(খণ্ড: ১)
মাওকিফুশ শাওকানী ফী তাফসীরিহী মিনাল মুনাসাবাত
(পৃষ্ঠা: -)
موقف الشوكاني في تفسيره من المناسبات القسم: علوم القرآن وأصول التفسير
الكتاب: موقف الشوكاني في تفسيره من المناسبات
(بحث محكم بكلية أصول الدين جامعة الأزهر 1425 هـ)
المؤلف: أحمد بن محمد الشرقاوى سالم
عدد الصفحات: 91
[الكتاب مرقم آليا]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
শাওকানির তাফসিরে সামঞ্জস্য (المناسبات) সংক্রান্ত অবস্থান বিভাগ: কুরআন বিজ্ঞান (علوم القرآن) ও তাফসিরের মূলনীতি (أصول التفسير)
বই: শাওকানির তাফসিরে সামঞ্জস্য (المناسبات) সংক্রান্ত অবস্থান
(আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয়ের উসুল আদ-দীন অনুষদের একটি পর্যালোচিত গবেষণা (بحث محكم), ১৪২৫ হিজরি)
লেখক: আহমদ বিন মুহাম্মদ আল-শারকাউই সালিম
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৯১
[বইটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
মাওকিফুশ শাওকানী ফী তাফসীরিহী মিনাল মুনাসাবাত
(পৃষ্ঠা: ১)
إهداء من المؤلف
لمكتبة شبكة التفسير والدراسات القرآنية
www.tafsir.net
المقدمة
بسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله رب العالمين نحمده ونستعينه ونستهديه ونتوب إليه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا، من يهد الله فهو المهتد ومن يضلل فلن تجد له وليا مرشدا، ونصلي ونسلم على الحبيب المصطفى والرسول المجتبى سيد الخلق وحبيب الحق محمد بن عبد الله النبي العربي الأمين صلوات ربي وسلامه عليه وعلى آله وصحبه ومن سار على دربه إلى يوم الدين.
ثم أما بعد:
قالقرآن الكريم هو المعجزة الخالدة التي أيد الله عز وجل بها رسوله عليه الصلاة والسلام، والخطاب العام الموجه لجميع العقول والأفهام، والعصمة والشفاء من كافة الأدواء والأسقام، والطهارة والبراء من ظلمات الشك والأوهام، خصه تعالى بنزوله مفرقا حسب الحوادث وتدرج الأحكام، وجمعه عز وجل جمعا في غاية الإحكام والانتظام، حتى صار ترتيبه علما من علومه عني به المفسرون القدامى والمحدثون عناية بالغة؛ فمن خلاله نقف على وجه من وجوه إعجاز القرآن فضلا عن فهم المعاني ومعرفة المقاصد والترجيح بين الآراء، وإزالة اللبس، من هذا المنطلق عني به المفسرون القدامى والمحدثون مع اختلاف درجات اهتمامهم ومدى تعمقهم في هذا الموضوع، لكن الإمام الشوكاني كان له موقف آخر حيث دعا إلى الانصراف عنه وزعم أنه لا فائدة منه، وانتقد المهتمين به، ذكر ذلك في مقدمة تفسيره، لكنه لم يثبت على موقفه إذ ذكر بعضا من وجوه المناسبات بين الآيات في ثنايا تفسيره، وفي هذا البحث نعرض لكلامه ثم نرد عليه ردودا إجمالية ونعقبها بردود تفصيلية على أهم القضايا التي أثارها في معرض حديثه عن المناسبات، والله الموفق والهادي إلى سواء السبيل.
أحمد بن محمد الشرقاوي القصيم - عنيزة 11 شوال 1423هـ
أستاذ مشارك بجامعة الأزهر وكلية التربية للبنات عنيزة
Sharkawe2000@yahoo.com
লেখকের পক্ষ থেকে উপহার
তাফসির এবং কুরআনিক স্টাডিজ নেটওয়ার্ক লাইব্রেরির জন্য
www.tafsir.net
ভূমিকা
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
সকল প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই কাছে সাহায্য চাই, তাঁরই কাছে হেদায়েত প্রার্থনা করি, তাঁরই কাছে তওবা করি এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে হেদায়েত দান করেন, সে-ই হেদায়েতপ্রাপ্ত; আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন, আপনি তার জন্য কোনো পথপ্রদর্শক ও অভিভাবক পাবেন না। আমরা দরুদ ও সালাম পেশ করছি প্রিয় মনোনীত এবং নির্বাচিত রাসূল, সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ এবং সত্যের প্রিয়তম মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহর প্রতি—যিনি বিশ্বস্ত আরবি নবী। তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, সঙ্গী-সাথী এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা তাঁর পথে চলবে, তাদের ওপর আমার রবের রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।
অতঃপর:
পবিত্র কুরআন হলো সেই শাশ্বত মুজিজা, যার মাধ্যমে মহান আল্লাহ তাঁর রাসূলকে (সা.) সাহায্য করেছেন। এটি সকল বুদ্ধি ও বোধের প্রতি নিবেদিত এক সার্বজনীন সম্বোধন, সকল ব্যাধি ও অসুখ থেকে সুরক্ষা ও নিরাময় এবং সন্দেহ ও সংশয়ের অন্ধকার থেকে পবিত্রতা ও মুক্তি। মহান আল্লাহ এটিকে ঘটনাপ্রবাহ এবং বিধানের ক্রমধারা অনুযায়ী বিভিন্ন সময়ে অবতীর্ণ করার মাধ্যমে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত করেছেন। তিনি একে অত্যন্ত নিপুণ ও সুশৃঙ্খলভাবে সংকলিত করেছেন, এমনকি এর বিন্যাসশৈলী কুরআনের অন্যতম একটি বিজ্ঞানে পরিণত হয়েছে, যার প্রতি প্রাচীন ও আধুনিক মুফাসসিরগণ অত্যন্ত গুরুত্বারোপ করেছেন। এর মাধ্যমেই আমরা কুরআনের অলৌকিকত্বের (إعجاز) অন্যতম একটি দিক সম্পর্কে অবগত হই, পাশাপাশি অর্থ অনুধাবন, উদ্দেশ্য অনুধাবন এবং বিভিন্ন মতামতের মধ্যে প্রাধান্য নির্ধারণ (ترجيح) ও অস্পষ্টতা দূর করতে সক্ষম হই। এই দৃষ্টিভঙ্গি থেকেই প্রাচীন ও আধুনিক মুফাসসিরগণ তাঁদের আগ্রহের মাত্রা ও এই বিষয়ে গভীরতার ভিন্নতা সত্ত্বেও এর প্রতি গুরুত্ব দিয়েছেন। কিন্তু ইমাম শাওকানী (রহ.)-এর অবস্থান ছিল ভিন্ন। তিনি এই বিজ্ঞান থেকে বিমুখ থাকার আহ্বান জানান এবং দাবি করেন যে এতে কোনো ফায়দা নেই। তিনি এর চর্চাকারীদের সমালোচনাও করেন। তিনি তাঁর তাফসিরের ভূমিকায় এটি উল্লেখ করেছেন। তবে তিনি তাঁর এই অবস্থানে অটল থাকতে পারেননি, কারণ তিনি তাঁর তাফসিরের বিভিন্ন স্থানে আয়াতসমূহের মধ্যকার প্রাসঙ্গিকতার (مناسبات) কিছু দিক উল্লেখ করেছেন। এই গবেষণায় আমরা তাঁর বক্তব্য তুলে ধরব এবং এরপর সেগুলোর সারসংক্ষেপ উত্তর প্রদান করব। পরবর্তীতে তিনি প্রাসঙ্গিকতা (مناسبات) সম্পর্কে তাঁর আলোচনার প্রেক্ষাপটে যেসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উত্থাপন করেছেন, সেগুলোর বিস্তারিত উত্তর প্রদান করব। আল্লাহই তাওফিকদাতা এবং সঠিক পথের দিশারি।
আহমদ বিন মুহাম্মদ আল-শারকাবি কাসিম - উনাইজাহ ১১ শাওয়াল ১৪২৩ হিজরি
সহযোগী অধ্যাপক, আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয় এবং উনাইজাহ মহিলা শিক্ষা কলেজ
Sharkawe2000@yahoo.com
(খণ্ড: ১)
মাওকিফুশ শাওকানী ফী তাফসীরিহী মিনাল মুনাসাবাত
(পৃষ্ঠা: ২)
تمهيدأولا: مع التفسير والمفسر
من روائع كتب التفسير ومن أصولها الجامعة تفسير الإمام الشوكاني المسمى بـ " فتح القدير الجامع بين فني الرواية والدراية من علم التفسير " هذا التفسير يعتبر مرجعا أساسيا في بابه؛ ذلك لأنه اشتمل على التفسير بالرواية الذي يعتمد على مصادر التفسير المأثور الأربعة:
تفسير القرآن بالقرآن
تفسير القرآن بالسنة
تفسير القرآن بأقوال الصحابة
تفسير القرآن بأقوال التابعين
كما اشتمل هذا التفسير أيضا على التفسير بالرأي، وهو تفسير القرآن الكريم بالاجتهاد بعد معرفة المفسر باللغة العربية ووقوفه على أسباب النزول ودرايته بالناسخ والمنسوخ والعام والخاص وغير ذلك من علوم القرآن إلى جانب رجوعه إلى التفسير بالمأثور الذي يعد المرجع الأساسي للمفسر 0
والإمام الشوكاني غني عن التعريف: فهو علم من أعلام الفقه ورائد من رواد الدعوة والإصلاح في عصره وكاتب موسوعي، يرجع نسبه إلى هجرة شوكان من هجر صنعاء ولد سنة 1173هـ ونشأ في مدينة صنعاء وحفظ القرآن في مسجدها الجامع، ودرج في بيت علم وفضل فأبوه علي بن محمد بن علي الشوكاني: كان يشغل منصب قاضي صنعاء ولقد نهل من علمه واستفاد من مكتبته الزاخرة بأمهات الكتب في شتى العلوم والفنون، وتنقل الشوكاني بين علماء صنعاء كما تتنقل النحلة من زهرة إلى زهرة ومن بستان إلى بستان، ترتشف الرحيق ليخرج من بطونها شراب مختلف الألوان فيه شفاء للناس.
وقرأ على شيوخه أمهات الكتب في شتى العلوم في العقيدة والفقه وأصوله واللغة وآدابها والحديث وعلومه والمنطق وأدب البحث والمناظرة وفي التفسير وعلومه وغير ذلك من العلوم التي برع فيها 0
ولقد ترجم لشيوخه في كتابه البدر الطالع في محاسن من بعد القرن السابع 0
ভূমিকাপ্রথমত: তাফসির ও মুফাসসির প্রসঙ্গে
তাফসির সাহিত্যের চমৎকার এবং মূলনীতি সমৃদ্ধ গ্রন্থগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো ইমাম শাওকানি-র তাফসির, যার নাম "ফাতহুল কাদির আল-জামি' বাইনা ফান্নাই আর-রিওয়ায়াহ ওয়াদ দিরায়াহ মিন ইলমিত তাফসির"। এই তাফসিরটি এই বিষয়ের একটি মৌলিক তথ্যসূত্র হিসেবে বিবেচিত; কারণ এতে বর্ণনা (رواية) ভিত্তিক তাফসির অন্তর্ভুক্ত রয়েছে যা বর্ণিত (مأثور) তাফসিরের চারটি উৎসের ওপর নির্ভরশীল:
কুরআন দ্বারা কুরআনের তাফসির
সুন্নাহ দ্বারা কুরআনের তাফসির
সাহাবিদের বক্তব্য দ্বারা কুরআনের তাফসির
তাবেয়িদের বক্তব্য দ্বারা কুরআনের তাফসির
এই তাফসিরটিতে যুক্তিভিত্তিক (رأي) তাফসিরও অন্তর্ভুক্ত হয়েছে; আর তা হলো মুফাসসিরের আরবি ভাষায় বুৎপত্তি অর্জন, শানে নুযুল সম্পর্কে জ্ঞান লাভ এবং রহিতকারী (ناسخ), রহিত (منسوخ), সাধারণ (عام), বিশেষ (خاص) ও উলূমুল কুরআনের অন্যান্য শাখা সম্পর্কে সম্যক পাণ্ডিত্যের ভিত্তিতে ইজতিহাদের মাধ্যমে পবিত্র কুরআনের ব্যাখ্যা করা। পাশাপাশি তিনি বর্ণিত (مأثور) তাফসিরের প্রতিও প্রত্যাবর্তন করেছেন যা একজন মুফাসসিরের জন্য প্রধান রেফারেন্স হিসেবে গণ্য হয়।
ইমাম শাওকানি কোনো পরিচয়ের মুখাপেক্ষী নন: তিনি ফিকহ শাস্ত্রের অন্যতম দিকপাল, তাঁর যুগের দাওয়াত ও সংস্কার আন্দোলনের অন্যতম অগ্রপথিক এবং একজন বহুশাস্ত্রবিদ বিশ্বকোষীয় লেখক। তাঁর বংশধারা সানআর হিজরা শাওকানের সাথে সম্পৃক্ত। তিনি ১১৭৩ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং সানআ শহরে বেড়ে ওঠেন। সেখানকার জামে মসজিদে তিনি কুরআন হিফজ করেন। তিনি এক জ্ঞানালোকিত ও মর্যাদাবান পরিবারে লালিত-পালিত হন। তাঁর পিতা আলি বিন মুহাম্মদ বিন আলি শাওকানি সানআর বিচারকের পদে আসীন ছিলেন। তিনি তাঁর পিতার নিকট থেকে জ্ঞান অর্জন করেন এবং বিবিধ শাস্ত্র ও শিল্পের মূল গ্রন্থগুলোতে সমৃদ্ধ তাঁর পিতার পাঠাগার থেকে উপকৃত হন। শাওকানি সানআর আলিমদের দ্বারে দ্বারে এমনভাবে বিচরণ করেছেন, যেভাবে মৌমাছি ফুল থেকে ফুলে এবং এক বাগান থেকে অন্য বাগানে বিচরণ করে নেকটার বা মধু সংগ্রহের জন্য, যাতে তার উদর থেকে বিভিন্ন বর্ণের পানীয় নির্গত হয় যা মানুষের জন্য নিরাময়স্বরূপ।
তিনি তাঁর শিক্ষকদের নিকট আকিদাহ, ফিকহ ও এর মূলনীতি (أصول), ভাষা ও সাহিত্য, হাদিস ও হাদিস বিজ্ঞান (علوم الحديث), যুক্তিবিদ্যা, বিতর্ক ও গবেষণার আদব, তাফসির ও উলূমুল কুরআনসহ বিভিন্ন শাস্ত্রের মূল গ্রন্থগুলো পাঠ করেন যেগুলোতে তিনি পারদর্শিতা অর্জন করেছিলেন।
তিনি তাঁর শিক্ষকদের জীবনী "আল-বদরুত তালি' ফি মাহাসিনি মান বা'দাল করনিস সাবি" নামক গ্রন্থে লিপিবদ্ধ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
মাওকিফুশ শাওকানী ফী তাফসীরিহী মিনাল মুনাসাবাত
(পৃষ্ঠা: ৩)
وله رحمه الله مؤلفات عديدة معظمها مطبوع من أهمها تفسيره فتح القدير وكتابه نيل الأوطار شرح منتقى الأخبار، والفوائد المجموعة في الأحاديث الموضوعة، والبدر الطالع في محاسن من بعد القرن السابع، والسيل الجرار المتدفق على حدائق الأزهار، وإرشاد الفحول إلى تحقيق الحق من علم الأصول، وتحفة الذاكرين في شرح عدة الحصن الحصين، وغير ذلك. (1)
ثانيا: تعريف علم المناسبات:
المناسبات جمع مناسبة والمناسبة في اللغة المشابهة والمشاكلة والمقاربة (2) ، ومنه النسيب: القريب المتصل كالأخوين وابن العم ونحوه، ممن بينهم مناسبة أي رابطة تربط بينهم وهي القرابة، وعند الأصوليين: المناسبة فى العلة فى باب القياس وهي الوصف المقارب للحكم لأنه إذا حصلت مقاربته له ظن عند وجود ذلك الوصف وجود الحكم (3) ، وعند البلغاء: التناسب الترتيب للمعاني المتآخية التي تتلاءم ولا تتنافر (4)
وفي اصطلاح المفسرين: عرفها ابن العربي في كتابه سراج المريدين: بأنها: "ارتباط آي القرآن بعضها ببعض حتى تكون كالكلمة الواحد ة متسقة المعاني منتظمة المباني " (5)
وعرفها الزركشي في البرهان بأنها: أمر معقول إذا عرض على العقول تلقته بالقبول. (6)
فعلم المناسبة علم يعنى بإبراز أوجه الصلة وتناسب الآيات والسور.
المبحث الأول: كلام الشوكاني عن المناسبات--------------------------------------------
রহমাহুল্লাহ-এর অসংখ্য রচনা রয়েছে যার অধিকাংশ মুদ্রিত। তাঁর গুরুত্বপূর্ণ কিতাবগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো তাঁর তাফসির 'ফাতহুল কাদির', তাঁর কিতাব 'নাইলুল আওতার শারহু মুনতাকাল আখবার', 'আল-ফাওয়াইদুল মাজমুআহ ফিল আহাদিসিল মাউদুআহ', 'আল-বদরুত তালি ফি মাহাসিনি মান বা'দাল করনিস সাবি', 'আস-সাইলুল জাররারুল মুতাদাফফিক আলা হাদা-ইকিল আজহার', 'ইরশাদুল ফুহুল ইলা তাহকিকিল হাক্কি মিন ইলমিল উসুল', এবং 'তুহফাতুজ জাকিরিন ফি শারহি ইদ্দাতিল হিসনিল হাসিন' ইত্যাদি। (১)
দ্বিতীয়ত: ইলমুল মুনাসাবাত (সম্পর্ক বিষয়ক বিজ্ঞান)-এর সংজ্ঞা:
'মুনাসাবাত' শব্দটি 'মুনাসাবাহ' (مناسبة) শব্দের বহুবচন। আভিধানিক অর্থে 'মুনাসাবাহ' বলতে সাদৃশ্য, সামঞ্জস্য এবং নৈকট্যকে বোঝায় (২)। এর থেকেই 'নাসিব' শব্দটি এসেছে, যার অর্থ সুনিবিড় যোগাযোগ সম্পন্ন নিকটাত্মীয়; যেমন দুই ভাই, চাচাতো ভাই এবং অনুরূপ ব্যক্তিবর্গ, যাদের মধ্যে 'মুনাসাবাহ' (مناسبة) অর্থাৎ এমন একটি যোগসূত্র বিদ্যমান যা তাদের পরস্পরকে আবদ্ধ করে রাখে, আর তা হলো রক্তসম্পর্ক বা আত্মীয়তা। উসুলবিদগণের (الأصوليين) মতে: কিয়াস (القياس) বা তুলনামূলক বিশ্লেষণের অধ্যায়ে 'মুনাসাবাহ' (المناسبة) বলতে ইল্লত (العلة) বা কারণের উপযোগিতাকে বোঝায়; আর এটি হলো হুকুম বা বিধানের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি বৈশিষ্ট্য, কারণ যখন বিধানের সাথে সেই বৈশিষ্ট্যের নৈকট্য অর্জিত হয়, তখন উক্ত বৈশিষ্ট্যের উপস্থিতিতে বিধানের অস্তিত্বের প্রবল ধারণা জন্মে (৩)। আলঙ্কারিকগণের মতে: 'তানাসুব' (التناسب) বা সামঞ্জস্য হলো পরস্পর সংশ্লিষ্ট অর্থসমূহের এমন সুশৃঙ্খল বিন্যাস যা একে অপরের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয় এবং কোনো বৈপরীত্য সৃষ্টি করে না (৪)।
মুফাসসিরগণের পরিভাষায়: ইবনুল আরাবি তাঁর 'সিরাজুল মুরিদিন' কিতাবে এর সংজ্ঞা দিয়ে বলেছেন: "এটি হলো কুরআনের আয়াতসমূহের একে অপরের সাথে এমন সুদৃঢ় সংশ্লিষ্টতা, যার ফলে সেগুলো একটি একক শব্দের ন্যায় হয়ে যায়, যার অর্থসমূহ সুসংগত এবং গাঁথুনি সুশৃঙ্খল।" (৫)
ইমাম যারকাশি 'আল-বুরহান' কিতাবে এর সংজ্ঞা দিয়ে বলেছেন যে, এটি এমন এক বুদ্ধিগ্রাহ্য বিষয় যা বিবেকের নিকট পেশ করা হলে বিবেক তা স্বাচ্ছন্দ্যে গ্রহণ করে। (৬)
সুতরাং ইলমুল মুনাসাবাহ (علم المناسبة) হলো এমন এক বিজ্ঞান যা আয়াত ও সূরাসমূহের পারস্পরিক সম্পর্কের দিকসমূহ এবং সেগুলোর মধ্যকার সামঞ্জস্য ফুটিয়ে তোলার বিষয় নিয়ে আলোচনা করে।
প্রথম পরিচ্ছেদ: মুনাসাবাত প্রসঙ্গে শাওকানি-র বক্তব্য--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাওকিফুশ শাওকানী ফী তাফসীরিহী মিনাল মুনাসাবাত
(পৃষ্ঠা: ৪)
عرض وردود إجمالية
يدعي الشوكاني أن البحث في هذا العلم ضرب من التكلف، وأنه لا فائدة منه، وأنه من التكلم بمحض الرأي المنهي عنه وينعى على البقاعي وغيره عنايتهم بهذا العلم: وفيما يلي عرض لكلامه مع ردود إجمالية عليها:
يقول الشوكاني في مقدمة تفسيره معارضا لعلم المناسبة منكرا له ومنتقدا للمهتمين به: " اعلم أن كثيرا من المفسرين جاءوا بعلم متكلف وخاضوا في بحر لم يكلفوا سباحته واستغرقوا أوقاتهم في فن لا يعود عليهم بفائدة بل أوقعوا أنفسهم في التكلم بمحض الرأي المنهي عنه في الأمور المتعلقة بكتاب الله سبحانه؛ وذلك أنهم أرادوا أن يذكروا المناسبة بين الآيات القرآنية المسرودة على هذا الترتيب الموجود في المصاحف فجاءوا بتكلفات وتعسفات يتبرأ منها الإنصاف ويتنزه عنها كلام البلغاء فضلا عن كلام الرب سبحانه حتى أفردوا ذلك بالتصنيف وجعلوه المقصد الأهم من التأليف كما فعله البقاعي في تفسيره ومن تقدمه حسبما ذكر في خطبته " (1)
ونحن نوافق الشوكاني في أن التكلف منهي عنه في التفسير أو في غيره، وأنه لا يجوز التكلم بمحض الرأي المنهي عنه، فعلم المناسبات يحتاج إلى تدبر وتفكر لا إلى تكلف وتعسف، وهو علم لا بد منه ولا غنى عنه لأي مفسر، لأنه يعين على فهم المعنى والترجيح بين الآراء ومعرفة المقاصد العامة للآيات والسور وغير ذلك من فوائد، والمناسبة قد تكون واضحة جلية، وقد تحتاج إلى تأمل دقيق وتدبر عميق، فإذا خفيت المناسبة فلا ينبغي إنكارها ونفيها.
وقد قيل:
وإذا لم تر الهلال فسلم لأناس رأوه بالأبصار
ويتساءل الشوكاني: كيف نطلب للآيات مناسبات وقد نزلت منجمة حسب الأحداث
فلا تناسب بينها إذاًَََََ؟
--------------------------------------------
সংক্ষিপ্ত উপস্থাপনা ও সামগ্রিক পর্যালোচনা
শাওকানী দাবি করেন যে, এই বিদ্যায় গবেষণা করা এক ধরণের কৃত্রিমতা (تكلف), এবং এতে কোনো ফায়দা নেই। তিনি মনে করেন এটি নিছক মনগড়া অভিমত (رأي) প্রকাশের অন্তর্ভুক্ত যা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তিনি আল-বিকায়ী এবং অন্যদের এই বিদ্যার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব প্রদানের কারণে সমালোচনা করেন। নিচে তার বক্তব্যের উপস্থাপনা এবং এর ওপর সংক্ষিপ্ত পর্যালোচনা তুলে ধরা হলো:
শাওকানী তার তাফসিরের ভূমিকায় 'মুনাসাবাহ' (مناسبة) বা আয়াতসমূহের পারস্পরিক সামঞ্জস্য বিষয়ক বিদ্যার বিরোধিতা ও একে প্রত্যাখ্যান করে এবং এর চর্চাকারীদের সমালোচনা করে বলেন: "জেনে রাখুন, অনেক মুফাসসির একটি কৃত্রিম (متكلف) জ্ঞান নিয়ে এসেছেন এবং এমন এক সমুদ্রে ঝাঁপ দিয়েছেন যাতে সাঁতার কাটতে তাদের আদিষ্ট করা হয়নি। তারা এমন এক বিদ্যায় নিজেদের সময় ব্যয় করেছেন যা তাদের কোনো উপকারে আসে না; বরং তারা মহান আল্লাহর কিতাব সংশ্লিষ্ট বিষয়ে নিছক সেই মনগড়া অভিমত (رأي) প্রকাশের মধ্যে নিজেদের লিপ্ত করেছেন যা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বিষয়টি হলো, তারা মুসহাফের বর্তমান বিন্যাস অনুযায়ী ধারাবাহিকভাবে বর্ণিত কুরআনের আয়াতগুলোর মধ্যে সামঞ্জস্য বা মুনাসাবাহ (مناسبة) উল্লেখ করতে চেয়েছিলেন। ফলে তারা এমন কিছু কৃত্রিমতা ও জবরদস্তিমূলক ব্যাখ্যা নিয়ে এসেছেন যা থেকে ন্যায়নিষ্ঠা মুক্ত এবং যা প্রাঞ্জলভাষীদের কথা থেকেও বহু দূরে, মহান রবের কালাম তো অনেক পরের কথা। এমনকি তারা এই বিষয়টি নিয়ে স্বতন্ত্র গ্রন্থও রচনা করেছেন এবং একেই রচনার মূল উদ্দেশ্য হিসেবে নির্ধারণ করেছেন; যেমনটি আল-বিকায়ী তার তাফসিরে এবং তার পূর্বসূরিরা করেছেন, যা তিনি তার ভূমিকার বক্তব্যে উল্লেখ করেছেন।" (১)
আমরা শাওকানীর সাথে এই বিষয়ে একমত যে, তাফসির বা অন্য যে কোনো ক্ষেত্রে কৃত্রিমতা (تكلف) বর্জনীয়, এবং নিষিদ্ধ মনগড়া অভিমত (رأي) ব্যক্ত করা জায়েজ নয়। তবে সামঞ্জস্য বিষয়ক জ্ঞান বা 'ইলমুল মুনাসাবাত' গভীর অনুধাবন (تدبر) ও চিন্তাশক্তির দাবি রাখে, কৃত্রিমতা বা জবরদস্তির নয়। এটি এমন একটি জ্ঞান যা অপরিহার্য এবং যে কোনো মুফাসসিরের জন্য এর কোনো বিকল্প নেই; কারণ এটি আয়াতের অর্থ বুঝতে, বিভিন্ন মতামতের মধ্যে প্রাধান্য দানে (ترجيح), আয়াত ও সূরাগুলোর সাধারণ উদ্দেশ্যসমূহ (مقاصد) অনুধাবনে এবং আরও অন্যান্য ক্ষেত্রে সাহায্য করে। এই সামঞ্জস্য বা মুনাসাবাহ (مناسبة) কখনো অতি স্পষ্ট হতে পারে, আবার কখনো সূক্ষ্ম চিন্তা ও গভীর অনুধাবনের (تدبر) প্রয়োজন হতে পারে। সুতরাং সামঞ্জস্য যদি অস্পষ্ট থাকে, তবে তাকে অস্বীকার বা প্রত্যাখ্যান করা উচিত নয়।
বলা হয়ে থাকে:
যদি তুমি নতুন চাঁদ দেখতে না পাও, তবে সেই লোকদের কথা মেনে নাও যারা স্বচক্ষে তা দেখেছে।
শাওকানী প্রশ্ন তোলেন: আয়াতগুলোর মধ্যে আমরা কীভাবে সামঞ্জস্য বা মুনাসাবাহ (مناسبة) খুঁজতে পারি, অথচ সেগুলো বিভিন্ন ঘটনার প্রেক্ষিতে পর্যায়ক্রমে (منجما) অবতীর্ণ হয়েছে?
তাহলে কি এগুলোর মধ্যে কোনো সামঞ্জস্য নেই?
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাওকিফুশ শাওকানী ফী তাফসীরিহী মিনাল মুনাসাবাত
(পৃষ্ঠা: ৫)
وفي هذا يقول الشوكاني: " وإن هذا لمن أعجب ما يسمعه من يعرف أن هذا القرآن ما زال ينزل مفرقا على حسب الحوادث المقتضية لنزوله منذ نزول الوحي على رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم إلى أن قبضه الله عز وجل إليه وكل عاقل فضلا عن عالم لا يشك أن هذه الحوادث المقتضية نزول القرآن متخالفة باعتبار نفسها بل قد تكون متناقضة كتحريم أمر كان حلالا وتحليل أمر كان حراما وإثبات أمر لشخص أو أشخاص يناقض ما كان قد ثبت لهم قبله، وتارة يكون الكلام مع المسلمين وتارة مع الكافرين وتارة مع من مضي وتارة مع من حضر وحينا في عبادة وحينا في معاملة ووقتا في ترغيب ووقتا في ترهيب وآونة في بشارة وآونة في نذارة وطورا في أمر دنيا وطورا في أمر آخرة ومرة في تكاليف آتية ومرة في أقاصيص ماضية وإذا كانت أسباب النزول مختلفة هذا الاختلاف ومتباينة هذا التباين الذي لا يتيسر معه الائتلاف فالقرآن النازل فيها هو باعتباره نفسه مختلف كاختلافها فكيف يطلب العاقل المناسبة بين الضب والنون والماء والنار والملاح والحادي "
এ প্রসঙ্গে শাওকানি বলেন: "আর এটি সেই ব্যক্তির শোনার জন্য অত্যন্ত আশ্চর্যের বিষয় যে জানে যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর প্রতি ওহি অবতীর্ণ হওয়ার সূচনা থেকে আল্লাহ তাআলা তাঁকে নিজের সান্নিধ্যে নিয়ে যাওয়া পর্যন্ত এই কুরআন তার নাযিলের প্রয়োজনীয় ঘটনাবলি অনুযায়ী পৃথক পৃথকভাবে অবতীর্ণ হয়েছে। একজন আলেম তো বটেই, এমনকি যে কোনো বুদ্ধিমান ব্যক্তিও এতে সন্দেহ পোষণ করবেন না যে, কুরআন নাযিলের প্রেক্ষাপট হিসেবে এই ঘটনাসমূহ সত্তাগতভাবে ভিন্ন ভিন্ন; বরং কখনও কখনও তা পরস্পরবিরোধীও হতে পারে। যেমন—কোনো হালাল বিষয়কে হারাম করা, কোনো হারাম বিষয়কে হালাল করা, অথবা কোনো ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গের জন্য এমন কোনো বিষয় সাব্যস্ত করা যা ইতিপূর্বে তাদের জন্য সাব্যস্ত হওয়া বিষয়ের পরিপন্থী। কখনও সম্বোধন করা হয়েছে মুসলিমদের প্রতি, কখনও কাফিরদের প্রতি, কখনও অতীত জাতিসমূহের প্রতি, আবার কখনও উপস্থিত ব্যক্তিবর্গের প্রতি। কখনও প্রসঙ্গ থাকে ইবাদাতের, কখনও লেনদেনের। কোনো সময় তা উৎসাহ প্রদানের (ترغيب) ক্ষেত্রে, আবার কোনো সময় ভীতি প্রদর্শনের (ترهيب) ক্ষেত্রে। কোনো মুহূর্তে সুসংবাদ দানে, কোনো মুহূর্তে সতর্কবার্তায়। কখনও পার্থিব বিষয়ে, কখনও পরকালীন বিষয়ে। কখনও ভবিষ্যতে আগত কোনো বিধানের ক্ষেত্রে, আবার কখনও অতীতের কাহিনীর ক্ষেত্রে। আর যখন নাযিলের প্রেক্ষাপট বা শানে নুযুলসমূহ (أسباب النزول) এভাবে ভিন্ন ও বৈচিত্র্যময় হয় যেগুলোর মাঝে সমন্বয় সাধন করা সম্ভব নয়, তখন সেই প্রেক্ষাপটে অবতীর্ণ হওয়া কুরআনও স্বয়ংক্রিয়ভাবে সেগুলোর মতোই ভিন্ন হয়ে থাকে। এমতাবস্থায় কোনো বুদ্ধিমান ব্যক্তি কীভাবে সান্ডা ও মাছের মধ্যে, পানি ও আগুনের মধ্যে কিংবা নাবিক ও উট চালকের মধ্যে সামঞ্জস্য তালাশ করতে পারে?"
(খণ্ড: ১)
মাওকিফুশ শাওকানী ফী তাফসীরিহী মিনাল মুনাসাবাত
(পৃষ্ঠা: ৬)
ونحو هذا ما قال الإمام العز بن عبد السلام كما نقل عنه الزركشي في البرهان: قال الإمام العز بن عبد السلام رحمه الله " المناسبة علم حسن ولكن يشترط فى حسن ارتباط الكلام أن يقع فى أمر متحد مرتبط أوله بآخره فإن وقع على أسباب مختلفة لم يشترط فيه ارتباط أحدهما بالآخر قال ومن ربط ذلك فهو متكلف بما لا يقدر عليه إلا برباط ركيك يصان عنه حسن الحديث فضلا عن أحسنه فإن القرآن نزل فى نيف وعشرين سنة فى أحكام مختلفة ولأسباب مختلفة وما كان كذلك لا يتأتى ربط بعضه ببعض إذ لا يحسن أن يرتبط تصرف الإله فى خلقه وأحكامه بعضها ببعض مع اختلاف العلل والأسباب كتصرف الملوك والحكام والمفتين وتصرف الإنسان نفسه بأمور متوافقة ومتخالفة ومتضادة وليس لأحد أن يطلب ربط بعض تلك التصرفات مع بعض مع اختلافها فى نفسها واختلاف أوقاتها انتهى ". (1)
إلا أن العز رحمه الله لا ينكر وجود المناسبة على الإطلاق ولكنه يستحسنها إذا وقعت بين كلام متحد مرتبط أوله بأخرى.
وأقول لقد نزل القرآن الكريم مفرقا حسب الحوادث والنوازل ومراعاة للتدرج في التشريع ولكنه جمع في الصدور والسطور وفقا لما هو عليه في اللوح المحفوظ حيث كان جبريل عليه السلام يعلم رسول الله صلى الله عليه وسلم بموضع كل آية في سورتها، إضافة إلى ترتيب السور كما سيأتي بيانه، فإذا كان في نزوله منجما حكم وفوائد لا تخفى فإن في جمعه على هذا الترتيب التوقيفي حكم وفوائد، وإذا كان في نزوله منجما سمة من سماته التي تفرد بها عن الكتب السابقة فإن هذا الترتيب سمة من سماته، وهل يعقل أن يكون ترتيبه في المصحف على غير ترتيب نزوله ثم لا يكون لذلك حكمة؟ ولماذا نجتهد في التماس حكم ومقاصد التشريعات الإلهية ثم نطالب بتجاهل الحكم من الترتيب الإلهي للمصحف الشريف!
--------------------------------------------
ইমাম ইজ্জ বিন আবদুস সালাম (রহ.) যা বলেছেন তা অনেকটা এই প্রকার, যেমনটি ইমাম যারকাশী 'আল-বুরহান' গ্রন্থে তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন। ইমাম ইজ্জ বিন আবদুস সালাম (রহ.) বলেছেন: "আয়াতের পারস্পরিক সম্পর্ক বা উপযোগিতা (المناسبة) একটি উত্তম (حسن) জ্ঞান; তবে বক্তব্যের সুন্দর যোগসূত্র হওয়ার জন্য শর্ত হলো—বক্তব্যটি এমন একটি অবিচ্ছেদ্য বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত হতে হবে যার প্রথমাংশ শেষাংশের সাথে যুক্ত। কিন্তু যদি তা ভিন্ন ভিন্ন প্রেক্ষাপটে বা কারণে (أسباب) অবতীর্ণ হয়, তবে একটির সাথে অন্যটির যোগসূত্র থাকা শর্ত নয়। তিনি আরও বলেন: যে ব্যক্তি এই ভিন্ন প্রেক্ষাপটের আয়াতগুলোর মাঝে সম্পর্ক স্থাপন করতে চায়, সে এমন এক কষ্টসাধ্য কাজে লিপ্ত হয় যা কেবল একটি দুর্বল সংযোগের (رباط ركيك) মাধ্যমেই সম্ভব; যা সাধারণ উত্তম কথা তো বটেই, বরং সর্বোত্তম কথা থেকেও রক্ষা করা বাঞ্ছনীয়। কারণ কুরআন বিশ বছরেরও বেশি সময় ধরে বিভিন্ন বিধান এবং বিবিধ প্রেক্ষাপটে (أسباب) অবতীর্ণ হয়েছে। আর যা এমনভাবে অবতীর্ণ হয়েছে, তার এক অংশের সাথে অন্য অংশের সংযোগ স্থাপন করা সম্ভব নয়। কারণ সৃষ্টির ওপর আল্লাহর কর্তৃত্ব এবং তাঁর বিধানাবলীর প্রতিটি অংশকে একে অপরের সাথে যুক্ত করা শোভনীয় নয় যখন সেগুলোর কার্যকারণ (علل) ও প্রেক্ষাপট (أسباب) ভিন্ন ভিন্ন হয়; যেমনটি রাজা-বাদশাহ, শাসক ও মুফতিদের কর্মকাণ্ড এবং মানুষের নিজের কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রে ঘটে থাকে—যা কখনো সঙ্গতিপূর্ণ, কখনো ভিন্নতর আবার কখনো পরস্পরবিরোধী হয়ে থাকে। সুতরাং সেই কর্মকাণ্ডগুলোর প্রকৃতি ও সময়ের ভিন্নতা থাকা সত্ত্বেও সেগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক তালাশ করার অধিকার কারো নেই। (সমাপ্ত)।" (১)
তবে ইজ্জ (রহ.) ঢালাওভাবে সম্পর্কের (المناسبة) অস্তিত্বকে অস্বীকার করেননি; বরং তিনি একে উত্তম (حسن) মনে করেছেন যখন তা এমন কোনো অবিচ্ছেদ্য কথার মাঝে ঘটে যার প্রথমাংশ শেষাংশের সাথে যুক্ত।
আমি বলি, কুরআন মাজীদ বিভিন্ন ঘটনা ও উদ্ভূত পরিস্থিতির (النوازل) প্রেক্ষাপটে এবং শরয়ি বিধান প্রবর্তনে ক্রমধারার (التدرج) প্রতি লক্ষ রেখে খণ্ড খণ্ড ভাবে (مفرقا) অবতীর্ণ হয়েছে। কিন্তু তা লওহে মাহফুজে যেভাবে ছিল, ঠিক সেভাবেই মানুষের অন্তরে ও পাণ্ডুলিপিতে সংকলিত হয়েছে। জিবরাঈল (আ.) রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে প্রতিটি আয়াতের স্থান তার নির্দিষ্ট সূরায় জানিয়ে দিতেন। এছাড়া সূরার বিন্যাসও সেভাবে হয়েছে যা সামনে বিস্তারিত আসছে। সুতরাং কুরআন খণ্ড খণ্ড ভাবে অবতীর্ণ হওয়ার পেছনে যদি এমন বহু প্রজ্ঞা ও কল্যাণ নিহিত থাকে যা অস্পষ্ট নয়, তবে এই ওহী দ্বারা নির্ধারিত বিন্যাসে (الترتيب التوقيفي) সংকলন করার পেছনেও প্রজ্ঞা ও কল্যাণ রয়েছে। আর কুরআন যদি খণ্ড খণ্ড ভাবে অবতীর্ণ হওয়ার বৈশিষ্ট্যের কারণে পূর্ববর্তী কিতাবসমূহ থেকে অনন্য হয়ে থাকে, তবে এই বিন্যাসটিও এর অন্যতম একটি বৈশিষ্ট্য। এটা কি ভাবা যুক্তিযুক্ত যে, মুসহাফের বিন্যাস এর অবতীর্ণ হওয়ার বিন্যাস থেকে ভিন্ন হবে অথচ এর পেছনে কোনো হিকমত বা প্রজ্ঞা থাকবে না? কেন আমরা আল্লাহর প্রবর্তিত বিধানগুলোর উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য অন্বেষণে প্রচেষ্টা চালাব, অথচ পবিত্র মুসহাফের ঐশী বিন্যাসের নিহিত প্রজ্ঞাকে উপেক্ষা করার দাবি জানাব!
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাওকিফুশ শাওকানী ফী তাফসীরিহী মিনাল মুনাসাবাত
(পৃষ্ঠা: ৭)
قال الإمام الزركشي في البرهان: " قال بعض مشايخنا المحققين قد وهم من قال لا يطلب للآى الكريمة مناسبة لأنها حسب الوقائع المتفرقة وفصل الخطاب أنها على حسب الوقائع تنزيلا وعلى حسب الحكمة ترتيبا فالمصحف كالصحف الكريمة على وفق ما فى الكتاب المكنون مرتبة سوره كلها وآياته بالتوقيف، وحافظ القرآن العظيم لو استفتى فى أحكام متعددة أو ناظر فيها أو أملاها لذ كر آية كل حكم على ما سئل وإذا رجع إلى التلاوة لم يتل كما أفتى ولا كما نزل مفرقا بل كما أنزل جملة إلى بيت العزة ومن المعجز البين أسلوبه ونظمه الباهر فإنه (كتاب أحكمت آياته ثم فصلت من لدن حكيم خبير) (1) قال: والذى ينبغى فى كل آية أن يبحث أول كل شىء عن كونها مكملة لما قبلها أو مستقلة ثم المستقلة ما وجه مناسبتها لما قبلها ففى ذلك علم جم وهكذا فى السور يطلب وجه اتصالها بما قبلها وما سيقت له " (2)
وأقول أيضا ليست كل السور القرآنية نزلت منجمة بل إن من السور الطوال ما نزل جملة كسورة الأنعام مثلا، وسورة الفاتحة وغيرها فهل لا نطلب لها مناسبة أيضا؟ (3)
كما أن بعض السور نزلت منها مقاطع كبيرة جملة واحدة فهل نترك الحديث عن ترابطها وتناسبها؟
--------------------------------------------
ইমাম যারকাশী আল-বুরহান গ্রন্থে বলেছেন: "আমাদের কিছু গবেষক (المحققين) শায়খ বলেছেন, যারা বলেন যে পবিত্র আয়াতগুলোর মাঝে সামঞ্জস্য (مناسبة) খোঁজার প্রয়োজন নেই—যেহেতু সেগুলো বিভিন্ন ঘটনার প্রেক্ষিতে অবতীর্ণ হয়েছে—তারা ভুল করেছেন। এর চূড়ান্ত ব্যাখ্যা হলো, আয়াতগুলো অবতরণ (تنزيلا) হয়েছে ঘটনার প্রেক্ষিতে, কিন্তু বিন্যস্ত (ترتيبا) হয়েছে প্রজ্ঞা (حكمة) অনুযায়ী। ফলে এই মুসহাফ (পবিত্র কুরআন) 'কিতাবুম মাকনুন'-এ (সুরক্ষিত কিতাব) যেভাবে আছে, ঠিক সেভাবেই এর সকল সূরা ও আয়াত আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত (توقيف) ক্রমানুসারে সাজানো হয়েছে। পবিত্র কুরআনের একজন হাফেজকে যদি বিভিন্ন বিধান সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়, বা তিনি যদি তা নিয়ে বিতর্ক করেন বা তা লিখিয়ে দেন, তবে তিনি প্রতিটি বিধানের আয়াতকে প্রশ্ন অনুযায়ী উল্লেখ করবেন। কিন্তু যখন তিনি তিলাওয়াতে ফিরে আসেন, তখন তিনি সেভাবে তিলাওয়াত করেন না যেভাবে ফতোয়া দিয়েছেন কিংবা যেভাবে বিচ্ছিন্নভাবে নাযিল হয়েছে; বরং তিনি সেভাবেই তিলাওয়াত করেন যেভাবে তা 'বায়তুল ইজ্জতে' একত্রে (جملة) নাযিল হয়েছিল। এর অনন্য শৈলী ও চমৎকার বিন্যাস এক সুস্পষ্ট মোজেজা। কারণ এটি এমন এক 'কিতাব যার আয়াতসমূহ সুপ্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে, অতঃপর প্রজ্ঞাময় ও সর্বজ্ঞ সত্তার পক্ষ থেকে বিশদভাবে বর্ণনা করা হয়েছে' (১)। তিনি আরও বলেন: প্রতিটি আয়াতের ক্ষেত্রে যা করা উচিত তা হলো, সবার আগে দেখা যে আয়াতটি কি পূর্ববর্তী আয়াতের পরিপূরক নাকি স্বতন্ত্র। এরপর স্বতন্ত্র আয়াত হলে পূর্ববর্তী আয়াতের সাথে তার সামঞ্জস্যের (مناسبة) দিকটি কী, তা অনুসন্ধান করা; কারণ এতে প্রচুর জ্ঞান রয়েছে। একইভাবে সূরাগুলোর ক্ষেত্রেও পূর্ববর্তী সূরার সাথে এর সংযোগের ধরন এবং এর মূল লক্ষ্য সম্পর্কে অনুসন্ধান করা উচিত।" (২)
আমি আরও বলি, কুরআনের সকল সূরা যে কিস্তিতে বা বিচ্ছিন্নভাবে (منجمة) নাযিল হয়েছে তা নয়; বরং দীর্ঘ সূরাগুলোর মধ্যে কিছু সূরা একত্রে (جملة) নাযিল হয়েছে, যেমন সূরা আল-আনআম, সূরা আল-ফাতিহা এবং অন্যান্য। তবে কি আমরা এগুলোর ক্ষেত্রেও সামঞ্জস্য (مناسبة) খুঁজব না? (৩)
তদ্রূপ কিছু সূরার বড় বড় অংশ একত্রে (جملة) নাযিল হয়েছে, তাহলে আমরা কি সেগুলোর আন্তঃসম্পর্ক ও সামঞ্জস্য (مناسبة) নিয়ে আলোচনা করা ছেড়ে দেব?
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাওকিফুশ শাওকানী ফী তাফসীরিহী মিনাল মুনাসাবাত
(পৃষ্ঠা: ৮)
كما أقول: أليس من العجيب أن ينتقد الشوكاني البقاعي بسبب اهتمامه بهذا العلم في تفسيره نظم الدرر؟ ثم نراه يثني على هذا التفسير وعلى مسلك صاحبه فيه فيقول في كتابه البدر الطالع خلال ترجمته له: " ومن أمعن النظر في كتابه المترجم له في التفسير الذي جعله في المناسبات بين الآي والسور علم أنه من أوعية العلم المفرطين في الذكاء الجامعين بين علم المعقول والمنقول، وكثير ما يشكل على شيء في الكتاب فأرجع إلى مطولات التفسير ومختصراتها فلا أجد ما يشفي وأرجع إلى هذا الكتاب - نظم الدرر - فأجد فيه ما يفيد في الغالب ". (1)
ويزعم الشوكاني أن البحث في هذا العلم ما هو إلا " فتح لأبواب الشك وتوسيع دائرة الريب على من في قلبه مرض أو كان مرضه مجرد الجهل والقصور فإنه إذا وجد أهل العلم يتكلمون في التناسب بين جميع آي القرآن ويفردون ذلك بالتصنيف تقرر عنده أن هذا أمر لا بد منه وأنه لا يكون القرآن بليغا معجزا إلا إذا ظهر الوجه المقتضى للمناسبة وتبين الأمر الموجب للارتباط فإن وجد الاختلاف بين الآيات فرجع إلى ما قاله المتكلمون في ذلك فوجده تكلفا محضا وتعسفا بينا انقدح في قلبه ما كان عنه في عافية وسلامة " (2)
أقول إن تناسب الآيات والسور جانب من جوانب البلاغة القرآنية حيث جودة السبك وروعة النظم وجمال التراكيب وبراعة الأساليب وهذا التناسب وجه من وجوه الإعجاز ولم يقل أحد أن الإعجاز قائم عليه وحده، أو أن البلاغة القرآنية لا تتمثل إلا فيه فجوانب الإعجاز متعددة، وبلاغة القرآن متشعبة وأساليبها وألوانها عديدة 0
--------------------------------------------
যেমনটি আমি বলি: এটা কি আশ্চর্যের বিষয় নয় যে, শাওকানি তাঁর ‘নাজমুত দুরার’ তাফসিরে এই ইলম (জ্ঞানের শাখা) চর্চার কারণে আল-বিকাঈর সমালোচনা করেছেন? এরপর আমরা দেখি তিনি তাঁর ‘আল-বাদরুত তালি’ গ্রন্থে আল-বিকাঈর জীবনী আলোচনা করতে গিয়ে এই তাফসির ও এর লেখকের পদ্ধতির প্রশংসা করে বলেন: "যে ব্যক্তি তাফসিরের ওপর তাঁর এই গ্রন্থটি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করবে, যা তিনি আয়াত ও সূরার মধ্যকার সামঞ্জস্যের ওপর ভিত্তি করে রচনা করেছেন, সে জানতে পারবে যে তিনি জ্ঞানের এমন এক আধার ছিলেন যিনি প্রখর বুদ্ধিমান এবং বিবেকজাত ও বর্ণনাগত (منقول) জ্ঞানের সমন্বয়কারী ছিলেন। অনেক সময় আমার কাছে কিতাবের কোনো বিষয় জটিল মনে হতো, তখন আমি বিস্তারিত ও সংক্ষিপ্ত বিভিন্ন তাফসিরের শরণাপন্ন হতাম কিন্তু কোনো তৃপ্তিদায়ক সমাধান পেতাম না; এরপর আমি যখন এই কিতাব—নাজমুত দুরার—এর দিকে ফিরে আসতাম, তখন অধিকাংশ ক্ষেত্রে সেখানে ফলপ্রসূ উত্তর খুঁজে পেতাম।" (১)
শাওকানি দাবি করেন যে, এই ইলম নিয়ে গবেষণা করা কেবলই "সন্দেহের দ্বার উন্মোচন করা এবং যাদের অন্তরে ব্যাধি আছে অথবা যাদের ব্যাধি কেবল মূর্খতা ও অযোগ্যতা, তাদের জন্য সংশয়ের পরিধি বৃদ্ধি করা। কেননা সে যখন দেখে যে আলেমগণ কুরআনের সমস্ত আয়াতের পারস্পরিক সামঞ্জস্য নিয়ে আলোচনা করছেন এবং এর জন্য স্বতন্ত্র গ্রন্থ রচনা করছেন, তখন তার মনে বদ্ধমূল হয় যে বিষয়টি অবশ্যই প্রয়োজনীয়। আর কুরআন তখনই অলংকারপূর্ণ ও মোজেজা (অলৌকিক) হবে যখন সামঞ্জস্যের যৌক্তিক দিকগুলো ফুটে উঠবে এবং যোগসূত্রটি স্পষ্ট হবে। এরপর সে যদি আয়াতের মাঝে বাহ্যিক ভিন্নতা লক্ষ্য করে এবং এই বিষয়ে মুতাকাল্লিমদের বক্তব্যের দিকে ফিরে যায় ও তা নিছক কৃত্রিমতা ও স্পষ্ট জবরদস্তি হিসেবে পায়, তবে তার মনে এমন সব সংশয় জাগ্রত হয় যা থেকে আগে সে মুক্ত ও শান্তিতে ছিল।" (২)
আমি বলি যে, আয়াত ও সূরার পারস্পরিক সামঞ্জস্য হলো কুরআনিক অলঙ্কারশাস্ত্রের (বালাগাত) একটি দিক, যেখানে শব্দশৈলীর উৎকর্ষ, সুনিপুণ বিন্যাস, বাক্য গঠনশৈলীর সৌন্দর্য এবং পদ্ধতির চমৎকারিত্ব বিদ্যমান। এই সামঞ্জস্য হলো অলৌকিকত্বের (ইজায) অন্যতম একটি দিক। কেউ বলেননি যে অলৌকিকত্ব কেবল এটার ওপরই নির্ভরশীল, কিংবা কুরআনের অলঙ্কারশাস্ত্র কেবল এ মাধ্যমেই প্রতিফলিত হয়। বরং অলৌকিকত্বের দিকগুলো বহুমুখী এবং কুরআনের অলঙ্কারশাস্ত্র অত্যন্ত বিস্তৃত; এর পদ্ধতি ও প্রকারভেদ অনেক। ০
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাওকিফুশ শাওকানী ফী তাফসীরিহী মিনাল মুনাসাবাত
(পৃষ্ঠা: ৯)
وهل قال أحد بأن البحث في الإعجاز البلاغي في القرآن الكريم قد يوهم بأنه لا إعجاز إلا من هذا الجانب؟ فلا ينبغي البحث في بلاغة القرآن حتى لا يتوهم أحد أن القرآن لن يكون معجزا إلا إذا بحثنا في بلاغته؟
بل إن البحث في هذا العلم يزداد به المؤمن إيمانا ويقينا ويفند مزاعم أهل الكفر والضلال الذين يزعمون أن القرآن لا ترتيب له.
ويقول الشوكاني ظانا بأن هذا العلم لا فائدة منه "وما أقل نفع مثل هذا وأنذر ثمرته وأحقر فائدته بل هو عن من يفهم ما يقول وما يقال له من تضييع الأوقات وإنفاق الساعات في أمر لا يعود بنفع على فاعله ولا على من يقف عليه من الناس " (1)
وأقول إن لهذا العلم فوائد جمة إذ من خلاله يتجلى لنا وجه من وجوه الإعجاز القرآني وسمة من سماته والحكمة من ترتيبه، كما نستعين به في تدبر كلام الله عزوجل ودراسته، وفهم معانيه ومقاصده وغير ذلك من الفوائد التي نتحدث عتها في موضعها إن شاء الله، وهو من تدبر كلام الله عز وجل وبه نستخلص العبر والعظات ونتعرف على مقاصد السور والآيات وقد أمرنا الله عز وجل بالتدبر في كتابه الكريم قال تعالى {أَفَلَا يَتَدَبَّرُونَ الْقُرْآنَ وَلَوْ كَانَ مِنْ عِندِ غَيْرِ اللهِ لَوَجَدُواْ فِيهِ اخْتِلَافًا كَثِيرًا {82} } وقال سبحانه {كِتَابٌ أَنزَلْنَاهُ إِلَيْكَ مُبَارَكٌ لِّيَدَّبَّرُوا آيَاتِهِ وَلِيَتَذَكَّرَ أُوْلُوا الألْبَابِ {29} }
--------------------------------------------
আর কেউ কি বলেছেন যে পবিত্র কুরআনের অলঙ্কারশাস্ত্রীয় অলৌকিকত্ব (إعجاز) নিয়ে গবেষণা করলে এমন ভ্রান্ত ধারণা হতে পারে যে, এই দিকটি ছাড়া আর কোনো অলৌকিকত্ব নেই? তবে কি কুরআনের অলঙ্কারশাস্ত্র (بلاغة) নিয়ে গবেষণা করা উচিত নয়, পাছে কেউ এমনটি ধারণা করে বসে যে কুরআনের অলঙ্কারশাস্ত্র নিয়ে গবেষণা না করা পর্যন্ত তা অলৌকিক বলে গণ্য হবে না?
বরং এই শাস্ত্র নিয়ে গবেষণার মাধ্যমে মুমিনের ঈমান ও দৃঢ় বিশ্বাস (يقين) বৃদ্ধি পায় এবং এটি কুফরি ও গোমরাহির অনুসারীদের সেই দাবিকে খণ্ডন করে যারা দাবি করে যে কুরআনের কোনো সুশৃঙ্খল বিন্যাস নেই।
আর শাওকানি এই শাস্ত্রের কোনো উপযোগিতা নেই মনে করে বলেন, "এই ধরনের বিষয়ের উপকারিতা কতই না সামান্য, এর ফল কতই না বিরল এবং এর ফায়দা কতই না তুচ্ছ! বরং যে ব্যক্তি নিজে যা বলে এবং তাকে যা বলা হয় তা বোঝেন, তার জন্য এটি সময় নষ্ট করা এবং এমন কাজে ঘণ্টা পর ঘণ্টা ব্যয় করা ছাড়া আর কিছুই নয় যা না এর কর্তার কোনো উপকারে আসে, আর না সেই সব মানুষের উপকারে আসে যারা এটি পড়ে।" (১)
আমি বলি, নিশ্চয়ই এই শাস্ত্রের প্রভূত কল্যাণ রয়েছে। কারণ এর মাধ্যমেই আমাদের কাছে কুরআনের অলৌকিকত্বের (إعجاز) একটি দিক, এর অন্যতম বৈশিষ্ট্য এবং এর বিন্যাসের প্রজ্ঞা (حكمة) প্রতিভাত হয়। এর মাধ্যমে আমরা মহান আল্লাহর কালাম নিয়ে গভীর চিন্তা-গবেষণা (تدبر) ও অধ্যয়ন এবং এর অর্থ ও উদ্দেশ্যসমূহ (مقاصد) অনুধাবনে সহায়তা পাই। এছাড়াও আরও অনেক উপকারিতা রয়েছে যা নিয়ে আমরা ইনশাআল্লাহ যথাস্থানে আলোচনা করব। এটি মহান আল্লাহর কালাম নিয়ে গভীর চিন্তা-গবেষণার (تدبر) অন্তর্ভুক্ত, যার মাধ্যমে আমরা শিক্ষা ও উপদেশ গ্রহণ করি এবং সূরা ও আয়াতসমূহের উদ্দেশ্যসমূহ (مقاصد) সম্পর্কে জানতে পারি। মহান আল্লাহ আমাদের তাঁর পবিত্র কিতাব নিয়ে গভীর চিন্তা-গবেষণা (تدبر) করার নির্দেশ দিয়েছেন। মহান আল্লাহ বলেন, "তবে কি তারা কুরআন নিয়ে গভীর চিন্তা-গবেষণা (تدبر) করে না? যদি তা আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও পক্ষ থেকে হতো, তবে তারা এতে অনেক অসংগতি পেত।" এবং মহান আল্লাহ বলেন, "এটি একটি বরকতময় কিতাব, যা আমি আপনার প্রতি নাযিল করেছি, যাতে তারা এর আয়াতসমূহ নিয়ে গভীর চিন্তা-গবেষণা (تدبر) করে এবং বুদ্ধিমানগণ উপদেশ গ্রহণ করে।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাওকিফুশ শাওকানী ফী তাফসীরিহী মিনাল মুনাসাবাত
(পৃষ্ঠা: ১০)
ويقول الشوكاني أيضا منكرا لإمكانية الربط بين الآيات والسور والتماس الوحدة الموضوعية للقرآن " وأنت تعلم أنه لو تصدى رجل من أهل العلم للمناسبة بين ما قاله رجل من البلغاء من خطبه ورسائله وإنشاءاته أو إلى ما قاله شاعر من الشعراء من القصائد التي تكون تارة مدحا وأخرى هجاء وحينا نسيبا وحينا رثاء وغير ذلك من الأنواع المتخالفة فعمد هذا المتصدي إلى ذلك المجموع فناسب بين فقره ومقاطعه ثم تكلف تكلفا آخر فناسب بين الخطبة التي خطبها في الجهاد والخطبة التي خطبها في الحج والخطبة التي خطبها في النكاح ونحو ذلك وناسب بين الإنشاء الكائن في العزاء والإنشاء الكائن في الهناء وما يشابه ذلك لعد هذا المتصدي لمثل هذا مصابا في عقله متلاعبا بأوقاته عابثا بعمره الذي هو رأس ماله وإذا كان مثل هذا بهذه المنزلة وهو ركوب الأحموقة في كلام البشر فكيف تراه يكون في كلام الله سبحانه الذي أعجزت بلاغته بلغاء العرب وأبكمت فصاحته فصحاء عدنان وقد علم كل مقصر وكامل أن الله سبحانه وصف هذا القرآن بأنه عربي وأنزله بلغة العرب وسلك فيه مسالكهم في الكلام وجرى به في الخطاب وقد علمنا أن خطيبهم كان يقوم المقام الواحد فيأتي بفنون متخالفة وطرائق متباينة فضلا عن المقامين فضلا عن المقامات فضلا عن جميع ما قاله ما دام حيا وكذلك شاعرهم ولنكتف بهذا التنبيه على هذه المفسدة التي تعثر في ساحاتها كثير من المحققين وإنما ذكرنا هذا البحث في هذا الموطن لأن الكلام هنا قد انتقل مع بني إسرائيل بعد أن كان قبله مع أبي البشر آدم عليه السلام فإذا قال متكلف كيف ناسب هذا ما قبله قلنا لا كيف
فدع عنك نهبا صيح في حجراته وهات حديثا ما حديث الرواحل ". (1)
أقول: وهل من المعقول أن يقاس كلام البشر على كلام خالق البشر؟ هل هذا الأمر مقبول؟ وهل يستوي وحي من الله منزل وقافية في العالمين شرود
--------------------------------------------
আল-শাওকানি কুরআনের আয়াত ও সূরাসমূহের মধ্যে যোগসূত্র স্থাপন এবং বিষয়ভিত্তিক ঐক্যের সন্ধানের অসম্ভাব্যতা অস্বীকার করে আরও বলেন: "আপনি জানেন যে, যদি কোনো জ্ঞানী ব্যক্তি কোনো একজন অলঙ্কারবিদ ব্যক্তির ভাষণ, পত্রাবলি ও রচনার বিষয়গুলোর মধ্যে সামঞ্জস্য (مناسبة) খোঁজার চেষ্টা করেন, অথবা কোনো কবির কাসিদাগুলোর মধ্যে—যা কখনও প্রশংসা (مدح), কখনও নিন্দা (هجاء), কখনও প্রেমের কবিতা (نسيب), আবার কখনও শোকগাঁথা (رثاء) এবং এ জাতীয় অন্যান্য বৈচিত্র্যময় প্রকারের হয়ে থাকে—অতঃপর সেই ব্যক্তি যদি এই সংগ্রহের প্রতিটি অনুচ্ছেদ ও অংশের মধ্যে মিল খুঁজতে শুরু করেন, এরপর আরও শ্রমসাধ্য চেষ্টা করে জিহাদের ভাষণ, হজের ভাষণ এবং নিকাহ বা বিয়ের ভাষণের মধ্যে সামঞ্জস্য (مناسبة) বিধান করার প্রয়াস পান, এবং শোকের সময়ের রচনা ও আনন্দের সময়ের রচনার মধ্যে সঙ্গতি স্থাপন করতে চান, তবে এমন প্রচেষ্টাকারীকে একজন বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী হিসেবে গণ্য করা হবে, যে তার মূল্যবান সময় নিয়ে খেলা করছে এবং তার জীবনকে—যা তার শ্রেষ্ঠ সম্পদ—বৃথা নষ্ট করছে। মানুষের কথার ক্ষেত্রে যদি এমন কাজকে চূড়ান্ত মূর্খতা হিসেবে দেখা হয়, তবে মহান আল্লাহর বাণীর ক্ষেত্রে এটি কেমন হবে? যে বাণীর অলঙ্কারশাস্ত্রীয় শ্রেষ্ঠত্ব আরব অলঙ্কারবিদদের হার মানিয়েছে এবং যার বাগ্মিতা আদনানি (আরব) বাগ্মীদের নির্বাক করে দিয়েছে। জ্ঞানে অপূর্ণ বা পূর্ণ—সবাই জানে যে, মহান আল্লাহ এই কুরআনকে 'আরবি' হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং এটি আরবদের ভাষায় অবতীর্ণ করেছেন। তিনি এতে কথোপকথনের ক্ষেত্রে তাদেরই রীতি অনুসরণ করেছেন এবং তাদের সম্বোধন শৈলী প্রয়োগ করেছেন। আমরা জানি যে, তাদের একজন বক্তা একই সমাবেশে দাঁড়িয়ে বিভিন্ন বৈচিত্র্যময় শিল্পশৈলী ও ভিন্ন ভিন্ন ধারা অবলম্বন করতেন। এমনকি দুটি ভিন্ন ভিন্ন ক্ষেত্র বা অসংখ্য ভিন্ন ভিন্ন প্রেক্ষাপট তো দূরের কথা, তার সারাজীবনের সমস্ত বক্তব্যের প্রেক্ষাপটও ছিল বৈচিত্র্যপূর্ণ। তাদের কবিদের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। আর এই বিভ্রান্তিকর বিষয়টি সম্পর্কে এই সতর্কবাণীটুকুই যথেষ্ট, যাতে অনেক গবেষক (محقق) হোঁচট খেয়েছেন। আমরা এই আলোচনাটি এখানে এই কারণে উল্লেখ করেছি যে, এখানে মানবজাতির পিতা আদম (আলাইহিস সালাম)-এর আলোচনার পর বনী ইসরাঈলের আলোচনা শুরু হয়েছে। সুতরাং যদি কোনো কষ্টকল্পনাকারী প্রশ্ন করে—পূর্ববর্তী আলোচনার সাথে এর সামঞ্জস্য (مناسبة) কী? তবে আমরা বলব: কোনো সামঞ্জস্য নেই।
সেই লুণ্ঠিত সম্পদের কথা বাদ দাও যার হাহাকার লোকালয়ে ছড়িয়ে পড়েছে, বরং উটের কাফেলার (সফরের) সেই হাদিস শোনাও।" (১)
আমি বলছি: মানুষের কথাকে কি মানুষের স্রষ্টার বাণীর সাথে তুলনা করা যুক্তিসঙ্গত? এই বিষয়টি কি গ্রহণযোগ্য? আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ ওহি এবং জগতের দিকবিদিক ছড়িয়ে পড়া কোনো কবির ছন্দ কি কখনো সমান হতে পারে?
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাওকিফুশ শাওকানী ফী তাফসীরিহী মিনাল মুনাসাবাত
(পৃষ্ঠা: ১১)
هل نقارن كلام البشر الذي لا يخلو من الخلل والقصور مع كلام اللطيف الخبير العليم بذات الصدور؟ هل نسوي بين هذا وذاك؟ والله تعالى يقول عن كتابه الكريم
{كِتَابٌ أُحْكِمَتْ آيَاتُهُ ثُمَّ فُصِّلَتْ مِن لَّدُنْ حَكِيمٍ خَبِيرٍ {1} } [سورة هود]
فهو كتاب محكم في نظمه محكم في مقاصده محكم في بنائه محكم في اتساقه.
وهو كتاب يشبه بعضه بعضا في روعة الأساليب ودقة الألفاظ وسمو المقاصد ووحدة البناء وتناسب الآيات وترابط السور قال تعالى في سورة {اللَّهُ نَزَّلَ أَحْسَنَ الْحَدِيثِ كِتَابًا مُّتَشَابِهًا مَّثَانِيَ تَقْشَعِرُّ مِنْهُ جُلُودُ الَّذِينَ يَخْشَوْنَ رَبَّهُمْ ثُمَّ تَلِينُ جُلُودُهُمْ وَقُلُوبُهُمْ إِلَى ذِكْرِ اللَّهِ ذَلِكَ هُدَى اللَّهِ يَهْدِي بِهِ مَنْ يَشَاء وَمَن يُضْلِلْ اللَّهُ فَمَا لَهُ مِنْ هَادٍ {23} }
هذا رد إجمالي على كلام الإمام الشوكاني رحمه الله، وإن خفاء أوجه المناسبة ليس حجة في إنكارها
وقد قيل
فإذا لم تر الهلال فسلم لأناس رأوه بالأبصار
ومن العجيب أنه مع موقفه المانع للمناسبة كما هو واضح من كلامه نراه في تفسيره قد أورد عديدا من المناسبات لنا معها وقفة إن شاء الله 0
من خلال المبحث اللاحق حيث نقدم ردودا تفصيلية على بعض القضايا المثارة.
المبحث الثاني ردود تفصيلية
المطلب الأول: زعمه أن المناسبات علم بلا فائدةيدعي الإمام الشوكاني أن علم المناسبات علم بلا فائدة، والحق أن لهذا العلم فوائد عديدة وثمرات نافعة عنها نتحدث في هذا المبحث إن شاء الله:
فنقول وبالله التوفيق: من فوائد دراسة هذا العلم:
معرفة وجه من وجوه إعجاز القرآن الكريم:
القرآن الكريم: حجة الله البالغة وآياته المتجددة ومعجزة الرسول الخالدة، معجزة لكل جيل وقبيل، معجزة في كل عصر ومصر، معجزة للبشرية جمعاء في شتى أطوار حياتها بل معجزة أيضا للجن
আমরা কি ত্রুটি ও অপূর্ণতামুক্ত নয় এমন মানুষের বাণীর সাথে সেই পরম দয়ালু, সম্যক অবগত এবং অন্তরের রহস্য পরিজ্ঞাত সত্তার বাণীর তুলনা করব? আমরা কি এই দুইয়ের মাঝে সমতা বিধান করব? অথচ মহান আল্লাহ তাঁর মহিমান্বিত কিতাব সম্পর্কে ইরশাদ করেছেন:
{এটি এমন এক কিতাব যার আয়াতসমূহ সুসংবদ্ধ (محكم) করা হয়েছে, অতঃপর প্রজ্ঞাময় ও সম্যক অবগত সত্তার পক্ষ থেকে তা বিশদভাবে বর্ণনা করা হয়েছে।} [সূরা হুদ]
সুতরাং এটি এমন এক কিতাব যা এর রচনাশৈলীতে সুসংবদ্ধ (محكم), এর লক্ষ্য-উদ্দেশ্যে সুসংবদ্ধ (محكم), এর কাঠামোতে সুসংবদ্ধ (محكم) এবং এর সামঞ্জস্যে সুসংবদ্ধ (محكم)।
আর এটি এমন এক কিতাব যার একাংশ অন্য অংশের সদৃশ—শৈল্পিক উপস্থাপনা, শব্দের সূক্ষ্মতা, সুউচ্চ লক্ষ্য-উদ্দেশ্য, কাঠামোগত ঐক্য, আয়াতসমূহের পারষ্পরিক সামঞ্জস্য (مناسبة) এবং সূরাগুলোর আন্তঃসম্পর্কের দিক থেকে। মহান আল্লাহ বলেছেন:
{আল্লাহ নাযিল করেছেন সর্বোত্তম হাদিস, যা একটি সদৃশ (متشابه) কিতাব, যা বারবার পঠিত হয়; এতে তাদের গাত্রচর্ম শিউরে ওঠে যারা তাদের রবকে ভয় করে, অতঃপর তাদের চামড়া ও অন্তর আল্লাহর স্মরণে কোমল হয়। এটিই আল্লাহর হিদায়াত, এর মাধ্যমে তিনি যাকে ইচ্ছা পথপ্রদর্শন করেন। আর আল্লাহ যাকে পথভ্রষ্ট করেন, তার জন্য কোনো পথপ্রদর্শক নেই।} [সূরা আয-জুমার: ২৩]
এটি ইমাম শাওকানি (রহিমাহুল্লাহ)-এর বক্তব্যের একটি সামগ্রিক উত্তর; আর সামঞ্জস্যের (مناسبة) দিকগুলো অপ্রকাশিত থাকা তা অস্বীকার করার পক্ষে কোনো দলিল হতে পারে না।
যেমনটি বলা হয়েছে:
তুমি যদি নতুন চাঁদ দেখতে না পাও, তবে সেই লোকদের কথা মেনে নাও যারা তা চাক্ষুষ দেখেছে।
আশ্চর্যের বিষয় হলো, সামঞ্জস্য (مناسبة) অস্বীকার করার ব্যাপারে তাঁর অনমনীয় অবস্থান সত্ত্বেও—যেমনটি তাঁর কথা থেকে স্পষ্ট—আমরা তাঁর তাফসিরে অনেক সামঞ্জস্যের (مناسبة) বর্ণনা দেখতে পাই, যা নিয়ে ইনশাআল্লাহ আমরা আলোকপাত করব।
পরবর্তী পরিচ্ছেদের মাধ্যমে, যেখানে আমরা উত্থাপিত কিছু বিষয়ের বিস্তারিত উত্তর প্রদান করব।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: বিস্তারিত উত্তরসমূহ
প্রথম অনুচ্ছেদ: সামঞ্জস্য (مناسبة) সংক্রান্ত জ্ঞানকে নিরর্থক বলে তাঁর দাবিইমাম শাওকানি দাবি করেন যে, সামঞ্জস্য (مناسبة) সংক্রান্ত জ্ঞান একটি নিরর্থক বিদ্যা। তবে সত্য হলো, এই ইলমের বহুবিধ উপকারিতা ও ফলপ্রসূ ফলাফল রয়েছে, যা নিয়ে আমরা এই পরিচ্ছেদে আলোচনা করব ইনশাআল্লাহ:
আমরা আল্লাহর তৌফিক কামনায় বলছি: এই ইলম অধ্যয়নের অন্যতম উপকারিতা হলো:
কুরআনুল কারিমের অলৌকিকত্বের (إعجاز) অন্যতম একটি দিক সম্পর্কে অবগতি লাভ করা:
কুরআনুল কারিম হলো আল্লাহর অকাট্য দলিল, তাঁর চিরনতুন নিদর্শন এবং রাসুলের শাশ্বত মুজিযা (معجزة)। এটি প্রতিটি প্রজন্ম ও সম্প্রদায়ের জন্য মুজিযা (معجزة), প্রতিটি যুগ ও জনপদের জন্য মুজিযা (معجزة), মানবজীবনের প্রতিটি স্তরে সমগ্র মানবজাতির জন্য মুজিযা (معجزة), এমনকি এটি জিন জাতির জন্যও এক মুজিযা (معجزة)।
(খণ্ড: ১)
মাওকিফুশ শাওকানী ফী তাফসীরিহী মিনাল মুনাসাবাত
(পৃষ্ঠা: ১২)
قال تعالى {قُل لَّئِنِ اجْتَمَعَتِ الإِنسُ وَالْجِنُّ عَلَى أَن يَأْتُواْ بِمِثْلِ هَذَا الْقُرْآنِ لَا يَأْتُونَ بِمِثْلِهِ وَلَوْ كَانَ بَعْضُهُمْ لِبَعْضٍ ظَهِيرًا {88} وَلَقَدْ صَرَّفْنَا لِلنَّاسِ فِي هَذَا الْقُرْآنِ مِن كُلِّ مَثَلٍ فَأَبَى أَكْثَرُ النَّاسِ إِلَاّ كُفُورًا {89} }
ومن أبرز وجوه إعجاز القرآن الكريم: إعجازه بحسب تناسب آياته وتناسق وتعانق سوره، فالقرآن الكريم وحدة موضوعية واحدة وآياته وسوره بناء واحد:
كالدر يزداد حسنا وهْوَ منتظم وليس ينقص قدرا غير منتظم
ولقد ذكر السيوطي في كتابه معترك الأقران في إعجاز القرآن من ضمن وجوه الإعجاز [الوجه الرابع من وجوه الإعجاز: مناسبة آياته وسوره وارتباط بعضها ببعض حتى تكون كالكلمة الواحدة متسقة المعاني منتظمة المباني] لكنه كرر في هذا المقام ما سبق وأن ذكره في الإتقان (1)
وقال الإمام الرازي في تفسيره لسورة البقرة: " ومن تأمل في لطائف نظم هذه السورة وفي بدائع ترتيبها علم أن القرآن كما أنه معجز بحسب فصاحة ألفاظه وشرف معانيه فهو أيضا بحسب ترتيبه ونظم آياته ولعل الذين قالوا إنه معجز بحسب أسلوبه أرادوا ذلك إلا أني رأيت جمهور المفسرين معرضين عن هذه اللطائف غير منتبهين لهذه الأسرار وليس الأمر في هذا الباب إلا كما قيل:
والنجم تستصغر الأبصار صورته * والذنب للطرف لا للنجم في الصغر " (2) .
ويقول الباقلاني في كتابه إعجاز القرآن: " والوجه الثالث من وجوه إعجازه: " أنه بديع النظم عجيب التأليف متناه في البلاغة إلى الحد الذي يعلم عجز الخلق عنه. ".
--------------------------------------------
আল্লাহ তাআলা বলেন, {বলুন, যদি এই কুরআনের অনুরূপ আনার জন্য মানুষ ও জিন সমবেত হয়, তবুও তারা এর অনুরূপ আনতে পারবে না, যদিও তারা একে অপরের সাহায্যকারী হয় {৮৮} আর অবশ্যই আমি মানুষের জন্য এই কুরআনে সব ধরনের উদাহরণ বর্ণনা করেছি, কিন্তু অধিকাংশ মানুষ কেবল অস্বীকারই করতে চাইল {৮৯}}
কুরআনুল কারীমের মুজিজার (অলৌকিকত্বের) অন্যতম প্রধান দিক হলো: এর আয়াতসমূহের পারস্পরিক সামঞ্জস্য এবং সূরাসমূহের বিন্যাস ও আন্তঃসম্পর্ক। কেননা কুরআনুল কারীম একটি একক বিষয়ভিত্তিক ইউনিট এবং এর আয়াত ও সূরাসমূহ একটি অভিন্ন কাঠামোর ওপর প্রতিষ্ঠিত:
মুক্তার ন্যায় এর সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায় যখন তা সুশৃঙ্খলভাবে সাজানো থাকে, আর অবিন্যস্ত হলে এর মর্যাদা মোটেও হ্রাস পায় না।
ইমাম সুয়ূতী তাঁর ‘মুয়াতারাকুল আকরান ফি ইজাযিল কুরআন’ গ্রন্থে মুজিজার দিকসমূহের মধ্য হতে উল্লেখ করেছেন [মুজিজার চতুর্থ দিক: এর আয়াত ও সূরাসমূহের পারস্পরিক সামঞ্জস্য এবং একটির সাথে অন্যটির আন্তঃসম্পর্ক, যেন তা অর্থগত সংহতি ও কাঠামোগত বিন্যাসের দিক থেকে একটি একক শব্দের ন্যায় মনে হয়]। তবে তিনি এই স্থানে ইতিপূর্বে ‘আল-ইতকান’ (১) গ্রন্থে যা উল্লেখ করেছিলেন তারই পুনরাবৃত্তি করেছেন।
ইমাম রাযী সূরা আল-বাকারার তাফসীরে বলেন: "যে ব্যক্তি এই সূরার শৈল্পিক বিন্যাস এবং এর চমৎকার বিন্যাসক্রমের সূক্ষ্ম বিষয়গুলো নিয়ে চিন্তা করবে, সে বুঝতে পারবে যে, কুরআন যেমন এর শব্দের প্রাঞ্জলতা এবং অর্থের আভিজাত্যের দিক থেকে অলৌকিক, তেমনি এটি এর বিন্যাস এবং আয়াতগুলোর ধারাবাহিকতার দিক থেকেও অলৌকিক। সম্ভবত যারা বলেছেন যে এটি এর শৈল্পিক শৈলীর কারণে অলৌকিক, তারা এই বিষয়টিই বুঝাতে চেয়েছেন। তবে আমি অধিকাংশ মুফাসসিরকে এই সূক্ষ্ম বিষয়গুলো থেকে বিমুখ এবং এই রহস্যগুলো সম্পর্কে অসতর্ক দেখেছি। আর এ বিষয়ের বিষয়টি ঠিক তেমনই যেমন বলা হয়েছে:
দৃষ্টিশক্তির কাছে নক্ষত্রের আকার ছোট মনে হয়, অথচ এই ক্ষুদ্রতা চোখের দৃষ্টির সীমাবদ্ধতার কারণে, নক্ষত্রের ক্ষুদ্রতার কারণে নয়।" (২) ।
আল-বাকিলানি তাঁর ‘ইজাযুল কুরআন’ গ্রন্থে বলেন: "এর অলৌকিকত্বের তৃতীয় দিক হলো: এটি অপূর্ব বিন্যাস ও বিস্ময়কর সংকলন সমৃদ্ধ এবং এটি অলঙ্কারশাস্ত্রের এমন এক চরম শিখরে পৌঁছেছে যে, সৃষ্টির অক্ষমতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাওকিফুশ শাওকানী ফী তাফসীরিহী মিনাল মুনাসাবাত
(পৃষ্ঠা: ১৩)
ويقول أيضا "
… وقد تأملنا نظم القرآن فوجدنا جميع ما يتصرف فيه من الوجوه (1) التي قدمنا ذكرها على حد واحد في حسن النظم وبديع التأليف والرصف لا تفاوت فيه ولا انحطاط عن المنزلة العليا ولا إسفاف فيه إلى الرتبة الدنيا وكذلك قد تأملنا ما يتصرف إليه وجوه الخطاب من الآيات الطويلة والقصيرة فرأينا الإعجاز في جميعها على حد واحد لا يختلف، وكذلك قد يتفاوت كلام الناس عند إعادة ذكر القصة الواحدة تفاوتا بينا ويختلف اختلافا كبيرا ونظرنا القرآن فيما يعاد ذكره من القصة الواحدة فرأيناه غير مختلف ولا متفاوت " (2)
ويقول أيضا: " فأما نهج القرآن ونظمه وتأليفه ورصفه فإن العقول تتيه في جهته وتحار في بحره وتضل دون وصفه. ونحن نذكر لك في تفصيل هذا ما تستدل به على الغرض وتستولي به على الأمد وتصل به إلى المقصد وتتصور إعجازه كما تتصور الشمس وتتيقن تناهي بلاغته كما تتيقن الفجر وأقرب عليك الغامض وأسهل عليك العسير، واعلم أن هذا علم شريف المحل عظيم المكان قليل الطلاب ضعيف الأصحاب. (3)
--------------------------------------------
ويقول أيضا "
… এবং আমরা কুরআনের শব্দবিন্যাসের প্রতি গভীর নিবেশ করেছি এবং এর যে সকল দিক (১) আমরা পূর্বে উল্লেখ করেছি, তার সবকটিকেই শব্দসৌষ্ঠব এবং রচনার অপূর্ব কারুকার্য ও শৈলীর ক্ষেত্রে একই উচ্চপর্যায়ে পেয়েছি। এর মধ্যে কোনো অসামঞ্জস্য নেই, নেই উচ্চমর্যাদা থেকে কোনো বিচ্যুতি, আর না আছে নিম্নস্তরের দিকে কোনো অধঃপতন। অনুরূপভাবে, আমরা দীর্ঘ ও সংক্ষিপ্ত আয়াতের ক্ষেত্রে সম্বোধনের বিভিন্ন রীতির প্রতি লক্ষ্য করেছি এবং দেখেছি যে, সেগুলোর প্রত্যেকটিতেই অলৌকিকত্ব (ইজায) একই মানে বিদ্যমান, যাতে কোনো তারতম্য নেই। একইভাবে, মানুষের কথাবার্তায় যখন কোনো একটি কাহিনী পুনরুল্লেখ করা হয়, তখন তাতে স্পষ্ট পার্থক্য এবং ব্যাপক ভিন্নতা দেখা দেয়; কিন্তু আমরা কুরআনের ক্ষেত্রে লক্ষ্য করেছি যে, যখন একই কাহিনী পুনরুল্লেখ করা হয়, তখন তা অভিন্ন ও অসামঞ্জস্যহীন প্রতীয়মান হয়।" (২)
তিনি আরও বলেন: "কুরআনের পথ, এর শব্দবিন্যাস, রচনাশৈলী ও গাঁথুনির ব্যাপারে মানুষের বুদ্ধি দিশেহারা হয়ে যায়, এর রহস্যের সাগরে বিভ্রান্ত হয় এবং এর বর্ণনার সঠিক রূপায়ণে পথ হারিয়ে ফেলে। আমরা এর বিস্তারিত বিবরণে আপনার জন্য এমন কিছু উল্লেখ করব যার মাধ্যমে আপনি মূল উদ্দেশ্যের সপক্ষে দলীল গ্রহণ করতে পারবেন, এর চূড়ান্ত সীমা জয় করতে পারবেন এবং গন্তব্যস্থলে উপনীত হতে পারবেন। আপনি এর অলৌকিকত্বকে (ইজায) সূর্যের মতোই স্পষ্টভাবে প্রত্যক্ষ করবেন এবং এর অলঙ্কারশাস্ত্রীয় চরম পরাকাষ্ঠা সম্পর্কে সুবহে সাদিকের মতোই নিশ্চিত হতে পারবেন। আমি আপনার জন্য জটিল বিষয়গুলোকে নিকটবর্তী করব এবং কঠিন বিষয়গুলোকে সহজতর করব। জেনে রাখুন যে, এটি অত্যন্ত মর্যাদাশীল ও উচ্চস্থান সম্পন্ন একটি জ্ঞান (ইলম), যার অন্বেষণকারী সংখ্যায় খুবই নগণ্য এবং এই শাস্ত্রের চর্চাকারীরা দুর্বল (ضعيف)।" (৩)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাওকিফুশ শাওকানী ফী তাফসীরিহী মিনাল মুনাসাবাত
(পৃষ্ঠা: ১৪)
ثم يذكر الباقلاني نماذج عديدة تدل على روعة النظم القرآني نذكر منها ما يلي: " تأمل السورة التي يذكر فيها النمل وانظر فيها كلمة كلمة وفصلا فصلا؛ بدأ بذكر السورة إلى أن بين أن القرآن من عنده فقال تعالى (وإنك لتلقى القرآن من لدن حكيم عليم) ثم وصل بذلك قصة موسى عليه السلام وأنه رأى نارا (فقال لأهله امكثوا إني آنست نارا سآتيكم منها بخبر أو آتيكم بشهاب قبس لعلكم تصطلون) وقال في سورة طه في هذه القصة (لعلي آتيكم منها بقبس أو أجد على النار هدى) وفي موضع (لعلي آتيكم منها بخبر أو جذوة من النار لعلكم تصطلون) قد تصرف في وجوه وأتى بذكر القصة على ضروب ليعلمهم عجزهم عن جميع طرق ذلك ولهذا قال (فليأتوا بحديث مثله) ليكون أبلغ في تعجيزهم وأظهر للحجة عليهم، وكل كلمة من هذه الكلمات وإن أنبأت عن قصة فهي بليغة بنفسها تامة في معناها ثم قال {فلما جاءها نودي أن بورك من في النار ومن حولها وسبحان الله رب العالمين} فانظر إلى ما أجرى له الكلام من علو أمر هذا النداء وعظم شأن هذا الثناء وكيف انتظم مع الكلام الأول وكيف اتصل بتلك المقدمة وكيف وصل بها ما بعدها من الإخبار عن الربوبية وما دل به عليها من قلب العصا حية وجعلها دليلا يدله عليه ومعجزة تهديه إليه، وانظر إلى الكلمات المفردة القائمة بأنفسها في الحسن وفيما تتضمنه من المعاني الشريفة ثم ما شفع به هذه الآية وقرن به هذه الدلالة من اليد البيضاء عن نور البرهان من غير سوء، ثم انظر فيه آية آية وكلمة كلمة هل تجدها كما وصفنا من عجيب النظم وبديع الرصف فكل كلمة لو أفردت كانت في الجمال غاية وفي الدلالة آية فكيف إذا قارنتها أخواتها وضامتها ذواتها مما تجري في الحسن مجراها وتأخذ في معناها، ثم من قصة إلى قصة ومن باب إلى باب من غير خلل يقع في نظم الفصل إلى الفصل وحتى يصور لك الفصل وصلا ببديع التأليف وبليغ التنزيل، وإن أردت أن تتبين ما
অতঃপর আল-বাকিল্লানি এমন অনেকগুলো উদাহরণ উল্লেখ করেছেন যা কুরআনের বাক্যরীতির চমৎকারিত্ব নির্দেশ করে, যার মধ্যে আমরা নিম্নোক্ত বিষয়গুলো উল্লেখ করছি: "তুমি সেই সূরাটি নিয়ে চিন্তা করো যেখানে পিঁপড়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে এবং তাতে শব্দে শব্দে ও অনুচ্ছেদে অনুচ্ছেদে লক্ষ্য করো; তিনি সূরাটি শুরু করেছেন এই বর্ণনার মাধ্যমে যে, কুরআন তাঁর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ, তাই মহান আল্লাহ বলেন (আর অবশ্যই আপনি এই কুরআন লাভ করছেন এক প্রজ্ঞাময়, সর্বজ্ঞ সত্তার নিকট হতে)। অতঃপর তিনি এর সাথে মুসা আলাইহিস সালাম-এর কাহিনী যুক্ত করেছেন এবং এই সংবাদ দিয়েছেন যে তিনি আগুন দেখেছিলেন (তিনি তাঁর পরিবারবর্গকে বললেন: তোমরা অপেক্ষা করো, আমি আগুন দেখেছি; শীঘ্রই আমি সেখান থেকে তোমাদের কাছে কোনো খবর নিয়ে আসব অথবা কোনো উজ্জ্বল মশাল নিয়ে আসব যাতে তোমরা আগুন পোহাতে পারো)। এই কাহিনী প্রসঙ্গে তিনি সূরা ত্বহা-তে বলেছেন (হয়তো আমি তোমাদের জন্য তা থেকে কোনো মশাল নিয়ে আসতে পারব অথবা আগুনের কাছে পথের দিশা পাব)। অন্য এক স্থানে বলেছেন (হয়তো আমি সেখান থেকে তোমাদের জন্য কোনো খবর অথবা আগুনের কোনো জ্বলন্ত অঙ্গার নিয়ে আসব যাতে তোমরা আগুন পোহাতে পারো)। তিনি কাহিনীটিকে বিভিন্ন আঙ্গিকে পরিবর্তন করে নানা বৈচিত্র্যে উপস্থাপন করেছেন যাতে তাদেরকে এর সকল পদ্ধতির ক্ষেত্রে তাদের অক্ষমতা সম্পর্কে অবগত করা যায়। আর একারণেই তিনি বলেছেন (তারা যেন এর মতো একটি হাদিস নিয়ে আসে) যেন এটি তাদেরকে পরাস্ত করার ক্ষেত্রে অধিকতর প্রভাবশালী এবং তাদের বিরুদ্ধে প্রমাণ হিসেবে অধিকতর স্পষ্ট হয়। এই শব্দগুলোর প্রতিটি যদিও একটি কাহিনী সম্পর্কে সংবাদ প্রদান করছে, তবুও তা নিজস্ব মহিমায় অলংকারপূর্ণ এবং এর অর্থে পরিপূর্ণ। অতঃপর তিনি বলেন {অতঃপর যখন তিনি আগুনের কাছে আসলেন, তখন তাকে সম্বোধন করে বলা হলো যে, বরকতময় হোক যা আগুনের মধ্যে আছে এবং যা এর আশেপাশে আছে; আর জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহ অতি পবিত্র}। সুতরাং লক্ষ্য করো এই আহ্বানের সুউচ্চ মর্যাদা এবং এই প্রশংসার মহান শান আল্লাহ কীভাবে বাণীর প্রবহমানতায় ফুটিয়ে তুলেছেন, আর কীভাবে তা প্রথম প্রসঙ্গের সাথে সুবিন্যস্ত হয়েছে এবং সেই উপক্রমণিকার সাথে যুক্ত হয়েছে। আর এর পরবর্তী রুবুবিয়্যাত সংক্রান্ত খবরের সাথে একে কীভাবে মিলিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং লাঠিকে সাপে রূপান্তরিত করার মাধ্যমে আল্লাহ তাঁর রুবুবিয়্যাতের যে প্রমাণ পেশ করেছেন যা তাঁর দিকে পথপ্রদর্শনকারী দলিল এবং অলৌকিক নিদর্শন হিসেবে সাব্যস্ত হয়েছে। সৌন্দর্যের বিচারে এবং এটি যে সকল মহিমান্বিত অর্থ ধারণ করে আছে তার বিচারে প্রতিটি একক শব্দের প্রতি লক্ষ্য করো। অতঃপর তিনি এই আয়াতের অনুগামী হিসেবে রোগমুক্ত উজ্জ্বল হাতের যে নিদর্শনটি যুক্ত করেছেন যা প্রমাণের নূর হিসেবে উদ্ভাসিত। এরপর তুমি তাতে আয়াত প্রতি আয়াত এবং শব্দ প্রতি শব্দ লক্ষ্য করো, তুমি কি তা আমাদের বর্ণিত চমৎকার বাক্যরীতি ও অপূর্ব বিন্যাসশৈলীর ন্যায় পাচ্ছ না? প্রতিটি শব্দকে যদি পৃথক করা হয় তবে সৌন্দর্যের বিচারে তা হবে চরম সার্থকতা এবং ভাবপ্রকাশের ক্ষেত্রে হবে একটি অনুপম নিদর্শন; তাহলে কী চমৎকার হবে যখন তার সমগোত্রীয় ও স্বজাতীয় শব্দগুলো এর সাথে মিলিত হয়, যা সৌন্দর্যের ধারায় সমান্তরালভাবে চলে এবং একই অর্থ গ্রহণ করে। অতঃপর এক কাহিনী থেকে অন্য কাহিনীতে এবং এক বিষয় থেকে অন্য বিষয়ে কোনো প্রকার বিচ্যুতি ছাড়াই এক অনুচ্ছেদ থেকে অন্য অনুচ্ছেদে বিন্যস্ত হয়েছে, এমনকি অপূর্ব রচনাশৈলী ও অলংকারপূর্ণ অবতীর্ণ বাণীর মাধ্যমে প্রতিটি বিচ্ছেদকে সংযোগ হিসেবে তোমার সামনে চিত্রায়িত করা হয়েছে। আর তুমি যদি স্পষ্ট করতে চাও যে...
(খণ্ড: ১)
মাওকিফুশ শাওকানী ফী তাফসীরিহী মিনাল মুনাসাবাত
(পৃষ্ঠা: ১৫)
قلناه فضل تبين وتتحقق بما ادعيناه زيادة تحقق فإن كنت من أهل الصنعة فاعمد إلى قصة من هذه القصص وحديث من هذه الأحاديث فعبر عنه بعبارة من جهتك وأخبر عنه بألفاظ من عندك حتى تري فيما جئت به النقص الظاهر وتتبين في نظم القرآن الدليل الباهر ". (1)
وقال الأستاذ الرافعي (2) في كتابه إعجاز القرآن والبلاغة النبوية: " من أعجب ما اتفق في هذا القرآن من وجوه إعجازه أن معانيه تجري في إحكام النظم مجرى ألفاظه على ما بيناه من أمرها -يعني ما سبق أن ذكره عن جمالها وروعتها وبلاغتها -[إن هذا الإعجاز في معني القرآن وارتباطها أمر لا ريب فيه وهو أبلغ في معناه إذا انتبهت إلى أن السورة لم تنزل على هذا الترتيب فكان الأحرى ان لا تلتئم وأن لا يناسب بعضها بعضا وأن تذهب آياتها في الخلاف كل مذهب، ولكنه روح من أمر الله تفرق معجزا فلما اجتمع اجتمع له إعجاز آخر ليتذكر به أولوا الألباب] (3)
ويقول رحمه الله [وإنك لتحار إذا تأملت تركيب القرآن ونظم كلماته في الوجوه المختلفة التي يتصرف فيها وتقعد بك العبارة إذا أنت حاولت أن تمضي في وصفه حتى لا ترى في اللغة كلها أدل على غرضك وأجمع لما في نفسك وأين لهذه الحقيقة غير كلمة الإعجاز] (4)
ويقول الدكتور محمد عبد الله دراز رحمه الله: " لعمري لئن كان للقرآن في بلاغة تعبيره معجزات وفي أساليب ترتيبه معجزات، وفي نبوءته الصادقة معجزات، وفي كل ما استخدمه من حقائق العلوم النفسية والكونية معجزات، لعمري إنه في ترتيب آياته معجزة المعجزات " (5)
الاستعانة بعلم المناسبات في فهم المعنى:
--------------------------------------------
যা আমরা বলেছি তা অধিকতর স্পষ্ট করা এবং আমরা যা দাবি করেছি তা আরও জোরালোভাবে যাচাই করার জন্য: আপনি যদি এই শিল্পের (বিদ্যা) পারদর্শী হন, তবে এই কাহিনীগুলোর কোনো একটি কাহিনী অথবা এই হাদিসগুলোর কোনো একটি হাদিসের প্রতি মনোনিবেশ করুন; অতঃপর আপনার পক্ষ থেকে কোনো বাচনভঙ্গিতে তা ব্যক্ত করুন এবং আপনার নিজের শব্দে তা প্রকাশ করুন, যাতে আপনি যা উপস্থাপন করেছেন তাতে স্পষ্ট ত্রুটি দেখতে পান এবং কোরআনের শব্দ বিন্যাসে সুষ্পষ্ট প্রমাণ প্রত্যক্ষ করেন। (১)
এবং উস্তাদ আল-রাফেয়ী (২) তাঁর ইজাযুল কোরআন ওয়াল বালাগাতুন নববীয়াহ গ্রন্থে বলেছেন: "এই কোরআনের অলৌকিকত্বের দিকগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয়গুলোর একটি হলো, এর শব্দ বিন্যাসের সুসংহতির ক্ষেত্রে এর অর্থগুলোও তার শব্দের মতোই সাবলীলভাবে অতিবাহিত হয়—যেমনটি আমরা ইতিপূর্বে এর সৌন্দর্য, চমৎকারিত্ব ও অলঙ্কারশাস্ত্রীয় শ্রেষ্ঠত্ব সম্পর্কে বর্ণনা করেছি—[কোরআনের অর্থ ও তার পারস্পরিক সম্পর্কের এই অলৌকিকত্বের বিষয়টি নিঃসন্দেহে অনস্বীকার্য। এর অর্থের গভীরতা আরও স্পষ্টভাবে বোঝা যায় যখন আপনি লক্ষ্য করবেন যে, সূরাগুলো এই (বর্তমান) ক্রমে অবতীর্ণ হয়নি; ফলে স্বাভাবিকভাবেই এর বিন্যাস অসংলগ্ন হওয়ার কথা ছিল, একটির সাথে অন্যটির মিল না থাকার কথা ছিল এবং এর আয়াতগুলো বিভিন্নমুখী বৈসাদৃশ্যে পর্যবসিত হওয়ার সম্ভাবনা ছিল। কিন্তু এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে আসা এক রূহ (ওহী), যা মোজেজা হিসেবে পৃথকভাবে অবতীর্ণ হয়েছে, অতঃপর যখন তা একত্রিত করা হলো, তখন তার জন্য অন্য এক অলৌকিকত্ব সৃষ্টি হলো যাতে জ্ঞানীরা তা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে] (৩)
তিনি (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: [আপনি যদি কোরআনের গঠনশৈলী এবং এর শব্দগুলোর বিভিন্নমুখী বিন্যাস নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করেন তবে আপনি হতবাক হয়ে যাবেন; এবং আপনি যদি এর বর্ণনায় অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করেন তবে ভাষা আপনাকে অক্ষম করে দেবে, এমনকি আপনি সমগ্র ভাষায় আপনার উদ্দেশ্যের জন্য অধিকতর নির্দেশক এবং আপনার মনের ভাব প্রকাশের জন্য অধিকতর সংগতিপূর্ণ কোনো শব্দ পাবেন না। অলৌকিকত্ব শব্দ ছাড়া এই বাস্তবতাকে প্রকাশ করার আর কী-ই বা আছে] (৪)
ডক্টর মুহাম্মদ আবদুল্লাহ দরাজ (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: "আমার জীবনের শপথ! কোরআনের বাচনভঙ্গির অলঙ্কারশাস্ত্রীয় শ্রেষ্ঠত্বের মাঝে যদি মোজেজা থাকে, তার বিন্যাসের পদ্ধতিতে যদি মোজেজা থাকে, তার সত্য ভবিষ্যদ্বাণীতে যদি মোজেজা থাকে এবং তার ব্যবহৃত মনস্তাত্ত্বিক ও মহাজাগতিক বিজ্ঞানের সকল তথ্যে যদি মোজেজা থাকে, তবে আমার জীবনের শপথ—নিশ্চয়ই এর আয়াতসমূহের বিন্যাস হলো মোজেজাসমূহের মধ্যেও এক শ্রেষ্ঠ মোজেজা" (৫)
অর্থ বোঝার ক্ষেত্রে ইলমুল মুনাসাবাত (আয়াতের পারস্পরিক সম্পর্ক বিষয়ক জ্ঞান)-এর সহায়তা গ্রহণ:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাওকিফুশ শাওকানী ফী তাফসীরিহী মিনাল মুনাসাবাত
(পৃষ্ঠা: ১৬)
لا غنى للمفسر عن دراسة هذا العلم والتعمق فيه فمن خلاله يستعين على فهم المعنى أو الترجيح بين الآراء في ضوء السياق، أو إزالة لبس أو إشكال، أو دفع إيهام، أو معرفة الحكمة من إيراد القصص القرآني، أو غير ذلك من الفوائد؛ لذا فلا بد من النظرة الكلية الشاملة والتأمل في مقاصد السورة وتعيين المحور العام الذي تدور حوله، وتقسيم الآيات إلى مقاطع كل مقطع يمثل وحدة موضوعية واحدة مترابطة ومستمسكة ومتناسقة مع سابقها ولاحقها.
يقول الإمام الرازي رحمه الله " علم المناسبات علم عظيم أودع فيه كثير من لطائف القرآن وروائعه وهو أمر معقول إذا عرض على العقول تلقته بالقبول ". (1)
وقال الزركشي: " والذى ينبغى فى كل آية أن يبحث أول كل شىء عن كونها مكملة لما قبلها أو مستقلة ثم المستقلة ما وجه مناسبتها لما قبلها ففى ذلك علم جم وهكذا فى السور يطلب وجه اتصالها بما قبلها وما سيقت له " (2)
الوقوف على سمة خاصة من سمات القرآن الكريم:
كما تفرد القرآن الكريم بنزوله منجما - حسب الحوادث والنوازل - على غير ما هو معهود في الكتب السابقة التي نزلت جملة واحدة: فلقد تميز القرآن المجيد بهذا النظم الفريد، وهذا السبك النضيد، وهذا التصريف العجيب، وهذا التنوع في الأساليب، والثراء في الأداء، والانتقال من موضوع إلى موضوع ومن حكمة إلى حكمة ومن قصة إلى قصة ومن مثل إلى مثل، دون أن يؤدي ذلك إلى اضطراب أو خلل، أوسآمة أو ملل، أو تناقض أو اختلاف، بل تناسق وائتلاف، مراعاة لطبيعة النفوس وتيسيرا على القراء وتبصرة وتذكرة للألباء.
--------------------------------------------
একজন মুফাসসিরের জন্য এই শাস্ত্রের অধ্যয়ন এবং এতে গভীর জ্ঞান অর্জন করা অপরিহার্য। এর মাধ্যমেই তিনি প্রসঙ্গের আলোকে অর্থ অনুধাবন করতে বা বিভিন্ন মতামতের মধ্যে কোনোটিকে প্রাধান্য (ترجيح) দিতে সক্ষম হন, অথবা কোনো অস্পষ্টতা বা জটিলতা নিরসন করেন, কিংবা কোনো বিভ্রান্তি দূর করেন, অথবা কুরআনের কাহিনীগুলো উপস্থাপনের হিকমত জানতে পারেন, কিংবা এ জাতীয় অন্যান্য বহুবিধ উপকার লাভ করেন। তাই একটি সামগ্রিক ও সর্বজনীন দৃষ্টিভঙ্গি রাখা এবং সূরার লক্ষ্য-উদ্দেশ্যসমূহ নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করা অপরিহার্য। সেইসাথে সূরাটি যে কেন্দ্রীয় অক্ষ বা মূল বিষয়কে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয় তা নির্ধারণ করা এবং আয়াতগুলোকে বিভিন্ন অনুচ্ছেদে বিভক্ত করা আবশ্যক, যেখানে প্রতিটি অনুচ্ছেদ একটি করে সুসংহত, সুদৃঢ় এবং তার পূর্ববর্তী ও পরবর্তী অংশের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ বিষয়ভিত্তিক একক (وحدة موضوعية) হিসেবে উপস্থাপিত হবে।
ইমাম রাযী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, "আয়াত ও সূরার পারষ্পরিক সম্পর্ক বিষয়ক জ্ঞান (علم المناسبات) একটি মহান শাস্ত্র, যার মধ্যে কুরআনের অনেক সূক্ষ্ম ও চমৎকার রহস্য নিহিত রয়েছে। এটি একটি বুদ্ধিদীপ্ত বিষয়; যখন তা বিবেকবানদের কাছে পেশ করা হয়, তখন তারা তা সাদরে গ্রহণ করে নেয়।" (১)
যারকাশী বলেন: "প্রত্যেকটি আয়াতের ক্ষেত্রে যা করা উচিত তা হলো—সবার আগে এটি অনুসন্ধান করা যে, আয়াতটি কি তার পূর্ববর্তী আয়াতের পরিপূরক নাকি এটি একটি স্বতন্ত্র আয়াত। এরপর যদি স্বতন্ত্র হয়, তবে পূর্বের আয়াতের সাথে এর সম্পর্কের যৌক্তিকতা কী? এর মধ্যেই নিহিত রয়েছে বিশাল জ্ঞান। অনুরূপভাবে সূরাগুলোর ক্ষেত্রেও তার পূর্ববর্তী সূরার সাথে সম্পর্কের ধরন এবং এটি কী উদ্দেশ্যে বর্ণিত হয়েছে তা অনুসন্ধান করতে হবে।" (২)
কুরআনুল কারীমের অন্যতম বিশেষ একটি বৈশিষ্ট্যের স্বরূপ উপলব্ধি করা:
পূর্ববর্তী কিতাবসমূহ যেমন একবারে অবতীর্ণ হয়েছিল, তার বিপরীতে কুরআনুল কারীম যেমন বিভিন্ন ঘটনা ও পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে পর্যায়ক্রমে (منجما) অবতীর্ণ হওয়ার মাধ্যমে অনন্য বৈশিষ্ট্য লাভ করেছে, তেমনি এই মহান কুরআন তার অভূতপূর্ব বিন্যাস, সুনিপুণ গাঁথুনি, বিস্ময়কর বর্ণনাভঙ্গি, বিচিত্র শৈলী এবং উপস্থাপনার ঐশ্বর্যের দ্বারাও বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত হয়েছে। এক বিষয় থেকে অন্য বিষয়ে, এক হিকমত থেকে অন্য হিকমতে, এক কাহিনী থেকে অন্য কাহিনীতে এবং এক দৃষ্টান্ত থেকে অন্য দৃষ্টান্তে এমনভাবে বিচরণ করা হয়েছে যে, তাতে কোনো প্রকার বিশৃঙ্খলা, ত্রুটি, একঘেয়েমি, বিরক্তি, বৈপরীত্য বা অসঙ্গতি সৃষ্টি হয়নি। বরং মানুষের স্বভাবজাত প্রকৃতির প্রতি লক্ষ্য রেখে পাঠকদের জন্য সহজীকরণ এবং প্রজ্ঞাবানদের জন্য অন্তর্দৃষ্টি ও উপদেশ হিসেবে এতে চমৎকার ভারসাম্য ও সুসমন্বয় বজায় রাখা হয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাওকিফুশ শাওকানী ফী তাফসীরিহী মিনাল মুনাসাবাত
(পৃষ্ঠা: ১৭)
مائدة عامرة زاخرة، وحدائق ذات بهجة، ناضرة مزهرة، غناء مثمرة، تسر العيون الناظرة، قد تشابكت أغصانها وتعانقت أزهارها وتآلفت أطيارها وتشابهت ثمارها، وامتزجت جداولها وانتظمت دررها واتسقت جواهرها في عقد نظيم:
كالدر يزداد حسنا وهو منتظم..... وليس ينقص قدرا غير منتظم
قال تعالى في سورة الإسراء {وَلَقَدْ صَرَّفْنَا فِي هَذَا الْقُرْآنِ لِيَذَّكَّرُواْ وَمَا يَزِيدُهُمْ إِلَاّ نُفُورًا {41} } وقال تعالى في سورة طه {وَكَذَلِكَ أَنزَلْنَاهُ قُرْآنًا عَرَبِيًّا وَصَرَّفْنَا فِيهِ مِنَ الْوَعِيدِ لَعَلَّهُمْ يَتَّقُونَ أَوْ يُحْدِثُ لَهُمْ ذِكْرًا {113} } وقال سبحانه في سورة الفرقان مبينا الحكمة من نزول القرآن منجما {وَقَالَ الَّذِينَ كَفَرُوا لَوْلَا نُزِّلَ عَلَيْهِ الْقُرْآنُ جُمْلَةً وَاحِدَةً كَذَلِكَ لِنُثَبِّتَ بِهِ فُؤَادَكَ وَرَتَّلْنَاهُ تَرْتِيلا {32} }
فمجيء القرآن منجما على مدار ثلاث وعشرين سنة حسب ما تقتضيه الحوادث والنوازل وما يتناسب مع الظروف والأحوال وما يتواكب مع المراحل التي مرت بها الدعوة ثم ترتيبه حسب ما هو موجود في اللوح المحفوظ بهذه الحكمة والروعة: سمة من سمات هذا القرآن،وخاصية من خصائصه التي تفرد بها عن الكتب السابقة التي نزلت جملة
…
একটি পরিপূর্ণ ও প্রাচুর্যময় দস্তরখান, এবং এক আনন্দময় উদ্যান; যা সজীব ও প্রস্ফুটিত, সমৃদ্ধ ও ফলপ্রসূ, যা দর্শকদের নয়ন জুড়িয়ে দেয়। এর ডালপালাগুলো একে অপরের সাথে জড়িয়ে আছে, ফুলগুলো আলিঙ্গন করছে, পাখিরা মিলেমিশে আছে এবং এর ফলগুলো সদৃশ। এর ঝরনাধারাগুলো মিশে গেছে, এর মুক্তোগুলো বিন্যস্ত হয়েছে এবং এর জহরতগুলো একটি সুশৃঙ্খল হারে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়েছে:
মুক্তোর মতো, যা বিন্যস্ত থাকলে তার সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায়... আর অবিন্যস্ত থাকলেও তার মূল্য কমে যায় না।
আল্লাহ তাআলা সূরা আল-ইসরা-তে ইরশাদ করেছেন, {আমি এই কুরআনে নানাবিধ বিষয় বর্ণনা করেছি যাতে তারা উপদেশ গ্রহণ করে, কিন্তু এটি তাদের কেবল বিমুখতাই বৃদ্ধি করে। ৪১} এবং আল্লাহ তাআলা সূরা ত্ব-হায় ইরশাদ করেছেন, {এভাবেই আমি একে আরবী ভাষায় কুরআন হিসেবে নাযিল করেছি এবং এতে নানাভাবে সতর্কবাণী বর্ণনা করেছি, যাতে তারা তাকওয়া অবলম্বন করে অথবা এটি তাদের মাঝে চেতনার উদ্রেক করে। ১১৩} এবং আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা সূরা আল-ফুরকানে কুরআন ধারাবাহিকভাবে (منجما) নাযিল হওয়ার হিকমত বর্ণনা করে ইরশাদ করেছেন, {কাফিররা বলে, "কেন কুরআন তার কাছে একবারে (جملة واحدة) নাযিল করা হলো না?" আমি এভাবে নাযিল করেছি তোমার হৃদয়কে এর মাধ্যমে মজবুত করার জন্য এবং আমি একে স্পষ্টভাবে ক্রমে ক্রমে পাঠ করেছি। ৩২}
সুতরাং তেইশ বছর সময়কাল ধরে বিভিন্ন ঘটনা ও পরিস্থিতির চাহিদা অনুযায়ী, পারিপার্শ্বিক অবস্থা ও প্রেক্ষিতের সাথে সামঞ্জস্য রেখে এবং দাওয়াতের বিভিন্ন পর্যায়ের সাথে তাল মিলিয়ে কুরআনের ধারাবাহিকভাবে (منجما) অবতীর্ণ হওয়া, অতঃপর লাওহে মাহফুজে বিদ্যমান বিন্যাস অনুযায়ী এই হিকমত ও চমৎকারিত্বের সাথে সুবিন্যস্ত হওয়া—এই কুরআনের অন্যতম একটি বৈশিষ্ট্য এবং এমন এক অনন্য বৈশিষ্ট্য যা একে পূর্ববর্তী আসমানী কিতাবসমূহ থেকে পৃথক করেছে, যেগুলো একযোগে (جملة واحدة) অবতীর্ণ হয়েছিল
…
(খণ্ড: ১)
মাওকিফুশ শাওকানী ফী তাফসীরিহী মিনাল মুনাসাবাত
(পৃষ্ঠা: ১৮)
ومع تنوع موضوعات السورة الواحدة حيث الأحكام والعقيدة والقصص والأمثال والوعد والوعيد إلا أننا نجدها مجتمعة في سياق واحد متناسبة متناسقة تصب كلها في هدف واحد وتدور كلها حول محور واحد وينظمها عقد واحد، ويربطها رابط واحد فلا تناقض ولا اضطراب ولا تفكك ولا تنافر بين الموضوعات، فهذا الترتيب متوافق مع الهدف العام للقرآن وهو التذكير المتجدد مصداقا لقوله عز وجل {وَكَذَلِكَ أَنزَلْنَاهُ قُرْآنًا عَرَبِيًّا وَصَرَّفْنَا فِيهِ مِنَ الْوَعِيدِ لَعَلَّهُمْ يَتَّقُونَ أَوْ يُحْدِثُ لَهُمْ ذِكْرًا {113} } سورة طه
একটি সূরার আলোচ্য বিষয়সমূহ যেমন বিধান (أحكام), আকীদা (عقيدة), কাহিনী, দৃষ্টান্ত এবং পুরস্কারের প্রতিশ্রুতি ও শাস্তির হুঁশিয়ারি ইত্যাদি বৈচিত্র্যপূর্ণ হওয়া সত্ত্বেও আমরা সেগুলোকে একটি একক প্রেক্ষাপটে সুসংহত ও সুসামঞ্জস্যপূর্ণ অবস্থায় দেখতে পাই। এগুলো সবই একটি অভিন্ন লক্ষ্যের দিকে ধাবিত হয়, একটি মূল অক্ষকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয় এবং একটি একক সূত্রে ও বন্ধনে আবদ্ধ। ফলে এর বিষয়বস্তুগুলোর মধ্যে কোনো বৈপরীত্য, অসংগতি (اضطراب), বিচ্ছিন্নতা বা অসামঞ্জস্য নেই। এই বিন্যাস কুরআনের সাধারণ উদ্দেশ্যের সাথে সংগতিপূর্ণ, আর তা হলো ক্রমাগত উপদেশ দান; যা মহান আল্লাহর এই বাণীর সত্যতা প্রমাণ করে: "আর এভাবেই আমি একে আরবী ভাষায় কুরআন হিসেবে অবতীর্ণ করেছি এবং এতে বিভিন্নভাবে শাস্তির হুঁশিয়ারি ব্যক্ত করেছি, যাতে তারা আল্লাহভীতি অবলম্বন করে অথবা এটি তাদের হৃদয়ে নতুন চেতনার উদ্রেক করে।" (সূরা ত্বা-হা: ১১৩)
(খণ্ড: ১)
মাওকিফুশ শাওকানী ফী তাফসীরিহী মিনাল মুনাসাবাত
(পৃষ্ঠা: ১৯)
وعن ذلك يقول صاحب مناهل العرفان مبينا خاصية من خواص القرآن وهي: " جودة سبكه وإحكام سرده: ومعنى هذا أن القرآن بلغ من ترابط أجزائه وتماسك كلماته وجمله وآياته وسوره مبلغا لا يداينه فيه أي كلام آخر مع طول نفسه وتنوع مقاصده وافتنانه وتلوينه في الموضوع الواحد وآية ذلك أنك إذا تأملت في القرآن الكريم وجدت منه جسما كاملا تربط الأعصاب والجلود والأغشية بين أجزائه، ولمحت فيه روحا عاما يبعث الحياة والحس على تشابك وتساند بين أعضائه فإذا هو وحدة متماسكة متآلفة على حين أنه كثرة متنوعة متخالفة فبين كلمات الجملة الواحدة من التناسق ما جعلها رائعة التجانس والتجاذب وبين جمل السورة الواحدة من التشابك والترابط ما جعلها وحدة صغيرة متآخذة الأجزاء متعانقة الآيات وبين سور القرآن من التناسب ما جعله كتابا حسن السمت قرءانا عربيا غير ذي عوج فكأنما هو سبيكة واحدة تأخذ بالأبصار على حين أنها مؤلفة من حلقات لكل حلقة منها وحدة مستقلة في نفسها ذات أجزاء ولكل جزء موضع خاص من الحلقة ولكل حلقة وضع خاص من السبيكة لكن على وجه من جودة السبك وإحكام السرد جعل من هذه الأجزاء المنتشرة المتفرقة وحدة بديعة متآلفة تريك كمال الانسجام بين كل جزء وجزء ثم بين كل حلقة وحلقة ثم بين أوائل السبيكة وأواخرها وأواسطها، يعرف هذا الإحكام والترابط في القرآن كل من ألقى باله إلى التناسب الشائع فيه من غير تفكك ولا تخاذل ولا انحلال ولا تنافر بينما الموضوعات مختلفة متنوعة فمن تشريع إلى قصص إلى جدل إلى وصف إلى غير ذلك. " (1)
الرد على شبهات أثارها أعداء الإسلام حول الوحدة الموضوعية للقرآن؛
--------------------------------------------
এবং এ প্রসঙ্গে মানাহিলুল ইরফান-এর গ্রন্থকার কুরআনের একটি বৈশিষ্ট্যের বর্ণনা দিয়ে বলেন: "এর শৈল্পিক গাঁথুনির চমৎকারিত্ব এবং বর্ণনার সুদৃঢ়তা: এর অর্থ হলো কুরআন তার অংশসমূহের পারষ্পরিক সংযোগ এবং এর শব্দ, বাক্য, আয়াত ও সূরাসমূহের সুসংহতির এমন এক সুউচ্চ শিখরে পৌঁছেছে যে, দীর্ঘ কলেবর হওয়া সত্ত্বেও অন্য কোনো বাণীই এর সমকক্ষ হতে পারে না; যদিও এর উদ্দেশ্যসমূহ বৈচিত্র্যময় এবং একই বিষয়ে এর উপস্থাপনা ভিন্ন ভিন্ন ভঙ্গি ও রঙের হয়ে থাকে। এর নিদর্শন হলো, আপনি যদি পবিত্র কুরআনে গভীরভাবে মনোনিবেশ করেন, তবে একে একটি পূর্ণাঙ্গ দেহের ন্যায় পাবেন যেখানে স্নায়ু, ত্বক ও ঝিল্লি এর প্রতিটি অংশকে যুক্ত করে রেখেছে। আপনি এতে এমন এক সাধারণ প্রাণের উপস্থিতি অনুভব করবেন যা এর প্রতিটি অঙ্গপ্রত্যঙ্গের মাঝে জীবন ও অনুভূতির সঞ্চার করে সেগুলোকে একে অপরের সাথে গেঁথে ও জুড়ে দেয়। ফলে এটি একইসাথে বহুমুখী ও বিচিত্র হওয়া সত্ত্বেও একটি সুসংহত ও সুশৃঙ্খল এককে পরিণত হয়। একটি বাক্যের শব্দসমূহের মাঝে এমন সমন্বয় রয়েছে যা সেগুলোকে চমৎকারভাবে সজাতীয় ও আকর্ষণীয় করে তুলেছে। আবার একটি সূরার বাক্যসমূহের মাঝে এমন বিন্যাস ও যোগসূত্র রয়েছে যা একে একটি ক্ষুদ্র সংহতিতে পরিণত করেছে, যার অংশগুলো পরস্পর সম্পর্কযুক্ত এবং আয়াতসমূহ একে অপরের সাথে আলিঙ্গনরত। কুরআনের সূরাগুলোর মধ্যকার এই সামঞ্জস্য একে একটি সুশোভন কিতাবে এবং বক্রতাহীন এক আরবি কুরআনে পরিণত করেছে। এটি যেন একটি একক ঢালাইকৃত ধাতব পিণ্ড যা দৃষ্টি কেড়ে নেয়, অথচ এটি কতগুলো বলয়ের সমন্বয়ে গঠিত। প্রতিটি বলয়ের নিজস্ব স্বতন্ত্র সত্তা ও অংশ রয়েছে এবং বলয়ের প্রতিটি অংশের নির্দিষ্ট স্থান রয়েছে। আবার প্রতিটি বলয়ের রয়েছে পুরো পিণ্ডটিতে একটি বিশেষ অবস্থান। কিন্তু এর গাঁথুনির শ্রেষ্ঠত্ব এবং বর্ণনার পারিপাট্য এই ছড়িয়ে থাকা বিচ্ছিন্ন অংশগুলোকে এমন এক অপূর্ব ও সুশৃঙ্খল এককে রূপান্তর করেছে, যা প্রতিটি অংশের সাথে অন্য অংশের, প্রতিটি বলয়ের সাথে অন্য বলয়ের এবং পুরো সংকলনের শুরু, শেষ ও মধ্যভাগের মাঝে এক পূর্ণাঙ্গ সামঞ্জস্য ফুটিয়ে তোলে। কুরআনের এই সুদৃঢ়তা ও সংযোগ সম্পর্কে সেই ব্যক্তিই অবগত হতে পারেন যিনি এর মধ্যে বিদ্যমান সেই ব্যাপক সামঞ্জস্যের প্রতি দৃষ্টিপাত করেন, যেখানে কোনো বিচ্ছিন্নতা, দুর্বলতা, শিথিলতা বা অসঙ্গতি নেই—যদিও এর বিষয়বস্তুগুলো ভিন্ন ভিন্ন ও বৈচিত্র্যময়, যেমন: শরয়ি বিধান থেকে শুরু করে কাহিনী বর্ণনা, বিতর্ক, বিবরণ ইত্যাদি।" (১)
কুরআনের বিষয়ভিত্তিক ঐক্যের বিষয়ে ইসলামের শত্রুদের উত্থাপিত সংশয়সমূহের খণ্ডন;
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাওকিফুশ শাওকানী ফী তাফসীরিহী মিনাল মুনাসাবাত
(পৃষ্ঠা: ২০)
فلقد طعن كثير من المستشرقين والمنصّرين في الوحدة، وزعموا أن آيات القرآن لا يجمعها سياق وليس بينها وفاق، وأوصوا بإعادة ترتيب القرآن وفق أسباب نزوله تيسيرا للقارئ وإعانة له على فهم المعنى –على حسب زعمهم الباطل وفهمهم السقيم –
يقول المستشرق الفرنسي بلاشير (1) : " إن إعادة ترتيب السور الذي اقترحه [نولدكه] (2) ينال هنا كامل الأهمية لأنه يلقي على المصحف أضواء مطمئنة ويرد وضع النصوص إلى آفاق سهلة الإدراك لكونها مقرونة إلى السياق التاريخي المعقول [يعني وفق نزولها] 0 "
ويقول بلاشير أيضا: " ويتوصل القارئ الغربي إذ ذاك بمنطق لا تكلف فيه إلى الاقتناع بأن الحياة قد أعيدت للصحف فما عاد يظهر على شكل متتابع مصطنع وغير منتظم للنصوص بل على شكل سلسلة من الموضوعات عالجها محمد خلال عشرين عاما وفقا لمقتضيات دعوته 0" ثم يقول في الموضوع نفسه " والمهم منذ تلك اللحظة أن يقبل قارئ القرآن بالانقياد وتدل التجربة فيما يبدو أن التقيد بالمراحل الزمنية للترتيب الذي اقترحه نولدكه وأخذ به بعض المترجمين يجعل قراءة المصحف سهلة بل ممتعة " (3)
--------------------------------------------
অনেক প্রাচ্যবিদ ও মিশনারি কুরআনের ঐক্যের ওপর আঘাত হেনেছেন এবং তারা দাবি করেছেন যে, কুরআনের আয়াতসমূহ কোনো প্রসঙ্গ বা যোগসূত্র (سياق) দ্বারা গাঁথা নয় এবং সেগুলোর মধ্যে কোনো সামঞ্জস্য নেই। তারা পাঠকদের জন্য সহজসাধ্য করার এবং অর্থ অনুধাবনে সহায়তা করার উদ্দেশ্যে—তাদের ভ্রান্ত দাবি ও ত্রুটিপূর্ণ চিন্তা অনুযায়ী—কুরআনকে অবতীর্ণ হওয়ার প্রেক্ষাপট (أسباب النزول) অনুযায়ী পুনর্বিন্যাস করার সুপারিশ করেছেন।
ফরাসি প্রাচ্যবিদ ব্লাশিয়ার (১) বলেন: "[নলডেকে] (২) সূরাসমূহের যে পুনর্বিন্যাসের প্রস্তাব করেছেন, তা এখানে অত্যন্ত গুরুত্বের দাবি রাখে; কারণ এটি মাসহাফের ওপর এক স্বস্তিদায়ক আলোকপাত করে এবং মূল পাঠের (نصوص) বিন্যাসকে সহজবোধ্য দিগন্তে ফিরিয়ে আনে, যেহেতু তা যৌক্তিক ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটের [অর্থাৎ এর অবতীর্ণ হওয়ার ক্রম অনুযায়ী] সাথে সম্পর্কিত।"
ব্লাশিয়ার আরও বলেন: "এর ফলে পশ্চিমা পাঠক কোনো কৃত্রিমতা ছাড়াই এই যুক্তিতে আশ্বস্ত হন যে, পাণ্ডুলিপিগুলোতে (صحف) প্রাণ সঞ্চার করা হয়েছে। তখন এটি আর মূল পাঠের (نصوص) কোনো কৃত্রিম ও অনিয়মিত ধারাবাহিকতা হিসেবে প্রকাশ পায় না, বরং তা বিষয়ের একটি পর্যায়ক্রম হিসেবে প্রতিভাত হয় যা মুহাম্মদ তাঁর দাওয়াতের প্রয়োজনীয়তা অনুযায়ী বিশ বছর ধরে বর্ণনা করেছেন।" এরপর তিনি একই বিষয়ে বলেন, "সেই মুহূর্ত থেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো কুরআনের পাঠক যেন সেই বিন্যাস মেনে নেয়। বাহ্যত অভিজ্ঞতায় দেখা যায় যে, নলডেকে প্রস্তাবিত কালানুক্রমিক পর্যায়গুলোর অনুসরণ এবং যা কিছু অনুবাদক গ্রহণ করেছেন, তা মাসহাফ পাঠ করাকে সহজ এমনকি আনন্দদায়ক করে তোলে।" (৩)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাওকিফুশ শাওকানী ফী তাফসীরিহী মিনাল মুনাসাবাত
(পৃষ্ঠা: ২১)
وما ذهب إليه بلاشير ومن قبله نولدكه أغرب إليه المستشرق اليهودي جولدزيهر في كتابه مذاهب التفسير الإسلامي، حيث يقول: " إن القرآن في جميع الشوط القديم للتاريخ الإسلامي لم يحرز الميل إلى التوحيد العقدي للنص إلا انتصارات طفيفة " (1)
وهكذا توطأ أعداء الإسلام وتواصوا على هذه المزاعم الباطلة التي تدل على قصور فهمهم وسطحية دراستهم أو تنبيء عن سوء النوايا وخبث الطوايا.
{أَتَوَاصَوْا بِهِ بَلْ هُمْ قَوْمٌ طَاغُونَ {53} فَتَوَلَّ عَنْهُمْ فَمَا أَنتَ بِمَلُومٍ {54} وَذَكِّرْ فَإِنَّ الذِّكْرَى تَنفَعُ الْمُؤْمِنِينَ {55} } سورة الذاريات 0
{أَمْ تَأْمُرُهُمْ أَحْلَامُهُم بِهَذَا أَمْ هُمْ قَوْمٌ طَاغُونَ {32} أَمْ يَقُولُونَ تَقَوَّلَهُ بَل لا يُؤْمِنُونَ {33} فَلْيَأْتُوا بِحَدِيثٍ مِّثْلِهِ إِن كَانُوا صَادِقِينَ} {34} سورة الطور
--------------------------------------------
ব্লাশিয়ার এবং তার পূর্বে নোলডেক যে মত পোষণ করেছেন, ইহুদি প্রাচ্যবিদ গোল্ডজিহার তার 'মাজাহিব আত-তাফসির আল-ইসলামি' গ্রন্থে সেটিকে আরও চরম পর্যায়ে নিয়ে গেছেন; যেখানে তিনি বলেন: "ইসলামি ইতিহাসের সম্পূর্ণ প্রাচীন পর্যায় জুড়ে কুরআন পাঠের (টেক্সট) আকিদাগত ঐক্যের ক্ষেত্রে সামান্য কিছু বিজয় ব্যতীত আর তেমন কিছু অর্জন করতে পারেনি।" (১)
এভাবেই ইসলামের শত্রুরা ঐক্যবদ্ধ হয়েছে এবং এই বাতিল (باطل) দাবিগুলোর ব্যাপারে একে অপরকে প্ররোচিত করেছে, যা তাদের বুঝের সীমাবদ্ধতা ও গবেষণার অগভীরতাকে প্রমাণ করে অথবা তাদের অসৎ উদ্দেশ্য ও অন্তরের কলুষতার সংবাদ দেয়।
{তারা কি একে অপরকে এরই উপদেশ দিয়ে গেছে? বরং তারা এক সীমালঙ্ঘনকারী জাতি। {৫৩} অতএব আপনি তাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিন, এতে আপনি তিরস্কৃত হবেন না। {৫৪} আর আপনি উপদেশ দিতে থাকুন, কারণ উপদেশ মুমিনদের উপকারে আসে। {৫৫}} সূরা আয-যারিয়াত।
{তাদের বুদ্ধি কি তাদের একথারই নির্দেশ দেয়, না কি তারা এক সীমালঙ্ঘনকারী জাতি? {৩২} না কি তারা বলে যে, সে এটি নিজে বানিয়ে নিয়েছে? বরং তারা বিশ্বাস স্থাপন করে না। {৩৩} অতএব তারা যদি সত্যবাদী হয়ে থাকে, তবে এর অনুরূপ একটি হাদিস নিয়ে আসুক। {৩৪}} সূরা আত-তুর।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাওকিফুশ শাওকানী ফী তাফসীরিহী মিনাল মুনাসাবাত
(পৃষ্ঠা: ২২)
من هنا ندرك مدى أهمية دراسة الوحدة الموضوعية التي تجيب عن كثير من التساؤلات وتفند العديد من الشبهات، ولقد فطن إلى ذلك واحد من أهم المهتمين بهذا الجانب وهو الشيخ سعيد حوى رحمه الله يقول في مقدمة كتابه الأساس في التفسير - ذلك الكتاب الذي يشتمل على نظرية متكاملة في الوحدة الموضوعية للقرآن الكريم يقول مبينا سر اهتمامه بهذا الموضوع -: " ولقد سئلت أكثر من مرة من بعض من عرضت عليهم وجهة نظري في فهمي للصلة بين الآيات والسور عن فائدة هذا الموضوع وكنت أجيبه بأن هذا الموضوع فيه رد على شبهة أعداء الإسلام الذين زعموا أن هذا القرآن لا يجمع آياته في السورة الواحدة جامع ولا يربط بين سوره رابط، وذلك لا يليق بكلام البشر فكيف بكلام رب العالمين، إنها لشبهة فظيعة جدا أن يحاول محاول إشعار مسلم بأن كتاب الله ينزل عن كتاب البشر في هذا الشأن، وقد استطعت بحمد الله أن أبرهن على أن كمال القرآن في وحدة آياته في السورة الواحدة وكماله في الوحدة الجامعة التي تجمع ما بين سوره وآياته على طريقة لم يعرف لها العالم مثيلا، ولا تخطر على قلب بشر (1) ، لقد استطعت بهذا أن أرد السهم إلى كبد راميه من أعداء الله في هذه النقطة بالذات " (2)
أقول وهذه حكمة من حكم العليم الخبير أن يقيض من أعداء الدين من يخدم الإسلام من حيث لا يشعرون، فإن إثارة أعداء الإسلام لهذه الشبهة الباطلة دفع الكثير من الغيورين إلى دراسة هذا الموضوع بتعمق. (3)
--------------------------------------------
এখান থেকেই আমরা বিষয়ভিত্তিক ঐক্য (الوحدة الموضوعية) অধ্যয়নের গুরুত্ব অনুধাবন করতে পারি, যা অনেক প্রশ্নের উত্তর দেয় এবং বহু সংশয় (الشبهات) খণ্ডন করে। এই দিকটির প্রতি অত্যন্ত গুরুত্বারোপকারী ব্যক্তিত্বদের অন্যতম শেখ সাঈদ হাওয়া (রহ.) এটি উপলব্ধি করেছিলেন। তিনি তাঁর ‘আল-আসাস ফিত তাফসির’ গ্রন্থের ভূমিকায় বলেছেন—যেই গ্রন্থটি পবিত্র কুরআনের বিষয়ভিত্তিক ঐক্যের (الوحدة الموضوعية) একটি পূর্ণাঙ্গ তত্ত্ব ধারণ করে—তিনি এই বিষয়ের প্রতি তাঁর আগ্রহের রহস্য বর্ণনা করে বলেন: “যাঁদের কাছে আমি আয়াত (الآيات) ও সূরাগুলোর (السور) মধ্যকার সম্পর্কের ব্যাপারে আমার দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছি, তাঁদের কেউ কেউ আমাকে একাধিকবার এই বিষয়ের উপকারিতা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছেন। আমি তাঁদের উত্তর দিতাম যে, এই বিষয়টি ইসলামের শত্রুদের সেই সংশয়ের (شبهة) দাঁতভাঙা জবাব, যারা দাবি করে যে এই কুরআনের একই সূরার আয়াতগুলোর (الآيات) মধ্যে কোনো যোগসূত্র নেই এবং এর সূরাগুলোর (السور) মাঝেও কোনো বন্ধন নেই। এটি তো সাধারণ মানুষের কথার জন্যও শোভনীয় নয়, তাহলে রব্বুল আলামীনের বাণীর ক্ষেত্রে তা কীভাবে সম্ভব! এটি অত্যন্ত ভয়াবহ একটি সংশয় (شبهة) যে, কেউ একজন মুসলিমকে এমন ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করবে যে আল্লাহর কিতাব এই ক্ষেত্রে মানুষের কিতাবের চেয়েও নিম্নমানের। আল্লাহর প্রশংসায় আমি এটি প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছি যে, কুরআনের পূর্ণতা নিহিত রয়েছে একক সূরার আয়াতসমূহের (الآيات) ঐক্যের মধ্যে এবং এর সামগ্রিক ঐক্যের পূর্ণতার মধ্যে, যা সূরা ও আয়াতগুলোর (الآيات) মাঝে এমন এক পদ্ধতিতে সমন্বয় সাধন করে যার কোনো নজির বিশ্ববাসী জানে না এবং কোনো মানুষের অন্তরেও তার কল্পনা আসে না। (১) এর মাধ্যমে আমি আল্লাহর শত্রুদের নিক্ষিপ্ত তীর তাদের বক্ষেই ফিরিয়ে দিতে সক্ষম হয়েছি, বিশেষ করে এই পয়েন্টটিতে।” (২)
আমি বলি, এটি মহাজ্ঞানী ও সর্বজ্ঞাত (العليم الخبير) সত্তার হিকমতেরই অংশ যে, তিনি দ্বীনের শত্রুদের মধ্য থেকেই এমন কাউকে নিয়োজিত করেন যারা নিজেরাও অজান্তে ইসলামের খেদমত করে। ইসলামের শত্রুদের এই ভিত্তিহীন সংশয় (الشبهة) উত্থাপনই অনেক ধর্মপ্রাণ গবেষককে গভীরভাবে এই বিষয়টি অধ্যয়ন করতে উদ্বুদ্ধ করেছে। (৩)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাওকিফুশ শাওকানী ফী তাফসীরিহী মিনাল মুনাসাবাত
(পৃষ্ঠা: ২৩)
وصدق الشاعر أبو تمام في قوله
وإذا أراد الله نشر فضيلة طويت أتاح له لسان حسود
لولا اشتعال النار فيما جاورت ما كان يعرف طيب عرف العود
مما سبق يتضح لنا: أهمية بل ضرورة دراسة علم المناسبات هذا العلم الذي لا غنى عنه للمفسر في فهم المعنى والترجيح بين الآراء، أو دفع إيهام أو إزالة لبس، فضلا عن إبراز جانب من جوانب الإعجاز القرآني في تناسب آياته ووحدة سوره، إلى جانب الرد عن شبهات أعداء الإسلام حول ترتيب القرآن.
أهم المؤلفات التي عنيت بهذا العلم (1) :
ونظرا لأهمية هذا العلم فلقد عني به كثير من المفسرين قديما وحديثا، وتناوله العلماء في كتب علوم القرآن، وأفرده بعضهم بالتأليف، وفيما يلي نشير إلى أهم الكتب التي عنيت به:
- الإتقان في علوم القرآن للسيوطي.
- الإعجاز البياني في ترتيب آيات القرآن وسوره رسالة علمية للدكتور محمد أحمد يوسف القاسم الأستاذ بجامعة الأزهر وأم القرى وفيها تعريف بهذا العلم وأهميته وأنواع المناسبات في القرآن الخ.
- البرهان في تناسب سور القرآن لأبي جعفر أحمد بن إبراهيم بن الزبير- طبع بجامعة الإمام محمد بن سعود الإسلامية بتحقيق سعيد جمعة الفلاح.
- البرهان في علوم القرآن لبدر الدين الزركشي ت 794.
- تناسق الدرر في تناسب السور لجلال الدين السيوطي ت911 رحمه الله.
- جواهر البيان في تناسب سور القرآن لعبد الله محمد بن صديق الغماري.
- ربط السور والآيات لمحمد بن المبارك المعروف بحكيم شاه القزويني ت 920هـ
- سمط الدرر في ربط الآيات والسور لمحمد ظاهر بن غلام من علماء الهند ت 1407هـ
- معترك الأقران في علوم القرآن للسيوطي.
- مناهل العرفان في علوم القرآن للأستاذ عبد العظيم الزرقاني
- النبأ العظيم للدكتور محمد عبد الله دراز رحمه الله.
--------------------------------------------
কবি আবু তামাম তার বাণীতে যথার্থই বলেছেন:
আর আল্লাহ যখন কোনো সুপ্ত গুণের কথা ছড়িয়ে দিতে চান, তখন তিনি একজন ঈর্ষান্বিত ব্যক্তির জিহ্বাকে (সেই গুণের আলোচনার জন্য) নিয়োজিত করেন।
যদি আগুনের শিখা পার্শ্ববর্তী বস্তুকে স্পর্শ না করত, তবে চন্দনের সুগন্ধের শ্রেষ্ঠত্ব জানা যেত না।
পূর্বোক্ত আলোচনা থেকে আমাদের নিকট এটি স্পষ্ট হয় যে: ইলমুল মুনাসাবাত বা পবিত্র কুরআনের আয়াত ও সূরার পারস্পরিক সামঞ্জস্যতা (مناسبات) সংক্রান্ত শাস্ত্র অধ্যয়ন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বরং অপরিহার্য। একজন মুফাসসিরের (مفسر) জন্য আয়াতের সঠিক মর্ম অনুধাবন, বিভিন্ন মতামতের মধ্য থেকে প্রাধান্য দান (ترجيح), কোনো অস্পষ্টতা নিরসন বা খটকা দূর করার ক্ষেত্রে এই শাস্ত্রের কোনো বিকল্প নেই। তদুপরি কুরআনের আয়াতসমূহের সামঞ্জস্য ও সূরার সংহতির মাঝে কুরআনিক অলৌকিকত্বের (إعجاز) একটি দিক ফুটিয়ে তোলার পাশাপাশি কুরআনের বিন্যাস নিয়ে ইসলামের শত্রুদের উত্থাপিত বিভিন্ন সংশয় (شبهات) খণ্ডন করার ক্ষেত্রেও এর বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।
এই শাস্ত্রের ওপর রচিত প্রধান গ্রন্থসমূহ (১):
এই ইলমের গুরুত্বের কারণে প্রাচীন ও বর্তমান যুগের অনেক মুফাসসির (مفسر) এ বিষয়ে যত্নশীল হয়েছেন। আলিমগণ উলূমুল কুরআন বিষয়ক গ্রন্থে এ নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং কেউ কেউ এ বিষয়ে স্বতন্ত্র গ্রন্থ রচনা করেছেন। নিম্নে এই শাস্ত্র সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থসমূহের প্রতি ইঙ্গিত করা হলো:
- আস-সুয়ূতী রচিত আল-ইতকান ফী উলূমিল কুরআন।
- ডক্টর মুহাম্মদ আহমাদ ইউসুফ আল-কাসিম রচিত 'আল-ইজাজুল বায়ান ফী তারতীবি আয়াতির কুরআন ওয়া সুওয়ারিহি'। এটি একটি গবেষণাপত্র। তিনি আল-আজহার ও উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক। এই গ্রন্থে উক্ত শাস্ত্রের পরিচয়, গুরুত্ব এবং কুরআনের বিভিন্ন প্রকার সামঞ্জস্যতা (مناسبات) ইত্যাদি আলোচিত হয়েছে।
- আবু জাফর আহমাদ ইবনে ইবরাহীম ইবনে আয-যুবায়ের রচিত 'আল-বুরহান ফী তানাসুবি সুওয়ারিল কুরআন'। এটি সাঈদ জুমুআ আল-ফালাহের সম্পাদনা (تحقيق) সাপেক্ষে ইমাম মুহাম্মদ বিন সাউদ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মুদ্রিত হয়েছে।
- বদরুদ্দীন আয-যারকাশী (মৃত্যু ৭৯৪ হি.) রচিত আল-বুরহান ফী উলূমিল কুরআন।
- জালালুদ্দীন আস-সুয়ূতী (মৃত্যু ৯১১ হি., রাহিমাহুল্লাহ) রচিত 'তানাসুকুদ্দুরার ফী তানাসুবিস সুওয়ার'।
- আবদুল্লাহ মুহাম্মদ বিন সিদ্দিক আল-গুমারী রচিত 'জাওয়াহিরুল বায়ান ফী তানাসুবি সুওয়ারিল কুরআন'।
- হাকিম শাহ আল-কাযভীনী হিসেবে পরিচিত মুহাম্মদ বিন আল-মুবারাক (মৃত্যু ৯২০ হি.) রচিত 'রাবতুস সুওয়ার ওয়াল আয়াত'।
- ভারতের আলিম মুহাম্মদ জাহির বিন গুলাম (মৃত্যু ১৪০৭ হি.) রচিত 'সিমতুদ দুরার ফী রাবতিল আয়াত ওয়াস সুওয়ার'।
- আস-সুয়ূতী রচিত মুতরাকুল আকরান ফী উলূমিল কুরআন।
- উস্তাদ আবদুল আজিম আয-যারকানী রচিত মানাহিলুল ইরফান ফী উলূমিল কুরআন।
- ডক্টর মুহাম্মদ আবদুল্লাহ দারায (রাহিমাহুল্লাহ) রচিত আন-নাবাউল আজীম।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাওকিফুশ শাওকানী ফী তাফসীরিহী মিনাল মুনাসাবাত
(পৃষ্ঠা: ২৪)
- نظرة العجلان في أغراض القرآن لابن شهيد ميسلون محمد بن كمال الخطيب، وفي هذا الكتاب ذهب مؤلفه إلى أن سورة الفاتحة محور للقرآن الكريم كله.
- الوحدة الموضوعية للسورة القرآنية دراسة للدكتور رفعت فوزي عبد المطلب ط دار السلام بالقاهرة.
- الوحدة الموضوعية للقرآن الكريم للدكتور محمد محمود حجازي رحمه الله صاحب التفسير الواضح، وفي رسالته هذه يتناول وحدة الموضوع في القرآن.
ومن كتب التفسير:
1- إرشاد العقل السليم إلى مزايا الكتاب الكريم للعلامة أبى السعود (محمد بن محمد مصطفى العمادى الحنفى ت 982 هـ.
2- الأساس فى التفسير للشيخ سعيد حوى رحمه الله ت 1409 هـ
3- أضواء البيان فى إيضاح القرآن بالقرآن للشنقيطى محمد الأمين بن محمد المختار الجكنى ت 1993هـ
4- أنوار التنزيل وأسرار التأويل للبيضاوى (عبد الله بن عمر ت 685هـ)
5 - البحر المحيط للإمام محمد بن يوسف الشهير بأبي حيان الأندلسى ت 754 هـ
6 - تفسير ابن جزي الكلبي ط دار الكتاب العربي بيروت 1403هـ
تفسير القرآن الحكيم المشتهر باسم تفسير المنار للسيد محمد رشيد رضا
التحرير والتنوير للأستاذ محمد الطاهر بن عاشور ت 1393هـ
- التفسير القرآنى للقرآن للأستاذ عبد الكريم الخطيب
التفسير القيم لإمام ابن القيم جمعه محمد أويس الندوي وحققه ا/محمد حامد الفقي
التفسير المنير لوهبة الزحيلي
12- حاشية الصاوى على الجلالين للإمام أحمد بن محمد الصاوى المصرى المالكى ت سنة 1241 هـ-
13- حاشية محى الدين شيخ زادة على تفسير البيضاوى
14- روح البيان للبروسوى إسماعيل حقى البروسوى ت سنة 1370 هـ
15 - روح المعانى فى تفسير القرآن العظيم والسبع المثانى للإمام الألوسى شهاب الدين السيد محمود الألوسى ت 1270 هـ
…
- ইবনে শহীদ মায়সালুন মুহাম্মদ বিন কামাল আল-খতিব রচিত 'নাজরাতুল আজলান ফি মাকাসিদিল কুরআন'; এই গ্রন্থে লেখক এই মত ব্যক্ত করেছেন যে, সূরা আল-ফাতিহা সমগ্র পবিত্র কুরআনের কেন্দ্রবিন্দু।
- ড. রিফাত ফাওজি আব্দুল মুত্তালিব রচিত 'আল-ওয়াহদাতুল মাওদুয়িয়্যাহ লিস-সুরাতিল কুরআনিয়্যাহ', দারুস সালাম, কায়রো থেকে প্রকাশিত।
- 'আত-তাফসীরুল ওয়াদিহ'-এর রচয়িতা ড. মুহাম্মদ মাহমুদ হিজাজী (রহ.) রচিত 'আল-ওয়াহদাতুল মাওদুয়িয়্যাহ লিল কুরআনিল কারীম'; এই গবেষণাপত্রে তিনি কুরআনের বিষয়ভিত্তিক ঐক্য নিয়ে আলোচনা করেছেন।
তাফসীরগ্রন্থসমূহের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
১- আল্লামা আবুস সাউদ (মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ মুস্তফা আল-ইমাদি আল-হানাফি, মৃত্যু ৯৮২ হিজরি) রচিত 'ইরশাদুল আকলিস সালিম ইলা মাযায়াল কিতাবিল কারিম'।
২- শায়খ সাঈদ হাওয়া (রহ.), মৃত্যু ১৪০৯ হিজরি, রচিত 'আল-আসাস ফিত তাফসির'।
৩- শিনকিতী মুহাম্মদ আল-আমিন বিন মুহাম্মদ আল-মুখতার আল-জাকানি (মৃত্যু ১৯৯৩ খ্রি.) রচিত 'আদওয়াউল বায়ান ফি ইদাহিল কুরআন বিল কুরআন'।
৪- আল-বায়যাভী (আব্দুল্লাহ বিন উমর, মৃত্যু ৬৮৫ হিজরি) রচিত 'আনওয়ারুত তানজিল ওয়া আসরারুত তাউয়িল'।
৫ - ইমাম মুহাম্মদ বিন ইউসুফ, যিনি আবু হাইয়ান আল-আন্দালুসি (মৃত্যু ৭৫৪ হিজরি) নামে পরিচিত, তাঁর রচিত 'আল-বাহরুল মুহিত'।
৬ - 'তাফসির ইবনে জুযাই আল-কালবি', দারুল কিতাব আল-আরাবি, বৈরুত ১৪০৩ হিজরি।
সাইয়্যিদ মুহাম্মদ রশিদ রিদা রচিত 'তাফসীরুল কুরআনিল হাকিম', যা 'তাফসির আল-মানার' নামে সুপ্রসিদ্ধ।
উস্তাদ মুহাম্মদ আত-তাহির বিন আশুর (মৃত্যু ১৩৯৩ হিজরি) রচিত 'আত-তাহরির ওয়াত তানউইর'।
- উস্তাদ আব্দুল করিম আল-খতিব রচিত 'আত-তাফসীরুল কুরআনি লিল কুরআন'।
ইমাম ইবনুল কায়্যিম রচিত 'আত-তাফসীরুল কয়্যিম', যা মুহাম্মদ ওয়াইস আল-নাদভী কর্তৃক সংগৃহীত এবং মুহাম্মদ হামিদ আল-ফিকি কর্তৃক সম্পাদিত।
ওয়াহবাহ আল-জুহাইলি রচিত 'আত-তাফসীরুল মুনির'।
১২- ইমাম আহমদ বিন মুহাম্মদ আস-সাবি আল-মিসরি আল-মালিকি (মৃত্যু ১২৪১ হিজরি) রচিত 'হাশিয়াতুস সাবি আলাল জালালাইন'।
১৩- তাফসিরে বায়যাভীর ওপর 'হাশিয়া মুহিউদ্দিন শাইখ যাদা'।
14- ইসমাইল হাক্কী আল-বুরুসাভী (মৃত্যু ১৩৭০ হিজরি) রচিত 'রুহুল বায়ান'।
১৫ - ইমাম আলূসী শিহাবুদ্দিন সাইয়্যিদ মাহমুদ আল-আলূসী (মৃত্যু ১২৭০ হিজরি) রচিত 'রুহুল মাআনি ফি তাফসীরিল কুরআনিল আজিম ওয়াস সাবইল মাসানি'...
(খণ্ড: ১)
মাওকিফুশ শাওকানী ফী তাফসীরিহী মিনাল মুনাসাবাত
(পৃষ্ঠা: ২৫)
16- السراج المنير فى الإعانة على معرفة بعض معانى كلمات ربنا الحكيم الخبير للإمام شمس الدين محمد بن أحمد الخطيب الشربينى ت 977 هـ
17- غرائب القرآن ورغائب الفرقان لنظام الدين النيسابورى ت 728 هـ
18- الفتوحات الإلهية بتوضيح تفسير الجلالين للدقائق الخفية للإمام سليمان بن عمر العجيلى الشافعى الشهير بالجمل ت 1204 هـ
19- فى ظلال القرآن للأستاذ سيد قطب ت 1966م
20- لطائف الإشارات للإمام عبد الكريم القشيرى ت 465 هـ
24-مفاتيح الغيب (التفسير الكبير) للإمام فخر الدين الرازى ت 606 هـ 0
25- الميزان فى تفسير القرآن للأستاذ محمد حسين الطباطبائى 0
26- نظم الدرر فى تناسب الآيات والسور لبرهان الدين البقاعى
المطلب الثاني زعمه أنه لا يطلب للآيات مناسبة لأنها نزلت متفرقة حسب الحوادث والنوازلحقائق مهمة لابد من بيانها:
قد يتعلل بعض المعارضين لعلم المناسبات بأن القرآن الكريم نزل مفرقا حسب الحوادث والنوازل فلا مجال لتكلف البحث في أوجه ترابطه، ونرد على هؤلاء بالتذكير بالحقائق الآتية:
ترتيب المصحف كما في اللوح المحفوظ
القرآن الكريم كما نعلم مسجل في اللوح المحفوظ، أخبر بذلك رب العزة فقال " {وإنه في أم الكتاب لدينا لعلي حكيم} . [سورة الزخرف الآية: 4] " يعني القرآن في اللوح المحفوظ "لدينا لعلي حكيم" أي رفيع محكم لا يوجد فيه اختلاف ولا تناقض؛ وقال الله تعالى: "إنه لقرآن كريم في كتاب مكنون" [الواقعة:78] وقال تعالى: "بل هو قرآن مجيد. في لوح محفوظ" [البروج: 21، 22] .
لقد تعددت تنزلات القرآن الكريم: فلقد نزل جملة من اللوح المحفوظ إلى بيت العزة ومن بيت العزة إلى قلب المصطفى صلى الله عليه وسلم منجما
…
16- আল-সিরাজুল মুনীর ফীল ইয়ানাতি আলা মারিফাতি বাদ মানি কালিমাতি রব্বিনাল হাকিমিল খাবীর - ইমাম শামসুদ্দিন মুহাম্মদ ইবনে আহমদ আল-খাতিব আল-শিরবিনী (মৃত্যু ৯৭৭ হিজরি)।
17- গারায়িবুল কুরআন ওয়া রাগায়িবুল ফুরকান - নিজামুদ্দিন আল-নিশাপুরি (মৃত্যু ৭২৮ হিজরি)।
18- আল-ফুতুহাল ইলাহিয়্যাহ বি-তাউদিহি তাফসিরিল জালালাইন লিদ-দাকাইকিল খফিয়্যাহ - ইমাম সুলায়মান ইবনে উমর আল-উজাইলি আশ-শাফিঈ, যিনি আল-জামাল নামে পরিচিত (মৃত্যু ১২০৪ হিজরি)।
19- ফী জিলালিল কুরআন - উস্তাদ সাইয়্যেদ কুতুব (মৃত্যু ১৯৬৬ খ্রিস্টাব্দ)।
20- লাতাইফুল ইশারাত - ইমাম আব্দুল কারিম আল-কুশায়রি (মৃত্যু ৪৬৫ হিজরি)।
24- মাফাতিহুল গায়েব (আত-তাফসিরুল কাবির) - ইমাম ফখরুদ্দিন আল-রাজি (মৃত্যু ৬০৬ হিজরি)।
25- আল-মিজান ফী তাফসিরিল কুরআন - উস্তাদ মুহাম্মদ হুসাইন আত-তাবাতাবায়ী।
26- নাযমুদ দুরার ফী তানাসুবিল আয়াতি ওয়াস-সুওয়ার - বুরহানুদ্দিন আল-বিকায়ী।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: তার এই দাবি যে, আয়াতসমূহের মধ্যে কোনো পারষ্পরিক সম্পর্ক (مناسبة) অনুসন্ধানের প্রয়োজন নেই, কারণ সেগুলো বিভিন্ন ঘটনা ও পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে পৃথকভাবে অবতীর্ণ হয়েছে।কিছু গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা যা অবশ্যই বর্ণনা করতে হবে:
ইলমুল মুনাসাবাত (পারষ্পরিক সম্পর্কের জ্ঞান)-এর বিরোধীদের কেউ কেউ হয়তো এই অজুহাত দেখান যে, পবিত্র কুরআন বিভিন্ন ঘটনা ও পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে পৃথকভাবে অবতীর্ণ হয়েছে, তাই এর পারষ্পরিক সম্পর্কের দিকগুলো অনুসন্ধানের জন্য অহেতুক পরিশ্রমের কোনো অবকাশ নেই। আমরা নিচের বাস্তবতাগুলো স্মরণের মাধ্যমে তাদের এই দাবির উত্তর দিচ্ছি:
মুসহাফের বিন্যাস লওহে মাহফুজের অনুরূপ:
পবিত্র কুরআন যেমন আমরা জানি, লওহে মাহফুজে লিপিবদ্ধ রয়েছে। মহান রাব্বুল ইজ্জত এ সম্পর্কে সংবাদ প্রদান করে বলেছেন: "আর নিশ্চয় তা আমাদের কাছে মূল কিতাবে (উম্মুল কিতাব) উচ্চমর্যাদাপূর্ণ ও প্রজ্ঞাপূর্ণ।" [সূরা যুখরুফ, আয়াত: ৪]। অর্থাৎ কুরআন লওহে মাহফুজে 'আমাদের নিকট উচ্চমর্যাদাপূর্ণ ও প্রজ্ঞাপূর্ণ', যার অর্থ হলো তা অত্যন্ত সুউচ্চ এবং সুসংবদ্ধ (محكم), যাতে কোনো বৈসাদৃশ্য বা অসংগতি নেই। মহান আল্লাহ আরও বলেছেন: "নিশ্চয় এটি এক সম্মানিত কুরআন, যা আছে এক সংরক্ষিত কিতাবে।" [সূরা ওয়াকিয়া: ৭৮]। আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: "বরং এটি মহিমান্বিত কুরআন, যা লওহে মাহফুজে সংরক্ষিত।" [সূরা বুরুজ: ২১, ২২]।
পবিত্র কুরআনের অবতীর্ণ হওয়ার পর্যায় একাধিক: এটি লওহে মাহফুজ থেকে বাইতুল ইজ্জতে একযোগে (جملة) অবতীর্ণ হয়েছে, এবং বাইতুল ইজ্জত থেকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হৃদয়ে পর্যায়ক্রমে (منجما) অবতীর্ণ হয়েছে
…
(খণ্ড: ১)
মাওকিফুশ শাওকানী ফী তাফসীরিহী মিনাল মুনাসাবাত
(পৃষ্ঠা: ২৬)
* روى الطبري في تفسيره عن ابن عباس رضي الله عنهما قال: " ليلة القدر هي الليلة المباركة وهي من رمضان نزل القرآن جملة واحدة من الزبر (1) إلى البيت المعمور وهو مواقع النجوم في السماء الدنيا حيث وقع القرآن ثم نزل على محمد بعد ذلك في الأمر والنهي وفي الحروب رسلا رسلا (2)
*وروى الطبري في تفسيره بسنده عن سعيد بن جبير عن ابن عباس رضي الله عنهما قال أنزل القرآن في ليلة القدر من السماء العليا إلى السماء جملة واحدة ثم فرق في السنين بعد، قال: وتلا ابن عباس هذه الآية (فلا أقسم بمواقع النجوم) قال نزل مفرقا (3)
ترتيب القرآن الكريم كما هو عليه في المصحف ترتيب توقيفي على حسب ما هو موجود في اللوح المحفوظ، لا على حسب ترتيب نزوله فهو على حسب الحوادث والنوازل والمصالح تنزيلا وعلى مقتضى الحكمة ترتيبا.
أمين الوحي جبريل عليه السلام يعلم رسول الله صلى الله عليه وسلم ترتيب القرآن:
كان الوحي ينزل على الرسول صلى الله عليه وسلم وبمجرد فراغ أمين الوحي جبريل عليه السلام يكون الموحى به قد جمع في قلب رسول الله صلى الله عليه وسلم، وكان أمين الوحي يخبر رسول الله صلى الله عليه وسلم بموضع كل آية من كل سورة.
--------------------------------------------
* তাবারী তাঁর তাফসীর গ্রন্থে ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "লাইলাতুল কদর হলো সেই বরকতময় রাত এবং তা রমজান মাসের অন্তর্ভুক্ত। কুরআন ‘যবর’ (১) থেকে একযোগে বায়তুল মামুরে অবতীর্ণ হয়েছে, যা দুনিয়ার আকাশের নক্ষত্ররাজির অবস্থানের স্থান যেখানে কুরআন অবতীর্ণ হয়েছিল। এরপর তা মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওপর আদেশ-নিষেধ এবং যুদ্ধবিগ্রহের বিষয় নিয়ে ক্রমান্বয়ে (২) অবতীর্ণ হয়েছে।"
*এবং তাবারী তাঁর তাফসীর গ্রন্থে নিজ সনদে সাঈদ ইবনে জুবায়ের থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: কুরআন লাইলাতুল কদরে উচ্চাকাশ থেকে (দুনিয়ার) আকাশে একযোগে নাযিল করা হয়েছে, অতঃপর পরবর্তী বছরগুলোতে তা বিভিন্ন অংশে অবতীর্ণ হয়েছে। বর্ণনাকারী বলেন: ইবনে আব্বাস এই আয়াতটি তিলাওয়াত করলেন— (অতঃপর আমি কসম করছি নক্ষত্ররাজির অস্তাচলের)—তিনি বললেন, এটি পৃথক পৃথকভাবে অবতীর্ণ হয়েছে (৩)।
পবিত্র কুরআনের বিন্যাস বর্তমানে মুসহাফে যেভাবে রয়েছে, তা লাওহে মাহফূজে বিদ্যমান থাকা বিন্যাস অনুযায়ীই নির্ধারিত (توقيفي)। তা অবতরণের ধারাবাহিকতা অনুযায়ী নয়; বরং অবতরণের ক্ষেত্রে তা ছিল বিভিন্ন ঘটনা, পরিস্থিতি ও কল্যাণের প্রেক্ষিতে, আর বিন্যাসের ক্ষেত্রে তা ছিল প্রজ্ঞার দাবি অনুযায়ী।
ওহীর আমানতদার জিবরাইল (আলাইহিস সালাম) রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে কুরআনের বিন্যাস শিক্ষা দিতেন:
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওপর ওহী নাযিল হতো এবং ওহীর আমানতদার জিবরাইল (আলাইহিস সালাম) ওহী নিয়ে আসা শেষ করার সাথে সাথেই নাযিলকৃত অংশটি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর অন্তরে সংরক্ষিত হয়ে যেত। আর ওহীর আমানতদার রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে প্রতিটি সূরার প্রতিটি আয়াতের স্থান সম্পর্কে অবহিত করতেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাওকিফুশ শাওকানী ফী তাফসীরিহী মিনাল মুনাসাবাত
(পৃষ্ঠা: ২৭)
وكان رسول الله صلى الله عليه وسلم عقب نزول الوحي عليه يستدعي الكتبة فيملي عليهم ما أوحي إليه ويعلمهم بموضع الآيات وترتيبها في سورها وترتيب السور أيضا: ومما يدل على ذلك: ما رواه الإمام أحمد في مسنده عن عثمان بن أبي العاص رضي الله عنه -قال كنت جالسا عند رسول الله صلى الله عليه وسلم إذ شخص ببصره ثم صوبه ثم قال أتاني جبريل فأمرني أن أضع هذه الآية هذا الموضع من السورة (إن الله يأمر بالعدل والإحسان وإيتاء ذي القربى) الآية سورة النحل 90. (1)
* وما رواه مسلم عن عمر رضي الله عنه قال ما سألت النبي عن شيء أكثر مما سألته عن الكلالة حتى طعن بأصبعه في صدري وقال تكفيك آية الصيف التي في آخر سورة النساء فدله على موضع تلك الآية من سورة النساء وهي قوله سبحانه (يستفتونك قل الله يفتيكم في الكلالة.) إلى آخر الآية الأخيرة من سورة النساء:. (2)
جبريل عليه السلام يدارس رسول الله صلى الله عليه وسلم القرآن في كل عام وفق ترتيبه:
وفي شهر رمضان من كل عام كان جبريل عليه السلام يعارض رسول الله صلى الله عليه وسلم بالقرآن، حتى كان العام الذي توفي فيه رسول الله صلى الله عليه وسلم عارضه مرتين.
--------------------------------------------
রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর ওপর ওহি নাজিল হওয়ার পর লেখকদের ডেকে পাঠাতেন এবং তাঁদের কাছে যা নাজিল করা হয়েছে তা লিখে নিতেন। তিনি তাঁদের আয়াতের স্থান, সূরার ভেতরে তাদের বিন্যাস এবং সূরার ক্রম সম্পর্কেও শিক্ষা দান করতেন। এর প্রমাণ হিসেবে ইমাম আহমাদ তাঁর মুসনাদ-এ উসমান ইবনে আবুল আস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন—তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে বসা ছিলাম। এমন সময় তিনি তাঁর দৃষ্টি ওপরের দিকে তুললেন, তারপর তা নিচু করলেন। এরপর বললেন, জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) আমার কাছে এসেছেন এবং আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন যেন আমি এই আয়াতটি সূরার এই স্থানে রাখি: (নিশ্চয়ই আল্লাহ ন্যায়পরায়ণতা, সদাচরণ এবং নিকটাত্মীয়দের দান করার নির্দেশ দিচ্ছেন) — সূরা আন-নাহল: ৯০। (১)
* এবং ইমাম মুসলিম উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে 'কালালাহ' (পিতামাতা ও সন্তানহীন মৃত ব্যক্তি) সম্পর্কে যত বেশি জিজ্ঞেস করেছি, অন্য কোনো বিষয়ে ততটা করিনি। এমনকি তিনি তাঁর আঙুল দিয়ে আমার বুকে মৃদু আঘাত করলেন এবং বললেন: সূরা আন-নিসার শেষে নাজিল হওয়া গ্রীষ্মকালীন আয়াতটিই তোমার জন্য যথেষ্ট। অতঃপর তিনি তাঁকে সূরা আন-নিসার সেই আয়াতের স্থান দেখিয়ে দিয়েছিলেন, যা মহান আল্লাহর এই বাণী: (লোকেরা আপনার কাছে ফতোয়া জানতে চায়; বলুন, আল্লাহ তোমাদের কালালাহ সম্পর্কে বিধান দিচ্ছেন...) সূরা আন-নিসার শেষ আয়াত পর্যন্ত। (২)
জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) প্রতি বছর নির্ধারিত বিন্যাস অনুযায়ী রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে কুরআন পাঠ পর্যালোচনা করতেন:
প্রতি বছর রমজান মাসে জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট কুরআন পেশ করতেন; এমনকি যে বছর রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইন্তেকাল করেন, সে বছর তিনি দুইবার কুরআন পেশ করেছিলেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাওকিফুশ শাওকানী ফী তাফসীরিহী মিনাল মুনাসাবাত
(পৃষ্ঠা: ২৮)
*روى البخاري في صحيحه عن ابن عباس رضي الله عنهما قال: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم أجود الناس، وكان أجود ما يكون في رمضان حين يلقاه جبريل، وكان يلقاه في كل ليلة من رمضان فيدارسه القرآن، فلرسول الله صلى الله عليه وسلم أجود بالخير من الريح المرسلة. (1)
* وروى البخاري في صحيحه بسنده عن عائشة رضي الله عنها قالت:
--------------------------------------------
*ইমাম বুখারি তাঁর সহীহ গ্রন্থে ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন মানুষের মধ্যে সর্বাধিক দানশীল। রমজান মাসে যখন জিবরীল (আলাইহিস সালাম) তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করতেন, তখন তিনি আরও বেশি দানশীল হতেন। জিবরীল (আলাইহিস সালাম) রমজানের প্রতি রাতে তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করতেন এবং তাঁর সাথে কুরআন মুদারাসা (পরস্পর পাঠ ও পর্যালোচনা) করতেন। নিশ্চয়ই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কল্যাণের কাজে প্রবাহিত (مرسلة) বায়ুর চেয়েও অধিক দানশীল ছিলেন। (১)
* এবং বুখারি তাঁর সহীহ গ্রন্থে তাঁর সনদ (سند) সহকারে আয়িশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাওকিফুশ শাওকানী ফী তাফসীরিহী মিনাল মুনাসাবাত
(পৃষ্ঠা: ২৯)
أقبلت فاطمة تمشي كأن مشيتها مشي النبي صلى الله عليه وسلم فقال النبي صلى الله عليه وسلم: (مرحبا بابنتي) . ثم أجلسها عن يمينه أو عن شماله، ثم أسر إليها حديثا فبكت، فقلت لها: لم تبكين؟ ثم أسر إليها حديثا فضحكت، فقلت: ما رأيت كاليوم فرحا أقرب من حزن، فسألتها عما قال، فقالت: ما كنت لأفشي سر رسول الله صلى الله عليه وسلم، حتى قبض النبي صلى الله عليه وسلم فسألتها، فقالت: أسر إلي: (إن جبريل كان يعارضني القرآن كل سنة مرة، وإنه عارضني العام مرتين، ولا أراه إلا حضر أجلي، وإنك أول أهل بيتي لحاقا بي) . فبكيت، فقال: (أما ترضين أن تكوني أهل الجنة، أو سيدة نساء المؤمنين) . فضحكت لذلك. (1)
* وروى النسائي في السنن الكبرى بسنده عن أبي هريرة رضي الله عنه قال كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يعرض عليه القرآن في كل رمضان فلما كان العام الذي قبض فيه صلى الله عليه وسلم عرض عليه مرتين فكان يعتكف العشر الأواخر فلما كان العام الذي قبض فيه اعتكف عشرين. (2)
ترتيب القرآن من مظاهر حفظ الله لكتابه:
--------------------------------------------
ফাতেমা (রা.) হেঁটে আসছিলেন, তাঁর হাঁটার ভঙ্গি ছিল ঠিক নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাঁটার মতো। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: (আমার কন্যার জন্য স্বাগতম)। এরপর তিনি তাঁকে তাঁর ডান পাশে অথবা বাম পাশে বসালেন, অতঃপর তাঁর নিকট সংগোপনে একটি কথা (হাদিস) বললেন যাতে তিনি কেঁদে ফেললেন। আমি তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম: আপনি কাঁদছেন কেন? এরপর তিনি পুনরায় তাঁর নিকট সংগোপনে একটি কথা (হাদিস) বললেন তখন তিনি হাসলেন। আমি বললাম: আমি আজকের মতো আনন্দের এত কাছাকাছি দুঃখ আর কখনো দেখিনি। এরপর আমি তাঁকে নবীজি কী বলেছিলেন সে সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন: আমি আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর গোপন কথা প্রকাশ করতে পারি না। যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওফাত প্রাপ্ত হলেন, তখন আমি তাঁকে পুনরায় জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন: তিনি আমাকে সংগোপনে বলেছিলেন: (জিবরাঈল প্রতি বছর একবার আমার সাথে কুরআন পর্যালোচনা (معارضة) করতেন, আর এ বছর তিনি আমার সাথে দুবার তা পর্যালোচনা (معارضة) করেছেন; আমি মনে করি আমার অন্তিম সময় (أجل) ঘনিয়ে এসেছে এবং আমার পরিবারবর্গের মধ্যে তুমিই সর্বপ্রথম আমার সাথে মিলিত হবে)। এতে আমি কেঁদে ফেললাম। তখন তিনি বললেন: (তুমি কি এতে সন্তুষ্ট নও যে, তুমি জান্নাতবাসীদের নেত্রী অথবা মুমিন নারীদের নেত্রী হবে?)। তখন আমি হাসলাম। (১)
* এবং নাসাঈ তাঁর 'সুনান আল-কুবরা' গ্রন্থে তাঁর সনদের (سند) মাধ্যমে আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: প্রতি রমজানে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট কুরআন পেশ করা হতো। যে বছর তিনি ওফাত প্রাপ্ত হন, সে বছর তাঁর নিকট দুবার পেশ করা হয়েছিল। তিনি রমজানের শেষ দশ দিন ইতিকাফ করতেন, তবে যে বছর তিনি ইন্তেকাল করেন, সে বছর তিনি বিশ দিন ইতিকাফ করেছিলেন। (২)
কুরআনের বিন্যাস আল্লাহর কিতাব সংরক্ষণের অন্যতম নিদর্শন:
--------------------------------------------