(খণ্ড: ১) ফিকহুন নাওয়াযিল ফিল ইবাদাত (পৃষ্ঠা: -)
فقه النوازل في العبادات   (خالد المشيقح)

القسم: مسائل فقهية


الكتاب: فقه النوازل في العبادات

المؤلف: خالد بن علي بن محمد بن حمود بن علي المشيقح

[الكتاب مرقم آليا]

عدد الصفحات: 79

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

ইবাদাতের ক্ষেত্রে সমসাময়িক মাসায়েলের ফিকহ (فقه النوازل في العبادات)   (খালিদ আল-মুশাইকিহ)

বিভাগ: ফিকহী মাসআলাসমূহ (مسائل فقهية)


গ্রন্থ: ইবাদাতের ক্ষেত্রে সমসাময়িক মাসায়েলের ফিকহ (فقه النوازل في العبادات)

লেখক: খালিদ বিন আলী বিন মুহাম্মাদ বিন হামুদ বিন আলী আল-মুশাইকিহ

[বইটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত]

পৃষ্ঠাসংখ্যা: ৭৯

শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) ফিকহুন নাওয়াযিল ফিল ইবাদাত (পৃষ্ঠা: ১)
من دروس الدورة العلمية بجامع الراجحي ببريدة لعام 1426هـ

‌‌فقه النوازل في العبادات

القسم الأول

(الطهارة- الصلاة - الجنائز)

من إلقاء الشيخ:

أ. د / الدكتور: خالد بن علي المشيقح

 

مقدمة

الحمد لله رب العالمين والصلاة والسلام على سيد المرسلين وبعد:

في هذه الدورة رأيت أن نتعرض إلى «النوازل التي تعنى بأمور العبادات» ، فهناك نوازل كثيرة تتعلق بالطهارة والصلاة وكذلك أيضاً ما يتعلق بالزكاة والصيام كالمفطرات المستجدة..إلخ.

وسنبدأ بإذن الله بنوازل الطهارة ثم بعد ذلك نعرج على نوازل الصلاة، ثم بعد ذلك إن فسح الوقت لنا سنتعرض لجملة من نوازل الزكاة كحكم المتاجرة بأموال الزكاة والصدقات وغير ذلك مما سنذكره ، وسنحاول بإذن الله أن نختصر الكلام لأن النوازل كثيرة وقد استقرأت كثيراً من النوازل الموجودة الآن في الطهارة ، هناك كثير من النوازل وجدت في المياه ووجدت في الوضوء ووجدت في الغسل ووجدت أيضاً في ما يتعلق بإزالة النجاسة..إلخ. وهذه النوازل يحتاج إليها الناس لأنهم يلابسونها وتلمس أمورهم العبادية.

وسنذكر تعريفاً لهذه النوازل على سبيل الإجمال ثم بعد ذلك نذكر تخريجها من كلام الفقهاء السابقين.

وقبل أن أبدأ بالنوازل أقدم ب‌‌تعريف النوازل في اللغة والاصطلاح ثم بعد ذلك سأذكر طرفاً من أهمية دراسة النوازل والحوادث المستجدة في الفقه ثم بعد ذلك نشرع في نوازل الطهارة وسنحاول بإذن الله أن نأخذ كل يوم عشر مسائل.

تعريف النوازل

النوازل: جمع نازلة، وهي في اللغة: هبوط الشيء ونزوله.

وأما في الاصطلاح: فهي الحادثة المستجدة التي تحتاج إلى حكم شرعي.
১৪২৬ হিজরীতে বুরাইদাহর জামে আল-রাজহিতে অনুষ্ঠিত বৈজ্ঞানিক কোর্সের পাঠসমূহ থেকে

‌‌ইবাদতের ক্ষেত্রে সমসাময়িক সমস্যাবলির (النوازل) ফিকহ

প্রথম অংশ

(পবিত্রতা - সালাত - জানাজা)

উপস্থাপনায় শায়খ:

প্রফেসর ড. খালিদ বিন আলী আল-মুশাইকিহ

 

ভূমিকা

সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক রাসূলগণের সরদারের ওপর। অতঃপর:

এই কোর্সে আমি ‘ইবাদতের সাথে সংশ্লিষ্ট সমসাময়িক সমস্যাবলি’ (النوازل) নিয়ে আলোচনার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। পবিত্রতা ও সালাত সংক্রান্ত অনেক সমসাময়িক সমস্যা (نوازل) রয়েছে, অনুরূপভাবে জাকাত ও সিয়ামের ক্ষেত্রেও অনেক বিষয় রয়েছে, যেমন—রোজা ভঙ্গের আধুনিক কারণসমূহ ইত্যাদি।

আমরা আল্লাহর ইচ্ছায় পবিত্রতার সমসাময়িক সমস্যা (نوازل) দিয়ে শুরু করব, এরপর সালাতের সমসাময়িক সমস্যাগুলো (نوازل) নিয়ে আলোচনা করব। এরপর সময় পাওয়া গেলে জাকাতের বেশ কিছু সমসাময়িক সমস্যা (نوازل) যেমন—জাকাত ও সদকার অর্থ দিয়ে ব্যবসা করার বিধান এবং অন্যান্য বিষয় যা আমরা উল্লেখ করব। আমরা সংক্ষেপে আলোচনা করার চেষ্টা করব কারণ সমসাময়িক সমস্যা (نوازل) অনেক। আমি পবিত্রতা বিষয়ে বর্তমানে বিদ্যমান অনেক সমসাময়িক সমস্যা (نوازل) পর্যালোচনা করেছি। পানি, অজু, গোসল এবং নাপাকি দূর করার ক্ষেত্রে অনেক সমসাময়িক সমস্যা (نوازل) পরিলক্ষিত হয়েছে। মানুষের এই বিষয়গুলো জানা প্রয়োজন কারণ এগুলো তাদের প্রাত্যহিক ইবাদতের সাথে জড়িত।

আমরা এই সমসাময়িক সমস্যাগুলোর (نوازل) একটি সংক্ষিপ্ত সংজ্ঞা প্রদান করব, এরপর পূর্ববর্তী ফকিহগণের আলোচনার আলোকে এগুলোর সমাধান বা প্রয়োগ (تخريج) উল্লেখ করব।

সমসাময়িক সমস্যাগুলো (نوازل) শুরু করার আগে আমি আভিধানিক ও পারিভাষিক (اصطلاح) অর্থে নাওয়াযিল-এর সংজ্ঞা প্রদান করব। এরপর ফিকহ শাস্ত্রে সমসাময়িক সমস্যা (نوازل) এবং নবউদ্ভূত ঘটনাবলী অধ্যয়নের গুরুত্ব নিয়ে আলোকপাত করব। এরপর আমরা পবিত্রতার সমসাময়িক সমস্যাগুলো (نوازل) শুরু করব এবং ইনশাআল্লাহ প্রতিদিন দশটি করে মাসয়ালা আলোচনা করার চেষ্টা করব।

নাওয়াযিল-এর সংজ্ঞা

নাওয়াযিল (النوازل): এটি নাযিলাহ (نازلة) শব্দের বহুবচন। আভিধানিক অর্থে এটি কোনো কিছুর অবতরণ বা নিচে নামাকে বোঝায়।

আর পারিভাষিক (اصطلاح) অর্থে: এটি এমন কোনো নবউদ্ভূত ঘটনা যা শরয়ী বিধান জানার মুখাপেক্ষী।
(খণ্ড: ১) ফিকহুন নাওয়াযিল ফিল ইবাদাত (পৃষ্ঠা: ২)
‌‌حكم دراسة هذه النوازل

فرض كفاية إذا قام به من يكفي سقط الإثم عن الباقين ، لأن تبين العلم وما يحتاج إليه الناس هذا واجب على الكفاية إذا قام به من يكفي سقط الإثم عن الباقين.

والدليل على أنه فرض قال الله عز وجل: {وَإِذَ أَخَذَ اللهُ مِيثَاقَ الَّذِينَ أُوتُواْ الْكِتَابَ لَتُبَيِّنُنَّهُ لِلنَّاسِ وَلَا تَكْتُمُونَهُ} (1) . فتبين العلم ونشره هذا واجب على العلماء وطلاب العلم. ومثل هذه النوازل بالنسبة للعامي قد لايحسن تخريج حكمها على ما جاء في كتاب الله وسنة رسوله صلى الله عليه وسلم وما ذكره العلماء رحمهم الله.

إنما كان على سبيل الكفاية لأن هذا العمل يتعلق بالعمل ولا يتعلق بالعامل وقد سبق لنا في القواعد الفقهية أن بينا الفرق بين فرض الكفاية وفرض العين وأن الأمر إذا تعلق بالعامل فهو فرض عين وأما إذا تعلق بالعمل فإنه فرض على الكفاية ، وهذا يتعلق بالعمل يعني المطلوب تحصيل هذا العمل سواء كان من هذا الشخص أو من غيره.

‌‌أهمية دراسة النوازل

دراسة النوازل له أهمية فمن أهميته:

أولاً: بيان كمال الشريعة وأنها صالحة لكل زمان ومكان ، فما من نازلة من النوازل إلا ولها حكم في الشريعة جاء بيان ذلك في كتاب الله وسنة رسوله صلى الله عليه وسلم يعلم ذلك ويعرفه الراسخون في العلم ،ودليل ذلك:

قول الله عز وجل: {الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي وَرَضِيتُ لَكُمُ الإِسْلَامَ دِيناً} (2) .

وقال سبحانه وتعالى: {وَنَزَّلْنَا عَلَيْكَ الْكِتَابَ تِبْيَاناً لِّكُلِّ شَيْءٍ وَهُدًى وَرَحْمَةً وَبُشْرَى لِلْمُسْلِمِينَ} (3) .

وقال أبو ذر رضي الله عنه: " تركنا رسول الله صلى الله عليه وسلم وما من طائر يقلب بجناحيه إلا ذكر لنا منه علماً " (4) .-

--------------------------------------------

(1) آل عمران187

(2) المائدة3

(3) النحل89

(4) رواه أحمد والطبراني
এই সকল উদ্ভূত সমস্যাবলি (نوازل) পর্যালোচনার বিধান

এটি ফরজে কিফায়া বা সমষ্টিগত আবশ্যিক দায়িত্ব (فرض كفاية); যখন পর্যাপ্ত সংখ্যক লোক এটি আঞ্জাম দেবে, তখন অবশিষ্টদের ওপর থেকে গুনাহ রহিত হয়ে যাবে। কারণ ইলম (علم) বা জ্ঞান প্রকাশ করা এবং মানুষের প্রয়োজনীয় বিষয়সমূহ স্পষ্ট করা একটি সমষ্টিগত ওয়াজিব (واجب على الكفاية); যখন পর্যাপ্ত সংখ্যক লোক এটি পালন করবে, তখন অন্যদের ওপর থেকে গুনাহের দায়ভার সরে যাবে।

এর সপক্ষে দলিল হলো আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা-এর বাণী: {আর স্মরণ করো যখন আল্লাহ আহলে কিতাবদের থেকে অঙ্গীকার গ্রহণ করলেন যে, তোমরা তা মানুষের কাছে স্পষ্টভাবে বর্ণনা করবে এবং তা গোপন করবে না} (১)। সুতরাং ইলম (علم) বা জ্ঞান স্পষ্ট করা এবং তা প্রচার করা আলেম ও ইলম অন্বেষণকারীদের ওপর ওয়াজিব। সাধারণ মানুষের পক্ষে এই ধরণের উদ্ভূত সমস্যাবলির (نوازل) ক্ষেত্রে আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূলের সুন্নাহ (سنة) এবং আলেমদের -আল্লাহ তাদের প্রতি দয়া করুন- বক্তব্যের আলোকে সঠিক বিধান উদ্ঘাটন করা (تخريج) সম্ভব নাও হতে পারে।

এটি মূলত সমষ্টিগত বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত কারণ এই কর্মটি মূল কাজের সাথে সংশ্লিষ্ট, কর্মীর সাথে নয়। ইতিপূর্বে আমরা ফিকহি মূলনীতিসমূহে ফরজে কিফায়া (فرض كفاية) এবং ফরজে আইন (فرض عين)-এর মধ্যকার পার্থক্য বর্ণনা করেছি যে, নির্দেশটি যখন সরাসরি ব্যক্তির সাথে সংশ্লিষ্ট হয় তখন সেটি ফরজে আইন (فرض عين), আর যখন মূল কাজটি অর্জিত হওয়ার সাথে সংশ্লিষ্ট হয় তখন সেটি ফরজে কিফায়া (فرض كفاية)। আর এটি মূলত কাজের সাথে সংশ্লিষ্ট, অর্থাৎ কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য হলো এই কাজটি সম্পন্ন হওয়া, চাই তা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির দ্বারা হোক কিংবা অন্য কারো দ্বারা।

উদ্ভূত সমস্যাবলি (نوازل) পর্যালোচনার গুরুত্ব

উদ্ভূত সমস্যাবলি (نوازل) পর্যালোচনার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:

প্রথমত: শরীয়তের পূর্ণতা এবং এটি যে সব সময় ও সব স্থানের জন্য উপযোগী তা স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হওয়া। কেননা এমন কোনো উদ্ভূত সমস্যা (نازلة) নেই যার জন্য শরীয়ত কোনো বিধান রাখেনি। আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূলের সুন্নাহ (سنة)-তে এগুলোর স্পষ্ট বর্ণনা রয়েছে যা জ্ঞানে সুগভীর পণ্ডিতগণ (الراسخون في العلم) অনুধাবন ও চিহ্নিত করতে পারেন। এর প্রমাণ হলো:

আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা-এর বাণী: {আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণ করলাম এবং তোমাদের ওপর আমার নেয়ামত সম্পূর্ণ করলাম এবং ইসলামকে তোমাদের দ্বীন হিসেবে মনোনীত করলাম} (২)।

এবং আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেন: {আর আমি আপনার প্রতি কিতাব নাজিল করেছি যা প্রতিটি বিষয়ের স্পষ্ট ব্যাখ্যাস্বরূপ, এবং এটি মুসলিমদের জন্য হেদায়াত, রহমত ও সুসংবাদ} (৩)।

আবু যার রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের এমন অবস্থায় রেখে গিয়েছেন যে, আকাশে ডানা ঝাপটানো কোনো পাখি সম্পর্কেও তিনি আমাদের নিকট ইলম (علم) বা জ্ঞান বর্ণনা করেছেন" (৪)।-

--------------------------------------------

(১) আলে ইমরান ১৮৭

(২) আল-মায়িদাহ ৩

(৩) আন-নাহল ৮৯

(৪) বর্ণনা করেছেন আহমাদ ও তাবারানি
(খণ্ড: ১) ফিকহুন নাওয়াযিল ফিল ইবাদাত (পৃষ্ঠা: ৩)
وقيل لسلمان الفارسي رضي الله عنه علمكم رسول الله كل شيء حتى الخراءة قال نعم" (1) ، يعني حتى ما يتعلق بآداب قضاء الحاجة فإن الشريعة جاءت ببيان هذه الآداب القولية والفعلية.

ثانياً: الاستجابة لأمر الله وأمر رسول صلى الله عليه وسلم فإن دراسة هذه النوازل من تبليغ العلم والعمل به.

وتبليغ العلم أمر الله به وأمر به رسوله صلى الله عليه وسلم في سنته، فقال الله عز وجل: {وَقُل رَّبِّ زِدْنِي عِلْماً} (2) .

وقال سبحانه وتعالى: {قُلْ هَلْ يَسْتَوِي الَّذِينَ يَعْلَمُونَ وَالَّذِينَ لَا يَعْلَمُونَ} (3) .

وقال سبحانه وتعالى: {يَرْفَعِ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا مِنكُمْ وَالَّذِينَ أُوتُوا الْعِلْمَ دَرَجَاتٍ} (4) .

والسنة كثيرة جداً من ذلك:

قول النبي صلى الله عليه وسلم: " من سلك طريقاً يلتمس فيه علماً سهل الله له به طريقاً إلى الجنة " (5) .

وأيضاً قول النبي صلى الله عليه وسلم: " من خرج في طلب العلم فهو في سبيل الله حتى يرجع" (6) .

ثالثاً: التعبد لله عز وجل بدراسة هذه النوازل ن لأن دراستها هذه من تعلم العلم وتعليمه، والعلم من أفضل العبادات وأجل القربات فالتصدي لمثل هذه النوازل هذا عبادة لله عز وجل يؤجر عليها الإنسان.

رابعاً: كسب الثواب والأجر عند الله عز وجل، لأن العالم والمجتهد إذا بذل جهده ونظره في تعلم حكم هذه النازلة وما هو حكمها هذا فيه أجر وثواب عند الله عز وجل، وفي الحديث أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: "إذا اجتهد الحاكم فأصاب فله أجران، وإذا اجتهد فأخطأ فله أجر واحد " متفق عليه.

--------------------------------------------

(1) رواه مسلم وأبو داود والترمذي

(2) طه114

(3) الزمر9

(4) المجادلة11

(5) رواه أحمد ومسلم وأبو داود والترمذي وابن عساكر

(6) رواه الترمذي وقال حديث حسن من حديث أنس
সালমান ফারসি (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে বলা হয়েছিল, "তোমাদের রাসূল কি তোমাদের সব কিছু শিখিয়েছেন, এমনকি শৌচকার্য সম্পাদনের শিষ্টাচারও?" তিনি বললেন, "হ্যাঁ" (১)। অর্থাৎ, এমনকি শৌচকার্যের শিষ্টাচার সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোও; কেননা শরিয়ত এই বাচনিক ও ব্যবহারিক শিষ্টাচার বর্ণনার সাথেই অবতীর্ণ হয়েছে।

দ্বিতীয়ত: আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নির্দেশের আনুগত্য করা; কেননা এই উদ্ভূত নবীন সমস্যাবলি নিয়ে অধ্যয়ন করা ইলম প্রচার ও তদনুযায়ী আমল করারই অন্তর্ভুক্ত।

আর ইলম প্রচার করার আদেশ আল্লাহ তাআলা দিয়েছেন এবং তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর সুন্নাহর মাধ্যমে আদেশ দিয়েছেন। আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা বলেন: {আর বলুন, হে আমার রব! আমার জ্ঞান বৃদ্ধি করে দিন।} (২)।

সুবহানাহু ওয়া তাআলা আরও বলেন: {বলুন, যারা জানে আর যারা জানে না তারা কি সমান হতে পারে?} (৩)।

সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেন: {তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান এনেছে এবং যাদের জ্ঞান দান করা হয়েছে, আল্লাহ তাদেরকে মর্যাদায় উন্নত করবেন।} (৪)।

আর এ বিষয়ে সুন্নাহর দলিল অনেক:

নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণী: "যে ব্যক্তি জ্ঞান অর্জনের উদ্দেশ্যে কোনো পথ অবলম্বন করে, আল্লাহ তার জান্নাতের পথ সহজ করে দেন।" (৫)।

এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর আরও একটি বাণী: "যে ব্যক্তি জ্ঞান অন্বেষণে বের হয়, সে ফিরে না আসা পর্যন্ত আল্লাহর পথে থাকে।" (৬)।

তৃতীয়ত: এই উদ্ভূত সমস্যাগুলো অধ্যয়নের মাধ্যমে আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা-এর ইবাদত করা; কারণ এগুলো অধ্যয়ন করা ইলম অর্জন ও শিক্ষাদানেরই অংশ। আর ইলম হলো সর্বোত্তম ইবাদত ও নৈকট্য লাভের মহান মাধ্যম। সুতরাং এই ধরনের উদ্ভূত সমস্যাবলির সমাধান প্রচেষ্টায় নিয়োজিত হওয়া আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা-এর একটি ইবাদত, যার জন্য মানুষ সওয়াব লাভ করে।

চতুর্থত: আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা-এর নিকট সওয়াব ও প্রতিদান লাভ করা। কারণ একজন আলেম ও মুজতাহিদ যখন এই উদ্ভূত সমস্যার বিধান জানতে নিজ শ্রম ও বিচার-বুদ্ধি ব্যয় করেন, তখন তাতে আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা-এর নিকট সওয়াব ও প্রতিদান রয়েছে। হাদিসে এসেছে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যখন কোনো বিচারক ইজতিহাদ করেন এবং সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীত হন, তখন তার জন্য রয়েছে দ্বিগুণ সওয়াব। আর যদি তিনি ইজতিহাদ করে ভুল করেন, তবে তার জন্য রয়েছে একটি সওয়াব।" এটি সর্বসম্মত (متفق عليه)।

--------------------------------------------

(১) মুসলিম, আবু দাউদ ও তিরমিজি এটি বর্ণনা করেছেন।

(২) ত্বহা: ১১৪

(৩) আয-যুমার: ৯

(৪) আল-মুজাদালাহ: ১১

(৫) আহমদ, মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিজি ও ইবনে আসাকির এটি বর্ণনা করেছেন।

(৬) তিরমিজি এটি বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: এটি আনাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত একটি গ্রহণযোগ্য (حسن) হাদিস।
(খণ্ড: ১) ফিকহুন নাওয়াযিল ফিল ইবাদাত (পৃষ্ঠা: ৪)
خامساً: القيام بهذا الفرض وهو فرض الكفاية لأنه كما أسلفنا أن تعلم هذه النوازل هذا فرض على الكفاية فكون الإنسان يتصدى لمعرفته وتبينه للناس هذا قيام بفرض من فروض الإسلام.

سادساً: منح المتصدي لدراسة هذه النوازل إلى ملكة فقهية.

وهذا طرف من أهمية وفوائد هذه النوازل.

‌‌النوازل المتعلقة بأحكام الطهارة

والنوازل في الطهارة كما ذكرنا أنها كثيرة جداً، وسنذكر اليوم ما يتعلق بنوازل المياه وكذلك أيضاً سنذكر طرفاً ما يتعلق بنوازل الوضوء والغسل وسنكمل إن شاء الله.

فمن هذه النوازل:

‌‌المسألة الأولى: الماء المتغير بالصدأ.

والمسألة الثانية: الماء المتغير بالمنظفات المستجدة مثل: الماء المتغير بالصابون وغير ذلك من المنظفات التي استجدت.

فعندنا هذان الماءان:

الماء الأول: المتغير بالصدأ هو الذي تغير بسبب مروره بمواسير المياه أو بسبب طول بقائه ببعض الأواني التي تحفظه كالخزانات والقدور، حتى صار لونه يميل إلى الاحمرار.

فما حكم هذا الماء الذي تغير بالصدأ بالنسبة للوضوء هل يرفع الحدث الأكبر والأصغر أو لا يرفع الحدث؟ وهل يزيل الخبث أولا يزيل الخبث؟ وكذلك أيضاً بالنسبة لمياه التي تغير بالمنظفات المستجدة، مثل الصابون وغير ذلك إذا وجدنا ماءاً قد تغير بهذا الصابون ونحوه هل يرفع الحدث ويزيل الخبث أم لا؟

لكي يتضح لنا حكم هاتين المسألتين نقول: بأن الماء ينقسم إلى أقسام ثم بعد ذلك سنخرج هاتين المسألتين على هذه الأقسام التي ذكرها العلماء رحمهم الله:

* القسم الأول: الماء الباقي على خلقته ،لم يتغير بنجاسة ولا بشيء طاهر ينقله عن اسم الماء المطلق ويغلب على أجزائه كالحناء أو الحبر أو الأصباغ.

هذا الماء طهور باتفاق العلماء يرفع الحدث ويزيل الخبث.

ودليل ذلك:

قول الله عز وجل {وَأَنزَلْنَا مِنَ السَّمَاءِ مَاءً طَهُوراً} (1) .

--------------------------------------------

(1) الفرقان48
পঞ্চম: এই ফরয (فرض) তথা ফরযে কিফায়া (فرض الكفاية) পালন করা। কারণ আমরা যেমনটি আগে উল্লেখ করেছি যে, এই সমসাময়িক সমস্যাসমূহ (نوازل) সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করা ফরযে কিফায়া (فرض الكفاية)। সুতরাং কোনো ব্যক্তির এ সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন এবং মানুষের কাছে তা স্পষ্ট করার দায়িত্ব গ্রহণ করা ইসলামের অন্যতম একটি ফরয (فرض) পালনের অন্তর্ভুক্ত।

ষষ্ঠ: এই সমসাময়িক সমস্যাসমূহ (نوازل) অধ্যয়নে ব্রতী ব্যক্তিকে এটি একটি ফিকহি প্রজ্ঞা (ملكة فقهية) দান করে।

আর এটি হলো এই সমসাময়িক সমস্যাগুলোর (نوازل) গুরুত্ব ও উপকারিতার একটি অংশ।

‌‌পবিত্রতা (طهارة) সংশ্লিষ্ট বিধানাবলির সমসাময়িক সমস্যাসমূহ (نوازل)

পবিত্রতা (طهارة) অধ্যায়ে সমসাময়িক সমস্যাসমূহ (نوازل) যেমনটি আমরা উল্লেখ করেছি যে, তা অনেক বেশি। আজ আমরা পানি সংশ্লিষ্ট সমসাময়িক সমস্যাগুলো আলোচনা করব এবং একইভাবে অজু (وضوء) ও গোসল (غسل) সংশ্লিষ্ট সমসাময়িক সমস্যাগুলোর কিছু অংশ উল্লেখ করব, আর ইনশাআল্লাহ আমরা এটি সম্পন্ন করব।

এই সমসাময়িক সমস্যাগুলোর (نوازل) মধ্যে রয়েছে:

‌‌প্রথম মাসআলা (مسألة): মরিচা দ্বারা পরিবর্তিত পানি।

দ্বিতীয় মাসআলা (مسألة): নতুন উদ্ভাবিত পরিচ্ছন্নতা সামগ্রী দ্বারা পরিবর্তিত পানি; যেমন: সাবান দ্বারা পরিবর্তিত পানি এবং এ জাতীয় অন্যান্য নতুন উদ্ভাবিত পরিচ্ছন্নতা সামগ্রী।

আমাদের সামনে এই দুই ধরনের পানি রয়েছে:

প্রথম প্রকার পানি: মরিচা দ্বারা পরিবর্তিত পানি; এটি সেই পানি যা পানির পাইপের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার কারণে পরিবর্তিত হয় অথবা পানি সংরক্ষণের পাত্র যেমন ট্যাংক বা বড় ডেকচিতে দীর্ঘ সময় থাকার কারণে পরিবর্তিত হয়, এমনকি এর রঙ লালচে হয়ে যায়।

অজুর (وضوء) ক্ষেত্রে মরিচা দ্বারা পরিবর্তিত এই পানির বিধান (حكم) কী? এটি কি বড় অপবিত্রতা (حدث أكبر) ও ছোট অপবিত্রতা (حدث أصغر) দূর করে, নাকি অপবিত্রতা (حدث) দূর করে না? আর এটি কি বস্তুগত নাপাকি (خبث) দূর করে নাকি দূর করে না? একইভাবে নতুন উদ্ভাবিত পরিচ্ছন্নতা সামগ্রী যেমন সাবান ইত্যাদি দ্বারা পরিবর্তিত পানির ক্ষেত্রেও কি একই কথা? যদি আমরা এমন পানি পাই যা সাবান বা এ জাতীয় কিছু দিয়ে পরিবর্তিত হয়েছে, তবে কি তা অপবিত্রতা (حدث) ও নাপাকি (خبث) দূর করবে কি করবে না?

এই মাসআলা (مسألة) দুটির বিধান (حكم) আমাদের কাছে স্পষ্ট করার লক্ষ্যে আমরা বলব যে: পানি কয়েক ভাগে বিভক্ত। এরপর আমরা উলামায়ে কেরাম (তাদের ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক) কর্তৃক বর্ণিত এই প্রকারগুলোর আলোকে মাসআলা দুটি বিশ্লেষণ করব:

* প্রথম প্রকার: যে পানি তার প্রাকৃতিক অবস্থার ওপর বহাল রয়েছে; কোনো নাপাকি (نجاسة) দ্বারা বা এমন কোনো পবিত্র বস্তু দ্বারা পরিবর্তিত হয়নি যা একে সাধারণ পানি (ماء مطلق) এর পরিচয় থেকে বিচ্যুত করে এবং পানির উপাদানের ওপর প্রবল হয়ে যায়, যেমন মেহেদি, কালি বা রঙ।

আলেমদের সর্বসম্মত মতে (اتفاق) এই পানি পবিত্রকারী (طهور); যা অপবিত্রতা (حدث) দূর করে এবং নাপাকি (خبث) দূরীভূত করে।

এর দলিল (دليل) হলো:

মহান আল্লাহর বাণী: {আর আমি আকাশ থেকে পবিত্রকারী (طهور) পানি বর্ষণ করেছি} (১)।

--------------------------------------------

(১) আল-ফুরকান: ৪৮
(খণ্ড: ১) ফিকহুন নাওয়াযিল ফিল ইবাদাত (পৃষ্ঠা: ৫)
وأيضا حديث أبي هريرة- رضي الله عنه في ماء البحر أن النبي صلى الله عليه وسلم قال:" هو الطهور ماؤه الحل ميتته " وهذا الحديث أخرجه الإمام أحمد والترمذي وأبو داود وابن ماجة وغيرهما وإسناده صحيح.

* القسم الثاني: الماء الذي تغير بالنحاسة ، تغير طعمه أو تغير لونه أو تغيرت رائحته.

فنقول هذا ماء نجس باتفاق العلماء.

ودليل ذلك:

حديث أبي سعيد رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم قال "إن الماء طهور لا ينجسه شيء" (1) .

فحكم النبي صلى الله عليه وسلم على أن الماء طهور خرج عن هذه الطهورية بإجماع العلماء ، فإن العلماء مجمعون على أن الماء إذا تغير بالنجاسة تغير طعمه أو ريحه أو لونه فإنه نجس لا يرفع الحدث ولا يزيل الخبث.

*القسم الثالث: الماء الذي تغير بأمر لا ينفك عنه الماء غالباً.

يعني تغير بشيء ملازم للماء غالباً، هذا نقول باتفاق الأئمة أيضا لا يسلبه الطهورية فإنه يرفع الحدث ويزيل الخبث وهذا مثل الماء الذي تغير بطول بقائه فهذا لا ينفك عنه الماء غالباً نقول هذا يرفع الحدث ويزيل الخبث، الماء الذي تغير بالأشجار الموجودة فيه أو الأعشاب التي نبتت فيه هذا لا ينفك عنه الماء غالباً هذا نقول بأنه لا يسلبه الطهورية يرفع الحدث ويزيل الخبث، الماء الذي تغير بالأسماك الموجودة فيه … إلخ، الماء الذي تغير بتساقط الأوراق، الماء الذي تغير بما تلقيه فيه الرياح أو تنقله إليه السيول … إلخ.

--------------------------------------------

(1) رواه أحمد وأبو داود والترمذي والنسائي
তদ্রূপ সমুদ্রের পানি সম্পর্কে আবু হুরায়রা (রা.)-এর বর্ণিত হাদিস, যেখানে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "এর পানি পবিত্রকারী (طهور) এবং এর মৃত (প্রাণী) হালাল।" এই হাদিসটি ইমাম আহমাদ, তিরমিজি, আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ এবং অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন এবং এর সনদ (إسناد) সহিহ (صحيح)।

* দ্বিতীয় প্রকার: নাপাকি (نجاسة) দ্বারা পরিবর্তিত পানি, যার স্বাদ অথবা বর্ণ অথবা গন্ধ পরিবর্তিত হয়েছে।

আমরা বলি যে, আলেমদের ঐকমত্য (اتفاق) অনুযায়ী এটি অপবিত্র (نجس) পানি।

এর প্রমাণ হলো:

আবু সাঈদ (রা.)-এর বর্ণিত হাদিস যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, "নিশ্চয়ই পানি পবিত্রকারী (طهور), কোনো কিছুই একে অপবিত্র করতে পারে না।" (১) ।

নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পানিকে পবিত্রকারী (طهور) হিসেবে যে হুকুম দিয়েছেন, আলেমদের ঐকমত্য (إجماع) অনুযায়ী সেই পবিত্রতা (طهورية) থেকে এই পানি বেরিয়ে যাবে। কেননা আলেমগণ এ বিষয়ে একমত যে, পানি যদি নাপাকি (نجاسة) দ্বারা তার স্বাদ, গন্ধ বা বর্ণ পরিবর্তিত হয়ে যায়, তবে তা অপবিত্র (نجس)। তা দ্বারা অপবিত্রতা (حدث) দূর করা যায় না এবং নাপাকি (خبث) বিদূরিত হয় না।

* তৃতীয় প্রকার: এমন বস্তু দ্বারা পরিবর্তিত পানি যা থেকে পানি সাধারণত আলাদা থাকে না।

অর্থাৎ, যা সাধারণত পানির সাথে লেগে থাকে এমন কিছু দ্বারা পরিবর্তিত হওয়া। ইমামগণের ঐকমত্য (اتفاق) অনুযায়ী আমরা বলি যে, এটি পানির পবিত্রতা (طهورية) নষ্ট করে না। সুতরাং এটি দ্বারা অপবিত্রতা (حدث) দূর করা যায় এবং নাপাকি (خبث) বিদূরিত হয়। এটি ঐ পানির মতো যা দীর্ঘক্ষণ আবদ্ধ থাকার কারণে পরিবর্তিত হয়ে গেছে; কারণ পানি সাধারণত এ থেকে মুক্ত থাকে না। আমরা বলি, এটি দ্বারা অপবিত্রতা (حدث) দূর করা যায় এবং নাপাকি (خبث) বিদূরিত হয়। ঐ পানি যা তাতে বিদ্যমান গাছপালা বা জন্মানো ঘাসের কারণে পরিবর্তিত হয়েছে; কারণ পানি সাধারণত এ থেকে মুক্ত থাকে না। আমরা বলি যে, এটি পানির পবিত্রতা (طهورية) নষ্ট করে না, তা দ্বারা অপবিত্রতা (حدث) দূর করা যায় এবং নাপাকি (خبث) বিদূরিত হয়। ঐ পানি যা তাতে থাকা মাছের কারণে পরিবর্তিত হয়েছে … ইত্যাদি। ঐ পানি যা পাতা পড়ার কারণে পরিবর্তিত হয়েছে। ঐ পানি যা বাতাস দ্বারা নিক্ষিপ্ত বস্তু বা স্রোতের কারণে বয়ে আনা বস্তু দ্বারা পরিবর্তিত হয়েছে … ইত্যাদি।

--------------------------------------------

(১) আহমাদ, আবু দাউদ, তিরমিজি এবং নাসাঈ এটি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) ফিকহুন নাওয়াযিল ফিল ইবাদাত (পৃষ্ঠা: ৬)
*القسم الرابع: الماء الذي تغير بالتراب ، أيضا هذا باتفاق الأئمة على أنه طهور يرفع الحدث ويزيل الخبث، لأن التراب بدل عن الماء والتراب أحد الطهورين وهو مطهر كالماء، ولهذا قال الله عز وجل في التراب لما ذكر التيمم: {مَا يُرِيدُ اللهُ لِيَجْعَلَ عَلَيْكُم مِّنْ حَرَجٍ وَلَكِن يُرِيدُ لِيُطَهَّرَكُمْ} (1) ، وفي حديث أبي ذر الصحيح أن النبي صلى الله عليه وسلم قال " إن الصعيد الطيب وضوء المسلم وإن لم يجد الماء عشر سنين " (2) .

فإذا كان عندنا ماء تغير بالتراب وضع فيه تراب أو مثلا إنسان وجد غديرا في الصحراء وحرك فيه رجليه حتى أصبح أحمر فنقول هذا يرفع الحدث ويزيل الخبث وهذا باتفاق الأئمة وذكرنا الدليل على ذلك ، ما لم يكن هذا الماء طييناً أي أصبح طيناً لا يسيل على الأعضاء فهذا قالوا لا يرفع الحدث ولا يزيل الخبث لكن لو أنه تغير بهذا التراب فقالوا بأن هذا لا يضر ويرفع الحدث ويزيل الخبث.

*القسم الخامس: الماء الذي تغير بشيء طاهر.

مثلاً تغير بحناء أو وضع فيه شيء من الحبر أو وضع فيه شيء من الأصباغ أو شيء من الشاي…إلخ هذا تغير بشيء طاهر، فهذا الماء فيه تفصيل وإن كان فيه خلاف بين العلماء رحمهم الله المهم والذي يعنينا القول الراجح في هذه المسألة.

فنقول: الماء الذي تغير بشيء طاهر إن سلبه اسم الماء المطلق وغلب على أجزاءه فإنه ينتقل عن كونه طهوراً لا نقول بأنه طهور يرفع الحدث لكن بالنسبة لإزالته الخبث نقول هذا شيء ثاني لأن إزالة الخبث أوسع من رفع الحدث كما سنوضحه إن شاء الله.

المسألة الأولى: عندنا الماء المتغير بالصدأ من أي هذه الأقسام؟

--------------------------------------------

(1) لمائدة6

(2) رواه الترمذي وكذا أبو داود والنسائي والدارقطني والحاكم وأحمد وغيرهم من حديث أبي ذر وقال الترمذي:

" حديث حسن صحيح "
*চতুর্থ বিভাগ: যে পানি মাটির দ্বারা পরিবর্তিত হয়েছে; এটিও আইম্মাদের ঐকমত্যে পবিত্রকারী (طهور), যা অপবিত্রতা দূর করে (رفع الحدث) এবং নাপাকি দূর করে (يزيل الخبث)। কারণ মাটি হলো পানির বিকল্প এবং মাটি দুটি পবিত্রকারী মাধ্যমের একটি; এটি পানির মতোই পবিত্রকারী। এই কারণেই মহান আল্লাহ তায়াম্মুম (التيمم) সম্পর্কে বর্ণনা করতে গিয়ে মাটি প্রসঙ্গে বলেছেন: {আল্লাহ তোমাদের ওপর কোনো সংকীর্ণতা তৈরি করতে চান না, বরং তিনি তোমাদের পবিত্র করতে চান} (১)। আর আবু যর-এর সহিহ (صحيح) হাদিসে এসেছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "নিশ্চয়ই পবিত্র মাটি একজন মুসলিমের জন্য ওজুর মাধ্যম, যদিও সে দশ বছর পর্যন্ত পানি না পায়" (২)।

সুতরাং আমাদের কাছে যদি এমন পানি থাকে যা মাটির সংমিশ্রণে পরিবর্তিত হয়েছে—তাতে মাটি মেশানো হয়েছে অথবা যেমন কোনো ব্যক্তি মরুভূমিতে একটি জলাশয় পেল এবং তাতে তার পা নাড়াচড়া করল যার ফলে পানি লাল বর্ণ হয়ে গেল—তবে আমরা বলব এটি অপবিত্রতা দূর করে (رفع الحدث) এবং নাপাকি দূর করে (يزيل الخবث)। এটি আইম্মাদের ঐকমত্যে প্রমাণিত এবং আমরা এর দলিলও উল্লেখ করেছি। এটি ততক্ষণ পর্যন্ত কার্যকর যতক্ষণ না এই পানিটি কর্দমাক্ত হয়ে যায়, অর্থাৎ এটি এমন কাদায় পরিণত হয় যা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের ওপর প্রবাহিত হয় না; সেক্ষেত্রে আলেমগণ বলেছেন এটি অপবিত্রতা দূর করবে (رفع الحدث) না এবং নাপাকিও দূর করবে (يزيل الخبث) না। কিন্তু যদি কেবল মাটির সংমিশ্রণে পানির বর্ণ পরিবর্তিত হয়, তবে তারা বলেছেন যে এতে কোনো ক্ষতি নেই এবং এটি অপবিত্রতা দূর করে (رفع الحدث) ও নাপাকি দূর করে (يزيل الخبث)।

*পঞ্চম বিভাগ: যে পানি কোনো পবিত্র জিনিসের সংমিশ্রণে পরিবর্তিত হয়েছে।

উদাহরণস্বরূপ, মেহেদি দিয়ে পরিবর্তিত হওয়া, অথবা এতে কিছু কালি বা কোনো রং অথবা চা ইত্যাদি মেশানো... ইত্যাদি। এটি কোনো পবিত্র জিনিসের মাধ্যমে পরিবর্তিত হয়েছে। এ ধরনের পানির ক্ষেত্রে বিস্তারিত আলোচনা রয়েছে; যদিও এ বিষয়ে উলামায়ে কেরাম (রহিমাহুমুল্লাহ)-এর মধ্যে মতভেদ আছে, তবে আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলো এই মাসআলার অগ্রগণ্য (الراجح) মতটি জানা।

আমরা বলি: যে পানি কোনো পবিত্র জিনিসের মাধ্যমে পরিবর্তিত হয়েছে, সেটি যদি তার সাধারণ পানি (الماء المطلق) হওয়ার বৈশিষ্ট্য হারিয়ে ফেলে এবং সেই সংমিশ্রিত বস্তু পানির ওপর প্রাধান্য বিস্তার করে, তবে তা আর পবিত্রকারী (طهور) থাকে না। আমরা একে পবিত্রকারী (طهور) বলব না যা অপবিত্রতা দূর করে (رفع الحدث)। তবে নাপাকি দূর করার (إزالة الخبث) ক্ষেত্রে বিষয়টি ভিন্ন, কারণ নাপাকি দূর করার ক্ষেত্রটি অপবিত্রতা দূর করার চেয়ে প্রশস্ত, যা আমরা ইনশাআল্লাহ পরে ব্যাখ্যা করব।

প্রথম মাসআলা: মরিচার কারণে পরিবর্তিত পানি এই বিভাগগুলোর মধ্যে কোনটি?

--------------------------------------------

(১) সুরা আল-মায়েদাহ: ৬

(২) তিরমিজি এটি বর্ণনা করেছেন এবং একইভাবে আবু দাউদ, নাসায়ি, দারাকুতনি, হাকেম এবং আহমদ সহ অন্যান্যরা আবু যর-এর হাদিস থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। তিরমিজি বলেছেন:

"হাসান (حسن) সহিহ (صحيح) হাদিস।"
(খণ্ড: ১) ফিকহুন নাওয়াযিল ফিল ইবাদাত (পৃষ্ঠা: ৭)
نقول أن الماء المتغير بالصدأ هذا من قسم الماء الذي تغير بشيء لا ينفك عنه. كما قلنا الماء الذي تغير بأمر لا ينفك عنه في الغالب يلازم الماء غالباً هذا طهور باتفاق الأئمة وعلى هذا نقول أن الماء الذي تغير بالصدأ:تغير بصدأ الأنابيب أو بصدأ الخزانات أو القدور ونحو ذلك نقول هذا ماء طهور باتفاق الأئمة يرفع الحدث ويزيل الخبث.

‌‌المسألة الثانية: الماء الذي تغير بالصابون وغير ذلك … إلخ.

فهذا نقول يأخذ حكم القسم الخامس، إن كان هذا الصابون الذي تغير به الماء شيء يسير بحيث أنه لا يغير الماء لا يسلبه اسم الماء المطلق ولا يغلب على أجزائه فنقول أيضاً هو طهور يرفع الحدث ويزيل الخبث وإن كان هذا المغير سلبه اسم الماء المطلق وغلب على أجزائه فنقول بأنه لا يرفع الحدث وأما كونه يزيل الخبث فهذا يزيل الخبث كما سيأتي إن شاء الله أن نبينه.

والحنفية هم أوسع المذاهب في هذه المسألة يعني من جهة رفع الحدث ومن جهة إزالة الخبث فهم يرون أن الماء الذي تغير بشيء من المنظفات كالصابون وغير ذلك من المسحوقات الآن التي توجد … إلخ يقولون حتى ولو غلب على أجزائه وحتى لو نقله عن اسم الماء المطلق يقولون هذا يرفع الحدث ويزيل الخبث.

بالنسبة لإزالة الخبث أيضا الماء المتغير بالصدأ يزيل الخبث باتفاق الأئمة.

مسألة: هل يشترط الماء في إزالة الخبث أو نقول بأن الخبث يزول بكل مزيل:

فيه قولان للعلماء رحمهم الله:

القول الأول: أنه يشترط الماء لإزالة الخبث.

قال به أكثر أهل العلم من الشافعية والمالكية والحنابلة.

أدلتهم:

منها: حديث أنس وأبي هريرة في قصة بول الأعرابي في المسجد "أن النبي صلى الله عليه وسلم دعا بذنوب من ماء فأراقه عليه" (متفق عليه) .

منها: حديث أسماء رضي الله تعالى عنها في الحيض وفيه قول النبي صلى الله عليه وسلم:" تحته ثم تقرصه بالماء ثم تنضحه ثم تصلي فيه" (متفق عليه) .

وغير ذلك من أدلتهم.
আমরা বলি যে মরিচা দ্বারা পরিবর্তিত এই পানি এমন এক প্রকার পানি যা এমন কিছুর মাধ্যমে পরিবর্তিত হয়েছে যা তা থেকে অবিচ্ছেদ্য। যেমনটি আমরা বলেছি, যে পানি এমন কোনো বিষয়ের মাধ্যমে পরিবর্তিত হয়েছে যা সাধারণত পানির অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে থাকে, তা ইমামগণের সর্বসম্মত মতে পবিত্র ও পবিত্রকারী। এর ওপর ভিত্তি করে আমরা বলি যে, মরিচা দ্বারা পরিবর্তিত পানি—অর্থাৎ পাইপের মরিচা, ট্যাংকের মরিচা অথবা পাত্রের মরিচা ইত্যাদি দ্বারা যা পরিবর্তিত হয়েছে—তা ইমামগণের সর্বসম্মত মতে এমন পবিত্র ও পবিত্রকারী পানি যা অপবিত্রতা দূর করে এবং নাপাকি বিদূরিত করে।

‌‌দ্বিতীয় মাসআলা: সাবান বা অন্য কিছুর মাধ্যমে পরিবর্তিত পানি ... ইত্যাদি।

এ বিষয়ে আমরা বলব যে, এটি পঞ্চম প্রকারের বিধান গ্রহণ করবে। যদি এই সাবান—যার মাধ্যমে পানি পরিবর্তিত হয়েছে—সামান্য পরিমাণ হয়, যা পানিকে এমনভাবে পরিবর্তিত করে না যে তা পানির সাধারণ বৈশিষ্ট্য কেড়ে নেয় এবং এর উপাদানের ওপর প্রবল হয়ে যায় না, তবে আমরা বলব এটিও পবিত্র ও পবিত্রকারী যা অপবিত্রতা দূর করে এবং নাপাকি বিদূরিত করে। আর যদি এই পরিবর্তনকারী বস্তু পানির সাধারণ পানির বৈশিষ্ট্য বিলুপ্ত করে দেয় এবং এর উপাদানের ওপর প্রাধান্য বিস্তার করে, তবে আমরা বলব যে এটি অপবিত্রতা দূর করবে না। তবে এটি নাপাকি দূর করার ক্ষেত্রে কার্যকর হবে কি না, তা ইনশাআল্লাহ আমরা সামনে স্পষ্ট করব।

হানাফি মাযহাব এই মাসআলায় সবচেয়ে প্রশস্ত দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করে; অর্থাৎ অপবিত্রতা দূর করা এবং নাপাকি বিদূরিত করার উভয় দিক থেকে। তারা মনে করেন যে, সাবান বা বর্তমান সময়ে বিদ্যমান ডিটারজেন্ট পাউডার জাতীয় পরিষ্কারক সামগ্রীর দ্বারা পরিবর্তিত পানি যদিও এর উপাদানের ওপর প্রবল হয়ে যায় এবং এর সাধারণ পানির বৈশিষ্ট্য পরিবর্তন করে দেয়, তবুও তা অপবিত্রতা দূর করবে এবং নাপাকি বিদূরিত করবে।

নাপাকি বিদূরিত করার ক্ষেত্রেও মরিচা দ্বারা পরিবর্তিত পানি ইমামগণের সর্বসম্মত মতে নাপাকি দূর করে।

মাসআলা: নাপাকি বিদূরিত করার ক্ষেত্রে কি পানি হওয়া শর্ত, নাকি আমরা বলব যে কোনো পরিষ্কারক বস্তু দ্বারাই নাপাকি দূর হয়ে যায়?

এ বিষয়ে আলেমগণের (আল্লাহ তাঁদের রহম করুন) দুটি অভিমত রয়েছে:

প্রথম অভিমত: নাপাকি বিদূরিত করার জন্য পানি হওয়া শর্ত।

শাফেয়ি, মালিকি ও হাম্বলি মাযহাবের অধিকাংশ আলেম এই অভিমত ব্যক্ত করেছেন।

তাঁদের দলীলসমূহ:

তার মধ্যে অন্যতম: মসজিদে এক বেদুইনের প্রস্রাব করার ঘটনা সম্পর্কে আনাস ও আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত হাদিস যে, "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক বালতি পানি আনার নির্দেশ দিলেন এবং তা তার ওপর ঢেলে দিলেন।" (সর্বসম্মত (متفق عليه)) ।

অন্যতম হলো: ঋতুস্রাব সম্পর্কে আসমা (রা.) বর্ণিত হাদিস, যাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী রয়েছে: "সেটি ঘষে ফেলবে, তারপর পানি দিয়ে রগড়াবে, এরপর তার ওপর পানি ছিটিয়ে দেবে এবং তাতে সালাত আদায় করবে।" (সর্বসম্মত (متفق عليه)) ।

এবং তাঁদের অন্যান্য দলীলসমূহ।
(খণ্ড: ১) ফিকহুন নাওয়াযিল ফিল ইবাদাত (পৃষ্ঠা: ৮)
القول الثاني: أن الخبث لا يشترط في إزالته الماء.

رأي الحنفية واختيار شيخ الإسلام رحمه الله.

أدلتهم:

منها: سائر أدلة الاستجمار، لأن المستجمر سيمسح النجاسة مسحاً ولن يزيلها بالماء يمسحها بالخرق أو بالتراب أو بالحجارة … إلخ، ولا يزيلها بالماء.

منها: ما ثبت في صحيح البخاري (1) من عائشة رضي الله تعالى عنها أنها قالت:" كان لإحدانا ثوب واحد تحيض فيه فإذا أصابه شيء من دم حيض قالت بريقها هكذا وقصعته بظفرها ". منها: حديث أبي سعيد في طهارة النعلين أن الإنسان إذا أراد أن يدخل المسجد وفي نعليه أذى فإنه يدعكهما بالتراب "طهورهما التراب " (2) .

منها: وحديث أم سلمة وإن كان فيه ضعف في ذيل المرأة الذي تجره إذا خرجت إلى السوق قال النبي صلى الله عليه وسلم: " يطهره ما بعده " (3) .

الترجيح: أن الخبث لا يشترط في إزالته الماء وهذا القول هو الصواب.

--------------------------------------------

(1) باب هل تصلي المرأة في ثوب حاضت فيه

(2) رواه أبو داود في كتاب الصلاة " باب الصلاة في النعل "عن موسى بن إسماعيل عن حماد بن زيد عن أبي نعامة السعدي عن أبي نضرة عن الخدري قال: بينما رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم يصلي بأصحابه إذ خلع نعليه فوضعهما عن يساره فلما رأى القوم ذلك ألقوا نعاهم فلما قضى رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم صلاته قال: " ما حملكم على إلقائكم نعالكم؟ قالوا: رأينا ألقيت نعليك فألقينا نعالنا فقال رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم: إن جبريل أتاني فأخبرني أن فيهما قذرا وقال: إذا جاء أحدكم إلى المسجد فلينظر فإن رأى في نعليه قذرا أو أذى فليمسحه وليصل فيهما " ورواه ابن حبان أيضا في " صحيحه ".

(3) رواه مالك وأحمد والترمذي وأبو داود والدارمي.
দ্বিতীয় মত: অপবিত্রতা (الخبث) দূর করার ক্ষেত্রে পানি শর্ত নয়।

এটি হানাফিদের অভিমত এবং শাইখুল ইসলাম (রহ.)-এর পছন্দ।

তাঁদের দলিলসমূহ:

তন্মধ্যে: কুলুখ ব্যবহারের (الاستجمار) সকল দলিল। কারণ, যিনি কুলুখ ব্যবহারকারী, তিনি অপবিত্রতা (النجاسة) মুছে ফেলবেন এবং পানি দিয়ে তা দূর করবেন না; তিনি কাপড়, মাটি বা পাথর ইত্যাদি দ্বারা তা মুছবেন … ইত্যাদি, এবং পানি দিয়ে তা দূর করবেন না।

তন্মধ্যে: যা সহীহ বুখারী-তে (১) আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: "আমাদের কারো কারো একটি মাত্র কাপড় ছিল যাতে তিনি ঋতুবতী হতেন। যখন তাতে ঋতুর রক্তের কোনো অংশ লাগত, তখন তিনি তাঁর লালা দিয়ে এমন করতেন এবং নখ দিয়ে তা ঘষে নিতেন।" তন্মধ্যে: জুতা পবিত্র করার ব্যাপারে আবু সাঈদ (রা.)-এর বর্ণিত হাদিস যে, কোনো ব্যক্তি যদি মসজিদে প্রবেশ করতে চায় এবং তার জুতোয় কোনো ময়লা থাকে, তবে সে যেন তা মাটিতে ঘষে নেয়। "মাটিই হলো সে দুটির পবিত্রকারী" (২)।

তন্মধ্যে: উম্মে সালামাহ (রা.) বর্ণিত হাদিস, যদিও তাতে দুর্বলতা (ضعف) রয়েছে, যা মহিলার কাপড়ের ঝুলন্ত অংশ (আঁচল) সম্পর্কে যা তিনি বাজারে বের হওয়ার সময় টেনে নিয়ে যেতেন; নবী (সা.) বলেছেন: "পরবর্তী (পবিত্র) স্থানটি তাকে পবিত্র করে দেয়" (৩)।

অগ্রগণ্য মত (الترجيح): অপবিত্রতা (الخبث) দূর করার ক্ষেত্রে পানি শর্ত নয় এবং এই মতটিই সঠিক।

--------------------------------------------

(১) পরিচ্ছেদ: ঋতুবতী হওয়ার সময় পরিহিত পোশাকে কি নারী সালাত আদায় করতে পারে?

(২) এটি আবু দাউদ কিতাবুস সালাত-এর "জুতা পরে সালাত আদায় করা" পরিচ্ছেদে বর্ণনা করেছেন। মুসা ইবনে ইসমাইল থেকে, তিনি হাম্মাদ ইবনে যাইদ থেকে, তিনি আবু না'মাহ আস-সাদি থেকে, তিনি আবু নাদরাম থেকে, তিনি খুদরি (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: একদা রাসূলুল্লাহ (সা.) তাঁর সাহাবীদের নিয়ে সালাত আদায় করছিলেন, হঠাৎ তিনি তাঁর জুতা জোড়া খুলে নিজের বাম পাশে রাখলেন। যখন লোকজন তা দেখল, তারাও তাদের জুতা খুলে ফেলল। যখন রাসূলুল্লাহ (সা.) তাঁর সালাত শেষ করলেন, তখন বললেন: "তোমাদের জুতা ছুড়ে ফেলতে কিসে উদ্বুদ্ধ করল?" তাঁরা বললেন: "আমরা আপনাকে আপনার জুতা খুলতে দেখেছি, তাই আমরাও আমাদের জুতা খুলে ফেলেছি।" তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন: "নিশ্চয়ই জিবরাঈল (আ.) আমার কাছে এসেছিলেন এবং আমাকে সংবাদ দিলেন যে, ঐ দুটিতে অপবিত্রতা রয়েছে।" তিনি আরও বললেন: "যখন তোমাদের কেউ মসজিদে আসবে, সে যেন দেখে নেয়; যদি সে তার জুতা জোড়ায় নাপাকি বা ময়লা দেখে, তবে সে যেন তা মুছে ফেলে এবং তা পরে সালাত আদায় করে।" এটি ইবনে হিব্বানও তাঁর সহীহ-তে বর্ণনা করেছেন।

(৩) এটি মালিক, আহমাদ, তিরমিযী, আবু দাউদ এবং দারেমী বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) ফিকহুন নাওয়াযিল ফিল ইবাদাত (পৃষ্ঠা: ৯)
وعلى هذا نقول هذا الماء الذي تغير بهذه المنظفات بالصابون أو غير ذلك إذا غلب على أجزاء الماء لا يرفع الحدث لكنه يزيل الخبث. وكذلك أيضا نقول بالنسبة للأشياء الأخرى التي ليست ماءا مثل: البنزين والغاز وغير ذلك أن هذه الأشياء لا ترفع الحدث ولكنها تزيل الخبث

‌‌المسألة الثالثة: التنظيف الجاف

والتنظيف الجاف: هو عبارة عن إزالة النجاسة والأوساخ بمزيل سائل غير الماء مع استعمال بخار الماء.

وهذا التنظيف الجاف العادة والغالب يلجأ إليه في الملبوسات التي تتأثر بالماء أي أن الماء يفسدها، وقد نص شيخ الإسلام وغيره على أن الأشياء التي إذا تنجست ويضر استعمال الماء فيها أنه يكفي فيها المسح مثل الأوراق النقدية، أو الأوراق والوثائق أصابتها نجاسة فإن ذهبت وغسلتها بالماء فسدت عليك، ومثَّل شيخ الإسلام بأثواب الحرير فلو غسلت لأدى ذلك إلى فسادها فهذه يقول شيخ الإسلام يكفي فيها المسح.

فكل شيء إذا تنجس يؤدي غسله بالماء إلى تلفه أو فساده أو مضرته … إلخ فإنه يكفي فيه المسح، فالآن وجد غير المسح الآن وجد هذا التنظيف الجاف أو مغاسل البخار.

وعلى حسب المسألة السابقة التي ذكرنا وهي أن النجاسة تطهر بأي مطهر، فنقول ترد علينا هذه المسألة ونقول أن الحكم يدور مع علته وجوداً وعدماً فالعلة هي الأذى فإذا وجد الأذى فالحكم باقي وإذا انتفى الأذى بأي مزيل فإن الحكم ينتفي.

‌‌المسألة الرابعة: تركيبة الأسنان الصناعية أو تركيبة الأسنان

بعض الناس يكون له أسنان صناعية يركبها أو له بعض الأسنان أيضا يركبها وهذه الأسنان تكون متحركة فهل يجب عليه إذا أراد الوضوء أو أراد الغسل أن يزيل هذه الأسنان المتحركة أو لا يجب عليه أن يزيلها؟

المشهور من مذهب الحنابلة رحمهم الله أن المضمضة والاستنشاق أن كلا منهما واجب وفرض في الوضوء وفي الغسل،وهذا من مفردات مذهب الحنابلة.

الحنفية يقولون بأن المضمضة والاستنشاق فرض في الغسل دون الوضوء.
এর ওপর ভিত্তি করে আমরা বলি, সাবান বা এই জাতীয় পরিষ্কারক দ্রব্যের কারণে পরিবর্তিত পানি যদি পানির উপাদানের ওপর প্রাধান্য বিস্তার করে, তবে তা অপবিত্রতা (حدث) দূর করে না, কিন্তু তা নাপাকি (خبث) দূর করে। একইভাবে পানির বিকল্প অন্যান্য জিনিসের ক্ষেত্রেও আমরা বলি, যেমন: পেট্রল, গ্যাস ইত্যাদি; এই জিনিসগুলো অপবিত্রতা (حدث) দূর করে না, তবে নাপাকি (خبث) দূর করে।

‌‌তৃতীয় মাসআলা: ড্রাই ক্লিনিং (শুষ্ক পরিষ্কারকরণ)

ড্রাই ক্লিনিং হলো: পানির বাষ্প ব্যবহারের সাথে পানি ব্যতীত অন্য কোনো তরল পরিষ্কারক দিয়ে নাপাকি (نجاسة) ও ময়লা দূর করা।

সাধারণত এই ড্রাই ক্লিনিং সেই সকল পোশাকের ক্ষেত্রে গ্রহণ করা হয় যা পানির সংস্পর্শে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, অর্থাৎ পানি সেগুলোকে নষ্ট করে দেয়। শায়খুল ইসলাম এবং অন্যান্যরা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, যে সকল বস্তু নাপাক হয়ে গেলে পানি ব্যবহারে ক্ষতির আশঙ্কা থাকে, সেগুলোতে কেবল মাসেহ (مسح) করাই যথেষ্ট। যেমন—কাগুজে মুদ্রা বা নথিপত্র যদি নাপাক হয়ে যায় এবং আপনি যদি তা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলেন, তবে তা নষ্ট হয়ে যাবে। শায়খুল ইসলাম রেশমি কাপড়ের উদাহরণ দিয়েছেন; যা ধৌত করলে নষ্ট হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে, তাই শায়খুল ইসলাম বলেন যে এক্ষেত্রে মাসেহ (مسح) করাই যথেষ্ট।

অতএব, কোনো বস্তু নাপাক হয়ে গেলে তা পানি দিয়ে ধুলে যদি বিনষ্ট বা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে … ইত্যাদি, তবে সেক্ষেত্রে মাসেহ (مسح) করাই যথেষ্ট। বর্তমানে মাসেহ-এর বিকল্প হিসেবে এই ড্রাই ক্লিনিং বা স্টিম ওয়াশ পাওয়া যায়।

আমরা ইতিপূর্বে যে মাসআলাটি উল্লেখ করেছি যে, নাপাকি যেকোনো পবিত্রকারী বস্তু দ্বারা পবিত্র হয়—সেই মূলনীতির আলোকে আমরা এই মাসআলায় বলতে পারি যে, বিধান (حكم) তার কারণের (علة) ওপর অস্তিত্বশীল বা অনুপস্থিত হওয়া নির্ভর করে। এখানে কারণ (علة) হলো ক্ষতিকর বস্তু বা অপবিত্রতা; সুতরাং যদি অপবিত্রতা পাওয়া যায় তবে বিধান (حكم) বহাল থাকবে, আর যদি যেকোনো পরিষ্কারক দ্বারা অপবিত্রতা দূর হয়ে যায় তবে বিধানটিও (حكم) রহিত হয়ে যাবে।

‌‌চতুর্থ মাসআলা: কৃত্রিম দাঁত বা দাঁতের পাটি

কিছু মানুষের কৃত্রিম দাঁত থাকে যা তারা স্থাপন করে অথবা কিছু দাঁত তারা স্থায়ীভাবে লাগিয়ে নেয়। এই দাঁতগুলো যদি নড়াচড়া করার মতো (খোলা যায় এমন) হয়, তবে অজু (وضوء) বা গোসল (غسل) করার সময় কি এই নড়াচড়াযোগ্য দাঁতগুলো খোলা তার ওপর ওয়াজিব, নাকি ওয়াজিব নয়?

হাম্বলি মাজহাবের (রাহিমাহুমুল্লাহ) প্রসিদ্ধ মত হলো, কুলি করা (مضمضة) এবং নাকে পানি দেওয়া (استنشاق)—এই উভয়টি অজু (وضوء) ও গোসলের (غسل) ক্ষেত্রে ওয়াজিব (واجب) এবং ফরজ (فرض)। এটি হাম্বলি মাজহাবের একক অভিমতগুলোর (مفردات) অন্তর্ভুক্ত।

হানাফিগণ বলেন যে, কুলি করা (مضمضة) এবং নাকে পানি দেওয়া (استنشاق) কেবল গোসলের (غسل) ক্ষেত্রে ফরজ (فرض), অজুর (وضوء) ক্ষেত্রে নয়।
(খণ্ড: ১) ফিকহুন নাওয়াযিল ফিল ইবাদাত (পৃষ্ঠা: ১০)
الشافعية والمالكية يقولون المضمضة والاستنشاق سنتان في الوضوء والغسل.

فعلى رأي الشافعية والمالكية لا يجب لأنهما أصلا يرون أن المضمضة والاستنشاق أن كلا منهما سنة.

لكن بقينا في مذهب الحنابلة فهم يرون أن المضمضة والاستنشاق أن كلا منهما واجب وفرض في الوضوء وفي الغسل.

الراجح من هذه الأقوال هو مذهب الحنابلة أن المضمضمة والاستنشاق أن كلا منهما واجب وفرض في الوضوء وفي الغسل.

ودليل ذلك القرآن:

أن الله عز وجل -قال: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُواْ إِذَا قُمْتُمْ إِلَى الصَّلاةِ فاغْسِلُواْ وُجُوهَكُمْ} (1) والأنف من الوجه لا أحد يقول بأن الأنف ليس من الوجه والفم أيضا من الوجه وإن كان مجوف إلا أنه في حكم الظاهر، ولهذا لو أن الإنسان تمضمض فإنه لا ينتقض صيامه.

كذلك أيضا حديث أبي هريرة في الصحيحين أن النبي صلى الله عليه وسلم -قال: " ثم ليجعل في أنفه ماء ثم لينتثر". وهذا أمر والأصل في الأمر الوجوب.

وفي حديث صفوان وإن كان فيه ضعف " إذا توضأت فمضمض..".

وأيضا الذين وصفوا وضوء النبي صلى الله عليه وسلم ما يقرب من اثنين وعشرين صحابياً لم يذكروا أن النبي صلى الله عليه وسلم أخل بالمضمضة والاستنشاق.

وعلى هذا يبقى عندنا أن المضمضة والاستنشاق أنهما واجبان، فهل يجب على الإنسان أن يزيل هذه الأشياء أو لا يجب عليه أن يزيل هذه الأشياء؟

الشافعية: نصوا على أن الإنسان إذا قطع أنفه ثم بعد ذلك اتخذ أنفا من ذهب كما أرشد النبي صلى الله عليه وسلم عرفجة بن أسعد لما قطع أنفه يوم الكلاب اتخذ أنفاً من فضة فأنتن عليه فأرشده النبي صلى الله عليه وسلم إلى أن يتخذ أنفاً من ذهب (2) .

--------------------------------------------

(1) المائدة6

(2) رواه أبو داود (4233، 4234) والنسائي (2 / 286) والترمذي (1 / 328) والطحاوي في " شرح المعاني " (2 / 349) والبيهقي (2 / 425) وأحمد (5 / 25) .
শাফেয়ী ও মালেকীগণ বলেন যে, অজু এবং গোসলের ক্ষেত্রে কুলি করা এবং নাকে পানি দেওয়া হলো সুন্নত (سنة)।

সুতরাং শাফেয়ী ও মালেকী মাযহাবের মতানুসারে এটি ওয়াজিব (واجب) নয়; কারণ তারা মূলত মনে করেন যে, কুলি করা এবং নাকে পানি দেওয়া—উভয়টিই সুন্নত (سنة)।

তবে হাম্বলী মাযহাবের ক্ষেত্রে দেখা যায়, তারা মনে করেন যে অজু এবং গোসলে কুলি করা এবং নাকে পানি দেওয়া—উভয়টিই ওয়াজিব (واجب) ও ফরজ (فرض)।

এই মতগুলোর মধ্যে বিশুদ্ধতর (الراجح) মত হলো হাম্বলী মাযহাবের অভিমত; আর তা হলো অজু ও গোসলে কুলি করা এবং নাকে পানি দেওয়া—উভয়টিই ওয়াজিব (واجب) ও ফরজ (فرض)।

এর দলিল হলো আল-কুরআন:

আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা বলেন: "হে মুমিনগণ! যখন তোমরা সালাতের জন্য দণ্ডায়মান হবে, তখন তোমাদের মুখমণ্ডল ধৌত করো।" (১) আর নাক হলো মুখমণ্ডলের অংশ, কেউ এ কথা বলে না যে নাক মুখমণ্ডলের অন্তর্ভুক্ত নয়। মুখও মুখমণ্ডলের অংশ, যদিও তা অভ্যন্তরীণ গহ্বর সদৃশ, তবুও তা প্রকাশ্য অঙ্গের হুকুমে পড়ে। এই কারণেই কোনো ব্যক্তি যদি কুলি করে, তবে তাতে তার রোজা ভঙ্গ হয় না।

তদ্রূপ সহীহাইন-এ বর্ণিত আবু হুরায়রা (রা.)-এর হাদিস, যেখানে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "অতঃপর সে যেন তার নাকে পানি দেয় এবং তা ঝেড়ে ফেলে।" এটি একটি নির্দেশ, আর নির্দেশের মূল বিধান হলো ওয়াজিব (الوجوب) হওয়া।

আর সাফওয়ান (রা.) বর্ণিত হাদিসে এসেছে, যদিও তাতে দুর্বলতা (ضعف) রয়েছে: "যখন তুমি অজু করবে তখন কুলি করবে..."।

তাছাড়া, যারা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর অজুর বিবরণ দিয়েছেন—যাদের সংখ্যা প্রায় বাইশ জন সাহাবী—তাদের কেউই উল্লেখ করেননি যে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কখনো কুলি করা বা নাকে পানি দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো ত্রুটি করেছেন।

এই ভিত্তিতে আমাদের কাছে সাব্যস্ত হয় যে, কুলি করা এবং নাকে পানি দেওয়া—উভয়টিই ওয়াজিব (واجب)। এখন প্রশ্ন হলো, মানুষের জন্য কি এই জিনিসগুলো দূর করা ওয়াজিব (واجب) নাকি ওয়াজিব (واجب) নয়?

শাফেয়ীগণ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, কোনো ব্যক্তির নাক যদি কেটে যায় এবং পরবর্তীতে সে সোনার নাক ব্যবহার করে, যেমনটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আরাফাজা ইবনে আসআদ (রা.)-কে নির্দেশনা দিয়েছিলেন। যখন কুলাবের যুদ্ধে তাঁর নাক কেটে গিয়েছিল, তখন তিনি রূপার একটি নাক লাগিয়েছিলেন, যা থেকে দুর্গন্ধ সৃষ্টি হয়। ফলে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁকে সোনার নাক তৈরি করে নেওয়ার নির্দেশ দেন। (২) .

--------------------------------------------

(১) আল-মায়েদাহ: ৬

(২) এটি বর্ণনা করেছেন আবু দাউদ (৪২৩৩, ৪২৩৪), নাসায়ী (২/২৮৬), তিরমিজি (১/৩২৮), তহাবী 'শারহুল মাআনি' গ্রন্থে (২/৩৪৯), বায়হাকী (২/৪২৫) এবং আহমদ (৫/২৫)।
(খণ্ড: ১) ফিকহুন নাওয়াযিল ফিল ইবাদাত (পৃষ্ঠা: ১১)
فالشافعية نصوا على أنه إذا اتخذ أنفاً من ذهب أن هذا الأنف يكون له حكم الأنف الأصلي فلا يجب عليه أن يزيله وإنما يغسله مع الوجه، وكذلك نصوا على أن الإنسان إذا قطعت الأنملة منه واتخذ بدلا من ذلك أنملة من ذهب،أنه لا يجب عليه أن يزيلها عند الغسل وتكون هذه الأنملة كالأصلية يغسلها.

وعلى هذا نقول الصحيح في هذه المسألة:أن تركيبة الأسنان أو الأسنان الصناعية لا يجب على الإنسان أن يزيلها إذا أراد الوضوء أو أراد الغسل، والدليل على هذا دليلان:

حديث عرفجة بن أسعد رضي الله تعالى عنه" فإن النبي صلى الله عليه وسلم أمره أن يتخذ أنفاً من ذهب" (1) . وهذا الأنف سيحجب شيئاً من مواضع الماء ومع ذلك لم يأمره النبي صلى الله عليه وسلم أن يزيل هذا الأنف عند الوضوء أو عند الغسل.

أن الإنسان قد يشرع له أو يباح له أن يتخذ الخاتم ومع ذلك لم يرد أنه يجب عليه أن يخلع الخاتم أو أن يحركه، وقد يحجب الخاتم شيئاً من الماء،وكذلك النبي صلى الله عليه وسلم اتخذ الخاتم (2) ومع ذلك لم يرد أن النبي صلى الله عليه وسلم كان يحرك خاتمه لم يثبت ذلك أو أنه كان ينزع خاتمه، فلما لم يرد ذلك دل على أن مثل هذا يعفى عنه، والخاتم سيحجب شيئاً من الإصبع فيكون هذا معفوا عنه.

فنقول مثل هذه التركيبة وإن كانت متحركة قد يكون في خلعها شيء من المشقة، فنقول أنها لا تنزع ولا تحرك فكما أن الخاتم الذي قد يباح للإنسان أن يتخذه أو قد يشرع لا يجب عليه أن ينزعه فكذلك أيضاً تركيبة الأسنان لا يجب أن تنزع.

‌‌المسألة الخامسة: طلاء الأظافر بالمواد الكيميائية (المناكير)

هذه المسألة وإن كانت ظاهرة إلا أنني أوردتها لأن بعض المفتين ذكر بأنها تأخذ حكم الجوارب وأنه لا بأس للمرأة أن تمسح عليها يوماً وليلة.

--------------------------------------------

(1) المصادر السابقة

(2) حديث" أنه صلى الله عليه وسلم اتخذ خاتما من ورق" متفق عليه
শাফিঈ মাজহাবের ফকিহগণ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, যদি কোনো ব্যক্তি কৃত্রিম স্বর্ণের নাক ব্যবহার করে, তবে এই নাকটি আসল নাকের বিধান লাভ করবে; সুতরাং তার জন্য এটি অপসারণ করা আবশ্যক নয়, বরং সে এটি মুখমণ্ডলের সাথে ধৌত করবে। অনুরূপভাবে তারা এটিও উল্লেখ করেছেন যে, যদি কোনো ব্যক্তির আঙুলের একটি গিঁট বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং এর পরিবর্তে সে স্বর্ণের একটি গিঁট ব্যবহার করে, তবে গোসলের সময় সেটি অপসারণ করা তার জন্য আবশ্যক নয় এবং এই কৃত্রিম গিঁটটি আসলের মতোই গণ্য হবে, যা সে ধৌত করবে।

এর ওপর ভিত্তি করে আমরা বলি যে, এই মাসআলায় সঠিক (صحيح) মত হলো: দাঁতের পাটি বা কৃত্রিম দাঁত ওজু বা গোসলের সময় অপসারণ করা মানুষের জন্য আবশ্যক নয়। এর স্বপক্ষে দুটি দলিল রয়েছে:

আরফাজা বিন আসআদ (রা.) বর্ণিত হাদিস: "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে স্বর্ণের নাক ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছিলেন।" (১) এই কৃত্রিম নাকটি ওজুর পানির পৌঁছানোর স্থানে কিছুটা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে, তা সত্ত্বেও রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ওজু বা গোসলের সময় এই নাকটি খুলে ফেলার নির্দেশ দেননি।

দ্বিতীয় দলিল হলো, মানুষের জন্য আংটি পরিধান করা শরিয়তসম্মত বা বৈধ হতে পারে, অথচ আংটি খুলে ফেলা বা সেটি নাড়াচাড়া করা আবশ্যক হওয়ার ব্যাপারে কোনো বর্ণনা পাওয়া যায় না; যদিও আংটি পানির পৌঁছাতে সামান্য বাধা সৃষ্টি করতে পারে। অনুরূপভাবে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আংটি ব্যবহার করেছেন (২) অথচ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর আংটি নাড়াচাড়া করতেন বলে সাব্যস্ত হয়নি (لم يثبت) অথবা তিনি আংটি খুলে ফেলতেন বলেও কোনো বর্ণনা আসেনি। যেহেতু এমন কিছু বর্ণিত হয়নি, তাই এটি প্রমাণ করে যে এই ধরণের বিষয়গুলো ক্ষমাযোগ্য বা মার্জনীয় বলে গণ্য হবে; আংটি আঙুলের কিছু অংশকে আবৃত করে রাখে এবং এটি মার্জনীয়।

অতএব আমরা বলতে পারি যে, এই ধরণের কৃত্রিম দাঁতের পাটি যদিও নাড়ানো সম্ভব, তবুও তা খোলার ক্ষেত্রে কিছুটা কষ্ট বা কাঠিন্য থাকতে পারে। তাই আমাদের বক্তব্য হলো—এটি খোলার বা নাড়াচাড়া করার প্রয়োজন নেই। যেমনভাবে আংটি পরিধান করা মানুষের জন্য বৈধ বা শরিয়তসম্মত এবং তা খোলা আবশ্যক নয়, তেমনি দাঁতের কৃত্রিম পাটিও খোলা আবশ্যক নয়।

‌‌পঞ্চম মাসআলা: রাসায়নিক পদার্থ দ্বারা নখে প্রলেপ লাগানো (নেইল পলিশ)

এই মাসআলাটি যদিও সুস্পষ্ট, তবুও আমি এটি এখানে এনেছি কারণ কোনো কোনো মুফতি উল্লেখ করেছেন যে, এটি মোজার বিধানের অন্তর্ভুক্ত হবে এবং নারীদের জন্য এর ওপর একদিন ও একরাত মাসেহ করায় কোনো অসুবিধা নেই।

--------------------------------------------

(১) পূর্বোক্ত উৎসসমূহ

(২) হাদিস: "নিশ্চয়ই রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) রুপার আংটি গ্রহণ করেছিলেন।" এটি একটি সর্বসম্মত (متفق عليه) হাদিস।
(খণ্ড: ১) ফিকহুন নাওয়াযিল ফিল ইবাদাত (পৃষ্ঠা: ১২)
هذا الطلاء وإن كان فيه شيء من الضرر لكن إذا اتخذت المرأة مثل هذه الأشياء في وقت الوضوء أو وقت الغسل فإن هذا محرم ولا يجوز لأن استيعاب العضو بالغسل هذا واجب ، والأئمة (الحنفية والمالكية والشافعية والحنابلة) كلهم يتفقون على أن من شروط صحة الوضوء إزالة ما يمنع وصول الماء إلى البشرة.

ودليل ذلك:

قول الله عز وجل: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُواْ إِذَا قُمْتُمْ إِلَى الصَّلاةِ فاغْسِلُواْ وُجُوهَكُمْ وَأَيْدِيَكُمْ إِلَى الْمَرَافِقِ وَامْسَحُواْ بِرُؤُوسِكُمْ وَأَرْجُلَكُمْ إِلَى الْكَعْبَينِ} (1) ، فأمر الله عز وجل بغسل اليد وهذا يشمل جميع اليد ، وأمر بغسل الرجلين وهذا يشمل جميع الرجلين ،حتى الأظافر ،ومن اتخذ هذا الحاجز (المناكير) الذي يمنع من وصول الماء إلى البشرة أو الظفر … إلخ هذا لم يغسل جميع اليد ولم يمتثل الأمر.

حديث عائشة وعبد الله بن عمرو غيرهما أن النبي صلى الله عليه وسلم قال:" ويل للأعقاب من النار " (2) ،والأعقاب جمع عقب وهو مؤخر القدم،وتوعده النبي صلى الله عليه وسلم بالويل لأنه يغلب أن مثل هذه الأشياء يتساهل فيها الناس ولا يعنون فيها، فدل على أنه لابد من غسل الرجل كاملة،ولابد من إسباغ الوضوء الإسباغ الواجب.

فنخلص من هذا أن اتخاذ مثل هذه الأشياء التي تمنع من وصول الماء إلى الظفر في وقت الوضوء أو الغسل محرم ولا يجوز ولا يصح معه الوضوء والغسل، حتى لو نسيت المرأة واغتسلت فنقول بأن غسلها غير صحيح ويجب عليها أن تزيل مثل هذه الأشياء ثم بعد ذلك تعاود الغسل مرة أخرى اللهم إلا إذا تذكرت بعد الغسل مباشرة بحيث لم يطل الفصل وتمكنت من إزالة هذه الأشياء فإنه يُكتفى بأن تغسل الموضع الذي لم يصبه الماء لأن الترتيب ليس واجباً في الغسل، وإنما تجب الموالاة على الصحيح والموالاة هنا قد استدركتها.

‌‌المسألة السادسة: تركيبة الأظافر الصناعية.

--------------------------------------------

(1) المائدة6

(2) متفق عليه
এই প্রলেপটি (নেইল পলিশ), যদিও এতে কিছুটা ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে, তবে যদি কোনো নারী অজু বা গোসলের সময়ে এ জাতীয় বস্তু ব্যবহার করে, তবে তা হারাম এবং এটি জায়েজ নয়; কারণ অঙ্গের প্রতিটি অংশে পানি পৌঁছানো ওয়াজিব। ইমামগণ (হানাফি, মালিকি, শাফেয়ি ও হাম্বলি) এ বিষয়ে একমত যে, অজু সহিহ হওয়ার শর্তাবলির মধ্যে একটি হলো ত্বকে পানি পৌঁছাতে বাধা দেয় এমন বস্তু অপসারণ করা।

এর দলিল হলো:

মহান আল্লাহ তাআলার বাণী: {হে মুমিনগণ! যখন তোমরা সালাতের জন্য দাঁড়াবে, তখন তোমাদের মুখমণ্ডল ও হাতগুলো কনুই পর্যন্ত ধৌত করো, তোমাদের মাথা মাসাহ করো এবং তোমাদের পাগুলো টাখনু পর্যন্ত ধৌত করো} (১)। মহান আল্লাহ হাত ধোয়ার নির্দেশ দিয়েছেন এবং এটি সম্পূর্ণ হাতকে অন্তর্ভুক্ত করে। তিনি পা ধোয়ারও নির্দেশ দিয়েছেন এবং এটি নখসহ সম্পূর্ণ পা-কে অন্তর্ভুক্ত করে। আর যে ব্যক্তি এই প্রতিবন্ধক (নেইল পলিশ) ব্যবহার করল যা ত্বক বা নখে পানি পৌঁছাতে বাধা দেয়... ইত্যাদি, সে তার সম্পূর্ণ হাত ধৌত করেনি এবং নির্দেশ পালন করেনি।

আয়েশা ও আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) এবং অন্যান্যদের থেকে বর্ণিত হাদিস যে, নবী (সা.) বলেছেন: "আগুনের কারণে গোড়ালিগুলোর জন্য ধ্বংস (অনিবার্য)।" (২)। 'আ'কাব' হলো 'আকিব'-এর বহুবচন, যা পায়ের পেছনের অংশ। নবী (সা.) একে ধ্বংসের হুমকি দিয়েছেন কারণ সাধারণত মানুষ এসব বিষয়ের ক্ষেত্রে শিথিলতা প্রদর্শন করে এবং এর প্রতি গুরুত্ব দেয় না। এটি প্রমাণ করে যে, পা পূর্ণাঙ্গভাবে ধোয়া আবশ্যক এবং ওয়াজিব পর্যায়ের অজু পরিপূর্ণ করা অপরিহার্য।

এ থেকে আমরা এই সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারি যে, অজু বা গোসলের সময় নখে পানি পৌঁছাতে বাধা দেয় এমন বস্তু ব্যবহার করা হারাম এবং তা জায়েজ নয়। এর উপস্থিতিতে অজু ও গোসল সহিহ (صحيح) হবে না। এমনকি যদি কোনো নারী ভুলে গিয়ে গোসল করে ফেলে, তবে আমরা বলব যে তার গোসল সঠিক হয়নি এবং তার ওপর ওয়াজিব হলো এ জাতীয় বস্তু অপসারণ করা এবং এরপর পুনরায় গোসল করা। তবে যদি গোসলের ঠিক পরেই তার মনে পড়ে—যাতে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হয়নি—এবং সে ওই বস্তু অপসারণ করতে সক্ষম হয়, তবে পানি না পৌঁছানো স্থানটি ধুয়ে নেওয়াই যথেষ্ট হবে; কারণ গোসলের ক্ষেত্রে তারতিব ওয়াজিব নয়। তবে বিশুদ্ধ (صحيح) মতানুসারে মুয়ালাত (নিরবচ্ছিন্নতা) ওয়াজিব, আর এক্ষেত্রে সে তা সংশোধন করে নিয়েছে।

‌‌ষষ্ঠ মাসআলা: কৃত্রিম নখ লাগানো.

--------------------------------------------

(১) আল-মায়েদাহ: ৬

(২) সর্বসম্মত (متفق عليه)
(খণ্ড: ১) ফিকহুন নাওয়াযিল ফিল ইবাদাত (পৃষ্ঠা: ১৩)
وهي نوع من الأظافر البلاستيكية تشبه الأظافر الخَلقية تأخذها المرأة وتصبغها بأصباغ متنوعة ثم بعد ذلك تضعها على ظفرها أو تلزقها على ظفرها بمادة لاصقة.

هذه الأظفار حكمها حكم ما تقدم من الأصباغ الكيميائية (المناكير) " ، فنقول اتخاذها وقت الوضوء والغسل هذا محرم ولا يجوز لما ذكرنا أنها تمنع من وصول الماء إلى الظفر، وتقدم لنا أن الأئمة كلهم يتفقون على أن من شروط صحة الوضوء هو إزالة ما يمنع وصول الماء إلى البشرة، من طين أو عجين … إلخ.

مع أن اتخاذ مثل هذه الأظافر يَظهر والله أعلم أنه محرم ولا يجوز ،لأن الشارع أمر بقص الأظافر كم في حديث أبي هريرة في الصحيحين أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: (خمس من الفطرة الختان والاستحداد ونتف الإبط وتقليم الأظفار وقص الشارب) (1) .

ونص العلماء رحمهم الله على أن أخذ هذه السنن له ثلاثة أوقات:

الوقت الأول:وقت الاستحباب وهو إذا طالت هذه الأشياء ،فإذا طالت هذه الأشياء فإنه يستحب للإنسان أن يأخذها.

الوقت الثاني:وقت الكراهة وهو ما إذا تجاوزت أربعين يوماً ، إذا تجاوزت أربعين يوماً فإنه يكره للإنسان أن يتركها، ولهذا في حديث أنس رضي الله عنه قال: "وُقِت لنا في قص الشارب وتقليم الأظفار ونتف الإبط وحلق العانة أن لا تترك أكثر من أربعين ليلة" (2) .

الوقت الثالث: وهو إذا طالت وتفاحشت فإن هذا محرم ولا يجوز ، يعني إذا ترك شاربه حتى طال وتفاحش ،أو ترك أظافره حتى طالت وتفاحشت ،أو ترك شعر الإبط أو ترك شعر العانة … إلخ ، فإن هذا محرم ولا يجوز لأمرين:

1-لما في ذلك من التشبه بالسباع والبهائم.

2 - لما في ذلك من التشبه بأهل الكفر والشرك.

‌‌المسألة السابعة: أصباغ الشعر

من حيث الاستقراء يلحظ أن نوعية الأصباغ التي تستخدمها النساء تنقسم إلى ثلاثة أقسام:

--------------------------------------------

(1) أخرجه البخاري ومسلم

(2) رواه مسلم وابن ماجه ورواه أحمد والترمذي والنسائي وأبو داود
এটি এক প্রকারের প্লাস্টিকের নখ যা মানুষের প্রকৃত জন্মগত নখের সদৃশ। মহিলারা এগুলো সংগ্রহ করে বিভিন্ন রঙে রঞ্জিত করে এবং পরবর্তীতে তাদের নখের ওপর স্থাপন করে অথবা কোনো আঠালো পদার্থের মাধ্যমে নখের সাথে যুক্ত করে দেয়।

এই নখগুলোর বিধান পূর্বে উল্লিখিত রাসায়নিক রঞ্জক (নেলপলিশ)-এর বিধানের অনুরূপ। সুতরাং আমরা বলি যে, অজু ও গোসলের সময় এগুলো ব্যবহার করা হারাম এবং নাজায়েজ; কারণ হিসেবে আমরা উল্লেখ করেছি যে, এগুলো নখের ওপর পানি পৌঁছাতে বাধা প্রদান করে। আর আমাদের নিকট ইতিপূর্বে এটি স্পষ্ট হয়েছে যে, সমস্ত ইমামগণ এই বিষয়ে একমত যে, অজুর বিশুদ্ধতার অন্যতম শর্ত হলো চামড়া পর্যন্ত পানি পৌঁছাতে বাধা দেয় এমন বস্তু—যেমন কাদা বা আটা—অপসারণ করা... ইত্যাদি।

তা ছাড়া এই ধরনের কৃত্রিম নখ ব্যবহার করা বাহ্যত—আল্লাহ তাআলাই ভালো জানেন—হারাম এবং নাজায়েজ। কেননা শরিয়ত প্রণেতা নখ কাটার নির্দেশ দিয়েছেন, যেমনটি আবু হুরায়রা বর্ণিত সহিহাইন-এর একটি হাদিসে এসেছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "পাঁচটি বিষয় স্বভাবজাত সুন্নাতের অন্তর্ভুক্ত: খতনা করা, নাভির নিচের লোম পরিষ্কার করা, বগলের লোম উপড়ে ফেলা, নখ কাটা এবং গোঁফ ছাঁটা।" (১)

উলামায়ে কেরাম (রহিমাহুমুল্লাহ) স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, এই সুন্নাতগুলো পালনের তিনটি সময় রয়েছে:

প্রথম সময়: মুস্তাহাব হওয়ার সময়; আর তা হলো যখন এই বিষয়গুলো লম্বা হয়ে যায়। যখন এই বিষয়গুলো লম্বা হয়, তখন মানুষের জন্য তা পরিষ্কার করা মুস্তাহাব।

দ্বিতীয় সময়: মাকরুহ হওয়ার সময়; আর তা হলো যখন সময়সীমা চল্লিশ দিন অতিক্রম করে। যদি চল্লিশ দিন অতিবাহিত হয়ে যায়, তবে এগুলো না কেটে ফেলে রাখা মানুষের জন্য মাকরুহ। এ কারণেই আনাস (রা.) বর্ণিত হাদিসে বলা হয়েছে: "আমাদের জন্য গোঁফ ছাঁটা, নখ কাটা, বগলের লোম উপড়ানো এবং নাভির নিচের লোম মুণ্ডন করার সময়সীমা নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে যেন আমরা তা চল্লিশ রাতের বেশি ছেড়ে না রাখি।" (২)

তৃতীয় সময়: আর তা হলো যখন এগুলো অনেক বেশি লম্বা ও কুরুচিপূর্ণ হয়ে যায়, তখন তা হারাম এবং নাজায়েজ। অর্থাৎ, যদি কেউ তার গোঁফ লম্বা ও কুরুচিপূর্ণ হওয়া পর্যন্ত ছেড়ে রাখে, অথবা নখ লম্বা ও কুরুচিপূর্ণ হওয়া পর্যন্ত না কাটে, কিংবা বগলের লোম বা নাভির নিচের লোম পরিষ্কার না করে রেখে দেয়... ইত্যাদি; তবে তা দুটি কারণে হারাম এবং নাজায়েজ:

১-কারণ এতে হিংস্র প্রাণী ও চতুষ্পদ জন্তুর সাদৃশ্য গ্রহণ করা পরিলক্ষিত হয়।

২ - কারণ এতে কুফর ও শিরকের অনুসারীদের সাদৃশ্য গ্রহণ করা পরিলক্ষিত হয়।

‌‌সপ্তম মাসআলা: চুলের রঞ্জক বা কলপ

পর্যালোচনার ভিত্তিতে দেখা যায় যে, নারীরা যে ধরনের রঞ্জক ব্যবহার করেন তা তিন ভাগে বিভক্ত:

--------------------------------------------

(১) বুখারি ও মুসলিম এটি উদ্ধৃত করেছেন।

(২) এটি মুসলিম ও ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেছেন এবং আহমাদ, তিরমিজি, নাসায়ি ও আবু দাউদও এটি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) ফিকহুন নাওয়াযিল ফিল ইবাদাত (পৃষ্ঠা: ১৪)
القسم الأول: أصباغ نباتية وهذا مثل الحناء.

القسم الثاني: أصباغ معدنية ،وهذه الأصباغ المعدنية عبارة عن مركبات معدنية تحتوي على الكبريت أو الرصاص أو النحاس.

القسم الثالث: مُبَيِضات الشعر أو مشقرات الشعر، وهي تتم باستخدام البروكسيد، أو ماء الأكسجين، فيؤدي ذلك إلى تكسير صبغة المِِلَيين الموجودة في القشرة الخارجية للشعر فيتحول الشعر إلى اللون الأبيض أو الأصفر ثم بعد ذلك يصبغ مرة أخرى بحسب ما تريده المرأة.

هذا التقسيم الأول من حيث نوعية الأصباغ.

التقسيم الثاني من حيث الحكم الشرعي، نقول من حيث الحكم الشرعي هذه الصبغات تنقسم إلى قسمين:

القسم الأول: صبغات هي مجرد لون وهذا الغالب على هذه الأصباغ ، يعني الأصباغ النباتية مثل الحناء ونحو ذلك ، وكثير أيضا من الصبغات الموجودة اليوم هذه مجرد لون لا تُكوَّن جُرماً على الشعرة ولا طبقة عازلة، فنقول هذه استخدامها من حيث الوضوء والغسل هذا جائز ولا بأس به لأن مثل هذه الأشياء لا تمنع وصول الماء وإنما هي مجرد لون يكسي الشعر بلون آخر.

القسم الثاني: أن يكون لهذه الصبغة جرم وطبقة يمنع وصول الماء إلى الشعرة بحيث تكون الشعرة سميكة وهو قليل، وهذا استخدامه لا يجوز لأن فترته تطول والمرأة بحاجة إلى الغسل عن الحدث الأكبر كالجنابة والحيض ونحو ذلك.

‌‌المسألة الثامنة: الرموش الصناعية

الرموش الصناعية: عبارة عن شعيرات رقيقة تصنع من المواد البلاستيكية تلصق على الجفن بواسطة مادة لاصقة توضع على طرف الرمش الأعلى.

هذه الرموش الصناعية من خلال النظر فيها ووضعها في الماء … إلخ، يوجد أنها تتحلل كما أن لها فتحات من جهة الأسفل لا تمنع من وصول الماء إلى داخل الشعيرات (الأهداب) فإذا كان كذلك يعني هذه الرموش إذا وضع عليها الماء وتوضأت المرأة أو اغتسلت فإنه يلاحظ أنها تتحلل كذلك أيضا لها فتحات من الداخل لا تمنع من وصول الماء إلى رمش العين.
প্রথম প্রকার: উদ্ভিজ্জ রঞ্জক পদার্থ এবং এটি মেহেদির মতো।

দ্বিতীয় প্রকার: খনিজ রঞ্জক পদার্থ; এই খনিজ রঞ্জকগুলো হলো সালফার, সিসা বা তামা সমৃদ্ধ খনিজ যৌগের সমষ্টি।

তৃতীয় প্রকার: চুল সাদা করার বা সোনালী করার দ্রব্য, যা পারঅক্সাইড বা অক্সিজেন মিশ্রিত পানি ব্যবহারের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হয়। এটি চুলের বাইরের স্তরে বিদ্যমান মেলানিন রঞ্জক ভেঙে ফেলে, ফলে চুল সাদা বা হলুদ বর্ণে রূপান্তরিত হয় এবং পরবর্তীতে নারী তার পছন্দমতো অন্য রঙে পুনরায় রাঙাতে পারে।

রঞ্জক পদার্থের প্রকৃতির বিচারে এটি প্রথম বিন্যাস।

শরয়ী বিধানের বিচারে দ্বিতীয় বিন্যাস; আমরা বলতে পারি যে শরয়ী বিধানের দিক থেকে এই রঞ্জকগুলো দুই ভাগে বিভক্ত:

প্রথম প্রকার: এমন রঞ্জক যা কেবল রঙ প্রদান করে এবং অধিকাংশ রঞ্জকের ক্ষেত্রে এমনটিই ঘটে; অর্থাৎ মেহেদি ও এই জাতীয় উদ্ভিজ্জ রঞ্জক এবং বর্তমানে বিদ্যমান অনেক রঞ্জকই কেবল রঙ দেয়। এগুলো চুলের ওপর কোনো দৃশ্যমান আবরণ বা নিরোধক স্তর তৈরি করে না। সুতরাং অজু ও গোসলের ক্ষেত্রে এগুলোর ব্যবহার বৈধ এবং এতে কোনো সমস্যা নেই, কারণ এই জাতীয় বস্তু পানি পৌঁছাতে বাধা দেয় না; বরং এগুলো কেবল এমন এক রঙ যা চুলকে অন্য রঙে রঞ্জিত করে।

দ্বিতীয় প্রকার: রঞ্জকটির যদি কোনো আবরণ ও স্তর থাকে যা চুলের গোড়ায় পানি পৌঁছাতে বাধা দেয়, যার ফলে চুল স্থূল হয়ে যায়—তবে এর পরিমাণ খুবই কম। এগুলোর ব্যবহার বৈধ নয়, কারণ এর স্থায়িত্বকাল দীর্ঘ হয় আর নারীর বড় অপবিত্রতা যেমন—জানাবাত ও ঋতুস্রাব ইত্যাদি থেকে পবিত্র হওয়ার জন্য গোসলের প্রয়োজন হয়।

‌‌অষ্টম মাসআলা: কৃত্রিম চোখের পাপড়ি

কৃত্রিম চোখের পাপড়ি: এগুলো হলো প্লাস্টিকজাত পদার্থ দিয়ে তৈরি সূক্ষ্ম লোম, যা আঠালো পদার্থের মাধ্যমে চোখের উপরের পাপড়ির প্রান্তে লাগানো হয়।

এই কৃত্রিম পাপড়িগুলো পর্যবেক্ষণ করলে এবং পানিতে ভিজিয়ে দেখলে … ইত্যাদি পাওয়া যায় যে এগুলো পানি ভেদ্য, তেমনি এগুলোর নিচের দিকে সূক্ষ্ম ছিদ্র রয়েছে যা মূল পাপড়ির অভ্যন্তরে পানি পৌঁছাতে বাধা দেয় না। সুতরাং বিষয়টি যদি এমন হয়—অর্থাৎ এই পাপড়িগুলোর ওপর পানি ঢাললে এবং নারী অজু বা গোসল করলে লক্ষ্য করা যায় যে এগুলো পানি শোষণ করছে, তেমনি এগুলোর অভ্যন্তরীণ ছিদ্র দিয়ে চোখের মূল পাপড়িতে পানি পৌঁছাতে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে না।
(খণ্ড: ১) ফিকহুন নাওয়াযিল ফিল ইবাদাত (পৃষ্ঠা: ১৫)
فإذا كان كذلك نقول هذه الأشياء لا تمنع وصول الماء إلى شيء من الأعضاء التي يجب غسلها فهي من حيث الوضوء والغسل نقول وضوء المرأة صحيح وكذلك أيضاً غسلها صحيح.

لكن يبقى استعمال مثل هذه الرموش هل هذا جائز أو ليس جائزاً؟

نقول الذي يظهر والله أعلم أن استعمال مثل هذه الرموش غير جائز لأن هذه الرموش الصناعية توضع على الرموش الطبيعية فيلاحظ أن مثل هذه الأشياء نوع من الوصل ، والنبي صلى الله عليه وسلم " لعن الواصلة والمستوصلة " (1) .

والواصلة: هي التي تصل الشعر بشعر آخر أو بما يماثله.

والوصل ينقسم إلى ثلاثة أقسام:

القسم الأول: أن يوصل الشعر بشعر آخر ، فهذا محرم.

القسم الثاني: أن يوصل الشعر بشيء غير الشعر كشعر مصنوع من البلاستيك لكنه مثل الشعر أو قريب منه في الهيئة والشكل … إلخ. هذا موضوع خلاف والذي يظهر والله أعلم أنه لا يجوز.

القسم الثالث: أن يوصل الشعر بشيء آخر ليس مثل الشعر بعيد عنه لا يماثله ولا يشابهه، مثل وصله بخرق ونحو ذلك بحيث إذا رأيته لا تقول أنه شعر ،فهذا نقول بأنه جائز ولا بأس به.

فيظهر والله أعلم أن استعمال هذه الرموش الصناعية لا يجوز لا من جهة الوضوء والغسل ولكن من جهة أنه داخل في الوصل لأن العلة وهي الزور التي علل بها النبي صلى الله عليه وسلم موجودة هنا.

--------------------------------------------

(1) وَعَنِ ابنِ عُمَرَ رضي الله عنهما: " أَنَّ النّبيّ صلى الله عليه وسلم لَعَنَ الْوَاصِلَةَ والْمُسْتَوْصِلَةَ والواشمةَ والمُسْتَوْشِمَةَ " مُتّفقٌ عَلَيهِ
যদি বিষয়টি এমনই হয়, তবে আমরা বলব যে এই বস্তুগুলো ধৌত করা আবশ্যক এমন কোনো অঙ্গের অংশে পানি পৌঁছাতে বাধা সৃষ্টি করে না। সুতরাং ওজু ও গোসলের দিক থেকে আমরা বলব যে, নারীর ওজু সঠিক (صحيح) এবং একইভাবে তার গোসলও সঠিক (صحيح)।

কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়, এই ধরণের পাপড়ি ব্যবহার করা কি বৈধ (جائز) নাকি বৈধ (جائز) নয়?

আমরা বলব, যা প্রতীয়মান হয় এবং আল্লাহ-ই সর্বজ্ঞ, এই ধরণের পাপড়ি ব্যবহার করা বৈধ (جائز) নয়। কারণ এই কৃত্রিম পাপড়িগুলো স্বাভাবিক পাপড়ির ওপর স্থাপন করা হয়, যা চুল জোড়া দেওয়ার (الوصل) একটি ধরণ হিসেবে গণ্য। আর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) "চুল জোড়া দানকারী এবং চুল জোড়া গ্রহণকারী নারীকে অভিশাপ দিয়েছেন" (১)।

আর চুল জোড়া দানকারী (الواصلة) হলেন সেই নারী, যিনি এক চুলকে অন্য চুলের সাথে বা তার সদৃশ কিছুর সাথে জুড়ে দেন।

আর চুল জোড়া দেওয়ার (الوصل) বিষয়টি তিন ভাগে বিভক্ত:

প্রথম প্রকার: চুলের সাথে অন্য চুল জোড়া দেওয়া, এটি হারাম (محرم)।

দ্বিতীয় প্রকার: চুলের সাথে চুল ব্যতীত অন্য কিছু জোড়া দেওয়া, যেমন প্লাস্টিকের তৈরি চুল যা দেখতে হুবহু চুলের মতো অথবা আকৃতি ও অবয়বে চুলের কাছাকাছি … ইত্যাদি। এটি একটি মতপার্থক্যের (خلاف) বিষয়; তবে যা প্রতীয়মান হয় এবং আল্লাহ-ই সর্বজ্ঞ, তা হলো এটি বৈধ (جائز) নয়।

তৃতীয় প্রকার: চুলের সাথে এমন কিছু জোড়া দেওয়া যা চুলের মতো নয়, বরং তা থেকে ভিন্ন এবং সাদৃশ্যহীন। যেমন কাপড়ের টুকরো বা অনুরূপ কিছু দিয়ে জোড়া দেওয়া, যা দেখলে কেউ চুল বলবে না। আমরা বলব যে, এটি বৈধ (جائز) এবং এতে কোনো অসুবিধা নেই।

সুতরাং যা প্রতীয়মান হয় এবং আল্লাহ-ই সর্বজ্ঞ, এই কৃত্রিম পাপড়ি ব্যবহার করা বৈধ (جائز) নয়। এটি ওজু ও গোসলের কারণে নয়, বরং চুল জোড়া দেওয়ার (الوصل) অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কারণে। কারণ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যে কারণ বা ইল্লত (العلة) তথা জালিয়াতি বা প্রতারণার (الزور) কথা উল্লেখ করেছেন, তা এখানে বিদ্যমান।

--------------------------------------------

(১) ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত: "নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) চুল জোড়া দানকারী, চুল জোড়া গ্রহণকারী, উল্কি অঙ্কনকারী এবং উল্কি গ্রহণকারী নারীকে অভিশাপ দিয়েছেন।" এটি মুত্তাফাকুন আলাইহি (متفق عليه)।
(খণ্ড: ১) ফিকহুন নাওয়াযিল ফিল ইবাদাত (পৃষ্ঠা: ১৬)
مثل ذلك أيضاً الآن ما يوجد في بعض مشابك للنساء حيث يوجد فيها شعر، كون هذه المرأة تضع هذا المشبك الذي فيه شعر نقول من جهة الوضوء والغسل الذي يظهر أن هذا لا يؤثر. كذلك أيضاً بعض النساء تحشو شعرها بشعر آخر نقول أيضاً من جهة الوضوء والغسل لا يؤثر، لأن الماء سائل رقيق يتخلل مثل هذه الأشياء، لكن يبقى مسألة الوصل فهذه هي التي تؤثر على استخدام مثل هذه الأشياء.

‌‌المسألة التاسعة: استعمال الدهونات والكريمات والمساحيق.

نقول أن هذه المسألة تنقسم إلى قسمين:

القسم الأول: أن تُكَون هذه الدهونات والكريمات والمساحيق مجرد لون أو رطوبة أو جسومة مثل الأصباغ التي تضعها المرأة على وجهها أو ما تدهن به المرأة بدنها من الكريمات أو الدهونات، نقول أن هذه الأشياء التي تكون مجرد دسومة أو رطوبة أو مجرد لون لا تمنع من وصول الماء إلى البشرة فاستخدامها هذا لا يؤثر على الوضوء ولا يؤثر على الغسل.

ويدل لذلك أن الماء يتخلل هذه الأشياء ،وكذلك أيضا استعمال الكحل هذا مأمور به في الشريعة ،استعمال الحناء أيضا مأمور به، الخضاب للمرأة … إلخ.

القسم الثاني: أن تُكَون مثل هذه الأشياء كثافة دهنية أو طبقة شمعية، بحيث تجد أن هذا الدهن يكون متراكماً على البدن ليس مطلياً، فنقول بأن هذا يمنع وصول الماء إلى البشرة.

ومثل ذلك أيضاً ما يسمى اليوم بالكحل السائل تضعه المرأة ، والكحل السائل هذا ينقسم إلى قسمين:

1:كحل يكون مادة بلاستيكية تمنع وصول الماء إلى البشرة هذا لا يجوز.

2: كحل يتحلل بالماء ويتساقط، فهو لا يؤثر على الوضوء ولا على الغسل.

‌‌المسألة العاشرة: القَسْطَرة ومثل ذلك ما يسمى بالشَّرْج الصناعي وأثرهما على الطهارة.
একইভাবে বর্তমানে মহিলাদের কিছু চুলের ক্লিপের ক্ষেত্রেও এমনটি ঘটে যেখানে চুল থাকে। কোনো মহিলা যদি এমন ক্লিপ ব্যবহার করেন যাতে চুল রয়েছে, তবে অজু ও গোসলের ক্ষেত্রে আমরা বলব যে, এটি কোনো প্রভাব ফেলে না। একইভাবে কিছু মহিলা তাদের চুলের সাথে অন্য চুল যুক্ত করেন; আমরা বলব যে অজু ও গোসলের ক্ষেত্রে এটিও কোনো প্রভাব ফেলে না। কারণ পানি একটি সূক্ষ্ম তরল পদার্থ যা এই জাতীয় জিনিসের ভেতর দিয়ে প্রবেশ করতে পারে। তবে চুল জোড়া দেওয়ার (الوصل) বিষয়টি বাকি থাকে, যা এই ধরনের জিনিসের ব্যবহারের ওপর প্রভাব ফেলে।

‌‌নবম মাসআলা: তেল, ক্রিম এবং পাউডার ব্যবহার.

আমরা বলব যে, এই বিষয়টি দুই ভাগে বিভক্ত:

প্রথম ভাগ: এই তেল, ক্রিম বা পাউডারগুলো যদি কেবল রঙ, আর্দ্রতা বা তৈলাক্ততা তৈরি করে, যেমন মহিলারা মুখে যে প্রসাধনী লাগান অথবা শরীরে যে ক্রিম বা তেল মালিশ করেন। আমরা বলব যে, এই বস্তুগুলো যা কেবল তৈলাক্ততা, আর্দ্রতা বা নিছক রঙ সৃষ্টি করে, তা চামড়ায় পানি পৌঁছাতে বাধা দেয় না। সুতরাং এগুলোর ব্যবহার অজু ও গোসলের ওপর কোনো প্রভাব ফেলে না।

এর দলিল হলো পানি এই বস্তুগুলোর ভেতরে প্রবেশ করতে পারে। একইভাবে সুরমা ব্যবহার করার নির্দেশ শরিয়তে দেওয়া হয়েছে। মেহেদি ব্যবহার এবং মহিলাদের জন্য রঙ (الخضاب) ব্যবহারেরও নির্দেশ রয়েছে … ইত্যাদি।

দ্বিতীয় ভাগ: যদি এই বস্তুগুলো চর্বির মতো ঘন আবরণ বা মোমের মতো স্তর তৈরি করে, অর্থাৎ এই তেলটি শরীরে স্তরীভূত অবস্থায় থাকে, কেবল মাখানো নয়; তবে আমরা বলব যে এটি চামড়ায় পানি পৌঁছাতে বাধা দেয়।

বর্তমানে যাকে 'তরল সুরমা' বলা হয় যা মহিলারা ব্যবহার করেন, সেটিও একই পর্যায়ের। এই তরল সুরমা দুই প্রকার:

১. এমন সুরমা যা প্লাস্টিক সদৃশ বস্তু তৈরি করে যা চামড়ায় পানি পৌঁছাতে বাধা দেয়, এটি জায়েজ নয়।

২. এমন সুরমা যা পানির সংস্পর্শে গলে যায় বা ঝরে পড়ে; এটি অজু বা গোসলের ওপর কোনো প্রভাব ফেলে না।

‌‌দশম মাসআলা: ক্যাথেটার (القسطرة) এবং কৃত্রিম মলদ্বার (الشرج الصناعي) এবং পবিত্রতার ওপর এগুলোর প্রভাব।
(খণ্ড: ১) ফিকহুন নাওয়াযিল ফিল ইবাদাত (পৃষ্ঠা: ১৭)
القسطرة:هي أن يوضع للمريض في مجرى البول قِسْطار (ماسور بلاستيكي) يسبب إخراج البول دون إرادة المريض ويتجمع هذا البول في كيس ويكون معلقاً في المكان الذي ينام فيه المريض ، وإنما يلجأ الطبيب أن يضع للمريض هذا القسطار:

إما لأن المريض لا يقدر أن يتبول تبولاً طبيعياً وإما أن المريض يشق عليه أن يذهب لبيت للخلاء،ويكون البول في كيس بجانب المريض.

أما الشَّرج الصناعي:وهو أن يبتلى المريض بسرطان القُولون بحيث لا يتمكن من أن يتبرز تبرزاً طبيعياً، أو أن المريض يكون فيه تشوهات خَلْقية لا يتمكن من أن يتبرز تبرزاً طبيعياً فيعمد الطبيب إلى أن يفتح في جدار البطن فتحةً، يسهل خروج البراز دون إرادة المريض عن طريق أنبوب ،ويكون هناك علبة يتجمع فيها هذا البراز تزال بين فترة وأخرى.

فما أثر هذا البول على طهارة المريض وكذلك أيضاً على صلاته وكذلك أيضاً خروج هذا البراز على طهارة المريض وعلى صلاته؟

هذه المسألة تنبني على مسألة تكلم عليها العلماء رحمهم الله وهي صاحب الحدث الدائم (مَن حَدَثُه دائم لفرضه) هل يجب عليه الوضوء أو لا يجب عليه الوضوء؟ وإذا قلنا بوجوب الوضوء هل يجب عليه أن يتوضأ لوقت كل صلاة أو يجب عليه أن يتوضأ لكل صلاة؟

هذه المسألة موضع خلاف بين العلماء رحمهم الله ،فللعلماء في ذلك ثلاثة أقوال:

القول الأول: وهو أشد المذاهب وهو مذهب الشافعية يقولون أن مَن حَدَثُه دائم يجب أن يتوضأ لكل صلاة مفروضة وإذا توضأ لهذه الصلاة مفروضة يصلي بهذا الوضوء ما شاء من الفروض والنوافل، فإذا أراد أن يصلي صلاة أخرى مفروضة فإنه يتوضأ مرة أخرى.
ক্যাথেটারাইজেশন: এটি হলো রোগীর মূত্রনালীতে একটি ক্যাথেটার (প্লাস্টিকের নল) স্থাপন করা, যা রোগীর ইচ্ছা ছাড়াই প্রস্রাব নির্গমনের কারণ হয় এবং এই প্রস্রাব একটি ব্যাগে জমা হয় যা রোগীর শোবার স্থানে ঝোলানো থাকে। চিকিৎসক মূলত তখনই রোগীর জন্য এই ক্যাথেটার ব্যবহারের আশ্রয় নেন:

হয় কারণ রোগী স্বাভাবিকভাবে প্রস্রাব করতে সক্ষম নন, অথবা রোগীর জন্য শৌচাগারে যাওয়া কষ্টসাধ্য; এমতাবস্থায় প্রস্রাব রোগীর পাশে একটি ব্যাগে জমা থাকে।

আর কৃত্রিম মলদ্বার: এটি হলো যখন কোনো রোগী কোলন ক্যান্সারে আক্রান্ত হন যার ফলে তিনি স্বাভাবিকভাবে মলত্যাগ করতে পারেন না, অথবা রোগীর কোনো জন্মগত ত্রুটি থাকে যার কারণে তিনি স্বাভাবিকভাবে মলত্যাগ করতে সক্ষম হন না। এমতাবস্থায় চিকিৎসক পেটের দেয়ালে একটি ছিদ্র করেন, যাতে একটি নলের মাধ্যমে রোগীর ইচ্ছা ছাড়াই মল নির্গমন সহজ হয় এবং সেখানে একটি পাত্র থাকে যাতে এই মল জমা হয় এবং নির্দিষ্ট সময় পরপর তা পরিষ্কার করা হয়।

এখন এই প্রস্রাব রোগীর পবিত্রতার ওপর এবং একইভাবে তার সালাতের ওপর কী প্রভাব ফেলে? অনুরূপভাবে, এই মল নির্গমন রোগীর পবিত্রতা ও তার সালাতের ওপর কী প্রভাব ফেলবে?

এই মাসআলাটি এমন একটি বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে যা নিয়ে ওলামায়ে কেরাম (রহিমাহুল্লাহ) আলোচনা করেছেন। আর তা হলো নিরবচ্ছিন্ন অপবিত্রতা থাকা ব্যক্তি (যার ফরজ আদায়ের সময় অপবিত্রতা নিরবচ্ছিন্ন থাকে), তার ওপর কি অজু করা ওয়াজিব হবে নাকি ওয়াজিব হবে না? আর যদি আমরা অজু ওয়াজিব হওয়ার কথা বলি, তবে কি তার জন্য প্রতিটি সালাতের ওয়াক্তের জন্য অজু করা ওয়াজিব হবে, নাকি প্রতিটি সালাতের জন্য অজু করা ওয়াজিব হবে?

এই বিষয়টি ওলামায়ে কেরামের (রহিমাহুল্লাহ) মাঝে মতভেদের একটি ক্ষেত্র। এ বিষয়ে আলেমদের তিনটি অভিমত রয়েছে:

প্রথম অভিমত: এটি মাযহাবগুলোর মধ্যে সবচেয়ে কঠোর এবং এটি শাফেঈ মাযহাবের বক্তব্য। তারা বলেন যে, যার অপবিত্রতা নিরবচ্ছিন্ন থাকে, তাকে প্রতিটি ফরজ সালাতের জন্য অজু করতে হবে। যখন সে এই ফরজ সালাতের জন্য অজু করবে, তখন সে এই অজু দিয়ে যত ইচ্ছা ফরজ ও নফল সালাত আদায় করতে পারবে। তবে যখন সে অন্য কোনো ফরজ সালাত আদায় করতে চাইবে, তখন তাকে পুনরায় অজু করতে হবে।
(খণ্ড: ১) ফিকহুন নাওয়াযিল ফিল ইবাদাত (পৃষ্ঠা: ১৮)
القول الثاني: مذهب الحنفية والحنابلة قالوا لا يجب عليه أن يتوضأ لكل صلاة وإنما يجب عليه أن يتوضأ لوقت كل صلاة، قالوا يجب عليه إذا دخل الوقت أن يتوضأ ويصلي ما شاء من الفروض والنوافل فإذا جاء وقت الصلاة الثانية فإنه يجب عليه أن يتوضأ ويصلي ما شاء من الفروض والنوافل.

القول الثالث: مذهب المالكية وهو اختيار شيخ الإسلام رحمه الله وهو أوسع المذاهب في هذه المسألة قالوا بأن الذي يخرج منه الحدث الدائم هذا لا يجب عليه أن يتوضأ لكل صلاة ولا ينقض الوضوء إلا إذا خرج منه حدث آخر غير هذا الحدث الدائم فإنه فيجب عليه أن يتوضأ، فمثلاً هذا المريض الذي يخرج منه بول دائم لا يجب عليه أن يتوضأ ، لكن لو خرج منه ريح فيجب عليه أن يتوضأ لهذه الريح أو خرج منه غائط يتوضأ لهذا الغائط.

واستثنوا من ذلك مسألة:وهي ما إذا كان حصول الحدث في الوقت أمر يسير يعني غالب الوقت لا يخرج منه شيء ويخرج منه في وقت يسير فهنا قالوا يجب عليها الوضوء.

وأقرب المذاهب هو مذهب المالكية رحمهم الله ،ودليل ذلك:

حديث عائشة رضي الله عنها قالت:جاءت فاطمة بنت أبي حبيش إلى النبي صلى الله عليه وسلم فقالت يا رسول الله إني امرأة أستحاض فلا أطهر أفأدع الصلاة؟ فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "لا إنما ذلك عرق وليس بحيض فإذا أقبلت حيضتك فدعي الصلاة وإذا أدبرت فاغسلي عنك الدم ثم صلي" (1) .

فالنبي صلى الله عليه وسلم لم يأمر المستحاضة أن تتوضأ لكل صلاة ،وإنما أرشدها أن تتحيض في وقت حيضتها فقط ،فإذا انقضى وقت الحيض فإنها تغتسل وتصلي وماعدا ذلك فأنه لا يجب عليها.

وأما ما يروى من قوله صلى الله عليه وسلم: " توضئي لكل صلاة " فهذه الفظة مدرجة لم تثبت عن النبي صلى الله عليه وسلم.

وإذا عرفنا ذلك نقول هذا الذي يخرج منه البول على سبيل الدوام لا يجب عليه الوضوء حتى يخرج حدث آخر غير هذا البول.

--------------------------------------------

(1) متفق عليه
দ্বিতীয় মত: হানাফি ও হাম্বলি মাজহাবের মতে, তার জন্য প্রতি সালাতের জন্য অজু করা ওয়াজিব নয়, বরং প্রতিটি সালাতের সময়ের জন্য অজু করা ওয়াজিব। তারা বলেন, যখন সময় প্রবেশ করবে তখন তার ওপর অজু করা ওয়াজিব হবে এবং সে যত ইচ্ছা ফরজ ও নফল আদায় করবে। অতঃপর যখন দ্বিতীয় সালাতের সময় আসবে, তখন তার ওপর পুনরায় অজু করা ওয়াজিব হবে এবং সে যত ইচ্ছা ফরজ ও নফল আদায় করবে।

তৃতীয় মত: মালেকি মাজহাব এবং এটি শায়খুল ইসলামের (রহ.) পছন্দ। এই মাসআলায় এটিই সর্বাধিক প্রশস্ত মাজহাব। তারা বলেন, যার স্থায়ী অপবিত্রতা (حدث دائم) নির্গত হয়, তার জন্য প্রতি সালাতের জন্য অজু করা ওয়াজিব নয় এবং এই স্থায়ী অপবিত্রতার কারণে অজু ভঙ্গ হয় না, যতক্ষণ না এই স্থায়ী অপবিত্রতা ব্যতীত অন্য কোনো অপবিত্রতা (حدث) নির্গত হয়; তখন তার ওপর অজু করা ওয়াজিব হবে। উদাহরণস্বরূপ, এই রোগী যার নিরবচ্ছিন্নভাবে প্রস্রাব নির্গত হয়, তার ওপর অজু করা ওয়াজিব নয়। কিন্তু যদি তার বায়ু নির্গত হয় তবে সেই বায়ুর কারণে তার ওপর অজু করা ওয়াজিব হবে অথবা যদি মল নির্গত হয় তবে সেই মলের কারণে সে অজু করবে।

তারা এখান থেকে একটি মাসআলা ব্যতিক্রম করেছেন: আর তা হলো যদি সময়ের মধ্যে অপবিত্রতা (حدث) ঘটার বিষয়টি সামান্য সময়ের জন্য হয়, অর্থাৎ অধিকাংশ সময় কিছুই নির্গত হয় না এবং কেবল সামান্য সময়ের জন্য নির্গত হয়, তবে এক্ষেত্রে তারা বলেন যে, তার ওপর অজু করা ওয়াজিব।

আর মালেকি মাজহাবই (রহিমাহুমুল্লাহ) দলিলের সবচেয়ে নিকটবর্তী, আর তার প্রমাণ হলো:

আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিস, তিনি বলেন: ফাতিমা বিনতে আবি হুবাইশ নবী (সা.)-এর নিকট এসে বললেন, হে আল্লাহর রাসুল! আমি এমন এক নারী যার ইস্তিহাজা হয়, ফলে আমি পবিত্র হতে পারি না। আমি কি সালাত ছেড়ে দেব? রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন: "না, এটি কেবল একটি রক্তশিরা এবং এটি হায়েজ নয়। সুতরাং যখন তোমার হায়েজ শুরু হবে তখন সালাত ছেড়ে দাও, আর যখন তা শেষ হয়ে যাবে তখন তোমার শরীর থেকে রক্ত ধুয়ে ফেল এবং সালাত আদায় করো।" (১)।

নবী (সা.) ইস্তিহাজাগ্রস্ত নারীকে প্রতি সালাতের জন্য অজু করার নির্দেশ দেননি, বরং তিনি তাকে কেবল তার ঋতুস্রাবের সময়ে ঋতুবতী গণ্য হতে নির্দেশ দিয়েছেন। অতঃপর যখন হায়েজের সময় অতিবাহিত হবে, তখন সে গোসল করবে ও সালাত আদায় করবে এবং এ ছাড়া অন্য কিছু তার ওপর ওয়াজিব নয়।

আর নবী (সা.)-এর বাণী হিসেবে যা বর্ণিত হয় যে, "তুমি প্রতিটি সালাতের জন্য অজু করো", এই শব্দগুলো প্রক্ষিপ্ত (مدرجة) যা নবী (সা.) থেকে প্রমাণিত নয়।

আর আমরা যখন বিষয়টি জানলাম, তখন আমরা বলব যে, যার নিরবচ্ছিন্নভাবে প্রস্রাব নির্গত হয়, তার ওপর অজু করা ওয়াজিব নয় যতক্ষণ না এই প্রস্রাব ব্যতীত অন্য কোনো অপবিত্রতা (حدث) নির্গত হয়।

--------------------------------------------

(১) সর্বসম্মত (متفق عليه)
(খণ্ড: ১) ফিকহুন নাওয়াযিল ফিল ইবাদাত (পৃষ্ঠা: ১৯)
كذلك أيضاً هذا الذي حصل له فرج طبيعي، إذا كان خروج الغائط مستمراً لا يجب عليه أن يتوضأ له حتى يأتي حدث آخر غير هذا الحدث الطارئ، وإن كان خروج هذا الغائط غير مستمر وإنما هو أمر معتاد ، كعادة الناس يخرج في اليوم مرة أو مرتين فهذا يجب عليه أن يتوضأ لخروج هذا الغائط.

‌‌المسألة الحادية عشرة: غسيل الكلى وأثره على الطهارة.

أمراض فشل الكلى عن عملها يُعد من الأمراض المنتشرة في وقتنا الحاضر، والكلى تقوم بعمل رئيسي في بدن الإنسان ،فهي تقوم بتخليص الدم من السموم والفضلات السائلة والأملاح الزائدة، وإذا مرض الإنسان بهذا المرض وفشل عنده عمل الكلى فإن هذا من الأمراض الخطيرة المخوفة على حياته ،وعدم تدارك عمل الكلى هذا يؤدي بحياة المريض إلى الهلاك.

ومع تطور الطب ورقيه ظهر في وقتنا الحاضر ما يسمى بغسيل الكلى ،وغسيل الكلوي ينقسم إلى قسمين:

القسم الأول: الغسيل الدموي أو التنقية الدموية، وهذا هو الذي يكثر في وقتنا الحاضر.

والغسيل الدموي طريقته: هو أن الطبيب يقوم بسحب دم المريض عن طريق إبرة توضع في أحد الأوردة، ثم بعد ذلك يمر هذا الدم مع الجهاز الذي يقوم بتنظيفه من السموم والفضلات السائلة والأملاح الزائدة، الذي يعمل عمل الكلية الطبيعية ويضاف إلى هذا الجهاز أثناء عمله شيء من الأدوية والعلاجات والأغذية التي يحتاجها المريض.

ويكون هذا العمل ثلاث مرات أو أربع مرات في الأسبوع وتقدر كل جلسة بما يقرب من ثلاث أو أربع ساعات على حسب حاجة المريض.

هنا الآن خروج هذا الدم ثم بعد ذلك دخوله إلى البدن مرة أخرى بعد تنقيته هل هذا الخروج ناقض للوضوء أو ليس ناقضاً للوضوء؟ هذه مسألة خلافية اختلف فيها أهل العلم رحمهم الله ، خروج الدم ينقض أو ليس ينقض؟.

القول الأول:مذهب المالكية والشافعية وهو اختيار شيخ الإسلام بن تيمية قالوا بأن خروج الدم لا ينقض الوضوء سواء كان خروجه قليلاً أو كثيراً.
অনুরূপভাবে যার স্বাভাবিক ছিদ্রপথ (فرج طبيعي) তৈরি হয়েছে, যদি মল নির্গমন নিরবচ্ছিন্ন থাকে, তবে এই নতুন সৃষ্ট অপবিত্রতা (حدث) ব্যতীত অন্য কোনো অপবিত্রতা (حدث) প্রকাশ না পাওয়া পর্যন্ত তার ওপর অজু (وضوء) করা আবশ্যক নয়। আর যদি এই মল নির্গমন নিরবচ্ছিন্ন না হয়ে বরং স্বাভাবিক অভ্যাসের ন্যায় হয়—যেমন মানুষের অভ্যাস অনুযায়ী দিনে একবার বা দুবার বের হওয়া—তবে এই মল নির্গমনের কারণে তার ওপর অজু (وضوء) করা আবশ্যক হবে।

‌‌একাদশ মাসআলা: কিডনি ডায়ালাইসিস এবং পবিত্রতার (طهارة) ওপর এর প্রভাব.

বর্তমান সময়ে কিডনি বিকল হওয়া একটি অতি পরিচিত ব্যাধি হিসেবে বিবেচিত। কিডনি মানবদেহে একটি প্রধান কাজ সম্পন্ন করে; তা হলো রক্তকে বিষক্রিয়া, তরল বর্জ্য এবং অতিরিক্ত লবণ থেকে মুক্ত করা। কোনো মানুষ যদি এই রোগে আক্রান্ত হয় এবং তার কিডনি অকেজো হয়ে পড়ে, তবে এটি তার জীবনের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও আশঙ্কাজনক একটি ব্যাধি। কিডনির এই কার্যকারিতা পুনরুদ্ধার করা না গেলে তা রোগীকে ধ্বংসের বা মৃত্যুর দিকে নিয়ে যায়।

চিকিৎসা বিজ্ঞানের উন্নতি ও উৎকর্ষের ফলে বর্তমান সময়ে 'কিডনি ডায়ালাইসিস' (غسيل الكلى) নামক পদ্ধতির উদ্ভব হয়েছে। কিডনি ডায়ালাইসিস (غسيل الكلى) দুই প্রকার:

প্রথম প্রকার: হেমোডায়ালাইসিস বা রক্ত পরিশোধন; বর্তমান সময়ে এটিই বেশি প্রচলিত।

হেমোডায়ালাইসিসের পদ্ধতি হলো: চিকিৎসক রোগীর শিরার মধ্যে স্থাপিত একটি সুঁইয়ের মাধ্যমে রক্ত টেনে বের করেন। এরপর এই রক্ত একটি যন্ত্রের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত করা হয় যা রক্তকে বিষক্রিয়া, তরল বর্জ্য এবং অতিরিক্ত লবণ থেকে পরিশ্রুত করে। এই যন্ত্রটি মূলত একটি স্বাভাবিক কিডনির ন্যায় কাজ করে এবং এই প্রক্রিয়াকালীন রক্তে কিছু প্রয়োজনীয় ঔষধ ও পুষ্টি উপাদান যোগ করা হয় যা রোগীর প্রয়োজন।

এই প্রক্রিয়া সপ্তাহে তিন বা চার বার সম্পন্ন করা হয় এবং রোগীর প্রয়োজন অনুযায়ী প্রতিটি সেশনের সময়কাল প্রায় তিন থেকে চার ঘণ্টা হয়ে থাকে।

এখানে প্রশ্ন হলো, এই রক্ত বের হওয়া এবং তা পরিশোধনের পর পুনরায় শরীরে প্রবেশ করা কি অজু ভঙ্গকারী (ناقض للوضوء)? এটি একটি মতভেদপূর্ণ মাসআলা যাতে আলেমগণ (أهل العلم) (আল্লাহ তাঁদের রহম করুন) মতভেদ করেছেন যে, রক্ত নির্গমন কি অজু ভঙ্গ করে নাকি করে না?

প্রথম মত: মালেকী ও শাফেয়ী মাযহাবের অভিমত এবং এটি শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহর মনোনীত মত। তাঁরা বলেছেন যে, রক্ত নির্গত হওয়া অজু (وضوء) ভঙ্গ করে না, তা পরিমাণে অল্প হোক বা অধিক।
(খণ্ড: ১) ফিকহুন নাওয়াযিল ফিল ইবাদাত (পৃষ্ঠা: ২০)
القول الثاني: مذهب الحنابلة التفصيل في هذه المسألة قالوا إن كان خروج هذا الدم كثيراً فإنه ينقض الوضوء وإن كان يسيراً فإنه لا ينقض الوضوء.

القول الثالث: مذهب الحنفية قالوا إن خرج وسال نقض وإن خرج وتجمع الدم ولم يسل فقالوا هذا لا ينقص.

والصواب في هذه المسألة: هو ما ذهب إليه المالكية والشافعية وهو أن خروج الدم من بدن الإنسان ليس ناقضاً، ودليل ذلك:

حديث جابر بن عبد الله رضي الله عنه -في قصة الأنصاري الذي بعثه النبي صلى الله عليه وسلم مع أحد المهاجرين لكي يكون حارساً في فم الشعب فضربه أحد المشركين بالسهم ثلاث مرات وخرج منه الدم ولم يقطع الصلاة بل واصل صلاته والدم يثعب منه. وهذا الحديث أخرجه أحمد وأبو داود، وصححه ابن حبان وابن خزيمة وغيرهما.

فخرج منه الدم ومع ذلك واصل صلاته فلو كان خروج الدم ينقض الوضوء لما واصل صلاته.

كذلك أيضاً عمر رضي الله عنه -كما في صحيح البخاري صلى وجرحه يثعب دماً (1) .

وكذلك أيضاً ورد عن ابن عباس رضي الله عنه -أنه قال في الحجامة يعني إذا احتجم الإنسان: اغسل محاجمك ويكفيك ذلك. أخرجه البيهقي وإسناده فيه ضعف.

وكذلك أيضاً ورد عن ابن عمر رضي الله تعالى عنهما معلقاً في صحيح البخاري أنه عصر بثرة في وجهه وخرج منها شيء من الدم ومع ذلك لم يتوضأ.

وأيضاً يتأيد ذلك بالأصل وهو أن الأصل بقاء الطهارة فلا ننتقل عن هذا الأصل إلا بدليل يدل على ذلك.

--------------------------------------------

(1) أخرجه مالك (1 / 39 / 51) وكذا رواه ابن سعد في " الطبقات " (3 / 350) وإبن أبي شيبة في " الإيمان " (190 / 1) ورواه الدارقطني في سنته (ص 81) وكذا ررواه. ابن عساكر (13 / 85 / 2) وأخرجه البيهقي (1 / 357)
দ্বিতীয় মত: হাম্বলী মাজহাবের দৃষ্টিভঙ্গি হলো এই বিষয়ে বিস্তারিত বিবরণ রয়েছে। তারা বলেন, যদি এই রক্ত নির্গত হওয়া অধিক পরিমাণে হয় তবে তা অজু ভঙ্গ করবে, আর যদি তা সামান্য হয় তবে তা অজু ভঙ্গ করবে না।

তৃতীয় মত: হানাফী মাজহাবের দৃষ্টিভঙ্গি হলো, যদি রক্ত বের হয়ে প্রবাহিত হয় তবে তা অজু ভঙ্গ করবে, আর যদি রক্ত বের হয়ে জমা হয়ে থাকে কিন্তু প্রবাহিত না হয় তবে তারা বলেন এটি অজু ভঙ্গ করবে না।

আর এই বিষয়ে সঠিক মত হলো যা মালেকী ও শাফেয়ী মাজহাব গ্রহণ করেছে। আর তা হলো, মানুষের শরীর থেকে রক্ত নির্গত হওয়া অজু ভঙ্গকারী নয়। এর দলিল হলো:

জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদিস—সেই আনসারী সাহাবীর ঘটনায় যাকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একজন মুহাজিরের সাথে গিরিপথের মুখে পাহারাদার হিসেবে নিযুক্ত করেছিলেন। তখন এক মুশরিক তাকে তিনটি তীর নিক্ষেপ করে এবং তার শরীর থেকে রক্ত নির্গত হয়, কিন্তু তিনি সালাত বিচ্ছিন্ন করেননি বরং সালাত চালিয়ে যান এমতাবস্থায় যে তার শরীর থেকে রক্ত প্রবাহিত হচ্ছিল। এই হাদিসটি আহমাদ ও আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন এবং ইবনে হিব্বান ও ইবনে খুজাইমা ও অন্যান্যরা একে সহিহ (صحيح) বলেছেন।

সুতরাং তার শরীর থেকে রক্ত নির্গত হওয়া সত্ত্বেও তিনি সালাত চালিয়ে গেছেন। যদি রক্ত নির্গত হওয়া অজু ভঙ্গকারী হতো, তবে তিনি সালাত অব্যাহত রাখতেন না।

অনুরূপভাবে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর ক্ষেত্রেও বর্ণিত হয়েছে—যেমনটি সহিহ বুখারীতে রয়েছে যে, তিনি সালাত আদায় করেছেন অথচ তার ক্ষতস্থান থেকে রক্ত প্রবাহিত হচ্ছিল (১)।

অনুরূপভাবে ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হয়েছে—তিনি হিজামা সম্পর্কে অর্থাৎ যখন কোনো ব্যক্তি হিজামা করে তখন বলেছেন: "তোমার হিজামার স্থানগুলো ধুয়ে ফেলো, তোমার জন্য এটিই যথেষ্ট।" এটি বায়হাকী বর্ণনা করেছেন এবং এর সানাদ (إسناد)-এ দুর্বলতা (ضعف) রয়েছে।

অনুরূপভাবে ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে সহিহ বুখারীতে মুয়াল্লাক (معلق) হিসেবে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি তার চেহারার একটি ব্রণ টিপেছিলেন এবং তা থেকে সামান্য রক্ত নির্গত হয়েছিল, তা সত্ত্বেও তিনি অজু করেননি।

এছাড়াও এটি মূলনীতির মাধ্যমে সমর্থিত হয়, আর তা হলো—মূলত পবিত্রতা অবশিষ্ট থাকে। সুতরাং আমরা এই মূলনীতি থেকে বিচ্যুত হবো না যতক্ষণ না এমন কোনো দলিল পাওয়া যায় যা এর বিপরীত নির্দেশ করে।

--------------------------------------------

(১) এটি মালেক (১ / ৩৯ / ৫১) বর্ণনা করেছেন, অনুরূপভাবে ইবনে সাদ "তাবাকাত" (৩ / ৩৫০) গ্রন্থে, ইবনে আবি শাইবা "আল-ঈমান" (১৯০ / ১) গ্রন্থে এবং দারা কুতনী তার সুনানে (পৃ. ৮১) এটি বর্ণনা করেছেন। অনুরূপভাবে ইবনে আসাকির (১৩ / ৮৫ / ২) এবং বায়হাকী (১ / ৩৫৭) এটি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) ফিকহুন নাওয়াযিল ফিল ইবাদাত (পৃষ্ঠা: ২১)
وعلى هذا نقول بأن من يعمل هذا الغسيل الكلوي وهو ما يسمى بالغسيل الدموي أو التنقية الدموية ، نقول خروج الدم هذا منه ثم تنقيته ثم إرجاعه إلى البدن مرة أخرى هذا لا يؤثر على الوضوء ولا يجب عليه أن يتوضأ.

القسم الثاني: الغسيل البروتيني:

وهو عبارة عن أنبوب يوضع في جوف بطن المريض وهذا الأنبوب يوضع بين السرة والعانة، ويعطى المريض بعض السوائل والأدوية الخاصة التي تساعد الجسم على التخلص من السموم والفضلات السائلة والأملاح الزائدة، ثم بعد ذلك هذه السموم والفضلات السائلة والأملاح الزائدة تظل تجتمع في هذا الأنبوب ما يقرب من ثماني ساعات مع أن المريض يباشر سائر أعماله الحياتية بطريقة معتادة ،ثم بعد اجتماعها يقوم المريض بتفريغ هذا الأنبوب في كيس خارجي،ثم بعد ذلك يبعث بهذا الكيس ويؤتى بكيس آخر … إلخ. وهذه الطريقة يستعملها المريض ما يقرب من ثلاث مرات في اليوم على حسب حاجته.

وقد ذكر بعض الباحثين أن من يستعمل الغسيل البروتوني في الغالب أنه يستغني عن التبول الطبيعي وأن هذه العملية تقوم باستغنائه عن التبول الطبيعي.

هذه المسألة تكلم عليها الفقهاء تحت مسألة ما إذا انسد المخرج الأصلي وانفتح مخرج آخر غير معتاد طارئ فهل يأخذ حكم المخرج الأصلي أو لا يأخذ حكم المخرج الأصلي؟

هذه المسألة موضع خلاف بين العلماء رحمهم الله:

القول الأول: المشهور من مذهب الحنابلة رحمهم الله التفصيل في الخارج قالوا: إن كان الخارج دماً كثيراً فإنه ينقض الوضوء، وإن كان يسيراً فإنه لا ينقض الوضوء، وإن كان الخارج بولاً أو غائطاً فإنه ينقض قليله وكثيره.

وكما ذكرنا في الغسيل الكلوي الصحيح أن خروج الدم لا ينقض الوضوء.

القول الثاني: الشافعية قالوا بأن خروج هذه الأشياء لا تنقض إلا إذا كان خروجها من تحت السرة.

القول الثالث: الحنفية قالوا بأن خروج هذه الأشياء تنقض ولم يفصلوا.

المهم الخارج نقسمه إلى قسمين:
এর প্রেক্ষিতে আমরা বলব যে, যারা এই কিডনি ডায়ালাইসিস (الغسيل الكلوي) করেন—যাকে রক্ত ডায়ালাইসিস বা রক্ত পরিশোধন বলা হয়—আমরা বলি যে, শরীর থেকে এই রক্ত বের হওয়া, তারপর তা পরিশোধন করা এবং পুনরায় শরীরে ফেরত পাঠানো ওজু (الوضوء)-এর ওপর কোনো প্রভাব ফেলে না এবং এর কারণে তার ওপর ওজু (الوضوء) করা আবশ্যক (يجب) হয় না।

দ্বিতীয় প্রকার: পেরিটোনিয়াল ডায়ালাইসিস (الغسيل البروتيني):

এটি হলো রোগীর পেটের অভ্যন্তরে একটি নল স্থাপন করা এবং এই নলটি নাভি ও তলপেটের মাঝখানে স্থাপন করা হয়। রোগীকে কিছু বিশেষ তরল ও ঔষধ প্রদান করা হয় যা শরীরকে বিষাক্ত পদার্থ, তরল বর্জ্য এবং অতিরিক্ত লবণ থেকে মুক্তি পেতে সাহায্য করে। এরপর এই বিষাক্ত পদার্থ, তরল বর্জ্য এবং অতিরিক্ত লবণ প্রায় আট ঘণ্টা পর্যন্ত এই নলের মধ্যে জমা হতে থাকে, যদিও রোগী তার স্বাভাবিক জীবনযাত্রার কাজসমূহ স্বাভাবিকভাবেই চালিয়ে যান। এরপর এগুলো জমা হওয়ার পর রোগী একটি বাহ্যিক ব্যাগে এই নলটি খালি করেন, তারপর সেই ব্যাগটি সরিয়ে অন্য একটি ব্যাগ নিয়ে আসা হয় … ইত্যাদি। রোগী তার প্রয়োজন অনুযায়ী দিনে প্রায় তিনবার এই পদ্ধতি ব্যবহার করেন।

কিছু গবেষক উল্লেখ করেছেন যে, যারা পেরিটোনিয়াল ডায়ালাইসিস (الغسيل البروتوني) ব্যবহার করেন তারা সাধারণত স্বাভাবিক প্রস্রাবের প্রয়োজনীয়তা থেকে বিমুখ থাকেন এবং এই প্রক্রিয়াটি তাদের স্বাভাবিক প্রস্রাবের বিকল্প হিসেবে কাজ করে।

ফকিহগণ (الفقهاء) এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছেন এই শিরোনামে যে, যদি শরীরের মূল নির্গমন পথ বন্ধ হয়ে যায় এবং অন্য একটি অস্বাভাবিক বা জরুরি নির্গমন পথ উন্মুক্ত হয়, তবে সেটি কি মূল নির্গমন পথের বিধান (حكم) গ্রহণ করবে নাকি করবে না?

এই বিষয়টি আলেমদের (العلماء) —আল্লাহ তাদের প্রতি রহম করুন— মাঝে মতভেদের (خلاف) বিষয়:

প্রথম মত: হাম্বলী মাযহাবের (مذهب) প্রসিদ্ধ (المشهور) মত অনুযায়ী নির্গত বস্তুর ক্ষেত্রে বিস্তারিত বিবরণ রয়েছে। তারা বলেন: যদি নির্গত বস্তু প্রচুর পরিমাণ রক্ত হয় তবে তা ওজু (الوضوء) ভঙ্গকারী (ينقض) হবে, আর যদি সামান্য হয় তবে ওজু ভঙ্গ হবে না। কিন্তু যদি নির্গত বস্তু প্রস্রাব বা মল হয়, তবে তার অল্প বা বেশি উভয়ই ওজু (الوضوء) ভঙ্গ করবে।

যেমনটি আমরা কিডনি ডায়ালাইসিসের ক্ষেত্রে উল্লেখ করেছি যে, সঠিক (الصحيح) মতানুসারে রক্ত বের হওয়া ওজু (الوضوء) ভঙ্গ করে না।

দ্বিতীয় মত: শাফেয়িগণ বলেন যে, এই বস্তুগুলো বের হওয়া ওজু ভঙ্গ করে না, যদি না তা নাভির নিচ থেকে নির্গত হয়।

তৃতীয় মত: হানাফিগণ বলেছেন যে, এই বস্তুগুলো বের হওয়া ওজু ভঙ্গ করবে এবং তারা কোনো বিস্তারিত পার্থক্য করেননি।

গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, নির্গত বস্তুকে আমরা দুই ভাগে ভাগ করি:
(খণ্ড: ১) ফিকহুন নাওয়াযিল ফিল ইবাদাত (পৃষ্ঠা: ২২)
1 - إن كان دماً فهذا لا ينقض.

2 - أو يكون غير دم كبول أو غائط أو ما له صفة البول أو الغائط كما في الغسيل البروتيني لأن الغسيل البروتيني فيه صفة البول لأنه يحتوي على السموم والفضلات … إلخ التي تكون في البول. فالغسيل البروتيني: مذهب الحنابلة ومذهب الحنفية أنه ينقض ومذهب الشافعية التفصيل: إن كان تحت السرة فإنه ينقض وإن كان فوق السرة فإنه لا ينقض.

والأقرب في هذه المسألة: أن الغسيل البروتيني أنه ينقض الوضوء لأن هذا الخارج لا يأخذ حكم الدم، وإنما يأخذ حكم البول لأن فيه صفات البول من الفضلات والأملاح والسموم … إلخ فنقول مثل هذا بإنه ينقض الوضوء اللهم إلا إذا كان شيئاً مستمراً ولكن هو ليس مستمر فيأخذ حكم السلس.

الخلاصة في ذلك: أن الغسيل البروتيني ينقض، وأما الغسيل الدموي الذي هو إخراج الدم وتنقيته ثم إرجاعه فلا ينقض.

المسألة الثانية عشر: تنقية المياه الصحية ، وحكم استعمال هذه المياه الصحية التي نقيت في الشرب أو في سقي المزارع والمسطحات الخضراء أو تغذية المياه الجوفية بمثل هذه المياه الصحية التي نقيت.

تعريف الصرف الصحي: هو عبارة عن مياه ناتجة عن استخدام الإنسان للماء في الأنشطة الحياتية العادية مثل ما يتعلق بالغسيل والتنظيف والاستنجاء ونحو ذلك.

وهذا الصرف الصحي يحرم استعماله لثلاثة أمور:

الأول: (النجاسة) فإن هذا الصرف الصحي توجد فيه كثير من فضلات بني آدم.

الثاني: (الضرر) فإن هذا الصرف الصحي يوجد فيه كثير من السموم وكثير من المكروبات.

الثالث: (الاستقذار) فإن هذا الصرف الصحي مستقذر في عرف الناس وعاداتهم.

الصرف الصحي لكي يطهر ويعود لحالته الأولى يمر بمراحل:

المرحلة الأولى: ويسمونها مرحلة ما قبل المعالجة وهذه تشتمل على ثلاثة أمور:

1 – إزالة المواد الطافية والأجسام الكبيرة مثل الأخشاب والحديد والمواد البلاستيكية.

2 – إزالة الرمل الناعم عن طريق الترسيب.
1 - যদি এটি রক্ত হয়, তবে তা অজু ভঙ্গ করে না।

2 - অথবা যদি রক্ত ব্যতীত অন্য কিছু হয় যেমন প্রস্রাব বা মল, অথবা যার মধ্যে প্রস্রাব বা মলের বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যেমনটি প্রোটিন ডায়ালাইসিসের ক্ষেত্রে ঘটে থাকে। কারণ প্রোটিন ডায়ালাইসিসের মধ্যে প্রস্রাবের বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান, যেহেতু এতে প্রস্রাবে বিদ্যমান বিষাক্ত পদার্থ ও বর্জ্য … ইত্যাদি থাকে। সুতরাং প্রোটিন ডায়ালাইসিসের বিধান হলো: হাম্বলি মাযহাব ও হানাফি মাযহাবের মতে এটি অজু ভঙ্গ করে, আর শাফেয়ি মাযহাবের মতে এতে বিস্তারিত বিবরণ রয়েছে: যদি তা নাভির নিচে হয় তবে তা অজু ভঙ্গ করে, আর যদি তা নাভির উপরে হয় তবে তা অজু ভঙ্গ করে না।

এই মাসআলায় অধিকতর নিকটবর্তী ও সঠিক মত হলো: প্রোটিন ডায়ালাইসিস অজু ভঙ্গ করে। কারণ এই নির্গত বস্তুটি রক্তের বিধান গ্রহণ করে না, বরং প্রস্রাবের বিধান গ্রহণ করে; কারণ এতে বর্জ্য, লবণ ও বিষাক্ত পদার্থের মতো প্রস্রাবের বৈশিষ্ট্যসমূহ রয়েছে … ইত্যাদি। তাই আমরা এই জাতীয় বিষয় সম্পর্কে বলি যে, এটি অজু ভঙ্গ করে; তবে যদি এটি নিরবচ্ছিন্ন কোনো বিষয় হতো (তাহলে ভিন্ন কথা), কিন্তু এটি তো নিরবচ্ছিন্ন নয় যে তা 'সাসাল' (অবিরত নির্গমন)-এর বিধান গ্রহণ করবে।

এর সারকথা হলো: প্রোটিন ডায়ালাইসিস অজু ভঙ্গ করে, তবে হিমোডায়ালাইসিস বা রক্ত ডায়ালাইসিস—যা হলো রক্ত বের করে তা পরিশোধন করে পুনরায় শরীরে ফিরিয়ে আনা—তা অজু ভঙ্গ করে না।

দ্বাদশ মাসআলা: ব্যবহৃত পানি বা পয়ঃনিষ্কাশনের পানি পরিশোধন করা, এবং এই পরিশোধিত পানি পান করার ক্ষেত্রে, অথবা খামার ও ঘাসযুক্ত জমিতে সেচ কাজে ব্যবহারের ক্ষেত্রে, অথবা এই পরিশোধিত পানির মাধ্যমে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর পূর্ণ করার বিধান।

পয়ঃনিষ্কাশন (সারফ সাহহি)-এর সংজ্ঞা: এটি হলো সেই পানি যা মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় পানি ব্যবহারের ফলে উৎপন্ন হয়, যেমন ধোয়া-মোছা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, ইস্তিনজা এবং এই জাতীয় কার্যাবলীর সাথে সংশ্লিষ্ট।

আর এই পয়ঃনিষ্কাশনের পানি ব্যবহার করা তিনটি কারণে হারাম:

প্রথম: (অপবিত্রতা) কারণ এই পয়ঃনিষ্কাশনের পানিতে মানুষের প্রচুর মলমূত্র ও বর্জ্য থাকে।

দ্বিতীয়: (ক্ষতিকর হওয়া) কারণ এই পয়ঃনিষ্কাশনের পানিতে প্রচুর বিষাক্ত পদার্থ ও জীবাণু থাকে।

তৃতীয়: (ঘৃণ্য হওয়া) কারণ এই পয়ঃনিষ্কাশনের পানি মানুষের অভ্যাস ও প্রথা অনুযায়ী অত্যন্ত নোংরা ও অপছন্দনীয়।

পয়ঃনিষ্কাশনের পানি পবিত্র হওয়ার জন্য এবং তার আদি অবস্থায় ফিরে যাওয়ার জন্য কয়েকটি পর্যায়ের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হয়:

প্রথম পর্যায়: একে তারা প্রাক-পরিশোধন পর্যায় বলে অভিহিত করেন এবং এটি তিনটি বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে:

1 – উপরিভাগে ভাসমান বস্তু এবং বড় আকারের বস্তুসমূহ যেমন কাঠ, লোহা এবং প্লাস্টিক জাতীয় দ্রব্য অপসারণ।

2 – তলানি জমানোর প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সূক্ষ্ম বালু অপসারণ।
(খণ্ড: ১) ফিকহুন নাওয়াযিল ফিল ইবাদাত (পৃষ্ঠা: ২৩)
3 – إزالة الشحوم عن طريقة تعويمها في أحواض خاصة.

المرحلة الثانية: المعالجة الأولية وهي تقوم بترسيب المواد العضوية (فضلات الإنسان) وغير العضوية بطريقة الترسيب الخاصة، وهذه هي مرحلة الترسيب الأولى.

المرحلة الثالثة: المعالجة الحيوية: بعد أن يتم هذا الترسيب للمواد العضوية وغير العضوية تُنَمَّى نوع من البكتريا الهوائية تتغذى على هذه المواد التي رسبت.

المرحلة الرابعة: مرحلة الترسيب الثاني: الماء يبقى فيه شيء من المواد العالقة بعد المرحلة الحيوية فيقام بمرحلة ترسيب مرة أخرى خاصة.

المرحلة الخامسة: مرحلة المعالجة الثلاثية وتمسى بالمرشَّحات الرملية وهذه المرحلة عبارة عن إزالة ما تبقى من المواد العالقة من خلال مرشحات رملية.

المرحلة السادسة: مرحلة التعقيم وهي المرحلة الأخيرة حيث يتم تعقيم هذا الماء عن طريق حقل غاز الكلور في الأحواض.

هذه المراحل الست من حيث الحكم الشرعي تنقسم إلى قسمين:

1 – تنقية ثنائية. … ... 2 – تنقية نهائية.

التنقية الثنائية: هذه تكون قبل مرحلة المعالجة الثلاثية (المرشحات الرملية) يعني بعد المراحل الأربعة الأولى فإذا طبقت بكاملها حسب نظمها التعليمية فإن الماء يعود إلى حالته الطبيعية بمقدار 95%، وبعد مرحلة المعالجة الثلاثية والمرشحات الرملية يقولون بأن الماء في الغالب يعود إلى حالته الأولى وإلى خلقته الأولى.

الحكم الشرعي بالنسبة للتنقية الثنائية فهذا يختلف باختلاف استخداماته:

أولاً: استخدامه في الشرب والطهارة: هذا غير جائز ومحرم لأنه حتى الآن لم يطهر مادام أنه بقي عليه 5% وحتى الآن صفة النجاسة لا تزال باقية فيه.
৩ – বিশেষ চৌবাচ্চায় ভাসিয়ে চর্বি অপসারণ করা।

দ্বিতীয় পর্যায়: প্রাথমিক প্রক্রিয়াজাতকরণ। এটি বিশেষ থিতানো (ترسيب) পদ্ধতির মাধ্যমে জৈব পদার্থ (মানুষের বর্জ্য) এবং অজৈব পদার্থের তলানি তৈরি করে; আর এটি হলো প্রথম ধাপের থিতানো পর্যায়।

তৃতীয় পর্যায়: জৈবিক প্রক্রিয়াজাতকরণ: জৈব ও অজৈব পদার্থের এই তলানি সম্পন্ন হওয়ার পর এক ধরণের বায়বীয় ব্যাকটেরিয়া উৎপাদন করা হয়, যা এই তলানিযুক্ত পদার্থগুলো ভক্ষণ করে।

চতুর্থ পর্যায়: দ্বিতীয় ধাপের থিতানো পর্যায়: জৈবিক পর্যায়ের পর পানিতে কিছু ভাসমান পদার্থ থেকে যায়, তাই পুনরায় একটি বিশেষ থিতানো (ترسيب) প্রক্রিয়ার ব্যবস্থা করা হয়।

পঞ্চম পর্যায়: ত্রি-স্তরীয় প্রক্রিয়াজাতকরণ পর্যায়, যাকে বালু-ছাঁকনি বলা হয়। এই পর্যায়টি হলো বালু-ছাঁকনির মাধ্যমে অবশিষ্ট ভাসমান পদার্থগুলো অপসারণ করা।

ষষ্ঠ পর্যায়: জীবাণুমুক্তকরণ পর্যায়। এটি হলো সর্বশেষ ধাপ, যেখানে চৌবাচ্চাগুলোতে ক্লোরিন গ্যাস প্রয়োগের মাধ্যমে এই পানি জীবাণুমুক্ত করা হয়।

শরয়ী বিধানের (حكم شرعي) দিক থেকে এই ছয়টি পর্যায় দুই ভাগে বিভক্ত:

১ – দ্বি-স্তরীয় বিশুদ্ধিকরণ। … ... ২ – চূড়ান্ত বিশুদ্ধিকরণ।

দ্বি-স্তরীয় বিশুদ্ধিকরণ: এটি ত্রি-স্তরীয় প্রক্রিয়াজাতকরণের (বালু-ছাঁকনি) পূর্বে সম্পন্ন হয়, অর্থাৎ প্রথম চারটি পর্যায়ের পর। যদি এর নির্দেশিকা অনুযায়ী এটি পূর্ণাঙ্গভাবে প্রয়োগ করা হয়, তবে পানি ৯৫% পর্যন্ত তার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে। আর ত্রি-স্তরীয় প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বালু-ছাঁকনি পর্যায়ের পর বিশেষজ্ঞরা বলেন যে, পানি অধিকাংশ ক্ষেত্রে তার প্রাথমিক অবস্থা এবং প্রকৃত গঠনে ফিরে আসে।

দ্বি-স্তরীয় বিশুদ্ধিকরণের ক্ষেত্রে শরয়ী বিধান (حكم شرعي) ব্যবহারের ভিন্নতা অনুযায়ী ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে:

প্রথমত: পান করা এবং পবিত্রতা (طهارة) অর্জনে এর ব্যবহার: এটি বৈধ নয় এবং নিষিদ্ধ (محرم); কারণ ৫% অবশিষ্ট থাকা পর্যন্ত এটি এখনও পবিত্র হয়নি এবং এখন পর্যন্ত নাপাকির (نجاسة) বৈশিষ্ট্য এতে বিদ্যমান।
(খণ্ড: ১) ফিকহুন নাওয়াযিল ফিল ইবাদাত (পৃষ্ঠা: ২৪)
ثانياً: استخدامه في سقي الزروع والأشجار: هذه المسألة مبنية على مسألة تكلم عليها العلماء رحمهم الله وهي حكم تسميد النباتات والأشجار بالأشياء النجسة مثلاً بفضلات بني آدم أو بفضلات الحيوان الذي لا يؤكل مثل الحمار..إلخ ، فما حكم تسميد النباتات والأشجار بهذه بالأشياء النجسة؟ هذه المسألة اختلف فيها العلماء رحمهم الله على قولين:

القول الأول: أن هذا جائز ولا بأس به ، وهذا قول جمهور العلماء.

أدلتهم:

منها: ما يروى عن سعد بن أبي وقاص رضي الله عنه " أنه كان يدمل أرضه بالعذرة " ويقول: مكتل من هذا بمكتلين " يعني نضع مكتل من العذرة ويأتينا مكتلان من البر أو الشعير ونحو ذلك.

وهذا الأثر أخرجه البيهقي وإسناده ضعيف لا يثبت.

منها: أن الأصل في ذلك الإباحة وأن هذا مما جرت به عادات الناس ولم يرد في الشرع المنع من ذلك.

ومما يؤيد قولهم أن النجاسة تطهر بالاستحالة، فمثل هذه النجاسات كالعذرة ونحوها تستحيل إلى حبوب وتستحيل إلى ثمار.والنجاسة تطهر بالاستحالة كما سيأتينا إن شاء الله ، والقول بأن النجاسة تطهر بالاستحالة هذا مذهب الظاهرية واختيار شيخ الإسلام بن تيمية رحمه الله ، لأن العين النجسة هذه انقلبت من عين إلى عين أخرى ، فمثلاً لو كان عندنا ميتة واحترقت هذه الميتة فإنها الآن أصبحت رماداً وذهبت منها الصفة الخبيثة، فنقول بأن هذا الرماد طاهر ولا شيء فيه.

فإذا كانت هذه الأشياء تطهر بالاستحالة ولا يترتب على ذلك ضرر فنقول بأن هذا جائز ولا بأس به.

وأيضاً الإجماع قائم على أن الخمر - على القول بنجاستها - تطهر بالاستحالة،وكذلك أيضاً هذه الأشياء قالوا بأنها تطهر بالاستحالة.

القول الثاني: لا يجوز أن تدمل الزروع والأشجار بالعذرة أو النجاسات،وهذا المشهور من مذهب الحنابلة.

دليلهم:
দ্বিতীয়ত: শস্য ও বৃক্ষে পানি দেওয়ার ক্ষেত্রে এর ব্যবহার: এই বিষয়টি এমন একটি মাসআলার ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে যা নিয়ে ওলামায়ে কেরাম (আল্লাহ তাঁদের ওপর দয়া করুন) আলোচনা করেছেন। তা হলো অপবিত্র (نجسة) বস্তু দ্বারা উদ্ভিদ ও বৃক্ষে সার প্রয়োগ করার বিধান (حكم)। উদাহরণস্বরূপ—মানুষের মলমূত্র অথবা যে প্রাণীর গোশত খাওয়া হয় না (যেমন গাধা ইত্যাদি) সেগুলোর বিষ্ঠা দ্বারা। তো, এসব অপবিত্র বস্তু দিয়ে উদ্ভিদ ও বৃক্ষে সার দেওয়ার বিধান কী? এ বিষয়ে ওলামায়ে কেরাম (আল্লাহ তাঁদের ওপর দয়া করুন) দুইটি মতে (قولين) বিভক্ত হয়েছেন:

প্রথম মত: এটি বৈধ (جائز) এবং এতে কোনো সমস্যা নেই। এটি জমহুর (جمهور) বা অধিকাংশ ওলামায়ে কেরামের অভিমত।

তাদের দলীলসমূহ:

তার মধ্যে একটি হলো: সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস (রা.) থেকে যা বর্ণিত হয়েছে যে, "তিনি মল দ্বারা তাঁর জমিতে সার দিতেন" এবং বলতেন: "এর এক ঝুড়ি থেকে দুই ঝুড়ি পাওয়া যায়।" অর্থাৎ আমরা এক ঝুড়ি মল দিই এবং বিনিময়ে দুই ঝুড়ি গম বা যব ইত্যাদি পাই।

এই আসার (أثر) বর্ণনাটি বাইহাকি সংকলন করেছেন এবং এর সনদ (إسناد) দুর্বল (ضعيف), এটি প্রমাণিত নয়।

আরেকটি দলীল হলো: এ বিষয়ের মূলনীতি হলো বৈধতা (إباحة) এবং এটি মানুষের অভ্যাসের অন্তর্ভুক্ত, আর শরীয়তে এ বিষয়ে কোনো নিষেধাজ্ঞা আসেনি।

তাদের মতের সপক্ষে আরও একটি যুক্তি হলো, অপবিত্রতা রূপান্তরের (استحالة) মাধ্যমে পবিত্র হয়ে যায়। সুতরাং মানুষের মলের মতো অপবিত্র বস্তুসমূহ শস্যদানা বা ফলে রূপান্তরিত হয়ে যায়। আর অপবিত্রতা যে রূপান্তরের (استحالة) মাধ্যমে পবিত্র হয় তা সামনে ইনশাআল্লাহ আমাদের সামনে আসবে। রূপান্তরের মাধ্যমে অপবিত্রতা পবিত্র হওয়ার এই মতটি হলো জাহিরি (الظاهرية) মাযহাব এবং শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (আল্লাহ তাঁর ওপর দয়া করুন)-এর মনোনীত অভিমত। কারণ এই নাপাক বস্তুটির সত্তা (عين) এক অবস্থা থেকে অন্য অবস্থায় পরিবর্তিত হয়ে গেছে। উদাহরণস্বরূপ, যদি আমাদের কাছে একটি মৃতদেহ থাকে এবং তা পুড়ে ছাই হয়ে যায়, তবে এখন সেটি ছাইয়ে পরিণত হয়েছে এবং তা থেকে অপবিত্র বৈশিষ্ট্য দূর হয়ে গেছে। এমতাবস্থায় আমরা বলি যে, এই ছাই পবিত্র (طاهر) এবং এতে কোনো দোষ নেই।

সুতরাং এই বস্তুগুলো যদি রূপান্তরের (استحالة) মাধ্যমে পবিত্র হয়ে যায় এবং এতে কোনো ক্ষতির সম্ভাবনা না থাকে, তবে আমরা বলব যে এটি বৈধ (جائز) এবং এতে কোনো সমস্যা নেই।

এছাড়াও ইজমা (إجماع) প্রতিষ্ঠিত হয়েছে যে, মদ—একে অপবিত্র মনে করার মতানুসারে—রূপান্তরের (استحالة) মাধ্যমে পবিত্র হয়ে যায়। অনুরূপভাবে এই বস্তুগুলোর ক্ষেত্রেও তারা বলেছেন যে, এগুলো রূপান্তরের মাধ্যমে পবিত্র হয়ে যায়।

দ্বিতীয় মত: মলমূত্র বা অপবিত্র বস্তু (نجاسات) দিয়ে শস্য ও বৃক্ষে সার দেওয়া বৈধ নয়। এটি হাম্বলি মাযহাবের প্রসিদ্ধ অভিমত।

তাদের দলীল:
(খণ্ড: ১) ফিকহুন নাওয়াযিল ফিল ইবাদাত (পৃষ্ঠা: ২৫)
ما يروى عن ابن عباس رضي الله تعالى عنهما أنه قال:" كنا نُكْرِي الأرض ونشترط عليهم أن لا يدملوها بالعذرة " وهذا الأثر أيضاً ضعيف.

والصواب في ذلك أن تسميد الزروع والأشجار بالعذرة أو بالفضلات النجسة أن هذا جائز ولا بأس به لما ذكرنا من الدليل.

ويتبين بهذا أن هذا الصرف الصحي في مرحلته الثنائية أنه لا بأس أن تسقى به الزروع والأشجار.

ثالثاً: استخدامه في ري المنتزهات والحدائق بماء الصرف الصحي في مرحلته الثائية ولم يعد إلى خلقته ولا تزال صفة النجاسة فيه وهذا يحدث كثيراً. ولهذا تجد بعض المنتزهات كتب عليها أنه سقي بمياه الصرف الصحي لكي يحذر الناس من الجلوس … إلخ.

هذا قسمه العلماء إلى قسمين:

1- مسطحات خضراء لا يحتاج الناس إلى الجلوس فيها وإنما هي للتجميل فمثل هذا العمل جائز ولا بأس به لأن هذا الضرر لا يتعدى إلى الناس.

2- حدائق ومنتزهات يحتاجها الناس للجلوس فيها. هذا ينبني على مسألة تكلم عليها العلماء رحمهم الله وهي حكم قضاء الحاجة في أماكن جلوس الناس ،أو في طرقهم أو في موارد المياه. هذا للعلماء رحمهم الله في ذلك رأيان:

الرأي الأول: التحريم.

الرأي الثاني: الكراهة.

والصواب في ذلك أنه محرم ولا يجوز ،وعلى نقول سقي هذه الحدائق التي يجلس عليها الناس بمياه الصرف الصحي بعد المرحلة الثنائية نقول بأنه محرم ولا يجوز ودليل ذلك:

قول النبي صلى الله عليه وسلم في حديث أبي هريرة رضي الله عنه " اتقوا اللاعنين. قالوا: وما اللاعنان يا رسول الله؟ قال: " الذي يتخلى في طريق الناس أو في ظلهم " (1) .

والله عز وجل يقول: {وَالَّذِينَ يُؤْذُونَ الْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ بِغَيْرِ مَا اكْتَسَبُوا فَقَدِ احْتَمَلُوا بُهْتَاناً وَإِثْماً مُّبِيناً} (2) .

--------------------------------------------

(1) رواه مسلم.

(2) الأحزاب58
ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু তা'আলা আনহুমা) থেকে যা বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: "আমরা জমি ইজারা দিতাম এবং তাদের ওপর এই শর্তারোপ করতাম যে, তারা যেন সেখানে মানুষের মল দ্বারা সার না দেয়।" এই বর্ণনাটি (الأثر) ও দুর্বল (ضعيف)।

এক্ষেত্রে সঠিক বিষয় হলো, ফসলাদি ও বৃক্ষে মানুষের মল বা অপবিত্র বর্জ্য দ্বারা সার প্রয়োগ করা বৈধ (جائز) এবং এতে কোনো দোষ নেই; ইতিপূর্বে আমরা যে দলিল উল্লেখ করেছি তার কারণে।

এর মাধ্যমে এটি স্পষ্ট হয় যে, দ্বিতীয় পর্যায়ের শোধিত এই পয়ঃনিষ্কাশনের পানি দিয়ে ফসলাদি ও বৃক্ষে সেচ প্রদান করাতে কোনো অসুবিধা নেই।

তৃতীয়ত: বিনোদন কেন্দ্র এবং উদ্যানসমূহে দ্বিতীয় পর্যায়ের শোধিত পয়ঃনিষ্কাশনের পানির ব্যবহার, যা তার মূল প্রকৃতিতে ফিরে আসেনি এবং তাতে অপবিত্রতার বৈশিষ্ট্য এখনও বিদ্যমান। এটি অহরহ ঘটে থাকে। একারণেই আপনি কিছু বিনোদন কেন্দ্রে লেখা দেখতে পাবেন যে, এটি পয়ঃনিষ্কাশনের পানি দ্বারা সেচ দেওয়া হয়েছে, যাতে মানুষ সেখানে বসা থেকে সতর্ক থাকে … ইত্যাদি।

এটিকে ওলামায়ে কেরাম দুই ভাগে বিভক্ত করেছেন:

1- এমন সবুজ চত্বর যেখানে মানুষের বসার প্রয়োজন হয় না, বরং তা কেবল সৌন্দর্যের জন্য; এই ধরনের কাজ বৈধ (جائز) এবং এতে কোনো অসুবিধা নেই। কারণ, এই ক্ষতি মানুষের ওপর প্রভাব ফেলে না।

2- এমন উদ্যান এবং বিনোদন কেন্দ্র যেখানে মানুষের বসার প্রয়োজন হয়। এটি এমন একটি মাসআলার ওপর ভিত্তি করে তৈরি যা নিয়ে ওলামায়ে কেরাম (রাহিমাহুমুল্লাহ) আলোচনা করেছেন, আর তা হলো— মানুষের বসার স্থান, চলাচলের পথ অথবা পানির উৎসে প্রাকৃতিক হাজত পূরণের বিধান। এ বিষয়ে ওলামায়ে কেরাম (রাহিমাহুমুল্লাহ)-এর দুটি মত রয়েছে:

প্রথম মত: নিষিদ্ধ (التحريم)।

দ্বিতীয় মত: অপছন্দনীয় (الكراهة)।

এক্ষেত্রে সঠিক অভিমত হলো এটি হারাম বা নিষিদ্ধ (محرم) এবং তা বৈধ (جائز) নয়। এই ভিত্তিতে আমরা বলি, দ্বিতীয় পর্যায়ের শোধিত পয়ঃনিষ্কাশনের পানি দ্বারা ওইসব উদ্যানে সেচ দেওয়া যেখানে মানুষ বসে, তা নিষিদ্ধ (محرم) এবং বৈধ নয়। এর দলিল হলো:

আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: "তোমরা লানতকারী (অভিশাপ আনয়নকারী) দুটি কাজ থেকে বেঁচে থাকো।" তারা জিজ্ঞেস করলেন: হে আল্লাহর রাসুল! লানতকারী কাজ দুটি কী? তিনি বললেন: "যে মানুষের চলাচলের পথে অথবা তাদের বিশ্রামের ছায়ায় মলমূত্র ত্যাগ করে।" (১)

এবং মহান আল্লাহ তা'আলা এরশাদ করেন: {আর যারা মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীদেরকে তাদের কৃতকর্ম ছাড়াই কষ্ট দেয়, তারা অবশ্যই অপবাদ এবং স্পষ্ট পাপ বহন করল।} (২)

--------------------------------------------

(১) মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন।

(২) আল-আহযাব ৫৮
(খণ্ড: ১) ফিকহুন নাওয়াযিল ফিল ইবাদাত (পৃষ্ঠা: ২৬)
رابعاً: استخدامه في تغذية المياه الجوفية بمثل هذا الماء يعني لو حقن هذا الماء في الأرض وغذيت به المياه الجوفية هل هذا جائز أوليس جائزاً؟ هذا موضع خلاف يين المتأخرين.

والصواب أنه جائز ولا بأس به، لأن الأرض والتراب طهور وهو مطهر والدليل على ذلك:

قال الله عز وجل {مَا يُرِيدُ اللهُ لِيَجْعَلَ عَلَيْكُم مِّنْ حَرَجٍ وَلَكِن يُرِيدُ لِيُطَهَّرَكُمْ} (1) .

وقال النبي صلى الله عليه وسلم: " الصعيد الطيب وضوء المسلم وإن لم يجد الماء عشر سنين " (2) .

وأيضاً ذكر جملة من الباحثين أن الأرض والتراب والرمل إذا تخللها هذا الماء فإنه يتطهر بإذن الله عزوجل ويقوم ذلك مقام المرحلة الثالثة وهي مرحلة المعالجة الثلاثية وهي ما تسمى بالمرشحات الرملية.

فتلخص لنا في المرحلة الثنائية أن استخدام هذا الماء من حيث الحكم الشرعي:

أولاً: استخدامه في الأكل والشرب والطهارة هذا محرم ولا يجوز.

ثانياً: استخدامه في سقي الأشجار والزروع..إلخ هذا جائز ولا بأس به.

ثالثاً: استخدامه في سقي الحدائق والمنتزهات هذا فيه تفصيل: إن كانت هذه الحدائق والمنتزهات يغشاها الناس فإن هذا محرم ولا يجوز، وإن كان الناس لا يغشونها فإن هذا جائز ولا بأس به.

رابعاً: تغذية المياه الجوفية فإن هذا جائز ولا بأس به.

الحكم الشرعي الثاني ما يتعلق بمياه الصرف الصحي بعد مرحلة المعالجة الثالثة هذه يقولون بأن الماء يعود إلى حالته الطبيعية الأولى، وقد صدرت في ذلك قرارات ،من ذلك قرارات هيئة كبار العلماء بالمملكة العربية السعودية أن الماء بعد مرحلة المعالجة الثلاثية أنه إذا عاد على خلقته فإنه لا بأس أن يستخدم في الطهارة وفي الشرب وكذلك أيضاً في سقي المزارع وفي تغذية المياه الجوفية..إلخ.

--------------------------------------------

(1) المائدة6

(2) رواه الترمذي وكذا أبو داود والنسائي والدارقطني والحاكم وأحمد وغيرهم من حديث أبي ذر وقال الترمذي:

" حديث حسن صحيح "
চতুর্থত: ভূগর্ভস্থ পানিস্তরের রিচার্জে এই ধরনের পানি ব্যবহার করা। অর্থাৎ যদি এই পানি মাটির নিচে প্রবেশ করানো হয় এবং এর মাধ্যমে ভূগর্ভস্থ পানিস্তরকে পুষ্ট করা হয়, তবে তা কি বৈধ হবে নাকি বৈধ হবে না? এটি পরবর্তী যুগের আলেমদের (المتأخرين) মাঝে মতপার্থক্যের একটি বিষয়।

আর সঠিক মত হলো এটি বৈধ এবং এতে কোনো অসুবিধা নেই। কারণ ভূমি ও মাটি পবিত্র এবং তা পবিত্রকারী। এর প্রমাণ হলো:

মহান আল্লাহ তায়ালা বলেছেন: {আল্লাহ তোমাদের ওপর কোনো সংকীর্ণতা তৈরি করতে চান না, বরং তিনি তোমাদের পবিত্র করতে চান} (১)।

আর নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "পবিত্র মাটিই একজন মুসলিমের জন্য ওজুর মাধ্যম, যদিও সে দশ বছর পর্যন্ত পানি না পায়" (২)।

এছাড়াও একদল গবেষক উল্লেখ করেছেন যে, এই পানি যখন মাটি, ধূলিকণা ও বালুর মধ্য দিয়ে চুইয়ে নিচে যায়, তখন আল্লাহর ইচ্ছায় তা পবিত্র হয়ে যায়। এই প্রক্রিয়াটি পরিশোধনের তৃতীয় স্তর অর্থাৎ 'টারশিয়ারি ট্রিটমেন্ট'-এর স্থলাভিষিক্ত হয়, যাকে বালুর ছাঁকুনি (স্যান্ড ফিল্টার) বলা হয়।

সুতরাং দ্বিতীয় পর্যায়ের (সেকেন্ডারি ট্রিটমেন্ট) পরিশোধিত পানি ব্যবহারের শরয়ি বিধানের সারসংক্ষেপ হলো:

প্রথমত: আহার, পানীয় এবং পবিত্রতা অর্জনে এর ব্যবহার হারাম এবং বৈধ নয়।

দ্বিতীয়ত: বৃক্ষ ও শস্যক্ষেত্রে সেচ দেওয়ার কাজে এর ব্যবহার বৈধ এবং এতে কোনো অসুবিধা নেই।

তৃতীয়ত: বাগান ও পার্কগুলোতে এটি ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিস্তারিত ব্যাখ্যা রয়েছে: যদি এই বাগান ও পার্কগুলোতে সাধারণ মানুষের আনাগোনা থাকে, তবে এর ব্যবহার হারাম এবং অবৈধ। আর যদি সেখানে মানুষের আনাগোনা না থাকে, তবে তা বৈধ এবং এতে কোনো বাধা নেই।

চতুর্থত: ভূগর্ভস্থ পানিস্তরের রিচার্জে এটি ব্যবহার করা বৈধ এবং এতে কোনো অসুবিধা নেই।

দ্বিতীয় শরয়ি বিধানটি হলো তৃতীয় স্তরের পরিশোধনের পর পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার পানির বিধান। এ সম্পর্কে বিশেষজ্ঞরা বলেন যে, পানি তার পূর্বের স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে। এ প্রসঙ্গে কিছু সিদ্ধান্ত বা ফতোয়া জারি করা হয়েছে; যার মধ্যে সৌদি আরবের উচ্চতর ওলামা পরিষদের (হায়াতু কিবারিল উলামা) সিদ্ধান্ত অন্যতম যে, তৃতীয় স্তরের পরিশোধনের পর পানি যদি তার প্রকৃত গুণাগুণে ফিরে আসে, তবে তা পবিত্রতা অর্জন, পান করা, একইভাবে ফসলের মাঠে সেচ দেওয়া এবং ভূগর্ভস্থ পানিস্তরে সরবরাহের ক্ষেত্রে ব্যবহার করতে কোনো অসুবিধা নেই।

--------------------------------------------

(১) সূরা আল-মায়িদাহ: ৬

(২) এটি তিরমিজি বর্ণনা করেছেন এবং একইভাবে আবু দাউদ, নাসাঈ, দারা কুতনি, হাকেম, আহমাদ ও অন্যান্যরা আবু যার (রা.)-এর হাদিস থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। ইমাম তিরমিজি বলেছেন:

"হাদিসটি হাসান (حسن) ও সহিহ (صحيح)"
(খণ্ড: ১) ফিকহুন নাওয়াযিল ফিল ইবাদাত (পৃষ্ঠা: ২৭)
وكذلك أيضاً قرار مجمع الفقهي في هيئة رابطة العالم الإسلامي أنه بعد مرحلة معالجة الثلاثية لا بأس أن يستخدم في الأكل والشرب والطهارة إلى آخره.

‌‌المسألة الثالثة عشرة: زرع الأعضاء ونقلها وأثر ذلك على الطهارة.

في هذه المسألة نحن لن نتكلم عن حكم زراعة الأعضاء أو عن حكم نقل هذه الأعضاء لأن هذه مسألة مستقلة، لكن سنتكلم عن حكم ما لو نقل هذا العضو إلى هذا البدن، هل نقول بأن هذا العضو طاهر أو نجس؟

زراعة الأعضاء هذه كانت موجودة في القِدَم لكنها في مراحلها الأولية، وقد ثبت أن النبي صلى الله عليه وسلم في غزوة بدر لما ضُرب أبو قتادة رضي الله عنه وندرت عينه أخذها النبي صلى الله عليه وسلم فردها، وكانت أحسن عينيه مع أنها سقطت، وهذا من آيات النبي صلى الله عليه وسلم.

وأول من عرف زراعة الأعضاء قدماء المصريين عن طريق زارعة الأسنان ثم بعد ذلك أخذ عنهم هذه الطريقة اليونانيون وكذلك الرومانيون ، وهذا في مراحلها الأولية ، ثم بعد ذلك تطورت زراعة الأعضاء بتطور الطب ورقي العلم.

الخلاصة من حيث الحكم الشرعي بالنسبة لما يتعلق بزراعة الأعضاء:

نقول بأن زراعة الأعضاء أو نقلها من بدن إلى آخر أو من بدن المريض إلى بدن نفسه بأن هذا ينقسم إلى أقسام:

القسم الأول: أن يكون العضو منقولاً لصاحبه:مثلاً ينقل عظم من موضع إلى موضع آخر في البدن أو الجلد ينتقل من موضع إلى موضع آخر في نفس البدن، أو أن العضو ينقطع ويسقط مثل الإصبع ينقطع أو اليد ثم بعد ذلك تعاد وتزرع في البدن.

فنقول بأن هذا العضو الذي نقل من موضع إلى موضع آخر في نفس البدن الأئمة الأربعة كلهم يتفقون على أنه طاهر.
অনুরূপভাবে মুসলিম ওয়ার্ল্ড লিগ-এর ফিকহ একাডেমির সিদ্ধান্ত হলো যে, ত্রিবিধ শোধন প্রক্রিয়ার পর এটি পানাহার ও পবিত্রতা অর্জন ইত্যাদি ক্ষেত্রে ব্যবহার করাতে কোনো অসুবিধা নেই।

‌‌ত্রয়োদশ মাসআলা: অঙ্গ প্রতিস্থাপন, অঙ্গ স্থানান্তর এবং পবিত্রতার ওপর এর প্রভাব।

এই মাসআলায় আমরা অঙ্গ প্রতিস্থাপনের বিধান বা এই অঙ্গগুলো স্থানান্তরের বিধান সম্পর্কে আলোচনা করব না, কারণ এটি একটি স্বতন্ত্র বিষয়। তবে আমরা সেই বিধান সম্পর্কে আলোচনা করব যদি এই অঙ্গটি এই শরীরে স্থানান্তর করা হয়, তবে কি আমরা বলব যে এই অঙ্গটি পবিত্র (طاهر) নাকি অপবিত্র (نجس)?

অঙ্গ প্রতিস্থাপন প্রাচীনকালেও বিদ্যমান ছিল, তবে তা ছিল প্রাথমিক পর্যায়ে। এটি প্রমাণিত (ثبت) হয়েছে যে, বদরের যুদ্ধে যখন আবু কাতাদা (রা.) আঘাতপ্রাপ্ত হন এবং তাঁর চোখ কোটরচ্যুত হয়ে পড়ে, তখন নবী (সা.) সেটি গ্রহণ করে যথাস্থানে ফিরিয়ে দেন এবং এটিই তাঁর শ্রেষ্ঠ চোখে পরিণত হয়, যদিও সেটি ঝরে পড়েছিল। এটি নবী (সা.)-এর নিদর্শনসমূহের অন্তর্ভুক্ত।

প্রাচীন মিশরীয়রা দাঁত প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে সর্বপ্রথম অঙ্গ প্রতিস্থাপন সম্পর্কে জানতে পারে, এরপর গ্রিক ও রোমানরা তাদের থেকে এই পদ্ধতি গ্রহণ করে। এটি ছিল প্রাথমিক পর্যায়ে, অতঃপর চিকিৎসা বিজ্ঞান ও জ্ঞানের উন্নতির সাথে সাথে অঙ্গ প্রতিস্থাপনেরও বিবর্তন ঘটে।

অঙ্গ প্রতিস্থাপন সংক্রান্ত শরয়ি বিধানের সারসংক্ষেপ:

আমরা বলি যে, অঙ্গ প্রতিস্থাপন বা এক দেহ থেকে অন্য দেহে অথবা রোগীর নিজের শরীরের এক স্থান থেকে অন্য স্থানে অঙ্গ স্থানান্তর কয়েকটি ভাগে বিভক্ত:

প্রথম প্রকার: অঙ্গটি স্বয়ং ব্যক্তির নিজের শরীর থেকেই স্থানান্তরিত হওয়া। উদাহরণস্বরূপ, শরীরের এক স্থান থেকে অন্য স্থানে হাড় স্থানান্তর করা, অথবা একই শরীরের এক স্থান থেকে চামড়া অন্য স্থানে স্থানান্তর করা, অথবা কোনো অঙ্গ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে যাওয়া—যেমন আঙুল বা হাত বিচ্ছিন্ন হওয়া—অতঃপর তা পুনরায় শরীরে প্রতিস্থাপন করা।

আমরা বলি যে, একই শরীরের এক স্থান থেকে অন্য স্থানে স্থানান্তরিত এই অঙ্গটির ব্যাপারে চার ইমামই একমত হয়েছেন যে এটি পবিত্র (طاهر)।
(খণ্ড: ১) ফিকহুন নাওয়াযিল ফিল ইবাদাত (পৃষ্ঠা: ২৮)
القسم الثاني: أن يكون هذا الجلد أو هذا العظم منقولاً من إنسان آخر ليس منقولاً من نفس المريض،مثلاً أخذنا من جلد هذا الشخص ووضعناه في هذا الشخص أو من عظمه..إلخ ، فهذا أيضاً عند جمهور العلماء أن هذا العضو طاهر، وهذه المسألة تنبني على مسألة وهي: الأدمي هل هو طاهر أو ليس طاهراً؟ وكذلك أيضاً أعضاءه وما انفصل منه، لأن ما أبين من الحي فهو كميتته ، فميتة الآدمي هل هي طاهرة، وهل هناك فرق بين المسلم والكافر؟

فنقول:

أولاً:المسلم الحي هذا طاهر بالاتفاق ودليل ذلك:

قول النبي صلى الله عليه وسلم في حديث أبي هريرة رضي الله عنه: " إن المؤمن لا ينجس " متفق عليه.

ثانياً:أما الكافر الحي هل هو طاهر أم نجس؟ فيه رأيان لأهل العلم:

الرأي الأول: أنه طاهر وهذا رأي جمهور أهل العلم.

ودليلهم:

أن الله عز وجل أباح للمسلمين نكاح نساء أهل الكتاب وأباح ذبائحهم فقال الله عز وجل: {الْيَوْمَ أُحِلَّ لَكُمُ الطَّيِّبَاتُ وَطَعَامُ الَّذِينَ أُوتُواْ الْكِتَابَ حِلٌّ لَّكُمْ وَطَعَامُكُمْ حِلُّ لَّهُمْ وَالْمُحْصَنَاتُ مِنَ الْمُؤْمِنَاتِ وَالْمُحْصَنَاتُ مِنَ الَّذِينَ أُوتُواْ الْكِتَابَ} (1) ، ولاشك أن الإنسان المسلم سيخالط زوجته

الرأي الثاني: أنه نجس وهذا رأي الظاهرية. واستدلوا بقول الله عز وجل: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُواْ إِنَّمَا الْمُشْرِكُونَ نَجَسٌ} (2) .

ويجاب عنه أن المراد بذلك النجاسة المعنوية وليس بالنجاسة الحسية.

والصواب في ذلك:ما ذهب إليه جمهور أهل العلم رحمهم الله.

ثالثاً: ميتة الآدمي:

الجمهور على أنها طاهرة.

والحنفية يقولون بأن ميتة الآدمي نجسة، إلا إن كان مسلماً فإنه يطهر بالتغسيل، وأما الكافر فلا يطهر حتى ولو غسل.

والصواب في ذلك: أن ميتة الآدمي سواء كان كافراً أو كان مسلماً أنها طاهرة.

--------------------------------------------

(1) المائدة5

(2) التوبة28
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: এই চামড়া বা হাড় যদি অন্য কোনো মানুষ থেকে স্থানান্তরিত করা হয়, অর্থাৎ রোগীর নিজের শরীর থেকে না নিয়ে, উদাহরণস্বরূপ, আমরা অন্য কোনো ব্যক্তির চামড়া বা হাড় নিয়ে এই ব্যক্তির শরীরে প্রতিস্থাপন করলাম... ইত্যাদি। অধিকাংশ আলিমের (جمهور العلماء) মতে এই অঙ্গটি পবিত্র (طاهر)। এই বিষয়টি একটি মূল বিষয়ের ওপর নির্ভরশীল, তা হলো: মানুষ কি পবিত্র (طاهر) নাকি অপবিত্র? অনুরূপভাবে মানুষের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ এবং যা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছে তার বিধান কী? কারণ, জীবিত শরীর থেকে যা বিচ্ছিন্ন করা হয়, তা ওই প্রাণীর মৃতদেহের হুকুমের অন্তর্ভুক্ত। এখন প্রশ্ন হলো, মানুষের মৃতদেহ কি পবিত্র (طاهرة)? আর এক্ষেত্রে কি মুসলিম ও কাফিরের মধ্যে কোনো পার্থক্য আছে?

আমরা বলব:

প্রথমত: জীবিত মুসলিম সর্বসম্মতিক্রমে পবিত্র (طاهر)। এর দলিল হলো:

আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বাণী: "নিশ্চয়ই মুমিন অপবিত্র (نجس) হয় না।" এটি বুখারি ও মুসলিম কর্তৃক ঐক্যমত পোষণকৃত (متفق عليه)।

দ্বিতীয়ত: জীবিত কাফির কি পবিত্র (طاهر) নাকি অপবিত্র (نجس)? এ বিষয়ে আলিমগণের দুটি মত রয়েছে:

প্রথম মত: সে পবিত্র (طاهر); এটি অধিকাংশ আলিমের (جمهور أهل العلم) অভিমত।

তাঁদের দলিল:

মহান আল্লাহ মুসলিমদের জন্য আহলে কিতাব নারীদের বিবাহ করা এবং তাদের জবেহ করা পশু ভক্ষণ করা বৈধ করেছেন। মহান আল্লাহ বলেন: {আজ তোমাদের জন্য পবিত্র বস্তুসমূহ হালাল করা হলো। আহলে কিতাবদের খাবার তোমাদের জন্য হালাল এবং তোমাদের খাবার তাদের জন্য হালাল। আর মুমিন সচ্চরিত্রা নারী এবং তোমাদের পূর্বে যাদের কিতাব দেওয়া হয়েছে তাদের সচ্চরিত্রা নারীদেরও (তোমাদের জন্য হালাল করা হয়েছে)} (১)। আর এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, একজন মুসলিম তার স্ত্রীর সাথে মেলামেশা করবে।

দ্বিতীয় মত: সে অপবিত্র (نجس); এটি জাহেরি (الظاهرية) মাযহাবের অভিমত। তাঁরা মহান আল্লাহর এই বাণী দ্বারা দলিল পেশ করেন: {হে মুমিনগণ, নিশ্চয়ই মুশরিকরা অপবিত্র (نجس)} (২)।

এর উত্তরে বলা হয় যে, এখানে অপবিত্রতা দ্বারা উদ্দেশ্য হলো আত্মিক বা অর্থগত অপবিত্রতা (النجاسة المعنوية), দৃশ্যমান বা বস্তুগত অপবিত্রতা (النجاسة الحسية) নয়।

এ ক্ষেত্রে সঠিক মত হলো: অধিকাংশ আলিম (جمهور أهل العلم), আল্লাহ তাঁদের ওপর রহম করুন, যে মত পোষণ করেছেন।

তৃতীয়ত: মানুষের মৃতদেহ:

অধিকাংশ আলিম (الجمهور) মনে করেন যে, তা পবিত্র (طاهرة)।

তবে হানাফিগণ বলেন যে, মানুষের মৃতদেহ অপবিত্র (نجسة), তবে যদি সে মুসলিম হয় তবে গোসলের মাধ্যমে তা পবিত্র হয়ে যায়। আর কাফির ব্যক্তি গোসল করালেও পবিত্র হয় না।

এ বিষয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত হলো: মানুষের মৃতদেহ পবিত্র (طاهرة), চাই সে কাফির হোক বা মুসলিম।

--------------------------------------------

(১) আল-মায়িদাহ ৫

(২) আত-তাওবাহ ২৮
(খণ্ড: ১) ফিকহুন নাওয়াযিল ফিল ইবাদাত (পৃষ্ঠা: ২৯)
والدليل على ذلك ما تقدم أن ذكرنا من الأدلة على طهارة الكفار ومن الأدلة على المسلمين ، ومما يدل لذلك أن النبي صلى الله عليه وسلم قبَّل عثمان بن مظعون بعد موته مما يدل على أنه طاهر وإلا لو كان تنجس بالموت ما وضع النبي صلى الله عليه وسلم فاه عليه.

الخلاصة في ذلك: أن الآدمي طاهر سواء كان حياً أو ميتاً وسواء كان مسلماً أو كان كافراً

وعلى هذا أن نقول بأن أعضاءه طاهرة وما أبين منه من الأعضاء فإنه كميتته ،فمثلاً لو قطع منه جلد ، هذا الجلد كالميتة وميتته طاهرة فنقول بأنه طاهر، وما قطع منه من عظم نقول بأنه كميتته وميتته طاهرة فنقول بأنه طاهر.

فيتبين أنه إذا نقل شيء من الجلد أو شيء من الأعضاء أو شيء من العظام من آدمي سواء كان ميتاً أو كان حياً فإن هذه الأشياء طاهرة ولا أثر لها على الوضوء والصلاة ويجوز له أن يصلي فيها.

القسم الثالث: نقل الأعضاء من حيوان طاهر إلى الإنسان ، الحيوان الطاهر: مثل حيوانات البحر ومثل الحيوانات المذكات،مثلاً لو كان عندنا شاة وذكيناها وأخذنا عظمها وأخذناه إلى إنسان انكسر عظمه. وقد نص الفقهاء على نقل العظام.أو أخذنا شيئا من الجلد وغرزناه في جلد الإنسان..إلخ. فنقول بأن هذه الأشياء طاهرة، ولا أثر لها على الصلاة ولا على الوضوء وهذا جائز باتفاق الأئمة.

القسم الرابع: نقل الأعضاء النجسة إلى الإنسان ،مثل ميتة بهيمة الأنعام ومثل الخنزير … إلخ.

وقد ذكر الأطباء أن عظم الخنزير من أحسن العظام في ملائمتها لعظم الآدمي بحيث أنه يبرأ بسرعة ولا يؤدي إلى الاعوجاج.

إذا نقل عظم الخنزير إلى الآدمي أو شاة ميتة أخذنا عظمها لم تذكى ونقلناه إلى آدمي حصل فيه تكسر ما حكم ذلك؟

نقول الأصل أن هذا محرم ولا يجوز لأن الميتة نجسة والخنزير أيضاً محرم ولا يجوز.
এর প্রমাণ হলো কাফেরদের পবিত্রতা (طهارة) এবং মুসলিমদের পবিত্রতা সম্পর্কে ইতিপূর্বে আমাদের আলোচিত দলিলসমূহ। এর অন্যতম প্রমাণ হলো, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উসমান ইবনে মাজউনের ইন্তেকালের পর তাঁকে চুম্বন করেছিলেন; যা প্রমাণ করে যে তিনি পবিত্র (طاهر) ছিলেন। অন্যথায়, ইন্তেকালের ফলে তিনি যদি অপবিত্র (تنجس) হয়ে যেতেন, তবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর পবিত্র মুখ তাঁর ওপর রাখতেন না।

এর সারসংক্ষেপ হলো: মানুষ পবিত্র (طاهر), সে জীবিত হোক কিংবা মৃত এবং সে মুসলিম হোক কিংবা কাফের।

এর ওপর ভিত্তি করে আমরা বলি যে, মানুষের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গসমূহ পবিত্র (طاهرة)। আর শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন অঙ্গসমূহ তার মৃতদেহের বিধানভুক্ত। উদাহরণস্বরূপ, যদি তার থেকে একখণ্ড চামড়া বিচ্ছিন্ন করা হয়, তবে এই চামড়া মৃতদেহের ন্যায় গণ্য হবে; আর যেহেতু মানুষের মৃতদেহ পবিত্র (طاهرة), তাই আমরা একে পবিত্র (طاهر) বলব। অনুরূপভাবে শরীর থেকে যে হাড় বিচ্ছিন্ন করা হয়, তা তার মৃতদেহের ন্যায় এবং মানুষের মৃতদেহ পবিত্র (طاهرة), তাই আমরা একে পবিত্র (طاهر) বলব।

এ থেকে স্পষ্ট হয় যে, কোনো মানুষের চামড়া, অঙ্গ কিংবা হাড়ের কোনো অংশ—সেটি মৃত ব্যক্তি থেকে হোক কিংবা জীবিত থেকে—যদি স্থানান্তর করা হয়, তবে এই বস্তুগুলো পবিত্র (طاهرة)। অজু এবং নামাজের ওপর এর কোনো নেতিবাচক প্রভাব নেই এবং এগুলোর উপস্থিতিতে নামাজ আদায় করা বৈধ (يجوز)।

তৃতীয় বিভাগ: পবিত্র (طاهر) প্রাণী থেকে মানুষের শরীরে অঙ্গ প্রতিস্থাপন। পবিত্র (طاهر) প্রাণী বলতে যেমন: সামুদ্রিক প্রাণী এবং জবেহকৃত (المذكاة) গৃহপালিত পশু। উদাহরণস্বরূপ, আমাদের যদি একটি বকরি থাকে এবং আমরা সেটিকে জবেহ করি, অতঃপর তার হাড় নিয়ে এমন কোনো মানুষের শরীরে প্রতিস্থাপন করি যার হাড় ভেঙে গেছে—ফকিহগণ হাড় স্থানান্তরের বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন—অথবা আমরা চামড়ার কোনো অংশ নিয়ে মানুষের চামড়ায় প্রতিস্থাপন করি ইত্যাদি। এক্ষেত্রে আমরা বলব যে, এই বস্তুগুলো পবিত্র (طاهرة)। নামাজ কিংবা অজুর ওপর এর কোনো প্রভাব নেই এবং ইমামগণের ঐকমত্যে এটি বৈধ (جائز)।

চতুর্থ বিভাগ: অপবিত্র (نجسة) অঙ্গসমূহ মানুষের শরীরে প্রতিস্থাপন করা, যেমন মৃত গবাদি পশু এবং শূকর … ইত্যাদি।

চিকিৎসাবিদগণ উল্লেখ করেছেন যে, মানুষের হাড়ের সাথে সামঞ্জস্যতার ক্ষেত্রে শূকরের হাড় অন্যতম শ্রেষ্ঠ হাড়, যা দ্রুত আরোগ্য লাভে সহায়তা করে এবং হাড় বাঁকা হওয়ার সম্ভাবনা থাকে না।

যদি শূকরের হাড় মানুষের শরীরে স্থানান্তর করা হয় অথবা জবেহ করা হয়নি এমন কোনো মৃত বকরির হাড় কোনো মানুষের ভাঙা স্থানে স্থানান্তর করা হয়, তবে এর বিধান (حكم) কী?

আমরা বলব যে, মূলনীতি হলো এটি নিষিদ্ধ (محرم) এবং এটি বৈধ (يجوز) নয়; কারণ মৃত প্রাণী অপবিত্র (نجسة) এবং শূকরও নিষিদ্ধ (محرم) ও অবৈধ।