(খণ্ড: ১) শারহু মুখতাসারিশ শামাইলিল মুহাম্মাদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: -)
شرح مختصر الشمائل المحمدية   (هانى فقيه)

القسم: السيرة النبوية


الكتاب: شرح مختصر الشمائل المحمدية

المؤلف: هانى فقيه

طبع على نفقة: وقف الشيخ إبراهيم بن حمد الوقيصي

الطبعة: الأولى، 1441 هـ - 2020 م

عدد الصفحات: 278

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 15 محرم 1444

শরহে মুখতাসার আশ-শামায়েল আল-মুহাম্মাদিয়্যাহ   (হানি ফকিহ)

বিভাগ: সীরাতুন নবী


গ্রন্থ: শরহে মুখতাসার আশ-শামায়েল আল-মুহাম্মাদিয়্যাহ

লেখক: হানি ফকিহ

যার অর্থায়নে মুদ্রিত: শেখ ইব্রাহিম বিন হামাদ আল-ওয়াকিসি ওয়াকফ

সংস্করণ: প্রথম, ১৪৪১ হিজরি - ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৭৮

[গ্রন্থের সংখ্যায়ন মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ১৫ মুহররম ১৪৪৪

(খণ্ড: ১) শারহু মুখতাসারিশ শামাইলিল মুহাম্মাদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌فاتحة الكتاب

الحمد لله رب العالمين، الرحمن الرحيم، مالك يوم الدين، وأصلّي وأسلّم على المبعوث رحمة للعالمين، سيد الأولين والآخرين، سيّدنا ونبيّنا محمد وعلى آله وصحابته الطيبين الطاهرين، الذين عزروه ونصروه، وعظموه ووقروه، وكانوا رسل خير ومشاعل نور وهداية للناس أجمعين … وبعد:

فإن كتاب «الشمائل» ويقال له: «الشمائل المحمدية»، للإمام الحافظ الكبير صاحب التصانيف: أبي عيسى محمد بن عيسى بن سَوْرَة الترمذي، (209 هـ - 279 هـ)، يعد من أعظم كتب الشمائل وأجمعها وأجودها، كما قال العلامة علي القاري رحمه الله: «إن مُطالع هذا الكتاب كأنه يطالع طَلعة ذلك الجناب(1)، ويرى محاسنه الشريفة في كل باب»(2).

لذلك فقد لقي هذا الكتاب عناية عظيمة من قبل أهل العلم وطلبته عبر القرون، قراءة وضبطاً، ودراسة وحفظاً، وتصدى لشرحه غير واحد، ووضعوا عليه شروحاً وحواشي مطولة ومختصرة(3).

--------------------------------------------

(1) يقصد: جناب النبي صلى الله عليه وسلم.

(2) «جمع الوسائل» للقاري 1/ 2.

(3) من أشهر الشروح التي وضعها العلماء على شمائل الترمذي: شرح العلامة أحمد بن محمد بن حجر الهيتمي المكي (ت: 974 هـ)، المسمى: «أشرف الوسائل إلى فهم الشمائل»، كما شرحه العلامة ملا علي القاري الهروي (ت: 1014 هـ)، في شرح حافل سماه: «جمع الوسائل في شرح الشمائل»، كذلك كتب عليه حاشية حافلة العلامة إبراهيم بن محمد الباجوري (ت: 1277 هـ) سماها: «المواهب اللدنية على الشمائل المحمدية»، كما اختصره الشيخ محمد ناصر الدين الألباني في كتاب سماه: «مختصر الشمائل المحمدية»، وينظر بقية شروحه في «كشف الظنون» 2/ 1059 لحاجي خليفة.
কিতাবের ভূমিকা

সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, যিনি পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু, বিচার দিবসের মালিক। আমি দরুদ ও সালাম পেশ করছি বিশ্বজগতের জন্য রহমতস্বরূপ প্রেরিত, পূর্বাপর সকলের সরদার, আমাদের নেতা ও আমাদের নবী মুহাম্মাদের প্রতি এবং তাঁর পবিত্র ও পরিচ্ছন্ন পরিবারবর্গ ও সাহাবায়ে কেরামের প্রতি; যাঁরা তাঁকে সম্মান ও সহযোগিতা করেছেন এবং তাঁকে শ্রদ্ধা ও সাহায্য করেছেন। তাঁরা ছিলেন কল্যাণের দূত এবং সমগ্র মানবজাতির জন্য আলো ও হেদায়াতের মশাল... অতঃপর:

নিশ্চয়ই 'আশ-শামাইল' কিতাবটি—যাকে 'আশ-শামাইলুল মুহাম্মাদিয়াহ'ও বলা হয়—এটি মহান ইমাম, হাফেজ ও বহু কিতাবের রচয়িতা আবু ঈসা মুহাম্মাদ ইবনে ঈসা ইবনে সাওরা আত-তিরমিযী (২০৯ হি. - ২৭৯ হি.)-এর একটি অনন্য রচনা। এটি শামাইল বা নববী চরিত্রের ওপর রচিত অন্যতম শ্রেষ্ঠ, সুসংহত ও নিখুঁত কিতাব হিসেবে গণ্য হয়। যেমনটি আল্লামা আলী আল-কারি (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "নিশ্চয়ই এই কিতাবের পাঠক যেন সেই মহান সত্তার(১) পবিত্র অবয়ব প্রত্যক্ষ করছে এবং প্রতিটি অধ্যায়ে তাঁর মহিমান্বিত সৌন্দর্য দেখতে পাচ্ছে।"(২)।

এ কারণেই বিগত শতাব্দীগুলোতে আলেম সমাজ ও ইলম অন্বেষণকারীদের নিকট এই কিতাবটি পঠন-পাঠন, বিশুদ্ধকরণ, গবেষণা ও হেফজ করার মাধ্যমে ব্যাপক গুরুত্ব লাভ করেছে। একাধিক মনীষী এর ব্যাখ্যায় মনোনিবেশ করেছেন এবং তাঁরা এর ওপর দীর্ঘ ও সংক্ষিপ্ত অসংখ্য ব্যাখ্যাগ্রন্থ ও টীকা রচনা করেছেন(৩)।

--------------------------------------------

(১) উদ্দেশ্য হলো: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পবিত্র সত্তা।

(২) আল্লামা কারি রচিত 'জামউল ওয়াসায়েল' ১/২।

(৩) ইমাম তিরমিযীর শামাইলের ওপর আলেমদের রচিত প্রসিদ্ধ ব্যাখ্যাগ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে: আল্লামা আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে হাজার আল-হাইতামী আল-মাক্কী (মৃত্যু: ৯৭৪ হি.)-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ, যার নাম: 'আশরাফুল ওয়াসায়েল ইলা ফাহমিশ শামাইল'। তেমনিভাবে আল্লামা মোল্লা আলী আল-কারি আল-হারাভী (মৃত্যু: ১০১৪ হি.) একটি পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা লিখেছেন যার নাম: 'জামউল ওয়াসায়েল ফি শারহিশ শামাইল'। একইভাবে আল্লামা ইবরাহিম ইবনে মুহাম্মাদ আল-বাজুরি (মৃত্যু: ১২৭৭ হি.) এর ওপর একটি সমৃদ্ধ টীকা লিখেছেন যার নাম: 'আল-মাওয়াহিবুল লাদুন্নিয়া আলাশ শামাইলিল মুহাম্মাদিয়াহ'। এছাড়াও শেখ মুহাম্মাদ নাসিরুদ্দিন আল-আলবানী এটিকে সংক্ষেপ করেছেন যার নাম দিয়েছেন: 'মুখতাসারুশ শামাইলিল মুহাম্মাদিয়াহ'। এর অন্যান্য ব্যাখ্যাগ্রন্থের জন্য হাজি খলিফা রচিত 'কাশফুজ জুনুন' ২/১০৫৯ দেখা যেতে পারে।
(খণ্ড: ১) শারহু মুখতাসারিশ শামাইলিল মুহাম্মাদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৬)
وقد أحببت أن أدخل في زمرة خَدَمَة هذا الكتاب، فوضعت عليه شرحاً متوسطاً، منتخباً من شروحه المتقدمة وبقية شروح كتب السُنَّة، مع محاولة عرضه بطريقة جديدة، تناسب أساليب الكتابة وأذواق القراء في العصر الحديث، متجافياً عن كثير من المباحث التي كان يشتغل بها الشراح القدماء، كالإغراق في التفصيلات المذهبية أو مسائل العربية، وبيان أوجه الإعراب والنحو والدلالات البلاغية ونحو ذلك، مما هو أجنبي عن فقه الأحاديث وما تحمله من فوائد وآداب. كما قال العلامة المناوي رحمه الله: «إنما الشأن في معرفة مقصوده صلى الله عليه وسلم، وبيان ما تضمنه كلامه من الحِكَم والأسرار، بياناً تعضده أصول الشريعة، وتشهد بصحته العقول السليمة. وما سوى ذلك ليس من الشرح في شيء»(1).

ولأن الإمام الترمذي رحمه الله قد أطال الكتاب بذكر أحاديث متحدة الألفاظ، أو ذات دلالة واحدة في الباب، فقد رأيت اختصاره أولاً قبل شرحه على النحو التالي:

1 - حذفت أسانيد الإمام الترمذي مع الإبقاء على راوي الحديث، من الصحابة الكرام رضوان الله عليهم.

2 - حذفت جميع الأحاديث الضعيفة في الكتاب، ولم أشرح إلا ما كان منها في دائرة القبول، حسب أحكام أهل العلم المعتبرين في الحديث.

3 - حذفت الأحاديث المكررة المعنى، واقتصرت على أقواها وأتمها، وكثيراً ما أشير إلى بقيتها أثناء الشرح كشواهد تقوي الحديث وتزيده ثبوتاً.

--------------------------------------------

(1) «فيض القدير» 1/ 2.
আমি এই কিতাবটির সেবকদের দলে অন্তর্ভুক্ত হতে চেয়েছি, তাই এর উপর একটি মধ্যম মানের ব্যাখ্যাগ্রন্থ রচনা করেছি, যা এর পূর্ববর্তী ব্যাখ্যাসমূহ এবং সুন্নাহর অন্যান্য কিতাবের ব্যাখ্যাগ্রন্থ থেকে চয়ন করা হয়েছে। পাশাপাশি এটি আধুনিক যুগের লিখনশৈলী ও পাঠকদের রুচির সাথে সামঞ্জস্য রেখে একটি নতুন পদ্ধতিতে উপস্থাপন করার চেষ্টা করেছি। প্রাচীন ব্যাখ্যাকারগণ যেসব বিষয়ে ব্যাপৃত থাকতেন, তার অনেকগুলোই আমি পরিহার করেছি; যেমন—মাযহাবি খুঁটিনাটি বিবরণের বাহুল্য বা আরবির বিভিন্ন মাসআলা, শব্দ বিশ্লেষণ (ইরাব), ব্যাকরণ ও অলঙ্কারশাস্ত্রের দিকসমূহ এবং এই জাতীয় অন্যান্য বিষয়, যা হাদিসের মূল মর্ম এবং এর থেকে প্রাপ্ত শিক্ষা ও শিষ্টাচারের সাথে সরাসরি সংশ্লিষ্ট নয়। যেমন আল্লামা মুনাবি (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: “আসল কাজ হলো রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর উদ্দেশ্য অনুধাবন করা এবং তাঁর বাণীর অন্তর্ভুক্ত হিকমত ও রহস্যগুলো এমনভাবে বর্ণনা করা, যা শরীয়তের মূলনীতির অনুকূল হয় এবং সুস্থ বিবেক যার সঠিকতা সাক্ষ্য দেয়। এ ছাড়া অন্য কিছু ব্যাখ্যার অন্তর্ভুক্ত নয়।”(১).

যেহেতু ইমাম তিরমিযী (রহিমাহুল্লাহ) একই শব্দ সংবলিত হাদিস অথবা একই অধ্যায়ে একই অর্থবোধক একাধিক হাদিস উল্লেখ করে কিতাবটিকে দীর্ঘায়িত করেছেন, তাই আমি এর ব্যাখ্যার পূর্বে নিম্নোক্ত পদ্ধতিতে এটিকে সংক্ষেপ করা সমীচীন মনে করেছি:

১ - সম্মানিত সাহাবায়ে কেরাম (রাযিয়াল্লাহু আনহুম)-এর মধ্য থেকে হাদিসের মূল বর্ণনাকারীর নাম বহাল রেখে ইমাম তিরমিযীর সনদসমূহ বাদ দিয়েছি।

২ - কিতাবের সমস্ত যয়ীফ (দুর্বল) হাদিস বাদ দিয়েছি এবং হাদিস শাস্ত্রের নির্ভরযোগ্য আলেমগণের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কেবল গ্রহণযোগ্য হাদিসসমূহেরই ব্যাখ্যা করেছি।

৩ - অর্থগতভাবে পুনরাবৃত্ত হাদিসগুলো ফেলে দিয়েছি এবং সেগুলোর মধ্য থেকে সবচেয়ে শক্তিশালী ও পূর্ণাঙ্গটি গ্রহণ করেছি। অনেক ক্ষেত্রে ব্যাখ্যার মাঝে বাকি হাদিসগুলোর প্রতি ইঙ্গিত করেছি, যা মূল হাদিসের সপক্ষে প্রমাণ হিসেবে সেটিকে আরও সুদৃঢ় ও শক্তিশালী করে।

--------------------------------------------

(১) ‘ফয়জুল কাদির’ ১/২।
(খণ্ড: ১) শারহু মুখতাসারিশ শামাইলিল মুহাম্মাদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৭)
4 - حذفت الأحاديث التي ليس لها علاقة وثيقة بترجمة الباب، وأبقيت ما كان له صلة وثيقة وواضحة به.

5 - أبقيت عناوين تراجم الأبواب كما وضعها الإمام الترمذي، لم أغيّر منها شيئاً، مع التزام طريقة ترتيبه وسرده للأحاديث والأبواب.

وقد خلص لي من أحاديث الكتاب بعد اختصاره «تسعون حديثاً» من أصل أربع مئة هي عدد أحاديث الكتاب كله.

وهذا يعني أنني قد يسرت كتاب الشمائل، واختصرته في أقل من ربعه بقليل.

ثم إنني شرعت بعد ذلك في شرح الأحاديث، فعرَّفت برواتها من الصحابة الكرام باختصار، وخرجتها من مصادرها الأصلية(1) مع الالتزام ببيان درجة كل حديث، من حيث الصحة أو الضعف، ثم شرحت معانيها، وأبنت عما تشتمل عليه من دلالات فقهية، وأحكام شرعية وآداب مرعية، وهذا هو مقصود الشرح ولبّه وجوهره.

وقد بذلت في سبيل ذلك جهدي وتفكيري وتأملي، ولم أكن مجرد ناقل أو ناسخ من كتب الشروح والحواشي المتقدمة.

 

•‌‌ معنى كلمة «الشمائل المحمدية»:

وقبل مغادرة هذه التقدمة أحب أن أشرح معنى كلمة الشمائل، أو

--------------------------------------------

(1) إذا كان الحديث في الصحيحين أو أحدهما فإني أقتصر على ذلك في التخريج ولا أتعداه غالباً، كذلك إذا كان الحديث في الكتب الستة أو بعضها فإني لا أتجاوز ذلك إلا لفائدة إسنادية فأخرجه من مصادر أخرى.
৪ - আমি সেই হাদিসগুলো বাদ দিয়েছি যেগুলোর সাথে অধ্যায়ের শিরোনামের নিবিড় সম্পর্ক নেই, এবং যেগুলোর সাথে গভীর ও স্পষ্ট সম্পর্ক রয়েছে সেগুলো বহাল রেখেছি।

৫ - আমি অধ্যায়ের শিরোনামগুলো ইমাম তিরমিযী যেভাবে রেখেছেন ঠিক সেভাবেই রেখেছি, তাতে কোনো পরিবর্তন করিনি। পাশাপাশি তাঁর হাদিস বর্ণনার ধারা ও অধ্যায় বিন্যাসের পদ্ধতি অনুসরণ করেছি।

মূল গ্রন্থের মোট চারশটি হাদিসের মধ্য থেকে সংক্ষিপ্তকরণের পর আমার কাছে ‘নব্বইটি হাদিস’ অবশিষ্ট থেকেছে।

এর অর্থ হলো আমি শামায়েল গ্রন্থটিকে সহজবোধ্য করেছি এবং একে এর মূল আয়তনের চার ভাগের এক ভাগের চেয়েও কিছুটা কম পরিসরে সংক্ষেপ করেছি।

এরপর আমি হাদিসগুলোর ব্যাখ্যা শুরু করেছি; সেখানে সংক্ষেপে সম্মানিত সাহাবী বর্ণনাকারীদের পরিচয় দিয়েছি এবং মূল উৎসসমূহ থেকে হাদিসগুলোর রেফারেন্স প্রদান করেছি(১) সেই সাথে প্রতিটি হাদিসের মান (সহিহ বা জয়িফ হওয়ার দিক থেকে) বর্ণনা করার ব্যাপারে যত্নশীল থেকেছি। অতঃপর আমি সেগুলোর অর্থ ব্যাখ্যা করেছি এবং তাতে নিহিত ফিকহি নির্দেশনা, শরয়ি বিধান ও পালনীয় আদবসমূহ সুস্পষ্ট করেছি। আর এটাই হলো ব্যাখ্যার মূল উদ্দেশ্য, সারবস্তু ও নির্যাস।

এই কাজে আমি আমার শ্রম, চিন্তা ও গবেষণাকে নিয়োজিত করেছি; আমি পূর্ববর্তী ব্যাখ্যাগ্রন্থ ও টীকাসমূহ থেকে নিছক কোনো সংকলক বা অনুলিপিকারক ছিলাম না।

 

•‌‌ ‘শামায়েল মুহাম্মাদিয়া’ শব্দের অর্থ:

এই ভূমিকা শেষ করার আগে আমি ‘শামায়েল’ শব্দের অর্থ ব্যাখ্যা করতে চাই, অথবা

--------------------------------------------

(১) যদি হাদিসটি সহিহাইন অথবা এর কোনো একটিতে থাকে, তবে আমি রেফারেন্স প্রদানের ক্ষেত্রে সাধারণত সেটির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকেছি এবং এর বাইরে যাইনি। একইভাবে হাদিসটি যদি কুতুবে সিত্তাহ বা এর কোনোটিতে থাকে, তবে কোনো বিশেষ সনদ সংক্রান্ত প্রয়োজন ছাড়া আমি অন্য কোনো উৎস থেকে উদ্ধৃত করিনি।
(খণ্ড: ১) শারহু মুখতাসারিশ শামাইলিল মুহাম্মাদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৮)
شمائل النبي صلى الله عليه وسلم التي هي عنوان كتاب الترمذي رحمه الله؛ فأقول: معنى كلمة الشمائل: الطباع والخصال والأخلاق والخلال والصفات والسجايا. وعندما يقال شمائل النبي صلى الله عليه وسلم فهذا يعني: خصاله الكريمة، وطباعه النبيلة، وأخلاقه العالية، وصفاته الطاهرة، وسجاياه الباهرة .. كجوده صلى الله عليه وسلم وحلمه، وأناته وصبره، وتواضعه وشجاعته ..

على أن الترمذي رحمه الله لم يقتصر في هذا الكتاب على موضوع الشمائل فحسب، بل وسّع دائرة بحثه فأضاف أبواباً تحدث فيها عن أمور أخرى، تخص النبي صلى الله عليه وسلم، فتحدث عن صفاته الخَلْقية البدنية الظاهرة، وطلعته البهية، ومحياه الوضاء.

وتحدث عن عبادته، وعن صفة صيامه وقيامه وقراءته للقرآن ونحو ذلك.

وتحدث عن كثير من أمتعته وحاجياته الخاصة، كخفّه ونعله، وإزاره وردائه، وخاتمه وعمامته، وسيفه ودِرْعه، ومِغفره وقَدَحه.

وتحدث عن طعامه وشرابه، وخبزه وإدامه، وفاكهته، وغير ذلك مما اشتمل عليه هذا الكتاب الشريف.

ثم ختم الكتاب بأبواب في أسمائه الشريفة صلى الله عليه وسلم، وسِنّه عند وفاته، وحادثة وفاته، وميراثه، ورؤيته في المنام.

وما من شك أن دراسة هذه الأبواب وتفهمها على الوجه الصحيح مما يزيد المسلم معرفة بنبيه صلى الله عليه وسلم ومحبة له، وتعلقاً به وتصديقاً برسالته.

أضف أن هذه الأبواب مشتملة على كثير من المسائل الفقهية، والآداب
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শামায়েল, যা ইমাম তিরমিযী রাহিমাহুল্লাহর কিতাবের শিরোনাম; আমি বলব: শামায়েল শব্দের অর্থ হলো: স্বভাব, চরিত্র, গুণাবলী, বৈশিষ্ট্য ও প্রকৃতি। আর যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শামায়েল বলা হয়, তখন এর অর্থ হয়: তাঁর সম্মানিত বৈশিষ্ট্যসমূহ, মহৎ স্বভাব, উন্নত আখলাক, পবিত্র গুণাবলী এবং তাঁর চমৎকার প্রকৃতি.. যেমন তাঁর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দানশীলতা, সহনশীলতা, ধীরস্থিরতা, ধৈর্য, বিনয় এবং বীরত্ব..

তবে ইমাম তিরমিযী রাহিমাহুল্লাহ এই কিতাবে কেবল শামায়েল বিষয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেননি, বরং তিনি তাঁর আলোচনার পরিধি বিস্তৃত করেছেন এবং এমন কিছু অধ্যায় যুক্ত করেছেন যেখানে তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন। ফলে তিনি তাঁর শারীরিক গঠন ও বাহ্যিক অবয়ব, তাঁর সুন্দর চেহারা এবং উজ্জ্বল মুখমণ্ডল সম্পর্কে আলোচনা করেছেন।

তিনি তাঁর ইবাদত, সিয়ামের পদ্ধতি, কিয়াম, কুরআন তিলাওয়াত এবং এই জাতীয় বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করেছেন।

তিনি তাঁর অনেক আসবাবপত্র এবং ব্যক্তিগত ব্যবহার্য দ্রব্যাদি যেমন: তাঁর মোজা ও জুতা, লুঙ্গি ও চাদর, আংটি ও পাগড়ি, তলোয়ার ও বর্ম, শিরস্ত্রাণ ও পানির পেয়ালা নিয়ে আলোচনা করেছেন।

তিনি তাঁর খাবার ও পানীয়, রুটি ও তরকারি, ফলমূল এবং এই জাতীয় অন্যান্য বিষয় যা এই সম্মানিত কিতাবটি অন্তর্ভুক্ত করেছে, তা নিয়ে আলোচনা করেছেন।

এরপর তিনি কিতাবটি সমাপ্ত করেছেন তাঁর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্মানিত নামসমূহ, ইন্তেকালের সময় তাঁর বয়স, তাঁর ওফাতের ঘটনা, তাঁর উত্তরাধিকার এবং স্বপ্নে তাঁকে দেখা সংক্রান্ত অধ্যায়গুলোর মাধ্যমে।

এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, এই অধ্যায়গুলো অধ্যয়ন করা এবং সঠিকভাবে তা অনুধাবন করা একজন মুসলিমের অন্তরে তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে জ্ঞান ও তাঁর প্রতি ভালোবাসা বৃদ্ধি করে এবং তাঁর সাথে নিবিড় সম্পর্ক ও তাঁর রিসালাতের প্রতি বিশ্বাসকে সুদৃঢ় করে।

এর সাথে যোগ করা যায় যে, এই অধ্যায়গুলো অনেক ফিকহি মাসআলা এবং শিষ্টাচার সংবলিত।
(খণ্ড: ১) শারহু মুখতাসারিশ শামাইলিল মুহাম্মাদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৯)
السلوكية، والفوائد الأخلاقية، التي يحتاج إلى معرفتها والتأسي بها كل مؤمن.

هذا والله أسال الله أن يجعل هذا العمل خالصاً لوجهه الكريم، وأن يكتب لنا ذخره وأجره، ويجعله شفيعاً يوم القيامة، وينفع به من قرأه وطالعه، وآخر دعوانا أن الحمد لله رب العالمين.

 

وكتبه

أ. د. هاني أحمد فقيه

أستاذ الحديث وعلومه، بكلية الحديث الشريف،

الجامعة الإسلامية، المدينة المنورة

1441 هـ
আচরণগত এবং নৈতিক সুবিধাসমূহ, যা জানা এবং অনুসরণ করা প্রতিটি মুমিনের জন্য প্রয়োজন।

পরিশেষে, আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন এই কাজটিকে একান্তই তাঁর মহান সন্তুষ্টির জন্য কবুল করেন, আমাদের জন্য এর সওয়াব ও প্রতিদান লিখে রাখেন, একে কিয়ামতের দিন সুপারিশকারী বানান এবং যারা এটি পাঠ ও অধ্যয়ন করবে তাদের এর দ্বারা উপকৃত করেন। আমাদের শেষ প্রার্থনা হলো, সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর।

 

লিখেছেন

প্রফেসর ড. হানি আহমদ ফকিহ

অধ্যাপক, হাদিস ও হাদিস শাস্ত্র বিভাগ, হাদিস অনুষদ,

মদিনা ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়, মদিনা মুনাওয়ারা

১৪৪১ হিজরি
(খণ্ড: ১) শারহু মুখতাসারিশ শামাইলিল মুহাম্মাদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌1 - بَابُ مَا جَاءَ فِي خَلْق رسول الله صلى الله عليه وسلم-

ذكر الإمام الترمذي تحت هذا الباب جملة من الأحاديث الشريفة المتعلقة بصورة النبي صلى الله عليه وسلم الظاهرة، وصفاته البدنية الباهرة، وطلعته البهية، ومحياه الوضاء. وما من شك في أن الله تبارك وتعالى قد حبا نبيه صلى الله عليه وسلم من حسن الصورة وكمال الخِلقة وجمال الهيئة وبهاء الطلعة ما سوف يأتي بيانه والحديث عنه إن شاء الله.

 

1 - عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رضي الله عنه قال: «كَانَ رسول الله صلى الله عليه وسلم لَيْسَ بِالطَّوِيلِ البَائِنِ وَلَا بِالقَصِيرِ، وَلَا بِالأَبْيَضِ الأَمْهَقِ وَلَا بِالآدَمِ، وَلَا بِالجَعْدِ القَطَطِ وَلَا بِالسَّبِطِ، بَعَثَهُ اللَّهُ تَعَالَى عَلَى رَأسِ أَرْبَعِينَ سَنَةً، فَأَقَامَ بِمَكةَ عَشْرَ سِنِينَ، وَبِالمَدِينَةِ عَشْرَ سِنِينَ، وَتَوَفَّاهُ اللَّهُ عَلَى رَأْسِ سِتِّينَ سَنَةً، وَلَيْسَ فِي رَأسِهِ وَلِحيَتِهِ عِشْرُونَ شَعْرَةً بَيْضَاءَ».

• الكلام عليه من وجوه:

* الوجه الأول: في التعريف براويه:

أنس بن مالك هو: ابن النضر بن ضمضم النَّجاري الخزرجي الأنصاري، صاحب رسول الله صلى الله عليه وسلم وخادمه منذ أن قدم صلى الله عليه وسلم إلى المدينة مهاجراً إلى أن لحق بالرفيق الأعلى، وهو من المكثرين من رواية الحديث، وفضائله كثيرة،
১ - পরিচ্ছেদ: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শারীরিক গঠন সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে-

ইমাম তিরমিজি এই পরিচ্ছেদের অধীনে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাহ্যিক রূপ, তাঁর চমৎকার শারীরিক বৈশিষ্ট্য, তাঁর দীপ্তিময় অবয়ব এবং উজ্জ্বল চেহারা সম্পর্কিত বেশ কিছু হাদিস উল্লেখ করেছেন। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে যে রূপের সৌন্দর্য, অবয়বের পূর্ণতা, শারীরিক সুষমা এবং চেহারার লাবণ্য দান করেছিলেন, তার বিস্তারিত বিবরণ ও আলোচনা ইনশাআল্লাহ সামনে আসবে।

 

১ - আনাস বিন মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: «রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অতিরিক্ত দীর্ঘকায় ছিলেন না আবার খর্বকায়ও ছিলেন না। তিনি অত্যন্ত ধবধবে সাদা (ফ্যাকাশে) ছিলেন না আবার একেবারে তামাটে বর্ণের (শ্যামবর্ণ) ছিলেন না। তাঁর চুল অতিশয় কোঁকড়ানো ছিল না আবার একেবারে সোজাও ছিল না। আল্লাহ তাআলা তাঁকে চল্লিশ বছর বয়সের শুরুতে নবুওয়াত দান করেন। এরপর তিনি মক্কায় দশ বছর এবং মদিনায় দশ বছর অবস্থান করেন। আল্লাহ তাআলা তাঁকে ষাট বছর বয়সের শুরুতে ওফাত দান করেন। তখন তাঁর মাথা ও দাড়িতে বিশটি চুলও সাদা ছিল না।»

• এর ওপর আলোচনা কয়েকটি দিক থেকে:

* প্রথম দিক: বর্ণনাকারীর পরিচিতি:

আনাস বিন মালিক হলেন: ইবনুন নাদর ইবনে দামদাম আন-নাজ্জারি আল-খাজরাজি আল-আনসারি। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবী এবং তাঁর খাদেম—যখন থেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনায় হিজরত করে আসেন তখন থেকে শুরু করে তাঁর মহান রফিকের (আল্লাহর) সাথে মিলিত হওয়া পর্যন্ত। তিনি অধিক হাদিস বর্ণনাকারী সাহাবীদের অন্তর্ভুক্ত এবং তাঁর বহু গুণাবলী ও মর্যাদা রয়েছে।
(খণ্ড: ১) শারহু মুখতাসারিশ শামাইলিল মুহাম্মাদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১২)
وقد توفي سنة: 93 هـ، وهو المراد عند الإطلاق، وإن كان هناك جماعة من الصحابة يسمى كل منهم أنساً.

* الوجه الثاني: في تخريجه:

الحديث أخرجه البخاري في صحيحه(1)، والترمذي في سننه(2) وقال: حديث حسن صحيح.

* الوجه الثالث: في شرح ألفاظه:

(الطويل البائن): الظاهر الطول أو المفرط في الطول.

(الأبيض الأمهق): الشديد البياض.

(الآدم): الأسمر، وهي منزلة بين البياض والسواد.

(الجعد القطط): الشعر يكون فيه التواء وانقباض.

(السَّبِط): بفتح فكسر: الشعر الناعم المسترسل.

* الوجه الرابع: ذكر أنس رضي الله عنه في هذا الحديث بعض الصفات الجسدية للنبي صلى الله عليه وسلم، وليعلم قبل الخوض في شرح الحديث أن الله عز وجل قد ركب خلقة نبيه محمد صلى الله عليه وسلم في أجمل صورة وأحسن هيئة، فكان كما وصفه الصحابة: بهيّ الطلعة، حسن الخِلْقة، متناسب الأعضاء، لم تر العيون شيئاً أجمل ولا أحسن منه، لا قبله ولا بعد.

وقد ذكر أنس رضي الله عنه في هذا الحديث بعض صفاته الجسدية صلى الله عليه وسلم ومن جملتها أنه «لم يكن بالطويل البائن ولا بالقصير»، أي أنه كان متوسط القامة،

--------------------------------------------

(1) «صحيح البخاري» (3548).

(2) «سنن الترمذي» (3623).
তিনি ৯৩ হিজরি সালে ইন্তেকাল করেন এবং কোনো বিশেষত্ব ছাড়াই যখন কেবল নাম উল্লেখ করা হয়, তখন তাঁকেই উদ্দেশ্য করা হয়, যদিও সাহাবীদের একটি দল ছিল যাদের প্রত্যেকের নাম ছিল আনাস।

* দ্বিতীয় দিক: হাদিসের উৎস (তাখরিজ) বর্ণনায়:

হাদিসটি বুখারী তাঁর সহিহ্ গ্রন্থে(১) এবং তিরমিযী তাঁর সুনান গ্রন্থে(২) বর্ণনা করেছেন এবং তিনি (তিরমিযী) বলেছেন: এটি হাসান সহিহ্ হাদিস।

* তৃতীয় দিক: এর শব্দাবলির ব্যাখ্যায়:

(আত-তাউয়িল আল-বা’ইন): প্রকাশ্য দীর্ঘতা বা দৈর্ঘ্যে অত্যধিক লম্বা।

(আল-আবিয়ায আল-আমহাক): অত্যন্ত সাদা (ধবধবে সাদা)।

(আল-আদাম): তামাটে বর্ণ, যা সাদা ও কালোর মধ্যবর্তী একটি পর্যায়।

(আল-জা’দ আল-কাতাত): এমন চুল যাতে কোঁকড়ানো ভাব ও কুঞ্চন রয়েছে।

(আস-সাবিত): প্রথম বর্ণে ফাতহাহ ও দ্বিতীয় বর্ণে কাসরা যোগে: মসৃণ ও সোজা চুল।

* চতুর্থ দিক: আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) এই হাদিসে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কিছু শারীরিক গুণাবলি উল্লেখ করেছেন। হাদিসের ব্যাখ্যায় বিস্তারিত যাওয়ার আগে জেনে রাখা প্রয়োজন যে, আল্লাহ আয্যা ওয়া জাল্লা তাঁর নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর শারীরিক গঠনকে সবচেয়ে সুন্দর সুরত ও সর্বোত্তম অবয়বে তৈরি করেছেন। তিনি তেমনই ছিলেন যেমনটি সাহাবীগণ বর্ণনা করেছেন: উজ্জ্বল চেহারাবিশিষ্ট, সুন্দর অবয়বসম্পন্ন এবং সুসামঞ্জস্যপূর্ণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গবিশিষ্ট। চোখ তাঁর চেয়ে সুন্দর ও উত্তম আর কিছু দেখেনি—না তাঁর আগে, আর না তাঁর পরে।

আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) এই হাদিসে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কিছু শারীরিক বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করেছেন, যার মধ্যে অন্যতম হলো যে, তিনি «অত্যধিক লম্বাও ছিলেন না আবার খাটোও ছিলেন না», অর্থাৎ তিনি মাঝারি উচ্চতার ছিলেন।

--------------------------------------------

(১) «সহিহ আল-বুখারী» (৩৫৪৮)।

(২) «সুনান আত-তিরমিযী» (৩৬২৩)।
(খণ্ড: ১) শারহু মুখতাসারিশ শামাইলিল মুহাম্মাদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
لم يكن طويلاً شديد الطول، كما أنه لم يكن قصيراً، وإنما بين هذا وهذا.

لكنه عليه الصلاة والسلام كان إلى الطول أقرب وأميل، بدليل أن أنساً لم ينف عنه أصل الطول، وإنما نفى عنه الطول الزائد، وهذا ما وقع مصرحاً به في بعض الأحاديث الأخرى، كقول أبي هريرة رضي الله عنه: «كان صلى الله عليه وسلم ربعةً(1) إلى الطول أقرب»(2).

* الوجه الخامس: بين الحديث صفة لون النبي صلى الله عليه وسلم بقوله: «ولم يكن بالأبيض الأمهق ولا بالآدم»، ومعناه: أن النبي صلى الله عليه وسلم لم يكن شديد البياض كالأبرص، فإنه لون مستكره، كما أنه لم يكن أسمر اللون، وإنما كان أبيض بياضاً مستنيراً مخلوطاً بحمرة كما وقع التصريح به في أحاديث عديدة.

وفي صحيح البخاري(3) عن أنس بن مالك: «كان أزهر اللون»، والأزهر هو: الأبيض المستنير، كما أفاده أهل اللغة والغريب(4).

* الوجه السادس: وقع في مسند أحمد من حديث حميد الطويل عن أنس بن مالك أن رسول الله صلى الله عليه وسلم كان أسمر اللون(5)، لكن أعل هذه الرواية بعض العلماء بأن حميداً تفرد بها عن أنس، ورواها بقية تلامذة أنس بلفظ أزهر اللون. كما أن كل من ذكر صفته صلى الله عليه وسلم غير أنس فقد وصفه بالبياض دون

--------------------------------------------

(1) الربعة: المتوسط بين الطول والقصر.

(2) رواه البخاري في «الأدب المفرد» (1155)، وحسنه الألباني في صحيح الأدب المفرد، وعزاه ابن حجر للذهلي في الزهريات، وحسن إسناده في «فتح الباري» 6/ 569.

(3) «صحيح البخاري» (3547).

(4) «مشارق الأنوار» 1/ 312، «النهاية في غريب الحديث» 2/ 321.

(5) «مسند أحمد» (13715).
তিনি অত্যধিক দীর্ঘাকৃতির ছিলেন না, আবার তিনি খাটোও ছিলেন না, বরং এই দুইয়ের মাঝামাঝি ছিলেন।

তবে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দীর্ঘাকৃতির দিকেই অধিক নিকটবর্তী ও ঝোঁকসম্পন্ন ছিলেন। এর প্রমাণ হলো, আনাস (রা.) তাঁর থেকে দীর্ঘ হওয়ার মূল বিষয়টি অস্বীকার করেননি, বরং তিনি কেবল অতিরিক্ত দীর্ঘ হওয়াকে অস্বীকার করেছেন। আর এটিই অন্যান্য কিছু হাদিসে স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে, যেমন আবু হুরায়রা (রা.)-এর উক্তি: «রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মাঝারি গড়নের(১) তবে দীর্ঘাকৃতির কাছাকাছি ছিলেন»(২)।

* পঞ্চম দিক: হাদিসটিতে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর গায়ের রঙের বর্ণনা দেওয়া হয়েছে তাঁর এই উক্তির মাধ্যমে: «তিনি ধবধবে সাদাও ছিলেন না, আবার একদম শ্যামলাও ছিলেন না»। এর অর্থ হলো: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) শ্বেতী রোগীর মতো অত্যধিক সাদা ছিলেন না, কারণ এটি একটি অপছন্দনীয় রঙ; আবার তিনি শ্যামলা বর্ণের ছিলেন না, বরং তিনি ছিলেন লালাভ মিশ্রিত উজ্জ্বল শ্বেত বর্ণের, যা অনেক হাদিসে স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে।

সহীহ বুখারীতে(৩) আনাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে: «তিনি উজ্জ্বল বর্ণের ছিলেন», আর 'আজহার' (উজ্জ্বল) হলো: জ্যোতির্ময় শ্বেত বর্ণ, যেমনটি ভাষাবিদ ও অপরিচিত শব্দ বিশেষজ্ঞগণ উল্লেখ করেছেন(৪)।

* ষষ্ঠ দিক: মুসনাদে আহমাদে হুমাইদ আত-তবীলের বর্ণনায় আনাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে এসেছে যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) শ্যামলা বর্ণের ছিলেন(৫)। তবে কিছু আলেম এই বর্ণনাকে ত্রুটিযুক্ত বলেছেন এই কারণে যে, হুমাইদ এককভাবে আনাস (রা.) থেকে এটি বর্ণনা করেছেন, যেখানে আনাসের অন্যান্য ছাত্রগণ এটি 'উজ্জ্বল বর্ণ' শব্দে বর্ণনা করেছেন। তদুপরি, আনাস (রা.) ব্যতীত যারা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর শারীরিক বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করেছেন, তারা সকলেই তাঁকে শ্বেত বর্ণের বলে বর্ণনা করেছেন এবং... ব্যতীত

--------------------------------------------

(১) রাবআহ: দীর্ঘ এবং খাটোর মধ্যবর্তী।

(২) বুখারী এটি 'আল-আদাবুল মুফরাদ' (১১৫৫) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন, আলবানী একে 'সহীহুল আদাবুল মুফরাদ'-এ হাসান বলেছেন, এবং ইবনে হাজার একে 'যুহরিয়্যাত' গ্রন্থে যুহলির দিকে সম্বন্ধ করেছেন এবং 'ফাতহুল বারী' (৬/৫৬৯)-তে এর সনদকে হাসান বলেছেন।

(৩) 'সহীহ বুখারী' (৩৫৪৭)।

(৪) 'মাশারিকুল আনওয়ার' ১/৩১২, 'আন-নিহায়াহ ফী গারীবিল হাদীস' ২/৩২১।

(৫) 'মুসনাদে আহমাদ' (১৩৭১৫)।
(খণ্ড: ১) শারহু মুখতাসারিশ শামাইলিল মুহাম্মাদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
السمرة، وهم خمسة عشر صحابياً كما قاله الحافظ العراقي(1)، فلا شك أن روايتهم أصح وأرجح.

وتأول بعضهم كلمة «أسمر» هنا بأن المراد بها نفي البياض الشديد كما تقدم، وعلى هذا التوجيه فلا منافاة بين هذه الرواية وبين بقية الروايات التي وصفته بالبياض.

وقال بعضهم: بأن السمرة كانت في أعضائه صلى الله عليه وسلم البارزة للشمس، والبياض فيما تحت الثياب، وكل هذه تأويلات متكلفة.

* الوجه السابع: بين الحديث صفة شعر النبي صلى الله عليه وسلم بأنه: «ليس بالجعد القطط، ولا بالسبط»، ومعناه أن شعره صلى الله عليه وسلم كان وسطاً بين الجعودة والنعومة، وهي أحسن صفات الشعر، وقد جاء في رواية أبي هريرة: أنه كان «رَجِل الشعر»(2)، وهو الذي كأنه رُجّل وسُرّح بالمشط، وفسره بعضهم بما فيه تثنٍ قليل.

* الوجه الثامن: وردت صفات أخرى لخِلْقة النبي صلى الله عليه وسلم في أحاديث أخر كثيرة، ومنها على سبيل المثال:

أنه كان «بعيد ما بين المنكبين»، كما في حديث البراء بن عازب(3)، والمعنى أنه كان عريض أعلى الظهر.

--------------------------------------------

(1) «تحفة الأحوذي» 10/ 68.

(2) «الشمائل» (12)، وصححه الألباني في «مختصر الشمائل».

(3) رواه البخاري في «صحيحه» (3551)، ومسلم في «صحيحه» (2337).
তামাটে বর্ণের বর্ণনা, আর তাঁরা পনেরোজন সাহাবী যেমনটি হাফেজ ইরাকি বলেছেন(১), সুতরাং এতে কোনো সন্দেহ নেই যে তাঁদের বর্ণনা অধিকতর বিশুদ্ধ এবং প্রাধান্যযোগ্য।

কেউ কেউ এখানে ‘আসমার’ (তামাটে) শব্দটির ব্যাখ্যা এভাবে করেছেন যে, এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো পূর্বোক্ত অতিশয় শুভ্রতাকে নাকচ করা। আর এই ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এই বর্ণনার সাথে তাঁকে শুভ্র বর্ণের অধিকারী বলে বর্ণিত অন্যান্য বর্ণনার কোনো বিরোধ নেই।

আবার কেউ কেউ বলেছেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর শরীরের যে অঙ্গগুলো সূর্যের আলোয় উন্মুক্ত থাকত সেগুলোতে তামাটে ভাব ছিল, আর পোশাকের নিচের অংশগুলো ছিল শুভ্র। আর এই সবগুলিই হলো কষ্টকল্পিত ব্যাখ্যা।

* সপ্তম দিক: হাদিসটিতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চুলের বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করা হয়েছে যে: «তা অতিশয় কোঁকড়ানো ছিল না, আবার একেবারে সোজা লম্বাও ছিল না», এর অর্থ হলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চুল কোঁকড়ানো এবং মসৃণ বা সোজার মাঝামাঝি ছিল, যা চুলের শ্রেষ্ঠ বৈশিষ্ট্য। আবু হুরায়রা (রা.)-এর বর্ণনায় এসেছে: তিনি ছিলেন «সুশোভিত চুলের অধিকারী»(২), অর্থাৎ তাঁর চুল যেন আঁচড়ানো ও চিরুনি দিয়ে বিন্যস্ত করা হয়েছে; কেউ কেউ এর ব্যাখ্যা করেছেন এমন চুল হিসেবে যাতে সামান্য ঢেউ ছিল।

* অষ্টম দিক: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর শারীরিক গঠনের আরও অনেক বৈশিষ্ট্য অন্যান্য অসংখ্য হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, উদাহরণস্বরূপ:

তিনি ছিলেন «দুই কাঁধের মধ্যবর্তী স্থানে প্রশস্ত», যেমনটি বারা ইবনে আজেব (রা.)-এর হাদিসে এসেছে(৩), এর অর্থ হলো তাঁর পিঠের উপরিভাগ চওড়া ছিল।

--------------------------------------------

(১) «তুহফাতুল আহওয়াযি» ১০/ ৬৮।

(২) «শামায়েল» (১২), আলবানি «মুখতাসারুশ শামায়েল» গ্রন্থে একে সহিহ বলেছেন।

(৩) বুখারি তাঁর «সহিহ» (৩৫৫১) গ্রন্থে এবং মুসলিম তাঁর «সহিহ» (২৩৩৭) গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) শারহু মুখতাসারিশ শামাইলিল মুহাম্মাদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
وأنه كان (شَثْن القدمين والكفين)، كما في حديث أنس بن مالك(1)، ومعناه: غليظ الأصابع وراحة اليد، لكن من غير خشونة، كما في حديث أنس ابن مالك رضي الله عنه قال: «ما مسست حريراً ولا ديباجاً ألين من كف النبي صلى الله عليه وسلم»(2).

وأنه كان (كَثَّ اللحية)، كما صح ذلك في أحاديث عدة، منها حديث علي بن أبي طالب(3)، ومعناه: كثير شعر اللحية، كما جاء مصرحاً به في حديث جابر بن سمرة في صحيح مسلم(4).

وأنه كان (ضخم الرأس) أي عظيمه في اعتدال، وفيه دليل على كمال قواه صلى الله عليه وسلم العقلية والدماغية، وذكائه وفطنته.

وأنه كان (ضخم الكراديس)، ومعناه: عظيم رؤوس العظام والمفاصل التي تلتقي فيها العظام، والمراد أن بنيته صلى الله عليه وسلم كانت قوية شديدة.

وأنه كان (طويل المَسْربة)، ومعناه: أن له شعراً دقيقاً يمتد من صدره إلى سرته.

وهذه الصفات الثلاث الأخيرة: (ضخم الرأس، ضخم الكراديس، طويل المسربة) وردت في حديث علي بن أبي طالب رضي الله عنه(5).

وأنه كان (ضليع الفم)، ومعناه: أن فمه صلى الله عليه وسلم لم يكن صغيراً ضيقاً.

--------------------------------------------

(1) رواه البخاري في «صحيحه» (5910).

(2) «صحيح البخاري» (3561).

(3) «مسند أحمد» (684)، وحسن إسناده شعيب الأرناؤوط.

(4) «صحيح مسلم» (2344).

(5) رواه الترمذي في «الشمائل» (4)، وفي «السنن» (3637)، وقال: حسن صحيح، وصححه الألباني.
এবং তিনি ছিলেন (পায়ের পাতা ও হাতের তালু পুরু বিশিষ্ট), যেমনটি আনাস ইবনে মালিকের(১) হাদীসে এসেছে। এর অর্থ হলো: আঙ্গুল ও হাতের তালু মাংসল হওয়া, তবে রুক্ষতা ব্যতীত; যেমনটি আনাস ইবনে মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর হাদীসে এসেছে, তিনি বলেছেন: «আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাতের তালুর চেয়ে অধিক নরম কোনো রেশম বা দিবায স্পর্শ করিনি»(২)।

এবং তিনি ছিলেন (ঘন দাড়ি বিশিষ্ট), যা একাধিক হাদীসে সঠিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে, যার মধ্যে আলী ইবনে আবী তালিবের(৩) হাদীস অন্যতম। এর অর্থ হলো: দাড়িতে প্রচুর চুল থাকা, যেমনটি সহীহ মুসলিমের জাবির ইবনে সামুরাহর হাদীসে স্পষ্টভাবে এসেছে(৪)।

এবং তিনি ছিলেন (বড় মাথা বিশিষ্ট) অর্থাৎ সুঠামভাবে বড়; এর মধ্যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পূর্ণাঙ্গ বুদ্ধিবৃত্তিক ও মস্তিষ্কগত শক্তি এবং তাঁর প্রখর মেধা ও বিচক্ষণতার প্রমাণ রয়েছে।

এবং তিনি ছিলেন (স্থূল গ্রন্থিসন্ধি বিশিষ্ট), এর অর্থ হলো: হাড়ের অগ্রভাগ এবং যে সকল সংযোগস্থলে হাড় মিলিত হয় সেগুলো সুসংহত হওয়া। এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর শারীরিক গঠন ছিল অত্যন্ত শক্তিশালী ও সুদৃঢ়।

এবং তিনি ছিলেন (দীর্ঘ মাসরুবাহ বিশিষ্ট), এর অর্থ হলো: তাঁর বুক থেকে নাভি পর্যন্ত লম্বা পশমের চিকন একটি রেখা ছিল।

শেষোক্ত এই তিনটি বৈশিষ্ট্য: (বড় মাথা বিশিষ্ট হওয়া, স্থূল গ্রন্থিসন্ধি বিশিষ্ট হওয়া এবং দীর্ঘ মাসরুবাহ থাকা) আলী ইবনে আবী তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর হাদীসে বর্ণিত হয়েছে(৫)।

এবং তিনি ছিলেন (প্রশস্ত মুখ বিশিষ্ট), এর অর্থ হলো: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মুখ ছোট বা সংকীর্ণ ছিল না।

--------------------------------------------

(১) বুখারী তাঁর «সহীহ» গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন (৫৯১০)।

(২) «সহীহ বুখারী» (৩৫৬১)।

(৩) «মুসনাদে আহমাদ» (৬৮৪), এর সনদকে শুআইব আল-আরনাউত হাসান বলেছেন।

(৪) «সহীহ মুসলিম» (২৩৪৪)।

(৫) তিরমিযী এটি «শামাইল» (৪) এবং «সুনান» (৩৬৩৭) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: এটি হাসান সহীহ, আর আলবানী একে সহীহ বলেছেন।
(খণ্ড: ১) শারহু মুখতাসারিশ শামাইলিল মুহাম্মাদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৬)
وأنه كان (أشكل العينين)، ومعناه على القول الراجح: أن بياض عينيه صلى الله عليه وسلم كان يخالطهما شيء من الحمرة.

وأنه كان (منهوس العقبين)، أي أن عقب قدمه صلى الله عليه وسلم كان قليل اللحم.

وهذه الأوصاف الثلاثة الأخيرة (ضليع الفم، أشكل العين، منهوس العقب) صحت من حديث جابر بن سمرة رضي الله عنه(1).

كما وصف وجهه صلى الله عليه وسلم غير واحد من الصحابة بأنه كان كالقمر، بل أحسن من القمر، كما صح ذلك في حديث البراء بن عازب(2)، وكعب بن مالك(3)، وجابر بن سمرة(4) وغيرهم.

و (كأن الشمس تجري في وجهه)، كما في حديث أبي هريرة(5).

وسيأتي مزيد كلام - إن شاء الله - عن صفة شعره، وصفات أخرى تتعلق ببدنه الشريف صلى الله عليه وسلم.

* الوجه التاسع: ذكر الحديث بأن بعثة النبي صلى الله عليه وسلم كانت «على رأس أربعين سنة» من عمره، وقد اختلف في تفسير هذه اللفظة، فذهب بعضهم إلى أن المراد أول سنة أربعين من مولده، أي بعد أن أتم التاسعة والثلاثين من

--------------------------------------------

(1) رواه مسلم في «صحيحه» (2339).

(2) «صحيح البخاري» (3552).

(3) «صحيح البخاري» (4677).

(4) رواه الترمذي في «الشمائل» (8)، وفي «السنن» (2812)، وحسنه، وصححه الحاكم في «المستدرك» (7383)، ووافقه الذهبي، وقال عبد القادر الأرناؤوط في تعليقه على «جامع الأصول» (8308): حسن.

(5) رواه الترمذي في «سننه» (3648)، وصححه ابن حبان (6309)، وحسنه عبد القادر الأرناؤوط.
এবং তিনি ছিলেন (আশকালুল আইনাইন), যার রাজেহ বা বিশুদ্ধতম মতানুসারে অর্থ হলো: সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চোখের শুভ্র অংশে কিছুটা লাল আভা মিশ্রিত ছিল।

এবং তিনি ছিলেন (মানহুসুল আকিবাইন), অর্থাৎ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পায়ের গোড়ালিতে মাংস কম ছিল।

আর এই শেষোক্ত তিনটি বৈশিষ্ট্য (প্রশস্ত মুখগহ্বর, চোখের শুভ্রতায় লাল আভা এবং মাংসহীন গোড়ালি) জাবির ইবনে সামুরা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত সহিহ হাদিস দ্বারা প্রমাণিত(১)।

তদ্রূপ একাধিক সাহাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চেহারা মোবারককে চাঁদের মতো বলে বর্ণনা করেছেন, বরং চাঁদের চেয়েও সুন্দর বলেছেন; যেমনটি বারা ইবনে আযিব(২), কা’ব ইবনে মালিক(৩), জাবির ইবনে সামুরা(৪) এবং অন্যদের বর্ণিত হাদিসে সহিহ সূত্রে প্রমাণিত হয়েছে।

এবং (যেন সূর্য তাঁর চেহারায় প্রবহমান), যেমনটি আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর হাদিসে বর্ণিত হয়েছে(৫)।

ইনশাআল্লাহ, তাঁর চুলের বৈশিষ্ট্য এবং তাঁর শরীর মোবারক সংক্রান্ত অন্যান্য গুণাবলী সম্পর্কে সামনে আরও বিস্তারিত আলোচনা আসবে।

* নবম দিক: হাদিসে উল্লেখ করা হয়েছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নবুওয়াত প্রাপ্তি বা প্রেরণ ছিল তাঁর বয়সের ‘চল্লিশ বছরের শুরুতে’। এই শব্দটির ব্যাখ্যায় মতভেদ রয়েছে; কেউ কেউ অভিমত দিয়েছেন যে, এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো তাঁর জন্মের চল্লিশতম বছরের শুরু, অর্থাৎ যখন তিনি উনচল্লিশ বছর পূর্ণ করেছেন

--------------------------------------------

(১) এটি ইমাম মুসলিম তাঁর ‘সহিহ’ গ্রন্থে (২৩৩৯) বর্ণনা করেছেন।

(২) ‘সহিহ বুখারি’ (৩৫৫২)।

(৩) ‘সহিহ বুখারি’ (৪৬৭৭)।

(৪) এটি ইমাম তিরমিজি তাঁর ‘শামায়েল’ (৮) এবং ‘সুনান’ (২৮১২) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন এবং একে হাসান বলেছেন। হাকেম ‘মুসতাদরাক’ (৭৩৮৩) গ্রন্থে একে সহিহ বলেছেন এবং জাহাবি তাঁর সাথে একমত পোষণ করেছেন। আব্দুল কাদির আরনাউত ‘জামেউল উসুল’ (৮৩০৮)-এর টিকায় একে হাসান বলেছেন।

(৫) এটি ইমাম তিরমিজি তাঁর ‘সুনান’ (৩৬৪৮) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন, ইবনে হিব্বান (৬৩০৯) একে সহিহ বলেছেন এবং আব্দুল কাদির আরনাউত একে হাসান বলেছেন।
(খণ্ড: ১) শারহু মুখতাসারিশ শামাইলিল মুহাম্মাদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
عمره، وذهب بعضهم إلى أن المراد آخر الأربعين، أي بعث بعد أن أتم الأربعين، وطعن في الحادي والأربعين، وهذا قول الجمهور.

* الوجه العاشر: بين الحديث بأن النبي صلى الله عليه وسلم أقام بمكة بعد البعثة عشر سنين، لكن المشهور في روايات الصحيحين وغيرهما عن جمع من الصحابة أن مدة مقام النبي صلى الله عليه وسلم بمكة بعد البعثة كانت ثلاث عشرة سنة. قال ابن الجوزي(1): «بلا خلاف». وعليه فقد اختلف في مقصود أنس بهذه الرواية، والأقرب أنها مبنية على إلغاء الكسر الزائد على العشرة، كما هي عادة العرب في الحساب.

* الوجه الحادي عشر: ذكر في الحديث بأن مدة مقام النبي صلى الله عليه وسلم في المدينة بعد الهجرة كانت عشر سنوات، وهذا محل اتفاق بين العلماء جميعاً كما قال النووي رحمه الله(2).

* الوجه الثاني عشر: ذكر في الحديث بأن الله عز وجل قد توفى نبيه صلى الله عليه وسلم على رأس ستين سنة، لكن المشهور في روايات الصحيحين من حديث عائشة وابن عباس أن عمر النبي صلى الله عليه وسلم عند وفاته كان ثلاثاً وستين سنة، بل صح ذلك حتى عن أنس بن مالك عند مسلم في صحيحه(3)، وعليه فقد حمل العلماء رواية الستين بأنها مبنية على حذف الكسر الزائد كما تقدم في مدة بقائه صلى الله عليه وسلم في مكة.

--------------------------------------------

(1) «كشف المشكل من حديث الصحيحين» 3/ 214.

(2) «شرح صحيح مسلم» للنووي 15/ 99.

(3) «صحيح مسلم» (2348).
তাঁর বয়স। তাঁদের কেউ কেউ এই মত পোষণ করেছেন যে, এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো চল্লিশের শেষ ভাগ; অর্থাৎ চল্লিশ বছর পূর্ণ করার পর তাঁকে নবী হিসেবে পাঠানো হয়েছে এবং তিনি একচল্লিশতম বছরে পদার্পণ করেছিলেন। এটিই জমহুর বা সংখ্যাগরিষ্ঠ ওলামায়ে কেরামের অভিমত।

* দশম বিষয়: হাদিসটিতে বর্ণিত হয়েছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নবুওয়াত লাভের পর মক্কায় দশ বছর অবস্থান করেছিলেন। তবে একদল সাহাবী থেকে সহীহাইন ও অন্যান্য গ্রন্থে বর্ণিত প্রসিদ্ধ বর্ণনা অনুযায়ী, নবুওয়াত পরবর্তী মক্কায় তাঁর অবস্থানের সময়কাল ছিল তেরো বছর। ইবনুল জাওযী(১) বলেন: "এতে কোনো মতভেদ নেই।" এর ভিত্তিতে আনাস রা.-এর এই বর্ণনার উদ্দেশ্য সম্পর্কে মতভেদ সৃষ্টি হয়েছে। এর সবচেয়ে নিকটবর্তী ব্যাখ্যা হলো, এটি দশের অতিরিক্ত ভগ্নাংশ বাদ দেওয়ার ওপর ভিত্তি করে বলা হয়েছে, যেমনটি গণনার ক্ষেত্রে আরবদের রীতি।

* একাদশ বিষয়: হাদিসে উল্লেখ করা হয়েছে যে, হিজরতের পর মদিনায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অবস্থানের সময়কাল ছিল দশ বছর। ইমাম নববী রহ.-এর বক্তব্য অনুযায়ী এটি সকল আলেমের সর্বসম্মত অভিমত(২)।

* দ্বাদশ বিষয়: হাদিসে উল্লেখ করা হয়েছে যে, মহান আল্লাহ তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ষাট বছর পূর্ণ হওয়ার সময় মৃত্যু দান করেছেন। তবে আয়েশা ও ইবনে আব্বাস রা. থেকে সহীহাইন-এর প্রসিদ্ধ বর্ণনা অনুযায়ী, ইন্তেকালের সময় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বয়স ছিল তেষট্টি বছর। এমনকি ইমাম মুসলিম তাঁর সহীহ গ্রন্থে আনাস ইবনে মালিক রা. থেকেও এটি বিশুদ্ধভাবে বর্ণনা করেছেন(৩)। এর ভিত্তিতে ওলামায়ে কেরাম 'ষাট বছর'-এর বর্ণনাটিকে অতিরিক্ত ভগ্নাংশ বাদ দেওয়ার ওপর ভিত্তি করে ব্যাখ্যা করেছেন, যেমনটি ইতিপূর্বে মক্কায় তাঁর অবস্থানের সময়কালের ক্ষেত্রে আলোচিত হয়েছে।

--------------------------------------------

(১) 'কাশফুল মুশকিল মিন হাদিসিস সহীহাইন' ৩/ ২১৪।

(২) ইমাম নববীর 'শারহু সহীহ মুসলিম' ১৫/ ৯৯।

(৩) 'সহীহ মুসলিম' (২৩৪৮)।
(খণ্ড: ১) শারহু মুখতাসারিশ শামাইলিল মুহাম্মাদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৮)
ووردت رواية أخرى في الصحيح(1) عن ابن عباس أن النبي صلى الله عليه وسلم توفي عن خمس وستين سنة!! لكنها رواية شاذة أو متأولة، قال الحافظ ابن حجر: «كل من روي عنه من الصحابة ما يخالف المشهور، وهو ثلاث وستون جاء عنه المشهور»(2).

* الوجه الثالث عشر: ذكر في الحديث بأن النبي صلى الله عليه وسلم عند وفاته لم يكن في رأسه ولحيته عشرون شعرة بيضاء أي أقل من ذلك، وهذا يدل على قلة شيبه صلى الله عليه وسلم، وتمتعه بالشباب والنضارة إلى حين وفاته صلى الله عليه وسلم، وسيأتي إن شاء الله مزيد كلام على صفة شيبه صلى الله عليه وسلم في باب خاص عقده المؤلف لذلك.

* الوجه الرابع عشر: كما دل حديث أنس رضي الله عنه على اهتمام الصحابة البالغ بنقل أدق التفاصيل المتعلقة بنبينا صلى الله عليه وسلم حتى إنهم نقلوا لنا عدد شعراته البيضاء في رأسه ولحيته صلوات الله وسلامه عليه، وسيأتينا أيضاً كيف وصفوا لنا نعله وخاتمه وإزاره وقميصه وطعامه وشرابه وفاكهته وغير ذلك من التفاصيل الدقيقة المتعلقة بشخصه وبحياته صلى الله عليه وسلم.

--------------------------------------------

(1) «صحيح مسلم» (2353).

(2) «فتح الباري» 8/ 151، وينظر «شرح صحيح مسلم» للنووي 15/ 99.
সহীহ গ্রন্থে(১) ইবনে আব্বাস থেকে অন্য একটি রেওয়ায়েত বর্ণিত হয়েছে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পঁষট্টি বছর বয়সে ওফাত লাভ করেছেন!! কিন্তু এটি একটি শায (বিচ্ছিন্ন) অথবা ব্যাখ্যাসাপেক্ষ বর্ণনা। হাফেজ ইবনে হাজার বলেন: «সাহাবীদের মধ্যে যাদের থেকে প্রসিদ্ধ মতের (যা হলো তেষট্টি বছর) পরিপন্থী কোনো কিছু বর্ণিত হয়েছে, তাদের থেকে প্রসিদ্ধ মতটিও বর্ণিত হয়েছে»(২).

* ত্রয়োদশ দিক: হাদীসে উল্লেখ করা হয়েছে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওফাতের সময় তাঁর মাথায় ও দাড়িতে বিশটি সাদা চুল ছিল না, অর্থাৎ তার চেয়েও কম ছিল। এটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বার্ধক্যের স্বল্পতা এবং ওফাত পর্যন্ত তাঁর সজীবতা ও সতেজতা বজায় থাকার প্রমাণ দেয়। অচিরেই ইনশাআল্লাহ গ্রন্থকার কর্তৃক নির্ধারিত একটি বিশেষ অধ্যায়ে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাদা চুলের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে আরও আলোচনা আসবে।

* চতুর্দশ দিক: আনাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাদীসটি আমাদের নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সংক্রান্ত অতি সূক্ষ্ম বিবরণগুলো পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে সাহাবায়ে কেরামের চরম গুরুত্বারোপের বিষয়টি প্রমাণ করে। এমনকি তাঁরা তাঁর মাথা ও দাড়ির সাদা চুলের সংখ্যা পর্যন্ত আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক)। আমাদের সামনে আরও আসবে যে, কীভাবে তাঁরা তাঁর জুতো, আংটি, লুঙ্গি, কামিস, খাবার, পানীয়, ফলমূল এবং তাঁর সত্তা ও জীবন সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সূক্ষ্ম বিষয়াদি বর্ণনা করেছেন।

--------------------------------------------

(১) «সহীহ মুসলিম» (২৩৫৩)।

(২) «ফাতহুল বারী» ৮/ ১৫১, এবং দেখুন নববীর «শারহু সহীহ মুসলিম» ১৫/ ৯৯।
(খণ্ড: ১) শারহু মুখতাসারিশ শামাইলিল মুহাম্মাদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
‌‌2 - بَابُ مَا جَاءَ فِي خَاتَمِ النُّبُوَّةِ

خاتم النبوة هو إحدى العلامات التي كانت على جسده الشريف صلى الله عليه وسلم، الدالة على نبوته. وكانت هذه العلامة معروفة عند أهل الكتاب، مذكورة في كتبهم، وبها تعرَّف بعضهم على النبي صلى الله عليه وسلم كبحيرى الراهب عندما التقى بالنبي صلى الله عليه وسلم على مشارف بلاد الشام، في رحلته صلى الله عليه وسلم الأولى إليها مع عمه أبي طالب(1).

كذلك تعرَّف سلمان الفارسي على النبي صلى الله عليه وسلم بهذه العلامة أول مقدمه المدينة فآمن به(2).

وقد أورد الترمذي رحمه الله تحت هذا الباب جملة من الأحاديث الواردة في شأن هذا الخاتم وصفته.

 

2 - عن السَّائِبَ بنَ يَزِيدَ رضي الله عنه قال: «ذَهَبَتْ بِي خَالَتِي إِلَى النبي صلى الله عليه وسلم فَقَالَتْ: يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ ابنَ أُختِي وَجِعٌ، فَمَسَحَ صلى الله عليه وسلم رَأسِي، وَدَعَا لِي بِالبَرَكَةِ، وَتَوَضَّأَ، فَشَرِبْتُ مِنْ وَضُوئِهِ، وَقُمْتُ خَلْفَ ظَهْرِهِ فَنَظَرْتُ إِلَى الخَاتَمِ بَيْنَ كَتِفَيْهِ، فَإِذَا هُوَ مِثْلُ زِرّ الحَجَلَة».

--------------------------------------------

(1) أخرج قصة بحيرى الترمذي في «سننه» (3620)، وصححها الحاكم في «المستدرك» (4229)، وقوى إسنادها ابن حجر في «الفتح» 7/ 716.

(2) «مسند أحمد» (22997) وقوى إسناده شعيب الأرناؤوط.
২ - নবুওয়তের মোহর সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে

নবুওয়তের মোহর হলো সেই সব নিদর্শনের অন্যতম যা তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পবিত্র দেহে বিদ্যমান ছিল এবং যা তাঁর নবুওয়তের প্রমাণ বহন করত। এই নিদর্শনটি আহলে কিতাবদের নিকট পরিচিত ছিল এবং তাদের কিতাবসমূহে এর উল্লেখ ছিল। এর মাধ্যমেই তাদের কেউ কেউ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে চিনতে পেরেছিলেন, যেমন পাদ্রী বুহাইরা; যখন তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে সিরিয়া সীমান্তে তাঁর প্রথম সফরের সময় দেখা করেছিলেন, যখন তিনি তাঁর চাচা আবু তালিবের সাথে সেখানে গিয়েছিলেন(১)।

অনুরূপভাবে সালমান আল-ফারসি (রাযিয়াল্লাহু আনহু) মদিনায় নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর আগমনের প্রথম দিকে এই নিদর্শনের মাধ্যমেই তাঁকে চিনতে পেরেছিলেন এবং তাঁর প্রতি ঈমান এনেছিলেন(২)।

ইমাম তিরমিযী (রাহিমাহুল্লাহ) এই পরিচ্ছেদের অধীনে এই মোহরের বিষয় ও তার বর্ণনা সম্পর্কে বর্ণিত বেশ কিছু হাদীস উল্লেখ করেছেন।

 

২ - সায়িব ইবনে ইয়াযীদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: «আমার খালা আমাকে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট নিয়ে গেলেন এবং বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আমার ভাগ্নে অসুস্থ। তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমার মাথায় হাত বুলিয়ে দিলেন এবং আমার জন্য বরকতের দুআ করলেন। এরপর তিনি ওযু করলেন এবং আমি তাঁর ওযুর অবশিষ্ট পানি পান করলাম। তারপর আমি তাঁর পিঠের পেছনে দাঁড়ালাম এবং তাঁর দুই কাঁধের মাঝখানে মোহরটির দিকে তাকালাম; সেটি ছিল পালঙ্ক-আচ্ছাদনের বোতামের মতো।»

--------------------------------------------

(১) তিরমিযী তাঁর «সুনান»-এ (৩৬২০) বুহাইরার কাহিনী বর্ণনা করেছেন, আল-হাকিম «আল-মুস্তাদরাক»-এ (৪২২৯) একে সহীহ বলেছেন এবং ইবনে হাজার «আল-ফাতহ» ৭/৭১৬-এ এর সনদকে শক্তিশালী বলেছেন।

(২) «মুসনাদে আহমাদ» (২২৯৯৭) এবং শুআইব আল-আরনাউত এর সনদকে শক্তিশালী বলেছেন।
(খণ্ড: ১) শারহু মুখতাসারিশ শামাইলিল মুহাম্মাদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২০)
• الكلام عليه من وجوه:

* الوجه الأول: في التعريف براويه:

السائب بن يزيد هو: ابن سعيد الكناني: صحابيّ جليل، من صغار الصحابة، وكان مع أبيه في حجة الوداع. استعمله عمر بن الخطاب على سوق المدينة، وهو آخر من توفي بها من الصحابة، بعد سنة تسعين.

* الوجه الثاني: في تخريجه:

الحديث أخرجه البخاري ومسلم في الصحيحين(1).

* الوجه الثالث: في شرح ألفاظه:

(زرّ الحجلة): الحجلة طائر معروف متوسط الحجم، وزرّها: بيضها، مأخوذ من قول العرب: ارتزت الجرادة إذا أدخلت ذنبها في الأرض لتبيض. وقيل: المراد بالحجلة: بيت كالقبة له أزرار كبار وعرى، ويسمى في الحجاز بالناموسية.

* الوجه الرابع: دل الحديث على إثبات خاتم النبوة بين كتفيه صلى الله عليه وسلم، والأحاديث الواردة في إثباته كثيرة. وهو كما قدمنا إحدى العلامات الدالة على أنه النبي الموعود في آخر الزمان.

* الوجه الخامس: وَصَفَ الحديثُ خاتم النبوة بأنه مثل زرّ الحجلة، وقد اختلف في تفسير هذه اللفظة كما تقدم، والمشهور أن المراد بها كبيضة الحجلة، والحجلة طائر معروف متوسط الحجم، ويؤكد هذا التفسير ما ثبت

--------------------------------------------

(1) «صحيح البخاري» (190)، «صحيح مسلم» (2345).
এই বিষয়ে আলোচনা কয়েকটি দিক থেকে:

* প্রথম দিক: বর্ণনাকারীর পরিচিতি:

আস-সাইব বিন ইয়াযিদ হলেন: ইবনে সাঈদ আল-কিনানী: একজন মহান সাহাবী, কনিষ্ঠ সাহাবীদের অন্তর্ভুক্ত, এবং তিনি তাঁর পিতার সাথে বিদায় হজ্জে উপস্থিত ছিলেন। উমর ইবনুল খাত্তাব তাঁকে মদীনার বাজারের দায়িত্ব প্রদান করেছিলেন, আর তিনি মদীনায় মৃত্যুবরণকারী সাহাবীদের মধ্যে সর্বশেষ ব্যক্তি, নব্বই হিজরীর পরে ইন্তেকাল করেন।

* দ্বিতীয় দিক: হাদীসের উৎস প্রসঙ্গে:

হাদীসটি বুখারী ও মুসলিম তাঁদের সহীহদ্বয়ে বর্ণনা করেছেন(১)।

* তৃতীয় দিক: শব্দসমূহের ব্যাখ্যায়:

(যিররুল হাজালাহ): 'হাজালাহ' একটি সুপরিচিত মাঝারি আকৃতির পাখি, আর এর 'যির' হলো: তার ডিম; এটি আরবদের বাক্য 'আরতাযযাত আল-জারাদাহ' (তড়িং ফড়িং তার লেজ মাটিতে ঢুকিয়ে দিয়েছে) থেকে গৃহীত, যখন এটি ডিম পাড়ার জন্য তার লেজ মাটিতে প্রবেশ করায়। আবার বলা হয়েছে: 'হাজালাহ' দ্বারা উদ্দেশ্য হলো: গম্বুজের মতো একটি ঘর যাতে বড় বড় বোতাম ও কড়া থাকে, আর হিজায অঞ্চলে একে 'নামুসিয়াহ' (মশারি) বলা হয়।

* চতুর্থ দিক: হাদীসটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দুই কাঁধের মাঝখানে নবুওয়াতের মোহর সাব্যস্ত হওয়ার প্রমাণ দেয়, এবং এটি সাব্যস্ত করার ব্যাপারে বর্ণিত হাদীসের সংখ্যা অনেক। আর এটি আমরা ইতিপূর্বে যেমন উল্লেখ করেছি, শেষ যামানার প্রতিশ্রুত নবী হওয়ার অন্যতম নিদর্শন।

* পঞ্চম দিক: হাদীসে নবুওয়াতের মোহরকে 'হাজালাহ'র ডিমের মতো বলে বর্ণনা করা হয়েছে। এই শব্দের ব্যাখ্যায় মতভেদ রয়েছে যেমনটি পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে, তবে প্রসিদ্ধ মত হলো এর দ্বারা 'হাজালাহ' পাখির ডিম বোঝানো হয়েছে। 'হাজালাহ' একটি সুপরিচিত মাঝারি আকৃতির পাখি, আর এই ব্যাখ্যাটিকে যা প্রমাণিত হয়েছে তা শক্তিশালী করে

--------------------------------------------

(১) «সহীহ বুখারী» (১৯০), «সহীহ মুসলিম» (২৩৪৫)।
(খণ্ড: ১) শারহু মুখতাসারিশ শামাইলিল মুহাম্মাদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২১)
من حديث جابر بن سمرة أنه قال: «رأيت الخاتم عند كتفه صلى الله عليه وسلم مثل بيضة الحمامة يشبه جسده»(1).

* الوجه السادس: ثبتت أحاديث أخرى في صفة خاتم النبوة منها: حديث أبي سعيد الخدري، أن خاتم النبوة كان «بَضعة ناشزة»(2)، أي قطعة لحم ظاهرة مرتفعة.

وفي حديث جابر بن سمرة أنه كان «غدَّة حمراء»(3) أي مثل الغدة يميل لونها إلى الحمرة، لأن لون جسده صلى الله عليه وسلم كان أبيضَ مخلوطاً بحمرة.

وفي حديث أبي زيد عمرو بن أخطب الأنصاري قال: قال لي رسول الله صلى الله عليه وسلم: «يا أبا زيد، ادنُ منّي فامسح ظهري»، فمسحت ظهره، فوقعت أصابعي على الخاتم. قيل: وما الخاتم؟ قال: «شعرات مجتمعات»(4)، وقد حمل العلماء هذا الحديث على أن أبا زيد لم ير الخاتم بعينه، وإنما أخبر عما وصلت إليه يده، وهو الشعر الذي كان حول الخاتم متراكباً عليه.

وفي حديث عبد الله بن سرجِس قال: «نظرت إلى خاتم النبوة بين كتفيه، عند ناغض كتفه اليسرى، جُمعاً، عليه خيلان كأمثال الثآليل»(5). وهذه

--------------------------------------------

(1) أخرجه مسلم في «صحيحه» (2344).

(2) أخرجه الترمذي في «الشمائل» (22) عن أبي سعيد الخدري بسند جيد.

(3) أخرجه الترمذي في «الشمائل» (17) وفي «السنن» (3647)، وقال: حسن صحيح، وصححه الألباني في «مختصر الشمائل».

(4) أخرجه أحمد في «المسند» (22889)، والترمذي في «الشمائل» (20) واللفظ له، وابن حبان في «صحيحه» (6300)، وقال شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح. ولفظه عند أحمد وابن حبان: «شعر مجتمع على كتفه».

(5) أخرجه مسلم في «صحيحه» (2346).
জাবির ইবনে সামুরা (রা.) বর্ণিত হাদীস থেকে জানা যায় যে, তিনি বলেন: "আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাঁধের কাছে কবুতরের ডিমের মতো মোহরটি দেখেছি, যা তাঁর শরীরের রঙের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ ছিল"(১)।

* ষষ্ঠ দিক: নবুওয়াতের মোহরের বৈশিষ্ট্যের ব্যাপারে অন্যান্য হাদীসও প্রমাণিত হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে: আবু সাঈদ আল-খুদরী (রা.)-এর হাদীস, নিশ্চয়ই নবুওয়াতের মোহরটি ছিল একটি 'উঁচু গোশতের টুকরো'(২), অর্থাৎ একটি দৃশ্যমান ও উন্নত মাংসপিণ্ড।

জাবির ইবনে সামুরা (রা.)-এর হাদীসে বর্ণিত হয়েছে যে, এটি ছিল একটি 'লালচে গ্রন্থি'(৩), অর্থাৎ এমন একটি গ্রন্থি বা আবের মতো যার রঙ লালের দিকে ঝুঁকে ছিল। কেননা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর শরীরের রঙ ছিল লালিমা মিশ্রিত সাদা।

আবু যায়েদ আমর ইবনে আখতাব আল-আনসারী (রা.)-এর হাদীসে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন: "হে আবু যায়েদ, আমার কাছে এসো এবং আমার পিঠে হাত বুলিয়ে দাও।" এরপর আমি তাঁর পিঠে হাত বুলিয়ে দিলাম এবং আমার আঙ্গুলগুলো মোহরের ওপর পড়ল। জিজ্ঞেস করা হলো: মোহরটি কী ছিল? তিনি বললেন: "একগুচ্ছ চুল"(৪)। উলামায়ে কেরাম এই হাদীসটিকে এভাবে ব্যাখ্যা করেছেন যে, আবু যায়েদ সরাসরি চোখ দিয়ে মোহরটি দেখেননি, বরং তাঁর হাত যেখানে পৌঁছেছিল তিনি কেবল সে সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন; আর তা ছিল মোহরের চারপাশের চুল যা এর ওপর স্তরীভূত হয়ে ছিল।

আবদুল্লাহ ইবনে সারজিস (রা.)-এর হাদীসে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: "আমি তাঁর দুই কাঁধের মাঝে, বাম কাঁধের হাড়ের উপরের অংশের কাছে নবুওয়াতের মোহরটি দেখেছি; যা ছিল হাতের মুষ্টির মতো একত্রিত উঁচু গোশত, যার ওপর আঁচিলের মতো কিছু তিল ছিল"(৫)। এটি

--------------------------------------------

(১) মুসলিম তাঁর ‘সহীহ’ গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন (২৩৪৪)।

(২) তিরমিযী তাঁর ‘শামায়েল’ গ্রন্থে (২২) আবু সাঈদ আল-খুদরী থেকে উত্তম সনদে এটি বর্ণনা করেছেন।

(৩) তিরমিযী তাঁর ‘শামায়েল’ গ্রন্থে (১৭) এবং তাঁর ‘সুনান’ গ্রন্থে (৩৬৪৭) এটি বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: এটি হাসান সহীহ। আলবানী ‘মুখতাসারুশ শামায়েল’-এ একে সহীহ বলেছেন।

(৪) আহমদ তাঁর ‘মুসনাদ’ গ্রন্থে (২২৮৮৯) এবং তিরমিযী তাঁর ‘শামায়েল’ গ্রন্থে (২০) এটি বর্ণনা করেছেন এবং শব্দবিন্যাস তিরমিযীর; ইবনে হিব্বান তাঁর ‘সহীহ’ গ্রন্থে (৬৩০০) এটি বর্ণনা করেছেন এবং শুয়াইব আরনাউত বলেছেন: এর সনদ সহীহ। আহমদ ও ইবনে হিব্বানের নিকট এর শব্দ হলো: "তাঁর কাঁধের ওপর একত্রিত কিছু চুল।"

(৫) মুসলিম তাঁর ‘সহীহ’ গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন (২৩৪৬)।
(খণ্ড: ১) শারহু মুখতাসারিশ শামাইলিল মুহাম্মাদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২২)
الرواية أفادتنا أن الخاتم كان إلى جهة الكتف الأيسر أقرب، وأن عليه خيلان سوداء، وأنه مثل الجُمع، أي جُمع اليد في الهيئة والاستدارة وليس في الحجم، حتى تتوافق مع بقية الروايات الدالة على أن الخاتم كان بحجم بيضة الحمامة أو الحجلة.

* الوجه السابع: تحصل من مجموع الروايات الثابتة في صفة خاتم النبوة أنه كان قطعة لحم ناتئة من جسد النبي صلى الله عليه وسلم، وأنه كان بلون جسده الشريف؛ أبيض يميل إلى الحمرة، وأن محله على ظهره بين كتفيه، إلى الكتف الأيسر أقرب، وأنه في حجم وهيئة بيضة الحمامة، حوله شعر متراكب عليه، وعليه خيلان سود تشبه الثآليل.

* الوجه الثامن: ورد في بعض الروايات أن خاتم النبوة كان كالشامة السوداء أو الخضراء، وفي بضعها: مكتوب عليه محمد رسول الله، أو سر فأنت المنصور، لكن قال الحافظ ابن حجر: بأنه لم يثبت من هذه الروايات شيء، وأن ابن حبان غفل عندما صحح بعضها(1).

* الوجه التاسع: اختلف العلماء هل كان خاتم النبوة موجوداً حين ولادة النبي صلى الله عليه وسلم أو أنه وجد بعد ذلك؟ والأقوى أنه وجد بعد ذلك، فقد ورد في بعض الروايات في مسند أحمد(2) وغيره أن الملكين عندما جاءا إلى النبي صلى الله عليه وسلم وهو صبي بالطائف شقا صدره وغسلاه ثم لأماه وختما عليه بخاتم

--------------------------------------------

(1) «فتح الباري» 6/ 563.

(2) «مسند أحمد» (17648)، لكن إسناده فيه ضعف، لأنه ورد من طريق بقية بن الوليد وهو يدلس تدليس التسوية وقد عنعن، ولا يقبل حديثه حتى يصرح بالسماع في جميع طبقات السند.
বর্ণনাটি আমাদের অবহিত করে যে, মোহরটি বাম কাঁধের দিকের অধিক নিকটবর্তী ছিল এবং তার ওপর কালো তিল ছিল। এটি ছিল 'জুম'-এর মতো; অর্থাৎ আকৃতি ও গোলাকার হওয়ার ক্ষেত্রে তা ছিল মুষ্টিবদ্ধ হাতের মতো, তবে আয়তনের দিক থেকে নয়; যাতে করে এটি অন্যান্য বর্ণনার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয় যা নির্দেশ করে যে মোহরটি কবুতর বা তিতির পাখির ডিমের আয়তনের ছিল।

* সপ্তম দিক: নবুওয়াতের মোহরের বৈশিষ্ট্যের ব্যাপারে প্রমাণিত বর্ণনাগুলোর সমষ্টি থেকে প্রতীয়মান হয় যে, তা ছিল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর শরীর থেকে বের হওয়া একটি মাংসপিণ্ড এবং তা ছিল তাঁর পবিত্র শরীরের রঙের মতো; লালচে আভা যুক্ত সাদা। এর স্থান ছিল তাঁর পিঠের দুই কাঁধের মাঝখানে, তবে বাম কাঁধের অধিক নিকটবর্তী। এটি ছিল কবুতরের ডিমের আয়তন ও আকৃতির মতো, যার চারপাশে ঘন চুল ছিল এবং তার ওপর আঁচিলের মতো কালো তিল ছিল।

* অষ্টম দিক: কিছু বর্ণনায় এসেছে যে, নবুওয়াতের মোহরটি ছিল কালো বা সবুজ তিলের মতো। আবার কিছু বর্ণনায় রয়েছে: তার ওপর 'মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ' অথবা 'চলুন, আপনিই সাহায্যপ্রাপ্ত' লেখা ছিল। কিন্তু হাফেজ ইবনে হাজার বলেন: এই বর্ণনাগুলোর কোনোটিই প্রমাণিত নয় এবং ইবনে হিব্বান অসতর্ক হয়ে পড়েছিলেন যখন তিনি এগুলোর কোনো কোনোটিকে সহীহ বলেছিলেন(১)।

* নবম দিক: আলেমগণ মতভেদ করেছেন যে, নবুওয়াতের মোহরটি কি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্মের সময় বিদ্যমান ছিল নাকি তা পরবর্তীতে সৃষ্টি হয়েছে? শক্তিশালী অভিমত হলো, তা পরবর্তীতে সৃষ্টি হয়েছে। মুসনাদে আহমাদ ও অন্যান্য গ্রন্থে বর্ণিত কিছু বর্ণনায় এসেছে যে, ফেরেশতাদ্বয় যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসেছিলেন—যখন তিনি তায়েফে বালক ছিলেন—তখন তাঁরা তাঁর বক্ষ বিদীর্ণ করেন এবং তা ধৌত করেন, এরপর তা জোড়া লাগিয়ে দেন এবং তাঁর ওপর একটি মোহর অঙ্কিত করে দেন।

--------------------------------------------

(১) «ফাতহুল বারী» ৬/ ৫৬৩।

(২) «মুসনাদে আহমাদ» (১৭৬৪৮), তবে এর সনদ দুর্বল; কারণ এটি বাকিয়্যাহ ইবনুল ওয়ালিদ-এর সূত্রে বর্ণিত হয়েছে এবং তিনি 'তাদলিসুত তাসবিয়াহ' করেন এবং তিনি 'আন'আনা' (অস্পষ্ট শব্দে বর্ণনা) করেছেন। আর তাঁর হাদিস ততক্ষণ পর্যন্ত গ্রহণযোগ্য নয় যতক্ষণ না তিনি সনদের সকল স্তরে শ্রবণের বিষয়টি স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেন।
(খণ্ড: ১) শারহু মুখতাসারিশ শামাইলিল মুহাম্মাদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
النبوة. قال الحافظ ابن حجر: «مقتضى هذه الأحاديث أن الخاتم لم يكن موجوداً حين ولادته، ففيه تعقيب على من زعم أنه ولد به»(1)، انتهى كلامه رحمه الله.

* الوجه العاشر: في شرب السائب بن يزيد من وضوء النبي صلى الله عليه وسلم دليل على مشروعية التبرك بآثار النبي صلى الله عليه وسلم الثابتة عنه، كالتبرك بالماء الفاضل من وضوئه صلى الله عليه وسلم، والتبرك بريقه وشعره وعرقه ونحوه. وفي السنة والسيرة وقائع كثيرة تشهد لذلك، وهو من خصائصه صلى الله عليه وسلم التي لا يقاس عليه فيها غيره.

* الوجه الحادي عشر: ثبت في صحيح البخاري(2) أن السائب بن يزيد رضي الله عنه بلغ الرابع والتسعين سنة وهو ممتع بقواه البدنية والعقلية، وكل هذا كان ببركة مسح النبي صلى الله عليه وسلم رأسه وشربه من وضوئه ودعائه له، ولفظ رواية البخاري: عن الجعيد بن عبدالرحمن قال: رأيت السائب بن يزيد، ابن أربع وتسعين، جلداً معتدلاً، فقال: قد علمتُ: ما متعتُ به سمعي وبصري إلا بدعاء رسول الله صلى الله عليه وسلم، إن خالتي ذهبت بي إليه، فقالت: يا رسول الله، إن ابن أختي شاك، فادع الله له، قال: «فدعا لي».

--------------------------------------------

(1) «فتح الباري» 6/ 562.

(2) «صحيح البخاري» (3540).
নবুওয়াত। হাফিজ ইবনে হাজার বলেন: «এই হাদিসগুলোর দাবি হলো—নবুওয়াতের মোহর তাঁর জন্মের সময় বিদ্যমান ছিল না; সুতরাং এতে ওই ব্যক্তির বক্তব্যের খণ্ডন রয়েছে, যে দাবি করেছে যে তিনি সেটি নিয়েই জন্মগ্রহণ করেছেন»(১), তাঁর বক্তব্য (রহিমাহুল্লাহ) এখানেই শেষ।

* দশম দিক: সায়েব ইবনে ইয়াজিদ কর্তৃক নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওজুর পানি পান করার মাঝে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে প্রমাণিত তাঁর নিদর্শনাবলি (আসার) দ্বারা বরকত গ্রহণের বৈধতার দলিল রয়েছে, যেমন তাঁর ওজুর অবশিষ্ট পানি দিয়ে বরকত গ্রহণ এবং তাঁর লালা, চুল, ঘাম ও এই জাতীয় জিনিসের মাধ্যমে বরকত গ্রহণ। সুন্নাহ ও সিরাতে এর সপক্ষে অসংখ্য ঘটনা বিদ্যমান, আর এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহের অন্তর্ভুক্ত, যাতে অন্য কাউকে তাঁর ওপর কিয়াস (তুলনা) করা যাবে না।

* একাদশ দিক: সহিহ বুখারিতে(২) প্রমাণিত হয়েছে যে, সায়েব ইবনে ইয়াজিদ রাদিয়াল্লাহু আনহু চুরানব্বই বছর বয়সে উপনীত হয়েছিলেন এবং তিনি তখনো তাঁর শারীরিক ও মানসিক শক্তিতে সুঠাম ছিলেন। আর এ সবকিছুর কারণ ছিল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কর্তৃক তাঁর মাথায় হাত বুলিয়ে দেওয়া, তাঁর ওজুর পানি পান করা এবং তাঁর জন্য করা দোয়ার বরকত। বুখারির বর্ণনার শব্দাবলি হলো: জুয়াইদ ইবনে আবদুর রহমান থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি সায়েব ইবনে ইয়াজিদকে চুরানব্বই বছর বয়সে সুঠাম দেহী ও সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হিসেবে দেখেছি। তখন তিনি বললেন: আমি নিশ্চিতভাবে জানি, আমি আমার শ্রবণশক্তি ও দৃষ্টিশক্তি যা দ্বারা এখনো উপকৃত হচ্ছি, তা কেবল আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দোয়ার কারণেই। আমার খালা আমাকে তাঁর কাছে নিয়ে গিয়েছিলেন এবং বলেছিলেন: হে আল্লাহর রাসূল! আমার ভাগ্নে অসুস্থ, তাই তার জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করুন। তিনি (সায়েব) বললেন: «অতঃপর তিনি আমার জন্য দোয়া করলেন»।

--------------------------------------------

(১) «ফাতহুল বারি» ৬/ ৫৬২।

(২) «সহিহ বুখারি» (৩৫৪০)।
(খণ্ড: ১) শারহু মুখতাসারিশ শামাইলিল মুহাম্মাদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
‌‌3 - بَابُ مَا جَاءَ فِي شَعْرِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم-

تقدم في الباب الأول بيان صفة شعر النبي صلى الله عليه وسلم، وفي هذا الباب ذكر المصنف جملة من الأحاديث المتعلقة بمقدار طول شعره صلى الله عليه وسلم وطريقة ترجيله وغير ذلك من الأخبار.

 

3 - عَنْ أَنَس بن مالك رضي الله عنه: «أَنَّ شَعْرَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كانَ إِلَى أَنصَافِ أُذُنَيْهِ».

• الكلام عليه من وجوه:

* الوجه الأول: في التعريف براويه:

أنس بن مالك تقدم التعريف به في الحديث رقم 1.

* الوجه الثاني: في تخريجه:

الحديث أخرجه مسلم في صحيحه(1).

* الوجه الثالث: دلّ الحديث على أن شعر النبي صلى الله عليه وسلم كان يبلغ طوله إلى أنصاف أذنيه. لكن هذه لم تكن الحال الوحيدة لشعره صلى الله عليه وسلم، فقد وردت أحاديث أخرى تفيد بأن شعره صلى الله عليه وسلم كان يبلغ أحياناً منكبيه، كما في حديث

--------------------------------------------

(1) «صحيح مسلم» (2338).
‌৩ - আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চুল সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে তার অধ্যায়-

প্রথম অধ্যায়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চুলের বৈশিষ্ট্যের বিবরণ অতিবাহিত হয়েছে। এই অধ্যায়ে গ্রন্থকার তাঁর চুলের দৈর্ঘ্য, তা আঁচড়ানোর পদ্ধতি এবং এ সংক্রান্ত অন্যান্য সংবাদ সম্বলিত একগুচ্ছ হাদিস উল্লেখ করেছেন।

 

৩ - আনাস ইবনে মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত: «আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চুল তাঁর দুই কানের অর্ধেক পর্যন্ত ছিল।»

• এর ওপর আলোচনা কয়েকটি দিক থেকে:

* প্রথম দিক: বর্ণনাকারীর পরিচিতি প্রসঙ্গে:

আনাস ইবনে মালিকের পরিচিতি ১ নম্বর হাদিসে গত হয়েছে।

* দ্বিতীয় দিক: হাদিসের উৎস (তাখরিজ) প্রসঙ্গে:

হাদিসটি ইমাম মুসলিম তাঁর সহিহ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন(১)।

* তৃতীয় দিক: হাদিসটি প্রমাণ করে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চুলের দৈর্ঘ্য তাঁর কানের অর্ধেক পর্যন্ত পৌঁছাত। তবে তাঁর চুলের অবস্থা কেবল এটাই ছিল না; বরং অন্যান্য হাদিসও বর্ণিত হয়েছে যা থেকে বোঝা যায় যে, তাঁর চুল কখনও কখনও কাঁধ পর্যন্ত পৌঁছাত, যেমনটি হাদিসে এসেছে...

--------------------------------------------

(১) «সহিহ মুসলিম» (২৩৩৮)।
(খণ্ড: ১) শারহু মুখতাসারিশ শামাইলিল মুহাম্মাদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
البراء بن عازب رضي الله عنه قال: «ما رأيت من ذي لِمَّة(1) أحسن في حلة حمراء من رسول الله صلى الله عليه وسلم شعره يضرب منكبيه»(2).

وثبت من حديث عائشة رضي الله عنها أن النبي صلى الله عليه وسلم: «كان له شعر فوق الجُمَّة ودون الوَفْرة»(3).

والجُمّة: الشعر يسقط على المنكبين، والوَفْرة: الشعر إذا وصل شحمة الأذن، كما في النهاية لابن الأثير.

وهذه الروايات وإن كانت متعارضة في الظاهر، لكن ليس الأمر كذلك، فقد جمع العلماء بينها بأجوبة أقواها وأرجحها: أن شعره صلى الله عليه وسلم كان يختلف طولاً وقصراً من وقت لآخر، فكان يطول أحياناً ويقصر أحياناً، فكل صحابي وصف ما رأى، قال الإمام النووي رحمه الله: إن ذلك يرجع لاختلاف الأوقات، فإذا غفل صلى الله عليه وسلم عن تقصيره بلغ المنكب، وإذا قصره كان إلى أنصاف الأذنين، فكان يقصر ويطول بحسب ذلك(4).

وبنحوه قال الإمام ابن كثير: «ولا منافاة بين الحالين، فإن الشعر تارة يطول، وتارة يقصر منه، فكل حكى بحسب ما رأى»(5).

وقال الحافظ ابن حجر: «كون شعره صلى الله عليه وسلم كان إلى قرب منكبيه كان غالب

--------------------------------------------

(1) (اللمة) بالكسر: الشعر الذي يجاوز شحمة الأذن، فإذا بلغ المنكبين فهي جُمة، كما في مختار الصحاح.

(2) «صحيح البخاري» (3551)، «صحيح مسلم» (2337) واللفظ له.

(3) «سنن الترمذي» (1755)، وصححه، وصححه الألباني في «مختصر الشمائل» (22).

(4) «شرح صحيح مسلم» للنووي 15/ 91.

(5) «البداية والنهاية» 8/ 412.
বারা ইবনে আযিব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "আমি লাল চাদর পরিহিত অবস্থায় কান ও কাঁধের মাঝামাঝি ঝুলে থাকা চুলের অধিকারী রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর চেয়ে অধিক সুন্দর আর কাউকে দেখিনি। তাঁর চুল তাঁর দুই কাঁধ স্পর্শ করত।"(১)(২).

আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) বর্ণিত হাদীস থেকে প্রমাণিত যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর চুল ছিল 'জুম্মাহ' এর উপরে এবং 'ওয়াফরাহ' এর নিচে।(৩).

আর 'জুম্মাহ' হলো সেই চুল যা দুই কাঁধ পর্যন্ত পৌঁছে এবং 'ওয়াফরাহ' হলো সেই চুল যা কানের লতি পর্যন্ত পৌঁছে; যেমনটি ইবনুল আসীরের 'আন-নিহায়া' গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে।

এই বর্ণনাগুলো বাহ্যিকভাবে পরস্পরবিরোধী মনে হলেও বিষয়টি আসলে তেমন নয়। ওলামায়ে কেরাম এগুলোর মধ্যে এমন উত্তরের মাধ্যমে সমন্বয় করেছেন যা সবচেয়ে শক্তিশালী ও অগ্রগণ্য: তা হলো নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর চুল সময়ের ব্যবধানে লম্বা ও ছোট হওয়ার ক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন হতো। কখনও তা লম্বা হতো আবার কখনও ছোট হতো; ফলে প্রত্যেক সাহাবী যা দেখেছেন তা-ই বর্ণনা করেছেন। ইমাম নববী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: এটি সময়ের ভিন্নতার কারণে হয়েছে। যখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) চুল ছোট করা থেকে বিরত থাকতেন তখন তা কাঁধ পর্যন্ত পৌঁছে যেত, আর যখন ছোট করতেন তখন তা কানের অর্ধেক পর্যন্ত থাকত। সুতরাং সে অনুযায়ী চুল ছোট বা লম্বা হতো।(৪).

অনুরূপ কথা ইমাম ইবনে কাসীরও বলেছেন: "উভয় অবস্থার মধ্যে কোনো বিরোধ নেই, কারণ চুল কখনও লম্বা হয় আবার কখনও তা ছোট করা হয়। ফলে প্রত্যেকে যা দেখেছেন তা-ই বর্ণনা করেছেন।"(৫).

হাফেজ ইবনে হাজার বলেন: "নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর চুল কাঁধের কাছাকাছি থাকাটাই ছিল অধিকাংশ সময়ের অবস্থা।"

--------------------------------------------

(১) (লিম্মাহ) 'লাম' বর্ণে কাসরা যোগে: সেই চুল যা কানের লতি অতিক্রম করে। যদি তা কাঁধ পর্যন্ত পৌঁছে তবে তাকে 'জুম্মাহ' বলা হয়; যেমনটি 'মুখতারুস সিহাহ' গ্রন্থে রয়েছে।

(২) «সহীহ বুখারী» (৩৫৫১), «সহীহ মুসলিম» (২৩৩৭), শব্দ বিন্যাস মুসলিমের।

(৩) «সুনান তিরমিযী» (১৭৫৫), তিনি একে সহীহ বলেছেন এবং আলবানী «মুখতাসারুশ শামাইল» (২২) গ্রন্থে একে সহীহ বলেছেন।

(৪) নববীর «শরহ সহীহ মুসলিম» ১৫/ ৯১।

(৫) «আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া» ৮/ ৪১২।
(খণ্ড: ১) শারহু মুখতাসারিশ শামাইলিল মুহাম্মাদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
أحواله، وكان ربما طال حتى يصير ذؤابة ويتخذ منه عقائص وضفائر، كما أخرج أبو داود والترمذي بسند حسن من حديث أم هانئ قالت قدم رسول الله صلى الله عليه وسلم مكة وله أربع غدائر، وفي لفظ أربع ضفائر .. فحاصل الخبر أن شعره طال حتى صار ذوائب فضفره أربع عقائص، وهذا محمول على الحال التي يبعد عهده بتعهده شعره فيها وهي حالة الشغل بالسفر ونحوه والله أعلم»(1).

* الوجه الرابع: سئل الشيخ ابن عثيمين رحمه الله عن إطالة شعر الرأس وتوفيره هل هو من السنة أو لا؟ فأجاب: «لا. ليس من السنة؛ لأن النبي صلى الله عليه وسلم اتخذه حيث إن الناس في ذلك الوقت يتخذونه، ولهذا لما رأى صبياً قد حَلَقَ بعض رأسه قال: «احلقه كله أو اتركه كله»(2)، ولو كان الشعر مما ينبغي اتخاذه لقال: أبقه. وعلى هذا فنقول: اتخاذ الشعر ليس من السنة، لكن إن كان الناس يعتادون ذلك فافعل، وإلاَّ فافعل ما يعتاده الناس .. فالصواب: أنه تَبَعٌ لعادة الناس، إن كنت في مكان يعتاد الناس فيه اتخاذ الشعر فاتخذه وإلا فلا»(3).

* * *

 

4 - عَنِ ابنِ عَبَّاسٍ رضي الله عنهما: «أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يُسْدِلُ شَعْرَهُ، وَكَانَ المُشْرِكُونَ يَفْرِقُونَ رُءُوسَهُمْ، وَكَانَ أَهْلُ الكِتَابِ يُسْدِلُونَ رُؤُوسَهُمْ، وَكَانَ يُحِبُّ مُوَافَقَةَ أَهْلِ الكِتَابِ فِيمَا لَمْ يُؤْمَرْ فِيهِ بِشَيْءٍ، ثُمَّ فَرَقَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم رَأْسَهُ».

--------------------------------------------

(1) «فتح الباري» 10/ 360.

(2) «سنن أبي داود» (4195)، وصححه الألباني وشعيب الأرناؤوط.

(3) «لقاء الباب المفتوح» ص 22.
তাঁর অবস্থা ভেদে, এবং কখনও কখনও তা দীর্ঘ হয়ে ঝুলে যেত এমনকি তা ঝুঁটি হয়ে যেত এবং তা থেকে বেণী ও গুচ্ছ তৈরি করা হতো, যেমনটি আবু দাউদ ও তিরমিযী উম্মে হানী থেকে হাসান সনদে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কায় আগমন করলেন এবং তাঁর মাথায় চারটি বেণী ছিল। অন্য শব্দে এসেছে চারটি বিনুনি... বর্ণনার সারকথা হলো এই যে, তাঁর চুল দীর্ঘ হয়ে ঝুলে পড়েছিল, ফলে তিনি সেগুলোকে চারটি বেণীতে বিন্যস্ত করেছিলেন। এটি সেই অবস্থার ওপর নির্ভরশীল যখন দীর্ঘ সময় চুলের পরিচর্যা করা সম্ভব হয়নি, আর তা হলো সফর বা অনুরূপ ব্যস্ততার অবস্থা। আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।(১).

* চতুর্থ দিক: শাইখ ইবনে উসাইমীন রাহিমাহুল্লাহকে মাথার চুল লম্বা করা এবং তা রাখা সুন্নাত কি না সে সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল। তিনি উত্তর দিলেন: «না, এটি সুন্নাতের অন্তর্ভুক্ত নয়; কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এটি গ্রহণ করেছিলেন যেহেতু তৎকালীন সময়ে মানুষেরা তা গ্রহণ করত। এই কারণেই তিনি যখন একটি শিশুকে দেখলেন যার মাথার কিছু অংশ মুণ্ডন করা হয়েছিল, তখন তিনি বললেন: «এর পুরোটা মুণ্ডন করো অথবা পুরোটা ছেড়ে দাও»(২)। চুল রাখা যদি কাঙ্ক্ষিত বিষয় হতো তবে তিনি বলতেন: এটি রেখে দাও। এর ওপর ভিত্তি করে আমরা বলি: চুল রাখা সুন্নাতের অন্তর্ভুক্ত নয়, তবে যদি আপনার সমাজের মানুষ এটি করতে অভ্যস্ত হয় তবে আপনি তা করুন, অন্যথায় মানুষ যা করে তা-ই করুন... সুতরাং সঠিক কথা হলো: এটি মানুষের অভ্যাসের অনুগামী। আপনি যদি এমন স্থানে থাকেন যেখানে মানুষ চুল রাখা পছন্দ করে তবে আপনি তা রাখুন, অন্যথায় করবেন না»(৩).

* * *

 

৪ - ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত: «রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর চুল ঝুলিয়ে রাখতেন, আর মুশরিকরা তাদের চুলে সিঁথি কাটত। কিতাবধারীরা তাদের চুল ঝুলিয়ে রাখত, আর তিনি যে বিষয়ে কোনো আদেশ পাননি সে বিষয়ে কিতাবধারীদের অনুসরণ করতে পছন্দ করতেন। পরবর্তীতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর মাথায় সিঁথি কেটেছিলেন»।

--------------------------------------------

(১) «ফাতহুল বারী» ১০/ ৩৬০।

(২) «সুনানে আবু দাউদ» (৪১৯৫), এবং আলবানী ও শুআইব আরনাউত একে সহীহ বলেছেন।

(৩) «লিক্বাউল বাবিল মাফতুহ» পৃষ্ঠা ২২।
(খণ্ড: ১) শারহু মুখতাসারিশ শামাইলিল মুহাম্মাদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৮)
• الكلام عليه من وجوه:

* الوجه الأول: في التعريف براويه:

ابن عباس: هو الصحابي الجليل عبد الله بن العباس بن عبد المطلب القرشي الهاشمي، ابن عم النبي صلى الله عليه وسلم، وأحد العلماء الفقهاء المكثرين من رواية الحديث، ولد بمكة قبل الهجرة بثلاث سنين، وتوفي بالطائف بعد أن كف بصره، سنة: 68 هـ، وفضائله ومناقبه كثيرة.

* الوجه الثاني: في تخريجه:

الحديث أخرجه البخاري ومسلم في الصحيحين(1) بنحوه.

* الوجه الثالث: في شرح ألفاظه:

(يسدل شعره)، سَدْلُ الشعر معناه: إرساله على الجبين ومن ورائه، وتركه على هيئته مسترسلاً.

(يفرقون رؤوسهم)، فرق الرأس معناه: فرق الشعر وقسمته من وسط الرأس، وكشفه عن الجبين بأن يجعله فرقتين، كل فرقة ذؤابة.

* الوجه الرابع: معنى الحديث أن النبي صلى الله عليه وسلم عندما قدم المدينة مهاجراً كان في بداية أمره يسدل شعره، ويتركه مرسلاً على حاله، لأن اليهود كانوا يفعلون ذلك، وكان النبي صلى الله عليه وسلم يحب موافقتهم فيما لم يؤمر فيه بشيء، من باب التأليف لهم، لأنهم كانوا أهل كتاب وأقرب إلى الإيمان من عبدة الأوثان، فلمَّا استمروا في عنادهم ولم يفد معهم الاستئلاف والموافقة استحب النبي صلى الله عليه وسلم مخالفتهم، فخالفهم في أشياء كثيرة، منها مسألة سدل

--------------------------------------------

(1) «صحيح البخاري» (5918)، «صحيح مسلم» (2336).
• এর ওপর আলোচনা কয়েকটি দিক থেকে:

* প্রথম দিক: বর্ণনাকারীর পরিচিতি:

ইবনে আব্বাস: তিনি হলেন মহান সাহাবী আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস ইবনে আব্দুল মুত্তালিব আল-কুরাশী আল-হাশেমী, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চাচাতো ভাই এবং ফিকহবিদ আলেমদের মধ্যে অন্যতম যারা প্রচুর পরিমাণে হাদিস বর্ণনা করেছেন। হিজরতের তিন বছর পূর্বে মক্কায় তাঁর জন্ম হয় এবং দৃষ্টিশক্তি হারানোর পর ৬৮ হিজরীতে তায়েফে তিনি ইন্তেকাল করেন। তাঁর মর্যাদা ও গুণাবলি অসংখ্য।

* দ্বিতীয় দিক: হাদিসের উৎস বর্ণনা:

হাদিসটি ইমাম বুখারী ও মুসলিম তাঁদের সহীহ গ্রন্থদ্বয়ে(১) অনুরূপ শব্দে বর্ণনা করেছেন।

* তৃতীয় দিক: শব্দাবলির ব্যাখ্যা:

(তিনি তাঁর চুল ঝুলিয়ে রাখতেন), চুল ঝুলিয়ে রাখা বা ‘সাদল’-এর অর্থ হলো: কপালে এবং মাথার পেছনের দিকে চুল ছেড়ে দেওয়া এবং একে তার স্বাভাবিক অবস্থায় প্রলম্বিত রাখা।

(তারা তাদের মাথার চুল সিঁথি করত), মাথা সিঁথি করার অর্থ হলো: মাথার মাঝখান থেকে চুল পৃথক করা ও ভাগ করা এবং কপাল থেকে চুল সরিয়ে নেওয়া—চুলকে দুই ভাগে বিভক্ত করার মাধ্যমে, যার প্রতিটি ভাগ হবে একেকটি গুচ্ছ বা বেণী।

* চতুর্থ দিক: হাদিসের মর্মার্থ হলো, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন হিজরত করে মদিনায় আসলেন, তখন প্রাথমিক অবস্থায় তিনি তাঁর চুল ঝুলিয়ে রাখতেন এবং সেগুলোকে স্বাভাবিকভাবে ছেড়ে দিতেন; কারণ ইহুদিরা এমনটি করত। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঐসব বিষয়ে তাদের সাথে সাদৃশ্য বজায় রাখা পছন্দ করতেন যে বিষয়ে তাঁকে কোনো সুনির্দিষ্ট ওহী বা নির্দেশ দেওয়া হয়নি। এটি ছিল তাদের ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট করার উদ্দেশ্যে, কারণ তারা ছিল আহলে কিতাব এবং মূর্তিপূজকদের তুলনায় ঈমানের অধিক নিকটবর্তী। অতঃপর যখন তারা তাদের হঠকারিতায় অবিচল থাকল এবং এই হৃদ্যতা ও সাদৃশ্য তাদের ক্ষেত্রে কোনো ফলপ্রসূ হলো না, তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের বিরোধিতা করা পছন্দনীয় মনে করলেন। ফলে তিনি অনেক বিষয়েই তাদের বিপরীত পদ্ধতি অবলম্বন করলেন, যার মধ্যে চুল ঝুলিয়ে রাখার বিষয়টিও অন্যতম...

--------------------------------------------

(১) «সহীহ বুখারী» (৫৯১৮), «সহীহ মুসলিম» (২৩৩৬)।
(খণ্ড: ১) শারহু মুখতাসারিশ শামাইলিল মুহাম্মাদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৯)
الشعر، وصبغه، والصلاة في النعال، وإعفاء اللحى، واستقبال القبلة، حتى قال أهل الكتاب: والله ما يدع محمد شيئاً نعمله إلا خالفنا فيه!!

وقال بعض العلماء: إن النبي صلى الله عليه وسلم كان يحب موافقة أهل الكتاب في بداية الأمر، لأنهم كانوا متمسكين ببقايا من شرائع الرسل، فكانت موافقتهم أحبّ إليه من موافقة عباد الأوثان، فلما أسلم غالب عباد الأوثان بعد فتح مكة، أحبّ مخالفة باقي الكفار من أهل الكتاب.

* الوجه الخامس: ذكر العلماء بأن كلاً من سدل الشعر وفرقه جائز، بدليل أن الصحابة رضوان الله عليهم استمروا على فعل الأمرين، فمنهم من كان يسدل شعره، ومنهم من كان يفرقه، ولم يعب بعضهم على بعض(1).

وقال جماعة من العلماء: الفرق أفضل لأنه آخر ما كان عليه رسول الله صلى الله عليه وسلم، وهو لا يكون إلا مع كثرة الشعر(2).

والذي يظهر أن الأمرين سيان، وإنما فرق النبي صلى الله عليه وسلم من أجل مخالفة أهل الكتاب. واليوم لم يعد أهل الكتاب يختصون بالسدل حتى تستحب مخالفتهم، فلم يعد فرق الشعر مطلوباً ولا مستحباً، كما كان عليه الأمر في زمنه صلى الله عليه وسلم، والله تعالى أعلم.

--------------------------------------------

(1) «المفهم» للقرطبي 6/ 125.

(2) «التمهيد» لابن عبد البر 6/ 74.
চুল রাখা, তাতে রঙ লাগানো, জুতা পরিহিত অবস্থায় সালাত আদায় করা, দাড়ি লম্বা করা এবং কিবলার অভিমুখী হওয়া; এমনকি আহলে কিতাবরা বলেছিল: "আল্লাহর কসম, মুহাম্মদ এমন কোনো বিষয়ই ছাড়ছেন না যা আমরা করি, বরং তিনি তাতে আমাদের বিরোধিতা করছেন!!"

কিছু আলেম বলেছেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইসলামের প্রাথমিক পর্যায়ে আহলে কিতাবদের সাথে মিল রাখা পছন্দ করতেন, কারণ তারা পূর্ববর্তী রাসূলগণের শরীয়তের অবশিষ্টাংশ আঁকড়ে ছিল। ফলে মূর্তিপূজকদের সাথে মিল রাখার চেয়ে তাদের সাথে মিল রাখা তাঁর কাছে অধিক প্রিয় ছিল। কিন্তু মক্কা বিজয়ের পর যখন অধিকাংশ মূর্তিপূজক ইসলাম গ্রহণ করল, তখন তিনি অবশিষ্ট কাফের তথা আহলে কিতাবদের বিরোধিতা করা পছন্দ করলেন।

* পঞ্চম দিক: আলেমগণ উল্লেখ করেছেন যে, চুল ছেড়ে রাখা এবং সিঁথি করা—উভয়ই জায়েজ। এর প্রমাণ হলো সাহাবীগণ (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) উভয় পদ্ধতিই অব্যাহত রেখেছিলেন; তাঁদের মধ্যে কেউ চুল ছেড়ে রাখতেন, আবার কেউ সিঁথি করতেন। তাঁদের কেউ একে অপরের এ কাজের সমালোচনা করতেন না(১)।

একদল আলেম বলেছেন: সিঁথি করা উত্তম, কারণ এটি ছিল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সর্বশেষ আমল। আর এটি কেবল চুল বেশি থাকলেই করা সম্ভব হয়(২)।

তবে যা স্পষ্ট হয় তা হলো, উভয়টিই সমান। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কেবল আহলে কিতাবদের বিরোধিতা করার লক্ষ্যেই সিঁথি করেছিলেন। বর্তমানে আহলে কিতাবরা কেবল চুল ছেড়ে রাখার বিষয়ের সাথে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত নয় যে তাদের বিরোধিতা করা মুস্তাহাব হবে। ফলে চুল সিঁথি করা এখন আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সময়ের মতো কাম্য বা মুস্তাহাব হিসেবে গণ্য হয় না। আর আল্লাহ তাআলাই সর্বজ্ঞ।

--------------------------------------------

(১) কুরতুবী কৃত ‘আল-মুফহিম’ ৬/১২৫।

(২) ইবনে আব্দুল বার কৃত ‘আত-তামহীদ’ ৬/৭৪।
(খণ্ড: ১) শারহু মুখতাসারিশ শামাইলিল মুহাম্মাদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩১)
‌‌4 - بَابُ مَا جَاءَ فِي تَرَجُّلِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم-

ذكر الترمذي رحمه الله تحت هذا الباب الأحاديث المتعلقة بترجيل النبي صلى الله عليه وسلم شعره، وبيان بعض آداب الترجيل، وسيأتي بيان معناه بعد قليل إن شاء الله.

 

5 - عَنْ عَائِشَةَ رضي الله عنها قَالَتْ: «كُنْتُ أُرَجِّلُ رَأسَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وأنا حائض».

• الكلام عليه من وجوه:

* الوجه الأول: في التعريف براويه:

عائشة هي: أم المؤمنين، عائشة بنت أبي بكر الصديق رضي الله عنهما، زوج النبي صلى الله عليه وسلم، وأحب نسائه إليه، ولدت بعد البعثة بأربع سنين أو خمس، وكانت من فقهاء الصحابة ومن المكثرات من رواية الحديث، توفيت في المدينة ودفنت في البقيع، سنة: 58 هـ، وعندما توفي النبي صلى الله عليه وسلم كان عمرها ثمان عشرة سنة.

* الوجه الثاني: في تخريجه:

الحديث أخرجه البخاري ومسلم في الصحيحين(1) بنحوه.

--------------------------------------------

(1) «صحيح البخاري» (2028، 5925)، «صحيح مسلم» (297).
৪ - রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চুল আঁচড়ানো সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে তার অধ্যায়-

ইমাম তিরমিযী রহিমাহুল্লাহ এই অধ্যায়ের অধীনে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চুল আঁচড়ানো সংক্রান্ত হাদিসসমূহ এবং চুল আঁচড়ানোর কিছু আদব বর্ণনা করেছেন। ইনশাআল্লাহ শীঘ্রই এর অর্থের বর্ণনা আসবে।

 

৫ - আয়িশা রাযিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: «আমি ঋতুবতী থাকা অবস্থায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মাথার চুল আঁচড়ে দিতাম।»

• এটি নিয়ে আলোচনা কয়েকটি দিক থেকে:

* প্রথম দিক: বর্ণনাকারীর পরিচিতি:

আয়িশা হলেন: উম্মুল মুমিনীন, আয়িশা বিনতে আবু বকর সিদ্দিক রাযিয়াল্লাহু আনহুমা, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সহধর্মিণী এবং তাঁর নিকট স্ত্রীদের মধ্যে সবচেয়ে প্রিয়। তিনি নবুয়তের চার বা পাঁচ বছর পর জন্মগ্রহণ করেন। তিনি সাহাবীদের মধ্যে অন্যতম ফকীহ এবং অধিক পরিমাণে হাদিস বর্ণনাকারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তিনি হিজরি ৫৮ সনে মদিনায় ইন্তেকাল করেন এবং জান্নাতুল বাকী’তে সমাহিত হন। যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইন্তেকাল করেন, তখন তাঁর বয়স ছিল আঠারো বছর।

* দ্বিতীয় দিক: হাদিসের তাখরীজ (উৎস):

হাদিসটি বুখারী ও মুসলিম তাঁদের সহীহ গ্রন্থদ্বয়ে অনুরূপ শব্দে বর্ণনা করেছেন।

--------------------------------------------

(১) «সহীহ বুখারী» (২০২৮, ৫৯২৫), «সহীহ মুসলিম» (২৯৭)।
(খণ্ড: ১) শারহু মুখতাসারিশ শামাইলিল মুহাম্মাদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩২)
* الوجه الثالث: شرح ألفاظه:

(ترجيل الشعر): تسريحه وتنظيفه وتحسينه كما في النهاية لابن الأثير.

* الوجه الرابع: أورد المصنف هذا الحديث مختصراً، وقد أخرجه الشيخان بلفظ أطول عن عائشة رضي الله عنها قالت: «كان النبي صلى الله عليه وسلم يصغي إليّ رأسه وهو مجاورٌ في المسجد، فأرجّله وأنا حائض»، هذا لفظ البخاري.

وفي رواية عند أبي داود: «كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يكون معتكفاً في المسجد، فيناولني رأسه من خلل الحجرة فأغسل رأسه وأنا حائض»(1).

* الوجه الخامس: في الحديث دلالة على عناية النبي صلى الله عليه وسلم بتسريح شعره ونظافته، وقد وردت أحاديث أخرى في الباب لا تخلو من ضعف، منها حديث عائشة رضي الله عنها قالت: «كان لا يفارق مسجد رسول الله صلى الله عليه وسلم سواكه ومشطه، وكان ينظر في المرآة إذا سرح لحيته»(2).

* الوجه السادس: دلّ الحديث على استحباب العناية بنظافة الشعر وتسريحه وتحسينه، اقتداء وتأسياً بالنبي صلى الله عليه وسلم، حيث إنه لم يكن يترك ذلك في زمن الاعتكاف مع قصره، واشتغاله بالعبادة ففي غيره من باب أولى.

وقد وردت أحاديث قولية أخرى في الحث على العناية بالشعر، منها حديث أبي هريرة رضي الله عنه، أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «من كان له شعر، فليكرمه»(3).

--------------------------------------------

(1) «سنن أبي داود» (2469)، وصحح إسناده شعيب الأرناؤوط.

(2) أخرجه الطبراني في «الأوسط» (6367)، وضعف إسناده الهيثمي في «مجمع الزوائد» 5/ 157، وابن حجر في «الفتح» 10/ 367.

(3) أخرجه أبو داود في «سننه» (4163) بإسناد حسنه ابن حجر في «الفتح» 10/ 368.
তৃতীয় দিক: শব্দাবলির ব্যাখ্যা:

(চুলের তারজীল): এর অর্থ হলো চুল আঁচড়ানো, পরিষ্কার করা এবং সুন্দর করা; যেমনটি ইবনুল আসীরের ‘আন-নিহায়া’ গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে।

চতুর্থ দিক: গ্রন্থকার এই হাদিসটি সংক্ষেপে উল্লেখ করেছেন। শায়খাইন (বুখারি ও মুসলিম) আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে দীর্ঘতর শব্দে এটি বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: «নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদে অবস্থানরত অবস্থায় তাঁর মাথা আমার দিকে ঝুঁকিয়ে দিতেন, আর আমি ঋতুবতী থাকা অবস্থায় তাঁর চুল আঁচড়ে দিতাম»—এটি বুখারির শব্দ।

আবু দাউদের এক বর্ণনায় এসেছে: «রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদে ইতিকাফরত থাকতেন, অতঃপর তিনি কামরার ছিদ্র দিয়ে তাঁর মাথা আমার দিকে বাড়িয়ে দিতেন এবং আমি ঋতুবতী অবস্থায় তাঁর মাথা ধুয়ে দিতাম»(১)।

পঞ্চম দিক: হাদিসটিতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিজের চুল আঁচড়ানো ও পরিচ্ছন্নতার প্রতি বিশেষ যত্নের প্রমাণ পাওয়া যায়। এই বিষয়ে আরও কিছু হাদিস বর্ণিত হয়েছে যা দুর্বলতা থেকে মুক্ত নয়। তন্মধ্যে আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহার একটি হাদিস হলো, তিনি বলেন: «রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মেসওয়াক ও চিরুনি কখনও তাঁর থেকে বিচ্ছিন্ন হতো না এবং তিনি যখন তাঁর দাড়ি আঁচড়াতেন তখন আয়নায় দেখতেন»(২)।

ষষ্ঠ দিক: হাদিসটি চুলের পরিচ্ছন্নতা, তা আঁচড়ানো এবং সুন্দর করার মুস্তাহাব হওয়ার ওপর প্রমাণ বহন করে; যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুসরণ ও অনুকরণের অন্তর্ভুক্ত। যেহেতু তিনি ইতিকাফের স্বল্প সময়ের মাঝে এবং ইবাদতে মশগুল থাকা সত্ত্বেও এটি ত্যাগ করতেন না, তাই অন্য সময়ে তা পালন করা আরও বেশি অগ্রগণ্য।

চুলের যত্নে উৎসাহিত করে আরও কিছু বাচনিক হাদিস বর্ণিত হয়েছে। তন্মধ্যে আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহুর হাদিসটি উল্লেখযোগ্য যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «যার চুল আছে, সে যেন তার যত্ন করে»(৩)।

--------------------------------------------

(১) «সুনানে আবু দাউদ» (২৪৬৯), শুআইব আল-আরনাউত এর সনদকে সহিহ বলেছেন।

(২) তাবারানি এটি «আল-আওসাত» (৬৩৬৭) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন এবং এর সনদকে হাইসামি «মাজমাউয যাওয়াইদ» ৫/১৫৭ গ্রন্থে এবং ইবনে হাজার «আল-ফাতহ» ১০/৩৬৭ গ্রন্থে দুর্বল বলেছেন।

(৩) আবু দাউদ তাঁর «সুনান» (৪১৬৩) গ্রন্থে এমন এক সনদে এটি বর্ণনা করেছেন যাকে ইবনে হাজার «আল-ফাতহ» ১০/৩৬৮ গ্রন্থে হাসান বলেছেন।
(খণ্ড: ১) শারহু মুখতাসারিশ শামাইলিল মুহাম্মাদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩৩)
ومنها حديث عطاء بن يسار، أخبره قال: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم في المسجد، فدخل رجل ثائر الرأس واللحية، فأشار إليه رسول الله صلى الله عليه وسلم بيده أن اخرج - كأنه يعني إصلاح شعر رأسه ولحيته - ففعل الرجل، ثم رجع فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «أليس هذا خيراً من أن يأتي أحدكم ثائر الرأس كأنه شيطان»(1).

* الوجه السابع: يلحق بالعناية بتسريح شعر الرأس العناية بتسريح شعر اللحية بالنسبة للرجال، فقد ورد في «شمائل الترمذي» عن أنس بن مالك قال: «كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يكثر دهن رأسه وتسريح لحيته»(2)، وهو وإن كان ضعيف الإسناد لكن القياس الصحيح يقوم مقامه.

* الوجه الثامن: عناية المسلم بنظافة شعره وتسريحه، لا تعني استغراقه في ذلك، حتى يصبح ديدنه وشغله الشاغل، بل الواجب أن يكون حال المسلم وسطاً بين الإفراط والتفريط، ويشهد لذلك ما أخرجه المصنف في الشمائل والسنن، من حديث عبد الله بن مغفل، قال: «نهى رسول الله صلى الله عليه وسلم عن الترجّل إلا غباً»(3). أي لا يبالغ في العناية بتسريح شعره فهذا أليق بالنساء.

* الوجه التاسع: السنة في تسريح الشعر أن يبدأ بشقه الأيمن أولاً، كما دل عليه حديث عائشة رضي الله عنها في الصحيحين: قالت: كان النبي صلى الله عليه وسلم «يعجبه التيمن، في تنعله، وترجله، وطهوره، وفي شأنه كله»(4).

--------------------------------------------

(1) أخرجه مالك في «الموطأ» 2/ 949 بإسناد مرسل صحيح السند كما قال ابن حجر في «الفتح» 10/ 367.

(2) «الشمائل» (33)، وضعف إسناده العراقي في «طرح التثريب» 4/ 175.

(3) سيأتي تخريجه في الحديث التالي.

(4) «صحيح البخاري» (168) واللفظ له، و» صحيح مسلم» (268).
এগুলোর মধ্যে রয়েছে আতা ইবনে ইয়াসারের হাদীস, তিনি খবর দিয়েছেন যে: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদে ছিলেন, এমতাবস্থায় উষ্কখুষ্ক চুল ও দাড়ি বিশিষ্ট এক ব্যক্তি প্রবেশ করল। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর হাতের ইশারায় তাকে বেরিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিলেন—যেন তিনি তার মাথার চুল ও দাড়ি বিন্যস্ত করার উদ্দেশ্য বুঝাচ্ছিলেন। অতঃপর লোকটি তাই করল এবং ফিরে এল। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: «তোমাদের কারো উষ্কখুষ্ক চুলে শয়তানের ন্যায় আসার চেয়ে এটি কি উত্তম নয়?»(১).

* সপ্তম দিক: মাথার চুল আঁচড়ানোর প্রতি যত্নের সাথে পুরুষদের ক্ষেত্রে দাড়ির চুল আঁচড়ানোর যত্নকেও যুক্ত করা হবে। কেননা ‘শামায়েলে তিরমিযী’তে আনাস ইবনে মালিক থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেছেন: «রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রায়ই মাথায় তেল ব্যবহার করতেন এবং দাড়ি আঁচড়াতেন»(২), যদিও এর সনদ দুর্বল, তবে সঠিক কিয়াস (যৌক্তিক তুলনা) এর স্থলাভিषিক্ত হয়।

* অষ্টম দিক: মুসলমানের নিজ চুলের পরিচ্ছন্নতা ও তা আঁচড়ানোর প্রতি যত্ন নেওয়ার অর্থ এই নয় যে, সে এতেই নিমগ্ন হয়ে পড়বে, এমনকি এটিই তার অভ্যাসে পরিণত হবে এবং তাকে সদা ব্যস্ত রাখবে। বরং ওয়াজিব হলো মুসলমানের অবস্থা হবে বাড়াবাড়ি ও ছাড়াছাড়ির মাঝে মধ্যমপন্থী। এর সপক্ষে প্রমাণ হলো যা গ্রন্থকার ‘শামায়েল’ ও ‘সুনান’-এ আবদুল্লাহ ইবনে মুগাফফাল থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: «রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন অন্তর অন্তর ছাড়া চুল আঁচড়াতে নিষেধ করেছেন»(৩)। অর্থাৎ চুল আঁচড়ানোর যত্নে অতিরঞ্জিত করবে না, কারণ এটি নারীদের জন্য অধিক উপযোগী।

* নবম দিক: চুল আঁচড়ানোর সুন্নাত হলো প্রথমে ডান দিক থেকে শুরু করা, যেমনটি সহীহাইন (বুখারী ও মুসলিম)-এ বর্ণিত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা-র হাদীস প্রমাণ করে। তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম «জুতা পরিধান, চুল আঁচড়ানো, পবিত্রতা অর্জন এবং তাঁর সকল কাজেই ডান দিক থেকে শুরু করা পছন্দ করতেন»(৪)।

--------------------------------------------

(১) মালিক এটি ‘মুয়াত্তা’ ২/৯৪৯ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন এমন এক মুরসাল সনদে যার সূত্র সহীহ, যেমনটি ইবনে হাজার ‘আল-ফাতহ’ ১০/৩৬৭ গ্রন্থে বলেছেন।

(২) ‘শামায়েল’ (৩৩), ইরাকী ‘তারহুত তাসরীব’ ৪/১৭৫ গ্রন্থে এর সনদকে দুর্বল বলেছেন।

(৩) পরবর্তী হাদীসে এর তাখরীজ আসবে।

(৪) ‘সহীহ বুখারী’ (১৬৮) এবং শব্দ চয়ন তাঁরই, এবং ‘সহীহ মুসলিম’ (২৬৮)।
(খণ্ড: ১) শারহু মুখতাসারিশ শামাইলিল মুহাম্মাদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩৪)
6 - عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُغَفَّلٍ رضي الله عنه، قَالَ: «نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عنِ التَّرَجُّلِ إِلَّا غِبّاً».

• الكلام عليه من وجوه:

* الوجه الأول: في التعريف براويه:

عبد الله بن مُغفل هو: ابن عبد غنم المزني، أبو سعيد، وأبو زياد، صحابي جليل، شهد بيعة الشجرة، وكان أحد الذين بعثهم عمر بن الخطاب ليفقهوا الناس بالبصرة، مات بالبصرة سنة: 59 هـ.

* الوجه الثاني: في تخريجه:

الحديث أخرجه أبو داود(1)، والنسائي(2)، والترمذي(3) وقال: حسن صحيح، وصححه ابن حبان(4)، وصححه: الألباني وشعيب الأرناؤوط بشواهده.

* الوجه الثالث: في شرح ألفاظه:

(غباً): حيناً بعد حين.

* الوجه الرابع: دل الحديث على كراهة اشتغال المسلم بترجيل شعره والمبالغة في العناية به، حتى يصبح شغله الشاغل، وإنما الواجب التوسط في

--------------------------------------------

(1) «سنن أبي داود» (4159).

(2) «سنن النسائي» (5055).

(3) «سنن الترمذي» (1756).

(4) «صحيح ابن حبان» (5484).
৬ - আবদুল্লাহ ইবনে মুগাফফাল (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: «রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) একদিন অন্তর অন্তর ব্যতীত নিয়মিত চুল আঁচড়ানো থেকে নিষেধ করেছেন।»

• এর ওপর আলোচনা কয়েকটি দিক থেকে:

* প্রথম দিক: বর্ণনাকারীর পরিচিতি প্রসঙ্গে:

আবদুল্লাহ ইবনে মুগাফফাল হলেন: ইবনে আবদ গুনিম আল-মুজানি, আবু সাঈদ এবং আবু যিয়াদ, তিনি একজন মহান সাহাবী, তিনি বাইয়াতে শাজারায় উপস্থিত ছিলেন এবং তিনি ছিলেন সেই ব্যক্তিদের একজন যাদেরকে উমর ইবনুল খাত্তাব বসরাবাসীদের দ্বীন শিক্ষা দেওয়ার জন্য পাঠিয়েছিলেন। তিনি ৫৯ হিজরিতে বসরায় মৃত্যুবরণ করেন।

* দ্বিতীয় দিক: হাদীসের উৎসের বর্ণনায় (তাখরীজ):

হাদীসটি বর্ণনা করেছেন আবু দাউদ(১), নাসায়ী(২), তিরমিযী(৩) এবং তিনি বলেছেন: হাসান সহীহ। ইবনে হিব্বান(৪) এটিকে সহীহ বলেছেন। আলবানী এবং শুয়াইব আরনাউত এর অন্যান্য সমর্থিত বর্ণনার ভিত্তিতে এটিকে সহীহ বলেছেন।

* তৃতীয় দিক: শব্দের ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে:

(গিব্বান): মাঝে মাঝে বা বিরতি দিয়ে একদিন পর পর।

* চতুর্থ দিক: হাদীসটি প্রমাণ করে যে, একজন মুসলিমের জন্য সর্বদা চুল আঁচড়ানো এবং এর যত্নে অতি বাড়াবাড়ি করা মাকরূহ, যতক্ষণ না এটি তার প্রধান ব্যস্ততায় পরিণত হয়। বরং যা আবশ্যক তা হলো মধ্যপন্থা অবলম্বন করা...

--------------------------------------------

(১) «সুনানে আবু দাউদ» (৪১৫৯)।

(২) «সুনানে নাসায়ী» (৫০৫৫)।

(৩) «সুনানে তিরমিযী» (১৭৫৬)।

(৪) «সহীহ ইবনে হিব্বান» (৫৪৮৪)।
(খণ্ড: ১) শারহু মুখতাসারিশ শামাইলিল মুহাম্মাদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩৫)
الأمر، بحيث لا يهمله بالكلية ولا يشتغل به دوماً، وإنما يكون وسطاً بين هذا وهذا.

وقد تقدم معنا في شرح الحديث السابق ذكرُ بعض الأحاديث الدالة على استحباب العناية بنظافة الشعر، وتسريحه وتحسينه، دون إفراط ولا تفريط.
বিষয়টি এমন হবে যাতে এটি সম্পূর্ণভাবে অবহেলিত না হয় এবং সর্বদা এতে মগ্নও না থাকে; বরং এই দুইয়ের মাঝে মধ্যপন্থা অবলম্বন করা হয়।

পূর্ববর্তী হাদিসের ব্যাখ্যায় আমাদের সামনে এমন কিছু হাদিসের বর্ণনা অতিক্রান্ত হয়েছে যা চুলের পরিচ্ছন্নতা, চুল আঁচড়ানো এবং তা সুন্দর রাখার প্রতি যত্নশীল হওয়া মুস্তাহাব হওয়ার ওপর দালালত করে, যা কোনো প্রকার বাড়াবাড়ি বা অবহেলা ব্যতিরেকে হতে হবে।
(খণ্ড: ১) শারহু মুখতাসারিশ শামাইলিল মুহাম্মাদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩৭)
‌‌5 - بَابُ مَا جَاءَ فِي شَيْبِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم-

أي بيان ما ورد في صفة شيب رسول الله صلى الله عليه وسلم من الأخبار وما يتعلق بخضابه.

 

7 - عَنْ قَتَادَةَ قَالَ: قُلْتُ لِأَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رضي الله عنه: هَلْ خَضَبَ رَسُولُ الله صلى الله عليه وسلم؟ قَالَ: «لَم يَبْلُغْ ذَلِكَ، إِنَّمَا كَانَ شَيْباً فِي صُدْغَيْهِ، وَلَكِنْ أَبُو بَكرٍ رضي الله تعالى عنه خَضَبَ بالحِنَّاء والكَتَم «.

• الكلام عليه من وجوه:

* الوجه الأول في التعريف براويه:

أنس بن مالك رضي الله عنه تقدم التعريف به في الحديث رقم 1.

* الوجه الثاني: في تخريجه:

الحديث أخرجه البخاري ومسلم في الصحيحين(1) بنحوه، وليس في البخاري ذكر خضاب أبي بكر.

* الوجه الثالث: في شرح ألفاظه:

(الشيب): تحول الشعر من لونه الأصلي إلى البياض، وهو يحصل لأسباب مختلفة، منها التقدم في السن ودوام الأحزان وغير ذلك.

--------------------------------------------

(1) «صحيح البخاري» (3550)، «صحيح مسلم» (2341).
৫ - অধ্যায়: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বার্ধক্যজনিত পাকা চুল সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে-

অর্থাৎ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বার্ধক্যজনিত পাকা চুলের বর্ণনা এবং তাঁর খেজাব (চুল রাঙানো) সংক্রান্ত যেসব হাদীস বর্ণিত হয়েছে তার বিবরণ।

 

৭ - কাতাদাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আনাস ইবনে মালিক রাযিয়াল্লাহু আনহুকে জিজ্ঞেস করলাম: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি খেজাব ব্যবহার করতেন? তিনি বললেন: «তিনি বার্ধক্যের সেই পর্যায়ে পৌঁছাননি, কেবল তাঁর কানের পাশের কিছু চুল পেকেছিল। তবে আবু বকর রাযিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু মেহেদী ও কাতাম (এক প্রকার উদ্ভিদ) দিয়ে খেজাব লাগাতেন»।

• এর ওপর আলোচনা কয়েকটি দিক থেকে:

* প্রথম দিক: বর্ণনাকারীর পরিচয়:

আনাস ইবনে মালিক রাযিয়াল্লাহু আনহু-এর পরিচয় ১ নম্বর হাদীসে প্রদান করা হয়েছে।

* দ্বিতীয় দিক: হাদীসের উৎস বিন্যাস (তাখরিজ):

হাদীসটি ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম তাঁদের সহীহদ্বয়ে অনুরূপ শব্দে বর্ণনা করেছেন(১), তবে বুখারীর বর্ণনায় আবু বকরের খেজাব লাগানোর উল্লেখ নেই।

* তৃতীয় দিক: শব্দ বিশ্লেষণ:

(বার্ধক্যজনিত চুল পাকা): চুলের মূল রং পরিবর্তিত হয়ে সাদা হয়ে যাওয়া। এটি বিভিন্ন কারণে ঘটে থাকে, যার মধ্যে রয়েছে বয়স বৃদ্ধি পাওয়া এবং দীর্ঘস্থায়ী দুঃখ-বেদনা ইত্যাদি।

--------------------------------------------

(১) «সহীহ বুখারী» (৩৫৫০), «সহীহ মুসলিম» (২৩৪১)।