(খণ্ড: ১)
শারহু ইলালিত তিরমিযী
(পৃষ্ঠা: -)
شرح علل الترمذي القسم: علوم الحديث
الكتاب: شرح علل الترمذي
المؤلف: زين الدين عبد الرحمن بن أحمد بن رجب بن الحسن، السَلامي، البغدادي، ثم الدمشقي، الحنبلي (ت 795هـ)
المحقق: الدكتور همام عبد الرحيم سعيد
الناشر: مكتبة المنار - الزرقاء - الأردن
الطبعة: الأولى، 1407هـ - 1987م
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع ومعه مقدمة المحقق د همام سعيد]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
শারহু ইলালিত তিরমিযী বিভাগ: হাদীস শাস্ত্র
বই: শারহু ইলালিত তিরমিযী
লেখক: যয়নুদ্দীন আব্দুর রহমান বিন আহমদ বিন রজব বিন আল-হাসান, আস-সালামী, আল-বাগদাদী, অতঃপর আদ-দামেশকী, আল-হাম্বলী (মৃত্যু ৭৯৫ হিজরী)
মুহাক্কিক: ডক্টর হুমাম আব্দুর রহীম সাঈদ
প্রকাশক: মাকতাবাতুল মানার - যারকা - জর্ডান
সংস্করণ: প্রথম, ১৪০৭ হিজরী - ১৯৮৭ খ্রিস্টাব্দ
[বইয়ের পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রণ কপির অনুরূপ এবং এতে মুহাক্কিক ডক্টর হুমাম সাঈদের ভূমিকা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে]
শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
শারহু ইলালিত তিরমিযী
(পৃষ্ঠা: -)
ـ[شرح علل الترمذي]ـ
المؤلف: زين الدين عبد الرحمن بن أحمد بن رجب بن الحسن، السَلامي، البغدادي، ثم الدمشقي، الحنبلي (المتوفى: 795هـ)
المحقق: الدكتور همام عبد الرحيم سعيد
الناشر: مكتبة المنار - الزرقاء - الأردن
الطبعة: الأولى، 1407هـ - 1987م
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع ومعه مقدمة المحقق د همام سعيد]
[শারহু ইলালিত তিরমিযী]
লেখক: যাইনউদ্দীন আবদুর রহমান বিন আহমদ বিন রজব বিন আল-হাসান, আস-সালামি, আল-বাগদাদি, অতঃপর আদ-দিমাশকি, আল-হাম্বলি (মৃত্যু: ৭৯৫ হিজরি)
সম্পাদক: ডক্টর হুমাম আবদুর রহিম সাঈদ
প্রকাশক: মাকতাবাতুল মানার - যারকা - জর্ডান
সংস্করণ: প্রথম, ১৪০৭ হিজরি - ১৯৮৭ খ্রিস্টাব্দ
[বইয়ের নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ এবং এতে সম্পাদক ডক্টর হুমাম সাঈদের ভূমিকা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে]
(খণ্ড: ১)
শারহু ইলালিত তিরমিযী
(পৃষ্ঠা: ১৫)
القسم الأول: مقدمة شرح علل الترمذي للدكتور همام عبد الرحيم سعيد
الباب الأول شرح علل الترمذي لابن رجب الحنبلي وفيه أربعة فصول:
الفصل الأول: في العلة وميدانها وأشهر علماء العلل.
الفصل الثاني: في التعريف بأصل الكتاب وصاحبه، ومنهج ابن رجب فيه ومصادره في العلل.
الفصل الثالث: دراسة حول علم العلل، من خلال كتاب ابن رجب.
الفصل الرابع: دراسة في مصطلح الحديث، من خلال كتاب شرح علل الترمذي.
প্রথম অংশ: ড. হুমাম আবদুর রহিম সাঈদ কর্তৃক শারহু ইলালিত তিরমিযীর ভূমিকাপ্রথম অধ্যায়: ইবনে রজব আল-হাম্বলী কৃত শারহু ইলালিত তিরমিযী এতে চারটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম পরিচ্ছেদ: ইল্লাত (হাদিসের সূক্ষ্ম ত্রুটি), এর ক্ষেত্র এবং ইল্লাত শাস্ত্রের প্রসিদ্ধ আলেমগণ প্রসঙ্গে।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: মূল কিতাব ও এর লেখকের পরিচিতি, এবং এতে ইবনে রজবের অনুসৃত পদ্ধতি ও ইল্লাত শাস্ত্রে তাঁর উৎসসমূহ প্রসঙ্গে।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: ইবনে রজবের কিতাবের আলোকে ইলমে ইলাল সংক্রান্ত গবেষণা।
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: শারহু ইলালিত তিরমিযী কিতাবের আলোকে হাদিসের পরিভাষা সংক্রান্ত আলোচনা।
(খণ্ড: ১)
শারহু ইলালিত তিরমিযী
(পৃষ্ঠা: ১৬)
الفصل الأول مقدمة في العلة وميدانها وأشهر علماء العلل وفيه مبحثان:
المبحث الأول: العلة في اللغة والاصطلاح، وفيه مطلبان:
المطلب الأول: العلة في اللغة.
المطلب الثاني: العلة في الاصطلاح.
المبحث الثاني: ميدان علم العلل، وغايته وأشهر علمائه ومصنفاته:
تمهيد،
المطلب الأول: ميدان علم العلل وغايته.
المطلب الثاني: أهميته واتساعه.
المطلب الثالث: أشهر العلماء المشتغلين بالعلل.
প্রথম অধ্যায়: ইল্লত (সূক্ষ্ম ত্রুটি), এর ক্ষেত্র এবং ইল্লত শাস্ত্রের প্রসিদ্ধ আলেমদের ভূমিকা এতে দুটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম পরিচ্ছেদ: আভিধানিক ও পারিভাষিক সংজ্ঞায় ইল্লত; এতে দুটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম অনুচ্ছেদ: আভিধানিক অর্থে ইল্লত।
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: পারিভাষিক অর্থে ইল্লত।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: ইল্লত শাস্ত্রের ক্ষেত্র, উদ্দেশ্য এবং এর প্রসিদ্ধ আলেম ও গ্রন্থসমূহ:
প্রস্তাবনা,
প্রথম অনুচ্ছেদ: ইল্লত শাস্ত্রের ক্ষেত্র ও উদ্দেশ্য।
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: এর গুরুত্ব ও ব্যাপকতা।
তৃতীয় অনুচ্ছেদ: ইল্লত শাস্ত্রে নিয়োজিত প্রসিদ্ধ আলেমগণ।
(খণ্ড: ১)
শারহু ইলালিত তিরমিযী
(পৃষ্ঠা: ২০)
والثالث: العلة المرض، وصاحبها معتل، قال ابن الأعرابي: "عل المريض يعل فهو عليل".
وقال في القاموس: "اعتله وأعله الله - تعالى - فهو معل وعليل، ولا تقل: معلول والمتكلمون يقولونها، ولست منه على ثلج". وقال في اللسان: إنما هو أعله الله فهو معل، إلا أن يكون على ما ذهب إليه سيبويه من قولهم مجنون ومسلول، من أنه جاء على جننته وسللته.
والمحدثون يطلقون على الحديث الذي في عله "معلول"، (وكذا وقع في كلام البخاري والترمذي الدارقطني والحاكم وغيرهم) . وقد أنكر بعض العلماء هذا، كما سبق في اعتراضهم على المتكلمين، (وقال إن المعلول في اللغة اسم مفعول من عله إذا سقاه السقية الثانية، وتعقبهم آخرون فقالوا: قد ذكر في بعض كتب اللغة: عل الشيء إذا أصابته علة فيكون لفظ معلول هنا مأخوذا منه.
قال ابن القوطية: (عل الإنسان: مرض، والشيء أصابته العلة فيكون استعماله بالمعنى الذي أرادوه غير منكر، بل قال بعضهم: استعمال هذا اللفظ أولى لوقوعه في عبارات أهل الفن، مع ثبوته لغة، ومن حفظ حجة على من لم يحفظ قال ابن هشام في شرح بانت سعاد:
(تجلو عوارض ذي ظلم إذا ابتسمت
… كأنها منهل بالراح معلول))
والراجح في هذه المسألة أن "معلول" موفق للغة ومنسجم مع قواعدها إذا
তৃতীয়ত: 'ইল্লাত' (ত্রুটি) অর্থ রোগ, এবং এর দ্বারা আক্রান্ত ব্যক্তিকে 'মু'তাল' (রোগগ্রস্ত) বলা হয়। ইবনুল আরাবি বলেছেন: "রোগী ব্যক্তি রোগাক্রান্ত হয়েছে, তাই সে 'আলীল' (রুগ্ণ)"।
এবং 'আল-কামুস'-এ বলা হয়েছে: "আল্লাহ তাআলা তাকে রোগাক্রান্ত করেছেন, ফলে সে 'মু'আল্ল' ও 'আলীল'। আর 'মা'লুল' বলো না, যদিও মুতাকাল্লিমগণ এটি বলে থাকেন, কিন্তু আমি এর ব্যাপারে সুনিশ্চিত নই"। এবং 'আল-লিসান'-এ বলা হয়েছে: মূলত আল্লাহ তাকে রোগাক্রান্ত করেছেন, তাই সে 'মু'আল্ল'। তবে সিবাওয়াইহ যে মতের দিকে গিয়েছেন তা ভিন্ন হতে পারে, যেমন 'মাজনুন' (উন্মাদ) এবং 'মাসলুল' (ক্ষয়প্রাপ্ত) শব্দগুলোর ক্ষেত্রে, যা 'জানানতুহু' ও 'সালালতুহু' থেকে এসেছে (মূলধাতুর ভিন্নতা সত্ত্বেও এই ওজনে আসা)।
মুহাদ্দিসগণ যে হাদিসে ত্রুটি থাকে তাকে 'মা'লুল' বলে অভিহিত করেন (অনুরূপভাবে এটি বুখারি, তিরমিজি, দারাকুতনি, হাকেম এবং অন্যান্যদের বক্তব্যেও এসেছে)। কিছু আলিম একে অস্বীকার করেছেন, যেমনটি মুতাকাল্লিমদের ওপর তাদের আপত্তিতে ইতিপূর্বে অতিবাহিত হয়েছে। তারা বলেছেন যে, আরবি ভাষায় 'মা'লুল' হলো 'আল্লা' (علَّ) ক্রিয়ার ইসম মাফউল, যার অর্থ দ্বিতীয়বার পান করানো। তবে অন্যগণ এর জবাব দিয়ে বলেছেন যে, অভিধানের কিছু গ্রন্থে উল্লেখ আছে: কোনো বিষয় 'আল্লা' হওয়া মানে তাতে ত্রুটি সৃষ্টি হওয়া; সুতরাং 'মা'লুল' শব্দটি এখান থেকেই গৃহীত হতে পারে।
ইবনুল কুতিয়্যাহ বলেন: (মানুষ 'আল্লা' হওয়া মানে সে অসুস্থ হওয়া, আর কোনো বস্তুর ক্ষেত্রে এর অর্থ তাতে ত্রুটি বা রোগ সৃষ্টি হওয়া। সুতরাং তারা যে অর্থে এটি ব্যবহার করতে চেয়েছেন তা আপত্তিকর নয়। বরং কেউ কেউ বলেছেন: এই পরিভাষাটি ব্যবহার করাই উত্তম, যেহেতু এটি এই শাস্ত্রের পণ্ডিতদের বক্তব্যে বহুল ব্যবহৃত এবং ভাষাতাত্ত্বিকভাবেও এটি প্রমাণিত। আর যে ব্যক্তি বিষয়টি সংরক্ষণ করেছে, সে ওই ব্যক্তির ওপর দলিল হিসেবে গণ্য হবে যে তা করেনি। ইবনে হিশাম 'বানাত সুআদ'-এর ব্যাখ্যায় বলেছেন:
(হাসির সময় সে প্রকাশ করে শুভ্র দাঁতগুলোর অগ্রভাগ
… যেন তা শরাব পানের পর পুনরায় দ্বিতীয়বার পরিবেশিত শরাব দ্বারা সিক্ত))
আর এই মাসআলায় প্রবল অভিমত হলো এই যে, "মা'লুল" শব্দটি ভাষাতাত্ত্বিকভাবে সঠিক এবং এর নিয়মাবলির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ যদি
(খণ্ড: ১)
শারহু ইলালিত তিরমিযী
(পৃষ্ঠা: ২১)
كان مشتقا من عله بمعنى سقاه الشربة الثانية، وهو معنى "معلول" في الشاهد الذي ذكره ابن القوطية وليس كما أراده شاهدا للعلة بمعنى المرض، لأن "معلول" في البيت مرتبط بمنهل، والمنهل هو المورود في المرة الأولى، والمعلول هو المورود في المرة الثانية.
ولما كان من معاني "عل" في أصل اللغة الشربة الثانية، كما ذكر ابن فارس في معنى هذه المادة، فيكون هذا الاستعمال لا غبار عليه، لا في اللغة ولا في الاصطلاح، وتكون العلاقة بين المعنى اللغوي والاصطلاحي أن العلة ناشئة عن إعادة النظر في الحديث مرة بعد مرة.
وكما يقال "معلول" بهذا المعنى فإنه يقال "معل" لما دخل على الحديث من العلة بمعنى المرض. وأما استعمال "معلل" فلا تمنعه القواعد إذا كان مشتقا من "علله" بمعنى ألهاه به وشغله، ويكون معنى "الحديث المعلل": هو الحديث الذي عاقته العلة وشغلته فلم يعد صالحا للعمل به.
المطلب الثاني العلة في اصطلاح المحدثين تقاربت عبارات أهل المصطلح في تعريفهم العلة في الحديث. وأول كتاب ذكر تعريفا للعلة هو "معرفة علوم الحديث" للحاكم، وقد قال فيه: "وهو علم برأسه غير الصحيح والسقيم والجرح والتعديل". ويقول الحاكم أيضا: "وإنما يعلل الحديث من أوجه ليس للجرح فيها مدخل".
وهذا من الحاكم محاولة أولى لتحديد مفهوم عام للعلة، ولا يمكن أن نسميه حدا بما يحمله الحد من الضوابط. كما يلاحظ في كلام الحاكم قصر العلة على ما لا مدخل للجرح والتعديل فيه، وهو مخالف لمنهج كتب العلل التي احتوت على علل سببها جرح الراوي، وسيأتي الكلام على هذا.
এটি 'আল্লা' (علّه) থেকে উদ্ভূত যার অর্থ হলো তাকে দ্বিতীয়বার পান করানো। ইবনুল কুতিয়্যাহ কর্তৃক বর্ণিত উদ্ধৃতিতে 'মা'লুল' (معلول) শব্দের অর্থ এটিই; তিনি একে রোগের অর্থ প্রকাশকারী 'ইল্লাত' (علة) এর প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করতে চাইলেও তা সঠিক নয়। কারণ কাব্যাংশের 'মা'লুল' শব্দটি 'মানহাল' (منهل) এর সাথে সম্পৃক্ত। 'মানহাল' হলো যা প্রথমবার পান করা হয়, আর 'মা'লুল' হলো যা দ্বিতীয়বার পান করা হয়।
যেহেতু মূল অভিধানে 'আল্লা' (عل) এর একটি অর্থ হলো দ্বিতীয়বার পান করানো—যেমনটি ইবনে ফারিস এই শব্দের মূল অর্থের বর্ণনায় উল্লেখ করেছেন—তাই ভাষা বা পরিভাষা কোনো দিক থেকেই এই ব্যবহারে কোনো অস্পষ্টতা নেই। আর ভাষাগত ও পারিভাষিক অর্থের মধ্যকার সম্পর্ক হলো এই যে, হাদিসকে বারবার পর্যালোচনার ফলেই 'ইল্লাত' বা ত্রুটি উদ্ভাসিত হয়।
এই অর্থে যেমন 'মা'লুল' বলা হয়, তেমনি কোনো হাদিসে রোগের অর্থে 'ইল্লাত' (ত্রুটি) প্রবেশ করলে তাকে 'মু'আল্ল' (معل) বলা হয়। আর 'মু'আল্লাল' (معلل) শব্দটির ব্যবহার ব্যাকরণগত নিয়মে নিষিদ্ধ নয় যদি তা 'আল্লালাহু' (علله) থেকে উদ্ভূত হয়, যার অর্থ হলো কোনো কিছু দিয়ে ভুলিয়ে রাখা বা ব্যস্ত রাখা। এমতাবস্থায় 'মু'আল্লাল হাদিস' এর অর্থ হবে: এমন হাদিস যাকে ত্রুটি বাধাগ্রস্ত ও ব্যতিব্যস্ত করেছে, ফলে তা আমলযোগ্য থাকেনি।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: মুহাদ্দিসগণের পরিভাষায় 'ইল্লাত' হাদিসের 'ইল্লাত' সংজ্ঞায়িত করার ক্ষেত্রে পরিভাষা বিশেষজ্ঞদের বক্তব্যগুলো প্রায় কাছাকাছি। ইল্লাতের সংজ্ঞা প্রদানকারী প্রথম গ্রন্থ হলো আল-হাকিমের 'মা'রিফাতু উলুমিল হাদিস'। এতে তিনি বলেছেন: "এটি এমন এক বিদ্যা যা সহিহ, সাকিম (দুর্বল), জারহ এবং তা'দিল থেকে স্বতন্ত্র।" আল-হাকিম আরও বলেন: "হাদিসকে এমন সব দিক থেকে ত্রুটিযুক্ত সাব্যস্ত করা হয় যেখানে জারহ (সমালোচনা) এর কোনো সুযোগ নেই।"
এটি আল-হাকিমের পক্ষ থেকে ইল্লাতের একটি সাধারণ ধারণা নির্ধারণের প্রাথমিক প্রচেষ্টা ছিল। একে সংজ্ঞার ব্যাকরণগত মানদণ্ডে একটি পূর্ণাঙ্গ 'সংজ্ঞা' বলা যায় না। আল-হাকিমের বক্তব্যে আরও লক্ষ্য করা যায় যে, তিনি ইল্লাতকে শুধুমাত্র সেই বিষয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ করেছেন যেখানে জারহ ও তা'দিলের প্রবেশাধিকার নেই। এটি 'ইল্লাল' বিষয়ক গ্রন্থসমূহের পদ্ধতির পরিপন্থী, কারণ সেই গ্রন্থগুলোতে এমন সব ইল্লাতও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে যার কারণ হলো রাবির জারহ বা সমালোচনা। এ বিষয়ে সামনে বিস্তারিত আলোচনা আসছে।
(খণ্ড: ১)
শারহু ইলালিত তিরমিযী
(পৃষ্ঠা: ২২)
وجاءت عبارة أبي عمرو بن الصلاح أكثر تحديدا من عبارة الحاكم فقال: "المعلول هو الذي أطلع فيه على عله تقدح في صحته مع أن ظاهره السلامة منها ويتطرق ذلك إلى الإسناد الذي رجاله ثقات الجامع شروط الصحة من حيث الظاهر"، وفي هذا التعريف دور لأنه أدخل "العلة" في تعريف المعلول إلى جانب أنه ذكر علة الإسناد، ولم يشمل هذا التعريف علة المتن، التي لا تقل أهمية عن علة الإسناد.
وأما الحافظ زين الدين عبد الرحيم العراقي (ت 804هـ) فقد عرف العلة بقوله: "العلة عبارة عن أسباب خفية غامضة طرأت على الحديث فأثرت فيه، أي قدحت في صحته". ويلاحظ على هذا التعريف تكرار الألفاظ فيه، وقوله "طرأت" يشعر بأن الحديث كان في أصله صحيحا، وليس ذلك بلازم، إذ قد تدخل العلة على الحديث الصحيح، وقد يكون الحديث من أصله معلولا، كأن يظهر بعد البحث أن الحديث لا أصل له، وإنما أدخل على الثقة فرواه.
وقد نقل برهان الدين البقاعي (ت 855هـ) في نكتة على ألفية العراقي، كلاما آخر للعراقي، جاء فيه: "والمعلل خبر ظاهره السلامة اطلع فيه بعد التفتيش على قادح " وأما الحافظ ابن حجر (ت 852هـ) فقد ذكر في تعريف المعلل أثناء كلامه على أنواع الضعيف فقال "ثم الوهم إن اطلع عليه بالقرائن وجمع الطرق فهو المعلل"، ولا يصلح هذا لأن يكون حدا للعلة، إذ هو بيان لطرق الكشف عن العلة.
وما نختاره من هذه التعاريف هو ما نقله البقاعي عن العراقي: "والمعلل خبر ظاهره السلامة اطلع فيه بعد التفتيش على قادح". وهو تعريف جامع مانع.
আবু আমর ইবনুল সালাহ-এর বক্তব্য আল-হাকিমের বক্তব্যের চেয়েও অধিক সুনির্দিষ্ট ছিল। তিনি বলেন: "মা'লুল (ত্রুটিযুক্ত) হলো এমন হাদিস যাতে এমন কোনো ত্রুটি (ইল্লাত) খুঁজে পাওয়া যায় যা তার বিশুদ্ধতাকে ব্যাহত করে, অথচ বাহ্যিকভাবে হাদিসটি সেই ত্রুটি থেকে মুক্ত বলে মনে হয়। এটি এমন সনদের ক্ষেত্রে ঘটে যার বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য এবং বাহ্যিক বিচারে বিশুদ্ধতার শর্তাবলি পূরণকারী।" এই সংজ্ঞায় এক প্রকার চক্রাকার পুনরাবৃত্তি ঘটেছে, কারণ তিনি 'মা'লুল'-এর সংজ্ঞার ভেতরেই 'ইল্লাত' শব্দটিকে অন্তর্ভুক্ত করেছেন। পাশাপাশি তিনি কেবল সনদের ত্রুটির কথা উল্লেখ করেছেন, কিন্তু এই সংজ্ঞায় মতনের (মূল পাঠ) ত্রুটিকে অন্তর্ভুক্ত করেননি, যা গুরুত্বের দিক থেকে সনদের ত্রুটির চেয়ে কোনো অংশে কম নয়।
অন্যদিকে হাফিজ জয়নুদ্দীন আব্দুর রহীম আল-ইরাকি (মৃত্যু: ৮০৪ হিজরি) 'ইল্লাত'-এর সংজ্ঞায় বলেন: "ইল্লাত হলো হাদিসের মধ্যে উদ্ভূত এমন কিছু সূক্ষ্ম ও অস্পষ্ট কারণ যা হাদিসের ওপর প্রভাব বিস্তার করে, অর্থাৎ তার বিশুদ্ধতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।" এই সংজ্ঞায় শব্দের পুনরাবৃত্তি লক্ষ্য করা যায় এবং তাঁর ব্যবহৃত "উদ্ভূত হওয়া" শব্দটি থেকে ধারণা হয় যে, হাদিসটি মূলত বিশুদ্ধ ছিল। কিন্তু বিষয়টি সর্বদা এমন হওয়া আবশ্যক নয়; কারণ ত্রুটি কখনও বিশুদ্ধ হাদিসের মধ্যে প্রবেশ করতে পারে, আবার কোনো হাদিস শুরু থেকেই ত্রুটিযুক্ত হতে পারে। যেমন অনুসন্ধানের পর দেখা গেল যে হাদিসটির কোনো ভিত্তিই নেই, বরং তা একজন নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীর বর্ণনায় ভুলবশত ঢুকে পড়েছে এবং তিনি তা বর্ণনা করেছেন।
বুরহানুদ্দীন আল-বিকায়ি (মৃত্যু: ৮৫৫ হিজরি) ইরাকির 'আলফিয়্যাহ'-এর ওপর লেখা তাঁর টীকাগ্রন্থে ইরাকির অন্য একটি বক্তব্য উদ্ধৃত করেছেন, যেখানে বলা হয়েছে: "মুআল্লাল হলো এমন একটি সংবাদ যার বাহ্যিক অবস্থা ত্রুটিমুক্ত মনে হয়, কিন্তু গভীরভাবে অনুসন্ধানের পর সেখানে ক্ষতিকারক ত্রুটির সন্ধান পাওয়া যায়।" হাফিজ ইবনে হাজার (মৃত্যু: ৮৫২ হিজরি) দুর্বল হাদিসের প্রকারভেদ আলোচনার সময় 'মুআল্লাল'-এর সংজ্ঞায় বলেছেন: "অতঃপর ভ্রম বা ধারণা যদি বিভিন্ন আলামত এবং সূত্রের সমষ্টির মাধ্যমে উদঘাটিত হয়, তবে তাকেই মুআল্লাল বলা হয়।" এটি 'ইল্লাত' বা ত্রুটির সংজ্ঞার জন্য উপযুক্ত নয়, কারণ এটি মূলত ত্রুটি উদঘাটনের পদ্ধতির বর্ণনা।
এই সংজ্ঞাগুলোর মধ্যে আমরা যেটি পছন্দ করি তা হলো আল-বিকায়ি কর্তৃক আল-ইরাকি থেকে বর্ণিত সংজ্ঞাটি: "মুআল্লাল হলো এমন একটি সংবাদ যার বাহ্যিক অবস্থা ত্রুটিমুক্ত মনে হয়, কিন্তু গভীরভাবে অনুসন্ধানের পর সেখানে ক্ষতিকারক ত্রুটির সন্ধান পাওয়া যায়।" এটি একটি পূর্ণাঙ্গ ও যথাযথ (জামে-মানি) সংজ্ঞা।
(খণ্ড: ১)
শারহু ইলালিত তিরমিযী
(পৃষ্ঠা: ২৩)
وفيما يلي بيان لعناصر هذا التعريف يوضح أسباب اختياره:
(أ) في قوله "خبر" ذكر لعلة السند وعلة المتن لأن الخبر يشمل السند والمتن.
(ب) وفي قوله "ظاهرة السلامة" بيان أن العلة تكون في الحديث الذي رجاله ثقات، الجامع شروط الصحة من حيث الظاهر.
(ج) قوله "اطلع فيه بعد التفتيش" دليل على خفاء القادح، وعلى إمعان النظر ولا يكون ذلك إلا من الناقد الفهم العارف.
(د) وقوله "على قادح" تعميم لأسباب العلل لتشمل العلل التي مدارها الحرج، وتلك الناشئة عن أوهام الثقات وما يلتبس عليهم ضبطه من الأخبار. وبذلك يكون هذا التعريف مطابقا لواقع كتب العلل التي اشتملت على أحاديث كثيرة أعلت بجرح راو من رواتها.
নিচে এই সংজ্ঞার উপাদানগুলোর একটি বর্ণনা প্রদান করা হলো যা এটি নির্বাচনের কারণসমূহকে স্পষ্ট করে:
(ক) তার উক্তি "সংবাদ"-এর মধ্যে সনদের ত্রুটি এবং মতনের ত্রুটি উভয়টির উল্লেখ রয়েছে, কারণ সংবাদ সনদ ও মতন উভয়কেই অন্তর্ভুক্ত করে।
(খ) এবং তার উক্তি "বাহ্যিক ত্রুটিহীনতা"-এর মাধ্যমে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, সূক্ষ্ম ত্রুটি মূলত এমন হাদিসে থাকে যার বর্ণনাকারীরা নির্ভরযোগ্য এবং যা বাহ্যিকভাবে বিশুদ্ধতার শর্তাবলি পূরণ করে।
(গ) তার উক্তি "অনুসন্ধানের পর যাতে অবগত হওয়া যায়" - এটি ত্রুটির গোপনীয়তা এবং গভীর পর্যালোচনার প্রমাণ; আর এটি কেবল প্রাজ্ঞ ও বিশেষজ্ঞ সমালোচকের পক্ষেই সম্ভব।
(ঘ) এবং তার উক্তি "ত্রুটির ওপর" - এটি ত্রুটির কারণসমূহের একটি সাধারণ বর্ণনা যা এমন সব ত্রুটিকেও অন্তর্ভুক্ত করে যার মূল ভিত্তি হলো বর্ণনাকারীর নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে সংশয়, এবং ঐসব ভুল যা নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের বিভ্রম বা হাদিস সংরক্ষণের ক্ষেত্রে তাদের বিভ্রান্তি থেকে উদ্ভূত হয়। এর মাধ্যমে এই সংজ্ঞাটি ইল্লত বিষয়ক গ্রন্থসমূহের বাস্তব অবস্থার সাথে সংগতিপূর্ণ হয়, যে গ্রন্থগুলো এমন অনেক হাদিস ধারণ করে যা বর্ণনাকারীদের মধ্য থেকে কোনো একজনের ওপর আপত্তির কারণে ত্রুটিযুক্ত বলে গণ্য করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
শারহু ইলালিত তিরমিযী
(পৃষ্ঠা: ২৬)
ينتهي بكلمة أو سطر أو صفحة، أو مجموعة من الأقوال، في الرجل موضع الجرح أو التعديل، وأما هذا الذي معنا فإنه يواكب الثقة في حلة وترحاله، وأحاديثه عن كل شيخ من شيوخه، ومتى ضبط، ومتى نسي، وكيف تحمل، وكيف أدى. ولذلك نجد علي بن المديني يخرج علل ابن عيينة في ثلاثة عشر جزءا، وسفيان بن عيينة ثقة ثبت، ولكن هذا لا يعني سلامة أحاديثه كلها فهو بشر يخطئ ويصيب، وإن كان خطؤه نادرا، ولكن كم يكون حجم هذا النادر من بين ألوف الأحاديث التي يرويها؟
وهذا النوع من النقد أفرده الإمام مسلم بن الحجاج (ت 261هـ) في كتاب سماه "التمييز"، وقال في مقدمته: " فإنك يرحمك الله ذكرت أن قبلك قوما ينكرون قول القائل من أهل العلم، إذا قال: هذا حديث خطأ، وهذا حديث صحيح، وفلان يخطئ في روايته حديث كذا، والصواب ما روى فلان بخلافه، وذكرت انهم استعظموا ذلك من قول من قاله، ونسبوه إلى اغتياب الصالحين من السلف الماضيين، حتى قالوا: إن من ادعى تمييز خطأ رواياتهم من صوابها متخرص بما لا علم له به، ومدح علم غيب لا يوصل إليه"
ويمضي الإمام مسلم فيقول:
"وبعد، فإن الناس متباينون في حفظهم لما يحفظون، وفي نقلهم لما ينقلون، فمنهم الحافظ المتقن الحفظ، المتوقي لما يلزمه توقيه فيه، ومنهم المتساهل المشيب حفظه بتوهم يتوهمه أو تلقين يلقنه من غيره، ومنهم من همته حفظ متون الأحاديث دون أسانيدها فيتهاون في حفظ الآثار يتخرصها من بعد فيحيلها بالتوهم على قوم غير الذين أدى إليه عنهم".
وأكثر من هذا فإن الإمام مسلما لا يبرئ أحدا من هذا وإن كان من أحفظ الناس وأشدهم توقيا: "ومع ما ذكرت لك من منازلهم في الحفظ ومراتبهم
এটি কোনো শব্দ, পঙক্তি, পৃষ্ঠা অথবা একগুচ্ছ বক্তব্যের মাধ্যমে সমাপ্ত হয়, যা জারহ্ (সমালোচনা) বা তা’দীল (প্রশংসা)-এর পাত্র কোনো ব্যক্তির বিষয়ে হয়ে থাকে। তবে আমাদের সামনে যা রয়েছে, তা একজন নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীর অবস্থান ও ভ্রমণের প্রতিটি পদক্ষেপে তার সাথে থাকে; তার প্রতিটি শায়খের নিকট থেকে বর্ণিত হাদিসসমূহ, কখন তিনি নির্ভুলভাবে মুখস্থ করেছেন, কখন ভুলে গেছেন, কীভাবে গ্রহণ করেছেন এবং কীভাবে বর্ণনা করেছেন—সবকিছুই পর্যবেক্ষণ করে। একারণেই আমরা দেখি যে, আলী ইবনুল মাদীনী ইবনু উয়ায়নার ‘ইলাল’ (ত্রুটিসমূহ) তেরো খণ্ডে সংকলন করেছেন। অথচ সুফইয়ান ইবনু উয়ায়না একজন নির্ভরযোগ্য ও সুদৃঢ় বর্ণনাকারী ছিলেন। তবে এর অর্থ এই নয় যে, তার সকল হাদিস ত্রুটিমুক্ত; কারণ তিনি একজন মানুষ, তার ভুলও হতে পারে আবার সঠিকও হতে পারে, যদিও তার ভুলের পরিমাণ খুবই নগণ্য। কিন্তু তার বর্ণিত হাজার হাজার হাদিসের ভিড়ে এই নগণ্য ভুলের পরিমাণই বা কতটুকু হতে পারে?
এই ধরনের সমালোচনাকে ইমাম মুসলিম বিন হাজ্জাজ (মৃত্যু: ২৬১ হিজরি) ‘আত-তাময়ীয’ নামক গ্রন্থে স্বতন্ত্রভাবে আলোচনা করেছেন। তিনি এর ভূমিকায় বলেছেন: “আল্লাহ আপনার প্রতি রহম করুন; আপনি উল্লেখ করেছেন যে, আপনার নিকট এমন একদল লোক রয়েছে যারা আহলুল ইলমদের (বিদ্বানদের) সেই কথাকে অস্বীকার করে যখন তারা বলে: ‘এই হাদিসটি ভুল আর এই হাদিসটি সঠিক; অমুক ব্যক্তি অমুক হাদিস বর্ণনায় ভুল করেছে এবং এর বিপরীতে অমুকের বর্ণিত হাদিসটিই সঠিক।’ আপনি আরও উল্লেখ করেছেন যে, তারা এই ধরণের বক্তব্য প্রদানকারীর কথাকে অত্যন্ত গর্হিত মনে করে এবং একে পূর্ববর্তী নেককার সালাফদের গীবত বা পরনিন্দা হিসেবে গণ্য করে। এমনকি তারা এও বলে যে: যারা তাদের বর্ণনার ভুল ও সঠিকের মধ্যে পার্থক্য করার দাবি করে, তারা মূলত এমন বিষয়ে অনুমাননির্ভর কথা বলছে যে বিষয়ে তাদের কোনো জ্ঞান নেই এবং তারা এমন ইলমুল গায়ব বা অদৃশ্যের জ্ঞানের দাবি করছে যা অর্জন করা সম্ভব নয়।”
ইমাম মুসলিম আরও বলেন:
“অতঃপর, মানুষ যা মুখস্থ করে তা স্মরণে রাখার ক্ষেত্রে এবং যা বর্ণনা করে তা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে একে অপরের চেয়ে ভিন্নতর হয়ে থাকে। তাদের মধ্যে কেউ রয়েছেন প্রখর স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন ও নিখুঁত হাফেজ, যিনি বর্ণনার ক্ষেত্রে সতর্কতা বজায় রাখা আবশ্যক এমন বিষয়ে অত্যন্ত সাবধানী। আবার তাদের মধ্যে কেউ রয়েছেন শিথিল প্রকৃতির, যার স্মৃতিশক্তিতে নানাবিধ সংশয় মিশে যায় অথবা অন্যের শিখিয়ে দেওয়া কথা নিজের বলে বর্ণনা করে বসেন। আবার তাদের মধ্যে এমনও কেউ আছেন যাদের মূল লক্ষ্য থাকে হাদিসের মূল পাঠ (মতন) মুখস্থ করা, কিন্তু সনদ বা বর্ণনাসূত্রের দিকে খেয়াল থাকে না; ফলে তারা হাদিস সংরক্ষণে অবহেলা করেন এবং পরবর্তীতে অনুমান করে কথা বলেন। এভাবে তারা নিছক ধারণা ও সংশয়ের বশবর্তী হয়ে হাদিসগুলোকে এমন সব ব্যক্তিদের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করেন যাদের নিকট থেকে তারা তা গ্রহণ করেননি।”
এর চেয়ে বড় কথা হলো, ইমাম মুসলিম এ ধরনের ত্রুটি থেকে কাউকেই দায়মুক্তি দেননি, এমনকি তিনি যদি সর্বশ্রেষ্ঠ হাফেজ এবং সবচেয়ে বেশি সাবধানী ব্যক্তিও হন। তিনি বলেছেন: “স্মৃতিশক্তির ক্ষেত্রে তাদের মর্যাদা এবং স্তরের বিষয়ে আমি আপনার নিকট যা উল্লেখ করেছি, তা সত্ত্বেও...”
(খণ্ড: ১)
শারহু ইলালিত তিরমিযী
(পৃষ্ঠা: ২৭)
فيه فليس من ناقل خبر وحامل أثر من السلف الماضين إلى زماننا - وإن كان من أحفظ الناس وأشدهم توقيا واتقانا لما يحفظ وينقل - إلا والغلط والسهو ممكن في حفظه ونقله".
وهكذا فإن الإمام مسلما يكشف لنا بجلاء ووضوح عن مجال هذا النوع من النقد فمجاله أحاديث الثقات وهدفه تنقيتها من الأوهام والأخطاء، وعلى لوحات كتابه نجد تطبيقات كثيرة لهذا النقد، وسنختار مثالا منها يدور حول وهم رجل من أكابر المحدثين الثقات الأثبات وهو محمد بن مسلم بن شهاب الزهري (ت 124هـ) قال الإمام مسلم: "حدثنا الحسن الحلواني (ثنا) يعقوب بن إبراهيم (ثنا) أبي عن صالح عن ابن شهاب: أن أبا بكر بن سليمان بن أبي حثمة أخبره أنه بلغه أن النبي صلى الله عليه وسلم صلى ركعتين ثم سلم، فقال ذو الشمالين بن عبد عمرو يا رسول الله، أقصرت الصلاة أم نسيت؟ فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم "لم تقصر الصلاة، ولم أنس" قال ذو الشمالين: فقد كان ذلك يا رسول الله، فأقبل رسول الله صلى الله عليه وسلم على الناس، وقال: أصدق ذو اليدين قالوا: نعم، فقام رسول الله صلى الله عليه وسلم فأتم ما بقي من الصلاة، ولم يسجد السجدتين اللتين يسجدان إذا شك الرجل في صلاته.
قال ابن شهاب: "وأخبرني ابن المسيب عن أبي هريرة، وأبو سلمة بن عبد الرحمن بن عوف، وأبو بكر بن عبد الرحمن، وعبيد الله بن عبد الله. سمعت مسلما يقول: وخبر ابن شهاب هذا في قصة ذي اليدين. وهم غير محفوظ، لظاهر الأخبار الصحاح عن النبي صلى الله عليه وسلم في هذا".
حدثنا أبو كريب (ثنا) أبو أسامة (ثنا) عبيد الله عن نافع عن ابن عمر، حدثنا أبو بكر بن أبي شيبة (ثنا) إسماعيل بن إبراهيم عن خالد الحذاء عن
এতে এমন কোনো সংবাদ বর্ণনাকারী এবং আছর (ঐতিহ্য) বহনকারী নেই—অতীতের পূর্বসূরিদের (সালাফ) থেকে আমাদের সময় পর্যন্ত—যদিও তিনি মানুষের মধ্যে সর্বাধিক মুখস্থকারী এবং যা তিনি মুখস্থ করেন ও বর্ণনা করেন সে ব্যাপারে কঠোরতম সতর্ক ও পারদর্শী হয়ে থাকেন—যার মুখস্থকরণ ও বর্ণনায় ভুল এবং বিচ্যুতি ঘটা সম্ভব নয়।
এভাবে ইমাম মুসলিম আমাদের সামনে স্পষ্টভাবে ও পরিষ্কারভাবে এই ধরণের সমালোচনার ক্ষেত্রটি উন্মোচন করেছেন। এর ক্ষেত্র হলো নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের (সিকাহ) হাদিসসমূহ এবং এর লক্ষ্য হলো সেগুলোকে বিভ্রম ও ভুলত্রুটি থেকে পবিত্র করা। তাঁর গ্রন্থের পাতায় পাতায় আমরা এই সমালোচনার অনেক প্রয়োগ দেখতে পাই। আমরা এখান থেকে একটি উদাহরণ বেছে নেব যা একজন প্রবীণ, নির্ভরযোগ্য ও সুপ্রতিষ্ঠিত মুহাদ্দিসের বিভ্রমকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়েছে, আর তিনি হলেন মুহাম্মদ বিন মুসলিম বিন শিহাব আজ-জুহরি (মৃত্যু ১২৪ হিজরি)। ইমাম মুসলিম বলেন: "হাসান আল-হুলওয়ানি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, (তিনি বলেন) ইয়াকুব বিন ইব্রাহিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, (তিনি বলেন) আমার পিতা সালেহ থেকে, তিনি ইবনে শিহাব থেকে বর্ণনা করেছেন যে: আবু বকর বিন সুলায়মান বিন আবি হাছমাহ তাকে অবহিত করেছেন যে, তাঁর কাছে সংবাদ পৌঁছেছে যে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দুই রাকাত সালাত আদায় করলেন এবং তারপর সালাম ফেরালেন। তখন যুল-শামালাইন বিন আবদ আমর বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! সালাত কি সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে নাকি আপনি ভুলে গেছেন? তখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: "সালাত সংক্ষিপ্ত করা হয়নি এবং আমি ভুলেও যাইনি।" যুল-শামালাইন বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! প্রকৃতপক্ষে তা-ই ঘটেছে। তখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) লোকেদের দিকে মনোনিবেশ করলেন এবং বললেন: যুল-ইয়াদাইন কি সত্য বলেছে? তারা বললেন: হ্যাঁ। অতঃপর আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দাঁড়ালেন এবং সালাতের অবশিষ্ট অংশ পূর্ণ করলেন, তবে তিনি সেই দুটি সিজদা করেননি যা মানুষ সালাতে সন্দেহ করলে করে থাকে।
ইবনে শিহাব বলেন: "ইবনুল মুসায়্যিব আমাকে আবু হুরায়রা থেকে, আবু সালামাহ বিন আবদুর রহমান বিন আউফ, আবু বকর বিন আবদুর রহমান এবং উবাইদুল্লাহ বিন আবদুল্লাহ থেকে অবহিত করেছেন। আমি মুসলিমকে বলতে শুনেছি: যুল-ইয়াদাইনের ঘটনার ব্যাপারে ইবনে শিহাবের এই বর্ণনাটি একটি বিভ্রম এবং তা সংরক্ষিত নয়; কারণ এই বিষয়ে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত সহিহ হাদিসসমূহের বাহ্যিক বর্ণনা এর পরিপন্থী।"
আবু কুরায়ব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, (তিনি বলেন) আবু উসামা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, (তিনি বলেন) উবাইদুল্লাহ নাফে থেকে, তিনি ইবনে ওমর থেকে; আবু বকর বিন আবি শায়বা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, (তিনি বলেন) ইসমাইল বিন ইব্রাহিম খালিদ আল-হাযযা থেকে...
(খণ্ড: ১)
শারহু ইলালিত তিরমিযী
(পৃষ্ঠা: ২৮)
أبي قلابة عن أبي المهلب عن عمر، وأن كل هؤلاء ذكروا في حديثهم أن رسول الله صلى الله عليه وسلم حين سها في صلاته، يوم ذي اليدين، سجد سجدتين بعد إذ أتم الصلاة.
المطلب الثاني أهميته واتساعه بالرغم من أن علم العلل قسم من أقسام علم الحديث دراية، إلا أن العلماء ركزوا عليه وأعطوه الأهمية القصوى حتى قال الحاكم: "معرفة علل الحديث. وهو علم برأسه غير الصحيح والسقيم والجرح والتعديل".
وحقا إن هذا العلم رأس علوم الحديث وأوسعها وأخفاها وأدقها وأهمها ولولاه لاختلط الصحيح بالسقيم لأن الأصل في أحاديث الثقات الاحتجاج بها والالتزام بقبولها وما يدخل عن طريق الثقات والحفاظ لا يدخل عن طريق الضعفاء والمجروحين، لأنه كما يقول الحاكم أبو عبد الله: "فإن حديث المجروحين ساقط واه وعلة الحديث تكثر في حديث الثقات أن يحدثوا بحديث له علة، فيخفى عليهم علمه فيصير الحديث معلولا".
وأما اتساع هذا العلم فسنرى - بعون الله ومشيئته - في مباحث أنواع العلل أن معظم علوم الحديث يدخل في العلل، فقد يعلل الحديث بالانقطاع أو الإرسال أو الأعضال أو الإدراج أو القلب، أو الاضطراب، ولكن الذي يميز علم العلل عن هذه الفروع، هو ما تتضمنه العلة من الخفاء إذ يقع الإرسال أو الانقطاع أو الإدراج في حديث الثقات ويصعب تمييزه والحكم عليه، وينطلي على أكثر المحدثين، حتى يتنبه جهابذتهم ونقادهم إلى هذا القادح الذي يتصف بالخفاء.
وخلاصة القول أن القادح منه الخفي ومنه الجلي، ومنه ما كان في حديث الثقات، ومنه ما كان في حديث المجروحين والضعفاء. فما كان خفيا وفي حديث
আবু কিলাবা, আবু মুহাল্লাব থেকে, তিনি উমর থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তাঁরা সবাই তাঁদের বর্ণনায় উল্লেখ করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন তাঁর সালাতে ভুল করেছিলেন—যুল-ইয়াদাইন-এর দিনে—তখন তিনি সালাত সম্পন্ন করার পর দুটি সিজদাহ করেছিলেন।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: এর গুরুত্ব ও পরিব্যাপ্তি যদিও ইলমুল ইলাল (হাদিসের নিগূঢ় ত্রুটি বিষয়ক জ্ঞান) হাদিস বিজ্ঞানের একটি তাত্ত্বিক শাখা, তবুও আলেমগণ এর ওপর বিশেষ আলোকপাত করেছেন এবং একে সর্বোচ্চ গুরুত্ব প্রদান করেছেন। এমনকি ইমাম হাকিম বলেছেন: "হাদিসের নিগূঢ় ত্রুটিসমূহ চেনা একটি স্বতন্ত্র জ্ঞান, যা সহিহ, দুর্বল এবং বর্ণনাকারীদের সমালোচনা ও নির্ভরযোগ্যতা যাচাইয়ের জ্ঞান থেকে ভিন্ন।"
প্রকৃতপক্ষে এই জ্ঞান হাদিস বিজ্ঞানের শীর্ষস্থানীয় এবং এটি সবচেয়ে বিস্তৃত, গোপনীয়, সূক্ষ্ম ও গুরুত্বপূর্ণ শাখা। এটি না থাকলে সহিহ ও ত্রুটিযুক্ত হাদিসগুলো একে অপরের সাথে মিশে যেত। কারণ নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের বর্ণিত হাদিসের ক্ষেত্রে মূলনীতি হলো সেগুলোকে প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করা এবং তা কবুল করা। আর যা নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী ও হাফেজদের মাধ্যমে হাদিসে (ভুলবশত) প্রবেশ করে, তা দুর্বল ও সমালোচিত বর্ণনাকারীদের মাধ্যমে ঘটে না। যেমনটি হাকিম আবু আব্দুল্লাহ বলেছেন: "নিশ্চয়ই সমালোচিত বর্ণনাকারীদের হাদিস তো পরিত্যক্ত ও অসার। আর হাদিসের নিগূঢ় ত্রুটি মূলত নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের হাদিসেই বেশি ঘটে থাকে; তাঁরা এমন হাদিস বর্ণনা করেন যাতে কোনো ত্রুটি রয়েছে কিন্তু তাঁরা তা বুঝতে পারেন না, ফলে হাদিসটি ত্রুটিযুক্ত হয়ে পড়ে।"
এই জ্ঞানের পরিব্যাপ্তির বিষয়ে—আল্লাহর সাহায্য ও ইচ্ছায়—আমরা ত্রুটির প্রকারভেদ বিষয়ক আলোচনায় দেখতে পাব যে, হাদিস বিজ্ঞানের অধিকাংশ বিষয়ই এই শাস্ত্রের অন্তর্ভুক্ত। কখনো হাদিসকে সূত্রবিচ্ছিন্নতা, ইরসাল, ইদাল, অনুপ্রবেশ, শব্দ ওলটপালট বা অস্থিরতার কারণে ত্রুটিপূর্ণ সাব্যস্ত করা হয়। কিন্তু এই শাখাগুলো থেকে একে যা পৃথক করে তা হলো ত্রুটির অতি সূক্ষ্ম ও গোপন প্রকৃতি। কারণ নির্ভরযোগ্যদের হাদিসেও কখনো ইরসাল, বিচ্ছিন্নতা বা অনুপ্রবেশ ঘটে থাকে যা চিহ্নিত করা ও সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেওয়া অত্যন্ত কঠিন এবং অধিকাংশ মুহাদ্দিসের দৃষ্টি তা এড়িয়ে যায়; যতক্ষণ না বিজ্ঞ সমালোচকগণ এই অতি সূক্ষ্ম ও গোপন দোষটি ধরতে পারেন।
সারকথা হলো, দোষণীয় ত্রুটি কখনো গোপন হয় আবার কখনো স্পষ্ট। এর কিছু থাকে নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের হাদিসে, আর কিছু থাকে সমালোচিত ও দুর্বল বর্ণনাকারীদের হাদিসে। সুতরাং যা গোপন এবং যা বর্ণনায়...
(খণ্ড: ১)
শারহু ইলালিত তিরমিযী
(পৃষ্ঠা: ২৯)
الثقات فهو داخل في علم العلل، ولا أنسى أن أقول: إن معيار خفائه سؤال الحفاظ عنه، ووروده في كتب العلل.
وأما ما نجده في كتب العلل من أحاديث أعلت بالجرح كأن يقال في أحد رواتها: متروك أو منكر الحديث، أو ضعيف، فيمكن حمل هذه القوادح على علم العلل وإلحاقها به إذا وردت في أحاديث الثقات، كرواية الزهري عن سليمان بن أرقم، ورواية مالك عن عبد الكريم أبي أمية، ورواية الشافعي عن إبراهيم بن أبي يحيى، فرواية هؤلاء الأئمة الجهابذة عن هؤلاء الضعفاء توقع كثيرين في العلة اعتمادا على تثبت هؤلاء الأئمة، ومكانة الزهري ومالك والشافعي تخفي أمر هؤلاء المتروكين والضعفاء.
وقد يلتبس أمر راو ما على أحد الحفاظ النقاد، فيروي عنه، ويكون الحديث معلولا بجهالة أمر هذا الراوي أو بنكارته، ولا تدرك هذه الجهالة والنكارة إلا بمعرفة كبار النقاد.
وهذا تخريج لوجود مثل هذه القوادح التي ذكرت في كتب العلل.
وقد ذكر أكثر المصنفين في علوم الحديث أن العلة قد تطلق على أنواع من الجرح، وذلك بعدما ذكروا أن غالب العلل في أحاديث الثقات، ولذلك نجد ابن الصلاح يقول: "وقد يعلون بأنواع الجرح من الكذب والغفلة وسوء الحفظ وفسق الراوي، وذلك موجود في كتب علل الحديث"، وهذا ما ذكره ابن كثير والعراقي، ولكنهم لم يحاولوا تخريج وجود هذه الأنواع في كتب العلل. أما السخاوي فقد تنبه لهذا فقال: ولكن ذلك منهم - أي أصحاب كتب العلل الذي يعلون بالجرح - بالنسبة للذي قبله قليل، على أنه يحتمل أيضا أن التعليل بذلك من الخفي لخفاء وجود طريق آخر ليخبر بها ما في هذا من ضعف، فكأن المعلل أشار إلى تفرده.
নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের ক্ষেত্রে, এটি ইলমুল ইলালের (ত্রুটি বিষয়ক জ্ঞান) অন্তর্ভুক্ত। আর আমি এটি বলতে ভুলে যাব না যে, এর প্রচ্ছন্নতার মানদণ্ড হলো হাফিজগণের এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা এবং ইলমুল ইলাল বিষয়ক গ্রন্থসমূহে এর উপস্থিতি।
আর আমরা ইলাল শাস্ত্রে এমন সব হাদীস পাই যেগুলোকে 'জারহ' (সমালোচনা) এর মাধ্যমে ত্রুটিযুক্ত করা হয়েছে; যেমন কোনো বর্ণনাকারীর ব্যাপারে বলা হয়: মাতরুক (পরিত্যক্ত), মুনকারুল হাদীস বা যঈফ। এই ত্রুটিগুলোকে ইলমুল ইলালের অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব এবং তার সাথে যুক্ত করা যায় যদি সেগুলো নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের হাদীসের মধ্যে ঘটে। যেমন: সুলাইমান বিন আরকাম থেকে যুহরীর বর্ণনা, আব্দুল কারীম আবী উমাইয়্যাহ থেকে মালিকের বর্ণনা এবং ইবরাহীম বিন আবী ইয়াহইয়া থেকে শাফিয়ীর বর্ণনা। এই জাঁদরেল ইমামগণের পক্ষ থেকে এই দুর্বল বর্ণনাকারীদের থেকে বর্ণনা করা অনেককেই ইলালের (সূক্ষ্ম ত্রুটির) মধ্যে ফেলে দেয়, কারণ তারা এই ইমামগণের সতর্কতার ওপর নির্ভর করেন। যুহরী, মালিক এবং শাফিয়ীর উচ্চ মর্যাদা এই পরিত্যক্ত ও দুর্বল বর্ণনাকারীদের আসল অবস্থাকে আড়াল করে দেয়।
কখনো কখনো কোনো বর্ণনাকারীর অবস্থা কোনো হাফিজ ও সমালোচকের কাছে অস্পষ্ট থাকতে পারে, ফলে তিনি তার থেকে বর্ণনা করেন। তখন হাদীসটি উক্ত বর্ণনাকারীর অজ্ঞাত পরিচয় (জাহালাত) বা মুনকার হওয়ার কারণে ত্রুটিযুক্ত (মা'লুল) হয়। এই অজ্ঞাত পরিচয় বা মুনকার হওয়া কেবল বড় বড় সমালোচকদের বিজ্ঞতার মাধ্যমেই অনুধাবন করা সম্ভব।
আর ইলাল শাস্ত্রে উল্লেখিত এই জাতীয় ত্রুটিগুলোর উপস্থিতির পেছনে এটিই হলো বিশ্লেষণ।
উলুমুল হাদীসের অধিকাংশ লেখক উল্লেখ করেছেন যে, ইলাল শব্দটি কখনো কখনো জারহ-এর বিভিন্ন প্রকারের ওপরও প্রয়োগ করা হয়। তারা এটি উল্লেখ করেছেন এ কথা বলার পর যে, অধিকাংশ ইলাল বা ত্রুটি নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের হাদীসেই হয়ে থাকে। এজন্যই আমরা ইবনুস সালাহকে বলতে দেখি: "কখনো কখনো জারহ-এর বিভিন্ন প্রকার যেমন মিথ্যাচার, গাফিলতি, মুখস্থ করার দুর্বলতা এবং বর্ণনাকারীর পাপাচারের মাধ্যমেও হাদীসকে ত্রুটিযুক্ত সাব্যস্ত করা হয়, আর এটি হাদীসের ইলাল বিষয়ক গ্রন্থসমূহে বিদ্যমান।" ইবনু কাসীর এবং ইরাকীও এটি উল্লেখ করেছেন, তবে তারা ইলাল শাস্ত্রে এই প্রকারগুলোর উপস্থিতির বিশ্লেষণ দেওয়ার চেষ্টা করেননি। তবে সাখাভী এ বিষয়টি খেয়াল করেছেন এবং বলেছেন: কিন্তু তাদের—অর্থাৎ ইলাল শাস্ত্রের রচয়িতাগণ যারা জারহ-এর মাধ্যমে ত্রুটি দেখান—পক্ষ থেকে এটি পূর্বোক্ত প্রকারের তুলনায় কম। তাছাড়া এর সম্ভাবনাও রয়েছে যে, এর মাধ্যমে ত্রুটি বর্ণনা করাও একটি সূক্ষ্ম বিষয়; কারণ এই বর্ণনাকারীর মধ্যে কী দুর্বলতা রয়েছে তা জানার জন্য অন্য কোনো সূত্রের উপস্থিতি গোপন থেকে যায়। ফলে ত্রুটি নিরসনকারী ইমাম যেন তার একক বর্ণনার প্রতিই ইঙ্গিত করেছেন।
(খণ্ড: ১)
শারহু ইলালিত তিরমিযী
(পৃষ্ঠা: ৩০)
المطلب الثالث أشهر علماء هذا الفن لقد قيض الله تعالى لميدان علم الحديث والعلل أعلاما عبدوا مساربه. فكان شعبة بن الحجاج أبو بسطام (المتوفى سنة 160هـ) من رواده الأوائل وشعبة هذا قال عنه الإمام الشافعي رحمه الله: "لولا شعبة ما عرف الحديث بالعراق. وقال أبو حاتم الرازي: إذا رأيت شعبة يحدث عن رجل فاعلم بأنه ثقة. وقال يحيى بن سعيد: كان شعبة أعلم الناس بالحديث".
قال ابن رجب في معرض ترجمته لشعبة بن الحجاج: "وهو أول من وسع الكلام في الجرح والتعديل واتصال الأسانيد وانقطاعها، ونقب عن دقائق علم العلل، وأئمة هذا الشأن بعده تبع له في هذا العلم".
وقال السمعاني صاحب كتاب اٍلأنساب: "هو أول من فتش بالعراق عن أمر المحدثين". وهذه العبارة تكفي لأن نعرف من هو شعبة. وفي كتب العلل والرجال يتردد اسمه في كل صفحة، وكافة النقاد بعده يتسابقون في نقل عباراته والبحث عن نظراته في الرجال والعلل. وخلاصة القول في شأن هذا الرجل أن الحديث أصبح صناعة وفنا على يديه.
ومن فرسان هذا الميدان وأفذاذه يحيى بن سعيد القطان (المتوفى سنة 198هـ) خليفة شعبة والقائم بعده مقامه، وعنه تلقاه أئمة هذا الشأن
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: এই শাস্ত্রের প্রসিদ্ধ আলেমগণ মহান আল্লাহ তা'আলা হাদীস শাস্ত্র ও এর ত্রুটি-বিচ্যুতি (ইলমুল ইলাল) বিষয়ক জ্ঞানের ময়দানের জন্য এমন কিছু মহান ব্যক্তিত্বকে নির্ধারিত করেছেন, যারা এর পথসমূহকে সুগম ও প্রশস্ত করেছেন। শু'বাহ ইবনুল হাজ্জাজ আবু বিস্তাম (মৃত্যু ১৬০ হি.) ছিলেন এর প্রাথমিক অগ্রপথিকদের একজন। এই শু'বাহ সম্পর্কে ইমাম শাফিঈ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "যদি শু'বাহ না থাকতেন, তবে ইরাকে হাদীস চেনা যেত না।" আবু হাতিম আর-রাযী বলেছেন: "যখন আপনি দেখবেন যে শু'বাহ কোনো ব্যক্তি থেকে হাদীস বর্ণনা করছেন, তবে নিশ্চিত জানবেন যে তিনি নির্ভরযোগ্য।" ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ বলেছেন: "শু'বাহ ছিলেন হাদীস শাস্ত্রে মানুষের মাঝে সর্বাধিক জ্ঞানী।"
ইবনে রাজাব শু'বাহ ইবনুল হাজ্জাজের জীবনী আলোচনায় বলেছেন: "তিনিই প্রথম ব্যক্তি যিনি জারহ ওয়া তা'দীল (বর্ণনাকারীদের সমালোচনা ও প্রশংসা) এবং সনদের নিরবচ্ছিন্নতা ও বিচ্ছিন্নতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। তিনি ইলমুল ইলাল-এর সূক্ষ্ম রহস্যসমূহ উদ্ঘাটন করেছেন এবং তাঁর পরবর্তী এই শাস্ত্রের ইমামগণ এই ইলমের ক্ষেত্রে তাঁরই অনুসারী।"
'কিতাবুল আনসাব'-এর লেখক আস-সাম'আনী বলেন: "তিনিই প্রথম ব্যক্তি যিনি ইরাকে মুহাদ্দিসদের অবস্থা সম্পর্কে পুঙ্খানুপুঙ্খ অনুসন্ধান চালিয়েছেন।" শু'বাহ কে ছিলেন তা জানার জন্য এই উক্তিটুকুই যথেষ্ট। ইলাল এবং রিজাল শাস্ত্রের কিতাবসমূহের প্রতিটি পৃষ্ঠায় তাঁর নাম বারবার উচ্চারিত হয় এবং তাঁর পরবর্তী সকল সমালোচক তাঁর উক্তিগুলো উদ্ধৃত করতে এবং বর্ণনাকারী ও ত্রুটিসমূহ সম্পর্কে তাঁর সূক্ষ্ম দৃষ্টির সন্ধানে একে অপরের সাথে প্রতিযোগিতা করেন। সংক্ষেপে বলতে গেলে, তাঁর হাতেই হাদীস একটি স্বতন্ত্র শিল্প ও বিজ্ঞানে রূপ লাভ করেছে।
এই ময়দানের অন্যতম অকুতোভয় অশ্বারোহী ও অনন্য ব্যক্তিত্ব হলেন ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আল-কাত্তান (মৃত্যু ১৯৮ হি.), যিনি ছিলেন শু'বাহর সার্থক উত্তরসূরি এবং তাঁর স্থলাভিষিক্ত। তাঁর নিকট থেকেই এই শাস্ত্রের পরবর্তী ইমামগণ ইলম অর্জন করেছেন।
(খণ্ড: ১)
শারহু ইলালিত তিরমিযী
(পৃষ্ঠা: ৩১)
كأحمد وعلي ويحيى بن معين، وقد كان شعبة يحكمه على نفسه في هذا العلم، هذا قول ابن رجب فيه رحمه الله.
قال أحمد: لم يكن في زمان يحيى القطان مثله كان تعلم من شعبة وقال ابن معين: قال لي عبد الرحمن بن مهدي: لا ترى بعينيك مثل يحيى بن سعيد القطان. وقد ترجم له ابن رجب ترجمة تليق بمقامه، وترفع شأنه، وقد ذكر ابن رجب أن ليحيى القطان كتابا في العلل فيكون بذلك أول من صنف في هذا العلم. وقد وصفه ابن الأثير بوصف جامع أوقفني على عظمة هذا الرجل، وشدني إلى مزيد من التعرف عليه فقال: "وهو الذي مهد لأهل العراق رسم الحديث، وأمعن في البحث عن الرجال". وقد صحب يحيى القطان شعبة مدة عشرين عاما فاكتسب منه مهارة فائقة ظهرت آثارها فيما نقل عنه، وفي التلاميذ الذين تلقوا عنه كيحيى بن معين، وأحمد بن حنبل، وعلي بن المديني، وقل أن يجد الباحث قضية في العلل والرجال خلت من رأي ليحيى بن سعيد، وقد بلغ من علو كعبه في النقد أن قبله شيخه شعبة حكما بينه وبين مخالفيه، قال عبد الرحمن بن مهدي:
اختلفوا يوما عند شعبة، فقالوا اجعل بيننا وبينك حكما. فقال: قد رضيت بالأحول، يعني يحيى بن سعيد القطان، فما برحنا حتى جاء يحيى فتحاكموا إليه، فقضى على شعبة، فقال له شعبة: ومن يطيق مثل نقدك يا أحول؟ " ويعلق ابن أبي حاتم على هذه القصة، فيقول: "هذه غاية المنزلة إذا اختاره شعبة من بين أهل العلم، ثم بلغ من دالته بنفسه وصلابته في دينه أن قضى على شعبة".
যেমন আহমাদ, আলী এবং ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন; এমনকি শু'বা এই ইলমের ক্ষেত্রে তাকে নিজের উপর বিচারক হিসেবে গ্রহণ করতেন। এটি তার সম্পর্কে ইবনে রাজাবের উক্তি—আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন।
আহমাদ বলেন: ইয়াহইয়া আল-কাত্তানের যুগে তাঁর মতো আর কেউ ছিল না, তিনি শু'বার নিকট থেকে ইলম অর্জন করেছিলেন। ইবনে মাঈন বলেন: আব্দুর রহমান ইবনে মাহদী আমাকে বলেছেন: তুমি নিজের চোখে ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আল-কাত্তানের মতো কাউকে দেখবে না। ইবনে রাজাব তাঁর এমন এক জীবনী আলোচনা করেছেন যা তাঁর মর্যাদার উপযুক্ত এবং তাঁর শানকে সমুন্নত করে। ইবনে রাজাব উল্লেখ করেছেন যে, ইয়াহইয়া আল-কাত্তানের 'ইলাল' (হাদিসের সূক্ষ্ম ত্রুটি) বিষয়ক একটি কিতাব ছিল, যার ফলে তিনি এই ইলমে প্রথম গ্রন্থকার হিসেবে গণ্য হন। ইবনে আল-আসির তাঁর এমন এক সামগ্রিক বর্ণনা দিয়েছেন যা আমাকে এই ব্যক্তির মহত্ত্ব সম্পর্কে সচেতন করেছে এবং তাঁর সম্পর্কে আরও জানতে আগ্রহী করেছে। তিনি বলেছেন: "তিনিই সেই ব্যক্তি যিনি ইরাকবাসীর জন্য হাদিসের নিয়মাবলি প্রস্তুত করেছিলেন এবং বর্ণনাকারীদের (রিজাল) অনুসন্ধানে গভীর পাণ্ডিত্য প্রদর্শন করেছিলেন।" ইয়াহইয়া আল-কাত্তান বিশ বছর পর্যন্ত শু'বার সাহচর্যে ছিলেন। ফলে তিনি তাঁর কাছ থেকে এক অসাধারণ দক্ষতা অর্জন করেন, যার প্রভাব তাঁর বর্ণিত বর্ণনা এবং তাঁর ছাত্র—যেমন ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন, আহমাদ ইবনে হাম্বল ও আলী ইবনে মাদীনী—এর মাঝে প্রকাশ পেয়েছে। গবেষকদের জন্য 'ইলাল' এবং 'রিজাল' সংক্রান্ত এমন কোনো বিষয় খুঁজে পাওয়া দুষ্কর যেখানে ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদের কোনো মতামত নেই। সমালোচনা বিদ্যায় তাঁর পারদর্শিতা এমন উচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে, তাঁর উস্তাদ শু'বা নিজের এবং তাঁর বিরোধীদের মাঝে তাঁকে বিচারক হিসেবে মেনে নিতেন। আব্দুর রহমান ইবনে মাহদী বলেন:
একদিন তারা শু'বার নিকট দ্বিমত পোষণ করল। তারা বলল, আমাদের এবং আপনার মাঝে একজনকে বিচারক নিযুক্ত করুন। তিনি বললেন: আমি সেই টেরা চোখের ব্যক্তির ফয়সালায় সন্তুষ্ট, অর্থাৎ ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আল-কাত্তান। আমরা সেখান থেকে সরিনি যতক্ষণ না ইয়াহইয়া আসলেন। তারা তাঁর কাছে বিচার চাইলেন, তখন তিনি শু'বার বিপক্ষে ফয়সালা দিলেন। শু'বা তাঁকে বললেন: "হে আহওয়াল! তোমার মতো সূক্ষ্ম সমালোচনা সহ্য করার ক্ষমতা কার আছে?" ইবনে আবি হাতিম এই ঘটনার ওপর মন্তব্য করে বলেন: "এটি মর্যাদার চূড়ান্ত শিখর যে, শু'বা সকল আহলে ইলমের মধ্য থেকে তাঁকে নির্বাচন করেছেন। অতঃপর তাঁর আত্মবিশ্বাস ও দ্বীনি দৃঢ়তা তাঁকে এমন স্তরে নিয়ে গিয়েছিল যে তিনি খোদ শু'বার বিরুদ্ধেই ফয়সালা দিয়েছিলেন।"
(খণ্ড: ১)
শারহু ইলালিত তিরমিযী
(পৃষ্ঠা: ৩২)
ومن رجال هذا الفن الحاذقين فيه عبد الرحمن بن مهدي (المتوفى سنة 198هـ) ، وهو الذي قال عنه علي بن المديني: "لو أخذت فأحلفت بين الركن والمقام لحلفت بالله أنني لم أر أحدا قط أعلم بالحديث من عبد الرحمن بن مهدي وقال صالح بن أحمد بن حنبل: قلت لأبي: أيما أثبت عندك عبد الرحمن بن مهدي أو وكيع؟ قال: عبد الرحمن أقل سقطا من وكيع في سفيان، قد خالفه وكيع في ستين حديثا من حديث سفيان، وكان عبد الرحمن يجيء بها على ألفاظها، وكان لعبد الرحمن توق حسن".
وأما يحيى بن معين بن عون المري أبو زكريا (المتوفى سنة 233هـ) فإليه انتهى علم العلل حتى قال عنه الإمام أحمد: "ههنا رجل خلقه الله لهذا الشان". ومن آثاره التي وصلتنا "التاريخ والعلل" وفيه علم غزير ومعرفة واسعة في علم الرجال والعلل، ولم يكتب هو بيده شيئا وإنما جمع عدد من تلاميذه أخباره ومسائله في العلل كعثمان الدارمي، وعباس الدوري، وابن الجنيد، ومضر بن محمد، وابن محرز، وخالد بن الهيثم. وقل أن نجد رجلا لم يتكلم ابن معين فيه جرحا أو تعديلا، ولقد عرف أهل زمانه مكانته به بالمدينة والمنادي ينادي: هذا الذي ذب الكذب عن أحاديث رسول الله صلى الله عليه وسلم.
ومن كبار النقاد ورجال العلل أبو الحسن علي بن جعفر المديني (المتوفى سنة 234هـ) شيخ البخاري، قال عنه أو حاتم الرازي: "كان علي بن المديني علما في الناس في معرفة الحديث والعلل". وقد ترجم له ابن رجب في شرح
এই শিল্পের দক্ষ পণ্ডিতদের একজন হলেন আবদুর রহমান ইবনে মাহদি (মৃত্যু ১৯৮ হিজরি)। তাঁর সম্পর্কে আলি ইবনুল মাদিনি বলেছেন: "আমি যদি রুকন ও মাকামের মাঝে দাঁড়িয়ে শপথ করি, তবে আল্লাহর নামে এই শপথই করব যে, আমি আবদুর রহমান ইবনে মাহদি অপেক্ষা হাদিসশাস্ত্রে অধিক জ্ঞানী আর কাউকে দেখিনি।" সালেহ ইবনে আহমদ ইবনে হাম্বল বলেন: "আমি আমার পিতাকে জিজ্ঞেস করলাম, আপনার নিকট আবদুর রহমান ইবনে মাহদি এবং ওয়াকি—এই দুজনের মধ্যে কে বেশি নির্ভরযোগ্য? তিনি বললেন: সুফিয়ানের হাদিসের ক্ষেত্রে আবদুর রহমান ওয়াকির চেয়ে কম ভুলকারী। সুফিয়ানের বর্ণিত ষাটটি হাদিসে ওয়াকি তাঁর বিরোধিতা করেছেন; অথচ আবদুর রহমান সেগুলো হুবহু শব্দসহ বর্ণনা করতেন। আবদুর রহমানের বিচারবুদ্ধি ছিল অত্যন্ত চমৎকার।"
আর আবু জাকারিয়া ইয়াহইয়া ইবনে মায়িন ইবনে আউন আল-মুররি (মৃত্যু ২৩৩ হিজরি) সম্পর্কে বলা যায় যে, ইলাল শাস্ত্রের জ্ঞান তাঁর কাছে এসেই পূর্ণতা পেয়েছে। এমনকি ইমাম আহমদ তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: "এখানে এমন একজন ব্যক্তি আছেন, যাকে আল্লাহ এই কাজের জন্যই সৃষ্টি করেছেন।" আমাদের কাছে পৌঁছানো তাঁর নিদর্শনাবলির মধ্যে রয়েছে 'আত-তারিখ ওয়াল ইলাল'; এতে রিজাল শাস্ত্র এবং ইলাল শাস্ত্র সম্পর্কে অগাধ জ্ঞান ও ব্যাপক পরিচিতি রয়েছে। তিনি নিজে স্বহস্তে কিছু লেখেননি, বরং তাঁর একদল ছাত্র ইলাল শাস্ত্রের বিষয়ে তাঁর বর্ণনা ও মাসআলাগুলো সংগ্রহ করেছেন; যেমন—উসমান আদ-দারিমি, আব্বাস আদ-দুরি, ইবনুল জুনাইদ, মুদার ইবনে মুহাম্মদ, ইবনে মুহরিজ এবং খালিদ ইবনুল হাইসাম। এমন ব্যক্তি খুব কমই পাওয়া যাবে যার সম্পর্কে ইবনে মায়িন জারহ (সমালোচনা) বা তাদিল (প্রশংসা) করেননি। তাঁর সমসাময়িক লোকেরা মদিনায় তাঁর মর্যাদা সম্পর্কে জানতেন এবং একজন ঘোষণাকারী ঘোষণা দিতেন: "ইনিই সেই ব্যক্তি যিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিস থেকে মিথ্যাকে বিতাড়িত করেছেন।"
সমালোচক ও ইলাল শাস্ত্রের বড় পণ্ডিতদের মধ্যে অন্যতম হলেন ইমাম বুখারির উস্তাদ আবুল হাসান আলি ইবনে জাফর আল-মাদিনি (মৃত্যু ২৩৪ হিজরি)। তাঁর সম্পর্কে আবু হাতেম আর-রাজি বলেন: "হাদিস ও ইলাল শাস্ত্রের জ্ঞানে আলি ইবনুল মাদিনি ছিলেন মানুষের মধ্যে এক প্রজ্জ্বলিত নক্ষত্র।" ইবনে রজব তাঁর শরহ গ্রন্থে তাঁর জীবনী বর্ণনা করেছেন—
(খণ্ড: ১)
শারহু ইলালিত তিরমিযী
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
علل الترمذي وذكر له قائمة من الكتب زادت على الثلاثين كتابا. معظمها في العلل - مثل:
- علل المسند في ثلاثين جزءا.
- العلل التي كتبها عنه إسماعيل القاضي، أربعة عشر جزءا.
- علل حديث ابن عيينة ثلاثة عشر جزءا.
- الوهم والخطأ في خمسة أجزاء.
- من حدث ثم رجع عنه جزء.
- اختلاف الحديث، خمسة أجزاء.
- العلل المتفرقة ثلاثون جزءا.
ومن هؤلاء الأفذاذ الإمام أحمد بن حنبل (المتوفى سنة 241هـ) وباعه في الحديث عامة، وفي العلل خاصة طويل.
ولقد كتب عنه تلاميذه مئات الأجزاء في العلل وفي سائر فنون الحديث. ومن هذه الأجزاء ما كتبه ابنه عبد الله عنه وقد بلغ كتابه" العلل ومعرفة الرجال" اثني عشر جزءا مخطوطا. وقد ترجم له ابن رجب رحمه الله ترجمة تليق بمقامه.
وأما الإمام محمد بن إسماعيل البخاري (المتوفى سنة 256هـ) فقد وصفه تلميذه مسلم بن الحجاج بقوله: "أستاذ الأستاذين وسيد المحدثين، وطبيب الحديث في علله".
وله كتاب في العلل ذكره ابن حجر في المعجم المفهرس له، وابن خير في فهرسته.
তিরমিযীর 'ইলাল' এবং তাঁর জন্য ত্রিশটিরও বেশি গ্রন্থের একটি তালিকা উল্লেখ করা হয়েছে। সেগুলোর অধিকাংশই হাদিসের সূক্ষ্ম ত্রুটি (ইলাল) বিষয়ক - যেমন:
- তিরিশ খণ্ডে 'ইলালুল মুসনাদ'।
- 'আল-ইলাল' যা ইসমাইল আল-কাজী তাঁর থেকে লিপিবদ্ধ করেছেন, চৌদ্দ খণ্ডে।
- তেরো খণ্ডে ইবনে উয়াইনার হাদিসের 'ইলাল'।
- পাঁচ খণ্ডে 'আল-ওয়াহমু ওয়াল-খাতা' (ভ্রান্তি ও ভুল)।
- 'মান হাদদাসা ছুম্মা রাজায়া আনহু' (যিনি হাদিস বর্ণনা করেছেন অতঃপর তা থেকে ফিরে এসেছেন) এক খণ্ড।
- পাঁচ খণ্ডে 'ইখতিলাফুল হাদিস'।
- তিরিশ খণ্ডে 'আল-ইলালুল মুতাফাররিকা' (বিবিধ ত্রুটিসমূহ)।
আর এই অপ্রতিদ্বন্দ্বী মণীষীদের অন্তর্ভুক্ত হলেন ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল (মৃত্যু ২৪১ হিজরি); সাধারণভাবে হাদিস শাস্ত্রে এবং বিশেষভাবে হাদিসের সূক্ষ্ম ত্রুটি (ইলাল) নির্ণয়ে তাঁর পাণ্ডিত্য ও পদচারণা অত্যন্ত দীর্ঘ ও সুগভীর।
তাঁর ছাত্রগণ তাঁর নিকট থেকে হাদিসের সূক্ষ্ম ত্রুটি এবং হাদিস শাস্ত্রের অন্যান্য শাখায় শত শত খণ্ড লিপিবদ্ধ করেছেন। এই খণ্ডগুলোর মধ্যে রয়েছে যা তাঁর পুত্র আবদুল্লাহ তাঁর থেকে লিপিবদ্ধ করেছেন, তাঁর 'আল-ইলাল ওয়া মারিফাতুর রিজাল' গ্রন্থটি পাণ্ডুলিপি হিসেবে বারো খণ্ডে পৌঁছেছে। আর ইবনে রাজাব (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর সম্পর্কে এমন এক জীবনীগ্রন্থ রচনা করেছেন যা তাঁর সুউচ্চ মর্যাদার সাথে মানানসই।
আর ইমাম মুহাম্মদ বিন ইসমাইল আল-বুখারী (মৃত্যু ২৫৬ হিজরি) সম্পর্কে তাঁর ছাত্র মুসলিম বিন হাজ্জাজ বর্ণনা করেছেন যে: "তিনি উস্তাদদের উস্তাদ, মুহাদ্দিসগণের সরদার এবং হাদিসের সূক্ষ্ম ত্রুটি নির্ণয়ে হাদিস শাস্ত্রের চিকিৎসক।"
হাদিসের সূক্ষ্ম ত্রুটি (ইলাল) বিষয়ে তাঁর একটি গ্রন্থ রয়েছে যা ইবনে হাজার তাঁর 'আল-মু'জামুল মুফাহরাস' গ্রন্থে এবং ইবনে খায়র তাঁর 'ফিহরিসত' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
শারহু ইলালিত তিরমিযী
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
الأول: "العلل الصغير"، وهو ملحق بكتابه الجامع.
والثاني: العلل الكبير ومعظمه منتزع من كتاب الجامع.
وممن صنف في العلل أبو زرعة عبد الرحمن بن عمر الدمشقي (المتوفى سنة 280هـ) وله في ذلك كتاب التاريخ وعلل الرجال".
وللحافظ أبي بكر أحمد عمرو بن عبد الخالق المعروف بالبزار، (المتوفى سنة 292هـ) كتاب مهم هو "المسند الكبير المعلل".
وقد هذبه ابن حجر، وتوجد منه نسخة في مكتبة مراد ملا.
وممن صنف في العلل أبو يحيى زكريا بن يحيى الساجي، (المتوفى سنة 307هـ) وقد ترجم له الذهبي في تذكرته، وقال: له كتاب في علل الحديث يدل على تبحره، وذكره ابن خير في فهرسته.
وصنف الحافظ البارع أبو علي الحسين بن محمد بن أحمد الماسرجسي النيسابوري (المتوفى سنة 365هـ) كتابا في العلل. وهو مسند كبير مهذب معلل في ألف جزء وثلاثمائة جزء - وقد نقل الذهبي عن الحاكم قوله: هو سفينة عصره في كثرة الكتابة، وقال: وعلى التخمين يكون مسنده في خطوط الوراقين في أكثر من ثلاثة آلاف جزء، فعندي أنه لم يصنف في الإسلام مسند أكبر منه، وكان مسند أبي بكر الصديق بخطه في بضعة عشر جزءا بعلله وشواهده، فكتبه النساخ في نيف وستين جزءا.
وقد تلقي عنه هذا الفن محمد بن محمد بن أحمد بن إسحاق النيسابوري
প্রথমটি হলো: "আল-ইলাল আস-সগীর", যা তাঁর জামে কিতাবের সাথে পরিশিষ্ট হিসেবে যুক্ত।
এবং দ্বিতীয়টি হলো: "আল-ইলাল আল-কাবীর", যার অধিকাংশ তাঁর জামে কিতাব থেকে সংগৃহীত।
ইলাল শাস্ত্রে যারা গ্রন্থ রচনা করেছেন তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন আবু জুরআ আবদুর রহমান বিন উমর আদ-দিমাশকি (মৃত্যু ২৮০ হিজরি); এ বিষয়ে তাঁর "কিতাবুত তারিখ ওয়া ইলালুর রিজাল" নামক একটি গ্রন্থ রয়েছে।
হাফেজ আবু বকর আহমদ আমর বিন আব্দুল খালিক, যিনি আল-বাযযার নামে পরিচিত (মৃত্যু ২৯২ হিজরি), তাঁর একটি গুরুত্বপূর্ণ কিতাব হলো "আল-মুসনাদ আল-কাবীর আল-মুআল্লাল"।
ইবনে হাজার এটি পরিমার্জন করেছেন এবং মুরাদ মোল্লা লাইব্রেরিতে এর একটি পাণ্ডুলিপি সংরক্ষিত আছে।
ইলাল শাস্ত্রে যারা গ্রন্থ রচনা করেছেন তাদের মধ্যে আবু ইয়াহইয়া জাকারিয়া বিন ইয়াহইয়া আস-সাজি (মৃত্যু ৩০৭ হিজরি) অন্যতম। যাহাবি তাঁর 'তাজকিরাহ' গ্রন্থে তাঁর জীবনী আলোচনা করেছেন এবং বলেছেন: হাদিসের ইলাল বিষয়ে তাঁর একটি কিতাব রয়েছে যা তাঁর অগাধ পাণ্ডিত্যের প্রমাণ দেয়। ইবনে খায়ের তাঁর ফেহেরেস্ত (সূচিপত্র) গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেছেন।
প্রাজ্ঞ হাফেজ আবু আলী আল-হুসাইন বিন মুহাম্মদ বিন আহমদ আল-মাসারজাসি আন-নিশাপুরি (মৃত্যু ৩৬৫ হিজরি) ইলাল শাস্ত্রে একটি কিতাব রচনা করেছেন। এটি একটি সুবিন্যস্ত ও বিশাল মুসনাদ যা ত্রুটিসমূহ (ইলাল) বর্ণনাসংবলিত এবং এক হাজার তিনশ খণ্ডে বিভক্ত। যাহাবি আল-হাকিম থেকে তাঁর উক্তি বর্ণনা করেছেন যে: তিনি প্রচুর লেখালেখির কারণে তাঁর যুগের জাহাজস্বরূপ ছিলেন। তিনি আরও বলেছেন: ধারণা করা হয় যে, লিপিকারদের হস্তাক্ষরে তাঁর মুসনাদটি তিন হাজারেরও বেশি খণ্ডে হতে পারে। আমার জানামতে ইসলামে এর চেয়ে বিশাল কোনো মুসনাদ সংকলিত হয়নি। তাঁর হস্তাক্ষরে আবু বকর আস-সিদ্দিক (রা.)-এর মুসনাদটি এর ইলাল ও শাহেদসহ (সমর্থক বর্ণনা) দশের অধিক খণ্ডে ছিল, যা লিপিকারগণ ষাটের অধিক খণ্ডে লিপিবদ্ধ করেছেন।
এবং মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন ইসহাক আন-নিশাপুরি তাঁর নিকট থেকে এই শাস্ত্র অর্জন করেছেন।
(খণ্ড: ১)
শারহু ইলালিত তিরমিযী
(পৃষ্ঠা: ৩৭)
وللحاكم أبي عبد الله محمد بن البيع كتاب في العلل، وقد أفرد للعلل مبحثا في كتابه "معرفة علوم الحديث".
وللحسن بن محمد البغدادي المعروف بالخلال (المتوفى سنة 439هـ) كتاب في العلل.
ولابن الجوزي عبد الرحمن بن علي بن محمد (المتوفى سنة 597هـ) ، كتاب العلل المتناهية".
وأما عبد الرحمن بن أحمد بن رجب (المتوفى سنة 795هـ) فقد شرح كتاب الترمذي الجامع ثم شرح كتاب العلل الصغير الملحق بالجامع وأضاف عليه إضافات مهمة في علم العلل، وهذا الجهد كله منصب على هذا الكتاب لخدمته وإظهاره إن شاء الله.
وقد صنف أحمد بن علي بن حجر (المتوفى سنة 852هـ) كتابا سماه الزهر المطلول في الخبر المعلول".
وكثير من هذه الكتب طوته يد الحدثان وبقي بعضهما رهين دور المخطوطات، ولم يطبع منها سوى مجلد من علل الإمام أحمد، وعلل ابن أبي حاتم، وجزء من علل ابن المديني
আল-হাকিম আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনুল বায়্যি'-এর 'ইল্লাল' (হাদিসের নিগূঢ় ত্রুটি) বিষয়ের ওপর একটি কিতাব রয়েছে এবং তিনি তাঁর 'মা'রিফাতু উলুমিল হাদিস' গ্রন্থে 'ইল্লাল'-এর জন্য একটি স্বতন্ত্র অধ্যায় নির্ধারণ করেছেন।
হাসান বিন মুহাম্মদ আল-বাগদাদী, যিনি আল-খাল্লাল (মৃত্যু ৪৩৯ হিজরি) নামে পরিচিত, তাঁরও 'ইল্লাল' বিষয়ের ওপর একটি কিতাব রয়েছে।
ইবনুল জাওযী আব্দুর রহমান বিন আলী বিন মুহাম্মদ (মৃত্যু ৫৯৭ হিজরি)-এর 'আল-ইল্লাল আল-মুতানাহিয়া' নামক একটি কিতাব রয়েছে।
আর আব্দুর রহমান বিন আহমদ বিন রজব (মৃত্যু ৭৯৫ হিজরি) ইমাম তিরমিযীর 'জামি' গ্রন্থের ব্যাখ্যা করেছেন, এরপর 'জামি'-এর সাথে সংযুক্ত 'কিতাবুল ইল্লাল আস-সাগীর'-এর ব্যাখ্যা করেছেন এবং 'ইল্লাল' শাস্ত্রে এতে গুরুত্বপূর্ণ কিছু সংযোজন করেছেন। ইনশাআল্লাহ, এই সকল প্রচেষ্টা এই কিতাবটির খিদমত এবং একে প্রকাশ করার উদ্দেশ্যেই নিবেদিত।
আহমদ বিন আলী বিন হাজার (মৃত্যু ৮৫২ হিজরি) একটি কিতাব রচনা করেছেন যার নাম দিয়েছেন 'আয-যাহরুল মাতলুল ফিল খাবারিল মা'লুল'।
এই কিতাবগুলোর অনেকগুলোই কালের আবর্তে বিলীন হয়ে গেছে এবং সেগুলোর কিছু পাণ্ডুলিপি আকারে সংরক্ষিত রয়েছে। এগুলোর মধ্যে কেবল ইমাম আহমদের 'ইল্লাল', ইবনু আবী হাতিমের 'ইল্লাল' এবং ইবনুল মাদীনীর 'ইল্লাল'-এর একটি অংশ মুদ্রিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
শারহু ইলালিত তিরমিযী
(পৃষ্ঠা: ৩৯)
الفصل الثاني في التعريف بأصل كتاب شرح علل الترمذي ومنهج ابن رجب فيه وأشهر مصادره في العلل
وفيه أربعة مباحث:
المبحث الأول: في التعريف بأصل الكتاب وصاحبه.
المبحث الثاني: نظرة في مناهج كتب العلل المتقدمة.
المبحث الثالث: منهج ابن رجب في شرح علل الترمذي.
المبحث الرابع: دراسة لأشهر مصادر ابن رجب في العلل.
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: শারহু ইলালিত তিরমিযী গ্রন্থের মূল পরিচিতি, এতে ইবনে রজব-এর অনুসৃত পদ্ধতি এবং ইলাল শাস্ত্রে তাঁর প্রসিদ্ধ উৎসসমূহ প্রসঙ্গে
এতে চারটি আলোচ্য বিষয় রয়েছে:
প্রথম আলোচ্য বিষয়: মূল গ্রন্থ এবং এর লেখকের পরিচিতি প্রসঙ্গে।
দ্বিতীয় আলোচ্য বিষয়: পূর্ববর্তী ইলাল শাস্ত্রীয় গ্রন্থসমূহের পদ্ধতির ওপর এক নজর।
তৃতীয় আলোচ্য বিষয়: শারহু ইলালিত তিরমিযী গ্রন্থে ইবনে রজব-এর পদ্ধতি।
চতুর্থ আলোচ্য বিষয়: ইলাল শাস্ত্রে ইবনে রজব-এর প্রসিদ্ধ উৎসসমূহের একটি পর্যালোচনা।
(খণ্ড: ১)
শারহু ইলালিত তিরমিযী
(পৃষ্ঠা: ৪১)
المبحث الأول التعريف بأصل الكتاب وصاحبه
تمهيد لما كان منطلق هذه الدراسة كتاب "شرح علل الترمذي" فإنه منطق البحث يلزمنا أن نعرف بأصل الكتاب وصاحبه. وسيكون هذا - إن شاء الله - على وجه الإجمال والاختصار، وذلك لأن الأصل الذي هو "العلل الصغير" مبثوث في شرح ابن رجب، وقد تكلم عليه فأجاد وأفاد. وأما صاحبه فهو الإمام الترمذي وهو غني عن التعريف والبيان.
وقد جعلت هذا المبحث في مطلبين اثنين:
المطلب الأول التعريف بكتاب العلل الصغير صنف الإمام الترمذي كتابه المسمى بـ "الجامع" على الأبواب المعللة، ثم ختم كتابه بكتاب صغير في العلل، بين فيه مقاصده، ومصادره ورجاله ومصطلحاته.
ومع أن هذا الكتاب مسبوق بجهود متفرقة في علم الدراية، كما هو مسبوق بمقدمة صحيح مسلم، التي حددت مقاصد مسلم ورجاله، وبعض آرائه، رغم كل هذا فإن كتاب العلل الصغير للترمذي جاء أتم وأكمل، وجاز لنا أن نعتبره أول مصنف في علوم الحديث، وموضوعاته أشمل وأدق من موضوعات "المحدث الفاصل" للرامهرمزي الذي قيل فيه: أنه أول مصنف في علوم الحديث.
প্রথম পরিচ্ছেদ: মূল গ্রন্থ এবং তার লেখকের পরিচিতি
ভূমিকা যেহেতু এই গবেষণার মূল ভিত্তি হলো "শারহু ইলালিত তিরমিযী" গ্রন্থটি, তাই গবেষণার যৌক্তিক দাবি অনুযায়ী মূল গ্রন্থ এবং তার লেখকের পরিচয় প্রদান করা আমাদের জন্য আবশ্যক। ইনশাআল্লাহ, এটি সংক্ষিপ্ত ও সাধারণ আকারে উপস্থাপন করা হবে। কারণ, মূল গ্রন্থ "আল-ইলালুস সাগীর" ইবনে রজব-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থের (শারহ) মধ্যে নিহিত রয়েছে এবং তিনি এ বিষয়ে অত্যন্ত চমৎকার ও সারগর্ভ আলোচনা করেছেন। আর এর লেখক হলেন ইমাম তিরমিযী, যিনি কোনো প্রকার পরিচয় ও বর্ণনার মুখাপেক্ষী নন।
আমি এই পরিচ্ছেদটিকে দুটি অনুচ্ছেদে বিভক্ত করেছি:
প্রথম অনুচ্ছেদ: আল-ইলালুস সাগীর গ্রন্থের পরিচিতি ইমাম তিরমিযী তাঁর "আল-জামি‘" নামক গ্রন্থটি ইল্লত বা ত্রুটি সম্পর্কিত অধ্যায়সমূহের বিন্যাসে সংকলন করেছেন। এরপর তিনি তাঁর গ্রন্থটিকে ‘ইলাল’ বিষয়ক একটি সংক্ষিপ্ত কিতাবের মাধ্যমে সমাপ্ত করেছেন, যেখানে তিনি তাঁর উদ্দেশ্য, উৎসসমূহ, বর্ণনাকারীগণ এবং তাঁর ব্যবহৃত পরিভাষাগুলো ব্যাখ্যা করেছেন।
যদিও এই গ্রন্থটির পূর্বে ‘ইলমে দিরায়াহ’ বা হাদীস শাস্ত্রের মূলনীতি বিষয়ে বিক্ষিপ্ত কিছু কাজ হয়েছে, যেমনটি ‘সহীহ মুসলিম’-এর ভূমিকার ক্ষেত্রে দেখা যায়, যেখানে ইমাম মুসলিম তাঁর উদ্দেশ্য, বর্ণনাকারী এবং তাঁর কিছু মতামত ব্যক্ত করেছেন; তা সত্ত্বেও ইমাম তিরমিযীর "আল-ইলালুস সাগীর" গ্রন্থটি অধিকতর পূর্ণাঙ্গ ও সংহত হয়ে প্রকাশিত হয়েছে। আমাদের জন্য এটিকে হাদীস শাস্ত্রের (উলূমুল হাদীস) প্রথম সংকলন হিসেবে গণ্য করা যুক্তিযুক্ত। এর বিষয়বস্তু রামহুরমুযীর "আল-মুহাদ্দিসুল ফাসিল" গ্রন্থের বিষয়বস্তু অপেক্ষা অধিকতর ব্যাপক ও সূক্ষ্ম, যে গ্রন্থটি সম্পর্কে বলা হয়ে থাকে যে, এটিই হাদীস শাস্ত্রের প্রথম সংকলন।
(খণ্ড: ১)
শারহু ইলালিত তিরমিযী
(পৃষ্ঠা: ৪২)
ولما كنت سأكل الكلام عن هذا الكتاب لشارحه فسأقتصر هنا على ذكر مقاصد الكتاب. وهي كما يلي:
1 - بين الترمذي أن الأحاديث المذكورة في كتابه معمول بها كلها ما عدا اثنين ذكرهما.
2 - حدد الترمذي أسانيده إلى الفقهاء الذين ذكر مذاهبهم في كتابه.
3 - بين الترمذي فيه مقصده العام من كتابه "الجامع"، وأنه كتاب معلل.
4 - ساق فيه الترمذي أدلة كثيرة على جواز الكلام في الرجال والعلل، بل على وجوبه.
5 - قسم الرواة فيه إلى أربعة أقسام:
(أ) قوم من الثقات الحفاظ الذين يندر الخطأ في حديثهم.
(ب) قوم من الثقات الذين يكثر الغلط والخطأ في حديثهم.
(ج) قوم من جلة أهل العلم غلب عليهم الخطأ والوهم فلا يحتج بحديثهم إذا انفردوا.
(د) قوم من المهتمين وأصحاب الغفلة، وهؤلاء لا يحتج بهم.
وفي الكلام عن الرواة ركز الترمذي على تفاوت الحفاظ في الضبط، وأثر ذلك على رواياتهم. وهذا لب علم العلل كما سنرى فيما بعد - إن شاء الله -.
6 - تكلم الترمذي على الرواية بالمعنى واللفظ، ووضع شروطا لجواز الرواية بالمعنى.
7 - فصل الكلام في أنواع التحمل.
8 - تكلم عن الاختلاف في توثيق الرواة وتضعيفهم. وفي هذه إشارة منه إلى أن صاحب الكتاب قد يأخذ عن رجل ضعيف عند غيره، ولكنه ثقة عنده.
যেহেতু আমি এই গ্রন্থ সম্পর্কে আলোচনা এর ব্যাখ্যাকারীর ওপর ছেড়ে দিচ্ছি, তাই আমি এখানে গ্রন্থের উদ্দেশ্যসমূহ উল্লেখ করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকব। সেগুলো নিম্নরূপ:
১ - তিরমিযী বর্ণনা করেছেন যে, তাঁর গ্রন্থে উল্লিখিত হাদিসগুলোর মধ্যে তাঁর বর্ণিত দুটি হাদিস ব্যতীত বাকি সবগুলোর ওপর আমল করা হয়।
২ - তিরমিযী ঐ সকল ফকীহ পর্যন্ত নিজের সনদসমূহ নির্ধারণ করেছেন, যাঁদের মাযহাব তিনি তাঁর গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।
৩ - এতে তিরমিযী তাঁর গ্রন্থ "আল-জামি"-এর সাধারণ উদ্দেশ্য বর্ণনা করেছেন এবং এটি যে একটি ত্রুটি-বিশ্লেষণধর্মী (মু'আল্লাল) গ্রন্থ তাও স্পষ্ট করেছেন।
৪ - তিরমিযী এতে রাবী এবং হাদিসের ত্রুটি নিয়ে আলোচনা করার বৈধতার ওপর, বরং এর আবশ্যিকতার ওপর অনেক দলিল উপস্থাপন করেছেন।
৫ - তিনি এতে বর্ণনাকারীদের চারটি ভাগে বিভক্ত করেছেন:
(ক) নির্ভরযোগ্য হাফেজদের একটি দল, যাঁদের হাদিসে ভুল হওয়া বিরল।
(খ) নির্ভরযোগ্যদের এমন একটি দল, যাঁদের বর্ণিত হাদিসে ভুলভ্রান্তি অধিক ঘটে থাকে।
(গ) ইলমের অধিকারী প্রখ্যাত ব্যক্তিদের এমন একটি দল, যাঁদের ওপর ভুল ও সংশয় প্রবল হয়ে গেছে; ফলে তাঁরা একক হলে তাঁদের বর্ণিত হাদিস দলিল হিসেবে গ্রহণ করা যায় না।
(ঘ) অভিযুক্ত এবং উদাসীন ব্যক্তিদের একটি দল, যাঁদেরকে দলিল হিসেবে গ্রহণ করা হয় না।
বর্ণনাকারীদের প্রসঙ্গে আলোচনায় তিরমিযী হাফেজদের মুখস্থশক্তির তারতম্যের ওপর এবং তাঁদের বর্ণনার ওপর এর প্রভাবের প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন। আর এটাই হলো ইলমে ইলাল বা হাদিসের ত্রুটি-সংক্রান্ত শাস্ত্রের মূল বিষয়, যা আমরা ইনশাআল্লাহ পরবর্তীতে দেখতে পাব।
৬ - তিরমিযী শব্দে শব্দে বর্ণনা এবং অর্থের ভিত্তিতে বর্ণনা সম্পর্কে আলোচনা করেছেন এবং অর্থের ভিত্তিতে বর্ণনার বৈধতার জন্য কিছু শর্তারোপ করেছেন।
৭ - তিনি হাদিস গ্রহণের প্রকারভেদ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।
৮ - তিনি বর্ণনাকারীদের নির্ভরযোগ্য ও দুর্বল সাব্যস্ত করার মতভেদ নিয়ে কথা বলেছেন। এর মাধ্যমে তিনি এই ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, গ্রন্থকার কখনো এমন ব্যক্তির থেকে হাদিস গ্রহণ করতে পারেন যিনি অন্যের নিকট দুর্বল হলেও তাঁর নিকট নির্ভরযোগ্য।
(খণ্ড: ১)
শারহু ইলালিত তিরমিযী
(পৃষ্ঠা: ৪৩)
9 - تكلم الترمذي عن المرسل وحكمه واختلاف العلماء في قبول المراسيل.
10 - تكلم عن اصطلاح "الحسن" في كتابه وحدد مفهومه له، وكذلك ما اشتق منه.
11 - تكلم عن الغريب وأنواعه، وتكلم عن زيادة الثقة في المتن والإسناد.
هذه هي مقاصد الترمذي في كتابه العلل. وعند كل مقصد من هذه المقاصد يذكر الترمذي جملة من الأخبار المسندة.
وهذه المقاصد تخدم حديث الثقات وتلقي ضوءا باهرا على كتاب الترمذي المعلل، فكانت بهذا داخلة في علم العلل، وهي بلا شك البواكير النظرية لهذا العلم.
المطلب الثاني التعريف بالإمام الترمذي (209 - 279هـ)
هو الإمام محمد بن عيسى بن سورة بن موسى بن الضحاك، أبو عيسى السلمي نسبة إلى بني سليم، الضرير، الترمذي، البوغي، نسبة إلى بوغ، قرية من قرى ترمذ.
ولد هذا الإمام سنة تسع ومائتين على أرجح الأقوال وكان ذلك بترمذ، وتلقى العلم في صباه على شيوخ بلدته والقادمين إليها وإلى ما جاورها. وكان من أوائل شيوخه إسحاق بن راهويه. ثم رحل إلى الآفاق يتلمس العلم رواية ودراية، فتتلمذ على مشاهير عصره، كالإمام محمد بن إسماعيل البخاري، ومسلم بن الحجاج، وأبي داود السجستاني، وكان البخاري أكثر الشيوخ تأثيرا فيه، وعنه أخذ الترمذي علم العلل.
9 - তিরমিযী মুরসাল হাদীস, এর হুকুম এবং মুরসাল হাদীস গ্রহণের ক্ষেত্রে আলিমগণের মতভেদ সম্পর্কে আলোচনা করেছেন।
10 - তিনি তাঁর কিতাবে "হাসান" পরিভাষা সম্পর্কে আলোচনা করেছেন এবং এর ব্যাপারে তাঁর নিজস্ব ধারণা ও এ থেকে যা কিছু উদ্ভূত হয়েছে তা নির্দিষ্ট করেছেন।
11 - তিনি গারীব হাদীস ও এর প্রকারভেদ সম্পর্কে আলোচনা করেছেন, এবং মতন (মূল পাঠ) ও ইসনাদে (সনদ) বিশ্বস্ত রাবীর অতিরিক্ত বর্ণনা সম্পর্কে আলোচনা করেছেন।
এগুলোই হলো তিরমিযীর তাঁর ইলাল কিতাবের উদ্দেশ্যসমূহ। এই উদ্দেশ্যগুলোর প্রতিটির অধীনে তিরমিযী একগুচ্ছ মুসনাদ হাদীস উল্লেখ করেছেন।
আর এই উদ্দেশ্যগুলো বিশ্বস্ত রাবীদের হাদীসের খেদমত করে এবং তিরমিযীর ইলাল-ভিত্তিক কিতাবের ওপর এক উজ্জ্বল আলোকপাত করে। ফলে এগুলো ইলাল শাস্ত্রের অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, এবং নিঃসন্দেহে এগুলো এই শাস্ত্রের তাত্ত্বিক সূচনালগ্ন।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: ইমাম তিরমিযী (২০৯ - ২৭৯ হিজরী)-র পরিচয় তিনি হলেন ইমাম মুহাম্মদ ইবনে ঈসা ইবনে সূরাহ ইবনে মুসা ইবনে আদ-দাহহাক, আবু ঈসা আস-সুলামী (বনু সুলাইম গোত্রের দিকে সম্বন্ধযুক্ত), আদ-দারীর, আত-তিরমিযী, আল-বুগী (তিরমিযের অন্যতম গ্রাম 'বুগ'-এর দিকে সম্বন্ধযুক্ত)।
বিশুদ্ধতম মত অনুযায়ী এই ইমাম দুইশত নয় হিজরী সালে জন্মগ্রহণ করেন এবং তা ছিল তিরমিয শহরে। শৈশবে তিনি তাঁর নিজ শহরের এবং সেখানে ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকায় আগত শায়খদের নিকট ইলম অর্জন করেন। তাঁর প্রাথমিক শায়খদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন ইসহাক ইবনে রাহওয়াইহ। অতঃপর তিনি রিওয়ায়াত ও দিরায়াত ভিত্তিক ইলম অন্বেষণে বিভিন্ন দিগন্তে সফর করেন এবং তাঁর সমসাময়িক প্রসিদ্ধ ব্যক্তিবর্গের নিকট শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন, যেমন ইমাম মুহাম্মদ ইবনে ইসমাঈল আল-বুখারী, মুসলিম ইবনুল হাজ্জাজ এবং আবু দাউদ আস-সিজিস্তানী। শায়খদের মধ্যে বুখারী তাঁর ওপর সবচেয়ে বেশি প্রভাব বিস্তার করেছিলেন এবং তাঁর কাছ থেকেই তিরমিযী ইলাল শাস্ত্র গ্রহণ করেছিলেন।
(খণ্ড: ১)
শারহু ইলালিত তিরমিযী
(পৃষ্ঠা: ৪৪)
أما تلاميذه: فقد روى عنه واستفاد منه كثير من علماء عصره منهم مكحول بن الفضل، والهيثم بن كليب الشاشي، وأبو العباس المحبوبي، والحسين بن يوسف الفربري وقد تلقى عنه هؤلاء كتابه "الجامع" وكتاب "الشمائل" وكتاب "العلل الكبير" وقد ذكر في العلل الصغير أن له كتابا آخر جعله للآثار الموقوفة.
وقد امتاز الإمام الترمذي بحافظة قوية حتى كان يضرب المثل بحفظه وضبطه. وكان مع هذا على جانب من الورع والاحتياط في الدين والزهد في الدنيا، وأما علمه بالحديث رواية ودراية فكتابه الجامع شاهد على طول باعه، وحسن تصنيفه، وبراعته في العلل والرجال.
وثناء العلماء عليه كثير، حتى قال عنه الذهبي في ميزان الاعتدال: "الحافظ العلم، أبو عيسى الترمذي صاحب الجامع ثقة مجمع عليه. ولا التفات إلى قول أبي محمد بن حزم في الفرائض انه مجهول فإنه ما عرف ولا درى بوجود الجامع ولا العلل التي له".
وقد توفي رحمه الله بعد ما كف بصره، وكانت وفاته في رجب سنة تسع وسبعين ومائتين. ***
المبحث الثاني نظرة في مناهج كتب العلل المتقدمة تعرضنا في الفصل الأول من هذا الباب لمفهوم العلة والجهود التي بذلها علماء العلل، وذكرنا أكثر الكتب التي صنفت في هذا المضمار، كل ذلك على طريقة المسح الزمني. أما من حيث المناهج التي سارت عليها هذه المصنفات فقد تنوعت إلى مناهج عدة:
أولاً: فمنها ما كان على طريقة المسائل المتفرقة، والمعارف غير المبوبة، وذلك بأن يجيب إمام من أئمة هذه الصنعة على أسئلة تلاميذه، ثم ينشط واحد من هؤلاء التلاميذ فيجمع هذه المسائل المنثورة المتفرقة في كتاب. وذلك كما فعل عباس الدوري في أجوبه يحيى بن معين وأقواله حيث جمعها في كتاب "التاريخ والعلل" وكذلك فعل عثمان الدارمي، وابن الجنيد، وابن محرز، فكل واحد من هؤلاء أسهم بجمع هذه المسائل المتفرقة.
وكما نقلت مسائل يحيى بن معين فقد نقلت مسائل أحمد وأقواله في العلل، إذ قام عدد من تلاميذه يجمعون هذا النوع من المعارف الحديثية، منهم عبد الله بن أحمد الذي جمع مسائل والده في "العلل ومعرفة الرجال" وكذلك فعل صالح بن الإمام أحمد، والميموني، وابن هانئ، والأثرم، كل واحد من هؤلاء له كتاب جمع فيه مسائل في العلل عن الإمام أحمد.
ثانيا: ومنها ما كان على طريقة المسانيد المعللة، وذلك بان يصنف إمام معتبر علل الحديث على مسانيد الصحابة، فيذكر حديث الصحابي الواحد، ثم
তাঁর ছাত্রদের কথা বলতে গেলে: তাঁর যুগের অনেক আলেম তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর থেকে উপকৃত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন মাকহুল বিন আল-ফাদল, আল-হাইসাম বিন কুলাইব আশ-শাশী, আবু আল-আব্বাস আল-মাহবুবি এবং আল-হুসাইন বিন ইউসুফ আল-ফারাবরি। তাঁরা তাঁর নিকট থেকে তাঁর গ্রন্থ "আল-জামি", "আশ-শামায়েল" এবং "আল-ইলাল আল-কাবির" গ্রহণ করেছেন। তিনি "আল-ইলাল আস-সাগির" গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, তাঁর আরও একটি গ্রন্থ রয়েছে যা তিনি কেবল "মাওকুফ আসার" সমূহের জন্য নির্ধারণ করেছেন।
ইমাম তিরমিযী এক শক্তিশালী স্মরণশক্তির অধিকারী ছিলেন, এমনকি তাঁর মুখস্থবিদ্যা ও নির্ভুলতার জন্য প্রবাদ দেওয়া হতো। এর পাশাপাশি তিনি আল্লাহভীতি ও তাকওয়া, দ্বীনি বিষয়ে সতর্কতা এবং দুনিয়াবিমুখতার এক অনন্য উচ্চতায় ছিলেন। আর রেওয়ায়েত ও দেরায়েত উভয় ক্ষেত্রে হাদিস শাস্ত্রে তাঁর পাণ্ডিত্য সম্পর্কে তাঁর "আল-জামি" গ্রন্থটিই তাঁর অগাধ জ্ঞান, সুন্দর বিন্যাস এবং ইলাল ও রিজাল শাস্ত্রের পারদর্শিতার এক জীবন্ত সাক্ষ্য।
তাঁর সম্পর্কে আলেমদের প্রচুর প্রশংসা রয়েছে, এমনকি ইমাম আয-যাহাবি "মিযানুল ইতিদাল" গ্রন্থে তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: "তিনি বড় মাপের হাফেজ, ইলমের এক সুউচ্চ মিনার। আবু ঈসা তিরমিযী 'আল-জামি' গ্রন্থের রচয়িতা, তিনি একজন বিশ্বস্ত ও সর্বজনগৃহীত ইমাম। ফারাইয শাস্ত্রে আবু মুহাম্মাদ ইবনে হাজমের এই উক্তির প্রতি ভ্রুক্ষেপ করার প্রয়োজন নেই যে 'তিনি অপরিচিত (মাজহুল)', কারণ ইবনে হাজম তাঁর 'আল-জামি' এবং তাঁর 'ইলাল' গ্রন্থটির অস্তিত্ব সম্পর্কে জানতেনই না।"
তিনি রহমাতুল্লাহি আলাইহি তাঁর দৃষ্টিশক্তি হারানোর পর ইন্তেকাল করেন। তাঁর মৃত্যু হয়েছিল দুইশ উনআশি হিজরি সালের রজব মাসে। ***
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: পূর্ববর্তী ইলাল বিষয়ক গ্রন্থসমূহের পদ্ধতির ওপর এক দৃষ্টিপাত আমরা এই অধ্যায়ের প্রথম পরিচ্ছেদে ইলাল (সুপ্ত ত্রুটি) এর ধারণা এবং ইলাল শাস্ত্রের আলেমদের প্রচেষ্টার কথা আলোচনা করেছি। আমরা কালানুক্রমিক ধারা অনুযায়ী এই ক্ষেত্রে রচিত অধিকাংশ গ্রন্থের নাম উল্লেখ করেছি। তবে এই সংকলনগুলো যে সকল পদ্ধতির ওপর ভিত্তি করে রচিত হয়েছে, সেগুলো বিভিন্ন শ্রেণিতে বিভক্ত:
প্রথমত: সেগুলোর মধ্যে কিছু ছিল বিক্ষিপ্ত মাসআলা এবং অ-বিন্যস্ত তথ্যের পদ্ধতিতে। আর তা হলো, এই শিল্পের কোনো ইমাম তাঁর ছাত্রদের প্রশ্নের উত্তর প্রদান করতেন, অতঃপর সেই ছাত্রদের মধ্যে থেকে কেউ একজন সচেষ্ট হয়ে এই ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা বিচ্ছিন্ন মাসআলাগুলোকে একটি বইয়ে একত্র করতেন। যেমনটি আব্বাস আদ-দাওরি করেছেন ইয়াহইয়া ইবনে মাঈনের উত্তর ও উক্তিগুলোর ক্ষেত্রে, তিনি সেগুলোকে "আত-তারিখ ওয়াল ইলাল" গ্রন্থে সংকলন করেছেন। একইভাবে উসমান আদ-দারিমি, ইবনুল জুনাইদ এবং ইবনে মুহরিযও কাজ করেছেন। তাঁদের প্রত্যেকেই এই বিক্ষিপ্ত মাসআলাগুলো সংগ্রহে অবদান রেখেছেন।
ইয়াহইয়া ইবনে মাঈনের মাসআলাসমূহ যেভাবে সংকলিত হয়েছে, একইভাবে ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বলের মাসআলা এবং ইলাল সম্পর্কে তাঁর উক্তিগুলোও বর্ণিত হয়েছে। তাঁর বেশ কয়েকজন ছাত্র হাদিস শাস্ত্রের এই ধরণের জ্ঞানসমূহ সংগ্রহে নিয়োজিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে আব্দুল্লাহ ইবনে আহমাদ অন্যতম, যিনি তাঁর পিতার মাসআলাসমূহ "আল-ইলাল ওয়া মা'রিফাতুর রিজাল" গ্রন্থে একত্র করেছেন। একইভাবে সালেহ বিন ইমাম আহমাদ, আল-মাইমুনি, ইবনে হানি এবং আল-আছরামও কাজ করেছেন; তাঁদের প্রত্যেকেরই একটি করে গ্রন্থ রয়েছে যেখানে তাঁরা ইমাম আহমাদ থেকে প্রাপ্ত ইলাল বিষয়ক মাসআলাসমূহ জমা করেছেন।
দ্বিতীয়ত: আর কিছু ছিল 'ইলাল' যুক্ত মুসনাদ পদ্ধতিতে। তা হলো, কোনো গ্রহণযোগ্য ইমাম সাহাবীদের মুসনাদ অনুযায়ী হাদিসের ইলালসমূহ বিন্যস্ত করতেন। অর্থাৎ তিনি একজন সাহাবীর বর্ণিত হাদিস উল্লেখ করতেন, অতঃপর
(খণ্ড: ১)
শারহু ইলালিত তিরমিযী
(পৃষ্ঠা: ৪৬)
يذكر علة كل حديث بعد الفراغ منه، وذلك كما فعل يعقوب بن شيبة في "المسند المعلل" وأبو بكر البذار في "المسند الكبير المعلل" والدارقطني في "العلل الواردة في الأحاديث النبوية".
ثالثا: ومنها ما كان على "طريقة الأبواب المعللة" وذلك بأن يصنف الحديث على الأبواب الفقهية، ثم تذكر علل كل باب بعد الفراغ منه أو علة كل حديث بعده، وذلك كما فعل أبو عيسى الترمذي في كتابه "الجامع" المشهور "بسنن الترمذي" وكما فعل عبد الرحمن بن أبي حاتم في كتابه "علل الحديث".
رابعا: ومنها ما كان على طريقة جمع الحديث المعلل لشيخ واحد، وذلك كما فعل علي بن المديني عندما صنف في علل الحديث ابن عيينة. وهذه الطريقة مفيدة في معرفة نسبة العلل في حديث هذا الشيخ.
خامسا: ومنها ما كان على طريقة التراجم المعللة، وقد تكون هذه التراجم إما على الطبقات أو على الترتيب الهجائي، وفيها يعمد المصنف إلى الرواة فيذكرهم ويذكر بعض العلل التي عرف بها المترجم. وذلك ككتاب العقيلي "الضعفاء" الذي احتوى على تراجم مرتبة ترتيبا هجائيا، و"الكامل في ضعفاء المحدثين وعلل الحديث" لابن عدي، كذلك.
سادسا: أما كتب مصطلح الحديث "كمعرفة علوم الحديث" للحاكم، و"مقدمة ابن الصلاح" ومن تابعهما من المصنفين في المصطلح فقد جعلوا الحديث المعلل نوعا من الأنواع التي تعرضوا لها، وذكروا شيئا من تعريف العلة وأنواعها، ولكنه على غاية من الاختصار، وهذا يناسب موضوع كتب المصطلح والهدف منها، وهو التعريف بعلوم الحديث عامة.
وهذه هي الرمز المنهجية لكتب العلل، وأما كتاب ابن رجب ففي المطلب الثاني تفصيل لمنهجه وبيان لمزاياه، ان شاء الله تعالى
প্রতিটি হাদিস বর্ণনার শেষে তার ত্রুটি (ইল্লাত) উল্লেখ করা। যেমনটি ইয়াকুব বিন শাইবা তার "আল-মুসনাদ আল-মুআল্লাল" গ্রন্থে, আবু বকর আল-বাযযার তার "আল-মুসনাদ আল-কাবির আল-মুআল্লাল" গ্রন্থে এবং আদ-দারা কুতনি তার "আল-ইলাল আল-ওয়ারিদাহ ফিল আহাদিস আন-নাবাবিয়্যাহ" গ্রন্থে করেছেন।
তৃতীয়ত: তন্মধ্যে এমন কিছু রয়েছে যা "ত্রুটিপূর্ণ অধ্যায়সমূহের পদ্ধতি" অনুসারে রচিত। আর তা হলো হাদিসসমূহকে ফিকহি অধ্যায় অনুযায়ী বিন্যস্ত করা, অতঃপর প্রতিটি অধ্যায় শেষ করার পর সেই অধ্যায়ের ত্রুটিসমূহ অথবা প্রতিটি হাদিসের পরে তার ত্রুটি উল্লেখ করা। যেমনটি আবু ঈসা আত-তিরমিযি তার প্রসিদ্ধ "আল-জামি" যা "সুনানুত তিরমিযি" নামে পরিচিত তাতে করেছেন এবং আব্দুর রহমান বিন আবি হাতিম তার "ইলালুল হাদিস" গ্রন্থে করেছেন।
চতুর্থত: তন্মধ্যে এমন কিছু রয়েছে যা নির্দিষ্ট একজন শাইখের ত্রুটিপূর্ণ হাদিসসমূহ একত্র করার পদ্ধতি অনুসারে রচিত। যেমনটি আলি ইবনুল মাদিনি করেছেন যখন তিনি ইবনে উয়াইনাহর হাদিসের ত্রুটিগুলো নিয়ে গ্রন্থনা করেছেন। এই পদ্ধতিটি উক্ত শাইখের হাদিসে ত্রুটির অনুপাত জানার ক্ষেত্রে অত্যন্ত উপকারী।
পঞ্চমত: তন্মধ্যে এমন কিছু রয়েছে যা ত্রুটিযুক্ত জীবনী বর্ণনা করার পদ্ধতি অনুসারে রচিত। এই জীবনীগুলো স্তরবিন্যাস অথবা বর্ণানুক্রমিক হতে পারে। এতে গ্রন্থকার বর্ণনাকারীদের উল্লেখ করেন এবং এমন কিছু ত্রুটির কথা বলেন যা দ্বারা উক্ত বর্ণনাকারী পরিচিত ছিলেন। যেমন আল-উকাইলির "আদ-দুয়াফা" গ্রন্থটি, যা বর্ণানুক্রমিক বিন্যাসে রচিত হয়েছে, এবং ইবনে আদির "আল-কামিল ফি দুয়াফাইল মুহাদ্দিসিন ওয়া ইলালুল হাদিস" গ্রন্থটিও তদ্রূপ।
ষষ্ঠত: হাদিসের পরিভাষা সংক্রান্ত গ্রন্থসমূহ, যেমন হাকিমের "মা'রিফাতু উলূমিল হাদিস" এবং "মুকাদ্দিমাহ ইবনুস সালাহ" ও পরবর্তী পরিভাষা বিষয়ক গ্রন্থকারগণ। তারা ত্রুটিপূর্ণ হাদিসকে তাদের আলোচিত প্রকারভেদের মধ্য থেকে একটি প্রকার হিসেবে গণ্য করেছেন। তারা ত্রুটির সংজ্ঞা ও এর প্রকারভেদ সম্পর্কে কিছু আলোচনা করেছেন, তবে তা অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত। এটি হাদিসের পরিভাষা বিষয়ক গ্রন্থগুলোর বিষয়বস্তু ও লক্ষ্যের সাথে সংগতিপূর্ণ, যা হলো সাধারণভাবে হাদিস বিজ্ঞানসমূহের পরিচয় প্রদান করা।
এগুলোই হলো ত্রুটি বিষয়ক গ্রন্থগুলোর পদ্ধতিগত বৈশিষ্ট্য, আর ইবনে রজবের গ্রন্থের পদ্ধতির বিস্তারিত বিবরণ এবং এর বৈশিষ্ট্যসমূহের বর্ণনা দ্বিতীয় পরিচ্ছেদে আসবে, ইনশাআল্লাহু তাআলা।
(খণ্ড: ১)
শারহু ইলালিত তিরমিযী
(পৃষ্ঠা: ৪৭)
المبحث الثالث منهج ابن رجب في شرح علل الترمذي
تمهيد: يتألف شرح علل الترمذي من قسمين رئيسين أطلقنا على كل قسم اصطلاح "باب". ولاحظنا أن لكل قسم من هذين القسمين سمات منهجية خاصة، كما أن للكتاب كله سمات منهجية عامة. وبهذا يكون مبحث المنهج في ثلاثة مطالب:
المطلب الأول: منهج ابن رجب في الباب الأول "شرح علل الترمذي".
المطلب الثاني: منهج ابن رجب في الباب الثاني "القواعد والفوائد".
المطلب الثالث: ملاحظات عامة على منهج ابن رجب في الكتاب. ***
المطلب الأول "شرح علل الترمذي"
منهج ابن رجب في الباب الأول:
تناول ابن رجب كلام الترمذي في "العلل الصغير" بالشرح والتوضيح، والاستدراك والنقد، والتكميل والتمثيل. وقد استقرأت منهج ابن رجب في هذا القسم فوجدت ما يلي:
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: শারহু ইলালিত তিরমিযী-তে ইবনে রজবের মানহাজ ভূমিকা: শারহু ইলালিত তিরমিযী প্রধানত দুটি প্রধান অংশে বিভক্ত, আমরা যার প্রতিটি অংশকে "অধ্যায়" পরিভাষা দিয়ে অভিহিত করেছি। আমরা লক্ষ্য করেছি যে, এই দুটি অংশের প্রতিটির বিশেষ কিছু পদ্ধতিগত বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যেমনটি পুরো গ্রন্থটিরও কিছু সাধারণ পদ্ধতিগত বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান। সে অনুযায়ী, মানহাজ সংক্রান্ত আলোচনাটি তিনটি অনুচ্ছেদে বিন্যস্ত হয়েছে:
প্রথম অনুচ্ছেদ: প্রথম অধ্যায় "শারহু ইলালিত তিরমিযী"-তে ইবনে রজবের মানহাজ।
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: দ্বিতীয় অধ্যায় "আল-কাওয়াইদ ওয়াল ফাওয়াইদ"-এ ইবনে রজবের মানহাজ।
তৃতীয় অনুচ্ছেদ: পুরো গ্রন্থে ইবনে রজবের মানহাজের ওপর সাধারণ পর্যবেক্ষণ। ***
প্রথম অনুচ্ছেদ "শারহু ইলালিত তিরমিযী" প্রথম অধ্যায়ে ইবনে রজবের মানহাজ:
ইবনে রজব "আল-ইলালুস সাগীর"-এ ইমাম তিরমিযীর বক্তব্যের ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ, সংশোধন ও সমালোচনা এবং পরিমার্জন ও উদাহরণ প্রদানের মাধ্যমে আলোচনা করেছেন। আমি এই অংশে ইবনে রজবের মানহাজ গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো পেয়েছি:
(খণ্ড: ১)
শারহু ইলালিত তিরমিযী
(পৃষ্ঠা: ৪৮)
أولا - من حيث طريقة ابن رجب في عرض كلام الترمذي:
امتاز عصر ابن رجب والعصور التي تلته بالاتجاه إلى شرح الكتب السابقة أو اختصارها، وذلك في ميادين العلوم المختلفة وخاصة علوم العقيدة، والتفسير، والحديث، والفقه، والأصول.
وكان لهذه الشروح طريقتها التقليدية التي تتلخص ببث كلام الأصل بين عبارات الشرح، ثم يكون الشرح حلا لألفاظ الأصل وتراكيبه. وأحيانا كثيرة تختلط عبارة الأصل بعبارة الشرح فيقع القارئ في اللبس علاوة على ما في هذا المنهج من الاضطراب في الأسلوب، وعدم الانسجام.
والجدير بالذكر أن هذا الانسجام المفقود هو من السمات البارزة في هذه الشروح حتى ولو كان صاحب الأصل هو صاحب الشرح، فالعراقي الذي يعتبر من مشاهير عصر ابن رجب صنف ألفيته المنظومة في المصطلح، ثم فك كلماتها وعباراتها في شرح سماه "فتح المغيث"، وبالرغم من أن المؤصل هو نفس الشارح، إلا أن تنافر الأسلوب ملحوظ.
أما ابن رجب فقد شرح علل الترمذي بطريقة أخرى فانتهج ذكر كلام الترمذي أولا في الموضوع الواحد، ثم يعقب على كلام الترمذي بالشرح والإيضاح التمثيل، دون أن يلجأ إلى حل الألفاظ والتراكيب، وإنما يكتفي بالإشارة إلى أصل الموضوع ومعناه عند الترمذي، فيكون ابن رجب قد استقل استقلالا تاما في عبارته وأسلوبه، فكانت ثمرة هذا المنهج سهولة العبارة وانسجام التراكيب ووحدة الأسلوب. وفي ظل هذا المنهج يصبح كلام الترمذي كأنه ترجمة للباب. أو رأس موضوع له. أو مدخل مناسب.
ثانيا - من حيث وقوف ابن رجب عند كلام الترمذي:
وابن رجب خير من يشرح كلام الترمذي، ويفصله، ويرفع عنه الإبهام، إلا انه لا يقف عند هذا الحد، بل يتجاوزه إلى طرق الموضوع من جميع جوانبه، ويضيف إلى قول الترمذي أقوال خلفه من العلماء.
প্রথমত - তিরমিযীর বক্তব্য উপস্থাপনে ইবনে রজবের পদ্ধতির দিক থেকে:
ইবনে রজবের যুগ এবং তার পরবর্তী যুগসমূহ পূর্ববর্তী কিতাবসমূহের ব্যাখ্যা প্রদান অথবা সংক্ষিপ্তকরণের প্রবণতা দ্বারা বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত ছিল। এটি জ্ঞানের বিভিন্ন ক্ষেত্রে পরিলক্ষিত হয়, বিশেষ করে আকীদা, তাফসীর, হাদীস, ফিকহ এবং উসূল শাস্ত্রে।
এই ব্যাখ্যাগ্রন্থগুলোর একটি ঐতিহ্যগত পদ্ধতি ছিল, যার সারসংক্ষেপ হলো মূল গ্রন্থের বক্তব্যকে ব্যাখ্যাগ্রন্থের বাক্যের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়া। এরপর ব্যাখ্যাটি মূল গ্রন্থের শব্দ ও বাক্যবিন্যাসের বিশ্লেষণ হিসেবে কাজ করত। অনেক সময় মূল বক্তব্য ও ব্যাখ্যার বক্তব্য একে অপরের সাথে মিশে যেত, ফলে পাঠক বিভ্রান্তিতে পড়তেন। অধিকন্তু, এই পদ্ধতিতে শৈল্পিক বিশৃঙ্খলা এবং সামঞ্জস্যহীনতা বিদ্যমান ছিল।
উল্লেখযোগ্য যে, এই অনুপস্থিত সামঞ্জস্যই ছিল এসব ব্যাখ্যাগ্রন্থের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য, এমনকি যদি মূল গ্রন্থকার এবং ব্যাখ্যাকার একই ব্যক্তি হতেন তবুও। যেমন, ইরাকী—যিনি ইবনে রজবের যুগের অন্যতম খ্যাতিমান ব্যক্তিত্ব হিসেবে গণ্য—তিনি পরিভাষা বিষয়ে তাঁর কাব্যগ্রন্থ ‘আলফিয়্যাহ’ রচনা করেন, অতঃপর ‘ফাতহুল মুগীস’ নামক ব্যাখ্যাগ্রন্থে এর শব্দ ও বাক্যসমূহ বিশ্লেষণ করেন। যদিও মূল রচয়িতা এবং ব্যাখ্যাকার একই ব্যক্তি ছিলেন, তবুও সেখানে শৈল্পিক বৈসাদৃশ্য স্পষ্ট লক্ষ্য করা যায়।
পক্ষান্তরে, ইবনে রজব ভিন্ন এক পদ্ধতিতে তিরমিযীর ‘ইলাল’ ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি প্রথমে একটি নির্দিষ্ট বিষয়ে তিরমিযীর বক্তব্য উল্লেখ করার নীতি অবলম্বন করেছেন, এরপর তিরমিযীর বক্তব্যের ওপর ব্যাখ্যা, স্পষ্টীকরণ ও উদাহরণ প্রদানের মাধ্যমে মন্তব্য করেছেন। তিনি শব্দ ও বাক্যবিন্যাস বিশ্লেষণের আশ্রয় নেননি, বরং তিরমিযীর নিকট মূল বিষয়টি ও এর অর্থের প্রতি ইঙ্গিত করেই ক্ষান্ত হয়েছেন। এর ফলে ইবনে রজব তাঁর প্রকাশভঙ্গি ও শৈলীতে পূর্ণ স্বাধীনতা লাভ করেছেন। এই পদ্ধতির ফসল হলো সাবলীল প্রকাশভঙ্গি, বাক্যবিন্যাসের সামঞ্জস্য এবং শৈল্পিক ঐক্য। এই পদ্ধতির আলোকে তিরমিযীর বক্তব্যটি যেন পরিচ্ছেদের শিরোনাম, বিষয়ের শিরোনাম অথবা একটি উপযুক্ত প্রবেশিকায় পরিণত হয়েছে।
দ্বিতীয়ত - তিরমিযীর বক্তব্যে ইবনে রজবের সীমাবদ্ধ থাকার দিক থেকে:
ইবনে রজবই তিরমিযীর বক্তব্য ব্যাখ্যা করার, বিশদভাবে বর্ণনা করার এবং তা থেকে অস্পষ্টতা দূর করার জন্য সর্বোত্তম ব্যক্তি। তবে তিনি কেবল এই সীমানাতেই সীমাবদ্ধ থাকেননি, বরং এর বাইরে গিয়ে বিষয়টিকে সব দিক থেকে আলোচনা করেছেন এবং তিরমিযীর বক্তব্যের সাথে পরবর্তী যুগের আলেমদের বক্তব্যও যুক্ত করেছেন।
(খণ্ড: ১)
শারহু ইলালিত তিরমিযী
(পৃষ্ঠা: ৪৯)
وسبب هذا التوسع، عند ابن رجب، إنما يرجع إلى أن كتاب "العلل الصغير" يعتبر من أوائل كتب المصطلح في ذلك الوقت المبكر، الذي لم يكن فيه التصنيف في هذا الفن قد بلغ رشده بعد، ثم توالت التصانيف بعد الترمذي وجمعت أقوال العلماء في هذا العلم، فكان على ابن رجب أن يضم اللاحق إلى السابق.
وكذلك فإن مكانة الترمذي وإمامته لم تمنع ابن رجب من أن يستدرك عليه، وهي استدراكات قيمة تظهر علم ابن رجب وفضله، وسنرى في الكلام عن "شرح الترمذي" استدراكات ابن رجب الهامة كأن يقول: وفي الباب مما لم يخرجه الترمذي، أما في شرح العلل فإنه يكثر من الاستدراكات، كما في المثال الآتي:
قال الترمذي:
"جميع ما في هذا الكتاب معمول به، وقد أخذ به بعض العلماء، ما خلا حديثين: حديث ابن عباس - رضي الله عن هما - أن النبي صلى الله عليه وسلم جمع بين الظهر والعصر، والمغرب والعشاء، في المدينة، من غير خوف ولا سفر".
وحديث النبي صلى الله عليه وسلم: "إذا شرب الخمر فاجلدوه، فإن عاد في الرابعة فاقتلوه".
وقال ابن رجب:
"وكان مراد الترمذي رحمه الله أحاديث الأحكام. وقد روى في كتاب الحج حديث جابر في "التلبية عن النساء"، ثم ذكر أن الإجماع أن لا يلبى عن النساء، فهذا ينبغي أن يكون حديثا ثالثا مما لم يؤخذ به عند الترمذي".
(وقد وردت أحاديث أخر، ذكر بعضهم أنه لم يعمل بها أيضا، فمنها ما أخرجه الترمذي، وأكثرها لم يخرجه. فمنها حديث: "من غسل ميتا
ইবনে রজবের মতে, এই বিস্তৃতির কারণ হলো "আল-ইলাল আল-সগির" গ্রন্থটি সেই শুরুর সময়ের পরিভাষা-সংক্রান্ত প্রাথমিক গ্রন্থগুলোর অন্যতম হিসেবে বিবেচিত, যখন এই শাস্ত্রের বিন্যাস ও শ্রেণিবিভাগ তখনও পূর্ণতা লাভ করেনি। এরপর তিরমিযীর পরে একের পর এক কিতাব রচিত হয়েছে এবং এই শাস্ত্রের পণ্ডিতদের বক্তব্যসমূহ সংকলিত হয়েছে। ফলে ইবনে রজবের জন্য পরবর্তী বিষয়গুলোকে পূর্ববর্তীদের আলোচনার সাথে সংযুক্ত করা আবশ্যক হয়ে পড়ে।
অনুরূপভাবে, তিরমিযীর মর্যাদা ও তাঁর ইমামত ইবনে রজবকে তাঁর ওপর ইস্তিদরাক (পরিপূরক সংযোজন বা সংশোধন) করা থেকে বিরত রাখেনি। এগুলো অত্যন্ত মূল্যবান ইস্তিদরাক যা ইবনে রজবের জ্ঞান ও শ্রেষ্ঠত্বকে ফুটিয়ে তোলে। "শারহু তিরমিযী" সম্পর্কে আলোচনার সময় আমরা ইবনে রজবের গুরুত্বপূর্ণ ইস্তিদরাকসমূহ দেখতে পাব, যেমন তিনি বলেন: "এই অনুচ্ছেদে এমন কিছু বিষয় রয়েছে যা তিরমিযী বর্ণনা করেননি।" আর "শারহুল ইলাল"-এ তিনি প্রচুর পরিমাণে ইস্তিদরাক করেছেন, যেমনটি নিচের উদাহরণে দেখা যায়:
তিরমিযী বলেন:
"এই কিতাবে যা কিছু আছে তার সবকিছুর ওপর আমল করা হয় এবং কোনো কোনো আলেম এগুলো গ্রহণ করেছেন, কেবল দুটি হাদীস ব্যতীত: ইবনে আব্বাসের (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) হাদীস যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মদীনায় ভয়ভীতি বা সফর ছাড়াই যোহর ও আসর এবং মাগরিব ও ইশা একত্রে আদায় করেছিলেন।"
এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর হাদীস: "যদি কেউ মদ পান করে তবে তাকে বেত্রাঘাত করো, আর যদি চতুর্থবার পুনরায় তা করে তবে তাকে হত্যা করো।"
এবং ইবনে রজব বলেন:
"ইমাম তিরমিযী (রহিমাহুল্লাহ)-এর উদ্দেশ্য ছিল আহকাম বা বিধি-বিধান সংক্রান্ত হাদীসসমূহ। তিনি 'কিতাবুল হাজ্জ'-এ মহিলাদের পক্ষ থেকে 'তালবিয়াহ পাঠ' সম্পর্কে জাবিরের হাদীস বর্ণনা করেছেন, এরপর উল্লেখ করেছেন যে, মহিলাদের পক্ষ থেকে তালবিয়াহ পাঠ না করার ওপর ঐক্যমত প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সুতরাং এটি তৃতীয় একটি হাদীস হওয়া উচিত যা তিরমিযীর নিকট আমলযোগ্য হিসেবে গণ্য হয়নি।"
(আরও কিছু হাদীস বর্ণিত হয়েছে যেগুলোর ওপর আমল করা হয় না বলে কেউ কেউ উল্লেখ করেছেন। সেগুলোর কিছু তিরমিযী বর্ণনা করেছেন, তবে অধিকাংশ তিনি বর্ণনা করেননি। এর মধ্যে একটি হাদীস হলো: "যে ব্যক্তি মৃত ব্যক্তিকে গোসল করাবে...")
(খণ্ড: ১)
শারহু ইলালিত তিরমিযী
(পৃষ্ঠা: ৫০)
فيغتسل، ومن حمله فليتوضأ" وقد قال الخطابي: لا أعلم أحدا من العلماء قال بوجوب ذلك ولكن القائل باستحبابه يحمله على الندب، وذلك عمل به.
ومنها، حديث: "أنه صلى الله عليه وسلم توضأ ثلاثا، ويقال: ومن زاد على هذا أو نقص فقد أساء وظلم". ومنها حديث: "التيمم إلى المناكب والآباط"، ومنها حديث: "التيمم إلى نصف الذراعين"، ومنها حديث: "الأكل في الصيام بعد الفجر" ومنها حديث أنس "في أكل البرد للصائم") .
وهكذا فإن ابن رجب يستمر في استدراكه على الترمذي فيذكر أحاديث صحت أسانيدها، ولكن العمل على خلافها.
ثالثا - الاعتراض على كلام الترمذي أحيانا:
وكما أن ابن رجب يشرح عبارة الترمذي، ويضيف إليها ويستدرك عليها فإنه كذلك ينقد ويعترض حيث يجد مبررا لذلك.
وفيما يلي مثال لهذه الاعتراضات:
"قال الترمذي: وما ذكرنا في هذا الكتاب من اختيار الفقهاء، فما كان من قول سفيان الثوري فأكثره ما حدثنا محمد بن عثمان الكوفي، (ثنا) عبيد الله بن موسى، عن سفيان الثوري. ومنه ما حدثنا مكتوم أبو الفضل بن العباس الترمذي، (ثنا) محمد بن يوسف الفريابي، عن سفيان.
وما كان فيه من قول مالك بن أنس فأكثره ما حدثني به إسحاق بن موسى الأنصاري، (ثنا) معن بن عيسى القزاز، عن مالك
… ".
وهكذا فإن الترمذي يذكر أسانيد أقوال الفقهاء، ولكن ابن رجب لم يكتف بأسانيد الترمذي المجملة سيرا على قواعد المحدثين في قبول الإسناد ولذلك فإنه سجل اعتراضه على هذا المنهج، فقال:
"সে যেন গোসল করে, আর যে তাকে বহন করবে সে যেন অযু করে।" আর আল-খাত্তাবী বলেছেন: "আমি আলেমদের মধ্যে এমন কাউকে জানি না যিনি এটিকে ওয়াজিব বা আবশ্যক বলেছেন, তবে যারা এটিকে মুস্তাহাব বলেছেন তারা একে নফল হিসেবে গণ্য করেন এবং সে অনুযায়ী আমল করা হয়।"
এর মধ্যে রয়েছে সেই হাদিস: "নিশ্চয়ই তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তিনবার করে অযু করেছেন, এবং বলা হয়েছে: যে ব্যক্তি এর ওপর অতিরিক্ত করবে কিংবা কম করবে, সে মন্দ কাজ করল এবং জুলুম করল।" এর মধ্যে আরও রয়েছে: "কাঁধ ও বগল পর্যন্ত তায়াম্মুম করা" সংক্রান্ত হাদিস, "অর্ধেক বাহু পর্যন্ত তায়াম্মুম করা" সংক্রান্ত হাদিস, "রোযা অবস্থায় ফজরের পর আহার করা" সংক্রান্ত হাদিস এবং আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত "রোযাদারের শিলাবৃষ্টি ভক্ষণ করা" সংক্রান্ত হাদিস।
এভাবেই ইবনে রজব তিরমিযীর উপর তার সংশোধনী ও পর্যবেক্ষণ অব্যাহত রাখেন এবং এমন সব হাদিস উল্লেখ করেন যেগুলোর সনদ সহীহ হওয়া সত্ত্বেও আমল তার বিপরীত।
তৃতীয়ত - মাঝে মাঝে তিরমিযীর বক্তব্যের উপর আপত্তি প্রকাশ:
ইবনে রজব যেভাবে তিরমিযীর বক্তব্যের ব্যাখ্যা প্রদান করেন এবং তাতে বাড়তি তথ্য ও সংশোধনী যোগ করেন, ঠিক তেমনি যেখানে তিনি যথাযথ কারণ খুঁজে পান সেখানে সমালোচনা ও আপত্তিও উত্থাপন করেন।
নিচে এই জাতীয় আপত্তির একটি উদাহরণ দেওয়া হলো:
"তিরমিযী বলেছেন: আমরা এই গ্রন্থে ফকীহগণের যে সকল মতামত নির্বাচন করে উল্লেখ করেছি, তার মধ্যে সুফিয়ান সাওরির বক্তব্যগুলোর অধিকাংশই মুহাম্মাদ ইবনে উসমান আল-কুফি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, (তিনি বলেন) উবায়দুল্লাহ ইবনে মুসা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান সাওরি থেকে। আবার কিছু অংশ মাকতুম আবুল ফজল ইবনে আব্বাস আত-তিরমিযী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, (তিনি বলেন) মুহাম্মাদ ইবনে ইউসুফ আল-ফিরইয়াবি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান থেকে।
আর এতে মালিক ইবনে আনাসের যে বক্তব্য রয়েছে, তার অধিকাংশই ইসহাক ইবনে মুসা আল-আনসারী আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, (তিনি বলেন) মা'ন ইবনে ঈসা আল-কাযযায আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মালিক থেকে
… "।
এভাবে তিরমিযী ফকীহগণের বক্তব্যের সনদসমূহ উল্লেখ করেন, কিন্তু ইবনে রজব সনদ গ্রহণের ক্ষেত্রে মুহাদ্দিসগণের প্রতিষ্ঠিত মূলনীতির আলোকে তিরমিযীর এই সংক্ষিপ্ত ও ভাসাভাসা সনদগুলোতে তুষ্ট থাকেননি। একারণে তিনি এই পদ্ধতির ওপর তার আপত্তি ব্যক্ত করে বলেছেন:
(খণ্ড: ১)
শারহু ইলালিত তিরমিযী
(পৃষ্ঠা: ৫১)
"أعلم أن أبا عيسى رحمه الله ذكر في هذا الكتاب مذاهب كثير من فقهاء أهل الحديث المشهورين كسفيان، وابن المبارك، ومالك، والشافعي، وأحمد، وإسحاق، وذكر فيه كثيرا من العلل والتواريخ والتراجم، ولم يذكر أسانيد أكثر من ذلك، فذكر ههنا أسانيد مجملة، وإن كان لم يحصل بها الوقوف على حقيقة أسانيده، حيث ذكر أن بعضه عن فلان، وبعضه عن فلان، ولم يبين ذلك البعض".
رابعا - الكلام على منهج الترمذي في الجامع:
تكلم الترمذي في العلل الصغير عن منهجه في الجامع، وجاء ابن رجب ففضل الكلام عن هذا المنهج. وأصبح من الضروري للباحث في سنن الترمذي أن يطلع على شرح علل الترمذي، بل إن هذا الكتاب احتوى على مقارنة ضافية بين مناهج عدد من كتب السنة كالسنن الثلاثة، ومسند أحمد وصحيحي البخاري ومسلم. وأستطيع أن أقول: إن كتاب شرح علل الترمذي لكتاب الترمذي - يشابه "هدى الساري" الذي قدم به ابن حجر لفتح الباري، وتكلم فيه عن منهج البخاري في صحيحه، وهذان الكتابان: شرح العلل، وهدى الساري يستحقان اهتمام الباحثين في السنة، وفيها المقدمة الضرورية التي على ضوئها تكون الفائدة المرجوة من كتب السنة كبيرة.
ولما كان موضوعنا هذا يتناول كلام ابن رجب عن منهج الترمذي في الجامع فسنذكر بعض الأمثلة من شرح العلل على هذا، ولعل من أهم هذه الأمثلة ما يكون منصبا على مقارنة منهج الترمذي بغيره، ولنستمع لابن رجب يحدثنا عن مثل هذا:
قال ابن رجب رحمه الله: "والذين صنفوا منهم من أفراد الصحيح كالبخاري ومسلم، ومن بعدهما كابن خزيمة وابن حبان، ولكن كتابهما لا يبلغ مبلغ كتاب الشيخين. ومنهم من لم يشترط الصحة وجمع الصحيح وما قاربه، وما فيه بعض العلل والضعف، وأكثرهم لم يكتبوا ذلك ولم يتكلموا على الصحيح
জানুন যে, আবু ঈসা (রহিমাহুল্লাহ) এই গ্রন্থে সুফিয়ান, ইবনুল মুবারক, মালিক, শাফিঈ, আহমদ ও ইসহাকের মতো আহলে হাদিসের বহু বিখ্যাত ফকিহর মাযহাব উল্লেখ করেছেন। তিনি এতে বহু ইলাল (হাদিসের সূক্ষ্ম ত্রুটি), ইতিহাস ও জীবনী উল্লেখ করেছেন, তবে তার অধিকাংশেরই সনদ উল্লেখ করেননি। এখানে তিনি কিছু সংক্ষিপ্ত সনদ উল্লেখ করেছেন, যদিও এর মাধ্যমে তার সনদের প্রকৃত অবস্থা অনুধাবন করা সম্ভব নয়; যেহেতু তিনি উল্লেখ করেছেন যে এর কিছু অংশ অমুকের সূত্রে এবং কিছু অংশ অমুকের সূত্রে, কিন্তু সেই নির্দিষ্ট অংশগুলোকে স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেননি।
চতুর্থত - জামে গ্রন্থে তিরমিযীর মানহাজ (পদ্ধতি) বিষয়ক আলোচনা:
তিরমিযী ‘আল-ইলালুস সাগির’-এ জামে গ্রন্থে তার অনুসৃত মানহাজ সম্পর্কে আলোচনা করেছেন। এরপর ইবনে রজব এসে এই মানহাজ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। তিরমিযীর সুনান নিয়ে গবেষণাকারীদের জন্য ‘শারহু ইলালিত তিরমিযী’ পাঠ করা অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। এমনকি এই গ্রন্থটি তিনটি সুনান গ্রন্থ, মুসনাদে আহমদ এবং বুখারী ও মুসলিমের সহীহদ্বয়ের মতো সুন্নাহর বেশ কিছু গ্রন্থের মানহাজের মধ্যে একটি ব্যাপক ও তুলনামূলক আলোচনা ধারণ করেছে। আমি বলতে পারি যে, তিরমিযীর গ্রন্থের জন্য ইবনে রজবের ‘শারহু ইলালিত তিরমিযী’ গ্রন্থটি ইবনে হাজারের ‘হাদইউস সারি’র মতো, যা তিনি ফাতহুল বারীর ভূমিকা হিসেবে লিখেছিলেন এবং সেখানে বুখারীর সহীহ গ্রন্থের মানহাজ নিয়ে আলোচনা করেছিলেন। এই দুটি গ্রন্থ—শারহুল ইলাল এবং হাদইউস সারি—সুন্নাহর গবেষকদের বিশেষ গুরুত্ব পাওয়ার দাবি রাখে। এগুলোর মধ্যে সেই প্রয়োজনীয় ভূমিকা রয়েছে যার আলোকে সুন্নাহর গ্রন্থগুলো থেকে কাঙ্ক্ষিত বড় ধরনের উপকার লাভ করা সম্ভব।
যেহেতু আমাদের বর্তমান বিষয়টি জামে গ্রন্থে তিরমিযীর মানহাজ সম্পর্কে ইবনে রজবের বক্তব্য নিয়ে, তাই আমরা এ বিষয়ে ‘শারহুল ইলাল’ থেকে কিছু উদাহরণ উল্লেখ করব। সম্ভবত এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হলো যা তিরমিযীর মানহাজকে অন্যদের সাথে তুলনা করার ওপর গুরুত্বারোপ করে। আসুন, আমরা ইবনে রজবের কাছ থেকে এ বিষয়ে শুনি:
ইবনে রজব (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: "যারা হাদিস সংকলন করেছেন, তাদের মধ্যে কেউ কেউ শুধু সহীহ হাদিসকে আলাদা করে সংকলন করেছেন, যেমন বুখারী ও মুসলিম এবং তাদের পরবর্তী ইবনে খুযাইমাহ ও ইবনে হিব্বান; তবে তাদের গ্রন্থদ্বয় শাইখাইনের (বুখারী ও মুসলিম) গ্রন্থের মানে পৌঁছাতে পারেনি। আবার তাদের মধ্যে কেউ কেউ কেবল সহীহ হওয়ার শর্তারোপ করেননি, বরং তারা সহীহ ও তার নিকটবর্তী এবং যাতে কিছু ইলাল (ত্রুটি) ও দুর্বলতা রয়েছে তাও সংকলন করেছেন। তাদের অধিকাংশ লেখকই এসব ত্রুটি লিপিবদ্ধ করেননি এবং কোনটি সহীহ তা নিয়ে আলোচনা করেননি..."
(খণ্ড: ১)
শারহু ইলালিত তিরমিযী
(পৃষ্ঠা: ৫২)
والضعيف. وأول من علمناه بين ذلك أبو عيسى الترمذي، وقد بين في كلامه هذا أنه لم يسبق إليه، وقد صنف ابن المديني ويعقوب بن شيبة مسانيد معللة.
وأما الأبواب المعللة فلا نعلم أحدا سبق الترمذي إليها، وزاد الترمذي ذكر كلام الفقهاء. وهذا كان قد سبق إليه مالك في الموطأ، وسفيان في الجامع".
وفي مكان آخر يقول ابن رجب: وقد اعترض على الترمذي رحمه الله بأنه في غالب الأبواب يبدأ في الأحاديث الغريبة الإسناد، وليس ذلك بعيب فإنه رحمه الله يبين ما فيها من العلل ثم يبين الصحيح من الإسناد. وكان مقصده رحمه الله ذكر العلل، ولهذا نجد النسائي إذا استوعب طرق الحديث بدأ بما هو غلط ثم يذكر بعد ذلك الصواب المخالف له.
وأما أبو داود رحمه الله فكان عنايته بالمتون، ولهذا يذكر الطرق واختلاف ألفاظها، والزيادات المذكورة في بعضها دون بعض. فكانت عنايته في الحديث أكثر من عنايته في الإسناد.
المطلب الثاني القواعد والفوائد منهج ابن رجب في الباب الثاني من الكتاب:
يتألف الباب الثاني من الكتاب من مجموعة قواعد وفوائد في علم العلل، وما يتصل به من أحوال الرواة. وكان غرض ابن رجب في هذا النصف الأخير من الكتاب تقريب علم العلل على من ينظر فيه، وقد بدأه بمقدمة، قال فيها:
"ولما انتهى الكلام على ما ذكره أبو عيسى الترمذي رحمه الله في كتاب الجامع، وآخره كتاب العلل، أحببت أن أتبع كتاب العلل بفوائد آخر مهمة
...এবং দুর্বল। আমাদের জানা মতে এই বিষয়টি প্রথম যিনি বর্ণনা করেছেন তিনি হলেন আবু ঈসা আত-তিরমিযী। তিনি তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট করেছেন যে, তাঁর আগে কেউ এটি করেননি। ইবনুল মাদিনী এবং ইয়াকুব বিন শাইবাহ ত্রুটিযুক্ত (মুআল্লাল) মুসনাদ গ্রন্থসমূহ রচনা করেছেন।
আর ত্রুটিযুক্ত (মুআল্লাল) অনুচ্ছেদসমূহের ক্ষেত্রে আমাদের জানা মতে তিরমিযীর আগে কেউ এ কাজ করেননি। তিরমিযী এতে ফুকাহায়ে কেরামের বক্তব্য যুক্ত করার ক্ষেত্রে অগ্রসর হয়েছেন। তবে ইমাম মালিক মুওয়াত্তা গ্রন্থে এবং সুফিয়ান জামে' গ্রন্থে এর পূর্বেই তা করেছেন।
অন্যত্র ইবনে রজব বলেন: তিরমিযী (রহ.)-এর ওপর এই আপত্তি করা হয়েছে যে, তিনি অধিকাংশ অনুচ্ছেদে গরিব সনদযুক্ত হাদিস দিয়ে শুরু করেন। এটি কোনো দোষের বিষয় নয়, কেননা তিনি (রহ.) তাতে থাকা ইল্লত বা ত্রুটিগুলো স্পষ্ট করেন এবং এরপর সহিহ সনদ বর্ণনা করেন। তাঁর উদ্দেশ্য ছিল ইল্লত বা ত্রুটিগুলো উল্লেখ করা। এজন্যই আমরা দেখতে পাই যে, ইমাম নাসাঈ যখন হাদিসের সনদগুলো পূর্ণাঙ্গভাবে উল্লেখ করেন, তখন প্রথমে ভুলগুলো দিয়ে শুরু করেন এবং পরে এর বিপরীতে সঠিকটি উল্লেখ করেন।
আর আবু দাউদ (রহ.)-এর মনোযোগ ছিল মূল পাঠের (মতন) দিকে। এজন্যই তিনি সনদগুলো এবং তাদের শব্দের ভিন্নতা, এবং কোনো কোনো সনদে থাকা অতিরিক্ত অংশগুলো উল্লেখ করতেন। হাদিসের প্রতি তাঁর মনোযোগ সনদের চেয়ে বেশি ছিল।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: নীতিমালা ও ফায়দাসমূহ বইটির দ্বিতীয় অধ্যায়ে ইবনে রজবের মানহাজ (পদ্ধতি):
বইটির দ্বিতীয় অধ্যায় ইলমে ইলাল (হাদিসের সূক্ষ্ম ত্রুটি বিষয়ক জ্ঞান) এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট বর্ণনাকারীদের অবস্থা বিষয়ক একগুচ্ছ নীতিমালা ও ফায়দা নিয়ে গঠিত। বইটির এই শেষ অর্ধাংশে ইবনে রজবের উদ্দেশ্য ছিল যারা এটি অধ্যয়ন করবেন তাদের নিকট ইলমে ইলালকে সহজবোধ্য করে তোলা। তিনি এটি একটি ভূমিকা দিয়ে শুরু করেছেন, যাতে তিনি বলেছেন:
"যখন আবু ঈসা আত-তিরমিযী (রহ.) তাঁর জামে' গ্রন্থে যা উল্লেখ করেছেন তার আলোচনা সমাপ্ত হলো, যার শেষ অংশ ছিল কিতাবুল ইলাল, তখন আমি কিতাবুল ইলালকে আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ ফায়দার সাথে সংযুক্ত করা পছন্দ করলাম।"