(খণ্ড: ১)
রিসালাহ লতীফাহ জামিআহ ফী উসূলিল ফিকহিল মুহিম্মাহ
(পৃষ্ঠা: -)
رسالة لطيفة جامعة في أصول الفقه المهمة القسم: أصول الفقه
الكتاب: رسالة لطيفة جامعة في أصول الفقه المهمة
المؤلف: أبو عبد الله، عبد الرحمن بن ناصر بن عبد الله بن ناصر بن حمد آل سعدي (ت 1376هـ)
قيدها واعتنى بأصلها: أبو الحارث نادر بن سعيد آل مبارك التعمري
راجعها وقدم لها: الشيخ مشهور حسن آل سلمان، الشيخ سليم بن عيد الهلالي
الناشر: دار ابن حزم للطباعة والنشر والتوزيع، بيروت - لبنان
الطبعة: الأولى، 1418 هـ - 1997 م
عدد الصفحات: 119
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
উসূলে ফিকহ-এর গুরুত্বপূর্ণ মূলনীতি বিষয়ক একটি সংক্ষিপ্ত ও সুসমন্বিত পুস্তিকা বিভাগ: উসূলে ফিকহ
গ্রন্থ: উসূলে ফিকহ-এর গুরুত্বপূর্ণ মূলনীতি বিষয়ক একটি সংক্ষিপ্ত ও সুসমন্বিত পুস্তিকা
লেখক: আবু আবদুল্লাহ, আবদুর রহমান বিন নাসির বিন আবদুল্লাহ বিন নাসির বিন হামাদ আল-সা'দী (মৃত্যু: ১৩৭৬ হিজরি)
সংকলন ও মূল পাঠের তত্ত্বাবধান: আবু আল-হারিস নাদের বিন সাঈদ আল মুবারক আত-তামারি
পর্যালোচনা ও ভূমিকা: শাইখ মাশহুর হাসান আল সালমান, শাইখ সেলিম বিন ঈদ আল-হিলালি
প্রকাশক: দার ইবনে হাজম প্রিন্টিং, পাবলিশিং অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন, বৈরুত - লেবানন
সংস্করণ: প্রথম, ১৪১৮ হিজরি - ১৯৯৭ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১১৯
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
রিসালাহ লতীফাহ জামিআহ ফী উসূলিল ফিকহিল মুহিম্মাহ
(পৃষ্ঠা: -)
رسالة لطيفة في أصول الفقه
للعلامة عبد الرحمن بن ناصر السعدي رحمه الله
ফিকহশাস্ত্রের মূলনীতি (أصول الفقه) বিষয়ক একটি সংক্ষিপ্ত পুস্তিকা
আল্লামা আবদুর রহমান বিন নাসির আস-সা’দী (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন)
(খণ্ড: ১)
রিসালাহ লতীফাহ জামিআহ ফী উসূলিল ফিকহিল মুহিম্মাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৯)
خطبة الرسالةبسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله، نحمده على ما له من الأسماء الحسنى، والصفات الكاملة العليا، وعلى أحكامه القدرية العامة لكل مكون وموجود، وأحكامه الشرعية الشاملة لكل مشروع، وأحكام الجزاء بالثواب للمحسنين والعقاب للمجرمين.
وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له فى الأسماء والصفات والعبادة والأحكام، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله، الذى بين الحكم والأحكام، ووضح الحلال والحرام، وأصل الأصول وفصلها، حتى استتم هذا الدين واستقام. اللهم صل وسلم على محمد وعلى آله وأصحابه وأتباعه، خصوصاً العلماء الأعلام.
রিসালাহর ভূমিকাপরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য; আমরা তাঁর প্রশংসা করি তাঁর সুন্দরতম নামসমূহ ও সুউচ্চ পূর্ণাঙ্গ গুণাবলির জন্য এবং তাঁর সেই সর্বজনীন তাকদীরী বিধানের (أحكام قدرية) জন্য যা প্রতিটি সৃষ্টি ও অস্তিত্বশীল বিষয়ের ওপর পরিব্যপ্ত, আর তাঁর সেই শরয়ি বিধানের (أحكام شرعية) জন্য যা প্রতিটি বিধিবদ্ধ বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে এবং সৎকর্মশীলদের জন্য প্রতিদান ও অপরাধীদের জন্য শাস্তিরূপ ফয়সালার জন্য।
আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, নাম-গুণাবলি, ইবাদত ও বিধানের (أحكام) ক্ষেত্রে তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসূল; যিনি প্রজ্ঞা (حكم) ও বিধানসমূহ (أحكام) বয়ান করেছেন, হালাল (حلال) ও হারাম (حرام) সুস্পষ্ট করেছেন এবং মৌলিক নীতিমালাসমূহকে (أصل الأصول) সুপ্রতিষ্ঠিত ও বিস্তারিত বর্ণনা করেছেন, যতক্ষণ না এই দ্বীন পূর্ণতা লাভ করেছে এবং সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে। হে আল্লাহ! মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ, সাহাবী (أصحاب) ও অনুসারীদের ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন, বিশেষ করে প্রখ্যাত আলেমগণের ওপর।
(খণ্ড: ১)
রিসালাহ লতীফাহ জামিআহ ফী উসূলিল ফিকহিল মুহিম্মাহ
(পৃষ্ঠা: ৪০)
أما بعد؛
فهذه رسالة لطيفة فى أصول الفقه، سهلة الألفاظ، واضحة المعاني، معينة على تعلم الأحكام لكل متأمل معاني. نسأل الله أن ينفع بها جامعها وقارئها، إنه جواد كريم.
عبد الرحمن بن ناصر السعدي
অতঃপর;
এটি ফিকহের মূলনীতি (أصول الفقه) বিষয়ক একটি সংক্ষিপ্ত পুস্তিকা, যার শব্দাবলী সহজ ও অর্থসমূহ স্পষ্ট; যা প্রত্যেক চিন্তাশীল ব্যক্তির জন্য শরীয়তের বিধানসমূহ (الأحكام) শিখতে সহায়ক। আমরা আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি এর সংকলক ও পাঠক উভয়কে এর দ্বারা উপকৃত করেন; নিশ্চয়ই তিনি পরম দাতা ও মহানুভব।
আব্দুর রহমান ইবন নাসের আস-সা'দী।
(খণ্ড: ১)
রিসালাহ লতীফাহ জামিআহ ফী উসূলিল ফিকহিল মুহিম্মাহ
(পৃষ্ঠা: ৪১)
فصل: تعريف أصول الفقهأصول الفقه:
পরিচ্ছেদ: ফিকহশাস্ত্রের মূলনীতির (أصول الفقه) সংজ্ঞাফিকহশাস্ত্রের মূলনীতি (أصول الفقه):
(খণ্ড: ১)
রিসালাহ লতীফাহ জামিআহ ফী উসূলিল ফিকহিল মুহিম্মাহ
(পৃষ্ঠা: ৪৭)
هي العلم بأدلة الفقه الكلية.
وذلك: أن الفقه:
إما مسائل يطلب الحكم عليها بأحد الأحكام الخمسة،
وإما دلائل يستدل بها على هذه المسائل.
فالفقه: هو معرفة المسائل والدلائل.
وهذه الدلائل نوعان:
كلية، تشمل كل حكم من جنس واحد من أول الفقه إلى آخره، كقولنا الأمر للوجوب، والنهى للتحريم، ونحوها؛ وهذه هي أصول الفقه.
وأدلة جزئية تفصيلية، تفتقر إلى أن تبنى على الأدلة الكلية. فإذا تمت، حكم على الأحكام بها.
এটি হলো ফিকহের সমষ্টীগত (كلية) দলিলসমূহ সংক্রান্ত জ্ঞান।
আর তা এজন্য যে, ফিকহ হলো:
হয় এমন কিছু মাসয়ালা (مسائل) যেগুলোর ব্যাপারে পাঁচটি বিধানের (الأحكام الخمسة) কোনো একটির মাধ্যমে হুকুম (حكم) তলব করা হয়,
অথবা এমন কিছু প্রমাণ (دلائل) যার মাধ্যমে এই মাসয়ালাগুলোর অনুকূলে দলিল পেশ (يستدل) করা হয়।
সুতরাং ফিকহ হলো মাসয়ালা (المسائل) ও দলিলসমূহ (الدلائل) সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান।
আর এই দলিলসমূহ (الدلائل) দুই প্রকার:
সমষ্টীগত (كلية), যা ফিকহের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত একই জাতীয় প্রতিটি বিধানকে (حكم) অন্তর্ভুক্ত করে; যেমন আমাদের এই কথাটি: আদেশ (الأمر) আবশ্যিকতার (الوجوب) জন্য এবং নিষেধ (النهي) হারামের (التحريم) জন্য এবং অনুরূপ অন্যান্য বিষয়; আর এগুলোই হলো উসুলুল ফিকহ (أصول الفقه)।
এবং আংশিক (جزئية) ও বিস্তারিত (تفصيلية) দলিলসমূহ, যা সমষ্টীগত (كلية) দলিলের ওপর ভিত্তি করার প্রয়োজন রাখে। সুতরাং যখন তা পূর্ণ হয়, তখন এর মাধ্যমে বিধানাবলির ওপর হুকুম (حكم) প্রদান করা হয়।
(খণ্ড: ১)
রিসালাহ লতীফাহ জামিআহ ফী উসূলিল ফিকহিল মুহিম্মাহ
(পৃষ্ঠা: ৪৮)
فالأحكام مضطرة إلى أدلتها التفصيلية، والأدلة التفصيلية مضطرة إلى الأدلة الكلية.
وبهذا نعرف الضرورة والحاجة إلى معرفة أصول الفقه، وأنها معينة عليه، وهى أساس النظر والاجتهاد في الأحكام.
সুতরাং বিধানসমূহ (الأحكام) তাদের বিস্তারিত প্রমাণাদির (الأدلة التفصيلية) মুখাপেক্ষী, আর বিস্তারিত প্রমাণাদি (الأدلة التفصيلية) সামষ্টিক দলীলসমূহের (الأدلة الكلية) মুখাপেক্ষী।
এর মাধ্যমেই আমরা উসুলুল ফিকহ (أصول الفقه) জানার আবশ্যকতা ও প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে অবগত হই; আর এটি বিধান আহরণে সহায়ক এবং এটিই বিধানসমূহের (الأحكام) ক্ষেত্রে তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ (النظر) ও ইজতিহাদের (الاجتهاد) মূল ভিত্তি।
(খণ্ড: ১)
রিসালাহ লতীফাহ জামিআহ ফী উসূলিল ফিকহিল মুহিম্মাহ
(পৃষ্ঠা: ৫১)
فصل: الأحكام التي يدور عليها الفقهالأحكام التي يدور الفقه عليها خمسة:
পরিচ্ছেদ: ফিকহ যে সকল বিধানের (الأحكام) ওপর আবর্তিত হয়ফিকহ যে সকল বিধানের (الأحكام) ওপর আবর্তিত হয় তা পাঁচটি:
(খণ্ড: ১)
রিসালাহ লতীফাহ জামিআহ ফী উসূলিল ফিকহিল মুহিম্মাহ
(পৃষ্ঠা: ৫২)
الواجب: الذي يثاب فاعله ويعاقب تاركه.
والحرام: ضده.
والمسنون: الذي يثاب فاعله ولا يعاقب تاركه.
والمكروه: ضده.
والمباح: مستوي الطرفين.
وينقسم الواجب إلى:
فرض عين، يطلب فعله من كل مكلف بالغ عاقل، وهو جمهور أحكام الشريعة الواجبة.
ওয়াজিব (الواجب): যার সম্পাদনকারী সওয়াবপ্রাপ্ত হন এবং পরিত্যাগকারী শাস্তির সম্মুখীন হন।
এবং হারাম (الحرام): এর বিপরীত।
এবং মাসনূন (المسنون): যার সম্পাদনকারী সওয়াবপ্রাপ্ত হন এবং পরিত্যাগকারী শাস্তির সম্মুখীন হন না।
এবং মাকরূহ (المكروه): এর বিপরীত।
এবং মুবাহ (المباح): যার উভয় দিক সমান।
এবং ওয়াজিব (الواجب) বিভক্ত হয়:
ফরজে আইন (فرض عين), যার সম্পাদন প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক (بالغ) ও বিবেকসম্পন্ন (عاقل) মুকাল্লাফ (مكلف) ব্যক্তির নিকট থেকে কাম্য, আর এটিই শরীয়তের অধিকাংশ ওয়াজিব (الواجب) বিধান।
(খণ্ড: ১)
রিসালাহ লতীফাহ জামিআহ ফী উসূলিল ফিকহিল মুহিম্মাহ
(পৃষ্ঠা: ৫৩)
وإلى فرض كفاية، وهو الذي يطلب حصوله وتحصيله من المكلفين، لا من كل واحد بعينه، كتعلم العلوم والصناعات النافعة والأذان والأمر بالمعروف والنهي عن المنكر، ونحو ذلك.
وهذه الأحكام الخمسة تتفاوت تفاوتاً كثيراً، بحسب حالها ومراتبها وآثارها:
فما كان مصلحته خالصةً أو راجحةً أمر به الشارع أمر إيجاب أو استحباب.
وما كانت مفسدته خالصةً أو راجحة نهى عنه الشارع نهي تحريم أو كراهة.
فهذا الأصل يحيط بجميع المأمورات والمنهيات.
এবং ফরজে কিফায়া (فرض كفاية), যা মুকাল্লাফদের (المكلفين) নিকট হতে সামগ্রিকভাবে অর্জন করার দাবি করা হয়, প্রত্যেকের কাছ থেকে ব্যক্তিগতভাবে নয়; যেমন: উপকারী জ্ঞান ও কারিগরি বিদ্যা শিক্ষা করা, আযান দেওয়া, সৎ কাজের আদেশ দেওয়া এবং অসৎ কাজ হতে নিষেধ করা এবং এই জাতীয় বিষয়াবলি।
আর এই পাঁচটি বিধান তাদের অবস্থা, স্তর ও প্রভাবের দিক থেকে অনেক বেশি তারতম্যপূর্ণ হয়ে থাকে:
সুতরাং যে বিষয়ের কল্যাণ নিছক অথবা প্রবল, শারী‘ (বিধানদাতা) সেটিকে আবশ্যিক (إيجاب) অথবা পছন্দনীয় (استحباب) হিসেবে নির্দেশ দিয়েছেন।
আর যে বিষয়ের অকল্যাণ নিছক অথবা প্রবল, শারী‘ সেটিকে হারাম (تحريم) অথবা অপছন্দনীয় (كراهة) হিসেবে নিষেধ করেছেন।
এই মূলনীতিটি সমস্ত আদিষ্ট ও নিষিদ্ধ বিষয়কে পরিবেষ্টন করে।
(খণ্ড: ১)
রিসালাহ লতীফাহ জামিআহ ফী উসূলিল ফিকহিল মুহিম্মাহ
(পৃষ্ঠা: ৫৪)
وأما المباحات، فإن الشارع أباحها وأذن فيها. وقد يتوصل بها إلى:
الخير فتلحق بالمأمورات،
وإلى الشر فتلحق بالمنهيات.
فهذا أصل كبير أن الوسائل لها أحكام المقاصد.
আর বৈধ (مباح) বিষয়াবলির ক্ষেত্রে বিধানদাতা সেগুলোকে বৈধ করেছেন এবং সেগুলোর অনুমতি দিয়েছেন। আর এগুলোর মাধ্যমে পৌঁছানো যেতে পারে:
কল্যাণের দিকে, তখন তা নির্দেশিত (مأمور) বিষয়াবলির অন্তর্ভুক্ত হবে,
এবং মন্দের দিকে, তখন তা নিষিদ্ধ (منهي) বিষয়াবলির অন্তর্ভুক্ত হবে।
এটি একটি সুমহান মূলনীতি যে, মাধ্যমসমূহ (وسائل) তাদের লক্ষ্যের (مقاصد) বিধান লাভ করে।
(খণ্ড: ১)
রিসালাহ লতীফাহ জামিআহ ফী উসূলিল ফিকহিল মুহিম্মাহ
(পৃষ্ঠা: ৫৬)
وبه نعلم أن:
ما لا يتم الواجب إلا به فهو
এর মাধ্যমে আমরা জানতে পারি যে:
যে বিষয়টি ব্যতীত কোনো ওয়াজিব (واجب) সম্পন্ন হয় না, সেটিও ওয়াজিব (واجب) হিসেবে গণ্য।
(খণ্ড: ১)
রিসালাহ লতীফাহ জামিআহ ফী উসূলিল ফিকহিল মুহিম্মাহ
(পৃষ্ঠা: ৫৭)
واجب،
ومالا يتم المسنون إلا به فهو مسنون،
وما يتوقف الحرام عليه فهو حرام،
ووسائل المكروه مكروهة.
ওয়াজিব (واجب)،
আর যা ব্যতীত সুন্নাত (مسنون) সম্পন্ন হয় না, তাও সুন্নাত (مسنون)،
এবং যার ওপর হারাম (حرام) নির্ভর করে, তাও হারাম (حرام)،
আর মাকরুহ (مكروه) বিষয়ের মাধ্যমসমূহও মাকরুহ (مكروه)।
(খণ্ড: ১)
রিসালাহ লতীফাহ জামিআহ ফী উসূলিল ফিকহিল মুহিম্মাহ
(পৃষ্ঠা: ৫৯)
فصل: الأدلة التي يستمد منها الفقهالأدلة التي يستمد منها الفقه أربعة:
الكتاب والسنة، وهما الأصل الذي خوطب به المكلفون، وانبنى دينهم عليه،
والإجماع والقياس الصحيح، وهما مستندان إلى الكتاب والسنة.
পরিচ্ছেদ: ফিকহ যে সকল দলিল থেকে আহরিত হয়ফিকহ যে সকল দলিল বা উৎস থেকে আহরিত হয় তা চারটি:
কিতাব ও সুন্নাহ; এই দুটি হলো মূল ভিত্তি (أصل), যা পালনের জন্য শরয়ী বিধানের দায়বদ্ধ ব্যক্তিদের (المكلفون) সম্বোধন করা হয়েছে এবং এর ওপরই তাদের দ্বীন প্রতিষ্ঠিত,
এবং ঐক্যমত্য (إجماع) ও সঠিক (صحيح) কিয়াস (قياس); আর এই দুটি কিতাব ও সুন্নাহর ওপরই নির্ভরশীল।
(খণ্ড: ১)
রিসালাহ লতীফাহ জামিআহ ফী উসূলিল ফিকহিল মুহিম্মাহ
(পৃষ্ঠা: ৬০)
فالفقه من أوله إلى آخره لا يخرج عن هذه الأصول الأربعة.
وأكثر الأحكام المهمة تجتمع عليها الأدلة الأربعة: تدل عليها نصوص الكتاب والسنة، ويجمع عليها العلماء، ويدل عليها القياس الصحيح لما فيهما من المنافع والمصالح إن كانت مأموراً بها، ومن المضار إن كانت منهياً عنها.
والقليل من الأحكام يتنازع فيها العلماء، وأقربهم إلى الصواب فيها من أحسن ردها إلى هذه الأصول الأربعة.
সুতরাং ফিকহশাস্ত্র এর শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এই চারটি মূলনীতির (الأصول الأربعة) বাইরে নয়।
এবং অধিকাংশ গুরুত্বপূর্ণ বিধানের (الأحكام) ওপর এই চারটি দলিলই (الأدلة) একত্রিত হয়: কিতাব ও সুন্নাহর নসসমূহ (نصوص) সেগুলোর ওপর প্রমাণ পেশ করে, আলেমগণ সেগুলোর ওপর ঐকমত্য (إجماع) পোষণ করেন এবং সঠিক কিয়াস (القياس الصحيح) সেগুলোর ওপর নির্দেশনা দেয়—তাতে নিহিত উপকার ও জনকল্যাণের কারণে যদি তা নির্দেশিত বিষয় হয়, আর তাতে নিহিত অপকারের কারণে যদি তা নিষিদ্ধ বিষয় হয়।
আর খুব অল্প সংখ্যক বিধানের (الأحكام) ক্ষেত্রে আলেমগণের মাঝে মতভেদ রয়েছে; এমতাবস্থায় তাদের মধ্যে সত্যের অধিক নিকটবর্তী হলেন তিনি, যিনি সেগুলোকে এই চারটি মূলনীতির (الأصول الأربعة) দিকে নিপুণভাবে প্রত্যাবর্তন করিয়েছেন।
(খণ্ড: ১)
রিসালাহ লতীফাহ জামিআহ ফী উসূলিল ফিকহিল মুহিম্মাহ
(পৃষ্ঠা: ৬১)
فصل فى الكتاب والسنة ودلالتهماأما الكتاب: فهو هذا القرآن العظيم، كلام رب العالمين، نزل به الروح الأمين، على قلب محمد رسول الله صلى الله عليه وسلم ليكون من المنذرين، بلسان عربى مبين، للناس كافةً فى كل ما يحتاجون إليه من مصالح دينهم ودنياهم، وهو المقروء بالألسنة، المكتوب فى المصاحف، المحفوظ فى الصدور، الذي لا يأتيه الباطل من بين يديه ولا من خلفه، تنزيل من حكيم حميد.
কিতাব (الكتاب) ও সুন্নাহ (السنة) এবং এই দুয়ের নির্দেশিকা (دلالة) বিষয়ক পরিচ্ছেদকিতাব (الكتاب) হলো এই মহান কুরআন, যা বিশ্বজগতের প্রতিপালকের বাণী। রুহুল আমীন এটি আল্লাহর রাসূল মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হৃদয়ে অবতীর্ণ করেছেন, যেন তিনি সুস্পষ্ট আরবি ভাষায় সতর্ককারীদের অন্তর্ভুক্ত হতে পারেন। এটি সকল মানুষের জন্য তাঁদের দ্বীন ও দুনিয়ার যাবতীয় প্রয়োজনীয় ধর্মীয় ও পার্থিব কল্যাণের নিমিত্তে অবতীর্ণ। এটি জিহ্বার দ্বারা পঠিত, মাসহাফসমূহে লিখিত এবং অন্তরে সংরক্ষিত। কোনো বাতিল বা মিথ্যা এর সামনে কিংবা পেছন থেকে আসতে পারে না; এটি প্রজ্ঞাময়, পরম প্রশংসিত সত্তার পক্ষ থেকে অবতীর্ণ।
(খণ্ড: ১)
রিসালাহ লতীফাহ জামিআহ ফী উসূলিল ফিকহিল মুহিম্মাহ
(পৃষ্ঠা: ৬৩)
وأما السنة: فإنها أقوال النبي صلى الله عليه وسلم وأفعاله وتقريراته على الأقوال والأفعال.
فالأحكام الشرعية:
আর সুন্নাহ (السنة) প্রসঙ্গে: তা হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী, কর্ম এবং কথা ও কাজের ওপর তাঁর মৌন সম্মতি (تقريرات)।
সুতরাং শারয়ী বিধানসমূহ (الأحكام الشرعية):
(খণ্ড: ১)
রিসালাহ লতীফাহ জামিআহ ফী উসূলিল ফিকহিল মুহিম্মাহ
(পৃষ্ঠা: ৬৪)
تارة تؤخذ من نص الكتاب والسنة، وهو اللفظ الواضح الذي لا يحتمل إلا ذلك المعنى.
وتارة تؤخذ من ظاهرهما، وهو ما دل على ذلك على وجه العموم اللفظى أو المعنوى.
কখনো তা কুরআন ও সুন্নাহর অকাট্য পাঠ (نص) থেকে গ্রহণ করা হয়; আর তা হলো এমন স্পষ্ট শব্দ যা নির্দিষ্ট সেই অর্থ ব্যতীত অন্য কোনো অর্থের অবকাশ রাখে না।
আবার কখনো তা এ দুটির বাহ্যিক (ظاهر) অর্থ থেকে গ্রহণ করা হয়; আর তা হলো যা শাব্দিক বা অর্থগত ব্যাপকতার (عموم) ভিত্তিতে উক্ত বিষয়ের ওপর নির্দেশনা প্রদান করে।
(খণ্ড: ১)
রিসালাহ লতীফাহ জামিআহ ফী উসূলিল ফিকহিল মুহিম্মাহ
(পৃষ্ঠা: ৬৬)
وتارة تؤخذ من المنطوق، وهو ما دل على الحكم فى محل النطق.
وتارة تؤخذ من المفهوم، وهو ما دل على الحكم:
بمفهوم موافقة إن كان مساوياً للمنطوق
এবং কখনো তা স্পষ্ট বক্তব্য (المنطوق) থেকে গৃহীত হয়, যা উচ্চারণের মাধ্যমেই বিধানের (الحكم) ওপর নির্দেশ করে।
আবার কখনো তা অনুমিত অর্থ (المفهوم) থেকে গৃহীত হয়, যা বিধানের (الحكم) ওপর নির্দেশ করে:
সঙ্গতিপূর্ণ অনুমিত অর্থের (مفهوم الموافقة) মাধ্যমে, যদি তা স্পষ্ট বক্তব্যের (المنطوق) সমপর্যায়ের হয়।
(খণ্ড: ১)
রিসালাহ লতীফাহ জামিআহ ফী উসূলিল ফিকহিল মুহিম্মাহ
(পৃষ্ঠা: ৬৭)
أو أولى منه،
অথবা তার চেয়ে অধিকতর অগ্রগণ্য (أولى)،
(খণ্ড: ১)
রিসালাহ লতীফাহ জামিআহ ফী উসূলিল ফিকহিল মুহিম্মাহ
(পৃষ্ঠা: ৬৮)
أو بمفهوم المخالفة إذا خالف المنطوق في حكمه، لكون
অথবা বিপরীত মর্মের (مفهوم المخالفة) মাধ্যমে, যদি তা এর বিধানের (حكم) ক্ষেত্রে ব্যক্ত বক্তব্যের (المنطوق) পরিপন্থী হয়; যেহেতু...
(খণ্ড: ১)
রিসালাহ লতীফাহ জামিআহ ফী উসূলিল ফিকহিল মুহিম্মাহ
(পৃষ্ঠা: ৭০)
المنطوق وصف بوصف أو شرط فيه شرط، إذا تخلف ذلك الوصف أو الشرط تخلف الحكم.
والدلالة من الكتاب والسنة ثلاثة أقسام:
ব্যক্ত অর্থ (المنطوق) কোনো গুণ দ্বারা বিশেষিত অথবা কোনো শর্তযুক্ত হয়; যখন সেই গুণ বা শর্ত অনুপস্থিত থাকে, তখন বিধানটিও (الحكم) অনুপস্থিত হয়ে যায়।
আর কুরআন ও সুন্নাহ থেকে নির্দেশনার (الدلالة) প্রকারভেদ তিনটি:
(খণ্ড: ১)
রিসালাহ লতীফাহ জামিআহ ফী উসূলিল ফিকহিল মুহিম্মাহ
(পৃষ্ঠা: ৭১)
دلالة مطابقة، إذا طبقنا اللفظ على جميع المعنى.
ودلالة تضمن، إذا استدللنا باللفظ على بعض معناه.
ودلالة التزام، إذا استدللنا بلفظ الكتاب والسنة ومعناهما على توابع ذلك ومتمماته وشروطه، وما لايتم ذلك المحكوم فيه أو المخبر عنه إلا به.
পূর্ণ সঙ্গতিপূর্ণ নির্দেশক (دلالة مطابقة), যখন আমরা শব্দটিকে তার পূর্ণ অর্থের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করি।
এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্দেশক (دلالة تضمن), যখন আমরা শব্দের মাধ্যমে তার অর্থের কিয়দংশের ওপর প্রমাণ গ্রহণ করি।
আর অনিবার্য সংশ্লিষ্ট নির্দেশক (دلالة التزام), যখন আমরা কুরআন ও সুন্নাহর শব্দ এবং এগুলোর অর্থের মাধ্যমে তার অনুষঙ্গসমূহ, পরিপূরকসমূহ, শর্তাবলি এবং এমন সব বিষয়ের ওপর প্রমাণ পেশ করি, যা ব্যতীত ওই নির্দেশিত বা সংবাদকৃত বিষয়টি সম্পন্ন হয় না।
(খণ্ড: ১)
রিসালাহ লতীফাহ জামিআহ ফী উসূলিল ফিকহিল মুহিম্মাহ
(পৃষ্ঠা: ৭৩)
فصل: أصول يضطر إليها الفقيهالأصل فى أوامر الكتاب والسنة أنها للوجوب، إلا إذا دل الدليل على
পরিচ্ছেদ: যে সকল মূলনীতি (أصول) গ্রহণে একজন ফকিহ বাধ্য হনকুরআন ও সুন্নাহর নির্দেশাবলির ক্ষেত্রে মূল নিয়ম হলো তা আবশ্যকতা (وجوب) হওয়ার দাবি রাখে, যতক্ষণ না কোনো দলিল এমন কিছুর প্রমাণ দেয় যা...
(খণ্ড: ১)
রিসালাহ লতীফাহ জামিআহ ফী উসূলিল ফিকহিল মুহিম্মাহ
(পৃষ্ঠা: ৭৪)
الاستحباب
মুস্তাহাব (استحباب)
(খণ্ড: ১)
রিসালাহ লতীফাহ জামিআহ ফী উসূলিল ফিকহিল মুহিম্মাহ
(পৃষ্ঠা: ৭৫)
أو الإباحة.
والأصل في النواهي أنها للتحريم، إلا إذا دل الدليل على الكراهة.
অথবা বৈধতা (إباحة)।
আর নিষেধাজ্ঞাগুলোর (نواهي) ক্ষেত্রে মূলনীতি (أصل) হলো তা হারামের (تحريم) জন্য হওয়া, যতক্ষণ না কোনো দলিল (دليل) অপছন্দনীয়তার (كراهة) প্রমাণ বহন করে।
(খণ্ড: ১)
রিসালাহ লতীফাহ জামিআহ ফী উসূলিল ফিকহিল মুহিম্মাহ
(পৃষ্ঠা: ৭৬)
والأصل في الكلام الحقيقة، فلا يعدل به إلى المجاز - إن قلنا به - إلا إذا تعذرت الحقيقة.
কথার ক্ষেত্রে মূলনীতি (الأصل) হলো আক্ষরিক অর্থ (الحقيقة); সুতরাং আক্ষরিক অর্থ গ্রহণ করা অসম্ভব না হওয়া পর্যন্ত তাকে রূপক অর্থের (المجاز) দিকে সরিয়ে নেয়া যাবে না—যদি আমরা তা স্বীকার করি।
(খণ্ড: ১)
রিসালাহ লতীফাহ জামিআহ ফী উসূলিল ফিকহিল মুহিম্মাহ
(পৃষ্ঠা: ৭৭)
والحقائق ثلاث: شرعية لغوية وعرفية:
এবং বাস্তবতা বা হাকিকত (حقائق) তিন প্রকার: শরয়ী (شرعية), ভাষাগত (لغوية) এবং প্রচলিত (عرفية):
(খণ্ড: ১)
রিসালাহ লতীফাহ জামিআহ ফী উসূলিল ফিকহিল মুহিম্মাহ
(পৃষ্ঠা: ৭৯)
فما حكم به الشارع وحده، وجب الرجوع فيه إلى الحد الشرعي؛
وماحكم به ولم يحده اكتفاءً بظهور معناه اللغوي، وجب الرجوع فيه إلى اللغة؛
ومالم يكن له حد فى الشرع ولا فى اللغة، رجع فيه إلى عادة الناس وعرفهم.
وقد يصرح الشارع بإرجاع هذه الأمور إلى العرف، كالأمر بالمعروف والمعاشرة بالمعروف ونحوهما.
فاحفظ هذه الأصول التي يضطر إليها الفقيه فى كل تصرفاته الفقهية.
সুতরাং বিধানদাতা (الشارع) এককভাবে যে বিষয়ে বিধান দিয়েছেন, সে ক্ষেত্রে শরয়ি সংজ্ঞা (الحد الشرعي)-র দিকে প্রত্যাবর্তন করা আবশ্যক;
আর যে বিষয়ে তিনি বিধান প্রদান করেছেন কিন্তু তার ভাষাগত অর্থের সুস্পষ্টতার ওপর নির্ভর করে কোনো (শরয়ি) সংজ্ঞা দেননি, সে ক্ষেত্রে আভিধানিক অর্থের দিকে প্রত্যাবর্তন করা আবশ্যক;
এবং যার কোনো সংজ্ঞা শরীয়তে কিংবা ভাষায় বিদ্যমান নেই, তা মানুষের অভ্যাস ও সামাজিক প্রথা (عرف)-র দিকে প্রত্যাবর্তিত হবে।
বিধানদাতা (الشارع) কখনও এই বিষয়গুলোকে সামাজিক প্রথা (العرف)-র দিকে ন্যস্ত করার বিষয়ে স্পষ্ট বর্ণনা প্রদান করেন, যেমন—সৎকাজের (المعروف) আদেশ দান এবং সৎভাবে (المعروف) জীবনযাপন করা ও এই জাতীয় বিষয়সমূহ।
অতএব, এই মূলনীতিসমূহ (الأصول) আয়ত্ত করুন, যা একজন ফকিহ (الفقيه) তার যাবতীয় ফিকহি কর্মকাণ্ডে প্রয়োগ করতে বাধ্য হন।
(খণ্ড: ১)
রিসালাহ লতীফাহ জামিআহ ফী উসূলিল ফিকহিল মুহিম্মাহ
(পৃষ্ঠা: ৮৩)
فصل: عودة إلى نصوص الوحيينونصوص الكتاب والسنة:
منها عام، وهو اللفظ الشامل لأجناس أو أنواع أو أفراد كثيرة، وذلك أكثر النصوص؛ ومنها خاص يدل على بعض الأجناس أو الأنواع أو الأفراد.
পরিচ্ছেদ: ওহির উভয় উৎসের ভাষ্যের দিকে প্রত্যাবর্তনকিতাব ও সুন্নাহর ভাষ্যসমূহ:
তন্মধ্যে কিছু সাধারণ (عام), যা মূলত এমন শব্দ যা বহুবিধ শ্রেণি, প্রকার বা বহুসংখ্যক ব্যক্তিকে অন্তর্ভুক্ত করে; আর অধিকাংশ ভাষ্যই এই প্রকৃতির। আবার কিছু হলো বিশেষ (خاص), যা নির্দিষ্ট কিছু শ্রেণি, প্রকার বা ব্যক্তিকে নির্দেশ করে।