(খণ্ড: ১)
সিলসিলাতুল আহাদীসিস সহীহাহ ওয়া শাইউম মিন ফিকহিহা ওয়া ফাওয়ায়িদিহা
(পৃষ্ঠা: -)
سلسلة الأحاديث الصحيحة وشيء من فقهها وفوائدها القسم: التخريج والأطراف
الكتاب: سلسلة الأحاديث الصحيحة وشيء من فقهها وفوائدها
المؤلف: محمد ناصر الدين الألباني [ت 1420 هـ]
الناشر: مكتبة المعارف للنشر والتوزيع، الرياض
الطبعة: الأولى لمكتبة المعارف
عدد الأجزاء: 7
عام النشر:
جـ 1 - 4: 1415 هـ - 1995 م
جـ 6: 1416 هـ - 1996 م
جـ 7: 1422 هـ - 2002 م
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
সিলসিলাতুল আহাদিস আস-সহিহা ওয়া শাইউন মিন ফিকহিহা ওয়া ফাওয়াইদিহা বিভাগ: তাখরিজ ও আতরাফ
কিতাব: সিলসিলাতুল আহাদিস আস-সহিহা ওয়া শাইউন মিন ফিকহিহা ওয়া ফাওয়াইদিহা
লেখক: মুহাম্মদ নাসিরুদ্দিন আল-আলবানী [মৃ. ১৪২০ হি.]
প্রকাশক: মাকতাবাতুল মাআরিফ পাবলিশিং অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন, রিয়াদ
সংস্করণ: মাকতাবাতুল মাআরিফের প্রথম সংস্করণ
খণ্ড সংখ্যা: ৭
প্রকাশের বছর:
খণ্ড ১ - ৪: ১৪১৫ হি. - ১৯৯৫ খ্রি.
খণ্ড ৬: ১৪১৬ হি. - ১৯৯৬ খ্রি.
খণ্ড ৭: ১৪২২ হি. - ২০০২ খ্রি.
[বইটির নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
সিলসিলাতুল আহাদীসিস সহীহাহ ওয়া শাইউম মিন ফিকহিহা ওয়া ফাওয়ায়িদিহা
(পৃষ্ঠা: ১)
بسم الله الرحمن الرحيم
مقدمة الطبعة الجديدة:
الحمد لله الذي هدانا لهذا وما كنا لنهتدي لولا أن هدانا الله، والصلاة والسلام على رسولنا محمد الذي بحديثه وسننه الصحيحة اهتدينا، المخاطب بقوله تعالى في القرآن الكريم: {وَإِنَّكَ لَتَهْدِي إِلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ} (1) ، وعلى آله وصحبه الغر الميامين، الذين أثنى الله عليهم بقوله: {وَالسَّابِقُونَ الْأَوَّلُونَ مِنَ الْمُهَاجِرِينَ وَالْأَنْصَارِ وَالَّذِينَ اتَّبَعُوهُمْ بِإِحْسَانٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ وَرَضُوا عَنْهُ وَأَعَدَّ لَهُمْ جَنَّاتٍ تَجْرِي تَحْتَهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا أَبَدًا ذَلِكَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ} (2) ، وعلى من اقتدى بهم وسار على منهجهم إلى يوم الدين.
أما بعد؛ فبين يدي القراء الكرام الطبعة الجديدة من المجلد الأول من كتابي "سلسلة الأحاديث الصحيحة"، وتمتاز هذه الطبعة على سابقاتها -كما هي العادة في الطبعات الجديدة لسائر كتبي- بفوائد جديدة، وتحقيقات عديدة، وبردود قوية على بعض المعتدين على هذا العلم
--------------------------------------------
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
নতুন সংস্করণের ভূমিকা:
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদের এই পথের দিশা দিয়েছেন। আল্লাহ যদি আমাদের পথ না দেখাতেন তবে আমরা হিদায়াত পেতাম না। আর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের রসূল মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর, যাঁর হাদিস ও সহিহ সুন্নাহর মাধ্যমে আমরা সঠিক পথের দিশা পেয়েছি, যাঁকে সম্বোধন করে মহান আল্লাহ পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেছেন: {এবং নিশ্চয়ই আপনি সরল সঠিক পথের দিশা দেন} (১)। আরও (সালাম বর্ষিত হোক) তাঁর পরিবার-পরিজন এবং সম্মানিত ও বরকতময় সাহাবীগণের ওপর, যাঁদের প্রশংসা করে আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {আর মুহাজির ও আনসারদের মধ্যে যারা প্রথম অগ্রগামী এবং যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করেছে, আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন এবং তাঁরাও তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন। তিনি তাঁদের জন্য প্রস্তুত করেছেন জান্নাতসমূহ, যার তলদেশ দিয়ে নদীসমূহ প্রবাহিত, সেখানে তাঁরা চিরস্থায়ী হবে। এটাই মহাফল} (২)। আর (সালাম বর্ষিত হোক) তাঁদের ওপর যারা বিচার দিবস পর্যন্ত তাঁদের অনুসরণ করবে এবং তাঁদের মানহাজ বা পদ্ধতির ওপর অটল থাকবে।
অতঃপর; সম্মানিত পাঠকদের সামনে পেশ করা হচ্ছে আমার গ্রন্থ "সিলসিলাতুল আহাদিস আস-সহিহাহ"-এর প্রথম খণ্ডের নতুন সংস্করণ। এই সংস্করণটি পূর্ববর্তী সংস্করণগুলোর তুলনায় কিছু বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত—যেমনটি আমার অন্যান্য বইয়ের নতুন সংস্করণগুলোতে সচরাচর হয়ে থাকে—এর মধ্যে রয়েছে নতুন কিছু জ্ঞানগর্ভ আলোচনা, বহুবিধ তাহকিক (গবেষণা) এবং এই ইলমের ওপর আক্রমণকারী কিছু মানুষের কঠোর খণ্ডন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সিলসিলাতুল আহাদীসিস সহীহাহ ওয়া শাইউম মিন ফিকহিহা ওয়া ফাওয়ায়িদিহা
(পৃষ্ঠা: ২)
الشريف، الذين يصدق فيهم المثل المعروف: "تزبب قبل أن يتحصرم"؛ لأنهم جهلة بهذا العلم أولاً، ثم هم لا يقيمون وزناً للعارفين به من العلماء قديماً وحديثاً ثانياً، وقد ينضم إلى ذلك حقد دفين، وإعجاب بالرأي مهلك ثالثاً، لسان حال أحدهم يقول: "يا أرض اشتدي، ما عليك أحد قدي"! كما يقال في بعض البلاد!
وبين يدي الآن جزء صغير بعنوان "الأحاديث الضعيفة في سلسلة الأحاديث الصحيحة" للمدعو رمضان محمود عيسى، الناشر: دار الفكر - الخرطوم، انتقد من هذا المجلد من "السلسلة الصحيحة" اثني عشر حديثاً، لم أر في نقده إياها شيئاً من العلم والفهم يستفاد منهم، وإنما هو يلوك بعض القواعد العلمية يركن إليها، وهو لم يعها، أو لم يفهمها فهماً جيداً.
وطريقته في النقد أنه ينقل كلامي وتخريجي للحديث، ثم يعقب عليه ناقداً بجهله وهواه، تحت عنوان (التعليق) ، ثم يبدي رأيه الفج في تضعيف الحديث، يختلف ذلك عنه باختلاف نوعية الحديث:
فهو تارة يضعف الراوي الثقة بقول من قال: "يروي المناكير عن فلان" (ص 17) ، وهذا لا يعني التضعيف المطلق في اصطلاح العلماء؛ فهو ليس كمن قيل فيه: "منكر الحديث".
وتارة يجهل أن قول الصحابي: "من السنة كذا"؛ أنه في حكم المرفوع (ص 34) ، فضعف بذلك الحديث الآتي برقم (229) ، كما أنه لا يقيم وزناً مطلقاً لعمل الصحابة به، وهذا من كمال جهله وقلة تقديره لثناء
শরিফ, যাদের ক্ষেত্রে এই সুপরিচিত প্রবাদটি প্রযোজ্য: "টক আঙুর হওয়ার আগেই কিশমিশ হয়ে গেছে"; কারণ প্রথমত, তারা এই বিদ্যায় অজ্ঞ, দ্বিতীয়ত, তারা প্রাচীন ও বর্তমানকালের আলেমদের মধ্যে যারা এই শাস্ত্রের অভিজ্ঞ তাদের কোনো গুরুত্ব দেয় না। তৃতীয়ত, এর সাথে যোগ হতে পারে লুকায়িত বিদ্বেষ এবং নিজের মতামতের প্রতি ধ্বংসাত্মক আত্মমুগ্ধতা। তাদের কারো কারো অবস্থা এমন যেন সে বলছে: "হে জমিন শক্ত হও, তোমার ওপর আমার মতো আর কেউ নেই!" যেমনটি কিছু দেশে বলা হয়ে থাকে!
বর্তমানে আমার সামনে রমজান মাহমুদ ঈসা নামক এক ব্যক্তির লিখিত "সিলসিলাতুল আহাদিস আস-সহিহাহ-তে দুর্বল হাদিসসমূহ" শিরোনামের একটি ছোট পুস্তিকা রয়েছে। প্রকাশক: দারুল ফিকর - খার্তুম। সে "সিলসিলাতুস সহিহাহ"-এর এই খণ্ড থেকে বারোটি হাদিসের সমালোচনা করেছে। তার এই সমালোচনার মধ্যে আমি ইলম ও উপলব্ধির এমন কিছু দেখিনি যা থেকে উপকৃত হওয়া যায়; বরং সে কিছু বৈজ্ঞানিক মূলনীতি চিবিয়ে চিবিয়ে আওড়ায় যার ওপর সে নির্ভর করে, অথচ সে সেগুলো আত্মস্থ করেনি অথবা সঠিকভাবে বুঝতে পারেনি।
সমালোচনার ক্ষেত্রে তার পদ্ধতি হলো, সে হাদিস সম্পর্কে আমার বক্তব্য ও হাদিসের সূত্রায়ন উদ্ধৃত করে, তারপর (মন্তব্য) শিরোনামের অধীনে তার অজ্ঞতা ও প্রবৃত্তির বশবর্তী হয়ে সমালোচনা করে এবং হাদিসকে দুর্বল সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে তার কাঁচা মতামত প্রকাশ করে। হাদিসের ধরন অনুযায়ী তার এই পদ্ধতি ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে:
সে কখনো কোনো নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীকে কারো এই উক্তির মাধ্যমে দুর্বল সাব্যস্ত করে যে: "সে অমুক ব্যক্তি থেকে মুনকার হাদিস বর্ণনা করে" (পৃষ্ঠা ১৭)। অথচ আলেমদের পরিভাষায় এর অর্থ ঢালাওভাবে দুর্বল সাব্যস্ত করা নয়; কারণ এটি এমন ব্যক্তির মতো নয় যার সম্পর্কে বলা হয়েছে: "সে মুনকারুল হাদিস" (পরিত্যক্ত হাদিস বর্ণনাকারী)।
আবার কখনো সে এই বিষয়ে অজ্ঞতা প্রদর্শন করে যে, কোনো সাহাবীর এই উক্তি: "সুন্নাহ হলো এই..." মূলত 'মারফু' (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদিস) পর্যায়ের পর্যায়ভুক্ত (পৃষ্ঠা ৩৪)। ফলে সে এর মাধ্যমে সামনে আগত ২২৯ নম্বর হাদিসটিকে দুর্বল সাব্যস্ত করেছে। তদুপরি, সাহাবীদের সেই হাদিস অনুযায়ী আমল করার বিষয়টিকে সে মোটেও গুরুত্ব দেয়নি। এটি তার চরম অজ্ঞতা এবং প্রশংসার প্রতি অবজ্ঞারই বহিঃপ্রকাশ...
(খণ্ড: ১)
সিলসিলাতুল আহাদীসিস সহীহাহ ওয়া শাইউম মিন ফিকহিহা ওয়া ফাওয়ায়িদিহা
(পৃষ্ঠা: ৩)
الله عليهم؛ كما تقدم في افتتاحية هذه المقدمة.
ثم هو في الغالب يضعف بقية الأحاديث بضعف مفردات طرقها، وهو بذلك يعني أنه لا يعتد بقول العلماء: إن الحديث الضعيف يتقوَّى بكثرة الطرق ما لم يشتد ضعفها.
وإليكم مثالاً واحداً من تلك الأحاديث التي جار عليها وضعفها، وهو الحديث الأول عنده، والآتي برقم (109) :
قال (ص 9) بعد أن نقل تخريجي إياه واستفاد منه عللَ طرقه:
"والحديث بها ضعيف؛ لأنه فقد في الأول والثاني والثالث والرابع شرط العدالة، وفي الخامس شرط الاتصال، ومما هو معلوم لدى علماء المصطلح أن طرق الكذابين والمتروكين والمجاهيل والأسانيد المنقطعة لا يقوي بعضها بعضاً، ولو كانت مئة طريق، والله أعلم".
وهذا الكلام وحده ينبىء من كان على شيء من المعرفه بهذا العلم أنه جاهل لا يستحق المناقشة؛ لأنه سوَّى فيه بين طرق الكذابين والطرق الأخرى التي هي دونها في الضعف، وهذا مع كونه خطأ في نفسه؛ فهو افتراء على العلماء؛ لأنهم يفرقون بين ما خف ضعفه فيقوى الحديث بمثله، وبين ما اشتد ضعفه، وعلى هذا التفريق جرينا منذ فقّهنا الله تبارك وتعالى هذا العلم، وعلى هذا الأساس بنيت صحة هذا الحديث، لأن أكثر طرقه ليس فيها ضعف شديد، لا سيما وقد وقفت على طريق أخرى عن مجاهد بإسناد رجاله ثقات، وصححه الحافظ ابن حجر، فألحقته بالطرق الأخرى تقوية لها كما سترى في هذه الطبعة إن شاء الله، وذلك من
আল্লাহ তাদের ওপর [রহমত বর্ষণ করুন]; যেমনটি এই ভূমিকার প্রারম্ভে উল্লেখ করা হয়েছে।
অতঃপর তিনি অধিকাংশ ক্ষেত্রে বাকি হাদিসগুলোকে সেগুলোর বর্ণনাসূত্রের একক দুর্বলতার কারণে দুর্বল সাব্যস্ত করেন। এর মাধ্যমে তিনি বুঝাতে চান যে, তিনি ওলামায়ে কেরামের এই উক্তির ওপর নির্ভর করেন না যে: দুর্বল হাদিস একাধিক সূত্রের মাধ্যমে শক্তিশালী হয়, যতক্ষণ না তার দুর্বলতা চরম আকার ধারণ করে।
এখানে ঐ হাদিসগুলোর একটি উদাহরণ দেওয়া হলো যেগুলোর ওপর তিনি অবিচার করেছেন এবং দুর্বল সাব্যস্ত করেছেন; এটি তার নিকট প্রথম হাদিস এবং যা সামনে ১০৯ নম্বরে আসছে:
তিনি (৯ পৃষ্ঠায়) আমার কৃত তাখরিজ উদ্ধৃত করার পর এবং তা থেকে বর্ণনাসূত্রসমূহের ত্রুটিগুলো গ্রহণ করার পর বলেছেন:
"এবং এর মাধ্যমে হাদিসটি দুর্বল; কারণ প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ সূত্রে বর্ণনাকারীর ন্যায়পরায়ণতার শর্ত অনুপস্থিত, আর পঞ্চম সূত্রে সনদের নিরবচ্ছিন্নতার শর্ত অনুপস্থিত। উসুলে হাদিসের পণ্ডিতদের নিকট এটি সুপরিচিত যে, চরম মিথ্যাবাদী, পরিত্যক্ত ও অজ্ঞাত বর্ণনাকারীদের সূত্র এবং বিচ্ছিন্ন সনদসমূহ একে অপরকে শক্তিশালী করে না, যদিও তা শতটি সূত্র হয়। আর আল্লাহই ভালো জানেন।"
এই কথাটিই কেবল ঐ ব্যক্তির কাছে প্রকাশ করে দেয় যার এই শাস্ত্র সম্পর্কে সামান্যতম জ্ঞান আছে যে, তিনি একজন মূর্খ এবং আলোচনার অযোগ্য; কারণ তিনি এখানে মিথ্যাবাদীদের সূত্র এবং এর চেয়ে কম পর্যায়ের দুর্বল সূত্রগুলোর মধ্যে সমতা তৈরি করেছেন। এটি যেমন নিজের মধ্যে একটি ভুল, তেমনি এটি আলেমদের ওপর একটি অপবাদও বটে; কারণ তারা সেই সামান্য দুর্বলতার মধ্যে পার্থক্য করেন যা দ্বারা হাদিসটি তার অনুরূপ সূত্রের মাধ্যমে শক্তিশালী হয়, এবং সেই চরম দুর্বলতার মধ্যে যার ক্ষেত্রে তা হয় না। আর এই পার্থক্যের ওপরই আমরা চলেছি যখন থেকে মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদের এই ইলমের সম্যক জ্ঞান দান করেছেন। এবং এই ভিত্তির ওপরই আমি এই হাদিসটির বিশুদ্ধতা নিরূপণ করেছি; কারণ এর অধিকাংশ সূত্রের মধ্যে চরম দুর্বলতা নেই। বিশেষ করে আমি মুজাহিদ থেকে বর্ণিত আরেকটি সূত্র পেয়েছি যার বর্ণনাকারীরা নির্ভরযোগ্য, এবং হাফেজ ইবনে হাজার একে সহিহ বলেছেন। তাই আমি একে অন্যান্য সূত্রের সাথে যুক্ত করেছি সেগুলোকে শক্তিশালী করার জন্য, যেমনটি আপনি এই মুদ্রণে ইনশাআল্লাহ দেখতে পাবেন। আর এটি...
(খণ্ড: ১)
সিলসিলাতুল আহাদীসিস সহীহাহ ওয়া শাইউম মিন ফিকহিহা ওয়া ফাওয়ায়িদিহা
(পৃষ্ঠা: ৪)
فوائدها.
وقد يتساءل بعض القراء الألباء، فيقول:
ما الذي يحمل هؤلاء الجهلة على الرد على الألباني، وقد وضع الله له القبول في الأرض -بإذنه تعالى-، وانتفع بكتبه ومؤلفاته من شاء الله من العلماء وطلاب العلم؟
فأقول: هناك أسباب أهمها -أو من أهمها- الحسد، مصداق قوله صلى الله عليه وسلم: "دبَّ إليكم داء الأمم قبلكم: الحسد والبغضاء، والبغضاء هي الحالقة، أما إني لا أقول: تحلق الشعر، ولكن تحلق الدين" (1) .
وبعض هؤلاء الذين ينتصبون للرد عليّ يكاد أحدهم يفصح عن هذا السبب بقلمه؛ فهذا صاحب الجزء المردود عليه يذكر في مقدمته أن أحد إخوانه (2) اقترح عليه أن يراجع "سلسلة الأحاديث الصحيحة" للشيخ محمد ناصر الدين الألباني؛ قال:
"لأن فيها أحاديث ضعيفة، والناس يأخذونها بثقة تامة على أنها محقَّقة وصحيحة
… "!
ومن تلك الأسباب الخلاف الفكري أو المذهبي، وحب الظهور.
وقد تتوفر هذه الأسباب كلها في بعض الرادين عليّ؛ كذا المدعو بـ (حسن السقاف) ؛ فإنه لم يكن أحد يسمع باسمه من قبل، فوصل بذلك
--------------------------------------------
এর উপকারিতাসমূহ।
এবং কিছু বুদ্ধিমান পাঠক হয়তো প্রশ্ন করতে পারেন এবং বলতে পারেন:
এই মূর্খদের আলবানীর প্রতিবাদ করতে কিসে প্ররোচিত করে, অথচ আল্লাহ তাআলার অনুমতিক্রমে পৃথিবীতে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা নির্ধারণ করে দিয়েছেন এবং তাঁর কিতাব ও রচনাবলী দ্বারা আল্লাহ যাঁদের চেয়েছেন সেই আলেম ও ইলম অন্বেষণকারীরা উপকৃত হয়েছেন?
তাই আমি বলব: এর কতগুলো কারণ রয়েছে, যার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ—বা অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কারণ—হলো হিংসা। যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এই বাণীর সত্যতা প্রমাণ করে: "তোমাদের মাঝে তোমাদের পূর্ববর্তী জাতিসমূহের ব্যাধি ছড়িয়ে পড়েছে: আর তা হলো হিংসা ও বিদ্বেষ। আর বিদ্বেষ হলো মুণ্ডনকারী; সাবধান, আমি বলছি না যে তা চুল মুণ্ডন করে, বরং তা দ্বীনকে মুণ্ডন (ধ্বংস) করে দেয়।" (১)।
আমার বিরুদ্ধে যারা প্রতিবাদ করতে দাঁড়িয়েছে, তাদের মধ্যে কেউ কেউ কলমের মাধ্যমে প্রায় এই কারণটি প্রকাশ করে ফেলে। যেমন, যার খণ্ডটির প্রতিবাদ করা হচ্ছে, তিনি তাঁর ভূমিকায় উল্লেখ করেছেন যে, তাঁর এক ভাই (২) তাঁকে শাইখ মুহাম্মদ নাসিরুদ্দিন আলবানীর "সিলসিলাতুল আহাদিস আস-সহিহাহ" গ্রন্থটি পর্যালোচনা করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন; তিনি বলেন:
"কারণ এতে দুর্বল হাদিস রয়েছে, অথচ মানুষ এগুলোকে পূর্ণ আস্থার সাথে গ্রহণ করছে এই মনে করে যে এগুলো তাহকিককৃত এবং সহিহ
… "!
সেই কারণগুলোর মধ্যে আরও রয়েছে বুদ্ধিবৃত্তিক বা মাযহাবী মতভেদ এবং প্রসিদ্ধি লাভের আকাঙ্ক্ষা।
আমার কিছু প্রতিবাদকারীর মধ্যে এই সবকটি কারণই বিদ্যমান থাকতে পারে; যেমন (হাসান সাক্কাফ) নামক ব্যক্তিটি; ইতিপূর্বে কেউ তার নাম শুনেনি, এর মাধ্যমে সে পৌঁছেছে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সিলসিলাতুল আহাদীসিস সহীহাহ ওয়া শাইউম মিন ফিকহিহা ওয়া ফাওয়ায়িদিহা
(পৃষ্ঠা: ৫)
إلى ما يريده من الظهور، ولو على حساب الطعن في السنة وأهلها، ومن العجيب أنه يتظاهر أنه صوفي، والصوفية على خلافه؛ فإن من مذهبهم الخمول لا الظهور، حتى قال أحد قدمائهم: "كن ذنباً ولا تكن رأساً"! وهو إلى ذلك خلفي العقيدة، معتزلي النزعة، ينكر الصفات الإِلهية، ويرمي المؤمنين بها من الأئمة وأتباعهم -وأنا منهم والحمد لله- في تعليقاته التي سوَّدها على كتاب ابن الجوزي "دفع شبه التشبيه"، ويكذب عليهم أنواعاً من الأكاذيب لو استقصيت لكان من ذلك كتاب في مجلد؛ فهو يقول -على سبيل المثال- (ص 114) من تعليقاته:
"ندم الحافظ ابن خزيمة على تأليفه كتابه "التوحيد" أخيراً؛ كما روى ذلك الحافظ البيهقي في "الأسماء والصفات" (ص 267) ".
وهذا كذب مزدوج؛ لأن ابن خزيمة لم يندم البتة، ولأن البيهقي لم ينسب ذلك إليه، وكيف يعقل أن يندم الحافظ ابن خزيمة على "توحيده" وهو الإِيمان المحض؟! بل كيف يعقل أن ينقل ذلك الحافظ البيهقي؟! سبحانك هذا بهتان عظيم من أفاك أثيم.
وأنت أيها القارىء الكريم! إن رجعت إلى الصفحة المذكورة من "الأسماء والصفات"؛ لم تجد فيها الندم المفترى، وإنما فيها اعتراف ابن خزيمة بأنه لا يحسن علم الكلام، في قصة رواها البيهقي إن صحت؛ فإن أبا الفضل البطاييني لم أعرفه، ولا ذكره السمعاني في هذه النسبة؛ فالله أعلم به، ومع ذلك فإني أقول:
إن الاعتراف المذكور من ابن خزيمة -إن صح عنه- لا يعيبه كما
তিনি প্রসিদ্ধি অর্জনের জন্য যা করতে চান সেদিকেই ধাবিত হচ্ছেন, যদিও তা সুন্নাহ এবং সুন্নাহর অনুসারীদের বিরুদ্ধে বিষোদগার করার বিনিময়ে হোক না কেন। আশ্চর্যের বিষয় হলো যে তিনি নিজেকে একজন সুফি হিসেবে প্রকাশ করেন, অথচ সুফিগণ তার বিপরীতে অবস্থান করেন; কারণ তাদের নীতি হলো আত্মগোপন করে থাকা, প্রসিদ্ধি বা খ্যাতি অর্জন করা নয়। এমনকি তাদের প্রাচীনদের একজন বলেছিলেন: "লেজ হও, মাথা হয়ো না!" এর পাশাপাশি তিনি আকিদাহর দিক থেকে খালাফি এবং ঝোঁকের দিক থেকে মুতাযিলি; তিনি আল্লাহর গুণাবলি (সিফাত) অস্বীকার করেন এবং আইম্মায়ে কেরাম ও তাদের অনুসারীদের—যাদের মধ্যে আলহামদুলিল্লাহ আমিও রয়েছি—সেই মুমিনদের প্রতি বিভিন্ন অপবাদ আরোপ করেন। তিনি ইবনুল জাওযীর "দাফউ শুবাহিত তাশবিহ" নামক গ্রন্থের উপর যে কালো টিকা বা মন্তব্য লিখেছেন তাতে তিনি তাদের বিরুদ্ধে এমন সব মিথ্যাচার করেছেন যে, যদি আমি তা বিস্তারিত অনুসন্ধান করতাম তবে তা একটি পূর্ণাঙ্গ গ্রন্থে রূপ নিত। উদাহরণস্বরূপ, তিনি তার টীকাগুলোর (পৃষ্ঠা ১১৪) মধ্যে বলেন:
"হাফেয ইবনে খুযাইমা শেষ জীবনে তার 'আত-তাওহীদ' গ্রন্থটি রচনার জন্য অনুতপ্ত হয়েছিলেন; যেমনটি হাফেয বাইহাকী 'আল-আসমা ওয়াস-সিফাত' (পৃষ্ঠা ২৬৭)-এ বর্ণনা করেছেন।"
এটি একটি দ্বিমুখী মিথ্যাচার; কারণ ইবনে খুযাইমা মোটেও অনুতপ্ত হননি এবং বাইহাকীও এটি তার দিকে সম্বন্ধ করেননি। হাফেয ইবনে খুযাইমা তার 'তাওহীদ' গ্রন্থের জন্য অনুতপ্ত হবেন—তা কীভাবে কল্পনা করা সম্ভব যখন এটি হলো বিশুদ্ধ ঈমান?! বরং হাফেয বাইহাকী এটি বর্ণনা করবেনই বা কীভাবে?! হে আল্লাহ, আপনি পবিত্র! এটি একজন মহা-মিথ্যুক পাপিষ্ঠের পক্ষ থেকে এক গুরুতর অপবাদ।
হে সম্মানিত পাঠক! আপনি যদি 'আল-আসমা ওয়াস-সিফাত'-এর উল্লিখিত পৃষ্ঠাটি দেখেন, তবে সেখানে আপনি এই বানোয়াট অনুতাপের কোনো চিহ্ন পাবেন না। বরং সেখানে ইবনে খুযাইমার এই স্বীকারোক্তি রয়েছে যে তিনি ইলমুল কালাম বা কালাম শাস্ত্র ভালোভাবে জানেন না। বাইহাকী বর্ণিত এই কাহিনীটি যদি সঠিকও হয়, তবুও বর্ণনাকারী আবুল ফযল আল-বাতায়িনীকে আমি চিনি না এবং সাম'আনীও এই নিসবত বা পরিচয়ে তাকে উল্লেখ করেননি; আল্লাহই তার সম্পর্কে ভালো জানেন। তা সত্ত্বেও আমি বলছি:
ইবনে খুযাইমার পক্ষ থেকে উল্লিখিত এই স্বীকারোক্তি—যদি তা তার থেকে প্রমাণিত হয়—তবে তা তাকে ত্রুটিযুক্ত করে না যেমনটি...
(খণ্ড: ১)
সিলসিলাতুল আহাদীসিস সহীহাহ ওয়া শাইউম মিন ফিকহিহা ওয়া ফাওয়ায়িদিহা
(পৃষ্ঠা: ৬)
يظن ذلك الجاهل المغرض، بل هو مما يرفع من شأنه، ويزيد من فضله؛ فإن له في ذلك الأسوة الحسنة بالسلف الصالح والأئمة الأربعة ومن تبعهم بإحسان، وليس منهم يقيناً علماء الكلام، كيف وهم القائلون: "علم السلف أسلم، وعلم الخلف أعلم وأحكم" (1) ؟! وهذا هو الكفر بعينه لو كانوا يعلمون، {كَبُرَتْ كَلِمَةً تَخْرُجُ مِنْ أَفْوَاهِهِمْ إِنْ يَقُولُونَ إِلَّا كَذِبًا} (2) .
كيف لا ورسول الله صلى الله عليه وسلم على رأس السلف الذين غمزوا من علمهم! وليس الآن مجال ضرب الأمثلة التي خالفوا فيها سلف الأمة، ولكن يكفي المسلم الموفق أن يعلم أنهم وافقوا المعتزلة والخوارج في كثير من ضلالاتهم، من ذلك قولهم بأن القرآن كلام الله مخلوق، لكنهم لا يصرحون تصريح المعتزلة، بل يقولون -تقية-: كلام الله، غير مخلوق"! ثم يتأولونه بالكلام النفسي الذي لا يسمع! ولكنه يفهم! فعطلوا بذلك صريح قوله تعالى لكليمه موسى عليه السلام: {فَاسْتَمِعْ لِمَا يُوحَى} (3) ، فجعلوا الكلام الإِلهي هو العلم الإِلهي (4) ، فعطلوا صفة الكلام، ولكن باللف والدوران! تماماً كما فعل المعتزلة -أو بعضهم- بصفة السمع والبصر، فقالوا: إن المراد: العلم (5) ! فعطلوا بذلك صفتي السمع والبصر كما عطلوا صفة
--------------------------------------------
সেই অজ্ঞ বিদ্বেষী ব্যক্তি যা ধারণা করে তা ঠিক নয়, বরং এটি তার মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্বকেই বৃদ্ধি করে; কেননা এ বিষয়ে তার জন্য সালাফে সালেহীন, চার ইমাম এবং যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করেছেন, তাঁদের মধ্যে উত্তম আদর্শ নিহিত রয়েছে। আর ইলমে কালামের পণ্ডিতগণ নিশ্চিতভাবেই তাঁদের অন্তর্ভুক্ত নন। তা কী করে সম্ভব, যখন তারাই বলে থাকে: "সালাফদের জ্ঞান অধিক নিরাপদ, আর খালাফদের (পরবর্তী যুগের লোকদের) জ্ঞান অধিক গভীর ও প্রজ্ঞাপূর্ণ" (১)?! যদি তারা জানত তবে বুঝত যে এটিই প্রকৃত কুফর। {তাদের মুখ থেকে নির্গত হওয়া কথাটি কতই না জঘন্য! তারা কেবল মিথ্যাই বলে} (২)।
তা হবেই বা না কেন, অথচ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সেই সালাফদের শীর্ষস্থানে রয়েছেন যাদের ইলমকে তারা তুচ্ছজ্ঞান করেছে! উম্মতের সালাফদের সাথে তারা যেসব বিষয়ে ভিন্নমত পোষণ করেছে তার উদাহরণ দেওয়ার ক্ষেত্র এখন এটি নয়, তবে একজন সফল মুসলিমের জন্য এতটুকু জানাই যথেষ্ট যে, তারা তাদের অনেক ভ্রষ্টতার ক্ষেত্রে মুতাজিলা ও খারেজিদের সাথে একমত হয়েছে। এর মধ্যে একটি হলো তাদের এই উক্তি যে—কুরআন আল্লাহর কালাম যা সৃষ্টি (মাখলুক)। তবে তারা মুতাজিলাদের মতো স্পষ্টভাবে তা প্রকাশ করে না, বরং তাকিয়্যাহ বা কৌশল হিসেবে বলে: "আল্লাহর কালাম, অ-সৃষ্ট"! এরপর তারা একে 'কালামে নাফসি' (মানসিক কথা) হিসেবে ব্যাখ্যা করে যা শোনা যায় না! কিন্তু বোঝা যায়! এর মাধ্যমে তারা আল্লাহ তাআলা তাঁর সাথে কথোপকথনকারী মূসা (আলাইহিস সালাম)-এর প্রতি দেওয়া স্পষ্ট বাণীকেই অস্বীকার করেছে: {সুতরাং যা ওহি পাঠানো হচ্ছে তা মনোযোগ দিয়ে শোনো} (৩)। ফলে তারা ঐশ্বরিক কালামকে ঐশ্বরিক ইলম (জ্ঞান) বানিয়ে ফেলেছে (৪)। এভাবে তারা ঘুরিয়ে-পেঁচিয়ে আল্লাহর কথা বলার গুণকে (সিফাত) অস্বীকার করেছে! ঠিক যেমনটি মুতাজিলারা—বা তাদের কেউ কেউ—আল্লাহর শ্রবণ ও দর্শন গুণের ক্ষেত্রে করেছিল; তারা বলেছিল: এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো ইলম বা জ্ঞান (৫)! এভাবেই তারা শ্রবণ ও দর্শন গুণকে অস্বীকার করেছে যেমন তারা অস্বীকার করেছে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সিলসিলাতুল আহাদীসিস সহীহাহ ওয়া শাইউম মিন ফিকহিহা ওয়া ফাওয়ায়িদিহা
(পৃষ্ঠা: ৭)
الكلام، فإن لم يكن هذا هو التعطيل؛ فليس في الدنيا تعطيل.
ولوضوح بطلان علم الكلام تاب منه جمع من أفاضل علمائهم (1) ؛ مثل الشيخ العلامة أبي محمد عبد الله بن يوسف الجويني والد إمام الحرمين رحمهم الله، ورسالته في إثبات الاستواء والفوقية والحرف والصوت في القرآن المجيد، من أقوى الأدلة على ذلك؛ فقد كتبها نصيحة لأخوانه في الله، بيَّن لهم فيها سبب تراجعه عن الأشعرية إلى السلفية، وهي مفيدة جدّاً لمن كان يرجو الله واليوم الآخر؛ فلتراجع في "مجموعة الرسائل المنيرية" (1/570-587) .
ولقد جرى على سننه ابنه إمام الحرمين، في التوبة والرجوع إلى مذهب السلف، كما حكى ذلك عنه غير واحد من العلماء، منهم الحافظ ابن حجر العسقلاني؛ فقد نقل في "الفتح" (13/350) عنه أنه لم يستفد من علم الكلام إلا الحيرة، ولذلك قال:
"والآن؛ فقد رجعت واعتقدت مذهب السلف".
وقال عند موته ناصحاً لأصحابه كما فعل أبوه من قبل:
"يا أصحابنا! لا تشتغلوا بالكلام، فلو عرفت أنه يبلغ بي ما بلغت؛ ما تشاغلت به".
وإذا أردت أيها القارىء الكريم أن ترى أثراً من آثار علم الكلام الخطيرة، والمنافية للنقل الصحيح والعقل الصريح؛ فاقرأ كتب الكوثري
--------------------------------------------
কালাম (তত্ত্ববিদ্যা), আর এটি যদি 'তাতীল' (আল্লাহর গুণাবলি অস্বীকার করা) না হয়, তবে দুনিয়াতে 'তাতীল' বলতে আর কিছুই নেই।
ইলমুল কালামের অসারতা স্পষ্ট হওয়ার কারণে তাঁদের একদল শ্রেষ্ঠ আলেম তা থেকে তওবা করেছেন (১); যেমন শাইখ আল্লামা আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ বিন ইউসুফ আল-জুওয়াইনি, যিনি ইমামুল হারামাইনের পিতা (আল্লাহ তাঁদের ওপর রহম করুন)। পবিত্র কুরআনে আল্লাহর 'উঠা' (ইস্তাওয়া), তাঁর উপরে থাকা এবং (আল্লাহর কালামে) অক্ষর ও শব্দ সাব্যস্ত করার বিষয়ে তাঁর রিসালাহটি (পুস্তিকা) এ বিষয়ে অন্যতম শক্তিশালী দলিল; তিনি এটি আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে তাঁর ভাইদের জন্য নসিহত হিসেবে লিখেছিলেন, যেখানে তিনি আশআরী মতবাদ থেকে সরে এসে সালাফী মানহাজ গ্রহণ করার কারণ বর্ণনা করেছেন। যারা আল্লাহ ও পরকালের আশা রাখে তাদের জন্য এটি অত্যন্ত উপকারী; তাই এটি "মাজমুআতুর রাসায়িল আল-মুনিরিয়্যাহ" (১/৫৭০-৫৮৭) থেকে দেখে নেওয়া উচিত।
তাঁর পুত্র ইমামুল হারামাইনও তওবা করে সালাফদের মাজহাবে ফিরে আসার ক্ষেত্রে তাঁর পিতার পথই অনুসরণ করেছেন, যেমনটি তাঁর সম্পর্কে একাধিক আলেম বর্ণনা করেছেন। তাঁদের মধ্যে হাফেজ ইবনে হাজার আল-আসকালানি অন্যতম; তিনি "আল-ফাতহ" (১৩/৩৫০) গ্রন্থে তাঁর থেকে উদ্ধৃত করেছেন যে, তিনি ইলমুল কালাম থেকে বিভ্রান্তি ছাড়া আর কিছুই লাভ করেননি, আর তাই তিনি বলেছিলেন:
"আর এখন আমি ফিরে এসেছি এবং সালাফদের মাজহাবকেই আকিদা হিসেবে গ্রহণ করেছি।"
তিনি তাঁর মৃত্যুর সময় তাঁর সাথীদের নসিহত করে বলেছিলেন, যেমনটি তাঁর পিতা ইতিপূর্বে করেছিলেন:
"হে আমাদের সাথীরা! তোমরা কালামশাস্ত্র নিয়ে ব্যস্ত হইও না; যদি আমি জানতাম যে এটি আমাকে আজ যে অবস্থায় নিয়ে এসেছে সেখানে পৌঁছে দেবে, তবে আমি এতে লিপ্ত হতাম না।"
হে সম্মানিত পাঠক, আপনি যদি ইলমুল কালামের এমন কিছু বিপজ্জনক প্রভাব দেখতে চান যা সহিহ বর্ণনা এবং স্পষ্ট যুক্তির পরিপন্থী, তবে কাওসারীর বইগুলো পড়ুন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সিলসিলাতুল আহাদীসিস সহীহাহ ওয়া শাইউম মিন ফিকহিহা ওয়া ফাওয়ায়িদিহা
(পৃষ্ঠা: ৮)
ومن جرى مجراه، كذاك التلميذ السقاف، فسوف ترى ما يزيدك بصيرة وقناعة بأن الذي يتعلمونه منهم إنما {يَتَعَلَّمُونَ مَا يَضُرُّهُمْ وَلَا يَنْفَعُهُمْ} (1) ، بل هو الكفر بعينه إذا التزموه، ولا أدل على ذلك من اتفاقهم على إنكار صفة العلو لله العلي القطعية الثبوت القطعية الدلالة؛ لتواترها في الكتاب والسنة وأقوال السلف والأئمة، محكمين فيها عقولهم العفنة، ومن ثم فقد اختلفوا:
فمنهم -كالإِباضية والمعتزلة (2) - من قال: إنه في كل مكان! ولازمه القول بالحلول أو وحدة الوجود كما هو عقيدة غلاة الصوفية!
ومنهم من يقول: إنه لا فوق ولا تحت، ولا يمين ولا يسار، ولا أمام ولا خلف، لا داخل العالم ولا خارجه! ولقد سمعت هذا من بعض المشايخ في دمشق في خطبة الجمعة!! وأغرق بعضهم في التعطيل، فقال: لا متصلاً به، ولا منفصلاً عنه!!
وهذا لعمر الله هو الكفر والجحد للوجود الإِلهي؛ فإنه لو قيل لأفصح العرب بياناً: صف لنا المعدوم الذي لا وجود له؛ لما استطاع أن يصفه بأكثر من هذا الذي وصف هؤلاء به ربهم!!
--------------------------------------------
এবং যারা তার পথে চলেছে, যেমন সেই ছাত্র সাক্কাফ, শীঘ্রই আপনি এমন কিছু দেখতে পাবেন যা আপনার অন্তর্দৃষ্টি এবং দৃঢ়বিশ্বাস বৃদ্ধি করবে যে, তারা তাদের থেকে যা শিখছে তা হলো {তারা শিখছে এমন কিছু যা তাদের ক্ষতি করে এবং তাদের কোনো উপকারে আসে না} (১), বরং তারা যদি এতে অটল থাকে তবে এটি স্পষ্ট কুফরি। এর চেয়ে বড় প্রমাণ আর নেই যে, তারা সুউচ্চ আল্লাহর 'আল-উলু' (সবার উপরে থাকা) গুণটিকে অস্বীকার করার ব্যাপারে একমত হয়েছে, যা সাব্যস্ত হওয়ার দিক থেকে অকাট্য এবং অর্থের দিক থেকেও অকাট্য; কারণ এটি কুরআন, সুন্নাহ এবং সালাফ ও ইমামগণের বাণীতে নিরবচ্ছিন্নভাবে বর্ণিত। এক্ষেত্রে তারা তাদের কলুষিত বিবেক-বুদ্ধিকে বিচারক বানিয়েছে, আর এর ফলে তারা মতভেদ করেছে:
তাদের মধ্যে কেউ কেউ—যেমন ইবাদি ও মুতাজিলাগণ (২)—বলেছেন: তিনি সব স্থানে আছেন! এর অনিবার্য পরিণতি হলো হুলুল (সৃষ্টিতে স্রষ্টার প্রবেশ) অথবা ওয়াহদাতুল উজুদ (অদ্বৈতবাদ)-এর মতবাদ পোষণ করা, যেমনটি চরমপন্থী সুফিদের আকিদা!
আবার তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলে: তিনি উপরেও নন, নিচেও নন, ডানেও নন, বামেও নন, সামনেও নন, পেছনেও নন, জগতের ভেতরেও নন এবং জগতের বাইরেও নন! আমি দামেস্কের জনৈক শায়খের কাছ থেকে জুমার খুতবায় এটি শুনেছি!! তাদের মধ্যে কেউ কেউ আল্লাহর গুণাবলি অস্বীকারের ক্ষেত্রে এতই বাড়াবাড়ি করেছে যে বলেছে: তিনি জগতের সাথে যুক্তও নন, আবার জগত থেকে বিচ্ছিন্নও নন!!
আল্লাহর কসম, এটি কুফরি এবং ইলাহি অস্তিত্বকে অস্বীকার করা; কারণ যদি আরবের সবচেয়ে প্রাঞ্জলভাষী ব্যক্তিকে বলা হতো: 'আমাদের কাছে এমন এক অবস্তুর বর্ণনা দাও যার কোনো অস্তিত্ব নেই', তবে সে এর চেয়ে বেশি কিছু বর্ণনা করতে পারত না যা দিয়ে এরা তাদের রবের বর্ণনা দিয়েছে!!
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সিলসিলাতুল আহাদীসিস সহীহাহ ওয়া শাইউম মিন ফিকহিহা ওয়া ফাওয়ায়িদিহা
(পৃষ্ঠা: ৯)
وهذا الجحد هو الذي وقع فيه هذا الجاهل المتعالم الطاعن في أئمة السلف، والمفتري على أهل السنة شتى الافتراءات، فقال في رسالته المزعومة "التنديد لمن عدد التوحيد" (ص 50) :
"صرح أهل السنة والجماعة بأن الله سبحانه لا يوصف بأنه خارج العالم ولا داخله".
وكرر هذا في رسالة أخرى له أسماها كذباً وزوراً: "عقيدة أهل السنة" (ص 26) .
قلت: فلينظر المسلم في هذا الوصف: هل هو وصف لموجود أم لمعدوم؟! {سُبْحَانَهُ وَتَعَالَى عَمَّا يَقُولُونَ عُلُوًّا كَبِيرًا} (1) .
ورحم الله شيخ الإِسلام ابن تيمية؛ فإنه أصاب كبد الحقيقة حين وصف هؤلاء النفاة المعطلة ومعارضيهم من المشبهة بقوله:
"المشبه يعبد صنماً، والمعطل يعبد عدماً، المشبه أعشى، والمعطل أعمى"!
والحق الذي عليه السلف والأئمة: إثبات الصفات بدون تشبيه، وتنزيه بدون تعطيل.
ومن اللطائف التي وقعت لبعض الأمراء العقلاء أنه لما سمع ذلك الوصف المعطل من بعض المشايخ المجادلين بالباطل؛ قال:
"هؤلاء قومٌ أضاعوا ربَّهم"!
--------------------------------------------
এই অস্বীকারের বিষয়টিই সেই জাহেল ও স্বঘোষিত পণ্ডিতের ক্ষেত্রে ঘটেছে, যে সালাফ ইমামগণের প্রতি আক্রমণকারী এবং আহলুস সুন্নাহর ওপর নানা ধরনের মিথ্যা অপবাদ আরোপকারী। সে তার কথিত পুস্তিকা "আত-তানদীদ লিমান আদদাদাত তাওহীদ" (পৃষ্ঠা ৫০)-এ বলেছে:
"আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআত স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা জগতের বাইরে কিংবা জগতের ভেতরে—এমন কোনো গুণে গুণান্বিত নন।"
সে তার অন্য একটি পুস্তিকায় এই কথারই পুনরাবৃত্তি করেছে, যার নাম সে মিথ্যা ও প্রবঞ্চনাপূর্ণভাবে রেখেছে: "আকীদায়ে আহলুস সুন্নাহ" (পৃষ্ঠা ২৬)।
আমি বলি: একজন মুসলিম যেন এই বর্ণনার দিকে লক্ষ্য করেন: এটি কি কোনো বিদ্যমান সত্তার বর্ণনা, নাকি কোনো অবিদ্যমান সত্তার?! "তারা যা বলে তা থেকে তিনি পবিত্র এবং অতিশয় উচ্চ ও মহান।" (১)।
আল্লাহ শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহর ওপর রহমত বর্ষণ করুন; তিনি এই গুণাবলি অস্বীকারকারী মুয়াত্তিলা এবং তাদের বিপরীতপক্ষ মুশাব্বিহাদের (সাদৃশ্য দানকারী) বর্ণনা দিতে গিয়ে সত্যের মর্মমূলে আঘাত করেছেন এই বলে যে:
"মুশাব্বিহা মূর্তির ইবাদত করে, আর মুয়াত্তিলা ইবাদত করে এক শূন্যের। মুশাব্বিহা হলো রাতকানা, আর মুয়াত্তিলা হলো অন্ধ!"
আর সালাফ এবং ইমামগণ যে সত্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিলেন তা হলো: কোনো প্রকার সাদৃশ্য ছাড়াই আল্লাহর গুণাবলি সাব্যস্ত করা এবং কোনো প্রকার অস্বীকার ছাড়াই তাঁকে পবিত্র জ্ঞান করা।
জনৈক বুদ্ধিমান আমীরের ক্ষেত্রে ঘটে যাওয়া একটি সূক্ষ্ম ঘটনা হলো এই যে, তিনি যখন বাতিলের পক্ষে বিতর্ককারী কিছু শায়খের কাছ থেকে আল্লাহকে গুণহীন সাব্যস্ত করার ঐ বর্ণনা শুনলেন, তখন তিনি বললেন:
"এরা এমন এক সম্প্রদায় যারা তাদের প্রতিপালককে হারিয়ে ফেলেছে!"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সিলসিলাতুল আহাদীসিস সহীহাহ ওয়া শাইউম মিন ফিকহিহা ওয়া ফাওয়ায়িদিহা
(পৃষ্ঠা: ১০)
ويبدو لي أن ذلك الجاهل الطاعن في السلف شعر بخطورة الوصف المذكور، وأنه مرفوض نقلاً وعقلاً؛ لذا لجأ إلى التدليس على القراء بعبارة أخرى تؤدي الغرض الكمين في نفسه دون أن ينتبه له عامة قرائه، فقال في تعليقه له على كتاب ابن الجوزي المتقدم (ص 127) :
"وهنا أمر مهم جدّاً، وهو أننا لا نقول بأن الله موجود في كل مكان ألبتة، بل نكفر من يقول ذلك، ونعتقد أن الله سبحانه موجود بلا مكان؛ لأنه خالق المكان"!
فأقول: هذا تصريح منك يناقض تصريحك السابق: أن الله تعالى ليس بخارج العالم، وذلك أنه لا مكان خارج العالم، فإن كنت صادقاً في قولك هذا؛ فقد اهتديت ورجعت إلى عقيدة السلف التي كنت ولا تزال -فيما نعلم- تتهم من دان بها بالكفر والتجسيم؛ مثل ابن تيمية وغيره كمثلي، وإلا قرأنا عليك قول الحق: {فَوَيْلٌ لِلَّذِينَ كَفَرُوا مِنَ النَّارِ} (1) ؛ مذكِّرين بالمثل العامي: من كان بيته من زجاج؛ فلا يرم الناس بالحجارة!
وإن من تلك الآثار السيئة لعلماء الكلام والمتأثرين بفلسفتهم كذاك السقاف المغرور بهم: أنهم لا يقيمون وزناً لجهود أئمة الحديث وعلمائهم ونقادهم؛ فإنهم يسلطون أهواءهم على ما صححوا من الأحاديث أو ضعفوا، فما راق لهم منها قبلوه واحتجوا به، ولو كان ضعيفاً، وإلا رفضوه ولو كان صحيحاً!! وهذا ظاهر جدّاً في المتقدمين منهم والمتأخرين، وأوضح مثال على ذلك الشيخ الكوثري، وعبد الله الغماري؛ فقد ضعفوا
--------------------------------------------
আমার কাছে মনে হচ্ছে যে, সালাফদের আক্রমণকারী সেই মূর্খ ব্যক্তি উল্লিখিত বর্ণনার ভয়াবহতা অনুভব করেছেন, এবং এটি যে বর্ণনাগত ও যুক্তিসঙ্গত উভয় দিক থেকেই অগ্রহণযোগ্য তাও বুঝতে পেরেছেন। তাই তিনি পাঠকদের বিভ্রান্ত করতে এমন এক বাক্যাংশ ব্যবহারের আশ্রয় নিয়েছেন যা তার অন্তরে লুকানো উদ্দেশ্য সাধন করে, অথচ সাধারণ পাঠকরা তা লক্ষ্য করেন না। তিনি ইবনে জাওযীর পূর্বোক্ত কিতাবের (পৃষ্ঠা ১২৭) ওপর তার টীকায় বলেছেন:
"এখানে একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে, আর তা হলো—আমরা মোটেও বলি না যে আল্লাহ সর্বস্থানে বিদ্যমান; বরং আমরা তাকে কাফির মনে করি যে এটি বলে। আমরা বিশ্বাস করি যে, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা স্থান ছাড়াই বিদ্যমান; কারণ তিনি স্থানের স্রষ্টা!"
আমি বলি: তোমার এই বক্তব্য তোমার পূর্ববর্তী বক্তব্যের সাথে সরাসরি সাংঘর্ষিক, যেখানে বলেছিলে: আল্লাহ তাআলা জগতের বাইরে নন। কারণ জগতের বাইরে কোনো স্থান নেই। যদি তুমি তোমার এই দাবিতে সত্যবাদী হও, তবে তুমি হেদায়াত পেয়েছ এবং সালাফদের সেই আকিদায় ফিরে এসেছ—যাদের অনুসারীদের তুমি ইতিপূর্বে কুফর ও তাজসিমের (সাকারত্বারোপ) অপবাদ দিয়ে আসছ (এবং আমাদের জানামতে এখনও দিচ্ছ); যেমন ইবনে তাইমিয়্যাহ এবং আমার মতো অন্যদের। অন্যথায় তোমার ক্ষেত্রে আমি সত্যের এই বাণী পাঠ করছি: {অতএব কাফিরদের জন্য দুর্ভোগ রয়েছে জাহান্নামের আগুনের} (১); আর সেই প্রবাদটি স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি: যার নিজের ঘর কাঁচের, সে যেন অন্যের ঘরে পাথর না মারে!
ইলমুল কালামের আলিমগণ এবং তাদের দর্শনে প্রভাবিত ব্যক্তিদের—যেমন তাদের দ্বারা প্রতারিত এই সাক্কাফ—অন্যতম মন্দ প্রভাব হলো: তারা হাদিসের ইমাম, আলিম এবং সমালোচকদের প্রচেষ্টাকে বিন্দুমাত্র মূল্যায়ন করে না। হাদিস সহিহ কিংবা জয়িফ (দুর্বল) হওয়ার ক্ষেত্রে তারা নিজেদের খেয়াল-খুশিকে চাপিয়ে দেয়; তাদের প্রবৃত্তির অনুকূলে যা যায়, তা-ই তারা গ্রহণ করে এবং দলিল হিসেবে পেশ করে, যদিও তা দুর্বল হয়। আর যা তাদের মনঃপূত হয় না, তা-ই তারা প্রত্যাখ্যান করে, যদিও তা সহিহ হয়!! তাদের পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকলের মধ্যেই এটি অত্যন্ত স্পষ্ট। এর সবচেয়ে উজ্জ্বল উদাহরণ হলেন শায়খ কাওসারি এবং আবদুল্লাহ গুমারি; তারা দুর্বল বলেছেন—
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সিলসিলাতুল আহাদীসিস সহীহাহ ওয়া শাইউম মিন ফিকহিহা ওয়া ফাওয়ায়িদিহা
(পৃষ্ঠা: ১১)
حديث الجارية الذي فيه سؤاله صلى الله عليه وسلم: "أين الله؟ ". قالت: في السماء: قال صلى الله عليه وسلم: "أعتقها فإنها مؤمنة"، وتبعهم على ذلك ذاك الهالك في تقليدهم؛ السقاف! بل إنه زاد عليهم طغياناً وغروراً، فقال في "تعليقه على دفع شبه التشبيه" (ص 108) :
"ونحن نقطع بأن النبي صلى الله عليه وسلم لم يقل: أين الله"!
وقال (ص 188) :
"ذاك اللفظ المستشنع"!
يقول المستهتر هذا وهو يعلم أن الحديث متَّفق على صحته عند علماء المسلمين، متلقى بالقبول خلفاً عن سلف، واحتج به كبار الأئمة؛ كمالك والشافعي وأحمد وغيرهم، وصححه مسلم وأبو عوانة وابن الجارود وابن خزيمة وابن حبان، ثم تبعهم على ذلك جماعة من الحفاظ -وبعضهم من المتأولة- كالبيهقي والبغوي وابن الجوزي والذهبي والعسقلاني وغيرهم.
فماذا يقول المسلم العاقل في جاهل جاحد مكابر يخالف هؤلاء الأئمة والحفاظ؟! ويستشنع لفظ النبي صلى الله عليه وسلم الذي صححوه!! بل ويصف الذين يرددون هذا اللفظ النبوي (ص 187) بـ (المجسمة) ، بل ويصف فضيلة الشيخ ابن باز لأنه انتصر في تعليقه على "الفتح" (1/188) لعقيدة استواء الله على عرشه، وأنه يجوز السؤال بـ (أين الله؟) ، فيقول مشيراً للشيخ حفظه الله:
"ولا عبرة بكلام المعلق عليه -"الفتح"- البتة، لأنه لا يعرف
দাসীর হাদীস যাতে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর প্রশ্ন রয়েছে: "আল্লাহ কোথায়?"। সে উত্তর দিয়েছিল: "আসমানে"। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: "তাকে মুক্ত করে দাও, কারণ সে একজন মুমিন", এবং তাদের অন্ধ অনুকরণে সেই ধ্বংসপ্রাপ্ত ব্যক্তি আস-সাক্কাফ তাদের অনুসরণ করেছে! বরং সে তাদের চেয়েও অবাধ্যতা ও অহংকারে ছাড়িয়ে গেছে। সে তার "দাফউ শুবাহিত তাশবিহ"-এর টীকায় (পৃষ্ঠা ১০৮) বলেছে:
"এবং আমরা নিশ্চিতভাবে জানি যে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কখনো বলেননি: আল্লাহ কোথায়!"
এবং সে বলেছে (পৃষ্ঠা ১৮৮):
"ঐ জঘন্য শব্দগুচ্ছ!"
এই বেপরোয়া ব্যক্তিটি এমন কথা বলছে অথচ সে জানে যে, মুসলিম আলেমদের নিকট এই হাদীসটির বিশুদ্ধতার ব্যাপারে ঐকমত্য রয়েছে, যা উত্তরসূরিরা পূর্বসূরিদের থেকে গ্রহণযোগ্য হিসেবে গ্রহণ করেছেন। বড় বড় ইমামগণ এটি দ্বারা দলিল পেশ করেছেন; যেমন মালেক, শাফেয়ী, আহমাদ ও অন্যান্যগণ। মুসলিম, আবু আওয়ানাহ, ইবনুল জারুদ, ইবনে খুযাইমাহ এবং ইবনে হিব্বান একে সহীহ বলেছেন। এরপর একদল হাফিয তাদের অনুসরণ করেছেন—যাদের মধ্যে কেউ কেউ ব্যাখ্যা প্রদানকারী (মুতাওয়্যিল) ছিলেন—যেমন বাইহাকী, বাগাভী, ইবনুল জাওযী, যাহাবী, আসকালানী ও অন্যান্যগণ।
তবে একজন বুদ্ধিমান মুসলিম সেই অজ্ঞ, অস্বীকারকারী ও দাম্ভিক ব্যক্তি সম্পর্কে কী বলবে যে এই সকল ইমাম ও হাফিযদের বিরোধিতা করে?! এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সেই শব্দকে জঘন্য মনে করে যা তারা বিশুদ্ধ বলে গণ্য করেছেন!! এমনকি সে ঐসব ব্যক্তিদেরকে (পৃষ্ঠা ১৮৭) 'মুজাসসিমা' (দেহবাদী) হিসেবে বর্ণনা করে যারা এই নববী শব্দের পুনরাবৃত্তি করে। তদুপরি সে সম্মানিত শাইখ বিন বাযকেও (আক্রমণ করে), কারণ তিনি "আল-ফাতহ" (১/১৮৮) এর টীকায় আল্লাহর আরশের উপরে উঠার আকিদাকে সমর্থন করেছেন এবং "আল্লাহ কোথায়?" বলে প্রশ্ন করা জায়েয বলে মত দিয়েছেন। সে শাইখ (আল্লাহ তাকে হিফাযত করুন)-এর দিকে ইঙ্গিত করে বলে:
"এবং 'ফাতহ'-এর টীকাকারের কথার বিন্দুমাত্র কোনো গুরুত্ব নেই, কারণ তিনি জানেন না..."
(খণ্ড: ১)
সিলসিলাতুল আহাদীসিস সহীহাহ ওয়া শাইউম মিন ফিকহিহা ওয়া ফাওয়ায়িদিহা
(পৃষ্ঠা: ১২)
التوحيد، فليخجل بعد هذا من يدعو الناس إلى عقيدة "الله في السماء" وليتب"!!
وبالجملة؛ فهو جهمي جلد، ينكر معاني آيات الصفات بطريق التأويل والتعطيل، كما فعل بآيات الاستواء، وينكر أحاديث الصفات الصحيحة بادعاء ضعفها ومخالفة علماء الحديث والجرح والتعديل، كهذا الحديث ونحوه كثير؛ فهو يضعف قوله صلى الله عليه وسلم: "رأيت ربي في أحسن صورة"، ويفتري في تخريجه على بعض الأئمة، كما يضععف أحاديث اليدين والقبضة والأصابع والضحك وغيرها، فلعل بعض إخواننا يتفرغون له، ويكشفون للناس جهله وضلاله وعواره، كفى الله المؤمنين شروره.
إذا عرفت أيها القارىء الكريم ما سبق من البيان لحال هذا الإِنسان -وهو قل من جل- ينكشف لك سبب حمله وطعنه على أتباع السنة وأئمتها والداعين إليها والذابين عنها، فلا يكاد يخلو صفحة من صحائف ما سوَّده من غمزه ولمزه، وقد خصَّني بقسط وافر منه، فلا يكاد يذكرني إلا وهو يصفني بـ (المجسم) و (المتناقض) !! مقروناً بالزور والكذب، الأمر الذي يدل دلالة قاطعة على أنه يحمل في قلبه {غِلًّا لِلَّذِينَ آَمَنُوا} ! وأنه دبَّ إليه داء الأمم من قبلنا: البغضاء والحسد، هي الحالقة: حالقة الدين والعياذ بالله، إلى جهل بالغ بطرق نقد الأحاديث وتصحيحها.
ولا أدل على ذلك من كتابه الذي أسماه بـ "تناقضات الألباني"! فإنه يطفح حقداً وجهلاً وغروراً، مما ذكرني ببعض أشراط الساعة التي منها قوله صلى الله عليه وسلم: "وينطق فيها الرُّوَيْبِضَة". قيل: وما الرويبضة؟ قال: "الرجل التافه
তাওহীদ; এরপর থেকে যারা মানুষকে "আল্লাহ আসমানে আছেন" এই আকিদার দিকে আহ্বান করে, তাদের লজ্জিত হওয়া উচিত এবং তাওবা করা উচিত!!
সারসংক্ষেপে, সে একজন কট্টর জাহমি, যে অপব্যাখ্যা (তাবীল) ও অর্থহীন করার (তাতীল) মাধ্যমে সিফাত বা গুণাবলির আয়াতের অর্থসমূহকে অস্বীকার করে, যেমনটি সে ইস্তিওয়ার (উপরে উঠার) আয়াতগুলোর ক্ষেত্রে করেছে। সে সহীহ সিফাতের হাদিসগুলোকে দুর্বল হওয়ার দাবি করে এবং হাদিস বিশারদ ও জারহ-ওয়াত-তাদীল শাস্ত্রের ইমামদের বিরুদ্ধাচরণ করে অস্বীকার করে থাকে, যেমন এই হাদিসটি এবং এর মতো আরও অনেক। সে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এই বাণীকে দুর্বল বলে: "আমি আমার রবকে সর্বোত্তম আকৃতিতে দেখেছি", এবং এর তাখরীজের ক্ষেত্রে সে কিছু ইমামের ওপর অপবাদ দেয়। তদ্রূপ সে আল্লাহর হাত, মুষ্টি, আঙ্গুলসমূহ, হাসি এবং এই জাতীয় অন্যান্য সিফাতের হাদিসগুলোকেও দুর্বল প্রতিপন্ন করে। সম্ভবত আমাদের কিছু ভাই তার বিরুদ্ধে সময় ব্যয় করবেন এবং মানুষের কাছে তার অজ্ঞতা, পথভ্রষ্টতা ও ত্রুটিগুলো উন্মোচন করবেন। আল্লাহ মুমিনদেরকে তার অনিষ্ট থেকে রক্ষা করুন।
হে সম্মানিত পাঠক, এই ব্যক্তির অবস্থা সম্পর্কে উপরোক্ত বর্ণনা থেকে আপনি যদি অবগত হয়ে থাকেন—যা কিনা মূল বিষয়ের অতি সামান্য অংশ মাত্র—তবে সুন্নাহর অনুসারী, এর ইমামগণ, এর দিকে আহ্বানকারী এবং এর রক্ষকদের বিরুদ্ধে তার আক্রমণ ও সমালোচনার কারণ আপনার কাছে স্পষ্ট হয়ে যাবে। সে যা কিছু লিখেছে তার কোনো পৃষ্ঠাই তার ইঙ্গিত ও বিদ্রূপ থেকে খালি নেই। সে এর একটি বিরাট অংশ আমার জন্য বরাদ্দ করেছে; সে যখনই আমার কথা উল্লেখ করে, তখনই সে আমাকে "মুজাসসিম" (আল্লাহর দেহ সাব্যস্তকারী) এবং "পরস্পরবিরোধী" বলে আখ্যায়িত করে!! আর এর সাথে থাকে জালিয়াতি ও মিথ্যাচার। এই বিষয়টি অকাট্যভাবে প্রমাণ করে যে, সে তার অন্তরে "মুমিনদের প্রতি বিদ্বেষ" পোষণ করে! আর তার মধ্যে আমাদের পূর্ববর্তী জাতিসমূহের ব্যাধি সংক্রামিত হয়েছে: তা হলো ঘৃণা ও হিংসা; যা হলো 'মুণ্ডনকারী': অর্থাৎ দ্বীনকে মুণ্ডনকারী, আল্লাহর কাছে এ থেকে আশ্রয় চাই। এর সাথে রয়েছে হাদিস সমালোচনা ও তা সহীহ করার পদ্ধতি সম্পর্কে তার চরম অজ্ঞতা।
এর চেয়ে বড় প্রমাণ আর নেই যে কিতাবটি সে লিখেছে এবং যার নামকরণ করেছে "আলবানীর পরস্পরবিরোধিতা" নামে! এটি ঘৃণা, অজ্ঞতা এবং অহংকারে টইটুম্বর, যা আমাকে কিয়ামতের এমন কিছু আলামতের কথা মনে করিয়ে দেয় যার মধ্যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এই বাণীটি অন্তর্ভুক্ত: "সে সময়ে রুওয়াইবিদাহ কথা বলবে।" জিজ্ঞেস করা হলো: রুওয়াইবিদাহ কী? তিনি বললেন: "তুচ্ছ ব্যক্তি..."
(খণ্ড: ১)
সিলসিলাতুল আহাদীসিস সহীহাহ ওয়া শাইউম মিন ফিকহিহা ওয়া ফাওয়ায়িদিহা
(পৃষ্ঠা: ১৩)
(وفي طريق: السفيه) (1) يتكلم في أمر العامة".
ولست الآن في صدد الرد عليه؛ فهو أتفه عندي وأحقر من أن أضيع في ذلك وقتي، ولكن لا بدَّ لي هنا من كلمات مختصرات بقدر الإِمكان، تتلاءم مع هذه المقدمة، فأقول:
أولاً: الكتاب مشحون بالافتراءات والأكاذيب -كعادته في كل ما يسود-؛ فهاك مثالاً واحداً يغنيك عن غيره، قال في مقدمته (ص 4) :
"وغير خاف أن الشيخ يعد نفسه وكذا من فتن به أنه وحيد دهره وفريد عصره، وأن كلامه لا يجوز الاستدراك عليه، وأنه فاق السابقين في الوقوف على أطراف الحديث وزياداته وتمحيصها
… " إلخ هرائه.
وليس لي ما أقوله تجاه هذه الفرية ذات القرون سوى {سُبْحَانَكَ هَذَا بُهْتَانٌ عَظِيمٌ} (2) وإثم مبين، لا يصدر إلا ممن لا يؤمن بمثل قول رب العالمين: {وَمَنْ يَكْسِبْ خَطِيئَةً أَوْ إِثْمًا ثُمَّ يَرْمِ بِهِ بَرِيئًا فَقَدِ احْتَمَلَ بُهْتَانًا وَإِثْمًا مُبِينًا} (3) ؛ فإن ما يطبع مجدداً من كتبي، وما أصرح به في كثير منها حتى في مقدماتي؛ لتستأصل شأفة فريته هذه استئصالاً، وتصفع بها وجهه الكالح صفعاً، مثل قولي في مقدمة الطبعة الثامنة من كتابي "صحيح الكلم الطيب" (ص 9) :
--------------------------------------------
(এবং এক বর্ণনায় এসেছে: নির্বোধ ব্যক্তি) (১) যে সাধারণ মানুষের বিষয়ে কথা বলে।"
আমি এখন তাকে উত্তর দেওয়ার পর্যায়ে নেই; কারণ আমার কাছে সে এতটাই অকিঞ্চিৎকর ও নগণ্য যে এ কাজে আমার সময় নষ্ট করতে চাই না। তবে এখানে এ ভূমিকার সাথে সামঞ্জস্য রেখে যথাসম্ভব সংক্ষিপ্ত কিছু কথা বলা আবশ্যক মনে করছি, তাই আমি বলছি:
প্রথমত: বইটি অপবাদ ও মিথ্যায় ভরপুর —যেমনটি তার প্রতিটি লেখার চিরচেনা স্বভাব—; সুতরাং এখানে এমন একটি উদাহরণ দিচ্ছি যা আপনাকে অন্য সবকিছু থেকে বিমুখ করবে। সে তার ভূমিকার (পৃ. ৪)-এ বলেছে:
"এটি অস্পষ্ট নয় যে, শায়খ নিজেকে এবং যারা তার প্রতি মোহগ্রস্ত তারাও তাকে তার যুগের অদ্বিতীয় ও অনন্য মনে করে। তারা মনে করে যে, তার কথার ওপর কোনো সংশোধন চলবে না এবং সে হাদীসের বিভিন্ন দিক, এর অতিরিক্ত অংশগুলো খুঁজে বের করা ও সেগুলো যাচাই-বাছাইয়ের ক্ষেত্রে পূর্ববর্তীদের ছাড়িয়ে গেছে
… " ইত্যাদি তার প্রলাপ।
আর এই ডাহা মিথ্যার বিপরীতে আমার বলার কিছু নেই কেবল এটি ছাড়া: {পবিত্র মহান আপনি! এটি এক গুরুতর অপবাদ} (২) এবং স্পষ্ট পাপ। এটি কেবল এমন কারো পক্ষেই সম্ভব যে বিশ্বজগতের প্রতিপালকের এই বাণীর মতো বাণীতে বিশ্বাস করে না: {আর যে ব্যক্তি কোনো দোষ বা পাপ করে, অতঃপর তা কোনো নির্দোষ ব্যক্তির ওপর চাপিয়ে দেয়, সে তো এক গুরুতর অপবাদ ও স্পষ্ট পাপের বোঝা বহন করল} (৩); প্রকৃতপক্ষে আমার বইগুলোর যে নতুন মুদ্রণ বের হচ্ছে এবং আমি আমার অনেক বইতে এমনকি ভূমিকাগুলোতে যা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করছি, তা তার এই মিথ্যার মূল উপড়ে ফেলার জন্য এবং তার মলিন মুখে চপেটাঘাত করার জন্য যথেষ্ট। যেমন আমার 'সহীহুল কালিমিত তায়্যিব' (পৃ. ৯) বইয়ের অষ্টম সংস্করণের ভূমিকায় আমার বক্তব্য:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সিলসিলাতুল আহাদীসিস সহীহাহ ওয়া শাইউম মিন ফিকহিহা ওয়া ফাওয়ায়িদিহা
(পৃষ্ঠা: ১৪)
"حذفنا أربعة أحاديث تبين لي أنها ليست من شرطنا
… والثاني منها كان قد راجعني فيه بعض إخواننا الطلاب كتابيّاً وشفهيّاً؛ فلهم الفضل والشكر".
ومثله ما تراه في مقدمة الطبعة الجديدة للمجلد الأول من "الضعيفة" في الرد على أمثال هذا الباهت من جهة، وبيان سبب التراجع عن بعض الآراء والأحكام الذي يعتبره هذا الظالم تناقضاً من جهة أخرى، فراجعها؛ فإنها مهمة جدّاً.
ومثله
… ومثله
… مما يصعب حصره.
ثم إننا نقول لك: ما هو الفرق بين اتهامك هذا وبين ما لو قال لك قائل:
إنك -دون شك أو ريب- دسيس بين المسلمين، ومن أعداء الإِسلام كاليهود أو غيرهم؛ لإِفساد عقائدهم، وإيقاع البلبلة في صفوف عامتهم، بما تبثه فيما ينسب إليك من المؤلفات التي تشعر أن من ورائك من يمدك في الغي والطعن في أئمة المسلمين وحفاظهم، كمثل قولك في كتاب "التوحيد" لابن خزيمة: إنه كتاب شرك، وتضعيفك لإِمام السنة حماد ابن سلمة، وتكفيرك لشيخ الإِسلام ابن تيمية ومن نحا نحوه، وهذا كله مبثوث في المؤلفات المشار إليها، وبخاصة التعليق على "دفع الشبه"، لو قال لك قائل هذا، فما هو ردك؟ فمهما كان جوابك، فهو حجتنا عليك.
وفي ختام هذا المقطع ألفت نظر القراء إلى شريط مسجل بعنوان "موتوا بغيظكم" للأخ الفاضل الدكتور ناصر العمر؛ ففيه البيان الكافي في
আমরা চারটি হাদিস বাদ দিয়েছি যা আমার কাছে স্পষ্ট হয়েছে যে সেগুলো আমাদের শর্ত অনুযায়ী নয়
… এবং সেগুলোর দ্বিতীয়টি সম্পর্কে আমাদের কিছু ছাত্র ভাই লিখিত ও মৌখিকভাবে আমার সাথে পর্যালোচনা করেছিলেন; তাই তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ।
এর সদৃশ বিষয় আপনি 'আদ-দাইফাহ' গ্রন্থের প্রথম খণ্ডের নতুন সংস্করণের ভূমিকায় দেখতে পাবেন, যা একদিকে এই মিথ্যাবাদীর ন্যায় ব্যক্তিদের খণ্ডনস্বরূপ, এবং অন্যদিকে কিছু মতামত ও হুকুম থেকে ফিরে আসার কারণ বর্ণনা করে, যেটিকে এই জালেম ব্যক্তি স্ববিরোধিতা বলে গণ্য করে। অতএব আপনি সেটি দেখে নিন; কেননা তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এর সদৃশ
… এর সদৃশ
… যা গণনা করা কঠিন।
অতঃপর আমরা আপনাকে বলছি: আপনার এই অভিযোগ এবং যদি কোনো ব্যক্তি আপনাকে নিম্নোক্ত কথাটি বলে, তবে তার মধ্যে পার্থক্য কী হবে:
নিশ্চয়ই আপনি—নিঃসন্দেহে—মুসলিমদের মধ্যে প্রবিষ্ট একজন অনুপ্রবেশকারী এবং ইহুদি বা অন্যদের ন্যায় ইসলামের শত্রুদের অন্তর্ভুক্ত; তাদের আকিদাহ বিনষ্ট করার জন্য এবং সাধারণ মানুষের মাঝে বিভ্রান্তি সৃষ্টির লক্ষ্যে। আপনার প্রতি সম্পৃক্ত সেসব রচনার মাধ্যমে আপনি যা প্রচার করছেন, তা থেকে অনুভূত হয় যে আপনার পেছনে এমন কেউ রয়েছে যে আপনাকে পথভ্রষ্টতায় এবং মুসলিমদের ইমাম ও হাফেজদের প্রতি বিষোদ্গারে মদদ দিচ্ছে। যেমন ইবনে খুজাইমার 'কিতাবুত তাওহিদ' সম্পর্কে আপনার উক্তি যে: এটি একটি শিরকের বই; এবং সুন্নাহর ইমাম হাম্মাদ ইবনে সালামাহকে আপনার দুর্বল সাব্যস্ত করা এবং শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ ও যারা তাঁর পথ অনুসরণ করেছেন তাদের কাফের ফতোয়া দেওয়া। এসব কিছুই উল্লেখিত গ্রন্থগুলোতে ছড়িয়ে আছে, বিশেষ করে 'দাফ-উশ শুবাহ' এর ওপর করা টীকাভাষ্যে। যদি কেউ আপনাকে এটি বলত, তবে আপনার উত্তর কী হতো? আপনার উত্তর যাই হোক না কেন, সেটিই হবে আপনার বিরুদ্ধে আমাদের অকাট্য দলিল।
এই অনুচ্ছেদের শেষে আমি সম্মানিত ভাই ডক্টর নাসির আল-উমারের 'মুতু বি-গাইযিকুম' শিরোনামের একটি রেকর্ডকৃত অডিওর দিকে পাঠকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি; কারণ এতে পর্যাপ্ত বর্ণনা রয়েছে...
(খণ্ড: ১)
সিলসিলাতুল আহাদীসিস সহীহাহ ওয়া শাইউম মিন ফিকহিহা ওয়া ফাওয়ায়িদিহা
(পৃষ্ঠা: ১৫)
الرد على هذا الجاني وما يرمي إليه بطعنه على الألباني.
ثانياً: ليس لـ "تناقضاته" أية قيمة علمية تذكر؛ لأنه إذا كان مصيباً في شيء مما ادعاه من التناقض؛ فذلك لا يعني أكثر من أن الألباني بشر يخطىء كما يخطىء غيره؛ فلا فائدة للقراء من بيانها، ولا سيما أن الألباني نفسه يعلن ذلك كلما جاءت المناسبة؛ كما تقدم ويأتي.
ثالثاً: أن الذي يفيد القراء إنما هو بيان الصحيح من تلك التناقضات المزعومة، وذلك مما لم يفعل؛ لأن غرضه إرواء غيظ قلبه بالتشهير بالألباني ورفع الثقة بعلمه، وصرف القراء عن الاستفادة منه {مُوتُوا بِغَيْظِكُمْ} (1) ، وليس غرضه النصح لقرائه، ولو أنه فعل؛ لكشف للناس عن جهله وبعده عن التحقيق العلمي، كما سينكشف ذلك بالأمثلة التالية مما انتقده في هذا المجلد.
الحديث الأول برقم (201) : نقلت هناك تضعيفي لإِسناده بشريك في تعليقي على الحديث في "المشكاة"، وأنني تبعت في ذلك جمعاً من الحفاظ، ثم صححته من طريق أخرى لم يقفوا عليها؛ فهل في هذا شيء من التناقض أيها القراء؟! فماذا يمكن أن يُقال في هذا الجاني الذي ذكر هذا (1/40) مثالاً للتناقض، ثم لم ينصح للقراء ببيان الصواب في الحديث: أهو صحيح أم ضعيف؟!
ونحو هذا أحاديث أخرى زعم فيها التناقض؛ كالحديث الآتي (113 و114) ، وإنما هو في مخه!
--------------------------------------------
এই অপরাধীর ওপর প্রত্যুত্তর এবং আলবানীর ওপর তার আক্রমণের মাধ্যমে সে যা লক্ষ্য স্থির করেছে তার জবাব।
দ্বিতীয়ত: তার এই "বৈপরীত্যের" উল্লেখযোগ্য কোনো ইলমি মূল্য নেই; কারণ সে যেসব বৈপরীত্য দাবি করেছে, তার কোনোটিতে যদি সে সঠিকও হয়ে থাকে, তবে তার অর্থ এর চেয়ে বেশি কিছু নয় যে, আলবানী একজন মানুষ যিনি অন্য সবার মতো ভুল করতে পারেন; পাঠকদের জন্য তা বর্ণনা করার মধ্যে কোনো ফায়দা নেই, বিশেষ করে আলবানী নিজেই সুযোগ পেলেই তা প্রকাশ করে থাকেন; যেমনটি আগেও উল্লেখ করা হয়েছে এবং সামনেও আসবে।
তৃতীয়ত: পাঠকদের জন্য যা উপকারী তা হলো সেই কথিত বৈপরীত্যগুলোর সঠিক বিষয়টি স্পষ্ট করা, আর তা সে করেনি; কারণ তার উদ্দেশ্য হলো আলবানীর বদনাম করে এবং তার ইলমের ওপর থেকে আস্থা সরিয়ে দিয়ে নিজের হৃদয়ের ক্ষোভ মেটানো, এবং পাঠকদের তার থেকে উপকৃত হওয়া থেকে বিমুখ করা {তোমরা তোমাদের ক্ষোভেই মরো} (১), আর পাঠকদের নসিহত করা তার উদ্দেশ্য নয়। যদি সে তা করত, তবে মানুষের কাছে তার মূর্খতা এবং ইলমি তাহকীক বা গবেষণা থেকে তার দূরত্ব প্রকাশ পেয়ে যেত, যেমনটি এই খণ্ডে সে যা সমালোচনা করেছে তা থেকে নিম্নলিখিত উদাহরণগুলোর মাধ্যমে স্পষ্ট হয়ে যাবে।
প্রথম হাদিস নং (২০১): সেখানে আমি "আল-মিশকাত"-এর ওপর আমার টীকায় 'শারীক'-এর কারণে এর সনদটিকে দুর্বল হিসেবে উল্লেখ করেছিলাম এবং এক্ষেত্রে আমি একদল হাফেজে হাদিসকে অনুসরণ করেছিলাম। পরবর্তীতে আমি অন্য একটি সূত্রের মাধ্যমে একে সহীহ সাব্যস্ত করেছি যা তাদের নিকট পৌঁছায়নি; হে পাঠকগণ, এর মধ্যে কি কোনো বৈপরীত্য আছে?! সুতরাং এই অপরাধী সম্পর্কে কী বলা যেতে পারে, যে এটিকে (১/৪০) বৈপরীত্যের উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেছে, অথচ হাদিসটির সঠিক হুকুম তথা এটি সহীহ নাকি দুর্বল—তা স্পষ্ট করে পাঠকদের নসিহত করেনি?!
অনুরূপ আরও কিছু হাদিস রয়েছে যেগুলোতে সে বৈপরীত্যের দাবি করেছে; যেমন পরবর্তী হাদিসসমূহ (১১৩ ও ১১৪), অথচ সেই বৈপরীত্য কেবল তার মস্তিস্কেই বিদ্যমান!
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সিলসিলাতুল আহাদীসিস সহীহাহ ওয়া শাইউম মিন ফিকহিহা ওয়া ফাওয়ায়িদিহা
(পৃষ্ঠা: ১৬)
الحديث الثاني برقم (280) : قويته هناك من رواية أبي نضرة وغيره عن أبي سعيد الخدري بلفظ مختصر جدّاً:
"كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يوصينا بكم؛ يعني: طلبة الحديث".
وضعفته في "المشكاة"؛ لأنه من رواية أبي هارون العبدي، المتهم بالكذب، عن أبي سعيد مطولاً بلفظ: قال:
"قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: إن الناس لكم تبع، وإن رجالاً يأتونكم من أَقطار الأرض يتفقهون في الدين، فإذا أتوكم؛ فاستوصوا بهم خيراً".
ومع هذا التفاوت سنداً ومتناً المستلزم تفاوت الحكم عليهما تصحيحاً وتضعيفاً، زعم الجائر الجاني (ص 60) أن هذا تناقض! فاعتبروا يا أولي الأبصار!
الحديث الثالث (230) : خرجته هناك من رواية أبي داود وغيره، ثم قلت:
"وأصله في "صحيح البخاري"
… ".
فتعقبني الجائر الجاني بقوله (ص 186) :
"كذا قال، والحديث برمته وبحروفه في البخاري (رقم 783) ، ويكفيه تلبيس
… " إلخ بهته.
وهذا كذب مكشوف لا يصدر إلا من كل أفاك أثيم؛ فالحديث في البخاري بالرقم الذي ذكره الجاني، ومن خباثته لم يذكر لفظه؛ تضليلاً لقرائه، وهاك هو:
দ্বিতীয় হাদিস, নম্বর (২৮০): আমি সেখানে আবু নাদরা ও অন্যদের সূত্রে আবু সাঈদ আল-খুদরি থেকে বর্ণিত অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত পাঠে এটিকে শক্তিশালী হিসেবে উল্লেখ করেছি:
"রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের তোমাদের ব্যাপারে অসিয়ত করতেন; অর্থাৎ: হাদিসের শিক্ষার্থীদের ব্যাপারে।"
আর আমি 'আল-মিশকাত'-এ এটিকে দুর্বল বলেছি; কারণ এটি আবু হারুন আল-আবদি-এর বর্ণনা থেকে এসেছে, যিনি মিথ্যার দায়ে অভিযুক্ত, তিনি আবু সাঈদ থেকে দীর্ঘাকারে এই পাঠে বর্ণনা করেছেন: তিনি বলেন:
"রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: নিশ্চয়ই মানুষ তোমাদের অনুসারী, আর পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লোকজন তোমাদের কাছে দ্বীনের জ্ঞান অর্জন করতে আসবে। সুতরাং তারা যখন তোমাদের কাছে আসবে, তখন তাদের সাথে উত্তম আচরণের অসিয়ত রক্ষা করো।"
সনদ ও মতন (মূল পাঠের) এই পার্থক্য থাকা সত্ত্বেও, যা এদের সহিহ বা জয়িফ হওয়ার হুকুমের ভিন্নতাকে অপরিহার্য করে তোলে, সেই অন্যায়কারী অপরাধী (পৃ. ৬০) দাবি করেছে যে, এটি একটি বৈপরীত্য! অতএব হে চক্ষুষ্মান ব্যক্তিগণ, তোমরা শিক্ষা গ্রহণ করো!
তৃতীয় হাদিস (২৩০): আমি সেখানে আবু দাউদ ও অন্যদের বর্ণনা থেকে এটি তাখরিজ করেছি, অতঃপর বলেছি:
"এবং এর মূল ভিত্তি 'সহিহ বুখারি'-তে রয়েছে
…"।
অতঃপর সেই অন্যায়কারী অপরাধী (পৃ. ১৮৬) আমার সমালোচনা করে বলেছে:
"তিনি এমনটি বলেছেন, অথচ হাদিসটি তার পূর্ণ অবয়বে এবং হুবহু শব্দে বুখারিতে (নম্বর ৭৮৩) রয়েছে, আর তার জন্য এই বিভ্রান্তিই যথেষ্ট
…" ইত্যাদি তার অপবাদ।
এটি একটি প্রকাশ্য মিথ্যা যা কেবল কোনো চরম মিথ্যাবাদী পাপিষ্ঠের পক্ষেই সম্ভব; অপরাধী যে নম্বরটি উল্লেখ করেছে, বুখারিতে হাদিসটি সেই নম্বরেই আছে, কিন্তু তার ধূর্ততার কারণে সে তার পাঠকদের বিভ্রান্ত করার জন্য এর মূল শব্দগুলো উল্লেখ করেনি, আর তা হলো এই:
(খণ্ড: ১)
সিলসিলাতুল আহাদীসিস সহীহাহ ওয়া শাইউম মিন ফিকহিহা ওয়া ফাওয়ায়িদিহা
(পৃষ্ঠা: ১৭)
"عن أبي بكرة أنه انتهى إلى النبي صلى الله عليه وسلم وهو راكع قبل أن يصل إلى الصف، فذكر ذلك للنبي صلى الله عليه وسلم، فقال: زادك الله حرصاً ولا تعد".
فقابل أيها القارىء الكريم هذا اللفظ باللفظ المخرج هناك؛ تجد أن قولي: "وأصله في "صحيح البخاري"
… "؛ صواب ودقيق، استفدته من الممارسة لهذا العلم الشريف؛ ففيه هناك زيادتان ليستا عند البخاري مع اختلاف سياقه عنه، وهما:
الأولى: مشي أبي بكرة إلى الصف.
والأخرى: قوله صلى الله عليه وسلم: "أيكم الذي ركع دون الصف ثم مشى إلى الصف؟ ".
ولذلك عزا الحافظ في "الفتح" (2/268) هاتين الزيادتين لأبي داود وغيره؛ فهل صدق المأفون في قوله: "إن الحديث برمته وحروفه في البخاري"؟! ومن هو الملبس؟! أدع الحكم للقراء، وصلى الله على محمد القائل: "إذا لم تستحيِ؛ فاصنع ما شئت"!
***
وهناك شخص آخر ابتلي الناس والمكتبة الإِسلامية به أخيراً، ممَّن يصدق فيه المثل المعروف "تزبب قبل أن يتحصرم"؛ كالذي قبله، لكنه يختلف عنه في أسلوبه؛ فذاك يشكك الناس في السنة في الطعن في شخص الألباني ورميه بالنقائص والجهل! وهذا يتظاهر بالثناء على الألباني وتقدير علمه، ولكنه يطعن في السنة مباشرة بتضعيفه للأحاديث الصحيحة التي صححها العلماء.
আবু বকরা থেকে বর্ণিত যে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট এমন অবস্থায় পৌঁছালেন যখন তিনি রুকুতে ছিলেন, কাতারে পৌঁছানোর পূর্বেই। তিনি বিষয়টি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে অবহিত করলেন। তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: "আল্লাহ তোমার আগ্রহ বৃদ্ধি করুন, তবে পুনরায় এরূপ করো না"।
হে সম্মানিত পাঠক, আপনি এই শব্দগুলোকে সেখানে উদ্ধৃত শব্দের সাথে তুলনা করুন; তাহলে দেখতে পাবেন যে, আমার এই উক্তি: "এর মূল ভিত্তি 'সহীহ বুখারী'তে রয়েছে
… "; সঠিক ও সূক্ষ্ম, যা আমি এই মহান শাস্ত্রের চর্চার মাধ্যমে অর্জন করেছি। কেননা সেখানে এমন দুটি অতিরিক্ত অংশ রয়েছে যা বুখারীতে নেই এবং বর্ণনার ধারাও ভিন্ন। সেই দুটি হলো:
প্রথমটি: আবু বকরার কাতারের দিকে হেঁটে যাওয়া।
অন্যটি: তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এই উক্তি: "তোমাদের মধ্যে কে কাতারের বাইরে রুকু করে তারপর কাতারের দিকে হেঁটে এসেছে?"
এই কারণেই হাফেজ (ইবনে হাজার) 'আল-ফাতহ' গ্রন্থে (২/২৬৮) এই অতিরিক্ত অংশ দুটিকে আবু দাউদ ও অন্যদের দিকে সম্বন্ধ করেছেন। তাহলে সেই নির্বোধ কি তার এই দাবিতে সত্যবাদী যে— "পুরো হাদিসটি তার আক্ষরিক শব্দসহ বুখারীতে বিদ্যমান"?! এবং কে আসল প্রতারক?! আমি বিচারের ভার পাঠকদের ওপর ছেড়ে দিচ্ছি। আর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওপর, যিনি বলেছেন: "যদি তোমার লজ্জা না থাকে, তবে যা ইচ্ছা তা-ই করো!"
***
বর্তমানে মানুষ এবং ইসলামি পাঠাগারগুলো অন্য এক ব্যক্তির দ্বারাও আক্রান্ত হয়েছে, যার ক্ষেত্রে সুপরিচিত এই প্রবাদটি প্রযোজ্য যে, "আঙ্গুর পাকার আগেই সে কিসমিস হয়ে গেছে"; সে পূর্বোক্ত ব্যক্তির মতোই, তবে তার কর্মপদ্ধতি ভিন্ন। ঐ ব্যক্তি আলবানীর ব্যক্তিত্বকে আক্রমণ করে এবং তাকে দোষারোপ ও অজ্ঞতার অপবাদ দিয়ে মানুষের মনে সুন্নাহ সম্পর্কে সংশয় সৃষ্টি করে! আর এই ব্যক্তি বাহ্যিকভাবে আলবানীর প্রশংসা ও তার ইলমের মূল্যায়ন করার ভান করে, কিন্তু সে আলেমগণ কর্তৃক স্বীকৃত সহীহ হাদিসগুলোকে সরাসরি দুর্বল আখ্যা দেওয়ার মাধ্যমে সুন্নাহর ওপর আঘাত হানে।
(খণ্ড: ১)
সিলসিলাতুল আহাদীসিস সহীহাহ ওয়া শাইউম মিন ফিকহিহা ওয়া ফাওয়ায়িদিহা
(পৃষ্ঠা: ১৮)
وقد كنت بينت شيئاً من حاله، وذكرت نماذج من الأحاديث التي ضعفها في المجلد الثاني الذي طبع حديثاً من هذه السلسلة، فليرجع القراء إلى مقدمته وبعض الاستدراكات المطبوعة في آخره، الذي أرجو أن يكون في متناول أيديهم قريباً إن شاء الله.
ولما كان قد ضعف أيضاً بضعة أحاديث من هذا المجلد الأول من "الصحيحة"، رأيت أنه لا بدَّ لي من بيان خطئه في ذلك ومخالفته لقواعد أهل هذا العلم وأحكامهم.
1- الحديث (12- لا تتخذوا الضيعة
… ) .
هذا الحديث من تلك الأحاديث الصحيحة التي كان المومى إليه قد استلَّها من كتاب "رياض الصالحين" في عشرات من الأحاديث الأخرى ضعفها كلها، وطبعه بهذا الاسم! دونها، ولكنه جمعها في باب خاص ألحقه بآخر طبعته تحت عنوان: "الأحاديث الضعيفة المحذوفة من أصل الكتاب"!!
وإن من غرائبه أن تخريجه لهذه الأحاديث قد استفاده غالباً من كتبي وتخريجاتي، فهو يضعها أمامه، ثم ينقد ما فيها حسب هواه، ولا يتعرض بذكر لما يخالفه.
فهذا الحديث مثلاً قد قوَّاه من الأئمة الحفاظ جمع؛ كالترمذي وابن حبان والحاكم، والذهبي ومن قبله كالنووي والمزي، ثم الحافظ العسقلاني، وكذا الشارح للحديث؛ كالقرطبي الذي جمع بينه وبين غيره من الأحاديث الصحيحة؛ فإن من المعلوم أن الجمع فرع التصحيح، فلم
আমি ইতিপূর্বে তার অবস্থার কিছু অংশ বর্ণনা করেছি এবং এই সিরিজের সম্প্রতি মুদ্রিত দ্বিতীয় খণ্ডে এমন কিছু হাদীসের উদাহরণ উল্লেখ করেছি যেগুলোকে তিনি দুর্বল বলেছেন। অতএব পাঠকরা যেন তার ভূমিকা এবং এর শেষে মুদ্রিত কিছু সংশোধনী (ইস্তিদরাক) দেখে নেন, যা আমি আশা করি শীঘ্রই ইনশাআল্লাহ তাদের নাগালে আসবে।
যেহেতু তিনি 'আস-সহীহাহ'-এর এই প্রথম খণ্ড থেকেও কয়েকটি হাদীসকে দুর্বল বলেছেন, তাই আমি এ বিষয়ে তার ভুল এবং এই শাস্ত্রের ইমামদের মূলনীতি ও সিদ্ধান্তের পরিপন্থী অবস্থানের বিষয়টি স্পষ্ট করা আবশ্যক মনে করেছি।
১- হাদীস (১২- তোমরা জমিজমা ও ভূসম্পত্তি গ্রহণ করো না
… ) ।
এই হাদীসটি সেই সহীহ হাদীসগুলোর অন্তর্ভুক্ত যা উক্ত ব্যক্তি 'রিয়াদুস সালেহীন' গ্রন্থ থেকে আরও কয়েক ডজন হাদীসের সাথে পৃথক করে নিয়েছেন এবং সেগুলোকে দুর্বল সাব্যস্ত করেছেন; অতঃপর তিনি সেগুলো বাদ দিয়েই এই নামে বইটি ছাপিয়েছেন! তবে তিনি সেগুলোকে একটি বিশেষ পরিচ্ছেদে একত্রিত করে তার সংস্করণের শেষে 'মূল কিতাব থেকে বাদ দেওয়া দুর্বল হাদীসসমূহ' শিরোনামে সংযুক্ত করেছেন!!
তার বিস্ময়কর কর্মকাণ্ডের মধ্যে একটি হলো, এই হাদীসগুলোর তাখরীজ করার ক্ষেত্রে তিনি অধিকাংশ সময় আমার কিতাবসমূহ এবং আমার করা তাখরীজগুলো থেকে তথ্য গ্রহণ করেছেন। তিনি সেগুলো নিজের সামনে রাখেন, অতঃপর নিজ খেয়ালখুশি অনুযায়ী সেগুলোর সমালোচনা করেন এবং নিজের মতের বিপরীত বিষয়গুলো উল্লেখ করেন না।
উদাহরণস্বরূপ, এই হাদীসটিকে হাফেজ ইমামদের একটি বড় জামাত শক্তিশালী (সহীহ/হাসান) বলেছেন; যেমন তিরমিযী, ইবনে হিব্বান, হাকেম, যাহাবী এবং তার পূর্ববর্তী ইমামগণ যেমন নববী ও মিযযী, অতঃপর হাফেজ আসকালানী। একইভাবে হাদীসের ব্যাখ্যাকারগণও, যেমন কুরতুবী, যিনি এই হাদীস এবং অন্যান্য সহীহ হাদীসের মধ্যে সমন্বয় সাধন করেছেন; কারণ এটি সুপরিচিত যে, একাধিক হাদীসের মধ্যে সমন্বয় সাধন করা মূলত হাদীস সহীহ হওয়ারই একটি আনুষঙ্গিক বিষয়, তাই...
(খণ্ড: ১)
সিলসিলাতুল আহাদীসিস সহীহাহ ওয়া শাইউম মিন ফিকহিহা ওয়া ফাওয়ায়িদিহা
(পৃষ্ঠা: ১৯)
يعبأ بهؤلاء جميعاً ولا بغيرهم كالإِمام البغوي؛ فإنه حسنه أيضاً في "شرح السنة" (14/237) ، ومثلهم كثير لو تيسر تتبعهم، ولا بقاعدتهم في تقوية الحديث بمجموع طرقه؛ كما فعل مثله في الحديث الذي قبله كما ستراه برقم (11) .
فأخذ المومى إليه يضعف هذا الحديث من طريقيه اللذين ذكرتهما هناك، فقال في الطريق الأولى (518/23) :
"فيه جهالة سعد بن الأخرم".
فتجاهل الحقائق التالية:
أنه قيل بصحبته.
وأنه وثقه ابن حبان والعجلي.
وأنه حسنه مخرجوه: الترمذي، والبغوي.
وتصحيح الحاكم وغيره ممَّن سبق ذكره!
وأعل الطريق الأخرى بقوله:
"فيه ليث بن أبي سليم، وهو ضعيف".
وكأنه اكتشف بهذا التضعيف أمراً كان خافياً علي! مع أنني نبهت هناك على ضعفه بقولي:
"وسنده حسن في الشواهد".
ولكنني نبهت بهذا أن ضعفه ليس بشديد، ولذلك حسنت حديثه كشاهد، فلم يجب عن ذلك بشيء، وليست هذه طريقة العلماء الذين
তিনি এদের কাউকেই ভ্রুক্ষেপ করেন না, এমনকি ইমাম বাগাভীর মতো অন্যদেরও নয়; কারণ তিনিও 'শারহুস সুন্নাহ' (১৪/২৩৭) গ্রন্থে হাদিসটিকে হাসান বলেছেন। যদি অনুসন্ধান করা সহজ হতো তবে তাদের মতো আরও অনেককেই পাওয়া যেত। আর হাদিসের বিভিন্ন সূত্রের সমষ্টির মাধ্যমে সেটিকে শক্তিশালী করার যে মূলনীতি তাদের রয়েছে, সেটির প্রতিও তিনি ভ্রুক্ষেপ করেন না; যেমনটি তিনি এর আগের হাদিসটির ক্ষেত্রেও করেছেন, যা আপনি ১১ নম্বর ক্রমিকে দেখতে পাবেন।
অতঃপর নির্দেশিত ব্যক্তি এই হাদিসটিকে তার সেই দুটি সূত্রের মাধ্যমে দুর্বল সাব্যস্ত করার প্রয়াস পেয়েছেন যা আমি সেখানে উল্লেখ করেছিলাম। তিনি প্রথম সূত্রটি (২৩/৫১৮) সম্পর্কে বলেছেন:
"এতে সা’দ ইবনুল আখরামের অজ্ঞাত হওয়ার (জাহালাত) বিষয় রয়েছে।"
অথোচ তিনি নিম্নলিখিত বাস্তব সত্যগুলোকে উপেক্ষা করেছেন:
বলা হয়েছে যে, তিনি একজন সাহাবী ছিলেন।
এবং ইবনে হিব্বান ও আজলী তাকে নির্ভরযোগ্য (সিকাহ) বলেছেন।
এবং এর সংকলনকারীগণ যেমন তিরমিযী ও বাগাভী এটিকে হাসান বলেছেন।
এবং হাকেম ও ইতঃপূর্বে উল্লিখিত অন্যদের দ্বারা এটিকে সহীহ বলার বিষয়টিও রয়েছে!
আর তিনি অপর সূত্রটিকে ত্রুটিযুক্ত হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন এই বলে যে:
"এতে লাইস ইবনে আবি সুলাইম রয়েছে, আর সে দুর্বল।"
যেন তিনি এই দুর্বল সাব্যস্তকরণের মাধ্যমে এমন কিছু আবিষ্কার করেছেন যা আমার কাছে গোপন ছিল! অথচ আমি নিজেই সেখানে তার দুর্বলতার ব্যাপারে এই বলে সতর্ক করেছিলাম যে:
"সমর্থক বর্ণনার (শাওয়াহিদ) ক্ষেত্রে এর সনদটি হাসান।"
কিন্তু আমি এর মাধ্যমে এই বিষয়ের প্রতিই ইঙ্গিত করেছিলাম যে, তার দুর্বলতা তীব্র নয়। এই কারণেই আমি তার বর্ণিত হাদিসটিকে শাহেদ হিসেবে হাসান বলেছি। কিন্তু তিনি এর কোনো জবাব দেননি। আর এটি সেই সকল আলেমদের তরীকা নয় যারা...
(খণ্ড: ১)
সিলসিলাতুল আহাদীসিস সহীহাহ ওয়া শাইউম মিন ফিকহিহা ওয়া ফাওয়ায়িদিহা
(পৃষ্ঠা: ২০)
يدافعون بحق عن حديث رسول الله صلى الله عليه وسلم، بل هي طريقة أهل الأهواء الذين يحكمون بالضعف على الأحاديث الصحيحة، ثم يلتمسون لها عللاً غير قادحة، وها هو المثال بين يديك أيها القارىء الكريم؛ فإن ليثاً هذا ليس ضعفه شديداً بحيث إنه لا يستشهد به كما أوهم هذا (المتزبب) ؛ فقد أخرج له مسلم في "صحيحه" مقروناً بغيره، وهذا صريح منه بأنه يستشهد به، وقد بين السبب الحافظ الناقد الإِمام الذهبي فقال في "الكاشف":
"فيه ضعف يسير من سوء حفظه".
وهذا معنى ما ختم به ابن عدي ترجمة ليث في كتابه "الكامل" (6/87) بعد أن روى عن جمع تضعيفه:
"له أحاديث صالحة، وقد روى عنه شعبة والثوري وغيرهما من الثقات، ومع الضعف الذي فيه يكتب حديثه".
فهذا كله يدل على أن مجرد كون الراوي ضعيفاً لا يعني عند العلماء أنه لا يستشهد به، كما كنت شرحت ذلك فيما مضى، وهذا مما يجهله هذا الرجل، ولذلك ابتلي بالتوسع جدّاً في تضعيف الأحاديث الصحيحة. والله المستعان.
وإن من عجبه وغروره أنه يتقوَّى في التضعيف المذكور بالشيخ شعيب الأرناؤوط، فيختمها بقوله: "وافقني على تضعيفه الشيخ شعيب"!
ولست أدري -والله- إذا كان صادقاً في هذا، وهل استطاع أن يستجر الشيخ بطريقة أو بأخرى إلى موافقته؟! ولكني أدري أن الواقع يكذبه في بعض تلك الأحاديث على الأقل، وهذا منها؛ فإنه مع ادعائه الموافقة المذكورة فيه؛ رأيت الشيخ قد خالفه في تعليقه على "شرح السنة" (14/
তারা যথাযথভাবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদীসকে রক্ষা করছেন, বরং এটি হলো সেই সব প্রবৃত্তি পূজারীদের পদ্ধতি যারা সহীহ হাদীসসমূহকে দুর্বল সাব্যস্ত করে এবং এরপর সেগুলোর জন্য এমন সব ত্রুটি খুঁজে বের করার চেষ্টা করে যা আসলে হাদীসের গ্রহণযোগ্যতাকে ক্ষুণ্ণ করে না। হে সম্মানিত পাঠক, আপনার সামনেই এর উদাহরণ বিদ্যমান; এই লায়স নামক বর্ণনাকারীর দুর্বলতা এতোটা তীব্র নয় যে তাকে সমর্থক হিসেবে পেশ করা যাবে না, যেমনটি এই অপরিপক্ব ব্যক্তিটি ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করেছে। ইমাম মুসলিম তার "সহীহ" গ্রন্থে অন্য বর্ণনাকারীর সাথে মিলিয়ে তার বর্ণনা উল্লেখ করেছেন, যা থেকে স্পষ্টভাবে বোঝা যায় যে তিনি তাকে সমর্থক হিসেবে গ্রহণ করেছেন। হাফেয ও সমালোচক ইমাম যাহাবী এর কারণ বর্ণনা করে "আল-কাশিফ" গ্রন্থে বলেছেন:
"তার মুখস্থ শক্তির দুর্বলতার কারণে তার মধ্যে সামান্য দুর্বলতা রয়েছে।"
ইবনে আদি তার "আল-কামিল" (৬/৮৭) গ্রন্থে লায়সের জীবনীতে একদল আলেমের পক্ষ থেকে তাকে দুর্বল সাব্যস্ত করার বর্ণনা দেওয়ার পর পরিশেষে এই অর্থই ব্যক্ত করেছেন:
"তার কিছু উত্তম হাদীস রয়েছে, শু'বাহ, সাওরী এবং অন্যান্য নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীগণ তার থেকে বর্ণনা করেছেন। তার মধ্যে দুর্বলতা থাকা সত্ত্বেও তার হাদীস লিখে রাখা হয়।"
এসব কিছু প্রমাণ করে যে, কোনো বর্ণনাকারী কেবল দুর্বল হওয়া মানেই আলেমদের নিকট এটি নয় যে তাকে সমর্থক হিসেবে পেশ করা যাবে না, যেমনটি আমি ইতিপূর্বে ব্যাখ্যা করেছি। আর এটি এমন এক বিষয় যা এই ব্যক্তি জানে না, যার ফলে সে সহীহ হাদীসসমূহকে দুর্বল বলার ক্ষেত্রে অত্যন্ত বাড়াবাড়িতে লিপ্ত হয়েছে। আল্লাহর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করছি।
তার আশ্চর্যজনক আচরণ ও অহংকারের একটি দিক হলো, সে উক্ত হাদীসকে দুর্বল প্রমাণের জন্য শায়খ শুআইব আল-আরনাউতের দোহাই দিয়ে নিজেকে শক্তিশালী করতে চায় এবং সবশেষে বলে: "শায়খ শুআইব একে দুর্বল বলার ক্ষেত্রে আমার সাথে একমত হয়েছেন!"
আল্লাহর কসম, আমি জানি না সে এই দাবিতে সত্যবাদী কি না এবং সে কোনোভাবে শায়খকে তার সাথে একমত হতে প্ররোচিত করতে পেরেছে কি না! তবে আমি জানি যে, বাস্তবতা অন্তত এই হাদীসগুলোর কোনো কোনোটির ক্ষেত্রে তাকে মিথ্যাবাদী প্রমাণ করে এবং এটিও তার অন্তর্ভুক্ত; কেননা তার উল্লিখিত ঐকমত্যের দাবির বিপরীতে আমি দেখেছি যে, শায়খ "শারহুস সুন্নাহ"র টীকায় (১৪/
(খণ্ড: ১)
সিলসিলাতুল আহাদীসিস সহীহাহ ওয়া শাইউম মিন ফিকহিহা ওয়া ফাওয়ায়িদিহা
(পৃষ্ঠা: ২১)
237) ، فقال بعد أن نقل تحسين الترمذي وتصحيح الحاكم والذهبي للحديث:
"وله شاهد من حديث ابن عمر عند المحاملي في "الأمالي" (69/2) ، وسنده حسن في الشواهد".
وهذا مما استفاده الشيخ من تخريجي الآتي للحديث كما يظهر ذلك للقراء بأدنى تأمل، وهو أمر معروف عنه عند كل الذين يعملون تحت إشرافه، ثم لا حمداً ولا شكوراً!
وليس هذا هو المقصود، وإنما هو أن ينظر القراء هل صدق الرجل فيما ينسبه إلى الشيخ من الموافقة، أم أن هذا تراجع منه لسبب أو آخر؟! وهذا عينه يقال في الحديث الآتي أيضاً كما سترى!
2- (160-
… لا ينحني لصديقه
… ) .
أقول: ذكرت هناك أن إسناده حسن في المتابعات، وخرجته من أربعة طرق عن أنس رضي الله عنه، طريقان منها، يصلحان للاستشهاد بهما دون أي شك أو ريب، والثالث يحتمله، والرابع لا يستشهد به؛ كما صرحت هناك، وللطريقين الأولين على الأقل حسنه الترمذي، وأقره الحافظ، واحتج به ابن تيمية؛ كما سيأتي.
وأزيد هنا فأقول: وكذلك قواه الحافظ البغوي في "شرح السنة" (12/292) ، وصرح بصحته العلامة علي القاري في "شرح المشكاة" (4/576) ، وحسنه النووي في "الرياض" تبعاً للترمذي.
فجاء هذا الباغي على السنة، فأخرجه منه إلى "ضعيفته" (529/
২৩৭) অতঃপর তিরমিযীর হাসান বলা এবং আল-হাকিম ও আয-যাহাবীর হাদীসটিকে সহীহ বলার উদ্ধৃতি দেওয়ার পর তিনি বলেন:
"এবং আল-মুহামিলী-এর 'আল-আমালী' (২/৬৯) গ্রন্থে ইবনে উমর বর্ণিত হাদীস থেকে এর একটি শাহেদ (সাক্ষ্য প্রদানকারী বর্ণনা) রয়েছে এবং শাহেদ হিসেবে এর সনদ হাসান।"
আর এটি এমন একটি বিষয় যা শাইখ হাদীসটির বিষয়ে আমার সামনের তাখরীজ (উৎস বিশ্লেষণ) থেকে গ্রহণ করেছেন, যা সামান্য চিন্তাতেই পাঠকদের কাছে স্পষ্ট হবে। আর যারা তাঁর তত্ত্বাবধানে কাজ করেন তাদের সবার কাছেই এটি একটি পরিচিত বিষয়; তারপরও এর জন্য কোনো প্রশংসা বা কৃতজ্ঞতা নেই!
আর এটি মূল উদ্দেশ্য নয়, বরং উদ্দেশ্য হলো পাঠকরা যেন দেখেন যে ব্যক্তিটি শাইখের দিকে যে ঐকমত্যের কথা নিসবত (সম্পর্কযুক্ত) করেছেন তাতে তিনি কি সত্যবাদী, নাকি কোনো না কোনো কারণে শাইখ তা থেকে সরে এসেছেন?! আপনি যেমনটি দেখবেন, পরবর্তী হাদীসটির ক্ষেত্রেও ঠিক এই কথাই বলা হবে!
২- (১৬০-
… সে তার বন্ধুর সামনে মাথা নত করবে না
… ) ।
আমি বলছি: আমি সেখানে উল্লেখ করেছি যে মুতাবা'আত (সমর্থনকারী বর্ণনা) হিসেবে এর সনদ হাসান। আমি এটি আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে চারটি সূত্রে তাখরীজ করেছি, যার মধ্যে দুটি সূত্র কোনো সন্দেহ ছাড়াই শাহেদ (সাক্ষ্য) হিসেবে গ্রহণের যোগ্য, তৃতীয়টি সম্ভবনাময় এবং চতুর্থটি শাহেদ হিসেবে গ্রহণের যোগ্য নয়; যেমনটি আমি সেখানে স্পষ্টভাবে বলেছি। অন্তত প্রথম দুটি সূত্রের কারণে তিরমিযী একে হাসান বলেছেন, হাফেয তা সমর্থন করেছেন এবং ইবনে তাইমিয়্যাহ এটি দিয়ে দলিল পেশ করেছেন; যা সামনে আসছে।
আমি এখানে আরও যোগ করে বলছি: অনুরূপভাবে হাফেয আল-বাগাওয়ী তাঁর 'শারহুস সুন্নাহ' (১২/২৯২) গ্রন্থে একে শক্তিশালী বলেছেন, আল্লামা আলী আল-কারী 'শারহুল মিশকাত' (৪/৫৭৬) গ্রন্থে একে সহীহ বলে ঘোষণা করেছেন এবং আন-নাওয়াবী 'রিয়াজুস সালিহীন' গ্রন্থে তিরমিযীর অনুসরণ করে একে হাসান বলেছেন।
অতঃপর সুন্নাহর ওপর সীমালঙ্ঘনকারী এই ব্যক্তিটি আসলেন এবং তিনি একে তা থেকে বের করে তার 'যয়ীফ' (দুর্বল হাদীসের সংকলন) গ্রন্থে (৫২৯/
(খণ্ড: ১)
সিলসিলাতুল আহাদীসিস সহীহাহ ওয়া শাইউম মিন ফিকহিহা ওয়া ফাওয়ায়িদিহা
(পৃষ্ঠা: ২২)
55) ، وأخذ يضعف طرقه الأربعة، دون أن يفرق بين ضعف يستشهد به وضعف لا يستشهد به! وقاس ذلك على طرق حديث الطير؛ يعني: "أنا مدينة العلم وعلي بابها"، وشتان ما بين الحديثين؛ فإن هذا ليس في الأحاديث الصحيحة ما يشهد لمعناه، بل هو من أحاديث الشيعة المرفوضة؛ كما حققه شيخ الإِسلام ابن تيمية في "المنهاج"؛ بخلاف حديث الترجمة؛ فقد جرى عليه عمل السلف به، فيما يتعلق بالمصافحة، وترك الانحناء والتقبيل عند اللقاء على ما هو مبين في محله.
ثم متى كان للقياس دخل في تضعيف الأحاديث أو تصحيحها؟!
وهذا وحده يكفي للدلالة على أن الرجل وضع لنفسه قواعد لنقد الأحاديث لا أصل لها عند العلماء، وفي الوقت نفسه يخالف قواعدهم وأحكامهم المتفرعة عنها.
ثم ختم كلامه بقوله كغالب عادته في "ضعيفته":
"وافقني على تضعيفه الشيخ شعيب"!
كذا قال! والواقع أن كلام الشيخ المطبوع يخالفه كل المخالفة؛ فقد قال في تعليقه على "شرح السنة" (12/290) بعد أن عزاه لبعض من يأتي عزوه إليهم:
"وحسنه الترمذي، وهو كما قال؛ فإن حنظلة بن عبد الله وإن كان ضعيفاً قد تابعه غير واحد. انظر: "الأحاديث الصحيحة" (159) (!) للشيخ ناصر الألباني"!
ومع ما في هذا العزو من الشيخ شعيب إلى كتاب الألباني من الجرأة
৫৫) এবং তিনি এর চারটি সূত্রকেই দুর্বল সাব্যস্ত করতে শুরু করেছেন, এমন কোনো পার্থক্য না করেই যে, কোনটি এমন দুর্বলতা যা সাক্ষ্য হিসেবে পেশ করার যোগ্য আর কোনটি এমন দুর্বলতা যা সাক্ষ্য হিসেবে পেশ করার যোগ্য নয়! আর তিনি বিষয়টিকে 'পাখির হাদিসের' (হাদিসুত তইর) সূত্রগুলোর সাথে তুলনা করেছেন; অর্থাৎ: "আমি জ্ঞানের নগরী আর আলী তার দরজা", অথচ এই দুই হাদিসের মধ্যে আকাশ-পাতাল পার্থক্য রয়েছে; কারণ সহীহ হাদিসসমূহের মধ্যে এমন কিছু নেই যা এই (দ্বিতীয়) হাদিসটির অর্থকে সমর্থন করে, বরং এটি শিয়াদের প্রত্যাখ্যাত হাদিসগুলোর অন্তর্ভুক্ত; যেমনটি শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ 'আল-মিনহাজ' গ্রন্থে প্রমাণ করেছেন; পক্ষান্তরে আলোচ্য হাদিসটি তেমন নয়; কেননা মুসাফাহা করা এবং সাক্ষাতের সময় মাথা নত করা ও চুমু খাওয়া বর্জন করার ব্যাপারে সালাফদের আমল এর ওপরই জারি রয়েছে, যা যথাস্থানে বিস্তারিত বর্ণিত হয়েছে।
তাছাড়া, হাদিস দুর্বল বা সহীহ সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে 'কিয়াস' বা তুলনার অনুপ্রবেশ কবে থেকে ঘটল?!
এটিই একাকী এ কথার প্রমাণ বহন করে যে, এই ব্যক্তি হাদিস পর্যালোচনার জন্য নিজের পক্ষ থেকে এমন কিছু মূলনীতি উদ্ভাবন করেছেন আলেমদের নিকট যার কোনো ভিত্তি নেই, আর একইসাথে তিনি তাঁদের মূলনীতি ও তা থেকে উৎসারিত সিদ্ধান্তসমূহের বিরোধিতা করছেন।
এরপর তিনি তার 'যয়িফাহ' গ্রন্থে নিজের স্বভাবজাত রীতি অনুযায়ী এই বলে কথা শেষ করেছেন:
"শায়খ শুআইব একে দুর্বল বলার ক্ষেত্রে আমার সাথে একমত হয়েছেন"!
তিনি এমনই বলেছেন! অথচ বাস্তবতা হলো শায়খের মুদ্রিত বক্তব্য এর সম্পূর্ণ বিপরীত; তিনি 'শারহুস সুন্নাহ'র টীকায় (১২/২৯০) নির্দিষ্ট কয়েকজনের দিকে হাদিসটির সম্বন্ধ করার পর বলেছেন:
"ইমাম তিরমিযী একে হাসান বলেছেন, আর বিষয়টি তেমনই; কারণ হানযালা ইবনে আব্দুল্লাহ যদিও দুর্বল, তবুও একাধিক বর্ণনাকারী তাঁর অনুসরণ করেছেন। দেখুন: শায়খ নাসির আলবানীর 'আল-আহাদিস আস-সহীহাহ' (১৫৯) (!)"!
শায়খ শুআইব কর্তৃক আলবানীর কিতাবের দিকে এই উদ্ধৃতি প্রদানের মাঝে যে ধৃষ্টতা রয়েছে তা সত্ত্বেও...
(খণ্ড: ১)
সিলসিলাতুল আহাদীসিস সহীহাহ ওয়া শাইউম মিন ফিকহিহা ওয়া ফাওয়ায়িদিহা
(পৃষ্ঠা: ২৩)
الأدبية غير المعتادة منه؛ فهو نصٌّ صريح في مخالفته لما عزاه إليه الرجل في "ضعيفته" من الموافقة! هداه الله.
3- (74- ما جلس قوم مجلساً لم يذكروا الله، ولم يصلوا على نبيهم
… ) .
قلت: خرجت الحديث هناك من طرق عن أبي هريرة، بعضها صحيح، وصححه جمع من الحفاظ؛ كالترمذي وابن حبان والحاكم، ومع ذلك تجرأ المعتدي على "رياض الصالحين"، فنقله منه إلى "ضعيفته" (527/52) ، فأعله بقوله:
"فيه صالح مولى التوأمة، وهو ضعيف".
وهذا التضعيف المطلق منه جحد للصواب الذي عليه الأئمة النقاد قديماً وحديثاً أن الرجل ضعفه بسبب اختلاطه، فمن روى عنه قبل الاختلاط؛ فهو حجة صحيح الحديث، ومنهم الإِمام أحمد وابن معين والذهبي وابن القيم في "جلاء الأفهام" والعسقلاني، وقد رواه عنه قبل الاختلاط ثلاثة من الثقات كما سيأتي.
ثم إنه قد تابعه أبو صالح السمان بسند صحيح عنه، وأزيد هنا فأقول: إنه على شرط الشيخين، كما قال ابن القيم في "الجلاء"، وقال السخاوي في "القول البديع" (ص 113) :
"وهو حديث صحيح".
وأعله المعتدي بما لم يسبق إليه، وذلك حين لم يجد في رواته من
তার সেই অস্বাভাবিক সাহিত্যিক ভঙ্গি; এটি একটি স্পষ্ট পাঠ্য যা ঐ ব্যক্তি তার "যয়ীফাহ"-তে তার প্রতি যা সম্বন্ধ করেছে সেই সম্মতির দাবির সরাসরি পরিপন্থী! আল্লাহ তাকে হেদায়েত দান করুন।
৩- (৭৪- কোনো সম্প্রদায় যখন এমন কোনো মজলিসে বসে যেখানে তারা আল্লাহর যিকির করে না এবং তাদের নবীর ওপর দরূদ পাঠ করে না
… ) ।
আমি বলি: আমি সেখানে আবু হুরায়রা থেকে বিভিন্ন সূত্রে হাদিসটি তাখরীজ করেছি, যার কিছু সূত্র সহীহ। একদল হাফিয একে সহীহ বলেছেন; যেমন তিরমিযী, ইবনে হিব্বান এবং হাকেম। তা সত্ত্বেও "রিয়াদুস সালিহীন"-এর ওপর আক্রমণকারী ধৃষ্টতা দেখিয়েছে এবং একে সেখান থেকে তার "যয়ীফাহ" (৫২/৫২৭) গ্রন্থে স্থানান্তর করেছে। অতঃপর সে একে ত্রুটিযুক্ত সাব্যস্ত করে বলেছে:
"এতে সালিহ মাওলা আত-তাওআমাহ রয়েছেন, আর তিনি দুর্বল।"
আর তার এই ঢালাওভাবে দুর্বল সাব্যস্ত করা সেই সঠিক বিষয়ের অস্বীকৃতি যা প্রাচীন ও আধুনিক সমালোচক ইমামগণ সাব্যস্ত করেছেন যে, উক্ত ব্যক্তি মূলত তার বার্ধক্যজনিত স্মৃতিভ্রমের (ইখতিলাত) কারণে দুর্বল হয়েছেন। সুতরাং যারা তাঁর স্মৃতিভ্রমের আগে তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন, তাদের বর্ণনা হুজ্জাত বা দলীল হিসেবে গণ্য এবং সহীহ হাদিস। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ইমাম আহমাদ, ইবনে মাঈন, যাহাবী, ইবনুল কাইয়্যিম তাঁর "জালাউল আফহাম" গ্রন্থে এবং আসকালানী। আর অচিরেই আসছে যে, তিনজন নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী তাঁর স্মৃতিভ্রমের আগেই তাঁর থেকে হাদিসটি বর্ণনা করেছেন।
তদুপরি, আবু সালিহ আস-সাম্মান একটি সহীহ সনদে তাঁর অনুসরণ (তাবে) করেছেন। আমি এখানে আরও যোগ করে বলছি: এটি শাইখাইন (বুখারী ও মুসলিম)-এর শর্তানুযায়ী সহীহ, যেমনটি ইবনুল কাইয়্যিম "আল-জালা" গ্রন্থে বলেছেন। সাখাবী "আল-কাওলুল বাদী" (পৃ. ১১৩) গ্রন্থে বলেছেন:
"এটি একটি সহীহ হাদিস।"
আর আক্রমণকারী একে এমন কারণ দেখিয়ে ত্রুটিযুক্ত সাব্যস্ত করেছে যা তার আগে কেউ করেনি। আর তা হলো যখন সে এর বর্ণনাকারীদের মধ্যে এমন কাউকে পায়নি যে
(খণ্ড: ১)
সিলসিলাতুল আহাদীসিস সহীহাহ ওয়া শাইউম মিন ফিকহিহা ওয়া ফাওয়ায়িদিহা
(পৃষ্ঠা: ২৪)
تكلم فيه ولو بأدنى كلمة! قال:
"الصواب أنه موقوف"!
وتشبث برواية واحدة موقوفة عند إسماعيل القاضي رحمه الله، فخالف بذلك قاعدة زيادة الثقة مقبولة، وبخاصة أنها ثبتت من طريقين عن أبي هريرة، وصححها من تقدم ذكرهم من الأئمة، ولم يعرجوا إلى هذا الإِعلال الذي ابتدعه هذا المعتدي، والقاعدة الأخرى أن هذا الموقوف في حكم المرفوع؛ لأنه لا يقال مِن قِبَل الرأي؛ كما هو ظاهر.
وإن من تمام اعتدائه قوله:
"ويزيد ذلك تأكيداً أن جميع الروايات التي جاءت عن أبي هريرة مرفوعةً غير ما ذكرنا لم يرد فيها ذكر الصلاة على النبي"!
كذا قال! لم يذكر الصلاة على النبي صلى الله عليه وسلم، ولو بالرمز (ص) ! تأكيداً عمليّاً منه لتضعيفه للحديث!
وجوابي عن التأكيد المزعوم هو ما تقدم من القاعدة الأولى.
وأيضاً؛ فإن الروايات التي يشير إليها هي الآتية برقم (77 و78 و79) ، وهي في الصحيحة دون الطريقين اللتين فيهما الزيادة، فمن جهله أنه مع ذلك قدمها عليهما! ولو أنه عكس لأصاب، ولم ينحرف في تضعيفه الحديث عن جماعة الحفاظ، ولكن الأمر كما قيل: "حبك الشيء يعمي ويصم"، {وَمَنْ لَمْ يَجْعَلِ اللَّهُ لَهُ نُورًا فَمَا لَهُ مِنْ نُورٍ} (1) .
--------------------------------------------
তিনি এ বিষয়ে কথা বলেছেন, এমনকি সামান্যতম শব্দ দিয়ে হলেও! তিনি বলেছেন:
"সঠিক কথা হলো এটি মাওকুফ (সাহাবীর বক্তব্য)!"
তিনি ইসমাইল আল-কাজী (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন)-এর নিকট বর্ণিত একটি মাত্র মাওকুফ বর্ণনার ওপর জেদ ধরেছেন। এর মাধ্যমে তিনি 'বিশ্বস্ত রাবীর অতিরিক্ত বর্ণনা গ্রহণযোগ্য'—এই মূলনীতির বিরোধিতা করেছেন। বিশেষ করে যখন এটি আবু হুরাইরা থেকে দুটি সূত্রের মাধ্যমে সাব্যস্ত হয়েছে এবং পূর্বে উল্লিখিত ইমামগণ এটিকে সহীহ বলেছেন। এই সীমালঙ্ঘনকারী যে ত্রুটি উদ্ভাবন করেছেন, তারা সেদিকে ভ্রুক্ষেপও করেননি। দ্বিতীয় মূলনীতি হলো, এই মাওকুফ বর্ণনাটি মারফু-এর হুকুমভুক্ত; কারণ এটি স্পষ্ট যে, তা নিজস্ব মতামতের ভিত্তিতে বলা সম্ভব নয়।
তার সীমালঙ্ঘনের চূড়ান্ত রূপ হলো তার এই উক্তি:
"এটি আরও জোরালোভাবে নিশ্চিত করে যে, আবু হুরাইরা থেকে বর্ণিত আমাদের উল্লেখ করা বর্ণনাগুলো বাদে অন্যান্য সকল মারফু বর্ণনায় নবীর ওপর দরূদ পড়ার কথা উল্লেখ নেই!"
এভাবেই তিনি বলেছেন! তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর ওপর দরূদ উল্লেখ করেননি, এমনকি সংকেতের (সা) মাধ্যমেও নয়! হাদীসটিকে দুর্বল সাব্যস্ত করার সপক্ষে এটি তার পক্ষ থেকে একটি ব্যবহারিক নিশ্চয়তা মাত্র!
তার এই তথাকথিত নিশ্চয়তার উত্তর হলো প্রথম মূলনীতিতে যা অতিক্রান্ত হয়েছে।
তাছাড়া, তিনি যেসব বর্ণনার দিকে ইঙ্গিত করছেন সেগুলো পরবর্তীতে ৭৭, ৭৮ ও ৭৯ নম্বরে আসছে। এগুলো 'সহীহা' গ্রন্থে রয়েছে তবে সেই দুটি সূত্র ছাড়াই যাতে অতিরিক্ত অংশটুকু আছে। এটি তার অজ্ঞতা যে, তিনি তবুও এই সূত্রগুলোকে সেগুলোর ওপর প্রাধান্য দিয়েছেন! যদি তিনি এর বিপরীত করতেন তবে সঠিক হতো এবং হাদীসটি দুর্বল সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে হাফেজগণের জামাআত থেকে তিনি বিচ্যুত হতেন না। কিন্তু বিষয়টি তেমন যেমনটি বলা হয়ে থাকে: "কোনো জিনিসের প্রতি তোমার ভালোবাসা তোমাকে অন্ধ ও বধির করে দেয়।" "আল্লাহ যাকে নূর দান করেন না, তার জন্য কোনো নূর নেই।" (১) .
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সিলসিলাতুল আহাদীসিস সহীহাহ ওয়া শাইউম মিন ফিকহিহা ওয়া ফাওয়ায়িদিহা
(পৃষ্ঠা: ২৫)
وفي ختام الرد عليه لا بدَّ لي من بيان أن الرجل يغلب عليه في "ضعيفته" أن يقلد غيره في تخريجه؛ فهو لا يتعدَّى الروايات التي هي جاهزة بأسانيدها بين يديه، ثم يتوجه إلى نقدها واحدة بعد أخرى بطريقته الخاصة به، والشاذة عن قواعد العلماء وأحكامهم الموافقة لها كما تقدم، ولو أنه كان بحاثة مريداً للحق، وكان أهلاً للنقد؛ لنظر بنفسه في كتب السنة، واستخرج منها من الطرق والأسانيد ومتونها ما يساعده في التحقيق لو أراده! لكنه لا يفعل؛ لأنه يريد أن يظهر على أكتاف غيره، ولأنه يعلم أنه لو فعل؛ لاختلفت النتيجة التي يرمي إليها، ألا وهي التفوق على الألباني، وعلى شيخه شعيب، في تزيُّده عليهما في تضعيف الأحاديث! كما يترشح ذلك من كلامه نفسه في مقدمة "ضعيفته".
أقول: لو أنه فعل ذلك؛ لتبين له خطأ تصويبه وتضعيفه المتقدمين؛ لأنه سيجد لحديث أبي هريرة الصحيح من طريقيه شواهد تزيده قوة على قوة من حديث جابر، وهو المذكور تحت الحديث الآتي برقم (80) ، وأنه على شرط مسلم، ومن حديث أبي أمامة وواثلة، ولوجد تخريجها في "جلاء الأفهام" لابن القيم، و"القول البديع" للسخاوي، وقال في حديث جابر:
"رواه الطيالسي
… والضياء في "المختارة"
… ورجاله رجال (الصحيح) على شرط مسلم".
وذكر نحوه ابن القيم وأقره.
فلا غرابة حينئذ أن يشير الحافظ إلى تقوية الحديث في "فتح
তার খণ্ডনের শেষে আমাকে অবশ্যই স্পষ্ট করতে হবে যে, উক্ত ব্যক্তি তার "যয়ীফাহ" গ্রন্থে হাদীস তাহকীকের ক্ষেত্রে অন্যদের অন্ধ অনুসরণই বেশি করেছেন; তিনি তার হাতের কাছে সনদসহ যেসব বর্ণনা প্রস্তুত রয়েছে সেগুলোর বাইরে যান না, অতঃপর তিনি সেগুলোকে একে একে নিজের বিশেষ পদ্ধতিতে সমালোচনা করেন, যা ইতিপূর্বে উল্লেখিত উলামায়ে কিরামের মূলনীতি এবং তাদের সিদ্ধান্তের বিপরীত। তিনি যদি সত্যের সন্ধানী একজন গবেষক হতেন এবং সমালোচনার যোগ্যতা রাখতেন, তবে তিনি নিজেই সুন্নাহর কিতাবসমূহ অনুসন্ধান করতেন এবং সেখান থেকে এমন সব সূত্র, সনদ ও মতন বের করতেন যা তাকে গবেষণায় সহায়তা করত, যদি তিনি তা চাইতেন! কিন্তু তিনি তা করেন না; কারণ তিনি অন্যের কাঁধে ভর করে নিজেকে জাহির করতে চান এবং তিনি জানেন যে, তিনি যদি তা করতেন তবে তার উদ্দিষ্ট ফলাফল ভিন্ন হতো। আর সেই লক্ষ্যটি হলো হাদীসকে যয়ীফ বা দুর্বল সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে আলবানী এবং তার উস্তাদ শুআইবের ওপর নিজেকে শ্রেষ্ঠ হিসেবে জাহির করা! যেমনটি তার "যয়ীফাহ" গ্রন্থের মুকাদ্দিমায় তার নিজের কথা থেকেই ফুটে ওঠে।
আমি বলি: তিনি যদি তা করতেন, তবে তার পূর্ববর্তী সহীহ বা যয়ীফ সাব্যস্ত করার ভুলগুলো তার কাছে স্পষ্ট হয়ে যেত; কারণ তিনি আবু হুরায়রা (রাযি.)-এর বর্ণিত সহীহ হাদীসটির উভয় সূত্রের এমন সব সমর্থক বর্ণনা খুঁজে পেতেন যা হাদীসটিকে উত্তরোত্তর শক্তিশালী করত। যেমন জাবির (রাযি.)-এর হাদীস—যা পরবর্তী ৮০ নম্বর হাদীসের অধীনে বর্ণিত হয়েছে এবং যা ইমাম মুসলিমের শর্তানুযায়ী সহীহ—এবং আবু উমামাহ ও ওয়াসিলাহ (রাযি.)-এর হাদীসসমূহ। তিনি এগুলোর তাখরীজ ইবনুল কাইয়্যিমের "জালাউল আফহাম" এবং সাখাভী'র "আল-কাউলুল বাদী’" গ্রন্থে খুঁজে পেতেন। জাবির (রাযি.)-এর হাদীস সম্পর্কে সাখাভী বলেছেন:
"এটি তায়ালিসি বর্ণনা করেছেন
… এবং যিয়া আল-মাকদিসী ‘আল-মুখতারা’ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন
… আর এর বর্ণনাকারীগণ ইমাম মুসলিমের শর্ত অনুযায়ী (সহীহ গ্রন্থের) বর্ণনাকারী।"
ইবনুল কাইয়্যিমও অনুরূপ উল্লেখ করেছেন এবং তা সমর্থন করেছেন।
এমতাবস্থায় হাফিয (ইবনে হাজার) ‘ফাতহ’ (ফাতহুল বারী) গ্রন্থে হাদীসটিকে শক্তিশালী করার প্রতি ইঙ্গিত করলে তাতে অবাক হওয়ার কিছু নেই।
(খণ্ড: ১)
সিলসিলাতুল আহাদীসিস সহীহাহ ওয়া শাইউম মিন ফিকহিহা ওয়া ফাওয়ায়িদিহা
(পৃষ্ঠা: ২৬)
الباري" (11/169) ، وإنما الغرابة كل الغرابة أن يأتي ذاك الإِنسان المسمى بحسَّان، فيتطاول على هؤلاء العلماء الأعلام ومن سار على دربهم، فيخالفهم بتضعيف ما صححوا، وقد لاحظ هذا بعض الإِخوة الأفاضل ممَّن شجب اعتداءه على "الرياض"، ومنهم الأخ محمد عبد الله آل شاكر في كلمة جيدة له في مجلة "البيان" العدد (56) أحض القراء على الاطلاع عليها، قال جزاه الله خيراً:
"لم هذا الازدراء للعلماء السابقين الذين كان لهم باع في التصحيح والتضعيف، ولهم مكانتهم، ولكلامهم وحكمهم وزن، لِمَ يعرض عنهم صاحبنا ويكتفي بموافقة شيخه له في تضعيفه أو حكمه عليه، حتى تكررت هذه العبارة، وكثرت كثرة ملفتة للنظر، فأصبحت ممجوجة، وإذا كان فضيلة المحقق أميناً دقيقاً في عبارته حتى يقول: "وافقني الشيخ شعيب ترجيحاً"! فلماذا لا يكون أميناً دقيقاً عند تحقيقه للكتاب، فيعبث به هذا العبث، ويخون الأمانة، ويجانب الدقة.
والنكتة البارعة الأخيرة يطلقها صاحبها، فيقول في (ص 507) :
"وحرصاً مني على إتمام الفائدة للعامة والخاصة أذكر هنا في هذا الفصل الأحاديث الضعيفة في كتاب "رياض الصالحين"، وقد بلغت عندي أكثر من مئة، وعقبت بعد كل حديث بدليل ضعفه، مع تخريجه بإيجاز".
صحيح أن العامة أمثالي (حقيقة لا تواضعاً، وعلى الأقل في مجال المحقق) يستفيدون من ذلك، ولكن ما حاجة الخاصة -طبعاً من علماء الحديث والمحققين منهم-، ما حاجتهم لهذا الفصل؟ مساكين كم فاتهم
আল-বারী (১১/১৬৯), তবে চরম আশ্চর্যের বিষয় হলো এই যে, হাসান নামক ওই ব্যক্তি এই মহান আলেমগণ এবং যারা তাঁদের পথ অনুসরণ করেছেন তাঁদের ওপর ধৃষ্টতা দেখান; তাঁরা যে হাদীসগুলোকে সহীহ বলেছেন সেগুলোকে যঈফ (দুর্বল) বলার মাধ্যমে তিনি তাঁদের বিরোধিতা করেন। "রিয়াজুস সালিহীন"-এর ওপর তাঁর এই আগ্রাসনের নিন্দা জানিয়ে বেশ কয়েকজন বিজ্ঞ ভাই বিষয়টি লক্ষ্য করেছেন। তাঁদের মধ্যে ভাই মুহাম্মদ আবদুল্লাহ আল-শাকির 'আল-বায়ান' পত্রিকার ৫৬তম সংখ্যায় একটি চমৎকার নিবন্ধ লিখেছেন, যা পড়ার জন্য আমি পাঠকদের উৎসাহিত করছি। তিনি বলেছেন (আল্লাহ তাঁকে উত্তম প্রতিদান দিন):
"পূর্ববর্তী আলেমদের প্রতি কেন এই অবজ্ঞা, হাদীস সহীহ ও যঈফ নির্ধারণে যাঁদের বিশাল পাণ্ডিত্য ছিল, যাঁদের রয়েছে সুউচ্চ মর্যাদা এবং যাঁদের কথা ও সিদ্ধান্তের গুরুত্ব রয়েছে? কেন আমাদের এই বন্ধু তাঁদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নেন এবং কোনো হাদীসকে যঈফ বলা বা সেটির বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেওয়ার ক্ষেত্রে কেবল তাঁর শাইখের সম্মতির ওপরই সন্তুষ্ট থাকেন? এমনকি এই কথাটি এতবার পুনরাবৃত্তি হয়েছে এবং লক্ষ্যণীয়ভাবে এত বৃদ্ধি পেয়েছে যে, তা এখন বিরক্তিকর হয়ে দাঁড়িয়েছে। যদি মুহাক্কিক (গবেষক) মহোদয় তাঁর বক্তব্যে এতই আমানতদার ও সূক্ষ্ম হতেন যে তিনি বলেন: 'শাইখ শুয়াইব প্রাধান্য দেওয়ার ক্ষেত্রে আমার সাথে একমত হয়েছেন!', তবে কিতাবটি সম্পাদনা করার সময় কেন তিনি আমানতদার ও সূক্ষ্ম হলেন না? তিনি বইটির সাথে এমন বিশৃঙ্খলা করলেন, আমানতের খিয়ানত করলেন এবং সঠিকতা থেকে বিচ্যুত হলেন।
আর লেখক শেষ চমৎকার কৌতুকটি করেছেন এভাবে, তিনি ৫০৭ পৃষ্ঠায় বলেন:
"সাধারণ ও বিশেষ উভয় শ্রেণির মানুষের উপকার পূর্ণ করার লক্ষে আমি এখানে এই পরিচ্ছেদে 'রিয়াজুস সালিহীন' কিতাবের যঈফ হাদীসগুলো উল্লেখ করছি, যা আমার নিকট একশরও বেশি হয়েছে। আমি প্রতিটি হাদীসের পর তার যঈফ হওয়ার দলিল এবং সংক্ষেপে তার উৎস উল্লেখ করেছি।"
এটা সত্য যে, আমার মতো সাধারণ মানুষ (বিনয় করে নয় বরং বাস্তব অর্থেই, অন্তত এই গবেষকের মানদণ্ডে) এর দ্বারা উপকৃত হয়। কিন্তু বিশেষ ব্যক্তিদের—অর্থাৎ হাদীস বিশারদ ও গবেষকদের—এই পরিচ্ছেদের কী প্রয়োজন? বেচারাগণ, তাঁরা কত কিছুই না হারিয়েছেন!
(খণ্ড: ১)
সিলসিলাতুল আহাদীসিস সহীহাহ ওয়া শাইউম মিন ফিকহিহা ওয়া ফাওয়ায়িদিহা
(পৃষ্ঠা: ২৭)
من علم وفوائد قبل أن يمن الأخ عبد المنان بإخراج هذا الكتاب
… ولا حول ولا قوة إلا بالله؟ ".
فأقول: مما لا شك فيه أن شيخه شعيباً هو من الخاصة عنده، وقد صرح في نفس الصفحة التي أشار إليها الأخ الفاضل أن شعيباً استفاد منه، فإنه أثنى عليه لتراجعه إلى صواب تلميذه! ألا تراه يقول: "وهذا فضل منه لرجوعه إلى الحق"؟! ثم رجا أن أتراجع كشيخه، فقال: "ولعل الشيخ الفاضل الألباني يرجع إلى نحو ذلك بعدما يرى الحجة في هذا الكتاب"!
قلت: الرجوع إلى الصواب هو الواجب، وهو ديدني كما يعرف قرائي، ولكن فاقد الشيء لا يعطيه، وما أحسن ما يقال في مثل هذه المناسبة: "ليس هذا عشك فادرجي"! وما أشبه غرور هذا بذاك الجاهل الذي مبلغ علمه بربه أن جعله معدوماً! بقوله: إنه ليس داخل العالم ولا خارجه، ومع ذلك؛ فقد قال في بعض مقدماته نحو صاحبه هذا: "إنما نريد خدمة أهل العلم وطلابه"! {تَشَابَهَتْ قُلُوبُهُمْ} (1) . والله المستعان.
أسال الله الكريم رب العرش العظيم، أن يطهر قلوبنا من الحسد والحقد، وأن يرزقنا علماً نافعاً، وعملاً صالحاً، وأن يرد عنا شر الحاسدين وكيد الماكرين، إنه سميع مجيب.
عمان
مساء الجمعة 8 رجب 1413 هـ
وكتب
محمد ناصر الدين الألباني
--------------------------------------------
...ইলম ও জ্ঞানগর্ভ বিষয়সমূহ থেকে, ভাই আবদুল মান্নান এই কিতাবটি প্রকাশের মাধ্যমে অনুগ্রহ করার পূর্বে
… আর আল্লাহর সাহায্য ব্যতীত কোনো শক্তি ও সামর্থ্য নেই।"
অতঃপর আমি বলি: এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, তার শাইখ শুআইব তার কাছে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠজনদের অন্তর্ভুক্ত। সম্মানিত ভাই যে পৃষ্ঠার দিকে ইঙ্গিত করেছেন, সেখানে তিনি স্পষ্টভাবে স্বীকার করেছেন যে শুআইব তার দ্বারা উপকৃত হয়েছেন। এমনকি তিনি তার প্রশংসা করেছেন এ কারণে যে, তিনি তার ছাত্রের সঠিক সিদ্ধান্তের দিকে প্রত্যাবর্তন করেছেন! আপনি কি দেখছেন না যে তিনি বলছেন: "সত্যের দিকে ফিরে আসার কারণে এটি তার একটি বিশেষ গুণ"?! অতঃপর তিনি আশা প্রকাশ করেছেন যেন আমি তার শাইখের মতো ফিরে আসি, তাই তিনি বলেছেন: "সম্ভবত সম্মানিত শাইখ আলবানী এই কিতাবের দলিলসমূহ দেখার পর অনুরূপ সিদ্ধান্তের দিকে ফিরে আসবেন"!
আমি বলি: সঠিক সিদ্ধান্তের দিকে ফিরে আসা তো ওয়াজিব (আবশ্যক), আর আমার পাঠকরা যেমন জানেন যে এটিই আমার চিরস্থায়ী নীতি। কিন্তু যার কাছে কিছু নেই, সে অন্যকে কী দেবে? আর এমন পরিস্থিতিতে এই প্রবাদটি কতই না চমৎকার: "এটি তোমার বাসা নয়, সুতরাং এখান থেকে সরে যাও"! আর এই ব্যক্তির অহংকার সেই মূর্খের সাথে কতই না সাদৃশ্যপূর্ণ, যার তার রব সম্পর্কে ইলমের দৌড় তাকে 'অস্তিত্বহীন' সাব্যস্ত করা পর্যন্ত পৌঁছেছে! এই কথা বলার মাধ্যমে যে: নিশ্চয়ই তিনি (আল্লাহ) জগতের ভেতরেও নন, বাইরেও নন। তা সত্ত্বেও তিনি তার এই সঙ্গীর মতো নিজের কোনো এক ভূমিকায় বলেছেন: "আমরা তো কেবল আহলে ইলম ও তালিবে ইলমদের খেদমত করতে চাই"! {তাদের অন্তরসমূহ একই রকম হয়ে গেছে} (১)। আর আল্লাহর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করছি।
আমি মহান আরশের রব করুণাময় আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করছি, তিনি যেন আমাদের অন্তরসমূহকে হিংসা ও বিদ্বেষ থেকে পবিত্র করেন এবং আমাদের উপকারী ইলম ও নেক আমল দান করেন। আর আমাদের থেকে হিংসুকদের অনিষ্ট ও ষড়যন্ত্রকারীদের চক্রান্ত ফিরিয়ে দেন। নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা, দোয়ায় সাড়া প্রদানকারী।
আম্মান
শুক্রবার সন্ধ্যা, ৮ রজব ১৪১৩ হিজরি
লিখেছেন
মুহাম্মদ নাসিরুদ্দিন আল-আলবানী
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সিলসিলাতুল আহাদীসিস সহীহাহ ওয়া শাইউম মিন ফিকহিহা ওয়া ফাওয়ায়িদিহা
(পৃষ্ঠা: ২৮)
بسم الله الرحمن الرحيم
وبه وحده أستعين
مقدمة الطبعة الأولى:
إنَّ الحمد لله؛ نحمده، ونستعينه، ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا، مَن يهده الله؛ فلا مضلَّ له، ومن يُضلل؛ فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله.
{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آَمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ} (1) .
{يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِيرًا وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا} (2) .
{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آَمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا (70) يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا} (3) .
--------------------------------------------
পরম করুণাময় অতি দয়ালু আল্লাহর নামে।
এবং আমি কেবল তাঁরই সাহায্য প্রার্থনা করছি।
প্রথম সংস্করণের ভূমিকা:
নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য; আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর নিকট সাহায্য চাই এবং তাঁর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে হেদায়েত দান করেন, তাকে বিভ্রান্ত করার কেউ নেই। আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন, তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল।
{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং মুসলিম হওয়া ছাড়া মৃত্যুবরণ করো না।} (১)।
{হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের রবকে ভয় করো, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন, আর তাদের উভয় থেকে বহু নর-নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, যার দোহাই দিয়ে তোমরা একে অপরের নিকট অধিকার চাও এবং আত্মীয়তার বন্ধন সম্পর্কে সচেতন থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখেন।} (২)।
{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। (৭০) তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করে দেবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহাসাফল্য লাভ করল।} (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সিলসিলাতুল আহাদীসিস সহীহাহ ওয়া শাইউম মিন ফিকহিহা ওয়া ফাওয়ায়িদিহা
(পৃষ্ঠা: ২৯)
أما بعد؛ فقد عزمنا بإذن الله وتوفيقه على نشر مقالات تتضمن أحاديث صحيحة في مختلف الأبواب والفصول والمسائل والفوائد، وذلك تحقيقاً لرغبة الكثيرين من إخواننا وأصدقائنا الأفاضل، وتزويداً للقراء الكرام بها، تعاوناً معهم على التثقيف بالثقافة الإِسلامية الصحيحة، التي لا مصدر لها بعد القرآن الكريم إلا أحاديث رسول الله صلى الله عليه وسلم؛ فهي بحق كما قال بعض العلماء الصالحين (1) :
"أبرك العلوم وأفضلها وأكثرها نفعاً في الدين والدنيا بعد كتاب الله عز وجل أحاديث رسول الله صلى الله عليه وسلم؛ لما فيها من كثرة الصلوات عليه، وإنها كالرياض والبساتين، تجد فيها كل خير وبر وفضل وذكر".
ولكن من المؤسف جدّاً أن يكون قد تسرب إلى هذه الرياض والبساتين بعض الطفيليات من الأحاديث الضعيفة والموضوعة، حتى نمت وترعرعت فيها، وصارت بحكم مرور الأيام عليها وجهل أكثر الناس بحقيقتها كأنها جزء متمم لها، وهذا مما حدا بي على محاولة تنقيتها منها، وتحذير المسلمين الغافلين عنها، وذلك في مقالات: "الأحاديث الضعيفة والموضوعة وأثرها السيىء في الأمة"، والتي تنشر تباعاً في "مجلة التمدن الإِسلامي" الزاهرة، والتي تلقاها أهل العلم والفضل من مختلف البلاد بالرضى والقبول، وحرصوا أشد الحرص على اقتنائها والاحتفاظ بها، وأقبل الكثيرون على تقديم طلبات الاشتراك في المجلة من أجلها.
--------------------------------------------
এরপর; আল্লাহর ইচ্ছা ও তাওফীকে আমরা বিভিন্ন অধ্যায়, পরিচ্ছেদ, মাসআলা এবং ফায়দা সম্বলিত সহীহ হাদিস বিষয়ক প্রবন্ধ প্রকাশের সংকল্প করেছি। এটি আমাদের অনেক মুহতারাম ভাই ও বন্ধুদের আকাঙ্ক্ষা পূরণ এবং সম্মানিত পাঠকদের তা সরবরাহের উদ্দেশ্যে, যেন তাদের সঠিক ইসলামি সংস্কৃতি অর্জনে সহায়তা করা যায়, যার উৎস পবিত্র কুরআনের পর আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর হাদিস ছাড়া আর কিছুই নয়। এটি যথার্থই যেমনটি জনৈক নেককার আলেম (১) বলেছেন:
"আল্লাহ আজ্জা ওয়াজাল্লার কিতাবের পর দ্বীন ও দুনিয়ার জন্য সবচেয়ে বরকতময়, শ্রেষ্ঠ এবং অধিক উপকারী ইলম হলো আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর হাদিস; কারণ এতে তাঁর প্রতি অধিক দরুদ পাঠের সুযোগ থাকে এবং তা বাগ-বাগিচার মতো, যেখানে আপনি সকল কল্যাণ, পুণ্য, মর্যাদা ও যিকর খুঁজে পাবেন।"
কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো যে, এই উদ্যান ও বাগিচাগুলোতে যঈফ (দুর্বল) ও জাল হাদিসের কিছু পরজীবী প্রবেশ করেছে, এমনকি সেগুলো সেখানে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং দীর্ঘ সময় অতিক্রান্ত হওয়ার ফলে ও অধিকাংশ মানুষের এর বাস্তবতা সম্পর্কে অজ্ঞতার কারণে তা যেন এরই একটি অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়েছে। আর এটিই আমাকে সেগুলো থেকে একে পরিচ্ছন্ন করার এবং এ বিষয়ে অসচেতন মুসলমানদের সতর্ক করার প্রচেষ্টায় উদ্বুদ্ধ করেছে। আর তা হলো 'যঈফ ও জাল হাদিস এবং উম্মতের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব' নামক প্রবন্ধমালার মাধ্যমে, যা ধারাবাহিকভাবে প্রদীপ্ত 'মাজাল্লাতুত তামাদ্দুনিল ইসলামি' সাময়িকীতে প্রকাশিত হচ্ছে। বিভিন্ন দেশের বিজ্ঞ আলেম ও গুণীজনরা এটি সন্তুষ্টি ও কবুলিয়াতের সাথে গ্রহণ করেছেন এবং তারা এটি সংগ্রহ ও সংরক্ষণের ব্যাপারে অত্যন্ত আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। এমনকি এর কারণেই অনেকে এই সাময়িকীর গ্রাহক হওয়ার জন্য আবেদন করেছেন।
--------------------------------------------