(খণ্ড: ১)
ফাদায়িলু ফাতিমাহ লি-ইবনি শাহীন
(পৃষ্ঠা: -)
فضائل فاطمة لابن شاهين القسم: كتب السنة
الكتاب: فضائل فاطمة بنت رسول الله صلى الله عليه وسلم
المؤلف: أبو حفص عمر بن أحمد بن عثمان بن أحمد بن محمد بن أيوب بن أزداذ البغدادي المعروف بـ ابن شاهين (ت 385هـ)
تحقيق: بدر البدر
الناشر: دار ابن الأثير - الكويت (ضمن مجموع فيه من مصنفات ابن شاهين)
الطبعة: الأولى 1415 هـ - 1994 م
عدد الصفحات: 49
تمت مقابلة الكتاب، وقوبل أيضا على طبعة مكتبة التوعية الإسلامية بتحقيق أبي إسحاق الحويني وأثبتت الفروق بين الطبعتين، وترقيم الطبعتين متوافق إلى رقم (25) وأثبت بعد ذلك ترقيم طبعة الحويني بين []
أعده للشاملة: يا باغي الخير أقبل
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
ইবনে শাহীন কর্তৃক সংকলিত ফাতিমার ফযিলতসমূহ বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ
কিতাব: আল্লাহর রাসূলের (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) কন্যা ফাতিমার ফযিলতসমূহ
লেখক: আবু হাফস উমর ইবনে আহমদ ইবনে উসমান ইবনে আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আইয়ুব ইবনে আজদাদ আল-বাগদাদী, যিনি ইবনে শাহীন নামে পরিচিত (মৃত্যু ৩৮৫ হিজরি)
তাহকীক: বদর আল-বদর
প্রকাশক: দার ইবনুল আসীর - কুয়েত (ইবনে শাহীনের রচনাবলির একটি সংকলনের অন্তর্ভুক্ত)
সংস্করণ: প্রথম ১৪১৫ হিজরি - ১৯৯৪ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪৯
গ্রন্থটি মূল পাণ্ডুলিপির সাথে মিলিয়ে দেখা হয়েছে এবং আবু ইসহাক আল-হুওয়াইনীর তাহকীককৃত মাকতাবাতুত তাওইয়্যাহ আল-ইসলামিয়্যাহ সংস্করণের সাথেও তুলনা করা হয়েছে এবং দুই সংস্করণের মধ্যকার পার্থক্যগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে। ২৫ নম্বর পর্যন্ত উভয় সংস্করণের নম্বরবিন্যাস একই রকম এবং এরপর থেকে আল-হুওয়াইনীর সংস্করণের নম্বরবিন্যাস [] চিহ্নের ভেতরে দেয়া হয়েছে।
শামেলার জন্য প্রস্তুত করেছেন: হে কল্যাণের অন্বেষী, অগ্রসর হও
[বইটির নম্বরবিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
ফাদায়িলু ফাতিমাহ লি-ইবনি শাহীন
(পৃষ্ঠা: ১৫)
الجزء فيه فضائل سيدة النساء بعد مريم
فاطمة بنت رسول الله صلى الله عليه وسلم
ورضي الله عنهما لابن شاهين
جمع أبي حفص عمر بن أحمد بن عثمان بن
أحمد بن أيوب الواعظ رحمه الله
إجازة يوسف بن عبد الهادي
এই খণ্ডে মারইয়ামের পর নারীজাতির শ্রেষ্ঠ নেত্রীর ফযীলতসমূহ সংবলিত হয়েছে
আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কন্যা ফাতিমা
আল্লাহ তাঁদের উভয়ের প্রতি সন্তুষ্ট হোন; ইবনে শাহীন বিরচিত
সংকলন করেছেন আবু হাফস উমর বিন আহমাদ বিন উসমান বিন
আহমাদ বিন আইয়ুব আল-ওয়ায়িজ (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন)
ইউসুফ বিন আব্দুল হাদীর ইজাযত
(খণ্ড: ১)
ফাদায়িলু ফাতিমাহ লি-ইবনি শাহীন
(পৃষ্ঠা: ১৭)
بسم الله الرحمن الرحيم
وصلى الله على سيدنا محمد وآله وسلم.
أخبر.... (1)
أَنْبَأَنَا الشَّرِيفُ أَبُو الْحُسَيْنِ مُحَمَّدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ الْمُهْتَدِي قَوْله مِنْ لَفْظِهِ يَوْمَ الْخَمِيسِ ثَانِيَ عَشْرَ مِنْ ذِي الْحِجَّةِ مِنْ سَنَةِ اثْنَتَيْنِ وَسِتِّينَ وَأَرْبَعِمِائَةٍ، ثَنَا أَبُو حَفْصٍ عُمَرُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ عُثْمَانَ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ أَيُّوبَ بْنِ أَزْدَاذَ بْنِ سِرَاجِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنَ الْمَرْوَرُوذِيُّ الْمَعْرُوفُ بِابْنِ شَاهِينَ.
1- ثَنَا نَصْرُ بْنُ الْقَاسِمِ بْنِ زَيْدٍ الْفَرَائِضِيُّ قَالَ: ثنا مُحَمَّدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ فُرْنَةَ الْخوارِزْمِيُّ، ثنا مُعَاذُ بْنُ هِشَامٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ، حدثني زيدٌ، عَنْ أَبِي سَلَّامٍ (2) ، عَنْ أَبِي أَسْمَاءَ الرَّحَبِيِّ، عَنْ ثَوْبَانَ قَالَ: جَاءَتِ ابْنَةُ هِنْدَ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم
⦗ص: 18⦘ وَفِى يَدِهَا فَتَخٌ أَيْ خَوَاتِيمٌ ضِخَامٌ، فَجَعَلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَضْرِبُ يَدَهَا فَدَخَلَتْ عَلَى فَاطِمَةَ تَشْكُو إِلَيْهَا الَّذِي صَنَعَ بِهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَانْتَزَعَتْ فَاطِمَةُ عليها السلام سِلْسِلَةً مِنْ ذهب من عُنُقِهَا فَقَالَتْ: هَذِهِ أَهْدَاهَا لِي أَبُو حَسَنٍ فَدَخَلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَالسِّلْسِلَةُ فِي يَدِهَا فَقَالَ: يَا فَاطِمَةُ أَيَغُرُّكِ أَنْ يَقُولَ النَّاسُ: ابْنَةُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَفِى يَدِهَا سِلْسِلَةٌ مِنْ نَارٍ؟ ثُمَّ خَرَجَ وَلَمْ يَقْعُدْ فَبَعَثَتْ فَاطِمَةُ عليها السلام بِالسِّلْسِلَةِ إِلَى السُّوقِ فَبَاعَتْهَا وَاشْتَرَتْ بِثَمَنِهَا عَبْدًا فَعَتَقَتْهُ فَحُدِّثَ بِذَلِكَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ:
الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي نَجَّى فَاطِمَةَ مِنَ النَّارِ.
--------------------------------------------
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
আমাদের নেতা মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।
অবহিত করেছেন... (১)
আশ-শরীফ আবুল হুসাইন মুহাম্মদ বিন আলী বিন মুহাম্মদ বিন উবাইদুল্লাহ আল-মুহতাদী তাঁর নিজ মুখে পঠিত কথা অনুযায়ী ৪৬২ হিজরী সনের ১২ই জিলহজ, বৃহস্পতিবার আমাদের অবহিত করেছেন। তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু হাফস উমর বিন আহমদ বিন উসমান বিন আহমদ বিন আইয়ুব বিন আজদাদ বিন সিরাজ বিন আব্দুর রহমান আল-মারওয়ারুযী, যিনি ইবনে শাহীন নামে পরিচিত।
১- নসর বিন আল-কাসিম বিন যাইদ আল-ফারায়েযী আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ বিন ইব্রাহিম বিন ফুরনাহ আল-খাওয়ারিযমী আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, মুয়ায বিন হিশাম তাঁর পিতা থেকে, তিনি ইয়াহইয়া বিন আবু কাসীর থেকে, যাইদ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন আবু সাল্লাম থেকে (২), তিনি আবু আসমা আল-রাহাবী থেকে এবং তিনি সাওবান (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: হিন্দের কন্যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আসলেন
⦗পৃষ্ঠা: ১৮⦘ এমতাবস্থায় যে তাঁর হাতে ফাতাখ অর্থাৎ বড় বড় আংটি ছিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর হাতে (মৃদু) আঘাত করতে লাগলেন। অতঃপর তিনি ফাতিমা (রা.)-এর নিকট প্রবেশ করে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাথে যা করেছেন সে সম্পর্কে তাঁর কাছে অভিযোগ করলেন। তখন ফাতিমা (আলাইহাস সালাম) তাঁর গলা থেকে একটি স্বর্ণের শিকল খুলে ফেললেন এবং বললেন: এটি আবুল হাসান (আলী রা.) আমাকে উপহার দিয়েছেন। এমতাবস্থায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রবেশ করলেন যখন শিকলটি তাঁর হাতে ছিল। তিনি বললেন: হে ফাতিমা! লোকে বলবে যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কন্যার হাতে আগুনের শিকল—এটি কি তোমাকে প্রলুব্ধ করছে? এরপর তিনি না বসেই বেরিয়ে গেলেন। তখন ফাতিমা (আলাইহাস সালাম) শিকলটি বাজারে পাঠিয়ে দিলেন এবং তা বিক্রয় করে দিলেন। অতঃপর এর মূল্য দিয়ে একটি দাস ক্রয় করে তাকে মুক্ত করে দিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এই সংবাদ পৌঁছালে তিনি বললেন:
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি ফাতিমাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দিয়েছেন।--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফাদায়িলু ফাতিমাহ লি-ইবনি শাহীন
(পৃষ্ঠা: ১৮)
2- حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سُلَيْمَانَ بْنِ الْأَشْعَثَ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى النَّيْسَابُورِيُّ، ثنا وَهْبُ بْنُ جَرِيرٍ، ثنا هِشَامٌ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ، عَنْ أَبَى سَلَّامٍ، عَنْ أَبِي أَسْمَاءَ الرَّحَبِيِّ، عَنْ ثَوْبَانَ قَالَ: جَاءَتِ ابْنَةُ هِنْدَ كَذَا قَالَ: إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَفَى يَدِهَا فَتَخٌ مِنْ ذَهَبٍ فَذَكَرَ نَحْوَهُ.
২- আমাদের নিকট আব্দুল্লাহ বিন সুলাইমান বিন আল-আশআছ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট মুহাম্মদ বিন ইয়াহইয়া আন-নাইসাবুরী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট ওয়াহাব বিন জারীর বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হিশাম বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া বিন আবু কাসীর হতে, তিনি আবু সাল্লাম হতে, তিনি আবু আসমা আল-রাহাবী হতে এবং তিনি সাওবান হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: হিন্দের কন্যা—বর্ণনাকারী এভাবেই বলেছেন—নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট আসলেন এবং তাঁর হাতে স্বর্ণের একটি বড় আংটি ছিল। অতঃপর তিনি অনুরূপ বর্ণনা করলেন।
(খণ্ড: ১)
ফাদায়িলু ফাতিমাহ লি-ইবনি শাহীন
(পৃষ্ঠা: ১৯)
3- حَدَّثَنَا الْعَبَّاسُ بْنُ الْعَبَّاسِ بْنِ الْمُغِيرَةِ، ثنا يَعْقُوبُ بْنُ إِسْحَاقَ الْقُلُوسِيُّ، عن (1) يَحْيَى بْنِ حَمَّادٍ، ثنا أَبُو عَوَانَةَ، ثنا الْعَلَاءُ بْنُ الْمُسَيَّبِ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ [بن] (2) قُعَيْسٍ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ أَنَّ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم كَانَ إِذَا خَرَجَ كَانَ آخِرُ عَهْدِهِ فَاطِمَةَ وَإِذَا رَجَعَ كَانَ أَوَّلُ عَهْدِهِ فَاطِمَةَ عليها السلام فَلَمَّا رَجَعَ مِنْ غَزْوَةَ تَبُوكَ وَمعَهُ عَلِيُّ وَقَدِ اشْتَرَتْ مُقَيْنَعَةً وَصَبَغَتْهَا بِزَعْفَرَانٍ وَعَلَّقَتْ عَلَى بَابِهَا سِتْرًا وَأَلْقَتْ فِي بَيْتِهَا بِسَاطًا فَلَمَّا رَأَى ذَلِكَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم رَجَعَ فَأَتَى الْمَنْزِلَ فَقَعَدَ فِيهِ فَأَرْسَلَتْ إِلَى بِلَالٍ فَقَالَتِ: اذْهَبْ فَانْظُرْهُ مَا رَدَّهُ عَنْ بَابِي؟ ، فَأَتَاهُ فَأَخْبَرَهُ فَقَالَ: إِنِّى رَأَيْتُهَا صَنَعَتْ كَذَا وَكَذَا، فَأَتَاهَا وأَخْبَرَهَا (3) فَهَتَكَتِ السِّتْرَ وَكُلَّ شَيْءٍ أَحْدَثَتْهُ وَأَلْقَتْ مَا عَلَيْهَا وَلَبِسَتْ أَطْمَارَهَا فَأَخْبَرَهُ فَجَاءَ حَتَّى دَخَلَ عَلَيْهَا فَقَالَ:
كَذَاك فكُونِي فِدَاكِ أَبِي وَأُمِّي.
--------------------------------------------
৩- আব্বাস ইবনুল আব্বাস ইবনুল মুগীরাহ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, ইয়াকূব ইবনে ইসহাক আল-কুলূসী আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, (১) ইয়াহইয়া ইবনে হাম্মাদ থেকে, আবু আওয়ানাহ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, আল-আলা ইবনুল মুসাইয়্যিব আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, ইবরাহীম [ইবনে] (২) কুআইস থেকে, তিনি নাফে থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সফরে বের হতেন তখন সবার শেষে ফাতিমার সাথে দেখা করতেন এবং যখন ফিরে আসতেন তখন সর্বপ্রথম ফাতিমার (তাঁর ওপর শান্তি বর্ষিত হোক) সাথে দেখা করতেন। অতঃপর তিনি যখন তাবুক যুদ্ধ থেকে ফিরে এলেন এবং তাঁর সাথে আলী ছিলেন, এমতাবস্থায় তিনি (ফাতিমা) একটি ছোট ওড়না ক্রয় করেছিলেন এবং তা জাফরান দিয়ে রঙ করেছিলেন এবং তাঁর দরজায় একটি পর্দা ঝুলিয়েছিলেন ও তাঁর ঘরে একটি গালিচা বিছিয়েছিলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন তা দেখলেন, তখন তিনি ফিরে গেলেন এবং নিজ গৃহে গিয়ে বসে পড়লেন। অতঃপর তিনি (ফাতিমা) বিলালের নিকট লোক পাঠালেন এবং বললেন: "যাও এবং দেখ কেন তিনি আমার দরজা থেকে ফিরে গেলেন?" বিলাল তাঁর নিকট আসলেন এবং তাঁকে সংবাদ দিলেন। তখন তিনি বললেন: "আমি তাকে এমন এমন করতে দেখেছি।" বিলাল তাঁর নিকট আসলেন এবং তাঁকে সংবাদ দিলেন। (৩) তখন তিনি পর্দাটি ছিঁড়ে ফেললেন এবং নতুন যা কিছু করেছিলেন সব সরিয়ে ফেললেন এবং তাঁর সাজসজ্জার পোশাক খুলে জীর্ণ পুরাতন কাপড় পরিধান করলেন। বিলাল তাঁকে সংবাদ দিলে তিনি আসলেন এবং তাঁর ঘরে প্রবেশ করে বললেন:
"তুমি এমনই থেকো, তোমার জন্য আমার পিতা ও মাতা উৎসর্গিত হোন।"--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফাদায়িলু ফাতিমাহ লি-ইবনি শাহীন
(পৃষ্ঠা: ২০)
4- حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الزَّبِيبِيُّ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْأَعْلَى الصَّنْعَانِيُّ، ثنا الْمُعْتَمِرُ بْنُ سُلَيْمَانَ قَالَ: سَمِعْتُ مُحَمَّدًا، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ عَائِشَةَ رضي الله عنها أَنَّهَا قَالَتْ لِفَاطِمَةَ عليها السلام: أَرَأَيْتِ حِينَ أَكْبَبْتِ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَبَكَيْتِ ثُمَّ أَكْبَبْتِ فَضَحِكْتِ؟ ، قَالَتْ: أَخْبَرَنِي أَنَّهُ مَيِّتٌ مِنْ وَجَعِهِ هَذَا فَبَكَيْتُ [ثم أكببتُ] (1) فَأَخْبَرَنِي أَنِّى أَسْرَعُ أَهْلِهِ لُحُوقًا بِهِ فَضَحِكْتُ قَالَ:
وَأَنْتِ سَيِّدَةُ نِسَاءِ أَهْلِ الْجَنَّةِ إِلَّا مَرْيَمَ بِنْتَ عِمْرَانَ فَضَحِكْتُ.
--------------------------------------------
৪- আমাদের নিকট ইবরাহীম ইবনে আবদুল্লাহ আল-যাবীবী হাদীস বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবনে আবদিল আ’লা আস-সানআনী আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, মুতামির ইবনে সুলায়মান আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি মুহাম্মদকে আবু সালামাহ থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি, তিনি আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি ফাতিমা (আলাইহাস সালাম)-কে বললেন: আমি যখন দেখলাম তুমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর ঝুঁকে পড়লে এবং কাঁদলে, তারপর আবার ঝুঁকে পড়লে এবং হাসলে, তার কারণ কী? তিনি বললেন: তিনি আমাকে জানিয়েছিলেন যে তিনি তাঁর এই অসুস্থতাতেই ইন্তেকাল করবেন, তাই আমি কেঁদেছিলাম। [এরপর আমি পুনরায় তাঁর ওপর ঝুঁকে পড়লাম] তখন তিনি আমাকে জানালেন যে তাঁর পরিজনদের মধ্যে আমিই সর্বপ্রথম তাঁর সাথে মিলিত হব, তাই আমি হাসলাম। তিনি বললেন:
“আর তুমি মারইয়াম বিনতে ইমরান ব্যতীত জান্নাতবাসিনী নারীদের নেত্রী,” তখন আমি হাসলাম।--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফাদায়িলু ফাতিমাহ লি-ইবনি শাহীন
(পৃষ্ঠা: ২০)
5- حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ الْبَغَوِيِّ، ثنا وَهْبُ بْنُ بَقِيَّةَ، ثنا خَالِدٌ، يَعْنِي ابْنَ عَبْدِ اللَّهِ الْوَاسِطِيَّ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرٍو، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ عَائِشَةَ رضي الله عنها أَنَّهَا قَالَتْ لِفَاطِمَةَ: أَرَأَيْتِ حِينَ أَكْبَبْتِ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَبَكَيْتِ ثُمَّ ضَحِكْتِ قَالَتْ: أَخْبَرَنِي أَنَّهُ مَيِّتٌ مِنْ وَجَعِهِ هَذَا فَبَكَيْتُ ثُمَّ أَكْبَبْتِ عَلَيْهِ فَأَخْبَرَنِي أَنَّى أَسْرَعُ أَهْلِهِ ⦗ص: 21⦘ لُحُوقًا بِهِ وَأَنِّى سَيِّدَةُ نِسَاءِ أَهْلِ الْجَنَّةِ إِلَّا مَرْيَمَ بِنْتَ عِمْرَانَ فَضَحِكْتُ.
৫- আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ আল-বাগাওয়ী, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ওয়াহাব বিন বাকিয়্যাহ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন খালিদ—অর্থাৎ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-ওয়াসিতি—মুহাম্মদ বিন আমর থেকে, তিনি আবু সালামাহ থেকে, তিনি আয়িশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি ফাতিমাকে বললেন: "তুমি যখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওপর ঝুঁকে পড়লে তখন কি দেখেছ যে তুমি কাঁদলে এবং তারপর হাসলে?" তিনি বললেন: "তিনি আমাকে সংবাদ দিলেন যে তিনি তাঁর এই অসুস্থতাতেই ইন্তেকাল করবেন, তাই আমি কাঁদলাম। তারপর তুমি পুনরায় তাঁর ওপর ঝুঁকে পড়লে, তখন তিনি আমাকে সংবাদ দিলেন যে তাঁর পরিবারের সদস্যদের মধ্যে আমিই দ্রুততম সময়ে তাঁর সাথে ⦗পৃষ্ঠা: ২১⦘ মিলিত হব এবং আমি জান্নাতবাসী নারীদের নেত্রী হব—ইমরানের কন্যা মারয়াম ব্যতীত—তখন আমি হাসলাম।"
(খণ্ড: ১)
ফাদায়িলু ফাতিমাহ লি-ইবনি শাহীন
(পৃষ্ঠা: ২১)
6- حَدَّثَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عُفَيْرِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ سَهْلِ بْنِ أَبِي حَثْمَةَ الْأَنْصَارِيُّ، صَاحِبُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قال: حدثنا مُحَمَّدُ بْنُ حُمَيْدٍ الرَّازِيُّ ثنا هَارُونُ بْنُ الْمُغِيرَةِ وَحَكَّامٌ جَمِيعًا قَالَا: ثنا عَنْبَسَةُ بْنُ سَعِيدٍ عَنِ الزُّبَيْرِ بْنِ عَدِيٍّ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِى لَبِيدٍ عَنْ عَائِشَةَ رضي الله عنها قَالَتْ: سَأَلْتُ فَاطِمَةَ عَنْ بُكَائِهَا حِينَ سَارَّهَا النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم وَعَنْ ضَحِكِهَا فَقَالَتْ: أَخْبَرَنِي النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ مَقْبُوضٌ فَبَكَيْتُ ثُمَّ أَخْبَرَنِي أَنَّ بَنِيَّ سَيُصِيبُهُمْ بَعْدِي شِدَّةٌ فَبَكَيْتُ ثُمَّ أَخْبَرَنِي أَنِّى أَوَّلُ أَهْلِهِ لُحُوقًا بِهِ فَضَحِكْتُ.
৬- আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হুসাইন ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে উফায়র ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে সাহল ইবনে আবি হাছমাহ আল-আনসারী, যিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীর বংশধর; তিনি বলেন: আমাদের নিকট মুহাম্মাদ ইবনে হুমাইদ আর-রাযী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হারুন ইবনুল মুগীরাহ এবং হাক্কাম উভয়ে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তারা উভয়ে বলেন: আমাদের নিকট আনবাসাহ ইবনে সাঈদ বর্ণনা করেছেন জুবাইর ইবনে আদি থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে আবি লাবিদ থেকে, তিনি আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি ফাতিমাকে তাঁর কান্নার বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলাম যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাথে নিভৃতে কথা বলেছিলেন এবং তাঁর হাসির বিষয়েও [জিজ্ঞাসা করলাম]। তখন তিনি বললেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে সংবাদ দিলেন যে, তাঁর রূহ কবজ করা হবে (তিনি ইন্তেকাল করবেন), তাই আমি কাঁদলাম। অতঃপর তিনি আমাকে সংবাদ দিলেন যে, আমার সন্তানরা আমার পরে কঠিন বিপদের সম্মুখীন হবে, তাই আমি কাঁদলাম। তারপর তিনি আমাকে সংবাদ দিলেন যে, তাঁর পরিবারের সদস্যদের মধ্যে আমিই সর্বপ্রথম তাঁর সাথে মিলিত হব, তখন আমি হাসলাম।
(খণ্ড: ১)
ফাদায়িলু ফাতিমাহ লি-ইবনি শাহীন
(পৃষ্ঠা: ২১)
7- حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ الْبَغَوِيُّ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ عَبَّادٍ الْمَكِّيُّ، ثنا سُفْيَانُ، عَنْ عَمْرٍو، عَنْ يَحْيَى بْنِ جَعْدَةَ قَالَ:
دَعَا النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَاطِمَةَ عليها السلام فِي مَرَضِهِ الَّذِي تُوُفِّيَ فِيهِ فَسَارَّهَا بِشَيْءٍ فَبَكَتْ ثُمَّ سَارَّهَا فَضَحِكَتْ فَسَأَلُوهَا فَأَبَتْ أَنْ تُخْبِرَ فَلَمَّا قُبِضَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم أَخْبَرَتْهُمْ قَالَتْ: دَعَانِي فَقَالَ لِي: إِنَّ اللَّهَ تَعَالَى لَمْ يَبْعَثْ نَبِيًّا إِلَّا وَقَدْ عَمَّرَ الَّذِي بَعْدَهُ نِصْفَ عُمُرِهِ وَإِنَّ عِيسَى عليه السلام لَبِثَ فِي
⦗ص: 22⦘ بَنِي إِسْرَائِيلَ أَرْبَعِينَ سَنَةً وهذه توفي عِشْرِينَ (1) وَلَا أُرَانِي إِلَّا مَيِّتٌ فِي مَرَضِي هَذَا وَإِنَّ الْقُرْآنَ كَانَ يُعْرَضُ عَلَيَّ فِي كُلِّ عَامٍ مَرَّةً وَإِنَّهُ عُرِضَ عَلَيَّ فِي هَذِهِ السَّنَةِ مَرَّتَيْنِ، فَبَكَيْتُ ثُمَّ دَعَانِي فَقَالَ لِي: إِنَّ أَوَّلَ مَنْ يَقْدُمُ عَلَيَّ مِنْ أَهْلِي أَنْتِ. فَضَحِكْتُ.
--------------------------------------------
৭- আমাদের নিকট আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ আল-বাগাওয়ী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনে আব্বাদ আল-মাক্কী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সুফিয়ান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আমর থেকে, তিনি ইয়াহইয়া ইবনে জা'দাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন:
নবী (আল্লাহর সালাত ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) তাঁর যে অসুস্থতায় মৃত্যুবরণ করেন, সেই সময় ফাতিমা (তাঁর ওপর শান্তি বর্ষিত হোক)-কে ডাকলেন এবং তাঁর কানে কানে নিভৃতে কিছু বললেন, ফলে তিনি কেঁদে ফেললেন। অতঃপর তিনি পুনরায় তাঁর সাথে নিভৃতে কিছু বললেন এবং তিনি হেসে উঠলেন। অতঃপর তারা (উপস্থিতরা) তাঁকে এই বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে তিনি তা জানাতে অস্বীকার করলেন। যখন নবীর (আল্লাহর সালাত ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) ওফাত হলো, তখন তিনি তাঁদেরকে বিষয়টি জানালেন। তিনি বললেন: তিনি আমাকে ডেকে বললেন: "নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ এমন কোনো নবী প্রেরণ করেননি যার পরবর্তী জন তাঁর অর্ধেক আয়ু প্রাপ্ত হননি। আর ঈসা (তাঁর ওপর শান্তি বর্ষিত হোক)
⦗পৃষ্ঠা: ২২⦘ বনী ইসরাঈলের মধ্যে চল্লিশ বছর অবস্থান করেছিলেন, আর এটি হলো বিশ (১)। আমার ধারণা আমি আমার এই অসুস্থতাতেই মৃত্যুবরণ করব। প্রতি বছর আমার নিকট একবার কুরআন পেশ করা হতো, কিন্তু এই বছর তা আমার নিকট দুইবার পেশ করা হয়েছে।" (একথা শুনে) আমি কেঁদে ফেললাম। অতঃপর তিনি আমাকে ডাকলেন এবং বললেন: "আমার পরিবারবর্গের মধ্যে তুমিই সর্বপ্রথম আমার নিকট আসবে।" তখন আমি হাসলাম।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফাদায়িলু ফাতিমাহ লি-ইবনি শাহীন
(পৃষ্ঠা: ২২)
8- حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ الْبَغَوِيُّ، ثنا الْفَضْلُ بْنُ مُوسَى، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ خَالِدِ بْنِ عَثْمَةَ، عَنْ مُوسَى بْنِ يَعْقُوبَ، حَدَّثَنِي هَاشِمُ بْنُ هَاشِمٍ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ وَهْبٍ أَخْبَرَنِي ، عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ قَالَتْ: دَعَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَاطِمَةَ رضي الله عنها بَعْدَ الْفَتْحِ فَنَاجَاهَا فَبَكَتْ ثُمَّ حَدَّثَهَا فَضَحِكَتْ قَالَتْ أُمُّ سَلَمَةَ: فَلَمْ أَسْأَلْهَا عَنْ شَيْءٍ حَتَّى تُوُفِّيَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَلَمَّا تُوُفِّيَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم سَأَلْتُهَا عَنْ بُكَائِهَا وَضَحِكِهَا فَقَالَتْ: أَخْبَرَنِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ يَمُوتُ فَبَكَيْتُ ثُمَّ حَدَّثَنِي أَنِّى سَيِّدَةُ نِسَاءِ أَهْلِ الْجَنَّةِ بَعْدَ مَرْيَمَ بِنْتَ عِمْرَانَ فَضَحِكْتُ.
৮- আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ আল-বাগাওয়ী, তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-ফাদল বিন মুসা, তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন খালিদ বিন আসমাহ, মুসা বিন ইয়াকুব থেকে, তিনি বলেন, আমাকে হাশিম বিন হাশিম বর্ণনা করেছেন যে, আবদুল্লাহ বিন ওয়াহাব আমাকে সংবাদ দিয়েছেন উম্মে সালামা থেকে, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা বিজয়ের পর ফাতিমা রাদিয়াল্লাহু আনহাকে ডাকলেন এবং তাঁর সাথে কানে কানে কথা বললেন, তখন তিনি কাঁদলেন। এরপর তিনি তাঁর সাথে পুনরায় কথা বললেন, তখন তিনি হাসলেন। উম্মে সালামা বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মৃত্যু পর্যন্ত আমি তাঁকে এ বিষয়ে কোনো কিছু জিজ্ঞেস করিনি। যখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মৃত্যুবরণ করলেন, আমি তাঁকে তাঁর কান্না ও হাসি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তখন তিনি বললেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে সংবাদ দিলেন যে তিনি মৃত্যুবরণ করবেন, তাই আমি কাঁদলাম। এরপর তিনি আমাকে বললেন যে, আমি হলাম মারইয়াম বিনতে ইমরানের পর জান্নাতবাসী নারীদের নেত্রী; তখন আমি হাসলাম।
(খণ্ড: ১)
ফাদায়িলু ফাতিমাহ লি-ইবনি শাহীন
(পৃষ্ঠা: ২৩)
9- حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ الْبَغَوِيُّ، ثنا سُرَيْج بْنُ يُونُسَ، ثنا يُوسُفُ بْنُ يَعْقُوبَ الْمَاجِشُونِيُّ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ عُثْمَانَ، أَنَّ فَاطِمَةَ رضي الله عنها قَالَتْ: قَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: أَنْتِ أَوَّلُ أَهْلِي لُحُوقًا بِي وَأَنْتِ رَفِيقَتي فِي الْجَنَّةِ.
৯- আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ আল-বাগাভী, তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সুরায়জ বিন ইউনুস, তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইউসুফ বিন ইয়াকুব আল-মাজিশুন, মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ বিন আমর বিন উসমান থেকে বর্ণিত যে, ফাতিমাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহা) বলেছেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাকে বলেছেন: আমার পরিবারবর্গের মধ্যে তুমিই সর্বপ্রথম আমার সাথে মিলিত হবে এবং তুমি জান্নাতে আমার সঙ্গিনী।.
(খণ্ড: ১)
ফাদায়িলু ফাতিমাহ লি-ইবনি শাহীন
(পৃষ্ঠা: ২৩)
10- حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ زُهَيْرِ بْنِ الْفَضْلِ، بِالْأُبَلَّةِ وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ سُلَيْمَانَ بْنِ الْأَشْعَثَ ثنا عَلِيُّ بْنُ الْمُثَنَّى الْطَهَوِيُّ، ثنا مُعَاوِيَةُ بْنُ هِشَامٍ، ثنا عُمَرُ بْنُ غيَاثٍ، عَنْ عَاصِمِ بْنِ أَبِي النُّجُودِ، عَنْ زِرِّ بْنِ حُبَيْشٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ قَالَ: قَالَ النبي صلى الله عليه وسلم: إِنَّ فَاطِمَةَ حَصَّنَتْ فَرْجَهَا فَحَرَّمَ اللَّهُ ذُرِّيَّتَهَا عَنِ ⦗ص: 24⦘ النَّارِ.
১০- মুহাম্মদ ইবনে যুহাইর ইবনে আল-ফাদল আল-উবুল্লাহতে এবং আবদুল্লাহ ইবনে সুলাইমান ইবনে আল-আশ'আস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তাঁরা বলেন: আলী ইবনে আল-মুসান্না আল-তাহাবী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুআবিয়াহ ইবনে হিশাম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: উমর ইবনে গিয়াস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আসিম ইবনে আবি আল-নুজুদ থেকে, তিনি যির ইবনে হুবাইশ থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: নিশ্চয়ই ফাতিমা তাঁর সতীত্ব রক্ষা করেছেন, ফলে আল্লাহ তাঁর সন্তান-সন্ততিকে জাহান্নামের ⦗পৃষ্ঠা: ২৪⦘ আগুন থেকে হারাম করেছেন।
(খণ্ড: ১)
ফাদায়িলু ফাতিমাহ লি-ইবনি শাহীন
(পৃষ্ঠা: ২৫)
11- حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ سَعِيدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْهَمْدَانِيُّ، أنبأنا يُونُسُ بْنُ سَابِقٍ قِرَاءَةً ، أنبأنا حَفْصُ بْنُ عُمَرَ الْأُبَلِّيُّ، أنبأنا (1) عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ الْوَلِيدِ بْنِ مَعْدَانَ، وَسَلَامُ بْنُ سُلَيْمَانَ الْقَارِيُّ، عَنْ عَاصِمِ بْنِ بَهْدَلَةَ، عَنْ زِرِّ بْنِ حُبَيْشٍ، عَنْ حُذَيْفَةَ بْنِ الْيَمَانِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم:
إِنَّ فَاطِمَةَ حَصَّنَتْ فَرْجَهَا فَحَرَّمَهَا اللَّهُ وَذُرِّيَّتَهَا عَنِ النَّارِ.
--------------------------------------------
১১- আহমাদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে সাঈদ ইবনে আব্দুর রহমান আল-হামদানী আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, ইউনুস ইবনে সাবিক পাঠ করার মাধ্যমে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, হাফস ইবনে উমর আল-উবাল্লী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, (১) আব্দুল মালিক ইবনে আল-ওয়ালিদ ইবনে মা'দান এবং সালাম ইবনে সুলাইমান আল-ক্বারী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আসিম ইবনে বাহদালা থেকে, তিনি জির ইবনে হুবাইশ থেকে, তিনি হুযাইফা ইবনুল ইয়ামান থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন:
নিশ্চয়ই ফাতিমা তাঁর সতীত্ব রক্ষা করেছেন, তাই আল্লাহ তাঁকে এবং তাঁর বংশধরদের জন্য জাহান্নাম হারাম করে দিয়েছেন।.
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফাদায়িলু ফাতিমাহ লি-ইবনি শাহীন
(পৃষ্ঠা: ২৬)
12- حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ سَعِيدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدِ بْنِ عُتْبَةَ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ الْبَلْخِيُّ، ثنا تَلِيدٌ، عَنْ عَاصِمٍ، عَنْ زِرٍّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: إِنَّ فَاطِمَةَ رضي الله عنها أَحْصَنَتْ فَرْجَهَا فَحَرَّمَهَا اللَّهُ وَذُرِّيَّتَهَا عَلَى النَّارِ.
১২- আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে সাঈদ ইবনে আবদুর রহমান, তিনি বলেন, আমার নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ ইবনে উবাইদ ইবনে উতবা, তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ ইবনে ইসহাক আল-বালখী, তিনি তালীদ থেকে, তিনি আসেম থেকে, তিনি জিরর থেকে, তিনি আবদুল্লাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: নিশ্চয়ই ফাতিমা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) নিজের সতীত্বের হেফাজত করেছেন, তাই আল্লাহ তাকে এবং তার বংশধরদের জাহান্নামের আগুনের জন্য হারাম করে দিয়েছেন।
(খণ্ড: ১)
ফাদায়িলু ফাতিমাহ লি-ইবনি শাহীন
(পৃষ্ঠা: ২৬)
13- حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ يَزِيدَ الزَّعْفَرَانِيُّ، ثنا يُوسُفُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ صَاعِدٍ، ثنا لَيْثُ بْنُ دَاوُدَ الْقَيْسِيُّ، وَكَانَ يُقَالُ فِيهِ خَيْرًا أَنْبَأَ الْمُبَارَكُ بْنُ فَضَالَةَ، عَنِ الْحَسَنِ قَالَ: قَالَ عِمْرَانُ بْنُ حُصَيْنٍ خَرَجْتُ يَوْمًا فَإِذَا أَنَا بِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَائِمٌ فَقَالَ لِي: يَا عِمْرَانُ إن (1)
فَاطِمَةُ مَرِيضَةٌ فَهَلْ لَكَ أَنْ تَعُودَهَا؟ قَالَ: قُلْتُ: فِدَاكَ أَبِي وَأُمِّي وَأَيُّ شَرَفٍ أَشْرَفُ مِنْ هَذَا؟ قال: فانطَلِقْ. فَانْطَلَقَ
⦗ص: 27⦘ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَانْطَلَقْتُ مَعَهُ حَتَّى أَتَى الْبَابَ فَقَالَ: السَّلَامُ عَلَيْكُمْ، أَأَدْخُلُ؟ قَالَتْ: وَعَلَيْكُمُ ادْخُلْ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: أَنَا وَمَنْ مَعِي؟ قَالَتْ: وَالَّذِي بَعَثَكَ بِالْحَقِّ مَا عَلَيَّ إِلَّا هَذِهِ الْعَبَاءَةَ وقَالَ: وَمَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مُلَاءَةٌ خَلْقَةٌ فَرَمَى بِهَا إِلَيْهَا فَقَالَ: شُدِّي بِهَا عَلَى رَأْسِكِ، فَفَعَلَتْ ثُمَّ قَالَتِ: ادْخُلْ فَدَخَلَ وَدَخَلْتُ مَعَهُ فَقَعَدَ عِنْدَ رَأْسِهَا وَقَعَدْتُ قَرِيبًا مِنْهُ فَقَالَ: أَيْ بُنَيَّةُ كَيْفَ تَجِدُكَ؟ قَالَتْ: وَاللَّهِ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّى لَوَجِعَةٌ وَإِنِّي لَيَزِيدُنِي وَجَعًا إِلَى وَجَعِي أَنْ لَيْسَ عِنْدِي مَا آكُلُ قَالَ: فَبَكَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَبَكَتْ وَبَكَيْتُ مَعَهُمَا فَقَالَ لَهَا: أَيْ بُنَيَّةُ تصْبِرِي، أَيْ بُنَيَّةُ تصْبِرِي مَرَّتَيْنِ أَوْ ثَلَاثَاً (2) ثُمَّ قَالَ لَهَا: أي بُنَيَّةُ (3) أَمَا تَرْضَيْنَ أَنْ تَكُونِي سَيِّدَةَ نِسَاءِ الْعَالَمِينَ؟ قَالَتْ: يَا لَيْتَهَا مَاتَتْ فَأَيْنَ مَرْيَمُ بِنْتُ عِمْرَانَ؟ قَالَ لَهَا: أَيْ بُنَيَّةُ تِلْكَ سَيِّدَةُ نِسَاءِ عَالَمِهَا وَأَنْتِ سَيِّدَةُ نِسَاءِ عَالَمِكِ وَالَّذِي بَعَثَنِي بِالْحَقِّ لَقَدْ زَوَّجْتُكَ سَيِّدًا فِي الدُّنْيَا وَسَيِّدًا فِي الْآخِرَةِ لَا يُبْغِضُهُ إِلَّا كُلُّ مُنَافِقٍ.
--------------------------------------------
১৩- আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াযীদ আল-যা'ফরানি, তিনি ইউসুফ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে সাঈদ থেকে, তিনি লাইস ইবনে দাউদ আল-কায়সি থেকে—যাঁর সম্পর্কে উত্তম কথা বলা হতো—তিনি সংবাদ দিয়েছেন আল-মুবারক ইবনে ফাদ্বালাহ থেকে, তিনি হাসান থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: ইমরান ইবনে হুসাইন রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন: একদিন আমি বের হলাম এবং দেখলাম আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়িয়ে আছেন। তিনি আমাকে বললেন: হে ইমরান, (১)
ফাতিমা অসুস্থ, তুমি কি তাকে দেখতে যাবে? তিনি বলেন: আমি বললাম: আমার পিতা ও মাতা আপনার জন্য উৎসর্গিত হোক, এর চেয়ে বড় মর্যাদা আর কী হতে পারে? তিনি বললেন: তবে চলো। অতঃপর আল্লাহর রাসূল
⦗পৃষ্ঠা: ২৭⦘ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রওনা হলেন এবং আমিও তাঁর সাথে চললাম যতক্ষণ না তিনি দরজায় পৌঁছালেন। তিনি বললেন: আসসালামু আলাইকুম, আমি কি প্রবেশ করতে পারি? ফাতিমা বললেন: ওয়া আলাইকুম (আসসালাম), আপনি প্রবেশ করুন। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: আমি এবং আমার সাথে যে আছে সে-ও কি? তিনি বললেন: সেই সত্তার কসম যিনি আপনাকে সত্যসহ পাঠিয়েছেন, আমার নিকট কেবল এই একটি চাদর ছাড়া আর কিছু নেই। বর্ণনাকারী বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট একটি পুরনো বড় চাদর ছিল, তিনি সেটি তাঁর দিকে ছুঁড়ে দিলেন এবং বললেন: এটি দিয়ে তোমার মাথা আবৃত করো। তিনি তাই করলেন এবং বললেন: আপনারা প্রবেশ করুন। তখন তিনি প্রবেশ করলেন এবং আমিও তাঁর সাথে প্রবেশ করলাম। তিনি তাঁর শিয়রে বসলেন এবং আমি তাঁর কাছাকাছি বসলাম। তিনি বললেন: ওগো প্রিয় কন্যা, তোমার অবস্থা কেমন? তিনি বললেন: আল্লাহর কসম, হে আল্লাহর রাসূল! আমি যন্ত্রণাকাতর, আর খাবার না থাকা আমার যন্ত্রণাকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। বর্ণনাকারী বলেন: তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাঁদলেন, ফাতিমা কাঁদলেন এবং আমিও তাঁদের সাথে কাঁদলাম। তিনি তাকে বললেন: ওগো প্রিয় কন্যা, ধৈর্য ধারণ করো; ওগো প্রিয় কন্যা, ধৈর্য ধারণ করো—এভাবে দুইবার বা তিনবার বললেন (২)। অতঃপর তিনি তাকে বললেন: ওগো প্রিয় কন্যা (৩), তুমি কি এতে সন্তুষ্ট নও যে, তুমি হবে বিশ্বজগতের নারীকুলের নেত্রী? তিনি বললেন: তবে মারইয়াম বিনতে ইমরান কোথায়? তিনি তাকে বললেন: ওগো প্রিয় কন্যা, তিনি ছিলেন তাঁর যুগের নারীদের নেত্রী এবং তুমি হলে তোমার যুগের নারীদের নেত্রী। সেই সত্তার কসম যিনি আমাকে সত্যসহ পাঠিয়েছেন, আমি তোমাকে দুনিয়া ও আখিরাতের এক মহান নেতার সাথে বিবাহ দিয়েছি, যাকে কেবল মুনাফিক ছাড়া আর কেউ ঘৃণা করে না।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফাদায়িলু ফাতিমাহ লি-ইবনি শাহীন
(পৃষ্ঠা: ২৮)
14- حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ [بنِ محمدٍ] (1) بْنِ سُلَيْمَانَ بْنِ الْحَارِثِ الْبَاغِنْدِيُّ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ خَلَفٍ الْحَدَّادِيُّ، ثنا حُسَيْنُ بْنُ حَسَنٍ الْأَشْقَرُ، ثنا قَيْسُ بْنُ الرَّبِيعِ، عَنْ أَبِي هَارُونَ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ، وَعَنْ عُمر (2) بْنِ
⦗ص: 29⦘ قَيْسٍ، عَنْ عَطِيَّةَ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ بِنَحْوِهِ وَالسِّيَاقُ لِأَبِي هَارُونَ قَالَ: أَصْبَحَ عَلِيُّ رضي الله عنه ذَاتَ يَوْمٍ فَقَالَ: يَا فَاطِمَةُ
هَلْ عِنْدَكِ شَيْءٌ تُغَدِّينِيهُ؟ قَالَتْ: لَا وَالَّذِي أَكْرَمَ أَبِي بِالنُّبُوَّةِ مَا عِنْدِي شَيْءٌ أُغَدِّيكَهُ وَلَا كَانَ لَنَا بَعْدَكَ شَيْءٌ مُنْذُ يَوْمَيْنِ طُعْمَة إِلَّا شَيْءٌ أُوثِرُكَ بِهِ عَلَى بَطْنِي وَعَلَى ابْنَيَّ هَذَيْنِ قَالَ: يَا فَاطِمَةُ أَلَا أَعْلَمْتِنِي حَتَّى أُبْغِيَكُمْ شَيْئًا؟ قَالَتْ: إِنِّى أَسْتَحْيِي مِنَ اللَّهِ أَنْ أُكَلِّفَكَ مَا لَا تَقْدِرُ عَلَيْهِ، فَخَرَجَ مِنْ عِنْدَهَا وَاثِقًا بِاللَّهِ وَحَسِنَ الظَّنِّ بِهِ وَاسْتَقْرَضَ دِينَارًا فَبَيْنَا الدِّينَارُ بِيَدِهِ أَرَادَ أَنْ يَبْتَاعَ لَهُمْ مَا يَصْلُحُ لَهُمْ إِذْ عَرَضَ لَهُ الْمِقْدَادُ فِي يَوْمٍ شَدِيدِ الْحَرِّ قَدْ لَوَّحَتْهُ الشَّمْسُ مِنْ فَوْقِهِ وَآذَتْهُ مِنْ تَحْتِهِ فَلَمَّا رَآهُ أَنْكَرَهُ قَالَ: يَا مِقْدَادُ مَا أَزْعَجَكَ مِنْ رَحْلِكَ هَذِهِ السَّاعَةَ؟ قَالَ: يَا أَبَا حَسَنٍ خَلِّ سَبِيلِي وَلَا تَسْأَلْنِي عَمَّا وَرَائِي.
فَقَالَ: يَا ابْنَ أَخِي إِنَّهُ لَا يَحِلُّ لَكَ أَنْ تَكْتُمَنِي حَالَكَ، قَالَ: أَمَا إِذْ أَبِيتَ فَوَالَّذِي أَكْرَمَ مُحَمَّدًا بِالنُّبُوَّةِ مَا أَزْعَجَنِي مِنْ رَحْلِي إِلَّا الْجُهْدُ وَلَقَدْ تَرَكْتُ أَهْلِي يَبْكُونَ جُوعًا فَلَمَّا سَمِعْتُ بُكَاءَ الْعِيَالِ لَمْ تَحْمِلْنِي الْأَرْضُ فَخَرَجْتُ مَغْمُومًا رَاكِبًا رَأْسِي فَهَذِهِ حَالِي وَقِصَّتِي فَهَمَلَتْ عَيْنَا عَلِيٍّ رضي الله عنه بِالْبُكَاءِ حَتَّى بَلَّتْ دُمُوعُهُ لِحْيَتَهُ قَالَ: أَحْلِفُ بِالَّذِي حَلَفْتَ مَا أَزْعَجَنِي غَيْرُ الَّذِي أَزْعَجَكَ وَلَقَدِ اقْتَرَضْتُ دِينَارًا فَهَاكَ آثَرْتُكَ بِهِ عَلَى نَفْسِي. فَدَفَعَ إِلَيْهِ الدِّينَارَ وَرَجَعَ حَتَّى دَخَلَ مَسْجِدَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَصَلَّى فِيهِ الظُّهْرَ وَالْعَصْرَ وَالْمَغْرِبَ فَلَمَّا قَضَى النَّبِيُّ صَلَاةَ الْمَغْرِبِ مَرَّ بِعَلِيٍّ عليه السلام فِي الصَّفِّ الْأَوَّلِ فَغَمَزَهُ بِرِجْلِهِ فَثَارَ عَلِيُّ خَلْفَ
⦗ص: 30⦘ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم حَتَّى لَحِقَهُ عِنْدَ بَابِ الْمَسْجِدِ فَسَلَّمَ عَلَيْهِ فَرَدَّ السَّلَامَ فَقَالَ: يَا أَبَا الْحَسَنِ هَلْ عِنْدَكَ شَيْءٌ تُعَشِّينَا؟ فانفَتَلَ إلى الرَّحْلِ، فَأَطْرَقَ عَلِيٌّ رضي الله عنه ساعةً (3) لَا يُحِيرُ جَوَابًا حَيَاءً مِنَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَقَدْ عَرَفَ الْحَالَ الَّتِي خَرَجَ عَلَيْهَا فَلَمَّا نَظَرَ إِلَى سُكُوتِ (4) عَلِيٍّ، قَالَ: يَا أَبَا الْحَسَنِ مَا لَكَ؟ أَوْ لَا تَصْرِفْ عَنْكَ أَوْ تَقُولُ نَعَمْ فَأَجِيءَ مَعَكَ؟ فَقَالَ لَهُ: حُبًّا وَكَرَامَةً بَلَى اذْهَبْ بِنَا. وَكَانَ اللَّهُ تَعَالَى قَدْ أَوْحَى إِلَى نَبِيِّهِ أَنْ تَعَشَّى عِنْدَهُمْ فَقَالَ عَلِيٌّ: بَلَى فَأَخَذَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بِيَدِهِ فَانْطَلَقَا حَتَّى دَخَلَا عَلَى فَاطِمَةَ عليها السلام فِي مُصَلًّى لَهَا وَقَدْ صَلَّتْ وَخَلْفَهَا جَفْنَةٌ تَفُورُ دُخَانًا فَلَمَّا سَمِعَتْ كَلَامَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي رَحْلِهَا خَرَجَتْ مِنَ الْمُصَلَّى فَسَلَّمَتْ عَلَيْهِ وَكَانَتْ أَعَزَّ النَّاسِ عَلَيْهِ فَرَدَّ السَّلَامَ وَمَسَحَ بِيَدِهِ عَلَى رَأْسِهَا وَقَالَ: كَيْفَ أَمْسَيْتِ رَحِمَكِ اللَّهُ عَشِّينَا غَفَرَ اللَّهُ لَكِ وَقَدْ فَعَلَ. فَأَخَذَتِ الْجَفْنَةَ فَوَضَعَتْهَا بَيْنَ يَدَيْهِ فَلَمَّا نَظَرَ عَلِيٌّ رضي الله عنه إليه وَشَمَّ رِيحَهُ رَمَى فَاطِمَةَ عليها السلام بِبَصَرِهِ رَمْيًا شَحِيحًا فَقَالَتْ لَهُ: مَا أَشَحَّ نَظَرُكَ وَأَشَدَّهُ سُبْحَانَ اللَّهِ هَلْ أَذْنَبْتُ فِيمَا بَيْنِي وَبَيْنَكَ ذَنْبًا اسْتَوْجَبْتُ بِهِ السَّخَطَ؟
قَالَ: وَأَيُّ ذَنْبٍ أَعْظَمُ مِنْ ذَنْبٍ أَصَبْتِهِ الْيَوْمَ؟ أَلَيْسَ عَهْدِي بِكِ الْيَوْمَ وَأَنْتِ تَحْلِفِينَ بِاللَّهِ مُجْتَهِدَةً مَا طَعِمْتُ طَعَامًا مِنْ (5) يَوْمَيْنِ؟ فَنَظَرَتْ إِلَى السَّمَاءِ فَقَالَتْ: إِلَهِي يَعْلَمُ فِي سَمَائِهِ وَيَعْلَمُ فِي أَرْضِهِ أَنِّى لَمْ أَقَلْ إِلَّا حَقًّا قَالَ: فَأَنَّى لَكِ هَذَا الَّذِي لَمْ أَرَ مِثْلَهُ قَطُّ وَلَمْ أَشُمَّ مِثْلَ رَائِحَتِهِ وَلَمْ آكُلْ أَطْيَبَ مِنْهُ؟ فَوَضَعَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم كَفَّهُ الْمُبَارَكَةَ بَيْنَ كَتِفَيْ
⦗ص: 31⦘ عَلِيٍّ رضي الله عنه ثُمَّ هَزَّهَا وَقَالَ: يَا عَلِيُّ هَذَا ثَوَابُ لدِينَارِكَ هَذَا جَزَاءُ دِينَارِكَ هَذَا مِنْ عِنْدِ اللَّهِ: {إِنَّ اللَّهَ يَرْزُقُ مَنْ يَشَاءُ بِغَيْرِ حِسَابٍ} ، ثُمَّ اسْتَعْبَرَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بَاكِيًا فَقَالَ: الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي هو (6) أَبَى لَكُمَا أَنْ يُخْرِجَكُمَا مِنَ الدُّنْيَا حَتَّى يُجْرِيكَ فِي الْمَجْرَى الَّذِي أَجْرَى زَكَرِيَّا وَيُجْرِيكِ فِيهِ يَا فَاطِمَةُ بِالْمِثَالِ الَّذِي جَرَتْ فِيهِ مَرْيَمُ {كُلَّمَا دَخَلَ عَلَيْهَا زَكَرِيَّا الْمِحْرَابَ وَجَدَ عِنْدَهَا رِزْقًا} .
--------------------------------------------
১৪- আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ [ইবনে মুহাম্মাদ] (১) ইবনে সুলাইমান ইবনুল হারিস আল-বাগিন্দি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মাদ ইবনে খালাফ আল-হাদ্দাদি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হুসাইন ইবনে হাসান আল-আশকার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, কাইস ইবনুর রাবী' আমাদের নিকট আবু হারুন থেকে, তিনি আবু সাঈদ থেকে বর্ণনা করেছেন এবং উমর (২) ইবনে
⦗পৃষ্ঠা: ২৯⦘ কাইস থেকে, তিনি আতিয়্যাহ থেকে, তিনি আবু সাঈদ থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। আর মূল বর্ণনাটি আবু হারুনের শব্দে; তিনি বলেন: একদিন সকালে আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বললেন: হে ফাতিমা,
তোমার কাছে কি এমন কিছু আছে যা আমাকে সকালে খাওয়াতে পারো? তিনি বললেন: না, সেই সত্তার কসম যিনি আমার পিতাকে নবুওয়াত দিয়ে সম্মানিত করেছেন, আমার কাছে এমন কিছু নেই যা আপনাকে সকালে খাওয়াতে পারি এবং আপনার অনুপস্থিতিতে গত দুই দিন ধরে আমাদের কাছে সামান্য খাদ্য ব্যতীত কিছুই ছিল না যা আমি আমার নিজের পেট এবং আমার এই দুই সন্তানের তুলনায় আপনাকে প্রাধান্য দিয়ে রেখে দিয়েছিলাম। তিনি বললেন: হে ফাতিমা, তুমি কেন আমাকে জানালে না যেন আমি তোমাদের জন্য কিছুর ব্যবস্থা করতে পারতাম? তিনি বললেন: আমি আল্লাহর কাছে লজ্জা বোধ করি যে আমি আপনাকে এমন কিছুর ভার দেব যা করার ক্ষমতা আপনার নেই। অতঃপর তিনি আল্লাহর ওপর ভরসা ও তাঁর প্রতি সুধারণা রেখে তাঁর কাছ থেকে বেরিয়ে পড়লেন এবং এক দিনার ঋণ নিলেন। যখন দিনারটি তাঁর হাতে ছিল এবং তিনি তাদের জন্য প্রয়োজনীয় কিছু কেনার ইচ্ছা করছিলেন, তখন প্রচণ্ড তপ্ত এক দিনে মিকদাদের সাথে তাঁর দেখা হলো। সূর্য উপর থেকে তাকে উত্তপ্ত করছিল এবং নিচ থেকেও তাকে কষ্ট দিচ্ছিল। যখন তিনি তাকে দেখলেন, তিনি তার দুরবস্থা চিনতে পারলেন। তিনি বললেন: হে মিকদাদ, এই মুহূর্তে কোন বিষয়টি তোমাকে তোমার ঘর থেকে বের হতে বাধ্য করল? তিনি বললেন: হে আবুল হাসান, আমার পথ ছাড়ুন এবং আমার পেছনের অবস্থা সম্পর্কে আমাকে জিজ্ঞাসা করবেন না।
তিনি বললেন: হে ভ্রাতুষ্পুত্র, তোমার অবস্থা আমার কাছে গোপন রাখা তোমার জন্য বৈধ নয়। তিনি বললেন: যেহেতু আপনি নাছোড়বান্দা, তবে সেই সত্তার কসম যিনি মুহাম্মাদকে নবুওয়াত দিয়ে সম্মানিত করেছেন, একমাত্র চরম অভাবই আমাকে ঘর থেকে বের হতে বাধ্য করেছে। আমি আমার পরিবারকে ক্ষুধার জ্বালায় কাঁদতে রেখে এসেছি। যখন আমি পরিজনদের কান্না শুনলাম, তখন পৃথিবী যেন আমাকে আর বইতে পারছিল না, তাই আমি বিষণ্ণ মনে উদ্দেশ্যহীনভাবে বেরিয়ে পড়লাম। এই হলো আমার অবস্থা ও কাহিনী। তখন আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর দুই চোখ বেয়ে অশ্রু ঝরতে লাগল এমনকি তাঁর দাড়ি চোখের পানিতে ভিজে গেল। তিনি বললেন: তুমি যার নামে কসম খেয়েছ, আমি সেই সত্তার নামে কসম খেয়ে বলছি, যে কারণে তুমি বেরিয়েছ, সেই একই কারণে আমিও বেরিয়েছি। আমি এক দিনার ঋণ নিয়েছিলাম। এই নাও, আমি নিজের ওপর তোমাকে প্রাধান্য দিলাম। অতঃপর তিনি তাকে দিনারটি দিয়ে দিলেন এবং ফিরে গিয়ে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর মসজিদে প্রবেশ করলেন। সেখানে তিনি জোহর, আসর ও মাগরিবের সালাত আদায় করলেন। যখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মাগরিবের সালাত শেষ করলেন, তিনি প্রথম কাতারে আলীর (আলাইহিস সালাম) পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় তাঁকে পা দিয়ে একটু ইশারা করলেন। তখন আলী নবী
⦗পৃষ্ঠা: ৩০⦘ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পেছনে উঠে দাঁড়ালেন এবং মসজিদের দরজার কাছে তাঁর সাথে মিলিত হলেন। তিনি তাঁকে সালাম দিলেন এবং তিনি সালামের উত্তর দিলেন। অতঃপর তিনি বললেন: হে আবুল হাসান, তোমার কাছে কি এমন কিছু আছে যা আমাদের রাতের খাবারে খাওয়াতে পারো? তিনি বাড়ির দিকে পা বাড়ালেন। আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর প্রতি লজ্জায় কিছুক্ষণ মাথা নিচু করে রইলেন, কোনো উত্তর দিতে পারলেন না। কারণ তিনি জানতেন তিনি কী অবস্থায় বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন। যখন তিনি আলীর নীরবতা (৪) দেখলেন, তিনি বললেন: হে আবুল হাসান, তোমার কী হয়েছে? তুমি কি আমাকে ফিরিয়ে দেবে নাকি বলবে যে 'হ্যাঁ', যেন আমি তোমার সাথে যাই? তিনি তাঁকে বললেন: অত্যন্ত সানন্দে এবং সম্মানের সাথে, অবশ্যই, চলুন। আল্লাহ তাআলা তাঁর নবীর প্রতি ওহী পাঠিয়েছিলেন যে তিনি যেন আজ তাদের ওখানে রাতের খাবার খান। আলী বললেন: অবশ্যই। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর হাত ধরলেন এবং তারা দুজনে চলতে চলতে ফাতিমার (আলাইহাস সালাম) কাছে প্রবেশ করলেন। তিনি তাঁর ইবাদতগাহে ছিলেন এবং সালাত শেষ করেছিলেন। তাঁর পেছনে একটি বড় পাত্র ছিল যেখান থেকে ধোঁয়া উঠছিল। যখন তিনি তাঁর ঘরে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কথা শুনলেন, তিনি ইবাদতগাহ থেকে বেরিয়ে এলেন এবং তাঁকে সালাম দিলেন। তিনি ছিলেন তাঁর কাছে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে প্রিয়। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সালামের উত্তর দিলেন এবং তাঁর হাত দিয়ে তাঁর মাথায় হাত বুলিয়ে দিলেন। তিনি বললেন: তুমি কেমন আছ? আল্লাহ তোমার ওপর রহম করুন। আমাদের রাতের খাবার খাওয়াও, আল্লাহ তোমাকে ক্ষমা করুন, আর তিনি তা করেছেন। অতঃপর ফাতিমা বড় পাত্রটি নিয়ে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সামনে রাখলেন। যখন আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) সেটির দিকে তাকালেন এবং সেটির সুঘ্রাণ পেলেন, তিনি ফাতিমার (আলাইহাস সালাম) দিকে অত্যন্ত তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকালেন। ফাতিমা তাঁকে বললেন: আপনার দৃষ্টি এত তীক্ষ্ণ ও কঠোর কেন? সুবহানাল্লাহ! আমি কি আপনার ও আমার মাঝে এমন কোনো গুনাহ করেছি যার কারণে আপনি আমার ওপর ক্রুদ্ধ হয়েছেন?
তিনি বললেন: আজ তুমি যে গুনাহ করেছ তার চেয়ে বড় গুনাহ আর কী হতে পারে? আজ কি আমি তোমার কাছ থেকে অঙ্গীকার নিইনি এবং তুমি কি আল্লাহর নামে দৃঢ়ভাবে কসম খেয়ে বলোনি যে তুমি গত দুই দিন ধরে কোনো খাদ্য গ্রহণ করোনি? তখন তিনি আকাশের দিকে তাকালেন এবং বললেন: আমার ইলাহ তাঁর আকাশে জানেন এবং তাঁর জমিনেও জানেন যে আমি সত্য ছাড়া কিছু বলিনি। আলী বললেন: তাহলে তোমার কাছে এটি কোথা থেকে এল, যার মতো আমি আগে কখনও দেখিনি, যার ঘ্রাণের মতো ঘ্রাণ আগে কখনও পাইনি এবং যার চেয়ে সুস্বাদু খাবার কখনও খাইনি? তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর বরকতময় হাতের তালু
⦗পৃষ্ঠা: ৩১⦘ আলীর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) দুই কাঁধের মাঝখানে রাখলেন, অতঃপর তাঁকে নাড়া দিয়ে বললেন: হে আলী, এটি তোমার দিনারের প্রতিদান। এটি তোমার দিনারের বিনিময়। এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে: "নিশ্চয়ই আল্লাহ যাকে ইচ্ছা অপরিমিত রিযিক দান করেন।" অতঃপর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কেঁদে ফেললেন এবং বললেন: সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি তোমাদের উভয়কে দুনিয়া থেকে বিদায় করতে অস্বীকার করেছেন যতক্ষণ না তিনি তোমাকে সেই ধারায় পরিচালিত করেছেন যে ধারায় জাকারিয়াকে পরিচালিত করেছিলেন; এবং হে ফাতিমা, তোমাকে সেই দৃষ্টান্তের অন্তর্ভুক্ত করেছেন যা মারিয়ামের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয়েছিল: "যখনই জাকারিয়া মেহরাবে তার কাছে আসতেন, তখনই সেখানে রিযিক দেখতে পেতেন।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফাদায়িলু ফাতিমাহ লি-ইবনি শাহীন
(পৃষ্ঠা: ৩২)
15- حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ الْبَغَوِيُّ، ثنا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ الْعَيْشِيِّ، ثنا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ زَيْدٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَمُرُّ بِبَيْتِ فَاطِمَةَ بَعْدَ أَنْ بَنَى بِهَا عَلِيٌّ رضي الله عنه بِسِتَّةِ أَشْهُرٍ يَقُولُ: الصَّلَاةَ: {إِنَّمَا يُرِيدُ اللَّهُ لِيُذْهِبَ عَنْكُمُ الرِّجْسَ أَهْلَ الْبَيْتِ وَيُطَهِّرَكُمْ تَطْهِيرًا} .
১৫- আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ বিন আবদুল আজিজ আল-বাগাবী, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন উবায়দুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ আল-আইশি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাম্মাদ বিন সালামাহ, আলি বিন যাইদ থেকে, তিনি আনাস বিন মালিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আলি (রাদিয়াল্লাহু আনহু) ও ফাতিমা (রাদিয়াল্লাহু আনহা)-এর বাসর হওয়ার পর ছয় মাস পর্যন্ত তাঁদের ঘরের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় বলতেন: নামায (আসো)! {আল্লাহ তো কেবল এটাই চান যে, হে আহলে বাইত! তিনি তোমাদের থেকে অপবিত্রতা দূর করবেন এবং তোমাদেরকে সম্পূর্ণরূপে পবিত্র করবেন}।
(খণ্ড: ১)
ফাদায়িলু ফাতিমাহ লি-ইবনি শাহীন
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
16- حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ سَعِيدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْهمدانِيُّ (1) قَالَ: ثنا يَعْقُوبُ بْنُ يُوسُفَ الضَّبِّيُّ، ثنا نَصْرُ بْنُ مُزَاحِمٍ، ثنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُسْلِمٍ الْمُلَائِيُّ، حَدَّثَنِي دَاوُدُ بْنُ أَبِي عَوْفٍ أَبُو الْجَحَّافِ، عَنْ عَطِيَّةَ الْعَوْفِيِّ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ قَالَ: لَمَّا دَخَلَ عَلِيٌّ بِفَاطِمَةَ جَاءَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم أَرْبَعِينَ صَبَاحًا علَى (2) بَابِهَا فَيَقُولُ:
أَنَا حَرْبٌ لِمَنْ حَارَبْتُمْ وَسِلْمٌ لِمَنْ سَالَمْتُمْ.
--------------------------------------------
১৬- আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে সাঈদ ইবনে আবদুর রহমান আল-হামদানী (১), তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াকুব ইবনে ইউসুফ আদ-দব্বী, তিনি বর্ণনা করেছেন নাসর ইবনে মুযাহিম থেকে, তিনি বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ ইবনে মুসলিম আল-মুলাই থেকে, আমার নিকট বর্ণনা করেছেন দাউদ ইবনে আবি আওফ আবু আল-জাহহাফ, তিনি আতিয়্যাহ আল-আওফী থেকে, তিনি আবু সাঈদ আল-খুদরী থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: যখন আলী ফাতিমার ঘরে প্রবেশ করলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চল্লিশ দিন সকাল বেলা তাঁর দরজায় আসতেন এবং বলতেন:
আমি তাঁর বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করছি যে তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে, আর তাঁর সাথে শান্তিতে আছি যে তোমাদের সাথে শান্তিতে থাকে।--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফাদায়িলু ফাতিমাহ লি-ইবনি শাহীন
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
17- حَدَّثَنَا أَبُو الْحَسَنِ شُعَيْبُ بْنُ مُحَمَّدٍ الذَّرَّاعُ، سَنَةَ ثَمَانٍ وَثَلَاثِمِائَةٍ وَالْعَبَّاسُ بْنُ بِشْرِ بْنِ عِيسَى الرَّخَّجِيُّ ثنا مَحْمُودُ بْنُ خِدَاشٍ، نا إِسْمَاعِيلُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، ثنا أَيُّوبُ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي مُلَيْكَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الزُّبَيْرِ، أَنَّ عَلِيًّا، عليه السلام ذَكَرَ ابْنَةَ أَبِي جَهْلٍ فَبَلَغَ ذَلِكَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ: إِنَّمَا فَاطِمَةُ بَضْعَةٌ مِنِّي يُؤْذِينِي مَا آذَاهَا وَيَنْصِبُنِي مَا أَنْصَبَهَا.
১৭- আমাদের নিকট আবুল হাসান শুয়াইব বিন মুহাম্মদ আজ-যারা (তিনশত আট হিজরী সনে) এবং আব্বাস বিন বিশর বিন ঈসা আর-রাখখাজি বর্ণনা করেছেন। তাঁরা বলেন: মাহমুদ বিন খিদাশ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: ইসমাইল বিন ইবরাহিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আইয়ুব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ বিন আবি মুলাইকা থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ বিন আজ-যুবায়ের থেকে বর্ণনা করেন যে, আলী (আলাইহিস সালাম) আবু জেহেলের কন্যার (বিয়ের) কথা উল্লেখ করেছিলেন। এ সংবাদ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট পৌঁছালে তিনি বললেন: নিশ্চয়ই ফাতিমা আমারই একটি অংশ; যা তাকে কষ্ট দেয় তা আমাকেও কষ্ট দেয় এবং যা তাকে পরিশ্রান্ত করে তা আমাকেও পরিশ্রান্ত করে।
(খণ্ড: ১)
ফাদায়িলু ফাতিমাহ লি-ইবনি শাহীন
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
18- حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ جَعْفَرِ بْنِ خُشَيْشٍ، ثنا يُوسُفُ بْنُ مُوسَى الْقَطَّانُ، ثنا هِشَامُ بْنُ عَبْدِ الْمَلِكِ، ثنا لَيْثُ بْنُ سَعْدٍ، أنبأنا (1)
⦗ص: 36⦘ ابْنُ أَبِي مُلَيْكَةَ، عَنِ الْمِسْوَرِ بْنِ مَخْرَمَةَ قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: إِنَّ
بَنِي هِشَامِ بْنِ الْمُغِيرَةِ اسْتَأْذَنُونِي أَنْ يُزَوِّجُوا عَلِيًّا أَلَا لَا آذَنُ إِلَّا أَنْ يُرِيدَ ابْنُ أَبِي طَالِبٍ يطلق (2) ابْنَتِي إِنَّمَا فَاطِمَةُ بَضْعَةٌ مِنِّي يُؤْذِينِي مَا آذَاهَا.
قَالَ أَبُو الْوَلِيدِ: إِنْ كَانَ سَمِعَهُ إِنَّمَا كَانَ الْمِسْوَرُ بْنُ مَخْرَمَةَ ابْنَ ثَمَانِ سِنِينَ.
--------------------------------------------
১৮- আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ বিন জাফর বিন খুশাইশ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইউসুফ বিন মুসা আল-কাত্তান, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হিশাম বিন আবদুল মালিক, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন লাইস বিন সাদ, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (১)
⦗পৃষ্ঠা: ৩৬⦘ ইবনে আবি মুলাইকা, মিসওয়ার বিন মাখরামা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: নিশ্চয়ই
বনী হিশাম বিন মুগীরা আমার নিকট অনুমতি প্রার্থনা করেছে যেন তারা আলীর সাথে তাদের কন্যার বিবাহ দেয়। সাবধান! আমি অনুমতি দেব না, যতক্ষণ না আবু তালিবের পুত্র ইচ্ছা করে তালাক দেওয়ার (২) আমার কন্যাকে; নিশ্চয়ই ফাতিমা আমারই একটি অংশ, যা তাকে কষ্ট দেয় তা আমাকেও কষ্ট দেয়।
আবু আল-ওয়ালিদ বলেন: যদি তিনি এটি শুনে থাকেন, তবে সেই সময়ে মিসওয়ার বিন মাখরামা মাত্র আট বছর বয়সী ছিলেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফাদায়িলু ফাতিমাহ লি-ইবনি শাহীন
(পৃষ্ঠা: ৩৬)
19- حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ الْبَغَوِيُّ، ثنا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَثَنًا عَبْدُ اللَّهِ أَيْضًا قَالَ: حَدَّثَنِي جَدِّي، وَأَبُو خَيْثَمَةَ قَالَا: أنبأنا أَبُو النَّضْرِ، ثنا اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ، حَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي مُلَيْكَةَ، عَنِ الْمِسْوَرِ بْنِ مَخْرَمَةَ قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلَى الْمِنْبَرِ يَقُولُ: إِنَّمَا فَاطِمَةُ بضعة مِنِّي يُؤْذِينِي مَا آذَاهَا وَيَرِيبُنِي مَا أَرَابَهَا.
১৯- আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ আল-বাগাবী, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু বকর ইবনে আবি শায়বা, এবং আবদুল্লাহ (আল-বাগাবী) আরও বলেন: আমার নিকট বর্ণনা করেছেন আমার দাদা এবং আবু খাইসামা, তাঁরা বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আন-নাদর, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন লাইস ইবনে সাদ, আমার নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ ইবনে উবাইদুল্লাহ ইবনে আবি মুলাইকা, মিসওয়ার ইবনে মাখরামা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে মিম্বরের ওপর দাঁড়িয়ে বলতে শুনেছি: নিশ্চয়ই ফাতিমা আমারই একটি অংশ; যা তাকে কষ্ট দেয় তা আমাকেও কষ্ট দেয় এবং যা তাকে বিচলিত করে তা আমাকেও বিচলিত করে।
(খণ্ড: ১)
ফাদায়িলু ফাতিমাহ লি-ইবনি শাহীন
(পৃষ্ঠা: ৩৭)
20- حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْأَشْعَثَ، ثنا عِيسَى بْنُ حَمَّادٍ زُغْبَةُ: أنبأنا اللَّيْثُ يَعْنِي ابْنَ سَعْدٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي مُلَيْكَةَ، عَنِ الْمِسْوَرِ بْنِ مَخْرَمَةَ قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: إِنَّ بَنِي هِشَامِ بْنِ الْمُغِيرَةِ اسْتَأْذَنُونِي فِي أَنْ يُنْكِحُوا ابْنَتَهُمْ عَلِيَّ بْنَ أَبِي طَالِبٍ فَلَا آذَنُ ثُمَّ لَا آذَنُ إِلَّا أَنْ يُرِيدَ ابْنُ أَبِي طَالِبٍ أَنْ يُطَلِّقَ ابْنَتِي وَيَنْكِحَ ابْنَتَهُمْ فَإِنَّمَا هِيَ بَضْعَةٌ مِنِّي يَرِيبُنِي مَا أَرَابَهَا وَيُؤْذِينِي مَا آذَاهَا.
২০- আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ ইবনুল আশআছ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ঈসা বিন হাম্মাদ যুগবাহ: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন লাইস অর্থাৎ ইবনে সাদ, আবদুল্লাহ ইবনে উবায়দুল্লাহ ইবনে আবি মুলাইকাহ থেকে, মিসওয়ার ইবনে মাখরামাহ হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: নিশ্চয়ই বনু হিশাম বিন আল-মুগিরা তাদের কন্যাকে আলী বিন আবি তালিবের সাথে বিবাহ দেওয়ার ব্যাপারে আমার কাছে অনুমতি চেয়েছে, কিন্তু আমি অনুমতি দেব না, পুনরায় বলছি আমি অনুমতি দেব না, যতক্ষণ না আলী বিন আবি তালিব আমার কন্যাকে তালাক দিয়ে তাদের কন্যাকে বিবাহ করতে চায়। কেননা সে (ফাতিমা) আমারই শরীরের একটি অংশ; যা তাকে বিচলিত করে তা আমাকেও বিচলিত করে এবং যা তাকে কষ্ট দেয় তা আমাকেও কষ্ট দেয়।
(খণ্ড: ১)
ফাদায়িলু ফাতিমাহ লি-ইবনি শাহীন
(পৃষ্ঠা: ৩৭)
21- حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ الْبَغَوِيُّ، ثنا أَبُو جعْفرَ (1) الْبَغَوِيُّ، ثنا ابْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ، عَنِ ابْنِ أَبِي مُلَيْكَةَ، عَنِ الْمِسْوَرِ بْنِ مَخْرَمَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: إِنَّمَا
فَاطِمَةُ بَضْعَةٌ مِنِّي يُؤْذِينِي مَا آذَاهَا وَيُغْضِبُنِي مَا أَغْضَبَهَا.
--------------------------------------------
২১- আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ আল-বাগাভী, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু জাফর (১) আল-বাগাভী, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইবন উয়াইনা, আমর বিন দীনার থেকে, তিনি ইবন আবি মুলাইকা থেকে, তিনি মিসওয়ার বিন মাখরামা থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
ফাতিমা তো আমারই একটি অংশ; যা তাকে কষ্ট দেয় তা আমাকেও কষ্ট দেয় এবং যা তাকে রাগান্বিত করে তা আমাকেও রাগান্বিত করে।--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফাদায়িলু ফাতিমাহ লি-ইবনি শাহীন
(পৃষ্ঠা: ৩৭)
22- حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ هَارُونَ بْنِ حُمَيْدٍ بن الْمُجَدَّرُ، ثنا خَالِدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ سُلَيْمَانَ، ثنا دَاوُدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْعَطَّارُ، عَنْ ⦗ص: 38⦘ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ أَنَّ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بَلَغَهُ أَنَّ عَلِيًّا خَطَبَ ابْنَةَ أَبِي جَهْلٍ فَقَالَ: بِنْتُ عَدُوِّ اللَّهِ لَا تَجْتَمِعُ عَلَى بِنْتِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم.
২২- আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ ইবন হারুন ইবন হুমায়দ ইবন আল-মুজাদ্দার, তিনি বলেন আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন খালিদ ইবন মুহাম্মাদ ইবন সুলায়মান, তিনি বলেন আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন দাউদ ইবন আবদুর রহমান আল-আত্তার, ⦗পৃষ্ঠা: ৩৮⦘ আমর ইবন দিনার থেকে বর্ণিত যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট সংবাদ পৌঁছাল যে, আলী আবু জেহেলের কন্যাকে বিবাহের প্রস্তাব দিয়েছেন, তখন তিনি বললেন: আল্লাহর শত্রুর কন্যা এবং আল্লাহর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কন্যা একত্রে থাকতে পারে না।
(খণ্ড: ১)
ফাদায়িলু ফাতিমাহ লি-ইবনি শাহীন
(পৃষ্ঠা: ৩৮)
23- حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سُلَيْمَانَ بْنِ الْأَشْعَثَ السِّجِسْتَانِيُّ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ عَوْفٍ، ثنا أَبُو الْيَمَانِ، أَنْبَأَ شُعَيْبٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ قَالَ: أَخْبَرَنِي عَلِيُّ بْنُ الْحُسَيْنِ، أَنَّ الْمِسْوَرَ بْنَ مَخْرَمَةَ أَخْبَرَهُ أَنَّ عَلِيَّ بْنَ أَبِي طَالِبٍ خَطَبَ ابْنَةَ أَبِي جَهْلٍ وَعِنْدَهُ فَاطِمَةُ بِنْتُ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَلَمَّا سَمِعَتْ بِذَلِكَ فَاطِمَةُ أَتَتِ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَتْ لَهُ: إِنَّ قَوْمَكَ يَتَحَدَّثُونَ أَنَّكَ لَا تَغْضَبُ لِبَنَاتِكَ وَهَذَا عَلِيٌّ نَاكِحُ ابْنَةَ أَبِي جَهْلٍ قَالَ الْمِسْوَرُ فَقَامَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَسَمِعْتُهُ حِينَ تَشَهَّدَ ثُمَّ قَالَ: أَمَّا بَعْدُ فَإِنِّي أَنْكَحْتُ أَبَا الْعَاصِ بْنَ الرَّبِيعِ فَحَدَّثَنِي فَصَدَقَنِي وَإِنَّ فَاطِمَةَ بِنْتَ مُحَمَّدٍ بَضْعَةٌ مِنِّي وَإِنَّمَا أَكْرَهُ أَنْ تفْتِنُوهَا وَإِنَّهَا وَاللَّهِ لَا تَجْتَمِعُ ابنةُ مُحَمَّدٍ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَابْنَةُ عَدُوِّ اللَّهِ عِنْدَ رَجُلٍ وَاحِدٍ أَبَدًا.
23- আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ ইবনে সুলাইমান ইবনুল আশআস আস-সিজিস্তানি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে আউফ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবুল ইয়ামান, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শুআইব, তিনি যুহরি থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমাকে আলি ইবনুল হুসাইন সংবাদ দিয়েছেন যে, মিসওয়ার ইবনে মাখরামা তাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, আলি ইবনে আবি তালিব আবু জেহেলের কন্যাকে বিবাহের প্রস্তাব দিয়েছিলেন, এমতাবস্থায় যে তার নিকট নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কন্যা ফাতিমা বর্তমান ছিলেন। ফাতিমা যখন এই সংবাদ শুনতে পেলেন, তখন তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট আসলেন এবং তাকে বললেন: আপনার সম্প্রদায়ের লোকেরা বলাবলি করছে যে আপনি আপনার কন্যাদের সম্মানের জন্য রাগান্বিত হন না, আর এই যে আলি আবু জেহেলের কন্যাকে বিবাহ করতে যাচ্ছে। মিসওয়ার বলেন: তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উঠে দাঁড়ালেন, আমি তাঁকে তাশাহহুদ পাঠ করতে শুনলাম, অতঃপর তিনি বললেন: অতঃপর মূল কথা এই যে, আমি আবুল আস ইবনুর রাবি'র নিকট (আমার কন্যাকে) বিবাহ দিয়েছিলাম, সে আমার সাথে কথা বলেছিল এবং আমার কাছে সত্য বলেছিল। আর নিশ্চয়ই মুহাম্মদের কন্যা ফাতিমা আমারই শরীরের একটি অংশ, আর আমি এটি অপছন্দ করি যে তোমরা তাকে কোনো ফিতনায় (কষ্টে) ফেলবে। আল্লাহর শপথ, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কন্যা এবং আল্লাহর শত্রুর কন্যা কখনোই এক ব্যক্তির নিকট (স্ত্রী হিসেবে) একত্রে থাকতে পারবে না।
(খণ্ড: ১)
ফাদায়িলু ফাতিমাহ লি-ইবনি শাহীন
(পৃষ্ঠা: ৩৯)
24- حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الْعَسْكَرِيُّ، ثنا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ الْقَطَّانُ، ثنا وَهْبُ بْنُ جَرِيرٍ، نا أَبِي قَالَ: سَمِعْتُ النُّعْمَانَ، يُحَدِّثُ عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ الْحُسَيْنِ، عَنِ الْمِسْوَرِ بْنِ مَخْرَمَةَ أَنَّ عَلِيَّ بْنَ أَبِي طَالِبٍ خَطَبَ بِنْتَ أَبِي جَهْلٍ فَوَعَدَ النِّكَاحَ فَأَتَتْ فَاطِمَةُ أَبَاهَا عليها السلام فَقَالَتْ: إِنَّ قَوْمَكَ يَقُولُونَ: إِنَّكَ لَا تَغْضَبُ لِبَنَاتِكَ، وَإِنَّ عَلِيًّا قَدْ خَطَبَ ابْنَةَ أَبِي جَهْلٍ فَقَامَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم خَطِيبًا فَحَمِدَ اللَّهَ وَأَثْنَى عَلَيْهِ وَقَالَ: إِنَّمَا فَاطِمَةُ بَضْعَةٌ مِنِّي، وَإِنَّمَا أَكْرَهُ أَنْ تفْتِنُوهَا، ثُمَّ ذَكَرَ أَبَا الْعَاصِ بْنَ الرَّبِيعِ فَأَحْسَنَ عَلَيْهِ الثَّنَاءَ ثُمَّ قَالَ: لَا يَنْبَغِي أَنْ يُجْمَعَ بَيْنَ ابْنَةِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَبَيْنَ ابْنَةِ عَدُوِّ اللَّهِ، فَرَفَضَ عَلِيٌّ ذَلِكَ.
২৪- আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াকুব বিন ইবরাহিম আল-আসকারি, তিনি আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন ইয়াহইয়া বিন সাঈদ আল-কাত্তান থেকে, তিনি ওয়াহাব বিন জারির থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি বলেন: আমি নুমানকে যুহরির সূত্রে বর্ণনা করতে শুনেছি, তিনি আলি বিন আল-হুসাইন থেকে, তিনি মিসওয়ার বিন মাখরামা থেকে বর্ণনা করেন যে, আলি বিন আবি তালিব আবু জাহলের কন্যাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন এবং বিয়ের প্রতিশ্রুতি লাভ করেন। তখন ফাতিমা (আলাইহাস সালাম) তাঁর পিতার নিকট এসে বললেন: আপনার সম্প্রদায় বলছে যে, আপনি আপনার কন্যাদের জন্য রাগান্বিত হন না, অথচ আলি আবু জাহলের কন্যাকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছে। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) খুতবা দিতে দণ্ডায়মান হলেন, আল্লাহর প্রশংসা ও গুণগান করলেন এবং বললেন: ফাতিমা কেবল আমার একটি অংশ মাত্র, আর আমি অপছন্দ করি যে তোমরা তাকে কষ্টে নিপতিত করবে। এরপর তিনি আবুল আস বিন আল-রাবির কথা উল্লেখ করলেন এবং তাঁর ভূয়সী প্রশংসা করলেন, অতঃপর তিনি বললেন: আল্লাহর রাসূলের কন্যা এবং আল্লাহর শত্রুর কন্যাকে একত্রিত করা সমীচীন নয়। ফলে আলি সেই প্রস্তাব পরিত্যাগ করলেন।
(খণ্ড: ১)
ফাদায়িলু ফাতিমাহ লি-ইবনি শাহীন
(পৃষ্ঠা: ৩৯)
25- حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الْعَسْكَرِيُّ، ثنا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ سَعِيدٍ الْقَطَّانُ، حَدَّثَنِي أَبِي قَالَ: ذَكَّرْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ دَاوُدَ قَوْلَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم: لَا آذَنُ إِلَّا أَنْ يُحِبَّ ابْنُ أَبِي طَالِبٍ أَنْ يُطَلِّقَ ابْنَتِي وَيَنْكِحَ ابْنَتَهُمْ ، فَقَالَ ابْنُ دَاوُدَ:
حَرَّمَ اللَّهُ عَلَى عَلِيٍّ رضي الله عنه أَنْ يَنْكِحَ عَلَى فَاطِمَةَ حَيَاتَهَا لِقَوْلِ اللَّهِ تَعَالَى: {وَمَا آتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوا} .
فَلَمَّا قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: لَا آذَنُ، لَمْ يَكُنْ يَحِلُّ لَعَلِيٍّ رضي الله عنه أَنْ يَنْكِحَ عَلَى فَاطِمَةَ إِلَّا أَنْ يَأْذَنَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم.
[26] قَالَ: وَسَمِعْتُ
⦗ص: 40⦘ عُمَرَ بْنَ دَاوُدَ، وَكَانَ مِنَ النُّبَلَاءِ يَقُولُ: لَمَّا قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: فَاطِمَةُ بَضْعَةٌ مِنِّي يَرِيبُنِي مَا أَرَابَهَا وَيُؤْذِينِي مَا آذَاهَا حَرَّمَ اللَّهُ عَلَى عَلِيٍّ أَنْ يَنْكِحَ عَلَى فَاطِمَةَ عليها السلام فَيُؤْذِيَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لِقَوْلِ اللَّهِ عز وجل: {وَمَا كَانَ لَكُمْ أَنْ تُؤْذُوا رَسُولَ اللَّهِ} .
২৫- ইয়াকুব বিন ইব্রাহিম আল-আসকারি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন সাঈদ আল-কাত্তান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আমার পিতা আমাকে বলেছেন, তিনি বলেন: আমি আবদুল্লাহ বিন দাউদকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই বাণীর কথা স্মরণ করিয়ে দিলাম: "আমি অনুমতি দেব না, তবে আবু তালিবের পুত্র যদি আমার কন্যাকে তালাক দিয়ে তাদের কন্যাকে বিবাহ করতে চায় (তবে ভিন্ন কথা)।" তখন ইবনে দাউদ বললেন:
আল্লাহ তাআলা আলীর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) জন্য ফাতেমার জীবদ্দশায় তাঁর ওপর অন্য কাউকে বিবাহ করা হারাম করে দিয়েছিলেন; মহান আল্লাহর এই বাণীর কারণে: {রাসূল তোমাদের যা দান করেন তা গ্রহণ করো এবং যা থেকে তিনি তোমাদের নিষেধ করেন তা হতে বিরত থাকো।}যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "আমি অনুমতি দেব না", তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুমতি ব্যতীত আলীর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) জন্য ফাতেমার ওপর বিবাহ করা বৈধ ছিল না।
[২৬] তিনি বলেন: আমি
⦗পৃষ্ঠা: ৪০⦘ উমর বিন দাউদকে বলতে শুনেছি—আর তিনি সজ্জন ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন—তিনি বলতেন: যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছিলেন: "ফাতেমা আমার শরীরের একটি অংশ, যা তাকে বিচলিত করে তা আমাকেও বিচলিত করে এবং যা তাকে কষ্ট দেয় তা আমাকেও কষ্ট দেয়।" তখন আল্লাহ তাআলা আলীর জন্য ফাতেমার (আলাইহাস সালাম) ওপর বিবাহ করা হারাম করে দেন যেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কষ্ট না পান; কারণ মহান আল্লাহর বাণী হলো: {তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসূলকে কষ্ট দেওয়া সংগত নয়।}
(খণ্ড: ১)
ফাদায়িলু ফাতিমাহ লি-ইবনি শাহীন
(পৃষ্ঠা: ৪০)
26-[27] حَدَّثَنَا الْقَاسِمُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْهَمْدَانِيُّ، ثنا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ سَعِيدٍ التُّبَّعِيُّ، ثنا الْقَاسِمُ بْنُ الْحَكَمِ الْعُرَنِيُّ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدِ اللَّهِ الْعَرْزَمِيُّ، عَنِ الْمِنْهَالِ بْنِ عَمْرٍو، أَنَّهُ كَانَ بَيْنَ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ وَبَيْنَ فَاطِمَةَ عليها السلام كَلَامٌ وَأَنَّهُ هَجَرَهَا فَخَرَجَ مِنْ بَيْتِهَا فَأَتَى الْمَسْجِدَ فَنَامَ فِي التُّرَابِ وَأَنَّ رسول اللهِ صلى الله عليه وسلم طَلَبَهُ فَلَمْ يَجِدْهُ قَالَ: فَأَتَى بَيْتَ فَاطِمَةَ صَلَوَاتُ اللَّهِ عَلَيْهَا فَلَمْ يَجِدْهُ فَقَالَ:
لَعَلَّ بَيْنَكِ وَبَيْنَهُ شَيْئًا، قَالَتْ: نَعَمْ غَضِبَ فَخَرَجَ إِلَى الْمَسْجِدِ فَأَتَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْمَسْجِدَ فَإِذَا هُوَ نَائِمٌ فِي التُّرَابِ فَقَالَ لَهُ: يَا أَبَا تُرَابٍ مَا نَيَّمَكَ (1) فِي التُّرَابِ وَاللَّهِ لَحُجْرَةُ بِنْتِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم خَيْرٌ مِنَ التُّرَابِ ، فَقَامَ.
--------------------------------------------
২৬-[২৭] আল-কাসিম ইবনে আবদিল্লাহ ইবনে আবদির রহমান আল-হামদানি আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে সাঈদ আত-তুব্বায়ি আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, আল-কাসিম ইবনে আল-হাকাম আল-উরানি আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মাদ ইবনে উবায়দুল্লাহ আল-আরযামি আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন মিনহাল ইবনে আমর থেকে যে, আলি ইবনে আবি তালিব এবং ফাতিমা আলাইহাস সালাম-এর মাঝে কিছু কথা কাটাকাটি হয়েছিল এবং তিনি তাঁকে পরিহার করে তাঁর ঘর থেকে বেরিয়ে গিয়েছিলেন। অতঃপর তিনি মসজিদে এসে মাটির ওপর ঘুমিয়ে পড়লেন। আর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁকে খুঁজলেন কিন্তু পেলেন না। বর্ণনাকারী বলেন: অতঃপর তিনি ফাতিমা সালাওয়াতুল্লাহি আলাইহা-এর বাড়িতে আসলেন কিন্তু সেখানেও তাঁকে পেলেন না। তখন তিনি বললেন:
"সম্ভবত তোমার ও তাঁর মাঝে কিছু ঘটেছে।" তিনি বললেন: "হ্যাঁ, তিনি রাগান্বিত হয়ে মসজিদের দিকে চলে গেছেন।" অতঃপর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মসজিদে আসলেন এবং দেখলেন তিনি মাটির ওপর ঘুমিয়ে আছেন। তখন তিনি তাঁকে বললেন: "হে আবু তুরাব (মাটির পিতা)! কিসে তোমাকে এই মাটিতে ঘুম পাড়াল (১)? আল্লাহর শপথ, আল্লাহর রাসূলের কন্যার কক্ষ এই মাটির চেয়েও উত্তম।" অতঃপর তিনি উঠে দাঁড়ালেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফাদায়িলু ফাতিমাহ লি-ইবনি শাহীন
(পৃষ্ঠা: ৪১)
27-[28] حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ هَارُونَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سُلَيْمَانَ الْحَضْرَمِيُّ، ثنا نَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ الْجَهْضَمِيُّ، ثنا الْعَبَّاسُ بْنُ جَعْفَرِ بْنِ زَيْدِ بْنِ طَلْقٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، عَنْ عَلِيٍّ رضي الله عنه أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حِينَ زَوَّجَهُ فَاطِمَةَ عليها السلام دَعَا بِمَاءٍ فَمَجَّهُ ثُمَّ أَدْخَلَهُ مَعَهُ فَرَشَّهُ فِي جَيْبِهِ وَبَيْنَ كَتِفَيْهِ وَعَوَّذَهُ بِ {قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ} وَالْمُعَوِّذَتَيْنِ ثُمَّ دَعَا فَاطِمَةَ فَقَامَتْ تَمْشِي عَلَى اسْتِحْيَاءٍ فَقَالَ: لَمْ آلُ أَنْ أُزَوِّجَكَ خَيْرَ أَهْلِي.
২৭-[২৮] আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে হারুন ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে সুলাইমান আল-হাদরামি, তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন নাসর ইবনে আলী আল-জাহদামি, তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্বাস ইবনে জাফর ইবনে যায়েদ ইবনে তালক, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি তাঁর দাদা থেকে, তিনি আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন ফাতিমা (আলাইহাস সালাম)-এর সাথে তাঁর বিবাহ সম্পন্ন করলেন, তখন তিনি পানি আনালেন এবং তাতে কুলি করলেন। অতঃপর তিনি তাঁকে (আলীকে) নিজের কাছে ডেকে নিলেন এবং তাঁর জামার উপরিভাগে ও দুই কাঁধের মাঝখানে সেই পানি ছিটিয়ে দিলেন। আর তিনি 'কুল হুওয়াল্লাহু আহাদ' (সূরা ইখলাস) ও 'মুআউবিজাতাইন' (সূরা ফালাক ও নাস) পাঠ করে তাঁর জন্য আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করলেন। এরপর তিনি ফাতিমাকে ডাকলেন, তখন তিনি লজ্জাবনত অবস্থায় হেঁটে আসলেন। অতঃপর তিনি বললেন: "আমি আমার পরিবারের সর্বোত্তম সদস্যের সাথে তোমার বিবাহ দিতে কোনো ত্রুটি করিনি।"
(খণ্ড: ১)
ফাদায়িলু ফাতিমাহ লি-ইবনি শাহীন
(পৃষ্ঠা: ৪৩)
28-[29] حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سُلَيْمَانَ بْنِ عَلِيٍّ الْمَالِكِيُّ، بِالْبَصْرَةِ وَمُحَمَّدُ بْنُ هَارُونَ الْحَضْرَمِيُّ قَالَا: ثنا نَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ الْجَهْضَمِيُّ، ثنا عَبَّاسُ بْنُ جَعْفَرِ بْنِ زَيْدِ بْنِ طَلْقٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، عَنْ عَلِيٍّ رضي الله عنه قَالَ: لَمَّا تَزَوَّجْتُ فَاطِمَةَ رضي الله عنها قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا أَبِيعُ فَرْسِي أَوْ دِرْعِي؟ قَالَ: بِعْ دِرْعَكَ، فَبَاعَهَا بِاثْنَتِي عَشْرَةَ أُوقِيَّةً فَكَانَ ذَلِكَ مَهْرُ فَاطِمَةَ عليها السلام اللَّفْظُ لِمُحَمَّدِ بْنِ هَارُونَ.
২৮-[২৯] আমাদের নিকট বসরায় মুহাম্মদ বিন সুলাইমান বিন আলী আল-মালিকী এবং মুহাম্মদ বিন হারুন আল-হাদরামী হাদীস বর্ণনা করেছেন, তাঁরা উভয়ে বলেছেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন নাসর বিন আলী আল-জাহদামী, তিনি হাদীস বর্ণনা করেছেন আব্বাস বিন জাফর বিন জায়েদ বিন তালক থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি তাঁর দাদা থেকে এবং তিনি আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: যখন আমি ফাতিমা রাদিয়াল্লাহু আনহাকে বিবাহ করলাম, তখন আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আমি কি আমার ঘোড়া বিক্রি করব নাকি আমার বর্ম? তিনি বললেন: তোমার বর্মটি বিক্রি করো, অতঃপর তিনি তা বারো উকিয়ার বিনিময়ে বিক্রি করলেন এবং সেটিই ছিল ফাতিমা আলাইহাস সালামের মোহর। শব্দবিন্যাস মুহাম্মদ বিন হারুনের।