(খণ্ড: ১)
সারীহুল মা'কুল আল-মুওয়াফিক লিসারীহিল মানকুল ফী মুনাক্বাশাতি সালাসাতি তাফাসীর রুত্তিাবাত আলা তারতীবিন নুযূল
(পৃষ্ঠা: -)
صريح المعقول الموافق لصريح المنقول في مناقشة ثلاثة تفاسير رتبت على ترتيب النزول القسم: علوم القرآن وأصول التفسير
الكتاب: صَحِيِحُ المَنْقُوُلِ المُوَافِقُ لِصَرِيِحِ المَعْقُوُلِ فِيِ مُنَاقَشَةِ ثَلَاثَةِ تَفَاسِيِرَ رُتِّبَتْ عَلى تَرْتِيِبِ النُّزُوُلِ
المؤلف: عرفة بن طنطاوي
بحث منشور في: مجلة البحوث الإسلامية العدد 73، ربيع الأول 1443 هـ
مجلة البحوث الإسلامية: مصرية محكّمة، بدأت في 1436 هـ، تصدر شهريا، ويرأس تحريرها أ د عبد الفتاح محمود إدريس، أستاذ بقسم الفقه المقارن بكلية الشريعة والقانون جامعة الأزهر
عدد الصفحات: 63
[ترقيم صفحات البحث موافق للمجلة. ورقم الجزء هو رقم العدد]
تاريخ النشر بالشاملة: 24 ذو الحجة 1443
তিনটি নাযিলের ক্রমানুসারে বিন্যস্ত তাফসিরের পর্যালোচনায় সুস্পষ্ট যৌক্তিক ও সুস্পষ্ট বর্ণিত উদ্ধৃতির সমন্বয় বিভাগ: কুরআনুল কারীমের উলূম ও তাফসিরের মূলনীতি
বই: বিশুদ্ধ (صحيح) বর্ণিত উদ্ধৃতির সাথে সুস্পষ্ট যৌক্তিক প্রমাণের সমন্বয়: নাযিলের ক্রমানুসারে বিন্যস্ত তিনটি তাফসিরের পর্যালোচনা প্রসঙ্গে
লেখক: আরাফাহ বিন তানতাউই
নিবন্ধটি প্রকাশিত হয়েছে: মাজাল্লাতুল বুহুস আল-ইসলামিয়্যাহ, সংখ্যা ৭৩, রবিউল আউয়াল ১৪৪৩ হিজরি
মাজাল্লাতুল বুহুস আল-ইসলামিয়্যাহ: এটি একটি মিশরীয় বিশেষজ্ঞ পন্ডিতদের দ্বারা পর্যালোচিত সাময়িকী, যা ১৪৩৬ হিজরি থেকে যাত্রা শুরু করে, এটি মাসিক ভিত্তিতে প্রকাশিত হয় এবং এর প্রধান সম্পাদকের দায়িত্বে রয়েছেন অধ্যাপক ড. আব্দুল ফাত্তাহ মাহমুদ ইদরিস, তিনি আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয়ের শরীয়াহ ও আইন অনুষদের তুলনামূলক ফিকহ বিভাগের অধ্যাপক
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৬৩
[নিবন্ধের পৃষ্ঠা নম্বর সাময়িকীর মূল পৃষ্ঠার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এবং খণ্ড নম্বরটি মূলত সংখ্যা নম্বর হিসেবে গণ্য.]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ২৪ জিলহজ ১৪৪৩
(খণ্ড: ৭৩)
সারীহুল মা'কুল আল-মুওয়াফিক লিসারীহিল মানকুল ফী মুনাক্বাশাতি সালাসাতি তাফাসীর রুত্তিাবাত আলা তারতীবিন নুযূল
(পৃষ্ঠা: ৩৯)
مُلَخَّصُ البَحْثِفهذ بحث موسوم بـ "صَحِيِحِ المَعْقُوُلِ المُوَافِقِ لِصَرِيِحِ المَنْقُوُلِ فِيِ مُنَاقَشَةِ ثَلَاثَةِ تَفَاسِيِرَ رُتِّبَتْ عَلى تَرْتِيِبِ النُّزُوُلِ".
تناوله الباحثُ في فصلين:
أما الفصل الأول: فقد تناول فيه الباحثُ مبحثَ ترتيبِ الآيات في السور ودلل على أنه ترتيب توقيفي، ثم تناول مبحث ترتيب السور ومذاهب العلماء فيه، ثم دلل على أنه ترتيب توقيفي، ثم ذكر بداية ومصدر مخالفة ومعارضة هذا الترتيب، ثم عرَّج على ذكر أبرز الداعين له من المستشرقين ومن تأثر بهم المعاصرين- كذلك-.
وأما الفصل الثاني: فقد قام الباحث بعرض التفاسير الثلاثة التي خالفت الترتيب المصحفي، ثم تناول التعريف بكل تفسير ومؤلفه ومنهجه وعقيدته ودوافعه لمخالفة هذا الترتيب وأسباب جنوحه للترتيب النزولي، ثم ناقش تلك الدوافع وفندها، ثم بيَّن أن مُفْتَتِحُو هذا الباب لم تتحقق لهم مآربهم، ثم ختم ببيان وجوب احترام الترتيب المصحفي الذي أجمعت عليه الأمة وتلقته بالقبول.
المقدمةالحمد لله الذي أنزل كتابه المجيد على أحسن أسلوب وبهر بحسن أساليبه وبلاغة تركيبه القلوب، نزله آيات بينات، وفصله سورا وآيات، ورتبه بحكمته البالغة أحسن ترتيب، ونظمه أعظم نظام بأفصح لفظ وأبلغ تركيب، وصلى الله على من أُنزل إليه لينذر به وذكرى على قلبه الشريف فنفى عنه الحرج وشرح له صدرا، وعلى آله وصحبه مهاجرة ونصرا
…(1). أما بعد:
--------------------------------------------
গবেষণার সারসংক্ষেপএই গবেষণাটির শিরোনাম হলো "নাযিলের ক্রমধারা অনুযায়ী বিন্যস্ত তিনটি তাফসীরের পর্যালোচনায় বর্ণিত ঐতিহ্যের (منقول) সুস্পষ্ট ভাষ্যের সাথে সংগতিপূর্ণ সঠিক যৌক্তিকতা (معقول)"।
গবেষক এটিকে দুটি অধ্যায়ে বিভক্ত করেছেন:
প্রথম অধ্যায়: এতে গবেষক সূরার ভেতরে আয়াতের বিন্যাস সংক্রান্ত বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং প্রমাণ করেছেন যে, এটি একটি ঐশ্বরিকভাবে নির্ধারিত (توقيفي) বিন্যাস। এরপর তিনি সূরাসমূহের বিন্যাস এবং এ বিষয়ে আলেমদের মতাদর্শসমূহ নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং প্রমাণ করেছেন যে, এটিও একটি ঐশ্বরিকভাবে নির্ধারিত (توقيفي) বিন্যাস। অতঃপর তিনি এই বিন্যাসের বিরোধিতা ও দ্বিমত পোষণের উৎস ও প্রেক্ষাপট উল্লেখ করেছেন এবং এ বিন্যাসের বিরোধিতাকারী প্রধান প্রাচ্যবিদ এবং তাদের দ্বারা প্রভাবিত সমকালীন ব্যক্তিদের কথা আলোচনা করেছেন।
দ্বিতীয় অধ্যায়: এতে গবেষক সেই তিনটি তাফসীর উপস্থাপন করেছেন যা কুরআনের বর্তমান বিন্যাসের (মুসহাফী বিন্যাস) পরিপন্থী। এরপর তিনি প্রতিটি তাফসীর, তার লেখক, পদ্ধতি, আকিদা এবং এই বিন্যাস লঙ্ঘনের প্রেরণা ও নাযিলের ক্রমধারা (নুযূলী বিন্যাস) অনুসরণের কারণসমূহ আলোচনা করেছেন। এরপর তিনি সেই কারণগুলো নিয়ে আলোচনা করে তা খণ্ডন করেছেন এবং দেখিয়েছেন যে, যারা এই ধারার সূচনা করেছেন তারা তাদের উদ্দেশ্য অর্জনে সফল হননি। পরিশেষে তিনি উম্মাহর ঐকমত্য (إجماع) ও সর্বজনগৃহীত কুরআনের বর্তমান বিন্যাসকে সম্মান করার আবশ্যকতা বর্ণনার মাধ্যমে ইতি টেনেছেন।
উপস্থাপনাসমস্ত প্রশংসা মহান আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর মহিমান্বিত কিতাবকে সর্বোত্তম শৈলীতে অবতীর্ণ করেছেন এবং যার বাচনভঙ্গির সৌন্দর্য ও চমৎকার গঠনশৈলী মানুষের হৃদয়কে বিমোহিত করে। তিনি একে সুস্পষ্ট নিদর্শনে পূর্ণ করে অবতীর্ণ করেছেন এবং সূরা ও আয়াতে বিভক্ত করেছেন। তিনি তাঁর সুগভীর হিকমতের মাধ্যমে একে সর্বোত্তম বিন্যাসে সাজিয়েছেন এবং অত্যন্ত প্রাঞ্জল শব্দ ও বাগ্মিতাপূর্ণ শৈলীতে সুসংবদ্ধ করেছেন। দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর ওপর, যাঁর নিকট এই কিতাব অবতীর্ণ করা হয়েছে যাতে তিনি এর মাধ্যমে সতর্ক করতে পারেন এবং যা তাঁর মহৎ হৃদয়ের জন্য উপদেশ স্বরূপ। আল্লাহ তাআলা তাঁর হৃদয় থেকে সংকীর্ণতা দূর করেছেন এবং তাঁর বক্ষ প্রশস্ত করেছেন। আরও দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীগণের ওপর, যারা হিজরত ও দ্বীনের সাহায্যে নিবেদিত ছিলেন
…(১)। আম্মা বাদ:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ৭৩)
সারীহুল মা'কুল আল-মুওয়াফিক লিসারীহিল মানকুল ফী মুনাক্বাশাতি সালাসাতি তাফাসীর রুত্তিাবাত আলা তারতীবিন নুযূল
(পৃষ্ঠা: ৩৯)
توطئة [*]فإن هذه توطئة هامة يقدمها الباحث بين يدي بحثه هذا، والذي قد وسمه بـ" صَحِيِحِ المَنْقُوُلِ المُوَافِقِ لِصَرِيِحِ المَعْقُوُلِ فِيِ مُنَاقَشَةِ ثَلَاثَةِ تَفَاسِيِرَ رُتِّبَتْ عَلى تَرْتِيِبِ النُّزُوُلِ"، ويقف فيها الباحث وقفات هامة حول جملة من خصائص وفضائل القرآن العظيم المتعلقة ببحثنا على النحو التالي:
أولًا: القرآن هو المُعجِزة الخالدة الباقيةإن القرآن الكريم هو المُعجِزة الخالدة التي بُنِيَت عليها نُبُوَّة ورسالة خاتم النبيِّين والمرسلين نبينا محمد صلى الله عليه وسلم، فقد أنزله الله عليه كتابه الخاتم وجعله معجزة وبرهانًا على صدق نبوته ورسالته.
ومصداق ذلك ما ثبت في الصحيحين من حديث عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه أَنَّ رَسُولَ اللّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: "مَا مِنَ الأَنْبِيَاءِ مِنْ نَبِيٍّ إِلاَّ قَدْ أُعْطِيَ مِنَ الآيَاتِ مَا مِثْلُهُ آمَنَ عَلَيْهِ الْبَشَرُ، وَإِنَّمَا كَانَ الَّذِي أُوتِيتُ وَحْيًا أَوْحَى الله إِلَيَّ، فَأَرْجُو أَنْ أَكُونَ أَكْثَرَهُمْ تَابِعًا يَوْمَ الْقِيَامَةِ".
(1)ومن كلام الله سبحانه: القرآن العظيم، وهو كتاب الله المبين، وحبله المتين، وصراطه المستقيم، وتنزيل رب العالمين، نزل به الروح الأمين، على قلب سيد المرسلين، بلسان عربي مبين، منزّل غير مخلوق، منه بدأ وإليه يعود، وهو سور محكمات، وآيات بينات، وحروف وكلمات، من قرأه فأعربه فله بكل حرف عشر حسنات، له أول وآخر، وأجزاء وأبعاض، متلو بالألسنة، محفوظ في الصدور، مسموع بالآذان، مكتوب في المصاحف، فيه محكم ومتشابه، وناسخ ومنسوخ، وخاص وعام، وأمر ونهي (لَا يَأْتِيهِ الْبَاطِلُ مِنْ بَيْنِ يَدَيْهِ وَلَا مِنْ خَلْفِهِ تَنْزِيلٌ مِنْ حَكِيمٍ حَمِيدٍ) (فصلت: 42).
(2)فالقرآن الكريم ـ الذي هو كلامُ الله ووحيُه وتنزيلُه ـ منزَلٌ غيرُ مخلوقٍ، مُعْجِزٌ في نَظْمِه، لا يُشْبِهُه شيءٌ مِنْ كلام المربوبين، ولا يقدر على مِثْلِه أحَدٌ مِنْ المخلوقين، "الذي في مَصاحِفِ المسلمين، لم يَفُتْ منه شيءٌ، ولم يَضِعْ بنسيانِ ناسٍ، ولا ضلالِ صحيفةٍ، ولا موتِ قارئ، ولا كتمانِ كاتمٍ، ولم يُحرَّفْ منه شيءٌ، ولم يُزَدْ فيه حرفٌ، ولم يُنْقَصْ منه حرفٌ، كُلُّه حقٌّ مِنْ عندِ الله، ولو كذَّب به أعداءُ الرُّسُل
(3)مِنْ الكُفَّار والمُشْرِكين والمُلْحِدين ومَن سارَ على نهجِهم مِنْ الفلاسفة وأهلِ الأهواء".
(4)--------------------------------------------
ভূমিকা [*]গবেষক তার এই গবেষণার প্রারম্ভে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পেশ করেছেন, যার শিরোনাম তিনি দিয়েছেন "নুজুল (অবতরণ) এর ক্রম অনুযায়ী বিন্যস্ত তিনটি তাফসিরের পর্যালোচনায় সুস্পষ্ট যুক্তির অনুকূল বিশুদ্ধ (صحيح) বর্ণনা"। এখানে গবেষক আমাদের গবেষণার সাথে সংশ্লিষ্ট মহান কুরআনের বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য ও মর্যাদার ব্যাপারে নিম্নোক্তভাবে গুরুত্বপূর্ণ আলোকপাত করেছেন:
প্রথমত: কুরআন হলো শাশ্বত ও চিরস্থায়ী অলৌকিক নিদর্শন (মুজিজা)নিশ্চয়ই আল-কুরআনুল কারীম হলো সেই শাশ্বত অলৌকিক নিদর্শন (মুজিজা), যার ওপর ভিত্তি করে সর্বশেষ নবী ও রাসূল আমাদের নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নবুয়ত ও রিসালাত প্রতিষ্ঠিত। আল্লাহ তাআলা তাঁর নিকট তাঁর সর্বশেষ কিতাব অবতীর্ণ করেছেন এবং একে তাঁর নবুয়ত ও রিসালাতের সত্যতার প্রমাণ ও মুজিজা হিসেবে নির্ধারণ করেছেন।
এর সত্যতার প্রমাণ হলো যা সহিহাইন-এ আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে সাব্যস্ত হয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "নবীগণের মধ্যে এমন কোনো নবী ছিলেন না যাকে এমন সব নিদর্শন (মুজিজা) প্রদান করা হয়নি যার ওপর ভিত্তি করে মানুষ ঈমান এনেছে। আর আমাকে যা প্রদান করা হয়েছে তা হলো ওহি, যা আল্লাহ আমার প্রতি অবতীর্ণ করেছেন। তাই আমি আশা করি যে, কিয়ামতের দিন আমিই তাদের মধ্যে সর্বাধিক অনুসারী লাভ করব।"
(১)আর মহান আল্লাহর বাণীর অন্তর্ভুক্ত হলো: মহান কুরআন। এটি আল্লাহর সুস্পষ্ট কিতাব, তাঁর মজবুত রজ্জু, তাঁর সরল পথ এবং রাব্বুল আলামীনের পক্ষ থেকে নাযিলকৃত। এটি বিশ্বস্ত রুহ (জিবরাঈল আলাইহিস সালাম) নিয়ে অবতীর্ণ হয়েছেন রাসূলগণের সর্দারের অন্তরে, সুস্পষ্ট আরবি ভাষায়। এটি অবতীর্ণ (منزل), সৃষ্ট নয়; তাঁর থেকেই এর শুরু এবং তাঁর দিকেই এটি ফিরে যাবে। এতে রয়েছে সুদৃঢ় (محكم) সুরাসমূহ, সুস্পষ্ট আয়াতসমূহ, এবং বর্ণ ও শব্দসমূহ। যে ব্যক্তি এটি পাঠ করবে এবং বিশুদ্ধভাবে উচ্চারণ করবে, তার জন্য প্রতিটি হরফের বিনিময়ে দশটি করে নেকি রয়েছে। এর শুরু ও শেষ আছে, এর বিভিন্ন অংশ ও খণ্ড রয়েছে। এটি জিহ্বা দ্বারা পঠিত, অন্তরে সংরক্ষিত, কান দিয়ে শ্রবণকৃত এবং মাসহাফসমূহে লিখিত। এতে সুস্পষ্ট (محكم) ও অস্পষ্ট বা রূপক (متشابه) বিষয় রয়েছে, রয়েছে রহিতকারী (ناسخ) ও রহিত (منسوخ), বিশেষ (خاص) ও সাধারণ (عام), এবং আদেশ ও নিষেধ। "(আর এটি এমন কিতাব যে) এর সম্মুখ বা পশ্চাৎ—কোনো দিক থেকেই বাতিল এতে প্রবেশ করতে পারে না; এটি প্রজ্ঞাময় ও চিরপ্রশংসিত আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ।" (সূরা ফুসসিলাত: ৪২)।
(২)সুতরাং আল-কুরআনুল কারীম—যা আল্লাহর কালাম, তাঁর ওহি এবং তাঁর পক্ষ থেকে নাযিলকৃত—তা অবতীর্ণ (منزل), সৃষ্টি নয়; এর বিন্যাস অলৌকিক (মুজিজা), এর সাথে সৃষ্টিজগতের কোনো কথার সাদৃশ্য নেই এবং সৃষ্টির কেউ এর সমতুল্য কিছু আনতে সক্ষম নয়। "যা মুসলমানদের মাসহাফসমূহে বিদ্যমান, যার কিছুই হারিয়ে যায়নি এবং কোনো মানুষের বিস্মৃতি, পাণ্ডুলিপির বিভ্রান্তি, কোনো ক্বারীর মৃত্যু বা কোনো লেখকের গোপনীয়তার কারণেও তা বিনষ্ট হয়নি। এর কোনো কিছু বিকৃত করা হয়নি, এতে একটি বর্ণও যোগ করা হয়নি এবং তা থেকে একটি বর্ণও কমানো হয়নি। এর পুরোটাই আল্লাহর পক্ষ থেকে আগত সত্য, যদিও রাসূলগণের শত্রুরা একে অস্বীকার করে,
(৩)চাই তারা কাফের, মুশরিক, নাস্তিক কিংবা তাদের পদাঙ্ক অনুসরণকারী দার্শনিক ও প্রবৃত্তিপূজারী হোক না কেন।"
(৪)--------------------------------------------
(খণ্ড: ৭৩)
সারীহুল মা'কুল আল-মুওয়াফিক লিসারীহিল মানকুল ফী মুনাক্বাশাতি সালাসাতি তাফাসীর রুত্তিাবাত আলা তারতীবিন নুযূল
(পৃষ্ঠা: ৩৯)
ثانيًا: القرآن هو المُعجِزة التي عمَّتْ الثَّقَلَيْنوهذه المُعجِزة - القرآن- معجِزة عامَّة- تحدى الله بها، وقد عمَّ التحدي بها الثَّقَلَيْن جميعًا، وهي معجِزة باقية بقاءَ الدهر كما قال ربنا: (قُلْ لَئِنْ اجْتَمَعَتْ الإِنْسُ وَالْجِنُّ عَلَى أَنْ يَأْتُوا بِمِثْلِ هَذَا الْقُرْآنِ لَا يَأْتُونَ بِمِثْلِهِ وَلَوْ كَانَ بَعْضُهُمْ لِبَعْضٍ ظَهِيرًا) (الإسراء: 88).
وهذا أمر من الله لنبيه صلى الله عليه وسلم بإعلان هذا التحدي ليسمع بها الثقلين، لأن التحدي قد عمَّهم جميعًا.
فأخبرَ أنَّه لو اجتمعت الإنسُ والجِنُّ كُلُّهم، واتَّفَقوا على أن يأتوا بمِثلِ ما أنزَلَه على رسولِه، لما أطاقوا ذلك وما استطاعوه، ولو تعاونوا وتساعدوا وتضافروا، فإنه أمر لا يستطاع.
(5) و
معنى الاجتماعِ:الاتفاقُ واتحادُ الرأي، أي: لو تواردت عقولُ الإنسِ والجِنِّ على أن يأتيَ كُلُّ واحدٍ منهم بمِثلِ هذا القرآنِ لَما أتَوا بمثله. فهو اجتماعُ الرأيِ لا اجتِماعُ التعاون، كما تدُلُّ عليه المبالغةُ في قولِه بَعدَه: وَلَوْ كَانَ بَعْضُهُمْ لِبَعْضٍ ظَهِيرًا، - وهذا الاجتماع إنما هو-
اجتماعُ تظافُرٍ على عمَلٍ واحدٍ، ومقصَدٍ واحدٍ.
(6)والمعنى المقصود هنا هو أنهم لو اتَّفَقت أراؤهم وتضافرت جهودهم مجتمعين على أن يأتُوا بمِثلِ هذا القُرآنِ في فصاحته وبلاغَتِه وحُسنِ أسلوبه وروعة بيانه وجودة سبكه وحُسنِ نَظْمِه ورصانة مَعانيه وكمال مقاصده وبعد مراميه؛ لَما أطاقوا ذلك أبدًا وما استَطاعوا أن يبلغوه ولو تآلفوا واجتمعوا وتعاونوا على ذلك متعاضدين متناصرين.
وقوله: (وَلَوْ كَانَ بَعْضُهُمْ لِبَعْضٍ ظَهِيرًا) أي: لا يَأتونَ بمِثلِه ولو تعاوَنَ الإنسُ والجِنُّ، وتناصَروا على ذلك، فكيف بهم إذا حاولوا ذلك مُتفَرِّقينَ؟!.
(7)فقد تَحَدَّاهم اللهُ أن يأتوا بمثله، أو بعشر سور من مثله مفتريات، كما تحداهم أن يأتوا بأقصر سورة منه - كذلك-
(8) فعجَزُوا عن ذلك جميعًا رغم توافر الدواعي لديهم.
وكيف يقدر المخلوق من تراب أن يكون كلامه ككلام ربِّ العالمين، أم كيف يقدر الناقص الفقير من كل الوجوه أن يأتي بكلام ككلام الكامل، الذي له الكمال المطلق، والغنى الواسع من جميع الوجوه، هذا ليس في الإمكان، ولا في قدرة الإنسان، وكل مَنْ له أدنى ذوق ومعرفة بأنواع الكلام، إذا وَزَنَ هذا القرآن العظيم بغيره من كلام البلغاء ظهر له الفرق العظيم.
(9)--------------------------------------------
দ্বিতীয়ত: কুরআন হলো সেই মুজিজা (معجزة) যা উভয় জগতের (ثقلين) জন্য ব্যাপৃতআর এই মুজিজা (معجزة) -অর্থাৎ কুরআন- একটি সার্বজনীন মুজিজা (معجزة); আল্লাহ এর মাধ্যমে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন এবং এই চ্যালেঞ্জ উভয় জগত (ثقلين) অর্থাৎ মানুষ ও জিন সকলকেই অন্তর্ভুক্ত করেছে। এটি মহাকালের স্থায়িত্বের ন্যায় চিরস্থায়ী এক মুজিজা (معجزة), যেমনটি আমাদের রব বলেছেন: (বলুন, যদি এই কুরআনের অনুরূপ আনার জন্য মানুষ ও জিন সমবেত হয়, তারা এর অনুরূপ আনতে পারবে না; যদিও তারা একে অপরের সাহায্যকারী হয়) (আল-ইসরা: ৮৮)।
এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এই চ্যালেঞ্জ ঘোষণা করার একটি নির্দেশ, যেন উভয় জগত (ثقلين) তা শুনতে পায়; কারণ এই চ্যালেঞ্জ তাদের সকলকেই ব্যাপৃত করেছে।
অতঃপর তিনি সংবাদ দিয়েছেন যে, যদি সমস্ত মানুষ ও জিন একত্রিত হয় এবং তাঁর রাসূলের প্রতি তিনি যা অবতীর্ণ করেছেন তার অনুরূপ কিছু নিয়ে আসার ব্যাপারে একমত হয়, তবুও তারা তা করার সামর্থ্য রাখবে না এবং তা করতে সক্ষম হবে না; যদিও তারা একে অপরকে সহযোগিতা, সাহায্য ও সমর্থন করে। কেননা এটি এমন এক বিষয় যা কারোর সাধ্যায়ত্ত নয়।
(৫) এবং
একত্রিত হওয়ার (اجتماع) অর্থ:মতৈক্য এবং মতের অভিন্নতা। অর্থাৎ: যদি মানুষ ও জিনের বুদ্ধিবৃত্তি এই বিন্দুর ওপর একবিন্দুতে মিলিত হয় যে, তাদের প্রত্যেকেই এই কুরআনের অনুরূপ কিছু নিয়ে আসবে, তবুও তারা তার সদৃশ কিছু আনতে পারবে না। সুতরাং এটি মূলত মতের ঐক্য (اجتماع), কেবল সহযোগিতার মিলন নয়; যেমনটি পরবর্তী বাক্যে 'অতিশয়োক্তি' (مبالغة) থেকে প্রতীয়মান হয়: 'যদিও তারা একে অপরের সাহায্যকারী হয়'। আর এই সমাবেশ মূলত—
একটি কাজ ও একটি লক্ষ্যের ওপর সম্মিলিত প্রচেষ্টার সমাবেশ।
(৬)এখানে মূল উদ্দেশ্য হলো—তারা যদি সম্মিলিতভাবে তাদের মতামতকে ঐক্যবদ্ধ করে এবং তাদের প্রচেষ্টাকে নিয়োজিত করে এই কুরআনের অনুরূপ এর প্রাঞ্জলতা (فصاحة), অলংকারশৈলী (بلاغة), চমৎকার শৈলী, বর্ণনার মাধুর্য, বুননশৈলীর উৎকর্ষ, সুনিপুণ বাক্যসংগঠন (نظم), অর্থের গাম্ভীর্য, উদ্দেশ্যের পূর্ণতা এবং লক্ষ্যমাত্রার গভীরতার দিক থেকে কিছু নিয়ে আসতে চায়; তবে তারা কখনোই তা পারবে না এবং সেখানে পৌঁছাতে সক্ষম হবে না; যদিও তারা এ কাজে পরস্পর মিত্র, সমবেত ও একে অপরের সাহায্যকারী ও সহযোগী হয়।
আর তাঁর বাণী: (যদিও তারা একে অপরের সাহায্যকারী হয়) অর্থাৎ: তারা এর অনুরূপ কিছু আনতে পারবে না, যদি মানুষ ও জিন পরস্পর একতাবদ্ধ হয় এবং এ কাজে পরস্পরকে সাহায্য করে। তাহলে তারা যখন পৃথকভাবে এটি করার চেষ্টা করবে, তখন তাদের অবস্থা কী হবে?!
(৭)আল্লাহ তাদের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন যে, তারা যেন এর অনুরূপ কিছু নিয়ে আসে, অথবা এর মতো দশটি মিথ্যা উদ্ভাবিত সূরা নিয়ে আসে। একইভাবে তিনি তাদের চ্যালেঞ্জ দিয়েছেন এর ক্ষুদ্রতম একটি সূরার মতো কিছু নিয়ে আসতে।
(৮) কিন্তু তাদের নিকট এর যাবতীয় প্রেরণা ও উপকরণ বিদ্যমান থাকা সত্ত্বেও তারা সবাই তা করতে ব্যর্থ হয়েছে।
আর মাটি থেকে সৃষ্ট মাখলুক (مخلوق) কীভাবে রব্বুল আলামীনের কালামের সমকক্ষ হতে সক্ষম হবে? অথবা সর্বদিক দিয়ে অপূর্ণ ও মুখাপেক্ষী সত্তা কীভাবে সেই পরম সত্তার কালামের মতো কালাম নিয়ে আসতে পারে, যাঁর জন্য রয়েছে নিরঙ্কুশ পূর্ণতা এবং সর্বদিক দিয়ে প্রশস্ত অমুখাপেক্ষিতা? এটি কোনোভাবেই সম্ভব নয় এবং মানুষের সাধ্যের অতীত। যারই সামান্যতম রুচিবোধ এবং বাক্যশৈলী সম্পর্কে জ্ঞান রয়েছে, সে যখন এই সুমহান কুরআনকে অন্যান্য অলংকারবিদদের বাক্যের সাথে তুলনা করবে, তখন তার কাছে এই বিশাল ব্যবধান স্পষ্ট হয়ে উঠবে।
(৯)--------------------------------------------
(খণ্ড: ৭৩)
সারীহুল মা'কুল আল-মুওয়াফিক লিসারীহিল মানকুল ফী মুনাক্বাশাতি সালাসাতি তাফাসীর রুত্তিাবাত আলা তারতীবিন নুযূল
(পৃষ্ঠা: ৩৯)
ثالثًا: القرآن هو المُعجِزة التي يُعَدُ سماعها حجةوإن التحدي بهذه الحجَّة ولُزُومها باقٍ مِنْ أوَّل وُرودها إلى أن يُرفَعَ القرآنُ في آخر الزمان، بل إن التحدي بها باق - كذلك- إلى يوم القيامة
وقد أكد الله تعالى قيام الحجة بالقرآن على المشركين في قوله سبحانه: (وَإِنْ أَحَدٌ مِنَ الْمُشْرِكِينَ اسْتَجَارَكَ فَأَجِرْهُ حَتَّى يَسْمَعَ كَلَامَ اللَّهِ ثُمَّ أَبْلِغْهُ مَأْمَنَهُ ذَلِكَ بِأَنَّهُمْ قَوْمٌ لَا يَعْلَمُونَ) (التوبة: 6). فلولا أن سماعه حجّة عليه لم يقف أمره على سماعه ولا يكون حجّة إلّا وهو معجز.
(10)وجِيءَ بحرْفِ (إن) التي شأنُها أنْ يكونَ شَرْطُها نادرَ الوقوعِ؛ للتَّنبيهِ على أنَّ هذا شَرْطٌ فَرْضيٌّ؛ لكيلَا يَزعمَ المشرِكون أنَّهم لم يَتمكَّنوا من لِقاءِ النبيِّ صلى الله عليه وسلم، فيتَّخِذوه عُذْرًا للاستمرارِ على الشِّركِ إذا غَزاهُم المسلِمون.
(11)--------------------------------------------
তৃতীয়ত: কুরআন হলো এমন এক মুজিজা (معجزة), যা শ্রবণ করা দলিল (حجة) হিসেবে গণ্য হয়এই দলিল (حجة) এবং এর আবশ্যকতা দ্বারা চ্যালেঞ্জ প্রদান কুরআন অবতীর্ণ হওয়ার শুরু থেকে শেষ জামানায় তা তুলে নেওয়া পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে; বরং এই চ্যালেঞ্জ কিয়ামত দিবস পর্যন্ত একইভাবে জারি থাকবে।
মহান আল্লাহ মুশরিকদের বিরুদ্ধে কুরআন দ্বারা দলিল (حجة) প্রতিষ্ঠিত হওয়ার বিষয়টি তাঁর এই বাণীতে নিশ্চিত করেছেন: (আর মুশরিকদের মধ্যে কেউ যদি তোমার কাছে আশ্রয় চায়, তবে তাকে আশ্রয় দাও, যাতে সে আল্লাহর কালাম শুনতে পারে; অতঃপর তাকে তার নিরাপদ স্থানে পৌঁছে দাও। এটি এ কারণে যে, তারা এমন এক সম্প্রদায় যারা জানে না) (আত-তাওবাহ: ৬)। সুতরাং কুরআন শ্রবণ করা যদি তাদের বিরুদ্ধে দলিল (حجة) না হতো, তবে বিষয়টি কেবল শ্রবণের ওপর নির্ভর করত না। আর এটি তখনই কেবল দলিল (حجة) হতে পারে যখন তা মুজিজা (معجزة) হয়।
(১০)এখানে 'ইন' (إن) অব্যয়টি ব্যবহার করা হয়েছে, যার বৈশিষ্ট্য হলো এর শর্তটি সচরাচর দুর্লভ হওয়া; এটি একটি তাত্ত্বিক শর্ত হিসেবে সতর্ক করার জন্য ব্যবহৃত হয়েছে, যাতে মুশরিকরা এই দাবি করতে না পারে যে তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে সাক্ষাৎ করতে সক্ষম হয়নি এবং মুসলমানরা তাদের ওপর আক্রমণ করলে শিরকের ওপর অটল থাকার জন্য একে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করতে না পারে।
(১১)--------------------------------------------
(খণ্ড: ৭৩)
সারীহুল মা'কুল আল-মুওয়াফিক লিসারীহিল মানকুল ফী মুনাক্বাশাতি সালাসাতি তাফাসীর রুত্তিাবাত আলা তারতীবিন নুযূল
(পৃষ্ঠা: ৩৯)
رابعًا: القرآن - المعجِز- هو كلام الله، منزل غير مخلوقفقوله: (حَتَّى يَسْمَعَ كَلَامَ اللَّهِ) فيه حُجَّةٌ صَريحةٌ لِمَذهَبِ أهلِ السنَّةِ والجماعةِ، القائلينَ بأنَّ (القُرآنَ كَلامُ اللهِ غيرُ مَخلوقٍ)؛ لأنَّه تعالى هو المتكَلِّمُ به، وأضافه إلى نفسِه إضافةَ الصِّفةِ إلى موصوفِها، وبُطلانُ مذهَبِ المُعتَزلةِ ومَن أخذَ بِقَولهم: إنَّ القُرآنَ مَخلوقٌ.
(12)وقوله: (القُرآنَ كَلامُ اللهِ غيرُ مَخلوقٍ) فيه نصٌّ صريحٌ في أنَّ هذا الذي نَقرؤُه ونَتلُوه، هو بِعَينِه كلامُ الله، فالصَّوتُ صَوتُ القارِئِ، والكلامُ كَلامُ البارِئِ؛ لأنَّ اللهَ صرَّح بأنَّ هذا المُشرِكَ المُستجيرَ يَسمَعُ كَلامَ اللهِ، يتلوه عليه نبيُّ اللهِ صلى الله عليه وسلم. فهذا المحفوظُ في الصُّدورِ، المقروءُ في الألسِنةِ، المكتوبُ في المصاحِفِ؛ هو كلامُ اللهِ جَلَّ وعلا، بمعانيه وألفاظِه.
(13)والصواب الذي عليه سلف الأمة، كالإمام أحمد والبخاري صاحب الصحيح في كتاب (خلق أفعال العباد)، وغيره، وسائر الأئمة قبلهم وبعدهم- أتباع النصوص الثابتة، وإجماع سلف الأمة، وهو أن القرآن جميعه كلام الله، حروفه ومعانيه، ليس شيء من ذلك كلامًا لغيره
… وأن الله يتكلم بصوت كما جاءت به الأحاديث الصحاح.
(14)قال الإمام الطحاوي (ت: 321 هـ) رحمه الله:
وإنّ القرآن كلام الله منه بدأ بلا كيفية قولاً، وأنزله على رسوله وحيًا، وصدقه المؤمنون على ذلك حقا، وأيقنوا أنه كلام الله تعالى بالحقيقة ليس بمخلوق ككلام البرية، فمن سمعه فزعم أنه كلام البشر فقد كفر وقد ذَمَّه الله وعَابَهُ وأوعده بسقر حيث قال تعالى: (سأُصلِيه سَقَر) (المدثر: 26)، فلما أوْعَدَ بِسَقَر لمن قال (إنْ هذا إلا قول البشر) (المدثر: 25) عَلِمْنَا وأيْقَنَّا أنَه قولَ خالقِ البَشَر ولا يُشْبِه قول البشر.
(15)قال ابن أبي حاتم (ت: 327 هـ) رحمه الله:
" سألت أبي وأبا زُرْعَةَ عن مذاهب أهل السنة في أصول الدين، وما أدركا عليه العلماء في جميع الأمصار، وما يعتقدان من ذلك؟
فقالا: أدركنا العلماء في جميع الأمصار: حجازًا، وعراقًا، وشامًا، ويمنًا، فكان من مذهبهم: الإيمان قول وعمل يزيد وينقص، والقرآن كلام الله غير مخلوق بجميع جهاته.
(16)--------------------------------------------
চতুর্থত: কুরআন -যা অলৌকিক- তা আল্লাহর কালাম, তা অবতীর্ণ এবং সৃষ্ট নয়তাঁর বাণী: (যাতে সে আল্লাহর কালাম শুনতে পায়) এতে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের মাযহাবের সপক্ষে এক স্পষ্ট দলিল রয়েছে, যারা বলেন যে, (কুরআন আল্লাহর কালাম, সৃষ্ট নয়); কারণ আল্লাহ তাআলা স্বয়ং এটি পাঠ করেছেন এবং তিনি একে নিজের গুণ হিসেবে তাঁর সত্তার সাথে সম্পৃক্ত করেছেন। আর এটি মুতাযিলা এবং যারা তাদের মত গ্রহণ করেছে তাদের মাযহাবের অসারতা প্রমাণ করে যে, কুরআন সৃষ্ট।
(১২)তাঁর উক্তি: (কুরআন আল্লাহর কালাম, সৃষ্ট নয়) এতে এই মর্মে স্পষ্ট বর্ণনা রয়েছে যে, আমরা যা পাঠ করি এবং তিলাওয়াত করি, সেটিই স্বয়ং আল্লাহর কালাম। অতএব আওয়াজ হলো ক্বারীর (পাঠকারীর) আওয়াজ, আর কালাম হলো স্রষ্টার (বারী); কারণ আল্লাহ স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, আশ্রয়প্রার্থী এই মুশরিক আল্লাহর কালাম শুনছে, যা আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার নিকট তিলাওয়াত করছেন। সুতরাং অন্তরে সংরক্ষিত, জিহ্বায় পঠিত এবং মাসহাফসমূহে লিখিত এই কুরআন হলো মহান আল্লাহরই কালাম, এর অর্থ এবং শব্দাবলি সহকারে।
(১৩)আর সঠিক মত হলো তা-ই যার ওপর উম্মতের সালাফগণ অটল ছিলেন, যেমন ইমাম আহমাদ এবং সহীহ এর রচয়িতা ইমাম বুখারী তাঁর ‘খালকু আফআলিল ইবাদ’ কিতাবে এবং অন্যান্যরা, এবং তাঁদের পূর্বের ও পরের সকল ইমামগণ—যাঁরা নির্ভরযোগ্য (ثابتة) নصوص বা দলীলসমূহ এবং উম্মতের সালাফদের ঐকমত্যের অনুসারী। আর তা হলো এই যে, সম্পূর্ণ কুরআন আল্লাহর কালাম, এর অক্ষর এবং মর্মসমূহ; এর কোনো কিছুই অন্য কারো কথা নয়... এবং আল্লাহ শব্দের মাধ্যমে কথা বলেন যেমনটি সহীহ (صحاح) হাদিসসমূহে এসেছে।
(১৪)ইমাম তাহাবী (মৃত: ৩২১ হি.) রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন:
নিশ্চয়ই কুরআন আল্লাহর কালাম, তা কোনো প্রকার ধরণ বা পদ্ধতি ব্যতিরেকে তাঁর পক্ষ থেকেই বক্তব্য হিসেবে শুরু হয়েছে এবং তিনি তা তাঁর রাসূলের ওপর ওহী হিসেবে নাযিল করেছেন এবং মুমিনরা বিষয়টিকে প্রকৃত সত্য হিসেবে বিশ্বাস করেছেন। তাঁরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন যে, তা প্রকৃতপক্ষে মহান আল্লাহর কালাম, সৃষ্টির কথার মতো সৃষ্ট নয়। যে ব্যক্তি তা শুনবে এবং দাবি করবে যে এটি মানুষের কথা, সে কুফরী করল। আল্লাহ তাআলা তাকে তিরস্কার করেছেন, দোষারোপ করেছেন এবং তাকে ‘সাকার’-এর ভয় দেখিয়েছেন, যেখানে আল্লাহ তাআলা বলেছেন: (অচিরেই আমি তাকে সাকারে প্রবেশ করাব) (মুদ্দাসসির: ২৬)। যখন আল্লাহ ‘সাকার’-এর ভয় দেখালেন এমন ব্যক্তির জন্য যে বলেছিল, (এটি তো কেবল মানুষের কথা) (মুদ্দাসসির: ২৫), তখন আমরা জানতে পারলাম এবং দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করলাম যে, তা মানুষের স্রষ্টার কথা এবং তা মানুষের কথার সদৃশ নয়।
(১৫)ইবনে আবি হাতিম (মৃত: ৩২৭ হি.) রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন:
"আমি আমার পিতা এবং আবু যুরআহকে দীনের মূলনীতি সম্পর্কে আহলুস সুন্নাহর মাযহাব এবং তাঁরা পৃথিবীর সকল প্রান্তের উলামায়ে কিরামকে কোন বিষয়ের ওপর পেয়েছেন এবং সে ব্যাপারে তাঁদের উভয়ের আকিদাহ কী, তা জিজ্ঞাসা করেছিলাম।
তাঁরা উভয়ে বললেন: আমরা হিজাজ, ইরাক, সিরিয়া এবং ইয়ামেনের সকল প্রান্তের উলামায়ে কিরামকে পেয়েছি যে, তাঁদের মাযহাব ছিল: ঈমান হলো কথা ও কাজের নাম, যা বৃদ্ধি পায় এবং হ্রাস পায়। আর কুরআন সকল দিক থেকেই আল্লাহর কালাম, সৃষ্ট নয়।"
(১৬)--------------------------------------------
(খণ্ড: ৭৩)
সারীহুল মা'কুল আল-মুওয়াফিক লিসারীহিল মানকুল ফী মুনাক্বাশাতি সালাসাতি তাফাসীর রুত্তিাবাত আলা তারতীবিন নুযূল
(পৃষ্ঠা: ৩৯)
خامسًا: القرآن كلام الله- المعجز- تكلم الله به بحرف وصوتوالقرآن عند أهل السنة هو كلام الله تعالى حقيقة -حروفًا ومعاني-، وأنه سبحانه تكلم به بحرف وصوت، وسمعه جبريل، وقد تكلم السلف في الحرف والصوت وذكروا أدلته، وتكلموا في حكم من أنكره.
ولكن لما وجد - في أهل البدع - من ينكر الحرف والصوت لينكروا كلام الله، بيَّن السلف أن كلام الله شامل للحروف والمعاني، وأنه تعالى يتكلم بصوت، كما يصفونه بما ورد من التكليم، والمناداة، والمناجاة.
(17)قَالَ أَبُو عَبْدِ اللهِ مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ البخاري (ت: 256 هـ) رحمه الله:
سَمِعْتُ عُبَيْدَ اللهِ بْنَ سَعِيدٍ يَقُولُ: سَمِعْتُ يَحْيَى بْنَ سَعِيدٍ يَقُولُ: مَا زِلْتُ أَسْمَعُ أَصْحَابُنَا يَقُولُونَ: إِنَّ أَفْعَالَ الْعِبَادِ مَخْلُوقَةٌ.
قَالَ أَبُو عَبْدِ اللهِ: حَرَكَاتُهُمْ وَأَصْوَاتُهُمْ وَاكْتِسَابُهُمْ وَكِتَابَتُهُمْ مَخْلُوقَةٌ، فَأَمَّا الْقُرْآنُ الْمَتْلُوُّ الْمُبَيَّنُ الْمُثَبَّتُ فِي الْمُصْحَفِ الْمَسْطُورُ الْمَكْتُوبُ الْمُوعَى فِي الْقُلُوبِ فَهُوَ كَلَامُ اللهِ لَيْسَ بِخَلْقٍ، قَالَ اللَّهُ تعالى: (بَلْ هُوَ آيَاتٌ بَيِّنَاتٌ فِي صُدُورِ الَّذِينَ أُوتُوا الْعِلْمَ) (العنكبوت من آية: 48).
وَقَالَ إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ: فَأَمَّا الأَوْعِيَةُ فَمَنْ يَشُكُّ فِي خَلْقِهَا؟. "
(18)وقال شيخ الإسلام ابن تيمية (ت: 728: هـ) رحمه الله:
" إذَا قَرَأْنَا الْقُرْآنَ فَإِنَّمَا نَقْرَؤُهُ بِأَصْوَاتِنَا الْمَخْلُوقَةِ الَّتِي لَا تُمَاثِلُ صَوْتَ الرَّبِّ، فَالْقُرْآنُ الَّذِي نَقْرَؤُهُ هُوَ كَلَامُ اللَّهِ، مُبَلَّغًا عَنْهُ لَا مَسْمُوعًا مِنْهُ، وَإِنَّمَا نَقْرَؤُهُ بِحَرَكَاتِنَا وَأَصْوَاتِنَا، الْكَلَامُ كَلَامُ الْبَارِي، وَالصَّوْتُ صَوْتُ الْقَارِئِ، كَمَا دَلَّ عَلَى ذَلِكَ الْكِتَابُ وَالسُّنَّةُ مَعَ الْعَقْلِ، قَالَ اللَّهُ تَعَالَى: (وَإِنْ أَحَدٌ مِنَ الْمُشْرِكِينَ اسْتَجَارَكَ فَأَجِرْهُ حَتَّى يَسْمَعَ كَلَامَ اللَّهِ ثُمَّ أَبْلِغْهُ مَأْمَنَهُ) (التوبة: 6) وَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " (زَيِّنُوا الْقُرْآنَ بِأَصْوَاتِكُمْ).
(19)قال العلامة ابن القيم (ت: 751 هـ) رحمه الله: في "الكافية الشافية":
"واللهُ رَبِّي لم يَزَلْ مُتَكَلِّمًا
… وكَلامُه المسموعُ بالآذانِ
صِدقًا وعَدْلاً أُحْكِمَتْ كَلماتُه
… طَلَبًا وإخبارًا بلا نُقصانِ.
(20)وقال الشيخ حافظ حَكَمي (ت: 1377: هـ) رحمه الله:
وَالْقَوْلُ فِي كِتَابِهِ الْمُفَصَّلْ
… بِأَنَّهُ كَلَامُهُ الْمُنَزَّلْ
عَلَى الرَّسُولِ الْمُصْطَفَى خَيْرِ الْوَرَى
… لَيْسَ بِمَخْلُوقٍ وَلَا بِمُفْتَرَى
يُحْفَظُ بِالْقَلْبِ وَبِاللِّسَانِ
… يُتْلَى كَمَا يُسْمَعُ بِالْآذَانِ
كذَا بِالَابْصَارِ إِلَيْهِ يُنْظَرُ
… وَبِالْأَيَادِي خَطُّهُ يُسَطَّرُ
وَكُلُّ ذِي مَخْلُوقَةٌ حَقِيقَهْ
… دُونَ كَلَامِ بَارِئِ الْخَلِيقَهْ
جَلَّتْ صِفَاتُ رَبِّنَا الرَّحْمَنِ
… عَنْ وَصْفِهَا بِالْخَلْقِ وَالْحَدَثَانِ
فَالصَّوْتُ وَالْأَلْحَانُ صَوْتُ الْقَارِي
… لَكِنَّمَا الْمَتْلُوُّ قَوْلُ الْبَارِي
مَا قَالَهُ لَا يَقْبَلُ التَّبْدِيلَا
… كَلَّا وَلَا أَصْدَقُ مِنْهُ قِيلَا.
(21)--------------------------------------------
পঞ্চম: কুরআন আল্লাহর কালাম—যা মুজিজা—আল্লাহ তা বর্ণ ও শব্দের মাধ্যমে ব্যক্ত করেছেনআহলুস সুন্নাহর নিকট কুরআন হলো প্রকৃতপক্ষে মহান আল্লাহর কালাম—এর বর্ণ ও অর্থ উভয়ই—এবং তিনি তা বর্ণ ও শব্দের মাধ্যমে ব্যক্ত করেছেন, যা জিবরাঈল শুনেছেন। সালাফগণ বর্ণ ও শব্দের বিষয়ে আলোচনা করেছেন এবং এর স্বপক্ষে দলীলসমূহ উল্লেখ করেছেন। পাশাপাশি যারা এটি অস্বীকার করে, তাদের বিধান সম্পর্কেও আলোচনা করেছেন।
কিন্তু যখন বিদআতিদের মধ্যে এমন এক দলের উদ্ভব হলো যারা বর্ণ ও শব্দকে অস্বীকার করে যেন তারা আল্লাহর কালামকেই অস্বীকার করতে পারে, তখন সালাফগণ স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর কালাম বর্ণ ও অর্থ উভয়কেই অন্তর্ভুক্ত করে। আল্লাহ তাআলা শব্দের মাধ্যমে কথা বলেন, যেমনটি তাকে 'তাকলিম' (সরাসরি কথা বলা), 'মুনাদাহ' (ডাকা) এবং 'মুনাজাত' (গোপনে কথা বলা) এর মতো বর্ণিত গুণাবলী দ্বারা ভূষিত করা হয়।
(17)আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবনে ইসমাইল বুখারি (মৃত্যু: ২৫৬ হিজরি) রহিমাহুল্লাহ বলেন:
আমি উবায়দুল্লাহ ইবনে সাঈদকে বলতে শুনেছি, তিনি ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদকে বলতে শুনেছেন: আমি সর্বদা আমাদের সাথীদের বলতে শুনেছি যে, নিশ্চয়ই বান্দাদের কার্যাবলি সৃষ্টি।
আবু আব্দুল্লাহ বলেন: তাদের নড়াচড়া, তাদের কণ্ঠস্বর, তাদের অর্জন এবং তাদের লিখন—সবই সৃষ্টি। পক্ষান্তরে পঠিত, সুস্পষ্ট, মুসহাফে সংরক্ষিত, লিপিবদ্ধ এবং অন্তরে হিফজকৃত কুরআন আল্লাহর কালাম, তা সৃষ্টি নয়। আল্লাহ তাআলা বলেন: (বরং যাদেরকে জ্ঞান দান করা হয়েছে, তাদের অন্তরে তা সুস্পষ্ট আয়াতসমূহ) (আল-আনকাবুত: ৪৯)।
ইসহাক ইবনে ইব্রাহিম বলেন: পক্ষান্তরে আধার বা পাত্রসমূহের কথা (যেমন কাগজ বা অন্তর), সেগুলো সৃষ্টি হওয়ার বিষয়ে কে সন্দেহ পোষণ করে?
(18)শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (মৃত্যু: ৭২৮ হিজরি) রহিমাহুল্লাহ বলেন:
"যখন আমরা কুরআন তিলাওয়াত করি, তখন আমরা আমাদের সৃষ্ট কণ্ঠস্বরের মাধ্যমেই তা পাঠ করি, যা রবের কণ্ঠস্বরের সদৃশ নয়। সুতরাং আমরা যে কুরআন পাঠ করি তা আল্লাহর কালাম, যা তাঁর পক্ষ থেকে পৌঁছানো হয়েছে, সরাসরি তাঁর থেকে শোনা নয়। আমরা কেবল আমাদের নড়াচড়া ও কণ্ঠস্বরের মাধ্যমে তা পাঠ করি। এখানে কথাটি হলো স্রষ্টার কালাম, আর কণ্ঠস্বরটি হলো তিলাওয়াতকারীর; যেমনটি কিতাব, সুন্নাহ এবং বিবেক দ্বারা প্রমাণিত। আল্লাহ তাআলা বলেন: (আর যদি মুশরিকদের মধ্যে কেউ তোমার কাছে আশ্রয় চায়, তবে তাকে আশ্রয় দাও, যাতে সে আল্লাহর কালাম শুনতে পায়, অতঃপর তাকে তার নিরাপদ স্থানে পৌঁছে দাও) (আত-তাওবাহ: ৬)। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: (তোমরা তোমাদের কণ্ঠস্বর দিয়ে কুরআনকে সৌন্দর্যমণ্ডিত করো)।"
(19)আল্লামা ইবনুল কায়্যিম (মৃত্যু: ৭৫১ হিজরি) রহিমাহুল্লাহ তাঁর "আল-কাফিয়াহ আশ-শাফিয়াহ" গ্রন্থে বলেন:
"আল্লাহ আমার রব সর্বদা কথা বলেন
… এবং তাঁর কালাম যা কানে শোনা যায়
সত্য ও ন্যায়ের ভিত্তিতে তাঁর বাক্যগুলো সুনিপুণ করা হয়েছে
… কোনো ঘাটতি ছাড়াই তা তলব (আদেশ-নিষেধ) ও সংবাদ বহনকারী।"
(20)শায়খ হাফিজ হাকামী (মৃত্যু: ১৩৭৭ হিজরি) রহিমাহুল্লাহ বলেন:
"তাঁর বিশদ কিতাব সম্পর্কে বক্তব্য এই যে, তা তাঁরই অবতীর্ণ কালাম
…যা মনোনীত রাসূলের ওপর অবতীর্ণ হয়েছে যিনি সৃষ্টির সেরা, তা সৃষ্টি নয় এবং মিথ্যা উদ্ভাবিতও নয়
…তা অন্তরে হিফজ করা হয় এবং জিহ্বা দিয়ে উচ্চারিত হয়, তা তিলাওয়াত করা হয় যেমনটি কানে শোনা যায়
…তেমনি চোখের দৃষ্টি দিয়ে তা দেখা হয়, আর হাতের মাধ্যমে তার লিপি লেখা হয়
…সৃষ্টির স্রষ্টার কালাম ব্যতীত প্রতিটি বস্তুই প্রকৃতপক্ষে সৃষ্টি
…আমাদের রব পরম করুণাময়ের গুণাবলী সৃষ্টি হওয়া বা নতুন হওয়া থেকে পবিত্র
…অতএব আওয়াজ ও সুর তিলাওয়াতকারীর আওয়াজ, কিন্তু যা তিলাওয়াত করা হচ্ছে তা স্রষ্টার কথা
…তিনি যা বলেছেন তা পরিবর্তনযোগ্য নয়, আর তাঁর কথার চেয়ে সত্যবাদী আর কেউ নেই।"
(21)--------------------------------------------
(খণ্ড: ৭৩)
সারীহুল মা'কুল আল-মুওয়াফিক লিসারীহিল মানকুল ফী মুনাক্বাশাতি সালাসাতি তাফাসীর রুত্তিাবাত আলা তারতীবিন নুযূল
(পৃষ্ঠা: ৩৯)
سادسًا: القرآن -المُعجِز- هو الكتاب الذي هيمن على الكتب المنزلة قبلهوقد جعل اللهُ القرآنَ مهيمنًا على الكتب السابقة وحاكمًا عليها كما قال سبحانه: (وَأَنزَلْنَا إِلَيْكَ الْكِتَابَ بِالْحَقِّ مُصَدِّقًا لِمَا بَيْنَ يَدَيْهِ مِنَ الْكِتَابِ وَمُهَيْمِنًا عَلَيْهِ) (المائدة من آية: 48).
و (المهيمن): الأمين، القرآن أمين على كل كتاب قبله
(22)(وَمُهَيْمِنًا) أي: حاكمًا على ما قبله من الكتب.
(23)(وَمُهَيْمِنًا عَلَيْهِ): أي: مصدقًا عليه، كل شيء أنزله الله من توراة أو إنجيل أو زبور فالقرآن مصدق على ذلك، وكل شيء ذكر الله في القرآن فهو مصدق عليها وعلى ما حدث عنها أنه حق.
(24).
وإنما كان القرآن مهيمنًا على الكتب لأنه الكتاب الذي لا يصير منسوخًا البتة، ولا يتطرق إليه التبديل والتحريف على ما قال تعالى: (إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لَحَافِظُونَ) (الحجر: 9).
(25)- وقد - جعل الله هذا الكتاب العظيم الذي أنزله آخر الكتب وخاتمها وأشملها وأعظمها وأكملها؛ حيث جمع فيه محاسن ما قبله من الكمالات ما ليس في غيره، فلهذا جعله شاهدًا، وأمينًا، وحاكمًا عليها كلها، وتكفل تعالى حفظه بنفسه الكريمة، فقال تعالى: (إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لَحَافِظُونَ) (الحجر: 9).
فهو محفوظ بحفظ الله عز وجل إلى قيام الساعة، شاهد على هذه الكتب، مبين ما حرف منها، وحاكم بما أقره الله وأمر به من أحكامها، وناسخ ما نسخه الله منها، وهو أمين عليها في ذلك كله.
(26)وأهل السنة والجماعة مقرون بأن القرآن الكريم هو الكتاب المهيمن والحاكم على جميع الكتب المنزلة السابقة، والحافظ لكل كتاب قبله؛ وشاهد على كل تلك الكتب جميعًا بأنها وحيٌ منزلٌ من عند الله تعالى أنزله سبحانه على رسله، وأنه مصدق على ما فيها من الحق، نافيًا عما أُلحِق بها من باطل، وأنه حاكم عليها بالنسخ أو التقرير، فما وافقه منها فهو الحق الذي أنزله الله، وما خالفه منها فهو من الباطل الذي نسب إليها، فصارت للقرآن الهيمنة على جميع تلك الكتب المنزلة من كل وجه.
- و- السلف كلهم متفقون على أن القرآن هو المهيمن المؤتمن الشاهد على ما بين يديه من الكتب.
(27)--------------------------------------------
ষষ্ঠ: আল-কুরআন -মুজিজা- হলো এমন এক কিতাব যা এর পূর্বে অবতীর্ণ কিতাবসমূহের ওপর প্রাধান্য বিস্তারকারী ও তদারককারীমহান আল্লাহ আল-কুরআনকে পূর্ববর্তী কিতাবসমূহের ওপর প্রাধান্য বিস্তারকারী এবং সেগুলোর ফয়সালাকারী হিসেবে নির্ধারণ করেছেন, যেমনটি তিনি সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেছেন: (আর আমি আপনার প্রতি সত্যসহ কিতাব অবতীর্ণ করেছি, যা পূর্ববর্তী কিতাবসমূহের সত্যায়নকারী এবং সেগুলোর ওপর তদারককারী ও সংরক্ষক) (আল-মায়িদাহ: ৪৮)।
আর (আল-মুহাইমিন): অর্থ হলো আমানতদার; আল-কুরআন তার পূর্ববর্তী প্রতিটি কিতাবের ওপর আমানতদার।
(২২)(তদারককারী ও সংরক্ষক) অর্থাৎ: তার পূর্ববর্তী কিতাবসমূহের ওপর ফয়সালাকারী।
(২৩)(সেগুলোর ওপর তদারককারী ও সংরক্ষক): অর্থাৎ: সেগুলোর সত্যায়নকারী। আল্লাহ তাআলা তাওরাত, ইঞ্জিল বা যাবুর থেকে যা কিছু অবতীর্ণ করেছেন, কুরআন সেই সবকিছুর সত্যায়নকারী। আর আল্লাহ কুরআনে যা কিছু উল্লেখ করেছেন, তা এই কিতাবসমূহ এবং এগুলোতে বর্ণিত বিষয়াবলি যে সত্য, তার সত্যায়নকারী।
(২৪).
বস্তুত আল-কুরআন কিতাবসমূহের ওপর তদারককারী হওয়ার কারণ হলো, এটি এমন এক কিতাব যা কখনোই রহিত (منسوخ) হয় না এবং এতে কোনো প্রকার পরিবর্তন ও বিকৃতি প্রবেশ করতে পারে না; যেমনটি আল্লাহ তাআলা বলেছেন: (নিশ্চয় আমিই যিকর অবতীর্ণ করেছি এবং আমিই তার সংরক্ষণকারী) (আল-হিজর: ৯)।
(২৫)আল্লাহ তাআলা এই মহান কিতাবটিকে সর্বশেষ, সমাপ্তিকারী, সবচাইতে ব্যাপক, শ্রেষ্ঠ এবং পূর্ণাঙ্গ কিতাব হিসেবে অবতীর্ণ করেছেন; এতে তিনি পূর্ববর্তী কিতাবসমূহের সকল গুণাবলি ও পূর্ণতাকে এমনভাবে সন্নিবেশিত করেছেন যা অন্য কোথাও নেই। এই কারণেই তিনি একে সেগুলোর ওপর সাক্ষ্যদাতা, আমানতদার এবং ফয়সালাকারী বানিয়েছেন। আর মহান আল্লাহ স্বয়ং নিজ সত্তায় এর সংরক্ষণের ভার গ্রহণ করেছেন, তিনি বলেছেন: (নিশ্চয় আমিই যিকর অবতীর্ণ করেছি এবং আমিই তার সংরক্ষণকারী) (আল-হিজর: ৯)।
অতএব এটি কিয়ামত কায়েম হওয়া পর্যন্ত আল্লাহর হেফাজতে সংরক্ষিত। এটি পূর্ববর্তী কিতাবসমূহের ওপর সাক্ষ্যদাতা, সেগুলোর বিকৃত অংশসমূহের বর্ণনাকারী, আল্লাহ সেগুলোর যেসব বিধান বহাল রেখেছেন ও নির্দেশ দিয়েছেন সেগুলোর ফয়সালাকারী এবং এগুলোর মধ্য থেকে যা আল্লাহ রহিত করেছেন তার রহিতকারী (ناسخ)। আর এই সবকিছুর ক্ষেত্রেই এটি আমানতদার।
(২৬)আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াত এই বিষয়ে স্বীকৃত যে, আল-কুরআন হলো পূর্ববর্তী সকল অবতীর্ণ কিতাবের ওপর প্রাধান্য বিস্তারকারী ও ফয়সালাকারী এবং এর পূর্ববর্তী প্রতিটি কিতাবের জন্য সংরক্ষণকারী। এটি সেই সকল কিতাবের ব্যাপারে সাক্ষ্য প্রদান করে যে, সেগুলো আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে অবতীর্ণ ওহি, যা তিনি তাঁর রাসূলগণের ওপর অবতীর্ণ করেছেন। এটি সেগুলোতে বিদ্যমান সত্যের সত্যায়নকারী এবং সেগুলোর সাথে প্রক্ষিপ্ত বাতিলের প্রত্যাখ্যানকারী। এটি সেগুলোকে রহিত (منسوخ) করা বা বহাল রাখার ক্ষেত্রে ফয়সালাকারী। সুতরাং এগুলোর যা কিছু কুরআনের সাথে মিলবে তা-ই আল্লাহর অবতীর্ণ সত্য, আর যা কিছুর বিরোধিতা করবে তা-ই সেগুলোর সাথে সম্বন্ধযুক্ত বাতিল বিষয়। ফলে আল-কুরআন সকল দিক থেকেই সেই সকল অবতীর্ণ কিতাবের ওপর তদারককারী ও প্রাধান্য বিস্তারকারী হিসেবে সাব্যস্ত হয়েছে।
সালাফগণের সকলেই এই বিষয়ে একমত যে, আল-কুরআন হলো তার পূর্ববর্তী কিতাবসমূহের ওপর প্রাধান্য বিস্তারকারী, আমানতদার এবং সাক্ষ্যদাতা।
(২৭)--------------------------------------------
(খণ্ড: ৭৩)
সারীহুল মা'কুল আল-মুওয়াফিক লিসারীহিল মানকুল ফী মুনাক্বাশাতি সালাসাতি তাফাসীর রুত্তিাবাত আলা তারতীবিন নুযূল
(পৃষ্ঠা: ৩৯)
سابعًا: القرآن - المعجز- كتاب أُحْكِمَتْ آيَاتُهُوالقرآن الكريم كتابٌ أُحكمت آياته ثُمَّ فُصِّلَتْ كما قال ربنا: (الر كِتَابٌ أُحْكِمَتْ آيَاتُهُ ثُمَّ فُصِّلَتْ مِنْ لَدُنْ حَكِيمٍ خَبِيرٍ) (هود: 1)
و (فُصِّلَتْ) أي: بُيِّنتْ، وأصلُ (فصل): يدلُّ على تَمييزِ الشَّيءِ مِنْ الشَّيءِ، وإبانتِه عنه.
(28).
و (كِتَابٌ أُحْكِمَتْ آيَاتُهُ ثُمَّ فُصِّلَتْ) أي: هذا القُرآنُ أتقَنَ اللهُ آياتِه فلا خللَ فيها ولا باطِلَ ولا تَناقُضَ، ثمَّ بُيِّنَتْ بالأخبارِ الصَّادقةِ، والأحكامِ العادلةِ مِنْ أوامِرَ ونواهٍ.
(29)فما تقولون في فضل كتاب أنقذ الله به أمة من جاهلية جهلاء، وضلالة عمياء، دأبهم السلب والنهب، ومعبودهم الأوثان والحجارة، وديدنهم توارث العداوات والأحقاد، لا تعرف من الحق رسمًا. نحلتها ما وجدت عليه آباءها، وما استحسنته أسلافها، من آراء منحرفة، ونحل مخترعة، وملل مبتدعة، فأنزل الله عليهم هذا الكتاب فأنقذهم منها به، وانتشلهم به من أوحالها.
--------------------------------------------
সপ্তম: কুরআন - অলৌকিক (معجز) - এমন এক কিতাব যার আয়াতসমূহ সুপ্রতিষ্ঠিত করা হয়েছেআর কুরআনুল কারিম হলো এমন এক কিতাব যার আয়াতসমূহকে সুসংহত করা হয়েছে, অতঃপর বিস্তারিত বর্ণনা করা হয়েছে; যেমনটি আমাদের রব বলেছেন: (আলিফ-লাম-রা; এটি এমন এক কিতাব যার আয়াতসমূহ সুপ্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে, অতঃপর প্রজ্ঞাময় ও সম্যক পরিজ্ঞাত সত্তার পক্ষ থেকে বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করা হয়েছে) (হূদ: ১)
আর 'ফুসসিলাত' (فصلت) এর অর্থ হলো: বর্ণনা করা হয়েছে। আর 'ফাসল' (فصل) শব্দের মূল অর্থ হলো: কোনো বিষয়কে অন্য বিষয় থেকে পৃথক করা এবং তা থেকে একে সুস্পষ্টভাবে আলাদা করা।
(২৮).
আর "এমন এক কিতাব যার আয়াতসমূহ সুপ্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে, অতঃপর বিস্তারিত বর্ণনা করা হয়েছে" এর অর্থ হলো: আল্লাহ তাআলা এই কুরআনের আয়াতসমূহকে অত্যন্ত নিঁখুত ও সুসংহত করেছেন, ফলে এতে কোনো ত্রুটি, অসারতা কিংবা বৈপরীত্য নেই। অতঃপর একে সত্য (صادقة) সংবাদ (أخبار) এবং আদেশ ও নিষেধ সম্বলিত ন্যায়নিষ্ঠ বিধানাবলির মাধ্যমে বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করা হয়েছে।
(২৯)সুতরাং আপনারা এমন এক কিতাবের শ্রেষ্ঠত্ব সম্পর্কে কী বলবেন, যার মাধ্যমে আল্লাহ এক উম্মতকে ঘোর মূর্খতা ও চরম বিভ্রান্তি থেকে রক্ষা করেছেন? লুণ্ঠন ও ছিনতাই ছিল যাদের কাজ, মূর্তি ও পাথর ছিল যাদের উপাস্য, আর যাদের চিরস্থায়ী রীতি ছিল বংশপরম্পরায় শত্রুতা ও বিদ্বেষ পোষণ করা; যারা সত্যের কোনো চিহ্নও চিনত না। তাদের ধর্ম ছিল কেবল তাই, যা তারা তাদের পিতৃপুরুষদের অনুসরণে পেয়েছিল এবং তাদের পূর্বসূরিরা যেসব বিচ্যুত মতামত, উদ্ভাবিত মতবাদ এবং নব আবিষ্কৃত (مبتدعة) ধর্মাদর্শকে উত্তম মনে করেছিল। অতঃপর আল্লাহ তাদের প্রতি এই কিতাব নাযিল করলেন এবং এর মাধ্যমে তাদেরকে সেই পঙ্কিলতা থেকে উদ্ধার করলেন এবং এর দ্বারা তাদেরকে ধ্বংসের গহ্বর থেকে টেনে তুললেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ৭৩)
সারীহুল মা'কুল আল-মুওয়াফিক লিসারীহিল মানকুল ফী মুনাক্বাশাতি সালাসাতি তাফাসীর রুত্তিাবাত আলা তারতীবিন নুযূল
(পৃষ্ঠা: ৩৯)
ثامنًا: القرآن - المعجز- كتاب له فضائل أكثر من أن تُحْصى- فـ - ما تقولون في فضل كتاب ختم الله به الكتب، وأنزل على نبي ختم به الأنبياء، وبدين ختمت به الأديان.
(30)ما تقولون في فضل كتاب فتحت به أمصار، وجثت عنده الركب، ونهل من منهله العلماء، وشرب من مشربه الأدباء، وخشعت لهيمنته الأبصار، وذلت له القلوب، وقام بتلاوته العابدون، والراكعون، والساجدون.
ذلكم القرآن الكريم: كلية الشريعة، وعمدة الملة، وينبوع الحكمة، وآية الرسالة، ونور الأبصار والبصائر، فلا طريق إلى الله سواه، ولا نجاة بغيره، ولا تمسك بشيء يخالفه".
(31)--------------------------------------------
অষ্টম: কুরআন - অলৌকিক (معجز) - এমন এক কিতাব যার ফযিলত গণনা করে শেষ করা সম্ভব নয়- সুতরাং - সেই কিতাবের মর্যাদা সম্পর্কে আপনাদের অভিমত কী, যার মাধ্যমে আল্লাহ কিতাবসমূহের পরিসমাপ্তি ঘটিয়েছেন, যা অবতীর্ণ করেছেন এমন এক নবীর ওপর যার মাধ্যমে নবীদের পরিসমাপ্তি হয়েছে এবং এমন এক দ্বীনের মাধ্যমে যার দ্বারা ধর্মসমূহের (الأديان) সমাপ্তি টানা হয়েছে।
(30)সেই কিতাবের ফযিলত সম্পর্কে আপনাদের কী বলার আছে যার মাধ্যমে বহু ভূখণ্ড বিজিত হয়েছে, যার সামনে হাঁটু গেড়ে বসা হয়েছে, যার প্রস্রবণ থেকে আলেমগণ জ্ঞান আহরণ করেছেন, যার ঝরনাধারা থেকে সাহিত্যিকগণ পান করেছেন, যার শ্রেষ্ঠত্বের সামনে দৃষ্টিসমূহ অবনত হয়েছে, অন্তরসমূহ বিগলিত হয়েছে এবং যার তিলাওয়াতের মাধ্যমে ইবাদতকারী, রুকুকারী ও সিজদাকারীগণ দণ্ডায়মান হয়েছেন।
সেই মহান কুরআন: শরীয়তের সামগ্রিক রূপরেখা, মিল্লাতের প্রধান স্তম্ভ, হিকমতের উৎসধারা, রিসালাতের নিদর্শন, চক্ষু ও অন্তর্দৃষ্টির নূর; আল্লাহ পর্যন্ত পৌঁছানোর জন্য একে ছাড়া অন্য কোনো পথ নেই, একে ছাড়া কোনো নাজাত নেই এবং এর পরিপন্থী কোনো কিছুকে আঁকড়ে ধরা সম্ভব নয়।"
(31)--------------------------------------------
(খণ্ড: ৭৩)
সারীহুল মা'কুল আল-মুওয়াফিক লিসারীহিল মানকুল ফী মুনাক্বাশাতি সালাসাতি তাফাসীর রুত্তিাবাত আলা তারতীবিন নুযূল
(পৃষ্ঠা: ৩৯)
تاسعًا: القرآن - المعجز- له ترتيب تنزلي وترتيب مصحفي لآياته وسوره لا يحق لأحد التعرض له بأي حال من الأحوال
الترتيب الأول: ترتيب الآيات في السوروإن من أبرز أوجه إعجاز القرآن ترتيب آياته في سوره في نظم واحد، وكأنها نزلت كلها متتابعة ومرتبة على هذا الترتيب الذي تحير عقول البشر في جزالة أسلوبه وحسن سبك عباراته وحُسن نظمه وترابط آياته وكأنها حبات لؤلؤ في تتابع بعضها البعض، وكأنها قطعة واحدة في منظومة واحدة نزلت على هذا النسق، متتابعة، ورغم أن الترتيب النزولي للآيات مغاير لهذا التتابع والترابط، فقد تنزل آيات في سورة ما وتكون متأخرة في ترتيبها على آيات أخر في نفس السورة، وقد تكون تلك الآيات نزلت بعدها، ومع ذلك لا يمكن أن تشعر أبدًا بأي خلل أو عدم ترابط في الوحدة الموضوعية بين آيات السورة الواحدة، أو أن تجد في نفسك أدنى شك أنها نزلت على هذا النسق متتابعة الآيات وكأنها نزلت على هذا الترتيب المصحفي.
الترتب الثاني: ترتيب سور القرآنوقل كذلك في الترتيب المصحفي لسور القرآن، فإن الترتيب المصحفي على وضعه في المصاحف المنتشرة بين أيدي المسلمين في مشارق الدنيا ومغاربها هو الترتيب الذي استقرت عليه المصاحف العثمانية التي أجمع عليها الصحابة رضي الله عنهم أجمعين وأجمع عليها السلف والخلف وتلقتها الأمة بالقبول، وهي مع ذلك موافقة تمامًا للعرضة الأخيرة والتي هي موافقة للقرآن المثبت في اللوح المحفوظ عند رب العزة في كتاب مكنون مصون.
নবম: কুরআন—যা মুজিযা (معجز)—এর আয়াত এবং সূরাসমূহের জন্য অবতীর্ণ হওয়ার ক্রম (ترتيب تنزلي) ও মুসহাফের বিন্যাসক্রম (ترتيب مصحفي) রয়েছে; কোনো অবস্থাতেই কারো পক্ষে এতে হস্তক্ষেপ করার অধিকার নেই।
প্রথম বিন্যাস: সূরাসমূহে আয়াতসমূহের বিন্যাসকুরআনের আলৌকিকত্বের (إعجاز) অন্যতম প্রধান দিক হলো এর সূরাসমূহে আয়াতগুলোর এক অনন্য বিন্যাস শৈলী (نظم), যেন মনে হয় এগুলো সব ধারাবাহিকভাবে অবতীর্ণ হয়েছে এবং এমন এক ক্রমে বিন্যস্ত যার প্রকাশভঙ্গির গাম্ভীর্য, বাক্যালংকারের চমৎকারিত্ব, সুসংহত বিন্যাস এবং আয়াতসমূহের পারস্পরিক যোগসূত্র মানব বুদ্ধিকে হতবাক করে দেয়। এগুলো যেন একে অপরের সাথে পর্যায়ক্রমে গেঁথে থাকা মুক্তার দানার মতো এবং যেন এক অখণ্ড একক যা এই ধারায় ধারাবাহিকভাবে অবতীর্ণ হয়েছে। আয়াতসমূহের অবতরণকালিন ক্রম (الترتيب النزولي) এই ধারাবাহিকতা ও যোগসূত্রের বাহ্যিক রূপ থেকে ভিন্ন হওয়া সত্ত্বেও—যেখানে কোনো সূরার কিছু আয়াত হয়তো পরে অবতীর্ণ হয়েছে কিন্তু বিন্যাসক্রমে সেগুলো একই সূরার অন্য আয়াতের পূর্বে স্থান পেয়েছে—তা সত্ত্বেও আপনি কখনো কোনো বিচ্যুতি বা বিষয়ের একতার (الوحدة الموضوعية) ক্ষেত্রে আয়াতগুলোর মাঝে অসংলগ্নতা অনুভব করবেন না। কিংবা আপনার মনে সামান্যতম সন্দেহ জাগবে না যে এগুলো এভাবেই ধারাবাহিকভাবে অবতীর্ণ হয়েছে, যেন এই মুসহাফের ক্রম (الترتيب المصحفي) অনুযায়ীই তা নাজিল হয়েছে।
দ্বিতীয় বিন্যাস: কুরআনের সূরাসমূহের বিন্যাসকুরআনের সূরাসমূহের মুসহাফের ক্রমের (الترتيب المصحفي) ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। পৃথিবীর পূর্ব ও পশ্চিমের মুসলমানদের হাতে প্রচলিত মুসহাফসমূহের বর্তমান বিন্যাসটিই হলো সেই ক্রম যার ওপর উসমানি মুসহাফসমূহ (المصاحف العثمانية) স্থির হয়েছে, যার ওপর সাহাবা (صحابة) -রাদিয়াল্লাহু আনহুম আজমাইন- ঐকমত্য (إجماع) পোষণ করেছেন এবং পরবর্তী সালাফ (سلف) ও খালাফ (خلف) গণও একমত হয়েছেন এবং উম্মত একে গ্রহণ করে নিয়েছে। তদুপরি, এই বিন্যাসটি জিবরাঈল (আ.)-এর সাথে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর শেষ পর্যালোচনার (العرضة الأخيرة) সাথে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ, যা আবার মহান রবের নিকট সংরক্ষিত কিতাবে তথা লাওহে মাহফুজে (اللوح المحفوظ) বিদ্যমান কুরআনের বিন্যাসের সাথে হুবহু মিলে যায়।
(খণ্ড: ৭৩)
সারীহুল মা'কুল আল-মুওয়াফিক লিসারীহিল মানকুল ফী মুনাক্বাশাতি সালাসাতি তাফাসীর রুত্তিাবাত আলা তারতীবিন নুযূল
(পৃষ্ঠা: ৩৯)
عاشرًا: الختام وبيان الشاهد من هذه التوطئةوبعد بيان تلك الخصائص العظيمة والجليلة للقرآن من كونه المعجزة الخالدة الباقية الدالة على صدق نبوة ورسالة خاتم المرسلين صلى الله عليه وسلم، وأنه المُعجِزة التي يُعَدُ سماعها حجة، وأنه كلام الله، وأنه منزل غير مخلوق، وأن الله سبحانه تكلم به بحرف وصوت، وأنه معجزة تحدى الله بها الثقلين، وأن مهيمن على الكتب المنزلة قبله وحاكم وشاهد عليها، وأن ترتيب آياته جاء على أعظم وجه من النسق والترابط البديع وكأنها نزلت على هذا النسق، وأن الترتيب المصحفي للسور والآيات استقر العمل به
والإجماع عليه منذ أن حرَّق عثمان المصاحف وجمعهم على الإمام.
فقد أقدم ثلاثة نفر على مخالفة الترتيب المصحفي بكتابة ثلاثة تفاسير وفق الترتيب النزولي، والباحثُ في هذا البحث يناقش أصحابَ تلك التفاسير الثلاثة التي خالف مصنفوها إجماع الصحابة رضي الله عنهم أجمعين، وخالفوا إجماع الأمة قاطبة - كذلك -، وذلك بتصنيف تلك التفاسير وترتيبها وفق الترتيب النزولي للسور، تاركين الترتيب المصحفي ومخلِّفينه وراءهم ظهريًا، وهم وإن كان قد خالفوا إجماع الأمة فقد وافقوا في ذلك أعداء الملة من شرذمة المستشرقين.
ولقد جاءت تلك الدراسة لتناقش الثلاثة نفر في صنيعهم الذي تجاسروا فيه على هذا العمل المهيب فاتحين على الأمة بابًا عظيمًا من الشر وثلمة خطيرة يجب رأب صدعها وسد خلتها سدًا لذرائع أخرى عظيمة قد تفتح باب التجرؤ على العبث في ترتيب الآيات كما فتحت الباب على مخالفة الترتيب المصحفي لسور القرآن المجمع عليه من قبل، وعليه عمل الأولين والآخرين من هذه الأمة المرحومة.
وإن- أهم ما يجب على أهل دين الله كشفه، وأولى ما يلزم بحثه، ما كان لأصل دينهم قوامًا، ولقاعدة توحيدهم عمادًا ونظامًا، وعلى صدق نبيهم صلى الله عليه وسلم برهانًا، ولمعجزته ثبتًا وحجة، ولاسيما أن الجهل ممدود الرواق، شديد النفاق، مستول على الآفاق.
(32)ولذلك كان الدافع لمناقشة هذه التفاسير وتفنيد دوافع مصنفيها بالحجة والبيان وواضح الأدلة وساطع البرهان، انتصارًا للقرآن، وإرضاءً لربنا الرحمن.
--------------------------------------------
দশম: সমাপনী এবং এই ভূমিকা থেকে মূল সাক্ষ্যের (شاهد) বর্ণনাকুরআনের সেই মহান ও মহিমান্বিত বৈশিষ্ট্যসমূহ বর্ণনার পর—যথা এটি একটি চিরস্থায়ী ও অবিনশ্বর অলৌকিক নিদর্শন, যা শেষ নবী (সা.) এর নবুওয়াত ও রিসালাতের সত্যতার (صدق) প্রমাণ বহন করে; এটি এমন এক অলৌকিক নিদর্শন যার শ্রবণ (سماع) দলিল (حجة) হিসেবে গণ্য হয়; এটি আল্লাহর কালাম; এটি অবতীর্ণ, সৃষ্টি নয়; আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা এটি অক্ষর ও শব্দের মাধ্যমে উচ্চারণ করেছেন; এটি এমন এক অলৌকিক নিদর্শন যার মাধ্যমে আল্লাহ জিন ও মানব জাতিকে চ্যালেঞ্জ করেছেন; এটি পূর্ববর্তী অবতীর্ণ কিতাবসমূহের ওপর তদারককারী, সেগুলোর ওপর কর্তৃত্বশীল ও সাক্ষী (شاهد); এর আয়াতসমূহের বিন্যাস অত্যন্ত চমৎকার ছন্দ ও সুনিপুণ সামঞ্জস্যের সাথে সম্পন্ন হয়েছে, যেন তা এই ধারাতেই অবতীর্ণ হয়েছিল; এবং সূরার আয়াতসমূহের মাসহাফি বিন্যাসের ওপর আমল এবং ঐক্যমত্য (إجماع) প্রতিষ্ঠিত হয়েছে
সেই সময় থেকে, যখন উসমান (রা.) মাসহাফসমূহ পুড়িয়ে দেন এবং সকলকে মাসহাফে ইমামের ওপর ঐক্যবদ্ধ করেন।
তবে তিনজন ব্যক্তি অবতীর্ণ হওয়ার ক্রম অনুযায়ী তিনটি তাফসির লিখে মাসহাফি বিন্যাসের বিরোধিতা করার ধৃষ্টতা দেখিয়েছেন। অত্র গবেষণায় গবেষক সেই তিনটি তাফসিরের রচয়িতাদের নিয়ে আলোচনা করেছেন, যারা সাহাবায়ে কিরামের (রা.) ঐক্যমত্যের (إجماع) বিরোধিতা করেছেন এবং একইভাবে সামগ্রিকভাবে উম্মাহর ঐক্যমত্যের (إجماع) বিরোধিতা করেছেন। তারা সূরাগুলোর অবতীর্ণ হওয়ার ক্রম অনুযায়ী তাফসির সংকলন ও বিন্যাস করতে গিয়ে মাসহাফি বিন্যাসকে বর্জন করেছেন এবং তা উপেক্ষা করে পেছনে ফেলে এসেছেন। যদিও তারা উম্মাহর ঐক্যমত্যের (إجماع) বিরোধিতা করেছেন, তবে তারা এই কাজে দ্বীনের শত্রু একদল প্রাচ্যবিদের সাথে একমত হয়েছেন।
এই গবেষণাটি ঐ তিনজন ব্যক্তির কর্মকাণ্ড নিয়ে আলোচনার জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে, যেখানে তারা এই গাম্ভীর্যপূর্ণ বিষয়ের ওপর দুঃসাহস দেখিয়েছেন। এর মাধ্যমে তারা উম্মাহর জন্য অনিষ্টের এক বিশাল দ্বার উন্মোচন করেছেন এবং একটি বিপজ্জনক ফাটল তৈরি করেছেন, যা মেরামত করা এবং যার শূন্যতা পূরণ করা জরুরি। এটি অন্যান্য বড় ধরনের পথ বা উপায়ের (ذرائع) দ্বার রুদ্ধ করার জন্য আবশ্যক, যা কুরআনের আয়াতসমূহের বিন্যাস নিয়ে খেলার ধৃষ্টতা দেখাতে পারে; যেমনটি তারা ইতিপূর্বে কুরআনের সূরাসমূহের মাসহাফি বিন্যাসের বিরোধিতার পথ খুলে দিয়েছে, যে বিন্যাসের ওপর এই রহমতপ্রাপ্ত উম্মাহর পূর্ববর্তী ও পরবর্তী প্রজন্ম আমল করে আসছে।
নিশ্চয়ই আল্লাহর দ্বীনের অনুসারীদের জন্য যা প্রকাশ করা সবচেয়ে বেশি জরুরি এবং যা নিয়ে গবেষণা করা সর্বাগ্রে আবশ্যক, তা হলো এমন বিষয় যা তাদের দ্বীনের মূল ভিত্তি, তাদের তাওহিদের স্তম্ভ ও শৃঙ্খলা, তাদের নবীর (সা.) সত্যতার (صدق) প্রমাণ এবং তাঁর অলৌকিক নিদর্শনের জন্য নির্ভরযোগ্য প্রমাণ (ثبت) ও দলিল (حجة)। বিশেষ করে এমন সময়ে যখন অজ্ঞতা বিস্তৃত হয়েছে, মুনাফেকি চরম আকার ধারণ করেছে এবং তা দিগন্তজুড়ে ছেয়ে গেছে।
(32)তাই কুরআনের মর্যাদা রক্ষা করা এবং আমাদের প্রতিপালক পরম করুণাময় আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে এই তাফসিরসমূহ নিয়ে আলোচনা করা এবং এর রচয়িতাদের উদ্দেশ্যসমূহ দলিল (حجة), বর্ণনা ও সুস্পষ্ট প্রমাণের মাধ্যমে খণ্ডন করাই ছিল এই কাজের মূল প্রেরণা।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ৭৩)
সারীহুল মা'কুল আল-মুওয়াফিক লিসারীহিল মানকুল ফী মুনাক্বাশাতি সালাসাতি তাফাসীর রুত্তিাবাত আলা তারতীবিন নুযূল
(পৃষ্ঠা: ৪০)
خطة البحثوقد ضمَّن الباحثُ بحثَه خطة بحث مكونة من فصلين، وكل فصل يندرج تحته عدد من المباحث، وكل مبحث يندرج تحته عدد من المطالب، وقد بيَّن فيه ما يلي:
أولًا: أهمية موضوع البحث
ثانيًا: أهم الدراسات السابقة وأبرزها
ثالثًا: أسباب ودواعي اختيار موضوع البحث
رابعًا: مشكلة البحث وأهدافه
خامسًا: منهج البحث
سادسًا: خاتمة البحث، وبيان أهم النتائج التي توصلت لها تلك الدراسة المختصرة.
سابعًا: مجموع الفهارس:
وخطة البحث تتكون من فصلين على النحو التالي:
الفصل الأول
توقيف الترتيب المصحفي للآيات والسور
ويشتمل على ستة مباحث:
المبحث الأول: بيان أن ترتيب الآيات في السور توقيفي
وفيه مطلبان:
والترتيب المصحفي يشتمل على أمرين:
المطلب الأول: الأمر الأول: ترتيب الآيات في السور
المطلب الثاني: وأما الأمر الثاني: فهو ترتيب السور وفق الترتيب المصحفي
المبحث الثاني: من أوضح الأدلة على أن ترتيب الآيات في السور توقيفي، نزول بعض السور جملة واحدة
وفيه مطلبان:
المطلب الأول: ذكر جملة من السور التي نزلت جملة واحدة
المطلب الثاني: الخلاصة في ذكر السور التي نزلت جملة واحدة
المبحث الثالث: مذاهب العلماء وخلافهم في ترتيب السور
وفيه ثلاثة مطالب:
المطلب الأول: المذهب الأول: أن ترتيب السور أمر توفيقي من اجتهاد الصحابة
المطلب الثاني: المذهب الثاني: أن ترتيب السور أمر توقيفي من النبي صلى الله عليه وسلم
المطلب الثالث: المذهب الثالث: أن ترتيب أغلب السور أمر توقيفي من النبي صلى الله عليه وسلم وأن ترتيب بعض السور كان باجتهاد من الصحابة
المبحث الرابع: أبرز أقوال العلماء القائلين بأن ترتيب سور القرآن الكريم كان ترتيبًا توقيفيًا
وفيه مطلبان:
المطلب الأول: ذكر جملة من أقوال العلماء المتقدمين
المطلب الثاني: ذكر جملة من أقوال العلماء المعاصرين
المبحث الخامس: أبرز الأدلة التي استدل بها بعض العلماء على توقيف الترتيب
গবেষণা পরিকল্পনাগবেষক তাঁর গবেষণায় দুই অধ্যায় বিশিষ্ট একটি গবেষণা পরিকল্পনা অন্তর্ভুক্ত করেছেন। প্রতিটি অধ্যায়ের অধীনে বেশ কিছু পরিচ্ছেদ এবং প্রতিটি পরিচ্ছেদের অধীনে বেশ কিছু অনুচ্ছেদ রয়েছে। তিনি এতে নিম্নলিখিত বিষয়গুলো বর্ণনা করেছেন:
প্রথমত: গবেষণা বিষয়ের গুরুত্ব
দ্বিতীয়ত: প্রধান ও উল্লেখযোগ্য পূর্ববর্তী অধ্যয়নসমূহ
তৃতীয়ত: গবেষণা বিষয়টি নির্বাচনের কারণ ও প্রেক্ষাপট
চতুর্থত: গবেষণার সমস্যা ও এর লক্ষ্যসমূহ
পঞ্চমত: গবেষণা পদ্ধতি
ষষ্ঠত: গবেষণার উপসংহার এবং এই সংক্ষিপ্ত অধ্যয়ন থেকে প্রাপ্ত প্রধান ফলাফলসমূহের বর্ণনা।
সপ্তমত: নির্ঘণ্টের (সূচিপত্রের) সমষ্টি:
গবেষণা পরিকল্পনাটি নিম্নোক্তভাবে দুটি অধ্যায়ের সমন্বয়ে গঠিত:
প্রথম অধ্যায়
আয়াত ও সূরার মাসহাফি বিন্যাসের ওহিনির্ভরতা (توقيف)
এটি ছয়টি পরিচ্ছেদের ওপর বিন্যস্ত:
প্রথম পরিচ্ছেদ: সূরার অভ্যন্তরে আয়াতের বিন্যাস ওহিনির্ভর বা প্রত্যাদেশনির্ভর (توقيفي) হওয়ার বর্ণনা
এতে দুটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:
মাসহাফি বিন্যাস দুটি বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে:
প্রথম অনুচ্ছেদ: প্রথম বিষয়: সূরার অভ্যন্তরে আয়াতের বিন্যাস
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: আর দ্বিতীয় বিষয়: মাসহাফি বিন্যাস অনুযায়ী সূরাসমূহের বিন্যাস
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: সূরার অভ্যন্তরে আয়াতের বিন্যাস ওহিনির্ভর (توقيفي) হওয়ার অন্যতম স্পষ্ট প্রমাণ হলো কিছু সূরার পূর্ণাঙ্গভাবে একবারে অবতীর্ণ হওয়া
এতে দুটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম অনুচ্ছেদ: একবারে অবতীর্ণ হওয়া সূরাসমূহের একটি সমষ্টির উল্লেখ
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: একবারে অবতীর্ণ হওয়া সূরাসমূহ বর্ণনার সারসংক্ষেপ
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: সূরাসমূহের বিন্যাসের ক্ষেত্রে উলামায়ে কেরামের মাযহাব বা মতাদর্শ এবং তাঁদের মধ্যকার মতভেদ
এতে তিনটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম অনুচ্ছেদ: প্রথম মত: সূরাসমূহের বিন্যাস হলো একটি উদ্ভাবনী বা ঐকমত্যভিত্তিক (توفيقي) বিষয় যা সাহাবায়ে কেরামের গবেষণা বা তাত্ত্বিক প্রয়াস (اجتهاد) থেকে উদ্ভূত
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: দ্বিতীয় মত: সূরাসমূহের বিন্যাস হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পক্ষ থেকে প্রাপ্ত একটি ওহিনির্ভর (توقيفي) বিষয়
তৃতীয় অনুচ্ছেদ: তৃতীয় মত: অধিকাংশ সূরার বিন্যাস নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পক্ষ থেকে প্রাপ্ত ওহিনির্ভর (توقيفي) এবং কিছু সূরার বিন্যাস সাহাবায়ে কেরামের গবেষণা বা তাত্ত্বিক প্রয়াস (اجتهاد) দ্বারা সম্পন্ন হয়েছে
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: পবিত্র কুরআনের সূরাসমূহের বিন্যাস ওহিনির্ভর (توقيفي) হওয়ার প্রবক্তা উলামায়ে কেরামের প্রধান অভিমতসমূহ
এতে দুটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম অনুচ্ছেদ: পূর্ববর্তী উলামায়ে কেরামের একগুচ্ছ অভিমত উল্লেখ
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: সমসাময়িক উলামায়ে কেরামের একগুচ্ছ অভিমত উল্লেখ
পঞ্চম পরিচ্ছেদ: বিন্যাসের ওহিনির্ভরতা (توقيف) সম্পর্কে কিছু আলেম যে সকল প্রধান দলিল বা প্রমাণাদি উপস্থাপন করেছেনওহিনির্ভরতা (توقيف) সম্পর্কে কিছু আলেম যে সকল প্রধান দলিল বা প্রমাণাদি উপস্থাপন করেছেন
(খণ্ড: ৭৩)
সারীহুল মা'কুল আল-মুওয়াফিক লিসারীহিল মানকুল ফী মুনাক্বাশাতি সালাসাতি তাফাসীর রুত্তিাবাত আলা তারতীবিন নুযূল
(পৃষ্ঠা: ৪১)
المصحفي وفيه أربعة مطالب:
المطلب الأول: الدليل الأول: إجماع الصحابة-رضي الله عنهم على ترتيب السور في المصحف العثماني
المطلب الثاني: الدليل الثاني: تحزيب الصحابة-رضي الله عنهم للقرآن
المطلب الثالث: الدليل الثالث: النظم الترتيبي لبعض السور المتشابهة في مفتتحها
المطلب الرابع: الخلاصة من أقوال وأدلة العلماء القائلين بأن ترتيب السور توقيفي
المبحث السادس: بداية مخالفة ومعارضة الترتيب المصحفي بالترتيب النزولي وبيان مصدره
وفيه ثلاثة مطالب:
المطلب الأول: أول من خالف وعارض الترتيب المصحفي بالترتيب النزولي
المطلب الثاني: أبرز المستشرقين الداعين لإعادة ترتيب القرآن ترتيبًا نزوليًا
المطلب الثالث: أبرز من تأثر بالمستشرقين من المعاصرين
الفصل الثاني
عرض ودراسة ومناقشة التفاسير الثلاثة التي رُتِبَت على ترتيب النزول
وفيه ثلاثة مباحث:
المبحث الأول: عرض ودراسة ومناقشة التفسير الأول "بيان المعاني لـ " عبد القادر ملا حُوَيِّش "
وفيه ستة مطالب:
المطلب الأول: التعريف بتفسير "بيان المعاني" ومؤلفه "ملا حُوَيِّش "
المطلب الثاني: الكتب التي اعتمد عليها "حُوَيِّش" في تفسيره
المطلب الثالث: طريقته في التفسير
المطلب الرابع: أول دراسة حول هذا التفسير
المطلب الخامس: دراسة نقدية مختصرة لتفسير "حُوَيِّش"
المطلب السادس: حصر دوافع إقدام "حُوَيِّش" على تغير الترتيب المصحفي بالرتيب النزولي ومناقشتها
المبحث الثاني: عرض ودراسة ومناقشة التفسير الثاني" التفسير الحديث" لـ " محمد عزة دروزة"
وفيه ثمانية مطالب:
المطلب الأول: التعريف بتفسيره
المطلب الثاني: حجة "دروزة" في إقدامه على تغيير الترتيب المصحفي بالترتيب النزولي
المطلب الثالث: بيان أهم وأبرز الدوافع التي ساقت " دروزة " لترتيب تفسيره ترتيبًا نزوليًا
المطلب الرابع: مناقشة دوافع "دروزة":
المطلب الخامس: طريقة "دروزة" في تفسيره
المطلب السادس: تقييم تفسير "دروزة"
মুসহাফের ক্রমবিন্যাস (المصحفي) এবং এতে চারটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম পরিচ্ছেদ: প্রথম দলিল: ওসমানি মুসহাফে সূরার ক্রমবিন্যাসের ক্ষেত্রে সাহাবীগণের -রাদিয়াল্লাহু আনহুম- সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত (إجماع)
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: দ্বিতীয় দলিল: সাহাবীগণের -রাদিয়াল্লাহু আনহুম- কর্তৃক কুরআনের অংশ নির্ধারণ (تحزيب)
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: তৃতীয় দলিল: প্রারম্ভিক অংশে মিল রয়েছে এমন কিছু সূরার সুশৃঙ্খল বিন্যাস পদ্ধতি
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: সূরার ক্রমবিন্যাস ঐশীভাবে নির্ধারিত (توقيفي) বলে অভিমত ব্যক্তকারী আলেমগণের বক্তব্য ও দলিলের সারসংক্ষেপ
ষষ্ঠ অনুচ্ছেদ: মুসহাফের ক্রমবিন্যাসের (المصحفي) পরিবর্তে অবতরণক্রম (النزولي) অনুযায়ী বিন্যাসের বিরোধিতা ও দ্বিমতের সূচনা এবং এর উৎসের বর্ণনা
এবং এতে তিনটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম পরিচ্ছেদ: মুসহাফের ক্রমবিন্যাসের (المصحفي) পরিবর্তে অবতরণক্রম (النزولي) অনুযায়ী বিন্যাসের মাধ্যমে প্রথম কে বিরোধিতা ও দ্বিমত পোষণ করেছিলেন
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: কুরআনের ক্রমবিন্যাসকে পুনরায় অবতরণক্রম (النزولي) অনুযায়ী সাজানোর আহ্বানকারী প্রধান প্রাচ্যবিদগণ
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: প্রাচ্যবিদদের দ্বারা প্রভাবিত সমকালীন বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ
দ্বিতীয় অধ্যায়
অবতরণক্রম (النزولي) অনুযায়ী বিন্যাসকৃত তিনটি তাফসিরের উপস্থাপনা, অধ্যয়ন এবং আলোচনা
এবং এতে তিনটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম অনুচ্ছেদ: প্রথম তাফসির "বায়ানুল মা'আনি" (আবদুল কাদির মোল্লা হুওয়াইশ রচিত) এর উপস্থাপনা, অধ্যয়ন এবং আলোচনা
এবং এতে ছয়টি পরিচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম পরিচ্ছেদ: "বায়ানুল মা'আনি" তাফসির এবং এর লেখক "মোল্লা হুওয়াইশ" এর পরিচয়
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: "হুওয়াইশ" তার তাফসিরে যে সকল গ্রন্থের ওপর নির্ভর করেছেন
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: তাঁর তাফসির পদ্ধতি
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: এই তাফসির বিষয়ক প্রথম গবেষণা
পঞ্চম পরিচ্ছেদ: "হুওয়াইশ" এর তাফসিরের একটি সংক্ষিপ্ত সমালোচনামূলক পর্যালোচনা
ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: মুসহাফের ক্রমবিন্যাস (المصحفي) পরিবর্তন করে অবতরণক্রম (النزولي) অনুযায়ী সাজাতে "হুওয়াইশ" কে উদ্বুদ্ধকারী কারণসমূহ চিহ্নিতকরণ এবং সেগুলোর আলোচনা
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: দ্বিতীয় তাফসির "আত-তাফসিরুল হাদিস" (মুহাম্মদ ইজ্জত দারওয়াজা রচিত) এর উপস্থাপনা, অধ্যয়ন এবং আলোচনা
এবং এতে আটটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম পরিচ্ছেদ: তাঁর তাফসিরের পরিচয়
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: মুসহাফের ক্রমবিন্যাস (المصحفي) পরিবর্তন করে অবতরণক্রম (النزولي) অনুযায়ী সাজানোর সপক্ষে "দারওয়াজা" এর যুক্তি
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: "দারওয়াজা" কে তাঁর তাফসির অবতরণক্রম (النزولي) অনুযায়ী সাজাতে উদ্বুদ্ধকারী প্রধান ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণসমূহের বর্ণনা
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: "দারওয়াজা" এর প্রেরণাগুলোর আলোচনা:
পঞ্চম পরিচ্ছেদ: "দারওয়াজা" এর তাফসির পদ্ধতি
ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: "দারওয়াজা" এর তাফসিরের মূল্যায়ন
(খণ্ড: ৭৩)
সারীহুল মা'কুল আল-মুওয়াফিক লিসারীহিল মানকুল ফী মুনাক্বাশাতি সালাসাতি তাফাসীর রুত্তিাবাত আলা তারতীবিন নুযূল
(পৃষ্ঠা: ৪২)
المطلب السابع: عقيدة " دروزة " في صفات الرب- جل في علاه-
المطلب الثامن: أبرز الدراسات حول تفسير "دروزة"
المبحث الثالث: عرض ودراسة ومناقشة التفسير الثالث كتاب "معارج التفكر ودقائق التدبر" لـ " حبنكة الميداني"
وفيه سبعة مطالب:
المطلب الأول: التعريف بالكتاب ومؤلفه وبيان أهم دوافع وبواعث تأليفه
المطلب الثاني: أضواء جانبية على عقيدة الـ "حبنكة"
المطلب الثالث: منهج الـ "حبنكة" في كتابه، ورأيه في ترتيب السور، وما كان لزامًا عليه اتباعه
المطلب الرابع: حصر دوافع الـ "حبنكة" في انتهاج هذه الطريقة
المطلب الخامس: مناقشة دوافع ومبررات الـ "حبنكة"
المطلب السادس: هل تحققت الأهداف التي رامها مُفْتَتِحُو تغيير الترتيب المصحفي بالترتيب النزولي
المطلب السابع: بيان وجوب احترام الترتيب المصحفي وعدم التعرض له، والتصدي لمن تعرض له
منهجية البحث
أولًا: أهمية موضوع البحثتتمحور وتتمركز أهمية هذا البحث حول تلك الجرأة التي أقدم عليها الثلاثة نفر الذين أحدثوا أمرًا جللًا فصنفوا ثلاثة تفاسير وكتبوها وفق الترتيب النزولي مخلِّفِين وراء ظهورهم الترتيب المصحفي الذي استقرت عليه الصحف العثمانية وأجمع عليه الصحابة كلهم عن بكرة أبيهم- رضي الله عنهم أجمعين- وتلقته الأمة بالقبول وأجمع عليه السلف والخلف حتى زماننا الحاضر.
من هنا تأتي أهمية هذا البحث، فكان لابد ولزامًا من تقديم دراسة معالجة لهذا الخطر ومناقشته وتفنيده، ودفع تلك الفجيعة بأسلوب علمي تأصيلي مقرون بالحجج النقلية والعقلية، ولذا فقد سُمِّي البحثُ بـ "صَحِيِحِ المَعْقُوُلِ المُوَافِقِ لِصَرِيِحِ المَنْقُوُلِ فِيِ مُنَاقَشَةِ ثَلَاثَةِ تَفَاسِيِرَ رُتِّبَتْ عَلى تَرْتِيِبِ النُّزُوُلِ".
ثانيًا: أهم الدراسات السابقة وأبرزها
الدراسة الأولى: "التفاسير حسب ترتيب النزول في الميزان"تأليف: أ. د. مصطفى مسلم محمد، خبير بمركز تفسير للدراسات القرآنية، وأستاذ الدراسات القرآنية بجامعة الشارقة سابقًا، بحث منشور في ملتقى أهل التفسير، بتاريخ: 15/ 12/ 1432 هـ.
সপ্তম অনুচ্ছেদ: সুউচ্চ মহান রবের গুণাবলি (صفات) বিষয়ে "দারওয়াজা"-এর আকিদা (عقيدة)
অষ্টম অনুচ্ছেদ: "দারওয়াজা"-এর তাফসির কেন্দ্রিক প্রধান গবেষণাসমূহ
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: তৃতীয় তাফসিরের উপস্থাপন, অধ্যয়ন এবং পর্যালোচনা: "হাবান্নাকা আল-মাইদানি" রচিত "মাআরিজু অত-তাফাক্কুর ওয়া দাকাইকু অত-তাদাব্বুর" গ্রন্থ
এতে সাতটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম অনুচ্ছেদ: গ্রন্থ ও গ্রন্থকারের পরিচিতি এবং এটি রচনার প্রধান উদ্দেশ্য ও প্রেষণাসম্মূহের বর্ণনা
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: "হাবান্নাকা"-এর আকিদার (عقيدة) ওপর প্রাসঙ্গিক আলোকপাত
তৃতীয় অনুচ্ছেদ: তাঁর গ্রন্থে "হাবান্নাকা"-এর অনুসৃত পদ্ধতি (منهج), সুরাসমূহের বিন্যাস সম্পর্কে তাঁর মতামত এবং যা তাঁর জন্য অনুসরণ করা আবশ্যক ছিল
চতুর্থ অনুচ্ছেদ: এই পদ্ধতি অবলম্বনের ক্ষেত্রে "হাবান্নাকা"-এর উদ্দেশ্যসমূহের সীমাবদ্ধকরণ
পঞ্চম অনুচ্ছেদ: "হাবান্নাকা"-এর উদ্দেশ্য ও যৌক্তিকতাসমূহের পর্যালোচনা
ষষ্ঠ অনুচ্ছেদ: মুসহাফি বিন্যাস (ترتيب مصحفي) পরিবর্তন করে অবতরণের ক্রম (ترتيب نزولي) অনুযায়ী তাফসির প্রারম্ভকারীদের লক্ষ্যসমূহ কি অর্জিত হয়েছে?
সপ্তম অনুচ্ছেদ: মুসহাফি বিন্যাসের (ترتيب مصحفي) প্রতি সম্মান প্রদর্শনের আবশ্যকতা, তাতে হস্তক্ষেপ না করা এবং যারা এতে হস্তক্ষেপ করে তাদের প্রতিরোধের বর্ণনা
গবেষণার পদ্ধতি (منهجية)
প্রথমত: গবেষণার বিষয়ের গুরুত্বএই গবেষণার গুরুত্ব সেই ধৃষ্টতাকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়েছে, যা সেই তিনজন ব্যক্তি প্রদর্শন করেছেন। তারা একটি গুরুতর বিষয়ের অবতারণা করেছেন; তারা মুসহাফি বিন্যাসকে (ترتيب مصحفي) উপেক্ষা করে অবতরণের ক্রম (ترتيب نزولي) অনুযায়ী তিনটি তাফসির সংকলন ও রচনা করেছেন। অথচ এই মুসহাফি বিন্যাসটি 'উসমানি পাণ্ডুলিপিসমূহে সুপ্রতিষ্ঠিত এবং যার ওপর সকল সাহাবী —আল্লাহ তাঁদের সবার ওপর সন্তুষ্ট হন— ঐকমত্য (إجماع) পোষণ করেছেন। উম্মাহ একে কবুল করে নিয়েছে এবং বর্তমান সময় পর্যন্ত পূর্বসূরি (سلف) ও উত্তরসূরি (خلف) সকল আলিম এ বিষয়ে ঐকমত্য (إجماع) পোষণ করেছেন।
এখান থেকেই এই গবেষণার গুরুত্ব অনুভূত হয়। সুতরাং এই বিপদের প্রতিকারকল্পে একটি গবেষণা উপস্থাপন করা, এটি নিয়ে আলোচনা ও খণ্ডন করা এবং এই বিপর্যয়কে একটি বৈজ্ঞানিক ও মৌলিক (تأصيلي) পদ্ধতিতে বর্ণিত দলিল (نقلي) ও বুদ্ধিভিত্তিক (عقلي) প্রমাণের মাধ্যমে প্রতিহত করা অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। একারণেই গবেষণার নামকরণ করা হয়েছে: "সহিহুল মাকুল আল-মুওয়াফিক লি-সারিহিল মানকুল ফি মুনাকাশাতি সালাসাতি তাফাসিরা রুত্তিবাত আলা তারতিবিন নুযুল" (অবতরণের ক্রম অনুযায়ী বিন্যস্ত তিনটি তাফসিরের পর্যালোচনায় সুস্পষ্ট শরিয়তসম্মত দলিলের অনুগামী সঠিক বুদ্ধিভিত্তিক প্রমাণের বর্ণনা)।
দ্বিতীয়ত: পূর্ববর্তী গুরুত্বপূর্ণ ও উল্লেখযোগ্য গবেষণাসমূহ
প্রথম গবেষণা: "আত-তাফাসির হাসাবা তারতিবিন নুযুল ফিল মিযান"রচনায়: প্রফেসর ড. মুস্তফা মুসলিম মুহাম্মদ; বিশেষজ্ঞ, মারকায তাফসির للدراسات القرآنية (কুরআনিক স্টাডিজ সেন্টার), এবং শারজাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের কুরআনিক স্টাডিজ বিভাগের প্রাক্তন অধ্যাপক। গবেষণাটি 'মুলতাকা আহলে তাফসির'-এ ১৫/ ১২/ ১৪৩২ হিজরি তারিখে প্রকাশিত হয়েছে।
(খণ্ড: ৭৩)
সারীহুল মা'কুল আল-মুওয়াফিক লিসারীহিল মানকুল ফী মুনাক্বাশাতি সালাসাতি তাফাসীর রুত্তিাবাত আলা তারতীবিন নুযূল
(পৃষ্ঠা: ৪৩)
عرض لتلك الدراسة:ناقش الباحث في تك الدراسة قضية ترتيب القرآن بين التوقيف والتوفيق، ثم تابعها بعرض دوافع أصحاب تلك التفاسير وناقشها وفندها بقلم يدل على الغيرة على كتاب الله ويدل على رسوخ صاحبه، وقد أفاد وأجاد فجزاه الله خيرًا.
أهم الملاحظات على تلك الدراسة:أولًا: لقد عرض الباحثُ تلك الدوافع جملة ثم فنَّدها جملة، وكان الأولى له عرض دوافع كل واحد من تلك التفاسير على حده، ثم يعقبها بالرد عليه مباشرة، ولكنها كما أسلفنا عرضها جميعًا ثم فندها جميعًا، وأعني بعرضها جميعًا وجملة أنه عرضها الأول فالثاني ثم الثالث ثم جاء الرد عليها بعد ذلك على نفس طريقة العرض، وكان الأولى أن يعرض دوافع كل واحد ثم يرد عليها ويفندها مباشرة حتى لا يتشتت ذهن القارئ، وحتى لا تداخل عليها الملاحظات والمآخذ والرد عليها بين تفسير وآخر.
ثانيًا: من أهم الملاحظات بل والمآخذ على هذا البحث افتقاره لبيان عقيدة أصحاب التفاسير الثلاثة الأشعرية بل إن الأول منهم- ملا حُوَيِّش- متهم بالتصوف والانتماء للطريقة النقشبندية، مع رده للإجماع، وجهله بالسنة ورده لها، وتضعيفه للأحاديث الصحيحة الثابتة، واستشهاده بالموضوعات، وطعنه كذلك في الصحيحين، وغيرها من الطوام المذكورة بالتفصيل في ثنايا بحثنا، ومراجع "حُوَيِّش" التي اعتمد عليها في تفسيره تدل على ذلك دلالة واضحة.
وإن معرفة الجانب العقدي وإبرازه للقارئ من الأهمية بمكان ليكون على حذر من المزالق العقدية والمخالفات التي خالف فيها المفسرُ معتقدَ أهلِ السنةِ ولا سيما في تأويل صفات الرب جل في علاه.
ثالثًا: من الملاحظات الهامة على هذا البحث- كذلك- افتقاره لتقديم تعريف بتلك التفاسير ولو تعريفًا موجزًا ليقف القارئ على مشهد عام على تلك التفاسير ويطالع طريقة تناول كل مفسر منهم لآيات الكتاب المجيد، والمآخذ التي أُخِذَت على عمل كل مفسر في تفسيره.
رابعًا: ومن الملاحظات الجليَّة على هذا البحث- كذلك- افتقاره لترجمة أصحاب تلك التفاسير ليطالعها القارئ ويقف عليها.
فإن التعريف بالكتاب ومؤلفه ومعتقده وطريقة تناوله للتفسير يعطي تصورًا واضحًا جليًا عن الكتاب وكاتبه من جوانب عدة تخدم القارئ وتسهل له الوقوف على كل ما ينبغي أن يعرفه عن الكتاب الذي يطالعه وعن مؤلفه ومنهجه ومعتقده.
وهذه الملاحظات وغيرها لا تقدح في جهد الباحث ولا في قيمة بحثه العلمية النقدية، ولا سيما وأنه أستاذ له قدره وله مكانته العلمية والتقدمية - رحمه الله تعالى -.
উক্ত গবেষণার পর্যালোচনা:গবেষক উক্ত গবেষণায় কুরআনের বিন্যাস পদ্ধতি ‘তাওকিফি’ (ওহি দ্বারা নির্ধারিত) না কি ‘তাওফিকি’ (ইজতিহাদ ও প্রচেষ্টালব্ধ)—এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছেন। অতঃপর তিনি উক্ত তাফসিরসমূহের রচয়িতাদের উদ্দেশ্যসমূহ তুলে ধরেছেন এবং মহান আল্লাহর কিতাবের প্রতি গভীর অনুরাগ ও পাণ্ডিত্যের সাথে সেগুলো খণ্ডন করেছেন। তিনি অত্যন্ত ফলপ্রসূ ও চমৎকার কাজ করেছেন, আল্লাহ তাকে উত্তম প্রতিদান দান করুন।
উক্ত গবেষণার প্রধান পর্যবেক্ষণসমূহ:প্রথমত: গবেষক উক্ত উদ্দেশ্যগুলোকে সামগ্রিকভাবে উপস্থাপন করেছেন এবং পরে সামগ্রিকভাবেই সেগুলোর খণ্ডন করেছেন। অথচ প্রতিটি তাফসিরের উদ্দেশ্যগুলো পৃথকভাবে বর্ণনা করা এবং তার পরপরই সেগুলোর উত্তর প্রদান করা অধিকতর শ্রেয় ছিল। কিন্তু তিনি পূর্বেই উল্লিখিত পদ্ধতিতে সবগুলো একত্রে উপস্থাপন করে পরে সবগুলোর জবাব দিয়েছেন। সবগুলো একত্রে উপস্থাপনের অর্থ হলো—তিনি প্রথম, দ্বিতীয় এবং তৃতীয় তাফসিরের উদ্দেশ্যগুলো পর্যায়ক্রমে বর্ণনা করেছেন এবং এরপর একই ধারায় সেগুলোর উত্তর দিয়েছেন। অথচ প্রতিটি তাফসিরের উদ্দেশ্য বর্ণনার পর পরই তা সরাসরি খণ্ডন করা অধিকতর সমীচীন ছিল, যাতে পাঠকের মনোযোগ বিক্ষিপ্ত না হয় এবং এক তাফসিরের পর্যবেক্ষণ ও আপত্তির সাথে অন্যটির উত্তর মিশে না যায়।
দ্বিতীয়ত: এই গবেষণার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ এমনকি ত্রুটি হলো—তিনটি তাফসিরের রচয়িতাদের আশআরি আকিদা স্পষ্টভাবে উল্লেখ না করা। এমনকি তাদের মধ্যে প্রথমজন—মোল্লা হুওয়াইশ—সুফিবাদ এবং নকশবন্দি তরিকার অনুসারী হিসেবে অভিযুক্ত। এর পাশাপাশি তিনি ইজমা (ঐক্যমত) প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং সুন্নাহ সম্পর্কে অজ্ঞতা ও তা প্রত্যাখ্যানের প্রবণতা পোষণ করেন। তিনি বিশুদ্ধ (صحيح) হাদিসসমূহকে দুর্বল (تضعيف) সাব্যস্ত করেছেন এবং জাল (موضوع) বর্ণনা দ্বারা দলিল পেশ করেছেন। সেই সাথে তিনি সহিহাইন (বুখারি ও মুসলিম) এর সমালোচনা করেছেন এবং আরও অনেক ভয়াবহ বিষয়ের অবতারণা করেছেন যা আমাদের গবেষণার বিভিন্ন অংশে বিস্তারিত আলোচিত হয়েছে। হুওয়াইশ তার তাফসিরে যেসব মূল উৎসের ওপর নির্ভর করেছেন, তা একথারই স্পষ্ট প্রমাণ বহন করে।
আকিদাগত দিকটি জানা এবং পাঠকের সামনে তা ফুটিয়ে তোলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যাতে পাঠক আকিদাগত বিচ্যুতি এবং আহলুস সুন্নাহর আকিদা বিরোধী বিষয়গুলো সম্পর্কে সজাগ থাকতে পারেন; বিশেষ করে মহান রবের গুণাবলির (সিফাত) অপব্যাখ্যা করার ক্ষেত্রে।
তৃতীয়ত: এই গবেষণার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ হলো—উক্ত তাফসিরগুলোর পরিচিতি প্রদানের অভাব। অন্তত সংক্ষিপ্তভাবে হলেও কিতাবগুলোর পরিচয় তুলে ধরা প্রয়োজন ছিল যাতে পাঠক উক্ত তাফসিরসমূহ সম্পর্কে একটি সামগ্রিক ধারণা লাভ করতে পারেন এবং মহান আল্লাহর আয়াতের ব্যাখ্যায় প্রত্যেক মুফাসসিরের পদ্ধতি ও তাদের কাজের ত্রুটিগুলো সম্পর্কে জানতে পারেন।
চতুর্থত: এই গবেষণার অন্যতম স্পষ্ট পর্যবেক্ষণ হলো—উক্ত তাফসিরকারকদের জীবনী (ترجمة) উল্লেখ না করা, যা পাঠকের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ছিল।
কেননা একটি কিতাব, তার লেখক, লেখকের আকিদা এবং তাফসির করার পদ্ধতি সম্পর্কে ধারণা প্রদান করা হলে তা সংশ্লিষ্ট কিতাব ও লেখক সম্পর্কে এমন এক স্বচ্ছ ও সুস্পষ্ট ধারণা দেয় যা পাঠককে নানাভাবে উপকৃত করে এবং কিতাবটির লেখক, তার মানহাজ ও আকিদা সম্পর্কে প্রয়োজনীয় সবকিছু সহজে অনুধাবন করতে সাহায্য করে।
এই পর্যবেক্ষণগুলো গবেষকের প্রচেষ্টা বা তার গবেষণার ইলমি ও সমালোচনামূলক গুরুত্বকে মোটেও ক্ষুণ্ণ করে না। বিশেষ করে তিনি একজন অত্যন্ত মর্যাদাবান ও পাণ্ডিত্যপূর্ণ অবস্থানের অধিকারী অধ্যাপক ছিলেন—আল্লাহ তাআলা তার ওপর রহম করুন।
(খণ্ড: ৭৩)
সারীহুল মা'কুল আল-মুওয়াফিক লিসারীহিল মানকুল ফী মুনাক্বাশাতি সালাসাতি তাফাসীর রুত্তিাবাত আলা তারতীবিন নুযূল
(পৃষ্ঠা: ৪৪)
اعتذار عن تلك الملاحظاتومما يعتذر به عن تلك الملاحظات لفضيلته لعله رأى الاختصار المناسب لمقتضى الحال التي كُتِبَت من أجلها تلك الدراسة، وهي المشاركة بها في إحدى المؤتمرات العلمية، كما أشار فضيلته إلى ذلك
(1)، ولا شك أن الحال هذه تقتضي الاختصار والتركيز فقط على موضوع البحث المطلوب.
الدراسة الثانية: "القرآن الكريم بين ترتيب المصحف وترتيب النزول دراسة منهجية نقدية في الترتيب المصحفي والتاريخي للقرآن "تأليف الدكتور/ سعيد بو عصاب
عرض لتك الدراسة:تعتبر تلك الدراسة من الكتابات الحديثة في علوم القرآن، فهي من منشورات مركز الدراسات القرآنية التابعة للرابطة المحمدية للعلماء بالمغرب، الطبعة الأولى، 1438 هـ/ 2017 م في مجلد متوسط يتكوّن من 168 صفحة، كما أنها من منشورات: دار الأمان للنشر والتوزيع بتاريخ: 06/ 06/ 2017 م -كذلك-.
ومؤلفها أستاذ للتفسير وعلوم القرآن بجامعة القرويين، كلية العلوم الشرعيّة بالسمارة.
أهمية تلك الدراسة:تأتي أهمية تلك الدراسة من خلال موضوعها المتميّز، الذي يعالج إشكالية الدعوة إلى ترتيب المصحف حسب النزول، والذي أصبح مثارَ جدلٍ بين الدارسين المُحْدَثين في العصور الأخيرة بين مؤيدين ومعارضين، فجاءت هذه الدراسة لمناقشة الموضوع في منهج وصفي تاريخي تحليلي نقدي؛ مما جعلها مقاربة تأصيلية نقديّة تتوخى الأسلوب العلمي الموضوعي الهادئ.
محتويات تلك الدراسة:تصدّرت مقدمة هذه الدراسة ببيان أهمية موضوع المطالبة بإعادة ترتيب القرآن في المصاحف حسب النزول؛ حيث ظهر في الناس في زماننا مَنْ يطالب بذلك بعد أن كان إجماع السلف منذ العهد النبوي على الترتيب المصحفي للقرآن الكريم. كما بيّن المؤلف الدافع إلى الكتابة في الموضوع، والتي لخصها في: كون الكتابة في هذا الباب تعتبر من العبادات، وأنَّ دعوات المطالبة بإعادة الترتيب، فيها ما هو مقبولٌ بشروط، وفيها ما هو مردود، وأنَّ في جانب من هذه الدعوات المسّ بقدسيّة المصحف، وأن في الكتابة في هذا الموضوع التنبيه إلى المناسبات السامية التي تضمنها الترتيب المصحفي، الذي تولد عنه "علم التناسب القرآني"، وأنَّ المؤلفات التي ناقشت موضوع الترتيب أو التفسير حسب النزول للقرآن الكريم تعدُّ قليلة ونادرة.
وقد مهّدَ الباحثُ لتلك الدراسة بفصل تمهيدي، تناول من خلاله منهج التنزّل القرآني، بما يشمل المفهوم والظروف التي أحاطت به، والمقاصد والأغراض المتوخاة من تنجيم النزول القرآني، ثم أسباب النزول.
وقسّم الكتاب إلى قسمين أساسيين، خصص الأول منهما لدراسة الترتيب المصحفي للقرآن الكريم، مبينًا ترتيب الآيات في القرآن الكريم وترتيب السور والتناسب بين الآيات والتناسب بين السور، وأقوال العلماء في ذلك، مع عرض أدلة كلّ فريق. كما خصص القسم الثاني للدعوة إلى ترتيب وتفسير القرآن الكريم وفق منهج النزول، مع مناقشة الداعين إلى ذلك، كما ناقش دوافعهم لهذا المنهج ومدى قدرته على التطبيق. وقام بمناقشة عامة نقدية لدعوى محمد عابد الجابري في ترتيب سور القرآن الكريم، وركز على قضايا جزئية لها علاقة بالتفسير حسب النزول. وقد ذيّل المؤلف كتابه بخاتمة تضمنت أهم النتائج التي توصّل إليها البحث.
(2)
أهم الملاحظات على تلك الدراسة:نفس الملاحظات والمآخذ على الدراسة السابقة تنطبق في كثير من الأوجه على هذه الدراسة إن لم تتطابق تمامًا، ويزيد عليها قول المؤلف: "أنَّ دعوات المطالبة بإعادة الترتيب، فيها ما هو مقبولٌ بشروط، وفيها ما هو مردود".
ولا شك أن هذه الدعوى قد تفتح الباب على مصرعيه أما الأصوات التي تنادي بإعادة ترتيب القرآن ترتيبًا نزوليًا.
الدراسة الثالثة: "ترتيب سور القرآن وفق نزولها في فكر الجابري"عرض وتحليل ونقد، تأليف الدكتور/ صبري عبد العزيز منصور صيام، الأستاذ المساعد في التفسير وعلوم القرآن في كلية الدراسات العربية والإسلامية للبنين بالقاهرة، بجامعتي الأزهر وتبوك، وهي منشورة في" المجلد الأول من العدد السادس والثلاثين لحولية كلية الدراسات الإسلامية للبنات بالإسكندرية (د ت).
وهذه الدراسة تتآلف من ثنتين وتسعين صفحة، قد أجاد مؤلفها وأفاد، حيث ناقش/ محمد عابد الجابري، المتوفي في: 19 جمادى الأولى 1431 هـ، الموافق: 3 مايو 2010 م، مناقشة وافية بالغرض.
ومن أبرز ما يؤخذ على هذه الدراسة ما يلي:أولًا: قول المؤلف أنه لم يجد من رَدَّ على الجابري، أي أنه لم يقف على دراسات سابقة لمناقشته، وهناك العديد من الدراسات منها الدراسة السابقة لهذه الدراسة من تأليف الدكتور/ سعيد بوعصاب كانت في مناقشة الجابري وسجلت بتاريخ: 06/ 06/ 2017 م.
وهذه الدراسة للدكتور/ صبري عبد العزيز منصور صيام، لم نقف لها على تاريخ، ولابد أن الدراستين قد تقدمت إحداهما الأخرى زمانًا، فكان لزامًا على المتأخر منهما ذكر الدراسة المتقدمة منهما اعترافًا بالفضل والسبق ونسبته لأهله، ويُلتمس العذر للمتأخر منهما بحسن الظن به، ونقول لعله لم يقف على الدراسات السابقة لدراسته، ومنها تلك الدراسة.
ثانيًا: مع أن هذه المناقشة كانت لفكر الجابري فحسب غير أن المؤلف ذكر الثلاثة نفر الذين ناقشنا جرأتهم على ترك الترتيب المصحفي والجنوح للترتيب النزولي في بحثنا هذا، وهم "مُلاَّ حُوِيِّش"، " دروزة"، "حبنكة"، لاشتراكهم جميعًا في الجرأة على تغير الترتيب المصحفي الذي أجمعت عليه الأمة سلفًا وخلفًا، وقد ذكرهم الدكتور/ صبري ولكنَّه مَرَّ عليهم مرور الكرام في أسطر معدودة، وذلك في المطلب الثالث من المبحث الثاني، والذي كان ينبغي عليه مناقشتهم، وذلك لأن تأثيرهم قد يتعدى تأثير الجابري لانتسابهم للعلم عمومًا وللتفسير خصوصًا ولانتشار كتبهم بين الناس، فيكون خطر التأثر بهم أكثر وأعم من التأثر بالجابري الذي عُرِفَ وعُلِمَ واشتهر بين الناس بمنهجه الحداثي التغريبي.
ثالثًا: مما يؤخذ على هذه الدراسة ثناء المؤلف على أصحاب التفاسير الثلاثة، والذي يبدوا أنه لم يطالعها أو يطالع الدراسات النقدية لها، حيث قال عفى الله عنه: كان لهؤلاء الإعلام الثلاثة من وراء تفسير القرآن وفق زمن نزول السور أهداف سامية نابعة، نبعة عن الهدف الأسمى لنزول القرآن العظيم
…رابعًا: من أشد المآخذ على تلك الدراسة ما أخذ على سابقتيها من عدم ولاية الجانب العقدي العناية اللائقة به، فقد مَرَّ على تلك التفاسير الثلاثة مرور الكرام كما ذكرنا آنفًا، ولم يعرج على الجانب العقدي بل ولم يشر إليه أبدًا لا من قريب ولا من بعيد.
وهذه الملاحظات لا تقلل من قيمة البحث ولا من جهد الباحث، فقد كان المؤلف ذا حسن مرهف وصاحب قلم رصين وغيرة على كتابه ربه، فجزاه الله عن كتابه الجزاء الأوفى في الدنيا ويوم الدين.
--------------------------------------------
এই পর্যবেক্ষণগুলোর বিষয়ে কৈফিয়তসম্মানিত লেখকের এই পর্যবেক্ষণগুলোর বিষয়ে একটি কৈফিয়ত এই হতে পারে যে, সম্ভবত তিনি সেই পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে সংক্ষেপণ করাকেই উপযুক্ত মনে করেছেন যার জন্য এই গবেষণাটি রচিত হয়েছিল। আর সেটি হলো একটি বৈজ্ঞানিক সম্মেলনে অংশগ্রহণের উদ্দেশ্যে এতে অংশগ্রহণ করা, যেমনটি লেখক স্বয়ং ইঙ্গিত করেছেন
(১)। আর এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, এই পরিস্থিতি কেবল গবেষণার মূল বিষয়ের ওপর সংক্ষিপ্তকরণ ও নিবিষ্ট হওয়ারই দাবি রাখে।
দ্বিতীয় গবেষণা: "পবিত্র কুরআন: মুসহাফের ক্রম ও নাজিলের ক্রমের মাঝে - মুসহাফি ও ঐতিহাসিক ক্রমবিন্যাসের একটি পদ্ধতিগত ও সমালোচনামূলক অধ্যয়ন"রচনা: ডক্টর সাঈদ বু আসসাব
গবেষণাটির উপস্থাপন:এই গবেষণাটি উলুমুল কুরআনের আধুনিক লেখাগুলোর অন্তর্ভুক্ত। এটি মরক্কোর 'আর-রাবিতাহ আল-মুহাম্মাদিয়াহ লিল-উলামা' এর অন্তর্গত কুরআন গবেষণা কেন্দ্র থেকে প্রকাশিত, প্রথম সংস্করণ ১৪৩৮ হিজরি/ ২০১৭ খ্রিস্টাব্দ, একটি মাঝারি খণ্ডে ১৬৮ পৃষ্ঠায় সমাপ্ত। এছাড়াও এটি 'দারুল আমান' প্রকাশনী থেকে ০৬/০৬/২০১৭ তারিখেও প্রকাশিত হয়েছে।
এর লেখক আল-কারাউইন বিশ্ববিদ্যালয়ের সামারা শরীয়াহ অনুষদের তাফসির ও উলুমুল কুরআন বিভাগের অধ্যাপক।
এই গবেষণার গুরুত্ব:এই গবেষণার গুরুত্ব এর অনন্য বিষয়ের মাধ্যমে ফুটে ওঠে, যা অবতীর্ণ হওয়ার ক্রম অনুযায়ী মুসহাফ সাজানোর আহ্বানের জটিলতা নিয়ে আলোচনা করে। এটি বর্তমান সময়ের আধুনিক গবেষকদের মধ্যে পক্ষ ও বিপক্ষের বিতর্কের বিষয়ে পরিণত হয়েছে। এই গবেষণাটি বিষয়টি একটি বর্ণনামূলক, ঐতিহাসিক, বিশ্লেষণাত্মক ও সমালোচনামূলক পদ্ধতিতে আলোচনা করেছে; যা একে একটি মৌলিক ও তাত্ত্বিক সমালোচনামূলক দৃষ্টিভঙ্গিতে রূপান্তর করেছে এবং একটি শান্ত ও বস্তুনিষ্ঠ বৈজ্ঞানিক শৈলী অনুসরণ করেছে।
গবেষণার বিষয়বস্তু:এই গবেষণার ভূমিকায় মুসহাফে নাজিলের ক্রম অনুযায়ী কুরআন পুনরায় সাজানোর দাবির গুরুত্ব বর্ণনা করা হয়েছে; কেননা বর্তমান যুগে এমন কিছু লোক আবির্ভূত হয়েছে যারা এই দাবি জানাচ্ছে, অথচ নববী যুগ থেকে পূর্বসূরিদের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত (إجماع) ছিল পবিত্র কুরআনের মুসহাফি বিন্যাসের ওপর। লেখক এই বিষয়ে লেখার কারণগুলোও বর্ণনা করেছেন, যা তিনি সংক্ষেপে এভাবে তুলে ধরেছেন: এই বিষয়ে লেখা ইবাদতের অন্তর্ভুক্ত; পুনরায় বিন্যাসের আহ্বানের মধ্যে কিছু শর্তসাপেক্ষে গ্রহণযোগ্য (مقبول), আবার কিছু বর্জিত (مردود); এই ধরণের কিছু আহ্বানের মধ্যে মুসহাফের পবিত্রতা ক্ষুণ্ণ করার বিষয় রয়েছে; এই বিষয়ে লেখার মাধ্যমে মুসহাফি বিন্যাসের অন্তর্নিহিত উচ্চতর সামঞ্জস্যগুলোর দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করা যায় যার মাধ্যমে 'কুরআনের সামঞ্জস্য বিজ্ঞান' (ইলমুত তানাসুবিল কুরআনি) এর উদ্ভব হয়েছে; এবং নাজিলের ক্রম অনুযায়ী কুরআনের বিন্যাস বা তাফসির নিয়ে আলোচনা করে এমন গ্রন্থের সংখ্যা অত্যন্ত নগণ্য।
গবেষক এই গবেষণার জন্য একটি উপক্রমণিকা অধ্যায় রেখেছেন, যার মাধ্যমে তিনি কুরআনের অবতরণ পদ্ধতি (منهج) আলোচনা করেছেন, যার মধ্যে এর ধারণা ও পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি, কিস্তিতে কুরআন নাজিল করার উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য এবং শানে নুযুল অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
তিনি গ্রন্থটিকে প্রধান দুটি ভাগে বিভক্ত করেছেন। প্রথম ভাগটি কুরআনের মুসহাফি বিন্যাসের অধ্যয়নের জন্য নির্দিষ্ট করেছেন, যেখানে কুরআনের আয়াতের বিন্যাস, সূরার বিন্যাস, আয়াতের মধ্যকার সামঞ্জস্য এবং সূরার মধ্যকার সামঞ্জস্য বর্ণনা করেছেন এবং এ বিষয়ে ওলামায়ে কেরামের মতামত ও প্রতিটি পক্ষের দলিল উপস্থাপন করেছেন। দ্বিতীয় ভাগটি নাজিলের পদ্ধতির (منهج) আলোকে কুরআন বিন্যাস ও তাফসিরের আহ্বানের জন্য নির্দিষ্ট করেছেন এবং এর প্রবক্তাদের নিয়ে আলোচনা করেছেন। পাশাপাশি এই পদ্ধতির পেছনে তাদের উদ্দেশ্য এবং এর প্রয়োগযোগ্যতা কতটুকু তা নিয়ে আলোচনা করেছেন। তিনি মুহাম্মদ আবিদ আল-জাবিরির কুরআনের সূরা বিন্যাসের দাবির ওপর একটি সাধারণ সমালোচনামূলক আলোচনা করেছেন এবং নাজিলের ক্রম অনুযায়ী তাফসিরের সাথে সংশ্লিষ্ট আংশিক বিষয়গুলোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। লেখক তাঁর গ্রন্থের শেষে একটি উপসংহার যুক্ত করেছেন যাতে গবেষণার প্রধান ফলাফলগুলো স্থান পেয়েছে।
(২)
এই গবেষণার ওপর প্রধান পর্যবেক্ষণসমূহ:পূর্ববর্তী গবেষণার ওপর যে সকল পর্যবেক্ষণ ও আপত্তি ছিল, তার অনেকগুলোই এই গবেষণার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য, যদি না সেগুলো হুবহু একই রকম হয়। তদুপরি লেখকের এই উক্তিটি বাড়তি: "পুনরায় বিন্যাসের আহ্বানের মধ্যে কিছু শর্তসাপেক্ষে গ্রহণযোগ্য (مقبول), আবার কিছু বর্জিত (مردود)"।
নিঃসন্দেহে এই দাবিটি সেই সব কণ্ঠস্বরের জন্য অবারিত সুযোগ করে দিতে পারে যারা কুরআনকে নাজিলের ক্রম অনুযায়ী সাজানোর আহ্বান জানায়।
তৃতীয় গবেষণা: "জাবিরির চিন্তাধারায় অবতীর্ণ হওয়ার ক্রম অনুযায়ী কুরআনের সূরা বিন্যাস"উপস্থাপনা, বিশ্লেষণ ও সমালোচনা। লেখক: ডক্টর সাবরি আব্দুল আজিজ মনসুর সিয়াম, কায়রোতে অবস্থিত আল-আজহার ও তাবুক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে আরবি ও ইসলামি শিক্ষা অনুষদের তাফসির ও উলুমুল কুরআন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক। এটি আলেকজান্দ্রিয়ার মহিলা ইসলামি শিক্ষা অনুষদের সাময়িকীর ষষ্ঠ ও ত্রিশতম সংখ্যার প্রথম খণ্ডে প্রকাশিত।
এই গবেষণাটি বিরানব্বই পৃষ্ঠার। এর লেখক চমৎকার ও তথ্যসমৃদ্ধ আলোচনা করেছেন, যেখানে তিনি মুহাম্মদ আবিদ আল-জাবারি (মৃত্যু: ১৯ জুমাদাল উলা ১৪৩১ হিজরি, মুতাবেক ৩ মে ২০১০ খ্রিস্টাব্দ) এর ওপর একটি পূর্ণাঙ্গ আলোচনা পেশ করেছেন।
এই গবেষণার প্রধান আপত্তিগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:প্রথমত: লেখকের এই উক্তি যে, তিনি জাবিরির কোনো প্রত্যুত্তরকারী খুঁজে পাননি, অর্থাৎ তিনি এর ওপর কোনো পূর্ববর্তী গবেষণার সন্ধান পাননি। অথচ এই বিষয়ে অনেক গবেষণা রয়েছে, যার মধ্যে এই গবেষণার পূর্ববর্তী ডক্টর সাঈদ বু আসসাবের গবেষণাটি ছিল জাবারিকে নিয়ে আলোচনার ওপর এবং সেটি ০৬/০৬/২০১৭ তারিখে নিবন্ধিত হয়েছিল।
ডক্টর সাবরি আব্দুল আজিজ মনসুর সিয়ামের এই গবেষণার কোনো তারিখ আমরা পাইনি। অবশ্যই দুটি গবেষণার একটি সময়ের দিক থেকে অন্যটির অগ্রবর্তী হবে। তাই যিনি পরে লিখেছেন তার জন্য অগ্রবর্তী গবেষণার উল্লেখ করা আবশ্যক ছিল, যাতে সেই অনুগ্রহ ও অগ্রবর্তিতার স্বীকৃতি দেওয়া যায় এবং তাকে তার প্রাপ্য কৃতিত্ব দেওয়া যায়। তবে পরের জনের ক্ষেত্রে সুধারণার ভিত্তিতে ওজর তালাশ করা যেতে পারে এবং আমরা বলতে পারি যে, সম্ভবত তিনি তাঁর গবেষণার পূর্ববর্তী লেখাগুলো সম্পর্কে অবগত হতে পারেননি, যার মধ্যে এই গবেষণাটিও অন্তর্ভুক্ত।
দ্বিতীয়ত: যদিও এই আলোচনাটি শুধুমাত্র জাবিরির চিন্তাধারা নিয়ে ছিল, তথাপি লেখক সেই তিন ব্যক্তির কথা উল্লেখ করেছেন যাদের মুসহাফি বিন্যাস ত্যাগ করে নাজিলের ক্রমবিন্যাসের দিকে ঝুঁকে পড়ার দুঃসাহসের বিষয়ে আমরা আমাদের এই গবেষণায় আলোচনা করেছি। তারা হলেন: "মুল্লা হুওয়াইশ", "দারওয়াজা" ও "হাবান্নাকা"। কারণ তারা সবাই মুসহাফি বিন্যাস পরিবর্তনের দুঃসাহস দেখানোর ক্ষেত্রে শরিক ছিলেন, যার ওপর পূর্ববর্তী ও পরবর্তী মুসলিম উম্মাহর ঐকমত্য (إجماع) প্রতিষ্ঠিত। ডক্টর সাবরি তাদের কথা উল্লেখ করেছেন কিন্তু তিনি মাত্র কয়েক লাইনে খুব দ্রুত তাদের পাশ কাটিয়ে গেছেন, যা দ্বিতীয় পরিচ্ছেদের তৃতীয় অনুচ্ছেদে ছিল। অথচ তাঁর উচিত ছিল তাদের নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা। কারণ সাধারণ জ্ঞান ও বিশেষ করে তাফসিরের সাথে সম্পৃক্ততার কারণে এবং মানুষের মাঝে তাদের গ্রন্থসমূহের প্রসারের ফলে তাদের প্রভাব জাবিরির প্রভাবকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে। তাই তাদের দ্বারা প্রভাবিত হওয়ার ঝুঁকি জাবিরির চেয়ে অনেক বেশি ও ব্যাপক, কারণ জাবারি মানুষের কাছে তাঁর আধুনিকতাবাদী ও পশ্চিমা ভাবধারার পদ্ধতির (منهج) জন্যই পরিচিত ও চিহ্নিত ছিলেন।
তৃতীয়ত: এই গবেষণার ওপর একটি আপত্তি হলো তিন তাফসিরকারের প্রতি লেখকের প্রশংসা, যা দেখে মনে হয় তিনি সেগুলো পাঠ করেননি অথবা সেগুলোর ওপর সমালোচনামূলক গবেষণাগুলো দেখেননি। তিনি (আল্লাহ তাকে ক্ষমা করুন) বলেছেন: এই তিন বরেণ্য ব্যক্তিত্বের সূরার নাজিলের সময় অনুযায়ী কুরআনের তাফসির করার পেছনে কুরআনে কারিম নাজিলের মহান উদ্দেশ্যের সাথে সংগতিপূর্ণ কিছু মহৎ লক্ষ্য ছিল...
চতুর্থত: এই গবেষণার ওপর অন্যতম কঠোর আপত্তি হলো এর পূর্ববর্তী দুটি গবেষণার মতো এখানেও আকিদাহ (عقيدة) এর দিকটিকে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। তিনি সেই তিন তাফসিরের ওপর দিয়ে খুব দ্রুত চলে গেছেন যেমনটি আমরা আগে উল্লেখ করেছি, এবং আকিদাহ (عقيدة) এর দিকটি নিয়ে মোটেও আলোচনা করেননি, এমনকি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সেদিকে কোনো ইঙ্গিতও করেননি।
এই পর্যবেক্ষণগুলো গবেষণার মান বা গবেষকের প্রচেষ্টাকে খাটো করে না। লেখক অত্যন্ত সূক্ষ্ম রুচিবোধের অধিকারী, শক্তিশালী কলমের অধিকারী এবং তাঁর রবের কিতাবের প্রতি অত্যন্ত মর্যাদাবোধসম্পন্ন ছিলেন। আল্লাহ তাআলা তাঁকে তাঁর কিতাবের পক্ষ থেকে দুনিয়া ও আখেরাতে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ৭৩)
সারীহুল মা'কুল আল-মুওয়াফিক লিসারীহিল মানকুল ফী মুনাক্বাশাতি সালাসাতি তাফাসীর রুত্তিাবাত আলা তারতীবিন নুযূল
(পৃষ্ঠা: ৪৪)
دراسات عامة حول تفسير الجابري:كما قد هيأ الله دراسات نقدية أخرى حول تفسير الجابري والتي كان من أبرزها ما يلي:
الدراسة الأولى: "تخرصات الجابري على التفسير والمفسرين من خلال كتابه فهم القرآن الحكيم"دراسة نقدية، تأليف: محمد بن عبدالعزيز بن عبدالله المسند، صادرة عن: مجلة تبيان للدراسات القرآنية، وهي: "مجلة محكمة"، تابعة لجمعية السعودية للقرآن الكريم وعلومه، في عددها: 25، في الصفحات من: 173 - 233، لعام 1438 هـ ـ 2018 م.
وكان من أبرز أهداف هذه الدراسة ما يلي:
1 - الذود عن التفسير وأئمّته، من تحريف الغالين، وانتحال المبطلين، وتأويل الجاهلين.
2 - نقد تفسير الجابري على وجه الخصوص وما فيه من التخرّصات والاعتراضات على التفسير وأئمّته.
3 - بيان حقيقة ما يسمّى بالتفسير العصري للقرآن من خلال نقد تفسير الجابري الذي يعدّ مثالًا واضحًا لهذا النوع من التفسير.
وكان من أهمّ نتائجها ما يلي:
1 - تنوّع جهود الأعداء في النيل من هذا القرآن وآخرها ما يسمّى بالقراءات الحداثية للقرآن من أجل رفع القدسية عنه.
2 - مشاركة بعض المخدوعين من أبناء المسلمين في هذه الجهود المضللة.
3 - توجّه بعضهم لتفسير القرآن ليس من أجل بيان معانيه وإنّما لإخضاعه للأفكار والثقافة الغربية.
4 - أنّ "العقل" نعمة كبرى لكنّه إذا كان محكومًا بالهوى؛ صار وبالًا على صاحبه.
وكان من أهم توصياتها ما يلي:
1 - أوصى الباحثين ببذل الكثير من الجهود في مواجهة هذا الحملات المضللة. أوصي الجامعات ومراكز البحوث بالعناية بمثل هذه التوجهات التغريبية المضللة، وذلك بنشر الوعى بخطورتها، وطباعه البحوث والكتب التي تولت الرد عليها وكشف زيفها. كما أوصى الجامعات بتخصيص مادة دراسية متخصصة، تعنى بذلك. وبالله التوفيق.
وهذه الدراسة وفق اللهُ جامعَهَا لكشف عوار "الجابري" بأسلوب علمي رصين ورد محكم أصيل، فجزاه الله خيرًا عن كتابه ودينه ومنهاجه وشرعه.
الدراسة الثانية: "التفسير الواضح حسب ترتيب النزول لـ "محمد عابد الجابري"دراسة تحليلية نقدية. وهذه الدراسة عبارة عن أطروحة علمية نالت بها الباحثة/ أحلام خليفة عبد الله الصويعي درجة الدكتوراه من الدراسات العربية وآدابها - شعبة الدراسات الإسلامية- بجامعة عين شمس، عام 1438 هـ-2017 م.
وهي وإن كانت دراسة وأطروحة علمية تناقش فكر "الجابري في التفسير فحسب،
- كسابقتها ولاحقتها- غير أن ضمها للدراسات سالفة الذكر، وذكرها والإشارة إليها مع تلك الدراسات تعطي القارئ الكريم تصورًا أوسع عن الجابري، وتفسح له المجال لتصور فكره وثقافته التي تدل على أنه ليس من أهل العلم أصلًا، كما أنها تجلي له حقيقة انتماء الرجل للمدرسة الحداثية التغريبية المعاصرة.
وقد افتتحت الباحثة تساؤلات الدراسة بالتساؤلات التالية
- هل كان الجابري مؤهلاً لأن يكون مفسرًا؟
- هل انطبع التفسير بما يحمله صاحبه من أفكار فلسفية وغربية؟
- هل أثار الجابري قضايا هامة في القرآن الكريم، في حين سكت عن أُخرى، وما الدافع وراء ذلك؟
- هل أَثار الجابري شبهات حول القرآن والإِسلام بدعوى التجديد؟
- هل كان الجابري في آرائه وأفكاره متأثرًا بتيار معين؟
- هل يُعتبر الجابري من المجددين في تفسير القرآن؟
وبهذا فكل هذه التساؤلات وغيرها تم الإفصاح عنها في الدراسة.
وهذا التساؤلات وأجوبتها كافية لتعرية "الجابري" ومنهجه وفكره.
الدراسة الثالثة: "سؤال المنهج في فهم القرآن الكريم وتفسيره عند محمد عابد الجابري من خلال كتابه فهم القرآن الحكيم التفسير الواضح حسب ترتيب النزول"دراسة تحليلية نقدية، لحسن غماري، ولم يقف الباحث على تفاصيل لهذه الدراسة
--------------------------------------------
আল-জাবীরির তাফসির সংক্রান্ত সাধারণ গবেষণাসমূহ:আল্লাহ তাআলা আল-জাবীরির তাফসির বিষয়ে আরও কিছু সমালোচনামূলক গবেষণার ব্যবস্থা করেছেন, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো নিম্নরূপ:
প্রথম গবেষণা: "তার গ্রন্থ 'ফাহমুল কুরআনিল হাকিম'-এর আলোকে তাফসির ও মুফাসসিরদের বিষয়ে আল-জাবীরির অলীক ধারণা ও মিথ্যাচার"এটি একটি সমালোচনামূলক গবেষণা; লেখক: মুহাম্মাদ বিন আবদুল আজিজ বিন আব্দুল্লাহ আল-মুসনাদ। প্রকাশিত হয়েছে ‘তিবইয়ান’ কুরআন গবেষণা সাময়িকী থেকে; যা সৌদি কুরআন ও উলুমুল কুরআন সোসাইটির অধীনস্থ একটি "পর্যালোচিত সাময়িকী"। এটি সাময়িকীর ২৫তম সংখ্যায় ১৭৩ থেকে ২৩৩ পৃষ্ঠায় ১৪৩৮ হিজরি — ২০১৮ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত হয়েছে।
এই গবেষণার প্রধান লক্ষ্যসমূহ ছিল নিম্নরূপ:
1 - চরমপন্থীদের বিকৃতি, বাতিলপন্থীদের মিথ্যা বর্ণনা এবং মূর্খদের অপব্যাখ্যা থেকে তাফসির ও এর ইমামদের রক্ষা করা।
2 - বিশেষভাবে আল-জাবীরির তাফসিরের সমালোচনা করা এবং এতে বিদ্যমান অলীক ধারণা ও তাফসির ও এর ইমামদের ওপর উত্থাপিত আপত্তিসমূহ খণ্ডন করা।
3 - আল-জাবীরির তাফসিরের সমালোচনার মাধ্যমে তথাকথিত কুরআনের আধুনিক তাফসিরের প্রকৃত রূপ উন্মোচন করা, যা এ ধরনের তাফসিরের একটি স্পষ্ট উদাহরণ হিসেবে গণ্য।
এর প্রধান ফলাফলসমূহ ছিল নিম্নরূপ:
1 - কুরআনের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করার ক্ষেত্রে শত্রুদের নানাবিধ প্রচেষ্টার বিবরণ, যার সর্বশেষ সংযোজন হলো কুরআনের তথাকথিত আধুনিক পাঠ (পঠন-পদ্ধতি), যার উদ্দেশ্য হলো কুরআন থেকে এর পবিত্রতা ও অলৌকিকত্ব সরিয়ে দেওয়া।
2 - মুসলিম সন্তানদের মধ্যে কিছু বিভ্রান্ত ব্যক্তির এই পথভ্রষ্টতামূলক প্রচেষ্টায় অংশগ্রহণ।
3 - তাদের কারও কারও কুরআনের তাফসিরের দিকে মনোনিবেশ করার কারণ এর অর্থ স্পষ্ট করা নয়, বরং কুরআনকে পাশ্চাত্য চিন্তা ও সংস্কৃতির অনুগামী করা।
4 - "বিবেক-বুদ্ধি" একটি বড় নেয়ামত, কিন্তু যখন তা খেয়াল-খুশির অনুগামী হয়, তখন তা মালিকের জন্য বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
এর প্রধান সুপারিশসমূহ ছিল নিম্নরূপ:
1 - গবেষকদের প্রতি এই বিভ্রান্তিকর অভিযান মোকাবিলায় ব্যাপক প্রচেষ্টা চালানোর সুপারিশ করা হয়েছে। আমি বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা কেন্দ্রসমূহকে এ ধরনের বিভ্রান্তিকর পাশ্চাত্যমুখী প্রবণতার বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব প্রদানের সুপারিশ করছি, যাতে এর ভয়াবহতা সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরি হয় এবং সেসব গবেষণা ও গ্রন্থসমূহ প্রকাশ করা হয় যা এসব মতবাদের জবাব দেয় ও এর অসারতা উন্মোচন করে। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এই বিষয়ে বিশেষায়িত একটি পাঠ্যবিষয় অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করা হয়েছে। ওয়াল্লাহুত তাওফিক।
এই গবেষণায় আল্লাহ এর সংকলককে একটি সুদৃঢ় বৈজ্ঞিনিক পদ্ধতি ও অকাট্য প্রমাণের মাধ্যমে "আল-জাবীরি"-র দুর্বলতা উন্মোচনে তাওফিক দান করেছেন। সুতরাং আল্লাহ তাকে তার কিতাব, দ্বীন, মানহাজ ও শরিয়তের পক্ষ থেকে উত্তম প্রতিদান দান করুন।
দ্বিতীয় গবেষণা: "মুহাম্মদ আবিদ আল-জাবীরি রচিত অবতীর্ণ হওয়ার ক্রম অনুযায়ী সহজ তাফসির (আত-তাফসিরুল ওয়াদিহ)"এটি একটি বিশ্লেষণাত্মক ও সমালোচনামূলক গবেষণা। এই গবেষণাটি মূলত একটি পিএইচডি থিসিস, যার মাধ্যমে গবেষক আহলাম খলিফা আব্দুল্লাহ আস-সুওয়াইয়ি আইন শামস বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি শিক্ষা ও সাহিত্য অনুষদের ইসলামি শিক্ষা বিভাগ থেকে ১৪৩৮ হিজরি — ২০১৭ খ্রিস্টাব্দে ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেছেন।
যদিও এটি একটি বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও থিসিস যা কেবল তাফসির বিষয়ে আল-জাবীরির চিন্তা নিয়ে আলোচনা করে —পূর্ববর্তী ও পরবর্তী গবেষণাগুলোর মতোই— তথাপি উল্লিখিত গবেষণাসমূহকে একত্রে সংযোজন ও সেগুলোর প্রতি ইঙ্গিত করা সম্মানিত পাঠককে আল-জাবীরি সম্পর্কে আরও ব্যাপক ধারণা প্রদান করবে এবং তার চিন্তা ও সংস্কৃতি উপলব্ধি করার পথ উন্মুক্ত করবে, যা প্রমাণ করে যে তিনি মূলত ইলমের অধিকারী ব্যক্তিবর্গের অন্তর্ভুক্ত নন। পাশাপাশি এটি তার সমকালীন আধুনিক পাশ্চাত্যপন্থী দর্শনের সাথে সম্পৃক্ততার প্রকৃত রূপ উন্মোচন করবে।
গবেষক তার গবেষণার প্রশ্নসমূহ নিম্নোক্ত জিজ্ঞাসার মাধ্যমে শুরু করেছেন:
- আল-জাবীরি কি মুফাসসির হওয়ার জন্য যোগ্য ছিলেন?
- এই তাফসিরে কি তার দার্শনিক ও পাশ্চাত্য চিন্তাধারার প্রতিফলন ঘটেছে?
- আল-জাবীরি কি কুরআনের কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উত্থাপন করেছেন এবং অন্য কিছু বিষয়ে নীরব থেকেছেন? এর পেছনে উদ্দেশ্য কী ছিল?
- আল-জাবীরি কি সংস্কারের নামে কুরআন ও ইসলাম সম্পর্কে সন্দেহ তৈরি করেছেন?
- আল-জাবীরি কি তার মতামত ও চিন্তাধারায় কোনো নির্দিষ্ট মতাদর্শ দ্বারা প্রভাবিত ছিলেন?
- আল-জাবীরি কি কুরআনের তাফসিরের ক্ষেত্রে সংস্কারকদের অন্তর্ভুক্ত হিসেবে গণ্য?
এভাবে এই সকল প্রশ্ন ও অন্যান্য বিষয় গবেষণায় উন্মোচিত হয়েছে।
এই প্রশ্নসমূহ এবং এর উত্তরগুলো "আল-জাবীরি", তার কর্মপদ্ধতি ও চিন্তাধারাকে উন্মোচন করার জন্য যথেষ্ট।
তৃতীয় গবেষণা: "মুহাম্মদ আবিদ আল-জাবীরির 'ফাহমুল কুরআনিল হাকিম: অবতীর্ণ হওয়ার ক্রম অনুযায়ী সহজ তাফসির' গ্রন্থের আলোকে কুরআন বোঝা ও তাফসির করার পদ্ধতিগত প্রশ্ন"হাসান গমারি রচিত বিশ্লেষণাত্মক ও সমালোচনামূলক গবেষণা; তবে গবেষক এই গবেষণার বিস্তারিত বিবরণ পাননি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ৭৩)
সারীহুল মা'কুল আল-মুওয়াফিক লিসারীহিল মানকুল ফী মুনাক্বাশাতি সালাসাতি তাফাসীর রুত্তিাবাত আলা তারতীবিন নুযূল
(পৃষ্ঠা: ৪৪)
ثالثًا: أسباب ودواعي اختيار موضوع البحثومناقشة تلك التفاسير تأتي انتصارًا للقرآن ودفعًا لتك الشبهة التي وقعوا فيها حتى لا يغتر بفعلهم أي غِرٍ كريم فيتابعهم ويوافقهم عليه، ولاسيما أن تلك التفاسير في متناول أيدي الناس.
ولذا فقد قام الباحث هنا بمعالجة الملاحظات والمآخذ التي تبينت له على الدراسات السابقة من عرض لتلك التفاسير وطريقة تناولها للتفسير ونقدها نقدًا علميًا بناءً وبيان معتقد مصنفيها وغيرها من المسائل التي لا غنى للقارئ عنها لتمكنه من الاطلاع الكامل على كل جوانب تلك التفاسير الثلاثة ليحصل عنده الإحاطة بها، ويحصل له التصور الكافي التام الذي يكفيه عن البحث والتنقيب عنها في مواضع وأماكن أُخَر.
وتأتي هذه الدراسة أيضًا مخاطبة للجهات العلمية المعنية في الأمة لاتخاذا التدابير اللزمة تجاه تلك التفاسير حتى لا تتكرر تلك الفجيعة مرة أخرى ولا سيما وأن مصنِفوها قد قضوا آجالهم وأفضوا إلى ما قدموا.
رابعًا: مشكلة البحث وأهدافهتتمثل مشكلة هذا البحث فيما أقدم عليه هؤلاء الثلاثة نفر من إحداث في تغيير الترتيب المصحفي بالترتيب النزولي مدَّعين ادعاءات ما أنزل الله به من سلطان، وتلك الادعاءات إن لم تفند بالحجة والبرهان وبوسائل الإقناع فقد تحدث نوعًا من القناعات عند من لم ليس له بصر ثاقب وعقل راجح، ولاسيما أن من أصحاب تلك التفاسير من اعتمد في عمله - هذا- على فتاوى بعض علماء بلده لتبرأ ذمته وليجعلها حجة بينه وبين ربه، ومنهم من قدَّم أسبابًا واهية لا تقوم به حجة ولا تضح بها محجة، فيخشى إن لم تناقش وتفند تلك الحجج الواهية بأجوبة مقنعة مسكتة أن تنفذ تلك الفكرة وتنتشر بين الناس انتشار النار في الهشيم.
فأتت تلك الدراسة لتناقش تلك التفاسير وتفند تلك الحجج الواهية التي قدموها والتي هي أوهن من بيت العنكبوت، وذلك بحجج واضحات وأدلة دامغات صيانة للترتيب المصحفي الذي عليه عمل الأوليين والآخرين من أهل الإسلام أجمعين.
خامسًا: منهج البحثلقد استخدم الباحث في بحثه عددًا من المناهج البحثية، والتي كان من أبينها وأبرزها: المنهج الوصفي التحليلي
أما الفصل: فقد قام فيه الباحث بوصف ترتيب الآيات في السور بأنه "ترتيب توقيفي"، ثم قام بتحليل ذلك الترتيب مستدلًا على توقيفه بدلائل عدة، من أبرزها: نزول بعض السور جملة واحدة، ثم عرج على مذاهب العلماء وخلافهم في ترتيب السور وأنها ثلاثة مذاهب، ثم عرج على ذكر أبرز أقوال العلماء القائلين بأن ترتيب سور القرآن الكريم كان ترتيبًا توقيفيًا، ثم قام بوصف كل مذهب وصفًا تحليلًا مختصرًا مناسبًا لمقتضى الحال، ثم عرَّج على عرض الكلام على أبرز الأدلة التي استدل بها بعض العلماء على توقيف الترتيب المصحفي واصفًا لها وصفًا تحليليًا، ثم ختم هذا الفصل بالكلام على بداية مخالفة ومعارضة الترتيب المصحفي بالترتيب
তৃতীয়ত: গবেষণার বিষয় নির্বাচনের কারণ ও প্রয়োজনীয়তাএই তাফসিরসমূহ (تفسير) নিয়ে আলোচনার উদ্দেশ্য হলো কোরআনের মর্যাদা রক্ষা করা এবং তারা যে সংশয়ের (شبهة) মধ্যে পতিত হয়েছে তা নিরসন করা, যাতে কোনো সরলমনা ব্যক্তি তাদের কর্মে প্রতারিত হয়ে তাদের অনুসরণ বা সমর্থন না করে; বিশেষ করে যখন এই তাফসিরসমূহ (تفسير) সাধারণ মানুষের হাতের নাগালে রয়েছে।
এ কারণে গবেষক এখানে পূর্ববর্তী গবেষণাসমূহে পরিলক্ষিত ত্রুটি-বিচ্যুতিগুলো সংশোধন করার প্রয়াস পেয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে উক্ত তাফসিরসমূহের (تفسير) উপস্থাপন, সেগুলোর ব্যাখ্যা পদ্ধতি, গঠনমূলক বৈজ্ঞানিক সমালোচনা এবং রচয়িতাদের আকিদা বা বিশ্বাস (معتقد) স্পষ্ট করা। সেই সঙ্গে অন্যান্য জরুরি বিষয়াদিও তুলে ধরা হয়েছে যা পাঠকদের জন্য অপরিহার্য, যাতে তারা এই তিনটি তাফসিরের (تفسير) সকল দিক সম্পর্কে পূর্ণ জ্ঞান লাভ করতে পারেন এবং অন্যান্য স্থানে অনুসন্ধান ও গবেষণার পরিবর্তে এখান থেকেই একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ ধারণা অর্জন করতে পারেন।
এই গবেষণাটি উম্মাহর সংশ্লিষ্ট বৈজ্ঞানিক প্রতিষ্ঠানসমূহের প্রতি একটি আহ্বানও বটে, যাতে তারা এই তাফসিরগুলোর (تفسير) বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। উদ্দেশ্য হলো ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের দুঃখজনক ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে, বিশেষ করে যখন এগুলোর রচয়িতারা ইহকাল ত্যাগ করেছেন এবং তাদের কৃতকর্মের ফল ভোগের জন্য আল্লাহর সান্নিধ্যে চলে গেছেন।
চতুর্থত: গবেষণার সমস্যা ও লক্ষ্যসমূহএই গবেষণার মূল সমস্যাটি হলো সেই তিন ব্যক্তির কৃতকর্মের মধ্যে নিহিত, যারা আল্লাহ তাআলার কোনো অকাট্য প্রমাণ (سلطان) ছাড়াই কোরআনের সংকলিত ক্রমকে (ترتيب مصحفي) পরিবর্তন করে অবতীর্ণ হওয়ার ক্রম (ترتيب نزولي) অনুযায়ী সাজানোর নতুন পথ উদ্ভাবন করেছেন। এই দাবিগুলো যদি যুক্তি ও অকাট্য প্রমাণের (حجة) মাধ্যমে এবং বুদ্ধিবৃত্তিক উপায়ে খণ্ডন করা না হয়, তবে যাদের গভীর অন্তর্দৃষ্টি ও প্রখর মেধা নেই, তাদের মধ্যে এটি এক প্রকার দৃঢ় বিশ্বাসের জন্ম দিতে পারে। বিশেষ করে এই তাফসিরকারকদের (تفسير) মধ্যে কেউ কেউ নিজের দায়মুক্তির জন্য এবং আল্লাহর কাছে ওজর পেশ করার জন্য নিজ দেশের কিছু আলেমের ফতোয়ার ওপর নির্ভর করেছেন। আবার কেউ কেউ অত্যন্ত দুর্বল ও অসার কারণ উপস্থাপন করেছেন যা কোনো দলিল (حجة) হিসেবে গণ্য হতে পারে না এবং তার মাধ্যমে সত্যের পথও স্পষ্ট হয় না। আশঙ্কা করা হচ্ছে যে, এই অসার যুক্তিগুলো যদি সন্তোষজনক ও অকাট্য প্রমাণের (حجة) মাধ্যমে খণ্ডন করা না হয়, তবে এই ধারণাটি সাধারণ মানুষের মাঝে শুকনো ঘাসে আগুনের মতো ছড়িয়ে পড়তে পারে।
তাই এই গবেষণাটি উক্ত তাফসিরসমূহ (تفسير) নিয়ে পর্যালোচনার জন্য এবং তাদের পেশকৃত মাকড়সার জালের চেয়েও দুর্বল যুক্তিগুলো খণ্ডন করার জন্য উপস্থাপিত হয়েছে। এটি করা হয়েছে স্পষ্ট দলিল ও অকাট্য প্রমাণের (أدلة) মাধ্যমে, যাতে কোরআনের সংকলিত ক্রমটি (ترتيب مصحفي) সুরক্ষিত থাকে, যার ওপর পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকল মুসলিম বিশেষজ্ঞের আমল ও ঐকমত্য বিদ্যমান।
পঞ্চমত: গবেষণা পদ্ধতিগবেষক তার এই গবেষণায় বেশ কয়েকটি গবেষণা পদ্ধতি অনুসরণ করেছেন, যার মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো: বর্ণনামূলক বিশ্লেষণাত্মক পদ্ধতি।
অধ্যায়টির ক্ষেত্রে গবেষক সূরাসমূহের আয়াতের বিন্যাসকে "ওহি বা প্রত্যাদেশভিত্তিক (توقيفي)" হিসেবে বর্ণনা করেছেন। অতঃপর তিনি সেই বিন্যাসটি বিশ্লেষণ করেছেন এবং এর স্বপক্ষে বেশ কিছু প্রমাণ পেশ করেছেন। যার মধ্যে অন্যতম হলো কিছু সূরা পূর্ণাঙ্গভাবে অবতীর্ণ হওয়া। এরপর তিনি সূরার ক্রমবিন্যাসের ক্ষেত্রে ওলামায়ে কেরামের মতপার্থক্য আলোচনা করেছেন এবং দেখিয়েছেন যে এক্ষেত্রে তিনটি প্রধান মত রয়েছে। এরপর তিনি সেইসব আলেমদের গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্যগুলো তুলে ধরেছেন যারা মনে করেন যে কোরআনের সূরার বিন্যাসও ছিল ওহি বা প্রত্যাদেশভিত্তিক (توقيفي)। এরপর তিনি পরিস্থিতির দাবি অনুযায়ী প্রতিটি মতবাদের সংক্ষিপ্ত বিশ্লেষণাত্মক বর্ণনা প্রদান করেছেন। এরপর তিনি সেইসব প্রধান দলিলসমূহ (أدلة) উপস্থাপন ও বিশ্লেষণ করেছেন যা দ্বারা আলেমগণ কোরআনের সংকলিত বিন্যাসটি ওহি বা প্রত্যাদেশভিত্তিক (توقيفي) হওয়ার প্রমাণ দিয়েছেন। পরিশেষে তিনি কোরআনের সংকলিত ক্রমের (ترتيب مصحفي) বিপরীতে অবতীর্ণ হওয়ার ক্রম (ترتيب نزولي) অনুসরণ করার বিরোধিতার সূচনা নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে এই অধ্যায়টি সমাপ্ত করেছেন।
(খণ্ড: ৭৩)
সারীহুল মা'কুল আল-মুওয়াফিক লিসারীহিল মানকুল ফী মুনাক্বাশাতি সালাসাতি তাফাসীর রুত্তিাবাত আলা তারতীবিন নুযূল
(পৃষ্ঠা: ৪৫)
النزولي وبيان مصدره مبيّنًا وواصفًا له وصفًا تحليليًا دقيقًا مبيّنًا فيه أول من خالف وعارض الترتيب المصحفي بالترتيب النزولي، ثم ثنَّى بذكر أبرز المستشرقين الداعين لإعادة ترتيب القرآن ترتيبًا نزوليًا، ثم ثلث وختم بذكر أبرز من تأثر بالمستشرقين من المعاصرين.
أما الفصل الثاني: فقد قام الباحث بعرض التفاسير الثلاثة، ثم تناول وصف كل تفسير منها وصفًا تحليليًا مناسبًا لمقتضى الحال مبينًا فيه التعريف بالتفسير ومؤلفه ومنهجه وعقيدته، ثم عرَّج على دوافع مخالفته للترتيب المصحفي وجنوحه للترتيب النزولي، ثم بعد وصفه لتلك الدوافع قام بتحليها تحليلًا وصفيًا مفندًا فيه تلك الدوافع بالوصف اللائق بكل دافع منها بما يقتضيه المقام، ثم بين الباحث أن الأهداف التي رامها مُفْتَتِحُو تغيير الترتيب المصحفي بالترتيب النزولي لم تتحقق لهم، ثم ختم ببيان وجوب احترام الترتيب المصحفي وعدم التعرض له، والتصدي لمن تعرض له.
الفصل الأول توقيف الترتيب المصحفي للآيات والسور
المبحث الأول: بيان أن ترتيب الآيات في السور توقيفيوفيه مطلبان:
إن الترتيب المصحفي هو الذي استقرت عليه العرضة الأخيرة الموافقة لما هو مثبتٌ في اللوح المحفوظ، وهو الترتيب الذي استقر عليه الجمع البكري لأول جمع للقرآن بين لوحين، وهو الترتيب الذي استقر عليه المصحف الإمام في الجمع العثماني، وهو الترتيب الموافق للصحف العثمانية التي بعث بها الخليفةُ الراشدُ عثمانُ رضي الله عنه إلى الأمصار.
والترتيب المصحفي يشتمل على أمرين:
المطلب الأول: الأمر الأول: ترتيب الآيات في السورفلا شك في أن ترتيب الآيات في السور أمر توقيفي لا مجال للاجتهاد فيه البتة:
قال الزركشي (ت: 794 هـ) رحمه الله:
فأما الآيات في كل سورة، ووضع البسملة في أوائلها، فترتيبها توقيفي بلا شك، ولا خلاف فيه، ولهذا لا يجوز تعكيسها.
(1)وقال السيوطي (ت: 911 هـ) رحمه الله:
الإجماع والنصوص المترادفة على أن ترتيب الآيات توقيفي لا شبهة في ذلك، وأما الإجماع فنقله غير واحد منهم الزركشي في البرهان، وأبو جعفر بن الزبير في مناسباته وعبارته: ترتيب الآيات في سورها واقع بتوقيفه صلى الله عليه وسلم وأمره من غير خلاف في هذا بين المسلمين.
(2)ويقول السيوطي (ت: 911 هـ) - أيضًا-رحمه الله:
"والذي نذهب إليه أن جميع القرآن الذي أنزله الله وأمر بإثبات رسمه، ولم ينسخه، ولا رفع تلاوته بعد نزوله، هو الذي بين
--------------------------------------------
অবতীর্ণ হওয়ার ক্রম (النزولي) এবং এর উৎসের বর্ণনা প্রদান করেছেন, যেখানে তিনি এর একটি সূক্ষ্ম ও বিশ্লেষণাত্মক বর্ণনা তুলে ধরেছেন। এতে তিনি মুসহাফের ক্রমবিন্যাসের (الترتيب المصحفي) বিপরীতে অবতীর্ণ হওয়ার ক্রমকে (الترتيب النزولي) অগ্রাধিকার দিয়ে প্রথম কে ভিন্নমত পোষণ ও বিরোধিতা করেছিলেন তা স্পষ্ট করেছেন। এরপর তিনি অবতীর্ণ হওয়ার ক্রম অনুযায়ী কুরআন পুনরায় বিন্যাস করার আহ্বানকারী প্রধান প্রাচ্যবিদদের কথা উল্লেখ করেছেন। পরিশেষে তিনি সমকালীনদের মধ্যে যারা প্রাচ্যবিদদের দ্বারা প্রভাবিত হয়েছেন তাদের প্রধানদের বর্ণনার মাধ্যমে আলোচনা শেষ করেছেন।
দ্বিতীয় অধ্যায়: এতে গবেষক তিনটি তাফসির উপস্থাপন করেছেন। এরপর প্রতিটি তাফসিরের যথাযথ বিশ্লেষণাত্মক বর্ণনা দিয়েছেন, যেখানে তাফসিরের পরিচিতি, লেখক, পদ্ধতি এবং আকিদা (عقيدة) তুলে ধরেছেন। এরপর তিনি মুসহাফের ক্রমবিন্যাস পরিহার করে অবতীর্ণ হওয়ার ক্রমের দিকে ঝুঁকে পড়ার কারণগুলো নিয়ে আলোচনা করেছেন। এই কারণগুলো বর্ণনার পর তিনি সেগুলোর একটি বর্ণনামূলক বিশ্লেষণ করেছেন এবং প্রতিটি কারণকে উপযুক্ত যুক্তি দিয়ে খণ্ডন করেছেন। এরপর গবেষক দেখিয়েছেন যে, যারা মুসহাফের ক্রমবিন্যাসের পরিবর্তে অবতীর্ণ হওয়ার ক্রম প্রবর্তন করার লক্ষ্য নিয়েছিলেন, তারা সফল হননি। পরিশেষে তিনি মুসহাফের ক্রমবিন্যাসের প্রতি সম্মান বজায় রাখা এবং এতে কোনো প্রকার হস্তক্ষেপ না করার আবশ্যকতা এবং যারা এর বিরোধিতা করে তাদের প্রতিহত করার বিষয়টি উল্লেখ করে সমাপ্তি টেনেছেন।
প্রথম অধ্যায়: আয়াত ও সূরার ক্ষেত্রে মুসহাফের ক্রমবিন্যাস ওহী দ্বারা নির্ধারিত (توقيف)
প্রথম পরিচ্ছেদ: সূরাসমূহে আয়াতের বিন্যাস ওহী দ্বারা নির্ধারিত (توقيفي) হওয়ার বর্ণনাএতে দুটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:
মুসহাফের বর্তমান ক্রমবিন্যাস সেই সর্বশেষ পেশকৃত পাঠের (العرضة الأخيرة) ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত, যা লওহে মাহফুজে (اللوح المحفوظ) সংরক্ষিত বিষয়ের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এটি সেই বিন্যাস যার ওপর ভিত্তি করে আবু বকর (রা.)-এর সময় প্রথমবার কুরআন দুই মলাটের মাঝে সংকলিত হয়েছিল। এটি সেই বিন্যাস যা উসমানী সংকলনের সময় 'মুসহাফে ইমাম'-এ স্থির করা হয়েছিল এবং এটি সেই উসমানী পাণ্ডুলিপিগুলোর অনুরূপ যা খলিফা রাশেদ উসমান (রা.) বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠিয়েছিলেন।
মুসহাফের ক্রমবিন্যাস দুটি বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে:
প্রথম অনুচ্ছেদ: প্রথম বিষয়: সূরাসমূহে আয়াতের বিন্যাসএতে কোনো সন্দেহ নেই যে, সূরাসমূহের আয়াতের বিন্যাস ওহী দ্বারা নির্ধারিত (توقيفي) একটি বিষয়, যাতে ব্যক্তিগত গবেষণার (اجتهاد) কোনো অবকাশ নেই:
ইমাম যারকাশী (রহ.) (মৃত্যু: ৭৯৪ হিজরি) বলেন:
"প্রতিটি সূরার আয়াতসমূহ এবং এর শুরুতে বিসমিল্লাহর অবস্থান—এর বিন্যাস নিঃসন্দেহে ওহী দ্বারা নির্ধারিত (توقيفي)। এতে কোনো দ্বিমত নেই। এই কারণে এর বিপরীত ক্রম অনুসরণ করা বৈধ (يجوز) নয়।"
(১)ইমাম সুয়ূতী (রহ.) (মৃত্যু: ৯১১ হিজরি) বলেন:
"আয়াতসমূহের বিন্যাস যে ওহী দ্বারা নির্ধারিত (توقيفي), সে বিষয়ে ইজমা (إجماع) ও অসংখ্য বর্ণনা (النصوص المترادفة) বিদ্যমান, এতে কোনো সংশয় নেই। ইজমার (إجماع) বিষয়টি যারকাশী তাঁর 'আল-বুরহান' গ্রন্থে এবং আবু জাফর ইবনুল জুবাইর তাঁর 'মুনাসাবাত' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। তাঁর বক্তব্য হলো: সূরাসমূহে আয়াতগুলোর বিন্যাস রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর পক্ষ থেকে নির্ধারিত (بتوقيفه) এবং তাঁর নির্দেশে সম্পন্ন হয়েছে; এ বিষয়ে মুসলমানদের মধ্যে কোনো মতভেদ (خلاف) নেই।"
(২)ইমাম সুয়ূতী (রহ.) (মৃত্যু: ৯১১ হিজরি) আরও বলেন:
"আমরা যে মতটি পোষণ করি তা হলো, সম্পূর্ণ কুরআন যা আল্লাহ অবতীর্ণ করেছেন এবং যার লিপি ধরে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন, যা তিনি মানসুখ (نسخ) করেননি এবং অবতীর্ণ হওয়ার পর যার তিলাওয়াত রহিত করেননি, তা-ই বর্তমানে বিদ্যমান..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ৭৩)
সারীহুল মা'কুল আল-মুওয়াফিক লিসারীহিল মানকুল ফী মুনাক্বাশাতি সালাসাতি তাফাসীর রুত্তিাবাত আলা তারতীবিন নুযূল
(পৃষ্ঠা: ৪৬)
الدفتين، الذي حواه مصحف عثمان، وأنه لم ينقص منه شيئًا، ولا زيد فيه، وأن ترتيبه، ونظمه ثابت على ما نظمه الله تعالى، ورتبه عليه رسوله صلى الله عليه وسلم من آي السور، لم يقدم من ذلك مؤخر ولم يؤخر مقدم".
(1)وقال الزرقاني (ت: 1367 هـ) رحمه الله:
ولقد" انعقد إجماع العلماء على أن ترتيب الآيات في السورة كان بتوقيف من النبي صلى الله عليه وسلم-عن الله عز وجل، وأنه لا مَجال للرأي والاجتهاد فيه، ولم يُعْلَم في ذلك مُخالفٌ".
(2)وممن قال بالإجماع الذي حكاه السيوطي والزرقاني كذلك كل من:
1 - ابن قدامة المقدسي (ت 620 هـ) حيث يقول- رحمه الله:
ترتيب الآيات واجب؛ لأن ترتيبها بالنص إجماعًا.
(3)2 - وأبو جعفر الغرناطي (ت 708 هـ) حيث يقول- رحمه الله:
اعلم أولاً أن ترتيب الآيات في سورها وقع بتوقيفه وأمره-صلى الله عليه وسلم، من غير خلاف في هذا بين المسلمين.
(4)3 - والملا على القاري (ت 1014 هـ) حيث يقول- رحمه الله:
ترتيب الآيات توقيفي، وعليه الإجماع.
(5)4 - وشهاب الدين النفراوي (ت: 1127 هـ) حيث يقول- رحمه الله:
ترتيب الآيات توقيفي اتفاقًا.
(6)وقد دل على ذلك أيضًا أدلة كثيرة من السنة الصحيحة الثابتة عن المعصوم صلى الله عليه وسلم-وهي أكثر من أن تُحصى ونذكر منها على سبيل المثال لا الحصر ما يلي:
1 - منها ما أخرجه البخاري في صحيحه عَنْ ابْنِ أَبِي مُلَيْكَةَ قَالَ قَالَ ابْنُ الزُّبَيْرِ قُلْتُ لِعُثْمَانَ هَذِهِ الْآيَةُ الَّتِي فِي الْبَقَرَةِ (وَالَّذِينَ يُتَوَفَّوْنَ مِنْكُمْ وَيَذَرُونَ أَزْوَاجًا) إِلَى قَوْلِهِ (غَيْرَ إِخْرَاجٍ) (البقرة من آية: 240) قَدْ نَسَخَتْهَا الأُخْرَى فَلِمَ تَكْتُبُهَا قَالَ تَدَعُهَا يَا ابْنَ أَخِي لا أُغَيِّرُ شَيْئًا مِنْهُ مِنْ مَكَانِهِ.
(7).
فردُ عثمانَ بن عفان على ابْن الزُّبَيْرِ يُفهم منه أنهم-رضي الله عنهم أجمعين- يعلمون أماكن ترتيب الآيات فتَرَكَهَا عثمان مكانها مثبتةً لأن القرينة تدل عليها، ولأنه هو الذي تعلموه وهو المعمول به لديهم.
2 - ومنها ما رواه مسلم في صحيحه عن عمر قال ما سألت النبي صلى الله عليه وسلم عن شيء أكثر مما سألته عن الكلالة حتى طعن بإصبعه في صدري وقال ألا تكفيك آية الصّيْف التي في آخر سورة النساء.
(8)فآية الكلالة مكانها في نهاية سورة النساء وخواتيمها، ولما سأل عمرُ رضي الله عنه رسولَ الله صلى الله عليه وسلم أرشده إلى مكانها في آخر السورة.
ومن هنا يتبين لنا أمران:
--------------------------------------------
"...দুই মলাটের মধ্যবর্তী স্থান, যা উসমান (রা.)-এর মাসহাফ ধারণ করেছে; এর থেকে কিছুই কমানো হয়নি এবং এতে কিছুই বাড়ানো হয়নি। এর বিন্যাস (ترتيب) ও পদ্ধতি মহান আল্লাহ যেভাবে নির্ধারণ করেছেন এবং তাঁর রাসূল (সা.) সূরার আয়াতসমূহের ক্ষেত্রে যেভাবে বিন্যস্ত করেছেন, সেভাবেই তা সুপ্রতিষ্ঠিত। এতে পরবর্তী কোনো বিষয়কে আগে আনা হয়নি এবং পূর্ববর্তী কোনো বিষয়কে পেছনে নেওয়া হয়নি।"
(১)যারকানি (মৃত্যু: ১৩৬৭ হি.) রহ. বলেন:
"নিশ্চয়ই উলামায়ে কেরামের ঐক্যমত (إجماع) প্রতিষ্ঠিত হয়েছে যে, সূরার ভেতরে আয়াতসমূহের বিন্যাস (ترتيب) নবী (সা.)-এর পক্ষ থেকে মহান আল্লাহর নির্দেশিত (توقيف) ছিল। আর এতে ব্যক্তিগত মত (رأي) বা গবেষণার (اجتهاد) কোনো অবকাশ নেই। এ বিষয়ে কোনো বিরোধকারীর কথা জানা নেই।"
(২)সুয়ূতি ও যারকানি বর্ণিত এই ঐক্যমতের (إجماع) কথা আরও যারা বলেছেন, তাঁরা হলেন:
১ - ইবনে কুদামা আল-মাকদিসি (মৃত্যু: ৬২০ হি.), তিনি বলেন—রহ.:
আয়াতসমূহের বিন্যাস (ترتيب) ওয়াজিব; কারণ এর বিন্যাস অকাট্য দলীল (نص) দ্বারা ঐক্যমত (إجماع) ভিত্তিক প্রমাণিত।
(৩)২ - আবু জাফর আল-গারনাতি (মৃত্যু: ৭০৮ হি.), তিনি বলেন—রহ.:
প্রথমে জেনে রাখুন যে, সূরার ভেতরে আয়াতসমূহের বিন্যাস (ترتيب) নবী (সা.)-এর বর্ণনা ও নির্দেশ (توقيف) অনুযায়ী হয়েছে; এ বিষয়ে মুসলিমদের মধ্যে কোনো মতভেদ নেই।
(৪)৩ - মোল্লা আলী আল-কারী (মৃত্যু: ১০১৪ হি.), তিনি বলেন—রহ.:
আয়াতসমূহের বিন্যাস নবী (সা.)-এর নির্দেশিত (توقيفي), এবং এর ওপর ঐক্যমত (إجماع) রয়েছে।
(৫)৪ - শিহাবুদ্দিন আল-নাফরাওয়ি (মৃত্যু: ১১২৭ হি.), তিনি বলেন—রহ.:
আয়াতসমূহের বিন্যাস সর্বসম্মতভাবে (اتفاقاً) নবী (সা.)-এর নির্দেশিত (توقيفي)।
(৬)নিস্পাপ নবী (সা.) থেকে বর্ণিত সাব্যস্ত ও বিশুদ্ধ (صحيحة) সুন্নাহর অনেক দলীলও এর ওপর প্রমাণ পেশ করে। সেগুলো গণনা করে শেষ করা সম্ভব নয়, তবে উদাহরণস্বরূপ আমরা নিচে কয়েকটি উল্লেখ করছি:
১ - তন্মধ্যে একটি হলো যা সহিহ বুখারি-তে ইবনে আবি মুলাইকা থেকে বর্ণিত হয়েছে; তিনি বলেন, ইবনুল জুবাইর (রা.) উসমান (রা.)-কে বললেন: "সূরা বাকারার এই আয়াতটি—(আর তোমাদের মধ্যে যারা মৃত্যুবরণ করবে এবং স্ত্রীদের রেখে যাবে...) থেকে (বের করে না দিয়ে...) পর্যন্ত (সূরা বাকারা: ২৪০)—অন্য আয়াত দ্বারা রহিত (نسختها) হয়েছে, তবে কেন আপনি এটি লিখছেন?" তিনি বললেন: "হে ভ্রাতুষ্পুত্র! তুমি এটি থাকতে দাও, আমি এর কোনো কিছু তার নির্দিষ্ট স্থান থেকে পরিবর্তন করব না।"
(৭).
ইবনুল জুবাইর (রা.)-কে দেওয়া উসমান ইবনে আফফান (রা.)-এর এই উত্তর থেকে বোঝা যায় যে, তাঁরা (সাহাবীগণ)—আল্লাহ তাঁদের সকলের ওপর সন্তুষ্ট হন—আয়াতসমূহের বিন্যাসের (ترتيب) স্থানসমূহ জানতেন। ফলে উসমান (রা.) তা তার নিজ স্থানেই বহাল রাখেন, কারণ আনুষঙ্গিক প্রমাণাদি এর প্রতিই নির্দেশ করে এবং এটিই তাঁরা শিখেছেন ও তাঁদের নিকট আমলযোগ্য ছিল।
২ - আরেকটি হলো যা সহিহ মুসলিম-এ উমর (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে; তিনি বলেন: "আমি নবী (সা.)-কে কালালাহ (উত্তরাধিকার সংক্রান্ত মাসয়ালা) সম্পর্কে যতটা জিজ্ঞেস করেছি, অন্য কোনো বিষয়ে ততটা জিজ্ঞেস করিনি। এমনকি তিনি তাঁর আঙুল দিয়ে আমার বুকে মৃদু আঘাত করলেন এবং বললেন: সূরা নিসার শেষে অবস্থিত গ্রীষ্মকালীন আয়াতটি (آية الصيف) কি তোমার জন্য যথেষ্ট নয়?"
(৮)কালালাহ সংক্রান্ত আয়াতের স্থান হলো সূরা নিসার একদম শেষ ভাগে। যখন উমর (রা.) রাসূল (সা.)-কে জিজ্ঞেস করেছিলেন, তখন তিনি তাঁকে সূরার শেষে এর অবস্থানের দিকেই দিকনির্দেশনা দিয়েছিলেন।
এখান থেকে আমাদের সামনে দুটি বিষয় স্পষ্ট হয়:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ৭৩)
সারীহুল মা'কুল আল-মুওয়াফিক লিসারীহিল মানকুল ফী মুনাক্বাশাতি সালাসাতি তাফাসীর রুত্তিাবাত আলা তারতীবিন নুযূল
(পৃষ্ঠা: ৪৭)
الأمر الأول: أن آيات السورة مرتبة ومتتابعة من أولها وحتى آخرها.
والأمر الثاني: أن ترتيب الآيات كان مما يُعَلِّمه النبيُ صلى الله عليه وسلم أصحابهَ الكرام رضي الله عنهم.
3 - ومنها ما رواه مسلم في صحيحه عن أبي الدرداء مرفوعًا من حفظ عشر آيات من أول الكهف عصم من الدجال وفي لفظ عنده من قرأ العشر الأواخر من سورة الكهف.
(1)فقوله: (من أول الكهف) وقوله: (العشر الأواخر) واضح الدلالة على ترتيب آيات السورة كما هو شأن آيات القرآن قاطبة.
وكذلك" قراءته صلى الله عليه وسلم للسور المختلفة بمشهد من الصحابة يدلّ على أن ترتيب آياتها توقيفي وما كان الصحابة ليرتبوا ترتيبًا سمعوا النبي- صلى الله عليه وسلم يقرأ على خلافة فبلغ ذلك مبلغ التواتر. "
(2)4 - ومنها ما ثبت عند البخاري من حديث عائشة رضي الله عنها، (أنها) قالت: سمع النبيُ صلى الله عليه وسلم رجلاً يقرأ في المسجد، فقال: "رحمه الله، لقد أَذْكَرَنِي كذا وكذا آية، أَسْقَطْتُهُنَّ من سورة كذا، وكذا"
(3).
فهذا الحديث وأضرابه مما يُستدل به على تعليمه صلى الله عليه وسلم أصحابه- رضوان الله عليهم- أماكن الآيات وترتيبها في السور وأنه أمر توقيفي لا محيد عنه ولا محيص.
وهناك أدلة كثيرة جدًا تقرر هذه المسألة، فسماع النبي صلى الله عليه وسلم للقرآن من أصحابه مرتب الآيات وإقراره صلى الله عليه وسلم لقراءتهم، وكذلك صلاته بهم على مدار مرحلة نزول القرآن في ثلاث وعشرين سنة وقد تكرر ذلك تكرارًا ومرارًا وهو معلوم في دواوين السنة، ففي الإشارة إليه غنية وكفاية.
ومن أراد زيادة فائدة في هذا الباب فليراجع فضائل قراءة بعض آيات من القرآن بعينها في مظانها من كتب السنة كفضل فاتحة الكتاب وهي أكثر من أن تحصى، وكفضائل الآيتين الآخرتين من سورة البقرة
(4)، وكفضل العشر آيات الأُول من سورة الكهف
(5) وكذلك ما واظب رسول الله صلى الله عليه وسلم على قراءته لبعض سور القرآن ولم يغير في آياتها أي شيء، لا بتقديم ولا بتأخير، وذلك كقراءته لسور البقرة، والنساء، وآل عمران، وقراءته، لسورة "ق" في العيد.
(6) وكذلك من فوق المنبر وفي الصلاة كذلك، كما كان يقرأ بـ"المنافقون" في الجمعة
(7).
والنبي صلى الله عليه وسلم مع مواظبته على قراءة هذه السور والآيات فقد واظب صلى الله عليه وسلم كذلك على ترتيبها، فإنه لا يُعلم عنه صلى الله عليه وسلم أنه غيَّر شيئًا منها البتة.
ولا ريب أن فعله صلى الله عليه وسلم هذا من أوضح البراهين على أن هذا الترتيب هو ما وافق ترتيبه في اللوح المحفوظ والذي تلقاه عن جبريل-عليه السلام.
--------------------------------------------
প্রথম বিষয়: সূরার আয়াতসমূহ শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ক্রমানুসারী ও পরস্পর অনুগামী হিসেবে বিন্যস্ত।
দ্বিতীয় বিষয়: আয়াতসমূহের ধারাবাহিক বিন্যাস এমন একটি বিষয় ছিল, যা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর সম্মানিত সাহাবীগণকে (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) শিক্ষা দিতেন।
৩ - এ সংক্রান্ত দলিলের অন্তর্ভুক্ত হলো যা ইমাম মুসলিম তাঁর সহীহ গ্রন্থে আবু দারদা থেকে বর্ণিত (مرفوعًا) সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে, "যে ব্যক্তি সূরা কাহাফের প্রথম দশটি আয়াত মুখস্থ করবে তাকে দাজ্জাল থেকে রক্ষা করা হবে।" তাঁর অন্য একটি শব্দে বর্ণিত বর্ণনায় রয়েছে, "যে ব্যক্তি সূরা কাহাফের শেষ দশটি আয়াত পাঠ করবে।"
(১)সুতরাং তাঁর বাণী: "কাহাফের শুরু থেকে" এবং "শেষ দশ আয়াত" কথাটি সূরার আয়াতসমূহের বিন্যাস ব্যবস্থার ওপর সুষ্পষ্ট প্রমাণ বহন করে, যেমনটি সমগ্র কুরআনের আয়াতসমূহের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
অনুরূপভাবে "সাহাবীগণের উপস্থিতিতে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কর্তৃক বিভিন্ন সূরা পাঠ করা একথার প্রমাণ দেয় যে, সেগুলোর আয়াতসমূহের বিন্যাস সুনির্ধারিত ও অপরিবর্তনীয় (توقيفي)। সাহাবীগণ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে যেভাবে পাঠ করতে শুনেছেন তার বিপরীতে বিন্যাস করার অবকাশ ছিল না, ফলে বিষয়টি মুতাওয়াতির (التواتر) পর্যায়ে পৌঁছেছে।"
(২)৪ - এ বিষয়ে সহীহ বুখারীতে আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত একটি হাদিস প্রমাণিত আছে, তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এক ব্যক্তিকে মসজিদে তিলাওয়াত করতে শুনলেন এবং বললেন: "আল্লাহ তাকে রহম করুন, সে আমাকে অমুক অমুক আয়াত স্মরণ করিয়ে দিয়েছে যা আমি অমুক অমুক সূরা থেকে বাদ দিয়ে ফেলেছিলাম।"
(৩)এই হাদিস এবং এর অনুরূপ হাদিসগুলো দ্বারা একথার দলিল পেশ করা হয় যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর সাহাবীগণকে (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) সূরার মধ্যে আয়াতসমূহের স্থান ও বিন্যাস শিক্ষা দিতেন এবং এটি ছিল একটি সুনির্ধারিত (توقيفي) বিষয় যা থেকে বিচ্যুত হওয়ার বা অন্য কোনো পথ অবলম্বনের সুযোগ নেই।
এই বিষয়টি সাব্যস্ত করার জন্য আরও অনেক দলিল রয়েছে। যেমন, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কর্তৃক সাহাবীগণের থেকে ধারাবাহিকভাবে বিন্যস্ত আয়াতের কুরআন শ্রবণ করা এবং তাঁদের তিলাওয়াতের প্রতি তাঁর মৌন সম্মতি প্রদান; অনুরূপভাবে তেইশ বছরের ওহী অবতরণের পর্যায়গুলোতে সাহাবীগণের সাথে তাঁর সালাত আদায়—যা বারবার এবং বারবার ঘটেছে এবং যা সুন্নাহর সংকলনগুলোতে সুপরিচিত। সুতরাং এ বিষয়ে ইঙ্গিত দেওয়াই যথেষ্ট ও প্রয়োজন পূরণে সক্ষম।
যারা এই বিষয়ে অতিরিক্ত তথ্য পেতে চান, তারা সুন্নাহর গ্রন্থসমূহ থেকে নির্দিষ্ট কিছু আয়াতের ফজিলত অনুসন্ধান করতে পারেন, যেমন সূরা ফাতিহার ফজিলত যা গণনার ঊর্ধ্বে, সূরা বাকারার শেষ দুই আয়াতের ফজিলত
(৪) এবং সূরা কাহাফের প্রথম দশ আয়াতের ফজিলত
(৫)। অনুরূপভাবে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নিয়মিত যে সকল সূরা পাঠ করতেন এবং সেগুলোর আয়াতের বিন্যাসে আগে-পিছে করে কোনো পরিবর্তন করতেন না, যেমন সূরা বাকারা, নিসা ও আলে ইমরানের তিলাওয়াত। এছাড়া ঈদে এবং মিম্বরের ওপর ও সালাতে সূরা "ক্বাফ" তিলাওয়াত
(৬) এবং জুমুআর দিনে সালাতে সূরা "মুনাফিকুন" পাঠ করা
(৭)।
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এই সকল সূরা ও আয়াত নিয়মিত পাঠ করার পাশাপাশি সেগুলোর বিন্যাসও নিয়মিত অপরিবর্তিত রাখতেন; কেননা তাঁর থেকে কোনোভাবেই এগুলোর কোনো কিছু পরিবর্তন করার কথা জানা যায়নি।
নিঃসন্দেহে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর এই আমলটি সবচেয়ে স্পষ্ট দলিলগুলোর অন্তর্ভুক্ত যে, এই বিন্যাস লওহে মাহফুজের বিন্যাসের অনুরূপ যা তিনি জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম)-এর কাছ থেকে লাভ করেছিলেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ৭৩)
সারীহুল মা'কুল আল-মুওয়াফিক লিসারীহিল মানকুল ফী মুনাক্বাশাতি সালাসাতি তাফাসীর রুত্তিাবাত আলা তারতীবিন নুযূল
(পৃষ্ঠা: ৪৮)
أدلة أخرى تؤكد على أن ترتيب الآيات توقيفي:
ومما يؤكد على أن ترتيب الآيات ترتيب توقيفي كذلك ويبرهن عليه نزول عدد من سور القرآن جملة ودفعة واحدة.
المطلب الثاني: وأما الأمر الثاني: فهو ترتيب السور وفق الترتيب المصحفيقد مر معنا آنفًا القطع بأن ترتيب الآيات في السور أمر توقيفي لا مجال للاجتهاد فيه البتة، وأما ترتيب السور وفق الترتيب المصحفي فمسألة تنازع فيه العلماء، وسيعرض الباحث الأقوال الواردة في ترتيب السور مع الترجيح بينها، وسيكون ذكر ذلك مفصلًا في موضعه المناسب في مبحث خاص من هذا الفصل ألا وهو المبحث الثالث: مذاهب العلماء وخلافهم في ترتيب السور.
المبحث الثاني: من أوضح الأدلة على أن ترتيب الآيات في السور توقيفي نزول، بعض السور جملة واحدةوفيه مطلبان:
المطلب الأول: ذكر جملة من السور التي نزلت جملة واحدةمن الأدلة الواضحة الجلية على أن ترتيب الآيات في السور توقيفي نزول بعض السورة جملة واحدة.
وفي تقسيم نزول سور القرآن يذكر السيوطي النوع الثاني، وهو النوع الذي نزل جملة واحدة فيقول- رحمه الله:
"
… وَمِنْ أَمْثِلَةِ الثَّانِي: سُورَةُ الْفَاتِحَةِ وَالْإِخْلَاصِ وَالْكَوْثَرِ وَتَبَّتْ وَلَمْ يَكُنْ وَالنَّصْرُ وَالْمُعَوِّذَتَانِ نَزَلَتَا مَعًا. وَمِنْهُ سُورَةُ الصَّفِّ.
(1)ونسوق بعض الأدلة الصحيحة الثابتة في نزول بعض السور جملة واحدة، فمن تلك السور التي نزلت جملة واحدة سورة براءة
فقد روى البخاري في صحيحه عَنِ البَرَاءِ-رضي الله عنه، قَالَ: " آخِرُ سُورَةٍ نَزَلَتْ كَامِلَةً بَرَاءَةٌ".
(2)وقد رواه البخاري كذلك
(3) بلفظ: " آخِرُ سُورَةٍ نَزَلَتْ بَرَاءَةَ
… "
دون لفظة " كاملة ".
وقد ذهب بعض العلماء إلى أن سورة براءة نزلت مفرقة ولم تنزل جملة واحدة مدعين عدم صحة لفظة "كاملة ".
قال بدر الدين العيني (ت: 855 هـ) رحمه الله:
"قَوْله: (كَامِلَة) قَالَ الدَّاودِيّ: لفظ: كَامِلَة، لَيْسَ بِشَيْء لِأَن بَرَاءَة نزلت شَيْئًا بعد شَيْء، قلت: وَلِهَذَا لم يذكر لفظ: كَامِلَة، فِي هَذَا الحَدِيث فِي التَّفْسِير، وَلَفظه هُنَاكَ: آخر سُورَة نزلت بَرَاءَة ".
(4)ولكن الطاهر بن عاشور ذكر في "التحرير والتنوير" أنها نزلت دفعة واحدة وقد عزا هذا القول لجمهور العلماء.
(5)ومن تلك السور التي نزلت جملة واحدة كذلك سورة الفتح:
فقد روى البخاري في صحيحه عن عمر- رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قَالَ: (لَقَدْ أُنْزِلَتْ عَلَيَّ اللَّيْلَةَ سُورَةٌ، لَهِيَ أَحَبُّ إِلَيَّ مِمَّا طَلَعَتْ عَلَيْهِ الشَّمْسُ) ثُمَّ قَرَأَ: (إِنَّا فَتَحْنَا لَكَ فَتْحًا مُبِينًا) (الفتح: 1).
(6)ومن تلك السور التي نزلت جملة واحدة كذلك سورة البينة:
فعَنْ عَمَّارِ بْنِ أَبِي عَمَّارٍ، قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا حَبَّةَ الْبَدْرِيَّ، قَالَ: لَمَّا نَزَلَتْ: (لَمْ يَكُنِ الَّذِينَ كَفَرُوا مِنْ أَهْلِ الْكِتَاب) [البينة: 1] إِلَى آخِرِهَا، قَالَ جِبْرِيلُ-عليه السلام: يَا رَسُولَ اللهِ، إِنَّ رَبَّكَ يَأْمُرُكَ أَنْ تُقْرِئَهَا أُبَيًّا، فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم لِأُبَيٍّ: (إِنَّ جِبْرِيلَ أَمَرَنِي أَنْ أُقْرِئَكَ هَذِهِ السُّورَةَ) قَالَ أُبَيٌّ: وَقَدْ ذُكِرْتُ ثَمَّ يَا رَسُولَ اللهِ؟ قَالَ: (نَعَمْ) قَالَ: فَبَكَى أُبَيٌّ.
(7)--------------------------------------------
আয়াতসমূহের বিন্যাস তাওকিফি (توقيفي) হওয়ার সপক্ষে অন্যান্য প্রমাণ:
আয়াতসমূহের বিন্যাস যে তাওকিফি (توقيفي) তথা আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত, তা আরও নিশ্চিত করে এবং এর প্রমাণ হিসেবে কাজ করে কুরআনের বেশ কিছু সূরা একত্রে এবং একবারে অবতীর্ণ হওয়া।
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: আর দ্বিতীয় বিষয়টি হলো: মাসহাফের বিন্যাস অনুযায়ী সূরাসমূহের ক্রমবিন্যাসইতিপূর্বে আমাদের নিকট এটি সুনিশ্চিত হয়েছে যে, সূরাসমূহের অভ্যন্তরে আয়াতসমূহের বিন্যাস হলো একটি তাওকিফি (توقيفي) বিষয়, যাতে ইজতিহাদ (اجتهاد) বা ব্যক্তিগত গবেষণার কোনো অবকাশ নেই। তবে মাসহাফের বিন্যাস অনুযায়ী সূরাসমূহের ক্রমবিন্যাসের বিষয়টি এমন এক মাসআলা যা নিয়ে আলেমদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। গবেষক সূরাসমূহের বিন্যাস সম্পর্কিত বর্ণিত মতামতগুলো এগুলোর মধ্যে প্রাধান্যযোগ্য মতের (তারজিহ) উল্লেখসহ উপস্থাপন করবেন। এই পরিচ্ছেদের একটি নির্দিষ্ট অংশে তথা তৃতীয় পরিচ্ছেদে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে, যা হলো: সূরাসমূহের বিন্যাস নিয়ে আলেমদের মাযহাব (مذاهب) এবং তাদের মধ্যকার মতভেদ।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: সূরাসমূহের মধ্যে আয়াতসমূহের বিন্যাস তাওকিফি (توقيفي) হওয়ার অন্যতম স্পষ্ট দলিল হলো কিছু সূরার একত্রে অবতীর্ণ হওয়াএতে দুটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম অনুচ্ছেদ: একত্রে অবতীর্ণ সূরাসমূহের একটি সংকলনসূরাসমূহের মধ্যে আয়াতসমূহের বিন্যাস যে তাওকিফি (توقيفي), তার অন্যতম স্পষ্ট ও উজ্জ্বল প্রমাণ হলো কিছু সূরার একত্রে অবতীর্ণ হওয়া।
কুরআনের সূরাসমূহের অবতরণ বিভাজনের ক্ষেত্রে ইমাম সুয়ূতী দ্বিতীয় প্রকারের উল্লেখ করেছেন, যা হলো সেই প্রকারের সূরা যা একত্রে অবতীর্ণ হয়েছে। তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) বলেন—
"
… আর দ্বিতীয় প্রকারের উদাহরণ হলো: সূরা আল-ফাতিহা, আল-ইখলাস, আল-কাওসার, লাহ্যাব (তাব্বাত), আল-বায়্যিনাহ (লাম ইয়াকুন), আন-নাসর এবং মুআওবিজাতাইন (সূরা ফালাক ও নাস), যা একত্রে অবতীর্ণ হয়েছে। এর অন্তর্ভুক্ত হলো সূরা আস-সাফ।
(1)আমরা কিছু সহিহ (صحيح) ও প্রমাণিত দলিল পেশ করছি যা কিছু সূরার একত্রে অবতীর্ণ হওয়ার প্রমাণ দেয়। এই একত্রে অবতীর্ণ সূরাসমূহের মধ্যে অন্যতম হলো সূরা বারাআহ (আত-তাওবাহ)।
ইমাম বুখারি তাঁর সহিহ গ্রন্থে বারা ইবনে আযিব (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "সর্বশেষ পূর্ণাঙ্গ (كاملة) সূরা হিসেবে যা অবতীর্ণ হয়েছে তা হলো বারাআহ।"
(2)ইমাম বুখারি এটি একইভাবে
(3) এই শব্দে বর্ণনা করেছেন: "সর্বশেষ অবতীর্ণ সূরা হলো বারাআহ
… "
যেখানে "পূর্ণাঙ্গ" (كاملة) শব্দটি নেই।
কিছু আলেম মনে করেন যে, সূরা বারাআহ খণ্ড খণ্ডভাবে অবতীর্ণ হয়েছে এবং এটি একত্রে অবতীর্ণ হয়নি; তারা "পূর্ণাঙ্গ" (كاملة) শব্দটির বিশুদ্ধতা বা সহিহ (صحيح) হওয়া নিয়ে আপত্তি তুলেছেন।
বদরুদ্দিন আইনি (মৃত্যু: ৮৫৫ হি.) (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) বলেন:
"তাঁর উক্তি: (পূর্ণাঙ্গ), দাউদি বলেছেন: 'পূর্ণাঙ্গ' (كاملة) শব্দটির কোনো ভিত্তি নেই, কারণ সূরা বারাআহ পর্যায়ক্রমে অবতীর্ণ হয়েছে। আমি (আইনি) বলি: একারণেই তাফসির অধ্যায়ে এই হাদিসে 'পূর্ণাঙ্গ' শব্দটি উল্লেখ করা হয়নি, সেখানে শব্দগুলো ছিল: সর্বশেষ অবতীর্ণ সূরা হলো বারাআহ।"
(4)কিন্তু তাহের ইবনে আশুর তাঁর 'আত-তাহরির ওয়াত-তানভির' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, এটি একসাথেই অবতীর্ণ হয়েছে এবং তিনি এই মতটিকে অধিকাংশ আলেমের মত হিসেবে অভিহিত করেছেন।
(5)একত্রে অবতীর্ণ সূরাসমূহের মধ্যে আরও একটি হলো সূরা আল-ফাতহ:
ইমাম বুখারি তাঁর সহিহ গ্রন্থে উমর (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: (আজ রাতে আমার ওপর এমন একটি সূরা অবতীর্ণ হয়েছে যা সূর্যের আলো পড়ে এমন সবকিছুর চেয়ে আমার নিকট অধিক প্রিয়।) এরপর তিনি পাঠ করেন: (নিশ্চয়ই আমি আপনার জন্য এক সুস্পষ্ট বিজয় ফয়সালা করেছি।) (আল-ফাতহ: ১)।
(6)একত্রে অবতীর্ণ সূরাসমূহের মধ্যে আরও একটি হলো সূরা আল-বায়্যিনাহ:
আম্মার ইবনে আবি আম্মার থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আবু হাব্বা আল-বাদরিকে বলতে শুনেছি যে, যখন (আহলে কিতাবদের মধ্যে যারা কুফরি করেছিল তারা...) [আল-বায়্যিনাহ: ১] থেকে শেষ পর্যন্ত অবতীর্ণ হলো, তখন জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) বললেন: হে আল্লাহর রাসুল! আপনার রব আপনাকে নির্দেশ দিচ্ছেন যেন আপনি এটি উবাইকে পাঠ করে শোনান। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উবাইকে বললেন: (জিবরাঈল আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন যেন আমি তোমাকে এই সূরাটি পাঠ করে শোনাই।) উবাই (রা.) বললেন: হে আল্লাহর রাসুল! সেখানে কি আমার নাম নেওয়া হয়েছে? তিনি বললেন: (হ্যাঁ।) বর্ণনাকারী বলেন: তখন উবাই কাঁদতে লাগলেন।
(7)--------------------------------------------
(খণ্ড: ৭৩)
সারীহুল মা'কুল আল-মুওয়াফিক লিসারীহিল মানকুল ফী মুনাক্বাশাতি সালাসাতি তাফাসীর রুত্তিাবাত আলা তারতীবিন নুযূল
(পৃষ্ঠা: ৪৯)
وكذلك من السور التي نزلت جملة واحدة سورة الْكَوْثَر:
فعن أنس، قال: بينا رسول الله صلى الله عليه وسلم ذات يوم بين أظهرنا إذ أغفى إغفاءة ثم رفع رأسه متبسمًا، فقلنا: ما أضحكك يا رسول الله قال: "أنزلت علي آنفًا سورة" فقرأ: {بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ إِنَّا أَعْطَيْنَاكَ الْكَوْثَرَ. فَصَلِّ لِرَبِّكَ وَانْحَرْ. إِنَّ شَانِئَكَ هُوَ الْأَبْتَرُ} (الكوثر كاملة: 1 - 3).
(1)وكذلك من السور التي نزلت جملة واحدة سورة النصر:
فعن عبيد الله بن عبد الله بن عتبة، قال: قال لي ابن عباس: تعلم آخر سورة نزلت من القرآن، نزلت جميعًا؟ قلت: " نعم، إذا جاء نصر الله والفتح "، قال: صدقت.
(2)وكذلك من السور التي نزلت جملة واحدة سورة المسد:
ثبت في الصحيحين من حديث عَنِ عَبَّاسٍ رضي الله عنهما، قَالَ: صَعِدَ النَّبِيُّ- صلى الله عليه وسلم الصَّفَا ذَاتَ يَوْمٍ، فَقَالَ: (يَا صَبَاحَاهْ)، فَاجْتَمَعَتْ إِلَيْهِ قُرَيْشٌ، قَالُوا: مَا لَكَ؟ قَالَ: (أَرَأَيْتُمْ لَوْ أَخْبَرْتُكُمْ أَنَّ العَدُوَّ يُصَبِّحُكُمْ أَوْ يُمَسِّيكُمْ، أَمَا كُنْتُمْ تُصَدِّقُونِي؟)
قَالُوا: بَلَى، قَالَ: (فَإِنِّي نَذِيرٌ لَكُمْ بَيْنَ يَدَيْ عَذَابٍ شَدِيدٍ) فَقَالَ أَبُو لَهَبٍ: تَبًّا لَكَ، أَلِهَذَا جَمَعْتَنَا؟ فَأَنْزَلَ اللَّهُ: (تَبَّتْ يَدَا أَبِي لَهَبٍ) (المسد: 1).
(3)وكذلك من السور التي نزلت جملة واحدة سورتا المعوذتين:
فعن عقبة بن عامر، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ألم تر آيات أنزلت الليلة لم ير مثلهن قط، {قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ الْفَلَقِ} و {قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ النَّاسِ}.
(4)
المطلب الثاني: الخلاصة في ذكر السور التي نزلت جملة واحدةأن نزول كثير من سور قصار المفصل نزلت جملة واحدة هو أمر ثابت بأدلة صحيحة صريحة، كالفاتحة والقدر والماعون والمسد والكوثر والفيل والنصر والكافرون والإخلاص والفلق والناس. وكذا الفتح.
وأما ما ذكره بعض أهل التفسير من أن سورًا عدة قد نزلت جملة واحدة كذلك ولا سيما من الطوال، فإن أغلب تلك الأقوال محل نظر واجتهاد والخلاف فيها معلوم لأنها أقوال اجتهادية لم تنهض بها حجة واضحة من دليل صحيح صريح ثابت، ولذا لم يذكر الباحث إلا ما ثبت لديه بالدليل الصحيح الثابت الصريح.
هذا: ولابد أن يُعلم أن الأصل في القرآن الكريم أنه جُمع ورتب على أساس موافقته للعرضة الأخيرة، وقد استقرت العرضة الأخيرة على وفق ما هو مثبت وموافق ومطابق للقرآن المثبت في اللوح المحفوظ كذلك.
وأما الأمر الثاني:: فهو ترتيب السور وفق الترتيب المصحفي، فقد مر معنا آنفا القطع بان ترتيب الآيات في السور أمر توقيفي لا مجال للاجتهاد فيه البتة، وأما ترتيب السور وفق الترتيب المصحفي فمسألة تنازع فيه العلماء، وهذا يعرض الباحث الأوقوال الواردة فى ترتيب السور
--------------------------------------------
একইভাবে, যেসব সূরা একসাথে অবতীর্ণ হয়েছে তার মধ্যে একটি হলো সূরা আল-কাওসার:
আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: একদিন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের মাঝে থাকাকালীন তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে পড়লেন। অতঃপর তিনি হাসিমুখে তাঁর মাথা তুললেন। আমরা বললাম: ইয়া রাসূলাল্লাহ, আপনাকে কিসে হাসালো? তিনি বললেন: "এইমাত্র আমার ওপর একটি সূরা অবতীর্ণ হয়েছে।" এরপর তিনি পড়লেন: {বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম। নিশ্চয়ই আমি আপনাকে কাওসার দান করেছি। অতএব আপনার রবের উদ্দেশ্যে সালাত আদায় করুন এবং কুরবানি করুন। নিশ্চয়ই আপনার প্রতি বিদ্বেষ পোষণকারীই নির্বংশ} (পুরো সূরা আল-কাওসার: ১-৩)।
(1)একইভাবে, যেসব সূরা একসাথে অবতীর্ণ হয়েছে তার মধ্যে একটি হলো সূরা আন-নাসর:
উবায়দুল্লাহ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে উতবা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: ইবনে আব্বাস (রা.) আমাকে বললেন: আপনি কি কুরআনের সর্বশেষ অবতীর্ণ সূরাটি সম্পর্কে জানেন যা পূর্ণাঙ্গভাবে অবতীর্ণ হয়েছে? আমি বললাম: "হ্যাঁ, 'ইযা জাআ নাসরুল্লাহি ওয়াল ফাতহ'।" তিনি বললেন: আপনি সত্য বলেছেন।
(2)একইভাবে, যেসব সূরা একসাথে অবতীর্ণ হয়েছে তার মধ্যে একটি হলো সূরা আল-মাসাদ:
ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে সহীহাইন-এ প্রমাণিত (ثابت) হয়েছে যে, তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) একদিন সাফা পাহাড়ে আরোহণ করলেন এবং ডাক দিলেন: (ইয়া সাবাহাহ)। ফলে কুরাইশরা তাঁর কাছে সমবেত হলো। তারা বলল: আপনার কী হয়েছে? তিনি বললেন: (আমি যদি তোমাদের সংবাদ দেই যে, শত্রু তোমাদের ওপর ভোরে বা সন্ধ্যায় আক্রমণ করবে, তবে কি তোমরা আমাকে বিশ্বাস করবে না?)
তারা বলল: হ্যাঁ। তিনি বললেন: (নিশ্চয়ই আমি তোমাদের জন্য কঠিন শাস্তির আগে সতর্ককারী হিসেবে এসেছি।) তখন আবু লাহাব বলল: তোমার ধ্বংস হোক, এ জন্যই কি তুমি আমাদের একত্রিত করেছ? তখন আল্লাহ অবতীর্ণ করলেন: (আবু লাহাবের দুই হাত ধ্বংস হোক) (সূরা আল-মাসাদ: ১)।
(3)একইভাবে, যেসব সূরা একসাথে অবতীর্ণ হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে মুআউবিযাতাইন (সূরা আল-ফালাক ও সূরা আন-নাস):
উকবা ইবনে আমির (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: তোমরা কি দেখোনি আজ রাতে এমন কিছু আয়াত অবতীর্ণ হয়েছে যার অনুরূপ আগে কখনো দেখা যায়নি? {বলুন, আমি আশ্রয় প্রার্থনা করছি ভোরের রবের নিকট} এবং {বলুন, আমি আশ্রয় প্রার্থনা করছি মানুষের রবের নিকট}।
(4)
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: একযোগে অবতীর্ণ সূরাগুলোর বর্ণনার সারসংক্ষেপ'মুফাসসাল' অংশের অনেক ছোট সূরা একসাথে অবতীর্ণ হওয়া বিষয়টি সহিহ (صحيح) ও সুস্পষ্ট (صريح) দলিলের মাধ্যমে প্রমাণিত (ثابت)। যেমন: আল-ফাতিহা, আল-কদর, আল-মাউন, আল-মাসাদ, আল-কাওসার, আল-ফীল, আন-নাসর, আল-কাফিরুন, আল-ইখলাস, আল-ফালাক এবং আন-নাস। অনুরূপভাবে সূরা আল-ফাতহ।
আর কোনো কোনো মুফাসসির যেসব সূরা একযোগে অবতীর্ণ হওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন, বিশেষ করে দীর্ঘ সূরাগুলোর ক্ষেত্রে—তাদের সেইসব মতামতের অধিকাংশই পর্যালোচনা ও ইজতিহাদের বিষয় এবং এ ক্ষেত্রে মতভেদ সুবিদিত। কারণ সেগুলো গবেষণালব্ধ (اجتهادية) মতামত যা সহিহ (صحيح), সুস্পষ্ট (صريح) ও প্রমাণিত (ثابت) দলিলের মাধ্যমে জোরালোভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। এ কারণেই গবেষক কেবল সেই সূরাগুলোই উল্লেখ করেছেন যা সহিহ (صحيح), প্রমাণিত (ثابت) ও সুস্পষ্ট (صريح) দলিলের মাধ্যমে তাঁর কাছে সাব্যস্ত হয়েছে।
বিষয়টি এমন: এটি অবশ্যই জানা থাকতে হবে যে, পবিত্র কুরআনের মূলনীতি হলো এটি সংকলিত ও বিন্যস্ত করা হয়েছে শেষ পর্যায়ের পেশকৃত পাঠের (আরদাহ আখিরাহ) সাথে সামঞ্জস্য রেখে। আর এই শেষ পর্যায়ের পাঠটি নির্ধারিত হয়েছে লওহে মাহফুজে সংরক্ষিত কুরআনের বিন্যাসের সাথে মিল ও সামঞ্জস্য রেখে।
দ্বিতীয় বিষয়টি হলো: মাসহাফ বা কিতাব আকারে সূরাগুলোর ক্রমবিন্যাস। ইতিপূর্বেই আমাদের কাছে অকাট্যভাবে স্পষ্ট হয়েছে যে, সূরার অভ্যন্তরে আয়াতসমূহের বিন্যাস হলো ওহী দ্বারা নির্ধারিত (توقيفي), যাতে ইজতিহাদের কোনো অবকাশ নেই। তবে সূরাসমূহের ক্রমবিন্যাসের ক্ষেত্রে আলেমদের মধ্যে দ্বিমত রয়েছে। গবেষক এখন সূরাসমূহের ক্রমবিন্যাস সংক্রান্ত মতামতগুলো উপস্থাপন করবেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ৭৩)
সারীহুল মা'কুল আল-মুওয়াফিক লিসারীহিল মানকুল ফী মুনাক্বাশাতি সালাসাতি তাফাসীর রুত্তিাবাত আলা তারতীবিন নুযূল
(পৃষ্ঠা: ৫০)
مع الترجيح بينها.
المبحث الثالث: مذاهب العلماء وخلافهم في ترتيب السوروفيه ثلاثة مطالب:
يقول السيوطي- رحمه الله في "الإتقان" عن الخلاف في ترتيب السور:
وأما ترتيب السور على ما هي عليه الآن في المصحف، فقد اختلف فيه أهل هذا الشأن على ثلاثة مذاهب:
المذهب الأول: المذهب الأول: أن ترتيب السور أمر توفيقي من اجتهاد الصحابةوهو مذهب الجمهور الذي يرى أن ترتيب السور هو أمر توفيقي من اجتهاد الصحابة، حيث إن النبي صلى الله عليه وسلم فوَّضَ ذلك إلى أمته من بعده. ومن أبرز من نحا إلى هذا الرأي الإمام مالك.
المذهب الثاني: المذهب الثاني: أن ترتيب السور أمر توقيفي من النبي صلى الله عليه وسلم ـ
يرى أن هذا الترتيب توقيف من النبي صلى الله عليه وسلم، وبه قالت طائفة من أهل العلم.
المذهب الثالث: المذهب الثالث: أن ترتيب أغلب السور أمر توقيفي من النبي صلى الله عليه وسلم وأن ترتيب بعض السور كان باجتهاد من الصحابةيجنح إلى أن ترتيب أغلب السور كان بتوقيف من النبي صلى الله عليه وسلم وعلم ذلك في حياته، وأن ترتيب بعض السور كان باجتهاد من الصحابة.
(1)قد مر بنا آنفًا ما ذكره السيوطي من أقوال العلماء في القول بترتيب السور إجمالًا، والخلاف في هذه المسألة واسع جدًا وله أهميته الكبرى لتعلقه بأمر عظيم يتعلق بكلام الله تعالى، وقد ساق أصحاب كل قول أدلة ما يترجح لديهم القول به، ومن تكلم في هذه المسألة أئمة كبار ممن يُعتد برأيهم، والباحث لم يسق أدلة كل فريق لمناقشتها مخافة الإطالة، وإن كان تناول هذا المبحث من الأهمية الكبرى بمكان، لمكانته وقدره وقدر متعلقه ألا وهو كتاب الله تعالى.
المبحث الرابع: أبرز أقوال العلماء القائلين بأن ترتيب سور القرآن الكريم كان ترتيبًا توقيفيًاوالكثير من الأئمة يرى أن ترتيب سور القرآن الكريم كان ترتيبًا توقيفيًا كما كان ترتيب آياته كذلك، وقد ساقوا من الأدلة الواضحات والحجج الدامعات ما يجعل الباحث يقف عندها طويلًا ويعيد التأمل والبحث والنظر فيها كثيرًا.
وفيه مطلبان:
المطلب الأول: ذكر جملة من أقوال العلماء المتقدمينومن أبرز هذه الأقوال ما يلي:
القول الأول: قول الزركشي (ت: 794 هـ) في البرهان رحمه الله:
"قال بعض مشايخنا
--------------------------------------------
সেগুলোর মধ্যে অধিকতর সঠিক মতের প্রাধান্য (ترجيح) নির্ধারণসহ।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: সুরাসমূহের বিন্যাস পদ্ধতিতে আলেমগণের মাযহাব (مذاهب) এবং তাঁদের মধ্যকার মতভেদএতে তিনটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:
সুরাসমূহের বিন্যাস সংক্রান্ত মতভেদ সম্পর্কে আস-সুয়ুতী (রাহিমাহুল্লাহ) 'আল-ইতকান' গ্রন্থে বলেন:
আর বর্তমানে মুসহাফে সুরাসমূহ যে বিন্যাসে রয়েছে, সে বিষয়ে এই শাস্ত্রের বিশেষজ্ঞগণ তিনটি মাযহাবের (مذاهب) ওপর ভিত্তি করে মতভেদ করেছেন:
প্রথম মাযহাব: প্রথম মাযহাবটি হলো সুরাসমূহের বিন্যাস সাহাবীগণের ইজতিহাদ (اجتهاد) বা গবেষণাপ্রসূত একটি বিষয়এটি জুমহুর (جمهور) বা অধিকাংশ আলেমের মাযহাব (مذهب), যাঁরা মনে করেন যে সুরাসমূহের বিন্যাস সাহাবীগণের ইজতিহাদ (اجتهاد) দ্বারা নির্ধারিত একটি বিষয়; কেননা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এটি তাঁর পরবর্তী উম্মতের ওপর অর্পণ করেছিলেন। এই মতের অনুসারীদের মধ্যে অন্যতম প্রধান হলেন ইমাম মালিক।
দ্বিতীয় মাযহাব: দ্বিতীয় মাযহাবটি হলো সুরাসমূহের বিন্যাস নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কর্তৃক সরাসরি নির্দেশিত (توقيفي) একটি বিষয়ـ
এই মত অনুযায়ী এই বিন্যাসটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে সরাসরি নির্দেশিত (توقيفي), এবং একদল আলেম এ মতটি পোষণ করেছেন।
তৃতীয় মাযহাব: তৃতীয় মাযহাবটি হলো অধিকাংশ সুরার বিন্যাস নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কর্তৃক সরাসরি নির্দেশিত (توقيفي) এবং কিছু সুরার বিন্যাস সাহাবীগণের ইজতিহাদ (اجتهاد) এর মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছেএই মতটি সেদিকেই ঝুঁকেছে যে, অধিকাংশ সুরার বিন্যাস নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর সরাসরি নির্দেশনার (توقيفي) ভিত্তিতে হয়েছে এবং তা তাঁর জীবদ্দশাতেই জানা ছিল, আর কিছু সুরার বিন্যাস সাহাবীগণের ইজতিহাদ (اجتهاد) বা গবেষণার মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে।
(১)সুরাসমূহের বিন্যাস সম্পর্কে আলেমগণের মতামতের ব্যাপারে সুয়ুতী যা উল্লেখ করেছেন তা সংক্ষেপে ইতিপূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে। এই বিষয়ে মতপার্থক্য অত্যন্ত ব্যাপক এবং এর গুরুত্ব অপরিসীম, কারণ এটি আল্লাহর কালামের মতো এক মহান বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট। প্রতিটি মতের প্রবক্তাগণ তাদের নিকট যা অগ্রগণ্য (ترجيح) মনে হয়েছে তার স্বপক্ষে দলিল উপস্থাপন করেছেন। এই বিষয়ে যাঁরা কথা বলেছেন তাঁরা এমন মহান ইমাম যাদের মতামত গ্রহণযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হয়। গবেষক দীর্ঘ হওয়ার ভয়ে প্রতিটি দলের দলিলের ওপর বিস্তারিত আলোচনার উদ্দেশ্যে সেগুলো এখানে উপস্থাপন করেননি, যদিও এই পরিচ্ছেদটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এর মর্যাদা ও গুরুত্ব সরাসরি আল্লাহর কিতাবের সাথে সম্পৃক্ত।
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: কুরআনুল কারীমের সুরাসমূহের বিন্যাস সরাসরি নির্দেশিত (توقيفي) হওয়ার প্রবক্তা আলেমগণের উল্লেখযোগ্য উক্তিঅনেক ইমাম মনে করেন যে, কুরআনুল কারীমের সুরাসমূহের বিন্যাসও ছিল সরাসরি নির্দেশিত (توقيفي) যেভাবে এর আয়াতসমূহের বিন্যাস সরাসরি নির্দেশিত (توقيفي) ছিল। তাঁরা এ বিষয়ে অনেক সুস্পষ্ট দলিল ও অকাট্য যুক্তি উপস্থাপন করেছেন যা গবেষককে দীর্ঘ সময় ভাবতে এবং এ নিয়ে বারবার গবেষণা ও চিন্তা করতে বাধ্য করে।
এতে দুটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম অনুচ্ছেদ: পূর্ববর্তী আলেমগণের কতিপয় উক্তির বর্ণনাএই উক্তিগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
প্রথম উক্তি: আজ-যারকাশী (মৃত্যু: ৭৯৪ হিজরি) তাঁর 'আল-বুরহান' গ্রন্থে যা বলেছেন (রাহিমাহুল্লাহ):
"আমাদের কোনো কোনো শাইখ বলেছেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ৭৩)
সারীহুল মা'কুল আল-মুওয়াফিক লিসারীহিল মানকুল ফী মুনাক্বাশাতি সালাসাতি তাফাসীর রুত্তিাবাত আলা তারতীবিন নুযূল
(পৃষ্ঠা: ৫১)
المحققين: قد وهم من قال: لا يطلب للآية الكريمة مناسبة لأنها على حسب الوقائع المتفرقة وفصل الخطاب أنها على حسب الوقائع تنزيلًا وعلى حسب الحكمة ترتيبًا، فالمصحف كالصحف الكريمة على وفق ما في الكتاب المكنون مرتبة سوره كلها وآياته بالتوقيف
… قلت: وهو مبني على أن ترتيب السور توقيفي وهذا الراجح.
(1)ولاشك أن مثل قول الزركشي له قيمته العلمية وله مكانته وقدره كذلك، لكونه قد ناقش أدلة كل فريق من جهة، ولتمكنه من هذا العلم من جهة ثانية.
القول الثاني: قول السيوطي (ت: 911 هـ) في الإتقان-رحمه الله:
"ومما يدل على أنه توقيفي كون الحواميم رتبت وَلاءً "يعني متوالية" وكذا الطواسين، ولم ترتب المسبحات وَلاءً، بل فُصِلَ بين سورها و فُصِلَ بين "طسم" الشعراء و"طسم" القصص بـ "طس" مع أنها أقصر منهما، ولو كان الترتيب اجتهادًا لذكرت المسبحات وَلاءً، وأخرت "طس" عن القصص".
(2)القول الثالث: قول أبي بكر الأنباري (ت: 328 هـ) حيث يقول- رحمه الله:
"اتساق السور كاتساق الآيات والحروف كله عن النبي صلى الله عليه وسلم فمن قدم سورة أو أخرها فقد أفسد نظم القرآن".
(3)القول الرابع: قول الكرماني: (ت: 893 هـ) رحمه الله:
"ترتيب السور هكذا هو عند الله في اللوح المحفوظ على هذا الترتيب".
(4)القول الخامس: قول شرف الدين الطيبي (ت: 743 هـ) كذلك- رحمه الله:
"أنزل القرآن أولا جملة واحدة من اللوح المحفوظ إلى السماء الدنيا ثم نزل مفرقًا على حسب المصالح، ثم أثبت في المصاحف على التأليف والنظم المثبت في اللوح المحفوظ. ".
(5)القول السادس: قول محب الدين النُّوَيْري (ت: 857 هـ) حيث يقول- رحمه الله:
وإنما أمرهم-عثمان- بالنسخ من الصحف؛ ليستند مصحفه إلى أصل أبى بكر المستند إلى أصل النبي صلى الله عليه وسلم، وعيّن زيدًا لاعتماد أبى بكر وعمر عليه، وضم إليه جماعة مساعدة له، ولينضم العدد إلى العدالة، وكانوا هؤلاء؛ لاشتهار ضبطهم ومعرفتهم. وكتبوه مائة وأربعة عشر سورة، أولها "الحمد" وآخرها "الناس" على هذا الترتيب.
(6)يتضح من كلام النويري أنه يرى بأن نسخ أبي بكر كان كاملاً مرتب الآيات والسور أيضًا، وأنه استند إلى المكتوب، والمحفوظ عن رسول الله صلى الله عليه وسلم، لا فرق بين الآيات والسور في التوقيف، ولذا أمرهم-عثمان- بالنسخ منه.
القول السابع: قول أبي جعفر النحاس (ت: 338 هـ) حيث يقول- رحمه الله:
--------------------------------------------
গবেষকগণ বলেন: যারা মনে করেন যে, পবিত্র আয়াতের জন্য কোনো প্রাসঙ্গিকতা খোঁজার প্রয়োজন নেই কারণ তা বিভিন্ন ঘটনার প্রেক্ষিতে বিক্ষিপ্তভাবে অবতীর্ণ হয়েছে, তারা মূলত বিভ্রান্তিতে পড়েছেন। চূড়ান্ত কথা হলো, অবতীর্ণ হওয়ার বিষয়টি ঘটনার প্রেক্ষিতে হলেও বিন্যাসের বিষয়টি প্রজ্ঞা অনুযায়ী হয়েছে। সুতরাং মাসহাফ হলো সেই পবিত্র পাণ্ডুলিপির মতো যা 'কিতাবুম মাকনুন' (সুরক্ষিত কিতাব) এ যেভাবে আছে, এর সকল সূরা এবং আয়াত আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত (توقيفي) ক্রম অনুসারে বিন্যস্ত... আমি (গ্রন্থকার) বলি: এটি এই মতের ওপর ভিত্তি করে যে, সূরাসমূহের বিন্যাস ওহি দ্বারা নির্ধারিত (توقيفي) এবং এটিই অধিক সঠিক (راجح) মত।
(১)নিঃসন্দেহে আজ-যারকাশির মতো ব্যক্তিত্বের বক্তব্যের যেমন জ্ঞানতাত্ত্বিক মূল্য রয়েছে, তেমনি এর বিশেষ মর্যাদা ও গুরুত্বও রয়েছে। কারণ তিনি একদিকে যেমন প্রতিটি দলের দলীল নিয়ে আলোচনা করেছেন, তেমনি এই ইলমে তার গভীর পারদর্শিতাও রয়েছে।
দ্বিতীয় মত: আল-ইতকান গ্রন্থে আস-সুয়ূতি (মৃত্যু: ৯১১ হিজরী) -রাহিমাহুল্লাহ- এর বক্তব্য:
"সূরাসমূহের বিন্যাস যে ওহি দ্বারা নির্ধারিত (توقيفي), তার একটি প্রমাণ হলো 'হাওয়া-মি-ম' সূরাগুলো পর্যায়ক্রমে বিন্যস্ত হয়েছে এবং একইভাবে 'ত্বা-ওয়া-সী-ন' সূরাগুলোও। কিন্তু 'মুসাব্বিহাত' সূরাগুলো পর্যায়ক্রমে রাখা হয়নি, বরং সেগুলোর মাঝখানে অন্য সূরা দিয়ে ব্যবধান করা হয়েছে। এছাড়া আশ-শুআরা ও আল-কাসাস এর 'ত্ব-সী-ন-মী-ম' এর মাঝে 'ত্ব-সী-ন' দ্বারা ব্যবধান করা হয়েছে অথচ এটি অন্য দুটির চেয়ে ছোট। যদি এই বিন্যাস গবেষণালব্ধ (اجتهادي) হতো, তবে 'মুসাব্বিহাত' সূরাগুলো পর্যায়ক্রমে রাখা হতো এবং 'ত্ব-সী-ন' সূরাটিকে আল-কাসাস এর পরে রাখা হতো।"
(২)তৃতীয় মত: আবু বকর আল-আনবারি (মৃত্যু: ৩২৮ হিজরী) -রাহিমাহুল্লাহ- এর বক্তব্য:
"আয়ত এবং বর্ণের বিন্যাসের সামঞ্জস্যের মতো সূরাসমূহের ধারাবাহিকতাও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে প্রাপ্ত। সুতরাং যে ব্যক্তি কোনো সূরাকে আগে বা পরে নিল, সে কুরআনের বিন্যাসশৈলীকে নষ্ট করল।"
(৩)চতুর্থ মত: আল-কিরমানি (মৃত্যু: ৮৯৩ হিজরী) -রাহিমাহুল্লাহ- এর বক্তব্য:
"সূরাসমূহের এই বিন্যাস আল্লাহর নিকট লাওহে মাহফুজে এই ক্রম অনুসারেই সংরক্ষিত রয়েছে।"
(৪)পঞ্চম মত: শরফুদ্দীন আত-ত্বীবি (মৃত্যু: ৭৪৩ হিজরী) -রাহিমাহুল্লাহ- এর বক্তব্য:
"কুরআন প্রথমে লাওহে মাহফুজ থেকে দুনিয়ার আসমানে পূর্ণাঙ্গভাবে একবারে অবতীর্ণ হয়েছে। এরপর মাসলাহাত বা কল্যাণ অনুসারে বিভিন্ন সময়ে খণ্ড খণ্ড ভাবে অবতীর্ণ হয়েছে। অতঃপর লাওহে মাহফুজে সংরক্ষিত বিন্যাস ও শৈলী অনুযায়ী মাসহাফসমূহে তা লিপিবদ্ধ করা হয়েছে।"
(৫)ষষ্ঠ মত: মুহিব্বুদ্দীন আন-নুওয়াইরি (মৃত্যু: ৮৫৭ হিজরী) -রাহিমাহুল্লাহ- এর বক্তব্য:
উসমান (রা.) তাদের আবু বকর (রা.)-এর পাণ্ডুলিপি থেকে অনুলিপি করার নির্দেশ দিয়েছিলেন যেন তার তৈরিকৃত মাসহাফ আবু বকর (রা.) এর মূল কপির ওপর ভিত্তি করে হয়, যা স্বয়ং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মূল কপির ওপর ভিত্তি করে তৈরি ছিল। তিনি জায়েদ (রা.) কে মনোনীত করেছিলেন কারণ আবু বকর ও উমর (রা.) তাঁর ওপর আস্থা রাখতেন। তাঁর সাথে একদল সাহাবীকে সহযোগী হিসেবে যুক্ত করেছিলেন যাতে সংখ্যাধিক্যের সাথে ন্যায়পরায়ণতা (عدالة) গুণটি যুক্ত হয়। তারা তাদের সূক্ষ্ম সংরক্ষণ ক্ষমতা (ضبط) ও জ্ঞানের জন্য সুপরিচিত ছিলেন। তারা কুরআনকে ১১৪টি সূরায় লিপিবদ্ধ করেন, যার শুরু 'আল-হামদু' দিয়ে এবং শেষ 'আন-নাস' দিয়ে—এই বর্তমান বিন্যাস অনুযায়ী।
(৬)আন-নুওয়াইরি-এর কথা থেকে স্পষ্ট হয় যে, তিনি মনে করেন আবু বকর (রা.)-এর অনুলিপিটি আয়াত এবং সূরা উভয় দিক থেকেই পূর্ণাঙ্গ ও সুবিন্যস্ত ছিল। এটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে প্রাপ্ত লিখিত ও সংরক্ষিত পাণ্ডুলিপির ওপর ভিত্তি করে ছিল। আয়াত এবং সূরার বিন্যাসের ক্ষেত্রে ওহি দ্বারা নির্ধারিত (توقيفي) হওয়ার বিষয়ে কোনো পার্থক্য নেই, আর এ কারণেই উসমান (রা.) তাদের সেটি থেকে অনুলিপি করার নির্দেশ দিয়েছিলেন।
সপ্তম মত: আবু জাফর আন-নাহহাস (মৃত্যু: ৩৩৮ হিজরী) -রাহিমাহুল্লাহ- এর বক্তব্য:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ৭৩)
সারীহুল মা'কুল আল-মুওয়াফিক লিসারীহিল মানকুল ফী মুনাক্বাশাতি সালাসাতি তাফাসীর রুত্তিাবাত আলা তারতীবিন নুযূল
(পৃষ্ঠা: ৫২)
"إن تأليف السور على هذا الترتيب من رسول الله- صلى الله عليه وسلم
(1).
القول الثامن: قول أبي الحسن ابن الحصَّار (ت: 620 هـ) حيث يقول- رحمه الله:
"ترتيب السور ووضع الآيات موضعها إنما كان بالوحي".
(2)القول التاسع: قول البغوي (ت: 516 هـ) حيث يقول- رحمه الله:
إن الصحابة- رضي الله عنهم، جمعوا بين الدفتين القرآن الذي أنزله الله سبحانه وتعالى على رسوله صلى الله عليه وسلم، من غير أن زادوا فيه، أو نقصوا منه شيئًا
… فكتبوه كما سمعوا من رسول الله صلى الله عليه وسلم، من غير أن قدموا شيئًا أو أخروا
… فثبت أن سعي الصحابة كان في جمعه في موضع واحد، لا في ترتيبه، فإن القرآن مكتوب في اللوح المحفوظ على الترتيب الذي هو في مصاحفنا، أنزله الله تعالى جملة واحدة في شهر رمضان ليلة القدر إلى السماء الدنيا، كما قال تعالى: {شَهْرُ رَمَضَانَ الَّذِي أُنْزِلَ فِيهِ الْقُرْآنُ} (البقرة: 185)، وقال تعالى: {إِنَّا أَنْزَلْنَاهُ فِي لَيْلَةِ الْقَدْرِ} (القدر: 1)
(3).
إن كلام البغوي في غاية الدقة، فهو يرى أن القرآن الذي في أيدينا ما زال كما كان في اللوح المحفوظ، فكان مرتبًا، ونزل مرتبًا إلى السماء الدنيا بكامل آياته وسوره، وأنه وإن نزل منجمًا بعد ذلك على رسول الله صلى الله عليه وسلم، فقد جُمع بالوحي كما كان في اللوح المحفوظ، وكتبه الصحابة- رضي الله عنهم على هذا الجمع الذي تعلموه من رسول الله صلى الله عليه وسلم.
القول العاشر: قول الملا علي القاري
(4) حيث يقول- رحمه الله:
مع أن الأصح أن ترتيب السور توقيفي أيضًا، وإن كانت مصاحفهم مختلفة في ذلك قبل العرضة الأخيرة
… ومما يدل على أنه توقيفي كون الحواميم رتبت وَلَاءً، وكذلك الطواسين، ولم يرتب المسبحات وَلَاءً، بل فصل بين سورها، وكذا اختلاط المكيات بالمدنيات
(5).
وفي قول ودليل علي القاري، يتضح أن الترتيب وإن لم يرد فيه نص نظري لكنه كان أوكد من خلال التأمل في التطبيق العملي، الذي يوحي بما لا يدع مجالًا للشك بأن الترتيب كان توقيفيًا. وكلامه فحواه مقتبس من قول السيوطي.
ولما سبق لم يتردد العلماء في ترجيح هذا الرأي القائل بالتوقيف، فقد قال أحمد بن عبد الرحمن بن محمد البنا الساعاتي: والصحيح أن ترتيب السور والآيات أمر توقيفي لا مجال للرأي فيه.
(6)ومما نُظم وقيل في ذلك قولُ أبي الحسن بن الحصار (ت: 620 هـ) في كتابه "الناسخ والمنسوخ ":
يا سائلي عن كتاب الله مجتهدًا
… وعن ترتيب ما يتلى من السور
وكيف جاء بها المختار من مضر
… صلى الإله على المختار من مضر
(7)فابن الحصار يشير إلى أن ترتيب السور جاء بها النبي-صلى الله عليه وسلم وهي إشارة
--------------------------------------------
সুরাসমূহের বিন্যাস এই ক্রমধারা অনুযায়ী রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকেই হয়েছে
(১)।
অষ্টম অভিমত: আবুল হাসান ইবনুল হাসসার (ওফাত: ৬২০ হিজরি)-এর উক্তি, যেখানে তিনি—রহিমাহুল্লাহ—বলেন:
"সুরাসমূহের ক্রমবিন্যাস এবং আয়াতসমূহকে তাদের নিজ নিজ স্থানে স্থাপন করা কেবল ওহির মাধ্যমেই হয়েছে।"
(২)নবম অভিমত: আল-বগভী (ওফাত: ৫১৬ হিজরি)-এর উক্তি, যেখানে তিনি—রহিমাহুল্লাহ—বলেন:
নিশ্চয় সাহাবায়ে কিরাম—রাদিয়াল্লাহু আনহুম—কুরআনের দুই মলাটের মাঝে সেই কুরআনকেই সংকলন করেছেন যা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওপর নাজিল করেছেন; তারা তাতে কোনো কিছু বৃদ্ধি করেননি এবং তা থেকে কোনো কিছু হ্রাসও করেননি
… সুতরাং তারা এটি সেভাবেই লিপিবদ্ধ করেছেন যেভাবে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট থেকে শুনেছেন, কোনো কিছু আগে বা পরে না করে
… ফলে এটি প্রমাণিত যে, সাহাবায়ে কিরামের প্রচেষ্টা ছিল কুরআনকে এক স্থানে সংকলন করার ক্ষেত্রে, এর বিন্যাস করার ক্ষেত্রে নয়। কারণ কুরআন লাওহে মাহফুজে আমাদের নিকট রক্ষিত মুসহাফসমূহের বর্তমান ক্রমধারা অনুযায়ীই লিপিবদ্ধ রয়েছে। আল্লাহ তাআলা তা রমজান মাসে কদরের রাতে প্রথম আসমানে একসাথে নাজিল করেছেন, যেমনটি আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "রমজান মাসই হলো সেই মাস, যাতে কুরআন নাজিল করা হয়েছে" (আল-বাকারা: ১৮৫), এবং আল্লাহ তাআলা আরও বলেছেন: "নিশ্চয় আমি তা নাজিল করেছি কদরের রাতে" (আল-কদর: ১)
(৩)।
আল-বগভীর বক্তব্য অত্যন্ত সূক্ষ্ম; তিনি মনে করেন যে আমাদের হাতে থাকা কুরআন আজও তেমনই আছে যেমনটি লাওহে মাহফুজে ছিল। ফলে তা বিন্যস্ত ছিল এবং প্রথম আসমানে এর সমস্ত আয়াত ও সুরাসহ বিন্যস্তভাবেই নাজিল হয়েছে। যদিও পরবর্তীতে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওপর তা ধীরে ধীরে (পর্যায়ক্রমে) নাজিল হয়েছে, কিন্তু এটি ওহির মাধ্যমে লাওহে মাহফুজের বিন্যাস অনুযায়ীই সংকলিত হয়েছে। আর সাহাবায়ে কিরাম—রাদিয়াল্লাহু আনহুম—রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শেখা এই সংকলন অনুযায়ীই তা লিপিবদ্ধ করেছেন।
দশম অভিমত: মোল্লা আলী কারী
(৪)-এর উক্তি, যেখানে তিনি—রহিমাহুল্লাহ—বলেন:
অথচ বিশুদ্ধতম (الأصح) মত হলো সুরাসমূহের বিন্যাসও রাসুল কর্তৃক নির্ধারিত (توقيفي), যদিও 'আরদা আখিরা' বা শেষবার পাঠ করার পূর্বে তাদের নিকট রক্ষিত মুসহাফসমূহে এ বিষয়ে ভিন্নতা ছিল
… এটি রাসুল কর্তৃক নির্ধারিত (توقيفي) হওয়ার অন্যতম প্রমাণ হলো ‘হা-মীম’ বিশিষ্ট সুরাসমূহ ধারাবাহিকভাবে বিন্যস্ত হওয়া, একইভাবে ‘তা-সীন’ বিশিষ্ট সুরাসমূহও। আবার ‘মুসাব্বিহাত’ সুরাসমূহ ধারাবাহিকভাবে বিন্যস্ত না করে বরং সেগুলোর সুরার মাঝে বিরতি রাখা হয়েছে; একইভাবে মক্কি ও মাদানি সুরাসমূহের সংমিশ্রণও হয়েছে
(৫)।
আলী কারীর উক্তি ও প্রমাণের মাধ্যমে এটি স্পষ্ট হয় যে, যদিও বিন্যাসের ব্যাপারে কোনো সরাসরি তাত্ত্বিক বর্ণনা (نص نظرى) আসেনি, তবে ব্যবহারিক প্রয়োগের প্রতি গভীরভাবে দৃষ্টি দিলে এটি আরও সুনিশ্চিত হয়, যা কোনো সন্দেহ ছাড়াই ইঙ্গিত দেয় যে বিন্যাসটি রাসুল কর্তৃক নির্ধারিত (توقيفيًا) ছিল। তাঁর বক্তব্যের মূল বিষয়বস্তু সুয়ুতীর উক্তি থেকে গৃহীত।
উপরোক্ত আলোচনার কারণে আলেমগণ এই বিন্যাস রাসুল কর্তৃক নির্ধারিত (توقيف) হওয়ার মতটিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ক্ষেত্রে দ্বিধা করেননি। আহমাদ বিন আব্দুর রহমান বিন মুহাম্মদ আল-বান্না আস-সাআতি বলেছেন: সঠিক (الصحيح) কথা হলো যে, সুরা ও আয়াতসমূহের বিন্যাস একটি রাসুল কর্তৃক নির্ধারিত (توقيفي) বিষয়, যাতে নিজস্ব মতামতের কোনো অবকাশ নেই।
(৬)এ বিষয়ে কবিতায় যা বলা হয়েছে তার মধ্যে আবুল হাসান ইবনুল হাসসার (ওফাত: ৬২০ হিজরি)-এর তাঁর 'আন-নাসিখ ওয়াল মানসুখ' কিতাবে বলা উক্তিটি অন্যতম:
হে আমার নিকট আল্লাহর কিতাব সম্পর্কে পরিশ্রমী জিজ্ঞাসু
… এবং তিলাওয়াতকৃত সুরাসমূহের বিন্যাস সম্পর্কে;
আর যেভাবে মুদার বংশের মনোনীত ব্যক্তি (নবী) এটি নিয়ে এসেছেন
… মুদার বংশের সেই মনোনীত ব্যক্তির ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক।
(৭)ইবনুল হাসসার এখানে ইঙ্গিত দিয়েছেন যে সুরাসমূহের বিন্যাস নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মাধ্যমেই এসেছে, এটি একটি ইশারা...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ৭৩)
সারীহুল মা'কুল আল-মুওয়াফিক লিসারীহিল মানকুল ফী মুনাক্বাশাতি সালাসাতি তাফাসীর রুত্তিাবাত আলা তারতীবিন নুযূল
(পৃষ্ঠা: ৫৩)
واضحة الدلالة من كلامه بأن ترتيب السور توقيفي منه-صلى الله عليه وسلم
المطلب الثاني: ذكر جملة من أقوال العلماء المعاصرينوقد رجح جمع من المعاصرين القول بالتوقيف كذلك، وهم على سبيل المثال لا الحصر على نحو التالي:
"جاء في التفسير الوسيط: ترتيب السور على ما جاء في المصحف الشريف بأمر الله عز وجل
(1).
1 - قال صاحب التفسير الوسيط:
والذي تميل إليه النفس أن ترتيب السور توقيفي، وأن كل سورة لها موضوعاتها التي نراها بارزة بصورة تميزها عن غيرها
(2).
2 - وقال وَهْبَة بن مصطفى الزُّحَيْلِيّ (ت: 1436 هـ):
ولا خلاف بين العلماء في أن ترتيب آيات السور توقيفي منقول ثابت عن النّبي صلى الله عليه وسلم، كما أن ترتيب السور أيضًا توقيفي على الراجح
(3).
وممن قال به كذلك من المعاصرين محمد عبد الله دراز، أحمد شاكر.
المبحث الخامس: أبرز الأدلة التي استدل بها بعض العلماء على توقيف الترتيب المصحفيوفيه أربعة مطالب:
المطلب الأول: الدليل الأول: إجماع الصحابة-رضي الله عنهم على ترتيب السور في المصحف العثمانيومن أبرز ما استدل به بعض هؤلاء على توقيف الترتيب المصحفي ما يلي:
إذ لو كان هذا الترتيب ترتيبًا اجتهاديًا لما أجمعوا عليه ولتمسكوا بمصاحفهم ولما قدموها للحرق، ولما اجتمعوا على المصحف الإمام
ولقد" قام عثمان بن عفان- رضي الله عنه بإحراق المصاحف التي وقع فيها الاختلاف، وأبقى لهم المتفَق عليه، كما ثبت في العَرْضة الأخيرة".
(4)وقد ثبت عند البخاري عن أنس بن مالك رضي الله عنه، أن حذيفة بن اليمان رضي الله عنه قدم على عثمان رضي الله عنه، وكان يغازي أهل الشام في فتح إرمينية وأذربيجان مع أهل العراق، فأفزع حذيفةَ اختلافُهم في القراءة، فقال حذيفة لعثمان: يا أمير المؤمنين، أدرِكْ هذه الأمة قبل أن يختلفوا في الكتاب اختلافَ اليهود والنصارى، فأرسل عثمان إلى حفصة: أنْ أرسلي إلينا بالصحف ننسخها في المصاحف، ثم نردها إليك، فأرسلت بها حفصة إلى عثمان، فأمر زيد بن ثابت، وعبدالله بن الزبير، وسعيد بن العاص، وعبدالرحمن بن الحارث بن هشام، فنسخوها في المصاحف، وقال عثمان للرهط القرشيين الثلاثة: إذا اختلفتم أنتم وزيد بن ثابت في شيء من القرآن، فاكتبوه بلسان قريش؛ فإنما نزل بلسانهم- يعني ابتداءً-، ففعلوا حتى إذا نسخوا الصحف في المصاحف، رد عثمان الصحف إلى حفصة، وأرسل إلى كل أفق بمصحف مما نسخوا، وأمر بما سواه من القرآن في كل صحيفة أو مصحف أن يحرق.
(5)(6)--------------------------------------------
তাঁর কথা থেকে এই মর্মটি স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয় যে, সূরার বিন্যাস তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পক্ষ থেকে নির্ধারিত (توقيفي)।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: সমসাময়িক আলেমগণের কতিপয় উক্তির বর্ণনাসমসাময়িক আলেমদের একটি দলও একইভাবে এটি নির্ধারিত (توقيفي) হওয়ার মতকে প্রাধান্য দিয়েছেন। উদাহরণস্বরূপ তাঁদের কয়েকজনের নাম নিচে উল্লেখ করা হলো (তবে তাঁরাই একমাত্র নন):
"আল-তাফসির আল-ওয়াসিত-এ এসেছে: পবিত্র মুসহাফে যেভাবে সূরার বিন্যাস বিদ্যমান রয়েছে, তা মহান আল্লাহর নির্দেশক্রমেই হয়েছে
(১)।
১ - আল-তাফসির আল-ওয়াসিত এর রচয়িতা বলেছেন:
আর মনের কাছে যেটি গ্রহণযোগ্য মনে হয় তা হলো, সূরার বিন্যাস নির্ধারিত (توقيفي), এবং প্রতিটি সূরার নিজস্ব কিছু বিষয়বস্তু রয়েছে যা আমরা এমনভাবে স্পষ্টভাবে দেখতে পাই যা সেটিকে অন্যদের থেকে পৃথক করে
(২)।
২ - ওয়াহবা বিন মুস্তফা আল-জুহায়লি (মৃত্যু: ১৪৩৬ হিজরি) বলেছেন:
সূরার আয়াতসমূহের বিন্যাস যে নির্ধারিত (توقيفي) এবং নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে অকাট্যভাবে বর্ণিত ও প্রমাণিত (ثابت), এ ব্যাপারে আলেমদের মধ্যে কোনো মতভেদ নেই। তেমনিভাবে সূরার বিন্যাসও অধিকতর সঠিক (الراجح) মত অনুযায়ী নির্ধারিত (توقيفي)
(৩)।
সমসাময়িকদের মধ্যে মুহাম্মদ আবদুল্লাহ দরাজ এবং আহমদ শাকিরও এই মত ব্যক্ত করেছেন।
পঞ্চম অধ্যায়: মুসহাফের বিন্যাস নির্ধারিত (توقيفي) হওয়ার বিষয়ে কিছু আলেম কর্তৃক পেশকৃত উল্লেখযোগ্য দলিলসমূহএতে চারটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম পরিচ্ছেদ: প্রথম দলিল: ওসমানি মুসহাফের সূরার বিন্যাসের ওপর সাহাবায়ে কেরাম (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)-এর ঐক্যমত্য (إجماع)এই বিন্যাস নির্ধারিত (توقيفي) হওয়ার বিষয়ে তাঁদের পেশকৃত উল্লেখযোগ্য দলিলসমূহ নিম্নরূপ:
কারণ, এই বিন্যাস যদি গবেষণালব্ধ (اجتهادي) হতো, তবে তাঁরা এর ওপর ঐক্যবদ্ধ (إجماع) হতেন না, বরং তাঁরা তাঁদের নিজস্ব মুসহাফগুলো আঁকড়ে ধরে রাখতেন এবং সেগুলো পোড়ানোর জন্য পেশ করতেন না, আর তাঁরা 'মুসহাফুল ইমাম'-এর ওপর একমত হতেন না।
"ওসমান বিন আফফান (রাদিয়াল্লাহু আনহু) সেই মুসহাফগুলো পুড়িয়ে ফেলেছিলেন যেগুলোতে মতভেদ দেখা দিয়েছিল এবং তাদের জন্য সর্বসম্মত বিষয়টি অবশিষ্ট রেখেছিলেন, যেমনটি শেষ পর্যালোচনায় (العرضة الأخيرة) প্রমাণিত (ثبت) হয়েছে।"
(৪)সহিহ বুখারিতে আনাস বিন মালেক (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে প্রমাণিত (ثبت) হয়েছে যে, হুজাইফা বিন ইয়ামান (রাদিয়াল্লাহু আনহু) ওসমান (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর নিকট আসলেন। তিনি তখন ইরাকবাসীদের সাথে নিয়ে সিরিয়াবাসীদের পক্ষে আরমেনিয়া ও আজারবাইজান বিজয়ের যুদ্ধে লিপ্ত (يغازي) ছিলেন। কিরাত বা কোরআন পাঠের ক্ষেত্রে তাদের পারস্পরিক মতভেদ হুজাইফাকে ভীত করে তুলল। হুজাইফা ওসমান (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কে বললেন: হে আমিরুল মুমিনিন! এই উম্মত কিতাব নিয়ে ইহুদি ও খ্রিস্টানদের মতো মতভেদে লিপ্ত হওয়ার আগেই তাদের রক্ষা করুন। তখন ওসমান (রাদিয়াল্লাহু আনহু) হাফসা (রাদিয়াল্লাহু আনহা)-এর কাছে সংবাদ পাঠালেন যে: আমাদের কাছে পাণ্ডুলিপিগুলো পাঠিয়ে দিন যাতে আমরা সেগুলো মুসহাফে প্রতিলিপি করতে পারি, তারপর আমরা সেগুলো আপনার কাছে ফেরত পাঠিয়ে দেব। হাফসা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) সেগুলো ওসমানের কাছে পাঠিয়ে দিলেন। তখন তিনি জায়েদ বিন সাবিত, আবদুল্লাহ বিন জুবায়ের, সাঈদ বিন আস এবং আবদুর রহমান বিন হারিস বিন হিশামকে নির্দেশ দিলেন এবং তাঁরা সেগুলো মুসহাফসমূহে প্রতিলিপি করলেন। ওসমান (রাদিয়াল্লাহু আনহু) কুরাইশ বংশীয় তিন ব্যক্তিকে বললেন: কোরআনের কোনো বিষয়ে যদি তোমরা এবং জায়েদ বিন সাবিত দ্বিমত পোষণ করো, তবে তা কুরাইশদের ভাষায় লেখো; কেননা তা তাদের ভাষাতেই অবতীর্ণ হয়েছে—অর্থাৎ প্রারম্ভিকভাবে—। তাঁরা তাই করলেন। যখন তাঁরা পাণ্ডুলিপিগুলো মুসহাফে প্রতিলিপি সম্পন্ন করলেন, ওসমান (রাদিয়াল্লাহু আনহু) পাণ্ডুলিপিগুলো হাফসার কাছে ফেরত দিলেন এবং প্রতিলিপিকৃত মুসহাফগুলোর একটি করে কপি প্রতিটি অঞ্চলে পাঠিয়ে দিলেন। আর এছাড়া কোরআনের অন্য যেসব ক্ষুদ্র বা বৃহৎ সংকলন ছিল, তা পুড়িয়ে ফেলার নির্দেশ দিলেন।
(৫)(৬)--------------------------------------------
(খণ্ড: ৭৩)
সারীহুল মা'কুল আল-মুওয়াফিক লিসারীহিল মানকুল ফী মুনাক্বাশাতি সালাসাতি তাফাসীর রুত্তিাবাত আলা তারতীবিন নুযূল
(পৃষ্ঠা: ৫৪)
قال علي بن أبي طالب رضي الله عنه:
" يا أيها الناس، لا تغلوا في عثمان، ولا تقولوا له إلا خيرًا في المصاحف وإحراق المصاحف، فو الله ما فعل الذي فعل في المصاحف إلا عن ملأ منا جميعًا ".
(1)وقول علي بن أبي طالب رضي الله عنه يدل على أنهم قد أجمعوا عليه إجماعًا سكوتيًا-رضي الله عنهم أجمعين-.
موقف ابن مسعود- رضي الله عنه:
قال ابن كثير-رحمه الله:
"روي عن عبدالله بن مسعود أنه غضب لما أخذ منه مصحفه فحرق، وتكلَّم في تقدُّم إسلامه على زيد بن ثابت الذي كتب المصاحف، فكتب إليه عثمان بن عفان- رضي الله عنه يدعوه إلى اتِّباع الصحابة فيما أجمعوا عليه من المصلحة في ذلك، وجمع الكلمة، وعدم الاختلاف، فأناب عبدالله بن مسعود، وأجاب إلى المتابعة، وترك المخالفة-رضي الله عنهم أجمعين-".
(2)وكذلك إجاب ابن مسعود- رضي الله عنه إلى المتابعة في تقديم مصحفه للحرق تعزز ما ذكرناه آنفًا من قول على بن أبي طالب- رضي الله عنه تقوى وتؤكد وتعزز القول بالإجماع السكوتي من جهة، وتقرر الإجماع الفعلي من جهة أخرى كذلك، فرضي الله عنهم أجمعين.
وفي ذلك يقول الزرقاني- (ت: 1367 هـ) في "مناهله"- وهو يستعرض أدلة القائلين بالتوقيف:
"إن ترتيب السور كلها توقيفي بتعليم الرسول- صلى الله عليه وسلم كترتيب الآيات وأنه لم توضع سورة في مكانها إلا بأمر منه صلى الله عليه وسلم. واستدل أصحاب هذا الرأي بأن الصحابة أجمعوا على المصحف الذي كتب في عهد عثمان ولم يخالف منهم أحد. وإجماعهم لا يتم إلا إذا كان الترتيب الذي أجمعوا عليه عن توقيف لأنه لو كان عن اجتهاد لتمسك أصحاب المصاحف المخالفة بمخالفتهم. لكنهم لم يتمسكوا بها بل عدلوا عنها وعن ترتيبهم وعدلوا عن مصاحفهم وأحرقوها ورجعوا إلى مصحف عثمان وترتيبه جميعا. ثم ساقوا روايات لمذهبهم كأدلة يستند إليها الإجماع".
(3)فلو سلمنا جدلاً أن ترتيب المصحف كان في أول أمره ترتيبًا اجتهاديًا لا توقيفيًا، لقلنا إن إجماع الأمة قد استقر على الترتيب المصحفي، حتى إن كُتب التفسير كلها على هذا الأمر لا نعلم منها أي مخالف عند السلف والخلف، لكن شذ عن ذلك ثلاثة نفر من المعاصرين
(4)، فلا يجوز والحال كذلك خرق هذا العمل الذي أجمعت الأمة عليه، وإنما المعنى بذلك هو كتب التفسير، لأن أمر المصاحف لا يتجرأ أحدُ على مخالفته البتة إلا مما نادى بعض المستشرقين كما سيأتي بيانه.
المطلب الثاني: الدليل الثاني: تحزيب الصحابة-رضي الله عنهم للقرآنومما استدلوا به كذلك على أن ترتيب السور توقيفي تحزيب القرآن وفي
--------------------------------------------
আলী বিন আবি তালিব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন:
"হে লোকসকল, তোমরা উসমানের ব্যাপারে অতিরঞ্জন করো না এবং মাসাহিফ (কুরআনের পাণ্ডুলিপি) ও তা পুড়িয়ে ফেলার বিষয়ে তাকে ভালো ছাড়া অন্য কিছু বলো না। আল্লাহর কসম, তিনি আমাদের সকলের পরামর্শ বা সম্মিলিত সিদ্ধান্তের (ملأ) ভিত্তিতেই মাসাহিফের বিষয়ে যা করার তা করেছেন।"
(১)আলী বিন আবি তালিব (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর এই বক্তব্য একথার প্রমাণ দেয় যে, সাহাবায়ে কিরাম এই বিষয়ে মৌন ঐক্যমতে (إجماع سكوتي) উপনীত হয়েছিলেন—আল্লাহ তাঁদের সকলের প্রতি সন্তুষ্ট হোন।
ইবনে মাসউদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর অবস্থান:
ইবনে কাসীর (রহিমাহুল্লাহ) বলেন:
"আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, যখন তাঁর নিকট থেকে তাঁর মাসহাফ নিয়ে নেওয়া হয় এবং পুড়িয়ে ফেলা হয়, তখন তিনি রাগান্বিত হয়েছিলেন। তিনি জায়েদ বিন সাবিত—যিনি মাসহাফসমূহ লিপিবদ্ধ করেছিলেন—তাঁর ওপর নিজের ইসলামে অগ্রবর্তিতার বিষয়ে কিছু কথা বলেছিলেন। এরপর উসমান বিন আফফান (রাদিয়াল্লাহু আনহু) তাঁকে পত্র লিখলেন এবং সাহাবায়ে কিরাম যে জনকল্যাণের (مصلحة) বিষয়ে এবং বিভেদ পরিহার করে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেছেন, তার অনুসরণ করার আহ্বান জানালেন। ফলে আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) প্রত্যাবর্তন করলেন এবং অনুসরণ করতে সম্মত হলেন ও বিরোধিতা ত্যাগ করলেন—আল্লাহ তাঁদের সকলের প্রতি সন্তুষ্ট হোন।"
(২)অনুরূপভাবে, ইবনে মাসউদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর নিজ মাসহাফ পুড়িয়ে ফেলার জন্য প্রদানের মাধ্যমে আনুগত্য করা আলী বিন আবি তালিব (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর সেই বক্তব্যকে শক্তিশালী করে যা আমরা ইতিপূর্বে উল্লেখ করেছি। এটি একদিকে যেমন মৌন ঐক্যমতের (إجماع سكوتي) বিষয়টিকে সুদৃঢ় ও নিশ্চিত করে, তেমনি অন্যদিকে কর্মগত ঐক্যমতকেও (إجماع فعلي) প্রতিষ্ঠিত করে। আল্লাহ তাঁদের সকলের প্রতি সন্তুষ্ট হোন।
এই প্রসঙ্গে যারকানি (মৃত্যু: ১৩৬৭ হিজরি) তাঁর "মানাহিলুল ইরফান" গ্রন্থে সূরাসমূহের বিন্যাস ওহি-নির্ধারিত (توقيفي) হওয়ার প্রবক্তাদের দলিলসমূহ পর্যালোচনা করতে গিয়ে বলেন:
"নিশ্চয়ই সমস্ত সূরার বিন্যাস রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর শিখিয়ে দেওয়া অনুযায়ী ওহি-নির্ধারিত (توقيفي), ঠিক যেমনটি আয়াতের বিন্যাসের ক্ষেত্রে হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নির্দেশ ব্যতীত কোনো সূরাই তার স্থানে রাখা হয়নি। এই মতের অনুসারীরা দলিল হিসেবে পেশ করেছেন যে, সাহাবায়ে কিরাম উসমানের যুগে সংকলিত মাসহাফের ওপর ঐক্যমত (إجماع) পোষণ করেছিলেন এবং তাঁদের কেউ এর বিরোধিতা করেননি। তাঁদের এই ঐক্যমত কেবল তখনই সম্ভব ছিল, যখন এই বিন্যাস ওহি-নির্ধারিত (توقيفي) হয়। কারণ যদি এটি গবেষণালব্ধ (اجتهادي) হতো, তবে ভিন্ন বিন্যাসের মাসহাফের অধিকারীরা তাদের বিরোধিতায় অটল থাকতেন। কিন্তু তারা তা করেননি, বরং তারা নিজেদের বিন্যাস ও মাসহাফ ত্যাগ করে সেগুলো পুড়িয়ে ফেলেন এবং উসমানের মাসহাফ ও তার বিন্যাসের দিকে প্রত্যাবর্তন করেন। এরপর তারা তাদের এই মাযহাব বা মতের স্বপক্ষে বিভিন্ন বর্ণনা পেশ করেছেন যা এই ঐক্যমতের দলিল হিসেবে গণ্য হয়।"
(৩)আমরা যদি তর্কের খাতিরে মেনেও নেই যে, মাসহাফের বিন্যাস শুরুতে ওহি-নির্ধারিত (توقيفي) না হয়ে গবেষণালব্ধ (اجتهادي) ছিল, তবুও আমরা বলব যে, উম্মতের ঐক্যমত (إجماع) এই মাসহাফি বিন্যাসের ওপরই স্থির হয়েছে। এমনকি তাফসিরের সকল কিতাব এই নিয়মেই রচিত। পূর্ববর্তী (سلف) এবং পরবর্তী (خلف) আলেমদের মধ্যে আমরা এর কোনো ব্যতিক্রম জানি না। তবে বর্তমান সময়ের তিন জন ব্যক্তি এর ব্যতিক্রম করেছেন
(৪)। এমতাবস্থায় উম্মতের এই সর্বসম্মত কর্মকে ভঙ্গ করা জায়েজ নয়। এর দ্বারা মূলত তাফসিরের কিতাবসমূহ উদ্দেশ্য, কারণ মাসহাফের বিন্যাসের বিরোধিতা করার সাহস অন্তত কোনো মুসলিমের নেই, কেবল কতিপয় প্রাচ্যবিদ (مستشرقين) যা দাবি করেছে—যা সামনে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: দ্বিতীয় দলিল: সাহাবায়ে কিরাম (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) কর্তৃক কুরআনের হিযব বা অংশ নির্ধারণসূরাসমূহের বিন্যাস ওহি-নির্ধারিত (توقيفي) হওয়ার ব্যাপারে তারা কুরআনের হিযব (تحزيب) নির্ধারণকেও দলিল হিসেবে পেশ করেছেন এবং এতে
--------------------------------------------
(খণ্ড: ৭৩)
সারীহুল মা'কুল আল-মুওয়াফিক লিসারীহিল মানকুল ফী মুনাক্বাশাতি সালাসাতি তাফাসীর রুত্তিাবাত আলা তারতীবিন নুযূল
(পৃষ্ঠা: ৫৫)
ذلك يقول الحافظ ابن حجر (ت: 852 هـ) -رحمه الله تعالى:
"ومما يدل على أن ترتيب المصحف كان توقيفيًّا ما أخرجه أحمد وأبو داود وغيرهما عَنْ أَوْسِ بْنِ أَبِي أَوْسٍ، عَنْ حُذَيْفَةَ الثَّقَفِيِّ قال: كنت في الوفد الذين أسلموا من ثقيف
… وفيه
… فسألنا أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم قلنا: كيف تحزبون القرآن؟ قالوا: نحزبه ثلاث سور، وخمس سور، وسبع سور، وتسع سور، وإحدى عشرة، وثلاث عشرة، وحزب المفصل من "ق" حتى نختم". ثم قال ابن حجر: "فهذا يدل على أن ترتيب السور على ما هو في المصحف الآن كان في عهد النبي- صلى الله عليه وسلم ".
(1)وهذا أيضًا دليل واضح جلي ذكره الحافظ في الفتح واستدل به على أن ترتيب السور على ما هو عليه في المصحف الأن كان كذلك في عهد تنزله الأول على عهد النبي صلى الله عليه وسلم.
المطلب الثالث: الدليل الثالث: النظم الترتيبي لبعض السور المتشابهة في مفتتحهاوفي ذلك يقول السيوطي -رحمه الله تعالى-:
"ومما يدل على أنه توقيفي كون الحواميم رتبت وَلاءً "يعني متوالية" وكذا الطواسين، ولم ترتب المسبحات وَلاءً، بل فُصِلَ بين سورها وفُصِلَ بين "طسم" الشعراء و"طسم" القصص بـ "طس" مع أنها أقصر منهما، ولو كان الترتيب اجتهادًا لذكرت المسبحات وَلاءً، وأخرت "طس" عن القصص".
(2) وقد مر ذكره عند عرض أقوال القائلين بتوقيف ترتيب السور.
وهذا الترتيب الدقيق الذي ذكره السيوطي للسور المتشابهات في مفتتحها ومطلعها وصفة ترتيبها وتتابعها بتك الدقة المتناهية من سور "آل حميم" وسور "آل طسم"، إذ إن سور "آل حم" السبع رتبت ترتيبًا متواليًا وكذلك سور "آل طسم" الثلاث، وأما سور المسبحات السبع فرغم تشابه مفتتحها فإنها لم تأت متوالية. وقوله: (وأخرت طس) يعني النمل المفتتحة بـ (طس) فقد أخرت عن القصص فجاءت بعدها، وقد وقعت بين سورتي الشعراء والقصص المتشابهتين في الافتتاح بـ (طسم)، فدلل بذلك على أن ترتيب السور توقيفي بلا شك، وهذا استدلال من السيوطي له قوته ووجاهته وحجيته.
وسور الحواميم هي: سور ذَوات "آل حم".
وسور الطواسين أو الطواسيم هي: السور ذَوات "آل طسم ". وقد جُمِعَتْ على غيرِ قِياس.
أما سور "آل حم": فهي سور "آل حم" السبع التي افتتحت بـ"حم" وهي سور:
1 - غافر
2 - فصلت
3 - الشورى
4 - الزخرف
5 - الدخان
6 - الجاثية
7 - الأحقاف.
قال الكميت بن يزيد
(3):
وجدنا لكم في آل حاميم آية
… تأوّلها منّا تقيّ ومعرب
(4)--------------------------------------------
এই প্রসঙ্গে হাফিজ ইবনে হাজার (মৃত্যু: ৮৫২ হিজরি) -রাহিমাহুল্লাহু তা’আলা- বলেন:
"মুসহাফের বিন্যাস যে ওহী-নির্ধারিত (توقيفي) ছিল, তার অন্যতম প্রমাণ হলো আহমাদ, আবু দাউদ এবং অন্যান্যদের বর্ণিত হাদিস, যা আউস ইবনে আবি আউস থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি হুযাইফা আস-সাকাফী থেকে বর্ণনা করেন: তিনি বলেন: আমি সাকীফ গোত্র থেকে আগত সেই প্রতিনিধি দলে ছিলাম যারা ইসলাম গ্রহণ করেছিল
… এবং তাতে বর্ণিত আছে যে
… আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীদের কাছে জিজ্ঞেস করলাম: আপনারা কীভাবে কুরআনের মানজিল নির্ধারণ (تحزيب) করেন? তাঁরা বললেন: আমরা একে তিন সূরা, পাঁচ সূরা, সাত সূরা, নয় সূরা, এগারো সূরা, তেরো সূরা এবং 'ক্বাফ' থেকে শেষ পর্যন্ত মুফাসসাল (مفصل) অংশে বিভক্ত করি।" এরপর ইবনে হাজার বলেন: "এটি প্রমাণ করে যে, বর্তমানে মুসহাফে সূরার যে বিন্যাস রয়েছে, তা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগেই বিদ্যমান ছিল।"
(১)এটিও একটি অত্যন্ত সুস্পষ্ট ও উজ্জ্বল দলিল যা হাফিজ ফাতহুল বারীতে উল্লেখ করেছেন। তিনি এর মাধ্যমে প্রমাণ করেছেন যে, বর্তমানে মুসহাফে সূরার বিন্যাস ঠিক যেভাবে রয়েছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে ওহী নাযিলের প্রাথমিক সময়েও তা ঠিক তেমনই ছিল।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: তৃতীয় দলিল: প্রারম্ভিক আয়াত সদৃশ কিছু সূরার সুশৃঙ্খল বিন্যাস পদ্ধতিএ সম্পর্কে সুয়ূতী -রাহিমাহুল্লাহু তা’আলা- বলেন:
"এটি ওহী-নির্ধারিত (توقيفي) হওয়ার অন্যতম প্রমাণ হলো, হা-মীম (الحواميم) বিশিষ্ট সূরাগুলো ধারাবাহিকভাবে (ولاءً) সাজানো হয়েছে এবং একইভাবে ত-সীন (الطواسين) বিশিষ্ট সূরাগুলোও। কিন্তু মুসাব্বিহাত (المسبحات) সূরাগুলো ধারাবাহিকভাবে সাজানো হয়নি; বরং তাদের সূরাগুলোর মাঝে বিচ্ছিন্নতা আনা হয়েছে। এছাড়া শুয়ারা ও কাসাস এর দুই 'ত-সীন-মীম'-এর মাঝে 'ত-সীন' (সূরা নামল) দ্বারা পৃথক করা হয়েছে, যদিও এটি ওই দুই সূরার চেয়ে ছোট। যদি বিন্যাসটি গবেষণাভিত্তিক (اجتهاد) হতো, তবে মুসাব্বিহাত সূরাগুলো ধারাবাহিকভাবে রাখা হতো এবং 'ত-সীন' (নামল) সূরাটিকে কাসাস-এর পরে আনা হতো।"
(২) সূরার বিন্যাস ওহী-নির্ধারিত হওয়ার পক্ষের মতাবলম্বীদের আলোচনা করার সময় বিষয়টি পূর্বেও উল্লিখিত হয়েছে।
সূরার প্রারম্ভিক মিল ও সূক্ষ্ম বিন্যাস পদ্ধতির ব্যাপারে সুয়ূতী যে বর্ণনা দিয়েছেন, তা অত্যন্ত নিখুঁত। যেমন 'আলে হামিম' ও 'আলে তসীন-মীম' সূরাগুলোর বিন্যাস পদ্ধতি; সাতটি 'আলে হামিম' সূরা ধারাবাহিকভাবে সাজানো হয়েছে এবং তিনটি 'আলে তসীন-মীম' সূরার ক্ষেত্রেও তাই। কিন্তু সাতটি মুসাব্বিহাত সূরার প্রারম্ভিক অংশে মিল থাকা সত্ত্বেও সেগুলো ধারাবাহিকভাবে আসেনি। আর তাঁর উক্তি: (এবং ত-সীন-কে পরে রাখা হতো) অর্থাৎ সূরা নামল যা 'ত-সীন' দিয়ে শুরু হয়েছে, তাকে কাসাস-এর পরে নিয়ে আসা হতো; অথচ তা সূরা শুয়ারা ও কাসাস-এর মাঝখানে রাখা হয়েছে যে দুটি 'ত-সীন-মীম' দিয়ে শুরু। এটি নিঃসন্দেহে প্রমাণ করে যে সূরার বিন্যাস ওহী-নির্ধারিত (توقيفي)। সুয়ূতী প্রদত্ত এই যুক্তির নিজস্ব শক্তি, বলিষ্ঠতা ও গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে।
হাওয়ামিম সূরাগুলো হলো: 'আলে হামিম' (آل حم) বিশিষ্ট সূরাসমূহ।
তওয়াসীন বা তওয়াসীম সূরাগুলো হলো: 'আলে তসীন-মীম' (آل طسم) বিশিষ্ট সূরাসমূহ। এগুলোর বহুবচন ব্যাকরণিক নিয়মের বাইরে করা হয়েছে।
আর 'আলে হামিম' সূরাগুলো হলো: সেই সাতটি সূরা যা 'হামিম' দিয়ে শুরু হয়েছে। সূরাগুলো হলো:
১ - গাফির
২ - ফুসসিলাত
৩ - আশ-শূরা
৪ - আয-যুখরুফ
৫ - আদ-দুখান
৬ - আল-জাসিয়া
৭ - আল-আহকাফ।
কুমাইত ইবনে যায়েদ বলেন
(৩):
আমরা তোমাদের জন্য 'আলে হামিম'-এর মাঝে এমন এক নিদর্শন পেয়েছি
… যার ব্যাখ্যা আমাদের মাঝে পরহেজগার ও স্পষ্টভাষী ব্যক্তিগণ করে থাকেন।
(৪)--------------------------------------------