(খণ্ড: ১)
আল-হিওয়ারু মাআ আতবাউল আদইয়ান - মাশরুউইয়াতুহু ওয়া আদাবুহু
(পৃষ্ঠা: -)
الحوار مع أتباع الأديان - مشروعيته وآدابه القسم: كتب عامة
الكتاب: الحوار مع أتباع الأديان - مشروعيته وآدابه
المؤلف: منقذ بن محمود السقار
الناشر: رابطة العالم الإسلامي
عدد الصفحات: 86
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 7 ربيع الآخر 1433
অন্য ধর্মের অনুসারীদের সাথে সংলাপ - এর বৈধতা ও শিষ্টাচার বিভাগ: সাধারণ বইসমূহ
বই: অন্য ধর্মের অনুসারীদের সাথে সংলাপ - এর বৈধতা ও শিষ্টাচার
লেখক: মুনকিজ বিন মাহমুদ আস-সাক্কার
প্রকাশক: রাবিতা আল-আলাম আল-ইসলামি
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৮৬
[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]
শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ৭ রবিউল আখের ১৪৩৩
(খণ্ড: ১)
আল-হিওয়ারু মাআ আতবাউল আদইয়ান - মাশরুউইয়াতুহু ওয়া আদাবুহু
(পৃষ্ঠা: -)
الحوار مع أتباع الأديان
(مشروعيته وآدابه)
د. منقذ بن محمود السقار
অন্য ধর্মাবলম্বীদের সাথে সংলাপ
(এর বৈধতা (مشروعية) ও শিষ্টাচার (آداب))
ড. মুনকিজ বিন মাহমুদ আস-সাক্কার
(খণ্ড: ১)
আল-হিওয়ারু মাআ আতবাউল আদইয়ান - মাশরুউইয়াতুহু ওয়া আদাবুহু
(পৃষ্ঠা: ৫)
مقدمةالحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على أنبياء الله أجمعين، عليهم وعلى نبينا أزكى الصلاة وأتم التسليم، وبعد:
فقد خلق الله آدم عليه السلام، وندبه وذريته من بعده إلى عمارة الأرض بمنهج الله: {إني جاعل في الأرض خليفة} (البقرة: 30)، ودعاهم تبارك وتعالى إلى التمسك بهديه الذي أرسل به أنبياءه: {فإما يأتينكم مني هدى فمن تبع هداي فلا خوف عليهم ولا هم يحزنون} (البقرة: 38).
وشاء الله بحكمته البالغة أن يختلف البشر في اتباعهم لأنبياء الله ورسله، فمنهم شقي وسعيد، وأرسل الله الأنبياء يقيمون حجته على خلقه، يدعونهم إلى دين الله الذي ارتضاه لخلقه ديناً ليكونوا من السعداء، ويحذرونهم من عصيان أمره حتى لا يكونوا من الأشقياء، ولكن إرسالهم لن يمنع تحقق ما قد سبق في علم الله، فإن أكثر الناس لا يؤمنون {وما أكثر الناس ولو حرصت بمؤمنين} (يوسف: 103).
وأمام هذه السنة الكونية فإن المسلم مطالب بدعوة الآخرين إلى الحق الذي شرح الله به صدره، وهو على يقين بأن هداية الله قد لا تكتب لكثيرين ممن يدعوهم، فلا يمنعه ذلك من بلاغهم: {إن عليك إلا البلاغ} (الشورى: 48).
وحين يعرض الناس عن دعوة الله ولا يؤمنون بها، فإن المسلم لا يتوقف عن التفاعل مع الآخرين اجتماعياً وحضارياً، رائده في ذلك كتاب ربه، وأسوته نبيه صلى الله عليه وسلم، إذ القرآن أمر بالإحسان إلى الوالدين والجار، ولو كانوا على غير دين الإسلام، كما حثّ على البر وحسن العشرة مع الذين لم يتصدوا لمقاتلة المسلمين والاعتداء عليهم، كما كانت حياته صلى الله عليه وسلم نبراساً في التسامح وحسن التعايش مع الآخرين، ممن اختاروا إلفهم من العقائد والأديان.
واليوم وقد أصبح العالم قرية صغيرة تتلاقح فيها الثقافات عبر وسائل الإعلام المختلفة، تزداد الحاجة إلى الحوار، وإلى ضرورة تأصيله من الناحية
ভূমিকাসকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। আল্লাহর সকল নবীগণের ওপর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক—তাঁদের ওপর এবং আমাদের নবীর ওপর বর্ষিত হোক পবিত্রতম সালাত ও পূর্ণাঙ্গতম সালাম। অতঃপর:
নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা আদম (আলাইহিস সালাম)-কে সৃষ্টি করেছেন এবং তাঁকে ও তাঁর পরবর্তী বংশধরদেরকে আল্লাহর প্রদর্শিত পন্থায় পৃথিবী আবাদের জন্য উদ্বুদ্ধ করেছেন: {নিশ্চয়ই আমি পৃথিবীতে একজন প্রতিনিধি সৃষ্টি করছি} (আল-বাকারা: ৩০)। আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা তাঁদেরকে তাঁর সেই হিদায়াত আঁকড়ে ধরার আহ্বান জানিয়েছেন যা দিয়ে তিনি তাঁর নবীগণকে পাঠিয়েছেন: {অতঃপর যখন আমার পক্ষ থেকে তোমাদের কাছে কোনো হিদায়াত আসবে, তখন যারা আমার হিদায়াত অনুসরণ করবে তাদের কোনো ভয় থাকবে না এবং তারা চিন্তিতও হবে না} (আল-বাকারা: ৩৮)।
আল্লাহ তাঁর সুগভীর হিকমতের মাধ্যমে চাইলেন যে, আল্লাহর নবী ও রাসূলগণের অনুসরণের ক্ষেত্রে মানুষ ভিন্ন ভিন্ন মতে বিভক্ত হবে; ফলে তাদের মধ্যে কেউ হবে হতভাগা আর কেউ হবে সৌভাগ্যবান। আল্লাহ নবীগণকে প্রেরণ করেছেন তাঁর সৃষ্টির ওপর তাঁর প্রমাণ প্রতিষ্ঠার জন্য, যাতে তাঁরা মানুষকে আল্লাহর সেই দ্বীনের দিকে আহ্বান করেন যা তিনি তাঁর সৃষ্টির জন্য দ্বীন হিসেবে মনোনীত করেছেন যেন তারা সৌভাগ্যবান হতে পারে, এবং আল্লাহর অবাধ্যতার ব্যাপারে তাঁদের সতর্ক করেন যেন তারা হতভাগাদের অন্তর্ভুক্ত না হয়। তবে তাঁদের প্রেরণ আল্লাহর আদি জ্ঞানে যা নির্ধারিত রয়েছে তা বাস্তবায়নে বাধা হয় না, কেননা অধিকাংশ মানুষই ঈমান আনয়ন করে না: {আর আপনি যতই আকাঙ্ক্ষা করুন না কেন, অধিকাংশ মানুষই মুমিন হবে না} (ইউসুফ: ১০৩)।
এই মহাজাগতিক অমোঘ নিয়মের সম্মুখে একজন মুসলিমের দায়িত্ব হলো অন্যদেরকে সেই সত্যের দিকে আহ্বান জানানো যার জন্য আল্লাহ তার বক্ষ উন্মোচিত করেছেন। সে এই বিষয়ে সুনিশ্চিত যে, আল্লাহর হিদায়াত হয়তো তার আমন্ত্রিত অনেক মানুষের ভাগ্যেই লেখা নেই, তবুও বিষয়টি তাকে বার্তা পৌঁছে দেওয়া থেকে বিরত রাখে না: {আপনার ওপর তো কেবল পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব} (আশ-শুরা: ৪৮)।
যখন মানুষ আল্লাহর আহ্বানে সাড়া দেয় না এবং তাতে ঈমান আনে না, তখন একজন মুসলিম অন্যদের সাথে সামাজিক ও সভ্যতাগত মিথস্ক্রিয়া বন্ধ করে দেয় না। এক্ষেত্রে তার মূল পাথেয় হলো তার প্রতিপালকের কিতাব এবং তার আদর্শ হলো তার নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)। কেননা কুরআন পিতা-মাতা ও প্রতিবেশীর সাথে সদাচরণের নির্দেশ দিয়েছে, যদিও তারা ইসলাম ব্যতীত ভিন্ন কোনো ধর্মের অনুসারী হয়। তেমনিভাবে এটি তাদের সাথে সদাচার ও সৌজন্যমূলক আচরণের উৎসাহ দিয়েছে যারা মুসলিমদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে উদ্যত হয়নি এবং তাদের ওপর সীমালঙ্ঘন করেনি। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর জীবন ছিল সহনশীলতা এবং অন্যদের সাথে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের এক উজ্জ্বল আলোকবর্তিকা, বিশেষত যারা নিজস্ব আকিদা ও ধর্মকে আঁকড়ে থাকতে চেয়েছিল তাদের সাথেও।
বর্তমান বিশ্বে যখন বিভিন্ন গণমাধ্যমের কল্যাণে সংস্কৃতিগুলোর সংমিশ্রণ ঘটছে এবং পৃথিবী একটি ক্ষুদ্র গ্রামে পরিণত হয়েছে, তখন সংলাপের প্রয়োজনীয়তা এবং এর তাত্ত্বিক ভিত্তি স্থাপনের (تأصيل) আবশ্যকতা বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে...
(খণ্ড: ১)
আল-হিওয়ারু মাআ আতবাউল আদইয়ান - মাশরুউইয়াতুহু ওয়া আদাবুহু
(পৃষ্ঠা: ৬)
الشرعية، والمسلمون حين يمارسونه هم بأمسِّ الحاجة إلى معرفة مسوغاته الشرعية وآدابه ومحظوراته.
وإسهاماً منا في هذا الباب نضع بين يدي القارئ الكريم هذا الجهد المتواضع، والذي نرجو أن يعالج بموضوعية علمية هذه المسألة الشائكة، التي كثر الجدال حولها بين مؤيد مندفع ومعارض متشكك.
وحين نتحدث عن الحوار فإنا لا نقصد بحال من الأحوال الحوار الذي يقوم على وحدة الأديان والتلفيق بينها وصهرها في دين عالمي جديد قائم على الجمع بين المتناقضات، الكفر والإيمان، التوحيد والوثنية، فتلك الدعوة دسيسة تسترت بالحوار ينأى المسلم بنفسه عنها، كما سنبينه في حينه.
ويسر رابطة العالم الإسلامي في باكورة انطلاقة منتداها العالمي للحوار الحضاري أن تتقدم بهذه الدراسة، وهي جهد تضعه بين يدي المخلصين المعنيين بالحوار والساعين إلى نجاحه.
واللهَ نسأل أن يجعل هذا العمل خالصاً لوجهه الكريم، إنه ولي ذلك والقادر عليه، وآخر دعوانا أن الحمد لله رب العالمين.
শরয়ী (شرعية) বৈধতা; আর মুসলমানগণ যখন এটি চর্চা করেন, তখন তারা এর শরয়ী (شرعية) যৌক্তিকতা, শিষ্টাচার (آداب) এবং নিষিদ্ধ বিষয়সমূহ (محظورات) জানার ব্যাপারে অত্যন্ত মুখাপেক্ষী থাকেন।
এই ক্ষেত্রে আমাদের অবদান হিসেবে আমরা সম্মানিত পাঠকের সামনে এই বিনীত প্রচেষ্টাটি তুলে ধরছি। আমরা আশা করি এটি বৈজ্ঞানিক বস্তুনিষ্ঠতার সাথে এই জটিল সমস্যাটি নিয়ে আলোচনা করবে, যা নিয়ে উৎসাহী সমর্থক এবং সংশয়ী বিরোধীদের মধ্যে প্রচুর বিতর্ক রয়েছে।
আর যখন আমরা সংলাপ (حوار) নিয়ে কথা বলি, তখন আমরা কোনো অবস্থাতেই সেই সংলাপকে বুঝাই না যা ধর্মের ঐক্য (وحدة الأديان) এবং সেগুলোর মধ্যে কৃত্রিম সমন্বয় কিংবা সেগুলোকে একটি নতুন বিশ্বধর্মে রূপান্তরের ওপর ভিত্তি করে দাঁড়িয়ে আছে, যা মূলত কুফর (كفر) ও ঈমান (إيمان), তাওহিদ (توحيد) ও মূর্তিপূজার (وثنية) মতো পরস্পরবিরোধী বিষয়গুলোর সংমিশ্রণ। এই জাতীয় আহ্বান মূলত সংলাপের (حوار) আবরণে একটি ষড়যন্ত্র, যা থেকে একজন মুসলিম নিজেকে দূরে রাখেন; যেমনটি আমরা যথাসময়ে বর্ণনা করব।
মুসলিম ওয়ার্ল্ড লিগ তাদের সভ্যতা সমূহের সংলাপ বিষয়ক আন্তর্জাতিক ফোরামের শুভ সূচনালগ্নে এই গবেষণাটি উপস্থাপন করতে পেরে আনন্দিত। এটি সংলাপের (حوار) প্রতি আগ্রহী এবং এর সাফল্যে সচেষ্ট একনিষ্ঠ ব্যক্তিদের সম্মুখে উপস্থাপিত একটি প্রচেষ্টা।
আমরা আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন এই কাজটিকে একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য কবুল করেন। নিশ্চয়ই তিনি এর অভিভাবক এবং এর ওপর পূর্ণ ক্ষমতাবান। আমাদের শেষ কথা হলো, সমস্ত প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।
(খণ্ড: ১)
আল-হিওয়ারু মাআ আতবাউল আদইয়ান - মাশরুউইয়াতুহু ওয়া আদাবুহু
(পৃষ্ঠা: ৭)
التعريفاتأ. الحوار
أصله من الحور، وهو الرجوع عن الشيء إلى الشيء.
يقول ابن منظور: " الحَوْر: هو الرجوع عن الشيء إلى الشيء .. والمحاورة: المجاوبة، والتحاور التجاوب، والمحاورة: مراجعة المنطق، والكلام في المخاطبة ". (1)
وقال الراغب الأصفهاني: "المحاورة والحوار: المرادّة في الكلام، ومنه التحاور". (2)
وهذه المعاني اللغوية وردت في سياق الآيات الكريمة التي ورد فيها مادة (حور).
قال تعالى: {إنه ظن أن لن يحور} (الانشقاق:14). قال القرطبي: "أي لن يرجع حياً مبعوثاً .. فالحور في كلام العرب الرجوع".
وقال تعالى: {فقال لصاحبه وهو يحاوره أنا أكثر منك مالاً وأعز نفراً} (الكهف 34). قال القرطبي: " أي يراجعه في الكلام ويجاوبه، والمحاورة: المجاوبة. والتحاور التجاوب". (3)
وقال تعالى: {قد سمع الله قول التي تجادلك في زوجها وتشتكي إلى الله والله يسمع تحاوركما} (المجادلة: 1)، قال في الجلالين: "تراجعكما" (4) أي في الكلام.
وورد هذا المعنى أيضاً في غير ما حديث نبوي، من ذلك أن النبي صلى الله عليه وسلم كان يستعيذ من: ((الحَوْر بعد الكَوْر)). (5) قال القرطبي: "يعني من الرجوع إلى النقصان بعد الزيادة". (6)
--------------------------------------------
সংজ্ঞাসমূহক. আল-হিওয়ার (সংলাপ)
এর মূল উৎপত্তি ‘আল-হাওর’ থেকে, যার অর্থ এক বস্তু থেকে অন্য বস্তুর দিকে ফিরে আসা বা প্রত্যাবর্তন করা।
ইবনে মনজুর বলেন: "আল-হাওর: তা হলো এক বস্তু থেকে অন্য বস্তুতে প্রত্যাবর্তন... আর আল-মুহাওয়ারা: তা হলো উত্তর প্রদান করা, আত-তাহাউর হলো পারস্পরিক উত্তর-প্রতিউত্তর প্রদান, এবং আল-মুহাওয়ারা: তা হলো যুক্তিনির্ভর আলোচনা এবং সম্বোধনের ক্ষেত্রে কথোপকথন।" (১)
রাগিব আল-আসফাহানি বলেন: "আল-মুহাওয়ারা ও আল-হিওয়ার: তা হলো কথার পিঠে কথা বলা, এবং তা থেকেই আত-তাহাউর শব্দটি এসেছে।" (২)
এই ভাষাগত অর্থগুলো সেই সকল বরকতময় আয়াতের প্রেক্ষাপটে বর্ণিত হয়েছে যেগুলোতে ‘হাওর’ ধাতু হতে উৎপন্ন শব্দ এসেছে।
মহান আল্লাহ বলেন: {সে মনে করেছিল যে, সে কখনো ফিরে আসবে না} (আল-ইনশিক্বাক্ব: ১৪)। আল-কুরতুবি বলেন: "অর্থাৎ সে জীবিত হয়ে পুনরুত্থিত হয়ে আর ফিরে আসবে না... সুতরাং আরবদের ভাষায় ‘হাওর’ মানে হলো প্রত্যাবর্তন করা।"
মহান আল্লাহ আরও বলেন: {অতঃপর কথা প্রসঙ্গে সে তার সঙ্গীকে বলল, ‘আমি ধন-সম্পদে তোমার চেয়ে শ্রেষ্ঠ এবং জনবলে অধিক শক্তিশালী’} (আল-কাহফ: ৩৪)। আল-কুরতুবি বলেন: "অর্থাৎ সে তার সাথে কথা বিনিময় করছিল এবং তাকে উত্তর দিচ্ছিল; আর আল-মুহাওয়ারা অর্থ হলো উত্তর প্রদান করা এবং আত-তাহাউর অর্থ হলো পারস্পরিক উত্তর-প্রতিউত্তর।" (৩)
মহান আল্লাহ বলেন: {আল্লাহ অবশ্যই সেই নারীর কথা শুনেছেন যে তার স্বামীর বিষয়ে তোমার সাথে বাদানুবাদ করছে এবং আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ জানাচ্ছে। আল্লাহ তোমাদের কথোপকথন শোনেন} (আল-মুজাদালাহ: ১)। জালালাইন-এ বলা হয়েছে: "তোমাদের পারস্পরিক বাক্য বিনিময়" (৪) অর্থাৎ কথোপকথনের মাধ্যমে।
এই অর্থটি একাধিক হাদিসেও বর্ণিত হয়েছে, তার মধ্যে একটি হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এটি থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করতেন: ((পূর্ণতার পর ঘাটতিতে ফিরে যাওয়া থেকে))। (৫) আল-কুরতুবি বলেন: "অর্থাৎ বৃদ্ধি পাওয়ার পর পুনরায় ঘাটতির দিকে ফিরে যাওয়া থেকে।" (৬)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-হিওয়ারু মাআ আতবাউল আদইয়ান - মাশরুউইয়াতুহু ওয়া আদাবুহু
(পৃষ্ঠা: ৮)
وقال صلى الله عليه وسلم: ((من دعا رجلاً بالكفر أو قال: عدو الله. وليس كذلك، إلا حار عليه)) (1) قال النووي: " رجع عليه ". (2)
ومما سبق تبين أن الحوار في معناه اللغوي هو مراجعة الكلام وتداوله، وهو ما يكون عادة بين شخصين أو بالأحرى بين طرفين أو أكثر.
ولم تبعد تعريفات أهل الاصطلاح للحوار عن المعاني اللغوية السابقة، فقد أكدتها وأضافت إليها بعض المعاني والقيم الأخلاقية التي ينبغي توفرها في الحوار.
ومن هذه التعريفات تعريف الدكتور صالح بن حميد، إذ اعتبر الحوار: " مناقشة بين طرفين أو أطراف، يُقصد بها تصحيح كلامٍ، وإظهار حجَّةٍ، وإثبات حقٍ، ودفع شبهةٍ، وردُّ الفاسد من القول والرأي ". (3)
وعرّفه بسام داود عجك بأنه: "محادثة بين شخصين أو فريقين ، حول موضوع محدد ، لكل منهما وجهة نظر خاصة به، هدفها الوصول إلى الحقيقة ، أو إلى أكبر قدر ممكن من تطابق وجهات النظر، بعيداً عن الخصومة أو التعصب، بطريقة تعتمد على العلم والعقل ، مع استعداد كلا الطرفين لقبول الحقيقة، ولو ظهرت على يد الطرف الآخر". (4)
وهكذا فالمحاورة هي تجاذب الكلام بين المختلفين، وما أضافه العلماء في تعريفه من شروط إنما هي ضوابط أخلاقية يفترض توفرها في الحوار ليكون مثمراً ومجدياً.
ب. الجدال
الجدال لغة: من جَدَلَ الحبل إذا فَتَلَه، قال ابن منظور: "الجدل: اللدد في الخصومة والقدرة عليها .. ويقال: جادلت الرجل فجدلته جدلاً، أي: غلبته. ورجل جدِل، إذا كان أقوى في الخصام. وجادله أي: خاصمه مجادلة وجدالاً ". (5)
--------------------------------------------
এবং রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি কোনো লোককে কুফরি (كفر) এর অপবাদ দেয় অথবা বলে: হে আল্লাহর শত্রু, অথচ সে তেমন নয়, তবে সেই অপবাদ তার ওপরই ফিরে আসবে।" (১) ইমাম নববী বলেন: "তার দিকেই প্রত্যাবর্তন করবে।" (২)
পূর্বোক্ত আলোচনা হতে স্পষ্ট হয় যে, আভিধানিক অর্থে 'সংলাপ' বা আল-হিওয়ার হলো কথার পুনরাবৃত্তি ও বিনিময়, যা সাধারণত দুই ব্যক্তির মাঝে অথবা আরও স্পষ্টভাবে দুই বা ততোধিক পক্ষের মাঝে সংঘটিত হয়।
পারিভাষিক সংজ্ঞাদানকারীদের নিকট সংলাপের সংজ্ঞা পূর্বোক্ত আভিধানিক অর্থ হতে দূরে নয়; বরং তা আভিধানিক অর্থকেই সুদৃঢ় করেছে এবং এতে কিছু নৈতিক অর্থ ও মূল্যবোধ যুক্ত করেছে যা সংলাপে বিদ্যমান থাকা আবশ্যক।
এই সংজ্ঞাসমূহের মধ্যে ডক্টর সালেহ বিন হুমাইদ-এর সংজ্ঞাটি অন্যতম, তিনি সংলাপকে এভাবে গণ্য করেছেন: "দুই বা ততোধিক পক্ষের মধ্যে এমন আলোচনা, যার লক্ষ্য হলো বক্তব্য সংশোধন করা, প্রমাণ (حجة) প্রকাশ করা, সত্য প্রতিষ্ঠা করা, সংশয় (شبهة) নিরসন করা এবং ভ্রান্ত কথা ও মতামত প্রত্যাখ্যান করা।" (৩)
বাসসাম দাউদ আজাক একে সংজ্ঞায়িত করেছেন এভাবে: "নির্দিষ্ট বিষয়ে দুই ব্যক্তি বা দুই দলের মধ্যে এমন কথোপকথন, যেখানে প্রত্যেকের নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি থাকে এবং যার লক্ষ্য হলো সত্যে উপনীত হওয়া অথবা দৃষ্টিভঙ্গির সর্বোচ্চ সাদৃশ্য অর্জন করা। এটি হতে হবে বিবাদ বা গোঁড়ামি মুক্ত এবং জ্ঞান ও যুক্তিনির্ভর পদ্ধতিতে, যেখানে সত্য অপর পক্ষের মাধ্যমে প্রকাশিত হলেও তা গ্রহণ করার মানসিকতা উভয় পক্ষের মধ্যে থাকবে।" (৪)
সুতরাং, সংলাপ হলো ভিন্নমত পোষণকারীদের মধ্যে কথোপকথনের বিনিময়। আর উলামায়ে কেরাম এর সংজ্ঞায় যে শর্তাবলি যোগ করেছেন, তা মূলত কিছু নৈতিক নীতিমালা যা সংলাপকে ফলপ্রসূ ও কার্যকর করার জন্য থাকা বাঞ্ছনীয় বলে ধরা হয়।
খ. আল-জিদাল (বিতর্ক)
আভিধানিক অর্থে জিদাল: এটি 'জাদালাল হাবলা' থেকে উদ্ভূত, যখন রশি পাকানো হয়। ইবনে মানজুর বলেন: "জিদাল হলো ঝগড়া-বিবাদে কঠোরতা এবং তাতে পারদর্শিতা... বলা হয়ে থাকে: আমি লোকটির সাথে বিতর্ক করেছি এবং তাকে বিতর্কে পরাজিত করেছি, অর্থাৎ আমি তার ওপর জয়ী হয়েছি। আর কোনো ব্যক্তিকে 'জাদিল' (অধিক ঝগড়াটে) বলা হয় যখন সে বিবাদে অধিক শক্তিশালী হয়। 'জাদালাহু' মানে হলো সে তার সাথে বাকবিতণ্ডা বা বিতর্ক করেছে।" (৫)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-হিওয়ারু মাআ আতবাউল আদইয়ান - মাশরুউইয়াতুহু ওয়া আদাবুহু
(পৃষ্ঠা: ৯)
وعن معنى الجدل عند أهل الاصطلاح يقول ابن منظور: "الجدل مقابلة الحجة بالحجة، والمجادلة: المناظرة والمخاصمة". (1)
وعرفه الجرجاني بأنه: "القياس المؤلف من المشهورات والمسلمات، والغرض منه إلزام الخصم، وإفحام من هو قاصر عن إدراك مقدمات البرهان"، كما عرَّفه أنه: "دفع المرء خصمه عن إفساد قوله بحجة أو شبهة". (2)
وأما الجويني فيرى أن الجدال: "إظهار المتنازعَيْن مقتضى نظرَتهما على التدافع والتنافي بالعبارة أو ما يقوم مقامها من الإشارة والدلالة". (3)
وفي المعجم الوسيط: "طريقة في المناقشة والاستدلال، وهو عند مناطقة المسلمين قياس مؤلف من مشهورات أو مسلمات". (4)
وقد ورد إطلاق (الجدل) في نصوص القرآن والسنة على نوعين متباينين:
الأول: الجدل المذموم، وهو الذي يدور في طلب المغالبة لا الحق، أو الذي فيه نوع من الخصومة واللدد، ومنه قول الله تعالى: {وقالوا ءآلهتنا خيرٌ أم هو ما ضربوه لك إلا جدلاً بل هم قومٌ خصمون} (الزخرف: 58)، ومثله قول الله تعالى في ذم جدال الكافرين: {ما يجادل فى آيات الله إلا الذين كفروا فلا يغررك تقلبهم في البلاد} (غافر: 4)، وقوله تعالى: {وجادلوا بالباطل ليدحضوا به الحق} (غافر: 5)، وقوله تعالى: {لا جدال في الحج} (البقرة: 197) قال ابن منظور: "قالوا: معناه لا ينبغي للرجل أن يجادل أخاه، فيخرجه إلى ما لا ينبغي". (5)
وفي الحديث: ((ما ضَلَّ قوم بعد هدى كانوا عليه إلا أُوتوا الجدل)). (6)
--------------------------------------------
পরিভাষা বিশেষজ্ঞদের নিকট 'জাদাল' (বিতর্ক) শব্দের অর্থ সম্পর্কে ইবনে মানজুর বলেন: "জাদাল হলো প্রমাণের বিপরীতে প্রমাণ পেশ করা, আর মুজাদালাহ হলো বিতর্ক ও বিবাদ।" (১)
আল-জুরজানি একে সংজ্ঞায়িত করেছেন এভাবে যে: "এটি সুপরিচিত এবং সর্বজনস্বীকৃত বিষয়াবলির সমন্বয়ে গঠিত একটি কিয়াস, যার উদ্দেশ্য হলো প্রতিপক্ষকে যুক্তিতে বাধ্য করা এবং যারা প্রমাণের প্রারম্ভিক বিষয়গুলো অনুধাবনে অক্ষম তাদের নিরুত্তর করা।" তিনি একে এভাবেও সংজ্ঞায়িত করেছেন যে: "কোনো ব্যক্তি কর্তৃক যুক্তি বা সংশয় উপস্থাপনের মাধ্যমে তার বক্তব্যকে নষ্ট করা থেকে প্রতিপক্ষকে প্রতিহত করা।" (২)
ইমাম আল-জুওয়াইনি মনে করেন যে জাদাল (বিতর্ক) হলো: "দুই বিবাদমান পক্ষ কর্তৃক মৌখিক প্রকাশভঙ্গি অথবা এর স্থলাভিষিক্ত ইশারা ও ইঙ্গিতের মাধ্যমে একে অপরের দাবিকে খণ্ডন ও নাকচ করার লক্ষ্যে নিজ নিজ দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করা।" (৩)
আল-মু'জাম আল-ওয়াসিত গ্রন্থে বলা হয়েছে: "এটি আলোচনা ও যুক্তি প্রদর্শনের একটি পদ্ধতি। মুসলিম যুক্তিবিদদের মতে, এটি সুপরিচিত বা সর্বজনস্বীকৃত বিষয়াবলি থেকে গঠিত একটি কিয়াস।" (৪)
কুরআন ও সুন্নাহর ভাষ্যে 'জাদাল' (বিতর্ক) শব্দটির প্রয়োগ দুটি ভিন্ন অর্থে এসেছে:
প্রথমটি: নিন্দনীয় বিতর্ক, যা মূলত সত্য অনুসন্ধান নয় বরং শ্রেষ্ঠত্ব লাভের উদ্দেশ্যে করা হয়, অথবা যাতে বিবাদ ও হঠকারিতা থাকে। যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {তারা বলে, ‘আমাদের উপাস্যরাই শ্রেষ্ঠ, না সে?’ তারা কেবল বিতর্কের খাতিরেই তাকে তোমার সামনে পেশ করে। বস্তুত তারা এক কলহপ্রিয় জাতি} (সুরা আয-যুখরুফ: ৫৮)। অনুরূপভাবে কাফিরদের বিতর্কের নিন্দায় মহান আল্লাহ বলেন: {কাফিররা ছাড়া আর কেউ আল্লাহর নিদর্শনাবলি নিয়ে বিতর্ক করে না। সুতরাং দেশ-বিদেশে তাদের বিচরণ যেন তোমাকে বিভ্রান্ত না করে} (সুরা গাফির: ৪)। তিনি আরও বলেন: {এবং তারা মিথ্যার আশ্রয়ে বিতর্ক করেছিল যেন তা দ্বারা সত্যকে নস্যাৎ করে দিতে পারে} (সুরা গাফির: ৫)। মহান আল্লাহর বাণী: {হজের মধ্যে কোনো ঝগড়া-বিবাদ নেই} (সুরা আল-বাকারা: ১৯৭)। ইবনে মানজুর বলেন: "তারা বলেছেন, এর অর্থ হলো কোনো ব্যক্তির জন্য তার ভাইয়ের সাথে এমনভাবে বিতর্ক করা উচিত নয় যা তাকে অশোভন আচরণের দিকে ঠেলে দেয়।" (৫)
হাদিসে এসেছে: ((কোনো জাতি হেদায়েত প্রাপ্ত হওয়ার পর কেবল বিতর্কে লিপ্ত হওয়ার কারণেই পথভ্রষ্ট হয়েছে))। (৬)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-হিওয়ারু মাআ আতবাউল আদইয়ান - মাশরুউইয়াতুহু ওয়া আদাবুহু
(পৃষ্ঠা: ১০)
والمراد بذلك كله الجدل على الباطل وطلب المغالبة به، لا الجدل بحثاً عن الحق وفي طلبه، فإن ذلك اللون من ألوان الجدل محمود.
والثاني: الجدل المحمود، وهو الذي يكون في طلب الحق بالأسلوب الحسن بعيداً عن الخصومة، ومنه قوله عز وجل: {وجادلهم بالتي هي أحسن} (النحل: 125).
وهو بهذا المعنى مرادف للحوار، قال تعالى واصفاً حديث المرأة إلى النبي صلى الله عليه وسلم بالحوار والجدال، فقال: {قد سمع الله قول التي تجادلك في زوجها وتشتكي إلى الله والله يسمع تحاوركما إن الله سميع بصير} (المجادلة: 1). قال ابن كثير: " وهو يحاوره، أي: يجادله ". (1)
وهكذا فالجدال صورة من صور الحوار، وقد أمر بها الله ورسوله، وتجنباً لما قد يكتنفه من اللدد في الخصومة فإنهما أمرا بالمجادلة بالتي هي أحسن، بعيداً عن ضروب الجدل المذموم الذي يفضي إلى الشقاق.
ج. المناظرة
المناظرة لغة "من النظير، أو من النظر بالبصيرة" كما عند الجرجاني، وقال ابن منظور: "والمنظر والمنظرة: ما نظرت إليه فأعجبك أو ساءك
… النظر: الفكر في الشيء تقدره وتقيسه منك ". (2)
أما في الاصطلاح فقد عرفها الجرجاني: "النظر بالبصيرة من الجانبين في النسبة بين الشيئين إظهاراً للصواب". (3)
وعرفها ابن منظور: "أن تناظر أخاك في أمر إذا نظرتما فيه معاً كيف تأتيانه". (4)
وقال الزَّبيدي: "والمناظرة المباحثة والمباراة في النظر واستحضار كل ما يراه ببصيرته". (5)
--------------------------------------------
এই সবকিছুর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো মিথ্যার ওপর ভিত্তি করে বিতর্ক (جدل) এবং এর মাধ্যমে বিজয়ী হওয়ার আকাঙ্ক্ষা; সত্য অনুসন্ধান বা সত্য অন্বেষণের উদ্দেশ্যে বিতর্ক নয়। কেননা বিতর্কের এই রূপটি প্রশংসনীয় (محمود)।
দ্বিতীয়ত: প্রশংসনীয় বিতর্ক (الجدل المحمود), যা বিবাদ থেকে দূরে থেকে সুন্দর পন্থায় সত্য অন্বেষণের ক্ষেত্রে হয়ে থাকে। মহান আল্লাহর এই বাণী এর অন্তর্ভুক্ত: {আর তাদের সাথে বিতর্ক করো অত্যন্ত সুন্দর পন্থায়} (আন-নাহল: ১২৫)।
আর এই অর্থে এটি সংলাপের (حوار) সমার্থক। আল্লাহ তাআলা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সাথে জনৈক মহিলার কথোপকথনকে সংলাপ (حوار) ও বিতর্ক (جدال) হিসেবে বর্ণনা করে ইরশাদ করেছেন: {আল্লাহ অবশ্যই সেই মহিলার কথা শুনেছেন যে তার স্বামীর বিষয়ে আপনার সাথে বিতর্ক (تجادلك) করছে এবং আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ জানাচ্ছে। আল্লাহ আপনাদের সংলাপ (تحاوركما) শুনছেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা} (আল-মুজাদালাহ: ১)। ইবনে কাসির বলেছেন: "তিনি তার সাথে সংলাপ করছেন অর্থাৎ বিতর্ক (يجادله) করছেন।" (১)
এভাবে বিতর্ক (جدال) হলো সংলাপের (حوار) একটি রূপ, যার নির্দেশ আল্লাহ ও তাঁর রাসূল দিয়েছেন। আর বিবাদে জড়িয়ে পড়ার যে প্রবণতা এতে থাকতে পারে তা থেকে বেঁচে থাকার জন্য তাঁরা অত্যন্ত সুন্দর পন্থায় বিতর্কের নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে করে বিভক্তির দিকে ধাবিতকারী নিন্দনীয় বিতর্ক (الجدل المذموم) থেকে দূরে থাকা যায়।
গ. মুনাযারা (المناظرة)
শাব্দিক অর্থে মুনাযারা (المناظرة) হলো "নাযীর (সমকক্ষ) শব্দ থেকে আগত অথবা প্রজ্ঞা দ্বারা পর্যবেক্ষণ (النظر بالبصيرة) থেকে উদ্ভূত" যেমনটি আল-জুরজানী উল্লেখ করেছেন। ইবনে মঞ্জুর বলেন: "আল-মানযার ও আল-মানযারা হলো: যা কিছু তুমি দেখ এবং তা তোমাকে আনন্দিত বা ব্যথিত করে
… আন-নাযার (النظر) হলো: কোনো বিষয় নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করা, যা তুমি মূল্যায়ন ও পরিমাপ করো।" (২)
আর পারিভাষিক অর্থে আল-জুরজানী এর সংজ্ঞা দিয়েছেন: "সঠিক বিষয়টি প্রকাশের উদ্দেশ্যে দুটি বিষয়ের মধ্যকার সম্পর্কের ক্ষেত্রে উভয় পক্ষ থেকে প্রজ্ঞা দ্বারা পর্যবেক্ষণ (النظر بالبصيرة)।" (৩)
ইবনে মঞ্জুর এর সংজ্ঞা দিয়েছেন এভাবে: "কোনো বিষয়ে তোমার ভাইয়ের সাথে মুনাযারা (تناظر) করা যখন তোমরা উভয়ই বিষয়টি নিয়ে একত্রে চিন্তা করো যে তা কীভাবে সম্পাদন করা যায়।" (৪)
আয-যাবীদী বলেছেন: "আর মুনাযারা (المناظرة) হলো গবেষণা এবং পর্যালোচনায় একে অপরের মোকাবিলা করা এবং নিজের প্রজ্ঞা যা অনুভব করে তা উপস্থাপন করা।" (৫)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-হিওয়ারু মাআ আতবাউল আদইয়ান - মাশরুউইয়াতুহু ওয়া আদাবুহু
(পৃষ্ঠা: ১১)
قال محمد الأمين الشنقيطي في تعريف المناظرة: "المحاورة في الكلام بين شخصين مختلفين يقصد كل واحد منهما تصحيح قوله وإبطال قول الآخر، مع رغبة كل منهما في ظهور الحق". (1)
فالمناظرة تفيد النظر والتفكر في الأمور والبحث عن الحق عن طريق المحاورة مع الآخرين.
وحوار المناظرة يكون بين شخصين أو فريقين حول موضوع معين، بغية الوصول إلى تبيان الحق وكشف الباطل، مع توفر الرغبة الصادقة في ظهور الحق والانصياع له.
--------------------------------------------
মুহাম্মদ আল-আমিন আশ-শানক্বিতি মুনাজারা-এর সংজ্ঞায় বলেছেন: "দুইজন ভিন্ন মতাবলম্বী ব্যক্তির মধ্যকার এমন বাক্যালাপ, যেখানে তাদের প্রত্যেকের উদ্দেশ্য থাকে নিজ বক্তব্যকে সঠিক প্রমাণ করা এবং অন্যের বক্তব্যকে খণ্ডন করা, আর সেই সাথে উভয়েরই সত্য প্রকাশের আকাঙ্ক্ষা থাকে।" (১)
সুতরাং মুনাজারা বিষয়াদি নিয়ে গভীর পর্যবেক্ষণ ও চিন্তা করা এবং অন্যদের সাথে আলোচনার মাধ্যমে সত্য অনুসন্ধানের সুফল প্রদান করে।
আর মুনাজারার সংলাপ কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ে দুই ব্যক্তি বা দুই দলের মধ্যে হয়ে থাকে, যার লক্ষ্য থাকে সত্যের ব্যাখ্যা এবং মিথ্যার অপনোদন করা, সেই সাথে সত্য প্রকাশিত হওয়া ও তার প্রতি অনুগত হওয়ার আন্তরিক আকাঙ্ক্ষা বিদ্যমান থাকে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-হিওয়ারু মাআ আতবাউল আদইয়ান - মাশরুউইয়াতুহু ওয়া আদাবুহু
(পৃষ্ঠা: ১৩)
حتمية الخلافإن التعدّد في المخلوقات وتنوّعها سنة الله في الكون وناموسه الثابت، فلكل شيء في هذا الخلق طبيعته وخصائصه وصفاته التي تقارب غيره أحياناً، وتتنافر عنها في أحايين أخرى، وهكذا فطبيعة الوجود في الكون أساسها التّنوّع والتّعدّد.
والإنسانية خلقها الله وفق هذه السنة الكونية، فاختلف البشر إلى أجناس مختلفة وطبائع شتى، وكلّ من تجاهل وتجاوز أو رفض هذه السُّنة الماضية لله في خلقه، فقد ناقض الفطرة وأنكر المحسوس.
وقد جاء في القرآن الكريم ذكر بعض صور الاختلاف بين البشر، كاختلاف الألوان واللغات، وهما فرع عن اختلاف الأجناس والقوميات: {ومن آياته خلق السّموات والأرض واختلاف ألسنتكم وألوانكم إنّ في ذلك لآيات للعالمين} (الروم: 22).
وقد أكدت الآيات أن اختلاف البشر في شرائعهم هو أيضاً واقع بمشيئة الله تعالى ومرتبط بحكمته، يقول الله: {لكل جعلنا منكم شرعة ومنهاجاً ولو شاء الله لجعلكم أمة واحدة ولكن ليبلوكم فيما آتاكم فاستبقوا الخيرات إلى الله مرجعكم جميعاً} (المائدة: 48).
قال ابن كثير: "هذا إخبار عن الأمم المختلفة الأديان باعتبار ما بعث الله به رسله الكرام من الشرائع المختلفة في الأحكام المتفقة في التوحيد ". (1)
وقال تعالى: {ولو شاء ربك لجعل الناس أمةً واحدةً ولا يزالون مختلفين - إلا من رحم ربك ولذلك خلقهم} (هود: 118 - 119).
قال ابن حزم: "وقد نص تعالى على أن الاختلاف ليس من عنده، ومعنى ذلك أنه تعالى لم يرض به، وإنما أراده تعالى إرادة كونٍ، كما أراد الكفر وسائر المعاصي". (2)
--------------------------------------------
মতপার্থক্যের অনিবার্যতানিশ্চয়ই সৃষ্টিজগতের মাঝে বহুত্ব ও বৈচিত্র্য হলো মহাবিশ্বে আল্লাহর সুন্নাহ এবং তাঁর এক অটল বিধান। এই সৃষ্টির প্রতিটি বস্তুর নিজস্ব প্রকৃতি, বৈশিষ্ট্য ও গুণাবলী রয়েছে যা কখনো অন্যের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ হয়, আবার কখনো অন্যের থেকে পৃথক হয়। এভাবেই মহাবিশ্বে অস্তিত্বের মূল ভিত্তি হলো বৈচিত্র্য ও বহুত্ব।
মানবজাতিকে আল্লাহ এই মহাজাগতিক সুন্নাহ অনুযায়ী সৃষ্টি করেছেন। ফলে মানুষ ভিন্ন ভিন্ন জাতি ও বিচিত্র স্বভাবের অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। যারা আল্লাহর এই চিরন্তন সৃষ্টিগত সুন্নাহকে উপেক্ষা করে, অতিক্রম করে কিংবা অস্বীকার করে, তারা মূলত ফিতরাত বা স্বভাবজাত প্রকৃতির বিরোধিতা করে এবং দৃশ্যমান বাস্তবতাকে অস্বীকার করে।
পবিত্র কুরআনে মানুষের মধ্যকার পার্থক্যের কিছু রূপ বর্ণিত হয়েছে, যেমন বর্ণ ও ভাষার ভিন্নতা, যা মূলত জাতি ও জাতীয়তার ভিন্নতারই একটি শাখা: {আর তাঁর নিদর্শনাবলির মধ্যে রয়েছে আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর সৃষ্টি এবং তোমাদের ভাষা ও বর্ণের বৈচিত্র্য। এতে জ্ঞানীদের জন্য অবশ্যই নিদর্শনাবলি রয়েছে} (আর-রুম: ২২)।
আয়াতসমূহ একথাই সুনিশ্চিত করেছে যে, মানুষের শরীয়তসমূহের ভিন্নতাও মহান আল্লাহর ইচ্ছাধীন এবং তাঁর হিকমত বা প্রজ্ঞার সাথে সম্পৃক্ত। আল্লাহ বলেন: {তোমাদের প্রত্যেকের জন্য আমি একটি শরীয়ত (شرعة) ও স্পষ্ট পথ (منهاج) নির্ধারণ করে দিয়েছি। আর আল্লাহ ইচ্ছা করলে তোমাদেরকে একটি একক জাতি (أمة واحدة) করে দিতেন, কিন্তু তিনি তোমাদেরকে যা দিয়েছেন তা দিয়ে তোমাদের পরীক্ষা করতে চান। কাজেই তোমরা সৎকাজে প্রতিযোগিতামূলকভাবে অগ্রসর হও। আল্লাহর দিকেই তোমাদের সকলের প্রত্যাবর্তন} (আল-মায়িদাহ: ৪৮)।
ইবনে কাসীর রহ. বলেন: "এটি বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী উম্মতদের সম্পর্কে সংবাদ, যে সকল বিধিবিধানের ক্ষেত্রে ভিন্নতা থাকা সত্ত্বেও তাওহিদ (توحيد) বা একত্ববাদের বিষয়ে একমত ছিল, এমন বিভিন্ন শরীয়তসহ আল্লাহ তাঁর সম্মানিত রাসূলগণকে প্রেরণ করেছিলেন"। (১)
মহান আল্লাহ আরও বলেন: {আর তোমার রব যদি চাইতেন, তবে অবশ্যই সমস্ত মানুষকে একটি একক জাতি (أمة واحدة) করে দিতেন; কিন্তু তারা মতভেদ করতেই থাকবে— তারা ছাড়া, যাদের ওপর তোমার রব দয়া করেছেন এবং এজন্যই তিনি তাদেরকে সৃষ্টি করেছেন} (হুদ: ১১৮-১১৯)।
ইবনে হাজম রহ. বলেন: "আল্লাহ তাআলা স্পষ্টভাবে নস (نص) বা বর্ণনা করেছেন যে, এই মতপার্থক্য (اختلاف) তাঁর পক্ষ থেকে (সন্তুষ্টিস্বরূপ) নয়। এর অর্থ হলো, মহান আল্লাহ এতে সন্তুষ্ট নন; বরং তিনি এটিকে মহাজাগতিক ইচ্ছা (إرادة كونية) হিসেবে নির্ধারণ করেছেন, যেমনটি তিনি কুফর ও অন্যান্য পাপাচারের ক্ষেত্রে নির্ধারণ করেছেন"। (২)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-হিওয়ারু মাআ আতবাউল আদইয়ান - মাশরুউইয়াতুহু ওয়া আদাবুহু
(পৃষ্ঠা: ১৪)
قال القرطبي: " {ولو شاء ربك لجعل الناس أمة واحدة} قال سعيد بن جبير: على ملة الإسلام وحدها .. {ولا يزالون مختلفين} أي: على أديان شتى قاله مجاهد وقتادة ". (1)
وقال ابن كثير: " {ولا يزالون مختلفين - إلا من رحم ربك} أي: ولا يزال الخلف بين الناس في أديانهم واعتقادات مللهم ونحلهم ومذاهبهم وآرائهم .. قال الحسن البصري: الناس مختلفون على أديان شتى إلا من رحم ربك، فمن رحم ربك غير مختلف". (2)
ويقول الفخر الرازي: " والمراد اختلاف الناس في الأديان والأخلاق والأفعال". (3)
بل يرى الحسن البصري ومقاتل وعطاء وغيرهم من المفسرين أن الله خلق الناس ليختلفوا، وذلك لقوله: {ولا يزالون مختلفين - إلا من رحم ربك ولذلك خلقهم} (هود: 118 - 119).
وذهب آخرون من المفسرين ومنهم ابن عباس ومجاهد وقتادة إلى أن اسم الإشارة يعود إلى الرحمة، أي: خلقهم ليرحمهم.
وذهب ابن جرير الطبري وابن كثير وغيرهما إلى عود الإشارة إلى الإثنين معاً، أي: خلقهم ليختلفوا، وليرحم من سلك الصراط المستقيم. (4)
يقول ابن سعدي: " يخبر الله تعالى أنه لو شاء لجعل الناس أمة واحدة على الدين الإسلامي، فإن مشيئته غير قاصرة، ولا يمتنع عليه شيء، ولكنه اقتضت حكمته أن لا يزالوا مختلفين، مخالفين للصراط المستقيم، متبعين للسبل الموصلة إلى النار .. ".
وعن قوله سبحانه: {ولذلك خلقهم} قال: "أي اقتضت حكمته، أنه خلقهم ليكون منهم السعداء [و] الأشقياء، والمتفقون والمختلفون، والفريق
--------------------------------------------
ইমাম কুরতুবী বলেছেন: " {আর যদি আপনার রব চাইতেন তবে অবশ্যই তিনি মানবজাতিকে এক উম্মত (জাতি) হিসেবে সৃষ্টি করতেন} সাঈদ ইবনে জুবায়ের বলেছেন: শুধুমাত্র ইসলামের মিল্লাতের ওপর.. {আর তারা সর্বদা মতভেদ করতে থাকবে} অর্থাৎ: বিভিন্ন ধর্মের ওপর। এটি মুজাহিদ ও কাতাদাহ বলেছেন।" (১)
ইবনে কাসীর বলেছেন: " {আর তারা সর্বদা মতভেদ করতে থাকবে - কিন্তু আপনার রব যাকে দয়া করেছেন সে ব্যতীত} অর্থাৎ: মানুষের মধ্যে তাদের দ্বীন, মিল্লাত ও উপদলের আকিদাহ, মাযহাব এবং মতামতের ক্ষেত্রে সর্বদা মতভেদ চলতেই থাকবে.. হাসান বসরী বলেছেন: মানুষ বিভিন্ন ধর্মের ওপর ভিন্ন ভিন্ন থাকবে, তবে যাদের ওপর আপনার পালনকর্তা দয়া করেছেন তারা ব্যতীত; সুতরাং আপনার রব যাদের ওপর দয়া করেছেন তারা মতভেদকারী নয়।" (২)
ফখর রাযী বলেন: "আর এর উদ্দেশ্য হলো ধর্ম, চরিত্র এবং কর্মের ক্ষেত্রে মানুষের ভিন্নতা।" (৩)
বরং হাসান বসরী, মুকাতিল, আতা এবং অন্যান্য মুফাসসিরগণ মনে করেন যে, আল্লাহ তাআলা মানুষকে ভিন্ন ভিন্ন হওয়ার জন্যই সৃষ্টি করেছেন, আর তা মহান আল্লাহর এই বাণীর কারণে: {আর তারা সর্বদা মতভেদ করতে থাকবে - কিন্তু আপনার রব যাকে দয়া করেছেন সে ব্যতীত এবং সেজন্যই তিনি তাদের সৃষ্টি করেছেন} (হুদ: ১১৮ - ১১৯)।
অন্যান্য মুফাসসিরগণ, যাদের মধ্যে ইবনে আব্বাস, মুজাহিদ এবং কাতাদাহ রয়েছেন, তারা মনে করেন যে ইঙ্গিতসূচক শব্দটি রহমতের দিকে প্রত্যাবর্তন করছে, অর্থাৎ: তিনি তাদের সৃষ্টি করেছেন তাদের প্রতি রহমত করার জন্য।
ইবনে জারীর তাবারী, ইবনে কাসীর এবং আরও অনেকে মনে করেন যে ইঙ্গিতটি উভয় বিষয়ের দিকেই প্রত্যাবর্তন করে, অর্থাৎ: তিনি তাদের সৃষ্টি করেছেন যাতে তারা ভিন্ন ভিন্ন হয় এবং যাতে তিনি তাদের প্রতি রহমত করেন যারা সরল সঠিক পথ অবলম্বন করবে। (৪)
ইবনে সাদী বলেন: "আল্লাহ তাআলা সংবাদ দিচ্ছেন যে, তিনি যদি চাইতেন তবে অবশ্যই মানুষকে ইসলাম ধর্মের ওপর এক উম্মত হিসেবে সৃষ্টি করতেন, কেননা তাঁর ইচ্ছা অসম্পূর্ণ নয় এবং কোনো কিছুই তাঁর অসাধ্য নয়। কিন্তু তাঁর প্রজ্ঞা দাবি করেছে যে তারা সর্বদা ভিন্ন ভিন্ন থাকবে, সরল সঠিক পথের বিরুদ্ধাচরণ করবে এবং জাহান্নামে পৌঁছানোর পথগুলোর অনুসারী হবে...।"
আর মহান আল্লাহর বাণী: {এবং সেজন্যই তিনি তাদের সৃষ্টি করেছেন} সম্পর্কে তিনি বলেন: "অর্থাৎ তাঁর প্রজ্ঞা দাবি করেছে যে, তিনি তাদের সৃষ্টি করেছেন যাতে তাদের মধ্যে সৌভাগ্যবান [ও] দুর্ভাগ্যবান এবং একমত পোষণকারী ও ভিন্নমত পোষণকারী উভয়ই থাকে, আর একদল...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-হিওয়ারু মাআ আতবাউল আদইয়ান - মাশরুউইয়াতুহু ওয়া আদাবুহু
(পৃষ্ঠা: ১৫)
الذي هدى الله، والفريق الذي حقت عليهم الضلالة، ليتبين للعباد عدله وحكمته، وليظهر ما كمن في الطباع البشرية من الخير والشر .. ". (1)
وفي معنى الآية يقول محمد رشيد رضا: " {لو شاء ربك} أيها الرسول الحريص على إيمان قومه الآسف على إعراض أكثرهم عن إجابة دعوته واتباع هدايته {لجعل الناس أمة واحدة} على دين واحد بمقتضى الغريزة والفطرة، لا رأي لهم فيه ولا اختيار، وإذاً لما كانوا هم هذا النوع من الخلق المُسمّى البشر وبنوع الإنسان، بل كانوا في حياتهم الاجتماعية كالنحل أو كالنمل، وفي حياتهم الروحية كالملائكة مفطورين على اعتقاد الحقِّ وطاعة الله عز وجل، فلا يقع بينهم اختلاف. ولكنّه خلقهم بمقتضى حكمته كاسبين للعلم لا مُلْهَمين. وعاملين بالاختيار". (2)
ولما كان الاختلاف والتّعدّد آية من آيات الله، فإنّ الذي يسعى لإلغاء هذا التّعدّد كلية، فإنما يروم محالاً ويطلب ممتنعاً، لذا كان لابد من الاعتراف بالاختلاف.
والاعتراف بوقوع هذا الخلاف لا يعني إقرار هذه المختلفات ولا تسويغ الاختلاف فيها، لكنه يفرض على أهل الحق أن يتصدوا لهداية من قدروا على هدايته من المختلفين عنهم، مع يقينهم بالعجز عن إنقاذ الكثيرين ممن اختار العماية، قال تعالى: {أفلم ييأس الذين آمنوا أن لو يشاء الله لهدى الناس جميعاً} (الرعد: 31).
قال القرطبي: " والمعنى على هذا: أفلم يعلم الذين آمنوا أن لو يشاء الله لهدى الناس جميعاً أن يشاهدوا الآيات ". (3)
وعليه فإن هداية الجميع من المحال، فإن أكثر الناس لا يعلمون الحق، وأكثرهم لا يؤمنون به إن علموا به، وواجب الدعاة الدأب في دعوتهم وطلب أسباب هدايتهم، أي بذل الجهد في إزالة الخلاف ورفعه.
--------------------------------------------
যাদেরকে আল্লাহ হিদায়াত (هداية) দিয়েছেন এবং সেই দল যাদের ওপর পথভ্রষ্টতা (الضلالة) অবধারিত হয়েছে, যাতে বান্দাদের সামনে তাঁর ন্যায়বিচার ও প্রজ্ঞা সুস্পষ্ট হয় এবং মানুষের স্বভাবে নিহিত থাকা কল্যাণ ও অকল্যাণ প্রকাশিত হয়...।" (১)
আয়াতের মর্মার্থ সম্পর্কে মুহাম্মদ রশিদ রিযা বলেন: "{যদি আপনার রব চাইতেন} হে রসূল, আপনি যিনি আপনার কওমের ঈমানের প্রতি অত্যন্ত আগ্রহী এবং তাদের অধিকাংশের আপনার দাওয়াত ও হিদায়াত (هداية) কবুল করা থেকে বিমুখ হওয়ায় ব্যথিত, {তবে তিনি সকল মানুষকে এক উম্মত করে দিতেন} যা প্রবৃত্তি ও স্বভাবজাত (الفطرة) চাহিদা অনুযায়ী একই দ্বীনের ওপর প্রতিষ্ঠিত হতো, এতে তাদের কোনো নিজস্ব মত বা ইচ্ছার সুযোগ থাকত না। আর তেমনটি হলে তারা 'মানুষ' নামক এই সৃষ্টি প্রজাতির অন্তর্ভুক্ত থাকত না, বরং তারা তাদের সামাজিক জীবনে মৌমাছি বা পিঁপড়ার ন্যায় হতো এবং আধ্যাত্মিক জীবনে ফেরেশতাদের মতো হতো—যারা সত্যে বিশ্বাস এবং মহান আল্লাহর আনুগত্যের ওপর সৃষ্টিগতভাবে (مفطورين) প্রতিষ্ঠিত, ফলে তাদের মধ্যে কোনো মতভেদ (اختلاف) সৃষ্টি হতো না। কিন্তু তিনি তাঁর প্রজ্ঞার দাবি অনুযায়ী তাদেরকে জ্ঞানার্জনকারী হিসেবে সৃষ্টি করেছেন, ইলহামপ্রাপ্ত (ملهمين) হিসেবে নয়; এবং তারা নিজ ইচ্ছায় আমলকারী।" (২)
যেহেতু মতভেদ (اختلاف) এবং বৈচিত্র্য আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্তর্ভুক্ত, তাই যে ব্যক্তি এই বৈচিত্র্যকে সম্পূর্ণরূপে বিলুপ্ত করার চেষ্টা করে, সে মূলত অসম্ভব ও অসাধ্য কিছু পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা করে। ফলে মতভেদকে (الاختلاف) স্বীকার করে নেওয়া আবশ্যক।
এই মতপার্থক্য (الخلاف) ঘটার বিষয়টি স্বীকার করার অর্থ এই নয় যে, এসব ভিন্নতাকে অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে বা এসবে মতভেদের (الاختلاف) বৈধতা দেওয়া হচ্ছে। বরং এটি সত্যপন্থীদের ওপর এ দায়িত্ব অর্পণ করে যে, তারা যেন বিরোধী পক্ষগুলোর মধ্যে যাদের হিদায়াত (هداية) করার সামর্থ্য রাখে, তাদের হিদায়াতের পথে ডাকার প্রচেষ্টা চালায়। তবে তারা এই দৃঢ় বিশ্বাস রাখবে যে, যারা অন্ধত্বকে বেছে নিয়েছে তাদের মধ্যে অনেককেই রক্ষা করা সম্ভব নয়। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: {তবে মুমিনরা কি এ বিষয়ে নিশ্চিত হয়নি যে, আল্লাহ যদি চাইতেন তবে সব মানুষকে হিদায়াত দিতেন?} (রা'দ: ৩১)।
ইমাম কুরতুবী বলেন: "এর অর্থ হলো: মুমিনরা কি তবে এটা জানেনি যে, আল্লাহ যদি চাইতেন তবে সব মানুষকে হিদায়াত দিতেন যাতে তারা নিদর্শনগুলো চাক্ষুষ প্রত্যক্ষ করত।" (৩)
অতএব, সকলের হিদায়াত (هداية) হওয়া অসম্ভব; কেননা অধিকাংশ মানুষ সত্য সম্পর্কে জানে না, আর তাদের অনেকে তা জানলেও বিশ্বাস করে না। তাই দাঈদের কর্তব্য হলো তাদের দাওয়াতে নিরলস থাকা এবং তাদের হিদায়াতের উপায় অন্বেষণ করা, অর্থাৎ মতপার্থক্য (الخلاف) দূর করা ও নিরসনে প্রচেষ্টা চালানো।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-হিওয়ারু মাআ আতবাউল আদইয়ান - মাশরুউইয়াতুহু ওয়া আদাবুহু
(পৃষ্ঠা: ১৬)
فإن أعرض من أعرض عن الإسلام فإنما أمر الله المسلمين بإبلاغ رسالاته في الدنيا، والله يتولى حساب المعرضين في الآخرة، قال الله مخاطباً نبيه صلى الله عليه وسلم: {فإن تولوا فإنما عليك البلاغ} (النحل: 82).
قال القرطبي: " فإن تولوا أي أعرضوا عن النظر والاستدلال والإيمان؛ فإنما عليك البلاغ، أي ليس عليك إلا التبليغ، وأما الهداية فإلينا". (1)
وقال تعالى: {فإن أسلموا فقد اهتدوا وإن تولوا فإنما عليك البلاغ والله بصيرٌ بالعباد} (آل عمران: 20).
قال الطبري: " وإن أدبروا معرضين عما تدعوهم إليه من الإسلام وإخلاص التوحيد لله رب العالمين، فإنما أنت رسول مبلغ، وليس عليك غير إبلاغ الرسالة إلى من أرسلتك إليه من خلقي وأداء ما كلفتك من طاعتي، {والله بصير بالعباد} يعني بذلك: والله ذو علم بمن يقبل من عباده ما أرسلتك به إليه، فيطيعك بالإسلام، وبمن يتولى منهم عنه معرضاً فيرد عليك ما أرسلتك به إليه، فيعصيك بإبائه الإسلام ". (2)
قال الشوكاني في سياق شرحه لقول الله تعالى: {فإنما عليك البلاغ وعلينا الحساب} (الرعد: 40): " أي: فليس عليك إلا تبليغ أحكام الرسالة، ولا يلزمك حصول الإجابة منهم، لما بلّغته إليهم، {وعلينا الحساب} أي: محاسبتهم بأعمالهم ومجازاتهم عليها، وليس ذلك عليك.
وهذا تسلية من الله سبحانه لرسوله صلى الله عليه وسلم، وإخبار له أنه قد فعل ما أمره الله به، وليس عليه غيره، وأن من لم يجب دعوته ويصدق نبوته، فالله سبحانه محاسبه على ما اجترم واجترأ عليه من ذلك". (3)
وقال تعالى: {فذكر إنما أنت مذكر - لست عليهم بمسيطر} (الغاشية: 21 - 22).
قال الطبري: " يقول: لست عليهم بمسلَّط، ولا أنت بجبار تحملهم على ما تريد، يقول: كِلْهم إليّ، ودعهم وحكمي فيهم
… ". (4)
--------------------------------------------
যারা ইসলাম থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়, তাদের ক্ষেত্রে আল্লাহ তাআলা মুসলিমদের কেবল তাঁর বাণী পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। আর পরকালে বিমুখ ব্যক্তিদের হিসাব গ্রহণের দায়িত্ব আল্লাহর। আল্লাহ তাঁর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে সম্বোধন করে বলেছেন: "যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে তোমার দায়িত্ব কেবল (বাণী) পৌঁছে দেওয়া।" (আন-নাহল: ৮২)।
আল-কুরতুবি বলেন: "অর্থাৎ যদি তারা অনুধাবন, দলিল অন্বেষণ ও ঈমান থেকে বিমুখ হয়; তবে তোমার দায়িত্ব কেবল পৌঁছে দেওয়া, অর্থাৎ তোমার ওপর দাওয়াত পৌঁছে দেওয়া ছাড়া আর কোনো দায়িত্ব নেই। আর হিদায়াত প্রদানের দায়িত্ব আমাদেরই।" (১)
আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: "অতঃপর তারা যদি ইসলাম গ্রহণ করে তবে তারা সুপথ প্রাপ্ত হলো, আর যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয় তবে তোমার দায়িত্ব কেবল পৌঁছে দেওয়া; আর আল্লাহ বান্দাদের সম্পর্কে সম্যক দ্রষ্টা।" (আল-ইমরান: ২০)।
আত-তাবারী বলেন: "আর তুমি তাদের ইসলামের দিকে এবং রাব্বুল আলামীন আল্লাহর প্রতি একনিষ্ঠ তাওহিদের দিকে যে দাওয়াত দিচ্ছ, তা থেকে যদি তারা পিঠ ফিরিয়ে নেয়, তবে তুমি কেবল একজন বার্তাবাহক এবং পৌঁছে দানকারী। আমার সৃষ্টিজগত থেকে যার কাছে আমি তোমাকে পাঠিয়েছি, তার কাছে বার্তা পৌঁছে দেওয়া এবং আমার আনুগত্যের যে দায়িত্ব আমি তোমাকে দিয়েছি তা পালন করা ছাড়া তোমার আর কোনো দায় নেই। 'আর আল্লাহ বান্দাদের প্রতি সম্যক দ্রষ্টা'—এর অর্থ হলো: আল্লাহ তাঁর বান্দাদের মধ্যে কে তোমার আনীত বার্তাকে গ্রহণ করবে এবং ইসলামের মাধ্যমে তোমার আনুগত্য করবে, আর কে বিমুখ হয়ে মুখ ফিরিয়ে নেবে এবং তোমার আনীত বার্তাকে প্রত্যাখ্যান করবে ও ইসলাম গ্রহণে অস্বীকৃতি জানিয়ে তোমার অবাধ্য হবে, সে সম্পর্কে আল্লাহ পূর্ণ জ্ঞান রাখেন।" (২)
আশ-শাওকানি আল্লাহ তাআলার বাণী: "তোমার দায়িত্ব কেবল পৌঁছে দেওয়া আর আমাদের ওপর হিসাব গ্রহণের দায়িত্ব" (আর-রাদ: ৪০)-এর ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে বলেন: "অর্থাৎ রিসালাতের বিধানাবলি পৌঁছে দেওয়া ছাড়া তোমার আর কোনো দায়িত্ব নেই। তুমি যা তাদের নিকট পৌঁছে দিয়েছ, তাদের পক্ষ থেকে তার সাড়া পাওয়া তোমার জন্য আবশ্যক নয়। 'আর আমাদের ওপর হিসাব গ্রহণের দায়িত্ব'—অর্থাৎ তাদের আমলসমূহের হিসাব নেওয়া এবং তার প্রতিদান প্রদান করা আমাদের কাজ, তোমার নয়।
এটি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার পক্ষ থেকে তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর জন্য সান্ত্বনা। আল্লাহ তাঁকে সংবাদ দিচ্ছেন যে, আল্লাহ তাঁকে যা নির্দেশ দিয়েছেন তিনি তা পালন করেছেন এবং এছাড়া তাঁর অন্য কোনো দায়িত্ব নেই। আর যে ব্যক্তি তাঁর দাওয়াতের উত্তর দেবে না এবং তাঁর নবুওয়াতকে সত্য বলে স্বীকার করবে না, সে যে অপরাধ ও ধৃষ্টতা দেখিয়েছে তার জন্য আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তার হিসাব গ্রহণ করবেন।" (৩)
আল্লাহ তাআলা বলেন: "অতএব আপনি উপদেশ দিন, আপনি তো কেবল একজন উপদেশদাতা। আপনি তাদের উপর জোরজবরদস্তিকারী নন।" (আল-গাশিয়াহ: ২১-২২)।
আত-তাবারী বলেন: "তিনি বলছেন: তুমি তাদের ওপর ক্ষমতাবান নও এবং তুমি এমন প্রতাপশালী নও যে তাদের তোমার ইচ্ছানুযায়ী চলতে বাধ্য করবে। তিনি বলছেন: তাদের দায়িত্ব আমার ওপর ছেড়ে দাও, তাদের সাথে আমার ফয়সালার জন্য তাদের ছেড়ে দাও…" (৪)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-হিওয়ারু মাআ আতবাউল আদইয়ান - মাশরুউইয়াতুহু ওয়া আদাবুহু
(পৃষ্ঠা: ১৭)
قال ابن كثير: " {فإن أعرضوا} يعني المشركين {فما أرسلناك عليهم حفيظاً} (الشورى: 48) أي: {لست عليهم بمصيطر} (الغاشية: 22)، وقال عز وجل: {ليس عليك هداهم ولكن الله يهدي من يشاء} (البقرة: 272)، وقال تعالى: {فإنما عليك البلاغ وعلينا الحساب} (الرعد: 40)، وقال جل وعلا في آية الشورى: {إن عليك إلا البلاغ} (الشورى: 48) أي: إنما كلفناك أن تبلغهم رسالة الله إليهم". (1)
فالإسلام - كما رأينا - يعترف بوجود الاختلاف وعدم إمكانية جمع الناس على دين واحد، ويطلب من الدعاة ورثة الأنبياء القيام بواجب البلاغ في الدنيا واستفراغ الوسع في الإرشاد والنصح للعالمين، ثم الله يتولى - بحكمه وعدله - يوم القيامة حساب المعاندين وجزاء المؤمنين.
--------------------------------------------
ইবন কাসীর বলেন: " {যদি তারা বিমুখ হয়} অর্থাৎ মুশরিকরা, {তবে আমি আপনাকে তাদের ওপর হিফাজতকারী হিসেবে পাঠাইনি} (আশ-শূরা: ৪৮); অর্থাৎ: {আপনি তাদের ওপর কোনো জবরদস্তিকারী নন} (আল-গাশিয়াহ: ২২)। মহান আল্লাহ বলেন: {তাদের হিদায়াতের দায়িত্ব আপনার নয়, বরং আল্লাহ যাকে ইচ্ছা হিদায়াত দান করেন} (আল-বাকারা: ২৭২)। আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {আপনার দায়িত্ব তো কেবল পৌঁছে দেওয়া, আর হিসাব নেওয়ার দায়িত্ব আমার} (আর-রাদ: ৪০)। মহান আল্লাহ সূরা আশ-শূরার আয়াতে বলেন: {আপনার দায়িত্ব কেবল পৌঁছে দেওয়া} (আশ-শূরা: ৪৮); অর্থাৎ: আমি আপনাকে কেবল তাদের নিকট আল্লাহর রিসালাত পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব প্রদান করেছি।" (১)
সুতরাং ইসলাম - যেমনটি আমরা দেখেছি - মতপার্থক্যের বিদ্যমানতা এবং সকল মানুষকে একটি দ্বীনের ওপর একত্রিত করার অসম্ভবতাকে স্বীকার করে। এটি নবীদের উত্তরাধিকারী দাঈদের প্রতি ইহকালে দাওয়াত পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব পালন এবং বিশ্ববাসীর প্রতি সঠিক দিকনির্দেশনা ও নসীহতের ক্ষেত্রে সাধ্যের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা ব্যয় করার আহ্বান জানায়। অতঃপর মহান আল্লাহ কিয়ামতের দিন তাঁর বিচার ও ইনসাফের মাধ্যমে অবাধ্যদের হিসাব গ্রহণ এবং মুমিনদের পুরস্কার প্রদান করবেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-হিওয়ারু মাআ আতবাউল আদইয়ান - মাশরুউইয়াতুহু ওয়া আদাবুহু
(পৃষ্ঠা: ১৯)
تاريخ الحوارمنذ سطع نور الإسلام على الدنيا أدرك المسلمون طبيعة دينهم وعالمية رسالته، فقاموا يدعون الناس إلى هديه، فبدأ الحوار بين المسلمين ومشركي قريش، وسجل القرآن في آياته الكثير من هذه الحوارات، وتولى فيها الرد على المشركين.
وكان من أهم مناسبات الحوار هجرة أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم إلى الحبشة، وحوارهم مع النجاشي حول قول المسلمين في المسيح وأمه عليهما السلام.
وحين انتقل النبي صلى الله عليه وسلم إلى المدينة بدأ الحوار مع أهل الكتاب من قطّان المدينة المنورة، وقد نقل القرآن الكثير من الحوارات التي طَلب من النبي صلى الله عليه وسلم أن يجريها مع أهل الكتاب، والكثير منها كان يبدأ بقوله تعالى: {يا أهل الكتاب} (النساء: 171، المائدة: 15، 19، 59، 68، 77).
ومن حواره صلى الله عليه وسلم مع يهود المدينة أن حبراً من اليهود يقال له مالك بن الصيف جاء يخاصم النبي صلى الله عليه وسلم، فقال له النبي صلى الله عليه وسلم: ((أنشدك بالذي أنزل التوراة على موسى، أما تجد في التوراة أن الله يبغض الحبر السمين؟)) وكان حبراً سميناً.
فغضب فقال: والله ما أنزل الله على بشر من شيء. فقال له أصحابه الذين معه: ويحك، ولا موسى؟ فقال: والله ما أنزل الله على بشر من شيء. فأنزل الله: {وما قدروا الله حق قدره إذ قالوا ما أنزل الله على بشر من شيء قل من أنزل الكتاب الذي جاء به موسى} (الأنعام: 91). (1)
وكان أهم اتصال بالنصرانية قدوم وفد نصارى نجران إلى المدينة وبقاؤهم فيها أياماً يناظرون رسول الله صلى الله عليه وسلم وقد أذن لهم رسول الله بالصلاة في مسجده، وقال لأصحابه: ((دعوهم)) (2)، ونزل بسبب هذه الزيارة بضع وثمانون آية من صدر سورة آل عمران.
--------------------------------------------
সংলাপের ইতিহাসপৃথিবীতে ইসলামের আলো উদ্ভাসিত হওয়ার পর থেকেই মুসলিমগণ তাদের দ্বীনের প্রকৃতি এবং এর বার্তার বিশ্বজনীনতা উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন। ফলে তারা মানুষকে এর হিদায়াতের দিকে আহ্বান জানাতে শুরু করেন। এভাবেই মুসলিম এবং কুরাইশ মুশরিকদের (مشركي) মধ্যে সংলাপের সূচনা হয়। আল-কুরআনের বহু আয়াতে এই সংলাপগুলোর বিবরণ সংরক্ষিত হয়েছে এবং সেখানে মুশরিকদের (مشركين) আপত্তির জবাব দেওয়া হয়েছে।
সংলাপের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি ক্ষেত্র ছিল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণের হাবশায় হিজরত এবং সেখানে ঈসা আলাইহিস সালাম ও তাঁর মাতা সম্পর্কে মুসলিমদের বিশ্বাসের বিষয়ে নাজাশির সাথে তাদের সংলাপ।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মদিনায় হিজরত করলেন, তখন মদিনার অধিবাসী আহলে কিতাবদের (أهل الكتاب) সাথে সংলাপ শুরু হয়। কুরআন মাজিদ এমন অনেক সংলাপের কথা বর্ণনা করেছে যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আহলে কিতাবদের (أهل الكتاب) সাথে পরিচালনা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এগুলোর অনেকগুলোই মহান আল্লাহর এই বাণীর মাধ্যমে শুরু হয়েছে: {হে আহলে কিতাব} (আন-নিসা: ১৭১, আল-মায়িদা: ১৫, ১৯, ৫৯, ৬৮, ৭৭)।
মদিনার ইহুদিদের সাথে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সংলাপের একটি উদাহরণ হলো, মালিক বিন আল-সাইফ নামক জনৈক ইহুদি পণ্ডিত (حبر) তাঁর সাথে বিতণ্ডা করতে আসে। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন: ((আমি তোমাকে সেই সত্তার কসম দিয়ে বলছি যিনি মুসার ওপর তাওরাত নাজিল করেছেন, তুমি কি তাওরাতে পাও না যে আল্লাহ স্থূলকায় পণ্ডিতকে (الحبر السمين) অপছন্দ করেন?)) আর সে ছিল একজন স্থূলকায় পণ্ডিত (حبراً سميناً)।
এতে সে রাগান্বিত হয়ে বলল: আল্লাহর কসম, আল্লাহ কোনো মানুষের ওপর কিছুই নাজিল করেননি। তখন তার সাথে থাকা সঙ্গীরা তাকে বলল: তোমার ধ্বংস হোক! এমনকি মুসার ওপরও নয়? সে বলল: আল্লাহর কসম, আল্লাহ কোনো মানুষের ওপর কিছুই নাজিল করেননি। তখন আল্লাহ তাআলা নাজিল করলেন: {তারা আল্লাহকে যথার্থ মর্যাদা দেয়নি, যখন তারা বলেছিল যে আল্লাহ কোনো মানুষের ওপর কিছুই নাজিল করেননি। বলুন, কে সেই কিতাব নাজিল করেছেন যা মুসা নিয়ে এসেছিলেন?} (আল-আনআম: ৯১)। (১)
নাসারাদের সাথে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ ছিল নাজরানের নাসারা প্রতিনিধি দলের মদিনায় আগমন এবং সেখানে কয়েক দিন অবস্থান করে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে মুনাজারা (مناظرة) বা বিতর্ক করা। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের নিজের মসজিদে সালাত আদায়ের অনুমতি দিয়েছিলেন এবং সাহাবীদের উদ্দেশ্যে বলেছিলেন: ((তাদের ছেড়ে দাও)) (২)। এই সফরের প্রেক্ষাপটে সূরা আলে-ইমরানের শুরুর দিকের আশিটিরও বেশি আয়াত নাজিল হয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-হিওয়ারু মাআ আতবাউল আদইয়ান - মাশরুউইয়াতুহু ওয়া আদাবুহু
(পৃষ্ঠা: ২০)
ولم تنقل إلينا كتب السنة إلا النزر اليسير عما دار بينهم وبين رسول الله صلى الله عليه وسلم.
ومما نقل في ذلك ما ذكره ابن جرير في تفسيره أنه جاء راهبا نجران إلى النبي صلى الله عليه وسلم، فعرض عليهما الإسلام، فقال أحدهما: إنا قد أسلمنا قبلك. فقال: ((كذبتما. إنه يمنعكما عن الإسلام ثلاثة: عبادتكم الصليب، وأكلكم الخنزير، وقولكم لله ولد)).
قال: من أبو عيسى؟ وكان صلى الله عليه وسلم لا يعجل حتى يأتي أمر ربه، فأنزل الله تعالى: {إن مثل عيسى عند الله كمثل آدم خلقه من تراب ثم قال له كن فيكون} (آل عمران: 59). (1)
وذكر الطبري بإسناده أيضاً أن نصارى نجران قالوا: " ألست تزعم أنه كلمة الله وروح منه؟ قال: بلى. قالوا: فحسبنا. فأنزل الله عز وجل: {فأما الذين في قلوبهم زيغ فيتبعون ما تشابه منه ابتغاء الفتنة وابتغاء تأويله} (آل عمران: 7). (2)
لكن الذي يثير الانتباه في زيارة وفد نصارى نجران ما نقله الطبري من اجتماع النبي صلى الله عليه وسلم بهم في حضور وفد من يهود المدينة، فقد روى بإسناده إلى ابن عباس أنه "اجتمعت نصارى نجران وأحبار اليهود عند رسول الله، فتنازعوا عنده، فقالت الأحبار: ما كان إبراهيم إلا يهودياً. وقالت النصارى: ما كان إبراهيم إلا نصرانياً. فأنزل الله: {ما كان إبراهيم يهودياً ولا نصرانياً} (آل عمران: 67). (3)
وحين رجع وفد نجران إلى بلاده لم ينقطع حوارهم مع المسلمين، ذلك أن النبي صلى الله عليه وسلم أرسل معهم المغيرة بن شعبة، فكانوا يحاورونه ويطرحون عليه الأسئلة عن القرآن، ومن ذلك أنه أشكل عليهم مؤاخاة القرآن بين مريم وهارون، وبينهما زمن مديد، فقالوا للمغيرة: "ألستم تقرؤون: {يا أخت هارون} (مريم: 28)، وقد علمتم ما بين موسى وعيسى
… ". (4)
--------------------------------------------
সুন্নাহর কিতাবসমূহ আমাদের কাছে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এবং তাদের মধ্যে যা কিছু ঘটেছিল তার অতি সামান্যই বর্ণনা করেছে।
এ প্রসঙ্গে যা বর্ণিত হয়েছে তন্মধ্যে ইবনে জারীর তাঁর তাফসিরে উল্লেখ করেছেন যে, নাজরানের দুইজন সন্ন্যাসী নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট আসেন। তিনি তাদের নিকট ইসলাম পেশ করেন, তখন তাদের একজন বলল: 'আমরা আপনার পূর্বেই ইসলাম গ্রহণ করেছি।' তিনি বললেন: "তোমরা মিথ্যা বলেছ। তিনটি বিষয় তোমাদের ইসলাম গ্রহণে বাধা দিচ্ছে: তোমাদের ক্রুশ পূজা, শুকরের মাংস ভক্ষণ এবং আল্লাহর সন্তান আছে বলে তোমাদের দাবি।"
সে বলল: ঈসার পিতা কে? রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর রবের পক্ষ থেকে নির্দেশ না আসা পর্যন্ত তড়িঘড়ি করতেন না। অতঃপর আল্লাহ তাআলা অবতীর্ণ করেন: {নিশ্চয় আল্লাহর নিকট ঈসার দৃষ্টান্ত আদমের সদৃশ। তিনি তাকে মাটি দিয়ে সৃষ্টি করেছিলেন, অতঃপর তাকে বলেছিলেন, 'হও', ফলে সে হয়ে যায়} (আল-ইমরান: ৫৯)। (১)
আত-তাবারী তাঁর সনদ (إسناد) সহ আরও উল্লেখ করেছেন যে, নাজরানের খ্রিষ্টানরা বলেছিল: "আপনি কি দাবি করেন না যে তিনি আল্লাহর বাণী এবং তাঁর পক্ষ থেকে প্রেরিত রূহ?" তিনি বললেন: "হ্যাঁ।" তারা বলল: "তবে এটাই আমাদের জন্য যথেষ্ট।" তখন আল্লাহ তাআলা অবতীর্ণ করেন: {অতঃপর যাদের অন্তরে বক্রতা রয়েছে, তারা ফিতনা সৃষ্টি ও অপব্যাখ্যার উদ্দেশ্যে যা অস্পষ্ট (متشابه) তার অনুসরণ করে} (আল-ইমরান: ৭)। (২)
তবে নাজরানের খ্রিষ্টান প্রতিনিধিদলের আগমনের ক্ষেত্রে যা বিশেষভাবে দৃষ্টি আকর্ষণ করে তা হলো আত-তাবারী বর্ণিত একটি বর্ণনা, যেখানে মদিনার একদল ইয়াহুদির উপস্থিতিতে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাদের সাথে একত্রিত হয়েছিলেন। তিনি ইবনে আব্বাস থেকে তাঁর সনদ (إسناد) সহ বর্ণনা (روى) করেছেন যে, "রাসুলুল্লাহ-এর নিকট নাজরানের খ্রিষ্টান এবং ইয়াহুদি পণ্ডিতরা একত্রিত হলো। তারা তাঁর সামনে বিতর্কে লিপ্ত হলো। পণ্ডিতরা বলল: 'ইব্রাহিম ইয়াহুদি ছাড়া আর কিছু ছিলেন না।' আর খ্রিষ্টানরা বলল: 'ইব্রাহিম খ্রিষ্টান ছাড়া আর কিছু ছিলেন না।' তখন আল্লাহ অবতীর্ণ করলেন: {ইব্রাহিম ইয়াহুদিও ছিলেন না এবং খ্রিষ্টানও ছিলেন না} (আল-ইমরান: ৬৭)। (৩)
নাজরানের প্রতিনিধিদল যখন তাদের দেশে ফিরে গেল, তখনো মুসলমানদের সাথে তাদের সংলাপ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়নি। কারণ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাদের সাথে মুগিরা ইবনে শু'বাকে পাঠিয়েছিলেন। তারা তাঁর সাথে বিতর্ক করত এবং কুরআন সম্পর্কে প্রশ্ন করত। যেমন তাদের কাছে একটি বিষয় অস্পষ্ট মনে হয়েছিল যে, কুরআন মারইয়াম এবং হারুনকে ভাই-বোন হিসেবে উল্লেখ করেছে অথচ তাদের মাঝে দীর্ঘ সময়ের ব্যবধান ছিল। তারা মুগিরাকে বলেছিল: "তোমরা কি পাঠ করো না: {হে হারুনের বোন} (মারইয়াম: ২৮), অথচ তোমরা জানো মূসা ও ঈসার মধ্যে কতটা ব্যবধান
… "। (৪)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-হিওয়ারু মাআ আতবাউল আদইয়ান - মাশরুউইয়াতুহু ওয়া আদাবুহু
(পৃষ্ঠা: ২১)
كما استقبل النبي صلى الله عليه وسلم في مسجده عدي بن حاتم الطائي، وحاوره في أخذه المرباع من قومه، وهو لا يحل له في دينه، ودعاه للإسلام فأسلم. (1)
واستقبل أيضاً الجارود بن عمرو في وفد عبد القيس، وكان نصرانياً؛ فدعاه إلى الإسلام، فأسلم. (2)
كما كانت مراسلة النبي صلى الله عليه وسلم لملوك النصارى ومقدميهم نوعاً من الحوار، فقد أرسل أصحابه بكتبه إلى النجاشي وهرقل والمقوقس عظيم القبط وهوذة الحنفي صاحب اليمامة؛ يدعوهم للإسلام.
مع أن كتب التاريخ لم تنقل إلينا الكثير مما جرى بين سفراء النبي صلى الله عليه وسلم والمرسلين إليهم إلا أنه من المؤكد تحاورهم، إذ هو ما تقتضيه السفارة.
ومما نقل في ذلك حوار حاطب بن أبي بلتعة مع المقوقس، فقد سأله المقوقس عن حرب النبي صلى الله عليه وسلم مع أعدائه، فأجابه حاطب بأنه يَغلِب ويُغلَب، فقال المقوقس: أنبي الله يُغلب؟ فأجاب حاطب: أولد الله يُصلب؟ (3)
ومثله ما رواه ابن عبد البر في الاستيعاب من حديث حاطب بن أبي بلتعة أن المقوقس جمع بطارقته فقال: إني سأكلمك بكلام أحب أن تفهمه مني. قال: قلت: هلم. قال: أخبرني عن صاحبك أليس هو نبياً؟ قلت: بلى، هو رسول الله.
قال: فما له حيث كان هكذا لم يدع على قومه، حيث أخرجوه من بلدته إلى غيرها؟ فقلت له: فعيسى ابن مريم، أتشهد أنه رسول الله؟ فما له حيث أخذه قومه، فأرادوا صلبه ألّا يكون دعا عليهم بأن يهلكهم الله حتى رفعه الله إليه في سماء الدنيا؟ قال: أحسنت، أنت حكيم جاء من عند حكيم. (4)
وحين دخل المسلمون مصر وبلاد الشام تحولت تلك الشعوب النصرانية إلى الإسلام دين الفاتحين الجدد، وهذا التحول ثمرة لأسباب متضافرة،
--------------------------------------------
তেমনিভাবে নবী (সা.) তাঁর মসজিদে আদী ইবনে হাতিম আত-তায়ী-কে অভ্যর্থনা জানিয়েছিলেন এবং তাঁর কওমের থেকে 'মিরবা' (এক-চতুর্থাংশ গনীমত) গ্রহণ করার বিষয়ে তাঁর সাথে আলোচনা করেছিলেন, অথচ তাঁর ধর্মে তা তাঁর জন্য বৈধ ছিল না; এরপর নবী (সা.) তাঁকে ইসলামের দাওয়াত দেন এবং তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন। (১)
তিনি আরও অভ্যর্থনা জানিয়েছিলেন আবদে কায়েস প্রতিনিধিদলের সাথে আসা আল-জারুদ ইবনে আমর-কে, যিনি ছিলেন একজন খ্রিস্টান; নবী (সা.) তাঁকে ইসলামের দাওয়াত দেন এবং তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন। (২)
তদ্রূপ খ্রিস্টান রাজা এবং তাদের নেতাদের কাছে নবী (সা.)-এর পত্র বিনিময়ও ছিল এক প্রকারের সংলাপ। তিনি তাঁর সাহাবীদেরকে পত্রসহ নাজ্জাশী, হেরাক্লিয়াস, কিবতিদের অধিপতি মুকাউকিস এবং ইয়ামামার অধিপতি হাওজাহ আল-হানাফীর কাছে পাঠান; তিনি তাঁদেরকে ইসলামের দাওয়াত দেন।
যদিও ইতিহাসের গ্রন্থগুলো নবী (সা.)-এর দূত এবং যাঁদের কাছে দূত পাঠানো হয়েছিল তাঁদের মধ্যে সংঘটিত আলোচনার খুব বেশি বিবরণ আমাদের কাছে পৌঁছায়নি, তবে এটা নিশ্চিত যে তাঁদের মধ্যে সংলাপ হয়েছিল; কারণ এটিই ছিল দূতিয়ালির দাবি।
এ সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে তার মধ্যে অন্যতম হলো মুকাউকিসের সাথে হাতিব ইবনে আবি বালতা'আহ-র সংলাপ। মুকাউকিস তাঁকে শত্রুদের সাথে নবী (সা.)-এর যুদ্ধ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন। তখন হাতিব উত্তর দেন যে, তিনি জয়ী হন এবং কখনও কখনও পরাজিতও হন। মুকাউকিস বললেন: আল্লাহর নবী কি পরাজিত হন? হাতিব উত্তর দিলেন: আল্লাহর পুত্র কি ক্রুশবিদ্ধ হন? (৩)
তদ্রূপ ইবনে আবদুল বার আল-ইস্তিআব গ্রন্থে হাতিব ইবনে আবি বালতা'আহ-র বর্ণিত হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন যে, মুকাউকিস তাঁর পাত্র-মিত্রদের একত্র করে বললেন: আমি তোমার সাথে এমন কিছু কথা বলব যা আমি চাই তুমি আমার কাছ থেকে বুঝে নাও। হাতিব বললেন: আমি বললাম, বলুন। তিনি বললেন: তোমার সঙ্গী সম্পর্কে আমাকে বলো, তিনি কি নবী নন? আমি বললাম: অবশ্যই, তিনি আল্লাহর রসূল।
তিনি বললেন: তাহলে তাঁর কী হলো যে তিনি এমন হওয়া সত্ত্বেও নিজের সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে বদদোয়া করলেন না, যখন তারা তাঁকে তাঁর শহর থেকে অন্য শহরে বের করে দিয়েছিল? আমি তাঁকে বললাম: আচ্ছা মারইয়াম-পুত্র ঈসা সম্পর্কে আপনার কী মত? আপনি কি সাক্ষ্য দেন না যে তিনি আল্লাহর রসূল? তাহলে তাঁর কী হয়েছিল যখন তাঁর সম্প্রদায় তাঁকে পাকড়াও করেছিল এবং তাঁকে ক্রুশবিদ্ধ করতে চেয়েছিল, তখন কেন তিনি তাদের ধ্বংস করার জন্য আল্লাহর কাছে বদদোয়া করেননি, যতক্ষণ না আল্লাহ তাঁকে আসমানে নিজের কাছে তুলে নিলেন? তিনি বললেন: তুমি চমৎকার বলেছ, তুমি একজন প্রজ্ঞাবান ব্যক্তির পক্ষ থেকে আসা প্রজ্ঞাবান ব্যক্তি। (৪)
আর যখন মুসলিমগণ মিসর ও শাম ভূখণ্ডে প্রবেশ করেন, তখন সেই খ্রিস্টান জাতিগুলো নতুন বিজয়ীদের ধর্ম ইসলামের দিকে ধাবিত হয় এবং এই রূপান্তর ছিল নানাবিধ সংহত কারণের ফল।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-হিওয়ারু মাআ আতবাউল আদইয়ান - মাশরুউইয়াতুহু ওয়া আদাবুহু
(পৃষ্ঠা: ২২)
أهمها الحوار الذي شاع بين المسلمين والنصارى في تلك الربوع.
ولئن كان التاريخ ذهل عن تسجيل حوارات عوام المسلمين مع غيرهم، والذي أسفر عن دخولهم الإسلام، فإنه لم يغفل عن تسجيل الحوارات التي جرت في قصور السلاطين من المسلمين وغيرهم.
ومنه حوار الخليفة هارون الرشيد مع طبيبه النصراني، واستعانته بعالم خراسان محمد بن عمر بن واقد. (1)
كما جمع الخليفة المأمون بين كلثوم بن عمرو العتابي وابن فروة النصراني، وتناظرا بين يديه في قول النصارى بألوهية المسيح. (2)
كما وفد القاضي أبو بكر محمد الباقلاني على ملك الروم في القسطنطينية بأمر من المعتضد العباسي، والحوار الذي جرى بينه وبين ملك الروم وراهبهم مشهور في كتب التاريخ. (3)
ونقل صاحب عيون المناظرات قصة فيلسوف نصراني قدم بغداد، وأسلم بعد حواره مع نخبة من علماء المسلمين، جمعهم الخليفة في قصره، منهم الصالحي والجبائي والكعبي والأشعري. (4)
وبعيداً عن قصور الأمراء تحاور العلماء المسلمون مع غيرهم، ولعل من أوائل ما نقل في هذا الصدد حوار أبي حنيفة النعمان بن ثابت مع طائفة من الملاحدة حول سببية العالم. (5)
وكذلك حوار الفخر الرازي الطويل مع قسيس في خوارزم في موضوعات أهمها نبوة النبي صلى الله عليه وسلم وهل معجزات عيسى تدل على نبوته أو ألوهيته؟ (6)
--------------------------------------------
এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো সেই সকল সংলাপ, যা সেই অঞ্চলে মুসলিম ও খ্রিষ্টানদের মধ্যে ব্যাপকভাবে প্রচলিত ছিল।
ইতিহাস যদিও সাধারণ মুসলিমদের সাথে অন্যদের সংলাপ লিপিবদ্ধ করার ক্ষেত্রে উদাসীনতা দেখিয়েছে—যার ফলে তাঁদের ইসলাম গ্রহণ ত্বরান্বিত হয়েছিল—তবে মুসলিম এবং অন্যান্য সুলতানদের রাজপ্রাসাদে অনুষ্ঠিত সংলাপগুলো লিপিবদ্ধ করতে ইতিহাস মোটেও অবহেলা করেনি।
এর অন্তর্ভুক্ত হলো খলিফা হারুনুর রশিদের সাথে তাঁর খ্রিষ্টান চিকিৎসকের সংলাপ এবং এ ক্ষেত্রে খোরাসানের আলেম মুহাম্মদ ইবনে উমর ইবনে ওয়াকিদের সাহায্য গ্রহণ। (১)
অনুরূপভাবে খলিফা আল-মামুন কুলসুম ইবনে আমর আল-আত্তাবি এবং খ্রিষ্টান ইবনে ফারওয়ার মধ্যে বিতর্কের ব্যবস্থা করেছিলেন এবং তাঁরা খলিফার সামনে মসিহের ঈশ্বরত্ব সম্পর্কে খ্রিষ্টানদের মতবাদের বিষয়ে বিতর্ক করেছিলেন। (২)
তদ্রূপ আব্বাসীয় খলিফা আল-মুতাদিদের নির্দেশে কাজী আবু বকর মুহাম্মদ আল-বাকিল্লানি কনস্টান্টিনোপলে রোমান সম্রাটের নিকট প্রতিনিধি হিসেবে গিয়েছিলেন; তাঁর এবং রোম সম্রাট ও তাঁদের পাদ্রিদের মধ্যে যে সংলাপ হয়েছিল, তা ইতিহাসের বইগুলোতে প্রসিদ্ধ। (৩)
‘উয়ুনুল মুনাজারা’ গ্রন্থের লেখক একজন খ্রিষ্টান দার্শনিকের কাহিনী বর্ণনা করেছেন, যিনি বাগদাদে এসেছিলেন এবং মুসলিম আলেমদের একটি অভিজাত দলের সাথে সংলাপের পর ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন; খলিফা তাঁদের নিজ প্রাসাদে সমবেত করেছিলেন, যাঁদের মধ্যে আস-সালিহি, আল-জুব্বাঈ, আল-কাব্বি এবং আল-আশআরি অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। (৪)
আমীরদের প্রাসাদের বাইরেও মুসলিম আলেমরা অন্যদের সাথে সংলাপে লিপ্ত হতেন। সম্ভবত এই প্রসঙ্গে বর্ণিত প্রাচীনতম ঘটনাগুলোর একটি হলো মহাবিশ্বের কারণতত্ত্ব নিয়ে একদল নাস্তিকের সাথে আবু হানিফা নুমান ইবনে সাবিতের সংলাপ। (৫)
একইভাবে খাওয়ারিজমে একজন পাদ্রির সাথে ফখরুদ্দীন আল-রাজির দীর্ঘ সংলাপ, যার মূল বিষয়বস্তু ছিল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নবুয়ত এবং ঈসা (আ.)-এর মুজিজাগুলো কি তাঁর নবুয়তের প্রমাণ দেয় নাকি তাঁর ঈশ্বরত্বের? (৬)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-হিওয়ারু মাআ আতবাউল আদইয়ান - মাশরুউইয়াতুহু ওয়া আদাবুহু
(পৃষ্ঠা: ২৩)
ثم مناظرة ابن القيم لأحد رؤساء اليهود حول نبوة النبي صلى الله عليه وسلم. (1)
كما كتب العلماء العشرات من الكتب والردود على مختلف محاوريهم، فازدهر حوار الكتب، ومنه كتاب "الجواب الصحيح" لابن تيمية، وهو يرد فيه على كتاب ورد من قبرص بعنوان: "الكتاب المنطيقي الدولة خاني المبرهن عن الاعتقاد الصحيح والرأي المستقيم " لراهب صيدا الأسقف بولص الراهب.
كما كتب أبو الوليد الباجي رسالة رد فيها على رسالة وجهها راهب فرنسا إلى المقتدر أمير سرقسطة يدعوه فيها للدخول في النصرانية. (2)
وكتب أبو عبيدة الخزرجي القرطبي كتابه المشهور باسم " مقامع هامات الصلبان، ومراتع روضات الإيمان " (3) رداً على أسئلة كان يثيرها قسيس من القوط على نفر من المسلمين بطليطلة.
ولم تنقطع الحوارات والكتب المتبادلة بين المسلمين وغيرهم، وإن خَفَت بريقها مع تراجع الحركة العلمية عند المسلمين.
ومع بداية الحركة الاستعمارية الغربية تجدد الحوار بين المسلمين ومستعمريهم، ولعل من أبرز ما يذكر في هذا الصدد الحوار الذي جرى بين العلامة رحمة الله الهندي والقس كئي ومساعده القس فرنج، ثم جرت المناظرة الكبرى بينه وبين القس فندر في شهر رجب من عام 1270هـ رداً على النشاط التنصيري في الهند.
وفي القرن الميلادي العشرين نشط الحوار بين الأديان، ودعي المتحاورون إلى عدد من المؤتمرات، منها مؤتمر تاريخ الأديان الدولي في بروكسل في عام 1935م، والمؤتمر العالمي للأديان المنعقد في لندن عام 1936م، ثم في جامعة السوربون عام 1937م.
ونشطت الدعوة إلى حوار الأديان إثر انعقاد مجمع الفاتيكان الثاني
--------------------------------------------
এরপর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নবুয়ত সম্পর্কে জনৈক ইহুদি প্রধানের সাথে ইবনুল কাইয়্যিমের বিতর্ক। (১)
একইভাবে আলিমগণ তাঁদের বিভিন্ন প্রতিপক্ষের জবাবে অসংখ্য গ্রন্থ ও প্রতিবাদলিপি রচনা করেছেন, যার ফলে গ্রন্থ-ভিত্তিক সংলাপ সমৃদ্ধ হয়েছে। এর মধ্যে ইবনে তাইমিয়ার গ্রন্থ "আল-জাওয়াবুস সহিহ" উল্লেখযোগ্য, যেখানে তিনি সাইদা শহরের পাদ্রী বিশপ পল আল-রাহিবের পক্ষ থেকে সাইপ্রাস থেকে আগত একটি গ্রন্থের জবাব দিয়েছেন, যার শিরোনাম ছিল: "আল-কিতাব আল-মানতিকি আদ-দাওলা খানি আল-মুবরাহান আনিল ইতিকাদ আস-সহিহ ওয়ার রা’য়িল মুস্তাকিম"।
এছাড়াও আবুল ওয়ালিদ আল-বাজি একটি পত্র লিখেছেন, যাতে তিনি ফ্রান্সের এক পাদ্রীর চিঠির উত্তর দিয়েছেন যা সারগোসার আমির আল-মুকতাদিরের নিকট পাঠানো হয়েছিল এবং তাঁকে খ্রিস্টধর্ম গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছিল। (২)
আবু উবাইদাহ আল-খাজরাজি আল-কুরতুবি তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ "মাকামি হামাতিল সুলবান ওয়া মারতি রওদাতিল ইমান" (৩) রচনা করেন টলেডোর একদল মুসলমানের কাছে জনৈক গোথিক যাজকের উত্থাপিত কিছু প্রশ্নের জবাবে।
মুসলিম ও অমুসলিমদের মধ্যে এই সংলাপ এবং গ্রন্থ আদান-প্রদান কখনো বিচ্ছিন্ন হয়নি, যদিও মুসলিমদের জ্ঞানতাত্ত্বিক চর্চার পতনের সাথে সাথে এর উজ্জ্বলতা কিছুটা ম্লান হয়ে গিয়েছিল।
পশ্চিমা ঔপনিবেশিক আন্দোলনের সূচনার সাথে সাথে মুসলিম ও তাদের ঔপনিবেশিকদের মধ্যে সংলাপ পুনরায় শুরু হয়। এক্ষেত্রে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো আল্লামা রহমতুল্লাহ কিরানবি এবং যাজক কেই ও তাঁর সহকারী যাজক ফ্রেঞ্চের মধ্যে সংঘটিত সংলাপ। এরপর ভারতে খ্রিস্টান মিশনারি কার্যক্রমের জবাবে ১২৭০ হিজরির রজব মাসে তাঁর ও যাজক ফেন্ডারের মধ্যে মহাবিতর্ক অনুষ্ঠিত হয়।
বিশ শতকে আন্তঃধর্মীয় সংলাপ সক্রিয় হয়ে ওঠে এবং সংলাপকারীদের বিভিন্ন সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানানো হয়। এগুলোর মধ্যে ১৯৩৫ সালে ব্রাসেলসে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক ধর্ম ইতিহাস সম্মেলন, ১৯৩৬ সালে লন্ডনে অনুষ্ঠিত বিশ্ব ধর্ম সম্মেলন এবং পরবর্তীতে ১৯৩৭ সালে সোরবোন বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত সম্মেলন অন্যতম।
দ্বিতীয় ভ্যাটিকান কাউন্সিল অনুষ্ঠানের পর আন্তঃধর্মীয় সংলাপের আহ্বান জোরদার হয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-হিওয়ারু মাআ আতবাউল আদইয়ান - মাশরুউইয়াতুহু ওয়া আদাবুহু
(পৃষ্ঠা: ২৪)
1965م والذي دعا لاستئناف الحوار مع الأديان، وأنشأ مؤسسات خاصة بذلك داخل الفاتيكان تولت الدعوة لعدد من المؤتمرات واللقاءات بين القيادات الدينية في العالم، ثم توالت الحوارات والدعوات من مختلف المؤسسات والمنظمات والدول الإسلامية وغيرها.
والمتأمل في هذه القراءة التاريخية السريعة في تاريخ الحوار؛ لن تخطئ عينه رؤية ما قدمه الإسلام من نماذج حوارية فريدة منذ بعث النبي صلى الله عليه وسلم، نماذج لم تتوقف في تاريخنا الطويل، وهي تدعونا لاستئناف الحوار الحضاري وتنشيطه من جديد، وأخذ زمام المبادرة إليه، استجابة لأمر الله تعالى، وتأسياً واتباعاً لنهج نبينا صلى الله عليه وسلم.
১৯৬৫ খ্রিস্টাব্দ, যা বিভিন্ন ধর্মের মধ্যে পুনরায় সংলাপ শুরু করার আহ্বান জানিয়েছিল এবং ভ্যাটিকানের অভ্যন্তরে এ লক্ষ্যে বিশেষ কিছু প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেছিল। এই প্রতিষ্ঠানগুলো বিশ্বের ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের মধ্যে বেশ কিছু সম্মেলন ও বৈঠকের আহ্বানের দায়িত্ব পালন করেছিল। পরবর্তীতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, সংস্থা, মুসলিম রাষ্ট্রসমূহ এবং অন্যান্যদের পক্ষ থেকে সংলাপ ও আহ্বানের ধারা অব্যাহত থাকে।
সংলাপের ইতিহাসের এই দ্রুত ঐতিহাসিক পর্যালোচনার প্রতি দৃষ্টিপাতকারী কোনো ব্যক্তির নজর থেকে ইসলাম কর্তৃক নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নবুয়ত প্রাপ্তির সময় থেকে উপস্থাপিত অনন্য সংলাপভিত্তিক নিদর্শনগুলো এড়িয়ে যাবে না। এমন সব নিদর্শন যা আমাদের দীর্ঘ ইতিহাসে নিরবচ্ছিন্নভাবে বিদ্যমান। এগুলো আমাদের সভ্যতাভিত্তিক সংলাপ পুনরায় শুরু করতে, একে নতুনভাবে সক্রিয় করতে এবং এর উদ্যোগ গ্রহণে উদ্বুদ্ধ করে; যা মহান আল্লাহর নির্দেশ পালন এবং আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আদর্শ ও পথ অনুসরণেরই নামান্তর।
(খণ্ড: ১)
আল-হিওয়ারু মাআ আতবাউল আদইয়ান - মাশরুউইয়াতুহু ওয়া আদাবুহু
(পৃষ্ঠা: ২৫)
أنواع الحوار ومشروعيتهاإن المتتبع لتاريخ الحوار بين أهل الإسلام وغيرهم من أتباع الملل في القديم والحديث يجد أنواعاً ثلاثة من الحوار تتداخل فيما بينها أحياناً، وتفترق في أحايين أُخر.
وفي هذا المبحث نود الوقوف مع كل نوع منها وبيان حكمه وأهم موضوعاته وخصائصه.
أ. حوار الدعوةوهو أهم أنواع الحوار وأعظمها، حيث عمد أنبياء الله وورثتُهم من العلماء والدعاة إلى حوار الكافرين بغية تعريفهم بدين الله وإنقاذهم به، فالحوار الدعوي أحد أعظم وسائل الدعوة إلى الإسلام، حيث يعمد المحاور المؤمن إلى تبيان مبادئ الإسلام وفضائله ويوضح لمحاوريه ما أعده الله للمؤمنين به من عظيم الأجر وحسن المثوبة، وما توعد به الكافرين من أليم عذابه وعقابه.
ولما كان لا يتصور رجوع الناس عن معتقداتهم وإلفهم لمجرد عظة سمعوها، إذ تثور في الأذهان تساؤلات تبحث عمن يجيب عنها، ويجلي الحق فيها، كان لا بد من الحوار.
لذا تتركز موضوعات حوار الدعوة حول التعريف بالله تبارك وتعالى وصفاته، وبالإيمان ونواقضه، وباليوم الآخر وسبيل النجاة والخلاص فيه.
ويمتاز حوار الدعوة عن غيره من أنواع الحوار بخصائص وسمات، منها:
- الهدف من حوار الدعوة، الدعوة إلى الإسلام والسعي إلى إقناع الآخرين بأن الإسلام هو دين الله الذي لا يقبل الله من العباد غيره.
- التركيز في مجادلة أهل الكتاب على القضايا العقدية الفاصلة، ومحاجتهم، ومناظرتهم، لدحض شبهاتهم، ونقض حججهم، بأسلوب علمي رفيق، ثم مباهلتهم إن لزم الأمر.
সংলাপের প্রকারভেদ এবং এর বৈধতাপ্রাচীন ও আধুনিক যুগে ইসলামের অনুসারী এবং অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে সংলাপের ইতিহাস যারা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন, তারা তিন ধরনের সংলাপ দেখতে পান যা কখনও একে অপরের সাথে মিশে যায়, আবার কখনও পরস্পর থেকে পৃথক হয়ে থাকে।
এই পরিচ্ছেদে আমরা প্রতিটি প্রকার নিয়ে আলোচনা করতে চাই এবং এর বিধান, প্রধান বিষয়বস্তু ও বৈশিষ্ট্যসমূহ স্পষ্ট করতে চাই।
ক. দাওয়াহ ভিত্তিক সংলাপএটি সংলাপের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও মহান প্রকার। আল্লাহর নবিগণ এবং তাঁদের উত্তরসূরি আলেম ও দাঈগণ অবিশ্বাসীদের (الكافرين) আল্লাহর দ্বীনের সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে এবং এর মাধ্যমে তাদের উদ্ধার করতে তাদের সাথে সংলাপে লিপ্ত হতেন। দাওয়াহ ভিত্তিক সংলাপ ইসলামের দাওয়াতের অন্যতম শ্রেষ্ঠ মাধ্যম। যেখানে মুমিন সংলাপকারী ইসলামের মূলনীতি ও শ্রেষ্ঠত্ব বর্ণনা করেন এবং তার প্রতিপক্ষকে আল্লাহর প্রতি বিশ্বাসীদের জন্য প্রস্তুতকৃত মহা পুরস্কার ও উত্তম প্রতিদান সম্পর্কে অবহিত করেন, সেইসাথে অবিশ্বাসীদের (الكافرين) জন্য তাঁর যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি ও আজাব সম্পর্কেও সতর্ক করেন।
যেহেতু মানুষ কেবল একটি উপদেশ শুনেই তাদের দীর্ঘদিনের বিশ্বাস ও অভ্যাস থেকে ফিরে আসবে—এমনটি কল্পনা করা যায় না, তাই মনে এমন সব প্রশ্নের উদ্রেক হয় যার উত্তরের অন্বেষণ প্রয়োজন এবং যা সত্যকে উন্মোচিত করে। ফলে সংলাপের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়।
এজন্য দাওয়াহ ভিত্তিক সংলাপের বিষয়বস্তুগুলো আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলার পরিচয় ও তাঁর গুণাবলি, ঈমান (الإيمان) ও এর পরিপন্থী বিষয়সমূহ (نواقضه), পরকাল এবং তাতে মুক্তি (النجاة) ও নিষ্কৃতির পথের ওপর গুরুত্বারোপ করে।
দাওয়াহ ভিত্তিক সংলাপ অন্যান্য প্রকারের সংলাপ থেকে কিছু বৈশিষ্ট্য ও চিহ্নের মাধ্যমে স্বাতন্ত্র্য লাভ করে, যার মধ্যে রয়েছে:
- দাওয়াহ ভিত্তিক সংলাপের উদ্দেশ্য হলো ইসলামের প্রতি আহ্বান জানানো এবং অন্যদেরকে এই মর্মে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করা যে, ইসলামই আল্লাহর একমাত্র মনোনীত দ্বীন, যা ছাড়া অন্য কোনো কিছু তিনি তাঁর বান্দাদের কাছ থেকে কবুল করবেন না।
- আহলে কিতাবদের সাথে তর্কের ক্ষেত্রে চূড়ান্ত আকিদাগত (العقدية) বিষয়গুলোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া এবং তাদের সংশয়গুলো দূর করতে ও তাদের দলিলগুলো খণ্ডন করতে তাদের সাথে দলিল-প্রমাণ পেশ (محاجتهم) ও বিতর্ক (مناظرتهم) করা—একটি বিজ্ঞানসম্মত ও মার্জিত পদ্ধতিতে, অতঃপর প্রয়োজন দেখা দিলে তাদের সাথে মুবাহালা (مباهلتهم) করা।
(খণ্ড: ১)
আল-হিওয়ারু মাআ আতবাউল আদইয়ান - মাশরুউইয়াতুহু ওয়া আদাবুহু
(পৃষ্ঠা: ২৬)
- أخذ المسلمين بزمام المبادرة في هذا اللون من الحوار، إذ هو استجابة لطبيعة دينهم، ويتحقق ذلك باستضافتهم في دار المسلمين، واستقبال وفودهم، والكتابة إليهم، وغشيانهم في محافلهم وبيوتهم لدعوتهم، إذ الدعوة والبلاغ واجب المسلم بمقتضى إسلامه.
- تغلب الصفة والعلاقات الشخصية على هذا اللون من ألوان الحوار الذي يبتعد عن الصفة الرسمية التي تغلب على حوار التعامل والتعايش كما سيتبين في حينه.
والمتتبع لما ورد ذكره في القرآن عن أحوال الأنبياء يظهر له أهمية هذا اللون من ألوان الحوار، الذي لم تُغفِله دعوة نبي منهم أو مصلح ممن تبعهم بإحسان.
فها هو نوح عليه السلام يجادل ويحاور قومه قروناً طويلة، من غير كلل ولا ملل، دعاهم ليلاً ونهاراً، أسر لهم، وأعلن لهم جهاراً، فقالوا: {يا نوح قد جادلتنا فأكثرت جدالنا فأتنا بما تعدنا إن كنت من الصادقين} (هود: 32).
وعلى هذا الهدي سار أنبياء الله من بعد نوح، فقصَّ الله علينا في القرآن حوار إبراهيم مع النمرود، وحوار موسى مع فرعون، بل وذكر لنا الكثير من حوار الأنبياء مع أقوامهم.
قال ابن تيمية: " فأما المجادلة الشرعية كالتي ذكرها الله تعالى عن الأنبياء عليهم السلام وأمر بها في مثل قوله تعالى: {قالوا يا نوح قد جادلتنا فأكثرت جدالنا} (هود: 32) وقوله: {وتلك حجتنا آتيناها إبراهيم على قومه} (الأنعام: 83) وقوله: {ألم تر إلى الذي حاج إبراهيم في ربه} (البقرة: 258) وقوله: {وجادلهم بالتي هي أحسن} (النحل: 125) وأمثال ذلك فقد يكون واجباً أو مستحباً، وما كان كذلك لم يكن مذموماً في الشرع". (1)
وأرسل الله محمداً خاتم الرسل داعياً إلى الله ومبشراً بدينه، آمراً إياه بدعوة العالمين إلى هذا الدين: {ادع إلى سبيل ربك بالحكمة والموعظة الحسنة
--------------------------------------------
এই ধরনের সংলাপের ক্ষেত্রে মুসলিমদের উদ্যোগ গ্রহণ করা তাদের দ্বীনের স্বভাবজাত প্রকৃতিরই একটি দাবি। মুসলিম ভূখণ্ডে অমুসলিমদের আতিথেয়তা প্রদান, তাদের প্রতিনিধিদলকে অভ্যর্থনা জানানো, তাদের কাছে পত্র প্রেরণ এবং তাদের সভা-সমাবেশ ও বসতবাড়িতে উপস্থিত হয়ে দাওয়াত প্রদানের মাধ্যমে এটি বাস্তবায়িত হয়। কেননা, ইসলাম গ্রহণের দাবি অনুযায়ী দাওয়াত ও বাণী পৌঁছে দেওয়া একজন মুসলিমের জন্য একটি আবশ্যক (واجب) দায়িত্ব।
এই ধরনের সংলাপে ব্যক্তিগত বৈশিষ্ট্য এবং সম্পর্কের প্রভাব বেশি থাকে, যা মূলত আনুষ্ঠানিক রূপ থেকে দূরে থাকে। উল্লেখ্য যে, সহাবস্থান ও লেনদেন সম্পর্কিত সংলাপে সাধারণত আনুষ্ঠানিক রূপটিই প্রবল থাকে, যা যথাসময়ে স্পষ্ট হবে।
কুরআনে বর্ণিত নবীদের অবস্থাগুলো যে ব্যক্তি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করবে, তার কাছে এই ধরনের সংলাপের গুরুত্ব স্পষ্ট হয়ে উঠবে। কোনো নবী বা তাঁদের পর উত্তমরূপে (إحسان) অনুসরণকারী কোনো সংস্কারকের দাওয়াতি কর্মতৎপরতায় এই পদ্ধতিটি অবহেলিত হয়নি।
এই তো নূহ (আলাইহিস সালাম), তিনি কোনো প্রকার ক্লান্তি বা বিরক্তি ছাড়াই দীর্ঘ কয়েক শতাব্দী ধরে তাঁর কওমের সাথে বিতর্ক ও সংলাপ চালিয়ে গেছেন। তিনি দিনে-রাতে তাঁদের দাওয়াত দিয়েছেন, গোপনে এবং জনসমক্ষে তা প্রচার করেছেন। তখন তারা বলেছিল: {হে নূহ! তুমি আমাদের সাথে বিতণ্ডা করেছ এবং আমাদের সাথে তোমার বিতর্ক (جادلتنا) অনেক দীর্ঘ করেছ; সুতরাং তুমি যদি সত্যবাদীদের (صادقين) অন্তর্ভুক্ত হয়ে থাকো, তবে আমাদের যে শাস্তির ভয় দেখাচ্ছ তা নিয়ে এসো} (হুদ: ৩২)।
এই হিদায়াতের পথেই নূহ (আলাইহিস সালাম)-এর পরবর্তী আল্লাহর নবীগণ পরিচালিত হয়েছেন। তাই আল্লাহ তাআলা কুরআনে আমাদের কাছে নমরূদের সাথে ইব্রাহিমের সংলাপ এবং ফেরাউনের সাথে মুসার সংলাপের কাহিনী বর্ণনা করেছেন। বরং আল্লাহ আমাদের জন্য নবীদের সাথে তাঁদের কওমের অনেক সংলাপের কথা উল্লেখ করেছেন।
ইবনে তাইমিয়া বলেন: "শরিয়তসম্মত বিতর্ক (المجادلة الشرعية), যেমনটি আল্লাহ তাআলা নবীদের (আলাইহিমুস সালাম) পক্ষ থেকে উল্লেখ করেছেন এবং যে বিষয়ে নির্দেশ প্রদান করেছেন, যেমন আল্লাহর বাণী: {তারা বলল: হে নূহ! তুমি আমাদের সাথে বিতণ্ডা করেছ এবং আমাদের সাথে তোমার বিতর্ক অনেক দীর্ঘ করেছ} (হুদ: ৩২); এবং তাঁর বাণী: {এটি ছিল আমার প্রমাণ, যা আমি ইব্রাহিমকে তাঁর কওমের বিরুদ্ধে প্রদান করেছিলাম} (আল-আন'আম: ৮৩); এবং তাঁর বাণী: {তুমি কি সেই ব্যক্তির কথা ভেবে দেখেছ, যে ইব্রাহিমের সাথে তার পালনকর্তা সম্বন্ধে বিতর্ক (حاج) করেছিল?} (আল-বাকারাহ: ২৫৮); এবং তাঁর বাণী: {আর তাদের সাথে বিতর্ক করো সর্বোত্তম পদ্ধতিতে} (আন-নাহল: ১২৫); এই জাতীয় বিতর্ক কখনো আবশ্যক (واجب) হতে পারে আবার কখনো পছন্দনীয় (مستحب) হতে পারে। আর যা এরূপ হয়, তা শরিয়তের দৃষ্টিতে নিন্দনীয় (مذموم) নয়।" (১)
আল্লাহ তাআলা সর্বশেষ রাসুল হিসেবে মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে আল্লাহর দিকে আহ্বানকারী এবং তাঁর দ্বীনের সুসংবাদদাতা হিসেবে পাঠিয়েছেন। তাঁকে নির্দেশ দিয়েছেন বিশ্ববাসীকে এই দ্বীনের দিকে দাওয়াত দিতে: {তোমার প্রতিপালকের পথের দিকে হিকমত ও উত্তম উপদেশের মাধ্যমে দাওয়াত দাও...}
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-হিওয়ারু মাআ আতবাউল আদইয়ান - মাশরুউইয়াতুহু ওয়া আদাবুহু
(পৃষ্ঠা: ২৭)
وجادلهم بالتي هي أحسن} (النحل: 125).
وقد اعتبر العلماء المجادلة والمناظرة والحوار من واجبات الإسلام التي أوجبها الله على أهل العلم والبصيرة، واستدلوا بما سبق ذكره من نصوص قرآنية تحدثت عن أمر الله لأنبيائه بالحوار أو فعلهم عليهم الصلاة والسلام.
يقول شيخ الإسلام ابن تيمية في سياق حديثه عن قول الله تعالى: {ادع إلى سبيل ربك بالحكمة والموعظة الحسنة وجادلهم بالتي هي أحسن} (النحل: 125): "والدعاء إلى سبيل الرب بالحكمة والموعظة الحسنة والمجادلة بالتي هي أحسن ونحو ذلك مما أوجبه الله على المؤمنين، فهذا واجب على الكفاية منهم. وأما ما وجب على أعيانهم، فهذا يتنوع بتنوع قدرهم وحاجتهم ومعرفتهم ". (1)
وفي هذا الصدد يستدل ابن حزم على وجوب الجدال والمناظرة بقول النبي صلى الله عليه وسلم: ((جاهدوا المشركين بأموالكم وأنفسكم وألسنتكم)). (2) ويقول: "وهذا حديث في غاية الصحة، وفيه الأمر بالمناظرة وإيجابها كإيجاب الجهاد والنفقة في سبيل الله". (3)
وبالنظر إلى آثار الحوار ونجاعة طريقته في نشر الحق يجزم ابن حزم بفضل هذا الأسلوب من أساليب الدعوة، ويراه أنجع من غيره من وسائل حماية الدعوة كالجهاد في سبيل الله، إذ "قد تُهزم العساكر الكبار، والحجة الصحيحة لا تُغلب أبداً، فهي أدعى إلى الحق، وأنصر للدين من السلاح الشاكي والأعداد الجمّة .. لأن السيف مرة لنا، ومرة علينا، وليس كذلك البرهان، بل هو لنا أبداً، ودامغ لقول مخالفينا، ومزهق له أبداً.
ورُبَّ قوة باليد قد دمغت بالباطل حقاً كثيراً، فأزهقته
… وقد قتل أنبياء كثير وما غُلبت حجتهم قط ".
--------------------------------------------
"আর তাদের সাথে বিতর্ক করো সর্বোত্তম পন্থায়।" (আন-নাহল: ১২৫)।
ওলামায়ে কেরাম বিতর্ক, যুক্তি-তর্ক ও সংলাপকে ইসলামের অন্যতম আবশ্যিক কর্তব্য হিসেবে গণ্য করেছেন, যা আল্লাহ তাআলা আহলে ইলম ও দূরদৃষ্টিসম্পন্ন ব্যক্তিদের ওপর ফরজ করেছেন। তাঁরা ইতিপূর্বে উল্লিখিত কুরআনের সেই সব আয়াত দ্বারা দলিল পেশ করেছেন, যেখানে আল্লাহ তাঁর নবীদের সংলাপের নির্দেশ দিয়েছেন অথবা তাঁদের (আলাইহিমুস সালাতু ওয়াস সালাম) কর্মকাণ্ডের বর্ণনা দিয়েছেন।
শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া মহান আল্লাহর বাণী: "তোমার রবের পথের দিকে হিকমত ও উত্তম উপদেশের মাধ্যমে আহ্বান করো এবং তাদের সাথে বিতর্ক করো সর্বোত্তম পন্থায়" (আন-নাহল: ১২৫)-এর প্রসঙ্গে বলেন: "হিকমত, উত্তম উপদেশ ও সর্বোত্তম পন্থায় বিতর্কের মাধ্যমে রবের পথের দিকে আহ্বান করা এবং এই জাতীয় যা কিছু আল্লাহ মুমিনদের ওপর আবশ্যক করেছেন, তা তাদের ওপর ফরজে কিফায়া। আর যা তাদের ব্যক্তিগতভাবে পালন করা আবশ্যক, তা তাদের সক্ষমতা, প্রয়োজন ও জ্ঞানের ভিন্নতা অনুযায়ী ভিন্ন ভিন্ন হয়।" (১)
এই প্রেক্ষাপটে ইবনে হাজম বিতর্ক ও মুনাজারার আবশ্যকতা প্রমাণে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী দ্বারা দলিল পেশ করেছেন: "তোমরা মুশরিকদের বিরুদ্ধে তোমাদের মাল, জান ও জবান দ্বারা জিহাদ করো।" (২) তিনি বলেন: "এই হাদিসটি অত্যন্ত সহিহ (صحيح) পর্যায়ের, এবং এতে যুক্তি-তর্কের নির্দেশ ও একে জিহাদ ও আল্লাহর পথে ব্যয়ের মতোই আবশ্যিক করা হয়েছে।" (৩)
সত্য প্রচারের ক্ষেত্রে সংলাপের প্রভাব ও এর পদ্ধতির কার্যকারিতার প্রতি লক্ষ্য রেখে ইবনে হাজম দাওয়াতের এই পদ্ধতির শ্রেষ্ঠত্বের ব্যাপারে দৃঢ় মত ব্যক্ত করেছেন। তিনি একে দাওয়াতের সুরক্ষার অন্যান্য মাধ্যম যেমন আল্লাহর পথে জিহাদের চেয়েও অধিক কার্যকর মনে করেন। কারণ, "বিশাল সেনাবাহিনী পরাজিত হতে পারে, কিন্তু সঠিক দলিল (حجة صحيحة) কখনো পরাজিত হয় না। এটি সত্যের দিকে অধিক আহ্বানকারী এবং ধারালো অস্ত্র ও বিশাল সৈন্যবাহিনীর তুলনায় দ্বীনের জন্য অধিক সহায়ক। কারণ তলোয়ার কখনো আমাদের পক্ষে থাকে, আবার কখনো আমাদের বিপক্ষে যায়; কিন্তু অকাট্য প্রমাণ (برهان) তেমন নয়, বরং এটি সর্বদা আমাদের পক্ষেই থাকে, যা বিরোধীদের বক্তব্যকে খণ্ডন করে এবং তা চিরতরে স্তব্ধ করে দেয়।
অনেক সময় বাহুবল বাতিলের মাধ্যমে অনেক সত্যকে অবদমিত করে ফেলে এবং তা মিটিয়ে দেয়
… অথচ অনেক নবী নিহত হয়েছেন কিন্তু তাঁদের দলিল (حجة) কখনো পরাজিত হয়নি।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-হিওয়ারু মাআ আতবাউল আদইয়ান - মাশরুউইয়াতুহু ওয়া আদাবুহু
(পৃষ্ঠা: ২৮)
وفي المقابل، فإن "أفاضل الصحابة الذين لا نظير لهم؛ إنما أسلموا بقيام البراهين على صحة نبوة محمد صلى الله عليه وسلم عندهم، فكانوا أفضل ممن أسلم بالغلبة بلا خلاف من أحد المسلمين". (1)
ويثني ابن حزم بدليل آخر، فيقول: "أول ما أمر الله عز وجل نبيه محمداً صلى الله عليه وسلم أن يدعو له الناس بالحجة البالغة بلا قتال، فلما قامت الحجة وعاندوا الحق أطلق الله تعالى عليهم السيف حينئذ، وقال تعالى: {قل فلله الحجة البالغة} (الأنعام: 149). وقال تعالى: {بل نقذف بالحق على الباطل فيدمغه فإذا هو زاهق} (الأنبياء: 18) ". (2)
يقول ابن تيمية: "فكل من لم يناظر أهل الإلحاد والبدع مناظرة تقطع دابرهم لم يكن أعطى الإسلام حقه، ولا وفّى بموجب العلم والإيمان، ولا حصل بكلامه شفاء الصدور وطمأنينة النفوس، ولا أفاد كلامه العلم واليقين". (3)
وكأني به رحمه الله يرد على ما سيقول الصفدي في ترجمته، فقد قال: "وضيّع الزمان في رده على النصارى والرافضة ومن عاند الدين وناقضه، ولو تصدى لشرح البخاري أو لتفسير القرآن العظيم لقلّد أعناق أهل العلوم بدرِّ كلامه النظيم". (4)
ويقول ابن القيم داعياً إلى محاورة أهل الكتاب: "جواز مجادلة أهل الكتاب ومناظرتهم، بل استحباب ذلك، بل وجوبه إذا ظهرت مصلحته من إسلام من يرجى إسلامه منهم وإقامة الحجة عليهم، ولا يهرب من مجادلتهم إلا عاجز عن إقامة الحجة، فليولِ ذلك إلى أهله، وليخلِ بين المطي وحاديها، والقوس وباريها ". (5)
--------------------------------------------
পক্ষান্তরে, "সাহাবায়ে কেরামের মাঝে যারা সর্বোত্তম এবং যাদের কোনো উপমা নেই; তারা মূলত মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নবুওয়াতের সত্যতার স্বপক্ষে অকাট্য প্রমাণাদি (البراهين) প্রতিষ্ঠিত হওয়ার কারণেই ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। ফলে তারা বিনা দ্বিমতে সেই সকল ব্যক্তি অপেক্ষা উত্তম ছিলেন যারা বিজয়ের ফলে ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন।" (১)
ইবনে হাজম অন্য একটি দলিলের মাধ্যমে এর সপক্ষে যুক্তি প্রদান করে বলেন: "আল্লাহ তাআলা তাঁর নবি মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে সর্বপ্রথম যে নির্দেশ দিয়েছিলেন তা হলো—মানুষকে কোনো প্রকার যুদ্ধ ছাড়াই অকাট্য দলিল (الحجة البالغة) দ্বারা তাঁর দিকে আহ্বান করা। অতঃপর যখন দলিল (الحجة) প্রতিষ্ঠিত হলো এবং তারা সত্যের বিরোধিতা করল, তখন আল্লাহ তাআলা তাদের বিরুদ্ধে তলোয়ার ব্যবহারের অনুমতি দিলেন। মহান আল্লাহ বলেন: {বলুন, তবে আল্লাহরই জন্য অকাট্য দলিল (الحجة البالغة) রয়েছে} (আল-আনআম: ১৪৯)। তিনি আরও বলেন: {বলুন, আমি সত্যকে মিথ্যার ওপর নিক্ষেপ করি, ফলে তা মিথ্যার মস্তক চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দেয় এবং তৎক্ষণাৎ মিথ্যা বিলুপ্ত হয়ে যায়} (আল-আম্বিয়া: ১৮)।" (২)
ইবনে তাইমিয়া বলেন: "যিনি নাস্তিক ও বিদআতীদের সাথে এমনভাবে বিতর্ক (مناظرة) করেননি যা তাদের মূলোৎপাটন করে দেয়, তিনি ইসলামকে তার যথাযথ হক প্রদান করেননি, ইলম ও ঈমানের দাবি পূরণ করেননি, তার কথার মাধ্যমে অন্তরের প্রশান্তি ও নফসের স্থিরতা অর্জিত হয়নি এবং তার কথা কোনো জ্ঞান বা দৃঢ় বিশ্বাস (اليقين) প্রদান করেনি।" (৩)
আর মনে হয় যেন তিনি (রহিমাহুল্লাহ) আস-সাফাদি তাঁর জীবনীগ্রন্থে (ترجمته) যা বলবেন তার প্রত্যুত্তর দিচ্ছেন; কারণ সাফাদি বলেছিলেন: "তিনি খ্রিস্টান, রাফেজি এবং দ্বীনের শত্রু ও বিরোধীদের খণ্ডন করতেই সময় নষ্ট করেছেন; অথচ তিনি যদি সহিহ বুখারির ব্যাখ্যা বা মহাগ্রন্থ আল-কুরআনের তাফসির রচনায় মনোনিবেশ করতেন, তবে তিনি তাঁর সুশৃঙ্খল বাক্যের মুক্তামালা দ্বারা জ্ঞানীদের কণ্ঠদেশ সুশোভিত করতেন।" (৪)
ইবনুল কাইয়্যিম আহলে কিতাবদের সাথে সংলাপের আহ্বান জানিয়ে বলেন: "আহলে কিতাবদের সাথে তর্ক (مجادلة) ও বিতর্ক (مناظرة) করা বৈধ, বরং তা মুস্তাহাব, এমনকি ক্ষেত্রবিশেষে ওয়াজিব; যখন এর মাধ্যমে তাদের কারো ইসলাম গ্রহণের সম্ভাবনা থাকে এবং তাদের ওপর সত্য প্রতিষ্ঠিত হওয়ার ন্যায় কল্যাণ পরিলক্ষিত হয়। দলিল (الحجة) স্থাপনে অক্ষম ব্যক্তি ব্যতীত অন্য কেউ তাদের সাথে তর্ক (مجادلتهم) থেকে পলায়ন করে না। সুতরাং এই কাজের দায়িত্ব এর যোগ্য ব্যক্তিদের ওপর ছেড়ে দেওয়া উচিত; সওয়ারি ও তার চালক এবং ধনুক ও তার নির্মাতার কাজ তাদের ওপরই ন্যস্ত করা বাঞ্ছনীয়।" (৫)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-হিওয়ারু মাআ আতবাউল আদইয়ান - মাশরুউইয়াতুহু ওয়া আদাবুহু
(পৃষ্ঠা: ২৯)
وأما موضوع الدعوة والحوار فإنه حول أصول الدين وسبيل سعادة الدارين: {يا أهل الكتاب تعالوا إلى كلمة سواء بيننا وبينكم ألا نعبد إلا الله ولا نشرك به شيئاً ولا يتخذ بعضنا بعضاً أرباباً من دون الله فإن تولوا فقولوا اشهدوا بأنا مسلمون} (آل عمران: 64).
قال الطبري: " قل يا محمد لأهل الكتاب - وهم أهل التوراة والإنجيل - {تعالوا} هلموا {إلى كلمة سواء}، يعني إلى كلمة عدل بيننا وبينكم، والكلمة العدل هي أن نوحد الله، فلا نعبد غيره، ونبرأ من كل معبود سواه، فلا نشرك به شيئاً.
وقوله: {ولا يتخذ بعضنا بعضاً أرباباً} يقول: ولا يدين بعضنا لبعض بالطاعة فيما أمر به من معاصي الله ويعظمه بالسجود له كما يسجد لربه، {فإن تولوا} يقول: فإن أعرضوا عما دعوتهم إليه من الكلمة السواء التي أمرتك بدعائهم إليها، فلم يجيبوك إليها، فقولوا أيها المؤمنون للمتولين عن ذلك: {اشهدوا بأنا مسلمون} ". (1)
والنبي صلى الله عليه وسلم كانت دعوته ترجماناً واقعاً لما أمر الله تعالى به من دعوة، فقد دعا صلى الله عليه وسلم المشركين إلى الإسلام على اختلاف مذاهبهم ومللهم، وكان صلى الله عليه وسلم يدعوهم ويحاورهم، وخص أهل الكتاب بمزيد من عنايته، وكان أبرز هذه الحوارات حواره مع نصارى نجران، ومكاتباته لملوك الأرض.
كما كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يغشى الناس في مجالسهم يدعوهم ويحاورهم، ومنه ما رواه الإمام أحمد من حديث عوف بن مالك قال: انطلق النبي صلى الله عليه وسلم يوماً وأنا معه، حتى دخلنا كنيسة اليهود بالمدينة يوم عيد لهم، فكرهوا دخولنا عليهم، فقال لهم رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((يا معشر اليهود أروني اثني عشر رجلاً يشهدون أنه لا إله إلا الله، وأن محمداً رسول الله، يحبط الله عن كل يهودي تحت أديم السماء الغضبَ الذي غضب عليه)). قال: فأسكتوا، ما أجابه منهم أحد، ثم رد عليهم، فلم يجبه أحد، ثم ثلّث فلم يجبه أحد.
--------------------------------------------
আর দাওয়াহ ও সংলাপের বিষয়টি হলো দ্বীনের মূলনীতি এবং উভয় জগতের সৌভাগ্যের পথ সম্পর্কিত: {হে আহলে কিতাব, তোমরা এমন এক কথার দিকে এসো যা আমাদের ও তোমাদের মধ্যে অভিন্ন; তা হলো—আমরা আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো ইবাদত করব না, তাঁর সাথে কোনো কিছুকে শরিক করব না এবং আমাদের কেউ কাউকে আল্লাহ ছাড়া রব হিসেবে গ্রহণ করব না। অতঃপর যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে তোমরা বলো, ‘তোমরা সাক্ষী থাকো যে, আমরা মুসলিম’} (আল-ইমরান: ৬৪)।
ইমাম তাবারী বলেন: "হে মুহাম্মদ, আপনি আহলে কিতাবদের—যারা তাওরাত ও ইনজিলের অনুসারী—বলুন: {এসো} অগ্রসয় হও {এমন এক কথার দিকে যা অভিন্ন}, অর্থাৎ আমাদের ও তোমাদের মধ্যে একটি ইনসাফপূর্ণ কথার দিকে। আর সেই ইনসাফপূর্ণ কথাটি হলো—আমরা যেন আল্লাহকে এক হিসেবে স্বীকার করি, সুতরাং তিনি ব্যতীত অন্য কারো ইবাদত করব না এবং তাঁর ইলাহ ব্যতীত অন্য সকল উপাস্য থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করব, আর তাঁর সাথে কোনো কিছু শরিক করব না।
আর তাঁর বাণী: {এবং আমাদের কেউ কাউকে রব হিসেবে গ্রহণ করব না} এর অর্থ হলো: আল্লাহর নাফরমানি হয় এমন বিষয়ে আমাদের কেউ যেন অন্যের আনুগত্য স্বীকার না করে এবং তাকে সেজদা করার মাধ্যমে এমনভাবে সম্মান প্রদর্শন না করে যেভাবে তার রবের জন্য সেজদা করা হয়। {অতঃপর যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়} এর অর্থ হলো: যদি তারা সেই অভিন্ন কথা থেকে বিমুখ হয় যার দিকে দাওয়াত দেওয়ার জন্য আমি আপনাকে আদেশ দিয়েছি এবং তারা যদি আপনার ডাকে সাড়া না দেয়, তবে হে মুমিনগণ, সেই বিমুখ হওয়া ব্যক্তিদের উদ্দেশ্যে তোমরা বলো: {তোমরা সাক্ষী থাকো যে, আমরা মুসলিম}।" (১)
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দাওয়াহ ছিল আল্লাহ তাআলা প্রদত্ত দাওয়াতী নির্দেশের এক বাস্তব প্রতিফলন। তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিভিন্ন মত ও পথের মুশরিকদের ইসলামের দিকে আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের দাওয়াত দিতেন এবং তাদের সাথে সংলাপ করতেন। তিনি আহলে কিতাবদের প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছিলেন। এসব সংলাপের মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ছিল নাজরানের খ্রিস্টানদের সাথে তাঁর সংলাপ এবং পৃথিবীর রাজন্যবর্গের প্রতি তাঁর পত্রসমূহ।
একইভাবে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মানুষের মজলিসে মজলিসে যেতেন, তাদের দাওয়াত দিতেন এবং সংলাপ করতেন। এর মধ্যে একটি হলো ইমাম আহমাদ আউফ বিন মালিক থেকে যে হাদিসটি বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন: একদিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বের হলেন এবং আমিও তাঁর সাথে ছিলাম। আমরা মদিনার ইহুদিদের একটি উপাসনালয়ে প্রবেশ করলাম, তখন ছিল তাদের উৎসবের দিন। তারা আমাদের সেখানে প্রবেশ করা অপছন্দ করল। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের বললেন: ((হে ইহুদি সম্প্রদায়, তোমরা আমাকে এমন বারোজন লোক দেখাও যারা সাক্ষ্য দেবে যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর রাসুল। তাহলে আসমানের নিচে থাকা প্রতিটি ইহুদির ওপর আল্লাহর যে ক্রোধ রয়েছে, তা আল্লাহ তাদের থেকে সরিয়ে নেবেন।)) তিনি বলেন: তারা নীরব হয়ে গেল, তাদের মধ্যে কেউ তাঁকে উত্তর দিল না। তারপর তিনি দ্বিতীয়বার বললেন, কেউ উত্তর দিল না। এরপর তিনি তৃতীয়বার বললেন, তখনও কেউ উত্তর দিল না।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-হিওয়ারু মাআ আতবাউল আদইয়ান - মাশরুউইয়াতুহু ওয়া আদাবুহু
(পৃষ্ঠা: ৩০)
فقال: ((أبيتم، فوالله إني لأنا الحاشر، وأنا العاقب، وأنا النبي المصطفى، آمنتم أو كذبتم)).
ثم انصرف وأنا معه، حتى إذا كدنا أن نخرج، نادى رجل من خلفنا: كما أنت يا محمد. قال: فأقبل. فقال ذلك الرجل: أي رجل تعلمون فيكم يا معشر اليهود؟ قالوا: والله ما نعلم أنه كان فينا رجل أعلم بكتاب الله منك ولا أفقه منك ولا من أبيك قبلك ولا من جدك قبل أبيك.
قال: فإني أشهد له بالله أنه نبي الله الذي تجدونه في التوراة. قالوا: كذبت. ثم ردوا عليه قوله، وقالوا فيه شراً.
قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((كذبتم، لن يقبل قولكم، أما آنفاً فتثنون عليه من الخير ما أثنيتم، ولما آمن كذبتموه، وقلتم فيه ما قلتم، فلن يقبل قولكم)).
قال: فخرجنا ونحن ثلاثة رسول الله صلى الله عليه وسلم وأنا وعبد الله بن سلام، وأنزل الله عز وجل فيه: {قل أرأيتم إن كان من عند الله وكفرتم به وشهد شاهد من بني إسرائيل على مثله فآمن واستكبرتم إن الله لا يهدي القوم الظالمين} (الأحقاف: 10). (1)
ومن صور الحوار في الصدر الأول ما يحكيه ثوبان رضي الله عنه، إذ يقول: كنت قائماً عند رسول الله صلى الله عليه وسلم، فجاء حبر من أحبار اليهود فقال: السلام عليك يا محمد. فدفعتُه دفعة كاد يصرع منها. فقال: لم تدفعني؟ فقلت: ألا تقول: يا رسول الله؟ فقال اليهودي: إنما ندعوه باسمه الذي سماه به أهله. فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((إن اسمي محمد الذي سماني به أهلي)). فقال اليهودي: جئت أسألك. فقال له رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((أينفعك شيء إن حدثتك؟)) قال: أسمع بأذني. فنكت رسول الله صلى الله عليه وسلم بعود معه فقال: ((سل)).
فقال اليهودي: أين يكون الناس يوم تبدل الأرض غير الأرض والسماوات؟ فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((هم في الظلمة دون الجسر)).
قال: فمن أول الناس إجازة؟ قال: ((فقراء المهاجرين)).
قال اليهودي: فما تحفتهم حين يدخلون الجنة؟ قال: ((زيادة كبد النون)).
--------------------------------------------
অতঃপর তিনি বললেন: ((তোমরা অস্বীকার করলে; আল্লাহর শপথ, নিশ্চয়ই আমিই হাশের (সমবেতকারী), আমিই আকেব (সর্বশেষ আগমনকারী) এবং আমিই নবী মুস্তাফা (মনোনীত নবী)। তোমরা ঈমান আনো কিংবা মিথ্যা প্রতিপন্ন করো (তাতে সত্য পরিবর্তিত হবে না)))।
এরপর তিনি ফিরে চললেন এবং আমিও তাঁর সাথে ছিলাম। যখন আমরা বের হওয়ার উপক্রম হলাম, তখন আমাদের পিছন থেকে এক ব্যক্তি ডাক দিয়ে বলল: হে মুহাম্মদ, আপনি যেখানে আছেন সেখানেই থাকুন। বর্ণনাকারী বলেন: তখন তিনি ফিরে আসলেন। এরপর সেই লোকটি বলল: হে ইহুদি সম্প্রদায়, তোমাদের মাঝে এই ব্যক্তিকে তোমরা কেমন হিসেবে জানো? তারা বলল: আল্লাহর শপথ, আমাদের মাঝে আল্লাহর কিতাব সম্পর্কে আপনার চেয়ে বেশি জ্ঞানী, আপনার চেয়ে বেশি ফকীহ (সুক্ষ্ম সমঝদার) এবং আপনার পূর্বে আপনার পিতার চেয়ে কিংবা আপনার পিতার পূর্বে আপনার দাদার চেয়ে শ্রেষ্ঠ আর কাউকে আমরা জানি না।
সে (আবদুল্লাহ ইবনে সালাম) বলল: আমি আল্লাহর নামে তাঁর ব্যাপারে সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, তিনিই আল্লাহর সেই নবী যাঁর কথা তোমরা তাওরাতে পাও। তারা বলল: তুমি মিথ্যা বলেছ। এরপর তারা তাঁর কথা প্রত্যাখ্যান করল এবং তাঁর সম্পর্কে মন্দ কথা বলতে লাগল।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: ((তোমরাই মিথ্যা বলেছ, তোমাদের কথা গ্রহণ করা হবে না। এই তো কিছুক্ষণ আগে তোমরা তাঁর প্রশংসায় পঞ্চমুখ ছিলে, আর যখনই তিনি ঈমান আনলেন তখনই তোমরা তাঁকে মিথ্যাবাদী সাব্যস্ত করলে এবং তাঁর সম্পর্কে যা তা বললে। সুতরাং তোমাদের কথা কখনোই গ্রহণযোগ্য হবে না))।
বর্ণনাকারী বলেন: অতঃপর আমরা তিনজন বের হলাম—রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, আমি এবং আবদুল্লাহ ইবনে সালাম। আর মহান আল্লাহ তাঁর সম্পর্কে এই আয়াতটি নাযিল করেন: {বলুন, তোমরা ভেবে দেখেছ কি, যদি এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে হয়ে থাকে আর তোমরা তা অস্বীকার করো, অথচ বনী ইসরাঈলের একজন সাক্ষী এর অনুরূপ বিষয়ে সাক্ষ্য দিয়ে এতে বিশ্বাস স্থাপন করেছে আর তোমরা অহংকার করেছ; নিশ্চয়ই আল্লাহ যালিম সম্প্রদায়কে হিদায়াত দেন না} (আল-আহকাফ: ১০)। (১)
ইসলামের প্রথম যুগের সংলাপের অন্যতম একটি চিত্র হলো যা সাওবান রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট দাঁড়িয়ে ছিলাম, এমন সময় ইহুদিদের একজন পন্ডিত এসে বলল: আসসালামু আলাইকা ইয়া মুহাম্মদ। তখন আমি তাকে এমন এক জোরে ধাক্কা দিলাম যে সে পড়ে যাওয়ার উপক্রম হলো। সে বলল: কেন আমাকে ধাক্কা দিলেন? আমি বললাম: কেন তুমি 'ইয়া রাসূলুল্লাহ' বললে না? ইহুদি লোকটি বলল: আমরা তো তাঁকে সেই নামেই ডাকি যা তাঁর পরিবার তাঁর জন্য রেখেছে। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: ((নিশ্চয়ই আমার নাম মুহাম্মদ, যা আমার পরিবার রেখেছে))। তখন ইহুদি লোকটি বলল: আমি আপনাকে কিছু জিজ্ঞাসা করতে এসেছি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন: ((আমি তোমাকে কিছু বললে কি তোমার কোনো উপকারে আসবে?)) সে বলল: আমি আমার কানে তা শুনব। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাথে থাকা একটি কাঠি দিয়ে মাটিতে দাগ কাটতে লাগলেন এবং বললেন: ((জিজ্ঞাসা করো))।
ইহুদি লোকটি বলল: যেদিন এই পৃথিবী ও আকাশমন্ডলী পরিবর্তন করে অন্য রূপ দেওয়া হবে, সেদিন মানুষ কোথায় থাকবে? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: ((তারা পুলের সন্নিকটে অন্ধকারে থাকবে))।
সে জিজ্ঞাসা করল: মানুষের মধ্যে সর্বপ্রথম কে পার হবে? তিনি বললেন: ((দরিদ্র মুহাজিরগণ))।
ইহুদি লোকটি বলল: জান্নাতে প্রবেশের সময় তাদের প্রথম আপ্যায়ন কী হবে? তিনি বললেন: ((মাছের কলিজার উপরিভাগের বাড়তি অংশ))।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-হিওয়ারু মাআ আতবাউল আদইয়ান - মাশরুউইয়াতুহু ওয়া আদাবুহু
(পৃষ্ঠা: ৩১)
قال: فما غذاؤهم على إثرها؟ قال: ((ينحر لهم ثور الجنة الذي كان يأكل من أطرافها)).
قال: فما شرابهم عليه؟ قال: ((من عين فيها تسمى سلسبيلا)). قال: صدقت.
قال: وجئت أسألك عن شيء لا يعلمه أحد من أهل الأرض إلا نبي أو رجل أو رجلان؟ قال: ((ينفعك إن حدثتك؟)) قال: أسمع بأذني. قال: جئت أسألك عن الولد. قال: ((ماء الرجل أبيض، وماء المرأة أصفر، فإذا اجتمعا فعلا منيُُّ الرجل منيَّ المرأة أذكرا بإذن الله، وإذا علا منيُّ المرأة منيَّ الرجل آنثا بإذن الله)).
قال اليهودي: لقد صدقت، وإنك لنبي، ثم انصرف فذهب، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((لقد سألني هذا عن الذي سألني عنه، وما لي علم بشيء منه، حتى أتاني الله به)). (1)
إذاً نخلص إلى القول بأن حوار الدعوة واجب ديني تتابعت النصوص على الدعوة إليه، وهو مطلب أخلاقي يفرضه علينا رحمتنا بالآخرين، وحرصنا على هدايتهم، واستنقاذهم من أوضار الكفر والعقاب الأخروي.
ب. حوار التعاملرأينا أن بقاء الاختلاف بين البشر في أديانهم ومللهم واقع، شاءه الله بمشيئته وإرادته الكونية، فكيف يتعايش المختلفون؟ وماهو الأسلوب الأمثل لبناء العلاقات البشرية؟ أوليس هو الحوار والتعايش والبحث عن القواسم الحياتية المشتركة؟
إن الضرورة الحياتية تؤزنا للبحث عن قواسم مشتركة نبني عليها علاقاتنا، وهو ما يملي على المختلفين في عقائدهم ومذاهبهم اللجوء إلى لون آخر من ألوان الحوار، وهو حوار التعامل، وهو حوار بعيد عن أصول الدين والمعتقد، حوار تفرضه السياسة الشرعية، وتمليه طبيعة التعايش بين
--------------------------------------------
তিনি বললেন: তবে এর পরপরই তাদের খাদ্য কী হবে? তিনি বললেন: ((তাদের জন্য জান্নাতের সেই ষাঁড়টি জবাই করা হবে যা জান্নাতের প্রান্তসমূহ থেকে খাদ্য গ্রহণ করত))।
তিনি বললেন: তবে এর সাথে তাদের পানীয় কী হবে? তিনি বললেন: ((সেখানকার একটি ঝরনা থেকে যার নাম সালসাবিল))। তিনি বললেন: আপনি সত্য বলেছেন।
তিনি বললেন: আমি আপনাকে এমন একটি বিষয়ে জিজ্ঞাসা করতে এসেছি যা পৃথিবীর কোনো মানুষ জানে না, কেবল একজন নবী অথবা একজন বা দুজন ব্যক্তি ব্যতীত। তিনি বললেন: ((আমি তোমাকে বললে কি তা তোমার উপকারে আসবে?)) তিনি বললেন: আমি আমার কান দিয়ে তা শুনব। তিনি বললেন: আমি আপনাকে সন্তান সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতে এসেছি। তিনি বললেন: ((পুরুষের বীর্য সাদা এবং নারীর বীর্য হলুদ। যখন তারা একত্রিত হয় এবং পুরুষের বীর্য নারীর বীর্যের ওপর জয়ী হয়, তখন আল্লাহর নির্দেশে পুত্র সন্তান জন্ম নেয়। আর যখন নারীর বীর্য পুরুষের বীর্যের ওপর জয়ী হয়, তখন আল্লাহর নির্দেশে কন্যা সন্তান জন্ম নেয়))।
ইহুদিটি বলল: আপনি সত্য বলেছেন এবং আপনি অবশ্যই একজন নবী। তারপর সে প্রস্থান করল। এরপর রাসূলুল্লাহ ﷺ বললেন: ((সে আমাকে যা জিজ্ঞাসা করেছে সে বিষয়ে আমার কোনো জ্ঞান ছিল না, যতক্ষণ না আল্লাহ আমার কাছে তা নিয়ে এসেছেন))। (১)
সুতরাং আমরা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারি যে, দাওয়াতী সংলাপ একটি ধর্মীয় আবশ্যকতা, যা পালনের জন্য অসংখ্য দলিল (نصوص) ধারাবাহিকভাবে অবতীর্ণ হয়েছে। এটি একটি নৈতিক দাবিও বটে, যা অন্যের প্রতি আমাদের দয়া, তাদের হিদায়াতের প্রতি আমাদের আকাঙ্ক্ষা এবং কুফরির পঙ্কিলতা ও পরকালীন শাস্তি থেকে তাদের উদ্ধারের প্রচেষ্টাকে আমাদের ওপর অর্পণ করে।
খ. পারস্পরিক আচরণের সংলাপআমরা দেখেছি যে, মানুষের ধর্ম ও আদর্শের মধ্যে পার্থক্যের বিদ্যমান থাকা একটি বাস্তবতা, যা আল্লাহ তাঁর মহাজাগতিক ইচ্ছা (إرادة كونية) ও অভিপ্রায়ে নির্ধারণ করেছেন। এমতাবস্থায় ভিন্নমতাবলম্বীরা কীভাবে সহাবস্থান করবে? এবং মানবিক সম্পর্ক গড়ে তোলার সর্বোত্তম পদ্ধতি কী? এটি কি সংলাপ, সহাবস্থান এবং জীবনের সাধারণ অভিন্ন ক্ষেত্রগুলোর অনুসন্ধান নয়?
জীবনযাত্রার প্রয়োজনীয়তা আমাদের এমন অভিন্ন ক্ষেত্রগুলো খুঁজতে উদ্বুদ্ধ করে যার ওপর ভিত্তি করে আমরা আমাদের সম্পর্ক গড়ে তুলি। এটিই ভিন্ন ভিন্ন আকিদা (عقيدة) ও মাযহাবের (مذاهب) অনুসারীদের অন্য এক ধরনের সংলাপের আশ্রয় নিতে উদ্বুদ্ধ করে, যা হলো 'পারস্পরিক আচরণের সংলাপ'। এটি এমন এক সংলাপ যা দ্বীনের মৌলিক নীতি (أصول الدين) ও বিশ্বাস থেকে স্বতন্ত্র; এটি এমন এক সংলাপ যা শরয়ী রাজনীতি (السياسة الشرعية) দ্বারা অপরিহার্য এবং সহাবস্থানের প্রকৃতি দ্বারা নির্দেশিত...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-হিওয়ারু মাআ আতবাউল আদইয়ান - মাশরুউইয়াতুহু ওয়া আদাবুহু
(পৃষ্ঠা: ৩২)
البشر؛ بحكم الجوار والمصالح المتبادلة.
وقد بينت الشريعة بنصوصها أو بقواعدها العامة الأسس والضوابط المتعلقة بهذا اللون من ألوان الحوار.
وقد ظهر مثل هذا اللون من حوار التعامل والتقارب المعيشي منذ نشأة الدولة الإسلامية في المدينة، حيث عقد النبي صلى الله عليه وسلم عهوداً مع يهود المدينة، كما أبرم صلح الحديبية مع كفار قريش، وحوى الفقه الإسلامي بمذاهبه المختلفة تراثاً ضخماً في مجال العلاقات الدولية التي بينت للمسلمين أصول التعامل مع مختلف البشر.
ويركز هذا اللون من الحوار على النقاط المشتركة التي يتفق عليها المتحاورون، فيهدفون إلى تعميقها والتكاتف في سبيلها، وغالباً ما تصطبغ بالصبغة الأخلاقية أو المصلحية، كالحوار حول السلام العالمي والتعايش بين الأمم ومكافحة الشذوذ ومعالجة قضايا الانحلال الأخلاقي والتفكك الأسري.
وأبرز معالم هذا النوع من الحوار:
- الاعتراف بوجود الآخر واختياره للدين والمعتقد.
- الاعتراف باختلاف المتحاورين وخصوصية كل دين، ونبذ التوفيق والتلفيق بين أديان الأطراف المتحاورة.
- تجنب أو الحذر في البحث في المسائل العقدية الفاصلة، حفاظاً على استمرارية الحوار وضمان ديمومة التعاون على تحقيق القيم أو المصالح المشتركة.
- تجنب إطلاق الألفاظ المفسدة لأجواء الحوار، كإطلاق الكفر على المحاورين أو الحديث عن خلودهم في النار أو الطعن في مقدساتهم، وتجنب هذا ليس تسويغاً له البتة.
- إبراز أوجه التشابه والاتفاق بين الأطراف المتحاورة، والتركيز عليها لاستثمارها وتنميتها، وإقصاء أوجه التباين والافتراق لما لها من أثر سلبي على الحوار.
মানুষ; প্রতিবেশী হওয়া এবং পারস্পরিক স্বার্থের নিরিখে।
শরিয়ত তার স্পষ্ট পাঠ (نصوص) অথবা সাধারণ নীতিমালার মাধ্যমে সংলাপের এই রূপটির সাথে সংশ্লিষ্ট ভিত্তি ও নিয়মাবলি (ضوابط) বর্ণনা করেছে।
মদিনায় ইসলামি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সূচনালগ্ন থেকেই পারস্পরিক লেনদেন এবং জীবনযাত্রার নৈকট্যমূলক সংলাপের এই রূপটি পরিলক্ষিত হয়; যেখানে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মদিনার ইহুদিদের সাথে চুক্তি সম্পাদন করেছিলেন এবং কুরাইশ কাফেরদের সাথে হুদায়বিয়ার সন্ধি করেছিলেন। ইসলামি ফিকহ তার বিভিন্ন মাযহাবসহ আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক বিশাল ঐতিহ্য ধারণ করে আছে, যা মুসলমানদের জন্য বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের সাথে আচরণের মূলনীতি (أصول) স্পষ্ট করেছে।
সংলাপের এই রূপটি এমন সাধারণ বিষয়গুলোর ওপর গুরুত্বারোপ করে যেগুলোর ব্যাপারে আলাপকারীরা একমত হন; ফলে তারা সেগুলোকে আরও গভীর করতে এবং সেই লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধ হতে সচেষ্ট হন। এগুলো প্রায়শই নৈতিক বা স্বার্থসংশ্লিষ্ট রূপ লাভ করে, যেমন বিশ্বশান্তি, জাতিসমূহের মধ্যে সহাবস্থান, চারিত্রিক বিচ্যুতি প্রতিরোধ এবং নৈতিক অবক্ষয় ও পারিবারিক ভাঙনের মতো সমস্যাগুলোর সমাধান নিয়ে সংলাপ।
এই ধরনের সংলাপের প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ:
- অপরের অস্তিত্ব এবং তার ধর্ম ও বিশ্বাস নির্বাচনের অধিকারের স্বীকৃতি প্রদান।
- আলাপকারীদের মধ্যকার পার্থক্য এবং প্রতিটি ধর্মের স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যের স্বীকৃতি প্রদান করা এবং আলাপকারী পক্ষগুলোর ধর্মের মধ্যে সমন্বয় (توفيق) ও সংমিশ্রণ (تلفيق) পরিহার করা।
- সংলাপের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং অভিন্ন মূল্যবোধ বা স্বার্থ অর্জনে সহযোগিতার স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে চূড়ান্ত আকীদাগত (عقدية) বিষয়ে আলোচনা থেকে বিরত থাকা বা সতর্ক থাকা।
- সংলাপের পরিবেশ নষ্টকারী শব্দাবলি প্রয়োগ পরিহার করা, যেমন আলাপকারীদের কুফরি (كفر) সাব্যস্ত করা বা জাহান্নামে তাদের চিরস্থায়ী অবস্থান নিয়ে আলোচনা করা কিংবা তাদের পবিত্র বিষয়গুলোকে অবমাননা করা; তবে এটি পরিহার করা মানেই সেগুলোকে একেবারেই বৈধতা (تسويغ) দান করা নয়।
- আলাপকারী পক্ষগুলোর মধ্যে সাদৃশ্য ও ঐকমত্যের দিকগুলো ফুটিয়ে তোলা এবং সেগুলো কাজে লাগানো ও উন্নয়নের লক্ষ্যে সেগুলোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া; আর বৈসাদৃশ্য ও পার্থক্যের দিকগুলো বর্জন করা, কারণ সংলাপের ওপর সেগুলোর নেতিবাচক প্রভাব রয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আল-হিওয়ারু মাআ আতবাউল আদইয়ান - মাশরুউইয়াতুহু ওয়া আদাবুহু
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
- الدعوة إلى معرفة الآخر كما يريد هو أن يُعرف، ورفع الأحكام المسبقة عنه، مع التأكيد على الدعوة إلى نسيان الماضي التاريخي، والاعتذار عن أخطائه، والتخلص من آثاره.
وهذا اللون من الحوار مشروع وجائز، فقد شهد النبي صلى الله عليه وسلم في شبابه حلف المطيبين الذين اتفقوا على رد المظالم وإعانة المظلوم، وهو لون من اللقاء حول أسباب التعايش.
وحين بُعث عليه الصلاة والسلام أكد مشروعية مثل هذا العمل النبيل والتزامه به فقال: ((ما شهدت من حلف إلا حلف المطيبين ، وما أحب أن أنكثه، وأن لي حمر النعم))، وفي رواية أنه قال: ((ولو دعيت به اليوم في الإسلام لأجبت)). وفي رواية عزاها ابن كثير في السيرة إلى الحميدي: ((لو دعيت به في الإسلام لأجبت؛ تحالفوا أن ترد الفضول على أهلها، وألا يعز ظالم مظلوماًً)). (1) فقد أقر صلى الله عليه وسلم اللقاء مع الكافر على مثل هذه القيمة النبيلة والخصلة الحميدة.
قال ابن حجر في الفتح: " وكان حلفهم أن لا يعين ظالم مظلوماً بمكة، وذكروا في سبب ذلك أشياء مختلفة محصلها: أن القادم من أهل البلاد كان يقدم مكة، فربما ظلمه بعض أهلها فيشكوه إلى من بها من القبائل، فلا يفيد ، فاجتمع بعض من كان يكره الظلم ويستقبحه، إلى أن عقدوا الحلف ، وظهر الإسلام وهم على ذلك ". (2)
وقال القرطبي رحمه الله: "ذكر ابن إسحاق قال: اجتمعت قبائل من قريش في دار عبد الله بن جدعان لشرفه ونسبه، فتعاقدوا وتعاهدوا على ألا يجدوا بمكة مظلوماً من أهلها أو غيرهم إلا قاموا معه، حتى ترد عليه مظلمته، فسمت قريش ذلك الحلف حلف الفضول، وهو الذي قال فيه
--------------------------------------------
অন্যকে সে যেভাবে পরিচিত হতে চায় সেভাবে জানার আহ্বান, তার সম্পর্কে পূর্বনির্ধারিত ধারণাগুলো দূর করা, সেই সাথে ঐতিহাসিক অতীতকে ভুলে যাওয়ার আহ্বান জানানো, এর ভুলগুলোর জন্য ক্ষমা চাওয়া এবং এর প্রভাব থেকে মুক্তি পাওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা।
এই ধরণের সংলাপ বৈধ (مشروع) এবং জায়েজ (جائز)। নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর যৌবনে হিলফুল মুতায়্যাবিনে অংশগ্রহণ করেছিলেন, যারা অন্যায় দূর করতে এবং মজলুমকে সাহায্য করতে একমত হয়েছিল। এটি সহাবস্থানের প্রেক্ষাপটে এক প্রকার মিলনমেলা।
যখন তিনি প্রেরিত হলেন, তখন তিনি এই ধরণের মহৎ কাজের বৈধতা (مشروعية) এবং এর প্রতি নিজের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে বললেন: "আমি হিলফুল মুতায়্যাবিন ব্যতীত অন্য কোনো চুক্তিতে উপস্থিত হইনি, আর আমি এটি ভঙ্গ করতে পছন্দ করি না, যদিও বিনিময়ে আমাকে লাল উট দেওয়া হয়।" অন্য এক বর্ণনায় (رواية) তিনি বলেছেন: "আজ ইসলামের যুগেও যদি আমাকে এর প্রতি আহ্বান জানানো হতো, তবে আমি তাতে সাড়া দিতাম।" ইবনে কাসীর তাঁর সীরাত গ্রন্থে আল-হুমায়দী থেকে উদ্ধৃত এক বর্ণনায় (رواية) এসেছে: "যদি ইসলামের যুগেও আমাকে এর প্রতি আহ্বান জানানো হতো, তবে আমি সাড়া দিতাম। তারা এই মর্মে অঙ্গীকার করেছিল যে, অতিরিক্ত হক তার প্রকৃত পাওনাদারকে ফিরিয়ে দেওয়া হবে এবং কোনো জালেম যেন মজলুমের ওপর বিজয় লাভ করতে না পারে।" (১) নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই ধরণের মহৎ মূল্যবোধ এবং প্রশংসনীয় গুণের ভিত্তিতে কাফেরের সাথে সাক্ষাৎ বা মৈত্রী সমর্থন করেছেন।
ইবনে হাজার ফাতহুল বারীতে বলেছেন: "তাদের চুক্তিটি ছিল এমন যে, মক্কায় কোনো জালেম যেন মজলুমের ওপর প্রাধান্য বিস্তার না করে। তারা এর কারণ হিসেবে বিভিন্ন বিষয়ের কথা উল্লেখ করেছেন যার সারসংক্ষেপ হলো: যখন বাইরের কোনো এলাকা থেকে কোনো আগন্তুক মক্কায় আসতেন, তখন মক্কার কোনো অধিবাসী হয়তো তার ওপর জুলুম করত। সে তখন মক্কার গোত্রগুলোর কাছে অভিযোগ করত, কিন্তু তাতে কোনো ফল হতো না। এরপর যারা জুলুমকে অপছন্দ ও ঘৃণা করতেন, তারা একত্রিত হলেন এবং এই চুক্তিটি স্বাক্ষর করলেন। ইসলাম যখন আবির্ভূত হলো, তখনও তারা এই চুক্তিতে অটল ছিলেন।" (২)
ইমাম কুরতুবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "ইবনে ইসহাক উল্লেখ করেছেন যে, কুরাইশের কিছু গোত্র আবদুল্লাহ ইবনে জুদআনের ঘরে একত্রিত হয়েছিল তার মর্যাদা ও বংশীয় শ্রেষ্ঠত্বের কারণে। তারা সেখানে চুক্তিবদ্ধ হলো এবং অঙ্গীকার করল যে, মক্কায় মক্কার বাসিন্দা হোক বা অন্য কেউ হোক, কোনো মজলুমকে দেখলে তারা তার পাশে দাঁড়াবে, যতক্ষণ না তার পাওনা ফিরিয়ে দেওয়া হয়। কুরাইশরা এই মৈত্রীর নাম দিয়েছিল হিলফুল ফুদুল। এটি সম্পর্কে তিনি বলেছিলেন
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-হিওয়ারু মাআ আতবাউল আদইয়ান - মাশরুউইয়াতুহু ওয়া আদাবুহু
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
الرسول صلى الله عليه وسلم: ((لقد شهدت في دار عبد الله بن جدعان حلفاً ما أحب أن لي به حمر النعم، ولو أدعى به في الإسلام لأجبت))، وهذا الحلف هو المعنى المراد في قوله عليه السلام: ((وأيما حلف كان في الجاهلية لم يزده الإسلام إلا شدة)) (1)، لأنه موافق للشرع إذا أمر بالانتصاف من الظالم". (2)
قال المباركفوري: "قوله: ((أوفوا)) من الوفاء، وهو القيام بمقتضى العهد ((بحلف الجاهليّة)) أي العهود الّتي وقعت فيها، ممّا لا يخالف الشّرع لقوله تعالى: {أوفوا بالعقود} (المائدة: 1) لكنّه مقيّدٌ بما قال الله تعالى: {وتعاونوا على البرّ والتّقوى ولا تعاونوا على الإثم والعدوان} (المائدة: 2)، ((فإنّه)) أي الإسلام ((لا يزيده)) أي حلف الجاهليّة الّذي ليس بمخالفٍ للإسلام ((إلّا شدّةً)) أي شدّة توثّقٍ، فيلزمكم الوفاء به". (3)
قال ابن القيم: " وأمّا قول النّبيّ صلى الله عليه وسلم: ((شهدت حلفاً في الجاهليّة ما أحبّ أنّ لي به حمر النّعم ، لو دعيت إلى مثله في الإسلام لأجبت))، فهذا - والله أعلم - هو حلف المطيّبين ، حيث تحالفت قريش على نصر المظلوم ، وكفّ الظّالم ونحوه ، فهذا إذا وقع في الإسلام كان تأكيدًا لموجب الإسلام وتقوية له. وأمّا الحلف الّذي أبطله فهو تحالف القبائل: بأن يقوم بعضها مع بعض وينصره، ويحارب من حاربه ، ويسالم من سالمه. فهذا لا يعقد في الإسلام". (4)
قال ابن حجر: " ذكره ابن إسحاق وغيره ، وكان جمع من قريش اجتمعوا فتعاقدوا على أن ينصروا المظلوم وينصفوا بين النّاس ونحو ذلك من خلال الخير ، واستمرّ العمل بهذا الحلف بعد البعثة النبوية ، ويستفاد من حديث عبد الرّحمن بن عوف أنّهم استمرّوا على ذلك في الإسلام ، وإلى ذلك الإشارة في حديث جبير بن مطعم
… ". (5)
--------------------------------------------
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ((আমি আবদুল্লাহ ইবনে জুদআনের ঘরে এমন একটি চুক্তিতে উপস্থিত ছিলাম, যার বিনিময়ে আমি লাল উট পাওয়াকেও পছন্দ করব না। যদি ইসলাম আসার পর আমাকে অনুরূপ কোনো চুক্তির জন্য আহ্বান করা হতো, তবে অবশ্যই আমি তাতে সাড়া দিতাম))। আর এই চুক্তিটিই তাঁর (সা.) এই বাণীতে উদ্দেশ্য: ((জাহেলিয়াতের যুগে যে কোনো চুক্তিই সম্পাদিত হোক না কেন, ইসলাম তার দৃঢ়তাই বৃদ্ধি করেছে)) (১); কেননা এটি শরিয়তের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ যখন তা জালিমের কাছ থেকে ইনসাফ আদায়ের নির্দেশ দেয়। (২)
আল-মুবারকপুরী বলেন: "তাঁর উক্তি: ((তোমরা পূর্ণ করো)) এটি পূর্ণ করা থেকে এসেছে, যা অঙ্গীকারের দাবি অনুযায়ী আমল করা। ((জাহেলিয়াতের চুক্তির প্রতি)) অর্থাৎ জাহেলি যুগে সম্পাদিত সেই সব অঙ্গীকার, যা শরিয়ত বিরোধী নয়। কারণ মহান আল্লাহ বলেছেন: {তোমরা অঙ্গীকারসমূহ পূর্ণ করো} (আল-মায়িদাহ: ১)। তবে এটি মহান আল্লাহর এই বাণীর মাধ্যমে শর্তযুক্ত: {তোমরা সৎকর্ম ও তাকওয়ায় পরস্পরকে সহযোগিতা করো এবং পাপ ও সীমালঙ্ঘনে একে অপরকে সহযোগিতা করো না} (আল-মায়িদাহ: ২)। ((নিশ্চয়ই তা)) অর্থাৎ ইসলাম, ((তা বৃদ্ধি করে না)) অর্থাৎ জাহেলিয়াতের সেই চুক্তি যা ইসলামের বিরোধী নয়, ((দৃঢ়তা ব্যতীত)) অর্থাৎ সেটিকে আরও সুসংহত করে। অতএব তা পূর্ণ করা তোমাদের জন্য আবশ্যক"। (৩)
ইবনুল কায়্যিম বলেন: "আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: ((আমি জাহেলিয়াতে এমন এক চুক্তিতে উপস্থিত ছিলাম যেটির বিনিময়ে আমি লাল উট পাওয়াকেও পছন্দ করব না। ইসলামে যদি আমাকে অনুরূপ কিছুর দিকে আহ্বান জানানো হতো, তবে আমি তাতে সাড়া দিতাম।)) এটি—আল্লাহই ভালো জানেন—হলো মুতাইয়্যাবীনদের চুক্তি, যেখানে কুরাইশরা মজলুমকে সাহায্য করা, জালেমকে প্রতিরোধ করা এবং এই জাতীয় বিষয়ের ওপর চুক্তিবদ্ধ হয়েছিল। সুতরাং এটি যখন ইসলামে সংঘটিত হয়, তখন তা ইসলামের অপরিহার্য বিধানের সমর্থন এবং শক্তির কারণ হয়। আর যে চুক্তিকে তিনি বাতিল করেছেন তা হলো গোত্রীয় পক্ষপাতমূলক চুক্তি: যে এক গোত্র অন্য গোত্রের সাথে এই মর্মে চুক্তিবদ্ধ হবে যে তারা একে অপরের পাশে দাঁড়াবে, সাহায্য করবে, মিত্রের শত্রুর সাথে যুদ্ধ করবে এবং মিত্রের বন্ধুর সাথে সন্ধি করবে। ইসলামে এই জাতীয় চুক্তি করা বৈধ নয়"। (৪)
ইবনে হাজার বলেন: "ইবনে ইসহাক ও অন্যান্যরা এটি উল্লেখ করেছেন। কুরাইশদের একটি দল একত্রিত হয়ে মজলুমকে সাহায্য করা, মানুষের মাঝে ইনসাফ কায়েম করা এবং এই জাতীয় ভালো গুণাবলীর ওপর অঙ্গীকারবদ্ধ হয়েছিল। নবুয়ত প্রাপ্তির পর এই চুক্তির ওপর আমল অব্যাহত ছিল। আবদুর রহমান ইবনে আউফ এর হাদিস থেকে জানা যায় যে তারা ইসলামেও এর ওপর অবিচল ছিলেন। জুবাইর ইবনে মুতয়িম এর হাদিসে সেদিকেই ইঙ্গিত করা হয়েছে
… "। (৫)
--------------------------------------------