(খণ্ড: ১)
দাওয়াতি তায়িনীন ফিল কুরআনিল কারীম = আত-তায়নু ফিল কুরআনিল কারীম ওয়ার রাদ্দু আলাত তায়িনীন
(পৃষ্ঠা: -)
دعاوى الطاعنين في القرآن الكريم = الطعن في القرآن الكريم والرد على الطاعنين القسم: علوم القرآن وأصول التفسير
الكتاب: دعاوى الطاعنين في القرآن الكريم في القرن الرابع عشر الهجري والرد عليها
المؤلف: عبد المحسن بن زبن بن متعب المطيري
أصل الكتاب: رسالة دكتوراة - جامعة القاهرة - كلية دار العلوم، قسم الشريعة الإسلامية
الناشر: دار البشائر الإسلامية، بيروت - لبنان
الطبعة: الأولى، 1427 هـ - 2006 م
عدد الصفحات: 402
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
পবিত্র কুরআনের প্রতি সংশয়বাদীদের অভিযোগ = পবিত্র কুরআনের প্রতি সংশয় প্রকাশ এবং সংশয়বাদীদের খণ্ডন বিভাগ: কুরআন বিজ্ঞান ও তাফসিরের মূলনীতি
গ্রন্থ: চতুর্দশ হিজরি শতাব্দীতে পবিত্র কুরআনের প্রতি সংশয়বাদীদের অভিযোগ এবং তার খণ্ডন
লেখক: আব্দুল মুহসিন বিন যাবান বিন মুতয়িব আল-মুতাইরি
গ্রন্থের মূল উৎস: পিএইচডি থিসিস - কায়রো বিশ্ববিদ্যালয় - কুল্লিয়াতু দারিল উলুম، ইসলামী শরিয়া বিভাগ
প্রকাশক: দার আল-বাশাইর আল-ইসলামিয়্যাহ، বৈরুত - লেবানন
সংস্করণ: প্রথম، ১৪২৭ হিজরি - ২০০৬ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪০২
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
দাওয়াতি তায়িনীন ফিল কুরআনিল কারীম = আত-তায়নু ফিল কুরআনিল কারীম ওয়ার রাদ্দু আলাত তায়িনীন
(পৃষ্ঠা: -)
جمهورية مصر العربية
جامعة القاهرة
كلية دار العلوم
قسم الشريعة الإسلامية
الطعن في القرآن الكريم والرد على الطاعنين في القرن الرابع عشر الهجري
رسالة لنيل درجة الدكتوراة
مقدمة من الطالب: عبد المحسن بن زبن بن متعب المطيري
المعيد بكلية الشريعة - جامعة الكويت
إشراف: أ. د / إبراهيم عبد الرحيم
حفظه الله
আরব প্রজাতন্ত্র মিশর
কায়রো বিশ্ববিদ্যালয়
দারুল উলুম অনুষদ
ইসলামি শরিয়াহ বিভাগ
পবিত্র কুরআনের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ এবং চতুর্দশ হিজরি শতাব্দীতে অভিযোগকারীদের খণ্ডন
ডক্টরেট ডিগ্রি লাভের লক্ষ্যে গবেষণাপত্র
উপস্থাপনায়: ছাত্র আব্দুল মুহসিন বিন যাবান বিন মুতআব আল-মুতাইরি
শরিয়াহ অনুষদের শিক্ষা সহকারী - কুয়েত বিশ্ববিদ্যালয়
তত্ত্বাবধানে: অধ্যাপক ডক্টর ইব্রাহিম আব্দুল রহিম
আল্লাহ তাঁকে রক্ষা করুন
(খণ্ড: ১)
দাওয়াতি তায়িনীন ফিল কুরআনিল কারীম = আত-তায়নু ফিল কুরআনিল কারীম ওয়ার রাদ্দু আলাত তায়িনীন
(পৃষ্ঠা: ৫)
أصل هذا الكتاب
رسالة علمية قدمت إلى جامعة القاهرة - كلية دار العلوم قسم الشريعة الإسلامية، نال بها المؤلف درجة الدكتوراة بتقدير ممتاز مع مرتبة الشرف وذلك في العام 2003 م
এই গ্রন্থের মূল ভিত্তি
একটি গবেষণাপত্র যা কায়রো বিশ্ববিদ্যালয়ের দারুল উলুম অনুষদের ইসলামি শরিয়াহ বিভাগে পেশ করা হয়েছে, এর মাধ্যমে লেখক ২০০৩ খ্রিস্টাব্দে অসামান্য (মুমতাজ) মান ও বিশেষ সম্মাননাসহ ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেছেন।
(খণ্ড: ১)
দাওয়াতি তায়িনীন ফিল কুরআনিল কারীম = আত-তায়নু ফিল কুরআনিল কারীম ওয়ার রাদ্দু আলাত তায়িনীন
(পৃষ্ঠা: ৭)
المقدمةالحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على أشرف الأنبياء والمرسلين، وعلى آله وصحبه أجمعين، أما بعد:
فقد عرف أعداء الإسلام أن مصدر عزة هذا الدين وأهله، وسر تجدده في نفوس المسلمين هو هذا القرآن العظيم، الذي لا يخلق من كثرة الترداد، ولا تنقضي عجائبه، ولا يمله القارئ والسامع ولا يزداد به المؤمن إلا يقينا بدينه وتعلقا به، هذه المعجزة الخالدة، والآية الباقية ما بقي الليل والنهار، هذا الكتاب الذي وعد الله تعالى بحفظه بقوله: {إنا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لَحَافِظُونَ} [الحجر:9] .
ولما كانت هذه منزلة القرآن، اجتهد أعداء الدين بالطعن في هذا القرآن؛ حتى يسلخوا المسلمين من التعلق به، فيصبحوا صيدا سهلا وغنيمة باردة. وحرب أعداء الدين هذه ليست فقط على القرآن، بل على كل أساساته وقواعده؛ فهناك الحرب على الرسول صلى الله عليه وسلم وسنته (1) ، والطعن في عدالة الصحابة، والحرب على المرأة المسلمة (2) وحجابها وعفافها،
--------------------------------------------
ভূমিকাসকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, আর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আম্বিয়া ও রাসূলদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠের ওপর এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর। অতঃপর:
ইসলামের শত্রুরা জেনে গেছে যে, এই দ্বীন ও তার অনুসারীদের সম্মানের উৎস এবং মুসলিমদের অন্তরে এর নবায়নের রহস্য হলো এই মহান কুরআন। যা বারবার পাঠেও পুরোনো হয় না, এর বিস্ময়কর দিকসমূহ কখনো শেষ হয় না এবং পাঠক ও শ্রোতা এতে কখনও ক্লান্ত হয় না; বরং মুমিন ব্যক্তি এর মাধ্যমে তার দ্বীনের প্রতি কেবল দৃঢ় বিশ্বাস ও আসক্তিই বৃদ্ধি করে। এটি সেই চিরন্তন মুজিযা এবং অবশিষ্ট নিদর্শন, যা দিন ও রাত অবশিষ্ট থাকা পর্যন্ত অবশিষ্ট থাকবে। এটি সেই কিতাব যার সংরক্ষণের ওয়াদা মহান আল্লাহ এই বলে দিয়েছেন: {নিশ্চয়ই আমি উপদেশবাণী অবতীর্ণ করেছি এবং আমিই এর সংরক্ষণকারী} [হিজর: ৯]।
যেহেতু কুরআনের মর্যাদা এমন, তাই দ্বীনের শত্রুরা এই কুরআনের নিন্দা ও সমালোচনা করার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়েছে; যেন তারা মুসলিমদেরকে এর প্রতি আসক্তি থেকে বিচ্ছিন্ন করতে পারে, ফলে তারা সহজ শিকার ও অনায়াস লব্ধ বস্তুতে পরিণত হয়। দ্বীনের শত্রুদের এই যুদ্ধ কেবল কুরআনের ওপরই নয়, বরং এর সকল ভিত্তি ও মূলনীতির ওপর; সেখানে যুদ্ধ চলছে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও তাঁর সুন্নাহর (১) ওপর, সাহাবীগণের ন্যায়পরায়ণতার সমালোচনা করা হচ্ছে, এবং যুদ্ধ চলছে মুসলিম নারী (২), তাদের পর্দা ও সতীত্বের ওপর।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দাওয়াতি তায়িনীন ফিল কুরআনিল কারীম = আত-তায়নু ফিল কুরআনিল কারীম ওয়ার রাদ্দু আলাত তায়িনীন
(পৃষ্ঠা: ৮)
والحرب على بعض الشعائر كالجهاد (1) ، وغيرها من الجبهات، ولكن الحرب على القرآن هي أخطرها وأشدها وأشرسها؛ لأن القرآن هو الذي يدل على الأصول السابقة ويحث عليها، فهو أصلها وهي فروعه، وبذهاب الأصل تذهب الفروع؛ ومن هنا عزمت في هذه الرسالة على جمع هذه المطاعن والإشكالات التي تثار الآن، والتي هي عبارة - في غالبها - عن ترديد لما سبق، فلو عرفها الناس وتحصنوا منها لما حصل هذا الاضطراب من هذه الشبه.
ومن أهداف الرسالة أيضا الرد على المستشرقين الذين يطعنون في هذا الدين، ويشككون في قدسية وعصمة كتابه. وكذلك الرد على المعاصرين الذين تأثروا بهذه الشبه وبدأوا يرددونها.
فاخترت أن تكون أطروحتي لنيل درجة الدكتوراة بعنوان:
الطعن في القرآن الكريم
والرد على الطاعنين في القرن الرابع عشر الهجري.
ومن الأسباب التي لأجلها اخترت هذا الموضوع:
1- كثرة المطاعن في هذا الزمن خاصة على القرآن، واتهامه بالتناقض، سواء من المستشرقين، أو من أعداء الدين، أو ممن ينتسبون للإسلام.
2- تأثر بعض المسلمين بهذه الشبه التي تثار، فكان لزاما على طلبة العلم وأهله كشف هذه الشبه، وبيان فسادها للناس أجمعين.
3- إثبات إعجاز القرآن، وأنه من عند الله، وأن الله تكفل بحفظه حقا.
--------------------------------------------
জিহাদ (১) ও অন্যান্য ফ্রন্টের মতো কিছু ধর্মীয় বিধানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চলছে, কিন্তু কুরআনের বিরুদ্ধে যুদ্ধটি সবচেয়ে বিপজ্জনক, তীব্র এবং ভয়াবহ; কারণ কুরআনই পূর্বোক্ত মূলনীতিসমূহের পথপ্রদর্শক এবং সেগুলোর প্রতি উৎসাহিতকারী। তাই এটিই মূল এবং সেগুলো এর শাখা। মূলটি বিলুপ্ত হলে শাখাসমূহও বিলুপ্ত হয়ে যায়। এ কারণেই আমি এই গবেষণাপত্রে বর্তমানে উত্থাপিত এই সকল অভিযোগ ও আপত্তিসমূহ সংকলন করার সংকল্প করেছি, যা মূলত পূর্ববর্তী কথারই পুনরাবৃত্তি। মানুষ যদি এগুলো সম্পর্কে জানত এবং এ থেকে সুরক্ষা গ্রহণ করত, তবে এই সংশয়গুলোর কারণে এমন অস্থিরতা সৃষ্টি হতো না।
এই গবেষণাপত্রের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো সেইসব প্রাচ্যবিদদের (ওরিয়েন্টালিস্ট) জবাব দেওয়া যারা এই দ্বীনকে আক্রমণ করে এবং এর কিতাবের পবিত্রতা ও অভ্রান্ততা নিয়ে সন্দেহ তৈরি করে। সেই সাথে সেইসব সমসাময়িকদেরও জবাব দেওয়া যারা এই সংশয়গুলো দ্বারা প্রভাবিত হয়ে এগুলোর পুনরাবৃত্তি শুরু করেছে।
তাই আমি ডক্টরেট ডিগ্রি লাভের জন্য আমার থিসিসের শিরোনাম হিসেবে নির্বাচন করেছি:
আল-কুরআনুল কারীমের বিরুদ্ধে বিষোদগার
এবং চতুর্দশ হিজরি শতাব্দীতে আক্রমণকারীদের জবাব।
যে সকল কারণে আমি এই বিষয়টি নির্বাচন করেছি তার মধ্যে অন্যতম হলো:
১- বর্তমান সময়ে বিশেষ করে কুরআনের বিরুদ্ধে অধিক পরিমাণে আক্রমণাত্মক অভিযোগ ও এতে বৈপরীত্যের অপবাদ আরোপ করা, যা প্রাচ্যবিদ, দ্বীনের শত্রু বা ইসলামের সাথে সম্পর্ক দাবিদারদের পক্ষ থেকে করা হচ্ছে।
২- উত্থাপিত এই সংশয়গুলোর দ্বারা কিছু মুসলিমের প্রভাবিত হওয়া। তাই ইলম অন্বেষী ও আলেমদের জন্য আবশ্যক হয়ে পড়েছে এই সংশয়গুলো উন্মোচন করা এবং সকল মানুষের কাছে এগুলোর অসারতা বয়ান করা।
৩- কুরআনের অলৌকিকতা প্রমাণ করা এবং এটি যে আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ এবং আল্লাহ যে সত্যিই এটি সংরক্ষণের দায়িত্ব নিয়েছেন তা সাব্যস্ত করা।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দাওয়াতি তায়িনীন ফিল কুরআনিল কারীম = আত-তায়নু ফিল কুরআনিল কারীম ওয়ার রাদ্দু আলাত তায়িনীন
(পৃষ্ঠা: ৯)
4- كشف شبه الطاعنين وأكاذيبهم، وبيان أنها ترديد لما أورده الطاعنون السابقون.
5- كشف المنافقين المندسين بين المسلمين للطعن في هذا الدين.
6- امتثالا لأمر النبي صلى الله عليه وسلم كما في حديث أَنَسٍ عَنِ النَّبِيِّ (قَالَ: «جَاهِدُوا الْمُشْرِكِينَ بِأَمْوَالِكُمْ وَأَيْدِيكُمْ وأَلْسِنَتِكُمْ» (1) .
7- الدخول في حزب جند الله المدافعين عن كتابه؛ لعله يكون لنا شافعا يوم القيامة.
وأما أهمية الموضوع فتتضح من أمور كثيرة منها:
1- عموم نفعه للمسلمين.
2- أن الموضوع يعالج مشكلة معاصرة ومستمرة.
3- أن هذا الباب لم يُخدم بما يستحقه.
4- خطورة الطعن في القرآن؛ حيث إنه من نواقض العهد مع أهل الذمة، بل من نواقض الإسلام.
وقد حَذَّر النبىُّ (من خطورة فتح هذا الباب، حين وجد نفرًا من أصحابه يخوضون فيه ببابه، وذلك فيما ورد من حديث عَمْرِو بْنِ
--------------------------------------------
৪- নিন্দুকদের সংশয় ও তাদের মিথ্যাচার উন্মোচন করা এবং এটি স্পষ্ট করা যে, এগুলো পূর্ববর্তী নিন্দুকদের উপস্থাপিত কথারই পুনরাবৃত্তি মাত্র।
৫- মুসলিমদের মাঝে ঘাপটি মেরে থাকা সেই মুনাফিকদের উন্মোচন করা যারা এই দ্বীনের নিন্দা করার জন্য ওত পেতে থাকে।
৬- নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নির্দেশের অনুসরণ করা, যেমনটি আনাস (রা.) বর্ণিত হাদিসে এসেছে যে, নবী (সা.) বলেছেন: "তোমরা তোমাদের সম্পদ, তোমাদের হাত এবং তোমাদের জিহ্বা দ্বারা মুশরিকদের বিরুদ্ধে জিহাদ করো।" (১)।
৭- আল্লাহর কিতাবের প্রতিরক্ষায় নিয়োজিত আল্লাহর সৈনিকদের দলে অন্তর্ভুক্ত হওয়া; সম্ভবত এটি কিয়ামতের দিন আমাদের জন্য সুপারিশকারী হবে।
আর এই বিষয়ের গুরুত্ব অনেকগুলো দিক থেকে স্পষ্ট হয়, যার মধ্যে রয়েছে:
১- মুসলিমদের জন্য এর উপকারের ব্যাপকতা।
২- বিষয়টি একটি সমসাময়িক এবং চলমান সমস্যার সমাধান করে।
৩- এই ক্ষেত্রটিতে তার প্রাপ্য অনুযায়ী কাজ করা হয়নি।
৪- কুরআনের নিন্দা করার ভয়াবহতা; যেহেতু এটি অমুসলিম নাগরিকদের (আহলে জিম্মাহ) সাথে চুক্তির লঙ্ঘন, বরং এটি ইসলাম বিনষ্টকারী বিষয়গুলোর অন্তর্ভুক্ত।
নবী (সা.) এই পথ খোলার ভয়াবহতা সম্পর্কে সতর্ক করেছেন, যখন তিনি তাঁর একদল সাহাবীকে তাঁর দরজার সামনে এ বিষয়ে বিতর্কে লিপ্ত দেখতে পান, যা আমর ইবন... এর বর্ণিত হাদিসে এসেছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দাওয়াতি তায়িনীন ফিল কুরআনিল কারীম = আত-তায়নু ফিল কুরআনিল কারীম ওয়ার রাদ্দু আলাত তায়িনীন
(পৃষ্ঠা: ১০)
شُعَيْبٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ: أَنَّ نَفَرًا كَانُوا جُلُوسًا بِبَابِ النَّبِيِّ (فَقَالَ بَعْضُهُمْ: أَلَمْ يَقُلِ اللَّهُ كَذَا وَكَذَا، وَقَالَ بَعْضُهُمْ: أَلَمْ يَقُلِ اللَّهُ كَذَا وَكَذَا -وفي رواية أنهم تكلموا في القَدَر- فَسَمِعَ ذَلِكَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَخَرَجَ كَأَنَّمَا فُقِئَ فِي وَجْهِهِ حَبُّ الرُّمَّانِ، فَقَالَ: «بِهَذَا أُمِرْتُمْ - أَوْ بِهَذَا بُعِثْتُمْ - أَنْ تَضْرِبُوا كِتَابَ اللَّهِ بَعْضَهُ بِبَعْضٍ، إِنَّمَا ضَلَّتِ الْأُمَمُ قَبْلَكُمْ فِي مِثْلِ هَذَا، إِنَّكُمْ لَسْتُمْ مِمَّا هَاهُنَا فِي شَيْءٍ، انْظُرُوا الَّذِي أُمِرْتُمْ بِهِ، فَاعْمَلُوا بِهِ، وَالَّذِي نُهِيتُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوا» (1) .
5- مما يكسب هذه الرسالة أهمية أني لخصت فيها كتبا كثيرة، سواء من كتب الطاعنين أو الرادين عليهم، فهي خلاصة جهود علماء كبار، وعصارة كتب متفرقة.
وبعد القراءة التحضيرية، واستشارة الأساتذة، والمشايخ، والاستنارة بعلمهم، جاءت خطة البحث على النحو التالي:
المقدمة:
التمهيد: وفيه المباحث التالية:
المبحث الأول: تعريف الطعن في القرآن.
المبحث الثاني: مصطلحات ترادف الطعن.
المبحث الثالث: التعريف بالطاعنين في القرن الرابع عشر الهجري.
الباب الأول (النظري) :
الطعن في القرآن: نشأته، أسبابه، مواجهته
--------------------------------------------
শুয়াইব তাঁর পিতা হতে এবং তিনি তাঁর দাদা হতে বর্ণনা করেন যে: একদল লোক নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দরজায় বসা ছিলেন। তাদের কেউ কেউ বললেন: “আল্লাহ কি এমন এমন কথা বলেননি?” আবার কেউ বললেন: “আল্লাহ কি এমন এমন কথা বলেননি?” — এক বর্ণনায় এসেছে যে তারা তাকদীর বা নিয়তি বিষয়ে কথা বলছিলেন — রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা শুনতে পেলেন এবং বের হয়ে এলেন; রাগে তাঁর চেহারা এমন রক্তিম হয়ে উঠেছিল যেন তাঁর মুখমণ্ডলে ডালিমের দানা নিংড়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি বললেন: «তোমাদেরকে কি এরই আদেশ দেওয়া হয়েছে — অথবা তোমাদেরকে কি এজন্যই পাঠানো হয়েছে — যে তোমরা আল্লাহর কিতাবের এক অংশকে অপর অংশের বিরুদ্ধে দাঁড় করাবে? তোমাদের পূর্ববর্তী উম্মতগণ কেবল এই কারণেই পথভ্রষ্ট হয়েছিল। এসব বিষয়ে তোমাদের সামান্যতম সংশ্লিষ্টতাও নেই। তোমাদের যা নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তা লক্ষ্য করো এবং সেই অনুযায়ী আমল করো, আর যা থেকে নিষেধ করা হয়েছে তা থেকে বিরত থাকো» (১)।
৫- এই গবেষণাপত্রটি গুরুত্বপূর্ণ হওয়ার একটি কারণ হলো, আমি এতে অনেক কিতাবের সারসংক্ষেপ করেছি, চাই তা আক্রমণকারীদের কিতাব হোক অথবা তাদের প্রতিবাদকারীদের; ফলে এটি বড় বড় আলেমদের প্রচেষ্টার নির্যাস এবং বিভিন্ন কিতাবের সারমর্ম।
প্রস্তুতিমূলক অধ্যয়ন, এবং শিক্ষক ও শাইখদের সাথে পরামর্শ ও তাঁদের জ্ঞান থেকে দিকনির্দেশনা লাভের পর গবেষণার পরিকল্পনাটি নিম্নরূপ দাঁড়িয়েছে:
ভূমিকা:
উপক্রমণিকা: এতে নিম্নোক্ত পরিচ্ছেদসমূহ রয়েছে:
প্রথম পরিচ্ছেদ: কুরআনের প্রতি আক্রমণ বা অপবাদের সংজ্ঞা।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: 'আক্রমণ'-এর সমার্থক পরিভাষাসমূহ।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: চতুর্দশ হিজরি শতাব্দীতে কুরআনের আক্রমণকারীদের পরিচয়।
প্রথম অধ্যায় (তাত্ত্বিক):
কুরআনের প্রতি আক্রমণ: এর উদ্ভব, কারণ ও মোকাবিলা।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দাওয়াতি তায়িনীন ফিল কুরআনিল কারীম = আত-তায়নু ফিল কুরআনিল কারীম ওয়ার রাদ্দু আলাত তায়িনীন
(পৃষ্ঠা: ১১)
- الفصل الأول: تاريخ الطعن في القرآن والكتب المؤلفة فيه.
المبحث الأول: أول من تكلم فيه.
المبحث الثاني: أول من ألف فيه.
المبحث الثالث: اتجاهات العلماء في التأليف في هذا المجال.
المبحث الرابع: الكتب المؤلفة فيه.
- الفصل الثاني: أسباب الطعن في القرآن.
المبحث الأول: لماذا هذه الحرب على القرآن؟.
المبحث الثاني: ما الحكمة من وجود المتشابه في القرآن؟.
المبحث الثالث: أنواع المطاعن..
- الفصل الثالث: مواجهة دعاوى الطعن في القرآن.
المبحث الأول: تنزيه كلام الله عن المطاعن.
المبحث الثاني: موقف سلف الأمة ممن يثيرون الشبه والمطاعن حول القرآن.
المبحث الثالث: قواعد التعامل مع المطاعن.
الباب الثاني (تطبيقي) :
موقف الطاعنين من آيات القرآن والرد عليهم:
- الفصل الأول: الردود الإجمالية على من طعن في القرآن:
المبحث الأول: الأدلة على صدق الرسول صلى الله عليه وسلم :
المطلب الأول: بشارة الكتب السابقة به.
المطلب الثاني: شهادة المنصفين من المخالفين على صدقه.
المطلب الثالث: الآيات التي يجريها الله تعالى على يديه.
المطلب الرابع: إقرار الله تعالى له ولدعوته واستجابته لدعائه.
المطلب الخامس: من أدلة صدقه كمال أخلاقه.
المطلب السادس: استعداده الدائم لأي اختبار يطرح عليه.
المطلب السابع: عدم استغلال فرص التعالي.
المطلب الثامن: المباهلة على ما عنده.
المطلب التاسع: حمايته من كل ما يكاد له.
المطلب العاشر: انتفاء الغرض الشخصي.
المطلب الحادي عشر: إخباره بالنهايات في البدايات.
المطلب الثاني عشر: إخباره بالغيب.
المطلب الثالث عشر: إحكام التشريع.
المطلب الرابع عشر: الإعجاز العلمي.
المطلب الخامس عشر: الوصف الدقيق للغيب.
المطلب السادس عشر: تأليف قلوب العرب.
المطلب السابع عشر: الإلزام.
المبحث الثاني: الأدلة على صدق القرآن وما فيه:
المطلب الأول: إعجاز القرآن.
المطلب الثاني: التحدي أن يُؤتى بمثله.
- প্রথম পরিচ্ছেদ: কুরআনের বিরুদ্ধে অভিযোগ বা আক্রমণের ইতিহাস এবং এ বিষয়ে রচিত গ্রন্থসমূহ।
প্রথম পাঠ: এই বিষয়ে সর্বপ্রথম যিনি কথা বলেছেন।
দ্বিতীয় পাঠ: এই বিষয়ে সর্বপ্রথম যিনি গ্রন্থ রচনা করেছেন।
তৃতীয় পাঠ: এই ক্ষেত্রে গ্রন্থ রচনার বিষয়ে আলেমদের দৃষ্টিভঙ্গি।
চতুর্থ পাঠ: এই বিষয়ে রচিত গ্রন্থসমূহ।
- দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: কুরআনের ওপর আক্রমণের কারণসমূহ।
প্রথম পাঠ: কুরআনের বিরুদ্ধে এই যুদ্ধ কেন?।
দ্বিতীয় পাঠ: কুরআনে মুতাশাবিহ (অস্পষ্ট আয়াত) থাকার হিকমত বা রহস্য কী?।
তৃতীয় পাঠ: আক্রমণের প্রকারভেদ।
- তৃতীয় পরিচ্ছেদ: কুরআনের বিরুদ্ধে করা অভিযোগগুলোর মোকাবিলা করা।
প্রথম পাঠ: আল্লাহর কালামকে অপবাদ থেকে পবিত্র ঘোষণা করা।
দ্বিতীয় পাঠ: যারা কুরআন সম্পর্কে সংশয় ও অপবাদ সৃষ্টি করে, তাদের ব্যাপারে উম্মতের সালাফদের অবস্থান।
তৃতীয় পাঠ: অপবাদগুলোর সাথে ডিল করার মূলনীতিসমূহ।
দ্বিতীয় অধ্যায় (প্রায়োগিক):
কুরআনের আয়াতের ব্যাপারে আক্রমণকারীদের অবস্থান এবং তাদের খণ্ডন:
- প্রথম পরিচ্ছেদ: যারা কুরআনের ওপর আক্রমণ করেছে তাদের ওপর সামগ্রিক উত্তরসমূহ:
প্রথম পাঠ: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সত্যতার প্রমাণসমূহ:
প্রথম অনুচ্ছেদ: পূর্ববর্তী কিতাবসমূহে তাঁর আগমনের সুসংবাদ।
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: বিরোধীদের মধ্য থেকে ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তিদের তাঁর সত্যতার সাক্ষ্য।
তৃতীয় অনুচ্ছেদ: যে সকল নিদর্শন আল্লাহ তাআলা তাঁর হাতে প্রকাশ করেছেন।
চতুর্থ অনুচ্ছেদ: আল্লাহ তাআলা কর্তৃক তাঁকে ও তাঁর দাওয়াতকে সমর্থন এবং তাঁর দুআ কবুল করা।
পঞ্চম অনুচ্ছেদ: তাঁর সত্যতার অন্যতম প্রমাণ হলো তাঁর চরিত্রের পূর্ণতা।
ষষ্ঠ অনুচ্ছেদ: তাঁর ওপর পেশ করা যে কোনো পরীক্ষার জন্য তাঁর সর্বদা প্রস্তুত থাকা।
সপ্তম অনুচ্ছেদ: শ্রেষ্ঠত্ব জাহিরের সুযোগ গ্রহণ না করা।
অষ্টম অনুচ্ছেদ: তাঁর নিকট যা (সত্য) আছে সেটির ওপর মুবাহালা করা।
নবম অনুচ্ছেদ: তাঁর বিরুদ্ধে করা সমস্ত ষড়যন্ত্র থেকে তাঁকে রক্ষা করা।
দশম অনুচ্ছেদ: ব্যক্তিগত স্বার্থের অনুপস্থিতি।
একাদশ অনুচ্ছেদ: সূচনালগ্নেই শেষ পরিণাম সম্পর্কে সংবাদ দান।
দ্বাদশ অনুচ্ছেদ: গায়েব বা অদৃশ্যের সংবাদ দান।
ত্রয়োদশ অনুচ্ছেদ: শরীয়তের বিধিবিধানের সুদৃঢ়তা।
চতুর্দশ অনুচ্ছেদ: বৈজ্ঞানিক অলৌকিকত্ব।
পঞ্চদশ অনুচ্ছেদ: অদৃশ্যের নিখুঁত বর্ণনা।
ষোড়শ অনুচ্ছেদ: আরবদের অন্তর জয় করা।
সপ্তদশ অনুচ্ছেদ: অকাট্য প্রমাণাদি।
দ্বিতীয় পাঠ: কুরআন এবং এতে যা আছে তার সত্যতার প্রমাণসমূহ:
প্রথম অনুচ্ছেদ: কুরআনের অলৌকিকত্ব।
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: এর অনুরূপ কিছু নিয়ে আসার চ্যালেঞ্জ।
(খণ্ড: ১)
দাওয়াতি তায়িনীন ফিল কুরআনিল কারীম = আত-তায়নু ফিল কুরআনিল কারীম ওয়ার রাদ্দু আলাত তায়িনীন
(পৃষ্ঠা: ১২)
المطلب الثالث: شهادة الكفار وأهل الكتاب وأعدائه بصدقه.
المطلب الرابع: الوحدة الموضوعية لكل سورة.
المطلب الخامس: عدم التناقض.
المبحث الثالث: ردود القرآن على الطاعنين.
المبحث الرابع: ردود إجمالية أخرى:
المطلب الأول: عدم معارضة كفار مكة.
المطلب الثاني: قل هاتوا برهانكم.
المطلب الثالث: مخالفة الواقع.
المطلب الرابع: إجماع الأمة.
-.
المبحث الأول: التشكيك في نسبة القرآن إلى الله تعالى:
المطلب الأول: دعوى أن القرآن من عند نبينا محمد صلى الله عليه وسلم .
المطلب الثاني: دعوى أن القرآن نقل من غيره.
المطلب الثالث: جواز نقده ومخالفته.
المبحث الثاني: زعم عدم حفظه:
المطلب الأول: شبهة أنه ليس هو القرآن الذي أنزل.
المطلب الثاني: شبهة أنه زيد فيه ونقص.
المطلب الثالث: النسخ فى القرآن والطعن فيه من هذا الباب.
المبحث الثالث: اتهام القرآن بالتناقض:
المطلب الأول: هل في القرآن تناقض حقيقي؟.
المطلب الثاني: زعم تناقض بعض الآيات مع بعض.
তৃতীয় অনুচ্ছেদ: তাঁর সত্যবাদিতার ব্যাপারে কাফির, আহলে কিতাব এবং শত্রুদের সাক্ষ্য।
চতুর্থ অনুচ্ছেদ: প্রতিটি সূরার বিষয়ভিত্তিক ঐক্য।
পঞ্চম অনুচ্ছেদ: স্ববিরোধিতার অনুপস্থিতি।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: আক্রমণকারীদের প্রতি কুরআনের জবাবসমূহ।
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: অন্যান্য সামগ্রিক জবাবসমূহ:
প্রথম অনুচ্ছেদ: মক্কার কাফিরদের পক্ষ থেকে বিরোধিতা না করা।
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: বলুন, তোমরা তোমাদের প্রমাণ নিয়ে এসো।
তৃতীয় অনুচ্ছেদ: বাস্তবতার পরিপন্থী হওয়া।
চতুর্থ অনুচ্ছেদ: উম্মতের ঐক্যমত।
-।
প্রথম পরিচ্ছেদ: আল্লাহর দিকে কুরআনের সম্বন্ধের ব্যাপারে সন্দেহ পোষণ করা:
প্রথম অনুচ্ছেদ: এই দাবি যে, কুরআন আমাদের নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পক্ষ থেকে এসেছে।
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: এই দাবি যে, কুরআন অন্য কারো কাছ থেকে নকল করা হয়েছে।
তৃতীয় অনুচ্ছেদ: কুরআন সমালোচনা এবং এর বিরোধিতা করার বৈধতা।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: এটি সংরক্ষিত না থাকার দাবি:
প্রথম অনুচ্ছেদ: এই সংশয় যে, এটি সেই কুরআন নয় যা অবতীর্ণ হয়েছিল।
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: এতে সংযোজন ও বিয়োজন করা হয়েছে এমন সংশয়।
তৃতীয় অনুচ্ছেদ: কুরআনে নাসখ (রহিতকরণ) এবং এই প্রেক্ষিতে এর সমালোচনা।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: কুরআনের প্রতি স্ববিরোধিতার অভিযোগ:
اول অনুচ্ছেদ: কুরআনে কি প্রকৃত কোনো স্ববিরোধিতা আছে?
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: এক আয়াতের সাথে অন্য আয়াতের স্ববিরোধিতার দাবি।
(খণ্ড: ১)
দাওয়াতি তায়িনীন ফিল কুরআনিল কারীম = আত-তায়নু ফিল কুরআনিল কারীম ওয়ার রাদ্দু আলাত তায়িনীন
(পৃষ্ঠা: ১৩)
المبحث الرابع: اتهام القرآن بمعارضة الحقائق:
المطلب الأول: دعوى تعارض القرآن مع الحقائق الشرعية.
المطلب الثاني: دعوى تعارض القرآن مع الوقائع التاريخية.
المطلب الثالث: دعوى تعارض القرآن مع الحقائق الكونية.
ثم الخاتمة، وذيلت الرسالة بعدة فهارس لكمال الاستفادة من البحث.
وكان المنهج المتبع في هذه الرسالة كالتالي:
1- لقد اجتهدت اجتهادا كبيرا في محاولة حصر الطعون؛ حيث جمعت ما أمكنني من كتب تطعن في القرآن أو ترد على الطاعنين، وحرصت على أن أحضر معظم معارض الكتاب التي تقام؛ لعلي أجد شيئا ليس عندي، وذهبت إلى الكثير من الجامعات للبحث عن رسائل مقاربة لما كتبته، وبحثت في الإنترنت، ودخلت الكثير من المواقع المتخصصة في الطعن في الإسلام، مثل بعض غرف النصارى في البالتوك وغيرها، وسألت الكثير من المتخصصين في هذا الباب والمهتمين، فاتضح لي أن حصر الطاعنين من الصعوبة بمكان؛ فبعضهم مشاهير، وبعضهم مغمور نكرة لا يعرف، فتسميته والرد عليه تشهير له، وبعضهم بل أكثرهم مردّد لما قيل سابقا من الطعون، فاتجهت لحصر الطعون لا الطاعنين - مع عدم إغفال ذكرهم إن وجدوا لاسيما المشاهير منهم - لأن الطعون واحدة في الغالب، وأما الطاعنون فهم كالببغاوات يرددون ما سمعوا، وهذا أيضا منهج نبوي فقد كان النبي صلى الله عليه وسلم يرد على الخطأ لا على المخطئ، بقوله: «ما بال أقوام يفعلون كذا وكذا» (1) .
--------------------------------------------
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: বাস্তব সত্যের বিরোধিতার দায়ে কুরআনকে অভিযুক্তকরণ:
প্রথম অনুচ্ছেদ: শরয়ি সত্যের সাথে কুরআনের বিরোধের দাবি।
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: ঐতিহাসিক ঘটনাবলির সাথে কুরআনের বিরোধের দাবি।
তৃতীয় অনুচ্ছেদ: মহাজাগতিক সত্যের সাথে কুরআনের বিরোধের দাবি।
এরপর উপসংহার, এবং গবেষণা থেকে পূর্ণ উপকার লাভের উদ্দেশ্যে অভিসন্দর্ভটির শেষে বেশ কিছু নির্ঘণ্ট যুক্ত করা হয়েছে।
এবং এই অভিসন্দর্ভে অনুসৃত পদ্ধতি ছিল নিম্নরূপ:
১- আমি আপত্তিগুলোকে সীমাবদ্ধ করার প্রচেষ্টায় ব্যাপক পরিশ্রম করেছি; যেখানে আমি কুরআনকে আক্রমণকারী অথবা আক্রমণকারীদের জবাব প্রদানকারী যতদূর সম্ভব বইপত্র সংগ্রহ করেছি, এবং আমি আয়োজিত অধিকাংশ বইমেলায় উপস্থিত হওয়ার ব্যাপারে সচেষ্ট ছিলাম; যাতে হয়তো এমন কিছু পাই যা আমার কাছে নেই। আমি আমার লেখার বিষয়বস্তুর সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ থিসিস খোঁজার জন্য অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়েছি, ইন্টারনেটে অনুসন্ধান করেছি এবং ইসলামকে আক্রমণ করার জন্য বিশেষায়িত অনেক ওয়েবসাইটে প্রবেশ করেছি, যেমন প্যালটকের খ্রিস্টানদের কিছু রুম এবং অন্যান্য মাধ্যম। আমি এই বিষয়ের অনেক বিশেষজ্ঞ ও আগ্রহীদের জিজ্ঞাসা করেছি, ফলে আমার কাছে স্পষ্ট হয়েছে যে, আক্রমণকারীদের তালিকাভুক্ত করা অত্যন্ত কঠিন; কারণ তাদের কেউ বিখ্যাত, আবার কেউ অখ্যাত ও অপরিচিত যাকে কেউ চেনে না, তাই তার নাম উল্লেখ করা এবং তার জবাব দেওয়া মানে তাকে পরিচিতি দান করা। তাদের কেউ কেউ, বরং তাদের অধিকাংশই অতীতে উত্থাপিত আপত্তিগুলোরই পুনরাবৃত্তি করে মাত্র, তাই আমি আক্রমণকারীদের পরিবর্তে আপত্তিগুলোকে সীমাবদ্ধ করার দিকে মনোনিবেশ করেছি - যদিও তাদের উল্লেখ করার সুযোগ থাকলে তা উপেক্ষা করিনি বিশেষ করে তাদের মধ্যে যারা বিখ্যাত - কারণ আপত্তিগুলো অধিকাংশ ক্ষেত্রে একই রকম, আর আক্রমণকারীরা হলো তোতাপাখির মতো যারা যা শুনেছে তাই আওড়ায়। এটি একটি নববী পদ্ধতিও বটে, কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ভুলকারীর পরিবর্তে ভুলের প্রতিবাদ করতেন এই বলে: «লোকদের কী হলো যে তারা এমন এমন কাজ করে» (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দাওয়াতি তায়িনীন ফিল কুরআনিল কারীম = আত-তায়নু ফিল কুরআনিল কারীম ওয়ার রাদ্দু আলাত তায়িনীন
(পৃষ্ঠা: ১৪)
2- ليس من منهجي أن أجمع كل ما أثير، بل أجمع ما كان فيه شبهة وقد يقع فيه اللبس عند بعض الناس، وأما بعض الطعون التي يوردها الطاعنون بسبب جهلهم باللغة، أو سوء فهمهم، أو تحريف المعنى، أو الكذب، أو الدعوى المجردة عن الدليل، أو نسبب الحقد الدفين، فهذا يكفي ذكره في إبطاله، ويكفيك من شر سماعه، مثل إنكارهم بلاغة القرآن وهم أبعد الناس عن تذوق بلاغة القرآن، أو تفسير بعضهم قوله تعالى: {وترى الملائكة حافين من حول العرش} [الزمر:75] ؛ فقد قال بعض المستشرقين في تفسير معنى (حافين (: أي بدون أحذية (1) . (وفسر بعض المستشرقين قوله تعالى: (وكل إنسان ألزمناه طائره في عنقه (] الإسراء: 13] بقوله: يأتي الكافر وفي رقبته حمامة. ومنهم عَلََََّامة تصدى لوضع المعجمات الكبرى (2) ، فكتب في مادة (أخذ) أنها تأتي بمعنى نام لقوله تعالى: (لا تأخذه سنة ولا نوم ( {3} [البقرة:255] ) .
ومثل ادعاء بعضهم
--------------------------------------------
২- উত্থাপিত প্রতিটি বিষয় সংকলন করা আমার পদ্ধতি নয়, বরং আমি কেবল সেই বিষয়গুলোই সংকলন করি যাতে কোনো সংশয় রয়েছে এবং যার ফলে কিছু মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হতে পারে। আর সমালোচকদের ভাষাগত অজ্ঞতা, ভুল বুঝাবুঝি, অর্থ বিকৃতি, মিথ্যাচার, প্রমাণহীন দাবি অথবা মজ্জাগত বিদ্বেষপ্রসূত যেসব অপবাদ রয়েছে, সেগুলো বাতিল করার জন্য কেবল উল্লেখ করাই যথেষ্ট, এবং এগুলোর অনিষ্টতা সম্পর্কে শোনামাত্রই আপনার জন্য তা যথেষ্ট হবে। যেমন তাদের কুরআনের অলঙ্কারশাস্ত্র (বালাগাত) অস্বীকার করা, অথচ তারা নিজেরা কুরআনের অলঙ্কারশাস্ত্র আস্বাদন করা থেকে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে দূরে। অথবা মহান আল্লাহর বাণী: {আর আপনি ফেরেশতাদের দেখতে পাবেন যে তারা আরশের চারপাশ ঘিরে রেখেছে} [যুমার: ৭৫]-এর ব্যাপারে তাদের কারো কারো ব্যাখ্যা; জনৈক প্রাচ্যবিদ ‘হাফফীন’ শব্দের অর্থ করতে গিয়ে বলেছেন: অর্থাৎ জুতা বিহীন অবস্থায় (১)। (আবার কোনো কোনো প্রাচ্যবিদ মহান আল্লাহর বাণী: {আর প্রত্যেক মানুষের কর্মফল আমি তার গলায় লটকে দিয়েছি} [ইসরা: ১৩]-এর ব্যাখ্যায় বলেছেন: কাফির আসবে এমতাবস্থায় যে তার গলায় একটি কবুতর থাকবে। তাদের মধ্যে এমন এক পণ্ডিতও রয়েছেন যিনি বড় বড় অভিধান সংকলনের দায়িত্ব নিয়েছিলেন (২), তিনি ‘আখাযা’ শব্দমূলের আলোচনায় লিখেছেন যে এটি ‘ঘুমানো’ অর্থে ব্যবহৃত হয়, যেহেতু মহান আল্লাহ বলেছেন: {তন্দ্রা বা নিদ্রা তাঁকে আচ্ছন্ন করতে পারে না} {৩} [বাকারা: ২৫৫])।
এবং তাদের কারো কারো দাবির মতো...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দাওয়াতি তায়িনীন ফিল কুরআনিল কারীম = আত-তায়নু ফিল কুরআনিল কারীম ওয়ার রাদ্দু আলাত তায়িনীন
(পৃষ্ঠা: ১৫)
أنه وجد مخطوطة بخط النبي صلى الله عليه وسلم ، وبالتالي يثبت أنه لم يكن أميا (1) ، وقول بعضهم: إن معنى قوله تعالى: {الذين يتبعون النبي الأمي الذي يجدونه..} [الأعراف:157] أن أمي بمعنى وثني (2) . وادعاء بعضهم أن الوحي عبارة عن صرع كان يصيب النبي صلى الله عليه وسلم (3) . أو النزول إلى الدرك الأسفل من الدناءة بإطلاق لفظ (الخراء) على القرآن، كما في كتاب حيدر حيدر (4) (وليمة لأعشاب البحر) (5) ، وغير ذلك من السفاهات.
3- الطعون على القرآن تنقسم قسمين، طعون حول القرآن، وطعون في القرآن؛ الطعون حول القرآن من مثل الطعن في
--------------------------------------------
তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হস্তাক্ষরে একটি পাণ্ডুলিপি পেয়েছেন, ফলে এর মাধ্যমে এটি সাব্যস্ত হয় যে তিনি উম্মী ছিলেন না (১); এবং তাদের কারো কারো উক্তি: মহান আল্লাহর বাণী: {যারা অনুসরণ করে সেই উম্মী নবীর, যাকে তারা পায়...} [আরাফ: ১৫৭] এখানে উম্মী মানে মূর্তিপূজক (২); এবং কারো কারো দাবি যে, ওহী হলো মূলত মৃগীরোগ যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওপর আপতিত হতো (৩); অথবা কুরআনের ওপর 'বিষ্ঠা' শব্দ প্রয়োগ করার মতো চরম হীনতা ও নীচতায় নিমজ্জিত হওয়া, যেমনটি হায়দার হায়দারের (৪) বই (ওয়ালিমা লি-আশাবিল বাহর) (৫) এবং এ জাতীয় অন্যান্য মূর্খতাপূর্ণ উক্তিতে দেখা যায়।
৩- কুরআনের ওপর আক্রমণগুলো দুই ভাগে বিভক্ত: কুরআনের বহির্ভূত বিষয় সংক্রান্ত আক্রমণ এবং কুরআনের অভ্যন্তরীণ বিষয় সংক্রান্ত আক্রমণ। কুরআনের বহির্ভূত বিষয় সংক্রান্ত আক্রমণ যেমন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দাওয়াতি তায়িনীন ফিল কুরআনিল কারীম = আত-তায়নু ফিল কুরআনিল কারীম ওয়ার রাদ্দু আলাত তায়িনীন
(পৃষ্ঠা: ১৬)
جمع القرآن، وتواتر القرآن، تقسيم القرآن إلى مكي ومدني، نزول القرآن على سبعة أحرف، معنى المتشابه في القرآن، النسخ في القرآن، ترجمة القرآن، إعجاز القرآن، قراءات القرآن
… إلخ تلك الشبه التي تحوم حول القرآن ولا تطعن في آياته طعنا مباشرا، وهذا البحث كفانا فيه عدد من العلماء الأفاضل والباحثين الأجلاء، ومن أفضل هذه الكتب التي اطلعت عليها، كتاب "شبهات حول القرآن وتفنيدها" للدكتور غازي عناية (1) ، وبعضهم أفرد في بعض هذه المباحث مؤلفا، مثل كتاب "المستشرقون وترجمة القرآن الكريم"للدكتور محمد صالح البنداق (2) . وفي كتاب "القراءات وأثرها في التفسير والأحكام"للدكتور محمد بن عمر بازمول (3) عقد بابا بعنوان (رد الشبهات التي تثار حول القراءات) أجاب فيها على كل ما يثار حول هذا الموضوع، وكتاب القراءات في نظر المستشرقين والملحدين للشيخ عبد الفتاح عبد الغني القاضي (4) ، وكتاب نزول القرآن على سبعة أحرف للدكتور مناع القطان (5) ، وفي مجلة لواء الإسلام بحث لعبد الباري إبراهيم أبو عبلة في الجواب على طعون المستشرقين في لغة القرآن ونحوه (6) .
ومن أشد الكتب التي طعنت في هذا الباب كتابان:
1-القرآن: نزوله، تدوينه، ترجمته وتأثيره، لبلاشير (7) .
--------------------------------------------
কুরআন সংকলন, কুরআনের তাওয়াতুর (অবিচ্ছিন্নতা), কুরআনকে মক্কী ও মাদানী ভাগে বিভক্ত করা, সাত হরফের ওপর কুরআনের অবতরণ, কুরআনে মুতাশাবিহ-এর অর্থ, কুরআনের নাসখ (রহিতকরণ), কুরআনের অনুবাদ, কুরআনের মুজিজা (অলৌকিকত্ব), কুরআনের কিরাতসমূহ
... ইত্যাদি হলো সেই সব সংশয় যা কুরআনকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়, কিন্তু যা এর আয়াতসমূহের ওপর সরাসরি কোনো আঘাত হানে না। এই গবেষণার ক্ষেত্রে অনেক বিজ্ঞ আলেম এবং উচ্চমর্যাদা সম্পন্ন গবেষক আমাদের জন্য যথেষ্ট কাজ করেছেন। এ বিষয়ে আমি যেসব কিতাব দেখেছি তার মধ্যে অন্যতম সেরা হলো ডক্টর গাযী ইনায়ার লেখা "কুরআন কেন্দ্রিক সংশয় ও তার খণ্ডন" (১)। তাদের কেউ কেউ এসব আলোচনার কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ে স্বতন্ত্র গ্রন্থ রচনা করেছেন, যেমন ডক্টর মুহাম্মদ সালিহ আল-বানদাক রচিত "প্রাচ্যবিদগণ এবং কুরআনুল কারীমের অনুবাদ" (২)। ডক্টর মুহাম্মদ বিন উমর বাযমূল তার "কিরাতসমূহ এবং তাফসীর ও বিধানের ওপর তার প্রভাব" (৩) নামক কিতাবে "কিরাত নিয়ে উত্থাপিত সংশয়সমূহের খণ্ডন" শিরোনামে একটি অধ্যায় রচনা করেছেন, যেখানে তিনি এই বিষয়ে উত্থাপিত যাবতীয় প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন। এছাড়া শায়খ আবদুল ফাত্তাহ আবদুল গনী আল-কাদীর "প্রাচ্যবিদ ও নাস্তিকদের দৃষ্টিতে কিরাতসমূহ" (৪), ডক্টর মান্না আল-কাত্তানের "সাত হরফের ওপর কুরআন অবতরণ" (৫) এবং "লওয়াউল ইসলাম" সাময়িকীতে কুরআনের ভাষা ও ব্যাকরণ নিয়ে প্রাচ্যবিদদের আপত্তির জবাবে আবদুল বারী ইবরাহীম আবু আবলাহ্-র একটি গবেষণা প্রবন্ধ (৬) উল্লেখযোগ্য।
এই বিষয়ে যেসব কিতাব সবচেয়ে কঠোরভাবে আক্রমণ করেছে তার মধ্যে দুটি কিতাব হলো:
১-কুরআন: এর অবতরণ, সংকলন, অনুবাদ এবং প্রভাব, র্যাজিস ব্লাশিয়ার (৭) রচিত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দাওয়াতি তায়িনীন ফিল কুরআনিল কারীম = আত-তায়নু ফিল কুরআনিল কারীম ওয়ার রাদ্দু আলাত তায়িনীন
(পৃষ্ঠা: ১৭)
2-مقدمة كتاب المصاحف لأبي داود، لآرثر جفري.
رد عليهما الدكتور إسماعيل سالم عبد العال في كتابه المستشرقون والقرآن، في جزأين (1) .
وأما النوع الثاني وهو الطعن في القرآن نفسه من حيث دلالالته ومعانيه وأخباره وأحكامه وغير ذلك، وهو الذي أبحث فيه، والسبب في ذلك أن هذا النوع هو الذي تولى القرآن الرد فيه على الطاعنين؛ ولأن الرد على هذه الشبه فيه الرد على تلك الشبه بطريق اللزوم، فإنه إذا ثبت أن القرآن ليس من عند النبي صلى الله عليه وسلم ، بل من الله تعالي، وهو غير قابل للنقد، وأنه ليس فيه تحريف ولا زيادة، وأنه صادق الأخبار وواجب الاتباع، إذا ثبت هذا فإن الله قال فيه: {إنا نحن نزلنا الذكر وإنا له لحافظون} [الحجر:9] ، إذن فلا مجال للطعن في تواتره وجمعه وقراءاته وما نسخ منه؛ لأنه محفوظ بحفظ الله له.
4- الإحالة على الآيات في المصحف جعلتها في صلب البحث، حتى لا يتخم الهامش بالحواشي.
5- حرصت على تخريج الأحاديث والآثار والحكم عليها، فإن كان الحديث في الصحيحين أو أحدهما اكتفيت بالإحالة عليه؛ وإن كان في غيرهما استقصيت في تخريجه وبينت صحته أو ضعفه، وقد حكمت على هذه الأحاديث بنفسي، ثم قمتُ بتوثيق ذلك من كلام العلماء إن وُجد.
--------------------------------------------
২-আর্থার জেফরি কর্তৃক সম্পাদিত আবু দাউদের কিতাবুল মাসাহিফ-এর ভূমিকা।
ডক্টর ইসমাইল সালিম আব্দুল আল তাঁর দুই খণ্ডের 'আল-মুস্তাশরিকুন ওয়াল কুরআন' (প্রাচ্যবিদ ও কুরআন) নামক গ্রন্থে তাঁদের উভয়ের প্রতিবাদ করেছেন (১)।
আর দ্বিতীয় প্রকারটি হলো স্বয়ং কুরআনের ওপর এর অর্থগত নির্দেশনা, মর্ম, সংবাদ এবং বিধান ইত্যাদির দিক থেকে আপত্তি উত্থাপন করা; আর এটিই আমার আলোচনার বিষয়। এর কারণ হলো, এই প্রকারের আপত্তির প্রতিবাদ স্বয়ং কুরআনই প্রতিবাদকারীদের বিরুদ্ধে গ্রহণ করেছে। তাছাড়া এই সংশয়গুলোর জবাব দেওয়ার মাঝে অনিবার্যভাবে ঐসব (পূর্বোক্ত) সংশয়গুলোরও জবাব নিহিত রয়েছে। কেননা যখন এটি প্রমাণিত হবে যে কুরআন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পক্ষ থেকে নয়, বরং মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে, এবং এটি সমালোচনার ঊর্ধ্বে, আর এতে কোনো পরিবর্তন বা পরিবর্ধন নেই, এবং এর সংবাদসমূহ সত্য ও এটি অনুসরণ করা ওয়াজিব; যখন এটি প্রমাণিত হবে তখন আল্লাহ এর ব্যাপারে বলেছেন: "নিশ্চয় আমিই যিকির (কুরআন) অবতীর্ণ করেছি এবং আমিই এর সংরক্ষণকারী" [হিজর: ৯]। সুতরাং এর মুতাওয়াতির হওয়া, সংকলন, কিরাআত এবং এর মধ্য থেকে যা রহিত হয়েছে—সেসব বিষয়ে আপত্তি তোলার কোনো সুযোগ নেই; কারণ এটি আল্লাহর সংরক্ষণে সংরক্ষিত।
৪- মাসহাফের আয়াতসমূহের রেফারেন্স আমি মূল আলোচনার মধ্যেই রেখেছি, যাতে পাদটীকা অতিরিক্ত নোটের চাপে ভারাক্রান্ত না হয়।
৫- আমি হাদিস ও আছারসমূহের তাখরিজ (উৎস নির্ণয়) এবং সেগুলোর মান নির্ধারণের ব্যাপারে সচেষ্ট হয়েছি। যদি হাদিসটি সহীহাইনে বা তাদের কোনো একটিতে থাকে, তবে আমি কেবল তার রেফারেন্স দিয়েই ক্ষান্ত হয়েছি। আর যদি অন্য কোনো গ্রন্থে থাকে, তবে আমি বিস্তারিতভাবে তার উৎস নির্ণয় করেছি এবং তার বিশুদ্ধতা বা দুর্বলতা স্পষ্ট করেছি। আমি নিজেই এই হাদিসগুলোর মান যাচাই করেছি, এরপর ওলামায়ে কেরামের বক্তব্য থাকলে তার মাধ্যমে তা সুদৃঢ় করেছি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দাওয়াতি তায়িনীন ফিল কুরআনিল কারীম = আত-তায়নু ফিল কুরআনিল কারীম ওয়ার রাদ্দু আলাত তায়িনীন
(পৃষ্ঠা: ১৮)
6- ترجمت لغير المشاهير.
7- قرأت أحاديث الكتب الستة والموطأ والدارمي، واستخرجت جميع الأحاديث في هذا الباب، ثم طُبع كتاب جامع التفسير الذي جمع مؤلفوه الأحاديث والآثار من الكتب الستة ومسند الإمام أحمد، التي تفسر أو تذكر سبب نزول الآية، فقرأته للتأكد من أنه لم يفتني حديث في هذا الموضوع.
8- لقد كان الرد على الطاعنين متنوعًا؛ فقد رددتُ عليهم بداية ردودا عامة تصلح لكل طعن فى فضل الردود الأجمالية على من طعن في القرآن، ثم ردت على الطعون الأربعة الرئيسة ردودا إجمالية، كل طعن بذاته فى مبحث أسباب الأختلاف في القرآن.، ثم في فصل الردود التفصيلية على من طعن في القرآن رددت على كل طعن بنوعين من الردود، الأول رد إجمالي على كل طعن في هذا الفرع ثم رد تفصيلي على كل طعن ذكر.
9- حرصتُ على الردود الإجمالية لكل طعن فى فصل الردود التفصيلية على من طعن في القرآن؛ لأنها الأهم، فهي صالحة لما قد أُثير ولما يمكن أن يثار في المستقبل، وأما الردود التفصيلية على كل طعن فإنها لا تنتهي، وقد يُفتح لإنسان مالا يُفتح على غيره في الرد، وبعضها طعن ساذج لا يستحق الرد.
هذا وقد واجهتني صعوبات كثيرة في مراحل إعداد هذا البحث، نذكر منها:
1- كثرة الطاعنين وصعوبة حصرهم، فهم كثر في كل دولة عربية وإسلامية، وأكثر منهم في دول أوروبا وأمريكا.
৬- আমি স্বল্পপরিচিত ব্যক্তিদের পরিচিতি বা জীবনী উল্লেখ করেছি।
৭- আমি কুতুবে সিত্তাহ (ছয়টি প্রধান হাদিস গ্রন্থ), মুয়াত্তা এবং দারেমি-এর হাদিসসমূহ পাঠ করেছি এবং এই অধ্যায় সংশ্লিষ্ট সকল হাদিস সংকলন করেছি। পরবর্তীতে 'জামেউত তাফসির' গ্রন্থটি প্রকাশিত হয়, যার সংকলকগণ কুতুবে সিত্তাহ ও ইমাম আহমাদের মুসনাদ থেকে সেই সকল হাদিস ও আছার (বর্ণনা) একত্রিত করেছেন যা আয়াতের ব্যাখ্যা প্রদান করে অথবা আয়াতের শানে নুযুল (নাজিলের কারণ) উল্লেখ করে। আমি সেটি পাঠ করেছি যাতে নিশ্চিত হতে পারি যে এই বিষয়ে কোনো হাদিস আমার বাদ পড়েনি।
৮- নিন্দুক ও সমালোচকদের খণ্ডন ছিল বৈচিত্র্যময়; আমি শুরুর দিকে তাদের ওপর এমন সাধারণ খণ্ডন পেশ করেছি যা 'কুরআনের প্রতি অপবাদ আরোপকারীদের ওপর সামগ্রিক খণ্ডনের শ্রেষ্ঠত্ব' শীর্ষক আলোচনায় প্রতিটি আপত্তির ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। অতঃপর চারটি প্রধান আপত্তির ওপর সামগ্রিকভাবে খণ্ডন পেশ করেছি—'কুরআনে ইখতিলাফ বা মতপার্থক্য সৃষ্টির কারণসমূহ' শীর্ষক পরিচ্ছেদে প্রতিটি আপত্তির জন্য স্বতন্ত্রভাবে। এরপর 'কুরআনের প্রতি অপবাদ আরোপকারীদের ওপর বিস্তারিত খণ্ডন' অধ্যায়ে প্রতিটি আপত্তির বিপরীতে দুই ধরনের জবাব দিয়েছি; প্রথমত, সংশ্লিষ্ট শাখার প্রতিটি আপত্তির ওপর একটি সামগ্রিক জবাব, এবং দ্বিতীয়ত, প্রতিটি উল্লেখিত আপত্তির ওপর বিস্তারিত জবাব।
৯- আমি 'কুরআনের প্রতি অপবাদ আরোপকারীদের ওপর বিস্তারিত খণ্ডন' অধ্যায়ে প্রতিটি আপত্তির জন্য সামগ্রিক জবাব প্রদানের প্রতি সবিশেষ গুরুত্ব দিয়েছি; কারণ এটিই অধিক গুরুত্বপূর্ণ। এটি অতীতে উত্থাপিত এবং ভবিষ্যতে উত্থাপিত হতে পারে এমন সব বিষয়ের জন্যই ফলপ্রসূ। আর প্রতিটি আপত্তির বিস্তারিত খণ্ডন তো শেষ হওয়ার নয়, এবং খণ্ডন বা জবাব দেওয়ার ক্ষেত্রে একজনের জন্য জ্ঞানের যে দ্বার উন্মোচিত হয় তা অন্য কারো জন্য নাও হতে পারে। এছাড়া কিছু আপত্তি এতটাই অসার যে তা খণ্ডনের যোগ্যই নয়।
এই গবেষণা প্রস্তুতির বিভিন্ন পর্যায়ে আমি অনেক প্রতিকূলতার সম্মুখীন হয়েছি, যার মধ্য থেকে কিছু নিম্নে উল্লেখ করছি:
১- সমালোচকদের আধিক্য এবং তাদের সীমাবদ্ধ করার বা পূর্ণ তালিকা তৈরি করার কাঠিন্য; কেননা প্রতিটি আরব ও ইসলামি রাষ্ট্রে তারা সংখ্যায় অনেক, আর ইউরোপ ও আমেরিকার দেশগুলোতে তাদের সংখ্যা আরও বহুগুণ বেশি।
(খণ্ড: ১)
দাওয়াতি তায়িনীন ফিল কুরআনিল কারীম = আত-তায়নু ফিল কুরআনিল কারীম ওয়ার রাদ্দু আলাত তায়িনীন
(পৃষ্ঠা: ১৯)
2- من الصعوبات التي واجهتها، محاولة حصر كل ما أُلف في هذا الباب من مطبوع أو مخطوط أو مفقود، فلجأت إلى كتب طبقات المفسرين؛ لمعرفة كل من ألف في طعون القرآن، وجردتها وحصرت منها الكتب التي أُلفت في الرد على الطاعنين. وكتب الطبقات التي وجدتها هي:
أ-طبقات المفسرين للسيوطي (1) .
ب-طبقات المفسرين للداوودي تلميذ السيوطي (2) .
ج-طبقات المفسرين للأدنوري (3) .
3- ومن الصعوبات التي واجهتها التعريف بالمستشرقين؛ فإن الكتب المؤلفة عنهم قليلة.
4- وهناك مشكلة أخرى تكمن في ترجمة أسمائهم، فإنه لو وجد لهم تعريف فإنه من الصعب معرفة ما هي ترجمة الاسم الحرفية، مثل المستشرق الفرنسي (GANIER) (4) بعضهم يسميه: جانييه، وبعضهم: جانيير، وبعضهم: كانيير، فلا تعلم هل تبحث عن اسمه في حرف الجيم أم في حرف الكاف، ومثله المستشرق (GIBB) (5) فبعضهم يسميه: جب، والبعض غب، والبعض الآخر قب، وهكذا، ولقد ترجمت لأكثر من عشرين واحدا منهم وأما الذين لم أجد ترجمتهم فهم اثنان فقط.
--------------------------------------------
২- আমি যে সকল সমস্যার সম্মুখীন হয়েছি, তার মধ্যে একটি হলো—এই বিষয়ে রচিত মুদ্রিত, পাণ্ডুলিপি বা বিলুপ্ত সকল কাজকে সীমাবদ্ধ বা তালিকাভুক্ত করার চেষ্টা করা। তাই আমি মুফাসসিরগণের জীবনচরিত (তাবাকাত) বিষয়ক গ্রন্থগুলোর শরণাপন্ন হয়েছি; যাতে কুরআনের প্রতি যারা আপত্তি বা অপবাদ আরোপ করেছে তাদের প্রত্যেকের সম্পর্কে জানা যায়। আমি সেগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করেছি এবং যারা অপবাদ বা আক্রমণাত্মক সমালোচনা করেছে তাদের খণ্ডনে রচিত গ্রন্থগুলোকে তা থেকে চিহ্নিত ও সংকলিত করেছি। যে সকল জীবনচরিত (তাবাকাত) গ্রন্থ আমি পেয়েছি, সেগুলো হলো:
ক- সুয়ূতী রচিত তাবাকাতুল মুফাসসিরীন (১)।
খ- সুয়ূতীর ছাত্র দাউদী রচিত তাবাকাতুল মুফাসসিরীন (২)।
গ- আদনূরী রচিত তাবাকাতুল মুফাসসিরীন (৩)।
৩- আমি যে সকল সমস্যার সম্মুখীন হয়েছি, তার মধ্যে আরেকটি হলো প্রাচ্যবিদদের পরিচয় তুলে ধরা; কারণ তাদের সম্পর্কে রচিত গ্রন্থসমূহ সংখ্যায় খুবই কম।
৪- সেখানে আরেকটি সমস্যা রয়েছে যা তাদের নামের প্রতিবর্ণীকরণের সাথে সম্পৃক্ত। কারণ, তাদের সম্পর্কে কোনো তথ্য পাওয়া গেলেও নামের আক্ষরিক প্রতিবর্ণীকরণ কেমন হবে তা জানা কঠিন হয়ে পড়ে। যেমন ফরাসি প্রাচ্যবিদ (GANIER) (৪); কেউ তাকে ডাকেন: জানিয়্যে, কেউ বলেন: জানিয়ের, আবার কেউ বলেন: কানিয়ের। ফলে আপনি বুঝতে পারেন না যে তার নাম কি 'জিম' বর্ণের অধীনে খুঁজবেন নাকি 'কাফ' বর্ণের অধীনে। একইভাবে প্রাচ্যবিদ (GIBB) (৫); কেউ তাকে বলেন: জিব, কেউ: গিব, আবার অন্য কেউ: কিব ইত্যাদি। আমি তাদের মধ্য থেকে বিশ জনেরও বেশি ব্যক্তির জীবনী প্রস্তুত করেছি, আর যাদের জীবনী আমি খুঁজে পাইনি তারা মাত্র দুইজন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দাওয়াতি তায়িনীন ফিল কুরআনিল কারীম = আত-তায়নু ফিল কুরআনিল কারীম ওয়ার রাদ্দু আলাত তায়িনীন
(পৃষ্ঠা: ২০)
5- ومن الصعوبات أيضا أن أغلب كتب المستشرقين كتبت في غير اللغة العربية، فكنت أجد عناء في ترجمتها أو البحث عن ترجمة لها، وفي الغالب كنت أنقلها من كتب أخرى.
6- ومن الصعوبات أن بعض كتب المستشرقين التي طبعت بالعربية، لم يعد طبعها منذ زمن طويل، فلا تكاد توجد في أسواق الكتب، لذلك كنت أضطر إلى نقلها من كتب العلماء الذين ردوا عليهم في زمنهم.
7- ولقد سافرت إلى هولندا للقاء الدكتور نصر حامد أبو زيد
5- অন্য একটি অসুবিধা হলো এই যে, প্রাচ্যবিদদের অধিকাংশ গ্রন্থই আরবি ভিন্ন অন্য ভাষায় রচিত। তাই সেগুলো অনুবাদ করতে বা সেগুলোর অনুবাদ খুঁজে বের করতে আমি বিশেষ কষ্টের সম্মুখীন হতাম। অধিকাংশ ক্ষেত্রে আমি সেগুলো অন্য গ্রন্থ থেকে উদ্ধৃত করেছি।
6- আর একটি অসুবিধা হলো এই যে, প্রাচ্যবিদদের যেসব গ্রন্থ আরবিতে মুদ্রিত হয়েছিল, সেগুলোর মুদ্রণ দীর্ঘ সময় ধরে বন্ধ রয়েছে। ফলে কিতাবের বাজারে সেগুলো প্রায় দুষ্প্রাপ্য। এ কারণে আমি সেগুলো এমন সব আলিমদের কিতাব থেকে উদ্ধৃত করতে বাধ্য হয়েছি, যারা তাদের সমসাময়িক কালে তাদের জবাব দিয়েছিলেন।
7- আর আমি ডক্টর নসর হামিদ আবু যায়দ-এর সাথে সাক্ষাতের উদ্দেশ্যে নেদারল্যান্ডস ভ্রমণ করেছি।
(খণ্ড: ১)
দাওয়াতি তায়িনীন ফিল কুরআনিল কারীম = আত-তায়নু ফিল কুরআনিল কারীম ওয়ার রাদ্দু আলাত তায়িনীন
(পৃষ্ঠা: ২২)
للتأكد من بقائه على آرائه ومناقشته فيها، فكلمته بالهاتف من هولندا فرفض مقابلتي رفضا قطعيا مع محاولاتي الكثيرة في طلب ذلك، وحصل عندما كنت هناك أن قامت امرأة صومالية الأصل هولندية الجنسية، وكانت مسلمة، قامت بسب النبي صلى الله عليه وسلم على صفحات الصحف والطعن في دينه وأعلنت أنها ملحدة لا تؤمن بدين، فطلبت من الأخوة في هولندا جمع كل ما قالت وترجمته إلي العربية، وسألتهم هل ذكرت أدلة أو شبها على ما قالت أم أنه كلام عار عن أي مستند، فكانت نتيجة الترجمة هي الثاني، فكلامها مجرد سب وشتم من غير أي حجة، بل هو الهوى المحض، ثم قامت بعد هذه الضجة بترشيح نفسها للمجلس البرلماني في هولندا فعندها اتضح السبب وبطل العجب، {ربنا لا تزغ قلوبنا بعد إذ هديتنا وهب لنا من لدنك رحمة إنك أنت الوهاب} [آل عمران: 7] .
وفي الختام أسأل الله تعالى أن يوفق ويعين، وأن يجعل هذا البحث مفيدا للناس في الدنيا، ونافعا لي في الآخرة.
তিনি তাঁর মতামতের ওপর অটল আছেন কি না তা নিশ্চিত হতে এবং সে বিষয়ে তাঁর সাথে আলোচনার উদ্দেশ্যে আমি নেদারল্যান্ডস থেকে তাঁকে ফোনে কল করেছিলাম, কিন্তু আমার বারবার অনুরোধ সত্ত্বেও তিনি আমার সাথে সাক্ষাতের বিষয়টি স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করেন। আমি যখন সেখানে ছিলাম, তখন সোমালি বংশোদ্ভূত এক ডাচ নাগরিক নারী—যিনি পূর্বে মুসলিম ছিলেন—সংবাদপত্রের পাতায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে গালিগালাজ করেন এবং তাঁর দ্বীনকে কটাক্ষ করেন। তিনি ঘোষণা করেন যে, তিনি একজন নাস্তিক এবং কোনো ধর্মেই বিশ্বাস করেন না। আমি নেদারল্যান্ডসের ভাইদের কাছে তাঁর সমস্ত বক্তব্য সংগ্রহ করে আরবিতে অনুবাদ করার অনুরোধ করি। আমি তাদের জিজ্ঞেস করি যে, তিনি যা বলেছেন তার স্বপক্ষে কোনো প্রমাণ বা সংশয় উপস্থাপন করেছেন কি না, নাকি তাঁর কথাগুলো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন? অনুবাদের পর দেখা গেল যে বিষয়টি ছিল দ্বিতীয়টি। অর্থাৎ, তাঁর কথাগুলো ছিল কোনো যুক্তি ছাড়াই কেবল গালিগালাজ ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য; বরং তা ছিল একান্তই প্রবৃত্তির তাড়না। এরপর এই শোরগোলের সুযোগ নিয়ে তিনি নেদারল্যান্ডসের সংসদীয় নির্বাচনে নিজের প্রার্থিতা ঘোষণা করেন। তখনই মূল কারণ স্পষ্ট হয়ে গেল এবং বিস্ময়ের অবসান ঘটল। "হে আমাদের রব! আমাদের হেদায়েত দান করার পর আমাদের অন্তরকে সত্যবিচ্যুত করবেন না এবং আপনার পক্ষ থেকে আমাদের রহমত দান করুন; নিশ্চয়ই আপনিই মহা দাতা।" [আলে ইমরান: ৭]।
পরিশেষে, আমি আল্লাহ তাআলার কাছে তাওফিক ও সাহায্যের প্রার্থনা করি এবং কামনা করি যেন তিনি এই গবেষণাকে দুনিয়াতে মানুষের জন্য কল্যাণকর এবং আখিরাতে আমার জন্য উপকারী হিসেবে কবুল করেন।
(খণ্ড: ১)
দাওয়াতি তায়িনীন ফিল কুরআনিল কারীম = আত-তায়নু ফিল কুরআনিল কারীম ওয়ার রাদ্দু আলাত তায়িনীন
(পৃষ্ঠা: ২৩)
التمهيدوفيه المباحث التالية:
المبحث الأول: تعريف الطعن في القرآن.
المبحث الثاني: مصطلحات ترادف الطعن في القرآن.
المبحث الثالث: التعريف بالطاعنين في القرن العشرين.
প্রারম্ভিকাএতে নিম্নোক্ত পরিচ্ছেদগুলো রয়েছে:
প্রথম পরিচ্ছেদ: কুরআনের প্রতি অপবাদের সংজ্ঞা.
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: কুরআনের প্রতি অপবাদের সমার্থক পরিভাষাসমূহ।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: বিংশ শতাব্দীতে অপবাদ প্রদানকারীদের পরিচয়।
(খণ্ড: ১)
দাওয়াতি তায়িনীন ফিল কুরআনিল কারীম = আত-তায়নু ফিল কুরআনিল কারীম ওয়ার রাদ্দু আলাত তায়িনীন
(পৃষ্ঠা: ২৪)
المبحث الأول: تعريف (الطعن في القرآن) :
-أولا: تعريف الطعن:
(ط ع ن: طَعَنهُ بالرمح، وطَعَنَ في السن كلاهما من باب نصر، وطعن فيه أي قدح من باب نصر أيضا، وطَعَنَاناً أيضا بفتح العين كذا في الصحاح، وفيه أيضا: والفرَّاء يجيز فتح العين من يطعن في الكل، وقال الأزهري في التهذيب: الطَّعنان قول الليث، وأما غيره فمصدر الكل عنده الطعن لا غير، وعين المُضارع مضمومة في الكل عند الليث، وبعضهم يفتح العين من مضارع الطعن بالقول للفرق بينهما. وقال الكسائي: لم أسمع في مضارع الكل إلا الضم. وقال الفرَّاء: سمعت يطعن بالرمح بالفتح. وفي الديوان ذكر الطعن بالرمح، وباللسان في باب نصر، ثم قال في باب: قطع وطَعَن يطعن لغة في طعن يطْعن، فجعل كل واحد منهما من البابين، والمِطْعَانُ: الرجل الكثير الطعن للعدو، وقوم مَطاعينُ، وفي الحديث: «لا يكون المؤمن طَعَّاناً» ؛ يعني في أعراض الناس.
প্রথম পরিচ্ছেদ: (কুরআনের প্রতি অপবাদ) এর সংজ্ঞা:
- প্রথমত: ত্বা’ন-এর সংজ্ঞা:
(ত্বা আইন নূন: ‘ত্বাআনা বির-রুমহি’ (সে তাকে বর্শা দিয়ে আঘাত করল) এবং ‘ত্বাআনা ফিস-সিন্নি’ (তার বয়স বৃদ্ধি পেল); উভয়ই নাসারা পরিচ্ছেদভুক্ত। ‘ত্বাআনা ফীহি’ অর্থাৎ সে সমালোচনা বা দোষারোপ করল; এটিও নাসারা পরিচ্ছেদভুক্ত। ‘আস-সিহাহ’ গ্রন্থে ‘ত্বাআনানান’ অর্থাৎ ‘আইন’ বর্ণে ফাতহা যোগেও শব্দটির মূল রূপ বা মাসদারের কথা উল্লেখ আছে। তাতে আরও আছে যে: আল-ফাররা সকল ক্ষেত্রে বর্তমান-ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়ার ‘আইন’ বর্ণে ফাতহা প্রদান করা বৈধ মনে করেন। আল-আযহারী ‘আত-তাহযীব’ গ্রন্থে বলেছেন: ‘ত্বাআনান’ শব্দটি আল-লায়সের অভিমত, তবে অন্যরা মনে করেন সকল ক্ষেত্রে এর মাসদার কেবল ‘ত্বা’ন’। আল-লায়সের মতে সকল ক্ষেত্রে বর্তমান-ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়ার ‘আইন’ বর্ণটি যম্মা বা পেশ যুক্ত হবে। কেউ কেউ কথার মাধ্যমে দোষারোপ বা অপবাদ দেওয়ার ক্ষেত্রে বর্তমান-ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়ার ‘আইন’ বর্ণে ফাতহা ব্যবহার করেন যাতে উভয়ের মাঝে পার্থক্য করা যায়। আল-কিসায়ী বলেন: আমি সকল ক্ষেত্রে বর্তমান-ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়ায় যম্মা বা পেশ ব্যতীত অন্য কিছু শুনিনি। আল-ফাররা বলেন: আমি বর্শা দিয়ে আঘাত করার ক্ষেত্রে ‘আইন’ বর্ণে ফাতহা সহ ‘ইয়াতআনু’ শুনেছি। ‘আদ-দিওয়ান’ গ্রন্থে বর্শা এবং জিহ্বার মাধ্যমে ‘ত্বা’ন’ করাকে নাসারা পরিচ্ছেদে উল্লেখ করা হয়েছে। অতঃপর ‘ক্বত্বা-আ’ পরিচ্ছেদে বলা হয়েছে যে: ‘ত্বাআনা-ইয়াতআনু’ (আইন বর্ণে ফাতহা সহ) হলো ‘ত্বাআনা-ইয়াতউনু’ (আইন বর্ণে যম্মা সহ) এর একটি ভাষাগত রূপ; এভাবে তিনি শব্দটিকে উভয় পরিচ্ছেদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন। আর ‘আল-মিতআন’ হলো সেই ব্যক্তি যে শত্রুকে অধিক আঘাত করে, এর বহুবচন হলো ‘মাতাঈন’। হাদীসে এসেছে: «মুমিন ব্যক্তি ত্বা’আন (অধিক অপবাদকারী বা কটূক্তিকারী) হতে পারে না»; অর্থাৎ সে মানুষের মান-সম্মানে আঘাত হানে না।
(খণ্ড: ১)
দাওয়াতি তায়িনীন ফিল কুরআনিল কারীম = আত-তায়নু ফিল কুরআনিল কারীম ওয়ার রাদ্দু আলাত তায়িনীন
(পৃষ্ঠা: ২৫)
والطَّاعُونُ: الموت من الوباء، والجمع الطَّوَاعِين) (1) .
وقال ابن فارس: (طعن: أصل صحيح مطرد، وهو النخس في الشيء بما ينفذه، ثم يحمل عليه، ويستعار من ذلك الطعن في الرمح، ورجل طعان في أعراض الناس، وفي الحديث: «لا يكون المؤمن طعانا» . وقال بعضهم: طعن بالرمح يطعُن بالضم، وطعن بالقول يطعَن فتحا) (2) .
إذن لكلمة طعن معنيان؛ حسي، ومعنوي؛ فالحسي بمعنى الضرب بآلة حادة كالخنجر، وهو المتعدي للمفعول (طعنه) ، والمضارع منه مضموم العين (يطعُن) وبعضهم يفتحه، والمعنوي بمعنى القدح في شيء، سواء كان نسبا، أو كتابا، أو شخصا، أو غير ذلك، وهو اللازم (طعن فيه) ، والمضارع منه مفتوح العين (يطعَن) .
- ثانيا: تعريف القرآن:
هو كلام الله المعجز المنزل على محمد صلى الله عليه وسلم ، المكتوب في المصاحف، المنقول بالتواتر، المتعبد بتلاوته (3) . والقرآن من المشهورات التي لا تحتاج الى تعريف.
--------------------------------------------
আর প্লেগ (তাউন): মহামারী থেকে মৃত্যু, আর এর বহুবচন হলো ত্বাওয়াঈন (১)।
ইবনে ফারিস বলেছেন: (ত্বন: একটি সহীহ ও সুপ্রচলিত মূল শব্দ। এর অর্থ হলো কোনো কিছুতে এমনভাবে আঘাত করা যা তাকে বিদ্ধ করে, অতঃপর এর ওপর অন্যান্য অর্থ আরোপ করা হয়। সেখান থেকেই বর্ষা দ্বারা আঘাত করার বিষয়টি রূপকভাবে গ্রহণ করা হয়েছে। বলা হয়, অমুক ব্যক্তি মানুষের ইজ্জত-সম্মান নিয়ে আঘাতকারী। আর হাদিসে এসেছে: "মুমিন ব্যক্তি অপবাদক বা খোঁটা দানকারী হবে না।" কেউ কেউ বলেছেন: বর্ষা দিয়ে আঘাত করার ক্ষেত্রে ক্রিয়াটির মূল বর্ণের দ্বিতীয় অক্ষরে পেশ (ত্বুনু) এবং কথা দিয়ে আঘাত করার ক্ষেত্রে জবর (ত্বানা) হয়) (২)।
অতএব 'ত্বন' শব্দটির দুটি অর্থ রয়েছে; একটি ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য এবং অন্যটি তাত্ত্বিক। ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য অর্থ হলো খঞ্জরের মতো কোনো ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা, আর এটি সকর্মক ক্রিয়া (সে তাকে আঘাত করল), যার বর্তমানকালীন রূপের মূল বর্ণের দ্বিতীয় অক্ষরে পেশ হয় (ত্বুনু), যদিও কেউ কেউ একে জবর দিয়েও পড়েন। আর তাত্ত্বিক অর্থ হলো কোনো কিছুর প্রতি দোষারোপ বা অপবাদ দেওয়া, তা বংশমর্যাদা হোক, কোনো কিতাব হোক, কোনো ব্যক্তি হোক বা অন্য কিছু। এটি অকর্মক ক্রিয়া (সে তাতে খুঁত ধরল), যার বর্তমানকালীন রূপের মূল বর্ণের দ্বিতীয় অক্ষরে জবর হয় (ত্বানা)।
- দ্বিতীয়ত: কুরআনের সংজ্ঞা:
এটি আল্লাহর মুজিজাপূর্ণ কালাম যা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর অবতীর্ণ হয়েছে, যা মাসহাফসমূহে লিপিবদ্ধ, যা অবিচ্ছিন্ন বর্ণনাপরম্পরার (তাওয়াতুর) মাধ্যমে বর্ণিত এবং যার তিলাওয়াত ইবাদত হিসেবে গণ্য (৩)। কুরআন এমন একটি সুপ্রসিদ্ধ বিষয় যা নতুন করে সংজ্ঞায়িত করার প্রয়োজন পড়ে না।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দাওয়াতি তায়িনীন ফিল কুরআনিল কারীম = আত-তায়নু ফিল কুরআনিল কারীম ওয়ার রাদ্দু আলাত তায়িনীন
(পৃষ্ঠা: ২৬)
- ثالثا: تعريف الطعن في القرآن:
الطعن في القرآن: هو أحد مباحث علوم القرآن، التي تبحث في الرد على من طعن في كتاب الله، أو زعم تناقضه، أو إشكاله، والرد عليها بالأدلة الشرعية، والعقلية، والحسية (1) .
--------------------------------------------
তৃতীয়: কুরআনের বিরুদ্ধে অভিযোগের (তঅন) সংজ্ঞা:
কুরআনের বিরুদ্ধে অভিযোগ: এটি উলূমুল কুরআনের অন্যতম একটি বিষয়, যা আল্লাহর কিতাবের বিরুদ্ধে যারা অভিযোগ উত্থাপন করে, অথবা এর বৈপরীত্য কিংবা অস্পষ্টতার দাবি করে, তাদের খণ্ডন করার বিষয়ে আলোচনা করে এবং শরয়ি, যৌক্তিক ও ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য দলিলের মাধ্যমে সেগুলোর জবাব প্রদান করে (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দাওয়াতি তায়িনীন ফিল কুরআনিল কারীম = আত-তায়নু ফিল কুরআনিল কারীম ওয়ার রাদ্দু আলাত তায়িনীন
(পৃষ্ঠা: ২৭)
المبحث الثاني: مصطلحات ترادف الطعن في القرآنهناك عدة مصطلحات في تسمية هذا العلم، ترادف مصطلح الطعن في القرآن وهي:
1-المتشابه أو المشتبه:
حيث إن كثيرا من العلماء يطلقون على هذا العلم (المتشابه) ، مثل كتاب:
الآيات المتشابهات لبقي بن مخلد، وأضواء على متشابه القرآن لخليل ياسين، وتأويل متشابهات القرآن لابن شهر آشوب وغيرها (1) .
وأخذوا هذا الاسم من قوله تعالى: {هُوَ الَّذِي أَنزَلَ عَلَيْكَ الْكِتَابَ مِنهُ آيَاتٌ مُحْكَمَاتٌ هُنَّ أُمُّ الْكِتَابِ وَأُخَرُ مُتَشَابِهَاتٌ
… } [آل عمران:7] .
وإنما لم أختر أن تكون الرسالة بهذا العنوان؛ لأن المتشابه يطلق -في علوم القرآن والتفسير-على عدة معان:
1- يطلق المتشابه ويقصد به المشكل من الآيات التي قد تشتبه على فهم القارئ؛ لخلوه من الدلالة الراجحة لمعناه (2) ، الذي يحتاج للجواب والرد على الطاعن، كما تقدم.
--------------------------------------------
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: কুরআনের ওপর আপত্তির সমার্থবোধক পরিভাষাএই শাস্ত্রের নামকরণে বেশ কিছু পরিভাষা রয়েছে, যা কুরআনের ওপর আপত্তি বা 'ত্বান' পরিভাষার সমার্থবোধক, আর সেগুলো হলো:
১-মুতাশাবিহ বা মুশতাবিহ:
কেননা অনেক আলেম এই শাস্ত্রকে 'মুতাশাবিহ' নামে অভিহিত করেন, যেমন নিম্নোক্ত গ্রন্থসমূহ:
বাক্বী বিন মাখলাদ-এর 'আল-আয়াতুল মুতাশাবিহাত', খলিল ইয়াসিন-এর 'আদওয়াউ আলা মুতাশাবিহিল কুরআন', এবং ইবনে শাহর আশুব-এর 'তাউইলু মুতাশাবিহাতিল কুরআন' ইত্যাদি (১)।
তারা এই নামটি আল্লাহ তাআলার এই বাণী থেকে গ্রহণ করেছেন: {তিনিই আপনার প্রতি কিতাব অবতীর্ণ করেছেন, তার মধ্যে কিছু আয়াত মুহকাম (সুস্পষ্ট), সেগুলো কিতাবের মূল ভিত্তি, আর অন্যগুলো মুতাশাবিহ (অস্পষ্ট)
... } [আলে ইমরান: ৭]।
তবে আমি আমার অভিসন্দর্ভের শিরোনাম হিসেবে এই নামটি বেছে নিইনি; কারণ উলূমুল কুরআন এবং তাফসির শাস্ত্রে 'মুতাشাবিহ' শব্দটি কয়েকটি অর্থে ব্যবহৃত হয়:
১- মুতাশাবিহ শব্দটি ওইসব আয়াতের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয় যা 'মুশকিল' বা অস্পষ্ট, যা পাঠকের বোধগম্যতায় সংশয় তৈরি করতে পারে; যেহেতু এর অর্থের কোনো প্রবল বা অকাট্য প্রমাণ অনুপস্থিত থাকে (২), যার জন্য পূর্বের আলোচনার ন্যায় আক্রমণকারীর অভিযোগের উত্তর এবং খণ্ডন করার প্রয়োজন হয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দাওয়াতি তায়িনীন ফিল কুরআনিল কারীম = আত-তায়নু ফিল কুরআনিল কারীম ওয়ার রাদ্দু আলাত তায়িনীন
(পৃষ্ঠা: ২৮)
2- ويطلق ويراد به ضد المحكم، وهو الذي لا يعلمه إلا الله، أو لا يعلمه إلا الله والراسخون في العلم (1) ؛ مثل الحروف المقطعة، وحقيقة صفات الله وكيفياتها.
3- ويطلق ويراد به الآيات المتشابهة لفظا، وقد تفترق بحرف أو كلمة، وتوجيه هذا التفريق. وقد ألف العلماء في هذا الفن كتبا كثيرة؛ منها: " درة التنزيل وغرة التأويل في بيان الآيات المتشابهات في كتاب الله العزيز" (2) ، للخطيب الإسكافي (3) ، وأشهرها وأفضلها كتاب "البرهان في متشابه القرآن " (4) للكرماني (5) .
4- يطلق ويقصد به تشبيه شيء بشيء، كالحور العين باللؤلؤ، وقد ألف في هذا المعنى ابن ناقيا البغدادي (6) كتابه " الجمان في
--------------------------------------------
২- এটি ব্যবহৃত হয় ‘মুহকাম’-এর বিপরীত অর্থে; আর তা হলো এমন বিষয় যা আল্লাহ ছাড়া আর কেউ জানে না, অথবা আল্লাহ এবং জ্ঞানে সুগভীর পণ্ডিতগণ (রাসিকুনা ফিল ইলম) ছাড়া আর কেউ জানে না (১); যেমন বিচ্ছিন্ন অক্ষরসমূহ (হুরুফে মুকাত্তাআত), আল্লাহর গুণাবলির প্রকৃত হাকিকত এবং সেগুলোর ধরন।
৩- এটি ব্যবহৃত হয় শব্দগতভাবে সদৃশ আয়াতসমূহের ক্ষেত্রে, যা কখনো একটি অক্ষর বা একটি শব্দের মাধ্যমে পৃথক হয়, এবং এই পার্থক্যের কারণ নির্ণয় করা হয়। উলামায়ে কেরাম এই বিষয়ে অনেক কিতাব রচনা করেছেন; তার মধ্যে অন্যতম হলো: খতিব আল-ইস্কাফি (৩) রচিত "দুররাতুত তানজিল ওয়া গুররাতুত তাবিল ফি বায়ানিল আয়াতিল মুতাশাবিহাত ফি কিতাবিল্লাহিল আজিজ" (২), আর এগুলোর মধ্যে সবচেয়ে প্রসিদ্ধ ও শ্রেষ্ঠ কিতাব হলো কিরমানি (৫) রচিত "আল-বুরহান ফি মুতাশাবিহিল কুরআন" (৪)।
৪- এটি ব্যবহৃত হয় এবং এর দ্বারা কোনো বস্তুকে অন্য কোনো বস্তুর সাথে তুলনা করা বোঝানো হয়, যেমন আয়তলোচনা হুরদের মুক্তার সাথে তুলনা করা। ইবনে নাকিয়া আল-বাগদাদী (৬) এই অর্থে তার কিতাব "আল-জুমান ফি
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দাওয়াতি তায়িনীন ফিল কুরআনিল কারীম = আত-তায়নু ফিল কুরআনিল কারীম ওয়ার রাদ্দু আলাত তায়িনীন
(পৃষ্ঠা: ২৯)
تشبيهات القرآن" (1) ، ولسيد قطب كتاب في هذا المعنى سماه " التصوير الفني في القرآن ".
5- يطلق المتشابه ويراد به أن القرآن متماثل في النظم والبلاغة والهدف الذي يدعو إليه؛ فلا تجد في أسلوبه اختلافا، ولا في معانيه مناقضة، ولا في سِوَرِه تغايرا، كما في قوله تعالى: {اللَّهُ نَزَّلَ أَحْسَنَ الْحَدِيثِ كِتَابًا مُتَشَابِهًا مَثَانِيَ تَقْشَعِرُّ مِنهُ جُلُودُ الَّذِينَ يَخْشَوْنَ رَبَّهُمْ ثُمَّ تَلِينُ جُلُودُهُمْ وَقُلُوبُهُمْ إِلَى ذِكْرِ اللَّهِ ذَلِكَ هُدَى اللَّهِ يَهْدِي بِهِ مَن يَشَاءُ وَمَن يُضْلِلِ اللَّهُ فَمَا لَهُ مِنْ هَادٍ} [الزمر:23] .
قال القرطبي: (متشابها يشبه بعضه بعضا في الحسن والحكمة، ويصدق بعضه بعضا، ليس فيه تناقض ولا اختلاف) (2) .
فلما كان هذا الاسم يشكل في الفهم، ومشتركا بين عدة معان، أعرضت عنه.
2- موهم الاختلاف أو مختلف القرآن:
هكذا سماه الزركشي في البرهان: النوع الخامس والثلاثون:
--------------------------------------------
"কুরআনের উপমাসমূহ" (১), এবং সাইয়্যেদ কুতুবের এই বিষয়ে একটি গ্রন্থ রয়েছে যার নাম তিনি দিয়েছেন "কুরআনের শৈল্পিক চিত্রায়ন"।
৫- 'মুতাশাবিহ' শব্দটি ব্যবহৃত হয় এবং এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো যে, কুরআন তার বিন্যাস, অলঙ্কারশাস্ত্র এবং সেই লক্ষ্যের ক্ষেত্রে অভিন্ন যা সে আহ্বান করে; সুতরাং আপনি এর রচনাশৈলীতে কোনো ভিন্নতা, এর অর্থসমূহে কোনো বৈপরীত্য এবং এর সূরাসমূহে কোনো অসামঞ্জস্য পাবেন না, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {আল্লাহ সর্বোত্তম বাণী অবতীর্ণ করেছেন, এমন এক কিতাব যা সুসামঞ্জস্যপূর্ণ, যা বারবার পঠিত হয়; এতে তাদের চামড়া শিউরে ওঠে যারা তাদের প্রতিপালককে ভয় করে, অতঃপর আল্লাহর স্মরণে তাদের চামড়া ও অন্তর কোমল হয়। এটাই আল্লাহর হিদায়াত, এর মাধ্যমে তিনি যাকে ইচ্ছা পথপ্রদর্শন করেন। আর আল্লাহ যাকে পথভ্রষ্ট করেন তার জন্য কোনো পথপ্রদর্শক নেই।} [যুমার: ২৩]।
কুরতুবী বলেন: (মুতাশাবিহ হলো যার একাংশ সৌন্দর্য ও প্রজ্ঞার ক্ষেত্রে অন্য অংশের সদৃশ এবং যা একে অপরকে সত্যায়ন করে, এতে কোনো বৈপরীত্য বা ভিন্নতা নেই) (২)।
যেহেতু এই নামটি বোঝার ক্ষেত্রে অস্পষ্টতা তৈরি করে এবং একাধিক অর্থের মধ্যে সাধারণ, তাই আমি এটি বর্জন করেছি।
২- মতভেদের সংশয় সৃষ্টিকারী বা কুরআনের বৈচিত্র্য:
যারকাশী তার 'আল-বুরহান' গ্রন্থে একে এভাবেই নামকরণ করেছেন: পঁয়ত্রিশতম প্রকার:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দাওয়াতি তায়িনীন ফিল কুরআনিল কারীম = আত-তায়নু ফিল কুরআনিল কারীম ওয়ার রাদ্দু আলাত তায়িনীন
(পৃষ্ঠা: ৩০)
معرفة موهم المختلف (1) ، وسماه السيوطي في الإتقان: النوع الثامن والأربعون في مشكله وموهم الاختلاف والتناقض.
وقد أخذوا هذا الاسم من الآية وهي قوله تعالى: {أَفَلَا يَتَدَبَّرُونَ الْقُرْآنَ وَلَوْ كَانَ مِنْ عِندِ غَيْرِ اللَّهِ لَوَجَدُوا فِيهِ اخْتِلَافًا كَثِيرًا} [النساء:82] .
3- موهم الاضطراب:
ومن هذا كتاب دفع " إيهام الاضطراب عن آيات الكتاب " لمحمد الأمين الشنقيطي.
وهذا الاسم والذي قبله يتحدث عن نوع واحد من الطعون، وهو التناقض في الآيات، مع أن الطعون لها أنواع أخر، كنفي نسبة القرآن إلى الله، والطعن في لغته وغير ذلك؛ لهذا لم أُسمِّ به الرسالة؛ لقصوره عن شمول جميع أنواع الطعون.
4- أسئلة القرآن:
أي الأسئلة التي يطرحها بعض الناس بقصد التشكيك في كتاب الله تعالى؛ ومن هذا: كتاب " البرهان في مسائل القرآن " للجماعيلي المقدسي، و " التبيان في مسائل القرآن " لرضي الدين القزويني، وبعضهم
--------------------------------------------
মতভেদের বিভ্রম উদ্রেককারী বিষয়াবলি সম্পর্কে জ্ঞান (১), এবং সুয়ূতী একে আল-ইতকানে নাম দিয়েছেন: ৪৮তম প্রকার: এর অস্পষ্ট বিষয়াবলি এবং মতভেদ ও বৈপরীত্যের বিভ্রম উদ্রেককারী বিষয়াবলি।
আর তারা এই নামটি আয়াত থেকে গ্রহণ করেছেন, যা হলো মহান আল্লাহর বাণী: {তবে কি তারা কুরআন নিয়ে গভীর চিন্তা-ভাবনা করে না? যদি এটি আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো পক্ষ থেকে হতো, তবে তারা এতে অবশ্যই অনেক মতভেদ খুঁজে পেত।} [নিসা: ৮২]।
৩- অসংগতি বা বিশৃঙ্খলার বিভ্রম উদ্রেককারী:
আর এর অন্তর্ভুক্ত হলো মুহাম্মাদ আল-আমিন আশ-শানকিতীর গ্রন্থ "দাফউ ইহামিল ইজতিরাব আন আয়াতিল কিতাব" (আল্লাহর কিতাবের আয়াতসমূহ থেকে অসংগতির বিভ্রম নিরসন)।
এই নাম এবং এর পূর্ববর্তী নামটি কেবল এক প্রকারের আপত্তির কথা বলে, তা হলো আয়াতের মধ্যকার বৈপরীত্য। অথচ আপত্তির আরও অনেক প্রকার রয়েছে, যেমন আল্লাহর পক্ষ থেকে কুরআন নাযিল হওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করা, কুরআনের ভাষার সমালোচনা করা ইত্যাদি। এই কারণেই আমি আমার গবেষণাপত্রের নাম এটি রাখিনি; কারণ এটি সব ধরণের আপত্তির অন্তর্ভুক্তিতে অপূর্ণাঙ্গ।
৪- কুরআনের প্রশ্নসমূহ:
অর্থাৎ ওই সব প্রশ্ন যা কিছু মানুষ মহান আল্লাহর কিতাব সম্পর্কে সন্দেহ তৈরির উদ্দেশ্যে উত্থাপন করে। এর উদাহরণ হলো: জামায়িলি আল-মাকদিসীর গ্রন্থ "আল-বুরহান ফি মাসায়িলিল কুরআন", এবং রাযিউদ্দীন আল-কাযভীনীর "আত-তিবইয়ান ফি মাসায়িলিল কুরআন"। আর তাদের কেউ কেউ...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দাওয়াতি তায়িনীন ফিল কুরআনিল কারীম = আত-তায়নু ফিল কুরআনিল কারীম ওয়ার রাদ্দু আলাত তায়িনীন
(পৃষ্ঠা: ৩১)
يسميها جوابات القرآن؛ باعتبار الجواب على هذا السؤال، ككتاب " الجوابات في القرآن " لمقاتل بن سليمان، وبعضهم يجمع بين الاسمين مثل " أسئلة القرآن وأجوبتها " لأبي بكر الرازي.
5-غامض القرآن:
ومن هذا كتاب "كشف غوامض القرآن " لفخر الدين الطريحي.
6-مشكل القرآن:
ومن هذا كتاب: " تأويل مشكل القرآن " لابن قتيبة -وبعضهم يسميه " مشكل القرآن" (1) ، وهو من أول الكتب المفردة في هذا الفن، وهو مطبوع متداول.
و" فوائد في مشكل القرآن " لسلطان العلماء العز بن عبد السلام.
و" مشكلات القرآن " لمحمد أنور الكشميري.
و" مشكل القرآن " للحكيم الترمذي، وهو أكثر الأسماء تداولا بين العلماء على هذا الفن، فقد وجدت ما يقارب العشرين عالما يطلقون عليه هذا اللفظ كما سيأتي (2) .
فيتحصل لنا من هذا، أن لهذا العلم سبعة أسماء عند العلماء.
--------------------------------------------
তিনি এগুলোকে কুরআনের উত্তরসমূহ হিসেবে অভিহিত করেন; এই প্রশ্নের উত্তরের প্রেক্ষিতে, যেমন মুকাতিল বিন সুলাইমানের কিতাব "আল-জাওয়াবাত ফিল কুরআন", এবং কেউ কেউ উভয় নামকে একত্রিত করেছেন যেমন আবু বকর আল-রাজির "আসইলাতুল কুরআন ওয়া আজওয়াবাতুহা"।
৫-কুরআনের অস্পষ্ট বিষয়াদি:
এর অন্তর্ভুক্ত হলো ফখরুদ্দীন আল-তুরিহির কিতাব "কাশফু গওয়ামিদিল কুরআন"।
৬-কুরআনের জটিল বিষয়াদি:
এর অন্তর্ভুক্ত হলো ইবনে কুতাইবাহ-এর কিতাব: "তাউইলু মুশকিলে কুরআন"—এবং কেউ কেউ একে "মুশকিলে কুরআন" (১) হিসেবেও অভিহিত করেন, এটি এই শাস্ত্রে রচিত প্রথম স্বতন্ত্র গ্রন্থগুলোর অন্তর্ভুক্ত এবং এটি বর্তমানে মুদ্রিত ও প্রচলিত।
এবং সুলতানুল উলামা ইয বিন আব্দুস সালামের "ফাওয়াইদ ফি মুশকিলে কুরআন"।
এবং মুহাম্মদ আনোয়ার শাহ কাশ্মিরীর "মুশকিলাতুল কুরআন"।
এবং হাকিম তিরমিযীর "মুশকিলে কুরআন"; এটি আলেমদের নিকট এই শাস্ত্রের জন্য সর্বাধিক প্রচলিত নাম, কারণ আমি প্রায় বিশজন আলেমকে এই পরিভাষাটি ব্যবহার করতে দেখেছি যা সামনে বিস্তারিতভাবে আসবে (২)।
সুতরাং এর থেকে আমাদের নিকট প্রতীয়মান হয় যে, আলেমদের নিকট এই শাস্ত্রের সাতটি নাম রয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দাওয়াতি তায়িনীন ফিল কুরআনিল কারীম = আত-তায়নু ফিল কুরআনিল কারীম ওয়ার রাদ্দু আলাত তায়িনীন
(পৃষ্ঠা: ৩২)
المبحث الثالث: التعريف بالطاعنين في القرن الرابع عشر الهجريالطاعنون في كتاب الله هم المشككون فيه، الذين يوردون عليه الشبه والإشكالات والاضطرابات، يريدن بهذا إسقاط قدسية القرآن من قلوب المسلمين؛ لأن القرآن هو قطب رحى المسلمين الذي عليه يدورون، وهو العروة الوثقى التي بها يتمسكون، وهو المورد العذب الذي إليه يردون ومنه يصدرون. وهو أساس الإسلام وركن الشريعة الركين، الذي إذا سقط سقط كل البناء، وتهدم الصرح، وقوض الإسلام، ولم تبق للمسلمين باقية ولا قوة.
وقد كثر الطاعنون في كل قرن، ولكن هذا القرن تميز بنوعين من الطاعنين، وهم:
الصنف الأول: المستشرقون.
الصنف الثاني: العلمانيون، أو تلاميذ المستشرقين، أو العقلانيون
… وفيما يلى نبذة مختصرة عن كل منهما:
أولا: المستشرقون:
الاستشراق (Orientalism) : تعبير يدل على الاتجاه نحو الشرق، ويطلق على كل ما يبحث في أمور الشرقيين وثقافتهم وتاريخهم، ويقصد به ذلك التيار الفكري الذي يتمثل في إجراء الدراسات المختلفة عن
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: চতুর্দশ হিজরি শতাব্দীতে আক্রমণকারীদের পরিচয়আল্লাহর কিতাবের ওপর আক্রমণকারী হচ্ছে তারা যারা এ সম্পর্কে সন্দেহ পোষণ করে, যারা এর ওপর সংশয়, আপত্তি ও বিভ্রান্তি ছুড়ে দেয়; এর মাধ্যমে তারা মুসলমানদের অন্তর থেকে কুরআনের পবিত্রতা বিলুপ্ত করতে চায়। কারণ কুরআন হলো মুসলমানদের আবর্তনের কেন্দ্রবিন্দু, যাকে কেন্দ্র করে তারা আবর্তিত হয়। এটি হলো সেই মজবুত হাতল যা তারা দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরে এবং এটি সেই সুপেয় উৎস যেখানে তারা সমবেত হয় এবং যেখান থেকে তারা জীবনশক্তি আহরণ করে। এটি ইসলামের ভিত্তি এবং শরীয়তের সুদৃঢ় স্তম্ভ, যা ধসে পড়লে সমগ্র ইমারত ধসে পড়ে, প্রাসাদটি বিধ্বস্ত হয়, ইসলাম বিপন্ন হয় এবং মুসলমানদের কোনো অস্তিত্ব বা শক্তি অবশিষ্ট থাকে না।
প্রতি শতাব্দীতেই আক্রমণকারীদের সংখ্যা অনেক ছিল, তবে এই শতাব্দী দুই ধরনের আক্রমণকারীর দ্বারা বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত হয়েছে, তারা হলো:
প্রথম শ্রেণি: প্রাচ্যবিদগণ।
দ্বিতীয় শ্রেণি: ধর্মনিরপেক্ষতাবাদী, অথবা প্রাচ্যবিদদের শিষ্যগণ, অথবা যুক্তিবাদীগণ
… নিম্নে তাদের প্রত্যেকের সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত সারসংক্ষেপ তুলে ধরা হলো:
প্রথমত: প্রাচ্যবিদগণ:
প্রাচ্যতত্ত্ব (Orientalism): এটি এমন একটি পরিভাষা যা প্রাচ্যের দিকে ঝোঁক বা অভিমুখিতাকে নির্দেশ করে এবং প্রাচ্যবাসীদের বিষয়াদি, তাদের সংস্কৃতি ও ইতিহাস নিয়ে গবেষণার ক্ষেত্রে এটি ব্যবহৃত হয়। এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো সেই বুদ্ধিবৃত্তিক ধারা যা বিভিন্ন বিষয়ের ওপর গবেষণার মাধ্যমে পরিচালিত হয়...
(খণ্ড: ১)
দাওয়াতি তায়িনীন ফিল কুরআনিল কারীম = আত-তায়নু ফিল কুরআনিল কারীম ওয়ার রাদ্দু আলাত তায়িনীন
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
الشرق، والتي تشمل حضارته، وآدابه، ولغاته، وثقافته (1) .
واستُغل في أكثر مراحله لخدمة الاستعمار، وتشويه تعاليم الدين.
ونشأ هذا الفكر لما عجز النصارى عن مواجهة المسلمين بالسيف، فرأوا أن أفضل طريقة لمحاربة المسلمين هو الغزو الفكري.
ولهم طرق كثيرة للوصول إلى أهدافهم منها: تأليف الكتب، وإصدار المجلات، وإلقاء المحاضرات في المنتديات عن الإسلام، والقرآن، والسنة، وتاريخ المسلمين، وإنشاء الجمعيات والمراكز التي تخدم أغراضهم، وعقد المؤتمرات السرية والعلنية، وإنشاء موسوعة دائرة المعارف الإسلامية وغيرها، وإرسال البعثات، وإنشاء جامعات وكليات غربية في بلاد الشرق، وغير ذلك من الوسائل، ولها آثار أكثرها سلبي وبعضها إيجابي.
--------------------------------------------
প্রাচ্য, যার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে তার সভ্যতা, সাহিত্য, ভাষা এবং সংস্কৃতি (১)।
এবং এর অধিকাংশ পর্যায়ে একে উপনিবেশবাদের সেবা এবং দ্বীনের শিক্ষা বিকৃত করার কাজে ব্যবহার করা হয়েছে।
এই চিন্তাধারার উদ্ভব তখন হয়েছে যখন খ্রিস্টানরা তলোয়ার দিয়ে মুসলিমদের মোকাবিলা করতে অক্ষম হয়ে পড়েছিল, ফলে তারা মনে করল যে মুসলিমদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার সর্বোত্তম উপায় হলো বুদ্ধিবৃত্তিক আক্রমণ।
তাদের উদ্দেশ্য অর্জনের জন্য অনেক পদ্ধতি রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে: বই রচনা করা, সাময়িকী প্রকাশ করা, ইসলাম, কুরআন, সুন্নাহ এবং মুসলিমদের ইতিহাস সম্পর্কে বিভিন্ন ফোরামে বক্তৃতা প্রদান করা, তাদের উদ্দেশ্য সাধনের জন্য সমিতি ও কেন্দ্র স্থাপন করা, গোপন ও প্রকাশ্য সম্মেলন আয়োজন করা, ইসলামী বিশ্বকোষ এবং অন্যান্য সংকলন তৈরি করা, প্রতিনিধি দল প্রেরণ করা, প্রাচ্যের দেশগুলোতে পশ্চিমা বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ স্থাপন করা এবং আরও অন্যান্য মাধ্যম। এগুলোর প্রভাবের অধিকাংশ নেতিবাচক এবং কিছু ইতিবাচক।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দাওয়াতি তায়িনীন ফিল কুরআনিল কারীম = আত-তায়নু ফিল কুরআনিল কারীম ওয়ার রাদ্দু আলাত তায়িনীন
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
فمن الآثار السلبية:
1 - الطعن في القرآن والسنة، وهما مصدر التشريع في الدين.
2 - محاولة إحياء الفرق المنحرفة الميتة، أو أفكار بعض المنحرفين كالحلاج وغيره.
3 - صد الناس عن الإسلام بتشويه تعاليمه كما فعلت الموسوعة البريطانية.
4 - إخراج جيل من أبناء المسلمين منسلخ عن دينه بل محارب له.
5 - التشكيك في الثوابت؛ كالجهاد، والحجاب، والميراث، والعقوبات الشرعية؛ كرجم الزاني، وقطع يد السارق، وقتل المرتد، وغير ذلك من الثوابت.
6 - إخراج المرأة من جلبابها بتصوير الحجاب بأنه خرقة لا قيمة لها، ومحاولة مساواة المرأة للرجل في كل شيء، حتى في جواز تعدد الأزواج.
وأما الآثار الإيجابية فمنها:
1 -شهادة المنصفين منهم لصدق الإسلام وإعجاز القرآن، حتى دفع الكثير منهم لإعلان إسلامه.
2 - إخراج بعض الكنوز الإسلامية التي كانت مخطوطة بتحقيقها وطبعها.
3 - عمل المعجم المفهرس لألفاظ الحديث النبوي.
ودوافع الاستشراق كثيرة ترجع إلى ثلاثة دوافع: استعماري، وديني، وعلمي (1) .
--------------------------------------------
নেতিবাচক প্রভাবগুলোর মধ্যে রয়েছে:
১ - কুরআন ও সুন্নাহর ওপর অপবাদ আরোপ করা বা আঘাত হানা, যা দ্বীনের শরয়ি বিধানের উৎস।
২ - বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া পথভ্রষ্ট দলসমূহ কিংবা আল-হাল্লাজ ও অন্যদের মতো কিছু বিচ্যুত ব্যক্তির চিন্তাধারাকে পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টা করা।
৩ - ইসলামের শিক্ষাগুলোকে বিকৃত করার মাধ্যমে মানুষকে ইসলাম থেকে বিমুখ করা, যেমনটি এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা করেছে।
৪ - মুসলিম সন্তানদের এমন এক প্রজন্ম তৈরি করা যারা নিজেদের দ্বীন থেকে বিচ্যুত, এমনকি তার বিরুদ্ধে যুদ্ধরত।
৫ - দ্বীনের অকাট্য বিষয়গুলোর ব্যাপারে সংশয় সৃষ্টি করা; যেমন জিহাদ, হিজাব, মিরাস (উত্তরাধিকার), এবং শরয়ি দণ্ডবিধি; যেমন ব্যভিচারীকে পাথর মেরে মৃত্যুদণ্ড (রজম) প্রদান, চোরের হাত কাটা, মুরতাদকে হত্যা করা এবং এই জাতীয় অন্যান্য অকাট্য বিধানসমূহ।
৬ - হিজাবকে একটি মূল্যহীন কাপড়ের টুকরো হিসেবে চিত্রায়িত করে নারীকে তার পর্দা (জিলবাব) থেকে বের করে আনা এবং সব ক্ষেত্রে নারীকে পুরুষের সমান করার চেষ্টা করা, এমনকি একাধিক স্বামী গ্রহণের বৈধতার ক্ষেত্রেও।
আর ইতিবাচক প্রভাবগুলোর মধ্যে রয়েছে:
১ - প্রাচ্যবিদদের মধ্যে যারা ন্যায়পরায়ণ ছিলেন, তাদের ইসলামের সত্যতা ও কুরআনের অলৌকিকত্বের স্বীকৃতি প্রদান, যা এমনকি তাদের অনেককে ইসলাম গ্রহণের ঘোষণা দিতে উদ্বুদ্ধ করেছে।
২ - পাণ্ডুলিপি আকারে থাকা ইসলামের কিছু অমূল্য জ্ঞানভাণ্ডারকে সম্পাদনা ও মুদ্রণের মাধ্যমে সামনে নিয়ে আসা।
৩ - হাদীসে নববীর শব্দাবলির বর্ণানুক্রমিক নির্ঘণ্ট (আল-মু'জামুল মুফাহরাস) তৈরি করা।
প্রাচ্যতত্ত্বের উদ্দেশ্য অনেক, যা মূলত তিনটি উদ্দেশ্যের দিকে ফিরে যায়: ঔপনিবেশিক, ধর্মীয় এবং বৈজ্ঞানিক (১)।
--------------------------------------------