(খণ্ড: ১)
ফাদায়িলু রামাদান লি-ইবনি শাহীন
(পৃষ্ঠা: -)
فضائل رمضان لابن شاهين القسم: كتب السنة
الكتاب: فضائل فاطمة بنت رسول الله صلى الله عليه وسلم
المؤلف: أبو حفص عمر بن أحمد بن عثمان بن أحمد بن محمد بن أيوب بن أزداذ البغدادي المعروف بـ ابن شاهين (ت 385هـ)
تحقيق: بدر البدر
الناشر: دار ابن الأثير - الكويت (ضمن مجموع فيه من مصنفات ابن شاهين)
الطبعة: الأولى 1415 هـ - 1994 م
عدد الصفحات: 171
تمت مقابلة الكتاب، وقوبل أيضا على طبعة مكتبة التوعية الإسلامية بتحقيق أبي إسحاق الحويني وأثبتت الفروق بين الطبعتين، وترقيم الطبعتين متوافق إلى رقم (25) وأثبت بعد ذلك ترقيم طبعة الحويني بين []
أعده للشاملة: يا باغي الخير أقبل
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
ইবনে শাহীন রচিত রমজানের ফজিলত বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ
কিতাব: রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কন্যা ফাতিমার ফজিলত
লেখক: আবু হাফস উমর বিন আহমদ বিন উসমান বিন আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আইয়ুব বিন আজদাদ আল-বাগদাদি, যিনি ইবনে শাহীন নামে পরিচিত (মৃত্যু ৩৮৫ হিজরি)
তাহকিক: বদর আল-বদর
প্রকাশক: দার ইবনে আল-আসির - কুয়েত (ইবনে শাহীনের রচনাবলির একটি সংকলনের অন্তর্ভুক্ত)
সংস্করণ: প্রথম ১৪১৫ হিজরি - ১৯৯৪ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৭১
কিতাবটি মূল পাণ্ডুলিপির সাথে মেলানো হয়েছে এবং আবু ইসহাক আল-হুওয়াইনী সম্পাদিত মাকতাবাতুত তাওইয়াহ আল-ইসলামিয়্যাহ সংস্করণের সাথেও তুলনা করা হয়েছে। দুই সংস্করণের মধ্যকার পার্থক্যসমূহ এতে চিহ্নিত হয়েছে। উভয় সংস্করণের নম্বর প্রদান ২৫ নম্বর পর্যন্ত একই এবং এরপর আল-হুওয়াইনীর সংস্করণের নম্বরসমূহ [] ব্র্যাকেটের মধ্যে উল্লেখ করা হয়েছে।
শামেলার জন্য প্রস্তুত করেছেন: হে কল্যাণের অন্বেষী, অগ্রসর হও
[কিতাবটির নম্বর প্রদান মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
ফাদায়িলু রামাদান লি-ইবনি শাহীন
(পৃষ্ঠা: ১২৫)
كتاب فضائل شهر رمضان وما فيه من الأحكام والعلم وفضل صوامه والتغليظ على من أفطر فيه متعمداً من غير عذر.
تصنيف الشيخ أبي حفص عمر بن أحمد بن عثمان بن أحمد بن شاهين غفر الله له.
رواية أبي الحسين أحمد بن محمد بن أحمد بن النقور
عن ولده أبي القاسم عبيد الله عنه.
رواية الشيخين أبي عبد الله الحسين وأبي محمد عبد الله
ابني علي بن أحمد عنه.
رواية العلامة تاج الدين أبي اليمن زيد بن الحسن بن زيد
الكندي عنهما،
سماع إسماعيل بن عبد الله بن الأنماطي - رفق الله به ونفعه.. آمين
وقف بالحنبلية بدمشق.
أخبرنا به جماعة من شيوخنا إجازة من ابن المحب.
وكتب يوسف بن عبد الهادي.
রমজান মাসের ফজিলত, এর বিধিবিধান ও ইলম, রোজাদারের মর্যাদা এবং কোনো ওজর ছাড়াই ইচ্ছাকৃতভাবে রোজা ভঙ্গকারীর প্রতি কঠোরতা বিষয়ক কিতাব।
শাইখ আবু হাফস উমর বিন আহমদ বিন উসমান বিন আহমদ বিন শাহীন কর্তৃক সংকলিত, আল্লাহ তাকে ক্ষমা করুন।
আবু আল-হুসাইন আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন আন-নাকুর এর বর্ণনা
তার পুত্র আবু আল-কাসিম উবাইদুল্লাহ থেকে, তিনি তার থেকে।
দুই শাইখ আবু আব্দুল্লাহ আল-হুসাইন এবং আবু মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ এর বর্ণনা
আলী বিন আহমদের দুই পুত্র থেকে, তিনি তার থেকে।
আল্লামা তাজউদ্দীন আবু আল-ইয়ামান যাইদ বিন আল-হাসান বিন যাইদ
আল-কিন্দি তাদের উভয়ের থেকে,
ইসমাইল বিন আব্দুল্লাহ বিন আল-আনমাতির শ্রবণকৃত - আল্লাহ তার প্রতি সদয় হোন এবং তাকে উপকৃত করুন.. আমিন
দামেস্কের হানবালিয়া মাদ্রাসায় ওয়াকফকৃত।
আমাদের একদল শাইখ ইবনে আল-মুহিবের ইজাজতক্রমে আমাদের এটি অবহিত করেছেন।
এবং এটি লিখেছেন ইউসুফ বিন আব্দুল হাদি।
(খণ্ড: ১)
ফাদায়িলু রামাদান লি-ইবনি শাহীন
(পৃষ্ঠা: ১২৭)
بسم الله الرحمن الرحيم
على الله توكلت
أخبرنا الأجل، العلامة، تاج الدين أبواليمن زيد بن الحسن بن زيد بن الحسن الكندي _ أدخله الله الجنة _ قراءة عليه بالمسجد الجديد بجبل قاسيون ظاهر دمشق في يوم الثلاثاء ثاني عشري شوال سنة ستمائة، فأقر به.
أنبأنا الشيخ أبو محمد عبد الله بن علي بن أحمد المقرئ قراءة عليه مراراً متعددة وأنا أسمع.
وأخوه الأجل الزاهد أبوعبد الله الحسين بن علي قراءة عليه وأنا أسمع قالا:
أخبرنا أبو الحسين أحمد بن محمد بن أحمد بن النقور البزاز قراءة عليه ونحن نسمع في صفر سنة سبعين وأربعمائة.
أخبرنا أبوالقاسم عبيد الله بن عمر بن أحمد بن عثمان بن أحمد بن شاهين قراءة عليه وأنا أسمع قال:
حدثني أبي _ رحمه الله _ قال:
পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
আমি আল্লাহর ওপর ভরসা করলাম।
মহান ও বিজ্ঞ আল্লামা তাজউদ্দীন আবুল ইয়ামান যাইদ বিন হাসান বিন যাইদ বিন হাসান আল-কিন্দি — আল্লাহ তাঁকে জান্নাতে দাখিল করুন — দামেস্কের উপকণ্ঠে কাসিউন পাহাড়ের আল-মসজিদুল জাদিদে মঙ্গলবার, ৬০০ হিজরি সনের বাইশে শাওয়াল তাঁর সামনে পাঠ করার মাধ্যমে আমাদের জানিয়েছেন, অতঃপর তিনি তা স্বীকার করেছেন।
শায়খ আবু মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ বিন আলী বিন আহমাদ আল-মুকরি একাধিকবার তাঁর সামনে পাঠ করার মাধ্যমে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আর আমি তা শুনছিলাম।
এবং তাঁর মহান ও পরহেযগার ভাই আবু আব্দুল্লাহ আল-হুসাইন বিন আলী, তাঁর সামনে পাঠ করার মাধ্যমে আর আমি তা শুনছিলাম, তাঁরা উভয়ই বলেছেন:
আবুল হুসাইন আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন আহমাদ বিন আন-নাক্কুর আল-বাযযায ৪৭০ হিজরি সনের সফর মাসে তাঁর সামনে পাঠ করার মাধ্যমে আমাদের জানিয়েছেন, আর আমরা তা শুনছিলাম।
আবুল কাসিম উবাইদুল্লাহ বিন উমর বিন আহমাদ বিন উসমান বিন আহমাদ বিন শাহীন তাঁর সামনে পাঠ করার মাধ্যমে আমাদের জানিয়েছেন, আর আমি তা শুনছিলাম, তিনি বলেন:
আমার পিতা — আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন — আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন:
(খণ্ড: ১)
ফাদায়িলু রামাদান লি-ইবনি শাহীন
(পৃষ্ঠা: ১২৮)
1- باب في فضل شهر رمضان، وما جعل الله عز وجل فيه من البركة والرحمة والمغفرة لمن شهده وصامه، وفضله على الشهور1- حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ إِمْلاءً، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ الْمُنِيبِ الْخُرَاسَانِيُّ، حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ كَيْسَانَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم ارْتَقَى الْمِنْبَرَ فَأَمَّنَ، ثَلاثَ مَرَّاتٍ، ثُمَّ قَالَ: هَلْ تَدْرُونَ لِمَاذَا أَمَّنْتُ؟ قَالُوا: اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ قَالَ: جَاءَنِي جِبْرِيلُ عليه السلام، فَأَخْبَرَنِي أَنَّهُ مَنْ ذُكِرْتَ عِنْدَهُ يَا مُحَمَّدُ فَلَمْ يُصَلِّ عَلَيْكَ، فَدَخَلَ النَّارَ، فَأَبْعَدَهُ اللَّهُ وَأَسْحَقَهُ، قُلْ: آمِينَ، قُلْتُ: آمِينَ. وَمَنْ أَدْرَكَ وَالِدَيْهِ أَوْ أَحَدَهُمَا فَلَمْ يَبَرَّهُمَا، فَدَخَلَ النَّارَ، فَأَبْعَدَهُ اللَّهُ وَأَسْحَقَهُ، [قُلْ: آمِينَ] قُلْتُ: آمِينَ. وَمَنْ أَدْرَكَ شَهْرَ رَمَضَانَ، فَلَمْ يُغْفَرْ لَهُ، فَدَخَلَ النَّارَ فَأَبْعَدَهُ اللَّهُ، قُلْ: آمِينَ، قُلْتُ: آمِينَ.
১- রমজান মাসের ফযিলত এবং যারা এটি প্রত্যক্ষ করে ও এতে রোজা রাখে তাদের জন্য আল্লাহ আয্যা ওয়া জাল্লা এতে যে বরকত, রহমত ও ক্ষমা রেখেছেন তার বিবরণ, এবং অন্যান্য মাসের ওপর এর শ্রেষ্ঠত্ব।১- আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ বিন আবদুল আজিজ আমাদের কাছে শ্রুতিলিখনের মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন, আবদুল আজিজ বিন আল-মুনিব আল-খুরাসানি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, ইসহাক বিন আবদুল্লাহ বিন কায়সান তাঁর পিতা থেকে, তিনি সাঈদ বিন জুবায়ের থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিম্বরে আরোহণ করলেন এবং তিনবার 'আমিন' বললেন। এরপর তিনি বললেন: "তোমরা কি জানো কেন আমি 'আমিন' বলেছি?" তারা বললেন: "আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই ভালো জানেন।" তিনি বললেন: "জিবরাঈল আলাইহিস সালাম আমার কাছে আসলেন এবং আমাকে জানালেন যে, হে মুহাম্মাদ! যার নিকট আপনার নাম উল্লেখ করা হলো অথচ সে আপনার ওপর দরূদ পাঠ করল না, ফলে সে জাহান্নামে প্রবেশ করল, আল্লাহ তাকে তাঁর রহমত থেকে দূর করে দিন এবং ধ্বংস করুন; আপনি বলুন: 'আমিন'। আমি বললাম: 'আমিন'। আর যে ব্যক্তি তার পিতামাতাকে অথবা তাদের একজনকে পেল অথচ তাদের সাথে সদাচরণ করল না, ফলে সে জাহান্নামে প্রবেশ করল, আল্লাহ তাকে তাঁর রহমত থেকে দূর করে দিন এবং ধ্বংস করুন; [আপনি বলুন: 'আমিন'] আমি বললাম: 'আমিন'। আর যে ব্যক্তি রমজান মাস পেল অথচ তাকে ক্ষমা করা হলো না, ফলে সে জাহান্নামে প্রবেশ করল এবং আল্লাহ তাকে তাঁর রহমত থেকে দূর করে দিলেন; আপনি বলুন: 'আমিন', আমি বললাম: 'আমিন'।"
(খণ্ড: ১)
ফাদায়িলু রামাদান লি-ইবনি শাহীন
(পৃষ্ঠা: ১২৯)
2- حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ صَاعِدٍ، وَجَعْفَرُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ - يُعْرَفُ بِابْنِ أَبِي الصَّعْوِ - الصَّيْدَلَانِيُّ، قَالَا: حَدَّثَنَا أَبُو الْأَشْعَثِ أَحْمَدُ بْنُ الْمِقْدَامِ، حَدَّثَنَا سَلَمَةُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الرَّهَاوِيُّ ⦗ص: 130⦘ وَقَالَ جَعْفَرٌ: سَلْمٌ - حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عُبَيْدَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، عَنْ عَمَّارِ بْنِ يَاسِرٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم صَعِدَ الْمِنْبَرَ فَقَالَ: آمِينَ. آمِينَ. آمِينَ، ثُمَّ قَالَ: مَنْ أَدْرَكَ وَالِدَيْهِ أَوْ أَحَدَهُمَا فَلَمْ يُغْفَرْ لَهُ فَأَبْعَدَهُ اللَّهُ، قُولُوا: آمِينَ. وَمَنْ أَدْرَكَ رَمَضَانَ فَلَمْ يُغْفَرْ لَهُ فَأَبْعَدَهُ اللَّهُ، قُولُوا: آمِينَ. وَمَنْ ذُكِرْتُ عِنْدَهُ فَلَمْ يُصَلِّ عَلَيَّ فَأَبْعَدَهُ اللَّهُ، قُولُوا: آمِينَ.
২- ইয়াহইয়া বিন মুহাম্মাদ বিন সাঈদ এবং জাফর বিন মুহাম্মাদ বিন ইবরাহিম—যিনি ইবনু আবিস সাও আস-সাইদালানি নামে পরিচিত—আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তাঁরা বলেন: আবুল আশআস আহমাদ বিন আল-মিকদাম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সালামাহ বিন আব্দুল্লাহ আর-রাহায়ি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ⦗পৃষ্ঠা: ১৩০⦘ এবং জাফর বলেন: সালম—আমাদের নিকট ইবনু আবি উবাইদাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি তাঁর দাদা থেকে, তিনি আম্মার বিন ইয়াসির থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী (আল্লাহর শান্তি ও রহমত তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) মিম্বরে আরোহণ করলেন এবং বললেন: আমীন। আমীন। আমীন। অতঃপর তিনি বললেন: যে ব্যক্তি তার পিতামাতা অথবা তাঁদের কোনো একজনকে পেল অথচ তাকে ক্ষমা করা হলো না, আল্লাহ তাকে (রহমত থেকে) দূরে সরিয়ে দিন। আপনারা বলুন: আমীন। আর যে ব্যক্তি রমজান মাস পেল অথচ তাকে ক্ষমা করা হলো না, আল্লাহ তাকে দূরে সরিয়ে দিন। আপনারা বলুন: আমীন। আর যার নিকট আমার কথা উল্লেখ করা হলো অথচ সে আমার প্রতি দরুদ পাঠ করল না, আল্লাহ তাকে দূরে সরিয়ে দিন। আপনারা বলুন: আমীন।
(খণ্ড: ১)
ফাদায়িলু রামাদান লি-ইবনি শাহীন
(পৃষ্ঠা: ১৩০)
3- حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ الْخُرَاسَانِيُّ، حَدَّثَنَا عَمِّي يَعْنِي: عَلِيَّ بْنَ عَبْدِ الْعَزِيزِ، حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْفَرْوِيُّ (ح)
وَحَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ أَيْضًا، حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ هَانِئٍ، حَدَّثَنَا
⦗ص: 131⦘ ابْنُ أَبِي مَرْيَمَ (ح)
وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ النَّيْسَابُورِيُّ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدٍ بنُ إِسْحَاقُ الصَّغَانِيُّ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي مَرْيَمَ، قَالَا: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ هِلَالٍ مَوْلَى بَنِي جُمَحٍ الْمَدَنِيُّ (ح)
وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ الْقَاضِي، حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مَنْصُورٍ، وَمُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ، قَالَا: حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي مَرْيَمَ، قَالَ: وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ هِلَالٍ، عَنْ سَعْدِ بْنِ إِسْحَاقَ بْنِ كَعْبِ بْنِ عُجْرَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ كَعْبِ بْنِ عُجْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم خَرَجَ يَوْمًا إِلَى الْمِنْبَرِ فَقَالَ حِينَ ارْتَقَى دَرَجَةً: آمِينَ ، ثُمَّ ارْتَقَى الْأُخْرَى، فَقَالَ: آمِينَ. ثُمَّ ارْتَقَى الثَّالِثَةَ، فَقَالَ: آمِينَ فَلَمَّا نَزَلَ عَنِ الْمِنْبَرِ وَفَرَغَ، قُلْنَا لَهُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، لَقَدْ سَمِعْنَا مِنْكَ كَلَامًا الْيَوْمَ مَا كُنَّا نَسْمَعُهُ قَبْلَ الْيَوْمِ. قَالَ: وَسَمِعْتُمُوهُ؟ . قَالُوا: نَعَمْ. قَالَ: إِنَّ جِبْرِيلَ عَرَضَ لِي حِينَ ارْتَقَيْتُ دَرَجَةً فَقَالَ - يَعْنِي بَعُدَ مَنْ أَدْرَكَ أَبَوَيْهِ - فَلَمْ يَدْخُلَ الْجَنَّةَ. فَقُلْتُ: آمِينَ. ثُمَّ قَالَ: بَعُدَ مَنْ ذُكِرْتَ عِنْدَهُ فَلَمْ يُصَلِّ عَلَيْكَ. فَقُلْتُ: آمِينَ. ثُمَّ قَالَ: بَعُدَ مَنْ أَدْرَكَ رَمَضَانَ، فَلَمْ يُغْفَرْ لَهُ. فَقُلْتُ: آمِينَ.
وَلَمْ يَقُلِ النَّيْسَابُورِيُّ فِي حَدِيثِهِ: وَسَمِعْتُمُوهُ؟ وَهِيَ لَفْظَةٌ
⦗ص: 132⦘ غَرِيبَةٌ، وَلَفْظُهُمْ قَرِيبٌ.
৩- আমাদের কাছে আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ আল-খুরাসানি হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের কাছে আমার চাচা অর্থাৎ আলী বিন আব্দুল আজিজ হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের কাছে ইসহাক বিন মুহাম্মদ আল-ফারভি হাদিস বর্ণনা করেছেন (হ)।
এবং আমাদের কাছে আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ পুনরায় হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের কাছে ইব্রাহিম বিন হানি হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের কাছে
⦗পৃষ্ঠা: ১৩১⦘ ইবনু আবি মারিয়াম হাদিস বর্ণনা করেছেন (হ)।
এবং আমাদের কাছে আবু বকর আন-নাইসাবুরি হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের কাছে মুহাম্মদ বিন ইসহাক আস-সাগানি হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের কাছে ইবনু আবি মারিয়াম হাদিস বর্ণনা করেছেন। তারা উভয়ে বলেন: আমাদের কাছে বনু জুমাহ-এর আযাদকৃত দাস মুহাম্মদ বিন হিলাল আল-মাদানি হাদিস বর্ণনা করেছেন (হ)।
এবং আমাদের কাছে মুহাম্মদ বিন ইউসুফ আল-কাজি হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের কাছে আহমদ বিন মানসুর ও মুহাম্মদ বিন ইসহাক হাদিস বর্ণনা করেছেন। তারা বলেন: আমাদের কাছে ইবনু আবি মারিয়াম হাদিস বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আমাদের কাছে মুহাম্মদ বিন হিলাল হাদিস বর্ণনা করেছেন সাদ বিন ইসহাক বিন কাব বিন উজরাহ থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি তার দাদা কাব বিন উজরাহ থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) একদিন মিম্বারের দিকে বের হলেন। যখন তিনি প্রথম ধাপে উঠলেন তখন বললেন: আমিন। তারপর অন্য ধাপে উঠলেন এবং বললেন: আমিন। তারপর তৃতীয় ধাপে উঠলেন এবং বললেন: আমিন। যখন তিনি মিম্বার থেকে নামলেন এবং অবসর হলেন, তখন আমরা তাকে বললাম: হে আল্লাহর রাসুল! আজ আমরা আপনার নিকট থেকে এমন কথা শুনেছি যা ইতিপূর্বে কখনও শুনিনি। তিনি বললেন: তোমরা কি তা শুনেছ? তারা বললেন: হ্যাঁ। তিনি বললেন: আমি যখন মিম্বারের ধাপে উঠলাম তখন জিবরাইল (আ.) আমার সামনে উপস্থিত হলেন এবং বললেন—অর্থাৎ সে ব্যক্তি ধ্বংস হোক যে তার পিতা-মাতাকে বার্ধক্যে পেল অথচ (তাদের সেবা করে) জান্নাতে প্রবেশ করতে পারল না। তখন আমি বললাম: আমিন। তারপর তিনি বললেন: সে ব্যক্তি ধ্বংস হোক যার নিকট আপনার কথা উল্লেখ করা হলো অথচ সে আপনার ওপর দরুদ পাঠ করল না। তখন আমি বললাম: আমিন। এরপর তিনি বললেন: সে ব্যক্তি ধ্বংস হোক যে রমজান মাস পেল অথচ তাকে ক্ষমা করা হলো না। তখন আমি বললাম: আমিন।
নাইসাবুরি তার হাদিসে ‘তোমরা কি তা শুনেছ?’ কথাটি বলেননি। আর এটি একটি
⦗পৃষ্ঠা: ১৩২⦘ বিরল শব্দ, তবে তাদের বর্ণিত শব্দগুলো কাছাকাছি।
(খণ্ড: ১)
ফাদায়িলু রামাদান লি-ইবনি শাহীন
(পৃষ্ঠা: ১৩২)
4- حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ زِيَادٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مُصْعَبٍ الصُّورِيُّ، حَدَّثَنَا مُؤَمَّلٌ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ ثَابِتٍ، عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم جَاءَ فَصَعِدَ الْمِنْبَرَ فَقَالَ: آمِينَ. ثُمَّ قَالَ آمِينَ. ثُمَّ قَالَ آمِينَ، قَالَ: أَتَانِي جِبْرِيلُ فَقَالَ: مَنْ ذُكِرْتَ عِنْدَهُ فَلَمْ يُصَلِّ عَلَيْكَ، فَدَخَلَ النَّارَ فَأَبْعَدَهُ اللَّهُ، فَقُلْتُ: آمِينَ، وَمَنْ أَدْرَكَ أَحَدَ وَالِدَيْهِ فَدَخَلَ النَّارَ فَأَبْعَدَهُ اللَّهُ، فَقُلْتُ: آمِينَ. وَمَنْ أَدْرَكَ رَمَضَانَ فَلَمْ يُغْفَرْ لَهُ فَأَبْعَدَهُ اللَّهُ، فَقُلْتُ: آمِينَ.
৪- আমাদের নিকট আবদুল্লাহ ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু যিয়াদ বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট মুহাম্মাদ ইবনু মুসআব আস-সূরী বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট মুআম্মাল বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট হাম্মাদ ইবনু সালামাহ বর্ণনা করেছেন সাবিত থেকে, তিনি আনাস থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আসলেন এবং মিম্বরে আরোহণ করলেন, অতঃপর তিনি বললেন: আমীন। এরপর তিনি বললেন: আমীন। এরপর তিনি বললেন: আমীন। তিনি বললেন: জিবরীল আমার নিকট আসলেন এবং বললেন: যার নিকট আপনার নাম আলোচিত হলো কিন্তু সে আপনার ওপর দরুদ পাঠ করল না, অতঃপর সে জাহান্নামে প্রবেশ করল এবং আল্লাহ তাকে (রহমত থেকে) দূর করে দিলেন; আমি বললাম: আমীন। আর যে ব্যক্তি তার পিতামাতার কোনো একজনকে পেল, অতঃপর সে জাহান্নামে প্রবেশ করল এবং আল্লাহ তাকে দূর করে দিলেন; আমি বললাম: আমীন। আর যে ব্যক্তি রমজান মাস পেল অথচ তাকে ক্ষমা করা হলো না, অতঃপর সে জাহান্নামে প্রবেশ করল এবং আল্লাহ তাকে দূর করে দিলেন; আমি বললাম: আমীন।
(খণ্ড: ১)
ফাদায়িলু রামাদান লি-ইবনি শাহীন
(পৃষ্ঠা: ১৩৩)
5- حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ الْمِصْرِيُّ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ عُثْمَانَ السَّهْمِيُّ، حَدَّثَنِي عُبَيْدُ بْنُ صَدَقَةَ أَبُو سَعِيدٍ النَّصِيبِيُّ، حَدَّثَنَا مُعَاوِيَةُ بْنُ يَزِيدَ الْكِنْدِيُّ أَبُو الْقَاسِمِ، قَالَ: حَدَّثَنِي أَبُو نَافِعٍ الْمَدِينِيُّ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ الزُّهْرِيِّ، قَالَ: قَالَ أَنَسُ بْنُ مَالِكٍ رضي الله عنه: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَوْمًا عَلَى الْمِنْبَرِ: مَنْ أَدْرَكَ شَهْرَ رَمَضَانَ، ثُمَّ مَاتَ ولَمْ يُغْفَرْ لَهُ، فَإِلَى النَّارِ، فَقُلْتُ: أَبْعَدَهُ اللَّهُ، قَالَ: ثُمَّ قَالَ: مَنْ أَدْرَكَ أَحَدَ وَالِدَيْهِ، فَمَاتَ وَلَمْ يَبَرَّهُمَا فَإِلَى النَّارِ. قَالَ: قُلْتُ أَبْعَدَهُ اللَّهُ قَالَ: وَمَنْ ذُكِرْتُ عِنْدَهُ فَلَمْ يُصَلِّ عَلَيَّ فَمَاتَ، فَإِلَى النَّارِ. فَقَالَ: أَبْعَدَهُ اللَّهُ. فَلَمَّا نَزَلَ، قَامَ إِلَيْهِ أَبُو ذَرٍّ، فَقَالَ لَهُ: سَمِعْنَاكَ عَلَى الْمِنْبَرِ، تَقُولُ: آمِينَ. فَمِمَّ ذَلِكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ قَالَ: جِبْرِيلُ أَتَانِي.
৫- আলী ইবনে মুহাম্মদ আল-মিসরি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইয়াহইয়া ইবনে উসমান আস-সাহমি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, উবায়দ ইবনে সাদাকা আবু সাঈদ আন-নাসিবি আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, মুয়াবিয়া ইবনে ইয়াজিদ আল-কিন্দি আবুল কাসিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু নাফে আল-মাদিনি আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, ইবনে শিহাব আজ-জুহরি থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আনাস ইবনে মালিক (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেছেন: রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) একদিন মিম্বারের ওপর দাঁড়িয়ে বললেন: "যে ব্যক্তি রমজান মাস পেল, অতঃপর সে মারা গেল অথচ তাকে ক্ষমা করা হলো না, সে আগুনের অধিবাসী হবে। আমি বললাম: আল্লাহ তাকে (রহমত হতে) দূর করে দিন।" তিনি বলেন: অতঃপর তিনি বললেন: "যে ব্যক্তি তার পিতামাতার কোনো একজনকে পেল, অতঃপর সে মারা গেল অথচ তাদের সাথে সদ্ব্যবহার করল না, সে আগুনের অধিবাসী হবে।" তিনি বলেন: "আমি বললাম: আল্লাহ তাকে দূর করে দিন।" তিনি আরও বললেন: "যার নিকট আমার নাম উল্লেখ করা হলো অথচ সে আমার ওপর দরুদ পাঠ করল না এবং এমতাবস্থায় সে মারা গেল, সে আগুনের অধিবাসী হবে।" তখন তিনি বললেন: "আল্লাহ তাকে দূর করে দিন।" অতঃপর যখন তিনি মিম্বার হতে নামলেন, আবু যার তাঁর নিকট দাঁড়িয়ে আরজ করলেন: "আমরা আপনাকে মিম্বারের ওপর ‘আমীন’ বলতে শুনেছি। হে আল্লাহর রাসুল! তা কিসের জন্য ছিল?" তিনি বললেন: "জিবরাঈল আমার নিকট এসেছিলেন।"
(খণ্ড: ১)
ফাদায়িলু রামাদান লি-ইবনি শাহীন
(পৃষ্ঠা: ১৩৩)
6- حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ سَلْمَانَ، حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ، حَدَّثَنِي إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ يُوسُفَ، حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا ⦗ص: 134⦘ عُمَارَةُ، وَحَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ ثَابِتٍ، عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم صَعِدَ الْمِنْبَرَ، فَقَالَ: آمِينَ. آمِينَ. فَلَمَّا نَزَلَ قِيلَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، قُلْتَ الْيَوْمَ شَيْئًا لَمْ تَقُلْهُ، قُلْتَ: آمِينَ. آمِينَ. قَالَ: أَتَانِي جِبْرِيلُ عليه السلام فَقَالَ: يَا مُحَمَّدُ، مَنْ أَدْرَكَ رَمَضَانَ فَلَمْ يُغْفَرْ لَهُ فَأَبْعَدَهُ اللَّهُ. فَقُلْتُ: آمِينَ.
৬- আহমাদ বিন সালমান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হাসান বিন আলী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইব্রাহীম বিন মুহাম্মদ বিন ইউসুফ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, মূসা বিন ইসমাঈল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ⦗পৃষ্ঠা: ১৩৪⦘ উমারা ও হাম্মাদ বিন সালামাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সাবিত থেকে, তিনি আনাস থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিম্বারে আরোহণ করলেন এবং বললেন: আমীন, আমীন। যখন তিনি মিম্বার থেকে নামলেন, তখন তাঁকে বলা হলো: হে আল্লাহর রাসূল, আজ আপনি এমন কিছু বললেন যা ইতিপূর্বে কখনও বলেননি; আপনি বললেন: আমীন, আমীন। তিনি বললেন: জিবরীল আলাইহিস সালাম আমার নিকট আসলেন এবং বললেন: হে মুহাম্মদ, যে ব্যক্তি রমজান মাস পেল অথচ তাকে ক্ষমা করা হলো না, আল্লাহ তাকে (তাঁর রহমত থেকে) দূর করে দিন। তখন আমি বললাম: আমীন।
(খণ্ড: ১)
ফাদায়িলু রামাদান লি-ইবনি শাহীন
(পৃষ্ঠা: ১৩৪)
7- حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ زِيَادٍ النَّيْسَابُورِيُّ، حَدَّثَنَا حَاجِبُ بْنُ سُلَيْمَانَ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي فُدَيْكٍ، حَدَّثَنَا سَلَمَةُ بْنُ وَرْدَانَ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ: رَقِيَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْمِنْبَرَ، فَارْتَقَى دَرَجَةً، ثُمَّ قَالَ: آمِينَ. ثُمَّ ارْتَقَى دَرَجَةً أُخْرَى، ثُمَّ قَالَ: آمِينَ. ثُمَّ ارْتَقَى دَرَجَةً أُخْرَى، ثُمَّ قَالَ: آمِينَ. ثُمَّ اسْتَوَى فَجَلَسَ، فَقَالَ أَصْحَابُهُ: عَلَى مَا أَمَّنْتَ يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ قَالَ: أَتَانِي جِبْرِيلُ، فَقَالَ لِي: رَغِمَ أَنْفُ رَجُلٍ ذُكِرْتَ عِنْدَهُ فَلَمْ يُصَلِّ عَلَيْكَ. قَالَ: فَقُلْتُ آمِينَ. ثُمَّ قَالَ: رَغِمَ أَنْفُ رَجُلٍ أَدْرَكَ أَبَوَيْهِ أَوْ أَحَدَهُمَا، فَلَمْ يَدْخُلَ الْجَنَّةَ. فَقُلْتُ: آمِينَ. قَالَ: رَغِمَ أَنْفُ رَجُلٍ أَدْرَكَ رَمَضَانَ فَلَمْ يُغْفَرْ لَهُ. فَقُلْتُ: آمِينَ.
৭- আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে যিয়াদ আন-নাইসাবুরী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হাজিব ইবনে সুলাইমান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইবনে আবি ফুদাইক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সালামাহ ইবনে ওয়ারদান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আনাস ইবনে মালিক থেকে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মিম্বারে আরোহণ করলেন। তিনি এক ধাপ উপরে উঠলেন, অতঃপর বললেন: আমীন। অতঃপর তিনি আরেকটি ধাপ উপরে উঠলেন, অতঃপর বললেন: আমীন। অতঃপর তিনি আরও একটি ধাপ উপরে উঠলেন, অতঃপর বললেন: আমীন। এরপর তিনি স্থির হয়ে বসলেন। তখন তাঁর সাহাবীগণ বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কিসের প্রেক্ষিতে আমীন বললেন? তিনি বললেন: জিবরীল আমার নিকট আসলেন এবং বললেন: সেই ব্যক্তির নাক ধূলামলিন হোক যার নিকট আপনার আলোচনা করা হয়েছে অথচ সে আপনার প্রতি দরুদ পাঠ করেনি। তিনি (রাসূল) বললেন: আমি বললাম, আমীন। অতঃপর তিনি বললেন: সেই ব্যক্তির নাক ধূলামলিন হোক যে তার পিতামাতাকে অথবা তাদের একজনকে পেল অথচ সে (তাদের মাধ্যমে) জান্নাতে প্রবেশ করতে পারল না। আমি বললাম: আমীন। তিনি বললেন: সেই ব্যক্তির নাক ধূলামলিন হোক যে রমজান মাস পেল অথচ তাকে ক্ষমা করা হলো না। আমি বললাম: আমীন।
(খণ্ড: ১)
ফাদায়িলু রামাদান লি-ইবনি শাহীন
(পৃষ্ঠা: ১৩৫)
8- حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ زِيَادٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْمَلِكِ، (ح) وَحَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ سَلْمَانَ، حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، وَمُعَاذُ بْنُ الْمُثَنَّى، قَالُوا: حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ بْنِ قَعْنَبٍ، (ح) وَحَدَّثَنَا أَحْمَدُ، أَيْضًا، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ، وَالْقَعْنَبِيُّ، قَالَا: حَدَّثَنَا سَلَمَةُ بْنُ وَرْدَانَ، قَالَ: سَمِعْتُ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ، يَقُولُ: ارْتَقَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلَى دَرَجَةِ الْمِنْبَرِ، فَقَالَ: آمِينَ. فَقَالَ أَصْحَابُهُ: عَلَى مَا أَمَّنْتَ يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ قَالَ: أَتَانِي جِبْرِيلُ فَقَالَ: رَغِمَ أَنْفُ امْرِئٍ أَدْرَكَ رَمَضَانَ، فَلَمْ يُغْفَرْ لَهُ. فَقُلْتُ: آمِينَ. لَفْظُ أَحْمَدَ.
৮- আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ ইবন যিয়াদ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবন আবদুল মালিক, (হ) এবং আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমদ ইবন সালমান, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইবরাহীম ইবন আবদুল্লাহ এবং মুয়ায ইবনুল মুসান্না, তাঁরা বললেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ ইবন মাসলামাহ ইবন কানাব, (হ) এবং আহমদও আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল মালিক ইবন মুহাম্মদ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু নুয়াইম এবং কানাবী, তাঁরা উভয়ে বললেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সালামাহ ইবন ওয়ারদান, তিনি বলেন: আমি আনাস ইবন মালিককে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিম্বরের সিঁড়িতে আরোহণ করলেন, অতঃপর বললেন: আমীন। তখন তাঁর সাহাবীগণ বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কিসের ওপর আমীন বললেন? তিনি বললেন: জিবরীল আমার নিকট আসলেন এবং বললেন: সেই ব্যক্তির নাক ধূলিধূসরিত হোক যে রমজান মাস পেল অথচ তাকে ক্ষমা করা হলো না। তখন আমি বললাম: আমীন। এটি আহমদের বর্ণিত শব্দবিন্যাস।
(খণ্ড: ১)
ফাদায়িলু রামাদান লি-ইবনি শাহীন
(পৃষ্ঠা: ১৩৬)
9- حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مَرْزُوقٍ، حَدَّثَنِي مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا أَبُو يَحْيَى، صَاحِبُ الطَّعَامِ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُنْكَدِرِ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم لَمَّا بَنَى الْمِنْبَرَ جَعَلَ لَهُ ثَلَاثَ عَتَبَاتٍ، فَلَمَّا صَعِدَ الْعَتَبَةَ الْأُولَى، صَعِدَ جِبْرِيلُ قُدَّامَهُ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: آمِينَ. فَلَمَّا صَعِدَ الثَّانِيَةَ قَالَ: آمِينَ. حَتَّى إِذَا صَعِدَ الثَّالِثَةَ قَالَ: آمِينَ،
فَقَالَ الْمُسْلِمُونَ: يَا نَبِيَّ اللَّهِ، رَأَيْنَاكَ تَقُولُ: آمِينَ. آمِينَ، وَلَا نَرَى أَحَدًا؟ قَالَ: جِبْرِيلُ عليه السلام صَعِدَ قُدَّامِي الْعَتَبَةَ الْأُولَى قَالَ: يَا مُحَمَّدُ. قُلْتُ: لَبَّيْكَ وَسَعْدَيْكَ. قَالَ: مَنْ أَدْرَكَ أَبَوَيْهِ، أَوْ أَحَدَهُمَا فَمَاتَ، فَدَخَلَ النَّارَ، فَأَبْعَدَهُ اللَّهُ. قُلْ: آمِينَ. فَقُلْتُ: آمِينَ. فَلَمَّا صَعِدَ الثَّانِيَةَ. قَالَ: يَا مُحَمَّدُ. قُلْتُ: لَبَّيْكَ وَسَعْدَيْكَ. قَالَ: وَمَنْ أَدْرَكَ رَمَضَانَ فَصَامَ نَهَارَهُ، وَقَامَ لَيْلَهُ، فَمَاتَ وَلَمْ يُغْفَرْ لَهُ، فَدَخَلَ النَّارَ، فَأَبْعَدَهُ اللَّهُ. قُلْ: آمِينَ. قُلْتُ: آمِينَ. فَلَمَّا صَعِدَ الْعَتَبَةَ الثَّالِثَةَ قَالَ:
⦗ص: 137⦘ يَا مُحَمَّدُ، مَنْ ذُكِرْتَ عِنْدَهُ فَلَمْ يُصَلِّ عَلَيْكَ وَيُسَلِّمْ عَلَيْكَ فَمَاتَ، فَدَخَلَ النَّارَ، فَأَبْعَدَهُ اللَّهُ. قُلْ: آمِينَ. فَقُلْتُ: آمِينَ صلى الله عليه وسلم.
৯- মুহাম্মদ ইবন মারযূক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মূসা ইবন ইসমাঈল আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবূ ইয়াহইয়া (খাদ্য ব্যবসায়ী) আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি মুহাম্মদ ইবনুল মুনকাদির থেকে, তিনি জাবির ইবন আবদুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন) যখন মিম্বর নির্মাণ করলেন, তখন তাতে তিনটি ধাপ নির্ধারণ করলেন। এরপর যখন তিনি প্রথম ধাপে আরোহণ করলেন, জিবরাঈল (তাঁর ওপর শান্তি বর্ষিত হোক) তাঁর সম্মুখে আরোহণ করলেন, তখন নবী (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন) বললেন: আমীন। এরপর যখন তিনি দ্বিতীয় ধাপে আরোহণ করলেন, তখন তিনি বললেন: আমীন। পরিশেষে যখন তিনি তৃতীয় ধাপে আরোহণ করলেন, তখন বললেন: আমীন।
তখন মুসলিমগণ বললেন: হে আল্লাহর নবী, আমরা আপনাকে 'আমীন, আমীন' বলতে দেখলাম, অথচ আমরা কাউকে দেখতে পেলাম না? তিনি বললেন: জিবরাঈল (তাঁর ওপর শান্তি বর্ষিত হোক) প্রথম ধাপে আমার সম্মুখে আরোহণ করলেন এবং বললেন: হে মুহাম্মদ! আমি বললাম: আমি আপনার সেবায় উপস্থিত ও সদা প্রস্তুত। তিনি বললেন: যে ব্যক্তি তার পিতা-মাতাকে অথবা তাদের যে কোনো একজনকে পেল অথচ মারা গেল এবং জাহান্নামে প্রবেশ করল, ফলে আল্লাহ তাকে তাঁর রহমত থেকে দূর করে দিলেন; আপনি বলুন: আমীন। তখন আমি বললাম: আমীন। এরপর যখন তিনি দ্বিতীয় ধাপে আরোহণ করলেন, তখন বললেন: হে মুহাম্মদ! আমি বললাম: আমি আপনার সেবায় উপস্থিত ও সদা প্রস্তুত। তিনি বললেন: আর যে ব্যক্তি রমজান মাস পেল, অতঃপর দিনে রোজা রাখল এবং রাতে ইবাদতে দণ্ডায়মান হলো, এরপর সে মারা গেল অথচ তাকে ক্ষমা করা হলো না এবং সে জাহান্নামে প্রবেশ করল, ফলে আল্লাহ তাকে তাঁর রহমত থেকে দূর করে দিলেন; আপনি বলুন: আমীন। আমি বললাম: আমীন। এরপর যখন তিনি তৃতীয় ধাপে আরোহণ করলেন, তখন তিনি বললেন:
⦗পৃষ্ঠা: ১৩৭⦘ হে মুহাম্মদ, যার নিকট আপনার নাম উল্লেখ করা হলো কিন্তু সে আপনার ওপর দরূদ ও সালাম পাঠ করল না, এরপর সে মারা গেল এবং জাহান্নামে প্রবেশ করল, ফলে আল্লাহ তাকে তাঁর রহমত থেকে দূর করে দিলেন; আপনি বলুন: আমীন। তখন আমি বললাম: আমীন (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন)।
(খণ্ড: ১)
ফাদায়িলু রামাদান লি-ইবনি শাহীন
(পৃষ্ঠা: ১৩৭)
10- حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا شَيْبَانُ بْنُ فَرُّوخٍ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، أَخْبَرَنَا أَبَانُ، عَنْ أَبِي الصِّدِّيقِ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: إِنَّلِلَّهِ عز وجل، فِي كُلِّ يَوْمٍ مِنْ رَمَضَانَ عُتَقَاءَ مِنَ النَّارِ، وَلِكُلِّ مُسْلِمٍ وَمَسْلَمَةٍ دَعْوَةٌ مُسْتَجَابَةٌ.
১০- আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, শায়বান বিন ফাররূখ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হাম্মাদ বিন সালামাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু আস-সিদ্দিক থেকে বর্ণিত, আবু সাঈদ (রা.) থেকে বর্ণিত যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: নিশ্চয় মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর জন্য রমজানের প্রতিটি দিনে জাহান্নাম থেকে মুক্তিপ্রাপ্ত একদল লোক রয়েছে এবং প্রত্যেক মুসলিম পুরুষ ও মুসলিম নারীর জন্য একটি করে কবুলযোগ্য দোয়া রয়েছে।
(খণ্ড: ১)
ফাদায়িলু রামাদান লি-ইবনি শাহীন
(পৃষ্ঠা: ১৪০)
11- حَدَّثَنَا يُوسُفُ بْنُ يَعْقُوبِ بْنِ إِسْحَاقَ بْنِ بُهْلُولٍ، حَدَّثَنَا جَدِّي إِسْحَاقُ بْنُ بُهْلُولٍ، حَدَّثَنَا أَبِي يَعْنِي بُهْلُولَ بْنَ حَسَّانَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ يُونُسَ بْنِ خَبَّابٍ، [عن يونسَ بنِ خبابً] (1) ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: إِذَا كَانَ أَوَّلُ لَيْلَةٍ مِنْ رَمَضَانَ فُتِّحَتْ أَبْوَابُ الْجِنَّانِ كُلُّهَا، لَا يُغْلَقُ مِنْهَا بَابٌ وَاحِدٌ الشَّهْرَ كُلَّهُ، وَغُلِّقَتْ أَبْوَابُ النِّيرَانِ، فَلَمْ يُفْتَحْ مِنْهَا بَابٌ وَاحِدٌ الشَّهْرَ كُلَّهُ، وَغُلَّتْ عُتَاةُ الشَّيَاطِينِ، وَنَادَى مُنَادٍ فِي السَّمَاءِ الدُّنْيَا كُلَّ لَيْلَةٍ إِلَى انْفِجَارِ الصُّبْحِ: يَا بَاغِيَ الْخَيْرِ هَلُمَّ، وَيَا بَاغِيَ الشَّرِ انْتَهِ، هَلْ مِنْ مُسْتَغْفِرٍ فَيُغْفَرُ لَهُ، هَلْ مِنْ تَائِبٍ فَيُتَابُ عَلَيْهِ، هَلْ مِنْ سَائِلٍ فَيُعْطَى سُؤْلَهُ، هَلْ مِنْ دَاعٍ فَيُسْتَجَابُ لَهُ، وَلِلَّهِ عز وجل عِنْدَ وَقْتِ فِطْرِ كُلِّ لَيْلَةٍ عُتَقَاءُ يَعْتَقُونَ مِنَ النَّارِ.
--------------------------------------------
১১- ইউসুফ ইবনে ইয়াকুব ইবনে ইসহাক ইবনে বুহলুল আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আমার দাদা ইসহাক ইবনে বুহলুল আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আমার পিতা অর্থাৎ বুহলুল ইবনে হাসান আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি মুহাম্মদ ইবনে ইউনুস ইবনে খাব্বাব থেকে, [ইউনুস ইবনে খাব্বাব থেকে] (১), তিনি সাঈদ ইবনে জুবায়ের থেকে, তিনি ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "যখন রমযানের প্রথম রাত আসে, তখন জান্নাতের সকল দরজা খুলে দেওয়া হয়, পুরো মাসে সেখান থেকে একটি দরজাও বন্ধ করা হয় না। আর জাহান্নামের দরজাসমূহ বন্ধ করে দেওয়া হয়, পুরো মাসে সেখান থেকে একটি দরজাও খোলা হয় না। আর অবাধ্য শয়তানদেরকে শৃঙ্খলিত করা হয়। এবং দুনিয়ার আকাশে একজন ঘোষক প্রতি রাতে সুবহে সাদিক পর্যন্ত এই বলে ঘোষণা করতে থাকেন: 'হে কল্যাণের অন্বেষণকারী, এগিয়ে এসো; হে অকল্যাণের অন্বেষণকারী, বিরত হও। ক্ষমা প্রার্থনাকারী কেউ আছে কি, যাকে ক্ষমা করা হবে? তাওবাকারী কেউ আছে কি, যার তাওবা কবুল করা হবে? যাঞ্চাকারী কেউ আছে কি, যাকে তার প্রার্থনা অনুযায়ী দান করা হবে? দোয়া করার মতো কেউ আছে কি, যার দোয়া কবুল করা হবে?' আর মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রতি রাতে ইফতারের সময় অনেক ব্যক্তিকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেওয়া হয়।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফাদায়িলু রামাদান লি-ইবনি শাহীন
(পৃষ্ঠা: ১৪০)
12- حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَعِيدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْحَرَّانِيُّ بِالرَّقَّةِ، ⦗ص: 141⦘ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدِ اللَّهِ الْقُرْدُوَانِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ سَابِقٍ يَعْنِي الْبَرْبَرِيَّ عَنْ أَبَانَ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: إِنَّ أَبْوَابَ الْجِنَّانِ تُفْتَحُ فِي أَوَّلِ لَيْلَةٍ مِنْ رَمَضَانَ إِلَى آخِرِ لَيْلَةٍ مِنْهُ، فَلَا يُطْبَقُ مِنْهَا بَابٌ، وَتُغْلَقُ أَبْوَابُ جَهَنَّمَ مِنْ أَوَّلِ رَمَضَانَ إِلَى آخِرِ لَيْلَةٍ مِنْهُ، فَلَا يُفْتَحُ مِنْهَا بَابٌ، وَتُغَلُّ فِيهِ مَرَدَةُ الشَّيَاطِينِ لِحَقِّ رَمَضَانَ وَحُرْمَتِهِ، وَيَبْعَثُ اللَّهُ عز وجل مُنَادِيًا يُنادِي فِي السَّمَاءِ الدُّنْيَا كُلَّ لَيْلَةٍ مِنْ غُرُوبِ الشَّمْسِ إِلَى طُلُوعِ الْفَجْرِ: يَا بَاغِيَ الْخَيْرِ، هَلُمَّ مِنْ دَاعٍ يُسْتَجَبْ لَهُ، مِنْ سَائِلٍ يُعْطَ سُؤْلَهُ، مِنْ مُسْتَغْفِرٍ يُغْفَرْ لَهُ، مِنْ تَائِبٍ يُتَبْ عَلَيْهِ، وَلِلَّهِ عز وجل عُتَقَاءُ عِنْدَ وَقْتِ فِطْرِ كُلِّ لَيْلَةٍ مِنْ رَمَضَانَ، عِبَادًا وَإِمَاءً.
১২- আমাদের নিকট মুহাম্মাদ ইবনে সাঈদ ইবনে আবদুর রহমান আল-হাররানী আর-রাক্কায় বর্ণনা করেছেন, ⦗পৃষ্ঠা: ১৪১⦘ আমাদের নিকট মুহাম্মাদ ইবনে উবাইদুল্লাহ আল-কুরদুওয়ানি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার পিতা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন সাবিক অর্থাৎ আল-বারবারি থেকে, তিনি আবান থেকে, তিনি সাঈদ ইবনে জুবায়ের থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: নিশ্চয়ই রমজানের প্রথম রাত থেকে এর শেষ রাত পর্যন্ত জান্নাতের দরজাসমূহ খুলে দেওয়া হয়, ফলে তার একটি দরজাও আর বন্ধ করা হয় না। এবং রমজানের প্রথম থেকে এর শেষ রাত পর্যন্ত জাহান্নামের দরজাসমূহ বন্ধ করে দেওয়া হয়, ফলে তার একটি দরজাও আর খোলা হয় না। এবং এই মাসে রমজানের হক ও এর সম্মানের কারণে বিদ্রোহী শয়তানদের শৃঙ্খলিত করা হয়। আর আল্লাহ আয্যা ওয়া জাল্লা প্রতি রাতে সূর্যাস্ত থেকে ফজর উদয় হওয়া পর্যন্ত দুনিয়ার আকাশে একজন ঘোষণাকারীকে প্রেরণ করেন যে ঘোষণা করতে থাকে: হে কল্যাণের অন্বেষী, অগ্রসর হও! কোনো দোয়াকারী আছে কি যার দোয়া কবুল করা হবে? কোনো যাঞ্চাকারী আছে কি যাকে তার চাওয়া প্রদান করা হবে? কোনো ক্ষমা প্রার্থনাকারী আছে কি যাকে ক্ষমা করা হবে? কোনো তাওবাকারী আছে কি যার তাওবা কবুল করা হবে? আর রমজানের প্রতি রাতে ইফতারের সময় আল্লাহ আয্যা ওয়া জাল্লার নিকট জাহান্নাম হতে মুক্ত অনেক বান্দা ও বান্দী থাকে।
(খণ্ড: ১)
ফাদায়িলু রামাদান লি-ইবনি শাহীন
(পৃষ্ঠা: ১৪২)
13- حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ نَيْرُوزَ الْأَنْمَاطِيُّ، حَدَّثَنَا جَعْفَرُ بْنُ مُحَمَّدٍ يَعْنِي ابْنَ الْفُضَيْلِ حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ الْوَلِيدِ الْحِمْصِيُّ، حَدَّثَنَا ابْنُ ثَوْبَانَ، عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: إِنَّ الْجَنَّةَ تُزَخْرَفُ فِي شَهْرِ رَمَضَانَ مِنْ رَأْسِ الْحَوْلِ إِلَى الْحَوْلِ الْمُقْبِلِ، فَإِذَا كَانَ أَوَّلُ يَوْمٍ مِنْ شَهْرِ رَمَضَانَ، هَبَّتْ رِيحٌ مِنْ تَحْتِ الْعَرْشِ، فَشَقَّقَتْ وَرَقَ الْجَنَّةِ عَنِ الْحُورِ الْعِينِ، فَقُلْنَ: يَا رَبِّ، اجْعَلْ لَنَا مِنْ أَزْوَاجِنَا مَا تَقَرُّ أَعْيُنُنَا بِهِمْ، وَتَقَرُّ أَعْيُنُهُمْ بِنَا.
১৩- মুহাম্মদ ইবনে ইব্রাহিম ইবনে নাইরুজ আল-আনমাতি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, জাফর ইবনে মুহাম্মদ অর্থাৎ ইবনুল ফুদাইল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ওয়ালিদ ইবনুল ওয়ালিদ আল-হিমসি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইবনে সাওবান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আমর ইবনে দিনার থেকে বর্ণিত, ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: নিশ্চয়ই রমজান মাসের জন্য জান্নাতকে বছরের শুরু থেকে পরবর্তী বছর পর্যন্ত সুসজ্জিত করা হয়। অতঃপর যখন রমজান মাসের প্রথম দিন আসে, তখন আরশের নিচ থেকে একটি বাতাস প্রবাহিত হয়, যা জান্নাতের গাছের পাতাগুলোকে ডাগরচক্ষু হুরদের ওপর দিয়ে আন্দোলিত করে। তখন তারা বলে: হে আমাদের রব! আমাদের জন্য আমাদের স্বামীদের মধ্য থেকে এমন জীবনসঙ্গী নির্ধারণ করুন যাদের দেখে আমাদের চোখ জুড়িয়ে যাবে এবং আমাদের দেখে তাদের চোখ জুড়িয়ে যাবে।
(খণ্ড: ১)
ফাদায়িলু রামাদান লি-ইবনি শাহীন
(পৃষ্ঠা: ১৪৩)
14- حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَكَّارٍ، حَدَّثَنَا أَبُو مَعْشَرٍ، عَنْ سَعِيدٍ - يَعْنِي الْمَقْبُرِيَّ - عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: نِعْمَ الشَّهْرُ شَهْرُ رَمَضَانَ تُفْتَحُ فِيهِ أَبْوَابُ الْجِنَّانِ، وَتُغْلَقُ فِيهِ أَبْوَابُ النَّارِ، وَتصفدُ فِيهِ الشَّيَاطِينُ، وَيُغْفَرُ فِيهِ إِلَّا لِمَنْ يَأْبَى، قَالُوا: وَمَنْ يَأْبَى يَا أَبَا هُرَيْرَةَ؟ فَقَالَ: الَّذِي يَأْبَى أَنْ يَسْتَغْفِرَ اللَّهَ عز وجل.
১৪- আবদুল্লাহ ইবন মুহাম্মদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবন বাক্কার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু মা'শার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সাঈদ—অর্থাৎ আল-মাকবুরী—হতে বর্ণিত, তিনি আবু হুরায়রা হতে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: রমজান মাস কতই না চমৎকার মাস! এতে জান্নাতের দরজাগুলো খুলে দেওয়া হয়, জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়, শয়তানদেরকে শেকলবদ্ধ করা হয় এবং এতে ক্ষমা করা হয়, তবে যে অস্বীকার করে তাকে ছাড়া। তারা জিজ্ঞেস করল: হে আবু হুরায়রা! কে অস্বীকার করে? তিনি বললেন: যে ব্যক্তি মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করতে অস্বীকার করে।
(খণ্ড: ১)
ফাদায়িলু রামাদান লি-ইবনি শাহীন
(পৃষ্ঠা: ১৪৪)
15- حَدَّثَنَا خَيْثَمَةُ بْنُ سُلَيْمَانَ بْنِ حَيْدَرَةَ الْقُرَشِيُّ، بِأَطْرَابُلْسَ، حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ الْفَرَجِ الْحِمْصِيُّ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ الْعَطَّار (1) ، حَدَّثَنَا سَلَّامُ بْنُ سَلْم، عَنْ عَلِيِّ بْنِ زَيْدِ بْنِ جُدْعَانَ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيِّبِ، عَنْ سَلْمَانَ الْفَارِسِيِّ، قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: قَدْ أَظَلَّكُمْ شَهْرُ رَمَضَانَ، فَصِيَامُهُ فَرِيضَةٌ، وَقِيَامُهُ تَطَوَّعٌ، فَمَنْ أَدَّى فِي شَهْرِ رَمَضَانَ فَرِيضَةً فَكَأَنَّمَا أَدَّى سَبْعِينَ فَرِيضَةً فِي غَيْرِ رَمَضَانَ، وَمَنْ تَطَوَّعَ فِيهِ بِتَطَوُّعٍ، فَكَأَنَّمَا تَطَوَّعَ بِسَبْعِينَ فِي غَيْرِ رَمَضَانَ، وَمَنْ صَامَ يَوْمًا مِنْ شَهْرِ رَمَضَانَ، كَانَ خَيْرًا لَهُ مِنْ أَلْفِ شَهْرٍ، لَيْسَ فِيهَا لَيْلَةُ الْقَدْرِ، وَمَنْ قَامَ لَيْلَةَ الْقَدْرِ، كَانَ خَيْرًا لَهُ مِنْ أَلْفِ شَهْرٍ، وَمَنْ صَامَ شَهْرَ رَمَضَانَ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا، غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ، وَمَا تَأَخَّرَ إِلَى مِثْلِهِ مِنَ الْحَوْلِ قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، وَمَا الْإِيمَانُ؟ قَالَ: الْإِيمَانُ فَرِيضَةٌ، وَالِاحْتِسَابُ بِمَا أَصَابَهُ: بَلْوَى، أَوْ نَصَبٌ، أَوْ جَزَعٌ، أَوْ ظُلْمٌ، أَوْ فَتْرَةٌ، أَوْ كَلَالٌ وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِنَّ خَيْرَ الْمُسْلِمِينَ وَأَحَبَّهُمْ إِلَى اللَّهِ عز وجل مَنْ قَدَرَ أَنْ يُفَطِّرَ صَائِمًا، فَإِنَّ جِبْرِيلَ يُسَلِّمُ عَلَيْهِ، وَيُصَافِحُهُ مَعَ الْمَلَائِكَةَ.
--------------------------------------------
১৫- খাইসামাহ ইবনে সুলাইমান ইবনে হায়দারাহ আল-কুরাশী ত্রিপোলিতে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আহমদ ইবনুল ফরাজ আল-হিমসি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আল-আত্তার (১) আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন সাল্লাম ইবনে সালম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আলী ইবনে যাইদ ইবনে জুদ'আন থেকে, তিনি সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব থেকে, তিনি সালমান আল-ফারিসি থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "রমজান মাস তোমাদের নিকট ছায়া দিচ্ছে (অর্থাৎ উপস্থিত হয়েছে), এর রোজা পালন করা ফরজ এবং এর কিয়াম (রাতের ইবাদত) নফল। যে ব্যক্তি রমজান মাসে একটি ফরজ আদায় করল, সে যেন রমজান ব্যতীত অন্য সময়ে সত্তরটি ফরজ আদায় করল। আর যে এতে একটি নফল কাজ করল, সে যেন রমজান ব্যতীত অন্য সময়ে সত্তরটি নফল আদায় করল। যে ব্যক্তি রমজানের একটি দিন রোজা রাখল, তা তার জন্য এমন এক হাজার মাস অপেক্ষা উত্তম যাতে লাইলাতুল কদর নেই। আর যে ব্যক্তি লাইলাতুল কদরে কিয়াম করল, তা তার জন্য এক হাজার মাস অপেক্ষা উত্তম। যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে ও সওয়াবের আশায় রমজানের রোজা রাখল, তার পূর্ববর্তী গুনাহ এবং পরবর্তী বছরের অনুরূপ সময় পর্যন্ত গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়।" আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! ঈমান কী? তিনি বললেন: "ঈমান হলো (আল্লাহর বিধানের প্রতি) বিশ্বাস ও আনুগত্য। আর ইহতিসাব (সওয়াবের আশা) হলো তার ওপর আপতিত হওয়া বিপদ, ক্লান্তি, অস্থিরতা, জুলুম, শিথিলতা বা অবসাদ সত্ত্বেও ধৈর্য ধরা।" আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেছেন: "মুসলমানদের মধ্যে সর্বোত্তম এবং মহান আল্লাহর নিকট সবচেয়ে প্রিয় সেই ব্যক্তি, যে কোনো রোজাদারকে ইফতার করানোর সামর্থ্য রাখে। কেননা জিবরাঈল তাকে সালাম দেন এবং ফেরেশতাদের সাথে নিয়ে তার সাথে করমর্দন করেন।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফাদায়িলু রামাদান লি-ইবনি শাহীন
(পৃষ্ঠা: ১৪৫)
16- حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي كَثِيرٍ الْفَارِسِيُّ، أَنْبَأَنَا عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ، عَنْ يُوسُفَ بْنِ زِيَادٍ، عَنْ هَمَّامِ بْنِ يَحْيَى، عَنْ عَلِيِّ بْنِ زَيْدٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيِّبِ، عَنْ سَلْمَانَ، قَالَ: خَطَبَنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي آخِرِ يَوْمٍ مِنْ شَعْبَانَ فَقَالَ: أَيُّهَا النَّاسُ، قَدْ أَظَلَّكُمْ شَهْرٌ عَظِيمٌ، شَهْرٌ مُبَارَكٌ، فِيهِ لَيْلَةٌ خَيْرٌ مِنْ أَلْفِ شَهْرٍ، جَعَلَ اللَّهُ صِيَامَهُ فَرِيضَةً، وَقِيَامَ لَيْلِهِ تَطَوُّعًا، مَنْ تَقَرَّبَ فِيهِ بِخَصْلَةٍ مِنَ الْخَيْرِ، كَانَ كَمَنْ أَدَّى فَرِيضَةً فِيمَا سِوَاهُ، وَمَنْ أَدَّى فَرِيضَةً كَانَ كَمَنْ أَدَّى سَبْعِينَ فَرِيضَةً فِيمَا سِوَاهُ، وَهُوَ شَهْرُ الصَّبْرِ، وَالصَّبْرُ ثَوَابُهُ الْجَنَّةُ، وَشَهْرُ الْمُوَاسَاةِ، وَشَهْرٌ يُزَادُ فِي رِزْقِ الْمُؤْمِنِ فِيهِ، مَنْ فَطَّرَ صَائِمًا كَانَ مَغْفِرَةً لِذُنُوبِهِ وَعِتْقَ رَقَبَتِهِ مِنَ النَّارِ، وَكَانَ لَهُ مِثْلُ أَجْرِهِ مِنْ غَيْرِ أَنْ يُنْتَقَصَ مِنْ أَجْرِهِ شيءٌ، قُلْنَا: يَا رَسُولَ اللَّهِ، وَلَيْسَ كُلُّنَا يَجِدُ مَا يُفَطِّرُ الصَّائِمَ، قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: يُعْطِي اللَّهُ عز وجل هَذَا الثَّوَابَ مَنْ فَطَّرَ صَائِمًا عَلَى مِذْقَةِ لَبَنٍ، أَوْ تمَرَةٍ، أَوْ شَرْبَةٍ مِنْ مَاءٍ، وَمَنْ أَشْبَعَ صَائِمًا سَقَاهُ اللَّهُ عز وجل مِنْ حَوْضِي شَرْبَةً لَا يَظْمَأُ بَعْدَهَا حَتَّى يَدْخُلَ الْجَنَّةَ، وَهُو شَهْرٌ أَوَّلُهُ رَحْمَةٌ، وَأَوْسَطُهُ مَغْفِرَةٌ، وَآخِرُهُ عِتْقٌ مِنَ النَّارِ، مَنْ خَفَّفَ عَنْ مَمْلُوكِهِ غَفَرَ اللَّهُ لَهُ، وَأَعْتَقَهُ مِنَ النَّارِ، وَاسْتَكْثِرُوا فِيهِ مِنْ أَرْبَعِ خِصَالٍ: خَصْلَتَيْنِ تُرْضُونَ بِهِمَا رَبَّكُمْ عز وجل، وَخَصْلَتَيْنِ لَا غِنَى بِكُمْ عَنْهُمَا. ⦗ص: 146⦘ فَأَمَّا الْخَصْلَتَانِ اللَّتَانِ تُرْضُونَ بِهِمَا رَبَّكُمْ عز وجل: شَهَادَةُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَتَسْتَغْفِرُونَهُ، وَأَمَّا اللَّتَانِ لَا غِنَى بِكُمْ عَنْهُمَا: فَتَسْأَلُونَ اللَّهَ الْجَنَّةَ، وَتَعُوذُونَ بِهِ مِنَ النَّارِ.
১৬- আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইসমাইল ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবি কাসির আল-ফারিসি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আলি ইবনে হুজর (তার নিকট পাঠ করা হয়েছে), ইউসুফ ইবনে জিয়াদ হতে, তিনি হাম্মাম ইবনে ইয়াহইয়া হতে, তিনি আলি ইবনে যাইদ হতে, তিনি সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব হতে, তিনি সালমান হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শাবান মাসের শেষ দিনে আমাদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দিলেন এবং বললেন: হে লোকসকল! তোমাদের ওপর এক মহান মাস ছায়া বিস্তার করেছে, এক বরকতময় মাস। এতে এমন এক রাত রয়েছে যা হাজার মাসের চেয়ে শ্রেষ্ঠ। আল্লাহ এই মাসের রোজা পালনকে ফরজ করেছেন এবং এর রাতের কিয়ামকে (ইবাদতকে) নফল করেছেন। যে ব্যক্তি এই মাসে কোনো একটি নেক কাজের মাধ্যমে (আল্লাহর) নৈকট্য অর্জন করবে, সে যেন অন্য সময়ে একটি ফরজ আদায় করল। আর যে ব্যক্তি এতে একটি ফরজ আদায় করবে, সে যেন অন্য সময়ে সত্তরটি ফরজ আদায় করল। এটি ধৈর্যের মাস, আর ধৈর্যের প্রতিদান হলো জান্নাত। এটি সহমর্মিতার মাস এবং এমন মাস যাতে মুমিনের রিজিক বাড়িয়ে দেওয়া হয়। যে ব্যক্তি কোনো রোজাদারকে ইফতার করাবে, তা তার গুনাহসমূহের জন্য ক্ষমা এবং তাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তির কারণ হবে, এবং সে রোজাদারের সমান সওয়াব পাবে, অথচ রোজাদারের সওয়াব থেকে সামান্যতমও কমানো হবে না। আমরা বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের সবার নিকট এমন কিছু নেই যা দিয়ে আমরা রোজাদারকে ইফতার করাতে পারি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: আল্লাহ আজ্জা ওয়াজাল্লা এই সওয়াব তাকেও দান করবেন যে কোনো রোজাদারকে এক চুমুক দুধ, অথবা একটি খেজুর, কিংবা এক ঢোক পানি দিয়ে ইফতার করায়। আর যে ব্যক্তি কোনো রোজাদারকে পেট ভরে আহার করাবে, আল্লাহ আজ্জা ওয়াজাল্লা তাকে আমার হাউজ (কাউসার) থেকে এমন এক পানীয় পান করাবেন যার পর সে আর তৃষ্ণার্ত হবে না, যতক্ষণ না সে জান্নাতে প্রবেশ করে। এটি এমন এক মাস যার প্রথম অংশ রহমত, মধ্যভাগ ক্ষমা এবং শেষ অংশ জাহান্নাম থেকে মুক্তি। যে ব্যক্তি এই মাসে তার দাসের কর্মভার লাঘব করবে, আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দেবেন এবং তাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেবেন। তোমরা এই মাসে চারটি কাজ অধিক পরিমাণে করো: দুটি কাজ এমন যা দিয়ে তোমরা তোমাদের প্রতিপালক আজ্জা ওয়াজাল্লাকে সন্তুষ্ট করবে, আর দুটি কাজ এমন যা ছাড়া তোমাদের কোনো গত্যন্তর নেই। ⦗পৃষ্ঠা: ১৪৬⦘ সেই দুটি কাজ যা দিয়ে তোমরা তোমাদের প্রতিপালক আজ্জা ওয়াজাল্লাকে সন্তুষ্ট করবে তা হলো: এই সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং তাঁর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করা। আর যে দুটি বিষয় ছাড়া তোমাদের কোনো উপায় নেই তা হলো: আল্লাহর নিকট জান্নাত প্রার্থনা করা এবং জাহান্নাম থেকে তাঁর নিকট আশ্রয় চাওয়া।
(খণ্ড: ১)
ফাদায়িলু রামাদান লি-ইবনি শাহীন
(পৃষ্ঠা: ১৪৭)
17- حَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ الْقَاسِمِ بْنِ نَصْرٍ الْفَرَائِضِيُّ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ فُرْثةَ الْخُوَارِزْمِيُّ، سَنَةَ أَرْبَعِينَ وَمِائَتَيْنِ، حَدَّثَنَا أَبُو سَعِيدٍ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، مَوْلَى بَنِي هَاشِمٍ، عَنْ جَرِيرِ بْنِ أَيُّوبَ الْبَجَلِيِّ، حَدَّثَنَا الشَّعْبِيُّ، عَنْ عُرْوَةَ بْنِ مَسْعُودٍ الْغِفَارِيِّ، أَنَّهُ سَمِعَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: مَا مِنْ رَجُلٍ يَصُومُ شَهْرَ رَمَضَانَ إِلَّا زُوِّجَ زَوْجَةً مِنَ الْحُورِ الْعِينِ فِي خَيْمَةٍ مِنْ دُرَّةٍ مُجَوَّفَةٍ مِمَّا نَعَتَ اللَّهُ عز وجل، عَلَى كُلِّ امْرَأَةٍ مِنْهُنَّ سَبْعُونَ حُلَّةً، لَيْسَ مِنْهَا حُلَّةٌ عَلَى اللَّوْنِ الْآخَرِ، تُعْطِي سَبْعِينَ لَوْنًا مِنَ الطِّيبِ، لَيْسَ فِيهَا لَوْنٌ عَلَى الْآخَرِ، لِكُلِّ امْرَأَةٍ مِنْهُنَّ سَبْعُونَ سَرِيرًا مِنْ يَاقُوتَةٍ حَمْرَاءَ مُوَشَّحَةٍ بِالدُّرِّ، عَلَى كُلِّ سَرِيرٍ سَبْعُونَ فِرَاشًا مِنْ إِسْتَبْرَقٍ، وَفَوْقَ السَّبْعِينَ فِرَاشًا سَبْعُونَ أَرِيكَةً، لِكُلِّ امْرَأَةٍ مِنْهُنَّ سَبْعُونَ أَلْفَ وَصِيفَةٍ لِحَاجَتِهَا، وَسَبْعُونَ أَلْفَ وَصِيفٍ مَعَ كُلِّ وَصِيفٍ صَحْفَةٌ مِنْ ذَهَبٍ، فِيهَا لَوْنٌ مِنْ طَعَامٍ، يَجِدُ لِآخِرِ لُقْمَةٍ مِنْهَا لَذَّةً لَا يَجِدُ لِأَوَّلِهَا، وَيُعْطَى زَوْجُهَا مِثْلُ ذَلِكَ عَلَى سَرِيرٍ مِنْ يَاقُوتَةٍ حَمْرَاءَ عَلَيْهِ سِوَارَانِ مِنْ ذَهَبٍ، مُوَشَّحٌ بِيَاقُوتٍ أَحْمَرَ، هَذَا لِكُلِّ يَوْمٍ صَامَهُ مِنْ شَهْرِ رَمَضَانَ، سِوَى مَا عَمِلَ فِيهِ مِنَ الْحَسَنَاتِ.
১৭- নাসর বিন আল-কাসিম বিন নাসর আল-ফারাইদি আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মাদ বিন ইব্রাহিম বিন ফুরসাহ আল-খাওয়ারিজমি আমাদের নিকট দুইশত চল্লিশ হিজরি সনে হাদীস বর্ণনা করেছেন, বনু হাশিমের মুক্তদাস আবু সাঈদ আব্দুর রহমান বিন আব্দুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন জারীর বিন আইয়ুব আল-বাজালি থেকে, তিনি আশ-শাবি থেকে, তিনি উরওয়াহ বিন মাসউদ আল-গিফারি থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেন: "যে কোনো ব্যক্তি রমজান মাসে রোজা রাখবে, তাকে ডাগর চোখ বিশিষ্ট হুরদের মধ্য থেকে এমন একজন স্ত্রীর সাথে বিবাহ দেওয়া হবে, যে মহান আল্লাহ বর্ণিত একটি ফাঁপা মুক্তার তাঁবুর মধ্যে থাকবে। তাদের প্রত্যেক স্ত্রীর অঙ্গে সত্তরটি করে পোশাক থাকবে, যার একটির রঙ অন্যটির মতো হবে না। তাকে সত্তর প্রকারের সুগন্ধি দান করা হবে, যার একটির ঘ্রাণ অন্যটির মতো হবে না। তাদের প্রত্যেকের জন্য মুক্তা খচিত লাল ইয়াকুতের সত্তরটি পালঙ্ক থাকবে। প্রতিটি পালঙ্কের উপরে সত্তরটি করে ইস্তাবরাকের (পুরু রেশম) বিছানা থাকবে এবং সত্তরটি বিছানার উপরে সত্তরটি গদি থাকবে। তাদের প্রত্যেকের প্রয়োজন মেটানোর জন্য সত্তর হাজার সেবিকা থাকবে এবং সত্তর হাজার সেবক থাকবে। প্রত্যেক সেবকের হাতে একটি করে স্বর্ণের পাত্র থাকবে, যাতে ভিন্ন ভিন্ন পদের খাবার থাকবে। সে তার শেষ লোকমাটিতে এমন স্বাদ পাবে যা সে প্রথম লোকমায় পায়নি। আর তার স্বামীকে লাল ইয়াকুতের একটি পালঙ্কের উপর অনুরূপ নেয়ামত দেওয়া হবে, তার হাতে স্বর্ণের দুটি কঙ্কণ থাকবে যা লাল ইয়াকুত দ্বারা অলঙ্কৃত। রমজান মাসে তার রোজা রাখা প্রতিটি দিনের বিনিময়ে এটি প্রদান করা হবে, এছাড়া সেই মাসে তার কৃত অন্যান্য নেক আমলসমূহের সওয়াব তো স্বতন্ত্র।"
(খণ্ড: ১)
ফাদায়িলু রামাদান লি-ইবনি শাহীন
(পৃষ্ঠা: ১৪৮)
18- حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ حَمَّادِ بْنِ إِسْحَاقَ، حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ شَبَّةَ، حَدَّثَنَا عَامِرُ بْنُ مُدْرِكٍ الْحَارِثِيُّ، حَدَّثَنَا جَرِيرُ بْنُ أَيُّوبَ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، عَنْ نَافِعِ بْنِ مَسْعُودٍ الْغِفَارِيِّ، أَنَّهُ سَمِعَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ذَاتَ يَوْمٍ وَقَدْ هَلَّ شَهْرُ رَمَضَانَ: لَوْ يَعْلَمُ الْعِبَادُ مَا فِي رَمَضَانَ، لَتَمَنَّتْ أُمَّتِي أَنْ يكُونَ السَّنَةُ كُلُّهَا، فَقَالَ رَجُلٌ مِنْ خُزَاعَةَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، حَدِّثْنَا، فَقَالَ: إِنَّ الْجَنَّةَ تُزَيَّنُ لِرَمَضَانَ، مِنْ رَأْسِ الْحَوْلِ إِلَى الْحَوْلِ، إِذَا كَانَ أَوَّلُ يَوْمٍ مِنْ رَمَضَانَ، هَبَّتْ رِيحٌ مِنْ تَحْتِ الْعَرْشِ فَصَفَّقَتْ وَرَقُ الْجَنَّةِ، فَنَظَرَ الْحُورُ الْعِينُ إِلَى ذَلِكَ، فَقُلْنَ: يَا رَبِّ اجْعَلْ مِنْ عِبَادِكَ فِي هَذَا الشَّهْرِ أَزْوَاجًا تَقَرُّ أَعْيُنُنَا بِهِمْ، وَأَعْيُنُهُمْ بِنَا، قَالَ: فَمَا مِنْ عَبْدٍ يَصُومُ رَمَضَانَ إِلَّا زُوِّجَ زَوجَةً مِنَ الْحُورِ الْعِينِ فِي خَيْمَةٍ مِنْ دُرٍّ مُجَوَّفَةٍ، مِمَّا نَعَتَ اللَّهُ عز وجل {حُورٌ مَقْصُورَاتٌ فِي الْخِيَامِ} ، عَلَى كُلِّ امْرَأَةٍ مِنْهُنَّ سَبْعُونَ حُلَّةً، لَيْسَ مِنْهَا حُلَّةٌ عَلَى لَوْنِ الْأُخْرَى، وَيعْطَى سَبْعِينَ لَوْنًا مِنَ الطِّيبِ، لَيْسَ مِنْهَا لَوْنٌ عَلَى رِيحِ الْآخَرِ، لِكُلِّ امْرَأَةٍ مِنْهُنَّ سَبْعُونَ سَرِيرًا مِنْ يَاقُوتَةٍ حَمْرَاءَ مُوَشَّحَةٍ بِالدُّرِّ، عَلَى كُلِّ سَرِيرٍ مِنْهَا سَبْعُونَ فِرَاشًا مِنْ سُنْدُسٍ بَطَائِنُهَا مِنْ إِسْتَبْرَقٍ، وَفَوْقَ السَّبْعِينَ فِرَاشًا سَبْعُونَ أَرِيكَةً، لِكُلِّ امْرَأَةٍ مِنْهُنَّ سَبْعُونَ أَلْفَ وَصِيفَةٍ، وَسَبْعُونَ أَلْفَ وَصِيفٍ، مَعَ كُلِّ وَصِيفَةٍ صَحْفَةٌ مِنْ ذَهَبٍ، فِيهَا لَوْنٌ يَجِدُ لِآخِرِ لُقْمَةٍ لَذَّةٌ لَا يَجِدُهَا لِلْأُولَى، وَيُعْطَى زَوْجُهَا مِثْلَ ⦗ص: 149⦘ ذَلِكَ عَلَى سَرِيرٍ مِنْ يَاقُوتٍ أَحْمَرَ، عَلَيْهَا سِوَارَانِ مِنْ ذَهَبٍ، مُوَشَّحٌ بِيَاقُوتٍ أَحْمَرَ، هَذَا لِكُلِّ يَوْمٍ صَامَهُ مِنْ رَمَضَانَ سِوَى مَا عَمِلَ مِنَ الْحَسَنَاتِ.
১৮- আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইবরাহিম ইবনে হাম্মাদ ইবনে ইসহাক, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন উমর ইবনে শাব্বাহ, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আমির ইবনে মুদরিক আল-হারিসি, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন জারির ইবনে আইয়ুব, তিনি আশ-শা'বি থেকে, তিনি নাফি ইবনে মাসউদ আল-গিফারি থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি একদিন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেন যখন রমজান মাস শুরু হয়েছিল: "যদি বান্দারা জানত রমজানে কী (ফজিলত) রয়েছে, তবে আমার উম্মত আশা করত যেন সারা বছরই রমজান হয়।" তখন খুজাআ গোত্রের এক ব্যক্তি বলল: "হে আল্লাহর রাসুল, আমাদের নিকট তা বর্ণনা করুন।" তিনি বললেন: "নিশ্চয়ই জান্নাতকে রমজানের জন্য বছরের শুরু থেকে পরবর্তী বছর পর্যন্ত সুসজ্জিত করা হয়। যখন রমজানের প্রথম দিন আসে, তখন আরশের নিচ থেকে একটি বাতাস প্রবাহিত হয় যার ফলে জান্নাতের গাছের পাতাগুলো শব্দ করে ওঠে। তখন আয়তলোচনা হুরগণ তা দেখে বলে: 'হে আমাদের রব! আপনার বান্দাদের মধ্য থেকে এই মাসে আমাদের জন্য এমন স্বামী নির্ধারণ করুন যাদের দেখে আমাদের চোখ শীতল হবে এবং আমাদের দেখে তাদের চোখ শীতল হবে'।" তিনি বললেন: "যে বান্দাই রমজানের রোজা রাখে, তাকে একটি বিশাল ফাঁপা মুক্তার তাঁবুতে আয়তলোচনা হুরদের মধ্য থেকে একজন স্ত্রীর সাথে বিয়ে দেওয়া হবে, যেমনটি আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা বর্ণনা করেছেন— {তাঁবুতে অবস্থানকারিনী হুরগণ}। তাদের প্রত্যেকের ওপর সত্তরটি পোশাক থাকবে, যার একটির রঙ অন্যটির মতো হবে না। তাকে সত্তর প্রকারের সুগন্ধি দেওয়া হবে, যার একটির ঘ্রাণ অন্যটির মতো হবে না। তাদের প্রত্যেকের জন্য লাল ইয়াকুত পাথরের সত্তরটি খাট থাকবে যা মুক্তা খচিত। প্রতিটি খাটের ওপর সত্তরটি করে সূক্ষ্ম রেশমের বিছানা থাকবে যার আস্তর হবে পুরু রেশমের। আর সেই সত্তরটি বিছানার ওপরে থাকবে সত্তরটি গদি। তাদের প্রত্যেকের সেবার জন্য সত্তর হাজার সেবিকা এবং সত্তর হাজার সেবক থাকবে। প্রতিটি সেবিকার সাথে থাকবে স্বর্ণের একটি করে পাত্র, যাতে ভিন্ন ভিন্ন স্বাদের খাবার থাকবে যার শেষ লোকমাটিতে এমন স্বাদ পাওয়া যাবে যা প্রথম লোকমাটিতে পাওয়া যায়নি। তার স্বামীকেও অনুরূপ ⦗পৃষ্ঠা: ১৪৯⦘ লাল ইয়াকুতের খাটের ওপর আসীন অবস্থায় তা প্রদান করা হবে, যার ওপর স্বর্ণের দুটি কঙ্কন থাকবে যা লাল ইয়াকুত দ্বারা খচিত। এটি রমজানের প্রতিটি দিন রোজা রাখার বিনিময়ে প্রদান করা হবে, এছাড়া সে যে অন্যান্য নেক আমল করেছে তার প্রতিদান তো ভিন্ন।"
(খণ্ড: ১)
ফাদায়িলু রামাদান লি-ইবনি শাহীন
(পৃষ্ঠা: ১৫০)
19- حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْمَاعِيلَ الْأَدَمِيُّ، حَدَّثَنَا الْفَضْلُ بْنُ سَهْلٍ الْأَعْرَجُ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ بْنُ عَطَاءٍ، حَدَّثَنَا الْهَيْثَمُ بْنُ الْحَوَارِيِّ، عَنْ زَيْدٍ الْعَمِّيِّ، عَنْ أَبِي نَضْرَةَ، أَنَّهُ قَالَ: سَمِعْتُ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ، يَقُولُ: قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: أُعْطِيَتْ أُمَّتِي فِي رَمَضَانَ خَمْسًا لَمْ يُعْطَهُنَّ نَبِيٌّ قَبْلِي: أَمَّا وَاحِدَةٌ: فَإِذَا كَانَ أَوَّلُ لَيْلَةٍ نَظَرَ اللَّهُ عز وجل إِلَيْهِمْ، وَمَنْ نَظَرَ اللَّهُ عز وجل إِلَيْهِ لَمْ يُعَذِّبْهُ أَبَدًا، وَأَمَّا الثَّانِيَةُ: فَإِنَّ خُلُوفَ أَفْوَاهِهِمْ حِينَ يُمْسُونَ أَطْيَبُ عِنْدَ اللَّهِ عز وجل مِنْ رِيحِ الْمِسْكِ، وَأَمَّا الثَّالِثَةُ: فَإِنَّ الْمَلَائِكَةَ تَسْتَغْفِرُ لَهُمْ فِي كُلِّ يَوْمٍ وَلَيْلَةٍ، وَالرَّابِعَةُ: فَإِنَّ اللَّهَ عز وجل يَأْمُرُ جَنَّتَهُ فَيَقُولُ: تَزَيَّنِي وَاسْتَعِدِّي لِعِبَادِي، وَالْخَامِسَةُ: فَإِذَا كَانَ آخِرُ لَيْلَةٍ غُفِرَ لَهُمْ.
১৯- আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমাদ বিন মুহাম্মদ বিন ইসমাইল আল-আদামি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-ফজল বিন সাহল আল-আরাজ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল ওয়াহহাব বিন আতা, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-হাইসাম বিন আল-হাওয়ারি, যায়িদ আল-আম্মি থেকে, তিনি আবু নাদরাহ থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: আমি জাবির বিন আব্দুল্লাহর নিকট শুনেছি, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: রমজান মাসে আমার উম্মতকে পাঁচটি এমন বিষয় দান করা হয়েছে যা আমার পূর্ববর্তী কোনো নবীকে দান করা হয়নি: প্রথমটি হলো: যখন রমজানের প্রথম রাত আসে, আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা তাদের প্রতি দৃষ্টিপাত করেন; আর আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা যার প্রতি দৃষ্টিপাত করেন, তাকে তিনি কখনো শাস্তি প্রদান করবেন না। দ্বিতীয়টি হলো: সন্ধ্যায় তাদের মুখের গন্ধ আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লার নিকট মিশকের সুগন্ধির চেয়েও অধিক সুগন্ধযুক্ত হয়। তৃতীয়টি হলো: ফেরেশতারা প্রতিদিন এবং রাতে তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করতে থাকে। চতুর্থটি হলো: আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা তাঁর জান্নাতকে নির্দেশ দিয়ে বলেন: "তুমি আমার বান্দাদের জন্য সুসজ্জিত হও এবং প্রস্তুত হও।" এবং পঞ্চমটি হলো: যখন (রমজানের) শেষ রাত আসে, তখন তাদের সকলকে ক্ষমা করে দেওয়া হয়।
(খণ্ড: ১)
ফাদায়িলু রামাদান লি-ইবনি শাহীন
(পৃষ্ঠা: ১৫১)
20- حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ يَزِيدَ الرِّيَاحِيُّ، حَدَّثَنَا أَبِي حَدَّثَنَا أَبِي حَدَّثَنَا خَلَفُ بْنُ خَلِيفَةَ، عَنْ عُبْيد اللَّهِ بْنِ عبدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي مُلَيْكَةَ، عَنِ الْأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: إِنَّ أُمَّتِي لَنْ تُخْزَى أَبَدًا مَا أَقَامُوا شَهْرَ رَمَضَانَ، فَقَالَ رَجُلٌ مِنَ الْأَنْصَارِ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، مَا خِزْيُهُمْ مِنْ إِضَاعَةِ شَهْرِ رَمَضَانَ؟ ، قَالَ: انْتِهَاكُ الْمَحَارِمِ فِيهِ ، فَمَنْ عَمِلَ سُوءًا، أَوْ زَنَى أَوْ شَرِبَ خَمْرًا، لَمْ يَقْبَلِ اللَّهُ مِنْهُ شَهْرَ رَمَضَانَ، وَلَعَنَهُ الرَّبُّ وَمَلَائِكَةُ السَّمَاءِ إِلَى مِثْلِهَا مِنَ الْحَوْلِ، فَإِنْ مَاتَ قَبْلَ أَنْ يُدْرِكَ شَهْرَ رَمَضَانَ فَلْيُبَشَّرُ بِالنَّارِ، فَأَقِيمُوا شَهْرَ رَمَضَانَ، فَإِنَّ الْحَسَنَاتِ تُضَاعِفُ فِيهِ مَا لَا يُضَاعَفُ فِيمَا سِوَاهُ، وَكَذَلِكَ السَّيِّئَاتُ.
২০- আমাদের নিকট আলী ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে ইয়াজিদ আল-রিয়াহি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের নিকট আমার পিতা বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের নিকট আমার পিতা বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের নিকট খালাফ ইবনে খলিফা বর্ণনা করেছেন উবায়দুল্লাহ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আবি মুলাইকাহ থেকে, তিনি আল-আ’মাশ থেকে, তিনি আবু সালেহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয়ই আমার উম্মত কখনোই লাঞ্ছিত হবে না যতক্ষণ তারা রমজান মাসকে যথাযথভাবে পালন করবে।" তখন আনসারদের মধ্য থেকে এক ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করলেন: "হে আল্লাহর রাসূল, রমজান মাস নষ্ট করার কারণে তাদের লাঞ্ছনা কী হবে?" তিনি বললেন: "তাতে নিষিদ্ধ বিষয়সমূহের মর্যাদা লুণ্ঠন করা। সুতরাং যে ব্যক্তি তাতে কোনো মন্দ কাজ করল, অথবা ব্যভিচার করল অথবা মদ্যপান করল, আল্লাহ তার থেকে রমজান মাস কবুল করবেন না এবং প্রতিপালক ও আসমানের ফেরেশতারা পরবর্তী বছরের অনুরূপ সময় পর্যন্ত তাকে অভিশাপ দিতে থাকেন। এমতাবস্থায় সে যদি পরবর্তী রমজান মাস পাওয়ার পূর্বেই মৃত্যুবরণ করে, তবে তাকে জাহান্নামের সুসংবাদ দেওয়া হোক। সুতরাং তোমরা রমজান মাস যথাযথভাবে পালন করো, কারণ এতে পুণ্যসমূহ এমনভাবে বৃদ্ধি করা হয় যা অন্য কোনো মাসে করা হয় না, এবং একইভাবে পাপসমূহও (বৃদ্ধি পায়)।"
(খণ্ড: ১)
ফাদায়িলু রামাদান লি-ইবনি শাহীন
(পৃষ্ঠা: ১৫৩)
21- حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ يَزِيدَ الزَّعْفَرَانِيُّ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ أَبِي الْحَارِثِ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ أَبِي بُكَيْرٍ، حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ طَهْمَانَ، حَدَّثَنِي أَيُّوبُ، عَنْ أَبِي قِلَابَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: رَمَضَانُ شَهْرٌ مُبَارَكٌ، افْتَرَضَ اللَّهُ عَلَيْكُمْ صِيَامَهُ، تُفْتَحُ فِيهِ أَبْوَابُ الْجَنَّةِ، وَتُغْلَقُ فِيهِ أَبْوَابُ الْجَحِيمِ، وَتُغَلُّ فِيهِ الشَّيَاطِينُ، فِيهِ لَيْلَةٌ خَيْرٌ مِنْ أَلْفِ شَهْرٍ، مَنْ حُرِمَ خَيْرَهَا فَقَدْ حُرِمَ.
২১- আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইয়াজিদ আজ-জাফরানি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইসমাঈল ইবনে আবুল হারিস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইয়াহইয়া ইবনে আবু বুকাইর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইব্রাহিম ইবনে তাহমান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আইয়ুব আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি আবু কিলাবাহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “রমজান একটি বরকতময় মাস, আল্লাহ তোমাদের ওপর এর রোজা ফরজ করেছেন; এতে জান্নাতের দরজাসমূহ খুলে দেওয়া হয়, জাহান্নামের দরজাসমূহ বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং শয়তানদেরকে শৃঙ্খলিত করা হয়। এতে এমন একটি রাত আছে যা হাজার মাসের চেয়েও উত্তম, যে ব্যক্তি এর কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হলো, সে প্রকৃতপক্ষেই বঞ্চিত হলো।”
(খণ্ড: ১)
ফাদায়িলু রামাদান লি-ইবনি শাহীন
(পৃষ্ঠা: ১৫৪)
22- حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ يَحْيَى، وَأَبُو الْأَزْهَرِ، وَأَحْمَدُ بْنُ مَنْصُورٍ، قَالُوا: حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنِ ابْنِ أَبِي أُنَيْسٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: إِذَا دَخَلَ شَهْرُ رَمَضَانَ، فُتِحَتْ أَبْوَابُ الرَّحْمَةِ، وَغُلِّقَتْ أَبْوَابُ جَهَنَّمَ، وَسُلْسِلَتِ الشَّيَاطِينُ.
⦗ص: 155⦘ قَالَ أَبُو بَكْرٍ: قَوْلُ عَبْدِ الرَّزَّاقِ: ابْنُ أَبِي أُنَيْسٍ، أَرَادَ [تَصْغِيرَهُ] (1) ، إِنَّمَا هُوَ ابْنُ أَبِي أَنَسٍ.
--------------------------------------------
২২- আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহইয়া, আবু আল-আযহার এবং আহমদ ইবনে মনসুর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তাঁরা বলেন: আবদুর রাজ্জাক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মা’মার আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যুহরী থেকে, তিনি ইবনে আবি উনাইস থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যখন রমজান মাস প্রবেশ করে, রহমতের দরজাসমূহ খুলে দেওয়া হয়, জাহান্নামের দরজাসমূহ বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং শয়তানদেরকে শৃঙ্খলিত করা হয়।"
⦗পৃষ্ঠা: ১৫৫⦘ আবু বকর বলেন: আবদুর রাজ্জাকের বক্তব্য: "ইবনে আবি উনাইস" দ্বারা তিনি মূলত [তাসগির বা ক্ষুদ্রার্থ রূপ] (১) উদ্দেশ্য করেছেন, আসলে তিনি হলেন ইবনে আবি আনাস।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফাদায়িলু রামাদান লি-ইবনি শাহীন
(পৃষ্ঠা: ১৫৫)
23- حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى، حَدَّثَنَا نُعَيْمُ بْنُ حَمَّادٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ الْمُبَارَكِ، حَدَّثَنَا مَعْمَرٌ، وَيُونُسُ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، حَدَّثَنِي ابْنُ أَبِي أَنَسٍ، أَنَّ أَبَاهُ حَدَّثَهُ أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا هُرَيْرَةَ، يَقُولُ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: إِذَا دَخَلَ رَمَضَانَ - وَقَالَ يُونُسُ: إِذَا كَانَ رَمَضَانُ - فُتِحَتْ أَبْوَابُ الرَّحْمَةِ، وَغُلِّقَتْ أَبْوَابُ جَهَنَّمَ، وَسُلْسِلَتِ الشَّيَاطِينُ.
২৩- আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াহইয়া আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, নুআইম ইবনে হাম্মাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইবনুল মুবারক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মা’মার ও ইউনুস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যুহরী থেকে, ইবনে আবি আনাস আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে তাঁর পিতা তাঁকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি আবু হুরাইরাহ-কে বলতে শুনেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: যখন রমজান প্রবেশ করে — এবং ইউনুস বলেছেন: যখন রমজান হয় — তখন রহমতের দরজাসমূহ খুলে দেওয়া হয়, জাহান্নামের দরজাসমূহ বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং শয়তানদেরকে শিকলবদ্ধ করা হয়।
(খণ্ড: ১)
ফাদায়িলু রামাদান লি-ইবনি শাহীন
(পৃষ্ঠা: ১৫৬)
24- حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ صَاعِدٍ، حَدَّثَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ الْحَسَنِ الْمَرْوَزِيُّ، أَخْبَرَنَا بِشْرُ بْنُ السَّرِيِّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُبَارَكِ، عَنْ كَثِيرٍ يَعْنِي ابْنَ زَيْدٍ عَنْ عَمْرِو بْنِ تَمِيمٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: وَلَمْ يَذْكُرْ فِي الْإِسْنَادِ: عَنْ أَبِيهِ.
২৪- আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া ইবনে মুহাম্মদ ইবনে সায়িদ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-হুসাইন ইবনুল হাসান আল-মারওয়াযী, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন বিশর ইবনুস সারী, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারক, কাসীর অর্থাৎ ইবনে যায়েদ থেকে, তিনি আমর ইবনে তামীম থেকে, তিনি আবু হুরাইরাহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি; আর তিনি সনদে 'তাঁর পিতা থেকে' কথাটি উল্লেখ করেননি।
(খণ্ড: ১)
ফাদায়িলু রামাদান লি-ইবনি শাহীন
(পৃষ্ঠা: ১৫৬)
25- وَحَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ سَلْمَانَ الْفَقِيهُ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ السُّلَمِيُّ، حَدَّثَنَا نُعَيْمُ بْنُ حَمَّادٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ الْمُبَارَكِ، حَدَّثَنَا كَثِيرُ بْنُ زَيْدٍ، حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ تَمِيمٍ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا هُرَيْرَةَ، يَقُولُ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: أَظَلَّكُمْ شَهْرُكُمْ هَذَا بِمَحْلُوفِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، مَا مَرَّ بِالْمُسْلِمِينَ شَهْرٌ خَيْرٌ لَهُمْ مِنْهُ، وَمَا مَرَّ بِالْمُنَافِقِينَ شَهْرٌ شَرٌّ مِنْهُ، إِنَّهُ لِيَكْتُبُ أَجْرُهُ وَنَوَافِلُهُ قَبْلَ أَنْ يَدْخُلَ، وَيُكْتَبُ إِصْرُهُ وَشَقَاؤُهُ قَبْلَ أَنْ يَدْخُلَ، ذَلِكَ أَنَّ الْمُؤْمِنَ يُعِدُّ الْقُوَّةَ بِالْعِبَادَةِ لِمَنِ النَّفَقَةُ، وَيُعِدُّ الْمُنَافِقُ اتِّبَاعَ غَفْلَةِ الْمُؤْمِنِينَ، وَاتِّبَاعَ عَوْرَاتِهِمْ، وَهُوَ غَنِيمَةٌ
⦗ص: 157⦘ لِلْمُؤْمِنِ، يُغْنِمُهُ اللَّهُ عز وجل أَجْرَهُ.
لَفْظُ حَدِيثِ نُعَيْمِ بْنِ حَمَّادٍ، وَهُمَا مُتَقَارِبَانِ.
২৫- এবং আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমদ বিন সালমান আল-ফকিহ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন ইসমাইল আস-সুলামি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন নুয়াইম বিন হাম্মাদ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইবনুল মুবারক, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন কাসির বিন যাইদ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আমর বিন তামিম তাঁর পিতা থেকে, তিনি আবু হুরায়রাকে বলতে শুনেছেন যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর শপথ, তোমাদের এই মাস তোমাদের কাছে উপস্থিত হয়েছে; মুসলিমদের জন্য এর চেয়ে কল্যাণকর কোনো মাস আর অতিক্রান্ত হয়নি এবং মুনাফিকদের জন্য এর চেয়ে অকল্যাণকর কোনো মাস আর অতিক্রান্ত হয়নি। নিশ্চয়ই এই মাস শুরু হওয়ার পূর্বেই এর সওয়াব ও নফল ইবাদতসমূহ লিখে নেওয়া হয় এবং এটি শুরু হওয়ার পূর্বেই এর গুনাহ ও দুর্ভাগ্য লিখে নেওয়া হয়। কারণ মুমিন ব্যক্তি ইবাদতের মাধ্যমে (ব্যয় করার) শক্তি সঞ্চয় করে, আর মুনাফিক মুমিনদের অসতর্কতা এবং তাদের দোষ-ত্রুটি অন্বেষণের প্রস্তুতি গ্রহণ করে। এটি মুমিনের জন্য গণিমত
⦗পৃষ্ঠা: ১৫৭⦘ স্বরূপ, আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা তাকে এর প্রতিদান দান করেন।
এটি নুয়াইম বিন হাম্মাদের বর্ণিত হাদিসের শব্দাবলি, আর উভয় বর্ণনা কাছাকাছি।
(খণ্ড: ১)
ফাদায়িলু রামাদান লি-ইবনি শাহীন
(পৃষ্ঠা: ১৫৮)
26- حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ الْمُغَلِّسِ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مَنْصُورٍ الطُّوسِيُّ، وَحَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ زِيَادٍ، حَدَّثَنَا الْعَبَّاسُ بْنُ مُحَمَّدٍ، وَمُحَمَّدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ مُسْلِمٍ، وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ، حَدَّثَنَا الْعَبَّاسُ بْنُ مُحَمَّدٍ، قَالوا: حَدَّثَنَا رَوْحُ بْنُ عُبَادَةَ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، قَالَ: سَمِعْتُ عَطَاءَ بْنَ السَّائِبِ، قَالَ: سَمِعْتُ عَرْفَجَةَ السُّلَمِيَّ، رَجُلٌ مِنْ أَصْحَابِ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ: كُنَّا فِي بَيْتِ عُتْبَةَ بْنِ فَرْقَدٍ قَالَ شُعْبَةُ: فَحَدَّثَتْنِي امْرَأَةُ عُتْبَةَ أَنَّهُ قَدْ غَزَا مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي رَمَضَانَ فَأَرَادَ أَنْ يُحَدِّثَ حَدِيثًا، فَرَأَى رَجُلًا مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم كَأَنَّهُ أَوْلَى بِالْحَدِيثِ مِنْهُ فَسَكَتَ، فَقَالَ ذَلِكَ الرَّجُلُ: لَسَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ذَكَرَ رَمَضَانَ فَقَالَ: تُفْتَحُ لَهُ أَبْوَابُ الْجَنَّةِ، وَتُغْلَقُ فِيهِ أَبْوَابُ الْجَحِيمِ، وَيُصَفَّدُ فِيهِ كُلُّ شَيْطَانٍ مَرِيدٍ، وَيُنَادِي مُنَادٍ مِنَ السَّمَاءِ كُلَّ لَيْلَةٍ: يَا طَالِبَ الْخَيْرِ هَلُمَّ، يَا طَالِبَ الشَّرِّ أَمْسِكْ.
২৬- আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমাদ ইবনুল মুগাল্লিস, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ ইবনু মানসুর আত-তুসী, এবং আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু যিয়াদ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-আব্বাস ইবনু মুহাম্মাদ ও মুহাম্মাদ ইবনু ইবরাহীম ইবনু মুসলিম, এবং আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ ইবনু ইউসুফ; তারা সকলে বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-আব্বাস ইবনু মুহাম্মাদ, তারা বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন রওহ ইবনু উবাদাহ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন শু'বাহ, তিনি বলেন: আমি আতা ইবনুস সাইবকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আরফাজা আস-সুলামীকে বলতে শুনেছি, যিনি আব্দুল্লাহর (ইবনু মাসউদ) সাথীদের একজন ছিলেন। তিনি বলেন: আমরা উতবাহ ইবনু ফারক্বাদের ঘরে ছিলাম। শু'বাহ বলেন: অতঃপর উতবাহর স্ত্রী আমাকে জানালেন যে, তিনি (উতবাহ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সাথে রমজান মাসে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন। তখন তিনি একটি হাদিস বর্ণনা করতে চাইলেন, কিন্তু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সাথীদের একজন ব্যক্তিকে দেখতে পেলেন যাকে হাদিস বর্ণনার জন্য তার চেয়ে অধিক উপযুক্ত মনে হলো, তাই তিনি চুপ হয়ে গেলেন। তখন সেই ব্যক্তিটি বললেন: আমি আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে রমজানের কথা উল্লেখ করতে শুনেছি, তিনি বলছিলেন: "এর জন্য জান্নাতের দরজাসমূহ উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়, এতে জাহান্নামের দরজাসমূহ বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং এতে প্রত্যেক অবাধ্য শয়তানকে শৃঙ্খলিত করা হয়। আর আসমান থেকে একজন আহ্বানকারী প্রতি রাতে ঘোষণা করেন: হে কল্যাণের অন্বেষণকারী, এগিয়ে এসো; হে মন্দের অন্বেষণকারী, থেমে যাও।"
(খণ্ড: ১)
ফাদায়িলু রামাদান লি-ইবনি শাহীন
(পৃষ্ঠা: ১৫৯)
27- حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ بْنِ يَعْقُوبِ الْقَاضِي، حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مَنْصُورٍ، وَحَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ سَلْمَانَ، حَدَّثَنَا الْحَارِثُ بْنُ أبي أُسَامَةَ، قَالَا: حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، أَخْبَرَنَا هِشَامُ بْنُ أَبِي عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ الْأَسْوَدِ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: أُعْطِيَتْ أُمَّتِي فِي رَمَضَانَ خَمْسَ خِصَالٍ، لَمْ تُعْطَهَا أُمَّةٌ قَبْلَهُمْ، خُلُوفُ فَمِ الصَّائِمِ أَطْيَبُ عِنْدَ اللَّهِ مِنْ رِيحِ الْمِسْكِ، وَتَسْتَغْفِرُ لَهُمُ الْمَلَائِكَةُ حَتَّى يُفْطِرُوا - أَوْ حِينَ يُفْطِرُوا - وَتصَفَّدُ فِيهِ مَرَدَةُ الشَّيَاطِينِ، فَلَا يَخْلُصُونَ فِيهِ إِلَى مَا كَانُوا يَخْلُصُونَ فِي غَيْرِهِ، وَيُزَيِّنُ اللَّهُ عز وجل فِي كُلِّ يَوْمٍ جَنَّتَهُ، ثُمَّ يَقُولُ: يُوشِكُ عِبَادِيَ الصَّالِحُونَ أَنْ يُلْقُوا عَنْهُمُ الْمَؤُونَةَ وَالْأَذَى، وَيَصِيرُوا إِلَيْكِ، وَيَغْفِرُ لَهُمْ فِي آخِرِ لَيْلَةٍ، قِيلَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، أَهِيَ لَيْلَةُ الْقَدْرِ؟ ، قَالَ: لَا، وَلَكِنَّ الْعَامِلَ إِنَّمَا يُوَفَّى أَجْرَهُ إِذَا قَضَى عَمَلَهُ.
২৭- আমাদের নিকট মুহাম্মদ ইবন ইউসুফ ইবন ইয়াকুব আল-কাদি বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আহমাদ ইবন মানসুর বর্ণনা করেছেন এবং আমাদের নিকট আহমাদ ইবন সালমান বর্ণনা করেছেন, তাঁরা উভয়ে বলেছেন: আমাদের নিকট ইয়াযীদ ইবন হারুন বর্ণনা করেছেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হিশাম ইবন আবি আব্দুল্লাহ, তিনি মুহাম্মদ ইবন মুহাম্মদ ইবন আল-আসওয়াদ থেকে, তিনি আবু সালামাহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: আমার উম্মতকে রমজান মাসে এমন পাঁচটি বৈশিষ্ট্য দান করা হয়েছে, যা তাদের পূর্ববর্তী কোনো উম্মতকে দেওয়া হয়নি: রোজাদারের মুখের গন্ধ আল্লাহর নিকট মিশকের সুগন্ধির চেয়েও অধিক সুগন্ধময়; ফেরেশতাগণ তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করতে থাকেন যতক্ষণ না তারা ইফতার করেন—অথবা ইফতার করার সময় পর্যন্ত; এই মাসে বিদ্রোহী শয়তানদের শৃঙ্খলাবদ্ধ করে রাখা হয়, ফলে তারা সেই সব পাপে লিপ্ত করতে সক্ষম হয় না যা তারা অন্য সময়ে পারত; আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা প্রতিদিন তাঁর জান্নাতকে সুশোভিত করেন, অতঃপর বলেন: আমার নেককার বান্দারা শীঘ্রই পার্থিব দুঃখ-কষ্ট ও ক্লেশ দূরে সরিয়ে তোমার দিকে চলে আসবে; এবং রমজানের শেষ রাতে তাদের ক্ষমা করে দেওয়া হয়। জিজ্ঞেস করা হলো: হে আল্লাহর রাসূল! এটি কি লাইলাতুল কদর? তিনি বললেন: না, বরং শ্রমিককে তার মজুরি তখনই পূর্ণরূপে দেওয়া হয় যখন সে তার কাজ সম্পন্ন করে।