(খণ্ড: ১)
আর রিক্কাতু ওয়াল বুকাউ লিইবনু কুদামা
(পৃষ্ঠা: -)
الرقة والبكاء لابن قدامة القسم: كتب السنة
الكتاب: الرقة والبكاء لابن قدامة
المؤلف: أبو محمد موفق الدين عبد الله بن أحمد بن محمد بن قدامة الجماعيلي المقدسي ثم الدمشقي الحنبلي، الشهير بابن قدامة المقدسي (ت 620هـ)
تحقيق: محمد خير رمضان يوسف
الناشر: دار القلم، دمشق، الدار الشامية، بيروت
الطبعة: الأولى، 1415 هـ - 1994 م
عدد الصفحات: 133
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
ইবনে কুদামার আল-রিক্কাহ ওয়াল বুকা (কোমলতা ও ক্রন্দন) বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ
কিতাব: ইবনে কুদামার আল-রিক্কাহ ওয়াল বুকা (কোমলতা ও ক্রন্দন)
লেখক: আবু মুহাম্মদ মুয়াফফাকুদ্দীন আবদুল্লাহ বিন আহমাদ বিন মুহাম্মদ বিন কুদামা আল-জামায়িলি আল-মাকদিসি অতঃপর আদ-দিমাশকি আল-হাম্বলি, যিনি ইবনে কুদামা আল-মাকদিসি নামে প্রসিদ্ধ (মৃত্যু ৬২০ হিজরি)
সম্পাদনা: মুহাম্মদ খায়র রমাদান ইউসুফ
প্রকাশক: দারুল কলম, দামেস্ক, আদ-দারুশ শামিয়্যাহ, বৈরুত
সংস্করণ: প্রথম, ১৪১৫ হিজরি - ১৯৯৪ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৩৩
[কিতাবটির পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আর রিক্কাতু ওয়াল বুকাউ লিইবনু কুদামা
(পৃষ্ঠা: ٤٣)
الرِّقَّةُ وَالْبُكَاءُ لابْنِ قُدَامَةَ
الْفَصْلُ الأَوَّلُ
ذِكْرُ طَرَفٍ مِنْ صِفَاتِهِمْأَخْبَرَنَا الشَّيْخُ أَبُو الْفَتْحِ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْبَاقِي بْنِ أَحْمَدَ، قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو الْفَضْلِ حَمَدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ الْحَسَنِ الْحَدَّادُ، قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو نُعَيْمٍ أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الأَصْبَهَانِيُّ، حَدَّثَنَا الْعَبَّاسُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْكِنَانِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو الْحَرِيشِ الْكِلابِيُّ، حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ يَزِيدَ بْنِ بَهْرَامَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ أَبِي كَرِيمَةَ، عَنْ أَبِي حَاجِبٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ غَنْمٍ، عَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، أَنَّهُ قَالَ: «إِنَّ الْمُؤْمِنَ لَدَى الْحَقِّ أَسِيرٌ، يَعْلَمُ أَنَّ عَلَيْهِ رَقِيبًا، عَلَى سَمْعِهِ، وَبَصَرِهِ، وَلِسَانِهِ، وَيَدِهِ، وَرِجْلِهِ، وَبَطْنِهِ، وَفَرْجِهِ، حَتَّى اللَّمْحَةِ بِبَصَرِهِ، وَفُتَاتِ الطِّينِ بِأُصْبُعِهِ، وَكُحْلِ عَيْنَيْهِ، وَجَمِيعِ سَعْيِهِ، إِنَّ الْمُؤْمِنَ لا يَأْمَنُ قَلْبُهُ، وَلا يَسْكُنُ رَوْعَتُهُ، وَلا يَأْمَنُ اضْطِرَابُهُ، أَنَّهُ يَتَوَقَّعُ الْمَوْتَ صَبَاحًا وَمَسَاءً، فَالتَّقْوَى رَقِيبُهُ، وَالْقُرْآنُ دَلِيلُهُ، وَالْخَوْفُ مَحَجَّتُهُ، وَالشَّرَفُ مَطِيَّتُهُ، وَالْحَذَرُ رَقِيبُهُ، وَالْوَجَلُ شِعَارُهُ، وَالصَّلَاةُ كَهْفُهُ، وَالصِّيَامُ جُنَّتُهُ، وَالصَّدَقَةُ فِكَاكُهُ، وَالصِّدْقُ وَزِيرُهُ، وَالْحَيَاءُ أَمِيرُهُ، وَرَبُّهُ عز وجل مِنْ وَرَاءِ ذَلِكَ كُلِّهِ بِالْمِرْصَادِ،
ইবন কুদামা বিরচিত আল-রিক্কাহ ওয়াল-বুকা (হৃদয়ের কোমলতা ও ক্রন্দন)প্রথম পরিচ্ছেদতাদের বৈশিষ্ট্যসমূহের কিয়দাংশ উল্লেখআমাদের সংবাদ দিয়েছেন শাইখ আবুল ফাতহ মুহাম্মদ ইবন আব্দুল বাকী ইবন আহমদ, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল ফজল হামাদ ইবন আহমদ ইবনুল হাসান আল-হাদ্দাদ, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু নুআইম আহমদ ইবন আব্দুল্লাহ আল-আসবাহানি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্বাস ইবন মুহাম্মদ আল-কিনানি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবুল হারিশ আল-কিলাবি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আলি ইবন ইয়াযিদ ইবন বাহরাম, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল মালিক ইবন আবি কারিমা, আবু হাজিব থেকে, তিনি আব্দুর রহমান ইবন গানম থেকে, তিনি মুয়ায ইবন জাবাল থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: «নিশ্চয়ই মুমিন সত্যের (আল্লাহর) নিকট একজন বন্দি; সে জানে যে তার শ্রবণশক্তি, দৃষ্টিশক্তি, জিহ্বা, হাত, পা, পেট এবং লজ্জাস্থানের ওপর একজন পর্যবেক্ষক রয়েছেন। এমনকি তার চোখের পলক ফেলা, আঙুল দিয়ে মাটির দানা চূর্ণ করা, চোখের সুরমা লাগানো এবং তার সকল প্রচেষ্টার ওপরও (নজরদারি রয়েছে)। মুমিনের অন্তর নিরাপদ বোধ করে না, তার ভীতি প্রশমিত হয় না এবং তার অস্থিরতা কাটে না; কারণ সে সকাল-সন্ধ্যায় মৃত্যুর প্রতীক্ষা করে। অতএব তাকওয়া তার পাহারাদার, কুরআন তার পথপ্রদর্শক, ভয় তার রাজপথ, মর্যাদা তার বাহন, সতর্কতা তার তত্ত্বাবধায়ক, শঙ্কা তার ভূষণ, সালাত তার আশ্রয়স্থল, সিয়াম তার ঢাল, সদকা তার মুক্তিপণ, সত্যবাদিতা তার উজির এবং লজ্জা তার আমীর। আর তার প্রতিপালক—যিনি মহা মহিমান্বিত ও পরাক্রমশালী—তিনি এসব কিছুর পেছনেই ওত পেতে আছেন (সবকিছুই তাঁর নজরদারিতে)।»
(খণ্ড: ১)
আর রিক্কাতু ওয়াল বুকাউ লিইবনু কুদামা
(পৃষ্ঠা: ٤٤)
يَا مُعَاذُ، إِنَّ الْمُؤْمِنَ قَيَّدَهَ الْقُرْآنُ عَنْ كَثِيرٍ مِنْ هَوَى نَفْسِهِ وَشَهَوَاتِهِ، وَحَالَ بَيْنَهُ وَبَيْنَ أَنْ يَهْلَكَ فِيمَا يَهْوَى بِإِذْنِ اللَّهِ.
يَا مُعَاذُ، إِنِّي أُحِبُّ لَكَ مَا أُحِبُّ لِنَفْسِي، وَأَنْهَيْتُ إِلَيْكَ مَا أَنْهَى إِلَيَّ جِبْرِيلُ عليه السلام، فَلا أَعْرِفَنَّكَ تُوَافِينِي يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَأَحَدٌ أَسْعَدُ بِمَا آتَاكَ اللَّهُ عز وجل مِنْكَ»
! 150 أخبرنا الإِمَامُ أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ عَسَاكِرَ بْنِ الْمُرَحِّبِ الْبَطَائِحِيِّ بِقِرَاءَتِي عَلَيْهِ، قُلْتُ لَهُ: أَخْبَرَكُمْ أَبُو طَالِبٍ عَبْدُ الْقَادِرِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الْقَادِرِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ يُوسُفَ الْيُوسُفِيُّ، قَالَ: أخبرنا أَبُو عَلِيٍّ الْحَسَنُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ الْمذهبِ التَّمِيمِيُّ، قَالَ: أخبرنا أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ جَعْفَرِ بْنِ حَمْدَانَ بْنِ مَالِكٍ الْقَطِيعِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ حَنْبَلٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي أَبِي رحمه الله، قَالَ: حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ عَبْدِ الْكَرِيمِ بْنِ مَعْقِلِ بْنِ مُنَبِّهٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي عَبْدُ الصَّمَدِ بْنُ مَعْقِلٍ، قَالَ: سمعت وَهْبَ بْنَ مُنَبِّهٍ، قَالَ: " لَمَّا كَلَّمَ اللَّهُ تَعَالَى مُوسَى، قَالَ: لا يُعْجِبْنَكُمَا زِينَةُ فِرْعَوْنَ، وَلا مَا مُتِّعَ بِهِ، وَلا تَمُدَّنَّ إِلَى ذَلِكَ أَعْيُنُكُمَا، فَإِنَّهَا زَهْرَةُ الْحَيَاةِ الدُّنْيَا، وَزِينَةُ الْمُتْرَفِينَ، وَإِنِّي لَوْ شِئْتُ أَنْ أُزَيِّنَكُمَا مِنَ الدُّنْيَا بَزَينَةٍ يَعْلَمُ فِرْعَوْنُ حِينَ يَنْظُرُ إِلَيْكُمَا أَنَّ مَقْدِرَتَهُ
হে মুআয, নিশ্চয়ই মুমিন ব্যক্তিকে কুরআন তার নফসের বহু খেয়াল-খুশি ও লালসা থেকে নিবৃত্ত রাখে এবং আল্লাহর অনুমতিতে সে যা কামনা করে তাতে ধ্বংস হওয়া থেকে তার ও তার ধ্বংসের মাঝে অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়।
হে মুআয, আমি তোমার জন্য তা-ই পছন্দ করি যা নিজের জন্য পছন্দ করি, আর জিবরাঈল আলাইহিস সালাম আমার কাছে যা পৌঁছে দিয়েছেন, আমি তোমার কাছে তা পৌঁছে দিলাম। সুতরাং কিয়ামতের দিন যখন তুমি আমার সাথে সাক্ষাৎ করবে, তখন যেন আমি তোমাকে এমন অবস্থায় না পাই যে, আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা তোমাকে যা দান করেছেন সে ব্যাপারে অন্য কেউ তোমার চেয়ে অধিক সৌভাগ্যবান হয়ে গিয়েছে।
! ১৫০ ইমাম আবুল হাসান আলী বিন আসাকির বিন আল-মুরাহহিব আল-বাতাইহি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন তাঁর নিকট আমার পাঠের মাধ্যমে, আমি তাঁকে বললাম: আবু তালিব আব্দুল কাদির বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল কাদির বিন মুহাম্মদ বিন ইউসুফ আল-ইউসুফি আপনাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু আলী আল-হাসান বিন আলী বিন আল-মুজাহহিব আত-তামিমি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু বকর আহমদ বিন জাফর বিন হামদান বিন মালিক আল-কাতিয়ি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আব্দুল্লাহ বিন আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন হাম্বল আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আমার পিতা রাহিমাহুল্লাহ আমাকে হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: ইসমাঈল বিন আব্দুল কারিম বিন মা'কিল বিন মুনাব্বিহ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আব্দুস সামাদ বিন মা'কিল আমাকে হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আমি ওয়াহাব বিন মুনাব্বিহকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: "যখন আল্লাহ তাআলা মূসার সাথে কথা বললেন, তখন তিনি বললেন: ফিরআউনের জাঁকজমক এবং তাকে যা ভোগবিলাস দেওয়া হয়েছে তা যেন তোমাদের উভয়কে মুগ্ধ না করে, আর তোমরা সেদিকে চোখ তুলে তাকিও না। কেননা এগুলো পার্থিব জীবনের চাকচিক্য এবং বিলাসীদের সৌন্দর্য মাত্র। আর আমি যদি চাইতাম তোমাদের উভয়কে দুনিয়ার এমন সৌন্দর্য দিয়ে সজ্জিত করতে পারতাম যে, ফিরআউন যখন তোমাদের দিকে তাকাত তখন সে বুঝতে পারত যে তার ক্ষমতা..."
(খণ্ড: ১)
আর রিক্কাতু ওয়াল বুকাউ লিইবনু কুদামা
(পৃষ্ঠা: ٤٥)
تَعْجَزُ عَنْ مِثْلِ مَا أُوتِيتُمَا لَفَعَلْتُ، وَلَكِنِّي أَرْغَبُ بِكُمَا عَنْ ذَلِكَ وَأَزْوِيهِ عَنْكُمَا، وَكَذَلِكَ أَفْعَلُ بِأَوْلِيَائِي، وَقَدِيمًا مَا خِرْتُ لَهُمْ فِي ذَلِكَ، فَإِنِّي لأَذُودُهُمْ عَنْ نَعِيمِهَا وَرَخَائِهَا كَمَا يَذُودُ الرَّاعِي الشَّفِيقُ غَنَمَهُ عَنْ مَرَاتِعِ الْهَلَكَةِ، وَإِنِّي لأُجَنِّبُهُمْ سَلْوَتَهَا وَعَيْشَهَا كَمَا يُجَنِّبُ الرَّاعِي الشَّفِيقُ إِبِلَهُ عَنْ مَبَارِكِ العُرِّ، وَمَا ذَلِكَ لِهَوَانِهِم عَلَيَّ، وَلَكِنْ لِيَسْتَكْمِلُوا نَصِيبَهُمْ مِنْ كَرَامَتِي سَالِمًا مُوَفَّرًا، لَمْ تَكْلِمْهُ الدُّنْيَا، وَلَمْ يُطْغِهِ الْهَوَى، وَأَعْلَمُ أَنَّهُ لَمْ يَتَزَيَّنْ لِي الْعِبَادُ بِزِينَةٍ هِيَ أَبْلَغُ مِنَ الزُّهْدِ فِي الدُّنْيَا، فَإِنَّهَا زِينَةُ الْمُتَّقِينَ، عَلَيْهِمْ مِنْهَا لِبَاسٌ يُعْرَفونَ بِهِ مِنَ السَّكِينَةِ وَالْخُشُوعِ، سِيمَاهُمْ فِي وُجُوهِهِم مِنْ آثَارِ السُّجُودِ، أُولَئِكَ هُمْ أَوْلِيَائِي حَقًّا حَقًّا، فَإِذَا لَقِيتَهُمْ فَاخْفِضْ لَهُمْ جَنَاحَكَ، وَذَلِّلْ لَهُمْ قَلْبَكَ وَلِسَانَكَ، وَاعْلَمْ أَنَّهُ مَنْ أَهَانَ لِي وَلِيًّا أَوْ أَخَافَهُ فَقَدْ بَارَزَنِي بَالْمُحَارَبَةِ وَبَادَأَنِي، وَعَرَّضَ لِي نَفْسَهُ وَدَعَانِي إِلَيْهَا، وَأَنَا أَسْرَعُ شَيْءٍ إِلَى نُصْرَةِ أَوْلِيَائِي، أَفَيَظُنُّ الَّذِي يُحَارِبُنِي أَنْ يَقُومَ لِي؟ أَوْ يَظُنُّ الَّذِي يُعَادِينِي أَنْ يُعْجِزَنِي؟ أَوْ يَظُنُّ الَّذِي يُبَارِزَنِي أَنْ يَسْبِقَنِي أَوْ يَفُوتَنِي؟ وَكَيْفَ وَأَنَا الثَّائِرُ لَهُمْ فِي الدُّنْيَا وَالآخِرَةِ،
যদি আমি এমন কিছু করতে অক্ষম হতাম যা তোমাদের দুজনকে দেওয়া হয়েছে তবে আমি তা করতাম, কিন্তু আমি তোমাদের দুজনের জন্য তা হতে বিরত রাখি এবং তা তোমাদের থেকে সরিয়ে রাখি। আর আমি আমার বন্ধুদের (আউলিয়া) সাথে এমনই আচরণ করি। অতি প্রাচীনকাল থেকেই আমি তাদের জন্য এটিই পছন্দ করেছি। নিশ্চয়ই আমি তাদেরকে দুনিয়ার সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য ও সচ্ছলতা থেকে সেভাবেই রক্ষা করি, যেভাবে একজন দয়ালু রাখাল তার মেষপালকে ধ্বংসের চারণভূমি থেকে দূরে সরিয়ে রাখে। আর আমি তাদেরকে দুনিয়ার আরাম-আয়েশ ও ভোগবিলাস থেকে সেভাবেই দূরে রাখি, যেভাবে একজন দয়ালু রাখাল তার উটকে রোগাক্রান্ত উটের বিশ্রামস্থল থেকে দূরে রাখে। আর এটি আমার কাছে তাদের তুচ্ছ হওয়ার কারণে নয়, বরং যেন তারা আমার পক্ষ থেকে তাদের সম্মান ও মর্যাদার অংশ পরিপূর্ণ ও সতেজভাবে লাভ করতে পারে, যাকে দুনিয়া কোনো আঘাত করেনি এবং প্রবৃত্তি যাকে পথভ্রষ্ট করেনি। আমি জানি যে, আমার বান্দারা দুনিয়াবিমুখতার চেয়ে উত্তম কোনো অলঙ্কার দিয়ে আমার সন্তুষ্টির জন্য সজ্জিত হয়নি। কারণ এটিই মুত্তাকীদের সৌন্দর্য। তাদের ওপর প্রশান্তি ও বিনম্রতার এমন এক পোশাক থাকে যার মাধ্যমে তারা পরিচিত হয়; তাদের মুখমণ্ডলে সেজদার চিহ্ন বিদ্যমান। তারাই প্রকৃতপক্ষেই আমার বন্ধু। সুতরাং তুমি যখন তাদের সাথে সাক্ষাৎ করো, তখন তাদের প্রতি বিনয়ী হও এবং তাদের জন্য তোমার হৃদয় ও জিহ্বাকে কোমল করো। আর জেনে রেখো, যে ব্যক্তি আমার কোনো বন্ধুকে অপমানিত করে অথবা তাকে ভীত-সন্ত্রস্ত করে, সে যেন আমার বিরুদ্ধে যুদ্ধে অবতীর্ণ হলো এবং আমার সাথে শত্রুতা শুরু করল। সে নিজেকে আমার ক্রোধের সম্মুখীন করল এবং আমাকে যুদ্ধের আহ্বান জানাল। অথচ আমি আমার বন্ধুদের সাহায্যের ক্ষেত্রে সর্বাপেক্ষা দ্রুতগামী। যে আমার সাথে যুদ্ধ করে সে কি মনে করে যে সে আমার সামনে টিকে থাকতে পারবে? অথবা যে আমার সাথে শত্রুতা করে সে কি মনে করে যে সে আমাকে অক্ষম করে দিতে পারবে? অথবা যে আমার সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে সে কি মনে করে যে সে আমাকে ছাড়িয়ে যাবে কিংবা আমার নাগালের বাইরে চলে যাবে? আর এটি কীভাবে সম্ভব, যখন আমিই দুনিয়া ও আখিরাতে তাদের পক্ষ থেকে প্রতিশোধ গ্রহণকারী।
(খণ্ড: ১)
আর রিক্কাতু ওয়াল বুকাউ লিইবনু কুদামা
(পৃষ্ঠা: ٤٦)
لا أَكِلُ نُصْرَتَهُمْ إِلَى غَيْرِي؟ "
! 151 قَالَ أَحْمَدِ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ، عَنْ هِشَامِ بْنِ سَعْدٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، قَالَ: " قَالَ مُوسَى عليه السلام: " يَا رَبُّ، مَنْ أَهْلَكَ الَّذِينَ هُمْ أَهْلُكَ، الَّذِينَ تُظِلُّهُمْ فِي ظِلِّ عَرْشِكَ؟ قَالَ: هُمُ الْبَرِيئَةُ أَيْدِيهِمْ، الطَّاهِرَةُ قُلُوبُهُمْ، الَّذِينَ يَتَحَابُّونَ بِجَلالِي، الَّذِينَ إِذَا ذُكِرْتُ ذُكِرُوا بِي، وَإِذَا ذُكِرُوا ذُكِرْتُ بِذِكْرِهِمْ، الَّذِينَ يُسْبِغُونَ الْوُضُوءَ عِنْدَ الْمَكَارِهِ، وَالَّذِينَ يُنِيبُونَ إِلَى ذِكْرِي كَمَا تُنِيبُ النُّسُورُ إِلَى وُكُورِهَا، وَيَكْلَفُونَ بِحُبِّي كَمَا يَكْلَفُ الصَّبِيُّ بِحُبِّ النَّاسِ، ويَغضَبونَ لِمَحَارِمِي إِذَا اسْتُحِلَّتْ كَمَا يَغْضَبُ النَّمِرُ إِذَا حُرِبَ "
! 152 قَالَ: وَحَدَّثَنَا غَوْثُ بْنُ جَابِرٍ، قَالَ: سمعت مُحَمَّدَ بْنَ دَاوُدَ، عَنْ
আমি কি তাদের সাহায্যকে আমার অন্য কারো কাছে সোপর্দ করব?
! ১৫১. আহমাদ বলেছেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুর রহমান, তিনি হিশাম ইবনে সাদ থেকে, তিনি যায়েদ ইবনে আসলাম থেকে, তিনি আতা ইবনে ইয়াসার থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "মূসা আলাইহিস সালাম বললেন: 'হে আমার প্রতিপালক! আপনার সেই পরিজন কারা যারা আপনার একান্ত আপন, যাদেরকে আপনি আপনার আরশের ছায়ায় ছায়া দান করবেন?' তিনি বললেন: 'তারা হলো সেই সব লোক যাদের হাত (অন্যায় থেকে) মুক্ত, যাদের অন্তর পবিত্র, যারা আমার মহত্ত্বের খাতিরে একে অপরকে ভালোবাসে, যারা এমন যে যখন আমাকে স্মরণ করা হয় তখন তারা আমার স্মরণে লিপ্ত হয়, আর যখন তাদের কথা স্মরণ করা হয় তখন আমার স্মরণের মাধ্যমেই তাদের কথা স্মরণ করা হয়, যারা কষ্টকর অবস্থায়ও পূর্ণাঙ্গভাবে অজু সম্পাদন করে এবং যারা আমার স্মরণের দিকে সেভাবে ধাবিত হয় যেভাবে ঈগল পাখি তার নীড়ের দিকে ফিরে আসে, এবং তারা আমার ভালোবাসায় সেভাবে বিভোর থাকে যেভাবে একটি শিশু মানুষের ভালোবাসায় বিভোর থাকে, এবং যখন আমার নিষিদ্ধ বিষয়সমূহকে বৈধ জ্ঞান করা হয় তখন তারা সেভাবে রাগান্বিত হয় যেভাবে চিতা বাঘ ক্ষিপ্ত হয় যখন সে আক্রান্ত হয়।'"
! ১৫২. তিনি বলেন: এবং আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন গাওস ইবনে জাবির, তিনি বলেন: আমি মুহাম্মদ ইবনে দাউদ থেকে শুনেছি, তিনি বর্ণনা করেছেন...
(খণ্ড: ১)
আর রিক্কাতু ওয়াল বুকাউ লিইবনু কুদামা
(পৃষ্ঠা: ٤٧)
أَبِيهِ، عَنْ وَهْبٍ، قَالَ: قَالَ الْحَوَارِيُّونَ: " يَا عِيسَى، مَنْ أَوْلِيَاءُ اللَّهِ الَّذِينَ لا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلا هُمْ يَحْزَنُونَ؟ قَالَ عِيسَى عليه السلام: الَّذِينَ نَظَرُوا إِلَى بَاطِنِ الدُّنْيَا حِينَ نَظَرَ النَّاسُ إِلَى ظَاهِرِهَا، وَالَّذِينَ نَظَرُوا إِلَى آجِلِ الدُّنْيَا حِينَ نَظَرَ النَّاسُ إِلَى عَاجِلِهَا، فَأَمَاتُوا مِنْهَا مَا يَخْشَوْنَ أَنْ يُمِيتَهُمْ، وَتَرَكُوا مَا عَلِمُوا أَنْ سَيَتْرُكَهُمْ، فَصَارَ اسْتِكْثَارُهُمْ مِنْهَا اسْتِقْلالا، وَذِكْرُهُمْ إِيَّاهَا فَوَاتًا، وَفَرَحُهُمْ بِمَا أَصَابُوا مِنْهَا حُزْنًا، فَمَا عَارَضَهُمْ مِنْ نَائِلِهَا رَفَضُوهُ، وَمَا عَارَضَهُمْ مِنْ رِفْعَتِهَا بِغَيْرِ الْحَقِّ وَضَعُوهُ، وَخَلِقَتِ الدُّنْيَا عِنْدَهُمْ فَلَيْسُوا يُجَدِّدُونَهَا، وَخَرِبَتْ بُيُوتُهُمْ فَلَيْسُوا يَعْمُرُونَهَا، وَمَاتَتْ شَهَوَاتُهُمْ فِي صُدُورِهِمْ فَلَيْسُوا يُحْيُونَهَا، يَهْدِمُونَهَا فَيَبْنُونَ بِهَا آخِرَتَهُمْ، وَيَبِيعُونَهَا فَيَشْتَرُونَ بِهَا مَا يَبْقَى لَهُمْ، وَرَفَضُوهَا، فَكَانُوا بِرَفْضِهَا هُمُ الْفَرِحِينَ، وَنَظَرُوا إِلَى أَهْلِهَا صَرْعَى قَدْ حَلَّتْ بِهِمُ الْمَثُلاتُ، فَأَحْيَوْا ذِكْرَ الْمَوْتِ، وَأَمَاتُوا ذِكْرَ الْحَيَاةِ، يُحِبُّونَ اللَّهَ عز وجل، وَيُحِبُّونَ ذِكْرَهُ، وَيَسْتَضِيئُونَ بِنُورِهِ وَيُضِيئُونَ بِهِ، لَهُمْ خَبَرٌ عَجِيبٌ، وَعِنْدَهُمُ الْخَبَرُ الْعَجِيبُ، بِهِمْ قَامَ الْكِتَابُ وَبِهِ قَامُوا، وَبِهِمْ نَطَقَ الْكِتَابُ وَبِهِ نَطَقُوا، وَبِهِمْ عُلِمَ الْكِتَابُ وَبِهِ عَلِمُوا، وَلَيْسُوا يَرَوْنَ نَائِلا مَعَ مَا نَالُوا، وَلا أَمَانًا دُونَ مَا يَرْجُونَ، وَلا خَوْفًا دُونَ مَا يَحْذَرُونَ "
তাঁর পিতা হতে বর্ণিত, ওয়াহব বলেন: হাওয়ারীগণ (শিষ্যগণ) বললেন, "হে ঈসা! আল্লাহর সেই বন্ধুগণ কারা, যাদের কোনো ভয় নেই এবং যারা চিন্তিতও হবে না?" ঈসা আলাইহিস সালাম বললেন, "তারা হলেন ঐসব ব্যক্তি, যারা দুনিয়ার অভ্যন্তরীণ হাকিকতের দিকে দৃষ্টিপাত করেছেন যখন মানুষ কেবল এর বাহ্যিক চাকচিক্যের দিকে তাকিয়ে ছিল। তারা দুনিয়ার পরকালীন পরিণতির দিকে লক্ষ্য করেছেন যখন মানুষ কেবল এর তাৎক্ষণিক ও নগদ সুযোগ-সুবিধার দিকে মগ্ন ছিল। ফলে তারা দুনিয়ার সেই সব বিষয়কে মিটিয়ে দিয়েছেন যা তাদের (ঈমান ও আমলকে) ধ্বংস করে ফেলার ভয় করতেন এবং তারা সেসব কিছু বর্জন করেছেন যা তারা জানতেন যে অচিরেই তাদের ছেড়ে চলে যাবে। ফলে দুনিয়ার প্রাচুর্য চাওয়া তাদের কাছে তুচ্ছতায় পরিণত হয়েছে, এর আলোচনা তাদের কাছে সময় নষ্ট করার নামান্তর হয়েছে এবং দুনিয়ার যা কিছু তারা লাভ করেছেন তার আনন্দ তাদের কাছে বিষাদে রূপ নিয়েছে। দুনিয়ার যেসব ভোগবিলাস তাদের সামনে এসেছে তারা তা প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং দুনিয়ার যেসব উচ্চ মর্যাদা অন্যায্যভাবে তাদের সামনে এসেছে তারা তা পদদলিত করেছেন। তাদের নিকট দুনিয়া জীর্ণ হয়ে গেছে, তাই তারা একে নতুন করে সাজাতে চান না; তাদের বাড়িঘর বিরান হয়ে গেছে, তাই তারা তা আবাদ করেন না; আর তাদের অন্তরে কুপ্রবৃত্তিগুলো মরে গেছে, তাই তারা তা পুনর্জীবিত করেন না। তারা দুনিয়াকে ধ্বংস করে তদ্দ্বারা তাদের আখেরাত নির্মাণ করেন এবং দুনিয়াকে বিক্রি করে তদ্দ্বারা নিজেদের জন্য চিরস্থায়ী বিষয়সমূহ ক্রয় করেন। তারা দুনিয়াকে বর্জন করেছেন এবং এই বর্জনের কারণেই তারা আনন্দিত হয়েছেন। তারা দুনিয়াদারদের দেখছেন ধরাশায়ী অবস্থায়, যাদের ওপর বিভিন্ন আজাব ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিপতিত হয়েছে। তারা মৃত্যুর স্মরণকে জীবিত করেছেন এবং পার্থিব জীবনের মোহকে মৃত করেছেন। তারা মহামহিম ও মহান আল্লাহকে ভালোবাসেন এবং তাঁর স্মরণকে পছন্দ করেন। তারা আল্লাহর নূরের মাধ্যমে আলোকপ্রাপ্ত হন এবং তদ্দ্বারা অন্যদেরও আলো দান করেন। তাদের জন্য রয়েছে এক আশ্চর্যজনক সংবাদ এবং তাদের কাছেই রয়েছে সেই বিস্ময়কর বার্তা। তাদের মাধ্যমেই কিতাব প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং কিতাবের মাধ্যমেই তারা সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছেন; তাদের মাধ্যমেই কিতাব কথা বলে এবং কিতাবের মাধ্যমেই তারা কথা বলেন; তাদের মাধ্যমেই কিতাব জানা গেছে এবং কিতাবের মাধ্যমেই তারা জ্ঞান লাভ করেছেন। তারা যা লাভ করেছেন তার সামনে অন্য কোনো কিছুকেই তারা অর্জন বলে গণ্য করেন না, তারা যা প্রত্যাশা করেন তা ছাড়া অন্য কোথাও নিরাপত্তা দেখেন না এবং তারা যা থেকে সতর্কতা অবলম্বন করেন তা ছাড়া অন্য কোনো কিছুকে ভয় পান না।"
(খণ্ড: ১)
আর রিক্কাতু ওয়াল বুকাউ লিইবনু কুদামা
(পৃষ্ঠা: ٤٨)
قَالَ: وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ عَيَّاشٍ، عَنْ إِدْرِيسَ بْنِ وَهْبِ بْنِ مُنَبِّهٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: أُخْبِرَ ابْنُ عَبَّاسٍ أَنَّ قَوْمًا عِنْدَ بَابِ بَنِي سَهْمٍ يَخْتَصِمُونَ، أَظُنُّهُ قَالَ: فِي الْقَدَرِ، فَنَهَضَ إِلَيْهِمْ فَأَعْطَى مِحْجَنَهُ عِكْرِمَةَ، وَوَضَعَ إِحْدَى يَدَيْهِ عَلَيَّ، وَالأُخْرَى عَلَى طَاوُسٍ، فَلَمَّا انْتَهَى إِلَيْهِمْ أَوْسَعُوا لَهُ، وَرَحَّبُوا بِهِ، فَلَمْ يَجْلِسْ، فَقَالَ: «أَوَ مَا عَلِمْتُمْ أَنَّ لِلَّهِ عِبَادًا أَصْمَتَتْهُمْ خَشْيَتُهُ مِنْ غَيْرِ بُكْمٍ وَلا عِيٍّ، وَإِنَّهُمْ لَهُمُ الْعُلَمَاءُ الْفُصَحَاءُ وَالطُّلَقَاءُ وَالنُّبَلاءُ، الْعُلَمَاءُ بِأَيَّامِ اللَّهِ، غَيْرُ أَنَّهُمْ إِذَا ذَكَرُوا عَظَمَةَ اللَّهِ طَاشَتْ لِذَلِكَ عُقُولُهُمْ، وَانْكَسَرَتْ قُلُوبُهُمْ، وَانْقَطَعَتْ أَلْسِنَتُهُمْ، حَتَّى إِذَا اسْتَفَاقُوا مِنْ ذَلِكَ سَارَعُوا إِلَى اللَّهِ عز وجل بِالأَعْمَالِ الزَّاكِيَةِ» .
وَرَوَاهُ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ مِنْ طَرِيقٍ أُخْرَى، وَزَادَ فِيهِ: " يَعُدُّونَ أَنْفُسَهُمْ مَعَ الْمُقَصِّرِينَ الْمُفَرِّطِينَ، وَإِنَّهُمْ لأَكْيَاسٌ أَقْوِيَاءٌ، وَمَعَ الْمُخْطِئِينَ الظَّالِمِينَ وَإِنَّهُمْ لأَنْزَاهٌ بُرَآءٌ، أَلا إِنَّهُمْ لا يَسْتَكْثِرُونَ لَهُ الْكَثِيرَ، وَلا يَرْضَوْنَ لَهُ بِالْقَلِيلِ، وَلا يَدُلُّونَ عَلَيْهِ بِالأَعْمَالِ، هُمْ حَيْثُمَا لَقِيتَهُمْ: مُهْتَمُّونَ، مُشْفِقُونَ، وَجِلُونَ، خَائِفُونَ، ".
তিনি বললেন: আমাদের নিকট আবু বকর ইবনে আইয়াশ বর্ণনা করেছেন ইদরিস ইবনে ওয়াহাব ইবনে মুনাব্বিহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: ইবনে আব্বাসকে সংবাদ দেওয়া হলো যে, বনু সাহম গোত্রের দরজার নিকটে একদল লোক বিবাদে লিপ্ত হয়েছে—আমার ধারণা তিনি বলেছিলেন: তকদির প্রসঙ্গে। তখন তিনি তাদের উদ্দেশ্যে উঠে দাঁড়ালেন এবং তাঁর লাঠিটি ইকরিমাকে প্রদান করলেন। এরপর তিনি তাঁর এক হাত আমার ওপর এবং অপর হাত তাউসের ওপর রাখলেন। যখন তিনি তাদের নিকট পৌঁছালেন, তারা তাঁর জন্য স্থান প্রশস্ত করে দিল এবং তাঁকে স্বাগত জানাল। কিন্তু তিনি বসলেন না, বরং বললেন: «তোমরা কি জানো না যে, আল্লাহর এমন কিছু বান্দা রয়েছে যাদেরকে তাঁর ভয় নির্বাক করে দিয়েছে, অথচ তারা বোবা কিংবা কথা বলতে অক্ষম নয়? নিশ্চয়ই তারা বিজ্ঞ আলেম, প্রাঞ্জলভাষী, বাগ্মী ও মহানুভব ব্যক্তি। তারা আল্লাহর দিনসমূহ সম্পর্কে বিশেষ জ্ঞান রাখে। তবে তারা যখন আল্লাহর মহত্ত্ব স্মরণ করে, তখন তাদের বুদ্ধি লোপ পাওয়ার উপক্রম হয়, তাদের হৃদয় বিদীর্ণ হয় এবং তাদের জিহ্বা রুদ্ধ হয়ে যায়। অবশেষে যখন তারা সেই অবস্থা থেকে স্বাভাবিক হয়, তখন তারা মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির নিমিত্তে পবিত্র আমলসমূহ নিয়ে দ্রুত ধাবিত হয়।»
এবং আব্দুর রহমান ইবনে মাহদী এটি অন্য সূত্রে বর্ণনা করেছেন এবং তাতে এই অংশটুকু বৃদ্ধি করেছেন: "তারা নিজেদেরকে ত্রুটিপূর্ণ ও অবহেলাকারীদের অন্তর্ভুক্ত মনে করে, অথচ তারা অত্যন্ত বিচক্ষণ ও শক্তিশালী। তারা নিজেদেরকে পাপিষ্ঠ ও অবিচারকারীদের সাথে গণ্য করে, যদিও তারা পবিত্র ও নিষ্কলুষ। সাবধান! নিশ্চয়ই তারা আল্লাহর ইবাদতে অধিক আমলকেও বেশি মনে করে না, এবং সামান্য আমলে সন্তুষ্ট হয় না। তারা নিজেদের আমলের মাধ্যমে আল্লাহর ওপর কোনো অনুগ্রহ প্রকাশ করে না। তুমি যেখানেই তাদের দেখা পাবে, দেখবে তারা: চিন্তাযুক্ত, শঙ্কিত, ভীত ও সন্ত্রস্ত।"
(খণ্ড: ১)
আর রিক্কাতু ওয়াল বুকাউ লিইবনু কুদামা
(পৃষ্ঠা: ٤٩)
وَانْصَرَفَ عَنْهُمْ، فَرَجَعَ إِلَى مَجْلِسِهِ
أَخْبَرَنَا الشَّيْخُ أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ صَابِرٍ السَّلَمِيُّ قِرَاءَةً عَلَيْهِ بِدِمَشْقَ، أَخْبَرَنَا الشَّرِيفُ أَبُو الْقَاسِمِ عَلِيُّ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ الْعَبَّاسِ الْحُسَيْنِيُّ، أَخْبَرَنَا رَشَأُ بْنُ نَظِيفِ بْنِ مَا شَاءَ اللَّهُ الْمُقْرِئُ، أَنْبَانَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ مُحَمَّدٍ الضَّرَّابُ، أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ مَرْوَانَ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ الدَّيْنَوْرِيُّ، حَدَّثَنَا أَبِي، عَنْ وَكِيعٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ مُنَبِّهٍ، عَنْ أَوْفَى بْنِ دَلْهَمٍ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ رضي الله عنه، أَنَّهُ قَالَ: " تَعَلَّمُوا الْعِلْمَ تُعْرَفُوا بِهِ، وَاعْمَلُوا بِهِ تَكُونُوا مِنْ أَهْلِهِ، وَإِنَّهُ يَأْتِي مِنْ بَعْدِكُمْ زَمَانٌ يُنْكَرُ فِيهِ الْحَقُّ تِسْعَةَ أَعْشَارِهِ، وَإِنَّهُ لا يَنْجُو مِنْهُ إِلا كُلُّ نُؤَمَةُ مُنْبَتُّ الدَّاءِ، أُولَئِكَ أَئِمَّةُ الْهُدَى وَمَصَابِيحُ الْعِلْمِ، لَيْسُوا بِالْعُجُلِ الْمَذَايِيعِ الْبُذُرِ،
তিনি তাদের থেকে বিদায় নিলেন এবং তাঁর মজলিসে ফিরে আসলেন।
শেখ আবু মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রহমান বিন আহমাদ বিন সাবির আস-সালামি দামেশকে তাঁর উপস্থিতিতে পাঠ করার মাধ্যমে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আশ-শরিফ আবু আল-কাসিম আলি বিন ইব্রাহিম বিন আল-আব্বাস আল-হুসাইনি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, রশা বিন নাজিফ বিন মাশাআল্লাহ আল-মুকরি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ইসমাইল বিন মুহাম্মদ আদ-দাররাব আমাদের অবহিত করেছেন, আহমাদ বিন মারওয়ান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মুহাম্মদ বিন আব্দুল আজিজ আদ-দিনাওয়ারি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আমার পিতা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ওকি’র সূত্রে, তিনি আমর বিন মুনাব্বিহ থেকে, তিনি আওফা বিন দালহাম থেকে, তিনি আলি বিন আবি তালিব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: "তোমরা জ্ঞান অর্জন করো, এর মাধ্যমে তোমরা পরিচিত হবে; আর সেই অনুযায়ী আমল করো, তবেই তোমরা তার উপযুক্ত হতে পারবে। আর তোমাদের পরে অবশ্যই এমন এক সময় আসবে যখন হকের (সত্যের) দশভাগের নয়ভাগই অস্বীকার করা হবে। এবং তা থেকে কেবল সেই ব্যক্তিই মুক্তি পাবে যে হবে অখ্যাত ও ফেতনা থেকে বিমুখ; তারাই হলেন হিদায়াতের ইমাম এবং ইলমের প্রদীপসমূহ। তারা হঠকারী ও তাড়াহুড়োকারী নন, গোপনীয় বিষয় প্রচার করে বেড়ানো ব্যক্তি নন এবং তারা বাচাল বা নির্বোধ নন।"
(খণ্ড: ১)
আর রিক্কাতু ওয়াল বুকাউ লিইবনু কুদামা
(পৃষ্ঠা: ٥٠)
ثُمَّ قَالَ: إِنَّ الدُّنْيَا قَدِ ارْتَحَلَتْ مُدْبِرَةً، وَإِنَّ الآخِرَةَ مُقْبِلَةٌ، وَلِكُلِّ وَاحِدَةٍ مِنْهَا بَنُونَ، فَكُونُوا مَنْ أَبْنَاءِ الآخِرَةِ، وَلا تَكُونُوا مِنْ أَبْنَاءِ الدُّنْيَا، أَلا وَإِنَّ الزَّاهِدِينَ فِي الدُّنْيَا اتَّخَذُوا الأَرْضَ بِسَاطًا، وَالتُّرَابَ فِرَاشًا، وَالْمَاءَ طِيبًا، أَلا مَنِ اشْتَاقَ إِلَى الْجَنَّةِ سَلا عَنِ الشَّهَوَاتِ، وَمَنْ أَشْفَقَ مِنَ النَّارِ رَجَعَ عَنِ الْحُرُمَاتِ، وَمَنْ زَهِدَ فِي الدُّنْيَا هَانَتْ عَلَيْهِ الْمُصِيبَاتُ، أَلا إِنَّ لِلَّهِ عِبَادًا كَمَنْ رَأَى أَهْلَ الْجَنَّةِ فِي الْجَنَّةِ مُخَلَّدِينَ، وَأَهْلَ النَّارِ فِي النَّارِ مُعَذَّبِينَ، شُرُورُهُمْ مَأْمُونَةٌ، وَقُلُوبُهُمْ مَحْزُونَةٌ، وَأَنْفُسُهُمْ عَفِيفَةٌ، وَحَوَائِجُهُمْ خَفِيفَةٌ، صَبَرُوا أَيَّامًا قَلِيلَةً لِعُقْبَى رَاحَةٍ طَوِيلَةٍ، أَمَّا اللَّيْلُ فَصَافُّونَ أَقْدَامَهُمْ، تَجْرِي دُمُوعُهُمْ عَلَى خُدُودِهِمْ، يَجْأَرُونَ إِلَى رَبِّهِمْ: رَبَّنَا رَبَّنَا، يَطْلُبُونَ فِكَاكَ رِقَابِهِمْ، وَأَمَّا النَّهَارُ فَعُلَمَاءٌ، حُلَمَاءٌ، بَرَرَةٌ، أَتْقِيَاءٌ، كَأَنَّهُمُ الْقِدَاحُ، يَنْظُرُ النَّاظِرُ، فَيَقُولُ: مَرْضَى، وَمَا بِالْقَوْمِ مِنْ مَرَضٍ! وَخُولِطُوا، وَلَقَدْ خَالَطَ الْقَوْمَ أَمْرٌ عَظِيمٌ "
أَخْبَرَنَا أَبُو طَالِبٍ الْمُبَارَكُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ خُضَيْرٍ الصَّيْرَفِيُّ، أَخْبَرَنَا أَبُو غَالِبٍ شُجَاعُ بْنُ فَارِسٍ الذُّهْلِيُّ، أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ عَلِيٍّ الْخَيَّاطُ، أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ دُوَسْتَ، أَخْبَرَنَا أَبُو عَلِيٍّ الْحُسَيْنُ بْنُ
অতঃপর তিনি বললেন: নিশ্চয়ই দুনিয়া পৃষ্ঠপ্রদর্শন করে বিদায় নিয়েছে এবং নিশ্চয়ই আখিরাত সম্মুখপানে অগ্রসরমান। আর এদের প্রত্যেকেরই অনুসারী সন্তান রয়েছে, সুতরাং তোমরা আখিরাতের সন্তানদের অন্তর্ভুক্ত হও এবং দুনিয়ার সন্তানদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না। জেনে রেখো, নিশ্চয়ই দুনিয়াবিমুখ ব্যক্তিবর্গ যমীনকে বিছানা, মাটিকে শয্যা এবং পানিকে সুগন্ধি হিসেবে গ্রহণ করেছে। সাবধান! যে ব্যক্তি জান্নাতের আকাঙ্ক্ষা পোষণ করে, সে কামনা-বাসনা থেকে বিমুখ থাকে। আর যে ব্যক্তি জাহান্নামকে ভয় করে, সে নিষিদ্ধ বিষয়সমূহ থেকে বিরত থাকে। আর যে দুনিয়াবিমুখ হয়, তার নিকট বিপদ-আপদ তুচ্ছ মনে হয়। সাবধান! নিশ্চয়ই আল্লাহর এমন কিছু বান্দা রয়েছে যারা যেন জান্নাতবাসীদের জান্নাতে চিরস্থায়ী হিসেবে দেখছে এবং জাহান্নামবাসীদের জাহান্নামে আজাবগ্রস্ত অবস্থায় দেখছে। তাদের মন্দ হতে মানুষ নিরাপদ, তাদের হৃদয় ব্যথিত, তাদের আত্মা পবিত্র এবং তাদের পার্থিব প্রয়োজনসমূহ অতি সামান্য। তারা স্বল্প কিছু দিন ধৈর্য ধারণ করেছে এক দীর্ঘস্থায়ী প্রশান্তির পরিণতির আশায়। রাত এলে তারা তাদের পা-সমূহ সারিবদ্ধ করে দাঁড়ায়, তাদের গণ্ডদেশ বেয়ে অশ্রু প্রবাহিত হয়, তারা তাদের রবের সমীপে রোনাজারি করে বলে: হে আমাদের রব! হে আমাদের রব! তারা তাদের ঘাড়সমূহকে মুক্তির প্রার্থনা করে। আর দিবসে তারা হলো আলেম, সহনশীল, নেককার ও মুত্তাকী। তারা যেন তীরের ফলার ন্যায় কৃশ; কোনো দর্শক তাদের দেখলে বলে: তারা অসুস্থ, অথচ তাদের কোনো রোগ নেই! তারা অভিভূত হয়ে পড়েছে; প্রকৃতপক্ষে এক মহান বিষয় তাদের হৃদয়কে অভিভূত করে রেখেছে।
আবু তালিব আল-মুবারক বিন আলী বিন মুহাম্মদ বিন খুদাইর আস-সাইরাফী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু গালিব শুজা বিন ফারিস আদ-দুহলী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু বকর মুহাম্মদ বিন আলী আল-খাইয়াত আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন দুওয়াসত আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু আলী আল-হুসাইন বিন... আমাদের সংবাদ দিয়েছেন।
(খণ্ড: ১)
আর রিক্কাতু ওয়াল বুকাউ লিইবনু কুদামা
(পৃষ্ঠা: ٥١)
صَفْوَانَ، أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي الدُّنْيَا، حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ الْجَعْدِ، أَخْبَرَنِي عَمْرُو بْنُ شَمِرٍ، عَنِ السُّدِّيِّ، عَنْ أَبِي أَرَاكَةَ، قَالَ: صَلَّيْتُ مَعَ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ رضي الله عنه صَلَاةَ الْفَجْرِ، فَلَمَّا سَلَّمَ انْفَتَلَ عَنْ يَمِينِهِ، ثُمَّ مَكَثَ كَأَنَّ عَلَيْهِ كَآبَةً، حَتَّى إِذَا كَانَتِ الشَّمْسُ عَلَى حَائِطِ الْمَسْجِدِ قِيدَ رُمْحٍ، قَلَبَ يَدَهُ، وَقَالَ: «وَاللَّهِ ، وَلَقَدْ رَأَيْتُ أَصْحَابَ مُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم، فَمَا أَرَى الْيَوْمَ شَيْئًا يُشْبِهُهُمْ، وَلَقَدْ كَانُوا يُصْبِحُونَ شُعْثًا صُفْرًا غُبْرًا، بَيْنَ أَعْيُنِهِمْ أَمْثَالُ رُكَبِ الْمِعْزَى، قَدْ بَاتُوا لِلَّهِ سُجَّدًا وَقِيَامًا، يَتْلُونَ كِتَابَ اللَّهِ عز وجل، يُرَاوِحُونَ بَيْنَ جِبَاهِهِمْ وَأَقْدَامِهِمْ، فَإِذَا أَصْبَحُوا فَذَكَرُوا اللَّهَ عز وجل، مَادُوا كَمَا يَمِيدُ الشَّجَرُ فِي يَوْمِ الرِّيحِ، وَهَمِلَتْ أَعْيُنُهُمْ حَتَّى تُبَلَّ ثِيَابُهُمْ، وَاللَّهِ لَكَأَنَّ الْقَوْمَ بَاتُوا غَافِلِينَ، ثُمَّ نَهَضَ، فَمَا رُئِيَ مُفْتِرًّا يَضْحَكُ، حَتَّى ضَرَبَهُ ابْنُ مُلْجِمٍ، عَدُوُّ اللَّهِ الْفَاسِقُ»
! 154 وَأخبرنا أَبُو طَالِبٍ، أخبرنا أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْعَلافٍ، أخبرنا أَبُو الْقَاسِمِ عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ بِشْرَانَ، أخبرنا مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ
সাফওয়ান হতে বর্ণিত, আবু বকর আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবিদ দুনিয়া আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আলী ইবনুল জা'দ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আমর ইবনে শামির আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, আস-সুদ্দী হতে, আবু আরাকা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আলী ইবনে আবি তালিব (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হন)-এর সাথে ফজরের সালাত আদায় করলাম। যখন তিনি সালাম ফিরালেন, তখন তাঁর ডান দিকে ঘুরলেন, তারপর এমনভাবে অবস্থান করলেন যেন তিনি বিষণ্ণতায় আচ্ছন্ন। যতক্ষণ না সূর্য মসজিদের প্রাচীরে এক বর্শা পরিমাণ উঁচুতে উঠল, তখন তিনি তাঁর হাত উল্টালেন এবং বললেন: "আল্লাহর কসম, আমি মুহাম্মদ (আল্লাহর শান্তি ও রহমত তাঁর ওপর বর্ষিত হোক)-এর সাহাবীদের দেখেছি, আজ আমি তাঁদের সদৃশ কিছুই দেখি না। তাঁরা যখন ভোরে উঠতেন, তখন তাঁদের চুল থাকত এলোমেলো, চেহারা বিবর্ণ এবং ধূলিমলিন। তাঁদের দুই চোখের মাঝখানে ছাগলের হাঁটুর মতো (সিজদার) চিহ্ন থাকত। তাঁরা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য সিজদাবনত ও দণ্ডায়মান হয়ে রাত অতিবাহিত করতেন, মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর কিতাব তিলাওয়াত করতেন এবং তাঁদের কপাল ও পায়ের ওপর পর্যায়ক্রমে ভর দিতেন। যখন ভোর হতো এবং তাঁরা মহান আল্লাহর যিকির করতেন, তখন প্রবল বাতাসের দিনে গাছ যেভাবে কাঁপে, তাঁরাও সেভাবে দুলতেন এবং তাঁদের চোখ দিয়ে অশ্রু ঝরত এমনকি তাঁদের পোশাক ভিজে যেত। আল্লাহর কসম, মনে হচ্ছে যেন বর্তমান সময়ের লোকেরা গাফেল হয়ে রাত কাটিয়েছে।" এরপর তিনি উঠে দাঁড়ালেন এবং এরপর থেকে আল্লাহর শত্রু পাপিষ্ঠ ইবনে মুলজিম তাঁকে আঘাত করা পর্যন্ত আর তাঁকে প্রাণখুলে হাসতে দেখা যায়নি।
! ১৫৪ এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু তালিব, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-হাসান আলী ইবনে মুহাম্মদ ইবনুল আল্লাফ, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-কাসিম আবদুল মালিক ইবনে মুহাম্মদ ইবনে বিশরান, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ ইবনুল হুসাইন।
(খণ্ড: ১)
আর রিক্কাতু ওয়াল বুকাউ লিইবনু কুদামা
(পৃষ্ঠা: ٥٢)
الآجُرِّيُّ، أخبرنا مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ هَارُونَ، أخبرنا إِبْرَاهِيمُ بْنُ الْحَسَنِ، حَدَّثَنَا أَبُو حَفْصٍ عُمَرُ بْنُ مُحَمَّدِ بِنِ الحكُمْ، حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ أَبِي الْحُوَّارَى، قَالَ: " دَخَلْتُ عَلَى أَبِي سُلَيْمَانَ الدَّارَانِيِّ يَوْمًا وَهُوَ يَبْكِي، فَقُلْتُ لَهُ: مَا يُبْكِيكَ؟ فَقَالَ لِي: يَا أَحْمَدُ، إِنَّهُ إِذَا جَنَّ اللَّيْلُ عَلَى أَهْلِ الْمَحَبَّةِ، افْتَرَشُوا أَقْدَامَهُمْ وَدُمُوعَهُمْ تَجْرِي عَلَى خُدُودِهِمْ، وَقَدْ أَشْرَفَ الْجَلِيلُ عَلَيْهِمْ فَنَادَى: يَا جِبْرِيلُ، بِعَيْنِي مَنْ تَلَذَّذَ بِكَلامِي وَاسْتَرَاحَ إِلَى مُنَاجَاتِي، وَإِنِّي لَمُطَّلِعٌ عَلَيْهِمْ، أَسْمَعُ خَنِينَهُمْ، وَأَرَى بُكَاءَهُمْ، فَنَادِ فِيهِم: يَا جِبْرِيلُ، مَا هَذَا الْجَزَعُ الَّذِي أَرَاهُ فِيكُمْ؟ هَلْ أَخْبَرَكُمْ عَنِّي مُخْبِرٌ أَنَّ حَبِيبًا يُعَذِّبُ أَحِبَّاءَهُ؟ أَمْ هَلْ يَجْمُلُ بِي أَنْ أُبَيِّتَ أَقْوَامًا، وَعِنْدَ الْبَيَاتِ أَجِدُهُمْ لِي وُقُوفًا، فَإِذَا جَنَّهُمُ اللَّيْلُ تَمَلَّقُونِي؟ فَبِي حَلَفْتُ، لأَجْعَلَنَّ هَدِيَّتِي إِيَّاهُمْ لَوْ قَدْ وَرَدُوا عَلَى الْقِيَامَةِ أَنْ أَكْشِفَ لَهُمْ عَنْ وَجْهِيَ الْكَرِيمِ، أَنْظُرُ إِلَيْهِمْ وَيَنْظُرُونَ إِلَيَّ "
!
আল-আজুররি, মুহাম্মাদ বিন আহমাদ বিন হারুন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ইবরাহিম বিন আল-হাসান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু হাফস উমর বিন মুহাম্মাদ বিন আল-হাকাম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আহমাদ বিন আবু আল-হুওয়ারি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "একদিন আমি আবু সুলায়মান আদ-দারানির নিকট প্রবেশ করলাম, তখন তিনি কাঁদছিলেন। আমি তাকে বললাম: আপনাকে কিসে কাঁদাচ্ছে? তিনি আমাকে বললেন: হে আহমাদ, যখন ভালোবাসার লোকদের ওপর রাত ঘনিয়ে আসে, তখন তারা তাদের পা বিছিয়ে দেয় এবং তাদের গাল বেয়ে অশ্রু প্রবাহিত হয়। মহান আল্লাহ তাদের প্রতি দৃষ্টিপাত করেন এবং আহ্বান করে বলেন: হে জিবরিল, যারা আমার কালামের মাধ্যমে স্বাদ গ্রহণ করে এবং আমার সাথে একান্তে কথোপকথনে প্রশান্তি লাভ করে, তারা আমার চোখের সামনেই রয়েছে। আমি অবশ্যই তাদের অবস্থা প্রত্যক্ষ করি, আমি তাদের ফুঁপিয়ে কাঁদার শব্দ শুনি এবং তাদের কান্না দেখি। অতঃপর তাদের মাঝে ঘোষণা দাও: হে জিবরিল, আমি তোমাদের মাঝে এই যে ব্যাকুলতা দেখছি তা কীসের জন্য? কোনো সংবাদদাতা কি আমার পক্ষ থেকে তোমাদের এ সংবাদ দিয়েছে যে, কোনো প্রেমিক তার প্রিয়জনদের শাস্তি প্রদান করে? নাকি আমার জন্য এটি শোভনীয় যে, আমি এমন সব কওমকে রাতের বেলা পাকড়াও করব অথচ রাতের বেলা আমি তাদের আমার সম্মুখে দণ্ডায়মান অবস্থায় পাই? যখন রাত তাদের আচ্ছন্ন করে, তারা আমার মিনতি করে। আমি আমার নিজের নামে শপথ করছি, যখন তারা কিয়ামতের ময়দানে উপস্থিত হবে, তখন তাদের প্রতি আমার উপহার হবে এই যে, আমি তাদের জন্য আমার সম্মানিত চেহারা উন্মোচন করব; আমি তাদের দিকে তাকাব এবং তারা আমার দিকে তাকাবে।"
!
(খণ্ড: ১)
আর রিক্কাতু ওয়াল বুকাউ লিইবনু কুদামা
(পৃষ্ঠা: ٥٣)
155 أخبرنا الشَّيْخُ أَبُو الْفَتْحِ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْبَاقِي بْنِ أَحْمَدَ بْنِ سَلْمَانَ، أخبرنا الْخَطِيبُ أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ مُحَمَّدٍ الأَنْبَارِيُّ، أخبرنا الْحُسَيْنُ بْنُ صَفْوَانَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنِي إِسْمَاعِيلُ بْنُ زَكَرِيَّا، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُبَارَكِ، عَنْ مَعْمَرٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ الْمُخْتَارِ، عَنِ الْحَسَنِ، قَالَ: " الْمُؤْمِنُ قَوَّامٌ عَلَى نَفْسِهِ، يُحَاسِبُ نَفْسَهُ لِلَّهِ.
وَإِنَّمَا شَقَّ الْحِسَابُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ عَلَى قَوْمٍ أَخَذُوا هَذَا الأَمْرَ مِنْ غَيْرِ مُحَاسَبَةٍ، إِنَّ الْمُؤْمِنَ يَفْجَؤُهُ الشَّيْءُ وَيُعْجِبُهُ فَيَقُولُ: وَاللَّهِ إِنِّي لأَشْتَهِيكَ، وَإِنَّكَ لَمِنْ حَاجَتِي، وَلَكِنْ وَاللَّهِ مَا مِنْ صِلَةٍ إِلَيْكَ، أَيْهَاتَ، حِيلَ بَيْنِي وَبَيْنَكَ، وَيَفْرُطُ مِنْهُ شَيْءٌ، فَيَقُولُ: مَا أَرَدْتُ إِلَى هَذَا، مَا لِي وَلِهَذَا، وَاللَّهِ مَا أُعْذَرُ بِهَذَا، وَاللَّهِ لا أَعُودُ إِلَى هَذَا أَبَدًا إِنْ شَاءَ اللَّهُ،
155 আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শায়খ আবু আল-ফাতহ মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল বাকী ইবনে আহমাদ ইবনে সালমান, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন খতীব আবু আল-হাসান আলী ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে মুহাম্মাদ আল-আনবারী, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আল-হুসাইন ইবনে সাফওয়ান, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ, আমার নিকট বর্ণনা করেছেন ইসমাঈল ইবনে যাকারিয়া, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারক, মা’মার থেকে, তিনি ইয়াহইয়া ইবনুল মুখতার থেকে, তিনি হাসান (আল-বাসরী) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "মুমিন ব্যক্তি নিজের নফসের ওপর নিয়ন্ত্রণকারী, সে আল্লাহর সন্তুষ্টির নিমিত্তে নিজের নফসের হিসাব গ্রহণ করে।
বস্তুত কিয়ামতের দিন সেই সম্প্রদায়ের জন্য হিসাব কঠিন হবে যারা কোনো হিসাব-নিকাশ ছাড়াই এই জীবনধারা পরিচালনা করেছে। মুমিনের সামনে হঠাৎ কোনো বিষয় উপস্থিত হয় যা তাকে মুগ্ধ করে, তখন সে বলে: 'আল্লাহর কসম! আমি তোমাকে পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা করি এবং তুমি আমার প্রয়োজনীয় বিষয়, কিন্তু আল্লাহর কসম! তোমার কাছে পৌঁছানোর কোনো পথ নেই; হায়! আমার ও তোমার মাঝে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়েছে।' আর যদি তার থেকে কোনো বিচ্যুতি ঘটে যায়, তখন সে বলে: 'আমি এমনটি করতে চাইনি, এ কাজের সাথে আমার কী সম্পর্ক? আল্লাহর কসম! এ বিষয়ে আমার নিকট কোনো গ্রহণযোগ্য অজুহাত নেই। আল্লাহর কসম! ইনশাআল্লাহ আমি আর কখনোই এমন কাজে লিপ্ত হব না'।"
(খণ্ড: ১)
আর রিক্কাতু ওয়াল বুকাউ লিইবনু কুদামা
(পৃষ্ঠা: ٥٤)
إِنَّ الْمُؤْمِنِينَ قَوْمٌ أَوْقَفَهُمُ الْقُرْآنُ، وَحَالَ بَيْنَهُمْ وَبَيْنَ هَلَكَتِهِمْ، إِنَّ الْمُؤْمِنَ أَسِيرٌ فِي الدُّنْيَا، يَسْعَى فِي فَكَاكِ رَقَبَتِهِ، لا يَأْمَنُ شَيْئًا حَتَّى يَلْقَى اللَّهَ، يَعْلَمُ أَنَّهُ مَأْخُوذٌ عَلَيْهِ فِي سَمْعِهِ وَبَصَرِهِ، وَفِي لِسَانِهِ، وَفِي جَوَارِحِهِ، مَأْخُوذٌ عَلَيْهِ فِي ذَلِكَ كُلِّهِ "
! 156 وَعَنِ الْحَسَنِ أَنَّهُ كَانَ، يَقُولُ: «الْمُؤْمِنُ فِي الدُّنْيَا كَالْغَرِيبِ، لا يَجْزَعُ مِنْ ذُلِّهَا، وَلا يُنَافِسُ أَهْلَهَا فِي عِزِّهَا، لِلنَّاسِ حَالٌ وَلَهُ حَالٌ أُخْرَى، قَدْ أَهَمَّتْهُ نَفْسُهُ، النَّاسُ مِنْهُ فِي رَاحَةٍ، وَنَفْسُهُ مِنْهُ فِي عَنَاءٍ، وَاللَّهِ وَلَقَدْ أَدْرَكْتُ أَقْوَامًا، لَهُمْ كَانُوا فِيمَا أَحَلَّ اللَّهُ لَهُمْ أَزْهَدَ مِنْكُمْ فِيمَا حَرَّمَ اللَّهُ عليكُمْ، وَلَهُمْ بِدِينِهِمْ أَبْصَرُ بِقُلُوبِهِمْ مِنْكُمْ بِأَبْصَارِكُمْ، وَلَهُمْ بِحَسَنَاتِهِمْ أَشَدُّ خَوْفًا أَنْ تُرَدَّ عَلَيْهِمْ مِنْكُمْ لِسَيِّئَاتِكُمْ أَنْ تُعَاقَبُوا عَلَيْهَا، إِذَا جَنَّهُمُ اللَّيْلُ فَقِيَامٌ عَلَى أَطْرَافِهِمْ، يَفْتَرِشُونَ وُجُوهَهُمْ، تَجْرِي دُمُوعُهُمْ عَلَى خُدُودِهِمْ، يُنَاجُونَ رَبَّهُمْ فِي فَكَاكِ رِقَابِهِمْ»
! 157 وَقَالَ: «وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لا يُؤْمِنُ عَبْدٌ بِالسَّاعَةِ إِلا بَكَى، وَإِلا نَصِبَ، وَإِلا ذَبُلَ، وَإِلا حَزَنَ، وَإِلا ضَاقَتْ عَلَيْهِ الأَرْضُ بِرَحْبِهَا»
!
নিশ্চয়ই মুমিনরা এমন এক সম্প্রদায় যাদের কুরআন থামিয়ে দিয়েছে এবং তাদের ও তাদের ধ্বংসের মাঝে অন্তরায় হয়েছে। নিশ্চয়ই মুমিন দুনিয়াতে একজন বন্দী, যে তার গর্দান মুক্ত করার চেষ্টায় রত থাকে। সে আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ না করা পর্যন্ত কোনো কিছুতেই নিরাপদ বোধ করে না। সে জানে যে তার শ্রবণশক্তি, দৃষ্টিশক্তি, জিহ্বা এবং অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ—এই সবকিছুর বিষয়েই তাকে পাকড়াও করা হবে; এই সবকিছুর বিষয়েই সে দায়বদ্ধ। "
! 156 হাসান (বসরী) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলতেন: «মুমিন দুনিয়াতে একজন আগন্তুকের মতো; সে এর লাঞ্ছনায় বিচলিত হয় না এবং এর সম্মানের জন্য দুনিয়াদারদের সাথে প্রতিযোগিতা করে না। মানুষের এক অবস্থা আর তার অন্য অবস্থা। সে নিজেই নিজেকে নিয়ে চিন্তিত থাকে; মানুষ তার পক্ষ থেকে শান্তিতে থাকে, আর তার নিজের নফস তার কারণে কষ্টে থাকে। আল্লাহর কসম! আমি এমন সব কওমকে দেখেছি যারা আল্লাহ তাদের জন্য যা হালাল করেছেন সে বিষয়ে আপনাদের সেই বিষয়ের প্রতি অনাগ্রহের চেয়েও বেশি বিরাগী ছিলেন যা আল্লাহ আপনাদের ওপর হারাম করেছেন। তারা তাদের অন্তরের মাধ্যমে তাদের দ্বীন সম্পর্কে আপনাদের চোখের দৃষ্টির চেয়েও বেশি সূক্ষ্মদর্শী ছিলেন। তাদের নেক আমলগুলো প্রত্যাখ্যান হওয়ার ব্যাপারে তাদের ভয় আপনাদের গুনাহের কারণে শাস্তি পাওয়ার ভয়ের চেয়েও বেশি তীব্র ছিল। যখন রাত তাদের আচ্ছন্ন করত, তখন তারা তাদের পায়ের ওপর দাঁড়িয়ে যেতেন, তারা তাদের চেহারাগুলো (সিজদায়) বিছিয়ে দিতেন, তাদের গাল বেয়ে অশ্রু ঝরত, তারা তাদের রবের কাছে তাদের গর্দান মুক্তির জন্য মুনাজাত করতেন।»
! 157 এবং তিনি বলেন: «সেই সত্তার কসম যার হাতে আমার প্রাণ! কোনো বান্দা কিয়ামতের ওপর ঈমান আনে না যতক্ষণ না সে ক্রন্দন করে, এবং যতক্ষণ না সে ক্লান্ত হয়, এবং যতক্ষণ না সে জীর্ণ হয়, এবং যতক্ষণ না সে চিন্তিত হয়, এবং যতক্ষণ না যমিন তার প্রশস্ততা সত্ত্বেও তার ওপর সংকীর্ণ হয়ে যায়।»
!
(খণ্ড: ১)
আর রিক্কাতু ওয়াল বুকাউ লিইবনু কুদামা
(পৃষ্ঠা: ٥٥)
158 وَقَالَ: «رَحِمَ اللَّهُ عَبْدًا جَعَلَ الْعَيْشَ عَيْشًا وَاحِدًا، فَأَكَلَ كِسْرَةً، وَلَبِسَ خَلِقًا، وَلَزِقَ بِالأَرْضِ، وَاجْتَهَدَ فِي الْعِبَادَةِ، وَبَكَى عَلَى الْخَطِيئَةِ، وَهَرَبَ مِنَ الْعُقُوبَةِ، وَابْتَغَى الرَّحْمَةَ، حَتَّى يَأْتِيهِ الْمَوْتُ وَهُوَ عَلَى ذَلِكَ»
! 159 أخبرنا أَبُو الْمَعَالِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَحْمَدَ السُّلَمِيُّ، أخبرنا أَبُو الْقَاسِمِ عَلِيُّ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الْحُسَيْنِيُّ، أخبرنا أَحْمَدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ ثَابِتٍ الْخَطِيبُ، أخبرنا أَبُو الْفَتْحِ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ أَبِي الْفَوَارِسِ الْحَافِظُ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْحَسَنِ النَّقَّاشُ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْفَضْلِ الطَّبَرِيُّ، حَدَّثَنَا هَنَّادِ بْنِ السَّرِيِّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ الْمُحَارِبِيُّ، عَنْ بَكْرِ بْنِ خُنَيْسٍ، عَنْ ضِرَارِ بْنِ عَمْرٍو، عَنِ الْحَسَنِ، قَالَ: " قُرَّاءُ الْقُرْآنِ ثَلاثَةٌ: رَجُلٌ اتَّخَذَهُ بِضَاعَةً، يَنْقُلُهُ مِنْ مِصْرٍ إِلَى مِصْرٍ، يَطْلُبُ بِهِ مَا عِنْدَ النَّاسِ، وَقَوْمٌ قَرَأُوا الْقُرْآنَ: حَفِظُوا حُرُوفَهُ، وَضَيَّعُوا حُدُودَهُ، وَاسْتَجَرُّوا بِهِ الْوُلَاةَ، وَاسْتَطَالُوا بِهِ عَلَى أَهْلِ بِلادِهِمْ، فَقَدْ كَثُرَ هَذَا الضَّرْبُ فِي حَمَلَةِ الْقُرْآنِ، قَالَ الْحَسَنُ: لا كَثَّرَهُمُ اللَّهُ، وَرَجُلٌ قَرَأَ الْقُرْآنَ، فَبَدَأَ بِمَا يَعْلَمُ مِنْ دَوَاءِ الْقُرْآنِ، فَوَضَعَهُ عَلَى دَاءِ قَلْبِهِ، فَأَسْهَرَ لَيْلَهُ، وَهَمِلَتْ عَيْنَاهُ، وَتَسَرْبَلُوا بِالْحُزْنِ، وَارْبَدُّوا بِالْخُشُوعِ، وَرَكَدُوا فِي مَحَارِيبِهِمْ، وَخَنُّوا
১৫৮ এবং তিনি বললেন: «আল্লাহ সেই বান্দার ওপর রহম করুন, যে তার জীবনযাপনকে এক ও অভিন্ন করে নিয়েছে; সে রুটির সামান্য টুকরো খেয়ে পরিতুষ্ট থাকে, জীর্ণ বস্ত্র পরিধান করে, মাটির সাথে মিশে থাকে, ইবাদতে কঠোর সাধনা করে, নিজের পাপাচারের জন্য রোদন করে, শাস্তি থেকে পলায়ন করে এবং আল্লাহর রহমত অন্বেষণ করে—যতক্ষণ না এই অবস্থায় তার কাছে মৃত্যু উপস্থিত হয়।»
! ১৫৯ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-মা'আলি আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে আহমদ আস-সুলামি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল কাসেম আলী ইবনে ইব্রাহিম আল-হুসাইনি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আহমদ ইবনে আলী ইবনে সাবিত আল-খাতিব, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল ফাতহ মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে আবি আল-ফাওয়ারিস আল-হাফিজ, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন মুহাম্মদ ইবনে আল-হাসান আন-নাক্কাশ, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন মুহাম্মদ ইবনে আল-ফাদল আত-তাবারী, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন হান্নাদ ইবনাস সাররি, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আব্দুর রহমান আল-মুহারিবি, বাকর ইবনে খুনাাইস থেকে, যিরার ইবনে আমর থেকে, হাসান থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "কুরআন পাঠকারীগণ তিন প্রকার: এমন এক ব্যক্তি যে কুরআনকে পণ্য হিসেবে গ্রহণ করেছে, সে একে এক শহর থেকে অন্য শহরে বয়ে নিয়ে বেড়ায় এবং এর মাধ্যমে মানুষের কাছে যা আছে তা প্রার্থনা করে। আর এক দল লোক যারা কুরআন পাঠ করেছে—তারা এর অক্ষরগুলো তো মুখস্থ করেছে কিন্তু এর বিধানসমূহকে বিসর্জন দিয়েছে; এর মাধ্যমে তারা শাসকদের অনুকম্পা প্রার্থনা করে এবং নিজ দেশবাসীর ওপর বড়ত্ব প্রকাশ করে। কুরআন বহনকারীদের মধ্যে এই শ্রেণীর লোকের সংখ্যা বর্তমানে বৃদ্ধি পেয়েছে। হাসান বলেন: আল্লাহ তাদের সংখ্যা বৃদ্ধি না করুন। আর এমন এক ব্যক্তি যে কুরআন পাঠ করেছে এবং কুরআনের যে মহৌষধ সম্পর্কে সে অবগত হয়েছে, তা সে নিজের অন্তরের ব্যাধিতে প্রয়োগ করেছে। ফলে তা তার রাতকে বিনিদ্র করেছে এবং তার দু'চোখ থেকে অশ্রু প্রবাহিত করেছে। তারা শোক ও দুঃখের চাদর গায়ে জড়িয়েছে, বিনয় ও নম্রতায় তারা বিবর্ণ হয়ে গেছে, নিজেদের মেহরাবে তারা অবিচল দাঁড়িয়ে থাকে এবং কান্নায় ভেঙে পড়ে..."
(খণ্ড: ১)
আর রিক্কাতু ওয়াল বুকাউ লিইবনু কুদামা
(পৃষ্ঠা: ٥٦)
فِي بَرَانِسِهِمْ، فَبِهِمْ يَسْقِي اللَّهُ الْغَيْثَ، وَيُنْزِلُ النَّصْرَ، وَيَدْفَعُ الْبَلاءَ، وَاللَّهُ لَهَذَا الضَّرْبُ فِي حَمَلَةِ الْقُرْآنِ أَقَلُّ مِنَ الْكِبْرِيتِ الأَحْمَرِ "
! 160 أخبرنا أَبُو طَالِبٍ الْمُبَارَكُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ خُضَيْرٍ، قَالَ: أخبرنا أَبُو مَنْصُور الْقَزَّازُ، قَالَ: أخبرنا مُحَمَّدُ بْنُ عَلِيٍّ، حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدٍ، أخبرنا الْحُسَيْنُ بْنُ صَفْوَانَ، قَالَ: أخبرنا ابْنُ أَبِي الدُّنْيَا، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ الْوَرْكَانِيُّ، حَدَّثَنَا نُعَيْمُ بْنُ سُلَيْمَانَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَنْصُورٍ، عَنْ سَعِيدٍ الْجَرْمِيِّ، أَنَّهُ كَانَ يَقُولُ: «شَبَابٌ مُتَكَهِّلُونَ فِي حَدَاثَةِ أَسْنَانِهِمْ، غَبِيَّةٌ عَنِ الشَّرِّ عُيُونُهُمْ، مُتَنَزِّهَةٌ عَنِ اللَّهْوِ أَسْمَاعُهُمْ، ثَقِيلَةٌ عَنِ الْبَاطِلِ أَرْجُلُهُمْ، خُمْصُ الْبُطُونِ مِنْ كَسْبِ الْحَرَامِ، قَدْ نَظَرَ اللَّهُ إِلَيْهِمْ فِي جَوْفِ اللَّيْلِ مَحْنِيَّةٌ عَلَى أَجْزَاءِ الْقُرْآنِ أَصْلَابُهُمْ، سَابِلَةٌ عَلَى الْخُدُودِ دُمُوعُهُمْ، كُلَّمَا مَرُّوا بِآيَةٍ مِنْ ذِكْرِ الْجَنَّةِ بَكَوْا شَوْقًا، وَكُلَّمَا مَرُّوا بِآيَةٍ مِنْ ذِكْرِ النَّارِ صَرَخُوا مِنْهَا فَرَقًا، كَأَنَّ رَمَادَ النَّارِ فِي آذَانِهِمْ، وَكَأَنَّ الْجَمْرَةَ نُصْبَ أَعْيُنِهِمْ، قَدْ أَكَلَتِ الأَرْضُ جِبَاهَهُمْ وَرُكَبَهُمْ، وَغَيَّرَ السَّهَرُ وَالظَّمَأُ أَلْوَانَهُمْ، وَكَانُوا فِي لَيْلِهِمْ أَهْلَ سَهَرٍ وَأَهْلَ بُكَاءٍ، وَكَانُوا فِي نَهَارِهِمْ أَهْلَ ذِكْرٍ وَأَهْلَ ظَمَأٍ، إِذَا ذُكِّرُوا بِالدُّنْيَا اسْتَبَانَتْ زَهَادَتُهُمْ فِيهَا لِمَعْرِفَتِهِمْ بِفَنَائِهَا،
তাদের চাদরের ভেতরে; তাদের অছিলায় আল্লাহ বৃষ্টি বর্ষণ করেন, সাহায্য অবতীর্ণ করেন এবং বিপদ দূর করেন। আল্লাহর শপথ, কুরআন বহনকারীদের মধ্যে এই শ্রেণির লোক ‘লাল গন্ধক’ অপেক্ষা অধিক বিরল।
! ১৬০. আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু তালিব আল-মুবারক বিন আলী বিন মুহাম্মদ বিন খুদাইর, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মানসুর আল-কায্যায, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ বিন আলী, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমদ বিন মুহাম্মদ, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আল-হুসাইন বিন সাফওয়ান, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইবন আবিদ দুনিয়া, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন জাফর আল-ওয়ারকানি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন নুআইম বিন সুলাইমান, আবদুল্লাহ বিন মানসুর থেকে, সাঈদ আল-জারমি থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলতেন: «তারা এমন যুবক যারা অল্প বয়সেই প্রৌঢ়দের ন্যায় গম্ভীর ও পরিপক্ক, মন্দের দিক থেকে তাদের চোখগুলো অন্ধ, অনর্থক বিষয় থেকে তাদের কানগুলো পবিত্র, বাতিলের পথে চলতে তাদের পাগুলো ভারী। হারাম উপার্জন থেকে তাদের পেটগুলো সংকুচিত (শূন্য)। আল্লাহ রাতের গভীরে তাদের দিকে দৃষ্টিপাত করেছেন যখন কুরআনের বিভিন্ন অংশ তিলাওয়াতকালে তাদের পিঠগুলো অবনত থাকে এবং তাদের গাল বেয়ে অশ্রু প্রবাহিত হতে থাকে। যখনই তারা জান্নাতের বর্ণনাসংবলিত কোনো আয়াতের নিকট দিয়ে যায়, তারা ব্যাকুল হয়ে কেঁদে ওঠে; আর যখনই তারা জাহান্নামের বর্ণনাসংবলিত কোনো আয়াতের নিকট দিয়ে যায়, তারা ভয়ে আর্তনাদ করে ওঠে; যেন জাহান্নামের আগুনের ছাই তাদের কানে রয়েছে এবং যেন আগুনের অঙ্গার তাদের চোখের সামনে রয়েছে। ভূমি (সিজদার কারণে) তাদের কপাল ও হাঁটু ক্ষয় করে দিয়েছে, আর বিনিদ্র রজনী যাপন ও পিপাসা তাদের গায়ের বর্ণ পরিবর্তন করে দিয়েছে। তারা রাতের বেলা ছিল বিনিদ্র রোদনকারী এবং দিনের বেলা ছিল জিকিরকারী ও পিপাসার্ত। যখন তাদের নিকট দুনিয়া সম্পর্কে আলোচনা করা হতো, তখন দুনিয়ার নশ্বরতা সম্পর্কে তাদের জ্ঞানের কারণে এর প্রতি তাদের বিরাগ স্পষ্ট হয়ে উঠত,
(খণ্ড: ১)
আর রিক্কাতু ওয়াল বুকাউ লিইবনু কুদামা
(পৃষ্ঠা: ٥٧)
وَإِذَا ذَكَرُوا الآخِرَةَ عَظُمَتْ فِيهَا رَغْبَتُهُمْ لِمَعْرِفَتِهِمْ بِبَقَائِهَا، فَصَغُرَتِ الدُّنْيَا فِي أَعْيُنِهِمْ، وَأْبَغَضَتْهَا أَنْفُسُهُمْ، فَذَلَّتْ مِنْ بَعْدِ صُعُوبَةٍ، وَأَطَاعَتْهُمْ مِنْ بَعْدِ عِصْيَانٍ، الْحَيَاةُ عِنْدَهُمْ فِي الدُّنْيَا مُصِيبَةٌ لِخَوْفٍ الْفِتْنَةِ، وَالْقَتْلُ عِنْدَهُمْ نِعْمَةٌ فِيمَا يَرْجُونَ بَعْدَهُ مِنَ الرَّوْحِ وَالرَّاحَةِ، لا تَفْتَرُّ بِالضَّحِكِ شِفَاهُهُمْ، وَلا تُفَارِقُ الأَحْزَانُ قُلُوبَهُمْ.
ادَّخَرُوا مَا قَدَّمُوا مِنَ الأَعْمَالِ لِمَا يَخَافُونَ مِنْ عِظَمِ الأَهْوَالِ» .
وَذَكَرَ بَقِيَّةَ الْحَدِيثِ
আর যখন তারা আখিরাতের কথা স্মরণ করে, তখন এর স্থায়িত্ব সম্পর্কে অবগত হওয়ার কারণে তাতে তাদের আকাঙ্ক্ষা বৃদ্ধি পায়। ফলে দুনিয়া তাদের চোখে তুচ্ছ হয়ে পড়ে এবং তাদের নফস তা ঘৃণা করতে থাকে। এর ফলে দুনিয়া অবাধ্যতা ছেড়ে তাদের অনুগত হয় এবং কাঠিন্য ছেড়ে নমনীয় হয়। ফিতনার ভয়ে দুনিয়ার জীবন তাদের নিকট এক বিপদস্বরূপ, আর মৃত্যুর পর আরাম ও প্রশান্তির প্রত্যাশায় তাদের নিকট নিহত হওয়া এক নিয়ামত। হাসিতে তাদের ঠোঁট উন্মুক্ত হয় না এবং বিষাদ তাদের হৃদয় ছেড়ে যায় না।
ভয়াবহ সব বিভীষিকার আশঙ্কায় তারা তাদের অগ্রিম পাঠানো আমলসমূহ সঞ্চয় করে রেখেছে।
এবং তিনি হাদিসের অবশিষ্টাংশ উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আর রিক্কাতু ওয়াল বুকাউ লিইবনু কুদামা
(পৃষ্ঠা: ٥٨)
الْفَصْلُ الثَّانِي
ذِكْرُ طَرَفٍ مِنْ أَخْبَارِ الأَنْبِيَاءِ عليهم السلام آدَمُ عليه السلام! 161 أخبرنا أَبُو الْفَتْحِ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْبَاقِي، أخبرنا أَحْمَدُ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ خَيْرُونَ الْمُعَدِّلُ، أخبرنا أَبُو عَلِيٍّ الْحَسَنُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ شَاذَانَ، أخبرنا أَبُو عَلِيٍّ عِيسَى بْنُ مُحَمَّدٍ الطُّومَارِيُّ، أخبرنا مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ الْبَرَاءِ، أخبرنا عَبْدُ الْمُنْعِمِ بْنُ إِدْرِيسَ، أخبرنا أَبِي، عَنْ وَهْبِ بْنِ مُنَبِّهٍ: " أَنَّ آدَمَ عليه السلام لَبِثَ فِي السَّخْطَةِ سَبْعَةَ أَيَّامٍ، ثُمَّ إِنَّ اللَّهَ أَطْلَعَهُ فِي الْيَوْمِ السَّابِعِ وَهُوَ مُنَكَّسٌ مَحْزُونٌ كَظِيمٌ، فَأَوْحَى اللَّهُ إِلَيْهِ: " يَا آدَمُ مَا هَذَا الْجَهْدُ الَّذِي أَرَاكَ فِيهِ؟ يَا آدَمُ وَمَا هَذِهِ البليَّةُ الَّتِي قَدْ أَجْحَفَ بِكَ بَلاؤُهَا وَشَقَاؤُهَا؟ قَالَ آدَمُ: عَظُمَتْ مُصِيبَتِي يَا إِلَهِي، وَأَحَاطَتْ بِي خَطِيئَتِي، وَخَرَجْتُ مِنْ مَلَكُوتِ رَبِّي، فَأَصْبَحْتُ فِي دَارِ الْهَوَانِ بَعْدَ الْكَرَامَةِ، وَفِي دَارِ الشَّقَاءِ بَعْدَ السَّعَادَةِ، وَفِي دَارِ الْبَلاءِ بَعْدَ الْعَافِيَةِ، وَفِي دَارِ الظَّعْنِ وَالزَّوَالِ بَعْدَ الْقَرَارِ وَالطُّمَأْنِينَةِ، وَفِي دَارِ الْفَنَاءِ بَعْدَ الْخُلْدِ وَالْبَقَاءِ، وَفِي دَارِ الْغُرُورِ بَعْدَ الأَمْنِ، يَا إِلَهِي! فَكَيْفَ لا أَبْكِي عَلَى خَطِيئَتِي؟ أَمْ كَيْفَ لا تَحْزُبُنِي نَفْسِي؟ أَمْ كَيْفَ
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদনবীদের (আলাইহিমুস সালাম) সংবাদের কিয়দাংশের আলোচনা: আদম আলাইহিস সালাম! ১৬১ আবু আল-ফাতহ মুহাম্মদ ইবন আবদ আল-বাকি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন আহমদ ইবন আল-হাসান ইবন খাইরুন আল-মুয়াদ্দিল আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন আবু আলি আল-হাসান ইবন আহমদ ইবন শাযান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন আবু আলি ঈসা ইবন মুহাম্মদ আত-তুুমারি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন মুহাম্মদ ইবন আহমদ ইবন আল-বারা আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন আবদ আল-মুনইম ইবন ইদরিস আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি ওয়াহাব ইবন মুনাব্বিহ থেকে বর্ণনা করেছেন: "নিশ্চয়ই আদম আলাইহিস সালাম সাত দিন পর্যন্ত (আল্লাহর) অসন্তুষ্টির মধ্যে অবস্থান করলেন। অতঃপর সপ্তম দিনে আল্লাহ তাঁর প্রতি দৃষ্টিপাত করলেন, তখন তিনি ছিলেন অবনত মস্তক, শোকাতুর ও দুঃখ ভারাক্রান্ত। আল্লাহ তাঁর প্রতি ওহী পাঠালেন: হে আদম, আমি তোমাকে যে কষ্টের মধ্যে দেখছি তা কিসের? হে আদম, এই মুসিবতটি কী যার বিপদ ও দুর্ভাগ্য তোমাকে বিপর্যস্ত করে ফেলেছে? আদম বললেন: হে আমার ইলাহ, আমার বিপদ প্রকট হয়েছে, আমার পাপ আমাকে পরিবেষ্টন করেছে এবং আমি আমার রবের রাজত্ব থেকে বের হয়ে এসেছি। ফলে সম্মানের পর আমি লাঞ্ছনার ঘরে, সুখের পর দুর্ভাগ্যের ঘরে, সুস্থতার পর পরীক্ষার ঘরে, স্থিতি ও প্রশান্তির পর প্রস্থান ও বিলুপ্তির ঘরে, অমরত্ব ও স্থায়িত্বের পর নশ্বরতার ঘরে এবং নিরাপত্তার পর প্রতারণার ঘরে উপনীত হয়েছি। হে আমার ইলাহ! আমি কেন আমার পাপের জন্য কাঁদব না? অথবা কেন আমার প্রাণ আমাকে ব্যথিত করবে না? অথবা কেন..."
(খণ্ড: ১)
আর রিক্কাতু ওয়াল বুকাউ লিইবনু কুদামা
(পৃষ্ঠা: ٥٩)
لِي أَنْ أَجْتَبِرُ هَذِهِ الْبَلِيَّةَ وَالْمُصِيبَةَ يَا إِلَهِي؟ .
قَالَ اللَّهُ لَهُ: أَلَمْ أَصْطَفِكَ لِنَفْسِي، وَأَحْلَلْتُكَ دَارِي، وَاصْطَفَيْتُكَ عَلَى خَلْقِي، وَتَخَصَّصْتُكَ بِكَرَامَتِي، وَأَلْقَيْتُ عَلَيْكَ مَحَبَّتِي، وَحَذَّرْتُكَ سَخَطِي؟ أَلَمْ أُبَاشِرْكَ بِيَدِي، وَأَنْفُخْ فِيكَ مِنْ رَوْحِي، وَأُسْجِدْ لَكَ مَلَائِكَتِي؟ أَلَمْ تَكُنْ جَارِي فِي بُحْبُوحَةِ كَرَامَتِي، تَتَبَوَّأُ فِي بُحْبُوحَةِ جَنَّتِي حَيْثُ تَشَاءُ مِنْ كَرَامَتِي، فَعَصَيْتَ أَمْرِي، وَنَسِيتَ عَهْدِي، وَضَيَّعْتَ وَصِيَّتِي؟ فَكَيْفَ تَسْتَنْكِرُ نِقْمَتِي؟ فَوَعِزَّتِي وَجَلالِي، لَوْ مَلَأْتُ الأَرْضَ رِجَالًا، كُلَّهُمْ مِثْلَكَ يُسَبِّحُونَ اللَّيْلَ وَالنَّهَارَ لا يَفْتُرُونَ، ثُمَّ عَصَوْنِي، لأَنْزَلْتُهُمْ مَنَازِلَ الْعَاصِينَ، وَإِنِّي قَدْ رَحِمْتُ ضَعْفَكَ، وَأقَلْتُكَ عَثْرَتَكَ، وَقَبِلْتُ تَوْبَتَكَ، وَسمعت تَضَرُّعَكَ، وَغَفَرْتُ ذَنْبَكَ، فَقُلْ لا إِلَهَ إِلا أَنْتَ سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ وَبِحَمْدِكَ، ظَلَمْتُ نَفْسِي، وَعَلِمْتُ السُّوءَ، فتُبْ عَلِيَّ، إِنَّكَ أَنْتَ التَّوَّابُ الرَّحِيمُ، فَقَالَهَا آدَمُ، ثُمَّ قَالَ لَهُ رَبُّهُ: قُلْ: لا إِلَهَ إِلا أَنْتَ، سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ وَبِحَمْدِكَ، ظَلَمْتُ نَفْسِي، وَعَمِلْتُ السُّوءَ فَاغْفِرْ لِي، إِنَّكَ أَنْتَ أَرْحَمُ الرَّاحِمِينَ.
فَقَالَ آدَمُ، ثُمَّ قَالَ لَهُ رَبُّهُ: قُلْ: لا إِلَهَ إِلا أَنْتَ، سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ وَبِحَمِّدَك، ظَلَمْتُ نَفْسِي، وَعَمِلْتُ السُّوءَ فَارْحَمْنِي، إِنَّكَ أَنْتَ أَرْحَمُ الرَّاحِمِينَ.
قَالَ: وَكَانَ آدَمُ قَدِ اشْتَدَّ بُكَاؤُهُ وَحُزْنُهُ لَمَّا كَانَ مِنْ عِظَمِ مُصِيبَتِهِ، حَتَّى أَنْ كَانَتِ الْمَلَائِكَةُ لَتَحْزُنُ لِحُزْنِهِ، وَتَبْكِي لِبُكَائِهِ، فَبَكَى عَلَى الْجَنَّةِ، مِائَتَيْ سَنَةٍ، فَبَعَثَ اللَّهُ إِلَيْهِ بِخَيْمَةٍ مِنْ خِيَامِ الْجَنَّةِ، فَوَضَعَهَا لَهُ فِي مَوْضِعِ الْكَعْبَةِ قَبْلَ أَنْ تَكُونَ الْكَعْبَةُ "،
হে আমার ইলাহ! আমি কি এই পরীক্ষা ও মুসিবত থেকে উদ্ধার পেতে পারি? .
আল্লাহ তাকে বললেন: আমি কি তোমাকে নিজের জন্য মনোনীত করিনি, তোমাকে আমার গৃহে স্থান দেইনি, আমার সৃষ্টির ওপর তোমাকে শ্রেষ্ঠত্ব দান করিনি, তোমাকে আমার বিশেষ সম্মানে ভূষিত করিনি, তোমার ওপর আমার ভালোবাসা ঢেলে দেইনি এবং তোমাকে আমার ক্রোধ সম্পর্কে সতর্ক করিনি? আমি কি আমার হাত দিয়ে সরাসরি তোমাকে সৃষ্টি করিনি, তোমার মধ্যে আমার রূহ থেকে ফুঁকে দেইনি এবং আমার ফেরেশতাদের দিয়ে তোমাকে সিজদা করাইনি? তুমি কি আমার সম্মানের প্রশস্ততায় আমার প্রতিবেশী ছিলে না, তুমি আমার জান্নাতের প্রশস্ততায় তোমার ইচ্ছা অনুযায়ী বিচরণ করতে, এরপরও তুমি আমার আদেশের অবাধ্যতা করলে, আমার অঙ্গীকার ভুলে গেলে এবং আমার নির্দেশ নষ্ট করলে? তবে কীভাবে তুমি আমার শাস্তিকে অপছন্দ করছ? আমার ইজ্জত ও মহিমার শপথ! আমি যদি পৃথিবীকে এমন পুরুষ দিয়ে পূর্ণ করে দিতাম যারা সবাই তোমার মতো দিন-রাত বিরতিহীনভাবে আমার তাসবিহ পাঠ করত, অতঃপর তারা আমার অবাধ্য হতো, তবে আমি অবশ্যই তাদের অবাধ্যদের স্তরে নামিয়ে দিতাম। আমি তোমার দুর্বলতার প্রতি দয়া করেছি, তোমার পদস্খলন ক্ষমা করেছি, তোমার তাওবা কবুল করেছি, তোমার আকুতি শুনেছি এবং তোমার পাপ ক্ষমা করেছি। সুতরাং তুমি বলো: 'আপনি ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, হে আল্লাহ! আপনি পবিত্র এবং আপনারই প্রশংসা। আমি নিজের ওপর জুলুম করেছি এবং মন্দ কাজ করেছি; সুতরাং আপনি আমার তাওবা কবুল করুন, নিশ্চয়ই আপনি আপনিই তাওবা কবুলকারী, পরম দয়ালু।' আদম তা বললেন, তারপর তার প্রতিপালক তাকে বললেন: বলো: 'আপনি ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, হে আল্লাহ! আপনি পবিত্র এবং আপনারই প্রশংসা। আমি নিজের ওপর জুলুম করেছি এবং মন্দ কাজ করেছি; সুতরাং আপনি আমাকে ক্ষমা করুন, নিশ্চয়ই আপনি শ্রেষ্ঠ দয়ালু।'
আদম তা বললেন, তারপর তার প্রতিপালক তাকে বললেন: বলো: 'আপনি ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, হে আল্লাহ! আপনি পবিত্র এবং আপনারই প্রশংসা। আমি নিজের ওপর জুলুম করেছি এবং মন্দ কাজ করেছি; সুতরাং আপনি আমার প্রতি দয়া করুন, নিশ্চয়ই আপনি শ্রেষ্ঠ দয়ালু।'
তিনি বলেন: আদম (আ.)-এর কান্না ও দুঃখ তাঁর বিপদের বিশালতার কারণে অত্যন্ত তীব্র হয়ে উঠেছিল, এমনকি ফেরেশতারাও তাঁর দুঃখে দুঃখিত হতো এবং তাঁর কান্নায় কাঁদত। তিনি জান্নাতের জন্য দুইশ বছর কাঁদলেন। অতঃপর আল্লাহ তাঁর কাছে জান্নাতের তাঁবুসমূহের মধ্য থেকে একটি তাঁবু পাঠালেন এবং সেটি কাবার স্থানে স্থাপন করলেন, কাবা নির্মিত হওয়ার আগে।
(খণ্ড: ১)
আর রিক্কাতু ওয়াল বুকাউ লিইবনু কুদামা
(পৃষ্ঠা: ٦٠)
وَفِي رِوَايَةٍ أُخْرَى، قَالَ: " فَبَكَى آدَمُ ثَلَاثَ مِائَةِ عَامٍ عَلَى جَبَلِ الْهِنْدِ، تَجْرِي دُمُوعُهُ فِي أَوْدِيَةِ جِبَالِهَا.
قَالَ: فَنَبَتَتْ بِتِلْكَ الْمَدَامِعِ أَشْجَارُ طِيبِكُمْ هَذَا، قَالَ: ثُمَّ خَرَجَ يَؤُمُّ الْبَيْتَ الْعَتِيقَ، فَجَعَلَ يَخْطُو الْخُطْوَةَ، فَيَكُونُ مَوَاضِعُ قَدَمَيْهِ دَسَاكِرُ وَعمْرَانٌ، وَبَيْنَهُمَا مَفَاوِزُ وَبَرَارِي، حَتَّى أَتَى الْبَيْتَ، وَطَافَ أُسْبُوعًا، فَبَكَى حَتَّى خَاضَ فِي دُمُوعِهِ إِلَى رُكْبَتَيْهِ، ثُمَّ صَلَّى، فَبَكَى سَاجِدًا حَتَّى فَاضَتْ دُمُوعُهُ وَجَرَتْ عَلَى الأَرْضِ، فَنُودِيَ عِنْدَ ذَلِكَ: يَا آدَمُ، قَدْ رَحِمْتُ ضَعْفَكَ، وَقَبِلْتُ تَوْبَتَكَ، وَغَفَرْتُ ذُنُوبَكَ، فَقُلْ: لا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، سُبْحَانَكَ وَبِحَمْدِكَ، عَمِلْتُ سُوءًا، وَظَلَمْتُ نَفْسِي، فَتُبْ عَلِيَّ إِنَّكَ أَنْتَ التَّوَّابُ الرِّحِيمُ، فَاغْفِرْ لِي وَأَنْتَ خَيْرُ الْغَافِرِينَ، وَارْحَمْنِي وَأَنْتَ خَيْرُ الرَّاحِمِينَ.
قَالَ: فَمَكَثَ بَعْدَ ذَلِكَ لا يُبْدِي عَنْ وَاضِحِهِ، حَتَّى أَتَاهُ الْمَلَكُ، فَقَالَ: حَيَّاكَ اللَّهُ يَا آدَمُ وَبَيَّاكَ.
قَالَ: فَضَحِكَ "
! 162 وَيُرْوَى عَنِ ابْنِ السَّمَّاكِ، قَالَ: حَدَّثَنِي عُمَرُ بْنُ ذَرٍّ، عَنْ مُجَاهِدٍ: " أَنَّ آدَمَ عليه السلام لَمَّا أَكَلَ مِنَ الشَّجَرَةِ تَسَاقَطَ عَنْهُ جَمِيعُ زِينَةٍ الْجَنَّةِ، وَلْم يَبْقَ
অন্য এক বর্ণনায় তিনি বলেন: "অতঃপর আদম ভারতের এক পাহাড়ের উপর তিনশত বছর ধরে কাঁদলেন, তাঁর চোখের পানি সেখানের পাহাড়ের উপত্যকাগুলোতে প্রবাহিত হতে লাগল।
তিনি বলেন: সেই চোখের পানির মাধ্যমে তোমাদের এই সুগন্ধি গাছগুলো উৎপন্ন হয়েছে। তিনি বলেন: এরপর তিনি বায়তুল আতীক অভিমুখে যাত্রা করলেন। তিনি যখন পা বাড়াতেন, তখন তাঁর পায়ের চিহ্নসমূহ জনপদ ও আবাদি ভূমিতে পরিণত হত, আর দুই পায়ের মাঝখানের স্থানগুলো মরুভূমি ও প্রান্তরে পরিণত হত। শেষ পর্যন্ত তিনি বায়তুল্লাহর কাছে আসলেন এবং সাতবার তওয়াফ করলেন। এরপর তিনি এত বেশি কাঁদলেন যে তাঁর চোখের পানিতে তিনি হাঁটু পর্যন্ত নিমজ্জিত হয়ে গেলেন। তারপর তিনি সালাত আদায় করলেন এবং সিজদাবনত হয়ে এমনভাবে কাঁদলেন যে তাঁর অশ্রু প্লাবিত হয়ে জমিনের ওপর বয়ে গেল। তখন ঘোষণা করা হলো: হে আদম! আমি তোমার দুর্বলতার ওপর দয়া করেছি, তোমার তাওবা কবুল করেছি এবং তোমার গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দিয়েছি। সুতরাং তুমি বলো: আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, আপনি পবিত্র এবং আপনারই সকল প্রশংসা; আমি মন্দ কাজ করেছি এবং নিজের ওপর জুলুম করেছি, সুতরাং আপনি আমার তাওবা কবুল করুন, নিশ্চয় আপনি তাওবা কবুলকারী ও পরম দয়ালু। অতএব আমাকে ক্ষমা করুন, আর আপনিই সর্বোত্তম ক্ষমাকারী। আর আমার ওপর দয়া করুন, আর আপনিই সর্বোত্তম দয়ালু।
তিনি বলেন: এরপর তিনি এমন অবস্থায় ছিলেন যে তাঁর শুভ্র দাঁত প্রকাশ করতেন না (অর্থাৎ তিনি হাসতেন না), যতক্ষণ না ফেরেশতা তাঁর কাছে এলেন এবং বললেন: আল্লাহ আপনাকে দীর্ঘজীবী করুন এবং আনন্দিত রাখুন, হে আদম!
তিনি বলেন: অতঃপর তিনি হাসলেন।
! ১৬২। ইবনুল সাম্মাক থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: ওমর ইবনে যার আমার কাছে মুজাহিদ থেকে বর্ণনা করেছেন যে: আদম আলাইহিস সালাম যখন সেই বৃক্ষ থেকে আহার করলেন, তখন তাঁর শরীর থেকে জান্নাতের সকল অলংকার ঝরে পড়ল এবং বাকি রইল না...
(খণ্ড: ১)
আর রিক্কাতু ওয়াল বুকাউ লিইবনু কুদামা
(পৃষ্ঠা: ٦١)
عَلَيْهِ شَيْءٌ مِنْ زِينَتِهَا إِلا التَّاجُ وَالإِكْلِيلُ، وَجَعَلَ لا يَسْتَتِرُ بِشَيْءٍ مِنْ وَرَقِ الْجَنَّةِ إِلا سَقَطَ عَنْهُ، فَالْتَفَتَ إِلَى حَوَّاءَ بَاكِيًا، وَقَالَ: اسْتَعَدِيِّ لِلْخُرُوجِ مِنْ جِوَارِ اللَّهِ، هَذَا أَوَّلُ شُؤْمِ الْمَعْصِيَةِ.
قَالَتْ: يَا آدَمُ مَا ظَنَنْتُ أَنَّ أَحَدًا يَحْلِفُ بِاللَّهِ كَاذِبًا.
وَذَلِكَ أَنَّ إِبْلِيسَ قَاسَمَهُمَا عَلَى الشَّجَرَةِ، وَآدَمُ فِي الْجَنَّةِ هَارِبًا، اسْتِحْيَاءً مِنْ رَبِّ الْعَالَمِينَ، فَتَعَلَّقَتْ بِهِ شَجَرَةٌ بِبَعْضِ أَغْصَانِهَا، فَظَنَّ آدَمُ أَنَّهُ قَدْ عُوجِلَ بِالْعُقُوبَةِ، فَنَكَّسَ رَأْسَهُ يَقُولُ: الْعَفْوَ الْعَفْوَ.
فَقَالَ اللَّهُ عز وجل: يَا آدَمُ أَفِرَارًا مِنِّي؟ قَالَ: بَلْ حَيَاءً مِنْكَ سَيِّدِي.
فَأَوْحَى اللَّهُ عز وجل إِلَى الْمَلَكَيْنِ: أَخْرِجَا آدَمَ وَحَوَّاءَ مِنْ جِوَارِي فَإِنَّهُمَا قَدْ عَصَيَانِي، فَنَزَعَ جِبْرِيلُ عليه السلام التَّاجَ عَنْ رَأْسِهِ، وَحَلَّ مِيكَائِيلُ الإِكْلِيلَ عَنْ جَبِينِهِ، فَلَمَّا هَبَطَ مِنْ مَلَكُوتِ الْقُدْسِ إِلَى دَارِ الْجُوعِ وَالْمَسْغَبَةِ، بَكَى عَلَى خَطِيئَتِهِ مِائَةَ سَنَةٍ، قَدْ رَمَى بِرَأْسِهِ عَلَى رُكْبَتَيْهِ، حَتَّى نَبَتَتِ الأَرْضُ عُشْبًا وَأَشْجَارًا مِنْ دُمُوعِهِ، حَتَّى نَقَعَ الدَّمْعُ فِي نُقَرِ الْجَلَاهِمِ وَأَقْعِيَتِهَا، فَمَرَّ بِهِ نَسْرٌ عَظِيمٌ قَدْ أَجْهَدَهُ الْعَطَشُ،
তাঁর ওপর জান্নাতের কোনো অলঙ্কারই অবশিষ্ট রইল না মুকুট এবং শিরোভূষণ ব্যতীত। তিনি জান্নাতের পাতা দ্বারা নিজেকে আবৃত করার চেষ্টা করলেই তা তাঁর দেহ থেকে খসে পড়তে লাগল। তখন তিনি ক্রন্দনরত অবস্থায় হাওয়ার দিকে ফিরে তাকালেন এবং বললেন: আল্লাহর সান্নিধ্য থেকে বেরিয়ে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হও, এটিই অবাধ্যতার প্রথম অশুভ পরিণতি।
তিনি (হাওয়া) বললেন: হে আদম, আমি কখনো কল্পনাও করিনি যে কেউ আল্লাহর নামে মিথ্যা শপথ করতে পারে।
আর তা এজন্য যে, ইবলিস সেই বৃক্ষের ব্যাপারে তাদের উভয়ের নিকট শপথ করেছিল। এমতাবস্থায় আদম রাব্বুল আলামীনের প্রতি লজ্জাবশত জান্নাতে পলায়ন করছিলেন, তখন একটি বৃক্ষের ডাল তাঁর সাথে আটকে গেল। আদম ধারণা করলেন যে তাঁকে হয়তো দ্রুত শাস্তির সম্মুখীন করা হচ্ছে, তাই তিনি মস্তক অবনত করে বলতে লাগলেন: ক্ষমা করুন, ক্ষমা করুন।
তখন আল্লাহ মহান ও পরাক্রমশালী বললেন: হে আদম, তুমি কি আমার নিকট থেকে পলায়ন করছ? তিনি বললেন: না, বরং আপনার প্রতি লজ্জাবশত হে আমার প্রভু।
অতঃপর আল্লাহ মহান ও পরাক্রমশালী ফেরেশতাদ্বয়কে ওহী করলেন: আদম ও হাওয়াকে আমার সান্নিধ্য থেকে বের করে দাও, কেননা তারা আমার অবাধ্যতা করেছে। তখন জিবরাঈল আলাইহিস সালাম তাঁর মস্তক থেকে মুকুটটি সরিয়ে নিলেন এবং মিকাইল তাঁর ললাট থেকে অলঙ্কারটি খুলে নিলেন। অতঃপর যখন তিনি পবিত্র ঊর্ধ্বজগত থেকে ক্ষুধা ও অনাহারের আবাসে অবতরণ করলেন, তখন তিনি নিজের ভুলের জন্য একশত বছর ধরে ক্রন্দন করলেন। তিনি তাঁর দুই হাঁটুর ওপর মাথা রেখে পড়ে থাকতেন, এমনকি তাঁর অশ্রুজল থেকে জমিনে ঘাস ও বৃক্ষরাজি উৎপন্ন হলো এবং তাঁর চোখের পানি উপত্যকার গর্তসমূহ ও নিম্নভূমিগুলোতে জমে গেল। এমতাবস্থায় একটি প্রকাণ্ড ঈগল তাঁর পাশ দিয়ে অতিক্রম করছিল যা প্রচণ্ড পিপাসায় কাতর ছিল।
(খণ্ড: ১)
আর রিক্কাতু ওয়াল বুকাউ লিইবনু কুদামা
(পৃষ্ঠা: ٦٢)
فَشَرِبَ مِنْ دُمُوعِ آدَمَ، وَأَنْطَقَ اللَّهُ سُبْحَانَهُ النَّسْرَ فَقَالَ: يَا آدَمُ أَنَا فِي هَذِهِ الأَرْضِ قَبْلَكَ بِأَلْفَيْ عَامٍ، وَقَدْ بَلَغْتُ شَرْقَ هَذِهِ الأَرْضِ وَغَرْبَهَا، وَشَرِبْتُ مِنْ بُطُونِ أَوْدِيَتِهَا، وَغُدْرَانِ جِبَالِهَا، وَسِيفِ بِحَارِهَا، مَا شَرِبْتُ مَاءً أَعْذَبَ وَلا أَطْيَبَ رَائِحَةً مِنْ هَذَا الْمَاءِ.
قَالَ آدَمُ: وَيْحَكَ يَا نَسْرُ! أَتَعْقِلُ مَا تَقُولُ؟ مِنْ أَيْنَ تَجِدُ عُذُوبَةَ دَمْعِ عَبْدٍ عَصَى رَبَّهُ وَجَرَى عَلَى خَدَّيْنِ عَاصِيَيْنِ؟ وَأَيُّ دَمْعٍ أَمَرُّ مِنْ دَمْعِ عَاصٍ! وَلَكِنْ أَظُنُّ أَنَّكَ أَيُّهَا النَّسْرُ أَنَّكَ تُعَيِّرُنِي لأَنِّي عَصَيْتُ رَبِّي، فَأُزْعِجْتُ مِنْ دَارِ النِّعْمَةِ إِلَى دَارِ الْبُؤْسِ وَالْمَسْكَنَةِ.
قَالَ النَّسْرُ: يَا آدَمُ أَمَّا مَا ذَكَرْتَ مِنَ التَّعْيِيرِ فَمَا أُعَيِّرُكَ، وَلَكِنْ هَكَذَا وَجَدْتُ طَعْمَ دُمُوعِكَ، وَأَيُّ دَمْعٍ أَعْذَبُ مِنْ دَمْعِ عَبْدٍ عَصَى رَبَّهُ، وَذَكَرَ ذَنْبَهُ، فَوَجِلَ قَلْبُهُ، وَخَشَعَ جِسْمُهُ، وَبَكَى عَلَى خَطِيئَتِهِ خَوْفًا مِنْ رَبِّهِ عز وجل؟ "
! 163 وَذَكَرَ الإِمَامُ أَحْمَدُ رحمه الله فِي الزُّهْدِ: حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ خَالِدٍ، حَدَّثَنَا رَبَاحٌ، قَالَ: حُدِّثتُ عَنْ شُعَيبٍ الْجُبَّائِيِّ، قَالَ: «كَانَتِ الشَّجَرَةُ الَّتِي نَهَى اللَّهُ عز وجل عَنْهَا آدَمَ وَزَوْجَتَهُ شِبْهُ الْبُرِّ، اسْمُهَا الدَّعةُ.
وَكَانَ لِبَاسُهُمَا النُّورُ»
এরপর সেটি আদমের চোখের পানি থেকে পান করল এবং আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা ঈগলটিকে বাকশক্তি দান করলেন। সে বলল: হে আদম, আমি এই জমিনে তোমার আসার দুই হাজার বছর আগে থেকে আছি। আমি এই জমিনের পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্তে পৌঁছেছি এবং এর উপত্যকার গভীর থেকে, পাহাড়ের জলাশয় থেকে এবং সমুদ্রের উপকূল থেকে পানি পান করেছি; কিন্তু আমি এই পানির চেয়ে অধিক মিষ্টি এবং অধিক সুগন্ধযুক্ত পানি আর কখনো পান করিনি।
আদম (আলাইহিস সালাম) বললেন: তোমার দুর্ভোগ হোক হে ঈগল! তুমি যা বলছ তা কি বুঝতে পারছ? এমন এক দাসের চোখের পানিতে তুমি মিষ্টতা কোথায় পেলে যে তার রবের অবাধ্য হয়েছে এবং যা দুটি পাপী গণ্ডদেশ বেয়ে প্রবাহিত হয়েছে? আর একজন পাপাচারীর চোখের পানির চেয়ে অধিক তিক্ত আর কী হতে পারে! বরং হে ঈগল, আমার মনে হয় তুমি আমাকে এজন্য লজ্জিত করছ যে, আমি আমার রবের অবাধ্য হয়েছি, ফলে আমাকে নিআমতের ঘর থেকে দুর্দশা ও অভাবের ঘরে বের করে দেওয়া হয়েছে।
ঈগলটি বলল: হে আদম, লজ্জিত করার যে বিষয়টি তুমি উল্লেখ করলে, আমি তোমাকে মোটেই লজ্জিত করছি না। বরং আমি তোমার চোখের পানির স্বাদ এমনই পেয়েছি। আর সেই দাসের চোখের পানির চেয়ে অধিক মিষ্টি আর কী হতে পারে, যে তার রবের নাফরমানি করার পর নিজের পাপকে স্মরণ করেছে, ফলে তার অন্তর প্রকম্পিত হয়েছে, তার দেহ বিনীত হয়েছে এবং সে তার পরাক্রমশালী ও মহিমান্বিত রবের ভয়ে নিজের ভুলের জন্য কেঁদেছে?
১৬৩. ইমাম আহমাদ (রাহিমাহুল্লাহ) 'আয-যুহদ' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন: আমাদের কাছে ইব্রাহিম বিন খালিদ বর্ণনা করেছেন, আমাদের কাছে রাবাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাকে শুআইব আল-জুব্বায়ী থেকে বর্ণনা করা হয়েছে, তিনি বলেন: "আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা আদম এবং তাঁর স্ত্রীকে যে গাছটি থেকে নিষেধ করেছিলেন তা দেখতে গমের মতো ছিল, যার নাম ছিল আদ-দাআ।
এবং তাঁদের পোশাক ছিল নূর (আলো)।"
(খণ্ড: ১)
আর রিক্কাতু ওয়াল বুকাউ লিইবনু কুদামা
(পৃষ্ঠা: ٦٣)
إِبْرَاهِيمُ عليه السلام! 164 أخبرنا الإِمَامُ أَبُو الْحَسَنِ عَلِيِّ بْنُ عَسَاكِرَ الْمُقْرِئُ، أخبرنا الأَمِينُ أَبُو طَالِبٍ الْيُوسُفِيُّ، أخبرنا أَبُو عَلِيِّ بْنُ الْمُذْهِبِ التَّمِيمِيُّ، أخبرنا أَبُو بَكْرِ بْنُ مَالِكٍ الْقَطِيعِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ، قَالَ: حَدَّثَنِي أَبِي، حَدَّثَنَا شَيْبَانُ، حَدَّثَنَا أَبُو هِلالٍ، حَدَّثَنَا بَكْرٌ، قَالَ: " لَمَّا أُلْقِيَ إِبْرَاهِيمُ فِي النَّارِ جَأَرَتْ عَامَّةُ الْخَلِيقَةِ إِلَى رَبِّهَا عز وجل فَقَالُوا: يَا رَبُّ، خَلِيلُكَ يُلْقَى فِي النَّارِ فَأْذَنْ لَنَا أَنْ نُطْفِئَ عَنْهُ.
فَقَالَ: هُوَ خَلِيلِي، لَيْسَ لِي فِي الأَرْضِ خَلِيلٌ غَيْرَهُ، وَأَنَا رَبُّهُ، لَيْسَ لَهُ رَبٌّ غَيْرِي، فَإِنِ اسْتَغَاثَكُمْ فَأَغِيثُوهُ، وَإِلا فَدَعُوهُ.
قَالَ: فَجَاءَ مَلَكُ الْقَطْرِ، فَقَالَ: يَا رَبُّ، خَلِيلُكَ يُلْقَى فِي النَّارِ، فَأْذَنْ لِي أَنْ أُطْفِئَ عَنْهُ بِالْقَطْرِ.
فَقَالَ: هُوَ خَلِيلِي، لَيْسَ لِي فِي الأَرْضِ خَلِيلٌ غَيْرَهُ، وَأَنَا رَبُّهُ لَيْسَ لَهُ رَبٌّ غَيْرِي، فَإِنِ اسْتَغَاثَكَ فَأَغِثْهُ، وَإِلا فَدَعْهُ.
قَالَ: فَلَمَّا أُلْقِيَ فِي النَّارَ دَعَا رَبَّهُ عز وجل بِدُعَاءٍ نَسِيَهُ أَبُو هِلالٍ.
قَالَ: فَقَالَ اللَّهُ عز وجل: {يَا نَارُ كُونِي بَرْدًا وَسَلامًا عَلَى إِبْرَاهِيمَ} [الأنبياء: 69] .
قَالَ: فَبَرَدَتْ يَوْمَئِذٍ عَلَى أَهْلِ الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ، فَلَمْ يَنْضُجْ بِهَا كُرَاعٌ "
! 165 وَأخبرنا أَبُو الْفَتْحِ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْبَاقِي، أخبرنا أَحْمَدُ بْنُ أَحْمَدَ،
ইবরাহিম আলাইহিস সালাম! ১৬৪ ইমাম আবুল হাসান আলী বিন আসাকির আল-মুকরি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আল-আমিন আবু তালিব আল-ইউসুফি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু আলী বিন আল-মুজাহহিব আল-তামিমি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু বকর বিন মালিক আল-কাতিয়ি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবদুল্লাহ ইবনুল আহমদ আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আমার পিতা আমাকে বর্ণনা করেছেন, শাইবান আমাদের বর্ণনা করেছেন, আবু হিলাল আমাদের বর্ণনা করেছেন, বকর বর্ণনা করেছেন: "যখন ইবরাহিমকে আগুনের মধ্যে নিক্ষেপ করা হলো, তখন সকল সৃষ্টি তাদের মহান ও মহিমান্বিত রব-এর কাছে ফরিয়াদ করল। তারা বলল: হে রব, আপনার খলিল (বন্ধু)-কে আগুনের মধ্যে নিক্ষেপ করা হচ্ছে, সুতরাং আমাদের অনুমতি দিন যাতে আমরা তার পক্ষ থেকে তা নিভিয়ে দিই।
তিনি বললেন: সে আমার খলিল, পৃথিবীতে তিনি ছাড়া আমার আর কোনো খলিল নেই, আর আমি তার রব, আমি ছাড়া তার কোনো রব নেই। যদি সে তোমাদের কাছে সাহায্য চায় তবে তাকে সাহায্য করো, অন্যথায় তাকে ছেড়ে দাও।
তিনি বলেন: এরপর বৃষ্টির ফেরেশতা এলেন এবং বললেন: হে রব, আপনার খলিলকে আগুনের মধ্যে নিক্ষেপ করা হচ্ছে, সুতরাং আমাকে অনুমতি দিন যাতে আমি বৃষ্টির মাধ্যমে তার পক্ষ থেকে তা নিভিয়ে দিই।
তিনি বললেন: সে আমার খলিল, পৃথিবীতে তিনি ছাড়া আমার আর কোনো খলিল নেই, আর আমি তার রব, আমি ছাড়া তার কোনো রব নেই। যদি সে তোমার কাছে সাহায্য চায় তবে তাকে সাহায্য করো, অন্যথায় তাকে ছেড়ে দাও।
তিনি বলেন: যখন তাকে আগুনের মধ্যে নিক্ষেপ করা হলো, তখন তিনি তার মহান ও মহিমান্বিত রব-এর কাছে এমন এক দোয়া করলেন যা আবু হিলাল ভুলে গেছেন।
তিনি বলেন: অতঃপর মহান ও মহিমান্বিত আল্লাহ বললেন: {হে আগুন, তুমি ইবরাহিমের জন্য শীতল ও শান্তিদায়ক হয়ে যাও} [আল-আম্বিয়া: ৬৯]।
তিনি বলেন: সেদিন পূর্ব ও পশ্চিমের সকল অধিবাসীর জন্য আগুন শীতল হয়ে গিয়েছিল, ফলে তাতে কোনো পশুর পায়াও রান্না করা সম্ভব হয়নি।"
! ১৬৫ এবং আবুল ফাতহ মুহাম্মদ বিন আবদুল বাকি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আহমদ বিন আহমদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন,
(খণ্ড: ১)
আর রিক্কাতু ওয়াল বুকাউ লিইবনু কুদামা
(পৃষ্ঠা: ٦٤)
أخبرنا الْحَافِظُ أَبُو نُعَيْمٍ أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ السّندِيُّ، حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلُّوَيْهِ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ عِيسَى، حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ بِشْرٍ، قَالَ: قَالَ مُقَاتِلٌ، وَسَعِيدٌ: " لَمَّا جِيءَ بِإِبْرَاهِيمَ عليه السلام، فَخَلَعُوا ثِيَابَهُ، وَشَدُّوا قِمَاطَهُ، وَوُضِعَ فِي الْمَنْجَنِيقِ: بَكَتِ السَّمَوَاتُ، وَالأَرْضُ، وَالْجِبَالُ، وَالشَّمْسُ، وَالْقَمَرُ، وَالْعَرْشُ، وَالْكُرْسِيُّ، وَالسَّحَابُ، وَالرِّيحُ، وَالْمَلَائِكَةُ، كُلٌّ يَقُولُ: يَا رَبُّ، عَبْدُكَ يُحْرَقُ، فَأْذَنْ لَنَا فِي نُصْرَتِهِ، فَقَالَتِ النَّارُ وَبَكَتْ: رَبِّ سَخَّرْتَنِي لِبَنِي آدَمَ وَعَبْدُكَ يُحْرَقُ بِي، فَأَوْحَى اللَّهُ إِلَيْهِمْ: إِنَّ عَبْدِي إيَّايَ عَبَدَ، وَفِي جَنْبِي أُوذِيَ، إِنْ دَعَانِي أَجَبْتُهُ، وَإِنِ اسْتَنْصَرَكُمْ فَانْصُرُوهُ، فَلَمَّا أَنْ رُمِيَ اسْتَقْبَلَهُ جِبْرِيلُ عليه السلام بَيْنَ الْمَنْجَنِيقِ وَالنَّارِ، فَقَالَ: السَّلامُ عَلَيْكَ يَا إِبْرَاهِيمُ، أَنَا جِبْرِيلُ، أَلَكَ حَاجَةٌ؟ قَالَ: أَمَا إِلَيْكَ فَلا! حَاجَتِي إِلَى رَبِّي "
دَاوُدُ عليه السلام! 166 وَأخبرنا أَبُو الْحَسَنِ عَلِيٌّ، أخبرنا عَبْدِ الْقَادِرِ بْنُ مُحَمَّدٍ، أخبرنا
হাফেজ আবু নুআইম আহমাদ বিন আব্দুল্লাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আহমাদ বিন সিন্দী আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, আল-হাসান বিন আল্লুওয়াইহ আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, ইসমাঈল বিন ঈসা আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, ইসহাক বিন বিশর আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: মুকাতিল এবং সাঈদ বলেছেন: "যখন ইব্রাহিম আলাইহিস সালামকে আনা হলো, তারা তার পোশাক খুলে ফেলল, তার বাঁধন শক্ত করল এবং তাকে মিনজানিকে (ক্ষেপণাস্ত্র যন্ত্র) রাখা হলো: তখন আকাশমন্ডলী, পৃথিবী, পাহাড়-পর্বত, সূর্য, চন্দ্র, আরশ, কুরসি, মেঘমালা, বাতাস এবং ফেরেশতারা কেঁদে উঠল। তারা সবাই বলছিল: হে রব, আপনার বান্দাকে পুড়িয়ে মারা হচ্ছে, তাকে সাহায্য করার জন্য আমাদের অনুমতি দিন। আগুনও কেঁদে উঠে বলল: হে রব, আপনি আমাকে আদম সন্তানের অধীন করেছেন অথচ আপনার বান্দাকে আমার দ্বারা পুড়ানো হচ্ছে। তখন আল্লাহ তাদের প্রতি ওহী পাঠালেন: আমার বান্দা তো কেবল আমারই ইবাদত করেছে এবং আমার খাতিরেই তাকে কষ্ট দেওয়া হচ্ছে। যদি সে আমাকে ডাকে তবে আমি তার ডাকে সাড়া দেব, আর সে যদি তোমাদের কাছে সাহায্য চায় তবে তোমরা তাকে সাহায্য করো। অতঃপর যখন তাকে নিক্ষেপ করা হলো, মিনজানিক ও আগুনের মাঝপথে জিবরাঈল আলাইহিস সালাম তার সামনে উপস্থিত হলেন এবং বললেন: হে ইব্রাহিম, আপনার প্রতি শান্তি বর্ষিত হোক, আমি জিবরাঈল, আপনার কি কোনো প্রয়োজন আছে? তিনি বললেন: আপনার কাছে তো নয়ই! আমার প্রয়োজন কেবল আমার রবের কাছে।"
দাউদ আলাইহিস সালাম! ১৬৬ এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু হাসান আলী, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্দুল কাদির বিন মুহাম্মদ, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন...
(খণ্ড: ১)
আর রিক্কাতু ওয়াল বুকাউ লিইবনু কুদামা
(পৃষ্ঠা: ٦٥)
التَّمِيمِيُّ، أخبرنا أَبُو بَكْرِ بْنُ مَالِكٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ، حَدَّثَنِي أَبِي، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، أخبرنا الْمَسْعُودِيُّ، عَنْ يُونُسَ بْنِ خَبَّابٍ: " أَنَّ دَاوُدَ عليه السلام سَجَدَ أَرْبَعِينَ يَوْمًا حَتَّى نَبَتَتِ الْخُضْرَةُ مِنْ دُمُوعِ عَيْنَيْهِ، فَقَالَ فِي آخِرِ ذَلِكَ: رَبِّ قَرُحَ الْجَبِينُ، وَرَقَأَ الدَّمْعُ، وَخَطِيئَةُ دَاوُدَ كَمَا هِيَ، فأُجِيبَ: يَا دَاوُدُ، أَظَمْآنٌ أَنْتَ فَتُسْقَى؟ أَمْ جَائِعٌ فَتُطْعَمُ؟ أَمْ مَظْلُومٌ فيُنْتَصَرُ لَكَ؟ قَالَ: فَنَحَبَ نَحْبَةً هَاجَ مَا هُنَالِكَ مِنَ الْخُضْرَةِ.
قَالَ: فَغُفِرَ لَهُ عِنْدَ ذَلِكَ "
! 167 قَالَ أَحْمَدُ: وَحَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ جَابِرٍ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ أَبِي مُهَاجِرٍ: " أَنَّ دَاوُدَ كَانَ يُعَاتَبُ فِي كَثْرَةِ الْبُكَاءِ، فَيَقُولُ: ذَرُونِي أَبْكِ قَبْلَ يَوْمِ الْبُكَاءِ، قَبْلَ تَحْرِيقِ الْعِظَامِ، وَاشْتِعَالِ اللِّحَى، وَقَبْلَ أَنْ يُؤْمَرَ بِي مَلَائِكَةٌ غِلَاظٌ
তামিমি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর বিন মালিক, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ, তিনি বলেন আমার পিতা আমাকে বর্ণনা করেছেন, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন ইয়াজিদ বিন হারুন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মাসউদি, ইউনুস বিন খাববাব থেকে বর্ণিত: "দাউদ আলাইহিস সালাম চল্লিশ দিন সেজদাহরত ছিলেন, এমনকি তাঁর চোখের পানিতে সবুজ ঘাস গঁজিয়ে গিয়েছিল। অবশেষে তিনি বললেন: হে আমার রব! কপাল ক্ষতবিক্ষত হয়ে গেছে, চোখের পানি শুকিয়ে গেছে, অথচ দাউদের গুনাহ তো আগের মতোই রয়ে গেছে। তখন উত্তর দেওয়া হলো: হে দাউদ! তুমি কি তৃষ্ণার্থ যে তোমাকে পান করানো হবে? নাকি তুমি ক্ষুধার্ত যে তোমাকে খাবার দেওয়া হবে? নাকি তুমি মজলুম যে তোমাকে সাহায্য করা হবে? বর্ণনাকারী বলেন: তখন তিনি এমনভাবে ডুকরে কেঁদে উঠলেন যে, সেখানকার সেই সবুজ ঘাসগুলো নড়ে উঠল।
তিনি বলেন: সেই সময়েই তাঁকে ক্ষমা করে দেওয়া হলো।
! ১৬৭ আহমাদ বলেন: এবং আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন ওয়ালিদ বিন মুসলিম, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন ইবনে জাবির, ইসমাঈল বিন আবু মুহাজির থেকে বর্ণিত: "দাউদকে অত্যধিক কান্নাকাটির জন্য ভর্ৎসনা করা হলে তিনি বলতেন: কান্নার দিন আসার আগেই আমাকে কাঁদতে দাও; হাড় পুড়ে যাওয়ার আগে, দাড়ি জ্বলে ওঠার আগে এবং আমার ব্যাপারে কঠোর ফেরেশতাদের নির্দেশ প্রদানের আগেই আমাকে কাঁদতে দাও।"
(খণ্ড: ১)
আর রিক্কাতু ওয়াল বুকাউ লিইবনু কুদামা
(পৃষ্ঠা: ٦٦)
شِدَادٌ لا يَعْصُونَ اللَّهَ مَا أَمَرَهُمْ، وَيَفْعَلُونَ مَا يُؤْمَرُونَ "
! 168 قَالَ: وَحَدَّثَنَا عَبْدُ الصَّمَدِ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْجَلِيلِ، قَالَ: حَدَّثَنَا شَهْرُ بْنُ حَوْشَبٍ، قَالَ: " كَانَ دَاوُدُ عليه السلام يُسَمِّي النُّوَّحَ فِي الْكِتَابِ، وَإِنَّهُ انْطَلَقَ حَتَّى أَتَى الْبَحْرَ، فَقَالَ: أَيُّهَا الْبَحْرُ، إِنِّي هَارِبٌ إِلَى رَبِّي، فَارٌّ مِنَ الطَّالِبِ الَّذِي لا يَنْأَى طَلَبُهُ، فَاجْعَلْنِي قَطْرَةً مِنْ مَائِكَ، أَوْ دَابَّةً مِمَّا فِيكَ، أَوْ تُرْبَةً مِنْ تُرَبِكَ، أَوْ صَخْرَةً مِنْ صَخْرِكَ.
فَقَالَ: أَيُّهَا الْعَبْدُ الْهَارِبُ الْفَارُّ مِنَ الطَّالِبِ الَّذِي لا يَنْأَى طَلَبُهُ، ارْجِعْ مِنْ حَيْثُ جِئْتَ، فَإِنَّهُ لَيْسَ شَيْءٌ مِنِّي إِلا بَارِزٌ يَنْظُرُ اللَّهُ تَعَالَى إِلَيْهِ، قَدْ أَحْصَاهُ وَعَدَّهُ عَدًّا، فَلَسْتُ أَسْتَطِيعُ ذَلِكَ، ثُمَّ انْطَلَقَ حَتَّى أَتَى الْجَبَلَ، فَقَالَ: أَيُّهَا الْجَبَلُ، إِنِّي هَارِبٌ فَارٌّ مِنَ الطَّالِبِ الَّذِي لا يَنْأَى طَلَبُهُ، اجْعَلْنِي حَجَرًا مِنْ حِجَارَتِكَ، أَوْ تُرْبَةً مِنْ تُرَبِكَ، أَوْ صَخْرَةً مِنْ صَخْرِكَ، أَوْ شَيْئًا مِمَّا فِي جَوْفِكَ.
فَقَالَ: أَيُّهَا الْعَبْدُ الْفَارُّ مِنَ الطَّالِبِ الَّذِي لا يَنْأَى طَلَبُهُ، إِنَّهُ لَيْسَ مِنِّي شَيْءٌ إِلا يَرَاهُ اللَّهُ عز وجل وَيَنْظُرُ إِلَيْهِ، قَدْ أَحْصَاهُ وَعَدَّه عَدًّا، فَلَسْتُ أَسْتَطِيعُ ذَلِكَ، ثُمَّ انْطَلَقَ حَتَّى أَتَى الأَرْضَ يَعْنِي الرَّمْلَ، فَقَالَ لَهَا: أَيُّهَا الرَّمْلُ،
কঠোর স্বভাবের, তারা আল্লাহ যা আদেশ করেন সে বিষয়ে তাঁর অবাধ্য হয় না এবং তারা যা আদিষ্ট হয় তা-ই পালন করে।
১৬৮. তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুস সামাদ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল জলীল, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন শাহর ইবনে হাওশাব, তিনি বলেন: "দাউদ আলাইহিস সালাম কিতাবে বিলাপকারী হিসেবে অভিহিত হতেন। তিনি চলতে চলতে সমুদ্রের নিকট পৌঁছালেন এবং বললেন: হে সমুদ্র, আমি আমার রবের দিকে পলায়ন করছি, এমন এক অনুসন্ধানকারীর নিকট থেকে পালাচ্ছি যার অনুসন্ধান থেকে দূরে থাকা যায় না। সুতরাং আমাকে তোমার পানির এক ফোঁটা বানিয়ে নাও, অথবা তোমার ভেতরের কোনো এক জীব, অথবা তোমার মাটির কোনো এক অংশ, অথবা তোমার পাথরের কোনো এক পাথর বানিয়ে নাও।
সমুদ্র বলল: হে পলায়নকারী বান্দা, যে সেই অনুসন্ধানকারীর নিকট থেকে পালাচ্ছ যার অনুসন্ধান থেকে দূরে থাকা যায় না, তুমি যেখান থেকে এসেছ সেখানেই ফিরে যাও। কেননা আমার মধ্যে এমন কিছুই নেই যা সুপ্রকাশিত নয় এবং আল্লাহ তাআলা তার প্রতি দৃষ্টিপাত করেন না; তিনি তা আয়ত্ত করেছেন এবং যথাযথভাবে গণনা করেছেন। সুতরাং আমি এটি করতে সক্ষম নই। অতঃপর তিনি চলতে চলতে পাহাড়ের নিকট পৌঁছালেন এবং বললেন: হে পাহাড়, আমি পলায়নকারী, সেই অনুসন্ধানকারীর নিকট থেকে পালাচ্ছি যার অনুসন্ধান থেকে দূরে থাকা যায় না। আমাকে তোমার পাথরসমূহের একটি পাথর বানিয়ে নাও, অথবা তোমার মাটির এক খণ্ড মাটি, অথবা তোমার বড় পাথরের একটি পাথর, অথবা তোমার পেটের ভেতরের কোনো কিছু বানিয়ে নাও।
পাহাড় বলল: হে পলায়নকারী বান্দা, যে সেই অনুসন্ধানকারীর নিকট থেকে পালাচ্ছ যার অনুসন্ধান থেকে দূরে থাকা যায় না, নিশ্চয়ই আমার এমন কিছুই নেই যা আল্লাহ আযযা ওয়া জাল দেখেন না এবং যার দিকে তিনি দৃষ্টিপাত করেন না; তিনি তা আয়ত্ত করেছেন এবং যথাযথভাবে গণনা করেছেন। সুতরাং আমি এটি করতে সক্ষম নই। অতঃপর তিনি চলতে চলতে ভূমির নিকট অর্থাৎ বালির নিকট পৌঁছালেন এবং তাকে বললেন: হে বালি,
(খণ্ড: ১)
আর রিক্কাতু ওয়াল বুকাউ লিইবনু কুদামা
(পৃষ্ঠা: ٦٧)
اجْعَلْنِي تُرْبَةً مِنْ تُرَبِكَ، أَوْ صَخْرَةً مِنْ صَخْرِكَ، أَوْ شَيْئًا مِمَّا فِي جَوْفِكَ، فَأَوْحَى اللَّهُ تَعَالَى إِلَى الرَّمْلِ أَنْ أَجِيبِيهِ.
فَقَالَتْ: أَيُّهَا الْعَبْدُ الْهَارِبُ مِنَ الطَّالِبِ الَّذِي لا يَنْأَى طَلَبُهُ، ارْجِعْ مِنْ حَيْثُ جِئْتَ، فَاجْعَلْ عَمَلَكَ قِسْمَيْنِ: لِرَغْبَةٍ أَوْ لِرَهْبَةٍ، فَعَلَى أَيِّهِمَا أَخَذَكَ رَبُّكَ لَمْ تُبَالِ "
! 169 أخبرنا أَبُو الْحُسَيْنِ أَحْمَدُ بْنُ حَمْزَةَ بْنِ عَلِيٍّ السُّلَمِيِّ، أخبرنا الْمُبَارَكُ بْنُ الْحَسَنِ، أنبانا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ عَلِيٍّ الْخَيَّاطُ، حَدَّثَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ دُوَسْت، أخبرنا الْحُسَيْنُ بْنُ صَفْوَانَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْحُسَيْنِ، حَدَّثَنِي حَفْصُ بْنُ عُمَرَ الْعَدَنِيُّ، حَدَّثَنَا أَصْحَابُنَا الصَّنْعَانِيُّونَ، عَنْ وَهْبِ بْنِ مُنَبِّهٍ، قَالَ: " لَمَّا أَصَابَ دَاوُدُ عليه السلام الْخَطِيئَةَ، جَعَلَ يَخْرُجُ إِلَى الْبَرَارِي، فَيَبْكِي، وَتَبْكِي الْوُحُوشُ مَعَهُ، ثُمَّ يَرْجِعُ إِلَى بَنِي إِسْرَائِيلَ، فَيَبْكِي وَيَبْكُونَ مَعَهُ، ثُمَّ يَرْجِعُ إِلَى أَهْلِهِ، فَيَبْكِي وَيَبْكُونَ مَعَهُ، فَلَمَّا طَالَ ذَلِكَ عَلَيْهِ لا يَرْجِعُ إِلَيْهِ بِشَيْءٍ، خَرَّ سَاجِدًا، فَبَكَى حَتَّى نَبَتَ الْبَقْلُ مِنْ دُمُوعِهِ، ثُمَّ نَحَبَ فَهَاجَ الْعُودُ وَاحْتَرَقَ مِنْ زَفِيرِهِ، فَنُودِيَ: يَا دَاوُدُ، أَمَظْلُومٌ فتُنْصَرُ؟ أَعَارٍ فَتُكْسَى؟ أَظَمْآنٌ فَتُسْقَى؟ أَجَائِعٌ فَتُطْعَمُ؟ قَالَ: لا، أَوْبَقَتْنِي خَطِيئَتِي، فَلْم يَرْجِعْ إِلَيْهِ بِشَيْءٍ، فَجَعَلَ يَئِنُّ فِي سُجُودِهِ عِنْدَ آخِرِ بُكَائِهِ، ثُمَّ انْقَطَعَ صَوْتُهُ، فَكَانَ لا يُسْمَعُ إِلا شِبْهُ الأَنِينِ الْخَفِيِّ، فَعِنْدَ ذَلِكَ رُحِمَ "
"আমাকে তোমার মাটির একটি অংশ করো, অথবা তোমার পাথরের একটি পাথর, অথবা তোমার অভ্যন্তরের কোনো কিছু। তখন আল্লাহ তাআলা বালুকে ওহী করলেন যেন তাকে উত্তর দেয়।"
"সে বলল: হে সেই অন্বেষণকারীর নিকট থেকে পলায়নপর বান্দা যার অন্বেষণ কখনো বিফল হয় না, তুমি যেখান থেকে এসেছ সেখানেই ফিরে যাও। অতঃপর তোমার আমলকে দুই ভাগে বিভক্ত করো: আকাঙ্ক্ষার জন্য অথবা ভীতির জন্য; তোমার রব এর যেটির মাধ্যমেই তোমাকে গ্রহণ করুন না কেন, তুমি পরোয়া করো না।"
! ১৬৯. আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-হুসাইন আহমাদ ইবন হামযাহ ইবন আলী আস-সুলামী, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আল-মুবারক ইবনুল হাসান, আমাদের জানিয়েছেন আবু বকর মুহাম্মাদ ইবন আলী আল-খাইয়াত, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আব্দুল্লাহ আহমাদ ইবন মুহাম্মাদ ইবন দুওয়াসত, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আল-হুসাইন ইবন সাফওয়ান, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ ইবন মুহাম্মাদ ইবনুল হুসাইন, আমার নিকট বর্ণনা করেছেন হাফস ইবন উমর আল-আদানী, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আমাদের সানআনি সাথীবর্গ, ওয়াহাব ইবন মুনাব্বিহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "যখন দাউদ আলাইহিস সালাম ভুলের সম্মুখীন হলেন, তখন তিনি নির্জন প্রান্তরের দিকে বেরিয়ে যেতেন এবং কাঁদতে থাকতেন, আর বন্য পশুরাও তাঁর সাথে কাঁদত। এরপর তিনি বনী ইসরাঈলের কাছে ফিরে আসতেন এবং কাঁদতেন, তাঁরাও তাঁর সাথে কাঁদত। এরপর তিনি তাঁর পরিবার-পরিজনের কাছে ফিরতেন এবং কাঁদতেন, তাঁরাও তাঁর সাথে কাঁদত। যখন এই অবস্থা দীর্ঘায়িত হলো এবং তাঁর প্রতি কোনো সাড়া দেওয়া হলো না, তখন তিনি সিজদায় লুটিয়ে পড়লেন এবং কাঁদতে থাকলেন, এমনকি তাঁর চোখের পানিতে ঘাস জন্মে গেল। এরপর তিনি এমন উচ্চৈঃস্বরে রোদন করলেন যে ডালপালা আন্দোলিত হলো এবং তাঁর তপ্ত দীর্ঘশ্বাসে তা পুড়ে গেল। তখন আহ্বান করা হলো: হে দাউদ, তুমি কি নির্যাতিত যে তোমাকে সাহায্য করা হবে? তুমি কি বস্ত্রহীন যে তোমাকে পরিধান করানো হবে? তুমি কি তৃষ্ণার্ত যে তোমাকে পান করানো হবে? তুমি কি ক্ষুধার্ত যে তোমাকে আহার করানো হবে? তিনি বললেন: না, বরং আমার পাপ আমাকে ধ্বংস করে দিয়েছে। কিন্তু তবুও তাঁর প্রতি কোনো সাড়া দেওয়া হলো না। তখন তিনি তাঁর কান্নার শেষ পর্যায়ে সিজদাবনত অবস্থায় গোঙাতে লাগলেন। এরপর তাঁর কণ্ঠস্বর রুদ্ধ হয়ে গেল এবং ক্ষীণ গোঙানির আওয়াজ ছাড়া আর কিছুই শোনা যাচ্ছিল না। ঠিক সেই মুহূর্তে তাঁর প্রতি দয়া করা হলো।"
(খণ্ড: ১)
আর রিক্কাতু ওয়াল বুকাউ লিইবনু কুদামা
(পৃষ্ঠা: ٦٨)
! 170 وَبِالإِسْنَادِ، قَالَ عَبْدُ اللَّهِ: حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ الرُّومِيُّ، حَدَّثَنَا أَسَدٌ، حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ، عَنِ ابْنِ أَبِي الْعَاتِكَةِ، قَالَ: " كَانَ مِنْ قَوْلِ دَاوُدَ عليه السلام: سُبْحَانَ خَالِقِ النُّورِ، إِلَهِي، إِذَا ذَكَرْتُ خَطِيئَتِي ضَاقَتْ عَلَيَّ الأَرْضُ بِرُحْبِهَا، وَإِذَا ذَكَرْتُ رَحْمَتَكَ ارْتَدَّ إِلَيَّ رُوحِي.
سُبْحَانَ خَالِقِ النُّورِ، إِلَهِي، خَرَجْتُ أَسْأَلُ أَطِبَّاءَ عِبَادِكَ أَنْ يُدَاوُوا خَطِيئَتِي، وَكُلُّهُمْ عَلَيْكَ يَدُلُّنِي "
! 171 قَالَ مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ: وَحَدَّثَنَا الْمُغِيرَةُ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنِي بَكْرُ بْنُ خُنَيْسٍ، عَنْ أَبِي عَبْدِ اللَّهِ الشَّامِيِّ، عَنْ نَوْفٍ الشَّامِيِّ، قَالَ: " لَمَّا أَصَابَ دَاوُدُ الْخَطِيئَةَ جَعَلَ يَبْكِي إِلَى بَنِي إِسْرَائِيلَ وَيَبْكُونَ إِلَيْهِ، ثُمَّ يَخْرُجُ إِلَى الْبَرَارِي، فَيَبْكِي إِلَى الْوُحُوشِ وَتَبْكِي إِلَيْهِ، ثُمَّ يُنَوِّحُ عَلَى نَفْسِهِ، وَيَعْكُفُ عَلَيْهِ الطَّيْرُ فَيَبْكِي لِبُكَائِهِ، ثُمَّ تَضِيقُ بِهِ خَطِيئَتُهُ فَيَسِيحُ فِي الْجِبَالِ وَيُنَادِي: إِلَيْك هَرَبْتُ إِلَهِي مِنْ عَظِيمِ جُرْمِي.
فَلا يَزَالُ كَذَلِكَ حَتَّى يُمْسِي، فَيَرْجِعُ إِلَى أَهْلِهِ، فَيَدْخُلُ بَيْتَ عِبَادَتِهِ، فَلا يَزَالُ مُصَلِّيًا، بَاكِيًا، سَاجِدًا.
قَالَ: فَأَتَاهُ ابْنٌ لَهُ صَغِيرٌ فَنَادَاهُ: يَا أَبَتَاهُ، هَجَمَ اللَّيْلُ، وَأَفْطَرَ الصَّائِمُونَ.
فَقَالَ: يَا بُنَيَّ، إِنَّ أَبَاكَ لَيْسَ كَمَا كَانَ يَكُونُ، إِنَّ أَبَاكَ قَدْ وَقَعَ فِي أَمْرٍ عَظِيمٍ، إِنَّ أَبَاكَ عَنْكَ وَعَنْ عَشَائِكَ مَشْغُولٌ.
قَالَ: فَرَجَعَ الْغُلَامُ بَاكِيًا إِلَى أُمِّهِ، فَجَاءَتِ
! ১৭০ এবং সনদের মাধ্যমে আবদুল্লাহ বলেন: আবদুল্লাহ আর-রূমী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আসাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আল-ওয়ালীদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইবন আবি আল-আতিকাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "দাউদ আলাইহিস সালামের কথাগুলোর মধ্যে এটিও ছিল: আলোর স্রষ্টার পবিত্রতা ঘোষণা করছি; হে আমার ইলাহ, যখন আমি আমার গুনাহের কথা স্মরণ করি, তখন জমিন তার প্রশস্ততা সত্ত্বেও আমার নিকট সংকীর্ণ হয়ে যায়, আর যখন আমি আপনার রহমতের কথা স্মরণ করি, তখন আমার মাঝে প্রাণ ফিরে আসে।
আলোর স্রষ্টার পবিত্রতা ঘোষণা করছি; হে আমার ইলাহ, আমি আপনার বান্দাদের মধ্য থেকে চিকিৎসকদের কাছে এই প্রার্থনা নিয়ে বের হয়েছিলাম যে তারা যেন আমার গুনাহের চিকিৎসা করে, কিন্তু তারা সবাই আমাকে আপনার দিকেই পথনির্দেশ করেছেন।"
! ১৭১ মুহাম্মদ ইবনুল হুসাইন বলেন: আর আমাদের নিকট আল-মুগীরা ইবনে মুহাম্মদ বর্ণনা করেছেন, বাকর ইবনে খুনাইস আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু আবদুল্লাহ আশ-শামী থেকে, তিনি নাউফ আশ-শামী থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "যখন দাউদ (আলাইহিস সালাম) গুনাহে লিপ্ত হলেন, তখন তিনি বনী ইসরাঈলের সামনে কাঁদতে শুরু করলেন এবং তারাও তাঁর সাথে কাঁদতে লাগল। অতঃপর তিনি মরুভূমির দিকে বেরিয়ে যেতেন এবং বন্যপশুদের সামনে কাঁদতেন, তারাও তাঁর সাথে কাঁদত। এরপর তিনি নিজের জন্য বিলাপ করতেন এবং পাখিরা তাঁর চারপাশে ভিড় করত ও তাঁর কান্নার কারণে কাঁদত। তারপর তাঁর গুনাহের কারণে তাঁর নিকট সবকিছু সংকীর্ণ হয়ে গেল, ফলে তিনি পাহাড়ে পাহাড়ে ঘুরে বেড়াতে লাগলেন এবং ডাক দিয়ে বলতে লাগলেন: হে আমার ইলাহ, আমার মহাগুনাহ থেকে বাঁচতে আমি আপনার দিকেই পলায়ন করেছি।
তিনি সন্ধ্যা পর্যন্ত এভাবেই থাকতেন; এরপর পরিবারের কাছে ফিরে আসতেন এবং নিজের ইবাদতখানায় প্রবেশ করতেন। সেখানে তিনি অবিরাম নামাজরত, ক্রন্দনরত ও সিজদারত থাকতেন।
বর্ণনাকারী বলেন: অতঃপর তাঁর এক ছোট সন্তান তাঁর কাছে এসে ডাক দিল: হে আব্বাজান, রাত নেমে এসেছে এবং রোজাদাররা ইফতার করেছে।
তিনি বললেন: হে বৎস, তোমার বাবা আগে যেমন ছিল এখন তেমন নেই। তোমার বাবা এক মহাসংকটে নিপতিত হয়েছে। তোমার বাবা তোমার থেকে এবং তোমার রাতের খাবার থেকে বিমুখ হয়ে অন্য কাজে নিমগ্ন।
তিনি বলেন: ফলে বালকটি কাঁদতে কাঁদতে তার মায়ের কাছে ফিরে গেল, অতঃপর তিনি আসলেন...
(খণ্ড: ১)
আর রিক্কাতু ওয়াল বুকাউ লিইবনু কুদামা
(পৃষ্ঠা: ٦٩)
الْمَرْأَةُ، فَقَالَتْ: يَا نَبِيَّ اللَّهِ، بِأَبِي أَنْتَ وَأُمِّي، قَدْ جَاءَ اللَّيْلُ، وَحَضَرَ فِطْرُ الصَّائِمِ، أَلا نَأْتِيكَ بِطَعَامٍ؟ فَنَادَاهَا مِنْ وَرَاءِ الْبَابِ: وَمَا يَصْنَعُ دَاوُدُ بِالطَّعَامِ بَعْدَ رُكُوبِ الْخَطِيئَةِ؟ .
فَلَمْ يَزَلْ عَلَى هَذَا حَتَّى غُفِرَ لَهُ "
! 172 وعن وَهْبِ بْنِ مُنَبِّهٍ، قَالَ: " كَانَ لِدَاوُدَ حَشِيَّةٌ مَحْشُوَّةٌ بِالرَّمَادِ، يُصَلِّي عَلَيْهَا، فَكَانَ يُصَلِّي، فَيَبْكِي فِي سُجُودِهِ حَتَّى يَبُلَّ مَوْضِعَ سُجُودِهِ، ثُمَّ تَغْلِبُهُ الدُّمُوعُ فَتَجْرِي حَتَّى يَبُلَّ مَوْضِعُ الْحَشِيَّةِ مِنْ تَحْتِهِ، وَكَانَ يُنَادِي فِي سُجُودِهِ: قَرَحَ الْجَبِينُ، وَجَفَّتِ الدَّمْعَةُ، وَخَطِيئَتِي لَمْ تُغْفَرْ لِي.
فَقِيلَ لَهُ: يَا دَاوُدُ، أَظَمْآنٌ فَتُسْقَى؟ أَجَائِعٌ فَتُطْعَمُ؟ أَعَارٍ فَتُكْسَى؟ قَالَ: فَازْدَادَ بُكَاءً عَلَى بُكَائِهِ، وَأَخَذَ فِي الأَنِينِ عِنْدَ مُنْقَطَعِ النَّحِيبِ.
قَالَ: فَعِنْدَ ذَلِكَ رَحِمَهُ، فَغُفِرَ لَهُ "
! 173 قَالَ مُحَمَّدٌ: حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ التَّيْمِيُّ، حَدَّثَنَا مُعَاذُ بْنُ زِيَادٍ التَّمِيمِيُّ، قَالَ: " لَمَّا أَصَابَ دَاوُدُ الْخَطِيئَةَ، جَعَلَ يَفْزَعُ إِلَى الْعُبَّادِ، فَيَبْكِي إِلَيْهِم فِي رُءُوسِ الْجِبَالِ، وَيَبْكُونَ إِلَيْهِ، فَأَتَى عَلَى رَجُلٍ مُنْفَرِدٍ، فَنَادَاهُ: أَنَا دَاوُدُ نَبِيُّ اللَّهِ صَاحِبُ الْخَطِيئَةِ، أَوْ مَا بَلَغَكَ أَيُّهَا الرَّجُلُ؟ قَالَ: فَبَكَى الرَّجُلُ بُكَاءً شَدِيدًا، ثُمَّ قَالَ: يَا دَاوُدُ قَدْ بَلَغَتْ خَطِيئَتُكَ إِلَى الْعَظَاءَةِ فِي جُحْرِهَا، فَكَيْفَ لَمْ تَبْلُغْ بَنِي إِسْرَائِيلَ؟ فَبَكَى دَاوُدُ عِنْدَ ذَلِكَ، وَخَرَّ سَاجِدًا، فَلَمْ يَزَلْ يَبْكِي حَتَّى نَبَتَ الْعُشْبُ مِنْ دُمُوعِهِ "
!
সেই মহিলাটি বললেন: হে আল্লাহর নবী, আপনার জন্য আমার পিতা-মাতা উৎসর্গিত হোক, রাত হয়ে গিয়েছে এবং রোজাদারের ইফতারের সময় উপস্থিত হয়েছে, আমরা কি আপনার জন্য খাবার নিয়ে আসব না? তিনি দরজার পেছন থেকে তাকে ডেকে বললেন: পাপ সংঘটিত করার পর দাউদ খাবার দিয়ে কী করবে? .
অতঃপর তিনি এভাবেই ছিলেন যতক্ষণ না তাঁকে ক্ষমা করা হলো। "
! ১৭২ এবং ওয়াহব বিন মুনাব্বিহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "দাউদের ছাই ভর্তি একটি গদি ছিল যার ওপর তিনি সালাত আদায় করতেন। তিনি সালাত আদায় করতেন এবং সিজদায় কান্নাকাটি করতেন যতক্ষণ না তাঁর সিজদার স্থান ভিজে যেত। এরপর অশ্রু প্রবল হয়ে গড়িয়ে পড়ত যতক্ষণ না তাঁর নিচের গদিটি ভিজে যেত। তিনি সিজদায় আর্তনাদ করে বলতেন: কপাল ক্ষতবিক্ষত হয়ে গেল, চোখের পানি শুকিয়ে গেল, অথচ আমার পাপ ক্ষমা করা হলো না।
অতঃপর তাঁকে বলা হলো: হে দাউদ, তুমি কি তৃষ্ণার্থ যে তোমাকে পান করানো হবে? তুমি কি ক্ষুধার্ত যে তোমাকে খাবার খাওয়ানো হবে? তুমি কি নগ্ন যে তোমাকে পোশাক পরানো হবে? বর্ণনাকারী বলেন: এতে তাঁর কান্নার ওপর কান্না বেড়ে গেল এবং কান্নার বেগ শেষ হওয়ার পর তিনি আর্তনাদ করতে শুরু করলেন।
তিনি বলেন: তখন তাঁকে দয়া করা হলো এবং তাঁকে ক্ষমা করা হলো। "
! ১৭৩ মুহাম্মদ বলেন: উবায়দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ আত-তাইমি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, মুআয বিন যিয়াদ আত-তামিমি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "যখন দাউদ পাপে লিপ্ত হলেন, তখন তিনি ইবাদতকারীদের নিকট ব্যাকুল হয়ে ছুটতে লাগলেন এবং পাহাড়ের চূড়ায় তাদের নিকট গিয়ে কাঁদতে লাগলেন, আর তারাও তাঁর সাথে কাঁদতে লাগল। অতঃপর তিনি একাকী এক ব্যক্তির নিকট আসলেন এবং তাকে ডেকে বললেন: আমি আল্লাহর নবী দাউদ, পাপে লিপ্ত ব্যক্তি। হে ব্যক্তি, তোমার কাছে কি আমার সংবাদ পৌঁছায়নি? বর্ণনাকারী বলেন: তখন লোকটি প্রচণ্ড কান্নায় ভেঙে পড়ল এবং বলল: হে দাউদ, তোমার পাপের সংবাদ তো গর্তের গিরগিটির নিকটও পৌঁছে গেছে, তবে বনী ইসরাঈলের কাছে কেন পৌঁছাবে না? দাউদ তখন কান্নায় ভেঙে পড়লেন এবং সিজদায় লুটিয়ে পড়লেন। তিনি নিরন্তর কাঁদতে থাকলেন যতক্ষণ না তাঁর চোখের পানিতে ঘাস গজিয়ে উঠল। "
!
(খণ্ড: ১)
আর রিক্কাতু ওয়াল বুকাউ লিইবনু কুদামা
(পৃষ্ঠা: ٧٠)
174 وَأخبرنا أَبُو طَالِبٍ الْمُبَارَكُ بْنُ خُضَيْرٍ، أخبرنا أَبُو غَالِبٍ شُجَاعُ بْنُ فَارِسٍ، أخبرنا أَبُو بَكْرٍ الْخَيَّاطُ، أخبرنا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ بْنُ دُوَسْت، أخبرنا أَبُو عَلِيٍّ، أخبرنا أَبُو بَكْرٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ، حَدَّثَنِي عَمْرُو بْنُ جَرِيرٍ الْبَجْلِيُّ، حَدَّثَنَا عَامِرُ بْنِ يَسَافٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ، قَالَ: بَلَغَنَا أَنَّهُ " كَانَ إِذَا كَانَ يَوْمٌ نَوَّحَ دَاوُدُ عليه السلام، مَكَثَ قَبْلَ ذَلِكَ سَبْعًا لا يَأْكُلُ الطَّعَامَ، وَلا يَشْرَبُ الشَّرَابَ، وَلا يَقْرَبُ النِّسَاءَ، فَإِذَا كَانَ قَبْلَ ذَلِكَ بِيَوْمٍ أُخْرِجَ لَهُ مِنْبَرٌ إِلَى الْبَرِّيَّةِ، وَأَمَرَ سُلَيْمَانُ مُنَادِيًا يَسْتَقْرِي الْبِلَادَ وَمَا حَوْلَهَا مِنَ الْغِيَاضِ، وَالآكَامِ، وَالْجِبَالِ، وَالْبَرَارِي، وَالدِّيَارَاتِ، وَالصَّوَامِعِ، وَالْبِيَعِ فَيُنَادِي فِيهَا: أَلا مَنْ أَحَبَّ أَنْ يَسْمَعَ نَوْحَ دَاوُدَ.
قَالَ: فَتَأْتِي الْوُحُوشُ مِنَ الْبَرَارِي وَالآكَامِ، وَتَأْتِي السِّبَاعُ مِنَ الْغِيَاضِ، وَتَأْتِي الْهَوَامُّ مِنَ الْجِبَالِ، وَتَأْتِي الطَّيْرُ مِنَ الأَوْكَارِ، وَيَأْتِي الرُّهْبَانُ مِنَ الصَّوَامِعِ وَالدِّيَارَاتِ، وَتَأْتِي الْعَذَارَى مِنْ خُدُورِهَا، وَيَجْتَمِعُ النَّاسُ لِذَلِكَ الْيَوْمِ، وَيَأْتِي دَاوُدُ عليه السلام حَتَّى يَرْقَى عَلَى الْمِنْبَرِ، وَيُحِيطُ بِهِ بَنُو إِسْرَائِيلَ، وَكُلُّ صِنْفٍ عَلَى حِدَتِهِ مُصْغُونَ إِلَيْهِ.
قَالَ: وَسُلَيْمَانُ عليه السلام قَائِمٌ عَلَى رَأْسِهِ، قَالَ: فَيَأْخُذُ عليه السلام فِي الثَّنَاءِ عَلَى رَبِّهِ، فَيَصِيحُونَ بِالْبُكَاءِ وَالصُّرَاخَ، ثُمَّ يَأْخُذُ فِي ذِكْرِ الْجَنَّةِ وَالنَّارِ، فَتَمُوتُ
174 এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু তালিব আল-মুবারক ইবনে খুদাইর, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু গালিব শুজা ইবনে ফারিস, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর আল-খইয়াত, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আব্দুল্লাহ ইবনে দুওয়াসত, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আলি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনুল হুসাইন, আমার কাছে বর্ণনা করেছেন আমর ইবনে জারির আল-বাজালি, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আমির ইবনে ইয়াসাফ, ইয়াহইয়া ইবনে আবি কাসির থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমাদের কাছে সংবাদ পৌঁছেছে যে, "যখন দাউদ আলাইহিস সালামের বিলাপের দিন আসত, তখন তার আগে তিনি সাত দিন এমনভাবে অবস্থান করতেন যে, কোনো খাদ্য গ্রহণ করতেন না, পানীয় পান করতেন না এবং স্ত্রীদের নিকটবর্তী হতেন না। যখন সেই দিনের আগের দিন আসত, তখন তাঁর জন্য লোকালয়ের বাইরে প্রান্তরে একটি মিম্বর বের করা হতো। সুলায়মান আলাইহিস সালাম একজন ঘোষণাকারীকে নির্দেশ দিতেন, সে জনপদগুলোতে এবং তার চারপাশের বন-জঙ্গল, টিলা, পাহাড়, মরুভূমি, মঠ ও গির্জাগুলোতে ঘুরে ঘুরে ঘোষণা করত: সাবধান! যে ব্যক্তি দাউদের বিলাপ শুনতে পছন্দ করো (সে যেন উপস্থিত হয়)।"
তিনি বলেন: তখন মরুভূমি ও টিলা থেকে বন্য পশুরা আসত, বন-জঙ্গল থেকে হিংস্র প্রাণীরা আসত, পাহাড় থেকে কীটপতঙ্গ আসত, বাসা থেকে পাখিরা আসত, মঠ ও গির্জা থেকে সন্ন্যাসীরা আসত এবং কুমারীরা তাদের পর্দাঘেরা ঘর থেকে বেরিয়ে আসত। সেই দিনের জন্য মানুষ সমবেত হতো। দাউদ আলাইহিস সালাম আসতেন এবং মিম্বরে আরোহণ করতেন। বনী ইসরাঈল তাঁকে পরিবেষ্টন করে থাকত এবং প্রতিটি শ্রেণি আলাদা আলাদাভাবে একাগ্রচিত্তে তাঁর দিকে কান পেতে থাকত।
তিনি বলেন: আর সুলায়মান আলাইহিস সালাম তাঁর শিয়রে দাঁড়িয়ে থাকতেন। তিনি বলেন: এরপর দাউদ আলাইহিস সালাম তাঁর রবের প্রশংসায় লিপ্ত হতেন, তখন উপস্থিত জনতা কান্নাকাটি ও আর্তনাদে ফেটে পড়ত। এরপর তিনি জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনায় রত হতেন, তখন মৃত্যু ঘটত (অর্থাৎ কেউ কেউ মারা যেত)...
(খণ্ড: ১)
আর রিক্কাতু ওয়াল বুকাউ লিইবনু কুদামা
(পৃষ্ঠা: ٧١)
طَائِفَةٌ مِنَ النَّاسِ، وَطَائِفَةٌ مِنَ السِّبَاعِ، وَطَائِفَةٌ مِنَ الْهَوَامِّ، وَطَائِفَةٌ مِنَ الْوُحُوشِ، وَطَائِفَةٌ مِنَ الرُّهْبَانِ وَالْعَذَارَى الْمُتَعَبِّدَاتِ، ثُمَّ يَأْخُذُ فِي ذِكْرِ الْمَوْتِ وَأَهْوَالِ الْقِيَامَةِ، وَيَأْخُذُ فِي النِّيَاحَةِ عَلَى نَفْسِهِ، قَالَ: فَتَمُوتُ طَائِفَةٌ مِنْ هَؤُلاءِ، وَطَائِفَةُ مِنْ هَؤُلاءِ، وَمِنْ كُلِّ صِنْفٍ طَائِفَةٌ، فَإِذَا رَأَى سُلَيْمَانُ مَا قَدْ كَثُرَ مِنَ الْمَوْتِ فِي كُلِّ فِرْقَةٍ مِنْهُمْ، نَادَى: يَا نَبِيَّ اللَّهِ، قَدْ فَرَّقْتَ الْمُسْتَمِعِينَ كُلَّ مُمَزَّقٍ، وَمَاتَتْ طَوَائِفُ مِنْ بَنِي إِسْرَائِيلَ، وَمَنِ الْوُحُوشِ، وَالْهَوَامِّ، وَالسِّبَاعِ وَالرُّهْبَانِ.
قَالَ: فَيَقْطَعُ النِّيَاحَةَ وَيَأْخُذُ فِي الدُّعَاءِ.
قَالَ: فَبَيْنَا هُوَ كَذَلِكَ، إِذْ نَادَاهُ عُبَّادُ بَنِي إِسْرَائِيلَ: يَا دَاوُدُ عَجِلْتَ بِطَلَبِ الْجَزَاءِ عَلَى رَبِّكَ.
قَالَ: فَخَرَّ دَاوُدُ عِنْدَ ذَلِكَ مَغْشِيًّا عَلَيْهِ.
قَالَ: فَلَمَّا نَظَرَ إِلَيْهِ سُلَيْمَانُ وَمَا أَصَابَهُ، أَتَى بِسَرِيرٍ فَحَمَلَهُ عَلَيْهِ، ثُمَّ أَمَرَ مُنَادِيًا: مَنْ كَانَ لَهُ مَعَ دَاوُدَ حَمِيمٌ أَوْ قَرِيبٌ، فَلْيَأْتِ بِسَرِيرٍ فَلْيَحْمِلْهُ، فَإِنَّ الَّذِينَ كَانُوا مَعَ دَاوُدَ قَدْ قَتَلَهُمْ ذِكْرُ الْجَنَّةِ وَالنَّارِ، فَإِنْ كَانَتِ الْمَرْأَةُ لَتَأْتِي بِالسَّرِيرِ، فَتَقِفُ عَلَى أَبِيهَا وَهُوَ مَيِّتٌ، فَتُنَادِي: وَا أَبَتَاهُ مَنْ قَتَلَهُ ذِكْرُ النَّارِ، وَا أَبَتَاهُ مَنْ قَتَلَهُ ذِكْرُ الْجَنَّةِ، وَا أَبَتَاهُ مَنْ قَتَلَهُ ذِكْرُ الْخَوْفِ مِنَ اللَّهِ تَعَالَى.
قَالَ: حَتَّى إِنَّ الْوُحُوشَ لَتَجْتَمِعُ عَلَى مَنْ مَاتَ مِنْهُمْ فَتَحْمِلُهُ، وَالسِّبَاعُ وَالْهَوَامُّ كَذَلِكَ.
قَالَ: وَيَتَفَرَّقُونَ، فَإِذَا أَفَاقَ دَاوُدُ مِنْ غَشْيَتِهِ نَادَى: يَا سُلَيْمَانُ مَا فَعَلَتْ عُبَّادُ بَنِي إِسْرَائِيلَ فُلانٌ وَفُلانٌ؟ فَيَعُدُّ نَفَرًا مِنْ بَنِي إِسْرَائِيلَ، فَيَقُولُ سُلَيْمَانُ: مُوِّتُوا عَنْ آخِرِهِمْ، فَيَقُومُ دَاوُدُ فَيَضَعُ يَدَهُ عَلَى رَأْسِهِ، ثُمَّ يَدْخُلُ بَيْتَ عِبَادَتِهِ، وَيُغْلِقُ عَلَيْهِ بَابَهُ ، ثُمَّ يُنَادِي: أَعَصْيَانٌ أَنْتَ عَلَى دَاوُدَ إِلَه دَاوُدَ؟ أَمْ كَيْفَ قَصَّرْتَ بِهِ أَنْ يَمُوتَ؟ خَوْفًا مِنْكَ؟ أَوْ فَرَقًا مِنْ نَارِكَ؟ أَوْ شَوْقًا إِلَى جَنَّتِكَ وَلِقَائِكَ؟ إِلَهَ دَاوُدَ، إِلَهَ دَاوُدَ، فَلا يَزَالُ كَذَلِكَ سَبْعًا يُنَادِي:
একদল মানুষ, একদল হিংস্র পশু, একদল কীট-পতঙ্গ, একদল বন্য প্রাণী এবং একদল সংসারত্যাগী সন্ন্যাসী ও ইবাদতকারিনী কুমারী; অতঃপর তিনি মৃত্যু ও কিয়ামতের ভয়াবহতা আলোচনা করতে শুরু করলেন এবং নিজের জন্য বিলাপ করতে লাগলেন। তিনি বললেন: তখন তাদের মধ্য থেকে একদল এবং এদের মধ্য থেকে একদল মারা গেল, প্রত্যেক প্রকার থেকে একদল করে। যখন সুলাইমান (আ.) তাদের প্রত্যেক দলের মধ্যে মৃত্যুর আধিক্য দেখলেন, তখন তিনি ডেকে বললেন: হে আল্লাহর নবী, আপনি শ্রোতাদের একেবারে ছিন্নভিন্ন করে দিয়েছেন; বনী ইসরাঈল, বন্য প্রাণী, কীট-পতঙ্গ, হিংস্র পশু এবং সন্ন্যাসীদের অনেক দল মারা গেছে।
তিনি বললেন: অতঃপর তিনি বিলাপ বন্ধ করলেন এবং দুআ করতে শুরু করলেন।
তিনি বললেন: তিনি যখন এই অবস্থায় ছিলেন, তখন বনী ইসরাঈলের ইবাদতকারীরা তাঁকে ডেকে বলল: হে দাউদ, আপনি আপনার রবের কাছে প্রতিদান চাওয়ার ক্ষেত্রে তাড়াহুড়ো করে ফেলেছেন।
তিনি বললেন: তখন দাউদ (আ.) মূর্ছিত হয়ে পড়ে গেলেন।
তিনি বললেন: সুলাইমান (আ.) যখন তাঁর দিকে তাকালেন এবং তাঁর এই অবস্থা দেখলেন, তখন তিনি একটি খাটিয়া নিয়ে এলেন এবং তাঁকে তাতে বহন করলেন। অতঃপর তিনি একজন ঘোষণাকারীকে আদেশ দিলেন: যার দাউদের সাথে কোনো অন্তরঙ্গ বন্ধু বা নিকটাত্মীয় ছিল, সে যেন একটি খাটিয়া নিয়ে আসে এবং তাকে বহন করে নিয়ে যায়। কেননা দাউদের সাথে যারা ছিল, জান্নাত ও জাহান্নামের আলোচনা তাদের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে। তখন কোনো নারী হয়তো খাটিয়া নিয়ে আসত এবং তার মৃত পিতার লাশের পাশে দাঁড়িয়ে চিৎকার করে বলত: হায় আমার পিতা! যাকে জাহান্নামের আলোচনা মেরে ফেলেছে। হায় আমার পিতা! যাকে জান্নাতের আলোচনা মেরে ফেলেছে। হায় আমার পিতা! যাকে আল্লাহ তাআলার ভয়ের আলোচনা মেরে ফেলেছে।
তিনি বললেন: এমনকি বন্য প্রাণীরাও তাদের মধ্য থেকে মৃতদের নিকট সমবেত হতো এবং তাদের বহন করত; হিংস্র পশু ও কীট-পতঙ্গরাও অনুরূপ করত।
তিনি বললেন: অতঃপর তারা বিচ্ছিন্ন হয়ে যেত। যখন দাউদ (আ.) তাঁর মূর্ছা থেকে চেতনা ফিরে পেতেন, তখন ডাকতেন: হে সুলাইমান, বনী ইসরাঈলের ইবাদতকারী অমুক অমুক ব্যক্তিরা কী করেছে? তিনি বনী ইসরাঈলের বেশ কিছু ব্যক্তির নাম নিতেন। সুলাইমান (আ.) বলতেন: তারা শেষ ব্যক্তিটি পর্যন্ত সবাই মারা গেছে। তখন দাউদ (আ.) উঠে দাঁড়িয়ে নিজের হাত তাঁর মাথার ওপর রাখতেন, অতঃপর তাঁর ইবাদতখানায় প্রবেশ করে নিজের ওপর দরজা বন্ধ করে দিতেন। তারপর ডেকে বলতেন: হে দাউদের ইলাহ, আপনি কি দাউদের প্রতি অসন্তুষ্ট? নাকি কেন আপনি তাকে মৃত্যু দানে বিলম্ব করলেন? আপনার ভয়ে? নাকি আপনার আগুনের আশঙ্কায়? নাকি আপনার জান্নাত ও আপনার সাক্ষাতের ব্যাকুলতায়? হে দাউদের ইলাহ, হে দাউদের ইলাহ! তিনি নিরবচ্ছিন্নভাবে সাতবার এভাবে ডেকে চলতেন: