(খণ্ড: ১)
জুযউন মিন আহাদীসি আবী বাকর আস সূলী
(পৃষ্ঠা: -)
جزء من أحاديث أبي بكر الصولي القسم: كتب السنة
الكتاب: جزء من أحاديث أبي بكر الصولي شيوخه (مطبوع ضمن مجموع باسم الفوائد لابن منده!)
المؤلف: أبو بكر محمد بن يحيى بن عبد الله الصولي (ت 335هـ)
تحقيق: خلاف محمود عبد السميع
الناشر: دار الكتب العلمية، بيروت - لبنان
الطبعة: الأولى، 1423 هـ - 2002 م
عدد الصفحات: 17
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আবু বকর আস-সূলীর হাদিসসমূহের একটি অংশ বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ
কিতাব: আবু বকর আস-সূলীর তাঁর শাইখদের থেকে বর্ণিত হাদিসসমূহের অংশ (ইবনে মানদাহ-এর আল-ফাওয়াইদ নামক সংকলনের অন্তর্ভুক্ত হিসেবে মুদ্রিত!)
লেখক: আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে আব্দুল্লাহ আস-সূলী (মৃত্যু ৩৩৫ হিজরি)
তাহকীক: খিলাফ মাহমুদ আব্দুল সামী
প্রকাশক: দারুল কুতুব আল-ইলমিয়্যাহ، বৈরুত - লেবানন
সংস্করণ: প্রথম، ১৪২৩ হিজরি - ২০০২ খ্রিষ্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৭
[কিতাবের পৃষ্ঠা নম্বর ছাপানো সংস্করণের অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
জুযউন মিন আহাদীসি আবী বাকর আস সূলী
(পৃষ্ঠা: ১১)
1173 - حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ سُلَيْمَانُ بْنُ الأَشْعَثِ، حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى يَعْنِي: الْقَطَّانَ، عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ يَعْنِي: ابْنَ أَبِي سُلَيْمَانَ، حَدَّثَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ، عَنْ عَطَاءٍ، عَنْ جَابِرٍ، " كُسِفَتِ الشَّمْسُ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، وَكَانَ فِي الْيَوْمِ الَّذِي مَاتَ فِيهِ إِبْرَاهِيمُ ابْنُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فَقَالَ النَّاسُ: إِنَّمَا كُسِفَتِ الشَّمْسُ لِمَوْتِ إِبْرَاهِيمَ.
فَقَامَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَصَلَّى بِالنَّاسِ سِتَّ رَكْعَاتٍ فِي أَرْبَعِ سَجَدَاتٍ، كَبَّرَ، ثُمَّ قَرَأَ، فَأَطَالَ الْقِرَاءَةَ، ثُمَّ رَكَعَ نَحْوًا مِمَّا قَامَ، ثُمَّ رَفَعَ رَأْسَهُ، فَقَرَأَ الْقِرَاءَةَ دُونَ الْقِرَاءَةِ الأُولَى، ثُمَّ رَكَعَ نَحْوَ ذَلِكَ، ثُمَّ قَامَ، ثُمَّ رَفَعَ رَأْسَهُ، فَقَرَأَ الثَّالِثَةَ دُونَ الْقِرَاءَةِ الثَّانِيَةِ، ثُمَّ رَكَعَ، نَحْوًا مِمَّا قَامَ، ثُمَّ رَفَعَ رَأْسَهُ وَانْحَدَرَ لِلسُّجُودِ، فَسَجَدَ سَجْدَتَيْنِ، ثُمَّ قَامَ فَرَكَعَ ثَلاثَ رَكْعَاتٍ قَبْلَ أَنْ يَسْجُدَ، لَيْسَ فِيهَا رَكْعَةٌ إِلا الَّتِي قَبْلَهَا أَطْوَلُ مِنْهَا، إِلا أَنْ يَكُونَ رُكُوعُهُ نَحْوًا مِنْ قِيَامِهِ، ثُمَّ تَأَخَّرَ فِي صَلاتِهِ، فَتَأَخَّرَتِ الصُّفُوفُ مَعَهُ، ثُمَّ تَقَدَّمَ فَقَامَ فِي مَقَامِهِ، وَتَقَدَّمَتِ الصُّفُوفُ مَعَهُ، فَقَضَى الصَّلاةَ وَقَدْ طَلَعَتِ الشَّمْسُ، فَقَالَ: «أَيُّهَا النَّاسُ، إِنَّ
الشَّمْسَ وَالْقَمَرَ آيَتَانِ مِنْ آيَاتِ اللَّهِ، لا تَنْكَسِفَانِ لِمَوْتِ بَشَرٍ، فَإِذَا رَأَيْتُمْ مِنْ ذَلِكَ فَصَلُّوا حَتَّى تَنْجَلِيَ»
১১৭৩ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু দাউদ সুলায়মান ইবনুল আশআস, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে হাম্বল, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া অর্থাৎ আল-কাত্তান, আব্দুল মালিক অর্থাৎ ইবনে আবি সুলায়মান থেকে বর্ণিত, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইবনে জুরাইজ, আতা থেকে বর্ণিত, জাবির (রা.) হতে বর্ণিত, “রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে সূর্যগ্রহণ হয়েছিল এবং তা ছিল সেই দিনে যেদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পুত্র ইবরাহীম ইন্তেকাল করেন। তখন মানুষ বলতে লাগল: কেবল ইবরাহীমের মৃত্যুর কারণেই সূর্যগ্রহণ হয়েছে।
অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়িয়ে মানুষকে নিয়ে চার সিজদায় ছয়টি রুকুসহ সালাত আদায় করলেন। তিনি তাকবীর দিলেন, তারপর কিরাআত পাঠ করলেন এবং দীর্ঘ কিরাআত পড়লেন। এরপর তিনি তাঁর কিয়ামের (দাঁড়ানোর) সময়ের প্রায় সমান দীর্ঘ রুকু করলেন। এরপর তিনি মাথা উঠালেন এবং প্রথম কিরাআতের চেয়ে সংক্ষিপ্ত কিরাআত পাঠ করলেন। তারপর তিনি অনুরূপ রুকু করলেন। এরপর তিনি দাঁড়ালেন এবং তাঁর মাথা উঠালেন এবং তৃতীয়বার কিরাআত পাঠ করলেন যা দ্বিতীয় কিরাআতের চেয়ে সংক্ষিপ্ত ছিল। এরপর তিনি তাঁর কিয়ামের প্রায় সমান দীর্ঘ রুকু করলেন। এরপর তিনি তাঁর মাথা উঠালেন এবং সিজদার জন্য অবনত হলেন, অতঃপর দুটি সিজদা করলেন। এরপর তিনি পুনরায় দাঁড়ালেন এবং সিজদা করার পূর্বে তিনটি রুকু করলেন। এর প্রত্যেকটি রুকু ছিল তার পূর্বেরটি অপেক্ষা সংক্ষিপ্ত, তবে তাঁর রুকু ছিল তাঁর কিয়ামের সময়ের প্রায় সমান। এরপর তিনি তাঁর সালাতে পিছিয়ে গেলেন, ফলে কাতারগুলোও তাঁর সাথে পিছিয়ে গেল। এরপর তিনি সামনে এগিয়ে তাঁর নিজ স্থানে দাঁড়ালেন এবং কাতারগুলোও তাঁর সাথে সামনে এগিয়ে এল। তিনি সালাত শেষ করলেন এমন অবস্থায় যখন সূর্য পূর্ণ প্রকাশিত হয়ে গেছে। তখন তিনি বললেন: ‘হে লোকসকল!
নিশ্চয়ই সূর্য ও চন্দ্র আল্লাহর নিদর্শনসমূহের মধ্যে দুটি নিদর্শন। কোনো মানুষের মৃত্যুর কারণে এগুলোতে গ্রহণ লাগে না। সুতরাং যখন তোমরা এমন কিছু দেখবে, তখন সালাত আদায় করবে যতক্ষণ না তা উদ্ভাসিত হয়ে যায়’।”
(খণ্ড: ১)
জুযউন মিন আহাদীসি আবী বাকর আস সূলী
(পৃষ্ঠা: ১২)
1174 - حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَلِيٍّ الْعَطَّارُ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ الْخَطَّابِ، أَنْبَأَنَا يَعْقُوبُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْقُمِّيُّ، حَدَّثَنَا الأَعْشَى، عَنِ السُّلَمِيِّ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ،
«مَا كُنَّا نَعْرِفُ الْمُنَافِقِينَ إِلا بِبُغْضِهِمْ عَلَيَّ بْنَ أَبِي طَالِبٍ عليه السلام»1175 - حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَلِيٍّ الْعَطَّارُ، حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ طَالُوتَ، حَدَّثَنَا الْعَلاءُ بْنُ مُحَمَّدٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرٍو، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم:
«أَكْثِرُوا ذِكْرَ هَادِمِ اللَّذَّاتِ» .
قَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ، وَمَا هَادِمُ اللَّذَّاتِ؟ قَالَ: الْمَوْتُ "
1176 - حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ فَهْدِ بْنِ حَكِيمٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ خَالِدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنَا فَرَجُ بْنُ فَضَالَةَ، عَنْ رَبِيعَةَ بْنِ يَزِيدَ، عَنْ مُسْلِمِ بْنِ قَرَظَةَ، عَنْ عَوْفِ بْنِ مَالِكٍ، سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، يَقُولُ: "
خِيَارُكُمْ وَخِيَارُ أَئِمَّتِكُمُ الَّذِينَ تُحِبُّونَهُمْ وَيُحِبُّونَكُمْ، وَتُصَلُّونَ عَلَيْهِمْ وَيُصَلُّونَ عَلَيْكُمْ، وَشِرَارُكُمْ وَشِرَارُ أَئِمَّتِكُمُ الَّذِينَ تَلْعَنُونَهُمْ وَيَلْعَنُونَكُمْ، وَتُبْغِضُونَهُمْ وَيُبْغِضُونَكُمْ.
قَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ، أَلا نُنَابِذُهُمْ؟ قَالَ: لا، مَا صَلَّوْا لَكُمُ الْخَمْسَ، أَلا وَمَنْ كَانَ عَلَيْهِ وَالٍ فَرَآهُ يَأْتِي شَيْئًا مِنْ مَعَاصِي اللَّهِ عز وجل، فَلْيُنْكِرْ مَا أَتَى مِنْ ذَلِكَ، وَلا تَنْزِعُوا يَدًا مِنْ طَاعَةٍ "
1177 - حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ فَهْدٍ، حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ أَبِي الرَّبِيعِ السَّمَّانُ، عَنْ عَنْبَسَةَ الْقَطَّانَ، حَدَّثَنَا شَهْرُ بْنُ حَوْشَبٍ، حَدَّثَتْنِي أُمُّ الدَّرْدَاءِ، عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ، أَنَّهُ سَمِعَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، يَقُولُ:
«أَفْضَلُ عَمَلٍ يُوضَعُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فِي مِيزَانِ الْعَبْدِ حُسْنُ الْخُلُقِ»1178 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عُمَرَ أَبُو بَكْرٍ الْبَزَّارُ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ
১১৭৪ - হিশাম ইবনে আলী আল-আত্তার আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, আব্দুল আজিজ ইবনুল খাত্তাব আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, ইয়াকুব ইবনে আব্দুল্লাহ আল-কুম্মি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আল-আশা থেকে, তিনি আস-সুলামী থেকে, তিনি আবু সাঈদ আল-খুদরী থেকে বর্ণনা করেন,
"আমরা আলী ইবনে আবি তালিব (আলাইহিস সালাম)-এর প্রতি বিদ্বেষ পোষণ ছাড়া মুনাফিকদের চিনতে পারতাম না।"১১৭৫ - হিশাম ইবনে আলী আল-আত্তার আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, উসমান ইবনে তালুত আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, আল-আলা ইবনে মুহাম্মদ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবনে আমর থেকে, তিনি আবু সালামাহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন:
"তোমরা স্বাদ বিনষ্টকারীকে বেশি বেশি স্মরণ করো।"তারা বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, স্বাদ বিনষ্টকারী কী? তিনি বললেন: "মৃত্যু।"
১১৭৬ - ইব্রাহিম ইবনে ফাহদ ইবনে হাকিম আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবনে খালিদ ইবনে আব্দুল্লাহ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, ফারাজ ইবনে ফাদালা আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, রাবিয়া ইবনে ইয়াজিদ থেকে, তিনি মুসলিম ইবনে কারাজা থেকে, তিনি আউফ ইবনে মালিক থেকে বর্ণনা করেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি:
"তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম ব্যক্তি এবং তোমাদের নেতাদের মধ্যে সর্বোত্তম তারা যাদের তোমরা ভালোবাসো এবং তারাও তোমাদের ভালোবাসে, এবং তোমরা তাদের জন্য দুআ করো আর তারাও তোমাদের জন্য দুআ করে। আর তোমাদের মধ্যে নিকৃষ্ট এবং তোমাদের নেতাদের মধ্যে নিকৃষ্ট তারা যাদের তোমরা অভিশাপ দাও এবং তারাও তোমাদের অভিশাপ দেয়, আর তোমরা তাদের ঘৃণা করো এবং তারাও তোমাদের ঘৃণা করে।
তারা বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, আমরা কি তাদের সাথে লড়াই করব না? তিনি বললেন: "না, যতক্ষণ তারা তোমাদের মাঝে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত কায়েম রাখে। জেনে রেখো, যার ওপর কোনো শাসক নিযুক্ত হয় এবং সে তাকে মহান আল্লাহর কোনো অবাধ্যতায় লিপ্ত হতে দেখে, তবে সে যেন তার ওই অবাধ্যতাকে ঘৃণা করে, কিন্তু আনুগত্যের হাত গুটিয়ে নিও না।"
১১৭৭ - ইব্রাহিম ইবনে ফাহদ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, সাঈদ ইবনে আবির রাবী আস-সাম্মান আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, আনবাসাহ আল-কাত্তান থেকে, শাহর ইবনে হাওশাব আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, উম্মুদ দারদা আমার নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, আবু দারদা থেকে যে, তিনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছেন:
"কিয়ামতের দিন বান্দার মিজানে যে সর্বোত্তম আমল রাখা হবে তা হলো উত্তম চরিত্র।"১১৭৮ - আহমদ ইবনে উমর আবু বকর আল-বাজার আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, ইসমাইল ইবনে...
(খণ্ড: ১)
জুযউন মিন আহাদীসি আবী বাকর আস সূলী
(পৃষ্ঠা: ১৩)
أَبِي الْحَارِثِ، حَدَّثَنَا دَاوُدُ بْنُ الْمُحَبَّرِ، حَدَّثَنَا أَبِي الْمُحَبَّرِ بْنِ قَحْذَمٍ، عَنْ أَبِيهِ قَحْذَمِ بْنِ سُلَيْمَانَ بْنِ سُلَيْمٍ، عَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ قُرَّةَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم:
«لَتُمْلأَنَّ الأَرْضُ جَوْرًا وَظُلْمًا، فَإِذَا مُلِئَتْ جَوْرًا وَظُلْمًا بَعَثَ اللَّهُ رَجُلا اسْمُهُ اسْمِي يَمْلَؤُهَا قِسْطًا وَعَدْلا كَمَا مُلِئَتْ جَوْرًا وَظُلْمًا» .
1179 - وَهَذَا الْحَدِيثُ لا نَعْلَمُهُ يُرْوَى عَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ قُرَّةَ، عَنْ أَبِيهِ إِلا مِنْ هَذَا الْوَجْهِ، وَقَدْ رَوَاهُ مُعَاوِيَةُ بْنُ قُرَّةَ، عَنْ أَبِي الصِّدِّيقِ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ مِنْ غَيْرِ هَذَا الْوَجْهِ
1180 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ يَزِيدَ الْمُهَلَّبِيُّ قَالَ: كُنْتُ أَنَا وَسَعِيدُ بْنُ حُمَيْدٍ، وَمُحَمَّدُ بْنُ عَتَّابٍ فِي بُسْتَانٍ حَسَنِ الْخُضْرَةِ، فِيهِ رَوْضَةُ نَرْجِسٍ وَدُولابٌ، فَسَمِعْنَا لَهُ صَوْتًا مَلِيحًا، وَالرِّيحُ تُمِيلُ أَغْصَانَ شَجَرِهَا، فَقُلْنَا: نَقُولُ فِي هَذَا شَيْئًا.
فَبَدَرَنِي سَعِيدٌ، فَقَالَ:
وَرِيَاضٌ كَأَنَّهَا نَشَرَتْ فَوْقَ
… ثَرَاهَا حَرِيرَةً خَضْرَاءَ
أَعْيُنُ النَّرْجِسِ الْحَنِيِّ نُجُومٌ
… وَاخْضِرَارُ الرِّيَاضِ فِيهَا سَمَاءٌ
لِلثَّرَى تَحْتَهُنَّ رَقْصٌ
… كُلَمَّا زَمَّرَ وَلِلْغُصُونِ غِنَاءٌ
قَالَ الصُّولِيُّ، فِي هَذَا النَّحْوِ شَيْءٌ عَبَثْتُ بِهِ:
وَيَوْمٌ مِنْ أَيَّامِ الرَّبِيعِ أَطَاعَنِي
… لَهُ أَوَّلٌ فِيمَا أُحِبُّ وَآخِرُ
وَغَابَ رَقِيبٌ عَنِّي وَعَاذِلٌ وَوَاشٍ
… وَمَنْ أَهْوَى مِنَ النَّاسِ حَاضِرٌ
لَدَى شَجَرٍ لِلطَّيْرِ فِيهِ تَشَاجُرُ
… وَزَهْرٍ حَكَتْهُ فِي النِّظَامِ الْجَوَاهِرُ
كَأَنَّ هَزَازَاتِ الْغُصُونِ خِلالَهُ
… قيانٌ وَأَوْرَاقُ الْغُصُونِ سَتَائِرُ
وَدَارَتْ لَنَا فِي دَوْرَانَ قَهْوَةٌ لَنَا
… مِنْ حُمَيَّهَا عَلَى الْقَتْلِ عَاذِرُ
فَظَلْنَا بِيَوْمٍ لِلسُّرُورِ مُحَسَّدٍ
… نَفُوزُ بِإِسْعَافِ الْهَوَى وَنُجَاهِرُ
سَمَا الدَّهْرُ عَنَّا فِيهِ وَارْتَدَّ طَرْفُهُ
… فَكُلٌّ بِمَا قَدْ كَانَ يَهْوَاهُ ظَافِرُ
1181 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الأَسْوَدِ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ إِسْحَاقَ الْمَوْصِلِيُّ، أَنْشَدَهُ شَاعِرٌ أَعْرَابِيٌّ، وَلَمْ يُسَمِّعهِ:
আবুল হারিস থেকে বর্ণিত, দাউদ ইবনুল মুহাব্বার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমার পিতা আল-মুহাব্বার ইবনে কাহযাম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি তার পিতা কাহযাম ইবনে সুলাইমান ইবনে সুলাইম থেকে, তিনি মুআবিয়া ইবনে কুররাহ থেকে, তিনি তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন:
“নিশ্চয়ই পৃথিবী অন্যায় ও জুলুমে পরিপূর্ণ হয়ে যাবে। অতঃপর যখন তা অন্যায় ও জুলুমে পরিপূর্ণ হয়ে যাবে, তখন আল্লাহ এমন একজন ব্যক্তিকে পাঠাবেন যার নাম হবে আমার নামের অনুরূপ; তিনি পৃথিবীকে ইনসাফ ও ন্যায়ে পরিপূর্ণ করে দেবেন, যেমন তা অন্যায় ও জুলুমে পরিপূর্ণ হয়েছিল।”
১১৭৯ - আর এই হাদিসটি মুআবিয়া ইবনে কুররাহ থেকে, তিনি তার পিতা থেকে বর্ণিত বলে আমাদের জানা নেই এই সূত্র ব্যতীত। তবে মুআবিয়া ইবনে কুররাহ এটি আবু সিদ্দিক থেকে, তিনি আবু সাঈদ আল-খুদরি থেকে অন্য সূত্রে বর্ণনা করেছেন।
১১৮০ - আহমাদ ইবনে ইয়াযিদ আল-মুহাল্লাবি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি, সাঈদ ইবনে হুমাইদ এবং মুহাম্মাদ ইবনে আত্তাব একটি চমৎকার সবুজ বাগানে ছিলাম, যেখানে নারগিস ফুলের বাগান ও একটি জলচক্র (দউলাব) ছিল। আমরা তার একটি সুমধুর শব্দ শুনতে পেলাম, আর বাতাস গাছের ডালপালাকে দুলিয়ে দিচ্ছিল। তখন আমরা বললাম: এই সৌন্দর্য সম্পর্কে আমাদের কিছু বলা উচিত।
অতঃপর সাঈদ আমার আগে বেড়ে বললেন:
এমন এক বাগান, যেন তার আর্দ্র মাটির উপরে...
... বিছিয়ে দেয়া হয়েছে এক সবুজ রেশমি চাদর।
নত হওয়া নারগিস ফুলের চোখগুলো যেন নক্ষত্ররাজি...
... আর বাগানের সবুজিমা যেন এক আকাশ।
মাটির জন্য তাদের নিচে রয়েছে নৃত্য...
... যখনই বাতাস বাঁশি বাজায়, আর ডালপালার জন্য রয়েছে গান।
আস-সুলি বলেন, এই বিষয়ে আমি কিছু কথা গুছিয়ে বলেছি:<
বসন্তের দিনগুলোর মধ্য হতে একটি দিন আমার অনুগত হলো...
... যার শুরু থেকে শেষ অবধি ছিল আমার প্রিয় বিষয়ের সমাহার।
আমার থেকে দূরে ছিল পর্যবেক্ষক, নিন্দুক ও চোগলখোর...
... আর মানুষের মধ্যে যাকে আমি ভালোবাসি, সে ছিল উপস্থিত।
এমন সব গাছের কাছে যেখানে পাখিরা কিচিরমিচির করছিল...
... আর এমন সব ফুল যা বিন্যাসের দিক থেকে মণি-মুক্তার সদৃশ।
মনে হচ্ছিল ডালপালার দুলুনি যেন তার মাঝে...
... গায়িকা পরিবেষ্টিত, আর গাছের পাতাসমূহ যেন পর্দা।
আর আমাদের মাঝে আবর্তিত হচ্ছিল চমৎকার পানীয়...
... যার তীব্রতা সকল প্রকার সংকীর্ণতাকে ভুলিয়ে দেয়।
আমরা এক ঈর্ষণীয় আনন্দের দিনে অবস্থান করছিলাম...
... যেখানে আমরা অনুরাগের সহায়তা লাভে জয়ী হচ্ছিলাম এবং তা প্রকাশ করছিলাম।
কালচক্র আমাদের থেকে উদাসীন ছিল এবং তার কঠোর দৃষ্টি সরিয়ে নিয়েছিল...
... ফলে প্রত্যেকেই তার কাঙ্ক্ষিত বিষয় অর্জনে সফল হয়েছিল।
১১৮১ - মুহাম্মাদ ইবনুল আসওয়াদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, হাম্মাদ ইবনে ইসহাক আল-মাওসিলি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যে, তাকে এক বেদুইন কবি কবিতা শুনিয়েছেন, তবে তিনি তার নাম উল্লেখ করেননি:
(খণ্ড: ১)
জুযউন মিন আহাদীসি আবী বাকর আস সূলী
(পৃষ্ঠা: ১৪)
أَلَمْ تَعْلَمِي يَا عَذْبَةَ الرِّيقِ أَنَّنِي
… وَإِنْ أَظْهَرَ الْحُسَّادُ سُوءَ مَقَالِ
عَفِيفٌ وَلَكِنَّ الْمُحِبَّ إِذَا خَلَى
… بِمَنْ حَبَّ جَالَ الظَّنُّ كُلَّ مَجَالِ
فَقَالَ لَهُ أَبِي: قَدِ ادَّعَيْتَ الصَّفْوَةَ، وَأَقْرَرْتَ بِالْخَلْوَةِ ثُمَّ ادَّعَيْتَ الْعِفَّةََ، وَتَحْتَاجُ عَلَى ذَلِكَ إِلَى بَيِّنَةٍ.
1182 - قَالَ الصُّولِيُّ: وَكُنْتُ عِنْدَ أَبِي ذَكْوَانَ، فَقَالَ لِي: أَنْشَدَنِي عَمُّكَ إِبْرَاهِيمُ ابْنُ الْعَبَّاسِ لِخَالِهِ الْعَبَّاسِ بْنِ الأَحْنَفِ:
قَدْ سَحَبَ النَّاسُ أَذْيَالَ الظُّنُونِ بِنَا
… وَفَرَّقَ النَّاسُ فِينَا قَوْلَهُمْ فِرَقَا
فَكَاذِبٌ قَدْ رَمَى بِالْحُبِّ غَيْرَكُمُ
… وَصَادِقٌ لَيْسَ يَدْرِي أَنَّهُ صَدَقَا
ثُمَّ قَالَ: كَأَنِّي أَعْرِفُ شِعْرًا أَخَذَهُ الْعَبَّاسُ مِنْهُ، فَقُلْتُ لَهُ: أَنْشَدَنَا أَبُو الْعَيْنَاءِ، عَنِ الأَصْمَعِيِّ، لِمُزَاحِمٍ الْعُقَيْلِيِّ:
أَلا يَا سُرُورَ النَّفْسِ لَيْسَ بِعَالِمٍ بِكَ
… النَّاسُ حَتَّى يَعْلَمُوا لَيْلَةَ الْقَدْرِ
سَرَى رَجْمُهُمْ بِالظَّنِّ وَالظَّنُّ مُخْطِئٌ
… مِرَارًا وَمِنْهُمْ مَنْ يُصِيبُ وَلا يَدْرِي
فَقَالَ: هُوَ وَاللَّهِ الَّذِي أَرَدْتُ لَوْ رَآكَ عَمُّكَ لأَقَرَّ اللَّهُ عَيْنَهُ بِكَ.
1183 - قَالَ الصُّولِيُّ: وَمِمَّا يَتَعَلَّقُ بِهَذَا الْقَوْلِ لِلْحُسَيْنِ بْنِ الضَّحَّاكِ الْخُلَيْعِ:
وَلَيْلَةٍ بِتُّهَا مَحْسَدَةً
… مَحْفُوفَةً بِالظُّنُونِ وَالتُّهَمِ
وَبَاتَ غَيْرَانَا عَلَى حَنَقٍ
… تَرُدُّ أَنْفَاسُهُ إِلَى الْكَظْمِ
وَأَتَانِي مَنْ بَدَا يَرُوعُهُ
… وَعَادَ مِنْ بَعْدِهَا إِلَى نَعْمِ
أَبَاحَنِي صَوْنَهُ وَوَسَّدَنِي
… إِحْدَى يَدَيْهِ وَبَاتَ مُلْتَزَمِي
فَبِتُّ فِي لَيْلَةٍ نَعِمْتُ بِهَا
… أَلْثُمُ دُرًّا مُفَلَّجًا بِفَمِي
قَالَ الصُّولِيُّ: وَلا أَعْرِفُ شَاعِرًا ذَكَرَ تَفَلُّجَ الأَسْنَانِ قَبْلَ ابْنِ أَبِي خَازِمٍ الأَسَدِيِّ، فَإِنَّهُ قَالَ: مُفَلَّجُ الشِّفَاهِ بِأُقْحُوَانِ حَلاهُ عبٌّ شَارِبُهُ قَطْرٌ
1184 - قَالَ: وَقَرَأَ عَلَى أَبِي بَكْرٍ الصُّولِيِّ فِي هَذَا الْيَوْمِ، قَالَ بِهِ أَحْمَدُ الزُّبَيْرِيُّ، حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْخٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْحَكَمِ، عَنْ عَوَانَةَ، قَالَ: كَتَبَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ رضي الله عنه إِلَى عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ: «أَمَّا بَعْدُ، فَإِنَّ مَنِ اتَّقَى
হে মিষ্টভাষিণী, তুমি কি জানো না যে আমি
… যদিও হিংসুকরা কটু কথা প্রকাশ করে।
আমি সংযমী, কিন্তু প্রেমিক যখন নির্জনে থাকে
… যাকে সে ভালোবাসে তার বিষয়ে নানাবিধ ধারণা জন্মায়।
আমার পিতা তাকে বললেন: তুমি নির্মলতার দাবি করেছ এবং নির্জনে সাক্ষাতের কথা স্বীকার করেছ, আবার পবিত্রতারও দাবি করছ; এর সপক্ষে তোমার প্রমাণের প্রয়োজন।
১১৮২ - আস-সুলি বলেন: আমি আবু জাকওয়ানের নিকট উপস্থিত ছিলাম। তিনি আমাকে বললেন: তোমার চাচা ইব্রাহিম ইবনুল আব্বাস আমাকে তার মামা আব্বাস ইবনুল আহনাফের এই কবিতাটি শুনিয়েছেন:
মানুষ আমাদের নিয়ে সন্দেহের ডালপালা মেলেছে
… এবং আমাদের সম্পর্কে তারা নানা দলে বিভক্ত হয়ে নানা কথা ছড়িয়েছে।
কোনো মিথ্যাবাদী তোমাদের ছাড়া অন্য কাউকে প্রেমের লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে অভিযুক্ত করেছে
… আর কোনো সত্যবাদী জানেই না যে সে সত্য বলেছে।
অতঃপর তিনি বললেন: আমার মনে হয় আমি এমন একটি কবিতা সম্পর্কে জানি যা থেকে আব্বাস এটি গ্রহণ করেছেন। তখন আমি তাকে বললাম: আবুল আইনা আসমায়ি থেকে আমাদের নিকট মুজাহিম আল-উকাইলির এই কবিতাটি পাঠ করেছেন:
ওহে প্রাণের আনন্দ! মানুষ তোমার সম্পর্কে ততক্ষণ পর্যন্ত কিছুই জানতে পারবে না
… যতক্ষণ না তারা লাইলাতুল কদর সম্পর্কে জানতে পারে।
তাদের অনুমানের তীর বিদ্ধ হয়েছে, অথচ অনুমান অনেক সময় ভুল হয়
… আবার তাদের মধ্যে কেউ সঠিক হলেও তা জানে না।
তিনি বললেন: আল্লাহর শপথ, এটিই আমি বোঝাতে চেয়েছিলাম। তোমার চাচা যদি তোমাকে দেখতেন, তবে আল্লাহ তাঁর চোখ শীতল করে দিতেন।
১১৮৩ - আস-সুলি বলেন: হুসাইন ইবনে যাহহাক আল-খুলই'-এর এই বক্তব্যের সাথে নিম্নোক্ত পঙক্তিগুলো সংশ্লিষ্ট:
এক রাত আমি ঈর্ষণীয় অবস্থায় কাটালাম
… যা ছিল সন্দেহ ও অভিযোগে পরিবেষ্টিত।
আমাদের প্রতি ঈর্ষাপরায়ণ ব্যক্তি রাগে রাত কাটিয়েছে
… যার দীর্ঘশ্বাস ক্রোধে রুদ্ধ হয়ে আসছিল।
আমার কাছে এমন একজন এল যে প্রথমে শঙ্কিত ছিল
… কিন্তু পরে সে আশ্বস্ত হয়ে ফিরে গেল।
সে তার সতীত্ব আমাকে অর্পণ করল এবং তার এক হাত আমার বালিশ বানিয়ে দিল
… আর রাত কাটাল আমাকে জড়িয়ে ধরে।
আমি সেই রাতটি পরম সুখে কাটালাম
… যেখানে আমি আমার মুখ দিয়ে উজ্জ্বল ফাঁকযুক্ত দাঁত চুম্বন করছিলাম।
আস-সুলি বলেন: ইবনে আবি খাজিম আল-আসাদির আগে আমি আর কোনো কবিকে দাঁতের ফাঁক নিয়ে বর্ণনা করতে দেখিনি। তিনি বলেছিলেন: ঠোঁটের ফাঁক দিয়ে উজ্জ্বল শুভ্র ফুলের মতো সৌন্দর্য প্রকাশ পায়, যার ওপরে শিশিরবিন্দু জমে থাকে।
১১৮৪ - তিনি বলেন: আজ আবু বকর আস-সুলির সামনে পাঠ করা হয়েছে, আহমাদ আল-জুবাইরি এটি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন সুলাইমান ইবনে আবি শাইখ, তিনি বলেন আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনুল হাকাম, আওয়ানা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) আব্দুল্লাহ ইবনে উমরের নিকট লিখলেন: "অতঃপর, যে ব্যক্তি আল্লাহকে ভয় করে..."
(খণ্ড: ১)
জুযউন মিন আহাদীসি আবী বাকর আস সূলী
(পৃষ্ঠা: ১৫)
اللَّهَ وَقَاهُ، وَمَنْ تَوَكَّلَ عَلَيْهِ كَفَاهُ، وَمَنْ أَقْرَضَهُ جَزَاهُ، وَمَنْ شَكَرَهُ زَادَهُ، وَلْتَكُنِ التَّقْوَى عِمَادَ عَمَلِكَ وَجَلاءَ قَلْبِكَ، فَإِنَّهُ لا عَمَلَ لِمَنْ لا فِقْهَ لَهُ، وَلا مَالَ لِمَنْ لا رِفْقَ لَهُ، وَلا جَدِيدَ لِمَنْ لا خُلُقَ لَهُ»
1185 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ يُوسُفَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: خَرَجْنَا بِجَارِيَةِ الرَّشِيدِ اشْتَرَيْنَاهَا لَهُ نُشَيِّعُهَا، فَمَرَرْنَا بِخِيَامِ الأَعْرَابِ، وَإِذَا رَجُلٌ قَبِيحُ الْوَجْهِ يَضْرِبُ امْرَأَتَهُ وَهِيَ أَحْسَنُ النَّاسِ وَجْهًا، قَالَ: فَأَوْمَأْنَا إِلَيْهِ نَمْنَعُهُ، فَقَالَتْ: دَعُوهُ، فَإِنَّهُ أَسْدَى إِلَى اللَّهِ خَيْرًا وَأَذْنَبْتُ ذَنْبًا، فَصَيَّرَنِي ثَوَابَهُ وَصَيَّرَهُ عِقَابِي
1186 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الأَكْبَرِ، حَدَّثَنَا عَبَّاسُ بْنُ الْفَرَجِ، قَالَ: رَكِبَ الأَصْمَعِيُّ حِمَارًا ذَمِيمًا، فَقِيلَ لَهُ: أَبَعْدَ بَرَاذِينِ الْخُلَفَاءِ تَرْكَبُ هَذَا؟ فَقَالَ مُتَمَثِّلا: وَلَمَّا أَبَتْ إِلا طِرَاقًا بِوِدِّهَا وَتَكْدِيرِهَا الشُّرْبَ الَّذِي كَانَ صَافِيَا شَرِبْنَا بِرَنْقٍ مِنْ هَوَاهَا مُكَدَّرٍ وَلَيْسَ يَعَافُ الرَّنْقَ مَنْ كَانَ صَادِيَا هَذَا وَمِلْكُ يَمِينِي وَنَفْسِي أَحَبُّ إِلَيَّ مِنْ ذَلِكَ مَعَ ذَهَابِيَا
1187 - حَدَّثَنَا الْغِلابِيُّ، حَدَّثَنَا ابْنُ عَائِشَةَ، قَالَ: قَالَ ابْنُ الْمُقَفَّعِ لِعَمْرِو بْنِ عُبَيْدٍ: نَظَرْتُ فِي مَقَايِسِكُمْ فَوَجَدْتُهَا بَاطِلَةً.
فَقَالَ: أَبِالْقِيَاسِ أَبْطَلْتَهَا أَمْ بِالْمُجَازَفَةِ؟ قَالَ: بِالْقِيَاسِ.
قَالَ لَهُ: فَأَرَاكَ قَدْ أَبَنْتَ مَا بَقِيتَ.
1188 - حَدَّثَنَا أَبُو ذَكْوَانَ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلامٍ الْجُمَحِيُّ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: قَالَ عَمْرُو بْنُ الْعَاصِ لِعَبْدِ اللَّهِ بْنِ جَعْفَرٍ عِنْدَ مُعَاوِيَةَ لِيَصْغُرَ مِنْهُ «يَا ابْنَ جَعْفَرٍ» ، فَقَالَ لَهُ عَبْدُ اللَّهِ:
لَئِنْ نَسَبْتَنِي إِلَى جَعْفَرٍ فَلَسْتُ بِدَعِيٍّ وَلا أَبْتَرَ.ثُمَّ وَلَّى وَهُوَ يَقُولُ:تَعَرَّضْتَ قَرْنَ الشَّمْسِ وَقْتَ ظَهِيرَةٍ … تُسَتِّرُ مِنْهُ ضَوْءَهُ بِكَلامِنَا
كَفَرْتَ اخْتِيَارًا ثُمَّ آمَنْتَ خِيفَةً
… وَبُغْضُكَ إِيَّانَا شَهِيدٌ بِذَلِكَا
وَإِنَّمَا قَالَ: لَسْتُ بِدَعِيٍّ وَلا أَبْتَرَ لأَنَّ الْعَاصَ قَالَ: مُحَمَّدٌ أَبْتَرُ، فَأَنْزَلَ اللَّهُ عز وجل: {إِنَّ شَانِئَكَ هُوَ الأَبْتَرُ} [الكوثر: 3] "
1189 - قَالَ: وَسَأَلَ رَجُلٌ رَجُلًا حَاجَةً فَرَدَّهُ، فَقَالَ لَهُ السَّائِلُ: أَمَا وَاللَّهِ لَقَدْ أَيْقَنْتُ أَنَّ مَنْ سَلَكَ الْوَعْرَ حَفَى، وَلَكِنَّهُ اضْطَرَّنِي إِلَيْكَ الطَّرِيقُ، وَغَابَ عَنِّي فِيكَ التَّوْفِيقُ.
1190 - حَدَّثَنَا الْمُبَرِّدُ، حَدَّثَنَا مُحدبٌ، عَنِ الْفَضْلِ بْنِ مَرْوَانَ، قَالَ:
আল্লাহ তাকে রক্ষা করেন; আর যে তাঁর ওপর ভরসা করে, তিনি তার জন্য যথেষ্ট হয়ে যান। যে তাঁকে ঋণ দান করে (তাঁর পথে ব্যয় করে), তিনি তাকে প্রতিদান দেন; আর যে তাঁর শুকরিয়া আদায় করে, তিনি তাকে বাড়িয়ে দেন। তাকওয়াকে তোমার আমলের স্তম্ভ এবং হৃদয়ের পরিচ্ছন্নতা বানাও। কেননা যার ফিকহ (দ্বীনি বুঝ) নেই তার কোনো আমল নেই, যার নম্রতা নেই তার কোনো সম্পদ নেই এবং যার উত্তম চরিত্র নেই তার নিকট কোনো কিছুই নতুন (বা মর্যাদাবান) নয়।
১১৮৫ - মুহাম্মদ ইবনে সাঈদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবনে ইবরাহিম ইবনে ইউসুফ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমরা হারুনুর রশীদের এক দাসীকে নিয়ে বের হলাম, যাকে আমরা তাঁর জন্য ক্রয় করেছিলাম এবং আমরা তাকে বিদায় জানাতে যাচ্ছিলাম। পথিমধ্যে আমরা যাযাবর বেদুইনদের তাঁবুর পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম। হঠাৎ দেখলাম এক কুৎসিত চেহারার লোক তার স্ত্রীকে মারধর করছে, অথচ সেই স্ত্রীটি মানুষের মধ্যে সবচাইতে সুন্দরী ছিল। তিনি বলেন: আমরা তাকে বাধা দেওয়ার জন্য ইশারা করলাম। তখন স্ত্রীটি বলল: 'তাকে ছেড়ে দিন। কারণ হতে পারে সে আল্লাহর কাছে কোনো উত্তম কাজ করেছে যার প্রতিদান স্বরূপ আল্লাহ আমাকে তাকে দান করেছেন, আর আমি হয়তো কোনো গুনাহ করেছি যার শাস্তি স্বরূপ আল্লাহ তাকে আমার ওপর চাপিয়ে দিয়েছেন।'
১১৮৬ - মুহাম্মদ ইবনে আবদিল আকবার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আব্বাস ইবনুল ফারাজ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আসমায়ি একটি অতি সাধারণ গাধার পিঠে চড়েছিলেন। তাঁকে বলা হলো: খলিফাদের উচ্চবংশীয় ঘোড়ায় চড়ার পর আপনি এখন এতে চড়ছেন? তখন তিনি উদাহরণস্বরূপ কাব্য করে বললেন: 'যখন সে তার ভালোবাসা দিতে অস্বীকার করল এবং স্বচ্ছ পানীয়কে ঘোলাটে করে দিল, তখন আমরা তার ভালোবাসার সেই ঘোলা পানিই পান করলাম; কেননা তৃষ্ণার্ত ব্যক্তি কাদা মেশানো ঘোলা পানিকেও ঘৃণা করে না। এটি আমার মালিকানাধীন, আর তা হারানোর চেয়ে আমার নিজের সত্তার সাথে থাকা আমার নিকট অধিক প্রিয়।'
১১৮৭ - আল-গিলাবি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইবনে আইশা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইবনে আল-মুকাফফা আমর ইবনে উবাইদকে বললেন: 'আমি আপনাদের কিয়াস (যৌক্তিক মাপকাঠি) নিয়ে চিন্তা করেছি এবং সেগুলোকে বাতিল পেয়েছি।'
তিনি বললেন: 'আপনি কি কিয়াসের মাধ্যমেই সেগুলোকে বাতিল করেছেন নাকি অনুমানের ভিত্তিতে?' তিনি উত্তর দিলেন: 'কিয়াসের মাধ্যমেই।'
তখন তিনি তাঁকে বললেন: 'তাহলে আমি দেখতে পাচ্ছি আপনি যা অবশিষ্ট রাখতে চেয়েছিলেন তাকেই স্পষ্ট (প্রমাণ) করে দিয়েছেন।'
১১৮৮ - আবু যাকওয়ান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবনে সালাম আল-জুমাহি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমর ইবনুল আস মুআবিয়ার উপস্থিতিতে আব্দুল্লাহ ইবনে জাফরকে তুচ্ছ করার জন্য বললেন, 'হে জাফরের পুত্র', তখন আব্দুল্লাহ তাঁকে বললেন:
'যদি আপনি আমাকে জাফরের সাথে সম্বন্ধ করেন (তবে জেনে রাখুন) আমি কোনো জারজ সন্তান নই এবং নির্বংশও নই।এরপর তিনি এই বলতে বলতে প্রস্থান করলেন:আপনি ভর দুপুরে প্রখর মধ্যগগনের সূর্যের মোকাবিলা করতে এসেছেন … আমাদের কথার মাধ্যমে তার আলোকে আড়াল করতে চাইছেন
আপনি স্বেচ্ছায় কুফরি করেছিলেন এবং প্রাণের ভয়ে ঈমান এনেছেন
… আমাদের প্রতি আপনার বিদ্বেষই তার সাক্ষী
আর তিনি যে বলেছিলেন: 'আমি জারজ নই এবং নির্বংশও নই', তা এ কারণে যে আল-আস ইবনে ওয়ায়েল বলেছিল: 'মুহাম্মদ নির্বংশ', তখন মহান আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা নাজিল করেছিলেন: {নিশ্চয় তোমার শত্রুই নির্বংশ} [কাওসার: ৩]। "
১১৮৯ - তিনি বলেন: এক ব্যক্তি অন্য এক ব্যক্তির কাছে কোনো প্রয়োজনে সাহায্য চাইল, কিন্তু সে তাকে ফিরিয়ে দিল। তখন সাহায্যপ্রার্থী ব্যক্তিটি তাকে বলল: 'আল্লাহর কসম, আমি নিশ্চিত ছিলাম যে ব্যক্তি বন্ধুর (দুর্গম) পথে চলে সে ক্লান্ত ও নগ্নপদ হয়ে পড়ে, কিন্তু এই পথই আমাকে আপনার কাছে আসতে বাধ্য করেছে এবং আপনার ব্যাপারে আমার সঠিক তৌফিক লোপ পেয়েছিল।'
১১৯০ - আল-মুবররাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাদ্দাব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ফজল ইবনে মারওয়ান থেকে, তিনি বলেন:
(খণ্ড: ১)
জুযউন মিন আহাদীসি আবী বাকর আস সূলী
(পৃষ্ঠা: ১৬)
دَخَلَ عَلَى الْمَأْمُونِ بِالرُّمَّةِ وَهُوَ مَعَ الرَّشِيدِ، فَبَيْنَا هُوَ يُحَدِّثُهُ، إِذْ قَالَ: اسْمَعْ مِنِّي أَيُّهَا الأَمِيرُ، فَقَالَ الْمَأْمُونُ: عَامِي خُذُوا بِيَدِهِ وَبَلَغَ الرَّشِيدَ، فَتَمَثَّلَ: وَهَلْ تُنْبِتُ الْخُطَى إِلا وَشِيجَةً وَتَغْرِسُ إِلا فِي مَنَابِتِهَا النَّخْلُ
1191 - حَدَّثَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ مُحَمَّدٍ أَبُو قِلابَةَ، حَدَّثَنَا عَفَّانُ بْنُ مُسْلِمٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، أَنْبَأَنَا الْحَكَمُ، سَمِعْتُ ابْنَ أَبِي لَيْلَى، أَنَّ عَلِيَّ بْنَ أَبِي طَالِبٍ، حَدَّثَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم جَاءَهُ سَبْيٌّ مِنْ جُهَيْنَةَ، فَأَتَتْهُ فَاطِمَةُ عليها السلام تَسْأَلُهُ خَادِمًا لِمَا تَلْقَى يَدُهَا مِنَ الرَّحَى، فَلَمْ تُوَافِقْهُ، فَأَخْبَرَتْ عَائِشَةَ رضي الله عنها لِمَا جَاءَتْ لَهُ، فَلَمَّا جَاءَ صلى الله عليه وسلم أَخْبَرَتْهُ بِمَجِيءِ فَاطِمَةَ عليها السلام، وَمَا قَالَتْ لَهَا، فَجَاءَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم وَقَدْ أَخَذْنَا مَضَاجِعَنَا، فَذَهَبْنَا لِنَقُومَ، فَقَالَ: «عَلَى حَالِكُمَا» .
فَقَعَدَ بَيْنَنَا حَتَّى وَجَدْتُ بَرْدَ قَدَمِهِ عَلَى صَدْرِي، ثُمَّ قَالَ: «أَلا أُخْبِرُكُمَا بِخَيْرٍ مِمَّا سَأَلْتُمَا،
إِذَا أَخَذْتُمَا مَضَاجِعَكُمَا فَسَبِّحَا اللَّهَ عز وجل ثَلاثًا وَثَلاثِينَ، وَكَبِّرَا ثَلاثًا وَثَلاثِينَ، وَاحْمِدَاهُ أَرْبَعًا وَثَلاثِينَ، فَإِنَّهُ خَيْرٌ لَكُمَا مِنْ خَادِمٍ»
1192 - حَدَّثَنَا مُحَمَّد بْنُ زَكَرِيَّا الْغَلابِيُّ، حَدَّثَنَا أَحْمَد بْنُ عِيسَى، وَذَكَرَ ابْنَ هَرْمَةَ وَكَانَ مُتَّصِلا، وَهُوَ الْقَائِلُ فِينَا:
وَمَهْمَا أُلامُ عَلَى حُبِّهِمْ … فَإِنِّي أُحِبُّ بَنِي فَاطِمَةْبَنِي بَيْتِ مَنْ جَاءَ بِالْمُحْكَمَاتِ … وَالدِّينِ وَالسُّنَّةِ الْقَائِمَةْ
فَلَسْتُ أُبَالِي بِحُبِّي لَهُمْ
… سِوَاهُمْ مِنَ النَّعَمِ السَّائِمَةْ
قَالَ: فَقِيلَ لَهُ فِي دَوْلَةِ بَنِي الْعَبَّاسِ: أَلَسْتَ الْقَائِلَ كَذَا، وَأَنْشَدُوهُ هَذِهِ الأَبْيَاتِ، فَقَالَ: أَغَصَّ اللَّهُ قَائِلَهَا بِهِنَّ أُمَّهُ، فَقَالَ لَهُ بَعْضُ مَنْ قَالَ: بَلَى، وَلَكِنْ أَغَصَّ بِهِنَّ أُمِّي خَيْرٌ مِنْ أَنْ أُقْتَلَ.
1193 - حَدَّثَنَا الْمُبَرِّدُ، قَالَ: حَضَرَ بَعْضُ الْعَرَبِ مَجْلِسًا، فَجَاءَهُ صَدِيقٌ لَهُ وَقَدْ ضَاقَ الْمَجْلِسُ، فَقَامَ لَهُ عَنْ مَجْلِسِهِ يَعْدِلُ فِي ذَلِكَ، فَقَالَ:
لَئِنْ قُمْتَ مَا فِي ذَلِكَ مِنِّي غَضَاضَةٌ
… عليَّ وَإِنِّي لِلشَّرِيفِ بِذَلِكَ
عَلَى أَنَّهَا مِنِّي لِغَيْرِكَ خُلَّةٌ وَلَكِنَّهَا
… بَيْنِي وَبَيْنَكَ تَجْمُلُكْ
1194 - حَدَّثَنِي أَبُو الْعَبَّاسِ النَّوْفَلِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو الْحَارِثِ النَّوْفَلِيُّ،
তিনি আর-রুম্মাহর সাথে আল-মামুনের নিকট প্রবেশ করলেন যখন তিনি আর-রশিদের সাথে ছিলেন। তিনি যখন তার সাথে কথা বলছিলেন, তখন তিনি বললেন: হে আমির, আমার কথা শুনুন। মামুন বললেন: ওহে সাধারণ লোক, তার হাত ধরো। আর এটি রশিদের কাছে পৌঁছাল, তখন তিনি উপমা হিসেবে পেশ করলেন: পদচিহ্ন কি কেবল শাখাপ্রশাখাই উৎপন্ন করে, আর খেজুর গাছ কি তার উৎপত্তিস্থল ছাড়া অন্য কোথাও রোপিত হয়?
১১৯১ - আমাদের নিকট আব্দুল মালিক ইবনে মুহাম্মদ আবু কিলাবাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট আফফান ইবনে মুসলিম বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট শু’বাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট হাকাম সংবাদ দিয়েছেন, আমি ইবনে আবি লাইলাকে বলতে শুনেছি যে, আলী ইবনে আবি তালিব বর্ণনা করেছেন: রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট জুহাইনা গোত্র থেকে কিছু যুদ্ধবন্দী আসল। তখন ফাতিমা (আলাইহাস সালাম) তাঁর নিকট একজন খাদেম চাইতে আসলেন, কারণ যাঁতা পেষার কারণে তাঁর হাতে কষ্ট হচ্ছিল। তিনি তাকে পেলেন না। তাই তিনি আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-কে তাঁর আসার কারণ জানালেন। যখন রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আসলেন, তখন আয়েশা (রা.) তাঁকে ফাতিমার আসার খবর এবং তিনি যা বলেছিলেন তা জানালেন। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের নিকট আসলেন যখন আমরা বিছানায় শুয়ে পড়েছিলাম। আমরা উঠে দাঁড়াতে চাইলাম, কিন্তু তিনি বললেন: «তোমরা যে অবস্থায় আছো সেভাবেই থাকো»।
অতঃপর তিনি আমাদের মাঝে বসলেন এমনকি আমি আমার বুকে তাঁর পায়ের শীতলতা অনুভব করলাম। এরপর তিনি বললেন: «আমি কি তোমাদেরকে তোমরা যা চেয়েছ তার চেয়ে উত্তম কিছুর সংবাদ দেব না?
যখন তোমরা তোমাদের বিছানায় যাবে, তখন তেত্রিশবার আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করবে, তেত্রিশবার আল্লাহর বড়ত্ব ঘোষণা করবে এবং চৌত্রিশবার আল্লাহর প্রশংসা করবে, নিশ্চয়ই এটি তোমাদের জন্য একজন খাদেমের চেয়েও উত্তম»।
১১৯২ - আমাদের নিকট মুহাম্মদ ইবনে জাকারিয়া আল-গালাবি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট আহমদ ইবনে ঈসা বর্ণনা করেছেন এবং তিনি ইবনে হারমাহর কথা উল্লেখ করেছেন যিনি নিরবচ্ছিন্ন ছিলেন, আর তিনি আমাদের সম্পর্কে বলতেন:
তাদের ভালোবাসার জন্য আমাকে যতই তিরস্কার করা হোক না কেন … আমি ফাতিমার সন্তানদের ভালোবাসি।সেই ঘরের সন্তানদের, যিনি অকাট্য বিধানসমূহ নিয়ে এসেছেন … এবং দ্বীন ও প্রতিষ্ঠিত সুন্নাহ নিয়ে এসেছেন।তাদের প্রতি আমার ভালোবাসার কারণে আমি পরোয়া করি না
… তাদের ছাড়া অন্য বিচরণকারী গবাদি পশুদের মতো লোকদের।
বর্ণনাকারী বলেন: বনু আব্বাসের যুগে তাকে বলা হলো: আপনি কি এমনটি বলেননি? তারা তাকে এই কবিতাগুলো পাঠ করে শোনাল। তখন তিনি বললেন: আল্লাহ যেন এর বলনেওয়ালার কণ্ঠরোধ করেন, তখন তাকে কেউ একজন বলল: হ্যাঁ (আপনিই তো বলেছেন)। তিনি বললেন: এর চেয়ে আমার মায়ের কণ্ঠরোধ হওয়া অনেক ভালো আমাকে হত্যা করার চেয়ে।
১১৯৩ - আমাদের নিকট আল-মুবররাদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: জনৈক আরব এক মজলিসে উপস্থিত হলেন। তার এক বন্ধু আসল এবং মজলিস তখন সংকীর্ণ হয়ে গিয়েছিল। তখন তিনি তার জন্য নিজের জায়গা থেকে উঠে দাঁড়ালেন। তিনি সে বিষয়ে বললেন:
যদি আমি উঠে দাঁড়াই তাতে আমার কোনো অসম্মান নেই
… আমার ওপর, আর আমি সম্মানিত ব্যক্তির জন্য তা-ই করি।
যদিও এটি অন্য কারো জন্য আমার স্বভাব নয়, কিন্তু এটি
… আমার ও তোমার মাঝে তোমাকে সম্মান প্রদর্শনের জন্য সুন্দর দেখায়।
১১৯৪ - আমার নিকট আবু আব্বাস আন-নাওফালি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট আবু হারিস আন-নাওফালি বর্ণনা করেছেন,
(খণ্ড: ১)
জুযউন মিন আহাদীসি আবী বাকর আস সূলী
(পৃষ্ঠা: ১৭)
قَالَ الصُّولِيُّ وَقَدْ رَأَيْتُ أَبَا الْحَارِثِ هَذَا وَكَانَ رَجُلَ صِدْقٍ، قَالَ: كُنْتُ أَبْغَضُ الْقَاسِمَ بْنَ عُبَيْدِ اللَّهِ لِمَكْرُوهٍ نَالَنِي مِنْهُ، فَلَمَّا مَاتَ أَخُوهُ الْحَسَنُ، قُلْتُ عَلَى لِسَانِ ابْنِ بَسَّامٍ:
قُلْ لأَبِي الْقَاسِمِ الْمُرَجِّي
… قَابَلَكَ الدَّهْرُ بِالْعَجَائِبْ
مَاتَ لَكَ ابْنٌ وَكَانَ زَيْنًا
… وَعَاشَ ذُو الشَّيْنِ وَالْمَعَايِبْ
حَيَاةُ هَذَا بِمَوْتِ هَذَا
… فَلَيْسَ تَخْلُو مِنَ الْمَصَائِبْ
قَالَ الصُّولِيُّ: وأيضًا أَخَذَهُ مِنْ قَوْلِ أَحْمَد بْنِ يُوسُفَ الْكَاتِبِ لِبَعْضِ إِخْوَانِهِ مِنَ الْكُتَّابِ، وَقَدْ مَاتَتْ لَهُ بِنْتٌ، وَكَانَ لَهُ أَخٌ يَضْعُفُ، فَكَتَبَ إِلَيْهِ: أَنْتَ تَبْقَى وَنَحْنَ طُرًّا فِدَاكَا
… أَحْسَنَ اللَّهُ ذُو الْجَلالِ عَزَاكَا
فَلَقَدْ جَلَّ بِخَطْبِ دَهْرٍ أَتَانَا
… بِمَقَادِيرَ أَتْلَفَتْ بَبَّغَاكَا
عجبًا لِلْمَنُونِ كَيْفَ أَتَتْهَا
… وَتَخَطَّتْ عَبْدَ الْحَمِيدِ أَخَاكَا
كَانَ عَبْدُ الْحَمِيدِ أَصْلَحَ لِلْمَوْتِ
… مِنَ الْبَبَّغَاءِ وَأَوْلَى بِذَاكَا
شَيَّبَتْنَا الْمُصِيبَتَانِ جَمِيعًا
… بِفَقْدِنَا هَذِهِ وَرُؤْيَةِ ذَاكَا
قَالَ الصُّولِيُّ: وَإِنَّمَا أَخَذَهُ أَحْمَد بْنُ يُوسُفَ مِنْ قَوْلِ أَبِي نُوَاسٍ فِي التَّسْوِيَةِ، وَزَادَ الْمَعْنَى إِرَادَةٌ وَكَرَاهَةً.
قَالَ أَبُوِ نُوَاسٍ، لَمَّا مَاتَ الرَّشِيدُ، وَقَامَ الأَمِينُ يُعَزِّي الْفَضْلَ بْنَ الرَّبِيعِ: تُعَزِّ أَبَا الْعَبَّاسِ عَنْ خَيْرِ هَالِكٍ بِأَكْرَمِ حَيٍّ كَانَ أَوْ هُوَ كَائِنُ حَوَادِثُ أَيَّامٍ تَدُورُ صُرُوفُهَا لَهُنَّ مَسَاوٍ مَرَّةً وَمَحَاسِنُ وَفَاءُ الْحَيِّ بِالْمَيِّتِ الَّذِي غَيَّبَ الثَّرَى فَلا أَنْتَ مَغْبُونٌ وَلا الْمَوْتُ غَابِنُ 1195 - حَدَّثَنَا عَوْنُ بْنُ مُحَمَّد، أَنْشَدَنِي إِبْرَاهِيمُ بْنُ الْمَهْدِيِّ، وَكَانَ يَنْتَقِلُ فِي الْمَوَاضِعِ، فَنَزَلَ بِقُرْبِ أُخْتٍ لَهُ، فَوَجَّهَتْ إِلَيْهِ بِجَارِيَةٍ حَسَنَةِ الْوَجْهِ لِتَخْدِمَهُ، وَقَالَتْ لَهَا: أَنْتِ لَهُ.
وَلَمْ تِعْلِمْ إِبْرَاهِيمَ بِقَوْلِهَا ذَلِكَ، فَأَعْجَبَتْهُ، فَقَالَ:
بِأَبِي مَنْ أَنَا مَأْسُورٌ بِلا أَسْرٍ لَدَيْهِ
… وَالَّذِي أَجْلَلْتُ خَدَّيْهِ فَقَبَّلْتُ يَدَيْهِ
وَالَّذِي شَكَى ظُلْمًا وَلا يُعْدَى عَلَيْهِ
… أَنَا ضَيْفٌ وَجَزَاءُ الضَّيْفِ إِحْسَانٌ إِلَيْهِ
সূলী বলেন, আমি এই আবু আল-হারিসকে দেখেছি এবং তিনি একজন সত্যনিষ্ঠ ব্যক্তি ছিলেন। তিনি বলেন: আমি কাসিম ইবনে উবাইদুল্লাহকে ঘৃণা করতাম কারণ তার কাছ থেকে আমি কষ্টের সম্মুখীন হয়েছিলাম। অতঃপর যখন তার ভাই হাসান মারা গেল, আমি ইবনে বাসসামের ভাষায় বললাম:
সেই আশাবাদী আবুল কাসিমকে বলো
… কাল তোমাকে বিস্ময়কর বিষয়ের সম্মুখীন করেছে
তোমার এক পুত্র মারা গেছে যে ছিল সৌন্দর্যস্বরূপ
… আর বেঁচে রইল সেই ব্যক্তি যে কলঙ্ক ও দোষে দুষ্ট
একজনের মৃত্যুতে অন্যজনের জীবন
… সুতরাং তুমি বিপদ থেকে মুক্ত নও
সূলী বলেন: এছাড়াও তিনি এটি লেখক আহমদ ইবনে ইউসুফের কথা থেকে গ্রহণ করেছেন যা তিনি তার লেখক ভাইদের একজনকে লিখেছিলেন যার এক কন্যা মারা গিয়েছিল এবং তার এক দুর্বল ভাই ছিল। তিনি তাকে লিখেছিলেন: তুমি বেঁচে থাকো আর আমরা সবাই তোমার জন্য উৎসর্গিত হই
… মহানুভব আল্লাহ তোমাকে উত্তম ধৈর্য দান করুন
সময়ের এক কঠিন বিপদ আমাদের কাছে এসেছে
… এমন এক তকদীরের সাথে যা তোমার প্রিয় টিয়া পাখিকে কেড়ে নিয়েছে
মৃত্যুর জন্য বড়ই বিস্ময় যে কীভাবে সে তার কাছে পৌঁছালো
… অথচ তোমার ভাই আব্দুল হামিদকে সে এড়িয়ে গেল
আব্দুল হামিদ এই টিয়া পাখির চেয়ে মৃত্যুর জন্য বেশি যোগ্য ছিল
… এবং এর জন্য অধিক উপযোগী ছিল
এই উভয় বিপদই আমাদের বৃদ্ধ করে দিয়েছে
… একজনকে হারানোয় এবং অন্যজনকে দেখায়
সূলী বলেন: আহমদ ইবনে ইউসুফ মূলত এটি আবু নুওয়াসের সমতা বিষয়ক কথা থেকে গ্রহণ করেছেন এবং তাতে ইচ্ছা ও অপছন্দের অর্থ বৃদ্ধি করেছেন।
আবু নুওয়াস বলেন, যখন রশীদ মারা গেলেন এবং আমীন ফজল ইবনে রাবী'কে সান্ত্বনা দিতে দাঁড়ালেন: হে আবুল আব্বাস, আপনি সর্বোত্তম মৃত ব্যক্তির শোক সংবরণ করুন এমন এক অতি সম্মানিত জীবিত ব্যক্তির মাধ্যমে যিনি ছিলেন বা হতে চলেছেন। দিনগুলোর ঘটনাবলি যার বিবর্তন আবর্তিত হয়, সেগুলোর কখনো মন্দ দিক থাকে আবার কখনো ভালো দিক। জীবিত ব্যক্তির পূর্ণতা সেই মৃত ব্যক্তির মাধ্যমে যাকে মাটি লুকিয়ে ফেলেছে, তাই না আপনি ক্ষতিগ্রস্ত, আর না মৃত্যু আপনার হক নষ্টকারী। ১১৯৫ - আমাদের কাছে আওন ইবনে মুহাম্মদ বর্ণনা করেছেন, ইব্রাহিম ইবনুল মাহদী আমাকে কবিতা শুনিয়েছেন; তিনি বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করতেন, একবার তিনি তার এক বোনের বাড়ির কাছে অবতরণ করলেন। তখন তার বোন তার সেবার জন্য একজন সুন্দরী দাসী পাঠালেন এবং তাকে বললেন: "তুমি তার জন্য।"
কিন্তু তিনি ইব্রাহিমকে সেই কথার সংবাদ দেননি, ফলে দাসীটি তাকে মুগ্ধ করল। তখন তিনি বললেন:
আমার পিতা উৎসর্গিত হোন তার জন্য যার কাছে আমি কোনো বন্দিত্ব ছাড়াই বন্দি
… এবং যার গাল দুটির সম্মানে আমি তার হাত দুটিতে চুম্বন করেছি
এবং যে অবিচারের অভিযোগ করে অথচ তার ওপর কোনো সীমালঙ্ঘন করা হয় না
… আমি একজন মেহমান, আর মেহমানের প্রতিদান হলো তার প্রতি সদয় আচরণ করা।