(খণ্ড: ১)
আসমাউল মুগাতালীন মিনাল আশরাফ ওয়া আসমাউ মান ক্বুতিলা মিনাশ শুয়ারা - যিমনা নাওয়াদিরিল মাখতুদাত
(পৃষ্ঠা: -)
أسماء المغتالين من الأشراف وأسماء من قتل من الشعراء - ضمن نوادر المخطوطات القسم: التراجم والطبقات
الكتاب: كتاب أسماء المغتالين من الأشراف فى الجاهلية والإسلام، وأسماء من قتل من الشعراء، لمحمد بن حبيب
[مطبوع ضمن كتاب «نوادر المخطوطات»]
المؤلف: محمد بن حبيب
تحقيق: عبد السلام هارون
الناشر: شركة مكتبة ومطبعة مصطفى البابي الحلبي وأولاده بمصر
الطبعة: الثانية، 1393 هـ - 1972 م
عدد الصفحات: 170
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 5 محرم 1444
জাহিলিয়াত ও ইসলামি যুগে গুপ্তহত্যার শিকার হওয়া সম্ভ্রান্ত ব্যক্তিদের এবং নিহত কবিদের নামের তালিকা - বিরল পাণ্ডুলিপি সংগ্রহের অন্তর্ভুক্ত বিভাগ: জীবনী ও ইতিহাস
বই: জাহিলিয়াত ও ইসলামি যুগে গুপ্তহত্যার শিকার হওয়া সম্ভ্রান্ত ব্যক্তিদের এবং নিহত কবিদের নামের তালিকা বিষয়ক গ্রন্থ, মুহাম্মাদ ইবনে হাবিব রচিত
[«বিরল পাণ্ডুলিপি সংগ্রহ» গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত হিসেবে মুদ্রিত]
লেখক: মুহাম্মাদ ইবনে হাবিব
সম্পাদনা: আবদুস সালাম হারুন
প্রকাশক: মোস্তফা আল-বাবি আল-হালাবি অ্যান্ড সন্স লাইব্রেরি ও প্রিন্টিং কোম্পানি, মিশর
সংস্করণ: দ্বিতীয়, ১৩৯৩ হিজরি - ১৯৭২ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৭০
[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৫ মহররম ১৪৪৪
(খণ্ড: ٢)
আসমাউল মুগাতালীন মিনাল আশরাফ ওয়া আসমাউ মান ক্বুতিলা মিনাশ শুয়ারা - যিমনা নাওয়াদিরিল মাখতুদাত
(পৃষ্ঠা: ١٠٥)
كتاب أسماء المغتالين من الأشراف في الجاهلية والإسلام، وأسماء من قتل من الشعراء لمحمد بن حبيب
জাহিলিয়াত ও ইসলাম যুগে গুপ্তহত্যার শিকার অভিজাত ব্যক্তিবর্গের নাম এবং নিহত কবিদের নামের কিতাব — মুহাম্মাদ ইবনে হাবীব।
(খণ্ড: ٢)
আসমাউল মুগাতালীন মিনাল আশরাফ ওয়া আসমাউ মান ক্বুতিলা মিনাশ শুয়ারা - যিমনা নাওয়াদিরিল মাখতুদাত
(পৃষ্ঠা: ١٠٦)
مقدمة كتاب أسماء المغتالين من الأشراف في الجاهلية والإسلاموكلمة «المغتالين»، إنما تعنى الذين اغتيلوا، أي لقوا مصارعهم بأيدي غيرهم على صور شتى، من الطعن، والضرب، والخلق، ودس السموم، وغير ذلك من
أسباب الغيلة.وقد استرعى هذا الكتاب نظري في أول الشباب، واستنسخت منه نسخة كنت أعنى بالرجوع إليها بين الفينة والأخرى، لتحقيق الأخبار النادرة، والمشكلات التي كانت تعترض في أثناء الدرس، وكنت أجد منذ ذلك العهد القديم رغبة ملحة في أن أقوم بنشر هذا الكتاب، فلا أجد فرصة النشر سانحة، إلى أن هديت إلى هذه الفكرة: فكرة نشر النوادر الصغيرة، فجعلت هذا الكتاب في ثبت الكتب الملائمة.
اسم الكتاب:هذه النسخة التي تأدت إلينا عبر الأجيال، أراها مجموعة من كتب محمد بن حبيب، وليست كتابا واحدا. وهذه صورة ما كتب على صدرها:
«كتاب أسماء المغتالين من الأشراف في الجاهلية والإسلام. وأسماء من قتل من الشعراء، ومن غلبت كنيته على اسمه. وكنى الشعراء وألقابهم».
ولكن النسخة في باطنها تحمل غير الشقين الأولين - أي بدل «من غلبت كنيته على اسمه، وكنى الشعراء وألقابهم» - كتاب «كنى الشعراء ومن غلبت كنيته على اسمه» وكتاب «ألقاب الشعراء ومن يعرف منهم بأمه».
জাহেলিয়াত ও ইসলামি যুগে গুপ্তহত্যার শিকার হওয়া অভিজাত ব্যক্তিদের নাম সংবলিত কিতাবের ভূমিকাআর 'মুগতাালীন' (গুপ্তহত্যার শিকার) শব্দটি দ্বারা মূলত তাদেরই বোঝানো হয়েছে যারা গুপ্তহত্যার শিকার হয়েছেন, অর্থাৎ যারা অন্যের হাতে বিভিন্ন উপায়ে মৃত্যু বরণ করেছেন; যেমন—ছুরিকাঘাত, প্রহার, শ্বাসরোধ, বিষ প্রয়োগ এবং এ জাতীয় অন্যান্য উপায়ে।
গুপ্তহত্যার কারণসমূহ।যৌবনের প্রারম্ভেই এই কিতাবটি আমার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল এবং আমি এর একটি অনুলিপি তৈরি করে রেখেছিলাম, যা দুর্লভ তথ্যাদি যাচাই এবং পড়াশোনার সময় উদ্ভূত জটিলতাগুলো সমাধানের জন্য মাঝেমধ্যেই ব্যবহারের প্রয়োজন পড়ত। সেই প্রাচীনকাল থেকেই আমার মধ্যে এই কিতাবটি প্রকাশ করার প্রবল আকাঙ্ক্ষা ছিল, কিন্তু প্রকাশের কোনো উপযুক্ত সুযোগ পাচ্ছিলাম না। শেষ পর্যন্ত যখন আমার মাথায় ক্ষুদ্র ও দুর্লভ রচনাবলি প্রকাশের চিন্তা এল, তখন আমি এই কিতাবটিকেও সেই তালিকার অন্তর্ভুক্ত করলাম।
কিতাবের নাম:প্রজন্মের পর প্রজন্ম পেরিয়ে আমাদের নিকট পৌঁছানো এই পাণ্ডুলিপিটিকে আমি মুহাম্মাদ ইবনে হাবিবের একাধিক কিতাবের সংকলন হিসেবে মনে করি, এটি কোনো একক কিতাব নয়। এর প্রচ্ছদে যা লেখা আছে তা হলো:
«জাহেলিয়াত ও ইসলামি যুগে গুপ্তহত্যার শিকার হওয়া অভিজাত ব্যক্তিদের নামের কিতাব। এবং নিহত কবিদের নাম, আর যাদের উপনাম তাদের আসল নামের ওপর প্রাধান্য পেয়েছে তাদের নাম। এবং কবিদের উপনাম ও উপাধি।»
কিন্তু পাণ্ডুলিপিটির অভ্যন্তরীণ অংশে প্রথম দুই অংশ ব্যতীত ভিন্ন বিষয় রয়েছে—অর্থাৎ, 'যাদের উপনাম তাদের আসল নামের ওপর প্রাধান্য পেয়েছে এবং কবিদের উপনাম ও উপাধি' এর পরিবর্তে রয়েছে—'কবিদের উপনাম এবং যাদের উপনাম তাদের আসল নামের ওপর প্রাধান্য পেয়েছে' বিষয়ক কিতাব এবং 'কবিদের উপাধি ও যারা মায়ের পরিচয়ে পরিচিত তাদের' বিষয়ক কিতাব।
(খণ্ড: ٢)
আসমাউল মুগাতালীন মিনাল আশরাফ ওয়া আসমাউ মান ক্বুতিলা মিনাশ শুয়ারা - যিমনা নাওয়াদিরিল মাখতুদাত
(পৃষ্ঠা: ١٠٧)
وعلى هذا الضوء الأخير نستطيع أن نعرف أسماء كتب ثلاثة لابن حبيب.
1 - أما الأول فهو ذو شقين: أحدهما «أسماء المغتالين من الأشراف في الجاهلية والإسلام»، والآخر «أسماء من قتل من الشعراء».
2 - والثاني «كنى الشعراء ومن غلبت كنيته على اسمه».
3 - والثالث «كتاب ألقاب الشعراء».
الكتاب الأول:أما الكتاب الأول فهو الذي عرف قديما باسم «مقاتل الفرسان» ذكره ابن النديم
(1) المتوفى سنة 385 أي بعد وفاة ابن حبيب بمائة وأربعين سنة. وتبعه ياقوت ناقلا عنه
(2). وبهذه التسمية أثبته صاحب كشف الظنون
(3)، وقال:
مقاتل الفرسان لأبى على إسماعيل بن قاسم القالى المتوفى سنة 356، ولأبى عبيدة معمر بن المثنى البصري النحوي، وله مقاتل الأشراف وتوفى سنة 211. ولأبى جعفر محمد بن حبيب البغدادي المتوفى سنة 245».
أما ابن حبيب نفسه فكلامه يشعر أن كتابه ذو شقين، إذ يذكر عند الكلام على الشعراء ص 82 من المصورة «عدى بن زيد العبادي»، ويقول:
«وقد مرّ حديثه في المغتالين
(4)».
وكذلك في ص 88 «سويد بن صامت الأوسي»، قال: «وقد كتبناه في أشراف المغتالين».
--------------------------------------------
এই শেষোক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে আমরা ইবনে হাবিবের তিনটি বইয়ের নাম জানতে পারি।
১ - প্রথমটি দুই অংশ বিশিষ্ট: একটি হলো ‘জাহিলিয়াত ও ইসলাম যুগে গুপ্তহত্যার শিকার অভিজাত ব্যক্তিদের নাম’, এবং অন্যটি হলো ‘নিহত কবিদের নাম’।
২ - দ্বিতীয়টি হলো ‘কবিদের উপনাম এবং যাদের উপনাম তাদের নামের ওপর প্রাধান্য লাভ করেছে’।
৩ - এবং তৃতীয়টি হলো ‘কবিদের উপাধির কিতাব’।
প্রথম কিতাব:প্রথম কিতাবটি প্রাচীনকালে ‘মুকাতিলুল ফুরসান’ নামে পরিচিত ছিল, যা ৩৮৫ হিজরিতে মৃত্যুবরণকারী ইবনুন্ নাদিম উল্লেখ করেছেন; অর্থাৎ ইবনে হাবিবের মৃত্যুর একশত চল্লিশ বছর পর। ইয়াকুত তার উদ্ধৃতি দিয়ে তাকে অনুসরণ করেছেন। ‘কাশফুজ্জুনুন’-এর লেখক এই নামেই একে সাব্যস্ত করেছেন এবং বলেছেন:
‘মুকাতিলুল ফুরসান’ হলো ৩৫৬ হিজরিতে মৃত্যুবরণকারী আবু আলী ইসমাইল ইবনে কাসিম আল-কালীর, এবং আবু উবাইদাহ মা’মার ইবনুল মুসান্না আল-বাসরি আন-নাহবীর (যিনি ২১১ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেছেন এবং তার ‘মুকাতিলুল আশরাফ’ রয়েছে), এবং ২৪৫ হিজরিতে মৃত্যুবরণকারী আবু জাফর মুহাম্মদ ইবনে হাবিব আল-বাগদাদীর কিতাব।
স্বয়ং ইবনে হাবিবের বক্তব্য থেকে প্রতীয়মান হয় যে তার কিতাবটি দুই অংশ বিশিষ্ট, কারণ তিনি পাণ্ডুলিপির ৮২ পৃষ্ঠায় কবিদের আলোচনার সময় ‘আদী ইবনে যায়েদ আল-ইবাদি’ এর কথা উল্লেখ করে বলেন:
“তার আলোচনা ‘আল-মুগতালিন’ (গুপ্তহত্যার শিকার ব্যক্তিগণ) অংশে অতিক্রান্ত হয়েছে।”
একইভাবে ৮৮ পৃষ্ঠায় ‘সুওয়াইদ ইবনে সামিত আল-আওসি’ সম্পর্কে তিনি বলেছেন: “আমরা তাকে ‘আশরাফুল মুগতালিন’ (গুপ্তহত্যার শিকার অভিজাত ব্যক্তিগণ) অংশে লিখেছি।”
--------------------------------------------
(খণ্ড: ٢)
আসমাউল মুগাতালীন মিনাল আশরাফ ওয়া আসমাউ মান ক্বুতিলা মিনাশ শুয়ারা - যিমনা নাওয়াদিরিল মাখতুদাত
(পৃষ্ঠা: ١٠٨)
وفي ص 90 «كعب بن الأشرف اليهودي» قال «وقد كتبناه في المغتالين
(1)».
وكذلك «خالد بن جعفر بن كلاب» في ص 94 من المصورة، يقول في شأنه: «وقد كتبت سبب قتله في المغتالين
(2)».
وكذلك «سالم بن دارة» ص 111 يقول فيه «وقد مرّ حديثه في المغتالين
(3)». وكلمة «مر» تدلّ على وحدة الشقين وعلى ذلك فأصدق تسمية له هي «أسماء المغتالين من الأشراف في الجاهلية والإسلام، وأسماء من قتل من الشعراء».
وأما صاحب الخزانة فيسميه تسمية إجمالية «كتاب المقتولين غيلة
(4)» ويسميه مرة أخرى «كتاب أسماء المغتالين من الأشراف في الجاهلية والإسلام
(5)» وثالثة «كتاب المغتالين من الأشراف في الجاهلية والإسلام
(6)» ورابعة «كتاب المغتالين
(7)».
وهذا يدل على أن صاحب الخزانة لا يعبر بدقة عن اسم الكتاب، شأن كثير من العلماء الذين يذكرون الكتب بأقرب شهرة لها.
والبغدادي مع ذلك يعرف الشق المانى من الكتاب ويسميه «كتاب من قتل من الشعراء» وينقل عنه نصوصا ثلاثة، وهي مقتل سحيم
(8)، وعبيد بن الأبرص
(9)، وبشر بن أبي خازم
(10).
--------------------------------------------
এবং ৯০ পৃষ্ঠায় «ইহুদি কা’ব বিন আল-আশরাফ» প্রসঙ্গে বলা হয়েছে «আমরা তাকে আল-মুগতালীন (গুপ্তহত্যার শিকার ব্যক্তিগণ) এর মধ্যে লিপিবদ্ধ করেছি
(১)»।
অনুরূপভাবে চিত্রিত কপির ৯৪ পৃষ্ঠায় «খালিদ বিন জাফর বিন কিলাব» সম্পর্কে তিনি তার অবস্থা প্রসঙ্গে বলেছেন: «আমি তার হত্যার কারণ আল-মুগতালীন গ্রন্থে লিখেছি
(২)»।
একইভাবে «সালিম বিন দারা» সম্পর্কে ১১১ পৃষ্ঠায় তিনি বলেন «আল-মুগতালীন গ্রন্থে তার আলোচনা অতিক্রান্ত হয়েছে
(৩)»। আর «অতিক্রান্ত হয়েছে» শব্দটি কিতাবের দুটি অংশের অভিন্নতাকে নির্দেশ করে এবং সেই অনুযায়ী এর সবচেয়ে সঠিক নামকরণ হলো «জাহেলিয়াত ও ইসলাম যুগে সম্ভ্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে যারা গুপ্তহত্যার শিকার হয়েছেন তাদের নাম এবং নিহত কবিদের নাম»।
পক্ষান্তরে আল-খিজানা গ্রন্থের রচয়িতা একে সংক্ষিপ্তভাবে «কিতাবুল মাকতুলিনা গিলাতান
(৪)» নামে অভিহিত করেছেন এবং অন্য জায়গায় একে «জাহেলিয়াত ও ইসলাম যুগে গুপ্তহত্যার শিকার সম্ভ্রান্ত ব্যক্তিদের নামের কিতাব
(৫)» হিসেবে উল্লেখ করেছেন, আর তৃতীয়বার «জাহেলিয়াত ও ইসলাম যুগে গুপ্তহত্যার শিকার সম্ভ্রান্ত ব্যক্তিদের কিতাব
(৬)» এবং চতুর্থবার «আল-মুগতালীন কিতাব
(৭)» বলেছেন।
এটি প্রমাণ করে যে, আল-খিজানা গ্রন্থের রচয়িতা কিতাবটির নাম নির্ভুলভাবে ব্যক্ত করেননি, যা অনেক আলেমের বৈশিষ্ট্য—তাঁরা কিতাবগুলোকে তাদের সর্বাধিক পরিচিত নামে উল্লেখ করেন।
তা সত্ত্বেও আল-বাগদাদী কিতাবটির দ্বিতীয় অংশ সম্পর্কে অবগত এবং তিনি একে «নিহত কবিদের কিতাব» নামে অভিহিত করেন এবং তা থেকে তিনটি পাঠ উদ্ধৃত করেন, যেগুলো হলো সুহাইম
(৮), উবাইদ ইবনুল আবরাস
(৯) এবং বিশর ইবনে আবি খাযিম
(১০) এর হত্যাকাণ্ড।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ٢)
আসমাউল মুগাতালীন মিনাল আশরাফ ওয়া আসমাউ মান ক্বুতিলা মিনাশ শুয়ারা - যিমনা নাওয়াদিরিল মাখতুদাত
(পৃষ্ঠা: ١٠٩)
الكتاب الثاني:وأما الكتاب الثاني فهو كتاب «كنى الشعراء ومن غلبت كنيته على اسمه» والنسخة تسجل اسم هذا الكتاب بهذا التمام في ص 120 من صفحات المصورة.
ولا ريب أن هذا كتاب مستقل، ذكره ابن النديم
(1) باسم «كنى الشعراء» وتبعه ياقوت
(2)، وتصحف في النسخة باسم «كنز الشعراء».
أما صاحب كشف الظنون
(3) فيسميه «أكنى الشعراء»، ويذكره في حرف الهمزة! وهذا زلة وسهو منه.
الكتاب الثالث:والكتاب الثالث كتاب «ألقاب الشعراء ومن يعرف منهم بأمه».
ولم يذكره أحد من المترجمين بهذه التسمية، ولكن ذكروا «كتاب من سمى ببيت قاله» ذكره ابن النديم
(4) وتبعه ياقوت
(5). ويظهر أن هذه التسمية الأخيرة تسمية من تسميات العلماء مرادفة للأولى ولا تتعارض معها، إذ أن الذي سمى ببيت قاله هو عين الذي لقب ببيت قاله، فهو ضرب خاص من الألقاب داخل في نطاقها.
والمتتبع لهذا الكتاب يجده مطابقا لترجمته مضافا إليه في أواخره تعليلات لمن سمى ببيت قاله. وهذا لا يخرجه عن عنوانه «ألقاب الشعراء».
--------------------------------------------
দ্বিতীয় গ্রন্থ:আর দ্বিতীয় গ্রন্থটি হলো ‘কবিদের উপনাম এবং যাদের উপনাম তাদের নামের ওপর প্রাধান্য পেয়েছে’ নামক কিতাব। পাণ্ডুলিপির ১২০ নম্বর পৃষ্ঠায় এই গ্রন্থটির নাম এই পূর্ণ রূপেই লিপিবদ্ধ রয়েছে।
এতে কোনো সন্দেহ নেই যে এটি একটি স্বতন্ত্র গ্রন্থ। ইবনুন নাদীম একে ‘কবিদের উপনাম’ নামে উল্লেখ করেছেন এবং ইয়াকুত তাকে অনুসরণ করেছেন। তবে পাণ্ডুলিপিতে এটি ‘কবিদের ভাণ্ডার’ নামে ভুলভাবে লিপিবদ্ধ হয়েছে।
‘কাশফুন জুনুন’-এর লেখক একে ‘কবিদের উপনামসমূহ’ নামে অভিহিত করেছেন এবং ‘হামযা’ বর্ণের অধীনে এর উল্লেখ করেছেন! এটি তাঁর একটি ভুল ও অসাবধানতা।
তৃতীয় গ্রন্থ:আর তৃতীয় গ্রন্থটি হলো ‘কবিদের উপাধি এবং তাদের মধ্যে যারা মায়ের পরিচয়ে পরিচিত’ নামক কিতাব।
জীবনীকারদের মধ্যে কেউ একে এই নামে উল্লেখ করেননি, তবে তাঁরা ‘তার বলা কোনো কাব্য-চরণের মাধ্যমে যার নামকরণ করা হয়েছে’ নামক কিতাবের কথা উল্লেখ করেছেন। ইবনুন নাদীম এটি উল্লেখ করেছেন এবং ইয়াকুত তাকে অনুসরণ করেছেন। প্রতীয়মান হয় যে, শেষোক্ত এই নামটি পণ্ডিতদের দেওয়া একটি নাম যা প্রথমটির সমার্থক এবং তার সাথে সাংঘর্ষিক নয়। কারণ যার নামকরণ তার বলা কোনো কাব্য-চরণের মাধ্যমে হয়েছে, সে মূলত ওই চরণের মাধ্যমেই উপাধিপ্রাপ্ত হয়েছে; সুতরাং এটি উপাধিরই একটি বিশেষ প্রকার যা এর অন্তর্ভুক্ত।
এই গ্রন্থটি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায় যে, এটি এর বিষয়বস্তুর সাথে সংগতিপূর্ণ এবং এর শেষের দিকে যাদের নাম তাদের বলা কাব্য-চরণের মাধ্যমে রাখা হয়েছে, তাদের সম্পর্কে ব্যাখ্যা যোগ করা হয়েছে। এটি একে ‘কবিদের উপাধি’ শিরোনামের বাইরে নিয়ে যায় না।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ٢)
আসমাউল মুগাতালীন মিনাল আশরাফ ওয়া আসমাউ মান ক্বুতিলা মিনাশ শুয়ারা - যিমনা নাওয়াদিরিল মাখতুদাত
(পৃষ্ঠা: ١١٠)
إفراد الكتاب الأول:بهذه الاعتبارات جميعا أفردت الكتاب الأول بالنشر، عازما بعون اللّه أن أنشر الكتابين الآخرين فيما أستقبل إن شاء اللّه.
مخطوطات الكتاب:1 - الواقع أنها مخطوطة واحدة، لعلها الفريدة إذ لم نعثر بعد على شقيقة لها، وهي مخطوطة مكتبة عاشر بتركيا، المودعة فيها برقم 872 ومنها صورة شمسية محفوظة بدار الكتب المصرية برقم 2606 تاريخ، جاء في خاتمتها:
«تم الكتاب بحمد الله وعونه بعد تعب شديد في كتبه، إذ كان أصله مكتوباً بالكوفى بخط محرف، على يد الفقير إلى رحمة الله تعالى يوسف بن محمد الشهير بابن الوكيل الملوى غفر الله له ولوالديه ولمشايخه ولأقاربه، ليلة الثلاثاء المسفر صباحها عن ثامن عشر جمادى الأولى من شهور سنة 1114، ألف ومائة وأربعة عشر (وكذا) هجرية».
وعبارة «كان أصله مكتوبا بالكوفي» تدلنا على قدم النسخة التي اعتمد عليها الناسخ.
والنسخة في 140 صفحة متوسطة مكتوبة بخط النسخ المعتاد الخالي من الضبط، ومع ما بها من تحريف شديد حاول ناسخها أن يكون دقيقا مقاربا للأصل القديم الذي نقل منه.
وقد رمزت لهذه النسخة بالرمز (ا)، وأثبت (أرقام صفحاتها) على جوانب نشرتى هذه.
2 - وقد استنسخ العلامة المشنقيطى
(1) من هذا الأصل نسخة له تتفق معها
--------------------------------------------
প্রথম গ্রন্থটিকে পৃথক করা:এই সকল বিবেচনায় আমি প্রথম গ্রন্থটিকে এককভাবে প্রকাশ করার জন্য পৃথক করেছি এবং আল্লাহর সাহায্যে ভবিষ্যতে অবশিষ্ট অন্য দুটি গ্রন্থ প্রকাশের সংকল্প রেখেছি, যদি আল্লাহ চান।
গ্রন্থের পাণ্ডুলিপিসমূহ:১ - বাস্তবতা হলো এটি একটিমাত্র পাণ্ডুলিপি, সম্ভবত এটিই একমাত্র অনুলিপি যেহেতু আমরা এখন পর্যন্ত এর দ্বিতীয় কোনো কপির সন্ধান পাইনি। এটি তুরস্কের 'আশির' লাইব্রেরির পাণ্ডুলিপি, যেখানে এটি ৮৭২ নম্বরে সংরক্ষিত রয়েছে। এর একটি আলোকচিত্র মিসরের 'দারুল কুতুব'-এ '২৬০৬ ইতিহাস' নম্বরে সংরক্ষিত আছে। এর সমাপ্তি অংশে বর্ণিত হয়েছে:
«আল্লাহর প্রশংসা ও তাঁর সাহায্যের মাধ্যমে গ্রন্থটি লিপিবদ্ধ করার কঠোর পরিশ্রমের পর সমাপ্ত হলো। এর মূল কপিটি বিকৃত কুফি লিপিতে লেখা ছিল। এটি লিপিবদ্ধ করেছেন মহান আল্লাহর রহমতের ভিখারি ইউসুফ বিন মুহাম্মাদ, যিনি ইবনুল ওয়াকিল আল-মাল্লাওয়ী নামে পরিচিত—আল্লাহ তাকে, তার পিতামাতাকে, তার শিক্ষকগণকে এবং তার আত্মীয়-স্বজনকে ক্ষমা করুন। এটি সম্পন্ন হয়েছে ১১১৪ হিজরি সনের জুমাদাল উলা মাসের আঠারো তারিখের মঙ্গলবার রাতে, যার প্রভাতে আঠারো তারিখ শুরু হয়েছিল।»
এবং «এর মূল কপিটি কুফি লিপিতে লেখা ছিল»—এই বাক্যটি আমাদের সেই কপির প্রাচীনত্ব সম্পর্কে অবহিত করে যার ওপর লিপিকার নির্ভর করেছিলেন।
পাণ্ডুলিপিটি ১৪০ পৃষ্ঠার মাঝারি আকারের, যা সাধারণ নাসখ লিপিতে স্বরচিহ্ন (হরকত) ছাড়াই লেখা। এতে প্রচণ্ড পাঠগত বিকৃতি থাকা সত্ত্বেও লিপিকার যথাসম্ভব নিখুঁত থাকার এবং প্রাচীন মূল কপির অনুগামী হওয়ার চেষ্টা করেছেন যেখান থেকে তিনি এটি নকল করেছিলেন।
আমি এই পাণ্ডুলিপিটিকে (আ) প্রতীক দ্বারা চিহ্নিত করেছি এবং আমার এই প্রকাশনার পার্শ্বে এর (পৃষ্ঠা নম্বরগুলো) উল্লেখ করেছি।
২ - আল্লামা শিনকিতি
(১) এই মূল কপি থেকে নিজের জন্য একটি অনুলিপি তৈরি করেছিলেন যা এর সাথে সংগতিপূর্ণ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ٢)
আসমাউল মুগাতালীন মিনাল আশরাফ ওয়া আসমাউ মান ক্বুতিলা মিনাশ শুয়ারা - যিমনা নাওয়াদিরিল মাখতুদাত
(পৃষ্ঠা: ١١١)
كما وكيفا، يدل على ذلك التوافق التام في مقدار متن الكتاب، وفي الإسقاط ومواضعها وهي في خزانته بدار الكتب المصرية برقم 57 أدب ش، وجاء في خاتمتها:
«تم الكتاب بحمد اللّه وعونه على يدي الفقير إلى رحمة الله تعالى يوسف بن محمد غفر اللّه له ولوالديه ولجميع المؤمنين كافة عامة في يوم الاثنين جمادى الأولى سنة 1296».
ويبدو أن الشنقيطي قد راجع نسخته على نسخة مكتبة عاشر، واستدرك بعض ما فات كاتب نسخته الذي وافق اسمه اسم كاتب نسخة مكتبة عاشر، فاسمه كذلك «يوسف بن محمد».
لذلك نستطيع أن نقول بعد الدراسة الطويلة: إن هذه النسخة ما هي إلا صورة أخرى من نسخة عاشر، امتازت بتلك التصحيحات التي صنعها الشنقيطي بقلمه، مستعملا المحو تارة والترميج مرة أخرى.
وليست تصحيحات الشنقيطي من الكثرة بمكان، إذ تكاد أن تحتل مقدار العشر من التصحيحات التي انفردت بها من دونه ولكن كثيرا منها بلغ الغاية في الدقة، لذلك حفظت له حقه في التنويه بفضل السبق إليها مع إمكان اهتدائى إليها في كثير من الأمر، فنسبت تصحيحاته إليه وزدتها تأييدا بأن وثّقتها من مختلف المراجع.
وقد رمزت لهذه النسخة بالرمز (ب).
وأما بعد فقد عنّانى هذا الكتاب في تحقيق متنه، إذ أن نصوصه من النوادر التي لا يعثر على معظمها في الكتب المعروفة.
ولكني مغتبط إذ تسنى لي أن أقيم كثيرا مما فيه من تحريف وتصحيف، وأن ألقى الضوء على كثير من غوامضه وإشاراته.
وللّه الحمد على ما أنعم، وهو ولى التوفيق.
পরিমাণ ও গুণগত দিক থেকে, মূল কিতাবের পাঠ্যের পরিমাণ এবং বিলুপ্ত অংশ ও সেগুলোর অবস্থানের পূর্ণ সামঞ্জস্য এরই প্রমাণ বহন করে। এটি মিসরের দারুল কুতুবের তার সংগ্রহশালায় '৫৭ আদব শ' নম্বরে সংরক্ষিত রয়েছে এবং এর সমাপ্তিতে বর্ণিত হয়েছে:
«আল্লাহর প্রশংসা ও তাঁর সাহায্যে কিতাবটি সমাপ্ত হলো আল্লাহর রহমতের মুখাপেক্ষী ইউসুফ বিন মুহাম্মাদের হাতে—আল্লাহ তাকে, তার পিতামাতাকে এবং সকল মুমিনকে সাধারণভাবে ক্ষমা করুন—সোমবার, জুমাদাল উলা, ১২৯৬ হিজরি সনে।»
প্রতীয়মান হয় যে, শানকিতী তার কপিটি আশির লাইব্রেরির কপির সাথে মিলিয়ে পাঠ সংশোধন করেছেন এবং তার কপির লেখকের যে ভুলগুলো হয়েছিল তা পুনরুদ্ধার করেছেন। কাকতালীয়ভাবে তার কপির লেখকের নাম এবং আশির লাইব্রেরির কপির লেখকের নাম একই ছিল, তার নামও ছিল «ইউসুফ বিন মুহাম্মাদ»।
তাই দীর্ঘ গবেষণার পর আমরা বলতে পারি: এই কপিটি আশির লাইব্রেরির কপিরই একটি প্রতিচ্ছবি মাত্র, যা শানকিতীর নিজ কলমে করা সেই সংশোধনীগুলোর মাধ্যমে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত হয়েছে; যেখানে তিনি কখনো ঘষে মুছে আবার কখনো পুনর্লিখনের পদ্ধতি ব্যবহার করেছেন।
শানকিতীর সংশোধনীগুলো সংখ্যায় খুব বেশি নয়, কারণ সেগুলো আমার করা একক সংশোধনীগুলোর তুলনায় মাত্র এক-দশমাংশ। তবে এগুলোর অনেকগুলোই সূক্ষ্মতার চরম শিখরে পৌঁছেছে। তাই এক্ষেত্রে তাঁর অগ্রবর্তিতার কৃতিত্বের কথা উল্লেখ করে আমি তাঁর হক আদায় করেছি, যদিও আমি নিজেও অনেক ক্ষেত্রে সেগুলো অনুধাবন করতে সক্ষম ছিলাম। ফলে আমি তাঁর সংশোধনীগুলো তাঁর দিকেই সম্বন্ধিত করেছি এবং বিভিন্ন তথ্যসূত্রের মাধ্যমে সেগুলো নথিবদ্ধ করে আরও সুদৃঢ় করেছি।
আমি এই কপির জন্য (ব) প্রতীক ব্যবহার করেছি।
অতঃপর, এই কিতাবের মূল পাঠ্য তাহকিক করতে আমাকে যথেষ্ট বেগ পেতে হয়েছে, কারণ এর পাঠ্যগুলো এমন দুর্লভ বিষয়াদির অন্তর্ভুক্ত যার অধিকাংশই পরিচিত কিতাবগুলোতে খুঁজে পাওয়া যায় না।
কিন্তু আমি আনন্দিত যে, আমি এতে থাকা অনেক বিকৃতি ও বর্ণবিভ্রাট সংশোধন করতে পেরেছি এবং এর অনেক অস্পষ্টতা ও সংকেতের ওপর আলোকপাত করতে সক্ষম হয়েছি।
আল্লাহ যা কিছু নেয়ামত দান করেছেন তার জন্য সকল প্রশংসা আল্লাহরই, আর তিনিই তাওফিক দানকারী।
(খণ্ড: ٢)
আসমাউল মুগাতালীন মিনাল আশরাফ ওয়া আসমাউ মান ক্বুতিলা মিনাশ শুয়ারা - যিমনা নাওয়াদিরিল মাখতুদাত
(পৃষ্ঠা: ١١٢)
بسم الله الرحمن الرحيم
أسماء المغتالين من الأشراف، وأسماء من قتل من الشعراء، وأسماء من
غلبت كنيته على اسمه، وكنى الشعراء وألقابهم
(1) من المغتالين:
جذيمة الأبرشبن مالك بن فهم بن غنم
(2) بن دوس بن عدثان
(3) الأزدي. وكان أفضل ملوك العرب رأياً
(4)، وأبعدهم مغاراً، وأشدهم نكاية. وهو أول من استجمع له الملك بأرض العراق. وكانت منازله ما بين الأنبار وبقة وهيت وعين التمر وأطراف البر والقطقطانة وخفية
(5) والحيرة. وكان يغير على الأمم الخالية من العرب العاربة الأول. وكان ملك العرب بأرض الجزيرة ومشارف الشام
(6) عمرو بن الظرب بن حسان بن أذينة بن السميدع بن هوبر العاملي، من عاملة العماليق.
فجمع جذيمة جموعه من العرب وسار إليه، فالتقى هو وعمرو بن الظّرب فقتل
--------------------------------------------
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
সম্ভ্রান্তদের মধ্যে গুপ্তহত্যার শিকার ব্যক্তিদের নাম, নিহত কবিদের নাম এবং যাদের উপনাম মূল নামের চেয়ে অধিক প্রসিদ্ধি পেয়েছে তাদের নাম, আর গুপ্তহত্যার শিকার কবিদের উপনাম ও উপাধি
(১):
জাযিমা আল-আবরাশইবনে মালিক ইবনে ফাহম ইবনে গানম
(২) ইবনে দাওস ইবনে আদসান
(৩) আল-আযদি। তিনি আরব রাজাদের মধ্যে বিচারবুদ্ধিতে শ্রেষ্ঠ
(৪), অভিযানে দূরদর্শী এবং শত্রুর ওপর আক্রমণে কঠোরতম ছিলেন। তিনি প্রথম ব্যক্তি যার জন্য ইরাক ভূখণ্ডে রাজত্ব সুসংহত হয়েছিল। তার আবাসস্থল ছিল আনবার, বাক্কাহ, হীত, আইনুত তামার, মরুভূমির প্রান্তসীমা, কাতকাতানা, খাফিয়্যাহ
(৫) এবং হীরা পর্যন্ত। তিনি প্রাচীন বিলুপ্ত আরব জাতিগুলোর ওপর আক্রমণ চালাতেন। আর জাযিরা ভূখণ্ড ও সিরিয়ার সীমান্তবর্তী অঞ্চলে
(৬) আরবদের রাজা ছিলেন আমর ইবনে যারিব ইবনে হাসান ইবনে উযাইনা ইবনে সামাইদা ইবনে হাওবার আল-আমিলি, যিনি আমালিকে সম্প্রদায়ের আমেলা গোত্রের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।
জাযিমা আরবদের একটি বিশাল বাহিনী সংগ্রহ করে তার দিকে যাত্রা করলেন। জাযিমা ও আমর ইবনে যারিবের মধ্যে যুদ্ধ হলো এবং তিনি নিহত হলেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ٢)
আসমাউল মুগাতালীন মিনাল আশরাফ ওয়া আসমাউ মান ক্বুতিলা মিনাশ শুয়ারা - যিমনা নাওয়াদিরিল মাখতুদাত
(পৃষ্ঠা: ١١٣)
جذيمة عمراً وفض جموعه. فملك من بعد عمرو ابنته الزباء، وكانت تخاف أن يغزوها ملوك العرب، فبنت لنفسها حصنا على شاطئ الفرات، وسكرت الفرات على قلة
(1) الماء، وبنت في بطنه أزجاً من الآجر
(2)، وأجرت عليه الماء، فكانت إذا خافت عدواً دخلت النفق، فخرجت إلى مدينة أختها الزبيبة
(3).
فلما اجتمع لها أمرها، واستحكم ملكها، جمعت لتغزو جذيمة ثائرة بأبيها، فقالت لها أختها زبيبة
(4)، وكانت ذات رأى وحزم: إنك إذا غزوت جذيمة فإنما هو يوم له ما بعده، وإن ظفرت أصبت ثأرك، وإن قتلت هلك ملكك، والحرب سجال، وعثراتها لا تستقال، ولم يزل كعبك سامياً على من ناواك، ولا تدرين لمن تكون العاقبة، وعلى من تكون الدائرة. والرأي أن تحتالي له وتخدعيه، وتمكري به!
فكتبت الزباء إلى جذيمة تدعوه إلى نفسها وملكها، وأن تصل بلاده ببلادها، وأنها لم تجد ملك النساء إلا إلى قبح في السماع، وضعف في السلطان، وقلة في بسط المملكة، وأنها لم تجد لها كفواً غيرك، فأقبل إلي واجمع ملكي بملكك، وصل بلادي ببلادك، وتقلد أمري مع أمرك.
فلما قدم عليه رسلها وكتابها استخفّه ذلك، ورغب فيما أطمعته فيه، فجمع أهل الحجا من ثقات أصحابه وهو بالبقة
(5)، فاستشارهم، فأجمعوا على أن يسير
--------------------------------------------
জাযিমাহ আমরকে হত্যা করলেন এবং তার বাহিনীকে ছত্রভঙ্গ করে দিলেন। আমরের পর তার কন্যা আয-যাব্বা রাজত্ব লাভ করলেন। তিনি ভয় পেতেন যে আরবের রাজারা তাকে আক্রমণ করতে পারে, তাই তিনি ফোরাত নদীর তীরে নিজের জন্য একটি দুর্গ নির্মাণ করলেন। তিনি পানির প্রবাহ কম থাকার সময় ফোরাতের পানি আটকে দিলেন
(১) এবং নদীর তলদেশে পোড়া ইট দিয়ে একটি দীর্ঘ সুড়ঙ্গপথ
(২) নির্মাণ করলেন। এরপর তিনি তার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত করে দিলেন। ফলে তিনি যখনই কোনো শত্রুর ভয় পেতেন, সেই সুড়ঙ্গে প্রবেশ করতেন এবং তার বোন যাবিবাহর
(৩) শহরে গিয়ে বের হতেন।
যখন তার সকল কাজ গুছিয়ে এলো এবং তার রাজত্ব সুদৃঢ় হলো, তখন তিনি তার পিতার হত্যার প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য জাযিমাহর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার উদ্দেশ্যে সৈন্য সমাবেশ করলেন। তখন তার বোন যাবিবাহ—যিনি ছিলেন অত্যন্ত বিজ্ঞ ও দূরদর্শী—তাকে বললেন
(৪): "তুমি যদি জাযিমাহর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করো, তবে জেনো যে এই দিনের পরিণাম সুদূরপ্রসারী। যদি তুমি বিজয়ী হও তবে তো তোমার প্রতিশোধ পূর্ণ হলো, কিন্তু যদি তুমি নিহত হও তবে তোমার রাজত্ব ধ্বংস হয়ে যাবে। যুদ্ধের ফলাফল তো অনিশ্চিত, আর এর পদস্খলন সহজে মোচন করা যায় না। এ পর্যন্ত তোমার সম্মান তোমার বিরোধীদের ওপর সবসময় সমুন্নত রয়েছে। তুমি জানো না পরিণাম কার পক্ষে হবে আর কার ওপর বিপদ নেমে আসবে। তাই যুক্তিযুক্ত কথা হলো—তার বিরুদ্ধে কোনো কৌশল অবলম্বন করো, তাকে প্রতারিত করো এবং তার সাথে চাতুর্যপূর্ণ আচরণ করো!"
ফলে আয-যাব্বা জাযিমাহর কাছে পত্র লিখলেন এবং তাকে তার নিজের ও তার রাজত্বের দিকে আহ্বান জানালেন। তিনি চাইলেন যেন তার দেশের সাথে জাযিমাহর দেশ যুক্ত হয়। তিনি পত্রে উল্লেখ করলেন যে, নারীর শাসন তো কেবল শ্রুতিকটু বদনাম, ক্ষমতার দুর্বলতা এবং রাজত্ব বিস্তারে সীমাবদ্ধতা ছাড়া আর কিছুই নয়। তিনি আরও লিখলেন যে, তিনি জাযিমাহ ছাড়া অন্য কাউকে নিজের যোগ্য সঙ্গী হিসেবে পাননি; তাই তিনি যেন তার কাছে চলে আসেন এবং তার রাজত্বের সাথে জাযিমাহর রাজত্বকে একীভূত করেন, নিজ দেশের সাথে জাযিমাহর দেশকে যুক্ত করেন এবং নিজের শাসনভারের সাথে তার দায়িত্বও গ্রহণ করেন।
যখন তার কাছে আয-যাব্বার দূত ও পত্র পৌঁছাল, তখন তিনি এতে অত্যন্ত উৎফুল্ল হলেন এবং তিনি যে লোভ দেখিয়েছেন তার প্রতি লালায়িত হলেন। তখন তিনি বাক্কাহ
(৫) নামক স্থানে অবস্থান করছিলেন। তিনি তার বিশ্বস্ত সাহাবী ও জ্ঞানী ব্যক্তিদের সমবেত করে তাদের সাথে পরামর্শ করলেন। তারা সবাই তার সেখানে যাওয়ার বিষয়ে একমত হলেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ٢)
আসমাউল মুগাতালীন মিনাল আশরাফ ওয়া আসমাউ মান ক্বুতিলা মিনাশ শুয়ারা - যিমনা নাওয়াদিরিল মাখতুদাত
(পৃষ্ঠা: ١١٤)
إليها ويستولي على ملكها، وخالفهم قصير بن سعد بن عمرو بن جذيمة بن قيس ابن هليل بن دمى بن نمارة بن لخم
(1)، فقال: هذا رأي فاتر، وغدر حاضر.
فإن كانت صادقة فلتقبل إليك، وإلا فلا تمكنها
(2) من نفسك فتقع في حبالها، وقد وترتها وقتلت أباها!
فلم يوافق جذيمة ما أشار به قصير وقال: أنت امرؤ رأيك في الكن لا في الضح. ومضى جذيمة في وجوه أصحابه فأخذ على شاطئ الفرات الغربي، فلما نزل الفرضة دعا قصيراً فقال: ما الرأي؟ فقال: «ببقة تركت الرأي». قال: فما ظنك بالزباء؟ قال: «القول رداف، والحزم عثراته لا تخاف». واستقبله رسلها بالهدايا والألطاف. فقال: يا قصير، كيف ترى؟ قال: «خطر
(3) يسير في خطب كبير»، وستلقاك الخيول، فإن سارت أمامك فالمرأة صادقة، وإن أخذت [جنبيك وأحاطت بك
(4)] فالقوم غادرون بك.
فلقيته الخيول فأحاطت به حتى دخل على الزباء، فلما رأته كشفت عن فرجها فإذا هي مضفورة الإسب
(5)، فقالت: يا جذيمة، أذات عروس ترى؟ قال
(6):
بلغ المدى، وجف الثرى، وأمر غدر أرى! فقالت: والله ما بنا من عدم مواس، ولا قلة أواس، ولكنها شيمة ما أناس
(7). ثم أجلسته على نطع،
--------------------------------------------
সেখানে গিয়ে তার রাজ্য দখল করবেন। কিন্তু কুসাইর বিন সাদ বিন আমর বিন জাযীমা বিন কায়স বিন হুলাইল বিন দুমা বিন নামারা বিন লাখম
(১) তাদের বিরোধিতা করলেন এবং বললেন: এটি একটি দুর্বল মত এবং উপস্থিত প্রতারণা।
যদি সে সত্যবাদী হয় তবে সে নিজেই আপনার নিকট আসুক। অন্যথায় তাকে নিজের ওপর সুযোগ দেবেন না, যার ফলে আপনি তার জালে আটকা পড়বেন; অথচ আপনি তাকে ব্যথিত করেছেন এবং তার পিতাকে হত্যা করেছেন!
জাযীমা কুসাইরের পরামর্শ গ্রহণ করলেন না এবং বললেন: তুমি এমন এক ব্যক্তি যার মত কেবল ছায়ায় কার্যকর, রোদে নয়। এরপর জাযীমা তার বিশিষ্ট সঙ্গীদের নিয়ে রওয়ানা হলেন এবং ফোরাত নদীর পশ্চিম তীর দিয়ে অগ্রসর হলেন। যখন তিনি আল-ফারদ্বাহ নামক স্থানে পৌঁছালেন, কুসাইরকে ডেকে জিজ্ঞেস করলেন: এখন কী পরামর্শ? কুসাইর বললেন: «বক্কা নামক স্থানেই পরামর্শ বর্জন করা হয়েছে»। জাযীমা জিজ্ঞেস করলেন: তাহলে আয-যাব্বা সম্পর্কে তোমার ধারণা কী? কুসাইর বললেন: «কথার পিঠে কথা আসে, আর সংকল্পবদ্ধ ব্যক্তি তার পদস্খলনকে ভয় পায় না»। আয-যাব্বার দূতরা উপহার ও উপঢৌকন নিয়ে তাকে অভ্যর্থনা জানাল। তখন জাযীমা বললেন: হে কুসাইর, তুমি কী দেখছ? তিনি বললেন: «এক বিরাট ঘটনার মধ্যে সামান্য ঝুঁকি
(৩)»। অচিরেই অশ্বারোহী দল আপনার সামনে আসবে; তারা যদি আপনার আগে আগে চলে তবে নারীটি সত্যবাদী। আর যদি তারা আপনার [দুই পাশে অবস্থান নেয় এবং আপনাকে ঘিরে ফেলে
(৪)], তবে বুঝবেন তারা আপনার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করছে।
অতঃপর অশ্বারোহী দল তার সাথে সাক্ষাৎ করল এবং তাকে ঘিরে ফেলল, এমনকি তিনি আয-যাব্বার দরবারে প্রবেশ করলেন। যখন সে তাকে দেখল, তখন সে তার লজ্জাস্থান উন্মুক্ত করল এবং দেখা গেল তার লজ্জাস্থানের লোম বিনুনি করা
(৫)। তখন সে বলল: হে জাযীমা, আপনি কি কোনো কনেকে দেখছেন? জাযীমা বললেন
(৬):
সীমা পৌঁছে গেছে, মাটি শুকিয়ে গেছে এবং আমি একটি বিশ্বাসঘাতকতামূলক বিষয় দেখতে পাচ্ছি! সে বলল: আল্লাহর কসম, আমাদের সান্ত্বনাদানকারীর অভাব নেই এবং চিকিৎসকেরও কমতি নেই, কিন্তু এটি এমন এক স্বভাব যা মানুষের নয়
(৭)। এরপর সে তাকে একটি চামড়ার দস্তরখানের ওপর বসাল।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ٢)
আসমাউল মুগাতালীন মিনাল আশরাফ ওয়া আসমাউ মান ক্বুতিলা মিনাশ শুয়ারা - যিমনা নাওয়াদিরিল মাখতুদাত
(পৃষ্ঠা: ١١٥)
وسقته الخمر، ثم أمرت بقطع رواهشه، فجعل دمه يسيل في طست من ذهب، فلما رأى دمه قال: «لا يحزنك دمٌ أهراقه أهله!».
ومنهم:
حسان بن تبعوكان أعسر أحول، وإنه خرج من اليمن سائراً حتى وطئ أرض العجم، وقال: لأبلغن من البلاد ما لم يبلغه أحد من التبابعة! فأوغل بهم في أرض خراسان، ثم مضى إلى المغرب فبلغ رومة
(1) وخلف عليها ابن عم له، وأقبل إلى العراق حتى إذا صار إلى فرضة نعم
(2) بشاطئ الفرات قالت وجوه حمير: ما نفنى أعمارنا إلا مع هذا، يطوف في الأرض كلها، نغيب عن أولادنا وعيالنا وبلادنا وأموالنا؛ وما ندري ما يخلف عليهم بعدنا. فكلموا أخاه عمرا وقالوا: كلّم أخاك في الرجوع إلى بلده وملكه. فقالوا: هو أعسر من ذاك وأنكد. فقالوا:
فاقتله وتملك علينا فأنت أحق بالملك من أخيك، وأنت أعقل وأحسن نظراً لقومك! فقال: أخاف ألا تفعلوا، وأكون قد قتلت أخي وخرج الملك عن يدي. فواثقوه حتى ثلج إلى قولهم
(3)، واجتمع الرؤساء كلهم معه على قتل أخيه إلّا ذا رعين. فإنه خالفهم وقال: ليس هذا برأي، يذهب الملك من حمير! فشجعه الباقون على قتل أخيه، فقال ذو رعين: إن قتلته باد
(4) ملكك. فلما رأى
--------------------------------------------
এবং তিনি তাকে মদ্যপান করালেন, এরপর তার কবজির শিরাগুলো কেটে দেওয়ার নির্দেশ দিলেন, ফলে তার রক্ত একটি স্বর্ণের পাত্রে প্রবাহিত হতে লাগল। যখন তিনি নিজের রক্ত দেখলেন, তখন বললেন: «স্বজনদের দ্বারা প্রবাহিত রক্ত যেন তোমাকে শোকাতুর না করে!»
তাদের মধ্যে রয়েছেন:
হাসসান ইবনে তুব্বাতিনি ছিলেন বামহাতি ও টেরা চোখবিশিষ্ট। তিনি ইয়ামেন থেকে যাত্রা শুরু করে অনারবদের ভূমিতে পদার্পণ করেন এবং বলেন: আমি দেশসমূহের এমন সব স্থানে পৌঁছাব যেখানে তুব্বা রাজাদের কেউ পৌঁছাতে পারেনি! তিনি তাদের নিয়ে খোরাসানের ভূখণ্ডের গভীরে প্রবেশ করেন। এরপর তিনি পশ্চিমের দিকে যাত্রা করে রোমে পৌঁছান এবং সেখানে তাঁর এক চাচাতো ভাইকে প্রতিনিধি হিসেবে রেখে যান। অতঃপর তিনি ইরাকের দিকে অগ্রসর হন, এমনকি যখন তিনি ফোরাত নদীর তীরে 'ফুরদাতু নু'ম' নামক স্থানে পৌঁছালেন, তখন হিময়ার গোত্রের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিরা বলতে লাগলেন: আমরা আমাদের জীবন তো কেবল এই ব্যক্তির সাথেই ক্ষয় করছি, যিনি সারা পৃথিবী ঘুরে বেড়াচ্ছেন; আমরা আমাদের সন্তানসন্ততি, পরিবার-পরিজন, দেশ ও সম্পদ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে আছি; জানি না আমাদের অবর্তমানে তাদের কী অবস্থা হবে। তারা তাঁর ভাই আমরের সাথে কথা বললেন এবং বললেন: আপনার ভাইকে নিজ দেশে ও রাজত্বে ফিরে যাওয়ার ব্যাপারে বলুন। তারা বললেন: তিনি এর চেয়েও অধিক একগুঁয়ে ও কঠোর। তখন তারা বললেন:
তবে আপনি তাকে হত্যা করুন এবং আমাদের ওপর রাজত্ব করুন, আপনার ভাইয়ের চেয়ে আপনিই রাজত্বের অধিক হকদার; আর আপনি আপনার সম্প্রদায়ের জন্য অধিক বুদ্ধিমান ও দূরদর্শী! তিনি বললেন: আমি ভয় পাচ্ছি যে তোমরা হয়তো তোমাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করবে না, ফলে আমি আমার ভাইকে হত্যা করব আর রাজত্বও আমার হাতছাড়া হয়ে যাবে। তখন তারা তাকে এমনভাবে আশ্বস্ত করল যে তাদের কথার ওপর তাঁর চিত্ত শান্ত হলো। যুর-রাইন ব্যতীত সকল গোত্রপ্রধান তাঁর ভাইয়ের হত্যার ব্যাপারে একমত হলেন। যুর-রাইন তাদের বিরোধিতা করে বললেন: এটি কোনো সঠিক সিদ্ধান্ত নয়, এতে হিময়ার গোত্র থেকে রাজত্ব চলে যাবে! বাকিরা তাকে তাঁর ভাইকে হত্যা করতে উৎসাহিত করতে লাগল। তখন যুর-রাইন বললেন: যদি আপনি তাকে হত্যা করেন, তবে আপনার রাজত্ব ধ্বংস হয়ে যাবে। যখন তিনি দেখলেন
--------------------------------------------
(খণ্ড: ٢)
আসমাউল মুগাতালীন মিনাল আশরাফ ওয়া আসমাউ মান ক্বুতিলা মিনাশ শুয়ারা - যিমনা নাওয়াদিরিল মাখতুদাত
(পৃষ্ঠা: ١١٦)
ذو رعين ما اجتمع عليه القوم أتاه بصحيفة مختومة فقال: يا عمرو، إني مستودعك هذا الكتاب، فضعه عندك في مكان حريز. وكتب فيه:
ألا من يشتري سهراً بنومٍ
… سعيدٌ من يبيت قريرَ عينِ
فإن تك حميرٌ غدرت وخانت
… فمعذرة الإله لذي رعين
(1)وإن عمراً أتى حسان أخاه، وهو نائم على فراشه، فقتله واستولى على ملكه فلم يبارك له فيه
(2)، وسلط عليه السهر، وامتنع منه النوم، فسأل الكهان والعياف، فقال له كاهن منهم: إنه ما قتل رجل أخاه قط بغياناً
(3) عليه إلا امتنع نومه فقال: هذا عمل رؤساء حمير، هم حملوني على قتله ليرجعوا إلى بلادهم. لم ينظروا لي ولا لأخي. فجعل يقتل من أشار بقتله رجلاً رجلا، حتى خلص الأمر إلى ذي رعين، وأيقن بالشر، فقال له ذو رعين: أما تعلم أني أعلمتك ما في قتله، ونهيتك؟ قال: ما أذكر هذا، ولئن كان ليس عندك إلا ما تدعي لقد طل دمك! قال: إن عندك لي براءة وشاهدا. قال: وما هو؟ قال: الكتاب الذي استودعتك. فدعا بالكتاب فلم يجده، فقال ذو رعين: ذهب دمي على أخذى بالحزم فصرت كمن أشار بالخطأ
(4)، فقال الملك أن ينعم طلبه
(5)، فأتى به فقرأه، فإذا فيه البيتان اللذان كتبناهما، فلما قرأهما قال: لقد أخذت بالحزم.
قال: إني حسبت
(6) ما رأيتك صنعت بأصحابي.
--------------------------------------------
যু রুআইন যখন দেখলেন যে সম্প্রদায় তার বিরুদ্ধে একজোট হয়েছে, তখন তিনি তার কাছে একটি মোহরকৃত লিপি নিয়ে আসলেন এবং বললেন: হে আমর, আমি তোমার কাছে এই কিতাবটি আমানত হিসেবে রাখছি, এটি তোমার কাছে কোনো সুরক্ষিত স্থানে রাখো। আর তিনি তাতে লিখলেন:
সাবধান, কে আছে যে ঘুমের বিনিময়ে অনিদ্রা ক্রয় করবে
… সেই তো সৌভাগ্যবান যে শান্ত নয়নে রাত কাটায়।
যদি হিমইয়াররা বিশ্বাসঘাতকতা ও খিয়ানত করে থাকে
… তবে যু রুআইনের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে ওজর রয়েছে।
(১)আর আমর তার ভাই হাসানের কাছে আসলেন যখন তিনি তার বিছানায় ঘুমাচ্ছিলেন, অতঃপর তাকে হত্যা করলেন এবং তার রাজত্ব দখল করে নিলেন, কিন্তু তাতে তার জন্য বরকত দেওয়া হয়নি
(২)। তার ওপর অনিদ্রা চাপিয়ে দেওয়া হলো এবং তার ঘুম বন্ধ হয়ে গেল। ফলে তিনি গণক ও ভবিষ্যদ্বক্তাদের জিজ্ঞাসা করলেন। তাদের মধ্য থেকে এক গণক তাকে বলল: কোনো ব্যক্তি যখনই তার ভাইয়ের ওপর অন্যায়ভাবে
(৩) তাকে হত্যা করেছে, তখনই তার ঘুম বন্ধ হয়ে গিয়েছে। তিনি বললেন: এটি হিমইয়ারের নেতাদের কাজ, তারা আমাকে তাকে হত্যার জন্য প্ররোচিত করেছিল যাতে তারা তাদের নিজ দেশে ফিরে যেতে পারে। তারা আমার প্রতি বা আমার ভাইয়ের প্রতি লক্ষ রাখেনি। এরপর তিনি একে একে তাদের হত্যা করতে শুরু করলেন যারা তাকে হত্যার পরামর্শ দিয়েছিল, যতক্ষণ না বিষয়টি যু রুআইন পর্যন্ত পৌঁছাল। তিনি অনিষ্টের বিষয়ে নিশ্চিত হয়ে রাজা আমরকে বললেন: আপনি কি জানেন না যে আমি আপনাকে তাকে হত্যার পরিণতি সম্পর্কে অবহিত করেছিলাম এবং আপনাকে নিষেধ করেছিলাম? তিনি বললেন: আমার তো এটি মনে পড়ছে না, আর যদি আপনার কাছে আপনার দাবির স্বপক্ষে কিছু না থাকে তবে আপনার রক্ত বৃথা যাবে! তিনি বললেন: আপনার কাছেই আমার নির্দোষ হওয়ার প্রমাণ ও সাক্ষী রয়েছে। তিনি বললেন: সেটি কী? তিনি বললেন: সেই কিতাবটি যা আমি আপনার কাছে আমানত রেখেছিলাম। তখন তিনি কিতাবটি আনতে বললেন কিন্তু সেটি খুঁজে পেলেন না। তখন যু রুআইন বললেন: আমার রক্ত বৃথা গেল যদিও আমি সতর্কতা অবলম্বন করেছিলাম, ফলে আমি এমন হয়ে গেলাম যে ভুলের
(৪) পরামর্শ দিয়েছিল। তখন রাজা তা ভালো করে খোঁজার নির্দেশ দিলেন
(৫), অতঃপর তা নিয়ে আসা হলো এবং তিনি তা পাঠ করলেন। সেখানে সেই দুটি পঙ্ক্তি ছিল যা আমরা লিখেছি। যখন তিনি সেগুলো পড়লেন তখন বললেন: আপনি সত্যিই সতর্কতা অবলম্বন করেছিলেন।
তিনি বললেন: আপনি আমার সাথীদের সাথে যা করেছেন তা দেখে আমি এমনটাই ধারণা
(৬) করেছিলাম।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ٢)
আসমাউল মুগাতালীন মিনাল আশরাফ ওয়া আসমাউ মান ক্বুতিলা মিনাশ শুয়ারা - যিমনা নাওয়াদিরিল মাখতুদাত
(পৃষ্ঠা: ١١٧)
وتشعّت أمر حمير حين قتل أشرافها، واختلفوا عليه، حتى وثب على عمرو لخنيعة ينوف
(1)، ولم يكن من أهل المملكة، فقتله.
ومنهم:
عمليق ملك طسمبن لاوذ
(2) بن إرم
(3) بن سام بن نوح. وكان منازلهم «عذرة» في موضع اليمامة.
وكان سبب قتله أنه تمادى في الظلم والغشم، والسيرة بغير الحق، وأن امرأة من جديس كان يقال لها هزيلة ولها زوج يقال له قديس
(4)، فطلقها وأراد أخذ ولدها منها، فخاصمته إلى عمليق، فقالت: أيها الملك، إني حملته تسعاً، ووضعته دفعاً، وأرضعته شفعاً
(5)، حتى إذا تمت أوصاله
(6) أراد أن يأخذه كرهاً، وأن يتركني بعده ورها
(7). فقال لزوجها: ما حجتك؟ قال: حجتي أيها الملك أنها قد أعطيت المهر كاملاً، ولم أصب منها طائلا، إلا وليدا خاملا
(8)، فافعل
--------------------------------------------
হিমইয়ারের অভিজাতদের যখন হত্যা করা হলো, তখন তাদের অবস্থা বিশৃঙ্খল হয়ে পড়ল। তারা তার ব্যাপারে মতবিরোধে লিপ্ত হলো, শেষ পর্যন্ত লাখনিআহ ইয়ানুফ আমরের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়লেন
(১)। তিনি রাজপরিবারের সদস্য ছিলেন না, তবুও তাকে হত্যা করলেন।
তাদের মধ্যে রয়েছেন:
তাসম গোত্রের রাজা আমলিকবিন লাউয
(২) বিন ইরাম
(৩) বিন সাম বিন নূহ। ইয়ামামার ‘উযরা’ নামক স্থানে তাদের আবাসভূমি ছিল।
তার নিহত হওয়ার কারণ ছিল এই যে, সে সীমাহীন জুলুম, নির্যাতন এবং অন্যায় আচরণে লিপ্ত হয়েছিল। জাদিস গোত্রের হাযিলা নামক এক নারী ছিল, যার স্বামীর নাম ছিল কদিস
(৪)। সে তাকে তালাক দিল এবং তার থেকে সন্তানটি ছিনিয়ে নিতে চাইল। অতঃপর সে আমলিকের কাছে বিচার নিয়ে গেল। সে বলল: ‘হে রাজন! আমি তাকে নয় মাস গর্ভে ধারণ করেছি, অত্যন্ত কষ্টের সাথে প্রসব করেছি এবং জোড় সংখ্যায় (অর্থাৎ দুই বছর) স্তন্যদান করেছি
(৫)। এখন যখন তার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ পূর্ণতা পেয়েছে
(৬), তখন সে তাকে জোরপূর্বক নিয়ে যেতে চাচ্ছে এবং আমাকে তার বিরহে কিংকর্তব্যবিমূঢ় অবস্থায় ফেলে রাখতে চাচ্ছে
(৭)।’ রাজা তার স্বামীকে জিজ্ঞেস করলেন: ‘তোমার যুক্তি কী?’ সে বলল: ‘হে রাজন! আমার যুক্তি হলো যে, তাকে মোহরানা পূর্ণরূপে প্রদান করা হয়েছে, অথচ অখ্যাত এই সন্তানটি ছাড়া তার থেকে আমি উল্লেখ্যযোগ্য কিছুই পাইনি
(৮)। অতএব আপনি বিচার করুন।’
--------------------------------------------
(খণ্ড: ٢)
আসমাউল মুগাতালীন মিনাল আশরাফ ওয়া আসমাউ মান ক্বুতিলা মিনাশ শুয়ারা - যিমনা নাওয়াদিরিল মাখতুদাত
(পৃষ্ঠা: ١١٨)
ما كنت فاعلاً. فأمر بالغلام أن ينزع منهما جميعا ويجعل في غلمانه، وقال لهزيلة: أبغيه ولدا، ولا تنكحي أحداً، واجزيه صفدا
(1). فقالت هزيلة:
أما النكاح فإنما يكون بمهر، وأما السّفاح فإنّما يكون بلا مهر
(2)، وما لي فيهما من أمر! فلما سمع عمليق ذلك منهما أمر أن تباع وزوجها، فيعطي زوجها خمسها
(3)، وتعطي هزيلة عشر ثمن زوجها، ويسترقا
(4). فأنشأت تقول:
أتينا أخا طسمٍ ليحكمَ بيننا
… فأنفذَ حكماً في هزيلة ظالما
لعمري لقد حكِّمتَ لا متورِّعا
… ولا كنتَ فيما تبرم الحكمَ عالما
ندمتُ ولم أندمْ وأبتُ بعبرتي
… وأصبح بعلي في الحكومة نادما
فلما سمع عمليق قولها أمر ألا تزوج بكر من جديس فتهدى إلى زوجها إلا يؤتى بها عمليق فيفترعها هو قبل زوجها. فلقوا من ذلك جهداً وذلا ولم يزل يفعل ذلك أربعين سنة فيهم، حتى زوجت الشموس عفيرة بنت عفار الجديسية، أخت الأسود الذي وقع إلى جبلى طيّئ وسكنوا الجبلين بعده، فلما أرادوا أن يهدوها إلى زوجها وانطلقوا بها إلى عمليق لينالها قبله، ومعها الوليدات يتغنين ويقلن:
أبدي بعمليقٍ وقومي فاركبي
… وبادري الصُّبح بأمرٍ معجبِ
فسوف تلقين الذي لم تطلبي
… وما لبكرٍ عنده من مهربِ
فلما دخلت عليه افترعها، وخلى سبيلها، فخرجت إلى قومها في دمائها، شاقة درعها عن قبلها ودبرها، وهي تقول:
--------------------------------------------
যা আমি করতাম। অতঃপর তিনি নির্দেশ দিলেন যেন বালকটিকে তাদের উভয়ের থেকে কেড়ে নেওয়া হয় এবং তাকে তাঁর দাসদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তিনি হুযায়লাকে বললেন: "তার জন্য সন্তান অন্বেষণ করো, কাউকে বিবাহ করো না এবং তাকে উপহার প্রদান করো"
(১)। তখন হুযায়লা বলল:
"বিবাহ তো কেবল মোহরের বিনিময়ে হয়, আর ব্যভিচার হয় মোহর ছাড়াই; এ দুটির কোনোটিতেই আমার কোনো এখতিয়ার নেই!"
(২) যখন আমলীক তাদের থেকে এ কথা শুনল, তখন সে নির্দেশ দিল যেন তাকে ও তার স্বামীকে বিক্রি করে দেওয়া হয়। তার স্বামীকে তার (স্ত্রীর) মূল্যের এক-পঞ্চমাংশ দেওয়া হয়
(৩) এবং হুযায়লাকে তার স্বামীর মূল্যের এক-দশমাংশ দেওয়া হয় এবং তাদের উভয়কে দাসে পরিণত করা হয়
(৪)। তখন সে এই কবিতা আবৃত্তি করল:
আমরা তাসমের ভাইয়ের নিকট এসেছিলাম যেন তিনি আমাদের মাঝে বিচার করেন
… কিন্তু তিনি হুযায়লার ওপর এক যুলুমপূর্ণ রায় জারি করলেন।
আমার জীবনের শপথ! তোমাকে বিচারক বানানো হয়েছে অথচ তুমি পরহেযগার নও
… আর যে বিচার তুমি চূড়ান্ত করেছ, সে বিষয়ে তুমি জ্ঞানীও ছিলে না।
আমি অনুতপ্ত হয়েছি আবার হইনি, আমি আমার অশ্রু নিয়ে ফিরেছি
… আর আমার স্বামী এই বিচারে লজ্জিত ও অনুতপ্ত হয়েছে।
যখন আমলীক তার কথা শুনল, তখন সে নির্দেশ জারি করল যে, জাদীস গোত্রের কোনো কুমারী মেয়েকে তার স্বামীর নিকট পাঠানোর আগে যেন আমলীকের কাছে নিয়ে আসা হয়, যাতে সে নিজেই স্বামীর আগে তার কুমারীত্ব হরণ করতে পারে। এর ফলে তারা নিদারুণ কষ্ট ও লাঞ্ছনার শিকার হলো এবং সে তাদের মাঝে টানা চল্লিশ বছর ধরে এমনটি করতে থাকল। পরিশেষে জাদীস গোত্রের আফার-কন্যা শুমুস আফীরাকে বিবাহ দেওয়া হলো, যে ছিল আসওয়াদের বোন—যিনি তাইয়্যি-র দুই পাহাড়ে চলে গিয়েছিলেন এবং এরপর তারা সেখানে বসবাস শুরু করেছিলেন। যখন তারা তাকে তার স্বামীর নিকট পাঠাতে চাইল এবং আমলীকের নিকট নিয়ে গেল যেন সে স্বামীর আগে তার সাথে মিলিত হতে পারে, তখন তার সাথে দাসীরা গান গাইতে গাইতে বলছিল:
আমলীককে দিয়ে শুরু করো এবং ওঠো ও আরোহণ করো
… আর এক বিস্ময়কর বিষয় নিয়ে ভোরের দিকে দ্রুত চলো।
অচিরেই তুমি এমন কিছুর সম্মুখীন হবে যা তুমি কখনো চাওনি
… আর তার নিকট কোনো কুমারীর নিস্তার পাওয়ার উপায় নেই।
যখন সে তার নিকট প্রবেশ করল, তখন সে তার কুমারীত্ব হরণ করল এবং তাকে ছেড়ে দিল। সে রক্তাক্ত অবস্থায় তার কওমের নিকট বেরিয়ে এল, তার পরিধেয় বস্ত্র সম্মুখ ও পশ্চাৎ দিক থেকে ছিন্নভিন্ন ছিল এবং সে বলছিল:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ٢)
আসমাউল মুগাতালীন মিনাল আশরাফ ওয়া আসমাউ মান ক্বুতিলা মিনাশ শুয়ারা - যিমনা নাওয়াদিরিল মাখতুদাত
(পৃষ্ঠা: ١١٩)
لا أحدٌ أذلَّ من جديس
… أهكذا يفعل بالعروس
يرضى بهذا يا لقوم حرُّ
… أهدى وقد أعطى وسيقَ المهر
(1)لأخذةُ الموتِ كذا من نفسهِ
… خيرٌ منَ أنْ يفعلَ ذا بعرسه
ثم قالت تحرض قومها فيما أتى عليها
(2):
أيصلح ما يؤتى إلى فتياتكم
… وانتمْ رجالٌ فيكم عدد النَّمل
وتصبح تمشى في الدماء صبيحةٌ
(3) … عشيّةَ زفَّت في النساء إلى بعل
فإنْ أنتم لم تغضبوا بعد هذه
… فكونوا نساءً لا تغبُّ من الكحلِ
(4)ودونكمُ طيبَ العروس فإنَّما
… خلقتم لأثواب العروس وللغسلِ
(5)فلو أنَّنا كنا رجالاً وانتمُ
(6) … نساءٌ لكنّا لا نقيم على الذلِّ
فبعداً وسحقاً للذي ليس دافعاً
(7) … ويختال يمشي بيننا مشيةَ الفحلِ
فموتوا كراماً أو أميتوا عدوَّكم
… ودبُّوا لنار الحرب بالحطب الجزل
فلما سمع ذلك أخوها الأسود، وكان سيدا مطاعاً، قال لقومه: يا معشر جديس، إن هؤلاء القوم ليسوا بأعز منكم في داركم، إلا بما كان من ملك صاحبهم علينا وعليهم وانتم أذل من النيب
(8)، ولولا عجزنا لما كان له فضل علينا، ولو امتنعنا كان له منه النّصف
(9)، فأطيعونى فيما آمركم به؛ فإنه عز الدهر وذهاب ذل العمر، واقبلوا رأيي. وقد أحمس جديساً قولها، قالوا: نطيعك،
--------------------------------------------
জাদিস গোত্রের চেয়ে লাঞ্ছিত আর কেউ নেই
… কনের সাথে কি এমন আচরণ করা হয়?
হে আমার স্বাধীন কওম! কে এতে সন্তুষ্ট হতে পারে?
… তাকে উপহার দেওয়া হয়েছে, মোহর প্রদান করা হয়েছে এবং তাকে (স্বামীর কাছে) নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
(১)নিজের জীবনের মৃত্যুর আস্বাদ গ্রহণ করা
… নিজের কনের সাথে এমন আচরণের চেয়ে অনেক উত্তম।
এরপর তিনি তাঁর ওপর যা ঘটেছিল সে বিষয়ে তাঁর কওমকে উত্তেজিত করে বললেন
(২):
তোমাদের কন্যাদের সাথে যা করা হচ্ছে তা কি শোভনীয়?
… অথচ তোমরা এমন পুরুষ যাদের সংখ্যা পিঁপড়ার মতো অগণিত।
আর ভোরে সে রক্তের ওপর দিয়ে হেঁটে যায়
(৩) … অথচ আগের সন্ধ্যায় নারীদের মাঝে তাকে বরের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল।
এরপরও যদি তোমরা ক্রুদ্ধ না হও
… তবে তোমরা এমন নারী হয়ে যাও যারা নিয়মিত চোখে সুরমা মাখে।
(৪)কনের সুগন্ধি তোমরা নিয়ে নাও, কারণ তোমরা তো কেবল
… কনের পোশাক ও তার ধোয়া-মোছার জন্যই সৃষ্টি হয়েছ।
(৫)আমরা যদি পুরুষ হতাম আর তোমরা যদি
(৬) … নারী হতে, তবে আমরা এই লাঞ্ছনার ওপর স্থির থাকতাম না।
অভিশাপ ও ধ্বংস সেই ব্যক্তির জন্য যে প্রতিরোধ করে না
(৭) … অথচ সে আমাদের মাঝে বীরদর্পে ষাঁড়ের মতো হেঁটে বেড়ায়।
হয় সম্মানের সাথে মৃত্যুবরণ করো নতুবা শত্রুকে নিপাত করো
… আর যুদ্ধের অগ্নিকুণ্ডে প্রচুর জ্বালানি কাঠ নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ো।
যখন তার ভাই আল-আসওয়াদ তা শুনল—আর সে ছিল একজন মান্যবর নেতা—সে তার কওমকে বলল: হে জাদিস সম্প্রদায়! এই লোকেরা তোমাদের নিজ ভূখণ্ডে তোমাদের চেয়ে বেশি শক্তিশালী নয়, কেবল তাদের নেতার রাজত্বের কারণে যা আমাদের ও তাদের ওপর রয়েছে। অথচ তোমরা অতি বৃদ্ধ উষ্ট্রীর চেয়েও লাঞ্ছিত
(৮)। আমাদের অক্ষমতা না থাকলে আমাদের ওপর তার কোনো শ্রেষ্ঠত্ব থাকত না। যদি আমরা তাকে বাধা দিতাম তবে সে ন্যায়বিচার পেত
(৯)। সুতরাং আমি তোমাদের যা আদেশ করি তাতে তোমরা আমার আনুগত্য করো; কারণ এতেই রয়েছে যুগের সম্মান এবং সারা জীবনের লাঞ্ছনার অবসান। আর আমার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করো। তার এই বক্তব্যে জাদিস গোত্র উত্তেজিত হয়ে উঠল এবং তারা বলল: আমরা আপনার আনুগত্য করব।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ٢)
আসমাউল মুগাতালীন মিনাল আশরাফ ওয়া আসমাউ মান ক্বুতিলা মিনাশ শুয়ারা - যিমনা নাওয়াদিরিল মাখতুদাত
(পৃষ্ঠা: ١٢٠)
ولكن القوم أكثر منا عدداً وأقوى. قال: فإني أصنع للملك طعاماً، ثم أدعوهم إليه، فإذا جاءوا يرفلون في حللهم متفضلين
(1) مشينا إليهم بالسيوف فقتلناهم، فأنفرد أنا بالعمليق، وينفرد كل واحد بجليسه. فاجتمع رأيهم على ذلك.
وإن الأسود اتخذ طعاماً كثيراً، وأمر القوم فاخترطوا سيوفهم، ودفنوها في الرمل تحتهم، ودعا القوم فجاءوا يرفلون في الحلل، حتى إذا أخذوا مجالسهم ومدوا أيديهم إلى الطعام أخذوا سيوفهم من تحت أقدامهم، فشد الأسود على عمليق وكل رجل على جليسه حتى أناموهم
(2)، فلما فرغوا من الأشراف شدوا على السفلة فأفنوهم، فلم يدعوا منهم شطراً، فقال الأسود:
ذوقي ببغيك يا طسمٌ مجلَّلةً
… فقد أتيتِ لعمري أعجبَ العجبِ
إَّنا أتينا فلم ننفكَّ نقتلهم
… والبغي هيَّجَ منَّا سورةَّ الغضب
فلن يعودَ علينا بغيهم أبداً
… ولن يكونوا لدى أنفٍ ولا ذنب
(3)ولو رعيتم لنا قربى مؤكَّدةً
… كنَّا الأقاربَ في الأرحامِ والنَّسبِ
ومنهم أيضاً:
الأسود بن عفارهذا، وكان هرب من حسان بن تبع، حين استغاثه الطسمي، فغزا جديساً فقتلها، وأخرب جوا
(4)، فمضى الأسود فأقام بجبلي طيئ قبل نزول طيئ إياهما.
--------------------------------------------
কিন্তু এই সম্প্রদায় সংখ্যায় আমাদের চেয়ে অনেক বেশি এবং শক্তিশালী। তিনি বললেন: আমি বাদশাহর জন্য খাবারের আয়োজন করব, এরপর তাদেরকে সেখানে দাওয়াত দেব। যখন তারা তাদের লম্বা পোশাক ঝুলিয়ে আয়েশি ভঙ্গিতে আসবে
(১), আমরা তলোয়ার নিয়ে তাদের দিকে ধাবিত হব এবং তাদের হত্যা করব। আমি একাকী আমলিকের মোকাবিলা করব, আর প্রত্যেকে তার পাশে বসা ব্যক্তির মোকাবিলা করবে। এই বিষয়ের ওপরই তাদের মতৈক্য প্রতিষ্ঠিত হলো।
অতঃপর আসওয়াদ প্রচুর খাবারের ব্যবস্থা করলেন এবং লোকদের নির্দেশ দিলেন তারা যেন তাদের তলোয়ারগুলো খাপমুক্ত করে তাদের নিচে বালুর মধ্যে পুঁতে রাখে। এরপর তিনি লোকজনকে দাওয়াত দিলেন এবং তারা তাদের লম্বা পোশাক ঝুলিয়ে উপস্থিত হলো। যখন তারা নিজ নিজ আসনে বসল এবং খাবারের দিকে হাত বাড়াল, তখন তারা (আয়োজকরা) তাদের পায়ের নিচ থেকে তলোয়ারগুলো বের করে নিল। এরপর আসওয়াদ আমলিকের ওপর এবং প্রত্যেক ব্যক্তি তার পার্শ্ববর্তী ব্যক্তির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ল, যতক্ষণ না তারা তাদেরকে চিরতরে ঘুম পাড়িয়ে দিল
(২)। যখন তারা নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের কাজ শেষ করল, তখন তারা সাধারণ নিম্নস্তরের লোকদের ওপর চড়াও হলো এবং তাদের নির্মূল করে দিল। তাদের কোনো অংশকেই তারা অবশিষ্ট রাখল না। তখন আসওয়াদ বললেন:
হে তাসম! তোমার সীমালঙ্ঘনের কারণে অপমানের স্বাদ গ্রহণ করো
… আমার জীবনের কসম, তুমি অত্যন্ত আশ্চর্যজনক (নিন্দনীয়) কাজ করেছ।
আমরা এসেছি এবং অবিরাম তাদের হত্যা করে চলেছি
… আর সীমালঙ্ঘন আমাদের মধ্যে ক্রোধের তীব্রতাকে উসকে দিয়েছে।
তাদের সীমালঙ্ঘন আমাদের ওপর আর কখনোই ফিরে আসবে না
… আর তাদের কোনো অস্তিত্বই থাকবে না, না শুরুতে না শেষে
(৩)।
আর যদি তোমরা আমাদের মধ্যকার সুদৃঢ় আত্মীয়তার সম্পর্কের মর্যাদা রক্ষা করতে
… তবে আমরা গর্ভজাত ও বংশগতভাবে নিকটাত্মীয় হয়ে থাকতাম।
তাদের মধ্য থেকে আরও একজন হলেন:
আসওয়াদ বিন আফফারইনি সেই ব্যক্তি, যিনি হাসসান বিন তুব্বা’র কাছ থেকে পালিয়ে গিয়েছিলেন, যখন তাসমীয় ব্যক্তিটি তার কাছে সাহায্য প্রার্থনা করেছিল। অতঃপর হাসসান জাদীস গোত্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে তাদের হত্যা করেন এবং জাও নামক স্থানটি ধ্বংস করে দেন
(৪)। এরপর আসওয়াদ প্রস্থান করেন এবং তায় গোত্র সেখানে আসার আগেই তিনি তায়ের দুটি পাহাড়ে অবস্থান গ্রহণ করেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ٢)
আসমাউল মুগাতালীন মিনাল আশরাফ ওয়া আসমাউ মান ক্বুতিলা মিনাশ শুয়ারা - যিমনা নাওয়াদিরিল মাখতুদাত
(পৃষ্ঠা: ١٢١)
وكان سبب قتله أن طيئاً كانوا يسكنون الجوف
(1) من أرض اليمن، وهو اليوم محله مراد وهمدان، وكان مسكنهم وادياً يدعى ظريباً
(2)، وكان سيدهم يومئذ أسامة بن لؤي
(3) بن الغوث بن طيئ، وكان الوادي مسبعة
(4) وهم قليل عديدهم
(5)، وقد كان ينتابهم بعير في أزمان الخريف، فيضرب في إبلهم، فإذا انقطع الخريف لم يدر أين يذهب، ولم يروه إلى قابل. وكانت الأزد قد خرجت من اليمن أيام العرم
(6) فتفرقت، فاستوحشوا لذلك، وقالوا:
قد ظعن إخوتنا فصاروا إلى الأرياف. فلما هموا بالظعن قالوا: يا قوم، إن هذا البعير الذي يأتينا، من بلد ريف وخصب، وإنا لنصيب في بعره النوى، ولو أنا تعهدناه عند انصرافه فشخصنا معه لعلنا نصيب مكاناً خيراً من مكاننا هذا.
فأجمعوا أمرهم على ذلك. فلما كان الخريف جاء الجمل فضرب في إبلهم، فلما انصرف احتملوا فتبعوه، فجعلوا يسيرون بسيره، ويبيتون حيث يبيت، حتى هبط بهم على الجبلين، فقال أسامة بن لؤي:
اجعلْ ظريباً كحبيبٍ ينسى
… لكلِّ قومٍ مصبحٌ وممسي
فهجمت طيئ على النخل في الشعاب، ومواش كثيرة وحشية كانت لقوم من جديس، وإذا هم برجل في شعب من تلك الشّعاب، وهو الأسود بن عفار،
--------------------------------------------
তার হত্যার কারণ ছিল যে, ত্বায় গোত্র ইয়েমেনের জাওফ
(১) অঞ্চলে বসবাস করত, যা বর্তমানে মুরাদ ও হামদান গোত্রের এলাকা। তাদের আবাসস্থল ছিল একটি উপত্যকা, যাকে যারিব
(২) বলা হতো। সেই সময় তাদের নেতা ছিলেন উসামাহ ইবনে লুওয়াই
(৩) ইবনে আল-গাওস ইবনে ত্বায়। সেই উপত্যকাটি ছিল হিংস্র প্রাণীতে পূর্ণ
(৪) এবং তাদের লোকসংখ্যা ছিল খুবই কম
(৫)। শরৎকালে একটি উট তাদের কাছে আসত এবং তাদের উটগুলোর মাঝে ঢুকে পড়ত। শরৎ শেষ হলে সেটি কোথায় যেত কেউ জানত না এবং পরবর্তী বছর না আসা পর্যন্ত তাকে আর দেখা যেত না। আযদ গোত্র সায়লুল আরিম (বিশাল বন্যা)-এর সময়
(৬) ইয়েমেন থেকে বের হয়ে বিভিন্ন দিকে ছড়িয়ে পড়েছিল। এতে ত্বায় গোত্র একাকীত্ব অনুভব করল এবং বলল:
আমাদের ভাইয়েরা দেশান্তরী হয়েছে এবং উর্বর শস্য-শ্যামল ভূমিতে চলে গেছে। যখন তারা দেশান্তরের সংকল্প করল, তখন তারা বলল: হে আমাদের কওম, এই উটটি যা আমাদের কাছে আসে, তা নিশ্চয়ই কোনো উর্বর ও প্রাচুর্যময় এলাকা থেকে আসে; কেননা আমরা এর গোবরে খেজুরের বিচি পাচ্ছি। যদি আমরা এটি ফিরে যাওয়ার সময় তার পিছু নিই এবং তার সাথে যাত্রা করি, তবে হয়তো আমরা বর্তমান স্থানের চেয়ে উত্তম কোনো জায়গার সন্ধান পাব।
তারা এই ব্যাপারে একমত হলো। অতঃপর শরৎকাল এলে উটটি এল এবং তাদের উটের পালে ঢুকে পড়ল। যখন সেটি রওনা হলো, তারা তাদের আসবাবপত্র গুছিয়ে তার পিছু নিল। তারা তার গতির সাথে চলতে থাকল এবং সে যেখানে রাত কাটাত, তারাও সেখানে রাত কাটাল। শেষ পর্যন্ত সে তাদের নিয়ে জাবালায়ন (দুই পাহাড়) নামক স্থানে পৌঁছাল। তখন উসামাহ ইবনে লুওয়াই বললেন:
যারিবকে এমন এক প্রিয়জনের মতো গণ্য করো যাকে ভুলে যেতে হয়
… প্রতিটি জাতিরই রয়েছে প্রভাত ও সন্ধ্যা (উত্থান-পতন)
অতঃপর ত্বায় গোত্র গিরিপথগুলোর খেজুর বাগান এবং জাদিস গোত্রের মালিকানাধীন প্রচুর বন্য গবাদিপশুর উপর চড়াও হলো। হঠাৎ তারা সেই গিরিপথগুলোর একটিতে এক ব্যক্তির দেখা পেল, যার নাম ছিল আল-আসওয়াদ ইবনে আফফার।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ٢)
আসমাউল মুগাতালীন মিনাল আশরাফ ওয়া আসমাউ মান ক্বুতিলা মিনাশ শুয়ারা - যিমনা নাওয়াদিরিল মাখতুদাত
(পৃষ্ঠা: ١٢٢)
فها لهم ما رأوا من عظم خلقته وتخوفوه، فنزلوا ناحية من الأرض، [وسبروها هل يرون بها أحداً غيره؟ فلم يروا، فقال
(1)] أسامة بن لؤي لابن له يقال له الغوث: أي بني، إن قومك قد عرفوا فضلك عليهم في الجلد والبأس والرمي، فإن كفيتنا هذا الرجل سدت قومك آخر الدهر، وكنت أنت الذي أنزلتنا هذا البلد. فانطلق الغوث حتى أتى الرجل فكلمه وساءله، فعجب الأسود من صغر خلق الغوث
(2)، فقال له: من أين أقبلتم؟ قال: من اليمن. وأخبره خبر البعير، وأنا رهبنا ما رأينا من عظم خلقك. فشغلوه بالكلام، وختله الغوث فرماه بسهم فقتله، فأقامت طيئ بالجبلين.
ومنهم:
عامر الضحيان (3)بن سعد بن الخزرج بن تيم الله بن النمر بن قاسط، وكان صاحب مرباع ربيعة بن نزار، ومنزلها في نجعها، وحكمها في خصوماتها، وكانت ربيعة تغزو المغازي وهو في منزله، فتبعث له نصيبه ولنسائه حصة، إعظاماً له، فمكث بذلك حيناً، وفي ذلك قول بعضهم:
تعجبني أسدٌ ضارياتٌ
… ويأكل مرباعهنَّ الضَّبع
(4)تمارس عنَّا بصمِّ القنا
… لشيخ
(5) أمامة أن يضطجع
وكان أعرج. وأنه شرب الخمر فاشتهى لحما، فذكرت له نعجة غربية
(6)--------------------------------------------
তারা যা দেখেছিল তার দেহের বিশালতা তাদের আতঙ্কিত করল এবং তারা ভয় পেল। ফলে তারা ভূমির এক প্রান্তে অবতরণ করল, [এবং তারা তা পরীক্ষা করে দেখল সেখানে তাকে ছাড়া অন্য কাউকে দেখা যায় কি না? তারা কাউকে দেখতে পেল না, তখন
(১)] উসামা ইবনে লুয়াই তার এক পুত্রকে, যাকে গাওস বলা হতো, বলল: হে বৎস! তোমার গোত্র তোমার ধৈর্য, বীরত্ব এবং লক্ষ্যভেদে তোমার পারদর্শিতা সম্পর্কে অবগত আছে। তুমি যদি আমাদের এই লোকটির হাত থেকে রক্ষা করো, তবে তুমি অনন্তকালের জন্য তোমার গোত্রের নেতৃত্ব লাভ করবে এবং তুমিই হবে সেই ব্যক্তি যে আমাদের এই জনপদে বসতি স্থাপনের সুযোগ করে দিয়েছে। অতঃপর গাওস এগিয়ে গেল এবং লোকটির কাছে পৌঁছে তার সাথে কথা বলল ও তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করল। সেই কৃষ্ণাঙ্গ ব্যক্তিটি গাওসের ক্ষুদ্র আকৃতি দেখে বিস্মিত হলো
(২)। সে তাকে জিজ্ঞাসা করল: তোমরা কোথা থেকে এসেছ? সে বলল: ইয়েমেন থেকে। অতঃপর সে তাকে উটের সংবাদ জানাল এবং বলল যে, আমরা আপনার দেহের বিশালতা দেখে আতঙ্কিত হয়েছিলাম। তারা তাকে কথাবার্তায় ব্যস্ত রাখল, আর গাওস তাকে সুযোগ বুঝে তীরের আঘাতে হত্যা করল। ফলে তাইয়ি গোত্র এই দুই পাহাড়ে বসবাস শুরু করল।
এবং তাদের মধ্যে ছিল:
আমির আদ-দাহইয়ান (৩)ইবনে সাদ ইবনে আল-খাজরাজ ইবনে তাইমুল্লাহ ইবনে আন-নামির ইবনে কাসিত। তিনি রাবিআ ইবনে নিজারের গনিমতের এক-চতুর্থাংশের অধিকারী ছিলেন এবং তাদের বসতি ও বিবাদসমূহের বিচারক ছিলেন। রাবিআ গোত্র যখন যুদ্ধে লিপ্ত হতো, তিনি তার ঘরেই অবস্থান করতেন। তার প্রতি সম্মান প্রদর্শনার্থে তারা তার ও তার স্ত্রীদের প্রাপ্য অংশ পাঠিয়ে দিত। তিনি দীর্ঘকাল এভাবেই অতিবাহিত করেন। এ প্রসঙ্গে কবি বলেন:
হিংস্র সিংহরা আমাকে বিস্মিত করে
… যাদের শিকার করা এক-চতুর্থাংশ হায়েনা ভক্ষণ করে
(৪)তারা আমাদের পক্ষ থেকে শক্ত বল্লম নিয়ে লড়াই করে
… যাতে উমামার বৃদ্ধ
(৫) শান্তিতে শুয়ে থাকতে পারে।
তিনি খোঁড়া ছিলেন। একদা তিনি মদ্যপান করে মাংস খাওয়ার তীব্র আকাঙ্ক্ষা করলেন, তখন তার কাছে এক জনৈক আগন্তুক মহিলার ভেড়ীর কথা উল্লেখ করা হলো
(৬)--------------------------------------------
(খণ্ড: ٢)
আসমাউল মুগাতালীন মিনাল আশরাফ ওয়া আসমাউ মান ক্বুতিলা মিনাশ শুয়ারা - যিমনা নাওয়াদিরিল মাখতুদাত
(পৃষ্ঠা: ١٢٣)
لكعب بن الحارث بن عامر بن عبد القيس، كانت امرأته مرضت فخلفها ظئراً لابنه، فبعث إليها الضحيان فذبحها وكعب غائب، فرجع كعب فرأى ابنه يضغو جوعاً، فسأل عن النعجة فأخبروه أن الضحيان أكلها، فخرج بحربته حتى انتهى إلى منزله ليلاً فصرخ به فقالت له امرأته: الذي يدعوك يريد قتلك، فلا تخرج إليه! فقال: لو دعي عامر لطعنة أجاب! وخرج فبدره كعب فأوجره الحربة
(1) فقتله.
ومنهم:
عبدة بن مرارةبن سوار بن الحارث بن سعد بن مالك بن ثعلبة بن. . . . . . . .
(2). وهلال بن أمية الخزاعي، فحبا الأسدي حباء كثيراً، ولم يحب هلالا شيئاً فأقفلا
(3) حتى إذا كانا بواد يقال له وادي طفيل مالا إليه، فنزلا، فغدا الخزاعي على عبدة بن مرارة وهو راقد فقتله، وأخذ ما حبي به. فلما قدم سئل عنه فقال: مات! فصدقوه، واشترى بما أخذ منه إبلاً وخيلا.
فتغنى يوماً الخزاعي وقد أخذ فيه الشراب:
أبلغْ بني أسدٍ بأنَّ أخاهم
… بلوى طفيل عبدة بن مراره
(4)--------------------------------------------
কাব বিন হারিস বিন আমির বিন আব্দুল কাইসের একটি ঘটনা। তাঁর স্ত্রী অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন, তাই তিনি তাঁর পুত্রের জন্য একটি দুগ্ধবতী পশু (দাত্রী) রেখে গিয়েছিলেন। কিন্তু আদ-দাহইয়ান সেটিকে জবেহ করে ফেলে যখন কাব অনুপস্থিত ছিলেন। কাব ফিরে এসে দেখলেন তাঁর পুত্র ক্ষুধার তাড়নায় কাঁদছে। তিনি ভেড়ীটির কথা জিজ্ঞেস করলে তাঁকে জানানো হলো যে আদ-দাহইয়ান সেটি খেয়ে ফেলেছে। তখন তিনি তাঁর বর্শা নিয়ে বের হলেন এবং রাতে তার বাড়িতে পৌঁছে তাকে চিৎকার করে ডাকলেন। তখন তার (আদ-দাহইয়ানের) স্ত্রী তাকে বলল: "যে ব্যক্তি তোমাকে ডাকছে সে তোমাকে হত্যা করতে চায়, সুতরাং তার কাছে বের হয়ো না!" সে উত্তর দিল: "যদি আমিরকে বর্শাঘাতের জন্যও ডাকা হয়, তবে সে সাড়া দেবে!" এরপর সে বের হয়ে এলে কাব তাকে দ্রুত আক্রমণ করলেন এবং তার গলায় বর্শা ঢুকিয়ে দিয়ে তাকে হত্যা করলেন।
(১)তাদের মধ্যে রয়েছেন:
আবদাহ বিন মুরারাহবিন সাওয়ার বিন হারিস বিন সাদ বিন মালিক বিন সালাবা বিন. . . . . . . .
(২)। এবং হিলাল বিন উমাইয়াহ আল-খুজায়ি। আসাদি ব্যক্তিকে অনেক উপহার দেওয়া হলো, কিন্তু হিলালকে কিছুই দেওয়া হলো না। তারা যখন ফিরে আসছিল
(৩), তখন তুফাইল নামক একটি উপত্যকায় পৌঁছলে তারা সেখানে যাত্রাবিরতি করল। তখন খুজায়ি ব্যক্তিটি ঘুমন্ত অবস্থায় আবদাহ বিন মুরারাহর ওপর চড়াও হয়ে তাকে হত্যা করল এবং তাকে দেওয়া উপহারগুলো ছিনিয়ে নিল। যখন সে ফিরে এল, তখন তার সম্পর্কে তাকে জিজ্ঞেস করা হলে সে বলল: "সে মারা গেছে!" লোকেরা তাকে বিশ্বাস করল। সে যা কেড়ে নিয়েছিল তা দিয়ে সে অনেক উট ও ঘোড়া ক্রয় করল।
একদিন খুজায়ি ব্যক্তিটি মদ্যপ অবস্থায় গান গাইতে লাগল:
বনু আসাদকে এই সংবাদ পৌঁছে দাও যে তাদের ভাই … তুফাইলের প্রান্তরে আবদাহ বিন মুরারাহ।
(৪)--------------------------------------------
(খণ্ড: ٢)
আসমাউল মুগাতালীন মিনাল আশরাফ ওয়া আসমাউ মান ক্বুতিলা মিনাশ শুয়ারা - যিমনা নাওয়াদিরিল মাখতুদাত
(পৃষ্ঠা: ١٢٤)
يؤتى فقيرهم ويمنع ضيمهم
… ويريح بعد المعتمين عشارة
(1)فلما سمعت بذلك بنو أسد نهضوا إلى بني كنانة فقالوا. حليفكم هذا قتل أخانا، فإن تدوه دية الملوك نقبل، وإن تأبوا نقتل! فودوه دية الملوك:
ألف بعير.
ومنهم:
زهير بن عبد شمسمن بني صيفي بن سبأ الأصغر، وقتلته بلقيس بنت [اليشرح بن ذي جدن بن يشرح بن الحارث بن قيس بن
(2)] صيفي.
وكان سبب ذلك أنه كان ملكاً، فعلا في مملكته وتكبر، وجعل يعتذر النساء قبل أزواجهن، كما كان يفعل عمليق، حتى أدركت بلقيس فقالت لأبيها: إن هذا الرجل قد فضح نساءكم فائته فقل له: إن لي بنتاً قد أعصرت
(3)، وليس في قومها شبيه لها حسناً وجمالاً. فإن قال لك: فابعث بها إلي، فقل: إن مثلي في شرفي ونسبي لا تعتذر ابنته إلا في بيته! فأتاه فذكر ذلك له، فلما قال له: ابعث بها قال له ما علمته ابنته، فقال له: كيف بنزلى
--------------------------------------------
তাদের অভাবীদের দান করা হয় এবং তাদের ওপর হওয়া জুলুম প্রতিরোধ করা হয়
… এবং রাতের অন্ধকারের পর গর্ভবতী উটগুলো বিশ্রাম নেয়।
(১)যখন বনু আসাদ এই খবর শুনল, তারা বনু কিনানার দিকে অগ্রসর হলো এবং বলল: "তোমাদের এই মিত্র আমাদের ভাইকে হত্যা করেছে। যদি তোমরা তার দিয়াত (রক্তপণ) রাজাদের দিয়াতের ন্যায় প্রদান করো তবে আমরা গ্রহণ করব, আর যদি অস্বীকার করো তবে আমরা হত্যা করব!" তখন তারা তাকে রাজাদের দিয়াত প্রদান করল:
এক হাজার উট।
এবং তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন:
যুহাইর ইবনে আবদ শামসতিনি বনু সাইফি ইবনে সাবা আল-আসগার গোত্রের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন এবং তাকে বিলকিস বিনতে [আল-ইয়াশরাহ ইবনে যি জাদান ইবনে ইয়াশরাহ ইবনে আল-হারিস ইবনে কায়স ইবনে
(২)] সাইফি হত্যা করেছিলেন।
এর কারণ ছিল যে, সে একজন রাজা ছিল, সে তার রাজ্যে উদ্ধত ও অহংকারী হয়ে উঠেছিল এবং সে নারীদের তাদের স্বামীদের নিকট যাওয়ার আগে তাদের সতীত্ব হরণ করতে শুরু করেছিল, যেমনটি আমলিক করত। শেষ পর্যন্ত বিলকিস যখন প্রাপ্তবয়স্ক হলেন, তখন তিনি তার পিতাকে বললেন: "এই ব্যক্তি তোমাদের নারীদের অপমানিত করেছে। আপনি তার কাছে যান এবং তাকে বলুন: আমার একটি কন্যা আছে যে যৌবনে পদার্পণ করেছে, এবং তার কওমের মধ্যে রূপ ও সৌন্দর্যে তার সমকক্ষ কেউ নেই। যদি সে আপনাকে বলে: তাকে আমার কাছে পাঠিয়ে দিন, তবে আপনি বলবেন: আমার মতো উচ্চমর্যাদা ও বংশমর্যাদার অধিকারীর কন্যার সতীত্ব হরণ তার নিজ ঘর ছাড়া অন্য কোথাও হতে পারে না!" অতঃপর তিনি তার কাছে গেলেন এবং বিষয়টি তাকে জানালেন। যখন সে তাকে বলল: তাকে পাঠিয়ে দিন, তখন তিনি তাকে তা-ই বললেন যা তার কন্যা তাকে শিখিয়ে দিয়েছিলেন। তখন সে তাকে বলল: আমার আতিথেয়তার ব্যবস্থা কেমন হবে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ٢)
আসমাউল মুগাতালীন মিনাল আশরাফ ওয়া আসমাউ মান ক্বুতিলা মিনাশ শুয়ারা - যিমনা নাওয়াদিরিল মাখতুদাত
(পৃষ্ঠা: ١٢٥)
ونزل من معي من أصحابي
(1)؟ فقال: ما أحملني لنزل الملك، وأشد سروري به، لأ [نّها
(2)] مكرمة لي، ويد وضعها الملك عندي. فأجابه إلى إتيانه، ولم يجب إلى ذلك غيره فأتي داره فزخرفها وزخرف أبياتاً ثلاثة بأحسن ما يكون من زينة ذلك الزمان، وحشد لنزله، ثم أتاه فأعلمه بالفراغ، فركب فأتاه وقد أدخلت بلقيس نفراً من أقاربها بأسلحتهم. ولما دخل البيت الأول أعجبه ما رأى من هيئته، ثم دخل البيت الثاني فكان أحسن، ثم دخل الثالث وفيه بلقيس في حليها وحللها مع جمالها، فلما استلقى على الفراش، وأخرج حرسه وأجناده
(3)، وأمر بالباب فأغلق دونه - وكان معه المقاول - قالت للنفر:
اخرجوا. فخرجوا فقتلوه. ثم أرسلت إلى رجل آخر من مقاولته وخواصّه، تدعوهم فيقتلونهم، ولا يظنّ من يرسل إليه إلّا أنّ الملك يدعوه، حتّى أتت على آخرهم. ثم أرسلت إلى أبيها وقومها فخرجت إليهم وقالت: هذا الخبيث قد فضح نساءكم وجعلكم شهرة في الناس قد أراحكم الله منه، فدونكم ملكوا من شئتم. فقالوا بأجمعهم: ما أحد أولى بهذا منك! فملكوها عليهم فملكتهم، حتى كان من أمر الهدهد وسليمان عليه السلام ما كان.
--------------------------------------------
এবং আমার সাথে আমার যে সব সঙ্গী রয়েছে তাদের আতিথ্য কোথায়
(১)? সে বলল: বাদশাহর আতিথ্যের ভার বহন করার সামর্থ্য আমার রয়েছে এবং এতে আমি অত্যন্ত আনন্দিত, কেননা [এটি
(২)] আমার জন্য একটি সম্মান এবং বাদশাহর পক্ষ থেকে আমার প্রতি একটি অনুগ্রহ। অতঃপর তিনি তার আসার আহ্বানে সাড়া দিলেন, এবং তিনি ছাড়া আর কেউ তাতে সাড়া দেয়নি। এরপর তিনি তার বাড়িতে আসলেন এবং তা সুসজ্জিত করলেন। তিনি তিনটি ঘরকে সেই সময়ের শ্রেষ্ঠ অলঙ্করণে সজ্জিত করলেন এবং মেহমানদারির সরঞ্জাম একত্রিত করলেন। অতঃপর তিনি তার নিকট গিয়ে কাজ শেষ হওয়ার কথা জানালেন। এরপর তিনি সওয়ার হয়ে তার নিকট আসলেন। এদিকে বিলকিস ইতিপূর্বেই তার আত্মীয়-স্বজনদের মধ্য থেকে একদল লোককে অস্ত্রসহ ভেতরে প্রবেশ করিয়েছিলেন। যখন তিনি প্রথম ঘরে প্রবেশ করলেন, তখন তার দৃশ্য দেখে তিনি মুগ্ধ হলেন। এরপর তিনি দ্বিতীয় ঘরে প্রবেশ করলেন, যা ছিল আরও সুন্দর। তারপর তিনি তৃতীয় ঘরে প্রবেশ করলেন যেখানে বিলকিস তার রূপ-যৌবনসহ অলঙ্কার ও পোশাকে সজ্জিত হয়ে অবস্থান করছিলেন। এরপর যখন তিনি বিছানায় শুয়ে পড়লেন এবং তার দেহরক্ষী ও সৈন্যদের
(৩) বের করে দিলেন এবং তার সামনে দরজা বন্ধ করার নির্দেশ দিলেন—তখন তার সাথে গোত্রপতিরাও ছিল—তিনি (বিলকিস) সেই দলটিকে বললেন:
বের হও। অতঃপর তারা বের হয়ে তাকে হত্যা করল। তারপর তিনি তার অন্যান্য গোত্রপতি ও ঘনিষ্ঠজনদের কাছে লোক পাঠালেন; তিনি তাদের ডাকতেন আর তারা তাদের হত্যা করত। যাকে ডাকা হতো সে মনে করত বাদশাহ তাকে ডাকছেন, এভাবে তিনি তাদের শেষ ব্যক্তি পর্যন্ত শেষ করলেন। তারপর তিনি তার পিতা ও কওমের নিকট সংবাদ পাঠালেন এবং তাদের সামনে গিয়ে বললেন: এই পাপিষ্ঠ তোমাদের নারীদের অপমানিত করেছে এবং লোকসমাজে তোমাদের কলঙ্কিত করেছে। আল্লাহ তোমাদের তার হাত থেকে মুক্তি দিয়েছেন; এখন তোমরা যাকে চাও তাকে শাসনভার অর্পণ করো। তারা সকলে বলল: আপনার চেয়ে এর যোগ্য আর কেউ নেই! অতঃপর তারা তাকে তাদের উপর রাজ্যাভিষেক করল এবং তিনি তাদের শাসন করতে লাগলেন। এরপর হুদহুদ ও সুলাইমান আলাইহিস সালামের যা কিছু হওয়ার তা ঘটল।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ٢)
আসমাউল মুগাতালীন মিনাল আশরাফ ওয়া আসমাউ মান ক্বুতিলা মিনাশ শুয়ারা - যিমনা নাওয়াদিরিল মাখতুদাত
(পৃষ্ঠা: ١٢٦)
ومنهم:
الحارث بن كعبوقتله ضبة بن أد
(1).
وسبب ذلك أن ضبة تفرقت إبله تحت الليل، وكان له ابنان: سعد وسعيد، فخرجا يطلبانها، فتفرقا في طلبها، فجاء بها سعد ولم يرجع سعيد، فأنى على ذلك ما شاء اللّه أن يأتي، لا يرى سعيداً ولا يعلم له خبراً.
ثم إن ضبة بعد ذلك بينا هو يسير والحارث بن كعب في الأشهر الحرم وهما يتحدّثان، إذ مرّا على سرحة
(2) بمكان، فقال له الحارث: أترى هذا المكان فإني لقيت به شاباً من هيئته كذا وكذا - فوصف له صفة سعيد - فقتلته وأخذت برداً كان عليه، من صفة البرد كذا وكذا! فوصف له صفة البرد وسيفاً كان عليه. فقال ضبة: فما صفة السيف؟ قال: ها هو ذا علي. قال ضبة:
فأرني السيف. فأراه إياه، فعرفه فضربه حتى قتله. ولام الناس ضبة فقالوا:
قتل رجلاً في الأشهر الحرم! فقال ضبة: «سبق السَّيف العذل
(3)»! فصارت مثلا.
--------------------------------------------
তাদের মধ্যে রয়েছেন:
আল-হারিস ইবনে কাবতাকে দাব্বাহ ইবনে উদ্দ হত্যা করেছিলেন
(১)।
এর কারণ ছিল এই যে, এক রাতে দাব্বাহর উটগুলো চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছিল। তার দুইজন পুত্র ছিল: সাদ এবং সাঈদ। তারা উটগুলোর খোঁজে বের হলো এবং সন্ধানের সময় তারা একে অপর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল। সাদ উটগুলো নিয়ে ফিরে এলেও সাঈদ আর ফিরে আসেনি। এরপর আল্লাহর ইচ্ছায় দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলো, কিন্তু সাঈদের দেখা পাওয়া গেল না এবং তার কোনো খবরও জানা গেল না।
অতঃপর একদিন দাব্বাহ এবং আল-হারিস ইবনে কাব পবিত্র মাসগুলোর কোনো এক সময়ে পথ চলছিলেন এবং একে অপরের সাথে কথা বলছিলেন। পথিমধ্যে তারা একটি বিশেষ গাছের (সারহাহ) পাশ দিয়ে অতিক্রম করলেন। তখন আল-হারিস তাকে বলল: "তুমি কি এই জায়গাটি দেখছ? আমি এখানে এমন এমন আকৃতির এক যুবকের দেখা পেয়েছিলাম - সে সাঈদের হুবহু বর্ণনা দিল - তখন আমি তাকে হত্যা করি এবং তার গায়ের একটি চাদর নিয়ে নিই, যার বর্ণনা ছিল এমন এমন!" সে চাদরটির এবং তার সাথে থাকা একটি তলোয়ারের বর্ণনা দিল। দাব্বাহ বললেন: "তলোয়ারটির বিবরণ কেমন?" সে বলল: "এই তো, সেটি আমার সাথেই আছে।" দাব্বাহ বললেন:
তলোয়ারটি আমাকে দেখাও। সে তাকে তলোয়ারটি দেখাল। তিনি সেটি চিনে ফেললেন এবং তাকে আঘাত করে হত্যা করলেন। তখন লোকেরা দাব্বাহকে তিরস্কার করে বলল:
তিনি পবিত্র মাসে একজন মানুষকে হত্যা করলেন! তখন দাব্বাহ বললেন: "তলোয়ার তিরস্কারের আগেই কাজ সেরে ফেলেছে!" পরে এটি একটি প্রবাদে পরিণত হয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ٢)
আসমাউল মুগাতালীন মিনাল আশরাফ ওয়া আসমাউ মান ক্বুতিলা মিনাশ শুয়ারা - যিমনা নাওয়াদিরিল মাখতুদাত
(পৃষ্ঠা: ١٢٧)
ومنهم:
داود بن هبالةبن عمرو بن [عوف بن ضجعم بن
(1)] سعد بن سليح
(2) بن حلوان ابن عمران بن الحاف بن قضاعة. وكان أول ملك الروم بالشام على عهده.
وذلك أنه كان ملكاً فغلبه ملك الروم على ملكه، فصالحه داود على أن يقره في منازله ويدعه فيكون تحت يده، ففعل فكان يغير بمن معه، ثم تنصر وكره الدماء وبنى ديراً، فكان ينقل الطين على ظهره والماء، فسمي «اللثق»، فنسب الدير إليه، وأنزله الرهبان فلما تعبد اجترئ عليه فقال له ملك الروم: اغز بمن معك من العرب فلم يجد بداً من أن يفعل، فغزا فكان على خيله جعفر بن صبح التنوخي، وكان معه في جيشه زهير بن جناب
(3) ابن هبل الكلبي، فغزا عبد القيس، فقتل زهير بن جناب هدّاج بن مالك ابن عامر بن الحارث بن أنمار بن عمرو بن وديعة بن لكيز بن أفصى
(4) ابن عبد القيس، وأغار في وجهه على [بكر
(5)] بن وائل فقتل زهير أيضاً هداج بن مالك بن تيم الله بن ثعلبة بن عكابة
(6)، فقال حذار
(7) بن ظالم بن ذهل بن عجل العبدي:
--------------------------------------------
তাদের মধ্যে অন্যতম:
দাউদ বিন হাবালাহবিন আমর বিন [আওফ বিন দাজআম বিন
(১)] সাদ বিন সালিহ
(২) বিন হুলওয়ান ইবনে ইমরান বিন আল-হাফ বিন কুদাআহ। তার যুগে সিরিয়া (শাম) অঞ্চলে রোমানদের পক্ষ থেকে প্রথম রাজা তিনিই ছিলেন।
ঘটনা এই যে, তিনি একজন রাজা ছিলেন, অতঃপর রোমান সম্রাট তার রাজত্বের ওপর তাকে পরাভূত করেন। তখন দাউদ সম্রাটের সাথে এই শর্তে সন্ধি করেন যে, সম্রাট তাকে তার নিজ আবাসস্থলে বহাল রাখবেন এবং তাকে তার অধীনে ছেড়ে দেবেন। সম্রাট তা-ই করলেন। অতঃপর দাউদ তার সাথে থাকা লোকদের নিয়ে অভিযান পরিচালনা করতেন। পরবর্তীকালে তিনি খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করেন এবং রক্তপাত অপছন্দ করতে শুরু করেন। তিনি একটি মঠ (দাইর) নির্মাণ করেন। সেখানে তিনি নিজের পিঠে করে কাদা ও পানি বহন করতেন। এ কারণে তাকে ‘আল-লাসিক’ (কর্দমাক্ত) বলা হতো এবং মঠটিকে তার দিকেই সম্বন্ধযুক্ত করা হতো। সন্ন্যাসীরা তাকে সেখানে থাকতে দেন। যখন তিনি ইবাদতে মগ্ন হলেন, তখন তার ওপর দুঃসাহস দেখানো হলো। রোমান সম্রাট তাকে বললেন: "তোমার সাথে থাকা আরবদের নিয়ে যুদ্ধে যাও।" তিনি তা করতে বাধ্য হলেন। অতঃপর তিনি যুদ্ধে বের হলেন; তার অশ্বারোহী বাহিনীর দায়িত্বে ছিলেন জাফর বিন সুবহ আত-তানুখি। তার সেনাবাহিনীতে আরও ছিলেন জুহাইর বিন জানাব
(৩) ইবনে হাবাল আল-কালবি। তিনি আবদ আল-কায়েস গোত্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেন। জুহাইর বিন জানাব হত্যা করেন হাদ্দাজ বিন মালিক ইবনে আমির বিন আল-হারিস বিন আনমার বিন আমর বিন ওয়াদিয়াহ বিন লুকাইজ বিন আফসা
(৪) ইবনে আবদ আল-কায়েসকে। তিনি বকর
(৫) বিন ওয়াইল গোত্রের ওপর সম্মুখ আক্রমণ করেন এবং জুহাইর সেখানেও হাদ্দাজ বিন মালিক বিন তাইমুল্লাহ বিন সালাবাহ বিন উকাবাহকে
(৬) হত্যা করেন। তখন হিযার
(৭) বিন জালিম বিন যুহল বিন আজল আল-আবদি বলেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ٢)
আসমাউল মুগাতালীন মিনাল আশরাফ ওয়া আসমাউ মান ক্বুতিলা মিনাশ শুয়ারা - যিমনা নাওয়াদিরিল মাখতুদাত
(পৃষ্ঠা: ١٢٨)
لعمري لقد أردت سيوفُ ابن ضجعمٍ
… غداةَ التقوا منَّا خطيباً وياسرا
(1)أهانَ الرِّجال بعده فكأنما
… يرى بالرِّجال الصَّالحين الأباعرا
فلا تبعدن إمَّا لقيتَ ابنَ مالكِ
… سبيلَ التي فيها لقيت المعاذرا
وقال زهير بن جناب:
فجَّعتُ عبدَ القيس أمسِ بجدِّها
… وسقيتُ هدَّاجاً بكأسِ الأفرل
(2)ثم أقبل داود حتى إذا كان بناحية الرقم تذاكر رجال من قضاعة ما دخلهم من الذل لصنعه الذي صنعه بنفسه، فتواعد رجلان من قضاعة على قتل داود، أحدهما ثعلبة القائل بن
(3) ........ زيد اللات بن رفيدة بن ثور بن كلب
(4)، والآخر معاوية بن حجيو بن حي بن وائل بن أمر مناة
(5) بن مشجعة بن التيم بن النمر بن وبرة، أخو كلب بن وبرة. فأقبل داود يسير ليلاً وأمامه شمعة وهو منصرف إلى الشام، حتى انتهى إلى موضع يقال له برقة حارب، فتقدما إلى الشمعة فأطفآها
(6) وشدا عليه فقتلاه، فقال عبد العاص بن ثعلبة التنوخي يرثيه:
لعمري لنعم المرءُ من آل ضجعمٍ
… ثوى بين أحجار ببرقةِ حارب
(7)أصابتك ذؤبان الحليفين عامرٍ
… ومشجعةَ الأوباشِ رهطِ ابن قارب
فتىً لم تلده بنت عمِّ قريبة
… فيضوى وقد يضوى وليدُ القرائب
(8)فتى ليسَ بالراضي بأدنى معيشةٍ
… وليس له ذو العجز يوماً بصاحب
--------------------------------------------
আমার জীবনের কসম! ইবনে দাজ'আমের তলোয়ারগুলো চেয়েছিল
… যে সকালে তারা আমাদের মধ্য থেকে একজন বাগ্মী ও একজন জুয়াড়ির
(১) মুখোমুখি হয়েছিল।
সে তার পরের পুরুষদের লাঞ্ছিত করেছে, যেন সে সৎকর্মশীল ব্যক্তিদের উটের পালের মতো মনে করে।
সুতরাং তুমি যদি ইবনে মালিকের দেখা পাও তবে ধ্বংস হয়ে যেও না
… যে পথে তুমি ওজর-আপত্তির সম্মুখীন হয়েছিলে।
এবং যুহায়ের বিন জানাব বলেছেন:
গতকাল আমি আবদুল কায়সকে তার সৌভাগ্যের বিয়োগব্যথায় ব্যথিত করেছি
… এবং হাদ্দাজকে ‘আফরাল’
(২) পেয়ালা পান করিয়েছি।
এরপর দাউদ এগিয়ে এলেন, অবশেষে যখন তিনি আর-রাকম নামক স্থানের উপকণ্ঠে পৌঁছালেন, তখন কুদাআহ গোত্রের কিছু লোক দাউদ নিজের প্রতি যে হীনতা বয়ে এনেছিলেন তা নিয়ে আলোচনা করল। ফলে কুদাআহ’র দুজন লোক দাউদকে হত্যা করার প্রতিজ্ঞা করল। তাদের একজন হলো সা'লাবা, যে ব্যক্তি... বিন
(৩) ........ যায়দ আল-লাত বিন রুফাইদাহ বিন সাওর বিন কালব
(৪) এর বংশধর; আর অন্যজন হলো মুয়াবিয়া বিন হুজাইউ বিন হাই বিন ওয়ায়েল বিন আমর মানাত
(৫) বিন মুশা্জ্জাআ বিন আত-তাইম বিন আন-নামির বিন ওয়াবারা, যে কালব বিন ওয়াবারার ভাই। দাউদ রাতের বেলা সফর করছিলেন এবং তার সামনে একটি প্রদীপ ছিল। তিনি সিরিয়ার দিকে ফিরছিলেন। যখন তিনি বারকাত হারিব নামক স্থানে পৌঁছালেন, তখন তারা দুজন প্রদীপের দিকে এগিয়ে গিয়ে তা নিভিয়ে দিল
(৬) এবং তার ওপর আক্রমণ করে তাকে হত্যা করল। তখন আবদ আল-আস বিন সা'লাবা আত-তানুখি তার শোকগাথা গেয়ে বলেন:
আমার জীবনের কসম! আল-দাজ'আম পরিবারের সেই ব্যক্তিটি কতই না চমৎকার ছিলেন
… যিনি বারকাত হারিবের পাথরগুলোর মাঝে শায়িত আছেন
(৭)।
দুই মিত্র গোত্র আমিরের নেকড়েরা এবং ইবনে কারিবের দলভুক্ত মুশা্জ্জাআ’র ইতর লোকেরা তোমাকে আঘাত করেছে।
এমন এক যুবক, যাকে কোনো নিকটাত্মীয় চাচাতো বোন জন্ম দেয়নি
… ফলে সে দুর্বল হয়নি; অথচ নিকটাত্মীয়দের সন্তানরা অনেক সময় দুর্বল হয়ে থাকে
(৮)।
এমন এক যুবক যে নিম্নমানের জীবন যাপনে সন্তুষ্ট ছিল না
… এবং অক্ষম ব্যক্তি কোনোদিনই তার সঙ্গী ছিল না।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ٢)
আসমাউল মুগাতালীন মিনাল আশরাফ ওয়া আসমাউ মান ক্বুতিলা মিনাশ শুয়ারা - যিমনা নাওয়াদিরিল মাখতুদাত
(পৃষ্ঠা: ١٢٩)
وقال ثعلبة القاتل، قاتله:
نحن الأولى أردتْ ظباتُ سيوفنا
… داودَ بين البرقتينِ فحاربِ
خطرتْ عليه رماحنا فتركنه
… لمَّا شرعنَ له كأمسِ الذّاهب
وكذاك إنَّا لا تزالُ رماحنا
… تنفي العدى وتفيد رغب الراغبِ
كانت لداود ابنتان يقال لهما أمرعة، وأشعرة، وكان حلّفهما بالشام، فقدم عبد العاص التنوخيّ الشام، فبعثت إليه أمرعة تسأله عن أبيها، فعرض لها فلم تفهم، فقال:
حدِّث حديثين أمرعةْ
(1) … فإن أبتْ فأربعة
ثم أدعها يا فوزعه
… إلى الحديث والدَّعه
ألا تراها مقنعة
… وخيلها مسلَّعةْ
في كلِّ عامٍ شعشعه
… من عامرٍ ومشجعة
ثم أرسلت إليه أشعرة فحكى لها فلم تفهم، فقال:
حدِّث حديثين أشعرة
… فإن أبت فعشرة
يا ربِّ خيلٍ مضمرة
(2) … وغارةٍ محذفرة
(3)وحلَّةٍ محبَّرة
… بين لوى ......
(4)ففهمتا قوله فشقتا جيبيهما، وحلقتا رءوسهما، فهما أول من فعل ذلك من العرب.
فوزعة، الذي ذكر: فوزعة بن سلمة بن وثاق بن عمرو بن عوف
--------------------------------------------
ঘাতক ছালাবা তাকে হত্যা করে বলেছিল:
আমরাই সেই অগ্রগামী দল যাদের তলোয়ারের ধার আঘাত করেছিল
… দুই প্রস্তরময় প্রান্তরের মাঝে দাউদকে, সুতরাং যুদ্ধ কর
আমাদের বর্শাগুলো তার ওপর নেচেছিল এবং তাকে এমন অবস্থায় ছেড়ে গিয়েছিল
… যখন সেগুলো তার দিকে তাক করা হয়েছিল গত হয়ে যাওয়া গতকালের মতো
আর এভাবেই আমাদের বর্শাগুলো সর্বদা
… শত্রুদের বিতাড়িত করে এবং প্রার্থীর আকাঙ্ক্ষা পূরণ করে
দাউদের আমরাআহ ও আশআরাহ নামে দুই কন্যা ছিল এবং তিনি তাদের শাম দেশে রেখেছিলেন। অতঃপর আব্দুল আস আত-তানুখী শামে আসলেন, তখন আমরাআহ তার পিতার সংবাদ জানতে চেয়ে লোক পাঠালেন। তিনি তার কাছে এমন কিছু বললেন যা তিনি বুঝতে পারলেন না। তখন তিনি বললেন:
হে আমরাআহ, দু’টি কথা বল
(১) … যদি সে অস্বীকার করে তবে চারটি
অতঃপর হে ফাওযাআহ! তাকে ডাকো
… কথোপকথন ও স্বস্তির দিকে
তুমি কি তাকে অবগুণ্ঠিত দেখছ না
… আর তার ঘোড়াগুলো ক্ষতবিক্ষত
প্রতি বছর দীপ্তি
… আমির ও মুশাজ্জিয়া গোত্র থেকে
অতঃপর তিনি আশআরাহর নিকট সংবাদ পাঠালেন এবং তাকেও একইভাবে জানালেন কিন্তু তিনিও বুঝতে পারলেন না। তখন তিনি বললেন:
হে আশআরাহ, দু’টি কথা বল
… যদি সে অস্বীকার করে তবে দশটি
হে প্রভু! অনেক কৃশকায় ঘোড়া
(২) … এবং পরিপূর্ণ আক্রমণ
(৩)
এবং কারুকার্যমণ্ডিত পোশাক
… লিওয়া-এর মাঝে ......
(৪)
অতঃপর তারা দু’জন তার কথা বুঝতে পারল এবং তারা তাদের জামার গ্রীবাদেশ ছিঁড়ে ফেলল এবং মাথা মুণ্ডন করল। আরবদের মধ্যে তারাই প্রথম এ কাজ করেছিল।
ফাওযাআহ, যার কথা তিনি উল্লেখ করেছেন: তিনি হলেন ফাওযাআহ বিন সালামাহ বিন ওয়াছাক বিন আমর বিন আওফ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ٢)
আসমাউল মুগাতালীন মিনাল আশরাফ ওয়া আসমাউ মান ক্বুতিলা মিনাশ শুয়ারা - যিমনা নাওয়াদিরিল মাখতুদাত
(পৃষ্ঠা: ١٣٠)
ابن ذهل بن حذيى بن الدها بن غشم بن حلوان بن عمران بن الحاف بن قضاعة، وكان رسولا لهما.
ومنهم:
همام بن مرةبن ذهل بن شيبان، قتله ناشرة بن أغواث.
وكانت أم ناشرة هذا هند بنت معاوية بن الحارث بن بكر بن حبيب، وكانت جارة لهمام، فأرادت أن تلد، فاجتمع إليها النساء، فسمعهن همام يقبلنها
(1) يقلن: قد جاء، قد جاء! يعنين الولد. فقالت أمّه: ادققن عنقه.
فقال لها همام: ويحك لا تفعلي. قالت: وما يعيشه؟ قال همام: أمة تعيشه، ولقحة، وجمل ذلول. قالت: بلى فأعطاها إياها.
فلما كان يوم واردات - وهو من أيام حرب البسوس - خرج همّام يسقى الناس الماء واللبن، فأبصره ناشرة فختله فطعنه فقتله، وهرب فلحق بقومه، فقالت أم ناشرة:
لقد عيّل الأيتام طعنة ناشره
… أناشر لا زالت يمينك آشره
(2)--------------------------------------------
যুহল বিন হুযাই বিন আদ-দাহা বিন গাশাম বিন হালওয়ান বিন ইমরান বিন আল-হাফ বিন কুদাআ-এর পুত্র, এবং তিনি তাদের উভয়ের বার্তাবাহক ছিলেন।
আর তাদের মধ্যে রয়েছেন:
হাম্মাম বিন মুররাহবিন যুহল বিন শায়বান, তাকে নাশিরাহ বিন আগওয়াস হত্যা করেছেন।
আর এই নাশিরার মা ছিলেন হিন্দ বিনতে মুয়াবিয়া বিন আল-হারিস বিন বকর বিন হাবিব, তিনি হাম্মামের প্রতিবেশী ছিলেন। যখন তার সন্তান প্রসবের সময় হলো, মহিলারা তার কাছে সমবেত হলেন। হাম্মাম তাদের শুনতে পেলেন যে তারা ধাত্রীর কাজ করছেন
(১) এবং বলছেন: এসে গেছে, এসে গেছে! অর্থাৎ নবজাতক। তখন তার মা বললেন: ওর ঘাড় মটকে দাও।
তখন হাম্মাম তাকে বললেন: তোমার জন্য আফসোস! এমন করো না। সে বলল: সে কী খেয়ে বাঁচবে? হাম্মাম বললেন: একজন দাসী তাকে লালন-পালন করবে, একটি দুগ্ধবতী উষ্ট্রী এবং একটি অনুগত উট প্রদান করা হবে। সে বলল: তবে তাই হোক। অতঃপর তিনি তাকে সেগুলো দিয়ে দিলেন।
অতঃপর যখন ওয়ারিদাত-এর দিন এল - যা বাসুস যুদ্ধের অন্যতম একটি দিন - তখন হাম্মাম লোকজনকে পানি ও দুধ পান করানোর জন্য বের হলেন। নাশিরাহ তাকে দেখতে পেল এবং সুযোগ বুঝে অতর্কিত আক্রমণ করে তাকে বর্শা বিদ্ধ করে হত্যা করল। এরপর সে পালিয়ে গিয়ে নিজ গোত্রের সাথে মিলিত হলো। তখন নাশিরার মা বললেন:
নাশিরার বর্শাঘাত ইয়াতীমদের নিঃস্ব করে দিয়েছে … হে নাশিরা, তোমার ডান হাত যেন সর্বদা শত্রুর বুক চিরে ফেলার ন্যায় ক্ষিপ্র থাকে
(২)--------------------------------------------
(খণ্ড: ٢)
আসমাউল মুগাতালীন মিনাল আশরাফ ওয়া আসমাউ মান ক্বুতিলা মিনাশ শুয়ারা - যিমনা নাওয়াদিরিল মাখতুদাত
(পৃষ্ঠা: ١٣١)
ومنهم:
جساس بن مرةابن ذهل بن شيبان، وهو قاتل كليب بن ربيعة. وكانت أخته تحت كليب، فقتل عنها وهي حامل، فرجعت إلى أهلها، ووقعت الحرب - حرب البسوس - فكان منها ما كان من القتل، ثم صاروا إلى الموادعة، بعد ما كادت تتفانى القبيلتان، فولدت أخت جساس غلاماً فسمته الهجرس، فرباه جساس فلم يعرف أباً غيره، وزوجه ابنته، فوقع بين الهجرس وبين رجل من بكر بن وائل كلام، فقال له البكري: ما أنت بمنته حتى نلحقك بأبيك.
فانصرف الهجرس حتى دخل على امرأته بنت جساس مهموماً، فسألته عما به، فخبرها الخبر. فلما أوى إلى فراشه ووضع انفه بين ثدييها وتنفس الصعداء تنفسة تنفط منها ما بين ثدييها، فقامت الجارية فزعة قد أقلتها رعدة حتى دخلت على أبيها فحدثته الحديث، وقصت عليه قصة الهجرس، فقال جساس: ثائر ورب الكعبة! وبات على مثل الرضف
(1) حتى أصبح، فأرسل إلى الهجرس، فأتاه، فقال له: إنما أنت ولدي وختني، وبالمكان الذي قد علمت، وقد زوجتك ابنتي وأنت معي، وقد كانت الحرب في أبيك زماناً طويلا حتى كدنا نتفانى، وقد اصطلحنا وتحاجزنا، وقد رأيت أن تدخل فيما دخل فيه الناس من الصلح، وأن تنطلق معي حتى آخذ عليك مثل ما [أخذ
(2)] علينا وعلى قومك.
فقال الهجرس: أنا فاعل، ولكن مثلي لا يأتي قومه إلا بلامته وفرسه! فحمله جساس على فرس، وأعطاه لأمة ورمحاً، فخرجا حتى أتيا جماعة من قومهما،
--------------------------------------------
এবং তাদের মধ্যে একজন হলেন:
জাসসাস ইবনে মুররাহইবনে যুহাল ইবনে শায়বান; তিনি ছিলেন কুলায়ব ইবনে রাবীয়ার হত্যাকারী। তাঁর বোন কুলায়বের স্ত্রী ছিলেন। কুলায়ব যখন নিহত হন তখন তিনি গর্ভবতী ছিলেন। এরপর তিনি তাঁর নিজ পরিবারে ফিরে আসেন এবং যুদ্ধ শুরু হয়—যা বাসুস যুদ্ধ নামে পরিচিত। সেই যুদ্ধে ব্যাপক হত্যাকাণ্ড ঘটে। অবশেষে দুই গোত্র যখন ধ্বংস হওয়ার উপক্রম হলো, তখন তারা সন্ধিতে উপনীত হলো। জাসসাসের বোন একটি পুত্রসন্তান প্রসব করলেন এবং তার নাম রাখলেন আল-হাজরাস। জাসসাস তাকে লালন-পালন করলেন এবং সে জাসসাস ছাড়া অন্য কাউকে পিতা হিসেবে চিনত না। জাসসাস তার সাথে নিজের কন্যার বিয়ে দিলেন। একদিন আল-হাজরাস এবং বকর ইবনে ওয়ায়িল গোত্রের এক ব্যক্তির মধ্যে কথা কাটাকাটি হলো। তখন সেই বাকরি লোকটি তাকে বলল: "তুমি ততক্ষণ থামবে না, যতক্ষণ না আমরা তোমাকে তোমার পিতার কাছে পাঠিয়ে দেই।"
আল-হাজরাস চিন্তিত অবস্থায় ফিরে এসে তাঁর স্ত্রী (জাসসাসের কন্যা)-র কাছে প্রবেশ করলেন। স্ত্রী তাকে বিষণ্ণতার কারণ জিজ্ঞেস করলে তিনি বিষয়টি খুলে বললেন। যখন তিনি বিছানায় শুতে গেলেন এবং নিজের নাক স্ত্রীর স্তনদ্বয়ের মাঝে রাখলেন এবং এমন দীর্ঘশ্বাস ছাড়লেন যাতে মনে হলো তার নিঃশ্বাসের উত্তাপে স্তনদ্বয়ের মধ্যবর্তী স্থান পুড়ে ফেটে যাবে। মেয়েটি ভীত হয়ে কাঁপতে কাঁপতে তার পিতার কাছে গেল এবং তাঁকে বিষয়টি জানাল ও আল-হাজরাসের ঘটনা বর্ণনা করল। তখন জাসসাস বললেন: "কাবার রবের কসম! সে প্রতিশোধ গ্রহণকারী!" জাসসাস সেই রাতটি যেন উত্তপ্ত পাথরের
(১) ওপর কাটালেন। সকালে তিনি আল-হাজরাসকে ডেকে পাঠালেন। সে এলে তিনি তাকে বললেন: "তুমি তো আমার সন্তান এবং জামাতা, আমার কাছে তোমার যে মর্যাদা তা তুমি জানো। আমি তোমার কাছে আমার কন্যাকে বিয়ে দিয়েছি এবং তুমি আমার সাথেই আছ। তোমার পিতার কারণে দীর্ঘকাল যুদ্ধ চলেছে, যাতে আমরা প্রায় ধ্বংস হয়ে যাচ্ছিলাম। এখন আমরা সন্ধি করেছি এবং যুদ্ধ থেকে বিরত হয়েছি। আমি চাই, মানুষ যে সন্ধিতে প্রবেশ করেছে তুমিও তাতে প্রবেশ করো। তুমি আমার সাথে চলো, যাতে আমি তোমার কাছ থেকে সেই অঙ্গীকার নিতে পারি যা আমাদের কাছ থেকে এবং তোমার কওমের কাছ থেকে নেওয়া হয়েছে।"
আল-হাজরাস বললেন: "আমি তা করব। তবে আমার মতো ব্যক্তি তো বর্ম এবং ঘোড়া ছাড়া তার কওমের কাছে যায় না!" তখন জাসসাস তাকে একটি ঘোড়ায় আরোহণ করালেন এবং তাকে বর্ম ও একটি বর্শা দিলেন। এরপর তারা বের হলেন এবং তাদের কওমের একটি দলের কাছে পৌঁছালেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ٢)
আসমাউল মুগাতালীন মিনাল আশরাফ ওয়া আসমাউ মান ক্বুতিলা মিনাশ শুয়ারা - যিমনা নাওয়াদিরিল মাখতুদাত
(পৃষ্ঠা: ١٣٢)
فقصّ عليهم جساس ما كانوا فيه من البلاء، وما صاروا إليه من العافية، ثم قال: وهذا ابن أختي قد جاء ليدخل فيما دخلتم فيه، ويعقد ما عقدتم. فلما قربوا الدم وقاموا إلى العقد أخذ الهجرس بوسط رمحه ثم قال: «وفرسي وأذنيه، ورمحى ونصليه، وسيفي وغربيه، لا يترك الرجل قاتل أبيه وهو ينظر إليه!».
ثم طعن جساسا فقتله ولحق بقومه، فكان آخر قتيل في بكر بن وائل.
ومنهم:
عمرو وإخوته، بنو الزبان الذهليوكان سبب ذلك أن كثيف بن التغلبي انهزم في بعض أيام بكر وتغلب، فألظ به
(1) مالك بن كومه
(2) الشيباني، وكان مالك رجلاً نحيفاً، وكان كثيف رجلاً أيداً، فلما لحقه ابن كومة اقتحم عن فرسه
(3) لينزل إليه مالك فيقهره بفضل قوته وبدنه، فأوجره مالك الرمح وقال: والله لتستأسرن أو لأنفذنك به! فاستأسر، ولحقه عمرو بن الزبان
(4) فقال: أسيري! وقال مالك: أسيري! فقالا لكثيف: لقد حكمناك
(5) في نفسك. فقال كثيف: لولا مالك لألفيت في أهلي! فغضب عمرو بن الزبان، فلطم خد كثيف، فقال مالك: تلطم خد أسيري يا كثيف؛ فإني قد جعلت فداءك لك بلطمة عمرو خدك. وأطلقه. فحرم كثيف النساء والخمر حتى يثأر من عمرو لطمته، فوضع عليه العيون، فأتاه رجل من غفيلة بن قاسط، فقال: ألا أدلك على بني الزبان، فقد نتجوا ناقة حواراً واشتووه وهم يأكلون، وكانت ندت لهم إبل فخرجوا في طلبها فردّوها. فقام كثيف
--------------------------------------------
এরপর জাসাস তাদের কাছে তারা যে বিপদে ছিল এবং যে স্বস্তির দিকে তারা উপনীত হয়েছে তার বর্ণনা দিল। তারপর সে বলল: "এটি আমার ভাগ্নে, সে এসেছে আপনারা যা গ্রহণ করেছেন তাতে প্রবেশ করতে এবং আপনারা যা অঙ্গীকার করেছেন তা করতে।" যখন তারা রক্তের বিনিময় নিকটবর্তী করল এবং চুক্তিবদ্ধ হওয়ার জন্য দাঁড়াল, তখন আল-হাজরাস তার বর্শার মধ্যভাগ ধরে বলল: "আমার ঘোড়া ও তার কান দুটির শপথ, আমার বর্শা ও তার দুই ফলার শপথ, আমার তলোয়ার ও তার ধারের শপথ, কোনো ব্যক্তি তার পিতার হত্যাকারীকে চোখের সামনে দেখে তাকে ছেড়ে দিতে পারে না!"
অতঃপর সে জাসাসকে বর্শা দিয়ে আঘাত করে হত্যা করল এবং নিজের গোত্রের সাথে মিলিত হলো। বকর ইবনে ওয়ায়েলের মধ্যে এটিই ছিল সর্বশেষ নিহত ব্যক্তি।
তাদের মধ্যে:
আমর ও তার ভাইয়েরা, বনু যাব্বান আল-যুহলিএর কারণ ছিল এই যে, বকর ও তাগলিব গোত্রের যুদ্ধের দিনগুলোর কোনো এক দিনে কাসিফ বিন আত-তাগলিবি পরাজিত হলো। মালিক বিন কউমাহ আশ-শায়বানি তার পিছু লেগে থাকল
(১)। মালিক ছিল একজন কৃশকায় লোক, আর কাসিফ ছিল অত্যন্ত শক্তিশালী লোক। যখন ইবনে কউমাহ তার নাগাল পেল, তখন কাসিফ তার ঘোড়া থেকে নিচে লাফিয়ে পড়ল
(৩) যেন মালিকও নিচে নামে এবং সে নিজের শারীরিক শক্তি ও দেহের শ্রেষ্ঠত্ব দিয়ে তাকে পরাস্ত করতে পারে। তখন মালিক তাকে বর্শার লক্ষ্যবস্তু বানাল এবং বলল: "আল্লাহর কসম, হয় তুমি বন্দিত্ব স্বীকার করবে নতুবা আমি এটি দিয়ে তোমাকে বিদ্ধ করব!" তখন সে বন্দি হলো। এরপর আমর বিন যাব্বান
(৪) সেখানে পৌঁছাল এবং বলল: "এটি আমার বন্দি!" মালিক বলল: "এটি আমার বন্দি!" তখন তারা উভয়ই কাসিফকে বলল: "আমরা তোমার বিষয়ে ফয়সালার দায়িত্ব তোমার উপরেই দিলাম
(৫)।" কাসিফ বলল: "যদি মালিক না থাকত, তবে আমি অবশ্যই আমার পরিবারের মাঝে ফিরে যেতাম!" এতে আমর বিন যাব্বান রাগান্বিত হলো এবং কাসিফের গালে একটি চড় মারল। তখন মালিক বলল: "হে কাসিফ, সে কি আমার বন্দির গালে চড় মারল? আমি আমরের এই চড় মারার বিনিময়ে তোমাকে মুক্তিপণ ছাড়াই মুক্ত করে দিলাম।" এবং সে তাকে ছেড়ে দিল। অতঃপর কাসিফ আমরের চড়ের প্রতিশোধ না নেওয়া পর্যন্ত নারী ও মদ নিজের জন্য নিষিদ্ধ করে নিল। সে তার ওপর গোয়েন্দা নিয়োগ করল। তখন গুফাইলা বিন কাসিত গোত্রের এক ব্যক্তি তার কাছে এসে বলল: "আমি কি তোমাকে বনু যাব্বানদের হদিস দেব না? তারা একটি মাদী উটের বাচ্চার জন্ম দিয়েছে এবং সেটিকে রোস্ট করে খাচ্ছে। তাদের কিছু উট হারিয়ে গিয়েছিল, তারা সেগুলোর খোঁজে বের হয়েছিল এবং সেগুলো ফিরিয়ে এনেছে।" তখন কাসিফ উঠে দাঁড়াল...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ٢)
আসমাউল মুগাতালীন মিনাল আশরাফ ওয়া আসমাউ মান ক্বুতিলা মিনাশ শুয়ারা - যিমনা নাওয়াদিরিল মাখতুদাত
(পৃষ্ঠা: ١٣٣)
بضعف عدتهم، وقال: مروا بجانبهم فإذا دعيتم إلى الطعام فليكتنف كل
(1) رجل منهم رجلان منا. فمروا بالقوم وهم على طعامهم فدعوهم إلى الطعام فأقبلوا، ففعلوا ما أمروا به، فلما حسر كثيف العمامة عن وجهه قال له عمرو: يا كثيف، هذا خدي فالطمه ففيه وفاء من خدك، وما في بكر بن وائل أكرم منه. قال:
لا، حتى أقتلك. قال: فدع هؤلاء الفتية الذين لم يتلبسوا من الحروب بشئ.
قال: فأبى، فقتلهم أجمعين، وبعث رؤوسهم في غرارة، وعلقها في عنق «الدهيم» ناقة عمرو بن الزبان.
ومنهم:
عمرو بن مسعود، وخالد بن نضلة، الأسديانوكانا يفدان على المنذر الأكبر اللخمي في كل سنة، فيقيمان عنده وينادمانه.
وكانت أسد وغطفان حلفاء لا يدينون للملوك، ويغيرون عليهم، فوفدا سنة من السنين ومعهما سبرة بن عمير الشاعر الفقعسي، وحبيب بن خالد، فنادم المنذر عمرو وخالد بن نضلة، فقال المنذر يوماً لخالد، وهم على الشراب: يا خالد، من ربك؟
فقال خالد: عمرو بن مسعود ربّى وربّك. فأمسك عليهما
(2)، ثم قال لهما بعد:
ما يمنعكما من الدخول في طاعتي، وأن تذبوا عني كما ذبت تميم وربيعة
(3)؟
فقالا: أبيت اللعن، هذه البلاد لا تلائم مواشينا، ونحن مع هذا قريب منك، نحن بهذا الرمل، فإذا شئت أجبناك. فعلم أنهم لا يدينون له. وقد سمع من خالد الكلمة الأولى، فأومأ إلى الساقي فسقاهما سما، فانصرفا من عنده من
--------------------------------------------
তাদের সংখ্যার দ্বিগুণ নিয়ে। তিনি বললেন: তোমরা তাদের পাশ দিয়ে অতিক্রম করো, যখন তোমাদের খাবারের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হবে, তখন যেন তাদের প্রত্যেক ব্যক্তিকে আমাদের দুই জন লোক ঘিরে ধরে। তারা লোকগুলোর পাশ দিয়ে গেল যখন তারা খাবার খাচ্ছিল। তারা তাদের খাবারের জন্য ডাকল এবং তারা এগিয়ে এল। তারা যা করার আদেশ পেয়েছিল তা-ই করল। যখন ভারী পাগড়ি পরিহিত ব্যক্তি তার মুখ থেকে কাপড় সরাল, তখন আমর তাকে বললেন: হে ভারী পাগড়িধারী, এই নাও আমার গাল, এতে তুমি চড় মারো, এতে তোমার গালের প্রতিশোধ পূর্ণ হবে, আর বকর বিন ওয়াইল গোত্রে এর চেয়ে সম্মানিত আর কেউ নেই। সে বলল:
না, যতক্ষণ না আমি তোমাকে হত্যা করি। তিনি বললেন: তবে এই কিশোরদের ছেড়ে দাও যারা যুদ্ধের কোনো কিছুর সাথে জড়িত ছিল না।
বর্ণনাকারী বলেন: সে অস্বীকার করল এবং তাদের সকলকেই হত্যা করল। সে তাদের ছিন্ন মস্তকগুলো একটি থলেতে ভরে আমর ইবনে যাব্বানের উটনী ‘আদ-দুহাইম’-এর গলায় ঝুলিয়ে দিল।
আর তাদের মধ্যে রয়েছেন:
আমর ইবনে মাসউদ এবং খালিদ ইবনে নাযলা আল-আসাদীতারা প্রতি বছর মুনযির আল-আকবর আল-লাখমীর কাছে আসতেন, সেখানে অবস্থান করতেন এবং তার সহচর হিসেবে সময় কাটাতেন।
আসাদ ও গাতাফান গোত্রদ্বয় ছিল পরস্পরের মিত্র, তারা রাজাদের বশ্যতা স্বীকার করত না এবং তাদের ওপর আক্রমণ চালাত। এক বছর তারা প্রতিনিধি হিসেবে এল এবং তাদের সাথে কবি সাবরা ইবনে উমায়ের আল-ফাক’আসী এবং হাবিব ইবনে খালিদ ছিল। মুনযির আমর ও খালিদ ইবনে নাযলার সাথে পানের মজলিসে বসলেন। একদিন পানের আসরে মুনযির খালিদকে বললেন: হে খালিদ, তোমার রব কে?
খালিদ বললেন: আমর ইবনে মাসউদ আমার এবং আপনার রব। তিনি তাদের দুজনের ব্যাপারে ধৈর্য ধারণ করলেন, তারপর তিনি তাদের বললেন:
আমার আনুগত্যে প্রবেশ করতে এবং আমার পক্ষ হয়ে প্রতিরক্ষা করতে তোমাদের কিসে বাধা দিচ্ছে, যেমন তামীম ও রাবিয়াহ গোত্র আমার প্রতিরক্ষা করে?
তারা বলল: আপনি অভিশাপমুক্ত হোন, এই অঞ্চল আমাদের গবাদি পশুর অনুকূল নয়। তবে আমরা আপনার নিকটেই রয়েছি, আমরা এই বালুকাময় প্রান্তরে আছি; আপনি চাইলে আমরা আপনার ডাকে সাড়া দেব। তখন তিনি বুঝতে পারলেন যে তারা তার বশ্যতা স্বীকার করবে না। অথচ তিনি খালিদের থেকে সেই প্রথম কথাটি শুনেছিলেন। তিনি পানপাত্র পরিবেশককে ইশারা করলেন, সে তাদের বিষ পান করিয়ে দিল। তারা তার নিকট থেকে বিদায় নিয়ে চলে গেল...
--------------------------------------------