(খণ্ড: ১)
আল জুযউল আউয়ালু ওয়াস সানি মিন ফাওয়াইদি ইবনু বিশরান
(পৃষ্ঠা: -)
الجزء الأول والثاني من فوائد ابن بشران القسم: كتب السنة
الكتاب: الجزء الأول والثاني من فوائد ابن بشران عن شيوخه (ضمن مجموع مطبوع باسم الفوائد لابن منده!)
المؤلف: علي بن محمد بن عبد الله بن بشران الأموي أبو الحسين البغدادي المعدل (ت 415هـ)
تحقيق: خلاف محمود عبد السميع
الناشر: دار الكتب العلمية، بيروت - لبنان
الطبعة: الأولى، 1423 هـ - 2002 م
عدد الصفحات: 245
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
ইবনে বিশরানের ফাওয়াইদ-এর প্রথম ও দ্বিতীয় অংশ বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ
কিতাব: তাঁর উস্তাদগণের থেকে বর্ণিত ইবনে বিশরানের ফাওয়াইদ-এর প্রথম ও দ্বিতীয় অংশ (ইবনে মান্দাহর আল-ফাওয়াইদ নামে মুদ্রিত সংকলনের অন্তর্ভুক্ত!)
লেখক: আলী বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন বিশরান আল-উমাবী আবুল হুসাইন আল-বাগদাদী আল-মুআদ্দাল (মৃত্যু ৪১৫ হিজরি)
তাহকীক: খাল্লাফ মাহমুদ আব্দুস সামী
প্রকাশক: দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ، বৈরুত - লেবানন
সংস্করণ: প্রথম، ১৪২৩ হিজরি - ২০০২ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৪৫
[কিতাবটির পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের অনুরূপ]
শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আল জুযউল আউয়ালু ওয়াস সানি মিন ফাওয়াইদি ইবনু বিশরান
(পৃষ্ঠা: ١٩٠)
572 - أَخْبَرَنَا أَبُو عَلِيٍّ إِسْمَاعِيلُ بْنُ مُحَمَّدٍ الصَّفَّارُ، فِي سَنَةِ 336، حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مَنْصُورٍ، أَنْبَأَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَنْبَأَنَا مَعْمَرٌ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنِ الأَغَرِّ بْنِ مُسْلِمٍ، هَكَذَا قَالَ ابْنُ مُسْلِمٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، وَأَبِي سَعِيدٍ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، قَالَ:
«مَا اجْتَمَعَ قَوْمٌ يَذْكُرُونَ اللَّهَ إِلا حَفَّتْهُمُ الْمَلائِكَةُ، وَغَشِيَتْهُمُ الرَّحْمَةُ، وَنَزَلَتْ عَلَيْهِمُ السَّكِينَةُ، وَذَكَرَهُمُ اللَّهُ فِيمَنْ عِنْدَهُ»
وَقَالَ: " إِنَّ
اللَّهَ عز وجل تَمَهَّلَ حَتَّى إِذَا كَانَتْ ثُلُثُ اللَّيْلِ الآخِرِ نَزَلَ إِلَى هَذِهِ السَّمَاءِ الدُّنْيَا فَنَادَى: هَلْ مِنْ مُذْنِبٍ يَتُوبُ؟ هَلْ مِنْ مُسْتَغْفِرٍ؟ هَلْ مِنْ دَاعٍ؟ هَلْ مِنْ سَائِلٍ؟ إِلَى الْفَجْرِ "
574 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرِو بْنِ الْبَخْتَرِيِّ الرَّزَّازُ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْمُنَادِي، حَدَّثَنَا يُونُسُ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا شَيْبَانُ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ نَبِيَّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم سُئِلَ
كَيْفَ يُحْشَرُ الْكَافِرُ عَلَى وَجْهِهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ؟ قَالَ: «الَّذِي أَمْشَاهُ عَلَى رِجْلِهِ فِي الدُّنْيَا قَادِرٌ عَلَى أَنْ يُمْشِيَهُ عَلَى وَجْهِهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ»
574 - أَخْبَرَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ الْمِصْرِيُّ، حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ شُعَيْبٍ،
৫৭২ - আবু আলী ইসমাঈল ইবন মুহাম্মদ আস-সাফফার ৩৩৬ হিজরি সনে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আহমদ ইবন মানসুর আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আবদুর রাজ্জাক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মা'মার আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু ইসহাক থেকে, আগার ইবন মুসলিম থেকে—ইবন মুসলিম এভাবেই বলেছেন—আবু হুরায়রা ও আবু সাঈদ থেকে, তারা আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন:
«যখনই কোনো সম্প্রদায় আল্লাহর জিকির করার জন্য একত্রিত হয়, ফেরেশতারা তাদের ঘিরে রাখে, রহমত তাদের আচ্ছন্ন করে নেয়, তাদের ওপর প্রশান্তি নাজিল হয় এবং আল্লাহ তাঁর নিকটবর্তীদের মাঝে তাদের কথা উল্লেখ করেন।»
এবং তিনি বলেছেন: "নিশ্চয়ই
মহান আল্লাহ অবকাশ দেন, এমনকি যখন রাতের শেষ এক-তৃতীয়াংশ অবশিষ্ট থাকে, তখন তিনি এই দুনিয়ার আসমানে নেমে আসেন এবং ঘোষণা করেন: কোনো পাপী আছে কি যে তাওবা করবে? কোনো ক্ষমা প্রার্থনাকারী আছে কি? কোনো আহ্বানকারী আছে কি? কোনো যাঞ্চাকারী আছে কি? এটি ফজর পর্যন্ত চলতে থাকে।"
৫৭৪ - মুহাম্মদ ইবন আমর ইবনুল বাখতারি আর-রাজজাজ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তাকে পড়ে শোনানো হয়েছে, মুহাম্মদ ইবন আবদুল্লাহ আল-মুনাদি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, ইউনুস ইবন মুহাম্মদ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, শায়বান আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, কাতাদা থেকে, আনাস থেকে বর্ণিত যে, আল্লাহর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে জিজ্ঞাসা করা হলো
কিয়ামতের দিন কাফিরকে কীভাবে তার মুখের ওপর ভর দিয়ে সমবেত করা হবে? তিনি বললেন: «যিনি তাকে দুনিয়াতে তার পায়ের ওপর চালিয়েছেন, তিনি তাকে কিয়ামতের দিন তার মুখের ওপর চালাতে সক্ষম।»
৫৭৪ - আলী ইবন মুহাম্মদ ইবন আহমদ আল-মিসরি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, সুলাইমান ইবন শুয়াইব আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন,
(খণ্ড: ১)
আল জুযউল আউয়ালু ওয়াস সানি মিন ফাওয়াইদি ইবনু বিশরান
(পৃষ্ঠা: ١٩١)
حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ ذَرٍّ، أَخْبَرَنِي مُجَاهِدٌ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي حَدِيثٍ ذَكَرَهُ:
«وَجُعِلَتْ لِيَ الأَرْضُ مَسْجِدًا أَيْنَمَا كُنْتُ، وَإِنْ لَمْ أَجِدِ الْمَاءَ تَيَمَّمْتُ بِالصَّعِيدِ ثُمَّ صَلَّيْتُ وَكَانَتْ لِي مَسْجِدًا وَطَهُورًا، وَلَمْ يُفْعَلْ ذَلِكَ بِأَحَدٍ كَانَ قَبْلِي»
575 - أَنْبَأَنَا دَعْلَجُ بْنُ أَحْمَدَ، حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ أَبِي طَالِبٍ، حَدَّثَنَا جَعْفَرُ بْنُ عِمْرَانَ التَّغْلِبِيُّ، حَدَّثَنَا الْمُحَارِبِيُّ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْخَمْشِ، عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ أَبِي رَوَّادٍ، قَالَ: كَانَتِ امْرَأَةٌ فِي أَسْفَلِ مَكَّةَ تُسَبِّحُ فِي كُلِّ يَوْمٍ اثْنَتَيْ عَشْرَةَ أَلْفَ تَسْبِيحَةٍ، فَمَاتَتْ فَلَمَّا بُلِغَ بِهَا الْقَبْرُ أُخِذَتْ مِنْ أَيْدِي الرِّجَالِ
576 - حَدَّثَنَا عَبْدُ الصَّمَدِ بْنُ عَلِيِّ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ مُكْرَمٍ، حَدَّثَنَا عُبَيْدُ بْنُ شَرِيكٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ بُكَيْرٍ، حَدَّثَنِي اللَّيْثُ، عَنْ عُقَيْلٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، أَنَّهُ قَالَ: أَخْبَرَنِي أَبُو بَكْرِ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّهُ قَالَ: قَالَتْ عَائِشَةُ وَأُمُّ سَلَمَةَ زَوْجَا النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم: «كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم
يُدْرِكُهُ الْفَجْرُ وَهُوَ جُنُبٌ ثُمَّ يَصُومُ يَوْمَئِذٍ» ، قَالَ: فَأَخْبَرْتُ بِذَلِكَ مَرْوَانَ بْنَ الْحَكَمِ، فَقَالَ: أَقْسَمْتُ لَتُخْبِرَنَّ هَذَا أَبَا هُرَيْرَةَ، قَالَ: فَقُدِّرَ أَنِ اجْتَمَعْنَا بِذِي الْحُلَيْفَةِ فَحَدَّثْتُ بِذَلِكَ أَبَا هُرَيْرَةَ، فَقَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ: كَذَلِكَ أَخْبَرَنِي الْفَضْلُ بْنُ عَبَّاسٍ
577 - أَخْبَرَنَا أَبُو عَلِيٍّ إِسْمَاعِيلُ بْنُ مُحَمَّدٍ الصَّفَّارُ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مَنْصُورٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدٌ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " قَالَ اللَّهُ تبارك وتعالى:
ابْنَ آدَمَ اذْكُرْنِي فِي نَفْسِكَ أَذْكُرْكَ فِي نَفْسِي، فَإِنْ ذَكَرْتَنِي فِي مَلأٍ ذَكَرْتُكَ فِي مَلأٍ مِنَ الْمَلائِكَةِ أَوْ قَالَ فِي مَلأٍ خَيْرٍ مِنْهُ، وَإِنْ دَنَوْتَ مِنِّي شِبْرًا دَنَوْتُ مِنْكَ ذِرَاعًا، وَإِنْ دَنَوْتَ مِنِّي ذِرَاعًا دَنَوْتُ مِنْكَ بَاعًا، وَإِنْ أَتَيْتَنِي تَمْشِي أَتَيْتُكَ
আমাদের কাছে খালেদ ইবনে আবদুর রহমান বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের কাছে উমর ইবনে যার বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন মুজাহিদ আমাকে সংবাদ দিয়েছেন আবু হুরায়রা থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে একটি হাদিসে বর্ণনা করেছেন যা তিনি উল্লেখ করেছেন:
«আমার জন্য জমিনকে সিজদাহর স্থান (মসজিদ) করা হয়েছে যেখানেই আমি থাকি না কেন, আর যদি আমি পানি না পাই তবে আমি পবিত্র মাটি দিয়ে তায়াম্মুম করি, তারপর নামাজ পড়ি; আর তা (জমিন) আমার জন্য সিজদাহর স্থান ও পবিত্রকারী করা হয়েছে, এবং এটি আমার আগে অন্য কারো জন্য করা হয়নি»৫৭৫ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন দা'লাজ ইবনে আহমদ, তিনি বলেন আমাদের কাছে ইবরাহিম ইবনে আবি তালিব বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের কাছে জাফর ইবনে ইমরান আত-তাগলিবি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের কাছে আল-মুহারিবি বর্ণনা করেছেন সাঈদ ইবনুল খামশ থেকে, তিনি আবদুল আজিজ ইবনে আবি রাওয়াদ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: মক্কার নিম্নাঞ্চলে একজন নারী ছিলেন যিনি প্রতিদিন বারো হাজার বার তাসবিহ পাঠ করতেন। যখন তিনি মারা গেলেন এবং তাকে কবরের দিকে নিয়ে যাওয়া হলো, তখন তাকে পুরুষদের হাত থেকে ছিনিয়ে নেওয়া হলো।
৫৭৬ - আমাদের কাছে আবদুস সামাদ ইবনে আলী ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মাকরাম বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের কাছে উবাইদ ইবনে শারিক বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের কাছে ইয়াহইয়া ইবনে বুকাইর বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমার কাছে আল-লাইস বর্ণনা করেছেন উকাইল থেকে, তিনি ইবনে শিহাব থেকে, তিনি বলেন: আমাকে আবু বকর ইবনে আবদুর রহমান সংবাদ দিয়েছেন তার পিতা থেকে যে, তিনি বলেছেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দুই স্ত্রী আয়েশা ও উম্মে সালামাহ বলেছেন: «রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের
ফজর হয়ে যেত এমতাবস্থায় যে তিনি অপবিত্র (জানাবাত) থাকতেন, অতঃপর তিনি সেদিন রোজা রাখতেন।» তিনি বলেন: আমি মারওয়ান ইবনুল হাকামকে তা জানালাম, তখন তিনি বললেন: আমি শপথ করে বলছি, তুমি অবশ্যই এটি আবু হুরায়রাকে জানাবে। তিনি বলেন: অতঃপর ঘটনাক্রমে আমাদের যুল-হুলাইফাতে সাক্ষাৎ হলো এবং আমি আবু হুরায়রাকে সেটি জানালাম। তখন আবু হুরায়রা বললেন: ফজল ইবনে আব্বাস আমাকে এভাবেই সংবাদ দিয়েছিলেন।
৫৭৭ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আলী ইসমাইল ইবনে মুহাম্মদ আস-সাফফার, তিনি বলেন আমাদের কাছে মুহাম্মদ ইবনে মনসুর বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের কাছে আবদুর রাজ্জাক বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের কাছে মুহাম্মদ বর্ণনা করেছেন কাতাদাহ থেকে, তিনি আনাস থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তায়ালা বলেছেন:
হে আদমের সন্তান! তুমি আমাকে তোমার মনে (নিজের মধ্যে) স্মরণ করো, আমি তোমাকে আমার সত্তায় (নিজের মধ্যে) স্মরণ করব। আর যদি তুমি আমাকে কোনো সমাবেশে স্মরণ করো, তবে আমি তোমাকে ফেরেশতাদের এক সমাবেশে স্মরণ করব অথবা তিনি বললেন এমন এক সমাবেশে যা তাদের চেয়ে উত্তম। আর যদি তুমি আমার দিকে এক বিঘত এগিয়ে আসো, তবে আমি তোমার দিকে এক হাত এগিয়ে যাব। আর যদি তুমি আমার দিকে এক হাত এগিয়ে আসো, তবে আমি তোমার দিকে এক বাহু পরিমাণ এগিয়ে যাব। আর যদি তুমি আমার কাছে হেঁটে আসো, তবে আমি তোমার কাছে দ্রুত আসব..."
(খণ্ড: ১)
আল জুযউল আউয়ালু ওয়াস সানি মিন ফাওয়াইদি ইবনু বিশরান
(পৃষ্ঠা: ١٩٢)
أُهَرْوِلُ "، قَالَ قَتَادَةُ: «وَاللَّهُ أَسْرَعُ بِالْمَغْفِرَةِ»
578 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرِو بْنِ الْبَخْتَرِيِّ، حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ الْجَبَّارِ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ فُضَيْلٍ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ، عَنْ قَيْسٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، قَالَ:
«خِلْفَةُ فَمِ الصَّائِمِ أَطْيَبُ عِنْدَ اللَّهِ مِنْ رِيحِ الْمِسْكِ»579 - أَخْبَرَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ الْمِصْرِيُّ، حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ يُونُسَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ صَالِحٍ، حَدَّثَنِي يَحْيَى بْنُ أَيُّوبَ، عَنْ يَاسِينَ بْنِ مُعَاذٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيِّبِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ صلى الله عليه وسلم، قَالَ:
«إِذَا أَدْرَكَ أَحَدُكُمُ الرَّكْعَتَيْنِ يَوْمَ الْجُمُعَةِ، فَقَدْ أَدْرَكَ الْجُمُعَةَ، وَإِنْ أَدْرَكَ رَكْعَةً فَلْيَرْكَعْ إِلَيْهَا أُخْرَى، وَإِنْ لَمْ يُدْرِكْ رَكْعَةً فَلْيُصَلِّ أَرْبَعًا»
580 - أَخْبَرَنَا أَبُو عَمْرٍو عُثْمَانُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ السَّمَّاكِ، إِمْلاءً، حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ سَلامٍ السَّوَّاقُ، حَدَّثَنَا زَكَرِيَّا بْنُ عَدِيٍّ، حَدَّثَنَا مُسْلِمُ بْنُ خَالِدٍ الزَّنْجِيُّ، عَنْ زِيَادِ بْنِ سَعْدٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُنْكَدِرِ، عَنْ صَفْوَانَ بْنِ سُلَيْمٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم:
«بُعِثْتُ عَلَى أَثَرِ ثَمَانِيَةِ آلافِ نَبِيٍّ مِنْهُمْ أَرْبَعَةُ آلافٍ مِنْ بَنِي إِسْرَائِيلَ»581 - أَخْبَرَنَا أَبُو الْحَسَنِ عَبْدُ الصَّمَدِ بْنُ عَلِيٍّ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ مُكْرَمٍ، حَدَّثَنَا عُبَيْدُ بْنُ عَبْدِ الْوَاحِدِ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بُكَيْرٍ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ عُقَيْلٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، أَنَّهُ قَالَ: أَخْبَرَنِي سَالِمُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، أَنَّهُ قَالَ: «يُقَاتِلُكُمُ الْيَهُودُ فَتُسَلَّطُونَ عَلَيْهِمْ حَتَّى يَقُولَ الْحَجَرُ يَا مُسْلِمُ هَذَا يَهُودِيٌّ
আমি দ্রুত বেগে অগ্রসর হই।" কাতাদাহ বলেন: "আর আল্লাহ ক্ষমা প্রদানের ক্ষেত্রে আরও অধিক দ্রুত।"
৫৭৮ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ ইবনে আমর ইবনুল বাখতারি, তিনি বলেন আমাদের বর্ণনা করেছেন আহমাদ ইবনে আব্দুল জাব্বার, তিনি বলেন আমাদের বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে ফুদাইল, তিনি ইসমাইল থেকে, তিনি কায়স থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন:
"রোযাদারের মুখের ঘ্রাণ আল্লাহর নিকট মিশকের সুগন্ধির চেয়েও অধিক সুগন্ধময়।"৫৭৯ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আলী ইবনে মুহাম্মদ আল-মিসরি, তিনি বলেন আমাদের বর্ণনা করেছেন হিশাম ইবনে ইউনুস, তিনি বলেন আমাদের বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ ইবনে সালিহ, তিনি বলেন আমার নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া ইবনে আইয়ুব, তিনি ইয়াসিন ইবনে মুয়ায থেকে, তিনি ইবনে শিহাব থেকে, তিনি সাঈদ ইবনুল মুসাইয়িব থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
"তোমাদের কেউ যদি জুমার দিন দুই রাকাত পায়, তবে সে জুমা পেল। আর যদি এক রাকাত পায়, তবে সে তার সাথে অপর এক রাকাত যুক্ত করে নেবে। আর যদি সে এক রাকাতও না পায়, তবে সে যেন চার রাকাত সালাত আদায় করে।"
৫৮০ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আমর উসমান ইবনে আহমাদ ইবনে আস-সাম্মাক শ্রুতলিপি প্রদানের মাধ্যমে, তিনি বলেন আমাদের বর্ণনা করেছেন হাসান ইবনে সালাম আস-সাওয়াক, তিনি বলেন আমাদের বর্ণনা করেছেন জাকারিয়া ইবনে আদি, তিনি বলেন আমাদের বর্ণনা করেছেন মুসলিম ইবনে খালিদ আজ-জাঞ্জি, তিনি যিয়াদ ইবনে সাদ থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনুল মুনকাদির থেকে, তিনি সাফওয়ান ইবনে সুলাইম থেকে, তিনি আনাস ইবনে মালিক থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
"আমি আট হাজার নবীর পদাঙ্ক অনুসরণ করে প্রেরিত হয়েছি, যাদের মধ্যে চার হাজার নবী ছিলেন বনী ইসরাঈল থেকে।"৫৮১ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল হাসান আব্দুস সামাদ ইবনে আলী ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মুকরাম, তিনি বলেন আমাদের বর্ণনা করেছেন উবাইদ ইবনে আব্দুল ওয়াহিদ, তিনি বলেন আমাদের বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে বুকাইর, তিনি বলেন আমাদের বর্ণনা করেছেন লাইস, তিনি উকাইল থেকে, তিনি ইবনে শিহাব থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: আমাকে সংবাদ দিয়েছেন সালিম ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে উমর, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: "ইয়াহুদীরা তোমাদের সাথে যুদ্ধ করবে, অতঃপর তোমরা তাদের ওপর বিজয়ী হবে, এমনকি পাথর বলবে: হে মুসলিম! এই যে এক ইয়াহুদী"
(খণ্ড: ১)
আল জুযউল আউয়ালু ওয়াস সানি মিন ফাওয়াইদি ইবনু বিশরান
(পৃষ্ঠা: ١٩٣)
وَرَائِي فَاقْتُلْهُ»
582 - أَخْبَرَنَا حَمْزَةُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْعَبَّاسُ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُونُسَ، حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ الْحُصَيْنِ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُلاثَةَ، حَدَّثَنَا ثَوْرُ بْنُ يَزِيدَ، عَنْ خَالِدِ بْنِ مَعْدَانَ، قَالَ: سَمِعْتُ عَبْدَ الْمَلِكِ بْنَ مَرْوَانَ، يُحَدِّثُ عَنْ مَرْوَانَ بْنِ الْحَكَمِ، عَنْ زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ، قَالَ: شَكَوْتُ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَرَقًا أَجِدُهُ، فَقَالَ لِي: "
إِذَا أَرَدْتَ أَنْ تَنَامَ وَأَخَذْتَ مَضْجَعَكَ، فَقُلْ: هَدَأَتِ الْعُيُونُ وَغَارَتِ النُّجُومُ، وَأَنْتَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ "، قَالَ: فَقُلْتُهَا فَأَذْهَبَ اللَّهُ عز وجل مَا كُنْتُ أَجِدُ
583 - أَخْبَرَنَا دَعْلَجُ بْنُ أَحْمَدَ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْن عَلِيّ بْنِ شُعَيْبٍ، حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ الدَّوْرَقِيِّ، حَدَّثَنَا زَيْدُ بْنُ الدَّوْرَقِيِّ، حَدَّثَنَا زَيْدُ بْنُ الْحُبَابِ، قَالَ: سَمِعْتُ سُفْيَانَ الثَّوْرِيَّ، يَقُولُ: قَالَ حَبِيبُ بْنُ أَبِي ثَابِتٍ، مَا اسْتَقْرَضْتُ مِنْ أَحَدٍ أَحَبُّ إِلَيَّ مِنْ أَنْ أَسْتَقْرِضَ مِنْ نَفْسِي، فَسَأَلْتُهُ كَيْفَ تَسْتَقْرِضُ مِنْ نَفْسِكَ؟ قَالَ: إِذَا طَلَبَتْ مِنِّي شَيْئًا أَقُولُ لَهَا اصْبِرِي حَتَّى يَجِيءَ اللَّهُ تَعَالَى بِهِ مِنْ كَذَا، بِهِ مِنْ كَذَا، بِهِ مِنْ كَذَا
584 - أَخْبَرَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ مُحَمَّدٍ الصَّفَّارُ، حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مَنْصُورٍ الرَّمَادِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَنْبَأَنَا مَعْمَرٌ، عَنْ هَمَّامِ بْنِ مُنَبِّهٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم:
«إِذَا هَمَّ عَبْدِي بِالْحَسَنَةِ فَاكْتُبُوهَا لَهُ حَسَنَةً، فَإِنْ عَمِلَهَا فَاكْتُبُوهَا بِعَشْرِ أَمْثَالِهَا، فَإِذَا هَمَّ بِالسَّيِّئَةِ فَعَمِلَهَا فَاكْتُبُوهَا سَيِّئَةً وَاحِدَةً، فَإِنْ تَرَكَهَا فَاكْتُبُوهَا لَهُ حَسَنَةً»
585 - أَخْبَرَنَا عَبْدُ الصَّمَدِ بْنُ عَلِيِّ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ مُكْرَمٍ، حَدَّثَنَا عُبَيْدُ بْنُ عَبْدِ الْوَاحِدِ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بُكَيْرٍ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ عُقَيْلٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ،
আমার পেছনে থাকলে তাকে হত্যা করো।"
৫৮২ - হামযাহ ইবনে মুহাম্মাদ আল-আব্বাস আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মুহাম্মাদ ইবনে ইউনুস আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, আমর ইবনুল হুসাইন আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে উলাসাহ আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, সাওরী ইবনে ইয়াযীদ আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন খালিদ ইবনে মা'দান থেকে, তিনি বলেন: আমি আব্দুল মালিক ইবনে মারওয়ানকে মারওয়ান ইবনুল হাকাম থেকে, তিনি যায়েদ ইবনে সাবিত (রা.) থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে আমার অনিদ্রার অভিযোগ করলাম যা আমি অনুভব করছিলাম। তিনি আমাকে বললেন: "
যখন তুমি ঘুমানোর ইচ্ছা করবে এবং বিছানায় যাবে, তখন বলবে: 'চক্ষুসমূহ শান্ত হয়েছে এবং নক্ষত্ররাজি ডুবে গিয়েছে, আর আপনি চিরঞ্জীব ও সবকিছুর ধারক'।" তিনি বলেন: আমি তা পাঠ করলাম, ফলে মহান আল্লাহ আমার সেই কষ্ট দূর করে দিলেন যা আমি অনুভব করছিলাম।
৫৮৩ - দালজ ইবনে আহমদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মুহাম্মাদ ইবনে আলী ইবনে শুআইব আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, আহমদ ইবনে আদ-দাওরাকী আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, যাইদ ইবনে আদ-দাওরাকী আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, যাইদ ইবনুল হুবাব আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আমি সুফিয়ান সাওরীকে বলতে শুনেছি, হাবীব ইবনে আবু সাবিত বলেছেন: "কারো কাছ থেকে ঋণ নেওয়ার চেয়ে নিজের নফসের (নিজের) কাছ থেকে ঋণ নেওয়া আমার কাছে বেশি প্রিয়।" আমি তাকে জিজ্ঞাসা করলাম, আপনি নিজের থেকে কীভাবে ঋণ নেন? তিনি বললেন: "যখন সে (নফস) আমার কাছে কিছু চায়, তখন আমি তাকে বলি, ধৈর্য ধরো যতক্ষণ না মহান আল্লাহ তা অমুক অমুক মাধ্যম থেকে নিয়ে আসেন।"
৫৮৪ - ইসমাঈল ইবনে মুহাম্মাদ আস-সাফফার আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আহমদ ইবনে মানসূর আর-রামাদী আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, আব্দুর রাজ্জাক আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, মা'মার আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হাম্মাম ইবনে মুনাব্বিহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "
যখন আমার বান্দা কোনো নেক কাজের সংকল্প করে, তখন তোমরা তার জন্য একটি নেকি লিখে রাখো। আর যদি সে তা সম্পন্ন করে, তবে তার জন্য দশ গুণ নেকি লিখে রাখো। আর যখন সে কোনো পাপ কাজের সংকল্প করে এবং তা করে ফেলে, তবে তার জন্য একটি পাপ লেখো। আর যদি সে তা বর্জন করে, তবে তার জন্য একটি নেকি লিখে রাখো।"
৫৮৫ - আব্দুস সামাদ ইবনে আলী ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে মুকরম আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, উবাইদ ইবনে আব্দুল ওয়াহিদ আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, ইয়াহইয়া ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে বুকাইর আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, লাইস আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন উকাইল থেকে, তিনি ইবনে শিহাব থেকে...
(খণ্ড: ১)
আল জুযউল আউয়ালু ওয়াস সানি মিন ফাওয়াইদি ইবনু বিশরান
(পৃষ্ঠা: ١٩٤)
أَخْبَرَنِي سَالِمُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم،
يَقُولُ لِهِلالِ رَمَضَانَ: «إِذَا رَأَيْتُمُوهُ فَصُومُوا، وَإِذَا رَأَيْتُمُوهُ فَأَفْطِرُوا، فَإِنْ غُمَّ عَلَيْكُمْ فَاقْدُرُوا لَهُ»
586 - أَخْبَرَنَا أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ الْمِصْرِيُّ، حَدَّثَنَا يُوسُفُ بْنُ يَزِيدَ، حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ أَبِي عَبَّادٍ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ عُقْبَةَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم «كَانَ
إِذَا صَلَّى الْجُمُعَةَ انْصَرَفَ فَصَلَّى فِي بَيْتِهِ رَكْعَتَيْنِ» ، وَكَانَ ابْنُ عُمَرَ يَفْعَلُ ذَلِكَ587 - أَخْبَرَنَا دَعْلَجُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ دَعْلَجٍ، سَمِعْتُ الْجَارُودَ، يَقُولُ: سَمِعْتُ الرَّبِيعَ بْنَ سُلَيْمَانَ، يَقُولُ: سَمِعْتُ الشَّافِعِيَّ، يَقُولُ: إِذَا وَجَدْتُمْ سُنَّةً مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم خِلافَ قَوْلِي فَخُذُوا بِالسُّنَّةِ وَدَعُوا قَوْلِي، فَإِنِّي أَقُولُ بِهَا
588 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرٍو الْبَخْتَرِيُّ، حَدَّثَنَا حَنْبَلُ بْنُ إِسْحَاقَ، حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ الْفَضْلُ بْنُ دُكَيْنٍ، حَدَّثَنَا صَخْرُ بْنُ جُوَيْرِيَةَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، قَالَ:
«الْوَاشِمَةَ وَالْمُسْتَوْشِمَةَ وَالْوَاصِلَةَ وَالْمُسْتَوْصِلَةَ» ، يَعْنِي لَعَنَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم، رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ عَنْ يُوسُفَ بْنِ مُوسَى عَنْ أَبِي نُعَيْمٍ
589 - حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ مُحَمَّدٍ الصَّفَّارُ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدِ بْنِ عُتْبَةَ الْكِنْدِيُّ، حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَعْلَى، عَنْ حُمَيْدٍ الأَعْرَجِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْحَارِثِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «عَجِبْتُ لِغَافِلٍ وَلا يُغْفَلُ عَنْهُ، وَعَجِبْتُ لِمَنْ يُؤَمِّلُ الدُّنْيَا وَالْمَوْتُ يَطْلُبُهُ، وَعَجِبْتُ لِضَاحِكٍ مِلْءَ فِيهِ
সালিম ইবনে আবদুল্লাহ আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি,
রমজানের চাঁদ সম্পর্কে তিনি বলছেন: "যখন তোমরা তা দেখবে তখন রোজা রাখো, এবং যখন তোমরা তা দেখবে তখন রোজা ভঙ্গ করো (ইফতার করো)। আর যদি তা তোমাদের নিকট মেঘাচ্ছন্ন থাকে, তবে তার হিসাব করো" তাঁর জন্য।
৫৮৬ - আবুল হাসান আলী ইবনে মুহাম্মদ আল-মিসরি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ইউসুফ ইবনে ইয়াজিদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইয়াকুব ইবনে আবু আব্বাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইসমাইল ইবনে ইব্রাহিম ইবনে উকবাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, নাফে’ থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
"যখন জুমার সালাত আদায় করতেন, তখন ফিরে যেতেন এবং নিজ ঘরে দুই রাকাত সালাত আদায় করতেন"; আর ইবনে উমরও তা-ই করতেন।
৫৮৭ - দালাজ ইবনে আহমদ ইবনে দালাজ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আমি জারুদকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি রাবি’ ইবনে সুলাইমানকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি শাফি’ঈকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: যখন তোমরা আমার কথার বিপরীতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কোনো সুন্নাহ পাবে, তখন তোমরা সুন্নাহকে গ্রহণ করো এবং আমার কথা বর্জন করো; কারণ আমি সেই সুন্নাহর মতেই কথা বলি।
৫৮৮ - মুহাম্মদ ইবনে আমর আল-বাখতারি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হানবাল ইবনে ইসহাক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু নুআইম আল-ফাদল ইবনে দুকাইন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সাখর ইবনে জুয়ায়রিয়াহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, নাফে’ থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন:
"উল্কি অঙ্কনকারিণী ও উল্কি গ্রহণকারিণী এবং পরচুলা সংযোজনকারিণী ও পরচুলা গ্রহণকারিণী"—অর্থাৎ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লানত করেছেন; এটি ইমাম বুখারি বর্ণনা করেছেন ইউসুফ ইবনে মুসা থেকে, তিনি আবু নুআইম থেকে।
৫৮৯ - ইসমাইল ইবনে মুহাম্মদ আস-সাফফার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবনে উবাইদ ইবনে উতবাহ আল-কিন্দি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, উসমান ইবনে সাঈদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইয়াহইয়া ইবনে ইয়া’লা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হুমাইদ আল-আ’রাজ থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনুল হারিস থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আমি সেই উদাসীন ব্যক্তির জন্য বিস্মিত হই অথচ তার ব্যাপারে উদাসীন থাকা হয় না (আল্লাহ তার প্রতি সজাগ), আর আমি সেই ব্যক্তির জন্য বিস্মিত হই যে দুনিয়ার আশা করে অথচ মৃত্যু তাকে খুঁজছে, আর আমি সেই ব্যক্তির জন্য বিস্মিত হই যে অট্টহাসি হাসে (অথচ সে জানে না আল্লাহ তার প্রতি সন্তুষ্ট কি না)।"
(খণ্ড: ১)
আল জুযউল আউয়ালু ওয়াস সানি মিন ফাওয়াইদি ইবনু বিশরান
(পৃষ্ঠা: ١٩٥)
وَلا يَدْرِي أَأَرْضَى اللَّهَ أَمْ أَسْخَطَهُ»
590 - حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ الْمِصْرِيُّ، حَدَّثَنَا رَوْحُ بْنُ الْفَرَجِ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سُلَيْمَانَ الْجُعْفِيُّ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ فُضَيْلٍ، عَنْ بَيَانٍ، عَنْ أَبِي عَمْرٍو الشَّيْبَانِيِّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم سُئِلَ
أَيُّ الأَعْمَالِ أَفْضَلُ؟ قَالَ: «الصَّلاةُ لِوَقْتِهَا، ثُمَّ بِرُّ الْوَالِدَيْنِ، ثُمَّ الْجِهَادُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ»
591 - أَخْبَرَنَا حَمْزَةُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْعَبَّاسِ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بُكَيْرٍ الْحَضْرَمِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ أَبِي حَازِمٍ، عَنْ أَبِي حَازِمٍ، عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: «مَا بَيْنَ بَيْتِي وَمِنْبَرِي رَوْضَةٌ مِنْ رِيَاضِ الْجَنَّةِ، وَقَوَائِمُ مِنْبَرِي رَوَاتِبُ فِي الْجَنَّةِ»
592 - أَخْبَرَنَا أَبُو عَمْرٍو عُثْمَانُ بْنُ أَحْمَدَ، حَدَّثَنَا جَعْفَرٌ الْحَنَّاطُ، صَاحِبُ أَبِي ثَوْرٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الصَّمَدِ بْنُ يَزِيدَ، قَالَ: سَمِعْتُ فُضَيْلَ بْنَ عِيَاضٍ، يَقُولُ: سُئِلَ الْمُبَارَكُ: مَنِ النَّاسُ؟ قَالَ: الْعُلَمَاءُ، قِيلَ: فَمَنِ الْمُلُوكُ؟ قَالَ: الزُّهَّادُ، قِيلَ: فَمَنِ السَّفِيهُ؟ قَالَ: الَّذِي يَأْكُلُ بِدِينِهِ.
593 - أَخْبَرَنَا دَعْلَجُ بْنُ أَحْمَدَ، حَدَّثَنَا عِيسَى بْنُ سُلَيْمَانَ، حَدَّثَنَا دَاوُدُ بْنُ رُشَيْدٍ، قَالَ: أَنْشَدَنِي يَحْيَى بْنُ مَعِينٍ:
الْمَالُ يَذْهَبُ حِلُّهُ وَحَرَامُهُ
… يَوْمًا وَيَبْقَى فِي غَدٍ آثَامُهُ
وَيَطِيبُ مَا يَحْوِي وَيَكْسِبُ كَفُّهُ
… وَيَكُونُ فِي حُسْنِ الْحَدِيثِ كَلامُهُ
نَطَقَ النَّبِيُّ لَنَا بِهِ عَنْ رَبِّهِ
… فَعَلَى النَّبِيِّ صَلاتُهُ وَسَلامُهُ
594 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرٍو الرَّزَّازُ، حَدَّثَنَا سَعْدَانُ بْنُ نَصْرٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ
এবং সে জানে না সে আল্লাহকে সন্তুষ্ট করেছে নাকি অসন্তুষ্ট করেছে।
৫৯০ - আলী ইবনে মুহাম্মদ আল-মিসরি আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, রাওহ ইবনুল ফারাজ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, ইয়াহইয়া ইবনে সুলাইমান আল-জু’ফী আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবনে ফুযাইল আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, বয়ান থেকে, তিনি আবু আমর আশ-শায়বানী থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল
কোন আমলটি সর্বোত্তম? তিনি বললেন: «সময়মতো নামায আদায় করা, তারপর পিতা-মাতার সাথে সদাচরণ করা, তারপর জিহাদ আল্লাহর পথে»
৫৯১ - হামযাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনুল আব্বাস আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মুহাম্মদ ইবনে বুকাইর আল-হাযরামি আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, আবদুল আযীয ইবনে আবি হাযিম আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি আবু হাযিম থেকে, তিনি সাহল ইবনে সাদ থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: «আমার ঘর এবং আমার মিম্বরের মধ্যবর্তী স্থানটি জান্নাতের বাগানসমূহ থেকে একটি বাগান, আর আমার মিম্বরের পায়াগুলো জান্নাতে সুপ্রতিষ্ঠিত»
৫৯২ - আবু আমর উসমান ইবনে আহমদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু সাউরের সাথী জাফর আল-হান্নাত আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, আবদুস সামাদ ইবনে ইয়াযীদ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি ফুযাইল ইবনে ইয়াজকে বলতে শুনেছি: আল-মুবারককে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: মানুষ কারা? তিনি বললেন: ওলামায়ে কেরাম। জিজ্ঞাসা করা হলো: তবে রাজন্যবর্গ কারা? তিনি বললেন: যাহিদগণ। জিজ্ঞাসা করা হলো: তবে নির্বোধ কে? তিনি বললেন: যে ব্যক্তি নিজ দ্বীনের বিনিময়ে ভক্ষণ করে।
৫৯৩ - দালাজ ইবনে আহমদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ঈসা ইবনে সুলাইমান আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, দাউদ ইবনে রুশাইদ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন আমাকে এই কবিতা পাঠ করে শুনিয়েছেন:
সম্পদের হালাল ও হারাম একদিন নিঃশেষ হয়ে যাবে
… কিন্তু আগামীতে তার পাপসমূহ বাকি থেকে যাবে
তবে যা সে ধারণ করে এবং তার হাত যা কামাই করে তা উত্তম হয়ে যায়
… আর তার কথাগুলো সুন্দর বাণীর অন্তর্ভুক্ত হয়
নবী আমাদের নিকট তাঁর প্রতিপালকের পক্ষ থেকে তা ব্যক্ত করেছেন
… সুতরাং নবীর উপর আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক
৫৯৪ - মুহাম্মদ ইবনে আমর আর-রাজ্জায আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, সাদান ইবনে নাসর আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবনে...
(খণ্ড: ১)
আল জুযউল আউয়ালু ওয়াস সানি মিন ফাওয়াইদি ইবনু বিশরান
(পৃষ্ঠা: ١٩٦)
عُبَيْدٍ، عَنْ مِسْعَرٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ عَامِرٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ: «كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم
يَحْتَجِمُ وَلا يَظْلِمُ أَحَدًا أَجْرَهُ»595 - أَخْبَرَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْمِصْرِيِّ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي مَرْيَمَ عن الْفِرْيَابِيِّ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَعْقِلٍ، عَنْ عَدِيِّ بْنِ حَاتِمٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم:
«اتَّقُوا النَّارَ وَلَوْ بِشِقِّ تَمْرَةٍ»596 - أَخْبَرَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَحْمَدَ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنَا أَبُو بَدْرٍ شُجَاعُ بْنُ الْوَلِيدِ، حَدَّثَنَا حَارِثَةُ بْنُ مُحَمَّدٍ، عَنْ عَمْرَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، يَقُولُ:
«لا زَكَاةَ فِي مَالٍ حَتَّى يَحُولَ عَلَيْهِ الْحَوْلُ»597 - أَخْبَرَنَا دَعْلَجُ بْنُ أَحْمَدَ، حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ أَبِي طَالِبٍ، حَدَّثَنَا هُدْبَةُ بْنُ عَبْدِ الْوَهَّابِ، أَنْبَأَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ يَزِيدَ بْنِ جَابِرٍ، قَالَ: قُلْتُ لِيَزِيدَ بْنِ مَرْثَدٍ: مَالِي أَرَى عَيْنَيْكَ لا تَجِفُّ؟ قَالَ: وَمَا مُسَاءَلَتُكَ؟ قَالَ: قُلْتُ: لَعَلَّ اللَّهَ عز وجل يَنْفَعُ بِهِ، قَالَ: إِنَّ اللَّهَ تَعَالَى تَوَعَّدَ لِي إِنْ أَنَا عَصَيْتُهُ أَنْ يَسْجِنَنِي فِي النَّارِ وَاللَّهِ لَوْ تَوَعَّدَنِي أَنْ يَسْجِنَنِي فِي الْحَمَّامِ كُنْتُ حَرِيًّا أَنْ لا يَجْنِيَ لِي دَمْعٌ، فَقُلْتُ: هَكَذَا أَنْتَ فِي خَلْوَاتِكَ؟ قَالَ: وَاللَّهِ إِنَّهُ لَتُوضَعُ الْقَصْعَةُ بَيْنَ أَيْدِينَا فَتُعْرَضُ لِي فَأَبْكِي وَيَبْكِي أَهْلِي وَيَبْكِي أَهْلِي وَلا يَدْرُونَ مَا أَبْكَانَا، وَاللَّهِ إِنِّي لأَسْكُنُ إِلَى أَهْلِي فَيَعْرِضُ إِلَيَّ فَيَحُولُ بَيْنِي وَبَيْنَ مَا أُرِيدُ، فَيَقُولُ أَهْلِي يَا وَيْحَهَا مَا خُصِصْتُ بِهِ
উবাইদ থেকে, তিনি মিসআর থেকে, তিনি আমর ইবনে আমির থেকে, তিনি আনাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন:
«রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সিঙা লাগাতেন এবং তিনি কারও পারিশ্রমিক দিতে জুলুম করতেন না।»৫৯৫ - আলী ইবনে মুহাম্মদ ইবনুল মিসরি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ইবনে আবি মারইয়াম আল-ফিরইয়াবি থেকে আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, সুফিয়ান আমাদের কাছে আবু ইসহাক থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে মাকিল থেকে, তিনি আদি ইবনে হাতিম (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন:
«তোমরা জাহান্নামের আগুন থেকে বেঁচে থাকো, যদিও তা একটি খেজুরের অর্ধাংশ দিয়েও হয়।»৫৯৬ - উসমান ইবনে আহমদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মুহাম্মদ ইবনে উবাইদুল্লাহ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আবু বদর শুজা ইবনুল ওয়ালিদ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, হারিসা ইবনে মুহাম্মদ আমুরাহ থেকে, তিনি আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি:
«কোনো সম্পদে জাকাত নেই যতক্ষণ না তার ওপর এক বছর অতিক্রান্ত হয়।»৫৯৭ - দালাজ ইবনে আহমদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ইব্রাহিম ইবনে আবি তালিব আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, হুদবাহ ইবনে আবদুল ওয়াহাব আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, ওয়ালিদ ইবনে মুসলিম আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবদুর রহমান ইবনে ইয়াজিদ ইবনে জাবির আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি ইয়াজিদ ইবনে মারসাদকে বললাম: "আমার কী হলো যে আমি আপনার চোখ দুটিকে কখনও শুকাতে দেখছি না?" তিনি বললেন: "তোমার এ প্রশ্নের কারণ কী?" তিনি (বর্ণনাকারী) বললেন: আমি বললাম: "হয়তো আল্লাহ মহামহিম এর দ্বারা কাউকে উপকৃত করবেন।" তিনি বললেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা আমাকে এই ভয় দেখিয়েছেন যে, আমি যদি তাঁর অবাধ্য হই তবে তিনি আমাকে জাহান্নামে বন্দি করবেন। আল্লাহর কসম! যদি তিনি আমাকে কেবল গোসলখানায় বন্দি করার ভয়ও দেখাতেন, তবুও আমার চোখ থেকে অশ্রু বন্ধ না হওয়াই সমীচীন ছিল।" আমি বললাম: "আপনি কি আপনার নির্জন অবস্থায়ও এমন থাকেন?" তিনি বললেন: "আল্লাহর কসম! নিশ্চয়ই যখন আমাদের সামনে খাবারের পাত্র রাখা হয়, তখন আমার সামনে (জাহান্নামের দৃশ্য) উপস্থাপিত হয় এবং আমি কাঁদতে থাকি, আর আমার পরিবারও কাঁদে; তারা কাঁদে অথচ জানে না কিসের কারণে আমরা কাঁদছি। আল্লাহর কসম! আমি যখন আমার স্ত্রীর কাছে স্বস্তি খুঁজি, তখনো তা আমার সামনে ভেসে ওঠে এবং আমার ও আমার কামনার মাঝে আড়াল হয়ে দাঁড়ায়। তখন আমার স্ত্রী আফসোস করে বলে: 'হায় দুর্ভোগ! আমার ভাগ্যে কী জুটল!'"
(খণ্ড: ১)
আল জুযউল আউয়ালু ওয়াস সানি মিন ফাওয়াইদি ইবনু বিশরান
(পৃষ্ঠা: ١٩٧)
مَعَكَ مِنْ طُولِ الْحَزَنِ مَا تَقَرُّ لِي مَعَكَ عَيْنٌ
598 - أَخْبَرَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الصَّفَّارِ، حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مَنْصُورٍ الرَّمَادِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَنْبَأَنَا مَعْمَرٌ، عَنْ سُهَيْلِ بْنِ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم:
«مَنِ اطَّلَعَ عَلَى قَوْمٍ فِي بَيْتِهِمْ بِغَيْرِ إِذْنٍ فَقَدْ حَلَّ لَهُمْ أَنْ يَفْقَئُوا عَيْنَيْهِ»599 - أَخْبَرَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ الْمِصْرِيُّ، حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ شُعَيْبٍ، حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، حَدَّثَنَا يُونُسُ بْنُ الْحَارِثِ، عَنْ أَبِي عَوْنٍ الثَّقَفِيِّ، عَنْ الْمُغِيرَةِ بْنِ شُعْبَةَ، قَالَ: «كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم
يَسْتَحِبُّ أَنْ يُصَلِّيَ عَلَى الْحَصِيرِ أَوْ فَرْوَةٍ مَدْبُوغَةٍ»600 - حَدَّثَنَا أَبُو عَمْرٍو عُثْمَانُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ السَّمَّاكِ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدِ اللَّهِ الْمُنَادِي، حَدَّثَنَا أَبُو بَدْرٍ، حَدَّثَنَا زَائِدَةُ بْنُ قُدَامَةَ، عَنْ عَمْرِو بْنِ يَحْيَى الأَنْصَارِيِّ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ:
«لَيْسَ فِيمَا دُونَ خَمْسِ ذَوْدٍ صَدَقَةٌ، وَلَيْسَ فِيمَا دُونَ خَمْسِ أَوَاقٍ صَدَقَةٌ، وَلَيْسَ فِيمَا دُونَ خَمْسِ أَوْسَاقٍ صَدَقَةٌ»
601 - أَخْبَرَنَا أَبُو أَحْمَدَ حَمْزَةُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْحَارِثِ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُونُسَ، حَدَّثَنَا مُؤَمَّلُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ ثَابِتٍ الْبَنَّانِيِّ، عَنْ عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي لَيْلَى، عَنْ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ، قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا أَوَى إِلَى فِرَاشِهِ، قَالَ: «اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْلَمْتُ وَجْهِي إِلَيْكَ، وَفَوَّضْتُ أَمْرِي إِلَيْكَ، لا مَلْجَأَ وَلا مَنْجَى
আপনার সাথে দীর্ঘ বিষণ্নতার কারণে আমার চক্ষু আপনার সান্নিধ্যে শীতল হয়।
৫৯৮ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইসমাঈল বিন মুহাম্মদ বিন আস-সাফফার, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আহমাদ বিন মানসুর আর-রামানি, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবদুর রাজ্জাক, আমাদের জানিয়েছেন মা’মার, সুহাইল বিন আবি সালিহ থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন:
«যে ব্যক্তি অনুমতি ছাড়াই কোনো সম্প্রদায়ের ঘরের ভেতর উঁকি দিল, তাদের জন্য তার চক্ষু উপড়ে ফেলা বৈধ হয়ে গেল»৫৯৯ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আলী বিন মুহাম্মদ আল-মিসরী, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন সুলাইমান বিন শুআইব, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন খালিদ বিন আবদুর রহমান, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন ইউনুস বিন আল-হারিস, আবু আওন আস-সাকাফী থেকে, তিনি আল-মুগীরাহ বিন শু’বাহ (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন:
«রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) চাটাই অথবা প্রক্রিয়াজাত চামড়ার উপর সালাত আদায় করা পছন্দ করতেন»৬০০ - আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু আমর উসমান বিন আহমাদ বিন আস-সাম্মাক, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন উবাইদুল্লাহ আল-মুনাদী, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু বদর, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন যায়িদাহ বিন কুদামাহ, আমর বিন ইয়াহইয়া আল-আনসারী থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি আবু সাঈদ আল-খুদরী (রা.) থেকে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন:
«পাঁচটির কম উটের ক্ষেত্রে কোনো সদকা (যাকাত) নেই, পাঁচ উকিয়ার কম (রুপার) ক্ষেত্রে কোনো সদকা নেই এবং পাঁচ ওয়াসাকের কম (শস্যের) ক্ষেত্রে কোনো সদকা নেই»
৬০১ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আহমাদ হামযাহ বিন মুহাম্মদ বিন আল-হারিস, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন ইউনুস, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন মুআম্মাল বিন ইসমাঈল, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন হাম্মাদ বিন সালামাহ, সাবিত আল-বুনানী থেকে, তিনি আবদুর রহমান বিন আবী লায়লা থেকে, তিনি বারা বিন আযিব (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন তার বিছানায় যেতেন, তখন বলতেন: «হে আল্লাহ! নিশ্চয়ই আমি আমার চেহারাকে আপনার প্রতি সোপর্দ করলাম এবং আমার বিষয়াদি আপনার নিকট সমর্পণ করলাম। নেই কোনো আশ্রয়স্থল আর নেই কোনো নাজাতের স্থান...»
(খণ্ড: ১)
আল জুযউল আউয়ালু ওয়াস সানি মিন ফাওয়াইদি ইবনু বিশরান
(পৃষ্ঠা: ١٩٨)
مِنْكَ إِلا إِلَيْكَ، آمَنْتُ بِمَا أَنْزَلْتَ مِنْ كِتَابٍ وَمَا أَرْسَلْتَ مِنْ رَسُولٍ»
602 - أَخْبَرَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ دَعْلَجُ بْنُ أَحْمَدَ، حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ أَبِي طَالِبٍ، حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، هُوَ ابْنُ رَاهَوَيْهِ، حَدَّثَنَا عِيسَى بْنُ يُونُسَ، عَنْ صَفْوَانَ بْنِ عَمْرٍو، أَخْبَرَنِي أَزْهَرُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْحَرَّازِيُّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنَ بُسْرٍ، قَالَ: كَانَ يُقَالُ:
إِذَا جَلَسْتَ فِي قَوْمٍ فِيهِمْ عِشْرُونَ رَجُلا أَقَلُّ أَوْ أَكْثَرُ فَتَصَفَّحْتَ وُجُوهَهُمْ فَلَمْ تَرَ فِيهِمْ أَحَدًا يُهَابُ فِي اللَّهَ عز وجل فَاعْلَمْ أَنَّ الأَمْرَ قَدْ رَقَّ
603 - أَخْبَرَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ مُحَمَّدٍ الصَّفَّارُ، حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مَنْصُورٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّازِقِ، أَنْبَأَنَا مَعْمَرٌ، عَنْ الزُّهْرِيِّ، عَنِ ابْنِ الْمُسَيِّبِ، وَأَبِي سَلَمَةَ أَوْ أَحَدِهِمَا، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم:
«اتْرُكُونِي مَا تَرَكْتُكُمْ فَإِنَّمَا هَلَكَ مَنْ كَانَ قَبْلَكُمْ بِكَثْرَةِ مَسَائِلِهِمْ وَاخْتِلافِهِمْ عَلَى أَنْبِيَائِهِمْ فَمَا نَهَيْتُكُمْ عَنْهُ فَاجْتَنِبُوهُ وَمَا أَمَرْتُكُمْ بِهِ فَاعْمَلُوا مِنْهُ مَا اسْتَطَعْتُمْ»
604 - أَخْبَرَنَا أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ الْمِصْرِيُّ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ سَنَةَ سَبْعٍ وَثَلاثِينَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي مَرْيَمَ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ الْفِرْيَابِيُّ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ، عَنِ ابْنِ عَوْنٍ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، عَنْ عُمَرَ، قَالَ: أَصَبْتُ أَرْضًا مِنْ خَيْبَرَ مَا أَصَبْتُ مَالا قَطُّ أَنْفَسَ عِنْدِي مِنْهُ، فَأَتَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَسْتَأْمِرُهُ، فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي
أَصَبْتُ أَرْضًا مِنْ خَيْبَرَ، مَا أَصَبْتُ مَالا أَنْفَسَ عِنْدِي مِنْهُ، قَالَ: «إِنْ شِئْتَ حَبَسْتَ أَصْلَهَا وَتَصَدَّقْتَ بِهَا» ، فَتَصَدَّقَ بِهَا عُمَرُ عَلَى أَنْ لا تُبَاعَ وَلا تُوهَبَ وَلا تُورَثَ، قَالَ: فَتَصَدَّقَ بِهَا فِي الْفُقَرَاءِ، وَالأَقْرَبِينَ وَفِي سَبِيلِ اللَّهِ وَفِي الرِّقَابِ، وَابْنِ السَّبِيلِ، وَفِي الضَّيْفِ، لا جُنَاحَ عَلَى مَنْ وَلِيَهَا يَأْكُلُ بِالْمَعْرُوفِ وَيُعْطِي بِالْمَعْرُوفِ صِدِّيقًا غَيْرَ مُتَحَوِّلٍ، قَالَ ابْنُ عَوْنٍ: فَذَكَرْتُهُ لابْنِ سِيرِينَ، فَقَالَ: غَيْرَ مُتَأَثِّلٍ مَالا
605 - أَخْبَرَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ السَّمَّاكِ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْمُنَادِي،
তোমার নিকট ছাড়া অন্য কোথাও আশ্রয়ের জায়গা নেই। আমি তোমার অবতীর্ণ কিতাব এবং তোমার প্রেরিত রাসূলের ওপর ঈমান এনেছি।
৬০২ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মদ দালাজ ইবনে আহমদ, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন ইবরাহিম ইবনে আবু তালিব, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন ইসহাক ইবনে ইবরাহিম—তিনি হলেন ইবনে রাহওয়াইহ—আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন ঈসা ইবনে ইউনুস, সাফওয়ান ইবনে আমর থেকে, তিনি বলেন: আমাকে সংবাদ দিয়েছেন আজহার ইবনে আব্দুল্লাহ আল-হাররাজি, আব্দুল্লাহ ইবনে বুসর থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: বলা হতো:
“তুমি যখন এমন কোনো জনসমষ্টির মাঝে বসবে যেখানে বিশ জন বা তার কম-বেশি লোক রয়েছে এবং তুমি তাদের চেহারাগুলোর দিকে তাকালে কিন্তু তাদের মধ্যে এমন কাউকে দেখলে না যাকে মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ভয় করা হয়, তবে জেনে রেখো যে বিষয়টি (দ্বীনদারী) দুর্বল হয়ে পড়েছে।”
৬০৩ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইসমাইল ইবনে মুহাম্মদ আস-সাফফার, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আহমদ ইবনে মানসুর, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আব্দুর রাজ্জাক, আমাদের জানিয়েছেন মা’মার, যুহরি থেকে, তিনি ইবনুল মুসায়্যিব ও আবু সালামা থেকে অথবা তাদের একজনের থেকে, আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন:
“আমি তোমাদের যে অবস্থায় ছেড়ে দিয়েছি সে অবস্থায় আমাকে থাকতে দাও। কারণ তোমাদের পূর্ববর্তীরা ধ্বংস হয়েছে তাদের অধিক প্রশ্ন করা এবং তাদের নবীদের সাথে মতবিরোধ করার কারণে। সুতরাং আমি তোমাদের যা নিষেধ করি তা থেকে বিরত থাকো, আর যা আদেশ করি তা সাধ্যমতো পালন করো।”
৬০৪ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু হাসান আলী ইবনে মুহাম্মদ আল-মিসরি—যা তাঁর নিকট সাইত্রিশ হিজরি সালে পাঠ করা হয়েছে—আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবু মারইয়াম, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ আল-ফিরিয়াবি, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন সুফিয়ান আস-সাওরি, ইবনে আউন থেকে, তিনি নাফে থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে, তিনি উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: আমি খায়বারে কিছু জমি লাভ করলাম, যা আমার কাছে আমার অর্জিত সম্পদের মধ্যে সবচেয়ে মূল্যবান ছিল। তাই আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে এসে এ ব্যাপারে পরামর্শ চাইলাম। আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আমি
খায়বারে এমন কিছু জমি পেয়েছি যা আমার কাছে আমার অর্জিত সম্পদের মধ্যে সবচেয়ে প্রিয়। তিনি বললেন: “তুমি চাইলে এর মূল অংশটি আটকে রাখতে পারো এবং এটি সদকা করে দিতে পারো।” অতঃপর উমর সেটি এই শর্তে সদকা করলেন যে, তা বিক্রি করা যাবে না, কাউকে দান করা যাবে না এবং তা উত্তরাধিকার সূত্রে বণ্টন হবে না। তিনি বলেন: উমর তা অভাবগ্রস্ত, নিকটাত্মীয়, আল্লাহর রাস্তায়, দাস মুক্তি, মুসাফির এবং মেহমানদের জন্য সদকা করে দিলেন। এর তত্ত্বাবধায়ক যদি ন্যায়সঙ্গতভাবে তা থেকে নিজে খায় এবং কোনো বন্ধুকে খাওয়ায় তবে তাতে কোনো পাপ নেই, তবে সে যেন এর দ্বারা সম্পদ আহরণকারী না হয়। ইবনে আউন বলেন: আমি বিষয়টি ইবনে সিরীনের কাছে উল্লেখ করলে তিনি বললেন: সম্পদ জমা না করে।
৬০৫ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন উসমান ইবনে আহমদ ইবনে আস-সাম্মাক, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-মুনাদি,
(খণ্ড: ১)
আল জুযউল আউয়ালু ওয়াস সানি মিন ফাওয়াইদি ইবনু বিশরান
(পৃষ্ঠা: ١٩٩)
حَدَّثَنَا أَبُو بَدْرٍ، حَدَّثَنَا زَائِدَةُ بْنُ قُدَامَةَ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ: كَانُوا يَرَوْنَ أَنَّ فِي أَمْوَالِهِمْ حَقًّا سِوَى الزَّكَاةِ
606 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرِو بْنِ الْبَخْتَرِيِّ، حَدَّثَنَا سَعْدَانُ بْنُ نَصْرٍ، حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ يُوسُفَ الأَزْرَقُ، حَدَّثَنَا ابْنُ عَوْنٍ، عَنِ ابْنِ سِيرِينَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم:
«أَتَاكُمْ أَهْلُ الْيَمَنِ، أَتَاكُمْ أَهْلُ الْيَمَنِ، هُمْ أَرَقُّ أَفْئِدَةً، الإِيمَانُ يَمَانٍ وَالْفِقْهُ يَمَانٍ وَالْحِكْمَةُ يَمَانِيَّةٌ»
607 - حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ مُحَمَّدٍ الصَّفَّارُ، حَدَّثَنَا أَبُو إِسْمَاعِيلَ التِّرْمِذِيُّ، وَمُحَمَّدُ بْنُ غَالِبٍ، قَالا: حَدَّثَنَا مِنْهَالُ بْنُ بَحْرٍ أَبُو سَلَمَةَ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: «يَا عُثْمَانُ إِنَّ
اللَّهَ تَعَالَى مُقَمِّصُكَ قَمِيصًا فَإِنْ أَرَادَكَ الْمُنَافِقُونَ عَلَى خَلْعِهِ فَلا تَخْلَعْهُ لَهُمْ»608 - أَخْبَرَنَا أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ الْمِصْرِيُّ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرِو بْنِ خَالِدٍ، حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ أَسَد، حَدَّثَنَا مُؤَمَّلٌ، عَنْ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ، عَنْ زُبَيْدٍ الْيَامِيِّ، عَنْ جَابَانَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، قَالَ:
«لا يَدْخُلُ الْجَنَّةَ مُدْمِنُ خَمْرٍ، وَلا قَاطِعُ رَحِمٍ، وَلا وَلَدُ زِنْيَةٍ، وَلا عَاقٌّ وَالِدَيْهِ، وَلا مَنْ أَتَى ذَاتَ مَحْرَمٍ»
609 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ سُلَيْمَانَ بْنِ الْحَسَنِ، حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بُسْرٍ، حَدَّثَنَا عَطَاءُ بْنُ الْمُبَارَكِ، حَدَّثَنَا أَبُو عُبَيْدَةَ، عَنِ الْحَسَنِ، قَالَ: قَالَ عَلِيُّ بْنُ أَبِي طَالِبٍ رضي الله عنه: يَا رَسُولَ اللَّهِ،
مَنْ أَوَّلُ مَنْ يُحَاسِبُ اللَّهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ؟ قَالَ: «أَبُو بَكْرٍ الصِّدِّيقُ» ، قَالَ: ثُمَّ مَنْ؟ قَالَ: «ثُمَّ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ» ، قَالَ: ثُمَّ مَنْ؟
আবু বদর আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, যাইদাহ বিন কুদামাহ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, মানসুর থেকে, তিনি ইবরাহীম থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: তারা মনে করতেন যে তাদের সম্পদে যাকাত ছাড়াও একটি হক রয়েছে।
606 - মুহাম্মাদ বিন আমর বিন আল-বাখতারী আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, সা'দান বিন নাসর আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, ইসহাক বিন ইউসুফ আল-আযরাক আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, ইবনু আউন আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, ইবনু সীরীন থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন:
«তোমাদের নিকট ইয়ামানবাসীরা এসেছে, তোমাদের নিকট ইয়ামানবাসীরা এসেছে; তারা অত্যন্ত কোমল হৃদয়ের অধিকারী। ঈমান ইয়ামানী, ফিকহ ইয়ামানী এবং হিকমত ইয়ামানী।»
607 - ইসমাঈল বিন মুহাম্মাদ আস-সাফফার আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, আবু ইসমাঈল আত-তিরমিযী এবং মুহাম্মাদ বিন গালিব আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তাঁরা উভয়ে বলেন: মিনহাল বিন বাহর আবু সালামাহ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, হাম্মাদ বিন সালামাহ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, হিশাম বিন উরওয়াহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আয়েশা থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «হে উসমান! নিশ্চয়ই
আল্লাহ তাআলা তোমাকে একটি জামা পরাবেন; সুতরাং যদি মুনাফিকরা তোমাকে তা খুলে ফেলার ইচ্ছা পোষণ করে, তবে তুমি তাদের জন্য তা খুলবে না।»608 - আবুল হাসান আলী বিন মুহাম্মাদ আল-মিসরী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মুহাম্মাদ বিন আমর বিন খালিদ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, সাঈদ বিন আসাদ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, মুয়াম্মাল আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, সুফিয়ান আস-সাওরী থেকে, তিনি যুবাইদ আল-ইয়ামী থেকে, তিনি জাবান থেকে, তিনি আবদুল্লাহ বিন আমর থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন:
«মদ্যাসক্ত ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবে না, না আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্নকারী, না জারজ সন্তান, না পিতামাতার অবাধ্য সন্তান, এবং না মাহরামের সাথে ব্যভিচারে লিপ্ত ব্যক্তি।»
609 - আহমাদ বিন সুলাইমান বিন আল-হাসান আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, ইবরাহীম বিন আবদুল্লাহ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, মুহাম্মাদ বিন বুসর আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, আতা বিন আল-মুবারক আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, আবু উবাইদাহ থেকে, তিনি হাসান থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আলী বিন আবু তালিব (রা.) বললেন:
হে আল্লাহর রাসূল, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলা সর্বপ্রথম কার হিসাব নেবেন? তিনি বললেন: «আবু বকর আস-সিদ্দীক», তিনি বললেন: তারপর কে? তিনি বললেন: «তারপর উমর বিন আল-খাত্তাব» , তিনি বললেন: তারপর কে?
(খণ্ড: ১)
আল জুযউল আউয়ালু ওয়াস সানি মিন ফাওয়াইদি ইবনু বিশরান
(পৃষ্ঠা: ٢٠٠)
قَالَ: «ثُمَّ أَنْتَ يَا عَلِيُّ؟» ، قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، أَيْنَ عُثْمَانُ بْنُ عَفَّانَ؟ قَالَ: " إِنِّي سَأَلْتُ عُثْمَانَ بْنَ عَفَّانَ حَاجَةً سِرًّا فَقَضَاهَا سِرًّا فَسَأَلْتُ اللَّهَ عز وجل أَنْ لا يُحَاسِبَ عُثْمَانَ بْنَ عَفَّانَ، ثُمَّ يُنَادِي مُنَادٍ: أَيْنَ السَّابِقُونَ الأَوَّلُونَ؟ فَيُقَالُ: مَنْ؟ فَيَقُولُ: أَيْنَ أَبُو بَكْرٍ الصِّدِّيقُ فَيَتَجَلَّى اللَّهُ عز وجل لأَبِي بَكْرٍ خَاصَّةً وَلِلنَّاسِ عَامَّةً "
610 - أَخْبَرَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ مُحَمَّدٍ الصَّفَّارُ سَنَةَ سِتٍّ وَثَلاثِينَ، حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مَنْصُورٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَنْبَأَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَالِمٍ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ يُحَدِّثُ، قَالَ:
«بَيْنَا أَنَا نَائِمٌ رَأَيْتُنِي أُتِيتُ بِقَدَحٍ فَشَرِبْتُ مِنْهُ حَتَّى إِنِّي أَرَى الرِّيَّ يَخْرُجُ مِنْ أَظْفَارِي ثُمَّ أَعْطَيْتُ فَضْلِي عُمَرَ» ، قَالُوا: فَمَا أَوَّلْتَ ذَلِكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ قَالَ: «الْعِلْمُ»
611 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرِو بْنِ الْبَخْتَرِيِّ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ، حَدَّثَنَا سَعْدَانُ بْنُ نَصْرٍ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ، سَمِعْتُ سَعِيدَ بْنَ الْحَارِثِ، يَقُولُ: عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ: كُنَّا عِنْدَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم،
فَأَتَى الْخَلاءَ ثُمَّ إِنَّهُ رَجَعَ فَأُتِيَ بِطَعَامٍ، فَقِيلَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ أَلا تَتَوَضَّأَ؟ قَالَ: «لَمْ أُصَلِّ فَأَتَوَضَّأَ»
612 - أَخْبَرَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ الْمِصْرِيُّ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ عُثْمَانَ، حَدَّثَنَا هَاشِمُ بْنُ مُحَمَّدٍ الرَّبَعِيُّ، حَدَّثَنَا عَنْبَسَةُ بْنُ خَالِدٍ الإِرْبِلِيُّ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، عَنِ ابْنِ أَبِي هِنْدٍ، عَنْ بُكَيْرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الأَشَجِّ، عَنْ كُرَيْبٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم:
«مَنْ نَذَرَ نَذْرًا لَمْ يُسَمِّهِ فَكَفَّارَتُهُ كَفَّارَةُ يَمِينٍ، وَمَنْ نَذَرَ نَذْرًا فِي مَعْصِيَةِ اللَّهِ فَكَفَّارَتُهُ كَفَّارَةُ يَمِينٍ، وَمَنْ نَذَرَ نَذْرًا لَمْ يُطِقْهُ فَكَفَّارَتُهُ كَفَّارَةُ يَمِينٍ وَمَنْ نَذَرَ نَذْرًا فَأَطَاقَهُ فَلْيَفِ بِهِ»
তিনি বললেন: «অতঃপর তুমি, হে আলী?» আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, উসমান ইবনে আফফান কোথায়? তিনি বললেন: "আমি উসমান ইবনে আফফানের কাছে গোপনে একটি প্রয়োজনের কথা বলেছিলাম এবং তিনি তা গোপনে পূরণ করেছিলেন। তাই আমি আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা-র কাছে আবেদন করেছি যেন তিনি উসমান ইবনে আফফানের হিসাব না নেন। অতঃপর একজন ঘোষণাকারী ঘোষণা করবেন: প্রথম অগ্রবর্তীগণ কোথায়? তখন বলা হবে: তারা কারা? তখন তিনি বলবেন: আবু বকর সিদ্দিক কোথায়? এরপর আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা বিশেষভাবে আবু বকরের জন্য এবং সাধারণভাবে মানুষের জন্য আত্মপ্রকাশ করবেন।"
৬১০ - ইসমাইল ইবনে মুহাম্মদ আস-সাফফার ৩৬ হিজরীতে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন আহমদ ইবনে মনসুর আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন আবদুর রাজ্জাক আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন মা'মার আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যুহরি থেকে, তিনি সালিম থেকে, তিনি তার পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কথা বলছিলেন, তিনি বললেন:
«একদা আমি ঘুমন্ত থাকাবস্থায় স্বপ্নে দেখলাম যে, আমার নিকট একটি পানপাত্র আনা হয়েছে। অতঃপর আমি তা থেকে পান করলাম, এমনকি আমি তৃপ্তির চিহ্ন আমার নখসমূহ দিয়ে বের হতে দেখলাম। অতঃপর আমি আমার অবশিষ্ট অংশ উমরকে প্রদান করলাম»। তারা জিজ্ঞেস করলেন: হে আল্লাহর রাসূল, আপনি এর কী ব্যাখ্যা করেছেন? তিনি বললেন: «ইলম (জ্ঞান)»
৬১১ - মুহাম্মদ ইবনে আমর ইবনুল বাখতারি আমাদের নিকট পাঠকালে হাদিস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন সা'দান ইবনে নাসর আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনাহ আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আমর ইবনে দিনার থেকে, তিনি বলেন আমি সাঈদ ইবনুল হারিসকে বলতে শুনেছি ইবনে আব্বাস থেকে, তিনি বলেন: আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট ছিলাম,
অতঃপর তিনি শৌচাগারে গেলেন। তারপর তিনি ফিরে আসলেন এবং খাবার আনা হলো। বলা হলো: হে আল্লাহর রাসূল, আপনি কি অজু করবেন না? তিনি বললেন: «আমি তো নামাজ পড়ছি না যে অজু করব»৬১২ - আলী ইবনে মুহাম্মদ আল-মিসরি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন ইয়াহইয়া ইবনে উসমান আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন হাশিম ইবনে মুহাম্মদ আর-রাবায়ি আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন আনবাসাহ ইবনে খালিদ আল-ইরবিলি আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন ইবনে জুরাইজ থেকে, তিনি ইবনে আবি হিন্দ থেকে, তিনি বুকাইর ইবনে আবদুল্লাহ ইবনুল আশাজ থেকে, তিনি কুরাইব থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
«যে ব্যক্তি এমন কোনো মানত করল যার নাম সে উল্লেখ করেনি, তবে তার কাফফারা হলো শপথের কাফফারা। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর অবাধ্যতামূলক কোনো কাজে মানত করল, তবে তার কাফফারা হলো শপথের কাফফারা, আর যে ব্যক্তি এমন মানত করল যা পালনের সামর্থ্য তার নেই, তবে তার কাফফারা হলো শপথের কাফফারা। আর যে ব্যক্তি মানত করল এবং তা পালনের সামর্থ্য তার আছে, সে যেন তা পূর্ণ করে»
(খণ্ড: ১)
আল জুযউল আউয়ালু ওয়াস সানি মিন ফাওয়াইদি ইবনু বিশরান
(পৃষ্ঠা: ٢٠١)
613 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ سُلَيْمَانَ النَّجَّادُ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ عُمَرَ، أَنْبَأَنَا أَبُو عَامِرٍ الْخَزَّازُ صَالِحُ بْنُ رُسْتُمَ، عَنْ أَبِي عِمْرَانَ الْجَوْنِيِّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الصَّامِتِ، عَنْ أَبِي ذَرٍّ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، قَالَ:
«يَا أَبَا ذَرٍّ لا تَحْقِرَنَّ مِنَ الْمَعْرُوفِ شَيْئًا وَلَوْ أَنْ تَلْقَى أَخَاكَ بِوَجْهٍ مُنْبَسِطٍ، وَلَوْ أَنْ تُفْرِغَ مِنْ دَلْوِكَ فِي إِنَاءِ الْمُسْتَسْقِي، وَإِذَا طَبَخْتَ قِدْرًا فَأَكْبِرْ مَرَقَتَهَا وَاغْرِفْ لِجِيرَانِكَ مِنْهَا»
614 - أَخْبَرَنَا دَعْلَجُ بْنُ أَحْمَدَ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ بْنِ مِهْرَانَ الإِسْمَاعِيلِيُّ، حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عُثْمَانَ، وَعُمَرُ بْن عَلِيّ بْنِ عُمَرَ، قَالا: حَدَّثَنَا عُقْبَةُ بْنُ عَلْقَمَةَ، وَالْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ، عَنِ الأَوْزَاعِيِّ، قَالَ: سَمِعْتُ بِلالَ بْنَ سَعِيدٍ، يَقُولُ: إِذَا رَأَيْتَ الرَّجُلَ لَجُوجًا مُمَارِيًا مُعْجَبًا بِرَأْيِهِ فَقَدْ تَمَّتْ خَسَارَتُهُ
615 - أَخْبَرَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ مُحَمَّدٍ الصَّفَّارُ، سَنَةَ سِتٍّ وَثَلاثِينَ وَثَلاثِ مِائَةٍ، حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مَنْصُورٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، حَدَّثَنَا مَعْمَرٌ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ أَبِي الأَحْوَصِ، عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم:
«لَوْ كُنْتُ مُتَّخِذًا خَلِيلا لاتَّخَذْتُ ابْنَ أَبِي قُحَافَةَ خَلِيلا»616 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرِو بْنِ الْبَخْتَرِيِّ، حَدَّثَنَا سَعْدَانُ بْنُ نَصْرٍ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ:
كَانَتِ امْرَأَةٌ تَغْشَى عَائِشَةَ، قَالَتْ: فَكَانَتْ تُكْثِرُ تَتَمَثَّلُ بِهَذَا الْبَيْتِ:وَيَوْمُ الْوِشَاحِ مَنْ تَعَاجِيبِ رَبِّنَا … إِلا إِنَّهُ مِنْ نَكْدَةِ الْكُفْرِ نَجَّانِي
قَالَ: فَقَالَتْ عَائِشَةُ: مَا هَذَا الْبَيْتُ الَّذِي أَرَاكِ تَمَثَّلِينَ؟ قَالَ: فَقَالَتْ: شَهِدْتُ عَرُوسًا لَنَا فِي الْجَاهِلِيَّةِ وَضَعُوا وِشَاحَهَا فَأَدْخَلُوهَا مُغْتَسَلَهَا فَأَبْصَرَتِ الْحِدَأَةُ حُمْرَةَ الْوِشَاحِ، فَانْحَطَّتْ عَلَيْهِ فَأَخَذَتْهُ، قَالَتْ: فَاتَّهَمُونِي فَفَتَّشُونِي حَتَّى فَتَّشُوا فِي قُبُلِي، قَالَتْ: فَدَعَوْتُ اللَّهَ عز وجل أَنْ يُبَرِّئَنِي، قَالَ: فَجَاءَتِ الْحِدَأَةُ بِالْوِشَاحِ حَتَّى طَرَحَتْهُ وَسَطَهُمْ وَهُمْ يَنْظُرُونَ
613 - আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আহমাদ বিন সুলাইমান আন-নাজ্জার, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবদুল মালিক বিন মুহাম্মদ, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন উসমান বিন উমর, আমাদের জানিয়েছেন আবু আমির আল-খাজ্জায সালিহ বিন রুস্তম, আবু ইমরান আল-জাওনী থেকে, আবদুল্লাহ বিন আস-সামিত থেকে, আবু যার থেকে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
«হে আবু যার, কোনো নেক কাজকেই তুচ্ছ মনে করো না, এমনকি তোমার ভাইয়ের সাথে হাস্যোজ্জ্বল মুখে সাক্ষাৎ করা হলেও; আর এমনকি তোমার বালতি থেকে পানিপ্রার্থনাকারীর পাত্রে ঢেলে দেওয়া হলেও। আর যখন তুমি ঝোল রান্না করবে, তখন তাতে পানির পরিমাণ বাড়িয়ে দাও এবং তোমার প্রতিবেশীদের তা থেকে কিছু প্রদান করো।»614 - আমাদের জানিয়েছেন দালাজ বিন আহমাদ, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন ইসমাইল বিন মিহরান আল-ইসমাঈলী, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আমর বিন উসমান এবং উমর বিন আলী বিন উমর, তাঁরা উভয়ে বলেছেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন উকবাহ বিন আলকামাহ এবং ওয়ালিদ বিন মুসলিম, আওযাঈ থেকে, তিনি বলেন: আমি বিলাল বিন সাঈদকে বলতে শুনেছি: যদি তুমি কোনো ব্যক্তিকে একগুঁয়ে, বিতণ্ডাকারী এবং নিজ মতে মুগ্ধ দেখবে, তবে তার ধ্বংস পূর্ণ হয়েছে।
615 - আমাদের জানিয়েছেন ইসমাইল বিন মুহাম্মদ আস-সাফফার, তিনশত ছত্রিশ হিজরী সনে, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আহমাদ বিন মানসুর, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আব্দুর রাজ্জাক, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন মা’মার, আবু ইসহাক থেকে, আবু আল-আহওয়াস থেকে, ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
«আমি যদি কাউকে খলীল হিসেবে গ্রহণ করতাম, তবে ইবনে আবু কুহাফাকেই খলীল হিসেবে গ্রহণ করতাম।»616 - আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন আমর বিন আল-বাখতারী, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন সা’দান বিন নাসর, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবু মুয়াবিয়া, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন হিশাম বিন উরওয়াহ, তাঁর পিতা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: জনৈক নারী আয়েশার নিকট আসতেন। তিনি বলেন: তিনি প্রায়ই এই কবিতাটি আওড়াতেন:
অলংকৃত হারের দিনটি ছিল আমাদের রবের বিস্ময়কর নিদর্শনসমূহের একটি … বস্তুত তিনি আমাকে কুফরির দুর্দশা থেকে মুক্তি দিয়েছেন।
তিনি বলেন: আয়েশা জিজ্ঞেস করলেন: এই কবিতাটি কী যা আমি তোমাকে আওড়াতে দেখছি? তিনি বললেন: আমি জাহিলিয়াতের যুগে আমাদের এক কনের বিয়েতে উপস্থিত ছিলাম। তারা তার অলংকৃত হারটি একস্থানে রেখে তাকে গোসলখানায় নিয়ে গেল। এমতাবস্থায় একটি চিল হারের লাল রঙ দেখে সেটির ওপর ছোঁ মেরে তা নিয়ে গেল। তিনি বললেন: তখন তারা আমাকে অভিযুক্ত করল এবং আমার তল্লাশি চালাল, এমনকি তারা আমার লজ্জাস্থানেও তল্লাশি চালাল। তিনি বললেন: তখন আমি মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করলাম যেন তিনি আমাকে নির্দোষ প্রমাণ করেন। তিনি বলেন: এরপর চিলটি হারটি নিয়ে এল এবং তাদের মাঝখানে তা ফেলে দিল, আর তারা তা তাকিয়ে দেখছিল।
(খণ্ড: ১)
আল জুযউল আউয়ালু ওয়াস সানি মিন ফাওয়াইদি ইবনু বিশরান
(পৃষ্ঠা: ٢٠٢)
617، 618 - أَخْبَرَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ مُحَمَّدٍ الصَّفَّارُ، حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مَنْصُورٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَنْبَأَنَا مَعْمَرٌ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم، قَالَ:
«أَخْرِجُوا الْمُخَنَّثِينَ مِنْ بُيُوتِكُمْ» ، فَأَخْرَجَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مُخَنَّثًا وَأَخْرَجَ عُمَرُ مُخَنَّثًا
619 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرِو بْنِ الْبَخْتَرِيِّ، حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ الْجَبَّارِ، حدثنا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ أَبِي خَالِدٍ، عَنْ قَيْسٍ، عَنْ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم:
«لا تَزَالُ طَائِفَةٌ مِنْ أُمَّتِي ظَاهِرِينَ عَلَى الدِّينِ عَزِيزَةً إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ»620 - أَخْبَرَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ الْمِصْرِيُّ، حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ شُعَيْبٍ، حَدَّثَنَا أَسَدُ بْنُ مُوسَى، حَدَّثَنَا الْفُضَيْلُ بْنُ مَرْزُوقٍ، عَنْ عَدِيِّ بْنِ ثَابِتٍ، عَنْ أَبِي حَازِمٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: "
يَأَيُّهَا النَّاسُ إِنَّ اللَّهَ طَيِّبٌ لا يَقْبَلُ إِلا طَيِّبًا، وَإِنَّ اللَّهَ أَمَرَ الْمُؤْمِنِينَ مَمَّا أَمَرَ بِهِ الْمُرْسَلِينَ، فَقَالَ: يَأَيُّهَا الرُّسُلُ كُلُوا مِنَ الطَّيِّبَاتِ، ثُمَّ ذَكَرَ الرَّجُلَ يُطِيلُ السَّفَرَ أَشْعَثَ أَغْبَرَ يَمُدُّ يَدَهُ إِلَى السَّمَاءِ: يَا رَبِّ، وَمَطْعَمُهُ حَرَامٌ وَمَشْرَبُهُ حَرَامٌ وَمَلْبَسُهُ حَرَامٌ وَغُذِّيَ بِالْحَرَامِ فَأَنَّى يُسْتَجَابُ لَهُ "
621 - أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ سُلَيْمَانَ، إِمْلاءً، حَدَّثَنَا مُعَاذُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُسْلِمٍ الْقُرَشِيُّ، حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ، عَنْ مَعْمَرٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَالِمٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ: لَمَّا طُعِنَ عُمَرُ، رضي الله عنه، وَأَمَرَ بِالشُّورَى، دَخَلَتْ عَلَيْهِ ابْنَتُهُ حَفْصَةُ، فَقَالَتْ: يَا أَبَتَاهُ، إِنَّ النَّاسَ قَدْ تَكَلَّمُوا، فَقَالَ: أَسْنِدُونِي، فَلَمَّا أُسْنِدَ، قَالَ: مَا
৬১৭, ৬১৮ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইসমাইল বিন মুহাম্মদ আস-সাফফার, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমদ বিন মনসুর, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুর রাজ্জাক, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মা’মার, ইয়াহইয়া বিন আবি কাসির থেকে, ইকরামা থেকে, ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন:
«তোমরা তোমাদের ঘর থেকে মেয়েলী পুরুষদের বের করে দাও»; অতঃপর আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একজন মেয়েলী পুরুষকে বের করে দিলেন এবং উমরও একজন মেয়েলী পুরুষকে বের করে দিলেন।
৬১৯ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ বিন আমর বিন আল-বাখতারি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমদ বিন আব্দুল জাব্বার, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু মুয়াবিয়া, ইসমাইল বিন আবি খালিদ থেকে, কায়স থেকে, সাদ বিন আবি ওয়াক্কাস থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন:
«আমার উম্মতের একটি দল সর্বদা দ্বীনের ওপর বিজয়ী ও শক্তিশালী থাকবে কিয়ামত পর্যন্ত»৬২০ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আলী বিন মুহাম্মদ আল-মিসরি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সুলাইমান বিন শুআইব, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আসাদ বিন মুসা, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ফুদাইল বিন মারজুক, আদি বিন সাবিত থেকে, আবু হাজিম থেকে, আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "
হে লোকসকল! নিশ্চয়ই আল্লাহ পবিত্র, তিনি পবিত্র ছাড়া অন্য কিছু গ্রহণ করেন না। আর নিশ্চয়ই আল্লাহ মুমিনদের সেই নির্দেশই দিয়েছেন যা তিনি রাসূলদের দিয়েছিলেন, অতঃপর তিনি বলেন: হে রাসূলগণ! তোমরা পবিত্র বস্তু থেকে আহার করো। তারপর তিনি এমন এক ব্যক্তির কথা উল্লেখ করলেন যে দীর্ঘ সফর করে, যার চুল এলোমেলো এবং দেহ ধূলিমলিন, সে আকাশের দিকে তার হাত প্রসারিত করে বলে: হে আমার রব! অথচ তার খাদ্য হারাম, তার পানীয় হারাম, তার পোশাক হারাম এবং সে হারামে পুষ্ট হয়েছে; সুতরাং কীভাবে তার প্রার্থনা কবুল হবে?"
৬২১ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আহমদ বিন সুলাইমান (শ্রুতিলিখনের মাধ্যমে), আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুয়াজ বিন আল-মুসান্না, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ বিন মুসলিম আল-কুরাশি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-ওয়ালিদ বিন মুসলিম, মা’মার থেকে, জুহরি থেকে, সালিম থেকে, ইবনে উমর থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: যখন উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) আঘাতপ্রাপ্ত হলেন এবং তিনি শূরা (পরামর্শ সভা) গঠনের নির্দেশ দিলেন, তাঁর কন্যা হাফসা তাঁর নিকট প্রবেশ করে বললেন: হে আমার পিতা! নিশ্চয়ই লোকজন নানা কথা বলছে। তিনি বললেন: তোমরা আমাকে ঠেস দিয়ে বসিয়ে দাও। যখন তাকে ঠেস দিয়ে বসানো হলো, তিনি বললেন: কী...
(খণ্ড: ১)
আল জুযউল আউয়ালু ওয়াস সানি মিন ফাওয়াইদি ইবনু বিশরান
(পৃষ্ঠা: ٢٠٣)
عَسَى تَقُولُونَ فِي عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ رضي الله عنه؟ سَمِعْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم، يَقُولُ:
«يَا عَلِيُّ، يَدُكَ فِي يَدِي تَدْخُلُ مَعِي يَوْمَ الْقِيَامَةِ حَيْثُ أَدْخُلُ»مَا عَسَى تَقُولُونَ فِي عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ؟ سَمِعْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم، يَقُولُ:
«يَوْمَ يَمُوتُ عُثْمَانُ تُصَلِّي عَلَيْهِ مَلائِكَةُ السَّمَاءِ» ، قَالَ: قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، عُثْمَانُ خَاصَّةً أَوِ النَّاسُ عَامَّةً؟ قَالَ: «لا لِعُثْمَانَ خَاصَّةً»
44 - مَا عَسَى تَقُولُونَ فِي طَلْحَةَ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ؟ سَمِعْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم، يَقُولُ لَيْلَةً وَقَدْ سَقَطَ رَحْلُهُ، يَقُولُ:
«مَنْ يُسَوِّ لِي رَحْلِي وَهُوَ فِي الْجَنَّةِ» ، فَنَزَلَ طَلْحَةُ فَسَوَّاهُ لَهُ حَتَّى رَكِبَ، فَقَالَ لَهُ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " يَا طَلْحَةُ، جِبْرِيلُ يُقْرِئُكَ السَّلامَ وَيَقُولُ لَكَ: أَنَا مَعَكَ فِي هَوْلِ يَوْمِ الْقِيَامَةِ فَأُنْجِيكَ مِنْهَا "
مَا عَسَى تَقُولُونَ فِي الزُّبَيْرِ بْنِ الْعَوَّامِ؟ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَقَدْ قَامَ،
فَجَلَسَ الزُّبَيْرُ عِنْدَ وَجْهِهِ حَتَّى اسْتَيْقَظَ، فَقَالَ لَهُ: «أَبَا عَبْدِ اللَّهِ، لَمْ تَزَلْ؟» ، قَالَ: لَمْ أَزَلْ بِأَبِي وَأُمِّي، قَالَ: " هَذَا جِبْرِيلُ يُقْرِئُكَ السَّلامَ، وَيَقُولُ لَكَ: أَنَا مَعَكَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ حَتَّى أُذْهِبَ عَنْ وَجْهِكَ شَرَرَ جَهَنَّمَ "
مَا عَسَى أَنْ تَقُولُوا فِي سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ؟ سَمِعْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَوْمَ بَدْرٍ وَقَدْ
أَوْتَرَ قَوْسَهُ أَرْبَعَ عَشْرَةَ مَرَّةً، وَيَقُولُ لَهُ: «ارْمِ فِدَاكَ أَبِي وَأُمِّي»مَا عَسَى تَقُولُونَ فِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ؟ رَأَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم
فِي مَنْزِلِ فَاطِمَةَ، وَالْحَسَنُ وَالْحُسَيْنُ يَبْكِيَانِ جُوعًا وَيَتَضَوَّرَانِ، فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: «مَنْ يَصِلُنَا بِشَيْءٍ» ، فَطَلَعَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَوْفٍ بِصَحْفَةٍ فِيهَا حَيْسَةٌ وَرَغِيفَانِ بَيْنَهُمَا إِهَالَةٌ، فَقَالَ لَهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: «كَفَاكَ اللَّهُ أَمْرَ دُنْيَاكَ، فَأَمَّا آخِرَتُكَ فَأَنَا لَهَا ضَامِنٌ»
622 - أَخْبَرَنَا دَعْلَجُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ دَعْلَجٍ، حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ أَبِي طَالِبٍ، حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ رَاهَوَيْهِ، أَنْبَأَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْقَاسِمِ، عَنْ أَبِيهِ، وَعَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَامِرِ بْنِ رَبِيعَةَ، وَغَيْرِهِمْ أَنَّ أَبَا بَكْرٍ الصِّدِّيقَ، 15 وَعُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ، رضي الله عنهما، كَانَا
يَسْتَحْلِفَانِ الْمُعْسِرَ بِاللَّهِ مَا يَجِدُ مَا يَقْضِيهِ مِنْ عَرَضٍ وَلا فَرْضٍ وَلَئِنْ وَجَدْتَ مِنْ حَيْثُ لا يَعْلَمُ لَيَقْضِيَنَّهُ ثُمَّ يُخَلِّيَانِ سَبِيلَهُ
আলী ইবনে আবু তালিব (রা.) সম্পর্কে তোমাদের কী অভিমত? আমি নবী (সা.)-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলছেন:
“হে আলী, তোমার হাত আমার হাতের মধ্যে থাকবে; কিয়ামতের দিন আমি যেখানে প্রবেশ করব, তুমিও আমার সাথে সেখানে প্রবেশ করবে।”উসমান ইবনে আফফান সম্পর্কে তোমাদের কী অভিমত? আমি নবী (সা.)-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলছেন:
“যেদিন উসমান ইন্তেকাল করবে, আসমানের ফেরেশতারা তার জানাজার সালাত আদায় করবে।” বর্ণনাকারী বলেন, আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, এটি কি কেবল উসমানের জন্য নির্দিষ্ট, নাকি সকল মানুষের জন্য সাধারণ? তিনি বললেন: “না, বরং এটি কেবল উসমানের জন্য নির্দিষ্ট।”
৪৪ - তালহা ইবনে উবায়দুল্লাহ সম্পর্কে তোমাদের কী অভিমত? আমি এক রাতে নবী (সা.)-কে বলতে শুনেছি—যখন তাঁর বাহনের সরঞ্জাম পড়ে গিয়েছিল—তিনি বলছিলেন:
“কে আমার বাহনের সরঞ্জাম ঠিক করে দেবে? তার জন্য জান্নাত অবধারিত।” তখন তালহা নিচে নামলেন এবং সেটি ঠিক করে দিলেন যতক্ষণ না তিনি সওয়ার হলেন। তখন নবী (সা.) তাঁকে বললেন: “হে তালহা, জিবরাঈল তোমাকে সালাম দিচ্ছেন এবং তোমাকে বলছেন: আমি কিয়ামতের দিনের ভয়াবহতায় তোমার সাথে থাকব এবং তোমাকে তা থেকে উদ্ধার করব।”
জুবাইর ইবনুল আওয়াম সম্পর্কে তোমাদের কী অভিমত? আমি রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে দেখেছি যে তিনি উঠে দাঁড়িয়েছিলেন,
অতঃপর জুবাইর তাঁর চেহারার নিকট বসে রইলেন যতক্ষণ না তিনি জাগ্রত হলেন। তখন তিনি তাঁকে বললেন: “হে আবু আব্দুল্লাহ, তুমি কি সারাক্ষণ এখানেই ছিলে?” তিনি বললেন: আমার পিতা-মাতা আপনার প্রতি উৎসর্গ হোক, আমি সারাক্ষণ এখানেই ছিলাম। তিনি বললেন: “এই যে জিবরাঈল তোমাকে সালাম দিচ্ছেন এবং তোমাকে বলছেন: আমি কিয়ামতের দিন তোমার সাথে থাকব, এমনকি তোমার চেহারা থেকে জাহান্নামের আগুনের স্ফুলিঙ্গ দূর করে দেব।”
সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস সম্পর্কে তোমরা কী বলতে পারো? আমি বদরের দিন নবী (সা.)-কে দেখেছি,
তিনি চৌদ্দবার তাঁর ধনুকের ছিলা টেনেছিলেন এবং তাকে বলছিলেন: “তীর নিক্ষেপ করো, তোমার জন্য আমার পিতা-মাতা উৎসর্গ হোক।”আব্দুর রহমান ইবনে আউফ সম্পর্কে তোমাদের কী অভিমত? আমি নবী (সা.)-কে
ফাতিমার ঘরে দেখেছি, তখন হাসান ও হুসাইন ক্ষুধার যন্ত্রণায় কাঁদছিল এবং ছটফট করছিল। নবী (সা.) বললেন: “কে আমাদের কিছু দিয়ে সাহায্য করবে?” তখন আব্দুর রহমান ইবনে আউফ একটি পাত্র নিয়ে আসলেন যাতে 'হাইসাহ' (এক প্রকার খাবার) এবং দুটি রুটি ছিল যার মাঝখানে চর্বি ছিল। তখন নবী (সা.) তাঁকে বললেন: “আল্লাহ তোমার দুনিয়ার বিষয়ের জন্য যথেষ্ট হয়ে গেছেন, আর তোমার আখিরাতের জন্য আমি জামিনদার।”
৬২২ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন দালাজ বিন আহমদ বিন দালাজ, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন ইব্রাহিম বিন আবু তালিব, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন ইসহাক বিন রাহওয়াইহ, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ওয়ালিদ বিন মুসলিম, ইবনে জুরাইজ থেকে, তিনি আব্দুর রহমান বিন কাসিম থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে এবং আবু যিনাদ থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ বিন আমির বিন রাবিয়াহ ও অন্যান্যদের থেকে বর্ণিত যে, আবু বকর সিদ্দিক এবং উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)
অভাবগ্রস্ত ব্যক্তিকে আল্লাহর নামে শপথ করাতেন যে, তার কাছে ঋণ পরিশোধ করার মতো কোনো সম্পদ বা বিনিময়যোগ্য কিছু নেই, এবং যদি সে এমন কোনো উৎস থেকে সম্পদ পায় যা পাওনাদার জানে না, তবে সে অবশ্যই তা পরিশোধ করবে। এরপর তারা তাকে ছেড়ে দিতেন।
(খণ্ড: ১)
আল জুযউল আউয়ালু ওয়াস সানি মিন ফাওয়াইদি ইবনু বিশরান
(পৃষ্ঠা: ٢٠٤)
623 - حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ مُحَمَّدٍ الصَّفَّارُ، حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَرَفَةَ، حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ، عَنْ أَبِي بِشْرٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ: بِتُّ ذَاتَ لَيْلَةٍ عِنْدَ خَالَتِي مَيْمُونَةَ بِنْتِ الْحَارِثِ، قَالَ: فَقَامَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم
يُصَلِّي مِنَ اللَّيْلِ، قَالَ: فَقُمْتُ عَنْ يَسَارِهِ أُصَلِّي بِصَلاتِهِ " قَالَ: فَأَخَذَ بِذُؤَابٍ كَانَ لِي أَوْ بِرَأْسِي فَأَقَامَنِي عَنْ يَمِينِهِ
624 - حَدَّثَنِي فُرَاتُ بْنُ السَّائِبِ، عَنْ مَيْمُونِ بْنِ مِهْرَانَ، عَنْ ضَبَّةَ بْنِ مِحْصَنٍ الْغَنَوِيِّ، قَالَ: كَانَ عَلَيْنَا أَبُو مُوسَى أَمِيرًا بِالْبَصْرَةِ، فَكَانَ إِذَا خَطَبَنَا حَمِدَ اللَّهَ عز وجل وَأَثْنَى عَلَيْهِ، وَصَلَّى عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، ثُمَّ يَدْعُو لِعُمَرَ، رضي الله عنه، قَالَ: فَأَغَاظَنِي ذَلِكَ مِنْهُ، فَقُمْتُ إِلَيْهِ فَقُلْتُ لَهُ: أَيْنَ أَنْتَ عَنْ صَاحِبِهِ تُفَضِّلُهُ عَلَيْهِ، قَالَ: فَصَنَعَ ذَلِكَ ثَلاثَ جُمَعٍ ثُمَّ كَتَبَ إِلَى عُمَرَ، رضي الله عنه، يَشْكُونِي، وَيَقُولُ: إِنَّ ضَبَّةَ بْنَ مِحْصَنٍ الْغَنَوِيَّ يَتَعَرَّضُ لِي فِي خُطْبَتِي، فَكَتَبَ إِلَيْهِ عُمَرُ أَنْ أَشْخِصْهُ إِلَيَّ، قَالَ: فَأَشْخَصَنِي إِلَيْهِ، فَقَدِمْتُ عَلَى عُمَرَ فَضَرَبْتُ عَلَيْهِ الْبَابَ فَخَرَجَ إِلَيَّ فَقَالَ: مَنْ أَنْتَ؟ قَالَ: أَنَا ضَبَّةُ بْنُ مِحْصَنٍ الْغَنَوِيُّ، قَالَ: فَلا مَرْحَبًا وَلا أَهْلا، قَالَ: قُلْتُ: أَمَّا الْمَرْحَبُ فَمِنَ اللَّهِ تَعَالَى وَأَمَّا الأَهْلُ فَلا أَهْلَ لِي وَلا مَالَ فِيمَ اسْتَحْلَلْتَ يَا عُمَرُ إِشْخَاصِي مِنْ مِصْرِيٍّ بِلا ذَنْبٍ أَذْنَبْتُهُ.
قَالَ: وَمَا الَّذِي شَجَرَ بَيْنَكَ وَبَيْنَ عَامِلِكَ؟ قَالَ: قُلْتُ: الآنَ أُخْبِرُكَ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ، كَانَ إِذَا خَطَبَنَا فَحَمِدَ اللَّهَ وَأَثْنَى عَلَيْهِ، وَصَلَّى عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بَدَأَ يَدْعُو لَكَ، فَأَغَاظَنِي ذَلِكَ مِنْهُ، قَالَ: فَقُمْتُ إِلَيْهِ وَقُلْتُ لَهُ: أَيْنَ أَنْتَ عَنْ صَاحِبِهِ تُفَضِّلُهُ عَلَيْهِ، فَصَنَعَ ذَلِكَ ثَلاثَ جُمَعٍ، ثُمَّ كَتَبَ إِلَيْكَ يَشْكُونِي، قَالَ: فَانْدَفَعَ عُمَرُ رضي الله عنه، مَاكِثًا فَجَعَلْتُ أَرْثِي لَهُ ثُمَّ قَالَ: أَنْتَ وَاللَّهِ أَوْثَقُ مِنْهُ وَأَرْشَدُ فَهَلْ أَنْتَ غَافِرٌ لِي ذَنْبِي يَغْفِرِ اللَّهُ لَكَ، قَالَ: قُلْتُ: غَفَرَ اللَّهُ لَكَ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ، ثُمَّ انْدَفَعَ بَاكِيًا وَهُوَ يَقُولُ: وَاللَّهِ لَلَيْلَةٌ مِنْ أَبِي بَكْرٍ وَيَوْمٌ خَيْرٌ مِنْ عُمَرَ، هَلْ لَكَ أَنْ أُحَدِّثَكَ بِلَيْلَتِهِ وَيَوْمِهِ؟ قَالَ: قُلْتُ: نَعَمْ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ، قَالَ: أَمَّا لَيْلَتُهُ فَلَمَّا خَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم هَارِبًا مِنْ أَهْلِ مَكَّةَ خَرَجَ لَيْلا فَتَتَبَّعَهُ أَبُو بَكْرٍ، رضي الله عنه، فَجَعَلَ يَمْشِي مَرَّةً أَمَامَهُ وَمَرَّةً خَلْفَهُ، وَمَرَّةً عَنْ يَمِينِهِ وَمَرَّةً عَنْ يَسَارِهِ.
قَالَ: فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم:
«مَا هَذَا يَا أَبَا بَكْرٍ مَا أَعْرِفُ هَذَا مِنْ فِعْلِكَ؟» قَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ أَذْكُرُ الرَّصَدَ، فَأَكُونُ أَمَامَكَ، وَأَذْكُرُ الطَّلَبَ فَأَكُونُ خَلْفَكَ وَمَرَّةً عَنْ يَمِينِكَ، وَمَرَّةً عَنْ يَسَارِكَ لا آمَنُ عَلَيْكَ، فَمَشَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لَيْلَتَهُ عَلَى أَطْرَافِ
৬২৩ - আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন ইসমাঈল ইবনে মুহাম্মদ আস-সাফফার, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আল-হাসান ইবনে আরাফাহ, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন হুশাইম, আবু বিশর থেকে, তিনি সাঈদ ইবনে জুবায়ের থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি এক রাতে আমার খালা মাইমুনা বিনতুল হারিসের নিকট রাত যাপন করেছিলাম। তিনি বলেন: তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রাতে
সালাত পড়তে দাঁড়ালেন। তিনি বলেন: আমি তাঁর বাম পাশে দাঁড়িয়ে তাঁর সাথে সালাত পড়তে শুরু করলাম। তিনি বলেন: অতঃপর তিনি আমার চুলের অগ্রভাগ বা আমার মাথা ধরে আমাকে তাঁর ডান পাশে দাঁড় করালেন।
৬২৪ - আমার কাছে বর্ণনা করেছেন ফুরাত ইবনুস সাইব, মাইমুন ইবনে মিহরান থেকে, তিনি দাব্বাহ ইবনে মিহসান আল-গানাওয়ী থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আবু মুসা (রা.) বসরায় আমাদের আমির ছিলেন। তিনি যখন আমাদের উদ্দেশ্যে খুতবা দিতেন, তখন মহান আল্লাহর প্রশংসা ও গুণগান করতেন এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর দরুদ পাঠ করতেন, তারপর উমর (রা.)-এর জন্য দোয়া করতেন। তিনি বলেন: এতে আমি রাগান্বিত হলাম। তাই আমি তাঁর কাছে গিয়ে দাঁড়ালাম এবং তাঁকে বললাম: তাঁর সাথীর (আবু বকর) ব্যাপারে আপনার অবস্থান কোথায় যে আপনি তাঁকে (উমরকে) তাঁর ওপর প্রাধান্য দিচ্ছেন? তিনি বলেন: তিনি পরপর তিন জুমআয় এরূপ করলেন, অতঃপর তিনি উমর (রা.)-এর কাছে আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করে লিখলেন এবং বললেন: দাব্বাহ ইবনে মিহসান আল-গানাওয়ী আমার খুতবায় বিঘ্ন সৃষ্টি করছে। তখন উমর (রা.) তাঁর কাছে লিখে পাঠালেন যেন তিনি আমাকে তাঁর কাছে পাঠিয়ে দেন। তিনি বলেন: অতঃপর তিনি আমাকে তাঁর কাছে পাঠিয়ে দিলেন। আমি উমর (রা.)-এর কাছে উপস্থিত হয়ে তাঁর দরজায় কড়া নাড়লাম। তিনি আমার কাছে বেরিয়ে এলেন এবং জিজ্ঞেস করলেন: তুমি কে? তিনি বললেন: আমি দাব্বাহ ইবনে মিহসান আল-গানাওয়ী। তিনি বললেন: তোমার জন্য কোনো স্বাগতম বা আবাস নেই। তিনি (দাব্বাহ) বললেন: স্বাগতম তো মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে, আর আবাসের ব্যাপারে বলতে গেলে, আমার কোনো পরিবার বা সম্পদ নেই। হে উমর, আপনি কোন কারণে আমার শহর থেকে কোনো অপরাধ ছাড়াই আমাকে এখানে আনা বৈধ করলেন?
তিনি বললেন: তোমার ও তোমার আমিরের মধ্যে ঝগড়ার বিষয় কী? তিনি বলেন: আমি বললাম: হে আমিরুল মুমিনীন, এখন আমি আপনাকে বলছি। তিনি যখন আমাদের উদ্দেশ্যে খুতবা দিতেন, আল্লাহর প্রশংসা ও গুণগান করতেন এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর দরুদ পাঠ করতেন, তখন তিনি আপনার জন্য দোয়া দিয়ে শুরু করতেন। এতে আমি রাগান্বিত হলাম। তিনি বলেন: আমি তাঁর কাছে গিয়ে দাঁড়ালাম এবং বললাম: তাঁর সাথীর ব্যাপারে আপনার অবস্থান কোথায় যে আপনি তাঁকে তাঁর ওপর প্রাধান্য দিচ্ছেন? তিনি পরপর তিন জুমআয় এরূপ করলেন, এরপর তিনি আপনার কাছে আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করে লিখলেন। তিনি বলেন: উমর (রা.) কিছুক্ষণ নীরব থেকে দীর্ঘশ্বাস ফেললেন, আর আমি তাঁর জন্য করুণা বোধ করতে লাগলাম। এরপর তিনি বললেন: আল্লাহর কসম, তুমি তাঁর চেয়ে বেশি নির্ভরযোগ্য এবং সঠিক পথপ্রাপ্ত। তুমি কি আমার অপরাধ ক্ষমা করবে? আল্লাহ তোমাকে ক্ষমা করবেন। তিনি বলেন: আমি বললাম: হে আমিরুল মুমিনীন, আল্লাহ আপনাকে ক্ষমা করুন। অতঃপর তিনি কাঁদতে কাঁদতে বলতে লাগলেন: আল্লাহর কসম, আবু বকরের একটি রাত এবং একটি দিন উমরের (সারা জীবনের) চেয়ে উত্তম। আমি কি তোমাকে তাঁর সেই রাত ও দিনের কথা বলব? তিনি বলেন: আমি বললাম: হ্যাঁ, হে আমিরুল মুমিনীন। তিনি বললেন: তাঁর সেই রাতের ব্যাপারটি হলো, যখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মক্কাবাসীদের থেকে পলায়ন করে বের হলেন, তিনি রাতে বের হলেন এবং আবু বকর (রা.) তাঁর অনুসরণ করলেন। তিনি কখনো তাঁর সামনে চলতেন, কখনো তাঁর পিছনে, কখনো তাঁর ডানে আবার কখনো তাঁর বামে।
তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁকে বললেন:
«হে আবু বকর, এটা কী? তোমার তো এমন করার অভ্যাস নেই?» তিনি বললেন: ইয়া রাসূলুল্লাহ, আমি যখন অ্যাম্বুশ বা ওত পেতে থাকার কথা চিন্তা করি তখন আপনার সামনে চলি, আর যখন পশ্চাদ্ধাবনকারীদের কথা চিন্তা করি তখন আপনার পিছনে চলি, আবার কখনো ডানে এবং কখনো বামে চলি; আমি আপনার ব্যাপারে নিরাপদ বোধ করি না। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সারা রাত তাঁর পায়ের আঙুলের ডগায় ভর দিয়ে হাঁটলেন...
(খণ্ড: ১)
আল জুযউল আউয়ালু ওয়াস সানি মিন ফাওয়াইদি ইবনু বিশরান
(পৃষ্ঠা: ٢٠٥)
أَصَابِعِهِ حَتَّى حَفِيَتْ رِجْلاهُ، فَلَمَّا رَآهَا أَبُو بَكْرٍ أَنَّهَا حَفِيَتْ حَمَلَهُ عَلَى عَاتِقِهِ، وَجَعَلَ يُسْنِدُ بِهِ حَتَّى أَتَى بِهِ الْغَارَ فَأَنْزَلَهُ، ثُمَّ قَالَ: وَالَّذِي بَعَثَكَ بِالْحَقِّ لا تَدْخُلُ حَتَّى أَدْخُلَ فَإِنْ كَانَ فِيهِ شَيْءٌ نَزَلَ بِي قَبْلَكَ، فَدَخَلَ فَلَمْ يَرَ شَيْئًا، فَحَمَلَهُ وَكَانَ فِي الْغَارِ حَرْفٌ فِيهِ حَيَّاتٌ وَأَفَاعٍ فَخَشِيَ أَبُو بَكْرٍ، رضي الله عنه، أَنْ يَخْرُجَ مِنْهَا شَيْءٌ يُؤْذِي رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأَلْقَمَهُ قَدَمَهُ فَجَعَلْنَ تَضْرِبْنَهُ أَوْ تَلْسَعْنَهُ الْحَيَّاتُ وَالأَفَاعِي، وَجَعَلَتْ دُمُوعُهُ تَتَحَادَرُ وَرَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، يَقُولُ لَهُ: «يَا أَبَا بَكْرٍ لا تَحْزَنْ إِنَّ اللَّهَ مَعَنَا» فَأَنْزَلَ اللَّهُ سَكِينَتَهُ وَطُمَأْنِينَتَهُ لأَبِي بَكْرٍ.
فَهَذِهِ لَيْلَتُهُ، وَأَمَّا يَوْمُهُ فَلَمَّا تُوُفِّيَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَارْتَدَّتِ الْعَرَبُ، فَقَالَ بَعْضُهُمْ: نُصَلِّي وَلا نُزَكِّي، وَقَالَ بَعْضُهُمْ: نُزَكِّي وَلا نُصَلِّي فَأَتَيْتُهُ وَلا آلُوهُ نُصْحًا، فَقَالَتْ: يَا خَلِيفَةَ رَسُولِ اللَّهِ تَآلَفَ النَّاسُ وَارْفُقْ بِهِمْ، فَقَالَ: جَبَّارٌ فِي الْجَاهِلِيَّةِ خَوَّارٌ فِي الإِسْلامِ فَبِمَاذَا أَتَأَلَّفُهُمْ أَبِعُشْرٍ مُفْتَعَلٍ أَمْ بِشِعْرٍ مُفْتَرًى، قُبِضَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم وَارْتَفَعَ الْوَحْيُ، وَاللَّهِ لَوْ مَنَعُونِي عِقَالا مِمَّا كَانُوا يُعْطُونَ رَسُولَ اللَّهِ لَقَاتَلْتُهُمْ عَلَيْهِ، قَالَ: فَقَاتَلْنَا مَعَهُ، فَكَانَ وَاللَّهِ رَشِيدَ الأَمْرِ فَهَذَا يَوْمُهُ، وَكَتَبَ إِلَى أَبِي مُوسَى يَلُومُهُ
625 - أَخْبَرَنَا دَعْلَجُ بْنُ أَحْمَدَ، حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ أَبِي طَالِبٍ، حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ مُوسَى الأَنْصَارِيُّ، حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ يَزِيدَ بْنِ جَابِرٍ، قَالَ: قُلْتُ لِعُمَيْرِ بْنِ هَانِئٍ: أَرَى لِسَانَكَ لا يَفْتُرُ مِنْ ذِكْرِ اللَّهِ فَكَمْ تُسَبِّحُ فِي كُلِّ يَوْمٍ؟ قَالَ: مِائَةُ أَلْفٍ إِلا أَنْ تُخْطِئَ الأَصَابِعُ
626 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرٍو الْبَخْتَرِيُّ، حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ الْجَبَّارِ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم:
«الْمَدِينَةُ حَرَمٌ مَا بَيْنَ عَيْرٍ إِلَى ثَوْرٍ، فَمَنْ أَحْدَثَ فِيهَا حَدَثًا أَوْ آوَى مُحْدِثًا فَعَلَيْهِ لَعْنَةُ اللَّهِ وَالْمَلائِكَةِ وَالنَّاسِ أَجْمَعِينَ»
তাঁর আঙ্গুলের ডগায় ভর দিয়ে হাঁটার কারণে তাঁর পা দুটি ক্ষতবিক্ষত হয়ে গিয়েছিল। আবু বকর যখন দেখলেন যে তাঁর পা দুটি ক্ষতবিক্ষত হয়ে গেছে, তখন তিনি তাঁকে নিজের কাঁধে তুলে নিলেন এবং তাঁকে বহন করে গুহা পর্যন্ত নিয়ে আসলেন। সেখানে পৌঁছে তিনি তাঁকে নামালেন এবং বললেন: 'যিনি আপনাকে সত্যসহ পাঠিয়েছেন তাঁর শপথ, আমি প্রবেশ করার আগে আপনি প্রবেশ করবেন না। কারণ যদি সেখানে ক্ষতিকর কিছু থাকে, তবে তা আপনার আগে আমার ওপর আপতিত হবে।' অতঃপর তিনি প্রবেশ করলেন এবং কিছু দেখতে পেলেন না। তারপর তিনি তাঁকে বহন করে ভেতরে নিলেন। গুহায় একটি গর্ত ছিল যেখানে সাপ ও বিষধর নাগ ছিল। আবু বকর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) আশঙ্কা করলেন যে সেখান থেকে কোনো কিছু বেরিয়ে এসে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে কষ্ট দিতে পারে, তাই তিনি নিজের পা দিয়ে সেই গর্তের মুখ চেপে ধরলেন। ফলে সাপ ও বিষধর নাগগুলো তাঁর পায়ে দংশন করতে শুরু করল এবং তাঁর চোখের পানি গড়িয়ে পড়তে লাগল। এমতাবস্থায় আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁকে বলছিলেন: "হে আবু বকর, বিষণ্ণ হয়ো না, নিশ্চয়ই আল্লাহ আমাদের সাথে আছেন।" অতঃপর আল্লাহ আবু বকরের প্রতি তাঁর পক্ষ থেকে প্রশান্তি ও স্থৈর্য নাযিল করলেন।
এটি ছিল তাঁর রাতের বিষয়। আর তাঁর দিনের বিষয় হলো—যখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইন্তেকাল করলেন এবং আরবরা ধর্মত্যাগী হয়ে গেল, তখন তাদের কেউ বলল: 'আমরা সালাত আদায় করব কিন্তু যাকাত দেব না', আবার কেউ বলল: 'আমরা যাকাত দেব কিন্তু সালাত আদায় করব না।' তখন আমি তাঁর কাছে আসলাম এবং তাঁকে সদুপদেশ দিতে কোনো কার্পণ্য করলাম না। তিনি (আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহা অথবা অন্য কোনো বর্ণনাকারী) বললেন: 'হে আল্লাহর রাসূলের খলীফা! মানুষের সাথে হৃদ্যতা বজায় রাখুন এবং তাদের প্রতি কোমল হোন।' তখন তিনি বললেন: 'জাহিলিয়াতের যুগে ছিলেন অত্যন্ত কঠোর, আর ইসলামের যুগে হয়ে গেলেন কাপুরুষ! কিসের ভিত্তিতে আমি তাদের সাথে হৃদ্যতা দেখাব? কোনো বানোয়াট করের মাধ্যমে নাকি কোনো মিথ্যা কবিতার মাধ্যমে? নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইন্তেকাল করেছেন এবং ওহীর আগমন বন্ধ হয়ে গেছে। আল্লাহর শপথ! তারা আল্লাহর রাসূলকে যা প্রদান করত, তা থেকে যদি একটি উটের রশিও দিতে অস্বীকার করে, তবে তার বিনিময়ে আমি তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করব।' বর্ণনাকারী বলেন: অতঃপর আমরা তাঁর সাথে যুদ্ধ করলাম। আল্লাহর শপথ! তাঁর সিদ্ধান্ত ছিল অত্যন্ত সঠিক। এটি ছিল তাঁর দিনের বিষয়। আর তিনি আবু মূসাকে তিরস্কার করে পত্র লিখেছিলেন।
৬২৫ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন দালাজ বিন আহমদ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইব্রাহিম বিন আবি তালিব, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইসহাক বিন মুসা আল-আনসারী, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ওয়ালিদ বিন মুসলিম, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুর রহমান বিন ইয়াজিদ বিন জাবির। তিনি বলেন: আমি উমায়ের বিন হানিকে বললাম: 'আমি দেখছি আপনার জিহ্বা আল্লাহর যিকর থেকে এক মুহূর্তের জন্যও বিরত হচ্ছে না। আপনি প্রতিদিন কতবার তাসবীহ পাঠ করেন?' তিনি বললেন: 'এক লক্ষ বার, যদি না আমার আঙ্গুলগুলো গণনায় ভুল করে।'
৬২৬ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ বিন আমর আল-বাখতারী, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমদ বিন আব্দুল জাব্বার, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু মুয়াবিয়া, তিনি আ’মাশ থেকে, তিনি আবু সালিহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন:
"মদিনা হলো আইর পাহাড় থেকে সাওর পাহাড় পর্যন্ত পবিত্র এলাকা। যে ব্যক্তি এখানে কোনো নতুন অনিষ্টের উদ্ভব ঘটাবে অথবা কোনো অনিষ্টকারীকে আশ্রয় দেবে, তার ওপর আল্লাহর এবং ফেরেশতাদের ও সকল মানুষের লানত বা অভিশাপ।"
(খণ্ড: ১)
আল জুযউল আউয়ালু ওয়াস সানি মিন ফাওয়াইদি ইবনু বিশরান
(পৃষ্ঠা: ٢٠٦)
627 - أَخْبَرَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ مُحَمَّدٍ الصَّفَّارُ، حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَرَفَةَ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ عَيَّاشٍ الْحِمْصِيُّ، عَنْ بَحِيرِ بْنِ سَعْدٍ الْكَلاعِيِّ، عَنْ خَالِدِ بْنِ مَعْدَانَ، عَنْ كَثِيرِ بْنِ مرَّةَ الْحَضْرَمِيِّ، عَنْ عقُبَّةَ بْنِ عَامِرٍ الْجُهَنِيِّ، قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، يَقُولُ:
«الْجَاهِرُ بِالْقُرْآنِ كَالْجَاهِرِ بِالصَّدَقَةِ، وَالْمُسِرُّ بِالْقُرْآنِ كَالْمُسِرِّ بِالصَّدَقَةِ»628 - حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ الْمِصْرِيُّ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرِو بْنِ خَالِدٍ، حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ أَسَد بْنِ مُوسَى، حَدَّثَنَا مُؤَمَّلٌ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، قَالَ:
«مَنْ شَرِبَ الْخَمْرَ فَقَدْ كَفَرَ بِاللَّهِ عز وجل»629 - أَخْبَرَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ مُحَمَّدٍ الصَّفَّارُ، أَنْبَأَنَا أَحْمَدُ بْنُ مَنْصُورٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَنْبَأَنَا مَعْمَرٌ، فِيمَا أَظُنُّ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ حَبِيبٍ مَوْلَى عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ، عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ، عَنْ أَبِي مُرَاوِحٍ، عَنْ أَبِي ذَرٍّ، قَالَ: جَاءَ رَجُلٍ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَسَأَلَهُ، فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ
أَيُّ الأَعْمَالِ أَفْضَلُ؟ قَالَ: «إِيمَانٌ بِاللَّهِ وَجِهَادٌ فِي سَبِيلِ اللَّهِ» ، قَالَ: فَأَيُّ الْعِتَاقِ أَفْضَلُ؟ قَالَ: «أَنْفَسُهَا» ، قَالَ: أَفَرَأَيْتَ إِنْ لَمْ أَجِدْ؟ قَالَ: «فَتُعِينُ الضَّائِعَ أَوْ تَصْنَعُ لأَخْرَقَ» ، قَالَ: أَفَرَأَيْتَ إِنْ لَمْ أَسْتَطْعِ؟ قَالَ: «تَدَعُ النَّاسَ مِنْ شَرِّكَ فَإِنَّهَا صَدَقَةٌ، تَصَدَّقُ بِهَا عَلَى نَفْسِكَ»
630 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرِو بْنِ الْبَخْتَرِيِّ، حَدَّثَنَا سَعْدَانُ بْنُ نَصْرٍ، حَدَّثَنَا رَوْحُ بْنُ عُبَادَةَ، حَدَّثَنَا زَكَرِيَّا بْنُ إِسْحَاقَ، حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ دِينَارٍ، أَنَّهُ سَمِعَ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ، يَقُولُ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، يَقُولُ:
«الشَّهْرُ هَكَذَا وَهَكَذَا وَهَكَذَا» ، وَقَبَضَ إِبْهَامَهُ فِي الثَّالِثَةِ
৬২৭ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইসমাঈল ইবনে মুহাম্মদ আস-সাফফার, তিনি বলেছেন আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন হাসান ইবনে আরাফাহ, তিনি বলেছেন আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন ইসমাঈল ইবনে আইয়াশ আল-হিমসি, তিনি বাহীর ইবনে সাদ আল-কালাঈ থেকে, তিনি খালিদ ইবনে মা’দান থেকে, তিনি কাসীর ইবনে মুররাহ আল-হাদরামি থেকে, তিনি উকবাহ ইবনে আমির আল-জুহানি থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি:
«প্রকাশ্যে কুরআন পাঠকারী প্রকাশ্যে দানকারীর মতো, আর গোপনে কুরআন পাঠকারী গোপনে দানকারীর মতো»৬২৮ - আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আলী ইবনে মুহাম্মদ আল-মিসরি, তিনি বলেছেন আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন মুহাম্মদ ইবনে আমর ইবনে খালিদ, তিনি বলেছেন আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন সাঈদ ইবনে আসাদ ইবনে মুসা, তিনি বলেছেন আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন মুআম্মাল, তিনি সুফিয়ান থেকে, তিনি আবু যুবায়ের থেকে, তিনি জাবির থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন:
«যে ব্যক্তি মদ পান করল, সে আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার সাথে কুফরি করল»৬২৯ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইসমাঈল ইবনে মুহাম্মদ আস-সাফফার, তিনি আমাদের জানিয়েছেন আহমদ ইবনে মনসুর, তিনি বলেছেন আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আব্দুর রাজ্জাক, তিনি আমাদের জানিয়েছেন মা’মার—আমার ধারণা মতে—তিনি যুহরি থেকে, তিনি উরওয়াহ ইবনে যুবায়েরের মুক্তদাস হাবীব থেকে, তিনি উরওয়াহ ইবনে যুবায়ের থেকে, তিনি আবু মুরাবিহ থেকে, তিনি আবু যার থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসে তাঁকে জিজ্ঞাসা করল এবং বলল: হে আল্লাহর রাসূল,
কোন আমলটি সর্বোত্তম? তিনি বললেন: "আল্লাহর প্রতি ঈমান এবং আল্লাহর পথে জিহাদ।" তিনি বললেন: কোন দাস মুক্তি দেওয়া সর্বোত্তম? তিনি বললেন: "যা তাদের মধ্যে সর্বাধিক মূল্যবান।" তিনি বললেন: আপনি কি মনে করেন যদি আমি তা না পাই? তিনি বললেন: "তবে তুমি অভাবগ্রস্তকে সাহায্য করো অথবা অদক্ষ ব্যক্তির জন্য কাজ করে দাও।" তিনি বললেন: আপনি কি মনে করেন যদি আমি তা করতে সক্ষম না হই? তিনি বললেন: "মানুষকে তোমার অনিষ্ট থেকে নিরাপদ রাখো, এটি একটি সদকা যা তুমি নিজের জন্য প্রদান করলে।"
৬৩০ - আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন মুহাম্মদ ইবনে আমর ইবনে আল-বাখতারি, তিনি বলেছেন আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন সাদান ইবনে নাসর, তিনি বলেছেন আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন রাওহ ইবনে উবাদাহ, তিনি বলেছেন আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন যাকারিয়া ইবনে ইসহাক, তিনি বলেছেন আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আমর ইবনে দীনার, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে উমরকে বলতে শুনেছেন, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি:
«মাস এই পরিমাণ, এই পরিমাণ এবং এই পরিমাণ», এবং তিনি তৃতীয়বারে তাঁর বৃদ্ধাঙ্গুলিটি মুষ্টিবদ্ধ করলেন।
(খণ্ড: ১)
আল জুযউল আউয়ালু ওয়াস সানি মিন ফাওয়াইদি ইবনু বিশরান
(পৃষ্ঠা: ٢٠٧)
631 - أَخْبَرَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ الْمِصْرِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَبِي مَرْيَمَ، حَدَّثَنَا الْفِرْيَابِيُّ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِي الْخَطَّابِ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم
يَطُوفُ عَلَى نِسَائِهِ فِي غُسْلٍ وَاحِدٍ.
صَحِيحٌ مِنْ حَدِيثِ أَبِي الْخَطَّابِ قَتَادَةَ بْنِ دِعَامَةَ، وَهُوَ غَرِيبٌ مِنْ حَدِيثِ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ، عَنْ أَبِي عُرْوَةَ، عَنْ مَعْمَرِ بْنِ رَاشِدٍ عَنْهُ
632 - أَخْبَرَنَا حَمْزَةُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْعَبَّاسِ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْكَرِيمِ بْنُ الْهَيْثَمِ، حَدَّثَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ عُمَيْرٍ، عَنْ رِبْعِيِّ بْنِ خِرَاشٍ، عَنْ حُذَيْفَةَ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ
إِذَا أَوَى إِلَى فِرَاشِهِ، قَالَ: «اللَّهُمَّ بِاسْمِكَ أَحْيَا وَبِاسْمِكَ أَمُوتُ» وَإِذَا أَصْبَحَ حَمِدَ اللَّهَ وَقَالَ: «الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَحْيَانَا بَعْدَمَا أَمَاتَنَا وَإِلَيْهِ النُّشُورُ»
633 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ سُلَيْمَانَ النَّجَّارُ، حَدَّثَنَا حُسَيْنُ بْنُ مُعَاذِ ابْنِ أَخِي عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ الْوَهَّابِ الْجُهَنِيِّ، حَدَّثَنَا شَاذُ بْنُ فَيَّاضٍ، عَنْ حَمَّادِ بْنِ سَلَمَةَ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، يَقُولُ:
«إِذَا كَانَ يَوْمُ الْقِيَامَةِ نَادَى مُنَادٍ يَا مَعْشَرَ الْخَلائِقِ طَأْطِئُوا رُءُوسَكُمْ حَتَّى تَجُوزَ فَاطِمَةُ»
634 - أَخْبَرَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ مُحَمَّدٍ الصَّفَّارُ، حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مَنْصُورٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَنْبَأَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنِ ابْنِ الْمُسَيِّبِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم:
«مَثَلُ الْمُؤْمِنِ كَمَثَلِ الزَّرْعِ لا تَزَالُ الرِّيحُ تُفَيِّئُهُ وَلا يَزَالُ الْمُؤْمِنُ يُصِيبُهُ الْبَلاءُ، وَمَثَلُ الْمُنَافِقِ كَمَثَلِ شَجَرَةِ الأَرْزَةِ لا تَزَالُ تَهْتَزُّ حَتَّى تُسْتَحْصَدَ»
635 - حَدَّثَنَا حَمْزَةُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْعَبَّاسِ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ غَالِبِ بْنِ حَرْبٍ،
৬৩১ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আলী ইবনে মুহাম্মদ আল-মিসরি, তিনি বলেন আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আব্দুল্লাহ ইবনে আবি মারইয়াম, তিনি বলেন আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আল-ফিরইয়াবি, তিনি বলেন আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন সুফিয়ান, তিনি উরওয়াহ থেকে, তিনি আবুল খাত্তাব থেকে, তিনি আনাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)
একই গোসলে তাঁর স্ত্রীদের নিকট গমনাগমন করতেন।
এটি আবুল খাত্তাব কাতাদাহ ইবনে দিয়ামাহ-এর হাদীস হিসেবে সহীহ, এবং এটি সুফিয়ান আস-সাওরি-এর হাদীস হিসেবে গরীব, যা তিনি আবু উরওয়াহ থেকে, তিনি মা’মার ইবনে রাশিদ থেকে, তিনি তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন।
৬৩২ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হামযাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনুল আব্বাস, তিনি বলেন আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আব্দুল কারিম ইবনুল হাইসাম, তিনি বলেন আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন মুসলিম ইবনে ইবরাহিম, তিনি বলেন আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন শু’বাহ, তিনি আব্দুল মালিক ইবনে উমায়ের থেকে, তিনি রিবঈ ইবনে খিরাশ থেকে, তিনি হুযাইফাহ (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)
যখন তাঁর বিছানায় যেতেন, তখন বলতেন: «হে আল্লাহ, আপনার নামেই আমি জীবিত হই এবং আপনার নামেই আমি মৃত্যুবরণ করি»। আর যখন তিনি সকালে ঘুম থেকে উঠতেন, তখন আল্লাহর প্রশংসা করতেন এবং বলতেন: «সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি আমাদের মৃত্যু (নিদ্রা) দেওয়ার পর পুনরায় জীবিত করেছেন এবং তাঁর দিকেই পুনরুত্থান»।
৬৩৩ - আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আহমদ ইবনে সুলাইমান আন-নাজ্জার, তিনি বলেন আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন হুসাইন ইবনে মুয়ায—যিনি উবায়দুল্লাহ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব আল-জুহানি-এর ভ্রাতুষ্পুত্র, তিনি বলেন আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন শায ইবনে ফায়ইয়ায, তিনি হাম্মাদ ইবনে সালামাহ থেকে, তিনি হিশাম ইবনে উরওয়াহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি:
«যখন কিয়ামত দিবস উপস্থিত হবে, তখন একজন ঘোষণাকারী ঘোষণা দেবেন— হে সৃষ্টিজগত! তোমরা তোমাদের মস্তক অবনত করো যাতে ফাতেমা অতিক্রম করতে পারেন»।
৬৩৪ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইসমাঈল ইবনে মুহাম্মদ আস-সাফফার, তিনি বলেন আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আহমদ ইবনে মনসুর, তিনি বলেন আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আব্দুর রাজ্জাক, তিনি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মা’মার থেকে, তিনি যুহরি থেকে, তিনি ইবনুল মুসাইয়িব থেকে, তিনি আবু হুরাইরাহ (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন:
«ঈমানদারের উদাহরণ হলো শস্যক্ষেত্রের মতো, যাকে বাতাস সর্বদা নুইয়ে দেয়; আর মুমিন সর্বদা বিপদে আক্রান্ত হতে থাকে। আর মুনাফিকের উদাহরণ হলো এরয (দেবদারু জাতীয়) গাছের মতো, যা সহজে নড়ে না যতক্ষণ না তা উপড়ে ফেলা হয়»।
৬৩৫ - আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন হামযাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনুল আব্বাস, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন মুহাম্মদ ইবনে গালিব ইবনে হারব,
(খণ্ড: ১)
আল জুযউল আউয়ালু ওয়াস সানি মিন ফাওয়াইদি ইবনু বিশরান
(পৃষ্ঠা: ٢٠٨)
حَدَّثَنَا أَبُو عُمَرَ حَفْصُ بْنُ عُمَرَ الْحَوْضِيُّ، حَدَّثَنَا هَمَّامٌ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ أَبِي كَثِيرٍ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم:
«مَنْ قَامَ رَمَضَانَ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ»636 - قَالَ: وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم:
«مَنْ قَامَ لَيْلَةَ الْقَدْرِ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ»637 - حَدَّثَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ جَعْفَرُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ نُصَيْرٍ الْخَلَدِيُّ، إِمْلاءً، حَدَّثَنَا الْحَارِثُ بْنُ أَبِي أُسَامَةَ، حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ، حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم:
«لا تُسَافِرُ الْمَرْأَةُ سَفَرًا ثَلاثَةَ أَيَّامٍ فَصَاعِدًا إِلا مَعَ زَوْجِهَا أَوْ أَخِيهَا أَوْ ذَوِي مَحْرَمٍ»
638 - حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ سُلَيْمَانَ النَّجَّادُ، إِمْلاءً، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ غَالِبٍ، حَدَّثَنَا عُبَيْدُ بْنُ عُبَيْدَةَ، حَدَّثَنَا مَعْمَرٌ، عَنْ سُفْيَانَ بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ عَجْلانَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ: أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم رَأَى نُخَامَةً فِي قِبْلَةِ الْمَسْجِدِ فَحَكَّهَا بِعُرْجُونٍ كَانَ فِي يَدِهِ، وَقَالَ: " مَنْ فَعَلَ هَذَا؟ أَلَمْ أَنْهَ عَنْ هَذَا، وَقَالَ:
«إِذَا تَفَلَ أَحَدُكُمْ فِي صَلاتِهِ فَلْيَتْفُلْ تَحْتَ قَدَمِهِ الْيُسْرَى، فَإِنْ عَجِلَ بِهِ فَبَادِرْهُ فَلْيَحْمِلْهَا هَكَذَا فِي ثَوْبِهِ»
639 - أَخْبَرَنَا دَعْلَجُ بْنُ أَحْمَدَ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رُمَيْحٍ، حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ، حَدَّثَنَا جَعْفَرُ بْنُ بُرْقَانَ، عَنْ مَيْمُونِ بْنِ مِهْرَانَ، قَالَ: ثَلاثٌ احْفَظُوهُنَّ، لا تُنَازِعُوا أَهْلَ الْقَدَرِ، وَلا
আবু উমর হাফস ইবনে উমর আল-হাওযী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন হাম্মাম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন ইয়াহইয়া ইবনে আবি কাসির আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু সালামাহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন:
"যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে ও সওয়াবের আশায় রমজানে কিয়াম (তারাবিহ ও ইবাদত) করবে, তার পূর্ববর্তী গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।"636 - তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন:
"যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে ও সওয়াবের আশায় লাইলাতুল কদরে কিয়াম (ইবাদত) করবে, তার পূর্ববর্তী গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।"637 - আবু মুহাম্মদ জাফর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে নুসায়ের আল-খালদী আমাদের নিকট শ্রুতলিপি হিসেবে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আল-হারিস ইবনে আবি উসামাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আবু নুয়াইম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আল-আমাশ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু সালিহ থেকে, তিনি আবু সাঈদ (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন:
"কোনো নারী তিন দিন বা তদূর্ধ্ব সময়ের সফরে বের হবে না তার স্বামী, তার ভাই অথবা নিকটাত্মীয় মাহরাম ব্যতীত।"
638 - আবু বকর আহমদ ইবনে সুলাইমান আন-নাজ্জাদ আমাদের নিকট শ্রুতলিপি হিসেবে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন মুহাম্মদ ইবনে গালিব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন উবাইদ ইবনে উবাইদাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন মা'মার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান ইবনে সাঈদ থেকে, তিনি আজলান থেকে, তিনি নাফে থেকে, তিনি আবু সাঈদ আল-খুদরী (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মসজিদের কিবলার দিকে কফ দেখতে পেলেন, অতঃপর তিনি তার হাতে থাকা একটি খেজুরের ডাল দিয়ে তা ঘষে পরিষ্কার করলেন এবং বললেন: "কে এটি করেছে? আমি কি এ থেকে নিষেধ করিনি?" এবং তিনি বললেন:
"তোমাদের কেউ যখন সালাতরত অবস্থায় থুতু ফেলবে, তখন সে যেন তার বাম পায়ের নিচে ফেলে; আর যদি তা দ্রুত নির্গত হয়ে যায় তবে সে যেন তা এভাবে তার কাপড়ে নিয়ে নেয়।"
639 - দালাজ ইবনে আহমদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন মুহাম্মদ ইবনে রুমাইহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আবু নুয়াইম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন জাফর ইবনে বুরকান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মাইমুন ইবনে মিহরান থেকে, তিনি বলেন: তিনটি বিষয় তোমরা মুখস্থ রাখো; কদরিয়াদের (তকদির অস্বীকারকারী) সাথে বিবাদে লিপ্ত হবে না, এবং...
(খণ্ড: ১)
আল জুযউল আউয়ালু ওয়াস সানি মিন ফাওয়াইদি ইবনু বিশরান
(পৃষ্ঠা: ٢٠٩)
تَذْكُرُوا أَصْحَابَ مُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم إِلا بِخَيْرٍ، وَلا تَنْظُرُوا فِي النُّجُومِ
640 - أَخْبَرَنَا أَبُو عَلِيٍّ إِسْمَاعِيلُ بْنُ مُحَمَّدٍ الصَّفَّارُ، حَدَّثَنَا أَبُو عَلِيٍّ الْحَسَنُ بْنُ عَرَفَةَ الْعَبْدِيُّ، يَوْمَ الثُّلاثَاءِ فِي ذِي الْحِجَّةِ سَنَةَ سِتٍّ وَخَمْسِينَ وَمِائَتَيْنِ، حَدَّثَنَا أَبُو النَّضْرِ هَاشِمُ بْنُ الْقَاسِمِ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ الْمُغِيرَةِ، عَنْ ثَابِتٍ الْبُنَانِيِّ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: "
آتِي يَوْمَ الْقِيَامَةِ بَابَ الْجَنَّةِ فَأَسْتَفْتِحُ، فَيَقُولُ الْخَازِنُ: مَنْ أَنْتَ؟ فَأَقُولُ: مُحَمَّدٌ، فَيَقُولُ: بِكَ أُمِرْتُ أَنْ لا أَفْتَحَ لأَحَدٍ قَبْلَكَ "
641 - أَخْبَرَنَا أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ الْمِصْرِيُّ، حَدَّثَنَا مِقْدَامٌ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ، حَدَّثَنَا مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ، عَنْ حُمَيْدٍ الطَّوِيلِ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّهُ قَالَ:
«سَافَرْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي رَمَضَانَ فَمِنَّا الصَّائِمُ وَمِنَّا الْمُفْطِرُ، فَلَمْ يُعِبِ الصَّائِمُ عَلَى الْمُفْطِرِ، وَلا الْمُفْطِرُ عَلَى الصَّائِمِ»
642 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرٍو الْبَخْتَرِيُّ، حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ مُكْرَمٍ، حَدَّثَنَا رَوْحُ بْنُ عُبَادَةَ، حَدَّثَنَا زَكَرِيَّا بْنُ إِسْحَاقَ، حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ دِينَارٍ، أَنَّ مُحَمَّدَ بْنَ جُبَيْرٍ، أَخْبَرَهُ أَنَّهُ سَمِعَ ابْنَ عَبَّاسٍ، يَقُولُ: إِنِّي أَعْجَبُ مِنْ هَؤُلاءِ الَّذِينَ يَصُومُونَ قَبْلَ رَمَضَانَ، إِنَّمَا قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم:
«إِذَا رَأَيْتُمُ الْهِلالَ فَصُومُوا، وَإِذَا رَأَيْتُمُوهُ فَأَفْطِرُوا، فَإِنْ غُمَّ عَلَيْكُمْ فَعُدُّوا ثَلاثِينَ»
643 - أَخْبَرَنَا حَمْزَةُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْعَبَّاسِ، حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ الْوَلِيدِ، حَدَّثَنَا أَبُو أَحْمَدَ الزُّهْرِيُّ، حَدَّثَنَا إِسْرَائِيلُ، عَنْ أَبِي يَحْيَى، عَنْ مُجَاهِدٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ: "
لَيْسَ أَحَدٌ مِنْ أُمَّةِ مُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم، يُصَلِّي عَلَيْهِ صَلاةً إِلا وَهِيَ تَبْلُغُهُ، يَقُولُ الْمَلَكُ: فُلانٌ يُصَلِّي عَلَيْكَ كَذَا وَكَذَا صَلاةً "
তোমরা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীদের কেবল কল্যাণের সাথেই স্মরণ করবে এবং তারকাসমূহের (জ্যোতিষশাস্ত্র) প্রতি দৃষ্টিপাত করবে না।
৬৪০ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আলী ইসমাঈল ইবনে মুহাম্মাদ আস-সাফফার, আমাদের কাছে হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু আলী আল-হাসান ইবনে আরাফা আল-আবদী, দুইশত ছাপ্পান্ন হিজরী সনের জিলহজ মাসের মঙ্গলবার, আমাদের কাছে হাদীস বর্ণনা করেছেন আবুল নাদর হাশিম ইবনুল কাসিম, সুলায়মান ইবনুল মুগীরা থেকে, তিনি সাবিত আল-বুনানী থেকে, তিনি আনাস ইবনে মালিক থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "
আমি কিয়ামতের দিন জান্নাতের দরজায় আসব এবং তা খোলার আবেদন করব। তখন জান্নাতের রক্ষক বলবেন: আপনি কে? আমি বলব: মুহাম্মাদ। তখন তিনি বলবেন: আপনার ব্যাপারেই আমাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন আপনার আগে আমি অন্য কারো জন্য তা না খুলি।"
৬৪১ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল হাসান আলী ইবনে মুহাম্মাদ আল-মিসরী, আমাদের কাছে হাদীস বর্ণনা করেছেন মিকদাম, আমাদের কাছে হাদীস বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ ইবনে ইউসুফ, আমাদের কাছে হাদীস বর্ণনা করেছেন মালিক ইবনে আনাস, হুমায়দ আত-তবীল থেকে, তিনি আনাস ইবনে মালিক থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন:
«আমরা রমজান মাসে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে সফর করেছি। তখন আমাদের মধ্যে কেউ রোজা পালনকারী ছিল এবং কেউ রোজা ভঙ্গকারী ছিল। এমতাবস্থায় রোজা পালনকারী দোষারোপ করত না রোজা ভঙ্গকারীর ওপর, আর রোজা ভঙ্গকারীও রোজা পালনকারীর ওপর নয়।"»
৬৪২ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মাদ ইবনে আমর আল-বাখতারী, আমাদের কাছে হাদীস বর্ণনা করেছেন আল-হাসান ইবনে মুকরাম, আমাদের কাছে হাদীস বর্ণনা করেছেন রওহ ইবনে উবাদাহ, আমাদের কাছে হাদীস বর্ণনা করেছেন জাকারিয়া ইবনে ইসহাক, আমাদের কাছে হাদীস বর্ণনা করেছেন আমর ইবনে দীনার, যে মুহাম্মাদ ইবনে জুবায়ের তাকে সংবাদ দিয়েছেন যে তিনি ইবনে আব্বাসকে বলতে শুনেছেন: আমি ওইসব লোকদের দেখে বিস্ময়বোধ করি যারা রমজানের আগে রোজা রাখে, অথচ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কেবল বলেছেন:
«যখন তোমরা নতুন চাঁদ দেখবে তখন রোজা রাখবে, আর যখন তোমরা তা (পুনরায়) দেখবে তখন রোজা ভঙ্গ করবে। যদি আকাশ তোমাদের ওপর মেঘাচ্ছন্ন থাকে তবে গণনা করো ত্রিশ দিন»
৬৪৩ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হামজা ইবনে মুহাম্মাদ ইবনুল আব্বাস, আমাদের কাছে হাদীস বর্ণনা করেছেন আহমদ ইবনুল ওয়ালীদ, আমাদের কাছে হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু আহমদ আজ-জুহরী, আমাদের কাছে হাদীস বর্ণনা করেছেন ইসরাঈল, আবু ইয়াহইয়া থেকে, তিনি মুজাহিদ থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "
মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উম্মতের এমন কেউ নেই যে তার ওপর দরুদ পাঠ করে আর তা তার নিকট পৌঁছে দেওয়া হয় না। ফেরেশতা বলেন: অমুক ব্যক্তি আপনার ওপর এই এই দরুদ পাঠ করেছে।"
(খণ্ড: ১)
আল জুযউল আউয়ালু ওয়াস সানি মিন ফাওয়াইদি ইবনু বিশরান
(পৃষ্ঠা: ٢١٠)
644 - حَدَّثَنَا أَبُو عَمْرٍو عُثْمَانُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ السَّمَّاكِ، إِمْلاءً، حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُلاعِبٍ، حَدَّثَنَا أَبُو غَسَّانَ، حَدَّثَنَا إِسْرَائِيلُ، عَنْ عَبْدِ الأَعْلَى، عَنْ بِلالِ بْنِ أَبِي بُرْدَةَ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، يَقُولُ:
«مَنْ طَلَبَ الْقَضَاءَ وَاسْتَعَانَ عَلَيْهِ وُكِلَ إِلَيْهِ، وَمَنْ لَمْ يَطْلُبْهُ وَلَمْ يَسْتَعِنْ عَلَيْهِ أَنْزَلَ اللَّهُ إِلَيْهِ مَلَكًا يُسَدِّدُهُ»
645 - حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ سُلَيْمَانَ النَّجَّادُ، إِمْلاءً، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ السُّلَمِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ صَالِحٍ، حَدَّثَنِي يَحْيَى بْنُ أَيُّوبَ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ حَرْمَلَةَ الأَسْلَمِيِّ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيِّبِ، قَالَ: لَمَّا وَلِيَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ النَّاسَ عَلَى مِنْبَرِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، وَأَثْنَى عَلَيْهِ، ثُمَّ قَالَ: " يَأَيُّهَا النَّاسُ
قَدْ عَلِمْتُ أَنَّكُمْ كُنْتُمْ تُؤْنِسُونَ أَوْ تَرَوْنَ مِنِّي شِدَّةً وَغِلْظَةً وَذَلِكَ أَنِّي كُنْتُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَكُنْتُ عَبْدَهُ وَخَادِمَهُ، وَكَانَ كَمَا قَالَ اللَّهُ تَعَالَى: {رَءُوفٌ رَحِيمٌ} [التوبة: 128] وَكُنْتُ بَيْنَ يَدَيْهِ كَالسَّيْفِ الْمَسْلُولِ إِلا أَنْ يَغْمِدَنِي أَوْ يَنْهَانِي عَنْ أَمْرٍ فَأَكُفُّ عَنْهُ، وَإِلا أَقْدَمْتُ عَلَى النَّاسِ لِمَكَانٍ كُنْتُهُ، فَلَمْ أَزَلْ مَعَهُ عَلَى ذَلِكَ حَتَّى تَوَفَّاهُ اللَّهُ عز وجل وَهُوَ عَنِّي رَاضٍ، وَالْحَمْدُ للَّهِ عَلَى ذَلِكَ كَثِيرًا وَأَنَا بِهِ أَسْعَدُ، ثُمَّ قُمْتُ ذَلِكَ الْمَقَامَ مَعَ أَبِي بَكْرٍ، رضي الله عنه، خَلِيفَةِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فَكَانَ مَنْ قَدْ عَلِمْتُمْ فِي رَعْيِهِ، وَكَرَمِهِ، وَلِينِهِ، فَكُنْتُ خَادِمَهُ وَكُنْتُ كَالسَّيْفِ الْمَسْلُولِ بَيْنَ يَدَيْهِ، وَأَخْلِطُ شِدَّتِي بِلِينِهِ إِلا أَنْ يَتَقَدَّمَ إِلَيَّ فَأَكُنْ وَإِلا أَقْدَمْتُ، فَلَمْ أَزَلْ عَلَى ذَلِكَ حَتَّى تَوَفَّاهُ اللَّهُ، عز وجل، وَهُوَ عَنِّي رَاضٍ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ كَثِيرًا، وَأَنَا أَسْعَدُ بِذَلِكَ، ثُمَّ صَارَ أَمْرُكُمْ إِلَيَّ وَأَنَا أَعْلَمُ أَنَّهُ لَيَقُولُ قَائِلُكُمْ: كَانَ شَدِيدًا عَلَيْنَا وَالأَمْرُ إِلَى غَيْرِهِ فَكَيْفَ بِهِ وَقَدْ صَارَ إِلَيْهِ؟ فَاعْلَمُوا أَنَّكُمْ لا تَسْأَلُونَ عَنِّي أَحَدًا قَدْ عَرَفْتُمُونِي وَجَرَّبْتُمُونِي "
646 - حَدَّثَنَا عَبْدُ الصَّمَدِ بْنُ عَلِيٍّ، إِمْلاءً، حَدَّثَنَا حَمْدُونُ بْنُ أَحْمَدَ السِّمْسَارُ، حَدَّثَنَا الأَزْرَقُ بْنُ عَلِيٍّ، حَدَّثَنَا حَسَّانٌ، وَهُوَ ابْنُ إِبْرَاهِيمَ الْكَرْمَانِيِّ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عُبَادَةَ، قَالَ: قَالَ عَلِيٌّ، رضي الله عنه:
«كَلِمَةُ التَّقْوَى لا إِلَهَ إِلا اللَّهُ وَاللَّهُ أَكْبَرُ»
৬৪৪ - আবু আমর উসমান ইবনে আহমদ ইবনে আস-সাম্মাক আমাদের নিকট ইমলা হিসেবে হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আহমদ ইবনে মুলায়িব আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু গাসসান আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: ইসরাঈল আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আব্দুল আলা থেকে, তিনি বিলাল ইবনে আবু বুরদাহ থেকে, তিনি আনাস ইবনে মালিক থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি:
«যে ব্যক্তি বিচারকের পদ প্রার্থনা করে এবং এর জন্য সাহায্য চায়, তাকে সেই পদের ওপরই ছেড়ে দেওয়া হয়। আর যে ব্যক্তি তা প্রার্থনা করে না এবং এর জন্য সাহায্যও চায় না, আল্লাহ তার নিকট একজন ফেরেশতা পাঠান যে তাকে সঠিক পথে পরিচালিত করে।»
৬৪৫ - আবু বকর আহমদ ইবনে সুলাইমান আন-নাজ্জাদ আমাদের নিকট ইমলা হিসেবে হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল আস-সুলামী আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আবদুল্লাহ ইবনে সালিহ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: ইয়াহইয়া ইবনে আইয়ুব আমার নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আব্দুর রহমান ইবনে হারমালাহ আল-আসলামী থেকে, তিনি সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: যখন উমর ইবনুল খাত্তাব আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মিম্বরে দাঁড়িয়ে মানুষের ওপর কর্তৃত্ব গ্রহণ করলেন, তখন তিনি আল্লাহর প্রশংসা করলেন, অতঃপর বললেন: "হে লোকসকল!
আমি জেনেছি যে তোমরা আমার মাঝে কঠোরতা ও রুক্ষতা অনুভব করতে বা দেখতে; আর তা এজন্য ছিল যে, আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে ছিলাম, আমি ছিলাম তাঁর দাস ও খাদেম। আর তিনি তেমন ছিলেন যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {মমতাময়, পরম দয়ালু} [তওবা: ১২৮]। আমি তাঁর সম্মুখে উন্মুক্ত তরবারির মতো ছিলাম, যতক্ষণ না তিনি আমাকে কোষবদ্ধ করতেন কিংবা কোনো বিষয় থেকে আমাকে নিষেধ করতেন, তবেই আমি তা থেকে বিরত থাকতাম। অন্যথায় আমি আমার অবস্থানের কারণে মানুষের ওপর চড়াও হতাম। আমি তাঁর সাথে এভাবেই ছিলাম যতক্ষণ না আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা তাঁর মৃত্যু ঘটালেন এবং তিনি আমার ওপর সন্তুষ্ট ছিলেন। এজন্য আল্লাহর অনেক প্রশংসা এবং এতেই আমি সবচেয়ে সুখী। অতঃপর আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খলীফা আবু বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর সাথে সেই একই অবস্থানে দাঁড়ালাম। তাঁর দেখাশোনা, মহানুভবতা ও কোমলতা সম্পর্কে তোমরা যা জানার তা জানো। আমি তাঁর খাদেম ছিলাম এবং তাঁর সম্মুখে উন্মুক্ত তরবারির মতো ছিলাম; আমি আমার কঠোরতাকে তাঁর কোমলতার সাথে মিশিয়ে দিতাম। যদি তিনি আমাকে নির্দেশ দিতেন তবে আমি বিরত থাকতাম, অন্যথায় আমি অগ্রসর হতাম। আমি এভাবেই ছিলাম যতক্ষণ না আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা তাঁর মৃত্যু ঘটালেন এবং তিনি আমার ওপর সন্তুষ্ট ছিলেন। আল্লাহর অনেক প্রশংসা এবং এতে আমি অত্যন্ত সুখী। এরপর তোমাদের শাসনভার আমার নিকট এসেছে এবং আমি জানি যে তোমাদের কেউ কেউ বলছে: যখন দায়িত্ব অন্য কারো হাতে ছিল তখনই তিনি আমাদের প্রতি কঠোর ছিলেন, তাহলে এখন যখন দায়িত্ব তাঁর নিজের হাতে এসেছে তখন তাঁর অবস্থা কেমন হবে? জেনে রেখো, আমার সম্পর্কে তোমাদের কাউকে জিজ্ঞেস করার প্রয়োজন নেই, কারণ তোমরা আমাকে চিনেছ এবং আমাকে পরীক্ষা করেছ।"
৬৪৬ - আব্দুস সামাদ ইবনে আলী আমাদের নিকট ইমলা হিসেবে হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হামদুন ইবনে আহমদ আস-সিমসার আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আল-আযরাক ইবনে আলী আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: হাসান—যিনি ইবনে ইবরাহীম আল-কিরমানী—আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনে সালামাহ তাঁর পিতা থেকে, তিনি উবাদাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেছেন:
«তাকওয়ার বাণী হলো—আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই এবং আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ»
(খণ্ড: ১)
আল জুযউল আউয়ালু ওয়াস সানি মিন ফাওয়াইদি ইবনু বিশরান
(পৃষ্ঠা: ٢١١)
647 - حَدَّثَنَا جَعْفَرُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ نَصْرٍ الْخُلْدِيُّ، إِمْلاءً، حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ السَّلامِ بْنُ أَبِي حَازِمٍ، حَدَّثَنَا غَزْوَانُ بْنُ حُدَيْرٍ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّهُ كَانَ شَدِيدَ اللُّزُومِ لِعَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ، قَالَ: كَانَ عَلِيٌّ
إِذَا قَامَ إِلَى الصَّلاةِ فَكَبَّرَ ضَرَبَ بِيَدِهِ الْيُمْنَى عَلَى رُسْغِهِ الأَيْسَرِ، فَلا يَزَالُ كَذَلِكَ حَتَّى يَرْفَعَ إِلا أَنْ يَحُكَّ جِلْدًا أَوْ يُصْلِحَ ثَوْبَهُ، فَإِذَا سَلَّمَ عَنْ يَمِينِهِ سَلامٌ عَلَيْكُمْ، ثُمَّ يَلْتَفِتْ عَنْ شِمَالِهِ فَيُحِرِّكُ شَفَتَيْهِ فَلا يَدْرِي مَا يَقُولُ، ثُمَّ يَقُولُ: لا إِلَهَ إِلا اللَّهُ وَحْدَهُ لا شَرِيكَ لَهُ، لا حَوْلَ وَلا قُوَّةَ إِلا بِاللَّهِ، لا نَعْبُدُ إِلا إِيَّاهُ، ثُمَّ يُقْبِلُ عَلَى الْقَوْمِ بِوَجْهِهِ فَلا يُبَالِي عَنْ يَمِينِهِ انْصَرَفَ أَوْ عَنْ شِمَالِهِ "
648 - أَخْبَرَنَا دَعْلَجُ بْنُ أَحْمَدَ، حَدَّثَنَا بْنُ نَجْدَةَ، حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ يُونُسَ، قَالَ: سَمِعْتُ سُفْيَانَ الثَّوْرِيَّ، يَقُولُ مَا لا أُحْصِي: اللَّهُمَّ سَلِّمْ سَلِّمْ، اللَّهُمَّ سَلِّمْنَا مِنْهَا إِلَى خَيْرٍ، اللَّهُمَّ ارْزُقْنَا الْعَافِيَةَ فِي الدُّنْيَا
649 - أَخْبَرَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ مُحَمَّدٍ الصَّفَّارُ، حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَرَفَةَ، حَدَّثَنِي الْقَاسِمُ بْنُ مَالِكٍ الْمُزَنِيُّ، عَنِ الْمُخْتَارِ بْنِ فُلْفُلٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ: بَيْنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، ذَاتَ يَوْمٍ إِذْ أُقِيمَتِ الصَّلاةُ، فَقَالَ: «يَأَيُّهَا النَّاسُ
إِنِّي إِمَامُكُمْ فَلا تَسْبِقُونِي بِالرُّكُوعِ، وَلا بِالسُّجُودِ، وَلا تَرْفَعُوا رُءُوسَكُمْ، فَإِنِّي أَرَاكُمْ مِنْ خَلْفِي، وَايْمُ الَّذِي نَفْسُ مُحَمَّدٍ بِيَدِهِ لَوْ رَأَيْتُمْ مَا رَأَيْتُ لَضَحِكْتُمْ قَلِيلا وَلَبَكَيْتُمْ كَثِيرًا» ، قَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ وَمَا رَأَيْتَ؟ قَالَ: «الْجَنَّةَ وَالنَّارَ»
650 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرٍو الْبَخْتَرِيُّ الرَّزَّازُ، حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ الْجَبَّارِ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ فُضَيْلٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سَعْدٍ الأَنْصَارِيِّ، عَنْ حَبِيبِ بْنِ سَالِمٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: "
إِنَّ مُوسَى عليه السلام، كَانَ إِذَا اغْتَسَلَ اعْتَزَلَ وَحْدَهُ، فَقَالَتْ بَنُو إِسْرَائِيلَ: أَوَمِنْ قَالَ مِنْهُمْ: مَنْ يَفْعَلُ ذَلِكَ إِلا أَنَّهُ آدَرُ، فَبَيْنَا هُوَ ذَاتَ يَوْمٍ يَغْتَسِلُ، وَقَدْ وَضَعَ ثِيَابَهُ عَلَى حَجَرٍ فَهَجَّ بِثِيَابِهِ فَاتَّبَعَهُ مُوسَى وَهُوَ يَقُولُ: ثَوْبِي حَجَرُ ثَوْبِي حَتَّى ضَرَبَهُ سِتَّ ضَرَبَاتٍ أَوْ سَبْعًا فَإِنَّهُنَّ لَنَدَبَاتٌ فِي الْحَجَرِ فَلَمَّا نَظَرَتْ إِلَيْهِ بَنُو إِسْرَائِيلَ مُتَجَرِّدًا عَلِمُوا أَنَّهُ لَيْسَ كَمَا قَالُوا، وَذَلِكَ قَوْلُهُ تَعَالَى: {فَبَرَّأَهُ
৬৪৭ - আমাদের কাছে জাফর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে নাসর আল-খুলদি শ্রুতলিপি হিসেবে বর্ণনা করেছেন, আমাদের কাছে ইবরাহিম ইবনে আবদুল্লাহ বর্ণনা করেছেন, আমাদের কাছে মুসলিম ইবনে ইবরাহিম বর্ণনা করেছেন, আমাদের কাছে আবদুস সালাম ইবনে আবি হাজিম বর্ণনা করেছেন, আমাদের কাছে গাজওয়ান ইবনে হুদাইর তার পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি আলী ইবনে আবি তালিবের সাথে অত্যন্ত নিবিড়ভাবে থাকতেন। তিনি বলেন: আলী
যখন নামাজের জন্য দাঁড়াতেন এবং তাকবির দিতেন, তখন তিনি তাঁর ডান হাত তাঁর বাম হাতের কব্জির ওপর রাখতেন। রুকুতে যাওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি এভাবেই থাকতেন, কেবল চামড়া চুলকানো বা তাঁর কাপড় ঠিক করা ব্যতীত। যখন তিনি ডান দিকে সালাম ফেরাতেন তখন বলতেন 'আসসালামু আলাইকুম', এরপর বাম দিকে মুখ ফেরাতেন এবং তাঁর ঠোঁট দুটি নাড়াতেন, তবে তিনি কী বলতেন তা বোঝা যেত না। এরপর তিনি বলতেন: 'আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো অংশীদার নেই। আল্লাহর সাহায্য ছাড়া কোনো সামর্থ্য ও শক্তি নেই। আমরা কেবল তাঁরই ইবাদত করি।' এরপর তিনি লোকদের দিকে মুখ ফেরাতেন এবং তিনি ডান দিক দিয়ে ফিরলেন নাকি বাম দিক দিয়ে, সে বিষয়ে পরোয়া করতেন না।
৬৪৮ - আমাদের কাছে দ’লাজ ইবনে আহমদ সংবাদ দিয়েছেন, আমাদের কাছে ইবনে নাজদাহ বর্ণনা করেছেন, আমাদের কাছে আহমদ ইবনে ইউনুস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি সুফিয়ান আস-সাওরিকে অসংখ্যবার বলতে শুনেছি: হে আল্লাহ! আপনি নিরাপত্তা দিন, নিরাপত্তা দিন। হে আল্লাহ! আমাদের এখান থেকে কল্যাণের দিকে নিরাপদে পৌঁছে দিন। হে আল্লাহ! দুনিয়াতে আমাদের সুস্থতা দান করুন।
৬৪৯ - আমাদের কাছে ইসমাইল ইবনে মুহাম্মদ আস-সাফফার সংবাদ দিয়েছেন, আমাদের কাছে আল-হাসান ইবনে আরাফাহ বর্ণনা করেছেন, আমাদের কাছে আল-কাসিম ইবনে মালিক আল-মুজানি বর্ণনা করেছেন মুখতার ইবনে ফুলফুল থেকে, তিনি আনাস ইবনে মালিক থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: একদিন আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপস্থিতিতে নামাজের ইকামত দেওয়া হলো। তখন তিনি বললেন: «হে লোকসকল!
আমি তোমাদের ইমাম, সুতরাং তোমরা রুকু ও সিজদায় আমার আগে যেয়ো না এবং তোমাদের মাথা (আমার আগে) উঠিও না। কারণ আমি তোমাদেরকে আমার পেছন থেকেও দেখতে পাই। সেই সত্তার কসম, যাঁর হাতে মুহাম্মাদের প্রাণ, আমি যা দেখেছি তা যদি তোমরা দেখতে, তবে তোমরা হাসতে কম এবং কাঁদতে বেশি।» তারা জিজ্ঞেস করলেন: হে আল্লাহর রাসুল! আপনি কী দেখেছেন? তিনি বললেন: «জান্নাত ও জাহান্নাম।»
৬৫০ - আমাদের কাছে মুহাম্মদ ইবনে আমর আল-বাখতারি আর-রাজজাজ সংবাদ দিয়েছেন, আমাদের কাছে আহমদ ইবনে আবদিল জাব্বার বর্ণনা করেছেন, আমাদের কাছে মুহাম্মদ ইবনে ফুদাইল বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে সাদ আল-আনসারি থেকে, তিনি হাবিব ইবনে সালিম থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "
নিশ্চয়ই মুসা আলাইহিস সালাম যখন গোসল করতেন তখন নির্জনে একা করতেন। বনী ইসরাইলের লোকেরা বলল: বা তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলল: যে ব্যক্তি এমনটি করে, সে নিশ্চয়ই অণ্ডকোষের রোগে (আদর) আক্রান্ত। একদিন তিনি গোসল করছিলেন, এমতাবস্থায় তিনি তাঁর কাপড় একটি পাথরের ওপর রাখলেন। পাথরটি তাঁর কাপড় নিয়ে দৌড়াতে লাগল। মুসা সেটির পিছু নিলেন এবং বলতে লাগলেন: ও পাথর, আমার কাপড়! ও পাথর, আমার কাপড়! শেষ পর্যন্ত তিনি পাথরটিকে ছয়টি বা সাতটি আঘাত করলেন, যার ফলে পাথরের গায়ে সেই আঘাতের চিহ্ন পড়ে গেল। যখন বনী ইসরাইলের লোকেরা তাঁকে নগ্ন অবস্থায় দেখল, তখন তারা বুঝতে পারল যে, তিনি তেমন নন যেমনটা তারা বলেছিল। আর এটাই মহান আল্লাহর বাণী: {অতঃপর আল্লাহ তাঁকে নির্দোষ সাব্যস্ত করলেন...}
(খণ্ড: ১)
আল জুযউল আউয়ালু ওয়াস সানি মিন ফাওয়াইদি ইবনু বিশরান
(পৃষ্ঠা: ٢١٢)
اللَّهُ مِمَّا قَالُوا} [الأحزاب: 69] الآيَةُ.
إِلَى آخِرِهَا "
651 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ سُلَيْمَانَ بْنِ الْحَسَنِ النَّجَّادُ، قَالَ: قُرِئَ عَلَى سُلَيْمَانَ بْنِ الأَشْعَثِ، وَأَنَا أَسْمَعُ، حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، وَعَنْ أَبِي عَبْدِ اللَّهِ الأَغَرِّ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: "
يَنْزِلُ اللَّهُ عز وجل كُلَّ لَيْلَةٍ إِلَى سَمَاءِ الدُّنْيَا حِينَ يَبْقَى ثُلُثُ اللَّيْلِ الآخِرُ، فَيَقُولُ: مَنْ يَدْعُونِي فَأَسْتَجِيبَ لَهُ، مَنْ يَسْأَلُنِي فَأُعْطِيَهُ، مَنْ يَسْتَغْفِرُنِي فَأَغْفِرَ لَهُ "
652 - حَدَّثَنَا عَبْدُ الصَّمَدِ بْنُ عَلِيٍّ، إِمْلاءً، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ غَالِبِ بْنِ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الصَّمَدِ بْنُ النُّعْمَانِ، حَدَّثَنَا وَرْقَاءُ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ سَعْدِ بْنِ عُبَيْدَةَ، عَنْ عَلِيٍّ، وَالْبَرَاءِ، قَالا: خَرَجْنَا مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، فِي جِنَازَةٍ إِلَى بَقِيعِ الْغَرْقَدِ فَقَعَدَ وَقَعَدْنَا، وَمَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، غُصْنٌ أَوْ قَضِيبٌ يَنْكُثُ بِهِ الأَرْضَ وَيَرْفَعُ بَصَرَهُ إِلَى السَّمَاءِ، ثُمَّ يَخْفِضُ، ثُمَّ قَالَ:
«مَا مِنْكُمْ مِنْ نَفْسٍ إِلا وَقَدْ كُتِبَ مَكَانُهَا مِنَ الْجَنَّةِ وَالنَّارِ» ، قَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ فَبِمَ نَعْمَلُ؟ قَالَ: «اعْمَلُوا فَكُلٌّ مُيَسَّرٌ، السَّعِيدُ مَنْ يُسِّرَ لِعَمَلِ السَّعَادَةِ، وَالشَّقِيُّ مَنْ يُسِّرَ لِعَمَلِ الشَّقَاءِ»
653 - حَدَّثَنَا جَعْفَرُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ نُصَيْرٍ الْخُلْدِيُّ، إِمْلاءً، حَدَّثَنَا الْحَارِثُ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا سَلْمَانُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ بْنُ الْحَجَّاجِ، حَدَّثَنَا عَاصِمُ بْنُ عُبَيْد الله، عَنْ سَالِمِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عُمَرَ أَنَّهُ
اسْتَأْذَنَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم، فِي عُمْرَةٍ فَأُذِنَ لَهُ، وَقَالَ: «لا تَنْسَانَا يَا أَخِي مِنْ دُعَائِكَ» ، قَالَ: فَقَالَ لَهُ كَلِمَةً مَا سَرَّنِي أَنَّ لِي بِهَا الدُّنْيَا، قَالَ شُعْبَةُ: ثُمَّ لَقِيتُ عَاصِمًا بَعْدُ بِالْمَدِينَةِ، فَحَدَّثْتُهُ، فَقَالَ: «أَشْرِكْنَا يَا أَخِي فِي دُعَائِكَ»
654 - حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ مُحَمَّدٍ الصَّفَّارُ، حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَرَفَةَ، حَدَّثَنَا عِيسَى بْنُ
আল্লাহ তারা যা বলেছিল তা থেকে তাঁকে নির্দোষ প্রমাণ করেছেন} [আল-আহযাব: ৬৯] আয়াতটি শেষ পর্যন্ত।
৬৫১ - আহমাদ ইবন সুলাইমান ইবনুল হাসান আন-নাজ্জাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সুলাইমান ইবনুল আশআসের নিকট পাঠ করা হয়েছে এবং আমি তা শুনছিলাম। আল-কায়নাবী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মালিক থেকে, তিনি ইবন শিহাব থেকে, তিনি আবু সালামা ইবন আবদুর রহমান থেকে এবং তিনি আবু আবদুল্লাহ আল-আগার থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "
মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহ প্রতি রাতের শেষ তৃতীয়াংশ অবশিষ্ট থাকতে দুনিয়ার আকাশে নেমে আসেন। অতঃপর তিনি বলেন: কে আমাকে ডাকবে যাতে আমি তার ডাকে সাড়া দেই? কে আমার নিকট চাইবে যাতে আমি তাকে দান করি? কে আমার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করবে যাতে আমি তাকে ক্ষমা করে দেই?"
৬৫২ - আবদুস সামাদ ইবন আলী শ্রুতলিপি হিসেবে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবন গালিব ইবন হারব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবদুস সামাদ ইবনুন নুমান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ওয়ারকা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মানসুর থেকে, তিনি সাদ ইবন উবাইদাহ থেকে, তিনি আলী এবং আল-বারা থেকে বর্ণনা করেন, তাঁরা বলেন: আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে জানাযায় জান্নাতুল বাকী আল-গারকাদে বের হলাম। তিনি বসলেন এবং আমরাও বসলাম। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাতে একটি ডাল বা লাঠি ছিল যা দিয়ে তিনি মাটি খুঁড়ছিলেন। তিনি আকাশের দিকে তাঁর দৃষ্টি উত্তোলন করলেন, তারপর তা নিচু করলেন। এরপর তিনি বললেন:
«তোমাদের মধ্যে এমন কোনো প্রাণ নেই যার জান্নাত বা জাহান্নামের স্থান লিখে রাখা হয়নি।» তাঁরা বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, তবে আমরা কেন আমল করব? তিনি বললেন: «তোমরা আমল করে যাও, কারণ প্রত্যেকের জন্য তা সহজসাধ্য করা হয়েছে। সৌভাগ্যবান ব্যক্তির জন্য সৌভাগ্যের আমল সহজ করা হয়েছে, আর দুর্ভাগা ব্যক্তির জন্য দুর্ভাগ্যের আমল সহজ করা হয়েছে।»
৬৫৩ - জাফর ইবন মুহাম্মদ ইবন নুসায়ের আল-খুলদী শ্রুতলিপি হিসেবে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আল-হারিস ইবন মুহাম্মদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সালমান ইবন হারব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, শু'বাহ ইবনুল হাজ্জাজ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আসিম ইবন উবাইদুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সালিম ইবন আবদুল্লাহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি উমর থেকে বর্ণনা করেন যে,
তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট উমরার অনুমতি চাইলেন। তাঁকে অনুমতি দেওয়া হলো এবং তিনি বললেন: «হে আমার ভাই, তোমার দোয়ায় আমাদের ভুলে যেও না।» তিনি (উমর) বলেন: অতঃপর তিনি আমাকে এমন একটি কথা বললেন যার বিনিময়ে পুরো দুনিয়া পেলেও আমি এত খুশি হতাম না। শু'বাহ বলেন: পরবর্তীতে মদিনায় আমি আসিমের সাথে দেখা করে তাকে এটি বর্ণনা করলাম। তিনি বললেন: «হে আমার ভাই, তোমার দোয়ায় আমাদের শরিক করো।»
৬৫৪ - ইসমাইল ইবন মুহাম্মদ আস-সাফফার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আল-হাসান ইবন আরাফাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ঈসা ইবন...
(খণ্ড: ১)
আল জুযউল আউয়ালু ওয়াস সানি মিন ফাওয়াইদি ইবনু বিশরান
(পৃষ্ঠা: ٢١٣)
يُونُسَ بْنِ أَبِي إِسْحَاقَ السَّبِيعِيُّ، عَنِ الأَوْزَاعِيِّ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ، عَنْ قِلابَةَ، عَنْ أَبِي الْمُهَاجِرِ، عن بُرَيْدَةَ الأَسْلَمِيِّ، قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فِي بَعْضِ غَزَوَاتِهِ، فَقَالَ:
«بَكِّرُوا بِالصَّلاةِ فِي يَوْمٍ الْغَيْمِ، فَإِنَّهُ مَنْ تَرَكَ الصَّلاةَ الْعَصْرَ حَبِطَ عَمَلُهُ»655 - حَدَّثَنَا أَبُو عَمْرٍو عُثْمَانُ بْنُ أَحْمَدَ السَّمَّاكُ، إِمْلاءً، حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ الْهَيْثَمِ الْبَلَوِيُّ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ عَمْرٍو النَّصِيبِيُّ، حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، قَالَ:
«إِذَا لَقِيتُمُ الْمُشْرِكِينَ فِي الطَّرِيقِ فَلا تَبْدَءُوهُمْ بِالسَّلامِ وَاضْطَرُّوهُمْ إِلَى أَضْيَقِهِ»656 - أَخْبَرَنَا حَمْزَةُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْعَبَّاسِ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ عَبْدِ الْحَمِيدِ الْحُلْوَانِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو صَالِحٍ الْفَرَّاءُ، قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا إِسْحَاقَ الْفَزَارِيَّ، يُحَدِّثُ عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ أَبِي وَائِلٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، وَعَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي الأَحْوَصِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، أَنَّهُ
ذُكِرَ عِنْدَهُ رَجُلٌ نَامَ فَلَمْ يَسْتَيْقِظْ حَتَّى أَصْبَحَ، قَالَ: «ذَاكَ رَجُلٌ بَالَ الشَّيْطَانُ فِي أُذُنِهِ، أَوْ فِي أُذُنَيْهِ»
657 - أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ سُلَيْمَانَ النَّجَّادُ، إِمْلاءً، حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ مُكْرَمٍ الْبَزَّارُ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، أَنْبَأَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ نَافِعٍ، أَنَّ عَمْرَو بْنَ ثَابِتٍ الْعُتْوَارِيَّ، حَدَّثَ ابْنُ عُمَرَ، أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، يُحَدِّثُ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، قَالَ:
«الدِّينَارُ بِالدِّينَارِ ، وَالدِّرْهَمُ بِالدِّرْهَمِ لا فَضْلَ بَيْنَهُمَا، وَلا يُبَاعُ عَاجِلٌ بِآجِلٍ»658 - أَخْبَرَنَا دَعْلَجُ بْنُ أَحْمَدَ، حَدَّثَنَا مُخَوَّلُ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ سَعِيدٍ
ইউনুস বিন আবি ইসহাক আস-সাবি'ই, আওযা'ই থেকে, তিনি ইয়াহইয়া বিন আবি কাসীর থেকে, তিনি কিলাবাহ থেকে, তিনি আবুল মুহাজির থেকে, তিনি বুরাইদাহ আল-আসলামি থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর কোনো এক যুদ্ধে ছিলেন, তখন তিনি বললেন:
«মেঘলা দিনে তোমরা দ্রুত সালাত আদায় করো; কারণ যে ব্যক্তি আসরের সালাত ত্যাগ করে, তার আমল বিনষ্ট হয়ে যায়»৬৫৫ - আমাদের নিকট আবু আমর উসমান বিন আহমাদ আস-সাম্মাক এটি শ্রুতিলিখনের মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট ইবরাহীম বিন আল-হাইসাম আল-বালাওয়ী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাম্মাদ বিন আমর আন-নাসীবী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আল-আ'মাশ বর্ণনা করেছেন, তিনি আবু সালিহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন:
«যখন তোমরা পথে মুশরিকদের সাথে সাক্ষাৎ করবে, তখন তাদেরকে প্রথমে সালাম দিও না এবং তাদেরকে রাস্তার সংকীর্ণতম অংশে চলতে বাধ্য করো»৬৫৬ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হামযা বিন মুহাম্মাদ বিন আল-আব্বাস, তিনি বলেন: আমাদের নিকট মুহাম্মাদ বিন ইবরাহীম বিন আব্দুল হামীদ আল-হুলওয়ানী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবু সালিহ আল-ফাররা বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আবু ইসহাক আল-ফাযারীকে বলতে শুনেছি, তিনি সুফিয়ান থেকে, তিনি মানসূর থেকে, তিনি আবু ওয়াইল থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে; এবং আবু সালামাহ থেকে, তিনি আবুল আহওয়াস থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন যে,
তাঁর সামনে এমন এক ব্যক্তির কথা উল্লেখ করা হলো যে ঘুমিয়ে ছিল এবং সকাল হওয়া পর্যন্ত জাগ্রত হয়নি। তিনি বললেন: «ঐ ব্যক্তি তো এমন যার কানে—অথবা তার দুই কানে—শয়তান প্রস্রাব করে দিয়েছে»
৬৫৭ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আহমাদ বিন সুলাইমান আন-নাজ্জাদ শ্রুতিলিখনের মাধ্যমে, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাসান বিন মাকরাম আল-বাযযার বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট ইয়াযীদ বিন হারুন বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইয়াহইয়া বিন সা'ঈদ, তিনি নাফে' থেকে বর্ণনা করেন যে, আমর বিন সাবিত আল-উতওয়ারী ইবনে উমরকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি আবু সা'ঈদ আল-খুদরীকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করতে শুনেছেন, তিনি বলেছেন:
«দীনারের বিনিময়ে দীনার এবং দিরহামের বিনিময়ে দিরহাম সমান সমান হতে হবে, তাদের মধ্যে কোনো কম-বেশি থাকা চলবে না, এবং নগদ বস্তু বাকিতে বিক্রয় করা যাবে না»৬৫৮ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন দালাজ বিন আহমাদ, আমাদের নিকট মুখাওওয়াল বিন মুহাম্মাদ বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট ইবরাহীম বিন সা'ঈদ বর্ণনা করেছেন
(খণ্ড: ১)
আল জুযউল আউয়ালু ওয়াস সানি মিন ফাওয়াইদি ইবনু বিশরান
(পৃষ্ঠা: ٢١٤)
الْجَوْهَرِيُّ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ عَبْدِ الْكَرِيمِ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الصَّمَدِ بْنُ مَعْقِلٍ، عَنْ وَهْبٍ، قَالَ: أَوْحَى اللَّهُ تَعَالَى إِلَى دَاوُدَ: يَا دَاوُدُ، ارْفَعْ رَأْسَكَ، فَقَدْ غَفَرْتُ لَكَ، غَيْرَ أَنَّهُ لَيْسَ لَكَ عِنْدِي، قَالَ: ذَاكَ الَّذِي كَانَ
659 - حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ مُحَمَّدٍ الصَّفَّارُ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْكَرِيمِ بْنُ الْهَيْثَمِ، حَدَّثَنَا أَبُو الْيَمَانِ، أَخْبَرَنِي شُعَيْبُ بْنُ أَبِي حَمْزَةَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، أَخْبَرَنِي سَعِيدُ بْنُ الْمُسَيِّبِ، وَأَبُو سَلَمَةَ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، أَنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ، قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، يَقُولُ:
«تَفْضُلُ صَلاةُ الْجَمْعِ عَلَى صَلاةِ أَحَدِكُمْ وَحْدَهُ بِخَمْسٍ وَعِشْرِينَ جُزْءًا، وَتَجْتَمِعُ مَلائِكَةُ اللَّيْلِ وَالنَّهَارِ فِي صَلاةِ الْفَجْرِ» ، ثُمَّ يَقُولُ أَبُو هُرَيْرَةَ: وَاقْرَءُوا إِنْ شِئْتُمْ: {وَقُرْءَانَ الْفَجْرِ إِنَّ قُرْءَانَ الْفَجْرِ كَانَ مَشْهُودًا} [الإسراء: 78]
660 - أَخْبَرَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ الْمِصْرِيُّ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرٍو، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ صَالِحٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ أَيُّوبَ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، قَالَ:
«حَجَّةٌ لِمَنْ لَمْ يَحُجَّ خَيْرٌ مِنْ عَشْرَةِ غَزَوَاتٍ، وَغَزْوَةٌ لِمَنْ قَدْ حَجَّ خَيْرٌ مِنْ عَشْرَةِ حِجَجٍ، وَغَزْوَةٌ فِي الْبَحْرِ خَيْرٌ مِنْ عَشْرِ غَزَوَاتٍ فِي الْبَرِّ، وَمَنْ جَازَ الْبَحْرَ فَكَأَنَّمَا جَازَ الأَوْدِيَةَ كُلَّهَا، وَالْمَائِدُ فِيهِ كَالْمُتَشَخِّطِ فِي دَمِهِ»
661 - أَخْبَرَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ صَفْوَانَ الْبَرْذَعِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي الدُّنْيَا، حَدَّثَنِي أَبِي، وَالْعَبَّاسُ بْنُ هِشَامٍ، عَنْ هِشَامِ بْنِ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنِي أَبُو نَضْرٍ مَالِكُ بْنُ نَصْرٍ الدَّالانِيُّ، قَالَ: سَمِعْتُ أَعْشَى هَمْدَانَ الشَّاعِرَ، يُحَدِّثُ، وَقَالَ: إِنِّي سَمِعْتُ رَجُلا مِنَّا يُحَدِّثُ، قَالَ: خَرَجَ مَالِكُ بْنُ جديم الهمداني الشاعر فِي الجاهلية، ومعه نفر من قومه يريدون عكاظ، فاصطادوا ظبيا فِي طريقهم، وقد أصابهم عطش شديد، فانتبهوا إِلَى مكان يقال له: أجره فجعلوا يقصدون دم الظبي ويشربونه من العطش حَتَّى إذا نفد ذبحوه ثُمَّ تفرقوا فِي طلب الحطب، فقام مَالِك فِي الخباء، فأثار أصحابه شجاعا
জাওহারী, ইসমাঈল বিন আব্দুল কারীম আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আব্দুস সামাদ বিন মাকিল ওয়াহাব থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহ তাআলা দাউদ (আ.)-এর প্রতি ওহী পাঠালেন: হে দাউদ, তোমার মাথা তোলো, আমি তোমাকে ক্ষমা করে দিয়েছি, তবে তা আমার কাছে তোমার জন্য নেই, তিনি (দাউদ) বললেন: যা হওয়ার ছিল তাই হয়েছে।
৬৫৯ - ইসমাঈল বিন মুহাম্মদ আস-সাফফার আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আব্দুল কারীম বিন হাইসাম আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আবুল ইয়ামান আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, শুআইব বিন আবু হামযাহ আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, যুহরী থেকে, সাঈদ বিন মুসাইয়িব ও আবু সালামাহ বিন আব্দুর রহমান আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, আবু হুরায়রা (রা.) বলেছেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি:
«জামাতের সালাত তোমাদের একাকী সালাতের চেয়ে পঁচিশ গুণ বেশি মর্যাদাপূর্ণ। আর ফজর সালাতে রাতের ফেরেশতাগণ এবং দিনের ফেরেশতাগণ একত্রিত হন» , অতঃপর আবু হুরায়রা (রা.) বলতেন: তোমরা চাইলে পাঠ করতে পারো: {এবং ফজরের কুরআন পাঠ; নিশ্চয় ফজরের কুরআন পাঠ প্রত্যক্ষ করা হয়} [আল-ইসরা: ৭৮]
৬৬০ - আলী বিন মুহাম্মদ বিন আহমদ আল-মিসরী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মুহাম্মদ বিন আমর আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আব্দুল্লাহ বিন সালিহ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, ইয়াহইয়া বিন আইয়ুব আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, ইয়াহইয়া বিন সাঈদ থেকে, তিনি সাঈদ বিন ইয়াসার থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ বিন আমর বিন আস (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন:
«যে ব্যক্তি হজ করেনি তার জন্য একটি হজ দশটি যুদ্ধের চেয়ে উত্তম, আর যে ব্যক্তি হজ করেছে তার জন্য একটি যুদ্ধ দশটি হজের চেয়ে উত্তম। আর সমুদ্রে একটি যুদ্ধ স্থলভাগের দশটি যুদ্ধের চেয়ে উত্তম। যে ব্যক্তি সমুদ্র অতিক্রম করল, সে যেন সমস্ত উপত্যকাই অতিক্রম করল। আর সমুদ্র ভ্রমণে যার মাথা ঘোরে বা অস্থিরতা হয়, সে আল্লাহর পথে নিজের রক্তে ছটফটকারী ব্যক্তির ন্যায়»৬৬১ - হুসাইন বিন সাফওয়ান আল-বারযাঈ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন আবিদ দুনিয়া আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আমার পিতা ও আব্বাস বিন হিশাম আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, হিশাম বিন মুহাম্মদ থেকে, আবু নাযর মালিক বিন নাসর আদ-দালানি আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি কবি আশা হামদানকে বর্ণনা করতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আমাদের এক লোককে বর্ণনা করতে শুনেছি, তিনি বলেছেন: জাহেলি যুগে মালিক বিন জুদাইম আল-হামদানি নামক এক কবি তার গোত্রের একদল লোক নিয়ে ওকাযের উদ্দেশ্যে বের হলেন। পথিমধ্যে তারা একটি হরিণ শিকার করলেন এবং তারা প্রচণ্ড তৃষ্ণার্ত হয়ে পড়লেন। অতঃপর তারা 'আজরাহ' নামক এক স্থানের দিকে মনোনিবেশ করলেন এবং তৃষ্ণার চোটে হরিণের রক্ত পান করতে লাগলেন। অবশেষে রক্ত শেষ হলে তারা ওটি যবেহ করলেন এবং জ্বালানি কাঠের সন্ধানে সবাই ছড়িয়ে পড়লেন। তখন মালিক তাঁবুতে অবস্থান করছিলেন, এমতাবস্থায় তার সঙ্গীরা একটি সাপকে তাড়া দিল।
(খণ্ড: ১)
আল জুযউল আউয়ালু ওয়াস সানি মিন ফাওয়াইদি ইবনু বিশরান
(পৃষ্ঠা: ٢١٥)
فانساب، حَتَّى دخل خباء مَالِك، وأقبلوا، فقالوا: يَا ملك عندك الشجاع فاقتله، فاستيقظ مَالِك، فَقَالَ: اقسمت عليكم ألا كففتم عَنْهُ، فكفوا وأنشأت الأسود، فذهب وأنشأ مَالِك يَقُولُ:
وأوصاني الجريم بعز جاري
… وأمنعه وليس به امتناع
وأرفع ضيمة وأذود عَنْهُ
… وأمنعه إذا منع المتاع
فدى للمواني عَنْهُ شجوًا
… لسن مَا استجار به الشجاع
ولا تتحملوا دم مستجير
… تضمنه أجيره فالتلاع
فإن لما يرون عني أمرًا
… له من دون أمركم متاع
ثُمَّ ارتحلوا، وقد أجهدهم العطش، فإذا بهاتف يهتف بهم وَهُوَ يَقُولُ:
يَا أيها القوم لاما إمامكم حَتَّى
… تسوموا المطايا فوقها التعبا
ثُمَّ اعدلوا شامة فالماء عَنْ كثب
… عين رواء وماء يذهب اللغبا
حَتَّى إذا مَا أصبتم منه ريكم
… فاسقوا المطايا ومنه فاملئوا القربا
قَالَ: فعدلوا شامة، فإذا هم بعين جرارة فشربوا، وسقوا إبلهم، وحملوا منه ريهم، ثُمَّ أتوا عكاظ ثُمَّ انصرفوا فانتبهوا إِلَى موضع العين، ولم يروا شيئا، وإذا بهاتف، يَقُولُ:
يَا مال عني جزاك اللَّه صالحه
… هَذَا وداع لكم مني وتسليم
لا تزهدن فِي اصطناع العرف من
… أحد إن الَّذِي يحرم المعروف محروم
أنا الشجاع الَّذِي أنجيت من زهق
… شكرت ذَلِكَ أن الشكر مقسوم
من يفعل الخير لا يعدم معيته
… مَا عاش والكفر بعد الغب مذموم
662 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرٍو الْبَخْتَرِيُّ الرَّزَّازُ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ جَعْفَرٍ، أَنْبَأَنَا وَهْبُ بْنُ جَرِيرٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، قَالَ: سَمِعْتُ غَيْلانَ بْنَ جَرِيرٍ، يُحَدِّثُ عَنِ الشَّعْبِيِّ، عَنْ فَاطِمَةَ بِنْتِ قَيْسٍ، قَالَتْ: قَدِمَ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم تَمِيمٌ الدَّارِيُّ، قَالَ: فَأَخْبَرَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ
رَكِبَ الْبَحْرَ فَتَاهَتْ سَفِينَتُهُمْ، فَسَقَطُوا إِلَى جَزِيرَةٍ، فَخَرَجُوا إِلَيْهَا يَلْتَمِسُونَ الْمَاءَ، فَلَقِيَ إِنْسَانًا يَجُرُّ شَعْرَهُ، فَقَالَ: مَا أَنْتَ؟ قَالَ: أَنَا الْجَسَّاسَةُ، قَالَ لَهُ: فَأَخْبِرْنَا؟ قَالَ: لا أُخْبِرُكُمْ، وَلَكِنْ عَلَيْكُمْ بِهَذِهِ الْخَرِبَةِ، فَدَخَلْنَاهَا، فَإِذَا مُصَفَّدٌ، فَقَالَ: مَا أَنْتُمْ؟ قُلْنَا: نَاسٌ مِنَ الْعَرَبِ، قَالَ: مَا فَعَلَ هَذَا النَّبِيُّ الَّذِي خَرَجَ فِيكُمْ؟ قُلْنَا: آمَنَ بِهِ النَّاسُ وَاتَّبَعُوهُ وَصَدَّقُوهُ، قَال: ذَاكَ خَيْرٌ لَهُمْ، قَالَ: أَفَلا تُخْبِرُونِي عَنْ زُفَرَ مَا فَعَلَتْ؟ فَأَخْبَرْنَاهُ عَنْهَا فَوَثَبَ وَثْبَةً كَادَ
সেটি এঁকেবেঁকে চলল, এমনকি মালিকের তাঁবুতে প্রবেশ করল। তারা এগিয়ে এসে বলল: হে মালিক! তোমার কাছে সাপটি রয়েছে, তাকে হত্যা করো। মালিক জেগে উঠলেন এবং বললেন: আমি তোমাদের শপথ দিচ্ছি যে, তোমরা তার থেকে বিরত থাকো। ফলে তারা বিরত থাকল। সাপটি চলে গেল এবং মালিক বলতে শুরু করলেন:
জারিইম (আমার পূর্বপুরুষ) আমাকে আমার প্রতিবেশীর সম্মানের অসিয়ত করেছেন
… এবং আমি তাকে রক্ষা করি যদিও তার রক্ষা পাওয়ার কোনো উপায় নেই।
আমি তার থেকে জুলুম দূর করি এবং তাকে শত্রুমুক্ত রাখি
… এবং তাকে রক্ষা করি যখন তাকে সম্পদ থেকে বঞ্চিত করা হয়।
আমি তাকে ব্যথিত হওয়া থেকে রক্ষা করি
… সেই সাপের জন্য যার আশ্রয়দাতার কাছে কোনো ভাষা নেই।
তোমরা এমন একজনের রক্তের দায় নিও না যে আশ্রয় প্রার্থনা করেছে
… যার নিরাপত্তা তার আশ্রয়দাতা নিশ্চিত করেছে।
কেননা তারা আমার কাছে এমন একটি বিষয় দেখতে পায়
… যা তোমাদের বিষয়ের বাইরে তার জন্য একটি পাথেয়।
অতঃপর তারা যাত্রা করল, তৃষ্ণা তাদের ক্লান্ত করে ফেলেছিল। হঠাৎ এক অদৃশ্য আহ্বানকারী তাদের উদ্দেশে আহ্বান করে বলতে লাগল:
হে কওম! তোমাদের ইমামকে তিরস্কার করো না যতক্ষণ না
… তোমরা সওয়ারিগুলোকে ক্লান্তির ওপর চালিত করবে।
অতঃপর তোমরা বাম দিকে মোড় নাও, তবেই অদূরে পানি পাবে
… এমন এক প্রবাহমান ঝরনা যা ক্লান্তি দূর করবে।
যখন তোমরা সেখান থেকে তোমাদের তৃষ্ণা নিবারণ করবে
… তখন সওয়ারিগুলোকে পান করাও এবং মশকগুলো পূর্ণ করে নাও।
তিনি বলেন: অতঃপর তারা বাম দিকে মোড় নিল এবং একটি প্রবাহমান ঝরনা দেখতে পেল। তারা পান করল, উটগুলোকে পান করাল এবং তৃষ্ণা মেটানোর জন্য পানি সাথে নিল। অতঃপর তারা উকাজ বাজারে পৌঁছাল এবং সেখান থেকে ফিরে এল। তখন তারা সেই ঝরনার স্থানের দিকে লক্ষ্য করল কিন্তু কিছুই দেখতে পেল না। হঠাৎ এক অদৃশ্য আহ্বানকারী বলতে লাগল:
হে মালিক! আমার পক্ষ থেকে আল্লাহ তোমাকে উত্তম প্রতিদান দিন
… এটি তোমাদের প্রতি আমার পক্ষ থেকে বিদায় ও সালাম।
কারও প্রতি সদাচরণ করতে কার্পণ্য করো না
… নিশ্চয়ই যে সৎকাজ থেকে বঞ্চিত সে প্রকৃতই বঞ্চিত।
আমিই সেই সাপ যাকে তুমি ধ্বংস থেকে বাঁচিয়েছিলে
… আমি তার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি, কেননা কৃতজ্ঞতা বণ্টিত হয়।
যে ব্যক্তি সৎকাজ করে সে তার সঙ্গ হারায় না
… যতক্ষণ সে বেঁচে থাকে, আর অকৃতজ্ঞতা নিন্দনীয়।
৬৬২ - মুহাম্মদ ইবনে আমর আল-বাখতারি আর-রাজজাজ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ইয়াহইয়া ইবনে জাফর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ওয়াহাব ইবনে জারির আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আমার পিতা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি গায়লান ইবনে জারিরকে আশ-শা'বি থেকে এবং তিনি ফাতিমা বিনতে কায়স থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি, তিনি বলেন: তামীম আদ-দারি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আসলেন। তিনি বলেন: অতঃপর তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সংবাদ দিলেন যে, তিনি
সমুদ্রে ভ্রমণ করেছিলেন এবং তাদের জাহাজটি পথ হারিয়ে ফেলেছিল। ফলে তারা একটি দ্বীপে গিয়ে পড়ে। তারা পানির সন্ধানে সেখানে নামলে এমন এক প্রাণীর দেখা পায় যার অনেক চুল ছিল। সে (তামীম) জিজ্ঞেস করল: তুমি কে? সে বলল: আমি জাসসাসাহ (গোয়েন্দা)। সে তাকে বলল: আমাদের সংবাদ দাও। সে বলল: আমি তোমাদের সংবাদ দেব না, তবে তোমরা ওই ধ্বংসস্তূপের (গির্জার) দিকে যাও। আমরা সেখানে প্রবেশ করলাম, সেখানে শিকল দিয়ে শক্তভাবে বাঁধা একজন ব্যক্তিকে দেখতে পেলাম। সে বলল: তোমরা কারা? আমরা বললাম: আরবের একদল মানুষ। সে বলল: তোমাদের মাঝে যে নবীর আবির্ভাব হয়েছে তার অবস্থা কী? আমরা বললাম: মানুষ তার ওপর ঈমান এনেছে, তার অনুসরণ করেছে এবং তাকে সত্য বলে স্বীকার করেছে। সে বলল: সেটিই তাদের জন্য কল্যাণকর। সে বলল: তোমরা কি আমাকে যুফার সম্পর্কে সংবাদ দেবে না যে তার কী হয়েছে? আমরা তাকে সে সম্পর্কে সংবাদ দিলাম। তখন সে সজোরে লাফিয়ে উঠল যা প্রায়...
(খণ্ড: ১)
আল জুযউল আউয়ালু ওয়াস সানি মিন ফাওয়াইদি ইবনু বিশরান
(পৃষ্ঠা: ٢١٦)
يَخْرُجُ مِنْ وَرَاءِ الْجِدَارِ، ثُمَّ قَالَ: مَا فَعَلَ نَخْلُ نَيْسَانَ؟ هَلْ أَطْعَمَ بَعْدُ؟ فَأَخْبَرْنَاهُ أَنَّهُ قَدْ أَطْعَمَ فَوَثَبَ مِثْلَهَا، ثُمَّ قَالَ: أَمَا لَوْ أُذِنَ لِي بِالْخُرُوجِ لَوَطِئْتُ الْبِلادَ كُلَّهَا غَيْرَ طَيْبَةَ؟ قَالَتْ: فَخَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَحَدَّثَ النَّاسَ، وَقَالَ: «هَذِهِ طَيْبَةُ وَذَاكَ الدَّجَّالُ»
663 - أَخْبَرَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ الْمِصْرِيُّ، حَدَّثَنَا مَالِكُ بْنُ يَحْيَى، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي سَلَمَةَ مَوْلَى أَبِي بَكْرٍ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، قَالَ:
«الْعُمْرَةُ إِلَى الْعُمْرَةِ كَفَّارَةٌ لِمَا بَيْنَهُنَّ، وَالْحَجُّ الْمَبْرُورُ لَيْسَ لَهُ جَزَاءٌ إِلا الْجَنَّةَ»664 - حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ مُحَمَّدٍ الصَّفَّارُ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْكَرِيمِ بْنُ الْهَيْثَمِ، حَدَّثَنَا أَبُو الْيَمَانِ، أَخْبَرَنِي شُعَيْبٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، حَدَّثَنِي سَعِيدُ بْنُ الْمُسَيِّبِ، قَالَ: قَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ: سَمِعْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم، يَقُولُ:
«مَا مِنْ بَنِي آدَمَ مِنْ مَوْلُودٍ إِلا مَسَّهُ الشَّيْطَانُ فَيَسْتَهِلُّ صَارِخًا مِنْ مَسِّ الشَّيْطَانِ غَيْرَ مَرْيَمَ وَابْنِهَا» ، ثُمَّ يَقُولُ أَبُو هُرَيْرَةَ: وَاقْرَءُوا إِنْ شِئْتُمْ: {وَإِنِّي أُعِيذُهَا بِكَ وَذُرِّيَّتَهَا مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ} [آل عمران: 36]
665 - حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ سُلَيْمَانَ النَّجَّادُ، إِمْلاءً، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْهَيْثَمِ بْنِ حَمَّادٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ، عَنِ الأَوْزَاعِيِّ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم:
«لا تَزَالُ طَائِفَةٌ مِنْ أُمَّتِي يُقَاتِلُونَ عَلَى الْحَقِّ ظَاهِرِينَ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ» وَأَوْمَأَ بِيَدِهِ إِلَى الشَّامِ
(সে) দেয়ালের পেছন থেকে বেরিয়ে এলো, তারপর বলল: নায়সানের খেজুর গাছের কী খবর? তা কি এখনো ফল দিয়েছে? আমরা তাকে জানালাম যে তা ফল দিয়েছে, ফলে সে লাফিয়ে উঠল। তারপর বলল: শোনো, যদি আমাকে বের হওয়ার অনুমতি দেওয়া হতো, তবে আমি তায়বা (মদিনা) ব্যতীত সকল জনপদ পদদলিত করতাম। তিনি (বর্ণনাকারী) বলেন: অতঃপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বের হলেন এবং লোকদের কাছে বর্ণনা করলেন এবং বললেন: "এটি হলো তায়বা আর সে হলো দাজ্জাল।"
৬৬৩ - আলী ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আহমদ আল-মিসরি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মালিক ইবনে ইয়াহইয়া আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, ইয়াজিদ ইবনে হারুন আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, আবু বকরের মুক্তদাস আব্দুল আজিজ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আবি সালামাহ আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি আবু সালেহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন:
"এক উমরাহ হতে অপর উমরাহ পর্যন্ত মধ্যবর্তী সময়ের কাফফারা স্বরূপ, আর হজ্জে মাবরুরের প্রতিদান জান্নাত ছাড়া আর কিছু নয়।"৬৬৪ - ইসমাইল ইবনে মুহাম্মদ আস-সাফফার আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, আব্দুল কারিম ইবনে আল-হাইসাম আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, আবুল ইয়ামান আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, শুআইব আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি যুহরি থেকে, সাইদ ইবনুল মুসায়্যিব আমার নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু হুরায়রা বলেছেন: আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি:
"আদম সন্তানের এমন কোনো নবজাতক নেই যাকে জন্মলগ্নে শয়তান স্পর্শ করে না, আর শয়তানের স্পর্শে সে চিৎকার করে ওঠে; মারইয়াম ও তাঁর পুত্র ব্যতীত।" অতঃপর আবু হুরায়রা বলেন: তোমরা চাইলে পাঠ করো: {নিশ্চয়ই আমি তাকে এবং তার বংশধরদের বিতাড়িত শয়তান থেকে আপনার আশ্রয়ে রাখছি।} [আলে ইমরান: ৩৬]
৬৬৫ - আবু বকর আহমদ ইবনে সুলাইমান আন-নাজ্জাদ শ্রুতিলিখনের মাধ্যমে আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবনে আল-হাইসাম ইবনে হাম্মাদ আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবনে কাসির আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি আওজাঈ থেকে, তিনি কাতাদাহ থেকে, তিনি আনাস ইবনে মালিক থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
"আমার উম্মতের একটি দল সর্বদা সত্যের ওপর বিজয়ী অবস্থায় লড়াই চালিয়ে যাবে কিয়ামত দিবস পর্যন্ত।" এবং তিনি তাঁর হাত দিয়ে শামের দিকে ইশারা করলেন।
(খণ্ড: ১)
আল জুযউল আউয়ালু ওয়াস সানি মিন ফাওয়াইদি ইবনু বিশরান
(পৃষ্ঠা: ٢١٧)
666 - أَخْبَرَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ مُحَمَّدٍ الصَّفَّارُ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْكَرِيمِ بْنُ الْهَيْثَمِ، حَدَّثَنَا أَبُو الْيَمَانِ، أَنْبَأَنَا شُعَيْبُ بْنُ أَبِي حَمْزَةَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ مُسْلِمِ بْنِ شِهَابٍ الزُّهْرِيِّ، أَخْبَرَنِي سَالِمُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ حَدَّثَهُ، أَنَّهُ قَالَ: إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، كَانَ
إِذَا افْتَتَحَ التَّكْبِيرَ فِي الصَّلاةِ رَفَعَ يَدَيْهِ حِينَ يُكَبِّرُ، حَتَّى يَجْعَلَهُمَا حَذْوَ مَنْكِبَيْهِ، ثُمَّ إِذَا كَبَّرَ لِلرُّكُوعِ فَعَلَ مِثْلَ ذَلِكَ، وَقَالَ: «رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ» ، وَلا يَفْعَلُ ذَلِكَ حِينَ يَسْجُدُ، وَلا حِينَ يَرْفَعُ رَأْسَهُ مِنَ السُّجُودِ
667 - أَخْبَرَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ الْمِصْرِيُّ، حَدَّثَنَا يُوسُفُ بْنُ يَزِيدَ، حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ أَبِي عَبَّادٍ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ عُقْبَةَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَجُلا، قَالَ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم:
مَا تَأْمُرُنَا أَنْ نَلْبَسَ فِي الإِحْرَامِ مِنَ الثِّيَابِ؟ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «لا تَلْبَسُوا الْقَمِيصَ وَلا الْبَرَانِسَ وَلا السَّرَاوِيلاتِ وَلا الْعَمَائِمَ وَلا الْخِفَافَ إِلا أَنْ يَكُونَ رَجُلا لَيْسَ لَهُ نَعْلانِ فَلْيَلْبَسِ الْخُفَّيْنِ مِنْ أَسْفَلِ الْكَعْبَيْنِ وَلا يَلْبَسْ مَا مَسَّهُ زَغْفَرَانٌ وَلا وَرْسٌ»
668 - أَخْبَرَنَا أَبُو أَحْمَدَ حَمْزَةُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ الْعَبَّاسِ، حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ الْوَلِيدِ، حَدَّثَنَا أَبُو أَحْمَدَ الزُّبَيْرِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْوَلِيدِ، عَنْ بُكَيْرِ بْنِ شِهَابٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، رضي الله عنه، قَالَ: «إِنَّ
الْمَسَاجِدَ بُيُوتُ اللَّهِ تُضِيءُ لأَهْلِهَا كَمَا تُضِيءُ نُجُومُ السَّمَاءِ لأَهْلِهَا»669 - حَدَّثَنَا عَبْدُ الصَّمَدِ بْنُ عَلِيٍّ، إِمْلاءً، حَدَّثَنَا السُّدِّيُّ بْنُ سَهْلٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ رُشَيْدٍ، حَدَّثَنَا عُثْمَانُ الْبُرِّيُّ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَبِي حَسَّانٍ الأَعْرَجِ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ، رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم:
«الْمُؤْمِنُونَ تَتَكَافَأُ دِمَاؤُهُمْ وَيَسْعَى بِذِمَّتِهِمْ أَدْنَاهُمْ، لا يُقْتَلُ مُؤْمِنٌ بِكَافِرٍ وَلا ذُو عَهْدٍ فِي عَهْدٍ»
666 - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইসমাঈল বিন মুহাম্মদ আস-সাফফার, তিনি বলেন আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আব্দুল কারীম বিন আল-হায়সাম, তিনি বলেন আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আবু আল-ইয়ামান, তিনি বলেন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শুআইব বিন আবু হামজাহ, মুহাম্মদ বিন মুসলিম বিন শিহাব আয-যুহরী থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন আমাকে সংবাদ দিয়েছেন সালিম বিন আব্দুল্লাহ, তার নিকট আব্দুল্লাহ বিন উমর বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন নামাজের তাকবীর শুরু করতেন, তখন তাকবীর বলার সময় তার হাত দু’টি তুলতেন, এমনকি তা তার কাঁধ বরাবর করতেন। অতঃপর যখন রুকুর জন্য তাকবীর বলতেন,
তখনও তদ্রূপ করতেন এবং বলতেন: "হে আমাদের প্রতিপালক, আপনার জন্যই সকল প্রশংসা"। তবে সিজদা করার সময় এবং সিজদা থেকে মাথা তোলার সময় তিনি তা করতেন না।
667 - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আলী বিন মুহাম্মদ আল-মিসরী, তিনি বলেন আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন ইউসুফ বিন ইয়াযীদ, তিনি বলেন আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন ইয়াকুব বিন আবু আব্বাদ, তিনি বলেন আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন ইসমাঈল বিন ইবরাহীম বিন উকবাহ, নাফি' থেকে বর্ণিত, তিনি ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেন যে, এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করল:
ইহরাম অবস্থায় আমরা কী ধরণের কাপড় পরিধান করব সে সম্পর্কে আপনি আমাদের কী নির্দেশ দেন? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: «তোমরা পরিধান করো না জামা, টুপি বা হুডযুক্ত আলখাল্লা, পায়জামা, পাগড়ি এবং মোজা; তবে যদি কারো জুতা না থাকে তবে সে যেন মোজা পরিধান করে টাখনুর নিচ পর্যন্ত। আর জাফরান বা ওয়ারস (এক প্রকার সুগন্ধি ঘাস) স্পর্শ করেছে এমন কোনো কাপড় তোমরা পরিধান করো না।»
668 - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আহমাদ হামজাহ বিন মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন আল-আব্বাস, তিনি বলেন আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আহমাদ বিন আল-ওয়ালীদ, তিনি বলেন আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আবু আহমাদ আয-যুবায়রী, তিনি বলেন আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আব্দুল্লাহ বিন আল-ওয়ালীদ, বুকায়র বিন শিহাব থেকে বর্ণিত, তিনি সাঈদ বিন জুবায়ের থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: «নিশ্চয়ই
মসজিদসমূহ আল্লাহর ঘর, যা জমিনের বাসিন্দাদের জন্য তেমন আলো দেয় যেমন আকাশের নক্ষত্রসমূহ দুনিয়াবাসীদের জন্য আলো দেয়।»669 - আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আব্দুল সামাদ বিন আলী (শ্রুতলিপি অনুযায়ী), তিনি বলেন আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আস-সুদ্দী বিন সাহল, তিনি বলেন আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আব্দুল্লাহ বিন রুশায়দ, তিনি বলেন আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন উসমান আল-বুররী, কাতাদাহ থেকে বর্ণিত, তিনি আবু হাসসান আল-আ'রাজ থেকে, তিনি আলী বিন আবী তালিব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
«মুমিনদের রক্ত সমমর্যাদার এবং তাদের মধ্যকার সাধারণ কোনো ব্যক্তিও যদি কাউকে আশ্রয় দেয় তবে তা কার্যকর হয়। কোনো মুমিনকে কাফিরের বিনিময়ে হত্যা করা হবে না এবং কোনো সন্ধিবদ্ধ ব্যক্তিকে তার সন্ধিকালীন সময়ে হত্যা করা হবে না।»
(খণ্ড: ১)
আল জুযউল আউয়ালু ওয়াস সানি মিন ফাওয়াইদি ইবনু বিশরান
(পৃষ্ঠা: ٢١٨)
680 - أَخْبَرَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ جَعْفَرُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ نُصَيْرٍ، إِمْلاءً، حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ عَلِيٍّ الْعُمَرِيُّ، حَدَّثَنَا الْمُعَلَّى بْنُ مَهْدِيٍّ، حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَلِيٍّ، عَنْ عُرْفُطَةَ السُّلَمِيِّ، عَنْ حِرَاشٍ أَبِي سَلَمَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم:
«أُوصِي امْرَأً بِأُمِّهِ ثَلاثَ مِرَارٍ، وَامْرَأً بِأَبِيهِ مَرَّتَيْنِ، أُوصِي امْرَأً بِمَوَالِيهِ الَّذِي يَلِيهِ وَإِنْ كَانَ عَلَيْهِ مِنْهُ أَذًى يُؤْذِيهِ»
671 - حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ مُحَمَّدٍ الصَّفَّارُ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْكَرِيمِ بْنُ الْهَيْثَمِ، حَدَّثَنَا أَبُو الْيَمَانِ، أَنْبَأَنَا شُعَيْبٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، أَخْبَرَنِي سَالِمُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، أَنَّهُ سَمِعَ رَسُول اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، يَقُولُ:
«كُلُّكُمْ رَاعٍ وَمَسْئُولٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ، وَالْمَرْأَةُ فِي بَيْتِ زَوْجِهَا رَاعِيَةٌ وَهِيَ مَسْئُولَةٌ عَنْ رَعِيَّتِهَا، وَالْخَادِمُ فِي مَالِ سَيِّدِهِ رَاعٍ وَهُوَ مَسْئُولٌ» ، قَالَ: فَسَمِعْتُ هَؤُلاءِ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: «وَالرَّجُلُ رَاعٍ وَهُوَ مَسْئُولٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ»
672 - أَخْبَرَنَا أَبُو أَحْمَدَ بْنُ حَمْزَةَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ الْعَبَّاسِ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عِيسَى بْنِ حَيَّانَ، حَدَّثَنَا شُعَيْبُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُحَمَّدٍ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم:
«خَيْرُ الصُّفُوفِ الْمُقَدَّمُ وَشَرُّهَا الْمُؤَخَّرُ»673 - حَدَّثَنَا عَبْدُ الصَّمَدِ بْنُ عَلِيٍّ، إِمْلاءً، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي الدُّنْيَا، حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ الْجَعْدِ، أَنْبَأَنَا شُعْبَةُ، عَنِ الْحَكَمِ، قَالَ " أرسل إلي مُجَاهِد عبده ابْن أَبِي لبابة، فَقَالَ: إنما أرسلنا إليك أنا نريد أن نختم القرآن، فكان يقال: إن الدعاء مستجاب عند ختم القرآن، فلما فرغوا من ختم القرآن دعى بدعوات "
৬৮০ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মাদ জাফর ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে নুসাইর (শ্রুতলিপি অনুযায়ী), আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন ইব্রাহিম ইবনে আলী আল-উমারী, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আল-মুআল্লা ইবনে মাহদী, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু আওয়ানাহ, মানসুর থেকে, উবাইদুল্লাহ ইবনে আলী থেকে, উরফুতা আস-সুলামী থেকে, হিরাশ আবি সালামাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
“আমি ব্যক্তিকে তার মায়ের ব্যাপারে তিনবার ওসিয়ত করছি, এবং ব্যক্তিকে তার বাবার ব্যাপারে দুইবার। আমি ব্যক্তিকে তার সেই নিকটবর্তীদের ব্যাপারে ওসিয়ত করছি যারা তার পরবর্তী, যদিও তার পক্ষ থেকে তাকে কষ্ট দেওয়া হয়।”
৬৭১ - আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন ইসমাইল ইবনে মুহাম্মাদ আস-সাফফার, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আব্দুল কারীম ইবনে আল-হাইসাম, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু আল-ইয়ামান, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শুআইব, যুহরী থেকে, আমাকে সংবাদ দিয়েছেন সালিম ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে উমর, আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত যে, তিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেন:
“তোমাদের প্রত্যেকেই রাখাল (দায়িত্বশীল) এবং প্রত্যেকে তার অধীনস্থদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে। নারী তার স্বামীর গৃহের রাখাল এবং সে তার অধীনস্থদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে। খাদেম তার মনিবের সম্পদের রক্ষক এবং সে জিজ্ঞাসিত হবে।” তিনি বললেন: আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট থেকে এগুলো শুনেছি। তিনি আরও বললেন: “এবং পুরুষ (পরিবারের) রাখাল এবং সে তার অধীনস্থদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে।”
৬৭২ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আহমাদ ইবনে হামযাহ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আল-আব্বাস, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ ইবনে ঈসা ইবনে হাইয়ান, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন শুআইব ইবনে হারব, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান আস-সাওরী, আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ থেকে, জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
“সর্বোত্তম কাতার হলো সামনেরটি এবং নিকৃষ্টতম হলো পেছনেরটি।”৬৭৩ - আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আব্দুস সামাদ ইবনে আলী (শ্রুতলিপি অনুযায়ী), আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আবিদ দুনিয়া, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আলী ইবনে আল-জাদ, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শুবা, হাকাম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: “মুজাহিদ আমার নিকট তার গোলাম ইবনে আবি লুবাবাহকে পাঠালেন এবং বললেন: ‘আমরা আপনার নিকট লোক পাঠিয়েছি কারণ আমরা কুরআন খতম করতে চাই; আর বলা হতো: নিশ্চয়ই কুরআন খতমের সময় দোয়া কবুল হয়।’ অতঃপর যখন তারা কুরআন খতম সম্পন্ন করলেন, তখন তিনি অনেক দোয়া করলেন।”