(খণ্ড: ১) জাওয়াবু বাদিল খাদাম লি আহলিন নিআম আন তাসহিফি হাদীসি ইহতাজামা (পৃষ্ঠা: -)
جواب بعض الخدم لأهل النعم عن تصحيف حديث احتجم   (ابن المبرد)

القسم: كتب السنة


الكتاب: جواب بعض الخدم لأهل النعم عن تصحيف حديث احتجم

المؤلف: يوسف بن حسن بن أحمد بن حسن ابن عبد الهادي الصالحي، جمال الدين، ابن المبرد الحنبلي (ت 909هـ)

تحقيق وتخريج: محمد صباح منصور

الناشر: دار البشائر الإسلامية، بيروت

الطبعة: الأولى، 1424 هـ - 2003 م

عدد الصفحات: 49

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

'হিজামা করেছেন' হাদিসটির ভুল পাঠ সম্পর্কে নিয়ামতপ্রাপ্তদের প্রতি কতিপয় খাদেমের উত্তর   (ইবনুল মুবাররিদ)

বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ


কিতাব: 'হিজামা করেছেন' হাদিসটির ভুল পাঠ সম্পর্কে নিয়ামতপ্রাপ্তদের প্রতি কতিপয় খাদেমের উত্তর

লেখক: ইউসুফ বিন হাসান বিন আহমদ বিন হাসান ইবনে আব্দুল হাদি আল-সালিহি, জামালুদ্দিন, ইবনুল মুবাররিদ আল-হাম্বলি (মৃত্যু ৯০৯ হিজরি)

সম্পাদনা ও তথ্যসূত্র যাচাই: মুহাম্মদ সাবাহ মানসুর

প্রকাশক: দারুল বাশায়ের আল-ইসলামিয়া, বৈরুত

সংস্করণ: প্রথম, ১৪২৪ হিজরি - ২০০৩ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪৯

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) জাওয়াবু বাদিল খাদাম লি আহলিন নিআম আন তাসহিফি হাদীসি ইহতাজামা (পৃষ্ঠা: ৩৫)
الحمد لله رب العالمين، وصلى الله على نبينا مُحَمَّد وآله وصحبه وسلم، وبعد:

فقد سألتم رضي الله عنكم عن الحديث الذي رواه الإمام أحمد في مسند زيد بن ثابت، أنه عليه السلام «احتجم في المسجد» .

وأنه ثم من قَالَ: إنه تصحيف، وإنما هو احتجر، وبيان ذلك وإيضاحه والفحص عنه.

فنقول وبالله التوفيق: نعم الحديث في مسند الإمام أحمد.

وَقَدْ أَخْبَرَنَا بِهِ جَمَاعَةٌ مِنْ شُيُوخِنَا: أنا الصَّلاحُ بْنُ أَبِي عُمَرَ، أنا الْفَخْرُ بْنُ الْبُخَارِيِّ، أنا حَنْبَلٌ، أنا ابْنُ الْحُصَيْنِ، أنا ابْنُ الْمُذْهِبِ، أنا أَبُو بَكْرٍ الْقَطِيعِيُّ، أنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الإِمَامِ أَحْمَدَ، حَدَّثَنِي أَبِي، ثنا إِسْحَاقُ بْنُ عِيسَى، ثنا ابْنُ لَهِيعَةَ، قَالَ: كَتَبَ إِلَيَّ مُوسَى بْنُ عُقْبَةَ، يُخْبِرُنِي عَنْ بُسْرِ بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم «احْتَجَمَ فِي الْمَسْجِدِ» .

قُلْتُ لابْنِ لَهِيعَةَ: فِي مَسْجِدِ بَيْتِهِ؟
সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। আর আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নবী মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর। অতঃপর:

আল্লাহ আপনাদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন, আপনারা সেই হাদীসটি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছেন যা ইমাম আহমদ যায়িদ বিন সাবিত-এর মুসনাদে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) «মসজিদে সিঙা লাগিয়েছিলেন»।

এবং সেখানে এমন কেউ আছেন যারা বলেছেন যে, এটি একটি শব্দগত ভুল (তাশহিফ), বরং সঠিক শব্দ হলো «তিনি একটি কক্ষ বানিয়েছিলেন» (ইহ্তাজার)। এর বর্ণনা, স্পষ্টীকরণ এবং এ বিষয়ে অনুসন্ধান নিম্নরূপ।

আমরা বলছি—আর আল্লাহর তাওফীকেই সব সম্ভব: হ্যাঁ, হাদীসটি ইমাম আহমদের মুসনাদে রয়েছে।

আমাদের একদল শিক্ষক আমাদের এটি সংবাদ দিয়েছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আস-সালাহ বিন আবি উমর, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আল-ফাখর বিন আল-বুখারী, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হানবাল, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইবনুল হুসাইন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইবনুল মুযহিব, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর আল-কাতিয়ি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইমাম আহমদের পুত্র আব্দুল্লাহ, তিনি বলেছেন: আমার পিতা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, ইসহাক বিন ঈসা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইবনে লাহিয়াহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুসা বিন উকবা আমার নিকট লিখেছেন এবং আমাকে বুসর বিন সাঈদ থেকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি যায়িদ বিন সাবিত থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) «মসজিদে সিঙা লাগিয়েছিলেন»।

আমি ইবনে লাহিয়াহকে জিজ্ঞাসা করলাম: তাঁর ঘরের মসজিদে কি?
(খণ্ড: ১) জাওয়াবু বাদিল খাদাম লি আহলিন নিআম আন তাসহিফি হাদীসি ইহতাজামা (পৃষ্ঠা: ৩৬)
قَالَ: لا، فِي مَسْجِدِ الرَّسِولِ صلى الله عليه وسلم.

هَكَذَا أَوْرَدَهُ الإِمَامُ أَحْمَدُ مِنْ حَدِيثِ ابْنِ لَهِيعَةَ بِلَفْظِ: احْتَجَمَ.

وَهَكَذَا ذَكَرَهُ ابْنُ كَثِيرٍ فِي جَامِعِ الْمَسَانِيدِ، مِنْ حَدِيثِ زَيْدِ بْنِ
তিনি বললেন: না, বরং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মসজিদে।

এভাবেই ইমাম আহমাদ একে ইবনে লাহীয়াহ্-এর হাদীস থেকে ‘তিনি শিঙা লাগিয়েছেন’ শব্দে উদ্ধৃত করেছেন।

আর এভাবেই ইবনে কাসীর একে জামিউল মাসানীদে যায়িদ বিন...-এর হাদীস থেকে উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ১) জাওয়াবু বাদিল খাদাম লি আহলিন নিআম আন তাসহিফি হাদীসি ইহতাজামা (পৃষ্ঠা: ৩৭)
ثَابِتٍ بِلَفْظِ احْتَجَمَ، وَبِهَذَا اللَّفُظِ أَوْرَدَهُ جَمَاعَةٌ مِنَ الْفُقَهَاءِ لِلاحْتِجَاجِ بِهِ عَلَى جَوَازِ الاحْتِجَامِ فِي الْمَسْجِدِ.

وَأَتَوَهَّمُ أَنِّي رَأَيْتُهُ أَوْ حَدِيثًا غَيْرَهُ أَنَّهُ عليه السلام احْتَجَمَ فِي الْمَسْجِدِ فِي طَسْتٍ.

وَلِهَذَا قَالَ جَمَاعَةٌ مِنْ أَئِمَّةِ أَصْحَابِنَا: تَجُوزُ الْحِجَامَةِ فِي الْمَسْجِدِ فِي طَسْتٍ.

وَنَصَّ الشَّيْخُ مُحْيِي الدِّينِ النَّوَوِيُّ فِي الرَّوْضَةِ عَلَى جَوَازِهَا فِي الْمَسْجِدِ فِي إِنَاءٍ بِخِلافِ الْبَوْلِ.

وَأَمَّا حَدِيثُ ابْنِ لَهِيعَةَ هَذَا، فَقَدْ نَصَّ أَئِمَّةُ الْحَدِيثِ أَنَّهُ مُصَحَّفٌ، وَأَنَّهُ مِنْ تَصِحيِف الْمُتُونِ، وَأَنَّهُ مِنْ تَصْحِيفِ مَا لا يُشْتَبَهُ، كَمَا أَخْبَرَنَا بَعْضُ شُيُوخِنَا، قَالَ: أَنْشَدَنِي ابْنُ الْعِرَاقِيِّ قَوْلَهُ:

وَأَطْلَقُوا التَّصْحِيفَ فِيمَا ظَهَرَا … كَقَوْلِهِ احْتَجَمَ مَكَانَ احْتَجَرَا

وَقَدْ أَخْبَرَنِي شَيْخُنَا أَبُو إِسْحَاقَ الْبَاغُونِيُّ، عَنْهُ فِي شَرْحِ هَذَا الْبَيْتِ، قَالَ: أَيْ وَقَدْ أَطْلَقَ مَنْ صَنَّفَ فِي التَّصْحِيفِ: التَّصْحِيفُ عَلَى مَا لا تُشْتَبَهُ حُرُوفُهُ بِغَيْرِهِ، وَإِنَّمَا أَخْطَأَ فِيهِ رَاوِيهِ، أَوْ أَسْقَطَ بَعْضَ حُرُوفِهِ مِنْ غَيْرِ اشْتِبَاهٍ.
'ইহ্তাজামা' (তিনি শিঙা লাগিয়েছেন) শব্দযোগে এটি প্রমাণিত, এবং একদল ফকীহ এই শব্দেই এটি বর্ণনা করেছেন মসজিদে শিঙা লাগানো বৈধ হওয়ার বিষয়ে দলিল হিসেবে পেশ করার জন্য।

এবং আমার ধারণা যে আমি এটি দেখেছি অথবা অন্য কোনো হাদিসে দেখেছি যে, তিনি (আলাইহিস সালাম) মসজিদে একটি পাত্রে শিঙা লাগিয়েছিলেন।

এই কারণেই আমাদের মাযহাবের একদল ইমাম বলেছেন: মসজিদে পাত্রের মধ্যে শিঙা লাগানো বৈধ।

শাইখ মুহিউদ্দীন আন-নববী 'রওদাহ' গ্রন্থে মসজিদে পাত্রের মধ্যে শিঙা লাগানোর বৈধতার ব্যাপারে সুস্পষ্ট মত প্রকাশ করেছেন, যা প্রস্রাবের বিষয়ের বিপরীত।

আর ইবনে লাহীআহর এই হাদিসটি সম্পর্কে হাদিস বিশারদ ইমামগণ স্পষ্টভাবে বলেছেন যে, এটি 'মুসাহহাফ' (বর্ণবিকৃত), এবং এটি মূল পাঠের বর্ণবিকৃতির (তাসহিফ আল-মুতুন) অন্তর্ভুক্ত, আর এটি এমন ধরণের বর্ণবিকৃতি যা অক্ষরের সাদৃশ্য নেই এমন শব্দের ক্ষেত্রেও ঘটেছে। যেমনটি আমাদের জনৈক শাইখ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: ইবনুল ইরাকী আমাকে তার এই কবিতাটি পাঠ করে শুনিয়েছেন:

তারা সুস্পষ্ট বিষয়ের ক্ষেত্রেও তাসহিফ (বর্ণবিকৃতি) শব্দটি প্রয়োগ করেছেন … যেমন 'ইহ্তাজারা' (নির্জনবাস বা ঘেরাও করা) শব্দের স্থলে 'ইহ্তাজামা' (শিঙা লাগানো) বলা।

আমাদের শাইখ আবু ইসহাক আল-বাগুনী এই পংক্তির ব্যাখ্যায় তাঁর সূত্রে আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি বলেছেন: অর্থাৎ যারা বর্ণবিকৃতি (তাসহিফ) বিষয়ে গ্রন্থ রচনা করেছেন, তারা তাসহিফ শব্দটি এমন ক্ষেত্রেও প্রয়োগ করেছেন যার অক্ষরগুলো অন্য অক্ষরের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ নয়, বরং বর্ণনাকারী কেবল এতে ভুল করেছেন অথবা কোনো সাদৃশ্য ছাড়াই কিছু অক্ষর বাদ দিয়ে দিয়েছেন।
(খণ্ড: ১) জাওয়াবু বাদিল খাদাম লি আহলিন নিআম আন তাসহিফি হাদীসি ইহতাজামা (পৃষ্ঠা: ৩৮)
مِثَالُهُ: مَا ذَكَرَ مُسْلِمٌ فِي التَّمْيِيزِ: أَنَّ ابْنَ لَهِيعَةَ صَحَّفَ فِي حَدِيثِ زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم «احْتَجَرَ فِي الْمَسْجِدِ» .

فَقَالَ: احْتَجَمَ بِالْمِيمِ.

هَذَا سِيَاقُ الْعِرَاقِيِّ فِي شَرْحِهِ.

وَقَدْ أَخَذَ ذَلِكَ مِنْ كِتَابِ ابْنِ الصَّلاحِ، حَيْثُ قَالَ فِي كِتَابِهِ فِي عِلْمِ الْحَدِيثِ الَّذِي اعْتَمَدَ الْعِرَاقِيُّ فِي نَظْمِهِ عَلَيْهِ وَذَكَرَ أَنَّهُ لَخَّصَهُ: وَمِثَالُ التَّصْحِيفِ فِي الْمَتْنِ: مَا رَوَاهُ ابْنُ لَهِيعَةَ، عَنْ كِتَابِ مُوسَى بْنِ عُقْبَةَ إِلَيْهِ، بِإِسْنَادِهِ، عَنْ زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم «احْتَجَمَ فِي الْمَسْجِدِ» ، وَإِنَّمَا هُوَ بِالرَّاءِ " احْتَجَرَ فِي الْمَسْجِدِ بِخَصَفٍ أَوْ حَصِيرِ حُجَيْرَةٍ يُصَلِّي فِيهَا.

فَصَحَّفَهُ ابْنُ لَهِيعَةَ لِكَوْنِهِ أَخَذَهُ مِنْ كِتَابٍ بِغَيْرِ سَمَاعٍ، ذَكَرَ ذَلِكَ مُسْلِمٌ فِي كِتَابِ التَّمْيِيزِ لَهُ.

وَاعْتِمَادُ ابْنِ الصَّلاحِ فِي هَذَا عَلَى مَا قَالَهُ مُسْلِمٌ فِي كِتَابِ التَّمْيِيزِ

كَمَا أَخْبَرَنَا بِهِ جَمَاعَةٌ مِنْ شُيُوخِنَا، عَنِ الْحَافِظِ شِهَابِ الدِّينِ بْنِ حَجَرٍ، وَأنا بِهِ هُوَ إِجَازَةً، قَالَ: أَخْبَرَتْنَا مَرْيَمُ بِنْتُ الأَذْرَعِيِّ، أنا يُونُسُ بْنُ أَبِي إِسْحَاقَ، أنا أَبُو الْحَسَنِ بْنُ الْمُعْتَزِّ، أنا أَبُو الْفَضْلِ بْنُ نَاصِرٍ.
এর উদাহরণ হলো: ইমাম মুসলিম তাঁর 'আত-তাময়িজ' গ্রন্থে যা উল্লেখ করেছেন যে, ইবনে লাহিয়াহ জায়েদ বিন সাবিত (রা.)-এর বর্ণিত হাদিসে বর্ণ বিকৃতি (তাশহিফ) করেছেন, যেখানে আল্লাহর রাসূল (সা.) "মসজিদে একটি ছোট কক্ষ (হুজরা) তৈরি করেছিলেন"।

কিন্তু তিনি 'মিম' বর্ণের মাধ্যমে বলেছিলেন: "তিনি (রাসূল) রক্তমোক্ষণ (হিজামা) করেছিলেন।"

এটি ইমাম ইরাকির তাঁর ব্যাখ্যাগ্রন্থের বর্ণনাভঙ্গি।

তিনি এটি ইবনে আস-সালাহর কিতাব থেকে গ্রহণ করেছেন। ইবনে আস-সালাহ তাঁর হাদিসশাস্ত্র বিষয়ক গ্রন্থে—যার ওপর নির্ভর করে ইমাম ইরাকি তাঁর কাব্যগ্রন্থ (নাজম) রচনা করেছেন এবং উল্লেখ করেছেন যে তিনি তা সংক্ষিপ্ত করেছেন—বলেছেন: "মতন বা মূল পাঠে বর্ণ বিকৃতির (তাশহিফ) উদাহরণ হলো: ইবনে লাহিয়াহ তাঁর কাছে থাকা মুসা বিন উকবাহ-এর কিতাব থেকে নিজ সনদে জায়েদ বিন সাবিত (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহর রাসূল (সা.) 'মসজিদে হিজামা করেছিলেন'। অথচ এটি আসলে 'রা' বর্ণের মাধ্যমে হবে, যার অর্থ 'তিনি মসজিদে খেজুর পাতার মাদুর বা চাটাই দিয়ে একটি ছোট কক্ষ (হুজরা) তৈরি করেছিলেন যেন সেখানে তিনি সালাত আদায় করতে পারেন'।"

ইবনে লাহিয়াহ এতে বর্ণ বিকৃতি ঘটিয়েছেন কারণ তিনি এটি সরাসরি শ্রবণ (সামা) করা ছাড়াই কেবল কিতাব থেকে গ্রহণ করেছিলেন। ইমাম মুসলিম তাঁর 'আত-তাময়িজ' গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেছেন।

এ বিষয়ে ইবনে আস-সালাহর নির্ভরতা ছিল ইমাম মুসলিম তাঁর 'আত-তাময়িজ' গ্রন্থে যা বলেছেন তার ওপর।

যেমন আমাদের একদল শিক্ষক হাফেজ শিহাবুদ্দিন ইবনে হাজার থেকে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আর তিনি আমাকে এ ব্যাপারে অনুমতি (ইজাজাহ) প্রদান করেছেন। তিনি বলেছেন: মারইয়াম বিনতে আল-আজরায়ি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ইউনুস বিন আবি ইসহাক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবুল হাসান বিন আল-মুতায আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবুল ফজল বিন নাসের আমাদের সংবাদ দিয়েছেন।
(খণ্ড: ১) জাওয়াবু বাদিল খাদাম লি আহলিন নিআম আন তাসহিফি হাদীসি ইহতাজামা (পৃষ্ঠা: ৩৯)
ح وَأنا جَمَاعَةٌ مِنْ شُيُوخِنَا، إِجَازَةً، أنا الصَّلاحُ بْنُ أَبِي عُمَرَ، كَذَلِكَ، أنا الْفَخْرُ بْنُ الْبُخَارِيِّ، أنا ابْنُ الْجَوْزِيِّ، إِجَازَةً، أنا أَبُو الْفَضْلِ بْنُ نَاصِرٍ، أنا أَبُو الْقَاسِمِ بْنُ مَنْدَهْ، أنا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْجَوْزَقِيُّ، فِيمَا كَتَبَ إِلَيْنَا، أنا مَكِّيُّ بْنُ عبْدَانَ، أنا مُسْلِمُ بْنُ الْحَجَّاجِ، قَالَ: وَمِنْ فَاحِشِ الْوَهْمِ لابْنِ لَهِيعَة مَا ثنا زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، ثنا إِسْحَاقُ بْنُ عِيسَى، ثنا ابْنُ لَهِيعَةَ، قَالَ: كَتَبَ إِلَيَّ مُوسَى بْنُ عُقْبَةَ، يَقُولُ: حَدَّثَنِي بُسْرُ بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‌‌«احْتَجَمَ فِي الْمَسْجِدِ» .

قُلْتُ لابْنِ لَهِيعَةَ: مَسْجِدٌ فِي بَيْتِهِ؟ قَالَ: مَسْجِدُ الرَّسِولِ صلى الله عليه وسلم.

قَالَ:
وَسَمِعْتُ مُسْلِمًا، يَقُولُ: وَهَذِهِ رِوَايَةٌ فَاسِدَةٌ مِنْ كُلِّ جِهَةٍ، فَاحِشٌ خَطَؤُهَا فِي الْمَتْنِ وَالإِسْنَادِ جَمِيعًا، وَابْنُ لَهِيعَةَ الْمُصَحَّفُ فِي مَتْنِهِ الْمُغَفَّلُ فِي إِسْنَادِهِ، وَإِنَّمَا الْحَدِيثُ: أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم «احْتَجَرَ فِي الْمَسْجِدِ بِخُوصَةٍ أَوْ حَصِيرٍ يُصَلِّي فِيهَا» .

قَالَ: وَسَنَذْكُرُ صِحَّةَ الرِّوَايَةِ فِي ذَلِكَ ثُمَّ قَالَ، أَعْنِي: مُسْلِمًا

حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ حَاتِمٍ، ثنا بَهْزُ بْنُ أَسَدٍ، أنا وُهَيْبٌ، حَدَّثَنِي مُوسَى بْنُ عُقْبَةَ، قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا النَّضْرِ، يُحَدِّثُ عَنْ بُسْرِ بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم ‌‌«اتَّخَذَ حُجْرَةً فِي الْمَسْجِدِ مِنْ حَصِيرٍ فَصَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِيهَا لَيَالِيَ حَتَّى اجْتَمَعَ إِلَيْهِ نَاسٌ،
এবং আমাদের একদল উস্তাদ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন অনুমতিসূত্রে (ইজাযাহ), আস-সালাহ ইবনে আবি উমর বর্ণনা করেছেন একইভাবে, আল-ফাখর ইবনুল বুখারি বর্ণনা করেছেন, ইবনুল জাওযি বর্ণনা করেছেন অনুমতিসূত্রে, আবু আল-ফাদল ইবনে নাসির বর্ণনা করেছেন, আবু আল-কাসিম ইবনে মানদাহ বর্ণনা করেছেন, আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ আল-জাওযাকি যা আমাদের কাছে লিখে পাঠিয়েছেন তাতে বর্ণনা করেছেন, মাক্কি ইবনে আবদান বর্ণনা করেছেন, মুসলিম ইবনুল হাজ্জাজ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইবনে লাহিয়া’র জঘন্য ভুলগুলোর মধ্যে একটি হলো যা আমাদের কাছে যুহাইর ইবনে হারব বর্ণনা করেছেন, ইসহাক ইবনে ঈসা আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, ইবনে লাহিয়া আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুসা ইবনে উকবাহ আমার কাছে লিখে পাঠিয়েছেন যে, বুসর ইবনে সাঈদ আমার কাছে বর্ণনা করেছেন যায়েদ ইবনে সাবিত (রা.) থেকে যে, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ‌‌«মসজিদে শিঙা লাগিয়েছিলেন (হিজামাহ করেছিলেন)»।

আমি (ইসহাক) ইবনে লাহিয়াকে বললাম: তাঁর ঘরে অবস্থিত কোনো মসজিদে কি? তিনি বললেন: রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর মসজিদে।

তিনি বলেন:
এবং আমি মুসলিমকে বলতে শুনেছি, তিনি বলছেন: এটি সর্বদিক থেকেই একটি বাতিল বর্ণনা, এর মূল পাঠ (মাতন) এবং সনদ (সূত্র) উভয় ক্ষেত্রেই এর ভুল অত্যন্ত জঘন্য। আর ইবনে লাহিয়া হচ্ছেন এমন ব্যক্তি যিনি মূল পাঠে শব্দের বিকৃতি ঘটান এবং সনদের বর্ণনায় অসতর্ক। মূল হাদিসটি হলো: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) «খেজুর পাতা বা চাটাই দিয়ে মসজিদে একটি কক্ষ বা ঘেরাও তৈরি করেছিলেন যাতে তিনি সালাত আদায় করতেন»।

তিনি বলেন: আমি এই বিষয়ে বর্ণনার বিশুদ্ধতা অচিরেই উল্লেখ করব। এরপর তিনি—অর্থাৎ ইমাম মুসলিম—বলেন:

মুহাম্মদ ইবনে হাতিম আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, বাহয ইবনে আসাদ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, উহাইব আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, মুসা ইবনে উকবাহ আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আবু নাদরকে বুসর ইবনে সাঈদ থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি, তিনি যায়েদ ইবনে সাবিত (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ‌‌«মসজিদে চাটাই দিয়ে একটি কক্ষ তৈরি করেছিলেন, অতঃপর রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাতে কয়েক রাত সালাত আদায় করলেন, এমনকি সেখানে লোকজন সমবেত হলো»,
(খণ্ড: ১) জাওয়াবু বাদিল খাদাম লি আহলিন নিআম আন তাসহিফি হাদীসি ইহতাজামা (পৃষ্ঠা: ৪০)
ثُمَّ فَقَدُوا صَوْتَهُ لَيْلَةً، وَظَنُّوا أَنَّهُ قَدْ نَامَ، فَجَعَلَ بَعْضُهُمْ يَتَنَحْنَحُ أَنْ يَخْرُجَ إِلَيْهِمْ» .

وَسَاقَهُ

قَالَ مُسْلِمٌ: وَثنا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، ثنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ، ثنا سَالِمٌ أَبُو النَّضْرِ مَوْلَى عُمَرَ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ، عَنْ بُسْرِ بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ، قَالَ: ‌‌«احْتَجَرَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم خَصَفَةً أَوْ حَصِيرًا، فَخَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم» .

قَالَ
مُسْلِمٌ: الرِّوَايَةُ صَحِيحَةٌ فِي هَذَا الْحَدِيثِ، مَا ذَكَرْنَا عَنْ وُهَيْبٍ، وَذَكَرْنَا عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَعِيٍد، عَنْ أَبِي النَّضْرِ، وَابْنُ لَهِيعَةَ إِنَّمَا وَقَعَ فِي الْخَطَأِ مِنْ هَذِهِ الرِّوَايَةِ، أَنَّهُ أَخَذَ الْحَدِيثَ مِنْ كِتَابِ مُوسَى بْنِ عُقْبَةَ إِلَيْهِ فِيمَا ذُكِرَ، وَهِيَ الآفَةُ الَّتِي تُخْشَى عَلَى مَنْ أَخَذَ الْحَدِيثَ مِنَ الْكُتُبِ مِنْ غَيْرِ سَمَاعٍ مِنَ الْمُحَدِّثِ أَوْ عَرْضٍ عَلَيْهِ.

فَإِذَا كَانَ أَحَدُ هَذَيْنِ، السَّمَاعُ أَوِ الْعَرْضُ، فَخَلِيقٌ أَنْ لا يَأْتِيَ صَاحِبَهُ التَّصْحِيفُ الْقَبِيحُ وَمَا أَشْبَهُ ذَلِكَ مِنَ الْخَطَأِ الْفَاحِشِ إِنْ شَاءَ اللَّهُ تَعَالَى.

وَأَمَّا الْخَطَأُ فِي إِسْنَادِ رِوَايَةِ ابْنِ لَهِيعَةَ، فَقَوْلُهُ: كَتَبَ إِلَيَّ مُوسَى بْنُ عُقْبَةَ، يَقُولُ: حَدَّثَنِي بُسْرُ بْنُ سَعِيدٍ.

وَمُوسَى إِنَّمَا سَمِعَ هَذَا الْحَدِيثَ مِنْ أَبِي جَعْفَرٍ مِنْ أَبِي النَّضْرِ يَرْوِيهِ، عَنْ بُسْرِ بْنِ سَعِيدٍ.

انْتَهَى كَلامُ مُسْلِمٍ رضي الله عنه الَّذِي ذَكَرَهُ فِي التَّمْيِيزِ.

وَقَدْ رَوَيْنَاهُ مِنْ طُرُقٍ كَثِيرَةٍ فِي عِدَّةٍ مِنْ كُتُبِ الْحَدِيثِ مِنْ حَدِيثِ زَيْدٍ
এরপর এক রাতে তাঁরা তাঁর কণ্ঠস্বর শুনতে পেলেন না এবং ধারণা করলেন যে তিনি ঘুমিয়ে পড়েছেন, তাই তাঁদের কেউ কেউ গলা খাঁকারি দিতে লাগলেন যাতে তিনি তাঁদের কাছে বেরিয়ে আসেন।

এবং তিনি এটি বর্ণনা করেছেন

মুসলিম বলেন: আমাদের কাছে মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না বর্ণনা করেছেন, আমাদের কাছে মুহাম্মাদ ইবনু জাফর বর্ণনা করেছেন, আমাদের কাছে আব্দুল্লাহ ইবনু সাঈদ বর্ণনা করেছেন, আমাদের কাছে উমার ইবনু উবাইদুল্লাহর মুক্তদাস সালিম আবু নাদর বর্ণনা করেছেন বুসর ইবনু সাঈদ থেকে, তিনি যাইদ ইবনু সাবিত থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ‌‌"রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম খেজুর পাতার পাটি বা মাদুর দিয়ে একটি কক্ষ বানিয়েছিলেন, অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বের হলেন।"

বলেন
মুসলিম: এই হাদিসের ক্ষেত্রে সঠিক বর্ণনা হলো যা আমরা উহাইব থেকে উল্লেখ করেছি এবং যা আমরা আব্দুল্লাহ ইবনু সাঈদ থেকে আবু নাদরের সূত্রে উল্লেখ করেছি। আর ইবনু লাহিয়া এই বর্ণনায় ভুল করেছেন এই কারণে যে, তিনি যা উল্লেখ করেছেন তাতে তিনি হাদিসটি মুসা ইবনু উকবার কিতাব থেকে গ্রহণ করেছিলেন। আর এটি সেই আপদ বা ত্রুটি যা সেই ব্যক্তির ক্ষেত্রে আশঙ্কা করা হয় যে কোনো মুহাদ্দিসের নিকট শ্রবণ করা ব্যতীত বা তাঁর নিকট পেশ করা ব্যতীত কেবল কিতাব থেকে হাদিস গ্রহণ করে।

সুতরাং যদি এই দুটির কোনো একটি অর্থাৎ শ্রবণ করা বা পেশ করা বিদ্যমান থাকে, তবে ইনশাআল্লাহ তাআলা সেই বর্ণনাকারীর মাঝে জঘন্য বিকৃতি বা এই জাতীয় মারাত্মক ভুল আসার সম্ভাবনা থাকে না।

আর ইবনু লাহিয়ার বর্ণনার সনদে ভুলের বিষয়টি হলো তাঁর উক্তি: মুসা ইবনু উকবা আমার নিকট লিখেছেন, তিনি বলেন: আমার নিকট বুসর ইবনু সাঈদ বর্ণনা করেছেন।

অথচ মুসা এই হাদিসটি আবু নাদরের সূত্রে আবু জাফরের নিকট থেকে শুনেছেন, যিনি এটি বুসর ইবনু সাঈদ থেকে বর্ণনা করেছেন।

মুসলিম রাদিয়াল্লাহু আনহুর কথা সমাপ্ত হলো যা তিনি আত-তাময়িজ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।

এবং আমরা এটি যাইদের হাদিস থেকে হাদিসের বিভিন্ন কিতাবে অনেকগুলো সূত্রে বর্ণনা করেছি।
(খণ্ড: ১) জাওয়াবু বাদিল খাদাম লি আহলিন নিআম আন তাসহিফি হাদীসি ইহতাজামা (পৃষ্ঠা: ৪১)
كَمَا رَوَاهُ مُسْلِمٌ عَلَى الصِّحَةِ مِنْ غَيْرِ رِوَايَةِ ابْنِ لَهِيعَةَ، فَقَرَأْتُ عَلَى أَبِي حَفْصٍ السُّلَمِيِّ، وَغَيْرِهِ بِبَعْلَبَكَ، أَخْبَرَكُمُ ابْنُ الزَّعْبُوبِ.

وَقَرَأْتُ عَلَى أَبِي حَفْصٍ اللُّؤْلُئِيِّ، وَغَيْرِهِ، أَخْبَرَتْكُمْ عَائِشَةُ بِنْتُ عَبْدِ الْهَادِي، وَأَخْبَرَنِي بِهَا جَمٌّ عَنْهَا

وَأَخْبَرَنِي جَمَاعَةٌ مِنْ شُيُوخِنَا، عَنِ ابْنِ الْمُحِبِّ، قَالُوا: أنا أَبُو الْعَبَّاسِ الْحَجَّارُ أنا أَبُو الْمُنَجَّا بْنُ اللَّتِّيِّ، أنا أَبُو الْوَقْتِ السِّجِّزِيُّ، أنا أَبُو الْحَسَنِ الدَّاوُدِيُّ، أنا أَبُو مُحَمَّدٍ السَّرَخْسِيُّ، أنا أَبُو إِسْحَاقَ الشَّاشِيُّ، أنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ حُمَيْدٍ، ثنا عَفَّانُ بْنُ مُسْلِمٍ، ثنا وُهَيْبُ بْنُ خَالِدٍ، ثنا مُوسَى بْنُ عُقْبَةَ، قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا النَّضْرِ، يُحَدِّثُ عَنْ بُسْرِ بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم " اتَّخَذَ حُجْرَةً فِي الْمَسْجِدِ مِنْ حَصِيرٍ، فَصَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِيهَا لَيَالِيَ حَتَّى اجْتَمَعَ إِلَيْهِ نَاسٌ، ثُمَّ فَقَدُوا صَوْتَهُ فَظَنُّوا أَنَّهُ قَدْ نَامَ، فَجَعَلَ بَعْضُهُمْ يَتَنَحْنَحُ لِيَخْرُجَ إِلَيْهِمْ.

قَالَ: فَقَالَ: مَا زَالَ بِكُمُ الَّذِي رَأَيْتُ مِنْ صَنِيعِكُمْ حَتَّى خَشِيتُ أَنْ يُكْتَبَ عَلَيْكُمْ، وَلَوْ كُتِبَ عَلَيْكُمْ مَا قُمْتُمْ بِهِ، فَصَلُّوا أَيُّهَا النَّاسُ فِي بُيُوتِكُمْ، فَإِنَّ‌‌ أَفْضَلَ صَلاةِ الْمَرْءِ فِي بَيْتِهِ إِلا الصَّلاةَ الْمَكْتُوبَةَ ".
যেমনটি মুসলিম সহীহভাবে বর্ণনা করেছেন ইবনে লাহিয়াহর বর্ণনা ব্যতীত। আমি বালবাক-এ আবু হাফস আস-সুলামী ও অন্যদের নিকট পড়েছি, আবুয যা'বূব তোমাদের সংবাদ দিয়েছেন।

এবং আমি আবু হাফস আল-লুলুয়ি ও অন্যদের নিকট পড়েছি, আয়েশা বিনতে আব্দুল হাদী তোমাদের সংবাদ দিয়েছেন এবং একদল বর্ণনাকারী তাঁর পক্ষ থেকে আমাকে এটি সংবাদ দিয়েছেন।

আমাদের একদল শিক্ষক ইবনুল মুহিব্ব থেকে আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, তাঁরা বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল আব্বাস আল-হাজ্জার, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল মুনাজ্জা ইবনুল লাত্তি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল ওয়াক্ত আস-সিজজি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল হাসান আদ-দাউদী, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মাদ আস-সারাখসী, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু ইসহাক আশ-শাশী, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্দুল্লাহ ইবনে হুমাইদ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আফফান ইবনে মুসলিম, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন উহাইব ইবনে খালিদ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুসা ইবনে উকবা, তিনি বলেন: আমি আবু নাদরকে বুসর ইবনে সাঈদ থেকে এবং তিনি যায়িদ ইবনে সাবিত (রা.) থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মসজিদে চাটাই দিয়ে একটি ছোট কামরা তৈরি করেছিলেন। এরপর সেখানে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কয়েক রাত সালাত আদায় করলেন, এমনকি তাঁর নিকট কিছু মানুষ সমবেত হলো। অতঃপর তাঁরা তাঁর কণ্ঠস্বর শুনতে পেলেন না, তখন তাঁরা ধারণা করলেন যে তিনি হয়তো ঘুমিয়ে পড়েছেন। তাই তাঁদের কেউ কেউ গলা পরিষ্কারের শব্দ করতে লাগলেন যাতে তিনি তাঁদের নিকট বেরিয়ে আসেন।

তিনি (নবী ﷺ) বললেন: তোমাদের সেই কাজ (আগ্রহ) যা আমি দেখছিলাম তা অব্যাহত ছিল, এমনকি আমি আশঙ্কা করলাম যে এটি তোমাদের ওপর ফরজ করে দেওয়া হয় কি না। আর যদি তা তোমাদের ওপর ফরজ করে দেওয়া হতো, তবে তোমরা তা পালন করতে পারতে না। অতএব হে লোকসকল! তোমরা তোমাদের ঘরে সালাত আদায় করো, কেননা‌‌ ফরয সালাত ব্যতীত মানুষের জন্য তার ঘরে সালাত আদায় করাই সর্বোত্তম ।
(খণ্ড: ১) জাওয়াবু বাদিল খাদাম লি আহলিন নিআম আন তাসহিফি হাদীসি ইহতাজামা (পৃষ্ঠা: ৪২)
وَبِهَذَا السِّيَاقِ رَوَيْنَاهُ فِي صَحِيحِ الْبُخَارِيِّ

أَخْبَرَنَا الْجَمَاعَةُ، أنا ابْنُ الزَّعْبُوبِ، أنا الْحَجَّارُ.

ح وَأنا جَمَاعَةٌ مِنْ شُيُوخِنَا، أَخْبَرَتْنَا عَائِشَةُ بِنْتُ عَبْدِ الْهَادِي، أنا الْحَجَّارُ، أنا ابْنُ الزُّبَيْدِيِّ، أنا أَبُو الْوَقْتِ السِّجْزِيُّ، أنا أَبُو الْحَسَنِ الدَّاوُدِيُّ، أنا أَبُو مُحَمَّدٍ السَّرَخْسِيُّ، أنا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْفَرَبْرِيُّ، أنا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، ثنا عَبْدُ الأَعْلَى بْنُ حَمَّادٍ، ثنا وُهَيْبٌ، ثنا مُوسَى بْنُ عُقْبَةَ، عَنْ سَالِمٍ أَبِي النَّضْرِ، عَنْ بُسْرِ بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم اتَّخَذَ فِي حُجْرَةٍ، قَالَ: حَسَبْتُ أَنَّهُ قَالَ: مِنْ حَصِيرٍ فِي رَمَضَانَ، فَصَلَّى فِيهَا لَيَالِيَ، فَصَلَّى بِصَلاتِهِ نَاسٌ مِنْ أَصْحَابِهِ.

فَلَمَّا عَلِمَ بِهِمْ جَعَلَ يَقْعُدُ، فَخَرَجَ إِلَيْهِمْ، فَقَالَ: قَدْ عَرَفْتُ الَّذِي رَأَيْتُ مِنْ صَنِيعِكُمْ فَصَلُّوا أَيُّهَا النَّاسُ فِي بُيُوتِكُمْ.
এবং এই সূত্রেই আমরা এটি সহীহ আল-বুখারীতে বর্ণনা করেছি।

আমাদের একদল (উস্তাদ) সংবাদ দিয়েছেন, ইবনুল জাবুব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আল-হাজ্জার আমাদের সংবাদ দিয়েছেন।

এবং আমাদের একদল শিক্ষক সংবাদ দিয়েছেন, আয়িশা বিনতে আব্দুল হাদী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আল-হাজ্জার আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ইবনুয যুবাইদী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু আল-ওয়াক্ত আল-সিজযী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু আল-হাসান আদ-দাউদী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু মুহাম্মাদ আস-সারাকসী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু আব্দুল্লাহ আল-ফিরাবরী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবনে ইসমাঈল আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আব্দুল আ'লা ইবনে হাম্মাদ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, উহাইব আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, মুসা ইবনে উকবাহ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, সালিম আবু আন-নাদর থেকে, বুসর ইবনে সাঈদ থেকে, যায়িদ ইবনে সাবিত (রা.) থেকে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) রমজান মাসে একটি কক্ষ (নামাজের জায়গা) তৈরি করেছিলেন; বর্ণনাকারী বলেন: আমার ধারণা তিনি বলেছেন: চাটাই দিয়ে; অতঃপর তিনি সেখানে কয়েক রাত নামাজ পড়লেন এবং তাঁর সাহাবীদের মধ্য থেকে কিছু লোক তাঁর সাথে নামাজ আদায় করলেন।

যখন তিনি তাদের ব্যাপারে জানতে পারলেন, তখন তিনি বসে রইলেন (নামাজে বের হলেন না), এরপর তাদের নিকট বেরিয়ে আসলেন এবং বললেন: "তোমাদের যা করতে দেখেছি তা আমি অবগত হয়েছি; অতএব হে লোকসকল! তোমরা তোমাদের ঘরেই নামাজ আদায় করো।"
(খণ্ড: ১) জাওয়াবু বাদিল খাদাম লি আহলিন নিআম আন তাসহিফি হাদীসি ইহতাজামা (পৃষ্ঠা: ৪৩)
قَالَ: ‌‌«أَفْضَلُ الصَّلاةِ صَلاةُ الْمَرْءِ فِي بَيْتِهِ إِلا الْمَكْتُوبَةَ» .

وَقَالَ الْبُخَارِيُّ: قَالَ عَفَّانُ: ثَنَا وُهَيْبٌ، ثَنَا مُوسَى
، قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا النَّضْرِ، عَنْ بُسْرٍ، عَنْ زَيْدٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم.

وَقَدْ رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ فِي مَوْضِعٍ آخَرَ مِنْ حَدِيثِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ سَالِمٍ مَوْلَى أَبِي النَّضْرِ، وَلَفْظُهُ «احْتَجَرَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حُجَيْرَةً مُخَصَّفَةً أَوْ حَصِيرًا» .

وَبِاللَّفْظِ أَوْرَدَهُ مُسْلِمٌ فِي صَحِيحِهِ

قَرَأْتُ عَلَى أَبِي الْعَبَّاسِ الْفُولارِيُّ، أَخْبَرَكُمُ ابْنُ بَرْدَسٍ، وَأَخْبَرَنِي جَمَاعَةٌ آخَرُونَ عَنْهُ، أنا ابْنُ الْخَبَّازِ، أنا الإِرْبِلِيُّ، أنا الْفُرَاوِيُّ، أنا الْفَارِسِيُّ، أنا الْجُلُودِيُّ، أنا إِبْرَاهِيمُ بْنُ سَعِيدٍ، أنا مُسْلِمُ بْنُ الْحَجَّاجِ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، ثنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ، ثنا سَالِمٌ أَبُو النَّضْرِ مَوْلَى عُمَرَ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ، عَنْ بُسْرِ بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ، قَالَ: «احْتَجَرَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حُجَيْرَةً مُخَصَّفَةً أَوْ حَصِيرًا، فَخَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي فِيهَا» .
তিনি বলেছেন: ‌‌«ফরজ নামাজ ব্যতীত ব্যক্তির সর্বোত্তম নামাজ হলো তার ঘরে পড়া নামাজ।»

এবং ইমাম বুখারি বলেছেন: আফফান বলেছেন: আমাদের কাছে উহাইব বর্ণনা করেছেন, আমাদের কাছে মুসা বর্ণনা করেছেন
, তিনি বলেছেন: আমি আবু নাদর থেকে শুনেছি, তিনি বুসর থেকে, তিনি জায়েদ থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন।

আর ইমাম বুখারি এটি অন্য এক স্থানে আব্দুল্লাহ ইবনে সাঈদের হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন, যা তিনি আবু নাদরের মুক্তদাস সালিম থেকে বর্ণনা করেছেন; এর শব্দাবলি হলো: «রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খেজুর পাতা দিয়ে বোনা চাটাই বা পাটি দিয়ে একটি ছোট কক্ষ তৈরি করেছিলেন।»

আর ইমাম মুসলিম তাঁর সহিহ গ্রন্থে এই শব্দেই এটি উল্লেখ করেছেন।

আমি আবু আল-আব্বাস আল-ফুলারির নিকট পাঠ করেছি, ইবনুল বারদাস আপনাদের সংবাদ দিয়েছেন এবং একদল বর্ণনাকারী তাঁর পক্ষ থেকে আমাকে সংবাদ দিয়েছেন; ইবনুল খাব্বাজ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আল-ইরবিলি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আল-ফুরাউয়ি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আল-ফারিসি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আল-জুলুদি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ইব্রাহিম ইবনে সাঈদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মুসলিম ইবনুল হাজ্জাজ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন; মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মাদ ইবনে জাফর আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আব্দুল্লাহ ইবনে সাঈদ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, উমর ইবনে উবায়দুল্লাহর মুক্তদাস সালিম আবু নাদর আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বুসর ইবনে সাঈদ থেকে, তিনি জায়েদ ইবনে সাবিত থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: «রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খেজুর পাতা দিয়ে বোনা চাটাই বা পাটি দিয়ে একটি ছোট কক্ষ তৈরি করেছিলেন, অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেখানে নামাজ আদায় করতে বের হলেন।»
(খণ্ড: ১) জাওয়াবু বাদিল খাদাম লি আহলিন নিআম আন তাসহিফি হাদীসি ইহতাজামা (পৃষ্ঠা: ৪৪)
قَالَ: فَتَتَبَّعَ إِلَيْهِ رِجَالٌ جَاءُوا يُصَلُّونَ بِصَلاتِهِ.

قَالَ: ثُمَّ جَاءُوا لَيْلَةً فَحَضَرُوا وَأَبْطَأَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْهُمْ.

قَالَ: فَلَمْ يَخْرُجْ إِلَيْهِمْ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فَرَفَعُوا أَصْوَاتَهُمْ وَحَصَبُوا الْبَابَ فَخَرَجَ إِلَيْهِمْ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مُغْضَبًا، فَقَالَ لَهُمْ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «مَا زَالَ بِكُمْ صَنِيعُكُمْ حَتَّى ظَنَنْتُ أَنَّهُ سَيُكْتَبُ عَلَيْكُمْ، فَعَلَيْكُمْ بِالصَّلاةِ فِي بُيُوتِكُمْ فَإِنَّ‌‌ خَيْرَ صَلاةِ الْمَرْءِ فِي بَيْتِهِ إِلا الصَّلاةَ الْمَكْتُوبَةَ» .

وَهَذِهِ الرِّوَايَةُ بِلَفْظِ: احْتَجَرَ، أَتَمُّ مِنْ رِوَايَةِ
الْبُخَارِيِّ بِاللَّفْظِ.

وَقَدْ رَوَى التِّرْمِذِيُّ آخِرَهُ مُخْتَصَرًا

وَقَرَأْتُ عَلَى الشِّهَابِ بْنِ الشَّرِيعَةِ، أَخْبَرَكَ الْمَشَايِخُ: الْعَلامَةُ ابْنُ الْبَالِسِيِّ، وَابْنُ الْحَرَسْتَانِيِّ، وَالْمُرَدَاوِيُّ، قَالُوا: أنا الْمِزِّيُّ.

ح وَأَخْبَرَنَا جَمَاعَةٌ مِنْ شُيُوخِنَا، أنا ابْنُ الْمُحِبِّ، أنا وَالِدِي، وَالْمِزِّيُّ، أنا ابْنُ الْبُخَارِيِّ.

ح وَأنا جَدِّي، وَغَيْرُهُ، إِجَازَةً، أنا الصَّلاحُ بْنُ أَبِي عُمَرَ، أنا الْفَخْرُ بْنُ الْبُخَارِيِّ.

أنا أَبُو الْحَسَنِ بْنُ الْبَنَّا وَابْنُ طَبَرْزَدَ، أنا أَبُو الْفَتْحِ الْكَرُوخِيُّ، أنا أَبُو عَامِرٍ الأَزْدِيُّ، وَأَبُو نَصْرٍ التِّرْيَاقِيُّ، وَأَبُو نَصْرٍ التِّرْيَاقِيُّ، 9 قَالُوا: أنا أَبُو مُحَمَّدٍ الْمَرْوَزِيُّ، أنا أَبُو الْعَبَّاسِ الْمَحْبُوبِيُّ، أنا أَبُو عِيسَى التِّرْمِذِيُّ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، ثنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدِ بْنِ أَبِي هِنْدٍ، عَنْ سَالِمٍ أَبِي النَّضْرِ، عَنْ بُسْرِ بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: «أَفْضَلُ صَلاتِكُمْ فِي بُيُوتِكُمْ إِلا الْمَكْتُوبَةَ» .
তিনি বলেন: কিছু লোক তাঁর অনুসরণ করল, যারা তাঁর সালাতের সাথে সালাত আদায় করতে এসেছিল।

তিনি বলেন: তারপর তারা এক রাতে এল এবং উপস্থিত হলো, কিন্তু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের নিকট আসতে বিলম্ব করলেন।

তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের নিকট বের হলেন না, তখন তারা উচ্চস্বরে শব্দ করতে লাগল এবং দরজায় কঙ্কর নিক্ষেপ করল। ফলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাগান্বিত অবস্থায় তাদের নিকট বের হয়ে এলেন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের বললেন: “তোমাদের এই কর্মকাণ্ড অবিরত চলতে থাকায় আমি আশঙ্কা করছিলাম যে, সম্ভবত এটি তোমাদের ওপর ফরজ করে দেওয়া হবে। সুতরাং তোমরা তোমাদের ঘরেই সালাত আদায় করো, কেননা‌‌ ফরজ সালাত ব্যতীত মানুষের সর্বোত্তম সালাত হলো তার নিজ ঘরে।”

আর এই বর্ণনাটি ‘ইহ্তাজারা’ (তিনি একটি কামরা বা ঘেরা তৈরি করলেন) শব্দের সাথে বর্ণিত, যা বুখারীর শাব্দিক বর্ণনার তুলনায় অধিক পূর্ণাঙ্গ।

ইমাম তিরমিযী এর শেষ অংশটি সংক্ষেপে বর্ণনা করেছেন।

আমি শিহাব ইবনুল শারীয়াহর নিকট পাঠ করেছি, তিনি বলেন: আপনাকে মাশায়েখগণ সংবাদ দিয়েছেন: আল্লামা ইবনুল বালিসি, ইবনুল হারাসতানি এবং আল-মুরাদাবি; তাঁরা বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আল-মিযযি।

(সূত্র পরিবর্তন) এবং আমাদের একদল শিক্ষক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তাঁরা বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইবনুল মুহিব্ব, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আমার পিতা এবং আল-মিযযি, তাঁরা বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইবনুল বুখারি।

(সূত্র পরিবর্তন) এবং আমাকে আমার দাদা ও অন্যগণ অনুমতি সাপেক্ষে সংবাদ দিয়েছেন, তাঁরা বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আস-সালাহ ইবনে আবি উমার, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আল-ফাখর ইবনুল বুখারি।

আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল হাসান ইবনুল বান্না এবং ইবনু তাবারযাদ, তাঁরা বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল ফাতহ আল-কারুখি, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আমির আল-আযদি এবং আবু নাসর আত-তিরয়াকি এবং আবু নাসর আত-তিরয়াকি, তাঁরা বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মদ আল-মারওয়াযি, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল আব্বাস আল-মাহবুবি, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু ঈসা আত-তিরমিযি, তিনি বলেন: আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন মুহাম্মদ বিন বাশশার, তিনি বলেন: আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন মুহাম্মদ বিন জাফর, তিনি বলেন: আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আবদুল্লাহ বিন সাঈদ বিন আবি হিন্দ, তিনি সালিম আবু আন-নাদর থেকে, তিনি বুসর বিন সাঈদ থেকে, তিনি যায়েদ বিন সাবিত থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: “ফরজ সালাত ব্যতীত তোমাদের সর্বোত্তম সালাত হলো তোমাদের ঘরে।”
(খণ্ড: ১) জাওয়াবু বাদিল খাদাম লি আহলিন নিআম আন তাসহিফি হাদীসি ইহতাজামা (পৃষ্ঠা: ৪৫)
وَهَذَا آخِرُ الْحَدِيثِ الْمَذْكُورِ، وَكَذَلِكَ أَوْرَدَهُ أَبُو دَاوُدَ فِي السُّنَنِ

كما أَخْبَرَنَا جماعة من شيوخنا، أنا ابن البالسي، وابن الحرستاني، وقال آخرون: أنا ابن المحب، قالوا: أنا المزي، أنا ابن البخاري.

ح وأَخْبَرَنَا جماعة من شيوخنا، أنا ابن عروة، أنا ابن الرحبي، أنا المزي، أنا ابن البخاري.

ح وأنا جدي، وغيره، إجازة، أنا الصلاح بن أبي عمر، أنا ابن البخاري.

ح وقرأت على جماعة من شيوخنا، أنا ابن الزعبوب، أنا الحجار، أنا ابن اللتي، قَالَ هو، وابن البخاري: أنا ابن طبرزد، أنا أبو الفتح الدومي، أنا أبو بكر الخطيب، أنا أبو عمر الهاشمي، أنا أبو علي اللؤلئي، أنا أبو داود، ثنا أحمد بن صالح، ثنا عبد الله بن وهب، أخبرني سليمان بن بلال، عن إبراهيم، عن أبي النضر، عن أبيه، عن بسر بن سعيد، عن زيد بن ثابت، فذكره.

وحاصل الأمر أن الرواية الصحيحة التي اتفق عليها الأئمة وخرجها أهل التثبت غير رواية ابن لهيعة، ولكن اختلف لفظها، ففي رواية: احتجر، وفي رواية: اتخذ حجرة.

فإن قيل: لم لم تقولوا بالتعداد وأن زيدا روى، عن النبي صلى الله عليه وسلم حديثين:
এটিই উল্লিখিত হাদিসের শেষ অংশ এবং একইভাবে আবু দাউদ একে 'আস-সুনান'-এ উল্লেখ করেছেন।

যেমন আমাদের একদল শায়খ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, (তারা বলেন) আমাদের নিকট ইবনুল বালসি এবং ইবনুল হারাসতানি বর্ণনা করেছেন; অন্যরা বলেন: আমাদের নিকট ইবনুল মুহিব্ব বর্ণনা করেছেন; তারা বলেন: আমাদের নিকট আল-মিজ্জি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট ইবনুল বুখারি বর্ণনা করেছেন।

অন্য সূত্রে, আমাদের একদল শায়খ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আমাদের নিকট ইবনে উরওয়াহ বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট ইবনুর রাহবি বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আল-মিজ্জি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট ইবনুল বুখারি বর্ণনা করেছেন।

অন্য সূত্রে, আমার দাদা ও অন্যান্যরা আমাকে ইজাযতক্রমে সংবাদ দিয়েছেন, আমাদের নিকট আস-সালাহ বিন আবি উমর বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট ইবনুল বুখারি বর্ণনা করেছেন।

অন্য সূত্রে, আমি আমাদের একদল শায়খের নিকট পাঠ করেছি, আমাদের নিকট ইবনুয যা'বুব বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আল-হাজ্জার বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট ইবনুল লাতি বর্ণনা করেছেন; তিনি এবং ইবনুল বুখারি বলেন: আমাদের নিকট ইবনে তাবারযাদ বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আবুল ফাতহ আদ-দুমি বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আবু বকর আল-খাতিব বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আবু উমর আল-হাশেমি বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আবু আলি আল-লু'লুয়ি বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আহমদ বিন সালিহ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, আব্দুল্লাহ বিন ওয়াহাব আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, সুলাইমান বিন বিলাল আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি ইব্রাহিম থেকে, তিনি আবু আন-নাদর থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি বুসর বিন সাইদ থেকে এবং তিনি যায়েদ বিন সাবিত থেকে বর্ণনা করেছেন, অতঃপর তিনি হাদীসটি উল্লেখ করেন।

সারকথা হলো, ইমামগণ যে বিশুদ্ধ বর্ণনার ওপর একমত হয়েছেন এবং নির্ভরযোগ্য হাদীসবিশারদগণ যা সংকলন করেছেন, তা ইবনে লাহিয়ার বর্ণনা অপেক্ষা ভিন্ন। তবে এর শব্দবিন্যাসে ভিন্নতা রয়েছে; এক বর্ণনায় এসেছে: 'তিনি একটি স্থান ঘিরে নিয়েছিলেন', আর অন্য বর্ণনায় এসেছে: 'তিনি একটি কক্ষ তৈরি করেছিলেন'।

যদি প্রশ্ন করা হয়: কেন আপনারা একাধিক ঘটনার কথা বলছেন না এবং কেন বলছেন না যে যায়দ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে দুটি পৃথক হাদিস বর্ণনা করেছেন:
(খণ্ড: ১) জাওয়াবু বাদিল খাদাম লি আহলিন নিআম আন তাসহিফি হাদীসি ইহতাজামা (পৃষ্ঠা: ৪৬)
أحدهما: أن النبي صلى الله عليه وسلم «احتجر في المسجد» ، أي: اتخذ حجرة.

والثاني: أن النبي صلى الله عليه وسلم «احتجم في المسجد» من الحجامة، كما قد قلتم فيما إذا ورد عن النبي صلى الله عليه وسلم حديثان مختلفان، وأمكن حمل كل واحد منهما على محمل فهو أولى من إعمال أحدهما وإهمال الآخر.

نقول: هذا ليس هو من ذلك الباب، فإنما ذاك فيما إذا اتفق أئمة الحديث على أنه ورد لفظ كل منهما، ولم يقع فيه الخطأ من بعض الرواة، وأما هنا فإنه قد اتفق الأئمة على وقوع الخطأ فيه والتصحيف، وأنه من قبل ابن لهيعة كما قد ذكرنا ذلك وبيناه.

وقد قَالَ الحافظ أبو الفرج بن رجب في شرح البخاري: وقد روى ابن لهيعة حديث زيد بن ثابت هذا بعينه، عن موسى بن عقبة، بهذا الإسناد، وذكر: أن موسى كتب به إليه واختصر الحديث وصحفه، فقال: «احتجم رَسُول اللَّهِ صلى الله عليه وسلم في المسجد» .

قيل لابن لهيعة: مسجد بيته؟ قَالَ: لا، مسجد الرسول صلى الله عليه وسلم.

قَالَ: وقد خرج حديثه الإمام هذا الإمام أحمد.

قَالَ: وقوله: احتجم.

غلط فاحش، وإنما هو احتجر، أي اتخذ حجرة.

انتهى كلامه.
একটি হলো: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম «মসজিদে একটি কক্ষ তৈরি করেছিলেন», অর্থাৎ: তিনি একটি কামরা তৈরি করেছিলেন।

আর দ্বিতীয়টি হলো: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম «মসজিদে শিঙা লাগিয়েছিলেন» যা হিজামা থেকে আগত; যেমনটি আপনারা বলে থাকেন যে, যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে দুটি ভিন্ন হাদিস বর্ণিত হয় এবং উভয়েরই পৃথক ব্যাখ্যা করা সম্ভব হয়, তখন একটিকে গ্রহণ করে অন্যটিকে বর্জন করার চেয়ে উভয়কে স্ব-স্ব স্থানে প্রয়োগ করাই উত্তম।

আমরা বলি: এটি সেই পর্যায়ের বিষয় নয়। সেটি কেবল তখনই প্রযোজ্য হয় যখন হাদিসের ইমামগণ একমত হন যে উভয় শব্দই বর্ণিত হয়েছে এবং কোনো বর্ণনাকারীর পক্ষ থেকে এতে কোনো ভুল ঘটেনি। কিন্তু এখানে ইমামগণ একমত হয়েছেন যে এতে ভুল ও শব্দের বিকৃতি ঘটেছে এবং এটি ইবনে লাহিয়ার পক্ষ থেকে হয়েছে, যেমনটি আমরা উল্লেখ করেছি এবং স্পষ্ট করেছি।

হাফেজ আবু আল-ফারাজ ইবনে রজব বুখারির ব্যাখ্যাগ্রন্থে বলেছেন: ইবনে লাহিয়া যায়েদ ইবনে সাবিতের এই হাদিসটি হুবহু মুসা ইবনে উকবার সূত্রে এই সনদেই বর্ণনা করেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, মুসা এটি তাঁর কাছে লিখে পাঠিয়েছিলেন, কিন্তু তিনি হাদিসটিকে সংক্ষিপ্ত করেছেন এবং তাতে শব্দের বিকৃতি ঘটিয়েছেন। ফলে তিনি বলেছেন: «রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদে শিঙা লাগিয়েছিলেন»।

ইবনে লাহিয়াকে জিজ্ঞেস করা হলো: তাঁর ঘরের মসজিদে? তিনি বললেন: না, বরং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মসজিদে।

তিনি বলেন: ইমাম আহমাদ তাঁর এই হাদিসটি বর্ণনা করেছেন।

তিনি বলেন: আর তাঁর এই উক্তি: «শিঙা লাগিয়েছেন»।

এটি একটি জঘন্য ভুল; বরং সঠিক শব্দ হলো «কক্ষ তৈরি করেছেন», অর্থাৎ তিনি একটি কামরা গ্রহণ করেছিলেন।

তাঁর বক্তব্য সমাপ্ত।
(খণ্ড: ১) জাওয়াবু বাদিল খাদাম লি আহলিন নিআম আন তাসহিফি হাদীসি ইহতাজামা (পৃষ্ঠা: ৪৭)
فقد اتفق الأئمة على أنه حديث واحد ورجاله أيضًا الذين رواه عنهم عن ابن لهيعة هم الرجال الذين رواه عنهم ابن لهيعة.

فإن قيل: كما أن رواية غير ابن لهيعة رواها الأئمة، فرواية ابن لهيعة أيضًا رواها الأئمة مثل الإمام أحمد وكفى به.

قيل: ولو رواها الإمام أحمد، فإنه قد روى الرواية الأخرى في مسنده، كما رواها غيره من الأئمة، فالإمام أحمد روى ما رواه الأئمة وزاد عليهم بروايته الرواية الأخرى، وفي ذلك زيادة فائدة ليحصل الإطلاع على كلا الروايتين.

فإن قيل: لم لم يبين الإمام أحمد أمرها كما بينه غيره؟ قيل: ذلك أنه ليس من قاعدة الإمام أحمد الكلام على الأحاديث في المسند، إنما قاعدته فيه سياق الأحاديث فقط.

والثاني: أن ذلك يعلم بسياقهما معا وهو أمر مشهور عندهم.

فإن قيل: لم حكمتم بالتصحيف على هذه الرواية، ولم تقولوا بأن تلك الرواية هي المصحفة، فكما يجوز التصحيف والخطأ على هذه يجوز على تلك؟ قيل: إنما قلنا بذلك لخمسة أوجه: الأول: منها أن رواية احتجر فيها ما يمنع التصحيف وهو تمام الحديث من قوله: بخصفة أو حصير، وأنه صلى فيها، وصلى ناس بصلاته، فهذا السياق كله يوجب أن يكون: احتجر، ويمنع: احتجم.
ইমামগণ এই মর্মে ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে, এটি মূলত একটিই হাদিস। আর ইবনে লাহিয়ার সূত্রে যারা এটি বর্ণনা করেছেন এবং ইবনে লাহিয়া যাদের থেকে বর্ণনা করেছেন, তাঁরাও অভিন্ন বর্ণনাকারী।

যদি বলা হয়: ইবনে লাহিয়া ব্যতীত অন্যদের বর্ণনা যেমন ইমামগণ বর্ণনা করেছেন, তেমনি ইবনে লাহিয়ার বর্ণনাটিও ইমামগণ বর্ণনা করেছেন, যেমন ইমাম আহমাদ; আর তাঁর (সাক্ষ্যই) যথেষ্ট।

উত্তরে বলা হবে: যদিও ইমাম আহমাদ এটি বর্ণনা করেছেন, তবে তিনি তাঁর মুসনাদে অন্য বর্ণনাটিও উল্লেখ করেছেন, যেমনটি অন্যান্য ইমামগণ করেছেন। সুতরাং ইমাম আহমাদ তা-ই বর্ণনা করেছেন যা অন্যান্য ইমামগণ করেছেন, উপরন্তু তিনি অন্য বর্ণনাটিও উল্লেখ করে অতিরিক্ত ফায়দা নিশ্চিত করেছেন যাতে উভয় বর্ণনার ব্যাপারেই অবগত হওয়া সম্ভব হয়।

যদি বলা হয়: ইমাম আহমাদ কেন এর স্বরূপ বর্ণনা করেননি যেমনটি অন্যরা করেছেন? উত্তরে বলা হবে: এর কারণ হলো, মুসনাদ গ্রন্থে হাদিসের চুলচেরা বিশ্লেষণ করা ইমাম আহমাদের মূলনীতি নয়, বরং তাঁর রীতি হলো কেবল হাদিসসমূহ ধারাবাহিকভাবে উল্লেখ করা।

দ্বিতীয়ত: বিষয়টি উভয় বর্ণনার প্রাসঙ্গিকতা থেকেই স্পষ্ট হয়ে যায়, যা তাঁদের নিকট অত্যন্ত প্রসিদ্ধ বিষয়।

যদি বলা হয়: কেন আপনারা এই বর্ণনার ক্ষেত্রে তাসহিফ (শব্দগত বিভ্রম) হওয়ার সিদ্ধান্ত দিচ্ছেন এবং কেন বলছেন না যে ওই বর্ণনাটিই বিভ্রান্তিকর? কেননা যেমন এই বর্ণনায় তাসহিফ ও ভুল হওয়া সম্ভব, তেমনি ওই বর্ণনাতেও তো হতে পারে?

উত্তরে বলা হবে: আমরা এটি পাঁচটি কারণে বলেছি। প্রথমত: 'ইহজাজারা' (কামরা তৈরি করা) শব্দ সম্বলিত বর্ণনায় এমন কিছু বিষয় রয়েছে যা তাসহিফ হওয়ার সম্ভাবনাকে নাকচ করে দেয়। আর তা হলো হাদিসের পূর্ণাঙ্গ অংশ: "খেজুর পাতা বা চাটাই দিয়ে," এবং "তিনি তাতে সালাত আদায় করেছেন এবং লোকজন তাঁর সাথে সালাত আদায় করেছে।" সুতরাং এই পুরো প্রেক্ষাপটটি এটিই সাব্যস্ত করে যে শব্দটি 'ইহজাজারা' হবে এবং 'ইহ তাজামা' (সিঙা লাগানো) হওয়ার সম্ভাবনাকে নাকচ করে।
(খণ্ড: ১) জাওয়াবু বাদিল খাদাম লি আহলিন নিআম আন তাসহিফি হাদীসি ইহতাজামা (পৃষ্ঠা: ৪৮)
الثاني: اتفاق أئمة الحديث على أن التصحيف في هذه الرواية، وكل ممن رواه عن موسى غير ابن لهيعة، فإن روايته: احتجر، ورواية ابن لهيعة فقط عنه فيها: احتجم، وقد صرح بذلك الأئمة مثل الإمام مسلم بن الحجاج، وغيره، ووافق على ذلك الأئمة بعده حتى من تأخر منهم مثل ابن الصلاح، والعراقي، وابن رجب، وابن حجر، وغير واحد.

الثالث أن الرواة لاحتجر أوثق وأقوى عدالة من ابن لهيعة، وهذا أمر كبير في الترجيح.

الرابع أن رواية غير ابن لهيعة مخرجة في الصحيحين، ورواية ابن لهيعة ليست فيهما، وهذا أمر يدخل في الترجيح أيضا.

الخامس: وهو أقواها، أن رواية ابن لهيعة متطرق إليها الخطأ والتصحيف أكثر من الرواية الأخرى، فإن تلك الرواية سمعها كل واحد من الرواة من لفظ من أخذ عنه وشافهه بها.

وأما رواية ابن لهيعة فلم يسمعها من لفظ من رواها عنه، وإنما أخبر أنه كتب إليه بذلك كتابا، ومن هنا ذكر الأئمة أنه وقع له الخطأ، فإن الكتاب حصل فيه التصحيف في قراءته، ويتطرق إليه الخطأ من الكاتب والقارئ، فربما كان الخطأ من الكاتب وأنه غلط في الكتابة أو سبق قلمه بذلك، وأنه أراد أن يكتب راء فكتب ميما، ويقع هذا في الكتابة كثيرا.

والثاني: أن يكون كتب راء بخط المتقدمين، فإن من قاعدتهم
দ্বিতীয়: হাদীস বিশারদগণের ঐকমত্য হলো যে, এই বর্ণনায় শব্দগত বিকৃতি ঘটেছে। মুসা থেকে যারা এটি বর্ণনা করেছেন, ইবনে লাহিয়া ব্যতীত তাদের সকলের বর্ণনা হলো: 'তিনি একটি কামরা তৈরি করেছিলেন'; আর শুধুমাত্র ইবনে লাহিয়ার বর্ণনায় রয়েছে: 'তিনি শিঙা লাগিয়েছিলেন'। ইমাম মুসলিম ইবনুল হাজ্জাজ এবং অন্যান্য ইমামগণ বিষয়টি স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন। পরবর্তী সময়ের ইমামগণও এই বিষয়ে একমত হয়েছেন, এমনকি যারা পরবর্তী যুগে এসেছেন যেমন ইবনুস সালাহ, ইরাকি, ইবনে রাজাব, ইবনে হাজার এবং আরও অনেকে।

তৃতীয়: 'কামরা তৈরি করা'র বর্ণনাকারীগণ ইবনে লাহিয়ার চেয়ে অধিক নির্ভরযোগ্য এবং তাদের ন্যায়পরায়ণতা অধিক শক্তিশালী। বর্ণনার প্রাধান্য নির্ণয়ের ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

চতুর্থ: ইবনে লাহিয়া ব্যতীত অন্যদের বর্ণনাটি সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিমে সংকলিত হয়েছে, কিন্তু ইবনে লাহিয়ার বর্ণনাটি এই দুই কিতাবে নেই। এটিও প্রাধান্য নির্ণয়ের ক্ষেত্রে বিবেচ্য একটি বিষয়।

পঞ্চম: এটিই সবচেয়ে জোরালো যুক্তি যে, ইবনে লাহিয়ার বর্ণনায় ভুল এবং শব্দগত বিকৃতি ঘটার সম্ভাবনা অন্য বর্ণনার তুলনায় অনেক বেশি। কারণ, পূর্বোক্ত বর্ণনার প্রত্যেক বর্ণনাকারী তাদের উস্তাদ বা সূত্রের কাছ থেকে সরাসরি মৌখিকভাবে এটি শ্রবণ করেছেন।

পক্ষান্তরে ইবনে লাহিয়ার বর্ণনাটি তিনি তার সূত্র থেকে মৌখিকভাবে শ্রবণ করেননি, বরং তিনি সংবাদ দিয়েছেন যে তাকে চিঠির মাধ্যমে এটি লিখে জানানো হয়েছিল। এখান থেকেই ইমামগণ উল্লেখ করেছেন যে, তার ক্ষেত্রে ভুলটি ঘটেছে। কারণ, চিঠিপত্র পড়ার সময় শব্দগত বিকৃতি ঘটে থাকে এবং লেখক ও পাঠক উভয়ের পক্ষ থেকেই ভুল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। সম্ভবত ভুলটি লেখকের পক্ষ থেকে হয়েছিল যে তিনি লেখায় ভুল করেছিলেন অথবা অসাবধানতাবশত তার কলমে এটি চলে এসেছিল; তিনি হয়তো 'রা' অক্ষরটি লিখতে চেয়েছিলেন কিন্তু লিখে ফেলেছেন 'মিম' অক্ষরটি। লেখালেখির ক্ষেত্রে এমনটি প্রায়ই ঘটে থাকে।

দ্বিতীয়ত: সম্ভবত তিনি প্রাচীন লিখনরীতি অনুযায়ী 'রা' লিখেছিলেন, কারণ তাদের নিয়ম ছিল...
(খণ্ড: ১) জাওয়াবু বাদিল খাদাম লি আহলিন নিআম আন তাসহিফি হাদীসি ইহতাজামা (পৃষ্ঠা: ৪৯)
التعليق، فظنها القارئ لتعليقها أو مشقها ميما، فإنها تكتب هكذا. . . . . . . . . . . .، وربما نقط الجيم فاختلطت نقطة الجيم بأول الراء، فصارت ميما حقيقة، فحصل الخطأ في القراءة، وربما كانت في الكتابة حيدة، وإنما غلط الكاتب من الكتاب فكتبها ميما أو سبقت يده بذلك.

فالحاصل أن هذه الرواية يتطرق إليها الخطأ والتصحيف أكثر من رواية السماع، حتى قَالَ أئمة الشان: أن الأمور المروية بالكتابة والمقروءة من الكتابة يتأتى عليها الخطأ كثيرا بخلاف المروي من لفظ الأشياخ، أو بالقراءة على الأشياخ، كما روينا عن حمزة الزيات أنه لما أراد أن يتعلم القرآن أراد قراءة في المصحف، فسمعه والده يقرأ: ألم ذلك الكتاب لا زيت فيه.

فقال له أبوه: يا بني، دع القراءة من المصحف واقرأ على الأشياخ.

ففعل.

وهذا كله يدل على صحة تلك الرواية، وأن الخطأ والتصحيف إنما هو في هذه الرواية.

والله أعلم بالصواب، وعليه التكلان، وهو حسبنا ونعم الوكيل.
তা'লীক (ঝুলন্ত লিখনশৈলী), ফলে পাঠক তার ঝুলন্ত বা দ্রুত লিখনশৈলীর কারণে তাকে 'মিম' মনে করেছেন; কারণ তা এভাবেই লেখা হয়... সম্ভবত 'জীম'-এর নুকতা দেওয়া হয়েছিল, ফলে 'জীম'-এর নুকতা 'রা'-এর প্রথমাংশের সাথে মিশে গিয়ে প্রকৃতপক্ষে 'মিম' হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে পাঠের ক্ষেত্রে ভুল সঙ্ঘটিত হয়েছে। আবার হতে পারে যে, লিখনের মধ্যেই কোনো বিচ্যুতি ছিল; লেখক হয়তো মূল পাণ্ডুলিপি দেখে ভুল করেছেন এবং 'মিম' লিখেছেন অথবা তাঁর হাত অসতর্কতাবশত তা লিখে ফেলেছে।

সারকথা হলো, শ্রবণের মাধ্যমে প্রাপ্ত বর্ণনার চেয়ে এই ধরণের বর্ণনায় ভুল ও লিপিপ্রমাদ ঘটার সম্ভাবনা অনেক বেশি থাকে। এমনকি এই শাস্ত্রের বিশেষজ্ঞ ইমামগণ বলেছেন: যে বিষয়গুলো লিখনীর মাধ্যমে বর্ণিত এবং লিখনী দেখে পঠিত, তাতে ভুল হওয়ার সম্ভাবনা প্রচুর থাকে; পক্ষান্তরে যা শাইখদের জবান থেকে বর্ণিত অথবা শাইখদের সম্মুখে পাঠ করার মাধ্যমে অর্জিত, তার বিষয়টি ভিন্ন। যেমনটি আমরা হামযাহ আয-যাইয়্যাত সম্পর্কে বর্ণনা করেছি যে, তিনি যখন কুরআন শিখতে চাইলেন, তখন তিনি মাসহাফ দেখে পাঠ করার ইচ্ছা করলেন। এমতাবস্থায় তাঁর পিতা তাঁকে পড়তে শুনলেন: "আলিফ-লাম-মীম, এটি এমন এক কিতাব যাতে কোনো তেল (যাইত) নেই।"

তখন তাঁর পিতা তাঁকে বললেন: "হে বৎস, সরাসরি মাসহাফ দেখে পাঠ করা পরিহার করো এবং শাইখদের নিকট গিয়ে শিক্ষা গ্রহণ করো।"

অতঃপর তিনি তাই করলেন।

আর এই সবই সেই বর্ণনার বিশুদ্ধতা প্রমাণ করে এবং এটিই স্পষ্ট করে যে, ভুল ও লিপিপ্রমাদ মূলত এই (লিখিত) বর্ণনাতেই ঘটে থাকে।

আল্লাহই সঠিক বিষয়ে সর্বাধিক পরিজ্ঞাত, এবং তাঁরই ওপর ভরসা। তিনিই আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক।