(খণ্ড: ১)
আল-ফাননুল ওয়াক্বিউ ওয়াল মামুল - ক্বাসাসু তাওবাতিল ফাননীন ওয়াল ফাননাত
(পৃষ্ঠা: -)
الفن الواقع والمأمول - قصص توبة الفنانين والفنانات القسم: مسائل فقهية
الكتاب: الفن الواقع والمأمول - قصص توبة الفنانين والفنانات
المؤلف: د خالد بن عبد الرحمن بن علي الجريسي
تقديم: العلامة الشيخ د. عبد الله بن عبد الرحمن الجبرين، العلامة الشيخ عبد الله بن سليمان بن منيع
عدد الصفحات: 218
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
শিল্প: বাস্তবতা ও প্রত্যাশা - অভিনেতা ও অভিনেত্রীদের তওবার কাহিনী বিভাগ: ফিকহী মাসআলাসমূহ
গ্রন্থ: শিল্প: বাস্তবতা ও প্রত্যাশা - অভিনেতা ও অভিনেত্রীদের তওবার কাহিনী
লেখক: ড. খালেদ বিন আব্দুর রহমান বিন আলী আল-জুরায়সী
উপস্থাপনা: আল্লামা শায়খ ড. আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রহমান আল-জিবরীন, আল্লামা শায়খ আব্দুল্লাহ বিন সুলাইমান বিন মানী'
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২১৮
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রণ কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ যুল-হিজ্জাহ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আল-ফাননুল ওয়াক্বিউ ওয়াল মামুল - ক্বাসাসু তাওবাতিল ফাননীন ওয়াল ফাননাত
(পৃষ্ঠা: -)
الفن
الواقع والمأمول
تأليف
د. خالد بن عبد الرحمن الجريسي
تقديم
العلامة الشيخ
… العلامة الشيخ
د. عبد الله بن عبد الرحمن الجبرين
… عبد الله بن سليمان المنيع
শাস্ত্র
বাস্তবতা ও প্রত্যাশা
রচনায়
ড. খালিদ বিন আব্দুর রহমান আল-জুরায়সি
উপস্থাপনায়
আল্লামা শায়খ
… আল্লামা শায়খ
ড. আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রহমান আল-জিবরীন
… আব্দুল্লাহ বিন সুলায়মান আল-মানী
(খণ্ড: ১)
আল-ফাননুল ওয়াক্বিউ ওয়াল মামুল - ক্বাসাসু তাওবাতিল ফাননীন ওয়াল ফাননাত
(পৃষ্ঠা: ৫)
تقديم
فضيلة العلاّمة الدكتور عبد الله بن عبد الرحمن الجبرين رحمه الله
الحمد لله رب العالمين الذي بدأ خَلْق الإنسان من طين، ثم جعل نسله من سُلالة من ماء مَهين، وابتلاه في هذه الدنيا وسلَّط عليه الشياطين، وتوعَّده على المعصية بالعذاب المُهين، ووعد من أطاعه بالحياة الطيبة والرزق والتمكين، وصلى الله وسلم على أشرف المرسلين نبينا محمد الصادق الأمين، وعلى آله وصحبه أجمعين، ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين.
أما بعد، فقد روي في بعض الآثار ما فيه: إن لهذا الدين إقبالاً وإدباراً، وإن من إقباله أن تفقه القبيلة بأسرها فلا يبقى فيها إلا المنافق والمنافقان، فهما مقموعان ذليلان، إن تكلَّما قُمِعا وطردا واضطهدا، وإن من إدباره أن تجفوَ القبيلة بأسرها فلا يبقى فيها إلا الفقيه والفقيهان، فهما ذليلان حقيران، إذا تكلَّما قُمعا وطردا واضطهدا، وثبت في صحيح مسلم قولُ النبيِّ صلى الله عليه وسلم «بدأ الإسلام غريباً وسيعود غريباً كما بدأ، فطُوبى للغرباء» ، وفسرهم بأنهم النُّزَّاع من القبائل الذين يصلحون عند فساد الناس، والذين يَفِرُّون بدينهم من الفتن، وقد تحققت غربة الدين في كثير من الدول الإسلامية، ولعبت بهم الأمواج من الفتن والدعايات المُضِلَّة، وكان من جملة ما زيَّنه الشيطان لأوليائه أنْ حبَّب إليهم الأغاني والملاهي واللعب والطرب، وصدَّهم بذلك عن دينهم، وزهَّدهم في كلام ربهم، فشغلوا بذلك جُلَّ أوقاتهم، وأَكبُّوا على السماع والطرب، والتلذُّذ بأصوات الفنانين
উপস্থাপনা
ফযীলাতুশ শায়খ আল্লামা ড. আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রহমান আল-জিবরীন (রহিমাহুল্লাহ)
সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, যিনি মাটি থেকে মানুষের সৃষ্টি শুরু করেছেন, তারপর তার বংশধারাকে এক তুচ্ছ পানির নির্যাস থেকে তৈরি করেছেন। তিনি তাকে এই পৃথিবীতে পরীক্ষা করেছেন এবং তার ওপর শয়তানদের প্রভাব বিস্তার করতে দিয়েছেন। তিনি তাকে অবাধ্যতার জন্য অপমানজনক শাস্তির ভীতি প্রদর্শন করেছেন এবং যারা তাঁর আনুগত্য করে, তাদের জন্য উত্তম জীবন, রিযিক ও প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক রাসূলদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ, আমাদের নবী মুহাম্মদ—যিনি সত্যবাদী ও বিশ্বস্ত—তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবারবর্গ, সকল সাহাবী ও বিচার দিবস পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবেন, তাঁদের সবার ওপর।
অতঃপর, কিছু বর্ণনা (أثر)-তে বর্ণিত হয়েছে যে: নিশ্চয়ই এই দ্বীনের অগ্রগতি ও পশ্চাদপসরণ রয়েছে। এর অগ্রগতির লক্ষণ হলো—গোটা গোত্রই ফকিহ (ইসলামি জ্ঞানে পণ্ডিত) হয়ে যাবে, ফলে সেখানে কেবল একজন বা দুইজন মুনাফিক অবশিষ্ট থাকবে, যারা হবে দমিত ও লাঞ্ছিত; যদি তারা কথা বলে তবে তাদের দমন করা হবে, বিতাড়িত করা হবে এবং নিপীড়ন করা হবে। আর এর পশ্চাদপসরণের লক্ষণ হলো—গোটা গোত্রই দ্বীনবিমুখ হয়ে যাবে, ফলে সেখানে কেবল একজন বা দুইজন ফকিহ অবশিষ্ট থাকবে, যারা হবে লাঞ্ছিত ও তুচ্ছ; যদি তারা কথা বলে তবে তাদের দমন করা হবে, বিতাড়িত করা হবে এবং নিপীড়ন করা হবে। সহীহ মুসলিম-এ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর বাণী সুসাব্যস্ত (ثابت) হয়েছে যে: “ইসলাম শুরু হয়েছে অপরিচিত (غريب) অবস্থায় এবং অচিরেই তা আবার পূর্বের ন্যায় অপরিচিত (غريب) অবস্থায় ফিরে যাবে। সুতরাং সেই অপরিচিতদের (غرباء) জন্য সুসংবাদ।” তিনি তাঁদের ব্যাখ্যায় বলেছেন যে, তাঁরা হলেন বিভিন্ন গোত্র থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া সেই স্বল্পসংখ্যক ব্যক্তি যারা মানুষের বিগড়ে যাওয়ার সময় সংস্কারের কাজ করেন এবং যারা ফিতনা থেকে নিজেদের দ্বীন নিয়ে পলায়ন করেন। অনেক মুসলিম রাষ্ট্রে দ্বীনের এই অপরিচিত (غربة) অবস্থা আজ বাস্তবে রূপ নিয়েছে। ফিতনার ঢেউ এবং বিভ্রান্তিকর প্রচার-প্রচারণা তাদের নিয়ে খেলা করছে। শয়তান তার বন্ধুদের জন্য যা সুশোভিত করেছে তার মধ্যে অন্যতম হলো—তাদের কাছে গান-বাজনা, বাদ্যযন্ত্র, খেলাধুলা ও আমোদ-প্রমোদকে প্রিয় করে তোলা এবং এর মাধ্যমে তাদেরকে তাদের দ্বীন থেকে বিমুখ করা ও তাদের রবের বাণীর প্রতি বিরাগভাজন করা। ফলে তারা তাদের সময়ের অধিকাংশ সময় এসব কাজে ব্যয় করছে এবং গায়ক-বাদকদের কণ্ঠস্বর উপভোগ ও আমোদ-প্রমোদে মগ্ন হয়ে পড়েছে।
(খণ্ড: ১)
আল-ফাননুল ওয়াক্বিউ ওয়াল মামুল - ক্বাসাসু তাওবাতিল ফাননীন ওয়াল ফাননাত
(পৃষ্ঠা: ৬)
والفنانات، وأصبح ذلك شغلهم الشاغل، وحديث مجالسهم، ولقد أحسن الدكتور خالد بن عبد الرحمن بن علي الجريسي، الذي ألَّف هذا الكتاب، واستوفى كل أو جُلَّ ما يتعلق به أصحاب الفن واللهو والغناء والسماع، فذكر نشأة هذا الفن التمثيلي، وأثرَه في الناشئة، وآثار الفن الكرتوني وقصة البوكيمون وكرتون الحب والغرام، وذكر الفن التمثيلي والمرأة، والفن التمثيلي وترسيخ المفاهيم، وتوسَّع في دور الإعلام في ترويج الفن، وذكر اهتمام الإعلاميين بذلك، ونشره لأخبارهم في الإعلام المسموع، والمرئي، والمقروء، وذكر نهاية كثير من أهل الفن وكيف قضَوا حياتهم في ضياع وحسرة وخاتمة سيئة، وعرض بمن تاب منهم وخُتِم له بخاتمة حسنة، وذكر أمثلة من فتاوى العلماء في هذا الموضوع، وبذلك أصبح هذا الكتاب مرجعًا هامًا ومفيدًا في التعريف بآثار أولئك الفنانين والفنانات، والمطربين والمغنين، فجزاه
الله أحسن الجزاء، وأعظم له الثواب، والله أعلم.
وصلى الله على محمد وآله وصحبه وسلم.
عبد الله بن عبد الرحمن الجبرين
28/7/1426هـ.
এবং নারী শিল্পীরা; আর এটাই তাদের ধ্যান-জ্ঞান এবং মজলিসগুলোর আলোচনার বিষয়ে পরিণত হয়েছে। ডক্টর খালিদ বিন আবদুর রহমান বিন আলী আল-জুরাইসী অত্যন্ত প্রশংসনীয় কাজ করেছেন, যিনি এই বইটি রচনা করেছেন এবং অভিনয়, আমোদ-প্রমোদ, গান ও বাদ্যযন্ত্রের সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের প্রায় সকল বা অধিকাংশ বিষয় এতে বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করেছেন। তিনি এই অভিনয় শিল্পের উদ্ভব, তরুণ প্রজন্মের ওপর এর প্রভাব, কার্টুন শিল্পের প্রতিক্রিয়া, পোকেমন-এর কাহিনী এবং প্রেম-ভালোবাসার কার্টুন নিয়ে আলোচনা করেছেন। তিনি অভিনয় শিল্প ও নারী, অভিনয় শিল্প ও ধ্যান-ধারণার সুদৃঢ়করণ এবং শিল্পকলার প্রসারে গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। তিনি এ বিষয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের বিশেষ আগ্রহ এবং শ্রবণযোগ্য, দৃশ্যমান ও লিখিত গণমাধ্যমে তাদের সংবাদ প্রচারের বিষয়টি উল্লেখ করেছেন। তিনি বহু অভিনয় শিল্পীর জীবনের করুণ পরিণতির কথা এবং তারা কীভাবে বিভ্রান্তি ও আফসোসের মধ্যে জীবন অতিবাহিত করেছেন এবং তাদের মন্দ সমাপ্তির কথা উল্লেখ করেছেন। আর তাদের মধ্যে যারা তাওবা করেছেন এবং যাদের জীবন উত্তম সমাপ্তির মাধ্যমে শেষ হয়েছে তাদের কথা পেশ করেছেন। এছাড়াও এ বিষয়ে ওলামায়ে কেরামের ফাতওয়ার উদাহরণও তুলে ধরেছেন। এর ফলে এই বইটি ওই সকল অভিনেতা-অভিনেত্রী এবং গায়ক-গায়িকাদের প্রভাব ও কর্মকাণ্ড সম্পর্কে জানার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও উপকারী তথ্যসূত্র হিসেবে গণ্য হয়েছে। আল্লাহ তাঁকে
সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন এবং তাঁর সওয়াবকে মহান করুন। আল্লাহই সর্বাধিক পরিজ্ঞাত।
মুহাম্মদ (সা.), তাঁর পরিবারবর্গ এবং সকল সঙ্গীর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।
আবদুল্লাহ বিন আবদুর রহমান আল-জিবরীন
২৮/০৭/১৪২৬ হিজরি।
(খণ্ড: ১)
আল-ফাননুল ওয়াক্বিউ ওয়াল মামুল - ক্বাসাসু তাওবাতিল ফাননীন ওয়াল ফাননাত
(পৃষ্ঠা: ৭)
تقديم
فضيلة العلاّمة الدكتور عبد الله بن سليمان المنيع
… حفظه الله
الحمد لله الذي أرسل رسوله بالهدى ودين الحق ليظهره على الدين كله ولو كره المشركون، أحمده وأشكره وأثني عليه بما هو أهلُه، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبد الله ورسوله وقدوتُنا في أقوالنا وأعمالنا ومعتقداتنا، صلى الله عليه وعلى آله وصحبه وسلّم تسليماً كثيراً، أما بعد.
فلقد سعدت بقراءة المؤلَّف القيِّم ((الفن)) لمؤلفه الأستاذ الفاضل / خالد بن عبد الرحمن الجريسي، وظهر لي فيه مدى قدرة المؤلف على التحليل والتدليل والعمق في التصور والتمكن من التصوير لأي شكل من أشكال الفن التمثيلي، فلقد استهل مؤلفه بالآثار الإيجابية للتمثيل من حيث التربية على مكارم الأخلاق، والتحلي بالمُثُل الإسلامية من حيث التأسي والاستجابة لدواعي الاستقامة والصلاح، كما تحدث عن الآثار السلبية للتمثيل من حيث التأثير على الفطرة الربانية بالانحراف وبالتأثر، ثم الأخذ بمقتضيات ذلك الانحراف في الاعتقاد والسلوك، والتخلق بصفات أهل الفسق والفجور والعصيان.
وقد جاء في الكتاب أن التمثيل سلاح مزدوج، فهو سلاح ذوحدين إن استعمل في حد الخير والصلاح أنتج ذلك الاستخدام ما تنتجه وسائل البناء والتأسيس والتأصيل في صروح الخير والرشاد، وإن استعمل في حد الشر أنتج ذلك ما تنتجه وسائل الهدم والفساد
ভূমিকা
সম্মানিত আল্লামা ডক্টর আবদুল্লাহ বিন সুলায়মান আল-মানি'
… (আল্লাহ তাঁকে হিফাযত করুন)
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর রাসূলকে হিদায়েত ও সত্য দ্বীনসহ প্রেরণ করেছেন যাতে তিনি একে অন্য সকল দ্বীনের ওপর বিজয়ী করেন, যদিও মুশরিকরা তা অপছন্দ করে। আমি তাঁর প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি এবং তাঁর যথাযোগ্য স্তুতি গাইছি। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো উপাস্য নেই, তিনি একক এবং তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল; তিনি আমাদের কথা, কাজ ও বিশ্বাসের ক্ষেত্রে আমাদের আদর্শ। তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সাহাবীবৃন্দের ওপর অজস্র দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক। অতঃপর:
শ্রদ্ধেয় উস্তাদ খালিদ বিন আব্দুর রহমান আল-জুরাইসি রচিত 'আল-ফান' নামক মূল্যবান গ্রন্থটি পাঠ করে আমি অত্যন্ত প্রীত হয়েছি। এতে লেখকের বিশ্লেষণ ও দলিল উপস্থাপনের ক্ষমতা, সুগভীর অন্তর্দৃষ্টি এবং অভিনয় শিল্পের যেকোনো রূপ ফুটিয়ে তোলার পারদর্শিতা আমার কাছে স্পষ্ট হয়েছে। লেখক তাঁর গ্রন্থের সূচনা করেছেন অভিনয়ের ইতিবাচক প্রভাবগুলো বর্ণনার মাধ্যমে; যেমন—উত্তম চরিত্র গঠন এবং ইসলামী আদর্শে উজ্জীবিত হওয়ার মাধ্যমে চারিত্রিক দৃঢ়তা ও সংশোধনের আহ্বানে সাড়া দেওয়া। তেমনিভাবে তিনি অভিনয়ের নেতিবাচক প্রভাবগুলো সম্পর্কেও আলোচনা করেছেন; যেমন—মানুষের ঐশী স্বভাবজাত প্রকৃতির ওপর এর বিচ্যুতিমূলক প্রভাব, বিশ্বাস ও আচরণের ক্ষেত্রে সেই বিচ্যুতির অনুসরণ এবং পাপাচারী ও অবাধ্যদের স্বভাব ধারণ করা।
বইটিতে বর্ণিত হয়েছে যে, অভিনয় একটি দ্বি-মুখী অস্ত্র। যদি এটি কল্যাণ ও সংশোধনের পথে ব্যবহার করা হয়, তবে তা নেক কাজ ও সঠিক পথ বিনির্মাণের মাধ্যমগুলোর মতোই সুফল বয়ে আনে। আর যদি এটি মন্দের পথে ব্যবহৃত হয়, তবে তা ধ্বংস ও বিপর্যয় সৃষ্টিকারী মাধ্যমগুলোর মতোই কুফল বয়ে আনে।
(খণ্ড: ১)
আল-ফাননুল ওয়াক্বিউ ওয়াল মামুল - ক্বাসাসু তাওবাতিল ফাননীন ওয়াল ফাননাত
(পৃষ্ঠা: ৮)
والخراب من إيجاد شروخ في بناء المجتمع يكون من آثارها الفوضى في المجتمع وزعزعة الاعتقاد والتأثير في الأخلاق بما يهوِّن من شأنها ويزلزل الثقة بها وباعتبارها.
وختم المؤلف كتابه القيِّم بمجموعة من الفتاوى تتعلق بحكم أنواع من التمثيل، وأكد أن للتمثيل أثراً كبيراً في الأخذ بمقتضياته، وحذر من تمثيل تكون آثاره وبالاً على المجتمع في دينه وخلقه وسلوكه وتقاليده واستقراره وانتمائه لعشيرته ومجتمعه وقيادته.
وحقاً لقد سعدت بقراءة الكتاب؛ فأعجبني فيه سموّ موضوعه، وسلامة لغته، وسلاسة أسلوبه، وعمق التصور في الإحاطة بجوانبه، وقوة البيان في الإقناع بإيجابيات وسلبيات كل نوع من أنواع التمثيل، فجاء الكتاب جامعاً بين الترغيب والترهيب والتوجيه والتبصير، ووسطاً بين الإفراط والتفريط، يبيِّن الحق ويدل عليه ويظهر الباطل ويحذر منه، فجزى الله مؤلفه خير جزاء وجعل كتابه هذا حسنة كبرى من حسناته وجعله مباركاً أينما كان، والله المستعان. وصلى الله وسلم على نبينا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين.
كتبه عضو هيئة كبار العلماء
عبد الله بن سليمان المنيع
24/2/1423هـ
সমাজের কাঠামোতে ফাটল সৃষ্টির মাধ্যমে যে বিপর্যয় সাধিত হয়, তার পরিণাম হিসেবে সমাজে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়, বিশ্বাসের ভিত্তি নড়বড়ে হয়ে পড়ে এবং নৈতিকতার ওপর এমন নেতিবাচক প্রভাব ফেলে যা এর গুরুত্বকে ক্ষুণ্ণ করে এবং এর প্রতি আস্থা ও মর্যাদাকে বিচলিত করে।
লেখক তাঁর এই মূল্যবান গ্রন্থটি অভিনয়ের বিভিন্ন প্রকারের বিধান সংশ্লিষ্ট একগুচ্ছ ফতোয়ার মাধ্যমে সমাপ্ত করেছেন। তিনি গুরুত্বারোপ করেছেন যে, অভিনয়ের প্রভাব অনেক সময় মানুষকে এর দাবি অনুযায়ী চলতে বাধ্য করে। তিনি এমন অভিনয় সম্পর্কে সতর্ক করেছেন যার কুফল সমাজের দ্বীন, নৈতিকতা, আচরণ, ঐতিহ্য, স্থিতিশীলতা এবং নিজ গোষ্ঠী, সমাজ ও নেতৃত্বের প্রতি আনুগত্যের ক্ষেত্রে বিপর্যয় ডেকে আনে।
প্রকৃতপক্ষে আমি বইটি পাঠ করে আনন্দিত হয়েছি। এর বিষয়ের উচ্চতা, ভাষার বিশুদ্ধতা, শৈলীর সাবলীলতা এবং প্রতিটি দিক পরিবেষ্টনকারী চিন্তার গভীরতা আমাকে মুগ্ধ করেছে। অভিনয়ের প্রতিটি প্রকারের ইতিবাচক ও নেতিবাচক দিকগুলো সম্পর্কে আশ্বস্ত করার ক্ষেত্রে বর্ণনার শক্তি ছিল অনন্য। ফলে বইটি উৎসাহ প্রদান ও ভীতি প্রদর্শন এবং দিকনির্দেশনা ও সচেতনতার এক সার্থক সংকলন হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে, যা বাড়াবাড়ি ও অবহেলার মাঝে একটি মধ্যম পন্থা অবলম্বনকারী। এটি সত্যকে স্পষ্ট করে ও তার দিশা দেয় এবং মিথ্যাকে উন্মোচিত করে তা থেকে সতর্ক করে। আল্লাহ তাআলা এর লেখককে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন এবং তাঁর এই গ্রন্থটিকে তাঁর নেক আমলসমূহের অন্তর্ভুক্ত করুন এবং একে বরকতময় করুন। আল্লাহই সাহায্যকারী। আর আমাদের নবী মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর আল্লাহর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক।
লিখেছেন—উচ্চতর উলামা পরিষদের সদস্য
আবদুল্লাহ বিন সুলাইমান আল-মানি
২৪/২/১৪২৩ হিজরি
(খণ্ড: ১)
আল-ফাননুল ওয়াক্বিউ ওয়াল মামুল - ক্বাসাসু তাওবাতিল ফাননীন ওয়াল ফাননাত
(পৃষ্ঠা: ৯)
المقدمةالحمد لله ربّ العالمين، والصلاة والسلام على سيد المرسلين، سيدنا محمد وعلى آله وصحابته أجمعين والتابعين لهم بإحسان إلى يوم الدين.
أما بعدُ، أخي الكريم! فإن كلمة الفن متى أُطلقت فإنها تشمل موضوعات شتى، إذ يدخل تحت هذا اللفظ الفنونُ بأنواعها كافّة؛ الفنُّ الأدبي، والفنُّ التشكيلي، والفنُّ المعماري، والفنُّ الغنائي، والفنُّ التمثيلي، وغيرُ ذلك من الفنون المتنوعة، وكلٌّ منها فنٌّ قائم بذاته، وإن كان مشتركاً مع غيره في بعض النواحي الإبداعية، ولئلا يتشعب بنا الحديث كثيراً، فإننا سنجعل دراستنا المسمّاة: ((الفن)) مقتصرة على جانبٍ واحد من جوانبه، ألا وهو الفنُّ التمثيلي، سواء ما يعرض منه على منصات المسرح، أو على عاكسات دُور السينما أو في وسائل الإعلام المسموعة والمرئية، كالمذياع (الرادّ أو الراديو) ، والتلفاز، أو ما يقدَّم للأطفال في قالب عروض كرتونية، ومع اقتصارنا على ذلك، فقد نستطرد أحياناً فنتعرض لبعض أنواع الفن الأخرى، وذلك على سبيل المداخلة لا البحث، مع اعتقادنا باستحقاق دراسة تلك الفنون بأكملها دراسة وافية.
ولا شك بأن أهمية هذا الموضوع تنبع من كونه ملامساً لحياتنا اليومية على قدر كبير، لا محيد عنه ولا مناص، فمع إطلالة خيوط الفجر الأولى وإشراقته الندية تهرع جحافل وسائل الإعلام لتمارس نشاطها المحموم، فتغزو عالمَ الإنسان وتقتحم عليه عزلته الذاتية، التي فرضها على نفسه بالنوم، وذلك لتروّج لديه بضاعتها من الأفلام
ভূমিকাসকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, আর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক রাসূলগণের সরদার আমাদের নেতা মুহাম্মাদ-এর প্রতি এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, তাঁর সকল সাহাবী (صحابة) ও কিয়ামত দিবস পর্যন্ত নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণকারী তাবিঈগণের (تابعين) প্রতি।
অতঃপর, হে আমার প্রিয় ভাই! 'শিল্প' শব্দটি যখনই প্রয়োগ করা হয়, তা বিবিধ বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে; কেননা এই শব্দের অধীনে সকল প্রকার শিল্পই দাখিল হয়—সাহিত্যিক শিল্প, চারুশিল্প, স্থাপত্য শিল্প, সংগীত শিল্প, নাট্য শিল্প এবং এই জাতীয় আরও নানাবিধ বৈচিত্র্যময় শিল্পকলা। এগুলোর প্রতিটিই স্বয়ংসম্পূর্ণ একটি শিল্প, যদিও সৃজনশীলতার কিছু ক্ষেত্রে অন্যটির সাথে এগুলোর যোগসূত্র থাকে। আমাদের আলোচনা যাতে খুব বেশি শাখা-প্রশাখায় ছড়িয়ে না পড়ে, সেজন্য আমরা আমাদের 'শিল্প' নামক এই গবেষণাটিকে এর একটি মাত্র দিকের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখব, আর তা হলো নাট্য শিল্প। চাই তা থিয়েটারের মঞ্চে প্রদর্শিত হোক, কিংবা সিনেমা হলের পর্দায় অথবা শ্রবণ ও দৃশ্যমান গণমাধ্যম যেমন—বেতার (রেডিও) ও টেলিভিশন কিংবা শিশুদের জন্য কার্টুন আকারে উপস্থাপিত কোনো কিছু হোক। আমাদের আলোচনা এর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও, গবেষণার খাতিরে না হলেও আমরা মাঝেমধ্যে শিল্পের অন্যান্য প্রকার নিয়েও প্রাসঙ্গিকভাবে আলোকপাত করতে পারি; যদিও আমরা বিশ্বাস করি যে, ওই সকল শিল্পের প্রতিটি নিয়েও একটি পূর্ণাঙ্গ গবেষণামূলক অধ্যয়ন হওয়া বাঞ্ছনীয়।
আর এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, এই বিষয়ের গুরুত্ব এখান থেকেই উৎসারিত যে, এটি আমাদের দৈনন্দিন জীবনের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত এবং এ থেকে বিমুখ হওয়ার কোনো পথ নেই। ভোরের প্রথম আলোর রেখা ফুটার সাথে সাথে যখন প্রকৃতি শিশিরসিক্ত ও স্নিগ্ধ থাকে, তখনই গণমাধ্যমের বিশাল বাহিনী তাদের উন্মত্ত তৎপরতা শুরু করতে সজাগ হয়ে ওঠে। তারা মানুষের জগতে হানা দেয় এবং ঘুমের মাধ্যমে মানুষ নিজের ওপর যে নির্জনতা আরোপ করেছিল, তা ছিন্ন করে প্রবেশ করে; আর তা করা হয় মূলত তার কাছে তাদের চলচ্চিত্রের পসরা বাজারজাত করার জন্য।
(খণ্ড: ১)
আল-ফাননুল ওয়াক্বিউ ওয়াল মামুল - ক্বাসাসু তাওবাতিল ফাননীন ওয়াল ফাননাত
(পৃষ্ঠা: ১০)
والمسلسلات والتمثيليات، ولكي تستحوذ على عقول أطفالنا وقلوبهم، بما تقدمه لهم من برامجَ مرغِّبةٍ منوَّعة.
فالفن التمثيلي إذاً يمارس دوراً مهمًا خطيراً في تغيير قناعات المشاهدين واهتماماتهم، العامة والخاصة، لذا فهو متهم من وجهة نظرنا بقضايا عدة، متهم ابتداءً بتقصيره الذريع في القيام بالواجب المَنوط به تجاه الأمة، دينِها وفكرِ شبابها.. وبالمقابل فهو متهم بفتح كل أبوابه، وإطلاق كل أبواقه، وتسخير كل إمكاناته للترويج للفكر الغربي بدلاً من التصدي له، وهو متهم كذلك بصرف همم الشباب وتحويل اهتماماتهم المفترضة - كالالتفاف حول العقيدة، والانتصار للدين، والاندفاع نحو خدمة الأمة - تحويلها إلى الاهتمام بالمظاهر الدنيوية، والانغماس في الشهوات البدنية، والانبهار بالأضواء، والتمسك بالقشور وسفساف الأمور، حتى غدا الشاب وهو في مقتبل عمره يتطلع إلى إحراز البطولة، أو إبراز الذات، أو تحقيق النجاح، لا من خلال الأعمال الإيجابية البنّاءة وإنما من خلال تنفيذ مواقف تافهة أو مغامرات متهوِّرةٍ أملاها عليه مشهد سينمائي أو تمثيلية أو مسرحية.
ومن هنا كانت لنا وَقفات تأمل، مع هذا الفن التمثيلي على وجه خاص، نتلمس من خلالها آثاره وأضراره الاجتماعية، مع إلحاق الحكم عليه، وبيان موقف الإسلام منه، لبعض أهل العلم الأجلاّء، جزاهم الله خيراً.
وقد تم تقسيم موضوعات الكتاب إلى ثمانية فصول، هي:
الفصل الأول: الفنُّ التمثيلي: المفهوم والنشأة.
الفصل الثاني: الفنُُّ التمثيلي وأثره في الناشئة.
...এবং ধারাবাহিক নাটক ও নাটিকাগুলো, যাতে এটি আমাদের শিশুদের মন-মস্তিষ্ক ও হৃদয়কে আচ্ছন্ন করে নিতে পারে তার আকর্ষণীয় ও বৈচিত্র্যময় অনুষ্ঠানমালার মাধ্যমে।
সুতরাং অভিনয় শিল্প দর্শকদের সাধারণ ও বিশেষ বিশ্বাস ও আগ্রহগুলো পরিবর্তনের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল ভূমিকা পালন করে। তাই আমাদের দৃষ্টিতে এটি বেশ কিছু বিষয়ে অভিযুক্ত। প্রথমত, এটি উম্মাহর প্রতি, তার দ্বীন এবং যুবসমাজের চিন্তাধারার প্রতি অর্পিত দায়িত্ব পালনে চরম অবহেলার দায়ে অভিযুক্ত। পক্ষান্তরে, এটি তার সমস্ত দুয়ার উন্মুক্ত করে দেওয়া, সমস্ত প্রচারযন্ত্র ব্যবহার করা এবং পশ্চিমা চিন্তাধারার মোকাবিলা করার পরিবর্তে তা প্রচারের জন্য তার যাবতীয় সক্ষমতা বিলিয়ে দেওয়ার দায়ে অভিযুক্ত। অনুরূপভাবে এটি তরুণদের মনোবলকে বিচ্যুত করা এবং তাদের কাঙ্ক্ষিত আগ্রহসমূহ—যেমন আকীদার ওপর অবিচল থাকা, দ্বীনের বিজয় নিশ্চিত করা এবং উম্মাহর সেবায় আত্মনিয়োগ করা—সেগুলোকে পার্থিব চাকচিক্যের প্রতি মোহ, শারীরিক লালসায় নিমগ্ন হওয়া, বাহ্যিক আড়ম্বরে মুগ্ধ হওয়া এবং তুচ্ছ ও অসার বিষয় আঁকড়ে ধরার দিকে ধাবিত করার দায়ে অভিযুক্ত। এমনকি একজন যুবক তার জীবনের প্রারম্ভেই বীরত্ব অর্জন, আত্মপ্রকাশ বা সাফল্য লাভের আকাঙ্ক্ষা করে; তবে তা কোনো ইতিবাচক বা গঠনমূলক কাজের মাধ্যমে নয়, বরং কোনো তুচ্ছ ভূমিকা বা হঠকারিতামূলক দুঃসাহস বাস্তবায়নের মাধ্যমে, যা কোনো সিনেমার দৃশ্য, নাটিকা বা থিয়েটার তার ওপর চাপিয়ে দিয়েছে।
আর এখান থেকেই এই অভিনয় শিল্পের বিষয়ে আমাদের কিছু বিশেষ পর্যবেক্ষণ রয়েছে, যার মাধ্যমে আমরা এর সামাজিক প্রভাব ও ক্ষতিকর দিকগুলো অন্বেষণ করব। সেই সাথে কতিপয় বরেণ্য উলামায়ে কেরামের পক্ষ থেকে এর বিধান এবং এ বিষয়ে ইসলামের অবস্থান বর্ণনা করা হবে; আল্লাহ তাঁদের উত্তম প্রতিদান দান করুন।
বইটির বিষয়বস্তুকে আটটি অধ্যায়ে বিভক্ত করা হয়েছে, সেগুলো হলো:
প্রথম অধ্যায়: অভিনয় শিল্প: ধারণা ও উৎপত্তি।
второе অধ্যায়: অভিনয় শিল্প ও নবীন প্রজন্মের ওপর এর প্রভাব।
(খণ্ড: ১)
আল-ফাননুল ওয়াক্বিউ ওয়াল মামুল - ক্বাসাসু তাওবাতিল ফাননীন ওয়াল ফাননাত
(পৃষ্ঠা: ১১)
الفصل الثالث: الفنُُّ التمثيلي والمرأة.
الفصل الرابع: الفنُُُُُُّ التمثيلي وترسيخ المفاهيم.
الفصل الخامس: دور الإعلام في ترويج الفنّ.
الفصل السادس: صور من حياة أهل الفنّ.
الفصل السابع: توبة واعتراف وندم.
الخاتمة: التي ضمَّنْتها بعضَ التوصيات.
الملحق: وفيه نخبة مختارة من فتاوى العلماء.
هذا، وقد تم - بحمد الله - عزو النصوص إلى مصادرها التي استقيتها منها، كما دعّمت البحث بالنقل عن بعض صحف ومجلاتٍ مهتمة بشؤون أهل الفن، تنقل أخبارهم وأقوالهم، (من فمك أُدينك) ، وذلك حرصاً مني على الإنصاف والموضوعية، سائلاً الله عز وجل أن يجعل عملنا هذا خالصاً لوجهه الكريم، وأن يرزقنا وإياكم الاستقامة على الحق، إنه سميع مجيب، وصلّى الله على نبينا محمد وعلى آله وصحبه وسلّم.
د. خالد بن عبد الرحمن الجريسي.
তৃতীয় অধ্যায়: অভিনয় শিল্প এবং নারী।
চতুর্থ অধ্যায়: অভিনয় শিল্প এবং ধারণার সুদৃঢ়করণ।
পঞ্চম অধ্যায়: শিল্প প্রসারে গণমাধ্যমের ভূমিকা।
ষষ্ঠ অধ্যায়: শিল্পী জগতের মানুষের জীবনের কিছু চিত্র।
সপ্তম অধ্যায়: তওবা, স্বীকারোক্তি এবং অনুশোচনা।
উপসংহার: যাতে আমি কিছু সুপারিশ অন্তর্ভুক্ত করেছি।
পরিশিষ্ট: এতে ওলামায়ে কেরামের নির্বাচিত কিছু ফতোয়া রয়েছে।
পরিশেষে, আল্লাহর প্রশংসায়— উদ্ধৃতিগুলোকে সেগুলোর মূল উৎসের দিকে সম্বন্ধিত করা হয়েছে যেখান থেকে আমি তা গ্রহণ করেছি। পাশাপাশি আমি এই গবেষণাকে শিল্পীদের বিষয়ে আগ্রহী কিছু সংবাদপত্র ও সাময়িকী থেকে উদ্ধৃতি প্রদানের মাধ্যমে সমৃদ্ধ করেছি, যা তাদের সংবাদ ও বক্তব্যসমূহ তুলে ধরে, (তোমার মুখ দিয়েই তোমাকে অভিযুক্ত করব), আর এটি ইনসাফ ও বস্তুনিষ্ঠতা বজায় রাখার প্রতি আমার আগ্রহের বহিঃপ্রকাশ। মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন আমাদের এই আমলকে একান্তই তাঁর সন্তুষ্টির জন্য কবুল করেন এবং আমাদের ও আপনাদেরকে সত্যের ওপর অবিচল থাকার তাওফিক দান করেন। নিশ্চয়ই তিনি শ্রবণকারী ও দোয়া কবুলকারী। আমাদের নবী মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীগণের ওপর আল্লাহর শান্তি ও রহমত বর্ষিত হোক।
ড. খালিদ বিন আব্দুর রহমান আল-জুরায়সী।
(খণ্ড: ১)
আল-ফাননুল ওয়াক্বিউ ওয়াল মামুল - ক্বাসাসু তাওবাতিল ফাননীন ওয়াল ফাননাত
(পৃষ্ঠা: ১৫)
الفصل الأولالفن التمثيلي المفهوم والنشأة يحسن بنا قبل الحديث عن الفنِّ التمثيلي أن نعرض لتعريف مصطلح "الفنّ" عند أهل اللغة وفي التعبير الاصطلاحي.
فالفنّ في أصل اللغة: هو واحد فنون، وهي: الأنواع، والأفانين: الأساليب، وهي: أجناس الكلام وطرقه، ورجل متفنِّن، أي: ذو فنون (1) . ورجل مِفَنّ: يأتي بالعجائب، وافتنّ: أخذ في فنون من القول، والتفنين: التخليط، والفن: الطرد والعناء والإعياء والمَطْل والغَبْن، ويقال: فنّنَ فلانٌ رأيه إذا لوّنه ولم يثبت على رأي واحد (2) .
هذا في اللغة، أما في الاصطلاح: فقد صرفت كلمة (الفنّ) للدلالة على: كل عمل إنساني يتطلب إنجازه مهارة خاصّة، ويقتضي حِذْقاً معيّناً ودِرْبة متميزة، لارتباط لفظ الفن من بعض وجوه اللغة بهذا المعنى (3) . كما قيل أيضاً فنّ الصحافة، وفنّ الإعلام، وفنّ الإذاعة، وغيرها مما يكون على هذا النحو.
ومن استعمالاته اصطلاحاً تسمية الإنتاج الصناعي فناً: وذلك
--------------------------------------------
প্রথম অধ্যায়অভিনয় শিল্প: ধারণা ও উদ্ভব অভিনয় শিল্প সম্পর্কে আলোচনার পূর্বে ভাষাবিদগণের নিকট এবং পারিভাষিক অভিব্যক্তিতে "শিল্প" শব্দের সংজ্ঞা উপস্থাপন করা আমাদের জন্য সমীচীন হবে।
মূল আভিধানিক অর্থে: শিল্প (ফ্যান) হলো 'ফুনুন'-এর একবচন, যার অর্থ হলো: প্রকারসমূহ। আর 'আফানিউন' হলো: শৈলীসমূহ; যা মূলত কথার ধরন ও পদ্ধতিসমূহকে বোঝায়। 'রাজুলুন মুতাফাননিন' অর্থাৎ: বহু বিদ্যায় পারদর্শী ব্যক্তি (১)। আর 'রাজুলুন মিফান' বলতে এমন ব্যক্তিকে বোঝায় যে বিস্ময়কর কিছু নিয়ে আসে। 'ইফতান্না' অর্থ: কথার বিভিন্ন ঢং বা শৈলী অবলম্বন করা। 'তাফনিন' অর্থ: সংমিশ্রণ করা। আর 'ফ্যান' শব্দের আরও অর্থ হলো: বিতাড়ন, কষ্ট, ক্লান্তি, দীর্ঘসূত্রিতা এবং প্রতারণা করা। বলা হয়ে থাকে: অমুক ব্যক্তি তার মতকে 'ফ্যাননানা' করেছে, যখন সে তার মত পরিবর্তন করে এবং কোনো একটি নির্দিষ্ট মতে অটল থাকে না (২)।
এটি হলো আভিধানিক দিক, আর পরিভাষার ক্ষেত্রে: 'শিল্প' শব্দটি এমন প্রতিটি মানবিক কাজকে নির্দেশ করতে ব্যবহৃত হয় যা সম্পন্ন করতে বিশেষ দক্ষতার প্রয়োজন হয় এবং যা সুনির্দিষ্ট নিপুণতা ও বিশেষ অভিজ্ঞতার দাবি রাখে; কারণ ভাষাগত দিক থেকে শব্দটির অর্থের সাথে এই প্রসঙ্গের এক ধরণের যোগসূত্র রয়েছে (৩)। এছাড়া সাংবাদিকতা শিল্প, গণমাধ্যম শিল্প, সম্প্রচার শিল্প এবং এই জাতীয় আরও ক্ষেত্রেও শব্দটির ব্যবহার প্রচলিত রয়েছে।
পরিভাষায় এর ব্যবহারের মধ্যে শিল্পজাত উৎপাদনকে 'শিল্প' হিসেবে অভিহিত করাও অন্তর্ভুক্ত; আর তা হলো—
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ফাননুল ওয়াক্বিউ ওয়াল মামুল - ক্বাসাসু তাওবাতিল ফাননীন ওয়াল ফাননাত
(পৃষ্ঠা: ১৬)
لاقتضائه مهارة في الصنع، وحِذقاً في الممارسة، ودِرْبة خاصة في كل نوع من أنواعه، فالخياطة فنٌّ بهذا المعنى، وكذلك النّجارة، والحِدادة، والزّراعة، وسائر ألوان الحِرَف والصناعات بلا استثناء. " (1) .
وفي التعبير المشهور لكلمة (الفن) ، " فقد أطلقت الكلمة على الفنون التعبيرية واستأثرت بها دون سواها عند الإطلاق، مثل فنون الشّعر والغناء والموسيقا والتصوير والرقص، وذلك لارتباطها في الأصل بعنصر الجمال دون الغايات النفعية"، (2) حيث جاء في المعجم المفصّل: "إن الفنون الإبداعية قد أمسَتْ وحدها في لغة الفكر تستأثر بمصطلح الفن، لأهدافها المعنوية، وغايتها الجمالية السامية " (3) .
وقد شاع أيضاً اصطلاحاً أن الفن هو: "التعبير الذي يُتَّخذ مادة وسيطة كي يعبّر الفنان بوساطتها عن انفعالاته الجمالية، سواء لما يشاهده في الطبيعة أو لما يراه في الخيال، بعين الفكر، كي ينقله إلى الآخرين " (4) فإذا وصل الفنّان إلى غايته بمادة اللّغة كان شعراً، ومتى اتخذ الأنغام مادةً له كان موسيقى، أو جمع بينهما كان غناءً، وحين يسعى للتعبير بمادة الخطوط والألوان كان رسماً، وإذا كانت
--------------------------------------------
কারণ এটি কারুকার্যে দক্ষতা, চর্চায় নিপুণতা এবং এর প্রতিটি প্রকারে বিশেষ অভিজ্ঞতার দাবি রাখে। এই অর্থে সেলাই একটি শিল্প (فن), ঠিক তেমনিভাবে কাঠের কাজ, কামারের কাজ, কৃষি এবং ব্যতিক্রমহীনভাবে অন্যান্য সমস্ত পেশা ও কারুশিল্পও এর অন্তর্ভুক্ত। " (১) ।
আর 'শিল্প' (الفن) শব্দটির প্রসিদ্ধ ব্যবহারের ক্ষেত্রে, "এই শব্দটি মূলত প্রকাশভঙ্গি বা অভিব্যক্তিগত শিল্পকলার (الفنون التعبيرية) ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয় এবং সাধারণ প্রয়োগে অন্য সব কিছু বাদ দিয়ে কেবল এগুলোকেই বোঝায়; যেমন—কবিতা, গান, সংগীত, চিত্রাঙ্কন ও নৃত্যকলা। এর কারণ হলো, এগুলো মূলত বস্তুগত উপযোগিতার পরিবর্তে সৌন্দর্যতত্ত্বের সাথে সম্পর্কিত", (২) যেখানে 'আল-মুজামুল মুফাসসাল'-এ উল্লেখ করা হয়েছে: "নিশ্চয়ই সৃজনশীল শিল্পকলাই (الفنون الإبداعية) এখন চিন্তার জগতে স্বতন্ত্রভাবে 'শিল্প' (الفن) পরিভাষাটি ধারণ করে আছে; এর অন্তর্নিহিত উদ্দেশ্য এবং উচ্চতর সৌন্দর্যতাত্ত্বিক লক্ষ্যের কারণে।" (৩) ।
পারিভাষিকভাবে (اصطلاحاً) এটিও প্রচলিত যে, শিল্প (الفن) হলো: "এমন এক অভিব্যক্তি যা একটি মধ্যম হিসেবে গৃহীত হয়, যার মাধ্যমে শিল্পী তার সৌন্দর্যতাত্ত্বিক আবেগ প্রকাশ করেন—চাই তা প্রকৃতিতে দৃশ্যমান কোনো কিছুর প্রতি হোক কিংবা কল্পনায় যা তিনি অন্তর্দৃষ্টি দিয়ে দেখেন তা অন্যের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য।" (৪) শিল্পী যদি ভাষার মাধ্যমে তার লক্ষ্যে পৌঁছান তবে তা হয় কবিতা, যখন সুরকে মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করেন তখন তা হয় সংগীত, আর যখন উভয়ের সমন্বয় করেন তখন তা হয় গান। যখন তিনি রেখা ও রঙের মাধ্যমে ভাব প্রকাশের চেষ্টা করেন তখন তা হয় চিত্রাঙ্কন, আর যদি...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ফাননুল ওয়াক্বিউ ওয়াল মামুল - ক্বাসাসু তাওবাতিল ফাননীন ওয়াল ফাননাত
(পৃষ্ঠা: ১৭)
مادته مما يتجسم في أشكال وأحجام كان الفن نَحْتاً وعمارة، ومتى كانت الحركات محاكاة وتقليداً كان الفن تمثيلاً (1) .
وما يهمنا هنا - على وجه الخصوص- هو: المحاكاة والتقليد للتعبير عن انفعالات ما، وهو ما يسمى بالتمثيل.
ف
ما هو التمثيل؟
التمثيل لغةً: (مِثْلُ) كلمة تسوية، يقال: هذا مِثْلُه ومَثَلُه كما يقال: شِبْهُهُ وشَبَهُهُ بمعنىً. ومثَّل له الشيء: صوّره حتى كأنه ينظر إليه، ومثّلت له كذا تمثيلاً إذا صوّرت له مثاله بكتابة وغيرها. ومثَّّل الشيء بالشيء: سوّاه وشبّهه به (2) .
هذا عن التمثيل في اللغة، أما في الاصطلاح فقد عرّف به كثير من الأدباء والمفكّرين بتعريفاتٍ عدةٍ استغرقت كل جوانب العملية التمثيلية من بدايتها حتى نهايتها، فعرّفه الأستاذ أحمد الزيات بقوله: "هو تمثيل طائفة من الناس لحادث متحقَّق أو متخيَّل، لا يخرج عن حدود الحقيقة أو الإمكان" (3) . وعرّفه صاحب المعجم الأدبي بأنه "أداء الأدوار المسرحية التشخيصية "، (4) كما عرّفه عبد السلام آل عبد الكريم بأنه " محاكاة شخص لآخر حقيقي أو خيالي قصداً ". ثمّ عرّف الممثل بأنه "القائم بأعمال
--------------------------------------------
যখন শিল্পের উপাদানসমূহ আকার ও আয়তনে রূপ পায়, তখন সেই শিল্প ভাস্কর্য ও স্থাপত্য হয়; আর যখন শারীরিক অঙ্গভঙ্গিগুলো অনুকরণ (محاكاة) ও অনুসরণ (تقليد) হয়, তখন সেই শিল্পকে অভিনয় (تمثيل) (১) বলা হয়।
এখানে বিশেষভাবে আমাদের আলোচনার বিষয় হলো: কোনো অনুভূতি প্রকাশের উদ্দেশ্যে অনুকরণ (محاكاة) ও অনুসরণ (تقليد) করা, যাকে অভিনয় (تمثيل) বলা হয়।
তবে
অভিনয় (التمثيل) কী?
শাব্দিক অর্থে (لغةً) অভিনয় (التمثيل): 'মিছল' (مِثْلُ) শব্দটি সমতা বিধানের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। বলা হয়: এটি তার সদৃশ (مِثْلُه) ও সমতুল্য (مَثَلُه), যেমনটি সমার্থক শব্দ হিসেবে তার সদৃশ (شِبْهُهُ) ও সমরূপ (شَبَهُهُ) বলা হয়। আর কারও সামনে কোনো কিছু উপস্থাপন করা (مثَّل له الشيء) এর অর্থ হলো: সে বিষয়টিকে এমনভাবে চিত্রায়িত করল যেন সে তা সরাসরি দেখছে। আবার কোনো কিছুর দৃষ্টান্ত পেশ করাকে 'তামছিল' (تمثيلاً) বলা হয় যখন কেউ তার নমুনা লেখা বা অন্য কিছুর মাধ্যমে চিত্রায়িত করে। আর এক বস্তুকে অন্য বস্তুর সাথে তুলনা করা (مثَّل الشيء بالشيء) এর অর্থ হলো তাকে সমান করা এবং তার সদৃশ (شبّهه) করা (২)।
এটি গেল অভিনয় (التمثيل)-এর শাব্দিক আলোচনা। আর পারিভাষিক সংজ্ঞার (الاصطلاح) ক্ষেত্রে অনেক সাহিত্যিক ও চিন্তাবিদ একে বিভিন্নভাবে সংজ্ঞায়িত করেছেন, যা অভিনয় প্রক্রিয়ার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সকল দিককে অন্তর্ভুক্ত করে। যেমন, উস্তাদ আহমদ আল-জাইয়াত একে সংজ্ঞায়িত করতে গিয়ে বলেছেন: "এটি হলো একদল মানুষ কর্তৃক কোনো বাস্তব বা কাল্পনিক ঘটনার রূপায়ন, যা সত্য বা সম্ভবপরতার সীমার বাইরে যায় না" (৩)। আর আল-মু'জাম আল-আদাবি প্রণেতা একে সংজ্ঞায়িত করেছেন "নাটকীয় চরিত্রের ভূমিকা পালন" হিসেবে (৪)। একইভাবে আবদুস সালাম আল-আবদুল কারিম একে সংজ্ঞায়িত করেছেন "ইচ্ছাকৃতভাবে এক ব্যক্তি কর্তৃক অন্য কোনো বাস্তব বা কাল্পনিক ব্যক্তির অনুকরণ (محاكاة)" হিসেবে। অতঃপর তিনি অভিনেতা (الممثل)-কে সংজ্ঞায়িত করেছেন এই বলে যে, "তিনি হলেন সেই ব্যক্তি যিনি... সম্পাদন করেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ফাননুল ওয়াক্বিউ ওয়াল মামুল - ক্বাসাসু তাওবাতিল ফাননীন ওয়াল ফাননাত
(পৃষ্ঠা: ১৮)
التمثيل أمام الجمهور" (1) .
ومن خلال استقراء التعريفات السابقة للتمثيل يتبين لنا أنه يقوم على مجموعة من الأمور، هي:
(1) وجود قصة ولو قصيرة، أو حادثٍ يمكن محاكاته، سواء أكان واقعاً أم متخيَّلاً.
(2) وجود من يمثّل الواقعة وهم الذين يُسمّون بالممثلين، وهم طائفة اختارت التمثيل هواية أو حرفة.
(3) وجود قواعد فنية يلتزم بها أهل التمثيل.
(4) القصد من التمثيل: التأثير.
هذا هو التمثيل اصطلاحاً، فما جذوره التاريخية، وما موضع نشأته؟
"تمتد جذور التمثيل إلى العصر الإغريقي، وتعاليم الكنيسة النصرانية القديمة - قبل الإسلام -، كما صرح بذلك جماعة من علماء الأدب" (2) .
"وفي أيام الدولة العباسية لم يترك العرب علماً من العلوم اليونانية إلا نقلوه، واطلعوا عليه، واشتغلوا به؛ ما خلا الأدب، فإنهم استغنَوْا بما لديهم، فلم تصل إليهم ملاحم اليونان، ولا قصصهم التمثيلية " (3) .
--------------------------------------------
"জনসমক্ষে অভিনয়" (১)।
অভিনয়ের পূর্বোক্ত সংজ্ঞাসমূহ (تعريفات) পর্যালোচনার (استقراء) মাধ্যমে আমাদের নিকট এটি স্পষ্ট হয় যে, তা কতগুলো বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে, সেগুলো হলো:
(১) একটি গল্পের উপস্থিতি, তা ছোট হলেও, অথবা এমন কোনো ঘটনার উপস্থিতি যাকে অনুকরণ করা যায়; চাই তা বাস্তব হোক কিংবা কাল্পনিক।
(২) এমন ব্যক্তির উপস্থিতি যিনি ঘটনাটি অভিনয় করে দেখাবেন, যাদেরকে 'অভিনেতা' বলা হয়; তারা এমন একটি গোষ্ঠী যারা অভিনয়কে শখ বা পেশা হিসেবে গ্রহণ করেছে।
(৩) শিল্পসম্মত কতগুলো নিয়মের উপস্থিতি যা অভিনয় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মেনে চলেন।
(৪) অভিনয়ের উদ্দেশ্য: প্রভাব বিস্তার করা।
এটিই হলো পরিভাষাগতভাবে (اصطلاحاً) অভিনয়; এখন প্রশ্ন হলো, এর ঐতিহাসিক মূল কোথায় এবং এর উৎপত্তিস্থলই বা কোথায়?
"অভিনয়ের শেকড় গ্রীক যুগ এবং প্রাচীন খ্রিস্টীয় গির্জার শিক্ষা পর্যন্ত বিস্তৃত—যা ইসলামের আবির্ভাবের পূর্বের সময়—যেমনটি সাহিত্যিকগণের একটি দল স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন" (২)।
"আব্বাসীয় খিলাফতের যুগে আরবরা গ্রীক বিজ্ঞানের এমন কোনো শাখা বাকি রাখেনি যা তারা অনুবাদ করেনি, আয়ত্ত করেনি এবং চর্চা করেনি; শুধু সাহিত্য ব্যতীত। কারণ তাদের নিকট যা ছিল তা দিয়েই তারা তুষ্ট ছিল। ফলে গ্রীকদের মহাকাব্য কিংবা তাদের অভিনয়মূলক কাহিনীগুলো তাদের কাছে পৌঁছেনি" (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ফাননুল ওয়াক্বিউ ওয়াল মামুল - ক্বাসাসু তাওবাতিল ফাননীন ওয়াল ফাননাত
(পৃষ্ঠা: ১৯)
"فلم يعرف المسلمون هذا العمل منذ قيام دعوة نبينا محمد صلى الله عليه وسلم حتى قبل خمسين ومائة عام- تقريباً- يوم انفتح الشرقيون على علوم الغرب وحضارته وثقافته، عندئذ اكتسبوا هذا العمل منهم، وتعلموا أصوله وقواعده في مدارسهم، ثم نقلوه إلى بلادهم الإسلامية ليكون نواة لما نشاهده الآن من تمثيليات دينية وغير دينية" (1) .
فالتمثيل بمعناه الحديث لم تعرفه اللغة العربية إلا في أواسط القرن الماضي. وكان اللبنانيون أسبق الشرقيين إلى اقتباسه، لتخرُّجِهم في المدارس الأجنبية، ودراستِهم للآداب الفرنجية (2) .
ونظراً لحداثة الأمر بالنسبة للمسلمين فقد تباينت الآراء حول التمثيل وموقف الإسلام منه، ولا أود الخوض في هذا الجانب فليس يتسع المقام لذلك، وقد خصصت ملحقاً له، إلا أن هذا لا يمنعنا من الحديث عن أهداف الفن، وتلمّس الجوانب الإيجابية فيه، ونحن عندما نتكلم عن أهداف الفن فإننا نقصد الفنّ التمثيلي الجائز المؤسَّس على أقوال العلماء الثقات واستنباطاتهم، فيمكن - والحال هذه - أن تكون لهذا النوع من الفن أهداف سامية نابعة من واقع الأمة الإسلامية وضروراتها في التربية والتوعية ومعالجة مشكلات الواقع.
الأهداف السامية للفن:ولعلّنا نُجمِل أهم تلك الأهداف - من وجهة نظرنا - فيما يلي:
1- تربية الناشئة:وهذا هدف في مُقدَّم أهداف الفن، لما للناشئة من أهمية في
--------------------------------------------
"আমাদের নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দাওয়াত শুরু হওয়ার পর থেকে প্রায় দেড়শ বছর আগ পর্যন্ত মুসলমানরা এই কাজের (অভিনয়) সাথে পরিচিত ছিল না—ঠিক যখন প্রাচ্যের অধিবাসীরা পাশ্চাত্যের বিজ্ঞান, সভ্যতা ও সংস্কৃতির সংস্পর্শে আসে, তখন তারা তাদের কাছ থেকে এই বিদ্যাটি অর্জন করে এবং তাদের বিদ্যালয়গুলোতে এর মূলনীতি (أصول) ও নিয়মাবলি (قواعد) শিক্ষা করে। অতঃপর তারা এটিকে তাদের ইসলামি দেশগুলোতে স্থানান্তরিত করে, যা বর্তমানে আমরা যে ধর্মীয় ও অধর্মীয় নাট্যাবলি দেখছি তার মূলে পরিণত হয়" (১)।
আধুনিক অর্থে অভিনয় বা নাট্যকলা গত শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ের আগে আরবি ভাষায় পরিচিত ছিল না। লেবানিজরাই ছিল প্রাচ্যের মধ্যে এটি গ্রহণে অগ্রগামী, কারণ তারা বিদেশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করেছিল এবং পাশ্চাত্য সাহিত্য অধ্যয়ন করেছিল (২)।
মুসলমানদের কাছে বিষয়টি নতুন হওয়ার কারণে অভিনয় এবং এ বিষয়ে ইসলামের অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন মতভেদ দেখা দিয়েছে। আমি এ প্রসঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করতে চাচ্ছি না, কারণ বর্তমান প্রেক্ষাপট তার জন্য যথেষ্ট নয় এবং এর জন্য আমি একটি পরিশিষ্ট নির্দিষ্ট করেছি। তবে এটি আমাদের শিল্পের লক্ষ্যসমূহ এবং এর ইতিবাচক দিকগুলো অনুসন্ধান করা থেকে আমাদের বিরত রাখছে না। যখন আমরা শিল্পের লক্ষ্য নিয়ে কথা বলি, তখন আমাদের উদ্দেশ্য হলো নির্ভরযোগ্য (ثقات) আলেমদের বক্তব্য এবং তাঁদের গবেষণালব্ধ সিদ্ধান্ত (استنباطات)-এর ওপর ভিত্তি করে বৈধ অভিনয় শিল্প। এই অবস্থায় এই ধরনের শিল্পের মহৎ লক্ষ্য থাকতে পারে যা ইসলামি উম্মাহর বাস্তবতা এবং শিক্ষা, সচেতনতা বৃদ্ধি ও বাস্তব সমস্যা সমাধানের প্রয়োজনীয়তা থেকে উদ্ভূত।
শিল্পের মহৎ লক্ষ্যসমূহ:সম্ভবত আমরা আমাদের দৃষ্টিতে সেই লক্ষ্যগুলোর মধ্যে প্রধান বিষয়গুলো নিম্নোক্তভাবে সংক্ষেপে তুলে ধরতে পারি:
১- নতুন প্রজন্মের প্রতিপালন:এটি শিল্পের লক্ষ্যসমূহের মধ্যে অন্যতম একটি অগ্রগণ্য লক্ষ্য, কারণ নতুন প্রজন্মের গুরুত্ব রয়েছে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ফাননুল ওয়াক্বিউ ওয়াল মামুল - ক্বাসাসু তাওবাতিল ফাননীন ওয়াল ফাননাত
(পৃষ্ঠা: ২০)
المجتمع المسلم، ولما تحتاجه هذه التربية النافعة إلى معالجات نصيّة جادّة لتنمية عقول الناشئة، والأخذ بأيديهم إلى التمسك بتعاليم الدين الحنيف والخُلق الكريم، وذلك بعيداً عن الخيال المريض الذي قد يولّد الانحراف، وبعيداً كذلك عن النظرة السلبية للكون والحياة والإنسان.
2- حماية المجتمع المسلم:إن حماية المجتمع ترتكز على التوعية الإيمانية والعلمية، وذلك من خلال تبصير المجتمعات الإسلامية بالأخطار التي تهدّد الأمة أفراداً وجماعات، ومن المسلَّم به أن هذه الأخطار باتت متنوعة، فمنها الاقتصادي، أو الاجتماعي، أو السياسي، أو الأخلاقي، أو الديني، وهي تتفاوت جميعًا في أهميتها، إلا أن الدين يعدّ - بحق- العامل الأهم في ذلك كله، وهو الفيصل في المعركة بين الخير والشر، ومن هنا ندرك قيمة التحصين الديني والخُلقي لحماية كل فرد من أفراد الأمة. وعندما يقوم الفن الملتزم بدور الوقاية نلحظ عند ذلك تدرّج الأمة في سلّم الاستقرار والتميز.
3- عرض قضايا الأمة الإسلامية:فالأمة الإسلامية تحمل قضايا ثقيلة في الميزان الحضاري والتاريخي، وإذا لم يؤدّ الفن - بمفهومه العام - رسالته في توعية الأمة ولفت نظرها نحو مشكلاتها وتشخيص أسبابها، ومن ثَمّ وضع حلول ناجعةٍ لها، والاهتمام بتوجيه الطاقات، بكل دِقّة وأمانة، فسيكون عندئذ - ولا ريب - أحد عوائق تقدّم الأمة وتراجعها، وبالمقابل فعندما ينهض الفن المنضبط بقضايا الأمة الإسلامية، ويبصّرها بمصيرها من خلال عرض جادٍّ لقضاياها المصيرية، يكون
মুসলিম সমাজ; এবং যেহেতু এই ফলপ্রসূ শিক্ষার জন্য প্রয়োজন তরুণ প্রজন্মের বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশে এবং তাদের একনিষ্ঠ দ্বীনের শিক্ষা ও মহৎ চরিত্রের ওপর অটল থাকতে হাত ধরার জন্য ঐকান্তিক পাঠ্যভিত্তিক পদক্ষেপ; যা সেই রুগ্ন কল্পনা থেকে মুক্ত যা বিচ্যুতি তৈরি করতে পারে এবং মহাবিশ্ব, জীবন ও মানুষ সম্পর্কে নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি থেকেও মুক্ত।
২- মুসলিম সমাজ রক্ষা:সমাজের সুরক্ষা মূলত ঈমানি ও জ্ঞানতাত্ত্বিক সচেতনতার ওপর প্রতিষ্ঠিত, যা মুসলিম সমাজকে সেই সকল বিপদ সম্পর্কে সচেতন করার মাধ্যমে অর্জিত হয় যা ব্যক্তি ও সমষ্টিগতভাবে উম্মাহকে হুমকির মুখে ফেলে। এটি সর্বজনস্বীকৃত যে, এই বিপদগুলো এখন বহুমুখী রূপ নিয়েছে—তা অর্থনৈতিক, সামাজিক, রাজনৈতিক, নৈতিক অথবা ধর্মীয় হতে পারে। গুরুত্বের দিক থেকে এগুলোর মধ্যে ভিন্নতা থাকলেও দ্বীনই প্রকৃতপক্ষে এই সবকিছুর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ হিসেবে বিবেচিত এবং এটিই কল্যাণ ও অকল্যাণের লড়াইয়ে চূড়ান্ত মীমাংসাকারী। এখান থেকেই আমরা উম্মাহর প্রতিটি সদস্যকে রক্ষার জন্য ধর্মীয় ও নৈতিক সুরক্ষার গুরুত্ব উপলব্ধি করি। যখন প্রতিশ্রুতিবদ্ধ শিল্পকলা প্রতিরোধের ভূমিকা পালন করে, তখন আমরা উম্মাহর স্থিতিশীলতা ও শ্রেষ্ঠত্বের সোপানে ক্রমান্বয়ে আরোহণ লক্ষ্য করি।
৩- মুসলিম উম্মাহর বিষয়সমূহ উপস্থাপন:মুসলিম উম্মাহ সভ্যতা ও ইতিহাসের মানদণ্ডে অত্যন্ত গুরুভার বিষয়সমূহ বহন করছে। শিল্পকলা—তার সাধারণ অর্থে—যদি উম্মাহকে সচেতন করার ক্ষেত্রে তার সুমহান বার্তা পৌঁছে দিতে এবং জাতির সমস্যাবলির দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ ও তার কারণসমূহ নির্ণয় করে সেগুলোর কার্যকর সমাধান প্রদানে এবং পূর্ণ নির্ভুলতা ও আমানতদারিতার সাথে শক্তিগুলোকে পরিচালিত করতে ব্যর্থ হয়, তবে নিঃসন্দেহে তা উম্মাহর অগ্রগতির পথে অন্যতম বাধা ও পশ্চাৎপদতার কারণ হবে। অন্যদিকে, যখন নিয়মনিষ্ঠ শিল্পকলা মুসলিম উম্মাহর ইস্যুগুলো নিয়ে সোচ্চার হয় এবং জাতির ভাগ্যনির্ধারণী বিষয়সমূহ যথাযথ উপস্থাপনের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ সম্পর্কে সচেতন করে তোলে, তখন তা হয়...
(খণ্ড: ১)
আল-ফাননুল ওয়াক্বিউ ওয়াল মামুল - ক্বাসাসু তাওবাতিল ফাননীন ওয়াল ফাননাত
(পৃষ্ঠা: ২১)
الفن حينئذٍ ذا شأوٍ عظيم حقاً في عملية النهوض بالأمة.
4- غرس القيم النبيلة:تُعدّ القيم المعنوية الإسلامية، والمؤثرة في السلوك الإنساني، أساساً في بناء الشخصية الإسلامية، فبها يدرك المسلم ما له من حقوق وما يترتب عليه من واجبات تجاه نفسه وتجاه الآخرين، وما التزم قوم بهذه القيم الحميدة إلا عاشوا في حياة طيبة، فهي المؤسِّسة لآفاق الترابط والتعاون بين الأفراد والشعوب، وهنا تكمن أهمية دور الفن الأصيل في غرس تلك القيم، كما دوره المتميز في عطاءاته المتنوعة المستمرة بما يجعل المجتمع المسلم مجتمعاً متمثِّلاً للقيم الحضارية، متمتعاً بدور رياديٍّ بين المجتمعات الإنسانية.
5- بناء المشاعر الإنسانية:يخالج النفس الإنسانية الكثيرُ من المشاعر والأحاسيس النابعة من معتقدات ومبادئ مختلفة، يتولد عنها سلوكيات ترسم شخصية هذا الإنسان أو ذاك، حيث إن مساحة المشاعر الإنسانية تحتل حيزاً مهمًا في مجال التأثير الموجِّه لنجْدَي الخير والشر، لذلك كان لا بد من أن تبنى هذه المشاعر على نور من دين إلهي محفوظ عن التحريف وهو: الإسلام، الذي يلقي الضوء دائماً على هذه المشاعر والتوجهات، الحق والباطل، الخير والشر، الرحمة والقسوة، الحب والكره، العدل والظلم، الشجاعة والجبن، لتكون مشاعر المسلم دائماً موجَّهة للصدق، مهذبة، ومنبثقة من معتقدات ومبادئ متينة ثابتة.
وعلى الفن التمثيلي بخاصةٍ، والفن بعامةٍ أن يؤدي رسالته هذه
শিল্পকলা তখন উম্মাহর জাগরণ প্রক্রিয়ায় প্রকৃতপক্ষে এক মহান মর্যাদার অধিকারী হয়।
৪- মহৎ মূল্যবোধের বিকাশ:মানুষের আচরণের ওপর প্রভাব বিস্তারকারী ইসলামি আধ্যাত্মিক মূল্যবোধসমূহ ইসলামি ব্যক্তিত্ব গঠনের ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হয়। এর মাধ্যমেই একজন মুসলিম নিজের এবং অপরের প্রতি তার অধিকার ও কর্তব্যসমূহ অনুধাবন করতে পারে। কোনো জাতি যখনই এই প্রশংসনীয় মূল্যবোধসমূহ ধারণ করেছে, তারা এক পবিত্র ও সুন্দর জীবন অতিবাহিত করেছে। এই মূল্যবোধই ব্যক্তি ও জাতির মধ্যে পারস্পরিক বন্ধন ও সহযোগিতার দিগন্ত তৈরি করে। এখানেই এই মূল্যবোধগুলো বিকাশের ক্ষেত্রে চিরায়ত শিল্পকলার ভূমিকার গুরুত্ব নিহিত। এর পাশাপাশি বিভিন্নমুখী ও নিরন্তর অবদানের মাধ্যমে মুসলিম সমাজকে একটি সভ্যতাসমৃদ্ধ মূল্যবোধের অনুসারী সমাজে পরিণত করতে এবং মানবসমাজে একটি নেতৃস্থানীয় ভূমিকা পালনে শিল্পকলার বিশিষ্ট অবদান রয়েছে।
৫- মানবিক আবেগ-অনুভূতির গঠন:মানুষের মনে বিভিন্ন বিশ্বাস ও মূলনীতি থেকে উৎসারিত বহুবিধ আবেগ ও অনুভূতির উদ্রেক ঘটে, যা এমন সব আচরণের জন্ম দেয় যা মানুষের ব্যক্তিত্বকে ফুটিয়ে তোলে। মানবিক আবেগ-অনুভূতির ক্ষেত্রটি ভালো ও মন্দের পথনির্দেশক প্রভাব বিস্তারের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে। তাই এই অনুভূতিগুলো এমন এক ঐশী ধর্মের আলোতে গড়ে ওঠা অপরিহার্য যা বিকৃতি থেকে সংরক্ষিত; আর তা হলো ইসলাম। ইসলাম সর্বদা এই আবেগ ও প্রবণতাগুলোর ওপর আলোকপাত করে—যেমন: সত্য ও মিথ্যা, কল্যাণ ও অকল্যাণ, দয়া ও নিষ্ঠুরতা, ভালোবাসা ও ঘৃণা, ন্যায় ও অন্যায় এবং সাহসিকতা ও ভীরুতা—যাতে একজন মুসলিমের অনুভূতিসমূহ সর্বদা সত্যের পথে পরিচালিত হয়, পরিমার্জিত হয় এবং সুদৃঢ় ও অটল বিশ্বাস ও মূলনীতি থেকে উৎসারিত হয়।
বিশেষত নাট্যকলা এবং সাধারণভাবে সকল শিল্পকলাকেই তার এই মহান দায়িত্ব পালন করতে হবে।
(খণ্ড: ১)
আল-ফাননুল ওয়াক্বিউ ওয়াল মামুল - ক্বাসাসু তাওবাতিল ফাননীন ওয়াল ফাননাত
(পৃষ্ঠা: ২২)
وأن يُسهم إسهاماً فاعلاً في تهذيب المشاعر الإنسانية، والرقيّ بها مستهدياً بتعاليم ديننا الحنيف.
6 - المعالجة العملية للقضايا الاجتماعية:إن مما يورث الحسرة في النفس، تضافر الأعمال الفنية المعاصرة على مغايرة الحلول الناجعة للقضايا الملِحّة التي تُطرح واقعاً في المجتمعات، فنراها تحضّ على اتخاذ الخليلة عند خوف الشقاق بين الزوجين، بدل الإصلاح أو الطلاق، وتصوِّر الطلاق على أنه إن لم يكن محرماً فقد قارب ذلك، وكذلك توهم الشاب أن الزواج يكاد يكون مستحيل التحقق نظراً لغلاء المهر، والمؤونة الباهظة للإقدام عليه، بدءاً بهدية الخطوبة - الشبكة - وانتهاء بتعليم الأولاد في الجامعات والتزام تجهيز البنات، وذلك بدلاً من الحث على التقليل من المهر، والتيسير في النفقات المترتبة على الزواج، هذا ناهيك عن تصوير الرشوة والمحسوبية للتوظيف على أنها حتمية للحصول على الحقوق المكتسبة، والإيهام بأن الطريق الأوحد لتحصيل الثروات الطائلة لا بد أن يمر عبر المحرمات؛ كالتهريب والغش ونشر الرذيلة، فالجميع في هذه الأعمال الفنية يريد أن يعيش مترفاً، فلا يوجد ألبتة من يقنع بما قسمه الله له من رزق، فالفقر- غالباً- معيب عند كُتّاب هذه الأعمال، والشباب عندهم في تيه فاق (تيه بني إسرائيل) ! فلا شغل لديهم إلا النادي والسهرات والحفلات والرقص، والهزء المستمر بالجيل القديم المتشدد الذي لم يدرك بعدُ بأن الدنيا قد تطورت، وبأن الجيل الجديد هو الذي يفقه الحياة، ويعرف كيف يتمتع بها، فالحياة قد تطورت عندهم، لكن تطوّرها صائر دومًا إلى الفساد!! وهكذا يمر جيل بعد جيل
এবং আমাদের একনিষ্ঠ (حنيف) দ্বীনের শিক্ষা দ্বারা পরিচালিত হয়ে মানুষের আবেগ-অনুভূতির পরিশোধন ও তার উন্নতি সাধনে কার্যকর অবদান রাখা।
৬ - সামাজিক সমস্যাবলির ব্যবহারিক সমাধান:নিশ্চয় যা মনে অনুশোচনা জাগায় তা হলো, সমকালীন শিল্পকর্মগুলো সমাজে বিদ্যমান জরুরি সমস্যাগুলোর কার্যকর সমাধানের পরিবর্তে সেগুলোর বিপরীতে অবস্থান নেওয়ার ক্ষেত্রে এক জোট হয়েছে। ফলে আমরা দেখতে পাই যে, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদের আশঙ্কা দেখা দিলে মীমাংসা বা তালাকের পরিবর্তে এগুলো উপপত্নী গ্রহণের প্রতি প্রলুব্ধ করে, আর তালাককে এমনভাবে চিত্রায়িত করে যে, যদি তা নিষিদ্ধ (حرام) না-ও হয়, তবে তার কাছাকাছি। একইভাবে এটি যুবকদের মনে এমন বিভ্রান্তি তৈরি করে যে, মোহরানার উচ্চমূল্য এবং বিয়ের ক্ষেত্রে আনুষঙ্গিক ব্যয়বহুল খরচের কারণে বিবাহ করা প্রায় অসম্ভব; যার শুরু হয় বাগদানের উপহার—শাবকা—থেকে এবং সমাপ্তি ঘটে সন্তানদের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা ও কন্যাদের বিয়ের সরঞ্জাম প্রস্তুত করার বাধ্যবাধকতায়। অথচ উচিত ছিল মোহরানা হ্রাস এবং বিয়ের ব্যয়ভার সহজ করার বিষয়ে উৎসাহিত করা। এছাড়া কর্মসংস্থানের জন্য ঘুষ ও স্বজনপ্রীতিকে অর্জিত অধিকার পাওয়ার অনিবার্য উপায় হিসেবে চিত্রায়িত করার বিষয়টি তো রয়েছেই; পাশাপাশি এমন বিভ্রান্তি ছড়ানো যে, বিপুল সম্পদ অর্জনের একমাত্র পথ অবশ্যই নিষিদ্ধ (محرمات) বিষয়াবলি; যেমন চোরাচালান, জালিয়াতি ও অশ্লীলতা প্রসারের মধ্য দিয়ে হতে হবে। এই শিল্পকর্মগুলোতে প্রত্যেকেই বিলাসিতায় গা ভাসাতে চায়; আল্লাহ তাদের জন্য যে রিজিক বরাদ্দ করেছেন তাতে তুষ্ট থাকার মতো কাউকে আদপেই পাওয়া যায় না। এই কাজগুলোর রচয়িতাদের কাছে দারিদ্র্য—সাধারণত—লজ্জাজনক একটি বিষয়, আর তাদের দৃষ্টিতে যুবসমাজ এমন এক বিভ্রান্তিতে নিমজ্জিত যা বনী ইসরাঈলের উদ্ভ্রান্ত অবস্থাকেও (تيه) ছাড়িয়ে গেছে! তাদের কাছে ক্লাব, নৈশ আড্ডা, উৎসব ও নাচ ছাড়া আর কোনো কাজ নেই; আর তারা সেই রক্ষণশীল প্রাচীন প্রজন্মের প্রতি নিরন্তর বিদ্রূপ করে চলে, যারা এটি বুঝতে পারেনি যে পৃথিবী বদলে গেছে এবং নতুন প্রজন্মই জীবনকে বোঝে ও জানে কীভাবে তা উপভোগ করতে হয়। তাদের কাছে জীবনের উন্নতি হয়েছে ঠিকই, কিন্তু সেই উন্নতি সর্বদা ধ্বংসের পথেই ধাবিত হচ্ছে!! এভাবেই প্রজন্মের পর প্রজন্ম অতিক্রান্ত হচ্ছে।
(খণ্ড: ১)
আল-ফাননুল ওয়াক্বিউ ওয়াল মামুল - ক্বাসাসু তাওবাতিল ফাননীন ওয়াল ফাননাত
(পৃষ্ঠা: ২৩)
ليعيب كلٌ سابقَه، وبذا يبقى الإفساد مستمراً نظراً للمتغيرات الاجتماعية والحضارية بزعمهم، ولا يخفى على الأريب من أمثالك - أخي القارئ - ما لهذا التوجّه من أثر بالغ في ترسيخ مفهوم نظرية النشوء والارتقاء وأن البقاء للأصلح، فالدنيا في تطور مستمر، فليس يهمّ إن كان التغيير نحو الأسوأ، ولكن المهم هو ديمومة التغيير!!
هذا، وسوف أبيّن في طيات بحثي سمات الفن المعاصر وما يقدمه للمجتمع، من ناحية الموضوع، وطريقة العرض، والأسلوب، وقبل الخوض في ذلك كله، كان لا بد من التساؤل عن خلفيات هذا الفن، وأثره في فكر الناس وحياتهم، وعن القائمين عليه، من هم؟ وماذا يريدون؟ ومن الذي أسبغ عليهم لقب "فنانين"؟
وإلى أولئك الذين يوجّهون الفنّ المعاصر ويختطّون له وِجهته نطرح التساؤل التالي ونترسّم الإجابة عنه، متوسّمين بفِطنة القارئ الكريم: ما هي رسالة الفن المعاصر؟ أهي النهوض بالأمة، أم العمل على تدمير مُقوِّماتها الدينية وتقويض دعائم فضائلها؟!!
ولعلك أخي الكريم، بقراءتك لفصول هذا الكتاب تخرج بإجابة جليّةٍ وواقعية، وذلك من خلال رصد نزيه متجرد، لواقع الفن التمثيلي المعاصر ولحال القائمين عليه.
****
প্রত্যেকেই যেন তার পূর্বসূরির ত্রুটি অন্বেষণ করে, আর এভাবেই তাদের দাবি অনুযায়ী সামাজিক ও সভ্যতাগত পরিবর্তনের দোহাই দিয়ে বিপর্যয় অব্যাহত থাকে। হে পাঠক ভাই, আপনার মতো প্রাজ্ঞ ব্যক্তির কাছে এটি অস্পষ্ট নয় যে, বিবর্তনবাদ এবং ‘যোগ্যতমের টিকে থাকা’র ধারণাটি সুপ্রতিষ্ঠিত করার ক্ষেত্রে এই প্রবণতার এক সুগভীর প্রভাব রয়েছে। কেননা পৃথিবী নিরন্তর বিবর্তনের মধ্য দিয়ে চলছে; তাই পরিবর্তনটি মন্দের দিকে যাচ্ছে কি না তা তাদের কাছে বিচার্য নয়, বরং পরিবর্তনের এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখাই হলো আসল উদ্দেশ্য!!
আমি আমার গবেষণার পরতে পরতে সমকালীন শিল্পের বৈশিষ্ট্যসমূহ এবং এটি সমাজকে কী উপহার দিচ্ছে—তা বিষয়বস্তু, উপস্থাপনা ভঙ্গি ও শৈলীর আলোকে বর্ণনা করব। তবে এই সবকিছুতে অবগাহন করার আগে, এই শিল্পের পটভূমি, জনমানুষের চিন্তা ও জীবনে এর প্রভাব এবং যারা এর নেপথ্যে রয়েছে তাদের সম্পর্কে প্রশ্ন তোলা অপরিহার্য। তারা কারা? তারা কী চায়? আর কে-ই বা তাদের ওপর ‘শিল্পী’ উপাধিটি লেপন করেছে?
যারা সমকালীন শিল্পের গতিপথ নির্ধারণ করছে এবং এর লক্ষ্যস্থির করছে, তাদের প্রতি আমরা নিম্নোক্ত প্রশ্নটি রাখছি এবং সম্মানিত পাঠকের প্রজ্ঞার ওপর নির্ভর করে এর উত্তরটি খুঁজে পাওয়ার প্রয়াস চালাচ্ছি: সমকালীন শিল্পের মূল বার্তাটি কী? এটি কি জাতির পুনর্জাগরণ ঘটানো, নাকি জাতির ধর্মীয় ভিত্তিগুলো বিনাশ করা এবং চারিত্রিক শ্রেষ্ঠত্বের স্তম্ভগুলোকে উপড়ে ফেলার কোনো অপতৎপরতা?!!
হে প্রিয় ভাই, সম্ভবত এই গ্রন্থের অধ্যায়গুলো পাঠ করে আপনি একটি সুস্পষ্ট ও বাস্তবসম্মত উত্তর খুঁজে পাবেন। আর তা অর্জিত হবে সমকালীন অভিনয় শিল্পের বাস্তবতা এবং এর কুশীলবদের অবস্থার একটি নিরপেক্ষ ও নির্লিপ্ত পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে।
****
(খণ্ড: ১)
আল-ফাননুল ওয়াক্বিউ ওয়াল মামুল - ক্বাসাসু তাওবাতিল ফাননীন ওয়াল ফাননাত
(পৃষ্ঠা: ২৭)
الفصل الثانيالفن التمثيلي وأثره في الناشئة لقد أثبتت البرامج المعدّة للناشئة أن لها تأثيرات واضحة ومباشرة على سلوكياتهم، حيث إنهم سرعان ما تبهرهم المتغيرات من الصور، وبريق ألوانها، فتراهم قابعين، وكأن على رؤوسهم الطير، ساعاتٍ مديدة، أمام شاشات التلفزة أو الفيديو، يترقبون الأحداث، فتسلبهم كامل اهتمامهم وتفكيرهم، حتى بعد فترة المشاهدة، ومن ثمّ يتأثر سلوكهم بها - بطريق المحاكاة - سلباً أو إيجاباً.
ويعتقد بعضهم أن هذه البرامج قد تُزوّد الناشئة ببعض المعلومات القيّمة، وترقى بمستوى تفكيرهم، والواقع أن اعتقادهم هذا مستلهم من تأثرهم بالأفكار السائدة في الغرب، الذي لا تحكمه ضوابط اعتقادية ولا خلُقية، فما أكثر الدراسات التي تحاول أن تثبت - بشكلٍ أو بآخر- إيجابيات ما يقدّم من برامج للناشئة، " ففي ملخص تقرير الحكومة الأمريكية عام 1982م الذي يتعلق بالتأثيرات المترتبة على مشاهدة البرامج، والذي كان بمثابة محصّلة لجهود ما يقارب خمسة وعشرين عالماً وباحثاً، وقد تضمن التقرير ثلاثة آلاف بحث ودراسة داخل الولايات المتحدة، وبعضها الآخر في أوروبا، استنتج هذا التقرير أن مشاهدة برامج التلفاز تساعد في تنمية القدرة الذهنية على التخيل والابتكار كما أنه قدم لنا دليلاً أكيداً على مقدرة هذه البرامج على غرس القيم الاجتماعية المفيدة في نفوس الناشئة،
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদঅভিনয় শিল্প এবং কিশোর-কিশোরীদের ওপর এর প্রভাব কিশোর-কিশোরীদের জন্য প্রস্তুতকৃত অনুষ্ঠানসমূহ প্রমাণ করেছে যে, তাদের আচরণের ওপর এগুলোর স্পষ্ট ও প্রত্যক্ষ প্রভাব রয়েছে। যেহেতু ছবির পরিবর্তনশীলতা এবং রঙের চাকচিক্য তাদের দ্রুত বিমোহিত করে, ফলে দেখা যায় যে তারা দীর্ঘ সময় ধরে টেলিভিশন বা ভিডিওর পর্দার সামনে নিথরভাবে স্থির হয়ে বসে থাকে—যেন তাদের মাথার ওপর পাখি বসে আছে। তারা ঘটনার অপেক্ষায় থাকে, যা তাদের পূর্ণ মনোযোগ ও চিন্তাশক্তি কেড়ে নেয়, এমনকি দেখার পরবর্তী সময়েও। অতঃপর অনুকরণের মাধ্যমে তাদের আচরণ নেতিবাচক বা ইতিবাচকভাবে প্রভাবিত হয়।
কেউ কেউ মনে করেন যে, এসব অনুষ্ঠান কিশোর-কিশোরীদের কিছু মূল্যবান তথ্য প্রদান করতে পারে এবং তাদের চিন্তার মান উন্নত করতে পারে। বাস্তবতা হলো, তাদের এই বিশ্বাস পাশ্চাত্যে প্রচলিত চিন্তাধারা দ্বারা প্রভাবিত হওয়ার ফসল, যেখানে কোনো আকিদাহগত বা নৈতিক নীতিমালা নেই। এমন গবেষণার সংখ্যা অনেক যা কোনো না কোনোভাবে কিশোর-কিশোরীদের জন্য পরিবেশিত অনুষ্ঠানের ইতিবাচক দিকগুলো প্রমাণ করার চেষ্টা করে। "১৯৮২ সালে মার্কিন সরকারের একটি প্রতিবেদনের সারসংক্ষেপে বলা হয়েছে, যা অনুষ্ঠান দেখার ফলে সৃষ্ট প্রভাব সম্পর্কিত ছিল এবং যা ছিল প্রায় পঁচিশজন বিজ্ঞানী ও গবেষকের সমবেত প্রচেষ্টার ফসল। এই প্রতিবেদনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে এবং ইউরোপের আরও কিছু স্থানে পরিচালিত তিন হাজার গবেষণা ও সমীক্ষা অন্তর্ভুক্ত ছিল। এই প্রতিবেদনটি এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে যে, টেলিভিশনের অনুষ্ঠান দেখা কল্পনাশক্তি এবং উদ্ভাবনী মানসিক ক্ষমতা বিকাশে সহায়তা করে। পাশাপাশি এটি আমাদের কাছে একটি নিশ্চিত প্রমাণ (دليل) উপস্থাপন করেছে যে, কিশোর-কিশোরীদের অন্তরে উপকারী সামাজিক মূল্যবোধ রোপণে এসব অনুষ্ঠান সক্ষম।"
(খণ্ড: ১)
আল-ফাননুল ওয়াক্বিউ ওয়াল মামুল - ক্বাসাসু তাওবাতিল ফাননীন ওয়াল ফাননাত
(পৃষ্ঠা: ২৮)
وعلى تعويدهم السلوك الاجتماعي المرغوب" (1) وهذا لا يعني - بالضرورة - أن البرامج التلفازية ليس لها آثار سلبية على الناشئة على اختلاف معتقداتهم وبيئاتهم، وإن كان بعضهم قد يُرجع هذه السلبيات إلى الناشىء نفسه
… لحالته النفسية والفوارق الفردية بين الناشئة (2) .
هذا ما تراه الدراسات المذكورة آنفًا التي لا تنطبق أساساً على بيئتنا الإسلامية، فالطفل في البيئة الغربية قد يشترك مع الطفل المسلم، في كونه طفلاً وبمشاعر الطفولة واحتياجاتها، إلا أنه يفترق عنه في بيئته الاجتماعية، ومبادئه الدينية والخلقية، وسُلَّم ترتيب القيم لديه، إلا أن البرامج كلها تؤثر - سلباً أو إيجاباً - في الناشئة على اختلاف مستوياتهم الذهنية والفوارق الفردية والاجتماعية فيما بينهم، وذلك بحسب البرنامج المعروض، وتوجهاته، وخلفيات وضعه وأهداف عرضه.
فالبرامج العربية - مثلاً- التي تُقدَّم للناشئة قد تحمل في طياتها توجهات فكرية واعتقادية - في بعض الأحيان - قد تستخفّ بعقلية الناشئ وما أودعه الله فيه من قدرات، حيث أصبح الترفيه هو الغاية، والرعب والخيال، والعنف والعدوان، والحب والجنس، هو محور تلك البرامج التي لا يتفق الكثير منها مع مبادئ التربية الإسلامية، بل إن بعضها الآخر لا يتفق والتصوّرات الإسلامية عن الإنسان والكون والحياة، ومنها أيضاً ما لا يرسّخ الولاء لله تعالى ولرسوله، ذلك-
--------------------------------------------
"এবং তাদের কাঙ্ক্ষিত সামাজিক আচরণে অভ্যস্ত করার ওপর" (১) এবং এর অর্থ—অনিবার্যভাবে—এটি নয় যে, টেলিভিশন অনুষ্ঠানগুলোর কিশোর ও তরুণদের ওপর কোনো নেতিবাচক প্রভাব নেই, তাদের বিশ্বাস ও পরিবেশের ভিন্নতা থাকা সত্ত্বেও। যদিও কেউ কেউ এই নেতিবাচক প্রভাবগুলোকে খোদ কিশোরের ওপরই বর্তান
… তার মানসিক অবস্থা এবং কিশোরদের মধ্যকার ব্যক্তিগত পার্থক্যের কারণে (২)।
এটিই উপরে উল্লিখিত গবেষণাসমূহ মনে করে যা মূলত আমাদের ইসলামি পরিবেশের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। পশ্চিমা পরিবেশের একজন শিশু মুসলিম শিশুর সাথে শিশু হিসেবে এবং শৈশবের আবেগ ও চাহিদার ক্ষেত্রে অভিন্ন হতে পারে, কিন্তু সে তার সামাজিক পরিবেশ, ধর্মীয় ও নৈতিক নীতিমালা এবং তার মূল্যবোধের অগ্রাধিকারের ক্রমানুসারে তার থেকে ভিন্ন। তবে সকল অনুষ্ঠানই—ইতিবাচক বা নেতিবাচকভাবে—কিশোর ও তরুণদের ওপর প্রভাব ফেলে, তাদের মেধা স্তর এবং তাদের মধ্যকার ব্যক্তিগত ও সামাজিক পার্থক্য অনুযায়ী; আর তা প্রদর্শিত অনুষ্ঠান, এর দৃষ্টিভঙ্গি, পটভূমি এবং প্রচারের লক্ষ্যের ওপর ভিত্তি করে হয়ে থাকে।
উদাহরণস্বরূপ, আরবীয় অনুষ্ঠানসমূহ—যা কিশোরদের জন্য পরিবেশন করা হয়—তাতে অনেক সময় এমন বুদ্ধিবৃত্তিক ও বিশ্বাসগত প্রবণতা থাকতে পারে যা কিশোরের মেধা এবং আল্লাহ তার মাঝে যে সক্ষমতা গচ্ছিত রেখেছেন তাকে তুচ্ছজ্ঞান করে। যেখানে বিনোদনই মূল লক্ষ্যে পরিণত হয়েছে এবং আতঙ্ক ও কল্পনা, সহিংসতা ও আগ্রাসন এবং প্রেম ও যৌনতা হলো সেই সব অনুষ্ঠানের কেন্দ্রবিন্দু, যার অনেকগুলোই ইসলামি শিক্ষার মূলনীতির সাথে সংগতিপূর্ণ নয়। এমনকি এগুলোর অন্য কিছু অংশ মানুষ, মহাবিশ্ব এবং জীবন সম্পর্কে ইসলামি ধারণার সাথেও সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এগুলোর মধ্যে এমন কিছুও রয়েছে যা আল্লাহ তাআলা ও তাঁর রাসূলের প্রতি আনুগত্যকে সুদৃঢ় করে না, আর তা—
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ফাননুল ওয়াক্বিউ ওয়াল মামুল - ক্বাসাসু তাওবাতিল ফাননীন ওয়াল ফাননাত
(পৃষ্ঠা: ২৯)
إن لم نقل- إنه قد يعارض ذلك.
ولعل لهذا أسباباً قد تكون مقنعة في ظاهرها، من ذلك:
(1) أن القائمين على برامج الناشئة لم يدخلوا هذا المضمار ولم يركبوا هذا المركب الصعب إلا لتحقيق المكاسب الماديّة فقط، بغضّ النظر عن سلامة الأهداف والنتائج.
(2) أنهم لم يتفهّموا شخصية الناشئ، بما أودع الله فيه من إمكانات نفسية، وعقلية وسلوكية، فتراهم يقدمون في بعض الأحيان ما يسيء إليه، دون دراية منهم بذلك ولا خبرة.
ويحسن الاستشهاد هنا بمقولة فريد التوني: «إذ نلحظ خلوها تقريباً من الأهداف التربوية الإسلامية فهي لا ترمي إلا إلى التسلية والفكاهة، كألف ليلة وليلة، وحكايات السِّحر، وما شاكلها» (1) .
فالشاطر حسن والإبريق المكسور وغيرهما كثير، كلها من الإنتاج العربي، ومع ذلك فإنها لم تعمق المفاهيم الإسلامية، وإنما تم الاكتفاء بعرضها على أنها تراث فيه ما فيه من الحب والعشق والغرام مع تضمنها أحياناً لبعض الأخلاقيات العامة. بل إننا نرى أن بعض البرامج العربية قد تجنح إلى ترسيخ المبادئ العصبية المنهي عنها، أو الهدامة المناقضة للإسلام وتعاليمه السمحة. ونحب أن ننوّه في هذا المقام بالسياسة الإعلامية المقررة في المملكة العربية السعودية التي أكّدت تأكيداً جازماً على منع كل ما يناقض الشريعة الإسلامية الغراء أو يشوه الفطرة النقية للناشئة (2) .
--------------------------------------------
যদি আমরা এ কথা না বলি যে- তা এর পরিপন্থী হতে পারে।
সম্ভবত এর এমন কিছু কারণ রয়েছে যা বাহ্যিকভাবে যুক্তিসঙ্গত মনে হতে পারে, যেমন:
(১) শিশু ও কিশোরদের প্রোগ্রামসমূহের পরিচালনাকারীরা লক্ষ্য ও ফলাফলের বিশুদ্ধতার বিষয়টি বিবেচনা করা ছাড়াই কেবল বস্তুগত লাভ হাসিল করার জন্যই এই কষ্টসাধ্য অঙ্গনে প্রবেশ করেছেন এবং এই কঠিন পথ অবলম্বন করেছেন।
(২) তারা তরুণ প্রজন্মের ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে অনুধাবন করতে পারেননি, যা আল্লাহ তাআলা তাদের মধ্যে মনস্তাত্ত্বিক, বুদ্ধিবৃত্তিক এবং আচরণগত সম্ভাবনার আমানত হিসেবে গচ্ছিত রেখেছেন। ফলে দেখা যায় যে, তারা অনেক সময় না বুঝে এবং অভিজ্ঞতা ছাড়াই এমন কিছু উপস্থাপন করেন যা তাদের জন্য ক্ষতিকর।
এখানে ফারিদ আত-তুনি’র একটি উক্তি উদ্ধৃত করা যথার্থ হবে: «যেহেতু আমরা লক্ষ্য করি যে এগুলো প্রায় ইসলামি চারিত্রিক ও শিক্ষামূলক লক্ষ্য-উদ্দেশ্য থেকে শূন্য, তাই এগুলো কেবল বিনোদন ও কৌতুক ছাড়া আর কিছুই নয়, যেমন: আরব্য রজনী (আলিফ লায়লা ওয়া লায়লা), জাদুর গল্প এবং এই জাতীয় অন্যান্য বিষয়» (১)।
আশ-শাতির হাসান (চতুর হাসান) এবং আল-ইব্রিক আল-মাকসুর (ভাঙ্গা জগ) ও এরকম আরও অনেকগুলোই আরবি সৃষ্টি। এতদসত্ত্বেও এগুলো ইসলামি ধারণাসমূহকে গভীর করেনি, বরং এগুলোকে কেবল এমন এক ঐতিহ্য হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে যাতে কেবল প্রেম-প্রীতি ও আসক্তির ছড়াছড়ি রয়েছে, যদিও মাঝে মাঝে কিছু সাধারণ নৈতিকতার বিষয় সেখানে অন্তর্ভুক্ত থাকে। বরং আমরা দেখি যে, কিছু আরবি প্রোগ্রাম নিষিদ্ধ গোত্রীয় সংকীর্ণতা বা ইসলাম ও এর মহান শিক্ষার পরিপন্থী ধ্বংসাত্মক আদর্শ প্রতিষ্ঠায় ঝুঁকে পড়ে। আমরা এখানে সৌদি আরবে প্রবর্তিত গণমাধ্যম নীতির প্রশংসা করতে চাই যা মহিমান্বিত ইসলামি শরিয়তের পরিপন্থী কিংবা তরুণ প্রজন্মের নির্মল স্বভাবজাত প্রকৃতিকে বিকৃত করে—এমন সব বিষয়কে নিষিদ্ধ করার ব্যাপারে দৃঢ়ভাবে গুরুত্বারোপ করেছে (২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ফাননুল ওয়াক্বিউ ওয়াল মামুল - ক্বাসাসু তাওবাতিল ফাননীন ওয়াল ফাননাত
(পৃষ্ঠা: ৩০)
وبين يديك أخي القارئ نص المادة الثالثة من أسس الإعلام السعودي: تدأب وسائل الإعلام على خدمة المجتمع، وذلك عن طريق تأصيل قيمه الإسلامية الثمينة، وترسيخ تقاليده العربية الكريمة، والحفاظ على عاداته الخيّرة الموروثة، ومقاومة كل ما من شأنه أن يُفسد نقاءه وصفاءه، وتعنى في دفع عجلة التنمية والتعاون مع المؤسسات المختصة في هذا المجال.
أما المادة الرابعة منه فتنص على الآتي: يؤكد الإعلام السعودي على أن الطفل فطرة نقية صافية وتربة خصبة، وأن صورة مجتمع الغد إنما تُلمَح من خلال طفل اليوم، لذا فعليه أن يولي برامج الأطفال التوجيهية والتثقيفية والترفيهية ما تستحقه من جهد واهتمام، ويقيم هذه البرامج على أسس تربوية علمية مدروسة، ويعهد بها إلى ذوي الاختصاص الدقيق في هذا المجال" (1) .
كل ذلك للحفاظ على فطرة الناشئ السليمة، وليكون رجل المستقبل الذي تبنى عليه الآمال، فهي رسالة ذات هدف عظيم، ومن هنا تبرز ضرورة فهم شخصية الناشئ وتغذيتها روحياً وعلمياً، وكذلك فهم لغته الخاصة، لمخاطبته بها، وتوسيع مداركه في التعامل معه، فنقدم له ما يرقى به نفسياً وعقلياً وسلوكياً.
"إنه لا بد أن تكون الرسالة من أجل تنمية روح الطفل وعقله وتوسيع معارفه ومداركه عبر إعطاء المعلومات الصحيحة والمناسبة" (2) .
ولذلك ينبغي أن تُرسم خطط وبرامجُ تتسم بالسمات الدينية
--------------------------------------------
হে পাঠক ভাই, আপনার সম্মুখে সৌদি গণমাধ্যম নীতিমালার তৃতীয় অনুচ্ছেদের পাঠ্য উপস্থাপন করা হলো: গণমাধ্যমসমূহ সমাজের সেবায় নিয়োজিত থাকবে, আর তা হবে সমাজের মূল্যবান ইসলামি মূল্যবোধকে সুদৃঢ় করার মাধ্যমে, মহৎ আরব ঐতিহ্যসমূহকে প্রোথিত করার মাধ্যমে, উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত কল্যাণকর রীতিনীতি সংরক্ষণ করার মাধ্যমে এবং এর স্বচ্ছতা ও নির্মলতাকে নষ্ট করে এমন সবকিছুর বিরুদ্ধে প্রতিরোধের মাধ্যমে। এছাড়া উন্নয়নের গতি ত্বরান্বিত করতে এবং এই সংশ্লিষ্ট বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে সহযোগিতা করতে গণমাধ্যম সচেষ্ট থাকবে।
আর চতুর্থ অনুচ্ছেদে যা বর্ণিত হয়েছে তা হলো: সৌদি গণমাধ্যম এই বিষয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করে যে, শিশু হলো একটি স্বচ্ছ-নির্মল স্বভাবজাত প্রকৃতি ও উর্বর ভূমি। আগামী দিনের সমাজের চিত্র আজকের শিশুর মাধ্যমেই ফুটে ওঠে। তাই গণমাধ্যমের উচিত শিশুদের দিকনির্দেশনামূলক, শিক্ষামূলক ও বিনোদনমূলক অনুষ্ঠানমালার প্রতি যথাযথ প্রচেষ্টা ও গুরুত্ব প্রদান করা। এই অনুষ্ঠানগুলো সুচিন্তিত শিক্ষামূলক ও বৈজ্ঞানিক ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত হতে হবে এবং এই বিষয়ের বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিদের ওপর এর দায়িত্ব অর্পণ করতে হবে (১)।
এই সবকিছুর উদ্দেশ্য হলো কিশোরদের সুস্থ স্বভাবজাত প্রকৃতি রক্ষা করা, যাতে তারা আগামীর এমন মানুষ হতে পারে যাদের ওপর আশা-আকাঙ্ক্ষা নির্মিত হয়। এটি একটি মহান উদ্দেশ্য সম্বলিত বার্তা। এখান থেকেই কিশোরদের ব্যক্তিত্ব অনুধাবন করা এবং তাদের আধ্যাত্মিক ও জ্ঞানগত খোরাক প্রদানের প্রয়োজনীয়তা প্রতীয়মান হয়। পাশাপাশি তাদের সাথে যোগাযোগের জন্য তাদের নিজস্ব ভাষা বোঝা এবং তাদের সাথে আচরণের ক্ষেত্রে তাদের বিচারবুদ্ধিকে প্রসারিত করার গুরুত্বও স্পষ্ট হয়, যেন আমরা তাদের সামনে এমন কিছু উপস্থাপন করতে পারি যা তাদের মনস্তাত্ত্বিক, মানসিক ও আচরণগতভাবে উন্নত করে।
"শিশুর আত্মা ও বুদ্ধিবৃত্তির বিকাশ এবং সঠিক (صحيح) ও উপযুক্ত তথ্য প্রদানের মাধ্যমে তার জ্ঞান ও বোধশক্তি প্রসারের উদ্দেশ্যে এই বার্তাটি হওয়া অপরিহার্য" (২)।
তাই ধর্মীয় বৈশিষ্ট্যের সমন্বয়ে পরিকল্পনা ও কর্মসূচি প্রণয়ন করা উচিত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ফাননুল ওয়াক্বিউ ওয়াল মামুল - ক্বাসাসু তাওবাতিল ফাননীন ওয়াল ফাননাত
(পৃষ্ঠা: ৩১)
والمعرفية والتربوية، وأن يكون ذلك مترافقاً مع بعض الترفيه المنضبط الذي لا يخالف ديننا ولا تقاليدنا، ليمكن بذلك تنمية مواهب الناشئة وتوجيههم نحو أهداف سامية.
كما "ينبغي الاهتمام بوجود إستراتيجية برامجية واضحة الأهداف والمعالم تنطلق من فكر إسلامي صحيح، وتهدف إلى تعميق الولاء لله سبحانه وتعالى في نفس الطفل" (1) .
ومن الواجب ألاّ نقدم للطفل ما يرغبه هو، لأنه قد يختار ما يضرّه ولا ينفعه، ومن هنا تبدأ مرحلة الضياع، وتظهر الحالات المرضية في الناشئة، بدءاً بالاتكالية وعدم المبالاة، وانتهاءً بغياب الإبداع والابتكار، بل ينبغي أن يقدّم للناشئ ما يجب أن يتعلمه ويفكر فيه ويتعود عليه سلوكاً. فتقدّم له المعلومات الدينية والثقافية والفكرة الوجدانية واللمحة الترفيهية الهادفة، فتنمو لديه بذلك مَلَكة التمييز بين الغثّ والسمين والصحيح والسقيم، ليكون ذلك نَوىً تبنى عليها الآمال في استكمال إنجازات الأمة الإسلامية وحضارتها.
علاقة الفن التمثيلي بالناشئة:وفيما يلي سنلقي الضوء على ثلاثة محاور أساسية يمكن من خلالها إيضاح علاقة الفن التمثيلي بالناشئة؛ يتمثل المحور الأول منها في مسرح الناشئة، أما المحور الثاني فيتمثل في ما يقدم لهم من برامج تلفازية وفي مُقدَّمها الأفلام الكرتونية التي تشغل حيزًا مهمًا من وقت الطفل، ومحاولين في المحور الثالث تلمّس أثر الفن على الناشئة، ذلك الأثر المدمر اللاحق بالناشئة من جرّاء تعلقهم به، وبخاصة عند غياب الرقابة الأسرية.
--------------------------------------------
জ্ঞানতাত্ত্বিক ও শিক্ষামূলক কার্যক্রমের সাথে এমন কিছু সুশৃঙ্খল বিনোদনের সমন্বয় থাকতে হবে যা আমাদের ধর্ম ও ঐতিহ্যের পরিপন্থী নয়, যাতে এর মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মের মেধা বিকাশ এবং তাদের উচ্চতর লক্ষ্যের দিকে ধাবিত করা সম্ভব হয়।
অনুরূপভাবে "একটি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য ও বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত অনুষ্ঠানমালা তৈরির কৌশলের প্রতি গুরুত্বারোপ করা উচিত, যা সঠিক (صحيح) ইসলামি চিন্তাধারা থেকে উৎসারিত হবে এবং যার উদ্দেশ্য হবে শিশুর অন্তরে মহান আল্লাহর প্রতি আনুগত্যকে সুগভীর করা" (১) ।
আর এটি আবশ্যক যে, শিশুকে তার পছন্দ অনুযায়ী সবকিছু দেওয়া যাবে না; কারণ সে এমন কিছু বেছে নিতে পারে যা তার জন্য অপকারী এবং যাতে কোনো কল্যাণ নেই। এখান থেকেই পথভ্রষ্টতার সূচনা হয় এবং তরুণদের মধ্যে অসুস্থ মানসিকতা প্রকাশ পায়, যার শুরু হয় পরনির্ভরশীলতা ও উদাসীনতা দিয়ে এবং শেষ হয় সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনী শক্তির বিলুপ্তির মাধ্যমে। বরং তরুণদের এমন কিছু প্রদান করা উচিত যা তাদের শেখা, ভাবা এবং আচরণগতভাবে অভ্যস্ত হওয়া প্রয়োজন। ফলে তাদের সামনে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক তথ্য, আবেগীয় চিন্তা এবং উদ্দেশ্যমূলক বিনোদনমূলক বিষয়াদি উপস্থাপন করা হবে। এর ফলে তাদের মাঝে অসার ও সারগর্ভ এবং সঠিক (صحيح) ও রুগ্ন (سقيم) বিষয়ের মধ্যে পার্থক্য করার যোগ্যতা তৈরি হবে, যা মুসলিম উম্মাহর অর্জনসমূহ ও সভ্যতাকে পূর্ণতা দানের ক্ষেত্রে আশার সঞ্চারকারী মূল ভিত্তি হিসেবে গণ্য হবে।
তরুণ প্রজন্মের সাথে অভিনয় শিল্পের সম্পর্ক:নিম্নে আমরা তিনটি মূল বিষয়ের ওপর আলোকপাত করব যার মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মের সাথে অভিনয় শিল্পের সম্পর্ক স্পষ্ট করা সম্ভব হবে; এর প্রথম বিষয়টি হলো তরুণদের থিয়েটার, দ্বিতীয়টি হলো তাদের জন্য পরিবেশিত টেলিভিশন অনুষ্ঠানমালা যার শীর্ষে রয়েছে কার্টুন যা শিশুর সময়ের একটি বড় অংশ দখল করে রাখে। আর তৃতীয় বিষয়ে আমরা তরুণ প্রজন্মের ওপর শিল্পের প্রভাব নিয়ে আলোচনা করার চেষ্টা করব, যা তাদের এই শিল্পের প্রতি আসক্তির ফলে সৃষ্ট এক ধ্বংসাত্মক প্রভাব, বিশেষ করে যখন পারিবারিক তদারকির অভাব থাকে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ফাননুল ওয়াক্বিউ ওয়াল মামুল - ক্বাসাসু তাওবাতিল ফাননীন ওয়াল ফাননাত
(পৃষ্ঠা: ৩২)
المحور الأول: مسرح الناشئة:لقد تبارى الفنانون وكُتّابهم في المسرح المعدّ للناشئة في تقديم كل ما يسرّ الطفل ويضحكه، دون النظر إلى القيم والأهداف، ودون مراعاة لشخصية الطفل وإمكاناته، والعمل على تنميتها، فإذا ضحك الطفل بفعل بعض الحركات المؤداة على منصة المسرح، فمعنى ذلك - من وجهة نظرهم- أن العمل المسرحي قد حقق الهدف المتوخى منه، وهذا غاية ما يتمناه كثير من القائمين على مسرح الطفل.
فنحن نرى في هذا المسرح شخصيات وهمية، كحيوانات - مثلاً- نراها وهي تتكلم وتشد انتباه الطفل، فيتلقى الطفل معلوماته المسلّمة من حيوانات، وكأن الحيوانات صارت منظِّرة في المبادئ والقيم والأخلاق والسلوك الحميد للإنسان، فما أعجب ما ذهبوا إليه!! وما أشد الشحّ الفكري لدى هذا الإنسان، وما أعظم فيوضات تلك الحيوانات بالمُثُل والعقل، فهل أضحت هي دائرة معارف الناشئة، ومصدر غرس القيم لديه؟! هذا - فيما لو أحسنّا الظن بتضمّن الحوار بينها لقيم نبيلة، وغايات إنسانية سامية!! لكن الواقع يشهد بأن الناشئ لا يلقي بالاً لما يدور من حوار بين هذه الحيوانات، بقدر ما يهتم بحركاتها وصرخاتها، ومناظرها المشوّقة الجذّابة، وبألوانها الزاهية وملابسها المزخرفة، وحيواناتها الناطقة المجسّمة، وإيهام تلبّس الحياة بها، مما يؤثر سلباً في عقيدة الناشئ ويؤدي به إلى التساهل في تقبّل ذلك (1) .
أما ذاك الانفصام بين طبيعة الحيوانات - واقعًا - وما يراه
--------------------------------------------
প্রথম পরিচ্ছেদ: কিশোর থিয়েটার:শিল্পী ও নাট্যকাররা কিশোরদের জন্য প্রস্তুতকৃত নাট্যমঞ্চে এমন সবকিছু উপস্থাপনে একে অপরের সাথে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়েছেন যা শিশুকে আনন্দ দেয় ও হাসায়; যেখানে তারা কোনো মূল্যবোধ ও উদ্দেশ্যের প্রতি ভ্রুক্ষেপ করেননি এবং শিশুর ব্যক্তিত্ব ও তার সম্ভাবনা বিকাশের বিষয়েও কোনো লক্ষ্য রাখেননি। ফলে যদি মঞ্চে প্রদর্শিত কিছু শারীরিক কসরতের মাধ্যমে শিশু হেসে ওঠে, তবে তাদের দৃষ্টিতে সেই নাট্যকর্মটি তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন করেছে বলে গণ্য হয়। শিশু থিয়েটারের সাথে সংশ্লিষ্ট অনেক ব্যক্তির এটিই হলো চূড়ান্ত আকাঙ্ক্ষা।
আমরা এই থিয়েটারে কিছু কাল্পনিক চরিত্র দেখতে পাই, যেমন—পশু-পাখি। আমরা সেগুলোকে কথা বলতে ও শিশুর মনোযোগ আকর্ষণ করতে দেখি, ফলে শিশু তার অর্জিত তথ্যসমূহ এই পশুদের নিকট থেকেই ধ্রুব সত্য হিসেবে গ্রহণ করে। যেন এই পশুরাই মানুষের আদর্শ, মূল্যবোধ, চরিত্র ও সুন্দর আচরণের তাত্ত্বিক রূপকার হয়ে দাঁড়িয়েছে! তাদের এই চিন্তাধারা কতই না অদ্ভুত! মানুষের বুদ্ধিবৃত্তিক দৈন্য কতই না তীব্র, আর সেই পশুদের আদর্শ ও বিবেকের দান কতই না মহান! তবে কি এখন এই পশুরাই কিশোরদের বিশ্বকোষ এবং তাদের মাঝে মূল্যবোধ বপনের উৎসে পরিণত হয়েছে?! এটি তো তখন সম্ভব হতো, যদি আমরা তাদের মধ্যকার কথোপকথনে কোনো মহৎ মূল্যবোধ ও উচ্চতর মানবিক লক্ষ্য বিদ্যমান রয়েছে বলে সুধারণা পোষণ করতাম। কিন্তু বাস্তবতা সাক্ষ্য দেয় যে, কিশোররা এই পশুদের কথোপকথনের প্রতি ততটা ভ্রুক্ষেপ করে না, যতটা সে তাদের নড়াচড়া, চিৎকার, আকর্ষণীয় দৃশ্যপট, উজ্জ্বল বর্ণ, কারুকাজ করা পোশাক এবং কথা বলা মূর্ত (مجسّمة) অবয়বের প্রতি আগ্রহী হয়। এটি তাদের মাঝে প্রাণের অস্তিত্বের একটি বিভ্রম তৈরি করে, যা কিশোরদের আকিদা (عقيدة)-এর ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে এবং এই বিষয়গুলো গ্রহণে শৈথিল্য (التساهل) প্রদর্শনের দিকে নিয়ে যায় (১)।
আর বাস্তব জগতের পশুর প্রকৃতি এবং সে যা দেখছে তার মধ্যকার সেই বিচ্ছিন্নতা...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ফাননুল ওয়াক্বিউ ওয়াল মামুল - ক্বাসাসু তাওবাতিল ফাননীন ওয়াল ফাননাত
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
الناشئ على خشبة المسرح الحيواني، فقد بات يؤثر سلباً على عقلية الناشئ ذاتها، فالأرنب مثلاً على المسرح تراه ضاحكًا، والذئب يتكلم بفصاحة نادرة، مع تعدد ألوان وأشكال كل منها، بما يخالف واقعها، كل ذلك جعل الناشئ ينتقل بتصوراته إلى عالم متخيّل، لا وجود له، بما يفسّر محاولة بعض الأطفال مباشرة التكلم مع بعض الحيوانات الأليفة بل ومحاورتها، ظناً منهم أنها تتكلم وتضحك كما هو حالها في المسرح، فكم تردد على مسامعنا أسئلة من بعض الناشئة عن الحيوانات الحقيقية:
* لماذا لا يتفهم هذا الحيوان فكرتي؟!
* لماذا لا يحزن لما ألمّ بي، فيبكي؟!
* لماذا لم يخبر أمي عندما وقعت أرضًا؟!
* لماذا لم يتقبّل هديتي له
… ؟!
ومثل ذلك كثيرٌ
… كثير
… !!
فلا شك بأن افتراض قدرة الحيوان على التخاطب، وحلِّ المعضلات، والتحلِّي بالمشاعر النبيلة، كلُّ ذلك كان له أثر سلبي بالغ على القدرات العقلية للطفل، ولو احتج أصحاب هذا الفن بأن وضع هذه القيم بقالب تمثيلي يؤدي دور البطولة فيه حيوانات مصطنعة، هو لافت لنظر الطفل، ومثير لانتباهه، إلا أن ذلك - من وجهة نظرنا- يسبب خللاً في تصورات الأطفال، قد يجعلهم متعلقين بها، ومترسمين خطاها لفترات مقبلة من حياتهم (1) .
--------------------------------------------
পশু-থিয়েটারের মঞ্চে বেড়ে ওঠা শিশুদের মানসিকতার ওপর এটি নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। উদাহরণস্বরূপ, মঞ্চে খরগোশকে হাসতে দেখা যায় এবং নেকড়েকে বিরল বাগ্মিতার সাথে কথা বলতে দেখা যায়, সাথে থাকে তাদের বাস্তবতার পরিপন্থী বিচিত্র রঙ ও রূপ। এসব কিছু শিশুকে এমন এক কাল্পনিক জগতে নিয়ে যায় যার কোনো অস্তিত্ব নেই। এটি ব্যাখ্যা করে কেন কিছু শিশু সরাসরি গৃহপালিত প্রাণীদের সাথে কথা বলার চেষ্টা করে, এমনকি তাদের সাথে কথোপকথন চালায়, এই ধারণায় যে তারা থিয়েটারের মতোই কথা বলে এবং হাসে। বাস্তব প্রাণীদের সম্পর্কে শিশুদের পক্ষ থেকে এমন অনেক প্রশ্ন আমাদের কানে বারবার আসে:
* কেন এই প্রাণীটি আমার চিন্তা বুঝতে পারছে না?!
* কেন সে আমার কষ্টে দুঃখিত হচ্ছে না এবং কাঁদছে না?!
* আমি যখন মাটিতে পড়ে গেলাম, তখন সে কেন আমার মাকে জানালো না?!
* কেন সে আমার দেওয়া উপহার গ্রহণ করল না
… ?!
এবং এর মতো আরও অনেক
… অনেক
… !!
এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, প্রাণীর কথা বলার ক্ষমতা, জটিল সমস্যার সমাধান এবং মহৎ অনুভূতির অধিকারী হওয়ার ধারণা পোষণ করা শিশুর মানসিক ক্ষমতার ওপর অত্যন্ত নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। যদি এই শিল্পের প্রবক্তারা যুক্তি দেন যে, কৃত্রিম প্রাণীদের বীরত্বপূর্ণ ভূমিকায় অভিনয়ের মাধ্যমে এই মূল্যবোধগুলো উপস্থাপন করা শিশুর দৃষ্টি আকর্ষণ করে এবং কৌতূহল জাগায়, তবে আমাদের দৃষ্টিতে এটি শিশুদের কল্পনার জগতে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে। এটি হয়তো তাদের এই বিষয়গুলোর প্রতি আসক্ত করে তুলতে পারে এবং জীবনের পরবর্তী পর্যায়গুলোতেও তাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করতে বাধ্য করতে পারে (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ফাননুল ওয়াক্বিউ ওয়াল মামুল - ক্বাসাসু তাওবাতিল ফাননীন ওয়াল ফাননাত
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
فالقيّمون على مسرح الطفل لم يراعوا شخصية الطفل الناشئ، ولم يسبروا أغوارها، كما لم يناسبوا بين تفكير الناشئة وأعمارهم، لذلك لا يُتوقع منهم أن يحققوا أهدافاً دينية أو تربوية واضحة، فغالب هؤلاء بالغُ همِّهم تحصيل مكاسب مادية وحسب.
تقول الفنانة (الخليجة) منى عيسى - وهي الخبيرة بمسرح الطفل -: "مع الأسف الشديد إن مسرح الطفل يأخذ الآن الطابع التجاري البحت". (1) فلم يعد لمسرح الطفل الأهداف الواضحة الملموسة، إذ تخبَّط الفنانون في ماهية أهدافه، وكيفية تحقيقها، وفي ذلك تقول: " لقد خرج هذا المسرح عن طبيعة رسالته والدور الذي يجب أن يقوم به نحو أطفالنا، وتحول إلى مؤسسات تجارية تحرص على انتزاع ضحكات الأطفال" (2) .
وعلى ذلك، فنحن بأمسّ الحاجة اليوم، إلى أعمال تدخل عالم الناشئ، فتنتشله من هذا الكمّ الهائل من الأعمال المرئية الغثة، التي لا طائل تحتها، علماً بأن محاولات جادة بدأت من قبل مؤسسات إنتاج إسلامية، إلا أنها تبقى غير كافية، وبخاصة أن بعضها ذو نظرة مادية لا تختلف كثيراً عن نظرة سابقيهم من العاملين بهذا المجال. ولذا فإن المسؤولية تتضاعف، وتكاد الأحمال تُنقض ظهر الكاتب ذي الرؤية الإسلامية الواضحة، وأصحاب القلم البنّاء، وأهل الإصلاح الاجتماعي، وهي كذلك عبء على كاهل الفنان الملتزم ذي الحس الديني والثقافي والاجتماعي، الذي بإمكانه أن يتغلغل إلى دخيلة نفس الطفل، وإلى أركان شخصيته، دون عناء يذكر،
--------------------------------------------
শিশু থিয়েটারের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা বেড়ে ওঠা শিশুদের ব্যক্তিত্বের প্রতি ভ্রুক্ষেপ করেননি এবং এর গভীরতাও অনুসন্ধান করেননি। তেমনি তারা কিশোরদের চিন্তা ও বয়সের মধ্যে সামঞ্জস্য বজায় রাখেননি। তাই তাদের কাছ থেকে স্পষ্ট ধর্মীয় বা শিক্ষামূলক লক্ষ্য অর্জনের প্রত্যাশা করা যায় না; কারণ তাদের অধিকাংশের মূল লক্ষ্য কেবল বস্তুগত মুনাফা অর্জন করা।
উপসাগরীয় অঞ্চলের শিল্পী মুনা ঈসা—যিনি শিশু থিয়েটার বিশেষজ্ঞ—বলেন: "অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে, শিশু থিয়েটার বর্তমানে নিছক বাণিজ্যিক রূপ পরিগ্রহ করেছে।" (১) শিশু থিয়েটারের এখন আর কোনো স্পষ্ট ও দৃশ্যমান লক্ষ্য নেই, কেননা শিল্পীরা এর লক্ষ্যের স্বরূপ এবং তা অর্জনের পদ্ধতি নিয়ে বিভ্রান্তির মধ্যে রয়েছেন। এ বিষয়ে তিনি বলেন: "এই থিয়েটার তার মূল বার্তার প্রকৃতি এবং আমাদের শিশুদের প্রতি পালনীয় দায়িত্ব থেকে বিচ্যুত হয়েছে এবং এটি এমন এক বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত হয়েছে যা কেবল শিশুদের আনন্দ-হাসি কেড়ে নিতে (অর্থাৎ বিনোদন দিতে) সচেষ্ট।" (২)।
এর পরিপ্রেক্ষিতে, আজ আমাদের এমন সব কাজের একান্ত প্রয়োজন যা কিশোরদের জগতে প্রবেশ করবে এবং তাদেরকে অসার ও নিষ্ফল বিপুল পরিমাণ দৃশ্যমান কর্মকাণ্ডের ভিড় থেকে উদ্ধার করবে। উল্লেখ্য যে, কিছু ইসলামি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে গুরুত্বের সাথে প্রচেষ্টা শুরু হয়েছে, তবে তা এখনও অপর্যাপ্ত; বিশেষ করে তাদের মধ্যে কারো কারো দৃষ্টিভঙ্গি বস্তুবাদী, যা এই ক্ষেত্রে কর্মরত তাদের পূর্বসূরিদের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে খুব একটা আলাদা নয়। ফলে দায়িত্ব বহুগুণ বেড়ে গেছে এবং এর ভার স্পষ্ট ইসলামি দৃষ্টিভঙ্গিসম্পন্ন লেখক, গঠনমূলক লেখক এবং সমাজ সংস্কারকদের পিঠ ভেঙে দেওয়ার উপক্রম হয়েছে। একইভাবে এটি সেই প্রতিশ্রুতিবদ্ধ শিল্পীর কাঁধেও একটি বড় দায়িত্ব, যার মধ্যে ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক চেতনা রয়েছে এবং যিনি অনায়াসেই শিশুর অন্তরাত্মা ও তার ব্যক্তিত্বের গভীরে প্রবেশ করতে সক্ষম।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ফাননুল ওয়াক্বিউ ওয়াল মামুল - ক্বাসাসু তাওবাতিল ফাননীন ওয়াল ফাননাত
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
فيصقل روحه بالهدى، ويرتقي بفكره إلى مراقي الفلاح. هذه دعوة لكل من يسعى إلى الرقي الفكري والاجتماعي والسلوكي للناشئة، عسى أن تلقى آذاناً مصغيةً لدى المهتمين منهم بذلك.
المحور الثاني: فنّ العروض الكرتونية (الرسوم المتحركة) :لقد أسفرت دراسة للباحثة فاطمة أبو ظريفة " عن أن أفلام الرسوم المتحركة تستحوذ على اهتمام كبير من الأطفال وأن جميع الأطفال يتابعونها بنسبة تامة (100%) " (1) .
إن فن العرض الكرتوني يستحوذ على اهتمام الناشئة، بل قد أضحى لبّ اهتماماتهم، ذلك بأنهم يشعرون بالمتعة الخيالية وهم يشاهدون ما لم يروه في الواقع، فيتقلبون طوال متابعتهم لها في خيالات تداعب مشاعرهم، وقد تؤثر على أنماط تفكيرهم وسلوكهم مستقبلاً، وذلك بشكل غير إرادي، في عقلهم الباطن، وهذه المتعة قد تقودهم أحياناً إلى خطر محدق، بل إلى تدمير لتوجهاتهم ولحياتهم أحياناً، فهي غزو لهذا الناشئ البريء، غزو لمعتقداته وفكره، غزو لعواطفه وخياله، وغزو لإمكاناته الإبداعية، ولخياله الخصب، وذلك بإغراقه بالإثارة والتشويق، فيضطرب عند ذلك كل شيء في كيانه الإنساني، توصّلاً إلى أعظم ما يملكه الإنسان المسلم وهو العقيدة.
--------------------------------------------
এটি হিদায়াতের মাধ্যমে তার আত্মাকে পরিমার্জিত করে এবং তার চিন্তাধারাকে সাফল্যের সোপানে উন্নীত করে। এটি কিশোরদের বুদ্ধিবৃত্তিক, সামাজিক ও আচরণগত উৎকর্ষ সাধনে সচেষ্ট প্রত্যেকের প্রতি একটি আহ্বান, আশা করা যায় এটি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিকট সমাদৃত হবে।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: কার্টুন প্রদর্শনী শিল্প (অ্যানিমেশন):গবেষক ফাতিমা আবু জারিফাহ-এর একটি গবেষণায় উঠে এসেছে যে, "কার্টুন চলচ্চিত্রগুলো শিশুদের ব্যাপক মনোযোগ আকর্ষণ করে এবং সকল শিশু শতভাগ (১০০%) এটি প্রত্যক্ষ করে" (১)।
কার্টুন প্রদর্শনীর শিল্প কিশোরদের মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে, বরং এটিই তাদের প্রধান আগ্রহের বিষয়ে পরিণত হয়েছে। এর কারণ হলো, তারা যখন এমন কিছু দেখে যা বাস্তবে দেখেনি, তখন তারা একটি কাল্পনিক আনন্দ অনুভব করে। ফলে এটি দেখার পুরোটা সময় তারা এমন এক কল্পনায় বিচরণ করে যা তাদের অনুভূতিকে আলোড়িত করে এবং এটি তাদের অবচেতন মনে অজান্তেই ভবিষ্যতে তাদের চিন্তা ও আচরণের ধরনের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। আর এই আনন্দ কখনও কখনও তাদের আসন্ন বিপদের দিকে নিয়ে যায়, এমনকি কখনও কখনও তাদের লক্ষ্য ও জীবনকে ধ্বংস করে দেয়। মূলত এটি এই নিষ্পাপ কিশোরের ওপর এক আগ্রাসন; তার বিশ্বাস ও চিন্তার ওপর আগ্রাসন, তার আবেগ ও কল্পনার ওপর আগ্রাসন এবং তার সৃজনশীল ক্ষমতা ও উর্বর কল্পনাশক্তির ওপর আগ্রাসন। উত্তেজনা ও রোমাঞ্চের আতিশয্যে তাকে নিমজ্জিত করার মাধ্যমে তার মানবিক অস্তিত্বের সবকিছু ওলটপালট করে দেওয়া হয়, যার চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো একজন মুসলিমের শ্রেষ্ঠ সম্পদ অর্থাৎ আকিদাহর ওপর আঘাত হানা।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ফাননুল ওয়াক্বিউ ওয়াল মামুল - ক্বাসাসু তাওবাতিল ফাননীন ওয়াল ফাননাত
(পৃষ্ঠা: ৩৬)
أثر العروض الكرتونية في العقيدة:إن نظرة الناقد البصير لبعض هذه العروض، توضح له -يقيناً- كثيراً مما ترمي إليه هذه العروض من زعزعة عقائد الناشئة، وغرس مفاهيم دينية منحرفة لديهم، وقد ركزّ العاملون في هذا المجال جهدهم الأكبر على هدم عقيدة التوحيد التي يعتقد بها ناشئة المسلمين، وعلى استساغتهم لكثير مما يتعارض مع مسلّمات الفطرة، ومسلّمات التشريع لدى المسلمين.
وقد أثبتت الدراسة السابقة أيضاً، "أن الأفلام الكرتونية- بما تحويه من معتقدات- لها أثر على عقيدة الطفل، وعلى مفهوم الحلال والحرام لديه" (1) .
وبين يديك -أخي القارئ- بعض نموذجات للفن الكرتوني، وقد عرضت أفلامه في تلفزيونات العالم الإسلامي، تعيث فساداً في عقول أطفالنا، وتحاول إشرابهم مفاهيم غريبة عن فطرهم وعن المسلّمات الدينية لديهم، دون رقيب، اللهم إلا من وازع ديني لغيور على أطفاله، وعين بصيرة مؤمنة.
الفن الكرتوني وعقيدة التثليث:"عرض مسلسل كرتوني رآه كثير من ناشئة المسلمين وهو يرمي إلى غرس عقيدة التثليث المنحرفة في قلوب أبنائنا، وهو بعنوان (الإله زيلا) -كما زعموا- ومما تضمّنه: أن أسرة كانت في عُرْض البحر، فاعترضتها وحوش خيالية أصابتها بالرعب والهلع، فلم تلبث هذه الأسرة إلا أن دعت (الإله زيلا) الذي هرع لنجدتها، فأنقذ الأسرة بعد صراع مرير مع تلك الوحوش الخيالية.
--------------------------------------------
আকিদাহর ওপর কার্টুন প্রদর্শনের প্রভাব:নিশ্চয়ই এই প্রদর্শনগুলোর কয়েকটির প্রতি একজন বিচক্ষণ সমালোচকের দৃষ্টি তাকে নিশ্চিতভাবে এটি স্পষ্ট করে দেয় যে, এগুলোর লক্ষ্য হলো কিশোর-কিশোরীদের আকিদাহ বা বিশ্বাসকে টলিয়ে দেওয়া এবং তাদের মধ্যে বিভ্রান্তিকর ধর্মীয় ধারণা বপন করা। এই ক্ষেত্রে কর্মরত ব্যক্তিরা তাদের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা ব্যয় করেছেন মুসলিম তরুণ প্রজন্মের তাওহিদি আকিদাহ বা একত্ববাদের বিশ্বাসকে ধ্বংস করার জন্য এবং ফিতরাত ও মুসলিমদের নিকট শরীয়তের অকাট্য বিষয়গুলোর বিরোধী অনেক বিষয়কে তাদের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তোলার জন্য।
পূর্ববর্তী গবেষণায় এটিও প্রমাণিত হয়েছে যে, "কার্টুন চলচ্চিত্রগুলো—এতে বিদ্যমান বিশ্বাসসমূহের মাধ্যমে—শিশুর আকিদাহ এবং তার নিকট হালাল ও হারামের ধারণার ওপর প্রভাব ফেলে।" (১)
হে পাঠক ভাই, আপনার সামনে কার্টুন শিল্পের কিছু নমুনা পেশ করা হলো, যার চলচ্চিত্রগুলো মুসলিম বিশ্বের টেলিভিশনগুলোতে প্রদর্শিত হয়েছে। এগুলো কোনো প্রকার তদারকি ছাড়াই আমাদের শিশুদের মনস্তত্ত্বে বিপর্যয় সৃষ্টি করছে এবং তাদের সহজাত ফিতরাত ও ধর্মীয় অকাট্য বিষয়গুলোর বাইরের বিজাতীয় ধারণা তাদের হৃদয়ে গেঁথে দেওয়ার চেষ্টা করছে। তবে আল্লাহ যদি কাউকে স্বীয় সন্তানদের প্রতি ধর্মীয় মমত্ববোধ এবং মুমিনসুলভ অন্তর্দৃষ্টির মাধ্যমে রক্ষা করেন, সেটি ভিন্ন কথা।
কার্টুন শিল্প এবং ত্রিত্ববাদী আকিদাহ:"একটি কার্টুন সিরিজ প্রদর্শিত হয়েছে যা অনেক মুসলিম কিশোর দেখেছে; মূলত এটি আমাদের সন্তানদের হৃদয়ে ভ্রান্ত ত্রিত্ববাদী আকিদাহ বপন করার লক্ষ্য রাখে। এর শিরোনাম ছিল 'ইলাহ জিলা'—যেমনটি তারা দাবি করেছে। এই সিরিজের কাহিনীর অন্তর্ভুক্ত ছিল: একটি পরিবার সমুদ্রের মাঝখানে থাকাকালীন কিছু কাল্পনিক দানবের কবলে পড়ে চরম আতঙ্ক ও ভীতিগ্রস্ত হয়ে পড়ে। তখন সেই পরিবারটি 'ইলাহ জিলা'-কে আহ্বান করতে বিলম্ব করেনি, যে তাদের সাহায্যের জন্য দ্রুত এগিয়ে আসে এবং সেই কাল্পনিক দানবদের সাথে এক কঠিন লড়াইয়ের পর পরিবারটিকে উদ্ধার করে।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ফাননুল ওয়াক্বিউ ওয়াল মামুল - ক্বাসাসু তাওবাতিল ফাননীন ওয়াল ফাননাত
(পৃষ্ঠা: ৩৭)
ولهذا الإله - بزعمهم - ابن يعايش البشر، فهو واحد منهم يرعاهم ويستجيب لهم، (1) هكذا - وبكل وضوح - يعارض هذا المشهد وأمثاله، عقيدة لجوء الناس المسلمين لله الواحد الأحد - سبحانه - إذا ما ألمّ بهم مثل هذا الحدث الجلل، وتتسرب في عرض هذه المسلسلات عقيدة ادعاء الولد لله - تعالى-، تتسرب في لبوس برّاق يبهر عقل المشاهد الناشئ، ويتسلل إلى نفس الطفل ذلك ليؤثر بها كأثر لفيروس استعصى تبيُّنه على العلماء، ومن ثم استحالت معالجته. وفي المقابل يتم تعليم الناشئة بجهد طيب من أهل الذكر، الآياتِ القرآنية، ومنها قوله تعالى: [المَائدة: 73] {مَا كَانَ لِلَّهِ أَنْ يَتَّخِذَ مِنْ وَلَدٍ سُبْحَانَهُ} عندها تتلاطم المفاهيم في عقل الناشئ المسلم، وتتزعزع لديه العقيدة - وهي أثمن ما يحرص عليه - وذلك بأثر جلسة للتسلية والترفيه قد لا يلقي لها الأهل بالاً، بل قد تجدهم يحثون أطفالهم على قضاء أوقات ممتعة في متابعة هذه المسلسلات!
الفن الكرتوني وعبادة الأصنام:أما "مغامرات الليث الأبيض"، ومَنْ من الناشئة لا يعرفها، إذ تجلت بحُلّتها المثيرة، وبمشاهدها الأخّاذة، وبإخراجٍ بديع لها، وقد ظهر في أحد عروضها صنم من حجارة، وقف الناس أمامه بذِلّة وخضوع، يتوسّلون إليه ويدعونه عند الكوارث والمصائب، فهم
--------------------------------------------
এবং তাদের দাবি অনুযায়ী—এই উপাস্যের একজন পুত্র আছে যে মানুষের মাঝে বসবাস করে; সে তাদেরই একজন যে তাদের দেখাশোনা করে এবং তাদের ডাকে সাড়া দেয়, (১) এভাবে—এবং অতি স্পষ্টভাবে—এই দৃশ্য ও তার অনুরূপ বিষয়সমূহ মুসলমানদের সেই বিশ্বাসের পরিপন্থী যেখানে তারা কোনো কঠিন বিপদে পড়লে এক ও অদ্বিতীয় আল্লাহ—সুবহানাহু—এর আশ্রয় গ্রহণ করে। আর এই ধারাবাহিক নাটকগুলোর প্রদর্শনীতে আল্লাহর—তাআলা—সন্তান রয়েছে এমন অপবিশ্বাসের অনুপ্রবেশ ঘটানো হয়; যা এমন এক চাকচিক্যময় আবরণে উপস্থাপিত হয় যা নবীন দর্শকের বুদ্ধিবৃত্তিকে মোহাবিষ্ট করে ফেলে এবং শিশুর মনে এমনভাবে প্রবেশ করে যা তাকে অনেকটা এমন ভাইরাসের মতো প্রভাবিত করে যা শনাক্ত করা বিজ্ঞানীদের জন্য দুরূহ হয়ে পড়ে এবং এর ফলে তার চিকিৎসা অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়। এর বিপরীতে, আলেমদের উত্তম প্রচেষ্টার মাধ্যমে নবীনদেরকে কুরআনের আয়াতসমূহ শিক্ষা দেওয়া হয়, যার মধ্যে রয়েছে আল্লাহর—তাআলা—বাণী: [আল-মায়িদাহ: ৭৩] {আল্লাহর জন্য সন্তান গ্রহণ করা শোভনীয় নয়, তিনি পবিত্র-মহান}। তখন মুসলিম কিশোরের মনে ধারণাসমূহের সংঘাত সৃষ্টি হয় এবং তার বিশ্বাস বা আকিদা—যা তার কাছে সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ—তা টালমাটাল হয়ে পড়ে। আর এটি ঘটে বিনোদন ও আমোদ-প্রমোদের একটি আসরের প্রভাবে যার প্রতি হয়তো অভিভাবকরা তেমন গুরুত্বই দেন না, বরং আপনি হয়তো দেখবেন যে তারা তাদের সন্তানদের এই ধারাবাহিক নাটকগুলো দেখার মাধ্যমে আনন্দদায়ক সময় কাটানোর জন্য উৎসাহ দিচ্ছেন!
কার্টুন শিল্প এবং মূর্তিপূজা:আর "মগামিরাত আল-লাইস আল-আবইয়াদ" (সাদা সিংহের রোমাঞ্চকর অভিযান)-এর কথা যদি বলি, নবীনদের মাঝে এমন কে আছে যে একে চেনে না? যেহেতু এটি তার রোমাঞ্চকর রূপ, চিত্তাকর্ষক দৃশ্য এবং চমৎকার পরিচালনার মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। এর একটি প্রদর্শনীতে পাথরের তৈরি একটি মূর্তি দেখা যায়, যার সামনে মানুষ চরম হীনতা ও অবনত মস্তকে দাঁড়িয়ে থাকে, তারা তার কাছে আরজি জানায় এবং দুর্যোগ ও বিপদে তাকেই ডাকে, ফলে তারা
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ফাননুল ওয়াক্বিউ ওয়াল মামুল - ক্বাসাসু তাওবাতিল ফাননীন ওয়াল ফাননাত
(পৃষ্ঠা: ৩৮)
يعبدونه (1) مرّوجين بذلك فعلة معظم الأقوام المعذَّبين، الذين عارضوا دعوة الرسل عليهم السلام من لدن نوح عليه السلام، وصولاً إلى مشركي قريش المعاندين لدعوة رسول الله صلى الله عليه وسلم، وبعد أن اندثرت تلك العقائد الباطلة، عادت تطلّ علينا عبر عروض كرتونية، يتابعها بشغف معظم أطفالنا، فيألفون رؤيتها، وقد تصبح مستساغة لديهم، ليعمل المربون بعدها سنوات طوالاً لانتزاع أثرها وتثبيت المفهوم الإسلامي للعقيدة في نفوسهم.
ولا تعجب بعدها، إذا رأيت طفلاً يسجد لدمية أو لحجر طالباً منه تحقيق ما يريد، يقول أحدهم: حصلت لي تجربة شخصية مؤلمة جداً مع طفلي، وهي أني رأيته وهو يسجد لدمية أطفال لكي تتوسط له عندي لأحقق له ما طلبه منّي، وعندما سألته: من علّمك هذا؟ أجابني قائلاً: لقد رأيتها في الفيلم (2) .
ولا عجب بعد ذلك، إن رأيت طفلاً يحدّث ناراً أو يتوسل إليها لتنفيذ رغباته، فها هي "مغامرات سندباد " في إحدى عروضها تُظهِر عقيدة المجوس، في تقديسهم للنار وتقديمهم القرابين لها، فكيف لنا بعد ذلك كله أن نحصّن أبناءنا من أثر هذا الهدم العقدي، دون ضبط فاعل وتمحيص لما يعرض منها، ليتوافق مع مسلّماتنا الدينية والتربوية.
من يدبّر الكون، في نظر العروض الكرتونية؟!
عَمِل هذا الفن جاهداً، بأسلوب جذّاب مثير، على تصوير صراعات دائمة في هذا الكون، فتارة يصوّر وجود مخلوقات فضائية
--------------------------------------------
তারা তাঁর ইবাদত করে (১), এর মাধ্যমে তারা সেই অধিকাংশ আজাবপ্রাপ্ত জাতিগুলোর কর্মকাণ্ডের প্রচার চালায়, যারা নূহ আলাইহিস সালামের যুগ থেকে শুরু করে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দাওয়াতের বিরোধিতাকারী জেদী কুরাইশ মুশরিকদের সময় পর্যন্ত রাসূলদের দাওয়াতের বিরোধিতা করেছিল। সেই ভ্রান্ত আকিদাগুলো বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ার পর এখন তা কার্টুন প্রদর্শনীগুলোর মাধ্যমে আমাদের সামনে পুনরায় আত্মপ্রকাশ করছে, যা আমাদের অধিকাংশ শিশু অত্যন্ত আগ্রহের সাথে দেখে থাকে। ফলে তারা এগুলো দেখতে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে এবং এগুলো তাদের কাছে গ্রহণযোগ্য মনে হতে পারে। এর ফলে পরবর্তীতে দীর্ঘ বছর ধরে শিক্ষকদের তাদের মন থেকে এর প্রভাব দূর করতে এবং তাদের হৃদয়ে আকিদার ইসলামি ধারণা বদ্ধমূল করতে কঠোর পরিশ্রম করতে হয়।
এরপর আপনি যদি কোনো শিশুকে তার আকাঙ্ক্ষা পূরণের আশায় কোনো পুতুল বা পাথরের সামনে সিজদা করতে দেখেন, তবে অবাক হবেন না। জনৈক ব্যক্তি বলেন: 'আমার সন্তানের সাথে আমার অত্যন্ত বেদনাদায়ক এক ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা হয়েছে। আমি তাকে দেখলাম যে সে একটি পুতুলের সামনে সিজদা করছে যাতে সেই পুতুলটি আমার কাছে তার জন্য সুপারিশ করে এবং আমি যেন তার চাওয়া পূরণ করি। যখন আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম: তোমাকে এটি কে শিখিয়েছে? সে উত্তরে বলল: আমি এটি সিনেমাতে (২) দেখেছি'।
এরপর এতেও অবাক হওয়ার কিছু নেই যদি আপনি কোনো শিশুকে আগুনের সাথে কথা বলতে দেখেন বা নিজের বাসনা পূরণের জন্য আগুনের কাছে প্রার্থনা করতে দেখেন। এই তো 'সিন্দাবাদের রোমাঞ্চকর অভিযান' তার একটি পর্বে অগ্নিপূজকদের আকিদা প্রদর্শন করছে—আগুনের পবিত্রতা বর্ণনা এবং এর উদ্দেশ্যে বলিদান পেশ করার মাধ্যমে। এই সমস্ত কিছুর পর, কার্যকর নিয়ন্ত্রণ এবং প্রদর্শিত বিষয়বস্তুসমূহের যথাযথ যাচাই-বাছাই (تمحيص) ব্যতীত কীভাবে আমরা আমাদের সন্তানদের এই আকিদাগত ধ্বংসযজ্ঞের প্রভাব থেকে রক্ষা করব, যাতে তা আমাদের ধর্মীয় ও শিক্ষামূলক স্বীকৃত বিষয়গুলোর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়?
কার্টুন প্রদর্শনীগুলোর দৃষ্টিতে বিশ্বজগত কে পরিচালনা করেন?!
এই শিল্পটি আকর্ষণীয় এবং উত্তেজনাকর পদ্ধতিতে এই মহাবিশ্বে চিরস্থায়ী দ্বন্দ্বের চিত্র ফুটিয়ে তোলার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করেছে। কখনও এটি ভিনগ্রহের প্রাণীর অস্তিত্ব চিত্রিত করে...
--------------------------------------------