(খণ্ড: ১)
হাদীসু আবী নুআইম আন আবী আলী আস সাওয়াফ লি আবী নুআইম আল আসবাহানী
(পৃষ্ঠা: -)
حديث أبي نعيم عن أبي علي الصواف لأبي نعيم الأصبهاني القسم: كتب السنة
الكتاب: جزء فيه من أحاديث الإمام أبي نعيم
المؤلف: أبو نعيم أحمد بن عبد الله بن أحمد بن إسحاق بن موسى بن مهران الأصبهاني (ت 430هـ) عن شيخه أبي علي الصواف
تحقيق: سليمان بن عبد العزيز العريني أستاذ مساعد بكلية الحديث الشريف بالجامعة الإسلامية - المدينة المنورة
الناشر: مكتبة الرشد، الرياض
الطبعة: الأولى، 1420 هـ - 2000 م
عدد الصفحات: 43
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আবু আলী আস-সাওয়াফ থেকে বর্ণিত আবু নুআইম আল-আসফাহানির হাদিসসমূহ বিভাগ: সুন্নাহ গ্রন্থসমূহ
কিতাব: ইমাম আবু নুআইমের হাদিসসমূহ সংবলিত একটি অংশ
লেখক: আবু নুআইম আহমদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আহমদ বিন ইসহাক বিন মুসা বিন মিহরান আল-আসফাহানি (মৃত্যু ৪৩০ হিজরি) তাঁর শাইখ আবু আলী আস-সাওয়াফ থেকে
তাহকিক: সুলাইমান বিন আব্দুল আজিজ আল-উরাইনি, সহকারী অধ্যাপক, হাদিস শরীফ অনুষদ, ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় - মদিনা মুনাওয়ারা
প্রকাশক: মাকতাবাতুর রুশদ, রিয়াদ
সংস্করণ: প্রথম, ১৪২০ হিজরি - ২০০০ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪৩
[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]
শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
হাদীসু আবী নুআইম আন আবী আলী আস সাওয়াফ লি আবী নুআইম আল আসবাহানী
(পৃষ্ঠা: ২৮)
1 - حَدَّثَنَا الشَّيْخُ أَبُو نُعَيْمٍ أَيْضًا ثنا أَبُو عَلِيٍّ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ الْحَسَنِ الصَّوَّافُ مِنْ لَفْظِهِ مِنْ أَصْلِهِ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ عُثْمَانَ بْنِ أَبِي شَيْبَةَ، ثنا جُبَارَةُ بْنُ الْمُغَلِّسِ، ثنا الرَّبِيعُ بْنُ النُّعْمَانِ، عَنْ سُهَيْلِ بْنِ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " إِنَّ مُوسَى لَمَّا نَزَلَ بِالتَّوْرَاةِ قَرَأَهَا، فَوَجَدَ فِيهَا ذِكْرَ هَذِهِ الْأُمَّةِ، وَقَالَ: يَا رَبِّ، إِنِّي أَجِدُ فِي الْأَلْوَاحِ أُمَّةً هُمُ الْآخِرُونَ السَّابِقُونَ، فَاجْعَلْهَا أُمَّتِي، ⦗ص: 29⦘ قَالَ: تِلْكَ أُمَّةُ أَحْمَدَ قَالَ: يَا رَبِّ، إِنِّي أَجِدُ فِي الْأَلْوَاحِ أُمَّةً هُمُ الشَّافِعُونَ الْمَشْفُوعُ لَهُمْ، فَاجْعَلْهَا أُمَّتِي. قَالَ: تِلْكَ أُمَّةُ أَحْمَدَ قَالَ: يَا رَبِّ، إِنِّي أَجِدُ فِي الْأَلْوَاحِ أُمَّةً هُمُ الْمُسْتَجِيبُونَ وَالْمُسْتَجَابُ لَهُمْ، فَاجْعَلْهَا أُمَّتِي. قَالَ: تِلْكَ أُمَّةُ أَحْمَدَ قَالَ: يَا رَبِّ، إِنِّي أَجِدُ فِي الْأَلْوَاحِ أُمَّةً أَنَاجِيلُهُمْ فِي صُدُورِهِمْ يَقْرَءُونَهُ ظَاهِرًا، فَاجْعَلْهَا أُمَّتِي. قَالَ: تِلْكَ أُمَّةُ أَحْمَدَ قَالَ: يَا رَبِّ، إِنِّي أَجِدُ فِي الْأَلْوَاحِ أُمَّةً يَأْكُلُونَ الْفَيْءَ، فَاجْعَلْهَا أُمَّتِي. قَالَ: تِلْكَ أُمَّةُ أَحْمَدَ قَالَ: يَا رَبِّ، إِنِّي أَجِدُ فِي الْأَلْوَاحِ أُمَّةً يَجْعَلُونَ الصَّدَقَةَ فِي بُطُونِهِمْ فَيُؤْجَرُونَ عَلَيْهَا، فَاجْعَلْهَا أُمَّتِي. قَالَ: تِلْكَ أُمَّةُ أَحْمَدَ قَالَ: يَا رَبِّ، إِنِّي أَجِدُ فِي الْأَلْوَاحِ أُمَّةً إِذَا هَمَّ أَحَدُهُمْ بِحَسَنَةٍ فَلَمْ يَعْمَلْهَا كُتِبَتْ لَهُ حَسَنَةً وَاحِدَةً، وَإِنْ عَمِلَهَا كُتِبَتْ لَهُ عَشْرَ حَسَنَاتٍ، فَاجْعَلْهَا أُمَّتِي. قَالَ: تِلْكَ أُمَّةُ أَحْمَدَ قَالَ: يَا رَبِّ، إِنِّي أَجِدُ فِي الْأَلْوَاحِ أُمَّةً إِذَا هَمَّ أَحَدُهُمْ بِسَيِّئَةٍ لَمْ يَعْمَلْهَا لَمْ تُكْتَبْ عَلَيْهِ حَتَّى يَعْمَلَهَا، فَإِنْ عَمِلَهَا كُتِبَتْ عَلَيْهِ سَيِّئَةً وَاحِدَةً، فَاجْعَلْهَا أُمَّتِي. قَالَ: تِلْكَ أُمَّةُ أَحْمَدَ قَالَ: يَا رَبِّ، إِنِّي أَجِدُ فِي الْأَلْوَاحِ أُمَّةً يُؤْتَوْنَ الْعِلْمَ الْأَوَّلَ وَالْآخِرَ، فَيَقْتُلُونَ قُرُونَ الضَّلَالَةِ الْمَسِيحَ الدَّجَّالَ، فَاجْعَلْهَا أُمَّتِي. قَالَ: تِلْكَ أُمَّةُ أَحْمَدَ قَالَ: يَا رَبِّ، اجْعَلْنِي مِنْ أُمَّةِ أَحْمَدَ فَأُعْطِيَ عِنْدَ ذَلِكَ خَصْلَتَيْنِ، فَقَالَ: {يَا مُوسَى إِنِّي اصْطَفَيْتُكَ عَلَى النَّاسِ بِرِسَالَاتِي وَبِكَلَامِي فَخُذْ مَا آتَيْتُكَ وَكُنْ مِنَ الشَّاكِرِينَ} [الأعراف: 144] . فَقَالَ: رَضِيتُ رَبِّ"
১ - শায়খ আবু নুআইম আমাদের কাছে আরও বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু আলী মুহাম্মদ ইবন আহমদ ইবনুল হাসান আস-সাওয়াফ তাঁর মূল পাণ্ডুলিপি থেকে নিজ শব্দে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবন উসমান ইবন আবি শায়বাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: জুবাহরাহ ইবনুল মুগাল্লিস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাবী ইবনুন নুমান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সুহাইল ইবন আবি সালিহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয়ই মুসা (আলাইহিস সালাম) যখন তাওরাত নিয়ে অবতীর্ণ হলেন, তখন তিনি তা পাঠ করলেন এবং তাতে এই উম্মতের উল্লেখ পেলেন। তিনি বললেন: হে রব! আমি ফলকসমূহে এমন এক উম্মতের বর্ণনা পাচ্ছি যারা (পৃথিবীতে) সবার শেষে আসবে কিন্তু (পরকালে) সবার অগ্রগামী হবে। সুতরাং তাদের আমার উম্মত বানিয়ে দিন। ⦗পৃষ্ঠা: ২৯⦘ তিনি বললেন: এটি আহমদের উম্মত। তিনি বললেন: হে রব! আমি ফলকসমূহে এমন এক উম্মতের বর্ণনা পাচ্ছি যারা সুপারিশকারী এবং যাদের জন্য সুপারিশ করা হবে। সুতরাং তাদের আমার উম্মত বানিয়ে দিন। তিনি বললেন: এটি আহমদের উম্মত। তিনি বললেন: হে রব! আমি ফলকসমূহে এমন এক উম্মতের বর্ণনা পাচ্ছি যারা (আল্লাহর আহ্বানে) সাড়াদানকারী এবং যাদের ডাকে সাড়া দেওয়া হয়। সুতরাং তাদের আমার উম্মত বানিয়ে দিন। তিনি বললেন: এটি আহমদের উম্মত। তিনি বললেন: হে রব! আমি ফলকসমূহে এমন এক উম্মতের বর্ণনা পাচ্ছি যাদের কিতাবসমূহ তাদের অন্তরে থাকবে এবং তারা তা দেখে না দেখেই (মুখস্থ) পাঠ করবে। সুতরাং তাদের আমার উম্মত বানিয়ে দিন। তিনি বললেন: এটি আহমদের উম্মত। তিনি বললেন: হে রব! আমি ফলকসমূহে এমন এক উম্মতের বর্ণনা পাচ্ছি যারা ‘ফায়’ (যুদ্ধলব্ধ সম্পদ) ভক্ষণ করবে। সুতরাং তাদের আমার উম্মত বানিয়ে দিন। তিনি বললেন: এটি আহমদের উম্মত। তিনি বললেন: হে রব! আমি ফলকসমূহে এমন এক উম্মতের বর্ণনা পাচ্ছি যারা সদকা নিজেদের উদরে রাখবে (অর্থাৎ নিজেরা ভোগ করবে) এবং তার বিনিময়ে প্রতিদান লাভ করবে। সুতরাং তাদের আমার উম্মত বানিয়ে দিন। তিনি বললেন: এটি আহমদের উম্মত। তিনি বললেন: হে রব! আমি ফলকসমূহে এমন এক উম্মতের বর্ণনা পাচ্ছি যাদের কেউ যদি কোনো নেক কাজের সংকল্প করে কিন্তু তা সম্পন্ন না করে, তবে তার জন্য একটি নেকি লেখা হয়; আর যদি সে তা সম্পন্ন করে তবে তার জন্য দশটি নেকি লেখা হয়। সুতরাং তাদের আমার উম্মত বানিয়ে দিন। তিনি বললেন: এটি আহমদের উম্মত। তিনি বললেন: হে রব! আমি ফলকসমূহে এমন এক উম্মতের বর্ণনা পাচ্ছি যাদের কেউ যদি কোনো মন্দ কাজের সংকল্প করে কিন্তু তা সম্পন্ন না করে, তবে তার আমলনামায় কোনো গুনাহ লেখা হয় না যতক্ষণ না সে তা করে; আর যদি সে তা সম্পন্ন করে তবে তার জন্য মাত্র একটি গুনাহ লেখা হয়। সুতরাং তাদের আমার উম্মত বানিয়ে দিন। তিনি বললেন: এটি আহমদের উম্মত। তিনি বললেন: হে রব! আমি ফলকসমূহে এমন এক উম্মতের বর্ণনা পাচ্ছি যাদের পূর্বাপর জ্ঞান দান করা হবে এবং তারা গোমরাহির প্রজন্মগুলোকে ও মসীহ দাজ্জালকে হত্যা করবে। সুতরাং তাদের আমার উম্মত বানিয়ে দিন। তিনি বললেন: এটি আহমদের উম্মত। তিনি বললেন: হে রব! আমাকে আহমদের উম্মতভুক্ত করে নিন। এমতাবস্থায় তাকে দুটি বৈশিষ্ট্য দান করা হলো এবং তিনি (আল্লাহ) বললেন: {হে মুসা! আমি আমার রিসালাত ও আমার কালামের মাধ্যমে তোমাকে মানুষের ওপর বেছে নিয়েছি। সুতরাং আমি তোমাকে যা দান করেছি তা গ্রহণ করো এবং কৃতজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত হও} [সূরা আল-আ’রাফ: ১৪৪]। তখন তিনি বললেন: হে রব! আমি সন্তুষ্ট হলাম।"
(খণ্ড: ১)
হাদীসু আবী নুআইম আন আবী আলী আস সাওয়াফ লি আবী নুআইম আল আসবাহানী
(পৃষ্ঠা: ৩০)
2 - حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ مُوسَى، حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عَلِيٍّ الْفَلَّاسُ، حَدَّثَنَا يَعْلَى بْنُ إِبْرَاهِيمَ الْغَزَّالُ، وَأَنْبَأَنَا الْهَيْثَمُ بْنُ جَمَّازٍ، عَنْ أَبِي كَثِيرٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ ⦗ص: 31⦘ أَرْقَمَ: كُنْتُ مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي بَعْضِ سِكَكِ الْمَدِينَةِ، فَمَرَرْنَا بِخِبَاءِ أَعْرَابِيٍّ، فَإِذَا ظَبْيَةٌ مَشْدُودَةٌ إِلَى الْخِبَاءِ، فَقَالَتْ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، إِنَّ هَذَا الْأَعْرَابِيَّ صَادَنِي وَلِي خَشْفَانِ فِي الْبَرِّيَّةِ، وَقَدْ تَعَقَّدَ هَذَا اللَّبَنُ فِي أَخْلَافِي، فَلَا هُوَ يَذْبَحُنِي فَأَسْتَرِيحَ، وَلَا يَدَعُنِي فَأَرْجِعَ إِلَى خَشْفِي فِي الْبَرِّيَّةِ. فَقَالَ لَهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «إِنْ تَرَكْتُكِ تَرْجِعِينَ» ؟ قَالَتْ: نَعَمْ، وَإِلَّا عَذَّبَنِي اللَّهُ عَذَابَ الْعَشَّارِ. فَأَطْلَقَهَا رَسُولُ اللَّهِ، فَلَمْ تَلْبَثْ أَنْ جَاءَتْ تَلَمَّظُ، فَشَدَّهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِلَى الْخِبَاءِ، وَأَقْبَلَ الْأَعْرَابِيُّ وَمَعَهُ قِرْبَةٌ، فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «أَتَبِيعُهَا مِنِّي» ؟ فَقَالَ: هِيَ لَكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ. فَأَطْلَقَهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم. قَالَ زَيْدُ بْنُ أَرْقَمَ: فَأَنَا وَاللَّهِ رَأَيْتُهَا تَسِيحُ فِي الْبَرِّيَّةِ وَهِيَ تَقُولُ: لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، مُحَمَّدٌ رَسُولُ اللَّهِ
২ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন বিশর ইবন মূসা, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আমর ইবন আলী আল-ফাল্লাস, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়ালা ইবন ইবরাহীম আল-গাজ্জাল, এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আল-হাইসাম ইবন জাম্মায, আবু কাসীর থেকে, তিনি যায়েদ ইবন ⦗পৃষ্ঠা: ৩১⦘ আরকাম থেকে বর্ণনা করেন: আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে মদীনার কোনো এক গলিপথে ছিলাম। আমরা এক বেদুইনের তাঁবুর পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম, এমতাবস্থায় সেখানে একটি হরিণীকে তাঁবুর সাথে বাঁধা অবস্থায় দেখতে পেলাম। হরিণীটি বলল: হে আল্লাহর রাসূল, এই বেদুইন আমাকে শিকার করেছে, অথচ প্রান্তরে আমার দুটি ছোট বাচ্চা রয়েছে। আমার স্তনে দুধ জমে গিয়েছে। সে আমাকে যবাইও করছে না যাতে আমি স্বস্তি পাই, আবার আমাকে ছেড়েও দিচ্ছে না যাতে আমি প্রান্তরে আমার বাচ্চা দুটির কাছে ফিরে যেতে পারি। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন: "আমি যদি তোমাকে ছেড়ে দেই, তবে কি তুমি ফিরে আসবে?" সে বলল: "হ্যাঁ, অন্যথায় আল্লাহ আমাকে অত্যাচারী কর আদায়কারীর ন্যায় শাস্তি প্রদান করুন।" অতঃপর আল্লাহর রাসূল তাকে মুক্ত করে দিলেন। কিছুক্ষণ পরেই সে মুখ চাটতে চাটতে ফিরে এল। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে পুনরায় তাঁবুর সাথে বেঁধে দিলেন। এমতাবস্থায় বেদুইনটি একটি পানির মশক নিয়ে উপস্থিত হলো। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন: "তুমি কি এটি আমার কাছে বিক্রি করবে?" সে বলল: হে আল্লাহর রাসূল, এটি আপনার জন্যই। অতঃপর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেটিকে মুক্ত করে দিলেন। যায়েদ ইবন আরকাম বলেন: আল্লাহর কসম, আমি তাকে প্রান্তরে বিচরণ করতে দেখলাম আর সে বলছিল: আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল।
(খণ্ড: ১)
হাদীসু আবী নুআইম আন আবী আলী আস সাওয়াফ লি আবী নুআইম আল আসবাহানী
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
3 - حَدَّثَنَا هَارُونُ بْنُ يُوسُفَ بْنِ زِيَادٍ الْبَزَّازُ أَبُو أَحْمَدَ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي عُمَرَ يَعْنِي الْعَدَنِيَّ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ مَالِكٍ، قَالَ: مَرَّ عِيسَى ابْنُ مَرْيَمَ عليه السلام بِظَبْيَةٍ رَبِيطَةِ قَوْمٍ، فَقَالَتْ: يَا نَبِيَّ اللَّهِ، حُلَّنِي؛ فَإِنَّ لِي ظَبْيَتَيْنِ بِالْفَلَاةِ لَمْ يَذُوقَا شَيْئًا، فَأَرْسِلْنِي حَتَّى أُرْضِعَهُمَا، ثُمَّ أَجِيءَ. قَالَ: فَقَالَ: «إِنَّمَا أَنْتِ رَبِيطَةُ قَوْمٍ وَأَخِيذَتُهُمْ، مَا أَنَا بِالَّذِي أَفْعَلُ» ثُمَّ بَدَا لَهُ فَحَلَّهَا، فَلَمْ تَلْبَثْ أَنْ رَجَعْتَ وَقَدْ فَرَّغَتْ مَا فِي ضُرُوعِهَا، فَقَالَ عِيسَى: «لَوْ عَلِمَتِ الْبَهَائِمُ مَا فِي الْمَوْتِ مَا عَلِمَتْ بَنُو آدَمَ؛ مَا أَكَلُوا، وَمَا أَكَلْتُمْ لَحْمًا سَمِينًا»
৩ - হারুন ইবনে ইউসুফ ইবনে যিয়াদ আল-বায্যায আবু আহমাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মাদ ইবনে আবি উমার অর্থাৎ আল-আদানি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সুফিয়ান আমাদের নিকট মালিক থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ঈসা ইবনে মারইয়াম আলাইহিস সালাম এক সম্প্রদায়ের নিকট বন্দি অবস্থায় থাকা একটি হরিণীর পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তখন হরিণীটি বলল: হে আল্লাহর নবী, আমাকে মুক্ত করে দিন; কেননা মরুভূমিতে আমার দুটি শাবক রয়েছে যারা কিছুই পান করেনি। আমাকে যেতে দিন যাতে আমি তাদের স্তন্যদান করতে পারি, এরপর আমি ফিরে আসব। তিনি বললেন: “তুমি তো এক সম্প্রদায়ের বন্দি এবং তাদের দ্বারা ধৃত; আমি এমন কাজ করার কেউ নই।” এরপর তার মনে দয়ার উদ্রেক হলো এবং তিনি তাকে মুক্ত করে দিলেন। কিছু সময় পার না হতেই হরিণীটি ফিরে আসল এবং সে তার ওলানে থাকা দুধ খালি করে দিয়েছিল। তখন ঈসা বললেন: “পশুরা যদি মৃত্যু সম্পর্কে তা জানত যা আদমের সন্তানরা জানে, তবে তারা আহার করত না এবং তোমরাও কোনো চর্বিযুক্ত গোশত খেতে পারতে না।”
(খণ্ড: ১)
হাদীসু আবী নুআইম আন আবী আলী আস সাওয়াফ লি আবী নুআইম আল আসবাহানী
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
4 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُثْمَانَ بْنِ أَبِي شَيْبَةَ، سَنَةَ سَبْعٍ وَثَمَانِينَ، حَدَّثَنَا يَحْيَى ⦗ص: 34⦘ بْنُ مَعِينٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ، حَدَّثَنَا مَنْصُورُ بْنُ سَعْدٍ، عَنْ بُدَيْلٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ شَقِيقٍ، عَنْ مَيْسَرَةَ الْفَجْرِ، قَالَ: قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، مَتَى كُتِبْتَ نَبِيًّا؟ قَالَ: «وَآدَمُ بَيْنَ الرُّوحِ وَالْجَسَدِ»
৪ - মুহাম্মাদ বিন উসমান বিন আবু শায়বাহ সাতাশি সালে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইয়াহইয়া ⦗পৃষ্ঠা: ৩৪⦘ বিন মাঈন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবদুর রহমান বিন মাহদী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মানসুর বিন সাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, বুদাইল থেকে, তিনি আবদুল্লাহ বিন শাকীক থেকে, তিনি মায়সারাহ আল-ফজর থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, আপনি কখন নবী হিসেবে লিপিবদ্ধ হয়েছেন? তিনি বললেন: «যখন আদম রুহ এবং দেহের মধ্যবর্তী অবস্থায় ছিলেন»
(খণ্ড: ১)
হাদীসু আবী নুআইম আন আবী আলী আস সাওয়াফ লি আবী নুআইম আল আসবাহানী
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
5 - حَدَّثَنَا هَارُونُ بْنُ يُوسُفَ بْنِ زِيَادٍ الْبَزَّارُ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي الْوَرْدِ، حَدَّثَنِي حَسَنٌ الْأَنْمَاطِيُّ، قَالَ: سَمِعْتُ بِشْرَ بْنَ حَارِثٍ، يَقُولُ: «النَّظَرُ إِلَى مَنْ تَكْرَهُ حُمَّى بَاطِنَةٌ» قَالَ: وَسَمِعْتُهُ يَقُولُ: «بَقَاءُ الْبُخَلَاءِ كَرْبٌ عَلَى قُلُوبِ الْمُؤْمِنِينَ»
৫ - হারুন ইবনে ইউসুফ ইবনে জিয়াদ আল-বাজ্জার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবিল ওয়ারদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হাসান আল-আনমাতি আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি বিশর ইবনুল হারিসকে বলতে শুনেছি: «যাকে তুমি অপছন্দ করো তার দিকে তাকানো হলো অভ্যন্তরীণ জ্বর স্বরূপ»; তিনি বলেন: আমি তাঁকে আরও বলতে শুনেছি: «কৃপণদের বেঁচে থাকা মুমিনদের হৃদয়ের জন্য এক গভীর যন্ত্রণা স্বরূপ।»
(খণ্ড: ১)
হাদীসু আবী নুআইম আন আবী আলী আস সাওয়াফ লি আবী নুআইম আল আসবাহানী
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
6 - حَدَّثَنَا هَارُونُ، حَدَّثَنَا الزُّبَيْرُ بْنُ بَكَّارٍ، قَالَ: كَتَبَ إِلَيَّ أَبِي مِنْ خُرَاسَانَ: «يَا بُنَيَّ، عَلَيْكَ بِالْعِلْمِ؛ فَهُوَ وَاللَّهِ خَيْرٌ لَكَ مِنْ مِيرَاثِكَ مِنْ أَبِيكَ» قَالَ: فَحَدَّثْتُ بِذَلِكَ عَمِّي مُصْعَبَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ، فَقَالَ: صَدَقَ وَاللَّهِ أَبُوكَ وَنَصَحَكَ. قَالَ: «يَا بُنَيَّ عَلَيْكَ بِالْعِلْمِ؛ فَإِنَّكَ إِنِ اسْتَغْنَيْتَ عَنْهُ كَانَ جَمَالًا لَكَ، وَإِنِ احْتَجْتَ إِلَيْهِ كَانَ مَالًا»
৬ - হারুন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, যুবাইর ইবন বাক্কার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার পিতা খোরাসান থেকে আমার নিকট লিখেছেন: «হে বৎস, তুমি জ্ঞান অর্জন করো; কারণ আল্লাহর শপথ, তা তোমার জন্য তোমার পিতার নিকট থেকে প্রাপ্ত উত্তরাধিকার অপেক্ষা উত্তম» তিনি বলেন: অতঃপর আমি বিষয়টি আমার চাচা মুসআব ইবন আব্দুল্লাহর নিকট বর্ণনা করলাম, তখন তিনি বললেন: আল্লাহর শপথ, তোমার পিতা সত্য বলেছেন এবং তিনি তোমাকে হিতোপদেশ দিয়েছেন। তিনি বললেন: «হে বৎস, তুমি জ্ঞান অর্জন করো; কারণ তুমি যদি এর থেকে অমুখাপেক্ষী হও, তবে তা তোমার জন্য সৌন্দর্য হবে, আর যদি তুমি এর মুখাপেক্ষী হও, তবে তা সম্পদ হবে»
(খণ্ড: ১)
হাদীসু আবী নুআইম আন আবী আলী আস সাওয়াফ লি আবী নুআইম আল আসবাহানী
(পৃষ্ঠা: ৩৬)
7 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُثْمَانَ بْنِ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ عَبْدِ الْحَمِيدِ الْحِمَّانِيُّ، حَدَّثَنَا قَيْسُ بْنُ الرَّبِيعِ، عَنِ ⦗ص: 37⦘ الْأَعْمَشِ، عَنْ عَبَايَةَ بْنِ رِبْعِيٍّ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " إِنَّ اللَّهَ عز وجل قَسَمَ الْخَلْقَ قِسْمَيْنِ، فَجَعَلَنِي فِي خَيْرِهِمْ قِسْمًا، فَذَلِكَ قَوْلُهُ: {وَأَصْحَابُ الْيَمِينِ مَا أَصْحَابُ الْيَمِينِ} [الواقعة: 27] ، فَأَنَا مِنْ أَصْحَابِ الْيَمِينِ، وَأَنَا مِنْ خَيْرِ أَصْحَابِ الْيَمِينِ، ثُمَّ جَعَلَ الْقِسْمَيْنِ أَثْلَاثًا، فَجَعَلَنِي فِي خَيْرِهِمْ، فَذَلِكَ قَوْلُهُ: {فَأَصْحَابُ الْمَيْمَنَةِ مَا أَصْحَابُ الْمَيْمَنَةِ} [الواقعة: 8] ، {وَالسَّابِقُونَ السَّابِقُونَ} [الواقعة: 10] ، فَأَنَا مِنَ السَّابِقِينَ، وَأَنَا مِنْ خَيْرِ السَّابِقِينَ، ثُمَّ جَعَلَ الْأَثْلَاثَ قَبَائِلَ، فَجَعَلَنِي فِي خَيْرِهِمْ قَبِيلَةً، ⦗ص: 38⦘ فَذَلِكَ قَوْلُهُ تَعَالَى: {وَجَعَلْنَاكُمْ شُعُوبًا وَقَبَائِلَ} [الحجرات: 13] ، فَأَنَا أَتْقَى وَلَدِ آدَمَ وَأَكْرَمُهُمْ عَلَى اللَّهِ عز وجل وَلَا فَخْرَ، ثُمَّ جَعَلَ الْقَبَائِلَ بُيُوتًا، فَجَعَلَنِي فِي خَيْرِهِمْ بَيْتًا "، قَالَ: " فَذَلِكَ قَوْلُهُ عز وجل: {إِنَّمَا يُرِيدُ اللَّهُ لِيُذْهِبَ عَنْكُمُ الرِّجْسَ أَهْلَ الْبَيْتِ وَيُطَهِّرَكُمْ تَطْهِيرًا} [الأحزاب: 33] "
৭ - মুহাম্মদ ইবনে উসমান ইবনে আবু শায়বাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইয়াহইয়া ইবনে আবদুল হামিদ আল-হিম্মানী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, কায়স ইবনুর রাবী‘ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ⦗পৃষ্ঠা: ৩৭⦘ আল-আ’মাশ থেকে, তিনি আবায়াহ ইবনে রিবঈ থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা সৃষ্টিজগতকে দুই ভাগে ভাগ করেছেন এবং আমাকে তাদের মধ্যে সর্বোত্তম ভাগে রেখেছেন। আর এটিই হলো তাঁর বাণী: {এবং ডান দিকের দল; কতই না ভাগ্যবান ডান দিকের দল!} [আল-ওয়াকিআহ: ২৭], সুতরাং আমি ডান দিকের দলের অন্তর্ভুক্ত এবং আমি ডান দিকের দলের মধ্যে সর্বোত্তম। এরপর তিনি দুই ভাগকে তিন ভাগে বিভক্ত করেছেন এবং আমাকে তাদের মধ্যে সর্বোত্তম ভাগে রেখেছেন। আর এটিই হলো তাঁর বাণী: {সুতরাং ডান দিকের দল, কতই না ভাগ্যবান ডান দিকের দল!} [আল-ওয়াকিআহ: ৮], {এবং অগ্রগামীরা তো অগ্রগামীই} [আল-ওয়াকিআহ: ১০], সুতরাং আমি অগ্রগামীদের অন্তর্ভুক্ত এবং আমি অগ্রগামীদের মধ্যে সর্বোত্তম। এরপর তিনি এই তিন ভাগকে বিভিন্ন গোত্রে বিভক্ত করেছেন এবং আমাকে তাদের মধ্যে সর্বোত্তম গোত্রে রেখেছেন। ⦗পৃষ্ঠা: ৩৮⦘ আর এটিই মহান আল্লাহর বাণী: {এবং আমি তোমাদেরকে বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে বিভক্ত করেছি} [আল-হুজুরাত: ১৩]। সুতরাং আমি আদম সন্তানদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি মুত্তাকী এবং আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার নিকট তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সম্মানিত, আর এতে কোনো অহংকার নেই। এরপর তিনি গোত্রগুলোকে বিভিন্ন পরিবারে বিভক্ত করেছেন এবং আমাকে তাদের মধ্যে সর্বোত্তম পরিবারে রেখেছেন।" তিনি বলেন: "আর এটিই হলো আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার বাণী: {হে নবী-পরিবার! আল্লাহ তো কেবল চান তোমাদের থেকে অপবিত্রতা দূর করতে এবং তোমাদেরকে পূর্ণরূপে পবিত্র করতে।} [আল-আহযাব: ৩৩]"
(খণ্ড: ১)
হাদীসু আবী নুআইম আন আবী আলী আস সাওয়াফ লি আবী নুআইম আল আসবাহানী
(পৃষ্ঠা: ৩৮)
8 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُثْمَانَ بْنِ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنِي عَمِّي أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ فُضَيْلٍ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي زِيَادٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ ⦗ص: 39⦘ الْحَارِثِ، عَنْ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ بْنِ رَبِيعَةَ، أَنَّ نَاسًا مِنَ الْأَنْصَارِ قَالُوا لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم: إِنَّا نَسْمَعُ مِنْ قَوْمِكَ حَتَّى يَقُولَ الْقَائِلُ مِنْهُمْ: إِنَّمَا مَثَلُ أُمَّةِ مُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم مَثَلُ نَخْلَةٍ أَنْبَتَتْ فِي كِبَا. فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «يَا أَيُّهَا النَّاسُ، مَنْ أَنَا» ؟ قَالُوا: أَنْتَ رَسُولُ اللَّهِ. قَالَ: «أَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ» قَالَ: فَمَا سَمِعْنَاهُ انْتَمَى قَبْلَهَا قَطُّ، فَقَالَ: «أَلَا إِنَّ اللَّهَ خَلَقَ خَلْقَهُ، ثُمَّ فَرَقَهُمْ فِرْقَتَيْنِ، فَجَعَلَنِي مِنْ خَيْرِ الْفِرْقَتَيْنِ، ثُمَّ جَعَلَهُمْ قَبَائِلَ، فَجَعَلَنِي فِي خَيْرِهِمْ قَبِيلَةً، فَأَنَا خَيْرُكُمْ بَيْتًا وَخَيْرُكُمْ نَفْسًا»
৮ - মুহাম্মাদ ইবনে উসমান ইবনে আবু শায়বাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার চাচা আবু বকর ইবনে আবু শায়বাহ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মাদ ইবনে ফুদ্বায়ল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াযিদ ইবনে আবু যিয়াদ থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে ⦗পৃষ্ঠা: ৩৯⦘ আল-হারিস থেকে, তিনি আবদুল মুত্তালিব ইবনে রাবি’আহ থেকে বর্ণনা করেন যে, আনসারদের কিছু লোক নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বললেন: আমরা আপনার কওমের নিকট থেকে এমন কথা শুনি যে, এমনকি তাদের মধ্যকার কোনো বক্তা বলে ফেলে: মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উম্মতের উদাহরণ তো সেই খেজুর গাছের মতো যা ময়লার স্তূপের মধ্যে জন্মেছে। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "হে লোকসকল, আমি কে?" তারা বললেন: আপনি আল্লাহর রাসুল। তিনি বললেন: "আমি মুহাম্মাদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আবদুল মুত্তালিব।" বর্ণনাকারী বলেন: আমরা এর আগে কখনো তাকে এভাবে নিজের বংশপরিচয় দিতে শুনিনি। এরপর তিনি বললেন: "জেনে রেখো, নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর মাখলুকাত সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তাদেরকে দুই ভাগে বিভক্ত করেছেন এবং আমাকে সর্বোত্তম ভাগে রেখেছেন। তারপর তিনি তাদেরকে বিভিন্ন গোত্রে বিভক্ত করেছেন এবং আমাকে তাদের মধ্যকার সর্বোত্তম গোত্রে রেখেছেন। সুতরাং আমি বংশমর্যাদায় তোমাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ এবং ব্যক্তিগত সত্তার দিক থেকেও তোমাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ।"
(খণ্ড: ১)
হাদীসু আবী নুআইম আন আবী আলী আস সাওয়াফ লি আবী নুআইম আল আসবাহানী
(পৃষ্ঠা: ৪০)
9 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُثْمَانَ بْنِ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا أَبِي، وَعَمِّي أَبُو بَكْرٍ، قَالَا: حَدَّثَنَا حَاتِمُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، عَنْ حُصَيْنٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «خَرَجْتُ مِنْ نِكَاحٍ، وَلَمْ أَخْرُجْ مِنْ سِفَاحٍ، مِنْ لَدُنْ آدَمَ لَمْ يُصِبْنِي سِفَاحُ الْجَاهِلِيَّةِ»
৯ - মুহাম্মদ ইবন উসমান ইবন আবী শায়বাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আমার পিতা এবং আমার চাচা আবু বকর বর্ণনা করেছেন, তাঁরা উভয়ে বলেছেন: হাতিম ইবন ইসমাঈল আমাদের নিকট হুসাইন থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: «আমি বিবাহের মাধ্যমে আগমন করেছি, ব্যভিচারের মাধ্যমে নয়; আদম থেকে শুরু করে জাহিলিয়াতের কোনো ব্যভিচারই আমাকে স্পর্শ করেনি।»
(খণ্ড: ১)
হাদীসু আবী নুআইম আন আবী আলী আস সাওয়াফ লি আবী নুআইম আল আসবাহানী
(পৃষ্ঠা: ৪২)
10 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُثْمَانَ بْنِ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا عَمِّي أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ، أَخْبَرَنَا سَيَّارٌ، أَخْبَرَنَا يَزِيدُ الْفَقِيرُ، أَخْبَرَنَا جَابِرُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: " أُعْطِيتُ خَمْسًا لَمْ يُعْطَهُنَّ أَحَدٌ: نُصِرْتُ بِالرُّعْبِ مَسِيرَةَ شَهْرٍ، وَجُعِلَ لِيَ الْأَرْضُ طَهُورًا وَمَسْجِدًا، فَأَيُّمَا رَجُلٍ مِنْ أُمَّتِي أَدْرَكَتْهُ الصَّلَاةُ فَلْيُصَلِّ، وَأُحِلَّ لِيَ الْغَنَائِمُ وَلَمْ تُحَلَّ لِأَحَدٍ كَانَ قَبْلِي، وَأُعْطِيتُ الشَّفَاعَةَ، وَكَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يُبْعَثُ إِلَى قَوْمِهِ خَاصَّةً، وَبُعِثْتُ إِلَى النَّاسِ عَامَّةً " إِلَى هُنَا عَنْ أَبِي عَلِيٍّ الصَّوَّافِ
১০ - মুহাম্মদ ইবনে উসমান ইবনে আবু শায়বাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের নিকট আমার চাচা আবু বকর ইবনে আবু শায়বাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের নিকট হুশায়ম বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, সায়্যার আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, ইয়াজিদ আল-ফাকির আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: " আমাকে এমন পাঁচটি বিষয় দান করা হয়েছে যা আমার পূর্বে কাউকে দেওয়া হয়নি: এক মাসের পথ দূরত্ব পর্যন্ত ভীতি সঞ্চারের মাধ্যমে আমাকে সাহায্য করা হয়েছে; আমার জন্য জমিনকে পবিত্রকারী ও সালাত আদায়ের স্থান করা হয়েছে, সুতরাং আমার উম্মতের যেকোনো ব্যক্তির সালাতের সময় হলে সে যেন সালাত আদায় করে নেয়; আমার জন্য গনিমতের মাল হালাল করা হয়েছে যা আমার পূর্বে আর কারো জন্য হালাল ছিল না; আমাকে শাফায়াত (সুপারিশ করার অধিকার) দান করা হয়েছে; আর নবীগণকে কেবল তাঁদের নিজ সম্প্রদায়ের নিকট পাঠানো হতো, কিন্তু আমাকে সমস্ত মানুষের নিকট পাঠানো হয়েছে।" আবু আলী আস-সাওয়াফ থেকে এই পর্যন্ত বর্ণিত।
(খণ্ড: ১)
হাদীসু আবী নুআইম আন আবী আলী আস সাওয়াফ লি আবী নুআইম আল আসবাহানী
(পৃষ্ঠা: ৪৩)
11 - أَخْبَرَنَا أَبُو نُعَيْمٍ، أَيْضًا قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا الْحُسَيْنِ بْنَ الْمُظَفَّرِ، قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا الْحُسَيْنِ بْنَ قَانِعٍ، يَقُولُ: سَمِعْتُ إِسْمَاعِيلَ بْنَ الْفَضْلِ بْنِ طَاهِرٍ، يَقُولُ: رَأَيْتُ سُلَيْمَانَ الشَّاذَكُونِيَّ فِي الْمَنَامِ، فَقُلْتُ: مَا فَعَلَ اللَّهُ بِكَ يَا أَبَا أَيُّوبَ؟ قَالَ: «غَفَرَ لِي» قُلْتُ: بِمَاذَا؟ قَالَ: «كُنْتُ فِي طَرِيقِ أَصْبَهَانَ وَإِلَيْهَا أَمُرُّ، فَأَخَذَتْنِي مَطْرَةٌ، وَكَانَ مَعِي كُتُبٌ، وَلَمْ أَكُنْ تَحْتَ سَقْفٍ وَلَا شَيْءٍ، فَانْكَبَبْتُ عَلَى كُتُبِي حَتَّى أَصْبَحْتُ وَهَدَأَ الْمَطَرُ، فَغَفَرَ اللَّهُ عز وجل لِي بِذَلِكَ»
১১ - আবু নুআইমও আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমি আবুল হুসাইন ইবনুল মুজাফফরকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আবুল হুসাইন ইবনে কানি'কে বলতে শুনেছি, তিনি বলছিলেন: আমি ইসমাইল ইবনুল ফজল ইবনে তাহিরকে বলতে শুনেছি, তিনি বলছিলেন: আমি সুলাইমান আশ-শাযাকুনিকে স্বপ্নে দেখেছি। আমি জিজ্ঞেস করলাম: হে আবু আইয়ুব! আল্লাহ আপনার সাথে কী আচরণ করেছেন? তিনি বললেন: «তিনি আমাকে ক্ষমা করে দিয়েছেন» আমি জিজ্ঞেস করলাম: কীসের বিনিময়ে? তিনি বললেন: «আমি আস্পাহানের পথে ছিলাম এবং সেদিকেই যাচ্ছিলাম, তখন আমি বৃষ্টির কবলে পড়লাম, আর আমার সাথে কিতাবসমূহ ছিল এবং আমি কোনো ছাদ বা অন্য কোনো আশ্রয়ের নিচে ছিলাম না। ফলে আমি আমার কিতাবগুলোর ওপর উপুড় হয়ে পড়ে থাকলাম যতক্ষণ না সকাল হলো এবং বৃষ্টি থেমে গেল। মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহ এর অছিলায় আমাকে ক্ষমা করে দিয়েছেন।»