(খণ্ড: ১) আত-তাকফীর ওয়া দাওয়াবিতুহু - আস-সাক্কার (পৃষ্ঠা: -)
التكفير وضوابطه - السقار   (منقذ السقار)

القسم: العقيدة


الكتاب: التكفير وضوابطه

المؤلف: منقذ بن محمود السقار

الناشر: رابطة العالم الإسلامي

عدد الصفحات: 116

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 7 ربيع الآخر 1433

তাকফির এবং এর নীতিমালা - আস-সাক্কার   (মুনকিজ আস-সাক্কার)

বিভাগ: আকিদাহ


গ্রন্থ: তাকফির এবং এর নীতিমালা

লেখক: মুনকিজ বিন মাহমুদ আস-সাক্কার

প্রকাশক: রাবেতাতুল আলম আল-ইসলামি

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১১৬

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রণের অনুরূপ]

শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ৭ রবিউস সানি ১৪৩৩

(খণ্ড: ১) আত-তাকফীর ওয়া দাওয়াবিতুহু - আস-সাক্কার (পৃষ্ঠা: -)
التكفير وضوابطه

 

د. منقذ بن محمود السقار
তাকফির এবং এর মূলনীতিসমূহ

 

ড. মুনকিয বিন মাহমুদ আস-সাক্কার
(খণ্ড: ১) আত-তাকফীর ওয়া দাওয়াবিতুহু - আস-সাক্কার (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌مقدمة

الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على خاتم النبيين، رسول رب العالمين، محمد بن عبد الله، صلى الله عليه وعلى آله وصحبه، وسلم تسليماً كثيراً، وبعد:

فقدبعث الله نبيه بالحجة البينة الواضحة، فأنار السبيل، وكشف الظلمة، وترك أمته على محجة بيضاء، ليلها كنهارها، لا يزيغ عنها إلا هالك.

وكان من أوائل من زاغ عن هديه صلى الله عليه وسلم الخوارج، فكانوا أول البدع ظهوراًً في الإسلام ، وأظهرها ذماًً في السنة النبوية ، فإن ذو الخويصرة قال للنبي صلى الله عليه وسلم: اعدل يا محمد! فإنك لم تعدل، فأخبر النبي صلى الله عليه وسلم عن خروجه وخروج أصحابه، وذكر أنهم ((يمرقون من الدين كما يمرق السهم من الرمية)). (1)

وتحقق قول النبي صلى الله عليه وسلم فيه وفي أصحابه من أهل النهروان، وقد "كان دينهم الذي اختصوا به من بين الداخلين في الفتن هو تكفير بعض المسلمين بما حسبوه كفراً، فوردت الأحاديث بمروقهم بذلك وتواترت، وهي في دواوين الإسلام الستة". (2)

وتصدى سلف الأمة لهذه الفتنة، وكان من أقوم سُبل معالجتها صبر عليٍّ وأناتُه على الخوارج، وإرساله حبر الأمة وترجمان القرآن عبد الله بن عباس رضي الله عنهما لمحاورتهم ومجادلتهم.

فعاد إلى الحق جمهور كبير منهم، بينما كان سيف الحق بالمرصاد لبقيتهم، ممن اختار الغواية والعماية، ليسطع نور الحق من جديد، وتضمحل هذه الضلالة إلى أن غدت أثراً بعد عين.

لكن ذلك لم يمنع تداول هذا الفكر في العصور التالية، وإن سلُم هذه المرة من آفة الخروج والقتال، وتجسد ذلك في الفرق الإسلامية البدعية المختلفة التي أشهرت سيف التكفير في وجه مخالفيها، حتى غدا التكفير

--------------------------------------------

(1) رواه البخاري ح (3610)، ومسلم ح (1064).

(2) إيثار الحق على الخلق (381).
ভূমিকা

সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক নবীগণের সমাপ্তিকারী, বিশ্বজগতের প্রতিপালকের রাসূল মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহর ওপর, তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর এবং তাঁদের ওপর বর্ষিত হোক অজস্র সালাম। অতঃপর:

আল্লাহ তাঁর নবীকে সুস্পষ্ট ও উজ্জ্বল দলীলসহ প্রেরণ করেছেন, ফলে তিনি পথকে আলোকিত করেছেন এবং অন্ধকার দূরীভূত করেছেন। তিনি তাঁর উম্মতকে এক শুভ্র ও উজ্জ্বল পথের ওপর রেখে গেছেন, যার রাতও দিনের মতো পরিষ্কার। ধ্বংসপ্রাপ্ত ব্যক্তি ছাড়া অন্য কেউ তা থেকে বিচ্যুত হয় না।

আর তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হেদায়েত থেকে যারা প্রথম বিচ্যুত হয়েছিল তারা হলো খাওয়ারিজ সম্প্রদায়। ইসলামে প্রকাশিত বিদআতগুলোর মধ্যে এটিই ছিল সর্বপ্রথম এবং সুন্নাহর বর্ণনায় এটিই সর্বাধিক নিন্দিত। কেননা যুল খুওয়াইসিরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলেছিল: "হে মুহাম্মাদ! ইনসাফ করুন, কারণ আপনি ইনসাফ করেননি।" তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার এবং তার সঙ্গীদের বের হয়ে যাওয়ার সংবাদ দিয়েছিলেন এবং উল্লেখ করেছিলেন যে, "তারা দ্বীন থেকে এমনভাবে বের হয়ে যাবে যেভাবে তীর শিকার ভেদ করে বেরিয়ে যায়।" (১)

আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সেই কথা তার এবং নাহরাওয়ানের অধিবাসী তার সঙ্গীদের ব্যাপারে সত্য প্রমাণিত হয়েছে। আর "ফিতনায় লিপ্ত হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে তাদের বিশেষ বৈশিষ্ট্যসূচক যে দ্বীন ছিল তা হলো এমন কিছু বিষয়ের কারণে মুসলমানদের একাংশকে কাফির সাব্যস্ত করা যেগুলোকে তারা কুফর মনে করত। ফলে তাদের দ্বীন থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে অনেক হাদিস বর্ণিত হয়েছে এবং সেগুলো মুতাওয়াতির (সর্বজনবিদিত) পর্যায়ে পৌঁছেছে; আর তা ইসলামের ছয়টি প্রধান হাদিস গ্রন্থে বিদ্যমান।" (২)

উম্মতের সালাফগণ (পূর্বসূরীগণ) এই ফিতনার মোকাবিলা করেছিলেন। এই ফিতনা দমনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ পথ ছিল খাওয়ারিজদের প্রতি আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর ধৈর্য ও সহনশীলতা এবং তাদের সাথে বিতর্ক ও আলোচনার জন্য উম্মতের শ্রেষ্ঠ পণ্ডিত ও কুরআনের ব্যাখ্যাতা আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে প্রেরণ করা।

ফলে তাদের এক বিশাল অংশ সত্যের পথে ফিরে আসে, অন্যদিকে যারা পথভ্রষ্টতা ও অন্ধত্বকেই বেছে নিয়েছিল তাদের জন্য সত্যের তরবারি সদা প্রস্তুত ছিল। যাতে করে সত্যের আলো নতুনভাবে বিকশিত হয় এবং এই বিভ্রান্তি এমনভাবে বিলুপ্ত হয় যে তা কেবল ইতিহাসে পর্যবসিত হয়।

কিন্তু পরবর্তী যুগগুলোতে এই চিন্তাধারার প্রসার থেমে থাকেনি, যদিও এবার তা সশস্ত্র বিদ্রোহ ও যুদ্ধের ব্যাধি থেকে মুক্ত ছিল। আর এর প্রতিফলন ঘটেছে বিভিন্ন বিদআতি ইসলামি ফেরকাগুলোর মধ্যে যারা তাদের বিরোধীদের বিরুদ্ধে তাকফিরের (কাফির সাব্যস্ত করার) তলোয়ার উন্মুক্ত করেছে, এমনকি এই তাকফির করাটাই হয়ে দাঁড়িয়েছে...

--------------------------------------------

(১) বুখারি, হাদিস নং (৩৬১০) এবং মুসলিম, হাদিস নং (১০৬৪)।

(২) ইথারুল হাক আলাল খালক (৩৮১)।
(খণ্ড: ১) আত-তাকফীর ওয়া দাওয়াবিতুহু - আস-সাক্কার (পৃষ্ঠা: ৬)
سمة لا تنفك عن أهل البدع: "وإنما هو في الأصل من أقوال أهل البدع الذين يبتدعون بدعة، ويكفرون من خالفهم، كالخوارج والمعتزلة والجهمية". (1)

وما زال هذا الوباء يسري بين المسلمين حتى وصل إلى بعض المتنسبين للمذاهب الفقهية لأهل السنة والجماعة، فتداول متعصبة المذاهب تكفير الآخرين "ووقع ذلك في كثير من أتباع الأئمة كبعض أصحاب مالك والشافعي وأحمد وغيرهم". (2)

ومن ذلك قول الرستغفني الحنفي: "لا تجوز المناكحة بين أهل السنة والاعتزال. وقال الفضل: لا يجوز بين من قال: أنا مؤمن إن شاء الله، لأنه كافر، ومقتضاه منع مناكحة الشافعية". (3) فهو يرى كفر الشافعية الذين يوجبون الاستثناء في الإيمان.

ومثل هذا قول أبي القاسم البكري، وهو يعرّض بالحنابلة أمام طلابه في المدرسة النظامية: "وما كفر سليمان، ولكن الشياطين كفروا، والله ما كفر أحمد، ولكن أصحابه كفروا ". (4)

لكن هذه الصورة من صور التكفير لم يكن لها كبير أثر في المسلمين، لأنها كما قال ابن الهمام: "ويقع في كلام أهل المذاهب تكفير كثير، ولكنه ليس من كلام الفقهاء الذين هم المجتهدون، بل من غيرهم، ولا عبرة بغير الفقهاء". (5)

وفي أواسط القرن الميلادي العشرين، وفي غياهب سجون الظلم عادت هذه الظاهرة من جديد، فبدأ شررها بتكفير الحكام الذين يحكمون بغير ما أنزل الله ويوقعون بدعاة تحكيم الشريعة الظلم والاضطهاد، ثم امتد بهم التكفير ليعم كل من يعمل في أجهزة الدولة، ومازال البلاء يطم ويعم، حتى قال قائلهم بتكفير المجتمع كله، إلا من قال بقولهم، أو انتمى إلى فكرهم، ولو لم يجاوزوا عدد أصابع اليدين.

--------------------------------------------

(1) منهاج السنة (5/ 240)، وانظر درء تعارض العقل والنقل (1/ 243).

(2) منهاج السنة (5/ 240).

(3) البحر الرائق (3/ 110).

(4) الكامل في التاريخ (10/ 124).

(5) شرح فتح القدير (6/ 100).
বিদআতপন্থীদের একটি অবিচ্ছেদ্য বৈশিষ্ট্য: "মূলত এটি বিদআতপন্থীদেরই বক্তব্য, যারা বিদআত উদ্ভাবন করে এবং তাদের বিরোধিতাকারীদের কাফির সাব্যস্ত করে, যেমন খাওয়ারিজ, মুতাযিলা এবং জাহমিয়্যাহ।" (১)

এই ব্যাধি মুসলমানদের মাঝে বিস্তার লাভ করতে থাকে, এমনকি তা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের ফিকহী মাযহাবের অনুসারীদের কারো কারো মাঝেও পৌঁছে যায়। ফলে মাযহাবের গোঁড়া অনুসারীরা অন্যদের কাফির সাব্যস্ত করা শুরু করে এবং "এটি ইমামদের অনেক অনুসারীদের মধ্যে দেখা দেয়, যেমন মালিক, শাফিঈ, আহমাদ ও অন্যদের কিছু অনুসারী।" (২)

এর মধ্যে রুস্তাগফানি হানাফীর বক্তব্য উল্লেখযোগ্য: "আহলে সুন্নাত এবং মুতাযিলাদের মধ্যে বিবাহ বন্ধন জায়েজ নয়। আর ফজল বলেছেন: যারা বলে 'ইনশাআল্লাহ আমি মুমিন' তাদের সাথে বিবাহ জায়েজ নয়, কারণ সে কাফির; এর অর্থ হলো শাফিঈদের সাথে বিবাহ বন্ধন নিষিদ্ধ করা।" (৩) সুতরাং তিনি শাফিঈদের কাফির মনে করতেন যারা ঈমানের ক্ষেত্রে 'ইনশাআল্লাহ' বলা (ইসতিসনা) ওয়াজিব মনে করেন।

অনুরূপ কথা আবুল কাসিম আল-বাকরীর, যিনি নিযামিয়া মাদরাসায় তার ছাত্রদের সামনে হাম্বলিদের কটাক্ষ করে বলতেন: "সোলায়মান কুফরী করেননি, বরং শয়তানরাই কুফরী করেছিল; আল্লাহর কসম, আহমাদ কুফরী করেননি, বরং তাঁর অনুসারীরা কুফরী করেছে।" (৪)

তবে তাকফীরের এই রূপটি মুসলমানদের মাঝে খুব বেশি প্রভাব ফেলতে পারেনি, কারণ ইবনুল হুমাম যেমনটি বলেছেন: "মাযহাবের অনুসারীদের বক্তব্যে অনেক তাকফীর দেখা যায়, তবে এটি ফকীহদের কথা নয় যারা মুজতাহিদ, বরং অন্যদের কথা। আর ফকীহগণ ব্যতীত অন্য কারো কথার কোনো গুরুত্ব নেই।" (৫)

বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে এবং জুলুমের অন্ধ কারাগারগুলোতে এই প্রবণতা পুনরায় ফিরে আসে। এর স্ফুলিঙ্গ শুরু হয়েছিল সেই শাসকদের কাফির সাব্যস্ত করার মাধ্যমে যারা আল্লাহর অবতীর্ণ বিধান অনুযায়ী বিচার করে না এবং শরীয়াহ প্রতিষ্ঠার আহ্বানকারীদের ওপর জুলুম ও নির্যাতন চালায়। এরপর তাদের তাকফীর প্রসারিত হয়ে রাষ্ট্রের সকল সংস্থায় কর্মরত ব্যক্তিদের পর্যন্ত বিস্তৃত হয়। এই ফিতনা ক্রমশ বাড়তেই থাকে এবং ব্যাপক আকার ধারণ করে, এমনকি তাদের কেউ কেউ পুরো সমাজকেই কাফির সাব্যস্ত করতে শুরু করে—ব্যতিক্রম শুধু তারাই যারা তাদের মতাদর্শ গ্রহণ করে অথবা তাদের চিন্তাধারার সাথে যুক্ত হয়, যদিও তাদের সংখ্যা হাতের আঙ্গুলের সংখ্যার বেশি ছিল না।

--------------------------------------------

(১) মিনহাজুস সুন্নাহ (৫/ ২৪০), এবং দেখুন দারউ তাআরুদিল আকলি ওয়ান নাকলি (১/ ২৪৩)।

(২) মিনহাজুস সুন্নাহ (৫/ ২৪০)।

(৩) আল-বাহরুর রায়িক (৩/ ১১০)।

(৪) আল-কামিল ফিত তারিখ (১০/ ১২৪)।

(৫) শারহু ফাতহিল কাদির (৬/ ১০০)।
(খণ্ড: ১) আত-তাকফীর ওয়া দাওয়াবিতুহু - আস-সাক্কার (পৃষ্ঠা: ৭)
وهذه البدعة - كسائر البدع - لا تعدم دليلاً تتعلق به بعد ليّ معناه أو تأويله وتحريفه "ولذلك لا تجد فرقة من الفرق الضالة، ولا أحداً من المختلفين في الأحكام لا الفروعية ولا الأصولية، يعجز عن الاستدلال على مذهبه بظواهر من الأدلة .. بل قد شاهدنا ورأينا من الفساق من يستدل على مسائل الفسق بأدلة ينسبها إلى الشريعة المنزهة، وفي كتب التواريخ والأخبار من ذلك أطراف ما أشنعها في الافتئات على الشريعة". (1)

لكن هذا لا يعني أن ما يتعلق به الواهمون صالح للاستدلال على المسائل المثارة، فإن "العلم شيئان: إما نقل مصدق، وإما بحث محقق، وما سوى ذلك فهذيان مسروق، وكثير من كلام هؤلاء هو من هذا القسم من الهذيان، وما يوجد فيه من نقل، فمنه ما لا يميز صحيحه عن فاسده، ومنه ما لا ينقله على وجهه، ومنه ما يضعه في غير موضعه … ". (2)

وهؤلاء الذين حرموا التحقيق والتوثيق لمقالاتهم فاتهم الغوصُ في كثير من بحور العلم، مما لا يغنيهم عنه ما أدركوه في ساحله، فأقعدهم القليل عن طلب الكثير، وصدق من قال: " إنما يُفسد الناسَ نصفُ متكلم، ونصف فقيه، ونصف نحوي، ونصف طبيب، هذا يفسد الأديان، وهذا يفسد البلدان، وهذا يفسد اللسان، وهذا يفسد الأبدان". (3)

وأمام داهية عود التكفير - من جديد - بين بعض شباب المسلمين رأيت لزوم التصدي لهذه الضلالة، بياناً للحق، وقياماً بالواجب، ولتكون هذه الدراسة وغيرها نبراس هداية لكل من استزله الشيطان فوقع في إخوانه المسلمين تكفيراً وتفسيقاً.

واللهَ نسأل أن يجعل هذا العمل خالصاً لوجهه الكريم، إنه ولي ذلك والقادر عليه، وآخر دعوانا أن الحمد لله رب العالمين.

--------------------------------------------

(1) الموافقات (3/ 56).

(2) الرد على البكري (2/ 729).

(3) مجموع الفتاوى (5/ 118 - 119).
অন্যান্য বিদআতের মতো এই বিদআতটিও এমন কোনো দলিলের অভাব রাখে না যাকে সে আঁকড়ে ধরবে—তবে তা দলিলের অর্থকে মোচড়ানো কিংবা অপব্যাখ্যা ও বিকৃতির পরে। "আর এই কারণেই আপনি পথভ্রষ্ট দলগুলোর কোনো দলকেই পাবেন না, এমনকি আহকামের ক্ষেত্রে মতভেদকারীদেরও কাউকেই পাবেন না—চাই তা শাখা-প্রশাখা সংক্রান্ত হোক বা মূলনীতি সংক্রান্ত—যারা তাদের নিজ মতাদর্শের সপক্ষে দলিলের প্রকাশ্য দিকগুলো দ্বারা প্রমাণ উপস্থাপন করতে অক্ষম... বরং আমরা পাপাচারীদের মধ্যে এমন লোককেও দেখেছি যারা পাপাচারের মাসআলাগুলোতে এমন সব দলিল দ্বারা প্রমাণ দেয় যা তারা পবিত্র শরীয়তের দিকে নিসবত করে। ইতিহাস ও সংবাদের কিতাবগুলোতে এই বিষয়ে এমন সব উদাহরণ রয়েছে যা শরীয়তের ওপর মিথ্যারোপের ক্ষেত্রে অত্যন্ত জঘন্য।" (১)

কিন্তু এর মানে এই নয় যে, বিভ্রান্তরা যা আঁকড়ে ধরেছে তা উত্থাপিত বিষয়গুলোর ওপর দলিল হিসেবে পেশ করার উপযোগী। কেননা, "ইলম হলো দুটি বস্তু: হয় নির্ভরযোগ্য বর্ণনা, নতুবা সুসংহত গবেষণা। এছাড়া যা আছে তা হলো অপহৃত প্রলাপ। আর এদের অধিকাংশ কথাই হলো এই প্রলাপের অন্তর্ভুক্ত। সেখানে যেটুকু বর্ণনা পাওয়া যায়, তার মধ্যে কিছু আছে যার শুদ্ধ ও অশুদ্ধের মধ্যে পার্থক্য করা যায় না, কিছু আছে যা তারা তার সঠিক পন্থায় বর্ণনা করে না, আর কিছু আছে যা তারা ভুল স্থানে প্রয়োগ করে … "। (২)

আর যারা তাদের বক্তব্যের ক্ষেত্রে সঠিক অনুসন্ধান ও নির্ভরযোগ্যতা থেকে বঞ্চিত হয়েছে, তারা ইলমের বহু সাগরের গভীরতা থেকে বিমুখ হয়েছে; তীরের যতটুকু তারা অর্জন করেছে তা তাদের জন্য যথেষ্ট ছিল না। ফলে অল্প জ্ঞানই তাদের অধিক অন্বেষণ থেকে বিরত রেখেছে। সত্যই বলেছেন সেই ব্যক্তি যিনি বলেছেন: "নিশ্চয়ই মানুষকে ধ্বংস করে অর্ধেক মুতাকাল্লিম, অর্ধেক ফকীহ, অর্ধেক নাহবী (ব্যাকরণবিদ) এবং অর্ধেক চিকিৎসক। এই (অর্ধেক মুতাকাল্লিম) ধর্ম নষ্ট করে, এই (অর্ধেক ফকীহ) দেশসমূহ নষ্ট করে, এই (অর্ধেক নাহবী) ভাষা নষ্ট করে এবং এই (অর্ধেক চিকিৎসক) শরীর নষ্ট করে।" (৩)

মুসলিম যুবকদের একাংশের মধ্যে পুনরায় 'তাকফিরে'র (কাফির আখ্যা দেওয়া) এই ভয়াবহ ফেতনার পুনরুত্থানের সামনে আমি এই গোমরাহির মোকাবিলা করাকে আবশ্যক মনে করেছি—সত্য স্পষ্ট করার জন্য এবং দায়িত্ব পালনের জন্য। যাতে এই গবেষণা এবং অন্যান্য কাজগুলো সেই প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য হিদায়াতের আলোকবর্তিকা হয় যাকে শয়তান পদস্খলিত করেছে এবং সে তার মুসলিম ভাইদের ওপর কাফির ও ফাসিক আখ্যা দেওয়ার মতো কাজে লিপ্ত হয়েছে।

আর আমরা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন এই কাজটিকে একমাত্র তাঁর মহান সত্তার জন্য কবুল করেন। নিশ্চয়ই তিনি এর অভিভাবক এবং এর ওপর সক্ষম। আমাদের শেষ কথা হলো সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের রব আল্লাহর জন্য।

--------------------------------------------

(১) আল-মুওয়াফাকাত (৩/ ৫৬)।

(২) আর-রাদ্দু আলাল বকরি (২/ ৭২৯)।

(৩) মাজমুউল ফাতাওয়া (৫/ ১১৮ - ১১৯)।
(খণ্ড: ১) আত-তাকফীর ওয়া দাওয়াবিতুহু - আস-সাক্কার (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌تعريف الكفر والردة

يلج العبد إلى الإسلام بنطقه للشهادتين أعلى شعب الإيمان، ويطمئن قلبه بالإيمان، تشهد له جوارحه بذلك، وهو يركع لله ويسجد، فيُحكم له بالإسلام يقيناً، ويحظى - في الدنيا - بما تستتبعه هذه الكلمة العظيمة من حقوق الولاء وحرمة الدم والعرض والمال، وأما الآخرة فهي دار كرامة الله للمؤمن، فالمؤمن ينجو فيها بإيمانه ((فإن الله حرم على النار من قال: لا إله إلا الله، يبتغي وجه الله)) (1).

والعاصي - وكلنا عاص - يخلص بإسلامه ونطقه لتلك الكلمة الطيبة، فعن أنس أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: ((يخرج من النار من قال: لا إله إلا الله. وفي قلبه وزن شعيرة من خير، ويخرج من النار من قال: لا إله إلا الله. وفي قلبه وزن برة من خير، ويخرج من النار من قال: لا إله إلا الله. وفي قلبه وزن ذرة من خير)). (2)

ومثل هذه الشهادات الموثقة للمسلم لا تُنقض إلا بارتكابه جرماً عظيماً ينقض عروة الإيمان وأصله، فتطيش صحائفه ويبور عمله {إن الذين آمنوا ثم كفروا ثم آمنوا ثم كفروا ثم ازدادوا كفراً لم يكن الله ليغفر لهم ولا ليهديهم سبيلاً} (النساء: 137).

والذي يهدم أصل الإيمان هو الردة عن الدين والكفر بالله، سواء كان ذلك باللسان أم القلب أم العمل، أم بهن جميعاً.

والكفر في اللغة بمعنى الستر والتغطية ، يقال للمزارع: " كافراً " لأنه يغطي البذر بالتراب ، ومنه سمي الكفر الذي هو ضد الإيمان " كفراً "، لأن في كفره تغطية للحق بجحد أو غيره ، وقيل: سمي الكافر "كافراً " لأنه قد غطى قلبه بالكفر. (3)

وقد عرف أهل الاصطلاح الكفر والردة بمعان تدور حول جحود العبد،

--------------------------------------------

(1) رواه مسلم ح (33).

(2) رواه البخاري ح (44).

(3) انظر لسان العرب (5/ 146 - 147)، ومفردات القرآن (484).
কুফর ও ধর্মত্যাগের (রিদ্দাহ) সংজ্ঞা

একজন বান্দা ঈমানের সর্বোচ্চ শাখা শাহাদাতাইন (দুই সাক্ষ্যবাণী) পাঠের মাধ্যমে ইসলামে প্রবেশ করে এবং তার অন্তর ঈমানের মাধ্যমে প্রশান্তি লাভ করে, তার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ এর সাক্ষ্য দেয়, এবং সে আল্লাহর জন্য রুকু ও সেজদা করে। ফলে নিশ্চিতভাবে তার ওপর ইসলামের বিধান বা হুকুম কার্যকর হয় এবং দুনিয়াতে সে এই মহান বাণীর অনিবার্য ফলস্বরূপ আনুগত্যের অধিকার এবং জান-মাল ও ইজ্জতের নিরাপত্তা লাভ করে। আর পরকাল হলো মুমিনের জন্য আল্লাহর সম্মানের ঘর, সেখানে মুমিন তার ঈমানের উসিলায় মুক্তি পাবে। "নিশ্চয়ই আল্লাহ জাহান্নামের জন্য সেই ব্যক্তিকে হারাম করে দিয়েছেন, যে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলেছে।" (১)

আর পাপী—আমরা সবাই পাপী—তার ইসলাম এবং সেই পবিত্র বাণী বা কালিমা পাঠের কারণে মুক্তি পাবে। আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "জাহান্নাম থেকে সেই ব্যক্তি বের হবে যে বলেছে 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' এবং তার অন্তরে একটি যব পরিমাণ কল্যাণ রয়েছে। আর জাহান্নাম থেকে সেই ব্যক্তি বের হবে যে বলেছে 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' এবং তার অন্তরে একটি গমের দানা পরিমাণ কল্যাণ রয়েছে। আর জাহান্নাম থেকে সেই ব্যক্তি বের হবে যে বলেছে 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' এবং তার অন্তরে একটি অণু পরিমাণ কল্যাণ রয়েছে।" (২)

একজন মুসলমানের জন্য এ ধরণের প্রামাণিক সাক্ষ্যসমূহ ততক্ষণ পর্যন্ত বাতিল হয় না, যতক্ষণ না সে এমন কোনো গুরুতর অপরাধ করে যা ঈমানের হাতল ও এর মূল ভিত্তি ছিন্ন করে দেয়। ফলে তার আমলনামা লক্ষ্যচ্যুত হয়ে পড়ে এবং তার আমল ধ্বংস হয়ে যায়। {নিশ্চয়ই যারা ঈমান এনেছে, অতঃপর কুফরি করেছে, আবার ঈমান এনেছে, আবার কুফরি করেছে এবং কুফরিতে বৃদ্ধি পেয়েছে, আল্লাহ তাদেরকে ক্ষমা করবেন না এবং তাদেরকে পথপ্রদর্শনও করবেন না।} (আন-নিসা: ১৩৭)

আর যা ঈমানের মূল ভিত্তি ধ্বংস করে দেয় তা হলো দ্বীন থেকে বিচ্যুতি (রিদ্দাহ) এবং আল্লাহর সাথে কুফরি করা; চাই তা জিহ্বা, অন্তর বা কর্মের মাধ্যমে হোক, কিংবা সবগুলোর সমন্বয়ে হোক।

আভিধানিক অর্থে কুফর হলো কোনো কিছু গোপন করা বা ঢেকে রাখা। কৃষককে "কাফির" বলা হয় কারণ সে মাটির নিচে বীজ ঢেকে রাখে। এখান থেকেই ঈমানের বিপরীত বিষয়কে "কুফর" নামকরণ করা হয়েছে, কেননা কুফরির মাধ্যমে সত্যকে অস্বীকার বা অন্য কোনো উপায়ে ঢেকে দেওয়া হয়। আরও বলা হয়েছে: কাফিরকে "কাফির" বলা হয় কারণ সে তার অন্তরকে কুফর দ্বারা আবৃত করে ফেলেছে। (৩)

আর পারিভাষিক শাস্ত্রবিদগণ কুফর ও রিদ্দাহর এমন সব সংজ্ঞা দিয়েছেন যা বান্দার অস্বীকারের বিষয়টিকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়,

--------------------------------------------

(১) মুসলিম কর্তৃক বর্ণিত, হাদিস নং (৩৩)।

(২) বুখারি কর্তৃক বর্ণিত, হাদিস নং (৪৪)।

(৩) দেখুন: লিসানুল আরব (৫/ ১৪৬ - ১৪৭), এবং মুফরাদাতুল কুরআন (৪৮৪)।
(খণ্ড: ১) আত-তাকফীর ওয়া দাওয়াবিতুহু - আস-সাক্কার (পৃষ্ঠা: ১০)
أو تكذيبه لأصول الإسلام، أو ارتكابه لما هو ناقض من نواقض الإيمان والإسلام.

يقول ابن حزم معرِّفاً الكفر: " وهو في الدين: صفة من جحد شيئاً مما افترض الله تعالى الإيمان به، بعد قيام الحجة عليه ببلوغ الحق إليه بقلبه دون لسانه، أو بلسانه دون قلبه، أو بهما معاً، أو عمل عملاً جاء النص بأنه مخرج له بذلك عن اسم الإيمان". (1)

وأما الغزالي فيرى أن الكفر: " هو تكذيب الرسول عليه الصلاة والسلام، في شيء مما جاء به ". (2)

ويقول السبكي: " التكفير حكم شرعي، سببه جحد الربوبية والرسالة، أو قول أو فعل حكم الشارع بأنه كفر، وإن لم يكن جحداً". (3)

ويقول ابن تيمية: " الكفر يكون بتكذيب الرسول صلى الله عليه وسلم فيما أخبر به، أو الامتناع عن متابعته مع العلم بصدقه، مثل كفر فرعون واليهود ونحوهم". (4)

ويقول: "والكفر إنما يكون بإنكار ما علم من الدين ضرورة أو بإنكار الأحكام المتواترة والمجمع عليها". (5)

وأما الباقلاني فيضيف إلى خصال الكفر الجهل بالله تعالى "الكفر: هو ضد الإيمان، وهو الجهل بالله عز وجل، والتكذيب له الساتر لقلب الإنسان عن العلم به، فهو كالمغطي للقلب من معرفة الحق". (6)

وهو غير معارض في هذا لما ذكره العلماء من تعريف الجحود بأنه: الإنكار مع العلم، أو كما عرفه الراغب الأصفهاني: نفي ما في القلب إثباته، وإثبات ما في القلب نفيه، كما قال تعالى: {فإنهم لا يكذبونك ولكن الظالمين بآيات الله يجحدون} (الأنعام: 33). (7)

--------------------------------------------

(1) الإحكام في أصول الأحكام (1/ 49).

(2) فيصل التفرقة بين الإسلام والزندقة (128).

(3) فتاوى السبكي (2/ 586).

(4) درء تعارض العقل والنقل (1/ 242).

(5) مجموع الفتاوى (1/ 106).

(6) تمهيد الأوائل (394).

(7) انظر: مفردات الأصفهاني (100) ولسان العرب (3/ 106).
অথবা ইসলামের মূলনীতিগুলোকে অস্বীকার করা, অথবা ঈমান ও ইসলামের কোনো একটি রদকারী (নওয়াকিজ) বিষয় সম্পাদন করা।

ইবনে হাজম কুফরের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেন: "দ্বীনের পরিভাষায় এটি এমন এক ব্যক্তির বৈশিষ্ট্য যে আল্লাহ তাআলা যার প্রতি ঈমান আনা ফরজ করেছেন এমন কোনো বিষয়কে অস্বীকার করে, অথচ তার কাছে সত্য পৌঁছে যাওয়ার মাধ্যমে তার ওপর হুজ্জাত (প্রমাণ) প্রতিষ্ঠিত হয়েছে—হোক তা অন্তরের মাধ্যমে কিন্তু জিহ্বায় নয়, অথবা জিহ্বার মাধ্যমে কিন্তু অন্তরে নয়, অথবা উভয়টির মাধ্যমে; অথবা সে এমন কোনো কাজ করে যা ঈমানের গণ্ডি থেকে বের করে দেওয়ার ব্যাপারে অকাট্য দলীল (নাস) বিদ্যমান।" (১)

আর ইমাম গাজালি মনে করেন যে কুফর হলো: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যা নিয়ে এসেছেন তার কোনো একটি বিষয়কে মিথ্যা সাব্যস্ত করা।" (২)

আর সুবকি বলেন: "কাফির সাব্যস্ত করা (তাকফির) একটি শরয়ি বিধান, যার কারণ হলো রুবুবিয়্যাত (প্রভুত্ব) ও রিসালাতকে অস্বীকার করা, অথবা এমন কোনো কথা বা কাজ যা শরিয়ত প্রণেতা (শারে‘) কুফর হিসেবে নির্ধারণ করেছেন, যদিও তাতে সরাসরি অস্বীকারের ব্যাপারটি না থাকে।" (৩)

ইবনে তাইমিয়্যাহ বলেন: "রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যা সংবাদ দিয়েছেন তাতে তাঁকে মিথ্যা সাব্যস্ত করার মাধ্যমে কুফর হয়, অথবা তাঁর সত্যতা জানা সত্ত্বেও তাঁকে অনুসরণ করা থেকে বিরত থাকার মাধ্যমে; যেমন ফেরাউন, ইহুদি ও তাদের ন্যায় অন্যদের কুফর।" (৪)

তিনি আরও বলেন: "আর কুফর মূলত দ্বীনের অপরিহার্য বিষয়সমূহকে অস্বীকার করার মাধ্যমে হয়, অথবা মুতাওয়াতির ও ইজমা-সম্মত বিধানসমূহকে অস্বীকার করার মাধ্যমে ঘটে।" (৫)

আর বাকিল্লানি কুফরের বৈশিষ্ট্যগুলোর সাথে আল্লাহ তাআলা সম্পর্কে অজ্ঞতাকে যোগ করেন: "কুফর হলো ঈমানের বিপরীত, আর তা হলো আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা সম্পর্কে অজ্ঞতা এবং তাঁকে মিথ্যা সাব্যস্ত করা, যা মানুষের অন্তরকে তাঁর জ্ঞান থেকে আড়াল করে দেয়। সুতরাং এটি সত্যের পরিচয় থেকে অন্তরকে আচ্ছাদনকারীর মতো।" (৬)

এটি ‘জুহুদ’ (অস্বীকার)-এর সেই সংজ্ঞার বিরোধী নয় যা ওলামায়ে কেরাম উল্লেখ করেছেন যে: ‘জুহুদ’ হলো জেনে-বুঝে অস্বীকার করা। অথবা রাগেব আল-আসফাহানি যেভাবে এর সংজ্ঞা দিয়েছেন: অন্তরে যা প্রতিষ্ঠিত তা অস্বীকার করা এবং যা অন্তরে অস্বীকৃত তা প্রকাশ করা। যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {বস্তুত তারা তোমাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে না, বরং জালিমরা আল্লাহর আয়াতসমূহকেই অস্বীকার করে} (আল-আনআম: ৩৩)। (৭)

--------------------------------------------

(১) আল-ইহকাম ফি উসুলিল আহকাম (১/ ৪৯)।

(২) ফয়সালুত তাফরিকা বাইনাল ইসলাম ওয়াল জানদাকা (১২৮)।

(৩) ফাতাওয়া আস-সুবকি (২/ ৫৮৬)।

(৪) দারউ তাআরুদিল আকলি ওয়ান নাকলি (১/ ২৪২)।

(৫) মাজমুউল ফাতাওয়া (১/ ১০৬)।

(৬) তামহিদুল আওয়াইল (৩৯৪)।

(৭) দেখুন: মুফরাদাতুল আসফাহানি (১০০) এবং লিসানুল আরব (৩/ ১০৬)।
(খণ্ড: ১) আত-তাকফীর ওয়া দাওয়াবিতুহু - আস-সাক্কার (পৃষ্ঠা: ১১)
إذ الجحود عند بعض الفقهاء يطلق، ويراد به التكذيب بالإيجاب، المنافي للتصديق، كما يراد به أيضاً الامتناع عن الإقرار والامتناع عن الالتزام، وهو ما ينافي الانقياد. (1) وأي جهل بالله أعظم من أن ينكر العبد ربه وقد استيقنه بقلبه.

لكن الذي نتناوله في بحثنا هو حالة معينة من حالات الكفر، وهو الكفر بعد الإيمان والدخول في الإسلام، لا الكفر الأصلي، ولا النفاق الاعتقادي الذي يسره المنافق في قلبه، ويظهر لنا خلافه.

وهذا الذي يسميه العلماء بالردة، فالمرتد لغة: هو الراجع. ومنه قوله تعالى: {ولا ترتدّوا على أدباركم فتنقلبوا خاسرين} (المائدة: 21).

قال الأصفهاني: "الردة: الرجوع في الطريق الذي جاء منه". (2)

ويقول البهوتي معرفاً الردة عند أهل الاصطلاح: " الذي يكفر بعد إسلامه نطقاً، أو اعتقاداً، أو شكاً، أو فعلاً ". (3)

وأما الكاساني فيقول في بيان ركن الردة: "فهو إجراء كلمة الكفر على اللسان بعد وجود الإيمان، إذ الردة عبارة عن الرجوع عن الإيمان". (4)

ويقول خليل في مختصره: "الردة كفر المسلم بصريح لفظ يقتضيه أو فعل يتضمنه". (5)

ويقول النووي: " الردة هي قطع الإسلام بنيِّة، أو قول كفر، أو فعله، سواء قاله استهزاءً، أو عناداً، أو اعتقاداً". (6)

وهكذا فالردة هي الرجوع عن الإسلام بارتكاب ناقض من نواقضه القولية أو القلبية أو العملية، والردة صورة من صور الكفر التي تدور بمجموعها حول التكذيب والجحود.

--------------------------------------------

(1) انظر: مجموع الفتاوى (20/ 98).

(2) مفردات القرآن (217).

(3) كشاف القناع (6/ 167 - 177).

(4) بدائع الصنائع (7/ 134). وانظر البحر الرائق (5/ 129).

(5) مختصر خليل (1/ 281).

(6) منهاج الطالبين (1/ 131).
যেহেতু কোনো কোনো ফকীহদের নিকট 'জুহুদ' (অস্বীকার) শব্দটি ব্যবহৃত হয় এবং এর দ্বারা উদ্দেশ্য থাকে ওয়াজিব বা আবশ্যক বিষয়কে অস্বীকার করা, যা বিশ্বাসের পরিপন্থী; ঠিক তেমনি এর দ্বারা স্বীকৃতিদানে বিরত থাকা এবং আনুগত্যে বিরত থাকাকেও বোঝানো হয়, যা আনুগত্যের পরিপন্থী। (১) আর আল্লাহর ব্যাপারে এর চেয়ে বড় মূর্খতা আর কী হতে পারে যে, বান্দা তার রবকে অস্বীকার করে অথচ তার অন্তর সে বিষয়ে নিশ্চিত বিশ্বাস রাখে?

তবে আমাদের এই আলোচনায় আমরা কুফরের একটি বিশেষ অবস্থা নিয়ে আলোচনা করছি, আর তা হলো ঈমান আনার এবং ইসলামে প্রবেশের পর কুফরি করা; এটি মূল কুফর (আসলি কুফর) নয়, আবার সেই বিশ্বাসগত মুনাফিকিও (নিফাকে ইতিকাদি) নয় যা মুনাফিক তার অন্তরে গোপন রাখে এবং আমাদের সামনে তার বিপরীতটা প্রকাশ করে।

আর একেই আলেমগণ 'রিদ্দাহ' (মুরতাদ হওয়া) বলে অভিহিত করেন। শাব্দিক অর্থে 'মুরতাদ' অর্থ হলো ফিরে আসা ব্যক্তি। মহান আল্লাহর বাণী এ থেকে গৃহীত: "তোমরা তোমাদের পেছনের দিকে ফিরে যেও না, তাহলে তোমরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়বে" (আল-মায়িদাহ: ২১)।

আসফাহানি বলেন: "রিদ্দাহ হলো: যে পথে এসেছিল সেই পথেই ফিরে যাওয়া।" (২)

আল-বুহুতি পারিভাষিক অর্থে রিদ্দাহর সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেন: "যে ব্যক্তি ইসলাম গ্রহণের পর মৌখিক উচ্চারণ, বিশ্বাস, সন্দেহ অথবা কর্মের মাধ্যমে কুফরি করে।" (৩)

আর আল-কাসানি রিদ্দাহর রুকন বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন: "তা হলো ঈমান থাকার পর মুখে কুফরি বাক্য উচ্চারণ করা, কারণ রিদ্দাহর অর্থই হলো ঈমান থেকে ফিরে আসা।" (৪)

খলিল তার 'মুখতাসার'-এ বলেন: "রিদ্দাহ হলো কোনো মুসলমানের এমন স্পষ্ট শব্দের মাধ্যমে কুফরি করা যা এটি দাবি করে অথবা এমন কাজের মাধ্যমে যা কুফরি অন্তর্ভুক্ত করে।" (৫)

আন-নববী বলেন: "রিদ্দাহ হলো নিয়ত, কুফরি কথা বা কাজের মাধ্যমে ইসলামকে ছিন্ন করা, চাই সে তা বিদ্রূপ করে বলুক, জেদবশত বলুক কিংবা বিশ্বাসের সাথেই বলুক।" (৬)

সুতরাং রিদ্দাহ হলো ইসলাম ভঙ্গকারী কোনো বক্তব্য, বিশ্বাস বা কর্ম সম্পাদন করার মাধ্যমে ইসলাম থেকে ফিরে আসা। রিদ্দাহ কুফরের অন্যতম একটি রূপ যার সবকিছুই মূলত অস্বীকার ও প্রত্যাখ্যানের ওপর আবর্তিত হয়।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: মাজমুউল ফাতাওয়া (২০/ ৯৮)।

(২) মুফরাদাতুল কুরআন (২১৭)।

(৩) কাশশাফুল কিনা (৬/ ১৬৭ - ১৭৭)।

(৪) বাদায়িউস সানায়ি (৭/ ১৩৪)। আরও দেখুন: আল-বাহরুর রায়িক (৫/ ১২৯)।

(৫) মুখতাসার খলিল (১/ ২৮১)।

(৬) মিনহাজুত তালিবিন (১/ ১৩১)।
(খণ্ড: ১) আত-তাকফীর ওয়া দাওয়াবিতুহু - আস-সাক্কার (পৃষ্ঠা: ১৩)
‌‌التحذير من التكفير

ولخطورة القول بكفر المسلم وما يتبعه من أحكام في الحال والمآل، فإن القرآن والسنة يحذران من إطلاق هذا الحكم من غير تبينٍ ولا تثبت.

قال تعالى: {يا أيّها الّذين آمنوا إذا ضربتم في سبيل الله فتبيّنوا ولا تقولوا لمن ألقى إليكم السّلام لست مؤمناً تبتغون عرض الحياة الدّنيا فعند الله مغانم كثيرة كذلك كنتم مّن قبل فمنّ الله عليكم فتبيّنوا إنّ الله كان بما تعملون خبيراً} (النساء: 94).

قال القرطبي: " معنى قوله: {فتبينوا} أي الأمر المشكل، أو تثبتوا ولا تعجلوا، المعنيان سواء، فإن قتله أحد فقد أتى منهياً عنه ". (1)

والنبي صلى الله عليه وسلم حذر من التكفير أشد التحذير فقال: ((إذا قال الرجل لأخيه: يا كافر، فقد باء بها أحدهما)). (2)

ويروي أبو ذر رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: ((لا يرمي رجل رجلاً بالفسوق، ولا يرميه بالكفر، إلا ارتدت عليه، إن لم يكن صاحبه كذلك)). (3)

قال ابن عبد البر: " فقد باء القائل بذنب كبير وإثم عظيم، واحتمله بقوله ذلك، وهذا غاية في التحذير من هذا القول والنهي عن أن يقال لأحد من أهل القبلة: يا كافر". (4)

ويقول ابن دقيق العيد: "وهذا وعيد عظيم لمن أكفر أحداً من المسلمين وليس كذلك، وهي ورطة عظيمة وقع فيها خلق كثير من المتكلمين، ومن المنسوبين إلى السنة وأهل الحديث لما اختلفوا في العقائد، فغلظوا على مخالفيهم، وحكموا بكفرهم ". (5)

وفي بيان معنى الحديث قال الحافظ ابن حجر: " والتحقيق أن الحديث

--------------------------------------------

(1) الجامع لأحكام القرآن (5/ 339).

(2) رواه البخاري ح (6103)، ومسلم ح (60).

(3) رواه البخاري ح (6045)، ومسلم ح (61).

(4) التمهيد (17/ 22).

(5) إحكام الأحكام شرح عمدة الأحكام (4/ 76).
তাকফির (কাফির সাব্যস্ত করা) থেকে সতর্কীকরণ

একজন মুসলিমকে কাফির বলার ভয়াবহতা এবং ইহকাল ও পরকালে এর পরিণাম হিসেবে যেসব বিধান কার্যকর হয় তার গুরুত্বের কারণে কুরআন ও সুন্নাহ কোনো প্রকার স্পষ্ট প্রমাণ ও নিশ্চয়তা ছাড়া এই হুকুম প্রদান করা থেকে সতর্ক করেছে।

আল্লাহ তাআলা বলেন: {হে মুমিনগণ! তোমরা যখন আল্লাহর পথে যাত্রা করবে, তখন যাচাই করে নেবে এবং যে তোমাদেরকে সালাম দেয়, তাকে বলো না যে—‘তুমি মুমিন নও’; তোমরা পার্থিব জীবনের সম্পদ অন্বেষণ করো, অথচ আল্লাহর কাছে প্রচুর সম্পদ রয়েছে। তোমরাও তো আগে এমন ছিলে, অতঃপর আল্লাহ তোমাদের ওপর অনুগ্রহ করেছেন; অতএব তোমরা যাচাই করে নাও। নিশ্চয় তোমরা যা করো, আল্লাহ সে বিষয়ে সম্যক অবহিত।} (আন-নিসা: ৯৪)।

ইমাম কুরতুবী বলেন: "তাঁর বাণী: {তোমরা যাচাই করে নাও}-এর অর্থ হলো অস্পষ্ট বিষয়টি স্পষ্ট করে নেওয়া, অথবা নিশ্চিত হওয়া এবং তাড়াহুড়া না করা; উভয় অর্থের উদ্দেশ্য একই। সুতরাং কেউ যদি তাকে (যাচাই ছাড়া) হত্যা করে, তবে সে একটি নিষিদ্ধ কাজ করল।" (১)

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকফির থেকে অত্যন্ত কঠোরভাবে সতর্ক করে বলেছেন: ((যখন কোনো ব্যক্তি তার ভাইকে বলে: ‘হে কাফির’, তখন তাদের দুইজনের যেকোনো একজনের ওপর তা আপতিত হয়।)) (২)

আবু যার রাদিয়াল্লাহু আনহু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: ((কোনো ব্যক্তি যেন অন্য ব্যক্তিকে ফাসেক হওয়ার অপবাদ না দেয় এবং তাকে কুফরির অপবাদ না দেয়; অন্যথায় তা তার নিজের ওপরই ফিরে আসবে, যদি সেই ব্যক্তি তেমন (কাফির বা ফাসেক) না হয়।)) (৩)

ইবনে আব্দুল বার বলেন: "এর ফলে বক্তা একটি কবিরা গুনাহ ও মহাপাপে লিপ্ত হলো এবং তার এই উক্তির কারণে সে এর বোঝা বহন করল। এটি এ জাতীয় কথা বলা থেকে একটি চূড়ান্ত সতর্কবাণী এবং আহলে কিবলার (মুসলিমদের) কাউকে ‘হে কাফির’ বলতে নিষেধ করার ক্ষেত্রে এক চরম পর্যায়।" (৪)

ইবনে দাকীকুল ঈদ বলেন: "এটি সেই ব্যক্তির জন্য এক কঠোর ধমকি, যে কোনো মুসলিমকে কাফির বলে অথচ সে তেমন নয়। এটি এক বিশাল বিপদ যাতে ইলমুল কালামের অনেক পণ্ডিত এবং সুন্নাহ ও আহলে হাদিসের অনুসারী হিসেবে পরিচিত বহু লোক পতিত হয়েছেন—যখন তারা আকিদাগত বিষয়ে মতভেদ করেছেন, তখন তারা তাদের বিরোধীদের প্রতি কঠোরতা প্রদর্শন করেছেন এবং তাদের কাফির হওয়ার ফয়সালা দিয়েছেন।" (৫)

হাদিসের অর্থ বর্ণনায় হাফেজ ইবনে হাজার বলেন: "বিশ্লেষণ হলো এই যে, হাদিসটি

--------------------------------------------

(১) আল-জামি লি-আহকামিল কুরআন (৫/ ৩৩৯)।

(২) বুখারি বর্ণনা করেছেন, হাদিস নং (৬১০৩); মুসলিম বর্ণনা করেছেন, হাদিস নং (৬০)।

(৩) বুখারি বর্ণনা করেছেন, হাদিস নং (৬০৪৫); মুসলিম বর্ণনা করেছেন, হাদিস নং (৬১)।

(৪) আত-তামহিদ (১৭/ ২২)।

(৫) ইহকামুল আহকাম শরহ উমদাতুল আহকাম (৪/ ৭৬)।
(খণ্ড: ১) আত-তাকফীর ওয়া দাওয়াবিতুহু - আস-সাক্কার (পৃষ্ঠা: ১৪)
سيق لزجر المسلم من أن يقول ذلك لأخيه المسلم … وقيل: معناه رجعت عليه نقيصته لأخيه ومعصية تكفيره … فمعنى الحديث: فقد رجع عليه تكفيره، فالراجع التكفير لا الكفر، فكأنه كفَّر نفسه لكونه كفَّر من هو مثله …

وقال القرطبي: .. والحاصل أن المقول له إن كان كافراً كفراً شرعياً، فقد صدق القائل، وذهب بها المقول له، وإن لم يكن رجعت للقائل معرَّة ذلك القول وإثمه". (1)

وفي حديث آخر يشبه النبي صلى الله عليه وسلم تكفير المسلم بأعظم ذنب بعد الشرك بالله، وهو تعمد قتل المؤمن، فيقول: ((ومن قذف مؤمناً بكفر فهو كقتله)). (2)

ورمي المسلمين بالكفر باب لشرور عظيمة، لعل أهونها أنه من التنابز بالألقاب الذي نهى الله عنه، قال تعالى: {ولا تنابزوا بالألقاب بئس الاسم الفسوق بعد الإيمان} (الحجرات: 11).

قال ابن عبد البر: "هو قول الرجل لأخيه: يا كافر يا فاسق، وهذا موافق لهذا الحديث [الحديث السابق]، فالقرآن والسنة ينهيان عن تفسيق المسلم وتكفيره [إلا] ببيان لا إشكال فيه". (3)

والتكفير استباحة لما حرمه الله من عرض المسلم، الذي أكد النبي صلى الله عليه وسلم على حرمته في خطبته العظيمة في حِجة الوداع، فقال: ((فإن دماءكم وأموالكم وأعراضكم عليكم حرام، كحرمة يومكم هذا، في شهركم هذا، في بلدكم هذا، فليبلغ الشاهد الغائب)). (4) والقول بكفر المسلم من أعظم ما يقدح في عرضه، وهو مستتبع لهتك ماله ودمه.

قال العز بن عبد السلام: " الأصل [في المسلم] براءة ذمته من الحقوق، وبراءة جسده من القصاص والحدود والتعزيرات، وبراءته من الانتساب إلى

--------------------------------------------

(1) فتح الباري (10/ 466 - 467).

(2) رواه البخاري ح (6047).

(3) التمهيد (17/ 21).

(4) رواه البخاري ح (67)، مسلم ح (1679).
এটি একজন মুসলিমকে তার অন্য মুসলিম ভাইকে এ কথা বলা থেকে বিরত রাখার জন্য বলা হয়েছে … আর বলা হয়েছে: এর অর্থ হলো তার ভাইয়ের প্রতি করা তার অবমাননা এবং তাকে কাফির বলার পাপ তার নিজের ওপরই ফিরে এসেছে … সুতরাং হাদিসের অর্থ হলো: তার কুফরির ফতোয়াটি তার ওপরই ফিরে এসেছে; যা ফিরে এসেছে তা হলো কুফরি সাব্যস্ত করা, কুফর (স্বয়ং) নয়। যেন সে নিজেই নিজেকে কাফির সাব্যস্ত করল, যেহেতু সে তার মতো একজনকেই কাফির বলেছে …

আল-কুরতুবী বলেছেন: "সারকথা হলো, যাকে বলা হয়েছে সে যদি শরয়ি দৃষ্টিতে কাফির হয়ে থাকে, তবে বক্তা সত্যই বলেছে এবং যাকে বলা হয়েছে সে-ই তা গ্রহণ করেছে। আর যদি সে তা না হয়, তবে সেই কথার গ্লানি ও পাপ বক্তার দিকেই ফিরে আসবে।" (১)

অন্য এক হাদিসে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) একজন মুসলিমকে কাফির বলাকে আল্লাহর সাথে শিরক করার পর সবচেয়ে বড় গুনাহ অর্থাৎ ইচ্ছাকৃতভাবে মুমিনকে হত্যার সাথে তুলনা করেছেন। তিনি বলেন: "যে ব্যক্তি কোনো মুমিনকে কুফরির অপবাদ দিল, সে যেন তাকে হত্যা করল।" (২)

আর মুসলিমদের কুফরির অপবাদ দেওয়া এক মহা অনিষ্টের দ্বার; এর মধ্যে সম্ভবত সবচেয়ে নগণ্য বিষয়টি হলো এটি একে অপরকে মন্দ উপাধিতে ডাকার অন্তর্ভুক্ত, যা থেকে আল্লাহ নিষেধ করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন: {তোমরা একে অপরকে মন্দ উপাধিতে ডেকো না; ঈমান আনার পর ফাসেকী নাম কতই না মন্দ} (আল-হুজুরাত: ১১)।

ইবনে আবদিল বার বলেন: "এটি হলো কোনো ব্যক্তির তার ভাইকে বলা: হে কাফির, হে ফাসেক। এটি এই হাদিসের [পূর্ববর্তী হাদিস] সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। অতএব, কুরআন ও সুন্নাহ কোনো মুসলিমকে ফাসেক বা কাফির সাব্যস্ত করতে নিষেধ করে, যদি না কোনো দ্ব্যর্থহীন ও সুস্পষ্ট প্রমাণ থাকে।" (৩)

আর কাফির সাব্যস্ত করা হলো মুসলিমের সেই সম্মানের ওপর হস্তক্ষেপ করা যা আল্লাহ হারাম করেছেন। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বিদায় হজের মহান ভাষণে যার পবিত্রতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেছেন: "নিশ্চয়ই তোমাদের রক্ত, তোমাদের সম্পদ এবং তোমাদের সম্মান তোমাদের পরস্পরের জন্য হারাম; যেমন হারাম তোমাদের আজকের এই দিন, তোমাদের এই মাস এবং তোমাদের এই শহর। উপস্থিত ব্যক্তি যেন অনুপস্থিত ব্যক্তির কাছে এটি পৌঁছে দেয়।" (৪) কোনো মুসলিমকে কাফির বলা তার সম্মানের ওপর সবচেয়ে বড় আঘাত এবং এটি তার সম্পদ ও রক্ত হরণকেও বৈধ করে তোলে।

ইজ্জ ইবনে আবদিস সালাম বলেছেন: "মুসলিমের ক্ষেত্রে মূল নীতি হলো তার দায়মুক্তি, তার শরীর কিসাস (প্রতিশোধ), হদ (শাস্তি) ও তা'যীর (দণ্ড) থেকে মুক্ত থাকা এবং তার সম্পৃক্ততা থেকে মুক্ত থাকা..."

--------------------------------------------

(১) ফাতহুল বারী (১০/ ৪৬৬ - ৪৬৭)।

(২) বুখারি বর্ণনা করেছেন, হাদিস নং (৬০৪৭)।

(৩) আত-তামহীদ (১৭/ ২১)।

(৪) বুখারি বর্ণনা করেছেন, হাদিস নং (৬৭), মুসলিম বর্ণনা করেছেন, হাদিস নং (১৬৭৯)।
(খণ্ড: ১) আত-তাকফীর ওয়া দাওয়াবিতুহু - আস-সাক্কার (পৃষ্ঠা: ১৫)
شخصٍ معين، ومن الأقوال كلها، والأفعال بأسرها". (1)

ولما رأى ابن الوزير تتابع النصوص في النهي عن تكفير المسلم قال: " وفي مجموع ذلك ما يشهد لصحة التغليظ في تكفير المؤمن، وإخراجه من الإسلام مع شهادته بالتوحيد والنبوات، وخاصة مع قيامه بأركان الإسلام، وتجنبه للكبائر، وظهور أمارات صدقه في تصديقه لأجل غلط في بدعة، لعل المكفر له لا يسلم من مثلها أو قريب منها، فإن العصمة مرتفعة، وحسن ظن الإنسان بنفسه لا يستلزم السلامة من ذلك عقلاً ولا شرعاً، بل الغالب على أهل البدع شدة العجب بنفوسهم والاستحسان لبدعتهم ". (2)

ولغلظ أمر التكفير وشدة خطورته كان أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم يمتنعون عن إطلاق التكفير والتفسيق على أهل القبلة، روى ابن عبد البر عن أبي سفيان قال: "قلت لجابر: أكنتم تقولون لأحد من أهل القبلة: كافر؟ قال: لا. قلت: فمشرك؟ قال: معاذ الله. وفزع". (3)

ولما سئل علي بن أبي طالب رضي الله عنه عن أهل الجمل وصفين: أمشركون هم؟ قال: لا، من الشرك فروا. فقيل: أمنافقون؟ قال: لا، لأن المنافقين لا يذكرون الله إلا قليلاً. قيل: له فما حالهم؟ قال: إخواننا بغوا علينا". (4)

ومما سبق ثبت يتضح أن الأصل في المسلم براءة الذمة، وأن الاعتداء عليه بتكفيره من أعظم ما توعد الله فاعله بوعيده، فقد توعده بالإثم العظيم أو الكفر، جزاء إقدامه على الولوغ في عرض أخيه المسلم.

--------------------------------------------

(1) قواعد الأحكام في مصالح الأنام (2/ 26).

(2) إيثار الحق على الخلق (385).

(3) رواه ابن عبد البر في التمهيد (17/ 21)، وروى نحوه القاسم أبو عبيد في الإيمان (47).

(4) الجامع لأحكام القرآن (16/ 324).
নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তি, এবং সকল বক্তব্য ও যাবতীয় কর্মকাণ্ড থেকে।" (১)

যখন ইবনুল ওয়াযীর মুসলিমকে কাফির সাব্যস্ত করার নিষেধের ব্যাপারে একের পর এক দলীল দেখতে পেলেন, তখন তিনি বললেন: "এই সবকিছুর সমষ্টি সাক্ষ্য দেয় যে, একজন মুমিনকে কাফির বলা এবং তাকে ইসলাম থেকে বের করে দেওয়ার ক্ষেত্রে কঠোরতা অবলম্বন করা সঠিক, যেখানে সে তাওহীদ ও নবুওয়াতের সাক্ষ্য দিচ্ছে, বিশেষ করে যখন সে ইসলামের রুকনসমূহ পালন করছে, কবিরা গুনাহ থেকে বেঁচে থাকছে এবং তার সত্যায়নের ক্ষেত্রে সত্যবাদিতার লক্ষণ স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে; কেবল একটি বিদআতী ভুলের কারণে [তাকে কাফির বলা ঠিক নয়], যার অনুরূপ বা কাছাকাছি ভুল থেকে সম্ভবত তাকে কাফির ঘোষণাকারী নিজেও মুক্ত নয়। কেননা নিষ্পাপতা (ইসমাতে)র সুযোগ নেই, আর নিজের সম্পর্কে মানুষের সুধারণা থাকা যুক্তি বা শরীয়ত কোনোভাবেই এর থেকে নিরাপদ থাকা নিশ্চিত করে না। বরং বিদআতিদের মধ্যে প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো নিজের ব্যাপারে চরম অহংকার এবং নিজ বিদআতকে উত্তম মনে করা।" (২)

কাফির সাব্যস্ত করার বিষয়টি কঠোর ও অত্যন্ত বিপজ্জনক হওয়ার কারণে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীগণ আহলে কিবলার ওপর কুফর ও ফাসেকির অপবাদ দেওয়া থেকে বিরত থাকতেন। ইবনে আবদিল বার আবু সুফিয়ান থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "আমি জাবেরকে জিজ্ঞেস করলাম: আপনারা কি আহলে কিবলার কাউকে 'কাফির' বলতেন? তিনি বললেন: না। আমি বললাম: তাহলে কি 'মুশরিক' বলতেন? তিনি বললেন: আল্লাহর পানাহ! এবং তিনি আতঙ্কিত হয়ে উঠলেন।" (৩)

আলী ইবনে আবু তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহুকে যখন উষ্ট্রের যুদ্ধ ও সিফফীনের যুদ্ধ অংশগ্রহণকারীদের সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল: তারা কি মুশরিক? তিনি বললেন: না, তারা তো শিরক থেকেই পলায়ন করেছে। বলা হলো: তাহলে কি তারা মুনাফিক? তিনি বললেন: না, কারণ মুনাফিকরা আল্লাহকে খুব অল্পই স্মরণ করে। তাকে জিজ্ঞেস করা হলো: তাহলে তাদের অবস্থা কী? তিনি বললেন: তারা আমাদের ভাই, যারা আমাদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছে।" (৪)

উপরোক্ত আলোচনা থেকে এটি স্পষ্ট হয় যে, একজন মুসলিমের ক্ষেত্রে মূল হলো তার দায়মুক্তি বা নির্দোষ থাকা। তার ওপর কুফরের অপবাদ দিয়ে আক্রমণ করা এমন এক অপরাধ যার কর্তাকে আল্লাহ চরম হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তার মুসলিম ভাইয়ের সম্মানে আঘাত করার দুঃসাহস দেখানোর প্রতিদান স্বরূপ তাকে মহাপাপ বা কুফরের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

--------------------------------------------

(১) কাওয়ায়েদুল আহকাম ফি মাসালিহিল আনাম (২/ ২৬)।

(২) ইছারুল হাক্কি আলাল খালক (৩৮৫)।

(৩) ইবনে আবদিল বার আত-তামহীদে (১৭/ ২১) এটি বর্ণনা করেছেন, আর কাসেম আবু উবায়েদ আল-ঈমান (৪৭) গ্রন্থে এর অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

(৪) আল-জামি লি-আহকামিল কুরআন (১৬/ ৩২৪)।
(খণ্ড: ১) আত-তাকফীর ওয়া দাওয়াবিতুহু - আস-সাক্কার (পৃষ্ঠা: ১৭)
‌‌التكفير حكم شرعي

وهذا الورع الذي رأيناه من أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم مرده أنهم فقهوا خطورة هذا الباب، كما أدركوا - بما آتاهم الله من فقه وبصيرة - أن التكفير حكم شرعي، كسائر الأحكام الشرعية، لا يصدر فيه إلا عن الأدلة الشرعية المعتبرة.

وقد فقه سلف الأمة وعلماؤها من بعدهم خطورة هذا الحكم من أحكام الشريعة، وحذروا من الخروج فيه عن أدلة الشرع المعتبرة إلى الهوى والرأي والتشفي.

يقول أبو حامد الغزالي: " الكفر حكم شرعي كالرق والحرية مثلاً، إذ معناه إباحة الدم والحكم بالخلود في النار، ومدركه شرعي، فيدرك إما بنص، وإما بقياس على منصوص". (1)

ويؤكد القاضي عياض أن: " كشف اللبس فيه، مورده الشرع، ولا مجال للعقل فيه". (2)

ويقول ابن تيمية: " الكفر حكم شرعي متلقى عن صاحب الشريعة، والعقل قد يُعلم به صواب القول وخطؤه، وليس كل ما كان خطأً في العقل، يكون كفراً في الشرع، كما أنه ليس كل ما كان صواباً في العقل، تجب في الشرع معرفته". (3)

ويقول ابن الوزير: " إن التكفير سمعي محض لا مدخل للعقل فيه"، ويقول: "إن الدليل على الكفر والفسق لا يكون إلا سمعياً قطعياً". (4)

وهكذا فالقول في هذه المسألة وغيرها من مسائل الدين والحياة مرده إلى علم الشريعة وفقه نصوصها، ولا يجوز في ذلك كله الخوض بلا علم ولا برهان من دين الله.

--------------------------------------------

(1) فيصل التفرقة بين الإسلام والزندقة (128).

(2) الشفا بتعريف حقوق المصطفى (2/ 282).

(3) درء تعارض العقل والنقل (1/ 242).

(4) العواصم والقواصم (4/ 178، 179).
তাকফির একটি শরয়ী বিধান

নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীদের মধ্যে আমরা যে সতর্কতা লক্ষ্য করেছি, তার মূলে রয়েছে এই যে, তাঁরা এই বিষয়ের ভয়াবহতা উপলব্ধি করেছিলেন। আল্লাহ তাঁদের যে ফিকহ ও অন্তর্দৃষ্টি দান করেছিলেন, তার মাধ্যমে তাঁরা বুঝতে পেরেছিলেন যে, তাকফির হলো অন্যান্য শরয়ী বিধানের মতোই একটি শরয়ী বিধান, যা কেবল গ্রহণযোগ্য শরয়ী দলিলের মাধ্যমেই সাব্যস্ত হয়।

এই উম্মতের সালাফ এবং তাঁদের পরবর্তী আলেমগণ শরীয়তের এই বিধানটির গুরুত্ব ও ভয়াবহতা বুঝতে পেরেছিলেন। তাই তাঁরা এই ক্ষেত্রে শরীয়তের গ্রহণযোগ্য দলিলসমূহ বর্জন করে প্রবৃত্তি, ব্যক্তিগত রায় এবং প্রতিহিংসার বশবর্তী হওয়ার ব্যাপারে সতর্ক করেছেন।

আবু হামিদ আল-গাজালী বলেন: "কুফর হলো একটি শরয়ী বিধান, যেমন দাসত্ব ও মুক্তি। কেননা এর অর্থ হলো রক্ত বৈধ হওয়া এবং চিরকাল জাহান্নামে থাকার ফয়সালা হওয়া। আর এর উৎস হলো শরয়ী; সুতরাং এটি হয় সরাসরি ভাষ্য (নস) দ্বারা, অথবা ভাষ্যভুক্ত বিষয়ের ওপর কিয়াস (অনুমান) করার মাধ্যমে উপলব্ধি করা যায়।" (১)

কাজী আয়াজ গুরুত্বারোপ করে বলেন: "এই বিষয়ে অস্পষ্টতা দূর করার উৎস হলো শরীয়ত, এতে বুদ্ধির (আকল) কোনো অবকাশ নেই।" (২)

ইবনে তাইমিয়্যাহ বলেন: "কুফর হলো শরীয়তদাতার পক্ষ থেকে প্রাপ্ত একটি শরয়ী বিধান। বুদ্ধির দ্বারা কোনো কথার সঠিক বা ভুল হওয়া জানা যেতে পারে, তবে বুদ্ধির বিচারে যা কিছু ভুল, শরীয়তের পরিভাষায় তা কুফর হওয়া আবশ্যক নয়। যেমন বুদ্ধির বিচারে যা কিছু সঠিক, শরীয়তের দৃষ্টিতে তা জানা ওয়াজিব হওয়াও জরুরি নয়।" (৩)

ইবনে আল-ওয়াজির বলেন: "তাকফির বিষয়টি সম্পূর্ণরূপে শ্রুতিনির্ভর (সাময়ী), এতে বুদ্ধির কোনো প্রবেশাধিকার নেই।" তিনি আরও বলেন: "কুফর ও ফিসকের দলিল কেবল অকাট্য শ্রুতি বা বর্ণনা (সাময়ী) মাধ্যমেই হতে পারে।" (৪)

এভাবেই দ্বীন ও জীবনের এই মাসআলা এবং অন্যান্য মাসআলার ক্ষেত্রে বক্তব্য প্রদানের ভিত্তি হলো শরীয়তের জ্ঞান এবং এর নসসমূহের গভীর বুঝ। আল্লাহর দ্বীন সম্পর্কে জ্ঞান ও প্রমাণ ছাড়া এসব বিষয়ে লিপ্ত হওয়া কোনোভাবেই বৈধ নয়।

--------------------------------------------

(১) ফয়সালুত তাফরিকা বাইনাল ইসলামি ওয়াজ জান্দাকা (১২৮)।

(২) আশ-শিফা বিতারিফি হুকুকিল মুস্তফা (২/ ২৮২)।

(৩) দারউ তাআরুদিল আকলি ওয়ান নাকলি (১/ ২৪২)।

(৪) আল-আওয়াসিম ওয়াল কাওয়াসিম (৪/ ১৭৮, ১৭৯)।
(খণ্ড: ১) আত-তাকফীর ওয়া দাওয়াবিতুহু - আস-সাক্কার (পৃষ্ঠা: ১৮)
لكن تزداد خطورة القول بلا علم في مسألة التكفير لما فيها من إباحة الدماء وقطع الموالاة فالتكفير " حكم شرعي يرجع إلى إباحة المال وسفك الدماء والحكم بالخلود في النار". (1)

والحكم بالكفر تقرير لأمور خطيرة، منها " إسقاط العبادات عنهم إذا تابوا، وإسقاط جميع حقوق المخلوقين من الأموال والدماء وغيرهما، وإباحة فروج نسائهم إذا لم يتوبوا، وسفك دمائهم .... ". (2)

ويقول شيخ الإسلام ابن تيمية: "إذا تبين ذلك، فاعلم أن مسائل التكفير والتفسيق هي من مسائل الأسماء والأحكام التي يتعلق بها الوعد والوعيد في الدار الآخرة، وتتعلق بها الموالاة والمعاداة والقتل والعصمة وغير ذلك في الدار الدنيا، فإن الله سبحانه أوجب الجنة للمؤمنين، وحرم الجنة على الكافرين، وهذا من الأحكام الكلية في كل وقت ومكان". (3)

وكما سبق فإنه لا مدخل للعقل في هذه المسألة الشرعية، وكذلك فإن الهوى والتشفي والانتقام بالتكفير مذموم - من باب أولى - لما فيه من اعتداء على حكم الله وحقه وافتئات على عباده، لذا فإن "أهل العلم والسنة لا يكفرون من خالفهم، وإن كان ذلك المخالف يكفرهم، لأن الكفر حكم شرعي، فليس للإنسان أن يعاقب بمثله كمن كذب عليك وزنى بأهلك، ليس لك أن تكذب عليه وتزني بأهله، لأن الكذب والزنا حرام لحق الله تعالى، وكذلك التكفير حق لله، فلا يُكفر إلا من كفّره الله ورسوله". (4)

ويقول: "وأصل ذلك أن المقالة التي هي كفر بالكتاب والسنة والإجماع يقال: هي كفر، قولاً يطلق، كما دل على ذلك الدلائل الشرعية، فإن الإيمان من الأحكام المتلقاة عن الله ورسوله، ليس ذلك مما يحكم فيه الناس بظنونهم وأهوائهم، ولا يجب أن يحكم في كل شخص قال ذلك، بأنه كافر

--------------------------------------------

(1) بغية المرتاد (1/ 345).

(2) إيثار الحق على الخلق (405).

(3) مجموع الفتاوى (12/ 468).

(4) الرد على البكري (2/ 492 - 493).
কিন্তু তাকফিরের মাসআলায় ইলমহীন কথা বলার ঝুঁকি আরও বৃদ্ধি পায়, কারণ এতে রক্ত হালাল করা এবং বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ছিন্ন করার বিষয় জড়িয়ে থাকে। সুতরাং তাকফির হলো "একটি শরঈ বিধান যা সম্পদ হালাল করা, রক্তপাত ঘটানো এবং জাহান্নামে চিরস্থায়ী হওয়ার নির্দেশের সাথে সংশ্লিষ্ট।" (১)

আর কুফরি সাব্যস্ত করা অত্যন্ত গুরুতর কিছু বিষয় নির্ধারণ করার নামান্তর, যার মধ্যে রয়েছে "তারা তওবা করলে তাদের ইবাদতসমূহ রহিত হওয়া, সম্পদ ও রক্তসহ মাখলুকের যাবতীয় অধিকার থেকে তাদের বঞ্চিত করা, তওবা না করলে তাদের স্ত্রীদের সাথে বৈবাহিক সম্পর্ক ছিন্ন হওয়া (যৌন সম্পর্ক অবৈধ হওয়া) এবং তাদের রক্তপাত ঘটানো...।" (২)

শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ বলেন: "যখন এটি স্পষ্ট হলো, তখন জেনে রাখুন যে, তাকফির (কাফির সাব্যস্ত করা) ও তাফসিকের (ফাসিক সাব্যস্ত করা) মাসআলাগুলো হলো আসমা ও আহকাম (নাম ও বিধান) সংক্রান্ত মাসআলার অন্তর্ভুক্ত, যার সাথে পরকালে পুরস্কার ও শাস্তির প্রতিশ্রুতি এবং দুনিয়াতে বন্ধুত্ব ও শত্রুতা, হত্যা ও নিরাপত্তা এবং অন্যান্য বিষয় জড়িত। কারণ আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা মুমিনদের জন্য জান্নাত ওয়াজিব করেছেন এবং কাফিরদের জন্য জান্নাত হারাম করেছেন। আর এটি সকল সময় ও স্থানের জন্য একটি সামগ্রিক বিধান।" (৩)

যেমনটি পূর্বে অতিবাহিত হয়েছে যে, এই শরঈ মাসআলায় বিবেকের কোনো প্রবেশাধিকার নেই। তদ্রূপ প্রবৃত্তি, মনের ঝাল মেটানো এবং প্রতিশোধ নেওয়ার উদ্দেশ্যে তাকফির করা -প্রথমত- নিন্দনীয়; কারণ এতে আল্লাহর বিধান ও হকের ওপর সীমালঙ্ঘন এবং তাঁর বান্দাদের ওপর অনধিকার হস্তক্ষেপ রয়েছে। এজন্যই, "আহলুল ইলম ও সুন্নাহর অনুসারীরা তাদের বিরোধীদের কাফির বলেন না, যদিও সেই বিরোধী পক্ষ তাদের কাফির সাব্যস্ত করে থাকে। কেননা কুফরি একটি শরঈ বিধান। সুতরাং কোনো মানুষের জন্য জায়েজ নেই যে, সে একই কাজের মাধ্যমে এর প্রতিশোধ নেবে; যেমন কেউ যদি আপনার বিরুদ্ধে মিথ্যা বলে এবং আপনার পরিবারের সাথে ব্যভিচার করে, তবে আপনার জন্য তার বিরুদ্ধে মিথ্যা বলা বা তার পরিবারের সাথে ব্যভিচার করা জায়েজ নয়। কারণ মিথ্যা ও ব্যভিচার আল্লাহর হকের কারণে হারাম। অনুরূপভাবে তাকফিরও আল্লাহর হক, তাই যাকে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল কাফির বলেছেন সে ব্যতীত অন্য কাউকে কাফির বলা যাবে না।" (৪)

তিনি আরও বলেন: "এর মূলনীতি হলো, কিতাব, সুন্নাহ ও ইজমা অনুযায়ী যে বক্তব্যটি কুফরি, তাকে ঢালাওভাবে কুফরি বলা হবে, যেমনটি শরঈ দলিলসমূহ নির্দেশ করে। কেননা ঈমান হলো আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের কাছ থেকে প্রাপ্ত বিধানসমূহের অন্তর্ভুক্ত। এটি এমন কোনো বিষয় নয় যেখানে মানুষ তাদের ধারণা ও প্রবৃত্তি অনুযায়ী ফয়সালা দেবে। আর সেই কথাটি উচ্চারণকারী প্রত্যেক ব্যক্তিকেই কাফির হিসেবে বিচার করা আবশ্যক নয়।"

--------------------------------------------

(১) বুগয়াতুল মুরতাদ (১/ ৩৪৫)।

(২) ইথারুল হাক্ক আলাল খালক (৪০৫)।

(৩) মাজমুউল ফাতাওয়া (১২/ ৪৬৮)।

(৪) আর-রাদ্দ আলাল বাকরি (২/ ৪৯২ - ৪৯৩)।
(খণ্ড: ১) আত-তাকফীর ওয়া দাওয়াবিতুহু - আস-সাক্কার (পৃষ্ঠা: ১৯)
حتى يثبت في حقه شروط التكفير وتنتفي موانعه ". (1)

وهكذا فإن التكفير حكم شرعي كسائر الأحكام التكليفية الأخرى، فلا يُصار إليه بالتشهي ولا بالظنون، فكما لا يقال عن أمر ما بأنه حرام أو واجب من غير دليل معتبر في الشرع، فإنه لا يقال بكفر مسلم من غير هذا الدليل، بل تكفير المسلمين أخطر وأقبح لما يستتبعه من أحكام دنيوية وأخروية في حق المكفَّر.

--------------------------------------------

(1) مجموع الفتاوى (35/ 165).
"যতক্ষণ না তার ব্যাপারে তাকফিরের শর্তাবলি প্রমাণিত হয় এবং এর প্রতিবন্ধকসমূহ দূরীভূত হয়।" (১)

আর এভাবেই তাকফির হলো অন্যান্য সকল তাকলিফী বিধানের ন্যায় একটি শরয়ি বিধান। সুতরাং খেয়াল-খুশি বা ধারণার বশবর্তী হয়ে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না। যেমনটি শরয়ি গ্রহণযোগ্য দলিল ব্যতীত কোনো বিষয়কে হারাম বা ওয়াজিব বলা যায় না, তেমনিভাবে এই প্রকার দলিল ব্যতীত কোনো মুসলিমকে কাফির বলা যাবে না। বরং মুসলিমদের তাকফির করা অধিকতর বিপজ্জনক এবং জঘন্য; কারণ যাকে কাফির সাব্যস্ত করা হয়, তার ক্ষেত্রে এটি দুনিয়া ও আখিরাত সংশ্লিষ্ট নানাবিধ বিধানকে আবশ্যক করে তোলে।

--------------------------------------------

(১) মাজমুউল ফাতাওয়া (৩৫/ ১৬৫)।
(খণ্ড: ১) আত-তাকফীর ওয়া দাওয়াবিতুহু - আস-সাক্কার (পৃষ্ঠা: ২১)
‌‌أقوال العلماء في التحذير من التكفير

أدرك علماء الإسلام فداحة القول بكفر المسلم فأطبقوا على منع التكفير إلا بدليل ساطع، لا مدافع له، إذ الشهادة بالكفر على الموحد من أعظم الزور والظلم والبهتان.

قال الشوكاني: " اعلم أن الحكم على الرجل المسلم بخروجه من دين الإسلام ودخوله في الكفر لا ينبغي لمسلم يؤمن بالله واليوم الآخر أن يُقدم عليه إلا ببرهان أوضح من شمس النهار، فإنه قد ثبت في الأحاديث الصحيحة المروية من طريق جماعة من الصحابة أن ((من قال لأخيه: يا كافر. فقد باء بها أحدهما)) … ففي هذه الأحاديث وما ورد موردها أعظم زاجر وأكبر واعظ عن التسرع في التكفير". (1)

وأما ابن حزم فإنه يرى أن البرهان المطلوب للحكم بكفر المسلم ينبغي أن يكافئ ما ثبت به إسلامه، فلا يرفع عنه اسم الإسلام إلا بنص أو إجماع: "والحق هو أن كل من ثبت له عقد الإسلام، فإنه لا يزول عنه إلا بنفي (2) أو إجماع، وأما بالدعوى والافتراء فلا.

فوجب أن لا يكفر أحد بقول قاله إلا بأن يخالف ما قد صح عنده أن الله تعالى قاله، أو أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قاله، فيستجيز خلاف الله تعالى وخلاف رسوله عليه الصلاة والسلام، وسواء كان ذلك في عقد دين أو في نحلة أو في فتيا، وسواء كان ما صح من ذلك عن رسول الله صلى الله عليه وسلم منقولاً نقل إجماع تواتراً أو نقل آحاد". (3)

وبمثله قال الباقلاني: "ولا يكفر بقول ولا رأي إلا إذا أجمع المسلمون على أنه لايوجد إلا من كافر، ويقوم دليل على ذلك، فيكفر". (4)

--------------------------------------------

(1) السيل الجرار (4/ 578).

(2) هكذا في الأصل، والصواب: (إلا بنص).

(3) الفصل في الملل والأهواء والنحل (3/ 392).

(4) فتاوى السبكي (2/ 578).
তাকফির বা কাফির সাব্যস্ত করার ব্যাপারে সতর্কীকরণ বিষয়ে উলামায়ে কিরামের উক্তি

ইসলামি স্কলারগণ একজন মুসলিমকে কাফির বলার ভয়াবহতা উপলব্ধি করেছেন। তাই তারা অকাট্য ও অনস্বীকার্য প্রমাণ ব্যতিরেকে তাকফির বা কাফির সাব্যস্ত করা নিষিদ্ধ করার ব্যাপারে একমত হয়েছেন। কেননা, একজন তাওহীদপন্থী মুসলিমের কুফরের সাক্ষ্য দেওয়া হলো চরম মিথ্যাচার, জুলুম এবং অপবাদ।

শাওকানী রহ. বলেন: "জেনে রাখুন, কোনো মুসলিম ব্যক্তি ইসলাম ধর্ম থেকে বের হয়ে কুফরে প্রবেশ করেছে বলে হুকুম দেওয়া এমন কোনো মুসলিমের জন্য সমীচীন নয় যে আল্লাহ ও পরকালের প্রতি বিশ্বাস রাখে, যতক্ষণ না তার কাছে দিবালোকের চেয়েও স্পষ্ট প্রমাণ থাকে। কেননা একদল সাহাবীর সূত্রে বর্ণিত সহীহ হাদীসসমূহ দ্বারা প্রমাণিত হয়েছে যে, ((যে ব্যক্তি তার ভাইকে কাফির বলে ডাকল, তবে তাদের দুজনের যেকোনো একজনের ওপর তা বর্তাবে)) … সুতরাং এই হাদীসসমূহ এবং এ সংক্রান্ত অন্যান্য বর্ণনাগুলো তাকফিরের ক্ষেত্রে তাড়াহুড়ো করার ব্যাপারে সবচেয়ে বড় বাধা এবং শ্রেষ্ঠ উপদেশ।" (১)

অন্যদিকে ইবনে হাযম রহ. মনে করেন যে, একজন মুসলিমকে কাফির সাব্যস্ত করার জন্য প্রয়োজনীয় প্রমাণটি তার ইসলাম সাব্যস্ত হওয়ার দলীলের সমপর্যায়ের হওয়া উচিত। সুতরাং কোনো স্পষ্ট দলিল (নস) বা ইজমা (ঐক্যমত) ব্যতীত তার থেকে ইসলামের নাম ঘুচিয়ে দেওয়া যাবে না: "আর সত্য কথা হলো এই যে, যার ইসলাম সুসাব্যস্ত হয়েছে, তা কোনো অকাট্য দলিল (২) অথবা ইজমা ব্যতিরেকে অপসারিত হবে না; নিছক দাবি বা অপবাদের ভিত্তিতে নয়।

অতএব আবশ্যক হলো যে, কাউকে তার কোনো কথার কারণে কাফির সাব্যস্ত করা যাবে না, যতক্ষণ না সে এমন বিষয়ের বিরোধিতা করে যা আল্লাহ তাআলা বলেছেন বা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন বলে তার কাছে সহীহভাবে প্রমাণিত হয়েছে; এরপর সে আল্লাহ তাআলা এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বিরোধিতাকে বৈধ মনে করে। বিষয়টি দ্বীনের মৌলিক বিশ্বাস সংক্রান্ত হোক বা কোনো মতবাদ কিংবা ফতোয়ার ক্ষেত্রে হোক। আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে যা প্রমাণিত হয়েছে, তা ইজমা ও মুতাওয়াতির সূত্রে বর্ণিত হোক বা আহাদ (একক) সূত্রে বর্ণিত হোক না কেন।" (৩)

অনুরূপ কথা আল-বাকিল্লানী রহ.-ও বলেছেন: "কোনো কথা বা মতামতের কারণে কাউকে কাফির বলা যাবে না, যতক্ষণ না মুসলিমরা এই মর্মে একমত হন যে, এই কথা বা মত কেবল কাফিরের পক্ষ থেকেই আসা সম্ভব এবং এর সপক্ষে দলিল প্রতিষ্ঠিত হয়; কেবল তখনই তাকে কাফির বলা যাবে।" (৪)

--------------------------------------------

(১) আস-সাইলুল জাররার (৪/ ৫৭৮)।

(২) মূল পাঠে এভাবেই আছে, তবে সঠিক হলো: (নস বা স্পষ্ট দলিল ব্যতীত)।

(৩) আল-ফিসাল ফিল মিলাল ওয়াল আহওয়া ওয়ান নিহাল (৩/ ৩৯২)।

(৪) ফাতাওয়া আস-সুবকী (২/ ৫৭৮)।
(খণ্ড: ১) আত-তাকফীর ওয়া দাওয়াবিতুহু - আস-সাক্কার (পৃষ্ঠা: ২২)
ويقول ابن تيمية: "فليس لأحد أن يكفر أحداً من المسلمين، وإن أخطأ وغلط حتى تقام عليه الحجة، وتبين له المحجة، ومن ثبت إيمانه بيقين لم يزُل ذلك عنه بالشك، بل لا يزال إلا بعد إقامة الحجة، وإزالة الشبهة". (1)

ومثله في الاحتياط وطلب السلامة من هذه البلية قول ابن عبد البر: "ومن جهة النظر الصحيح الذي لا مدفع له، أن كل من ثبت له عقد الإسلام في وقت بإجماع من المسلمين، ثم أذنب ذنباً أو تأول تأويلاً، فاختلفوا بعد في خروجه من الإسلام لم يكن لاختلافهم بعد إجماعهم معنىً يوجب حجة، ولا يخرج من الإسلام المتفق عليه إلا باتفاق آخر أو سنة ثابتة لا معارض لها، وقد اتفق أهل السنة والجماعة، وهم أهل الفقه والأثر على أن أحداً لا يخرجه ذنبه - وإن عظم - من الإسلام، وخالفهم أهل البدع، فالواجب في النظر أن لا يكفَّر إلا من اتفق الجميع على تكفيره، أو قام على تكفيره دليل لا مدفع له من كتاب أو سنة". (2)

ويروي ابن نجيم عن الطحاوي وغيره من علماء الحنفية قولهم بأن المسلم لا يخرج من الإسلام إلا بأمر يتيقن كفر صاحبه: " ما تيقن أنه ردة يحكم بها، وما يشك أنه ردة لا يحكم بها، إذ الإسلام الثابت لا يزول بشك، مع أن الإسلام يعلو، وينبغي للعالم إذا رفع إليه هذا أن لا يبادر بتكفير أهل الإسلام". (3)

ولما كان المكفرون لا يملكون - غالباً - الدليل المتيقن على كفر المخالف، فإنهم يعتمدون القياس في استدلالهم، وهو دليل لا يراه ابن الوزير كافياً في تكفير المشبهة والمجبرة، فإن كثيراً من العلماء لم يكفروهم، ونقل عن الشيخ مختار في كتابه "المجتبى" قوله: "لأن حجة من كفرهم القياس على المشركين المصرحين، وهما [أي أبو الحسين والرازي] قد قدحا في صحة هذا القياس، دع عنك كونه قطعياً، وذلك القدح هو بوجود الفارق الذي يمنع مثله من

--------------------------------------------

(1) مجموع الفتاوى (12/ 501).

(2) التمهيد (17/ 21 - 22).

(3) البحر الرائق (5/ 134).
এবং ইবনে তাইমিয়া বলেন: "কারও জন্য কোনো মুসলিমকে কাফির বলা বৈধ নয়, যদিও সে ভুল বা ত্রুটি করে, যতক্ষণ না তার ওপর প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত হয় এবং সঠিক পথ তার কাছে স্পষ্ট হয়। যার ঈমান নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত হয়েছে, তা সংশয়ের কারণে দূরীভূত হয় না; বরং প্রমাণ প্রতিষ্ঠা এবং সংশয় দূর করার পরই তা অপসারিত হতে পারে।" (১)

এই বিপদ থেকে সতর্ক থাকা এবং নিরাপত্তা কামনার বিষয়ে ইবনে আব্দুল বার-এর উক্তিও অনুরূপ: "সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি যা খণ্ডন করার অবকাশ নেই, তা হলো: যার জন্য মুসলিমদের ঐকমত্যের ভিত্তিতে কোনো এক সময় ইসলামের অঙ্গীকার সাব্যস্ত হয়েছে, এরপর সে কোনো পাপ করেছে বা কোনো অপব্যাখ্যা করেছে, যার ফলে পরবর্তীতে তার ইসলাম থেকে বের হয়ে যাওয়ার ব্যাপারে তারা মতভেদ করেছে—তবে তাদের এই ঐকমত্যের পর সৃষ্ট মতভেদের এমন কোনো অর্থ নেই যা প্রমাণ হিসেবে গ্রাহ্য হবে। এবং সর্বসম্মত ইসলাম থেকে কেউ বের হবে না যতক্ষণ না অন্য কোনো ঐকমত্য বা এমন কোনো অকাট্য সুন্নাহ পাওয়া যায় যার কোনো বিরোধী নেই। আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআত, যারা ফিকহ ও আসার (পরম্পরা) বিশেষজ্ঞ, তারা একমত হয়েছেন যে, কোনো ব্যক্তির পাপ—তা যতই বড় হোক না কেন—তাকে ইসলাম থেকে বের করে দেয় না; যদিও বিদআতপন্থীরা তাদের বিরোধিতা করেছে। সুতরাং সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি হলো, কাউকে ততক্ষণ পর্যন্ত কাফির বলা যাবে না যতক্ষণ না তার কুফরির ব্যাপারে সকলে একমত হয়, অথবা কিতাব ও সুন্নাহ থেকে এমন কোনো অখণ্ডনীয় দলিল পাওয়া যায় যা তার কুফরিকে প্রমাণ করে।" (২)

ইবনে নুজাইম ইমাম তহাবি এবং অন্যান্য হানাফি আলেমদের থেকে বর্ণনা করেন যে, কোনো মুসলিম ইসলাম থেকে বের হবে না যতক্ষণ না এমন কোনো বিষয় পাওয়া যায় যা নিশ্চিতভাবে কুফরি প্রমাণ করে: "যা নিশ্চিতভাবে রিদ্দাহ হিসেবে প্রমাণিত, কেবল তার মাধ্যমেই ফয়সালা দেওয়া হবে। আর যে বিষয়ে রিদ্দাহ হওয়ার ব্যাপারে সন্দেহ থাকে, তার মাধ্যমে ফয়সালা দেওয়া হবে না; কারণ সুপ্রতিষ্ঠিত ইসলাম সন্দেহের কারণে অপসারিত হয় না। তদুপরি ইসলাম হলো সমুন্নত। সুতরাং কোনো আলেমের কাছে যখন এমন বিষয় উত্থাপন করা হবে, তখন তার উচিত হবে না আহলে ইসলামের ওপর কুফরির ফতোয়া দিতে তাড়াহুড়ো করা।" (৩)

যেহেতু যারা কাফির বলে ফতোয়া দেয় তারা সাধারণত বিরোধীদের কুফরির ব্যাপারে কোনো সুনিশ্চিত দলিল রাখে না, তাই তারা তাদের দলিলের ক্ষেত্রে কিয়াসের ওপর নির্ভর করে। এটি এমন এক দলিল যা ইবনুল উজির মুসাব্বিহা ও মুজবীরাদের কাফির বলার ক্ষেত্রে যথেষ্ট মনে করেন না, কারণ অনেক আলেম তাদের কাফির বলেননি। তিনি শেখ মুখতার-এর তাঁর 'আল-মুজতাবা' গ্রন্থে উদ্ধৃত করে বলেন: "কেননা যারা তাদের কাফির বলেছে তাদের দলিল হলো প্রকাশ্য মুশরিকদের ওপর কিয়াস করা। আর তারা উভয়ে [অর্থাৎ আবুল হুসাইন ও রাজি] এই কিয়াসের শুদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, এর অকাট্য হওয়ার বিষয়টি তো দূরে থাক। আর সেই প্রশ্নটি হলো এমন পার্থক্যের উপস্থিতি যা এই ধরনের কিয়াসকে বাধা দেয়

--------------------------------------------

(১) মাজমুউল ফাতাওয়া (১২/ ৫০১)।

(২) আত-তামহিদ (১৭/ ২১ - ২২)।

(৩) আল-বাহরুর রায়েক (৫/ ১৩৪)।
(খণ্ড: ১) আত-তাকফীর ওয়া দাওয়াবিতুহু - আস-সাক্কার (পৃষ্ঠা: ২৩)
صحة القياس، وهو إيمان هؤلاء بجميع كتب الله تعالى وجميع رسله بأعيانهم وأسمائهم إلا من جهلوه، وإنما يخالفون حين يدعون عدم العلم، ثم ظهر عليهم ما يصدق من ذلك من إقامة أركان الإسلام وتحمل المشاق العظيمة بسبب تصديق الأنبياء عليهم السلام، ولأن القياس عند المحققين من علماء المعقولات لا يكون قاطعاً، لأن الأمرين إن استويا في جميع الوجوه لم يكن قياساً، وإن وجد بينهما فارق جاز أن يكون مؤثراً في عدم استوائهما في الحكم ". (1)

وعليه فإن ابن الوزير يرى "أن في الحكم بتكفير المختلف في كفرهم مفسدة بينة تخالف الاحتياط … أن الخطأ في العفو خير من الخطأ في العقوبة، نعوذ بالله من الخطأ في الجميع، ونسأله الإصابة والسلامة والتوفيق والهداية". (2)

ويدعو الشوكاني إلى تلمس المعاذير للمسلمين والإحجام قبل المسارعة إلى تكفيرهم "فحينئذ تنجو من معرَّة الخطر، وتسلم من الوقوع في المحنة، فإن الإقدام على ما فيه بعض البأس لا يفعله من يشح على دينه، ولا يسمح به فيما لا فائدة فيه ولا عائدة، فكيف إذا كان يخشى على نفسه إذا أخطأ أن يكون في عداد من سماه رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم كافراً، فهذا يقود إليه العقل فضلاً عن الشرع ..

فحتم على كل مسلم أن لا يطلق كلمة الكفر إلا على من شرح بالكفر صدراً، ويقصر ما ورد مما تقدم على موارده، وهذا الحق ليس به خفاء، فدعني من بُنيات الطريق

يأبى الفتى إلا اتباع الهوى … ومنهج الحق له واضح". (3)

ويقول الزركشي: "فلينتبه لهذا، وليحذر ممن يبادر إلى التكفير .. فيخاف عليه أن يكفر، لأنه كفّر مسلماً". (4)

ويقول عبد الله بن محمد بن عبد الوهاب: "وبالجملة فيجب على من

--------------------------------------------

(1) إيثار الحق على الخلق (377 - 378).

(2) المصدر السابق (405).

(3) السيل الجرار (4/ 578 - 579).

(4) تحفة المحتاج في شرح المنهاج (9/ 88).
কিয়াসের সঠিকতা; আর তা হলো মহান আল্লাহর সকল কিতাব এবং তাঁর সকল রাসূলের প্রতি তাঁদের ব্যক্তি ও নামসহ ঈমান আনা, তবে যাঁদের সম্পর্কে তারা জানে না তাদের ক্ষেত্রে ভিন্ন কথা। তারা কেবল তখনই ভিন্নমত পোষণ করে যখন তারা অজ্ঞতার দাবি করে। অতঃপর তাদের পক্ষ থেকে এমন কিছু প্রকাশ পায় যা এর সত্যতা প্রমাণ করে, যেমন ইসলামের রুকনসমূহ প্রতিষ্ঠা করা এবং নবীদের (আলাইহিমুস সালাম) প্রতি বিশ্বাসের কারণে সুকঠিন কষ্টসমূহ সহ্য করা। কারণ যুক্তিবিদ্যায় পারদর্শী গবেষক আলেমদের মতে কিয়াস নিশ্চিত প্রমাণ নয়; কেননা যদি দুটি বিষয় সকল দিক থেকে সমান হয় তবে তা কিয়াস থাকে না, আর যদি তাদের মধ্যে কোনো পার্থক্য থাকে তবে তা হুকুমের ক্ষেত্রে তাদের অসমতার কারণ হতে পারে। (১)

এর ভিত্তিতে ইবনুল উজির মনে করেন যে, "যাদের কাফের হওয়ার বিষয়ে মতভেদ রয়েছে তাদের কাফের সাব্যস্ত করার সিদ্ধান্তে এমন সুস্পষ্ট অনিষ্ট রয়েছে যা সাবধানতা বা সতর্কতার পরিপন্থী … নিশ্চয়ই ক্ষমা করার ক্ষেত্রে ভুল করা শাস্তি দেওয়ার ক্ষেত্রে ভুল করার চেয়ে উত্তম। আমরা সকল বিষয়ে ভুল করা থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি এবং তাঁর কাছে সঠিকতা, নিরাপত্তা, তাওফিক ও হেদায়েত কামনা করি।" (২)

আশ-শাওকানী মুসলমানদের জন্য ওজর বা অজুহাত খোঁজার এবং তাদের কাফের সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে তড়িঘড়ি না করে বিরত থাকার আহ্বান জানান, "তখন তুমি বিপদের গ্লানি থেকে মুক্তি পাবে এবং পরীক্ষায় নিপতিত হওয়া থেকে নিরাপদ থাকবে। কেননা যাতে কিছুটা ক্ষতি বা বিপদ রয়েছে তাতে এমন ব্যক্তি অগ্রসর হয় না যে নিজের দ্বীনের ব্যাপারে অত্যন্ত সতর্ক, আর সে এমন বিষয়ে তা অনুমোদন করে না যাতে কোনো উপকার বা প্রাপ্তি নেই। তাহলে সেই বিষয়ের অবস্থা কী হতে পারে যেখানে সে নিজের ব্যাপারে আশঙ্কা করে যে, যদি সে ভুল করে তবে সে তাদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে যাদেরকে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) কাফের বলেছেন? শরিয়ত তো বটেই, এমনকি বিবেকও এই পথেই পরিচালিত করে...

সুতরাং প্রত্যেক মুসলমানের জন্য এটি আবশ্যক যে, সে কুফরির শব্দ প্রয়োগ করবে না যতক্ষণ না কেউ কুফরির জন্য নিজের বক্ষ উন্মুক্ত করে (স্পষ্টভাবে কুফরি গ্রহণ করে), এবং ইতিপূর্বে যা বর্ণিত হয়েছে সেগুলোকে স্ব স্ব ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ রাখবে। আর এই সত্যের মাঝে কোনো অস্পষ্টতা নেই; সুতরাং অপ্রাসঙ্গিক বিচ্যুতিগুলো থেকে আমাকে রেহাই দাও।

যুবক তো প্রবৃত্তি অনুসরণ ছাড়া আর কিছু মানে না … অথচ সত্যের পথ তার কাছে সুস্পষ্ট।" (৩)

আর যারকাশী বলেন: "এই বিষয়ে সতর্ক হওয়া উচিত এবং যে ব্যক্তি তাকফীরের দিকে ধাবিত হয় তার থেকে সাবধান থাকা উচিত... তার ব্যাপারে কুফরিতে লিপ্ত হওয়ার ভয় রয়েছে, কারণ সে একজন মুসলিমকে কাফের বলেছে।" (৪)

আর আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব বলেন: "মোটকথা, ঐ ব্যক্তির উপর ওয়াজিব যে

--------------------------------------------

(১) ঈসারুল হাক্ব আলাল খালক্ব (৩৭৭ - ৩৭৮)।

(২) পূর্বোক্ত উৎস (৪০৫)।

(৩) আস-সায়লুল জাররার (৪/ ৫৭৮ - ৫৭৯)।

(৪) তুহফাতুল মুহতাজ ফী শারহিল মিনহাজ (৯/ ৮৮)।
(খণ্ড: ১) আত-তাকফীর ওয়া দাওয়াবিতুহু - আস-সাক্কার (পৃষ্ঠা: ২৪)
نصح نفسه ألا يتكلم في هذه المسألة إلا بعلم وبرهان من الله، وليحذر من إخراج رجل من الإسلام بمجرد فهمه، واستحسان عقله، فإن إخراج رجل من الإسلام، أو إدخاله فيه من أعظم أمور الدين". (1)

ويقول: "فما تنازع العلماء في كونه كفراً فالاحتياط للدين التوقف وعدم الإقدام، ما لم يكن في المسألة نص صريح". (2)

أما من تجرأ على التكفير من غير أن يملك مثل ذلك الدليل الساطع فإنه مستحق للعقوبة الغليظة بما اجترأ عليه، يقول ابن تيمية في سياق الحديث عن خلاف المسلمين في بعض مسائل التوسل: "بل المكفّر بمثل هذه الأمور يستحق من غليظ العقوبة والتعزير ما يستحقه أمثاله من المفترين على الدين، لا سيما مع قوله صلى الله عليه وسلم: ((من قال لأخيه يا كافر فقد باء بها أحدهما)) ". (3)

وينبه ابن الوزير إلى مفسدة أخرى للتكفير، وهي التسبب في الفرقة بين المسلمين، وما تؤدي إليه من توهين أمر المسلمين، وهذه المفسدة حري دفعها بمزيد من العذر والتثبت والاحتياط، يقول: " وكم بين إخراج عوام فرق الإسلام أجمعين، وجماهير العلماء المنتسبين إلى الإسلام من الملة الإسلامية، وتكثير العدد بهم، وبين إدخالهم في الإسلام ونصرته بهم وتكثير أهله، وتقوية أمره، فلا يحل الجهد في التفرق بتكلف التكفير لهم بالأدلة المعارَضة بما هو أقوى منها أو مثلها مما يجمع الكلمة، ويقوي الإسلام، ويحقن الدماء، ويسكن الدهماء حتى يتضح كفر المبتدع اتضاح الصبح الصادق، وتجتمع عليه الكلمة، وتحقق إليه الضرورة". (4)

وقال الغزالي: "والذي ينبغي أن يميل المحصل إليه الاحتراز من التكفير ما وجد إليه سبيلاً، فإن استباحة الدماء والأموال من المصلين إلى القبلة

--------------------------------------------

(1) الدرر السنية (8/ 217).

(2) المصدر السابق (8/ 217).

(3) مجموع الفتاوى (1/ 106).

(4) إيثار الحق على الخلق (402).
তিনি নিজেকে এই নসিহত করেছেন যে, তিনি এই বিষয়ে আল্লাহর পক্ষ থেকে জ্ঞান ও প্রমাণ ছাড়া কথা বলবেন না। আর তিনি যেন নিছক নিজের বুঝ এবং যুক্তির নিরিখে কাউকে ইসলাম থেকে বের করে দেওয়ার ব্যাপারে সতর্ক থাকেন; কেননা কাউকে ইসলাম থেকে বের করা অথবা কাউকে তাতে অন্তর্ভুক্ত করা দ্বীনের মহান বিষয়গুলোর অন্তর্ভুক্ত। (১)

তিনি বলেন: "কোনো বিষয় কুফর হওয়ার ব্যাপারে আলেমগণ যদি মতভেদ করেন, তবে দ্বীনের সতর্কতার দাবি হলো সেখানে থমকে যাওয়া এবং অগ্রসর না হওয়া, যতক্ষণ না সেই বিষয়ে কোনো স্পষ্ট দলিল পাওয়া যায়।" (২)

পক্ষান্তরে, যে ব্যক্তি এমন উজ্জ্বল দলিল ছাড়াই কাউকে কাফের বলার দুঃসাহস দেখাবে, সে তার এই ধৃষ্টতার কারণে কঠোর শাস্তির যোগ্য। ইবনে তাইমিয়াহ তাওয়াসসুলের কিছু মাসআলায় মুসলমানদের মতপার্থক্য নিয়ে আলোচনার প্রসঙ্গে বলেন: "বরং এই জাতীয় বিষয়ে যারা কাফের ফতোয়া দেয়, তারা দ্বীনের ওপর অপবাদদানকারীদের মতো কঠোর শাস্তি ও দণ্ডের যোগ্য; বিশেষ করে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এই বাণীর পরিপ্রেক্ষিতে: 'যে ব্যক্তি তার ভাইকে কাফের বলে, তাদের দুজনের যেকোনো একজনের ওপর তা বর্তাবে'।" (৩)

ইবনুল উজির তাকফিরের আরেকটি অপকারিতা সম্পর্কে সতর্ক করেছেন, আর তা হলো মুসলমানদের মাঝে বিভেদ সৃষ্টি করা এবং এর ফলে মুসলিম উম্মাহ দুর্বল হয়ে পড়া। এই অপকারিতা দূর করার জন্য অধিকতর ওজর তালাশ করা, যাচাই-বাছাই করা এবং সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন। তিনি বলেন: "ইসলামের সকল দলের সাধারণ মানুষ এবং ইসলামের দিকে সম্বন্ধযুক্ত অধিকাংশ আলেমকে মিল্লাতে ইসলামিয়া থেকে বের করে দেওয়া এবং তাদের সংখ্যাধিক্য ঘটানো, আর তাদের ইসলামে অন্তর্ভুক্ত রাখা ও তাদের মাধ্যমে ইসলামের সাহায্য ও জনশক্তি বৃদ্ধি করে এর অবস্থান শক্তিশালী করার মধ্যে অনেক ব্যবধান রয়েছে। অতএব, ঐসব দলিলের মাধ্যমে তাদের কাফের বানানোর চেষ্টা করে বিভেদ সৃষ্টি করা বৈধ নয়, যেগুলোর বিপরীতে আরও শক্তিশালী বা সমমানের এমন দলিল বিদ্যমান যা ঐক্য প্রতিষ্ঠা করে, ইসলামকে শক্তিশালী করে, রক্ত রক্ষা করে এবং বিশৃঙ্খলা শান্ত করে—যতক্ষণ না বিদআতির কুফর সুবহে সাদেকের মতো স্পষ্ট হয়ে ওঠে, তার ওপর ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয় এবং বিষয়টি অনিবার্য হয়ে পড়ে।" (৪)

ইমাম গাজালি বলেন: "একজন গবেষকের উচিত যথাসম্ভব তাকফির থেকে বিরত থাকার দিকে ঝুঁকে থাকা। কেননা কিবলামুখী নামাজি ব্যক্তিদের রক্ত ও সম্পদ হালাল মনে করা...

--------------------------------------------

(১) আদ-দুরারুস সানিয়্যাহ (৮/ ২১৭)।

(২) পূর্বোক্ত উৎস (৮/ ২১৭)।

(৩) মাজমুউল ফাতাওয়া (১/ ১০৬)।

(৪) ঈসারুল হক আলাল খালক (৪০২)।
(খণ্ড: ১) আত-তাকফীর ওয়া দাওয়াবিতুহু - আস-সাক্কার (পৃষ্ঠা: ২৫)
المصرحين بقول: (لا إله إلا الله، محمد رسول الله) خطأ، والخطأ في ترك ألف كافر في الحياة أهون من الخطأِ في سفك محجمة من دم مسلم ". (1)

ويقول رحمه الله: "الوصية: أن تكف لسانك عن أهل القبلة ما أمكنك، ما داموا قائلين: (لا إله إلا الله، محمد رسول الله)، غير مناقضين لها … فإن التكفير فيه خطر، والسكوت لا خطر فيه". (2)

وينقل ابن نجيم عن أهل العلم حرصهم على إعذار المسلم، وتوقفهم عن المبادرة إلى تكفيره مهما وهنت شبهته التي دفعت به إلى ارتكاب المكفِّر، فيقول: "وفي الفتاوى الصغرى: الكفر شيء عظيم، فلا أجعل المؤمن كافراً متى وجدت رواية أنه لا يكفر". (3)

ويقول: " وفي الخلاصة وغيرها: إذا كان في المسالة وجوه توجب التكفير، ووجه واحد يمنع التكفير، فعلى المفتي أن يميل إلى الوجه الذي يمنع التكفير، تحسيناً للظن بالمسلم". (4)

ثم يقرر رحمه الله خلاصة رأيه فيقول: "والذي تحرر أنه لا يفتى بتكفير مسلم أمكن حمل كلامه على محمل حسن أو كان في كفره اختلاف، ولو رواية ضعيفة، فعلى هذا فأكثر ألفاظ التكفير المذكورة لا يفتى بالتكفير بها، ولقد ألزمت نفسي أن لا أفتي بشيء منها". (5)

وينقل المليباري اتفاق العلماء قديماً وحديثاً على الاحتياط والتريث في هذه المسألة: "ينبغي للمفتي أن يحتاط في التكفير ما أمكنه لعظم خطره وغلبة عدم قصده سيما من العوام، وما زال أئمتنا على ذلك قديماً وحديثاً". (6)

لقد أطبق علماء الإسلام زرافاتٍ ووِحداناً على خطورة القول بكفر

--------------------------------------------

(1) الاقتصاد في الاعتقاد (223 - 224).

(2) فيصل التفرقة بين الإسلام والزندقة (128).

(3) البحر الرائق (5/ 134).

(4) المصدر السابق (5/ 134).

(5) المصدر السابق (5/ 135).

(6) فتح المعين (4/ 138).
যারা 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ' পাঠ করে তাদের বিষয়ে ভুল করা (তথা তাদের ভুলবশত কাফির মনে করা), এক হাজার কাফিরকে জীবিত ছেড়ে দেওয়ার ভুলের চেয়েও একজন মুসলিমের এক সিঙ্গা পরিমাণ রক্ত প্রবাহিত করার ভুলের তুলনায় অনেক গুণ হালকা।" (১)

তিনি (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: "উপদেশ হলো: কিবলাপন্থীদের ব্যাপারে সাধ্যমতো জিহ্বা সংযত রাখা, যতক্ষণ তারা 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ' বলে এবং এর পরিপন্থী কিছু না করে... কেননা কাউকে কাফির বলায় ঝুঁকি আছে, কিন্তু চুপ থাকায় কোনো ঝুঁকি নেই।" (২)

ইবনে নুজাইম আহলে ইলমদের থেকে মুসলিমের ওজর গ্রহণের বিষয়ে তাঁদের প্রবল আগ্রহ এবং তাকে কাফির সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে তাড়াহুড়ো থেকে বিরত থাকার বিষয়টি উদ্ধৃত করেছেন, চাই তাকে কুফরি কাজে লিপ্তকারী সংশয়টি যত দুর্বলই হোক না কেন। তিনি বলেন: "ফাতাওয়া সোগরায় রয়েছে: কুফর একটি গুরুতর বিষয়, তাই যতক্ষণ পর্যন্ত আমি এমন কোনো বর্ণনা পাবো যে সে কাফির হয় না, ততক্ষণ আমি কোনো মুমিনকে কাফির সাব্যস্ত করবো না।" (৩)

তিনি আরও বলেন: "আল-খুলাসাহ ও অন্যান্য কিতাবে রয়েছে: যদি কোনো বিষয়ে এমন অনেক দিক থাকে যা কাফির সাব্যস্ত করাকে অপরিহার্য করে, আর কেবল একটি দিক থাকে যা কাফির বলা থেকে বিরত রাখে, তবে মুফতির উচিত সেই দিকের প্রতি ঝুঁকে পড়া যা কাফির বলা থেকে বিরত রাখে; এটি মুসলিমের প্রতি সুধারণা পোষণ করার খাতিরে।" (৪)

এরপর তিনি (রহিমাহুল্লাহ) নিজের মতামতের সারসংক্ষেপ তুলে ধরে বলেন: "সুস্পষ্ট কথা হলো, কোনো মুসলিমের কাফির হওয়ার ফতোয়া দেওয়া যাবে না যার কথাকে কোনো ভালো অর্থে নেওয়া সম্ভব হয় অথবা যার কাফির হওয়ার ব্যাপারে মতভেদ আছে, এমনকি তা কোনো দুর্বল বর্ণনা হলেও। এই ভিত্তিতে, কাফির সাব্যস্ত করার জন্য উল্লিখিত অধিকাংশ শব্দ দ্বারা কুফরির ফতোয়া দেওয়া যাবে না; আর আমি নিজেকে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ করেছি যে আমি এগুলোর কোনোটি দিয়েই ফতোয়া দেব না।" (৫)

মালেবারী এই বিষয়ে সতর্কতা ও ধীরস্থিরতা অবলম্বনের ব্যাপারে প্রাচীন ও বর্তমান যুগের আলেমদের ঐকমত্য বর্ণনা করেছেন: "মুফতির উচিত কাফির সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে সাধ্যমতো সতর্কতা অবলম্বন করা, কারণ এর ঝুঁকি অনেক বেশি এবং বিশেষ করে সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে অনিচ্ছাকৃত হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। আমাদের ইমামগণ প্রাচীনকাল থেকে বর্তমান পর্যন্ত এই নীতির ওপরই অটল ছিলেন।" (৬)

ইসলামের আলেমগণ দলগতভাবে এবং ব্যক্তিগতভাবে কাউকে কাফির বলার ভয়াবহতার বিষয়ে একমত হয়েছেন

--------------------------------------------

(১) আল-ইকতিসাদ ফিল ইতিকাদ (২২৩ - ২২৪)।

(২) ফয়সালুত তাফরিকাহ বাইনাল ইসলাম ওয়াল জান্দাকাহ (১২৮)।

(৩) আল-বাহরুর রাইক (৫/ ১৩৪)।

(৪) পূর্বোক্ত উৎস (৫/ ১৩৪)।

(৫) পূর্বোক্ত উৎস (৫/ ১৩৫)।

(৬) ফাতহুল মুঈন (৪/ ১৩৮)।
(খণ্ড: ১) আত-তাকফীর ওয়া দাওয়াবিতুহু - আস-সাক্কার (পৃষ্ঠা: ২৬)
المسلم، ورأوا أن الخطأ في نسبته إلى الكفر من أعظم الظلم والغبن له، فالأصل فيه السلامة، والإسلام ثبت له بيقين، فلا يرفع إلا بيقين مثله، وما دون هذا اليقين ندفعه بإحسان الظن وتلمس الأعذار والاستتار دون تكفيره بضعيف الروايات احتياطاً للدين وصوناً لأعراض ودماء المسلمين.
মুসলিম, এবং তাঁরা মনে করেন যে, তাকে কুফরির সাথে সম্পর্কিত করার ক্ষেত্রে ভুল করা তার প্রতি চরম জুলুম ও গুরুতর অবিচারের অন্তর্ভুক্ত। কেননা তার ক্ষেত্রে মূল নীতি হলো সে নিরাপদ, এবং ইসলাম তার জন্য নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। সুতরাং অনুরূপ নিশ্চিত প্রমাণ ছাড়া তা বাতিল করা যাবে না। আর এই নিশ্চিত প্রমাণের চেয়ে কম যা কিছু আছে, তা আমরা সুধারণা পোষণ, ওজর তালাশ করা এবং দোষ গোপন রাখার মাধ্যমে প্রতিহত করি; দুর্বল বর্ণনার ভিত্তিতে তাকে কাফির সাব্যস্ত না করে, দ্বীনের বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন এবং মুসলিমদের সম্মান ও রক্ত হিফাযতের স্বার্থে।
(খণ্ড: ১) আত-তাকফীর ওয়া দাওয়াবিতুহু - আস-সাক্কার (পৃষ্ঠা: ২৭)
‌‌أسباب الوقوع في التكفير

إن أسباب نشأة ظاهرة التكفير وفشوها وانتشارها في القديم والحديث يرجع إلى مجموعة من الأسباب المتشابكة، عملت جنباً إلى جنب في نشر هذه الظاهرة وتأمين البيئة الملائمة لنموها واستمرارها، ومنها:

1ـ الجهل المريع - وربما المركب - بهذه المسألة المهمة، التي هي من المسائل الدقيقة التي لا يحسنها إلا العلماء، الذين لهم دراية في فهم أدلة الوحي، والتمييز بين صحيحها وضعيفها، كما يفرقون - بما آتاهم الله من علم - بين المتشابهات لفظاً، والمختلفات حكماً، كالتفريق بين الكفرين: الأكبر والأصغر، وحال أصحابهما حين اجتماع الشروط وانتفاء الموانع، والفرق بين الكفر المطلق والكفر المعين، وهو ما لا يحسنه الجهلة ولا يطيقونه، فيقعون في تكفير المسلمين " والمبادرة إلى التكفير إنما تغلب على طباع من يغلب عليهم الجهل". (1)

ولعل الجهل بأحكام الشريعة من أهم صفات الخوارج الذين كانوا أول من تولى وزر التكفير في هذه الأمة، حين كفروا أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم، فقد وصفهم النبي صلى الله عليه وسلم بقوله: ((يحقر أحدكم صلاته مع صلاتهم، وصيامه مع صيامهم، يقرءون القرآن، لا يجاوز تراقيهم، يمرقون من الدين كما يمرق السهم من الرمية)). (2)

وجاء في رواية أبي سعيد: ((لا يجاوز تراقيهم، ولا تعيه قلوبهم)). (3)

يقول الإمام القرطبي مندداً بضلالة الخوارج وقلة فهمهم: "وكفى بذلك أن مقدمهم ردّ على رسول الله صلى الله عليه وسلم أمره، ونسبه إلى الجور .... ويكفيك من جهلهم وغلوهم في بدعتهم حكمهم بتكفير من شهد له رسول الله بصحة

--------------------------------------------

(1) بغية المرتاد (1/ 345).

(2) رواه البخاري ح (3610)، ومسلم ح (1064).

(3) فتح الباري (9/ 100).
তাকফিরে লিপ্ত হওয়ার কারণসমূহ

প্রাচীন ও আধুনিক কালে তাকফির (কাউকে কাফের সাব্যস্ত করা) নামক এই ফিতনার উৎপত্তি ও প্রসারের পেছনে একগুচ্ছ পরস্পর জড়িত কারণ রয়েছে, যা সম্মিলিতভাবে এই প্রবণতাকে ছড়িয়ে দিতে এবং এর বিকাশ ও স্থায়িত্বের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে কাজ করেছে। তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:

১. এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ভয়াবহ—এবং সম্ভবত জটিল—মূর্খতা। এটি এমন এক সূক্ষ্ম বিষয় যা কেবল সেই সমস্ত আলেমরাই উত্তমরূপে অনুধাবন করতে পারেন যাদের ওহীর দলীলসমূহ বোঝার দক্ষতা রয়েছে এবং যারা দলীলের বিশুদ্ধতা ও দুর্বলতার মাঝে পার্থক্য করতে পারেন। পাশাপাশি তারা আল্লাহর প্রদত্ত ইলমের মাধ্যমে শব্দের দিক দিয়ে সাদৃশ্যপূর্ণ কিন্তু বিধানের দিক দিয়ে ভিন্ন বিষয়গুলোর মধ্যে পার্থক্য করতে জানেন। যেমন: বড় কুফর ও ছোট কুফরের মধ্যে পার্থক্য, শর্তসমূহ পূরণ হওয়া ও প্রতিবন্ধকতা দূর হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে এদের কর্তাদের অবস্থা এবং ঢালাও কুফর ও নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তির কুফরের মধ্যে পার্থক্য। মূর্খরা এসব বিষয়ে পারদর্শী নয় এবং এটা তাদের সাধ্যের অতীত; ফলে তারা মুসলমানদের কাফের সাব্যস্ত করার মতো পাপে লিপ্ত হয়। "বস্তুত তাকফিরের ক্ষেত্রে তাড়াহুড়ো করা মূলত তাদের স্বভাবের ওপরই প্রবল হয় যাদের ওপর মূর্খতা প্রবল।" (১)

শরীয়তের বিধান সম্পর্কে মূর্খতা সম্ভবত খারেজীদের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল, যারা এই উম্মতের মধ্যে সর্বপ্রথম তাকফিরের পাপের বোঝা কাঁধে নিয়েছিল, যখন তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীদের কাফের বলেছিল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেছেন: "তোমাদের কেউ তাদের নামাজের তুলনায় নিজের নামাজকে এবং তাদের রোজার তুলনায় নিজের রোজাকে তুচ্ছ মনে করবে। তারা কুরআন পাঠ করবে কিন্তু তা তাদের কণ্ঠনালী অতিক্রম করবে না। তারা দ্বীন থেকে এমনভাবে বেরিয়ে যাবে যেমনভাবে তীর শিকার ভেদ করে বেরিয়ে যায়।" (২)

আবু সাঈদের বর্ণনায় এসেছে: "তা তাদের কণ্ঠনালী অতিক্রম করবে না এবং তাদের অন্তর তা উপলব্ধি করবে না।" (৩)

ইমাম কুরতুবী খারেজীদের গোমরাহি ও বোধশক্তির অভাবের নিন্দা করে বলেন: "এতটুকুই যথেষ্ট যে, তাদের নেতা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নির্দেশ প্রত্যাখ্যান করেছিল এবং তাঁর দিকে অন্যায়ের অপবাদ আরোপ করেছিল... আর তাদের মূর্খতা ও বিদআতের ক্ষেত্রে চরমপন্থা বোঝার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, তারা এমন ব্যক্তিদের কাফের হওয়ার ফয়সালা দিয়েছিল যাদের বিশুদ্ধতা ও সত্যতার সাক্ষ্য স্বয়ং রাসূলুল্লাহ দিয়েছিলেন।"

--------------------------------------------

(১) বুগইয়াতুল মুরতাদ (১/৩৪৫)।

(২) বুখারী, হাদিস নং (৩৬১০); মুসলিম, হাদিস নং (১০৬৪)।

(৩) ফাতহুল বারী (৯/১০০)।
(খণ্ড: ১) আত-তাকফীর ওয়া দাওয়াবিতুহু - আস-সাক্কার (পৃষ্ঠা: ২৮)
إيمانه وبأنه من أهل الجنة". (1)

وهذا الجهل والغلو ينطبق على أضرابهم الذين يأتون في آخر الزمان، يقول عنهم النبي صلى الله عليه وسلم: ((يأتي في آخر الزمان قوم حدثاء الأسنان سفهاء الأحلام، يقولون من خير قول البرية، يمرقون من الإسلام كما يمرق السهم من الرمية، لا يجاوز إيمانهم حناجرهم، فأينما لقيتموهم فاقتلوهم، فإن قتلهم أجر لمن قتلهم يوم القيامة)). (2)

قال السندي: " قوله: ((أحداث الأسنان)) أي صغار الأسنان، فإنّ حداثة السّنّ محلٌّ للفساد عادة. ((سفهاء الأحلام)): ضعاف العقول". (3)

2ـ اتباع الهوى، وجعل التكفير وسيلة في الانتقام من المخالفين، وإشهاره سيفاً مسلطاً على رقابهم هو سبب آخر من أسباب انتشار التكفير ورواج سوقه، وهو فرع عن الجهل ودليل على رقَّة الدين.

وقد دأبت الفرق المنحرفة عن هدي الله وسنة رسوله في تاريخ الإسلام على تكفير مخالفيها، حتى أصبح سمتاً للفرق المبتدعة المختلفة، يقول ابن تيمية: "ومن البدع المنكرة تكفير الطائفة غيرها من طوائف المسلمين واستحلال دمائهم وأموالهم … وهذا حال عامة أهل البدع الذين يكفر بعضهم بعضاً … وهؤلاء من الذين قال الله تعالى فيهم: {إن الذين فرقوا دينهم وكانوا شيعاً لست منهم في شيء} (الأنعام: 159) ". (4)

ويقول رحمه الله: " من ادعى دعوى وأطلق فيها عنان الجهل مخالفاً فيها لجميع أهل العلم، ثم مع مخالفتهم يريد أن يكفر ويضلل من لم يوافقه، فهذا من أعظم ما يفعله كل جهول مغياق". (5)

3 - ولعل من أهم أسباب انتشار التكفير وقوع كثير من المسلمين في المكفرات، من سباب لله ورسوله أو لمز أو طعن في الدين في وسائل الإعلام وغيرها.

--------------------------------------------

(1) المفهم لما أشكل من تلخيص كتاب مسلم (3/ 114).

(2) رواه البخاري ح (3611)، ومسلم ح (1066).

(3) حاشية السندي (7/ 119).

(4) مجموع الفتاوى (7/ 684).

(5) الرد على البكري (1/ 263).
তার ঈমান এবং সে জান্নাতবাসীদের অন্তর্ভুক্ত।" (১)

আর এই মূর্খতা ও বাড়াবাড়ি তাদের সমজাতীয় লোকদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য যারা শেষ জামানায় আসবে। তাদের সম্পর্কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ((শেষ জামানায় এমন এক সম্প্রদায়ের আবির্ভাব ঘটবে যারা বয়সে তরুণ এবং বুদ্ধি-বিবেচনায় অপরিপক্ব। তারা সৃষ্টির সেরা কথা বলবে, কিন্তু তারা ইসলাম থেকে এমনভাবে বের হয়ে যাবে যেভাবে তীর শিকারি পশু ভেদ করে বের হয়ে যায়। তাদের ঈমান তাদের কণ্ঠনালী অতিক্রম করবে না। সুতরাং তোমরা যেখানেই তাদের পাবে, তাদের হত্যা করবে। কারণ তাদের হত্যা করার মধ্যে কিয়ামতের দিন হত্যাকারীর জন্য প্রতিদান রয়েছে।)) (২)

সিন্দি রহ. বলেন: "তাঁর কথা: ((অল্পবয়স্ক)) অর্থাৎ বয়সে ছোট, কারণ অল্প বয়স সাধারণত ফিতনা বা বিপর্যয়ের ক্ষেত্র হয়ে থাকে। ((নির্বোধ বুদ্ধিসম্পন্ন)): অর্থাৎ দুর্বল বিবেকসম্পন্ন।" (৩)

২- প্রবৃত্তির অনুসরণ এবং বিরোধীদের ওপর প্রতিশোধ নেওয়ার মাধ্যম হিসেবে তাকফিরকে (কাফির সাব্যস্ত করা) ব্যবহার করা এবং তাদের ঘাড়ের ওপর একে ঝুলন্ত তলোয়ার হিসেবে উঁচিয়ে ধরা হলো তাকফির ছড়িয়ে পড়ার এবং এর বাজার চাঙ্গা হওয়ার আরেকটি কারণ। এটি মূলত মূর্খতার একটি শাখা এবং দ্বীনের দুর্বলতার প্রমাণ।

ইসলামের ইতিহাসে আল্লাহর হেদায়েত এবং তাঁর রাসূলের সুন্নাহ থেকে বিচ্যুত দলগুলো তাদের বিরোধীদের কাফির সাব্যস্ত করতে অভ্যস্ত ছিল, এমনকি এটি বিভিন্ন বিদআতী দলগুলোর একটি বৈশিষ্ট্যে পরিণত হয়েছে। ইবনে তাইমিয়্যাহ বলেন: "বর্জনীয় বিদআতগুলোর মধ্যে একটি হলো এক দল কর্তৃক মুসলমানদের অন্য দলগুলোকে কাফির সাব্যস্ত করা এবং তাদের রক্ত ও সম্পদ হালাল মনে করা … আর এটি সাধারণ বিদআতীদের অবস্থা যারা একে অপরকে কাফির বলে … আর এরা তাদের অন্তর্ভুক্ত যাদের সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {নিশ্চয় যারা নিজেদের দ্বীনকে খণ্ডবিখণ্ড করেছে এবং বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়েছে, তাদের কোনো কাজের দায়িত্ব তোমার নেই} (আল-আনআম: ১৫৯)।" (৪)

তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) আরও বলেন: "যে ব্যক্তি কোনো দাবি করল এবং তাতে মূর্খতাকে লাগামহীনভাবে ছেড়ে দিল সমস্ত আলেমদের বিরোধিতা করে, অতঃপর তাদের বিরোধিতার পাশাপাশি যে ব্যক্তি তার সাথে একমত হয় না তাকে কাফির এবং গোমরাহ সাব্যস্ত করতে চায়, তবে এটি অতিশয় মূর্খ ও পথভ্রষ্ট ব্যক্তির সর্বশ্রেষ্ঠ অপকর্মগুলোর একটি।" (৫)

৩ - সম্ভবত তাকফির ছড়িয়ে পড়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো অনেক মুসলমানের কুফরি কাজে লিপ্ত হওয়া, যেমন আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে গালি দেওয়া অথবা গণমাধ্যম ও অন্যান্য জায়গায় দ্বীন নিয়ে উপহাস বা কটাক্ষ করা।

--------------------------------------------

(১) আল-মুফহিম লিমা আশকালা মিন তালখিস কিতাব মুসলিম (৩/১১৪)।

(২) বুখারী হাদীস নং (৩৬১১) এবং মুসলিম হাদীস নং (১০৬৬) বর্ণনা করেছেন।

(৩) হাশিয়াতুস সিন্দি (৭/১১৯)।

(৪) মাজমুউল ফাতাওয়া (৭/৬৮৪)।

(৫) আর-রদ্দু আলাল বকরি (১/২৬৩)।
(খণ্ড: ১) আত-তাকফীর ওয়া দাওয়াবিতুহু - আস-সাক্কার (পৃষ্ঠা: ২৯)
وأمام هذه الموبقات التي يرتكبها البعض بقصد أو بدونه تثور حمية الشباب المسلم الذي يتقد حماساً وغَيْرة على دين الله وما هُتك من محارمه، فلا يجد - لفرط الجهل - وسيلة للتغيير والإصلاح إلا العزلة عن مجتمعه لما شاع فيه من المنكر، ثم تكفيره لما وقع فيه البعض من الموبقات أو سُكت فيه عنها.

4 - قلة العلماء المعتبرين بسبب موتهم أو تقييد حرية البعض مما يؤدي إلى تنامي ظاهرة أنصاف العلماء الذين ليس لهم كبير دراية في فهم النصوص وتنزيل النصوص الشرعية والقواعد العلمية على واقعٍ ما، فتحقيق المناط في الأحكام أمر لا يحسنه كل أحد، وهو الميدان الذي يتمايز فيه العلماء عن الأدعياء، وهؤلاء الأصاغر يفتون في مسائل وقف عندها الأكابر من أهل العلم، وبها يتصدرون المجالس، وهم للأسف يكثرون في آخر الزمان، حيث تُرزأ بهم أمة الإسلام ((إن من أشراط الساعة أن يلتمس العلم عند الأصاغر)). (1)

يقول ابن قتيبة: "لا يزال الناس بخير ما كان علماؤهم المشايخ، ولم يكن علماؤهم الأحداث، لأن الشيخ قد زالت عنه حِدَّة الشباب ومتعته وعجلته، واستصحب التجربة في أموره، فلا تدخل عليه في علمه الشُّبه، ولا يستميله الهوى، ولا يستزله الشيطان، والحَدَثُ قد تدخل عليه هذه الأمور التي أمنت على الشيخ، فإذا دخلت عليه، وأفتى هلك وأهلك". (2)

وهكذا مع فساد الزمان وتلاحق الأيام يتحقق في المسلمين ما أخبر به النبي صلى الله عليه وسلم حين قال: ((إن الله لا يقبض العلم انتزاعاً ينتزعه من العباد، ولكن يقبض العلم بقبض العلماء، حتى إذا لم يبق عالماً اتخذ الناس رؤوساً جهالاً، فسئلوا، فأفتوا بغير علم، فضلوا وأضلوا)). (3)

وصدق الخليفة الراشد عمر بن الخطاب، وهو يحذر من هؤلاء الأغرار: " ما أخاف على هذه الأمة من مؤمن ينهاه إيمانه، ولا من فاسقٍ بين فسقه،

--------------------------------------------

(1) رواه الطبراني في المعجم الأوسط ح (8140)، واللالكائي في اعتقاد أهل السنة ح (102). وصححه الألباني في السلسلة الصحيحة ح (695 (.

(2) نصيحة أهل الحديث للخطيب البغدادي (93).

(3) رواه البخاري ح (100)، ومسلم ح (2673).
এবং এই সমস্ত মহাপাপের সামনে, যা কেউ কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে বা অনিচ্ছাকৃতভাবে করে থাকে, মুসলিম যুবকদের আত্মমর্যাদাবোধ জাগ্রত হয়, যারা আল্লাহর দ্বীন এবং তাঁর অলঙ্ঘনীয় বিধানসমূহের লঙ্ঘনের প্রতি প্রবল উৎসাহ ও ঈমানী আত্মমর্যাদাবোধে উদ্দীপ্ত। কিন্তু চরম অজ্ঞতার কারণে তারা সমাজ সংস্কার ও পরিবর্তনের কোনো পথ খুঁজে পায় না—সমাজে প্রচলিত অন্যায়ের কারণে সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া ছাড়া। অতঃপর কেউ কেউ যে মহাপাপে লিপ্ত হয়েছে বা যার ব্যাপারে নীরব থাকা হয়েছে, তার ভিত্তিতে তারা সমাজকে কাফির সাব্যস্ত করে।

৪ - নির্ভরযোগ্য আলেমদের মৃত্যু অথবা কারো কারো স্বাধীনতায় সীমাবদ্ধতা আরোপের কারণে তাদের স্বল্পতা দেখা দেওয়া। এর ফলে 'অর্ধ-আলেম' বা নামধারী আলেমদের উত্থান ঘটে, যাদের টেক্সট বা দলীল বুঝতে এবং শরয়ী দলীল ও বৈজ্ঞানিক উসুলসমূহকে বাস্তব পরিস্থিতির ওপর প্রয়োগ করার ক্ষেত্রে গভীর জ্ঞান নেই। কেননা বিধানের কারণ উদ্ঘাটন বা 'তাহকীকুল মানাত' এমন একটি বিষয় যা সবাই নিপুণভাবে করতে পারে না; আর এটাই সেই ক্ষেত্র যেখানে প্রকৃত আলেম এবং দাবিদারদের মধ্যে পার্থক্য স্পষ্ট হয়। এই অল্পবয়সী বা স্বল্পজ্ঞানী লোকেরা এমন সব বিষয়ে ফতোয়া প্রদান করে, যেগুলোর ব্যাপারে বড় বড় আলেমগণও থমকে যেতেন। এর মাধ্যমেই তারা মজলিসগুলোতে প্রধান আসনে আসীন হয়। দুর্ভাগ্যবশত, শেষ যামানায় এদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে, যার কারণে মুসলিম উম্মাহ মুসিবতে পতিত হবে। (রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:) "নিশ্চয়ই কিয়ামতের অন্যতম আলামত হলো—অল্পজ্ঞানী ও কনিষ্ঠদের নিকট জ্ঞান অন্বেষণ করা হবে।" (১)

ইবনে কুতায়বাহ বলেন: "মানুষ ততক্ষণ পর্যন্ত কল্যাণের ওপর থাকবে, যতক্ষণ তাদের আলেমগণ হবেন প্রবীণ ও অভিজ্ঞ, আর যখন তাদের আলেমগণ হবেন অল্পবয়স্ক ও অনভিজ্ঞ, তখন তারা অকল্যাণে পড়বে। কারণ, প্রবীণ ব্যক্তির কাছ থেকে যৌবনের তীব্রতা, ভোগবিলাসিতা ও তাড়াহুড়ো দূর হয়ে গেছে এবং তিনি তার কাজে অভিজ্ঞতার সমন্বয় ঘটিয়েছেন। ফলে তার জ্ঞানে সংশয় প্রবেশ করতে পারে না, প্রবৃত্তি তাকে বিচ্যুত করতে পারে না এবং শয়তান তাকে পদস্খলিত করতে পারে না। পক্ষান্তরে অল্পবয়স্ক ব্যক্তির ক্ষেত্রে এই বিষয়গুলো ঘটার সম্ভাবনা থাকে যা থেকে প্রবীণ ব্যক্তি নিরাপদ। সুতরাং যখন তার মধ্যে এগুলো প্রবেশ করে এবং সে ফতোয়া দেয়, তখন সে নিজেও ধ্বংস হয় এবং অন্যকেও ধ্বংস করে।" (২)

এভাবে যামানার বিপর্যয় ও দিনাতিপাতের সাথে সাথে মুসলমানদের মধ্যে সেই অবস্থার প্রতিফলন ঘটে যার সংবাদ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দিয়েছেন, যখন তিনি বলেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ বান্দাদের মাঝ থেকে জ্ঞানকে ছিনিয়ে নেওয়ার মাধ্যমে উঠিয়ে নেবেন না, বরং আলেমদের মৃত্যু ঘটিয়ে জ্ঞান তুলে নেবেন। এমনকি যখন কোনো আলেম অবশিষ্ট থাকবে না, তখন মানুষ জাহেলদের নেতা হিসেবে গ্রহণ করবে। এরপর তাদের নিকট ফতোয়া চাওয়া হবে এবং তারা জ্ঞান ছাড়াই ফতোয়া দিবে। ফলে তারা নিজেরাও পথভ্রষ্ট হবে এবং অন্যদেরও পথভ্রষ্ট করবে।" (৩)

সত্য বলেছেন খলীফায়ে রাশেদ উমর ইবনুল খাত্তাব, যখন তিনি এই অনভিজ্ঞদের সম্পর্কে সতর্ক করে বলেছিলেন: "আমি এই উম্মতের জন্য সেই মুমিনকে নিয়ে ভয় পাই না যার ঈমান তাকে অন্যায় থেকে বিরত রাখে, আর না সেই ফাসিককে নিয়ে যার পাপাচার প্রকাশ্য,"

--------------------------------------------

(১) তাবারানি মুজামুল আওসাত (৮১৪০) এবং লালকায়ী ইতিকাদ আহলিস সুন্নাহ (১০২)-এ বর্ণনা করেছেন। আলবানী আস-সিলসিলাতুস সহীহাহ (৬৯৫)-এ একে সহীহ বলেছেন।

(২) খতীব বাগদাদীর নাসিহাতু আহলিল হাদীস (৯৩)।

(৩) বুখারী (১০০) এবং মুসলিম (২৬৭৩) বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আত-তাকফীর ওয়া দাওয়াবিতুহু - আস-সাক্কার (পৃষ্ঠা: ৩০)
ولكني أخاف عليها رجلاً قد قرأ القرآن حتى أذلقه بلسانه، ثم تأوله على غير تأويله". (1)

5 - والمتأمل لظاهرة الافتراق لا يغيب عن ناظريه أثر الغلو في ظهور الغلو المقابل، فالخوارج كانوا سبباً في ظهور المرجئة، وأخطاء الجبرية أدت إلى تنامي تيار القدرية، وهذا ما ينطبق على عموم الفرق الإسلامية.

إذ جنوح البعض إفراطاً أو تفريطاً يؤدي إلى تيار عكسي قد يجنح إلى الحقيقة فيقف عندها، وقد يفارقها إلى الطرف الآخر.

لذا كان من أهم الأسباب التي غذّت فكر التكفير في واقعنا المعاصر ما نلقاه من توقف الكثيرين عن تكفير من لا يسع مسلماً إلا تكفيره، إذ وصل الأمر ببعضهم إلى التوقف في إطلاق الكفر على اليهود والنصارى الذين تكاثرت الآيات على تكفيرهم وخلودهم بالنار، فمثل هذا التفريط يمهد الطريق لظهور المخالف الذي يكفر النصارى ومن وافقهم في أعيادهم ومناسباتهم، إلى غير ذلك من الصور.

فمثل هذه الصور يوجد النقيض، وهو المبالغة في التكفير، وشهره سيفاً على المخالفين.

6 - انتشار هذه الظاهرة بين من عرف صلاحه واستقامة سلوكه سبب آخر يغرر بالكثيرين من الذين يعرفون الحق بالرجال، لا الدليل، فيغتر الناس بصلاح هؤلاء، على قلة علمهم، فيرددون ما قالوا من تكفير المسلمين واستباحة دمائهم إحساناً للظن بهم وبحسن عبادتهم، وقد حذر رسول الله صلى الله عليه وسلم من أمثالهم الذين ((يحقر أحدكم صلاته مع صلاتهم، وصيامه مع صيامهم، يقرؤون القرآن لا يجاوز تراقيهم، يمرقون من الدين كما يمرق السهم من الرمية)). (2)

ورغم صلاح الخوارج وحسن تدينهم فإن بعض أهل العلم لم يتردد في تكفيرهم، وإن توقف الجمهور فيه، لكنهم - على كل حال - اتفقوا على

--------------------------------------------

(1) جامع بيان العلم وفضله (2/ 238).

(2) رواه البخاري ح (3610)، ومسلم ح (1064).
"কিন্তু আমি উম্মতের জন্য এমন এক ব্যক্তিকে ভয় করি, যে কুরআন পাঠ করেছে এবং তাতে পারদর্শিতা অর্জন করেছে, অতঃপর সে তার অপব্যাখ্যা করেছে।" (১)

৫ - বিভক্তির এই চিত্রটি যে ব্যক্তি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করবেন, তার দৃষ্টিতে বিপরীতমুখী চরমপন্থা (গুলু) প্রকাশের ক্ষেত্রে এক চরমপন্থার প্রভাব অস্পষ্ট থাকবে না। কেননা খাওয়ারিজরা ছিল মুরজিয়াদের উৎপত্তির কারণ, আর জাবরিয়াদের ভুলগুলো কাদরিয়া চিন্তাধারার প্রসারের দিকে ধাবিত করেছিল। এটি সাধারণ সব ইসলামি ফিরকার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।

কারণ, কারও কারও বাড়াবাড়ি (ইফরাত) বা ছাড়াছাড়ির (তাফরিত) দিকে ঝুঁকে পড়া এমন এক বিপরীত স্রোত তৈরি করে, যা হয়তো সত্যের দিকে ঝুঁকে সেখানে স্থির হয়, অথবা তা অতিক্রম করে অন্য প্রান্তের দিকে চলে যায়।

তাই সমসাময়িক প্রেক্ষাপটে তাকফিরি চিন্তাধারাকে রসদ যোগানো অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো—এমন ব্যক্তিকে কাফির বলতে অনেকের দ্বিধা করা, যাকে কাফির বলা ছাড়া একজন মুসলিমের আর কোনো পথ নেই। এমনকি বিষয়টি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, কেউ কেউ ইহুদি ও খ্রিস্টানদের কাফির বলার ব্যাপারেও বিরত থাকছে, অথচ অসংখ্য আয়াত তাদের কুফরি এবং জাহান্নামে চিরস্থায়ী হওয়ার ব্যাপারে অবতীর্ণ হয়েছে। এই ধরনের শৈথিল্য বা ছাড়াছাড়ি এমন এক বিরুদ্ধপক্ষের উত্থানের পথ প্রশস্ত করে দেয়, যারা খ্রিস্টানদের এবং তাদের উৎসব ও অনুষ্ঠানাদিতে অংশগ্রহণকারীদের কাফির বলে গণ্য করে, এ জাতীয় আরও অনেক বিষয়।

এ জাতীয় চিত্রগুলো এর বিপরীত দিকটি তৈরি করে, আর তা হলো তাকফিরের ক্ষেত্রে অতিরঞ্জন করা এবং বিরোধীদের ওপর একে তলোয়ার হিসেবে ব্যবহার করা।

৬ - যাদের পুণ্য ও আচরণের সঠিকতা সুবিদিত, তাদের মধ্যে এই প্রবণতার বিস্তার এমন অনেকের জন্য বিভ্রান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায় যারা সত্যকে দলিলের পরিবর্তে ব্যক্তির মাপকাঠিতে বিচার করে। ফলে মানুষ তাদের ইলমের স্বল্পতা সত্ত্বেও তাদের নেক আমল দেখে ধোঁকায় পড়ে যায়। তারা তাদের প্রতি সুধারণা পোষণ করে এবং তাদের উত্তম ইবাদত দেখে তাদের অনুসরণে মুসলিমদের কাফির বলা ও তাদের রক্তকে হালাল মনে করার কথাগুলোই পুনরাবৃত্তি করতে থাকে। অথচ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের মতো লোকদের সম্পর্কে সতর্ক করেছেন যারা— "তোমাদের কেউ তাদের নামাজের তুলনায় নিজের নামাজকে তুচ্ছ মনে করবে এবং তাদের রোজার তুলনায় নিজের রোজাকে তুচ্ছ মনে করবে; তারা কুরআন পাঠ করবে কিন্তু তা তাদের কণ্ঠনালীর নিচে নামবে না। তারা দ্বীন থেকে এমনভাবে বেরিয়ে যাবে যেমন শিকারি জন্তুর দেহ ভেদ করে তীর বেরিয়ে যায়।" (২)

খাওয়ারিজদের পুণ্য ও বাহ্যিক দ্বীনদারি থাকা সত্ত্বেও কিছু আলেম তাদের কাফির বলতে দ্বিধা করেননি, যদিও জমহুর (অধিকাংশ) আলেম এ বিষয়ে বিরত থেকেছেন। তবে তারা সর্বাবস্থায় এ বিষয়ে একমত হয়েছেন যে—

--------------------------------------------

(১) জামিউ বায়ানিল ইলমি ওয়া ফাদলিহি (২/২৩৮)।

(২) বুখারি, হাদিস নং ৩৬১০; মুসলিম, হাদিস নং ১০৬৪।
(খণ্ড: ১) আত-তাকফীর ওয়া দাওয়াবিতুহু - আস-সাক্কার (পৃষ্ঠা: ৩১)
ضلالهم وشناعة قولهم، يقول علي رضي الله عنه: (قوم أصابتهم فتنة، فعموا وصموا). (1)

وقال ابن عمر رضي الله عنهما: (هم شرار الخلق) ، وقال: (انطلقوا إلى آيات نزلت في الكفار، فجعلوها على المؤمنين). (2)

فهذه جملة ما يوقع الناس في التكفير وما يؤدي إلى انتشار وبائه، والعاقل إذا عرف الداء أصاب الدواء، وتوخى موارد الزلل والهلاك بمزيد من الوقاية والحذر، حيطة لدينه وطلباً لسلامة آخرته.

--------------------------------------------

(1) رواه عبد الرزاق في مصنفه (10/ 150)، وابن عبد البر في التمهيد (23/ 335).

(2) رواه ابن عبد البر في التمهيد (23/ 335).
তাদের পথভ্রষ্টতা এবং তাদের বক্তব্যের জঘন্যতা সম্পর্কে আলী রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেন: (তারা এমন এক সম্প্রদায় যাদেরকে ফিতনা গ্রাস করেছে, ফলে তারা অন্ধ ও বধির হয়ে গেছে)। (১)

এবং ইবনে উমর রাযিয়াল্লাহু আনহুমা বলেন: (তারা সৃষ্টির মধ্যে নিকৃষ্টতম), এবং তিনি আরও বলেন: (তারা কাফেরদের শানে অবতীর্ণ আয়াতগুলোকে গ্রহণ করে মুমিনদের ওপর প্রয়োগ করেছে)। (২)

এগুলিই হলো সেই সামগ্রিক বিষয় যা মানুষকে তাকফিরের দিকে ধাবিত করে এবং যা এই ব্যাধির বিস্তারে ভূমিকা রাখে। আর বুদ্ধিমান ব্যক্তি যখন রোগ চিহ্নিত করতে পারে তখন সে তার প্রতিকারও খুঁজে পায়, এবং নিজ দ্বীনের সুরক্ষা ও পরকালের নিরাপত্তার আশায় অধিকতর সতর্কতা ও সাবধানতার সাথে পদস্খলন ও ধ্বংসের স্থানগুলো এড়িয়ে চলে।

--------------------------------------------

(১) আব্দুর রাজ্জাক তার ‘মুসান্নাফ’ গ্রন্থে (১০/ ১৫০) এবং ইবনে আব্দুল বার ‘আত-তামহীদ’ গ্রন্থে (২৩/ ৩৩৫) এটি বর্ণনা করেছেন।

(২) ইবনে আব্দুল বার ‘আত-তামহীদ’ গ্রন্থে (২৩/ ৩৩৫) এটি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আত-তাকফীর ওয়া দাওয়াবিতুহু - আস-সাক্কার (পৃষ্ঠা: ৩৩)
‌‌التكفير والفهم الخاطئ للنصوص الشرعية

لعل من أهم ما أوقع بعض المسلمين في فتنة التكفير الفهم الخاطئ لبعض النصوص الشرعية، والجهل بدلالاتها الصحيحة، إذ رأى هؤلاء أن النصوص الشرعية وصفت بعض أصحاب العاصي بالكفر، أو نفت عنهم اسم الإيمان، أو أخبرت باستحقاقهم الخلود في النار، ففهم هؤلاء أنها تشهد على أصحابها بالكفر، وأن هذا الكفر هو الكفر الأكبر المخرج من الملة، فكفَّروا بفهمهم المغلوط عموم المسلمين.

 

أولاً: النصوص التي صرحت بكفر العاصي

جاء في السنة النبوية وصف الكثير من المعاصي بالكفر، ففهم منه بعض أهل البدع وغيرهم من أهل الجهل تكفير أصحاب هذه الذنوب وتلك المعاصي، إذ لم يروا القرآن إلا متحدثاً عن الكفر الأكبر، فقاسوا ما في السنة عليه.

ومن هذه الأحاديث قول النبي صلى الله عليه وسلم: ((اثنتان في الناس هما بهم كفر: الطعن في النسب والنياحة على الميت)). (1)

وقوله صلى الله عليه وسلم: ((إذا قال الرجل لأخيه: يا كافر، فقد باء بها أحدهما)). (2)

وقوله صلى الله عليه وسلم: ((أيما عبد أبق من مواليه فقد كفر، حتى يرجع إليهم)). (3)

وقوله صلى الله عليه وسلم: ((ليس من رجل ادعى إلى غير أبيه وهو يعلمه، إلا كفر)). (4)

ومثله ذم النبي صلى الله عليه وسلم اقتتال المسلمين: ((سباب المسلم فسوق، وقتاله كفر)). (5)

قال الشوكاني وهو يعرض حجة من يفهم كفر أصحاب هذه الذنوب: "فإن قلت: قد ورد في السنة ما يدل على كفر من حلف بغير ملة الإسلام،

--------------------------------------------

(1) رواه البخاري ح (3850)، ومسلم ح (67)، واللفظ له.

(2) سبق تخريجه ص (9).

(3) رواه مسلم ح (68).

(4) رواه البخاري ح (3508)، ومسلم ح (61).

(5) رواه البخاري ح (48)، ومسلم ح (64).
তাকফির এবং শরয়ী দলীলসমূহের ভুল অনুধাবন

সম্ভবত কিছু মুসলিমকে তাকফিরের ফিতনায় নিপতিত করার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কারণগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো কিছু শরয়ী দলীলের ভুল অনুধাবন এবং সেগুলোর সঠিক অর্থ সম্পর্কে অজ্ঞতা। কারণ, তারা দেখেছে যে শরয়ী দলীলসমূহ কোনো কোনো পাপাচারীকে কুফর বিশেষণে বিশেষিত করেছে, অথবা তাদের থেকে ঈমান শব্দটি নাকচ করেছে, অথবা তারা চিরস্থায়ী জাহান্নামী হওয়ার সংবাদ দিয়েছে। ফলে তারা বুঝতে পেরেছে যে, এগুলো তাদের ওপর কুফরের সাক্ষ্য দিচ্ছে এবং এই কুফর হলো 'কুফরে আকবর' (বড় কুফর) যা মিল্লাত থেকে বের করে দেয়। এভাবে তারা তাদের ভুল অনুধাবনের মাধ্যমে সাধারণ মুসলিমদের তাকফির করেছে।

 

প্রথমত: সেই দলীলসমূহ যা পাপাচারীর কুফরের কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছে

সুন্নাহে নববীতে অনেক গুনাহকে কুফর হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। ফলে কিছু বিদআতি এবং অজ্ঞ লোক এগুলো থেকে এই গুনাহ ও পাপাচার সম্পাদনকারীদের তাকফির করার বিষয়টি বুঝে নিয়েছে। কারণ, তারা কুরআনকে কেবল 'কুফরে আকবর' সম্পর্কে আলোচনাকারী হিসেবে দেখেছে, তাই তারা সুন্নাহর বিষয়গুলোকে তার সাথে কিয়াস (তুলনা) করেছে।

এই হাদিসগুলোর মধ্যে রয়েছে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বাণী: "মানুষের মধ্যে দুটি স্বভাব রয়েছে যা তাদের মাঝে কুফর হিসেবে গণ্য: বংশ মর্যাদায় আঘাত করা এবং মৃত ব্যক্তির জন্য উচ্চস্বরে বিলাপ করা।" (১)

এবং তাঁর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বাণী: "যখন কোনো ব্যক্তি তার ভাইকে বলে: 'হে কাফের', তখন তাদের দুজনের একজন এর দ্বারা আক্রান্ত হয়।" (২)

এবং তাঁর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বাণী: "যে গোলাম তার মনিবদের থেকে পালিয়ে গেল, সে কুফর করল, যতক্ষণ না সে তাদের কাছে ফিরে আসে।" (৩)

এবং তাঁর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বাণী: "জেনেবুঝে যে ব্যক্তি নিজেকে তার পিতা ব্যতীত অন্য কারো সন্তান বলে দাবি করে, সে কুফর করল।" (৪)

তেমনিভাবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুসলিমদের পারস্পরিক লড়াইয়ের নিন্দা জানিয়েছেন: "মুসলিমকে গালি দেওয়া ফাসেকী এবং তার সাথে লড়াই করা কুফর।" (৫)

ইমাম শাওকানী (রহ.) যারা এই সব গুনাহে লিপ্তদের কাফের মনে করে তাদের দলিল তুলে ধরতে গিয়ে বলেন: "যদি তুমি বলো: সুন্নাহতে এমন কিছু বর্ণিত হয়েছে যা ইসলাম ছাড়া অন্য ধর্মের নামে শপথকারীর কুফরের ওপর দালালত করে,

--------------------------------------------

(১) বুখারী, হাদিস নং ৩৮৫০; মুসলিম, হাদিস নং ৬৭; শব্দসমূহ তাঁর (মুসলিমের)।

(২) এর তাখরীজ পূর্বে ৯ নং পৃষ্ঠায় অতিবাহিত হয়েছে।

(৩) মুসলিম, হাদিস নং ৬৮।

(৪) বুখারী, হাদিস নং ৩৫০৮; মুসলিম, হাদিস নং ৬১।

(৫) বুখারী, হাদিস নং ৪৮; মুসলিম, হাদিস নং ৬৪।
(খণ্ড: ১) আত-তাকফীর ওয়া দাওয়াবিতুহু - আস-সাক্কার (পৃষ্ঠা: ৩৪)
وورد في السنة المطهرة ما يدل على كفر من كفر مسلماً، كما تقدم وورد في السنة المطهرة إطلاق الكفر على من فعل فعلاً يخالف الشرع … وكل ذلك يفيد أن صدور شيء من هذه الأمور يوجب الكفر، وإن لم يرد قائله أو فاعله الخروج من الإسلام إلى ملة الكفر". (1)

وقد بين أهل العلم أصولاً ينبغي أن يرجع إليها في فهم هذه النصوص:

أولاً: أن ما ورد في السنة من نصوص أطلقت الكفر على أصحاب بعض المعاصي لا يقاس على ما ورد في القرآن الكريم في مثل هذه الإطلاقات، إذ من عادة القرآن أن يطلق وصف الإيمان على أكمل المؤمنين صفات، وكذا أطلق الكفر على أقبح الكافرين فعالاً، فوصفه بالكفر لا يحتمل إلا الكفر الأكبر.

وعليه فقد تقرر عند العلماء التفريق بين إطلاقات الكفر في القرآن وتلك التي في السنة النبوية، يقول الشاطبي: " فكان القرآن آتياً بالغايات تنصيصاً عليها، من حيث كان الحال والوقت يقتضي ذلك، ومنبهاً بها على ما هو دائر بين الطرفين .. فإنما أتى بهما في عبارات مطلقة تصدق على القليل يدل المساق على أن المراد أقصى المحمود أو المذموم في ذلك الإطلاق ". (2)

ثانياً: صحيح أن الأصل في النصوص إجراؤها على ظواهرها، لكن التأويل محتمل في حقها، ويصار إليه منعاً للتعارض، الذي هو قرينة على أن أحد المعنيين غير مراد من النص.

يقول الشاطبي: "والقاعدة في ذلك أن اللفظ يؤخذ على ظاهره ما لم تصرفه قرينة، فإن وجدت قرينة تدل على صرف لفظ الكفر في الحديث عن معناه الأصلي، وهو الكفر الأكبر، أمكن المصير إلى أنه كفر أصغر لثبوت إمكان ذلك في السّنّة الشريفة".

ثالثاً: والنصوص التي احتج بها المكفرون بالذنوب معارضة معانيها الظاهرة بجملة من الحقائق، منها:

- النصوص التي شهدت بالإيمان للموحدين وإن ارتكبوا المعاصي، فإن

--------------------------------------------

(1) السيل الجرار (4/ 578 - 579).

(2) الموافقات (3/ 140 - 141).
পবিত্র সুন্নাহতে এমন বর্ণনা এসেছে যা কোনো মুসলিমকে কাফির সাব্যস্তকারীর কুফরি নির্দেশ করে, যেমনটি পূর্বে অতিবাহিত হয়েছে। পবিত্র সুন্নাহতে এমন ব্যক্তির ওপরও কুফর শব্দ প্রয়োগ করা হয়েছে যে শরীয়ত পরিপন্থী কোনো কাজ করে … এবং এই সব কিছুই নির্দেশ করে যে, এই বিষয়গুলোর কোনো একটির প্রকাশ কুফরকে আবশ্যক করে, যদিও তার বক্তা বা সম্পাদনকারী ইসলাম থেকে বের হয়ে কুফরি ধর্মে যাওয়ার ইচ্ছা পোষণ না করে।" (১)

আর আলেমগণ এমন কিছু মূলনীতি বর্ণনা করেছেন যা এই নসসমূহ (পাঠ্যসমূহ) বোঝার ক্ষেত্রে অনুসরণ করা উচিত:

প্রথমত: সুন্নাহর যে সকল নসে কিছু পাপাচারীর ওপর কুফর শব্দ প্রয়োগ করা হয়েছে, সেগুলোকে পবিত্র কুরআনে বর্ণিত অনুরূপ প্রয়োগের সাথে তুলনা করা যাবে না। কারণ, কুরআনের রীতি হলো ঈমানের গুণকে পরিপূর্ণ ঈমানদারদের জন্য প্রয়োগ করা, তেমনিভাবে কুফরের প্রয়োগ করা হয়েছে নিকৃষ্টতম কাফিরদের কর্মকাণ্ডের ওপর। তাই কুরআনে বর্ণিত কুফরের গুণ 'কুফরে আকবর' (বড় কুফর) ছাড়া অন্য কিছু হওয়ার সম্ভাবনা রাখে না।

সেই ভিত্তিতে আলেমদের নিকট কুরআনে বর্ণিত কুফর এবং সুন্নাহতে বর্ণিত কুফর প্রয়োগের মধ্যে পার্থক্য করার বিষয়টি স্থির হয়েছে। ইমাম শাতবি বলেন: "কুরআন কোনো বিষয়ের চূড়ান্ত পর্যায় বর্ণনা করে, যেহেতু তৎকালীন অবস্থা ও সময় তার দাবি রাখত, এবং এর মাধ্যমে উভয় প্রান্তের মধ্যবর্তী বিষয়গুলোর প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে... ফলে এটি এমন সাধারণ শব্দাবলীতে এসেছে যা সামান্যর ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হয়, তবে প্রেক্ষাপট নির্দেশ করে যে, এই প্রয়োগের ক্ষেত্রে উদ্দেশ্য হলো প্রশংসনীয় বা নিন্দনীয় বিষয়ের চূড়ান্ত পর্যায়।" (২)

দ্বিতীয়ত: এটি সত্য যে নসসমূহের ক্ষেত্রে মূলনীতি হলো সেগুলোকে বাহ্যিক অর্থের ওপর রাখা, কিন্তু এগুলোর ক্ষেত্রে ব্যাখ্যার (তাবিল) সম্ভাবনা থাকে। আর বিরোধ নিরসনের জন্য ব্যাখ্যার আশ্রয় নেওয়া হয়, যা মূলত এই কথার আলামত যে, নস থেকে দুটি অর্থের একটি (বাহ্যিক অর্থটি) উদ্দেশ্য নয়।

ইমাম শাতবি বলেন: "এক্ষেত্রে নিয়ম হলো শব্দকে তার বাহ্যিক অর্থেই গ্রহণ করা হবে যতক্ষণ না কোনো আলামত তাকে অন্য দিকে সরিয়ে নেয়। সুতরাং যদি এমন কোনো আলামত পাওয়া যায় যা হাদীসে বর্ণিত কুফর শব্দটিকে তার আসল অর্থ তথা 'বড় কুফর' থেকে সরিয়ে নেওয়ার ইঙ্গিত দেয়, তবে তা 'ছোট কুফর' হওয়ার দিকে মত দেওয়া সম্ভব, যেহেতু সুন্নাহে এর সম্ভাবনা প্রমাণিত।"

তৃতীয়ত: গুনাহের কারণে যারা কাফির সাব্যস্ত করে তারা যে সকল নস দিয়ে দলিল পেশ করে, সেগুলোর বাহ্যিক অর্থ কিছু ধ্রুব সত্যের সাথে সাংঘর্ষিক, তার মধ্যে রয়েছে:

- সেই সকল নস যা একত্ববাদীদের জন্য ঈমানের সাক্ষ্য দেয় যদিও তারা পাপাচার করে থাকে, কারণ

--------------------------------------------

(১) আস-সায়লুল জাররার (৪/ ৫৭৮ - ৫৭৯)।

(২) আল-মুওয়াফাকাত (৩/ ১৪০ - ১৪১)।
(খণ্ড: ১) আত-তাকফীর ওয়া দাওয়াবিতুহু - আস-সাক্কার (পৃষ্ঠা: ৩৫)
ذلك لا يخرجهم عن الإيمان، بل يضعهم تحت المشيئة الإلهية، ولو كفروا لاستحقوا النار، يقول الله: {إن الله لا يغفر أن يشرك به ويغفر ما دون ذلك لمن يشاء} (النساء: 48)، فكل المعاصي المذكورة في الأحاديث المشكلة هي دون الشرك بالله، وهي تحت المشيئة، ففاعلها إذاً ليس بكافر، وعليه فمعناها الظاهر غير مراد.

ولو كان الظاهر لازماً على كل حال للزم رجم أو جلد المتعطرة المستشرفة على الناس لوصف رسول الله صلى الله عليه وسلم لها بأنها زانية (1)، ومثله قوله صلى الله عليه وسلم: ((المستبّان شيطانان، يتهاتران، ويتكاذبان)). (2)، إذ لا يصح أن يعتبر المتسابان من ذرية إبليس، كما يفهم من ظاهر اللفظ.

- ومثله أحاديث كثيرة شهدت بالإسلام لمن قال لا إله إلا الله مخلصاً بها قلبه، منها قوله صلى الله عليه وسلم: ((ما من عبد قال: لا إله إلا الله ثم مات على ذلك إلا دخل الجنة. قلت: وإن زنى، وإن سرق؟ قال: وإن زنى، وإن سرق. قلت: وإن زنى، وإن سرق؟ قال: وإن زنى، وإن سرق. قلت: وإن زنى، وإن سرق؟ قال: وإن زنى، وإن سرق، على رغم أنف أبي ذر)). (3)

إن الله ونبيه صلى الله عليه وسلم شهدا لأصحاب هذه المعاصي بالإسلام، فالقاتل لأخيه المسلم سماه القرآن أخاً للمقتول، في قوله: {فمن عُفي له من أخيه شيء فاتباع بالمعروف وأداء إليه بإحسانٍ} (البقرة: 178)، وكذا اعتبر الطائفتين المقتتلتين من المؤمنين فقال: {وإن طائفتان من المؤمنين اقتتلوا} (الحجرات: 9).

وعليه فقوله صلى الله عليه وسلم: ((لا ترجعوا بعدي كفاراً يضرب بعضكم رقاب بعض)) (4)، وقوله ((سباب المسلم فسوق، وقتاله كفر)). (5) على غير ظاهره، وينصرف فيه لفظ الكفر إلى الكفر الأصغر الذي لا يخرج من الملة.

ومثله في قوله صلى الله عليه وسلم عن آتي الكاهن او العراف غير المصدق له: ((من أتى

--------------------------------------------

(1) انظره في النسائي ح (5126)، وأبي داود ح (4173)، وصححه الألباني في صحيح النسائي ح (4737).

(2) رواه أحمد في المسند ح (17029)، والبخاري في الأدب المفرد ح (439)، وابن حبان في صحيحه ح (5819) وصححه الألباني في صحيح الأدب المفرد ح (330).

(3) رواه البخاري ح (5827)، ومسلم ح (94).

(4) رواه البخاري ح (48)، ومسلم ح (64).

(5) رواه البخاري ح (6166)، ومسلم ح (65).
এটি তাদের ঈমান থেকে বের করে দেয় না, বরং তাদের ঐশী ইচ্ছার অধীনে রাখে। যদি তারা কাফির হতো তবে তারা জাহান্নামের যোগ্য হতো। আল্লাহ বলেন: {নিশ্চয় আল্লাহ তাঁর সাথে শরীক করাকে ক্ষমা করেন না এবং এছাড়া অন্য যা কিছু আছে তা যার জন্য ইচ্ছা ক্ষমা করেন} (আন-নিসা: ৪৮)। অতএব সমস্যাযুক্ত হাদীসগুলোতে উল্লিখিত সকল পাপাচার শিরকের নিচে এবং তা আল্লাহর ইচ্ছাধীন। সুতরাং এর সম্পাদনকারী কাফির নয় এবং এর দ্বারা শাব্দিক বা বাহ্যিক অর্থ উদ্দেশ্য নয়।

যদি শাব্দিক অর্থ সব ক্ষেত্রে অপরিহার্য হতো, তবে মানুষের সামনে সুগন্ধি মেখে নিজেকে প্রদর্শনকারী মহিলার ওপর রজম বা বেত্রাঘাত করা আবশ্যক হতো, কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে ব্যভিচারিণী হিসেবে বর্ণনা করেছেন (১)। অনুরূপ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: ((পরস্পর গালিগালাজকারী দুজন হলো শয়তান, যারা একে অপরের প্রতি কুৎসা রটায় এবং একে অপরের প্রতি মিথ্যাচার করে)) (২)। কেননা গালিগালাজকারী দুজনকে ইবলিসের বংশধর গণ্য করা সঠিক নয়, যেমনটি শব্দের বাহ্যিক রূপ থেকে বোঝা যায়।

- এর অনুরূপ আরও অনেক হাদীস রয়েছে যা একনিষ্ঠভাবে 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' পাঠকারীর জন্য ইসলামের সাক্ষ্য দেয়। তার মধ্যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: ((এমন কোনো বান্দা নেই যে লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলবে এবং তারপর সেই অবস্থায় মৃত্যুবরণ করবে, কিন্তু সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। আমি বললাম: যদিও সে ব্যভিচার করে এবং যদিও সে চুরি করে? তিনি বললেন: যদিও সে ব্যভিচার করে এবং যদিও সে চুরি করে। আমি বললাম: যদিও সে ব্যভিচার করে এবং যদিও সে চুরি করে? তিনি বললেন: যদিও সে ব্যভিচার করে এবং যদিও সে চুরি করে। আমি বললাম: যদিও সে ব্যভিচার করে এবং যদিও সে চুরি করে? তিনি বললেন: যদিও সে ব্যভিচার করে এবং যদিও সে চুরি করে—আবু যারের নাসিকা ধূসরিত হওয়া সত্ত্বেও (অর্থাৎ আবু যারের অনিচ্ছা সত্ত্বেও))) (৩)।

নিশ্চয়ই আল্লাহ এবং তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই পাপাচারীদের জন্য ইসলামের সাক্ষ্য দিয়েছেন। যেমন মুসলিম ভাইকে হত্যাকারীকে কুরআন নিহত ব্যক্তির ভাই হিসেবে অভিহিত করেছে, আল্লাহর বাণীতে: {অতঃপর যার জন্য তার ভাইয়ের পক্ষ থেকে কিছুটা ক্ষমা করা হয়, তবে যেন প্রচলিত নিয়ম অনুসরণ করা হয় এবং অনুগ্রহের সাথে তাকে আদায় করা হয়} (আল-বাকারাহ: ১৭৮)। অনুরূপভাবে তিনি (আল্লাহ) যুদ্ধরত দুই দলকে মুমিনদের অন্তর্ভুক্ত গণ্য করেছেন। তিনি বলেছেন: {যদি মুমিনদের দুই দল যুদ্ধে লিপ্ত হয়} (আল-হুজুরাত: ৯)।

এর প্রেক্ষিতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: ((তোমরা আমার পরে কাফির হয়ে ফিরে যেও না যে, একে অপরের গর্দান উঁচিয়ে আঘাত করবে)) (৪), এবং তাঁর বাণী: ((মুসলিমকে গালি দেওয়া ফাসিকি এবং তার সাথে যুদ্ধ করা কুফরি)) (৫)—এর বাহ্যিক অর্থ উদ্দেশ্য নয়। এখানে কুফর শব্দটির দ্বারা ছোট কুফরকে (কুফরে আসগর) বোঝানো হয়েছে যা মিল্লাত বা ইসলাম থেকে বের করে দেয় না।

অনুরূপভাবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণীতে গণক বা অতীন্দ্রিয়বাদীর কাছে আগমনকারী সম্পর্কে বলা হয়েছে যে তাকে বিশ্বাস করেনি: ((যে ব্যক্তি এল

--------------------------------------------

(১) এটি নাসায়ীতে দেখুন হাদিস নং (৫১২৬), আবু দাউদে হাদিস নং (৪১৭৩) এবং আলবানী একে সহীহ নাসায়ীতে সহীহ বলেছেন হাদিস নং (৪৭৩৭)।

(২) এটি আহমদ মুসনাদে বর্ণনা করেছেন হাদিস নং (১৭০২৯), বুখারী আদাবুল মুফরাদে হাদিস নং (৪৩৯), ইবনে হিব্বান তাঁর সহীহে হাদিস নং (৫৮১৯) এবং আলবানী একে সহীহ আদাবুল মুফরাদে সহীহ বলেছেন হাদিস নং (৩৩০)।

(৩) বুখারী বর্ণনা করেছেন হাদিস নং (৫৮২৭), মুসলিম হাদিস নং (৯৪)।

(৪) বুখারী বর্ণনা করেছেন হাদিস নং (৪৮), মুসলিম হাদিস নং (৬৪)।

(৫) বুখারী বর্ণনা করেছেন হাদিস নং (৬১৬৬), মুসলিম হাদিস নং (৬৫)।
(খণ্ড: ১) আত-তাকফীর ওয়া দাওয়াবিতুহু - আস-সাক্কার (পৃষ্ঠা: ৩৬)
عرافاً فسأله عن شيء، لم تقبل له صلاة أربعين يوماً)) (1)، فهو يفيد إسلام من أتى العراف - غير المصدق له -، بدليل قبول صلواته بعد الأربعين يوماً، ويحمل حديث تكفير آتي الكاهن على الكفر الأصغر جمعاً بين الحديثين.

قال المناوي في شرح هذا الحديث: "تمسك به الخوارج على أصولهم الفاسدة في التكفير بالذنوب، ومذهب أهل السنة أنه لا يكفر، فمعناه قد كفر النعمة أي سترها، فإن اعتقد صدقه [أي الكاهن أو العرّاف] في دعواه الاطلاع على الغيب كفر حقيقة". (2)

كما أمر الله بإقامة الحدود على القاتل وغيره من أصحاب الذنوب، كل بقدره، وهو شهادة لأهلها بالإسلام، ولو كان الزاني قد خرج من الإسلام بزناه لقتل حداً على كل حال.

رابعاً: كما صرف العلماء هذه النصوص إلى أن المراد فيها التغليظ أي أنها من جنس أفعال الكفار أو أريد منها أن استحلال هذه الذنوب هو من الكفر الأكبر، لا أن مجرد ارتكابها منه.

قال أبو عبيد بن سلام: "وأما الآثار المرويات بذكر الكفر والشرك ووجوبهما بالمعاصي، فإن معناها عندنا ليست تثبت على أهلها كفراً ولا شركاً يزيلان الإيمان عن صاحبه، وإنما وجوهها: أنها من الأخلاق والسنن التي عليها الكفار والمشركون". (3)

قال المباركفوري: "قوله: ((من أتى حائضاً أو امرأةً في دبرها أو كاهنًا فقد كفر بما أنزل على محمّدٍ)). الظّاهر أنّه محمول على التّغليظ والتّشديد كما قاله التّرمذيّ، وقيل: إن كان المراد الإتيان باستحلالٍ وتصديقٍ فالكفر محمول على ظاهره، وإن كان بدونهما فهو على كفران النّعمة". (4)

قال ابن القيم: "والقصد: أن المعاصي كلها من نوع الكفر الأصغر، فإنها

--------------------------------------------

(1) رواه مسلم ح (2230).

(2) فيض القدير (6/ 23).

(3) الإيمان (43).

(4) تحفة الأحوذي (1/ 355).
"গণকের কাছে এলো এবং তাকে কোনো বিষয়ে জিজ্ঞাসা করল, তবে তার চল্লিশ দিনের সালাত কবুল হবে না" (১); এটি সেই ব্যক্তির ইসলাম বহাল থাকার বিষয়টিকে নির্দেশ করে যে গণকের কাছে এসেছে—কিন্তু তাকে বিশ্বাস করেনি—এর প্রমাণ হলো চল্লিশ দিন পর তার সালাত কবুল হওয়া। আর গণকের কাছে আগমনকারীর কাফির হওয়া বিষয়ক হাদিসটিকে উভয় হাদিসের মধ্যে সমন্বয় সাধনের লক্ষ্যে ছোট কুফরের (কুফরে আসগর) ওপর প্রয়োগ করা হবে।

আল-মুনাউই এই হাদিসের ব্যাখ্যায় বলেন: "খারিজিরা তাদের পাপের কারণে কাফির সাব্যস্ত করার ভ্রান্ত মূলনীতির ওপর ভিত্তি করে একে আঁকড়ে ধরেছে। অথচ আহলুস সুন্নাহর মাযহাব হলো সে কাফির হবে না। এর অর্থ হলো সে নিয়ামতের কুফরি করেছে অর্থাৎ তা গোপন করেছে। তবে যদি সে গায়িব বা অদৃশ্যের সংবাদ জানার দাবিতে তাকে [অর্থাৎ গণক বা জ্যোতিষীকে] সত্যবাদী বলে বিশ্বাস করে, তবে সে প্রকৃতপক্ষেই কাফির হয়ে যাবে।" (২)

যেমন আল্লাহ হত্যাকারী এবং অন্যান্য পাপীদের ওপর তাদের অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী হদ বা দণ্ডবিধি কার্যকর করার নির্দেশ দিয়েছেন। এটি তাদের জন্য ইসলামেরই সাক্ষ্য। যদি ব্যভিচারী তার ব্যভিচারের কারণে ইসলাম থেকে বের হয়ে যেত, তবে তাকে যেকোনো অবস্থাতেই হদ হিসেবে হত্যা করা হতো।

চতুর্থত: আলেমগণ এই দলীলগুলোকে কঠোরতা আরোপের অর্থে প্রয়োগ করেছেন। অর্থাৎ এগুলো কাফিরদের কর্মের প্রকৃতির অন্তর্ভুক্ত অথবা এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো এই পাপগুলোকে বৈধ বা হালাল মনে করা বড় কুফর (কুফরে আকবর)-এর অন্তর্ভুক্ত, কেবল সেগুলো সম্পাদন করাই কুফর নয়।

আবু উবাইদ বিন সালাম বলেন: "আর কুফর ও শিরকের উল্লেখ থাকা এবং পাপাচারের কারণে তা অবধারিত হওয়া সম্পর্কিত যেসব বর্ণনা রয়েছে, আমাদের নিকট সেগুলোর অর্থ এই নয় যে, তা সম্পাদনকারীর ওপর এমন কুফর বা শিরক সাব্যস্ত করে যা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ঈমানকে মিটিয়ে দেয়। বরং এগুলোর স্বরূপ হলো: এগুলো সেই চরিত্র এবং রীতিনীতির অন্তর্ভুক্ত যার ওপর কাফির ও মুশরিকরা প্রতিষ্ঠিত।" (৩)

আল-মুবারকপুরী বলেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: ((যে ব্যক্তি কোনো ঋতুমতী মহিলার সাথে অথবা কোনো মহিলার মলদ্বারে সঙ্গম করল কিংবা কোনো গণকের কাছে আসল, সে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর যা অবতীর্ণ হয়েছে তার সাথে কুফরি করল))। এর প্রকাশ্য অর্থ হলো এটিকে কঠোরতা ও ধমক প্রদানের ওপর প্রয়োগ করা হবে, যেমনটি ইমাম তিরমিজি বলেছেন। আবার বলা হয়েছে: যদি এর দ্বারা উদ্দেশ্য হয় একে হালাল মনে করে সম্পাদন করা এবং বিশ্বাস করা, তবে 'কুফর' শব্দটি তার প্রকাশ্য বা প্রকৃত অর্থেই ব্যবহৃত হবে। আর যদি তা না হয়, তবে এটি নিয়ামতের কুফরি (অকৃতজ্ঞতা) হিসেবে গণ্য হবে।" (৪)

ইবনুল কাইয়্যিম বলেন: "উদ্দেশ্য হলো: সকল পাপাচারই ছোট কুফরের (কুফরে আসগর) অন্তর্ভুক্ত, কারণ সেগুলো...

--------------------------------------------

(১) মুসলিম কর্তৃক বর্ণিত, হাদিস নং (২২৩০)।

(২) ফয়জুল কাদির (৬/ ২৩)।

(৩) আল-ঈমান (৪৩)।

(৪) তুহফাতুল আহওয়াযী (১/ ৩৫৫)।
(খণ্ড: ১) আত-তাকফীর ওয়া দাওয়াবিতুহু - আস-সাক্কার (পৃষ্ঠা: ৩৭)
ضد الشكر، الذي هو العمل بالطاعة، فالسعي إما شكر وإما كفر، وإما ثالث لا من هذا ولا من هذا". (1)

وعن كفر من ادعى لغير أبيه قال النووي: " فيه تأويلان: أحدهما أنّه في حقّ المستحلّ. والثّاني: أنّه كفر النّعمة والإحسان وحقّ الله تعالى ، وحقّ أبيه ، وليس المراد الكفر الّذي يخرجه من ملّة الإسلام. وهذا كما قال صلى الله عليه وسلم ((يكفرن)) (2) ، ثمّ فسّره صلى الله عليه وسلم بكفرانهنّ الإحسان وكفران العشير". (3)

قال الحافظ ابن حجر: "وقد ورد الكفر في الشرع بمعنى جحد النعم، وترك شكر المنعم، والقيام بحقه". (4)

إذاً الجهل بدلالة لفظ الكفر في الشرع أوقع الغلاة في تكفير المسلمين لإتيانهم بعض المعاصي التي وسم الله فاعلها بالكفر، أي الكفر الأصغر، وجمع النصوص إلى بعضها كفيل برفع شبهة المكفِّرين لكل من أطلق عليه الشرع كلمة الكفر، إذ المفهوم الخاطئ لهذا الإطلاق يجعل نصوص الشرع متعارضة متناقضة، والحق أن النصوص الشرعية يصدق بعضها بعضاً، والواجب جمع النصوص بعضها إلى بعض، وإعمالها جميعاً بمزيد من التبصر في دلالات ألفاظها ومآلات عباراتها.

 

ثانياً: النصوص التي صرحت باستحقاق العاصي للنار أو حرمت عليه الجنة

ويحتج أهل التكفير بالمعاصي بآيات القرآن في مواضع متعددة من كتاب الله، شهد فيها أن معصية الله ورسوله تُدخل النار وتكتب للعاصي الخلود فيها كقوله تعالى: {ومن يعص الله ورسوله ويتعد حدوده يدخله ناراً خالداً فيها وله عذاب مهين النساء} (النساء: 14)، وقوله تعالى: {ومن يعص الله ورسوله فإن له نار جهنم خالدين فيها أبداً} (الجن: 23). وقوله تعالى: {بلى من كسب سيئة وأحاطت به خطيئته فأولئك أصحاب النار هم فيها خالدون} (البقرة: 81)، ونحوه قوله تعالى

--------------------------------------------

(1) مدارج السالكين (1/ 337).

(2) رواه البخاري ح (29).

(3) شرح النووي على مسلم (2/ 50).

(4) فتح الباري (10/ 466).
কৃতজ্ঞতার বিপরীত, যা হলো আনুগত্যের সাথে আমল করা; সুতরাং প্রচেষ্টা হয় কৃতজ্ঞতা, নয়তো অকৃতজ্ঞতা (কুফর), অথবা এমন তৃতীয় কোনো বিষয় যা এর কোনোটিই নয়।" (১)

আর যে ব্যক্তি নিজেকে নিজের পিতা ব্যতীত অন্যের সন্তান বলে দাবি করে তার কুফরি সম্পর্কে ইমাম নববী বলেন: "এর দুটি ব্যাখ্যা রয়েছে: একটি হলো এটি সেই ব্যক্তির ক্ষেত্রে যে একে হালাল মনে করে। দ্বিতীয়টি হলো, এটি নেয়ামত, অনুগ্রহ, মহান আল্লাহর হক এবং তার পিতার হকের প্রতি অকৃতজ্ঞতা; এখানে এমন কুফর উদ্দেশ্য নয় যা তাকে ইসলাম থেকে বহিষ্কার করে দেয়। এটি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণীর মতো যখন তিনি বলেছিলেন 'তারা অকৃতজ্ঞতা (কুফর) করে' (২), এরপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর ব্যাখ্যা দিয়েছেন ইহসানের প্রতি অকৃতজ্ঞতা এবং স্বামীর প্রতি অকৃতজ্ঞতা হিসেবে।" (৩)

হাফেজ ইবনে হাজার বলেন: "শরিয়তে কুফর শব্দটি নেয়ামত অস্বীকার করা, নেয়ামতদাতার কৃতজ্ঞতা বর্জন করা এবং তাঁর হক আদায় না করার অর্থেও ব্যবহৃত হয়েছে।" (৪)

সুতরাং শরিয়তে কুফর শব্দের তাৎপর্য সম্পর্কে অজ্ঞতা চরমপন্থীদের মুসলিমদের কাফের সাব্যস্ত করার পথে পরিচালিত করেছে ওইসব গুনাহের কারণে যেগুলোর কর্তাকে আল্লাহ কুফরি বলে অভিহিত করেছেন, অর্থাৎ ছোট কুফর (কুফর আসগর)। সমস্ত দলিলকে একত্রিত করাই সেই সব তাকফিরকারীদের সংশয় নিরসনের জন্য যথেষ্ট যারা শরিয়তে কুফর শব্দের যেকোনো প্রয়োগকেই বড় কুফর মনে করে; কারণ এই প্রয়োগের ভুল অর্থ গ্রহণ শরিয়তের দলিলসমূহকে একে অপরের সাথে সাংঘর্ষিক ও স্ববিরোধী করে তোলে। অথচ সত্য হলো এই যে, শরিয়তের দলিলসমূহ একে অপরকে সত্যায়ন করে। তাই আবশ্যিক দায়িত্ব হলো দলিলসমূহকে একত্রে দেখা এবং শব্দগুলোর তাৎপর্য ও বাণীর পরিণতির ওপর গভীর দূরদৃষ্টির সাথে সেগুলোকে কার্যকর করা।

 

দ্বিতীয়ত: ওইসব দলিল যাতে পাপিষ্ঠের জাহান্নামপ্রাপ্তি স্পষ্ট করা হয়েছে অথবা তার জন্য জান্নাত হারাম করা হয়েছে

গুনাহের কারণে কাফের সাব্যস্তকারী দল মহান আল্লাহর কিতাবের বিভিন্ন স্থানের কুরআনের আয়াত দিয়ে দলিল পেশ করে থাকে, যেখানে সাক্ষ্য দেওয়া হয়েছে যে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অবাধ্যতা জাহান্নামে প্রবেশ করাবে এবং পাপিষ্ঠের জন্য সেখানে চিরকাল থাকা অবধারিত করবে। যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অবাধ্য হয় এবং তাঁর নির্ধারিত সীমা অতিক্রম করে, তিনি তাকে আগুনে প্রবেশ করাবেন যেখানে সে চিরকাল থাকবে এবং তার জন্য রয়েছে লাঞ্ছনাকর শাস্তি} (আন-নিসা: ১৪), এবং মহান আল্লাহর বাণী: {আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অবাধ্য হয়, তবে তার জন্য রয়েছে জাহান্নামের আগুন, সেখানে তারা চিরকাল থাকবে} (আল-জিন: ২৩)। এবং মহান আল্লাহর বাণী: {হ্যাঁ, যে ব্যক্তি মন্দ উপার্জন করেছে এবং তার পাপ তাকে পরিবেষ্টন করে নিয়েছে, তারাই আগুনের অধিবাসী, তারা সেখানে চিরকাল থাকবে} (আল-বাকারাহ: ৮১), এবং মহান আল্লাহর অনুরূপ বাণী—

--------------------------------------------

(১) মাদারিজুস সালিকিন (১/ ৩৩৭)।

(২) বুখারি কর্তৃক বর্ণিত, হাদিস নং (২৯)।

(৩) মুসলিমের ওপর নববীর শারহ (২/ ৫০)।

(৪) ফাতহুল বারী (১০/ ৪৬৬)।