(খণ্ড: ১) আল আরবাউনা মিন আওয়ালিল মুজিজিন (পৃষ্ঠা: -)
الأربعون من عوالي المجيزين   (المراغي، أبو بكر)

القسم: كتب السنة


الكتاب: الأربعون من عوالي المجيزين

المؤلف: أبو بكر بن الحسين بن عمر، القرشي العبشمي الأموي العثماني، زين الدين، وكنيته أبو محمد ويقال اسمه (عبد الله) والمشهور (أبو بكر) المصري الشافعي المراغي (ت 816هـ)

تخريج: أحمد بن علي ابن حجر العسقلاني المتوفى سنة 852 هـ

تحقيق: محمد مطيع الحافظ

الناشر: مكتبة التوبة، الرياض

عام النشر: 1420 هـ

عدد الصفحات: 127

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আল-আরবাউন মিন আওয়ালিল মুজিজিন   (আল-মারাগি, আবু বকর)

বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ


গ্রন্থ: আল-আরবাউন মিন আওয়ালিল মুজিজিন

লেখক: আবু বকর বিন আল-হুসাইন বিন উমর، আল-কুরাশি আল-আবশামি আল-উমাবি আল-উসমানি، জয়নুদ্দীন، তাঁর উপনাম আবু মুহাম্মাদ এবং বলা হয় তাঁর নাম (আবদুল্লাহ) আর প্রসিদ্ধ নাম হলো (আবু বকর) আল-মিসরি আশ-শাফিঈ আল-মারাগি (মৃত্যু ৮১৬ হিজরি)

তাখরিজ: আহমদ বিন আলী ইবনে হাজার আল-আসকালানি, মৃত্যু ৮৫২ হিজরি

সম্পাদনা: মুহাম্মাদ মুতি আল-হাফিজ

প্রকাশক: মাকতাবাতুত তাওবা، রিয়াদ

প্রকাশের বছর: ১৪২০ হিজরি

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১২৭

[গ্রন্থের পৃষ্ঠাসংখ্যা মূল মুদ্রণের অনুরূপ]

শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আল আরবাউনা মিন আওয়ালিল মুজিজিন (পৃষ্ঠা: ৪৬)
‌‌الْحَدِيثُ الْأَوَّلُ

أَخْبَرَنَا الشَّيْخُ الْإِمَامُ الْعَلَّامَةُ حَافِظُ الْوَقْتِ أَبُو الْحَجَّاجِ يُوسُفُ بْنُ الزَّكِيِّ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ يُوسُفَ الْمِزِّيُّ فِي كِتَابِهِ، أَنَّهُ قَرَأَ عَلَى أَبِي الْعَبَّاسِ أَحْمَدَ بْنِ أَبِي الْخَيْرِ الْحَدَّادِ، قَالَ لَهُ: أَنْبَأَكُمْ مَسْعُودُ بْنُ أَبِي مَنْصُورٍ الْجَمَّالُ، أَخْبَرَنَا أَبُو عَلِيٍّ الْحَسَنُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ الْحَسَنِ الْمُقْرِئُ، أَخْبَرَنَا أَبُو نُعَيْمٍ أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْحَافِظُ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ مُسْلِمٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ وَاسِعٍ، عَنْ مُطَرِّفٍ، عَنْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ رضي الله عنه، قَالَ:
প্রথম হাদিস

শাইখ, ইমাম, আল্লামা, সমসাময়িক হাফিজ আবু আল-হাজ্জাজ ইউসুফ ইবনুল জাকি আবদুর রহমান ইবনে ইউসুফ আল-মিজ্জি তাঁর কিতাবে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি আবু আল-আব্বাস আহমাদ ইবনে আবি আল-খায়ের আল-হাদ্দাদের নিকট পাঠ করেছেন, তিনি তাঁকে বলেছেন: মাসউদ ইবনে আবি মানসুর আল-জাম্মাল আপনাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু আলি আল-হাসান ইবনে আহমাদ ইবনে আল-হাসান আল-মুকরি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু নুয়াইম আহমাদ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-হাফিজ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আব্দুল্লাহ ইবনে জাফর আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, ইসমাইল ইবনে আব্দুল্লাহ আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, মুসলিম ইবনে ইব্রাহিম আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, ইসমাইল ইবনে মুসলিম আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মাদ ইবনে ওয়াসি থেকে, তিনি মুতাররিফ থেকে, তিনি ইমরান ইবনে হুসাইন (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন:
(খণ্ড: ১) আল আরবাউনা মিন আওয়ালিল মুজিজিন (পৃষ্ঠা: ৪৭)
" تَمَتَّعْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَرَّتَيْنِ، فَقَالَ رَجُلٌ: بِرَأْيِهِ مَا شَاءَ «.

هَذَا حَدِيثٌ صَحِيحٌ، أَخْرَجَهُ مُسْلِمٌ فِي صَحِيحِهِ مِنْ طَرِيقِ إِسْمَاعِيلَ بْنِ مُسْلِمٍ وَرَوَاهُ النَّسَائِيُّ، عَنْ أَبِي دَاوُدَ الْحَرَّانِيِّ، عَنْ مُسْلِمِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، فَوَقَعَ لَنَا بَدَلًا عَالِيًا
"আমরা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে দুইবার তামাত্তু করেছি, তখন এক ব্যক্তি তার অভিমত অনুযায়ী যা ইচ্ছা বললেন।"

এটি একটি সহীহ হাদিস, ইমাম মুসলিম তাঁর সহীহ গ্রন্থে ইসমাইল ইবনে মুসলিমের সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন এবং ইমাম নাসাঈ এটি আবু দাউদ আল-হাররানী থেকে, তিনি মুসলিম ইবনে ইবরাহিম থেকে বর্ণনা করেছেন; ফলে এটি আমাদের নিকট উচ্চপর্যায়ের একটি বিকল্প সনদ হিসেবে সাব্যস্ত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল আরবাউনা মিন আওয়ালিল মুজিজিন (পৃষ্ঠা: ৪৮)
تَرْجَمَةُ الْحَافِظِ يُوسُفَ الْمِزِّيِّ.

شَيْخُنَا هَذَا وُلِدَ بِظَاهِرِ حَلَبٍ سَنَةَ أَرْبَعٍ وَخَمْسِينَ وَسِتِّ مِائَةٍ، وَنَشَأَ بِالْمِزَّةِ، وَحَفَظَ الْقُرْآنَ وَتَفَقَّهَ، ثُمَّ أَقْبَلَ عَلَى هَذَا الشَّأْنِ بِهِمَّةٍ عَظِيمَةٍ، فَسَمِعَ أَوَّلَ شَيْءٍ كِتَابَ» الْحِلْيَةِ «كُلَّهُ عَلَى أَحْمَدَ بْنِ الْحُسَيْنِ الْحَدَّادِ بِإِجَازَتِهِ مِنْ جَمَاعَةٍ مِنْ أَصْحَابِ حَنْبَلِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الرَّصَافِيِّ، وَسَمِعَ» مُعْجَمَ الطَّبَرَانِيِّ الْكَبِيرَ " مِنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ إِسْمَاعِيلَ الدَّرْجِيِّ بِإِجَازَتِهِ مِنْ أَبِي جَعْفَرٍ الصَّيْدَلَانِيِّ، وَدَاوُدَ بْنِ مَاشَاذَةَ، وَعَفِيفَةَ بِنْتِ أَحْمَدَ بِسَمَاعِ الثَّلَاثَةِ لِجَمِيعِهِ، وَالثَّانِي حَاضِرٌ مِنْ فَاطِمَةَ بِنْتِ عَبْدِ اللَّهِ الْجُوْزَدَانِيَّةِ، أَخْبَرَنَا ابْنُ رِيذَةَ عَنْهُ، وَسَمِعَ بَقِيَّةَ الْكُتُبِ الْكِبَارِ كَالسِّتَّةِ وَغَيْرِهَا مِنَ الْمَسَانِيدِ، وَجُمْلَةً مِنَ الْأَجْزَاءِ الطَّبَرِزْدِيَّةِ وَالْكِنْدِيَّةِ، وَسَمِعَ بِالدِّيَارِ الْمِصْرِيَّةِ مِنْ جَمَاعَةٍ مِنْهُمُ: الْعِزُّ الْحَرَّانِيُّ وَهُوَ أَقْدَمُ شُيُوخِهِ سَمَاعًا، وَنَسَخَ بِخَطِّهِ الْمَلِيحِ الْمُتْقَنِ كَثِيرًا لِنَفْسِهِ وَلِغَيْرِهِ، وَنَظَرَ فِي اللُّغَةِ وَمَهَر فِيهَا، وَقَرَأَ الصَّرْفَ وَالْعَرَبِيَّةَ، فَقَلَّ أَنْ يُوجَدَ فِي خَطِّهِ لَحْنَةٌ أَوْ سَقْطَةٌ، وَأَمَّا مَعْرِفَةُ الرِّجَالِ فَهُوَ الْقَائِمُ بِأَعْبَائِهَا عَمِلَ كِتَابَ «تَهْذِيبِ الْكَمَالِ» فِي مِائَتَيْنِ وَخَمْسِينَ جُزْءًا، لَمْ يَسْبِقْ إِلَى تَهْذِيبِهِ وَتَرْتِيبِهِ وَرُمُوزِهِ «وَتُحْفَةِ الْأَشْرَافِ فِي مَعْرِفَةِ الْأَطْرَافِ» وَمِنَ الْمَعْلُومِ أَنَّ الْمُحَدِّثِينَ مِنْ بَعْدِهِ عِيَالٌ عَلَى هَذَيْنِ الْكِتَابَيْنِ،
হাফিজ ইউসুফ আল-মিজ্জির জীবনী।

আমাদের এই শাইখ ৬৫৪ হিজরি সালে আলেপ্পোর শহরতলিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং আল-মিজ্জায় বেড়ে ওঠেন। তিনি কুরআন হিফজ করেন এবং ফিকহ অর্জন করেন। অতঃপর তিনি অত্যন্ত উচ্চাকাঙ্ক্ষার সাথে এই ইলমের (হাদিসের) প্রতি মনোনিবেশ করেন। তিনি সর্বপ্রথম আহমদ ইবনুল হুসাইন আল-হাদ্দাদের নিকট সম্পূর্ণ ‘আল-হিলইয়াহ’ গ্রন্থটি শ্রবণ করেন, যিনি হাম্বল ইবনে আব্দুল্লাহ আর-রাসাফির একদল ছাত্রের পক্ষ থেকে প্রাপ্ত ইজাজতের ভিত্তিতে তা বর্ণনা করেছেন। তিনি ইবরাহিম ইবনে ইসমাঈল আদ-দারাজির নিকট থেকে তাবারানির ‘আল-মু’জামুল কাবির’ শ্রবণ করেন; আদ-দারাজি এটি বর্ণনা করেছেন আবু জাফর আস-সাইদালানি, দাউদ ইবনে মাশাজাহ এবং আফিফাহ বিনতে আহমদের ইজাজতের মাধ্যমে, যারা তিনজনই এটি সম্পূর্ণ শ্রবণ করেছিলেন। আর দ্বিতীয়জন (দাউদ ইবনে মাশাজাহ) ফাতিমাহ বিনতে আব্দুল্লাহ আল-জুযদানিয়ার কাছে উপস্থিত ছিলেন, ইবনে রিযাহ এটি তাঁর সূত্রে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন। তিনি অন্যান্য বড় কিতাবসমূহ যেমন কুতুবে সিত্তা এবং অন্যান্য মাসানিদ শ্রবণ করেন; এ ছাড়াও তাবারিজদি ও কিন্দি সূত্রে বর্ণিত একদল সংকলন (জুজ) শ্রবণ করেন। তিনি মিশরীয় ভূখণ্ডে একদল উলামার নিকট শ্রবণ করেছেন, যাদের মধ্যে রয়েছেন ইয আল-হাররানি; আর শ্রবণের দিক থেকে তিনিই তাঁর সবচেয়ে প্রাচীন শাইখ। তিনি নিজের এবং অন্যদের জন্য তাঁর চমৎকার ও নির্ভুল হস্তাক্ষরে প্রচুর পাণ্ডুলিপি তৈরি করেছেন। তিনি অভিধান শাস্ত্র গভীরভাবে অধ্যয়ন করে তাতে পারদর্শিতা অর্জন করেন এবং সরফ ও আরবি ব্যাকরণ পাঠ করেন, ফলে তাঁর লেখায় ব্যাকরণগত ভুল বা বিচ্যুতি খুব কমই পাওয়া যেত। আর বর্ণনাকারীদের (রাবি) পরিচয় লাভের ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন এর সমস্ত গুরুভার বহনকারী। তিনি দুইশত পঞ্চাশ খণ্ডে ‘তাহযীবুল কামাল’ গ্রন্থটি সংকলন করেন; এর পরিমার্জন, বিন্যাস এবং সংকেত ব্যবহারের ক্ষেত্রে তাঁর আগে কেউ এমন কাজ করতে পারেননি। এ ছাড়াও তিনি ‘তুহফাতুল আশরাফ বি মা’রিফাতিল আতরাফ’ সংকলন করেন। আর এটি সুবিদিত যে, তাঁর পরবর্তী মুহাদ্দিসগণ এই গ্রন্থদ্বয়ের ওপরই নির্ভরশীল।
(খণ্ড: ১) আল আরবাউনা মিন আওয়ালিল মুজিজিন (পৃষ্ঠা: ৪৯)
وَخَرَّجَ لِغَيْرِ وَاحِدٍ، وَوَلِيَ الْمَشْيَخَةَ بِأَمَاكِنَ مِنْهَا: دَارُ الْحَدِيثِ الْأَشْرَفِيَّةِ وَبِهَا مَاتَ، وَكَانَ ثِقَةً حُجَّةً، كَثِيرَ الْعِلْمِ، حَسَنَ الْأَخْلَاقِ، قَلِيلَ الْكَلَامِ، لَمْ تُعْرَفْ لَهُ صَبْوَةٌ، وَكَانَ حَلِيمًا صَبُورًا عَلَى الْأَذَى، ذَا مُرُوءَةٍ وَسَمَاحَةٍ وَقَنَاعَةٍ، بَاذِلًا لِكُتُبِهِ وَفَوَائِدِهِ، وَأَعْلَى مَا سَمِعَ مُطْلَقًا «الْغَيْلَانِيَّاتِ» ثُمَّ «الْقَطِيعِيَّاتِ» وَأَعْلَى مَا سَمِعَ بِإِجَازَةٍ مِنْ طَرِيقِ ابْنِ كُلَيْبٍ، وَفَاتَهُ السَّمَاعُ مِنَ ابْنِ عَبْدِ الدَّائِمِ مَعَ إِمْكَانِهِ، تُوُفِّيَ رَحِمَهُ اللَّهُ تَعَالَى فِي ثَانِي عَشَرِ صَفَرٍ سَنَةَ اثْنَتَيْنِ وَأَرْبَعِينَ وَسَبْعِ مِائَةٍ، وَلَمْ يَخْلُفْ بَعْدَهُ فِي مَعْنَاهُ مِثْلَهُ
তিনি অনেকের জন্য (হাদিস) সংকলন করেছেন এবং বিভিন্ন স্থানে শায়খ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: দারুল হাদিস আল-আশরাফিয়্যাহ এবং সেখানেই তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তিনি ছিলেন বিশ্বস্ত, প্রামাণ্য ব্যক্তিত্ব (হুজ্জাহ), অগাধ ইলমের অধিকারী, উন্নত চরিত্রের মানুষ এবং অল্পভাষী। তাঁর মধ্যে কখনো কোনো চারিত্রিক বিচ্যুতি বা চপলতা লক্ষ্য করা যায়নি। তিনি ছিলেন ধৈর্যশীল এবং অন্যের পক্ষ থেকে আসা কষ্টের ওপর সবরকারী। তিনি ছিলেন ব্যক্তিত্বসম্পন্ন, উদার ও অল্পে তুষ্ট; তিনি তাঁর কিতাবসমূহ এবং অর্জিত জ্ঞান অকাতরে বিলিয়ে দিতেন। তিনি সরাসরি যা শ্রবণ করেছেন তার মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ের ছিল ‘আল-গায়লানিয়্যাত’, এরপর ‘আল-কাতিইয়্যাত’। আর ইজাজতের সূত্রে তাঁর প্রাপ্ত সর্বোচ্চ পর্যায়ের সনদ ছিল ইবনে কুলাইবের সূত্রে। ইবনে আবদুদ দাইমের নিকট থেকে শোনার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও তাঁর থেকে সরাসরি শ্রবণ করা হয়ে ওঠেনি। তিনি—আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন—সাতশ বিয়াল্লিশ হিজরি সনের বারোই সফর ইন্তেকাল করেন। তাঁর পর তাঁর গুণাবলি ও স্তরের অনুরূপ কাউকে আর দেখা যায়নি।
(খণ্ড: ১) আল আরবাউনা মিন আওয়ালিল মুজিজিন (পৃষ্ঠা: ৫০)
‌‌الْحَدِيثُ الثَّانِي

أَخْبَرَنَا الْحَافِظُ الْمُجَوِّدُ الْمُتْقِنُ أَبُو مُحَمَّدٍ الْقَاسِمُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ يُوسُفَ بْنِ الْحَافِظِ زَكِيُّ الدَّينِ مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ الْبِرْزَالِيُّ، فِي كِتَابِهِ، أَنَّ إِبْرَاهِيمَ بْنَ إِسْمَاعِيلَ الدَّرْجِيَّ أَخْبَرَهُ، قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو جَعْفَرٍ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ الصَّيْدَلَانِيُّ، وَعَفِيفَةُ بِنْتُ أَحْمَدَ الْفَارِفَانِيِّ، وَغَيْرِهِمَا إِجَازَةً، قَالُوا: أنا فَاطِمَةُ بِنْتُ عَبْدِ اللَّهِ الْجُوْزَدَانِيَّةُ، قَالَتْ: أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ رِيذَةَ، أَخْبَرَنَا أَبُو الْقَاسِمِ سُلَيْمَانُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ أَيُّوبَ الطَّبَرَانِيُّ، حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ، حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُحَمَّدٍ الدَّرَاوَرْدِيُّ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرٍو، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، عَنْ بِلَالِ بْنِ الْحَارِثِ الْمُزَنِيِّ رضي الله عنه، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: «الْمُسِلمُ مَنْ سَلِمَ الْمُسْلِمُونَ مِنْ لِسَانِهِ وَيَدِهِ» هَذَا حَدِيثٌ حَسَنُ الْإِسْنَادِ، لَمْ يُخَرَّجْ فِي الْكُتُبِ السِّتَّةِ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ.
দ্বিতীয় হাদিস

আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হাফেজ, তাজবিদ বিশেষজ্ঞ ও সুনিপুণ আবু মুহাম্মাদ আল-কাসিম ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে ইউসুফ ইবনুল হাফেজ জাকিউদ্দীন মুহাম্মাদ ইবনে ইউসুফ আল-বিরজালি তাঁর কিতাবে যে, ইবরাহীম ইবনে ইসমাঈল আদ-দারজি তাঁকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু জাফর মুহাম্মাদ ইবনে আহমাদ আস-সাইদালানি এবং আফিফা বিনতে আহমাদ আল-ফারফানিয়া ও অন্যান্যরা ইজাযাতসূত্রে, তাঁরা বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ফাতিমা বিনতে আব্দুল্লাহ আল-জুজদানিয়া, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে রিযা, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল কাসিম সুলায়মান ইবনে আহমাদ ইবনে আইয়ুব আত-তাবারানি, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আলী ইবনে আব্দুল আজিজ, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আল-কা'নাবি, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আব্দুল আজিজ ইবনে মুহাম্মাদ আদ-দারাওয়ারদি, মুহাম্মাদ ইবনে আমর থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি তাঁর দাদা থেকে, তিনি বিলাল ইবনুল হারিস আল-মুজানি রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে এবং তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: «প্রকৃত মুসলিম সেই ব্যক্তি, যার জিহ্বা ও হাত থেকে অন্য মুসলিমরা নিরাপদ থাকে»। এটি হাসান সনদবিশিষ্ট একটি হাদিস, যা এই সূত্রে কুতুবে সিত্তাহ বা প্রসিদ্ধ ছয়টি কিতাবে বর্ণিত হয়নি।
(খণ্ড: ১) আল আরবাউনা মিন আওয়ালিল মুজিজিন (পৃষ্ঠা: ৫১)
تَرْجَمَةُ أَبِي مُحَمَّدٍ الْقَاسِمِ بْنِ مُحَمَّدٍ الْبِرْزَالِيِّ.

شَيْخُنَا هَذَا وُلِدَ سَنَةَ خَمْسٍ وَسِتِّينَ وَسِتِّ مِائَةٍ بِدِمَشْقَ، وَاسْتَجَازُوا لَهُ مِنَ ابْنِ عَبْدِ الدَّائِمِ، وَالنَّجِيبِ، وَابْنِ عَلَّاقٍ، وَابْنِ عَزُّونَ، وَمَشَايِخِ الْعَصْرِ، وَسَمِعَ فِي سَنَةِ ثَلَاثٍ وَسَبْعِينَ وَسِتِّ مِائَةٍ، ثُمَّ أَرْسَلَهُ وَالِدُهُ فِي سَنَةِ سَبْعٍ وَسَبْعِينَ إِلَى سَمَاعِ صَحِيحِ مُسْلِمٍ مِنَ الْقَاسِمِ بْنِ غُنَيْمَةَ الْإِرْبِلِيِّ، فَأَحَبَّ طَلَبَ الْحَدِيثِ، وَدَارَ عَلَى الشُّيُوخِ، وَنَسَخَ الْأَجْزَاءَ، وَسَمِعَ الْكَثِيرَ مِنَ ابْنِ أَبِي الْخَيْرِ، وَالْجَمَّالِ عُمَرَ بْنِ عَلَّاقٍ، وَابْنِ الدَّرْجِيِّ، وَابْنِ شَيْبَانَ وَرَافَقَ الْمِزِّيَّ فِي أَكْثَرِ مَسْمُوعِهِ، وَسَمِعَ بِمِصْرَ مِنَ الْعِزِّ الْحَرَّانِيِّ وَالْمَوْجُودِينَ، وَكَتَبَ بِخَطِّهِ الْمَلِيحِ الصَّحِيحِ كَثِيرًا، وَخَرَّجَ لِنَفْسِهِ وَلِمَنْ لَا يُحْصَى مِنَ الْمَشَايِخِ وَكَتَبَ ثَبْتَهُ لِنَفْسِهِ وَلِمَنْ سَمِعَ مِنْهُ، فَبَلَغَ بِضْعًا وَعِشْرِينَ مُجَلَّدَةً، انْتَفَعَ النَّاسُ بِهِ كَثِيرًا فِي زَمَانِهِ وَمِنْ بَعْدِهِ وَإِلَى الْيَوْمِ، وَعَمِلَ تَارِيخًا بَدَأَ فِيهِ مِنْ عَامِ مَوْلِدِهِ وَهُوَ عَامُ وَفَاةِ أَبِي شَامَةَ، فَجَعَلَهُ صِلَةً لِتَارِيخِهِ وَهُوَ فِي خَمْسِ مُجَلَّدَاتٍ، وَلَهُ مَجَامِيعُ مُفِيدَةٌ، وَعَمَلٌ فِي فَنِّ الرِّوَايَةِ قَلَّ مَنْ وَصَلَ إِلَيْهِ، وَبَلَغَ مُعْجَمُهُ بِالسَّمَاعِ وَالْإِجَازَةِ فَوْقَ الثَّلَاثَةِ آلَافٍ، وَكَانَ صَادِقَ اللَّهْجَةِ، صَاحِبَ سُنَّةٍ وَأَتْبَاعٍ، فَصِيحَ الْقِرَاءَةِ سَرِيعَهَا، قَرَأَ مَا لَا يُوصَفُ، وَرَوَى مِنْ
আবু মুহাম্মদ আল-কাসিম ইবন মুহাম্মদ আল-বিরজালীর জীবনী।

আমাদের এই শায়খ ৬৬৫ হিজরী সনে দামেস্কে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর জন্য ইবন আবদুদ দায়িম, আন-নাজীব, ইবন আল্লাক, ইবন আযযুন এবং সমসাময়িক শায়খদের নিকট থেকে ইজাজত গ্রহণ করা হয়েছিল। তিনি ৬৭৩ হিজরী সনে হাদীস শ্রবণ করেন। অতঃপর তাঁর পিতা ৬৭৭ হিজরী সনে তাঁকে কাসিম ইবন গুনাইমাহ আল-ইরবিলীর নিকট সহীহ মুসলিম শ্রবণের জন্য পাঠান। ফলে তিনি হাদীস অন্বেষণে আগ্রহী হয়ে ওঠেন, বিভিন্ন শায়খদের দ্বারে দ্বারে ঘোরেন এবং পাণ্ডুলিপি অনুলিপি করেন। তিনি ইবন আবিল খাইর, আল-জামাল উমর ইবন আল্লাক, ইবন আদ-দারজী ও ইবন শায়বানের নিকট থেকে প্রচুর হাদীস শ্রবণ করেন। তিনি তাঁর শ্রবণের অধিকাংশ ক্ষেত্রে আল-মিযযীর সঙ্গী ছিলেন। মিশরে তিনি ইযযুদ্দীন আল-হাররানী ও তৎকালীন বিদ্যমান আলেমদের থেকে শ্রবণ করেন। তিনি তাঁর সুন্দর ও নির্ভুল হস্তাক্ষরে প্রচুর লিখেছিলেন। তিনি নিজের জন্য এবং অসংখ্য শায়খদের জন্য 'তাখরীজ' (হাদীস সংকলন) করেছিলেন। তিনি নিজের এবং যারা তাঁর নিকট থেকে শ্রবণ করেছেন তাদের জন্য 'সাবত' (স্মারক গ্রন্থ) লিখেছিলেন, যা বিশের অধিক খণ্ডে পৌঁছেছে। তাঁর সময়ে, পরবর্তীকালে এবং আজ পর্যন্ত মানুষ তাঁর দ্বারা প্রভূত উপকৃত হয়েছে। তিনি একটি ইতিহাস গ্রন্থ রচনা করেন যা তাঁর জন্ম সাল থেকে শুরু হয়েছিল, আর সেটি ছিল আবু শামার মৃত্যুর বছর। তিনি একে তাঁর (আবু শামার) ইতিহাসের পরিশিষ্টাংশ হিসেবে তৈরি করেন এবং এটি পাঁচ খণ্ডে সমাপ্ত। তাঁর বহু উপকারী সংকলন রয়েছে। রেওয়ায়ত বা বর্ণনা শাস্ত্রে তিনি এমন কাজ করেছেন যেখানে খুব কম লোকই পৌঁছাতে পেরেছে। শ্রবণ ও ইজাজতসূত্রে তাঁর 'মু'জাম' (শিক্ষকগণের তালিকা) তিন হাজারের অধিক ছাড়িয়ে গেছে। তিনি ছিলেন সত্যভাষী এবং সুন্নাহ ও (সালাফদের) একনিষ্ঠ অনুসারী। তিনি অত্যন্ত সাবলীল ও দ্রুত গতিতে পাঠ করতেন। তিনি অবর্ণনীয় পরিমাণ পাঠ করেছিলেন এবং বর্ণনা করেছেন...
(খণ্ড: ১) আল আরবাউনা মিন আওয়ালিল মুজিজিন (পৃষ্ঠা: ৫২)
ذَلِكَ جُمْلَةً وَافِرَةً، وَكَانَ كَثِيرَ التَّوَاضُعِ، مُتَوَدِّدًا، لَا يَتَكَثَّرُ بِفَضَائِلِهِ، وَلَهُ وُدٌّ فِي الْقُلُوبِ وَمَحَبَّةٌ فِي الصُّدُورِ، وَحَدَّثَ قَدِيمًا فِي حَيَاةِ شَيْخِهِ ابْنِ الْبُخَارِيِّ، وَلَمْ يَخْلُفْ فِي مَعْنَاهُ مِثْلَهُ، قَدْ تَفَقَّهَ مُدَّةً بِالشَّيْخِ تَاجِ الدِّينِ الْفَزَارِيِّ، وَصَحِبَهُ كَثِيرًا حَضْرًا وَسَفَرًا، تُوُفِّيَ مُحْرِمًا بِالْخُلَيْصِ فِي يَوْمِ الْأَحَدِ رَابِعِ ذِي الْحِجَّةِ سَنَةَ تِسْعٍ وَثَلَاثِينَ وَسَبْعِ مِائَةٍ رَحِمَهُ اللَّهُ
এটি ছিল এক বিশাল অংশ। তিনি অত্যন্ত বিনয়ী ও অমায়িক ছিলেন; তিনি স্বীয় গুণাবলীর দ্বারা শ্রেষ্ঠত্ব জাহির করতেন না। মানুষের অন্তরে তাঁর জন্য গভীর অনুরাগ ও হৃদয়ে ভালোবাসা বিদ্যমান ছিল। তিনি তাঁর শায়খ ইবনুল বুখারীর জীবদ্দশাতেই দীর্ঘকাল পূর্বে হাদিস বর্ণনা করেছেন। গুণ ও বৈশিষ্ট্যের বিচারে তাঁর মতো কোনো উত্তরসূরি তিনি রেখে যাননি। তিনি দীর্ঘ সময় শায়খ তাজউদ্দীন আল-ফাজারীর নিকট ফিকহ শাস্ত্র অধ্যয়ন করেছেন এবং আবাসে ও সফরে দীর্ঘ সময় তাঁর সাহচর্যে ছিলেন। তিনি ৭৩৯ হিজরি সনের ৪ঠা জিলহজ রবিবার আল-খুলাইস নামক স্থানে ইহরাম অবস্থায় ইন্তেকাল করেন। আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন।
(খণ্ড: ১) আল আরবাউনা মিন আওয়ালিল মুজিজিন (পৃষ্ঠা: ৫৩)
‌‌الْحَدِيثُ الثَّالِثُ

إِلَيْنَا الْمُحَدِّثُ الْفَاضِلُ الْبَارِعُ شَمْسُ الدِّينِ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ غَنَايِمَ بْنِ الْمُهَنْدِسِ، أَنَّ أَحْمَدَ بْنَ شَيْبَانَ أَخْبَرَهُ.

ح وَأَخْبَرَنَا أَبُو الْفَتْحِ مُحَمَّدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ الْخَطِيبُ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنَا أَسْمَعُ، أَخْبَرَنَا أَبُو الْفَضْلِ عَبْدُ الرَّحِيمِ بْنُ يُوسُفَ الْمَوْصِلِيُّ، قَالَا: أَخْبَرَنَا عُمَرُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ طَبَرْزَدَ، أَخْبَرَنَا هِبَةُ اللَّهِ بْنُ الْحُصَيْنِ، أَخْبَرَنَا أَبُو طَالِبِ بْنُ غَيْلَانَ، أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ الشَّافِعِيُّ، حَدَّثَنَا الْحَارِثُ بْنُ أَبِي أُسَامَةَ، حَدَّثَنَا أَبُو هِلَالٍ الرَّاسِبِيُّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بُرَيْدَةَ، قَالَ: قَالَتْ عَائِشَةُ رضي الله عنها: " قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنْ وَافَقْتُ لَيْلَةَ الْقَدْرِ بِمَا أَدْعُو؟ قَالَ: قُولِي: اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الْعَفْوَ وَالْعَافِيَةَ " أَخْرَجَهُ التِّرْمِذِيُّ، وَالنَّسَائِيُّ، وَابْنُ مَاجَهْ مِنْ طَرِيقِ
তৃতীয় হাদীস

আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ফাযিল ও প্রাজ্ঞ মুহাদ্দিস শামসুদ্দিন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবনে ইবরাহিম ইবনে গানায়িম ইবনুল মুহানদিস, তাঁকে আহমাদ ইবনে শায়বান সংবাদ দিয়েছেন।

উক্ত সনদের রূপান্তর: এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল ফাতহ মুহাম্মাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে ইবরাহিম আল-খতিব—তাঁর উপস্থিতিতে পাঠ করা হয়েছে এবং আমি তা শুনছিলাম—আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল ফযল আব্দুর রাহিম ইবনে ইউসুফ আল-মাওসিলি; তাঁরা উভয়ে বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন উমর ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে তাবারযাদ, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হিবাতুল্লাহ ইবনুল হুসাইন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু তালিব ইবনে গাইলান, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর আশ-শাফিয়ী, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-হারিস ইবনে আবি উসামা, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু হিলাল আর-রাসিবি, আব্দুল্লাহ ইবনে বুরাইদাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) বলেছেন: "আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! যদি আমি লাইলাতুল কদর লাভ করি, তবে কী বলে দোয়া করব? তিনি বললেন: তুমি বলো: হে আল্লাহ! নিশ্চয়ই আমি আপনার নিকট ক্ষমা ও নিরাপত্তা (আফিয়াত) প্রার্থনা করছি।" এটি তিরমিযী, নাসাঈ এবং ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেছেন... এর সূত্র থেকে।
(খণ্ড: ১) আল আরবাউনা মিন আওয়ালিল মুজিজিন (পৃষ্ঠা: ৫৪)
كَهْمَسٍ وَالْجُرَيْرِيِّ، عَنِ ابْنِ بُرَيْدَةَ، وَصَحَّحَهُ التِّرْمِذِيُّ.

وَاسْمُ أَبِي هِلَالٍ مُحَمَّدُ بْنُ سُلَيْمٍ.

تَرْجَمَةُ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ بْنِ غَنَايِمَ بْنِ الْمُهَنْدِسِ.

شَيْخُنَا هَذَا وُلِدَ سَنَةَ خَمْسٍ وسَتِّينَ وَسِتِّ مِائَةٍ، وَطَلَبَ الْحَدِيثَ وَاعْتَنَى بِهِ، وَكَتَبَ الْعَالِيَ وَالنَّازِلَ، وَسَمِعَ مِنَ الشَّيْخِ ابْنِ أَبِي عُمَرَ، الْفَخْرِ عَلِيٍّ، وَابْنِ شَيْبَانَ، وَطَبَقَتِهِمْ فَمَنْ بَعْدَهُمْ، أَثْنَى عَلَيْهِ الذَّهَبِيُّ فِي مُعْجَمِهِ، وَقَالَ: كَانَ صَحِيحَ النَّقْلِ، مَلِيحَ الْأُصُولِ، خَرَّجَ لِجَمَاعَةٍ فَأَجَادَ، وَنَسَخَ الْكُتُبَ الْكِبَارَ، وَتَمَيَّزَ فِي الشُّرُوطِ، وَفِيهِ خَيْرٌ وَتَوَاضُعٌ وَاحْتِمَالٌ مَاتَ فِي شَوَّالٍ سَنَةَ ثَلَاثٍ وَثَلَاثِينَ وَسَبْعِ مِائَةٍ
কাহমাস ও আল-জুরায়রী, ইবনে বুরায়দাহ থেকে বর্ণনা করেছেন এবং তিরমিজী একে সহীহ বলেছেন।

আর আবু হিলালের নাম হলো মুহাম্মাদ বিন সুলাইম।

মুহাম্মাদ বিন ইব্রাহীম বিন গানায়িম বিন আল-মুহান্দিসের জীবনী।

আমাদের এই শায়খ ছয়শত পঁয়ষট্টি হিজরি সনে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি হাদীস অন্বেষণ করেছেন এবং এর প্রতি বিশেষ যত্নবান ছিলেন। তিনি উচ্চ ও নিম্ন (আলি এবং নাযিল) সনদসমূহ লিপিবদ্ধ করেছেন। তিনি শায়খ ইবনে আবি উমর, আল-ফখর আলী, ইবনে শায়বান এবং তাঁদের সমসাময়িক ও তাঁদের পরবর্তী স্তরের মুহাদ্দিসগণের নিকট থেকে শ্রবণ করেছেন। ইমাম যাহাবী তাঁর 'মুজাম' গ্রন্থে তাঁর প্রশংসা করেছেন এবং বলেছেন: তিনি বর্ণনার ক্ষেত্রে নির্ভুল ও মূল পাণ্ডুলিপির ক্ষেত্রে উৎকৃষ্ট ছিলেন। তিনি এক জামাতের জন্য হাদীস চয়ন (তাখরিজ) করেছেন এবং তাতে নৈপুণ্য দেখিয়েছেন। তিনি বৃহৎ গ্রন্থসমূহ অনুলিপি করেছেন এবং শর্তাবলির ক্ষেত্রে বৈশিষ্ট্য অর্জন করেছেন। তাঁর মধ্যে কল্যাণ, বিনয় ও সহনশীলতা ছিল। তিনি সাতশত তেত্রিশ হিজরি সালের শাওয়াল মাসে মৃত্যুবরণ করেন।
(খণ্ড: ১) আল আরবাউনা মিন আওয়ালিল মুজিজিন (পৃষ্ঠা: ৫৫)
‌‌الْحَدِيثُ الرَّابِعُ

أَخْبَرَنَا الشَّيْخُ الْإِمَامُ الْمُحَدِّثُ الْفَاضِلُ الْبَارِعُ شَمْسُ الدِّينِ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْحَسَنِ بْنِ نُبَاتَةَ الْفَارِقِيُّ ثُمَّ الْمِصْرِيُّ مُكَاتَبَةً، أَنَّ إِسْحَاقَ بْنَ إِبْرَاهِيمَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْمَخْزُومِيَّ، وَمُحَمَّدَ بْنَ إِبْرَاهِيمَ بْنِ تَرَحُّمٍ أَخْبَرَاهُ، قَالَا: أَخْبَرَنَا أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ أَبِي الْكَرَمِ بْنِ الْبَنَّا، أَخْبَرَنَا أَبُو الْفَتْحِ عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ أَبِي الْقَاسِمِ بْنِ أَبِي سَهْلٍ الْكَرُوجِيُّ.

ح وَأَنْبَأَنَا عَالِيًا، عَنْ هَذَا السِّيَاقِ بِدَرَجَةٍ: أَحْمَدُ بْنُ أَبِي طَالِبٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، عَنْ أَبِي الْوَقْتِ، قَالَا: أَخْبَرَنَا أَبُو عَامِرٍ مَحْمُودٌ الْقَاسِمُ الْأَزْدِيُّ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ الْجَبَّارِ بْنُ مُحَمَّدٍ الْجَرَّاحِيُّ، أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ مَحْبُوبٍ، حَدَّثَنَا أَبُو عِيسَى مُحَمَّدُ بْنُ عِيسَى بْنِ سَوْرَةَ التِّرْمِذِيُّ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ أَبِي الشَّوَارِبِ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ الْمُخْتَارِ، عَنْ سُهَيْلِ بْنِ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ سُمَيٍّ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: " مَنْ قَالَ حِينَ يُصْبِحُ وَحِينَ يُمْسِي: سُبْحَانَ اللَّهِ وَبِحَمْدِهِ، مِائَةَ مَرَّةٍ، لَمْ يَأْتِ أَحَدٌ يَوْمَ الْقِيَامَةِ بِأَفْضَلَ مِمَّا جَاءَ بِهِ إِلَّا أَحَدٌ قَالَ مِثْلَ مَا قَالَ، أَوْ زَادَ عَلَيْهِ " أَخْرَجَهُ النَّسَائِيُّ فِي الْيَوْمِ وَاللَّيْلَةِ، عَنْ زَكَرِيَّا بْنِ يَحْيَى
চতুর্থ হাদিস

শাইখ, ইমাম, বিজ্ঞ ও দক্ষ মুহাদ্দিস শামসুদ্দিন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনুল হাসান ইবনে নুবাতাহ আল-ফারিকী অতপর আল-মিসরী পত্রবিনিময়ের মাধ্যমে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যে, ইসহাক ইবনে ইবরাহিম ইবনে আব্দুর রহমান আল-মাখজুমি এবং মুহাম্মাদ ইবনে ইবরাহিম ইবনে তরাহহুম তাঁকে সংবাদ দিয়েছেন। তাঁরা বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল হাসান আলী ইবনে আবুল কারাম ইবনুল বান্না, তিনি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যে, আবুল ফাতহ আব্দুল মালিক ইবনে আবুল কাসিম ইবনে আবু সাহল আল-কারুজি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন।

(হা) এবং উচ্চ সনদে এই ধারার চেয়ে এক স্তর উপরে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আহমাদ ইবনে আবু তালিব, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে উমর থেকে, তিনি আবু ওয়াক্ত থেকে বর্ণনা করেন। তাঁরা (কারুজি ও আবু ওয়াক্ত) বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আমির মাহমুদ আল-কাসিম আল-আজদি, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্দুল জব্বার ইবনে মুহাম্মাদ আল-জাররাহি, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মাদ ইবনে আহমাদ ইবনে মাহবুর, তিনি বলেন: আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আবু ঈসা মুহাম্মাদ ইবনে ঈসা ইবনে সাওরাহ আত-তিরমিজি, তিনি বলেন: আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল মালিক ইবনে আবুল শাওয়ারিব, তিনি বলেন: আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আব্দুল আজিজ ইবনুল মুখতার, তিনি সুহাইল ইবনে আবু সালিহ থেকে, তিনি সুমাই থেকে, তিনি আবু সালিহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি সকাল এবং সন্ধ্যায় একশত বার 'সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি' (আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করছি তাঁর প্রশংসার সাথে) বলবে, কিয়ামতের দিন কেউ তার চেয়ে শ্রেষ্ঠ আমল নিয়ে আসতে পারবে না; তবে ঐ ব্যক্তি ব্যতীত যে তার অনুরূপ বলেছে অথবা তার চেয়ে বেশি আমল করেছে।" এটি আন-নাসায়ি 'আল-ইয়াওম ওয়াল লাইলাহ' গ্রন্থে জাকারিয়া ইবনে ইয়াহইয়া থেকে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল আরবাউনা মিন আওয়ালিল মুজিজিন (পৃষ্ঠা: ৫৬)
السِّجْزِيِّ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ أَبِي الشَّوَارِبِ بِإِسْنَادِهِ هَذَا، فَوَقَعَ لَنَا بَدَلًا عَالِيًا، وَرَوَاهُ النَّسَائِيُّ أَيْضًا عَنْ عُثْمَانَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ أُمَيَّةَ بْنِ بِسْطَامٍ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ زُرَيْعٍ، عَنْ رَوْحِ بْنِ الْقَاسِمِ، عَنْ سُهَيْلٍ.

فَوَقَعَ لَنَا عَالِيًا عَنْهُ بِالنِّسْبَةِ إِلَى عَدَدِ الرِّجَالِ فِي رِوَايَتِنَا الثَّانِيَةِ بِأَرْبَعِ دَرَجَاتٍ، وَكَأَنَّ أَبَا الْوَقْتِ سَمِعَهُ مِنْ صَاحِبِ النَّسَائِيِّ وَلِلَّهِ الْحَمْدُ.

تَرْجَمَةُ مُحَمَّدِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ الْحَسَنِ بْنِ نُبَاتَةَ الْفَارِقِيِّ.

شَيْخُنَا هَذَا وُلِدَ بِمِصْرَ فِي عَاشِرِ رَبِيعِ الْأَوَّلِ سَنَةَ سِتٍّ وَسِتِّينَ وَسِتِّ مِائَةٍ، وَسَمِعَ بِهَا مِنَ الْعِزِّ الْحَرَّانِيِّ، وَمُحَمَّدِ بْنِ إِسْمَاعِيلَ الْأَنْمَاطِيِّ، وَغَازِيٍّ الْحَلَاوِيِّ، وَابْنِ خَطِيبِ الْمِزَّةِ، وَجَمْعٍ جَمٍّ، ثُمَّ رَحَلَ إِلَى دِمَشْقَ، فَأَكْثَرَ الْمَسْمُوعَ وَنَسَخَ الْأَجْزَاءَ مَعَ السَّدَادِ وَالِاسْتِقَامَةِ وَالْإِفَادَةِ وَهُوَ وَالِدُ شَاعِرِ الْعَصْرِ الْعَلَّامَةِ جَمَالِ الدِّينِ بْنِ نُبَاتَةَ، وُوَلِيَ بِدِمَشْقَ مَشْيَخَةَ دَارِ الْحَدِيثِ النَّوَوِيَّةِ، وَمَاتَ بِهَا فِي ثَالِثِ صَفَرٍ سَنَةَ خَمْسِينَ وَسَبْعِ مِائَةٍ رَحِمَهُ اللَّهُ تَعَالَى
আস-সিজযী, মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল মালিক ইবনে আবিল শাওয়ারিব থেকে তাঁর এই সনদে (বর্ণনা করেছেন), ফলে এটি আমাদের নিকট একটি উচ্চস্তরের বিকল্প (বাদাল আলিন) হিসেবে পরিগণিত হয়েছে। আর ইমাম নাসায়ীও এটি বর্ণনা করেছেন উসমান ইবনে আব্দুল্লাহ থেকে, তিনি উমাইয়া ইবনে বিসতাম থেকে, তিনি ইয়াযীদ ইবনে যুরাই' থেকে, তিনি রাওহ ইবনুল কাসিম থেকে এবং তিনি সুহাইল থেকে।

সুতরাং আমাদের নিকট এটি তাঁর থেকে আমাদের দ্বিতীয় বর্ণনার বর্ণনাকারীদের সংখ্যার তুলনায় চার স্তর উচ্চে অবস্থিত। আর মনে হচ্ছে যেন আবুল ওয়াক্ত এটি নাসায়ীর সংকলকের সাথীর কাছ থেকে শুনেছেন, আর সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর।

মুহাম্মাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আল-হাসান ইবনে নুবাতাহ আল-ফারিকীর জীবনী।

আমাদের এই শাইখ ৬৬৬ হিজরীর ১০ই রবিউল আউয়াল মিশরে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি সেখানে ইজ্জুল হাররানী, মুহাম্মাদ ইবনে ইসমাইল আল-আনমাতি, গাজী আল-হালাওয়ী, ইবনে খাতেবিল মিয়্যাহ এবং এক বিশাল জামাতের নিকট (হাদিস) শ্রবণ করেন। অতঃপর তিনি দামেস্কে সফর করেন এবং সেখানে প্রচুর পরিমাণে শ্রবণ করেন ও দৃঢ়তা, নিষ্ঠা এবং উপকারের সাথে হাদিসের বিভিন্ন অংশ অনুলিপি করেন। তিনি এই যুগের প্রসিদ্ধ কবি আল্লামা জামালুদ্দীন ইবনে নুবাতাহর পিতা। তিনি দামেস্কে দারুল হাদিস আন-নবওয়ীয়্যাহ-এর প্রধান শাইখ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং সেখানেই ৭৫০ হিজরীর ৩রা সফর ইন্তেকাল করেন, আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন।
(খণ্ড: ১) আল আরবাউনা মিন আওয়ালিল মুজিজিন (পৃষ্ঠা: ৫৭)
‌‌الْحَدِيثُ الْخَامِسُ

أَخْبَرَنَا الْمُسْنِدُ الرِّحْلَةَ نَادِرَةَ الْوُجُودِ، أَبُو الْعَبَّاسِ أَحْمَدُ بْنُ أَبِي طَالِبِ بْنِ أَبِي النِّعَمِ نِعْمَةَ بْنِ حَسَنِ بْنِ عَلِيِّ بْنِ بَيَانٍ الصَّالِحِيُّ الْحَجَّارُ بْنُ الشِّحْنَةَ، إِذْنًا أَنَّ الْحُسَيْنَ بْنَ الْمُبَارَكِ الْوَاعِظَ أَخْبَرَهُمْ سَنَةَ ثَلَاثِينَ وَسِتِّ مِائَةٍ، أَخْبَرَنَا أَبُو الْوَقْتِ عَبْدُ الْأَوَّلِ بْنُ عِيسَى بْنِ شُعَيْبٍ الْهَرَوِيُّ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُظَفَّرِ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ أَعْيَنَ، أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ، أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ الْإِمَامُ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سِنَانٍ الْعَوَقِيُّ، حَدَّثَنَا سَلِيمُ بْنُ حَيَّانَ، حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ مِينَا، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ رضي الله عنهما، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " مَثَلِي وَمَثَلُ الْأَنْبِيَاءِ كَرَجُلٍ بَنَى دَارًا، فَأَكْمَلَهَا وَأَحْسَنَهَا إِلَّا مَوْضِعَ لَبِنَةٍ، فَجَعَلَ النَّاسُ يَدْخُلُونَهَا وَيَتَعَجَّبُونَ، وَيَقُولُونَ: لَوْلَا مَوْضِعُ اللَّبِنَةِ " هذَا حَدِيثٌ صَحِيحٌ عَالٍ، أَخْرَجَهُ التِّرْمِزِيُّ فِي جَامِعَهِ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْمَاعِيلَ الْبُخَارِيِّ بِإِسْنَادِهِ الَّذِي سُقْنَاهِ، فَوَقَعَ لَنَا مُوَافَقَةً
পঞ্চম হাদীস

আমাদেরকে সংবাদ দিয়েছেন মুসনিদ, দেশভ্রমণকারী এবং সমকালীন বিরল ব্যক্তিত্ব আবু আল-আব্বাস আহমদ ইবনে আবি তালিব ইবনে আবিল নিআম নিমাহ ইবনে হাসান ইবনে আলী ইবনে বায়ান আস-সালিহি আল-হাজ্জার ইবনে আশ-শিহনা—অনুমতিক্রমে—যে আল-হুসাইন ইবনুল মুবারক আল-ওয়াইজ ছয়শত ত্রিশ হিজরি সালে তাঁদেরকে সংবাদ দিয়েছেন। আমাদেরকে সংবাদ দিয়েছেন আবুল ওয়াকত আব্দুল আউয়াল ইবনে ঈসা ইবনে শুয়াইব আল-হারাউই। আমাদেরকে সংবাদ দিয়েছেন আব্দুর রহমান ইবনে মুহাম্মদ ইবনুল মুজাফফর। আমাদেরকে সংবাদ দিয়েছেন আব্দুল্লাহ ইবনে আহমদ ইবনে আইয়ান। আমাদেরকে সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ। আমাদেরকে সংবাদ দিয়েছেন ইমাম মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল। আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে সিনান আল-আওয়াকি। আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সালীম ইবনে হাইয়ান। আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সাঈদ ইবনে মিনা, তিনি জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "আমার এবং অন্যান্য নবীগণের দৃষ্টান্ত হলো সেই ব্যক্তির মতো, যে একটি ঘর নির্মাণ করল এবং তাকে সুসম্পন্ন ও সুশোভিত করল, কেবল একটি ইটের স্থান ব্যতীত। এরপর মানুষ তাতে প্রবেশ করতে লাগল এবং তারা বিস্ময় প্রকাশ করে বলতে লাগল: যদি এই ইটের স্থানটি পূর্ণ করা হতো!" এটি একটি সহীহ এবং উচ্চ পর্যায়ের (আলি) হাদীস। ইমাম তিরমিযী তাঁর জামে গ্রন্থে মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল আল-বুখারীর সূত্রে আমাদের উল্লিখিত সনদেই এটি বর্ণনা করেছেন, ফলে এটি আমাদের নিকট মুওয়াফাকাহ (সনদের উচ্চস্তর) হিসেবে গণ্য হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল আরবাউনা মিন আওয়ালিল মুজিজিন (পৃষ্ঠা: ৫৮)
عَالِيَةً لَهُ.

تَرْجَمَةُ أَحْمَدَ بْنِ أَبِي طَالِبٍ الْحَجَّارِ بْنِ الشِّحْنَةَ.

شَيْخُنَا هَذَا سُئِلَ عَنْ مَوْلِدِهِ مَرَّةً، فَقَالَ: أَذْكُرُ مَوْتَ الْمُعَظَّمِ، وَكَانَ مَوْتُهُ فِي سَلْخِ ذِي الْقِعْدَةِ سَنَةَ أَرْبَعٍ وَعِشْرِينَ وَسِتِّ مِائَةٍ، وَسُئِلَ عَنْ حِصَارِ النَّاصِرِ دَاوُدَ لِدِمَشْقَ، فَقَالَ: كُنْتُ أَرُوحُ بَيْنَ إِخْوَتِي إِلَى الْكُتَّابِ، قُلْتُ: وَكَانَ ذَلِكَ سَنَةَ سِتٍّ وَعِشْرِينَ وَسِتِّ مِائَةٍ، وَكَانَ فِي أَوَّلِ عُمْرِهِ خَيَّاطًا، ثُمَّ صَارَ مُقَدِّمَ الْحَجَّارِينَ بِقَلْعَةِ دِمَشْقَ، وَكَانَ قَوِيَّ النَّفْسِ عَالِيَ الْهِمَّةِ كَامِلَ الْبِنْيَةِ مَتَّعَهُ اللَّهُ بِحَوَاسِّهِ وَعَقْلِهِ، وَكَانَ إِلَيْهِ الْمُنْتَهَى فِي الصَّبْرِ عَلَى الْإِسْمَاعِ وَعَدَمِ النُّعَاسِ خَفِيَ عَلَى الْمُحَدِّثِينَ أَمْرَهُ إِلَى سَنَةِ سِتٍّ وَسَبْعِ مِائَةٍ، وَظَهَرَ اسْمُهُ فِي أَوْرَاقِ السَّامِعِينَ لِلصَّحِيحِ عَلَى ابْنِ الزُّبَيْدِيِّ، وَفِي جُمْلَةِ أَجْزَاءٍ عَلَى ابْنِ اللَّتِّيِّ، وَلَمْ يَظْهَرْ لَهُ السَّمَاعُ مِنْ غَيْرِهِمَا وَقَصَدَ بِالسَّمَاعِ، فَحَدَّثَ بِالصَّحِيحِ أَكْثَرَ مِنْ سِتِّينَ مَرَّةٍ بِدِمَشْقَ وَحِمْصَ وَبَعْلَبَكَّ وَحَمَاةَ وَالْقَاهِرَةَ وَمِصْرَ وَغَيْرِهَا، وَحَدَّثَ بِجُمْلَةٍ مِنْ عَوَالِي الْأَجْزَاءِ انْفَرَدَ بِهَا عَنْ شُيُوخِهِ بِالْإِجَازَةِ وَهُمْ نَحْوَ الْمِائَةِ مِنْهُمْ: أَبُو الْحَسَنِ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ عُمَرَ الْقَطِيعِيُّ الْمُؤَرِّخُ، وَهُوَ أَحَدُ رُوَاةِ الصَّحِيحِ عَنْ أَبِي الْوَقْتِ، وَلَهُ أَسَانِيدُ عَالِيَةٌ مِنْهَا: الثَّلَاثَةُ أَجْزَاءٍ الْأُوَلُ مِنْ أَوَّلِ حَدِيثِ الْمُخَلِّصِ، يَرْوِيهَا عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ الزَّاغُوَانِيِّ،
তাঁর জন্য সুউচ্চ সনদ রয়েছে।

আহমাদ বিন আবি তালিব আল-হাজ্জার বিন আল-শিহনার জীবনী।

আমাদের এই শাইখকে একবার তাঁর জন্ম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, তিনি বললেন: আমার আল-মুয়াজ্জামের মৃত্যুর কথা মনে আছে। তাঁর মৃত্যু হয়েছিল ছয়শ চব্বিশ হিজরি সনের জিলকদ মাসের শেষ দিকে। তাঁকে দামেস্কে আন-নাসির দাউদের অবরোধ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, তিনি বললেন: আমি আমার ভাইদের সাথে মক্তবে যেতাম। আমি (গ্রন্থকার) বলছি: সেটি ছিল ছয়শ ছাব্বিশ হিজরি সনের ঘটনা। তিনি তাঁর জীবনের শুরুর দিকে দর্জি ছিলেন, এরপর দামেস্ক দুর্গে পাথরমিস্ত্রিদের প্রধান হন। তিনি ছিলেন দৃঢ়চেতা, উচ্চাকাঙ্ক্ষী এবং সুঠাম দেহের অধিকারী। আল্লাহ তাঁকে তাঁর ইন্দ্রিয়সমূহ ও বুদ্ধিবৃত্তি দ্বারা উপকৃত করেছিলেন। হাদিস শ্রবণের ক্ষেত্রে ধৈর্য ধারণ ও তন্দ্রাচ্ছন্ন না হওয়ার বিষয়ে তিনি ছিলেন অনন্য। সাতশ ছয় হিজরি সাল পর্যন্ত মুহাদ্দিসগণের কাছে তাঁর বিষয়টি অপ্রকাশিত ছিল। এরপর ইবনুল জুবাইদির নিকট ‘সহিহ’ শ্রবণকারীদের নথিপত্রে এবং ইবনুল লাত্তির নিকট বিভিন্ন হাদিসের খণ্ড শ্রবণের ক্ষেত্রে তাঁর নাম প্রকাশ পায়। এই দুজন ছাড়া অন্য কারও থেকে তাঁর হাদিস শ্রবণ প্রমাণিত হয়নি এবং হাদিস শ্রবণের উদ্দেশ্যে তাঁর কাছে আসা শুরু হয়। তিনি দামেস্ক, হিমস, বালবাক, হামাহ, কায়রো, মিসর এবং অন্যান্য স্থানে ষাটবারেরও বেশি ‘সহিহ’ বর্ণনা করেছেন। তিনি উচ্চ পর্যায়ের বেশ কিছু খণ্ড বর্ণনা করেছেন যা তিনি তাঁর শাইখদের নিকট থেকে ইজাজতের মাধ্যমে এককভাবে লাভ করেছিলেন। তাঁর শাইখদের সংখ্যা ছিল প্রায় একশ জন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন: ঐতিহাসিক আবুল হাসান মুহাম্মদ বিন আহমাদ বিন উমর আল-কাতিয়ি, যিনি আবু আল-ওয়াক্তের নিকট থেকে ‘সহিহ’-এর অন্যতম বর্ণনাকারী। তাঁর কিছু সুউচ্চ সনদ রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে: আল-মুখলিসের হাদিসের প্রথম তিনটি খণ্ড, যা তিনি আবু বকর বিন আল-জাগুয়ানি থেকে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল আরবাউনা মিন আওয়ালিল মুজিজিন (পৃষ্ঠা: ৫৯)
عَنِ ابْنِ الْبُسْرِيِّ عَنْهُ، وَمِنْهُمْ: أَنْجَبُ بْنُ أَبِي السَّعَادَاتِ أَحَدُ رُوَاةِ «سُنَنِ ابْنِ مَاجَهْ» عَنْ أَبِي زُرْعَةَ، وَمِنْهُمْ: عَبْدُ اللَّطِيفِ بْنُ الْقُبَّيْطِيِّ رَاوِي «سُنَنِ النَّسَائِيِّ» عَنْ أَبِي زُرْعَةَ، وَمِنْهُمْ: أَبُو سَعِيدِ بْنُ الْخَازِنِ رَاوِي «مُسْنَدِ الشَّافِعِيِّ» عَنْ أَبِي زُرْعَةَ.

وَأَجَازَ لَهُ مِنْ أَهْلِ دِمَشْقَ جَعْفَرُ بْنُ عَلِيٍّ الْهَمْدَانِيُّ صَاحِبُ السَّلَفِيِّ، وَرَاوِي أَكْثَرِ حَدِيثِهِ.

وَمِنْ مَسْمُوعِهِ عَلَى ابْنِ اللَّتِّيِّ مُسْنَدُ الدَّرِامِيِّ، وَعَبْدِ بْنِ حُمَيْدٍ، بِفَوْتٍ فِيهِمَا، وَجُزْءُ أَبِي الْجَهْمِ، وَجُزْءُ ابْنِ مَخْلَدٍ، وَأَرْبَعُو الْآجُرِّيِّ، وَأَوْرَاقٌ مِنْ أَوَّلِ حَدِيثِ الْهَاشِمِيِّ، وَغَيْرُ ذَلِكَ.

تُوُفِّيَ شَيْخُنَا فِي خَامِسِ عَشَرَ صَفَرٍ سَنَةَ ثَلَاثِينَ وَسَبْعِ مِائَةٍ، وَقَدْ قَارَبَ مِائَةً وَعِشْرِينَ رَحِمَهُ اللَّهُ تَعَالَى
ইবনে আল-বুসরী থেকে তাঁর মাধ্যমে বর্ণিত, এবং তাঁদের মধ্যে রয়েছেন: আনজাব বিন আবু আল-সাআদাত, যিনি আবু জুরআহ্ থেকে বর্ণিত ‘সুনান ইবনে মাজাহ’-এর অন্যতম বর্ণনাকারী; এবং তাঁদের মধ্যে রয়েছেন: আব্দুল লতিফ বিন আল-কুবাইতী, যিনি আবু জুরআহ্ থেকে বর্ণিত ‘সুনান আন-নাসায়ী’-এর বর্ণনাকারী; এবং তাঁদের মধ্যে রয়েছেন: আবু সাঈদ বিন আল-খাযিন, যিনি আবু জুরআহ্ থেকে বর্ণিত ‘মুসনাদে শাফেয়ী’-এর বর্ণনাকারী।

দামেস্কবাসীদের মধ্য থেকে আস-সালাফীর সহচর এবং তাঁর অধিকাংশ হাদীসের বর্ণনাকারী জাফর বিন আলী আল-হামদানী তাঁকে ইজাযত প্রদান করেছেন।

ইবনে আল-লাত্তীর নিকট তাঁর শ্রুত গ্রন্থসমূহের মধ্যে রয়েছে: মুসনাদে দারেমী ও মুসনাদে আব্দ বিন হুমাইদ (উভয়টিতে কিছু অংশ শ্রবণে বাদ পড়েছে), জুজউ আবি আল-জাহম, জুজউ ইবনে মাখলাদ, আল-আজুরীর ‘চল্লিশ হাদীস’, হাশেমীর হাদীসের শুরুর দিকের কিছু পৃষ্ঠা এবং আরও অন্যান্য।

আমাদের শায়খ ৭৩০ হিজরী সালের ১৫ই সফর মৃত্যুবরণ করেন এবং তাঁর বয়স তখন প্রায় একশ বিশ বছরের কাছাকাছি হয়েছিল। আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন।
(খণ্ড: ১) আল আরবাউনা মিন আওয়ালিল মুজিজিন (পৃষ্ঠা: ৬০)
‌‌الْحَدِيثُ السَّادِسُ

أَخْبَرَنَا أَبُو الْعَلَاءِ أَيُّوبُ بْنُ نِعْمَةَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ جَعْفَرٍ النَّابُلْسِيُّ الْمَقْدِسِيُّ، ثُمَّ الدِّمَشْقِيُّ إِجَازَةً، أَنَّ مُحَمَّدَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ الْمُرْسِيَّ أَخْبَرَهُ، أَخْبَرَنَا مَنْصُورُ بْنُ عَبْدِ الْمُنْعِمِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الصَّاعِدِيُّ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ الْجَبَّارِ بْنُ مُحَمَّدٍ الْخُوَارِيُّ، أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ الْحُسَيْنِ الْبَيْهَقِيُّ الْحَافِظُ، أَخْبَرَنَا أَبُو الْقَاسِمِ بْنُ أَبِي هَاشِمٍ الْعَلَوِيُّ، أَخْبَرَنَا أَبُو جَعْفَرِ بْنُ دُحَيْمٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ، حَدَّثَنَا الْفَضْلُ بْنُ دُكَيْنٍ.

ح وَأَنْبَأَنَا أَحْمَدُ بْنُ نِعْمَةَ عَالِيًا، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ أَخْبَرَهُ، أَخْبَرَنَا أَبُو الْوَقْتِ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مُحَمْدٍ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ، أَخْبَرَنَا عِيسَى بْنُ عُمَرَ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْحَافِظُ، حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ هُوَ الْفَضْلُ بْنُ دُكَيْنٍ، حَدَّثَنَا مُصْعَبُ بْنُ سُلَيْمٍ، قَالَ: سَمِعْتُ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ رضي الله عنه، يَقُولُ: " أُهْدِيَ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم تَمْرٌ فَأَخَذَ يُهْدِيهِ، وَقَالَ: رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَأْكُلُ تَمْرًا مُقْعِيًا مِنَ الْجُوعِ «

السِّيَاقُ لِرِوَايَةِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ.

أَخْرَجَهُ التِّرْمِزِيُّ فِي الْجَامِعِ، عَنْ أَحْمَدَ بْنِ مَنِيعٍ، عَنْ أَبِي
ষষ্ঠ হাদীস

আবু আল-আলা আইয়ুব ইবনে নিমাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে জাফর আন-নাবলুসি আল-মাকদিসি, অতঃপর আদ-দিমাশকি আমাদের ইজাজাহ (অনুমতি) সূত্রে সংবাদ দিয়েছেন যে, মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ আল-মুরসি তাকে সংবাদ দিয়েছেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মনসুর ইবনে আবদুল মুনইম ইবনে আবদুল্লাহ আস-সাইদি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবদুল জব্বার ইবনে মুহাম্মদ আল-খুওয়ারি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর আহমদ ইবনে আল-হুসাইন আল-বাইহাকি আল-হাফিজ, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-কাসিম ইবনে আবি হাশিম আল-আলাভি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু জাফর ইবনে দুহাইম, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে আল-হুসাইন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-ফাদল ইবনে দুকাইন।

সনদ রূপান্তর: এবং আমাদের আহমদ ইবনে নিমাহ উচ্চতর সূত্রে সংবাদ দিয়েছেন যে, আবদুল্লাহ ইবনে উমর তাকে সংবাদ দিয়েছেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-ওয়াকত, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবদুর রহমান ইবনে মুহাম্মদ, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবদুল্লাহ ইবনে আহমদ, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ঈসা ইবনে উমর, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবদুল্লাহ ইবনে আবদুর রহমান আল-হাফিজ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু নুয়াইম—যিনি হলেন আল-ফাদল ইবনে দুকাইন—আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুসআব ইবনে সুলাইম, তিনি বলেন: আমি আনাস ইবনে মালিক (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: "নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট কিছু খেজুর উপহার হিসেবে পাঠানো হয়েছিল, অতঃপর তিনি তা উপহার দিতে শুরু করলেন। তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে ক্ষুধার কারণে উবু হয়ে বসে খেজুর খেতে দেখেছি।"

বর্ণনার বিন্যাসটি আবদুল্লাহ ইবনে আবদুর রহমানের।

এটি তিরমিযী তার জামি' গ্রন্থে আহমদ ইবনে মানি'-এর সূত্রে, আবু... থেকে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল আরবাউনা মিন আওয়ালিল মুজিজিন (পৃষ্ঠা: ৬১)
نُعَيْمِ الْفَضْلِ بْنِ دُكَيْنٍ، فَوَقَعَ لَنَا بَدَلًا عَالِيًا.

تَرْجَمَةُ أَيُّوبَ بْنِ نِعْمَةَ النَّابُلْسِيِّ الْمَقْدِسِيِّ ثُمَّ الدِّمَشْقِيِّ الْكَحَّالِ.

شَيْخُنَا هَذَا وُلِدَ سَنَةَ أَرْبَعِينَ وَسِتِّ مِائَةٍ، وَسَمِعَ مِنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ الْعِرَاقِيِّ، وَعُثْمَانَ ابْنِ خَطِيبِ الْقَرَافَةِ، وَأَبِي عَبْدِ اللَّهِ الْمُرْسِيِّ، وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي طَاهِرٍ الْخُشُوعِيِّ وَحَفِظَ مِنَ» التَّنْبِيهِ " قِطْعَةً، وَاشْتَغَلَ عَلَى طَاهِرِ بْنِ أَبِي الْفَضْلِ الْكَحَّالِ، مُدَّةً وَبَرَعَ فِي صِنَاعَتِهِ، وَتَكَسَّبَ بِهَا نَحْوًا مِنْ سَبْعِينَ سَنَةٍ، وَحَدَّثَ بِمِصْرَ وَدِمَشْقَ، وَرُتِّبَ مُسْمِعًا فِي دَارِ الْحَدِيثِ الْأَشْرَفِيَّةِ إِلَى أَنْ تُوُفِّيَ فِي ذِي الْحِجَّةِ سَنَةَ ثَلَاثِينَ وَسَبْعِ مِائَةٍ، عَنْ أَزْيَدَ مِنْ تِسْعِينَ سَنَةٍ.

وَمِنْ مَسْمُوعِهِ عَلَى الْعِرَاقِيِّ، وَابْنِ الْخَطِيبِ نَحْوَ الثُّلُثَيْنِ مِنْ سُنَنِ النَّسَائِيِّ الصُّغْرَى، بِإِجَازَتِهِمَا مِنَ السِّلَفِيِّ، وَأَجَازَهُ الْعِرَاقِيُّ عَنْ جَمَاعَةٍ بِسَمَاعِهِمْ مِنَ الدُّونِيِّ، أَخْبَرَنَا ابْنُ الْكَسَّارِ، أَخْبَرَنَا ابْنُ السُّنِّيِّ عَنْهُ، وَمِنْ مَسْمُوعِهِ عَلَى الْمُرْسِيِّ كِتَابَ الْأَدَبِ، لِلْبَيْهَقِيِّ وَتَفَرَّدَ بِهِ رَحِمَهُ اللَّهُ تَعَالَى.
নুআইম আল-ফাদল বিন দুকাইন, ফলে এটি আমাদের নিকট উচ্চতর পর্যায়ের 'বাদাল' হিসেবে সাব্যস্ত হয়েছে।

আইয়ুব বিন নিমাহ আন-নাবলুসি আল-মাকদিসি, অতঃপর আদ-দিমাশকি আল-কাহহাল-এর জীবনী।

আমাদের এই শাইখ ৬৪০ হিজরি সালে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ইসমাঈল বিন আল-ইরাকি, উসমান বিন খাতিব আল-কারাফা, আবু আব্দুল্লাহ আল-মুরসি এবং আব্দুল্লাহ বিন আবি তাহির আল-খুশুয়ি-এর নিকট হাদীস শ্রবণ করেছেন। তিনি 'আত-তানবিহ' গ্রন্থের একটি অংশ মুখস্থ করেছিলেন এবং দীর্ঘকাল তাহির বিন আবিল ফাদল আল-কাহহাল-এর নিকট চক্ষুচিকিৎসা বিদ্যায় নিয়োজিত থেকে এই শিল্পে পারদর্শিতা অর্জন করেন। তিনি প্রায় সত্তর বছর যাবৎ এই পেশায় যুক্ত ছিলেন। তিনি মিসর ও দামেস্কে হাদীস বর্ণনা করেছেন এবং মৃত্যু অবধি দারুল হাদীস আল-আশরাফিয়া-তে হাদীস পাঠকারী হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন। অবশেষে ৭৩০ হিজরি সালের জিলহজ মাসে নব্বই বছরেরও অধিক বয়সে তিনি ইন্তেকাল করেন।

আল-ইরাকি এবং ইবনুল খাতিব-এর নিকট তাঁর শ্রুত বিষয়ের মধ্যে রয়েছে 'সুনানে নাসাঈ আস-সুগরা'-এর প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ, যা আস-সিলাফি থেকে প্রাপ্ত তাঁদের ইজাজত অনুযায়ী। আল-ইরাকি তাঁকে একদল রাবির পক্ষ থেকে ইজাজত প্রদান করেছেন যারা আদ-দুনি থেকে শ্রবণ করেছিলেন; ইবনুল কাসসার আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি ইবনুস সুন্নি থেকে আমাদের নিকট এটি বর্ণনা করেছেন। এছাড়া আল-মুরসি-এর নিকট তাঁর শ্রুত বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত হলো বায়হাকির 'কিতাবুল আদব', যা বর্ণনায় তিনি একক ও অনন্য ছিলেন, আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন।
(খণ্ড: ১) আল আরবাউনা মিন আওয়ালিল মুজিজিন (পৃষ্ঠা: ৬২)
‌‌الْحَدِيثُ السَّابِعُ

أَخْبَرَنَا الْعَلَّامَةُ قَاضِي الْقُضَاةِ شَرَفُ الدِّينِ أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ الْحَافِظِ أَبِي مُوسَى عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْحَافِظِ عَبْدِ الْغَنِيِّ الْمَقْدِسِيُّ الْحَنْبَلِيُّ فِي كِتَابِهِ، أَنَّ مَكِيَّ بْنَ عَلَّانٍ أَخْبَرَهُ، أَخْبَرَنَا عَلِيُّ بْنُ خَلْدُونَ، أَخْبَرَنَا عَلِيُّ بْنُ الْحَسَنِ الْمَوَازِينِيُّ، أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي نَصْرٍ، أَخْبَرَنَا يُوسُفُ بْنُ الْقَاسِمِ الْمَيَانَجِيُّ، أَخْبَرَنَا أَبُو الْعَبَّاسِ مُحَمَّدُ بْنُ يَعْقُوبَ الْهَاشِمِيُّ، حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الْحَنْظَلِيُّ، أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ جُبَيْرِ بْنِ مُطْعِمٍ، عَنْ أَبِيهِ رضي الله عنه، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: " إِنَّ لِي أَسْمَاءً، أَنَا مُحَمَّدٌ، وَأَنَا أَحْمَدُ، وَأَنَا الْمَاحِي الَّذِي يُمْحَى بِيَ الْكُفْرُ، وَأَنَا الْحَاشِرُ الَّذِي يُحْشَرُ النَّاسُ عَلَى قَدَمَيَّ، وَأَنَا الْعَاقِبُ، قَالَ: وَالْعَاقِبُ الَّذِي لَيْسَ بَعْدَهُ نَبِيٌّ "

أَخْرَجَهُ مُسْلِمٌ فِي صَحِيحِهِ، عَنْ إِسْحَاقَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ الْحَنْظَلِيِّ، فَوَافَقْنَاهُ بِعُلُوٍّ.
সপ্তম হাদিস

আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আল্লামা, প্রধান বিচারপতি শরফুদ্দীন আবু মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ বিন আল-হাসান বিন আল-হাফিয আবু মুসা আব্দুল্লাহ বিন আল-হাফিয আব্দুল গনী আল-মাকদিসী আল-হাম্বলী তাঁর কিতাবে যে, মাক্কী বিন আল্লান তাঁকে সংবাদ দিয়েছেন; আলী বিন খালদুন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন; আলী বিন আল-হাসান আল-মাওয়াযিনী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন; মুহাম্মাদ বিন আব্দুর রহমান বিন আবু নাসর আমাদের সংবাদ দিয়েছেন; ইউসুফ বিন আল-কাসিম আল-মায়ানাজী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন; আবুল আব্বাস মুহাম্মাদ বিন ইয়াকুব আল-হাশিমী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন; ইসহাক বিন ইবরাহিম আল-হানযালী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন; সুফিয়ান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যুহরী থেকে, তিনি মুহাম্মাদ বিন জুবায়ের বিন মুত’ইম থেকে, তিনি তাঁর পিতা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে, তিনি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: "নিশ্চয়ই আমার কয়েকটি নাম রয়েছে: আমি মুহাম্মাদ, আমি আহমাদ, আমি আল-মাহি (বিদূরণকারী) যার মাধ্যমে কুফরকে মিটিয়ে দেওয়া হয়, আমি আল-হাশির (একত্রকারী) যাঁর পায়ের কাছে মানুষকে হাশরে একত্রিত করা হবে এবং আমি আল-আকিব।" তিনি বললেন: "আর আল-আকিব হলেন তিনি যাঁর পরে আর কোনো নবী নেই।"

ইমাম মুসলিম তাঁর সহীহ গ্রন্থে এটি ইসহাক বিন ইবরাহিম আল-হানযালী থেকে বর্ণনা করেছেন, ফলে আমরা উচ্চ সনদে তাঁর সাথে মিলিত হয়েছি।
(খণ্ড: ১) আল আরবাউনা মিন আওয়ালিল মুজিজিন (পৃষ্ঠা: ৬৩)
تَرْجَمَةُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْحَسَنِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْحَافِظِ عَبْدِ الْغَنِيِّ الْمَقْدِسِيِّ.

شَيْخُنَا هَذَا وُلِدَ سَنَةَ سِتٍّ وَأَرْبَعِينَ وَسِتِّ مِائَةٍ، وَحَضَرَ عَلَى أَبِي الْحَسَنِ عَلِيِّ بْنِ يُوسُفَ الصُّورِيِّ: أَرْبَعِيَّ الْحَسَنِ بْنِ سُفْيَانَ، وَسَمِعَ مِنْ خَطِيبِ مَرْدَا: السِّيرَةَ تَهْذِيبَ ابْنِ هِشَامٍ، وَمُسْنَدَ أَبِي يَعْلَى الْمَوْصِلِيِّ، بِتَمَامِهِ، وَأَرْبَعِيَّ ابْنِ الْمُقْرِئِ، وَمِنْ مَكِيِّ بْنِ عِلَّانٍ: جُزْءَ إِسْحَاقَ بْنِ رَاهَوَيْهِ، وَالْأَوَّلُ وَالثَّانِي مِنْ فَوَائِدِ سُخْتَامَ، وَمِنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْيَلْدَانِيِّ: مَجَالِسَ أَبِي يَعْلَى الثَّلَاثَةَ، وَجُزْءَ ابْنِ عَرَفَةَ وَمِنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ خَلِيلٍ: مَسَاوِئَ الْأَخْلَاقِ لِلْخَرَائِطِيِّ، وَنُسْخَةَ أَبِي مُسْهِرٍ، وَمِنْ مُحَمَّدِ بْنِ سَعْدٍ: صَحِيفَةَ هَمَّامِ بْنِ مُنَبِّهٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه، رِوَايَةَ أَبِي نُعَيْمٍ، وَحَدَّثَ قَدِيمًا، وَكَانَ فَقِيهًا مُفْتِيًا، مَحْمُودَ السِّيرَةِ، مُتَوَاضِعًا، نَابَ فِي الْحُكْمِ مُدَّةً، وَلِيَ قَضَاءَ الْقُضَاةِ قَلِيلًا، مَاتَ فُجَاءَةً فِي مُسْتَهَلِّ جُمَادَى الْأُولَى سَنَةَ اثْنَتَيْنِ وَثَلَاثِينَ وَسَبْعِ مِائَةٍ رَحِمَهُ اللَّهُ تَعَالَى.
আব্দুল্লাহ ইবনুল হাসান ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনুল হাফিয আব্দুল গনি আল-মাকদিসী-এর জীবনী।

আমাদের এই শাইখ ৬৪৬ হিজরী সনে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি আবুল হাসান আলী ইবনে ইউসুফ আস-সূরীর নিকট হাসান ইবনে সুফিয়ানের আরবাঈন শ্রবণ করেন; এবং খতীব মারদার নিকট ইবনে হিশামের তাহযীবুস সীরাহ, আবু ইয়ালা আল-মাওসিলীর মুসনাদ সম্পূর্ণ এবং ইবনুল মুকরীর আরবাঈন শ্রবণ করেন। মাক্কী ইবনে ইল্লান-এর নিকট ইসহাক ইবনে রাহওয়াইহ-এর জুয এবং সুখতাম-এর ফাওয়ায়েদ-এর প্রথম ও দ্বিতীয় খণ্ড শ্রবণ করেন। আব্দুর রহমান আল-ইয়ালদানীর নিকট আবু ইয়ালার তিনটি মজলিস এবং ইবনে আরাফার জুয শ্রবণ করেন। ইব্রাহীম ইবনে খলিলের নিকট খারায়েতীর মাসাউইল আখলাক এবং আবু মুসহিরের নুসখা শ্রবণ করেন। মুহাম্মদ ইবনে সা’দ-এর নিকট আবু নুআইমের বর্ণনায় আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাম্মাম ইবনে মুনাব্বিহ-এর সহীফা শ্রবণ করেন। তিনি অনেক পূর্ব থেকেই হাদিস বর্ণনা করেছেন। তিনি একজন ফকীহ ও মুফতী ছিলেন, তাঁর জীবন চরিত ছিল প্রশংসনীয় এবং তিনি অত্যন্ত বিনয়ী ছিলেন। তিনি দীর্ঘকাল বিচারকার্যে প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং অল্প সময়ের জন্য প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব লাভ করেন। তিনি ৭৩২ হিজরী সনের জুমাদাল উলা মাসের শুরুতে আকস্মিকভাবে ইন্তেকাল করেন। আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন।
(খণ্ড: ১) আল আরবাউনা মিন আওয়ালিল মুজিজিন (পৃষ্ঠা: ৬৪)
‌‌الْحَدِيثُ الثَّامِنُ

أَخْبَرَنَا الرَّئِيسُ أَبُو الْعَبَّاسِ أَحْمَدُ بْنُ إِدْرِيسَ بْنِ مُحَمَّدٍ الْمُفَرِّجُ التَّنُوخِيُّ، الْكَاتِبُ الْحَمَوِيُّ فِي كِتَابِهِ وَهُوَ أَوَّلُ حَدِيثٍ رَوَيْتُهُ عَنْهُ، أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْحَافِظُ الْبَكْرِيُّ، وَهُوَ أَوَّلُ حَدِيثٍ سَمِعْتُهُ مِنْهُ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَبْدِ الْوَهَّابِ بْنِ الْمُعَزِّمِ، وَهُوَ أَوَّلُ حَدِيثٍ سَمِعْتُهُ مِنْهُ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْكَرِيمِ بْنُ مُحَمَّدٍ الْخَيَّامُ، وَهُوَ أَوَّلُ حَدِيثٍ سَمِعْتُهُ مِنْهُ، حَدَّثَنَا أَبُو صَالِحٍ أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ الْمَلِكِ الْمُؤَذِّنُ، وَهُوَ أَوَّلُ حَدِيثٍ سَمِعْتُهُ مِنْهُ، حَدَّثَنَا أَبُو طَاهِرِ بْنُ زِيَادٍ، وَهُوَ أَوَّلُ حَدِيثٍ سَمِعْتُهُ مِنْهُ، حَدَّثَنَا أَبُو حَامِدٍ بِلَالٌ، وَهُوَ أَوَّلُ حَدِيثٍ سَمِعْتُهُ مِنْهُ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ بِشْرِ بْنِ الْحَكَمِ، وَهُوَ أَوَّلُ حَدِيثٍ سَمِعْتُهُ مِنْهُ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، وَهُوَ أَوَّلُ حَدِيثٍ سَمِعْتُهُ مِنْهُ، عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ، عَنْ أَبِي قَابُوسَ مَوْلَى عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو رضي الله عنهما، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «الرَّاحِمُونَ يَرْحَمُهُمُ الرَّحْمَنُ تبارك وتعالى، ارْحَمُوا مَنْ فِي
অষ্টম হাদিস

প্রধান আবু আল-আব্বাস আহমদ বিন ইদ্রিস বিন মুহাম্মদ আল-মুফাররিজ আত-তানুখি, হামার লেখক, তাঁর কিতাবে আমাদের অবহিত করেছেন—এবং এটিই তাঁর থেকে আমার বর্ণিত প্রথম হাদিস—তিনি বলেন: আল-হাসান বিন মুহাম্মদ আল-হাফেজ আল-বাকরি আমাদের অবহিত করেছেন—এবং এটি তাঁর থেকে আমার শোনা প্রথম হাদিস—তিনি বলেন: আবদুর রহমান বিন আব্দুল ওয়াহহাব বিন আল-মুয়াজ্জিম আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন—এবং এটি তাঁর থেকে আমার শোনা প্রথম হাদিস—তিনি বলেন: আব্দুল করিম বিন মুহাম্মদ আল-খাইয়াম আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন—এবং এটি তাঁর থেকে আমার শোনা প্রথম হাদিস—তিনি বলেন: আবু সালেহ আহমদ বিন আব্দুল মালিক আল-মুয়াজ্জিন আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন—এবং এটি তাঁর থেকে আমার শোনা প্রথম হাদিস—তিনি বলেন: আবু তাহের বিন জিয়াদ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন—এবং এটি তাঁর থেকে আমার শোনা প্রথম হাদিস—তিনি বলেন: আবু হামিদ বিলাল আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন—এবং এটি তাঁর থেকে আমার শোনা প্রথম হাদিস—তিনি বলেন: আবদুর রহমান বিন বিশর বিন আল-হাকাম আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন—এবং এটি তাঁর থেকে আমার শোনা প্রথম হাদিস—তিনি বলেন: সুফিয়ান বিন উয়ায়না আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন—এবং এটি তাঁর থেকে আমার শোনা প্রথম হাদিস—আমর বিন দিনার থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ বিন আমর বিন আল-আসের মুক্তদাস আবু কাবুস থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ বিন আমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «দয়াশীলদের প্রতি পরম দয়াময় (যিনি বরকতময় ও সুউচ্চ) দয়া করেন। তোমরা দয়া করো তাদের প্রতি যারা...
(খণ্ড: ১) আল আরবাউনা মিন আওয়ালিল মুজিজিন (পৃষ্ঠা: ৬৫)
الْأَرْضِ يَرْحَمْكُمْ مَنْ فِي السَّمَاءِ» هَذَا حَدِيثٌ صَحِيحٌ غَرِيبٌ أَخْرَجَهُ أَبُو دَاوُدَ، عَنْ مُسَدَّدٍ، وَأَبِي بَكْرِ بْنِ شَيْبَةَ، وَالتِّرْمِذِيُّ عَنِ ابْنِ أَبِي عُمَرَ، ثَلَاثتَهُمْ عَنْ سُفْيَانَ بْنِ عُيَيْنَةَ بِهِ مِنْ غَيْرِ تَسَلْسُلٍ، فَوَقَعَ لَنَا بَدَلًا لَهُمَا، وَرَوَاهُ عَنْ ، سُفْيَانَ كَذَلِكَ أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، مَحْمُودُ بْنُ آدَمَ وَالْحُمَيْدِيُّ وَغَيْرِهِمْ، وَخَالَفَهُمُ الْحَسَنُ بْنُ مُحَمَّدٍ الزَّعْفَرَانِيُّ، فَزَادَ فِي إِسْنَادِهِ ابْنًا لِعَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، وَلَمْ يُتَابِعْ عَلَى ذَلِكَ، وَأَبُو قَابُوسَ مَجْهُولٌ لَكِنَّهُ لَمْ يُضَعَّفْ، وَقَدْ حَكَمَ الْحَافِظُ أَبُو عِيسَى بِصِحَّتِهِ، وَتَابَعَهُ جَمَاعَةٌ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو بِمَعْنَاهُ، وَلِلْحَدِيثِ شَوَاهِدُ كَثِيرَةٌ مِنْ حَدِيثِ جَمَاعَةٍ مِنَ الصَّحَابَةِ رضي الله عنهم لَا يَتَّسِعُ هَذَا الْمَكَانُ لَهَا.

“...জমিনে যারা আছে তাদের প্রতি দয়া করো, তবে যিনি আসমানে আছেন তিনি তোমাদের প্রতি দয়া করবেন।” এটি একটি সহীহ গরীব হাদীস। এটি বর্ণনা করেছেন আবু দাউদ মুসাদ্দাদ ও আবু বকর বিন শায়বাহ থেকে, এবং তিরমিযী ইবনে আবি উমর থেকে; তাঁরা তিনজনই সুফিয়ান ইবনে উয়াইনা থেকে কোনো প্রকার পরম্পরাগত বৈশিষ্ট্য (তাসালসুল) ছাড়াই এটি বর্ণনা করেছেন। ফলে এটি আমাদের নিকট তাঁদের জন্য একটি ‘বদল’ (উচ্চতর বিকল্প সনদ) হিসেবে গণ্য হয়েছে। সুফিয়ান থেকে একইভাবে এটি বর্ণনা করেছেন আহমদ বিন হাম্বল, মাহমুদ বিন আদম, আল-হুমাইদী এবং অন্যান্যরা। তবে হাসান বিন মুহাম্মদ আল-জা’ফরানী তাঁদের বিরোধিতা করেছেন; তিনি এর সনদে আব্দুল্লাহ বিন আমরের এক পুত্রকে অতিরিক্ত যুক্ত করেছেন, কিন্তু এ বিষয়ে কেউ তাঁর অনুসরণ করেননি। আবু কাবুস একজন অপরিচিত বর্ণনাকারী হলেও তাঁকে দুর্বল বলা হয়নি। হাফেজ আবু ঈসা (তিরমিযী) হাদীসটি সহীহ হওয়ার রায় দিয়েছেন। বর্ণনাকারীদের একটি দল আব্দুল্লাহ বিন আমর থেকে একই অর্থে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। একদল সাহাবী (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) থেকে বর্ণিত এই হাদীসটির অনেক শাহিদ (সমর্থনকারী বর্ণনা) রয়েছে, যা এখানে উল্লেখ করার মতো পর্যাপ্ত স্থান নেই।

(খণ্ড: ১) আল আরবাউনা মিন আওয়ালিল মুজিজিন (পৃষ্ঠা: ৬৬)
تَرْجَمَةُ أَحْمَدَ بْنِ إِدْرِيسَ بْنِ مُحَمَّدٍ التَّنُوخِيِّ.

شَيْخُنَا هَذَا وُلِدَ سَنَةَ ثَلَاثٍ وَأَرْبَعِينَ وَسِتِّ مِائَةٍ، وَأَحْضَرَ عَلَى صَفِّيَةَ بِنْتِ عَبْدِ الْوَهَّابِ الْقُرَشِيَّةِ، وَتَفَرَّدَ بِالرِّوَايَةِ عَنْهَا، وَأَسْمَعَهُ أَبُوهُ مِنْ مَكِيِّ بْنِ عَلَّانٍ، وَمُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الْهَادِي، وَأَبِي عَلِيٍّ الْبَكْرِيِّ، وَشَيْخِ الشُّيُوخِ الْحَمَوِيِّ، وَالشَّرَفِ الْإِرْبَلِيِّ، وَأَبِي عَبْدِ اللَّهِ الْيُونِينِيِّ، ثُمَّ طَلَبَ بِنَفْسِهِ وَسَمِعَ مِنَ ابْنِ عَبْدِ الدَّائِمِ وَطَبَقَتِهِ، وَأَجَازَ لَهُ أَبُو الْقَاسِمِ بْنُ رَوَاحَةَ أَحَدُ الْمُكْثِرِينَ، عَنْ أَبِي طَاهِرٍ السِّلَفِيِّ، وَأَجَازَ لَهُ مِنْ بَغْدَادَ إِبْرَاهِيمُ بْنُ الْخَيِّرِ، وَأَعَزُّ بْنُ الْعُليقِ، اللَّامُ بَيْنَ الْفَتْحَةِ وَالْكَسْرَةِ، وَأَبُو الْقَاسِمِ بْنُ الْقُمَيْرَةَ، وَفَضْلُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الرَّزَّاقِ الْجِيلِيُّ فِي آخَرِينَ يَزِيدُونَ عَلَى الْمِائَتَيْنِ، وَحَدَّثَ قَدِيمًا فِي سَنَةِ ثَمَانِينَ وَسِتِّ مِائَةٍ، وَتَفَرَّدَ، تُوُفِّيَ فِي شَهْرِ رَمَضَانَ سَنَةَ ثَلَاثٍ وَثَلَاثِينَ وَسَبْعِ مِائَةٍ.
আহমদ বিন ইদ্রিস বিন মুহাম্মাদ আত-তানুখীর জীবনী।

আমাদের এই শায়খ ছয়শত তেতাল্লিশ হিজরি সনে জন্মগ্রহণ করেন এবং শৈশবে তাকে সাফিয়্যাহ বিনতে আব্দুল ওয়াহহাব আল-কুরাশিয়্যাহ-র নিকট (হাদিস শ্রবণের জন্য) উপস্থিত করা হয়েছিল এবং পরবর্তীতে তিনি তার থেকে বর্ণনা করার ক্ষেত্রে অনন্য হয়ে ওঠেন। তার পিতা তাকে মাক্কি বিন আল্লান, মুহাম্মাদ বিন আব্দুল হাদি, আবু আলি আল-বাকরি, শায়খুশ শুয়ুখ আল-হামাউয়ি, আশ-শারাফ আল-ইরবিলি এবং আবু আব্দুল্লাহ আল-ইউনিনির নিকট থেকে শ্রবণ করিয়েছেন। অতঃপর তিনি নিজেই জ্ঞান অন্বেষণ শুরু করেন এবং ইবনুল আব্দুল দায়িম ও তার সমসাময়িক স্তরের আলেমদের থেকে শ্রবণ করেন। আবু তাহের আস-সিলাফির সূত্রে প্রচুর হাদিস বর্ণনাকারীদের অন্যতম আবুল কাসিম বিন রাওয়াহা তাকে ইজাজাহ প্রদান করেছেন। এছাড়া বাগদাদ থেকে তাকে ইবরাহিম বিন আল-খাইর, আআয বিন আল-উলাইক (লাম বর্ণটি ফাতহা ও কাসরার মধ্যবর্তী উচ্চারণে), আবুল কাসিম বিন আল-কুমাইরাহ এবং ফজলুল্লাহ বিন আব্দুর রাজ্জাক আল-জিলি সহ দুই শতাধিক আলেম ইজাজাহ প্রদান করেছেন। তিনি সুপ্রাচীনকাল তথা ছয়শত আশি হিজরি সনে হাদিস বর্ণনা করেছেন এবং এই বর্ণনায় তিনি একক ও অনন্য ছিলেন। তিনি সাতশত তেত্রিশ হিজরি সনের রমজান মাসে মৃত্যুবরণ করেন।
(খণ্ড: ১) আল আরবাউনা মিন আওয়ালিল মুজিজিন (পৃষ্ঠা: ৬৭)
‌‌الْحَدِيثُ التَّاسِعُ

أَخْبَرَنَا أَبُو الْمَعَالِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْحُسَيْنِ بْنِ أَبِي التَّائِبِ بْنِ أَبِي الْعَيْشِ الْأَنْصَارِيُّ الدِّمَشْقِيُّ كِتَابَةً، أَنَّ إِبْرَاهِيمَ بْنَ خَلِيلٍ الْأَدَمِيَّ، أَخْبَرَنَا يَحْيَى بْنُ مَحْمُودٍ الثَّقَفِيُّ، أَخْبَرَنَا أَبُو عَدْنَانَ مُحَمَّدُ بْنُ الْمُطَهِّرِ حُضُورًا، وَفَاطِمَةُ بِنْتُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ عُقَيْلٍ سَمَاعًا، قَالَا: أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ رِيذَةَ، أَخْبَرَنَا أَبُو الْقَاسِمِ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ أَيُّوبَ اللَّخْمِيُّ الطَّبَرَانِيُّ، حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ زِيَادٍ الْحَذَّاءُ الرَّقِّيُّ، حَدَّثَنَا حَجَّاجٌ الْأَعْوَرُ، حَدَّثَنَا يُونُسُ بْنُ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ الْهَمْدَانِيِّ، عَنْ أَبِي جُحَيْفَةَ وَهْبِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ السُّوَائِيِّ، عَنْ عَلِيٍّ رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «مَنْ أَصَابَ ذَنْبًا فِي الدُّنْيَا، فَأُقِيمَ عَلَيْهِ الْحَدُّ فَهُوَ كَفَّارَةٌ، وَمَنْ أَصَابَ ذَنْبًا فِي الدُّنْيَا، فَسَتَرَهُ اللَّهُ عز وجل عَلَيْهِ وَعَفَا عَنْهُ، فَاللَّهُ عز وجل أَكْرَمُ مِنْ أَنْ يَعُودَ فِي شَيْءٍ قَدْ عَفَا عَنْهُ وَسَتَرَهُ» قَالَ الطَّبَرَانِيُّ: لَمْ يَرْوِهِ عَنْ يُونُسَ إِلَّا الْحَجَّاجُ بْنُ مُحَمَّدٍ انْتَهَى.

أَخْرَجَهُ التِّرْمِذِيُّ، عَنْ أَبِي عُبَيْدَةَ بْنِ أَبِي السَّفَرِ، وَأَخْرَجَهُ
নবম হাদীস

আবুল মাআলী আব্দুল্লাহ বিন আল-হুসাইন বিন আবিত তায়িব বিন আবিল আইশ আল-আনসারী আদ-দিমাশকী আমাদের লিখিতভাবে অবহিত করেছেন যে, ইবরাহীম বিন খলীল আল-আদামী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ইয়াহইয়া বিন মাহমুদ আস-সাকাফী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু আদনান মুহাম্মদ বিন আল-মুতাহার সশরীরে উপস্থিত থেকে এবং ফাতেমা বিনতে আব্দুল্লাহ বিন আহমদ বিন উকাইল শ্রবণের মাধ্যমে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন; তাঁরা উভয়ে বলেছেন: আবু বকর মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন রিযা আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবুল কাসিম বিন আহমদ বিন আইয়ুব আল-লাখমী আত-তাবারানী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আহমদ বিন যিয়াদ আল-হাদ্দা আর-রাক্কী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হাজ্জাজ আল-আওয়ার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইউনুস বিন আবি ইসহাক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু ইসহাক আল-হামদানী থেকে, তিনি আবু জুহাইফা ওয়াহব বিন আব্দুল্লাহ আস-সুওয়ায়ী থেকে, তিনি আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «যে ব্যক্তি দুনিয়াতে কোনো পাপে লিপ্ত হলো এবং তার ওপর (শরয়ী) দণ্ডবিধি কার্যকর করা হলো, তবে তা তার জন্য কাফফারা (পাপমোচনকারী)। আর যে ব্যক্তি দুনিয়াতে কোনো পাপে লিপ্ত হলো এবং আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা তা তার জন্য গোপন রাখলেন ও তাকে ক্ষমা করে দিলেন, তবে আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা এর চেয়ে অনেক বেশি মহানুভব যে, তিনি এমন কোনো বিষয়ে পুনরায় ফিরে আসবেন যা তিনি ইতোমধ্যেই ক্ষমা করে দিয়েছেন এবং গোপন রেখেছেন।» তাবারানী বলেছেন: হাজ্জাজ বিন মুহাম্মদ ব্যতীত অন্য কেউ ইউনুস থেকে এটি বর্ণনা করেননি। সমাপ্ত।

তিরমিযী এটি আবু উবাইদাহ বিন আবি আস-সাফার থেকে বর্ণনা করেছেন, এবং এটি বর্ণনা করেছেন...
(খণ্ড: ১) আল আরবাউনা মিন আওয়ালিল মুজিজিন (পৃষ্ঠা: ৬৮)
ابْنُ مَاجَهْ عَنْ هَارُونَ الْحَمَّالِ، كِلَاهُمَا عَنْ حَجَّاجٍ بِهِ، فَوَقَعَ لَنَا بَدَلًا عَالِيًا.

تَرْجَمَةُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْحُسَيْنِ الْأَنْصَارِيِّ.

شَيْخُنَا هَذَا وُلِدَ سَنَةَ اثْنَتَيْنِ وَأَرْبَعِينَ تَقْرِيبًا، وَسَمِعَ مَعَ أَخِيهِ الْكَثِيرَ مِنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ الْعِرَاقِيِّ، وَمَكِّيِّ بْنِ عَلَّانٍ، وَمُحَمَّدِ بْنِ أَبِي بَكْرٍ الْبَلْخِيِّ، وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْخُشُوعِيِّ، وَإِبْرَاهِيمَ بْنِ خَلِيلٍ وَطَبَقَتِهِمْ، فَمِمَّا سَمِعَ عَلَى ابْنِ الْعِرَاقِيِّ: جُزْءَ حَنْبَلٍ رِوَايَةَ ابْنِ السَّمَّاكِ، وَحَدِيثَ عَمْرِو بْنِ الْبَخْتَرِيِّ، وَالْأَوَّلَ وَالثَّانِيَ مِنْ حَدِيثِ الْعَيْسَوِيِّ، وَمَشْيَخَةَ ابْنِ شَاذَانَ الصُّغْرَى، وَعَلَى مَكِّيِّ بْنِ عَلَّانٍ: الْأَوَّلَ مِنْ بُغْيَةِ الْمُسْتَفِيدِ لِابْنِ عَسَاكِرَ بِسَمَاعِهِ مِنْهُ، وَجُزْءَ ابْنِ مَلَّاسٍ، وَنُسْخَةَ أَبِي مُسْهِرٍ، وَعَلَى الْبَلْخِيِّ: مَشْيَخَةَ أُبَيٍّ النَّرْسِيِّ، وَالثَّانِيَ مِنْ حَدِيثِ الْفَاكِهِيِّ، وَجُزْءَ الْحَوْزِيِّ، وَعَلَى ابْنِ الْخُشُوعِيِّ: نُسْخَةَ نُبَيْطِ بْنِ شَرِيطٍ، وَعَلَى ابْنِ خَطِيبِ الْقَرَافَةِ: جُزْءَ سُفْيَانَ بْنِ عُيَيْنَةَ، وَجُزْءَ الذُّهْلِيِّ، وَعَلَى إِبْرَاهِيمَ بْنِ خَلِيلٍ: نُسْخَةَ أَبِي مُسْهِرٍ، وَمُعْجَمَ الطَّبَرَانِيِّ الصَّغِيرَ، بِتَمَامِهِ.

وَتَفَرَّدَ بِكَثِيرٍ مِنْ مَسْمُوعَاتِهِ، فَحَمَلَهُ الشُّدْهُ عَلَى أَنْ أَلْحَقَ اسْمَهُ فِي إِثْبَاتٍ لِأَخِيهِ بِخَطٍّ وَحِشٍ فَضُعِّفَ بِسَبَبِ ذَلِكَ، لَكِنَّ مَسْمُوعَاتَهُ صَحِيحَةٌ، وَلَمْ يُحَدِّثْ مِنْ تِلْكَ الْإِلْحَاقَاتِ بِحَرْفٍ.

تُوُفِّيَ فِي صَفَرٍ سَنَةَ خَمْسٍ وَثَلَاثِينَ وَسَبْعِ مِائَةٍ رَحِمَهُ اللَّهُ تَعَالَى
ইবনে মাজাহ হারুন আল-হাম্মাল থেকে, তাঁরা উভয়েই হাজ্জাজ থেকে এটি বর্ণনা করেছেন, ফলে এটি আমাদের কাছে একটি উচ্চতর পর্যায়ের বিকল্প সনদ হিসেবে সাব্যস্ত হয়েছে।

আবদুল্লাহ ইবনুল হুসাইন আল-আনসারীর জীবনী।

আমাদের এই শাইখ আনুমানিক বিয়াল্লিশ হিজরি সনে জন্মগ্রহণ করেন এবং তিনি তাঁর ভাইয়ের সাথে ইসমাঈল ইবনুল ইরাকী, মক্কি ইবনে আল্লান, মুহাম্মদ ইবনে আবি বকর আল-বালখী, আবদুল্লাহ ইবনুল খুশুয়ী, ইবরাহিম ইবনে খলিল এবং তাঁদের সমপর্যায়ের মুহাদ্দিসদের নিকট থেকে প্রচুর হাদিস শ্রবণ করেছেন। তিনি ইবনুল ইরাকীর নিকট যা শুনেছেন তার মধ্যে রয়েছে: ইবনুস সাম্মাকের সূত্রে বর্ণিত 'জুয হানবাল', আমর ইবনুল বাখতারীর হাদিস, ঈসাভীর হাদিসের প্রথম ও দ্বিতীয় খণ্ড এবং ইবনে শাযানের 'মাশয়াখাতুস সুগরা'। মক্কি ইবনে আল্লানের নিকট শুনেছেন: ইবনে আসাকিরের 'বুগইয়াতুল মুস্তাফিদ'-এর প্রথম খণ্ড—যা তিনি সরাসরি তাঁর থেকে শুনেছেন, 'জুয ইবনে মাল্লাস' এবং 'নুসখাতু আবি মুসহির'। আল-বালখীর নিকট শুনেছেন: উবাই আন-নারসীর 'মাশয়াখাত', ফাকিহীর হাদিসের দ্বিতীয় খণ্ড এবং 'জুয আল-হাওযী'। ইবনুল খুশুয়ীর নিকট: 'নুসখাতু নুবাইত ইবনে শারীত'। ইবনে খাতিব আল-কারাফার নিকট: সুফিয়ান ইবনে উয়াইনার 'জুয' এবং আয-যুহলির 'জুয'। ইবরাহিম ইবনে খলিলের নিকট: 'নুসখাতু আবি মুসহির' এবং ইমাম তাবারানির 'আল-মু'জাম আস-সাগীর' সম্পূর্ণ শ্রবণ করেছেন।

তিনি তাঁর শ্রুত অনেক বর্ণনায় অনন্য বা একক সূত্রে পরিণত হয়েছিলেন। তবে বিভ্রান্তির কারণে তিনি তাঁর ভাইয়ের একটি শ্রবণ-সনদে নিজের নাম অত্যন্ত কদর্য হস্তাক্ষরে সংযুক্ত করে দিয়েছিলেন, যার কারণে তাঁকে দুর্বল সাব্যস্ত করা হয়েছে। তবে তাঁর প্রকৃত শ্রবণকৃত বিষয়াবলি সঠিক এবং তিনি উক্ত সংযোজিত অংশসমূহ থেকে একটি বর্ণও বর্ণনা করেননি।

সাতশত পঁয়ত্রিশ হিজরি সনের সফর মাসে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন।
(খণ্ড: ১) আল আরবাউনা মিন আওয়ালিল মুজিজিন (পৃষ্ঠা: ৬৯)
‌‌الْحَدِيثُ الْعَاشِرُ

أَخْبَرَنَا أَبُو الْمَعَالِي أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي بَكْرِ بْنِ الْعَجَمِيُّ، إِجَازَةً أَنَّ أَحْمَدَ بْنَ عَبْدِ الدَّائِمِ أَخْبَرَهُ، أَخْبَرَنَا أَبُو الْفَضْلِ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ الطُّوِسِيُّ، فِي كِتَابِهِ إِلَيْنَا مِنَ الْمَوْصِلِ، وَتَفَرَّدَتْ عَنْهُ.

ح وَأَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ أَبِي طَالِبٍ إِجَازَةً، عَنْ جَعْفَرِ بْنِ عَلِيٍّ الْهَمْدَانِيِّ، أَنَّ أَبَا طَاهِرٍ أَحْمَدَ بْنَ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ الْحَافِظَ أَخْبَرَهُ، قَالَا: أَخْبَرَنَا أَبُو الْخَطَّابِ نَصْرُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ الْبَطِرِ الْقَارِئُ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ الْبَيِّعِ، حَدَّثَنَا الْقَاضِي أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْحُسَيْنُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ الْمَحَامِلِيُّ إِمْلَاءً، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ غُنْدَرٌ، أَخْبَرَنَا شُعْبَةُ، عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ عُمَيْرٍ، عَنْ رَبْعِيِّ بْنِ حِرَاشٍ، عَنْ حُذَيْفَةَ رضي الله عنه، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم: " أَنَّ رَجُلًا مَاتَ فَدَخَلَ الْجَنَّةَ، فَقِيلَ لَهُ: مَا كُنْتَ تَعْمَلُ؟ فَإِمَّا ذَكَرَ، وَإِمَّا ذُكِّرَ، فَقَالَ: إِنِّي كُنْتُ أُبَايِعُ النَّاسِ، وَكُنْتُ أُنْظِرُ الْمُعْسِرَ، وَأَتَجَوَّزُ فِي السِّكَّةِ، أَوْ فِي النَّقْدِ، فَغُفِرَ لَهُ "، فَقَالَ أَبُو مَسْعُودٍ رضي الله عنه: أَنَا سَمِعْتُهُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم.
দশম হাদিস

আবু আল-মায়ালি আহমাদ বিন আবদুর রহমান বিন আবু বকর বিন আল-আজমি আমাদের ইজাজতসূত্রে সংবাদ দিয়েছেন যে, আহমাদ বিন আব্দুল দায়িম তাকে সংবাদ দিয়েছেন, আবুল ফজল আব্দুল্লাহ বিন আহমাদ আদ-তুসি মুসেল থেকে আমাদের কাছে লিখিতভাবে সংবাদ দিয়েছেন—এবং এটি বর্ণনায় আমি তার থেকে একক (তাকবুক)।

সংযুক্তি: এবং আহমাদ বিন আবু তালিব ইজাজতসূত্রে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন জাফর বিন আলী আল-হামদানি থেকে যে, আবু তাহের আহমাদ বিন মুহাম্মদ বিন আহমাদ আল-হাফিজ তাকে সংবাদ দিয়েছেন; তারা উভয়ে বলেছেন: আবুল খাত্তাব নাসর বিন আহমাদ বিন আল-বাতির আল-কারি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আব্দুল্লাহ বিন উবাইদুল্লাহ বিন আল-বায়্যি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ক্বাজি আবু আব্দুল্লাহ আল-হুসাইন বিন ইসমাইল আল-মাহামিলি শ্রুতলিপি হিসেবে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ বিন আল-মুসান্না আমাদের বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ বিন জাফর গুন্দার আমাকে বর্ণনা করেছেন, শু'বা আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্দুল মালিক বিন উমাইর থেকে, তিনি রাবি বিন হিরাশ থেকে, তিনি হুযাইফা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন: "এক ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করল এবং জান্নাতে প্রবেশ করল। তাকে জিজ্ঞেস করা হলো: তুমি কী আমল করতে? তখন সে নিজে স্মরণ করল অথবা তাকে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হলো, সে বলল: আমি মানুষের সাথে কেনা-বেচা করতাম এবং অভাবগ্রস্তকে অবকাশ দিতাম আর মুদ্রা বা নগদের লেনদেনে ছাড় দিতাম। ফলে তাকে ক্ষমা করে দেওয়া হলো।" অতঃপর আবু মাসউদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বললেন: আমি স্বয়ং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট থেকে এটি শুনেছি।
(খণ্ড: ১) আল আরবাউনা মিন আওয়ালিল মুজিজিন (পৃষ্ঠা: ৭০)
أَخْرَجَهُ مُسْلِمٌ فِي صَحِيحِهِ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُثَنَّى، فَوَافَقْنَاهُ بِعُلُوِّ دَرَجَتَيْنِ وَلِلَّهِ الْحَمْدُ.

تَرْجَمَةُ أَحْمَدَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْعَجَمِيِّ.

شَيْخُنَا هَذَا وُلِدَ سَنَةَ ثَمَانٍ وَخَمْسِينَ وَسِتِّ مِائَةٍ، وَسَمِعَ مِنَ ابْنِ عَبْدِ الدَّائِمِ مَشْيَخَتِهِ تَخْرِيجَ أَبِي الْعَبَّاسِ بْنِ الطَّاهِرِيِّ، وَحَدَّثَ بِهَا بِدِمَشْقَ، وَالْقَاهِرَةِ، تُوُفِّيَ فِي شَهْرِ رَجَبٍ سَنَةَ ثَلَاثِينَ وَسَبْعِ مِائَةٍ رَحِمَهُ اللَّهُ تَعَالَى
ইমাম মুসলিম তাঁর সহীহ গ্রন্থে এটি মুহাম্মদ ইবনে আল-মুসান্না থেকে বর্ণনা করেছেন, ফলে আমরা দুই স্তরের উচ্চতার সাথে তাঁর সাথে সামঞ্জস্য লাভ করলাম এবং সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য।

আহমদ ইবনে আবদুর রহমান আল-আজমীর জীবনী।

আমাদের এই শাইখ ৬৫৮ হিজরী সনে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ইবনে আবদুদ দায়িমের নিকট থেকে আবুল আব্বাস ইবনে তাহিরী সংকলিত তাঁর মাশয়াখাহ্ শ্রবণ করেন এবং এটি দামেস্ক ও কায়রোতে বর্ণনা করেন। তিনি ৭৩০ হিজরীর রজব মাসে মৃত্যুবরণ করেন, আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন।
(খণ্ড: ১) আল আরবাউনা মিন আওয়ালিল মুজিজিন (পৃষ্ঠা: ৭১)
‌‌الْحَدِيثُ الْحَادِيَ عَشَرَ

أَخْبَرَنَا أَبُو الْعَبَّاسِ أَحْمَدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ الْحَسَنِ الْجَزَرِيُّ الْعَابِدُ فِي كِتَابِهِ، أَنَّ مُحَمَّدَ بْنَ إِسْمَاعِيلَ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ أَبِي الْفَتْحِ الْخَطِيبَ الْمَقْدِسِيَّ أَخْبَرَهُ قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَهُوَ حَاضِرٌ، وَهُوَ آخِرُ مَنْ بَقِيَ مِمَّنْ حَضَرَ عِنْدَهُ، أَخْبَرَتْنَا فَاطِمَةُ بِنْتُ سَعْدٍ الْخَيْرِ، أَخْبَرَنَا زَاهِرُ بْنُ طَاهِرٍ، أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ الْحَسَنِ الْأَزْهَرِيُّ، أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ بْنُ أَحْمَدَ الْمُخَلَّدِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو الْعَبَّاسِ السَّرَّاجُ، حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ مَالِكِ بْنِ أَنَسٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيِّبِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «صَلَاةُ الْجَمَاعَةِ أَفْضَلُ مِنْ صَلَاةِ أَحَدِكُمْ وَحْدَهُ بِخَمْسٍ وَعِشْرِينَ دَرَجَةً» .

أَخْرَجَهُ مُسْلِمٌ، عَنْ يَحْيَى بْنِ يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، فَوَقَعَ لَنَا بَدَلًا عَالِيًا، وَأَخْرَجَهُ النَّسَائِيُّ، عَنْ قُتَيْبَةَ، فَوَقَعَ لَنَا مُوَافَقَةً عَالِيَةً.
একাদশ হাদীস

আবু আব্বাস আহমদ ইবনে আলী ইবনুল হাসান আল-জাজারী আল-আবিদ তাঁর কিতাবে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যে, মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল ইবনে আহমদ ইবনে আবিল ফাতহ আল-খতিব আল-মাকদিসী তাঁর উপস্থিতিতে পাঠ করার মাধ্যমে তাঁকে অবহিত করেছেন—আর তিনি ছিলেন তাঁর নিকট উপস্থিত ব্যক্তিদের মধ্যে সর্বশেষ জীবিত ব্যক্তি; ফাতিমা বিনতে সাদ আল-খাইর আমাদের সংবাদ দিয়েছেন; জাহির ইবনে তাহির আমাদের সংবাদ দিয়েছেন; আহমদ ইবনুল হাসান আল-আযহারী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন; হাসান ইবনে আহমদ আল-মুখাল্লাদী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন; আবু আব্বাস আস-সাররাজ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন; কুতায়বা ইবনে সাঈদ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন মালিক ইবনে আনাস থেকে, তিনি ইবনে শিহাব থেকে, তিনি সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যিব থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তোমাদের কারো একাকী সালাত আদায়ের চেয়ে জামায়াতের সাথে সালাত আদায় পঁচিশ গুণ বেশি শ্রেষ্ঠ।"

এটি ইমাম মুসলিম বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া ইবনে ইয়াহইয়া-এর সূত্রে মালিক থেকে, ফলে এটি আমাদের নিকট উচ্চ পর্যায়ের একটি 'বাদাল' (বিকল্প উচ্চতর সনদ) হিসেবে পৌঁছেছে। আর ইমাম নাসাঈ এটি কুতায়বা থেকে বর্ণনা করেছেন, ফলে এটি আমাদের নিকট উচ্চ পর্যায়ের একটি 'মুওয়াফাকাহ' (একই উস্তাদের সূত্রে মিলিত হওয়া উচ্চতর সনদ) হিসেবে পৌঁছেছে।
(খণ্ড: ১) আল আরবাউনা মিন আওয়ালিল মুজিজিন (পৃষ্ঠা: ৭২)
تَرْجَمَةُ أَحْمَدَ بْنِ عَلِيِّ بْنِ الْحَسَنِ بْنِ دَاوُدَ الْجَزْرِيِّ.

شَيْخُنَا هَذَا وُلِدَ سَنَةَ تِسْعٍ وَأَرْبَعِينَ وَسِتَّةِ مِائَةٍ، أَوْ قَبْلَهَا بِيَسِيرٍ، وَأَحْضَرَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ بْنِ خَلِيلٍ، وَمُحَمَّدٍ، وَعَبْدِ الْحَمِيدِ ابْنَيْ عَبْدِ الْهَادِي، وَيُوسُفَ سِبْطِ ابْنِ الْجَوْزِيِّ، وَمُحَمَّدِ بْنِ إِسْمَاعِيلَ خَطِيبِ مَرْدَا، وَعَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي الْفَهْمِ الْيَلْدَانِيِّ وَجَمَاعَةٍ، وَسَمِعَ مِنَ ابْنِ أَبِي عُمَرَ، وَالْمُظَفَّرِ بْنِ الشِّيرَجِيِّ، وَعَبْدِ الْوَهَّابِ بْنِ النَّاصِحِ، وَأَبِي الْفَتْحِ بْنِ الشُّقَيْشِقَةِ وَغَيْرِهِمْ، وَأَجَازَ لَهُ مِنْ بَغْدَادَ يُوسُفُ بْنُ الْجَوْزِيِّ، وَعَلِيُّ بْنُ الْأَخْضَرِ، وَإِبْرَاهِيمُ بْنُ الزِّعْبِيِّ، وَفَضْلُ اللَّهِ بْنُ الْجِيلِيِّ، وَالْمُبَارِكُ الْخَوَّاصُ، وَيَحْيَى الصَّرْصَرِيُّ الشَّاعِرُ، وَغَيْرُهُمْ، وَلَهُ أَيْضًا إِجَازَةٌ مِنْ أَبِي عَبْدِ اللَّهِ الْيُونِينِيِّ، وَالْمَجْدِ بْنِ تَيْمِيَّةَ صَاحِبِ الْأَحْكَامِ، وَأَبِي عَبْدِ اللَّهِ الْمُرْسِيِّ، وَأَبِي عَبْدِ اللَّهِ الْبَكْرِيِّ، وَتَفَرَّدَ عَنْ شُيُوخِهِ سَمَاعًا وَإِجَازَةً، وَحَدَّثَ بِالْكَثِيرِ، وَتَزَاحَمَ عَلَيْهِ الطَّلَبَةُ وَكَانَ زَاهِدًا عَابِدًا، قَالَ الْعَلَّامَةُ شَيْخُ الْإِسْلَامِ أَبُو الْحَسَنِ السُّبْكِيُّ: مَا رَأَيْتُ أَجْلَدَ عَلَى الْعِبَادَةِ مِنْهُ، تُوُفِّيَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ فِي خَامِسِ شَعْبَانَ سَنَةَ ثَلَاثٍ وَأَرْبَعِينَ وَسَبْعِ مِائَةٍ رَحِمَهُ اللَّهُ تَعَالَى
আহমদ ইবন আলী ইবন হাসান ইবন দাউদ আল-জাযারীর জীবনী।

আমাদের এই শায়খ ছয়শত ঊনপঞ্চাশ হিজরীতে অথবা তার সামান্য পূর্বে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ইবরাহীম ইবন খলীল, মুহাম্মদ ও আবদুল হামীদ (আবদুল হাদীর দুই পুত্র), ইউসুফ সিবত ইবনুল জাওযী, মারদার খতীব মুহাম্মদ ইবন ইসমাঈল, আবদুর রহমান ইবন আবিল ফাহম আল-ইয়লদানী এবং এক জামাতের নিকট উপস্থিত হয়ে ইলম অর্জন করেছেন। তিনি ইবন আবী উমর, মুযাফফর ইবন শিরজী, আবদুল ওয়াহহাব ইবন নাসিহ, আবুল ফাতহ ইবন শুকায়শিকাহ এবং অন্যান্যদের নিকট থেকে হাদীস শ্রবণ করেছেন। বাগদাদ থেকে তাকে ইউসুফ ইবনুল জাওযী, আলী ইবন আখদার, ইবরাহীম ইবন যি'বী, ফযলুল্লাহ ইবন জীলী, মুবারক খাওয়াস, কবি ইয়াহইয়া সারসারী এবং অন্যান্যরা ইজাযত প্রদান করেছেন। এছাড়াও আবু আবদুল্লাহ আল-ইউনীনী, 'আল-আহকাম' গ্রন্থের রচয়িতা আল-মাজদ ইবন তাইমিয়া, আবু আবদুল্লাহ আল-মুরসী এবং আবু আবদুল্লাহ আল-বাকরীর নিকট থেকেও তার ইজাযত ছিল। তিনি তার শায়খদের নিকট থেকে শ্রবণ ও ইজাযতের ক্ষেত্রে অনন্য ছিলেন এবং প্রচুর হাদীস বর্ণনা করেছেন। শিক্ষার্থীদের ভিড় তার নিকট লেগেই থাকত। তিনি ছিলেন পরম পরহেযগার ও ইবাদতগুজার। আল্লামা শায়খুল ইসলাম আবুল হাসান আস-সুবকী বলেন: "আমি তার চেয়ে ইবাদতে অধিক ধৈর্যশীল আর কাউকে দেখিনি।" তিনি সাতশত তেতাল্লিশ হিজরীর পাঁচই শাবান জুমুআর দিনে মৃত্যুবরণ করেন। আল্লাহ তাআলা তার প্রতি রহম করুন।
(খণ্ড: ১) আল আরবাউনা মিন আওয়ালিল মুজিজিন (পৃষ্ঠা: ৭৩)
‌‌الْحَدِيثُ الثَّانِيَ عَشَرَ

أَخْبَرَتْنَا الشَّيْخَةُ الْمُسْنِدَةُ عَائِشَةُ بِنْتُ مُحَمَّدِ بْنِ مُسْلِمٍ الْحَرَّانِيَّةُ، أُخْتُ مَحَاسِنَ، إِجَازَةً، أَنَّ عَبْدَ الْحَمِيدِ بْنَ عَبْدِ الْهَادِي أَخْبَرَهَا، أَخْبَرَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ عَلِيٍّ الْجَنْزَوِيُّ، أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي طَاهِرٍ الْمُهَنْدِسُ، أَخْبَرَنَا أَبُو إِسْحَاقَ بْنُ عُمَرَ الْحَنْبَلِيُّ حُضُورًا، أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الْبَزَّازِ، أَخْبَرَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُسْلِمٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْمُثَنَّى الْأَنْصَارِيُّ، حَدَّثَنَا حَبِيبُ بْنُ الشَّهِيدِ، عَنْ مَيْمُونِ بْنِ مِهْرَانَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسِ رضي الله عنهما، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم احْتَجَمَ وَهُوَ صَائِمٌ مُحْرِمٌ ".

أَخْرَجَهُ التِّرْمِذِيُّ وَالنَّسَائِيُّ جَمِيعًا عَنْ أَبِي مُوسَى، عَنِ الْأَنْصَارِيِّ، بِهِ فَوَقَعَ لَنَا بَدلًا لَهُمَا عَالِيًا

تَرْجَمَةُ الشَّيْخَةِ أُمِّ عَبْدِ اللَّهِ عَائِشَةَ بِنْتِ مُحَمَّدٍ الْحَرَّانِيَّةِ.

وُلِدَتْ هَذِهِ الشَّيْخَةُ فِي حُدُودِ الْخَمْسِينَ، وَسَمِعَتْ مِنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ
দ্বাদশ হাদিস

আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুসনিদাহ শায়খা আয়েশা বিনতে মুহাম্মদ বিন মুসলিম আল-হাররানিয়াহ, যিনি মাহাসিনের বোন, ইজাজতসূত্রে; তিনি বলেন যে, আব্দুল হামিদ বিন আব্দুল হাদি তাকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইসমাইল বিন আলি আল-জানযাভি, তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর বিন আবু তাহির আল-মুহান্দিস, তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু ইসহাক বিন উমর আল-হাম্বলি উপস্থিতির মাধ্যমে (শৈশবে মজলিসে উপস্থিত থেকে), তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্দুল্লাহ বিন ইব্রাহিম আল-বাজ্জায, তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইব্রাহিম বিন আব্দুল্লাহ বিন মুসলিম, তিনি বলেন, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আল-মুসান্না আল-আনসারি, তিনি বলেন, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন হাবিব বিনুশ শাহিদ, তিনি মাইমুন বিন মিহরান থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রোজা রাখা অবস্থায় এবং ইহরাম অবস্থায় শিঙা (হিজামা) লাগিয়েছিলেন।

ইমাম তিরমিজি ও ইমাম নাসায়ি উভয়ই এটি আবু মুসা থেকে, তিনি আল-আনসারি থেকে, উক্ত সূত্রে বর্ণনা করেছেন। ফলে এটি আমাদের নিকট তাদের উভয়ের তুলনায় একটি উচ্চ পর্যায়ের 'বদল' (বিকল্প উচ্চ সনদ) হিসেবে সাব্যস্ত হয়েছে।

শায়খা উম্মে আব্দুল্লাহ আয়েশা বিনতে মুহাম্মদ আল-হাররানিয়াহ-এর জীবনী।

এই শায়খা (হিজরি) পঞ্চাশের কাছাকাছি সময়ে জন্মগ্রহণ করেন এবং তিনি ইসমাইল বিন... থেকে শ্রবণ করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল আরবাউনা মিন আওয়ালিল মুজিজিন (পৃষ্ঠা: ৭৪)
الْعِرَاقِيِّ السَّادِسَ مِنْ أَمَالِي ابْنِ الْبَخْتَرِيِّ، وَمِنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الْهَادِي الْيَقِينَ، لِابْنِ أَبِي الدُّنْيَا بِإِجَازَتِهِ مِنْ شُهْدَةَ، وَمِنَ الْيَلَدَانِيِّ كِتَابَ الذِّكْرِ، لِجَعْفَرٍ الْفِرْيَابِيِّ، وَمَجْلِسَ التَّوَاضُعِ، لِلْجَوْهَرِيِّ، وَمِنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ خَلِيلٍ فَضَائِلَ الْأَوْقَاتِ وَمِنْ جَمَاعَةٍ، وَرَوَتِ الْكَثِيرَ، وَتَفَرَّدَتْ مَاتَتْ فِي شَوَّالٍ سَنَةَ سِتٍّ وَثَلَاثِينَ وَسَبْعِ مِائَةٍ رَحِمَهَا اللَّهُ تَعَالَى.
আল-ইরাকি থেকে ইবনুল বাখতারির ‘আমালি’র ষষ্ঠ খণ্ড; এবং মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল হাদি থেকে ইবনু আবিদ দুনিয়ার ‘আল-ইয়াকিন’ গ্রন্থটি, যা তিনি শুহদাহর ইজাজতসূত্রে লাভ করেছেন; এবং আল-ইয়ালদানি থেকে জাফর আল-ফিরইয়াবির ‘কিতাবুয যিকর’ ও জাওহারির ‘মাজলিসুত তাওয়াদু’; এবং ইব্রাহিম ইবনে খলিল থেকে ‘ফাদায়িলুল আওকাত’ এবং আরও একদল উস্তাদ থেকে তিনি বর্ণনা করেছেন। তিনি প্রচুর হাদিস বর্ণনা করেছেন এবং তিনি একক ও অনন্য ছিলেন। তিনি সাতশত ছত্রিশ হিজরি সনের শাওয়াল মাসে ইন্তেকাল করেন, আল্লাহ তায়ালা তাঁর প্রতি রহম করুন।