(খণ্ড: ১)
ইজাযুল কুরআন লিল বাকিল্লানি
(পৃষ্ঠা: -)
إعجاز القرآن للباقلاني (الباقلاني)
القسم: علوم القرآن وأصول التفسير
الكتاب: إعجاز القرآن للباقلاني
المؤلف: أبو بكر الباقلاني محمد بن الطيب (ت 403هـ)
المحقق: السيد أحمد صقر
الناشر: دار المعارف - مصر
الطبعة: الخامسة، 1997م
عدد الصفحات: 314
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
বাকিল্লানীর ইজাযুল কুরআন (আল-বাকিল্লানী)
বিভাগ: কুরআন উলুম ও তাফসীরের মূলনীতি
গ্রন্থ: বাকিল্লানীর ইজাযুল কুরআন
লেখক: আবু বকর আল-বাকিল্লানী মুহাম্মদ বিন আল-তাইয়িব (মৃ. ৪০৩ হিজরি)
সম্পাদক: আস-সায়্যিদ আহমদ সাকার
প্রকাশক: দারুল মাআরিফ - মিশর
সংস্করণ: পঞ্চম، ১৯৯৭ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩১৪
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]
শামেলার প্রকাশকাল: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
ইজাযুল কুরআন লিল বাকিল্লানি
(পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيممقدمةجرت سنة الله في ابتعاث رسله إلى خلقه، لتبصيرهم بعظمته وجمعهم على عبادته، أن يؤيدهم بأمور حسية تخالف السنن الكونية، وتشذ عن النواميس الطبيعية، وتكون من قبيل ما استحكم في زمانهم، وغلب على خاصتهم، وعظم في نفوس عامتهم، لتكون معجزة الرسول المرسل إليهم مفحمة لاعجب الامور في أنظارهم، ومبطلة لاقوى الاشياء في حسبانهم، ولئلا يجد المبطلون متعلقا يتشبثونبه، ولا سبيلا يتخذونه إلى اختداع الضعفاء فقد أيد الله جل جلاله موسى عليه السلام وكان عصره عصر سحر - بفلق البحر، وانقلاب العصا حية تسعى، وانبجاس الحجر الصلد بعيون الماء الرواء.وأيد عيسى عليه السلام وكان عهده عهد طب - بإبراء الاكمه والابرص وخلق الطير من الطين، وإحياء الموتى بإذنه.ولما أرسل رسوله محمدا، صلى الله عليه وسلم، إلى الناس أجمعين، وجعله خاتم النبيين - أيده بمعجزات حسية كمعجزات من سبقه من المرسلين، وخصه بمعجزة عقلية خالدة، وهى إنزال القرآن الكريم، الذى لو اجتمعت الانس والجن على أن يأتوا بمثله لم يستطيعوا ولم يقاربوا، ولو كان بعضهم لبعض ظهيرا.وكان ذلك في زمان سما فيه شأن البيان، وجلت مكانته في صدور أهله، وعرفوا باللسن والفصاحة، وقوة العارضة في الاعراب عن خوالج النفوس، والابانة عن مشاعر القلوب.وظل رسول الله صلوات الله عليه، يتحداهم بما كانوا يعتقدون في أنفسهم القدرة عليه، والتمكن منه، ولم يزل يقرعهم ويعجزهم، ويكشف عن نقصهم، حتى استكانوا وذلوا، وطبع عليهم الخزى بطابعه، وصاروا حيال فصاحته في أمر مريج.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।ভূমিকাসৃষ্টির প্রতি আল্লাহর রাসূল প্রেরণের ক্ষেত্রে তাঁর চিরন্তন রীতি এই যে, তাঁদেরকে তাঁর মহানুভবতা সম্পর্কে সচেতন করার জন্য এবং তাঁর ইবাদতে তাঁদের একত্রিত করার জন্য তিনি তাঁদেরকে এমন কিছু ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বিষয়ের মাধ্যমে সমর্থন দান করেন যা মহাজাগতিক রীতিনীতির পরিপন্থী এবং প্রাকৃতিক নিয়মের ব্যতিক্রম। এ বিষয়গুলো এমন প্রকৃতির হয়ে থাকে যা তাঁদের সমসাময়িককালে সুপ্রতিষ্ঠিত ছিল, তাঁদের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের ওপর আধিপত্য বিস্তারকারী ছিল এবং সাধারণ মানুষের অন্তরে মহান হিসেবে গণ্য হতো; যাতে প্রেরিত রাসূলের অলৌকিক নিদর্শনসমূহ তাঁদের দৃষ্টিতে সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয়গুলোকে পরাভূত করতে পারে এবং তাঁদের ধারণার সবচেয়ে শক্তিশালী বিষয়গুলোকে বাতিল প্রমাণ করতে পারে। আর যাতে বাতিলপন্থীরা আঁকড়ে ধরার মতো কোনো অবলম্বন না পায় এবং দুর্বলদের বিভ্রান্ত করার মতো কোনো পথ খুঁজে না পায়। এ উদ্দেশ্যেই আল্লাহ জাল্লা জালালুহু মূসা আলাইহিস সালাম-কে—যাঁর যুগ ছিল জাদুর যুগ—সমুদ্রকে বিদীর্ণ করা, লাঠিকে জীবন্ত ধাবমান সাপে রূপান্তর করা এবং শক্ত পাথর থেকে সুমিষ্ট পানির নহর প্রবাহিত করার মাধ্যমে সমর্থন দিয়েছিলেন।এবং তিনি ঈসা আলাইহিস সালাম-কে—যাঁর সময়কাল ছিল চিকিৎসার যুগ—জন্মান্ধ ও কুষ্ঠরোগীকে নিরাময় করা, মাটি দিয়ে পাখির অবয়ব তৈরি করা এবং তাঁর অনুমতিক্রমে মৃতকে জীবিত করার মাধ্যমে সমর্থন প্রদান করেছিলেন।অতঃপর যখন তিনি তাঁর রাসূল মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সমগ্র মানবজাতির নিকট প্রেরণ করলেন এবং তাঁকে সর্বশেষ নবী মনোনীত করলেন, তখন তাঁকে তাঁর পূর্ববর্তী রাসূলদের ন্যায় ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য অলৌকিক নিদর্শনের মাধ্যমে যেমন সমর্থন দিলেন, তেমনি তাঁকে একটি চিরন্তন বুদ্ধিভিত্তিক অলৌকিক নিদর্শনের বিশেষত্ব দান করলেন; আর তা হলো পবিত্র কুরআন অবতীর্ণ করা। যদি মানুষ এবং জিন জাতি এর অনুরূপ কিছু আনয়নের জন্য একত্রিত হয়, তবে তারা তা করতে সক্ষম হবে না এবং এর ধারেকাছেও পৌঁছাতে পারবে না, যদিও তারা একে অপরের সাহায্যকারী হয়।আর এটি এমন এক সময়ে ঘটেছিল যখন বাগ্মিতার মর্যাদা ছিল তুঙ্গে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের হৃদয়ে এর স্থান ছিল সুউচ্চ। তারা বাকপটুতা, প্রাঞ্জলতা এবং মনের গহীনের আকুতি ও অন্তরের অনুভূতি প্রকাশে অসামান্য বাকচাতুর্যের জন্য সুপরিচিত ছিল।রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁদেরকে অনবরত সেই বিষয়েই চ্যালেঞ্জ করতে থাকলেন যে বিষয়ে তারা নিজেদের সক্ষম ও পারদর্শী মনে করত। তিনি তাঁদেরকে নিরন্তর পরাভূত ও অক্ষম করতে থাকলেন এবং তাঁদের ত্রুটিসমূহ উন্মোচন করতে থাকলেন, যতক্ষণ না তারা বশীভূত ও লাঞ্ছিত হলো এবং লাঞ্ছনা তাঁদের আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরল। ফলে তাঁর অলৌকিক প্রাঞ্জলতার সামনে তারা এক কিংকর্তব্যবিমূঢ় ও বিভ্রান্তিকর অবস্থায় নিপতিত হলো।
(খণ্ড: ১)
ইজাযুল কুরআন লিল বাকিল্লানি
(পৃষ্ঠা: ৬)
وقد أدهش القرآن العرب لما سمعوه، وحير ألبابهم وعقولهم بسحر بيانه، وروعة معانيه، ودقة ائتلاف ألفاظه ومبانيه، فمنهم من آمن به ومنهم مكفر، وافترقت كلمة الكافرين على وصفه، وتباينت في نعته، فقال بعضهم، هو شعر، وقال فريق: إنه سحر، وزعمت طائفة أنه أساطير الاولين اكتتبها محمد، فهى تملى عليه بكرة وأصيلا، وذهب قوم أنه إفك افتراه وأعانه عليه قوم آخرون.وقال غير هؤلاء وهؤلاء: لو نشاء لقلنا مثل هذا.ولكنهم لم يقولوا هم ولا غيرهم لان تأليف القرآن البديع، ووصفه الغريب، ونظمه العجيب، قد أخذ عليهم منافذ البيان كلها وقطع أطماعهم في معارضته، فظلوا مقموعين مدحورين ثلاثة وعشرين عاما، يتجرعون مرارة الاخفاق، ويهطعون لقوارع التبكيت، وينغضون رؤوسهم تحت مقارع التحدي والتعيير، مع أنفتهم وعزتهم، واستكمال عدتهم وكثرة خطبائهم وشعرائهم، وشيوع البلاغة فيهم، والتهاب قلوبهم بنار عداوته، وترادف الحوافز إلى مناهضته، وعرفانهم أن معارضته بسورة واحدة أو آيات يسيرة أنقض لقوله، وأفعل في إطفاء أمره، وأنجع في تحطيم دعوته، وتفريق الناس عنه - من مناجزته، ونصبهم الحرب له، وإخطارهم بأرواحهم وأموالهم، وخروجهم عن أوطانهم وديارهم.وقد ندب الله المسلمين إلى تلاوة القرآن، وقراءة ما تيسر منه، وحضهم على ادكار معانيه، وتدبر أغراضه ومراميه، ليهتدوا ببصائره وهداه، وليستضيئوا بأنواره في الحياة، حتى تكون كلمتهم فيها هي العليا، وكلمة الذين كفروا السفلى.فأقبل عليه علماؤهم يتدبرونه ويفسرونه، ويجلون آياته على أعين الناس لعلهم يشهدون ما فيها من المنافع لهم، فيأتمروا حيث أمر، وينتهوا حيث زجر.وأقبل عليه غيرهم، من أعدائه وأعدائهم، فاتبعوا ما تشابه من آيه ابتغاء الفتنة بتأويلها، وتحريف كلمه عن مواضعها، وخيلت لهم أفهامهم الكليلة، وأذهانهم العليلة، أن في نظمه فسادا، وفى أسلوبه لحنا، وفى معانيه تناقضا، وفى نقله اضطرابا، فنفوا عنه صفة الاعجاز، وسددوا نحوه المطاعن، وبثوا حوله الشكوك.وكان الناجمون الاولون منهم يخافتون بأقوالهم، ويجمجمون بآرائهم، ويستخفون بمذاهبهم
আরবগণ যখন কুরআন শ্রবণ করল, তখন তা তাদের বিস্ময়াভিভূত করল এবং এর বাগ্মিতার জাদু, অর্থের চমৎকারিত্ব এবং শব্দ ও কাঠামোর সূক্ষ্ম সমন্বয়ের মাধ্যমে তাদের বুদ্ধিবৃত্তি ও চেতনাকে কিংকর্তব্যবিমূঢ় করে দিল। ফলে তাদের মধ্যে কেউ এর প্রতি ঈমান আনল, আবার কেউ কুফরি করল। কাফিরদের বক্তব্য এর বর্ণনার ক্ষেত্রে বিভিন্ন ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ল এবং এর গুণাবলি বর্ণনায় তারা ভিন্ন ভিন্ন মত পোষণ করল। তাদের কেউ বলল, এটি কবিতা; একটি দল বলল, এটি জাদু; এক গোষ্ঠী দাবি করল যে, এগুলো প্রাচীনদের উপকথা যা মুহাম্মাদ লিখে নিয়েছেন এবং এগুলো সকাল-সন্ধ্যায় তার নিকট পাঠ করা হয়; আর এক সম্প্রদায় মনে করল যে, এটি একটি মিথ্যা যা তিনি নিজে উদ্ভাবন করেছেন এবং অন্য এক সম্প্রদায় তাকে এতে সাহায্য করেছে।এরা এবং ওরা ছাড়া আরও অনেকে বলল: আমরা চাইলে এর মতো বলতে পারতাম।কিন্তু তারা বা অন্য কেউ তা বলতে পারেনি। কারণ কুরআনের এই অপূর্ব রচনাশৈলী, এর অনন্য বৈশিষ্ট্য এবং এর বিস্ময়কর বিন্যাস তাদের বাগ্মিতার সকল পথ রুদ্ধ করে দিয়েছিল এবং এর বিরোধিতার ক্ষেত্রে তাদের সকল আকাঙ্ক্ষাকে ছিন্ন করে দিয়েছিল। ফলে দীর্ঘ তেইশ বছর যাবত তারা নিগৃহীত ও বিতাড়িত অবস্থায় রইল। তারা ব্যর্থতার তিক্ততা আস্বাদন করছিল, তিরস্কারের কঠোরতায় ম্রিয়মাণ হচ্ছিল এবং চ্যালেঞ্জ ও নিন্দার কশাঘাতে মাথা নিচু করে ছিল। অথচ তাদের আত্মমর্যাদা ও সম্মান ছিল তুঙ্গে, তাদের সরঞ্জামের কোনো কমতি ছিল না, তাদের মধ্যে ছিল বহু বাগ্মী ও কবি, তাদের মাঝে অলঙ্কারশাস্ত্রের ব্যাপক প্রচলন ছিল এবং তাদের অন্তরসমূহ এর শত্রুতার আগুনে প্রজ্বলিত ছিল। এর মোকাবিলায় তাদের উদ্দীপকসমূহ ছিল একের পর এক ধাবমান। তারা জানত যে, মাত্র একটি সূরা বা সামান্য কয়েকটি আয়াতের মাধ্যমে এর মোকাবিলা করা—তার দাবির খণ্ডন, তার মিশনকে স্তিমিত করা, তার দাওয়াতকে চূর্ণ করা এবং তার কাছ থেকে মানুষকে দূরে সরিয়ে দেওয়ার জন্য যুদ্ধের ময়দানে অবতীর্ণ হওয়া, জান-মালের ঝুঁকি নেওয়া এবং জন্মভূমি ও ঘরবাড়ি ত্যাগ করার চেয়ে অনেক বেশি কার্যকর ও ফলপ্রসূ ছিল।আল্লাহ মুসলিমদের কুরআন তিলাওয়াত করতে এবং এর মধ্য থেকে যা সহজসাধ্য তা পাঠ করতে উদ্বুদ্ধ করেছেন। তিনি এর অর্থসমূহ অনুধাবন করতে এবং এর উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য নিয়ে গবেষণা করতে উৎসাহিত করেছেন, যাতে তারা এর অন্তর্দৃষ্টি ও হেদায়েতের মাধ্যমে পথ পেতে পারে এবং জীবনে এর নূরের মাধ্যমে আলোকপ্রাপ্ত হতে পারে। ফলে এই পৃথিবীতে তাদের বাক্যই হবে সুউচ্চ এবং কাফিরদের বাক্য হবে অতি হীন।সুতরাং আলেমগণ এর প্রতি মনোনিবেশ করলেন, তাঁরা এটি নিয়ে গবেষণা ও এর ব্যাখ্যা প্রদান করতে লাগলেন এবং মানুষের চোখের সামনে এর আয়াতসমূহকে সুস্পষ্ট করলেন, যাতে তারা এর মধ্যে বিদ্যমান তাদের জন্য কল্যাণসমূহ প্রত্যক্ষ করতে পারে; ফলে যেখানে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তা পালন করবে এবং যেখান থেকে নিষেধ করা হয়েছে তা থেকে বিরত থাকবে।আবার তাদের ও মুসলমানদের শত্রুদের মধ্য থেকে অন্যরাও এর দিকে অগ্রসর হলো। তারা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে এবং এর বাণীসমূহকে তার সঠিক স্থান থেকে বিচ্যুত করার লক্ষ্যে এর সাদৃশ্যপূর্ণ আয়াতসমূহের অনুসরণ করল। তাদের স্থবির বুদ্ধি ও রুগ্ন মস্তিষ্ক তাদের নিকট এটি কল্পনা করাল যে, এর বিন্যাসে ত্রুটি আছে, এর শৈলীতে ব্যাকরণগত ভুল রয়েছে, এর অর্থে বৈপরীত্য বিদ্যমান এবং এর বর্ণনায় বিশৃঙ্খলা আছে। ফলে তারা এর থেকে অলৌকিকত্বের গুণকে অস্বীকার করল, এর দিকে বিদ্ধ করল নানাবিধ অপবাদ এবং এর চতুর্দিকে সন্দেহ ছড়িয়ে দিল।তাদের মধ্যে প্রথম সারির যারা আত্মপ্রকাশ করেছিল, তারা তাদের বক্তব্যসমূহ অতি গোপনে বলত, তাদের মতামত নিয়ে সংশয়ে থাকত এবং তাদের পথ ও মতাদর্শকে লুকিয়ে রাখত।
(খণ্ড: ১)
ইজাযুল কুরআন লিল বাকিল্লানি
(পৃষ্ঠা: ৭)
ويصطنعون الحذر والدهاء في كل ما يأتون وما يذرون، خوفا من بطش الخلفاءالراشدين، ومن تلاهم من خلفاء الامويين.وخلف من بعد هؤلاء خلف كانوا أكثر ثقافة، وأعزر علما، وأحسن بيانا فأصحروا بآرائهم، وجاهروا بمعتقداتهم، وبثوا شكوكهم في المجالس والاندية، وسطروها في الكتب والرسائل التى أسرفوا في تحسينها، وبالغوا في تزيينها، وغالوا في انتقاء ورقها ومدادها واستجادة خطها، ليحسن وقعها في الانظار، وتصبو إليها أنفس القراء.وقد ساعدهم على جهرهم هذا ومكن لهم منه، تبدل الزمان وتغير الحال، بتسامح الخلفاء في غير ما يمس سلطانهم ويعرض لدولتهم، وامتلاك غير العرب لزمام الامور في الدولة، وانتشار الكتب المترجمة، وازدياد اتصال العرب بغيرهم من أهل المذاهب والنحل الاخرى، وكثرة الجدال بين المذاهب الاسلامية، واشتعال نار العداوة بين الفرق الكلامية ولما كثرت المطاعن في القرآن، وأوشكت الشبهات أن تأخذ سبيلها إلى نفوس الاغرار والاحداث -: نهض فريق من العلماء يدرءون عنه، وينافحون دونه ويرمون من ورائه بالحجج النيرة، والادلة الواقعة، فشرعوا أقلامهم لتأليف الكتب والرسائل في الرد عليهم، وتبيين مفترياتهم.وفى طليعة هؤلاء أبو محمد عبد الله ابن مسلم بن قتيبة الدينورى، فقد عمد إلى مطاعنهم فيه فجمعها، ثم كر عليها بالنقض في كتابه الجليل: " تأويل مشكل القرآن " وكانت مسألة الاعجاز من أبرز المسائل التى تعاورها العلماء بالبحث في أثناء تفسيرهم للقرآن، وردهم على منكري النبوة، وخوضهم في علم الكلام، كعلى بن ربن كاتب المتوكل في كتاب: " الدين والدولة " وكأبي جعفر الطبري في تفسيره: " جامع البيان عن وجوه تأويل آى القرآن " وكأبي الحسن الاشعري في " مقالات الاسلاميين " وأبى عثمان الجاحظ في كتاب: " الحجة في تثبيت النبوة "وكان علماء الاعتزال أكثر المثيرين للكلام في إعجاز القرآن، فقد ذهب النظام - من بينهم - إلى أن القرآن نفسه غير معجز، وانما كان إعجازه بالصرفة
তারা তাদের প্রতিটি পদক্ষেপে এবং বর্জনে সতর্কতা ও চতুরতা অবলম্বন করত, খুলাফায়ে রাশেদীন এবং তাদের পরবর্তী উমাইয়া খলিফাদের পাকড়াওয়ের ভয়ে।অতঃপর তাদের পরে এমন এক উত্তরসূরি আসলো যারা ছিল অধিক সংস্কৃতিমনা, জ্ঞানে সমৃদ্ধ এবং বাগ্মিতায় শ্রেষ্ঠ। তারা তাদের মতামত স্পষ্টভাবে প্রকাশ করে দিল, তাদের আকিদা-বিশ্বাসকে প্রকাশ্যে প্রচার করল এবং বিভিন্ন মজলিস ও সভাসমূহে তাদের সংশয় ছড়িয়ে দিল। তারা এগুলোকে এমন সব কিতাব ও পত্রে লিপিবদ্ধ করল যেগুলোকে সুন্দর করার ক্ষেত্রে তারা সীমাহীন প্রচেষ্টা চালিয়েছিল, এগুলোকে সুসজ্জিত করার ক্ষেত্রে অতিরঞ্জন করেছিল এবং এগুলোর কাগজ ও কালি নির্বাচন এবং হস্তাক্ষরের উৎকর্ষ সাধনে বাড়াবাড়ি করেছিল, যাতে এগুলো দৃষ্টির নিকট মনোরম হয় এবং পাঠকদের মন সেগুলোর প্রতি আকৃষ্ট হয়।তাদের এই প্রকাশ্য প্রচারণার ক্ষেত্রে যা সাহায্য ও সুযোগ করে দিয়েছিল তা হলো—যুগের পরিবর্তন এবং পরিস্থিতির রূপান্তর; খলিফাদের সেই সমস্ত বিষয়ে সহনশীলতা যা তাদের শাসনক্ষমতাকে স্পর্শ করে না বা তাদের রাষ্ট্রের ক্ষতি করে না, অনারবদের রাষ্ট্রের শাসনক্ষমতা দখল, অনূদিত কিতাবসমূহের প্রসার, অন্যান্য মাযহাব ও মতাদর্শের অনুসারীদের সাথে আরবদের যোগাযোগ বৃদ্ধি, ইসলামী মাযহাবসমূহের মধ্যে তর্কের আধিক্য এবং কালামী ফিরকাগুলোর মধ্যে শত্রুতার আগুন জ্বলে ওঠা। আর যখন কুরআনের বিরুদ্ধে অপবাদ ও নিন্দা বেড়ে গেল এবং সংশয়গুলো অনভিজ্ঞ ও অল্পবয়স্কদের মনে জায়গা করে নেওয়ার উপক্রম হলো, তখন একদল আলিম তা প্রতিহত করতে এবং তার পক্ষাবলম্বন করতে এগিয়ে আসলেন। তারা উজ্জ্বল দলিল ও অকাট্য প্রমাণের মাধ্যমে একে রক্ষা করতে লাগলেন এবং তাদের খণ্ডন করতে ও তাদের মিথ্যাচারগুলো স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে কিতাব ও পত্র রচনার জন্য কলম ধরলেন।তাদের অগ্রভাগে ছিলেন আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ ইবনে মুসলিম ইবনে কুতাইবা আদ-দিনাওয়ারী। তিনি কুরআনের বিরুদ্ধে তাদের উত্থাপিত অভিযোগগুলো সংগ্রহ করার উদ্যোগ নিলেন এবং এরপর তার মহান গ্রন্থ: "তাউইলু মুশকিিলল কুরআন"-এ সেগুলো খণ্ডন করলেন। কুরআন সংলগ্ন অলৌকিকত্বের (ই’জায) বিষয়টি ছিল অন্যতম প্রধান বিষয় যা আলিমগণ কুরআনের তাফসীর করার সময়, নবুওয়াত অস্বীকারকারীদের জবাব দেওয়ার সময় এবং ইলমে কালাম চর্চার সময় বিশদভাবে আলোচনা করেছেন। যেমন মুতাওয়াক্কিলের লেখক আলী বিন রাব্বান তার "আদ-দীন ওয়াদ-দাওলা" কিতাবে, আবু জাফর তাবারী তার তাফসীর "জামি’উল বয়ান আন উজুহি তাউইলি আয়িল কুরআন"-এ, আবুল হাসান আল-আশ’আরী তার "মাকালাতুল ইসলামিয়্যিন"-এ এবং আবু উসমান আল-জাহিজ তার "আল-হুজ্জাতু ফী তাসবীতিন নুবুওয়াহ" কিতাবে আলোচনা করেছেন।মু’তাযিলা আলিমগণই কুরআনের অলৌকিকত্ব সম্পর্কে আলোচনার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি উৎসাহী ছিলেন। তাদের মধ্যে আন্-নাজ্জাম এই মত পোষণ করতেন যে, কুরআন নিজেই অলৌকিক নয়, বরং এর অলৌকিকত্ব হলো "সরফা" (অর্থাৎ ঐশীভাবে মানুষের সক্ষমতাকে সরিয়ে দেওয়া) এর মাধ্যমে।
(খণ্ড: ১)
ইজাযুল কুরআন লিল বাকিল্লানি
(পৃষ্ঠা: ৮)
وقال " ان الله ما أنزل القرآن ليكون حجة على النبوة، بل هو كسائر الكتب المنزلة لبيان الاحكام من الحلال والحرام.والعرب إنما يعارضوه، لان الله تعالى صرفهم عن ذلك، وسلب علومهم به وذهب هشام الفوطى، وعباد بن سليمان إلى أن القرآن لم يجعل علما للنبى وهو عرض من الاعراض، والاعراض لا يدل شئ منها على الله ولا على نبوة النبي.وكان ذلك وغيره من أقوال أئمتهم، منبعا غزيرا للقول في إعجاز القرآن وقد انبرى كثير منهم للرد على من أنكر إعجازه جملة، كأبى الحسين الخياط وأبى على الجبائى، اللذين نقضا على " ابن الراوندي " كتابه " الدامع " الذى طعن فيه على نظم القرآن وما يحتويه من المعاني، وقال: إن فيه سفها وكذبا وكذلك رد كثير منهم على من خالف عن قول جماعتهم: بأن تأليف القرآن ونظمه معجز، وأنه علم لرسول الله صلى الله عليه وسلم، كالجاحظ الذى رد على النظام رأيه في الصرفة، في كتاب: " نظم القرآن ".ألف الجاحظ كتابه في الاحتجاج لنظم القرآن وغريب تأليفه، وبديع تركيبه، على حد قوله في مقدمة كتاب الحيوان.وهو من كتبه الضائعة.وقد أشار إليه الباقلانى في إعجاز القرآن، إذ يقول ص 7: " وقد صنف الجاحظ في نظم القرآن كتابا لم يزد فيه على ما قاله المتكلمون قبله، ولم يكشف عما يلتبس في أكثر هذا المعنى " وأخشى أن يكون الباقلانى قد حاف في حكمه على نظم القرآن، وحملته العصبية المذهبية على تنقصه.فقد وصف الجاحظ نظم القرآن في كتابه " حجج النبوة "حيث يقول في صفحة 147 مخاطبا من كتب له الكتاب: " وفهمت - حفظك الله - كتابك الاول، وما حثثت عليه من تبادل العلم، والتعاون على البحث والتحاب في الدين، والنصيحة لجميع المسلمين.وقلت اكتب إلى كتابا تقصد فيه إلى حاجات النفوس، وإلى صلاح القلوب، وإلى معتلجات الشكوك وخواطر الشبهات، دون الذى عليه أكثر المتكلمين من التطويل،.ومن التعمق والتعقيد، ومن تكلف ما لا يجب، وإضاعة ما يجب.وقلت: كن كالمعلم اللوحة رقم: 1 عنوان نسخة المتحف البريطاني المرموز لها بحرف: م اللوحتان: 2، 3 الصفحتان الاولى والاخيرة من نسخة المتحف البريطاني المرموز لها بحرف: م اللوحة: 4 عنوان نسخة كوبريللى المرموز لها بحرف: ك اللوحة: 5 الصفحة الاولى من نسخة كوبر يللى المرموز لها بحرف: ك اللوحة: 6 آخر صفحة من نسخة كوبر يللى المرموز لها بحرف: ك اللوحة: 7الصفحة الاخيرة من نسخة الاسكوريال المرموز لها بحرف: 1
এবং তিনি বলেছেন, "নিশ্চয়ই আল্লাহ কুরআনকে নবুওয়াতের প্রমাণ হিসেবে অবতীর্ণ করেননি, বরং এটি হালাল ও হারামের বিধান বর্ণনার জন্য অবতীর্ণ অন্যান্য আসমানি কিতাবের মতোই।"আর আরবরা কেবল এ কারণেই এর মোকাবিলা করতে সক্ষম হয়নি যে, আল্লাহ তায়ালা তাদেরকে তা থেকে বিমুখ করে রেখেছিলেন এবং তাদের থেকে এর জ্ঞান ছিনিয়ে নিয়েছিলেন। হিশাম আল-ফুওয়াতী এবং আব্বাদ ইবনে সুলাইমান এই মত পোষণ করেছেন যে, কুরআনকে নবীর জন্য কোনো নিদর্শন হিসেবে নির্ধারণ করা হয়নি; বরং এটি একটি ক্ষণস্থায়ী গুণ মাত্র, আর গুণাবলির কোনোটিই আল্লাহ বা নবীর নবুওয়াতের ওপর প্রমাণ পেশ করে না।তাদের এবং তাদের ইমামদের অন্যান্য বক্তব্য কুরআনের অলৌকিকত্ব (ই’জায) বিষয়ে আলোচনার এক সমৃদ্ধ উৎসে পরিণত হয়েছিল। তাদের মধ্যে অনেকেই পূর্ণাঙ্গভাবে কুরআনের অলৌকিকত্ব অস্বীকারকারীদের খণ্ডন করতে এগিয়ে এসেছিলেন, যেমন আবুল হুসাইন আল-খাইয়াত এবং আবু আলী আল-জুব্বায়ী; তারা ইবনুল রাওয়ান্দির 'আদ-দামি' গ্রন্থের সমালোচনা ও খণ্ডন করেছিলেন, যেখানে তিনি কুরআনের বিন্যাস এবং এর অন্তর্গত অর্থের ওপর আক্রমণ করেছিলেন এবং বলেছিলেন যে এতে মূর্খতা ও মিথ্যা রয়েছে। একইভাবে তাদের অনেকে তাদের জামাআতের মতের বিরোধিতাকারীদেরও জবাব দিয়েছেন, যারা মনে করত যে কুরআনের সংকলন ও বিন্যাস অলৌকিক এবং এটি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নবুওয়াতের নিদর্শন। যেমন আল-জাহিজ তার 'নাজমুল কুরআন' গ্রন্থে 'সারফা' (বিমুখকরণ) বিষয়ে আন-নাজ্জামের মতের প্রতিবাদ করেছেন।আল-জাহিজ কুরআনের বিন্যাস, এর অপূর্ব রচনাশৈলী এবং চমৎকার কাঠামোর স্বপক্ষে দালিলিক প্রমাণের উদ্দেশ্যে তার গ্রন্থটি রচনা করেছেন, যেমনটি তিনি তার 'কিতাবুল হাইওয়ান'-এর ভূমিকায় উল্লেখ করেছেন।আর এটি তার হারিয়ে যাওয়া গ্রন্থগুলোর অন্যতম।আল-বাকিল্লানি তার 'ই’জাযুল কুরআন' গ্রন্থে এর প্রতি ইঙ্গিত করেছেন; তিনি ৭ম পৃষ্ঠায় বলেন: "জাহিজ কুরআনের বিন্যাস বিষয়ে একটি গ্রন্থ রচনা করেছেন, কিন্তু তাতে তিনি তার পূর্ববর্তী কালাম শাস্ত্রবিদদের কথার বাইরে নতুন কিছু যোগ করেননি এবং এই বিষয়ের অধিকাংশ অস্পষ্টতা উন্মোচন করতে পারেননি।" আমি আশঙ্কা করি যে বাকিল্লানি তার 'নাজমুল কুরআন' সংক্রান্ত বিচারে অন্যায় করেছেন এবং তার মাযহাবী গোঁড়ামি তাকে আল-জাহিজের অবমূল্যায়নে প্ররোচিত করেছে।আল-জাহিজ তার 'হুজাজুন নবুওয়াহ' গ্রন্থে কুরআনের বিন্যাসের বর্ণনা দিয়েছেন—সেখানে তিনি ১৪৭ পৃষ্ঠায় যার উদ্দেশ্যে বইটি লিখেছেন তাকে সম্বোধন করে বলেন: "আমি আপনার প্রথম পত্রটি বুঝতে পেরেছি—আল্লাহ আপনাকে হেফাযত করুন—এবং আপনি জ্ঞান বিনিময়, গবেষণায় সহযোগিতা, দ্বীনের খাতিরে একে অপরকে ভালোবাসা এবং সকল মুসলমানের প্রতি সদুপদেশের যে তাগিদ দিয়েছেন তা অবগত হয়েছি।আর আপনি আমাকে এমন একটি কিতাব লিখতে বলেছেন যাতে আপনি মানুষের মনের প্রয়োজন, অন্তরের সংশোধন এবং সংশয় ও সন্দেহের দোলাচল দূর করার উদ্দেশ্য ব্যক্ত করেছেন, যা অধিকাংশ কালাম শাস্ত্রবিদদের দীর্ঘসূত্রিতা থেকে মুক্ত থাকবে—এবং যা গভীর জটিলতা, অপ্রয়োজনীয় বিষয়ের বোঝা চাপানো এবং আবশ্যকীয় বিষয় নষ্ট করা থেকে মুক্ত থাকবে।আর আপনি বলেছেন: আপনি একজন শিক্ষকের মতো হোন। চিত্র নম্বর: ১, ব্রিটিশ মিউজিয়াম পাণ্ডুলিপির শিরোনাম, যা 'মীম' অক্ষর দ্বারা চিহ্নিত। চিত্র: ২, ৩, ব্রিটিশ মিউজিয়াম পাণ্ডুলিপির প্রথম ও শেষ পৃষ্ঠা, যা 'মীম' অক্ষর দ্বারা চিহ্নিত। চিত্র: ৪, কোপরুলু পাণ্ডুলিপির শিরোনাম, যা 'কাফ' অক্ষর দ্বারা চিহ্নিত। চিত্র: ৫, কোপরুলু পাণ্ডুলিপির প্রথম পৃষ্ঠা, যা 'কাফ' অক্ষর দ্বারা চিহ্নিত। চিত্র: ৬, কোপরুলু পাণ্ডুলিপির শেষ পৃষ্ঠা, যা 'কাফ' অক্ষর দ্বারা চিহ্নিত। চিত্র: ৭এসকোরিয়াল পাণ্ডুলিপির শেষ পৃষ্ঠা, যা '১' দ্বারা চিহ্নিত।
(খণ্ড: ১)
ইজাযুল কুরআন লিল বাকিল্লানি
(পৃষ্ঠা: ৯)
الرفيق، والمعالج الشفيق الذى يعرف الداء وسببه، والدواء وموقعه، ويصبر على طول العلاج، ولا يسأم كثرة التردد.وقلت: اجعل تجارتك التى إياها تؤمل، وصناعتك التى إياها تعتمد - إصلاح الفاسد، ورد الشارد.وقلت: ولابد من استجماع الاصول، ومن استيفاء الفروع، ومن حسم كل خاطر، وقمع كل ناجم، وصرف كل هاجس، ودفع كل شاغل، حتى تتمكن من الحجة، وتتهنأ بالنعمة، وتجد رائحة الكفاية، وتثلج ببرد اليقين، وتفضي إلى حقيقة الامر.وقلت: ابدأ بالاخف فالاخف، وبكل ما كان آنق في السمع وأحلى في الصدور، وبالباب الذى يؤتى منه الريض المتكلف، والجسور المتعجرف، وبكل ما كان أكثر علما، وأنفذ كيدا..فكتبت لك كتابا أجهدت فيه نفسي، وبلغت منه أقصى ما يمكن مثلى في الاحتجاج للقرآن، والرد على كل طعان، فلم أدع فيه مسألة لرافضي ولا لحديثي، ولا لحشوى، ولا لكافر مباد، ولا لمنافق مقموع، ولا لاصحاب " النظام " ولمن نجم بعد " النظام " ممن يزعم: أن القرآن حق وليس تأليفه بحجة، وأنه تنزيل وليس ببرهان ولا دلالة، فلما طننت أنى قد بلغت أقصى محبتك، وأتيت على معنى صفتك - أتانى كتابك تذكر أنك لم ترد الاحتجاج لنظم القرآن، وإنما أردت الاحتجاج لخلق القرآن وكانت مسألتك مبهمة فكتبت لك أشق الكتابين وأثقلهما، وأغمضهما معنى، وأطولهما طولا.." ولست أعرف نقلا عن كتاب: " نظم القرآن " ولا حديثا عنه، ولا وصفا له غير وصف الجاحظ هذا، وأحسبه فيه من الصادقين وقد قلد الجاحظ في هذه التسمية أبو بكر: عبد الله بن أبى داود السجستاني،المتوفى سنة 316 في كتابه: " نظم القرآن ".وأبو زيد البلخى: أحمد بن سليمان، المتوفى سنة 322 هـ قال أبو حيان في كتاب " البصائر والذخائر ": قال أبو حامد القاضى: لم أر كتابا في القرآن مثل كتاب لابي زيد البلخى، وكان فاضلا يذهب في رأى الفلاسفة، لكنه تكلم في القرآن بكلام لطيف دقيق في مواضع، وأخرج سرائره وسماه: " نظم القرآن " ولم يأت على جميع المعاني فيه.
বন্ধু এবং সেই দয়ালু চিকিৎসক, যিনি রোগ ও তার কারণ এবং ঔষধ ও তার প্রয়োগস্থল সম্পর্কে জানেন, আর চিকিৎসার দীর্ঘসূত্রতায় ধৈর্য ধারণ করেন এবং বারবার যাতায়াতে ক্লান্ত হন না।আর আমি বলেছি: তোমার কাঙ্ক্ষিত ব্যবসা এবং তোমার নির্ভরযোগ্য পেশা হিসেবে গ্রহণ করো—বিপথগামীদের সংশোধন এবং বিচ্যুতদের ফিরিয়ে আনাকে।আর আমি বলেছি: মূলনীতিসমূহ একত্রিত করা, শাখাসমূহ পূর্ণ করা, প্রতিটি সংশয় দূর করা, প্রতিটি উদীয়মান ফেতনা দমন করা, প্রতিটি কুমন্ত্রণা সরিয়ে দেওয়া এবং প্রতিটি অন্তরায় প্রতিহত করা অপরিহার্য; যাতে তুমি অকাট্য প্রমাণের ওপর সক্ষম হও, নেয়ামতের স্বাদ আস্বাদন করো, পরিতৃপ্তির সুবাস পাও, দৃঢ় বিশ্বাসের প্রশান্তিতে সিক্ত হও এবং বিষয়ের প্রকৃত হাকিকতে পৌঁছাতে পারো।আর আমি বলেছি: সহজ থেকে সহজতর বিষয় দিয়ে শুরু করো, যা শ্রবণে মনোরম এবং অন্তরে অধিক মিষ্ট লাগে; এবং এমন পথ ধরো যা দিয়ে নমনীয় মানুষ ও উদ্ধত সাহসী ব্যক্তি উভয়ই প্রভাবিত হয়। আর যা অধিক জ্ঞানসমৃদ্ধ এবং অত্যন্ত কুশলী কৌশল সম্পন্ন। অতঃপর আমি তোমার জন্য একটি কিতাব রচনা করলাম, যাতে আমি জানপ্রাণ দিয়ে চেষ্টা করেছি এবং আমার মতো মানুষের পক্ষে কুরআনের সপক্ষে দলিল উপস্থাপন ও প্রত্যেক নিন্দাকারীর প্রতিবাদে যা করা সম্ভব তার সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছেছি। এতে আমি রাফেজি, মুহাদ্দিস, হাশাউয়ি, প্রকাশ্য কাফের, অবদমিত মুনাফিক কিংবা ‘নাজ্জাম’-এর অনুসারী এবং নাজ্জামের পরে আবির্ভূত এমন ব্যক্তিদের কোনো অমীমাংসিত মাসয়ালা বাকি রাখিনি যারা দাবি করে যে: কুরআন সত্য, কিন্তু এর বিন্যাস কোনো দলিল নয়, এবং এটি অবতীর্ণ সত্য কিন্তু এতে কোনো প্রমাণ বা নিদর্শন নেই। যখন আমি মনে করলাম যে আমি তোমার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছেছি এবং তোমার বর্ণনার অর্থ পূর্ণ করেছি, তখন তোমার চিঠি এলো যাতে তুমি উল্লেখ করেছ যে তুমি ‘নাজমুল কুরআন’ (কুরআনের বিন্যাস) সম্পর্কে দলিল চাওনি, বরং তুমি ‘খালকুল কুরআন’ (কুরআনের সৃষ্টিতত্ত্ব) সম্পর্কে দলিল চেয়েছিলে। তোমার প্রশ্নটি অস্পষ্ট ছিল, তাই আমি তোমার জন্য সেই দুটি কিতাবের মধ্যে অধিকতর কঠিন, ভারী, সূক্ষ্ম অর্থবহ এবং দীর্ঘতর কিতাবটি লিখেছিলাম। আমি ‘নাজমুল কুরআন’ কিতাবটি সম্পর্কে জাহিজের এই বর্ণনা ছাড়া অন্য কোনো বর্ণনা বা আলোচনার কথা জানি না এবং আমি তাকে এক্ষেত্রে সত্যবাদী বলে মনে করি। আর আবু বকর আব্দুল্লাহ ইবনে আবি দাউদ আস-সিজিস্তানি এই নামকরণের ক্ষেত্রে জাহিজের অনুসরণ করেছেন,যিনি ৩১৬ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেছেন, তার ‘নাজমুল কুরআন’ কিতাবে।এবং আবু যায়েদ আল-বালখি: আহমদ ইবনে সুলাইমান, যিনি ৩২২ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেছেন। আবু হাইয়ান ‘আল-বাসায়ির ওয়াজ জাখায়ির’ কিতাবে বলেছেন: কাজী আবু হামিদ বলেছেন: আমি কুরআনের বিষয়ে আবু যায়েদ আল-বালখির কিতাবের মতো অন্য কোনো কিতাব দেখিনি। তিনি একজন বিদ্বান ব্যক্তি ছিলেন যিনি দার্শনিকদের মতাদর্শ অনুসরণ করতেন; তবে তিনি কুরআনের বিভিন্ন স্থানে অত্যন্ত চমৎকার ও সূক্ষ্ম আলোচনা করেছেন এবং এর রহস্যগুলো উন্মোচন করেছেন। তিনি এর নাম রেখেছেন ‘নাজমুল কুরআন’, যদিও তিনি এতে সমস্ত অর্থ অন্তর্ভুক্ত করতে পারেননি।
(খণ্ড: ১)
ইজাযুল কুরআন লিল বাকিল্লানি
(পৃষ্ঠা: ১০)
وكذلك أبو بكر: أحمد بن على، المعروف بابن الاخشيد، المعتزلي، المتوفى سنة 36 هـ، فإنه قد ألف كتابا أسماه: " نظم القرآن ".وأول كتاب علمناه، يشتمل عنوانه على كلمة الاعجاز هو كتاب: " إعجاز القرآن في نظمه وتأليفه " لابي عبد الله: محمد بن يزيد الواسطي، المعتزلي، المتوفى سنة 306 هـ.وهو من الكتب التى لا نعرف عنها غير أسمائها المجردة.وقد بقى من الكتب المؤلفة في القرن الرابع عن إعجاز القرآن، ثلاثة كتب.أولها: كتاب الرماني، وثانيها: كتاب الخطابى، وثالثها: كتاب الباقلانى.وهى التى نعرض لها بالبيان والتحليل، فيما يلى: إعجاز القرآن للرماني: ولد أبو الحسن: على بن عيسى الرماني المعتزلي في سنة 276، ومات سنة 384 وكان يعرف أيضا بالاخشيدى، نسبة إلى أستاذه ابن الاخشيد، وبالوراق، لانه كان يحترف الوراقة.وقال عنه ياقوت في معجم الادباء 24 / 74: " كان إماما في علم العربية، علامة في الادب، في طبقة أبى على الفارسى، وأبى سعيد السيرافى وله تصانيف في جميع العلوم: من النحو واللغة والنجوم والفقه والكلام، على رأى المعتزلة.وكان يمزج كلامه في النحو بالمنطق، حتى قال أبو على الفارسى: إنكان النحو ما يقوله الرماني فليس معنا منه شئ، وإن كان ما نقوله نحن، فليس معه منه شئ ".وقال عنه أبو حيان التوحيدي في الامتاع والمؤانسة 1 / 133: " وأما على بن عيسى فعالى الرتبة في النحو واللغة والكلام والعروض والمنطق، وعيب به، لانه لم يسلك طريق واضح المنطق، بل أفرد صناعة، وأظهر براعة وقد عمل في القرآن كتابا نفيسا.هذا مع الدين الثخين، والعقل الرصين " وقال عنه في تقريظ الجاحظ، كما قال ياقوت، في معجم الادباء 14 / 76 -: " لم ير مثله قط..علما بالنحو، وغرازة في الكلام، وبصرا بالمقالات، واستخراجا للعويص، وإيضاحا للمشكل، مع تأله وتنزه ودين ويقين، وفصاحة وفقاهة وعفافة ونظافة "
তেমনিভাবে আবু বকর: আহমদ বিন আলী, যিনি ইবনুল আখশীদ নামে পরিচিত, মুতাজিলি, মৃত্যু ৩৬ হিজরি, তিনি একটি গ্রন্থ রচনা করেছেন যার নাম দিয়েছেন: "নাযমুল কুরআন" (কুরআনের বিন্যাস)।আর আমরা জানি এমন প্রথম গ্রন্থ, যার শিরোনামে 'ইজায' (অলৌকিকত্ব) শব্দটি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, তা হলো আবু আব্দুল্লাহ: মুহাম্মদ বিন ইয়াযিদ আল-ওয়াসিতী আল-মুতাজিলি (মৃত্যু ৩০৬ হিজরি) রচিত "ইজাযুল কুরআন ফী নাযমিহি ওয়া তালিফিহি" (কুরআনের বিন্যাস ও রচনার অলৌকিকত্ব)।এটি এমন সব গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত যেগুলোর কেবল নাম ছাড়া আমাদের আর কিছুই জানা নেই।চতুর্থ শতাব্দীতে কুরআনের অলৌকিকত্ব (ইজায) বিষয়ে রচিত গ্রন্থগুলোর মধ্যে তিনটি গ্রন্থ অবশিষ্ট রয়েছে।এর প্রথমটি হলো: আল-রুমানীর গ্রন্থ, দ্বিতীয়টি: আল-খাত্তাবীর গ্রন্থ এবং তৃতীয়টি: আল-বাকিলানীর গ্রন্থ।এ গ্রন্থগুলোই আমরা নিম্নে ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণের জন্য পেশ করছি: আল-রুমানীর ইজাযুল কুরআন: আবুল হাসান আলী বিন ঈসা আল-রুমানী আল-মুতাজিলি ২৭৬ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৩৮৪ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি তার উস্তাদ ইবনুল আখশীদের নিসবত অনুযায়ী 'আল-আখশীদী' নামেও পরিচিত ছিলেন, এবং 'আল-ওয়াররাক' নামেও খ্যাত ছিলেন, কারণ তিনি পাণ্ডুলিপি অনুলিপি ও বাণিজ্যের পেশায় নিয়োজিত ছিলেন।ইয়াকুত আল-হামাভী 'মুজামুল উদাবা' (২৪/৭৪) গ্রন্থে তার সম্পর্কে বলেছেন: "তিনি ছিলেন আরবি ব্যাকরণ শাস্ত্রে একজন ইমাম, সাহিত্যে মহা-বিদ্বান; তিনি আবু আলী আল-ফারিসী এবং আবু সাঈদ আল-সিরাফীর সমপর্যায়ের ছিলেন। মুতাজিলি মতাদর্শ অনুযায়ী নাহু (ব্যাকরণ), লুগাত (ভাষা), জ্যোতির্বিজ্ঞান, ফিকহ এবং ইলমুল কালাম সহ সকল বিদ্যায় তার রচনা রয়েছে।তিনি নাহু (ব্যাকরণ) বিষয়ক আলোচনার সাথে যুক্তিশাস্ত্রের সংমিশ্রণ ঘটাতেন, এমনকি আবু আলী আল-ফারিসী বলেছেন: 'যদি নাহু তা-ই হয় যা রুমানী বলেন, তবে আমাদের কাছে নাহুর কিছুই নেই। আর আমরা যা বলি তা যদি নাহু হয়, তবে তার কাছে নাহুর কিছুই নেই'।"আবু হাইয়ান আত-তাওহিদী 'আল-ইমতা ওয়াল মুয়ানাসা' (১/১৩৩) গ্রন্থে তার সম্পর্কে বলেছেন: "আর আলী বিন ঈসার কথা বলতে গেলে, তিনি নাহু, লুগাত, কালাম, আরূয (ছন্দশাস্ত্র) এবং যুক্তিশাস্ত্রে উচ্চমর্যাদার অধিকারী ছিলেন। তবে তার সমালোচনাও করা হয়েছে, কারণ তিনি যুক্তিশাস্ত্রের সুস্পষ্ট পথ অনুসরণ করেননি, বরং একটি একক পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছেন এবং নৈপুণ্য প্রদর্শন করেছেন। তিনি কুরআন বিষয়ে একটি অমূল্য গ্রন্থ রচনা করেছেন।এর পাশাপাশি তিনি ছিলেন গভীর ধর্মপ্রাণ ও সুদৃঢ় বুদ্ধিমত্তার অধিকারী।" ইয়াকুত 'মুজামুল উদাবা' (১৪/৭৬) গ্রন্থে তার সম্পর্কে আরও বলেছেন: "তার মতো কাউকে কখনো দেখা যায়নি... নাহু শাস্ত্রে অগাধ পাণ্ডিত্য, ইলমুল কালামে প্রগাঢ়তা, বিভিন্ন মতবাদের প্রতি গভীর অন্তর্দৃষ্টি, জটিল বিষয়সমূহ উদ্ঘাটন এবং অস্পষ্ট বিষয়াবলি স্পষ্ট করার ক্ষেত্রে তিনি অনন্য ছিলেন। এর সাথে ছিল আল্লাহ-ভীরুতা, পবিত্রতা, দ্বীনদারি, ইয়াকীন (দৃঢ় বিশ্বাস), বাগ্মিতা, ফিকহী প্রজ্ঞা, চারিত্রিক নিষ্কলুষতা ও পরিচ্ছন্নতা।"
(খণ্ড: ১)
ইজাযুল কুরআন লিল বাকিল্লানি
(পৃষ্ঠা: ১১)
والكتاب النفيس الذى أشار التوحيدي إليه، هو كتاب: " الجامع لعلم القرآن " وقد ذكره الرماني في إعجاز القرآن.بدأ الرماني كتابه ببيان وجوه إعجاز القرآن، فقال: إنها تظهر من سبع جهات وهى: ترك المعارضة مع توفر الدواعى وشدة الحاجة، والتحدى للكافة والصرفة، والبلاغة، والاخبار الصادقة عن الامور المستقبلة، ونقض العادة وقياسه بكل معجزة.ثم قسم البلاغة إلى ثلاث طبقات، وقال: إن ما كان في أعلاها معجز، وهو بلاغة القرآن.ثم عرف البلاغة بأنها إيصال المعنى إلى القلب في أحسن صورة من اللفظ، وأعلاها طبقة في الحسن بلاغة القرآن.ثم قسم البلاغة إلى عشرة أقسام، وهى: الإيجاز، والتشبيه، والاستعارة، والتلاؤم، والفواصل والتجانس والتصريف، والتضمين، والمبالغة، وحسن البيان.ثم فسرها بابا بابا، على ترتيبها تفسيرا وافيا شافيا.فهو - مثلا - عند ما عرضلباب الاستعارة عرفها، وفرق بينها وبين التشبيه.ثم بين أركانها، وقال: إن كل استعارة حسنة توجب بلاغة بيان لا تنوب منابة الحقيقة، وذلك أنه لو كان يقوم مقامه كانت الحقيقة أولى به، ولم تجز الاستعارة.ثم ذكر ما جاء في القرآن من الاستعارة على جهة البلاغة، وبدأ بقول الله تعالى: (وَقَدِمْنَا إِلَى مَا عَمِلُواْ مِنْ عَمَلٍ فجعلناه هباء منثورا) ، فقال: " حقيقة،، قدمنا،، هنا: عمدنا و " قدمنا " أبلغ منه لانه يدل على أنه عاملهم معاملة القادم من سفر، لانه من أجل إمهاله لهم كمعاملة الغائب عنهم، ثم قدم فرآهم على خلاف ما أمرهم.وفى هذا تحذير من الاغترار بالامهال.والمعنى الذى يجمعهما العدل، لان العمد إلى إبطال الفاسد عدل، والقدوم أبلغ لما بينا " وجملة الآيات التى ذكرها في هذا الباب على ذلك النحو العظيم - أربع وأربعون آية.وبعد أن فرغ الرماني من تفسير أبواب البلاغة العشر، عاد إلى البيان عن الوجوه السبعة التى ذكرها في أول الكتاب، وقال: إنها مظاهر إعجاز القرآن.
আর সেই মূল্যবান গ্রন্থটি, যার প্রতি তাওহিদী ইঙ্গিত করেছেন, সেটি হলো: "আল-জামি লি-ইলমিল কুরআন"; আর রুম্মানি তাঁর "ই'জাযুল কুরআন" গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেছেন।রুম্মানি তাঁর গ্রন্থটি কুরআনের অলৌকিকত্বের (ই'জায) দিকগুলো বর্ণনার মাধ্যমে শুরু করেছেন। তিনি বলেছেন: এগুলো সাতটি দিক থেকে প্রকাশ পায়, আর সেগুলো হলো: অনুপ্রেরণা ও তীব্র প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও পাল্টা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা বর্জন করা, সবার প্রতি চ্যালেঞ্জ ও সারফাহ (বিমুখকরণ), অলঙ্কারশাস্ত্র (বালাগাত), ভবিষ্যৎ বিষয়ে সত্য সংবাদ প্রদান, প্রকৃতির স্বাভাবিক নিয়মের ব্যত্যয় এবং একে প্রতিটি মুজিযার সাথে তুলনা করা।এরপর তিনি অলঙ্কারশাস্ত্রকে (বালাগাত) তিনটি স্তরে বিভক্ত করেছেন এবং বলেছেন: এর মধ্যে যা সর্বোচ্চ স্তরে রয়েছে তা-ই অলৌকিক, আর সেটি হলো কুরআনের অলঙ্কারশৈলী।অতঃপর তিনি অলঙ্কারশাস্ত্রের সংজ্ঞা দিয়েছেন যে, শব্দের সর্বোত্তম রূপের মাধ্যমে হৃদয়ে অর্থ পৌঁছে দেওয়াই হলো অলঙ্কারশাস্ত্র; আর সৌন্দর্যের দিক থেকে এর সর্বোচ্চ স্তর হলো কুরআনের অলঙ্কারশৈলী।এরপর তিনি অলঙ্কারশাস্ত্রকে দশটি ভাগে বিভক্ত করেছেন, সেগুলো হলো: সংক্ষিপ্ততা (ইজায), উপমা (তাশবিহ), রূপক (ইস্তিয়ারা), সামঞ্জস্য (তালাউম), ছন্দান্ত বা যতি (ফাওয়াসিল), শব্দগত সাদৃশ্য (তাজান্নুস), রূপান্তর (তাসরিফ), অন্তর্ভুক্তিকরণ (তাদমিন), অতিরঞ্জন (মুবালগা) এবং বর্ণনার সৌন্দর্য (হুসনুল বায়ান)।এরপর তিনি ক্রমানুসারে প্রতিটি অধ্যায় পর্যাপ্ত ও সন্তোষজনকভাবে ব্যাখ্যা করেছেন।উদাহরণস্বরূপ, তিনি যখনরূপকের (ইস্তিয়ারা) অধ্যায়টি উপস্থাপন করেন, তখন তিনি এর সংজ্ঞা প্রদান করেন এবং রূপক ও উপমার মধ্যে পার্থক্য নিরূপণ করেন।এরপর তিনি এর স্তম্ভগুলো বর্ণনা করেন এবং বলেন: প্রতিটি উত্তম রূপক বর্ণনার এমন এক অলঙ্কারশৈলী দাবি করে যা মূল অর্থের (হাকিকাত) স্থলাভিষিক্ত হতে পারে না। কেননা যদি তা এর স্থলাভিষিক্ত হতো, তবে মূল অর্থই এর জন্য অধিক যোগ্য হতো এবং রূপকের ব্যবহার বৈধ হতো না।অতঃপর তিনি কুরআনের অলঙ্কারশৈলীর দিক থেকে রূপকের যে ব্যবহার হয়েছে তা উল্লেখ করেন এবং মহান আল্লাহর এই বাণী দিয়ে শুরু করেন: (আর তারা যা আমল করেছিল, আমি সেগুলোর দিকে অগ্রসর হলাম এবং সেগুলোকে বিক্ষিপ্ত ধূলিকণায় পরিণত করলাম)। তিনি বলেন: এখানে "আমি অগ্রসর হলাম" (কাদিমনা) শব্দের প্রকৃত অর্থ হলো: "আমি সংকল্প করলাম"; কিন্তু এখানে "কাদিমনা" শব্দটি অধিকতর অলঙ্কারপূর্ণ, কারণ এটি ইঙ্গিত দেয় যে, তিনি তাদের সাথে এমন আচরণ করেছেন যেমনটি সফর থেকে ফিরে আসা ব্যক্তি করে থাকে। কারণ তাদের অবকাশ দেওয়ার বিষয়টি ছিল তাদের থেকে অনুপস্থিত ব্যক্তির আচরণের মতো, অতঃপর তিনি আসলেন এবং তাদের এমন অবস্থায় পেলেন যা তাঁর আদেশের পরিপন্থী ছিল।আর এর মধ্যে অবকাশ পাওয়ার বিষয়ে প্রতারিত হওয়ার বিরুদ্ধে সতর্কবাণী রয়েছে।এবং যে বিষয়টি এই উভয়কে একত্রিত করে তা হলো ন্যায়বিচার; কারণ বাতিলকে ধ্বংস করার সংকল্প করা হলো ন্যায়বিচার, আর আমরা যা বর্ণনা করেছি সে কারণে "কাদিমনা" শব্দটি অধিকতর অলঙ্কারপূর্ণ। এই অধ্যায়ে তিনি এ ধরনের মহিমান্বিত মোট চুয়াল্লিশটি আয়াত উল্লেখ করেছেন।রুম্মানি অলঙ্কারশাস্ত্রের দশটি অধ্যায়ের ব্যাখ্যা শেষ করার পর, পুনরায় সেই সাতটি দিকের বর্ণনায় ফিরে যান যা তিনি গ্রন্থের শুরুতে উল্লেখ করেছিলেন এবং তিনি বলেন যে এগুলোই কুরআনের অলৌকিকত্বের বহিঃপ্রকাশ।
(খণ্ড: ১)
ইজাযুল কুরআন লিল বাকিল্লানি
(পৃষ্ঠা: ১২)
فأبان عن أوجه دلالتها على الاعجاز.ويعنينا أن نذكر هنا ما قاله عن توفر الدواعى، و " الصرفة " لما للاولى من دلالة خاصة، ولاهمية الثانية.قال: " وأما توفر الدواعى فتوجب الفعل مع الامكان لا محالة، في واحد كان أو جماعة.والدليل على ذلك أن إنسانا لو توفرت دواعيه إلى شرب الماء بحضرته، من جهة عطشه واستحسانه لشربه، وكل داع يدعو إلى مثله، وهو مع ذلك ممكن له، فلا يجوز أن لا يقع شربه منه حتى يموت عطشا لتوفر الدواعى على ما بينا.فإن لم يشربه مع توفر الدواعى له دل ذلك على عجزه عنه، فكذلك توفر الدواعى إلى المعارضة على القرآن لما لم تقع المعارضة دل ذلك على العجز عنها "وقال عن الصرفة: " وأما الصرفة فهى صرف الهمم عن المعارضة.وعلى ذلك يعتمد بعض أهل العلم في أن القرآن معجز من جهة صرف الهمم عن معارضته وذلك خارج عن العادة كخروج سائر المعجزات التى دلت على النبوة.وهذا عندنا أحد وجوه الاعجاز التى تظهر منها للعقول " وختم كتابه بالاجابة عن سؤال أورده، فقال: " فإن قيل: فلم اعتمدتم على الاحتجاج بعجز العرب دون المولدين، وهو عندكم معجز للجميع، مع أنه يوجد للمولدين من الكلام البليغ شئ كثير؟ قيل له: لان العرب كانت تقيم الاوزان والاعراب بالطباع، وليس في المولدين من يقيم الاعراب بالطباع كما يقيم الاوزان بالطباع، والعرب على البلاغة أقدر لما بينا من فطنتهم لما لم يفطن له المولدون من إقامة الاعراب بالطباع.فإذا عجزوا عن ذلك فالمولدون عنه أعجز " وقد ذهب الرماني إلى نفى السجع من القرآن، وتسمية ما فيه من ذلك فواصل لان الاسجاع عيب، والفواصل بلاغة، لان الفواصل تابعة للمعانى، وأما الاسجاع فالمعاني تابعة لها، وهو قلب ما توجبه الحكمة في الدلالة.أعجاز القرآن للخطابي: ولد أبو سليمان: حمد بن محمد بن ابراهيم بن الخطاب البستى سنة 319 وتوفى سنة 388 هـ وهو من أعلام الفكر الاسلامي في القرن الرابع الذين امتازت كتبهم
তিনি মুজিযা বা অলৌকিকত্বের ওপর এর প্রমাণের দিকগুলো স্পষ্ট করেছেন।এখানে আমাদের জন্য তাঁর সেই বক্তব্য উল্লেখ করা গুরুত্বপূর্ণ যা তিনি 'প্রেরণার প্রাচুর্য' এবং 'বিমুখীকরণ' সম্পর্কে বলেছেন; কেননা প্রথমটির একটি বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে এবং দ্বিতীয়টি অত্যন্ত গুরুত্ববহ।তিনি বলেন: "আর প্রেরণার প্রাচুর্যের বিষয়টি হলো, সামর্থ্য থাকা অবস্থায় তা অনিবার্যভাবেই কর্ম সম্পাদনে বাধ্য করে, চাই তা একজন ব্যক্তির ক্ষেত্রে হোক বা কোনো দলের ক্ষেত্রে।এর প্রমাণ হলো, কোনো মানুষের সামনে পানি উপস্থিত থাকলে এবং তার তৃষ্ণা ও পানের আকাঙ্ক্ষার কারণে যদি পান করার প্রেরণা জাগ্রত হয়, এবং এর অনুরূপ প্রতিটি প্রেরণাই যদি বিদ্যমান থাকে, আর বিষয়টি যদি তার জন্য সম্ভবপরও হয়, তবে প্রেরণা বিদ্যমান থাকা সত্ত্বেও সে তৃষ্ণায় মারা যাওয়া পর্যন্ত পানি পান করবে না—এমনটা হওয়া সম্ভব নয়, যা আমরা ব্যাখ্যা করেছি।সুতরাং যদি প্রেরণা থাকা সত্ত্বেও সে তা পান না করে, তবে তা তার অক্ষমতাকেই প্রমাণ করে। অনুরূপভাবে, কুরআনের মোকাবিলা করার জন্য প্রবল প্রেরণা থাকা সত্ত্বেও যখন কোনো মোকাবিলা সংঘটিত হয়নি, তখন তা এর মোকাবিলায় অক্ষমতাকেই প্রমাণ করে।"আর 'বিমুখীকরণ' সম্পর্কে তিনি বলেন: "বিমুখীকরণ হলো মোকাবিলা করার সংকল্প থেকে অন্তরসমূহকে ফিরিয়ে রাখা।এর ওপর ভিত্তি করেই একদল আলিম মনে করেন যে, কুরআন মুজিযা হওয়ার কারণ হলো এর মোকাবিলা করা থেকে মানুষের সংকল্পকে ফিরিয়ে রাখা; আর এই বিষয়টি অলৌকিক বা স্বভাববিরুদ্ধ, ঠিক যেমন নবুওয়াতের প্রমাণবাহী অন্যান্য মুজিযাসমূহ স্বভাববিরুদ্ধ হয়ে থাকে।আমাদের মতে এটি অলৌকিকত্বের অন্যতম একটি দিক যা বিবেক-বুদ্ধির কাছে স্পষ্ট হয়।" তিনি একটি প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার মাধ্যমে তাঁর কিতাব সমাপ্ত করেছেন। প্রশ্নটি হলো: "যদি বলা হয়: আপনারা কেন কেবল আরবদের অক্ষমতার ওপর যুক্তি পেশ করেছেন, পরবর্তী প্রজন্মের সাহিত্যিকদের ওপর নয়? অথচ আপনাদের মতে এটি সবার জন্যই অলৌকিক এবং পরবর্তী প্রজন্মের সাহিত্যিকদের মাঝেও তো অনেক উচ্চমার্গের অলঙ্কারপূর্ণ বক্তব্য পাওয়া যায়?" এর উত্তরে বলা হয়েছে: "কারণ আরবরা তাদের স্বভাবজাত প্রবৃত্তি দিয়েই ছন্দের ওজন ও ব্যাকরণগত বিশুদ্ধতা বজায় রাখত। কিন্তু পরবর্তী প্রজন্মের মাঝে এমন কেউ নেই যারা ছন্দের মতো ব্যাকরণকেও স্বভাবজাত প্রবৃত্তি দিয়ে বজায় রাখতে পারে। আর আরবরা অলঙ্কারশাস্ত্রে অধিক দক্ষ ছিল, যার কারণ আমরা বর্ণনা করেছি যে, ব্যাকরণগত শুদ্ধতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে তাদের এমন এক সহজাত প্রজ্ঞা ছিল যা পরবর্তী প্রজন্মের ছিল না।সুতরাং তারা যখন এতে অক্ষম হয়েছে, তখন পরবর্তী প্রজন্ম আরও বেশি অক্ষম।" আর ইমাম রুমানী কুরআন থেকে 'সাজ' বা গদ্যের অন্ত্যমিল অস্বীকার করেছেন এবং এর পরিবর্তে 'ফাওয়াসিল' বা বাক্যান্ত পরিভাষাটি ব্যবহার করেছেন। কারণ তাঁর মতে 'সাজ' একটি ত্রুটি, আর 'ফাওয়াসিল' হলো উচ্চতর অলঙ্কার। কেননা ফাওয়াসিল বা বাক্যান্তসমূহ অর্থের অনুগামী হয়, কিন্তু সাজ-এর ক্ষেত্রে অর্থ ছন্দের অনুগামী হয়ে পড়ে; যা প্রজ্ঞার দাবির বিপরীত।খাত্তাবীর 'ইজাজুল কুরআন': আবু সুলায়মান হামদ বিন মুহাম্মাদ বিন ইবরাহীম আল-খাত্তাবী আল-বাস্তী ৩১৯ হিজরীতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৩৮৮ হিজরীতে ইন্তেকাল করেন। তিনি চতুর্থ হিজরী শতকের ইসলামী চিন্তাধারার অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব, যাঁদের কিতাবসমূহ বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত...
(খণ্ড: ১)
ইজাযুল কুরআন লিল বাকিল্লানি
(পৃষ্ঠা: ১৩)
بغزارة المادة، وعمق الفكرة، ودقة الاستنباط وروعة البيان، وظهرت فيها شخصيتهم واضحة المعالم، بينة القسمات.ومن كتب الخطابى الجليلة: كتاب " غريب الحديث " و " معالم السنن في شرح سنن أبى داود " و " أعلام السنن في شرح البخاري " وإعجاز القرآن " وهو أصغرها حجما.بدأ الخطابى كتابه بقوله: " قد أكثر الناس الكلام في هذا الباب قديماوحديثا، وذهبوا فيه كل مذهب من القول، وما وجدناهم - بعد - صدروا عن رى، وذلك لتعذر معرفة وجه الاعجاز في القرآن، ومعرفة الامر في الوقوف على كيفيته " ثم عرض للاقوال التى قيلت قبله في وجوه الاعجاز، وبدأ برأى القائلين بأن النبي صلى الله عليه وسلم، قد تحدى العرب قاطبة بأن يأتوا بسورة من مثله فعجزوا عنه، وانقطعوا دونه.وعقب عليه بقوله: " وهذا - من وجوه ما قيل فيه - أبينها دلالة، وأيسرها مؤونة، وهو مقنع لمن لم تنازعه نفسه مطالعة كيفية وجه الاعجاز فيه.ثم ثنى برأى القائلين بأن العلة في إعجازه " الصرفة " أي صرف الهمم عن المعارضة، وإن كانت مقدورا عليها، غير معجوز عنها، إلا أن العائق من حيث كان أمرا خارجا عن مجارى العادات - صار كسائر المعجزات.وعلق عليه بقوله: " وهذا أيضا وجه قريب، إلا أن دلالة الآية تشهد بخلافه، وهى قوله سبحانه: (قل لئن اجتمعت الإنس والجن على أن يأتوا بمثل هذا القرآن لا يأتون بمثله ولو كان بعضهم لبعض ظهيرا) .فأشار في ذلك إلى أمر طريقه التكلف والاجتهاد، وسبيله التأهب والاحتشاد، والمعنى في الصرفة التى وصفوها لا يلائم هذه الصفة فدل على أن المراد غيرها " ثم ذكر رأى الطائفة التى زعمت أن إعجازه إنما هو فيما تضمنه من الاخبار عن الكوائن في مستقبل الزمان، وصدقت أقوالها مواقع أكوانها.ثم نقده بقوله: " ولا يشك في أن هذا وما أشبهه من أخباره، نوع من أنواع إعجازه، ولكنه ليس بالامر العام الموجود في كل سورة من سور القرآن.وقد جعل سبحانه في صفة كل سورة أن تكون معجزة بنفسها، لا يقدر أحد من الخلق أن يأتي بمثلها،
উপাদানের প্রাচুর্য, চিন্তার গভীরতা, উদ্ভাবনের সূক্ষ্মতা এবং বর্ণনার চমৎকারিত্বে এটি সমৃদ্ধ। এতে তাদের ব্যক্তিত্ব ও বৈশিষ্ট্যের ছাপ সুষ্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।আল-খাত্তাবীর মহান গ্রন্থসমূহের মধ্যে রয়েছে: ‘গারীবুল হাদীস’, সুনানে আবু দাউদের ব্যাখ্যাগ্রন্থ ‘মাআলিমুস সুনান’, বুখারীর ব্যাখ্যাগ্রন্থ ‘আলামুস সুনান’ এবং ‘ইজাযুল কুরআন’, যা আকারে এগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ছোট।আল-খাত্তাবী তার কিতাবটি এই কথা দিয়ে শুরু করেছেন: “অতীত এবং বর্তমানে মানুষ এই বিষয়ে অনেক কথা বলেছে এবং তারা এ ক্ষেত্রে সব ধরনের মত পোষণ করেছে। তবে আমরা তাদের দেখেছি যে, শেষ পর্যন্ত তারা কোনো তৃপ্তিদায়ক সমাধানে পৌঁছাতে পারেনি। আর এর কারণ হলো কুরআনের অলৌকিকত্বের দিকটি অনুধাবন করা এবং এর প্রকৃত ধরন উদ্ঘাটন করার দুরূহতা।” এরপর তিনি তার পূর্বে অলৌকিকত্বের দিকগুলো সম্পর্কে যা বলা হয়েছিল তা উপস্থাপন করেন। তিনি সেই দলের মত দিয়ে শুরু করেন যারা মনে করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সমগ্র আরব জাতিকে এর মতো একটি সূরা নিয়ে আসার চ্যালেঞ্জ দিয়েছিলেন, কিন্তু তারা তা করতে ব্যর্থ হয়েছিল এবং অপারগ হয়ে পড়েছিল।তিনি এর ওপর মন্তব্য করে বলেন: “এই বিষয়ে যা বলা হয়েছে, তার মধ্যে এটিই সবচেয়ে স্পষ্ট দলিল এবং সবচেয়ে সহজবোধ্য। যারা কুরআনের অলৌকিকত্বের অভ্যন্তরীণ রহস্য বা ধরন নিয়ে সূক্ষ্ম গবেষণায় প্রবৃত্ত হতে চায় না, তাদের জন্য এটিই যথেষ্ট।এরপর তিনি দ্বিতীয় মতটি উল্লেখ করেন যে, এর অলৌকিকত্বের কারণ হলো ‘সারফা’ (বিমুখ করা)। অর্থাৎ, বিরোধিতা করার সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও সেই সংকল্পকে বিমুখ করে দেওয়া। যদিও তা মানুষের ক্ষমতার বাইরে ছিল না, কিন্তু বাধাটি যেহেতু স্বাভাবিক নিয়মের বাইরের একটি বিষয় ছিল, তাই তা অন্যান্য মুজিজার মতো হয়ে গিয়েছিল।তিনি এর ওপর মন্তব্য করে বলেন: “এটিও একটি নিকটবর্তী মত, তবে আয়াতের দলিল এর বিপরীত সাক্ষ্য দেয়। আর তা হলো মহান আল্লাহর বাণী: (বলুন, যদি এই কুরআনের অনুরূপ আনার জন্য মানুষ ও জিন সমবেত হয়, তবুও তারা এর অনুরূপ আনতে পারবে না; যদিও তারা একে অপরের সাহায্যকারী হয়)।তিনি এর মাধ্যমে এমন একটি বিষয়ের দিকে ইঙ্গিত করেছেন যার পথ হলো কষ্টসাধ্য চেষ্টা ও সাধনা এবং যার পন্থা হলো প্রস্তুতি ও সমাবেশ। অথচ তারা ‘সারফা’ বা বিমুখীকরণের যে বর্ণনা দিয়েছেন, তার অর্থ এই বৈশিষ্ট্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ফলে এটি প্রমাণ করে যে, উদ্দেশ্য অন্য কিছু।” এরপর তিনি সেই দলের মত উল্লেখ করেন যারা দাবি করে যে, এর অলৌকিকত্ব কেবল এতে বর্ণিত ভবিষ্যৎ ঘটনাবলির সংবাদের মধ্যে নিহিত, যা পরবর্তীতে বাস্তবে রূপ নিয়ে সত্য প্রমাণিত হয়েছে।এরপর তিনি একে সমালোচনা করে বলেন: “এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, এটি এবং এর অনুরূপ সংবাদসমূহ এর অলৌকিকত্বের অন্যতম একটি প্রকার। কিন্তু এটি কুরআনের প্রত্যেকটি সূরায় বিদ্যমান কোনো সাধারণ বিষয় নয়।মহান আল্লাহ প্রতিটি সূরার বৈশিষ্ট্যে এটি রেখেছেন যে, সেটি নিজেই অলৌকিক হবে এবং সৃষ্টির কেউ এর অনুরূপ কিছু নিয়ে আসতে সক্ষম হবে না,
(খণ্ড: ১)
ইজাযুল কুরআন লিল বাকিল্লানি
(পৃষ্ঠা: ১৪)
فقال: (فَأتُواْ بِسُورَةٍ مِن مِّثْلِهِ، وَادْعُواْ شَهدَاءَكُمِ مِنْ دون الله إن كنتم صادقين) من غير تعيين.فدل على أن المعنى فيه غير ما ذهبوا إليه " ثم ذكر الرأى الرابع الذى ذهب إليه الاكثرون من علماء أهل النظر، وهو أن إعجازه من جهة " البلاغة " وقال: " ووجدت عامة أهل هذه المقالة، قد جروا في تسليم هذه الصفة للقرآن على نوع من التقليد، وضرب من غلبة الظن، دون التحقيق له، وإحاطة العلم به.ولذلك صاروا إذا سئلوا عن تحديد هذه البلاغة التى اختص بها القرآن، وعن المعنى الذى يتميز به عن سائر أنواع الكلام الموصوف بالبلاغة - قالوا: لا يمكننا تصويره، ولا تحديده بأمر ظاهر نعلم به مباينة القرآن غيره من الكلام: وإنما يعرفه العالمون به عند سماعه ضربا من المعرفة، لا يمكن تحديده.وأحالوا على سائر أجناس الكلام الذى يقع فيه التفاضل، فتقع في نفوس العلماء به - عند سماعه - معرفة ذلك، ويتميز في أفهامهم قبيل الفاضل من المفضول منه.وقد يخفى سببه عند البحث، ويظهر أثره في النفس، حتى لا يلتبس على ذوى العلم والمعرفة به.وقد توجد لبعض الكلام عذوبة في السمع، وهشاشة في النفس، لا يوجد مثلها لغيره، والكلامان معا فصيحان، ثم لا يوقف لشئ من ذلك على علة " ثم عقب الخطابى على ذلك بقوله: " وهذا لا يقنع في مثل هذا العلم، ولا يشفى من داء الجهل به، وإنما هو إشكال أحيل به على إبهام " ثم ذكر أن دقيق النظر، وشاهد العبر، قد دلاه على ما يباين به القرآن سائر الكلام، وأن العلة في ذلك: " أن أجناس الكلام مختلفة، ومراتبها في نسبة التبيان متفاوتة، ودرجاتها في البلاغة متباينة غير متساوية.فمنها البليغ الرصين الجزل، ومنها الفصيح القريب السهل، ومنها الجائز المطلق الرسل.وهذه أقسام الكلام الفاضل.فالقسم الاول أعلى طبقات الكلام وأرفعه، والقسم الثاني أوسطه وأقصده،والقسم الثالث أدناه وأقربه.فحازت بلاغات القرآن من كل قسم من هذه الاقسام حصة، وأخذت من كل نوع من أنواعها شعبة، فانتظم لها بامتزاج هذه الاوصاف نمط من الكلام يجمع صفتي الفخامة والعذوبة.وهما على الانفراد في نعوتهما
অতঃপর তিনি বললেন: (তোমরা এর অনুরূপ একটি সূরা নিয়ে এসো এবং আল্লাহ ছাড়া তোমাদের সাক্ষীদের আহ্বান করো যদি তোমরা সত্যবাদী হও) কোনো নির্দিষ্টতা ছাড়াই।এটি নির্দেশ করে যে, এর মধ্যকার অর্থ তারা যা মনে করেছে তা নয়। অতঃপর তিনি চতুর্থ মতটি উল্লেখ করেছেন যা অধিকাংশ তাত্ত্বিক আলেম গ্রহণ করেছেন, আর তা হলো কুরআনের অলৌকিকত্ব (ইজায) এর "অলঙ্কারশাস্ত্রীয় উৎকর্ষ" বা "বালাগাত"-এর দিক থেকে। তিনি বলেন: "আমি দেখেছি যে, এই মতাবলম্বীদের সাধারণ অংশ কুরআনের এই বৈশিষ্ট্যটি স্বীকার করার ক্ষেত্রে এক ধরনের অন্ধ অনুসরণ এবং প্রবল ধারণার বশবর্তী হয়েছেন, এর প্রকৃত স্বরূপ অনুসন্ধান এবং পূর্ণ জ্ঞান অর্জন ছাড়াই।একারণে যখনই তাঁদেরকে কুরআনের বিশেষায়িত এই বালাগাত বা অলঙ্কারশৈলীর সংজ্ঞা দিতে বলা হয় এবং সেই অর্থ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয় যার মাধ্যমে এটি অলঙ্কারপূর্ণ অন্য সব ধরনের কথা থেকে পৃথক হয়ে যায়—তখন তাঁরা বলেন: 'আমাদের পক্ষে এর কোনো চিত্র উপস্থাপন করা সম্ভব নয় এবং এমন কোনো প্রকাশ্য বিষয়ের মাধ্যমে এর সীমা নির্ধারণ করা সম্ভব নয় যার দ্বারা আমরা কুরআনের সাথে অন্য কথার পার্থক্য নিরূপণ করতে পারি। বরং পারদর্শীগণ তা শোনার সময় এক বিশেষ ধরনের উপলব্ধির মাধ্যমে তা চিনতে পারেন, যা সংজ্ঞায়িত করা সম্ভব নয়।'তাঁরা বিষয়টিকে বক্তব্যের সেই সব প্রকারের ওপর কিয়াস করেছেন যেখানে শ্রেষ্ঠত্বের তারতম্য থাকে, ফলে তা শোনার সময় সংশ্লিষ্ট বিষয়ের বিদ্বানদের অন্তরে সেই সম্পর্কে একটি জ্ঞান সৃষ্টি হয় এবং তাঁদের উপলব্ধিতে উচ্চমানের কথা নিম্নমানের কথা থেকে পৃথক হয়ে ফুটে ওঠে।অনুসন্ধানের সময় এর কারণ হয়তো প্রচ্ছন্ন থাকতে পারে, কিন্তু অন্তরে এর প্রভাব স্পষ্টভাবে প্রকাশ পায়, যাতে জ্ঞান ও প্রজ্ঞাবানদের কাছে তা অস্পষ্ট না থাকে।কখনও কোনো কথা শোনার ক্ষেত্রে অত্যন্ত শ্রুতিমধুর ও চিত্তাকর্ষক মনে হয়, যা অন্য কথায় পাওয়া যায় না, যদিও উভয় কথাই বিশুদ্ধ ও প্রাঞ্জল। কিন্তু এর কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ খুঁজে পাওয়া যায় না।" অতঃপর আল-খাত্তাবি এর ওপর মন্তব্য করে বলেন: "এই ধরনের শাস্ত্রীয় বিষয়ে এটুকু বর্ণনা যথেষ্ট নয় এবং তা অজ্ঞতার ব্যাধি নিরাময় করে না। বরং এটি হলো একটি জটিলতাকে আরেকটি অস্পষ্টতার ওপর ছেড়ে দেওয়া।" এরপর তিনি উল্লেখ করেন যে, সূক্ষ্ম পর্যবেক্ষণ এবং বাস্তব দৃষ্টান্তসমূহ তাঁকে এমন বিষয়ের দিকে পথপ্রদর্শন করেছে যার মাধ্যমে কুরআন অন্য সকল কথা থেকে আলাদা হয়ে যায়। আর এর কারণ হলো: "বক্তব্যের প্রকারসমূহ ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে, বর্ণনার প্রাঞ্জলতার অনুপাতে সেগুলোর স্তরও ভিন্নতর হয় এবং বালাগাতের ক্ষেত্রে সেগুলোর মর্যাদা অসম ও বৈচিত্র্যময়।এগুলোর মধ্যে কোনটি অত্যন্ত উচ্চাঙ্গের গম্ভীর ও শক্তিশালী অলঙ্কারসমৃদ্ধ, কোনটি সাবলীল ও সহজবোধ্য প্রাঞ্জল এবং কোনটি সাধারণ ও গতানুগতিক ধারার।এগুলো হলো উৎকৃষ্ট বক্তব্যের প্রকারভেদ।প্রথম প্রকারটি হলো বক্তব্যের সর্বোচ্চ ও সর্বোন্নত স্তর, দ্বিতীয় প্রকারটি মধ্যম ও সুষম মানের,আর তৃতীয় প্রকারটি হলো সাধারণ ও নিম্নস্তরের।কুরআনের অলঙ্কারশৈলী এই প্রতিটি প্রকার থেকেই তার অংশ লাভ করেছে এবং প্রতিটি ধরন থেকে এক একটি শাখা গ্রহণ করেছে। ফলে এই গুণাবলির সমন্বয়ে কুরআনের জন্য এমন এক বাচনভঙ্গি বিন্যস্ত হয়েছে যা একইসাথে গাম্ভীর্য ও মাধুর্যের সমন্বয় ঘটায়।আর এই বৈশিষ্ট্য দুটি যখন স্বতন্ত্রভাবে বিদ্যমান থাকে, তখন তাদের গুণাবলিতে...
(খণ্ড: ১)
ইজাযুল কুরআন লিল বাকিল্লানি
(পৃষ্ঠা: ১৫)
كالمتضادين، لان العذوبة نتاج السهولة، والجزالة والمتانة في الكلام تعالجان نوعا من الوعورة.فكان اجتماع الامرين في نظمه - مع نبو كل واحد منهما عن الآخر - فضيلة خص بها القرآن " ثم قال: " وإنما تعذر على البشر الاتيان بمثله، لامور: منها أن علمهم لا يحيط بجميع أسماء اللغة العربية، وبأوضاعها التى هي ظروف المعاني، والحوامل لها.ولا تدرك أفهامهم جميع معاني الاشياء المحمولة على تلك الالفاظ، ولا تكمل معرفتهم لاستيفاء جميع وجوه النظوم التى بها يكون ائتلافها وارتباط بعضها ببعض، فيتوصلوا باختيار الافضل عن الاحسن من وجوهها، إلى أن يأتوا بكلام مثله.وإنما يقوم الكلام بهذه الاشياء الثلاثة: لفظ حامل، ومعنى قائم به، ورباط لهما ناظم.وإذا تأملت القرآن وجدت هذه الامور منه في غاية الشرف والفضيلة، حتى لا ترى شيئا من الالفاظ أفصح ولا أجزل ولا أعذب من ألفاظه، ولا ترى نظما أحسن تأليفا وأشد تلاؤما وتشاكلا من نظمه.وأما المعاني فلا خفاء على ذى عقل أنها هي التى تشهد لها العقول بالتقدم في أبوابها، والترقى إلى أعلى درجات الفضل من نعوتها وصفاتها.وقد توجد هذه الفضائل الثلاث على التفرق في أنواع الكلام، فأما أن توجد مجموعة في نوع واحد منه، فلم توجد إلا في كلام العليم القدير، الذى أحاط بكل شئ علما، وأحصى كل شئ عددا.فتفهم الآن، واعلم أن القرآن أنما صار معجزا لانه جاء بأفصح الالفاظ، في أحسن نظوم التأليف، مضمنا أصح المعاني: من توحيد له - عزت قدرته -وتنزيه له في صفاته، ودعاء إلى طاعته، وبيان بمنهاج عبادته: من تحليل وتحريم، وحظر وإباحة، ومن وعظ وتقويم، وأمر بمعروف، ونهى عن منكر، وإرشاد إلى محاسن الاخلاق، وزجر عن مساويها.واضعا كل شئ منها موضعه الذى لا يرى شئ أولى منه، ولا يرى في صورة العقل أمر أليق منه، مودعا أخبار القرون الماضية، وما نزل من مثلات الله بمن عصى وعاند منهم، منبئا عن الكوائن المستقبلة في الاعصار الباقية من الزمان، جامعا في ذلك بين الحجة والمحتج له، والدليل والمدلول عليه، ليكون ذلك أوكد للزوم ما دعا إليه، وإنباء عن وجوب
দুটি বিপরীতধর্মী বিষয়ের মতো, কারণ মাধুর্য হলো সহজবোধ্যতার ফসল, আর বাক্যের অলংকার ও দৃঢ়তা এক প্রকার কঠিনতার সাথে সংশ্লিষ্ট।এই দুই বিষয়ের সহাবস্থান তার বিন্যাসে—একে অপরের থেকে ভিন্ন হওয়া সত্ত্বেও—এমন এক শ্রেষ্ঠত্ব যা কেবল কুরআনকেই বৈশিষ্ট্যমন্ডিত করেছে। তারপর তিনি বলেন: "মানুষের পক্ষে এর সদৃশ কিছু আনা অসম্ভব হওয়ার বেশ কিছু কারণ রয়েছে: তার মধ্যে একটি হলো, তাদের জ্ঞান আরবি ভাষার সমস্ত বিশেষ্য এবং এর বিন্যাস পদ্ধতি যা অর্থের আধার ও বাহক, তা পুরোপুরি আয়ত্ত করতে পারে না।সেই শব্দগুলোর মাধ্যমে বাহিত বিষয়বস্তুর সমস্ত অর্থ তাদের বোধগম্যতা নাগাল পায় না এবং বিন্যাসের সকল দিক পরিপূর্ণভাবে অনুধাবন করার ক্ষেত্রে তাদের জ্ঞান পূর্ণাঙ্গ নয়, যার মাধ্যমে শব্দগুলোর মাঝে সমন্বয় ও পারস্পরিক সম্পর্ক তৈরি হয়; যাতে তারা উৎকৃষ্ট থেকে উৎকৃষ্টতর দিকগুলো বেছে নেওয়ার মাধ্যমে এর মতো কোনো কালাম বা বাক্য নিয়ে আসতে পারে।নিশ্চয়ই বাক্য এই তিনটি জিনিসের সমন্বয়ে গঠিত হয়: একটি বাহক শব্দ, তাতে বিদ্যমান একটি অর্থ এবং এই দুটির মাঝে সমন্বয়কারী একটি বন্ধন।আপনি যখন কুরআনে গভীরভাবে মনোনিবেশ করবেন, তখন এই বিষয়গুলোকে চরম মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্বের পর্যায়ে পাবেন, এমনকি আপনি এর শব্দের চেয়ে অধিক প্রাঞ্জল, অলংকৃত বা মধুর কোনো শব্দ পাবেন না এবং এর বিন্যাসের চেয়ে সুন্দরতর কোনো গঠন বা অধিক সামঞ্জস্যপূর্ণ ও সুসংগত কোনো বিন্যাসও দেখতে পাবেন না।আর অর্থের ব্যাপারে কোনো বুদ্ধিমান ব্যক্তির কাছে এটা অস্পষ্ট নয় যে, বিবেক সাক্ষ্য দেয় এই অর্থগুলো তাদের স্ব-স্ব ক্ষেত্রে অগ্রগামী এবং তাদের গুণাবলি ও বৈশিষ্ট্যের দিক থেকে শ্রেষ্ঠত্বের সর্বোচ্চ স্তরে উন্নীত।এই তিনটি শ্রেষ্ঠত্ব বিভিন্ন প্রকার বাক্যের মধ্যে বিচ্ছিন্নভাবে পাওয়া যেতে পারে, কিন্তু এগুলো সব একত্রে কোনো এক প্রকার বাক্যে পাওয়া যাওয়া কেবল সেই মহাজ্ঞানী ও সর্বশক্তিমানের কালামেই সম্ভব, যাঁর জ্ঞান সব কিছুকে পরিবেষ্টন করে আছে এবং যিনি সব কিছুকে সংখ্যায় গণনা করে রেখেছেন।এখন বুঝুন এবং জেনে রাখুন যে, কুরআন মুজিযা বা অলৌকিক হওয়ার কারণ হলো এটি সবচেয়ে প্রাঞ্জল শব্দে, সর্বোত্তম রচনাশৈলীতে এসেছে এবং এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে সবচেয়ে সঠিক অর্থসমূহ: যেমন তাঁর তাওহিদ (একত্ববাদ)—যাঁর ক্ষমতা মহিমান্বিত—আল্লাহর গুণাবলিতে তাঁর পবিত্রতা ঘোষণা, তাঁর আনুগত্যের প্রতি আহ্বান এবং তাঁর ইবাদতের পদ্ধতির বর্ণনা: যার মধ্যে রয়েছে হালাল ও হারাম, নিষিদ্ধ ও বৈধতা, উপদেশ ও সংশোধন, সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধ এবং সুন্দর চরিত্রের দিকে নির্দেশনা ও চারিত্রিক মন্দতা থেকে সতর্কতা।এটি প্রতিটি বিষয়কে তার স্বস্থানে স্থাপন করেছে যার চেয়ে উপযুক্ত আর কিছু হতে পারে না এবং বিচারবুদ্ধির নিরিখে এর চেয়ে যোগ্যতর কোনো বিষয় কল্পনা করা যায় না। এতে গচ্ছিত রয়েছে অতীত প্রজন্মের সংবাদসমূহ এবং তাদের মধ্যে যারা অবাধ্যতা ও হঠকারিতা করেছিল তাদের ওপর আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ শাস্তির দৃষ্টান্তসমূহ। এটি মহাকালের অবশিষ্ট সময়ে ভবিষ্যতে যা ঘটবে সে সম্পর্কে সংবাদ দানকারী এবং এটি একই সঙ্গে দলিল ও যার স্বপক্ষে দলিল পেশ করা হচ্ছে তার মাঝে, এবং প্রমাণ ও যা প্রমাণিত হচ্ছে তার মাঝে সমন্বয়কারী, যাতে এটি যা আহ্বান করে তা মেনে চলা অপরিহার্য হওয়ার ক্ষেত্রে অধিকতর জোরালো হয় এবং ওয়াজিব হওয়ার সংবাদ দেয়।
(খণ্ড: ১)
ইজাযুল কুরআন লিল বাকিল্লানি
(পৃষ্ঠা: ১৬)
ما أمر به ونهى عنه.ومعلوم أن الاتيان بمثل هذه الامور، والجمع بين أشتاتها حتى تنتظم وتتسق - أمر تعجز عنه قوى البشر، ولا تبلغه قدرهم: فانقطع الخلق دونه، وعجزوا عن معارضته بمثله، أو مناقضته في شكله " وأنى لهم ذلك وأمر معاناة المعاني التى تحملها الالفاظ، شديد بالغ الشدة لانها نتائج العقول، وولائد الافهام، وبنات الافكار.وأما رسوم النظم فالحاجة إلى الثقافة والحذق فيها أكثر، لانها لجام الالفاظ وزمام المعاني، وبه يتصل أخذ الكلام، ويلتئم بعضه ببعض، فتقوم له صورة في النفس يتشكل بها البيان " ثم ذكر أقوال المعاندين للقرآن، لما عجزوا عن معارضته، وقال: " إن عمود هذه البلاغة التى تجتمع لها هذه الصفات، هو وضع كل نوع من الالفاظ التى تشتمل عليها فصول الكلام موضعه الاخص الاشكل به.الذى إذا أبدل مكانه غيره جاء منه: إما تبدل المعنى الذى يكون منه فساد الكلام، وإما ذهاب الرونق الذى يكون معه سقوط البلاغة.ذلك أن في الكلام ألفاظا متقاربة في المعاني يحسب أكثر الناس أنها متساوية في إفادة بيان مراد الخطاب، كالعلم والمعرفة والحمدوالشكر.والامر فيها وفى ترتيبها عند علماء اللغة بخلاف ذلك، لان لكل لفظة منها خاصية تتميز بها عن صاحبتها في بعض معانيها، وإن كانا قد يشتركان في بعضها ".ثم مضى يبين الفروق بين معاني الكلمات التى ذكرها، وأتبعها بطائفة الاعتراضات التى وجهت إلى القرآن، أو التى يمكن أن توجه إليه، كتأليف معظم كلامه من ألفاظ مبتذلة في مخاطبات العرب، مستعملة في محاوراتهم، وقلة حظه من الغريب المشكل، بالاضافة إلى واضحه الكثير، وقلة عدد الفقر والغرور من ألفاظه، بالقياس إلى مباذله ومراسيله.والقول بأن كثيرا من العبارات الواقعة في القرآن، لم تقع في أفصح وجوه البيان وأحسنها، وأنه قد عرض فيه سوء التأليف من نسق الكلام على ما ينبو عنه ولا يليق به، وإدخاله بين الكلامين ما ليس من جنسهما، مع ما فيه من الحذف والاختصار، ومضاعفة التكرار، وغير ذلك مما يشكل معه الكلام ويستغلق معناه، ويخرج به عن الفصاحة العالية والبلاغة السامية.
যা তিনি আদেশ করেছেন এবং যা থেকে তিনি নিষেধ করেছেন।আর এটি সুবিদিত যে, এই ধরণের বিষয়গুলো আনয়ন করা এবং এর বিক্ষিপ্ত অংশগুলোকে একত্রিত করা যাতে তা সুশৃঙ্খল ও সুসংবদ্ধ হয়—তা এমন এক বিষয় যা মানুষের শক্তির অতীত এবং তাদের সামর্থ্যের বাইরে। ফলে সৃষ্টিজগত এর সামনে থমকে গিয়েছে এবং এর সমতুল্য কিছু নিয়ে আসতে বা এর অনুরূপ কোনো বিরোধিতায় তারা অক্ষম হয়েছে। আর তাদের পক্ষে তা কীভাবে সম্ভব? অথচ শব্দের বহন করা অর্থের মোকাবিলা করার বিষয়টি অত্যন্ত কঠিন, কারণ তা হলো আকলের ফলাফল, বোধশক্তির প্রসূত এবং চিন্তার ফসল।আর রচনারীতির অঙ্কনশৈলীর ক্ষেত্রে পাণ্ডিত্য ও নিপুণতার প্রয়োজনীয়তা আরও বেশি, কেননা তা হলো শব্দের লাগাম এবং অর্থের নিয়ন্ত্রণকারী। এর মাধ্যমেই কথার ধারা বজায় থাকে এবং এর একাংশ অপরাংশের সাথে যুক্ত হয়, ফলে অন্তরে এমন এক চিত্র ফুটে ওঠে যার মাধ্যমে বর্ণনা রূপ লাভ করে। অতঃপর তিনি কুরআনের বিরোধীদের বক্তব্য উল্লেখ করেছেন যখন তারা এর মোকাবিলায় অক্ষম হয়েছিল, এবং তিনি বলেছেন: "এই অলঙ্কারশাস্ত্রের স্তম্ভ, যার মধ্যে এই গুণাবলি পুঞ্জীভূত হয়েছে, তা হলো বক্তব্যের বিভিন্ন পরিচ্ছেদে ব্যবহৃত প্রতিটি শব্দকে তার জন্য বিশেষভাবে নির্ধারিত ও সবচেয়ে উপযোগী স্থানে স্থাপন করা।"যদি সেই স্থানের পরিবর্তে অন্য কিছু আনা হয়, তবে হয় অর্থের পরিবর্তন ঘটবে যার ফলে বক্তব্যের বিকৃতি ঘটবে, অথবা সেই লাবণ্য হারিয়ে যাবে যার ফলে অলঙ্কারশৈলীর পতন ঘটবে।এর কারণ হলো, কথাবার্তায় এমন কিছু শব্দ রয়েছে যা অর্থের দিক থেকে কাছাকাছি, অধিকাংশ মানুষ মনে করে যে সম্বোধনের উদ্দেশ্য বর্ণনার ক্ষেত্রে সেগুলো সমান, যেমন—জ্ঞান (ইলম), পরিচয় (মারেফাত) এবং প্রশংসা (হামদ)ও কৃতজ্ঞতা (শোকর)।ভাষা বিজ্ঞানীদের নিকট এই শব্দগুলো এবং এদের বিন্যাসের বিষয়টি এর বিপরীত। কেননা এগুলোর প্রতিটি শব্দের এমন কিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে যার দ্বারা সেটি তার সমার্থক শব্দ থেকে কিছু অর্থে স্বতন্ত্র হয়ে থাকে, যদিও কোনো কোনো ক্ষেত্রে তারা উভয়ে একই অর্থ প্রকাশ করতে পারে।অতঃপর তিনি উল্লিখিত শব্দগুলোর অর্থের মধ্যকার পার্থক্যগুলো বর্ণনা করতে থাকেন। এরপর তিনি কুরআনের প্রতি উত্থাপিত বা উত্থাপন করা সম্ভব এমন একগুচ্ছ আপত্তির কথা উল্লেখ করেন; যেমন—এর অধিকাংশ বক্তব্য আরবদের সাধারণ কথাবার্তায় ব্যবহৃত প্রচলিত শব্দ দ্বারা গঠিত, তাদের আলাপচারিতায় ব্যবহৃত সাধারণ শব্দাবলি, এবং এর মধ্যে দুর্বোধ্য ও বিরল শব্দের স্বল্পতা অথচ এর বিপরীতে স্পষ্ট শব্দের আধিক্য, এবং এর সাধারণ ও সাবলীল শব্দের তুলনায় অন্ত্যমিলযুক্ত বাক্যাংশ ও বিরল শব্দের সংখ্যা কম হওয়া।এবং এই দাবি যে, কুরআনে বিদ্যমান অনেক বাক্যই বর্ণনার সবচেয়ে সাবলীল ও সুন্দর পন্থায় আসেনি, এবং এতে বাক্যের বিন্যাসে এমন অসংগতি দেখা দিয়েছে যা তার জন্য অনুপযুক্ত, আর দুটি প্রসঙ্গের মাঝে এমন কিছু অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে যা তাদের সমজাতীয় নয়। সেই সাথে এতে রয়েছে উহ্যকরণ ও সংক্ষিপ্তকরণ, দ্বিগুণ পুনরাবৃত্তি এবং এই জাতীয় আরও কিছু বিষয় যার ফলে বক্তব্য জটিল হয়ে যায় এবং এর অর্থ অনুধাবন করা কঠিন হয়ে পড়ে, যা একে উচ্চতর সাবলীলতা ও মহান অলঙ্কারশৈলী থেকে বের করে দেয়।
(খণ্ড: ১)
ইজাযুল কুরআন লিল বাকিল্লানি
(পৃষ্ঠা: ১৭)
ثم كر على تلك الاعتراضات فنقضها، وفصل القول في تأويل الآيات الكثيرة التى أوردها.وبين أسرار بلاغتها تبيينا ترتاح إليه القلوب، وتطمئن له العقول.ثم قال: " وفى إعجاز القرآن وجه آخر، ذهب عنه الناس، فلا يكاد يعرفه إلا الشاذ من آحادهم.وذلك صنيعه بالقلوب وتأثيره في النفوس، فإنك لا تسمع كلاما غير القرآن منظوما ولا منثورا، إذا قرع السمع خلص له إلى القلب من اللذة والحلاوة في حال، ومن الروعة والمهابة في أخرى - ما يخلص منه إليه.تستبشر به النفوس، وتنشرح له الصدور، حتى إذا أخذت حظها منه عادت مرتاعة قد عراها من الوجيب والقلق، وتغشاها من الخوف والفرق ما تقشعر منه الجلود، وتنزعج له القلوب.يحول بين النفس وبين مضمراتها وعقائدها الراسخة فيها.فكم من عدو للرسول، صلى الله عليه وسلم، من رجال العرب وفتاكها،أقبلوا يريدون إغتياله وقتله، فسمعوا آيات من القرآن، فلم يلبثوا حين وقعت في مسامعهم أن يتحولوا عن رأيهم الاول، وأن يركنوا إلى مسالمته ويدخلوا في دينه، وصارت عداوتهم موالاة وكفرهم إيمانا " ثم أورد من المثل التاريخية، والآيات القرآنية ما هو مصداق لما وصفه من أمر القرآن.وكان ذلك خاتمة الكتاب.ثم ألف بعد الرماني والخطابى معاصرهم أبو بكر الباقلانى، كتابه " إعجاز القرآن " * * * الباقلانى وإعجاز القرآن: هو أبو بكر: محمد بن الطيب بن محمد بن جعفر بن القاسم، المعروف بالباقلانى، أو ابن الباقلانى.ولد بالبصرة، ولم يعين أحد من المؤرخين عام ولادته، وقد تلقى العلم على أعلامها، ثم رحل إلى بغداد فأخذ من علمائها، ثم اتخذها دارا لاقامته، حتى قضى نحبه فيها ولم يذكر أحد كذلك متى رحل إليها أول ما رحل، ولا متى اتخذها مستقرا؟ وقد أتيح للباقلاني أن يتتلمذ لطائفة من العلماء الذين جمعوا بين العلم والعمل،
এরপর তিনি সেই আপত্তিগুলোর দিকে ফিরে আসলেন এবং সেগুলো খণ্ডন করলেন, আর তিনি যে অসংখ্য আয়াত উল্লেখ করেছিলেন সেগুলোর ব্যাখ্যার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করলেন।আর তিনি সেগুলোর অলঙ্কারশাস্ত্রীয় রহস্যসমূহ এমনভাবে বর্ণনা করেছেন যাতে হৃদয়সমূহ প্রশান্তি পায় এবং বিবেকসমূহ আশ্বস্ত হয়।এরপর তিনি বললেন: "কুরআনের অলৌকিকত্বের আরও একটি দিক রয়েছে, যা মানুষের দৃষ্টির অগোচরে রয়ে গেছে। খুব অল্প সংখ্যক বিশিষ্ট ব্যক্তি ছাড়া প্রায় কেউই তা জানে না।আর তা হলো হৃদয়ের ওপর এর ক্রিয়া এবং আত্মার ওপর এর প্রভাব। কেননা তুমি কুরআন ছাড়া পদ্য বা গদ্যের এমন কোনো কথা শুনবে না, যা শ্রবণমাত্রই হৃদয়ে একদিকে যেমন আনন্দ ও মাধুর্য পৌঁছে দেয়, অন্যদিকে তেমনি বিস্ময় ও গাম্ভীর্য পৌঁছে দেয়—যা কেবল এর মাধ্যমেই সম্ভব।এর দ্বারা আত্মাসমূহ আনন্দিত হয় এবং বক্ষসমূহ উন্মুক্ত হয়। এমনকি যখন আত্মা এর থেকে তার অংশ গ্রহণ করে, তখন তা কম্পিত অবস্থায় ফিরে আসে; হৃদস্পন্দন ও অস্থিরতা তাকে আচ্ছন্ন করে ফেলে, আর ভয় ও শঙ্কা তাকে এমনভাবে ঢেকে ফেলে যাতে গায়ের চামড়া শিউরে ওঠে এবং অন্তরসমূহ বিচলিত হয়ে পড়ে।এটি আত্মার এবং এর ভেতরে প্রোথিত গোপন সংকল্প ও বিশ্বাসগুলোর মাঝে প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়ায়।রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কত শত শত্রু—যারা ছিল আরবের প্রভাবশালী পুরুষ ও সাহসী যোদ্ধা—তারা তাঁকে গোপনে আক্রমণ করতে এবং হত্যা করার উদ্দেশ্যে এগিয়ে এসেছিল; কিন্তু যখন তারা কুরআনের আয়াতগুলো শুনল, তখন সেই আয়াতগুলো তাদের কানে পড়ার সাথে সাথেই তারা তাদের পূর্বের মত পরিবর্তন করতে দেরি করেনি। তারা তাঁর সাথে সন্ধি স্থাপনের দিকে ঝুঁকে পড়ল এবং তাঁর দ্বীনে দাখিল হলো। এভাবে তাদের শত্রুতা বন্ধুত্বে এবং তাদের কুফর ঈমানে পরিণত হলো।" এরপর তিনি কুরআনের এই প্রভাবের সত্যতার প্রমাণ হিসেবে ঐতিহাসিক উদাহরণ এবং কুরআনী আয়াতসমূহ পেশ করলেন।আর এটিই ছিল গ্রন্থের সমাপ্তি।এরপর রুম্মানী ও খাত্তাবীর পরে তাঁদের সমসাময়িক আবু বকর আল-বাকিলানী তাঁর 'ইজাজুল কুরআন' গ্রন্থটি রচনা করেন। * * * বাকিলানী ও ইজাজুল কুরআন: তিনি হলেন আবু বকর: মুহাম্মাদ ইবনুত তাইয়্যিব ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু জাফর ইবনুল কাসিম, যিনি আল-বাকিলানী বা ইবনুল বাকিলানী নামে পরিচিত।তিনি বসরায় জন্মগ্রহণ করেন, তবে ঐতিহাসিকদের কেউ তাঁর জন্মের সাল নির্দিষ্ট করে জানাননি। তিনি বসরার শ্রেষ্ঠ পণ্ডিতদের কাছে ইলম অর্জন করেন, এরপর বাগদাদে পাড়ি জমিয়ে সেখানকার আলেমদের থেকে জ্ঞান লাভ করেন। এরপর তিনি বাগদাদকেই তাঁর স্থায়ী নিবাস হিসেবে গ্রহণ করেন এবং সেখানেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। কেউ এটিও উল্লেখ করেননি যে তিনি প্রথমবার কখন সেখানে গিয়েছিলেন কিংবা কখন থেকে সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেছিলেন। বাকিলানী এমন একদল আলেমদের নিকট ছাত্রত্ব গ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন যারা ইলম ও আমলের সমন্বয় ঘটিয়েছিলেন,
(খণ্ড: ১)
ইজাযুল কুরআন লিল বাকিল্লানি
(পৃষ্ঠা: ১৮)
وشهروا بالورع والتقوى.ونحن نشير إلى م اوقفنا عليه منهم، فيما يلى: (1) فمنهم أبو بكر الابهري: محمد بن عبد الله (289 - 375 هـ) شيخ المالكية في عصره، وقد أخذ عنه الباقلانى الفقه، وصحبه فأطال صحبته.ومما يؤثر عن الابهري أنه أخرج في آخر حياته ثلاثة آلاف مثقال، وفرقها على تلامذته، وكانوا جماعة وافرة، وآثر الباقلانى فأعطاه منها مائة مثقال.(2) أبو بكر: أحمد بن جعفر بن مالك القطيعى راوي مسند الامام أحمد (274 - 368) وقد أخذ عنه الحديث.(3) أبو محمد: عبد الله بن إبراهيم بن أيوب بن ماسى (274 - 369) (4) أبو عبد الله: محمد بن خفيف الشيرازي المتوفى سنة 371.وقد أخذ عنه الباقلانى علم الاصول.(5) ابن بهته: محمد بن عمر، البزاز، المتوفى سنة 374 (6) أبو أحمد: الحسين بن على النيسابوري (293 - 375) (7) أبو أحمد: الحسن بن عبد الله بن سعيد العسكري (293 - 382) (8) أبو محمد: عبد الله بن أبى زيد القيرواني المتوفى سنة 386 عن ست وسبعين سنة.(9) أبو عبد الله الطائى: محمد بن أحمد بن محمد بن يعقوب بن مجاهد.البصري، صاحب أبى الحسن الاشعري.وقد درس عليه الباقلانى الاصول والكلام وكان من أخص تلاميذه.(10) أبو الحسن الباهلى البصري صاحب أبى الحسن الاشعري، قال الباقلانى: " كنت أنا وأبو إسحاق الاسفرايينى، وابن فورك معا في درس الشيخ الباهلى، وكان يدرس لنا في كل يوم جمعة مرة واحدة، وكان منا في حجاب، يرخى الستر بيننا وبينه كى لا نراه.وكان من شدة اشتغاله بالله مثل واله أو مجنون، لم يكن يعرف مبلغ درسنا حتى نذكره ذلك ".ولم يكن الباهلى يحتجب عن هؤلاء الثلاثة فقط، بل كان يحتجب عن كل الناس، حتى عن الجارية التى كانت تخدمه.وقد سأله تلاميذه في أول عهدهم به عن سبب إرساله الحجاب بينه وبينهم
তারা পরহেজগারী ও তাকওয়ার জন্য প্রসিদ্ধ ছিলেন।তাদের মধ্যে যাদের সম্পর্কে আমরা জানতে পেরেছি, নিচে তাদের প্রতি ইশারা করছি: (১) তাদের মধ্যে একজন হলেন আবু বকর আল-আবহরি: মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ (২৮৯ - ৩৭৫ হিজরি), যিনি তার সমসাময়িক মালিকি মাজহাবের শায়খ ছিলেন। বাকিল্লানি তার নিকট ফিকহ শিক্ষা করেছেন এবং দীর্ঘকাল তার সাহচর্যে ছিলেন।আল-আবহরি সম্পর্কে বর্ণিত আছে যে, তিনি তার জীবনের শেষ দিকে তিন হাজার মিসকাল স্বর্ণমুদ্রা বের করেছিলেন এবং তা তার ছাত্রদের মধ্যে বণ্টন করে দিয়েছিলেন। তারা একটি বিশাল দল ছিল। তিনি বাকিল্লানিকে অগ্রাধিকার দেন এবং তাকে সেখান থেকে একশ মিসকাল প্রদান করেন।(২) আবু বকর: আহমদ বিন জাফর বিন মালিক আল-কাতিয়ি, ইমাম আহমদের মুসনাদ গ্রন্থের বর্ণনাকারী (২৭৪ - ৩৬৮)। তিনি তার থেকে হাদিস গ্রহণ করেছেন।(৩) আবু মুহাম্মদ: আব্দুল্লাহ বিন ইবরাহিম বিন আইয়ুব বিন মাসি (২৭৪ - ৩৬৯) (৪) আবু আব্দুল্লাহ: মুহাম্মদ বিন খাফিফ আল-শিরাজি, যিনি ৩৭১ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।বাকিল্লানি তার নিকট থেকে উসুল শাস্ত্রের জ্ঞান অর্জন করেছেন।(৫) ইবনে বাহতাহ: মুহাম্মদ বিন উমর, আল-বায্যায, ৩৭৪ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। (৬) আবু আহমদ: হুসাইন বিন আলী আন-নিসাবুরি (২৯৩ - ৩৭৫) (৭) আবু আহমদ: আল-হাসান বিন আব্দুল্লাহ বিন সাঈদ আল-আসকারি (২৯৩ - ৩৮২) (৮) আবু মুহাম্মদ: আব্দুল্লাহ বিন আবি যায়েদ আল-কায়রাওয়ানি, যিনি ৩৮৬ হিজরিতে ৭৬ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন।(৯) আবু আব্দুল্লাহ আত-তায়ি: মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন ইয়াকুব বিন মুজাহিদ।আল-বাসরি, যিনি আবুল হাসান আল-আশআরির সঙ্গী ছিলেন।বাকিল্লানি তার নিকট উসুল এবং ইলমুল কালাম অধ্যয়ন করেছেন এবং তিনি তার বিশেষ ছাত্রদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।(১০) আবুল হাসান আল-বাহিলি আল-বাসরি, আবুল হাসান আল-আশআরির সঙ্গী। বাকিল্লানি বলেন: "আমি, আবু ইসহাক আল-ইসফারায়িনি এবং ইবনে ফুরাক একসাথে শায়খ আল-বাহিলির পাঠে উপস্থিত থাকতাম। তিনি প্রতি জুমাবার আমাদের একবার করে পাঠদান করতেন। তিনি আমাদের থেকে পর্দার অন্তরালে থাকতেন; আমাদের এবং তার মাঝে পর্দা ঝুলিয়ে দেওয়া হতো যাতে আমরা তাকে দেখতে না পাই।আল্লাহর ধ্যানে অত্যন্ত নিমগ্ন থাকার কারণে তিনি বিভোর বা উন্মাদের মতো হয়ে থাকতেন, এমনকি আমরা স্মরণ করিয়ে না দেওয়া পর্যন্ত তিনি আমাদের পাঠের সীমা সম্পর্কে জানতেন না।"আল-বাহিলি শুধু এই তিনজনের থেকেই পর্দা করতেন না, বরং তিনি সকল মানুষের থেকেই পর্দা করতেন, এমনকি তার সেবিকার থেকেও।তার ছাত্ররা তার সাথে পরিচয়ের প্রথম দিকে তার এবং তাদের মাঝে পর্দা ঝুলিয়ে রাখার কারণ সম্পর্কে তাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন।
(খণ্ড: ১)
ইজাযুল কুরআন লিল বাকিল্লানি
(পৃষ্ঠা: ১৯)
فقال: " إنكم ترون السوقة، وهم أهل الغفلة، فترونى بالعين التى ترون أولئك بها "! وذكر ابن شاكر في " عيون التواريخ " أن الباهلى مات سنة 370.وكان الباهلى وابن مجاهد، أعرف العلماء بمذهب الاشعري، وأشدهم فقها له.وأقواهم حجة في الدفاع عنه، لانهما كانا من أقرب تلاميذه إليه.وقد سجل المؤرخون للاشعري: أن أخص تلاميذه به أربعة: أبو بكر بن مجاهد، وأبو الحسن الباهلى، وأبو الحسن الطبري، وخادمه بندار بن الحسين الشيرازي المتوفى سنة 353 هـ.وقد تلقى الباقلانى عليهما أصول المذهب، فتعشقه واندفع في نصرته، بما عرف عنه من قوة الحجة، وبراعة المحاورة، وسرعة البديهة، وطلاقة اللسان، وغزارة البيان.فطار صيته في الآفاق، وهو ما زال بعد في ريعان الصبا وفتاء الشباب، حتى وصل إلى أعلام المعتزلة بشيراز.وكانت شيراز في ذلك الوقت حاضرة ملك أبى شجاع فنا خسرو بن ركن الدولة البويهى.الذى آل إليه ملك فارس بعد وفاة عمه عماد الدولة في سنة 338، فتلقب بعضد الدولة.وكان عضد الدولة أميرا عظيم الهيبة، غزير العقل، شديد التيقظ، كثير الفضل، واسع الثقافة، مشاركا في العلوم، وقد تعلم على أحسن المعلمين.فكان يقدر العلم والعلماء، ويحب الادب والادباء، ويؤثر مجالستهم عن مجالسة الامراء، ويجرى الجرايات على الفقهاء والمحدثين، والنحاة والمفسرين، والشعراء والمتكلمين، والاطباء والمهندسين.وكانت له خزانة كتب عظيمة، عنى بها عناية فائقة، يدل عليها وصف المقدسي لها بأنها " حجرة على حدة، عليها وكيل وخازن ومشرف.ولم يبق كتاب صنف إلى وقت عضد الدولة من أنواع العلوم إلا وحصله فيها.وهى أزج طويل في صفة كبيرة، فيه خزائن من كل وجه، وقد ألصق إلى جميع حيطان الازج والخزائن بيوتا طولها قامة في عرض ثلاثة أذرع من الخشب المزوق، عليها أبواب تنحدر من فوق! والدفاتر منضدة على الرفوف، لكل نوع بيوت وفهرستات فيها أسامي الكتب، ولا يدخلها إلا كل وجبة ".
অতঃপর তিনি বললেন: "তোমরা সাধারণ নিচুতলার মানুষদের দেখছ, যারা গাফেল লোক; তাই তোমরা আমাকে সেই চোখেই দেখছ যা দিয়ে তোমরা তাদের দেখে থাকো!" আর ইবনে শাকির "উয়ুনুত তাওয়ারিখ" গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, আল-বাহিলি ৩৭০ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন।আল-বাহিলি এবং ইবনে মুজাহিদ ছিলেন আশআরি মাযহাব সম্পর্কে আলেমদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পরিজ্ঞাত এবং এর ফিকহ বা গভীর জ্ঞান অর্জনে সবচেয়ে অগ্রগামী।এবং এর প্রতিরক্ষায় তারা ছিলেন সবচেয়ে শক্তিশালী দলীল প্রদানকারী, কারণ তারা উভয়েই ছিলেন তাঁর নিকটতম ছাত্রদের অন্তর্ভুক্ত।ঐতিহাসিকগণ আশআরির ব্যাপারে লিপিবদ্ধ করেছেন যে: তাঁর একান্ত বিশেষ ছাত্র ছিলেন চারজন: আবু বকর ইবনে মুজাহিদ, আবুল হাসান আল-বাহিলি, আবুল হাসান আত-তাবারী এবং তাঁর খাদেম বুন্দার বিন আল-হুসাইন আশ-শিরাজি, যিনি ৩৫৩ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন।আল-বাকিল্লানি এই দুইজনের নিকট মাযহাবের উসুল বা মূলনীতি শিক্ষা করেন, ফলে তিনি এর প্রতি গভীরভাবে অনুরাগী হয়ে পড়েন এবং এর সমর্থনে আত্মনিয়োগ করেন। এক্ষেত্রে তাঁর দলীলের শক্তি, বিতর্কশৈলী, উপস্থিত বুদ্ধি, সাবলীল ভাষা এবং বর্ণনার প্রাচুর্য সুপরিচিত ছিল।ফলে দিগদিগন্তে তাঁর খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে, অথচ তখনও তিনি শৈশব ও তারুণ্যের সন্ধিক্ষণে ছিলেন; এমনকি তাঁর এই খ্যাতি শিরাজের প্রখ্যাত মুতাজিলা আলেমদের কাছেও পৌঁছে যায়।তৎকালীন সময়ে শিরাজ ছিল আবু শুজা ফানা খুসরো বিন রুকনুদ দাওলা আল-বুওয়াইহির রাজত্বের রাজধানী।যার নিকট তাঁর চাচা ইমাদুদ্দাওলার মৃত্যুর পর ৩৩৮ হিজরিতে পারস্যের রাজত্ব হস্তান্তরিত হয় এবং তিনি 'আদুদুদ দাওলা' উপাধিতে ভূষিত হন।আদুদুদ দাওলা ছিলেন অত্যন্ত প্রভাবশালী একজন আমির, তীক্ষ্ণ বুদ্ধিমান, অত্যন্ত সজাগ, পরম গুণী, ব্যাপক সংস্কৃতির অধিকারী এবং বিভিন্ন বিজ্ঞানে পারদর্শী; তিনি শ্রেষ্ঠ শিক্ষকদের তত্ত্বাবধানে শিক্ষা লাভ করেছিলেন।তিনি জ্ঞান ও জ্ঞানীদের কদর করতেন, সাহিত্য ও সাহিত্যিকদের ভালোবাসতেন এবং আমিরদের সাথে বসার চেয়ে তাঁদের মজলিসে বসাকেই বেশি পছন্দ করতেন। তিনি ফকিহ, মুহাদ্দিস, ব্যাকরণবিদ, মুফাসসির, কবি, ধর্মতাত্ত্বিক, চিকিৎসক এবং প্রকৌশলীদের জন্য নিয়মিত ভাতার ব্যবস্থা করতেন।তাঁর একটি বিশাল কুতুবখানা বা গ্রন্থাগার ছিল, যার প্রতি তিনি অত্যন্ত যত্নবান ছিলেন। আল-মাকদিসি এর যে বর্ণনা দিয়েছেন তা থেকেই এর গুরুত্ব বোঝা যায়; তিনি একে বর্ণনা করেছেন এভাবে যে, এটি ছিল "একটি স্বতন্ত্র কক্ষ, যার জন্য একজন প্রতিনিধি, একজন রক্ষক এবং একজন পরিদর্শক নিযুক্ত ছিলেন।"আদুদুদ দাওলার সময় পর্যন্ত বিভিন্ন বিজ্ঞানের ওপর রচিত এমন কোনো বই ছিল না যা তিনি সেখানে সংগ্রহ করেননি।এটি ছিল একটি বিশাল আকৃতির দীর্ঘ খিলানযুক্ত দালান, যার চারদিকেই তাক ছিল। খিলান এবং আলমারিগুলোর সমস্ত দেয়ালে অলঙ্কৃত কাঠের তৈরি এমন তাক লাগানো ছিল যার উচ্চতা ছিল একজন মানুষের সমান এবং প্রস্থ ছিল তিন হাত। এগুলোর দরজাগুলো উপর থেকে নিচে নামানো যেত! বইগুলো তাকগুলোতে সুবিন্যস্ত ছিল। প্রত্যেক বিষয়ের জন্য আলাদা আলাদা কক্ষ এবং সূচিপত্র ছিল যাতে বইগুলোর নাম লিপিবদ্ধ ছিল; আর সেখানে নির্দিষ্ট সময় ছাড়া কেউ প্রবেশ করতে পারত না।"
(খণ্ড: ১)
ইজাযুল কুরআন লিল বাকিল্লানি
(পৃষ্ঠা: ২০)
وكان يقرض الشعر ويتمثل به، ويحكم على معانيه بعد التقرير له، فقصده العلماء من كل فج، وصنفوا له الكتب، كأبى على الفارسى الذى ألف له كتاب " الايضاح " وكتاب " التكملة " في النحو.وارتحل إليه الشعراء كأبى الطيب المتنبي الذى ورد عليه بشيراز في جمادى الاولى سنة 354، وأنشده قصيدته الهائية التى يقول فيها: وقد رأيت الملوك قاطبة * وسررت حتى رأيت مولاها ومن مناياهم براحته * يأمرها فيهم وينهاها أبا شجاع بفارس عضد الد * دولة فنا خسرو شهنشاها أساميا لم تزده معرفة * وإنما لذة ذكرناها وقد أفرد عضد الدولة في داره لاهل الخصوص والحكماء والفلاسفة، موضعا يقترب من مجلسه، فكانوا يجتمعون فيه للمفاوضة والمذاكرة، آمنين من السفهاء ورعاع العامة.وكان مجلسه هذا يحتوى على شياطين المعتزلة، كأبى سعد: بشر بن الحسين قاضى قضاة شيراز، المتوفى سنة 380، والاحدب رئيس المعتزلة ببغداد وأبى إسحق النصيبينى رئيسهم بالبصرة، وأبى الحسن: محمد بن شجاع.وقد لا حظ عضد الدولة خلو مجلسه من أهل السنة، فقال: هذا ليس مجلس عامر بالعلماء، إلا إنى لا أرى فيه واحدا من أهل الاثبات والحديث، أما لهؤلاء المثبتة من ناصر؟ فقال القاضى بشر بن الحسين: ليس لهم ناصر، وإنما هم عامة، أصحاب وتقليد ورواية، يروون الخبر وضده ويعتقدونهما جميعا، لا يعرفون النظر والمعتزلة هم فرسان الجدل والمناظرة.فقال عضد الدولة: محال أن يخلو مذهب طبق الارض من ناصر! فانظر إلى موضع فيه مناظر يكتب فيه فيجلب.فلما تبين القاضى العزم في حديثه، قال: سمعت أن بالبصرة شيخا وشابا، الشيخ يعرفبأبى الحسن الباهلى، والشباب يعرف بابن الباقلانى.فكبت عضد الدولة يومئذ إلى عامله بالبصرة ليبعثهما إليه، وأرسل إليهما خمسة آلاف درهم من الفضة، فلما وصل الكتاب إليهما قال الشيخ: هؤلاء الديلم قوم كفرة فسقة روافض، لا يحل
তিনি কবিতা রচনা করতেন এবং তা উদাহরণস্বরূপ পেশ করতেন, এবং তাঁর নিকট তা উপস্থাপনের পর তিনি এর অর্থের উপর সিদ্ধান্ত প্রদান করতেন। ফলে সর্বদিকের আলেমগণ তাঁর কাছে আসতেন এবং তাঁর নামে কিতাবাদি রচনা করতেন; যেমন আবু আলী আল-ফারিসি, যিনি তাঁর জন্য নাহু শাস্ত্রে "আল-ঈযাহ" এবং "আত-তাকমিলা" নামক কিতাব দুটি রচনা করেছিলেন।এবং কবিগণ তাঁর কাছে সফর করে আসতেন, যেমন আবু আল-তাইয়িব আল-মুতানাব্বি, যিনি ৩৫৪ হিজরীর জমাদিউল আউয়াল মাসে শিরাজ শহরে তাঁর দরবারে উপস্থিত হন। তিনি তাঁকে উদ্দেশ্য করে তাঁর সেই 'হা-ইয়া' (হা অন্ত্যমিলের) কাসিদাটি পাঠ করেন যাতে তিনি বলেছেন: আমি সমস্ত রাজাদের দেখেছি এবং আনন্দিত হয়েছি, যতক্ষণ না তাদের অধিপতিকে দেখলাম। তাদের মৃত্যুসমূহ তাঁর করতলে, তিনি সেগুলোকে তাদের ব্যাপারে নির্দেশ দেন এবং নিষেধ করেন। পারস্যে শৌর্য-বীর্যের অধিকারী আদুদুদ্দৌলা ফানা খুসরু শাহানশাহ। এসব নাম তাঁর পরিচিতিকে বাড়িয়ে দেয় না, বরং এগুলো আমরা আনন্দের জন্য উল্লেখ করেছি। আদুদুদ্দৌলা তাঁর প্রাসাদে বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, প্রাজ্ঞজন এবং দার্শনিকদের জন্য তাঁর মজলিসের কাছেই একটি নির্জন স্থান নির্দিষ্ট করেছিলেন। তারা সেখানে আলোচনা ও জ্ঞানচর্চার জন্য সমবেত হতেন এবং নির্বোধ ও সাধারণ ইতর শ্রেণীর মানুষের উৎপাত থেকে নিরাপদ থাকতেন।তাঁর এই মজলিসে মুতাজিলাদের বড় বড় মাথা তথা শয়তানদের সমাবেশ ঘটত; যেমন আবু সা'দ বিশর ইবনুল হুসাইন—যিনি ছিলেন শিরাজ শহরের প্রধান বিচারপতি এবং ৩৮০ হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন, বাগদাদের মুতাজিলাদের প্রধান আল-আহদাব, বসরায় তাদের প্রধান আবু ইসহাক আন-নাসীবিনী এবং আবুল হাসান মুহাম্মদ ইবনু শুজা।আদুদুদ্দৌলা লক্ষ্য করলেন যে তাঁর মজলিস আহলে সুন্নাত থেকে শূন্য। তখন তিনি বললেন: এটি আলেমদের দ্বারা পরিপূর্ণ কোনো মজলিস নয়, কেননা আমি এতে আহলে ইসবাত (গুণাবলি সাব্যস্তকারী) এবং মুহাদ্দিসদের কাউকে দেখছি না। এই ইসবাতপন্থীদের কি কোনো সাহায্যকারী নেই? তখন বিচারপতি বিশর ইবনুল হুসাইন বললেন: তাদের কোনো সাহায্যকারী নেই। তারা তো কেবল সাধারণ লোক, অন্ধ অনুসরণ ও বর্ণনার লোক। তারা কোনো একটি বর্ণনা এবং তার বিপরীত বর্ণনা উভয়টিই বর্ণনা করে এবং উভয়টির ওপরই বিশ্বাস রাখে। তারা যুক্তিনির্ভর চিন্তা বোঝে না, আর মুতাজিলারা হলো তর্ক ও বাহাসের অশ্বারোহী (পারদর্শী)।তখন আদুদুদ্দৌলা বললেন: সমগ্র পৃথিবী জুড়ে বিস্তৃত কোনো মাযহাব বা মতবাদ সাহায্যকারী শূন্য হওয়া অসম্ভব! সুতরাং এমন কোনো স্থানের খোঁজ করো যেখানে কোনো বিতার্কিক (মুনাজির) আছেন, যেন তাকে চিঠি লিখে নিয়ে আসা যায়।যখন বিচারপতি তাঁর কথার মধ্যে দৃঢ় সংকল্প লক্ষ্য করলেন, তখন তিনি বললেন: আমি শুনেছি যে বসরায় একজন বয়োবৃদ্ধ এবং একজন যুবক আছেন। বয়োবৃদ্ধ ব্যক্তিটিআবুল হাসান আল-বাহিলী নামে পরিচিত এবং যুবকটি ইবনুল বাকিল্লানী নামে পরিচিত।অতঃপর সেদিনই আদুদুদ্দৌলা বসরার গভর্নরের কাছে তাদের দুজনকে পাঠিয়ে দেওয়ার জন্য চিঠি লিখলেন এবং তাদের জন্য পাঁচ হাজার রৌপ্য দিরহাম পাঠালেন। যখন চিঠিটি তাদের কাছে পৌঁছাল, তখন শায়খ বললেন: এই দাইলামিরা হলো কাফের, ফাসেক এবং রাফেজি সম্প্রদায়; (সেখানে যাওয়া) বৈধ নয়।
(খণ্ড: ১)
ইজাযুল কুরআন লিল বাকিল্লানি
(পৃষ্ঠা: ২১)
لنا أن نطأ بساطهم، وليس غرض الملك من هذا إلا أن يقال: إن مجلسه مشتمل على أصحاب المحابر كلهم، ولو كان ذلك خالصا لله لنهضت.وشايعه على ذلك بعض أصحابه.ولكن الباقلانى لم يعجبه رأى شيخه فقال له: كذا قال ابن كلاب والحارث ابن أسد المحاسبى ومن في عصرهم: إن المأمون فاسق ظالم لا نحضر مجلسه، حتى ساق أحمد بن حنبل، وجرى عليه بعد مما عرف، ولو ناظروه لكفوه عن هذا الامر، وتبين له ما هم عليه بالحجة.وأنت أيضا - أيها الشيخ - تسلك سبيلهم حتى يجرى على الفقهاء ما جرى على أحمد، ويقولوا: بخلق القرآن ونفى الرؤية وها أنا خارج إن لم تخرج.فقال الشيخ: أما إذا شرح الله صدرك لذلك فافعل.قال الباقلانى: فخرجت إلى شيراز، فلما دخلت المدينة استقبلني ابن خفيف في جماعة من الصوفية وأهل السنة، فلما جلسنا في موضع كان ابن خفيف يدارس فيه أصحابه " اللمع " للشيخ أبى الحسن الاشعري، فقلت له: تماد على التدريس كما كنت، فقال لى: أصلحك الله، إنما أنا بمنزلة المتيمم عند عدم الماء، فإذا وجد الماء فلا حاجة إلى التيمم.فقلت له: جزاك الله خيرا، وما أنت بمتيمم، بل لك حظ وافر من هذا العلم، وأنت على الحق، والله ينصرك.ثم قلت: متى الدخول إلى فنا خسرو؟ فقالوا لى: يوم الجمعة لا يحجب عنه صاحب طيلسان.فدخلت والناس قد اجتمعوا، والملك قاعد على سرير ملكه، والناس صفوف على يسار الملك، وفوق الكل قاضى القضاة: بشر بن الحسين، وكان يدخل مع الوزراء في وزارتهم، ويصغى الملك إلى رأيه في أمرالدولة، فلما رأيت ذلك كرهت أن أتقدم على الناس وأتخطى رقابهم، من غير أن أرفع، ولم تدعني نفسي أن أقعد في أخريات الناس.وكان عن يمين الملك المجلس خاليا، ولا يقعد هناك إلا وزير وملك عظيم.فمضيت وقعدت عن يمينه، بحذاء قاضى القضاة، فوجدوا من ذلك، وفزعوا واضطربوا، لانه كان عندهم من الجنايات العظام، ونظر الملك لقاضي القضاة نظرا منكرا، وما في المجلس من يعرفني إلا رجل واحد.فقال للقاضى: هذا هو الرجل الذى طلبه الملك من البصرة، فأعلم الملك بذلك، فقال قاضى القضاة: أطال الله بقاء مولانا، هذا هو الرجل
আমাদের জন্য তাদের গালিচায় পদার্পণ করা সংগত নয়। বাদশাহর এর মাধ্যমে উদ্দেশ্য কেবল এটাই যে, যেন বলা হয়: তার মজলিস সকল দোয়াতের অধিকারী আলেমদের দ্বারা পরিপূর্ণ। যদি এটি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নিবেদিত হতো, তবে আমি অগ্রসর হতাম।তার কিছু সঙ্গী এ বিষয়ে তাকে সমর্থন জানালেন।কিন্তু আল-বাকিল্লানি তার শায়খের এই অভিমতটি পছন্দ করলেন না। তিনি তাকে বললেন: ইবনে কুল্লাব, হারিস ইবনে আসাদ আল-মুহাসিবি এবং তাদের যুগের লোকেরা ঠিক এভাবেই বলেছিলেন যে— মামুন একজন ফাসেক ও জালেম, আমরা তার মজলিসে উপস্থিত হব না। শেষ পর্যন্ত এটি আহমদ ইবনে হাম্বলকে টেনে নিয়ে গিয়েছিল এবং এরপর তার ওপর যা ঘটেছিল তা তো সর্বজনবিদিত। যদি তারা তার সাথে বিতর্ক করতেন, তবে তাকে এই বিষয় থেকে ফিরিয়ে রাখতে পারতেন এবং দলিলের মাধ্যমে তাদের অবস্থান তার কাছে স্পষ্ট হয়ে যেত।আর হে শায়খ, আপনিও তাদের পথ অনুসরণ করছেন, যতক্ষণ না ফকিহদের ওপর তা ঘটে যা আহমদের ওপর ঘটেছিল, এবং তারা যেন কুরআন সৃষ্টি হওয়া ও পরকালে আল্লাহর দিদার অস্বীকার করার কথা বলে। আমি তো বের হচ্ছিই, যদি আপনি বের না হন।তখন শায়খ বললেন: আল্লাহ যদি তোমার অন্তরকে এর জন্য উন্মুক্ত করে দিয়ে থাকেন, তবে তাই করো।বাকিল্লানি বললেন: এরপর আমি শিরাজের উদ্দেশ্যে রওনা হলাম। যখন আমি শহরে প্রবেশ করলাম, ইবনে খফিফ একদল সুফি ও আহলে সুন্নাহর অনুসারীদের নিয়ে আমাকে অভ্যর্থনা জানালেন। যখন আমরা এমন একটি স্থানে বসলাম যেখানে ইবনে খফিফ তার সঙ্গীদের শায়খ আবুল হাসান আল-আশআরির ‘আল-লুমা’ পাঠদান করতেন, আমি তাকে বললাম: আপনি যেভাবে পাঠদান করছিলেন সেভাবেই চালিয়ে যান। তিনি আমাকে বললেন: আল্লাহ আপনার কল্যাণ করুন, আমি তো পানির অনুপস্থিতিতে তায়াম্মুমকারীর সমতুল্য। যখন পানি পাওয়া যায়, তখন আর তায়াম্মুমের প্রয়োজন থাকে না।আমি তাকে বললাম: আল্লাহ আপনাকে উত্তম প্রতিদান দিন। আপনি তায়াম্মুমকারী নন, বরং এই বিদ্যায় আপনার বিশাল অংশ রয়েছে। আপনি হকের ওপর আছেন এবং আল্লাহ আপনাকে সাহায্য করবেন।এরপর আমি বললাম: ফানা খসরুর নিকট প্রবেশের সময় কখন? তারা আমাকে বললেন: জুমার দিন কোনো চাদর পরিহিত আলেমকে তার নিকট যেতে বাধা দেওয়া হয় না।সুতরাং আমি প্রবেশ করলাম। তখন লোকেরা সমবেত হয়েছিল। বাদশাহ তার রাজসিংহাসনে উপবিষ্ট ছিলেন। বাদশাহর বাম পাশে লোকেরা সারিবদ্ধভাবে ছিল এবং সবার উপরে প্রধান বিচারপতি বিশর বিন হুসাইন অবস্থান করছিলেন। তিনি উজিরদের সাথে তাদের মন্ত্রিত্বের কাজে প্রবেশ করতেন এবং রাষ্ট্রীয় বিষয়ে বাদশাহ তার মতামতের প্রতি কর্ণপাত করতেন। আমি যখন এটি দেখলাম, তখন কোনো সম্মানজনক পদমর্যাদা ছাড়াই মানুষের সামনে অগ্রসর হওয়া এবং তাদের ঘাড় ডিঙিয়ে যাওয়া অপছন্দ করলাম। আবার আমার নফস আমাকে শেষ সারিতে বসতেও দিচ্ছিল না।বাদশাহর ডান দিকের মজলিসটি খালি ছিল। সেখানে কোনো উজির বা মহান রাজা ব্যতীত কেউ বসত না।অতঃপর আমি গিয়ে তার ডান পাশে, প্রধান বিচারপতির মুখোমুখি বসলাম। এতে তারা বিস্মিত হলো এবং ভীত ও বিচলিত হয়ে পড়ল। কারণ তাদের কাছে এটি ছিল এক গুরুতর অপরাধ। বাদশাহ প্রধান বিচারপতির দিকে এক বিরূপ দৃষ্টিতে তাকালেন। মজলিসে কেবল একজন লোক ব্যতীত আর কেউ আমাকে চিনত না।সে বিচারপতির উদ্দেশ্যে বলল: এই সেই ব্যক্তি যাকে বাদশাহ বসরা থেকে তলব করেছিলেন। সে বাদশাহকে এ বিষয়ে অবগত করল। তখন প্রধান বিচারপতি বললেন: আল্লাহ আমাদের অভিভাবকের হায়াত দীর্ঘায়িত করুন, ইনিই সেই ব্যক্তি।
(খণ্ড: ১)
ইজাযুল কুরআন লিল বাকিল্লানি
(পৃষ্ঠা: ২২)
الذى كتبت فيه، وهو لسان المثبتة.فنظر الملك إلى الغلمان والحجاب فطاروا من بين يديه، ثم قال: اذكروا له مسألة، وكان في المجلس رئيس البغداديين من المعتزلة، وهو الاحدب.وكان أفصح من عندهم وأعلمهم، وعدد كثير من معتزلة البصرة، أقدمهم أبو إسحاق النصيبينى، فقال الاحدب لبعض تلاميذه: سله، هل لله أن يكلف الخلق ما لا يطيقون، أو ليس له ذلك؟ - وكان غرضه تقبيح صورتنا عند الملك - فقلت له: إن أردتم بالتكليف القول المجرد فقد وجد ذلك، لان الله تعالى قال: (قل: كونوا حجارة أو حديدا) ونحن لا نقدر أن نكون حجارة ولا حديدا.وقال تعالى: (أنبئوني بأسماء هؤلاء إن كنتم صادقين، قالوا: سبحانك لا علم لنا إلا ما علمتنا، إنك أنت العليم الحكيم) فطالبهم بما لا يعلمون.وقال تعالى: (يوم يكشف عن ساق ويدعون إلى السجود فلا يستطيعون) .وهذا كله أمر بما لا يقدر عليه الخلق.وإن أردتم بالتكليف الذى نعرفه، وهو ما يصح فعله وتركه، فالكلام متناقض، وسؤالك فاسد، فلا تستحق جوابا، لانك قلت: تكليف، والتكليف: اقتضاء فعل ما فيه مشقة على المكلف، وما لا يطاق لا يفعل لا بمشقة ولا بغير مشقة.فسكت السائل، وأخذ الكلام الاحدب فقال: أيها الرجل، أنت سئلت عن كلام مفهوم فطرحتهفي الاحتمالات، وليس ذلك بجواب، وجوابه إذا سئلت أن تقول: نعم أو لا.فأحفظنى كلامه لما لم يوقرني توقير الشيوخ ولم يخاطبني بما يليق.وقلت له: يا هذا أنت نائم ورجلاك في الماء: إنما طرحت السؤال في الاحتمالات، وقد بينت لك الوجوه المحتملة، فإن كان معك في المسألة كلام فهاته، وإلا تكلم في غيرها.فقال الملك للاحدب: أيها الشيخ، قد بين الاحتمال، وليس لك أن تعيد عليه، ولا أن تغالطه، ثم إنى ما جمعتكم إلا للفائدة لا للمهاترة، ولما لا يليق بالعلماء.ثم التفت إلى وقال لى: تكلم على المسألة.فقلت: ما لا يطاق على ضربين: أحدهما لا يطاق للعجز عنه، والآخر لا يطاق للاشتغال عنه بضده، كما يقال: فلان لا يطيق التصرف لاشتغاله بالكتابة وما أشبه ذلك، وهذا سبيل الكافر: أنه لا يطيق الايمان، لا لانه عاجز عن الايمان، لكنه لا يطيقه لاشتغاله بضده الذى
যে বিষয়ে আমি লিখেছি, এবং এটি সাব্যস্তকারীদের (মুসবিতাহ) পরিভাষা।অতঃপর বাদশা গোলাম ও দ্বাররক্ষীদের দিকে তাকালেন, ফলে তারা তার সম্মুখ থেকে দ্রুত সরে গেল। এরপর তিনি বললেন: তোমরা তার সামনে একটি মাসআলা উপস্থাপন করো। মজলিসে মুতাজিলাদের বাগদাদি শাখার প্রধান উপস্থিত ছিলেন, তিনি ছিলেন কুব্জ।তিনি ছিলেন তাদের মধ্যে সবচেয়ে বাগ্মী ও বিজ্ঞ। সেখানে বসরার মুতাজিলাদের একটি বড় দল ছিল, যাদের মধ্যে বয়োজ্যেষ্ঠ ছিলেন আবু ইসহাক আন-নাসিবিনি। অতঃপর সেই কুব্জ ব্যক্তি তার এক ছাত্রকে বললেন: তাকে জিজ্ঞেস করো, আল্লাহ কি সৃষ্টির ওপর এমন কিছু অর্পণ (তাকলিফ) করতে পারেন যা বহন করার সাধ্য তাদের নেই, নাকি তিনি তা পারেন না? —তার উদ্দেশ্য ছিল বাদশার কাছে আমাদের অবস্থানকে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করা— আমি তাকে বললাম: তোমরা যদি 'তাকলিফ' বলতে কেবল আক্ষরিক কথা বুঝিয়ে থাকো, তবে তা ইতিপূর্বেই ঘটেছে। কারণ আল্লাহ তাআলা বলেছেন: (বলুন: তোমরা পাথর বা লোহা হয়ে যাও)। অথচ আমাদের পক্ষে পাথর বা লোহা হওয়া সম্ভব নয়।আল্লাহ তাআলা আরও বলেছেন: (তোমরা আমাকে এগুলোর নাম বলে দাও যদি তোমরা সত্যবাদী হও। তারা বলল: আপনি পবিত্র! আপনি আমাদের যা শিখিয়েছেন তা ছাড়া আমাদের কোনো জ্ঞান নেই। নিশ্চয়ই আপনি সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়)। এখানে তিনি তাদের কাছে এমন কিছু দাবি করেছেন যা তারা জানত না।আল্লাহ তাআলা আরও বলেছেন: (যেদিন আল্লাহর পা উন্মোচিত করা হবে এবং তাদের সিজদা করার জন্য আহ্বান জানানো হবে, কিন্তু তারা সক্ষম হবে না)।এসবই এমন বিষয়ের নির্দেশ যা পালন করার ক্ষমতা সৃষ্টির নেই।আর তোমরা যদি 'তাকলিফ' বলতে তা বুঝিয়ে থাকো যা আমরা জানি—অর্থাৎ যা সম্পাদন করা বা বর্জন করা উভয়ই সম্ভব—তবে তোমাদের বক্তব্য স্ববিরোধী এবং প্রশ্নটিই ত্রুটিপূর্ণ। তাই তুমি কোনো উত্তরের যোগ্য নও। কারণ তুমি বলেছ: 'তাকলিফ'; আর তাকলিফ হলো এমন কাজের দাবি করা যাতে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির জন্য কষ্ট ও শ্রম রয়েছে। কিন্তু যা সাধ্যাতীত, তা কষ্ট করে বা কষ্ট ছাড়া কোনোভাবেই করা সম্ভব নয়।প্রশ্নকারী নিরুত্তর হয়ে গেল এবং সেই কুব্জ ব্যক্তি কথা বলতে শুরু করলেন। তিনি বললেন: হে ব্যক্তি! তোমাকে একটি বোধগম্য বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল, কিন্তু তুমি সেটাকে বিভিন্ন সম্ভাব্যতার বেড়াজালে আবদ্ধ করে ফেলেছ। এটি কোনো সঠিক উত্তর নয়। প্রশ্ন করা হলে তোমার উত্তর হওয়া উচিত ছিল: 'হ্যাঁ' অথবা 'না'।তার কথাবার্তা আমাকে ক্ষুব্ধ করল, কারণ তিনি আমাকে প্রবীণদের ন্যায় সম্মান প্রদর্শন করেননি এবং আমার সাথে যথাযোগ্য শিষ্টাচার বজায় রেখে কথা বলেননি।আমি তাকে বললাম: হে ব্যক্তি! তুমি তো ঘুমে বিভোর অথচ তোমার পা পানিতে ডুবে আছে। আমি প্রশ্নটিকে কেবল বিভিন্ন সম্ভাব্যতার নিরিখে বিশ্লেষণ করেছি এবং এর সম্ভাব্য দিকগুলো তোমার নিকট স্পষ্ট করেছি। এই মাসআলায় যদি তোমার আরও কিছু বলার থাকে তবে তা পেশ করো, অন্যথায় ভিন্ন কোনো প্রসঙ্গে কথা বলো।বাদশা তখন সেই কুব্জ ব্যক্তিকে বললেন: হে শায়খ! তিনি তো সম্ভাবনাগুলো স্পষ্ট করেছেন। আপনার জন্য সংগত নয় তার কথার পুনরাবৃত্তি করা কিংবা তাকে বিভ্রান্ত করতে চাওয়া। তাছাড়া আমি আপনাদেরকে কেবল জ্ঞানার্জনের উদ্দেশ্যে সমবেত করেছি, বিবাদ কিংবা আলেমদের জন্য অশোভন কোনো আচরণের জন্য নয়।অতঃপর তিনি আমার দিকে ফিরে বললেন: আপনি এই মাসআলাটি নিয়ে আলোচনা করুন।আমি বললাম: যা সাধ্যাতীত তা দুই প্রকার: এক প্রকার হলো যা অক্ষমতার কারণে সাধ্যাতীত। অন্যটি হলো তার বিপরীত কোনো কাজে লিপ্ত থাকার কারণে সাধ্যাতীত। যেমন বলা হয়: অমুক ব্যক্তি চলাফেরা করতে পারছে না কারণ সে লেখালেখিতে ব্যস্ত বা এই জাতীয় কিছু। কাফেরদের বিষয়টিও অনুরূপ: সে ঈমান আনতে সক্ষম নয়; এমন নয় যে সে ঈমান আনতে অক্ষম, বরং সে ঈমানের বিপরীত কাজে মগ্ন থাকার কারণে তা পারছে না যা...
(খণ্ড: ১)
ইজাযুল কুরআন লিল বাকিল্লানি
(পৃষ্ঠা: ২৩)
هو الكفر، فهذا يجوز تكليفه بما لا يطاق.وأما العاجز فما ورد في الشريعة تكليفه، ولو ورد لكان جائزا وصوابا، وقد أثنى الله تعالى على من سأله أن يكلفه ما لا يطيق، فقال عز وجل: (ولا تحملنا مالا طاقة لنا به) ، لان الله تعالى له أن يفعل في ملكه ما يريد.ثم تجاوز الاحدب الكلام إلى غيره، ومال الملك إلى قولى.ثم سألني النصيبينى عن مسألة الرؤية: هل يرى الباري سبحانه بالعين؟ وهل تجوز الرؤية عليه أو تستحيل؟ وقال: كل شئ يرى بالعين، فيجب أن يكون في مقابلة العين.فالتفت الملك إلى وقال: تكلم أيها الشيخ في المسألة.فقلت: لو كان الشئ يرى بالعين لوجب أن يكون في مقابلة العين على ما قال: ولكن لا يرى الله بالعين.فتعجب الملك من قولى، والتفت إلى قاضى القضاة، فقال: إذا لم ير الشئ بالعين، فبأى شئ يرى؟ فقال: يسأله الملك.فقال أيها الشيخفبأى شئ يرى إذا لم ير بالعين؟ فقلت: يرى بالادراك الذى في العين، ولو كان الشئ يرى بالعين لكان يجب أن ترى كل عين قائمة، وقد علمنا أن الاجهر عينه قائمة ولا يرى شيئا.فزاد الملك تعجبا، وقال للنصيبينى: تكلم.فقال: إنى لم أعلم أنه يقول هذا، ولا بنيت إلا على ما نعرف، وظننت أنه يسلم أن الشئ يرى بالعين! فغضب الملك وقال: ما أنت مثل الرجل، لانك بنيت المسألة على الظن.ثم التفت إلى وقال لى: تكلم أنت.فقلت: العين لا ترى، وإنما ترى الاشياء بالادراك الذى يحدثه الله تعالى فيها، وهو البصر، ألا ترى أن المحتضر يرى الملائكة ونحن لا نراهم؟ وكان النبي صلى الله عليه وسلم، يرى جبريل عليه السلام ولا يراه من يحضره؟ والملائكة يرى بعضهم بعضا ولا نراهم نحن؟ والدليل على جواز رؤية الباري تعالى أنه ليس فيها قلب للحقائق، ولا إفساد للادلة، ولا إلحاق صفة نقص بالقديم تعالى، فوجب أن يكون كسائر الموجودات، لانه تعالى موجود، والشئ إنما يرى لانه موجود، لان المرئى لم يكن مرئيا لانه جنس، لانا نرى سائر الاجناس المختلفة، ولا لقيام معنى بالمرئى، لانا نرى الاعراض التى لا تحمل المعاني، وقد ثبت بالنص وجوب رؤية الحق سبحانه في الدار الآخرة.ثم جرى
তা হলো কুফর, সুতরাং তাকে এমন কিছুর দায়িত্ব অর্পণ করা বৈধ যা সাধ্যের অতীত।আর অক্ষম ব্যক্তির ক্ষেত্রে শরিয়তে তাকে দায়িত্ব অর্পণ করার কথা আসেনি, তবে যদি আসত তবে তা বৈধ এবং সঠিক হতো। মহান আল্লাহ তাঁর কাছে এমন ব্যক্তির প্রশংসা করেছেন যে তাঁর কাছে প্রার্থনা করেছে যাতে তিনি তাকে তার সাধ্যের অতীত কিছুর দায়িত্ব না দেন; তিনি পরাক্রমশালী ও মহান বলেন: (আর আমাদের উপর এমন বোঝা চাপিয়ে দেবেন না যা বহন করার ক্ষমতা আমাদের নেই), কারণ মহান আল্লাহ তাঁর রাজত্বে যা ইচ্ছা তা করার অধিকার রাখেন।অতঃপর কুঁজো ব্যক্তি অন্য আলোচনায় চলে গেল এবং বাদশাহ আমার মতের দিকে ঝুঁকলেন।এরপর নাসিবিনি আমাকে দর্শন (রুইয়াত) সংক্রান্ত মাসআলা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন: স্রষ্টা সুবহানাহুকে কি চোখ দিয়ে দেখা যায়? তাঁর দর্শন কি সম্ভব নাকি অসম্ভব? এবং তিনি বললেন: যা কিছু চোখ দিয়ে দেখা যায়, তাকে অবশ্যই চোখের বিপরীতে বা সামনে থাকতে হয়।তখন বাদশাহ আমার দিকে তাকালেন এবং বললেন: হে শায়খ, এই বিষয়ে কথা বলুন।আমি বললাম: যদি কোনো কিছু চোখ দিয়ে দেখা যেত, তবে তিনি যা বলেছেন সেই অনুযায়ী তাকে চোখের সামনে থাকা আবশ্যক হতো; কিন্তু আল্লাহকে চোখ দিয়ে দেখা যায় না।বাদশাহ আমার কথায় আশ্চর্যান্বিত হলেন এবং প্রধান বিচারপতির দিকে তাকিয়ে বললেন: যদি কোনো কিছু চোখ দিয়ে দেখা না যায়, তবে কী দিয়ে দেখা যায়? তিনি বললেন: বাদশাহ যেন তাকেই জিজ্ঞাসা করেন।অতঃপর তিনি বললেন, হে শায়খযদি চোখ দিয়ে দেখা না যায় তবে কী দিয়ে দেখা যায়? আমি বললাম: চোখের মধ্যে থাকা উপলব্ধির মাধ্যমে দেখা যায়। যদি কোনো কিছু কেবল চোখ থাকার কারণেই দেখা যেত, তবে প্রতিটি বিদ্যমান চোখই দেখতে পেত। অথচ আমরা জানি যে, যার চোখের মণি বিদ্যমান কিন্তু দৃষ্টিশক্তি নেই, তার চোখ ঠিক থাকলেও সে কিছুই দেখে না।বাদশাহর বিস্ময় আরও বেড়ে গেল এবং তিনি নাসিবিনিকে বললেন: কথা বলো।তিনি বললেন: আমি জানতাম না যে তিনি এমন কথা বলবেন, আর আমি কেবল আমাদের পরিচিত বিষয়ের ওপর ভিত্তি করেই কথা বলেছি। আমি মনে করেছিলাম তিনি স্বীকার করে নেবেন যে বস্তু চোখ দিয়েই দেখা যায়! এতে বাদশাহ রাগান্বিত হলেন এবং বললেন: তুমি এই লোকটির মতো নও, কারণ তুমি তোমার মাসআলা অনুমানের ওপর ভিত্তি করে সাজিয়েছ।এরপর তিনি আমার দিকে তাকালেন এবং আমাকে বললেন: আপনি কথা বলুন।আমি বললাম: চোখ দেখে না, বরং বস্তুসমূহ দেখা যায় সেই উপলব্ধির মাধ্যমে যা মহান আল্লাহ তাতে সৃষ্টি করেন, আর তা হলো দৃষ্টিশক্তি। আপনি কি দেখেন না যে, মুমূর্ষু ব্যক্তি ফেরেশতাদের দেখতে পায় অথচ আমরা তাদের দেখি না? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিবরাঈল আলাইহিস সালামকে দেখতেন অথচ তাঁর উপস্থিতরা তাঁকে দেখত না? ফেরেশতারা একে অপরকে দেখে অথচ আমরা তাদের দেখি না? মহান স্রষ্টাকে দেখার বৈধতার দলিল হলো এই যে, এতে বাস্তবতার কোনো পরিবর্তন ঘটে না, দলিলের কোনো বিঘ্ন ঘটে না এবং অনাদি মহান আল্লাহর সাথে কোনো অপূর্ণতার গুণ যুক্ত হয় না। অতএব, অন্যান্য বিদ্যমান সত্তার মতোই তাঁর দর্শন হওয়া আবশ্যক (অর্থাৎ সম্ভব), কারণ তিনি বিদ্যমান। আর কোনো কিছু দেখা যায় কারণ তা বিদ্যমান। কেননা দৃশ্যমান বস্তু কেবল তার শ্রেণির কারণে দৃশ্যমান হয় না, কারণ আমরা বিভিন্ন ভিন্ন ভিন্ন শ্রেণির বস্তু দেখি; আবার দৃশ্যমান বস্তুর মধ্যে কোনো গুণের আধার হওয়ার কারণেও নয়, কারণ আমরা এমন সব আপতিক গুণাবলি দেখি যা কোনো স্বতন্ত্র অর্থ বহন করে না। আর পরকালে মহান সত্য সত্তার দর্শন অবধারিত হওয়ার বিষয়টি অকাট্য দলিলের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে।অতঃপর আলোচনা চলতে থাকল...
(খণ্ড: ১)
ইজাযুল কুরআন লিল বাকিল্লানি
(পৃষ্ঠা: ২৪)
في المجلس كلام كثير، وقال الملك على إثره لقاضي القضاة: ألم أقل لك: إن مذهبا طبق الارض لابد له من ناصر.ولما انقضى المجلس صحبني بعض الحجاب إلى منزل هيئ لى فيه جميع ما أحتاج إليه، فسكنته.ولما خرج الباقلانى قال الملك لقاضيه: فكرت بأى قتلة أقتله لجلوسه حيث جلس بغير أمرى، وأما الآن فقد علمت أنه أحق بمكانى منى.ثم دفع ابنه صمصام الدولة، ليعلمه مذهب أهل السنة، فعلمه وألف له كتاب " التمهيد " ولم يزل الباقلانى مع عضد الدولة، إلى أن أقدم بغداد.وكان دخوله أياها فيسنة 367، وظل الباقلانى أثيرا لديه، حتى إنه جعله رئيس البعثة التى أوفدها في سنة 371 إلى ملك الروم.وقد قال الاستاذ " محمود محمد الخضيرى " والدكتور " محمد عبد الهادى أبو ريدة " في مقدمتهما لكتاب التمهيد: " إن هذه المناظرة جرت في مجلس الامبراطور باسيليوس الثاني، الذى حكم من سنة 365 إلى سنة 416 هـ ".ثم قالا: " ومهما يكن أمر سفارة الباقلانى بين عضد الدولة وبين ملك الروم، فنحن لا نعرف ظروفها التاريخية، وربما كان ملك الروم قد أراد من يبين له أمر الاسلام، أو يجيب عن أسئلة النصارى بشأن ما يعتقده المسلمون.ويتبين من تفصيل المناقشات أن مهمة الباقلانى كانت مدنية علمية، هي أشبة ببعثة تبادل الآراء ومعرفة وجهات النظر الدينية، ولا سيما أنه ليس عندنا في التاريخ ما يدل على اتصال وثيق بين عضد الدولة وبين الروم من شأنه أن يكون داعيا لبعثات سياسية أو حربية أو أشبه ذلك، وأن المؤرخين يشيرون إلى هذه السفارة باختصار، أو هم يذكرون ما يدل على صبغتها الفكرية الدينية الخالصة.على أنه من الجائز أن يكون ظهور شأن السلطان الفاتح عضد الدولة، بعد حروب دامت طويلا بين البيزنطيين والمسلمين وبعد تمرد أحد قواد الروم على الامبراطور في الشرق، كان مما دعا الامبراطور البيزنطى إلى عقد صلات التعارف مع عضد الدولة " ثم قالا: " إن الغرض الذى رمى إليه عضد الدولة من بعثة الباقلانى إلى بيزنطة هو إرضاء شعور
সেই মজলিসে অনেক আলোচনা হলো এবং তার প্রেক্ষিতে রাজা প্রধান বিচারপতিকে বললেন: "আমি কি আপনাকে বলিনি যে, যে মাযহাব পৃথিবী ছেয়ে ফেলেছে, তার জন্য অবশ্যই একজন সাহায্যকারী থাকবে?"যখন মজলিস শেষ হলো, কতিপয় দ্বাররক্ষী আমাকে একটি বাড়িতে নিয়ে গেলেন যেখানে আমার প্রয়োজনীয় সবকিছুর ব্যবস্থা করা হয়েছিল, অতঃপর আমি সেখানে অবস্থান করলাম।যখন বাকিল্লানি বেরিয়ে গেলেন, রাজা তার কাজিকে বললেন: "আমি ভাবছিলাম তাকে কোন পদ্ধতিতে হত্যা করব, যেহেতু সে আমার অনুমতি ছাড়াই যেখানে বসেছিল সেখানে বসেছিল; কিন্তু এখন আমি বুঝতে পেরেছি যে, সে আমার চেয়েও আমার এই আসনের বেশি হকদার।"তারপর তিনি তার পুত্র সামসাম উদ-দৌলাকে আহলে সুন্নাতের মাযহাব শেখানোর জন্য তার কাছে সোপর্দ করলেন। তিনি তাকে শিক্ষা দিলেন এবং তার জন্য "আত-তামহিদ" কিতাবটি রচনা করলেন। বাকিল্লানি বাগদাদে আসার আগ পর্যন্ত আদুদ উদ-দৌলার সাথেই ছিলেন।সেখানে তার প্রবেশ ছিল৩৬৭ হিজরিতে। বাকিল্লানি তার কাছে অত্যন্ত প্রিয়পাত্র হয়ে রইলেন, এমনকি তিনি তাকে ৩৭১ হিজরিতে রোম সম্রাটের কাছে প্রেরিত প্রতিনিধি দলের প্রধান নিযুক্ত করলেন।উস্তাদ মাহমুদ মুহাম্মদ আল-খুদাইরি এবং ডক্টর মুহাম্মদ আব্দুল হাদি আবু রিদাহ "আত-তামহিদ" কিতাবের ভূমিকায় বলেছেন: "এই মুনাজারা সম্রাট দ্বিতীয় বাসিলিয়াসের দরবারে অনুষ্ঠিত হয়েছিল, যিনি ৩৬৫ থেকে ৪১৬ হিজরি পর্যন্ত শাসন করেছিলেন।"অতঃপর তারা বলেন: "আদুদ উদ-দৌলা ও রোম সম্রাটের মধ্যে বাকিল্লানির দূতিয়ালির বিষয়টি যেমনই হোক না কেন, আমরা এর ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট জানি না। সম্ভবত রোম সম্রাট এমন কাউকে চেয়েছিলেন যিনি তার কাছে ইসলামের বিষয়টি ব্যাখ্যা করবেন অথবা মুসলিমদের আকিদা-বিশ্বাস সম্পর্কে খ্রিস্টানদের প্রশ্নের উত্তর দেবেন।"আলোচনার বিবরণ থেকে স্পষ্ট হয় যে, বাকিল্লানির দায়িত্ব ছিল নাগরিক ও জ্ঞানতাত্ত্বিক, যা অনেকটা মতবিনিময় এবং ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গি জানার প্রতিনিধি দলের মতো ছিল। বিশেষ করে ইতিহাসে আমাদের কাছে আদুদ উদ-দৌলা ও রোমকদের মধ্যে এমন কোনো নিবিড় সম্পর্কের প্রমাণ নেই যা রাজনৈতিক বা যুদ্ধবিগ্রহ সংক্রান্ত প্রতিনিধি দল পাঠানোর কারণ হতে পারে। ঐতিহাসিকগণ এই দূতিয়ালির কথা সংক্ষেপে উল্লেখ করেছেন অথবা তারা এমন কিছু উল্লেখ করেছেন যা এর বিশুদ্ধ বুদ্ধিবৃত্তিক ও ধর্মীয় চরিত্রের প্রমাণ দেয়।তবে এটি সম্ভব যে, বাইজান্টাইন ও মুসলিমদের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের পর এবং প্রাচ্যে সম্রাটের বিরুদ্ধে জনৈক রোমান সেনাপতির বিদ্রোহের পর বিজয়ী সুলতান আদুদ উদ-দৌলার প্রতিপত্তি বৃদ্ধি পাওয়ায় বাইজান্টাইন সম্রাট আদুদ উদ-দৌলার সাথে পরিচয় ও সম্পর্ক স্থাপনে আগ্রহী হয়েছিলেন।" অতঃপর তারা বলেন: "আদুদ উদ-দৌলা কর্তৃক বাকিল্লানিকে বাইজান্টাইন সাম্রাজ্যে পাঠানোর উদ্দেশ্য ছিল অনুভূতির সন্তুষ্টি বিধান করা..."
(খণ্ড: ১)
ইজাযুল কুরআন লিল বাকিল্লানি
(পৃষ্ঠা: ২৫)
المسلمين بالسعي في تحرير أسراهم المعذبين لدى الروم " وكان خليقا بالاستاذين الفاضلين ألا يكتبا هذا الكلام البيزنطى بعد نقلهما لقول ابن الاثير: إن عضد الدولة أرسل الباقلانى إلى ملك الروم في جواب رسالة وردت منه.وكان حسبهما أن يسجلا على أنفسهما عدم " معرفة ظروفها التاريخية "فإن ذلك كان أسلم لهما، وكان يمنعهما من أن يتورطا فيما تورطا فيه، فليس صحيحا ما قالاه من أنه " ليس في التاريخ ما يدل على اتصال وثيق بين عضد الدولة وبين الروم من شأنه أن يكون داعيا لبعثات سياسية أو حربية ".وليس صحيحا كذلك أن المؤرخين أشاروا إلى هذه السفارة باختصار، ودلوا على صبغتها الدينية الخالصة.وليس صحيحا مرة ثالثة أن عضد الدولة قد قصد من بعثة الباقلانى إرضاء شعور المسلمين بالسعي في تحرير أسراهم.أجل إن هذه الاقوال كلها ليست من الصحة والصواب في شئ، فقد بين المؤرخون لتلك الفترة من الزمان الاتصال الوثيق بين عضد الدولة وملك الروم، وأن البعثات السياسية قد تبو دلت بينهما عدة مرات منذ سنة 369 حتى وفاة عضد الدولة في شوال سنة 372، وأن وفد الروم الثالث أدرك وفاة عضد الدولة وحضر مجلس صمصام الدولة وتسلم منه الهدايا وتمم عقد المعاهدة.ومجمل ما فصله المؤرخون في ذلك: أنه لما توفى أرمانوس ملك الروم وقام بعده ابناه باسيل وقسطنطين، افترقت كلمة الروم، وطمع كبار القواد في الاستئثار بالملك.وكان ممن طمع في ذلك السقلاروس المعروف بورد الرومي، فجمع الجموع واستجاش بالمسلمين من الثغور وكاتب أبا تغلب بن حمدان وواصله وصاهره، وأخرج إليه الملكان عسكرا بعد عسكر فكسرهم، وجرت بين الفريقين معارك طاحنة، انتهت في يوم الاحد لثمان بقين من شعبان سنة 368 هـ بانهزام السقلاروس، وقد توجه بعد هزيمته إلى ديار بكر، ونزل بظاهر ميافارقين، وأنفذ أخاه قسطنطين إلى عضد الدولة يستنصره على ملكى الروم، ويعده ببذل الطاعة وحمل الخراج إذا انتصر، فأحسن عضد الدولة استقباله، ووثق إليه بخطه ووعده بجميل إنجاده، وتطاول مقام قسطنطين لدى عضد الدولة، وانتهى خبره إلى الملكين الاخوين بقسطنطينية، فأنفذا إلى عضد
মুসলিমদের রোমানদের কাছে নির্যাতিত বন্দীদের মুক্ত করার প্রচেষ্টার মাধ্যমে।" এই দুই মান্যবর অধ্যাপকের পক্ষে ইবনে আল-আসিরের উক্তি উদ্ধৃত করার পর এই বাইজেন্টাইন কথাটি লেখা সংগত হয়নি যে: আদুদ আদ-দাওলা তাঁর কাছে আসা একটি চিঠির উত্তরে আল-বাকিলানিকে রোম সম্রাটের কাছে পাঠিয়েছিলেন।তাদের জন্য এটুকুই যথেষ্ট ছিল যে তারা ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট সম্পর্কে নিজেদের "অজ্ঞতা" স্বীকার করে নিতেন।কারণ তা তাদের জন্য অধিক নিরাপদ হতো এবং তারা যে বিভ্রান্তিতে জড়িয়ে পড়েছেন তা থেকে তাদের বিরত রাখত। তাদের এই দাবি সঠিক নয় যে, "ইতিহাসে এমন কোনো প্রমাণ নেই যা আদুদ আদ-দাওলা এবং রোমানদের মধ্যে কোনো ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের ইঙ্গিত দেয়, যা রাজনৈতিক বা সামরিক মিশনের কারণ হতে পারে।"তেমনিভাবে এটিও সঠিক নয় যে, ঐতিহাসিকগণ এই দূত-প্রেরণ বা দূতিয়ালিকে সংক্ষেপে উল্লেখ করেছেন এবং একে নিছক ধর্মীয় চরিত্রের বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন।তৃতীয়ত, এটিও সঠিক নয় যে, আদুদ আদ-দাওলা আল-বাকিলানির মিশনের মাধ্যমে বন্দীদের মুক্ত করার প্রচেষ্টায় মুসলিমদের অনুভূতিকে সন্তুষ্ট করতে চেয়েছিলেন।হ্যাঁ, এই কথাগুলোর কোনোটিই সঠিক বা নির্ভুল নয়। কারণ সেই সময়ের ঐতিহাসিকগণ আদুদ আদ-দাওলা এবং রোম সম্রাটের মধ্যে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের বিষয়টি স্পষ্ট করেছেন। ৩৬৯ হিজরি থেকে শুরু করে শাওয়াল ৩৭২ হিজরিতে আদুদ আদ-দাওলার মৃত্যু পর্যন্ত তাদের মধ্যে বেশ কয়েকবার রাজনৈতিক প্রতিনিধি বিনিময় হয়েছিল। এমনকি তৃতীয় রোমান প্রতিনিধি দলটি আদুদ আদ-দাওলার মৃত্যুর পর পৌঁছায় এবং তারা সামসাম আদ-দাওলার মজলিসে উপস্থিত হয়ে উপহার গ্রহণ করে ও চুক্তি সম্পন্ন করে।ঐতিহাসিকগণ এই বিষয়ে যা বিস্তারিত বর্ণনা করেছেন তার সারসংক্ষেপ হলো: যখন রোম সম্রাট আরমানোস মৃত্যুবরণ করেন এবং তাঁর দুই পুত্র বাসিল ও কনস্টানটাইন তাঁর স্থলাভিষিক্ত হন, তখন রোমানদের ঐক্য বিনষ্ট হয় এবং উচ্চপদস্থ সেনাপতিরা একক ক্ষমতা দখলের লালসায় মত্ত হয়।ক্ষমতা লাভে লালায়িতদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন 'ওয়ার্দ আর-রুমি' নামে পরিচিত স্ক্রেরোস। তিনি সৈন্য সংগ্রহ করেন এবং সীমান্ত অঞ্চল থেকে মুসলিমদের সাহায্য প্রার্থনা করেন। তিনি আবু তাগলিব ইবনে হামদানের সাথে পত্রবিনিময় করেন, যোগাযোগ রক্ষা করেন এবং তাঁর সাথে বৈবাহিক আত্মীয়তা গড়ে তোলেন। দুই সম্রাট তাঁর বিরুদ্ধে একের পর এক বাহিনী পাঠালেও তিনি তাদের পরাজিত করেন এবং উভয় পক্ষের মধ্যে ভয়াবহ যুদ্ধ সংঘটিত হয়। অবশেষে ৩৬৮ হিজরির শাবান মাসের আট দিন বাকি থাকতে রবিবার স্ক্রেরোসের পরাজয়ের মাধ্যমে এর সমাপ্তি ঘটে। পরাজয়ের পর তিনি দিয়ার বকরের দিকে অগ্রসর হন এবং মিইয়াফারিকিনের উপকণ্ঠে অবস্থান নেন। তিনি তাঁর ভাই কনস্টানটাইনকে আদুদ আদ-দাওলার নিকট পাঠান যাতে দুই রোমান সম্রাটের বিরুদ্ধে সাহায্য প্রার্থনা করা যায় এবং বিজয়ী হলে আনুগত্য ও রাজস্ব প্রদানের প্রতিশ্রুতি দেন। আদুদ আদ-দাওলা তাঁকে সম্মানের সাথে গ্রহণ করেন, নিজের স্বাক্ষরিত পত্রে তাঁকে আশ্বস্ত করেন এবং তাঁকে উত্তম সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দেন। আদুদ আদ-দাওলার নিকট কনস্টানটাইনের অবস্থান দীর্ঘস্থায়ী হয় এবং এই সংবাদ কনস্টান্টিনোপলের দুই ভ্রাতা সম্রাটের নিকট পৌঁছায়। অতঃপর তারা আদুদ আদ-দাওলার নিকট পাঠালেন...
(খণ্ড: ১)
ইজাযুল কুরআন লিল বাকিল্লানি
(পৃষ্ঠা: ২৬)
الدولة كاتبا لهما وجيها أريبا، يسمى نقفور ويعرف بالاورانوس، ليفسد ما شرعفيه مع السقلاروس، واجتمع الرسولان على بساط عضد الدولة يتنافسان في التقرب إليه، ويستبقان إلى التماس الذمام منه، ولم ينصرفا إلى أن انسلخت سنة تسع وستين وثلثمائة.وذلك أمر لم يكن مثله قط، ويعده المؤرخون من مآثر عضد الدولة.وكان طلب الاورانوس ينحصر في تسليم السقلاروس ولو بابتياعه، والوعد بتأمينه ومن معه، وإخراج كل أسير للمسلمين في بلاد الروم.فمال عضد الدولة إلى ذلك، واحتال حتى حمل إليه عامله على ديار بكر السقلاروس مقبوضا عليه، فأكرمه بعد أن احتاط عليه، ووعده بإطلاقه وتجريد عساكر معه لنصرته، ثم وعد الاورانوس خيرا، وأخرج معه الباقلانى بجواب الرسالة، وعاد الباقلانى بمشروع معاهدة، ومعه رسول يعرف بابن قونس ليأخذ إمضاء عضد الدولة عليها، ولكن عضد الدولة بدا له أن يظفر في المعاهدة باسترجاع بعض الحصون، فأعاد ابن قونس وأرسل معه أبا إسحاق بن شهرام، ورجع ابن شهرام بمشروع المعاهدة الاخير، ومعه رسول يعرف بنقفور الكانكلى، ولكن وصولهما صادف اشتداد العلة على عضد الدولة وموته في الثامن من شوال.ووقع المعاهدة صمصام الدولة على شرطين: أولهما عقد الهدنة لمدة عشر سنوات، وتسليم الحصون التى اشترط ابن شهرام استرجاعها، وثانيهما إطلاق نقفور بعد أخذ خط ملك الروم بتأمينه، وإرجاعه إلى مرتبته.ذلك مجمل ما كان من أمر الصلة بين عضد الدولة وبين ملك الروم، والبعثات العديدة التى وكانت بينهما، والتى قال الاستاذ الخضيرى والدكتور أبو ريدة: إنه إنه ليس في التاريخ ما يدل عليها.ورتبا على ذلك ما رتبا من شتى الفروض والاحتمالات، ولو قد فطنا لقول ابن الاثير في حوادث سنة 70: (إن عضد الدولة أرسل الباقلانى إلى ملك الروم في جواب رسالة) وقدرا قوله هذا حق قدره، ورجعا إلى كلامه في حوادث سنة 69 - لالفياه يفصل القول في السبب الذى دعا ملك الروم إلىمراسلة عضد الدولة ومفاوضتة، وطلب عقد الهدنة 8، 255 - 256.
আদুদুদ দাওলা তাঁদের জন্য একজন অভিজাত ও বুদ্ধিমান লেখক নিয়োগ করেন, যাঁর নাম ছিল নিকেফোরোস এবং তিনি ওরানোস নামে পরিচিত ছিলেন, যাতে তিনি স্ক্লেরোস এর সাথে শুরু করা বিষয়গুলোকে নষ্ট করে দিতে পারেন। উভয় দূত আদুদুদ দাওলার দরবারে সমবেত হলেন এবং তাঁর সান্নিধ্য লাভের জন্য একে অপরের সাথে প্রতিযোগিতা করতে লাগলেন এবং তাঁর কাছ থেকে নিরাপত্তা লাভের জন্য অগ্রগামী হওয়ার চেষ্টা করতে লাগলেন। ৩৬৯ হিজরি সাল শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা সেখান থেকে বিদায় নেননি।এটি এমন এক ঘটনা ছিল যার নজির আগে কখনও দেখা যায়নি এবং ঐতিহাসিকগণ একে আদুদুদ দাওলার গৌরবময় কীর্তিসমূহের অন্যতম হিসেবে গণ্য করেন।ওরানোসের দাবি কেবল স্ক্লেরোসকে হস্তান্তর করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল, প্রয়োজনে মূল্যের বিনিময়ে হলেও, এবং তার ও তার সঙ্গীদের নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি দেওয়া এবং রোম সাম্রাজ্যে বন্দি থাকা সকল মুসলিমকে মুক্ত করে দেওয়ার শর্ত ছিল।আদুদুদ দাওলা এতে সম্মত হলেন এবং কৌশল অবলম্বন করলেন, ফলে দিয়ার বকরের গভর্নর স্ক্লেরোসকে বন্দি করে তাঁর কাছে নিয়ে এলেন। তিনি তাকে নজরদারিতে রাখার পর সম্মান প্রদর্শন করলেন এবং তাকে মুক্তি দেওয়ার ও তার সহায়তার জন্য একটি বাহিনী প্রস্তুত করার প্রতিশ্রুতি দিলেন। এরপর তিনি ওরানোসকেও শুভ সংবাদ দিলেন এবং পত্রের উত্তর নিয়ে বাকিল্লানিকে তাঁর সাথে পাঠালেন। বাকিল্লানি একটি চুক্তির খসড়া নিয়ে ফিরে এলেন এবং তাঁর সাথে ইবনুল কুনিস নামক একজন দূত ছিল যাতে সেটির ওপর আদুদুদ দাওলার স্বাক্ষর গ্রহণ করা যায়। কিন্তু আদুদুদ দাওলার মনে হলো যে চুক্তিতে কিছু দুর্গ পুনরুদ্ধারের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা উচিত, তাই তিনি ইবনুল কুনিসকে ফেরত পাঠালেন এবং তাঁর সাথে আবু ইসহাক বিন শাহরামকে পাঠালেন। ইবনে শাহরাম সর্বশেষ চুক্তির খসড়া নিয়ে ফিরে এলেন এবং তাঁর সাথে নিকেফোরোস কানকালি নামক একজন দূত ছিল। কিন্তু তাদের আগমন আদুদুদ দাওলার অসুস্থতা বৃদ্ধি পাওয়া এবং ৮ই শাওয়াল তাঁর ইন্তেকালের সাথে কাকতালীয়ভাবে মিলে যায়।সামসামুদ দাওলা দুটি শর্তে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন: প্রথমটি হলো দশ বছরের জন্য যুদ্ধবিরতি চুক্তি এবং ইবনে শাহরাম যেসব দুর্গ পুনরুদ্ধারের শর্ত দিয়েছিলেন সেগুলো হস্তান্তর করা। দ্বিতীয়টি হলো রোম সম্রাটের কাছ থেকে নিকেফোরোসের নিরাপত্তার লিখিত প্রতিশ্রুতি পাওয়ার পর তাকে মুক্তি দেওয়া এবং তাকে তার পদে ফিরিয়ে দেওয়া।এটিই ছিল আদুদুদ দাওলা এবং রোম সম্রাটের মধ্যকার সম্পর্কের সংক্ষিপ্ত বিবরণ এবং তাদের মধ্যে হওয়া অসংখ্য প্রতিনিধি দলের যাতায়াত, যার সম্পর্কে অধ্যাপক খুদাইরি এবং ডক্টর আবু রিদা বলেছেন যে: ইতিহাসে এর স্বপক্ষে কোনো প্রমাণ নেই।তাঁরা এর ওপর ভিত্তি করে বিভিন্ন ধারণা ও সম্ভাবনা দাঁড় করিয়েছেন। অথচ তাঁরা যদি ৭০ হিজরির ঘটনাবলীতে ইবনুল আসিরের বক্তব্যের প্রতি লক্ষ্য করতেন: "নিশ্চয়ই আদুদুদ দাওলা পত্রের জবাবে বাকিল্লানিকে রোম সম্রাটের কাছে পাঠিয়েছিলেন" এবং তাঁর এই বক্তব্যকে যথাযথ গুরুত্ব দিতেন, এবং ৬৯ হিজরির ঘটনার বর্ণনায় তাঁর কথার দিকে ফিরে যেতেন—তবে তাঁরা দেখতে পেতেন যে তিনি সেই কারণটি বিস্তারিত বর্ণনা করেছেন যা রোম সম্রাটকে আদুদুদ দাওলার সাথে পত্রালাপ, আলোচনা এবং যুদ্ধবিরতির আবেদন করতে উদ্বুদ্ধ করেছিল (৮, ২৫৫-২৫৬)।
(খণ্ড: ১)
ইজাযুল কুরআন লিল বাকিল্লানি
(পৃষ্ঠা: ২৭)
وعند ما تهيأ الباقلانى للخروج إلى القسطنطينية، قال له أبو القاسم: المطهر بن عبد الله، وزير عضد الدولة: الطالع خروجك.فسأله عن معنى هذا الكلام، فلما فسر له مراده، قال الباقلانى: لا أقول بهذا، لان السعد والنحس كله والشر والخير بيد الله عزوجل، وليس للكواكب ههنا مثقال ذرة من القدرة، وإنما وضعت كتب المنجمين ليتعيش بها الجاهلون من العامة، ولا حقيقة لها.فقال الوزير: أحضروا إلى أبا سليمان المنطقي، فليست المناظرة من شأني، ولا أنا قائم بها، وأنما أنا أحفظ علم النجوم وأقول: إذا كان من النجوم كذا كان كذا، وأما تعليله فهو من علم المنطق.فأحضر وأمر بمكالمة الباقلانى، فقال أبو سليمان للوزير: هذا القاضى يقول: إن الباري - سبحانه - قادر على أن يركب عشرة أنفس في ذلك المركب الذى في دجلة، فإذا وصلوا الجانب الآخر يكون الله قد زاد فيهم آخر فيكونون أحد عشر، ويكون الحادى عشر قد خلقه الله في ذلك الوقت.ولو قلت أنا: لا يقدر على ذلك، أو هو محال - قطعوا لساني وقتلوني، وإن أحسنوا إلى كتفوني ورموني في الدجلة.وإذا كان الامر كما ذكرت لم يكن لمناظرتي معه معنى! فالتفت الوزير إلى الباقلانى وقال: ما تقول أيها القاضى؟ فقال: ليس كلامنا ههنا في قدرة الباري تعالى: والبارى قادر على كل شئ، وإن جحده هذا الجاهل، وإنما كلامنا في تأثيرات هذه الكواكب، فاتتقل إلى ما ذكر لعجزه وقلة معرفته، وإلا فأى تعلق للكلام في قدرة الباري عز وجل في مسألتنا؟ وأنا وإن قلت: إن القديم، تعالى، قادر على ذلك، ما أقول: إنه يخرق العادة ويفعل هذا، لانه لا يجوز عندنا أن يخلق اليوم إنسانا من غير أبوين، فإذا كان كذلك، فقد علم الوزير أن هذا فرار من الزحف.فقال الوزير:هو كما ذكرت.وقال أبو سليمان المنطقي: المناظرات دربة وتجربة، وأنا لا أعرف مناظرات هؤلاء القوم، وهم لا يعرفون مواضعاتنا وعباراتنا، ولا تجمل المناظرة بين قوم هذا حالهم.فقال له الوزير: قبلنا إعتذارك، والحق أبلج.ثم مال إلى الباقلانى بوجهه، وقال له: سر في رعاية الله.قال الباقلانى: " فخرجت فدخلنا بلاد الروم حتى وصلنا إلى ملك الروم بالقسطنطينية، وأخبر الملك بمقدمنا
যখন আল-বাকিল্লানি কনস্টান্টিনোপলের উদ্দেশ্যে যাত্রার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, তখন আদুদুদ দাওলার উজির আবুল কাসিম আল-মুতাহার ইবনে আবদুল্লাহ তাকে বললেন: আপনার যাত্রার লগ্নটি শুভ।তিনি তাকে এই কথার অর্থ জিজ্ঞাসা করলেন। যখন উজির তার উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করলেন, তখন আল-বাকিল্লানি বললেন: আমি এটি বিশ্বাস করি না; কারণ শুভাশুভ এবং মঙ্গল-অমঙ্গল সবকিছুই মহান আল্লাহর হাতে। এখানে গ্রহ-নক্ষত্রের অণু পরিমাণও কোনো ক্ষমতা নেই। জ্যোতিষীদের কিতাবগুলো কেবল সাধারণ অজ্ঞ লোকেদের জীবিকা নির্বাহের জন্য রচিত হয়েছে, এগুলোর কোনো বাস্তবতা নেই।উজির বললেন: আবু সুলাইমান আল-মানতিকিকে আমার কাছে নিয়ে এসো। বিতর্ক করা আমার কাজ নয় এবং আমি এতে লিপ্তও হই না। আমি কেবল জ্যোতির্বিজ্ঞান মুখস্থ রাখি এবং বলি যে: যদি নক্ষত্রপুঞ্জের অবস্থা এমন হয়, তবে ফল এমন হবে। আর এর কারণ দর্শানো হলো যুক্তিবিদ্যার বিষয়।তাকে উপস্থিত করা হলো এবং আল-বাকিল্লানির সাথে কথা বলার নির্দেশ দেওয়া হলো। আবু সুলাইমান উজিরকে বললেন: এই কাজী সাহেব বলেন যে, সৃষ্টিকর্তা—তিনি পবিত্র—টাইগ্রিস নদীতে থাকা ঐ নৌকায় দশজন মানুষকে আরোহন করাতে সক্ষম; অতঃপর যখন তারা অপর পাড়ে পৌঁছাবে, তখন আল্লাহ তাদের মধ্যে আরও একজনকে বাড়িয়ে দেবেন এবং তারা এগারোজন হয়ে যাবে। আর ওই এগারোতম ব্যক্তিটিকে আল্লাহ সেই মুহূর্তেই সৃষ্টি করবেন।আর আমি যদি বলি যে, তিনি এটি করতে সক্ষম নন অথবা এটি অসম্ভব—তবে তারা আমার জিহ্বা কেটে ফেলবে এবং আমাকে হত্যা করবে। আর যদি তারা দয়া দেখায়, তবে আমার হাত-পা বেঁধে টাইগ্রিস নদীতে ফেলে দেবে।বিষয়টি যদি তেমনই হয় যা আমি উল্লেখ করলাম, তবে তার সাথে আমার বিতর্কের কোনো অর্থ হয় না! তখন উজির আল-বাকিল্লানির দিকে ফিরে বললেন: হে কাজী, আপনি কী বলেন? তিনি বললেন: আমাদের এই আলোচনা এখানে মহান সৃষ্টিকর্তার ক্ষমতা নিয়ে নয়; সৃষ্টিকর্তা তো সব কিছুর ওপর ক্ষমতাবান, যদিও এই অজ্ঞ লোকটি তা অস্বীকার করেছে। বরং আমাদের আলোচনা হলো এই গ্রহগুলোর প্রভাব নিয়ে। সে তার অক্ষমতা ও জ্ঞানের স্বল্পতার কারণে অন্য প্রসঙ্গে চলে গেছে, নতুবা আমাদের বিষয়ের সাথে মহান আল্লাহর ক্ষমতার আলোচনার সম্পর্ক কী? আমি যদিও বলি যে, অনাদি সত্তা (আল্লাহ) এ বিষয়ে সক্ষম, কিন্তু আমি এ কথা বলি না যে, তিনি অলৌকিকভাবে এটি ঘটান এবং এমনটি করেন; কারণ আমাদের নিকট বর্তমানে পিতামাতা ছাড়া কোনো মানুষ সৃষ্টি হওয়া সম্ভব নয়। সুতরাং বিষয়টি যখন এই, তখন উজির নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন যে এটি রণক্ষেত্র থেকে পলায়ন মাত্র।উজির বললেন:বিষয়টি আপনি যেমনটি বলেছেন তেমনই।আবু সুলাইমান আল-মানতিকি বললেন: বিতর্ক হলো এক প্রকার চর্চা ও অভিজ্ঞতা। আমি এই লোকেদের বিতর্কের ধরণ জানি না, আর তারাও আমাদের পরিভাষা ও শব্দবিন্যাস বোঝে না। যাদের অবস্থা এমন, তাদের মধ্যে বিতর্ক শোভা পায় না।উজির তাকে বললেন: আমরা তোমার অজুহাত কবুল করলাম, আর সত্য সুস্পষ্ট।তারপর তিনি আল-বাকিল্লানির দিকে ফিরে বললেন: আল্লাহর হেফাজতে যাত্রা করুন।আল-বাকিল্লানি বলেন: "অতঃপর আমি বের হলাম এবং আমরা রোমকদের দেশে প্রবেশ করলাম, এমনকি আমরা কনস্টান্টিনোপলে রোম সম্রাটের নিকট পৌঁছালাম। সম্রাটকে আমাদের আগমনের খবর জানানো হলো।"
(খণ্ড: ১)
ইজাযুল কুরআন লিল বাকিল্লানি
(পৃষ্ঠা: ২৮)
فأرسل.إلينا من يلقانا، وقال: لا تدخلوا على الملك بعمائمكم حتى تنزعوها، إلا أن تكون مناديل لطافا، وحتى تنزعوا أخفافكم.فقلت: لا أفعل، ولا أدخل إلا بما أنا عليه من الزى واللباس، فإن رضيتم، وإلا فخذوا الكتب تقرءونها، وأرسلوا بجوابها، وأعود بها.فأخبر بذلك الملك، فقال: أريد معرفة سبب هذا، وامتناعه عما مضى عليه رسمى من الرسل؟ فسئلت عن ذلك، فقلت: أنا رجل من علماء المسلمين، وما تحبونه منا ذل وصغار، والله تعالى قد رفعنا بالاسلام، وأعزنا بنبينا محمد صلى الله عليه وسلم، وأيضا فإن من شأن الملوك إذا بعثوا رسلهم إلى ملك آخر رفع أقدارهم، لا إذلالهم، سيما إذا كان الرسول من أهل العلم، ووضع قدره إنهدام جانبه عند الله تعالى، وعند المسلمين.فعرف الترجمان الملك بذلك، فقال دعوه يدخل ومن معه كما يشاءون.فدخل الباقلانى ومن معه كما أرادوا، وسأله الملك عن السبب في امتناعه عن اتباع ما جرى به رسمه مع الرسل من قبل، فشرح وجهة نظره، وذكره: أن رسوله قد دخل بملابسه على أمير المؤمنين الطائع، وأدخل بها على السلطان عضد الدولة، ثم قال: " فما تنكرون على هذا، وأنا رجل من علماء المسلمين؟ فإن دخلت بغير هيئتي، ورجعت إلى حكمك أهنت العلم ونفسي، وذهب عند المسلمين جاهى " فقال الملك لترجمانه: قل له: قد قبلنا عذرك، ورفعنا منزلتك، وليس محلك عندنا كسائر الرسل، وإنما محلك عندنا محل الابرار الاخيار، وقد أخبرنا صاحبكم في كتابه أنك لسان المسلمين، والمناظر عنهم، وأنا أشتهى أن أعرف ذلك منك، كما ذكروه عنك.فقلت: إذا أذنالملك.فقال: انزلوا حيث أعددت لكم، ويكون بعد هذا الاجتماع.فنهضنا إلى موضع أعد لنا فلما كان يوم الاحد بعث الملك في طلبى، وقال لى من بعثه: من شأن الرسول حضور مائدة الملك، فيجب أن تجيب إلى طعامنا، ولا تنقض كل رسومنا.فقلت له: أنا من علماء المسلمين، ولست كالرسل من الجند وغيرهم الذى يعرفون ما يجرى في هذا الموطن عليهم، والملك يعلم أن العلماء لا يقدرون أن يدخلوا في هذه الاشياء وهم يعلمون، وأخشى أن يكون على مائدته من لحوم الخنازير، وما حرمه الله تعالى، على رسوله وعلى المؤمنين.فذهب الترجمان وعاد
অতঃপর তিনি আমাদের সাথে সাক্ষাতের জন্য লোক পাঠালেন।সেই ব্যক্তি আমাদের বললেন: "তোমরা তোমাদের পাগড়ি না খোলা পর্যন্ত রাজার সামনে প্রবেশ করো না, যদি না সেগুলো সূক্ষ্ম রুমাল হয়। আর তোমাদের চামড়ার মোজাও খুলে ফেলো।"আমি বললাম: "আমি তা করব না। আমি এখন যে পোশাক ও বেশভূষায় আছি, তা ভিন্ন প্রবেশ করব না। যদি তোমরা এতে সন্তুষ্ট হও (তবে ভালো), অন্যথায় এই পত্রগুলো নাও, এগুলো পাঠ করো এবং এর উত্তর লিখে দাও, আমি তা নিয়ে ফিরে যাব।"রাজাকে এ বিষয়ে জানানো হলো। তিনি বললেন: "আমি এর কারণ এবং কেন তিনি অন্যান্য দূতদের জন্য প্রচলিত আমার এই নিয়ম পালনে অস্বীকৃতি জানাচ্ছেন তা জানতে চাই।" আমাকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করা হলে আমি বললাম: "আমি মুসলিম আলেমদের একজন। আপনারা আমাদের থেকে যা চাচ্ছেন তা হলো হীনতা ও অপমান। মহান আল্লাহ আমাদের ইসলামের মাধ্যমে উচ্চ মর্যাদা দান করেছেন এবং আমাদের নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মাধ্যমে আমাদের সম্মানিত করেছেন। অধিকন্তু, রাজাদের নীতি হলো যখন তারা অন্য কোনো রাজার কাছে তাদের দূত প্রেরণ করেন, তখন তাদের মর্যাদা বৃদ্ধি করা, অপমানিত করা নয়। বিশেষ করে যখন সেই দূত আলেমদের অন্তর্ভুক্ত হন; কারণ তার মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করার অর্থ হলো মহান আল্লাহর কাছে এবং মুসলিমদের কাছে তার অবস্থানের হানি হওয়া।"দোভাষী রাজাকে এ কথা জানালেন। তখন তিনি বললেন: "তাকে এবং তার সঙ্গীদের তাদের ইচ্ছামতো প্রবেশ করতে দাও।"অতঃপর বাকিল্লানী এবং তার সঙ্গীরা তাদের ইচ্ছামতো প্রবেশ করলেন। রাজা তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, পূর্ববর্তী দূতদের জন্য প্রচলিত নিয়ম অনুসরণ করতে কেন তিনি অস্বীকৃতি জানালেন? তিনি তার দৃষ্টিভঙ্গি ব্যাখ্যা করলেন এবং তাকে মনে করিয়ে দিলেন যে: রাজার নিজের দূতও তার নিজস্ব পোশাকে আমীরুল মুমিনীন আত-তায়ে’ এবং সুলতান আযুদুদ্দাওলার দরবারে প্রবেশ করেছিলেন। এরপর তিনি বললেন: "তাহলে আপনারা কেন আমার এই কাজের বিরোধিতা করছেন, অথচ আমি মুসলিম আলেমদের একজন? আমি যদি আমার বর্তমান অবস্থা পরিবর্তন করে আপনার নিয়মের অনুগত হয়ে প্রবেশ করতাম, তবে আমি ইলম এবং নিজেকেই অপমান করতাম এবং মুসলিমদের কাছে আমার সম্মান নষ্ট হতো।" তখন রাজা তার দোভাষীকে বললেন: "তাকে বলো: আমরা তোমার ওজর কবুল করেছি এবং তোমার মর্যাদা বৃদ্ধি করেছি। আমাদের কাছে তোমার স্থান অন্য সাধারণ দূতদের মতো নয়; বরং আমাদের কাছে তোমার স্থান হলো পুণ্যবান ও শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিদের মতো। তোমাদের শাসক তার পত্রে আমাদের জানিয়েছেন যে, তুমি মুসলিমদের মুখপত্র এবং তাদের পক্ষ থেকে বিতর্ককারী। আমি তোমার থেকে তা সচক্ষে দেখতে আগ্রহী, যেমনটি তারা তোমার সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন।"আমি বললাম: "যদি রাজাঅনুমতি দেন।"তিনি বললেন: "আমি তোমাদের জন্য যেখানে থাকার ব্যবস্থা করেছি সেখানে অবস্থান করো এবং এই বৈঠকের পর তা সম্পন্ন হবে।"আমরা আমাদের জন্য নির্ধারিত স্থানে চলে গেলাম। যখন রবিবার হলো, রাজা আমাকে ডেকে পাঠালেন। তার প্রেরিত ব্যক্তি আমাকে বললেন: "দূতের জন্য রাজার দস্তরখানে উপস্থিত হওয়া একটি দস্তুর। সুতরাং আপনার উচিত আমাদের আহারের আমন্ত্রণে সাড়া দেওয়া এবং আমাদের সকল নিয়ম ভঙ্গ না করা।"আমি তাকে বললাম: "আমি মুসলিম আলেমদের অন্তর্ভুক্ত। আমি সৈন্য বা অন্যান্য দূতদের মতো নই যারা এই পরিস্থিতিতে তাদের সাথে কী করা হয় তা জানে। রাজা জানেন যে, আলেমগণ জেনে-শুনে এই সকল বিষয়ে লিপ্ত হতে পারেন না। আর আমি আশঙ্কা করি যে, তার দস্তরখানে শুকরের মাংস এবং এমন কিছু থাকতে পারে যা মহান আল্লাহ তাঁর রাসূল ও মুমিনদের জন্য হারাম করেছেন।"অতঃপর দোভাষী চলে গেলেন এবং ফিরে আসলেন।
(খণ্ড: ১)
ইজাযুল কুরআন লিল বাকিল্লানি
(পৃষ্ঠা: ২৯)
على، وقال: يقول لك الملك: ليس على مائدتي، ولا في شئ من طعامي شئ تكرهه، وقد استحسنت ما أتيت به، وما أنت عندنا كسائر الرسل، بل أعظم وما كرهت من لحوم الخنازير إنما هو خارج من حضرتي، بينى وبينه حجاب.فنهضت على كل حال، وجلست وقدم الطعام، ومددت يدى وأوهمت الاكل ولم آكل منه شيئا، مع أنى لم أر على مائدته ما يكره.فلما فرغ من الطعام بخر المجلس وعطره، ثم قال: هذا الذى تدعونه في معجزات نبيكم: من انشقاق القمر، كيف هو عندكم؟ فقلت: هو صحيح عندنا، انشق القمر على عهد رسول الله حتى رأى الناس ذلك، وإنما رآه الحضور ومن اتفق نظره إليه في تلك الحال.فقال الملك: وكيف: ولم يره جميع الناس؟ ! قلت لان الناس لم يكونوا على أهبة ووعد لشقوقه وحضوره فقال: وهذا القمر بينكم وبينه نسبة قرابة؟ لاى شئ لم تعرفه الروم وغيرها من سائر الناس، وإنما رأيتموه أنتم خاصة؟ ! قلت: فهذه المائدة بينكم وبينها نسبة؟ وأنتم رأيتموها دون اليهود والمجوسوالبراهمة وأهل الالحاد، وخاصة يونان جيرانكم، فإنهم كلهم منكرون لهذا الشأن، وأنتم رأيتموها دون غيركم؟ فتحير الملك، وقال بكلامه: سبحان الله.وأمر بإحضار فلان القسيس ليكلمني، وقال: نحن لا نطيقه، لان صاحبه قال: ما في مملكتي مثله، ولا للمسلمين في عصره مثله.فلم أشعر إذ جاء برجل كالذئب، أشقر الشعر، فقعد، وحكيت عليه المسألة، فقال: الذى قاله المسلم لازم، وهو الحق، لا أعرف له جوابا إلا ما ذكره فقلت له: أتقول: إن الخسوف إذا كان يراه جميع أهل الارض؟ أم يراه أهل الاقليم الذى بمحاذاته؟ قال: لا يراه إلا من كان في محاذاته.فقلت: فما أنكرت من إنشقاق القمر إذا كان في ناحية أن لا يراه أهل تلك
...আলী, এবং তিনি বললেন: রাজা আপনাকে বলছেন: আমার দস্তরখানে অথবা আমার খাবারের কোনো কিছুর মধ্যে এমন কিছু নেই যা আপনি অপছন্দ করেন। আপনি যা নিয়ে এসেছেন তা আমি পছন্দ করেছি। আমাদের কাছে আপনি অন্যান্য দূতগণের মতো নন, বরং আপনি অধিক মহান। আর শুকরের মাংসের যে বিষয়টি আপনি অপছন্দ করেছেন, তা আমার উপস্থিতির বাইরে, আমার এবং তার মাঝে পর্দা বিদ্যমান।যাই হোক, আমি উঠলাম এবং বসলাম। খাবার পরিবেশন করা হলো। আমি আমার হাত বাড়ালাম এবং খাওয়ার ভান করলাম, কিন্তু তা থেকে কিছুই খেলাম না, যদিও আমি তাঁর দস্তরখানে কোনো অপছন্দনীয় বস্তু দেখিনি।যখন তিনি আহার শেষ করলেন, তখন মজলিসে ধূপ দেওয়া হলো এবং সুগন্ধি ছড়ানো হলো। অতঃপর তিনি বললেন: তোমাদের নবীর মোজেজাসমূহের মধ্য হতে তোমরা চন্দ্র দ্বিখণ্ডিত হওয়ার যে দাবি করো, তা তোমাদের নিকট কেমন? আমি বললাম: তা আমাদের নিকট সহীহ (সঠিক)। আল্লাহর রাসূলের যুগে চাঁদ দ্বিখণ্ডিত হয়েছিল, এমনকি মানুষ তা প্রত্যক্ষ করেছিল। কেবল যারা উপস্থিত ছিল এবং সেই মুহূর্তে যাদের দৃষ্টি সেদিকে নিপতিত হয়েছিল, তারাই তা দেখেছিল।তখন রাজা বললেন: তা কীভাবে সম্ভব যে সকল মানুষ তা দেখেনি? আমি বললাম: কারণ মানুষ তা বিদীর্ণ হওয়া এবং উপস্থিত থাকার বিষয়ে কোনো প্রস্তুতি বা প্রতীক্ষায় ছিল না। তিনি বললেন: এই চাঁদের সাথে কি তোমাদের কোনো আত্মীয়তার সম্পর্ক রয়েছে? কেন রোমান ও অন্যান্য সাধারণ মানুষ তা জানতে পারল না, অথচ কেবল তোমরাই তা দেখলে? আমি বললাম: তবে এই দস্তরখানের সাথে কি আপনাদের কোনো আত্মীয়তার সম্পর্ক রয়েছে? ইয়াহুদী, অগ্নিপূজক,ব্রাহ্মণ ও নাস্তিকগণ, বিশেষত আপনাদের প্রতিবেশী গ্রীকরা—তারা সকলে এই বিষয়টি অস্বীকার করে, অথচ অন্য কাউকে বাদ দিয়ে কেবল তোমরাই তা দেখলে? রাজা বিস্মিত হলেন এবং নিজের ভাষায় বললেন: সুবহানাল্লাহ (আল্লাহ পবিত্র)।এবং তিনি অমুক পাদ্রিকে উপস্থিত করার নির্দেশ দিলেন যেন সে আমার সাথে আলোচনা করে। তিনি বললেন: আমরা তার সাথে পেরে উঠছি না, কারণ তার সঙ্গী বলেছিল: আমার রাজ্যে তার সদৃশ কেউ নেই এবং তার সমসাময়িক মুসলমানদের মাঝেও তার মতো কেউ নেই।হঠাৎ আমি দেখলাম নেকড়ে সদৃশ পিঙ্গল বর্ণের চুলধারী এক ব্যক্তি উপস্থিত হলো। সে উপবেশন করল এবং আমি তার কাছে বিষয়টি বর্ণনা করলাম। সে বলল: এই মুসলিম যা বলেছে তা অকাট্য এবং এটাই সত্য। তিনি যা উল্লেখ করেছেন তা ব্যতিরেকে এর অন্য কোনো উত্তর আমার জানা নেই। আমি তাকে বললাম: আপনি কি বলেন যে চন্দ্রগ্রহণ হলে তা কি পৃথিবীর সকল অধিবাসী দেখতে পায়? নাকি কেবল সেই অঞ্চলের মানুষ দেখে যাদের সোজাসুজি তা ঘটে? সে বলল: না, কেবল তারাই দেখে যারা এর সোজাসুজি অবস্থানে থাকে।অতঃপর আমি বললাম: তবে চন্দ্র দ্বিখণ্ডিত হওয়ার বিষয়টি কেন অস্বীকার করছেন, যদি তা কোনো এক প্রান্তে ঘটে থাকে যে সেখানকার লোক ছাড়া অন্যরা তা দেখতে না পায়...
(খণ্ড: ১)
ইজাযুল কুরআন লিল বাকিল্লানি
(পৃষ্ঠা: ৩০)
الناحية ومن تأهب للنظر له، فأما من أعرض عنه، أو كان في الامكنة التى لا يرى القمر منها فلا يراه.فقال: كما قلت لا يدفعك عنه دافع، وإنما الكلام في الرواة الذين نقلوه، فأما الطعن في غير هذا الوجه فليس بصحيح.فقال الملك: وكيف يطعن في النقلة؟ فقال القسيس: شبه هذا من الآيات - إذا صح وجب أن ينقله الجم الغفير حتى يتصل بنا العلم الضرورى به، ولما لم نعلم ذلك بالضرورة، دل على أن الخبر مفتعل باطل.فالتفت الملك إلى، وقال: الجواب؟ قلت: يلزمه في نزول المائدة، ما يلزمنى في إنشقاق القمر، ويقال: لو كاننزول المائدة صحيحا لوجب أن ينقله العدد الكثير، فلا يبقى يهودى ولا نصراني ولا وثنى إلا ويعلم هذا بالضرورة، ولما لم يعلموا ذلك بالضرورة دل أن الخبر مكذوب فبهت القسيس والملك ومن ضمه المجلس، وانفصل المجلس على هذا * * * قال الباقلانى: ثم سألني الملك في مجلس ثان، فقال: ما تقولون في المسيح عيسى بن مريم؟ قلت: روح الله وكلمته وعبده، ونبيه ورسوله، كمثل آدم خلقه من تراب ثم قال له: كن.فيكون، وتلوت عليه النص.فقال: يا مسلم، تقولون: المسيح عبد؟ فقلت: نعم، كذا نقول، وبه ندين.قال: ولا تقولون إنه ابن الله؟ قلت: معاذ الله، (مَا اتَّخَذَ اللَّهُ مِن وَلَدٍ، وَمَا كَانَ معه من إله) ، إنكم لتقولون قولا عظيما، فإذا جعلتم المسيح ابن الله فمن أبوه وأخوه وجده وعمه وخاله؟ وعددت عليه الاقارب - فتحير وقال:
সেই দিক এবং যারা এটি দেখার জন্য প্রস্তুত ছিল। তবে যারা এটি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিল, অথবা যারা এমন জায়গায় ছিল যেখান থেকে চাঁদ দেখা যায় না, তারা তা দেখতে পায়নি।তিনি বললেন: আপনি যা বলেছেন তা অনস্বীকার্য, এ ব্যাপারে কেউ আপনাকে বাধা দিতে পারবে না। তবে আলোচনা মূলত সেই বর্ণনাকারীদের নিয়ে যারা এটি বর্ণনা করেছেন। এর বাইরে অন্য কোনো দিক থেকে আপত্তি তোলা সঠিক নয়।রাজা বললেন: বর্ণনাকারীদের ব্যাপারে কীভাবে আপত্তি তোলা যায়? পাদ্রি বললেন: এই জাতীয় অলৌকিক নিদর্শনগুলো যদি সত্য হতো, তবে তা একটি বিশাল জনসমষ্টির মাধ্যমে বর্ণিত হওয়া আবশ্যক ছিল, যাতে তা আমাদের কাছে অকাট্য জ্ঞান হিসেবে পৌঁছাত। যেহেতু আমরা তা অকাট্যভাবে জানি না, তাই এটি প্রমাণ করে যে এই সংবাদটি বানোয়াট ও ভিত্তিহীন।রাজা আমার দিকে ফিরে বললেন: এর উত্তর কী? আমি বললাম: আকাশ থেকে দস্তরখান নাজিল হওয়ার ব্যাপারে তার ওপর ঠিক তেমনই অভিযোগ আপতিত হয়, যেমনটি চন্দ্র দ্বিখণ্ডিত হওয়ার ব্যাপারে আমার ওপর চাপানো হচ্ছে। বলা হবে: যদি দস্তরখান নাজিল হওয়া সত্য হতো, তবে তা একটি বিশাল সংখ্যার মাধ্যমে বর্ণিত হওয়া আবশ্যক ছিল। ফলে কোনো ইহুদি, খ্রিস্টান বা মূর্তিপূজক এমন থাকত না যে এটি অকাট্যভাবে জানে না। যেহেতু তারা তা অকাট্যভাবে জানে না, তাই এটি প্রমাণ করে যে এই সংবাদটি মিথ্যা। তখন পাদ্রি, রাজা এবং মজলিসে উপস্থিত সবাই স্তব্ধ হয়ে গেলেন এবং এভাবেই মজলিসটি শেষ হলো। * * * বাকিল্লানি বলেন: এরপর রাজা দ্বিতীয় এক মজলিসে আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন: আপনারা মসিহ ঈসা ইবনে মারইয়াম সম্পর্কে কী বলেন? আমি বললাম: তিনি আল্লাহর রূহ, তাঁর কালিমা, তাঁর বান্দা এবং তাঁর নবী ও রাসূল। তাঁর উদাহরণ আদমের মতো, যাকে তিনি মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তাকে বলেছেন: "হও", ফলে তিনি হয়ে গেছেন।আমি তাঁর সামনে কুরআনের সেই পাঠ তিলাওয়াত করলাম।তিনি বললেন: হে মুসলিম, আপনারা বলেন যে মসিহ একজন বান্দা? আমি বললাম: হ্যাঁ, আমরা তা-ই বলি এবং এটাই আমাদের ধর্মবিশ্বাস।তিনি বললেন: আর আপনারা কি বলেন না যে তিনি আল্লাহর পুত্র? আমি বললাম: আল্লাহর পানাহ! (আল্লাহ কোনো সন্তান গ্রহণ করেননি এবং তাঁর সাথে অন্য কোনো ইলাহ নেই)। আপনারা তো অত্যন্ত গুরুতর কথা বলছেন। আপনারা যদি মসিহকে আল্লাহর পুত্র বানান, তবে তাঁর পিতা, ভাই, দাদা, চাচা ও মামা কে? এভাবে আমি তাঁর সামনে আত্মীয়দের নাম গণনা করলাম। তখন তিনি হতভম্ব হয়ে গেলেন এবং বললেন:
(খণ্ড: ১)
ইজাযুল কুরআন লিল বাকিল্লানি
(পৃষ্ঠা: ৩১)
يا مسلم: العبد يخلق ويحيى ويميت، ويبرئ الاكمه والابرص؟ فقلت: لا يقدر العبد على ذلك، وإنما ذلك كله من فعل الباري عز وجل قال: وكيف يكون المسيح عبد الله وخلقا من خلقه، وقد أتى بهذه الآيات، وفعل ذلك كله؟ قلت: معاذ الله، ما أحيا المسيح الموتى، ولا أبرأ الاكمه والابرص.فتحير وقل صبره، وقال: يا مسلم.تنكر هذا مع اشتهاره في الخلق، وأخذ الناس له بالقبول؟فقلت: ما قال أحد من أهل الفقه والمعرفة: إن الانبياء عليهم السلام يفعلون المعجزات من ذاتهم، وإنما هو شئ يفعله الله تعالى على أيديهم، تصديقا لهم يجرى مجرى الشهادة.فقال: قد حضر عندي جماعة من أولاد نبيكم، وأهل دينكم، المشهورين فيكم، وقالوا: إن ذلك في كتابكم.فقلت: أيها الملك، في كتابنا أن ذلك كله بإذن الله تعالى.وتلوت عليه قوله تعالى (إذ قال الله: يا عيسى بن مريم، اذكر نعمتي عليك وعلى والدتك، إذ أيدتك بروح القدس، تكلم الناس في المهد وكهلا،.وإذ علمتك الكتاب والحكمة والتوراة والانجيل، وإذ تخلق من الطين كهيئة الطير بإذنى، فتنفخ فيها فتكون طيرا بإذنى، وتبرئ الاكمه والابرص بإذنى وإذا تخرج الموتى بإذنى) .وقلت: إنما فعل ذلك كله بالله وحده لا شريك له، لا من ذات المسيح ولو كان المسيح يحيى الموتى، ويبرئ الاكمه والابرص من ذاته، لجار أن يقال: إن موسى فلق البحر، وأخرج يده بيضاء من غير سوء من ذاته، وليس معجزات الانبياء، عليهم السلام، من ذاتهم وأفعالهم دون إرادة الخالق، فلما لم يجز هذا: لم يجز أن تسند المعجزات التى ظهرت على يد المسيح إليه.فقال الملك: وسائر الانبياء كلهم من آدم إلى من بعده - كانوا يتضرعون للمسيح حتى يفعل ما يطلبون! قلت: أو في لسان اليهود عظم، لا يقدرون أن يقولوا: إن المسيح كان
হে মুসলিম: বান্দা কি সৃষ্টি করে, জীবন দান করে এবং মৃত্যু ঘটায়, আর জন্মান্ধ ও কুষ্ঠরোগীকে রোগমুক্ত করে? আমি বললাম: বান্দা এর কোনো কিছুতেই সক্ষম নয়, বরং এ সমস্তই মহান স্রষ্টা আল্লাহ তাআলার কাজ। তিনি বললেন: তাহলে মসীহ কীভাবে আল্লাহর বান্দা এবং তাঁর সৃষ্টির একজন হলেন, অথচ তিনি এই সকল নিদর্শন নিয়ে এসেছেন এবং এসব কাজ করেছেন? আমি বললাম: আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি, মসীহ নিজ থেকে মৃতকে জীবিত করেননি এবং জন্মান্ধ ও কুষ্ঠরোগীকে রোগমুক্ত করেননি।তিনি হতবাক হয়ে গেলেন এবং তাঁর ধৈর্য হ্রাস পেল, তিনি বললেন: হে মুসলিম।সৃষ্টির মধ্যে এটি এতোটা প্রসিদ্ধ হওয়া এবং মানুষের কাছে এটি গ্রহণযোগ্য হওয়া সত্ত্বেও কি আপনি তা অস্বীকার করছেন?আমি বললাম: ফিকহ ও তত্ত্বজ্ঞানের অধিকারীদের কেউই বলেননি যে, নবীগণ (আলাইহিমুস সালাম) তাঁদের নিজ সত্তা থেকে মুজিজা বা অলৌকিক ঘটনা ঘটান। বরং এটি এমন বিষয় যা আল্লাহ তাআলা তাঁদের সত্যতা প্রমাণের জন্য তাঁদের হাতে সম্পাদন করেন, যা সাক্ষ্য প্রদানের স্থলাভিষিক্ত হয়।তিনি বললেন: আমার নিকট আপনাদের নবীর বংশধর এবং আপনাদের ধর্মাবলম্বীদের একদল লোক উপস্থিত হয়েছিলেন যারা আপনাদের মাঝে প্রসিদ্ধ, তাঁরা বলেছেন যে এটি আপনাদের কিতাবেই আছে।আমি বললাম: হে সম্রাট, আমাদের কিতাবে আছে যে, এর সবকিছুই আল্লাহ তাআলার অনুমতিক্রমে হয়েছে।অতঃপর আমি তাঁর নিকট আল্লাহ তাআলার বাণী পাঠ করলাম: (যখন আল্লাহ বললেন: হে মারইয়াম তনয় ঈসা! তোমার প্রতি ও তোমার জননীর প্রতি আমার অনুগ্রহ স্মরণ করো, যখন আমি তোমাকে পবিত্র আত্মা দ্বারা শক্তিশালী করেছিলাম, তুমি দোলনায় থাকা অবস্থায় এবং পরিণত বয়সে মানুষের সাথে কথা বলতে।এবং যখন আমি তোমাকে কিতাব, হিকমত, তাওরাত ও ইঞ্জিল শিক্ষা দিয়েছিলাম; এবং যখন তুমি আমার অনুমতিক্রমে কাদা দিয়ে পাখির অবয়ব তৈরি করতে, অতঃপর তাতে ফুঁ দিতে, ফলে তা আমার অনুমতিক্রমে পাখি হয়ে যেত; এবং তুমি আমার অনুমতিক্রমে জন্মান্ধ ও কুষ্ঠরোগীকে রোগমুক্ত করতে; এবং যখন তুমি আমার অনুমতিক্রমে মৃতদের জীবিত করে বের করে আনতে)।আমি বললাম: তিনি এই সবকিছুই করেছেন একমাত্র অংশীদারহীন আল্লাহর শক্তিতে, মসীহের নিজস্ব ক্ষমতায় নয়। যদি মসীহ নিজের সত্তাগত শক্তিতে মৃতকে জীবিত করতেন এবং জন্মান্ধ ও কুষ্ঠরোগীকে রোগমুক্ত করতেন, তবে এটাও বলা সংগত হতো যে: মূসা নিজের সত্তাগত শক্তিতে সমুদ্র বিদীর্ণ করেছেন এবং কোনো রোগ ছাড়াই নিজের হাতকে উজ্জ্বল শুভ্র অবস্থায় বের করেছেন। অথচ নবীগণের (আলাইহিমুস সালাম) মুজিজা তাঁদের নিজস্ব কোনো বিষয় নয় এবং তা স্রষ্টার ইচ্ছা ব্যতিরেকে তাঁদের কর্ম নয়। সুতরাং যেহেতু এটি সংগত নয়, তাই মসীহের হাতে প্রকাশিত মুজিজাগুলোকেও তাঁর নিজের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা সংগত হবে না।তখন সম্রাট বললেন: আদম থেকে শুরু করে তাঁর পরবর্তী সকল নবী কি মসীহের কাছে অনুনয়-বিনয় করতেন যেন তিনি তাঁদের কাঙ্ক্ষিত কাজ করে দেন? আমি বললাম: ইহুদিদের জিহ্বায় কি কোনো হাড় আছে (কোনো বাধা আছে), যার ফলে তারা এ কথা বলতে পারছে না যে: মসীহ ছিলেন—
(খণ্ড: ১)
ইজাযুল কুরআন লিল বাকিল্লানি
(পৃষ্ঠা: ৩২)
يتضرع إلى موسى؟ وكل صاحب نبى يقول: إن المسيح كان يتضرع إلى نبيه؟ ! فلا فرق بين الموضعين في الدعوى.وانفصل المجلس على هذا.قال الباقلانى: وفى تكلمنا في مجلس ثالث، قلت: لم أتحد اللاهوتبالناسوت؟ فقال: أراد أن ينجى الناس من الهلاك، فقلت: وهل درى بأنه يقتل ويصلب ويفعل به كذا، ولم يأمن من اليهود؟ فإن قلت: إنه لم يدر ما أراد اليهود، بطل أن يكون إلها: وإذا بطل أن يكون إلها: وإذا بطل أن يكون إلها بطل أن يكون إبنا.وإن قلت: قد درى ودخل في الامر على بصيرة، فليس بحكيم، لان الحكمة تمنع التعرض للبلاء.فبهت، وكان آخر مجلس لى معه.* * * ومما جرى في تلك المجالس: أن الباقلانى قال لبعض المطارنة: كيف أنت؟ وكيف الاهل والاولاد؟ فقال له الملك وقد عجب من قوله: ذكر من أرسلك في كتاب الرسالة أنك لسان الامة، ومتقدم على علماء الملة! أما علمت أننا ننزه هؤلاء عن الاهل والولد؟ فقال الباقلانى: أنتم لا تنزهون الله، سبحانه وتعالى.عن الاهل والاولاد، وتنزهونهم؟ ! فكأن هؤلاء عندكم أقدس وأجل أعلى من الله، سبحانه وتعالى! فسقط في أيديهم ولم يردوا جوابا.ثم قال له الملك: أخبرني عن قصة عائشة زوج نبيكم، وما قيل فيها؟ فقال: هما اثنتان، قيل فيهما ما قيل: زوج نبينا ومريم ابنة عمران، فأما زوج نبينا فلم تلد، وأما مريم فجاءت بولد تحمله على كتفها، وكل قد برأها الله مما رميت به.فانقطع الملك ولم يحر جوابا.ويروى القاضى عياض: أن الملك قال للبطرك: ما ترى في أمر هذا الشيطان؟ فقال: تقضى حاجته، وتلاطف صاحبه، وتبعث بالهدايا إليه، وتخرج هذا عن
মুসার কাছে বিনয়াবনত প্রার্থনা করছেন? প্রত্যেক নবীর অনুসারীরাই কি বলবে যে, মসিহ তাঁর নবীর কাছে বিনয়াবনত প্রার্থনা করতেন?! সুতরাং উভয় দাবির মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।এই কথার মাধ্যমেই মজলিস সমাপ্ত হলো।বাকিলানি বললেন: তৃতীয় মজলিসে আমাদের কথোপকথনের সময় আমি বললাম: কেন লাহুত (ঐশ্বরিক সত্তা)নাসুতের (মানবীয় সত্তা) সাথে একত্রিত হয়েছে? তিনি বললেন: তিনি মানুষকে ধ্বংস থেকে রক্ষা করতে চেয়েছিলেন। আমি বললাম: তিনি কি জানতেন যে তাঁকে হত্যা করা হবে, ক্রুশবিদ্ধ করা হবে এবং তাঁর সাথে এমন আচরণ করা হবে, আর তিনি ইহুদিদের হাত থেকে নিরাপদ থাকবেন না? যদি আপনি বলেন যে তিনি জানতেন না ইহুদিরা কী করতে চেয়েছিল, তবে তাঁর উপাস্য হওয়ার দাবি বাতিল হয়ে যায়; আর যদি তাঁর উপাস্য হওয়া বাতিল হয়, তবে তাঁর পুত্র হওয়ার দাবিও বাতিল হয়ে যায়।আর যদি আপনি বলেন যে তিনি জানতেন এবং সজ্ঞানেই এই বিষয়ে লিপ্ত হয়েছেন, তবে তিনি প্রজ্ঞাবান নন; কারণ প্রজ্ঞা মানুষকে বিপদের মুখে ঠেলে দিতে বাধা দেয়।ফলে তিনি হতভম্ব হয়ে গেলেন এবং এটিই ছিল তাঁর সাথে আমার শেষ মজলিস।* * * সেই মজলিসগুলোতে যা ঘটেছিল তার মধ্যে একটি হলো: বাকিলানি জনৈক ধর্মযাজককে জিজ্ঞেস করলেন: আপনি কেমন আছেন? আপনার পরিবার ও সন্তানরা কেমন আছে? তখন রাজা তাঁর কথায় বিস্ময় প্রকাশ করে বললেন: যিনি আপনাকে পাঠিয়েছেন তিনি তাঁর পত্রে উল্লেখ করেছেন যে আপনি উম্মতের মুখপত্র এবং এই ধর্মের আলেমদের মধ্যে অগ্রগণ্য! আপনি কি জানেন না যে আমরা তাঁদের স্ত্রী ও সন্তান গ্রহণ থেকে পবিত্র মনে করি? তখন বাকিলানি বললেন: আপনারা মহান আল্লাহকে, সুবহানাহু ওয়া তাআলা,স্ত্রী ও সন্তান গ্রহণ থেকে পবিত্র ঘোষণা করেন না, অথচ তাঁদেরকে করেন?! তবে কি তারা আপনাদের নিকট মহান আল্লাহর চেয়েও অধিক পবিত্র, মহান এবং উচ্চতর! এতে তারা নিরুত্তর ও লজ্জিত হয়ে পড়ল এবং কোনো উত্তর দিতে পারল না।এরপর রাজা তাঁকে বললেন: আমাকে আপনাদের নবীর স্ত্রী আয়েশার ঘটনা এবং তাঁর সম্পর্কে যা বলা হয়েছে সে সম্পর্কে বলুন। তিনি বললেন: এমন দুইজন নারী ছিলেন যাঁদের সম্পর্কে কথা তোলা হয়েছিল: আমাদের নবীর স্ত্রী এবং ইমরানের কন্যা মরিয়ম। আমাদের নবীর স্ত্রী তো কোনো সন্তানই জন্ম দেননি, আর মরিয়ম তাঁর কাঁধে করে সন্তান নিয়ে এসেছিলেন; অথচ আল্লাহ তাঁদের উভয়কেই আরোপিত অপবাদ থেকে মুক্ত ঘোষণা করেছেন।এতে রাজা নির্বাক হয়ে গেলেন এবং কোনো উত্তর খুঁজে পেলেন না।কাজি আয়াজ বর্ণনা করেন: রাজা তাঁর প্রধান ধর্মযাজককে বললেন: এই শয়তানের ব্যাপারে তোমার মতামত কী? তিনি বললেন: তাঁর প্রয়োজন মিটিয়ে দিন, তাঁর সঙ্গীর প্রতি সদয় হোন, তাঁর কাছে উপঢৌকন পাঠান এবং একে এখান থেকে বিদায় করুন।
(খণ্ড: ১)
ইজাযুল কুরআন লিল বাকিল্লানি
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
بلدك من يومك إن قدرت، وإلا لم آمن الفتنة به على النصرانية.ففعل الملك ذلك، وأحسن جواب عضد الدولة وهداياه، وعجل تسريحه، ومعه عدة من أسارىالمسلمين والمصاحف، ووكل الباقلانى من جنده من يحفظه حتى يصل إلى مأمنه.ويروى الخطيب البغدادي بسنده: أن الباقلانى لما ورد على ملك الروم مدينته، وعرف خبره، وبين له محله من العلم -: " أفكر في أمره، وعلم أنه لا يكفر له إذا دخل عليه، كما جرى رسم الرعية، أن تقبل الارض بين يدى الملوك.ثم نتجت له الفكرة أن يضع سريره الذى يجلس عليه، وراء باب لطيف لا يمكن أحد أن يدخل منه إلا راكعا، ليدخل القاضى منه على تلك الحال، فيكون عوضا عن تكفيره بين يديه.فلما وضع سريره في ذلك الموضع أمر بإدخال القاضى من الباب، فسار حتى وصل إلى المكان،، فلما رآه تفكر فيه، ثم فطن بالقصة، فأدار ظهره، وحنا رأسه راكعا، ودخل من الباب وهو يمشى إلى خلفه قد استقبل الملك بدبره، حتى صار بين يديه، ثم رفع رأسه، ونصب ظهره، وأدار وجهه حينئذ إلى الملك.فعجب من فطنته، ووقعت له الهيبة في نفسه " ولست أشك في أن هذه الرواية أسطورة من الاساطير التى نسجت خيوطها حول رحلة الباقلانى إلى القسطنطينية.وفيما قصه الباقلانى، من امتناعه من خلع عمامته ونزع خفه، وتهديده بعدم الدخول على الملك، ونزول الملك على رأيه وقوله: دعوه يدخل ومن معه كما يشاءون -: ما يجعل هذه الفكرة الساذجة، بعيدة الوقوع.ولو قد وقعت لتحدث بها الباقلانى، فيما حدث به من أخبار رحلته * * * وعاد الباقلانى إلى بغداد، وظل مع عضد الدولة حتى مات في شوال سنة 372، وتولى بعده ابنه صمصام الدولة ولسنا نعرف متى تولى الباقلانى وظيفة القضاء بالثغر؟ ولامن الذى ولاه؟ وقد جاء في ترجمة أبى حامد: أحمد بن أحمد الاستوائي (358 - 434) الشافعي الاشعري: أنه " ولى القضاء بعكبرا من قبل أبى بكر بن الطيب الباقلانى "
আপনি যদি পারেন তবে আজই তাকে আপনার দেশে পাঠিয়ে দিন, অন্যথা আমি তার মাধ্যমে খ্রিস্টধর্মের প্রতি ফেতনার আশঙ্কা করছি।অতঃপর বাদশাহ তাই করলেন এবং আজুদুদ্দৌলার বার্তার উত্তম উত্তর দিলেন ও উপহার পাঠালেন, এবং দ্রুত তাকে বিদায় দিলেন। তার সাথে বেশ কিছু মুসলিম যুদ্ধবন্দী ও কুরআনের কপি ছিল। তিনি বাকিলানিকে তার নিজের সৈন্যদের মধ্য থেকে পাহারাদার নিযুক্ত করে দিলেন যেন তিনি নিরাপদে তার গন্তব্যে পৌঁছান।খতিব আল-বাগদাদি তার সনদে বর্ণনা করেন: বাকিলানি যখন রোম সম্রাটের শহরে পৌঁছালেন এবং সম্রাট তার সম্পর্কে জানতে পারলেন ও তার ইলমি মাকাম সম্পর্কে অবগত হলেন, তখন সম্রাট তার ব্যাপারে চিন্তা করলেন। তিনি বুঝলেন যে বাকিলানি তার সামনে মাথা নত করবেন না, যেমনটা প্রজাদের মধ্যে প্রথা ছিল যে তারা বাদশাহদের সামনে জমিন চুম্বন করত।অতঃপর বাদশাহর মাথায় একটি বুদ্ধি এল যে, তিনি তার সিংহাসনটি একটি ছোট দরজার পেছনে রাখবেন, যে দরজা দিয়ে রুকু করা ব্যতীত কেউ প্রবেশ করতে পারবে না। এতে করে কাজী সেই অবস্থায় প্রবেশ করবেন, যা বাদশাহর সামনে মাথা নত করার বিকল্প হিসেবে গণ্য হবে।যখন সিংহাসনটি সেই স্থানে রাখা হলো, তখন কাজীকে দরজা দিয়ে প্রবেশ করার নির্দেশ দেওয়া হলো। তিনি হেঁটে সেখানে পৌঁছালেন এবং দরজার অবস্থা দেখে চিন্তা করলেন। এরপর তিনি বিষয়টি বুঝতে পারলেন, ফলে তিনি নিজের পিঠ ঘুরিয়ে দিলেন এবং রুকুর ন্যায় মাথা নিচু করলেন। তিনি উল্টোভাবে হাঁটতে হাঁটতে দরজা দিয়ে প্রবেশ করলেন, এমতাবস্থায় যে তার পশ্চাৎভাগ ছিল বাদশাহর দিকে। এভাবে তিনি বাদশাহর সামনে পৌঁছালেন, এরপর মাথা তুললেন, পিঠ সোজা করলেন এবং তখন বাদশাহর দিকে মুখ ফিরালেন।বাদশাহ তার বুদ্ধিমত্তায় বিস্মিত হলেন এবং তার মনে বাকিলানির প্রতি সম্ভ্রম জাগ্রত হলো। আর আমার এতে কোনো সন্দেহ নেই যে এই বর্ণনাটি সেই সব কিংবদন্তিগুলোর একটি যা কনস্টান্টিনোপলে বাকিলানির সফরকে কেন্দ্র করে রচিত হয়েছে।বাকিলানি নিজে যা বর্ণনা করেছেন—যেমন পাগড়ি ও মোজা খুলতে তার অস্বীকৃতি, এবং বাদশাহর দরবারে প্রবেশ না করার হুমকি, এবং বাদশাহর তার মত মেনে নেওয়া এবং বলা: 'তাকে এবং তার সঙ্গীদের যেভাবে ইচ্ছা প্রবেশ করতে দাও'—এই বিষয়গুলো এমন যে এই সাধারণ পরিকল্পনাটিকে অবাস্তব করে তোলে।যদি এটি ঘটত, তবে বাকিলানি তার সফরের খবরের মধ্যে অবশ্যই এটি উল্লেখ করতেন। বাকিলানি বাগদাদে ফিরে আসেন এবং ৩৭২ হিজরির শাওয়াল মাসে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত আজুদুদ্দৌলার সাথেই ছিলেন। এরপর তার পুত্র সামসামউদ্দৌলা ক্ষমতা গ্রহণ করেন। বাকিলানি কবে সীমান্ত এলাকায় কাজীর দায়িত্ব পেয়েছিলেন বা কে তাকে নিয়োগ দিয়েছিলেন তা আমাদের জানা নেই। তবে আবু হামিদ আহমদ বিন আহমদ আল-উস্তুওয়ায়ী (৩৫৮ - ৪৩৪), যিনি শাফেয়ী আশআরি ছিলেন, তার জীবনীতে এসেছে যে তিনি "আবু বকর বিন তায়্যিব আল-বাকিলানির পক্ষ থেকে উকবারায় কাজীর দায়িত্ব পালন করেছিলেন।"