(খণ্ড: ১)
কাওয়াইদুল ইলাল ওয়া ক্বারাইনুত তারজীহ
(পৃষ্ঠা: -)
قواعد العلل وقرائن الترجيح القسم: العلل والسؤلات الحديثية
الكتاب: قواعد العلل وقرائن الترجيح
المؤلف: عادل بن عبد الشكور بن عباس الزرقي
الناشر: دار المحدث للنشر والتوزيع
الطبعة: الأولى، 1425 هـ
عدد الأجزاء: 1
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
ইলাল ও তারজিহ-এর মূলনীতি এবং মানদণ্ডসমূহ বিভাগ: হাদিসের ইলাল ও প্রশ্নসমূহ
বই: ইলাল ও তারজিহ-এর মূলনীতি এবং মানদণ্ডসমূহ
লেখক: আদিল বিন আব্দুশ শাকুর বিন আব্বাস আজ-যুরকী
প্রকাশক: দারুল মুহাদ্দিস প্রকাশনা ও বিতরণ কেন্দ্র
সংস্করণ: প্রথম, ১৪২৫ হিজরি
খণ্ড সংখ্যা: ১
[বইটির নম্বরবিন্যাস মূল মুদ্রণের অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
কাওয়াইদুল ইলাল ওয়া ক্বারাইনুত তারজীহ
(পৃষ্ঠা: -)
قواعد العلل
وقرائن الترجيح
الدكتور: عادل عبد الشكور الزرقي
ইলাল সংক্রান্ত মূলনীতিসমূহ
এবং তারজীহ (অগ্রাধিকার) প্রদানের নিদর্শনসমূহ
ডক্টর: আদিল আব্দুল শাকুর আল-যুরকী
(খণ্ড: ১)
কাওয়াইদুল ইলাল ওয়া ক্বারাইনুত তারজীহ
(পৃষ্ঠা: ৫)
(مقدمة وتعريف)إِنَّ الْحَمْدَ لِلَّهِ، نَحْمَدُهُ وَنَسْتَعِينُهُ وَنَسْتَغْفِرُهُ، وَنَعُوذُ بِالله من شُرُورِ أَنْفُسِنَا، وَسَيِّئَاتِ أَعْمَالِنَا، مَنْ يَهْدِهِ اللَّهُ فَلا مُضِلَّ لَهُ، وَمَنْ يُضْلِلْ فَلا هَادِيَ لَهُ، وَأَشْهَدُ أَنْ لا إِلَهَ إِلا اللَّهُ وَحْدَهُ لا شَرِيكَ لَهُ، وَأَشْهَدُ أَنَّ محَمَّدَاً عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ.
أَمَّا بَعْدُ.
فَإِنَّ خَيْرَ الْحَدِيثِ كِتَابُ اللهِ، وَخَيْرَ الْهَدْي هَدْيُ محَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم، وَشرَّ الأُمُورِ مُحْدَثَاتُهَا، وَكُلَّ بِدْعَةٍ ضَلالَةٌ.
وَبَعْدُ.
فَإنَّهُ لمَّا كان عِلْمُ الحَدِيثِ من أَجَلِّ عُلُومِ الشَّرِيعَةِ وَأَفْضَلِهَا. وَكان عِلْمُ عِلَلِ الأَحَادِيثِ من أَصْعَبِ فُرُوعِ هذا العِلْمِ التي تَفَرَّعَتْ مِنْهُ.
كان مِنَ الَّلازِمِ على أَهْلِ العِلْمِ الاهتِمَامُ بهَذَا الأَمْرِ، خِدْمَةً لدِينِ الله وَسُنَّةِ نَبِّيهِ صلى الله عليه وسلم.
وفي هذا الكتاب (1) جمعت قواعد هذا العلم العملية، وقرائنه الترجيحية، من كلام أهله السابقين، مما شرد وندر في كتب العلل والتواريخ
--------------------------------------------
(ভূমিকা ও পরিচিতি)নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই সাহায্য চাই এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা ও আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন, তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই। আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন, তাকে হিদায়াত দেওয়ার কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল।
অতঃপর।
নিশ্চয়ই সর্বোত্তম কথা হলো আল্লাহর কিতাব এবং সর্বোত্তম পথনির্দেশনা হলো মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পথনির্দেশনা। আর নিকৃষ্টতম বিষয় হলো (দীনের মধ্যে) নবউদ্ভাবিত বিষয়সমূহ, এবং প্রত্যেক বিদআতই ভ্রষ্টতা।
অতঃপর।
যেহেতু হাদিস শাস্ত্র শরীয়াহর অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও মর্যাদাপূর্ণ জ্ঞান, এবং হাদিসের ইল্লাল (ত্রুটি) বিষয়ক জ্ঞান এই শাস্ত্র থেকে উদ্ভূত শাখাগুলোর মধ্যে অন্যতম কঠিন একটি শাখা।
তাই আল্লাহর দীন এবং তাঁর নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সুন্নাহর খিদমতের উদ্দেশ্যে বিদগ্ধ আলেমদের জন্য এ বিষয়ে গুরুত্ব প্রদান করা আবশ্যক ছিল।
এই কিতাবে (১) আমি এ শাস্ত্রের প্রায়োগিক মূলনীতি এবং এর অগ্রাধিকারমূলক আলামতসমূহ পূর্ববর্তী বিশেষজ্ঞগণের বক্তব্য থেকে সংকলন করেছি, যা ইলাল (ত্রুটি) এবং ইতিহাসের কিতাবসমূহে বিক্ষিপ্ত ও বিরল অবস্থায় ছিল।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাওয়াইদুল ইলাল ওয়া ক্বারাইনুত তারজীহ
(পৃষ্ঠা: ৬)
والسؤالات والمسائل والمصطلح وغيرها.
وسلكت فيه مسلك التوسع في جمع أصوله العملية لا النظرية غالباً، مع الاختصار في التقرير والتمثيل.
وجعلت لكل موضوع مبحثاً مستقلاً، تيسيراً للفهم، وترتيباً للذهن.
معتمداً على العلماء السابقين، مراعياً في ذلك اصطلاحات علمائه اللاحقين وفهمهم.
والمرجو من كل قارئ يجد فيه نقصاً أو خلالاً أن يسدِّده بدعوة صادقة، وأن يبعث إليَّ بما تجود به نفسه من فائدة على عنوان دار المحدِّث، لتداركه في زمن لاحق.
وآخر دعوانا أن الحمد لله رب العالمين، وصلِّ اللهم على نبينا محمد، وعلى آله وصحبه وسلم.
এবং জিজ্ঞাসা, মাসয়ালাসমূহ, পরিভাষা এবং অন্যান্য।
এতে আমি অধিকাংশ ক্ষেত্রে তাত্ত্বিক মূলনীতির পরিবর্তে ব্যবহারিক মূলনীতিসমূহ বিস্তারিতভাবে সংকলনের পথ অনুসরণ করেছি, তবে বর্ণনা ও উদাহরণের ক্ষেত্রে সংক্ষেপণ বজায় রেখেছি।
অনুধাবনের সহজিকরণ এবং মন-মস্তিষ্কের বিন্যাসের লক্ষ্যে আমি প্রতিটি বিষয়ের জন্য স্বতন্ত্র আলোচনা বা পরিচ্ছেদ নির্ধারণ করেছি।
এ ক্ষেত্রে আমি পূর্বসূরী উলামায়ে কেরামের ওপর নির্ভর করেছি এবং উত্তরসূরী আলিমগণের পরিভাষা ও তাঁদের বুঝের প্রতি লক্ষ্য রেখেছি।
কোনো পাঠক যদি এতে কোনো ত্রুটি বা বিচ্যুতি খুঁজে পান, তবে তাঁর নিকট বিনীত প্রত্যাশা হলো—তিনি যেন আন্তরিক দোয়ার মাধ্যমে তা সংশোধন করে দেন এবং তাঁর নিকট কোনো হিতকর বিষয় থাকলে তা 'দারুল মুহাদ্দিস'-এর ঠিকানায় পাঠিয়ে দেন, যেন পরবর্তী সময়ে তা সংশোধন করা যায়।
আমাদের শেষ নিবেদন হলো—সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। হে আল্লাহ! আপনি আমাদের নবী মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবার-পরিজন এবং তাঁর সাহাবীগণের ওপর সালাত ও সালাম বর্ষণ করুন।
(খণ্ড: ১)
কাওয়াইদুল ইলাল ওয়া ক্বারাইনুত তারজীহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
1- تَعْرِيفُ العِلَّةِ:العِلَّةُ في اللُّغَةِ: - قال في القَامُوسِ: «والعِلَّةُ - بالكَسْرِ -: المَرَضُ. عَلَّ يَعِلُّ، واعتلَّ، وأعلَّه الله تعالى فهو مُعَلٌّ، وعَلِيل، ولا تقل: مَعْلُول
… » (1) . وقال النَّوويُّ عن "مَعْلُول": «هو لحن» ، وتبعه السّيوطي (2) . بينما عبَّر ابن الصلاح بقوله: «والمَعْلُول مرذول عند أهل العربية واللُّغة» ، وعلق العراقي على ذلك بقوله: «واعتُرِض عليه بأنه قد حكاه جماعة من أهل اللُّغة، منهم قُطْرُب (3) ، بينما حكاه اللَّبْلي (4) والجوهري (5) في الصِّحاح والمُطَرِّزي (6)
في المُغْرِب» ، ثم قال العراقيُّ: «والجواب عن
--------------------------------------------
১- ইল্লাতের সংজ্ঞা:অভিধানে ইল্লাত: - আল-কামুস গ্রন্থে বলা হয়েছে: «ইল্লাত - (আইন বর্ণে) কাসরা বা ই-কার যোগে - এর অর্থ: ব্যাধি বা রোগ। সে অসুস্থ হলো, সে ব্যাধিগ্রস্ত হলো, এবং মহান আল্লাহ তাকে অসুস্থ করলেন, ফলে সে হচ্ছে ‘মুয়াল’ (রোগাক্রান্ত) এবং ‘আলীল’ (অসুস্থ)। ‘মা’লুল’ শব্দটি বলবে না
… » (১)। ইমাম নববী ‘মা’লুল’ শব্দ সম্পর্কে বলেছেন: «এটি একটি ব্যাকরণগত ভুল», এবং ইমাম সুয়ূতী তাঁর অনুসরণ করেছেন (২)। অন্যদিকে ইবনুস সালাহ তাঁর বক্তব্যে বলেছেন: «মা’লুল শব্দটি আরবী ভাষা ও অভিধান বিশেষজ্ঞদের নিকট একটি নিকৃষ্ট (বর্জনীয়) শব্দ», আর ইমাম ইরাকী এর ওপর মন্তব্য করে বলেছেন: «তাঁর এই বক্তব্যের ওপর আপত্তি জানানো হয়েছে যে, একদল ভাষাবিদ এটি বর্ণনা করেছেন, যাদের মধ্যে কুতরুব (৩) অন্যতম; আর আল-লাবীলী (৪), সিহাহ গ্রন্থে আল-জাওহারী (৫) এবং আল-মুগরিব গ্রন্থে আল-মুতাররিযী (৬) এটি বর্ণনা করেছেন।
অতঃপর ইমাম ইরাকী বলেছেন: «আর এর উত্তর হলো
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাওয়াইদুল ইলাল ওয়া ক্বারাইনুত তারজীহ
(পৃষ্ঠা: ৮)
المصنِّف - أي ابن الصَّلاح - أنه لا شكَّ في أنَّه ضعيف وإنْ حكاه بعض من صنَّف في الأفعال كابن القُوطيَّة (1) . وقد أنكره غير واحد من أهل اللُّغة كابن سيده (2) والحَريري (3) وغيرهما» (4) . وفيما قاله نظر، ولعلَّ قول الزَّركشي أَقرب حيث قال: «والصَّواب أنه يجوز أن يقال: علَّه، فهو مَعْلُول، من العِلَّة والاعتلال، إلا أنه قليل
… ويشهد لهذه العِلَّة قولهم: عليل كما يقولون قتيل وجريح
… وظهر بما ذكرناه أن قول المصنِّف: "مرذول"، أجود من قول النَّووي في اختصاره: "لحن"، لأن اللَّحن ساقط غير معتبر البتة، بخلاف المرذول. وأما قول المحدِّثين: "علَّله فلان بكذا"، فهو غير موجود في اللغة، وإنَّما هو مشهور عندَهم بمعنى ألهاه بالشيء وشغله، من تعليل الصَّبي بالطَّعام. لكنَّ استعمال المحدِّثين (5) له في هذا المعنى على سبيل الاستعارة» (6) .
وأقدم من وجدته استعمل كلمة معلول بمعنى مريض - ممن يحتجُّ بكلامه في اللُّغة - مع العلم والإمامة في الدِّين - الإمامُ الشَّافعي، حيث قال في كتاب الرَّهن من كتابه "الأمِّ": «ومن يجوز ارتهانه ثلاث أصناف: - صحيح وآخر مَعْلُول وآخر فاسد
… » ، إلى أنْ قال: «فهذا الرَّهن
--------------------------------------------
গ্রন্থকার - অর্থাৎ ইবনে আল-সালাহ - [বলেছেন যে] এতে কোনো সন্দেহ নেই যে এটি (শব্দটি) দুর্বল, যদিও ক্রিয়াপদ সম্পর্কে গ্রন্থ রচনাকারীদের মধ্যে কেউ কেউ এটি উল্লেখ করেছেন, যেমন ইবনুল কুতিয়্যাহ (১)। এবং ভাষা বিশেষজ্ঞদের মধ্যে একাধিক ব্যক্তি এটি অস্বীকার করেছেন, যেমন ইবনে সিদাহ (২), আল-হারিরি (৩) এবং অন্যান্যরা (৪)। তাঁর এই বক্তব্যের মাঝে পর্যালোচনার অবকাশ রয়েছে, এবং সম্ভবত আল-জারকাশির বক্তব্যটি অধিকতর নিকটবর্তী যেখানে তিনি বলেছেন: "সঠিক কথা হলো এটি বলা জায়েয যে: 'আল্লা-হু' (সেটিকে দোষযুক্ত করেছে), সুতরাং সেটি হলো 'মা'লুল' (ত্রুটিযুক্ত), যা 'ইল্লাহ' (ত্রুটি) এবং 'ইতিলাল' (ত্রুটিগ্রস্ত হওয়া) থেকে উদ্ভূত, তবে এর ব্যবহার অত্যন্ত কম
… এবং এই কারণের সাক্ষ্য দেয় তাদের এই উক্তি: 'আলীল' (অসুস্থ), যেমন তারা বলে 'কাতীল' (নিহত) এবং 'জারীহ' (আহত)
… এবং আমরা যা উল্লেখ করেছি তা থেকে স্পষ্ট হয় যে, গ্রন্থকারের উক্তি: 'মারজুল' (নিকৃষ্ট), ইমাম আন-নববী তাঁর সংক্ষিপ্তসারে যে 'লাহন' (ভাষাগত ভুল) বলেছেন তার চেয়ে অধিকতর উত্তম; কারণ 'লাহন' একেবারেই পরিত্যক্ত এবং ধর্তব্য নয়, যা 'মারজুল' বা নিকৃষ্ট শব্দের বিপরীত। আর মুহাদ্দিসগণের উক্তি: 'অমুক একে অমুক কারণে ইল্লাত বা ত্রুটিযুক্ত সাব্যস্ত করেছেন', এটি আরবী ভাষায় বিদ্যমান নেই। বরং এটি তাদের নিকট কোনো কিছু দিয়ে কাউকে ভুলিয়ে রাখা বা ব্যস্ত রাখার অর্থে প্রসিদ্ধ, যেমন শিশুকে খাবার দিয়ে ভুলিয়ে রাখা। তবে মুহাদ্দিসগণের (৫) পক্ষ থেকে এই অর্থে এর ব্যবহার রূপক হিসেবে হয়েছে (৬)।"
যাঁদের বক্তব্য আরবী ভাষায় দলিল হিসেবে গৃহীত হয়—দ্বীনের ক্ষেত্রে গভীর জ্ঞান ও ইমামত লাভের পাশাপাশি—তাদের মধ্যে আমি ইমাম শাফেয়ীকে সর্বপ্রথম 'মা'লুল' শব্দটি 'অসুস্থ' অর্থে ব্যবহার করতে দেখেছি। তিনি তাঁর 'আল-উম্ম' কিতাবের 'বন্ধক' অধ্যায়ে বলেছেন: "যাদের বন্ধক রাখা বৈধ তারা তিন প্রকার: সুস্থ, অপরটি মা'লুল (অসুস্থ) এবং অন্যটি ফাসিদ (ত্রুটিযুক্ত)
…", তাঁর এই উক্তি পর্যন্ত: "অতঃপর এই বন্ধক..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাওয়াইদুল ইলাল ওয়া ক্বারাইনুত তারজীহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
الصَّحيح الذي لا علة فيه، وأما المَعْلُول
… » (1) .
فهذا النَّصُّ يردُّ على كلِّ من أنكره لغةً، فاللفظة قليلة الاستعمال، صحيحة لغة، لا مرذولة.
وأقدم من وجدته استعمل لفظة: "معلّ" هو العقيليُّ (2) ، وهي صحيحة.
أما لفظة: «مَعْلُول» فقليلة عند السلف من المحدثين (3) ، فيما يظهر.
العِلَّة في الاصطلاح:
عرَّف العراقي (4) العِلَّة في منظومته الألفية بقوله: -
وهي عبارة عن أسباب طرت
… فيها غموض وخفاء أثَّرت (5) .
فيؤخذ مما قال أن العِلَّةَ: سببٌ خفيٌ وغامضٌ مؤثِّرٌ في الحديث الذي
--------------------------------------------
সেই বিশুদ্ধ (সহীহ) হাদিস যার মধ্যে কোনো ত্রুটি নেই, আর ত্রুটিযুক্ত (মা'লুল) সম্পর্কে কথা হলো
… » (১)।
এই পাঠটি ওই সকল ব্যক্তিকে খণ্ডন করে যারা ভাষাগতভাবে একে অস্বীকার করেছেন। কারণ শব্দটি ব্যবহারের দিক থেকে কম হলেও ব্যাকরণগতভাবে বিশুদ্ধ, বর্জনীয় নয়।
আমি যাকে সর্বপ্রথম "মু'আল্ল" শব্দটি ব্যবহার করতে দেখেছি তিনি হলেন উকায়লী (২), এবং এটি একটি বিশুদ্ধ শব্দ।
আর "মা'লুল" শব্দটির ব্যবহার মুহাদ্দিসগণের পূর্বসূরিদের নিকট খুব কম ছিল বলে প্রতীয়মান হয় (৩)।
পরিভাষায় ইল্লত (ত্রুটি):
ইরাকী (৪) তাঁর আলফিয়্যাহ কাব্যে ইল্লতের সংজ্ঞা দিয়ে বলেছেন: -
এটি এমন কিছু আপতিত কারণের সমষ্টি
… যার অস্পষ্টতা ও প্রচ্ছন্নতা (হাদিসের ওপর) প্রভাব বিস্তার করে (৫)।
তাঁর কথা থেকে এটি গ্রহণ করা হয় যে, ইল্লত (ত্রুটি) হলো: এমন একটি সূক্ষ্ম ও অস্পষ্ট কারণ যা হাদিসের ওপর প্রভাব বিস্তার করে, যা
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাওয়াইদুল ইলাল ওয়া ক্বারাইনুত তারজীহ
(পৃষ্ঠা: ১০)
ظاهره السَّلامة. فللعلة ركنان هما: -
1. الخفاء والغموض.
2. القدح في الحديث، سنداً أو متناً.
ويلزم عليه أنه إن تخلَّف أحدهما فلا يسمى الحديث مُعَلاً اصطلاحاً.
وهذا التَّعريف الذي استقرَّ مؤخراً - وهو ما سار عليه غالب العلماء.
فهو يخصِّص العلَّة ويحصرها بوصفين، أما السابقون من المحدِّثين فإن العِلَّة عندهم أعمُّ مما اشتهر بعد، فهي: «كلُّ ما أثَّر - ولو لم يقدح - في الحديث سنداً أو متناً، لفظاً أو معنىً، ظهر أم خفي» .
حيث نجد في كتب الحديث والعلل الكثيرَ من تعليلِ أحاديثٍ بغيرِ ما تقدَّم في التعريف الأول (1) ، فيعللون بعلل غير خفية بل في غاية الوضوح كالرَّاوي المتروك (2) ، ويعللون بغيْر قادحٍ كتغيير الصَّحابي.
ويشهد لذلك تسميةُ التِّرمذيِّ المنسوخَ معلولاً لعدم العمل به (3) ، لا لعدم صحته، لاشتمال الصَّحيح على أحاديث منسوخة (4) .
--------------------------------------------
এর বাহ্যিক দিকটি ত্রুটিমুক্ত। সুতরাং ইল্লাতের (ত্রুটি) দুটি রুকন বা ভিত্তি রয়েছে: -
১. প্রচ্ছন্নতা ও অস্পষ্টতা।
২. হাদিসের সনদ (সূত্র) বা মতনে (মূল পাঠ) দোষ সৃষ্টি করা।
এর ফলে এটি আবশ্যক হয় যে, যদি এই দুটির কোনো একটি অনুপস্থিত থাকে, তবে পরিভাষায় সেই হাদিসকে মুয়াল (ত্রুটিযুক্ত) বলা হবে না।
আর এটিই সেই সংজ্ঞা যা পরবর্তী সময়ে স্থির হয়েছে—এবং অধিকাংশ আলেম এই পথেই চলেছেন।
এটি ইল্লাতকে বিশেষায়িত করে এবং একে দুটি বৈশিষ্ট্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ করে। তবে মুহাদ্দিসগণের মধ্যে যারা পূর্বসূরী ছিলেন, তাদের নিকট ইল্লাত পরবর্তীতে প্রসিদ্ধ হওয়া সংজ্ঞার চেয়েও অধিক ব্যাপক ছিল। তাদের মতে তা হলো: «এমন প্রতিটি বিষয় যা হাদিসের সনদ বা মতনে, শব্দে বা অর্থে প্রভাব ফেলে—যদিও তা দোষ সৃষ্টি না করে এবং তা প্রকাশ্য হোক বা প্রচ্ছন্ন»।
যার কারণে আমরা হাদিস ও ইলাল (ত্রুটি বিষয়ক) গ্রন্থসমূহে প্রথমোক্ত সংজ্ঞার বহির্ভূত অনেক হাদিসকে ত্রুটিযুক্ত করার উদাহরণ পাই (১)। তারা এমন সব ত্রুটির কারণে হাদিসকে ত্রুটিযুক্ত বলেন যা প্রচ্ছন্ন নয় বরং অত্যন্ত স্পষ্ট, যেমন পরিত্যক্ত বর্ণনাকারী (মাতরুক) (২); আবার তারা এমন বিষয়ের কারণেও ত্রুটিযুক্ত বলেন যা হাদিসের বিশুদ্ধতায় আঘাত হানে না, যেমন সাহাবীর পরিবর্তন।
এর সাক্ষ্য দেয় ইমাম তিরমিযী কর্তৃক মানসুখ (রহিত) হাদিসকে আমল না করার কারণে ত্রুটিযুক্ত (মা'লুল) হিসেবে অভিহিত করা (৩), তার বিশুদ্ধতার অভাবের কারণে নয়; কারণ সহিহ হাদিসের মধ্যেও মানসুখ বা রহিত হাদিস বিদ্যমান রয়েছে (৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাওয়াইদুল ইলাল ওয়া ক্বারাইনুত তারজীহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
ونقل ابن أبي حاتم عن أبيه قوله: «حديث ابن مسعود في التطبيق منسوخ» (1) .
ونصَّ ابن الصلاح على ما سبق، فقال: «إنَّ بعضهم - أي المحدِّثين - أطلق اسم العلة على ما ليس بقادح» (2) .
ولعلَّ تخصيص المتأخِّرين هذا النوع باسم العلل لأن أكثر أحاديث كتب العلل من هذا النَّوع، كما هو ظاهر وصرَّح به السخاوي (3) ، أو لأنه أدقُّها وأغمضُها، وقد اعتَرَض بعضُهم بشدة على هذا التخصيص، ولكلٍ وجهٍ ما يؤيده، ولعل ما ذهب إليه المتأخرون نوع من الحصر والتقييد، لا تغيير في المنهج بالمعنى العام، وإلا فما سلف من صنيعهم أولى، وصنيع الخلف أسهل للتعلم والفهم، والخلاف في النهاية غير مؤثر إذا سلم النهج العام.
وعلى ما سبق، فالحديث المعلُّ اصطلاحاً متأخراً هو: "الحديث الذي ظاهره السَّلامة، اطُّلع على قادح في صحته سنداً أو متناً".
فلا يكون الحديث معلولاً - اصطلاحاً - إلا إذا توفر فيه شرطان هما: -
1. السَّلامة في الظاهر بتحقق شروط صحة الحديث - سنداً (4) - أولاً.
--------------------------------------------
এবং ইবনে আবি হাতেম তাঁর পিতা থেকে তাঁর এই উক্তিটি বর্ণনা করেছেন: «তাতবীক (রুকুতে দুই হাতের তালু একত্রিত করে হাঁটুদ্বয়ের মাঝে রাখা) বিষয়ে ইবনে মাসউদের বর্ণিত হাদিসটি রহিত» (১) ।
এবং ইবনে আস-সালাহ পূর্বোক্ত বিষয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন, তিনি বলেছেন: «নিশ্চয়ই তাদের কেউ কেউ—অর্থাৎ মুহাদ্দিসগণ—এমন কিছুর ওপর 'ইল্লত' (ত্রুটি) শব্দটির প্রয়োগ করেছেন যা (হাদিসের বিশুদ্ধতাকে) ক্ষতিগ্রস্ত করে না» (২) ।
সম্ভবত পরবর্তী যুগের আলিমগণ এই প্রকারটিকে 'ইল্লত' নামে সুনির্দিষ্ট করেছেন কারণ 'ইল্লত' বিষয়ক গ্রন্থগুলোর অধিকাংশ হাদিসই এই প্রকারের অন্তর্ভুক্ত, যেমনটি সুস্পষ্ট এবং সাখাভী তা স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন (৩), অথবা এটি হতে পারে কারণ এটি অত্যন্ত সূক্ষ্ম এবং অস্পষ্ট। কেউ কেউ এই নামকরণের বিষয়ে তীব্র আপত্তি জানিয়েছেন এবং প্রত্যেকের পক্ষেই সমর্থনযোগ্য যুক্তি রয়েছে। সম্ভবত পরবর্তীগণ যা অবলম্বন করেছেন তা এক ধরণের সীমাবদ্ধকরণ ও সুনির্দিষ্টকরণ মাত্র, এটি সামগ্রিক অর্থে মানহাজ বা পদ্ধতির পরিবর্তন নয়। নতুবা পূর্ববর্তীদের কর্মপদ্ধতিই ছিল অধিক উত্তম, আর পরবর্তীদের কর্মপদ্ধতি শিক্ষা ও অনুধাবনের জন্য সহজতর। পরিশেষে, যদি মৌলিক পদ্ধতি ঠিক থাকে তবে এই মতপার্থক্য কোনো প্রভাব ফেলে না।
পূর্বোক্ত আলোচনার ভিত্তিতে, পরবর্তী যুগের পরিভাষায় 'মুআল্লাল' হাদিস হলো: "এমন হাদিস যার বাহ্যিক দিকটি ত্রুটিমুক্ত, কিন্তু পরবর্তীতে এর সনদে বা মতনে (মূল পাঠে) এমন কোনো ক্ষতিকারক ত্রুটির সন্ধান পাওয়া যায় যা এর বিশুদ্ধতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।"
সুতরাং পরিভাষাগতভাবে একটি হাদিস ততক্ষণ পর্যন্ত 'মা'লুল' হবে না যতক্ষণ না তাতে দুটি শর্ত পাওয়া যায়: -
১. প্রথমত, হাদিসটি বিশুদ্ধ হওয়ার শর্তাবলি—সনদগতভাবে (৪)—পূরণ হওয়ার মাধ্যমে বাহ্যিকভাবে ত্রুটিমুক্ত হওয়া।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাওয়াইদুল ইলাল ওয়া ক্বারাইনুত তারজীহ
(পৃষ্ঠা: ১২)
2. الوقوف على قادح في أحد هذه الشروط - غالباً - ثانياً.
قال الحاكم: «وإنَّما يعلَّل الحديث من أوجه ليس للجرح فيها مدخل، فإنَّ حديث المجروح ساقط واهٍ (1) ، وعلة الحديث تكثر في أحاديث الثِّقات، أنْ يحدِّثوا بحديثٍ له علة فيخفى عليهم علمه، فيصير الحديث معلولاً
… » (2) .
ويظهر أن الحاكم أول من خصَّص هذا المصطلح، وتبعه من بعده دون أن يستدرك عليه، بل إنَّ ابن حجر قال بعد كلام لابن الصلاح: «وفي هذا ردٌّ على من زعم أن المعلول يشمل كلَّ مردود» (3) ، وقال أيضاً: «المعلول ما علته قادحة خفية» (4) ، وعلى هذا التعريف الأخير سار الرُّكبان من أهل الحديث.
تنبيه: لا يلزم من الإشارة إلى وجود علة في حديث أن يكون معلاً مطلقاً.
قال العلائي: «وإنَّما يقوى القول بالتَّعليل عند عدم المعارض، وحيث يجزم المعلِّلُ بتقديم التَّعليل، أو أنَّه أظهر، فأمَّا إذا اقتصر على الإشارة إلى العِلَّة فقط، بأن يقول - مثلاً - في الموصول: رواه فلان مرسلاً، أو نحو ذلك، ولا يبيِّن أي الرِّوايتين أرجح، فهذا موجود في كلامهم، ولا يلزم منه رجحان الإرسال على الموصول» (5) ، وبنحوه لابن حجر (6) أيضاً.
* * *
--------------------------------------------
২. এই শর্তগুলোর যেকোনো একটিতে ত্রুটি পাওয়া যাওয়া - সাধারণত - দ্বিতীয়ত।
আল-হাকিম বলেছেন: «হাদিসের মধ্যে মূলত এমন দিক থেকে ত্রুটি (ইল্লাত) সাব্যস্ত করা হয় যেখানে রাবীর দোষ-ত্রুটি (জারহ) বর্ণনার কোনো অবকাশ নেই। কেননা ত্রুটিপূর্ণ (মাজরুহ) রাবীর হাদিস এমনিতেই অগ্রহণযোগ্য ও দুর্বল (১)। হাদিসের সূক্ষ্ম ত্রুটি (ইল্লাত) নির্ভরযোগ্য (সিকাহ) বর্ণনাকারীদের হাদিসেই বেশি দেখা যায়; তারা এমন হাদিস বর্ণনা করেন যাতে একটি সূক্ষ্ম ত্রুটি বিদ্যমান থাকে অথচ এর জ্ঞান তাদের নিকট গোপন থেকে যায়, ফলে হাদিসটি 'মালুল' বা ত্রুটিযুক্ত হয়ে পড়ে... » (২)।
প্রতীয়মান হয় যে, আল-হাকিমই প্রথম এই পরিভাষাটিকে নির্দিষ্ট করেছেন এবং পরবর্তীতে অন্যরা তাঁকে অনুসরণ করেছেন কোনো আপত্তি ছাড়াই। এমনকি ইবনে হাজার, ইবনুস সালাহ-এর আলোচনার পর বলেছেন: «এতে তাদের প্রতি উত্তর রয়েছে যারা ধারণা করেন যে, 'মালুল' শব্দটির অন্তর্ভুক্ত প্রতিটি বর্জনীয় (মারদুদ) হাদিসই পড়ে» (৩)। তিনি আরও বলেছেন: «'মালুল' হলো তা-ই যার মধ্যে এমন ত্রুটি রয়েছে যা হাদিসকে প্রশ্নবিদ্ধ করে এবং যা অত্যন্ত সূক্ষ্ম» (৪)। এই সর্বশেষ সংজ্ঞার ওপরই মুহাদ্দিসগণ ঐকমত্য পোষণ করেছেন।
সতর্কবার্তা: কোনো হাদিসে ত্রুটির (ইল্লাত) প্রতি ইঙ্গিত করার মানেই এই নয় যে, হাদিসটি চূড়ান্তভাবে 'মালুল' (ত্রুটিযুক্ত) হবে।
আল-আলাঈ বলেছেন: «ত্রুটি সাব্যস্ত করার (তা'লীল) বিষয়টি তখনই শক্তিশালী হয় যখন কোনো বিপরীত প্রমাণ না থাকে এবং যখন ত্রুটি নির্ণয়কারী (মু'আল্লিল) ত্রুটি সাব্যস্ত করার বিষয়ে দৃঢ়তা প্রকাশ করেন অথবা এটি যখন সুস্পষ্ট হয়। কিন্তু যদি তিনি শুধুমাত্র ত্রুটির প্রতি ইশারা করেই ক্ষান্ত হন—যেমন কোনো মোত্তাসিল (সংযুক্ত) হাদিসের ক্ষেত্রে বলেন: অমুক এটি মুরসাল হিসেবে বর্ণনা করেছেন, বা এই জাতীয় কিছু—এবং তিনি এটি স্পষ্ট না করেন যে দুটির মধ্যে কোনটি অগ্রাধিকারযোগ্য, তবে এটি তাঁদের (মুহাদ্দিসদের) কথায় পাওয়া যায়। এর দ্বারা মোত্তাসিলের চেয়ে মুরসাল বর্ণনার অগ্রাধিকার পাওয়া আবশ্যক হয় না» (৫)। ইবনে হাজার (৬) থেকেও অনুরূপ কথা বর্ণিত হয়েছে।
* * *
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাওয়াইদুল ইলাল ওয়া ক্বারাইনুত তারজীহ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
2- أهمية علم العلل وصعوبته:يعتبر علم العلل من أجلِّ أنواع علوم الحديث (1) ، وأدقِّها وأشرفها. وإنَّما يضطَّلع بذلك أهل الحفظ والخبرة والفهم الثَّاقب (2) .
قال ابن حجر عن هذا العلم: «هو من أغمض أنواع علوم الحديث، وأدقِّها، ولا يقوم به إلا من رزقه الله فهما ثاقباً، وحفظاً واسعاً، ومعرفة بمراتب الرُّواة، وملكة قوية بالأسانيد والمتون. ولذا لم يتكلم فيه إلا القليل من أهل هذا الشَّأن كعلي بن المديني وأحمد بن حنبل والبخاري ويعقوب بن شيبة وأبي حاتم وأبي زرعة الرَّازيَّين والدَّارقطني» ، قال: «وقد تقصر عبارة المعلِّلِ عن إقامة الحجَّة على دعواه، كالصَّيرفيِّ في نقد الدِّينار والدِّرهم» (3) .
قال ابن المديني: «لأنْ أعرف علة حديث هو عندي أحب إليَّ من أن أكتب عشرين حديثاً ليس عندي» (4) .
وقال ابن مهدي: «لأَنْ أعرفَ علةَ حديثٍ واحدٍ أحبُّ إليَّ من أن أستفيد عشرة أحاديث» (5) .
وقال الحاكم: «هو عِلْمٌ برأسه غير الصَّحيح والسَّقيم، والجرح والتَّعديل» .
--------------------------------------------
২- ইলমুল ইলাল-এর গুরুত্ব ও এর কঠিনতা:ইলমুল ইলাল (হাদিসের সূক্ষ্ম ত্রুটি বিষয়ক জ্ঞান) হাদিস বিজ্ঞানের প্রকারভেদের মধ্যে অন্যতম মহান, সূক্ষ্ম এবং মর্যাদাপূর্ণ বিষয় হিসেবে গণ্য করা হয়। কেবল প্রখর মুখস্থ শক্তি, অভিজ্ঞতা ও তীক্ষ্ণ মেধার অধিকারী বিশেষজ্ঞগণই এই দায়িত্ব আঞ্জাম দিতে পারেন।
ইবনে হাজার এই শাস্ত্র সম্পর্কে বলেছেন: «এটি হাদিস বিজ্ঞানের প্রকারভেদের মধ্যে সবচেয়ে অস্পষ্ট ও সূক্ষ্মতম। আল্লাহ যাকে তীক্ষ্ণ মেধা, ব্যাপক মুখস্থ শক্তি, বর্ণনাকারীদের স্তর সম্পর্কে গভীর জ্ঞান এবং সনদ ও মতনের উপর শক্তিশালী দক্ষতা দান করেছেন, তিনি ছাড়া আর কেউ এটি সম্পাদন করতে পারেন না। এ কারণেই এই শাস্ত্রের বিশেষজ্ঞগণের মধ্য হতে কেবল অল্প সংখ্যক ব্যক্তিই এ বিষয়ে কথা বলেছেন, যেমন: আলী ইবনুল মাদিনী, আহমদ ইবনে হাম্বল, বুখারি, ইয়াকুব ইবনে শায়বাহ, আবু হাতিম, আবু যুরআ আর-রাযিয়াইন এবং দারা কুতনী।» তিনি আরও বলেন: «কখনও কখনও একজন মুআল্লিল (ত্রুটি বিশেষজ্ঞ) তার দাবির সপক্ষে দলিল উপস্থাপনে যথাযথ শব্দ প্রকাশ করতে সক্ষম হন না, যেমনটি দিনার ও দিরহামের মান যাচাইকারী মুদ্রাবিশেষজ্ঞের ক্ষেত্রে ঘটে থাকে।»
ইবনুল মাদিনী বলেন: «আমার কাছে একটি হাদিসের ত্রুটি জানতে পারা বিশটি এমন হাদিস লিখে রাখার চেয়েও বেশি প্রিয়, যা আমার কাছে নেই।»
ইবনে মাহদী বলেন: «একটি হাদিসের ত্রুটি জানতে পারা আমার কাছে দশটি হাদিস থেকে উপকৃত হওয়ার চেয়েও অধিক প্রিয়।»
আল-হাকিম বলেন: «এটি একটি স্বতন্ত্র বিজ্ঞান, যা সহিহ ও সাকিম এবং জারহ ও তাদীল থেকে ভিন্ন।»
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাওয়াইদুল ইলাল ওয়া ক্বারাইনুত তারজীহ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
وقال أيضاً: «معرفة علل الحديث من أجلِّ هذه العلوم» (1) .
ولأهمية هذا العلم كان بعض المحدِّثين يعقدون مجالس خاصة به.
قال ابن عبد الحكم: «ما رأينا مثل الشَّافعي كان أصحاب الحديث ونقَّاده يجيئون إليه فيعرضون عليه فربما أعلَّ نقد النُّقاد منهم ويوقفهم على غوامض من علل الحديث لم يقفوا عليها فيقومون وهم يتعجَّبون منه» (2) .
وقال الخطيب: «أشبه الأشياء بعلم الحديث معرفة الصَّرف ونقد الدِّنانير والدِّراهم، فإنه لا يعرف جودة الدِّينار والدِّراهم بلون ولا مسٍّ ولا طراوة ولا دنس ولا نقش ولا صفة تعود إلى صغر أو كبر ولا إلى ضيق أو سعة، وإنَّما يعرفه النَّاقد عند المعاينة، فيعرف البَهْرَجَ الزَّائِفَ والخالص والمغشوش، وكذلك تمييز الحديث، فإنه علم يخلقه الله تعالى في القلوب بعد طول الممارسة له والاعتناء به» (3) .
واقترن بهذه الأهمية صعوبات كثيرة لا يكاد يدركها إلا الحافظ ومن خاض غمار هذا الأمر وعاناه.
قال ابن المديني: «أخذ عبد الرحمن بن مهدي على رجل من أهل البصرة - لا أسميه - حديثاً، قال فغضب له جماعة، قال: فأتوه، فقالوا: يا أبا سعيد من أين قلت هذا في صاحبنا؟ قال فغضب عبد الرحمن بن مهدي وقال: أرأيت لو أن رجلاً أتى بدينار إلى صيرفي فقال: انتقد
--------------------------------------------
তিনি আরও বলেছেন: «হাদিসের ত্রুটিসমূহ (ইল্লাত) সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন এই সকল বিজ্ঞানের মধ্যে অত্যন্ত মহান» (১)।
এবং এই বিজ্ঞানের গুরুত্বের কারণে কিছু হাদিস বিশারদ এর জন্য বিশেষ মজলিস আয়োজন করতেন।
ইবনে আবদিল হাকাম বলেন: «আমরা শাফেয়ীর মতো কাউকে দেখিনি। হাদিসের অনুসারী ও সমালোচকগণ তাঁর কাছে আসতেন এবং তাদের বিষয়গুলো তাঁর কাছে পেশ করতেন; তখন তিনি হয়তো তাদের মধ্য থেকে সমালোচকদের সমালোচনাকেও ত্রুটিযুক্ত সাব্যস্ত করতেন এবং হাদিসের ইললের এমন সব সূক্ষ্ম বিষয়ে তাদের অবগত করতেন যা তারা বুঝতে সক্ষম হননি। ফলে তারা বিস্মিত হয়ে তাঁর নিকট থেকে প্রস্থান করতেন» (২)।
খতিব বলেন: «হাদিস বিজ্ঞানের সাথে সর্বাধিক সাদৃশ্যপূর্ণ বিষয় হলো মুদ্রা বিনিময় এবং দিনার ও দিরহামের মান যাচাই করা। কারণ দিনার ও দিরহামের গুণমান রঙ, স্পর্শ, কোমলতা, মলিনতা, নকশা কিংবা তার ছোট-বড় অথবা সংকীর্ণ-প্রশস্ত হওয়ার কোনো বৈশিষ্ট্যের দ্বারা চেনা যায় না। বরং একজন বিশেষজ্ঞ কেবল পর্যবেক্ষণের মাধ্যমেই তা চিনতে পারেন; ফলে তিনি নকল, কৃত্রিম, খাঁটি এবং ভেজাল মুদ্রা চিহ্নিত করতে পারেন। হাদিস পৃথকীকরণও ঠিক তেমনই, কারণ এটি এমন এক জ্ঞান যা আল্লাহ তাআলা দীর্ঘ অনুশীলন এবং এর প্রতি গভীর মনোযোগ প্রদানের পর অন্তরে সৃষ্টি করে দেন» (৩)।
আর এই গুরুত্বের সাথে জড়িয়ে আছে অনেক প্রতিকূলতা, যা হাফেজ এবং যারা এই বিষয়ে গভীরভাবে নিমগ্ন হয়েছেন ও কঠোর পরিশ্রম করেছেন তারা ছাড়া অন্য কেউ অনুধাবন করতে পারে না।
ইবনুল মাদিনী বলেন: «আবদুর রহমান ইবনে মাহদী বসরার জনৈক ব্যক্তির একটি হাদিসের সমালোচনা করলেন—আমি তার নাম নিচ্ছি না—বর্ণনাকারী বলেন, এতে একদল লোক সেই ব্যক্তির পক্ষ নিয়ে রাগান্বিত হলো। তারা তাঁর কাছে এসে বলল: হে আবু সাঈদ, আপনি আমাদের সাথীর ব্যাপারে এ কথা কিসের ভিত্তিতে বললেন? বর্ণনাকারী বলেন, তখন আবদুর রহমান ইবনে মাহদী রাগান্বিত হলেন এবং বললেন: আপনারা কি মনে করেন যদি কোনো ব্যক্তি কোনো মুদ্রা বিশারদের কাছে একটি দিনার নিয়ে এসে বলে: এটি পরীক্ষা করে দিন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাওয়াইদুল ইলাল ওয়া ক্বারাইনুত তারজীহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
لي هذا. فقال: هو بهرج. يقول له: من أين قلت لي: إنه بهرج؟ الزم عملي هذا عشرين سنة حتى تعلم منه ما أعلم» (1) .
قال ابن نمير: قال عبد الرحمن بن مهدي: «معرفة الحديث إلهام. لو قلت للعالم يعلِّل الحديث من أين قلت هذا؟ لم يكن له حجة» ، قال ابن نمير: «وصدق، لو قلت له من أين قلت؟ لم يكن له جواب» (2) .
وعقَّب السخاوي على قول ابن مهدي الأخير: «يعني يعبر بها غالباً، وإلا ففي نفسه حجج للقبول والرفض» (3) .
وقال ابن مهدي أيضاً: «إنكارنا للحديث عند الجهَّال كهانة» (4) .
وقال ابن نمير: «معرفة الحديث بمنزلة الذهب، إنما يبصره أهله، وليس للبصير فيه حجة
… » (5) .
ومما يدلُّ على قولِ ابنِ مهدي ما حكاه أبو زرعة الرَّازي، وسأله رجل: «ما الحجَّة في تعليلكم الحديث» ؟ قال: «الحجَّة أن تسألني عن حديث له علَّة، فأذكر علته. ثم تقصد أبا حاتم فيعلله، ثم تميِّز كلام كلٍ مِنَّا على ذلك الحديث، فإن وجدَّت بيننا خلافاً في علته، فاعلم أنَّ كلاً مِنَّا تكلَّم على مراده، وإن وجدَّت الكلمة متَّفقة فاعلم حقيقة هذا العلم» . قال: ففعل
--------------------------------------------
...আমার এটি। তিনি বললেন: এটি অসার। সে তাকে বলল: আপনি কোন্ ভিত্তিতে আমাকে বললেন যে এটি অসার? আমার এই কাজের সাথে বিশ বছর লেগে থাকো, যাতে তুমি এ সম্পর্কে তা জানতে পারো যা আমি জানি» (১) ।
ইবনে নুমাইর বলেন: আব্দুর রহমান বিন মাহদী বলেছেন: «হাদিসের ইলম (জ্ঞান) হলো ইলহাম (ঐশী অনুপ্রেরণা)। আপনি যদি কোনো আলেমকে হাদিসের ত্রুটি (ইল্লাত) বর্ণনা করার সময় জিজ্ঞাসা করেন যে আপনি এটি কোথা থেকে বললেন? তবে তার নিকট (পেশ করার মতো বাহ্যিক) কোনো দলিল থাকবে না», ইবনে নুমাইর বলেন: «আর তিনি সত্য বলেছেন, আপনি যদি তাকে জিজ্ঞাসা করেন যে আপনি কোথা থেকে বললেন? তবে তার কাছে কোনো উত্তর থাকবে না» (২) ।
ইবনে মাহদীর শেষোক্ত বক্তব্যের ওপর সাখাবী মন্তব্য করেছেন: «অর্থাৎ সাধারণত এটি ভাষায় প্রকাশ করা যায় না, অন্যথায় তার নিজের মধ্যে কবুল করা বা বর্জন করার স্বপক্ষে দলিল বিদ্যমান থাকে» (৩) ।
ইবনে মাহদী আরও বলেছেন: «মূর্খদের নিকট আমাদের হাদিস প্রত্যাখ্যান করাটা গণকগিরির মতো মনে হয়» (৪) ।
ইবনে নুমাইর বলেন: «হাদিসের জ্ঞান সোনার সমতুল্য, কেবল এর পারদর্শীরাই তা চিনতে পারে, আর এ বিষয়ে পারদর্শীর কাছে (অন্যকে বুঝানোর মতো) কোনো দলিল থাকে না
… » (৫) ।
ইবনে মাহদীর বক্তব্যের স্বপক্ষে একটি প্রমাণ হলো আবু যুরআহ আর-রাযী যা বর্ণনা করেছেন। এক ব্যক্তি তাকে জিজ্ঞাসা করল: «হাদিসের ত্রুটি নির্ণয়ে আপনাদের দলিল কী»? তিনি বললেন: «দলিল হলো এই যে, তুমি আমাকে এমন একটি হাদিস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করো যার ত্রুটি রয়েছে, অতঃপর আমি তার ত্রুটি উল্লেখ করব। এরপর তুমি আবু হাতিমের কাছে যাও এবং তিনিও তার ত্রুটি বর্ণনা করবেন। তারপর সেই হাদিসের ব্যাপারে আমাদের প্রত্যেকের বক্তব্যের তুলনা করো। যদি তুমি আমাদের মধ্যে ত্রুটির বর্ণনায় কোনো মতপার্থক্য পাও, তবে জেনে রেখো যে আমাদের প্রত্যেকেই নিজ খেয়ালখুশিমতো কথা বলেছি। আর যদি দেখ আমাদের কথা হুবহু মিলে গেছে, তবে এই ইলমের বাস্তবতা সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে যাও»। বর্ণনাকারী বলেন: অতঃপর সে তাই করল।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাওয়াইদুল ইলাল ওয়া ক্বারাইনুত তারজীহ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
الرجل فاتفقت كلماتهم. فقال: «أشهد أن هذا العلم إلهام» (1) .
وقال نعيم بن حماد لابن مهدي: «كيف تعرف صحيح الحديث من سقيمه؟ قال: كما يعرف الطبيبُ المجنونَ» (2) .
وقال الحاكم: «إن الصَّحيح لا يعرف بروايته فقط، وإنَّما يعرف بالفهم والحفظ وكثرة السَّماع، وليس لهذا النوع من العلم عون أكثر من مذاكرة أهل الفهم والمعرفة، ليظهر ما يخفى من علة الحديث، فإذا وجد مثل هذه الأحاديث بالأسانيد الصَّحيحة غير المخرَّجة في كتابي الإمامين البخاري ومسلم، لزم صاحب الحديث التَّنقير عن علته، ومذاكرة أهل المعرفة لتظهر علته» (3) .
وقال ابن رجب عن الحفَّاظ: «فإنَّ هؤلاء لهم نقد خاص في الحديث مختصون بمعرفته كما يختصُّ البصير الحاذق بمعرفة النُّقود، جيِّدها ورديئها ومشوبها
… ، وكلٌّ من هؤلاء لا يمكن أن يعبِّر عن سبب معرفته، ولا يقيم عليه دليلاً لغيره» ، قال: «وبكل حال، فالجهابذة النُّقاد والعارفون بعلل الحديث أفراد قليل من أهل الحديث جداً
… » (4) .
وقوله: «لا يقيم عليه دليلاً لغيره» ، أراد به الدَّليل القطعي اليقيني على ما ذكر من وَهْمٍ أو خطأ للراوي. أما الدليل بالقرائن والخبرة فهذا ما لا
--------------------------------------------
সেই ব্যক্তি, ফলে তাদের কথা এক হয়ে গেল। এরপর তিনি বললেন: «আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, এই জ্ঞান হলো ইলহাম (ঐশী অনুপ্রেরণা)» (১)।
নুআইম ইবনে হাম্মাদ ইবনুল মাহদীকে বললেন: «আপনি সহীহ হাদীসকে ত্রুটিযুক্ত হাদীস থেকে কীভাবে পৃথক করেন? তিনি বললেন: যেভাবে একজন চিকিৎসক পাগলকে চিনতে পারেন» (২)।
আল-হাকিম বলেছেন: «নিশ্চয়ই সহীহ হাদীস কেবল বর্ণনার মাধ্যমেই চেনা যায় না; বরং তা অনুধাবন, মুখস্থ শক্তি এবং অধিক শ্রবণের মাধ্যমে চেনা যায়। এই প্রকারের জ্ঞানের জন্য সমঝদার ও বিজ্ঞজনদের সাথে পারস্পরিক আলোচনার চেয়ে বড় কোনো সাহায্যকারী নেই, যাতে হাদীসের গোপন ত্রুটি (ইল্লত) প্রকাশ পায়। সুতরাং যখন এ জাতীয় হাদীস এমন সহীহ সনদে পাওয়া যায় যা ইমাম বুখারী ও মুসলিমের কিতাবদ্বয়ে সংকলিত হয়নি, তখন হাদীস বিশারদের জন্য আবশ্যক হলো এর গোপন ত্রুটি সম্পর্কে অনুসন্ধান করা এবং বিজ্ঞজনদের সাথে আলোচনা করা যাতে এর ইল্লত প্রকাশ পায়» (৩)।
হাফেযদের সম্পর্কে ইবনে রজব বলেন: «নিশ্চয়ই হাদীস যাচাইয়ের ক্ষেত্রে তাদের এক বিশেষ সমালোচনা পদ্ধতি রয়েছে যা কেবল তারাই জানেন, যেমন একজন পারদর্শী ও বিচক্ষণ ব্যক্তি মুদ্রার ভালো-মন্দ ও সংমিশ্রণ চেনার ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ হয়ে থাকেন
… , এবং তাদের প্রত্যেকের পক্ষে নিজের এই জ্ঞানের কারণ ব্যক্ত করা সম্ভব নয়, আর তারা অন্যের কাছে এর কোনো (চূড়ান্ত) প্রমাণও উপস্থাপন করতে পারেন না», তিনি আরও বলেন: «যাহোক, হাদীসের পারদর্শী সমালোচক এবং হাদীসের গূঢ় ত্রুটি সম্পর্কে অভিজ্ঞ ব্যক্তিবর্গ হাদীস শাস্ত্রের পণ্ডিতদের মধ্যে সংখ্যায় অতি নগণ্য
… » (৪)।
আর তার কথা: «অন্যের কাছে এর কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেন না», এর মাধ্যমে তিনি বর্ণনাকারীর সেই কাল্পনিক ধারণা বা ভুলের বিষয়ে চূড়ান্ত ও নিশ্চিত প্রমাণের কথা বুঝিয়েছেন। তবে প্রাসঙ্গিক আলামত এবং অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে যে প্রমাণ, তা এমন বিষয় যা
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাওয়াইদুল ইলাল ওয়া ক্বারাইনুত তারজীহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
يُنفى علمهم به.
وقال ابن قيِّم الجوزية: «وربَّما يظنُّ الغالط الذي ليس له ذَوق القوم ونقدهم أَنَّ هذا تناقضٌ منهم، فإنهم يحتجُّون بالرَّجل ويوثقونه في موضع، ثم يضعِّفونه بعينه ولا يحتجُّون به في موضع آخر. ويقولون: إن كان ثقة وجب قبول روايته جملة، وإن لم يكن ثقة وجب ترك الاحتجاج به جملة. وهذه طريقة فاسدة مُجمعٌ بين أهل الحديث على فسادها، فإنهم يحتجُّون من حديث الرجل بما تابعه غيره عليه وقامت شهوده من طرقٍ ومتونٍ أخرى، ويتركون حديثه بعينه إذا روى ما يخالف النَّاس أو انفرد عنهم بما لا يتابعونه عليه. إذِ الغلط في موضع لا يوجب الغلط في كل موضعٍ والإصابة في بعض الحديث أو في غالبه لا توجب العصمة من الخطأ في بعضه ولا سيَّما إذا عُلم من مثل هذا أغلاطٌ عديدةٌ ثم روى ما يخالف النَّاس ولا يتابعونه عليه فإنَّه يغلب على الظن أو يجزم بغلطه.
وهنا يعرِض - لمن قَصُرَ نقدُهُ وذَوقه عن نقد الأئمَّة وذوقهم في هذا الشَّأن - نوعان من الغلط ننبِّه عليهما لعظيم فائدة الاحتراز منهما:
1. أحدهما: - أن يرى مثل هذا الرَّجل قد وثق وشهد له بالصدق والعدالة أو خرج حديثه في الصَّحيح فيجعل كلَّ ما رواه على شرط الصَّحيح، وهذا غلط ظاهر فإنه إنَّما يكون على شرط الصَّحيح إذا انتفت عنه العلل والشُّذوذ والنَّكارة وتوبع عليه فأما مع وجود ذلك أو بعضه فإنه لا يكون صحيحاً ولا على شرط الصَّحيح. ومن تأمَّل كلام البخاري ونظرائه في تعليله أحاديث جماعة أخرج حديثهم في صحيحه، علم إمامته وموقعه من هذا الشأن وتبيَّن به حقيقة ما ذكرنا.
2. النوع الثاني من الغلط: - أن يرى الرَّجل قد تكلِّم في بعض حديثه
তাদের এ বিষয়ক জ্ঞানকে অস্বীকার করা হয়।
ইবনুল কাইয়্যিম আল-জাওজিয়্যাহ বলেন: "হয়তো এমন কোনো ভুলকারী ব্যক্তি—যার এই জামাতের (মুহাদ্দিসগণের) প্রজ্ঞা ও সমালোচনামূলক সূক্ষ্মদর্শিতা নেই—সে ধারণা করতে পারে যে, এটি তাদের পক্ষ থেকে একটি স্ববিরোধিতা। কেননা তারা কোনো ব্যক্তির মাধ্যমে এক স্থানে দলিল পেশ করেন এবং তাকে নির্ভরযোগ্য সাব্যস্ত করেন, আবার সেই একই ব্যক্তিকে অন্য স্থানে দুর্বল সাব্যস্ত করেন এবং তার মাধ্যমে দলিল পেশ করেন না। তারা বলে থাকে: যদি সে নির্ভরযোগ্য হয়, তবে তার বর্ণনা পুরোপুরি গ্রহণ করা ওয়াজিব; আর যদি সে নির্ভরযোগ্য না হয়, তবে তার মাধ্যমে দলিল পেশ করা পুরোপুরি বর্জন করা ওয়াজিব। অথচ এটি একটি ভ্রান্ত পদ্ধতি, যার অসারতার ব্যাপারে হাদিস বিশারদগণ একমত। কারণ, তাঁরা কোনো ব্যক্তির হাদিস থেকে কেবল সেটিই দলিল হিসেবে গ্রহণ করেন যেটিতে অন্য কেউ তার অনুসরণ করেছে এবং অন্য সব সূত্র ও মূলপাঠ (মতন) থেকে যার সাক্ষ্য ও প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। পক্ষান্তরে তাঁরা তার সেই নির্দিষ্ট হাদিসটি বর্জন করেন যখন সে অন্যদের বিরোধিতা করে বর্ণনা করে অথবা এমন কিছু বর্ণনায় একাকী হয়ে যায় যেটিতে কেউ তার অনুসরণ করে না। কেননা এক স্থানে ভুল করার অর্থ এই নয় যে সকল স্থানেই ভুল হবে, আবার কিছু হাদিসে বা অধিকাংশ ক্ষেত্রে সঠিক হওয়া মানে এই নয় যে সে কিছু ক্ষেত্রে ভুল করা থেকে সংরক্ষিত; বিশেষ করে যখন এই ধরনের ব্যক্তির পক্ষ থেকে একাধিক ভুল পরিলক্ষিত হয় এবং এরপর সে এমন কিছু বর্ণনা করে যা অন্যদের বিরোধী এবং যেটিতে কেউ তাকে অনুসরণ করে না, তখন প্রবল ধারণা হয় অথবা নিশ্চিত হওয়া যায় যে সে ভুল করেছে।
আর এখানে এমন ব্যক্তিদের জন্য—যাদের সমালোচনা ও প্রজ্ঞা এই বিষয়ে ইমামগণের সমালোচনা ও প্রজ্ঞার তুলনায় অপরিপক্ব—দুই ধরনের ভুল হতে পারে, যে সম্পর্কে আমরা সতর্ক করছি কারণ তা থেকে বেঁচে থাকার উপকারিতা অপরিসীম:
১. এর একটি হলো: এমন দেখা যে, কোনো ব্যক্তিকে নির্ভরযোগ্য বলা হয়েছে এবং তার সত্যবাদিতা ও ন্যায়পরায়ণতার সাক্ষ্য দেওয়া হয়েছে, অথবা তার হাদিস 'সহিহ' গ্রন্থে স্থান পেয়েছে; ফলে সে তার বর্ণিত সকল হাদিসকেই 'সহিহ'-এর শর্তানুযায়ী সাব্যস্ত করে নেয়। এটি একটি স্পষ্ট ভুল। কারণ, কোনো হাদিস তখনই সহিহ-এর শর্তানুযায়ী হবে যখন তা ইল্লত (সূক্ষ্ম ত্রুটি), শুজুজ (বিচ্যুতি) ও নাকারাহ (অগ্রহণযোগ্যতা) থেকে মুক্ত হবে এবং অন্য বর্ণনাকারী কর্তৃক সমর্থিত হবে। তবে এগুলোর কোনো একটির উপস্থিতিতে তা সহিহ কিংবা সহিহ-এর শর্তানুযায়ী হবে না। যে ব্যক্তি ইমাম বুখারি এবং তাঁর সমসাময়ীয় ইমামগণের কথা নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করবে—যেখানে তাঁরা এমন সব হাদিসের ত্রুটি বর্ণনা করেছেন যেগুলোর বর্ণনাকারীদের হাদিস তাঁরা নিজেরাও সহিহ গ্রন্থে গ্রহণ করেছেন—সে তাঁদের ইমামত এবং এই বিষয়ে তাঁদের উচ্চ মর্যাদা সম্পর্কে জানতে পারবে এবং আমরা যা উল্লেখ করেছি তার বাস্তবতাও তার কাছে স্পষ্ট হয়ে যাবে।
২. দ্বিতীয় প্রকারের ভুল হলো: কোনো ব্যক্তিকে দেখা যে তার কিছু হাদিসের ব্যাপারে সমালোচনা করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
কাওয়াইদুল ইলাল ওয়া ক্বারাইনুত তারজীহ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
وَضُعِّفَ في شيخ أو في حديث فيجعل ذلك سبباً لتعليل حديثه وتضعيفه أين وجد كما يفعله بعض المتأخِّرين من أهل الظَّاهر وغيرهم وهذا أَيضاً غلط. فإن تضعيفَه في رجل أو في حديث ظهر فيه غلطُه لا يوجب التَّضعيف لحديثه مطلقاً. وأئمَّة الحديث على التَّفصيل والنَّقد واعتبار حديث الرَّجل بغيره، والفرق بين ما انفرد به أو وافق فيه الثِّقات. وهذه كلمات نافعة في هذا الموضع، تبيِّن كيف يكون نقد الحديث ومعرفة صحيحه من سقيمه ومعلوله من سليمه (وَمَنْ لَمْ يَجْعَلِ اللهُ لَهُ نُورَاً فَمَا لَهُ من نُورٍ) » (1) .
والنَّص التالي عن أبي حاتم الرَّازي - على طوله - يبيِّن أهمية هذا العلم وصعوبته، بل وغرابته أَيضاً على عموم النَّاس، حيث قال: «جاءني رجل من جلِّة أصحاب الرَّأي من أهل الفهم منهم، ومعه دفتر فعرضه عليَّ، فقلت في بعضها: هذا حديث خطأ قد دخل لصاحبه حديث في حديث، وقلت في بعضه: هذا حديث باطل، وقلت في بعضه: هذا حديث منكر، وقلت في بعضه: هذا حديث كذب، وسائر ذلك أحاديث صحاح، فقال: من أين علمت أَنَّ هذا خطأ وأَنَّ هذا باطل وأَنَّ هذا كذب؟ أخبرك راوي هذا الكتاب بأنَّي غلطت وأنَّي كذبت في حديث كذا؟ فقلت: لا! ما أدري هذا الجزء من رواية مَن هو؟ غير أني أعلم أَنَّ هذا خطأ، وأَنَّ هذا الحديث باطل، وأَنَّ هذا الحديث كذب فقال: تدَّعي الغيب؟ قال: قلت: ما هذا ادِّعاء الغيب، قال: فما الدَّليل على ما تقول؟ قلت: سلْ عمَّا قلتُ مَنْ يحسن مثلَ ما أحسنُ فإن اتفقنا علمت أنَّا لم نجازف ولم نقله إلا بفهم. قال: من هو الذي يحسن مثلَ ما تحسن؟ قلت: أبو زرعة. قال: ويقول أبو زرعة مثلَ ما قلتَ؟ قلت: نعم. قال: هذا
--------------------------------------------
কোনো একজন শায়খ বা কোনো একটি হাদিসের ক্ষেত্রে কাউকে দুর্বল ঘোষণা করা হয়েছে, অতঃপর সেটাকেই তার বর্ণিত হাদিস যেখানেই পাওয়া যাক না কেন তা ত্রুটিযুক্ত সাব্যস্ত করা এবং তাকে দুর্বল করার কারণ হিসেবে নির্ধারণ করা হয়; যেমনটি জাহেরি মতাবলম্বী ও অন্যান্যদের মধ্য থেকে পরবর্তীকালের কেউ কেউ করে থাকেন। আর এটিও একটি ভুল। কারণ কোনো ব্যক্তি সম্পর্কে অথবা কোনো হাদিসের ক্ষেত্রে তার ভুল প্রকাশ পাওয়ার কারণে তাকে দুর্বল সাব্যস্ত করা হলে, তা সাধারণভাবে তার বর্ণিত সকল হাদিসকে দুর্বল করা আবশ্যক করে না। হাদিসের ইমামগণ বিস্তারিত বিশ্লেষণ, সমালোচনা এবং এক ব্যক্তির হাদিসকে অন্যদের হাদিসের সাথে মিলিয়ে দেখার নীতি অবলম্বন করেন। সেই সাথে তিনি যা এককভাবে বর্ণনা করেছেন এবং যাতে তিনি নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের সাথে একমত হয়েছেন—এই দুইয়ের মধ্যে পার্থক্য করেন। এই স্থানে এগুলো অত্যন্ত উপকারী কথা, যা স্পষ্ট করে দেয় যে কীভাবে হাদিসের সমালোচনা করতে হয় এবং এর সঠিক বর্ণনা থেকে ত্রুটিপূর্ণ বর্ণনাকে এবং রুগ্ন বর্ণনা থেকে সুস্থ বর্ণনাকে চিনতে হয়। (আর আল্লাহ যাকে নূর দান করেন না, তার কোনো নূর নেই)। (১)
আবু হাতিম আর-রাজি থেকে বর্ণিত নিম্নোক্ত পাঠটি—দীর্ঘ হওয়া সত্ত্বেও—এই ইলমের গুরুত্ব ও কঠিন হওয়ার বিষয়টি ফুটিয়ে তোলে, এমনকি সাধারণ মানুষের কাছে এর বিস্ময়কর হওয়ার বিষয়টিও; যেখানে তিনি বলেছেন: «আহলে রায় তথা যুক্তিপন্থীদের মধ্যকার সমঝদার ও শ্রেষ্ঠ এক ব্যক্তি আমার কাছে এলেন। তাঁর সাথে একটি পাণ্ডুলিপি ছিল যা তিনি আমাকে দেখালেন। আমি তার কিছু অংশ সম্পর্কে বললাম: এটি ভুল হাদিস, এর বর্ণনাকারীর এক হাদিস অন্য হাদিসের সাথে মিশে গেছে। কিছুর ব্যাপারে বললাম: এটি বাতিল হাদিস। কিছুর ব্যাপারে বললাম: এটি মুনকার হাদিস। কিছুর ব্যাপারে বললাম: এটি মিথ্যা হাদিস। আর বাকিগুলো সহিহ হাদিস। তখন তিনি বললেন: আপনি কীভাবে জানলেন যে এটি ভুল, এটি বাতিল আর এটি মিথ্যা? এই কিতাবের বর্ণনাকারী কি আপনাকে জানিয়েছেন যে আমি ভুল করেছি বা আমি অমুক হাদিসে মিথ্যা বলেছি? আমি বললাম: না! আমি তো জানিই না এই অংশটি কার বর্ণনা। তবে আমি এটুকু জানি যে এটি ভুল, এই হাদিসটি বাতিল এবং এই হাদিসটি মিথ্যা। তখন তিনি বললেন: আপনি কি গায়েবের দাবি করছেন? আমি বললাম: এটি গায়েবের দাবি নয়। তিনি বললেন: তাহলে আপনি যা বলছেন তার দলিল কী? আমি বললাম: আমি যা বলেছি সে সম্পর্কে এমন কাউকে জিজ্ঞাসা করুন যিনি আমার মতোই এই বিষয়ে পারদর্শী। যদি আমরা একমত হই, তবে আপনি বুঝতে পারবেন যে আমরা আন্দাজে কিছু বলিনি এবং গভীর প্রজ্ঞা ছাড়া এটি বলিনি। তিনি বললেন: আপনার মতো এই বিষয়ে আর কে পারদর্শী? আমি বললাম: আবু জুরআহ। তিনি বললেন: আবু জুরআহও কি আপনার মতোই বলবেন? আমি বললাম: হ্যাঁ। তিনি বললেন: এটি তো...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাওয়াইদুল ইলাল ওয়া ক্বারাইনুত তারজীহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
عجبٌ! فأخذ فكتب في كاغدٍ (1) ألفاظي في تلك الأحاديث ثم رجع إليَّ وقد كتب ألفاظ ما تكلَّم به أبا زرعة في تلك الأحاديث. فما قلت: إنه باطل، قال أبو زرعة: هو كذب. قلت: الكذب والباطل واحد، وما قلت: إنه كذب قال أبو زرعة: هو باطل، وما قلت: إنه منكر قال: هو منكر، كما قلت، وما قلت: إنه صحاح قال أبو زرعة: هو صحاح فقال: ما أعجب هذا! تتفقان من غير مواطأة فيما بينكما. فقلت: فقد دلَّك، أنَّا لم نجازف، وإنَّما قلناه بعلم ومعرفة قد أوتينا، والدَّليل على صحة ما نقوله، بأنَّ ديناراً نَبَهْرَجاً (2)
يحمل إلى النَّاقد فيقول: هذا دينار نَبَهْرَج، ويقول لدينار: هو جيد فان قيل له: من أين قلت أَنَّ هذا نبهرج! هل كنت حاضراً حين بهرج هذا الدينار؟ قال: لا فان قيل له: فأخبرك الرجل الذي بهرجه أني بهرجت هذا الدينار قال: لا، قيل: فمن أين قلت: أَنَّ هذا نَبَهْرَج؟ قال: علماً رزقت. وكذلك نحن رزقنا معرفة ذلك. قلت له: فتحمل فصَّ ياقوت إلى واحد من البصراء من الجوهريين فيقول: هذا زجاج ويقول لمثله: هذا ياقوت، فان قيل له: من أين علمت أَنَّ هذا زجاج وأَنَّ هذا ياقوت هل حضرت الموضع الذي صنع فيه هذا الزجاج؟ قال: لا قيل له: فهل أعلمك الذي صاغه بأنه صاغ هذا زجاجاً؟ قال: لا، قال: فمن أين علمت؟ قال: هذا علم رُزقت. وكذلك نحن رُزقنا علماً لا يتهيَّأ لنا أن نخبرك كيف علمنا بأَنَّ هذا الحديث كذب وهذا حديث منكر إلا بما نعرفه» اهـ.
قال ابن أبي حاتم عَقِبَ ذلك: «تعرف جودة الدينار بالقياس إلى غيره فإن تخلف عنه في الحمرة والصَّفاء علم أنه مغشوش ويعلم جنس الجوهر بالقياس
--------------------------------------------
আশ্চর্য! এরপর সে এক টুকরো কাগজে (১) সেই হাদিসগুলোর বিষয়ে আমার শব্দগুলো লিখে নিল। এরপর সে আমার কাছে ফিরে এল, আর সে সেই হাদিসগুলো সম্পর্কে আবু জুরআহ যা বলেছিলেন তাও লিখে এনেছিল। আমি যেটিকে বলেছি: "এটি বাতিল", আবু জুরআহ সেটিকে বলেছেন: "এটি মিথ্যা"। আমি বললাম: মিথ্যা এবং বাতিল একই বিষয়। আর যেটিকে আমি বলেছি: "এটি মিথ্যা", আবু জুরআহ সেটিকে বলেছেন: "এটি বাতিল"। যেটিকে আমি বলেছি: "এটি মুনকার", তিনি বলেছেন: "এটি মুনকার", যেমনটি আমি বলেছিলাম। আর যেটিকে আমি বলেছি: "এটি সহিহ", আবু জুরআহ বলেছেন: "এটি সহিহ"। তখন সে বলল: "এটি কতই না আশ্চর্যজনক! আপনারা দুজনে কোনো প্রকার পূর্ব-পরামর্শ ছাড়াই একমত হয়েছেন।" তখন আমি বললাম: "এটি আপনার নিকট প্রমাণ করে যে, আমরা আন্দাজে কিছু বলি না, বরং আমাদের প্রদত্ত জ্ঞান ও প্রজ্ঞার আলোকেই আমরা তা বলেছি। আমাদের বক্তব্যের সঠিকতার প্রমাণ হলো, যেমন একটি ভেজাল (২)
দিনার কোনো মুদ্রাপরীক্ষকের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়, তখন সে বলে: 'এটি ভেজাল দিনার', আবার অন্য দিনার সম্পর্কে বলে: 'এটি ভালো'। যদি তাকে জিজ্ঞেস করা হয়: 'আপনি কেন বললেন যে এটি ভেজাল? এই দিনারটি যখন ভেজাল করা হচ্ছিল, আপনি কি তখন উপস্থিত ছিলেন?' সে বলবে: 'না'। যদি তাকে বলা হয়: 'তবে যে ব্যক্তি এটি ভেজাল করেছে, সে কি আপনাকে জানিয়েছে যে সে এটি ভেজাল করেছে?' সে বলবে: 'না'। বলা হলো: 'তবে আপনি কেন বললেন যে এটি ভেজাল?' সে বলবে: 'এটি একটি জ্ঞান যা আমাকে দান করা হয়েছে'। একইভাবে আমাদেরও সেই জ্ঞান দান করা হয়েছে।" আমি তাকে বললাম: "আপনি যদি কোনো জহুরীর কাছে ইয়াকুত পাথরের একটি টুকরো নিয়ে যান, সে বলবে: 'এটি কাচ' এবং অন্যটি সম্পর্কে বলবে: 'এটি ইয়াকুত'। যদি তাকে জিজ্ঞেস করা হয়: 'আপনি কীভাবে জানলেন যে এটি কাচ আর এটি ইয়াকুত? এই কাচটি যেখানে তৈরি করা হয়েছে, আপনি কি সেখানে উপস্থিত ছিলেন?' সে বলবে: 'না'। তাকে বলা হলো: 'যে এটি তৈরি করেছে, সে কি আপনাকে জানিয়েছে যে সে এটিকে কাচ হিসেবে তৈরি করেছে?' সে বলবে: 'না'। সে বলল: 'তবে আপনি জানলেন কী করে?' সে বলবে: 'এটি একটি জ্ঞান যা আমাকে দান করা হয়েছে'। একইভাবে আমাদেরও এমন জ্ঞান দান করা হয়েছে যে, আমাদের পক্ষে আপনাকে এটি ব্যক্ত করা সম্ভব নয় যে আমরা কীভাবে জানলাম এই হাদিসটি মিথ্যা আর এই হাদিসটি মুনকার—কেবল আমাদের সেই মারেফাত বা পরিচিতির মাধ্যমেই আমরা তা জানি।" সমাপ্ত।
এর পরপরই ইবনে আবি হাতিম বলেন: «দিনারের গুণাগুণ অন্য দিনারের সাথে তুলনা করে চেনা যায়। যদি লাল আভা এবং স্বচ্ছতায় সেটি পিছিয়ে থাকে, তবে বোঝা যায় যে সেটি ভেজাল। আর রত্নের ধরনও তুলনার মাধ্যমেই জানা যায়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাওয়াইদুল ইলাল ওয়া ক্বারাইনুত তারজীহ
(পৃষ্ঠা: ২০)
إلى غيره فان خالفه بالماء والصَّلابة علم أنه زجاج ويقاس صحة الحديث:
أ- بعدالة ناقليه.
ب- وأن يكون كلاماً يصلح (1) أن يكون من كلام النُّبوة.
ويعلم سقمه وإنكاره بتفرُّد مَن لم تصحَّ عدالته بروايته، والله أعلم» (2) .
فأشار رحمه الله إلى قرائن معرفة ذلك بالقياس على رواية بقية الرواة، والقياس لا يحسنه كل أحد، ولا يصبر عليه السِّنين إلا القليل.
وقال العلائي: «التَّعليل أمر خفي، لا يقوم به إلا نقاد أئمة الحديث دون من لا اطلاع له على طرقه وخفاياه» (3) .
ومما سبق يتبيَّن أَنَّ هذا العلم شاقٌّ وأنَّ معرفة علة الحديث قد لا تظهر إلا بعد سنين.
قال الخطيب: «فمن الأحاديث ما تخفى علته، فلا توقف عليها إلا بعد النَّظر الشَّديد، ومضي الزَّمن البعيد» ، ثم أسند عن ابن المديني قوله: «ربما أدركت علة حديث بعد أربعين سنة» (4) .
وقال ابن أبي حاتم عن أبيه في حديث ذكره: «ولم أزل أفتِّش عن هذا الحديث، وهمَّني جدَّاً حتى رأيته في موضع
… » (5) .
--------------------------------------------
...অন্যটির দিকে; সুতরাং যদি এটি স্বচ্ছতা ও দৃঢ়তায় ভিন্নতর হয়, তবে জানা যায় যে এটি কাঁচ। আর হাদীসের বিশুদ্ধতা পরিমাপ করা হয়:
ক- বর্ণনাকারীদের ন্যায়পরায়ণতার মাধ্যমে।
খ- এবং কথাটি এমন হতে হবে যা নবুওয়াতের বাণীর (১) যোগ্য হয়।
আর এর ত্রুটি ও অগ্রহণযোগ্যতা জানা যায় এমন ব্যক্তির একক বর্ণনার মাধ্যমে যার ন্যায়পরায়ণতা প্রমাণিত নয়। আল্লাহই ভালো জানেন (২)।
তিনি (রহিমাহুল্লাহ) অন্যান্য বর্ণনাকারীদের বর্ণনার সাথে তুলনা করার মাধ্যমে এটি চেনার আলামতসমূহের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন। আর এই তুলনা করার বিষয়টি সবাই ভালোভাবে আয়ত্ত করতে পারে না এবং অল্প সংখ্যক লোক ছাড়া কেউ এর পেছনে বছরের পর বছর ধৈর্য ধারণ করতে পারে না।
আল-আলাঈ বলেন: «ত্রুটি (তালী-ল) নির্ণয় করা একটি সূক্ষ্ম বিষয়, যা কেবল হাদীস শাস্ত্রের সমালোচক ইমামগণই সম্পাদন করতে পারেন; এমন ব্যক্তি নয় যার এর সূত্রসমূহ ও রহস্যগুলো সম্পর্কে জ্ঞান নেই» (৩)।
উপরোক্ত আলোচনা থেকে স্পষ্ট হয় যে, এই ইলম অত্যন্ত কঠিন এবং হাদীসের ইল্লত বা ত্রুটি নির্ণয় করা কখনো বছরের পর বছর অতিবাহিত হওয়ার আগে প্রকাশ পায় না।
আল-খাতীব বলেন: «কিছু হাদীস এমন থাকে যার ত্রুটি গোপন থাকে, যা গভীর পর্যবেক্ষণ এবং দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়া ছাড়া ধরা পড়ে না», এরপর তিনি ইবনুল মাদীনী থেকে তাঁর এই উক্তিটি বর্ণনা করেন: «কখনো কখনো চল্লিশ বছর পর আমি কোনো হাদীসের ত্রুটি বুঝতে পেরেছি» (৪)।
ইবনে আবি হাতিম তাঁর পিতা থেকে একটি হাদীস সম্পর্কে উল্লেখ করে বলেন: «আমি এই হাদীসটি সম্পর্কে অনবরত অনুসন্ধান করছিলাম এবং এটি আমাকে খুব চিন্তিত করে তুলেছিল, যতক্ষণ না আমি একে একটি স্থানে দেখতে পেলাম
… » (৫)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাওয়াইদুল ইলাল ওয়া ক্বারাইনুত তারজীহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
وقال أيضاً: «قلت لأبي زرعة: أيهما عندَك أشبه؟ قال: الله أعلم. ثم تفكَّر ساعةً، فقال: حديث الدَّراوردي أشبه
… » (1) .
ولربما رجَّح العالم ما خفي على من هو أعلم منه بالحديث أو ما خالفه هو بعد زمن، كما حصل لأبي حاتم الرَّازي، حيث سأله ابنه عن حديث اختلف فيه، هل هو عن ابن مسعود رضي الله عنه أو عن جابر رضي الله عنه قال: «قلت لأبي أيهما أصحُّ؟ قال: عبد الله أصحُّ
… ثم قال ابن أبي حاتم: سألت أبي مرةً أخرى عن هذا الحديث فقال: يحيى القطَّان ومعتمر وغيرهما يقولون عن التَّيمي عن أبي نضرة عن جابر عن النَّبي صلى الله عليه وسلم، وهو أشبه بالصَّواب» (2) .
وقال ابن أبي حاتم: «سألت أبي عن حديث رواه احمد بن حنبل وفضل الأعرج عن هشام بن سعيد أبي أحمد الطَّالقاني عن محمد بن مهاجر عن عقيل بن شبيب عن أبي وهب الجشمى وكانت له صحبة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: (سموا أولادكم أسماء الأنبياء وأحسن الأسماء عبد الله وعبد الرحمن وأصدقها حارث وهمام وأقبحها حرب ومرة وارتبطوا الخيل وامسحوا على نواصيها وقلدوها ولا تقلدوها الأوثان) . قال أبي: سمعت هذا الحديث من فضل الأعرج وفاتني من أحمد، وأنكرته في نفسي وكان يقع في قلبي أنه أبو وهب الكلاعي صاحب مكحول، وكان أصحابنا يستغربون فلا يمكنني أن أقول شيئاً لما رواه أحمد، ثم قدمت حمص فإذا قد حدثنا ابن المصفى عن أبي المغيرة قال حدثني محمد بن مهاجر قال حدثني عقيل بن سعيد عن أبي وهب الكلاعي قال: قال النبي صلى الله عليه وسلم
--------------------------------------------
তিনি আরও বলেছেন: «আমি আবু যুরআকে বললাম: আপনার নিকট কোনটি অধিক সাদৃশ্যপূর্ণ? তিনি বললেন: আল্লাহ অধিক ভালো জানেন। তারপর তিনি কিছুক্ষণ চিন্তা করলেন এবং বললেন: দারওয়ার্দীর হাদীসটি অধিক সাদৃশ্যপূর্ণ
… » (১) ।
কখনও কখনও একজন আলেম এমন কিছুকে প্রাধান্য দেন যা হাদীস শাস্ত্রে তাঁর চেয়ে অধিক জ্ঞানী ব্যক্তির নিকট অস্পষ্ট ছিল, অথবা যা তিনি নিজেই এক সময় ভিন্নভাবে মনে করতেন। যেমনটি আবু হাতিম আর-রাজীর ক্ষেত্রে ঘটেছিল, যখন তাঁর পুত্র তাঁকে একটি হাদীস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন যেটিতে মতভেদ ছিল যে, সেটি ইবনে মাসউদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত নাকি জাবির (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে। তিনি বলেন: «আমি আমার পিতাকে বললাম, কোনটি অধিক সঠিক? তিনি বললেন: আব্দুল্লাহর বর্ণনাটি অধিক সঠিক
… তারপর ইবনে আবু হাতিম বলেন: আমি আমার পিতাকে পুনরায় এই হাদীসটি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম, তখন তিনি বললেন: ইয়াহইয়া আল-কাত্তান, মুতামির এবং অন্যরা আত-তাইমী থেকে, তিনি আবু নাদরা থেকে, তিনি জাবির থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন, আর এটিই সত্যের অধিক নিকটবর্তী» (২) ।
ইবনে আবু হাতিম বলেন: «আমি আমার পিতাকে একটি হাদীস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম যা আহমাদ ইবনে হাম্বল এবং ফাদল আল-আরাজ হিশাম ইবনে সাঈদ আবু আহমাদ আত-তালিকানী থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে মুহাজির থেকে, তিনি উকাইল ইবনে শাবীব থেকে, তিনি আবু ওয়াহব আল-জুশামী (যিনি একজন সাহাবী ছিলেন) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: (তোমরা তোমাদের সন্তানদের নবীদের নামে নামকরণ করো; আর আল্লাহর নিকট সবচেয়ে প্রিয় নাম হলো আব্দুল্লাহ ও আব্দুর রহমান, সবচেয়ে সত্য নাম হলো হারিস ও হাম্মাম, এবং সবচেয়ে নিকৃষ্ট নাম হলো হারব ও মুররাহ। তোমরা ঘোড়া পালন করো, তাদের কপালে হাত বুলিয়ে দাও এবং তাদের গলায় হার পরাও, তবে মূর্তির হার পরাবে না)। আমার পিতা বললেন: আমি এই হাদীসটি ফাদল আল-আরাজের নিকট শুনেছি কিন্তু আহমাদ (ইবনে হাম্বল) এর কাছ থেকে তা শুনতে পারিনি। আমি মনে মনে এটিকে অস্বীকার করতাম এবং আমার অন্তরে আসত যে, ইনি আবু ওয়াহব আল-কালাই—যিনি মাকহুলের সঙ্গী ছিলেন। আমাদের সাথীরা আশ্চর্য হতেন এবং আহমাদ যা বর্ণনা করেছেন তার বিপরীতে আমার পক্ষে কিছু বলা সম্ভব ছিল না। পরবর্তীতে আমি হিমসে আসলাম এবং ইবনুল মুসাফফা আমাদের নিকট আবু আল-মুগীরা থেকে বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: মুহাম্মদ ইবনে মুহাজির আমাকে বলেছেন, তিনি বললেন: উকাইল ইবনে সাঈদ আমাকে আবু ওয়াহব আল-কালাই থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাওয়াইদুল ইলাল ওয়া ক্বারাইনুত তারজীহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
قال أبي: فعلمت أن ذلك باطل وعلمت أن إنكاري كان صحيحاً وأبو وهب الكلاعى هو صاحب مكحول الذي يروى عن مكحول واسمه عبيد الله بن عبيد وهو دون التابعين يروى عن التابعين وضربه مثل الأوزاعي ونحوه فبقيت متعجباً من أحمد بن حنبل كيف خَفِيَ عليه فإني أنكرته حين سمعت به قبل أن أقف عليه» (1) .
وهذا الحافظ ابن حجر على سعة علمه بالعلل وطرق التَّرجيح فيه يقول في حديث: «وقد رجَّح البخاري أنه عن جابر، وخالفه أبو مسعود والبيهقي فرجَّحا أنه عن أبي هريرة، ولم يظهر لي في ذلك ترجيح، والله أعلم» (2) .
وكان هذا العلم ذا أهمية وصعوبة لعدَّة أمور منها:
1- أنه يتعلق بكلام رسول صلى الله عليه وسلم، «والثقة إذا حدَّث بالخطأ، فحمل عنه وهو لا يشعر أنه خطأ، يعمل به على الدَّوام للوثوق بنقله، فيكون سبباً للعمل بما لم يقله الشرع» (3) .
2- ظهور صحة الحديث بالنَّظر إلى ظاهر السَّند والمتن، وفي هذه الحالة يبعد لدى النَّاظر احتمال وجود علة خفية، ويكثر وقوعه ممن أكثر من الحكم على الأحاديث من المتأخِّرين كالسّيوطي ومن سار على نهجه في التَّصحيح بظواهر الأسانيد فحسب، أو بتتبع الشَّواهد دون تمحيصها وتتبع عللها الخفيَّة، أو أهمل إعلال الأئمَّة لها اتكالاً على قوة الطُّرق عنده وكثرة الشَّواهد.
--------------------------------------------
আমার পিতা বললেন: «অতঃপর আমি বুঝতে পারলাম যে তা বাতিল এবং আমি অনুধাবন করলাম যে আমার অস্বীকৃতি সঠিক ছিল। আবু ওয়াহাব আল-কালা'য়ী হলেন মাকহুলের সঙ্গী, যিনি মাকহুল থেকে বর্ণনা করেন এবং তাঁর নাম উবাইদুল্লাহ বিন উবাইদ। তিনি তাবেঈদের পরবর্তী স্তরের, তিনি তাবেঈদের থেকে বর্ণনা করেন। তাঁর সমপর্যায়ের হলেন আওযা'য়ী এবং তাঁর মতো অন্যান্যরা। ফলে আমি আহমাদ বিন হাম্বলের ব্যাপারে আশ্চর্যান্বিত হলাম যে, কীভাবে এটি তাঁর কাছে অস্পষ্ট রয়ে গেল, কেননা আমি এটি শোনার সাথে সাথেই তা অস্বীকার করেছিলাম, তাঁর স্বরূপ অবগত হওয়ার আগেই» (১) .
আর ইল্লত (ত্রুটি) ও তারজিহ (প্রাধান্য নির্ধারণ) এর পদ্ধতি সম্পর্কে হাফেয ইবনে হাজার-এর অগাধ পাণ্ডিত্য থাকা সত্ত্বেও তিনি একটি হাদিসের ক্ষেত্রে বলেন: «বুখারী এটিকে জাবির থেকে বর্ণনা করাকে প্রাধান্য দিয়েছেন, কিন্তু আবু মাসউদ ও বায়হাকী তাঁর বিরোধিতা করেছেন এবং তাঁরা এটিকে আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করাকে প্রাধান্য দিয়েছেন। এ বিষয়ে আমার কাছে কোনোটিই অগ্রগণ্য হিসেবে স্পষ্ট হয়নি, আর আল্লাহই ভালো জানেন» (২) .
এই ইলমটি (বিদ্যাটি) বেশ কিছু কারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং কঠিন ছিল, তার মধ্যে রয়েছে:
১- এটি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণীর সাথে সংশ্লিষ্ট। «আর কোনো নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী যখন ভুল বর্ণনা করেন এবং তা ভুল তা না বুঝেই তাঁর থেকে গ্রহণ করা হয়, তবে তাঁর বর্ণনার ওপর আস্থার কারণে তা অবিরত পালিত হতে থাকে। ফলে শরীয়ত যা বলেনি, তার ওপর আমল করার কারণ হয়ে দাঁড়ায়» (৩) .
২- সনদের প্রকাশ্য অবস্থা এবং মতনের দিকে দৃষ্টি দিলে হাদিসটি সহিহ বলে প্রতীয়মান হওয়া। এমতাবস্থায় পর্যালোচকের কাছে কোনো গোপন ত্রুটি থাকার সম্ভাবনা সুদূরপরাহত মনে হয়। পরবর্তী যুগের আলেমদের মধ্যে যারা হাদিসের ওপর হুকুম প্রদানে আধিক্য দেখিয়েছেন, তাদের ক্ষেত্রে এটি বেশি ঘটে থাকে; যেমন সুয়ূতী এবং যারা কেবল সনদের প্রকাশ্য দিক দেখে সহিহ করার ক্ষেত্রে তাঁর পথ অনুসরণ করেছেন, অথবা যারা শাহেদ (সমর্থক বর্ণনা) সমূহের যথাযথ যাচাই-বাছাই ও সেগুলোর গোপন ত্রুটি অনুসন্ধান করা ছাড়াই সেগুলো অনুসরণ করেছেন, অথবা যারা ইমামদের কৃত ত্রুটি চিহ্নিতকরণকে উপেক্ষা করেছেন নিজের কাছে থাকা সুদৃঢ় সূত্রসমূহ ও শাহেদ সমূহের প্রাচুর্যের ওপর নির্ভর করে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাওয়াইদুল ইলাল ওয়া ক্বারাইনুত তারজীহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
3- اختلال العمل بمنهج المحدثين قرناً بعد قرن، باعتماد كثير من المتأخِّرين على ظواهر الأسانيد من حيث لا يشعرون، ودخول علم المنطق في علوم الحديث من خلال كتب المصطلح المتأخِّرة خاصَّة، فأهمية إبراز علة الحديث تزداد بقدر ذلك الاعتماد المشار إليه.
4- تفرُّق كثير من الأحاديث المعلَّة في بطون عشرات الكتب، ولا شكَّ أن التَّنقير عن ذلك واستخراجه من الصُّعوبة بمكان.
وهذا العلم قد قلَّ من يفهمه ويُعنى به في العصور السَّابقة، فكيف بهذا الزمن قال أبو حاتم: «جرى بيني وبين أبي زرعة يوماً تمييز الحديث ومعرفته، فجعل يذكر أحاديث ويذكر عللها، وكذلك كنت أذكر أحاديث خطأ وعللها وخطأ الشيوخ، فقال لي: يا أبا حاتم قلَّ من يفهم هذا، ما أعزَّ هذا. إذا رفعت هذا من واحد واثنين فما أقلَّ أن تجد من يحسن هذا
… » (1) .
وقال ابن حجر: «لم يتكلم فيه إلا أفراد أئمة هذا الشأن وحذاقهم» (2) .
ولا يفهم من النصوص السابقة في صعوبة علم العلل وغرابته أنه لا قيام لشأنه بعد رحيل أهله الأوائل. فإن أصوله وقواعده باقية وطرائق أصحابه متداولة، تعتمد على الفهم والذكاء والخبرة وطول الممارسة ودقة التنقير.
وقد تصعب العلة وتدق، بحيث لا يقدر على حل رمزها وكشف
--------------------------------------------
৩- যুগ যুগ ধরে মুহাদ্দিসগণের কর্মপদ্ধতি অনুসরণে বিচ্যুতির সৃষ্টি হওয়া; কারণ পরবর্তী যুগের অনেক আলেম অবচেতনভাবে সনদের বাহ্যিক অবস্থার ওপর নির্ভর করতে থাকেন এবং বিশেষ করে পরবর্তী যুগের পরিভাষা বিষয়ক গ্রন্থগুলোর মাধ্যমে হাদিস শাস্ত্রে তর্কশাস্ত্রের অনুপ্রবেশ ঘটে। ফলে উল্লেখিত নির্ভরশীলতার মাত্রার অনুপাতে হাদিসের ত্রুটি (ইল্লাত) প্রকাশের গুরুত্ব বৃদ্ধি পেয়েছে।
৪- অসংখ্য ত্রুটিযুক্ত (মুআল্লাল) হাদিস শত শত কিতাবের অভ্যন্তরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা। নিঃসন্দেহে তা অনুসন্ধান ও উদ্ধারের বিষয়টি অত্যন্ত কঠিন।
আর এই শাস্ত্রটি এমন যে, পূর্ববর্তী যুগগুলোতেই এটি বুঝার এবং এর প্রতি গুরুত্ব দেওয়ার মতো লোক খুব কম ছিল; তাহলে বর্তমান সময়ের অবস্থা কী হতে পারে! আবু হাতিম বলেন: "একদিন আমার এবং আবু জুরআহর মধ্যে হাদিসের পার্থক্যকরণ ও তা চেনা নিয়ে আলোচনা চলছিল। তিনি বিভিন্ন হাদিস ও সেগুলোর ত্রুটিসমূহ উল্লেখ করতে লাগলেন। তদ্রূপ আমিও বিভিন্ন ভুল হাদিস, সেগুলোর ত্রুটি এবং উস্তাদদের ভুলগুলো উল্লেখ করছিলাম। তখন তিনি আমাকে বললেন: হে আবু হাতিম, এই বিষয়টি বুঝার মতো লোক খুবই নগণ্য, এটি কতই না দুর্লভ! আপনি যদি একজন বা দুইজন ব্যক্তির কথা বাদ দেন, তবে এমন লোক পাওয়া খুবই দুষ্কর যে এ বিষয়ে পারদর্শী...।" (১)।
ইবনে হাজার বলেন: "এই শাস্ত্রের একক ইমামগণ এবং এর অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞগণ ব্যতীত অন্য কেউ এ বিষয়ে কথা বলেননি" (২)।
ইলমে ইলালের কঠিন হওয়া এবং এর বিরলতা সম্পর্কে পূর্বোক্ত বক্তব্যগুলো থেকে যেন এমনটা না বোঝা হয় যে, এর আদি বিশেষজ্ঞদের বিদায়ের পর এই শাস্ত্রের কোনো অস্তিত্ব থাকবে না। কেননা এর মূলনীতি ও নিয়মাবলি অবশিষ্ট রয়েছে এবং এর বিশেষজ্ঞদের কর্মপদ্ধতিও প্রচলিত আছে, যা মূলত প্রজ্ঞা, মেধা, অভিজ্ঞতা, দীর্ঘ চর্চা এবং সূক্ষ্ম অনুসন্ধানের ওপর নির্ভরশীল।
কখনো ত্রুটি এতোটা কঠিন ও সূক্ষ্ম হতে পারে যে, এর রহস্য উন্মোচন ও তা প্রকাশ করার সামর্থ্য থাকে না
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাওয়াইদুল ইলাল ওয়া ক্বারাইনুত তারজীহ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
غامضها إلا القليل من أهل هذا العلم.
وليتنبه إلى أن أهمية علم العلل لا يعني نشر هذا العلم بين العامة، لعدم فهمهم حقيقته، ولاحتمال ورود الشك عندهم في الحديث وأصوله.
قال أبو داود: «ضررٌ على العامة أن يكشف لهم كلُّ ما في هذا الباب فيما مضى من عيوب الحديث، لأن علم العامة يقصر عن مثل هذا» (1) .
* * *
--------------------------------------------
এর জটিল বিষয়গুলো এই ইলমের অল্প কিছু বিশেষজ্ঞ ব্যতীত অন্য কেউ জানে না।
আর এটি লক্ষ্য রাখা উচিত যে, ইলমুল ইলাল-এর গুরুত্বের অর্থ এই নয় যে, এই জ্ঞান সাধারণ মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে হবে। কারণ তারা এর প্রকৃত রহস্য অনুধাবন করতে সক্ষম নয় এবং এর ফলে হাদিস ও এর মূলনীতি সম্পর্কে তাদের মনে সন্দেহ দানা বাঁধার সম্ভাবনা থাকে।
আবু দাউদ বলেছেন: "সাধারণ মানুষের জন্য হাদিসের ত্রুটি-বিচ্যুতি বিষয়ক এই শাস্ত্রের বিগত সবকিছু উন্মোচন করা ক্ষতিকর, কেননা সাধারণ মানুষের জ্ঞান এই ধরনের বিষয় উপলব্ধিতে অক্ষম।" (১) .
* * *
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাওয়াইদুল ইলাল ওয়া ক্বারাইনুত তারজীহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
3- أقسام الحديث المعل:تنوعت أساليب العلماء في تقسيم الأحاديث المعلَّة على ما يلي:
1. تقسيمها - حسب أثر العِلَّة - قسمين اثنين هما:
أ- علة قادحة، كالإرسال في السَّند، وتغيير المعنى في المتن (1) .
ب- علة غير قادحة، كتعيين الصَّحابي (2) .
وهذا التقسيم عبر عنه ابن حجر بـ: «مراتب العلل» (3) .
2. تقسيمها حسب موضعها إلى علل في السَّند وعلل في المتن.
أ- فمن علل السَّند: - رفع الموقوف ووصل المنقطع وإبدال راوٍ بآخر وإسقاط راوٍ أو زيادته وإبدال سند بآخر أشهر منه، ونحو ذلك.
ب- ومن علل المتن: - إدراج متن بآخر، والرِّواية بالمعنى مع تغيير
--------------------------------------------
৩- ত্রুটিযুক্ত হাদিসের (মুআল্লাল) প্রকারভেদ:মুআল্লাল হাদিসকে বিভক্ত করার ক্ষেত্রে আলেমদের পদ্ধতিসমূহ নিম্নরূপ:
১. ত্রুটির প্রভাব অনুযায়ী এর বিভাজন - এটি দুই প্রকার, যথা:
ক- ক্ষতিকারক ত্রুটি; যেমন সনদে ইরাসাল হওয়া (তাবেয়ি কর্তৃক সাহাবীর নাম বাদ দেওয়া) এবং মতনে (মূল পাঠে) অর্থের পরিবর্তন ঘটা (১)।
খ- অ-ক্ষতিকারক ত্রুটি; যেমন (অনির্দিষ্ট) সাহাবীকে নির্দিষ্ট করে দেওয়া (২)।
এই বিভাজনকে ইবনে হাজার ‘মারাতীবুল ইলাল’ (ত্রুটির স্তরসমূহ) হিসেবে অভিহিত করেছেন (৩)।
২. অবস্থানের ভিত্তিতে বিভাজন; যথা সনদের ত্রুটি এবং মতনের (মূল পাঠের) ত্রুটি।
ক- সনদের ত্রুটিসমূহের মধ্যে রয়েছে: মাওকুফ হাদিসকে মারফু হিসেবে বর্ণনা করা, বিচ্ছিন্ন সনদকে সংযুক্ত করা, এক বর্ণনাকারীকে অন্য বর্ণনাকারী দ্বারা পরিবর্তন করা, কোনো বর্ণনাকারীকে বাদ দেওয়া বা বৃদ্ধি করা, এবং এক সনদের পরিবর্তে তদপেক্ষা অধিক প্রসিদ্ধ অন্য সনদ ব্যবহার করা ইত্যাদি।
খ- মতনের ত্রুটিসমূহের মধ্যে রয়েছে: এক মতনকে অন্য মতনের অন্তর্ভুক্ত করে দেওয়া, এবং অর্থের পরিবর্তনসহ ভাবার্থ বর্ণনা করা।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাওয়াইদুল ইলাল ওয়া ক্বারাইনুত তারজীহ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
المراد، ومخالفة الصَّحابي لما رواه، والتَّفرد بزيادة في المتن.
3. تقسيم ينظر فيه إلى قوة تأثير العِلَّة في الحديث على التالي:
أ- ما يغلب على الظَّنِّ قبول علته.
ب- ما يغلب على الظَّنِّ رده.
ج- ما يجزم بِرَدِّه.
د- ما يتوقف فيه لقوَّة تردُّده (1) .
وهذا التَّقسيم مرتبط بقرائن التَّعليل الآتي ذكرها بعد، وعلى هذا اختلف العلماء في اعتبار العلة وعدم اعتبارها، استناداً على قوة العِلَّة وأثرها في صحة الحديث، مع احتمال اتفاقهم على وجود أصل العِلَّة في حديث معين.
4. تقسيم بالنَّظر إلى نوع العِلَّة الظَّاهرة - وجعل كل قسم نوعاً من أنواع علوم الحديث - ومن هذه الأقسام:
1- اختلاف الوصل والإرسال.
2- المضطرب (2) .
--------------------------------------------
উদ্দেশ্য, এবং সাহাবীর বর্ণিত হাদীসের বিপরীত আমল করা, এবং মতন বা মূল পাঠে কোনো অংশ বৃদ্ধিতে একক হওয়া।
৩. এমন একটি বিভাজন যাতে হাদীসের ওপর ইল্লত বা ত্রুটির প্রভাবের শক্তির ভিত্তিতে নিম্নোক্তভাবে দেখা হয়:
ক- যার ইল্লত বা ত্রুটি গ্রহণযোগ্য হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।
খ- যা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।
গ- যা নিশ্চিতভাবে প্রত্যাখ্যাত।
ঘ- যাতে এর দোদুল্যমানতা প্রবল হওয়ার কারণে সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিরত থাকা হয় (১)।
এই বিভাজনটি পরবর্তীতে উল্লিখিত তায়লীল বা ত্রুটি নির্ণয়ের আলামতসমূহের সাথে সংশ্লিষ্ট। এর ভিত্তিতেই ওলামায়ে কেরাম ইল্লত বা ত্রুটিকে ধর্তব্য হওয়া বা না হওয়ার ব্যাপারে মতভেদ করেছেন, যা ইল্লতের শক্তি এবং হাদীসের বিশুদ্ধতার ওপর এর প্রভাবের ওপর নির্ভরশীল; যদিও কোনো নির্দিষ্ট হাদীসে মূল ইল্লত বিদ্যমান থাকার ব্যাপারে তাঁদের ঐকমত্য হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
৪. প্রকাশ্য ইল্লত বা ত্রুটির প্রকারভেদের আলোকে বিভাজন - এবং প্রতিটি বিভাগকে হাদীস শাস্ত্রের অন্যতম প্রকার হিসেবে গণ্য করা হয়েছে - এ সকল বিভাগের মধ্যে রয়েছে:
১- মুত্তাসিল (যুক্ত) ও মুরসাল (বিচ্ছিন্ন) হওয়ার ক্ষেত্রে মতভেদ।
২- মুদতারিব (২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাওয়াইদুল ইলাল ওয়া ক্বারাইনুত তারজীহ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
3- زيادة الثِّقَات (1) .
4- الشَّاذ (2) والمنكر.
5- المقلوب (3) .
6- المدرج (4) .
7- المزِيد في متَّصل الأسانيد.
8- المصحَّف والمحرَّف.
وواضح أن هذه الأنواع جزء من الحديث المعل (5) وإن اشتهر عند علماء المصطلح إفرادها في أبواب مستقلة وهي في الواقع جزء من العلل - الذي جعلوه مستقلاً - لأمور منها:
1- أن الذين ألَّفوا في العلل أو تكلَّموا فيها عَرَضَاً، قد ذكروا أحاديث
--------------------------------------------
৩- নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের অতিরিক্ত বর্ণনা (১)।
৪- শায (২) এবং মুনকার।
৫- মাকলুব (৩)।
৬- মুদরাজ (৪)।
৭- মুত্তাসিল সনদে অতিরিক্ত বর্ণনা।
৮- মুসাহহাফ এবং মুহাররাফ।
এটা স্পষ্ট যে, এই প্রকারগুলো ত্রুটিযুক্ত হাদিসের (৫) অন্তর্ভুক্ত, যদিও পরিভাষা শাস্ত্রের আলেমদের নিকট এগুলোকে স্বতন্ত্র অধ্যায়ে উল্লেখ করার প্রসিদ্ধি রয়েছে। প্রকৃতপক্ষে এগুলো ইলাল (ত্রুটিসমূহ) এর অংশ—যাকে তারা কয়েকটি কারণে স্বতন্ত্র হিসেবে গণ্য করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে:
১- যারা ত্রুটি (ইলাল) বিষয়ে গ্রন্থ রচনা করেছেন অথবা প্রাসঙ্গিকভাবে এ বিষয়ে কথা বলেছেন, তারা এমন হাদিসসমূহ উল্লেখ করেছেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাওয়াইদুল ইলাল ওয়া ক্বারাইনুত তারজীহ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
فيها أكثر ما تقدَّم.
2- أن هذه الأنواع إنَّما عرفت بالنَّظر إلى رواية المخالف، وهذا بلا شك داخل في علم علل، حيث إنَّه يقوم على جمع الرِّوايات، والنَّظر في الاختلاف، ومن ثم الحكم كما سيأتي تفصيله فيما بعد (1) .
3- أن في الحكم على حديث بشيء من الأنواع السَّابقة في بعضه تعليل لسند ظاهره الصِّحة، اضطُّلع على علته الخفية بالاعتبار، ويبقى بعد التَّعليلِ النَّظرُ في أثر العِلَّة، أقادحة هي أم لا.
4- أنَّ إفراد جزء من علم بالتأليف، لا يعني أنه مستقل عنه في قواعده. فإفراد علماء الحديث السَّابقين بعض جزئيات العلل بالتأليف لا يفهم منه أنه علم مستقل يذكر بجانب علم العلل في كتب المصطلح.
ومن المآخذ المترتبة على إهمال ما سبق أمران:
1- أنه عند التَّمثيل بأحاديث معلَّة لا تذكر بعض الأنواع السَّابقة، لأنها من علم آخر - اصطلاحاً - عند البعض.
2- أن ذلك قد يُوحي لدى البعض أيضاً أن قواعد هذه الأنواع وأسس التَّرجيح فيها غير التي في علم العلل. وهذا غير صحيح باعتبار الأصل، وإن كان قد يتميَّز كل نوع بجزئية تخصُّه لا تخرجه عن أصل علم العلل، ونوع المدرج يبين صحة ما سبق ذكره، حيث ظن البعض أن الرواية التي تبين الإدراج فاصلة في الأمر، وأغفل قرائن قبولها أو ردِّها، فليس كل من ميز وبين الإدراج في الرواية يقبل قوله إذا خالف من هو أرجح.
--------------------------------------------
এতে পূর্বালোচিত বিষয়গুলোর অধিকাংশই বিদ্যমান।
২- এই প্রকারভেদগুলো মূলত বিরোধিতাকারীর বর্ণনার প্রতি লক্ষ করার মাধ্যমেই পরিচিতি লাভ করেছে, আর এটি নিঃসন্দেহে 'ইলমে ইলাল' (ত্রুটি বিষয়ক বিজ্ঞান)-এর অন্তর্ভুক্ত। কেননা এটি বর্ণনাসমূহকে একত্রিত করা এবং মতভেদের প্রতি দৃষ্টি দেওয়ার ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত, এরপর সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত প্রদান করা হয়, যেমনটি সামনে বিস্তারিতভাবে আসবে (১)।
৩- পূর্বোক্ত প্রকারগুলোর কোনো একটির মাধ্যমে কোনো হাদিসের ওপর হুকুম প্রদানের ক্ষেত্রে এমন কোনো সনদে ত্রুটি অনুসন্ধান করা হয় যার বাহ্যিক দিকটি সহিহ বা শুদ্ধ মনে হয়। পর্যালোচনার মাধ্যমে এর সুপ্ত ত্রুটি সম্পর্কে অবগত হওয়া যায়। এরপর ত্রুটি চিহ্নিত করার পর তার প্রভাব পর্যালোচনার বিষয়টি বাকি থেকে যায় যে, তা বর্ণনার বিশুদ্ধতাকে ক্ষুণ্ণকারী কি না।
৪- কোনো নির্দিষ্ট বিজ্ঞানের একটি অংশকে স্বতন্ত্রভাবে গ্রন্থবদ্ধ করার অর্থ এই নয় যে, তার মূলনীতিগুলো মূল বিজ্ঞান থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। সুতরাং পূর্ববর্তী হাদিস বিশারদগণের 'ইলাল' বা ত্রুটির কিছু আংশিক বিষয়কে স্বতন্ত্রভাবে রচনা করা থেকে এটা বোঝার অবকাশ নেই যে, এটি একটি স্বতন্ত্র বিজ্ঞান যা পরিভাষা বিষয়ক গ্রন্থসমূহে 'ইলমে ইলাল'-এর পাশাপাশি স্বতন্ত্রভাবে উল্লেখ করা হবে।
পূর্বোক্ত বিষয়গুলো উপেক্ষা করার ফলে সৃষ্ট ত্রুটিসমূহ দুটি:
১- কোনো ত্রুটিযুক্ত (মু'আল্লাল) হাদিসের উদাহরণ দেওয়ার সময় পূর্বোক্ত প্রকারগুলোর কিছু বিষয় উল্লেখ করা হয় না, কারণ কারো কারো মতে পারিভাষিকভাবে সেগুলো অন্য বিজ্ঞানের অন্তর্ভুক্ত।
২- এর ফলে কারো কারো মনে এ ধারণার সৃষ্টি হতে পারে যে, এই প্রকারগুলোর মূলনীতি এবং এতে প্রাধান্য প্রদানের (তারজিহ) ভিত্তিগুলো 'ইলমে ইলাল'-এর মূলনীতি থেকে ভিন্ন। এটি মূলগতভাবে সঠিক নয়। যদিও প্রতিটি প্রকার তার নিজস্ব কিছু বৈশিষ্ট্যের কারণে স্বতন্ত্র হতে পারে, তবে তা তাকে 'ইলমে ইলাল'-এর মূল ভিত্তি থেকে বের করে দেয় না। আর 'মুদরাজ' (সংযুক্ত) প্রকারটি পূর্বোক্ত বিষয়ের সত্যতা স্পষ্ট করে। কেননা কেউ কেউ মনে করেন যে, যে বর্ণনাটি সংযুক্তি (ইদরাজ) প্রকাশ করে সেটিই চূড়ান্ত ফয়সালা, এবং তারা তা গ্রহণ বা বর্জনের পারিপার্শ্বিক আলামতগুলো উপেক্ষা করেন। সুতরাং বর্ণনায় সংযুক্তি চিহ্নিতকারী প্রত্যেকের কথাই গ্রহণ করা হবে না যদি তিনি তার চেয়ে অধিক নির্ভরযোগ্য (আরজাহ) বর্ণনাকারীর বিরোধিতা করেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাওয়াইদুল ইলাল ওয়া ক্বারাইনুত তারজীহ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
ولعل إفرادهم هذه الأنواع من باب جمع الأمثلة المتشابهة، وفي هذا لطافة علمية ظاهرة وتجديد، وممن قام بذلك الحافظ ابن حجر، فقال السَّخاوي: «وقد أفرد شيخنا من هذا الكتاب - أي علل الدَّارقطني - ما له لقب خاص كالمقلوب والمدرج والموقوف، فجعل كلاً منها في تصنيف مفرد، وجعل العلل المجرَّدة في تصنيف مستقل
… » (1) .
وذكر ابن حجر (2) والسَّخاوي (3) أن في العلل للدَّارقطني أمثلة للمضطَّرب. وقال الصَّنعاني عن علمي العلل والمضطَّرب: «والبحثان متقاربان، والاضِّطراب نوع من العلل» (4) .
وذكر أبو عبد الله الحاكم أجناساً كثيرةً للعلل تمثيلاً فحسب (5) .
وقال ابن حجر عند قول ابن الصلاح "ويصلح مثالاً للمعلل": «لا يختصُّ هذا بهذا المثال، بل كلُّ مقلوب لا يخرج عن كونه معللاً، أو شاذاً، لأنه إنما يظهر أمره بجمع الطُّرق واعتبار بعضها ببعض، ومعرفة من يوافق ممن يخالف
… » (6) .
فالحاصل أنَّ كلَّ اختلاف على الرَّاوي داخل في علم العلل بصنيع من سلف من علماء الحديث وعلله، سواء كان الاختلاف قادحاً أم لا، وسواء
--------------------------------------------
সম্ভবত তাদের এই প্রকারগুলোকে আলাদা করা ছিল সাদৃশ্যপূর্ণ উদাহরণগুলো একত্রিত করার অংশ হিসেবে। এর মধ্যে একটি সুস্পষ্ট ইলমি সূক্ষ্মতা ও নতুনত্ব রয়েছে। যারা এটি করেছেন তাদের মধ্যে হাফিজ ইবনে হাজার অন্যতম। সাখাভী বলেন: «আমাদের শাইখ এই কিতাব—অর্থাৎ আদ-দারা কুতনীর 'ইলাল'—থেকে এমন সব বিষয় আলাদা করেছেন যেগুলোর বিশেষ উপাধি রয়েছে, যেমন: মাকলুব, মুদরাজ এবং মাওকুফ। তিনি এগুলোর প্রত্যেকটিকে পৃথক শ্রেণিবিন্যাসে স্থান দিয়েছেন এবং সাধারণ ইলালগুলোকে একটি স্বতন্ত্র বিন্যাসে রেখেছেন
… » (১)।
ইবনে হাজার (২) এবং সাখাভী (৩) উল্লেখ করেছেন যে, আদ-দারা কুতনীর 'ইলাল' গ্রন্থে 'মুদতারিব' হাদিসের উদাহরণ রয়েছে। সানআনী 'ইলাল' এবং 'মুদতারিব' শাস্ত্র সম্পর্কে বলেন: «এই দুই গবেষণা পরস্পর নিকটবর্তী, আর ইদতিরাব (বিশৃঙ্খলা) হলো ইলালেরই একটি প্রকার» (৪)।
আবু আব্দুল্লাহ আল-হাকিম শুধুমাত্র উদাহরণ হিসেবে ইলালের অনেকগুলো প্রকার উল্লেখ করেছেন (৫)।
ইবনে হাজার, ইবনুস সালাহ-এর উক্তি "এটি মুআল্লাল (ত্রুটিযুক্ত) হাদিসের উদাহরণ হওয়ার উপযুক্ত" প্রসঙ্গে বলেন: «এটি কেবল এই উদাহরণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং প্রতিটি 'মাকলুব' হাদিসই 'মুআল্লাল' অথবা 'শায' (বিচ্যুতি) হওয়ার বহির্ভূত নয়। কারণ, এর বিষয়টি তখনই প্রকাশ পায় যখন সূত্রসমূহ একত্রিত করা হয় এবং একটির সাথে অন্যটির তুলনা করা হয়, আর কে কার সাথে একমত হলো এবং কে কার বিরোধিতা করল তা জানা যায়
… » (৬)।
সারকথা হলো, বর্ণনাকারীর বর্ণনায় প্রতিটি মতপার্থক্যই পূর্ববর্তী হাদিস বিশারদ ও ইলাল বিশেষজ্ঞদের কর্মপদ্ধতি অনুযায়ী 'ইলমুল ইলাল'-এর অন্তর্ভুক্ত, সেই মতপার্থক্য ত্রুটিযুক্ত হোক বা না হোক, এবং চাই তা...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাওয়াইদুল ইলাল ওয়া ক্বারাইনুত তারজীহ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
كان في السَّند أم المتن. وأما إدخال روايات الضُّعفاء في كتب العلل فلأَنَّ هذا يسمى علة من حيث الأصل، ولأنَّ الاصطلاح لم يستقرَّ بعد، والأمر سهل، ولا مشاحة في الاصطلاح، إن لم يترتب على ذلك تأثير في النهج العلمي التطبيقي، والحاجة إلى تنويع العلم وتقسيمه من سمات العصور المتأخرة - كما هو معلوم - في شتى العلوم، والإنكار على هذا فيه تشديد.
* * *
এটি সনদে হোক কিংবা মতনে। আর 'ইলাল' গ্রন্থসমূহে দুর্বল বর্ণনাকারীদের বর্ণনা অন্তর্ভুক্ত করার কারণ হলো, মূলগতভাবে একে 'ইল্লাত' বলা হয় এবং তখন পর্যন্ত পরিভাষাটি সুস্থিত রূপ লাভ করেনি। বিষয়টি সহজ এবং পরিভাষার ক্ষেত্রে কোনো বিবাদ নেই, যদি এর ফলে প্রায়োগিক বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির ওপর কোনো প্রভাব না পড়ে। আর জ্ঞানের বৈচিত্র্যকরণ এবং একে বিভিন্ন ভাগে বিভক্ত করার প্রয়োজনীয়তা পরবর্তী যুগের বৈশিষ্ট্যগুলোর অন্তর্ভুক্ত—যেমনটি সর্বজনবিদিত—বিভিন্ন জ্ঞান-বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে। আর এ বিষয়টিকে অস্বীকার করার মধ্যে অহেতুক কঠোরতা রয়েছে।
* * *
(খণ্ড: ১)
কাওয়াইদুল ইলাল ওয়া ক্বারাইনুত তারজীহ
(পৃষ্ঠা: ৩১)
4 - المؤلفات في العلل:لعل ما أُلِّفَ في حديث رسول الله صلى الله عليه وسلم من أكثر المؤلفات التي تركها علماء السَّلف الصالح لمن بعدهم. ومن بين هذه المؤلَّفات ما كتبه المحدثون في علل حديث رسول الله صلى الله عليه وسلم. إلا أنَّ ما ألِّف في العلل قليل بالنِّسبة لبقية تلك المؤلَّفات، كما أنَّ ما سَلِم منها وبقي حتى الآن لا يكاد أن يذكر كذلك. ولا شكَّ أَنَّ هذا يترك شيئاً من الحزن في قلب أهل العلم، أن فاتهم ما فيها من علم.
قال الخطيب وذكر مصنفات ابن المديني: «وجميع هذه الكتب قد انقرضت ولم نقف على شيء منها إلا على أربعة أو خمسة حسب ولعمري إنَّ في انقراضها ذهاب علوم جمة وانقطاع فوائد ضخمة» (1) .
وقال أَيضاً بعد ذكر العشرات من كتب ابن حبان المفقودة: «مثل هذه الكتب الجليلة كان يجب أن يكثر بها النسخ ويتنافس فيها أهل العلم ويكتبوها لأنفسهم ويخلدوها أحرازهم، ولا أحسب المانع من ذلك إلا قلة معرفة أهل تلك البلاد لمحل العلم وفضله وزهدهم فيه ورغبتهم عنه وعدم بصيرتهم به، والله أعلم» (2) .
ولا شكَّ أنَّ هذه المؤلفات تعطي لنا تصوراً مجملاً عن نشأة علم
--------------------------------------------
৪ - ইল্লাল (হাদিসের সূক্ষ্ম ত্রুটি) বিষয়ক গ্রন্থসমূহ:সম্ভবত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদিস বিষয়ে যা কিছু রচিত হয়েছে, তা সালাফে সালেহীন কর্তৃক উত্তরসূরিদের জন্য রেখে যাওয়া সর্বাপেক্ষা সমৃদ্ধ জ্ঞানভাণ্ডারের অন্তর্ভুক্ত। আর এই গ্রন্থসমূহের মধ্যে অন্যতম হলো রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদিসের ‘ইল্লাল’ (সূক্ষ্ম দোষ-ত্রুটি) বিষয়ে মুহাদ্দিসগণের রচনাবলি। তবে অন্যান্য বিষয়ের রচনার তুলনায় ইল্লাল শাস্ত্রের ওপর রচিত গ্রন্থের সংখ্যা কম। একইভাবে এগুলোর মধ্য থেকে যা কিছু বিলুপ্তি থেকে রক্ষা পেয়ে বর্তমান সময় পর্যন্ত অবশিষ্ট আছে, তার সংখ্যাও অতি নগণ্য। নিঃসন্দেহে এটি আহলে ইলম বা জ্ঞানীদের অন্তরে দুঃখের উদ্রেক করে যে, এই গ্রন্থসমূহের মাঝে নিহিত জ্ঞান থেকে তারা বঞ্চিত হয়েছেন।
খতিব বাগদাদী ইবনুল মাদীনীর সংকলনসমূহ উল্লেখ করে বলেন: «এই সকল কিতাব বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছে, মাত্র চার বা পাঁচটি ছাড়া আমরা সেগুলোর কিছুরই সন্ধান পাইনি। আমার জীবনের শপথ! এগুলোর বিলুপ্তিতে প্রভূত জ্ঞান বিলীন হয়ে গিয়েছে এবং বিশাল সব কল্যাণ ও উপকারিতার ধারা বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে» (১)।
ইবনে হিব্বানের হারিয়ে যাওয়া কয়েক ডজন কিতাবের কথা উল্লেখ করার পর তিনি আরও বলেন: «এরূপ মহান কিতাবসমূহের অধিক প্রতিলিপি তৈরি করা এবং আহলে ইলমদের সে বিষয়ে প্রতিযোগিতা করা উচিত ছিল; তাদের উচিত ছিল এগুলো নিজেদের জন্য লিখে রাখা এবং নিজেদের সংগ্রহশালায় চিরস্থায়ী করে রাখা। আমার ধারণা মতে, সেই অঞ্চলের অধিবাসীদের ইলমের মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্ব সম্পর্কে জ্ঞানের স্বল্পতা, ইলমের প্রতি তাদের অনাগ্রহ ও বিমুখতা এবং এ বিষয়ে তাদের প্রজ্ঞার অভাবই ছিল এর প্রধান অন্তরায়। আল্লাহই ভালো জানেন» (২)।
নিঃসন্দেহে এই গ্রন্থসমূহ এই ইলমের উদ্ভব সম্পর্কে আমাদের একটি সামগ্রিক ধারণা প্রদান করে
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাওয়াইদুল ইলাল ওয়া ক্বারাইনুত তারজীহ
(পৃষ্ঠা: ৩২)
العلل، وأنه بدأ في عصر مبكر جداً بالنِّسبة لبقية علوم الحديث التي فرَّعها علماء الحديث بعد سنين من بداية نشأتها. فبينما انتشرت كثير من فروع علوم الحديث بعد زمن، فإنَّ علم العلل - على قدم نشأته - قوبل بعكس ذلك، حيث قلَّ الاهتمام به وضعُف جانبه كثيراً، مع قول علماء الحديث بأهميته وعظم شأنه بين علوم الحديث!!
ومن أشهر المؤلفات في علل الحديث ما يلي:
1. العلل لعبد الله بن المبارك (1) .
2. علل الحديث ليحيى القطان (2) .
3. العلل ليحيى بن معين (3) .
4. العلل لابن المديني، بعدة روايات عنه (4) ، في عدة أجزاء (5) ، وله أَيضاً علل حديث ابن عيينة في (13) جزءاً.
5. العلل لأحمد بن حنبل، بعدة روايات عنه (6) ، طبع بعضها. ويغلب عليها الجرح والتَّعديل ومسائل فقهية وغير ذلك، جمعها الخلال في ثلاثة مجلدات، جمع فيها ما تفرق من الرِّوايات عن أحمد. انتخب منه ابن
--------------------------------------------
ইলাল (ত্রুটিসমূহ); আর এটি উলূমুল হাদিসের অন্যান্য শাখার তুলনায় অনেক আগে শুরু হয়েছিল, যা হাদিস বিশারদগণ এর উৎপত্তির বহু বছর পর শাখা-প্রশাখায় বিন্যস্ত করেছেন। যদিও সময়ের ব্যবধানে উলূমুল হাদিসের অনেক শাখা ছড়িয়ে পড়েছিল, কিন্তু ‘ইলমুল ইলাল’ তার প্রাচীনত্বের সত্ত্বেও বিপরীত পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছে। কেননা এর প্রতি মনোযোগ কমে গিয়েছিল এবং এর চর্চা অনেক দুর্বল হয়ে পড়েছিল, অথচ হাদিস বিশারদগণ উলূমুল হাদিসের মধ্যে এর গুরুত্ব ও সুমহান মর্যাদার কথা স্বীকার করেছেন!!
ইলমুল ইলাল বিষয়ক প্রসিদ্ধ গ্রন্থগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো:
১. আব্দুল্লাহ ইবনে মুবারকের আল-ইলাল (১)।
২. ইয়াহইয়া আল-কাত্তানের ইলালুল হাদিস (২)।
৩. ইয়াহইয়া ইবনে মাঈনের আল-ইলাল (৩)।
৪. ইবনুল মাদিনীর আল-ইলাল, যা তার থেকে একাধিক বর্ণনায় বিদ্যমান (৪), এবং তা কয়েক খণ্ডে সমাপ্ত (৫)। এছাড়াও ইবনে উয়াইনার হাদিসের ত্রুটিসমূহ (ইলাল) নিয়ে তার ১৩ খণ্ডের একটি গ্রন্থ রয়েছে।
৫. আহমাদ ইবনে হাম্বলের আল-ইলাল, যা তার থেকে একাধিক বর্ণনায় বর্ণিত (৬) এবং এর কিছু অংশ মুদ্রিত হয়েছে। এই গ্রন্থটিতে মূলত ‘জারহ ও তা’দিল’ (হাদিস বর্ণনাকারীদের সমালোচনা ও প্রশংসা), ফিকহী মাসআলা এবং অন্যান্য বিষয়ের প্রাধান্য রয়েছে। আল-খাল্লাল এটি তিন খণ্ডে সংকলন করেছেন, যেখানে তিনি ইমাম আহমাদ থেকে বর্ণিত বিক্ষিপ্ত বর্ণনাগুলো একত্রিত করেছেন। তা থেকে ইবন
--------------------------------------------