(খণ্ড: ১) ইলামুল আলিম বাদা রুসুখিহি বি-নাসিখিল হাদীসি ওয়া মানসুখিহি (পৃষ্ঠা: -)
إعلام العالم بعد رسوخه بناسخ الحديث ومنسوخه   (ابن الجوزي)

القسم: علوم الحديث


الكتاب: إعلام العالم بعد رسوخه بناسخ الحديث ومنسوخه

المؤلف: جمال الدين أبو الفرج عبد الرحمن بن علي بن محمد الجوزي (ت 597هـ)

تحقيق: أحمد بن عبد الله العماري الزهراني

الناشر: ابن حزم، بيروت - لبنان

الطبعة: الأولى، 1423 هـ - 2002 م

عدد الصفحات: 448

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

হাদিসের রহিতকারী (ناسخ) এবং রহিত (منسوخ) বিষয়ে পারদর্শিতার পর আলেমদের অবহিতকরণ   (ইবনুল জাওজি)

বিভাগ: হাদিস বিজ্ঞান (علوم الحديث)


বই: হাদিসের রহিতকারী (ناسخ) এবং রহিত (منسوخ) বিষয়ে পারদর্শিতার পর আলেমদের অবহিতকরণ

লেখক: জামালুদ্দিন আবুল ফারাজ আব্দুর রহমান বিন আলী বিন মুহাম্মাদ আল-জাওজি (মৃত্যু ৫৯৭ হি.)

তাহকিক (تحقيق): আহমাদ বিন আব্দুল্লাহ আল-আম্মারি আজ-জাহরানি

প্রকাশক: ইবনে হাজম, বৈরুত - লেবানন

সংস্করণ: প্রথম, ১৪২৩ হিজরি - ২০০২ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪৪৮

[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) ইলামুল আলিম বাদা রুসুখিহি বি-নাসিখিল হাদীসি ওয়া মানসুখিহি (পৃষ্ঠা: ٥٩)
‌‌كِتَابُ الطَّهَارَةِ

‌‌بَابُ: الْبَوْلِ قَائِمًا

1 - أَنَا هِبَةُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ، أَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ، أَنَا أَحْمَدُ بْنُ جَعْفَرٍ، ثنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ، ثَنِي أَبِي، ثنا هُشَيْمٌ، قَالَ الْأَعْمَشُ: عَنْ أَبِي وَائِلٍ، عَنْ حُذَيْفَةَ، قَالَ: رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم «أَتَى سُبَاطَةَ قَوْمٍ، فَبَالَ وَهُوَ
পবিত্রতা অধ্যায়

পরিচ্ছেদ: দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করা

১ - হিবাতুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), আল-হাসান ইবনে আলী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), আহমদ ইবনে জাফর আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), আবদুল্লাহ ইবনে আহমদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), আমার পিতা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثني), হুশাইম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا); আল-আমাশ আবু ওয়াইল থেকে, তিনি হুজাইফা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখেছি, তিনি একটি সম্প্রদায়ের আবর্জনা ফেলার স্থানে আসলেন এবং তিনি প্রস্রাব করলেন এমতাবস্থায় যে তিনি...
(খণ্ড: ১) ইলামুল আলিম বাদা রুসুখিহি বি-নাসিখিল হাদীসি ওয়া মানসুখিহি (পৃষ্ঠা: ٦٠)
قَائِمٌ»

 

‌‌ذِكْرُ مَا يُخَالِفُ هَذَا

2 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي مَنْصُورٍ، قَالَ: أَنْبَأَ أَبُو مَنْصُورٍ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ عَبْدِ الرَّزَّاقِ، قَالَ: أَنْبَأَ أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ عُمَرَ، قَالَ: أَنْبَأَ أَبُو حَفْصٍ عُمَرُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ عُثْمَانَ بْنِ شَاهِينَ، ثنا يَحْيَى بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ صَاعِدٍ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْمَخْرَمِيُّ، ثنا أَبُو عَامِرٍ الْعَقَدِيُّ، ثنا عَدِيُّ بْنُ الْفَضْلِ، عَنْ
দণ্ডায়মান»

 

‌‌এর পরিপন্থী বর্ণনার উল্লেখ

২ - মুহাম্মদ ইবনে আবি মানসুর আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), তিনি বলেন: আবু মানসুর মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে আবদুর রাজ্জাক আমাদের অবহিত করেছেন (أنبأ), তিনি বলেন: আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে উমর আমাদের অবহিত করেছেন (أنبأ), তিনি বলেন: আবু হাফস উমর ইবনে আহমদ ইবনে উসমান ইবনে শাহীন আমাদের অবহিত করেছেন (أنبأ), ইয়াহইয়া ইবনে মুহাম্মদ ইবনে সয়িদ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন (حدثنا), মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-মাখরামী আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন (حدثنا), আবু আমির আল-আকাদী আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন (حدثنا), আদী ইবনুল ফাদল আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন (حدثنا), তাঁর সূত্রে...
(খণ্ড: ১) ইলামুল আলিম বাদা রুসুখিহি বি-নাসিখিল হাদীসি ওয়া মানসুখিহি (পৃষ্ঠা: ٦١)
عَلِيِّ بْنِ الْحَكَمِ عَنْ أَبِي نَضْرَةَ، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ: «نَهَى نَبِيُّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ يَبُولَ الرَّجُلُ قَائِمًا»

3 - قَالَ ابْنُ شَاهِينَ: وَثنا مُحَمَّدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ إِسْمَاعِيلَ الْأَيْلِيُّ، قَالَ: ثنا السَّرِيُّ بْنُ سَهْلٍ، ثنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ رَشِيدٍ، ثنا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ
আলী ইবনে আল-হাকাম আবু নাদরা থেকে, তিনি জাবির (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: «আল্লাহর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কোনো ব্যক্তির দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করা নিষেধ করেছেন»

৩ - ইবনে শাহীন বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا) মুহাম্মাদ ইবনে আলী ইবনে ইসমাঈল আল-আয়লী, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا) আস-সারী ইবনে সাহল, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا) আবদুল্লাহ ইবনে রাশিদ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا) হাম্মাদ ইবনে সালামাহ, থেকে...
(খণ্ড: ১) ইলামুল আলিম বাদা রুসুখিহি বি-নাসিখিল হাদীসি ওয়া মানসুখিহি (পৃষ্ঠা: ٦٢)
أَيُّوبَ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم «نَهَى أَنْ يَبُولَ الرَّجُلُ قَائِمًا»

4 - وَفِي حَدِيثِ الْأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: «مِنَ الْجَفَاءِ أَنْ يَبُولَ الرَّجُلُ وَهُوَ قَائِمٌ» .

قَالَ ابْنُ شَاهِينَ: وَحَدِيثُ أَبِي هُرَيْرَةَ يُوجِبُ نَسْخَ الْأَوَّلِ.
আইয়ুব, ইকরিমা থেকে এবং তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কোনো ব্যক্তির দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করা নিষেধ করেছেন।

৪ - এবং আল-আ'রাজ থেকে বর্ণিত হাদিসে আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করা রূঢ়তার (جفاء) অন্তর্ভুক্ত।"

ইবনে শাহীন বলেন: আবু হুরায়রা বর্ণিত হাদিসটি পূর্ববর্তী হাদিসটির রহিতকরণ (نسخ) আবশ্যক করে।
(খণ্ড: ১) ইলামুল আলিম বাদা রুসুখিহি বি-নাসিখিল হাদীসি ওয়া মানসুখিহি (পৃষ্ঠা: ٦٣)
قُلْتُ: وَلَيْسَ هَذَا الْقَوْلُ بِصَحِيحٍ، لَأَنَّ الْبَوْلَ قَائِمًا مُبَاحٌ، وَإِنَّمَا نَهَى عَنْهُ لِئَلَّا يَعُودَ رَشَاشَةٌ عَلَى الْإِنْسَانِ.

فَأَمَّا حَدِيثُ حُذَيْفَةَ، فَلَهُ ثَلَاثَةُ أَوْجُهٍ: أَحَدُهُمْ: أَنَّهُ إِنَّمَا فَعَلَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لِمَرَضٍ مَنَعَهُ مِنَ الْقُعُودِ
আমি বলছি: এই বক্তব্যটি সঠিক (صحيح) নয়, কারণ দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করা বৈধ (مباح); আর এটি থেকে কেবল এজন্যই নিষেধ করা হয়েছে যাতে প্রস্রাবের ছিটা মানুষের গায়ে ফিরে না আসে।

আর হুজায়ফা (রা.) বর্ণিত হাদিসের তিনটি ব্যাখ্যা রয়েছে: প্রথমত, রাসূলুল্লাহ (সা.) এটি কেবল এমন একটি অসুস্থতার কারণে করেছিলেন যা তাঁকে বসতে বাধা প্রদান করেছিল।
(খণ্ড: ১) ইলামুল আলিম বাদা রুসুখিহি বি-নাসিখিল হাদীসি ওয়া মানসুখিহি (পৃষ্ঠা: ٦٤)
5 5 - قَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ «بَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَائِمًا مِنْ جُرْحٍ بِمَأْبَضِهِ» .

وَالثَّانِي: أَنَّهُ اسْتَشْفَى بِذَلِكَ مِنْ مَرَضٍ كَانَ بِهِ.

قَالَ الشَّافِعِيُّ رضي الله عنه: كَانَتِ الْعَرَبُ تَسْتَشْفِي لِوَجَعِ الصُّلْبِ بِالْبَوْلِ قَائِمًا.
৫ ৫ - আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, «রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর জানুর পেছনের ক্ষতের কারণে দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করেছেন»।

দ্বিতীয়ত: তিনি তাঁর শরীরে বিদ্যমান একটি রোগ থেকে আরোগ্য লাভের জন্য এর মাধ্যমে চিকিৎসা গ্রহণ করেছিলেন।

ইমাম শাফিঈ (রা.) বলেন: আরবরা মেরুদণ্ডের ব্যথার চিকিৎসার জন্য দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করার মাধ্যমে আরোগ্য কামনা করত।
(খণ্ড: ১) ইলামুল আলিম বাদা রুসুখিহি বি-নাসিখিল হাদীসি ওয়া মানসুখিহি (পৃষ্ঠা: ٦٥)
وَالثَّالِثُ: أَنْ يَكُونَ الْبَوْلُ أَعْجَلَهُ وَلَمْ يَجِدْ سِوَى ذَلِكَ الْمَكَانَ، وَلَمْ يَتَمَكَّنْ مِنِ الْقُعُودِ لِكَثْرَةِ الْإِنْجَاسِ فِيهِ

 

‌‌بَابُ: اسْتِقْبَالِ الْقِبْلَةِ بِالْبَوْلِ وَالْغَائِطِ

6 - أَنَا عَبْدُ الأَوَّلُ، ثنا أَبُو الْمُظَفَّرِ بْنُ أَعْيَنَ، أَنَا الْفَرْبَرِيُّ، ثنا الْبُخَارِيُّ، ثنا عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ ثنا سُفْيَانُ، ثنا الزُّهْرِيُّ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ
তৃতীয়ত: প্রস্রাবের বেগ তাকে অত্যন্ত তাড়িত করেছিল এবং সে ওই স্থানটি ব্যতীত অন্য কোনো স্থান খুঁজে পায়নি, আর সেখানে নাপাকির আধিক্যের কারণে বসা তার পক্ষে সম্ভব ছিল না।

 

‌‌পরিচ্ছেদ (باب): প্রস্রাব ও মলত্যাগের সময় কিবলার অভিমুখী হওয়া

৬ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا) আবদুল আউয়াল, আমাদের বর্ণনা করেছেন (حدثنا) আবু আল-মুজাফ্ফর বিন আইয়ান, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا) আল-ফারাবরি, আমাদের বর্ণনা করেছেন (حدثনা) বুখারি, আমাদের বর্ণনা করেছেন (حدثনা) আলি বিন আবদুল্লাহ, আমাদের বর্ণনা করেছেন (حدثنا) সুফিয়ান, আমাদের বর্ণনা করেছেন (حدثনা) আজ-জুহরি, আতা বিন... থেকে (عن)
(খণ্ড: ১) ইলামুল আলিম বাদা রুসুখিহি বি-নাসিখিল হাদীসি ওয়া মানসুখিহি (পৃষ্ঠা: ٦٦)
يَزِيدَ اللَّيْثِيِّ، عَنْ أَبِي أَيُّوبَ الْأَنْصَارِيِّ، أَنّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: «إِذَا أَتَيْتُمِ الْغَائِطَ فَلَا تَسْتَقْبِلُوا الْقِبْلَةَ، وَلَا تَسْتَدْبِرُوهَا وَلَكِنْ شَرِّقُوا أَوْ غَرِّبُوا» .

قَالَ أَبُو أَيُّوبَ: فَقَدِمْتُ الشَّامَ فَوَجَدْنَا مَرَاحِيضَ بُنِيَتْ قِبَلَ الْقِبْلَةِ، فَنَنْحَرِفَ وَنَسْتَغْفِرَ اللَّهَ عز وجل.

أَخْرَجَاهُ فِي الصَّحِيحَيْنِ

7 - وَفِي أَفْرَادِ مُسْلِمٍ مِنْ حَدِيثِ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، أَنَّهُ قَالَ: «إِذَا جَلَسَ أَحَدُكُمْ عَلَى حَاجَتِهِ، فَلَا يَسْتَقْبِلِ الْقِبْلَةَ وَلَا يَسْتَدْبِرْهَا»
ইয়াজিদ আল-লাইসি (থেকে বর্ণিত), তিনি আবু আইয়ুব আল-আনসারী (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী (সা.) বলেছেন: "তোমরা যখন শৌচকার্যের জন্য আসবে, তখন কিবলার দিকে মুখ করবে না এবং তার দিকে পিঠ দিয়েও বসবে না; বরং তোমরা পূর্ব অথবা পশ্চিম দিকে মুখ করে বসবে।"

আবু আইয়ুব (রা.) বলেন: "অতঃপর আমি সিরিয়ায় আসলাম এবং সেখানে এমন কিছু শৌচাগার পেলাম যেগুলো কিবলার দিকে মুখ করে নির্মাণ করা হয়েছে। ফলে আমরা কিছুটা ঘুরে বসতাম এবং মহান আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতাম।"

তাঁরা উভয়ে এটি সহিহাইনে বর্ণনা করেছেন।

৭ - এবং সহিহ মুসলিমের একক বর্ণনাসমূহের (أفراد) অন্তর্ভুক্ত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত হাদিসে নবী (সা.) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেছেন: "তোমাদের কেউ যখন তার শৌচকার্যের জন্য বসে, সে যেন কিবলার দিকে মুখ না করে এবং কিবলাকে পেছনেও না রাখে।"
(খণ্ড: ১) ইলামুল আলিম বাদা রুসুখিহি বি-নাসিখিল হাদীসি ওয়া মানসুখিহি (পৃষ্ঠা: ٦٧)
8 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي مَنْصُورٍ، قَالَ: أَنْبَأَ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ، قَالَ: أَنْبَأَ مُحَمَّدُ بْنُ عُمَرَ، وَقَالَ عُمَرُ بْنُ أَحْمَدُ بْنُ عُثْمَانَ مُحَمَّدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ سُلَيْمَانَ الْبَاغَنْدِيُّ: ثنا عِيسَى بْنُ حَمَّادٍ، ثنا اللَّيْثُ بْنُ سَعَدٍ، عَنْ أَبِي حَبِيبٍ، أَنَّهُ سَمِعَ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ الْحَارِثِ بْنِ جَزْءٍ الزُّبَيْدِيَّ، يَقُولُ: أَنَا أَوَّلُ مَنْ سَمِعَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم، يَقُولُ: «لَا يَبُلْ أَحَدُكُمْ مُسْتَقْبِلٌ الْقِبْلَةَ» ، وَأَنَا أَوَّلُ مَنْ حَدَّثَ بِذَلِكَ
৮ - মুহাম্মদ ইবন আবি মানসুর আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবন আহমদ আমাদের জানিয়েছেন (أنبأ), তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবন উমর আমাদের জানিয়েছেন (أنبأ); এবং উমর ইবন আহমদ ইবন উসমান বলেন, মুহাম্মদ ইবন মুহাম্মদ ইবন সুলাইমান আল-বাগন্দি আমাদের বর্ণনা করেছেন (حدثنا): ঈসা ইবন হাম্মাদ আমাদের বর্ণনা করেছেন (حدثنا), লাইস ইবন সাদ আমাদের বর্ণনা করেছেন (حدثنا), আবু হাবীব থেকে বর্ণিত যে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনুল হারিস ইবন জায আল-জুবায়দীকে বলতে শুনেছেন: "আমিই প্রথম ব্যক্তি যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: ‘তোমাদের কেউ যেন কিবলামুখী হয়ে প্রস্রাব না করে’, এবং আমিই প্রথম ব্যক্তি যে এটি বর্ণনা করেছি।"
(খণ্ড: ১) ইলামুল আলিম বাদা রুসুখিহি বি-নাসিখিল হাদীসি ওয়া মানসুখিহি (পৃষ্ঠা: ٦٨)
9 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي مَنْصُورٍ، قَالَ: أَنْبَأَ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ، قَالَ: أَنْبَأَ أَبُو بَكْرِ بْنِ الْأَخْضَرِ، قَالَ: أَنْبَأَ ابْنُ شَاهِينَ، ثنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ زِيَادٍ النَّيْسَابُورِيُّ، ثنا أَبُو الْأَزْهَرِ أَحْمَدُ بْنُ الْأَزْهَرِ، ثنا يَعْقُوبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ سَعْدٍ، حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، ثنا أَبَانُ بْنُ صَالِحٍ، عَنْ
৯ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا) মুহাম্মদ ইবনে আবি মানসুর, তিনি বলেন: আমাদের অবহিত করেছেন (أنبأ) মুহাম্মদ ইবনে আহমদ, তিনি বলেন: আমাদের অবহিত করেছেন (أنبأ) আবু বকর ইবনুল আখদার, তিনি বলেন: আমাদের অবহিত করেছেন (أنبأ) ইবনে শাহীন, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন (حدثنا) আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে যিয়াদ আন-নাইসাবুরী, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন (حدثنا) আবু আল-আযহার আহমদ ইবনুল আযহার, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন (حدثنا) ইয়াকুব ইবনে ইব্রাহিম ইবনে সা’দ, আমাকে হাদীস শুনিয়েছেন (حدثني) আমার পিতা, মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক থেকে (عن), আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন (حدثنا) আবান ইবনে সালিহ, থেকে (عن)
(খণ্ড: ১) ইলামুল আলিম বাদা রুসুখিহি বি-নাসিখিল হাদীসি ওয়া মানসুখিহি (পৃষ্ঠা: ٦٩)
مُجَاهِدٍ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ: «كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَدْ نَهَى أَنْ نَسْتَدْبِرَ الْقِبْلَةَ، أَوْ نَسْتَقْبِلَهَا بِفُرُوجِنَا إِذَا أَهْرَقْنَا الْمَاءَ، ثُمَّ رَأَيْتُهُ قَبْلَ مَوْتِهِ بِعَامٍ يَبُولُ مُسْتَقْبِلٌ الْقِبْلَةَ»

10 - قَالَ ابْنُ شَاهِينَ: وَثَنَا نَصْرُ بْنُ الْقَاسِمِ الْفَرَائِضِيُّ، ثنا سُرَيْجُ بْنُ يُونُسَ، ثنا هُشَيْمٌ، عَنْ خَالِدٍ الْحَذَّاءِ، عَنْ خَالِدِ بْنِ أَبِي الصَّلْتِ،
মুজাহিদ থেকে, জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রা.) সূত্রে বর্ণিত, তিনি বলেন: «রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রস্রাব করার সময় আমাদের কিবলার দিকে পিঠ দিতে অথবা কিবলার অভিমুখে আমাদের লজ্জাস্থান ফিরাতে নিষেধ করেছিলেন। অতঃপর তাঁর ইন্তেকালের এক বছর পূর্বে আমি তাঁকে কিবলার অভিমুখে প্রস্রাব করতে দেখেছি।»

১০ - ইবনে শাহীন বলেন: নাসর ইবনুল কাসিম আল-ফারাইদি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সুরাইজ ইবনে ইউনুস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হুশাইম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, খালিদ আল-হাদ্দ্বা থেকে, তিনি খালিদ ইবনে আবিল সালত থেকে,
(খণ্ড: ১) ইলামুল আলিম বাদা রুসুখিহি বি-নাসিখিল হাদীসি ওয়া মানসুখিহি (পৃষ্ঠা: ٧٠)
عَنْ عِرَاكِ بْنِ مَالِكٍ، عَنْ عَائِشَةَ، رضي الله عنها «أَنَّهَا رَأَتِ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم مُسْتَقْبِلٌ الْقِبْلَةَ لِحَاجَتِهِ بَعْدَ النَّهْيِ» .

قُلْتُ: قَدْ ظَنَّ بَعْضُهُمْ نَسْخَ الْأَوَّلِ بِهَذَا، وَلَيْسَ بِصَحِيحٍ.

بَلِ الصَّحِيحُ أَنَّ النَّهْيَ الْمُطْلَقَ مَحْمُولٌ عَلَى مَنْ كَانَ فِي الصَّحَارِي، فَأَمَّا فِي الْبُنْيَانِ فَفِيهِ رِوَايَتَانِ عِنْدَ أَحْمَدَ: إِحْدَاهُمَا: يَجُوزُ، وَهُوَ قَوْلُ مَالِكٍ، وَالشَّافِعِيِّ.

وَعَلَيْهِ يُحْمَلُ حَدِيثُ جَابِرٍ.
ইরাক ইবনে মালিক থেকে বর্ণিত, তিনি আয়েশা (রা.) হতে বর্ণনা করেন যে, “তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে (পায়খানা-প্রস্রাবে কিবলামুখী হওয়ার) নিষেধাজ্ঞা প্রদানের পর কিবলার দিকে মুখ করে হাজত পূরণ করতে দেখেছেন।”

আমি বলি: কেউ কেউ মনে করেছেন যে, এর দ্বারা প্রথম বিধানটি রহিত (نسخ) হয়েছে, কিন্তু তা সঠিক (صحيح) নয়।

বরং সঠিক (الصحيح) কথা হলো, সাধারণ নিষেধাজ্ঞাটি মরুভূমি বা খোলা প্রান্তরের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য; তবে দালানকোঠা বা আবদ্ধ স্থানের ক্ষেত্রে ইমাম আহমদের নিকট দুটি বর্ণনা (روايتان) রয়েছে: যার একটি হলো এটি বৈধ (يجوز), আর এটিই ইমাম মালিক ও শাফিঈর অভিমত।

আর জাবির (রা.) এর হাদিসটিও এই অর্থের ওপরই প্রয়োগ করা হয়।
(খণ্ড: ১) ইলামুল আলিম বাদা রুসুখিহি বি-নাসিখিল হাদীসি ওয়া মানসুখিহি (পৃষ্ঠা: ٧١)
قَالَ الْخَطَّابِيُّ: تَوَهَّمَ جَابِرٌ أَنَّ النَّهْيَ كَانَ عَلَى الْعُمُومِ، فَحُمِلَ الْأَمْرُ فِي ذَلِكَ عَلَى النَّسْخِ.

وَالرِّوَايَةُ الثَّانِيَةُ: عَنْ أَحْمَدَ: لَا يَجُوزُ كَالصَّحْرَاءِ.

وَهِيَ رِوَايَةُ أَبِي حَنِيفَةَ.

وَقَالَ دَاوُدُ: يَجُوزُ بِكُلِ حَالٍ.

وَلَعَلَّهُ رَآهُ نَهْيَ كَرَاهِيَةٍ

11 - وَقَدْ رَوَى مَعْقِلُ بْنُ أَبِي مَعْقِلِ، قَالَ: «نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ نَسْتَقْبِلَ الْقِبْلَتَيْنِ بِبَوْلٍ، أَوْ غَائِطٍ» .
আল-খাত্তাবি বলেছেন: জাবির (রা.) ধারণা করেছিলেন যে নিষেধাজ্ঞাটি ব্যাপক বা সাধারণ (العموم) ছিল, তাই বিষয়টিকে রহিতকরণের (النسخ) ওপর প্রয়োগ করা হয়েছে।

আর আহমাদ (রহ.) থেকে বর্ণিত দ্বিতীয় বর্ণনা (الرواية) হলো: এটি মরুভূমির ন্যায় (অর্থাৎ খোলা জায়গার মতোই) অবৈধ।

আর এটি ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর বর্ণনা (الرواية)।

দাউদ (রহ.) বলেছেন: এটি সর্বাবস্থায় বৈধ।

সম্ভবত তিনি একে মাকরূহ বা অপছন্দনীয়তাসূচক (كراهية) নিষেধাজ্ঞা হিসেবে গণ্য করেছেন।

11 - মাকিল ইবনে আবি মাকিল বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: “রাসূলুল্লাহ (সা.) মল বা মূত্র ত্যাগের সময় উভয় কিবলার দিকে মুখ করতে নিষেধ করেছেন।”
(খণ্ড: ১) ইলামুল আলিম বাদা রুসুখিহি বি-নাসিখিল হাদীসি ওয়া মানসুখিহি (পৃষ্ঠা: ٧٢)
قَالَ الْخَطَّابِيُّ: أَرَادَ بِالْقِبْلَتَيْنِ الْكَعْبَةَ، وَبَيْتَ الْمَقْدِسِ.

قَالَ: وَهَذَا يُحْتَمَلُ أَنْ يَكُونَ عَلَى مَعْنَى الِاحْتِرَامِ لِبَيْتِ الْمَقْدِسِ لِأَنَّهُ قَدْ كَانَ مَرَّةً قِبْلَةً لَنَا.

وَيُحْتَمَلُ أَنْ يَكُونَ ذَلِكَ مِنْ أَجْلِ اسْتِدْبَارِ الْكَعْبَةِ، لِأَنَّ مَنِ اسْتَقْبَلَ بَيْتَ الْمَقْدِسِ بِالْمَدِينَةِ فَقَدِ اسْتَدْبَرَ الْكَعْبَةَ

 

‌‌بَابُ: نَجَاسَةِ الْهِرِّ

12 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي مَنْصُورٍ، قَالَ: أَنْبَأَ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ الْخَيَّاطُ، قَالَ: أَنْبَأَ أَبُو بَكْرِ بْنِ الْأَخْضَرِ، قَالَ: أَنْبَأَ عُمَرُ بْنُ أَحْمَدَ، قَالَ: أَنْبَأَ مُحَمَّدُ بْنُ مِخْلَدِ بْنِ حَفْصٍ، ثنا أَبُو بَدْرٍ عَبَّادُ بْنُ الْوَلِيدِ الْغَبْرِيُّ، ثنا حَفْصُ
আল-খাত্তাবি বলেছেন: ‘দুই কিবলা’ বলতে তিনি কাবা এবং বাইতুল মাকদিসকে বুঝিয়েছেন।

তিনি বলেন: এর দ্বারা বাইতুল মাকদিসের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা উদ্দেশ্য হওয়ার সম্ভাবনা (محتمل) রয়েছে, কেননা একদা এটি আমাদের কিবলা ছিল।

আর এর এ কারণ হওয়ারও সম্ভাবনা (محتمل) রয়েছে যে, এটি কাবার দিকে পিঠ ফিরিয়ে রাখা থেকে বাঁচার জন্য; কেননা মদিনায় অবস্থানকালে যে ব্যক্তি বাইতুল মাকদিসের দিকে মুখ করে, সে মূলত কাবার দিকে পিঠ ফিরিয়ে থাকে।

 

‌‌পরিচ্ছেদ: বিড়ালের অপবিত্রতা

12 - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا) মুহাম্মদ ইবনে আবি মানসুর, তিনি বলেন: আমাদের অবহিত করেছেন (أنبأ) মুহাম্মদ ইবনে আহমদ আল-খাইয়াত, তিনি বলেন: আমাদের অবহিত করেছেন (أنبأ) আবু বকর ইবনুল আখদার, তিনি বলেন: আমাদের অবহিত করেছেন (أنبأ) উমর ইবনে আহমদ, তিনি বলেন: আমাদের অবহিত করেছেন (أنبأ) মুহাম্মদ ইবনে মিখলাদ ইবনে হাফস, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন (حدثنا) আবু বদর আব্বাদ ইবনুল ওয়ালিদ আল-গাবরি, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন (حدثنا) হাফস
(খণ্ড: ১) ইলামুল আলিম বাদা রুসুখিহি বি-নাসিখিল হাদীসি ওয়া মানসুখিহি (পৃষ্ঠা: ٧٣)
بْنُ وَاقِدٍ، ثنا ابْنُ عَوْنٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سِيرِينَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «طُهُورُ إِنَاءِ أَحَدِكُمْ إِذَا وَلَغَ فِيهِ الْكَلْبُ سَبْعُ مَرَّاتٍ، أَوَّلَاهُنَّ بِالتُّرَابِ، وَالْهِرُّ مَرَّةً» .

قَدْ ذَكَرُوا هَذَا الْحَدِيثَ فِي الْمَنْسُوخِ، وَجَعَلُوا نَاسِخَهُ:
ইবনে ওয়াকিদ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا) ইবনে আউন, তিনি মুহাম্মদ ইবনে সিরীন থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: “তোমাদের কারো পাত্রে যখন কুকুর মুখ দেয়, তখন তার পবিত্রতা অর্জনের পদ্ধতি হলো তা সাতবার ধৌত করা, যার প্রথমবার হবে মাটি দ্বারা; আর বিড়ালের ক্ষেত্রে একবার।”

তাঁরা এই হাদিসটিকে রহিত (منسوخ) বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত করেছেন এবং এর রহিতকারী (ناسخ) হিসেবে নির্ধারণ করেছেন:
(খণ্ড: ১) ইলামুল আলিম বাদা রুসুখিহি বি-নাসিখিল হাদীসি ওয়া মানসুখিহি (পৃষ্ঠা: ٧٤)
13 - حَدِيثَ عَائِشَةَ، قَالَتْ: «كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم تَمُرُّ بِهِ الْهِرُّ فَيُصْغِي لَهَا الْإِنَاءَ، فَتَشْرَبَ، ثُمَّ يَتَوَضَّأَ بِفَضْلِهَا» 14 14 - وَبِحَدِيثِ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ: «كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم» يُصْغِي الْإِنَاءَ لِلسِّنَّوْرِ فَيَلِغَ مِنْهُ، ثُمَّ يَتَوَضَّأُ مِنْ فَضْلِهِ "
১৩ - আয়েশা (রা.) বর্ণিত হাদিস, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট দিয়ে বিড়াল অতিক্রম করত, তখন তিনি তার জন্য পাত্রটি নিচু করে ধরতেন এবং সে তা থেকে পান করত; অতঃপর তিনি তার উচ্ছিষ্ট পানি দিয়ে অজু করতেন।" ১৪ ১৪ - এবং জাবির বিন আব্দুল্লাহ (রা.) বর্ণিত হাদিস, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিড়ালের জন্য পাত্রটি নিচু করে ধরতেন এবং সে তা থেকে পান করত, অতঃপর তিনি তার উচ্ছিষ্ট পানি দিয়ে অজু করতেন।"
(খণ্ড: ১) ইলামুল আলিম বাদা রুসুখিহি বি-নাসিখিল হাদীসি ওয়া মানসুখিহি (পৃষ্ঠা: ٧٥)
قُلْتُ: وَمِنْ أَيْنَ لَهُمْ تَارِيخٌ أَنَّ هَذَا بَعْدَ هَذَا؟ وَالَّذِي أَرَاهُ أَنَّ الْحَدِيثَ الْأَوَّلَ مَا صَحَّ.

فَإِنَّ حَفْصَ بْنَ وَاقِدٍ لَهُ أَحَادِيثُ مُنْكَرَةٌ مِنْهَا هَذَا الْحَدِيثُ

 

‌‌بَابُ: جُلُودِ الْمَيْتَةِ

15 - أَخْبَرَنَا ابْنُ الْحُصَيْنِ، قَالَ: أنبا ابْنُ الْمُذْهِبِ، قَالَ: أَنْبَأَ أَحْمَدُ بْنُ جَعْفَرٍ، قَالَ: أنبا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ، قَالَ: حَدَّثَنِي أَبِي، قَالَ: ثنا مُحَمَّدُ بْنُ مُصْعَبٍ، ثنا الْأَوْزَاعِيُّ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ: " مَرَّ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِشَاةٍ مَيِّتَةٍ، فَقَالَ: هَلَا اسْتَمْتَعْتُمْ بِجِلْدِهَا؟ قَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّهَا مَيِّتَةٌ.

قَالَ: إِنَّمَا حُرِّمَ أَكْلُهَا ".

أَخْرَجَاهُ فِي الصَّحِيحَيْنِ
আমি বলছি: তাদের নিকট এমন কী ইতিহাস রয়েছে যার দ্বারা জানা যায় যে এটি ওইটির পরবর্তী? আর আমার নিকট যা প্রতীয়মান হয় তা হলো, প্রথম হাদিসটি বিশুদ্ধ (صحيح) নয়।

কেননা হাফস ইবনে ওয়াকিদের কিছু প্রত্যাখ্যাত (منكرة) হাদিস রয়েছে, যার মধ্যে এই হাদিসটিও অন্তর্ভুক্ত।

 

‌‌পরিচ্ছেদ: মৃত পশুর চামড়া

15 - ইবনুল হুসাইন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: ইবনুল মুজহিব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আহমাদ ইবনে জাফর আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবদুল্লাহ ইবনে আহমাদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমার পিতা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনে মুসআব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি আল-আওজায়ি থেকে, তিনি যুহরি থেকে, তিনি উবাইদুল্লাহ ইবনে আবদুল্লাহ থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস (রাযি.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) একটি মৃত ছাগলের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন তিনি বললেন: তোমরা কেন এর চামড়া দ্বারা উপকৃত হলে না? তারা বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, এটি তো মৃত।

তিনি বললেন: কেবল এটি ভক্ষণ করাই হারাম করা হয়েছে।"

তাঁরা উভয়েই এটি সহিহাইনে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) ইলামুল আলিম বাদা রুসুখিহি বি-নাসিখিল হাদীসি ওয়া মানসুখিহি (পৃষ্ঠা: ٧٦)
16 - وَرَوَى مُسْلِمٌ فِي أَفْرَادِهِ مِنْ حَدِيثِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَيْضًا عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، أَنَّهُ قَالَ: «أَيُّمَا إِهَابٍ دُبِغَ، فَقَدْ طَهُرَ»
১৬ - ইমাম মুসলিম তাঁর একক বর্ণনাসমূহের (أفراد) মধ্যে ইবনে আব্বাস-এর হাদিস থেকেও নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: «যেকোনো চামড়া যখন ট্যান বা প্রক্রিয়াজাত করা হয়, তখন তা পবিত্র হয়ে যায়।»
(খণ্ড: ১) ইলামুল আলিম বাদা রুসুখিহি বি-নাসিখিল হাদীসি ওয়া মানসুখিহি (পৃষ্ঠা: ٧٧)
17 17 - وَفِي أَفْرَادِهِ مِنْ حَدِيثِ ابْنِ وَعْلَةَ السَّبْئِيِّ، قَالَ: سَأَلْتُ ابْنَ عَبَّاسٍ، قُلْتُ لَهُ أَنَّا نَكُونُ بِأَرْضِ الْمَغْرِبِ وَمَعَنَا الْبَرْبَرُ، وَالمَجُوسُ نُؤْتِي بِالْكَبْشِ قَدْ ذَبَحُوهُ وَنَحْنُ لَا نَأْكُلُ.

وَنُؤْتِي بِالسِّقَاءِ فِيهِ الْوَدَكُ.

فَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ: قَدْ سَأَلَنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ ذَلِكَ، فَقَالَ: «دِبَاغُهُ طَهُورُهُ» 18 18 - وَفِي حَدِيثِ عَائِشَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، أَنَّهُ قَالَ: «طَهُورُ كُلِّ أَدِيمٍ دِبَاغُهُ»
17 17 - এবং তাঁর একক বর্ণনাসমূহের (أفراد) অন্তর্ভুক্ত ইবনে ওয়ালাহ আল-সাবিঈ বর্ণিত হাদিস; তিনি বলেন: আমি ইবনে আব্বাসকে জিজ্ঞাসা করলাম এবং তাঁকে বললাম যে, আমরা মাগরিবের ভূখণ্ডে বসবাস করি এবং আমাদের সাথে বার্বার ও মজুসিরা থাকে; তারা আমাদের নিকট জবাই করা ভেড়া নিয়ে আসে কিন্তু আমরা তা খাই না।

এবং আমাদের নিকট চামড়ার মশক আনা হয় যাতে চর্বি থাকে।

তখন ইবনে আব্বাস বললেন: আমরা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম এবং তিনি বলেছিলেন: "চামড়া পাকা করাই তার পবিত্রতা।" 18 18 - এবং আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "প্রত্যেক চামড়ার পবিত্রতা হলো তা পাকা করা।"
(খণ্ড: ১) ইলামুল আলিম বাদা রুসুখিহি বি-নাসিখিল হাদীসি ওয়া মানসুখিহি (পৃষ্ঠা: ٧٨)
‌‌ذِكْرُ مَا يُخَالِفُ هَذَا

19 - أَنَا أَبُو الْفَتْحِ الْكَرُوخِيُّ، ثنا أَبُو عَامِرٍ الْأَزْدِيُّ، وَأَبُو بَكْرٍ الْغُورَجِيُّ، أَنَا الْجِرَاحِيُّ،
এর পরিপন্থী বিষয়সমূহের বিবরণ

১৯ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أنا) আবু আল-ফাতহ আল-কারুখি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (ثنا) আবু আমির আল-আজদি ও আবু বকর আল-গুরাজি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أنا) আল-জিরাহি,
(খণ্ড: ১) ইলামুল আলিম বাদা রুসুখিহি বি-নাসিখিল হাদীসি ওয়া মানসুখিহি (পৃষ্ঠা: ٧٩)
ثنا الْمَحْبُوبِيُّ، ثنا التِّرْمِذِيُّ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ طَرِيفٍ الْكُوفِيُّ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ فُضَيْلٍ، عَنِ الْأَعْمَشِ، وَالشَّيْبَانِيِّ، عَنِ الْحَكَمِ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي لَيْلَى، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُكَيْمٍ، قَالَ: أَتَانَا كِتَابُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «أَنْ لَا تَنْتَفِعُوا مِنَ الْمَيْتَةِ بِإِهَابٍ، وَلَا عَصَبٍ» .

وَفِي رِوَايَةٍ قَبْلَ وَفَاتِهِ بِشَهْرَيْنِ.

وَفِي رِوَايَةٍ بِشَهْرٍ
আল-মাহবুবি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তিরমিযি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), মুহাম্মদ ইবনে তরীফ আল-কুফি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), মুহাম্মদ ইবনে ফুদাইল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا); তিনি আমাশ ও শায়বানি থেকে, তিনি হাকাম থেকে, তিনি আবদুর রহমান ইবনে আবি লায়লা থেকে এবং তিনি আবদুল্লাহ ইবনে উকায়ম থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আমাদের নিকট রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর একটি পত্র আসলো যে: "তোমরা মৃত পশুর চামড়া এবং স্নায়ু থেকে কোনো উপকার গ্রহণ করো না।"

এবং একটি বর্ণনায় (رواية) রয়েছে, তাঁর ইন্তেকালের দুই মাস পূর্বে।

এবং অন্য একটি বর্ণনায় (رواية) রয়েছে, এক মাস পূর্বে।
(খণ্ড: ১) ইলামুল আলিম বাদা রুসুখিহি বি-নাসিখিল হাদীসি ওয়া মানসুখিহি (পৃষ্ঠা: ٨٠)
20 - وَقَدْ رُوِيَ فِي حَدِيثِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ: «نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ يُنْتَفَعَ مِنَ الْمَيْتَةِ بِعَصَبٍ، أَوْ إِهَابٍ» .

وَفِي حَدِيثِ جَابِرٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «لَا يُنْتَفَعُ مِنَ الْمَيْتَةِ بِشَيْءٍ» .
২০ - এবং ইবনে উমরের হাদিসে বর্ণিত হয়েছে (رُوِيَ), তিনি বলেন: «রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মৃত পশুর স্নায়ু অথবা চামড়া ব্যবহার করতে নিষেধ করেছেন»।

এবং জাবেরের হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «মৃত পশুর কোনো কিছু থেকেই উপকৃত হওয়া যাবে না»।
(খণ্ড: ১) ইলামুল আলিম বাদা রুসুখিহি বি-নাসিখিল হাদীসি ওয়া মানসুখিহি (পৃষ্ঠা: ٨١)
وَقَدِ ادَّعَى جَمَاعَةٌ نَسْخَ تِلْكَ الْأَحَادِيثِ الْمُتَقَدِّمَةِ بِحَدِيثِ ابْنِ عُكَيْمٍ.

وَقَالَ أَبُو بَكْرٍ الْأَثْرَمِ: حَدِيثُ ابْنِ عُكَيْمٍ كَأَنَّهُ نَاسِخٌ لِمَا قَبْلَهُ أَلَا تَرَاهُ يَقُولُ قَبْلَ مَوْتِهِ بِشَهْرٍ.

وَقَالَ آخَرُونَ: يَجُوزُ أَنْ تَكُونَ أَحَادُيثُ الْإِبَاحَةِ قَبْلَ مَوْتِهِ بِيَوْمٍ أَوْ يَوْمَيْنِ، قَالُوا: وَالْإِهَابُ اسْمُ الْجِلْدِ قَبْلَ الدِّبَاغِ.

وَقَدْ حَكَى أَبُو دَاوُدَ: أَنَّ النَّضْرَ بْنَ شُمَيْلٍ، قَالَ: يُسَمَّى إِهَابًا مَا لَمْ يُدْبَغْ.

وَأُجِيبَ هَؤُلَاءِ بِأَنَّهُ قَدْ رُوِيَ فِي بَعْضِ أَلْفَاظِهِ «كُنْتُ رَخَّصْتُ لَكُمْ فِي جِلْدِ الْمَيْتَةِ» .

فَدَلَّ عَلَى تَقَدُّمِ أَحَادِيثِ الْإِبَاحَةِ، وَصَحَّ النَّسْخُ.

وَهَذِهِ اللَّفْظَةُ بَعِيدَةُ الثُّبُوتِ، ثُمَّ يُحْتَمَلُ أَنْ يَكُونَ رَخَّصَ فِي ذَلِكَ ثُمَّ نَهَى، ثُمَّ رَخَّصَ.

وَفِي الْجُمْلَةِ: حَدِيثُ ابْنِ عُكَيْمٍ مُضْطَرِبٌ.
একদল আলিম ইবনে উকাইমের হাদিস দ্বারা পূর্বোক্ত হাদিসগুলো রহিতকরণ (نسخ) করার দাবি করেছেন।

আবু বকর আল-আসরম বলেন: ইবনে উকাইমের হাদিসটি যেন তার পূর্ববর্তী হাদিসগুলোর জন্য রহিতকারী (ناسخ); আপনি কি দেখছেন না যে, এতে তাঁর [রাসূলের] মৃত্যুর এক মাস আগের কথা বলা হয়েছে।

অন্যান্যরা বলেন: হতে পারে বৈধতা সংক্রান্ত হাদিসগুলো তাঁর মৃত্যুর একদিন বা দুইদিন আগের। তাঁরা বলেন: ‘ইহাব’ হলো প্রক্রিয়াজাত করার পূর্বের চামড়ার নাম।

আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন: নাদর ইবনে শুমাইল বলেছেন, যতক্ষণ পর্যন্ত চামড়া প্রক্রিয়াজাত করা না হয়, ততক্ষণ একে ‘ইহাব’ বলা হয়।

এদের উত্তরে বলা হয়েছে যে, এর কোনো কোনো পাঠে বর্ণিত হয়েছে— “আমি তোমাদের মৃত পশুর চামড়া ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছিলাম।”

সুতরাং এটি বৈধতা সংক্রান্ত হাদিসগুলোর অগ্রবর্তী হওয়ার প্রমাণ বহন করে এবং রহিতকরণ (نسخ) সঠিক বলে প্রমাণিত হয়।

তবে এই পাঠটির প্রামাণ্যতা সুদূরপরাহত; অধিকন্তু সম্ভাবনা রয়েছে যে তিনি প্রথমে অনুমতি দিয়েছিলেন, তারপর নিষেধ করেছিলেন এবং পুনরায় অনুমতি দিয়েছিলেন।

সারকথা হলো: ইবনে উকাইমের হাদিসটি গোলযোগপূর্ণ (مضطرب)।
(খণ্ড: ১) ইলামুল আলিম বাদা রুসুখিহি বি-নাসিখিল হাদীসি ওয়া মানসুখিহি (পৃষ্ঠা: ٨٢)
قَالَ التِّرْمِذِيُّ: سَمِعْتُ أَحْمَدَ بْنَ الْحَسَنِ، يَقُولُ: كَانَ أَحْمَدَ بْنُ حَنْبَلٍ يَذْهَبُ إِلَى حَدِيثِ ابْنِ عُكَيْمٍ: لَمَّا ذَكَرَ فِيهِ قَبْلَ وَفَاتِهِ بِشَهْرَيْنِ، وَكَانَ يَقُولُ: هَذَا آخِرُ أَمْرِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ثُمَّ تَرَكَ أَحْمَدُ هَذَا الْحَدِيثَ لَمَّا اضْطَرَبُوا فِي إِسْنَادِهِ حَيْثُ رَوَى بَعْضُهُمْ فقَالَ: عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُكَيْمٍ، عَنْ أَشْيَاخٍ مِنْ جُهَيْنَةَ.

وَاللَّهُ أَعْلَمُ
ইমাম তিরমিজি বলেন: আমি আহমদ ইবনুল হাসানকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আহমদ ইবনে হাম্বল ইবনে উকাইমের হাদিসের মত পোষণ করতেন; কারণ এতে (নবিজির) ইন্তেকালের দুই মাস পূর্বের কথা উল্লেখ ছিল এবং তিনি বলতেন: এটিই ছিল নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সর্বশেষ নির্দেশ। অতঃপর আহমদ এই হাদিসটি বর্জন করেন যখন বর্ণনাকারীরা এর সূত্র পরম্পরায় (إسناد) অসংগতি (اضطراب) তৈরি করেন; যেখানে তাদের কেউ কেউ বর্ণনা করতে গিয়ে বলেছেন: আবদুল্লাহ ইবনে উকাইম থেকে, তিনি জুহাইনা গোত্রের একদল প্রবীণ থেকে।

আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
(খণ্ড: ১) ইলামুল আলিম বাদা রুসুখিহি বি-নাসিখিল হাদীসি ওয়া মানসুখিহি (পৃষ্ঠা: ٨٣)
‌‌أَبْوَابُ الْوُضُوءِ

‌‌بَابُ: تَرْكِ الِاسْتِعَانَةِ بِأَحَدٍ فِي الطَّهُورِ

21 - رَوَى عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ رضي الله عنه، قَالَ: " رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَسْتَقِي مَاءً لِوُضُوئِهِ فَبَادَرْتُهُ اسْتَقِي لَهُ، فَقَالَ: مَهْلًا يَا عُمَرُ، فَإِنِّي أَكْرَهُ أَنْ يُشْرِكَنِي فِي طَهُورِي أَحَدٌ "
অজুর অধ্যায়সমূহ

পরিচ্ছেদ: পবিত্রতা অর্জনের ক্ষেত্রে কারো সাহায্য গ্রহণ বর্জন করা

২১ - ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "আমি রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে তাঁর অজুর জন্য পানি সংগ্রহ করতে দেখলাম। তখন আমি তাঁর হয়ে পানি সংগ্রহ করতে দ্রুত এগিয়ে গেলাম। তিনি বললেন: হে ওমর, ক্ষান্ত হও; কেননা আমি অপছন্দ করি যে, আমার পবিত্রতা অর্জনের কাজে কেউ আমার অংশীদার হোক।"
(খণ্ড: ১) ইলামুল আলিম বাদা রুসুখিহি বি-নাসিখিল হাদীসি ওয়া মানসুখিহি (পৃষ্ঠা: ٨٤)
‌‌ذِكْرُ مَا يُخَالِفُ هَذَا

22 - قَدْ صَحَّ فِي الْحَدِيثِ عَنْ عَائِشَةَ، أَنّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: «ضَعُوا لِي مَاءً فِي الْمِخْضَبِ» 23 23 - وَعَنْ رَبِيعَةَ بْنِ كَعْبٍ، أَنَّهُ قَالَ: «كُنْتُ أَبِيتُ عَلى بَابِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَأَعْطِيهِ الْوُضُوءَ مِنَ اللَّيْلِ» .
এর পরিপন্থী বর্ণনার আলোচনা

22 - আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে বিশুদ্ধ হিসেবে সাব্যস্ত (صَحَّ) হয়েছে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «আমার জন্য গামলায় পানি রাখো।» 23 23 - এবং রাবিয়া ইবনে কা'ব (রা.) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন: «আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর দরজায় রাত্রিযাপন করতাম এবং রাতের বেলা তাঁকে ওযুর পানি দিতাম।» .
(খণ্ড: ১) ইলামুল আলিম বাদা রুসুখিহি বি-নাসিখিল হাদীসি ওয়া মানসুখিহি (পৃষ্ঠা: ٨٥)
وَهَذَانِ الْحَدِيثَانِ أَصَحُّ مِنَ الْأَوَّلِ، وَلَيْسَ الْأَوَّلُ بِقَوِيٍّ إِلَّا أَنَّ هَذَا لَا يَدْخُلُ فِي بَابِ النَّاسِخِ وَالْمَنْسُوخِ، إِذْ كِلَا الْفِعْلَيْنِ جَائِزٌ

 

‌‌بَابُ: الْوُضُوءِ لِكُلِّ صَلَاةٍ

24 - أَخْبَرَنَا عَبْدُ الْأَوَّلِ، قَالَ: أَنْبَأَ أَبُو الْمُظَفَّرِ الدَّاوُدِيُّ، قَالَ: أَنْبَأَ ابْنُ أَعْيَنَ، قَالَ: أَخْبَرَنَا الْفَرْبَرِيُّ، قَالَ: نَبَا الْبُخَارِيُّ، نَبَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ، نَبَا سُفْيَانُ، عَنْ عَمْرِو بْنِ عَامِرٍ، قَالَ: سَمِعْتُ أَنَسًا، يَقُولُ: «كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَتَوَضَّأُ عِنْدَ كُلِّ صَلَاةٍ» .

قَالَ قُلْتُ: فَأَنْتُمْ كَيْفَ كُنْتُمْ تَصْنَعُونَ؟ قَالَ: كُنَّا نُصَلِّي الصَّلَوَاتِ بِوُضُوءٍ وَاحِدٍ مَا لَمْ نُحْدِثْ.

انْفَرَدَ بِإِخْرَاجِهِ الْبُخَارِيُّ

 

‌‌ذِكْرُ مَا يُخَالِفُ هَذَا

25 - أَخْبَرَنَا هِبَةُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ، قَالَ: أَنْبَأَ الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ، قَالَ: أَنْبَأَ أَحْمَدُ بْنُ جَعْفَرٍ، قَالَ: نَبَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ، قَالَ: حَدَّثَنِي أَبِي، قَالَ: نَبَا عَبْدُ
এবং এই হাদিস দুটি প্রথমটির তুলনায় অধিক সহিহ (أصح), আর প্রথমটি শক্তিশালী (قوي) নয়; তবে এটি নাসিখ (الناسخ) ও মানসুখ (المنسوخ) অধ্যায়ের অন্তর্ভুক্ত নয়, কারণ উভয় কাজই বৈধ (جائز)।

 

‌‌পরিচ্ছেদ: প্রত্যেক সালাতের জন্য অজু করা

২৪ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্দুল আওয়াল, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-মুজাফফর আদ-দাউদি, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইবনে আইয়ান, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আল-ফারাবরি, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন বুখারি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন সুফিয়ান, আমর ইবনে আমির থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আনাস (রা.)-কে বলতে শুনেছি: «রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রত্যেক সালাতের সময় অজু করতেন»।

তিনি (বর্ণনাকারী) বলেন, আমি বললাম: "তবে আপনারা কীভাবে করতেন?" তিনি বললেন: "আমরা যতক্ষণ ওজু নষ্ট (أحدث) না করতাম, ততক্ষণ এক অজুতেই সালাতসমূহ আদায় করতাম।"

এটি এককভাবে উদ্ধৃত (انفرد) করেছেন বুখারি।

 

‌‌এর পরিপন্থী বিষয়সমূহের উল্লেখ

২৫ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হিবাতুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আল-হাসান ইবনে আলী, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আহমদ ইবনে জাফর, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্দুল্লাহ ইবনে আহমদ, তিনি বলেন: আমার পিতা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্দুল...
(খণ্ড: ১) ইলামুল আলিম বাদা রুসুখিহি বি-নাসিখিল হাদীসি ওয়া মানসুখিহি (পৃষ্ঠা: ٨٦)
الرَّحْمَنِ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ عَلْقَمَةَ بْنِ مَرْثَدٍ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ بُرَيْدَةَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: " كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَتَوَضَّأُ عِنْدَ كُلِّ صَلَاةٍ، فَلَمَّا كَانَ يَوْمُ الْفَتْحِ تَوَضَّأَ وَمَسَحَ عَلَى خُفَّيْهِ، وَصَلَّى الصَّلَوَاتِ بِوُضُوءٍ وَاحِدٍ، فَقَالَ لَهُ عُمَرُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّكَ فَعَلْتَ شَيْئًا لَمْ تَكُنْ تَفْعَلَهُ؟ قَالَ: إِنِّي عَمْدًا فَعَلْتُهُ يَا عُمَرُ ".

انْفَرَدَ بِإِخْرَاجِهِ مُسْلِمٌ.

وَقَدْ ذَكَرُوا هَذَا فِي النَّاسِخِ وَالْمَنْسُوخِ وَلَيْسَ بِدَاخِلٍ فِي ذَلِكَ.

لِأَنَّ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَطْلُبُ الْفَضِيلَةَ فَشُغِلَ يَوْمَ الْفَتْحِ، فَجَمَعَ الصَّلَوَاتِ بِوضُوُءٍ وَاحِدٍ.

ثُمَّ إِنَّهُ بَيَّنَ الْجَوَازَ لَئَلَّا يَظُنُّ ظَانٍ، أَنَّ اسْتِدَامَةَ الْفِعْلِ الْأَوَّلِ يُوجِبُهُ

 

‌‌بَابُ: مَسْحِ الرَّأْسِ بِمَاءِ الذِّرَاعَيْنِ

26 - رَوَى سُفْيَانُ، عَنِ ابْنِ عُقَيْلٍ، عَنِ الرَّبِيعِ: «أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم مَسَحَ بِرَأْسِهِ بِمَا بَقِيَ مِنْ ذِرَاعَيْهِ» .
আবদুর রহমান থেকে, তিনি সুফিয়ান থেকে, তিনি আলকামা ইবনে মারসাদ থেকে, তিনি সুলায়মান ইবনে বুরাইদাহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রতিটি সালাতের সময় ওজু করতেন। যখন মক্কা বিজয়ের দিন এল, তখন তিনি ওজু করলেন এবং তাঁর চামড়ার মোজার ওপর মাসেহ করলেন এবং এক ওজুতেই সকল সালাত আদায় করলেন। তখন উমর (রা.) তাঁকে বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আপনি এমন একটি কাজ করলেন যা ইতিপূর্বে কখনো করতেন না? তিনি বললেন: হে উমর, আমি উদ্দেশ্যমূলকভাবেই এটি করেছি।"

এটি এককভাবে বর্ণনা (انفرد) করেছেন মুসলিম।

বিদ্বানগণ এটি রহিতকারী (ناسخ) এবং রহিত (منسوخ) এর অধ্যায়ে উল্লেখ করেছেন, অথচ এটি সেই বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত নয়।

কেননা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সর্বদা উত্তম আমলের সন্ধানে থাকতেন, কিন্তু মক্কা বিজয়ের দিন তিনি ব্যস্ত থাকায় এক ওজুতে সালাতসমূহ একত্রিত করেছিলেন।

অতঃপর তিনি এর বৈধতা স্পষ্ট করে দিয়েছেন যাতে কোনো ধারণা পোষণকারী এমনটি মনে না করে যে, পূর্বের আমলের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা সেটি আবশ্যকীয় করে দেয়।

 

পরিচ্ছেদ: দুই হাত ধোয়ার পর অবশিষ্ট পানি দিয়ে মাথা মাসেহ করা

26 - সুফিয়ান ইবনে উকাইল থেকে, তিনি রুবাইয়ি থেকে বর্ণনা করেছেন: «নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর দুই হাত ধোয়ার পর অবশিষ্ট পানি দিয়ে মাথা মাসেহ করেছেন»।
(খণ্ড: ১) ইলামুল আলিম বাদা রুসুখিহি বি-নাসিখিল হাদীসি ওয়া মানসুখিহি (পৃষ্ঠা: ٨٧)
وَهَذَا لَا يَثْبُتُ لِأَنَّ ابْنَ عُقَيْلٍ لَا يُحْتَجُّ بِحَدِيثِهِ إِذْ خَالَفَهُ مَنْ هُوَ أَقْوَى مِنْهُ

27 - وَقَدْ صَحَّ فِي حَدِيثِ عُثْمَانَ، وعَلِيٍّ رضي الله عنهما: «أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم أَحَذَ لِرَأْسِهِ مَاءً جَدِيدًا»
আর এটি সাব্যস্ত নয় (لا يثبت); কারণ ইবনে উকাইলের হাদিস দলিলযোগ্য নয় (لا يحتج به), যেহেতু তাঁর তুলনায় অধিক শক্তিশালী (أقوى) বর্ণনাকারী তাঁর বিরোধিতা করেছেন।

২৭ - আর ওসমান ও আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর বর্ণিত হাদিসে এটি বিশুদ্ধভাবে প্রমাণিত (صح) হয়েছে যে: «নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর মাথার জন্য নতুন পানি গ্রহণ করেছিলেন।»