، فهي أمور ثلاثة متباينة، فإذا أسندت حكما إلى لفظ اسم فتارة يكون حقيقة نحو: زيد اسم ابنك (5)، وتارة يكون مجازا.
وهو حيث يطلق الاسم ويراد به المسمّى كقوله تعالى: تَبارَكَ اسْمُ رَبِّكَ (6)
وسَبِّحِ اسْمَ رَبِّكَ (7).
وتأوّل السهيلي (8) سَبِّحِ اسْمَ رَبِّكَ على إقحام الاسم أي سبّح
--------------------------------------------
(১) বিলোপের আবশ্যকতা দাবি করে, বরং এটি অগ্রবর্তী করারই দাবি রাখে।
এবং তাঁর উক্তি: "এর বিলোপের মধ্যে শব্দের সাথে অর্থের সামঞ্জস্য বিদ্যমান", এটিকেও সম্ভবত নাকচ করা যেতে পারে যে, সামঞ্জস্যতা বিলোপের আবশ্যকতা দাবি করে। সমাপ্ত।
‘ইসিম’ (নাম): এতে পাঁচটি শব্দরূপ রয়েছে: হামযাহ-এর কাসরাহ (জের) এবং যম্মাহ (পেশ) যোগে; ‘সিম’ (سم): সীনের কাসরাহ ও যম্মাহ যোগে; এবং ‘সুমা’ (سمى): যেমন ‘হুদা’।
বসরার ব্যাকরণবিদদের মতে এর মূল ধাতু হলো: (স-ম-ও) সীন, মীম ও ওয়াও। আর কুফাবাসীদের মতে: (ও-স-ম) ওয়াও, সীন ও মীম।
(গ্রন্থকার): ‘আসমা’, ‘সুমাই’, ‘সাম্মাইতু’ এবং ‘আসলাইতু’ শব্দগুলোর মাধ্যমে প্রথম মতটিকেই প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। আর কুফাবাসীরা যা বলেছে যদি তেমনই হতো, তবে ‘আওsam’, ‘ওয়াসিম’, ‘ওয়াসামতু’ এবং ‘আওসামতু’ বলা হতো। সমাপ্ত।
আর ‘ইসিম’ (নাম) হলো: এমন শব্দ যা পারিভাষিক সংজ্ঞায়নের মাধ্যমে বাহ্যিক জগতে দৃশ্যমান কোনো বিদ্যমান সত্তার ওপর নির্দেশক হয় যদি তা ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য হয়, অথবা মানসপটে বিদ্যমান কোনো সত্তার ওপর নির্দেশক হয় যদি তা বুদ্ধিবৃত্তিক হয়; যা তার নিজস্ব কাঠামোর দিক থেকে কাল বা সময়ের সাথে সংশ্লিষ্ট নয়। আর এর দ্বারা যা নির্দেশিত হয় তা-ই হলো ‘মুসাম্মা’ (নামধারী সত্তা)।
(৫ ক) আর ‘তাসমিয়াহ’ (নামকরণ) হলো উক্ত শব্দটিকে অর্থের নির্দেশক হিসেবে নির্ধারণ করা। সুতরাং এগুলো তিনটি ভিন্ন ভিন্ন বিষয়। অতএব, আপনি যখন ‘ইসিম’ (নাম) শব্দের ওপর কোনো বিধানারোপ করবেন, তখন তা কখনো বাস্তব অর্থে হবে, যেমন: ‘যায়েদ তোমার পুত্রের নাম’; আবার কখনো রূপক অর্থে হবে।
আর তা সেখানে ঘটে যেখানে ‘ইসিম’ (নাম) শব্দটি উচ্চারণ করা হয় কিন্তু এর দ্বারা ‘মুসাম্মা’ (নামধারী সত্তা) উদ্দেশ্য হয়; যেমন মহান আল্লাহর বাণী: “আপনার প্রতিপালকের নাম অত্যন্ত বরকতময়” এবং “আপনার প্রতিপালকের নামের পবিত্রতা ঘোষণা করুন”।
সুহাইলী ‘আপনার প্রতিপালকের নামের পবিত্রতা ঘোষণা করুন’ আয়াতের ব্যাখ্যায় ‘ইসিম’ (নাম) শব্দটিকে অতিরিক্ত হিসেবে গণ্য করেছেন, অর্থাৎ: ‘আপনি পবিত্রতা বর্ণনা করুন’...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাজীদ ফী ইরাবিল কুরআনিল মাজীদ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
بربّك، وإنّما ذكر الاسم حتى لا يخلوا التسبيح من اللفظ باللسان، لأنّ الذكر بالقلب متعلّقه المسمّى، والذكر باللسان متعلّقه اللفظ.
وتأوّل قوله: ما تَعْبُدُونَ مِنْ دُونِهِ إِلَّا أَسْماءً (1) بأنّها أسماء كاذبة غير واقعة على الحقيقة فكأنّهم لم يعبدوا إلّا الأسماء التي اخترعوها (2).
م: وفي بِسْمِ اللَّهِ ثلاثة أقوال ذكرها أبو البقاء (3):
أحدها: أنّ الاسم هنا بمعنى التسمية، وهي التلفظ بالاسم.
قلت: وفيه نظر.
والثاني: أنّ في الكلام حذف مضاف، أي: باسم مسمّى الله.
والثالث: أنّ اسم زائد. ومنه (4):
إلى الحول ثمّ اسم السلام عليكما وقوله (5):
داع يناديه باسم الماء [مبغوم] أي: السلام عليكما، وينادي بالماء. انتهى.
وحذفت الألف من بِسْمِ اللَّهِ خطّا تخفيفا لكثرة الاستعمال، فلو كتبت: باسم القادر ونحوه، فمذهب الكسائي (6) والأخفش (7) حذف الألف، ومذهب الفرّاء (8)
إثباتها، ولا خلاف في ثبوتها مع غير أسمائه.
--------------------------------------------
আপনার রবের শপথ, ‘ইসম’ (নাম) শব্দটি উল্লেখ করা হয়েছে যাতে তসবিহ বা পবিত্রতা ঘোষণা মৌখিক উচ্চারণ থেকে খালি না থাকে। কারণ অন্তরের জিকির তার উদ্দিষ্ট সত্তার সাথে সংশ্লিষ্ট, আর জিহ্বার জিকির শব্দের সাথে সংশ্লিষ্ট।
এবং তাঁর এই বাণীর ব্যাখ্যা করা হয়েছে: ‘তোমরা তাকে ছাড়া কেবল কিছু নামের ইবাদত করছ’ (১) — এই মর্মে যে, এগুলো বাস্তবতাহীন কিছু মিথ্যা নাম; ফলে তারা যেন তাদেরই আবিষ্কৃত নামগুলো ছাড়া আর কিছুর ইবাদত করত না (২)।
ম: ‘বিসমিল্লাহ’ সম্পর্কে আবু আল-বাকা তিনটি মত উল্লেখ করেছেন (৩):
প্রথমটি: এখানে ‘ইসম’ শব্দটি ‘তাসমিয়াহ’ (নামকরণ) অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে, যা হচ্ছে নাম মুখে উচ্চারণ করা।
আমি বলছি: এতে পর্যালোচনার অবকাশ রয়েছে।
দ্বিতীয়টি: বাক্যে একটি সম্বন্ধপদ (মুদাফ) উহ্য রয়েছে, অর্থাৎ: আল্লাহর নামধারী সত্তার নামে।
তৃতীয়টি: ‘ইসম’ শব্দটি এখানে অতিরিক্ত। এ প্রসঙ্গে কবি লাবিদের পঙক্তি (৪):
‘এক বছর পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত, অতঃপর তোমাদের উভয়ের ওপর শান্তির নাম (সালাম) বর্ষিত হোক।’ এবং কবি যু আল-রুম্মার বাণী (৫):
‘এক আহ্বানকারী তাকে পানির নামে ডাকছে [মাবগুম]’ অর্থাৎ: তোমাদের উভয়ের ওপর সালাম, এবং সে পানির নামে ডাকছে। সমাপ্ত।
অধিক ব্যবহারের কারণে সহজীকরণের উদ্দেশ্যে লিখনশৈলীতে ‘বিসমিল্লাহ’ থেকে আলিফ বিলুপ্ত করা হয়েছে। কিন্তু যদি ‘বিসমিল কাদির’ (পরাক্রমশালীর নামে) বা এই জাতীয় কিছু লেখা হয়, তবে কিসায়ি (৬) ও আখফাশের (৭) মাযহাব অনুযায়ী আলিফ বিলুপ্ত হবে, আর ফাররা-এর (৮) মাযহাব অনুযায়ী তা বহাল থাকবে। তবে আল্লাহর নাম ব্যতীত অন্য নামের ক্ষেত্রে আলিফ বহাল থাকার বিষয়ে কোনো মতভেদ নেই।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাজীদ ফী ইরাবিল কুরআনিল মাজীদ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
اللَّهِ (1): علم لا يطلق إلّا على المعبود بحقّ، والأكثر على أنّه مرتجل.
م: (5 ب) السّهيليّ (2): والألف واللام فيه لازمة، لا لتعريف، بل هكذا وضع.
انتهى.
وقيل: مشتقّ، فأل فيه زائدة لازمة، وحذفها في: (لاه أبوك) شاذّ.
وقيل: (أل) فيه للغلبة، لأنّ الإله ينطلق على المعبود بحقّ أو باطل. والله لا ينطلق (3) إلّا على المعبود بحقّ، فصار كالنجم للثريا.
وردّ بأنّ الكلام فيه بعد الحذف والنقل والإدغام وهو كذلك لا ينطلق إلّا على المعبود بحقّ فقط. فلا يصحّ أن تكون (4) (أل) فيه للغلبة.
وتجيء (5) (أل) لمعان (6):
للعهد في شخص، كقوله تعالى: فَعَصى فِرْعَوْنُ الرَّسُولَ (7)، أو في جنس، نحو:
استقني الماء.
وللحضور، نحو: خرجت فإذا الأسد.
وللمح الصفة، كالحرث.
وللغلبة، كالدّبران (8).
وموصولة، كالتي في نحو: الضارب والمضروب.
وزائدة لازمة، كالتي في الآن. وغير لازمة كالتي في قوله (9).
--------------------------------------------
আল্লাহ (১): এটি এমন একটি নাম যা কেবল সত্য উপাস্য ব্যতীত অন্য কারো ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হয় না। অধিকাংশের মতে এটি একটি মৌলিক শব্দ।
পাণ্ডুলিপি: (৫ ব) আল-সুহায়লি (২): এর মধ্যকার আলিফ এবং লাম অপরিহার্য, এটি নির্দিষ্টকরণের জন্য নয়, বরং এটি এভাবেই গঠিত হয়েছে।
সমাপ্ত।
কারো মতে: এটি ব্যুৎপন্ন, আর এতে থাকা ‘আল’ বর্ণটি অতিরিক্ত ও অপরিহার্য; আর ‘লাহা আবুক’ বাক্যে এর বিলুপ্তি বিরল (شاذ)।
আবার কারো মতে: এতে ‘আল’ প্রাধান্য বা প্রসিদ্ধি অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে, কারণ ‘ইলাহ’ শব্দটি সত্য বা মিথ্যা উভয় প্রকার উপাস্যের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। কিন্তু ‘আল্লাহ’ শব্দটি কেবল সত্য উপাস্য ব্যতীত অন্য কারো ক্ষেত্রে প্রয়োগ (৩) করা হয় না; ফলে এটি সুরাইয়া নক্ষত্রের জন্য ‘আন্-নাজম’ (তারকা) শব্দটি নির্দিষ্ট হওয়ার মতো হয়ে গিয়েছে।
কিন্তু এই মতটি প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে এই যুক্তিতে যে, শব্দটিতে বিলুপ্তি, স্বরবর্ণের স্থানান্তর এবং সন্ধির পরবর্তী রূপটিও এমন যা কেবল সত্য উপাস্য ছাড়া অন্য কারো ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয় না। সুতরাং এতে (৪) ‘আল’ প্রাধান্য বা প্রসিদ্ধি অর্থে হওয়া সঠিক নয়।
‘আল’ (৫) বিভিন্ন অর্থের (৬) জন্য আসে:
কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বুঝাতে, যেমন আল্লাহ তাআলার বাণী: “অতঃপর ফিরআউন সেই রাসুলের অবাধ্য হলো” (৭); অথবা কোনো নির্দিষ্ট প্রজাতি বুঝাতে, যেমন: আমাকে পানি পান করাও।
উপস্থিতি বুঝাতে, যেমন: আমি বের হলাম, অমনি সিংহটি সামনে পড়ল।
কোনো গুণের প্রতি ইঙ্গিত করতে, যেমন: আল-হারিস।
প্রাধান্য বা প্রসিদ্ধির জন্য, যেমন: আদ্-দাবারান (৮)।
সম্বন্ধবাচক হিসেবে, যেমন: প্রহারকারী ও প্রহৃত শব্দের শুরুতে থাকা ‘আল’।
অতিরিক্ত ও অপরিহার্য হিসেবে, যেমন ‘আল-আন’ (এখন) শব্দে। এবং অতিরিক্ত অনপরিহার্য হিসেবে যেমন তার উক্তিতে (৯) রয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাজীদ ফী ইরাবিল কুরআনিল মাজীদ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
باعد أمّ العمر من أسيرها
حرّاس أبواب على قصورها وأداة التعريف اللام وحدها. وقيل: أل، والألف زائدة. وقيل: أصلية (1).
وعلى الاشتقاق في الاسم المعظّم ففي مادته أربعة أقوال:
أحدها: إنّ مادتها لام وياء وهاء، من: لاه يليه، أي: ارتفع. ولذلك قيل للشمس:
إلاهة، بكسر الهمزة وفتحها. وذكر صاحب الصحاح (2) أنّ س (3) جوّزه، انتهى.
الثاني: إنّ مادته لام وواو وهاء، من: لا يلوه، أي: احتجب أو استنار، ووزنه على هذا: فعل، بفتح العين كقام، أو بضمّها كطال.
(6 أ) قلت: والألف على القولين منقلبة عن الياء أو الواو، لتحركها وانفتاح ما قبلها. انتهى.
الثالث: إنّ مادته همزة ولام وهاء، من أله أي: عبد، فإلاه: فعال بمعنى مفعول، كالكتاب بمعنى المكتوب، والألف التي بين اللام والهاء زائدة. والهمزة أصلية، وحذفت اعتباطا كما في: ناس، وأصلها: أناس.
م: السّهيليّ (4): وعوض عنها حرف التعريف، ولذلك قيل: يا الله، بالقطع، كما يقال: يا إله.
--------------------------------------------
উম্মে আমরের প্রাসাদসমূহের দরজার প্রহরীরা তার বন্দীকে দূরে সরিয়ে রেখেছে।
প্রাসাদসমূহের দরজার প্রহরীগণ; এবং নির্দিষ্টকারী অব্যয় (أداة التعريف) হলো কেবল ‘লাম’। বলা হয়েছে: এটি ‘আল’ (أل), এবং ‘আলিফ’টি অতিরিক্ত। আবার বলা হয়েছে: এটি মূল (أصلية) (১)।
এই মহান নামের ব্যুৎপত্তি (اشتقاق) সম্পর্কে এর মূল উপাদান (مادة) নিয়ে চারটি অভিমত রয়েছে:
প্রথমটি: এর মূল উপাদান (مادة) হলো ‘লাম’, ‘ইয়া’ এবং ‘হা’, যা ‘লাহা-ইয়ালিহি’ থেকে উৎপন্ন, যার অর্থ: উচ্চ হওয়া। এই কারণে সূর্যকে বলা হয়:
‘ইলাহাহ’, হামযার কাসরা (জের) এবং ফাতহা (জবর) যোগে। সিহাহ-এর রচয়িতা (২) উল্লেখ করেছেন যে, ‘সি’ (৩) (সিবাওয়াইহ) এটিকে বৈধ বলেছেন। সমাপ্ত।
দ্বিতীয়টি: এর মূল উপাদান (مادة) হলো ‘লাম’, ‘ওয়াও’ এবং ‘হা’, যা ‘লাহা-িয়ালুহু’ থেকে উৎপন্ন, যার অর্থ: অন্তরাল গ্রহণ করা বা আলোকোজ্জ্বল হওয়া। এই অনুযায়ী এর ওজন (وزن) হলো: ‘ফা’আলা’ (فعل), ‘আইন’ বর্ণটি ফাতহা (জবর) যুক্ত হওয়া সাপেক্ষে যেমন ‘ক্বামা’, অথবা দম্মা (পেশ) যুক্ত হওয়া সাপেক্ষে যেমন ‘ত্বালা’।
(৬ ক) আমি বলছি: উভয় অভিমত অনুযায়ী ‘আলিফ’ বর্ণটি ‘ইয়া’ বা ‘ওয়াও’ থেকে পরিবর্তিত হয়েছে, কারণ এটি নিজে হরকতবিশিষ্ট এবং তার পূর্ববর্ণটি ফাতহা (জবর) যুক্ত। সমাপ্ত।
তৃতীয়টি: এর মূল উপাদান (مادة) হলো ‘হামযা’, ‘লাম’ এবং ‘হা’, যা ‘আলাহা’ থেকে উৎপন্ন যার অর্থ: ইবাদত করা। সুতরাং ‘ইলাহ’ শব্দটি ‘ফি’আল’ (فعال) ওজনে কর্মবাচ্য (مفعول) অর্থে ব্যবহৃত হয়, যেমন ‘কিতাব’ শব্দটি ‘মাকতুব’ (লিখিত) অর্থে ব্যবহৃত হয়। আর ‘লাম’ ও ‘হা’ বর্ণের মাঝখানের ‘আলিফ’টি অতিরিক্ত। ‘হামযা’টি মূল (أصلية), যা কোনো সুনির্দিষ্ট নিয়ম ছাড়াই বিলুপ্ত করা হয়েছে যেমন ‘নাস’ শব্দে হয়েছে, যার মূল ছিল ‘উনাস’।
ম: আস-সুহাইলি (৪): এর পরিবর্তে নির্দিষ্টকারী বর্ণ (حرف التعريف) যুক্ত করা হয়েছে। একারণেই বলা হয়: ‘ইয়া আল্লাহ’, হামজাতুল ক্বত’ সহযোগে, যেমন বলা হয়: ‘ইয়া ইলাহ’।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাজীদ ফী ইরাবিল কুরআনিল মাজীদ
(পৃষ্ঠা: ৩১)
وعلّل في الصحاح (1) قطع الهمزة في (يا الله) بأنّ الوقف نوي على حرف النداء تفخيما للاسم.
وقيل: حذفت لنقل حركتها إلى لام التعريف قبلها، وحذفها لازم على القولين، وكلاهما شاذّ.
الرابع: أنّ مادته واو ولام وهاء، من: وله، أي: طرب، وأبدلت الهمزة فيه من واو كإشاح، قاله الخليل (2). وضعّف بلزوم البدل.
وزعم بعضهم أنّ (أل) فيه من نفس الكلمة، ووصلت همزته لكثرة الاستعمال، وردّ
بأنّه لو كان كذلك لنوّن، لأنّ وزنه حينئذ (فعّال) ولا موجب لحذف التنوين.
والقول بأنّ أصله (لاها) بالسريانية ثمّ عرّب غريب (3).
وكذا القول إنّه صفة وليس اسم ذات، لأنّ ذاته لا تعرف [غريب].
وحذفت الألف التي بين اللام والهاء خطّا لئلا يلتبس ب (اللاهي) (4) اسم فاعل.
م: ابن عطية (5): لئلا يشكل (6) بخطّ (اللات). انتهى.
قلت: وفيه نظر، لأنّ (اللات) بخطّ المصحف بدون ألف (7).
وقيل: حذفت (6 ب) تخفيفا.
--------------------------------------------
আস-সিহাহ (১) গ্রন্থে ‘ইয়া আল্লাহ’ শব্দে হামজাতুল কাত হওয়ার কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, নামের মহিমা প্রকাশের উদ্দেশ্যে নিদা বা সম্বোধনসূচক বর্ণের ওপর বিরতি দেওয়ার নিয়ত করা হয়।
এবং বলা হয়েছে যে: এর হরকত তার পূর্ববর্তী লামে তারিফের দিকে স্থানান্তরের কারণে এটি বিলুপ্ত হয়েছে এবং উভয় মতেই একে বিলুপ্ত করা আবশ্যক; আর উভয় মতই ব্যতিক্রমী (شاذّ)।
চতুর্থত: এর মূল উপাদান হলো ওয়াও, লাম এবং হা; যা ‘ওয়ালাহ’ থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ: ব্যাকুলতা। এখানে ‘ইশাহ’ শব্দের মতো ওয়াও-এর পরিবর্তে হামযা স্থলাভিষিক্ত হয়েছে—এটি আল-খালিল (২) বলেছেন। তবে পরিবর্তনের আবশ্যকতা থাকার কারণে এই মতটিকে দুর্বল (ضعيف) সাব্যস্ত করা হয়েছে।
কেউ কেউ দাবি করেছেন যে, এতে থাকা ‘আল’ শব্দটিরই অংশ এবং অধিক ব্যবহারের কারণে এর হামযাকে হামজাতুল ওয়াসল করা হয়েছে। তবে তা প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে
এই যুক্তিতে যে, যদি বিষয়টি এমন হতো তবে তাতে তানউইন হতো, কারণ তখন এর ওজন হতো ‘ফাউআল’ এবং তানউইন বিলুপ্ত করার কোনো কারণ থাকত না।
এই মতটি যে এর মূল সিরিয়াক ভাষায় ‘লাহা’ এবং পরবর্তীতে আরবিকরণ করা হয়েছে তা হলো বিরল (غريب) (৩)।
অনুরূপভাবে এই কথাটিও যে এটি একটি গুণবাচক শব্দ, সত্তাবাচক নাম নয়; কারণ তাঁর সত্তা পরিজ্ঞাত নয়—এটিও [বিরল (غريب)]।
এবং লেখার সময় লাম ও হা-এর মধ্যবর্তী আলিফটিকে বিলুপ্ত করা হয়েছে যাতে এটি ইসম ফায়িল হিসেবে ‘আল-লাহি’ (৪) এর সাথে গুলিয়ে না যায়।
ম: ইবনে আতিয়াহ (৫): যাতে ‘আল-লাত’ এর লিপির সাথে বিভ্রান্তি (৬) তৈরি না হয়। সমাপ্ত।
আমি বলি: এতে পর্যালোচনার সুযোগ রয়েছে, কারণ মুসহাফের লিপিতে ‘আল-লাত’ আলিফ ছাড়াই লেখা হয় (৭)।
এবং বলা হয়েছে যে, (৬ খ) উচ্চারণের সহজবোধ্যতার জন্য এটি বিলুপ্ত করা হয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাজীদ ফী ইরাবিল কুরআনিল মাজীদ
(পৃষ্ঠা: ৩২)
وقيل: هي لغة فاستعملت خطّا.
الرَّحْمنِ (1) فعلان من الرحمة، وأصل بنائه من الفعل اللازم للمبالغة وشذّ من المتعدي، وهو وصف لم يستعمل لغيره، كما لم يستعمل اسمه في غيره.
م: السّهيليّ: وأمّا قولهم: رحمان اليمامة:
وأنت غيث الورى لا زلت رحمانا (2).
فباب من تعنتهم في كفرهم. انتهى.
وأل فيه للغلبة.
قلت: ويرد عليه ما ورد على القول بأنّ (أل) في الله للغلبة، وقد تقدّم. انتهى.
وسمعت إضافته فقالوا: رحمان الدنيا والآخرة.
وإذا قلت: الله رحمان، بدون أل (3) وإضافة، فقيل: يصرف، لأنّ أصل الاسم الصرف. وقيل: لا يصرف (4)، لأنّ الغالب في (فعلان) المنع من الصرف.
م: وبنى [ابن] الحاجب (5) القولين على أن العلّة المفهومة للوصف انتفاء (فعلانة) وليس له فعلانة، فيمتنع من الصرف، أو وجود فعلي وليس له (فعلى) فينصرف. واختار الأوّل. انتهى.
--------------------------------------------
বলা হয়েছে: এটি একটি ভাষাগত রীতি যা পরবর্তীতে লিখনরীতিতে প্রযুক্ত হয়েছে।
‘আর-রাহমান’ (১) শব্দটি ‘রাহমত’ থেকে ‘ফালান’ ওজনে গঠিত। এর মূল গঠন আধিক্য প্রকাশের জন্য অকর্মক ক্রিয়া থেকে হয়ে থাকে, তবে সকর্মক ক্রিয়া থেকে এর ব্যবহার বিরল। এটি এমন এক গুণবাচক বিশেষ্য যা মহান আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো জন্য ব্যবহৃত হয় না, ঠিক যেভাবে তাঁর নাম (আল্লাহ) অন্য কারো জন্য ব্যবহৃত হয় না।
ম: সুহায়লি বলেন: আর তাদের উক্তি ‘রাহমানুল ইয়ামামা’ (ইয়ামামার রাহমান) প্রসঙ্গে:
“আপনি সৃষ্টির জন্য বৃষ্টিস্বরূপ, আপনি সর্বদা রাহমান হয়েই থাকুন” (২)।
এটি তাদের কুফরির ক্ষেত্রে হঠকারিতার একটি অধ্যায় মাত্র। সমাপ্ত।
আর এতে ‘আলিফ-লাম’ এসেছে প্রাধান্য বুঝাতে।
আমি বলি: ‘আল্লাহ’ শব্দে ‘আলিফ-লাম’ প্রাধান্য বুঝাতে আসার বিষয়ে যে আপত্তি উত্থাপিত হয়, এখানেও সেই একই আপত্তি আসবে যা ইতিপূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে। সমাপ্ত।
এর সম্বন্ধযুক্ত ব্যবহারও শ্রুত হয়েছে, যেমন তারা বলে: ‘দুনিয়া ও আখিরাতের রাহমান’।
যখন আপনি বলবেন: ‘আল্লাহু রাহমান’, আলিফ-লাম (৩) ও সম্বন্ধযুক্ত ব্যবহার ব্যতিরেকে, তখন কেউ কেউ বলেন: এটি তানউইন গ্রহণকারী হবে, কারণ নামের মূল প্রকৃতি হলো তানউইন গ্রহণ করা। আবার কেউ কেউ বলেন: এটি তানউইন গ্রহণ করবে না (৪), কারণ ‘ফালান’ ওজনের শব্দের ক্ষেত্রে তানউইন গ্রহণ না হওয়াটাই প্রধান বৈশিষ্ট্য।
ম: ইবনুল হাজিব (৫) এই দুই অভিমতকে এই ভিত্তির ওপর দাঁড় করিয়েছেন যে, গুণবাচক হওয়ার ক্ষেত্রে বোধগম্য কারণটি হলো ‘ফালানাহ’ ওজনের অনুপস্থিতি। যেহেতু এর কোনো ‘ফালানাহ’ রূপ নেই, তাই এটি তানউইন গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকবে। অথবা ‘ফা’লা’ ওজনের অস্তিত্ব। যেহেতু এর কোনো ‘ফা’লা’ রূপ নেই, তাই এটি তানউইন গ্রহণ করবে। তিনি প্রথম মতটিকেই বেছে নিয়েছেন। সমাপ্ত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাজীদ ফী ইরাবিল কুরআনিল মাজীদ
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
وقال ثعلب (1): إنّه اسم أعجمي، بالخاء المعجمة، ثمّ عرّب بالحاء المهملة.
وهو غريب.
واختلف في إعرابه: فالجماعة على أنّه صفة لله. وردّه الأعلم (2) بأنّه علم، لوروده غير تابع لاسم قبله، قال تعالى: الرَّحْمنُ عَلَى الْعَرْشِ اسْتَوى (5) (3)، وقال:
الرَّحْمنُ (1) عَلَّمَ الْقُرْآنَ (2) (4)، فلا يكون وصفا ولا يعارض علميته اشتقاقه من الرحمة، لأنّه وإن كان (7 أ) مشتقّا منها فقد صيغ للعلمية، كالدّبران وإن كان مشتقّا من دبر لكنّه صيغ للعلمية. ولهذا جاء على بناء لا يكون في النعوت وهو فعلان فليس كالرحيم والراحم (5).
وأجيب: بأنّه وصف يراد به الثناء (6)، وإن كان يجري مجرى الأعلام، واختاره السهيليّ (7). الثاني: أنّه بدل، وردّه السهيليّ مع عطف البيان بأنّ الاسم الأول يعني الله لا يفتقر إلى تبيين، لأنّه أعرف الأعلام كلّها، ولهذا قالوا: وَمَا الرَّحْمنُ (8) ولم يقولوا:
وما الله؟.
الرَّحِيمِ (9): فعيل حوّل من فاعل للمبالغة، وهو أحد الأمثلة الخمسة، وهي:
فعول وفعّال ومفعال وفعيل وفعل. وزاد بعضهم [فيها] فعّيلا كسكّير (10).
--------------------------------------------
এবং ছালাব (১) বলেন: এটি একটি অনারব নাম, যা বিন্দুযুক্ত 'খা' বর্ণ সহযোগে ছিল, অতঃপর বিন্দুবর্জিত 'হা' বর্ণ দ্বারা আরবিকরণ করা হয়েছে।
এবং এটি একটি বিরল (غريب) মত।
এর ব্যাকরণগত বিশ্লেষণের (ইরব) ব্যাপারে মতভেদ রয়েছে: জমহুর বা সংখ্যাগরিষ্ঠ উলামাগণের মতে এটি আল্লাহর একটি গুণবাচক বিশেষণ। আল-আলাম (২) একে প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন যে এটি একটি নামবাচক বিশেষ্য; কারণ এটি তার পূর্ববর্তী কোনো নামের অনুগামী (সিফাত) হিসেবে আসেনি। মহান আল্লাহ বলেন: "পরম করুণাময় আরশের ওপর সমাসীন হলেন" (ত্বহা: ৫), এবং তিনি বলেন:
"পরম করুণাময়, তিনি কুরআন শিক্ষা দিয়েছেন" (আর-রাহমান: ১-২), সুতরাং এটি বিশেষণ হবে না। আর এর নামবাচকতা তার 'রাহমত' থেকে ব্যুৎপত্তি হওয়ার পরিপন্থী নয়; কারণ এটি (৭-ক) যদিও তা থেকে ব্যুৎপন্ন, তবুও একে নামবাচকতার জন্যই গঠন করা হয়েছে; যেমন 'আদ-দাবারান' শব্দটি যদিও 'দুবুর' থেকে ব্যুৎপন্ন, তবুও তা নামবাচক বিশেষ্য হিসেবে গঠিত। এই কারণেই এটি এমন এক ছাঁচে বা গঠনে এসেছে যা গুণবাচক বিশেষণে ব্যবহৃত হয় না, আর তা হলো 'ফালান' ছন্দ। ফলে এটি 'রাহিম' বা 'রাহিম'-এর মতো নয় (৫)।
এর উত্তরে বলা হয়েছে: এটি এমন একটি বিশেষণ যা দ্বারা প্রশংসা (৬) উদ্দেশ্য, যদিও এটি নামবাচক বিশেষ্যের ন্যায় ব্যবহৃত হয়। আস-সুহাইলি (৭) এই মতটিকেই পছন্দ করেছেন। দ্বিতীয় মত: এটি 'বাদাল' (পরিবর্তক)। আস-সুহাইলি একে 'আতফ আল-বায়ান' হওয়ার সম্ভাবনা সহ এই যুক্তিতে প্রত্যাখ্যান করেছেন যে, প্রথম নামটি—অর্থাৎ 'আল্লাহ' শব্দটি—কোনো ব্যাখ্যার মুখাপেক্ষী নয়; কারণ এটি সকল নামবাচক বিশেষ্যের মধ্যে সর্বাধিক পরিচিত। এই কারণেই তারা বলেছিল: "আর 'আর-রাহমান' (৮) আবার কে?" তারা এটি বলেনি যে:
"আর আল্লাহ কে?"।
আর-রাহিম (৯): এটি 'ফায়িল' ছন্দের শব্দ যা আধিক্য বুঝানোর জন্য 'ফাইল' থেকে রূপান্তরিত হয়েছে। এটি মুবালাগার পাঁচটি উদাহরণের একটি, সেগুলো হলো:
ফাউল, ফায়্যাল, মিফআল, ফায়িল এবং ফাইল। কেউ কেউ এতে 'ফিক্কিল' ছন্দকেও যুক্ত করেছেন যেমন: 'সিল্কির' (১০)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাজীদ ফী ইরাবিল কুরআনিল মাজীদ
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
وجاء فعيل بمعنى مفعول، قال العملّس (1):
فأمّا إذا عضّت بك الحرب عضّة
… فإنّك معطوف عليك رحيم
واختلف في دلالة (الرّحمن الرّحيم)، فقيل: واحدة كندمان ونديم. وقيل: مختلفة، فقيل (2): الرحمن أبلغ، وعلى هذا فكان القياس أن يترقّى إلى الأبلغ، فيقال: رحيم رحمان، كما يقال: عالم نحرير، ولكن لمّا كان الرّحمن يتناول جلائل النّعم وعظائمها أردف بالرحيم ليكون كالتتمة له في تناول ما رقّ منها ولطف. وقيل: الرحيم أبلغ. وقيل:
جهة المبالغة مختلفة، ففعلان مبالغته من حيث الامتلاء والغلبة، كسكران وغضبان، وفعيل من حيث تكرار الوقوع بمحال الرحمة، ولذلك (7 ب) لا يتعدّى فعلان ويعدّى فعيل كفاعل. حكى ابن سيّده (3): زيد حفيظ علمك وعلم غيرك.
م. أبو البقاء (4): وجرّهما، يعني الرحمن الرحيم، على الصفة، والعامل في الصفة (5) هو العامل في الموصوف.
وقال الأخفش (6): العامل فيهما معنوي، وهو كونهما تبعا، ويجوز نصبهما على تقدير: أعني، ورفعهما على تقدير: هو. انتهى.
والجمهور على جرّ ميم الرّحيم ووصل ألف الحمد.
وقرأ قوم من الكوفيين بسكون الميم وقفا، ويبتدئون بهمزة مقطوعة.
--------------------------------------------
এবং 'ফায়ীল' (فعيل) ওজনটি 'মাফউল' (مفعول) এর অর্থে এসেছে। আল-আমাল্লাস (১) বলেন:
পক্ষান্তরে যুদ্ধ যখন তোমাকে প্রচণ্ডভাবে দংশন করবে... তখন তোমার প্রতি দয়া করা হবে এবং তুমি দয়ালু হবে।
‘আর-রাহমান আর-রাহিম’ এর অর্থগত নির্দেশের ব্যাপারে মতভেদ রয়েছে। কেউ বলেন: শব্দ দুটি ‘নাদমান’ ও ‘নাদীম’ এর ন্যায় একই অর্থবোধক। আবার কেউ বলেন: এগুলো ভিন্ন অর্থবোধক। বলা হয়েছে (২): ‘আর-রাহমান’ শব্দটি অধিক অর্থবহ (أبلغ)। এই মতানুসারে ভাষাগত নিয়ম ছিল অল্প থেকে অধিকতর অর্থের দিকে ধাবিত হওয়া, ফলে বলা হতো: ‘রাহিম রাহমান’, যেমন বলা হয়: ‘আলিম নাহরীর’ (পণ্ডিত ও সুনিপুণ)। কিন্তু ‘আর-রাহমান’ শব্দটি যেহেতু মহান ও বড় বড় নেয়ামতগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করে, তাই এর সাথে ‘আর-রাহিম’ যুক্ত করা হয়েছে যাতে সূক্ষ্ম ও দয়াঘন বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে এটি একটি পূর্ণতা দানকারী হিসেবে গণ্য হয়। আবার কেউ বলেছেন: ‘আর-রাহিম’ শব্দটিই অধিক অর্থবহ (أبلغ)। অন্য মতে বলা হয়েছে:
অতিশয়োক্তির (مبالغة) দিকটি ভিন্ন ভিন্ন। ‘ফালান’ (فعلان) ওজনের অতিশয়োক্তি (مبالغة) আধিক্য ও পূর্ণতার দিক থেকে হয়, যেমন: ‘সাকরান’ (মাতাল) ও ‘গাদবান’ (ক্রুদ্ধ)। আর ‘ফায়ীল’ (فعيل) ওজনের অতিশয়োক্তি (مبالغة) দয়ার স্থানে বারবার সংঘটিত হওয়ার দিক থেকে হয়। এই কারণেই (৭ খ) ‘ফালান’ (فعلان) ওজনের শব্দ সকর্মক (لا يتعدّى) হয় না, কিন্তু ‘ফায়ীল’ (فعيل) ওজনটি ‘ফাঈল’ (فاعل) এর ন্যায় সকর্মক (يعدّى) হয়। ইবনে সীদাহ (৩) বর্ণনা করেছেন: ‘যায়েদ তোমার ও অন্যদের ইলমের রক্ষক (حفيظ)’।
আবু আল-বাকা (৪): তিনি এ দুটিকে, অর্থাৎ আর-রাহমান ও আর-রাহিম-কে গুণ (صفة) হিসেবে যের (جر) প্রদান করেছেন। আর গুণের (صفة) ক্ষেত্রে আমিল (عامل) বা প্রভাবক সেটিই যা মাওসুফ (موصوف) বা বিশেষ্যের ক্ষেত্রে আমিল (عامل) হিসেবে কাজ করে (৫)।
আল-আখফাশ (৬) বলেছেন: এই দুটির ক্ষেত্রে আমিল (عامل) হলো অর্থগত (معنوي), আর তা হলো এ দুটির অনুগামী হওয়া। ‘আনি’ (অর্থাৎ) উহ্য ধরে এ দুটিকে নসব (نصب) প্রদান করা এবং ‘হুয়া’ (তিনি) উহ্য ধরে এ দুটিকে রফ (رفع) প্রদান করাও বৈধ। সমাপ্ত।
অধিকাংশ (الجمهور) উলামার অভিমত হলো ‘আর-রাহিম’ এর ‘মিম’ অক্ষরে যের (جر) প্রদান করা এবং ‘আলহামদু’ এর ‘আলিফ’ এর সাথে মিলিয়ে পড়া।
কুফাবাসীদের একটি দল থামার সময় ‘মিম’ সাকিন করে পড়তেন এবং তারা নতুন করে শুরু করার সময় হামযাহ ক্বাতয়ী (همزة مقطوعة) দিয়ে শুরু করতেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাজীদ ফী ইরাবিল কুরআনিল মাজীদ
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
وحكى الكسائيّ (1) عن بعض العرب أنّه قرأ: الرحيم الحمد، بفتح الميم ووصل الألف، كأنّه سكّن الميم وقطع الألف، ثمّ ألقى حركتها على الميم وحذفها. ولم ترو [هذه] (2) قراءة عن أحد. [والله سبحانه وتعالى أعلم].
--------------------------------------------
আল-কিসায়ী (১) কতিপয় আরবের সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে, তারা পাঠ করেছেন: 'আর-রাহীমি আল-হামদু', মীমের ওপর ফাতহাহ (জবর) প্রদান এবং আলিফকে সংযুক্ত (وصل) করার মাধ্যমে; বিষয়টি এমন যেন তিনি মীমকে সাকিন (স্থির) করেছেন এবং আলিফকে বিচ্ছিন্ন (قطع) করেছেন, অতঃপর আলিফের স্বরচিহ্ন (حركة) মীমের ওপর অর্পণ করেছেন এবং আলিফকে বিলোপ করেছেন। আর এই পঠনরীতি (قراءة) কারো পক্ষ থেকে বর্ণিত (روي) হয়নি। [এবং আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলাই সর্বাধিক অবগত]।
--------------------------------------------