(খণ্ড: ১) আল-আনোয়ারুল কাশিফাহ লিমা ফী কিতাবি আদওয়াউ আলাস সুন্নাহ - ত সালাফিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: -)
الأنوار الكاشفة لما في كتاب «أضواء على السنة» - ط السلفية   (عبد الرحمن المعلمي اليماني)

القسم: علوم الحديث


الكتاب: الأنوار الكاشفة لما في كتاب "أضواء على السنة" من الزلل والتضليل والمجازفة

المؤلف: عبد الرحمن بن يحيى بن علي المعلمي اليماني (ت 1386هـ)

الناشر: المطبعة السلفية ومكتبتها / عالم الكتب - بيروت

سنة النشر: 1406 هـ / 1986 م

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আল-আনওয়ারুল কাশিফাহ লিমা ফি কিতাব «আদওয়াউ আলাস সুন্নাহ» - সালাফিয়া সংস্করণ   (আব্দুর রহমান আল-মুয়াল্লিমী আল-ইয়ামানী)

বিভাগ: হাদিস শাস্ত্র (علوم الحديث)


গ্রন্থ: আল-আনওয়ারুল কাশিফাহ লিমা ফি কিতাব "আদওয়াউ আলাস সুন্নাহ" মিনাল যালাল ওয়াত তাদলীল ওয়াল মুজািযাফাহ

লেখক: আব্দুর রহমান ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে আলী আল-মুয়াল্লিমী আল-ইয়ামানী (মৃ. ১৩৮৬ হি.)

প্রকাশক: আল-মাতবাআহ আস-সালাফিয়্যাহ ওয়া মাকতাবাতুহা / আলামুল কুতুব - বৈরুত

প্রকাশকাল: ১৪০৬ হি. / ১৯৮৬ খ্রি.

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা বিন্যাস মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আল-আনোয়ারুল কাশিফাহ লিমা ফী কিতাবি আদওয়াউ আলাস সুন্নাহ - ত সালাফিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২)
ـ[الأنوار الكاشفة لما في كتاب "أضواء على السنة" من الزلل والتضليل والمجازفة]ـ

المؤلف: عبد الرحمن بن يحيى بن علي المعلمي اليماني (المتوفى: 1386هـ)

الناشر: المطبعة السلفية ومكتبتها

تصوير: عالم الكتب - بيروت

سنة النشر: 1406 هـ / 1986 م

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع، ومذيل وبالحواشي]
ـ[আল-আনওয়ার আল-কাশিফাহ: "আদওয়া আলাস সুন্নাহ" কিতাবের পদস্খলন, বিভ্রান্তি ও দুঃসাহসিক ভুলসমূহের উন্মোচন]ـ

লেখক: আব্দুর রহমান ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে আলী আল-মুয়াল্লিমী আল-ইয়ামানী (ওফাত: ১৩৮৬ হিজরি)

প্রকাশক: আল-মাতবাআহ আস-সালাফিয়্যাহ ও তার লাইব্রেরি

অফসেট মুদ্রণ: আলমুল কুতুব - বৈরুত

প্রকাশকাল: ১৪০৬ হিজরি / ১৯৮৬ খ্রিস্টাব্দ

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ, এবং এটি টীকা ও পাদটীকা সম্বলিত]
(খণ্ড: ১) আল-আনোয়ারুল কাশিফাহ লিমা ফী কিতাবি আদওয়াউ আলাস সুন্নাহ - ত সালাফিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم

أقدم كتابي هذا إلى أهل العلم وطالبيه الراغبين في الحق، المؤثرين له على كل ماسواه، سائلاً الله تعالى أن ينفعني وإياهم بما فيه من الحق، ويقيني وإياهم شر ما فيه من باطل حكيته عن غيري أو زلل منى، فإن حظى من العلم زهيد، وكان جمعي للكتاب على استعجال مع اشتغالي بغيره، فلم أكثر من مراجعة ما في متناولي من مؤلفات أهل العلم، ولا ظفرت ببعضها، ومنها ما هو من مصادر الكتاب المردود عليه «أضواء على السنة» .

وقد سبقني إلى الرد عليه فضيلة الأستاذ العلامة الشيخ محمد عبد الرزاق حمزة، مدير دار الحديث بمكة المكرمة، والمدرس بالحرم الشريف، واستفدت من كتابه جزاه الله خيراً.

ولفضيلة السلفي الجليل المحسن الشهير نصير السنة الشيخ محمد نصيف اليد الطولى في استحثاثي لإكمال الكتاب، وإمدادي بالمراجع.

وكذلك للأخ الفاضل البحاثة الشيخ سليمان بن عبد الرحمن الصنيع عضو مجلس الشورى، ومدير مكتبة الحرم المكي، فإنه أمدني ببعض المراجع من مكتبته الخاصة النفيسة.

ورجائي ممن يطالع كتابي هذا من أهل العلم أن يكتب إلي بما عنده من ملاحظات واستدراكات، لأراعيها أنا - أو من شاء الله تعالى- عند إعادة طبع الكتاب إن شاء الله تعالى. وفقنا الله جميعاً لما يحب ويرضي.

غرة شهر رجب سنة 1378 هـ

المؤلف / عبد الرحمن بن يحيى المعلمي
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

আমি আমার এই বইটি ইলমধারী ও সত্যান্বেষী জ্ঞানপিপাসুদের সমীপে পেশ করছি, যারা সত্যের প্রতি অনুরাগী এবং অন্য সবকিছুর ঊর্ধ্বে সত্যকে প্রাধান্য দেন। আল্লাহ তাআলার নিকট প্রার্থনা করি, তিনি যেন আমাকে ও তাঁদেরকে এই কিতাবের অন্তর্ভুক্ত সত্যের মাধ্যমে উপকৃত করেন এবং অন্যের উদ্ধৃতিতে থাকা কোনো বাতিল (باطل) কিংবা আমার নিজের কোনো স্খলন বা ত্রুটি থেকে আমাকে ও তাঁদেরকে রক্ষা করেন। নিশ্চয়ই ইলমের ময়দানে আমার পুঁজি অতি সামান্য। তাছাড়া অন্যান্য ব্যস্ততার মাঝে তাড়াহুড়ো করে কিতাবটি সংকলন করতে হয়েছে, ফলে আমার নাগালে থাকা বিদগ্ধ আলিমদের সকল গ্রন্থাবলি পর্যাপ্ত পর্যালোচনার সুযোগ পাইনি এবং কিছু গ্রন্থ আমার হস্তগত হয়নি। এর মধ্যে এমন কিছু উৎসগ্রন্থও রয়েছে যা 'আদওয়াউ আলাস সুন্নাহ' নামক খণ্ডনকৃত বইটির মূল ভিত্তি ছিল।

উক্ত বইটির খণ্ডন করার ক্ষেত্রে আমার অগ্রণী হয়েছেন মক্কা মুকাররমার দারুল হাদিসের পরিচালক এবং মসজিদে হারামের শিক্ষক শ্রদ্ধেয় উস্তাদ আল্লামা শায়খ মুহাম্মাদ আব্দুর রাজ্জাক হামযা। আমি তাঁর কিতাব থেকে উপকৃত হয়েছি, আল্লাহ তাঁকে উত্তম প্রতিদান দান করুন।

আর বরেণ্য সালাফি, প্রখ্যাত দানবীর ও সুন্নাহর সাহায্যকারী শায়খ মুহাম্মাদ নাসিফ-এর অসামান্য অবদান রয়েছে বইটি সম্পন্ন করার ব্যাপারে আমাকে উৎসাহিত করতে এবং তথ্যসূত্র দিয়ে সহযোগিতা করার ক্ষেত্রে।

অনুরূপভাবে মজলিসে শুরার সদস্য এবং মক্কা হারম লাইব্রেরির পরিচালক গুণী গবেষক ভাই শায়খ সুলায়মান বিন আব্দুর রহমান আস-সানিও তাঁর মূল্যবান ব্যক্তিগত পাঠাগার থেকে আমাকে কিছু তথ্যসূত্র প্রদান করে সহযোগিতা করেছেন।

আলিমদের মধ্যে যারা আমার এই বইটি পাঠ করবেন, তাঁদের নিকট আমার বিনীত অনুরোধ—তাঁরা যেন তাঁদের পর্যবেক্ষণ ও সংশোধনী (استدراكات) লিখে আমার কাছে পাঠান, যাতে আমি অথবা আল্লাহ চাহেন তো অন্য কেউ গ্রন্থটি পুনঃপ্রকাশের সময় বিষয়গুলো বিবেচনা করতে পারি। আল্লাহ আমাদের সকলকে তাঁর পছন্দনীয় ও সন্তুষ্টির কাজে তাওফিক দান করুন।

পহেলা রজব, ১৩৭৮ হিজরি

লেখক / আব্দুর রহমান বিন ইয়াহইয়া আল-মুআল্লিমি
(খণ্ড: ১) আল-আনোয়ারুল কাশিফাহ লিমা ফী কিতাবি আদওয়াউ আলাস সুন্নাহ - ত সালাফিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৪)
بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله رب العالمين، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له وأشهد أن محمداً عبده ورسوله، اللهم صل على محمد وعلى آل محمد كما صليت على آل إبراهيم، وبارك على محمد وعلى آل محمد كما باركت على إبراهيم وعلى آل إبراهيم، إنك حميد مجيد.

أما بعد، فإنه وقع إلي كتاب جمعه الأستاذ محمود أبو رية وسماه «أضواء على السنة المحمدية» فطالعته وتدبرته، فوجدته جمعاً وترتيباً وتكميلاً للمطاعن في السنة النبوية، مع أشياء أخرى تتعلق بالمصطلح وغيره.

وقد ألف أخي العلامة الشيخ محمد عبد الرزاق حمزة - وهو على فراش المرض- عافاه الله- رداً مبسوطاً على كتاب أبي رية لم يكمل حتى الآن. ورأيت من الحق علي أن أضع رسالة أسوق فيها القضايا التي ذكرها أبو رية، وأعقب كل قضية ببيان الحق فيها متحرياً إن شاء الله تعالى الحق، وأسأل الله التوفيق والتسديد، إنه لا حول ولا قوة إلا به، وهو حسبي ونعم الوكيل.

عُني أبو رية بإطراء كتابه، فأثبت على لوحة: «دراسة محررة تناولت حياة الحديث المحمدي وتاريخه، وكل ما يتعلق به من أمور الدين والدنيا. وهذه الدراسة الجامعية التي قامت على قواعد التحقيق العلمي (؟!) هي الأولى في موضوعها، لم ينسج أحد من قبل على منوالها» .

وكرر الإطراء في مقدمته وخاتمته، وكنت أحب له لو ترفع عن ذلك وترك الكتاب يبنبيء عن نفسه، فإنه - عند العقلاء - أرفع له ولكتابه إن حمدوا الكتاب، وأخف للذم إذا لم يحمدوه.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, তিনি একক এবং তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসুল। হে আল্লাহ! আপনি মুহাম্মদ ও তাঁর পরিবারের ওপর রহমত বর্ষণ করুন যেমনটি আপনি ইব্রাহিমের পরিবারের ওপর করেছেন। এবং আপনি মুহাম্মদ ও তাঁর পরিবারের ওপর বরকত দান করুন যেমনটি আপনি ইব্রাহিমের পরিবারের ওপর করেছেন। নিশ্চয়ই আপনি অতি প্রশংসিত ও অতি সম্মানিত।

অতঃপর, আমার নিকট উস্তাদ মাহমুদ আবু রাইয়্যাহ সংকলিত একটি কিতাব এসেছে, যার নাম তিনি দিয়েছেন ‘আদওয়া আলা আস-সুন্নাহ আল-মুহাম্মাদিয়াহ’। আমি এটি অধ্যয়ন করেছি এবং এতে গভীরভাবে চিন্তা-ভাবনা করেছি। আমি এটিকে নবীজির সুন্নাহর প্রতি আপত্তিসমূহের একটি সংগ্রহ, বিন্যাস ও পূর্ণতাদানকারী হিসেবে পেয়েছি, সেই সাথে হাদিস শাস্ত্রের পরিভাষা (المصطلح) এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট বিষয়ও এতে রয়েছে।

আমার ভাই আল্লামা শেখ মুহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক হামজাহ—আল্লাহ তাঁকে সুস্থতা দান করুন—অসুস্থ থাকা অবস্থায় আবু রাইয়্যাহর কিতাবের একটি বিস্তারিত জবাব রচনা করেছেন, যা এখন পর্যন্ত সম্পন্ন হয়নি। আমি এটিকে আমার কর্তব্য বলে মনে করেছি যে, আমি একটি পুস্তিকা রচনা করব যাতে আবু রাইয়্যাহর উত্থাপিত বিষয়গুলো ধারাবাহিকভাবে উল্লেখ করব এবং আল্লাহ চাহেন তো সত্য অন্বেষণপূর্বক প্রতিটি বিষয়ের প্রকৃত সত্য বর্ণনা করব। আল্লাহর নিকট আমি তাওফিক ও সঠিক পথে অটল থাকার প্রার্থনা করছি। নিশ্চয়ই তাঁর সাহায্য ছাড়া কোনো উপায় বা শক্তি নেই। তিনিই আমার জন্য যথেষ্ট এবং উত্তম কর্মবিধায়ক।

আবু রাইয়্যাহ তাঁর কিতাবের অতি রঞ্জিত প্রশংসা করার ব্যাপারে যত্নশীল ছিলেন। তিনি বইয়ের প্রচ্ছদে লিখেছেন: ‘এটি একটি পরিমার্জিত গবেষণা যা মুহাম্মাদি হাদিসের জীবনপ্রবাহ ও ইতিহাস এবং দ্বীন ও দুনিয়া সংশ্লিষ্ট এর সাথে সম্পৃক্ত বিষয়াবলি নিয়ে আলোচনা করেছে। বৈজ্ঞানিক গবেষণা (التحقيق) এর মূলনীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত এই উচ্চতর শিক্ষা গবেষণামূলক কাজটি এর বিষয়বস্তুর দিক থেকে প্রথম; ইতিপূর্বে কেউ এই রীতিতে কাজ করেনি।’

তিনি তাঁর ভূমিকার শুরুতে এবং শেষেও এই অতিপ্রশংসার পুনরাবৃত্তি করেছেন। আমি পছন্দ করতাম যদি তিনি এ থেকে বিরত থাকতেন এবং কিতাবকেই নিজের পরিচয় দিতে দিতেন। কারণ বুদ্ধিমানদের নিকট এটিই তাঁর এবং তাঁর কিতাবের জন্য অধিক মর্যাদাপূর্ণ হতো যদি তারা কিতাবটির প্রশংসা করত; আর যদি তারা প্রশংসা না-ও করত, তবে তা নিন্দার মাত্রা অন্তত কমাত।
(খণ্ড: ১) আল-আনোয়ারুল কাশিফাহ লিমা ফী কিতাবি আদওয়াউ আলাস সুন্নাহ - ত সালাফিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৫)
بل استجراه حرصه على إطراء كتابه إلى أمور أكرهها له، تأتي الإشارة إلى بعضها قريباً إن شاء الله.

كان مقتضى ثقته بكتابه وقضاياه أن يدعو مخالفيه إلى الرد عليه إن استطاعوا، فما باله يتقيهم بسلاح يرتد عليه وعلى كتابه، إذ يقول ص14 «وقد ينبعث له من يتطاول إلى معارضته ممن تعفنت أفكارهم وتحجرت عقولهم» .

ويقول في آخر كتابه «وإن تضق به صدور الحشوية وشيوخ الجهل من زوامل الأسفار، الذين يخشون على علمهم المزور من سطوة الحق، ويخافون على كساد بضاعته العفنة التي يستأكلون بها أموال الناس بالباطل، أن يكتنفهم ضوء العلم الصحيح، ويهتك سترهم ضوء الحجة البالغة، فهذا لا يهمنا، وليس لمثل هؤلاء خطر عندنا ولا وزن في حسابنا» .

أما أنا، فأرجوا أن لا يكون لي ولا لأبي رية ولا لمتبوعيه عند القراء خطر ولا وزن، وأن يكون الخطر والوزن للحق وحده.

/ قال أبو رية ص 4 «تعريف بالكتاب» يعني كتابه طبعاً. ثم ذكر علو قدر الحديث النبوي، ثم قال: «وعلى أنه بهذه المكانة الجليلة والمنزلة الرفيعة، فإن العلماء والأدباء لم يولوه ما يستحق من العناية والدرس، وتركوا أمره لمن يسمون رجال الحديث يتداولونه فيما بينهم ويدرسونه على طريقتهم، وطريقة هذه الفئة التي اتخذتها لنفسها قامت على قواعد جامدة لا تتغير ولا تتبدل، فترى المتقدمين منهم وهم الذين وضعوا هذه القواعد قد حصروا عنايتهم في معرفة رواة الحديث والبحث على قدر الوسع في تاريخهم، ولا عليهم بعد ذلك إن كان ما يصدر عن هؤلاء الرواة صحيحاً في نفسه أو غير صحيح، معقولاً أو غير معقول، إذ وقفوا بعلمهم عند ما يتصل بالسند فحسب، أما المعنى فلا يعنيهم من أمره شيء … »

أقول: مراده بقوله «العلماء» المشتغلون بعلم الكلام والفلسفة، ولم يكن منهم أحد في الصحابة والمهتدين بهديهم من علماء التابعين وأتباعهم والذين يلونهم، هؤلاء
বরং তার কিতাবকে অতিশয় প্রশংসা করার প্রতি তার লোভ তাকে এমন কিছু বিষয়ে প্ররোচিত করেছে যা আমি তার জন্য অপছন্দ করি, ইনশাআল্লাহ নিকটেই এর কিছু বিষয়ের প্রতি ইঙ্গিত আসবে।

তার কিতাব এবং এর বিষয়বস্তুসমূহের ওপর তার আত্মবিশ্বাসের দাবি ছিল এই যে, তিনি তার বিরোধীদেরকে সক্ষম হলে এর প্রত্যুত্তর দিতে আহ্বান জানাবেন। কিন্তু তার কী হলো যে, তিনি এমন এক অস্ত্রের মাধ্যমে তাদের থেকে আত্মরক্ষা করছেন যা তার নিজের এবং তার কিতাবের ওপরই ফিরে আসে? তিনি ১৪ পৃষ্ঠায় বলেন: "যাদের চিন্তা পচে গেছে এবং যাদের বুদ্ধি স্থবির হয়ে গেছে, তাদের মধ্য থেকে এমন কেউ এর বিরোধিতায় উদ্যত হতে পারে।"

তিনি তার কিতাবের শেষে বলেন: "যদিও হাশউয়্যাহ এবং কিতাব বহনকারী অজ্ঞ শায়খদের অন্তর এতে সংকুচিত হয়ে যায়—যারা সত্যের প্রতাপে তাদের জালিয়াতিপূর্ণ ইলম সম্পর্কে আতঙ্কিত এবং তাদের পচা পণ্য অচল হয়ে যাওয়ার ভয়ে ভীত, যার মাধ্যমে তারা মানুষের সম্পদ অন্যায়ভাবে ভোগ করে; যে সঠিক (صحيح) ইলমের আলো তাদের ঘিরে ফেলবে এবং জোরালো দলিলের আলো তাদের পর্দা উন্মোচন করে দেবে। তবে এটি আমাদের কোনো মাথাব্যথা নয় এবং আমাদের নিকট এদের কোনো গুরুত্ব নেই, আর আমাদের হিসেবে এদের কোনো ওজনও নেই।"

আর আমি আশা করি যে, পাঠকদের নিকট আমার, আবু রাইয়্যাহর কিংবা তার অনুসারীদের কোনো গুরুত্ব বা ওজন থাকবে না; বরং সমস্ত গুরুত্ব ও ওজন থাকবে একমাত্র সত্যের জন্য।

আবু রাইয়্যাহ ৪ পৃষ্ঠায় 'কিতাবের পরিচিতি' শিরোনামে বলেছেন—অবশ্যই তার কিতাব উদ্দেশ্য। এরপর তিনি নববী হাদিসের উচ্চ মর্যাদার কথা উল্লেখ করেন, তারপর বলেন: "এই সুমহান মর্যাদা ও উচ্চ আসন সত্ত্বেও উলামা ও সাহিত্যিকগণ একে যথাযথ গুরুত্ব ও শিক্ষা প্রদান করেননি। তারা এর বিষয়টি তাদের হাতে ছেড়ে দিয়েছেন যাদেরকে হাদিসের বর্ণনাকারী (رواة) বলা হয়; তারা নিজেদের মধ্যে এটি আদান-প্রদান করেন এবং তাদের নিজস্ব পদ্ধতিতে এটি অধ্যয়ন করেন। এই গোষ্ঠীটি নিজেদের জন্য যে পদ্ধতি গ্রহণ করেছে তা কিছু অপরিবর্তনীয় ও অনমনীয় নিয়মনীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত। আপনি তাদের অগ্রবর্তীদের দেখবেন—যারা এই নিয়মনীতিগুলো প্রণয়ন করেছেন—তারা তাদের সমস্ত মনোযোগ হাদিসের বর্ণনাকারীদের (رواة) পরিচয় জানা এবং সাধ্যমতো তাদের ইতিহাস অনুসন্ধানের মধ্যে সীমাবদ্ধ রেখেছেন। এরপর ওই বর্ণনাকারীদের (رواة) থেকে যা বর্ণিত হচ্ছে তা স্বয়ং সঠিক (صحيح) কি না অথবা সঠিক (صحيح) নয় কি না, যুক্তিযুক্ত কি না অথবা অযৌক্তিক কি না—তাতে তাদের কিছু যায় আসে না। কেননা তারা তাদের ইলমকে কেবল সনদ (سند)-এর সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়ের ওপরই থামিয়ে দিয়েছেন। পক্ষান্তরে অর্থের ব্যাপারে কোনো কিছুই তাদের ভাবিয়ে তোলে না … "

আমি বলি: 'উলামা' বলতে তার উদ্দেশ্য হলো ইলমুল কালাম ও দর্শনে নিয়োজিত ব্যক্তিগণ। সাহাবী (صحابة) এবং তাদের হেদায়েতপ্রাপ্ত অনুসারী তাবিঈ (تابعين) ও তাবে-তাবিঈদের মধ্য থেকে উলামাদের কেউই তাদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না। তারা
(খণ্ড: ১) আল-আনোয়ারুল কাশিফাহ লিমা ফী কিতাবি আদওয়াউ আলাস সুন্নাহ - ত সালাফিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৬)
كلهم ممن سماهم «رجال الحديث» ومنهم عامة المشهورين عند الأمة بالعلم والإمامة من السلف. أولئك كلهم ليسوا عند أبي رية علماء، لأنهم لم يكونوا يخوضون في غوامض المعقول، بل يفرون منها وينهون عنها ويعدونها زيفاً وضلالاً وخروجاً عن الصراط المستقيم، وقنعوا بعقل العامة!

وأقول: مهما تكن حالهم فقد كانوا عقلاء العقل الذي ارتضاه الله عز وجل لأصحاب رسوله ورضيهم سبحانه لمعرفته ولفهم كتابه، ورضى ذلك منهم، وشهد لهم بأنهم (المؤمنون حقاً) ، (الراسخون في العلم) ، (خير أمة أخرجت للناس) وقال لهم في أواخر حياة رسوله: (اليوم أكملت لكم دينكم وأتممت عليكم نعمتي) ، فمن زعم أن عقولهم لم تكن مع تسديد الشرع لها كافية وافية بمعرفة الله تعالى وفهم كتابه ومعرفة ما لا يتم الإيمان ولا يكمل الدين إلا بمعرفته؛ فإنما طعن في الدين نفسه.

وكان التابعون المهتدون بهدي الصحابة أقرب الخلق إليهم عقلاً وعلماً وهدياً، وهكذا من اهتدى بهديهم من الطبقات التي بعدهم، وهؤلاء هم الذين سماهم أبو رية «رجال الحديث» .

قد يقال: أما نفي العلم والعقل عنهم فلا التفات إليه، ولكن هل راعوا العقل في قبول الحديث وتصحيحه؟

أقول: نعم، راعوا ذلك في أربعة مواطن: عند السماع، وعند التحديث، وعند الحكم على الرواة، وعند الحكم على الأحاديث، فالمتثبتون إذا سمعوا خبرا تمتنع صحته أو تبعد لم يكتبوه ولم يحفظوه، فإن حفظوه لم يحدثوا به، فإن ظهرت مصلحة لذكره ذكروه مع القدح فيه وفي الراوي الذي عليه تبعته. قال الإمام الشافعي في الرسالة ص 399: «وذلك أن يستدل على الصدق والكذب فيه بأن يحدث المحدث ما لا يجوز أن يكون مثله أو ما يخالفه ما هو أثبت أو أكثر دلالات بالصدق منه» . وقال الخطيب في الكفاية في علم الرواية ص 429: «باب وجوب إخراج المنكر والمستحيل من الأحاديث» . وفي الرواة جماعة يتسامحون عند السماع وعند التحديث، لكن الأئمة بالمرصاد للرواة، فلا تكاد تجد حديثاً بين البطلان
তারা সবাই এমন ব্যক্তি যাদেরকে তিনি "হাদিসের বর্ণনাকারীগণ" (رجال الحديث) হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং তাদের মধ্যে সালাফদের সেই সকল সর্বজনশ্রদ্ধেয় ব্যক্তিরাও রয়েছেন যারা উম্মাহর নিকট ইলম ও ইমামতের জন্য সুপরিচিত। আবু রায়্যার দৃষ্টিতে তারা কেউই আলেম নন, কারণ তারা যুক্তিনির্ভর গূঢ় বিষয়সমূহ নিয়ে তর্কে লিপ্ত হতেন না; বরং তারা সেগুলো থেকে দূরে থাকতেন, সেগুলো থেকে নিষেধ করতেন এবং সেগুলোকে অলীকতা, পথভ্রষ্টতা ও সরল পথ থেকে বিচ্যুতি বলে গণ্য করতেন। আর তারা সাধারণ মানুষের বুদ্ধিবৃত্তিতেই সন্তুষ্ট ছিলেন!

আর আমি বলি: তাদের অবস্থা যা-ই হোক না কেন, তারা সেই বুদ্ধিবৃত্তিক যোগ্যতার অধিকারী ছিলেন যা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁর রাসূলের সাহাবীগণের (صحابة) জন্য পছন্দ করেছেন এবং তাঁর পরিচয় ও তাঁর কিতাব অনুধাবনের জন্য তিনি তাদের মনোনীত করেছেন। তিনি তাদের সেই যোগ্যতা কবুল করেছেন এবং তাদের সম্পর্কে সাক্ষ্য দিয়েছেন যে তারা (প্রকৃত মুমিন), (জ্ঞানে সুগভীর) এবং (মানবজাতির জন্য শ্রেষ্ঠ উম্মত)। রাসূলুল্লাহর জীবনের শেষলগ্নে আল্লাহ তাআলা তাদের উদ্দেশ্য করে বলেছেন: (আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণাঙ্গ করলাম এবং তোমাদের ওপর আমার নিয়ামতকে সম্পূর্ণ করলাম)। সুতরাং যে ব্যক্তি ধারণা করে যে, শরীয়তের সঠিক নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও আল্লাহ তাআলাকে জানা, তাঁর কিতাব অনুধাবন করা এবং ঈমান ও দ্বীনের পূর্ণতার জন্য যা জানা অপরিহার্য তা অর্জনে তাদের বুদ্ধিবৃত্তি পর্যাপ্ত ও যথেষ্ট ছিল না; তবে সে মূলত স্বয়ং দ্বীনকেই আক্রমণ করল।

আর সাহাবীগণের (صحابة) নির্দেশনায় পরিচালিত তাবেয়ীগণ (تابعون) বুদ্ধি, জ্ঞান ও জীবনপদ্ধতির ক্ষেত্রে মানবজাতির মধ্যে তাদের সবচেয়ে নিকটবর্তী ছিলেন। একইভাবে পরবর্তী স্তরের (طبقات) যারা তাদের পথে চলেছেন তারাও। আর এরাই হলেন তারা যাদেরকে আবু রায়্যা "হাদিসের বর্ণনাকারীগণ" (رجال الحديث) বলে অভিহিত করেছেন।

বলা হতে পারে: তাদের থেকে জ্ঞান ও বুদ্ধিবৃত্তিকে অস্বীকার করার বিষয়টি তো পাত্তাই দেওয়ার যোগ্য নয়, তবে তারা কি হাদিস গ্রহণ ও তা বিশুদ্ধ (تصحيح) সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে বিবেক-বুদ্ধির প্রয়োগ করেছিলেন?

আমি বলি: হ্যাঁ, তারা চারটি ক্ষেত্রে তা বিবেচনা করেছেন: শ্রবণের (سماع) সময়, হাদিস বর্ণনার (تحديث) সময়, বর্ণনাকারীদের (رواة) ব্যাপারে হুকুম দেওয়ার সময় এবং হাদিসের ব্যাপারে হুকুম দেওয়ার সময়। সুতরাং যারা অত্যন্ত সতর্ক ও দৃঢ় (متثبتون) ছিলেন, তারা যখন এমন কোনো সংবাদ শুনতেন যার বিশুদ্ধতা (صحة) অসম্ভব বা সুদূরপরাহত, তারা তা লিখতেন না এবং মুখস্থও করতেন না। আর যদি তা মুখস্থ করতেন, তবে তা বর্ণনা (تحديث) করতেন না। কিন্তু যদি তা উল্লেখ করার কোনো কল্যাণকর দিক বা বিশেষ প্রয়োজন দেখা দিত, তবে তারা সেই হাদিসের এবং সংশ্লিষ্ট বর্ণনাকারীর (راوي) ত্রুটি বর্ণনা (قدح) সহকারেই তা উল্লেখ করতেন। ইমাম শাফেয়ী আর-রিসালা-র ৩৯৯ পৃষ্ঠায় বলেছেন: "আর তা হলো এতে সত্য ও মিথ্যার প্রমাণ এভাবে গ্রহণ করা যে, বর্ণনাকারী (محدث) এমন কিছু বর্ণনা করবেন যার অনুরূপ হওয়া সম্ভব নয় অথবা যা এমন বিষয়ের পরিপন্থী যা অধিকতর নির্ভরযোগ্য (أثبت) কিংবা যাতে সত্যের প্রমাণাদি অধিকতর বিদ্যমান।" আল-খতিব আল-বাগদাদি আল-কিফায়া ফি ইলমির রিওয়ায়াহ্-র ৪২৯ পৃষ্ঠায় বলেছেন: "অধ্যায়: হাদিসসমূহ থেকে মুনকার (منكر) ও অসম্ভব বিষয়সমূহ বর্জন করার আবশ্যকতা।" আর বর্ণনাকারীদের (رواة) মধ্যে এমন এক দল রয়েছে যারা শ্রবণ (سماع) ও হাদিস বর্ণনার (تحديث) ক্ষেত্রে শিথিলতা প্রদর্শন করেন, কিন্তু ইমামগণ বর্ণনাকারীদের (رواة) ব্যাপারে অত্যন্ত সতর্ক পাহারায় ছিলেন। ফলে আপনি বাতিল হওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট এমন কোনো হাদিস খুব একটা পাবেন না...
(খণ্ড: ১) আল-আনোয়ারুল কাশিফাহ লিমা ফী কিতাবি আদওয়াউ আলাস সুন্নাহ - ত সালাফিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৭)
إلا وجدت في سنده واحداً أو اثنين أو جماعة قد جرحهم الأئمة، والأئمة كثيراً ما يجرحون الراوي بخبر واحد منكر جاء به، فضلاً عن / خبرين أو أكثر.

ويقولون للخبر الذين تمتنع صحته أو تبعد: «منكر» أو «باطل» . وتجد ذلك كثيراً في تراجم الضعفاء، وكتب العلل والموضوعات، والمتثبتون لا يوثقون الراوي حتى يستعرضوا حديثه وينقدوه حديثا ًحديثاً.

فأما تصحيح الأحاديث فهم به أعنى وأشد احتياطا، نعم ليس كل من حكي عنه توثيق أو تصحيح متثبتاً، ولكن العارف الممارس يميز هؤلاء من أولئك.

هذا وقد عرف الأئمة الذين صححوا الأحاديث، أن منها أحاديث تثقل على بعض المتكلمين ونحوهم، ولكنهم وجدوها موافقة للعقل المعتد به في الدين، مستكملة شرائط الصحة الأخرى، وفوق ذلك وجدوا في القرآن آيات كثيرة توافقها أو تلاقيها، أو هي من قبيلها، قد ثقلت هي أيضاً على المتكلمين، وقد علموا أن النبي صلى الله عليه وسلم كان يدين بالقرآن ويقتدي به، فمن المعقول جداً أن يجيء في كلامه نحو ما في القرآن من تلك الآيات.

من الحقائق التي يجب أن لا يغفل عنها أن الفريق الأول وهم الصحابة ومن اهتدى بهديهم من التابعين وأتباعهم ومن بعدهم عاشوا مع الله ورسوله، فالصحابة مع النبي صلى الله عليه وسلم وهديه ومع القرآن، والتابعون مع القرآن والصحابة والسنة وهلم جرا. وأن الفريق الثاني وهم المتكلمون والمتفلسفون ونحوهم عاشوا مع النظريات والشبهات والأغلوطات والمخاصمات، والمؤمن يعلم أن الهدي بيد الله، وأنه سبحانه إذا شرع إلى الهدى سبيلاً فالعدول إلى غيره لن يكون إلا تباعداً عنه وتعرضاً للحرمان منه، وبهذا جاء القرآن، وعليه تدل أحوال السلف واعتراف بعض أكابرهم في أواخر أعمارهم، والدقائق الطبيعية شيء والحقائق الدينية شيء آخر، فمن ظن الطريق إلى تلك طريقاً إلى هذه فقد ضل ضلالاً بعيداً.
...ব্যতীত আপনি এর সনদের (سند) মধ্যে একজন, দুইজন বা এমন একদল বর্ণনাকারী পাবেন না যাদেরকে ইমামগণ অভিযুক্ত (جرح) করেছেন; আর ইমামগণ প্রায়শই একজন বর্ণনাকারীকে (راوٍ) তার বর্ণিত মাত্র একটি প্রত্যাখ্যাত (منكر) বার্তার (خبر) কারণে অভিযুক্ত (جرح) করেন, দুই বা ততোধিক বার্তার কথা তো বলাই বাহুল্য।

যে বার্তার (خبر) বিশুদ্ধতা (صحة) অসম্ভব বা সুদূরপরাহত, সেটিকে তারা ‘প্রত্যাখ্যাত’ (منكر) বা ‘বাতিল’ (باطل) বলে থাকেন। দুর্বল (ضعفاء) বর্ণনাকারীদের জীবনীগ্রন্থ, হাদিসের সূক্ষ্ম ত্রুটি (علل) এবং জাল (موضوعات) হাদিস বিষয়ক গ্রন্থগুলোতে আপনি এর বহু উদাহরণ পাবেন। যারা অত্যন্ত যাচাই-বাছাইকারী, তারা কোনো বর্ণনাকারীকে (راوٍ) ততক্ষণ পর্যন্ত নির্ভরযোগ্য (توثيق) বলে গণ্য করেন না যতক্ষণ না তারা তার বর্ণিত হাদিসসমূহ গভীরভাবে পর্যালোচনা করেন এবং প্রতিটি হাদিস আলাদা আলাদাভাবে বিশ্লেষণ করেন।

আর হাদিস বিশুদ্ধ (تصحيح) সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে তারা আরও অধিক নিবিষ্ট এবং অত্যন্ত সতর্ক। এটি সত্য যে, যার সম্পর্কেই নির্ভরযোগ্যতা (توثيق) বা বিশুদ্ধতার (تصحيح) বর্ণনা পাওয়া যায় সে-ই যে সর্বদা অত্যন্ত সতর্ক ও নির্ভুল হবে তা নয়; তবে অভিজ্ঞ ও দক্ষ বিশেষজ্ঞগণ তাদের মধ্যে পার্থক্য করতে সক্ষম হন।

যে সকল ইমাম হাদিসসমূহকে বিশুদ্ধ (تصحيح) হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন, তারা জানতেন যে এর মধ্যে এমন কিছু হাদিস রয়েছে যা কতিপয় কালামশাস্ত্রবিদ ও তাদের সমমনাদের নিকট অসহনীয় মনে হয়। কিন্তু তারা সেগুলোকে দ্বীনের বিচারে গ্রহণযোগ্য যুক্তির অনুকূল এবং বিশুদ্ধতার (صحة) অন্যান্য শর্তপূরণকারী হিসেবে পেয়েছেন। তদুপরি তারা কুরআনে এমন অনেক আয়াত পেয়েছেন যা এই হাদিসগুলোর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ অথবা সেগুলোর সমজাতীয়, যা কালামশাস্ত্রবিদদের নিকটও একইভাবে অসহনীয় মনে হয়েছিল। তারা জানতেন যে নবী (সা.) কুরআনের আদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন এবং তা অনুসরণ করতেন, তাই তাঁর বাণীতে কুরআনের ঐ সকল আয়াতের অনুরূপ বক্তব্য আসা অত্যন্ত স্বাভাবিক।

একটি ধ্রুব সত্য যা উপেক্ষা করা উচিত নয় তা হলো—প্রথম দলটি অর্থাৎ সাহাবীগণ এবং যারা তাদের নির্দেশিত পথে পরিচালিত হয়েছেন সেই তাবিঈ, তাবি-তাবিঈ ও তাদের পরবর্তী প্রজন্মগণ আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সান্নিধ্যে জীবন অতিবাহিত করেছেন। সাহাবীগণ নবী (সা.), তাঁর হিদায়াত ও কুরআনের সাথে ছিলেন; তাবিঈগণ ছিলেন কুরআন, সাহাবী ও সুন্নাহর (سنة) সাথে এবং এভাবেই ধারাটি অব্যাহত ছিল। অন্যদিকে দ্বিতীয় দলটি অর্থাৎ কালামশাস্ত্রবিদ, দার্শনিক ও তাদের সমমনাগণ বিভিন্ন তাত্ত্বিক মতবাদ, সংশয়, বিভ্রান্তি ও ঝগড়া-বিবাদের মধ্য দিয়ে জীবন কাটিয়েছেন। মুমিন ব্যক্তি জানেন যে হিদায়াত আল্লাহর হাতে। তিনি যখন হিদায়াতের কোনো পথ নির্দিষ্ট করে দেন, তখন তা পরিহার করে অন্য পথে চলা কেবল সত্য থেকে দূরে সরে যাওয়া এবং তা থেকে বঞ্চিত হওয়ার নামান্তর। কুরআন এই সত্যই নিয়ে এসেছে এবং সালাফদের অবস্থা ও শেষ জীবনে তাদের কতিপয় বড় মনীষীদের স্বীকারোক্তি একথাই প্রমাণ করে। প্রাকৃতিক সূক্ষ্ম বিষয়সমূহ এক জিনিস আর ধর্মীয় ধ্রুব সত্যসমূহ অন্য জিনিস। সুতরাং কেউ যদি মনে করে যে প্রথমটির পথই দ্বিতীয়টির পথ, তবে সে চরম পথভ্রষ্টতায় লিপ্ত হলো।
(খণ্ড: ১) আল-আনোয়ারুল কাশিফাহ লিমা ফী কিতাবি আদওয়াউ আলাস সুন্নাহ - ত সালাফিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৮)
واعلم أن أكثر المتكلمين لا يردون الأحاديث التي صححها أئمة الحديث، ولكنهم يتأولونها كما يتأولون الآيات التي يخالفون معانيها الظاهرة. لكن بعضهم رأى أن تأويل تلك الآيات والأحاديث تعسف ينكره العارف باللسان وبقانون الكلام وبطبيعة العصر النبوي، والذي يخشونه من تكذيب القرآن لا يخشونه من تكذيب الأحاديث، فأقدموا عليه وفي نفوسهم ما فيها، ولهم عدة مؤلفات في تأويل الأحاديث أو ردّها - قد طبع بعضها - فلم يهملوا الأحاديث كما زعم أبو رية.

قول أبي رية «والأدباء» يعني بهم علماء البلاغة، يريد أنهم لم يتصدوا لنقد الأحاديث بمقتضى البلاغة، قال في ص6 «ولما وصلت من دراستي إلى كتب الحديث ألفيت فيها من الأحاديث ما يبعد أن يكون في / ألفاظه أو معانيه أو أسلوبه من محكم قوله وبارع منطقه صلوات الله عليه … ومما كان يثير عجبي أنى إذا قرأت كلمة لأحد أجلاف العرب أهتز لبلاغتها، وتعروني أريحية من جزالتها، وإذا قرأت لبعض ما ينسب إلى النبي صلى الله عليه وسلم من قول لا أجده له هذه الأريحية ولا ذاك الاهتزاز، وكنت أعجب كيف يصدر عنه صلوات الله عليه مثل هذا الكلام المغسول من البلاغة، والعارى عن الفصاحة، وهو أبلغ من نطق بالضاد، أو يأتي منه مثل تلك المعاني السقيمة، وهو أحكم من دعا إلى رشاد» .

أقول: أما الأحاديث الصحيحة فليست هي بهذه المثابة، والاهتزاز والأريحية مما يختلف باختلاف الفهم والذوق والهوى، ولئن كان صادقاً في أن هذه حاله مع الأحاديث الصحيحة فلن يكون حاله مع كثير من آيات القرآن وسوره إلا قريباً من ذلك. هذا والبلاغة مطابقة الكلام لمقتضى الحال، والنبي صلى الله عليه وسلم كان همه إفهام الناس وتعليمهم على اختلاف طبقاتهم، وقد أمره الله تعالى أن يقول (وما أنا من المتكلفين) والكلمات المنقولة عن العرب ليست بشيء يذكر بالنسبة
জেনে রাখুন যে, অধিকাংশ ধর্মতত্ত্ববিদ (متكلمون) হাদিসের ইমামগণ কর্তৃক সহিহ (صحح) সাব্যস্ত করা হাদিসসমূহ প্রত্যাখ্যান করেন না, বরং তারা সেগুলোর ব্যাখ্যা (تأويل) করেন ঠিক যেমন তারা সেই আয়াতগুলোর ব্যাখ্যা (تأويل) করেন যেগুলোর প্রকাশ্য অর্থের সাথে তারা দ্বিমত পোষণ করেন। তবে তাদের মধ্যে কেউ কেউ মনে করেন যে, ওইসব আয়াত ও হাদিসের ব্যাখ্যা (تأويل) করা হলো একটি জবরদস্তি যা ভাষাবিদ, বাকরীতি ও নববী যুগের প্রকৃতি সম্পর্কে অবগত ব্যক্তিগণ অস্বীকার করেন। কুরআনকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করার ব্যাপারে তারা যতটুকু আশঙ্কা করেন, হাদিসকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করার ক্ষেত্রে তারা ততটুকু করেন না। ফলে তারা এর (হাদিস প্রত্যাখ্যানের) দুঃসাহস দেখিয়েছেন এবং তাদের অন্তরে যা ছিল তা তো রয়েই গেছে। হাদিসের ব্যাখ্যা (تأويل) বা সেগুলো প্রত্যাখ্যান করার বিষয়ে তাদের অনেকগুলো সংকলন রয়েছে - যার কিছু মুদ্রিত হয়েছে - সুতরাং তারা হাদিসকে সেভাবে উপেক্ষা করেননি যেমনটি আবু রাইয়্যাহ দাবি করেছেন।

আবু রাইয়্যাহর উক্তি "এবং সাহিত্যিকগণ" দ্বারা তিনি অলঙ্কারশাস্ত্রের (بلاغة) আলিমদের বুঝিয়েছেন; তিনি বোঝাতে চেয়েছেন যে, তারা অলঙ্কারশাস্ত্রের (بلاغة) নিরিখে হাদিসের সমালোচনায় (نقد) অবতীর্ণ হননি। তিনি ৬ষ্ঠ পৃষ্ঠায় বলেছেন, "আমি যখন আমার অধ্যয়নকালে হাদিসের কিতাবগুলোর নিকট পৌঁছলাম, তখন আমি সেগুলোতে এমন কিছু হাদিস পেলাম যার শব্দাবলি, অর্থ বা শৈলী মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুদৃঢ় (محكم) বাণী এবং তাঁর চমৎকার বাগ্মিতা থেকে অনেক দূরে থাকাটাই স্বাভাবিক … এবং আমার বিস্ময়ের বিষয় ছিল এই যে, যখন আমি কোনো অশিক্ষিত মরুবাসীর কথা পড়তাম, তখন তার অলঙ্কারশাস্ত্রের (بلاغة) সৌন্দর্যে শিহরিত হতাম এবং তার গাঁথুনির চমৎকারিত্বে আমি আপ্লুত হতাম। আর যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি সম্বন্ধযুক্ত কোনো কথা পড়তাম, তখন সেই তৃপ্তি বা শিহরণ পেতাম না। আমি আশ্চর্যান্বিত হতাম যে, কীভাবে তাঁর পক্ষ থেকে অলঙ্কারহীন ও বাগ্মিতা বর্জিত এমন কথা প্রকাশ পেতে পারে, অথচ তিনি ছিলেন বিশুদ্ধতম আরবিভাষী; অথবা কীভাবে তাঁর থেকে এমন ত্রুটিপূর্ণ (سقيمة) অর্থ আসতে পারে, অথচ তিনি ছিলেন হেদায়েতের পথে আহ্বানকারী সবচেয়ে প্রজ্ঞাবান ব্যক্তি।"

আমি বলছি: সহিহ (صحيحة) হাদিসগুলো এই স্তরের নয়। আর শিহরণ ও তৃপ্তি অনুভব করা এমন বিষয় যা বোধশক্তি, রুচি ও প্রবৃত্তির ভিন্নতার কারণে ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে। যদি তিনি সহিহ (صحيحة) হাদিসগুলোর ব্যাপারে তাঁর এই অবস্থার দাবিতে সত্যবাদী হয়ে থাকেন, তবে কুরআনের অনেক আয়াত ও সূরার ব্যাপারেও তাঁর অবস্থা এর কাছাকাছিই হবে। তাছাড়া অলঙ্কারশাস্ত্র (بلاغة) হলো পরিস্থিতি অনুযায়ী কথা বলা। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মূল লক্ষ্য ছিল বিভিন্ন স্তরের মানুষকে কথা বোঝানো এবং শিক্ষা দান করা। আল্লাহ তাআলা তাঁকে এই কথা বলার নির্দেশ দিয়েছেন যে, "এবং আমি কৃত্রিমতা অবলম্বনকারীদের অন্তর্ভুক্ত নই।" আর আরবদের থেকে বর্ণিত শব্দাবলি সেই তুলনায় উল্লেখযোগ্য কিছু নয়।
(খণ্ড: ১) আল-আনোয়ারুল কাশিফাহ লিমা ফী কিতাবি আদওয়াউ আলাস সুন্নাহ - ত সালাফিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৯)
إلى كلامهم كله، وإنما نقلت لطرافتها، ومقتضى ذلك أنه لم يستطرف من كلامهم غيرها. وكذلك المنقول من شعرهم قليل، وإنما نقل ما استجيد، والشعر مظنة التصنع البالغ، ومع ذلك قد تقرأ القصيدة فلا تهتز إلا للبيت والبيتين، ثم إن كثيراً مما نقل عن النبي صلى الله عليه وسلم روي بالمعنى كما يأتي، فأما سقم المعنى فقد ذكر علماء الحديث أنه من علامات الموضوع، كما نقله أبو رية نفسه ص 104.

وذكر ابن أبي حاتم في تقدمة (الجرح والتعديل) ص 351 في علامات الصحيح «أن يكون كلاماً يصلح أن يكون من كلام النبوة» فإن كان أبو رية يستسقم معاني الأحاديث الصحيحة فمن نفسه أُتي.

ومن يكُ ذا فم مرّ مريض … يجد مرّاً به العذبَ الزُّلالا

قوله: «أما المعنى فلا يعنيهم من أمره شيء» كذا قال، وقد أسلفتُ أن رعايتهم للمعنى سابقة، يراعونه عند السماع، وعند التحديث، وعند الحكم على الراوي، ثم يراعونه عند التصحيح، ومنهم من يتسامح في بعض ذلك، وهم معروفون كما تقدم. وقد قال أبو رية ص104: «ذكر المحققون أموراً كلية يعرف بها أن الحديث موضوع … » فذكر جميع ما يتعلق بالمعنى- نقلاً عنهم.

فإن قال: ولكن مصححي الأحاديث لم يراعوا ذلك.

قلت: أما المثبتون كالبخاري ومسلم فقد راعوا ذلك، بلى في كل منهما أحاديث يسيرة انتقدها بعض الحفاظ أو ينتقدها بعض الناس. ومرجع ذلك إما إلى اختلاف النظر، وإما إلى اصطلاح لهما يغفل عنه المنتقد، وإما إلى الخطأ الذي لا ينجو منه بشر، وقد انُتقدت عليهما أحاديث من جهة السند، فهل يقال لأجل ذلك إنهما لم يراعيا هذا أيضاً؟

/ قال ص5 «وعلى أنهم قد بذلوا أقصى جهدهم في دراسة علم الحديث من حيث روايته … فإنهم قد أهملوا جميعاً أمراً خطيراً … أما هذا كله … فقد انصرف عنه العلماء والباحثون، وتركوه أخباراً في بطون الكتب مبعثرة … » .
তাদের সমগ্র বক্তব্যের প্রতি নয়, বরং কেবল এর চমৎকারিত্বের কারণে তা উদ্ধৃত করা হয়েছে। এর দ্বারা এটিই প্রতীয়মান হয় যে, তাদের কথার মাঝে এটি ছাড়া অন্য কোনো চমৎকার অংশ পাওয়া যায়নি। একইভাবে তাদের কবিতা থেকে যা বর্ণিত হয়েছে তা পরিমাণে সামান্য; কেবল যা উৎকৃষ্ট মনে করা হয়েছে তা-ই বর্ণিত হয়েছে। কবিতা মূলত গভীর কৃত্রিমতার ক্ষেত্র, তবুও আপনি হয়তো একটি দীর্ঘ কাসিদা পাঠ করবেন কিন্তু এর একটি বা দুটি পংক্তি ছাড়া অন্য কোনোটি আপনাকে আলোড়িত করবে না। অতঃপর নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে যা বর্ণিত হয়েছে তার অনেক কিছুই মর্মানুসারে বর্ণিত (بالمنى) হয়েছে, যা সামনে বিস্তারিত আসবে। আর অর্থের অসংগতি বা ত্রুটি সম্পর্কে হাদিস বিশারদগণ উল্লেখ করেছেন যে, এটি জাল (موضوع) হওয়ার অন্যতম নিদর্শন, যেমনটি আবু রাইয়্যাহ নিজেও ১০৪ পৃষ্ঠায় উদ্ধৃত করেছেন।

ইবনে আবি হাতিম (আল-জারহ ওয়াত তাদিল) গ্রন্থের মুকাদ্দামায় ৩৫১ পৃষ্ঠায় সহিহ (صحيح) হাদিসের নিদর্শনাবলি সম্পর্কে উল্লেখ করেছেন যে, "তা এমন কথা হতে হবে যা নবুয়তের বাণী হওয়ার উপযুক্ত।" সুতরাং আবু রাইয়্যাহ যদি সহিহ (صحيح) হাদিসগুলোর অর্থকে ত্রুটিপূর্ণ মনে করেন, তবে তা তার নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গির ত্রুটি বা অসুস্থতা।

আর যার মুখ তিক্ত ও অসুস্থ থাকে … সে সুমিষ্ট স্বচ্ছ পানিকেও তিক্ত মনে করে।

তার উক্তি: "অর্থের বিষয়ে তাদের কোনো ভ্রূক্ষেপই ছিল না" — তিনি এমনটিই বলেছেন। অথচ আমি ইতিপূর্বে উল্লেখ করেছি যে, অর্থের প্রতি তাদের লক্ষ্য ছিল অগ্রগণ্য; তারা শ্রবণকালে, হাদিস বর্ণনা (تحديث) করার সময় এবং রাবি (راوي)-এর ওপর হুকুম প্রদানের সময় এটি বিবেচনা করতেন। অতঃপর হাদিস শুদ্ধিকরণ (تصحيح) বা সহিহ নির্ধারণের ক্ষেত্রেও তারা এটি বিবেচনা করতেন। তাদের মধ্যে কেউ কেউ এ ক্ষেত্রে কিছুটা শিথিলতা প্রদর্শন করেছেন, যারা ইতিপূর্বে উল্লেখিতদের মতো পরিচিত। আবু রাইয়্যাহ ১০৪ পৃষ্ঠায় বলেছেন: "গবেষকগণ এমন কিছু মৌলিক বিষয় উল্লেখ করেছেন যার দ্বারা হাদিস জাল (موضوع) হওয়া সম্পর্কে জানা যায় … " অতঃপর তিনি তাদের থেকে উদ্ধৃতি দিয়ে অর্থের সাথে সংশ্লিষ্ট যাবতীয় বিষয় উল্লেখ করেছেন।

তিনি যদি বলেন: কিন্তু যারা হাদিস সহিহ সাব্যস্ত করেছেন তারা এই বিষয়টির প্রতি লক্ষ্য রাখেননি।

আমি বলব: যারা প্রামাণ্য ও সুদৃঢ় ইমাম যেমন বুখারি ও মুসলিম, তারা অবশ্যই এই বিষয়ের প্রতি লক্ষ্য রেখেছেন। হ্যাঁ, তাঁদের উভয়ের কিতাবে এমন কিছু নগণ্য হাদিস রয়েছে যা কোনো কোনো হাফেজ (حفاظ) বা কোনো কোনো ব্যক্তি সমালোচনা করেছেন। এর কারণ হয় তো দৃষ্টিভঙ্গির ভিন্নতা, অথবা তাদের এমন কোনো পরিভাষা যা সমালোচকের নিকট অস্পষ্ট ছিল, কিংবা এমন কোনো ভুল যা থেকে কোনো মানুষই মুক্ত নয়। তাঁদের উভয়ের বর্ণিত হাদিসের সনদ (سند)-এর ওপরও সমালোচনা করা হয়েছে, তাহলে কি এ কারণে বলা হবে যে তারা সনদও বিবেচনা করেননি?

/ তিনি ৫ পৃষ্ঠায় বলেছেন: "তারা হাদিসের বর্ণনাগত (رواية) দিক নিয়ে জ্ঞান অর্জনে তাদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা ব্যয় করা সত্ত্বেও … তারা সবাই একটি গুরুতর বিষয় উপেক্ষা করেছেন … অথচ এই সবকিছু থেকে … ওলামায়ে কেরাম ও গবেষকগণ বিমুখ হয়েছেন এবং কিতাবসমূহের ভেতরে এগুলোকে বিক্ষিপ্ত সংবাদ হিসেবেই রেখে দিয়েছেন … "।
(খণ্ড: ১) আল-আনোয়ারুল কাশিফাহ লিমা ফী কিতাবি আদওয়াউ আলাস সুন্নাহ - ত সালাফিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১০)
يعني فجمعها هو في كتابه. وغالب ذلك قد تكفلت به كتب المصطلح، وسائره في كتب أخرى من تأليف المحدثين أنفسهم، ومنها ينقل أبو رية.

وقال ص6 «أسباب تصنيف هذا الكتاب الخ» إلى أن قال: «ومما راعني أني أجد في معاني كثير من الأحاديث ما لا يقبله عقل صريح» .

أقول: لا ريب أن في ما ينسب إلى النبي صلى الله عليه وسلم من الأخبار ما يرده العقل الصريح، وقد جمع المحدثون ذلك وما يقرب منه في كتب الموضوعات، وما لم يذكر فيها منه فلن تجد له إسناداً متصلاً إلا وفي رجاله ممن جرحه أئمة الحديث رجل أو أكثر، وزعم أن في الصحيحين شيئاً من ذلك سيأتي النظر فيه وقد تقدمت قضية العقل.

قال «ولا يثبته علم صحيح ولا يؤيده حس ظاهر أو كتاب متواتر» أقول: لا أدري ما فائدة هذا، مع العلم بأن ما يثبته العلم الصحيح أو يؤيده الحس الظاهر لابد أن يقبله العقل الصريح، وإن القرآن لا يؤيد ما لا يقبله العقل الصريح.

ثم قال: «كنت أسمع من شيوخ الدين عفا الله عنهم أن الأحاديث التي تحملها كتب السنة قد جاءت كلها على حقيقتها … »

أقول: العامة في باديتتا اليمن، والعامة من مسلمي الهند، إذا ذكرت لأحدهم حديثاُ قال: أصحيح هو؟ فإن قلت له: هو في سنن الترمذي- مثلاً- قال: هل جميع الأحاديث التي في الكتاب المذكور صحيحة؟ فهل هؤلاء أعلم من شيوخ الدين في مصر؟

ثم ذكر حديث «من كذب عليّ الخ» وقضايا أخرى ذكر أنها انكشفت له، أجمل القول فيها هنا على أن يفصلها بعد، فأخرت النظر فيها إلى موضع تفصيلها

ثم قال ص 13 «لما انكشف لي ذلك كله وغيره مما يحمله كتابنا، وبدت لي حياة الحديث المحمدي في صورة واضحة جلية تتراءى في مرآة مصقولة، أصحبت على بينة من أمر ما نسب إلى الرسول من أحاديث آخذ ما آخذ منه
অর্থাৎ, তিনি তা তাঁর কিতাবে সংকলন করেছেন। এর অধিকাংশের দায়ভার পরিভাষা (المصطلح) শাস্ত্রের কিতাবসমূহ গ্রহণ করেছে এবং অবশিষ্ট বিষয়গুলো মুহাদ্দিসদের নিজস্ব রচিত অন্যান্য কিতাবে বিদ্যমান, যা থেকে আবু রাইয়াহ উদ্ধৃতি দেন।

তিনি পৃষ্ঠা ৬-এ বলেছেন: "এই কিতাব রচনার কারণসমূহ ইত্যাদি" থেকে শুরু করে এই পর্যন্ত যে, "আমাকে যা আতঙ্কিত করেছে তা হলো আমি অনেক হাদিসের অর্থের মধ্যে এমন কিছু পাই যা স্বচ্ছ বিবেক (عقل صريح) গ্রহণ করে না।"

আমি বলি: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর প্রতি সম্বন্ধযুক্ত সংবাদগুলোর (الأخبار) মধ্যে নিঃসন্দেহে এমন কিছু রয়েছে যা স্বচ্ছ বিবেক (عقل صريح) প্রত্যাখ্যান করে। মুহাদ্দিসগণ সেই সব এবং তার কাছাকাছি পর্যায়ের বর্ণনাগুলোকে জাল (الموضوعات) হাদিসের কিতাবসমূহে সংকলন করেছেন। আর সেখানে যা উল্লিখিত হয়নি, সেগুলোর ক্ষেত্রে আপনি এমন কোনো অবিচ্ছিন্ন সনদ (إسناداً متصلاً) পাবেন না যার বর্ণনাকারীদের মধ্যে হাদিস শাস্ত্রের ইমামগণ কর্তৃক সমালোচিত (جرحه) একজন বা একাধিক ব্যক্তি নেই। আর সহীহাইনের মধ্যে এমন কিছু থাকার যে দাবি করা হয়েছে, সে ব্যাপারে সামনে পর্যালোচনা করা হবে এবং বিবেকের বিষয়টি ইতিপূর্বেই আলোচিত হয়েছে।

তিনি বলেছেন: "একে কোনো সঠিক জ্ঞান (علم صحيح) সাব্যস্ত করে না এবং কোনো প্রকাশ্য অনুভূতি বা মুতাওয়াতির (متواتر) কিতাব একে সমর্থন করে না।" আমি বলি: আমি জানি না এর ফায়দা কী, অথচ এটি সর্বজনবিদিত যে, যা সঠিক জ্ঞান (علم صحيح) সাব্যস্ত করে বা প্রকাশ্য অনুভূতি সমর্থন করে, তা স্বচ্ছ বিবেক (عقل صريح) অবশ্যই গ্রহণ করবে। আর কুরআন এমন কিছুকে সমর্থন করে না যা স্বচ্ছ বিবেক (عقل صريح) গ্রহণ করে না।

তারপর তিনি বলেন: "আমি দ্বীনি শায়েখদের—আল্লাহ তাদের ক্ষমা করুন—কাছে শুনতাম যে, সুন্নাহর কিতাবসমূহ যে হাদিসগুলো ধারণ করে আছে তার সবই তার প্রকৃত রূপে এসেছে … "

আমি বলি: আমাদের ইয়েমেনের পল্লী অঞ্চলের সাধারণ মানুষ এবং ভারতের সাধারণ মুসলিমদের কাছে আপনি যদি কোনো হাদিসের কথা উল্লেখ করেন, তবে তারা বলে: এটি কি সহিহ (صحيح)? আপনি যদি তাকে বলেন: এটি উদাহরণস্বরূপ সুনান আত-তিরমিজিতে আছে—তবে সে বলে: উক্ত কিতাবে থাকা সকল হাদিস কি সহিহ (صحيحة)? তবে কি তারা মিশরের দ্বীনি শায়েখদের চেয়েও বেশি জ্ঞানী?

তারপর তিনি "যে ব্যক্তি আমার ওপর মিথ্যা আরোপ করল..." সম্পর্কিত হাদিস এবং অন্যান্য বিষয় উল্লেখ করেছেন যা তাঁর কাছে উন্মোচিত হয়েছে বলে তিনি বর্ণনা করেছেন। তিনি এখানে বিষয়টি সংক্ষেপে বলেছেন যাতে পরে বিস্তারিত আলোচনা করা যায়, তাই আমি এর পর্যালোচনাকে বিস্তারিত আলোচনার স্থান পর্যন্ত পিছিয়ে দিয়েছি।

তারপর তিনি ১৩ পৃষ্ঠায় বলেন: "যখন আমার কাছে এই সবকিছু এবং আমার কিতাব যা ধারণ করে আছে তার অন্যান্য বিষয়গুলো উন্মোচিত হলো, আর মোহাম্মাদী হাদিসের জীবন আমার কাছে এক উজ্জ্বল ও স্পষ্ট রূপে প্রতিভাত হলো যা একটি মসৃণ আয়নায় দেখা যায়, তখন আমি রাসূলের প্রতি সম্বন্ধযুক্ত হাদিসগুলোর ব্যাপারে এমন এক স্পষ্ট প্রমাণের ওপর উপনীত হলাম যেখান থেকে আমি যা গ্রহণ করার তা গ্রহণ করি..."
(খণ্ড: ১) আল-আনোয়ারুল কাশিফাহ লিমা ফী কিতাবি আদওয়াউ আলাস সুন্নাহ - ত সালাফিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১১)
ونفسي راضية، وأدع ما أدع وقلبي مطمئن، ولا على في هذا أو ذلك حرج، أو جناح»

أقول: أما إنه بعد إطلاعه على ما نقله في كتابه هذا صار عارفا بتاريخ الحديث النبوي إجمالاً فهذا قريب، لولا أن هناك قضايا عظيمةيصورها في كتابه هذا على نقيض حقيقتها كما سنقيم عليه الحجة الواضحة إن شاء الله تعالى.

وأما أنه أصحب على بينة إلى آخر ما قال فهذه دعوى تحتمل تفسيرين: الأول: أنه أصبح يعرف بنظرة واحدة إلى الحديث من الأحاديث حقيقة حاله من الصحة قطعاً أو ظناً/ أو احتمالاً أو البطلان كذلك.

الثاني: أنه ساء ظنه بالحديث النبوي- إن لم يكن بالدين كله - فصار لا يراه إلا أداة يستغلها الناس لأهوائهم، فأصبح يأخذ منه ما يوافق هواه، ويرد ما يخالف هواه، بدون اعتبار لما في نفس الأمر من صحة أو بطلان.

من الجور أن نزعم أن مراد أبي رية هو ما تضمنه التفسير الأول، لأن ذلك باطل مكشوف، وذلك أن للقضية شطرين: الأول: أن يدع الحديث، الثاني: أنه يأخذ به.

فأما الشطر الأول، فالمسلم لا يدع الحديث وقلبه مطمئن، إلا إذا بان له أنه لا يصح، والذي في كتاب أبي رية مما ذكر أنه يدل على عدم الصحة، إما أن يقتضي امتناع الصحة قطعاً، كمناقضة الخبر للعقل الصريح أو للحس أو لنص القرآن، وإما أن يقتضي استبعادها فقط، والأول لا يحتاج الناس فيه إلى كتاب أبي رية هذا، والثاني لا يكفي، فإنه قد يثبت الخبر ثبوتاً يدفع الاستبعاد، إذن فثمرة مجهوده وكتابه بالنظر إلى هذا الشطر ضئيلة لا يليق التبجح بها.

وأما الشطر الثاني، فمن الواضح أن انتفاء الموانع الظاهرة كمناقضة العقل الصريح ونحوه إنما يفيد إمكان الصحة، ثم يحتاج بعد ذلك إلى النظر في السنة، فإن كان موثق الرجال، ظاهر الاتصال، قيل: صحيح الإسناد، ثم يبقى احتمال
"এবং আমার মন সন্তুষ্ট, আর আমি যা বর্জন করার তা প্রশান্ত চিত্তে বর্জন করছি; এ ব্যাপারে আমার কোনো সংকীর্ণতা বা গুনাহ নেই।"

আমি বলি: এই গ্রন্থে তিনি যা উদ্ধৃত করেছেন তা পাঠ করার পর তিনি সামগ্রিকভাবে নববী হাদিসের ইতিহাস সম্পর্কে অভিজ্ঞ হয়ে উঠেছেন—এ কথাটি সঠিক হওয়ার নিকটবর্তী হতো, যদি না তিনি তার এই গ্রন্থে এমন কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে তাদের প্রকৃত হাকিকতের বিপরীতে উপস্থাপন করতেন, যা আমরা ইনশাআল্লাহ সুস্পষ্ট দলিলের মাধ্যমে প্রমাণ করব।

আর তার এ কথা যে, তিনি "সুস্পষ্ট প্রমাণের ওপর উপনীত হয়েছেন" শেষ পর্যন্ত যা বলেছেন—এই দাবির দুটি ব্যাখ্যা হতে পারে: প্রথমটি হলো, তিনি যেকোনো হাদিসের প্রতি একবার দৃষ্টিপাত করেই সেটির সহীহ হওয়া (الصحة) সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে, প্রবল ধারণাবশত বা সম্ভাবনার ভিত্তিতে অথবা একইভাবে সেটির অসারতা (البطلان) সম্পর্কে অবগত হতে পারেন।

দ্বিতীয়টি হলো: নববী হাদিসের প্রতি তার কুধারণা তৈরি হয়েছে—যদি না তা পুরো দ্বীনের প্রতি হয়ে থাকে—যার ফলে তিনি হাদিসকে এমন একটি সরঞ্জাম ছাড়া আর কিছু মনে করেন না যা মানুষ তাদের খেয়ালখুশির জন্য ব্যবহার করে। ফলে তিনি তা থেকে কেবল তাই গ্রহণ করেন যা তার প্রবৃত্তির অনুকূল হয় এবং যা তার প্রবৃত্তির পরিপন্থী হয় তা প্রত্যাখ্যান করেন, বিষয়টির প্রকৃত বিশুদ্ধতা (صحة) বা অসারতা (بطلان) বিবেচনা না করেই।

এটি অবিচার হবে যদি আমরা দাবি করি যে আবু রাইয়্যার উদ্দেশ্য প্রথম ব্যাখ্যার অন্তর্ভুক্ত, কারণ সেটি এক সুস্পষ্ট অসারতা। কেননা বিষয়টি দুই ভাগে বিভক্ত: প্রথমত: হাদিস বর্জন করা, এবং দ্বিতীয়ত: তা গ্রহণ করা।

প্রথম ভাগের ক্ষেত্রে, একজন মুসলিম ততক্ষণ পর্যন্ত প্রশান্ত চিত্তে কোনো হাদিস বর্জন করেন না, যতক্ষণ না তার কাছে স্পষ্ট হয় যে সেটি সহীহ নয় (لا يصح)। আবু রাইয়্যার বইয়ে যা কিছু বিশুদ্ধ না হওয়ার (عدম الصحة) প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, তা হয় বিশুদ্ধ হওয়ার (الصحة) বিষয়টিকে নিশ্চিতভাবে অসম্ভব করে দেয়—যেমন কোনো সংবাদ (الخبر) যদি স্পষ্ট বুদ্ধিবৃত্তি, প্রত্যক্ষ অনুভূতি বা কুরআনের কোনো অকাট্য পাঠের (نص) পরিপন্থী হয়—অথবা তা কেবল বিশুদ্ধ হওয়াকে দূরবর্তী সম্ভাবনা হিসেবে গণ্য করে। প্রথমটির ক্ষেত্রে মানুষের আবু রাইয়্যার এই বইয়ের কোনো প্রয়োজন নেই, আর দ্বিতীয়টি যথেষ্ট নয়; কারণ অনেক সময় কোনো সংবাদ (الخبر) এমনভাবে প্রমাণিত হয় যা সেই দূরবর্তী হওয়ার সম্ভাবনাকে দূর করে দেয়। সুতরাং এই ভাগের বিচারে তার পরিশ্রম ও বইয়ের ফলাফল অতি নগণ্য যা নিয়ে গর্ব করা সাজে না।

আর দ্বিতীয় ভাগের ক্ষেত্রে, এটি স্পষ্ট যে স্পষ্ট বুদ্ধিবৃত্তিক বৈপরীত্যের মতো প্রকাশ্য বাধাগুলোর অনুপস্থিতি কেবল সহীহ হওয়ার (الصحة) সম্ভাবনাকেই নির্দেশ করে। এরপর সুন্নাহর (السنة) প্রতি দৃষ্টি দেওয়ার প্রয়োজন পড়ে; যদি সেটি নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী সংবলিত (موثق الرجال) এবং প্রকাশ্যভাবে নিরবচ্ছিন্ন (ظاهر الاتصال) হয়, তবে তাকে সহীহ সনদে বর্ণিত (صحيح الإسناد) বলা হয়। এরপরও একটি সম্ভাবনা থেকে যায়...
(খণ্ড: ১) আল-আনোয়ারুল কাশিফাহ লিমা ফী কিতাবি আদওয়াউ আলাস সুন্নাহ - ত সালাফিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১২)
العلة القادحة بما فيه من الشذوذ الضار، والتفرد الذي لا يحتمل.

والنظر في ذلك هو كما قال أبو رية ص 302 «لا يقوم به إلا من كان له فهم ثاقب وحفظ واسع، ومعرفة تامة بالأسانيد والمتون وأحوال الرواة» وهذه درجة لا تنال بمجهود أبي رية ولا بأضعاف أضعافه، فبان يقيناً أن أبا رية لا يمكنه الاستقلال بتصحيح حديث، بل كتابه ينادي عليه أنه لا يمكنه أن يستقل بتصحيح إسناد. إذن فلم يفده مجهوده شيئاً في هذا الشطر، وبقي فيه كما كان عالة على تصحيح علماء الحديث. هذا حال التفسير الأول.

وأما التفسير الثاني فلا أدري، غير أنه يشهد له صنيع أبي رية في ما يأتي من كتابه من رد الأحاديث والأخبار الثابتة، والاحتجاج كثيراً بالضعيفة والواهية والمكذوبة، والله أعلم.

قال ص 13 «ولا يتوهمن أحد أني بدع في ذلك، فإن علماء الأمة لم يأخذوا بكل حديث نقلته إليهم كتب السنة، فليسعني ما وسعهم بعد ما تبين لي ما تبين لهم، وهذا أمر معلوم لا يختلف فيه عالم، اللهم إلا الحشوية الذين يؤمنون بكل ما حمل سيل الرواية، سواء كان صحيحاً أم غير صحيح، ما دام قد ثبت سنده على طريقتهم»

أقول: لم يجهل أحد من أهل العلم ما قدمته قريباً في شأن صحة الحديث، ولكنهم لا يجيزون مخالفة حديث تبين إمكان / صحته ثم ثبت صحة إسناده ولم يعلم ما يقدح فيه أو يعارضه. وأبو رية يعيب عليهم هذا، ويبيح لنفسه أن يعارض نصوص القرآن وإجماع أهل الحق بأحاديث وأخبار وحكايات لا يعرف حال أسانيدها، ومنها الضعيف والواهي والساقط والكذب، ويكثر من ذلك كما ستراه

قد يقال: ربما يدّعي أنه أصبحت له ملكة وذوق يعرف بهما الصحيح بدون معرفة سند ولا غيره!

أقول: هذه دعوى لا تقع من عاقل يحترم عقول
ক্ষতিকারক ত্রুটি (العلة), ক্ষতিকর বৈসাদৃশ্য (الشذوذ), এবং এমন একক বর্ণনা (التفرد) যা গ্রহণযোগ্য নয়।

এ বিষয়ে পর্যবেক্ষণ হলো আবু রাইয়াহ্ এর ৩০২ পৃষ্ঠায় বলা বক্তব্যের মতো: "তীক্ষ্ণ প্রজ্ঞা, ব্যাপক স্মৃতিশক্তি, এবং সনদসমূহ (الأسانيد), মূল পাঠসমূহ (المتون) ও বর্ণনাকারীদের (الرواة) অবস্থা সম্পর্কে পূর্ণ জ্ঞান না থাকলে কেউ এতে সক্ষম হয় না।" এটি এমন এক স্তর যা আবু রাইয়াহ্-এর প্রচেষ্টায় বা এর বহুগুণ প্রচেষ্টাতেও অর্জিত হয় না। সুতরাং এটা নিশ্চিতভাবে স্পষ্ট হয়ে গেছে যে, আবু রাইয়াহ্-এর পক্ষে স্বতন্ত্রভাবে কোনো হাদিসকে সহিহ সাব্যস্ত (تصحيح) করা সম্ভব নয়; বরং তার কিতাবই ঘোষণা দিচ্ছে যে, তার পক্ষে স্বতন্ত্রভাবে কোনো সনদের (إسناد) বিশুদ্ধতা নিরূপণ (تصحيح) করাও সম্ভব নয়। ফলে এই অংশে তার শ্রম কোনো কাজে আসেনি এবং তিনি এ বিষয়ে হাদিস বিশারদগণের সহিহ নির্ধারণের ওপরই নির্ভরশীল থেকেছেন। এটিই হলো প্রথম ব্যাখ্যার অবস্থা।

আর দ্বিতীয় ব্যাখ্যার ব্যাপারে আমি জানি না, তবে তার কিতাবের পরবর্তী অংশগুলোতে আবু রাইয়াহ্-এর কর্মপদ্ধতি এর সাক্ষ্য দেয়; যেখানে তিনি প্রমাণিত (الثابتة) হাদিস ও বর্ণনাগুলোকে প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং দুর্বল (الضعيفة), ভিত্তিহীন (الواهية) ও বানোয়াট (المكذوبة) বর্ণনাগুলো দ্বারা প্রচুর দলিল পেশ করেছেন। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।

তিনি ১৩ পৃষ্ঠায় বলেছেন: "কেউ যেন মনে না করেন যে আমি এ বিষয়ে নতুন কিছু করছি; কেননা উম্মতের আলেমগণ হাদিসের কিতাবসমূহে বর্ণিত প্রতিটি হাদিসকেই গ্রহণ করেননি। তাদের কাছে যা স্পষ্ট হয়েছিল তা আমার কাছে স্পষ্ট হওয়ার পর তারা যে পথে চলেছেন তা আমার জন্য যথেষ্ট। এটি একটি সর্বজনবিদিত বিষয় যা নিয়ে কোনো আলেম দ্বিমত পোষণ করেন না; তবে হাশাবিয়াগণ ব্যতীত, যারা বর্ণনার (الرواية) স্রোতে যা আসে তার সবকিছুতেই বিশ্বাস করে, তা সহিহ (صحيح) হোক বা না হোক, যতক্ষণ পর্যন্ত তাদের তরিকায় তার সনদ (سنده) প্রমাণিত থাকে।"

আমি বলছি: হাদিসের বিশুদ্ধতা (صحة الحديث) সম্পর্কে আমি যা পূর্বে উল্লেখ করেছি তা কোনো আলেমই অজানা নন। কিন্তু তারা এমন কোনো হাদিসের বিরোধিতা করা বৈধ মনে করেন না যার বিশুদ্ধ হওয়ার সম্ভাবনা স্পষ্ট হয়েছে, অতঃপর তার সনদ (إسناده) সহিহ হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে এবং যাতে ত্রুটিযুক্তকারী (العلة) বা বিরোধপূর্ণ কিছু পাওয়া যায়নি। আবু রাইয়াহ্ তাদের এই অবস্থানের সমালোচনা করেন, অথচ তিনি নিজে কুরআনের অকাট্য নস এবং আহলে হকের ইজমার বিপরীতে এমন সব হাদিস, তথ্য ও গল্পের মাধ্যমে বিরোধিতা করাকে বৈধ মনে করেন যেগুলোর সনদসমূহের (أسانيدها) অবস্থা জানা নেই। আর এগুলোর মধ্যে দুর্বল (الضعيف), ভিত্তিহীন (الواهي), বর্জিত (الساقط) এবং মিথ্যা (الكذب) বর্ণনাও রয়েছে, আর তিনি এমনটি প্রচুর পরিমাণে করে থাকেন যা আপনি সামনে দেখতে পাবেন।

হয়তো বলা হতে পারে: সম্ভবত তিনি দাবি করেন যে, তার এমন এক প্রজ্ঞা ও রুচি তৈরি হয়েছে যার মাধ্যমে তিনি সনদ (سند) বা অন্য কিছু জানা ছাড়াই সহিহ (الصحيح) হাদিস চিনতে পারেন!

আমি বলছি: এটি এমন এক দাবি যা নিজের বুদ্ধিবৃত্তিকে সম্মান করে এমন কোনো বিবেকবান ব্যক্তির কাছ থেকে আসা সম্ভব নয়।
(খণ্ড: ১) আল-আনোয়ারুল কাশিফাহ লিমা ফী কিতাবি আদওয়াউ আলাস সুন্নাহ - ত সালাফিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
الناس، وقد قال أبو رية ص 21 «قد ثبت أن النبي صلى الله عليه وسلم كان يصدق بعض ما يفتريه المنافقون» ونقل ص 142 عن صاحب المنار محتجاً به قوله «والنبي صلى الله عليه وسلم ما كان يعلم الغيب، فهو كسائر البشر يحمل كلام الناس على الصدق إذا لم تحف به شبهة، وكثيراً ماصدق المنافقين والكفار في أحاديثهم» فهل يدّعي أبو رية لنفسه درجة لم يبلغها النبي صلى الله عليه وسلم ولا غيره؟ إذن فلن نعدم ممن عرف ما في كتابه هذا وأضعاف أضعافه من يعارضه قائلاً: قد حصل لي ملكة وذوق أعلى مما حصل لك، وأنا أعرف بطلان هذا الذي احتججت به، فتسقط الدعويان، ويقوم العقل والعدل. أما ذكره عن علماء الأمة فستأتي حكايته في ذلك ونبين حالها إن شاء الله.

والحق أنه لم يكن في علماء الأمة المرضيين من يرد حديثاً بلغه إلا لعذر يحتمله له أكثر أهل العلم على الأقل، ولو كان حال أبي رية في الرد والعذر كحال أحدهم لساغ أن يقال: يسعه ما يسعهم، وإن كان البون شاسعاً جداً. ولكن له شأن آخر كما يأتي.

قال: قال ابن أبي ليلى «لا يفقه الرجل في الحديث حتى يأخذ منه ويدع» وقال عبد الرحمن بن مهدي «لا يكون إماماً في الحديث من تتبع شواذ الحديث، أو حدث بكل ما يسمع، أوحدث عن كل أحد»

أقول: هذا موجه إلى فريق من الرواة كانوا يكتبون ويروون كل ما يسمعون من الأخبار، يرون أنه ليس عليهم إلا الأمانة والصدق وبيان الأسانيد، تاركين النقد والفقه في الحديث والإمامة لغيرهم. فأما الأخذ والرد للعمل والاحتجاج، فكل أحد يعلم أنه يؤخذ ما يصح، ويترك ما لا يصح. ومر قريباً حال أو رية في هذا.

قال أبو رية «ولما كان هذا البحث لم يعن به أحد من قبل كما قلنا … » أقول: قد تقدم أن الذي يسوغ له ادعاؤه هو أنه جمع في كتابه هذا ما لم يجمع
মানুষ, আর আবু রাইয়্যাহ ২১ পৃষ্ঠায় বলেছেন: "এটি প্রমাণিত যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মুনাফিকদের তৈরি করা কিছু মিথ্যাচারকে সত্য বলে গ্রহণ করতেন।" তিনি ১৪২ পৃষ্ঠায় মানার-এর লেখকের উদ্ধৃতি দিয়ে তাঁর স্বপক্ষে দলিল হিসেবে পেশ করেছেন যে: "আর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) অদৃশ্যের জ্ঞান (غيب) জানতেন না, তিনি অন্যান্য সাধারণ মানুষের মতোই ছিলেন; কোনো সন্দেহ না থাকলে তিনি মানুষের কথাকে সত্য বলে ধরে নিতেন এবং তিনি প্রায়ই মুনাফিক ও কাফিরদের কথা তাদের সংলাপে সত্য বলে বিশ্বাস করতেন।" তাহলে আবু রাইয়্যাহ কি নিজের জন্য এমন এক স্তরের দাবি করছেন যা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বা অন্য কেউ অর্জন করতে পারেননি? যদি তাই হয়, তবে এমন লোকের অভাব হবে না যারা এই বইটির বিষয়বস্তু এবং এর বহুগুণ বেশি সম্পর্কে অবগত হয়ে তার বিরোধিতা করে বলবে: "আমার এমন এক দক্ষতা (ملكة) ও রসবোধ তৈরি হয়েছে যা তোমার চেয়েও উচ্চতর, আর আমি জানি যে তুমি যা দিয়ে দলিল দিয়েছ তা বাতিল (باطل)।" ফলে উভয় দাবিই নাকচ হয়ে যাবে এবং বুদ্ধি ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে। উম্মাহর আলেমদের সম্পর্কে তিনি যা উল্লেখ করেছেন, সে সম্পর্কে তাঁর বর্ণনা সামনে আসবে এবং ইনশাআল্লাহ আমরা তার স্বরূপ ব্যাখ্যা করব।

প্রকৃত সত্য হলো, উম্মাহর গ্রহণযোগ্য আলেমদের মধ্যে এমন কেউ ছিলেন না যিনি তাঁর কাছে পৌঁছানো কোনো হাদিস প্রত্যাখ্যান (رد) করেছেন—যদি না এমন কোনো ওজর থাকে যা অন্তত অধিকাংশ আলেম গ্রহণযোগ্য মনে করেন। যদি হাদিস প্রত্যাখ্যান এবং ওজরের ক্ষেত্রে আবু রাইয়্যাহর অবস্থা তাঁদের কারও মতো হতো, তবে বলা যেত: তাঁদের জন্য যা প্রযোজ্য, তাঁর জন্যও তা-ই প্রযোজ্য; যদিও ব্যবধান অনেক বেশি। কিন্তু তাঁর বিষয়টি ভিন্ন, যা সামনে আসছে।

তিনি বলেছেন: ইবনে আবি লায়লা বলেছেন, "কোনো ব্যক্তি হাদিস শাস্ত্রে ততক্ষণ পর্যন্ত প্রজ্ঞা (فقه) অর্জন করতে পারে না, যতক্ষণ না সে তা থেকে কিছু গ্রহণ করে এবং কিছু বর্জন (يدع) করে।" আর আবদুর রহমান বিন মাহদী বলেছেন, "সেই ব্যক্তি হাদিসের ইমাম (إمام) হতে পারে না, যে ব্যক্তি হাদিসের বিরল বর্ণনাগুলোর (شواذ) পেছনে ছোটে, অথবা যা শোনে তার সবই বর্ণনা করে, অথবা প্রত্যেকের কাছ থেকেই হাদিস বর্ণনা (حدث) করে।"

আমি বলি: এটি বর্ণনাকারীদের (رواة) এমন একটি দলের প্রতি নির্দেশিত যারা শোনা মাত্রই সব সংবাদ লিখে রাখতেন এবং বর্ণনা করতেন; তারা মনে করতেন যে তাদের দায়িত্ব কেবল আমানতদারি, সত্যবাদিতা এবং সনদ (أسانيد) বর্ণনা করা, আর হাদিসের সমালোচনা (نقد), প্রজ্ঞা (فقه) ও ইমামতি (إمامة) অন্যের জন্য ছেড়ে দিতেন। আমল ও দলিল হিসেবে গ্রহণের (احتجاج) জন্য গ্রহণ বা প্রত্যাখ্যানের ক্ষেত্রে প্রত্যেকেই জানেন যে, যা বিশুদ্ধ (صحيح) তা গ্রহণ করা হয় এবং যা বিশুদ্ধ নয় তা বর্জন করা হয়। এ বিষয়ে আবু রাইয়্যাহর অবস্থা একটু আগেই অতিক্রান্ত হয়েছে।

আবু রাইয়্যাহ বলেছেন, "যেহেতু এই গবেষণাটি নিয়ে ইতিপূর্বে আমরা যেভাবে বলেছি সেভাবে কেউ মনোযোগ দেয়নি … " আমি বলি: আগেই বলা হয়েছে যে, তাঁর এই দাবির পেছনে যুক্তি হলো এই যে, তিনি তাঁর এই বইটিতে এমন কিছু জমা করেছেন যা অন্য কেউ জমা করেনি।
(খণ্ড: ১) আল-আনোয়ারুল কাশিফাহ লিমা ফী কিতাবি আদওয়াউ আলাস সুন্নাহ - ত সালাফিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
في كتاب من قبل، والقناعة راحة.

ثم قال «وكان يجب أن يفرد بالتأليف منذ ألف سنة عندما ظهرت كتب الحديث المعروفة … حتى توضع هذه الكتب في مكانها الصحيح من الدين، ويعرف الناس حقيقة ما روي فيها من أحاديث … »

أقول: إن ما جمعه في كتابه من كلام غيره منه ماهو مقبول، ومنه ما يعلم حاله من رسالتي هذه، فأما المقبول فمن مؤلفات/ المحدثين نقل، وفيها أكثر منه وأنفع وأرفع، وأما المرذول فليس له حساب وقد نبهوا عليه في مؤلفاتهم، وكثرة الباطل نقصان، غير أن للباطل هواة: منهم طائقة يثني عليها أبو رية من قلبه، وطائفة لا يرضها ولكنه رأى أن في كلامه ما يعجبها فراح يتملقها في مواضع رجاء أن يروج لديها كتابه كما راج لديها كتاب فلان.

ثم قال ص 14 «ولأن هذا البحث كما قلنا طريف أو غريب»

أقول: قد خجلت من كثرة مناقشة أبي رية في إطرائه لكتابه، مع أنه عنده بمنزلة ولده يتعزى به عن ولده العزيز مصطفى، ولذلك جعله باسمه كما ذكره أول الكتاب تحت عنوان «الاهداء» وأحسبه يتصور أن الرد على كتابه معناه أن يلحق هذا الولد بمصطفى، ولذلك يقول هنا «وقد ينبعث له من يتطاول إلى معارضته ممن تعفنت أفكارهم وتحجرت عقولهم» ولو قال: قلوبهم لكان أنسب لحاله.

قال «فقد استكثرت فيه من الأدلة التي لا يرقى الشك إليها، وأتزيد من الشواهد التي لا ينال الضعف منها»

أقول: سوف ترى إذا انجلى الغبار … أفرس تحتك أم حمار!

قال: «وبرغمي أن أنصرف في هذا الكتاب عن النقد والتحليل، وهي الأصول التي يقوم العلم الصحيح في هذا العصر عليها»
পূর্ববর্তী একটি গ্রন্থে এবং অল্পে তুষ্টিই হলো শান্তি।

তারপর তিনি বলেন, "হাজার বছর আগে যখন সুপরিচিত হাদিস গ্রন্থসমূহ প্রকাশিত হয়েছিল, তখনই উচিত ছিল এই বিষয়ে স্বতন্ত্র গ্রন্থ রচনা করা … যাতে দ্বীনের মধ্যে এই গ্রন্থগুলোকে তাদের সঠিক স্থানে রাখা যায় এবং মানুষ এগুলোতে বর্ণিত হাদিসসমূহের প্রকৃত অবস্থা জানতে পারে …"

আমি বলি: তিনি তার গ্রন্থে অন্যদের যে সকল কথা সংগ্রহ করেছেন, তার কিছু হলো গ্রহণযোগ্য (مقبول), আর কিছু এমন যার অবস্থা আমার এই রিসালাহ (প্রবন্ধ) থেকে জানা যাবে। আর যা গ্রহণযোগ্য (مقبول), তা মুহাদ্দিসগণের গ্রন্থসমূহ থেকে উদ্ধৃত, যা তাঁর সংকলনের চেয়ে অনেক বেশি, অধিক উপকারী এবং উচ্চতর। আর যা বর্জনীয় (مرذول), তার কোনো মূল্য নেই এবং তাঁরা তাঁদের গ্রন্থসমূহে সে বিষয়ে সতর্ক করেছেন। মিথ্যার (باطل) আধিক্য মূলত ঘাটতিই বাড়ায়। তবে বাতিলের (باطل) কিছু অনুরাগী রয়েছে: তাদের মধ্যে একদল এমন যাদেরকে আবু রাইয়্যাহ অন্তরের অন্তস্তল থেকে প্রশংসা করেন, আর অন্য একদলকে তিনি পছন্দ করেন না, কিন্তু তিনি দেখলেন যে তার কথায় এমন কিছু আছে যা তাদের মুগ্ধ করবে; তাই তিনি কিছু জায়গায় তাদের তোষামোদ করতে শুরু করলেন এই আশায় যে, অমুকের বই যেভাবে তাদের কাছে জনপ্রিয়তা পেয়েছে, তার বইটিও যেন তাদের কাছে একইভাবে জনপ্রিয়তা পায়।

তারপর তিনি ১৪ পৃষ্ঠায় বলেন, "যেহেতু এই গবেষণাটি, যেমনটি আমরা বলেছি, অভিনব অথবা বিরল (غريب)।"

আমি বলি: নিজের গ্রন্থের প্রতি আবু রাইয়্যাহর অত্যধিক প্রশংসা নিয়ে বারবার আলোচনা করতে আমি লজ্জিত বোধ করছি। যদিও এটি তার কাছে তার সন্তানের মতো, যার মাধ্যমে তিনি তার প্রিয় পুত্র মোস্তফার শোক কাটিয়ে ওঠার সান্ত্বনা খোঁজেন। এ কারণেই তিনি বইটির নামকরণ তার নামে করেছেন, যেমনটি তিনি বইয়ের শুরুতে 'উৎসর্গ' শিরোনামে উল্লেখ করেছেন। আমি মনে করি তিনি কল্পনা করেন যে, তার বইয়ের প্রতিবাদ করার অর্থ হলো এই সন্তানকেও মোস্তফার কাছে পাঠিয়ে দেওয়া। আর সেই কারণেই তিনি এখানে বলেন, "যাদের চিন্তা পচে গেছে এবং বুদ্ধি পাষাণ হয়ে গেছে, তাদের মধ্য থেকে কেউ হয়তো এর বিরোধিতা করার ধৃষ্টতা দেখাতে পারে।" তিনি যদি 'তাদের অন্তরসমূহ' বলতেন, তবে তা তার অবস্থার জন্য অধিক মানানসই হতো।

তিনি বলেন, "আমি এতে এমন সব দলীলের সমাহার ঘটিয়েছি যাতে কোনো সন্দেহের অবকাশ নেই এবং এমন সব সমর্থনকারী বর্ণনা (شواهد) বাড়িয়েছি যা দুর্বলতা (ضعف) স্পর্শ করতে পারে না।"

আমি বলি: ধুলোবালি যখন সরে যাবে তখন আপনি দেখতে পাবেন … আপনার নিচে ঘোড়া না কি গাধা!

তিনি বলেন: "অনিচ্ছা সত্ত্বেও আমি এই গ্রন্থে সমালোচনা (نقد) ও বিশ্লেষণের দিকে মনোনিবেশ করছি, যা এমন সব মূলনীতি (أصول) যার ওপর বর্তমান যুগের সঠিক (صحيح) জ্ঞান প্রতিষ্ঠিত।"
(খণ্ড: ১) আল-আনোয়ারুল কাশিফাহ লিমা ফী কিতাবি আদওয়াউ আলাস সুন্নাহ - ত সালাফিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
أقول: قد ذكر هو ص 327 أن علماء الحديث قد عرفوا تلك الأصول ونقل عن صاحب المنار قوله «إن لعلماء فقه الحديث من وراء نقد أسانيد الأخبار والآثار نقدا آخر لمتونها.. ويشاركهم في هذا النوع من النقد رجال الفلسفة والأدب والتاريخ ويسمونه في عصرنا النقد التحليلي» فإن كان أبو رية يحسنه فإنماً عدل عنه ليتسع له المجال فيما يكره أن يتضح للمثقفين

لكن قال بعد هذا «وقد اضطررت إلى ذلك لأن قومنا حديثوا عهد بمثل هذا البحث، على أني أرجو أن يكون قد انقضى ذلك العهد الذي لا يشيع فيه إلا النفاق العلمي والرثاء الديني، ولا ينشر فيه إلا ما يروج بين الدهماء ويرضي عنه من يزعمون للناس زورا أنهم من المحدِّثين أو العلماء» وهذا يشعر أو يصرح بأنه يريد بالنقد التحليلي أمراً آخر انصرف برغمه عنه اتقاء لعلماء المسلمين وعامتهم وأخذا بنصيب مما يسميه بالنفاق العلمي والرثاء الديني. وفي كتابه أشياء تدل على قرب وأشياء تلد على بعد، وعبارته هذه ونحوها قريب من الضرب الأول وتلفت النظر إلى الثاني، فمنه ما مر في أول كتابه من الإشارة إلى أن جميع الذين اشتهروا في القرون الأولى بالعلم والإمامة ليسوا عنده علماء. ويأتي كلامه في الصحابة رضي الله عنهم وهجوه السوقى لأبي هريرة رضي الله عنه ومحاولته قلب محاسنه عيوباً والاستدلال بالحكايات الكاذبة للغض منه واختلاق التهم / الباطلة لتكذيبه، وذلك ينبئ عن فقر مدقع من توقير النبي صلى الله عليه وسلم واحترام جانبه وجحود شديد لبركة صحبته وملازمته وخدمته، وأهم من ذلك أن أبا رية يقسم الدين إلى عام وخاص، ويقول إن العام هو الدلائل القطعية من القرآن، والسنن العملية المتواترة التي أجمع عليها مسلمو الصدر الأول وكانت معلومة عندهم بالضرورة. انظر ص 350 في كتابه. ثم يعود فيقرر أن الدلائل النقلية كلها ظنية. انظر 353،346منه. وأن الدين كله في القرآن لا يحتاج معه إلى غيره. «حسبنا كتاب الله» انظر ص 349 منه، وأنه لا يلزم من الإجماع على
আমি বলি: তিনি ৩২৭ পৃষ্ঠায় উল্লেখ করেছেন যে, হাদিস বিশেষজ্ঞগণ (علماء الحديث) ঐ সকল মূলনীতিসমূহ (الأصول) জানতেন এবং তিনি আল-মানার-এর লেখকের এই উক্তিটি উদ্ধৃত করেছেন যে, «নিশ্চয়ই হাদিসের ফিকহ (فقه الحديث) বিশেষজ্ঞদের নিকট সংবাদ (الأخبار) ও আছার (الآثار)-এর সনদ (أسانيد) পর্যালোচনার পাশাপাশি তাদের মতন (متون) বা মূলপাঠ পর্যালোচনার অন্য এক পদ্ধতি রয়েছে... আর দর্শন, সাহিত্য ও ইতিহাস চর্চাকারীরাও এই ধরণের পর্যালোচনায় অংশ নেন এবং তারা বর্তমান যুগে একে বিশ্লেষণাত্মক সমালোচনা (النقد التحليلي) নামে অভিহিত করেন»। আবু রাইয়্যাহ যদি এই পদ্ধতিটি ভালো জানতেনই, তবে তিনি এটি থেকে বিমুখ হয়েছেন কেবল নিজের জন্য সুযোগ তৈরির উদ্দেশ্যে, পাছে শিক্ষিত সমাজের কাছে তার অপছন্দনীয় বিষয়গুলো স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

কিন্তু এরপরে তিনি বলেছেন «আমি একাজে বাধ্য হয়েছি কারণ আমাদের জাতি এই ধরণের গবেষণায় নতুন, তবে আমি আশা করি সেই যুগের অবসান হয়েছে যখন কেবল বৈজ্ঞানিক মুনাফেকি ও ধর্মীয় শোকগাথা ছাড়া আর কিছুই প্রচলিত ছিল না এবং যা কেবল সাধারণ মানুষের কাছে জনপ্রিয় হয় এবং যারা মানুষের কাছে মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে নিজেদেরকে মুহাদ্দিস (المحدثين) বা আলেম (العلماء) বলে দাবি করে তাদের সন্তুষ্ট করে এমন কিছুই কেবল প্রকাশিত হতো»। এটি ইঙ্গিত দেয় বা স্পষ্টভাবে প্রকাশ করে যে, তিনি বিশ্লেষণাত্মক সমালোচনা দ্বারা অন্য কিছু বোঝাতে চেয়েছেন যা থেকে তিনি অনিচ্ছাসত্ত্বেও মুসলিম আলেম ও সাধারণ মানুষের ভয়ে বিমুখ হয়েছেন এবং তিনি যাকে বৈজ্ঞানিক মুনাফেকি ও ধর্মীয় শোকগাথা বলে অভিহিত করেছেন তার একটি অংশ গ্রহণ করেছেন। তার বইয়ে এমন কিছু বিষয় রয়েছে যা সত্যের নিকটবর্তী হওয়ার ইঙ্গিত দেয় এবং কিছু বিষয় অনেক দূরত্বের কথা বলে। তার এই উক্তি এবং অনুরূপ কথাগুলো প্রথম প্রকারের কাছাকাছি এবং দ্বিতীয় প্রকারের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে। এর মধ্যে একটি হলো তার বইয়ের শুরুতে করা সেই ইঙ্গিত, যেখানে তিনি মনে করেন যে প্রথম শতাব্দীগুলোতে যারা জ্ঞান ও নেতৃত্বের জন্য প্রসিদ্ধ ছিলেন তারা তার দৃষ্টিতে আলেম নন। এছাড়া সাহাবীগণের (الصحابة) ব্যাপারে তার বক্তব্য এবং আবু হুরায়রা (রা.)-এর প্রতি তার অশালীন বিদ্রূপ, তার গুণাবলিকে দোষে রূপান্তরের চেষ্টা, তাকে হেয় করার জন্য মিথ্যা গল্পের মাধ্যমে দলিল প্রদান এবং তাকে মিথ্যাবাদী প্রমাণ করার জন্য ভিত্তিহীন অপবাদ তৈরি করার বিষয়টি সামনে আসবে। আর এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি সম্মান প্রদর্শনের চরম অভাব এবং তার মর্যাদাকে অবজ্ঞা করা, সেই সাথে তার সাহচর্য, সান্নিধ্য ও খিদমতের বরকতকে কঠোরভাবে অস্বীকার করারই বহিঃপ্রকাশ। এর চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো, আবু রাইয়্যাহ দ্বীনকে সাধারণ ও বিশেষ এই দুই ভাগে ভাগ করেছেন। তিনি বলেন যে, সাধারণ হলো কুরআনের অকাট্য (القطعية) দলিলসমূহ এবং সেই আমলি সুন্নাহ যা মুতাওয়াতির (المتواترة) হিসেবে প্রমাণিত, যার ওপর প্রথম যুগের মুসলিমগণ ইজমা (الإجماع) বা ঐক্যমত পোষণ করেছেন এবং যা তাদের কাছে অকাট্যভাবে জ্ঞাত ছিল। তার বইয়ের ৩৫০ পৃষ্ঠা দেখুন। এরপর তিনি পুনরায় ফিরে এসে সিদ্ধান্ত দেন যে, সমস্ত বর্ণনাভিত্তিক দলিলই (الدلائل النقلية) ধারণা প্রসূত (ظنية)। তার বইয়ের ৩৪৬ ও ৩৫৩ পৃষ্ঠা দেখুন। তিনি আরও দাবি করেন যে, দ্বীনের সবকিছুই কুরআনে বিদ্যমান এবং এর সাথে অন্য কিছুর প্রয়োজন নেই— «আল্লাহর কিতাবই আমাদের জন্য যথেষ্ট»। তার বইয়ের ৩৪৯ পৃষ্ঠা দেখুন। এবং এটিও যে, ইজমা (الإجماع) হলেই তা আবশ্যক হয় না...
(খণ্ড: ১) আল-আনোয়ারুল কাশিফাহ লিমা ফী কিতাবি আদওয়াউ আলাস সুন্নাহ - ত সালাফিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৬)
حكم مطابقته لحكم الله في نفس الأمر» انظر ص352 منه. ومجموع هذا يقتضي أن يكون الدين كله خاصاً عنده. ومعنى الخاص على ما يظهر من كلامه أن الدين فيما عدا الأمور القضائية «موكول إلى اجتهاد الأفراد» كأنه يريد أنه قضية فردية تخص كل فرد فيما بينه وبين الله لا شأن له بغيره ولا لغيره به. وفي الأمور القضائية «موكول إلى أولى الأمر» كأنه يريد أن للمقنن أو القاضي أن يأخذ بالحكم الديني إذا وافق رأيه وله أن يدعه. انظر ص 353 منه. وتجده يحتج كثيراً بأقوال لا يعتقد صحتها بل قد يعتقد بطلانها ولكنه يراها موافقة لغرضه. ويحاول إبطال أحاديث صحيحة بشبهات ينتقل الذهن فور إيرادها إلى ورودها على آيات من القرآن. فهذا وأشباهه يجعلنا نشفق على أبي رية ومنه.

قال «وأرجو كذلك وقد حسرت النقاب عن وجه الحق في أمر الحديث المحمدي الذي جعلوه الأصل الثاني من الأدلة الشرعية بعد السنة العملية … » أقول: نعم نحن المسلمين لا نفرق بين الله ورسله، بل نشهد أن لا إله إلا الله وأن محمداً رسول الله المبلغ لدين الله والمبين لكتاب الله بسنته، بقوله وفعله وغير ذلك مما بين به الدين، ونؤمن وندين بما بلغنا إياه بالكتاب وبالسنة، والأحاديث أخبار عن السنة، إذا ثبتت ثبت ما دلت عليه السنة، ولسنا نحن بالجاعلى السنة بهذه المرتبة، بل الله عز وجل جعلها. وهذا أمر معلوم من الدين بالضرورة، وقد تكفل الله تعالى بحفظ دينه، ووفق الأمة التي وصفها بأنها خير أمة أخرجت للناس فقام أئمتها وعلماؤها بما أمروا به من حفظ الدين وتبليغه على الوجه الذي اختاره الله ورسوله فلم يزل محفوظاً إن خفي بعضه على الجهال لم يخف على العلماء، وإن خفي على بعض العلماء لم يخف على بقيتهم، وما في كتابك هذا من حق فمنهم نقلته، وباطلك مردود عليك.

قال «واتخذوا منه أسانيد لتأييد الفرق الإسلامية ودلائل على الخرافات
«বাস্তবে আল্লাহর বিধানের সাথে এর সংগতি বিধানের নির্দেশ»; এর জন্য উক্ত গ্রন্থের ৩৫২ পৃষ্ঠা দ্রষ্টব্য। এই সামগ্রিক বিষয়গুলো এটিই দাবি করে যে, তার নিকট পুরো দ্বীনই একটি বিশেষ (خاص) বিষয়। আর তার বক্তব্য থেকে যা স্পষ্ট হয় তা অনুযায়ী 'বিশেষ' (خاص) এর অর্থ হলো—বিচারিক বিষয়াবলি ব্যতিরেকে দ্বীনের বাকি বিষয়গুলো «ব্যক্তিগত ইজতিহাদের (اجتهاد) ওপর ন্যস্ত»। যেন তিনি এটি বোঝাতে চাচ্ছেন যে, এটি একটি ব্যক্তিগত বিষয় যা প্রত্যেক ব্যক্তির সাথে আল্লাহর মধ্যকার সম্পর্কের সাথে সংশ্লিষ্ট; এর সাথে অন্যের কোনো সম্পর্ক নেই এবং অন্যেরও এতে কোনো হাত নেই। আর বিচারিক বিষয়াবলির ক্ষেত্রে তা «উলুল আমর (أولى الأمر)-দের ওপর ন্যস্ত»। যেন তিনি বোঝাতে চাচ্ছেন যে, আইনপ্রণেতা বা বিচারক যদি ধর্মীয় বিধানকে তার মতের অনুকূল মনে করেন তবে তা গ্রহণ করবেন, অন্যথায় তা বর্জন করবেন। এর জন্য উক্ত গ্রন্থের ৩৫৩ পৃষ্ঠা দ্রষ্টব্য। আপনি তাকে প্রায়শই এমন সব উক্তি দ্বারা দলিল পেশ করতে দেখবেন, যেগুলোর বিশুদ্ধতার (صحة) ব্যাপারে তিনি নিজেই বিশ্বাসী নন, বরং হয়তো সেগুলোকে বাতিল (بطلان) বলেই মনে করেন; কিন্তু তিনি সেগুলোকে নিজের উদ্দেশ্যের অনুকূল হিসেবে গণ্য করেন। তিনি এমন সব সংশয় (شبهات) উত্থাপনের মাধ্যমে বিশুদ্ধ (صحيح) হাদিসগুলোকে অসার প্রমাণের চেষ্টা করেন, যা উত্থাপন করা মাত্রই মানুষের মনে অবধারিতভাবে কুরআনের আয়াতসমূহের ওপরও অনুরূপ সংশয় জাগার অবকাশ তৈরি হয়। এই বিষয়গুলো এবং এর অনুরূপ বিষয়গুলো আমাদের আবু রাইয়্যাহ-এর জন্য এবং তার এই পরিণতির জন্য ব্যথিত করে তোলে।

তিনি বলেছেন, «আমি একইভাবে আশা করি যে, আমি মুহাম্মাদী হাদিসের স্বরূপ থেকে সত্যের (حق) পর্দা উন্মোচন করেছি, যাকে তারা ব্যবহারিক সুন্নাহর (السنة العملية) পর শরয়ি দলিলসমূহের (الأدلة الشرعية) দ্বিতীয় উৎস (الأصل الثاني) হিসেবে সাব্যস্ত করেছে … » আমি বলছি: হ্যাঁ, আমরা মুসলিমরা আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলগণের মধ্যে কোনো পার্থক্য করি না। বরং আমরা সাক্ষ্য দিই যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর রাসূল, যিনি আল্লাহর দ্বীন পৌঁছিয়ে দিয়েছেন এবং তাঁর সুন্নাহর (سنة) মাধ্যমে—তাঁর কথা, কাজ এবং অন্যান্য বিষয়ের মাধ্যমে—আল্লাহর কিতাবকে ব্যাখ্যা করেছেন। কিতাব ও সুন্নাহর মাধ্যমে যা আমাদের কাছে পৌঁছেছে, আমরা তার ওপর ঈমান রাখি এবং সে অনুযায়ী দ্বীন পালন করি। আর হাদিসসমূহ হলো সুন্নাহ সংক্রান্ত সংবাদ (أخبار); সুতরাং যখন তা প্রমাণিত (ثبتت) হয়, তখন সুন্নাহ যা নির্দেশ করে তা-ও সাব্যস্ত হয়। আমরা সুন্নাহকে এই মর্যাদায় আসীন করিনি, বরং আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা একে এই মর্যাদা দিয়েছেন। এটি দ্বীনের এমন এক বিষয় যা অকাট্যভাবে সুনিশ্চিত (معلوم من الدين بالضرورة)। আল্লাহ তাআলা তাঁর দ্বীন সংরক্ষণের জিম্মাদারি গ্রহণ করেছেন এবং সেই উম্মতকে তাওফিক দিয়েছেন যাদেরকে তিনি মানুষের কল্যাণে শ্রেষ্ঠ উম্মত হিসেবে অভিহিত করেছেন। ফলে এই উম্মতের ইমামগণ এবং উলামায়ে কেরাম দ্বীন সংরক্ষণ এবং তা প্রচারের সেই দায়িত্ব পালন করেছেন যার নির্দেশ আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের পক্ষ থেকে প্রদান করা হয়েছে। ফলে তা চিরকাল সংরক্ষিত রয়েছে। যদি এর কিছু অংশ অজ্ঞদের নিকট অস্পষ্ট থাকে, তবে উলামাদের নিকট তা অস্পষ্ট থাকে না। আর যদি কিছু বিষয় কোনো কোনো আলেমের নিকট গোপন থাকে, তবে বাকিদের নিকট তা অস্পষ্ট থাকে না। আপনার এই কিতাবে সত্যের (حق) যা কিছু আছে, তা আপনি তাদের থেকেই গ্রহণ করেছেন, আর আপনার বাতিল (باطل) বিষয়সমূহ আপনার দিকেই প্রত্যাখ্যাত।

তিনি বলেছেন, «তারা এর থেকে বিভিন্ন ইসলামি উপদলের সমর্থনের জন্য সনদসমূহ (أسانيد) এবং কুসংস্কারের সপক্ষে প্রমাণাদি গ্রহণ করেছে...
(খণ্ড: ১) আল-আনোয়ারুল কাশিফাহ লিমা ফী কিতাবি আদওয়াউ আলাস সুন্নাহ - ত সালাফিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
والأوهام، وقالوا بزعمهم إنها دينية»

أقول: ما من فرقة من الفرق الإسلامية إلا ولديها شيء من الحق، وما تسميه أنت خرافات وأوهاما منه ما هو حق وإن / زعمت. والأحاديث التي يثبتها أهل العلم حق ولا يستنكر للحق أن يشهد للحق، وأما الأحاديث الباطلة فمنها ما نصوا على بطلانه وهو كثير، ومنها ما يعرف بالنظر فيه على طريقتهم بطلانه أو وهنه أو على الأقل الشك في صحته.

قال «وكشفت القناع عما خفي على الناس أمره»

أقول: أما أهل العلم فلم تزدهم علماً، وأما غيرهم فالذي في كتابك مما يضللهم ويلبس عليهم دينهم أكثر مما قد يفيدهم

ثم قال «أرجو أن أكون قد وفقت إلى … الدفاع عن السنة القولية وحياطتها عما يشوبها، وأن يصان كلام الرسول من أن يتدسس إليه شيء من افتراء الكاذبين، أو ينال منه كيد المنافقين وأعداء الدين، وأن تنزه ذاته الكريمة من أن يعزى إليها إلا ما يتفق وسمو مكانها وجلال قدرها … »

أقول: أما ما نقله من كتب علماء الحديث من شرائط الصحيح وبيان المعتل وعلامات الموضوع وبيان أن كثيراً من الأحاديث الصحيحة رويت بالمعنى ونحو ذلك فإنه يليق به هذاالوصف. وأما كثير مما نقله عن غيرهم أو جاء به من عنده فوصفه بذلك بمنزلة أن يجمع رجل كتاباً يطعن في آيات كتيرة من القرآن بزعم أنها ليست منه وأن فيه كثيراً من ذلك ثم يزعم أن غرضه هو «الدفاع عن الكلام الرباني وحياطته عما يشوبه ،أن يصان كلام رب العزة … وأن تنزه ذاته المقدسة من أن يعزى إليها إلا ما يليق بجلالها … » ونحو ذلك.

قال ص15 «وإذا كان هذا الكتاب سيغير ولا ريب من آراء كثير من المسلمين فيما ورثوه من عقائد … فإنه سيقفهم إن شاء الله على حقائق كثيرة
...এবং অলীক কল্পনাগুলো; আর তারা তাদের ধারণা অনুযায়ী বলেছিল যে এগুলো ধর্মীয় বিষয়।

আমি বলি: ইসলামি দলগুলোর মধ্যে এমন কোনো দল নেই যাদের কাছে কিছু না কিছু সত্য নেই। আর আপনি যেগুলোকে রূপকথা বা অলীক কল্পনা বলছেন, আপনার দাবি সত্ত্বেও তার মধ্যে এমন কিছু রয়েছে যা সত্য। ইলম অন্বেষীগণ (আহলুল ইলম) যে সকল হাদিস সাব্যস্ত করেছেন তা সত্য, আর সত্যের জন্য সত্যের সাক্ষ্য প্রদান করাটা আপত্তিকর কিছু নয়। আর বাতিল (باطل) হাদিসগুলোর ব্যাপারে বলা যায়—তাদের মধ্যে অনেকগুলো এমন রয়েছে যার বাতিল হওয়ার বিষয়টি তারা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন এবং তা সংখ্যায় অনেক; আর অনেকগুলো এমন রয়েছে যা তাদের অনুসৃত পদ্ধতিতে পর্যালোচনার মাধ্যমে সেগুলোর বাতিল (باطل) হওয়া, দুর্বলতা (وهن) অথবা অন্ততপক্ষে সেগুলোর বিশুদ্ধতা (صحة) সম্পর্কে সন্দেহ হওয়া প্রতীয়মান হয়।

তিনি বলেছেন: "আর আমি সেই পর্দা উন্মোচন করেছি যার হাকিকত মানুষের কাছে গোপন ছিল।"

আমি বলি: আপনি আলেমগণের জ্ঞানে তো কিছুই বৃদ্ধি করেননি; তবে অন্যরা আপনার কিতাবে এমন কিছু পাবে যা তাদের উপকার করার চেয়ে বিভ্রান্ত করা এবং দ্বীন সম্পর্কে সংশয় সৃষ্টি করার জন্যই অধিক কার্যকরী।

অতঃপর তিনি বলেন: "আমি আশা করি যে আমি সফল হয়েছি … মৌখিক সুন্নাহ (السنة القولية)-কে রক্ষা করা এবং একে কলুষতা থেকে হিফাজত করার ক্ষেত্রে; আর রাসূলের বাণীকে মিথ্যাবাদীদের অপবাদ অনুপ্রবেশ থেকে রক্ষা করা অথবা মুনাফিক ও দ্বীনের শত্রুদের ষড়যন্ত্র থেকে একে নিরাপদ রাখা এবং তাঁর মহান সত্তাকে এমন সব বিষয় থেকে পবিত্র রাখা যেন তাঁর মহান মর্যাদা ও উচ্চ সম্মানের সাথে সংগতিপূর্ণ নয় এমন কিছু তাঁর দিকে নিসবত করা না হয় … "

আমি বলি: তিনি হাদিস বিশারদগণের কিতাবসমূহ থেকে সহিহ (صحيح) হওয়ার শর্তাবলি, ত্রুটিযুক্ত (معتل) বর্ণনার বিবরণ, জাল (موضوع) হওয়ার আলামতসমূহ এবং অনেক সহিহ (صحيح) হাদিস যে মর্মগতভাবে বর্ণিত হয়েছে—এই সংক্রান্ত যা কিছু উদ্ধৃত করেছেন, তার জন্য এই বিশেষণটি মানানসই। কিন্তু তিনি অন্যদের কাছ থেকে যা বর্ণনা করেছেন অথবা নিজের পক্ষ থেকে যা নিয়ে এসেছেন, সেগুলোকে এই বিশেষণে বিশেষায়িত করা অনেকটা এমন যে—এক ব্যক্তি একটি কিতাব সংকলন করল যেখানে সে কুরআনের অনেক আয়াতের ওপর এই দাবিতে আপত্তি তুলল যে এগুলো কুরআনের অংশ নয় এবং এতে এ ধরনের অনেক কিছু রয়েছে; অতঃপর সে দাবি করল যে তার উদ্দেশ্য হলো "রবের কালামকে রক্ষা করা এবং একে কলুষতা থেকে হিফাজত করা, রাব্বুল ইজ্জতের কালামকে সুরক্ষিত রাখা … এবং তাঁর পবিত্র সত্তাকে এমন বিষয় থেকে মুক্ত রাখা যা তাঁর মহিমা ব্যতীত অন্য কিছুর সাথে সম্পর্কিত … " এবং এ জাতীয় কথাবার্তা।

তিনি ১৫ পৃষ্ঠায় বলেছেন: "আর এই কিতাবটি যদি অনেক মুসলিমের উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত আকিদাহ সংক্রান্ত মতামতের পরিবর্তন ঘটায়—যাতে কোনো সন্দেহ নেই—তবে এটি ইনশাআল্লাহ তাদেরকে অনেক বাস্তব সত্যের মুখোমুখি করবে..."
(খণ্ড: ১) আল-আনোয়ারুল কাশিফাহ লিমা ফী কিতাবি আদওয়াউ আলাস সুন্নাহ - ত সালাফিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৮)
تزيدهم تبصرة وعلماً بدينهم، ويحل لهم مشاكل متعددة مما تضيق به صدروهم، ويدفع شبهات يتكئ عليها المخالفون … »

أقول: الكلام على هذا نحو مما قبله.

وبعد فإن أضر الناس على الإسلام والمسلمين هم المحامون الاستسلاميون، يطعن الأعداء في عقيدة من عقائد الإسلام أوحكم من أحكامه ونحو ذلك فلا يكون عند أولئك المحامين من الإيمان واليقين والعلم الراسخ بالدين والاستحقاق لعون الله وتأييده ما يثبتهم على الحق ويهديهم إلى دفع الشبهة، فيلجأون إلى الاستسلام بنظام، ونظام المتقدمين التحريف ونظام المتوسطين زعم أن النصوص النقلية لا تفيد اليقين والمطلوب في أصول الدين اليقين، فعزلوا كتاب الله وسنة رسوله عن أصول الدين، ونظام بعض العصريين التشذيب.

وأبو رية يحاول استعمال الأنظمة الثلاثة ويوغل في الثالث، على أن أولئك الذين سميتهم محامين كثيراً ما يكونون هم الخصوم، والباطل جشع، وقد قال الله تبارك وتعالى (70:23ولو اتبع الحق أهواءهم لفسدت السموات والأرض ومن فيهن)

/ وقال الله عز وجل (120:2ولن ترضى عنك اليهود ولا النصارى حتى تتبع ملتهم، قل إن هدى الله هو الهدى) وقال سبحانه (100:3 يا أيها الذين آمنوا إن تطيعوا فريقاً من الذين أوتوا الكتاب يردوكم بعد إيمانكم كافرين. وكيف تكفرن بالله وأنتم تتلى علكيم آيات الله وفيكم رسوله) والرسول فينا بسنته. وقال تعالى (217:2 ولا يزالون يقاتلونكم حتى يردوكم عن دينكم إن استطاعوا، ومن يرتدد منكم عن دينه فيمت وهو كافر فأولئك حبطت أعمالهم في الدينا والآخرة وأولئك أصحاب النار هم فيها خالدون)

قال أبو رية ص 15: «وإني لأتوجه بعملي هذا - بعد الله سبحانه وله العزة- إلى المثقفين من المسلمين خاصة، ولى المعتمين بالدراسات الدينية عامة»
এটি তাদের দ্বীন সম্পর্কে অন্তর্দৃষ্টি ও জ্ঞান বৃদ্ধি করবে, এটি তাদের এমন বহুবিধ সমস্যার সমাধান করবে যার কারণে তাদের অন্তর সংকুচিত হয়ে পড়ে এবং বিরোধীদের আশ্রিত সংশয়গুলো (شبهات) প্রতিহত করবে … »

আমি বলি: এ প্রসঙ্গে বক্তব্য পূর্বের আলোচনার অনুরূপ।

অতঃপর, ইসলাম ও মুসলিমদের জন্য সবচেয়ে ক্ষতিকর হলো সেই সকল 'আত্মসমর্পণকারী রক্ষক', যখন শত্রুরা ইসলামের কোনো আকিদা (عقيدة) বা কোনো বিধান (حكم) বা এই জাতীয় কোনো বিষয়ে অপবাদ দেয়, তখন ওই সকল রক্ষকদের মধ্যে এমন ঈমান (إيمان), নিশ্চিত বিশ্বাস (يقين), দ্বীন সম্পর্কে গভীর জ্ঞান এবং আল্লাহর সাহায্য ও সমর্থনের যোগ্যতা থাকে না যা তাদের হকের (حق) ওপর অবিচল রাখবে এবং সংশয় নিরসনে পথ দেখাবে। ফলে তারা সুশৃঙ্খলভাবে আত্মসমর্পণের পথ বেছে নেয়; আর পূর্ববর্তীদের পদ্ধতি ছিল বিকৃতি (تحريف), মধ্যবর্তীদের পদ্ধতি ছিল এই দাবি করা যে, বর্ণিত দলিলসমূহ (نصوص نقلية) নিশ্চিত জ্ঞান (يقين) প্রদান করে না, অথচ দ্বীনের মূলনীতিতে (أصول الدين) নিশ্চিত জ্ঞানই কাম্য। ফলে তারা আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূলের সুন্নাহকে দ্বীনের মূলনীতি (أصول الدين) থেকে পৃথক করে দিয়েছে। আর আধুনিকদের কারো কারো পদ্ধতি হলো ছাঁটাইকরণ (تشذيب)।

আর আবু রাইয়্যাহ এই তিনটি পদ্ধতিই ব্যবহারের চেষ্টা করেন এবং তৃতীয়টিতে তিনি গভীরভাবে নিমজ্জিত হন। অথচ যাদের আমি রক্ষক বলেছি, তারা প্রায়ই প্রতিপক্ষ হিসেবে আবির্ভূত হয়; আর বাতিল (باطل) হলো লালসাগ্রস্ত। আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা বলেছেন (৭০:২৩ আর সত্য যদি তাদের প্রবৃত্তির অনুগামী হতো, তবে আসমানসমূহ, জমিন এবং এদের মধ্যবর্তী সবকিছুই ধ্বংস হয়ে যেত)

/ আল্লাহ মহা পরাক্রমশালী ও মহিমান্বিত বলেছেন (২:১২০ আর ইহুদি ও নাসারারা আপনার প্রতি কখনোই সন্তুষ্ট হবে না যতক্ষণ না আপনি তাদের আদর্শ অনুসরণ করেন। বলুন, নিশ্চয়ই আল্লাহর হেদায়েতই প্রকৃত হেদায়েত) এবং মহান আল্লাহ বলেছেন (৩:১০০ হে মুমিনগণ, তোমরা যদি আহলে কিতাবদের কোনো দলের আনুগত্য করো, তবে তারা তোমাদের ঈমান আনার পর পুনরায় কাফেরে (كافر) পরিণত করে দেবে। আর তোমরা কীভাবে কুফরি (كفر) করতে পারো অথচ তোমাদের কাছে আল্লাহর আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করা হচ্ছে এবং তোমাদের মাঝে তাঁর রাসূল বিদ্যমান রয়েছেন?) আর রাসূল আমাদের মাঝে তাঁর সুন্নাহর মাধ্যমেই বিদ্যমান। আল্লাহ তাআলা আরও বলেছেন (২:২১৭ আর তারা সর্বদা তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে থাকবে যতক্ষণ না তারা তোমাদের দ্বীন থেকে বিচ্যুত করতে পারে, যদি তারা সক্ষম হয়। আর তোমাদের মধ্যে যারা নিজের দ্বীন থেকে ফিরে যাবে এবং কাফের (كافر) অবস্থায় মৃত্যুবরণ করবে, দুনিয়া ও আখেরাতে তাদের আমলসমূহ (أعمال) নিষ্ফল হয়ে যাবে। আর তারাই হলো জাহান্নামের অধিবাসী, সেখানে তারা চিরকাল থাকবে।)

আবু রাইয়্যাহ ১৫ পৃষ্ঠায় বলেছেন: «আর আমি আমার এই কর্মের মাধ্যমে—আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার পরে যাঁর জন্য সমস্ত মহিমা—বিশেষ করে শিক্ষিত মুসলিমদের প্রতি এবং সাধারণভাবে ধর্মীয় গবেষণায় আগ্রহীদের প্রতি মনোনিবেশ করছি»
(খণ্ড: ১) আল-আনোয়ারুল কাশিফাহ লিমা ফী কিতাবি আদওয়াউ আলাস সুন্নাহ - ত সালাফিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
يعني المستشرقين من اليهود والنصارى والملحدين «ذلك بأن هؤلاء وهؤلاء الذين يعرفون قدره. والله أدعو أن يجدوا فيه جميعاً ما يرضيهم ويرضي العلم والحق معهم»

أقول: أما المستشرقون فالذي يرضيهم معروف. وأما المثقفون فيريد أبو رية الثقافة الغربية، ويطمع أبا رية فيهم أن يرى أكثرهم عزلاً عن الواقيين الاسلاميين: العلم الديني، والمناعة. وأما علماء المسلمين، وعامتهم وهم مظنة الخير فهم عند أبي رية سفهاء، واقرأ عشرين آية من أول سورة البقرة

ثم ختم أبو رية مقدمته بالدعاء لمجهوده وكتابه. وأنا أسأل الله تبارك وتعالى أن ينفعني والمسلمين ومن شاء من عباده بما في كتابي من صواب، ويقيني وإياهم شر ما فيه من خطأ، ويوفقنا جميعاً لما يحبه ويرضاه
অর্থাৎ ইহুদি, খ্রিস্টান ও নাস্তিকদের মধ্য থেকে যারা প্রাচ্যবিদ; «এটা এই কারণে যে, তারা এবং তারা যারা এর মর্যাদা জানে। আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন তারা সকলেই এতে এমন কিছু খুঁজে পায় যা তাদের সন্তুষ্ট করে এবং তাদের সাথে জ্ঞান ও সত্যকেও সন্তুষ্ট করে»

আমি বলছি: প্রাচ্যবিদদের কথা যদি বলি, তবে যা তাদের সন্তুষ্ট করে তা সুপরিচিত। আর বুদ্ধিজীবীদের ক্ষেত্রে আবু রাইয়্যাহ পাশ্চাত্য সংস্কৃতিকেই উদ্দেশ্য করেছেন। আবু রাইয়্যাহ তাদের ব্যাপারে এই আশা পোষণ করেন যে, তিনি তাদের অধিকাংশকেই ইসলামি সুরক্ষাকবচ—অর্থাৎ দ্বীনি জ্ঞান ও প্রতিরোধক্ষমতা থেকে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় দেখতে পাবেন। আর মুসলিম উলামায়ে কেরাম এবং সাধারণ মানুষ—যাদের সম্পর্কে কল্যাণের সুধারণা রাখা হয়—তারা আবু রাইয়্যাহর নিকট নির্বোধ (سفهاء); এ প্রসঙ্গে আপনি সূরা আল-বাকারার প্রথম দিকের বিশটি আয়াত পাঠ করুন।

অতঃপর আবু রাইয়্যাহ তার প্রচেষ্টা ও তার কিতাবের জন্য দোয়ার মাধ্যমে নিজের ভূমিকা শেষ করেছেন। আমি আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা'আলার নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাকে, মুসলিমদের এবং তাঁর বান্দাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা আমার এই কিতাবের সঠিক (صواب) বিষয়গুলোর মাধ্যমে উপকৃত করেন এবং আমাকে ও তাদেরকে এর ভুল-ভ্রান্তির (خطأ) অনিষ্ট থেকে রক্ষা করেন; আর আমাদের সকলকে সেই তাওফিক দান করেন যা তিনি পছন্দ করেন ও যাতে তিনি সন্তুষ্ট হন।
(খণ্ড: ১) আল-আনোয়ারুল কাশিফাহ লিমা ফী কিতাবি আদওয়াউ আলাস সুন্নাহ - ত সালাফিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২০)
السنة

ثم شرع أبو رية بعد الخطبة في الكتاب فقال في ص 16 «السنة … » ، ونقل عبارات منها عبارة عن تعريفات الجرجاني زاد في آخرها زيادة في نحو ثلاثة أسطر لم أجدها في التعريفات في آخرها «ثم اصطلح المحدثون على تسمية كلام الرسول حديثاً وسنة» ثم قال أبو رية «وقالوا: السنة تطلق في الأكثر على ما أضيف إلى النبي من قول أو فعل أو تقرير»

أقول: تطلق السنة لغة وشرعاً على وجهين: الأول: الأمر يبتدئه الرجل فيتبعه فيه غيره. ومنه ما في صحيح مسلم في قصة الذي تصدق بصرة فتبعه الناس فتصدقوا فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «من سن في الإسلام سنة حسنة فعمل بها بعده كتب له مثل أجر من عمل بها … » الحديث. والوجه الثاني: السيرة العامة، وسنة النبي صلى الهل عليه وسلم بهذا المعنى هي التي تقابل الكتاب، وتسمى الهدى.

وفي صحيح مسلم: أن النبي صلى الله عليه وسلم كان يقول في خطبته «أما بعد فإن خير الحديث كتاب الله وخير الهدي هدي محمد وشر الأمور محدثاتها وكل بدعة ضلالة» هذا وكل شأن من شئون النبي صلى الله عليه وسلم الجزئية المتعلقة بالدين من قول أو فعل أو كف أو تقرير، سنة بالمعنى الأول، ومجموع ذلك هو السنة بالمعنى الثاني. ومدلولات الأحاديث الثابتة هو السنة أو من السنة حقيقة، فإن أطلقت «السنة» على ألفاظها فمجاز أو اصطلاح. وإنما أوضحت هذا لأن أبا رية يتوهم أو يوهم أنه لا علاقة للأحاديث بالسنة الحقيقية.

ثم قال ص17 «مكان السنة من الدين. جعلوا السنة القولية في الدرجة الثانية أو في الدرجة الثالثة من الدين.... وأما الذي هو في الدرجة الثانية من الدين فهو السنة العملية»
সুন্নাহ (السنة)

অতঃপর আবু রাইয়্যাহ খুতবার পর কিতাবটি আলোচনা করতে শুরু করেন এবং ১৬ নং পৃষ্ঠায় বলেন, “সুন্নাহ … ”। তিনি সেখানে কিছু উদ্ধৃতি প্রদান করেছেন, যার মধ্যে আল-জুজানির ‘আত-তা’রিফাত’ থেকে একটি সংজ্ঞা রয়েছে। তিনি এর শেষে প্রায় তিন লাইনের মতো অতিরিক্ত কিছু যোগ করেছেন যা আমি ‘আত-তা’রিফাত’-এর শেষে খুঁজে পাইনি; সেই সংযোজনটি হলো: “অতঃপর মুহাদ্দিসগণ রাসূলের বাণীকে হাদিস এবং সুন্নাহ হিসেবে নামকরণ করার ব্যাপারে পারিভাষিক (اصطلاح) ঐকমত্য পোষণ করেছেন।” এরপর আবু রাইয়্যাহ বলেন, “তারা বলেছেন: সুন্নাহ সাধারণত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি সম্বন্ধযুক্ত কথা (قول), কাজ (فعل) বা মৌনসম্মতিকে (تقرير) বলা হয়।”

আমি বলি: শাব্দিক ও শরীয়তি দৃষ্টিকোণ থেকে সুন্নাহ শব্দটি দুটি অর্থে ব্যবহৃত হয়। প্রথমটি হলো: এমন কোনো বিষয় যা কোনো ব্যক্তি শুরু করেন এবং অন্যেরা তাকে অনুসরণ করেন। সহিহ মুসলিম-এ বর্ণিত সেই ব্যক্তির ঘটনা থেকে এর প্রমাণ পাওয়া যায়, যিনি একটি থলে সদকা করেছিলেন এবং মানুষ তাকে অনুসরণ করে সদকা করতে শুরু করেছিল। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছিলেন: “যে ব্যক্তি ইসলামে কোনো উত্তম পদ্ধতি (سنة حسنة) প্রবর্তন করে এবং পরবর্তীতে সে অনুযায়ী আমল করা হয়, তবে তার আমলকারীর সমপরিমাণ সওয়াব তার জন্য লেখা হবে … ” হাদিসের শেষ পর্যন্ত। আর দ্বিতীয় অর্থটি হলো: সামগ্রিক জীবনপদ্ধতি (السيرة العامة)। এই অর্থে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহ হলো তা-ই, যা কিতাবুল্লাহর (কুরআনের) সমান্তরালে ব্যবহৃত হয় এবং একে হেদায়াত (الهدى) বলা হয়।

সহিহ মুসলিম-এ বর্ণিত হয়েছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর খুতবায় বলতেন: “অতঃপর জেনে রেখো, নিশ্চয়ই সর্বোত্তম বাণী হলো আল্লাহর কিতাব এবং সর্বোত্তম পথনির্দেশনা হলো মুহাম্মদের পথনির্দেশনা। আর নিকৃষ্টতম বিষয় হলো (দ্বীনের মাঝে) নবউদ্ভাবিত বিষয় এবং প্রতিটি বিদআত (بدعة) হলো ভ্রষ্টতা (ضلالة)।” দ্বীন সংক্রান্ত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতিটি আংশিক বিষয়, তা কথা (قول), কাজ (فعل), বিরত থাকা (كف) বা মৌনসম্মতি (تقرير) যাই হোক না কেন, তা প্রথম অর্থ অনুযায়ী সুন্নাহ। আর এই সবকিছুর সমষ্টিই হলো দ্বিতীয় অর্থ অনুযায়ী সুন্নাহ। আর প্রমাণিত হাদিসসমূহের মর্মার্থই হলো প্রকৃত সুন্নাহ বা সুন্নাহর অন্তর্ভুক্ত। যদি হাদিসের শব্দগুলোর ওপর ‘সুন্নাহ’ শব্দ প্রয়োগ করা হয়, তবে তা রূপক (مجاز) অর্থে অথবা পরিভাষা (اصطلاح) হিসেবে হবে। আমি বিষয়টি স্পষ্ট করেছি কারণ আবু রাইয়্যাহ ধারণা করছেন অথবা বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন যে, প্রকৃত সুন্নাহর সাথে হাদিসের কোনো সম্পর্ক নেই।

অতঃপর তিনি ১৭ নং পৃষ্ঠায় বলেন, “দ্বীনের মধ্যে সুন্নাহর অবস্থান। তারা বাচনিক সুন্নাহকে (السنة القولية) দ্বীনের দ্বিতীয় বা তৃতীয় স্তরে স্থান দিয়েছেন...। আর যা দ্বীনের দ্বিতীয় স্তরে রয়েছে, তা হলো ব্যবহারিক সুন্নাহ (السنة العملية)।”
(খণ্ড: ১) আল-আনোয়ারুল কাশিফাহ লিমা ফী কিতাবি আদওয়াউ আলাস সুন্নাহ - ত সালাফিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২১)
أقول: المعروف بين أهل العلم قولهم «الكتاب والسنة» ثم يقسمون دلالات الكتاب إلى قطعية وغيرها، والسنة إلى متواتر وآحاد، وإلى قول وفعل وتقرير- إلى غير ذلك من التقسيمات. وسيأتي ذكر «ثلاث مراتب» من صاحب المنار، وننظر فيه.

فأما منزلة السنة جملة من الدين فلا نزاع بين المسلمين في أن ما ثبت عن النبي صلى الله عليه وسلم من أمر الدين فهو ثابت عن الله عز وجل، ونصوص القرآن في ذلك كثيرة، منها (80:4 من يطع الرسول فقد أطاع الله) وكل مسلم يعلم أن الإيمان لا يحصل إلا بتصديق الرسول فيما بلغه عن ربه، وقد بلغ الرسول بسنته كما بلغ كتاب الله عز وجل.

ثم تكلم الناس في الترتيب بالنظر إلى التشريع، فمن قائل: السنة قاضية على الكتاب/ وقائل: السنة تبين الكتاب. وقائل: السنة في المرتبة الثانية بعدالكتاب. وانتصر الشاطبي في الموافقات لهذا القول وأطال، ومما استدل به هو وغيره قول الله عز وجل (89:16ويوم نبعث في كل أمة شهيداً عليهم من أنفسهم وجئناً بك شهيداً على هؤلاء، ونزلنا عليك الكتاب تبيانا لكل شيء وهدى ورحمة للمسلمين. إن الله يأمر بالعدل والإحسان وإيتاء ذي القربى، وينهى عن الفحشاء والمنكر والبغي، يعظكم لعلكم تذكرون)

قالوا: فقوله «تبياناً لكل شيء» واضح في أن الشريعة كلها مبينة في القرآن. ووجدنا الله تعالى قد قال في هذه السورة (44:16 وأنزلنا إليك الذكر لتبين للناس ما نزل إليهم ولعلهم يتفكرون) فعلمنا أن البيان الذي في قوله (تبياناً لكل شيء) غير البيان الموكول إلى الرسول. ففي القرآن سوى البيان المفصل الوافي بيان مجمل وهو ضربان: الأول: الأمر بالصلاة والزكاة والحج
আমি বলছি: আলেমদের নিকট সুপরিচিত হলো তাঁদের এই উক্তি— 'কিতাব ও সুন্নাহ'; অতঃপর তাঁরা কিতাবের দালালাতসমূহকে অকাট্য (قطعية) ও অন্যান্য ভাগে এবং সুন্নাহকে মুতাওয়াতির (متواتر) ও আহাদ (آحاد) এবং কথা, কাজ ও মৌনসম্মতিতে—এরূপ আরও বিভিন্ন ভাগে বিভক্ত করেন। অচিরেই 'আল-মানার' এর লেখকের পক্ষ থেকে 'তিনটি স্তর' সম্পর্কে আলোচনা আসবে এবং আমরা তা পর্যালোচনা করব।

আর দ্বীনের ক্ষেত্রে সামগ্রিকভাবে সুন্নাহর মর্যাদার কথা বলতে গেলে, মুসলমানদের মধ্যে এ বিষয়ে কোনো দ্বিমত নেই যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে দ্বীনের ব্যাপারে যা প্রমাণিত হয়েছে, তা মহান আল্লাহর পক্ষ থেকেই সাব্যস্ত। এ বিষয়ে কুরআনের বর্ণনা অনেক, যার মধ্যে একটি হলো: "যে ব্যক্তি রাসূলের আনুগত্য করল, সে মূলত আল্লাহরই আনুগত্য করল" (৪:৮০)। প্রত্যেক মুসলিমই জানেন যে, রাসূল তাঁর রবের পক্ষ থেকে যা পৌঁছে দিয়েছেন, তাতে তাঁকে বিশ্বাস করা ছাড়া ঈমান অর্জিত হয় না। আর রাসূল যেভাবে আল্লাহর কিতাব পৌঁছে দিয়েছেন, ঠিক সেভাবেই তাঁর সুন্নাহর মাধ্যমেও (দ্বীন) পৌঁছে দিয়েছেন।

অতঃপর লোকেরা বিধান প্রণয়নের ক্রমবিন্যাসের দিক থেকে আলোচনা করেছেন; কেউ বলেন: সুন্নাহ কিতাবের ওপর ফয়সালাকারী। কেউ বলেন: সুন্নাহ কিতাবকে ব্যাখ্যা করে। আবার কেউ বলেন: সুন্নাহর অবস্থান কিতাবের পরে দ্বিতীয় স্তরে। ইমাম শাতিবি তাঁর 'আল-মুওয়াফাকাত' গ্রন্থে এই মতের স্বপক্ষে জোরালো অবস্থান নিয়েছেন এবং দীর্ঘ আলোচনা করেছেন। তিনি ও অন্যান্যরা যে দলীলসমূহ পেশ করেছেন তার মধ্যে মহান আল্লাহর এই বাণীটি অন্যতম: "আর সেদিন আমি প্রত্যেক উম্মতের মধ্যে তাদের নিজেদের মধ্য থেকে তাদের বিরুদ্ধে একজন সাক্ষী দাঁড় করাব এবং আপনাকে আমি এদের বিরুদ্ধে সাক্ষীরূপে নিয়ে আসব। আর আমি আপনার ওপর কিতাব নাযিল করেছি যা সবকিছুর স্পষ্ট বর্ণনা এবং মুসলিমদের জন্য হিদায়াত, রহমত ও সুসংবাদ। নিশ্চয়ই আল্লাহ ন্যায়বিচার, সদাচরণ এবং আত্মীয়-স্বজনকে দানের নির্দেশ দিচ্ছেন এবং তিনি অশ্লীলতা, মন্দ কাজ ও সীমালঙ্ঘন থেকে নিষেধ করছেন; তিনি তোমাদের উপদেশ দিচ্ছেন যাতে তোমরা উপদেশ গ্রহণ করো" (১৬:৮৯-৯০)।

তাঁরা বলেন: আল্লাহর বাণী "সবকিছুর স্পষ্ট বর্ণনা" দ্বারা এটি স্পষ্ট যে, পুরো শরীয়ত কুরআন মাজিদেই বর্ণিত হয়েছে। আবার আমরা দেখি আল্লাহ তাআলা এই সূরাতেই বলেছেন: "আর আমি আপনার প্রতি যিকির নাযিল করেছি যাতে আপনি মানুষের কাছে স্পষ্টভাবে বর্ণনা করে দেন যা তাদের প্রতি নাযিল করা হয়েছে এবং যাতে তারা চিন্তা-ভাবনা করে" (১৬:৪৪)। সুতরাং আমরা জানতে পারলাম যে, "সবকিছুর স্পষ্ট বর্ণনা" আয়াতে যে বর্ণনার কথা বলা হয়েছে, তা রাসূলের ওপর অর্পিত বর্ণনার চেয়ে ভিন্ন। কুরআনে বিস্তারিত ও পর্যাপ্ত বর্ণনা ছাড়াও কিছু সংক্ষিপ্ত (مجمل) বর্ণনা রয়েছে, যা দুই প্রকার: প্রথমত: সালাত, যাকাত ও হজের নির্দেশ।
(খণ্ড: ১) আল-আনোয়ারুল কাশিফাহ লিমা ফী কিতাবি আদওয়াউ আলাস সুন্নাহ - ত সালাফিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২২)
والعدل والإحسان وإيتاء ذي القربى، والنهي عن الفحشاء والمنكر والبغي، وتحريم الخبائث، وأكل أموال الناس بالباطل، وغير ذلك.

الثاني: الأمر باتباع الرسول وطاعنه وأخذ ما أتى والاننتهاء عما نهى ونحو ذلك. وفي الصحيحين وغيرهما عن علقمة بن قيس النخعي- وكان أعلم أصحاب عبد الله بن مسعود أو من أعلمهم - قال «لعن عبد الله الواشمات والمتنمصات والمتفلجات للحسن المغيرات خلق الله. فقالت أم يعقوب: ما هذا؟ قال عبد الله: ومالي لا ألعن من لعن سول الله وفي كتاب الله؟ قالت: والله لقد قرأت ما بين اللوحين فما وجدته، قال: والله لئن قرأتيه لقد وجدتيه (وما آتاكم الرسول فخذوه وما نهاكم عنه فانتهوا) .

ظاهر صنيع ابن مسعود أن الاعتماد في كون القرآن مبيناً لكل ما بينته السنة على الضرب الثاني. وتعقيب آية التبيان بالتي تليها كأنه يشير إلى أن الاعتماد على الضر بين مجتمعين، ورجحه الشاطبي وزعم أن الاستقراء يوافقه. فعلى هذا لا يكون للخلاف ثمرة.

ثم قال قوم: جميع ما بينه الرسول علمه بالوحي. وقال آخرون: منه ماكان باجتهاد أذن الله له فيه وأقره عليه. ذكرهما الشافعي في الرسالة.

ثم قال ص 104 «وأي هذا كان فقد بين الله أنه فرض فيه طاعة رسوله … » وبالغ بعضهم فقال: كل ما بلغه الرسول فهمه من القرآن. ونسبه بعض المتأخرين إلى الشافعي، فعلى هذا كان القرآن في حق الرسول تبياناً لكل شيء وتفصيلاً، فأما في حق غيره فعلى ما مر. والله الموفق

ثم نقل أبور ية كلاما عن موافقات الشاطبي. وكلام الموافقات طويل جداً وفي ماتركه أبو رية منه ما قد يخالف ظاهر بعض مانقله، وإنما الكلام العربي الناصع كلام الشافعي في الرسالة

/ ثم قال أبو رية ص19: «وكان الإمام مالك يراعي كل المراعاة العمل
ন্যায়বিচার, ইহসান (সদাচরণ), নিকটাত্মীয়দের দান করার নির্দেশ এবং অশ্লীলতা, মন্দ কাজ (منكر) ও সীমালঙ্ঘন নিষিদ্ধকরণ; আর অপবিত্র বস্তুসমূহ হারাম ঘোষণা করা, অন্যায়ভাবে মানুষের সম্পদ ভক্ষণ করা এবং এ জাতীয় বিষয়সমূহ।

দ্বিতীয়ত: রাসূলের অনুসরণ ও আনুগত্যের নির্দেশ, তিনি যা প্রদান করেছেন তা গ্রহণ এবং যা থেকে নিষেধ করেছেন তা থেকে বিরত থাকা ইত্যাদি। সহিহাইন এবং অন্যান্য কিতাবে আলকামা ইবনে কাইস আন-নাখয়ী—যিনি আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদের সঙ্গীদের মধ্যে সর্বাধিক জ্ঞানী অথবা অন্যতম প্রধান জ্ঞানী ছিলেন—থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “আব্দুল্লাহ অভিশাপ দিয়েছেন ওইসব নারীদের যারা উল্কি অঙ্কন করে এবং যারা করায়, যারা ভ্রু উপড়ে ফেলে এবং যারা সৌন্দর্যের জন্য দাঁত ঘষে ফাঁকা করে—যারা আল্লাহর সৃষ্টিতে পরিবর্তন আনে। তখন উম্মে ইয়াকুব বললেন: এটি কী? আব্দুল্লাহ বললেন: আমি তাকে কেন অভিশাপ দেব না যাকে রাসূলুল্লাহ অভিশাপ দিয়েছেন এবং যা আল্লাহর কিতাবে রয়েছে? তিনি বললেন: আল্লাহর কসম, আমি (কুরআনের) দুই মলাটের মধ্যবর্তী সবকিছুই পাঠ করেছি কিন্তু কোথাও তা খুঁজে পাইনি। তিনি বললেন: আল্লাহর কসম, যদি তুমি তা পাঠ করতে তবে অবশ্যই তা পেতে: (আর রাসূল তোমাদের যা প্রদান করেন তা গ্রহণ করো এবং যা থেকে তোমাদের নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাকো)।”

ইবনে মাসউদের এই কর্মপন্থা থেকে স্পষ্ট হয় যে, সুন্নাহ যা কিছু স্পষ্ট করেছে কুরআন সে সবকিছুরই বর্ণনাকারী—একথা প্রমাণের জন্য তিনি দ্বিতীয় প্রকারের ওপর নির্ভর করেছেন। কুরআনের বর্ণনা সংক্রান্ত আয়াতের পর পরবর্তী আয়াতের সংযোগ যেন ইঙ্গিত করছে যে, নির্ভরতা উভয় প্রকারের সমন্বয়ের ওপর; ইমাম শাতিবি একেই অগ্রাধিকার দিয়েছেন এবং দাবি করেছেন যে, পর্যবেক্ষণ (استقراء) এর অনুকূলে। সুতরাং এই বিচারে মতপার্থক্যের কোনো বাস্তব ফলাফল নেই।

অতঃপর একদল লোক বলেছেন: রাসূল যা কিছু স্পষ্ট করেছেন তার সবই তিনি ওহির মাধ্যমে জেনেছেন। অন্য দল বলেছেন: এর মধ্যে এমন কিছু রয়েছে যা ইজতিহাদ (اجتهاد) এর মাধ্যমে ছিল, যার জন্য আল্লাহ তাঁকে অনুমতি দিয়েছিলেন এবং তাতে তাঁকে বহাল রেখেছিলেন। ইমাম শাফেয়ী তাঁর আর-রিসালা গ্রন্থে উভয় মত উল্লেখ করেছেন।

অতঃপর ১০৪ পৃষ্ঠায় তিনি বলেছেন, “অবস্থা যা-ই হোক না কেন, আল্লাহ স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, এতে তিনি তাঁর রাসূলের আনুগত্য করা ফরজ করেছেন … ” এবং কেউ কেউ তো অতিরঞ্জিত করে বলেছেন: রাসূল যা কিছু পৌঁছে দিয়েছেন তার সবকিছুই তিনি কুরআন থেকে অনুধাবন করেছেন। পরবর্তী যুগের (متأخرين) কোনো কোনো আলেম একে ইমাম শাফেয়ীর প্রতি নিসবত করেছেন। এই মতানুসারে, রাসূলের ক্ষেত্রে কুরআন ছিল সবকিছুর সুস্পষ্টকারী ও বিস্তারিত বর্ণনাকারী, আর অন্যদের ক্ষেত্রে বিষয়টি পূর্বে বর্ণিত নিয়মের অনুরূপ। আল্লাহই তাওফিকদাতা।

অতঃপর আবু রাইয়্যাহ আল-মুওয়াফাকাত থেকে ইমাম শাতিবির কিছু বক্তব্য উদ্ধৃত করেছেন। আল-মুওয়াফাকাত-এর আলোচনা অত্যন্ত দীর্ঘ এবং আবু রাইয়্যাহ যে অংশটুকু বর্জন করেছেন তার মধ্যে এমন কিছু রয়েছে যা তাঁর উদ্ধৃত অংশের বাহ্যিক অর্থের পরিপন্থী হতে পারে। প্রকৃতপক্ষে, বিশুদ্ধ ও প্রাঞ্জল আরবি বর্ণনা হলো ইমাম শাফেয়ীর আর-রিসালা গ্রন্থের বক্তব্য।

/ অতঃপর আবু রাইয়্যাহ ১৯ পৃষ্ঠায় বলেছেন: “ইমাম মালিক আমল (عمل) এর বিষয়টি পুরোপুরি লক্ষ্য রাখতেন...”
(খণ্ড: ১) আল-আনোয়ারুল কাশিফাহ লিমা ফী কিতাবি আদওয়াউ আলাস সুন্নাহ - ত সালাফিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
المستمر والأكثر، ويترك ما سوى ذلك وإن جاء فيه أحاديث»

أقول: كان مالك رحمه الله يدين باتباع الأحاديث الصحيحة إلا أنه ربما توقف عن الأخذ بحديث ويقول: ليس عليه العمل عندنا. يرى أن ذلك يدل على أن الحديث منسوخ أو نحو ذلك.

والانصاف أنه لم يتحرر لمالك قاعدة في ذلك فوقعت له أشياء مختلفة. راجع الأم للشافعي 177:7 - 249. وقد اشتهر عن مالك قوله «كل أحدٍ يؤخذ من قوله ويترك إلا صاحب هذا القبر» يعني النبي صلى الله عليه وسلم. وقوله للمنصور إذ عرض عليه أن يحمل الناس على الموطأ: إن أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم تفرقوا في الأمصار فعند أهل كل مصر علم»

قال أبو رية ص 19 «وقال [مالك] أحب الأحاديث إلىّ ما اجتمع الناس عليه» أقول: لا ريب أن المجمع عليه أعلى من غيره مع قيام الحجة بغيره إذا ثبت عند مالك وغيره.

ثم حكى عن صاحب المنار قوله «والنبي مبين للقرآن بقوله وفعله، ويدخل في البيان التفصيل والتخصيص والتقييد، لكن لا يدخل فيه إبطال حكم من أحكامه أو نقض خبر من أخباره، ولذلك كان التحقيق أن السنة لا تنسخ القرآن»

أقول: أما الإبطال ونقض الخبر بمعنى تكذيبه فهذا لا يقع من السنة للقرآن ولا من بعض القرآن لبعض، فالقرآن كله حق وصدق (42:41 لا يأتيه البطل من بين يديه ولا من خلفه تنزيل من حكيم حميد) وأما التخصيص والتقييد ونحوهما والنسخ فليست بإبطال ولا تكذيب، وإنما هي بيان.

فالتخصيص مثلاً إن اتصل بالخطاب بالعام كأن نزلت آية فيها عموم ونزلت معها آية من سورة أخرى فيها تخصيص للآية الأولى، أو نزلت الآية فتلاها النبي صلى الله عليه وسلم وبين
...যা নিরবচ্ছিন্ন এবং সংখ্যায় অধিক, আর তা ব্যতীত অন্য যা কিছু আছে তা বর্জন করতে হবে, যদিও সে বিষয়ে হাদিস বর্ণিত হয়েছে।

আমি (লেখক) বলছি: ইমাম মালিক (রহ.) বিশুদ্ধ (الصحيحة) হাদিস অনুসরণের নীতি পোষণ করতেন, তবে কখনো কখনো তিনি কোনো হাদিস গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকতেন এবং বলতেন: "আমাদের নিকট এর ওপর আমল নেই।" তিনি মনে করতেন যে, এটি নির্দেশ করে যে হাদিসটি রহিতকৃত (منسوخ) অথবা অনুরূপ কিছু।

ন্যায়সঙ্গত কথা হলো এই যে, এ বিষয়ে ইমাম মালিকের কোনো সুনির্দিষ্ট মূলনীতি নির্ধারিত ছিল না, ফলে তাঁর ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের বিষয় পরিলক্ষিত হয়। দেখুন: শাফেয়ি রচিত আল-উম্ম, ৭:১৭৭-২৪৯। ইমাম মালিক থেকে তাঁর এই উক্তিটি প্রসিদ্ধ যে, "একমাত্র এই কবরের অধিবাসী —অর্থাৎ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)— ব্যতীত অন্য যে কারো কথা গ্রহণ করা যেতে পারে আবার বর্জনও করা যেতে পারে।" এবং খলিফা মনসুরের প্রতি তাঁর সেই উক্তি, যখন তিনি মানুষের ওপর মুয়াত্তা আবশ্যিক করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন: "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাহাবীগণ বিভিন্ন জনপদে ছড়িয়ে পড়েছিলেন এবং প্রতিটি জনপদের অধিবাসীদের কাছে ইলম বা জ্ঞান রয়েছে।"

আবু রাইয়্যাহ ১৯ পৃষ্ঠায় বলেছেন, "এবং মালিক বলেছেন: আমার কাছে সবচেয়ে প্রিয় হাদিস হলো সেইগুলো যেগুলোর ওপর মানুষ ঐক্যমত পোষণ করেছে।" আমি বলছি: এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, যে বিষয়ের ওপর ঐক্যমত (المجمع عليه) প্রতিষ্ঠিত হয়েছে তা অন্যগুলোর তুলনায় উচ্চতর, যদিও ইমাম মালিক বা অন্যদের নিকট অন্য বিষয়গুলো প্রমাণিত হওয়ার মাধ্যমে দলিল (الحجة) প্রতিষ্ঠিত হয়।

অতঃপর তিনি আল-মানার-এর লেখকের উক্তি উদ্ধৃত করেছেন: "নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর কথা ও কাজের মাধ্যমে কুরআনের ব্যাখ্যাকারী। আর এই ব্যাখ্যার অন্তর্ভুক্ত হলো বিস্তারিত বর্ণনা (التفصيل), সুনির্দিষ্টকরণ (التخصيص) এবং সীমাবদ্ধকরণ (التقييد); তবে এর মধ্যে কুরআনের কোনো বিধানকে বাতিল করা বা এর কোনো সংবাদকে নাকচ করা অন্তর্ভুক্ত নয়। এই কারণেই গবেষণালব্ধ সিদ্ধান্ত হলো যে, সুন্নাহ (السنة) কুরআনকে রহিত (تنسخ) করে না।"

আমি বলছি: বাতিল করা বা সংবাদ নাকচ করা বলতে যদি একে মিথ্যা সাব্যস্ত করা বোঝায়, তবে সুন্নাহ (السنة) দিয়ে কুরআনের ক্ষেত্রে এমনটি ঘটে না, এমনকি কুরআনের এক অংশ দিয়ে অন্য অংশের ক্ষেত্রেও না। কেননা সমগ্র কুরআনই সত্য ও বাস্তব (৪১:৪২ 'মিথ্যা একে স্পর্শ করতে পারে না সামনে থেকেও না, পিছন থেকেও না; এটি প্রজ্ঞাময়, চিরপ্রশংসিত আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ')। আর সুনির্দিষ্টকরণ (التخصيص), সীমাবদ্ধকরণ (التقييد) এবং রহিতকরণ (النسخ) বা অনুরূপ বিষয়গুলো কোনো বাতিলকরণ বা মিথ্যা সাব্যস্তকরণ নয়, বরং এগুলো কেবল ব্যাখ্যা মাত্র।

উদাহরণস্বরূপ, সুনির্দিষ্টকরণ (التخصيص) যদি সাধারণ (العام) বক্তব্যের সাথে যুক্ত থাকে, যেমন কোনো একটি সাধারণ (عموم) অর্থবোধক আয়াত অবতীর্ণ হলো এবং তার সাথে অন্য কোনো সূরার এমন একটি আয়াত অবতীর্ণ হলো যাতে প্রথম আয়াতের জন্য সুনির্দিষ্টকরণ (تخصيص) রয়েছে; অথবা আয়াতটি অবতীর্ণ হলো এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সেটি তিলাওয়াত করলেন এবং ব্যাখ্যা করে দিলেন...
(খণ্ড: ১) আল-আনোয়ারুল কাশিফাহ লিমা ফী কিতাবি আদওয়াউ আলাস সুন্নাহ - ত সালাফিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
ما يخصصها فالأمر واضح، إذ البيان متصل بالمبين فكان معه كالكلام الواحد، وإن تأخر المخصص عن وقت الخطاب بالعام ولكنه تبعه وقت العلم بالعام أو عنده فهذا كالأولى عند الجمهور، وهذا مرجعه إلى عرف العر ب في لغتهم كما بينه الشافعي في الرسالة (1) .

أما إذا جاء بعد العمل بالعام ما صورته التخصيص فإنما يكون نسخا جزئياً، لكن بعضهم يسمى النسخ تخصيصاً جزئياً كان أو كلياً نظراً إلى أن اقتضاء الخطاب بالحكم لشموله لما يستقبل من الأوقات عموم، والنسخ إخراج لبعض تلك الأوقات وهو المستقبل بالنسبة إلى النص الناسخ، وهذا مما يحتج به من يجيز نسخ بعض أحكام الكتاب بالسنة.

/قال صاحب المنار «والعمدة في الدين كتاب الله تعالى في المرتبة الأولى والسنة العملية المتفق عليها في المرتبة الثانية، وما ثبت عن النبي وأحاديث الآحاد فيها رواية ودلالة في الدرجة الثالثة»

أقول: قد سبق أن المعروف بين أهل العلم ذكر الكتاب والسنة ثم يقسمون السنة إلى متواتر وآحاد وغيرذلك. قال «ومن عمل بالمتفق عليه كان مسلماً ناجياً في الآخرة مقرباً عند الله تعلى. وقد قرر ذلك الغزالي»

علق أبو رية في الحاشية «قرر الغزالي ذلك في كتاب القسطاس المستقيم» وعبارة صاحب المنار في مقدمته لمغني ابن قدامة «فمن مقتضى أصولهم كلهم وجوب ترك أسباب كل هذا التفرق والاختلاف (2) حتى قال الغزالي في القسطاس المستقيم

--------------------------------------------

(1) قد يكون كذلك في غير العربية، ولكن الشافعي رأى بعض المستعربين يستنكرونه فجوز مخالفة لغاتهم الأعجمية للعربية في ذلك

(2) أسباب التفرق والاختلاف الواجب تركها باتفاقهم هي الجهل والهوى والتعصب، وكذلك الخطأ بقدر الوسع. فأما أن يترك أحدهم ما يراه حقاً فلا قائل به، بل هو محظور باتفاقهم
যা একে বিশেষিত (تخصيص) করে তা স্পষ্ট, কারণ স্পষ্টিকরণ (بيان) যখন স্পষ্টকৃত (مبين) বিষয়ের সাথে যুক্ত থাকে, তখন তা একটি অখণ্ড বক্তব্যের ন্যায় গণ্য হয়। আর যদি বিশেষিতকারী (مخصص) বিষয়টি সাধারণ (عام) সম্বোধনের (خطاب) সময়ের পরে আসে, কিন্তু তা সাধারণ (عام) বিষয়টি সম্পর্কে জানার সময়ের সাথে বা ঠিক পরেই আসে, তবে জমহুর (جمهور) বা অধিকাংশ আলেমের নিকট এটি প্রথম অবস্থার মতোই গণ্য। এর ভিত্তি হলো আরবদের ভাষাগত রীতিনীতি (عرف), যেমনটি ইমাম শাফিঈ তাঁর 'রিসালা' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন (১)।

পক্ষান্তরে, সাধারণ (عام) নির্দেশ অনুযায়ী আমল করার পর যদি এমন কিছু আসে যা দেখতে বিশেষিত করার (تخصيص) মতো মনে হয়, তবে তা হবে আংশিক রহিতকরণ (نسخ جزئي)। তবে কেউ কেউ রহিতকরণকে (نسخ) আংশিক হোক বা সামগ্রিক (كلي), বিশেষিত করা (تخصيص) নামেই অভিহিত করেন। এর কারণ হলো, বিধানের (حكم) সম্বোধনটি (خطاب) ভবিষ্যতের সকল সময়কে অন্তর্ভুক্ত করার প্রেক্ষাপটে একটি সাধারণ (عام) বিষয়, আর রহিতকরণ (نسخ) হলো রহিতকারী দলীলের (نص ناسخ) পরিপ্রেক্ষিতে ভবিষ্যতের সেই সময়ের কিছু অংশকে বিধান থেকে বের করে দেওয়া। যারা সুন্নাহর মাধ্যমে কুরআনের কিছু বিধান রহিতকরণ (نسخ) বৈধ মনে করেন, তারা এটিকেই দলীল হিসেবে পেশ করেন।

আল-মানার লেখক বলেন: "দীনের মূল ভিত্তি হলো প্রথম স্তরে আল্লাহর কিতাব, দ্বিতীয় স্তরে সর্বসম্মত (متفق عليه) প্রায়োগিক সুন্নাহ, আর নবী (সা.) থেকে বর্ণিত এবং বর্ণনা (رواية) ও অর্থবোধকতার (دلالة) দিক থেকে প্রমাণিত আহাদ হাদিসসমূহ তৃতীয় স্তরের অন্তর্ভুক্ত।"

আমি বলছি: ইতিপূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে যে, আলেমদের নিকট পরিচিত বিষয় হলো কিতাব ও সুন্নাহর উল্লেখ করা, অতঃপর তাঁরা সুন্নাহকে মুতাওয়াতির (متواتر), আহাদ (آحاد) এবং অন্যান্য প্রকারে বিভক্ত করেন। তিনি বলেন: "যিনি সর্বসম্মত (متفق عليه) বিষয়ের ওপর আমল করবেন, তিনি আখেরাতে মুক্তিপ্রাপ্ত মুসলিম এবং মহান আল্লাহর নৈকট্যশীল হিসেবে গণ্য হবেন। ইমাম গাজালি এটি সাব্যস্ত করেছেন।"

আবু রাইয়্যাহ টীকায় (حاشية) মন্তব্য করেছেন: "ইমাম গাজালি এটি 'আল-কিসতাসুল মুস্তাকিম' গ্রন্থে সাব্যস্ত করেছেন।" আর ইবনে কুদামার 'মুগনি' গ্রন্থের ভূমিকায় আল-মানার লেখকের বক্তব্য হলো: "তাঁদের সকলের মূলনীতির (أصول) দাবি হলো এই বিভেদ ও মতভেদের সকল কারণ বর্জন করা আবশ্যক (২), এমনকি ইমাম গাজালি 'আল-কিসতাসুল মুস্তাকিম' গ্রন্থে বলেছেন—"

--------------------------------------------

(১) এটি আরবি ব্যতীত অন্য ভাষায়ও একই রকম হতে পারে, তবে ইমাম শাফিঈ লক্ষ্য করেছেন যে কিছু নব্য-আরব বিষয়টিকে অস্বীকার করছে, তাই তিনি এক্ষেত্রে তাদের অনারব ভাষার সাথে আরবি ভাষার বৈচিত্র্যকে জায়েজ রেখেছেন।

(২) সর্বসম্মতিক্রমে বিভেদ ও মতভেদের যেসব কারণ বর্জন করা আবশ্যক সেগুলো হলো অজ্ঞতা (جهل), প্রবৃত্তি (هوى) এবং গোঁড়ামি (تعصب); সেইসাথে সাধ্যানুযায়ী ভুলও পরিহারযোগ্য। তবে কেউ যা সত্য বলে মনে করে তা বর্জন করবে—এমন কথা কেউ বলেনি, বরং তা সবার ঐকমত্যে নিষিদ্ধ।
(খণ্ড: ১) আল-আনোয়ারুল কাশিফাহ লিমা ফী কিতাবি আদওয়াউ আলাস সুন্নাহ - ত সালাফিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
بالاكتفاء بالعمل بالمجمع عليه وعد المسائل الظنية المختلف فيها كأن لم تكن»

كذا قال. والذي في القسطاس المستقيم خلاف هذا، فإن فيه ص89 فما بعدها: أنه يعظ العامي الطالب الخلاص من الخلاف في الفروع بأن يقول له: «لا تشغل نفسك بمواقع الاختلاف مالم تفرغ من جميع المتفق عليه، فقد اتفقت الأمة على أن زاد الآخرة هو التقوى والورع، وأن الكسب الحلال والمال الحرام والغيبة والنميمة والسرقة والخيانة … حرام، والفرائض كلها واجبة، فإن فرغت من جميعها علمتك طريق الخلاص من الخلاف» . قال: «فإن هو طالبني بها قبل الفراغ من هذا كله فهو جَدَ ليّ وليس بعامي … نعم لو رأيتم صالحاً قد فرغ من حدود التقوى كلها وقال ها أنا تشكل عليّ مسائل … فأقول له إن كنت تطلب الأمان في طريق الآخرة فاسلك سبيل الاحتياط وخذ بما يتفق عليه الجميع فتوضأ من كل ما فيه خلاف، فإن كل من لا يوجبه يستحبه.. فإن قال: هو ذا يثقل علي … ، فأقول له: الآن اجتهد مع نفسك وانظر إلى الأئمة أيهم أفضل.. فمن غلب على ظنك أنه الأفضل فاتبعه» .

حاصل هذا أن الغزالي كان يعلم أن العامة في زمانه ينتسب كل منهم إلى مذهب ويتعصب له، فإن فرض أن أحدهم سأل عن الخلاف وكيف يتخلص منه فلن يكون إلا أحد رجلين: إما فارغاً متليهاً وإما ورعا تقياً، والتقى الورع لابد أن يكون قد شغل فكره المحافظة على الفرائض المتفق عليها وتجنب المحرمات المتفق عليها وعمل بذلك على مذهبه قبل أن يشغله الخلاف. فإذا كان السائل مقصراً مفرطاً وجاء يسأل عن الخلاف فلن يكون إلا متلهيا، فيقال له: ابدأ بالعمل بما تعلمه يقيناً ثم سل، فإن أبى فهو جَدَليّ يتعنت في السؤال ولا يهمه العلم، والإعراض عن مثله أولى.

فأما من أتى بما عليه بحسب مذهبه وسأل عن الخلاص / من الخلاف فالظاهر أنه يسأل ليعلم ويعمل، قال الغزالي «فأقول له: إن كنت تطلب الأمان في طريق الآخرة فاسلك سبيل الاحتياط وخذ بما يتفق عليه الجميع» وفسر ذلك بما بعده، وذلك يوضح قطعاً أن
ঐকমত্য পোষণ করা (مجمع عليه) বিষয়গুলোর ওপর আমল করার মাধ্যমে সন্তুষ্ট থাকা এবং মতপার্থক্যপূর্ণ ধারণাপ্রসূত (ظنية) মাসআলাগুলোকে অস্তিত্বহীন বলে গণ্য করা।

তিনি এভাবেই বলেছেন। কিন্তু আল-কিসতাস আল-মুস্তাকিম গ্রন্থে যা আছে তা এর বিপরীত। এর ৮৯ পৃষ্ঠা ও তার পরবর্তী অংশে রয়েছে যে, তিনি মুক্তিপ্রত্যাশী সাধারণ মানুষকে (عامي) ফروعি মাসআলায় মতপার্থক্য থেকে বাঁচার নসিহত দিতে গিয়ে বলেন: «যতক্ষণ না তুমি সকল ঐকমত্যপূর্ণ বিষয় পালন থেকে অবসর হচ্ছ, ততক্ষণ মতপার্থক্যের বিষয়গুলোতে নিজেকে ব্যস্ত করো না। কেননা উম্মত এই বিষয়ে একমত হয়েছে যে, পরকালের পাথেয় হলো তাকওয়া ও পরহেজগারি; আর হালাল উপার্জন, হারাম মাল, গিবত, চোগলখুরি, চুরি ও খিয়ানত … হারাম; এবং সকল ফরজ কাজগুলো ওয়াজিব। যদি তুমি এই সব থেকে অবসর হতে পারো, তবে আমি তোমাকে মতপার্থক্য থেকে বাঁচার পথ শিখিয়ে দেব।» তিনি বলেন: «যদি সে এসকল কাজ সমাপ্ত করার আগেই আমার কাছে সেগুলো সম্পর্কে জানতে চায়, তবে সে একজন তার্কিক (جدلي), সে সাধারণ মানুষ (عامي) নয় … হ্যাঁ, যদি তোমরা এমন কোনো নেককার ব্যক্তিকে দেখ যে তাকওয়ার সকল সীমা রক্ষা করে আমল সম্পন্ন করেছে এবং বলেছে যে, আমার কাছে কিছু মাসআলা … জটিল ঠেকছে, তবে আমি তাকে বলব: তুমি যদি পরকালের পথে নিরাপত্তা চাও, তবে সতর্কতার (احتياط) পথ অবলম্বন করো এবং যে বিষয়ে সকলে একমত তা গ্রহণ করো। সুতরাং তুমি এমন প্রতিটি বিষয় থেকে অজু করো যে বিষয়ে দ্বিমত রয়েছে, কারণ যারা একে ওয়াজিব মনে করে না তারাও একে মুস্তাহাব মনে করে। যদি সে বলে: এটি আমার জন্য কষ্টকর হয়ে যাচ্ছে … তবে আমি তাকে বলব: এখন তুমি নিজের নফস নিয়ে ইজতিহাদ (اجتهاد) করো এবং ইমামদের প্রতি লক্ষ করো যে তাঁদের মধ্যে কে বেশি শ্রেষ্ঠ। অতঃপর তোমার প্রবল ধারণা (غلبة الظن) অনুযায়ী যিনি শ্রেষ্ঠ হন, তাঁর অনুসরণ করো।»

এর সারকথা হলো, ইমাম গাজালি জানতেন যে তাঁর সময়ের সাধারণ মানুষ (عامة) প্রত্যেকেই কোনো না কোনো মাযহাবের সাথে সম্পৃক্ত এবং তার প্রতি অতি উৎসাহী ছিল। যদি ধরে নেওয়া হয় যে, তাদের কেউ মতপার্থক্য সম্পর্কে এবং তা থেকে কীভাবে মুক্তি পাওয়া যায় সে সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে, তবে সে কেবল দুই ধরনের লোকের কোনো একজন হতে পারে: হয় সে উদ্দেশ্যহীন বিলাসপ্রিয় (متلهي) ব্যক্তি, অথবা সে পরহেজগার ও মুত্তাকি। আর পরহেজগার মুত্তাকির চিন্তাজগৎ অবশ্যই ঐকমত্যপূর্ণ ফরজ বিষয়গুলো রক্ষা করা এবং ঐকমত্যপূর্ণ হারাম বিষয়গুলো বর্জন করার ভাবনায় নিমগ্ন থাকবে এবং মতপার্থক্য তাকে ব্যস্ত করার আগেই সে নিজ মাযহাব অনুযায়ী সেগুলোর ওপর আমল করবে। সুতরাং প্রশ্নকারী যদি অবহেলাকারী ও সীমালঙ্ঘনকারী হয় এবং মতপার্থক্য সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতে আসে, তবে সে অবশ্যই একজন বিলাসপ্রিয় (متلهي) ব্যক্তি হবে। তাকে বলা হবে: তুমি যা নিশ্চিতভাবে জানো তার ওপর আমল করা শুরু করো এবং এরপর জিজ্ঞাসা করো। কিন্তু সে যদি অস্বীকার করে, তবে সে একজন হঠকারী তার্কিক (جدلي), যে কেবল প্রশ্ন করার জন্যই প্রশ্ন করে এবং ইলম অর্জন তার উদ্দেশ্য নয়। আর এ জাতীয় ব্যক্তির থেকে বিমুখ থাকাই শ্রেয়।

পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি নিজ মাযহাব অনুযায়ী তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করেছে এবং মতপার্থক্য থেকে বাঁচার পথ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছে, তবে প্রকাশ্যত সে জানার জন্য ও আমল করার জন্যই জিজ্ঞাসা করেছে। ইমাম গাজালি বলেন: «আমি তাকে বলব: তুমি যদি পরকালের পথে নিরাপত্তা চাও, তবে সতর্কতার (احتياط) পথ অবলম্বন করো এবং যা সর্বসম্মত তা গ্রহণ করো» এবং তিনি পরবর্তী অংশের মাধ্যমে তার ব্যাখ্যা দিয়েছেন। আর এটি অকাট্যভাবে স্পষ্ট করে যে—
(খণ্ড: ১) আল-আনোয়ারুল কাশিফাহ লিমা ফী কিতাবি আদওয়াউ আলাস সুন্নাহ - ত সালাফিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
مراده بما يتفق عليه الجميع أن يلتزم أن يكون وضوؤه الذي يصلي به وضوءاً يتفق العلماء على صحته، يتوضأ من كل ما قال عالم إنه ينقض الوضوء. وهكذا في سائر عمله، يأخذ بالأشد الأشد من أقوال المختلفين. وفهم منها صاحب المنار أن لا يتوضأ من شيء قال عالم إنه لا ينقض الوضوء. وهكذا في سائر عمله أيضا ًبالأخف الأخف من أقوال المختلفين. فلينظر العالم أين هذا من ذلك؟

على أنه إن لم يتوضأ إلا بما اتفقوا على أنه قد ينقض الوضوء قد يكون وضوؤه باطلاً بإتفاقهم وذلك أن بعض العلماء يوجب الوضوء بمس الذكر ولا يوجبه من خروج الدم، وبعضهم يعكس، فإذا وقع لعامي هذا وهذا ولم يتوضأ فوضوؤه الأول باطل باتفاق الفريقين ومع أن مراد الغزالي الاحتياط الأكيد اقتصر على أن فيه «الأمان في طريق الآخرة» ومع أن صاحب المنار قلبه على التفريط الشديد لم يقتصر على أن صاحبه يكون ناجياً في الآخرة بل زاد «مقربا ً عند الله تعالى»

وبعد فلندع الغزالي وصاحب المنار، ولنرجع إلى الحجة، إننا نعلم أن لكثير من علماء الفرق زلات وشواذ مخالفة لدلالات واضحة من القرآن، ولأحاديث تبلغ درجة التواتر المعنوي أو درجة القطع عند من يعرف الرواية والرواة، ومثل هذا غير قليل، فالمقتصر على ما اتفق عليه على ما فهمه صاحب المنار لابد أن يخالف الكتاب والسنة حتماً في كثير من القضايا، هذا في المخالفة القطعية، فأما الظنية فحدَّث عن كثرتها ولا حرج.

ومن جهة آخرى، فمن المحال عادة أن يكون الحق دائماً من المسائل الخلافية مع المرخصين، فالترخص فيهاكلها ترك متيقن لكثير من الحق. ولنفرض أن جماعة تتبعوا أقوال علماء المسلمين من جميع الفرق ثم جمعوا كتاباً ضمنوه ما اتفق المسلمون على أنه واجب أو حرام أو باطل (1) وأهملوا ما عدا ذلك، فهل يقال إن

--------------------------------------------

(1) انظر هل يسمحون بزيادة «أو مندوب»
সকলের ঐকমত্যের (إجماع) মাধ্যমে তাঁর উদ্দেশ্য হলো—ব্যক্তি এই মর্মে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হবে যে, সে যে অজুর মাধ্যমে সালাত আদায় করবে, তা যেন এমন অজু হয় যার শুদ্ধতার (صحة) ব্যাপারে আলিমগণ একমত। তিনি ঐ সকল বিষয় থেকেই অজু করবেন যেগুলোকে কোনো আলিম অজু ভঙ্গকারী (نقض) হিসেবে গণ্য করেছেন। এভাবে নিজের অন্যান্য আমলের ক্ষেত্রেও তিনি মতপার্থক্যকারীদের বক্তব্যের মধ্য থেকে যেটি অধিকতর কঠোর (أشد), সেটি গ্রহণ করবেন। পক্ষান্তরে 'আল-মানার'-এর লেখক এটি থেকে বুঝেছেন যে, কোনো আলিম যে বিষয়টিকে অজু ভঙ্গকারী নয় বলে মত দিয়েছেন, তা থেকে অজু করার প্রয়োজন নেই। এভাবে তিনি তাঁর অন্যান্য আমলের ক্ষেত্রেও মতপার্থক্যকারীদের বক্তব্যের মধ্য থেকে যেটি অধিকতর সহজ (أخف), সেটি গ্রহণ করবেন। এখন বিজ্ঞ ব্যক্তিরাই বিবেচনা করে দেখুন, এটি আর সেটি কতটা ব্যবধান!

উপরন্তু, কেউ যদি কেবল ঐ সকল বিষয় ছাড়া অজু না করে যেগুলোর অজু ভঙ্গকারী (نقض) হওয়ার ব্যাপারে সকলে একমত, তবে সকলের মতেই তার অজু বাতিল (باطل) হয়ে যেতে পারে। কারণ, কোনো কোনো আলিম পুরুষাঙ্গ স্পর্শ করলে অজু আবশ্যিক (واجب) মনে করেন কিন্তু রক্ত নির্গত হওয়াকে নয়, আবার কেউ কেউ এর বিপরীত মত পোষণ করেন। এখন কোনো সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে যদি এই দুটি বিষয়ই ঘটে এবং সে অজু না করে, তবে উভয় পক্ষের মতেই তার পূর্বের অজু বাতিল (باطل)। ইমাম গাজালীর উদ্দেশ্য যেখানে চূড়ান্ত সতর্কতা (احتياط) অবলম্বন করা ছিল, তিনি সেখানে কেবল একে ‘পরকালীন পথের নিরাপত্তা’ হিসেবে সীমাবদ্ধ রেখেছেন। অপরদিকে ‘আল-মানার'-এর লেখক একে চরম শিথিলতায় রূপান্তর করা সত্ত্বেও কেবল এর অনুসারীকে পরকালে মুক্তিপ্রাপ্ত বলেই ক্ষান্ত হননি, বরং একে ‘আল্লাহ তাআলার নিকট নৈকট্যপ্রাপ্ত’ হিসেবেও উল্লেখ করেছেন।

যাক, এখন আমরা গাজালী ও ‘আল-মানার’-এর লেখকের প্রসঙ্গটি ছেড়ে মূল দলীলের দিকে ফিরে আসি। আমরা জানি যে, বিভিন্ন ফিরকার অনেক আলিমেরই এমন কিছু বিচ্যুতি এবং বিরল (شاذ) মত রয়েছে যা কুরআনের স্পষ্ট নির্দেশের পরিপন্থী এবং এমন সব হাদিসেরও পরিপন্থী যা অর্থগত মুতাওয়াতির (تواتر معنوي) পর্যায়ে পৌঁছেছে কিংবা বর্ণনাবিদ্যা ও বর্ণনাকারীগণ (رواة) সম্পর্কে যারা জ্ঞান রাখেন তাদের নিকট যা অকাট্য (قطع) পর্যায়ের। এমন দৃষ্টান্ত কম নয়। সুতরাং ‘আল-মানার’-এর লেখকের বুঝ অনুযায়ী কেবল ঐকমত্যপূর্ণ বিষয়ের ওপর সীমাবদ্ধ থাকলে তাকে বহু মাসআলায় অবশ্যই কিতাব ও সুন্নাহর বিরোধিতা করতে হবে। এটি অকাট্য (قطعي) বিরোধিতার ক্ষেত্রে; আর ধারণাপ্রসূত (ظني) বিরোধিতার তো কোনো ইয়ত্তা নেই।

অন্যদিকে, সাধারণ অভ্যাসবশত এটি অসম্ভব যে মতপার্থক্যপূর্ণ মাসআলাগুলোতে সত্য সর্বদা কেবল শিথিলতা অবলম্বনকারীদের পক্ষেই থাকবে। সুতরাং সকল ক্ষেত্রে শিথিলতা অন্বেষণ করা মানে অনেক সত্যকে নিশ্চিতভাবে (متيقن) বর্জন করা। ধরা যাক, একদল লোক সকল ফিরকার মুসলিম আলিমদের উক্তিগুলো অনুসন্ধান করলেন এবং এমন একটি কিতাব সংকলন করলেন যাতে কেবল ঐ বিষয়গুলোই অন্তর্ভুক্ত করা হলো যেগুলোকে মুসলিমরা আবশ্যিক (واجب), নিষিদ্ধ (حرام) কিংবা বাতিল (باطل) হওয়ার ব্যাপারে একমত হয়েছে (১) এবং বাকি সব বর্জন করলেন, তবে কি এ কথা বলা যাবে যে—

--------------------------------------------

(১) লক্ষ্য করুন, তারা কি ‘বা পছন্দনীয় (مندوب)’ শব্দটুকু বাড়ানোর অনুমতি দেবেন?
(খণ্ড: ১) আল-আনোয়ারুল কাশিফাহ লিমা ফী কিতাবি আদওয়াউ আলাস সুন্নাহ - ত সালাফিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
من حافظ على ما في الكتاب بدون نظر إلى غيره «كان مسلماً ناجياً في الآخرة مقربا ًعند الله تعالى» ثم يستغنى الناس بذاك الكتاب عن كتاب الله وتفسيراته وعن كتب السنة وشروحها ومتعلقاتها، وعن كتب الفقه كلها، ثم لا يعدم المشذبون مقالاً يشكك في ما ضمه ذاك الكتاب، كالشك في تحقق الإجماع وفي حجيته، ولتغير الأحكام بتغير الزمان. وحينئذ يستريح الذين يدعون أنفسهم بالمصلحين من كل أثر للإسلام

وقال ابن حرم في الأحكام 114:3 «وبالحملة فهذا مذهب لم يخلق له معتقد قط، وهو أن لا يقول القائل بالنص حتى يوافقه الإجماع، بل قد صح الإجماع عل أن قائل هذا القول معتقداً له كافر بلا خلاف، لرفضه القول بالنصوص التي لا خلاف في وجوب طاعتها»

هذا وقد برثت ذمة الغزالي من ذاك القول كما علمت. وأنا أجل السيد محمد رشيد رشا عن أن يقول به متصوراً حقيقته، وإنما هذا شأن الإنسان كمن يكون على جسر غير محجر فتستولى على ذهنه خشية السقوط من جانب فيتأخر عنه ويتأخر حتى يسقط بغير اختياره من الجانب الآخر.

بلى من عمل بالمتفق عليه كان مسلماً ناجياً في الآخرة مقرباً عند الله تعالى، وهذا المتفق عليه هو العلم بالدلائل القطعية والظنية من كتاب اللله تعالى ومن سنة رسوله الثابتة قطعاً أو ظناً، فالعالم يتحرى ذلك بالنظر في الأدلة، فإن اشتبهت عليه أو تعارضت أخذ بأحسنها مع تجنب خرق الإجماع الصحيح. والعامي يسأل العلماء ويأخذ بفتواهم، فإن اختلفوا عليه احتاط أو طلب ترجيحاً ما، وإذا علم الله حسن نيته فلابد أن ييسر له ذلك. فأما تقليد الأئمة فمهما قيل فيه فلا ريب أنه خير بكثير من تتبع الرخص. وراجح الموافقات 72:4-86

ثم قال أبو رية ص 20 «حكم كلام الرسول صلى الله عليه وسلم في الأمور الدنيوية … »
যে ব্যক্তি অন্য কিছুর দিকে দৃষ্টিপাত না করে এই কিতাবে যা আছে তা আঁকড়ে ধরবে, সে ‘আখিরাতে মুক্তিপ্রাপ্ত একজন মুসলিম এবং আল্লাহ তাআলার নৈকট্যপ্রাপ্ত হবে’। অতঃপর মানুষ সেই কিতাবের মাধ্যমে আল্লাহর কিতাব ও এর তাফসিরসমূহ, সুন্নাহর কিতাবসমূহ ও এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি, এমনকি সকল ফিকহ (فقه) শাস্ত্রের কিতাব থেকেও বিমুখ হয়ে পড়বে। পরবর্তীতে তথাকথিত সংশোধনকারীরা এমন কোনো কথা বলা বাকি রাখবে না যা সেই কিতাবের অন্তর্ভুক্ত বিষয়বস্তু নিয়ে সন্দেহ তৈরি করে, যেমন ঐকমত্য (إجماع) প্রতিষ্ঠিত হওয়া এবং এর প্রামাণ্যতা (حجية) নিয়ে সন্দেহ করা, কিংবা সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে বিধান পরিবর্তনের কথা তোলা। তখন যারা নিজেদের সংস্কারক দাবি করে, তারা ইসলামের প্রতিটি চিহ্ন থেকে রেহাই পেয়ে যাবে।

ইবনে হাজম আল-আহকাম গ্রন্থে (৩:১১৪) বলেছেন: "সারকথা হলো, এটি এমন একটি মতবাদ যা বিশ্বাস করার মতো কোনো ব্যক্তি কখনও জন্ম নেয়নি। আর তা হলো, কোনো বক্তা ততক্ষণ পর্যন্ত অকাট্য দলীল (نص) অনুযায়ী কথা বলবে না যতক্ষণ না তার ওপর ঐকমত্য (إجماع) প্রতিষ্ঠিত হয়। বরং এটি বিশুদ্ধভাবে প্রমাণিত যে, যে ব্যক্তি এই মতবাদে বিশ্বাসী সে কোনো মতভেদ ছাড়াই কাফির; কারণ সে সেই সকল অকাট্য দলীল (نصوص) অনুযায়ী আমল করতে অস্বীকার করেছে যার আনুগত্য করা বাধ্যতামূলক হওয়ার ব্যাপারে কোনো দ্বিমত নেই।"

ইতোমধ্যে আপনি যেমন জেনেছেন, ইমাম গাজালির দায় এই বক্তব্য থেকে মুক্ত। আর আমি সাইয়্যেদ মুহাম্মদ রশিদ রিদাকে এর হাকিকত বা বাস্তবতা উপলব্ধি করে এমন কথা বলা থেকে ঊর্ধ্বে মনে করি। মানুষের বিষয়টি আসলে এমন এক ব্যক্তির মতো যে রেলিংবিহীন সেতুর ওপর দাঁড়িয়ে আছে, যার মনে একপাশ দিয়ে পড়ে যাওয়ার ভয় কাজ করে, ফলে সে সেখান থেকে পিছিয়ে আসতে থাকে এবং পিছিয়ে আসতে আসতে অনিচ্ছাকৃতভাবেই অন্য পাশ দিয়ে পড়ে যায়।

হ্যাঁ, যে ব্যক্তি সর্বসম্মত (متفق عليه) বিষয়ের ওপর আমল করবে সে আখিরাতে মুক্তিপ্রাপ্ত একজন মুসলিম এবং আল্লাহ তাআলার নৈকট্যপ্রাপ্ত হবে। আর এই সর্বসম্মত বিষয়টি হলো আল্লাহ তাআলার কিতাব এবং রাসূলের সুন্নাহর অকাট্য (قطعية) ও ধারণাপ্রসূত (ظنية) প্রমাণাদি সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা, যা অকাট্যভাবে (قطعاً) বা ধারণার (ظناً) ভিত্তিতে প্রমাণিত (ثابتة)। সুতরাং আলেম ব্যক্তি দলীলসমূহ পর্যালোচনার মাধ্যমে তা অনুসন্ধান করবেন। যদি তাঁর কাছে সেগুলো অস্পষ্ট মনে হয় বা দলীলের মধ্যে পরস্পর বিরোধিতা দেখা দেয়, তবে তিনি সঠিক ঐকমত্য (إجماع) লঙ্ঘন করা পরিহার করে সেগুলোর মধ্যে যা সর্বোত্তম তা গ্রহণ করবেন। আর সাধারণ মানুষ আলেমদের কাছে জিজ্ঞাসা করবে এবং তাঁদের ফতোয়া অনুযায়ী আমল করবে। যদি আলেমদের মধ্যে মতভেদ দেখা দেয়, তবে সে সতর্কতা অবলম্বন করবে অথবা কোনো একটিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার পথ খুঁজবে। আর আল্লাহ যদি তার নিয়তের সততা সম্পর্কে জানেন, তবে অবশ্যই তিনি তার জন্য তা সহজ করে দেবেন। পক্ষান্তরে ইমামগণের অনুসরণ বা তাকলিদ (تقليد) সম্পর্কে যাই বলা হোক না কেন, এতে কোনো সন্দেহ নেই যে তা সহজতা বা বিশেষ ছাড় (رخص) খোঁজার চেয়ে অনেক বেশি উত্তম। আল-মুয়াফাকাত (৪:৭২-৮৬) দেখুন।

অতঃপর আবু রাইয়্যাহ ২০ পৃষ্ঠায় বলেছেন: "পার্থিব বিষয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণীর বিধান … "
(খণ্ড: ১) আল-আনোয়ারুল কাশিফাহ লিমা ফী কিতাবি আদওয়াউ আলাস সুন্নাহ - ত সালাফিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৮)
إلى أن قال: «أما كلامه صلات الله عليه في الأمور الدنيوية فإنه كما قالوا من الآراء المحضة، ويسميه العلماء إرشاداً أي إن أمره صلى الله عليه وسلم في أي شيء من أمور الدنيا يسمى أمر إرشاد … لأنه لا يقصد به القربة ولا فيه معنى التعبد. ومن المعلوم أنه لادليل على وجوب أو ندب إلا بدليل خاص»

أقول: ليس في هذا الكلام ما يصح أن يكون قاعدة ثابتة، فأمور الدنيا خاضعة لأحكام الشرع، وقد أمر الله تعالى بطاعة رسوله وحذر من المخالفة عن أمره، فأمره صلى الله عليه وسلم بشيء دليل قام على وجوبه، إلا أن يقوم دليل يصرف الأمر عن الوجوب إلى غيره. وتفصيل ذلك في كتب الفقه.

ثم قال «لأن الرسل غير معصومين في غير التليغ. قال السفارينى … قال ابن حمدان … «وإنهم معصومون فيما يؤدونه عن الله تعالى، وليسوا بمعصومين في غير ذلك» ، وقال ابن عقيل … لم يعتصموا في الأفعال، بل في نفس الأداء، ولا يجوز عليهم الكذب في الأقوال فيما يؤدونه عن الله تعالى.. وقال القاضي عياض: … »

أقول: هذا الذي اقتصر عليه أبو رية يوهم أن الأنبياء عليهم الصلاة والسلام ليسوا معصومين عن تعمد الكذب في غير التبليغ ولا عن الكبائر لا عن صغائر الخسة. وفي هذه الكتب التي نقل عنها وغيرها بيان عصمتهم عن ذلك وعن غيره مماترى تفصيله فيها.

احتاج أبو رية إلى صنعيه ليرد كثيراً من الأحاديث الصحيحة بزعم أنها لم تكن على وجه التبليغ، وأن الأنبياء إنما عصموا من الكذب في التبليغ. فليتدبر القارئ/ هذا مع قول أبي رية نفسه في حاشية ص39 «ولعنة الله على الكاذبين، متعمدين وغير متعمدين» !

وذكر قصة التأبير، فدونك تحقيقها: أخرج مسلم في صحيحه من حديث طلحة قال «مررت مع رسول الله صلىالله عل يوسلم بقوم على رءوس النخل فقال: ما يصنع هؤلاء؟ فقالوا: يلقحونه، يجعلون الذكر في الأنثى فيلقح، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم:
এ কথা পর্যন্ত যে: «পার্থিব বিষয়ে তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বক্তব্যের ব্যাপারে তাঁরা (ওলামায়ে কেরাম) যেমনটি বলেছেন যে, এগুলো একান্তই ব্যক্তিগত অভিমত। আলেমরা একে ইর্শাদ (إرشاد) তথা পথনির্দেশনা বলে অভিহিত করেন। অর্থাৎ পার্থিব কোনো বিষয়ে তাঁর আদেশকে 'আদেশমূলক নির্দেশনা' (أمر إرشاد) বলা হয় … কারণ এর দ্বারা আল্লাহর নৈকট্য লাভ উদ্দেশ্য নয় এবং এর মধ্যে ইবাদতের কোনো অর্থও নেই। আর এটি সুপরিচিত যে, বিশেষ কোনো দলিল ব্যতীত কোনো বিষয় আবশ্যক (وجوب) বা পছন্দনীয় (ندب) হওয়ার ওপর কোনো দলিল নেই।»

আমি বলি: এই বক্তব্যে এমন কিছু নেই যা একটি সুপ্রতিষ্ঠিত মূলনীতি (قاعدة) হওয়ার যোগ্য। কারণ পার্থিব বিষয়সমূহ শরিয়তের বিধানের অনুগত। আল্লাহ তাআলা তাঁর রাসূলের আনুগত্য করার নির্দেশ দিয়েছেন এবং তাঁর আদেশের বিরুদ্ধাচরণ করতে সতর্ক করেছেন। সুতরাং কোনো বিষয়ে তাঁর নির্দেশ প্রদান করা সেটি আবশ্যক (وجوب) হওয়ার প্রমাণ, যদি না এমন কোনো দলিল পাওয়া যায় যা সেই নির্দেশকে আবশ্যকতা (وجوب) থেকে অন্য কোনো বিধানের দিকে ফিরিয়ে নেয়। এর বিস্তারিত বিবরণ ফিকহ শাস্ত্রের কিতাবসমূহে রয়েছে।

অতঃপর তিনি বলেন, «কারণ রাসূলগণ দ্বীন প্রচার (تبليغ) ব্যতীত অন্য বিষয়ে নিষ্পাপ (معصوم) নন। সাফারিনি বলেন … ইবনুল হামদান বলেন … "তাঁরা আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে যা কিছু পৌঁছান সে ক্ষেত্রে নিষ্পাপ (معصوم), তবে এর বাইরে অন্য বিষয়ে তাঁরা নিষ্পাপ (معصوم) নন।" ইবনে আকিল বলেন … কর্মের ক্ষেত্রে তাঁদের সুরক্ষা (عصمة) দেওয়া হয়নি, বরং প্রচারের ক্ষেত্রে দেওয়া হয়েছে। আর আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে প্রচারকৃত বাণীর ক্ষেত্রে তাঁদের জন্য মিথ্যা বলা অসম্ভব.. কাযী আয়াজ বলেন: … »

আমি বলি: আবু রাইয়্যাহ এখানে যা সংক্ষেপে উল্লেখ করেছেন, তা এই বিভ্রম সৃষ্টি করে যে, নবীগণ (আলাইহিমুস সালাম) দ্বীন প্রচার (تبليغ) বহির্ভূত বিষয়ে ইচ্ছাকৃত মিথ্যা বলা, বড় গুনাহ (كبائر) এবং হীন প্রকৃতির ছোট গুনাহ (صغائر) থেকে নিষ্পাপ (معصوم) নন। অথচ তিনি যেসব কিতাব থেকে উদ্ধৃতি দিয়েছেন এবং অন্যান্য কিতাবে এসব বিষয়ে এবং এর বাইরেও তাঁদের নিষ্পাপতা (عصمة) সম্পর্কে স্পষ্ট বর্ণনা রয়েছে, যার বিস্তারিত বিবরণ সেখানে দেখা যাবে।

আবু রাইয়্যাহ এই কৌশল অবলম্বন করেছেন অনেক সহিহ (صحيح) হাদিস প্রত্যাখ্যান করার জন্য, এই অজুহাতে যে সেগুলো প্রচারের (تبليغ) পর্যায়ে ছিল না এবং নবীগণ কেবল প্রচারের (تبليغ) ক্ষেত্রেই মিথ্যামুক্ত (معصوم)। পাঠক যেন পৃষ্ঠা ৩৯-এর টীকায় আবু রাইয়্যাহর নিজের এই উক্তিটি নিয়ে চিন্তা করেন: «মিথ্যাবাদীদের ওপর আল্লাহর অভিশাপ, তারা ইচ্ছাকৃত হোক বা অনিচ্ছাকৃত!»

তিনি খেজুর গাছে পরাগায়নের ঘটনা উল্লেখ করেছেন। এর বিশ্লেষণ (تحقيق) লক্ষ্য করুন: ইমাম মুসলিম তাঁর সহিহ গ্রন্থে তালহা (রা.)-এর হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: «আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে খেজুর গাছের মাথায় আরোহণকারী কিছু লোকের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম। তিনি বললেন: এরা কী করছে? তারা বলল: তারা পরাগায়ন করছে, তারা পুরুষ অংশ স্ত্রী অংশের সাথে স্থাপন করছে যাতে ফলন হয়। তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন:
(খণ্ড: ১) আল-আনোয়ারুল কাশিফাহ লিমা ফী কিতাবি আদওয়াউ আলাস সুন্নাহ - ত সালাফিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৯)
ما أظن يغني ذلك شيئاً. قال فأخبروا بذلك فتركوه، فأخبر رسول الله صلى الله عليه وسلم بذلك، فقال: إن كان ينفعهم ذلك فليصنعوه، فإني إنما ظننت ظناً فلا تؤاخذوني بالظن، ولكن إذا حدثتكم عن الله شيئاً فخذوا به فإني لن أكذب على الله عز وجل» .

ثم أخرجه عن رافع بن خديج وفيه «فقال لعلكم لولم تفعلوا كان خيراً. فتركوه فنقضت.. فقال: إنما أنا بشر، إذا أمرتكم بشيء من دينكم فخذوا به، وإذا أمرتكم بشيء من رأيي فإنما أنا بشر. قال عكرمة: أو نحو هذا»

ثم أخرجه عن حماد بن سلمة عن هشام بن عروة عن أبيه عن عائشة، وعن ثابت عن أنس … » وفيه «فقال: لو لم تفلعوا لصلح» وقال في آخره «أنتم أعلم بأمر دنياكم»

عادة مسلم أن يرتب روايات الحديث بحسب قوتها: يقدم الأصح فالأصح. قوله صلى الله عليه وسلم في حديث طلحة «ما أظن يغني ذلك شيئاً، إخبار عن ظنه، وكذلك كان ظنه، فالخبر صدق قطعاً، وخطأ الظن ليس كذباً، وفي معناه قوله في حديث رافع «لعلكم … » وذلك كما أشار إليه مسلم أصح مما في رواية حماد، لأن حماداً كان يخطئ.

وقوله في حديث طلحة « (فإني لن أكذب على الله» فيه دليل على امتناع أن يكذب على الله خطأ، لأن السياق في احتمال الخطأ، وامتناعه عمداً معلوم من باب أولى، بل كان معلوماً عندهم قطعاً.

ونقل عن شفاء عياض قال «وفي حديث ابن عباس في الخرص: فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: إنما أنا بشر، فما حدثتكم عن الله فهو حق، وما قلت فيه من قبل نفسي فإنما أنا بشر أخطئ، وأصيب» .

أقول: ذكر شارح الشفاء أن البزار أخرجه بسند حسن، وتحسين المتأخرين فيه نظر، فإن صح فكأنهم مروا بشجر مثمر فخرصوه يجربون حدسهم، وخرصها النبي صلى الله عليه وسلم فجاءت على خلاف خرصه. ومعلوم أن الخرص حزر وتخمين، فكأن الخارص يقول: أظن كذا. وقد مر حكمه. والله أعلم

وقال أبو ريةقبل هذا «وقد ثبت أن النبي صلى الله عليه وسلم كان يصدق بعض ما يفتريه
আমি মনে করি না এটি কোনো উপকারে আসবে। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর লোকজনকে তা জানানো হলে তারা তা বর্জন করল। আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে এই খবর জানানো হলে তিনি বললেন: যদি এটি তাদের উপকারে আসে তবে তারা যেন তা করে। কারণ আমি কেবল একটি ধারণা (ظن) করেছিলাম, সুতরাং নিছক ধারণার জন্য আমাকে পাকড়াও করো না। কিন্তু আমি যখন আল্লাহর পক্ষ থেকে তোমাদের কোনো কিছু বলি, তখন তা গ্রহণ করো; কেননা আমি আল্লাহর প্রতি কখনো মিথ্যা আরোপ করব না।

অতঃপর তিনি এটি রাফে ইবনে খাদিজ থেকে বর্ণনা করেছেন এবং তাতে রয়েছে: "তিনি বললেন, সম্ভবত তোমরা যদি এটি না করতে তবে তা উত্তম হতো। ফলে তারা তা ছেড়ে দিল এবং উৎপাদন হ্রাস পেল... তখন তিনি বললেন: আমি কেবল একজন মানুষ; আমি যখন তোমাদের দ্বীন সংক্রান্ত কোনো নির্দেশ দেই তখন তা গ্রহণ করো, আর আমি যখন আমার ব্যক্তিগত মত (رأي) থেকে কোনো নির্দেশ দেই তবে আমি একজন মানুষ মাত্র। ইকরিমা বলেন: অথবা এই জাতীয় কিছু।"

অতঃপর তিনি এটি হাম্মাদ ইবনে সালামাহ থেকে, তিনি হিশাম ইবনে উরওয়াহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আয়িশা (রা.) থেকে এবং সাবিত থেকে, তিনি আনাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন … এবং তাতে রয়েছে: "তিনি বললেন: তোমরা যদি এটি না করতে তবে তা ফলপ্রসূ হতো।" এবং শেষে বলেছেন: "তোমরা তোমাদের দুনিয়াবি বিষয়ে অধিক অবগত।"

ইমাম মুসলিমের রীতি হলো হাদিসের বর্ণনাগুলোকে (روايات) তাদের শক্তির ক্রমানুসারে বিন্যস্ত করা: তিনি অপেক্ষাকৃত অধিক বিশুদ্ধ (أصح) বর্ণনাটিকে আগে উপস্থাপন করেন। তালহার হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর উক্তি "আমি মনে করি না এটি কোনো উপকারে আসবে" মূলত তাঁর একটি ধারণা (ظن) সম্পর্কে সংবাদ প্রদান মাত্র। আর তাঁর ধারণাও তেমনই ছিল। সুতরাং সংবাদটি অকাট্যভাবে সত্য ছিল, আর ভুল ধারণা কোনো মিথ্যাচার নয়। রাফে-এর হাদিসে তাঁর উক্তি "সম্ভবত … " একই অর্থ বহন করে। আর ইমাম মুসলিম যেমনটি ইঙ্গিত করেছেন, এটি হাম্মাদের বর্ণনার চেয়ে অধিক বিশুদ্ধ (أصح); কারণ হাম্মাদ ভুল করতেন।

তালহার হাদিসে তাঁর উক্তি "(কেননা আমি আল্লাহর প্রতি কখনো মিথ্যা আরোপ করব না" এতে প্রমাণ রয়েছে যে, ভুলবশত আল্লাহর নামে মিথ্যা বলা তাঁর পক্ষে অসম্ভব; কারণ প্রসঙ্গের প্রেক্ষাপটটি ছিল ভুলের সম্ভাব্যতা নিয়ে। আর ইচ্ছাকৃতভাবে এটি ঘটা অসম্ভব হওয়া তো প্রথমত ও স্বভাবতই প্রমাণিত, বরং এটি তাঁদের নিকট অকাট্যভাবেই সুনিশ্চিত ছিল।

কাযী আয়াযের শিফা গ্রন্থ থেকে উদ্ধৃত হয়েছে, তিনি বলেন: "ফল পরিমাপ (الخرص) সংক্রান্ত ইবনে আব্বাসের হাদিসে আছে: রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: আমি কেবল একজন মানুষ। আমি আল্লাহর পক্ষ থেকে তোমাদের যা বলি তা সত্য (حق), আর আমি নিজের পক্ষ থেকে যা বলি সেক্ষেত্রে আমি একজন মানুষ মাত্র; আমি ভুলও করতে পারি আবার সঠিকও হতে পারি।"

আমি বলি: শিফা গ্রন্থের ব্যাখ্যাকার উল্লেখ করেছেন যে, আল-বাজজার এটি হাসান (حسن) সনদ (سند) সহকারে বর্ণনা করেছেন। তবে পরবর্তী যুগের আলেমদের একে হাসান বলা (تحسين) পর্যালোচনার অবকাশ রাখে। যদি এটি সহিহ (صح) হয়, তবে বিষয়টি এমন যে, তারা একটি ফলবান বৃক্ষের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন এবং তাদের অনুমানের পরীক্ষা করার জন্য ফলের পরিমাণ অনুমান (خرص) করছিলেন। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-ও তা অনুমান (خرص) করেছিলেন কিন্তু বাস্তবে তা তাঁর অনুমানের বিপরীতে ঘটেছিল। আর এটি সুবিদিত যে, ফল পরিমাপের অনুমান (الخرص) করা হলো কেবল আন্দাজ ও ধারণা। যেন অনুমানকারী বলছে: আমি এমনটি ধারণা (أظن) করছি। এর বিধান ইতিপূর্বেই অতিক্রান্ত হয়েছে। আল্লাহ অধিক জ্ঞাত।

এর আগে আবু রাইয়্যাহ বলেছিলেন, "এবং এটি সুপ্রমাণিত যে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর প্রতি মিথ্যাভাবে আরোপিত (يفتريه) কোনো কোনো বিষয়কে সত্য বলে গণ্য করতেন"
(খণ্ড: ১) আল-আনোয়ারুল কাশিফাহ লিমা ফী কিতাবি আদওয়াউ আলাস সুন্নাহ - ত সালাফিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩০)
المنافقون كما وقع في غزوة تبوك وغيرها، وصدق بعض أزواجه، وتردد في حديث الإفك.. حتى نزل عليه آيات البراءة» . وذكر ص142 عن صاحب المنار: «.... والنبي صلى الله عليه وسلم ماكان يعلم الغيب فهو كسائر البشر/ يحمل كلام الناس على الصدق إذ لم تحف به شبهة، وكثيراً ما صدق المنافقين والكفار في أحاديثهم. وحديث العرنيين وأصحاب بئر معونة مما يدل على ذلك.. إذ أذن لبعض المعتذرين من المنافقين في التخلف عن غزوة تبوك، وما علله به وهو قوله تعالى (عفا الله عنك، لم أذنت لهم حتى بتبين لك الذين صدقوا وتعلم الكاذبين) وإذا جاز على الأنبياء والمرسلين أن يصدقوا الكاذب فيما لا يخل بأمر الدين … »

وذكر ص22 عن عياض حيدث «فلعل بعضكم أن يكون أبلغ من بعض فأحسب أنه صادق فأقضي له» وفي رواية «ولعل بعضكم أن يكون ألحن بحجته من بعض فاقضي له على نحو ما أسمع … »

أقول: لم يكن صلىالله عليه وسلم يعلم من الغيب ما لم يعلمه الله تعالى به، ولم يكن - بأبي وأمي- مغفلاً، ولم يصدق المنافقين أي يعتقد صدقهم، بل ولا ظنه، وإنما كان الأمر عنده على الاحتمال. ولهذا عاتبه الله عز وجل على الإذن لهم، هذا واضح بجمد الله.

والعرنيون لم يتحقق منهم كذب، فلعلهم كانوا صادقين في إسلامهم وإنما بدا لهم أن يرتدوا لما وجدوا أنفسهم منفردين بالإبل والراعي بعيداً عن المدينة. وقصة بئر معونة اختلف فيها فلم يتحقق فيها شاهد على ما نحن فيه. راجح فتح الباري 296:7.

وقصته مع بعض أزواجه أراها في الصحيحين عن عائشة «أن النبي صلى الله عليه وسلم كان يمكث عند زينب بنت جحش ويشرب عندها عسلاً، فتواصيت أنا وحفصة أن أيتنا دخل عليها النبي صلى الله عليه وسلم فلتقل: إني لأجد منك ريح مغافير، أكلت مغافير؟ فدخل على إحداهما فقالت له ذلك فقال: لا، بل شربت عسلاً عند زينب بنت جحش ولن أعود له. فنزلت (يا أيها النبي
মুনাফিকগণ যেমনটি তাবুক যুদ্ধ এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে ঘটেছে; এবং তিনি তাঁর কিছু স্ত্রীর কথা বিশ্বাস করেছিলেন, এবং ইফকের হাদিস নিয়ে সংশয়ে ছিলেন... যতক্ষণ না তাঁর ওপর পবিত্রতা ঘোষণার আয়াতসমূহ নাজিল হয়। তিনি ১৪2 পৃষ্ঠায় ‘সাহিবুল মানার’ (মানার প্রণেতা) থেকে উল্লেখ করেছেন: “...আর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) গায়েব (অদৃশ্য) জানতেন না, তিনি অন্যান্য মানুষের মতোই ছিলেন; তিনি মানুষের কথাকে সত্য হিসেবে গ্রহণ করতেন যতক্ষণ না তাতে কোনো সংশয় পরিলক্ষিত হতো। অনেক সময় তিনি মুনাফিক ও কাফিরদের কথা বিশ্বাস করেছেন। উরানিদের হাদিস এবং বির-এ মাউনার অধিবাসীদের ঘটনা এর প্রমাণ বহন করে... যেহেতু তিনি তাবুক যুদ্ধে মুনাফিকদের মধ্যে কিছু ওজর পেশকারীকে যুদ্ধে না যাওয়ার অনুমতি দিয়েছিলেন, এবং মহান আল্লাহর বাণী সেটির কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন: (আল্লাহ আপনাকে ক্ষমা করুন, কেন আপনি তাদের অনুমতি দিলেন যতক্ষণ না সত্যবাদীরা আপনার নিকট স্পষ্ট হতো এবং আপনি মিথ্যাবাদীদের (الكاذبين) চিনে নিতেন)। আর যদি নবী ও রাসূলগণের জন্য কোনো মিথ্যাবাদীর (الكاذب) কথা বিশ্বাস করা জায়েজ হয় এমন বিষয়ে যা দীনের কোনো ক্ষতি করে না … ”

আর তিনি ২২ পৃষ্ঠায় ইয়াদ থেকে এই হাদিস উল্লেখ করেছেন: “হয়তো তোমাদের কেউ অন্যের চেয়ে অধিক বাকপটু হবে, তখন আমি তাকে সত্যবাদী (صادق) মনে করে তার পক্ষে ফয়সালা দেব।” অন্য একটি বর্ণনায় (رواية) আছে: “হয়তো তোমাদের কেউ তার দলিলের বর্ণনায় অন্যের চেয়ে অধিক পটু হবে, তাই আমি যা শুনি সে অনুযায়ীই তার পক্ষে ফয়সালা প্রদান করি … ”

আমি বলি: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) গায়েব (অদৃশ্য) থেকে অতটুকুই জানতেন যা আল্লাহ তাআলা তাঁকে জানাতেন। তিনি—আমার পিতা-মাতা তাঁর জন্য উৎসর্গ হোক—অসতর্ক ছিলেন না। তিনি মুনাফিকদের কথা বিশ্বাস করতেন না এই অর্থে যে তিনি তাদের সত্যনিষ্ঠ মনে করতেন, এমনকি তাঁর সেরূপ ধারণাও ছিল না; বরং বিষয়টি তাঁর নিকট কেবল একটি সম্ভাবনার ওপর ছিল। এই কারণেই আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা তাদের অনুমতি দেওয়ার কারণে তাঁকে অনুযোগ করেছেন, আল্লাহর প্রশংসা সহকারে এটি সুস্পষ্ট।

আর উরানিদের থেকে কোনো মিথ্যা (كذب) প্রমাণিত হয়নি; হতে পারে তারা তাদের ইসলাম গ্রহণে সত্যবাদী (صادقين) ছিল, কিন্তু যখন তারা নিজেদের উট ও রাখাল সহ মদিনা থেকে দূরে একা পেল, তখন তাদের মনে মুরতাদ হওয়ার চিন্তা জাগল। আর বির-এ মাউনার ঘটনায় মতপার্থক্য রয়েছে, তাই আমরা যে বিষয়ে আলোচনা করছি তার সপক্ষে কোনো প্রমাণ বা সাক্ষী (شاهد) সেখানে নিশ্চিত হয়নি। দেখুন: ফাতহুল বারী ৭:২৯৬।

আর তাঁর কিছু স্ত্রীর সাথে ঘটে যাওয়া ঘটনাটি আমি সহীহাইনে আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত হতে দেখেছি: “নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জয়নাব বিনতে জাহাশ (রা.)-এর নিকট অবস্থান করতেন এবং সেখানে মধু পান করতেন। অতঃপর আমি ও হাফসা (রা.) পরামর্শ করলাম যে, আমাদের যার কাছেই নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রবেশ করবেন, সে যেন বলে: আমি আপনার নিকট থেকে ‘মাগাফির’-এর (এক প্রকার দুর্গন্ধযুক্ত আঠা) গন্ধ পাচ্ছি; আপনি কি মাগাফির খেয়েছেন? এরপর তিনি তাদের একজনের নিকট প্রবেশ করলে তিনি তাঁকে তা-ই বললেন। তখন তিনি বললেন: না, বরং আমি জয়নাব বিনতে জাহাশের ঘরে মধু পান করেছি, আমি আর কখনো তা করব না। তখন নাজিল হলো: (হে নবী...