(খণ্ড: ১)
আল-ইমামুল বিক্বায়ি ওয়া মিনহাজুহু ফী তাবীলি বালাগাতিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: -)
الإمام البقاعي ومنهاجه في تأويل بلاغة القرآن القسم: علوم القرآن وأصول التفسير
الكتاب: الإمام البقاعي ومنهاجه في تأويل بلاغة القرآن
المؤلف: محمود توفيق محمد سعد [ت 1446 هـ]
[الكتاب مرقم آليا]
عدد الصفحات: 382
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
ইমাম আল-বিকাঈ এবং কুরআনের অলঙ্কারশাস্ত্রের ব্যাখ্যায় তাঁর কর্মপদ্ধতি বিভাগ: কুরআন উলুম এবং তাফসীরের উসুল
গ্রন্থ: ইমাম আল-বিকাঈ এবং কুরআনের অলঙ্কারশাস্ত্রের ব্যাখ্যায় তাঁর কর্মপদ্ধতি
লেখক: মাহমুদ তাওফিক মুহাম্মদ সাদ [মৃত্যু ১৪৪৬ হিজরি]
[গ্রন্থটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত]
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৮২
শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আল-ইমামুল বিক্বায়ি ওয়া মিনহাজুহু ফী তাবীলি বালাগাতিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ১)
الإمَامُ البِقَاعِيّ
جهادُه ومنهاجُ تأوِيله بلاغة
القرْآن الكَرِيم
إعداد
محمود توفيق محمد سعد أستاذ البلاغة والنقد ورئيس القسم في كلية اللغة العربية جامعة الأزهر الشريف شبين الكوم.
الطبعة الأولى
1424هـ
جميع الحقوق محفوظة للمؤلف
ملحوظة مهمة)
هذا البحث قد تمَّ نشلره في القاهرة - مكتبة وهبة
وعنواها: القاهرة شارع الجمهورية - عابدين - هاتف رقم 3917470
وقد وضعته هنا لمن لم يتسير له اقتناء النسخة الورقية.
بسم الله الرحمن الرحيم
{الْحَمْدُ للهِ رَبّ الْعالَمِينَ * الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ * مَالِكِ يَوْمِ الدّينِ}
اللهمَّ صلِّ على مُحمدٍ وعلى آلِ مُحمَّدٍ كما صلّيت علَى إبراهيمَ وآلِ إبراهيمَ إنّك حميدٌ مَجيدٌ، وباركْ على محمَّدٍ وعلى آلِ محمدٍ كما باركت على إبراهيمَ وآلِ إبراهيمَ إنَّك حميدٌ مجيدٌ
أمَّا بعدُ، فإنَّ من سنَّة الله عز وجل في خلقه أنَّه ما أوغلت أمة من الأمم في البعد عن طاعة الله سبحانه وتعالى ورضوانه، واستهترت في الذنوب والمعاصي إلَاّ أقام فيها نبيًّا أو أرسلَ رسولا
{إِنَّا أَرْسَلْنَاكَ بِالْحَقِّ بَشِيراً وَنَذِيراً وَإِنْ مِنْ أُمَّةٍ إِلَاّ خَلا فِيهَا نَذِيرٌ} (فاطر:24)
حتى كانت خاتم الأمم: أمَّة العربِ اتَّخذت الشرك دينا والظلم منهاجا والآثام احترافا، فأرسل فيها خاتمَ الرُّسلِ وأكرمَهم عليه جل جلاله سيدنا محمد بن عبد الله صَلّى اللهُ عَلَيْهِ وعَلَى آلِهِ وَصَحْبِهِ وَسَلَّمَ تَسْلِيمًا كَثِيرًا وأنزل عليه"القرآن الكريم" وجعله الكتابَ المُصدِّق لما بين يديه والمُهَيْمِنَ والناسخ للشرائع التي سبقته:
ইমাম আল-বিকায়ি
তাঁর সংগ্রাম ও পবিত্র কুরআনের অলঙ্কারশাস্ত্রের ব্যাখ্যায় তাঁর পদ্ধতি
পবিত্র কুরআন
প্রস্তুতকরণে
মাহমুদ তৌফিক মুহাম্মদ সাদ, অলঙ্কারশাস্ত্র ও সমালোচনা সাহিত্যের অধ্যাপক এবং আরবী ভাষা অনুষদ, আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয়, শিবিন আল-কুম-এর বিভাগীয় প্রধান।
প্রথম সংস্করণ
১৪২৪ হিজরি
সকল স্বত্ব লেখক কর্তৃক সংরক্ষিত
গুরুত্বপূর্ণ নোট)
এই গবেষণাটি কায়রোতে মাকতাবাতু ওয়াহবা থেকে প্রকাশিত হয়েছে।
ঠিকানা: কায়রো, আল-জুমহুরিয়া স্ট্রিট - আবিদিন - ফোন নম্বর ৩৯১৭৪৭০
যারা কাগজের কপি সংগ্রহ করতে পারেননি, তাদের জন্য আমি এটি এখানে প্রকাশ করেছি।
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
{সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি সকল জগতের প্রতিপালক। পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু। বিচার দিবসের মালিক।}
হে আল্লাহ! আপনি মুহাম্মদের ওপর এবং মুহাম্মদের বংশধরদের ওপর রহমত বর্ষণ করুন, যেমন আপনি ইব্রাহিম ও ইব্রাহিমের বংশধরদের ওপর রহমত বর্ষণ করেছেন। নিশ্চয়ই আপনি প্রশংসিত ও মহিমান্বিত। হে আল্লাহ! আপনি মুহাম্মদের ওপর এবং মুহাম্মদের বংশধরদের ওপর বরকত নাযিল করুন, যেমন আপনি ইব্রাহিম ও ইব্রাহিমের বংশধরদের ওপর বরকত নাযিল করেছেন। নিশ্চয়ই আপনি প্রশংসিত ও মহিমান্বিত।
অতঃপর, নিশ্চয়ই নিজ সৃষ্টির মাঝে মহান আল্লাহর একটি চিরন্তন বিধান এই যে, যখনই কোনো জাতি আল্লাহর আনুগত্য ও সন্তুষ্টি থেকে দূরে সরে গেছে এবং পাপাচার ও অবাধ্যতায় লিপ্ত হয়েছে, তখনই তিনি তাদের মাঝে একজন নবী পাঠিয়েছেন অথবা একজন রাসূল প্রেরণ করেছেন।
{নিশ্চয়ই আমি আপনাকে সত্যসহ সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে পাঠিয়েছি। আর এমন কোনো জাতি নেই, যাদের কাছে সতর্ককারী আসেনি।} (ফাতির: ২৪)
পরিশেষে সর্বশেষ জাতি ছিল আরবরা; তারা শিরককে ধর্ম হিসেবে, জুলুমকে পথ হিসেবে এবং পাপকর্মকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করেছিল। ফলে মহান আল্লাহ তাদের মাঝে সর্বশেষ ও তাঁর নিকট সর্বাধিক সম্মানিত রাসূল আমাদের নেতা মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ (আল্লাহর দরুদ ও শান্তি তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার ও তাঁর সাথীদের ওপর বর্ষিত হোক) কে প্রেরণ করেন এবং তাঁর ওপর "পবিত্র কুরআন" অবতীর্ণ করেন। তিনি একে পূর্ববর্তী কিতাবসমূহের সত্যায়নকারী, অভিভাবক এবং তাঁর পূর্বের সকল শরীয়তের রহিতকারী হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-ইমামুল বিক্বায়ি ওয়া মিনহাজুহু ফী তাবীলি বালাগাতিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ২)
{وَأَنْزَلْنَا إِلَيْكَ الْكِتَابَ بِالْحَقِّ مُصَدِّقاً لِمَا بَيْنَ يَدَيْهِ مِنَ الْكِتَابِ وَمُهَيْمِناً عَلَيْهِ فَاحْكُمْ بَيْنَهُمْ بِمَا أَنْزَلَ اللَّهُ وَلا تَتَّبِعْ أَهْوَاءَهُمْ عَمَّا جَاءَكَ مِنَ الْحَقِّ لِكُلٍّ جَعَلْنَا مِنْكُمْ شِرْعَةً وَمِنْهَاجاً وَلَوْ شَاءَ اللَّهُ لَجَعَلَكُمْ أُمَّةً وَاحِدَةً وَلَكِنْ لِيَبْلُوَكُمْ فِي مَا آتَاكُمْ فَاسْتَبِقُوا الْخَيْرَاتِ إِلَى اللَّهِ مَرْجِعُكُمْ جَمِيعاً فَيُنَبِّئُكُمْ بِمَا كُنْتُمْ فِيهِ تَخْتَلِفُونَ} (المائدة:48)
ولمَّا كان النبي محمد صلى الله عليه وسلم خاتم الرسل وكانت أمته: أمة الدعوة أبسط الأمم موطنًا وأمدَّ الأممِ زمانًا، وكان لزامًا أن يُوغِل بعضُ هذه الأمةِ بل وأغلبُها في البُعد عمَّا يرضي رب العالمين جل جلاله، وليس من نبيّ آت من بعده، كان من فضل الله عز وجل على هذه الأمة أن يبعث فيها على رأس كل مئة سنة من يُجدِّد لها دينها:
روى "أبو داود رضي الله عنهم في سننه في صدر كتاب الملاحم بسنده عن أبي هريرة رضي الله عنهم أنَّ رسول الله صلى الله عليه وسلم قال:
" إنّ الله يَبْعَثُ لهَذِهِ الأُمَّةِ عَلَى رَأسِ كُلّ مِئَةِ سَنَةٍ مَن يجَدِّدُ لها دِينَها "
أولئك المبعوثون إنَّما هم أئمة العلماء: ورثة الأنبياء، يجددون لهذه الأمَّة فقه دينها، فيتجدد لها تدينها، وحسن التزامها في سلوكها بما جاءها عن الله عز وجل في كتابه وعن النبي صَلّى اللهُ عَلَيْهِ وعَلَى آلِهِ وَصَحْبِهِ وَسَلَّمَ تَسْلِيمًا كَثِيرًا في سنته المطهرة على النحو الذي يرضي به الله عز وجل
إنّ تجديد العلماء: ورثة الأنبياء للدين إنّما هو تجديد فهم للكتاب والسنة فهما يبعث الناس على حسن التديُّن بالكتاب والسنة وليس غيرهما.
"এবং আমি আপনার প্রতি সত্যসহ কিতাব অবতীর্ণ করেছি, যা তার পূর্বের কিতাবসমূহের সত্যায়নকারী এবং সেগুলোর সংরক্ষক। অতএব, আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন সেই অনুযায়ী তাদের মাঝে ফয়সালা করুন এবং আপনার কাছে আসা সত্য বিসর্জন দিয়ে তাদের খেয়াল-খুশির অনুসরণ করবেন না। আমি তোমাদের প্রত্যেকের জন্য একটি শরীয়ত ও স্পষ্ট পথ নির্ধারণ করেছি। আর যদি আল্লাহ চাইতেন, তবে তোমাদেরকে এক উম্মত করতে পারতেন; কিন্তু তিনি তোমাদেরকে যা দিয়েছেন তার মাধ্যমে তোমাদের পরীক্ষা করতে চান। অতএব, তোমরা সৎকাজে প্রতিযোগিতা করো। আল্লাহর দিকেই তোমাদের সকলের প্রত্যাবর্তন। অতঃপর তোমরা যে বিষয়ে মতভেদ করতে, তিনি সে সম্পর্কে তোমাদের অবহিত করবেন।" (আল-মায়িদাহ: ৪৮)
যেহেতু নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ছিলেন সর্বশেষ রাসূল এবং তাঁর উম্মত—দাওয়াতের উম্মত—ভৌগোলিক বিস্তৃতিতে সবচেয়ে বিশাল এবং সময়কালের দিক থেকে দীর্ঘতম উম্মত, এবং যেহেতু এই উম্মতের কিছু অংশ, এমনকি অধিকাংশের পক্ষেই রাব্বুল আলামীন জাল্লা জালালুহু-র সন্তুষ্টির পথ থেকে দূরে সরে যাওয়া অবধারিত ছিল, আর যেহেতু তাঁর পরে কোনো নবী আসবেন না, তাই এই উম্মতের প্রতি আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার বিশেষ অনুগ্রহ ছিল যে, তিনি প্রতি একশ বছরের মাথায় এমন কাউকে পাঠাবেন যিনি তাদের জন্য তাদের দ্বীনকে পুনরুজ্জীবিত করবেন:
আবু দাউদ রাদিয়াল্লাহু আনহুম তাঁর সুনান গ্রন্থের কিতাবুল মালাহিম-এর শুরুতে তাঁর সনদে আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহুম থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:
"নিশ্চয়ই আল্লাহ এই উম্মতের জন্য প্রতি একশ বছরের মাথায় এমন ব্যক্তিকে পাঠাবেন যিনি তাদের জন্য তাদের দ্বীনকে পুনরুজ্জীবিত করবেন।"
প্রেরিত সেই সকল ব্যক্তি হলেন মূলত ইমাম ও আলেমগণ, যাঁরা নবীদের উত্তরসূরি; তাঁরা এই উম্মতের জন্য তাদের দ্বীনের বুঝকে পুনরুজ্জীবিত করেন, ফলে তাদের ধর্মীয় জীবন এবং আচার-আচরণে সেই বিধানের প্রতি উত্তম আনুগত্য নবায়ন হয় যা আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা তাঁর কিতাবে এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলা আলিহি ওয়া সাহবিহি ওয়া সাল্লাম তাঁর পবিত্র সুন্নাহতে প্রদান করেছেন, এমন পন্থায় যা আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লাকে সন্তুষ্ট করে।
আলেমদের—যাঁরা নবীদের উত্তরসূরি—দ্বীন পুনরুজ্জীবিত করার প্রকৃত অর্থ হলো কুরআন ও সুন্নাহর সঠিক বুঝকে পুনরুজ্জীবিত করা; এমন এক অনুধাবন যা মানুষকে কুরআন ও সুন্নাহর আলোকেই সুন্দরভাবে দ্বীন পালনে উদ্বুদ্ধ করে, অন্য কিছুর ভিত্তিতে নয়।
(খণ্ড: ১)
আল-ইমামুল বিক্বায়ি ওয়া মিনহাজুহু ফী তাবীলি বালাগাতিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ৩)
ومن لطيف وبديع البيان النبوي أنَّ ما يكون فيه تجديد العلماء المبعوثين على رأس كل مئة سنة سمَّاه " دينًا " أي تديّنًا.
في هذا إشارة نبوية إلى أنَّ ما يكون من العلماء في فهم الدين (النَّصِّ/ الخطاب الإلهي والنبويّ للأمّة) هو من الدَّين (التَّدين) وليس شيئا خارجا عن الكتاب والسنة بل هو شيءٌ خارج منهما، فاجتهاد العالم في فهم الكتاب والسنة وفق أصول الفهم الصحيح لهما هو من الكتاب والسنة، فعَلى الأمّة ألَاّ تطمَئِنَّ إلى اجتهادٍ إلَاّ إذا كان من عالمٍ بالكتاب والسنَّة وطرائق فقههما، وأن يكونَ اطمئنانُها إلى ما جاء عن مجامعِ أهلِ العِلْمِ أقوى من اطمئنانها إلى ما جاءت به الغرائب والفرائد من اجتهادات فردية، فنحن اليوم في سياق الاجتهاد الجَمْعِىِّ الذي يتظاهر ويتعاون عليه جمعٌ من أهل العلم المتخصصين المخلصين، فإنَّ في اجتماعهم وتشاورهم وتناصحهم مأمنًا من العثرة، ومن إغواء شيطان أو جرأة سلطان.
وفي هذا أيضًا هديٌ نبويٌّ للأمّة أنَّ ما يأتي به العلماءُ من اجتهاد في فقه وفهم الكتاب والسنّة وفقَ أصولِ الفقه والفهم عن الله رب العالمين وعن رسوله صَلّى اللهُ عَلَيْهِ وعَلَى آلِهِ وَصَحْبِهِ وَسَلَّمَ تَسْلِيمًا كَثِيرًا إنَّما فيه خير هذه الأمة، وأنّ عليها أن تقبل على هذا الخير وأن تشكر الله عز وجل على أنْ أقام فيها من يجدد لها فقهها وفهمها لكتابه وسنة نبيه صلى الله عليه وسلم، فيكون من ذلك التجديد في الفقه والفهم تجديد التدين بالكتاب والسنة
وفي هذا هدْيُ نبويٌّ للأمة – أيضًا – أن ترعى لعلماء الكتاب والسنة العاملين بهما حقّهم، فلا يعتدى على أعراضهم وسيرهم، ولا يسمع لمقال مفسد يرمى بإفكه في آذان الدهماء بما يجرح صور علماء الأمة في أفئدة أبنائها، فيرغبون عنهم إلى غيرهم من الذين يتكسبون عرض الدنيا بالقول في كتاب الله عز وجل وسنة نبيه صلى الله عليه وسلم -
নবুওয়াতের বর্ণনার সূক্ষ্মতা ও চমৎকারিত্বের একটি দিক হলো, প্রতি শতাব্দী শেষে প্রেরিত আলেমগণ যে সংস্কার (তাজদীদ) সাধন করবেন, তাকে তিনি "দীন" অর্থাৎ ধর্মীয় অনুশীলন বা ধর্মপ্রাণতা হিসেবে অভিহিত করেছেন।
এর মধ্যে একটি নববীয় ইঙ্গিত রয়েছে যে, দ্বীন (উম্মাহর প্রতি আল্লাহর বাণী ও নবীর বক্তব্য) অনুধাবনের ক্ষেত্রে আলেমদের পক্ষ থেকে যা কিছু আসে, তা দ্বীনেরই (ধর্মীয় অনুশীলনেরই) অন্তর্ভুক্ত। এটি কুরআন ও সুন্নাহর বাইরের কিছু নয়, বরং তা কুরআন ও সুন্নাহ থেকেই উৎসারিত। সঠিক মূলনীতির আলোকে কুরআন ও সুন্নাহ অনুধাবনে একজন আলেমের ইজতিহাদ কুরআন ও সুন্নাহরই অংশ। অতএব, উম্মাহর উচিত নয় এমন কোনো ইজতিহাদের ওপর আশ্বস্ত হওয়া যা কুরআন, সুন্নাহ এবং ফিকহশাস্ত্রে পারদর্শী কোনো আলেমের পক্ষ থেকে আসেনি। উম্মাহর আস্থার ভিত্তি একক ও বিরল কোনো ইজতিহাদের চেয়ে ওলামায়ে কেরামের সম্মিলিত সিদ্ধান্তের ওপর অনেক বেশি শক্তিশালী হওয়া উচিত। আমরা বর্তমানে এমন এক সম্মিলিত ইজতিহাদের প্রেক্ষাপটে আছি, যেখানে একদল বিশেষজ্ঞ ও মুখলিস আলেম পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে কাজ করেন। নিশ্চয়ই তাঁদের একত্রিত হওয়া, পরামর্শ করা এবং একে অপরকে নসিহত করার মধ্যে ভুল-ভ্রান্তি, শয়তানের প্ররোচনা কিংবা কোনো শাসকের অন্যায্য চাপের হাত থেকে নিরাপত্তা রয়েছে।
এতে উম্মাহর জন্য আরও একটি নববীয় নির্দেশনা রয়েছে যে, রাব্বুল আলামীন আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল (তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার ও সাহাবীগণের ওপর আল্লাহর অগণিত রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক)-এর পক্ষ থেকে আগত বাণী অনুধাবনের সঠিক মূলনীতি অনুযায়ী কুরআন ও সুন্নাহর ফিকহ ও বুঝের ক্ষেত্রে আলেমগণ যে ইজতিহাদ পেশ করেন, তার মধ্যেই এ উম্মাহর কল্যাণ নিহিত। উম্মাহর কর্তব্য হলো এই কল্যাণকে গ্রহণ করা এবং মহান আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করা যে, তিনি তাদের মধ্যে এমন ব্যক্তিদের নিয়োজিত করেছেন যারা তাদের জন্য আল্লাহর কিতাব ও তাঁর নবীর (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) সুন্নাহর ফিকহ ও বুঝকে নতুন করে সংস্কার করে দেন। ফলে সেই ফিকহ ও বুঝের তাজদীদের মাধ্যমেই কুরআন ও সুন্নাহ ভিত্তিক ধর্মীয় অনুশীলনের নবায়ন ঘটে।
এতে উম্মাহর জন্য আরও একটি নববীয় শিক্ষা রয়েছে যে, কুরআন ও সুন্নাহর একনিষ্ঠ অনুসারী আলেমদের যথাযথ সম্মান ও অধিকার রক্ষা করা। তাঁদের মান-সম্মান ও জীবনচরিতের ওপর কোনো আঘাত করা যাবে না। কোনো বিভ্রান্তিকারীর কথায় কান দেওয়া যাবে না যে তার মিথ্যাচারের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কানে এমন বিষবাষ্প ছড়ায় যা এ উম্মাহর সন্তানদের হৃদয়ে আলেমদের ভাবমূর্তি কলঙ্কিত করে। এর ফলে তারা প্রকৃত আলেমদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়ে এমন লোকদের প্রতি ঝুঁকে পড়ে, যারা আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূলের সুন্নাহর অপব্যাখ্যা করে দুনিয়াবী স্বার্থ হাসিল করতে চায়।
(খণ্ড: ১)
আল-ইমামুল বিক্বায়ি ওয়া মিনহাজুহু ফী তাবীলি বালাগাতিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ৪)
وفي البعث على رأس كل مئة سنة إشارة إلى أن الله عز وجل من فيض رحمانيته ورحيميته لم يدع هذه الأمة تقيم في الإيغال في المعصية والاستهتار في البعد عن الطاعة أمدًا طويلا بل يجعل في كل جيل من أجيالها من يُجدِّد لها دينها، فلا تتراكم الدياجير عليها، فيكون إخراجها من تلك الدياجير غير عسير؛ لأنَّ من أقام في ظلمات المعصية أمدًا بعيدًا كان غير يسير على من قام لإخراجه منها أن ينجز ما قام له،وهذا من فيض العون الإلهي لورثة النبي صلى الله عليه وسلم
المجدد المبعوث على رأس كلِّ سنة لايكون واحدًا بل يكون البعث لأكثر من واحد في مجالات عدة، ومن ثمَّ فإنِّي أعدُّ بعضًا من أهل العلم في قرن واحد ومجالاتٍ من الفقه في الكتاب والسنَّة ممن ابتعثهم الله عز وجل يجدد لهذه الأمة دينها: فهم كتابه وسنة نبيه صلى الله عليه وسلم
في القرن التاسع الهجري مجددون لهذه الأمة منهم "برهان الدين البقاعي" صاحب تفسير" نظم الدرر"، جدّد لهذه الأمّة فهم كتاب الله عز وجل
وقدرغبت في أن أعدّ هذا الكتاب عن حياة عقله وجهاد قلمه ومنهاج تأويلِه بلاغة القرآن الكريم وأنشره في طلاب العلم بالكتاب والسنة.
ومن ثَمَّ جعلتُ الكتابَ بابين:
الأول: جهاده في طلب العلم وتعليمه.
والباب الثاني جعلته لتبيان منهاجه في تأويل بلاغة القرآن الكريم
وقد حرَصْتُ على أنْ أذكر نماذج من تفسيره " نظم الدرر" لما أراه معلما من معالم منهاجه في تأويل القرآن الكريم عسى أن يكونَ في قراءة هذه النماذجِ ما يُغري القارئَ بالقراءةِ في تفسيره نفسه قراءةَ بحثٍ وعرفان جديرٍ بالصبر والمصابرة
প্রতি শতাব্দীর শেষে মুজাদ্দিদ বা পুনরুজ্জীবিতকারী প্রেরণের মধ্যে এই ইঙ্গিত রয়েছে যে, আল্লাহ মহান তাঁর অসীম করুণা ও দয়ার আতিশয্যে এই উম্মতকে দীর্ঘকাল পাপাচারের নিমগ্নতায় এবং আনুগত্য থেকে বিমুখতার উদাসীনতায় পড়ে থাকতে দেন না। বরং তিনি এর প্রতিটি প্রজন্মে এমন কাউকে সৃষ্টি করেন যিনি তাদের জন্য দ্বীনকে পুনরুজ্জীবিত করেন। ফলে অন্ধকারের আস্তরণ তাদের ওপর পুঞ্জীভূত হতে পারে না এবং সেই অন্ধকার থেকে তাদের বের করে আনা কঠিন হয় না। কারণ, যে ব্যক্তি দীর্ঘকাল পাপাচারের অন্ধকারে অবস্থান করে, তাকে সেখান থেকে বের করার জন্য যিনি উদ্যোগ নেন, তাঁর পক্ষে লক্ষ্য পূরণ করা সহজ হয় না। আর এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উত্তরসূরিদের জন্য ঐশ্বরিক সাহায্যেরই একটি বহিঃপ্রকাশ।
প্রতি শতাব্দীর শেষে প্রেরিত পুনরুজ্জীবিতকারী কেবল একজনই হন না, বরং বিভিন্ন ক্ষেত্রে একাধিক ব্যক্তির প্রেরণ হতে পারে। সেই হিসেবে, আমি এক শতাব্দীর জ্ঞানীদের মধ্য থেকে কয়েকজনকে এবং কুরআন ও সুন্নাহর ইলমের বিভিন্ন ক্ষেত্রে এমন কয়েকজনকে গণ্য করি যাদেরকে আল্লাহ মহান এই উম্মতের দ্বীন—অর্থাৎ আল্লাহর কিতাব ও তাঁর নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সুন্নাহর সঠিক বুঝ—পুনরুজ্জীবিত করার জন্য পাঠিয়েছেন।
নবম হিজরি শতাব্দীতে এই উম্মতের জন্য বেশ কয়েকজন পুনরুজ্জীবিতকারী ছিলেন, যাদের মধ্যে ‘নাজমুদ দুরার’ তাফসীরের রচয়িতা ‘বুরহানুদ্দীন আল-বিকাঈ’ অন্যতম। তিনি এই উম্মতের কাছে মহান আল্লাহর কিতাবের মর্ম উপলব্ধিকে পুনরুজ্জীবিত করেছেন।
আর আমি তাঁর বুদ্ধিবৃত্তিক জীবন, তাঁর লেখনীর জিহাদ এবং কুরআনুল কারীমের অলঙ্কারশাস্ত্রের ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে তাঁর অনুসৃত পদ্ধতি সম্পর্কে এই গ্রন্থটি রচনা করতে এবং কুরআন ও সুন্নাহর ইলম অন্বেষণকারীদের মাঝে তা প্রচার করতে আগ্রহী হয়েছি।
সেই ধারাবাহিকতায় আমি বইটিকে দুটি অধ্যায়ে বিন্যস্ত করেছি:
প্রথম অধ্যায়: জ্ঞান অর্জন ও শিক্ষাদানের ক্ষেত্রে তাঁর জিহাদ।
আর দ্বিতীয় অধ্যায়টি আমি কুরআনুল কারীমের অলঙ্কারশাস্ত্র ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে তাঁর পদ্ধতি বর্ণনার জন্য নির্ধারণ করেছি।
আমি তাঁর তাফসীর ‘নাজমুদ দুরার’ থেকে কিছু নমুনা উল্লেখ করার ব্যাপারে যত্নশীল হয়েছি, কেননা আমি সেগুলোকে কুরআনুল কারীমের ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে তাঁর পদ্ধতির অন্যতম নিদর্শন হিসেবে মনে করি। আশা করা যায় যে, এই নমুনাগুলো পাঠ করলে পাঠকের মনে তাঁর মূল তাফসীর গ্রন্থটি ধৈর্য ও নিষ্ঠার সাথে গবেষণা ও প্রজ্ঞার দৃষ্টিতে পড়ার আগ্রহ জন্মাবে।
(খণ্ড: ১)
আল-ইমামুল বিক্বায়ি ওয়া মিনহাজুহু ফী তাবীলি বালাগাতিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ৫)
في عصر تنادى شرزمة بأنّه لا يسعها ما وسع الصحابة في عهد النبوة، وبأنَّ علينا أن نعيد قراءة القرآن الكريم قراءة عصرية تتواكب مع حركة الحياة في عصر (العولمة) فتكاثرت الأسفار بتلك القراءات التى ليس من همِّها في المقام الأول إلَاّ تَسْفِيهِ التُّراثِ التأويليِّ لأهلِ السُّنَّة والجماعة واستعلاء شأن التأويل الفلسفيِّ للقرآن الكريم الذي تولى كبره شرزمة من المنسوبين إلى العلماء من أمثال "ابن عربي" وتفسيرات بعضِ المعتزلة الذين يجاهد بعض المشتغلين بالعلم في نشر منهاجهم العقلي المستعلِي على النصّ والدعوة إلى أن النصّ ليس مقدمًا على العقلِ بل للعقل المجرَّدِ من التَّبعيَّة للنصّ سلطان على النّصِّ وإن كان متواترًا.
ومن ثمَّ رأينا من يحاول مخفقا أن يطبق المناهج الأعجمية في نقد النصوص الأدبية على البيان القرآنيّ،ورأينا من ينادي في تلاميذه بوجوب دراسة القرآن الكريم " دراسة أدبية " وأنَّ أيَّ درس للقرآن الكريم لا يقوم على هذه الدراسة الأدبية هو درس عقيم وأنَّ الدرس الأدبي قائم على نزع الإيمان بقدسية النص في أثناء دراسته، فيكون محل مناقدة كمثل أي نصّ، فإذا ما انتهت الدراسة الأدبية للنصّ، فله أن يعودَ إلى إقامة قدسيّة النصّ القرآنيّ في قلبه، هكذا وكأنَّ قدسية القرآن الكريم وإقامتها في القلب رداء أو ما دونه ينزع متى شاء النازع ويُوضع متى شاء.
كلّ هذا بدعوى الموضوعيّة العلميّة في البحث العلميّ، وغير هذا كثير تموج به الصحائف المنشورة في العباد
এক যুগে যেখানে এক ক্ষুদ্র গোষ্ঠী এই আওয়াজ তুলেছে যে, নবুওয়াতের যুগে সাহাবায়ে কেরামের জন্য যা যথেষ্ট ছিল, তা তাদের জন্য যথেষ্ট নয় এবং আমাদের উচিত পবিত্র কুরআনকে এক নতুন আধুনিক পাঠে পাঠ করা, যা (বিশ্বায়নের) এই যুগে জীবনের গতির সাথে সংগতিপূর্ণ হয়। ফলে এমন সব লেখনীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে যাতে সেইসব দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে যাদের মূল লক্ষ্যই হলো আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াতের ব্যাখ্যামূলক ঐতিহ্যকে মূর্খতা হিসেবে প্রতিপন্ন করা এবং পবিত্র কুরআনের সেই দার্শনিক ব্যাখ্যাকে উচ্চ মর্যাদা দান করা, যার মূল দায়িত্ব কাঁধে নিয়েছিল "ইবনে আরাবি"-র মতো আলেমদের অন্তর্ভুক্ত এক ক্ষুদ্র গোষ্ঠী এবং কিছু মুতাজিলার তাফসিরসমূহ, যাদের সেই যুক্তিভিত্তিক মানহাজ বা পদ্ধতি প্রচারে একদল ইলম চর্চাকারী আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে; যে মানহাজ দলিলের (নস) ওপর বুদ্ধিকে প্রাধান্য দেয় এবং এই আহ্বান জানায় যে, দলিল বা নস বুদ্ধির ওপর অগ্রাধিকারযোগ্য নয়, বরং দলিল বা নসের অনুসরণমুক্ত নিছক যুক্তিরই আধিপত্য রয়েছে দলিলের ওপর, যদিও তা মুতাওয়াতির বা অকাট্য পর্যায়ের হয়।
এরপর আমরা দেখেছি যারা সাহিত্যের মূল পাঠ সমালোচনার বিজাতীয় পদ্ধতিগুলো কুরআনের বয়ানের ওপর প্রয়োগ করার ব্যর্থ চেষ্টা চালাচ্ছে। আমরা আরও দেখেছি যারা তাদের ছাত্রদের মাঝে এই দাবি তোলে যে, পবিত্র কুরআনকে অবশ্যই "সাহিত্যিক অধ্যয়ন" হিসেবে অধ্যয়ন করতে হবে এবং এই সাহিত্যিক অধ্যয়ন ব্যতীত কুরআনের যেকোনো পাঠই নিষ্ফল। তাদের মতে, এই সাহিত্যিক অধ্যয়নটি এমনভাবে প্রতিষ্ঠিত যে, অধ্যয়ন চলাকালে মূল পাঠের পবিত্রতার ওপর থেকে ঈমান বা বিশ্বাস সরিয়ে নিতে হবে, যাতে তা অন্য যেকোনো সাধারণ পাঠের মতো সমালোচনার পাত্র হতে পারে। অতঃপর যখন মূল পাঠের সাহিত্যিক অধ্যয়ন শেষ হবে, তখন সে চাইলে তার অন্তরে কুরআনী নসের পবিত্রতাকে পুনরায় ফিরিয়ে আনতে পারে। বিষয়টি ঠিক এমন যেন পবিত্র কুরআনের পবিত্রতা এবং অন্তরে এর স্থান দেওয়া কোনো পোশাক বা তার চেয়েও তুচ্ছ কিছু, যা ব্যক্তি যখন ইচ্ছা খুলে ফেলে আবার যখন ইচ্ছা পরিধান করে।
এসবই বৈজ্ঞানিক গবেষণায় বৈজ্ঞানিক বস্তুনিষ্ঠতার দোহাই দিয়ে করা হচ্ছে। এছাড়া আরও অনেক বিষয় রয়েছে যা প্রকাশিত পত্র-পত্রিকায় মানুষের মাঝে উথলে উঠছে।
(খণ্ড: ১)
আল-ইমামুল বিক্বায়ি ওয়া মিনহাজুহু ফী তাবীলি বালাগাতিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ৬)
ولعَلّي لأنشرُ قريبا إن شاء الله تعالى في طلاب العلم كتابًا قائما ببيان ضوابط فقه المعنى من الكتب والسنة قد فرغت بحمدالله عز وجل من إعداد مسودته الأولى، وأسأل الله عز وجل العون على تنقيحه وتبيضه عسي أن يكون فيه عونٌ لمن يبحث عن الحق فيَسْتَبْصِره ولعلِّى أقوِّضُ شيئًا ممَّا يبنى المفسدون من مسجد ضرار، فأكون ساعيًا إلى أداء بعض ما فرض علينا من النصيحة لكتاب الله جل جلاله.
روى الإمام "مسلم" رضي الله عنه في صحيحه من كتاب الإيمان بسنده عن"تميم الداريّ" رضي الله عنه أنَّ النّبِيَّ صَلّى اللهُ عَلَيْهِ وعَلَى آلِهِ وَصَحْبِهِ وَسَلَّمَ تَسْلِيمًا كَثِيرًا قال:
" الدّينُ النَّصيحةُ. قلنا: لمن؟ قال: " لله ولكِتابِه ولرسُولِه ولأئمَّة المسلمين وعامتهم "
ولوأنَّ كلَّ طالب علم ومشتغلٍ به أقام ذلك الحديث الجليل نصب عينيه، وكان على ذُكْرٍ من أنَّ مجال الجهاد بالكلمة الحقّ والمرابطة في تحقيق الحقائق العلمية في باب العقيدة والشريعة باب وسيع من أبواب الجهاد في سبيل الله عز وجل، لاستعذب ماسيلقى في ذلك السبيل من فتن ومحن، وقد قال الله عز وجل لنا:
{وَجَعَلْنَا بَعْضَكُمْ لِبَعْضٍ فِتْنَةً أَتَصْبِرُونَ وَكَانَ رَبُّكَ بَصِيراً} (الفرقان: من الآية20)
এবং সম্ভবত আমি শীঘ্রই জ্ঞানান্বেষীদের জন্য ইনশাআল্লাহ কিতাব ও সুন্নাহ থেকে ‘অর্থের ফিকহ’ (ফেকহুল মানা)-এর নীতিমালা বর্ণনার ওপর ভিত্তি করে একটি কিতাব প্রকাশ করব, মহান আল্লাহর প্রশংসায় যার প্রথম খসড়া তৈরির কাজ আমি ইতিপূর্বেই সম্পন্ন করেছি। আমি মহান আল্লাহর কাছে এটি পরিমার্জন ও চূড়ান্ত রূপ প্রদানের ক্ষেত্রে সাহায্য প্রার্থনা করছি, যেন এটি সত্য অনুসন্ধানকারীদের জন্য সহায়ক হয় এবং তারা তা সুস্পষ্টভাবে অনুধাবন করতে পারে। সম্ভবত এর মাধ্যমে ফিতনাবাজরা যে ‘মসজিদে দিরার’ (ক্ষতিকর মসজিদ) তৈরি করছে তার কিয়দংশ আমি গুঁড়িয়ে দিতে সক্ষম হব, এবং আল্লাহর কিতাবের প্রতি আমাদের ওপর নসিহত বা কল্যাণকামিতার যে দায়িত্ব অর্পিত হয়েছে, তার কিছু অংশ পালনে সচেষ্ট হতে পারব।
ইমাম মুসলিম (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) তাঁর ‘সহীহ’ গ্রন্থের ‘কিতাবুল ঈমান’-এ স্বীয় সনদে তামীম আদ-দারী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলা আলিহি ওয়া সাহবিহি ওয়া সাল্লামা তাসলীমান কাসীরা) বলেছেন:
"দীন হলো নসিহত (একনিষ্ঠতা বা কল্যাণকামিতা)।" আমরা জিজ্ঞেস করলাম: "কার জন্য?" তিনি বললেন: "আল্লাহর জন্য, তাঁর কিতাবের জন্য, তাঁর রাসূলের জন্য, মুসলমানদের নেতৃবৃন্দের জন্য এবং তাদের সাধারণ জনগণের জন্য।"
আর যদি প্রত্যেক জ্ঞানান্বেষী এবং এ কাজে নিয়োজিত ব্যক্তি এই মহান হাদিসটিকে নিজ চোখের সামনে রাখতেন এবং স্মরণে রাখতেন যে, সত্য বাণীর মাধ্যমে জিহাদ এবং আকীদা ও শরীয়তের বিষয়ে ইলমী হাকীকতগুলো (তাত্ত্বিক সত্য) প্রমাণের ক্ষেত্রে অটল থাকা মহান আল্লাহর পথে জিহাদের একটি সুপ্রশস্ত পথ, তবে তিনি এই পথে আসা ফিতনা ও বিপদ-আপদকেও মধুর মনে করতেন। আর মহান আল্লাহ আমাদের উদ্দেশ্যে বলেছেন:
{এবং আমি তোমাদের এক দলকে অন্য দলের জন্য ফিতনা (পরীক্ষা) স্বরূপ করেছি; তোমরা কি ধৈর্য ধারণ করবে? আর তোমার রব সব কিছু দেখেন।} (সূরা আল-ফুরকান: ২০ নং আয়াতের অংশবিশেষ)
(খণ্ড: ১)
আল-ইমামুল বিক্বায়ি ওয়া মিনহাজুহু ফী তাবীলি বালাগাতিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ৭)
وإنَّ من أشدَّ الفتن التي تهلك غير قليل من طُلَاّبِ العِلْمِ في زماننا فتنة إعلاء ذوى الأمر والسلطان من شأن أهل الفسق والعصيان وتقريبهم وتوليتهم كثيرًا من شؤون البلاد والعباد، وإغداق الأموال وصنوف التكريم عليهم وإبعاد أهل العلم والتقوى والتغافل عن تكريمهم إذا ما أحسنوا، فظنَّ صغار طلابُ العلمِ أنَّ في هذا ما يشفع لهم في الإعراض عن المجاهدة في باب العلم والمرابطة في ثغور الدعوة وتنوير القلوب بمعانى الهدى من الكتاب والسنة، وفيه ما يسوغ لهم الارتماء في أخضان إخوان الشياطين وتكثير سواد أهل الحل والعقد في شؤون البلاد ، فتسارعوا إلى أبواب كل ذي سلطان وأعرضوا عن أبواب وراثة سيد المرسلين صَلّى اللهُ عَلَيْهِ وعَلَى آلِهِ وَصَحْبِهِ وَسَلَّمَ تَسْلِيمًا كَثِيرًا إنَّ مما يجدر بكلٍّ داعية إلى الله سبحانه وتعالى مجاهد بكلمة الحقّ مصاحبة سورة " العنكبوت" ترتيلا، وفقها، وتخلقًا بما فيها من معانى الهدي إلى الصراط المستقيم هي سورة قائمة بالتحريض على المجاهدة في الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر، والتصدي لباطل أهل الدنيا، فإنَّهم في باطلهم وإن بَدَوا في ظاهرِ النَّظرِ أقوياءَ مَنَعَةً، فهم في حقيقتهم يحتمون بما هو أوهى من بيت العنكبوت، لايتردَّى فيه إلا من خُدِعَ به أمَّا أهل البصيرة فإنهم القادرون على اجتثاثه.
{ألم*أَحَسِبَ النَاسُ أن يّتْرَكُوا أن يّقُولُوا آمنَّا وَهُمْ لايُفتَنُون * وَلَقَدْ فَتَنَّا الَّذينَ مِنْ قَبْلِهمْ فَلَيَعْلَمَنَّ اللهُ الَّذِينَ صَدَقُوا وَلَيَعْلَمَنَّ الْكَاذِبِينَ} (العنكبوت:1-2)
{وَالَّذِينَ جَاهَدُوا فِينا لَنَهْدِيَنَّهُمْ سُبُلَنَا وَإِنَّ اللهَ لَمَعَ المحْسِنِينَ} (العنكبوت:69)
বর্তমান যুগে অনেক ইলম অন্বেষণকারীকে ধ্বংসকারী কঠিনতম ফিতনাগুলোর একটি হলো শাসক ও ক্ষমতাধরদের পক্ষ থেকে পাপাচারী ও অবাধ্যদের মর্যাদা বাড়িয়ে দেওয়া, তাদের নিকটবর্তী করা এবং দেশ ও জনগণের বহু বিষয়ে তাদের ওপর কর্তৃত্ব অর্পণ করা; এছাড়া তাদের ওপর অঢেল অর্থ ও নানা প্রকার সম্মান বর্ষণ করা এবং আলেম ও মুত্তাকীদের দূরে সরিয়ে দেওয়া আর তারা ভালো কাজ করলেও তাদের সম্মান জানানোর ব্যাপারে উদাসীন থাকা। ফলে নবীন ইলম অন্বেষণকারীরা মনে করে যে, এটিই তাদের জন্য ইলমের পথে সাধনা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়ার, দাওয়াতের ময়দানে অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকা ত্যাগ করার এবং কিতাব ও সুন্নাহর হেদায়াতের আলোয় অন্তরকে আলোকিত করার বিমুখতায় ওজর হিসেবে কাজ করবে। এটিই তাদের জন্য শয়তানের ভাইদের কোলে ঝাঁপিয়ে পড়া এবং দেশ পরিচালনার নীতিনির্ধারকদের সংখ্যা বৃদ্ধিতে লিপ্ত হওয়াকে বৈধতা দান করে। অতঃপর তারা প্রত্যেক ক্ষমতাধরের দরজায় ভিড় জমায় এবং রাসুলদের সরদার—তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার ও সাহাবীদের ওপর অগণিত সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক—তাঁর উত্তরাধিকারের দরজাসমূহ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়। মহান আল্লাহর প্রতি আহ্বানকারী প্রত্যেক দাঈ, যারা সত্য বাণীর মাধ্যমে জিহাদ করেন, তাদের জন্য এটি বাঞ্ছনীয় যে তারা সূরা 'আনকাবুত' তিলাওয়াত করবে, গভীরভাবে অনুধাবন করবে এবং এতে বিদ্যমান সিরাতুল মুস্তাকিমের হেদায়াতের শিক্ষা অনুযায়ী নিজেদের চরিত্র গঠন করবে। এটি এমন একটি সূরা যা সৎ কাজের আদেশ, অসৎ কাজের নিষেধ এবং দুনিয়াদারদের বাতিলের মোকাবিলার পথে জিহাদ করতে উৎসাহিত করে। কেননা তারা তাদের বাতিলের ওপর অবস্থান করে বাহ্যিকভাবে শক্তিশালী ও অজেয় মনে হলেও, প্রকৃতপক্ষে তারা মাকড়সার জালের চেয়েও দুর্বল আশ্রয়ে আশ্রয় গ্রহণ করে। কেবল সে-ই এতে নিপতিত হয় যে ধোঁকায় পড়েছে; পক্ষান্তরে যারা প্রজ্ঞাবান, তারা একে উপড়ে ফেলতে সক্ষম।
আলিফ-লাম-মীম। মানুষ কি মনে করে যে, কেবল 'আমরা ঈমান এনেছি' এ কথা বললেই তাদের ছেড়ে দেওয়া হবে এবং তাদের পরীক্ষা করা হবে না? অথচ আমি তাদের পূর্ববর্তীদেরও পরীক্ষা করেছি; আল্লাহ অবশ্যই জেনে নেবেন কারা সত্যবাদী এবং অবশ্যই জেনে নেবেন কারা মিথ্যাবাদী। (আনকাবুত: ১-২)
আর যারা আমার পথে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালায়, আমি অবশ্যই তাদের আমার পথসমূহ প্রদর্শন করব; আর নিশ্চয়ই আল্লাহ সৎকর্মশীলদের সাথে আছেন। (আনকাবুত: ৬৯)
(খণ্ড: ১)
আল-ইমামুল বিক্বায়ি ওয়া মিনহাজুহু ফী তাবীলি বালাগাতিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ৮)
فانظر راشدًا مطلع التلاوة من تلك السورة ومقطعها، فإنَّ فيها ما يفتقر كل داعية إلى الله عز وجل – وكل مسلم داعية بلسان حاله – إلى أن يقوم طويلاً في فقهِ وفهمِ ما هو مَكْنُونٌ فيها من معانى الهدى إلى الصراط المستقيم، فإنْ جمعتَ إلى ذلك فقه وفهم معانيَ الهُدَى في سورة (النحل) كان لك من ذلك زادٌ كريم لا يفنى ولا تنقضي عجائبه ولذائذه
وإنَّ مما ينفع طالب العلم ويعينه بإذن الله عز وجل حسن قراءة حياة الأئمة من العلماء بالكتاب والسنة ولا سيّما في عصور الطغيان وتكاثر متاع الحياة الدنيا، ففي كل عصر من تلك العصور علماء أئمة عضّوا على الهدى بنواجذهم واستمسكوا بالهدى، وما ألقوا بجباههم من تحت نعال ذوى السلطة بل قالوا كلمة الحق واشعلوا مصابيح الهدى في دياجير الباطل.
وإنّ علينا أن نقدم حياة أولئك العلماء القائمين الشامخين في وجه الطغيان الصابرين على مناصرة الحق والصابرين عن إغراء المال والسلطة والجاه المنثور من تحت أقدام الشيطان
اللهم أني أسألك بأني أشهد أن لا إله إلا أنت الواحد الصمد الذي لم يلد ولم يولد ولم يكن له كفوا أحد أن تصلي وتسلّم وتباركَ على عبدك ونبيّك ورسولك محمد بن عبد الله وعلى آله وأزواجه وصحبه وورثته من أهل العلم في كلّ لمحة ونفسٍ عدد خلقك ورضاء نفسك وزنة عرشك ومداد كلماتك
وأن تجعلنى ووالديّ وذريتي وأهل بيتي من أهل القرآن الكريم ظاهرًا وباطنا في الدّارين
وأن ترفع بالقرآن الكريم بين عبادك الصالحين ذكري في الدنيا والآخرة
{رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ} (البقرة: من الآية201)
অতএব, আপনি সেই সূরার তিলাওয়াতের শুরু এবং শেষ অংশের প্রতি বিজ্ঞচিত দৃষ্টি দিন। কেননা, এর মধ্যে এমন কিছু নিহিত রয়েছে যা আল্লাহর পথে প্রত্যেক আহবানকারীর—এবং প্রত্যেক মুসলিমই তার আচরণের মাধ্যমে একজন আহবানকারী—জন্য অত্যন্ত প্রয়োজন; যাতে সে এর ভেতরে লুক্কায়িত সিরাতুল মুস্তাকিমের দিকে হেদায়েতের অর্থসমূহ অনুধাবন ও তা অনুধাবনের গভীরতায় দীর্ঘক্ষণ ব্যাপৃত থাকে। আপনি যদি এর সাথে সূরা আন-নাহলের হেদায়েতের অর্থসমূহের জ্ঞান ও অনুধাবনকে যুক্ত করেন, তবে আপনার জন্য এমন এক সম্মানজনক পাথেয় সংগৃহীত হবে যা কখনো ফুরাবে না এবং যার বিস্ময়কর রহস্য ও স্বাদ কখনো শেষ হবে না।
ইলম অন্বেষণকারীর জন্য আল্লাহর ইচ্ছায় যা কল্যাণকর ও সহায়ক হবে তা হলো—কিতাব ও সুন্নাহর অনুসারী উলামায়ে কেরাম ও ইমামগণের জীবনচরিত সঠিকভাবে অধ্যয়ন করা; বিশেষত স্বৈরাচারী শাসন এবং পার্থিব ভোগবিলাসের প্রাচুর্যের যুগসমূহে তাঁদের অবস্থান। সেই সকল যুগের প্রত্যেকটিতে এমন কিছু অগ্রগামী আলেম ছিলেন যারা দৃঢ়তার সাথে হেদায়েতকে আঁকড়ে ধরেছিলেন এবং এর ওপর অবিচল ছিলেন। তারা ক্ষমতাবানদের পাদুকার নিচে নিজেদের ললাট অবনমিত করেননি, বরং হকের বাণী উচ্চারণ করেছেন এবং বাতিলের ঘোর অন্ধকারের মাঝে হেদায়েতের প্রদীপ প্রজ্জ্বলিত করেছেন।
আমাদের কর্তব্য হলো সেই সকল সুউচ্চ মর্যাদাবান আলেমদের জীবনচিত্র উপস্থাপন করা, যারা স্বৈরাচারের মুখে অটল ছিলেন, সত্যের সমর্থনে ধৈর্য ধারণ করেছিলেন এবং শয়তানের পায়ের নিচে ছড়িয়ে থাকা অর্থ, ক্ষমতা ও পদের প্রলোভন থেকে নিজেদের রক্ষা করতে ধৈর্য ও সংযমের পরিচয় দিয়েছিলেন।
হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে প্রার্থনা করছি এই সাক্ষ্যের উসিলায় যে—আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আপনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, আপনি একক, অমুখাপেক্ষী, যিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং যাকে জন্ম দেওয়া হয়নি, আর তাঁর সমকক্ষ কেউ নেই। আপনি আপনার বান্দা, নবী ও রাসূল মুহাম্মাদ ইবনে আবদুল্লাহর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, পত্নীগণ, সাহাবীগণ এবং ইলম অর্জনকারী তাঁর উত্তরাধিকারীদের ওপর রহমত, শান্তি ও বরকত নাযিল করুন—আপনার সৃষ্টির সংখ্যা পরিমাণ, আপনার সত্ত্বার সন্তুষ্টির পরিমাণ, আপনার আরশের ওজন পরিমাণ এবং আপনার কালিমার কালির পরিমাণ, প্রতিটি পলক ও নিঃশ্বাসে।
এবং আপনি আমাকে, আমার পিতা-মাতাকে, আমার উত্তরসূরিদের এবং আমার পরিবারবর্গকে ইহকাল ও পরকালে প্রকাশ্য ও গোপনে মহাগ্রন্থ কুরআনের অধিকারীদের অন্তর্ভুক্ত করুন।
এবং পবিত্র কুরআনের উসিলায় আপনার নেককার বান্দাদের মাঝে দুনিয়া ও আখেরাতে আমার সুখ্যাতি ও মর্যাদা সমুন্নত করুন।
“হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের দুনিয়াতে কল্যাণ দান করুন এবং আখেরাতেও কল্যাণ দান করুন এবং আমাদের আগুনের আজাব থেকে রক্ষা করুন।” (সূরা আল-বাকারা: ২০১ আয়াতাংশ)
(খণ্ড: ১)
আল-ইমামুল বিক্বায়ি ওয়া মিনহাজুহু ফী তাবীলি বালাগাতিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ৯)
وأن تجزي عبدك " برهان الدين البقاعي " عن القرآن الكريم خير الجزاء فقد كان فيما أحسب ولا أذكي على الله عز وجل أحدًا ناصحا لكتاب الله جل جلاله بما قدمه لنا من تفسيره: (نظم الدرر) ، وأن تجزيه عنى وعن طلاب العلم بكتاب الله سبحانه وتعالى ولسان العربية أفضلَ ما جازيت عالمًا عن طلاب علمه.
وأن تحزي عنى والديّ بما ربياني صغيرًا وأغرياني بأن أكون من أهل طلب العلم بكتاب الله عز وجل وسنة رسوله صَلّى اللهُ عَلَيْهِ وعَلَىآلِهِ وَصَحْبِهِ وَسَلَّمَ تَسْلِيمًا كَثِيرًا
وأن تجزي عنى خيرالجزاء، وأكرمه، وأدومه شيخي": " مُحَمَّد أبو مُوسَى" الذي جلست بين يديه الكريمة بالعطاء في قاعات العلم بجامعة الأزهر الشريف، فإنَّ له يدًا باقية مجيدة حميدة في محبتي الاعتكاف على فقه لسان العربية في البيان العالى شعرا ونثرًا والبيان العَلِىّ المعجز: قرآنا وسنة وعلى نشرذلك وتعليمه للعباد، وقد علمنى - أعزّه الله - أنَّ ذلك باب رئيس من أبواب إنقاذ الأمة من براثن الجهالة والمذلة
وقد كان له - رفع الله عز وجل ذكره بالقرآن الكريم في الدارين - وما يزال أثرٌ نافذٌ في كثير من طلاب علم العربية، ألقى بنور عقله وقلبه على الصراط فمهَّد وأغرى، ولا يكاد يجحد فضله ويده إلا جاهل أو حانق، وسيبقى أثره فينا إن شاء الله عز وجل ما بقيت لنا على الأرض حياة وحسبه من نعيم الدنيا ذلك
وصلى الله وسلم وبارك على عبده ونبيه ورسوله محمد بن عبد الله وعلى آله وأزواجه وصحبه وورثته من أهل العلم ومن والاه في كلّ لمحة ونفس بعدد كل معلوم لديه والحمد لله رب العالمين
وكتبه
محمود توفيق محمد سعد
الأستاذ في جامعة الأزهر
القاهرة: حدائق الزيتون
ربيع الأول 1423
আর আপনি আপনার বান্দা "বুরহানউদ্দীন আল-বিকায়ি"-কে পবিত্র কুরআনের পক্ষ থেকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন। আমার জানামতে তিনি ছিলেন মহান আল্লাহর কিতাবের একজন একনিষ্ঠ হিতাকাঙ্ক্ষী—আর আমি আল্লাহর সামনে কাউকেই পবিত্র ও নির্দোষ সাব্যস্ত করি না—যা তিনি তাঁর তাফসির "নাজমুল দুরার"-এর মাধ্যমে আমাদের নিকট পেশ করেছেন। আর আপনি আমার পক্ষ থেকে এবং আল্লাহর কিতাব ও আরবি ভাষার ইলম অন্বেষণকারীদের পক্ষ থেকে তাঁকে এমন সর্বোত্তম প্রতিদান দিন, যা একজন আলিমকে তাঁর ছাত্রদের পক্ষ থেকে আপনি প্রদান করে থাকেন।
আর আমার পক্ষ থেকে আমার পিতামাতাকে প্রতিদান দান করুন, যেভাবে তাঁরা শৈশবে আমাকে লালন-পালন করেছেন এবং আমাকে মহান আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসুলের—তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার ও সাহাবীবর্গের ওপর আল্লাহর অজস্র দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক—সুন্নাহর জ্ঞান অন্বেষণকারীদের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার জন্য অনুপ্রাণিত করেছেন।
আর আপনি আমার পক্ষ থেকে আমার শায়খ "মুহাম্মদ আবু মুসা"-কে সর্বোত্তম, সবচেয়ে সম্মানিত এবং চিরস্থায়ী প্রতিদান দান করুন, যাঁর বরকতময় দুই হাতের সামনে আমি আল-আজহার আল-শরিফ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলমি হলগুলোতে বসেছিলাম। উচ্চাঙ্গের কাব্য ও গদ্যের অলঙ্কারশাস্ত্রে এবং কুরআন ও সুন্নাহর মুজিজাপূর্ণ অলঙ্কারশাস্ত্রের আরবি ভাষার ফিকহের প্রতি নিবিষ্ট হওয়ার ক্ষেত্রে এবং তা মানুষের কাছে প্রচার ও শিক্ষা দেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর একটি চিরস্থায়ী, গৌরবময় ও প্রশংসনীয় হাত রয়েছে। আল্লাহ তাঁকে সম্মানিত করুন—তিনি আমাকে শিখিয়েছেন যে, উম্মাহকে মূর্খতা ও লাঞ্ছনার থাবা থেকে রক্ষা করার অন্যতম প্রধান পথ হলো এটিই।
পবিত্র কুরআনের উসিলায় মহান আল্লাহ দুই জগতেই তাঁর সম্মান উচ্চকিত করুন। আরবি ইলমের বহু ছাত্রের ওপর তাঁর এক সুদূরপ্রসারী প্রভাব ছিল এবং এখনও রয়েছে। তিনি তাঁর বুদ্ধি ও হৃদয়ের নূর সিরাতুল মুস্তাকিমের ওপর নিক্ষেপ করে একে সুগম ও আকর্ষণীয় করেছেন। কোনো মূর্খ বা বিদ্বেষী ব্যক্তি ছাড়া তাঁর অনুগ্রহ এবং তাঁর হাতকে কেউ অস্বীকার করতে পারে না। ইনশাআল্লাহ, পৃথিবীতে আমাদের জীবন যতদিন অবশিষ্ট থাকবে, আমাদের মাঝে তাঁর প্রভাব অক্ষয় হয়ে থাকবে; আর দুনিয়ার নেয়ামত হিসেবে এটাই তাঁর জন্য যথেষ্ট।
আল্লাহ তাআলা দরুদ, সালাম ও বরকত নাজিল করুন তাঁর বান্দা, নবী ও রাসুল মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহর ওপর এবং তাঁর পরিবারবর্গ, সহধর্মিণীগণ, সাহাবীগণ এবং ইলমের অধিকারী তাঁর উত্তরাধিকারীগণ ও তাঁকে অনুসরণকারী প্রত্যেকের ওপর প্রতিটি পলক ও প্রতিটি নিঃশ্বাসে, আল্লাহর জানা প্রতিটি বিষয়ের সংখ্যা অনুপাতে। সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।
এটি লিখেছেন
মাহমুদ তাওফিক মুহাম্মদ সাদ
আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক
কায়রো: হাদায়েক আল-জাইতুন
রবিউল আউয়াল ১৪২৩ হিজরি
(খণ্ড: ১)
আল-ইমামুল বিক্বায়ি ওয়া মিনহাজুহু ফী তাবীলি বালাগাতিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ১০)
الباب الأول: جهاده في طلب العلم وتعليمه.
جهاده
توطئة.
إنَّ الله عز وجل لمَّا جعل عبده سيّدنَا محمدًا صَلّى اللهُ عَلَيْهِ وعَلَى آلِهِ وَصَحْبِهِ وَسَلَّمَ تَسْلِيمًا كَثِيرًا خاتمَ الأنبياءِ والمرسلين،وجعل دينه:الإسلامَ خاتم الأديان، وللناس كافة:
{وَمَا أَرْسَلْنَاكَ إِلَاّ كَافَّةً لِلنَّاسِ بَشِيراً وَنَذِيراً وَلَكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ لا يَعْلَمُونَ} (سبأ:28)
وكان من شأن الناس حاجتهم إلى من يأخذ بأيديهم إلى الصراط المستقيم: صِرَاطِ اللَّهِ الَّذِي لَهُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الأَرْضِ أَلا إِلَى اللَّهِ تَصِيرُ الأُمُور ُ} (الشورى:53)
جعل ذلك رسالة العلماء من بعده صلى الله عليه وسلم، فكانوا نُجومَ الأُمَّةِ كما أخبر صلى الله عليه وسلم فيما رواه "أحمد" رضي الله عنهم في مسنده عن "انس بن مالكٍ رضي الله عنهم:" قال النبيّ صَلّى اللهُ عَلَيْهِ وعَلَى آلِهِ وَصَحْبِهِ وَسَلَّمَ تَسْلِيمًا كَثِيرًا:
" إنَّ مثَلَ العُلماء فِي الأرضِ كَمَلِ النٌّجومِ فِي السَّماءِ يُهتَدَى بِها فِي ظُلُماتِ البَّرِّ وَالبَحْرِ، فإذا انْطَمَسَتِ النُّجومُ أَوْشَكَ أَنْ تَضِلَّ الهُداةُ "
(مسند أحمد ج3ص157)
وجعلهم ورثة الأنبياء: روي "أحمد" رضي الله عنهم في مسنده عن "أبي الدرداء رضي الله عنهم "أنَّه سَمِعَ رسولَ الله صلى الله عليه وسلم يقولُ:
"
… إنَّ العلمَاءَ هُمْ وَرَثَةٌ الأنْبِياءِ، لم يورثُوا دينَارًا وَلا دِرْهمًا،وإنّما ورّثُوا العِلْمَ، فَمَنْ أَخذه أَخذَ بِحَظٍّ وَافِرٍ " (مسند أحمد: 5/196)
وعلى مقدار عقل المرء يكون مقدار سعيه إلَى أن يأخُذَ منْ ميرَاثِ النُّبوة قولاً وعمَلا، فكَثُرَ في الأُمَّة قديمًا السّاعين إلى أنْ يأخذوا من ميراثِ النّبُوّةِ؛ ليقوموا بِتِبْيانِ الصِّراطِ المستقيم في كلّ ما يَجِدُّ من حركة الحياة المُتَجَدِّدَةِ.
প্রথম অধ্যায়: জ্ঞান অন্বেষণ ও শিক্ষা প্রদানে তাঁর জিহাদ।
তাঁর জিহাদ
ভূমিকা।
নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ যখন তাঁর বান্দা আমাদের নেতা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাহবিহি ওয়া সাল্লাম তাসলিমান কাসিরাকে সর্বশেষ নবী ও রাসূল হিসেবে মনোনীত করেছেন, এবং তাঁর ধর্ম ইসলামকে সমস্ত ধর্মের পরিসমাপ্তি ও সমগ্র মানবজাতির জন্য সাব্যস্ত করেছেন:
{আর আমি আপনাকে সমগ্র মানবজাতির জন্য কেবল সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবেই প্রেরণ করেছি; কিন্তু অধিকাংশ মানুষ তা জানে না।} (সাবা: ২৮)
আর মানুষের স্বভাবজাত প্রয়োজন ছিল এমন কারো প্রতি, যারা তাদের হাত ধরে সরল পথের দিকে নিয়ে যাবে: {আল্লাহর পথ, আসমান ও জমিনে যা কিছু আছে সব তাঁরই। জেনে রাখো, সকল বিষয় আল্লাহর দিকেই প্রত্যাবর্তিত হয়।} (আশ-শুরা: ৫৩)
তিনি (আল্লাহ) একে তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পরবর্তী আলেমদের অর্পিত দায়িত্ব ও লক্ষ্য বানিয়েছেন, ফলে তাঁরা উম্মতের নক্ষত্র হিসেবে গণ্য হলেন—যেমনটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সেই বাণীতে সংবাদ দিয়েছেন যা ইমাম আহমাদ (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) তাঁর মুসনাদে আনাস ইবনে মালিক (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) থেকে বর্ণনা করেছেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাহবিহি ওয়া সাল্লাম তাসলিমান কাসিরা বলেছেন:
"নিশ্চয়ই জমিনে আলেমদের দৃষ্টান্ত আসমানের নক্ষত্ররাজির ন্যায়, যার সাহায্যে স্থল ও জলপথের অন্ধকারে পথ খুঁজে পাওয়া যায়। সুতরাং যখন নক্ষত্ররাজি বিলীন হয়ে যায়, তখন পথপ্রদর্শনকারীরাও পথভ্রষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়।"
(মুসনাদে আহমাদ, ৩য় খণ্ড, ১৫৭ পৃষ্ঠা)
আর তিনি তাঁদের নবীদের উত্তরাধিকারী বানিয়েছেন। ইমাম আহমাদ (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) তাঁর মুসনাদে আবু দারদা (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছেন:
"
… নিশ্চয়ই আলেমরা হলেন নবীদের উত্তরাধিকারী। নবীরা কোনো দিনার বা দিরহাম উত্তরাধিকার হিসেবে রেখে যাননি, বরং তাঁরা কেবল জ্ঞানকেই উত্তরাধিকার হিসেবে রেখে গেছেন। সুতরাং যে ব্যক্তি তা গ্রহণ করল, সে এক পূর্ণ অংশ লাভ করল।" (মুসনাদে আহমাদ: ৫/১৯৬)
আর মানুষের প্রজ্ঞার পরিমাণ অনুযায়ীই নবুয়তের উত্তরাধিকার থেকে কথা ও কাজে অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে তার প্রচেষ্টার মাত্রা নির্ধারিত হয়। তাই প্রাচীনকাল থেকেই এই উম্মতের মাঝে এমন অনেক মানুষের আধিক্য দেখা গেছে যারা নবুয়তের উত্তরাধিকার অর্জনে সচেষ্ট ছিলেন; যাতে জীবনের প্রতিটি প্রগতিশীল ও নতুন পরিস্থিতিতে তাঁরা সরল পথ সুস্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করতে পারেন।
(খণ্ড: ১)
আল-ইমামুল বিক্বায়ি ওয়া মিনহাজুহু ফী তাবীলি বালাগাতিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ১১)
وإنَّ مما يغري - أيضًا - بالحِرْصِ على أن يكون المرء من أهل العلْمِ الوقوفَ على سيرة العلماء المَاجِدة، ولا سيّما أولئك الذين أَقبلُوا علي طَلَبِه احتسَابًا بقلب مفتوحٍ فلم يتخذوا من طلبه منهاج التكرار لما جاء
عن سلفهم بل اتخذوا منهجا نقديًّا يستثمر عَلِيَّ القول وكريمَه ويضِيفُ إليه؛ لما جاءت به الحكمة النبويّة الجليلةُ:
روى "التّرمزِيُّ رضي الله عنهم بسنده عن حذيفة رضي الله عنهم قال: قَالَ رسُولُ اللهِ صَلّى اللهُ عَلَيْهِ وعَلَى آلِهِ وَصَحْبِهِ وَسَلَّمَ تَسْلِيمًا كَثِيرًا:
" لَا تَكُونُوا إِمَّعَة:
تَقولُون:إنْ أحسنَ النّاسُ أَحْسَنَّا، وإنْ ظَلَمُوا ظَلَمْنَا، ولكِنْ وَطِّنُوا أَنْفُسَكُمْ إنْ أَحْسَنَ النَّاسُ أَنْ تُحْسِنُوا، وإنْ أَسَاءُوا فَلا تَظْلِمُوا "
(صحيح الترمزي: كتاب: البر - حديث:2007)
العلماءُ هُمْ أقدرُ الأمَّة على التأدّب بهذِه الحِكْمَة النَّبويَّة المُغْرِيَةِ بمنهج نقدي لكل ما تجري به حركة الحياة، وهو منهج لا يقتدرُ عليه إلَاّ من كان طيّبَ المَنْبَتِ والمَرْعَى سامي الغاية يرى الدنيا كما هي عند خالقها، فلا يجعلها في قلبه فوق حقيقتها، فهو يَعْجَبُ لِمَنْ يُغْرِي بِها عالمًا، وقد جعله ربّه عز وجل وارث نبوةٍ،لا وارثَ ملك يزول،ويعجبُ أكثر ممن ينتسب إلى أهل العِلْم ويتطلع إلى ما تلّوح به يد السّلطان من لُعضاعضة الدّنيَا.
و" برهان الدين البقاعيّ " فيما أحسب - ولا أذكي على الله عز وجل أحدًا -واحدٌ منْ أؤلئك العلماء المجاهدين في طلبهم العلم وتعليمه ونشر أسفاره النافعة في الأمة.
قدَّم لأمّته كثيرًا من أسفار العلم النافع، فرغبتُ في أن أُطلِعَ طُلَاّبَ العلمِ على شيءٍ من جهاده.
জ্ঞান অন্বেষণকারীদের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার প্রতি যা আরও প্রলুব্ধ করে, তা হলো বিজ্ঞ আলেমদের গৌরবময় জীবনী পর্যালোচনা করা; বিশেষ করে তারা যারা কেবল সওয়াবের আশায় উন্মুক্ত হৃদয়ে জ্ঞান অন্বেষণে মনোনিবেশ করেছিলেন। তারা তাদের পূর্বসূরিদের থেকে যা এসেছে তার নিছক পুনরাবৃত্তির পথ বেছে নেননি, বরং একটি বিশ্লেষণাত্মক পদ্ধতি গ্রহণ করেছিলেন যা শ্রেষ্ঠ ও মূল্যবান কথাগুলোকে গ্রহণ করে এবং তাতে নতুন কিছু সংযোজন করে; কারণ মহান নববী প্রজ্ঞা এ শিক্ষাই দিয়েছে:
ইমাম তিরমিজি (আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) তাঁর সনদসহ হুযায়ফা (আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলা আলিহি ওয়া সাহবিহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন:
"তোমরা ব্যক্তিত্বহীন অন্ধ অনুসারী হয়ো না যে, তোমরা বলবে: যদি মানুষ ভালো কাজ করে তবে আমরাও ভালো করব, আর যদি তারা জুলুম করে তবে আমরাও জুলুম করব। বরং তোমরা নিজেদের এমনভাবে গড়ে তোলো যেন মানুষ ভালো করলে তোমরাও ভালো করো, আর তারা মন্দ করলেও তোমরা যেন জুলুম না করো।"
(সহিহ তিরমিজি: কিতাবুল বিরর - হাদিস: ২০০৭)
জীবনের প্রতিটি গতিধারার প্রতি একটি বিশ্লেষণাত্মক দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করার এই অনুপ্রেরণাদায়ী নববী প্রজ্ঞা অনুসরণে আলেম সমাজই উম্মতের মাঝে সবচেয়ে বেশি যোগ্য। এটি এমন একটি পথ যা কেবল তারাই আয়ত্ত করতে পারে যাদের মূল ও লালন-পালন পবিত্র এবং যাদের লক্ষ্য সুউচ্চ; যারা দুনিয়াকে তার স্রষ্টার নিকট তা যেমন, ঠিক সেভাবেই দেখে। ফলে সে দুনিয়াকে তার প্রকৃত হাকিকতের ঊর্ধ্বে অন্তরে স্থান দেয় না। সে ওই ব্যক্তির প্রতি বিস্মিত হয় যে কোনো আলেমকে দুনিয়ার প্রতি প্রলুব্ধ করে, অথচ তার রব তাকে নবুওয়াতের উত্তরাধিকারী করেছেন, কোনো নশ্বর রাজত্বের উত্তরাধিকারী করেননি। সে আরও বেশি বিস্মিত হয় ওই ব্যক্তির প্রতি যে নিজেকে আলেমদের অন্তর্ভুক্ত মনে করে অথচ সুলতানের হাতের দুনিয়াবী তুচ্ছ ভোগবিলাসের প্রতি লোলুপ দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে।
আর "বুরহানুদ্দিন আল-বিকাঈ" আমার ধারণামতে—এবং আমি আল্লাহর সামনে কারো পবিত্রতা নিশ্চিত করছি না—তিনি ছিলেন জ্ঞান অন্বেষণ, শিক্ষাদান এবং উম্মতের মাঝে উপকারী গ্রন্থসমূহ প্রসারের ক্ষেত্রে সেই সংগ্রামরত আলেমদেরই একজন।
তিনি তাঁর উম্মতের জন্য অনেক উপকারী ইলমি গ্রন্থ উপহার দিয়েছেন, তাই আমি জ্ঞান অন্বেষণকারীদের তাঁর এই সংগ্রামের কিছু নিদর্শনের সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে চেয়েছি।
(খণ্ড: ১)
আল-ইমামুল বিক্বায়ি ওয়া মিনহাজুহু ফী তাবীলি বালাগাতিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ১২)
الفصل الأول جهاده في طلبِ العِلْمِ وتعليمِه المَنْبِت والمرعى..
في مطلع القرن التاسع الهجري وفي أرض الشام كان هنالك مَقْدَمُ رجلٍ سيكون له مع تثوير القرآن الكريم وتدبره منهاجٌ يرفع ذكرَه بين أقرانه في عصره، ثُمَّ في العصور المتتابعة من بعده، ويجعله بارزًا ذكرُه بين القائمين إلى تدبر البيان القرآني الكريم، وهم من قبله ومن بعده كثير لا يكاد يُحصَى عددُهم، ولكنَّه سيحظى بأنْ يكونَ رأسًا في منهاج من مناهج التدبُّر البيانيّ للقرآن الكريم، وهو وإن لم يكنْ المؤسِّسَ ذلك المنهاج، فإنّه الرافعُ لقواعدِه المرابطُ على ثغرِه يَزُودُ عنه، ويُكملُ بنيانَه
ذلك القادم من أرض البقاع، المنسوب إليها، فجعلها على لسان كثير من أهل العلم، فكان البارَّ بذكرها:
"إبراهيم بن عمر بن حسن الرُباط بن على بن أبي بكر " " أبو الحسن برهان الدين البقاعي" ينتهي نسبُه - كما يذكر - إلى سيدنا" سعد بن أبي وقاص الزهريّ" رضي الله عنهم (1)
--------------------------------------------
প্রথম অধ্যায়: জ্ঞান অন্বেষণ ও শিক্ষাদানে তাঁর প্রচেষ্টা জন্মভূমি ও চারণভূমি..
হিজরি নবম শতাব্দীর শুরুর দিকে শাম (সিরিয়া) ভূখণ্ডে এমন একজন ব্যক্তির আগমন ঘটে, যিনি পবিত্র কুরআনের অন্তর্নিহিত রহস্য উদ্ঘাটন এবং এর গভীর চিন্তাগবেষণার (তাদাব্বুর) ক্ষেত্রে এমন এক পদ্ধতি অবলম্বন করবেন যা তাঁর সমসাময়িকদের মাঝে তাঁর স্মরণকে উচ্চকিত করবে, এমনকি পরবর্তী শতাব্দীগুলোতেও। পবিত্র কুরআনের ভাষাগত অলঙ্কার ও চমৎকারিত্ব নিয়ে গবেষণায় নিয়োজিত ব্যক্তিদের মাঝে তাঁর নাম বিশেষভাবে উজ্জ্বল হয়ে থাকবে। যদিও তাঁর আগে ও পরে এমন অসংখ্য ব্যক্তি রয়েছেন যাদের গণনা করা প্রায় অসম্ভব, তবুও তিনি কুরআনের ভাষাতাত্ত্বিক ও অলঙ্কারিক গবেষণার একটি বিশেষ পদ্ধতির প্রধান হিসেবে সমাদৃত হবেন। যদিও তিনি সেই পদ্ধতির মূল প্রতিষ্ঠাতা নন, তবুও তিনিই এর ভিত্তিগুলোকে সুসংহত করেছেন, এর পাহারাদার হিসেবে এর প্রতিরক্ষায় নিয়োজিত থেকেছেন এবং এর নির্মাণকাজকে পূর্ণতা দিয়েছেন।
তিনি সেই ব্যক্তি যিনি 'বিকা' (লেবানন) অঞ্চল থেকে আগত এবং তাঁর নিসবত বা সম্বন্ধও সেই স্থানের দিকে। তিনি আলেম সমাজের মুখে মুখে এই অঞ্চলটিকে সুপরিচিত করেছেন এবং এর নাম স্মরণের মাধ্যমে এর প্রতি স্বীয় সদাচার ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন:
"ইব্রাহিম বিন উমর বিন হাসান আল-রুবাত বিন আলি বিন আবি বকর" "আবুল হাসান বুরহান উদ্দিন আল-বিকাঈ"। তাঁর বংশপরম্পরা—যেমনটি তিনি উল্লেখ করেছেন—আমাদের নেতা "সাদ বিন আবি ওয়াক্কাস আল-যুহরি" (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) পর্যন্ত পৌঁছেছে (১)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইমামুল বিক্বায়ি ওয়া মিনহাজুহু ফী তাবীলি বালাগাতিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ১৩)
وكان مولده في قرية " خَرْبَة رَوْحَا" من البقاع العزيزي بأرض الشام سنة تسع وثمان مئة من الهجرة، وقد تناقل ذلك التاريخ عنه من أرخوا له (1)
وقد بقي في قيد الحياة الدنيا سِتًا وسبعين سنة عانى من الكبد والكمد ما عانى حتّى رحل إلى ربه جل جلاله ليلة السبت الثامن من شهر رجب سنة خمس وثمانين وثمان مئة (885) بدمشق ودفن يوم السبت في المقبرة الحميدية من جهة قبر"عاتكة" بدمشق (2)
***
مذهبه العقدي والفقهيّ: كان " البقاعيّ" في باب العقيده على منهاج الأشاعرة وفي فقه الشريعة على منهاج الإمام الشافعيّ رضي الله عنه
ولم يكتف بذلك بل درس المذهب المالكي على شيخه "المشدالى" بالأزهر الشريف، ودرس "الموطأ" على شيخه محمد بن على الصفوي" بالقاهرة سنة سبع وثلاثين وثمان مئة (3)
والجمع بين مذهبين فقهيين في الدرس من بعد التمكن في أحدهما معينٌ على اتساع النظر العقلى ونفاذ البصيرة
اختلاف المذاهب الفقهية أساسُه اختلافٌ في منهاج التبصُّر في نصوص الكتاب والسنة من جهة والتبصُّر في حركة الحياة والسياق الحضاريّ الذي يقوم فيه صاحب المذهب ودارسه، فليس فقيها من عكف على حفظ آراء أهل العلم وحوى صدره ما سطَّروه في أوراقهم وأسفارهم وانعزل عن حركة حياة قومه وسياق وجودهم الزماني والمكاني، فإذا ما كانت شريعة الإسلام صالحة لكلّ زمان ومكان كما هو مشهور فإنّها أيضًا مُصْلِحَةٌ كلّ زمان ومكان، فما من عصر أو مصر عمَّه الفساد فأسلم أمره إلى شريعة الإسلام إسلامَ المريض أمره إلى طبيبه إلا عوفي وعاد إليه مجده وعزّه وأمنه.
إنَّ على فقهاء الأمة في عصرنا هذا وما يردفه من العصور فريضة لازمة لا يقوم بها فرد من جمعهم:
--------------------------------------------
তাঁর জন্ম ছিল সিরিয়া ভূখণ্ডের আল-বিকা আল-আজিজি এলাকার 'খারবাত রাওহা' গ্রামে হিজরি আটশত নয় সালে। যারা তাঁর জীবনী লিখেছেন, তাঁরা এই তারিখটিই তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন (১)।
তিনি এই পার্থিব জীবনে ছিয়াত্তর বছর জীবিত ছিলেন। তিনি অনেক কষ্ট ও শোক সহ্য করেছেন, অবশেষে আটশত পঁচাশি (৮৮৫) হিজরির রজব মাসের আট তারিখ শনিবার দিবাগত রাতে দামেস্কে তাঁর মহান প্রতিপালকের সান্নিধ্যে পাড়ি জমান। শনিবার দিনই তাঁকে দামেস্কের 'আতিকা' কবরের পার্শ্বস্থ হামিদিয়া কবরস্থানে দাফন করা হয় (২)।
***
তাঁর আকিদাগত ও ফিকহগত মাযহাব: আকিদার ক্ষেত্রে 'বিকাঈ' আশআরি মানহাজের অনুসারী ছিলেন এবং শরীয়তের ফিকহের ক্ষেত্রে তিনি ইমাম শাফিয়ী (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর মানহাজের অনুসারী ছিলেন।
তিনি কেবল এতেই সীমাবদ্ধ থাকেননি, বরং আল-আযহার আল-শরীফে তাঁর উস্তাদ 'আল-মাশদালি'-র কাছে মালিকি মাযহাব অধ্যয়ন করেন এবং আটশত সাঁইত্রিশ (৮৩৭) হিজরিতে কায়রোতে তাঁর উস্তাদ 'মুহাম্মদ বিন আলী আস-সাফাওয়ী'-র কাছে 'মুয়াত্তা' পাঠ করেন (৩)।
একটি মাযহাবে পারদর্শী হওয়ার পর অধ্যয়নের ক্ষেত্রে দুটি ফিকহী মাযহাবের সমন্বয় করা বুদ্ধিবৃত্তিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রসার এবং অন্তর্দৃষ্টির তীক্ষ্ণতায় সহায়ক হয়।
ফিকহী মাযহাবসমূহের পার্থক্যের মূলে রয়েছে একদিকে কিতাব ও সুন্নাহর ভাষ্যসমূহ অনুধাবনের পদ্ধতির ভিন্নতা, আর অন্যদিকে জীবনপ্রবাহ এবং সেই তামাদ্দুনিক প্রেক্ষাপট অনুধাবনের ভিন্নতা, যেখানে মাযহাবের ইমাম বা শিক্ষার্থী অবস্থান করেন। সুতরাং সেই ব্যক্তি ফকিহ নন, যিনি কেবল আলেমদের মতামত মুখস্থ করায় মগ্ন থাকেন এবং তাঁরা তাঁদের পাণ্ডুলিপি ও কিতাবসমূহে যা লিপিবদ্ধ করেছেন তা নিজ হৃদয়ে ধারণ করেন, অথচ তিনি তাঁর কওমের জীবনপ্রবাহ এবং তাদের স্থান ও কালের অস্তিত্বের প্রেক্ষাপট থেকে বিচ্ছিন্ন থাকেন। যদি ইসলামের শরীয়ত প্রতিটি কাল ও স্থানের উপযোগী হয়—যেমনটি প্রসিদ্ধ—তবে এটি প্রতিটি কাল ও স্থানকে সংশোধনকারীও বটে। সুতরাং এমন কোনো যুগ বা দেশ নেই যেখানে ফাসাদ বা বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়েছে, অতঃপর সে তার বিষয়াদি ইসলামের শরীয়তের কাছে সঁপে দিয়েছে—যেভাবে একজন অসুস্থ ব্যক্তি নিজেকে চিকিৎসকের কাছে সঁপে দেয়—অথচ সে আরোগ্য লাভ করেনি এবং তার হারানো গৌরব, মর্যাদা ও নিরাপত্তা ফিরে আসেনি।
নিশ্চয়ই আমাদের বর্তমান সময়ের উম্মতের ফকিহদের ওপর এবং পরবর্তী যুগসমূহের ফকিহদের ওপর একটি অপরিহার্য দায়িত্ব অর্পিত হয়েছে, যা তাঁদের মধ্য থেকে কোনো একজন এককভাবে পালন করতে পারবেন না:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইমামুল বিক্বায়ি ওয়া মিনহাজুহু ফী তাবীলি বালাগাতিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ১৪)
عليهم الوعي البالغ بحركة الحياة المتجددة تجددًا محمومًا يستوجب أن تصاحبه حركة تفقه بالغ لتلك الحركة في نور الكتاب والسنة، والسعي إلى ما يستبقي الناس في دائرة الطاعة والتباعد بهم عن حرج التضييق والتشديد، وعن إلزامهم بمباعدة ما لم تقطع الأدلة بحرمته إذا ما حملتهم حاجة على المقاربة
الخير في أن ندع للناس - ولا سيما الدهماء - مساحة متسعة من المباح ومما لم تتواتر علي حرمته تحقيقات العلماء المحررين المتقين، فإنَّ مغريات الحياة أقوى من ركائز الإيمان في قلوب غير قليل من الناس، فإذا ما توافدت على مسامعهم كلمات التحريم غير المقطوع بدلالة النصوص عليه في كل ما يستفتون فإنّ سبل الفرار كثيرة.
ليكن فقهاؤنا ربانيين، ولن يتحقق مثل هذا إذا ما حصرت أبصارهم وبصائرهم في ما جاءت به المذاهب الفقهية الأربعة، وفي تراث علمائنا من قبل أولئك الأمة الأربعة ومعهم ومن بعدهم اجتهادات للأئمة علماء لا يقلون شأنا في علمهم واجتهادهم، ونصحهم لله عز وجل ولكتابه، ولرسوله صَلّى اللهُ عَلَيْهِ وعَلَىآلِهِ وَصَحْبِهِ وَسَلَّمَ تَسْلِيمًا كَثِيرًا وللأئمة المسلمين وعامتهم احتسابا لرضوان ربهم سبحانه وتعالى وجدير بنا أن نحيي درس تراثهم والاستفادة من أصول النظر عندهم.
***
رحلاته العلمية:
المرحلة الأولى: (809 - 835)
لمّا أدرك البقاعيّ تلقى علومًا عدة في قريته "خربة روحا" قرأ على عمه الشهاب البقاعي (770-820) القرآن الكريم وحفظه ولازم زاوية الشيخ " موسى" لمراجعة محفوظه من القرآن الكريم، وصلّي به (1)
--------------------------------------------
তাদের উচিত জীবনের অত্যন্ত দ্রুত পরিবর্তনশীল গতির ব্যাপারে পূর্ণ সচেতন থাকা, যা কিতাব ও সুন্নাহর আলোকে সেই গতির গভীর অনুধাবনের দাবি রাখে। মানুষকে আনুগত্যের গণ্ডির মধ্যে রাখা এবং সংকীর্ণতা ও কঠোরতার জটিলতা থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করা উচিত। এছাড়া, দলিল দ্বারা যে বিষয়টির হারাম হওয়া নিশ্চিত নয়, প্রয়োজনে সেই বিষয়ের কাছাকাছি যাওয়া থেকে মানুষকে বিরত থাকতে বাধ্য না করা উচিত।
কল্যাণ নিহিত রয়েছে মানুষের জন্য—বিশেষ করে সাধারণ জনগণের জন্য—বৈধ এবং এমন সব বিষয়ের প্রশস্ত ক্ষেত্র উন্মুক্ত রাখাতে, যেগুলোর হারাম হওয়ার বিষয়টি আল্লাহভীরু ও বিশেষজ্ঞ আলেমদের গবেষণায় অকাট্যভাবে প্রমাণিত নয়। কারণ জীবনের প্রলোভনগুলো অনেক মানুষের অন্তরে ঈমানের ভিত্তির চেয়েও শক্তিশালী। সুতরাং, তারা যখনই ফতোয়া চায় এবং তাদের কানে এমন সব বিষয়ের হারামের কথা পৌঁছে যা অকাট্য মূল পাঠ দ্বারা প্রমাণিত নয়, তখন পলায়নের অনেক পথ তৈরি হয়।
আমাদের ফকিহদের উচিত রব্বানি হওয়া। আর এটি ততক্ষণ অর্জিত হবে না যতক্ষণ তাদের দৃষ্টি ও প্রজ্ঞা কেবল চারটি ফিকহি মাযহাবের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে। সেই চার ইমামের পূর্বে, সমসাময়িক এবং পরবর্তীতে এমন অনেক ইমাম ও আলেমদের ইজতিহাদ ও জ্ঞানভাণ্ডার রয়েছে যারা ইলম ও ইজতিহাদে কোনো অংশেই কম নন। তারা মহান আল্লাহ, তাঁর কিতাব, তাঁর রাসূল (তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার ও সাহাবীদের ওপর আল্লাহর অগণিত রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক), মুসলিমদের নেতা এবং সাধারণ জনগণের প্রতি ঐকান্তিক কল্যাণকামিতা পোষণ করতেন কেবল তাদের প্রতিপালক সুবহানাহু ওয়া তায়ালার সন্তুষ্টির আশায়। আমাদের জন্য এটিই সমীচীন যে আমরা তাদের জ্ঞানতাত্ত্বিক ঐতিহ্যের শিক্ষা পুনরুজ্জীবিত করি এবং তাদের গবেষণার মূলনীতিগুলো থেকে উপকৃত হই।
***
তাঁর ইলমি সফরসমূহ:
প্রথম পর্যায়: (৮০৯ - ৮৩৫)
যখন আল-বিকাঈ বোধশক্তি সম্পন্ন হলেন, তখন তিনি তাঁর গ্রাম "খিরবাত রুহা"-তে বিভিন্ন শাস্ত্রের জ্ঞান অর্জন করেন। তিনি তাঁর চাচা শিহাব আল-বিকাঈর (৭৭০-৮۲۰) নিকট কুরআনুল কারীম পাঠ করেন ও তা মুখস্থ করেন এবং তাঁর মুখস্থ করা বিষয় পর্যালোচনার জন্য শেখ "মুসা"-র খানকায় অবস্থান করেন ও সেখানে তাঁর ইমামতিতে সালাত আদায় করেন (১)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইমামুল বিক্বায়ি ওয়া মিনহাজুহু ফী তাবীলি বালাগাতিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ১৫)
هذا آية على إتقانه الحفظ والترتيل وهذا منهاج جليل يكشف عن تمكن الطالب من حفظ كتاب الله سبحانه وتعالى، فليتنا نأخذ بمثله في تعليم طلابنا في المراحل الأولى من التعليم بأزهرنا الشريف، فيمنح طلابنا اقتدارًا على حسن ترتيل القرآن الكريم من بعد حفظه؛ لأنَّ الصلاة به في جماعة جهرية من عوامل تثبيت حفظه في الصدر.
ثُمّ كانت بلية لقومه في العام الحادى والعشرين من القرن التاسع (821) والفتى في الثانية عشرة من عمرة، تودي البلية بجمع من أهله: والده وعميه، وستة آخرين، فيغادر قريته مع أمه وجده متنقلا في قرى عدة: يدخل قرى وادي التيم، والعرقوب ويظل بها حتى دخل دمشق" سنة (823) فينشط في طلب العلم:
يدرس الشاطبية حتى سورة المنافقون على شيخه" شرف الدين المسحراتي " (ت825) (1)
ويقرأ النحو والتصريف والفقه والمعقولات على شيخه الأثير عنده " محمد بن بهادر" (ت:831) فلازمه (2)
ويتلقى المنطق على الشيخ "البدر الهندي" (ت833) تلميذ السيد الشريف (ت816) فيعجب الشيخ به، ويعده أنْ يعلمه " علم الهندسة" غير أن "البدر" غادر دمشق إلى" حماة" من قبل أن يمكن من الوفاء بوعده (3)
وفي سنة (828) يدرس على الشمس بن الجزري (ت:833) القراءات العشر، ويحفظ "النشرفي القراءات العشر"، ويجيزه بكل ما يجوز للشيخ (4)
ويرحل إلى"القدس" لأول مرة مع والدته، فيَدْرُس هناك " علم الحساب" على شيخه" العماد بن شرف" (ت:852) ويحفظ منظومتى " ابن الهائم " في الجبر وقواعد الإعراب، ويعرضهما على شيخه "العماد"، فيعجب به، ويلقبه بالشيخ والإمام والمقرئ المجيد (5)
--------------------------------------------
এটি তাঁর হিফজ ও তাজভীদের পারদর্শিতার এক নিদর্শন এবং এটি একটি মহান পদ্ধতি যা মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার কিতাব মুখস্থ করার ক্ষেত্রে ছাত্রের দক্ষতার প্রকাশ ঘটায়। আহা, যদি আমরা আমাদের আল-আজহার আশ-শরীফের প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের শিক্ষাদানে এমন পদ্ধতি গ্রহণ করতাম! এর ফলে আমাদের শিক্ষার্থীরা পবিত্র কুরআন মুখস্থ করার পর সুন্দরভাবে তিলাওয়াত করার সক্ষমতা অর্জন করতে পারত; কারণ জামাতের সাথে উচ্চস্বরে তিলাওয়াত করে সালাত আদায় করা অন্তরে হিফজ সুদৃঢ় করার অন্যতম মাধ্যম।
অতঃপর নবম শতাব্দীর একুশতম বছরে (৮২১ হিজরী) তাঁর গোত্রের ওপর এক বিপদ নেমে আসে, যখন এই কিশোরের বয়স ছিল মাত্র বারো বছর। এই বিপদে তাঁর পরিবারের একদল লোক মারা যায়: তাঁর পিতা, তাঁর দুই চাচা এবং আরও ছয়জন। ফলে তিনি তাঁর মা ও দাদার সাথে নিজের গ্রাম ছেড়ে চলে যান এবং বিভিন্ন গ্রামে ঘুরে বেড়ান: তিনি ওয়াদি আল-তায়াম ও আল-আরকুবের গ্রামগুলোতে প্রবেশ করেন এবং সেখানে অবস্থান করেন, যতক্ষণ না তিনি ৮২৩ হিজরীতে দামেস্কে প্রবেশ করেন এবং জ্ঞান অন্বেষণে মনোনিবেশ করেন:
তিনি তাঁর শাইখ "শারাফুদ্দিন আল-মাসাহরাতী" (মৃত্যু ৮২৫ হিজরী)-এর নিকট সূরা আল-মুনাফিকুন পর্যন্ত আশ-শাতিবিয়্যাহ অধ্যয়ন করেন। (১)
তিনি তাঁর প্রিয় শাইখ "মুহাম্মদ ইবনে বাহাদুর" (মৃত্যু ৮৩১ হিজরী)-এর নিকট নাহু (ব্যাকরণ), তাসরিফ (রূপতত্ত্ব), ফিকহ ও আকলি বা বুদ্ধিবৃত্তিক জ্ঞানসমূহ পাঠ করেন এবং তাঁর সান্নিধ্যে লেগে থাকেন। (২)
তিনি সাইয়্যেদ শরীফ (মৃত্যু ৮১৬ হিজরী)-এর ছাত্র শাইখ "আল-বদর আল-হিন্দি" (মৃত্যু ৮৩৩ হিজরী)-এর নিকট মানতিক (যুক্তিবিদ্যা) শিক্ষা করেন। শাইখ তাঁর প্রতি মুগ্ধ হন এবং তাঁকে "জ্যামিতি শাস্ত্র" শিখানোর প্রতিশ্রুতি দেন। তবে "আল-বদর" তাঁর প্রতিশ্রুতি পূরণ করার আগেই দামেস্ক ছেড়ে "হামাহ" চলে যান। (৩)
এবং ৮২৮ হিজরীতে তিনি আশ-শামস ইবনুল জাযারি (মৃত্যু ৮৩৩ হিজরী)-এর নিকট দশ কিরাত অধ্যয়ন করেন এবং "আন-নাশর ফিল কিরাআতিল আশর" মুখস্থ করেন। শাইখ তাঁকে তাঁর বর্ণিত সকল বিষয়ের অনুমতি প্রদান করেন। (৪)
তিনি তাঁর মায়ের সাথে প্রথমবারের মতো "জেরুজালেম" সফর করেন। সেখানে তিনি তাঁর শাইখ "আল-ইমাদ ইবনে শারাফ" (মৃত্যু ৮৫২ হিজরী)-এর নিকট "গণিত শাস্ত্র" অধ্যয়ন করেন এবং বীজগণিত ও ইরাব বা ব্যাকরণিক বিশ্লেষণের নিয়মাবলি বিষয়ক "ইবনুল হাইম"-এর দুটি পদ্য মুখস্থ করেন। তিনি সেগুলো তাঁর শাইখ "আল-ইমাদ"-এর সামনে উপস্থাপন করলে শাইখ তাঁর প্রতি মুগ্ধ হন এবং তাঁকে শাইখ, ইমাম ও সুদক্ষ কারী উপাধিতে ভূষিত করেন। (৫)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইমামুল বিক্বায়ি ওয়া মিনহাজুহু ফী তাবীলি বালাগাতিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ১৬)
وفي رمضان من العام نفسه توفيت والدته بالقدس، ويبقي فيه حتى شهر " ذي القعدة "، فيرتحل إلى دمشق، ويحفظ فيها كتاب" البهجة نظم الحاوي" في الفقه الشافعي، ويقرأ على "ابن قاضي شهبة" كتاب الحاوي" قراءة بحث، ويتم تأليف كتابه: " كفاية القارئ وغنية المقرئ في رواية أبي عمرو" (1)
ويقرأ على "تقي الدين الحصنى الشافعي" (ت:828) شرحه للتنبيه، والمنهاج، ويبقي ملازما شيخه " ابن بهادر " حتى وفاة الشيخ سنة (831) فيغادر"البقاعي" دمشق مرة أخرى إلى" القدس " فيزيد في منظومته: " الباحة في علم الحساب والمساحة" التى بدأها سنة (827)
ويدرس كتاب " الوسيلة في الحساب والفقه والفرائض " على شيخه " زين الدين ماهر بن عبد الله " تلميذ ابن الهائم، ويتلقى" النحو" على التاج الغرابيلي (ت:835) ويدرس كتاب " التحفة " لابن حجر على " العماد بن شرف"، ويظل بالقدس مستشرفا لقيا "ابن حجر"، فلما عنَّت له حاجة في "الخليل " رحل إليها ومنها إلى"غزة" فكانت الرحلة إلى "القاهرة"، فدخلها، ومثل بين يدي " ابن حجر العسقلانيّ " في شهر صفر الخير سنة (834) فكتب جملة من تصانيف شيخه وقرأها عليه وأذن له في التدريس (2)
وسمع في هذه الرحلة من علماء القاهرة ولا يبقى في القاهرة طويلا فيعود إلى"القدس" مرة أخرى في العام نفسه، فيتلقى "سنن أبي داود" وغيرها على بعض شيوخ "القدس.
--------------------------------------------
সেই বছরের রমজান মাসেই জেরুজালেমে তাঁর মাতা ইন্তেকাল করেন। তিনি সেখানে জিলকদ মাস পর্যন্ত অবস্থান করেন, এরপর দামেস্কে চলে যান। সেখানে তিনি শাফিঈ ফিকহের ওপর রচিত 'আল-বাহজাহ নাজমুল হাভি' গ্রন্থটি মুখস্থ করেন এবং 'ইবনে কাদি শুহবাহ'-এর নিকট 'আল-হাভি' গ্রন্থটি গবেষণামূলকভাবে পাঠ করেন। সেখানে তাঁর 'কিফায়াতুল কারি ওয়া গুনইয়াতুল মুকরি ফি রিওয়ায়াতি আবি আমর' গ্রন্থটি রচনার কাজ সমাপ্ত হয় (১)
তিনি 'তাকিউদ্দিন আল-হিসনি আশ-শাফিঈ' (মৃত্যু: ৮২৮ হি.)-এর নিকট তাঁর লিখিত 'আত-তানবিহ' ও 'আল-মিনহাজ'-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ পাঠ করেন। তিনি তাঁর উস্তাদ 'ইবনে বাহাদুর'-এর সান্নিধ্যে ৮৩১ হিজরিতে তাঁর (উস্তাদের) মৃত্যু পর্যন্ত অবস্থান করেন। এরপর 'বিকাঈ' দামেস্ক ছেড়ে পুনরায় 'জেরুজালেমে' চলে যান এবং সেখানে তাঁর কাব্যগ্রন্থ 'আল-বাহাহ ফি ইলমিল হিসাব ওয়াল মাসাহাহ'-তে আরও কিছু যুক্ত করেন, যা তিনি ৮২৭ হিজরিতে শুরু করেছিলেন।
তিনি ইবনুল হায়্যামের ছাত্র তাঁর উস্তাদ 'যাইনুদ্দিন মাহির বিন আব্দুল্লাহ'-এর নিকট 'আল-ওয়াসিলাহ ফিল হিসাব ওয়াল ফিকহ ওয়াল ফারায়িদ' গ্রন্থটি অধ্যয়ন করেন। তিনি 'তাজুল গুরাবিলি' (মৃত্যু: ৮৩৫ হি.)-এর নিকট 'নাহু' শিক্ষা করেন এবং 'ইমাদ বিন শরাফ'-এর নিকট ইবনে হাজরের 'আত-তুহফাহ' গ্রন্থটি অধ্যয়ন করেন। তিনি ইবনে হাজরের সাক্ষাতের আশায় জেরুজালেমে অবস্থান করতে থাকেন। যখন তাঁর 'খলিল' শহরে কোনো প্রয়োজনে যাওয়ার দরকার হলো, তখন তিনি সেখানে সফর করেন এবং সেখান থেকে 'গাজা' হয়ে 'কায়রো' অভিমুখে যাত্রা করেন। ৮৩৪ হিজরির সফর মাসে তিনি সেখানে প্রবেশ করেন এবং 'ইবনে হাজর আল-আসকালানি'-এর দরবারে উপস্থিত হন। তিনি তাঁর উস্তাদের বেশ কিছু কিতাব অনুলিপি করেন এবং তাঁর কাছে সেগুলো পাঠ করেন। অতঃপর উস্তাদ তাঁকে পাঠদানের অনুমতি প্রদান করেন (২)
এই সফরে তিনি কায়রোর আলেমদের নিকট থেকে ইলম শ্রবণ করেন। তবে তিনি কায়রোতে খুব বেশি সময় থাকেননি, বরং সেই বছরই পুনরায় 'জেরুজালেমে' ফিরে আসেন। এরপর তিনি জেরুজালেমের কিছু উস্তাদের নিকট 'সুনানে আবু দাউদ' ও অন্যান্য কিতাব শিক্ষা করেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইমামুল বিক্বায়ি ওয়া মিনহাজুহু ফী তাবীলি বালাগাতিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ১৭)
ويستشرف إلى الإقامة في القاهرة، فيرجع إليها سنة (835) ليبقى بها خمسة وأربعين عاما، فتنتهى مرحلة من مراحل تلقيه العلم لتبدأ مرحلة أخرى يجمع فيها بين تلقيه العلم من أعلامه وتعليمه طلاب العلم ما تلقاه، حرصًا على أن يكون المتعلّم المعلّم، وذلك شأن العاقل من المنتسبين إلى هذه الأمة المحمدية غاية ومنهاجا، فلا خير في يوم لا يتعلم فيه المرء علما نافعا، ولا يعلم فيه مسلما ما ينفعه إن بلسان مقاله أو قلمه وإن بلسان حاله وفعاله وأخلاقه.
*****
المرحلة الثانية: (835 - 880)
اتخذ في هذه المرحلة القاهرة دارًا ووطنا، وقام ببعض الأسفار داخل الديار المصرية، وخارجها، وكان يقيم في القاهرة فوق مسجد في " رحبة باب العيد" وهي رحبة واسعة كانت أمام الباب الشرقي للقصر الفاطمي الكبير الذي أنشأه "جوهر الصقلى" للمعز الفاطمي، وهي الآن متفرعة من شارع قصر الشوق بالغورية بالأزهر، وما يزال شارع " رحبة باب العيد " قائما عامرا
تولى "البقاعي" وظيفة "معيد" بهذا المسجد، وبمسجد "الظاهر" وهي وظيفة يقوم صاحبها بتفهيم بعض الطلاب ما لم يستطيعوا فهمه من الشيخ، فيعيد الدرس عليهم بشيء من التوضيح كما يقول التاج السبكي في "معيد النعم "
তিনি কায়রোতে বসবাসের আকাঙ্ক্ষা পোষণ করেন, ফলে তিনি সেখানে (৮৩৫) হিজরীতে প্রত্যাবর্তন করেন এবং সেখানে পঁয়তাল্লিশ বছর অবস্থান করেন। এর মাধ্যমে তাঁর ইলম অর্জনের এক পর্যায়ের সমাপ্তি ঘটে এবং অন্য এক পর্যায়ের সূচনা হয় যেখানে তিনি যুগশ্রেষ্ঠ আলেমদের নিকট থেকে ইলম অর্জনের পাশাপাশি যা শিখেছেন তা শিক্ষার্থীদের মাঝে বিলিয়ে দেওয়ার সমন্বয় ঘটান। এর মূলে ছিল শিক্ষার্থীকেই শিক্ষকে পরিণত করার একাগ্রতা; আর এই মুহাম্মদী উম্মতের অন্তর্ভুক্ত জ্ঞানীদের লক্ষ্য ও কর্মপন্থা এমনই হওয়া উচিত। কেননা এমন দিনে কোনো কল্যাণ নেই যাতে মানুষ কোনো উপকারী ইলম শিখল না অথবা কোনো মুসলিমকে তার উপকারে আসে এমন কিছু শেখাল না—তা সে তার কথা বা কলমের মাধ্যমেই হোক কিংবা তার অবস্থা, কর্মকাণ্ড ও চরিত্রের মাধ্যমেই হোক।
*****
দ্বিতীয় পর্যায়: (৮৩৫ - ৮৮০)
এই পর্যায়ে তিনি কায়রোকে নিজের আবাস ও স্বদেশ হিসেবে গ্রহণ করেন এবং মিশরের ভেতরে ও বাইরে কিছু সফর করেন। তিনি কায়রোতে "রাহবাতু বাবিল ঈদ" নামক স্থানে অবস্থিত একটি মসজিদের উপর তলায় বসবাস করতেন। এটি একটি প্রশস্ত চত্বর ছিল যা আল-মুইজ আল-ফাতিমীর জন্য "জাওহার আস-সিকিল্লি" নির্মিত বিশাল ফাতিমী প্রাসাদের পূর্ব ফটকের সামনে অবস্থিত ছিল। বর্তমানে এটি আল-আযহারের আল-গুরিয়া এলাকার কাসরুল শাওক সড়ক থেকে নির্গত একটি শাখা রাস্তা এবং "রাহবাতু বাবিল ঈদ" সড়কটি এখনও সচল ও জনবহুল রয়েছে।
"আল-বিক্বায়ী" এই মসজিদে এবং "আয-যাহির" মসজিদে "মুঈদ" হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এটি এমন একটি পদ যেখানে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি ছাত্রদেরকে শাইখের কাছ থেকে যা তারা বুঝতে সক্ষম হয়নি তা বুঝিয়ে দিতেন। অর্থাৎ তিনি কিছুটা ব্যাখ্যার সাথে পাঠটি তাদের সামনে পুনরাবৃত্তি করতেন, যেমনটি তাজউদ্দীন আস-সুবকী তাঁর "মুঈদুন নিআম" গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-ইমামুল বিক্বায়ি ওয়া মিনহাজুহু ফী তাবীলি বালাগাতিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ১৮)
وليت هذا المسجد: مسجد الظاهر يعتنى الآن بشأن التعليم والدعوة فيه ليكون منارًا علميا تربويا في تلك البقعة القائم فيها فإنَّ جيرانه ليفتقرون إلى أن يشرق عليهم منه نور العلم النافع، فلا يكتفى بأن يكون أثرًا إسلاميًا يشاهده غير المسلمين ولا ينتفع منه أبناء الإسلام بشيء غير إقامة الصلوات المفروضة، ثُمّ تغلّق الأبواب في وجوههم، فليست المساجد في الإسلام لإقامة الصلوات فحسب بل هي كذلك ومعاهد تربية ومجامع شورى ومنازل تراحم وتواصل، ولكن القوم مخافة على كرسيّ إماراتهم ارتعدت فرائصهم من أن يتلاقى الشباب برعاية عالم يتلون كتاب الله سبحانه وتعالى ويتدارسونه فيما بينهم، فغلقت المساجد في غير أوقات الفرائض، وفتحت المواخير في كل وقت ولكلّ من رغب.
ظل البقاعيّ ملازما شيخه " ابن حجرالعسقلانيّ" في حله وترحاله حتى وفاة "ابن حجر" (ت:852) وقد نشط " البقاعي" في التأليف في هذه المرحلة
ومن رحلاته مع "ابن حجر" رحلته إلى الشام سنة (836) في صحبة السلطان " برسباي" وهناك يقرأ على بعض شيوخ الشام كالبرهان الطرابلسي، و" ابن شيخ السوق الحنبلي" وعلى" ابن العديم" وعلى الشهاب الرملى" وسعى إلى الاجتماع بالشاعر "ابن حجة الحموي، فلم يتيسر له (1)
وفي سنة (837) يعود مع شيخه "ابن حجر" إلى القاهرة، فيكثر من القراءة على علمائها:
يقرأ على " المقريزي" المؤرخ بعض مؤلفاته، وعلى "المشدالى" التفسير والفقه المالكي، ويتعلم منه القاعدة الكلية لتناسب آيات وسور القرآن الكريم ويقيم على أساسها تفسيره العظيم: "نظم الدّرر"
ويقرأ على " البدر البوصيري "، وعلى "ابن الصفوي" ويقرأ النحو والبلاغة وتفسير الكشاف والمنطق والفقه وأصوله على " القاياتي"
ويقرأ على "الزين المحلى "و"شهاب الدين الجوهري " وعلى" شرف الدين القرقشندي"
--------------------------------------------
আফসোস! যদি এই মসজিদ—মসজিদে জাহির—এর শিক্ষা ও দাওয়াতের বিষয়ে এখন যত্ন নেওয়া হতো, যাতে এটি সেই অঞ্চলে একটি ইলমি ও চারিত্রিক আলোকবর্তিকা হয়ে ওঠে যেখানে এটি অবস্থিত। কারণ এর প্রতিবেশীরা এখান থেকে উপকারী ইলমের আলো বিচ্ছুরিত হওয়ার মুখাপেক্ষী। তাই একে কেবল একটি ইসলামি প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন হিসেবেই সীমিত রাখা উচিত নয় যা অমুসলিমরা দেখবে, আর মুসলিমরা এখান থেকে ফরজ নামাজ আদায় ছাড়া অন্য কোনো উপকার পাবে না। এরপর তাদের মুখের ওপর দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়; অথচ ইসলামে মসজিদগুলো কেবল নামাজ কায়েমের জন্য নয়, বরং এগুলো শিক্ষার মারকাজ, পরামর্শের কেন্দ্র এবং দয়া ও পারস্পরিক যোগাযোগের আবাসস্থলও বটে। কিন্তু একদল লোক তাদের ক্ষমতার মসনদ হারানোর ভয়ে এমন আলেমদের তত্ত্বাবধানে যুবকদের একত্রিত হওয়াকে ভয় পায়, যারা মহান আল্লাহর কিতাব তেলাওয়াত করবেন এবং নিজেদের মধ্যে তা নিয়ে পরস্পর আলোচনা করবেন। তাই নামাজের সময় ছাড়া অন্য সময়ে মসজিদগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, আর অনৈতিকতার আখড়াগুলো সব সময় এবং সকল ইচ্ছুক ব্যক্তির জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।
আল-বিকায়ি তাঁর শায়খ ইবনে হাজার আল-আসকালানির মৃত্যুর (মৃত্যু: ৮৫২ হিজরি) আগ পর্যন্ত সফর ও আবাসে তাঁর সাথে ছায়ার মতো লেগে ছিলেন। এই পর্যায়ে আল-বিকায়ি গ্রন্থ রচনায় বেশ সক্রিয় ছিলেন।
ইবনে হাজারের সঙ্গে তাঁর সফরগুলোর মধ্যে একটি ছিল ৮৩৬ হিজরিতে সুলতান বার্সবে-র সফরসঙ্গী হয়ে সিরিয়া সফর। সেখানে তিনি সিরিয়ার কয়েকজন শায়খের কাছে পাঠ গ্রহণ করেন, যেমন বুরহান আত-তারাবলুসি, ইবনে শায়খ আল-সুক আল-হাম্বলি, ইবনে আল-আদিম এবং শিহাব আল-রামলি। তিনি কবি ইবনে হিজ্জাহ আল-হামাভির সঙ্গে সাক্ষাতের চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু তা তাঁর জন্য সহজসাধ্য হয়নি (১)।
৮৩৭ হিজরিতে তিনি তাঁর শায়খ ইবনে হাজারের সঙ্গে কায়রোতে ফিরে আসেন এবং সেখানকার আলেমদের কাছে প্রচুর পাঠ গ্রহণ করেন:
তিনি ঐতিহাসিক আল-মাকরিজির কাছে তাঁর কিছু গ্রন্থ পাঠ করেন; আল-মুশাদদালির কাছে তাফসির ও মালিকি ফিকহ পড়েন এবং তাঁর কাছ থেকেই পবিত্র কুরআনের আয়াত ও সূরার পারস্পরিক সামঞ্জস্যের মূলনীতি শেখেন, যার ওপর ভিত্তি করেই তিনি তাঁর মহান তাফসির ‘নাজমুত দুরার’ রচনা করেন।
তিনি আল-বদর আল-বুসিরি এবং ইবনে আল-সাফাউয়ির কাছেও পাঠ গ্রহণ করেন। এছাড়া আল-কায়াতীর কাছে নাহু (ব্যাকরণ), বালাগাত (অলঙ্কারশাস্ত্র), তাফসিরে কাশশাফ, মানতিক (তর্কশাস্ত্র), ফিকহ ও উসুলুল ফিকহ পড়েন।
তিনি যায়ন আল-মহাল্লি, শিহাব উদ্দিন আল-জাওহারি এবং শরফ উদ্দিন আল-কারকাশান্দির কাছেও শিক্ষা লাভ করেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইমামুল বিক্বায়ি ওয়া মিনহাজুহু ফী তাবীলি বালাগাতিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ১৯)
ويقرأ على بعض أهل العلم من نساء القاهرة مثل: زينب بنت الزين العراقي، وكلثوم بنت الزين البابلي (1)
ويجتهد في الأخذ عن العلماء في شتى فنون المعرفة، وقد ترجم شيوخه في كتابه القيم " عنوان الزمان " وهو في أربع مجلدات مخطوطة بدار الكتب المصرية
وطوّف في بلدان (الدلتا) من مصر ويقرأ على بعض أهل العلم فيها ويسجل تراجم بعضهم ويلقى بعضًا من شعرائها
ويسافر إلى أرض الحجاز للحجّ سنة (848) ويمكث عاما يطوِّف في "الجزيرة" ويأخذ عن بعض علمائها، ثمّ يعود إلى القاهرة سنة (849) مستأنفا تلقيه وملازمة شيخه ابن حجر
ويشارك في الجهاد والمرابطة في دمياط سنة (851) و (852) ويعود إلى القاهرة مقيما بها حتى عام (880)
وقد جرت له بمصر وقائع ومحن عديدة شديدة لتصدّيه لما رآه منكرًا لا يَحِلُّ السكوت عنه فيغادرها إلى "دمشق" (2)
ومما كان له أثر في حياته وفي منزلته من بعد تفسيره تصديه للعبث بأصول العقيدة الإسلامية ولا سيّما صفاء عقيدة التوحيد، إذ رأى في نشر فكر الإلحاد والقول بوحدة الوجود والترويج لمقالات " ابن الفارض" و"ابن عربي" عدوانًا داخليًّا على الأمة، فرابط في هذا الثغر الذي خطره أشد من الثغور التي تهاجمها جحافل العسكر من أعداء الإسلام، فامتشق قلمه ولسانه وتصدى لإخوان الباطل، وكان له مع الفكر الإلحادي ممثلا في تراث "ابن الفارض" و "ابن عربي" منازلات سجلت في كتب التاريخ:
يقول " ابن إياس الحنفي " في تأريخ أحداث سنة خمس وسبعين وثمان مئة:
--------------------------------------------
তিনি কায়রোর কিছু বিদগ্ধ নারী ব্যক্তিত্বের কাছেও পাঠ গ্রহণ করেন, যেমন: জয়নব বিনতে আল-জাইন আল-ইরাকি এবং কুলসুম বিনতে আল-জাইন আল-বাবিলি (১)
তিনি জ্ঞানের বিবিধ শাখায় উলামায়ে কেরামের নিকট থেকে জ্ঞান অর্জনে কঠোর সাধনা করেন এবং তিনি তাঁর মূল্যবান গ্রন্থ "উনওয়ানুজ জামান"-এ তাঁর শায়খদের জীবনী সংকলন করেছেন; যা চার খণ্ডের একটি পাণ্ডুলিপি আকারে মিশরের দারুল কুতুব আল-মিসরিয়াহ-তে সংরক্ষিত আছে।
তিনি মিশরের ডেল্টা অঞ্চলের শহরগুলোতে ভ্রমণ করেন এবং সেখানকার কিছু আলেমের নিকট অধ্যয়ন করেন, তাঁদের কারো কারো জীবনী লিপিবদ্ধ করেন এবং সেখানকার কিছু কবির সাথে সাক্ষাৎ করেন।
তিনি ৮৪৮ হিজরি সনে হজের উদ্দেশ্যে হিজাজ অভিমুখে সফর করেন এবং সেখানে এক বছর অবস্থান করে 'জাযিরা' (আরব উপদ্বীপ) অঞ্চলে ভ্রমণ ও সেখানকার কিছু আলেমের নিকট থেকে ইলম অর্জন করেন। অতঃপর ৮৪৯ হিজরিতে কায়রোতে ফিরে আসেন এবং পুনরায় তাঁর শায়খ ইবনে হাজারের সংশ্রবে থেকে তাঁর শিক্ষা গ্রহণ চালিয়ে যান।
তিনি ৮৫১ এবং ৮৫২ হিজরিতে দ্যামিয়েটাতে জিহাদ ও পাহারাদারিতে (রিবাত) অংশগ্রহণ করেন এবং পরবর্তীতে কায়রোতে ফিরে এসে ৮৮০ হিজরি পর্যন্ত সেখানে বসবাস করেন।
মিশরে থাকাকালীন সময়ে তাঁর ওপর অনেক কঠিন ঘটনা ও পরীক্ষা নেমে আসে, কারণ তিনি সেখানে এমন সব অন্যায় ও অপকর্মের প্রতিবাদ করেছিলেন যেগুলোর ব্যাপারে চুপ থাকা তাঁর মতে বৈধ ছিল না। অতঃপর তিনি মিশর ত্যাগ করে দামেস্কের উদ্দেশ্যে রওনা হন (২)।
তাঁর জীবনে এবং তাঁর তাফসির পরবর্তী মর্যদার পেছনে অন্যতম প্রভাব ছিল ইসলামি আকীদার মৌলিক বিষয়গুলো নিয়ে ছিনিমিনি খেলার বিরুদ্ধে তাঁর শক্ত অবস্থান, বিশেষ করে তাওহিদের স্বচ্ছ আকীদার হিফাজত। তিনি যখন দেখলেন যে নাস্তিক্যবাদী চিন্তাধারার প্রসার, ওয়াহদাতুল উজুদ (অদ্বৈতবাদ) মতবাদ এবং ইবনুল ফারিদ ও ইবনে আরবির বক্তব্যগুলোর প্রচার উম্মাহর ওপর একটি অভ্যন্তরীণ আক্রমণ, তখন তিনি এই সীমান্তে পাহারাদারির কাজে লিপ্ত হলেন, যার বিপদ ইসলামের শত্রুদের বিশাল সৈন্যবাহিনীর আক্রমণের চেয়েও ভয়াবহ ছিল। ফলে তিনি তাঁর কলম ও জবানকে কোষমুক্ত করলেন এবং বাতিলপন্থীদের মোকাবিলা করলেন। ইবনুল ফারিদ ও ইবনে আরবির ঐতিহ্যে প্রতিফলিত নাস্তিক্যবাদী চিন্তাধারার সাথে তাঁর যে বুদ্ধিবৃত্তিক লড়াই হয়েছিল, তা ইতিহাসের পাতায় লিপিবদ্ধ রয়েছে:
ইবনে ইয়াস আল-হানাফি ৮৭৫ হিজরি সালের ঘটনাবলি বর্ণনায় বলেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইমামুল বিক্বায়ি ওয়া মিনহাজুহু ফী তাবীলি বালাগাতিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ২০)
" وفي أوائل هذه السنة كثر القال والقيل بين العلماء بالقاهرة في أمر الشيخ العارف بالله تعالى سيدي " عمر بن الفارض " نفع الله النّاس ببركته [!!! كذا] وقد تعصب عليه جماعة من العلماء بسبب أبياتٍ قالها في قصيدته " التائية"، فاعترضوا عليه في ذلك، وصرّحوا بفسقه بل وتكفيره، ونسبوه إلى من يقول بالحلول والاتحاد، وحاشاه من ذلك أن ينسب إليه هذا المعنى، ولكن قصرت أفهام جماعة من علماء هذا العصر، ولم يفهموا معنى قول الشيخ " عمر" فيما قصده من هذه الأبيات، فأخذوا بظاهرها ولم يوجهوا لها معنى، فكان كما قال المتنبيّ:
وآفته من الفهم السقيم
وكمْ من عائبٍ قولا صحيحًا
على قدر القرائح والفهوم
ولكن تأخذ الأذهان منه
فكان رأس من تعصّب على الشيخ " عمر بن الفارض": "برهان الدين البقاعيّ "، وقاضي القضاة: "محب الدين بن الشحنة "، وتبعهم جماعة كثيرة من طلبة العلم يقولون بفسقه، وأمَّا من تعصّب لابن الفارض من العلماء فهم: الشيخ محيي الدين الكافييجي الحنفي، والشيخ القاسم الحنفي....
فلمَّا زاد الرهج في هذه المسألة كُتبت الفتاوى في أمر "ابن الفارض" التى ظاهرها الخروجُ عن قواعدِ الشَّرعِ، فكتب الشيخ محيي الدين الكافييجي على هذا السؤال ما هو أحسن عبارة وأقرب إلى انصاف 0
والف الجلال السيوطيّ في ذلك كتابًا سماه:" قمع المعارض في الرد عن ابن الفارض " وألف " البدري بن الفرس " في ذلك كتابًا شافيًا في هذا المعنى واضحا في الرد على من تعرض على " ابن الفارض" وصنف بعض العلماء كتابًا سماه:" درياق الأفاعي في الردّ على البقاعيّ"
ووقع في هذه المسألة تشاحنات بين العلماء مما يطول شرحه في هذا المعنى ثمّ هجوا " البقاعيّ " و"ابن الشحنة " وغيره ممن تعصّبوا على " ابن الفارض" وصاروا يكتبون الأوراق بِهَجْوِ المعترضين على "ابن الفارض ويلصقون تلك الأوراق في مزاره....
এই বছরের শুরুর দিকে কায়রোর আলেমদের মধ্যে মহান আল্লাহর মারেফাতপ্রাপ্ত শায়খ সায়্যিদী "উমর ইবনুল ফারিদ"—আল্লাহ তাঁর বরকতের মাধ্যমে মানুষের উপকার করুন [!!! এমনটাই আছে]—তাঁর বিষয়ে অনেক বাদানুবাদ ও আলোচনা বৃদ্ধি পায়। আলেমদের একটি দল তাঁর রচিত "তাইয়্যাহ" কাসিদার কিছু পঙক্তির কারণে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেন। তাঁরা এই বিষয়ে তাঁর প্রতিবাদ করেন এবং স্পষ্টত তাঁকে পাপাচারী এমনকি কাফির বলেও ঘোষণা করেন। তাঁরা তাঁকে হুলুল (অবতারবাদ) ও ইত্তিহাদ (অদ্বৈতবাদ)-এ বিশ্বাসীদের অন্তর্ভুক্ত করেন। অথচ তিনি এই ধরণের অর্থ তাঁর প্রতি সম্পৃক্ত করা থেকে অনেক ঊর্ধ্বে ও পবিত্র ছিলেন। কিন্তু এই যুগের একদল আলেমের বোধশক্তি সীমিত হওয়ার কারণে তাঁরা শায়খ "উমর" তাঁর এই পঙক্তিগুলো দ্বারা যা বুঝাতে চেয়েছেন তা অনুধাবন করতে পারেননি। ফলে তাঁরা কেবল এর বাহ্যিক অর্থ গ্রহণ করেন এবং এর কোনো সঠিক ব্যাখ্যার দিকে ধাবিত হননি। ফলে বিষয়টি মুতানাব্বির সেই উক্তির মতোই হলো:
অথচ এর মূল ত্রুটি তার নিজের অসুস্থ বোধশক্তির মধ্যে
কতই না দোষারোপকারী একটি সঠিক কথাকে দোষযুক্ত মনে করে
যথাযথ মেধা ও অনুধাবন ক্ষমতার সামর্থ্য অনুযায়ী
কিন্তু মানুষের মেধা তা থেকে ততটুকুই গ্রহণ করে
শায়খ "উমর ইবনুল ফারিদ"-এর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণকারীদের প্রধান ছিলেন: "বুরহান উদ্দিন আল-বিকাঈ" এবং প্রধান বিচারপতি: "মুহিব্বুদ্দিন ইবনুল শিহনাহ"। তাঁদের অনুসারী একদল ইলমে দ্বীনের ছাত্রও তাঁকে পাপাচারী সাব্যস্ত করার বিষয়ে তাঁদের অনুসরণ করেন। অন্যদিকে, আলেমদের মধ্যে যাঁরা ইবনুল ফারিদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন তাঁরা হলেন: শায়খ মুহিউদ্দিন আল-কাফিয়াজি আল-হানাফি এবং শায়খ আল-কাসিম আল-হানাফি....
যখন এই বিষয়ে হট্টগোল চরম আকার ধারণ করল, তখন ইবনুল ফারিদের সেই বিষয়গুলো সম্পর্কে ফতোয়া লেখা হলো যার বাহ্যিক দিকটি শরীয়তের নিয়মনীতির পরিপন্থী মনে হচ্ছিল। তখন শায়খ মুহিউদ্দিন আল-কাফিয়াজি এই প্রশ্নের উত্তরে অত্যন্ত চমৎকার এবং ইনসাফের নিকটবর্তী বক্তব্য লিখলেন।
এই বিষয়ে জালাল আল-সুয়ূতী একটি গ্রন্থ রচনা করেন যার নাম দেন: "কামউল মুয়ারিদ ফির রদ্দি আন ইবনিল ফারিদ" (ইবনুল ফারিদকে বিরোধীদের হাত থেকে রক্ষার প্রতিবাদ)। আর "আল-বাদরি ইবনুল ফারাস" এই বিষয়ে একটি পর্যাপ্ত এবং স্পষ্ট গ্রন্থ রচনা করেন যা ইবনুল ফারিদের সমালোচকদের সমুচিত জবাব দেয়। জনৈক আলেম "তিরইয়াকুল আফাঈ ফির রদ্দি আলাল বিকাঈ" (বিকাঈর প্রতিবাদে সর্প বিষের প্রতিষেধক) নামে একটি বইও রচনা করেন।
এই মাসআলা নিয়ে আলেমদের মধ্যে এমন বিবাদ ও রেষারেষি সৃষ্টি হয় যার বিবরণ অত্যন্ত দীর্ঘ। এরপর তাঁরা "আল-বিকাঈ", "ইবনুল শিহনাহ" এবং ইবনুল ফারিদের বিরোধিতাকারী অন্যদের নিন্দা করে কবিতা লিখতে শুরু করেন। তাঁরা ইবনুল ফারিদের বিরোধিতাকারীদের বিদ্রূপ করে বিভিন্ন চিরকুট লিখতেন এবং সেই কাগজগুলো তাঁর মাযারে ঝুলিয়ে দিতেন...
(খণ্ড: ১)
আল-ইমামুল বিক্বায়ি ওয়া মিনহাজুহু ফী তাবীলি বালাগাতিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ২১)
ثُمَّ إنّ بعض الأمراء تعصّب لابن الفارض بل وتعصّب له السلطان أيضًا.... وأمَّا "البقاعيّ " فكادت العوام أن تقتله، وحصل له من الأمراء ما لاخير فيه، فهرب واختفى....." (1)
رابط " البقاعي" مجاهدًا اعتداء أهل الباطل على صفاء عقيدة التوحيد فما كان إلا أن هاجر من مصر إلى " دمشق"
وهذا الذي قام له "البقاعيّ" فريضة على أهل العلم القيام لمثله في كلّ عَصْرٍ وَمِصْرٍ، فإنَّ أهل الباطل إذا ما علموا أنَّ جهرهم بالباطل سيلقى عنتًا بليغا من أهل الحق فإنهم لن يجاهروا بباطلهم، فلن يظهر الباطل إلا من خور أهل الحق، وسكوتهم وتساهُلهم في دفع ما ينجم من شواهد الباطل فإن الباطل وأهله أضعف من أن ينتصروا من أنفسهم إنما انتصارُهُم من خور أعدائهم أهل الحق.
هذه المرحلة من حياة "البقاعيّ " أثْرَى مراحل عمره في التَّعَلُّمِ والتَّعْلِيمِ والتَّأليفِ، وفي اكتساب كثير من المهارات العلمية والاجتماعية، وأظن أن هذه المرحلة هي التي كان من ثمارها أن صار واحدًا مما لا يمكن أن يستغنى عن تراثه طالب علم مُجِدٍّ في علوم القرآن الكريم، فهو يمتاز في هذا على أقرانه كالسخاوي أن ما قدمه لنا من التراث العلمي لا يمكن أن يُغْنِى عنه غيره، ولا سيما تفسيره الجليل: " نظم الدررفي الآيات والسور " أما السخاويّ فإنّه وإن قدَّم لنا ما يحمد له فإنّ في ما قدمه غيره ما يغني عنه
--------------------------------------------
এরপর কিছু আমীর ইবনে আল-ফারিজের প্রতি অন্ধ পক্ষপাতিত্ব শুরু করেন, এমনকি খোদ সুলতানও তার পক্ষ অবলম্বন করেন। অন্যদিকে 'আল-বিকায়ি'র অবস্থা এমন চরমে পৌঁছায় যে সাধারণ জনতা তাকে প্রায় মেরেই ফেলছিল, আর আমীরদের পক্ষ থেকেও তিনি নানাবিধ লাঞ্ছনার শিকার হন। ফলে তিনি পলায়ন করেন এবং আত্মগোপনে চলে যান...। (১)
আল-বিকায়ি তাওহীদের বিশুদ্ধ আকিদার ওপর বাতিলপন্থীদের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে একজন অতন্দ্র প্রহরীর ন্যায় জিহাদ চালিয়ে যান; ফলে শেষ পর্যন্ত তাকে মিশর থেকে 'দামেশক'-এ হিজরত করতে হয়।
আল-বিকায়ি যা আঞ্জাম দিয়েছেন, তা প্রত্যেক যুগে ও জনপদে উলামায়ে কিরামের ওপর এক অপরিহার্য কর্তব্য। কেননা বাতিলপন্থীরা যখন বুঝতে পারে যে তাদের বাতিল মতাদর্শ প্রচারের ক্ষেত্রে সত্যপন্থীদের পক্ষ থেকে কঠোর প্রতিরোধ আসবে, তখন তারা তা প্রকাশ্যে আনার সাহস দেখায় না। বাতিলের আস্ফালন কেবল তখনই ঘটে যখন সত্যপন্থীরা হীনবল হয়ে পড়ে এবং উদীয়মান বাতিলের নিদর্শনসমূহ রুখে দেওয়ার ক্ষেত্রে তাদের মাঝে নীরবতা ও শিথিলতা পরিলক্ষিত হয়। প্রকৃতপক্ষে বাতিল ও তার অনুসারীরা নিজেদের শক্তিতে বিজয়ী হওয়ার মতো সামর্থ্য রাখে না, বরং তাদের বিজয় অর্জিত হয় তাদের প্রতিপক্ষ অর্থাৎ সত্যপন্থীদের দুর্বলতার সুযোগে।
আল-বিকায়ি-এর জীবনের এই পর্যায়টি শিক্ষা গ্রহণ, শিক্ষাদান ও গ্রন্থ রচনার পাশাপাশি বহুবিধ ইলমী ও সামাজিক দক্ষতা অর্জনের ক্ষেত্রে তাঁর জীবনের সবচেয়ে উর্বর সময় ছিল। আমার ধারণা, এই পর্যায়েরই এক সুমিষ্ট ফল হলো এই যে, তিনি এমন এক ব্যক্তিতে পরিণত হয়েছেন যাঁর ইলমী উত্তরাধিকার ব্যতীত কুরআনুল কারীমের ইলমে ব্যুৎপত্তি অর্জনে সচেষ্ট কোনো শিক্ষার্থীর পক্ষে চলা সম্ভব নয়। এক্ষেত্রে তিনি তাঁর সমসাময়িকদের (যেমন আস-সাখাভী) তুলনায় এই বিশেষত্ব রাখেন যে, তিনি আমাদের জন্য যে জ্ঞানতাত্ত্বিক সম্পদ রেখে গেছেন তা অন্য কিছু দ্বারা অপূরণীয়, বিশেষত তাঁর সুমহান তাফসীর গ্রন্থ: 'নাযমুদ দুরার ফি তানাসুবিল আয়াতি ওয়াস সুওয়ার'। অন্যদিকে আস-সাখাভী যদিও প্রশংসনীয় কাজ উপহার দিয়েছেন, তথাপি তাঁর কাজগুলোর বিকল্প অন্য জায়গায় পাওয়া সম্ভব।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইমামুল বিক্বায়ি ওয়া মিনহাজুহু ফী তাবীলি বালাগাতিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ২২)
والبقاعي يتميز عن تلميذه السيوطيّ بأنَّ السيوطي وإن كان أكثر شهرة وتأليفا فإنَّ ما قدمه يغلب عليه أنَّ له فيه الجمع والترتيب والتصنيف، وليس له منه ما يتفرَّدُ به على غيره، فمن حلل كثيرًا من أسفار "السيوطي" أمكنه أن يعيد ما فيها إلى أصحابها من العلماء السابقين أوالمصاحبين للسيوطيّ فلا يبقى له منها ما يمكن أن يشار إليه، وليس للمرء من أسفاره إلَاّ ما أنتجه قلبه من دقائق العلم لا ما وعته حافظته من مقولات الآخرين، ولا سيما في زماننا هذا الذي أضحت فيه أدوات حفظ المعرفة جد عديدة ويسيرة 0
البقاعيَّ له في تفسيره على الأقل كثيرٌ جدًا مما لا تكاد تجده عند سابق عليه أو مصاحب له، فإنَّ شخصيته العلمية قائمة في تفسيره تجوبه وتقطعه طولا وعرضًا فلا يكاد يغيب عنك جرسه ونفسه، وذلك شأن العالم الماجد، ومن ثَمّ فإنّي أزعم أنّه هو وشيخه "ابن حجر" من المجددين في القرن التاسع الهجري.
*****
المرحلة الثالثة: من سنة 880-885
تبدأ هذه المرحلة بخروجه من القاهرة إلى دمشق، وتنتهي برحيله إلى ربِّه الرحمن الرحيم.
في دمشق يتلقاه "ابن قاضي عجلون" (ت: 928) وتلاميذه ويبالغ في إكرامه وإجلاله لما بلغه من علمه، ويبقى في كرم ابن قاضي عجلون إلى أن تنشب فتنة تعرف بفتنة (ليس في الإمكان أبدع مما كان) وهي قضية فلسفية قال بها "الغزاليّ "، ويتصدى لها " البقاعي" ويفنِّد آراء القائلين بها ويؤلِّف في هذا ولا يرتضي منه "ابن قاضي عجلون" ذلك، تعصبا للغزاليّ
আল-বিকায়ি তার ছাত্র আস-সুয়ুতি থেকে এই দিক দিয়ে স্বতন্ত্র যে, সুয়ুতি অধিক খ্যাতি ও রচনার অধিকারী হলেও তার উপস্থাপিত বিষয়গুলোর ওপর সংকলন, বিন্যাস ও শ্রেণীবদ্ধকরণের প্রাধান্যই বেশি; অন্যের তুলনায় তার নিজস্ব একান্ত কোনো বৈশিষ্ট্য এতে খুব একটা নেই। সুয়ুতির অনেক গ্রন্থ বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, সেগুলোতে যা আছে তা পূর্ববর্তী বা তার সমসাময়িক আলেমদের দিকেই ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব, ফলে তার নিজের বলে নির্দেশ করার মতো তেমন কিছু অবশিষ্ট থাকে না। একজন মানুষের গ্রন্থের মধ্যে কেবল সেটুকুই তার নিজস্ব যা তার অন্তর সূক্ষ্ম জ্ঞান থেকে উৎপাদন করেছে, অন্যের বাণীর মুখস্থ ভাণ্ডার তার নিজস্ব সম্পদ নয়; বিশেষ করে আমাদের বর্তমান সময়ে, যখন জ্ঞান সংরক্ষণের সরঞ্জামগুলো অত্যন্ত বৈচিত্র্যময় ও সহজলভ্য হয়ে পড়েছে।
আল-বিকায়ির তাফসিরে অন্তত এমন অনেক বিষয় রয়েছে যা তার পূর্ববর্তী বা সমসাময়িক কারো কাছে পাওয়া প্রায় অসম্ভব। তার জ্ঞানতাত্ত্বিক ব্যক্তিত্ব তার তাফসিরে পূর্ণরূপে বিদ্যমান, যা এর প্রতিটি অংশে পরিব্যপ্ত; সেখানে তার মেধা ও স্বকীয়তার সুর প্রায় কখনোই আড়াল হয় না। আর এটাই হলো একজন মহান আলেমের বৈশিষ্ট্য। একারণেই আমি দাবি করি যে, তিনি এবং তার উস্তাদ ‘ইবনে হাজার’ নবম হিজরি শতাব্দীর সংস্কারকদের অন্তর্ভুক্ত।
*****
তৃতীয় পর্যায়: ৮৮০-৮৮৫ হিজরি
এই পর্যায়টি কায়রো থেকে দামেস্ক অভিমুখে তার যাত্রার মাধ্যমে শুরু হয় এবং পরম করুণাময় দয়ালু রবের কাছে তার প্রস্থানের মাধ্যমে শেষ হয়।
দামেস্কে ‘ইবনে কাদি আজলুন’ (মৃত্যু: ৯২৮ হিজরি) ও তার ছাত্ররা তাকে অভ্যর্থনা জানান। তার ইলম সম্পর্কে অবগত হয়ে তারা তাকে অত্যন্ত সম্মান ও মর্যাদা প্রদান করেন। তিনি ইবনে কাদি আজলুনের আতিথ্যে অবস্থান করেন, যতক্ষণ না একটি ফিতনা মাথাচারা দিয়ে ওঠে যা ‘বিদ্যমান ব্যবস্থার চেয়ে অধিকতর নিপুণ কিছু সৃষ্টি করা সম্ভব নয়’ নামক ফিতনা হিসেবে পরিচিত। এটি একটি দার্শনিক প্রসঙ্গ যা ইমাম ‘আল-গাজালি’ ব্যক্ত করেছিলেন। আল-বিকায়ি এর মোকাবিলা করেন এবং এই মত পোষণকারীদের অভিমত খণ্ডন করে গ্রন্থ রচনা করেন। ইমাম গাজালির প্রতি অত্যধিক পক্ষপাতের কারণে ইবনে কাদি আজলুন তার এই কাজ পছন্দ করেননি।
(খণ্ড: ১)
আল-ইমামুল বিক্বায়ি ওয়া মিনহাজুহু ফী তাবীলি বালাগাতিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ২৩)
ولا يلين البقاعيّ، فإن الرجال بالحق وليس الحق بالرجال، وليس الغزاليّ أو غيره خلا النبي صَلّى اللهُ عَلَيْهِ وعَلَى آلِهِ وَصَحْبِهِ وَسَلَّمَ تَسْلِيمًا كَثِيرًا بالمعصوم من أن يُرَدَّ عليه بعضُ ما يأتي به، فينصرف "ابن قاضي عجلون " هو وتلاميذه عن "البقاعي" بل يعتدي بعض الناس على البقاعيّ بسبب ذلك (1)
يُبتلى في القاهرة بفتنة ابن عربيّ وابن الفارض، ويبتلى في دمشق بفتنة: " ليس في الإمكان أبدع مما كان " ولكنه لا يخضع إلا للحق الذي يراه بالدليل من الكتاب والسنة ويؤمن به.
وفي مقامه بدمشق يؤلف بعض أسفاره ورسائله ويحرر، ويبيض نسخته الأخيرة من تفسيره " نظم الدرر"، ويفرغ من هذا التحرير في عصر يوم الأحد عاشر شعبان سنة اثنتين وثمانين وثمان مئة بمنزله الملاصق للمدرسة "البادرائية" بدمشق أي من قبل وفاته بثلاث سنوات (2)
ست وسبعون سنة عاشها البقاعيّ مكابدًا لا يلين ولا يتوانى ولا يكلّ، عرف قدر الحياة وعظيم ما هو مقدم عليه من ملاقات ربِّه جل جلاله وسؤاله عن عمره فيم أنفقه، فسعى إلى أن يُعِدَّ لهذا السؤال الجليل جوابا لا يندم به ولا يخزى. ولو أنّ كلّ واحدٍ منَّا شغله البحثُ عن إجابةٍ حميدةٍ عن هذا السؤالِ الإلهيِّ له يوم القيامة لما وجدتَ مسلمًا مستهترًا بقتل أوقات فراغه، ولا مستهلكًا عمرَه فيما لا يُبقى له منه شيءٌ حميدٌ مجيدٌ عند شدِّ الرِّحال إلى مصيره.
--------------------------------------------
আল-বিকায়ি নমনীয় হননি, কেননা ব্যক্তিদের দ্বারা সত্য নির্ধারিত হয় না, বরং সত্যের মাধ্যমেই ব্যক্তিদের বিচার করা হয়। নবী (তাঁর এবং তাঁর পরিবার ও সাহাবীদের ওপর আল্লাহর অজস্র শান্তি ও রহমত বর্ষিত হোক) ছাড়া আল-গাজালি বা অন্য কেউই এমন নিষ্পাপ নন যে তাঁদের উপস্থাপিত কোনো কোনো বিষয় প্রত্যাখ্যান করা যাবে না। ফলস্বরূপ "ইবন কাজি আজলুন" এবং তাঁর ছাত্ররা আল-বিকায়ি থেকে বিমুখ হয়ে যান, এমনকি এ কারণে কিছু লোক আল-বিকায়িকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিতও করে। (১)
কায়রোতে তিনি ইবন আরাবি ও ইবনুল ফারিদ সংক্রান্ত ফিতনার মাধ্যমে পরীক্ষিত হন, এবং দামেস্কে তিনি "যা অস্তিত্বমান আছে তার চেয়ে চমৎকার কিছু সৃষ্টি করা সম্ভব নয়" সংক্রান্ত ফিতনার সম্মুখীন হন। কিন্তু কুরআন ও সুন্নাহর দলিলের ভিত্তিতে তিনি যে সত্য দেখতে পেতেন এবং যাতে বিশ্বাস করতেন, তা ছাড়া অন্য কিছুর সামনে তিনি মাথা নত করতেন না।
দামেস্কে অবস্থানকালে তিনি তাঁর কিছু ভ্রমণকাহিনী ও পুস্তিকা রচনা ও সম্পাদনা করেন এবং তাঁর তাফসির "নাজমুল দুরার"-এর শেষ পাণ্ডুলিপিটি চূড়ান্ত করেন। তিনি দামেস্কের "আল-বাদরায়িইয়াহ" মাদরাসার সংলগ্ন তাঁর নিজ বাসভবনে ৮৮২ হিজরি সালের ১০ই শাবান, রবিবার আসরের সময় এই সম্পাদনার কাজ সমাপ্ত করেন, যা তাঁর মৃত্যুর তিন বছর আগের ঘটনা। (২)
আল-বিকায়ি ছিয়াত্তর বছর সংগ্রামমুখর জীবন অতিবাহিত করেছেন; তিনি কখনও নমনীয় হননি, অলসতা করেননি এবং ক্লান্তও হননি। তিনি জীবনের মূল্য এবং তাঁর মহান প্রতিপালকের (তাঁর মহিমা সুউচ্চ হোক) সাথে সাক্ষাতের গুরুত্ব অনুধাবন করেছিলেন, যেখানে তাঁকে প্রশ্ন করা হবে তিনি তাঁর আয়ু কোন কাজে ব্যয় করেছেন। তাই তিনি এই মহান প্রশ্নের এমন এক উত্তর প্রস্তুত করার চেষ্টা করেছিলেন যার জন্য তাঁকে অনুতপ্ত বা লজ্জিত হতে না হয়। যদি আমাদের প্রত্যেকে কিয়ামতের দিন আল্লাহর এই প্রশ্নের একটি উত্তম উত্তর খোঁজার চিন্তায় মগ্ন থাকতাম, তবে কোনো মুসলিমকে তার অবসর সময় নষ্ট করার ক্ষেত্রে বেপরোয়া হতে দেখা যেত না, এবং নিজের শেষ গন্তব্যে যাত্রার সময় কোনো কল্যাণকর বিষয় অবশিষ্ট থাকে না এমন কাজে কেউ নিজের জীবন অতিবাহিত করত না।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইমামুল বিক্বায়ি ওয়া মিনহাজুহু ফী তাবীলি বালাগাতিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ২৪)
قد بقي للبقاعيّ – إن شاء الله تعالى، ولا أزكي على الله عز وجل أحدًا - مجاهدته في إقامة منهاج جليل لتأويل البيان القرآني تأويلا يهدي إلى العرفان ببعض معالم الإعجاز القرآني العظيم، ويهدي إلى العرفان ببعض لطائف حقائق معاني الهدى إلى الصراط المستقيم، فيرتقى المرء بهذا العرفان في مقامات القرب من رب العالمين، ويتنقل في أسنان الطاعة من مطلع الإيمان (الذين آمنوا) إلى مقطعه (المؤمنون) ومنه إلى مطلع التقوى (الذين اتقوا) ثم إلى مقطعها (المتقون) ليلج من بعد إلى سن الإحسان (الذين أحسنوا) ، فيعبد الله تعالى مُوقِنًا أنَّ الله تعالى يراه فلا يلتفت إلى سواه ثم إلى مقطع الإحسان (المحسنون) فيعبد الله سبحانه وتعالى كأنه يرى ربه تعالى، فيذوق لذة القرب والأنس بطاعة رب العالمين.
*******
شيوخه وتلاميذه:
ليس يخفى أنَّ العالم العامل إنّما هو من ورثة النبي صلى الله عليه وسلم وراثة تربية وتعليم {كُونُوا رَبَّانِيِّينَ بِمَا كُنْتُمْ تُعَلِّمُونَ الْكِتَابَ وَبِمَا كُنْتُمْ تَدْرُسُونَ} (آل عمران: من الآية79)
وكلُّ طالب علم نابه ماجد إنَّمَا هو ثمرة جهد ناصح لشيخ أو شيوخ مخلصين في تعليمهم وتربيتهم، وهذا يغري بأن يكون كلّ والد الحريص على أنْ يقيم ولده بين يدي شيخ يغرس في قلب تلميذه حب العلم النافع والعمل به، واستعلاءه على كلّ متاع من متاع الحياة الدنيا، فذلك أحق بالحرص على تحقيقه لولده من حرصه على أن يحقق له متاعا زائلا، وجاهًا زائفًا.
كان سلفنا الصالح لا يلقون بأبنائهم بين يدي كل من ألقى بنفسه في ميدان التعليم، فكم من مربِّ هو أشد افتقارًا إلى أن يُربّى، وكم من معلِّمٌ هو أشد افتقارًا إلى من يعلمه، ولاسيما في عصرنا هذا الذي أضحى غير قليل من المشتغلين بالتعليم هم الخطر العظيم على أخلاق الشبيبة.
ইনশাআল্লাহ তাআলা, আল-বিকায়ি-র জন্য অবশিষ্ট ছিল—আর আমি আল্লাহর কাছে কারো পবিত্রতা বর্ণনা করি না—কুরআনিক বর্ণনার ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে এক মহান মানহাজ বা পদ্ধতি প্রতিষ্ঠার জন্য তাঁর কঠোর প্রচেষ্টা। এই ব্যাখ্যা মহান কুরআনিক মুজিজার কিছু নির্দেশের পরিচয়ের দিকে পরিচালিত করে এবং সরল পথের হিদায়াতের অর্থগুলোর নিগূঢ় সত্যের কিছু সূক্ষ্ম উপলব্ধির দিকে পথ দেখায়। এর ফলে মানুষ এই পরিচিতির মাধ্যমে রাব্বুল আলামিনের নৈকট্যের মাকাম বা স্তরগুলোতে আরোহণ করে এবং আনুগত্যের বিভিন্ন পর্যায়ে বিচরণ করে; ঈমানের সূচনা (যারা ঈমান এনেছে) থেকে তার সমাপ্তি (মুমিনগণ) পর্যন্ত, এবং সেখান থেকে তাকওয়ার সূচনা (যারা তাকওয়া অবলম্বন করেছে) থেকে তার সমাপ্তি (মুত্তাকিগণ) পর্যন্ত। অতঃপর সে ইহসানের পর্যায়ে (যারা ইহসান করেছে) প্রবেশ করে এবং মহান আল্লাহর ইবাদত করে এই দৃঢ় বিশ্বাসের সাথে যে, আল্লাহ তাআলা তাকে দেখছেন, ফলে সে আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো দিকে ভ্রুক্ষেপ করে না। এরপর ইহসানের চূড়ান্ত পর্যায়ে (মুহসিনগণ) পৌঁছে সে মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার ইবাদত করে যেন সে তার রবকে দেখছে; এভাবে সে রাব্বুল আলামিনের আনুগত্যের মাধ্যমে নৈকট্য ও প্রশান্তির স্বাদ আস্বাদন করে।
*******
তাঁর শিক্ষক ও ছাত্রগণ:
এটি গোপন নয় যে, আমলকারী আলেম মূলত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উত্তরাধিকারী; এই উত্তরাধিকার হলো লালন-পালন ও শিক্ষার ক্ষেত্রে। {তোমরা রব্বানি হও, যেহেতু তোমরা কিতাব শিক্ষা দিতে এবং তা অধ্যয়ন করতে।} (সূরা আল ইমরান: ৭৯ আয়াতের অংশবিশেষ)
প্রত্যেক মেধাবী ও মহৎ ইলম অন্বেষণকারী মূলত তার শিক্ষক বা একনিষ্ঠ শিক্ষকদের শিক্ষা ও লালন-পালনের ঐকান্তিক প্রচেষ্টার ফসল। এটি প্রত্যেক অভিভাবককে এই বিষয়ে উৎসাহিত করে যে, তিনি যেন তার সন্তানকে এমন একজন শায়খের তত্ত্বাবধানে রাখেন যিনি ছাত্রের অন্তরে উপকারী ইলম এবং তার ওপর আমল করার ভালোবাসা বপন করবেন, এবং দুনিয়াবি জীবনের সকল ভোগবিলাসের ঊর্ধ্বে তাকে আসীন করবেন। সন্তানের জন্য ক্ষণস্থায়ী ভোগসামগ্রী বা মেকি প্রতিপত্তি অর্জনের প্রচেষ্টার চেয়ে এটি বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
আমাদের সালফে সালেহীন তাদের সন্তানদের শিক্ষার ময়দানে নেমে পড়া যে কারো হাতে সঁপে দিতেন না। কেননা কত এমন লালনকারী আছেন যারা নিজেরাই লালন-পালনের মুখাপেক্ষী, এবং কত এমন শিক্ষক আছেন যারা নিজেরাই অন্য কারো কাছে শিক্ষা গ্রহণ করার মুখাপেক্ষী। বিশেষ করে আমাদের এই যুগে, যখন শিক্ষা সংশ্লিষ্ট এক বিশাল গোষ্ঠী যুবসমাজের নৈতিকতার জন্য চরম হুমকিতে পরিণত হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আল-ইমামুল বিক্বায়ি ওয়া মিনহাজুহু ফী তাবীলি বালাগাতিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ২৫)
قد أضحى كثير من الآباء يلقون بأولادهم تحت أيدي أقوام علمانيين يتخذون مما يعرف بالتعليم الخاص للغات سبيلا إلى تنشئة أبناء الأمة تنشئة لا تتصل بكتاب الله عز وجل وسنة رسوله صَلّى اللهُ عَلَيْهِ وعَلَىآلِهِ وَصَحْبِهِ وَسَلَّمَ تَسْلِيمًا كَثِيرًا، يكررون على مسامعهم ما هو مناقض لصريح الكتاب والسنة دون أن يذكون لهم ما جاء في الكتاب والسنة مناقضا لتعاليمهم حتى لا يتحرج بعض أولئك الأبناء أو الأباء، فنشأ في الأمة أبناء فإذا المنكر شرْعًا عتدهم هو المعروف، وإذا المعروف شرعا هو المنكر الذي ينفرون منه نفورهم من كل بغيض إليهم.
وإذا ما بلغت أمّةٌ إلى أنْ يَسْتَحِيلَ فيها المنكرُ معروفًا يُسْعَى إليْه حثيثًا ويُفْتَخَرُ به ويَحْتَرِمُ ولاة الأمر والمنتسبون إلى العلم وطلابُه والدهماءُ أهلَه به، ويعتقدالعامّة أنَّ ذلك مِنْ فَتْحِ اللهِ سبحانه وتعالى على صاحِبِهِ وإكْرامِهِ لَهُ، فقد اقتربت تلك الأمَّةُ مِنْ شَفَا جُرُفٍ هَارٍ قد ينْهَارَ بِهِا فِي نَارِ جَهَنَّمَ، وَاللَّهُ لا يَهْدِي الْقَوْمَ الظَّالِمِينَ.
وإنقاذ هذه الأمة حين ذاك يكون جدَّ عسيرٍ، ولكنَّه غيرُ متَعَذِّرٍ، مما يفرِضُ على عُلمَائها المُجاهَدَةُ والمُصابَرَةُ،والتّواصِي بالحق والصبر والمرحمة.
إنَّ علينا – نحن الآباء- أن نحسن اختيار أماكن تعليم أبنائنا واختيار شيوخهم، وانْ نعلّمهم أنَّ رسالةَ الشَّيخِ من رسالة النبيّ حسن النصيحة احتسابا، وليس من عَمَلٍ قطّ هو منسول من عمل النبوة كمثل عمل تعليم الناس الخير
ومن ثَمَّ كان جزاؤه عظيما:
روى الترمزي بسنده عن "أبي أمامة الباهِلِيّ" رضي الله عنهم أن رسول الله صَلّى اللهُ عَلَيْهِ وعَلَىآلِهِ وَصَحْبِهِ وَسَلَّمَ تَسْلِيمًا كَثِيرًا قال:
অনেক পিতা-মাতাই আজ তাদের সন্তানদের এমন কিছু ধর্মনিরপেক্ষ গোষ্ঠীর হাতে সঁপে দিচ্ছেন, যারা তথাকথিত 'ব্যক্তিগত ভাষা শিক্ষা'কে উম্মাহর সন্তানদের এমনভাবে গড়ে তোলার মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করেছে যার সাথে মহান আল্লাহর কিতাব এবং তাঁর রাসূল—আল্লাহ তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীগণের ওপর অসংখ্য রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন—এর সুন্নাহর কোনো সম্পর্ক নেই। তারা তাদের কানে এমন সব বিষয় বারবার আওড়ায় যা কুরআন ও সুন্নাহর স্পষ্ট শিক্ষার পরিপন্থী। তারা তাদের কাছে কুরআন ও সুন্নাহর সেই শিক্ষাগুলো উল্লেখ করে না যা তাদের (ধর্মনিরপেক্ষদের) শিক্ষার বিপরীত, যাতে সেই সব সন্তান বা পিতা-মাতার কেউ কোনো সঙ্কোচ বোধ না করে। এর ফলে উম্মাহর মাঝে এমন এক প্রজন্ম গড়ে উঠেছে যাদের কাছে শরীয়ত কর্তৃক নিষিদ্ধ মন্দ কাজই (মুনকার) হলো পরিচিত ভালো কাজ (মা'রুফ); আর শরীয়ত কর্তৃক নির্দেশিত ভালো কাজই (মা'রুফ) হলো সেই মন্দ বা বর্জনীয় কাজ, যা থেকে তারা সেভাবেই পলায়ন করে যেভাবে তারা তাদের প্রতিটি ঘৃণিত বস্তু থেকে দূরে থাকে।
যখন কোনো জাতি এমন অবস্থায় পৌঁছায় যে, সেখানে মন্দ কাজগুলো ভালো কাজে রূপান্তরিত হয়—যার জন্য সচেষ্ট প্রয়াস চালানো হয় এবং যা নিয়ে গর্ব করা হয়; আর শাসকগোষ্ঠী, ইলমের সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও শিক্ষার্থী এবং সাধারণ জনগণও এর ধারক-বাহকদের সম্মান করতে থাকে, এবং সাধারণ মানুষ মনে করে যে এটি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ওপর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার পক্ষ থেকে কোনো বিজয় বা বিশেষ সম্মান—তখন সেই জাতি এক পতনোম্মুখ খাদের কিনারায় পৌঁছে যায়, যা তাকে জাহান্নামের আগুনের অতলে নিয়ে ধসে পড়তে পারে। আর আল্লাহ যালিম সম্প্রদায়কে হিদায়াত দান করেন না।
সেই মুহূর্তে এই উম্মাহকে রক্ষা করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে, তবে তা অসম্ভব নয়। আর এটি এই উম্মাহর আলেমদের ওপর সত্য ও ধৈর্যের উপদেশ দেওয়া এবং দয়া-মায়ার সাথে প্রচেষ্টা ও ধৈর্য ধারণ করাকে অপরিহার্য করে দেয়।
পিতা-মাতা হিসেবে আমাদের ওপর এটি আবশ্যক যে, আমরা যেন আমাদের সন্তানদের শিক্ষা লাভের স্থান এবং তাদের শিক্ষকদের উত্তমরূপে নির্বাচন করি। আমাদের তাদের শেখানো উচিত যে, শিক্ষকের দায়িত্ব হলো নবীর বার্তারই অংশ, যা সওয়াবের আশায় সদুপদেশ প্রদানের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। মানুষের কল্যাণের শিক্ষা দেওয়ার মতো আর কোনো কাজই নেই যা নবুয়তের কাজ থেকে উৎসারিত হতে পারে।
আর এই কারণেই এর প্রতিদান অত্যন্ত মহৎ:
ইমাম তিরমিযী তাঁর সানাদসহ আবু উমামাহ আল-বাহিলী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাহবিহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:
(খণ্ড: ১)
আল-ইমামুল বিক্বায়ি ওয়া মিনহাজুহু ফী তাবীলি বালাগাতিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ২৬)
" إنَّ اللهَ وَمَلائِكَتَهُ وَأَهْلَ السّمَواتِ والأَرَضِينَ حتَّى النّمْلَةَ فِي جُحْرِهَا، وحَتَّى الحُوت ليُصَلّونَ علَى مُعَلِّمِي النَّاسِ الخَيْرَ" (صحيح الترمزي: كتاب العلم باب: ما جاء في فضل التفقه – حديث:2685)
…وقارئ كتاب "القابسيّ": أبو الحسن علي بن محمد بن خلف (324 - 403) المسمى: "المفصّلة لأحوال المتعلمين وأحكام المعلمين والمتعلمين" يطلع على ما فيه من منزل وأثر للشيخ في تلميذه مما يستوجب على كلّ معلم أن يتقي الله سبحانه وتعالى في طلابه فإنه القدوة.
وقد قال "عتبة بن أبي سفيان" لـ"عبد الصمد بن عبد الأعلى الشيباني " وقد جاء مؤدبا ولده:
" لِيكُنْ أوّلُ ما تَبْدأ به من إصلاحِك بَنِيّ إصلاحَك نفسَك، فإنَّ أعينهم معقودةٌ بعينِك، فإنَّ الحُسنَ عندهم ما استحسنتَ والقبيحَ عندهم ما استقبحتَ، عَلِّمْهُمْ كتابَ الله عز وجل، ولا تكرِهْهُم عليه فيَمَلُّوه، ولا تَتْرُكْهُم مِنْهُ فَيَهْجُرُوهُ، ثُمّ روِّهم من الشِّعرِ أعْفََّلُه، ومن الحَدِيثِ [أي الكلام] أشْرَفَهُ، ولا تخرجْهُم من عِلمٍ إلى غيرِه حتَّى يُحْكِموه، فإنّ ازْدِحامَ الكَلامِ في السَّمعِ مَضَلَّةٌ للفَهْمِ، وعلِّمْهُم سِيَرَ الحُكماءِ، وأخْلاقَ الأدباءِ، وجنِّبهم محادثة النِّساءِ، وَتَهدَّدْهُم بِي، وأدِّبهم دُونِي [ايْ فِي غيرِ مَحْضَرِ أبيهم] ، وَكُنْ لَهُمْ كالطَّبِيبِ الذي لايَعْجَلُ بالدَّواءِ حتَّى يعرِفَ الدَّاءَ، ولا تَتَّكِلَ عَلَى عُذْرِي، فإنّي قَد اتَّكَلْتُ عَلَى كِفايَتِك، وَزِدْ فِي تَأدِيبِهِم أزِدْكَ فِي بِرّي إن شاء الله " (1)
شيوخه:
--------------------------------------------
"নিশ্চয়ই আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতারা, আসমান ও জমিনের অধিবাসীরা, এমনকি গর্তের পিঁপড়া এবং সমুদ্রের মাছ পর্যন্ত ঐ ব্যক্তির জন্য দোয়া করেন যিনি মানুষকে কল্যাণ শিক্ষা দেন।" (সহিহ তিরমিজি: ইলম অধ্যায়, পরিচ্ছেদ: ফিকহ অর্জনের ফজিলত – হাদিস: ২৬৮৫)
...আল-কাবিসি—আবু হাসান আলি ইবনে মুহাম্মদ ইবনে খালাফ (৩২৪ - ৪০৩)—রচিত ‘আল-মুফাসসিলা লি-আহওয়ালিল মুতাআল্লিমিন ওয়া আহকামিল মুআল্লিমিন ওয়াল মুতাআল্লিমিন’ গ্রন্থের পাঠক এতে শায়খের (শিক্ষকের) ছাত্রের ওপর প্রভাব ও মর্যাদার এমন এক নিদর্শন খুঁজে পাবেন, যা প্রত্যেক শিক্ষকের জন্য তার ছাত্রদের ব্যাপারে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালাকে ভয় করা আবশ্যক করে দেয়; কেননা তিনি হলেন তাদের জন্য আদর্শ।
‘উতবা ইবনে আবি সুফিয়ান’ তার সন্তানদের শিষ্টাচার শেখানোর জন্য আগত ‘আবদুস সামাদ ইবনে আবদিল আলা আশ-শায়বানি’-কে বলেছিলেন:
"আমার সন্তানদের সংশোধনের ক্ষেত্রে তোমার প্রথম কাজ যেন হয় নিজের সংশোধন করা। কেননা, তাদের চোখগুলো তোমার চোখের সাথে আবদ্ধ। তারা সেটিকে ভালো মনে করে যা তুমি ভালো মনে করো, আর সেটিকে মন্দ মনে করে যা তুমি পরিহার করো। তাদের মহান আল্লাহর কিতাব শিক্ষা দাও, তবে এতে তাদের ওপর জোর করো না যাতে তারা বিরক্ত হয়ে পড়ে; আবার তা ছেড়েও দিও না যাতে তারা তা থেকে বিমুখ হয়ে যায়। এরপর তাদের সবচেয়ে মার্জিত কবিতা এবং সবচেয়ে উন্নত কথা (অর্থাৎ বাণী) শুনিয়ে আত্মস্থ করাও। একটি বিষয় আয়ত্ত না করা পর্যন্ত তাদের অন্য কোনো বিষয়ে নিয়ে যেও না। কারণ, শ্রবণে কথার আধিক্য বোধগম্যতাকে বিভ্রান্ত করে। তাদের প্রাজ্ঞ ব্যক্তিদের জীবনচরিত ও পণ্ডিতদের শিষ্টাচার শিক্ষা দাও। তাদের নারীদের সাথে আলাপচারিতা থেকে দূরে রাখো। তাদের আমার ভয় দেখাবে, কিন্তু আমার অনুপস্থিতিতে (অর্থাৎ পিতার অগোচরে) তাদের শাসন করবে। তাদের জন্য এমন চিকিৎসকের মতো হও যিনি রোগ না চিনে ওষুধ দিতে তাড়াহুড়ো করেন না। আমার ওজরের ওপর নির্ভর করো না, কারণ আমি তোমার যোগ্যতার ওপর নির্ভর করেছি। তাদের শিষ্টাচার শিক্ষাদানে যত মনোযোগ বাড়াবে, ইনশাআল্লাহ আমি তোমার প্রতি আমার অনুগ্রহ তত বৃদ্ধি করব।" (১)
তাঁর শায়খগণ:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইমামুল বিক্বায়ি ওয়া মিনহাজুহু ফী তাবীলি বালাগাতিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ২৭)
لقى البقاعي في مراحل تلقيه العلم التي أوجزت القول فيها كثيرًا من العلماء وتلقى على كثير منهم في كثير من البلدان التي ارتحل إليها وأكثر البلدان التي لقي فيها العلماء القاهرة ثم دمشق
وهو لم يكن في تلقيه على أولئك العلماء على درجة سواء في التلقي، ولم يكن ملازما لكثير منهم ملازمة التلمذة، ولعل أكثرهم ملازمة له شيخه ابن بهادر، وشيخه ابن حجر العسقلاني
ولست هنا بصدد تصنيفهم من حيث ما تلقاه عليهم من العلوم، فقد كان يتلقى العلم الواحد على أكثر من عالم في أكثر من بلد، بل كان يتلقى الكتاب الواحد على أكثر من شيخ، ومعجم شيوخه وأقرانه يفيض بذكر أشياخه وما تلقاه عنهم وأحواله معهم وبذكر أقرانه، فهو معجم وسيع ملأ أربع مجلدات مخطوطة
وكنت على رغبة في أن أكتفي هنا بنقل ترجمة البقاعي بعضهم من معجمه المخطوط ليكون نموذجا لمنهجه من جهة وتراجم لشيوخه وتلاميذه من أخرى ولكني لم أوفق إلى ذلك، فقد تعسر على نقل ذلك من معجمه المخطوط نقلا كاملا لضيق الوقت والجهد وكثرة الشواغل، ولا سيما أن كثيرًا من شيوخه أعلام عرضت تراجمهم مراجع عدة
وقد رأيت أن أرتب بعض شيوخه على وفق تاريخ وفاتهم،وأن أوجز الترجمة بالإشارة إليهم ومصادر تراجمهم:
شرف الدين المَسْحَراتي:
صدقة بن سلامة بن حسين بن بدران بن إبراهيم الجيدوري (760 -825) والمسحراتي بفتح الميم وسكون السين وفتح الحاء نسبة إلى قرية مسحرا من أعمال " الجيدور" على بعد مرحلة من دمشق
له عناية بالغة بالقراءات وانتهت إليه مشيخة الإقراء بدمشق،وأقرأ القرأءات بالجامع الأموي،وانتفع به خلائق بدمشق وتخرج به أكثر مشايخها،قرأ عليه البقاعي "الشاطبية "وجود القرآن المجيد عليه إلى سورة "المنافقون"
আল-বিকায়ি তার জ্ঞানার্জনের পর্যায়গুলোতে—যা আমি এখানে অত্যন্ত সংক্ষেপে বর্ণনা করেছি—অনেক আলেমের সাক্ষাৎ লাভ করেছেন এবং তাদের অনেকের কাছ থেকেই বিভিন্ন দেশে শিক্ষা গ্রহণ করেছেন যেগুলোতে তিনি ভ্রমণ করেছিলেন। আলেমদের সাথে তার সাক্ষাতের ক্ষেত্রে কায়রো ছিল সবচেয়ে অগ্রগণ্য স্থান, তারপর দামেস্ক।
ঐসব আলেমের সান্নিধ্যে শিক্ষা গ্রহণের ক্ষেত্রে তিনি সবার কাছে সমান মাত্রায় ছিলেন না এবং তাদের অনেকের সাথেই তার ছাত্রত্বের দীর্ঘ সাহচর্য ছিল না। সম্ভবত সান্নিধ্যের দিক থেকে তাদের মধ্যে তার সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ ছিলেন তার শায়খ ইবনে বাহাদুর এবং তার শায়খ ইবনে হাজার আল-আসকালানি।
তারা যেসব বিষয়ে জ্ঞানদান করেছেন সে অনুযায়ী আমি এখানে তাদের শ্রেণিবিন্যাস করতে চাচ্ছি না। কারণ তিনি একটি বিষয় একাধিক দেশে একাধিক আলেমের কাছে শিখতেন, এমনকি একটি কিতাবও একাধিক শায়খের কাছে পাঠ করতেন। তার শায়খ ও সমসাময়িকদের অভিধান বা মু'জামটি তার উস্তাদদের বর্ণনা, তাদের কাছ থেকে তার অর্জিত জ্ঞান ও তাদের সাথে তার অবস্থা এবং তার সমসাময়িকদের বর্ণনায় পরিপূর্ণ। এটি একটি বিশাল গ্রন্থ যা চারটি পাণ্ডুলিপি খণ্ড জুড়ে রয়েছে।
আমার ইচ্ছা ছিল এখানে আল-বিকায়ির পাণ্ডুলিপি মু'জাম থেকে তার বর্ণিত কিছু জীবনী উদ্ধৃত করে ক্ষান্ত হব, যাতে একদিকে তার পদ্ধতিটি একটি আদর্শ হিসেবে ফুটে ওঠে এবং অন্যদিকে তার শায়খ ও ছাত্রদের জীবনীও উপস্থাপিত হয়। কিন্তু আমি তাতে সফল হতে পারিনি। সময়ের স্বল্পতা, শ্রমের সীমাবদ্ধতা এবং অধিক ব্যস্ততার কারণে তার পাণ্ডুলিপি মু'জাম থেকে পূর্ণাঙ্গভাবে তা উদ্ধৃত করা আমার পক্ষে দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছিল; বিশেষ করে তার অনেক শায়খই এমন প্রখ্যাত ব্যক্তিত্ব ছিলেন যাদের জীবনী বিভিন্ন তথ্যসূত্রে বিস্তারিতভাবে বর্ণিত হয়েছে।
তাই আমি তার কয়েকজন শায়খকে তাদের মৃত্যু তারিখ অনুযায়ী বিন্যস্ত করার এবং তাদের প্রতি ইঙ্গিত প্রদান ও তাদের জীবনীর উৎস উল্লেখপূর্বক জীবনীগুলো সংক্ষেপ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি:
শরফউদ্দীন আল-মাসহারাতি:
সাদাকা বিন সালামাহ বিন হুসাইন বিন বাদরান বিন ইবরাহিম আল-জাইদুরি (৭৬০-৮২৫ হিজরি)। আল-মাসহারাতি শব্দটি মিম বর্ণে যবর, সিন বর্ণে সাকিন এবং হা বর্ণে যবর সহকারে; যা দামেস্ক থেকে এক মঞ্জিল দূরত্বে অবস্থিত "জাইদুর" এলাকার মাসহারা গ্রামের দিকে সম্বন্ধযুক্ত।
কিরাত শাস্ত্রের প্রতি তার ছিল গভীর একাগ্রতা এবং দামেস্কে কিরাত পাঠদানের প্রধান পদটি তার ওপর এসেই সমাপ্ত হয়েছিল। তিনি উমাইয়া মসজিদে কিরাত শিক্ষা দিতেন। দামেস্কে অসংখ্য মানুষ তার মাধ্যমে উপকৃত হয়েছে এবং সেখানকার অধিকাংশ শায়খ তার মাধ্যমেই শিক্ষা সম্পন্ন করেছেন। আল-বিকায়ি তার কাছে "আশ-শাতবিয়্যাহ" পাঠ করেছেন এবং সূরা "আল-মুনাফিকুন" পর্যন্ত তার কাছে তাজবিদের সাথে কুরআনুল মাজিদ তিলাওয়াত করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-ইমামুল বিক্বায়ি ওয়া মিনহাজুহু ফী তাবীলি বালাগাতিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ২৮)
وللشرف مصنفات منها: التتمة في القراءات الثلاثة الأئمة (1)
*****
التقي الحصنى:
أبو بكر بن محمد بن عبد المؤمن بن حريزبن معلّى بن موسى الجعفري الحسيني الدمشقي الشافعي ينتهي نسبه بسيدنا الحسين رضي الله عنه (742-829)
محدث فقيه، متعصب لمذهب الأشاعرة، بالغ في الحط على "ابن تيمية" رضي الله عنهم وثارت بسبب ذلك فتن كثيرة، زاهد قائم بالأمر بالمعروف والنهي عن المنكر كما يؤمن به.
له مؤلفات عدة منها:
تفسير القرآن الكريم إلى الأنعام
وشرح التنبيه في خمس مجلدات
وشرح صحيح مسلم في ثلاث مجلدات
ولخص تخريج "إحياء علوم الدين " في مجلد
وشرح الأربعين في مجلد
و"سير نساء السلف العابدات " في مجلد
و"قواعد الفقه" في مجلدين
وشرح أسماء الله الحسنى" في مجلد
كان متينا في التدين وراغبًا في التقشف والعزلة وكثُر مع ذلك اتباعه حتى امتنع عن مكالمة الناس وله في الزهد والتقلل حكايات تضاهي ما نقل عن الأقدمين، حضر جنازته عالم لا يحصيهم إلا الله سبحانه وتعالى (2)
*****
سبط ابن الشهيد:
تاج الدين أبو حامد محمد بن بهادر بن عبد الله يعرف بسبط ابن الشهيد (ت: 831)
فقيه نحوي قرأ البقاعي عليه النحو والتصريف والفقه والمعقولات ويقول عنه لم يحصل لي بأحد من النفع ما حصل لي منه كان يعرف علوما كثيرة ويحلُّ أي كتاب يقرا عليه فصيح العبارة حسن التقرير صحيح الذهن دينا شديد الانجماع عن الناس (3)
*****
الشمس بن الجزري:
أبو الخير محمد بن محمد بن محمد بن محمد بن محمد بن على بن يوسف الجزريّ نسبة إلى جزيرة"ابن عمر" (751-833هـ)
--------------------------------------------
শরাফ-এর কিছু রচনা রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে: আত-তাতাম্মাহ ফিল কিরাআত আস-সালাসাহ আল-আইম্মাহ (১)
*****
তাকি আল-হিসনি:
আবু বকর বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল মুমিন বিন হারিয বিন মুআল্লা বিন মুসা আল-জাফরি আল-হুসাইনি আদ-দিমাশকি আশ-শাফিয়ি, যার বংশধারা আমাদের নেতা হুসাইন (রাযিয়াল্লাহু আনহু) পর্যন্ত পৌঁছেছে (৭৪২-৮২৯)
তিনি ছিলেন একজন মুহাদ্দিস ও ফকিহ, আশআরি মাজহাবের প্রতি অত্যন্ত কট্টর ছিলেন। তিনি "ইবনে তাইমিয়্যাহ" (রাযিয়াল্লাহু আনহুম)-এর কঠোর সমালোচনা করেছেন এবং এর ফলে অনেক ফিতনার সূত্রপাত হয়েছিল। তিনি ছিলেন একজন যাহেদ (দুনিয়াবিমুখ), তিনি যা বিশ্বাস করতেন সে অনুযায়ী সৎ কাজের আদেশ এবং অসৎ কাজের নিষেধের ওপর অটল থাকতেন।
তার অনেকগুলো গ্রন্থ রয়েছে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য:
সূরা আনআম পর্যন্ত আল-কুরআনুল কারিমের তাফসির
পাঁচ খণ্ডে শারহুত তানবিহ
তিন খণ্ডে শারহু সহিহ মুসলিম
এক খণ্ডে "ইহয়াউ উলুমিদ্দিন"-এর তাখরিজের সংক্ষেপণ
এক খণ্ডে শারহুল আরবাঈন
এক খণ্ডে "সিয়ারু নিসাউস সালাফ আল-আবিদাতি"
দুই খণ্ডে "কাওয়াইদুল ফিকহ"
এক খণ্ডে "শারহু আসমাউল্লাহিল হুসনা"
তিনি দ্বীনদারির ক্ষেত্রে অত্যন্ত দৃঢ় ছিলেন এবং কৃচ্ছ্রসাধন ও নির্জনবাস পছন্দ করতেন। তা সত্ত্বেও তার অনুসারীর সংখ্যা অনেক বৃদ্ধি পেয়েছিল, এমনকি তিনি মানুষের সাথে কথা বলাও বন্ধ করে দিয়েছিলেন। যুহদ (দুনিয়াবিমুখতা) এবং স্বল্পে তুষ্টির ক্ষেত্রে তার এমন সব কাহিনী রয়েছে যা প্রাচীনদের থেকে বর্ণিত কাহিনীর সাথে তুলনীয়। তার জানাজায় এতো বিশাল সংখ্যক মানুষ উপস্থিত হয়েছিল যাদের গণনা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা ছাড়া আর কেউ জানে না (২)।
*****
সিবত ইবনুল শহিদ:
তাজউদ্দীন আবু হামিদ মুহাম্মদ বিন বাহাদুর বিন আব্দুল্লাহ, যিনি সিবত ইবনুল শহিদ নামে পরিচিত (মৃত্যু: ৮৩১ হিজরি)
তিনি ছিলেন একজন ফকিহ ও ব্যাকরণবিদ। আল-বিকায়ি তার কাছে নাহু (ব্যাকরণ), তাসরিফ (রূপান্তর), ফিকহ এবং আকলি বিষয়সমূহ পড়েছেন। আল-বিকায়ি তার সম্পর্কে বলেন: তার থেকে আমি যে পরিমাণ উপকৃত হয়েছি তা অন্য কারো থেকে পাইনি। তিনি অনেক শাস্ত্র জানতেন এবং তার সামনে পাঠ করা যেকোনো কিতাবের জট তিনি খুলে দিতে পারতেন। তিনি ছিলেন প্রাঞ্জল ভাষী, চমৎকার উপস্থাপক, প্রখর মেধাবী, ধর্মপ্রাণ এবং লোকালয় থেকে অত্যন্ত বিচ্ছিন্ন (৩)।
*****
আশ-শামস বিন আল-জাযারি:
আবুল খায়ের মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন আলী বিন ইউসুফ আল-জাযারি, "ইবনে উমর" দ্বীপের অধিবাসী হিসেবে তাকে জাযারি বলা হয় (৭৫১-৮৩৩ হিজরি)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইমামুল বিক্বায়ি ওয়া মিনহাজুহু ফী তাবীলি বালাগাতিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ২৯)
قرأ على "ابن السلار" و " إبراهيم الحموي" و " ابن اللبان" وفي مصر على "أبي بكربن الجندي" و"أبي عبد الله بن الصائغ" و "ابن أميلة" و"ابن الشرجي"
كانت عنايته القصوى بالقراءات، وله في الحديث والفقه والأصول والبلاغة، وقد أجازه المحدث المؤرخ "ابن كثير" و"البلقيني"
تولى التدريس بالجامع الأموي" وقضاء الشام ونزل بلاد الروم فدرس بها القراءات وطوف ببلدان كثيرة كان يعلم فيها القراءات العشر فكثر تلاميذه.
له من التصانيف
كتاب" النشر في القراءات العشر"
و"الدرة المضية في القراءات الثلاث المرضية"
و"تحبير التيسير في القراءات العشر"
و"الاهتداء إلى معرفة الوقف والابتداء"
و"الظرائف في رسم المصاحف"
و" غاية النهايات في أسماء رجال القراءات"
و" نهاية الدرايات في أسماء رجال القراءات"
وله" الحصن الحصين من كلام سيد المرسلين"
و"الهداية في فنون الحديث"
و"المسند الأحمد فيما يتعلق بمسند أحمد"
و"القصد الأحمد في رجال أحمد"
و"المصعد الأحمد في ختم مسانيد أحمد"
و"اسنى المطالب في مناقب الإمام على بن أبي طالب " (1)
*****
الجمال البرماوي:
عبد الله بن محب الدين خليل بن فرح بن سعيد القدسي (760- 833)
قرا على "ابن الشريشي" و" ابن الجابي" وغيرهما ودخل مصر وجاور بمكة مدة طويلة ثم قدم الشام
يقول "ابن حجر" في " إنباء الغمر": " وكان شديد الحط على الحنابلة وجرت له معهم وقائع" 0
يقول عنه البقاعي في حاشية له على نسخة مخطوطة من كتاب شيخه ابن حجر": " إنباء الغمر":
" هذا شيخنا الربانيّ الصوفيّ العارف المعروف بالقلعي، كان إماما عارفا مسلكا مربيا قدوة ذا قدم راسخ في علم الباطن، مشاركا في الفقه والنحو مشاركة جيدة أستاذا في علم الكلام ذا حافظة قوية مفتوحا عليه في الكلام في الوعظ
--------------------------------------------
তিনি 'ইবনুল সাল্লার', 'ইবরাহিম আল-হামাউয়ি' এবং 'ইবনুল লাব্বান'-এর নিকট পাঠ গ্রহণ করেছেন। আর মিশরে তিনি 'আবু বকর ইবনুল জুনদি', 'আবু আব্দুল্লাহ ইবনুল সায়িগ', 'ইবনু উমাইলা' এবং 'ইবনুশ শারজি'-এর নিকট পাঠ গ্রহণ করেছেন।
তার সর্বোচ্চ মনোযোগ ছিল ক্বিরাআত শাস্ত্রের প্রতি। এ ছাড়া হাদীস, ফিকহ, উসুল এবং অলঙ্কারশাস্ত্রেও (বালাগাত) তার অবদান রয়েছে। মুহাদ্দিস ও ঐতিহাসিক 'ইবনে কাসীর' এবং 'আল-বুলকিনী' তাকে জ্ঞান অর্জনের অনুমতি (ইজাজত) প্রদান করেছেন।
তিনি জামে উমউয়িতে অধ্যাপনা এবং শামের বিচারপতির (কাজী) দায়িত্ব পালন করেন। তিনি রোম (আনাতোলিয়া) অঞ্চলে গমন করেন এবং সেখানে ক্বিরাআত শিক্ষা দেন। তিনি বহু দেশ ভ্রমণ করেন যেখানে তিনি দশ ক্বিরাআত শিক্ষা দিতেন, ফলে তার ছাত্রসংখ্যা অনেক বৃদ্ধি পায়।
তার রচিত গ্রন্থাবলির মধ্যে রয়েছে:
'আন-নাশরু ফিল ক্বিরাআতিল আশর' কিতাব
এবং 'আদ-দুররাতুল মুদিয়্যাহ ফিল ক্বিরাআতিল সালাসিল মারদিয়্যাহ'
এবং 'তাহবীরুত তাইসীর ফিল ক্বিরাআতিল আশর'
এবং 'আল-ইহতিদা ইলা মা'রিফাতিল ওয়াকফি ওয়াল ইবতিদা'
এবং 'আয-যারাফ ফি রাসমিল মাসাহিফ'
এবং 'গায়াতুন নিহায়াত ফি আসমায়ি রিজালিল ক্বিরাআত'
এবং 'নিহায়াতুদ দিরায়াত ফি আসমায়ি রিজালিল ক্বিরাআত'
তার আরও আছে 'আল-হিসনুল হাসীন মিন কালামি সায়্যিদিল মুরসালীন'
এবং 'আল-হিদায়াহ ফি ফুনুনিল হাদীস'
এবং 'আল-মুসনাদুল আহমাদ ফিমা ইয়াতা'আল্লাকু বি-মুসনাদি আহমাদ'
এবং 'আল-কাসদুল আহমাদ ফি রিজালি আহমাদ'
এবং 'আল-মাস'আদুল আহমাদ ফি খাতমি মাসানিদি আহমাদ'
এবং 'আসনাম মাতালিব ফি মানাকিবিল ইমাম আলী বিন আবি তালিব' (১)
*****
আল-জামাল আল-বারমাওয়ি:
আব্দুল্লাহ বিন মুহিব্বুদ্দীন খলীল বিন ফারাহ বিন সাঈদ আল-কুদসি (৭৬০-৮৩৩)
তিনি 'ইবনুশ শারীশি', 'ইবনুল জাবি' এবং অন্যদের নিকট পাঠ গ্রহণ করেছেন। তিনি মিশরে প্রবেশ করেন এবং দীর্ঘকাল মক্কায় অবস্থান করেন, অতঃপর শামে আগমন করেন।
ইবনে হাজার 'ইনবাউল গুমর' গ্রন্থে বলেন: "তিনি হানবালিদের কঠোর সমালোচক ছিলেন এবং তাদের সাথে তার অনেক ঘটনা ঘটেছিল।"
আল-বিকাঈ তার উস্তাদ ইবনে হাজারের গ্রন্থ 'ইনবাউল গুমর'-এর একটি পাণ্ডুলিপির টীকায় তার সম্পর্কে বলেন:
"তিনি আমাদের রব্বানি শায়খ, সূফী এবং আধ্যাত্মিক সাধক, যিনি আল-কালা'য়ি নামে পরিচিত। তিনি ছিলেন একজন ইমাম, আরেফ, আধ্যাত্মিক পথপ্রদর্শক এবং আদর্শ পুরুষ। বাতেনি ইলমে তার গভীর পদচারণা ছিল। ফিকহ ও নাহু (ব্যাকরণ) শাস্ত্রেও তার চমৎকার দখল ছিল। তিনি ইলমুল কালামের উস্তাদ এবং প্রবল স্মৃতিশক্তির অধিকারী ছিলেন। ওয়াজ-নসীহতে তার জন্য বিশেষ দ্বার উন্মোচিত হয়েছিল।"
--------------------------------------------