(খণ্ড: ১)
আস-সাওমু জুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: -)
الصوم جنة القسم: مسائل فقهية
الكتاب: الصوم جنة
المؤلف: د خالد بن عبد الرحمن بن علي الجريسي
تقديم: العلامة الشيخ د/ عبد الله بن عبد الرحمن الجبرين
عدد الصفحات: 184
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আস-সাওমু জুননাহ (রোজা একটি ঢাল) বিভাগ: ফিকহী মাসআলাসমূহ
গ্রন্থ: আস-সাওমু জুননাহ (রোজা একটি ঢাল)
লেখক: ড. খালেদ বিন আব্দুর রহমান বিন আলী আল-জুরায়সী
উপস্থাপনা: আল্লামা শেখ ড/ আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রহমান আল-জিবরীন
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৮৪
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ্জ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আস-সাওমু জুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: -)
سلسلة زاد المؤمن (8)
الصوم جُنَّة
تأليف
د. خالد بن عبد الرحمن الجريسي
تقديم
العلاّمة الشيخ د/ عبد الله بن عبد الرحمن الجبرين
মুমিনের পাথেয় সিরিজ (৮)
সিয়াম ঢালস্বরূপ
রচনা
ড. খালিদ বিন আব্দুর রহমান আল-জুরায়সী
উপস্থাপনায়
আল্লামা শাইখ ড. আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রহমান আল-জিবরীন
(খণ্ড: ১)
আস-সাওমু জুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৫)
تقديم
الحمد لله الذي هدانا للإسلام وأرسل إلينا نبيَّه محمدًا أفضلَ الأنام، فبيَّن برسالته الحلال والحرام، وفصَّل أحكام الصلاة والصيام، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له الملكُ العلَاّم، وأشهد أنَّ محمداً عبده ورسولُه أفضل من صلَّى لربِّه وصام، صلَّى الله عليه وعلى آله وأصحابه البَرَرةِ الكرام، وسلَّم تسليماً كثيراً ما دامت الليالي والأيام.
أما بعد، فقد قرأت هذه الرسالة القيمةَ والتي بعنوان (الصَّوْمُ جُنَّةٌ) والتي صنَّفها الدكتور خالد بن عبد الرحمن الجريسي وفَّقه الله تعالى وسدَّده، ورأيتُه قد أجاد في الانتقاء والاختيار، واستوفى كلَّ ما يتعلق بالصيام وتأريخ فَرْضِه والحكمة منه وواجباته وشروطه وما يُبطِله ومن يُعذَر فيه وصيام النَّفْل وقيام رمضان وليلة القدر وزكاة الفطر، مع الأدلة واختيار الأحاديث الثابتة الصحيحة
ভূমিকা
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদের ইসলামের পথে পরিচালিত করেছেন এবং আমাদের নিকট তাঁর নবী মুহাম্মদ (সা.)-কে প্রেরণ করেছেন, যিনি সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ। তিনি তাঁর রিসালাতের মাধ্যমে হালাল ও হারাম স্পষ্ট করেছেন এবং সালাত ও সিয়ামের বিধানসমূহ বিস্তারিত বর্ণনা করেছেন। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই, তিনি রাজাধিরাজ ও সর্বজ্ঞ। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সা.) আল্লাহর বান্দা ও রাসূল, যিনি তাঁর প্রতিপালকের উদ্দেশ্যে সালাত আদায়কারী ও সিয়াম পালনকারীদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ। তাঁর ওপর এবং তাঁর পুণ্যবান ও সম্মানিত পরিবার ও সাহাবীগণের ওপর আল্লাহর রহমত ও অফুরন্ত শান্তি বর্ষিত হোক, যতক্ষণ রাত ও দিন প্রবহমান থাকবে।
অতঃপর, আমি ‘আস-সাওমু জুন্নাতুন’ (রোজা একটি ঢাল) শিরোনামের এই মূল্যবান পুস্তিকাটি পাঠ করেছি, যা ডক্টর খালিদ বিন আবদুর রহমান আল-জুরায়সী সংকলন করেছেন; আল্লাহ তাআলা তাঁকে তাওফিক দান করুন এবং সঠিক পথে পরিচালিত করুন। আমি দেখেছি যে, তিনি বিষয় নির্বাচনে মুন্সিয়ানার পরিচয় দিয়েছেন এবং সিয়াম সম্পর্কিত যাবতীয় বিষয়—যেমন এটি ফরজ হওয়ার ইতিহাস, এর তাৎপর্য, ওয়াজিবসমূহ, শর্তাবলি, সিয়াম ভঙ্গের কারণসমূহ, কাদের জন্য এতে শিথিলতা রয়েছে, নফল সিয়াম, রমজানের কিয়াম, লাইলাতুল কদর এবং সদকাতুল ফিতর সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। তিনি এই আলোচনা দলীলসহ এবং প্রমাণিত (ثابتة) ও সহিহ (صحيحة) হাদিসসমূহ নির্বাচনের মাধ্যমে সম্পন্ন করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আস-সাওমু জুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৬)
وتخريجها، ومصادر النقل ونحو ذلك، فهو كتاب نافع - بإذن الله - مفيد في موضوعه، فجزى الله المؤلف خير الجزاء، وأثابه أجزل الثواب، ونفع بجهوده، والله أعلم، وصلَّى الله على محمَّدٍ وآله وصحبه وسلَّم.
كتبه
عبد الله بن عبد الرحمن الجبرين
25/10/1425هـ.
এবং এর হাদিস যাচাই ও সূত্র নির্দেশ (تخريج), উদ্ধৃতির উৎসসমূহ এবং এ জাতীয় বিষয়াবলি; সুতরাং এটি একটি কল্যাণকর কিতাব - আল্লাহর ইচ্ছায় - যা নিজ বিষয়ের ওপর অত্যন্ত উপযোগী। আল্লাহ তাআলা লেখককে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন, তাঁকে মহা-পুরস্কারে ভূষিত করুন এবং তাঁর প্রচেষ্টাকে ফলপ্রসূ করুন। আল্লাহই সর্বজ্ঞ। আর আল্লাহর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবারবর্গ এবং তাঁর সকল সাহাবীর ওপর।
লিখেছেন
আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রহমান আল-জিবরীন
২৫/১০/১৪২৫ হিজরি।
(খণ্ড: ১)
আস-সাওমু জুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
مقدّمةالْحَمْدُ لِلّهِ الَّذِي امْتَنَّ عَلَى عِبَادِهِ الصَّائِمِينَ فَأَعْظَمَ عَلَيْهِمُ الْمِنَّةَ، وَجَعَلَ الصَّوْمَ لَهُمْ وِجَاءً وجُنَّةً، وَاخْتَصَّهُمْ بجَنَّةٍ عُظْمَى لَيْستْ كَسَائِرِ الْجَنَّةِ، بَابُهَا الرَّيَّانُ حَيْثُ أَسْرَارُ النَّعِيمِ مُسْتَكِنَّةٌ، وَأَشْهَدُ أَنْ لَا إِلهَ إِلَاّ اللهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيْكَ لَهُ رَبُّ النَّاسِ وَالْجِنَّةِ، وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّداً عَبْدُهُ وَرَسُوْلُهُ، خَيْرُ مَنْ صَامَ مُفْتَرِضًا أَوْ تَنَفَّلَ سُنَّةً، اتَّبَعَتْهُ نُفُوسٌ مُؤْمِنَةٌ فَصَارَتْ بِاتِّبَاعِهِ زَكِيَّةً مُطْمَئِنَّةً، صلى الله عليه وسلم مَا صَامَ صَائِمٌ وَاسْتَنَّ مُؤْمِنٌ بِسُنَّةٍ، وَعَلَى آلِهِ وَصَحْبِهِ الْمُقَرَّبِينَ السَّابِقِينَ إِلَى الْجَنَّةِ.
وَبَعْدُ، فَهَذَا مَا يَسَّرَ اللهُ تَعَالَى جَمْعَهُ وَتَرْتِيبَهُ مِمَّا يَتَعلَّقُ بِرُكْنِ الصِّيَامِ، قَصَدْتُ فِيهِ تَتَبُّعَ فَضَائِلِهِ وَأَسْرَارِهِ، وَأُمَّاتِ مَسَائِلِهِ وَأَحْكَامِهِ، وَقَدِ اسْتَخَرْتُ فِي ذَلِكَ الْمَلِكَ الْعَلَاّمَ، حَتَّى إِذَا صَارَ الصَّدْرُ بِانْشِرَاحٍ لِمَا يُرَامُ، عَزَمْتُ
উপক্রমণিকাসকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর রোজা পালনকারী বান্দাদের প্রতি অনুগ্রহ করেছেন এবং তাঁদের প্রতি সেই অনুগ্রহকে মহান করেছেন। তিনি রোজা বা সিয়ামকে তাঁদের জন্য জৈবিক তাড়না প্রতিরোধক ও ঢাল হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। তিনি তাঁদেরকে এমন এক মহান জান্নাতের জন্য বিশিষ্ট করেছেন যা অন্য কোনো জান্নাতের সদৃশ নয়; যার প্রবেশদ্বার হলো আর-রাইয়ান, যেখানে নেয়ামতের রহস্যসমূহ নিহিত রয়েছে। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো অংশীদার নেই; তিনি মানুষ ও জিনের পালনকর্তা। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল; তিনি সেই শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি যিনি ফরজ (فرض) হিসেবে কিংবা সুন্নাত (سنة) হিসেবে নফল রোজা পালন করেছেন। মুমিন আত্মাসমূহ তাঁর অনুসরণ করেছে, ফলে তাঁর ইত্তিবা বা অনুসরণের মাধ্যমে তারা পবিত্র ও প্রশান্ত হয়েছে। তাঁর ওপর আল্লাহর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক যতক্ষণ কোনো রোজাদার রোজা রাখবে এবং কোনো মুমিন তাঁর সুন্নাত (سنة) অনুযায়ী আমল করবে; আর তাঁর পরিবারবর্গ ও নৈকট্যপ্রাপ্ত সাহাবীগণের ওপরও, যাঁরা জান্নাতের দিকে অগ্রগামী ছিলেন।
অতঃপর, সিয়ামের রুকন (ركن) সংশ্লিষ্ট যে বিষয়গুলো সংকলন ও বিন্যাস করা আল্লাহ তাআলা সহজ করে দিয়েছেন, এটি তারই একটি উপস্থাপনা। এতে আমি সিয়ামের ফজিলত, এর অন্তর্নিহিত রহস্য এবং এর মৌলিক মাসয়ালা ও বিধান (أحكام) সমূহের অনুসন্ধানের সংকল্প করেছি। এ বিষয়ে আমি সর্বজ্ঞানী অধিপতির নিকট ইস্তিখারা করেছি; অবশেষে যখন অভীষ্ট লক্ষ্যের প্রতি অন্তর প্রশস্ত হলো, তখন আমি দৃঢ় সংকল্প করলাম।
(খণ্ড: ১)
আস-সাওমু জুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৮)
- مُتَوَكِّلاً عَلَى اللهِ سُبْحَانَهُ - وُلُوجَ هَذا البَابِ، مَحَبَّةً لِإِخْوَانِي أَهْلِ الصِّيَامِ، وَقَدْ جَمَعْتُ ذَلِكَ وَرَتَّبْتُهُ، ثُمَّ سَمَّيْتُهُ بِعَوْنِ اللهِ تَعَالى: (الصَّوْمُ جُنَّةٌ) تَيَمُّناً بِحَدِيثِ مَنْ أُوتِيَ جَوَامِعَ الْكَلِمِ صلى الله عليه وسلم، فِيمَا أَخْبَرَ عَنْ رَبِّهِ سُبْحَانَهُ: «يَقُولُ اللهُ عز وجل: الصَّوْمُ لِي وَأَنَا أَجْزِي بِهِ، يَدَعُ شَهْوَتَهُ وَأَكْلَهُ وَشُرْبَهُ مِنْ أَجْلِي، وَالصَّوْمُ جُنَّةٌ، وَلِلصَّائِمِ فَرْحَتَانِ: فَرْحَةٌ حِينَ يُفْطِرُ، وَفَرْحَةٌ حِينَ يَلْقَى رَبَّهُ، وَلَخَلُوفُ فَمِ الصَّائِمِ أَطْيَبُ عِنْدَ اللهِ مِنْ رِيحِ الْمِسْكِ» (1) .
هَذَا، وَقَدْ جَعَلْتُ كِتَابِي هَذَا مُرَتَّباً عَلَى خَمْسَةِ فُصُولٍ، بَعْدَ الْمُقَدِّمَةِ:
الأَوَّلُ
… : النُّصُوصُ الْمُتَعَلِّقَةُ بِالصِّيَاِم (مِنَ الْقُرْآنِ الْعَظِيْمِ) .
الثَّانِي
… : تَعْرِيفُ الصِّيَامِ، وَتَأرِيخُ تَشْرِيعِهِ.
الثَّالِثُ
… : فَضَائِلُ الصِّيَامِ وَأَسْرَارُهُ، وَخَصَائِصُ رَمْضَانَ.
--------------------------------------------
মহান আল্লাহর ওপর ভরসা করে—আমার রোজাদার ভাইদের প্রতি ভালোবাসাবশত এই বিষয়ের অবতারণা করছি। আমি তা সংগ্রহ ও বিন্যস্ত করেছি, অতঃপর মহান আল্লাহর সাহায্যে এর নামকরণ করেছি: (আস-সাওমু জুন্নাহ বা রোজা ঢালস্বরূপ)। আমি এই নামকরণ করেছি যাঁর প্রতি সংক্ষিপ্ত অথচ ব্যাপক অর্থবোধক বাণী (জাওয়ামিউল কালিম) প্রদত্ত হয়েছে, তাঁর হাদিসের বরকত কামনায়; যা তিনি তাঁর মহান রব থেকে বর্ণনা করেছেন: «আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা বলেন: রোজা কেবল আমারই জন্য এবং আমি নিজেই এর প্রতিদান দেব। সে আমার সন্তুষ্টির জন্য নিজের কামস্পৃহা এবং পানাহার বর্জন করে। রোজা হলো ঢালস্বরূপ। রোজাদারের জন্য দুটি আনন্দ রয়েছে: একটি আনন্দ যখন সে ইফতার করে এবং অপরটি যখন সে তার রবের সাথে সাক্ষাৎ করবে। অবশ্যই রোজাদারের মুখের ঘ্রাণ আল্লাহর নিকট মিশকের সুগন্ধির চেয়েও অধিক সুগন্ধময়» (১)।
অতঃপর, আমি আমার এই কিতাবটিকে ভূমিকার পর পাঁচটি পরিচ্ছেদে বিন্যস্ত করেছি:
প্রথম
… : রোজা সম্পর্কিত বর্ণনাগুলো (মহান কুরআন থেকে)।
দ্বিতীয়
… : রোজার সংজ্ঞা এবং এর বিধান প্রবর্তনের ইতিহাস।
তৃতীয়
… : রোজার ফজিলত ও এর গূঢ় রহস্যসমূহ এবং রমজানের বিশেষত্বসমূহ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সাওমু জুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
الرَّابِعُ
… : أَنْوَاعُ الصِّيَامِ.
الخَامِسُ: أَحْكَامٌ وَمَسَائِلُ مُهِمَّةٌ مُتَعَلِّقَةٌ بِالصِّيَامِ.
هَذَا وَإِنِّي سَائِلٌ اللهَ تَعَالى - فَضْلاً مِنْهُ وَمِنَّةً - الصَّلَاةَ وَالسَّلَامَ عَلَى عَبْدِهِ وَرَسُولِهِ مُحَمَّدٍ إِمَامِ الثَّقَلَيْنِ مِنْ إِنْسٍ وَجِنَّةٍ، وَالنَّفْعَ بِعَمَلِي هَذَا عُمُومَ الأُْمَّةِ.
د. خالد بن عبد الرحمن الجريسي
চতুর্থ
… : সাওমের প্রকারভেদ।
পঞ্চম: সাওম সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বিধান ও মাসআলাসমূহ।
পরিশেষে আমি মহান আল্লাহর নিকট—তাঁর অনুগ্রহ ও দানস্বরূপ—তাঁর বান্দা ও রাসূল মুহাম্মাদ—যিনি মানব ও জিন উভয় কুলের ইমাম—তাঁর প্রতি সালাত ও সালাম এবং আমার এই আমলের মাধ্যমে সমগ্র উম্মাহর উপকারের প্রার্থনা করছি।
ড. খালিদ বিন আব্দুর রহমান আল-জুরায়সী
(খণ্ড: ১)
আস-সাওমু জুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
الفصل الأولالنُّصوص المتعلَّقة بالصيام (من القرآن العظيم)قال الله تعالى: {يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُتِبَ عَلَيْكُمُ الصِّيَامُ كَمَا كُتِبَ عَلَى الَّذِينَ مِنْ قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ *أَيَّامًا مَعْدُودَاتٍ فَمَنْ كَانَ مِنْكُمْ مَرِيضًا أَوْ عَلَى سَفَرٍ فَعِدَّةٌ مِنْ أَيَّامٍ أُخَرَ وَعَلَى الَّذِينَ يُطِيقُونَهُ فِدْيَةٌ طَعَامُ مِسْكِينٍ فَمَنْ تَطَوَّعَ خَيْرًا فَهُوَ خَيْرٌ لَهُ وَأَنْ تَصُومُوا خَيْرٌ لَكُمْ إِنْ كُنْتُمْ تَعْلَمُونَ *شَهْرُ رَمَضَانَ الَّذِي أُنْزِلَ فِيهِ الْقُرْآنُ هُدىً لِلنَّاسِ وَبَيِّنَاتٍ مِنَ الْهُدَى وَالْفُرْقَانِ فَمَنْ شَهِدَ مِنْكُمُ الشَّهْرَ فَلْيَصُمْهُ وَمَنْ كَانَ مَرِيضًا أَوْ عَلَى سَفَرٍ فَعِدَّةٌ مِنْ أَيَّامٍ أُخَرَ يُرِيدُ اللَّهُ بِكُمُ الْيُسْرَ وَلَا يُرِيدُ بِكُمُ الْعُسْرَ وَلِتُكْمِلُوا الْعِدَّةَ وَلِتُكَبِّرُوا اللَّهَ عَلَى مَا هَدَاكُمْ وَلَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ *وَإِذَا سَأَلَكَ عِبَادِي عَنِّي فَإِنِّي قَرِيبٌ أُجِيبُ دَعْوَةَ الدَّاعِ إِذَا دَعَانِ فَلْيَسْتَجِيبُوا لِي وَلْيُؤْمِنُوا بِي لَعَلَّهُمْ يَرْشُدُونَ *أُحِلَّ لَكُمْ لَيْلَةَ الصِّيَامِ الرَّفَثُ إِلَى نِسَائِكُمْ هُنَّ لِبَاسٌ لَكُمْ وَأَنْتُمْ لِبَاسٌ لَهُنَّ عَلِمَ اللَّهُ
প্রথম পরিচ্ছেদসিয়াম সম্পর্কিত পাঠসমূহ (মহাগ্রন্থ আল-কুরআন থেকে)মহান আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: {হে মুমিনগণ! তোমাদের ওপর সিয়াম ফরজ করা হয়েছে, যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর; যাতে তোমরা তাকওয়া অবলম্বন করতে পার। নির্দিষ্ট কয়েক দিনের জন্য। তবে তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি অসুস্থ থাকবে কিংবা সফরে থাকবে, তাকে অন্য দিনগুলোতে এ সংখ্যা পূরণ করে নিতে হবে। আর যাদের জন্য তা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য, তাদের ওপর ফিদইয়া আবশ্যক—একজন মিসকিনকে অন্নদান করা। আর যে ব্যক্তি স্বতঃস্ফূর্তভাবে কোনো কল্যাণকর কাজ করবে, তা তার জন্য কল্যাণকর। আর সিয়াম পালন করাই তোমাদের জন্য অধিকতর কল্যাণকর, যদি তোমরা জানতে! রমজান মাস, যাতে কুরআন অবতীর্ণ করা হয়েছে মানুষের জন্য হেদায়াতস্বরূপ এবং হেদায়াত ও সত্য-মিথ্যার পার্থক্যের সুস্পষ্ট প্রমাণস্বরূপ। সুতরাং তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি এই মাসটি পাবে, সে যেন তাতে সিয়াম পালন করে। আর যে অসুস্থ থাকবে কিংবা সফরে থাকবে, তাকে অন্য দিনগুলোতে এ সংখ্যা পূরণ করতে হবে। আল্লাহ তোমাদের জন্য সহজতা চান এবং তিনি তোমাদের জন্য কঠোরতা চান না। আর যেন তোমরা নির্ধারিত সংখ্যা পূর্ণ করতে পার এবং তোমাদেরকে সৎপথ প্রদর্শনের কারণে আল্লাহর মহিমা ঘোষণা কর, আর যেন তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর। আর যখন আমার বান্দাগণ আমার সম্পর্কে তোমাকে জিজ্ঞাসা করে, তখন নিশ্চয়ই আমি নিকটেই আছি। আমি আহ্বানকারীর আহ্বানে সাড়া দেই যখন সে আমাকে আহ্বান করে। সুতরাং তারা যেন আমার ডাকে সাড়া দেয় এবং আমার ওপর ঈমান আনে, যাতে তারা সঠিক পথ প্রাপ্ত হয়। সিয়ামের রাতে তোমাদের জন্য তোমাদের স্ত্রীদের নিকট গমন হালাল করা হয়েছে। তারা তোমাদের জন্য পরিচ্ছদ এবং তোমরা তাদের জন্য পরিচ্ছদ। আল্লাহ অবগত আছেন যে...}
(খণ্ড: ১)
আস-সাওমু জুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১২)
أَنَّكُمْ كُنْتُمْ تَخْتَانُونَ أَنْفُسَكُمْ فَتَابَ عَلَيْكُمْ وَعَفَا عَنْكُمْ فَالآنَ بَاشِرُوهُنَّ وَابْتَغُوا مَا كَتَبَ اللَّهُ لَكُمْ وَكُلُوا وَاشْرَبُوا حَتَّى يَتَبَيَّنَ لَكُمُ الْخَيْطُ الأَبْيَضُ مِنَ الْخَيْطِ الأَسْوَدِ مِنَ الْفَجْرِ ثُمَّ أَتِمُّوا الصِّيَامَ إِلَى اللَّيْلِ وَلَا تُبَاشِرُوهُنَّ وَأَنْتُمْ عَاكِفُونَ فِي الْمَسَاجِدِ تِلْكَ حُدُودُ اللَّهِ فَلَا تَقْرَبُوهَا كَذَلِكَ يُبَيِّنُ اللَّهُ آيَاتِهِ
لِلنَّاسِ لَعَلَّهُمْ يَتَّقُونَ *} . [البَقَرَة: 183-187]
وقال سبحانه: {وَأَتِمُّوا الْحَجَّ وَالَعُمْرَةَ لِلَّهِ فَإِنْ أُحْصِرْتُمْ فَمَا اسْتَيْسَرَ مِنَ الْهَدْيِ وَلَا تَحْلِقُوا رُؤُوسَكُمْ حَتَّى يَبْلُغَ الْهَدْيُ مَحِلَّهُ فَمَنْ كَانَ مِنْكُمْ مَرِيضًا أَوْ بِهِ أَذىً مِنْ رَأْسِهِ فَفِدْيَةٌ مِنْ صِيَامٍ أَوْ صَدَقَةٍ أَوْ نُسُكٍ فَإِذَا أَمِنْتُمْ فَمَنْ تَمَتَّعَ بِالْعُمْرَةِ إِلَى الْحَجِّ فَمَا اسْتَيْسَرَ مِنَ الْهَدْيِ فَمَنْ لَمْ يَجِدْ فَصِيَامُ ثَلَاثَةِ أَيَّامٍ فِي الْحَجِّ وَسَبْعَةٍ إِذَا رَجَعْتُمْ تِلْكَ عَشَرَةٌ كَامِلَةٌ ذَلِكَ لِمَنْ لَمْ يَكُنْ أَهْلُهُ حَاضِرِي الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ وَاتَّقُوا اللَّهَ وَاعْلَمْوا أَنَّ اللَّهَ شَدِيدُ الْعِقَابِ *} . [البَقَرَة: 196]
وقال تبارك اسمه: {وَمَا كَانَ لِمُؤْمِنٍ أَنْ يَقْتُلَ مُؤْمِناً إِلَاّ خَطَأً وَمَنْ قَتَلَ مُؤْمِناً خَطَأً فَتَحْرِيرُ رَقَبَةٍ مُؤْمِنَةٍ وَدِيَةٌ مُسَلَّمَةٌ إِلَى أَهْلِهِ إِلَاّ أَنْ يَصَّدَّقُوا فَإِنْ كَانَ مِنْ قَوْمٍ عَدُوٍّ
তোমরা তোমাদের নিজেদের প্রতি খিয়ানত করছিলে, অতঃপর তিনি তোমাদের তাওবা কবুল করেছেন এবং তোমাদের মার্জনা করেছেন। সুতরাং এখন তোমরা তাদের সাথে সংগত হও এবং আল্লাহ তোমাদের জন্য যা লিখে রেখেছেন তা অন্বেষণ করো। আর তোমরা পানাহার করো যতক্ষণ না ফজরের সাদা সুতা কালো সুতা থেকে তোমাদের নিকট স্পষ্ট হয়ে যায়। অতঃপর তোমরা রাত পর্যন্ত সিয়াম পূর্ণ করো। আর তোমরা যখন মসজিদে ইতিকাফ অবস্থায় থাকো, তখন তাদের সাথে সংগত হয়ো না। এগুলো আল্লাহর নির্ধারিত সীমা, সুতরাং তোমরা এর নিকটবর্তী হয়ো না। এভাবেই আল্লাহ মানুষের জন্য তাঁর আয়াতসমূহ সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করেন যাতে তারা তাকওয়া অবলম্বন করতে পারে। [আল-বাকারাহ: ১৮৩-১৮৭]
এবং মহিমান্বিত আল্লাহ বলেছেন: {আর তোমরা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য হজ ও উমরাহ পূর্ণ করো। তবে যদি তোমরা বাধাপ্রাপ্ত হও, তবে সহজলভ্য কোরবানি করো। আর তোমরা তোমাদের মাথা মুণ্ডন করো না যতক্ষণ না কোরবানি তার নির্ধারিত স্থানে পৌঁছায়। তোমাদের মধ্যে যে অসুস্থ কিংবা যার মাথায় কষ্টদায়ক কোনো ব্যাধি থাকে, তবে সে সিয়াম, সদকা অথবা কোরবানির মাধ্যমে ফিদয়া প্রদান করবে। অতঃপর যখন তোমরা নিরাপদ হবে, তখন যে ব্যক্তি উমরাহ সম্পন্ন করে হজের সুবিধা গ্রহণ করবে, সে সহজলভ্য কোরবানি দেবে। কিন্তু যে তা লাভে অক্ষম হবে, সে হজের সময় তিন দিন এবং ফিরে যাওয়ার পর সাত দিন রোজা রাখবে—এই হলো পূর্ণ দশ দিন। এই বিধান তার জন্য যার পরিবার মাসজিদুল হারামের বাসিন্দা নয়। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং জেনে রাখো যে, আল্লাহ শাস্তিদানে অত্যন্ত কঠোর।} . [আল-বাকারাহ: ১৯৬]
এবং বরকতময় তাঁর নাম তিনি বলেছেন: {আর কোনো মুমিনের জন্য এটি সংগত নয় যে সে অন্য কোনো মুমিনকে হত্যা করবে, ভুলবশত ছাড়া। আর যে ব্যক্তি কোনো মুমিনকে ভুলবশত হত্যা করবে, তবে একজন মুমিন দাস মুক্ত করা এবং নিহতের পরিবারের নিকট রক্তপণ হস্তান্তর করা আবশ্যক, যদি না তারা তা সদকা (ক্ষমা) করে দেয়। অতঃপর যদি সে এমন এক শত্রু কওমের অন্তর্ভুক্ত হয়...}
(খণ্ড: ১)
আস-সাওমু জুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
لَكُمْ وَهُوَ مُؤْمِنٌ فَتَحْرِيرُ رَقَبَةٍ مُؤْمِنَةٍ وَإِنْ كَانَ مِنْ قَوْمٍ بَيْنَكُمْ وَبَيْنَهُمْ مِيثَاقٌ فَدِيَةٌ مُسَلَّمَةٌ إِلَى أَهْلِهِ وَتَحْرِيرُ رَقَبَةٍ مُؤْمِنَةٍ فَمَنْ لَمْ يَجِدْ فَصِيَامُ شَهْرَيْنِ مُتَتَابِعَيْنِ تَوْبَةً مِنَ اللَّهِ وَكَانَ اللَّهُ عَلِيمًا حَكِيمًا *} .
وقال عزَّ مِن قائل: {لَا يُؤَاخِذُكُمُ اللَّهُ بِاللَّغْوِ فِي أَيْمَانِكُمْ وَلَكِنْ يُؤَاخِذُكُمْ بِمَا عَقَّدْتُّمُ الأَيْمَانَ فَكَفَّارَتُهُ إِطْعَامُ عَشَرَةِ مَسَاكِينَ مِنْ أَوْسَطِ مَا تُطْعِمُونَ أَهْلِيكُمْ أَوْ كِسْوَتُهُمْ أَوْ تَحْرِيرُ رَقَبَةٍ فَمَنْ لَمْ يَجِدْ فَصِيامُ ثَلَاثَةِ أَيَّامٍ ذَلِكَ كَفَّارَةُ أَيْمَانِكُمْ إِذَا حَلَفْتُمْ وَاحْفَظُوا أَيْمَانَكُمْ كَذَلِكَ يُبَيِّنُ اللَّهُ لَكُمْ آيَاتِهِ لَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ *} . [المَائدة: 89]
وقال تبارك وتعالى: {يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَقْتُلُوا الصَّيْدَ وَأَنْتُمْ حُرُمٌ وَمَنْ قَتَلَهُ مِنْكُمْ مُتَعَمِّدًا فَجَزَاءٌ مِثْلُ مَا قَتَلَ مِنَ النَّعَمِ يَحْكُمُ بِهِ ذَوَا عَدْلٍ مِنْكُمْ هَدْيًا بَالِغَ الْكَعْبَةِ أَوْ كَفَّارَةٌ طَعَامُ مَسَاكِينَ أَوْ عَدْلُ ذَلِكَ صِيَامًا لِيَذُوقَ وَبَالَ أَمْرِهِ عَفَا اللَّهُ عَمَّا سَلَفَ وَمَنْ عَادَ فَيَنْتَقِمُ اللَّهُ مِنْهُ وَاللَّهُ عَزِيزٌ ذُو انْتِقَامٍ *} .
...আপনাদের জন্য এবং সে মুমিন হয়, তবে একজন মুমিন ক্রীতদাস মুক্ত করা আবশ্যক। আর যদি সে এমন এক সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত হয় যাদের ও তোমাদের মধ্যে চুক্তি রয়েছে, তবে তার পরিবারকে সমর্পিত রক্তপণ এবং একজন মুমিন ক্রীতদাস মুক্ত করা আবশ্যক। অতঃপর যে সামর্থ্য রাখবে না, সে আল্লাহর পক্ষ থেকে তওবা স্বরূপ একাধারে দুই মাস রোজা রাখবে। আর আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়। * } ।
এবং মহান সত্তা বলেছেন: {তোমাদের অর্থহীন শপথের জন্য আল্লাহ তোমাদের পাকড়াও করবেন না, কিন্তু তোমরা যে শপথ সুদৃঢ়ভাবে করো তার জন্য তিনি তোমাদের পাকড়াও করবেন। সুতরাং এর কাফফারা হলো দশজন মিসকিনকে মাঝারি মানের খাদ্য দান করা যা তোমরা তোমাদের পরিবারকে খাইয়ে থাকো, অথবা তাদের বস্ত্র দান করা কিংবা একজন ক্রীতদাস মুক্ত করা। অতঃপর যে সামর্থ্য রাখবে না, সে তিন দিন রোজা রাখবে। এটিই তোমাদের শপথের কাফফারা যখন তোমরা শপথ করো। আর তোমরা তোমাদের শপথ রক্ষা করো। এভাবেই আল্লাহ তোমাদের জন্য তাঁর আয়াতসমূহ বর্ণনা করেন যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো। * } । [আল-মায়িদাহ: ৮৯]
এবং বরকতময় ও সুউচ্চ আল্লাহ বলেছেন: {হে মুমিনগণ! তোমরা ইহরাম অবস্থায় শিকার হত্যা করো না। তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে তা হত্যা করবে, তার বিনিময় হলো অনুরূপ একটি চতুষ্পদ জন্তু যা সে হত্যা করেছে, যার ফয়সালা করবে তোমাদের মধ্য থেকে দুইজন ন্যায়পরায়ণ (عدل) ব্যক্তি—যা কাবায় পৌঁছানোর জন্য হাদই হিসেবে গণ্য হবে; অথবা এর কাফফারা হলো মিসকিনদের খাদ্য দান করা কিংবা সমপরিমাণ রোজা রাখা, যাতে সে তার কৃতকর্মের শাস্তি আস্বাদন করে। যা অতীতে হয়ে গেছে আল্লাহ তা ক্ষমা করেছেন। আর যে পুনরায় তা করবে আল্লাহ তার থেকে প্রতিশোধ নেবেন। আর আল্লাহ মহাপরাক্রমশালী, প্রতিশোধ গ্রহণকারী। * } ।
(খণ্ড: ১)
আস-সাওমু জুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
وقال جلَّ ذِكره: {وَالَّذِينَ يُظَاهِرُونَ مِنْ نِسَائِهِمْ ثُمَّ يَعُودُونَ لِمَا قَالُوا فَتَحْرِيرُ رَقَبَةٍ مِنْ قَبْلِ أَنْ يَتَمَآسَّا ذَلِكُمْ تُوعَظُونَ بِهِ وَاللَّهُ بِمَا تَعْمَلُونَ خَبِيرٌ *فَمَنْ لَمْ يَجِدْ فَصِيَامُ شَهْرَيْنِ مُتَتَابِعَيْنِ مِنْ قَبْلِ أَنْ يَتَمَآسَّا فَمَنْ لَمْ يَسْتَطِعْ فَإِطْعَامُ سِتِّينَ مِسْكِيناً ذَلِكَ لِتُؤْمِنُوا بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ وَتِلْكَ حُدُودُ اللَّهِ وَلِلْكَافِرِينَ عَذَابٌ أَلِيمٌ *} . [المجَادلة: 3-4]
أخي القارئ - وفَّقك اللَّّه- لا شك بأن هذه النصوص القرآنية قد حوت مجملَ ما يحتاجه المسلم لفقه أحكام الصيام، وقد جاءت السُّنَّة النبويَّة مبيِّنة لهذه الأحكام، إلا أني اقتصرت على ذكر الآيات الكريمة؛ وذلك لكثرة ما أفاضت به الأحاديث الصحيحة والحسنة في شأن الصيام، والتي سأعمد - إن شاء الله - إلى إيراد بعضٍ منها عند الاستدلال بها في ثنايا هذا الكتاب، ولا يخفى أن استقصاء تلك النصوص الحديثية قد يُعجِز طالِبَه، ولو بذل في ذلك وسعَه، ومقصودي هنا التيسير ما أمكن، مع إيراد ما يكون سببًا لفقه المسلم بفريضة الصيام.
এবং মহান আল্লাহ বলেছেন: {আর যারা নিজেদের স্ত্রীদের সাথে জিহার করে, অতঃপর তারা যা বলেছে তা থেকে ফিরে আসতে চায়, তবে একে অপরকে স্পর্শ করার পূর্বেই একজন দাস মুক্ত করতে হবে। এর মাধ্যমে তোমাদেরকে উপদেশ দেওয়া হচ্ছে। আর তোমরা যা করো আল্লাহ সে সম্পর্কে সম্যক অবহিত। অতঃপর যে ব্যক্তি (দাস) পাবে না, তাকে একে অপরকে স্পর্শ করার পূর্বে একাদিক্রমে দুই মাস সিয়াম পালন করতে হবে। আর যে তাতেও সামর্থ্য রাখবে না, তাকে ষাটজন মিসকিনকে আহার করাতে হবে। এটি এজন্য যে, তোমরা যেন আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান আনো। আর এগুলো আল্লাহর নির্ধারিত সীমানা। আর কাফিরদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।} [আল-মুজাদালা: ৩-৪]
হে পাঠক ভ্রাতা—আল্লাহ আপনাকে তাওফিক দান করুন—নিঃসন্দেহে এই কুরআনী নصوص (نصوص) বা পাঠসমূহ সিয়ামের বিধানাবলি অনুধাবনের জন্য একজন মুসলিমের প্রয়োজনীয় বিষয়ের সারসংক্ষেপ ধারণ করেছে। সুন্নাতে নববী এই বিধানসমূহের বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রদান করেছে। তবে আমি কেবল এই সম্মানিত আয়াতগুলো উল্লেখ করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকেছি; কারণ সিয়ামের বিষয়ে অগণিত সহিহ (صحيحة) ও হাসান (حسنة) হাদিস বর্ণিত হয়েছে। আমি ইনশাআল্লাহ এই কিতাবের বিভিন্ন স্থানে দলিল উপস্থাপনের সময় সেগুলোর মধ্য থেকে কিছু উল্লেখ করার প্রয়াস পাব। আর এটি অস্পষ্ট নয় যে, হাদিস সংক্রান্ত সেই নصوص (نصوص) বা পাঠসমূহ সামগ্রিকভাবে অনুসন্ধান করা একজন জ্ঞানান্বেষীর জন্য দুঃসাধ্য হতে পারে, যদিও সে তার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা ব্যয় করে। এখানে আমার উদ্দেশ্য হলো যথাসম্ভব সহজ করা এবং এমন কিছু বিষয় বর্ণনা করা যা একজন মুসলিমের জন্য সিয়ামের ফরজ ইবাদত অনুধাবনের কারণ হয়।
(খণ্ড: ১)
আস-সাওমু জুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
الفصل الثانيتعريف الصيام، وتأريخ تشريعهتعريف الصيام:
الصيام لغةً: يُطلق الصيام ويقصد به مطلقُ الإمساك، أي التوقُّف عن كل فعل أو قول، فالصائم إنما سمِّي كذلك لإمساكه عن شهوتَي البطن والفرج، والمسافر إذا توقَّف عن سيره سُمِّي صائماً، والصامت عن الكلام صائم، ومنه قوله تعالى: {إِنِّي نَذَرْتُ لِلرَّحْمَانِ صَوْمًا فَلَنْ أُكَلِّمَ الْيَوْمَ إِنْسِيًّا} . [مَريَم: 26] وكذا الفَرَس إذا أمسكَتْ عن العَلَف فهي صائم، وإذا قامت في موقفها، فهي في مَصامها، وصوم الماء ركودُه، وصوم الريح توقُّفُها، وصومُ الشمس استواؤها في كَبِد السماء قُبيل الزوال، عند انتصاف النهار (2) .
الصيام شرعاً: إن المتتبع لعبارات الفقهاء - جزاهم الله خيراً - في تعريف الصوم، يجدها جميعًا مفيدة لمعنى واحد، حتى إن لفظها يكاد يكون متطابقًا،
--------------------------------------------
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদসিয়ামের সংজ্ঞা ও এর বিধান প্রবর্তনের ইতিহাসসিয়ামের সংজ্ঞা:
শাব্দিক অর্থে সিয়াম: 'সিয়াম' শব্দটি সাধারণভাবে বিরত থাকা (الإمساك)-র অর্থে ব্যবহৃত হয়; অর্থাৎ যেকোনো কাজ বা কথা থেকে নিবৃত্ত হওয়া। মূলত উদর ও লজ্জাস্থানের প্রবৃত্তি থেকে বিরত (الإمساك) থাকার কারণেই রোজা পালনকারীকে 'সায়েম' (صائم) বলা হয়। কোনো মুসাফির যখন তার পথচলা থামিয়ে দেয়, তখন তাকেও 'সায়েম' বলা হয়। একইভাবে কথা বলা থেকে বিরত ব্যক্তিকেও 'সায়েম' বলা হয়; যেমনটি মহান আল্লাহর বাণীতে এসেছে: {আমি পরম করুণাময় আল্লাহর উদ্দেশ্যে মৌনতা অবলম্বনের (صومًا) মানত করেছি, সুতরাং আজ আমি কোনো মানুষের সাথে কথা বলব না}। [মারিয়াম: ২৬] তদ্রূপ ঘোড়া যখন ঘাস-পানি থেকে বিরত থাকে, তখন তাকে 'সায়েম' বলা হয়। আর ঘোড়া যখন তার অবস্থানে স্থির হয়ে দাঁড়ায়, তখন সেটাকে তার 'মাসাম' (مصام) বলা হয়। পানির 'সওম' বলতে এর নিশ্চলতাকে বোঝায়, বাতাসের 'সওম' বলতে এর থেমে যাওয়াকে বোঝায় এবং সূর্যের 'সওম' বলতে মধ্যাহ্নকালে সূর্য ঢলে পড়ার ঠিক আগে আকাশমণ্ডলীর ঠিক মাঝখানে এর স্থির হওয়াকে বোঝায় (২)।
শরিয়তের পরিভাষায় সিয়াম: সিয়ামের সংজ্ঞায় ফকিহগণের—আল্লাহ তাঁদের উত্তম প্রতিদান দিন—প্রদত্ত বক্তব্যসমূহ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায় যে, সেগুলো সবই একই অর্থ প্রদান করে, এমনকি সেগুলোর শব্দগত বর্ণনাও প্রায় এক।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সাওমু জুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
ومحصل ذلك إجمالاً، أن الصيام هو: الإمساك عن المفطِّر على وجه مخصوص (3) .
ومعنى هذا التعريف - تفصيلاً - أن الصيام هو:
إمساك المكلَّف، الذي اشتغلت ذمَّتُه بواجب الصيام، وهو المسلم البالغ العاقل، العالم بوجوب الصيام، الناوي له، والمُطِيق له، غير المباح له الفطر لسفر أو مرض ونحوهما، إمساكُ هذا المكلَّف عن تعمُّد ما يُفسِد صومَه من المُفطِّرات كأكلٍ أو شُربٍ أو جِماع، أو تعمُّد قيءٍ ونحوه، ويكون ذلك الإمساك من طلوع الفجر الثاني الصادق من يوم الصيام إلى غروب شمس ذلك اليوم.
فائدة في معنى (شهر رمضان) :
هو عَلَمُ جنسٍ مركب تركيباً إضافياً، وكذا باقي أسماء الشهور هي من حيِّز عَلَم الجنس، وهو ممنوع من الصرف للعَلَمية والزيادة، وهو من الرَّمَض، أي: الاحتراق؛ سُمِّي بذلك لاحتراق الذنوب فيه، أو هو
--------------------------------------------
সংক্ষেপে এর সারমর্ম হলো, সিয়াম হলো: বিশেষ পদ্ধতিতে রোজা ভঙ্গকারী বিষয় (المفطِّر) থেকে বিরত থাকা (الإمساك) (৩)।
বিস্তারিতভাবে এই সংজ্ঞার অর্থ হলো, সিয়াম হলো:
সেই শরীয়তের বিধান পালনে বাধ্য ব্যক্তির (المكلَّف) বিরত থাকা (إمساك), যার জিম্মায় সিয়ামের আবশ্যকতা (واجب) ন্যস্ত হয়েছে; আর তিনি হলেন এমন মুসলিম, যিনি প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থ মস্তিস্ক সম্পন্ন, সিয়ামের আবশ্যকতা সম্পর্কে অবগত, নিয়তকারী এবং সিয়াম পালনে সক্ষম; সফর, অসুস্থতা বা এজাতীয় কোনো কারণে যার জন্য রোজা ভঙ্গ করা বৈধ নয়। এই শরীয়তের বিধান পালনে বাধ্য ব্যক্তির (المكلَّف) ইচ্ছাকৃতভাবে রোজা ভঙ্গকারী বিষয়সমূহ (المفطِّرات) যেমন— আহার, পানীয় বা মৈথুন অথবা ইচ্ছাকৃত বমি বা এজাতীয় সিয়াম নষ্টকারী বিষয় থেকে বিরত থাকাই হলো সিয়াম। আর এই বিরত থাকা (الإمساك) হবে সিয়ামের দিনের দ্বিতীয় সুবহে সাদিক (الفجر الثاني الصادق) উদিত হওয়া থেকে শুরু করে ওই দিনের সূর্যাস্ত পর্যন্ত।
‘শাহরু রমাদান’ (রমজান মাস) শব্দের অর্থের ব্যাপারে একটি জ্ঞাতব্য বিষয়:
এটি একটি সম্বন্ধযুক্ত যৌগিক (مركب تركيباً إضافياً) জাতিবাচক বিশেষ্য (عَلَم جنس)। মাসের অন্যান্য নামগুলোও জাতিবাচক বিশেষ্যের (عَلَم جنس) অন্তর্ভুক্ত। এটি নামবাচকতা ও অতিরিক্ত অক্ষরের কারণে রূপান্তরহীন (ممنوع من الصرف)। এটি ‘আর-রমদ’ (الرَّمَض) থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ: দহন বা প্রচণ্ড উত্তাপ (الاحتراق); এতে পাপসমূহ দগ্ধ হয়ে যায় বলে এর এই নামকরণ করা হয়েছে, অথবা এটি—
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সাওমু জুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
من الرَّمَض كذلك، ومعناه: شدة العطش، لأن الإبل يشتد عطشها فيه. أما معنى الشهر؛ فلأهل اللغة فيه قولان: أشهرهما: أنه اسم لمدة الزمان التي يكون مبدؤها الهلال ظاهراً إلى أن يستتر، وسُمِّي الشهرُ بذلك لشهرته في حاجة الناس إليه في المعاملات، والمعنى الثاني: أن الشهر اسم للهلال نفسِه (4) .
مراحل تشريع الصيام:إن الصيام عبادة مشروعة، وتشريع ربّاني عرفته الأمم السابقة من أهل الكتاب، كما دلَّ عليه قولُه تعالى: {يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُتِبَ عَلَيْكُمُ الصِّيَامُ كَمَا كُتِبَ عَلَى الَّذِينَ مِنْ قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ *} . [البَقَرَة: 183] ثم جاء الإسلام ليستقرَّ فيه تشريع الصيام على الوجه الأكمل، وقد اقتضت حكمة الله تعالى أن يتدرج هذا التشريع في مراحل، كما هو الحال في كثير من التشريعات في الإسلام، رحمة من الله بعباده وتلطُّفاً بهم وتيسيراً عليهم.
--------------------------------------------
এটি 'রামাদ' (الرمض) শব্দ থেকেও উৎপন্ন, যার অর্থ: তীব্র তৃষ্ণা; কারণ এ সময়ে উটের তৃষ্ণা অত্যন্ত বৃদ্ধি পায়। আর 'শাহর' (মাস)-এর অর্থের ব্যাপারে ভাষাবিদদের নিকট দুটি অভিমত রয়েছে: তাদের মধ্যে অধিক প্রসিদ্ধ (مشهور) মতটি হলো: এটি সময়ের এমন একটি ব্যাপ্তির নাম যার সূচনা হয় উদিত নতুন চাঁদ দেখার মাধ্যমে এবং শেষ হয় তা অদৃশ্য হওয়ার মধ্য দিয়ে। মানুষের পারস্পরিক লেনদেনে এর প্রয়োজনীয়তা ও প্রসিদ্ধির কারণেই একে 'শাহর' বা মাস বলে নামকরণ করা হয়েছে। দ্বিতীয় অর্থটি হলো: 'শাহর' মূলত নতুন চাঁদেরই একটি নাম (৪)।
সিয়াম বিধানের (تشريع) স্তরসমূহ:নিশ্চয়ই সিয়াম বা রোজা একটি বিধিবদ্ধ (مشروعة) ইবাদত এবং মহান রবের পক্ষ থেকে একটি বিধান (تشريع), যা আহলে কিতাবদের অন্তর্ভুক্ত পূর্ববর্তী উম্মতগণও জানত। যেমনটি আল্লাহ তাআলার এই বাণী দ্বারা প্রমাণিত হয়: {হে মুমিনগণ, তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেভাবে তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর ফরজ করা হয়েছিল, যাতে তোমরা তাকওয়া অবলম্বন করো।} [সূরা আল-বাকারা: ১৮৩] অতঃপর ইসলাম আগমনের পর সিয়ামের বিধান (تشريع) তার পূর্ণাঙ্গ রূপে স্থির হয়। আল্লাহ তাআলার হিকমত বা প্রজ্ঞা এটাই দাবি করেছে যে, ইসলামের অন্যান্য অনেক বিধানের মতো এই বিধানটিও যেন পর্যায়ক্রমে প্রবর্তিত হয়; যা মূলত বান্দাদের প্রতি আল্লাহর পক্ষ থেকে রহমত, বিশেষ অনুগ্রহ এবং সহজীকরণের বহিঃপ্রকাশ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সাওমু জুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
هذا، ويمكن لمن تتبَّع مراحل هذا التشريع العظيم أن يرتِّبها كالآتي:
المرحلة الأولى: الأمر بصيام ثلاثة أيام البِيض من كلِّ شهر قمري، وصيام يوم عاشوراء (العاشر من المُحرَّم) ، والحثُّ المؤكَّد على ذلك.
-
… عن جابر بن سَمُرة رضي الله عنه، قال: «كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يأمرنا بصيام يوم عاشوراء، ويحثُّنا عليه، ويتعاهدُنا عنده، فلما فُرض رمضانُ لم يأمرْنا، ولم يَنْهَنا، ولم يتعاهدْنا عنده» (5) .
-
… وعن معاذِ بن جبلٍ رضي الله عنه أن رسولَ الله صلى الله عليه وسلم كان يصوم ثلاثة أيام من كلِّ شهر، ويصوم يوم عاشوراء، فأنزل الله: {كُتِبَ عَلَيْكُمُ الصِّيَامُ كَمَا كُتِبَ عَلَى الَّذِينَ مِنْ قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ} [البَقَرَة: 183] ، فكان من شاء أن يصوم صام، ومن شاء أن يُفطِر ويُطعِم كلَّ يوم مسكينًا أجزأه ذلك (6) .
--------------------------------------------
এমতাবস্থায়, এই মহান বিধানের পর্যায়ক্রমসমূহ যারা পর্যবেক্ষণ করেন, তারা সেগুলোকে নিম্নোক্তভাবে বিন্যস্ত করতে পারেন:
প্রথম পর্যায়: প্রতিটি চান্দ্র মাসের আইয়্যামুল বিয (الأيام البيض) বা তিনটি উজ্জ্বল দিনে রোজা রাখার নির্দেশ, এবং আশুরার দিন (মুহররমের দশম দিন) রোজা রাখা এবং এর প্রতি জোরালো তাগিদ প্রদান।
-
… জাবির ইবনে সামুরা (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: «রাসূলুল্লাহ (সা.) আমাদের আশুরার দিন রোজা রাখার নির্দেশ দিতেন, এর প্রতি আমাদের উৎসাহিত করতেন এবং এ ব্যাপারে আমাদের তদারকি করতেন। অতঃপর যখন রমজানের রোজা ফরজ (فرض) করা হলো, তখন তিনি আমাদের আর নির্দেশ দেননি, নিষেধও করেননি এবং এ ব্যাপারে আমাদের তদারকিও করেননি» (৫) ।
-
… এবং মুয়াজ ইবনে জাবাল (রা.) হতে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) প্রতি মাসে তিন দিন রোজা রাখতেন এবং আশুরার দিন রোজা রাখতেন। অতঃপর আল্লাহ তাআলা অবতীর্ণ করেন: {তোমাদের ওপর রোজা ফরজ (فرض) করা হয়েছে, যেমন ফরজ (فرض) করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর, যাতে তোমরা তাকওয়া অবলম্বন করতে পারো} [আল-বাকারা: ১৮৩]। তখন যার ইচ্ছা হতো সে রোজা রাখত, আর যার ইচ্ছা হতো সে রোজা ভঙ্গ করত এবং প্রতিদিনের বিনিময়ে একজন মিসকিনকে অন্নদান করত; এটিই তার জন্য যথেষ্ট হতো (৬) ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সাওমু জুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
مسألة:
في تعيين ثلاثة أيام البِيض، هل هي ثلاث عشرة، وأربع عشرة، وخمس عشرة من كل شهر قمري؟
اتفق الفقهاء على أنه يُسَنُّ صومُ ثلاثة أيام من كلِّ شهر، وذهب الجمهور (الحنفية والشافعية والحنابلة) ، إلى استحباب كونها الأيام البِيض، وهي الثالث عشر والرابع عشر والخامس عشر (7) . وسُمِّيت هذه الأيام بذلك لتكامل ضوء الهلال في لياليها وشدة بياضه؛ فهي الأيام التي تكون لياليها بِيضٌ مستنيرة، وفي الحديث أن النبيَّ صلى الله عليه وسلم قال: «يا أبا ذرٍّ، إذا صمتَ من الشهر ثلاثة أيام، فصم ثلاثَ عَشْرَةَ، وأربعَ عَشْرَةَ، وخمسَ عَشْرَةَ» (8) . وقد عَنْون الإمام البخاريُّ رحمه الله في صحيحه بقوله: باب صيام أيام البِيض: ثلاث عشرة، وأربع عشرة، وخمس عشرة.
ولعل من المناسب في هذه المسألة: ألَاّ يعتقدَ المسلم بأن الثواب بصيام ثلاثة أيام من الشهر لا
--------------------------------------------
মাসআলা:
আইয়ামে বিজের (أيام البيض) তিনটি দিন নির্ধারণ প্রসঙ্গে; এগুলো কি প্রতি চন্দ্র মাসের তেরো, চৌদ্দ এবং পনেরো তারিখ?
ফকিহগণ এ ব্যাপারে একমত হয়েছেন যে, প্রতি মাসে তিনটি রোজা রাখা সুন্নাত (سنة), আর জুমহুর (جمهور) বা অধিকাংশ (হানাফি, শাফেয়ী ও হাম্বলি) আলেমদের মতে এগুলোকে আইয়ামে বিজের (أيام البيض) দিনগুলোতে রাখা মুস্তাহাব (مستحب) গণ্য করা হয়। আর সেগুলো হলো [প্রতি মাসের] তেরো, চৌদ্দ এবং পনেরো তারিখ (৭)। এই দিনগুলোকে এই নামে নামকরণ করা হয়েছে কারণ এই দিনগুলোর রাতে চাঁদের আলো পূর্ণতা পায় এবং এর শুভ্রতা বৃদ্ধি পায়; সুতরাং এগুলো এমন দিন যার রাতগুলো শুভ্র ও আলোকিত থাকে। হাদিসে এসেছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «হে আবু যর! যখন তুমি মাসে তিনটি রোজা রাখবে, তখন তেরো, চৌদ্দ এবং পনেরো তারিখে রোজা রাখো» (৮)। ইমাম বুখারি (রহ.) তাঁর সহিহ বুখারিতে শিরোনাম দিয়েছেন এভাবে: ‘আইয়ামে বিজের (أيام البيض) রোজার অধ্যায়: তেরো, চৌদ্দ এবং পনেরো তারিখ।’
সম্ভবত এই মাসআলার ক্ষেত্রে এটি বলা সমীচীন হবে যে: একজন মুসলিম যেন এমনটি মনে না করেন যে, মাসে তিনটি রোজা রাখার সওয়াব কেবল
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সাওমু জুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২০)
يحصل إلا بصيام هذه الأيام بعينها، بل هو حاصل - إن شاء الله - بصيام ثلاثة أيام من الشهر مطلقاً، لكنه يصوم ثلاثةَ البِيض باعتبارها ثلاثة أيام من الشهر، فعن أبي هريرة رضي الله عنه، قال: «أوصاني خليلي صلى الله عليه وسلم بثلاث: بصيام ثلاثة أيام من كل شهر، وركعتي الضحى، وأن أوتر قبل أن أرقد» (9) .
المرحلة الثانية من مراحل تشريع الصيام: وهي: التخيير في صيام عاشوراء، وكان ذلك بعد الأمر بصيام أيام معدودات، التي هي عِدَّة أيام شهر رمضان، وذلك في قوله تعالى: {يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُتِبَ عَلَيْكُمُ الصِّيَامُ كَمَا كُتِبَ عَلَى الَّذِينَ مِنْ قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ *أَيَّامًا مَعْدُودَاتٍ فَمَنْ كَانَ مِنْكُمْ مَرِيضًا أَوْ عَلَى سَفَرٍ فَعِدَّةٌ مِنْ أَيَّامٍ أُخَرَ وَعَلَى الَّذِينَ يُطِيقُونَهُ فِدْيَةٌ طَعَامُ مِسْكِينٍ فَمَنْ تَطَوَّعَ خَيْرًا فَهُوَ خَيْرٌ لَهُ وَأَنْ تَصُومُوا خَيْرٌ لَكُمْ إِنْ كُنْتُمْ تَعْلَمُونَ *} .
-
… وقد «صام النبيُّ صلى الله عليه وسلم عاشوراءَ، وأمر بصيامه، فلما فُرض رمضانُ تُرِك» (10) .
-
… وقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «إن عاشوراءَ يوم من أيام الله، فمن شاء صامه ومن شاء تركه» (11) .
--------------------------------------------
এটি কেবল নির্দিষ্ট এই দিনগুলিতে রোজা রাখার মাধ্যমেই অর্জিত হয় না, বরং ইনশাআল্লাহ মাসের যেকোনো তিন দিন রোজা রাখার মাধ্যমেই তা অর্জিত হয়। তবে তিনি আইয়ামে বিয (প্রতি চান্দ্র মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখ) রোজা রাখেন এই বিবেচনায় যে সেগুলো মাসেরই তিনটি দিন। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "আমার প্রিয় বন্ধু (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাকে তিনটি বিষয়ে উপদেশ দিয়েছেন: প্রতি মাসে তিন দিন রোজা রাখা, চাশতের দুই রাকাত নামাজ আদায় করা এবং ঘুমানোর আগে বিতর নামাজ পড়া।" (৯) .
সিয়াম বিধানের দ্বিতীয় পর্যায়: আর তা হলো আশুরার রোজা পালনের ক্ষেত্রে ঐচ্ছিকতা প্রদান। আর এটি ছিল নির্দিষ্ট দিনগুলোতে (রমজান মাসে) সিয়াম পালনের নির্দেশ আসার পর, যা রমজান মাসের নির্ধারিত দিনগুলোর সংখ্যা। আর তা আল্লাহ তাআলার এই বাণীতে উল্লেখ রয়েছে: {হে মুমিনগণ, তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর, যাতে তোমরা তাকওয়া অবলম্বন করতে পারো। নির্দিষ্ট কয়েকটি দিনের জন্য। তবে তোমাদের মধ্যে যে অসুস্থ থাকে কিংবা সফরে থাকে, তবে অন্য দিনে সে সংখ্যা পূরণ করে নিতে হবে। আর যাদের জন্য তা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য, তাদের কর্তব্য একজন মিসকিনকে অন্নদান করা (ফিদিয়া)। আর যে ব্যক্তি স্বত:স্ফূর্তভাবে কোনো কল্যাণকর কাজ করবে, তা তার জন্য উত্তম। আর রোজা রাখাই তোমাদের জন্য অধিকতর কল্যাণকর, যদি তোমরা জানতে।} ।
-
… এবং "নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আশুরার রোজা রাখতেন এবং তা রাখার নির্দেশ দিতেন। অতঃপর যখন রমজান ফরজ করা হলো, তখন তা (আবশ্যকতা) ছেড়ে দেওয়া হলো।" (১০) .
-
… এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয়ই আশুরা আল্লাহর দিনগুলোর মধ্য থেকে একটি দিন। সুতরাং যার ইচ্ছা সে রোজা রাখবে এবং যার ইচ্ছা সে তা বর্জন করবে।" (১১) .
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সাওমু জুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
المرحلة الثالثة: الترخيص بالإفطار في رمضان للقادر على الصيام، مع إيجاب الفدية عليه، فقد كان من شاء صام، ومن شاء أفطر وأدى الفدية؛ حيث إن الصحابة رضي الله عنهم كانوا قومًا لم يتعوَّدوا الصيام، وكان الصيام عليهم شديدًا.
قال الله تعالى: {وَعَلَى الَّذِينَ يُطِيقُونَهُ فِدْيَةٌ طَعَامُ مِسْكِينٍ} .
المرحلة الرابعة: نَسْخُ هذا الترخيص عند القدرة على الصيام، وذلك بقوله تعالى: {فَمَنْ شَهِدَ مِنْكُمُ الشَّهْرَ فَلْيَصُمْهُ} . [البَقَرَة، من الآية: 185] فعن سلمةَ بن الأكوعِ رضي الله عنه، قال: لما نزلت هذه الآية: {وَعَلَى الَّذِينَ يُطِيقُونَهُ فِدْيَةٌ طَعَامُ مِسْكِينٍ} ، [البَقَرَة: 184] كان من أراد أن يفطر ويفتدي، حتى نزلت الآية التي بعدها فنسختها (12) . فصار الأمر بهذه المرحلة أن كلَّ مَن شَهِد استهلال شهر الصوم (دخوله) من المسلمين، فقد وجب صيامه عليه، ولا رخصةَ له بالإفطار حال كونه
--------------------------------------------
তৃতীয় পর্যায়: রোজা পালনে সক্ষম ব্যক্তির জন্য রমজানে রোজা ভঙ্গের অবকাশ (رخصة) প্রদান এবং তার ওপর ফিদইয়া (فدية) আবশ্যক করা (إيجاب)। তখন যার ইচ্ছা হতো রোজা রাখতেন আর যার ইচ্ছা হতো রোজা না রেখে ফিদইয়া (فدية) আদায় করতেন; যেহেতু সাহাবীগণ (صحابة) এমন এক সম্প্রদায় ছিলেন যারা রোজা পালনে অভ্যস্ত ছিলেন না এবং রোজা রাখা তাদের জন্য অত্যন্ত কঠিন ছিল।
আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর যাদের জন্য এটি অত্যন্ত কষ্টকর, তাদের কর্তব্য এর পরিবর্তে ফিদইয়া হিসেবে একজন মিসকিনকে খাবার দান করা।}
চতুর্থ পর্যায়: রোজা পালনে সক্ষম ব্যক্তির ক্ষেত্রে এই অবকাশের (رخصة) রহিতকরণ (نسخ)। আর তা আল্লাহ তাআলার এই বাণীর মাধ্যমে: {সুতরাং তোমাদের মধ্যে যে এই মাস প্রত্যক্ষ করবে, সে যেন তাতে রোজা রাখে।} [আল-বাকারা, আয়াত: ১৮৫ থেকে] সালামাহ ইবনুল আকওয়া (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: যখন এই আয়াতটি নাযিল হলো: {আর যাদের জন্য এটি অত্যন্ত কষ্টকর, তাদের কর্তব্য এর পরিবর্তে ফিদইয়া হিসেবে একজন মিসকিনকে খাবার দান করা}, [আল-বাকারা: ১৮৪] তখন যে কেউ চাইলে রোজা না রেখে ফিদইয়া (فدية) দিতেন, যতক্ষণ না পরবর্তী আয়াতটি নাযিল হয়ে একে রহিত (نسخ) করে দেয় (১২)। সুতরাং এই পর্যায়ের মাধ্যমে বিধানটি এমন হলো যে, মুসলিমদের মধ্যে যারা রোজা রাখার মাসের সূচনা (প্রবেশ) প্রত্যক্ষ করবে, তাদের ওপর রোজা রাখা আবশ্যক (واجب) হয়ে গেল এবং সেই অবস্থায় থাকাকালীন তার জন্য রোজা না রাখার আর কোনো অবকাশ (رخصة) রইল না।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সাওমু জুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
قادراً على الصيام، حتى لو أدّى فديةً طعام مسكين.
المرحلة الخامسة: تخصيص الترخيص بالإفطار في رمضان في حالين: الأول: المرض في البدن الذي يشق معه الصيام، أو يؤدي إلى تأخُّر بُرْءِ المريض، أو يتسبب بزيادة مرضه، والثاني: حال السفر؛ بأن كان متلبِّسًا بالسفر وقت طلوع الفجر، فله في هذين الحالين أن يُفطِر، ثم يقضي بعد رمضان صيام أيامٍ عددَ ما أفطره حال المرض أو السفر. قال تعالى: {وَمَنْ كَانَ مَرِيضًا أَوْ عَلَى سَفَرٍ فَعِدَّةٌ مِنْ أَيَّامٍ أُخَرَ} . [البَقَرَة: 185]
وقد استقر التشريع - ولله الحمد - على ذلك الوجه الأكمل بعد أن تدرَّج بهم، مريداً بهم اليسر، وإتمام عِدَّة صيام الشهر المبارك، وذلك بصيامه كاملاً عند عدم العذر، وبتدارك ما فات منه بعذرٍ بالقضاء. قال تعالى: {يُرِيدُ اللَّهُ بِكُمُ الْيُسْرَ وَلَا يُرِيدُ بِكُمُ الْعُسْرَ وَلِتُكْمِلُوا الْعِدَّةَ وَلِتُكَبِّرُوا اللَّهَ عَلَى مَا هَدَاكُمْ وَلَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ} . [البَقَرَة: 185]
সিয়াম পালনে সক্ষম হওয়া সত্ত্বেও, এমনকি যদি সে একজন অভাবগ্রস্তকে অন্নদানের মাধ্যমে ফিদইয়া (فدية) প্রদান করে।
পঞ্চম পর্যায়: রমজানে সিয়াম ভঙ্গের অনুমতিকে দুটি বিশেষ অবস্থার জন্য নির্দিষ্ট করা: প্রথমত: শারীরিক অসুস্থতা যার ফলে সিয়াম পালন করা কষ্টকর হয়, অথবা যা রোগীর আরোগ্য লাভে বিলম্ব ঘটায় কিংবা অসুস্থতা বৃদ্ধি করে; দ্বিতীয়ত: সফরের অবস্থা; অর্থাৎ ফজর উদয়ের সময় সে সফরেরত থাকে। এমতাবস্থায় এই দুই অবস্থায় তার জন্য সিয়াম ভঙ্গ করা বৈধ, এরপর অসুস্থতা বা সফরের কারণে যতগুলো সিয়াম ভঙ্গ হয়েছে, রমজানের পরে সেই সমান সংখ্যক সিয়াম কাজা (قضاء) হিসেবে আদায় করতে হবে। মহান আল্লাহ বলেন: "আর যে ব্যক্তি অসুস্থ থাকবে অথবা সফরে থাকবে, সে অন্য দিনগুলোতে এই সংখ্যা পূরণ করবে।" [আল-বাকারা: ১৮৫]
আর সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য—বিধানটি এই পূর্ণাঙ্গ রূপের ওপর স্থির হয়েছে। আল্লাহ তাআলা মানুষের জন্য সহজসাধ্য করার এবং বরকতময় মাসের সিয়ামের সংখ্যা পূর্ণ করার উদ্দেশ্যে ধাপে ধাপে বিধানটি প্রণয়ন করেছেন। আর এটি বাস্তবায়িত হয় কোনো ওজর (عذر) না থাকলে পূর্ণ সিয়াম পালনের মাধ্যমে এবং কোনো ওজরের কারণে সিয়াম বাদ পড়লে তা কাজা (قضاء) আদায়ের মাধ্যমে পূরণ করার দ্বারা। মহান আল্লাহ বলেন: "আল্লাহ তোমাদের জন্য সহজ করতে চান এবং তোমাদের জন্য কঠিন করতে চান না, যেন তোমরা সিয়ামের সংখ্যা পূর্ণ করো এবং তোমাদের হিদায়াত দান করার কারণে আল্লাহর মহিমা ঘোষণা করো আর যেন তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো।" [আল-বাকারা: ১৮৫]
(খণ্ড: ১)
আস-সাওমু জুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
أما
تأريخ تشريع فريضة الصوم فقد كان ذلك في شهر شعبان من السنة الثانية للهجرة الشريفة، على الكيفية التي استقر عليها، وقد صامه النبيُّ صلى الله عليه وسلم تسعَ سنين.
أما كيفيته التي استقر عليها، فهي: الامتناع عن المُفطِّرات من طلوع الفجر الصادق من يوم الصيام إلى غروب شمس ذلك اليوم.
ومما يجدر ذكره هنا أن الصيام لم تكن كيفيته كذلك في بداية تشريعه!! فقد كان الأكل والشرب والجماع مباحًا ليلة الصيام، بشرط ألاّ ينام المبيِّت لنية الصيام - في تلك الليلة - قبل أن يُفطِر، كذلك ألاّ يصلِّيَ العِشاء الآخرة، فإن نام ثم قام من نومه، أو صلّى العشاء لم يُبَح له أكل أو شرب أو جماع، بقية ليله، حتى يُفطِر عند غروب شمس اليوم التالي!!
-
… أما عدم حِلّ الطعام له ليلة الصيام إذا نام قبل أن يُفطِر، فيدلّ عليه قول البراء ابن عازب رضي الله عنه:
আর
রোজা ফরজের বিধান প্রবর্তনের ইতিহাস সম্পর্কে কথা হলো, তা ছিল হিজরি দ্বিতীয় সনের শাবান মাসে, সেই পদ্ধতিতে যা বর্তমানে স্থির হয়েছে; এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নয় বছর রোজা পালন করেছেন।
আর এর যে পদ্ধতিটি স্থির হয়েছে তা হলো: রোজা পালনের দিন সুবহে সাদেক উদিত হওয়া থেকে শুরু করে সেই দিনের সূর্যাস্ত পর্যন্ত রোজা ভঙ্গকারী বিষয়সমূহ থেকে বিরত থাকা।
এখানে যা উল্লেখ করা প্রয়োজন তা হলো, রোজা প্রবর্তনের শুরুতে এর নিয়ম এমন ছিল না!! তখন রোজার রাতে পানাহার ও স্ত্রী-সহবাস বৈধ ছিল, তবে শর্ত ছিল যে, রোজার নিয়তকারী ব্যক্তি যেন—সেই রাতে—ইফতার করার আগে ঘুমিয়ে না পড়ে, একইভাবে সে যেন এশার সালাত আদায় না করে। যদি সে ঘুমিয়ে পড়ত এবং এরপর জাগ্রত হতো, অথবা এশার সালাত আদায় করে নিত, তবে পরবর্তী দিনের সূর্যাস্ত পর্যন্ত অবশিষ্ট রাতে তার জন্য পানাহার বা স্ত্রী-সহবাস বৈধ থাকত না!!
-
… আর ইফতারের আগে ঘুমিয়ে পড়লে রোজার রাতে খাবার হালাল না হওয়ার বিষয়টি বারা ইবনে আজেব (রা.)-এর বক্তব্য থেকে প্রমাণিত হয়:
(খণ্ড: ১)
আস-সাওমু জুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
(كان أصحابُ محمَّدٍ صلى الله عليه وسلم، إذا كان الرجل صائماً، فحضر الإفطارُ فنام قبل أن يُفطِر، لم يأكلْ ليلته ولا يومَه حتى يُمسِي
… ) . (13)
-
… وكذلك يدل عليه حوادثُ متعددة، كان حدوثُها من بعض الصحابة رضي الله عنهم رحمةً للصائمين إلى يوم الدين؛ حيث كانت سبباً لنزول وحي يُتلى، كان فيه ترخيصٌ بالجماع وبالأكل والشرب ليلة الصوم، سواء نام - من بَيَّت نية الصوم - قبل أن يُفطِر، أو صلَّى العشاء الآخرة، أم لم يفعل أيًّا من الأمرين، ومن تلك الحوادث:
*
… ما حدّث به عبدُالله بن كعب بن مالك رضي الله عنه، عن أبيه: كان الناس في رمضانَ إذا صام الرجل فأمسى فنام حَرُم عليه الطعامُ والشراب والنساء حتى يُفطِر من الغد، فرجع عمر بن الخطاب رضي الله عنه من عند النبيِّ صلى الله عليه وسلم ذات ليلةٍ وقد سَهِر عنده - فوجد امرأتَه قد نامت، فأرادها، فقالت: إني قد
--------------------------------------------
(মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীগণের রীতি ছিল যে, যখন কোনো ব্যক্তি রোজা রাখতেন এবং ইফতারের সময় উপস্থিত হতো, অতঃপর ইফতার করার পূর্বেই তিনি ঘুমিয়ে পড়তেন, তবে তিনি সেই রাতে এবং পরবর্তী দিনে সন্ধ্যা না হওয়া পর্যন্ত আর কিছু আহার করতে পারতেন না
… ) । (১৩)
-
… একইভাবে এটি বিভিন্ন ঘটনার মাধ্যমেও প্রমাণিত, যা কিয়ামত পর্যন্ত রোজাদারদের জন্য রহমতস্বরূপ কতিপয় সাহাবী (রাযিয়াল্লাহু আনহুম)-এর মাধ্যমে সংঘটিত হয়েছিল; কেননা সেগুলো ছিল তিলাওয়াতকৃত ওহী (وحي) অবতীর্ণ হওয়ার কারণ, যাতে রোজার রাতে সহবাস এবং পানাহারের অনুমতি (ترخيص) প্রদান করা হয়েছে, চাই তিনি ইফতারের আগে ঘুমিয়ে পড়ুন—যিনি রোজার নিয়ত (نية) করেছেন—কিংবা এশার সালাত আদায় করুন অথবা এ দুটির কোনোটিই না করুন। আর সেসব ঘটনার মধ্যে রয়েছে:
*
… আবদুল্লাহ ইবনে কাব ইবনে মালেক (রাযিয়াল্লাহু আনহু) তাঁর পিতার সূত্রে যা বর্ণনা করেছেন: রমজান মাসে মানুষের নিয়ম ছিল যে, যখন কোনো ব্যক্তি রোজা রাখতেন এবং সন্ধ্যা হওয়ার পর ঘুমিয়ে পড়তেন, তখন পরবর্তী দিনের ইফতার পর্যন্ত তাঁর জন্য খাদ্য, পানীয় এবং স্ত্রী-সংসর্গ নিষিদ্ধ হয়ে যেত। এক রাতে উমর ইবনুল খাত্তাব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট থেকে রাত জাগরণের পর ফিরে এসে দেখলেন যে তাঁর স্ত্রী ঘুমিয়ে পড়েছেন। তিনি তাঁর সাথে ঘনিষ্ঠ হতে চাইলেন, তখন স্ত্রী বললেন: আমি তো
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সাওমু জুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
نمتُ، قال: ما نمتِ! ثم وقع بها، فغدا عمرُ إلى النبيِّ صلى الله عليه وسلم فأخبره، فأنزل الله تبارك وتعالى قولَه: {عَلِمَ اللَّهُ أَنَّكُمْ كُنْتُمْ تَخْتَانُونَ أَنْفُسَكُمْ فَتَابَ عَلَيْكُمْ وَعَفَا عَنْكُمْ فَالآنَ بَاشِرُوهُنَّ وَابْتَغُوا مَا كَتَبَ اللَّهُ لَكُمْ وَكُلُوا وَاشْرَبُوا حَتَّى يَتَبَيَّنَ لَكُمُ الْخَيْطُ الأَبْيَضُ مِنَ الْخَيْطِ الأَسْوَدِ مِنَ الْفَجْرِ ثُمَّ أَتِمُّوا الصِّيَامَ إِلَى اللَّيْلِ} [البَقَرَة: 187] (14) . وقد حدث مثل ذلك مع كعب بن مالك نفسه رضي الله عنه.
*
… وقال البراءُ بن عازبٍ رضي الله عنه: (كان أصحاب محمّدٍ صلى الله عليه وسلم إذا كان الرجل صائماً، فحضر الإفطار، فنام قبل أن يُفطِر، لم يأكل ليلته ولا يومَه حتى يُمسِي، وإن قيسَ بنَ صِرْمَةَ الأنصاريَّ رضي الله عنه كان صائماً، فلما حضر الإفطار أتى امرأته فقال لها: أعندك طعام؟ قالت: لا، ولكنْ أنطلقُ فأطلبُ لك، وكان يومَه يعمل، فغلبته عيناه، فجاءته امرأته، فلما رأته قالت: خيبةً لك، فلما انتصف النهار غُشِي عليه،
--------------------------------------------
(সে বলল): "আমি ঘুমিয়ে পড়েছিলাম।" তিনি (উমর) বললেন: "তুমি ঘুমাওনি!" এরপর তিনি তার সাথে সঙ্গত হলেন। পরদিন সকালে উমর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট গিয়ে তাঁকে বিষয়টি অবহিত করলেন। তখন আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা তাঁর এই বাণী অবতীর্ণ করলেন: {আল্লাহ জানেন যে তোমরা নিজেদের প্রতি খিয়ানত করছিলে, অতঃপর তিনি তোমাদের তাওবা কবুল করেছেন এবং তোমাদের ক্ষমা করেছেন। সুতরাং এখন তোমরা তাদের সাথে সঙ্গত হও এবং আল্লাহ তোমাদের জন্য যা নির্ধারিত করেছেন তা অন্বেষণ করো। আর তোমরা আহার করো ও পান করো যতক্ষণ না ফজরের সাদা সুতা কালো সুতা থেকে তোমাদের কাছে স্পষ্ট হয়ে যায়। এরপর রাত পর্যন্ত রোজা পূর্ণ করো।} [আল-বাকারাহ: ১৮৭] (১৪)। অনুরূপ ঘটনা স্বয়ং কাব বিন মালিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর সাথেও ঘটেছিল।
*
… বারা বিন আজিব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণনা করেছেন: (মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীগণের নিয়ম ছিল যে, যখন কোনো ব্যক্তি রোজাদার হতেন এবং ইফতারের সময় উপস্থিত হতো, অথচ ইফতার করার আগেই তিনি ঘুমিয়ে পড়তেন, তবে তিনি সেই রাতে এবং পরবর্তী সারা দিন সন্ধ্যা পর্যন্ত আর কিছু আহার করতেন না। কায়েস বিন সিরমাহ আল-আনসারী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) রোজাদার ছিলেন; যখন ইফতারের সময় উপস্থিত হলো, তিনি তাঁর স্ত্রীর নিকট এসে বললেন: তোমার কাছে কি কোনো খাবার আছে? তিনি বললেন: না, তবে আমি গিয়ে আপনার জন্য তালাশ করে আনি। তিনি সারাদিন কাজ করেছিলেন, তাই ক্লান্তিভরে তাঁর চোখে ঘুম চলে এল। তাঁর স্ত্রী ফিরে এসে যখন তাঁকে দেখলেন, তখন বললেন: আপনার জন্য আফসোস! অতঃপর যখন দুপুর হলো, তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেললেন,
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সাওমু জুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
فذُكِر ذلك للنبيِّ صلى الله عليه وسلم، فنزلت هذه الآية: {أُحِلَّ لَكُمْ لَيْلَةَ الصِّيَامِ الرَّفَثُ إِلَى نِسَائِكُمْ
… } [البَقَرَة: 187] ، ففرحوا بها فرحاً شديداً، ونزلت: {وَكُلُوا وَاشْرَبُوا حَتَّى يَتَبَيَّنَ لَكُمُ الْخَيْطُ الأَبْيَضُ مِنَ الْخَيْطِ الأَسْوَدِ مِنَ الْفَجْرِ ثُمَّ أَتِمُّوا الصِّيَامَ إِلَى اللَّيْلِ} [البَقَرَة: 187] (15) .
*
… وأما تحريم الطعام والشراب والنساءِ إذا صلّى العشاء الآخرة؛ فمما يُستدل به على ذلك: ما ورد من قول ابن عباس رضي الله عنهما في سبب نزول قوله تعالى: {أُحِلَّ لَكُمْ لَيْلَةَ الصِّيَامِ الرَّفَثُ إِلَى نِسَائِكُمْ
… } [البَقَرَة: 187]-: إنّ المسلمين كانوا في شهر رمضان إذا صَلَّوا العِشاء حَرُم عليهم النساء والطعام إلى مثلها من القابلة، ثم إن ناساً من المسلمين أصابوا من الطعام والنساء في شهر رمضان بعد العشاء، منهم عمر بن الخطاب رضي الله عنه، فشكَوْا ذلك إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم، فأنزل الله تعالى: {عَلِمَ اللَّهُ أَنَّكُمْ كُنْتُمْ تَخْتَانُونَ أَنْفُسَكُمْ فَتَابَ
--------------------------------------------
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট তা উল্লেখ করা হলো, ফলে এই আয়াতটি অবতীর্ণ হলো: {সিয়ামের রাতে তোমাদের জন্য তোমাদের স্ত্রীদের সাথে সংগত হওয়া হালাল করা হয়েছে...} [আল-বাকারা: ১৮৭]। এতে তারা অত্যন্ত আনন্দিত হলেন। আর অবতীর্ণ হলো: {আর তোমরা পানাহার করো যতক্ষণ না ফজরের সাদা রেখা কালো রেখা থেকে তোমাদের কাছে স্পষ্ট হয়ে যায়, অতঃপর রাত পর্যন্ত সিয়াম পূর্ণ করো} [আল-বাকারা: ১৮৭] (১৫)।
*
... আর ইশার সালাত আদায়ের পর পানাহার ও স্ত্রী-সহবাস হারাম হওয়ার বিষয়টি যা দিয়ে দলিল পেশ করা হয়, তা হলো: মহান আল্লাহর বাণী {সিয়ামের রাতে তোমাদের জন্য তোমাদের স্ত্রীদের সাথে সংগত হওয়া হালাল করা হয়েছে...} [আল-বাকারা: ১৮৭] -এর অবতীর্ণ হওয়ার কারণ সম্পর্কে ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে যা বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেন: রমজান মাসে মুসলিমগণ যখন ইশার সালাত আদায় করতেন, তখন পরবর্তী দিন ঐ সময় পর্যন্ত তাদের জন্য স্ত্রী এবং আহার্য হারাম হয়ে যেত। অতঃপর কিছু সংখ্যক মুসলিম রমজান মাসে ইশার পর পানাহার ও স্ত্রী-সহবাসে লিপ্ত হন, যাদের মধ্যে ওমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) ছিলেন। তারা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট এ বিষয়ে অভিযোগ করলে মহান আল্লাহ অবতীর্ণ করেন: {আল্লাহ জেনেছেন যে, তোমরা নিজেদের সাথে খিয়ানত করছিলে, অতঃপর তিনি তোমাদের তাওবা কবুল করেছেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সাওমু জুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
عَلَيْكُمْ وَعَفَا عَنْكُمْ فَالآنَ بَاشِرُوهُنَّ
… } . [البَقَرَة: 187]
-
… وكذلك يُستدل له بقول القاسم بن محمد رحمه الله: إن بدء الصوم كان يصوم الرجل من عِشاء إلى عِشاء، فإذا نام لم يَصِل إلى أهله بعد ذلك، ولم يأكل ولم يشرب، حتى جاء عمر إلى امرأته، فقالت: إني قد نمت، فوقع بها، وأمسى قيسُ بنُ صِرْمة صائماً فنام قبل أن يُفطِر، وكانوا إذا ناموا لم يأكلوا ولم يشربوا، فأصبح صائماً وكاد الصوم يقتله، فأنزل الله عز وجل الرخصة، قال سبحانه: {فَتَابَ عَلَيْكُمْ وَعَفَا عَنْكُمْ} [البَقَرَة: 187] (16) .
وبذا استقرّ الأمر على حرمة المُفطِّرات من طعام وشراب وجماع، وذلك من تبيُّنِ الفجر الصادق إلى الليل، مع إباحتها طوال الليل، بعد أن كانت هذه الإباحة مُقيَّدة بعدم النوم، أو عدم صلاة العشاء، والله أعلم.
فائدة:
كلمة {عَلِمَ اللَّهُ أَنَّكُمْ كُنْتُمْ تَخْتَانُونَ أَنْفُسَكُمْ} . [البَقَرَة: 187] هذه الكلمة هي أبلغ من كلمة تخونون التي تُفسَّر بها، وذلك لزيادة البناء، فزيادة المبنى دالَّة على زيادة المعنى، وتدل كلمة {تَخْتَانُونَ} ، على زيادة الخيانة، من حيث كثرة مقدمات الجماع، والله أعلم (17) .
--------------------------------------------
...তোমাদের তাওবা কবুল করেছেন এবং তোমাদের ক্ষমা করেছেন, অতএব এখন তোমরা তাদের সাথে সংগত হও
… }। [আল-বাকারাহ: ১৮৭]
-
… এবং অনুরূপভাবে আল-কাসিম ইবনে মুহাম্মদ (রহিমাহুল্লাহ)-এর উক্তি দ্বারাও এর স্বপক্ষে দলিল পেশ করা হয়: সিয়ামের সূচনাপর্বে নিয়ম ছিল যে, একজন ব্যক্তি এশা থেকে পরবর্তী এশা পর্যন্ত সিয়াম পালন করত। যখন সে ঘুমিয়ে পড়ত, তখন এরপর সে আর তার স্ত্রীর নিকট গমন করতে পারত না এবং পানাহারও করতে পারত না। অবশেষে ওমর (রা.) তাঁর স্ত্রীর নিকট আসলেন, তখন স্ত্রী বললেন: 'আমি তো ঘুমিয়ে পড়েছিলাম', তবুও তিনি তাঁর সাথে মিলিত হলেন। অন্যদিকে কায়স ইবনে সিরমাহ (রা.) সিয়াম পালন অবস্থায় সন্ধ্যা করলেন এবং ইফতার করার আগেই ঘুমিয়ে পড়লেন। নিয়ম ছিল যে, তারা ঘুমিয়ে পড়লে আর পানাহার করত না। ফলে তিনি সিয়াম পালনরত অবস্থায় ভোর করলেন এবং সিয়াম পালনে তিনি প্রায় মৃতপ্রায় হয়ে পড়লেন। তখন আল্লাহ তাআলা এই সহজতা অবতীর্ণ করলেন। তিনি মহান মহিমান্বিত বলেন: {অতঃপর তিনি তোমাদের তাওবা কবুল করেছেন এবং তোমাদের ক্ষমা করেছেন} [আল-বাকারাহ: ১৮৭] (১৬)।
এর মাধ্যমে পানাহার ও সহবাসের মতো সিয়াম ভঙ্গকারী বিষয়গুলোর নিষিদ্ধতা চূড়ান্ত হয়েছে, যা সুবহে সাদিক স্পষ্ট হওয়া থেকে রাত পর্যন্ত কার্যকর থাকে; পাশাপাশি সারা রাত এগুলো বৈধ রাখা হয়েছে। অথচ ইতিপূর্বে এই বৈধতা ঘুমানোর আগে অথবা এশার সালাতের আগে পর্যন্ত সীমাবদ্ধ ছিল। আল্লাহ-ই ভালো জানেন।
জ্ঞাতব্য বিষয়:
আল্লাহর বাণী: {আল্লাহ জানেন যে তোমরা তোমাদের নিজেদের সাথে খিয়ানত করছিলে}। [আল-বাকারাহ: ১৮৭] এই শব্দটি 'তখুনুন' শব্দের তুলনায় অধিক অর্থবহ যার মাধ্যমে এর ব্যাখ্যা করা হয়। কারণ শব্দের কাঠামো বৃদ্ধি পেলে অর্থের আধিক্য নির্দেশ করে। আর এই শব্দটি খিয়ানত বা বিশ্বাসভঙ্গের আধিক্যকে নির্দেশ করে, যা সহবাসের পূর্ববর্তী কর্মকাণ্ডের আধিক্যের প্রেক্ষিতে ব্যবহৃত হয়েছে। আল্লাহ-ই ভালো জানেন (১৭)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সাওমু জুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
مسألة:
ما المقصود بتبيُّن الخيط الأبيض من الخيط الأسود في قوله تعالى: {وَكُلُوا وَاشْرَبُوا حَتَّى يَتَبَيَّنَ لَكُمُ الْخَيْطُ الأَبْيَضُ مِنَ الْخَيْطِ الأَسْوَدِ مِنَ الْفَجْرِ
… } ؟ [البَقَرَة: 187]
قال النبيُّ صلى الله عليه وسلم: «إنما هو سواد الليل وبياض النهار» (18) .
وقال عليه والصلاة والسلام: «إن الفجر ليس الذي يقول هكذا - وجمع أصابعه صلى الله عليه وسلم ثم نَكَسها إلى الأرض-، ولكن الذي يقول هكذا، ووضع المُسبِّحة على المُسبِّّحة، ومدَّ يديه صلى الله عليه وسلم (19) .
--------------------------------------------
মাসআলা:
মহান আল্লাহর বাণী: {আর তোমরা আহার করো ও পান করো যতক্ষণ না ফজরের সাদা সুতা কালো সুতা থেকে তোমাদের কাছে স্পষ্ট হয়ে যায়
… } [আল-বাকারাহ: ১৮৭] -তে সাদা সুতা ও কালো সুতা স্পষ্ট হওয়া দ্বারা কী বোঝানো হয়েছে?
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «এটি মূলত রাতের অন্ধকার ও দিনের শুভ্রতা» (১৮) ।
তিনি (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) আরও বলেছেন: «নিশ্চয়ই ফজর তেমন নয় যা এভাবে দেখা যায় -এই বলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজের আঙুলগুলো একত্রিত করলেন এবং তারপর তা মাটির দিকে নিচু করলেন-, বরং তা এমন যা এভাবে দেখা যায় -এই বলে তিনি এক তর্জনী অন্য তর্জনীর ওপর রাখলেন এবং হাত দুটি প্রসারিত করলেন-» (১৯) ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সাওমু জুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
يتبيَّن مما ذُكر آنفًا أن تبيُّنَ الفجر الثاني الصادق، إنما يكون بتميّز بياض النهار من سواد الليل؛ لأن الفجر الأول الكاذب يبدو في الأفق، ثم يرتفع مستطيلاً، ثم يضمحلّ ويتلاشى، ثم يبدو بعده الفجر الثاني الصادق منتشراً معترضاًً في الأفق مستطيراً، ويتميز فيه البياض والسواد في الأفق باستمرارهما وانتشارهما معترضَيْن، فيَحْرُم على الصائم عندها المُفطِّرات حتى دخول الليل، وذلك بغياب قرص الشمس بكماله في الأفق
هذا، ولما نزلت: {حَتَّى يَتَبَيَّنَ لَكُمُ الْخَيْطُ الأَبْيَضُ مِنَ الْخَيْطِ الأَسْوَدِ} ، [البَقَرَة: 187]
উপরোক্ত আলোচনা হতে এটি প্রতীয়মান হয় যে, দ্বিতীয় ফজর বা সুবহে সাদিক (الفجر الثاني الصادق) নিরূপণ করা হয় মূলত রজনীর অন্ধকার হতে দিবসের শুভ্রতাকে পৃথক করার মাধ্যমে। কেননা প্রথম ফজর বা সুবহে কাযিব (الفجر الأول الكاذب) দিগন্তে উদিত হয়, অতঃপর তা লম্বালম্বিভাবে উপরের দিকে উত্থিত হয়, এরপর তা ম্লান ও তিরোহিত হয়ে যায়। অতঃপর তার পরিবর্তে দ্বিতীয় ফজর বা সুবহে সাদিক (الفجر الثاني الصادق) দিগন্তে আড়াআড়িভাবে বিস্তৃত হয়ে প্রকাশ পায়। এমতাবস্থায় দিগন্তের শুভ্রতা ও কৃষ্ণতা তাদের নিরবচ্ছিন্নতা ও আড়াআড়ি বিস্তৃতির মাধ্যমে সুস্পষ্ট হয়ে ওঠে। তখন হতে রোজা পালনকারীর জন্য রজনীর আগমন পর্যন্ত রোজা ভঙ্গকারী বিষয়সমূহ গ্রহণ করা নিষিদ্ধ হয়ে যায়; আর তা সম্পন্ন হয় দিগন্তে সূর্যের চাকতি পূর্ণরূপে অস্তমিত হওয়ার মাধ্যমে।
তদুপরি, যখন এই আয়াত নাজিল হলো: {যতক্ষণ না তোমাদের নিকট ঊষার শুভ্র রেখা কৃষ্ণ রেখা হতে স্পষ্ট হয়ে যায়}, [আল-বাকারা: ১৮৭]
(খণ্ড: ১)
আস-সাওমু জুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
ولم ينزل قوله تعالى: {مِنَ الْفَجْرِ} ، [البَقَرَة: 187] فتبيَّن بذلك أن المقصود بالخيطين: خيط النهار وخيط الليل عند الفجر إذا اعترضا في الأفق - كما ذُكِر آنفًا - من بيان رسول الله صلى الله عليه وسلم ذلك بقوله: «إنما هو سواد الليل وبياض النهار» ، ومن تمثيله صلى الله عليه وسلم لصورة الفجر الصادق بأصابعه الشريفة، وبإحالة المسلمين إلى سماع أذان عبد الله ابن أم مكتوم رضي الله عنه، فهو المُعْلِم بدخول الفجر الصادق، وليس أذان بلال بن رباح رضي الله عنه، وقد كان يؤذِّن بليل. قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «إن بلالاً يؤذِّن بليلٍ، فكلوا واشربوا حتى يؤذِّن ابن أم مكتوم» (20) .
ومما يجدر ذِكره - في ختام هذا المبحث - أن صيام يوم عاشوراء، لم يزل مشروعاً مأموراً به على سبيل الندب، بعد أن خيَّر النبيُّ صلى الله عليه وسلم بصيامه بعد افتراض رمضان، ومما يدلُّ عليه قولُ النبيِّ صلى الله عليه وسلم: «هذا يوم عاشوراء، ولم يكتبِ الله عليكم صيامَه، وأنا
--------------------------------------------
আর মহান আল্লাহর বাণী: {প্রভাতকাল থেকে} [আল-বাকারা: ১৮৭] তখনও অবতীর্ণ হয়নি। ফলে এর মাধ্যমে এটি স্পষ্ট হয় যে, দুই সুতা দ্বারা উদ্দেশ্য হলো: দিনের আলো ও রাতের অন্ধকার, যখন তারা ফজরের সময় দিগন্তে আড়াআড়িভাবে প্রকাশ পায় - যেমনটি ইতিপূর্বে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণীর বিবরণে উল্লেখ করা হয়েছে: «এটি মূলত রাতের অন্ধকার ও দিনের শুভ্রতা»। তদ্রূপ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর পবিত্র আঙ্গুলসমূহের মাধ্যমে সুবেহ সাদিকের চিত্রায়ন করা এবং মুসলমানদের আবদুল্লাহ ইবনে উম্মে মাকতুম রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর আজান শোনার প্রতি দিকনির্দেশনা দেওয়ার মাধ্যমেও তা সুস্পষ্ট হয়। মূলত তিনিই ছিলেন সুবেহ সাদিক প্রবেশের ঘোষক, বিলাল ইবনে রাবাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু নন; কারণ তিনি রাতে আজান দিতেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «নিশ্চয়ই বিলাল রাতে আজান দেয়, সুতরাং তোমরা পানাহার করো যতক্ষণ না ইবনে উম্মে মাকতুম আজান দেয়» (২০) ।
এই আলোচনার পরিশেষে যা উল্লেখ করা প্রয়োজন তা হলো, আশুরার দিনের রোজা পছন্দনীয় (الندب) হিসেবে শরয়ি বিধান অনুযায়ী বলবৎ রয়েছে। রমজানের রোজা আবশ্যিক (افتراض) করার পর নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই রোজা রাখার ব্যাপারে স্বাধীনতা দেওয়া সত্ত্বেও এর বিধান রহিত হয়নি। যার প্রমাণ হলো নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: «এটি আশুরার দিন, অথচ আল্লাহ তোমাদের ওপর এর রোজা আবশ্যিক (كتب) করেননি, আর আমি...»
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সাওমু জুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৩১)
صائم، فمن شاء فليَصُم، ومن شاء فليُفطِر» (21) ، وقوله عليه الصلاة والسلام: «إن عاشوراء يوم من أيام الله، فمن شاء صامه ومن شاء تركه» (22) . بل إن النبيَّ صلى الله عليه وسلم قد رغّب في صوم هذا اليوم وأكّد استحباب ذلك حتى في عام وفاته صلى الله عليه وسلم، وعزم عليه الصلاة والسلام على المداومة على صيامه ويومٍ قبله، مخالفة لاقتصار اليهود - من أهل خيبر - على تعظيم اليوم العاشر وتخصيصه بالصوم، فقال صلوات ربي وسلامه عليه: «فإذا كان العامُ المُقبِل، إن شاء الله، صُمنا اليومَ التاسع» (23) ، وقال ابن عباس رضي الله عنهما: فلم يأت العامُ المُقبِل حتى توفيَ رسولُ الله صلى الله عليه وسلم (24) .
****
--------------------------------------------
...রোজা পালনকারী; অতএব যার ইচ্ছা সে রোজা রাখুক এবং যার ইচ্ছা সে তা পরিহার করুক" (২১)। এবং তাঁর (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) বাণী: "নিশ্চয়ই আশুরা হচ্ছে আল্লাহর দিনসমূহের মধ্য হতে একটি দিন, সুতরাং যার ইচ্ছা সে ওই দিন রোজা রাখুক এবং যার ইচ্ছা সে তা ছেড়ে দিক" (২২)। বরং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এই দিনে রোজা রাখার ব্যাপারে উৎসাহিত করেছেন এবং এমনকি তাঁর ওফাতের বছরেও এর পছন্দনীয়তা নিশ্চিত করেছেন। তিনি (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) এই রোজা এবং এর পূর্ববর্তী একদিন নিয়মিত রোজা রাখার দৃঢ় সংকল্প করেছিলেন, যাতে খায়বারবাসী ইহুদিদের কেবল দশম দিনকে সম্মান জানানো এবং রোজার জন্য নির্দিষ্ট করার আচরণের বিরোধিতা করা যায়। তাই তিনি (আমার রবের রহমত ও শান্তি তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) বললেন: "যখন আগামী বছর আসবে, ইনশাআল্লাহ, আমরা নবম দিনেও রোজা রাখব" (২৩)। ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন: "কিন্তু আগামী বছর আসার পূর্বেই রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইন্তেকাল করেন" (২৪)।
****
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সাওমু জুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
الفصل الثالثفضائل الصيام وأسراره، وخصائص رمضانأخي القارىء الكريم! إن فضائل العبادة وأسرارَها ميدانٌ قد تحار فيه الألباب، ويذهب الوجدان فيه كلَّ مذهب، لذا كان لا بد لمن أراد ولوج باب المعرفة في ذلك أن يتلمَّسَ ما صحَّت به نصوص الشريعة الغرَّاء، وإني - مع علمي بصِفْر اليدين، ومُزْجاة البِضاعة - فقد رغبت في بذل الوسع في ذلك متشبِّهاً بأهل هذا الشأن، فأقول والله المستعان:
إن فضائل الصيام وأسرارَه تكاد - بحمد الله - أن لا تنحصر، فمن ذلك أن:
1 - … الصيام ركن عظيم من أركان هذا الدِّين الحنيف، فلا يستقيم بناء الإسلام إلا به، ولا يثبت إيمان امرئٍ حتى يُقِرَّ بفرضيته.
قال النبيُّ صلى الله عليه وسلم: «بُنِي الإسلامُ على خمسٍ: شهادةِ أنْ لا إله إلا الله وأن محمداً عبده ورسوله، وإقامِ الصلاة،
তৃতীয় পরিচ্ছেদসিয়ামের ফযিলত ও এর রহস্যসমূহ এবং রমাদানের বৈশিষ্ট্যসমূহহে আমার সম্মানিত পাঠক ভাই! ইবাদতের ফযিলত ও তার রহস্যসমূহ এমন একটি ময়দান যেখানে জ্ঞানবুদ্ধি কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়ে এবং মানবিক উপলব্ধি বিবিধ পথে ধাবিত হয়। তাই যারা এই বিষয়ে জ্ঞানের দুয়ারে প্রবেশ করতে ইচ্ছুক, তাদের জন্য অপরিহার্য হলো উজ্জ্বল শরিয়তের যে সকল দলিল সহিহ (صحيح) সাব্যস্ত হয়েছে, তা অনুসন্ধান করা। আর আমি—আমার রিক্তহস্ত ও সামান্য পুঁজি সম্পর্কে অবগত হওয়া সত্ত্বেও—এই বিষয়ের বিজ্ঞজনদের পদাঙ্ক অনুসরণে যথাসাধ্য প্রয়াস চালানোর সংকল্প করেছি। আমি বলছি—আর আল্লাহর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করছি:
নিশ্চয়ই সিয়ামের ফযিলত ও এর রহস্যসমূহ—আল্লাহর প্রশংসায়—প্রায় অগণিত। সেগুলোর মধ্যে রয়েছে:
১ - … সিয়াম এই একনিষ্ঠ দ্বীনের এক মহান রুকন; সিয়াম ব্যতীত ইসলামের অবকাঠামো সুসংহত হয় না এবং কোনো ব্যক্তির ইমান ততক্ষণ পর্যন্ত স্থির হয় না, যতক্ষণ না সে এর ফরয হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «ইসলাম পাঁচটি স্তম্ভের ওপর প্রতিষ্ঠিত: এই সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং মুহাম্মাদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল; সালাত কায়েম করা...
(খণ্ড: ১)
আস-সাওমু জুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
وإيتاءِ الزكاة، وحجِّ البيت، وصومِ رمضان» (25) .
2 - … الصيام في رمضان وقيام ليله - وبخاصة ليلة القدر - إيماناً واحتساباً، دالٌ على صدق إيمان فاعله، وإخلاصه في عمله، لذا فهو مبشَّر بمغفرة عموم سابق ذنبِه.
قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «من صام رمضانَ إيماناً واحتساباً، غُفِر له ما تقدَّم من ذنبه» (26) .
وقال عليه الصلاة والسلام: «من قام رمضانَ إيماناً واحتساباً، غُفِر له ما تقدَّم من ذنبه» (27) .
ويقول الصادق المصدوق صلى الله عليه وسلم: «من يَقُم ليلةَ القَدْر، إيماناً واحتساباً، غُفِر له ما تقدَّم من ذنبه» (28) .
3- … الصيام لا يعدِل أجرَه أجرُ شيء من عمل ابن آدم، ففيه استكنَّ سرُّ الإخلاص، فبزَّ أجرُه بذلك جميعَ الأعمال. قال النبيُّ صلى الله عليه وسلم: «كلُّ عمل ابن آدم يُضاعف، الحسنةُ عشرُ أمثالِها إلى سبعمائة ضعف،
--------------------------------------------
এবং জাকাত প্রদান করা, বায়তুল্লাহর হজ করা এবং রমজানের রোজা রাখা» (২৫) ।
২ - … ঈমান ও সওয়াবের আশায় রমজানে রোজা রাখা এবং এর রাতে কিয়াম করা - বিশেষ করে লাইলাতুল কদরে - তা আমলকারীর ঈমানের সত্যতা এবং তার কর্মে নিষ্ঠার পরিচায়ক। তাই তাকে তার পূর্ববর্তী সকল গুনাহ মাফের সুসংবাদ দেওয়া হয়েছে।
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: «যে ব্যক্তি ঈমান ও সওয়াবের আশায় রমজানের রোজা রাখবে, তার পূর্ববর্তী গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে» (২৬) ।
তিনি (সা.) আরও বলেছেন: «যে ব্যক্তি ঈমান ও সওয়াবের আশায় রমজানে কিয়াম (রাতের ইবাদত) করবে, তার পূর্ববর্তী গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে» (২৭) ।
সত্যবাদী ও সত্য প্রত্যায়নকারী (সা.) বলেন: «যে ব্যক্তি ঈমান ও সওয়াবের আশায় লাইলাতুল কদরে কিয়াম করবে, তার পূর্ববর্তী গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে» (২৮) ।
৩- … আদম সন্তানের কোনো আমলের সওয়াব রোজার সওয়াবের সমতুল্য নয়; কারণ এতে নিষ্ঠার রহস্য নিহিত রয়েছে, ফলে এর সওয়াব অন্যান্য সকল আমলকে ছাড়িয়ে গেছে। নবী (সা.) বলেছেন: «আদম সন্তানের প্রতিটি আমলকে বহুগুণ বৃদ্ধি করা হয়; একটি নেকি দশ গুণ থেকে সাতশ গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়,
--------------------------------------------