(খণ্ড: ১)
ইসলামু যাইদ বিন হারিসাহ ওয়া গয়রুহু মিন আহাদীসিশ শুয়ুখ
(পৃষ্ঠা: -)
إسلام زيد بن حارثة وغيره من أحاديث الشيوخ القسم: كتب السنة
الكتاب: إسلام زيد بن حارثة وغيره من أحاديث الشيوخ
المؤلف: أبو القاسم تمام بن محمد بن عبد الله بن جعفر بن عبد الله بن الجنيد البجلي الرازي ثم الدمشقي (ت 414هـ)
تحقيق وتخريج: محمد صباح منصور
الناشر: دار البشائر الإسلامية، بيروت
الطبعة: الأولى، 1424 هـ - 2003 م
عدد الصفحات: 190
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
যায়িদ ইবনে হারিসার ইসলাম গ্রহণ এবং শায়খদের অন্যান্য হাদিসসমূহ বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ
কিতাব: যায়িদ ইবনে হারিসার ইসলাম গ্রহণ এবং শায়খদের অন্যান্য হাদিসসমূহ
লেখক: আবু আল-কাসিম তাম্মাম বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন জাফর বিন আব্দুল্লাহ বিন আল-জুনাইদ আল-বাজালি আল-রাজি অতঃপর আদ-দিমাশকি (মৃত্যু ৪১৪ হিজরি)
তাহকিক ও তাখরিজ: মুহাম্মদ সাবাহ মনসুর
প্রকাশক: দারুল বাশাইর আল-ইসলামিয়্যাহ، বৈরুত
সংস্করণ: প্রথম، ১৪২৪ হিজরি - ২০০৩ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৯০
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
ইসলামু যাইদ বিন হারিসাহ ওয়া গয়রুহু মিন আহাদীসিশ শুয়ুখ
(পৃষ্ঠা: ১৩৭)
بسم الله الرحمن الرحيم رب سهل
أخبرنا الشيخ الفقيه أبو محمد عبد الرحمن بن علي بن المسلم بن الحسين بن أحمد بن إسحاق اللخمي الخرقي المعدل رضي الله عنه، بقراءتي عليه في سادس شعبان سنة اثنتين وثمانين وخمس مائة في داره بدمشق وأبو طاهر بركات بن إبراهيم بن طاهر بن بركات الخشوعي القرشي، أخبرنا الإمام جمال الإسلام أبو الحسن علي بن المسلم بن محمد بن الفتح السلمي رضي الله عنه قراءة عليه ونحن نسمع في جمادى الآخر سنة خمس وعشرين وخمس مائة، قال: أنبا الشيخ أبو محمد عبد العزيز بن أحمد بن محمد الصوفي:
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে, হে রব! সহজ করে দিন।
শাইখ, ফকিহ আবু মুহাম্মাদ আবদুর রহমান বিন আলী বিন আল-মুসলিম বিন আল-হুসাইন বিন আহমাদ বিন ইসহাক আল-লাখমি আল-খিরাকি আল-মুয়াদ্দাল (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) আমাদের সংবাদ দিয়েছেন—৫৮২ হিজরি সনের ৬ই শাবান তারিখে দামেস্কে তাঁর নিজ বাসভবনে তাঁর নিকট আমার পাঠের মাধ্যমে—এবং আবু তাহির বারাকাত বিন ইব্রাহিম বিন তাহির বিন বারাকাত আল-খুশুয়ি আল-কুরাশি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন; তাঁরা বলেন: ইমাম জামালুল ইসলাম আবু হাসান আলী বিন আল-মুসলিম বিন মুহাম্মাদ বিন আল-ফাতহ আস-সুলামি (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) ৫২৫ হিজরি সনের জুমাদাল আখিরা মাসে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, এমতাবস্থায় যে আমরা তাঁর নিকট পাঠ শ্রবণ করছিলাম। তিনি বলেন: শাইখ আবু মুহাম্মাদ আবদুল আজিজ বিন আহমাদ বিন মুহাম্মাদ আস-সুফি আমাদের খবর দিয়েছেন:
(খণ্ড: ১)
ইসলামু যাইদ বিন হারিসাহ ওয়া গয়রুহু মিন আহাদীসিশ শুয়ুখ
(পৃষ্ঠা: ১৩৮)
1 - أَنْبَا أَبُو الْحُسَيْنِ مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى بْنِ أَيُّوبَ بْنِ أَبِي عِقَالٍ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ فِي دَارِهِ بِحَجَرِ الذَّهَبِ: أَنَا أَبِي أَبُو زَيْدٍ يَحْيَى بْنُ أَيُّوبَ بْنِ أَبِي عِقَالٍ، وَاسْمُ أَبِي عِقَالٍ ، هِلالُ بْنُ زَيْدِ بْنِ حَسَنِ بْنِ أُسَامَةَ بْنِ زَيْدِ بْنِ حَارِثَةَ بْنِ شَرَاحِيلَ بْنِ عَبْدِ الْعُزَّى بْنِ امْرِئِ الْقَيْسِ بْنِ عَامِرِ بْنِ نُعْمَانَ بْنِ رُفَيْدَةَ بْنِ ثَوْرِ بْنِ كَلْبٍ.
وَأَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ مَرْوَانَ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ، أَنْبَا أَبُو زَيْدٍ يَحْيَى بْنُ أَيُّوبَ بْنِ أَبِي عِقَالٍ هِلالِ بْنِ زَيْدِ بْنِ حَسَنِ بْنِ أُسَامَةَ بْنِ زَيْدِ بْنِ حَارِثَةَ، قِرَاءَةَ عَلَيْهِ، ثُمَّ اتَّفَقَا أَنَّ أَبَاهُ حَدَّثَهُ، وَكَانَ صَغِيرًا فَلَمْ يَعِ عَنْهُ، قَالَ: فَحَدَّثَنِي عَمِّي زَيْدُ بْنُ أَبِي عِقَالٍ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ آبَاءَهُ حَدَّثُوهُ: " أَنَّ
حَارِثَةَ تَزَوَّجَ إِلَى طَيِّئٍ بِامْرَأَةٍ مِنْ بَنِي نَبَهَانَ، فَأَوْلَدَهَا: جَبَلَةَ وَأَسْمَاءَ ، وَأُسَامَةَ ، وَزَيْدًا، وَتُوُفِّيَتْ أُمُّهُمْ وَبَقُوا فِي حِجْرِ جَدِّهِمْ لأُمِّهِمْ، وَأَرَادَ حَارِثَةُ حَمْلَهُمْ، فَأَتَى جَدُّهُمْ لأُمِّهِمْ، وَقَالَ: مَا عِنْدَنَا خَيْرٌ لَهُمْ، فَتَرَاضَوْا إِلَى أَنْ حَمَلَ جَبَلَةَ وَأَسْمَاءَ وَأُسَامَةَ، وَخَلَّفَ زَيْدًا، فَجَاءَتْ خَيْلٌ مِنْ تِهَامَةَ مِنْ فَزَارَةَ، فَأَغَارَتْ عَلَى طَيِّئٍ، فَسَبَتْ زَيْدًا، فَسَارُوا بِهِ إِلَى عُكَاظٍ " فَرَآهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم مِنْ قَبْلِ أَنْ يُبْعَثَ، فَقَالَ لِخَدِيجَةَ:
১ - আবু আল-হুসাইন মুহাম্মদ বিন ইয়াহইয়া বিন আইয়ুব বিন আবু ইকাল আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, হাজারুজ জাহাবে তাঁর বাসভবনে তাঁর নিকট পাঠের মাধ্যমে: আমাকে আমার পিতা আবু জায়েদ ইয়াহইয়া বিন আইয়ুব বিন আবু ইকাল সংবাদ দিয়েছেন। আর আবু ইকালের নাম হলো হিলাল বিন জায়েদ বিন হাসান বিন উসামা বিন জায়েদ বিন হারিসা বিন শারাহিল বিন আবদিল উজ্জা বিন ইমরাউল কায়েস বিন আমির বিন নুমান বিন রুফাইদাহ বিন সাওর বিন কালব।
এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ বিন ইব্রাহিম বিন আবদুর রহমান বিন আব্দুল মালিক বিন মারওয়ান, তাঁর নিকট পাঠের মাধ্যমে; তাঁকে সংবাদ দিয়েছেন আবু জায়েদ ইয়াহইয়া বিন আইয়ুব বিন আবু ইকাল হিলাল বিন জায়েদ বিন হাসান বিন উসামা বিন জায়েদ বিন হারিসা, তাঁর নিকট পাঠের মাধ্যমে। অতঃপর তাঁরা একমত হলেন যে, তাঁর পিতা তাঁর নিকট বর্ণনা করেছেন—অথচ তিনি তখন ছোট ছিলেন বিধায় তা স্মৃতিস্থ করতে পারেননি—তিনি বলেন: আমার চাচা জায়েদ বিন আবু ইকাল তাঁর পিতার সূত্রে আমাকে বর্ণনা করেছেন যে, তাঁর পূর্বপুরুষগণ তাঁর নিকট বর্ণনা করেছেন: "
হারিসা তায়ি গোত্রের বনু নাবহান বংশের এক নারীকে বিবাহ করেছিলেন। তাঁর ঔরসে জাবালাহ, আসমা, উসামা এবং জায়েদ জন্মলাভ করেন। অতঃপর তাঁদের মা মারা যান এবং তাঁরা তাঁদের মাতামহের আশ্রয়ে থেকে যান। হারিসা তাঁদের নিয়ে যেতে চাইলে তাঁদের মাতামহ এসে বললেন: আমাদের কাছে যা আছে তা-ই তাঁদের জন্য কল্যাণকর। অতঃপর তাঁরা এই মর্মে সম্মত হলেন যে, তিনি জাবালাহ, আসমা এবং উসামাকে নিয়ে যাবেন এবং জায়েদকে রেখে যাবেন। এরপর তিহামার ফাজারা গোত্রের একদল অশ্বারোহী এসে তায়ি গোত্রের ওপর আক্রমণ চালাল এবং জায়েদকে বন্দী করল। তাঁরা তাঁকে নিয়ে উকাজ মেলায় গেল।" নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নবুয়ত প্রাপ্তির পূর্বে তাঁকে দেখেছিলেন এবং খাদিজাকে বলেছিলেন:
(খণ্ড: ১)
ইসলামু যাইদ বিন হারিসাহ ওয়া গয়রুহু মিন আহাদীসিশ শুয়ুখ
(পৃষ্ঠা: ১৩৯)
يَا خَدِيجَةُ ، رَأَيْتُ فِي السُّوقِ غُلامًا مِنْ صِفَتِهِ كَيْتُ وَكَيْتُ، يَصِفُ عَقْلا وَأَدَبًا وَجَمَالا، وَلَوْ أَنَّ لِي مَالا لاشْتَرَيْتُهُ ".
فَأَمَرَتْ خَدِيجَةُ وَرَقَةَ بْنَ نَوْفَلٍ فَاشْتَرَاهُ مِنْ مَالِهَا، فَقَالَ لَهَا النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: " يَا خَدِيجَةُ ، هَبِي لِي هَذَا الْغُلامَ بِطِيبَةٍ مِنْ نَفْسِكِ، فَقَالَتْ: يَا مُحَمَّدُ ، إِنِّي أَرَى غُلامًا وَضِيئًا وَأُحِبُّ أَنْ أَتَبَنَّاهُ، وَأَخَافُ أَنْ تَبِيعَهُ أَوْ تَهَبَهُ ، فَقَالَ: يَا مُوَفَّقَةُ ، مَا أَرَدْتُ إِلا أَنْ أَتَبَنَّاهُ "، فَقَالَتْ: بِهِ فُدِيتَ يَا مُحَمَّدُ.
فَرَبَّاهُ وَتَبَنَّاهُ، إِلَى أَنْ جَاءَ رَجُلٌ مِنَ الْحَيِّ فَنَظَرَ إِلَى زَيْدٍ فَعَرَفَهُ، فَقَالَ لَهُ: أَأَنْتَ زَيْدُ بْنُ حَارِثَةَ؟ قَالَ: لا، أَنَا زَيْدُ بْنُ مُحَمَّدٍ، فَقَالَ: بَلْ أَنْتَ زَيْدُ بْنُ حَارِثَةَ، إِنَّ أَبَاكَ وَعُمُومَتُكَ وَإِخْوَتُكَ قَدْ أَتْعَبُوا الأَبْدَانَ، وَأَنْفَقُوا الأَمْوَالَ فِي سَبِيلِكَ، فَقَالَ:
أَلِكْنِي إِلَى قَوْمِي وَإِنْ كُنْتُ نَائِيًا
… فَإِنِّي قَطِينُ الْبَيْتِ عِنْدَ الْمَشَاعِرِ
وَكُفُّوا مِنَ الْوَجْدِ الَّذِي قَدْ شَجَاكَمُ
… وَلا تُعْمِلُوا فِي الأَرْضِ نَصَّ الأَبَاعِرِ
فَإِنِّي بِحَمْدِ اللَّهِ فِي خَيْرِ أُسْرَةٍ
… خِيَارُ مَعْدٍ كَابِرٌ بَعْدَ كَابِرِ
فَمَضَى الرَّجُلُ فَخَبَّرَ حَارِثَةَ، وَلِحَارِثَةَ فِيهِ أَشْعَارٌ بَعْضُهَا:
بَكَيْتُ عَلَى زَيْدٍ وَلَمْ أَدْرِ مَا فَعَلْ
… أَحَيٌّ يُرْجَى أَمْ أَتَى دُونَهُ الأَجَلْ
وَوَاللَّهِ مَا أَدْرِي وَإِنِّي لَسَائِلٌ
… أَغَالَكَ سَهْلُ الأَرْضِ أَمْ غَالَكَ الْجَبَلْ
"হে খাদিজা, আমি বাজারে এমন এক কিশোরকে দেখেছি যার গুণাবলী এই এবং এই, সে অত্যন্ত বুদ্ধিমান, সুশৃঙ্খল এবং সুন্দর; যদি আমার কাছে অর্থ থাকত তবে আমি তাকে অবশ্যই কিনে নিতাম।"
অতঃপর খাদিজা ওরাকা ইবনে নওফালকে নির্দেশ দিলেন এবং তিনি তাঁর (খাদিজার) অর্থ দ্বারা তাকে ক্রয় করলেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন: "হে খাদিজা, তোমার মনের সন্তুষ্টির সাথে এই কিশোরটি আমাকে উপহার দাও।" তিনি বললেন: "হে মুহাম্মদ, আমি এক উজ্জ্বল কিশোরকে দেখছি এবং আমি তাকে দত্তক নিতে চাই, আর আমার ভয় হয় যে আপনি তাকে বিক্রি করে দেবেন অথবা দান করে দেবেন।" তিনি বললেন: "হে সৌভাগ্যবতী, আমি তাকে কেবল দত্তক নেওয়ার উদ্দেশ্যেই চেয়েছি।" তখন তিনি বললেন: "হে মুহাম্মদ, আপনার জন্য আমি উৎসর্গিত হই।"
অতঃপর তিনি তাকে লালন-পালন করলেন এবং দত্তক নিলেন, একদা সেই জনপদের এক ব্যক্তি এসে জায়েদের দিকে তাকাল এবং তাকে চিনে ফেলল। সে তাকে বলল: "তুমি কি জায়েদ ইবনে হারিসা?" সে বলল: "না, আমি জায়েদ ইবনে মুহাম্মদ।" সে বলল: "বরং তুমি জায়েদ ইবনে হারিসা; নিশ্চয়ই তোমার পিতা, তোমার চাচারা এবং তোমার ভাইয়েরা তোমার সন্ধানে শরীরকে ক্লান্ত করেছে এবং সম্পদ ব্যয় করেছে।" তখন সে বলল:
আমার পক্ষ থেকে আমার কওমের কাছে সংবাদ পৌঁছে দাও যদিও আমি দূরে অবস্থান করছি
… কেননা আমি পবিত্র স্থানসমূহের নিকটস্থ এই গৃহের (কাবা) স্থায়ী বাসিন্দা
আর তোমরা সেই শোক সংবরণ করো যা তোমাদের ব্যথিত করেছে
… আর উটগুলোকে দ্রুত ছুটিয়ে জমিনে বৃথা ঘোরাঘুরি করো না
কেননা আল্লাহর প্রশংসায় আমি সর্বোত্তম পরিবারে রয়েছি
… যারা মাআদ গোত্রের শ্রেষ্ঠ এবং বংশ পরম্পরায় মর্যাদাবান
অতঃপর সেই ব্যক্তি চলে গেল এবং হারিসাকে সংবাদ দিল। জায়েদ সম্পর্কে হারিসার কিছু কবিতা ছিল যার কিছু অংশ নিম্নরূপ:
আমি জায়েদের জন্য কেঁদেছি অথচ জানি না তার সাথে কী ঘটেছে
… সে কি জীবিত যে তার প্রত্যাশা করা যায়, নাকি মৃত্যু তাকে গ্রাস করেছে?
আল্লাহর শপথ! আমি জানি না অথচ আমি অন্বেষণকারী
… সমতল ভূমি কি তোমাকে হরণ করেছে নাকি পাহাড় তোমাকে কেড়ে নিয়েছে?
(খণ্ড: ১)
ইসলামু যাইদ বিন হারিসাহ ওয়া গয়রুহু মিন আহাদীসিশ শুয়ুখ
(পৃষ্ঠা: ১৪০)
فَيَا لَيْتَ شِعْرِي هَلْ لَكَ الدَّهْرُ رَجْعَةً
… فَحَسْبِي مِنَ الدُّنْيَا رُجُوعُكَ فِي بُجَلْ
تُذَكِّرْنِيهُ الشَّمْسُ عِنْدَ طُلُوعِهَا
… وَتَعْرِضُ ذِكْرَاهُ إِذَا عَسْعَسَ الطِّفْلْ
وَإِنْ هَبَّتِ الأَرْوَاحُ هَيَّجْنَ ذِكْرَهُ
… فَيَا طُولَ أَحْزَانِي عَلَيْهِ وَيَا وَجَلْ
سَأُعْمِلُ نَصَّ الْعِيسِ فِي الأَرْضِ جَاهِدًا
… وَلا أَسْأَمُ التِّطْوَافَ أَوْ تَسْأَمُ الإِبِلْ
حَيَاتِي أَو ْتَأْتِي عَلَيَّ مَنِيَّتِي
… وَكُلُّ امْرِئٍ فَانٍ وَإِنْ غَرَّهُ الأَمَلْ
ثُمَّ إِنَّ حَارِثَةَ أَقْبَلَ إِلَى مَكَّةَ فِي إِخْوَتِهِ وَوَلَدِهِ وَبَعْضِ عَشِيرَتِهِ، فَأَصَابَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم بِفِنَاءِ الْكَعْبَةِ فِي نَفَرٍ مِنْ أَصْحَابِهِ وَزَيْدًا فِيهِمْ، فَلَمَّا نَظَرُوا إِلَى زَيْدٍ عَرَفُوهُ وَعَرَفُهْم، فَقَالُوا لَهُ: يَا زَيْدُ، فَلَمْ يُجِبْهُمْ إِجْلالا مِنْهُ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَانْتِظَارًا مِنْهُ لِرَأْيِهِ، فَقَالَ لَهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: " مَنْ هَؤُلاءِ يَا زَيْدُ؟ ، قَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ ، هَذَا أَبِي، وَهَذَانِ عَمَّاي، وَهَذَا أَخِي، وَهَؤُلاءِ عَشِيرَتِي.
فَقَالَ لَهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: قُمْ فَسَلِّمْ عَلَيْهِمْ يَا زَيْدُ، فَقَامَ فَسَلَّمَ عَلَيْهِمْ وَسَلَّمُوا عَلَيْهِ، وَقَالُوا لَهُ: امْضِ مَعَنَا يَا زَيْدُ، قَالَ: مَا أُرِيدُ بِرَسُولِ اللَّهِ بَدَلا، فَقَالُوا لَهُ: يَا مُحَمَّدُ ، إِنَّا مُعْطُوكَ فِي هَذَا الْغُلامِ دِيَاتٌ، فَسَمِّ مَا شِئْتَ، فَإِنَّا حَامِلُوهَا إِلَيْكَ.
قَالَ: أَسْأَلُكُمْ أَنْ تَشْهَدُوا أَنْ لا إِلَهَ إِلا اللَّهُ، وَأَنِّي خَاتَمُ أَنْبِيَائِهِ وَرُسُلِهِ، أَبَوْا وَتَلَكَّئُوا وَتَلَجَّلَجُوا، وَقَالُوا: تَقَبْلُ مَا عَرَضْنَا عَلَيْكَ
হায়, আমি যদি জানতাম! মহাকাল কি কখনও তোমাকে ফিরিয়ে আনবে? দুনিয়া থেকে আমার জন্য এটুকুই যথেষ্ট যে তুমি সুস্থ অবস্থায় ফিরে আসবে।
সূর্য যখন উদিত হয় তখন তা আমাকে তার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়, আর যখন গোধূলির অন্ধকার ঘনিয়ে আসে তখনও তার স্মৃতি সামনে ভেসে ওঠে।
আর যখন বায়ু প্রবাহিত হয়, তা তার স্মৃতিকে জাগিয়ে তোলে; হায়, তার জন্য আমার দীর্ঘ বিষাদ এবং আমার আতঙ্ক!
আমি জমিনে দ্রুতগামী উটগুলোকে কঠোর পরিশ্রমে চালিত করব, আর আমি পরিভ্রমণে ক্লান্ত হব না যতক্ষণ না উটগুলো ক্লান্ত হয়ে পড়ে।
আমার জীবনকাল পর্যন্ত এটি চলবে অথবা আমার মৃত্যু উপস্থিত হবে; আর প্রতিটি মানুষই মরণশীল, যদিও আশা তাকে প্রতারিত করে।
এরপর হারিসাহ তাঁর ভাইদের, সন্তান ও গোত্রের কিছু লোকসহ মক্কায় আসলেন। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কাবার প্রাঙ্গণে তাঁর কয়েকজন সাহাবীর সাথে পেলেন এবং যায়িদও তাঁদের মধ্যে ছিলেন। যখন তারা যায়িদের দিকে তাকালেন, তখন তারা তাঁকে চিনতে পারলেন এবং তিনিও তাঁদের চিনতে পারলেন। তাঁরা তাঁকে বললেন: হে যায়িদ! কিন্তু তিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং তাঁর সিদ্ধান্তের প্রতীক্ষায় তাঁদের কোনো উত্তর দিলেন না। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বললেন: "হে যায়িদ, এরা কারা?" তিনি বললেন: "হে আল্লাহর রাসূল, ইনি আমার পিতা, এরা আমার দুই চাচা, এটি আমার ভাই এবং এরা আমার আত্মীয়-স্বজন।"
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বললেন: "হে যায়িদ, ওঠো এবং তাঁদের সালাম দাও।" তিনি উঠে তাঁদের সালাম দিলেন এবং তাঁরাও তাঁকে সালাম দিলেন। তাঁরা তাঁকে বললেন: "হে যায়িদ, আমাদের সাথে চলো।" তিনি বললেন: "আমি আল্লাহর রাসূলের পরিবর্তে অন্য কাউকে গ্রহণ করতে চাই না।" তাঁরা তাঁকে বললেন: "হে মুহাম্মদ, আমরা আপনাকে এই বালকের বিনিময়ে মুক্তিপণ দিচ্ছি; আপনি যা ইচ্ছা দাবি করুন, আমরা তা আপনার কাছে পৌঁছে দেব।"
তিনি বললেন: "আমি আপনাদের কাছে কেবল এই দাবি করছি যে, আপনারা সাক্ষ্য দিন আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং আমি তাঁর নবী ও রাসূলগণের সমাপ্তিকারী।" তাঁরা তা অস্বীকার করল, দ্বিধাগ্রস্ত হলো এবং ইতস্তত করতে লাগল। তাঁরা বলল: "আমরা আপনাকে যা প্রস্তাব করেছি তা কি আপনি গ্রহণ করবেন?"
(খণ্ড: ১)
ইসলামু যাইদ বিন হারিসাহ ওয়া গয়রুহু মিন আহাদীসিশ শুয়ুখ
(পৃষ্ঠা: ১৪১)
يَا مُحَمَّدُ؟ فَقَالَ لَهُمْ: هَاهُنَا خَصْلَةٌ غَيْرُ هَذِهِ، قَدْ جَعَلْتُ أَمْرَهُ إِلَيْهِ: إِنْ شَاءَ فَلْيُقِمْ وَإِنْ شَاءَ فَلْيَرْحَلْ، قَالُوا: قَضَيْتَ مَا عَلَيْكَ يَا مُحَمَّدُ، وَظَنُّوا أَنَّهُمْ قَدْ صَارُوا مِنْ زَيْدٍ إِلَى حَاجَتِهِمْ.
قَالُوا: يَا زَيْدُ ، قَدْ أَذِنَ لَكَ مُحَمَّدُ فَانْطَلِقْ مَعَنَا، قَالَ: هَيْهَاتَ ، هَيْهَاتَ ، مَا أُرِيدُ بِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بَدَلا، وَلا أُوثِرُ عَلَيْهِ وَالِدًا وَلا وَلَدًا فَأَدَارُوا وَأَلاصُوهُ وَاسْتَعْطَفُوهُ، وَذَكَرُوا وَجْدَ مَنْ وَرَاءِهِمْ بِهِ، فَأَبَى وَحَلَفَ أَنْ لا يَصْحَبَهُمْ، فَقَالَ حَارِثَةُ: يَا بُنَيَّ أَمَّا أَنَا فَإِنِّي مُؤْنِسُكَ بِنَفْسِي، فَآمَنَ حَارِثَةُ، وَأَبَى الْبَاقُونَ، فَرَجَعُوا إِلَى الْبَرِّيَةِ، ثُمَّ إِنَّ أَخَاهُ جَبَلَةَ رَجَعَ فَِآمَنَ بِالنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم.
وَأَوَّلُ لِوَاءٍ عَقَدَهُ النَّبِيُّ بِيَدِهِ إِلَى الشَّامِ لِزَيْدٍ، وَأَوَّلُ شَهِيدٍ كَانَ بِمُؤْتَةَ زَيْدٍ، وَثَانِيهِ جَعْفَرٌ الطَّيَّارُ.
وَآخِرُ لِوَاءٍ عَقَدَهُ بِيَدِهِ لأُسَامَةَ عَلَى اثْنَيْ عَشَرَ أَلْفًا مِنَ النَّاسِ، فِيهِمْ أَبُو بَكْرٍ وَعُمَرُ، فَقَالَ: إِلَى أَيْنَ يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ قَالَ: عَلَيْكَ بِيبنى، فَصَبِّحْهَا صَبَاحًا، فَقَطِّعْ وَحَرِّقْ وَضَعْ سَيْفَكَ، وَخُذْ بِثَأْرِ أَبِيكَ.
وَاعْتَلَّ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم، فَقَالَ: جَهِّزُوا جَيْشَ أُسَامَةَ ، أَنْفِذُوا جَيْشَ أُسَامَةَ ، فَجَهَّزَ إِلَى أَنْ صَارَ إِلَى الْجُرْفِ، وَاشْتَدَّتْ عِلَّةُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَبَعَثَ إِلَى أُسَامَةَ: إِنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يُرِيدُكَ، فَرَجَعَ، فَدَخَلَ عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَقَدْ أُغْمِيَ عَلَيْهِ، ثُمَّ أَفَاقَ صلى الله عليه وسلم، فَنَظَرَ إِلَى أُسَامَةَ، فَأَقْبَلَ يَرْفَعُ يَدَيْهِ إِلَى السَّمَاءِ وَيُفْرِغُهَا عَلَيْهِ، قَالُوا: فَعَرَفْنَا أَنَّهُ إِنَّمَا يَدْعُو لَهُ.
হে মুহাম্মাদ? তিনি তাঁদের বললেন: এখানে এ ছাড়াও আরেকটি বিষয় আছে, আমি তাঁর বিষয়টি তাঁর ওপরই ছেড়ে দিয়েছি: যদি তিনি চান তবে অবস্থান করবেন এবং যদি চান তবে চলে যাবেন। তাঁরা বললেন: হে মুহাম্মাদ, আপনি আপনার দায়িত্ব পালন করেছেন। আর তাঁরা ধারণা করলেন যে, তাঁরা জায়েদের ব্যাপারে তাঁদের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছে গেছেন।
তাঁরা বললেন: হে জায়েদ, মুহাম্মাদ তোমাকে অনুমতি দিয়েছেন, সুতরাং আমাদের সাথে চলো। তিনি বললেন: অসম্ভব, অসম্ভব! আমি আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বদলে অন্য কাউকে চাই না এবং তাঁর ওপর পিতা বা সন্তান কাউকেই অগ্রাধিকার দেব না। অতঃপর তাঁরা তাঁকে ফেরানোর চেষ্টা করলেন, অনুনয়-বিনয় করলেন এবং তাঁর প্রতি তাঁর স্বজনদের ব্যাকুলতার কথা স্মরণ করিয়ে দিলেন। কিন্তু তিনি অস্বীকৃতি জানালেন এবং কসম করলেন যে তিনি তাঁদের সাথে যাবেন না। তখন হারিসা বললেন: হে বৎস, আমি নিজেই তোমার সঙ্গী হচ্ছি। অতঃপর হারিসা ঈমান আনলেন এবং বাকিরা অস্বীকৃতি জানিয়ে মরুভূমিতে ফিরে গেল। পরবর্তীতে তাঁর ভাই জাবালা ফিরে এসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর ঈমান আনলেন।
আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর নিজের হাত দিয়ে শামের উদ্দেশ্যে প্রথম যে পতাকাটি বেঁধেছিলেন তা ছিল জায়েদের জন্য। আর মুতার যুদ্ধে প্রথম শহীদ ছিলেন জায়েদ এবং দ্বিতীয়জন জাফর আত-তাইয়ার।
আর তিনি নিজের হাত দিয়ে সর্বশেষ যে পতাকাটি বেঁধেছিলেন তা ছিল উসামার জন্য বারো হাজার মানুষের ওপর, যাঁদের মধ্যে আবু বকর ও ওমরও ছিলেন। তিনি বললেন: হে আল্লাহর রাসুল, কোথায় যাব? তিনি বললেন: তুমি উবনায় যাও, ভোরে সেখানে আক্রমণ করো, শত্রু নিপাত করো, অগ্নিসংযোগ করো এবং তলোয়ার চালাও, আর তোমার পিতার হত্যার প্রতিশোধ গ্রহণ করো।
অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অসুস্থ হয়ে পড়লেন এবং বললেন: তোমরা উসামার বাহিনীকে প্রস্তুত করো, উসামার বাহিনীকে প্রেরণ করো। অতঃপর প্রস্তুতি চলল যতক্ষণ না বাহিনী জুরফ পর্যন্ত পৌঁছাল। এরপর আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অসুস্থতা তীব্রতর হলে তিনি উসামার নিকট সংবাদ পাঠালেন যে: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তোমাকে চাইছেন। তিনি ফিরে এলেন এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে প্রবেশ করলেন যখন তিনি অচেতন ছিলেন। এরপর তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জ্ঞান ফিরে পেলেন এবং উসামার দিকে তাকালেন। অতঃপর তিনি আকাশের দিকে নিজের দুই হাত তুললেন এবং তা তাঁর ওপর নামিয়ে দিলেন। তাঁরা বললেন: আমরা বুঝতে পারলাম যে তিনি কেবল তাঁর জন্য দোয়া করছেন।
(খণ্ড: ১)
ইসলামু যাইদ বিন হারিসাহ ওয়া গয়রুহু মিন আহাদীসিশ শুয়ুখ
(পৃষ্ঠা: ১৪২)
ثُمَّ قُبِضَ صلى الله عليه وسلم فَكَانَ فِيمَنْ غَسَّلَهُ الْفَضْلُ بْنُ عَبَّاسٍ، وَعَلِيُّ بْنُ أَبِي طَالِبٍ، وَأُسَامَةُ يَصُبُّ عَلَيْهِ الْمَاءَ، فَلَمَّا دُفِنَ عليه السلام، قَالَ عُمَرُ لأَبِي بَكْرٍ: مَا تَرَى فِي لِوَاءِ أُسَامَةَ؟ قَالَ: مَا أُحِلُّ عَقْدًا عَقَدَهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم وَلا يَحِلُّ مِنْ عَسْكَرِهِ رَجُلٌ إِلا أَنْ يَكُونَ أَنْتَ يَا عُمَرُ، وَلَوْلا حَاجَتِي إِلَى مَشُورَتِكَ لَمَا حَلَلْتُكَ مِنْ عَسْكَرِهِ، يَا أُسَامَةُ ، عَلَيْكَ بِالْمِيَاهِ، يَعْنِي: الْبَوَادِي.
وَكَانَ يَمُرُّ بِالْبَوَادِي فَيَنْظُرُوا إِلَى جَيْشِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَيَثْبُتُوا عَلَى أَدْيَانِهِمْ إِلَى أَنْ صَارَ إِلَى عَشِيرَتِهِ كَلْبٌ، فَكَانَتْ تَحْتَ لِوَائِهِ، إِلَى أَنْ قَدِمَ الشَّامَ عَلَى مُعَاوِيَةَ، فَقَالَ لَهُ مُعَاوِيَةُ: اخْتَرْ لَكَ مَنْزِلا فَاخْتَارَ الْمَزَّةَ، وَاقْتَطَعَ بِهَا هُوَ وَعَشِيرَتُهُ.
وَقَدْ قَالَ الشَّاعِرُ، وَهُوَ أَعْوَرُ كَلْبٍ:
إِذَا ذُكِرْتَ أَرْضٌ لِقَوْمٍ بِنِعْمَةٍ
… فَبَلْدَةُ قَوْمِي تَزْدَهِي وَتَطِيبُ
بِهَا الدِّينُ وَالأَفْضَالُ وَالْخَيْرُ وَالنَّدَى
… فَمَنْ يَنْتَجِعْهَا لِلرَّشَادِ يُصِيبُ
وَمَنْ يَنْتَجِعْ أَرْضًا سِوَاهَا فَإِنَّهُ
… سَيَنْدَمُ يَوْمًا بَعْدَهَا وَيَخِيبُ
تَأْتِى لَهَا خَالِي أُسَامَةُ مَنْزِلا
… وَكَانَ لِخَيْرِ الْعَالَمِينَ حَبِيبُ
حَبِيبُ رَسُولِ اللَّهِ وَابْنُ رَدِيفِهِ
… لَهُ أُلْفَةٌ مَعْرُوفَةٌ وَنَصِيبُ
فَأَسْكَنَهَا كَلْبًا فَأَضْحَتْ بِبَلْدَةٍ
… لَهَا مَنْزِلٌ رَحْبُ الْجَنَابِ خَصِيبُ
فَنِصْفٌ عَلَى بُرٍّ وَشِيحٍ وَنُزْهَةٌ
… وَنِصْفٌ عَلَى بَحْرٍ أَغَرُّ رَطِيبُ
ثُمَّ إِنَّ أُسَامَةَ خَرَجَ إِلَى وَادِي الْقُرَى إِلَى ضَيْعَةٍ لَهُ فَتُوُفِّيَ بِهَا،
এরপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইন্তেকাল করেন। যারা তাঁকে গোসল দিয়েছিলেন তাদের মধ্যে ছিলেন ফজল ইবনে আব্বাস এবং আলী ইবনে আবি তালিব, আর উসামা তাঁর ওপর পানি ঢালছিলেন। যখন তিনি (আলাইহিস সালাম) সমাহিত হলেন, তখন উমর আবু বকরকে বললেন: উসামার বাহিনীর পতাকার ব্যাপারে আপনার মতামত কী? তিনি বললেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যে বন্ধন তৈরি করেছেন আমি তা ছিন্ন করব না, এবং তাঁর সেনাবাহিনী থেকে কোনো ব্যক্তিই বিচ্ছিন্ন হবে না, কেবল আপনি ছাড়া হে উমর। যদি আপনার পরামর্শের প্রতি আমার প্রয়োজন না থাকত, তবে আমি আপনাকেও তাঁর সেনাবাহিনী থেকে পৃথক করতাম না। হে উসামা, তুমি পানির নিকটবর্তী স্থানগুলো অর্থাৎ মরুপ্রান্তরগুলোর পথ অনুসরণ করো।
তিনি মরুপ্রান্তর দিয়ে যাচ্ছিলেন, আর লোকেরা যখন আল্লাহর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বাহিনীকে দেখত, তখন তারা তাদের দ্বীনের ওপর অবিচল থাকত। এভাবে তিনি তাঁর গোত্র কালব-এর নিকট পৌঁছালেন, তারা তাঁর পতাকাতলে ছিল। অবশেষে তিনি শামে মুআবিয়ার নিকট আসলেন। মুআবিয়া তাঁকে বললেন: আপনার জন্য একটি বাসস্থান বেছে নিন। তিনি আল-মাজ্জাহ বেছে নিলেন এবং তিনি ও তাঁর গোত্র সেখানে বসবাস করতে লাগলেন।
কবি, যিনি কালব গোত্রের একচক্ষু বিশিষ্ট ব্যক্তি ছিলেন, তিনি বলেছেন:
যখন কোনো জাতির ভূমিকে নিয়ামতপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়
… তখন আমার জাতির জনপদটি গর্বিত ও সুবাসিত হয়
সেখানে দ্বীন, শ্রেষ্ঠত্ব, কল্যাণ ও দানশীলতা রয়েছে
… সুতরাং যে হেদায়েতের সন্ধানে সেখানে যায়, সে তা প্রাপ্ত হয়
আর যে ব্যক্তি তা ছাড়া অন্য কোনো ভূমি অন্বেষণ করে, সে
… অচিরেই তার জন্য অনুতপ্ত ও ব্যর্থ হবে
আমার মামা উসামা সেখানে বসবাসের জন্য এসেছিলেন
… যিনি ছিলেন বিশ্বজগতের শ্রেষ্ঠতম মানবের প্রিয়ভাজন
আল্লাহর রাসূলের প্রিয় এবং তাঁর সওয়ারির পেছনে আরোহণকারীর পুত্র
… তাঁর প্রতি ভালোবাসা সুবিদিত এবং তাঁর বিশেষ মর্যাদা রয়েছে
তিনি সেখানে কালব গোত্রকে বসবাস করালেন, ফলে শহরটি এক জনপদে পরিণত হলো
… যার প্রাঙ্গণ প্রশস্ত ও উর্বর আবাসের অধিকারী
যার অর্ধেক স্থলভাগে, সেখানে গম, সুগন্ধি গুল্ম ও মনোরম পরিবেশ রয়েছে
… আর অর্ধেক সমুদ্রে, যা উজ্জ্বল ও সিক্ত
এরপর উসামা ওয়াদিউল কুরা-তে তাঁর একটি ভূ-সম্পত্তির দিকে বের হলেন এবং সেখানেই মৃত্যুবরণ করেন।
(খণ্ড: ১)
ইসলামু যাইদ বিন হারিসাহ ওয়া গয়রুহু মিন আহাদীসিশ শুয়ুখ
(পৃষ্ঠা: ১৪৩)
وَخَلَّفَ فِي الْمِزَّةَ ابْنَةً لَهُ يُقَالُ لَهَا: فَاطِمَةُ، فَلَمْ تَزَلْ مُقِيمَةً إِلَى أَنْ وَلِيَ عُمَرُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ فَجَاءَتْ عَلَيْهِ فَدَخَلَتْ عَلَيْهِ ، فَقَامَ مِنْ مَجْلِسِهِ وَأَقْعَدَهَا فِيهِ، وَقَالَ لَهَا: حَوَائِجُكِ يَا فَاطِمَةُ، قَالَتْ: تَحْمِلُنِي إِلَى أَخِي، فَجَهَّزَهَا وَحَمَلَهَا "
তিনি মিজ্জাহ্-তে তাঁর এক কন্যা রেখে গিয়েছিলেন যার নাম ছিল ফাতিমা। উমর ইবনে আবদুল আজিজ শাসনভার গ্রহণ করা পর্যন্ত তিনি সেখানেই অবস্থান করছিলেন। অতঃপর তিনি তাঁর নিকট আসলেন এবং তাঁর নিকট প্রবেশ করলেন। তখন তিনি স্বীয় আসন থেকে উঠে দাঁড়ালেন এবং তাঁকে সেখানে বসালেন। তিনি তাঁকে বললেন: হে ফাতিমা, তোমার কী প্রয়োজন? তিনি বললেন: আপনি আমাকে আমার ভাইয়ের কাছে পৌঁছে দিন। অতঃপর তিনি তাঁর সফরের সরঞ্জাম প্রস্তুত করলেন এবং তাঁকে পৌঁছে দিলেন।
(খণ্ড: ১)
ইসলামু যাইদ বিন হারিসাহ ওয়া গয়রুহু মিন আহাদীসিশ শুয়ুখ
(পৃষ্ঠা: ১৪৪)
2 - أَنْبَا أَبُو الْقَاسِمِ تَمَّامُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْحَافِظُ، أَنْبَا أَبُو الْمَيْمُونِ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ بْنِ رَاشِدٍ الْبَجَلِيُّ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ، ثَنَا مُوسَى بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي عَوْفٍ ، ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ بْنِ عَيَّاشٍ ، حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ يَحْيَى بِّن سَعِيدٍ، عَنْ إِسْحَاقَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ.
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ: «سَأَلَتْ أُمِّي أُمُّ سُلَيْمٍ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم
أَنْ يَأْتِيَهَا فِي مَنْزِلِهَا ، فَيُصَلِّي فِي مَكَانٍ يُتَّخَذُ مُصَلًّى، فَفَعَل النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم أَتَاهَا ، فَعَمَدْت إِلَى حَصِيرٍ لَهَا فَنَضَحَتْهُ بِمَاءٍ، فَصَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلَيْهَا وَصَلُّوا مَعَهُ»
২ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল কাসিম তাম্মাম ইবন মুহাম্মদ আল-হাফিজ, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-মাইমুন আবদুর রহমান ইবন আবদুল্লাহ ইবন উমর ইবন রাশিদ আল-বাজালি—তাঁর নিকট পাঠকালে, আমাদের বর্ণনা করেছেন মুসা ইবন মুহাম্মদ ইবন আবি আউফ, আমাদের বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবন ইসমাইল ইবন আইয়াশ, আমার নিকট বর্ণনা করেছেন আমার পিতা, তিনি ইয়াহইয়া ইবন সাঈদ থেকে, তিনি ইসহাক ইবন আবদুল্লাহ ইবন আবি তালহা থেকে।
আনাস ইবন মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: «আমার মা উম্মু সুলাইম আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে অনুরোধ করলেন
যেন তিনি তাঁর বাড়িতে আসেন এবং এমন এক স্থানে সালাত আদায় করেন যাকে সালাত আদায়ের স্থান হিসেবে গ্রহণ করা যায়। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাই করলেন এবং তাঁর নিকট আসলেন, তখন তিনি (উম্মু সুলাইম) তাঁর একটি মাদুরের দিকে অগ্রসর হলেন এবং তাতে পানি ছিটিয়ে দিলেন। অতঃপর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেটির ওপর সালাত আদায় করলেন এবং তাঁরাও তাঁর সাথে সালাত আদায় করলেন।»
(খণ্ড: ১)
ইসলামু যাইদ বিন হারিসাহ ওয়া গয়রুহু মিন আহাদীসিশ শুয়ুখ
(পৃষ্ঠা: ১৪৫)
3 - وَبِهِ ، حَدَثَّنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ سَعِيدٍ الْهَاشِمِيُّ ، ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي السَّرِيِّ، ثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ ثَنَا مُحَمَّدُ ْبنُ حَمْزَةَ بْنِ يُوسُفَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَلامٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ.
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَلامٍ، قَالَ: "
قَدِمَتْ عِيرٌ مِنْ طَعَامٍ، فِيهَا جَمَلٌ لِعُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ عَلَيْهِ دَقِيقُ حَوَارِيٍّ وَسَمْنٌ وَعَسَلٌ، فَأَتَاهَا النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَدَعَا فِيهَا بِالْبَرَكَةِ، ثُمَّ دَعَا بِبُرْمَةٍ فَنُصِبَتْ عَلَى النَّارِ، وَجَعَلَ فِيهَا مِنَ الْعَسَلِ وَالدَّقِيقِ وَالسَّمْنِ، ثُمَّ عَصَّدَ حَتَّى نَضَجَ أَوْ كَادَ يَنْضَجُ، ثُمَّ أَنْزَلَ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: كُلُوا هَذَا شَيْءٌ تُسَمِّيهِ فَارِسُ الْخَبِيصُ.
فَأَكَلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَأَكَلْنَا "
৩ - এবং তাঁর মাধ্যমেই, আমাদের নিকট আব্দুল আযীয বিন সাঈদ আল-হাশিমী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট মুহাম্মদ বিন আবি আস-সারী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আল-ওয়ালীদ বিন মুসলিম বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট মুহাম্মদ বিন হামযাহ বিন ইউসুফ বিন আব্দুল্লাহ বিন সালাম তাঁর পিতার সূত্রে তাঁর দাদা থেকে বর্ণনা করেছেন।
আব্দুল্লাহ বিন সালাম রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "
খাদ্যসামগ্রী বোঝাই একটি কাফেলা এল, যাতে উসমান বিন আফফানের একটি উট ছিল এবং তার ওপর সাদা আটা (ময়দা), ঘি ও মধু ছিল; অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার নিকট আসলেন এবং তাতে বরকতের দোয়া করলেন। এরপর তিনি একটি পাথরের হাঁড়ি আনালেন এবং তা আগুনের ওপর বসানো হলো। তিনি তাতে কিছু মধু, আটা ও ঘি দিলেন। এরপর তিনি তা নাড়তে থাকলেন যতক্ষণ না তা সুসিদ্ধ হলো বা সিদ্ধ হওয়ার উপক্রম হলো। এরপর তিনি তা নামালেন এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: তোমরা এটি খাও, এটি এমন এক বস্তু যাকে পারস্যবাসীরা 'খাবীস' বলে থাকে।
অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খেলেন এবং আমরাও খেলাম।"
(খণ্ড: ১)
ইসলামু যাইদ বিন হারিসাহ ওয়া গয়রুহু মিন আহাদীসিশ শুয়ুখ
(পৃষ্ঠা: ১৪৭)
4 - وَبِهِ ، حَدَّثَنَا أَبُو جَعْفَرٍ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَمَّارِ بْنِ نُصَيْرِ بْنِ مَيْسَرَةَ بْنِ أَبَانٍ السُّلَمِيُّ ابْنُ أَخِي هِشَامِ بْنِ عَمَّارٍ، ثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، ثَنَا سَعْدَانُ بْنُ يَحْيَى، ثَنَا أَبُو سَعْدٍ مَوْلَى حُذَيْفَةَ، عَنْ زِرِّ بْنِ حُبَيْشٍ، قَالَ: أَتَيْتُ صَفْوَانُ بْنُ عَسَّالٍ، فَقُلْتُ: حَدِّثْنِي " عَنِ الْمَسْحِ عَلَى الْخُفَّيْنِ، فَقَالَ: أَمَرَنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِثَلاثَةِ أَيَّامٍ وَلَيَالِيهِنَّ لِلْمُسَافِرِ، وَيَوْمٌ وَلَيْلَةٌ لِلْمُقِيمِ، إِلا مِنْ جَنَابَةٍ "
৪ - এবং একই সূত্রে, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু জাফর আহমাদ বিন মুহাম্মদ বিন আম্মার বিন নুসাইর বিন মাইসারাহ বিন আবান আস-সুলামী, যিনি হিশাম বিন আম্মারের ভ্রাতুষ্পুত্র; তিনি বলেন, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন সুলাইমান বিন আব্দুর রহমান; তিনি বলেন, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন সা'দান বিন ইয়াহইয়া; তিনি বলেন, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন হুজাইফার আযাদকৃত দাস আবু সা'দ, যির বিন হুবাইশ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি সাফওয়ান বিন আসসালের নিকট আসলাম এবং বললাম: আমাকে হাদীস শুনান " চামড়ার মোজার (খুফ্ফাইন) ওপর মাসাহ করা সম্পর্কে। তিনি বললেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের জন্য তিন দিন ও তিন রাত মুসাফিরের ক্ষেত্রে এবং এক দিন ও এক রাত মুকীমের (নিবাসী) জন্য নির্ধারণ করেছেন, তবে জানাবাত (অপবিত্রতা) ব্যতীত।"
(খণ্ড: ১)
ইসলামু যাইদ বিন হারিসাহ ওয়া গয়রুহু মিন আহাদীসিশ শুয়ুখ
(পৃষ্ঠা: ১৪৮)
5 - أَخْبَرَنَا تَمَّامٌ، أَخْبَرَنِي أَبُو الْحُسَيْنِ إِبْرَاهِيمُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ الْحَسَنِ بْنِ عَلِيِّ بْنِ حَسْنُونَ الأَزْرَقِيُّ، بِقِرَاءَتِي عَلَيْهِ، ثَنَا أَبُو الْمُنْذِرِ مُحَمَّدُ بْنُ سُفْيَانَ بْنِ الْمُنْذِرِ الرَّمْلِيُّ بِالرَّمْلَةَ، ثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ الْحَسَنِ الْمِقْسَمِيُّ، ثَنَا خَالِدُ بْنُ عَمْرٍو، ثَنَا اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ، عَنْ أَبِي الْخَيْرِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، وَأَبِي هُرَيْرَةَ، قَالا: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «» يَحْمِلُ هَذَا الْعِلْمَ مِنْ كُلِّ خَلَفٍ عُدُولُهُ، يَنْفُونَ عَنْهُ تَحْرِيفَ الْغَالِينَ، وَانْتِحَالَ الْمُبْطِلِينَ، وَتَأْوِيلَ الْجَاهِلِينَ «»
৫ - তাম্মাম আমাদের জানিয়েছেন, আবু আল-হুসাইন ইবরাহীম বিন আহমাদ বিন আল-হাসান বিন আলী বিন হাসনুন আল-আযরাকী আমাকে জানিয়েছেন তাঁর নিকট আমার পাঠের মাধ্যমে, আবু আল-মুনযির মুহাম্মাদ বিন সুফিয়ান বিন আল-মুনযির আর-রামলী আমাদের কাছে রামলাতে বর্ণনা করেছেন, ইবরাহীম বিন আল-হাসান আল-মিকসামি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, খালিদ বিন আমর আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আল-লাইস বিন সাদ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন ইয়াযীদ বিন আবি হাবীব থেকে, তিনি আবু আল-খায়ের থেকে, তিনি আবদুল্লাহ বিন আমর ও আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন, তাঁরা উভয়ে বলেছেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «»এই ইলম (জ্ঞান) প্রতিটি পরবর্তী প্রজন্মের নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিগণ বহন করবেন; তাঁরা তা থেকে সীমালঙ্ঘনকারীদের বিকৃতি, বাতিলপন্থীদের মিথ্যা দাবি এবং অপব্যাখ্যা মূর্খদের (দূর করবেন)। «»
(খণ্ড: ১)
ইসলামু যাইদ বিন হারিসাহ ওয়া গয়রুহু মিন আহাদীসিশ শুয়ুখ
(পৃষ্ঠা: ১৫১)
حَدِيثُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَبْدِ الصَّمَدِ الْبَرْزُوزِ ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَائِذٍ
6 - أَنْبَا أَبُو عُمَرَ بْنُ مُوسَى بْنِ فَضَالَةَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ بْنِ فَضَالَةَ الْقُرَشِيُّ، ثَنَا أَبُو هِشَامٍ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَبْدِ الصَّمَدِ بْنِ عَبْدِ الْمَلِكِ الْمَعْرُوفُ بِالْبُرُزُوزِ، فِي جُمَادَى الآخِرَ سَنَةَ ثَمَانٍ وَتِسْعِينَ وَمِائَتَيْنِ مِنْ أَصْلِ كِتَابِهِ، ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَايِذٍ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ، ثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ، ثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي مَرْيَمَ، عَنِ الْوَلِيدِ بْنِ سُفْيَانَ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ قُطَيْبٍ، عَنْ أَبِي بَحْرِيَةَ عَبْدِ اللَّهِ قَيْسٍ، قَالَ: سَمِعْتُ مُعَاذَ بْنَ جَبَلٍ، يَقُولُ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، يَقُولُ:
«بَيْنَ الْمَلْحَمَةِ الْكُبْرَى وَفَتْحِ وَخُرُوجِ الدَّجَّالِ سَبْعَةُ أَشْهُرٍ»
মুহাম্মদ ইবনে আইজ থেকে বর্ণিত আব্দুর রহমান ইবনে আব্দুস সামাদ আল-বারজুজের হাদিস।
৬ - আবু উমর বিন মুসা বিন ফাদালা বিন ইব্রাহিম বিন ফাদালা আল-কুরাশি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু হিশাম আব্দুর রহমান ইবনে আব্দুস সামাদ ইবনে আব্দুল মালিক, যিনি আল-বুরুজুজ নামে পরিচিত, তিনি ২৯৮ হিজরির জুমাদাল আখিরা মাসে তার মূল কিতাব থেকে আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবনে আইজ আবু আব্দুল্লাহ আমাদের বর্ণনা করেছেন, আল-ওয়ালিদ ইবনে মুসলিম আমাদের বর্ণনা করেছেন, আবু বকর ইবনে আবি মারিয়াম আমাদের বর্ণনা করেছেন, আল-ওয়ালিদ ইবনে সুফিয়ান থেকে, তিনি ইয়াজিদ ইবনে কুতাইব থেকে, তিনি আবু বাহরিয়া আব্দুল্লাহ কায়স থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি মুয়াজ ইবনে জাবালকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি:
«মহাযুদ্ধ (আল-মালহামাতুল কুবরা), বিজয় এবং দাজ্জালের বহির্গমনের মধ্যবর্তী সময় হলো সাত মাস।»
(খণ্ড: ১)
ইসলামু যাইদ বিন হারিসাহ ওয়া গয়রুহু মিন আহাদীসিশ শুয়ুখ
(পৃষ্ঠা: ১৫৩)
7 - ثَنَا أَبُو عُمَرَ، ثَنَا أَبُو هِشَامٍ، ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَائِذٍ، ثَنَا الْوَلِيدُ أَخْبَرَنِي سُفْيَانُ، عَنْ لَيْثٍ، عَنْ بِشْرٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، يَقُولُ: «بَيْنَ يَدَيِ الدَّجَّالِ نَيْفٌ وَسَبْعُونَ دَجَّالا»
৭ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু উমর, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু হিশাম, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে আইজ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-ওয়ালিদ, তিনি বলেন আমাকে সংবাদ দিয়েছেন সুফিয়ান, লাইস থেকে, বিশর থেকে, আনাস ইবনে মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: «দাজ্জালের (আবির্ভাবের) পূর্বে সত্তর জনেরও অধিক দাজ্জাল আসবে»
(খণ্ড: ১)
ইসলামু যাইদ বিন হারিসাহ ওয়া গয়রুহু মিন আহাদীসিশ শুয়ুখ
(পৃষ্ঠা: ১৫৪)
8 - وَبِهِ ، حَدَّثَنَا أَبُو هِشَامٍ، ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَائِذٍ، ثَنَا الْوَلِيدُ، حَدَّثَنِي شَيْبَانُ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ أَنَّهُ حَدَّثَهُ عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ، يَقُولُ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «إِنِّي أُنْذِرُكُمْ مِنَ الدَّجَّالِ كَمَا أَنْذَرَ نُوحٌ قَوْمَهُ»
৮ - এবং তাঁর মাধ্যমেই, আবু হিশাম আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবন আইজ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আল-ওয়ালিদ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, শাইবান আমার কাছে বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া ইবন আবি কাসীর থেকে যে, তিনি তাঁর কাছে আবু সালামা ইবন আবদুর রহমান থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আবু হুরায়রাকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «নিশ্চয়ই আমি তোমাদের দাজ্জাল সম্পর্কে সতর্ক করছি, যেমন নূহ তাঁর সম্প্রদায়কে সতর্ক করেছিলেন»
(খণ্ড: ১)
ইসলামু যাইদ বিন হারিসাহ ওয়া গয়রুহু মিন আহাদীসিশ শুয়ুখ
(পৃষ্ঠা: ১৫৫)
9 - وَبِهِ ، حَدَّثَنَا أَبُو هِشَامٍ، ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَائِذٍ، ثَنَا الْوَلِيدُ، ثَنَا أَبُو عُمَرَ، عَنْ حَسَّانِ بْنِ عَطِيَّةَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي عَائِشَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، يَقُولُ: " إِذَا فَرَغَ أَحَدُكُمْ مِنَ التَّشَهُّدِ فَلْيَتَعَوَّذْ مِنْ أَرْبَعٍ: مِنْ عَذَابِ جَهَنَّمَ، وَمِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ، وَفِتْنَةِ الْمَحْيَا وَالْمَمَاتِ، وَشَرِّ الْمَسِيحِ الدَّجَّالِ "
9 - এবং একই সূত্রে আমাদের নিকট আবু হিশাম বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট মুহাম্মদ বিন আইজ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট ওয়ালিদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবু উমর বর্ণনা করেছেন, তিনি হাসসান বিন আতিয়্যাহ থেকে, তিনি মুহাম্মদ বিন আবি আইশা থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: "তোমাদের কেউ যখন তাশাহহুদ শেষ করবে, তখন সে যেন চারটি বিষয় থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করে: জাহান্নামের আযাব থেকে, কবরের আযাব থেকে, জীবন ও মৃত্যুর ফিতনা থেকে এবং মাসীহ দাজ্জালের অনিষ্ট থেকে।"
(খণ্ড: ১)
ইসলামু যাইদ বিন হারিসাহ ওয়া গয়রুহু মিন আহাদীসিশ শুয়ুখ
(পৃষ্ঠা: ১৫৬)
10 - وَبِهِ ، حَدَّثَنَا أَبُو هِشَامٍ، ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَائِذٍ، ثَنَا الْوَلِيدُ، أَخْبَرَنِي ابْنُ أَبِي ذِئْبٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ فَاطِمَةَ بِنْتِ قَيْسٍ ،أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَخَّرَ لَيْلَةً صَلاةَ الْعِشَاءِ ثُمَّ خَرَجَ، فَقَالَ: إِنَّمَا حَبَسَنِي حَدِيثٌ كَانَ تَمِيمُ الدَّارِيُّ، يُحَدِّثْنِيهِ عَنْ رَجُلٍ كَانَ فِي جَزَائِرَ مِنْ جَزَائِرِ الْبَحْرِ فَإِذَا هُوَ بِامْرَأَةٍ تَجُرُّ شَعْرَهَا " وَذَكَرَ حَدِيثَ الْجَسَّاسَةِ
১০ - এবং তাঁর সূত্রেই, আমাদের নিকট আবু হিশাম বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট মুহাম্মাদ ইবনে আইজ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট আল-ওয়ালিদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন ইবনে আবি যিব আমাকে সংবাদ দিয়েছেন ইবনে শিহাব থেকে, তিনি আবু সালামাহ ইবনে আবদুর রহমান থেকে, তিনি ফাতিমা বিনতে কায়স থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) "এক রাতে এশার সালাত বিলম্বিত করলেন, এরপর তিনি বের হয়ে বললেন: নিশ্চয়ই তামীম আদ-দারি আমাকে এক ব্যক্তি সম্পর্কে যে ঘটনাটি শোনাচ্ছিলেন তা-ই আমাকে আটকে রেখেছিল, যে সমুদ্রের দ্বীপসমূহের কোনো এক দ্বীপে ছিল; হঠাৎ সে এক মহিলার দেখা পেল যে নিজের চুল টেনে নিয়ে যাচ্ছিল।" এরপর তিনি আল-জাসসাসাহ সংক্রান্ত হাদিসটি উল্লেখ করলেন।
(খণ্ড: ১)
ইসলামু যাইদ বিন হারিসাহ ওয়া গয়রুহু মিন আহাদীসিশ শুয়ুখ
(পৃষ্ঠা: ১৫৭)
11 - وَبِهِ ، حَدَّثَنَا أَبُو هِشَامٍ، ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَائِذٍ، ثَنَا الْوَلِيدُ، أَخْبَرَنِي شَيْبَانُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْمُجَالِدِ بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ عَامِرٍ الشَّعْبِيِّ، عَنْ فَاطِمَةَ بِنْتِ قَيْسٍ، قَالَتْ: «صَعِدَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْمِنْبَرَ، وَكَانَ لا يَصْعَدُ إِلا يَوْمَ الْجُمُعَةِ» ، وَذَكَرَ حَدِيثَ الْجَسَّاسَةِ بِطُولِهِ
১১ - এবং তাঁর মাধ্যমেই, আমাদের নিকট আবু হিশাম হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট মুহাম্মাদ বিন আইদ হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আল-ওয়ালিদ হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: শায়বান বিন আব্দুর রহমান বিন আল-মুজালিদ বিন সাঈদ আমাকে সংবাদ দিয়েছেন আমের আশ-শা'বী থেকে, তিনি ফাতিমা বিনতে কাইস থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: «রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিম্বরে আরোহণ করলেন, অথচ তিনি জুমার দিন ব্যতীত মিম্বরে আরোহণ করতেন না»; এবং তিনি জাসসাসার হাদীসটি বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
ইসলামু যাইদ বিন হারিসাহ ওয়া গয়রুহু মিন আহাদীসিশ শুয়ুখ
(পৃষ্ঠা: ১৫৮)
12 - وَبِهِ ، حَدَّثَنَا أَبُو هِشَامٍ، ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَائِذٍ، ثَنَا الْوَلِيدُ، ثَنَا عُفَيْرُ بْنُ مَعْدَانَ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «رَأَيْتُ الدَّجَّالَ رَجُلٌ أَقْمَرُ هَجَّانُ ضَخْمٌ، كَأَنَّ شَعْرَ رَأْسِهِ أَغْصَاُن شَجَرَةٍ، أَعْوَرُ كَأَنَّ عَيْنَهُ كَوْكَبُ الصُّبْحِ، شَبَّهْتُهُ عَبْدَ الْعُزَّى بْنَ قَطَنٍ رَجُلٌ مِنْ خُزَاعَةَ»
১২ - এবং তাঁর মাধ্যমেই, আমাদের নিকট আবু হিশাম বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট মুহাম্মদ বিন আইজ বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আল-ওয়ালিদ বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট উফাইর বিন মা’দান বর্ণনা করেছেন, কাতাদাহ থেকে, তিনি ইকরিমাহ থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «আমি দাজ্জালকে দেখেছি; সে উজ্জ্বল বর্ণের, শ্বেতকায় ও স্থূলকায় এক ব্যক্তি, তার মাথার চুলগুলো যেন বৃক্ষের শাখা-প্রশাখা; সে এক চোখ কানা, যেন তার চোখটি প্রভাতী নক্ষত্র (শুকতারা)। আমি তাকে খুজাআ গোত্রের লোক আবদুল উযযা বিন কাতানের সাথে সদৃশ মনে করছি।»
(খণ্ড: ১)
ইসলামু যাইদ বিন হারিসাহ ওয়া গয়রুহু মিন আহাদীসিশ শুয়ুখ
(পৃষ্ঠা: ১৫৯)
13 - وَبِهِ ، حَدَّثَنَا أَبُو هِشَامٍ، ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَائِذٍ، ثَنَا الْوَلِيدُ، أَخْبَرَنِي مَالِكٌ، عَنْ نُعَيْمِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ أَنَّهُ أَخْبَرَهُ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: «عَلَى أَنْقَابِ الْمَدِينَةِ مَلائِكَةٌ لا يَدْخُلُهَا الدَّجَّالُ وَلا الطَّاعُونُ»
১৩ - এবং উক্ত সনদে, আমাদের নিকট আবু হিশাম বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট মুহাম্মদ বিন আইজ বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আল-ওয়ালিদ বর্ণনা করেছেন, মালিক আমাকে সংবাদ দিয়েছেন নুয়াইম বিন আবদুল্লাহর বরাতে যে তিনি তাকে সংবাদ দিয়েছেন, আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «মদিনার প্রবেশপথগুলোতে ফেরেশতারা নিয়োজিত রয়েছেন; সেখানে দাজ্জাল এবং মহামারি (প্লেগ) প্রবেশ করতে পারবে না»
(খণ্ড: ১)
ইসলামু যাইদ বিন হারিসাহ ওয়া গয়রুহু মিন আহাদীসিশ শুয়ুখ
(পৃষ্ঠা: ১৬০)
14 - وَبِهِ ، حَدَّثَنَا أَبُو هِشَامٍ، ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَائِذٍ، ثَنَا الْوَلِيدُ، ثَنَا أَبُو عَمْرٍو، عَنْ إِسْحَاقَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ الأَنْصَاِرِّي، حَدَّثَنِي أَنَسُ بْنُ مَالِكٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «لَيْسَ مِنْ بَلَدٍ إِلا سَيَطَؤُهَا الدَّجَّالُ، إِلا مَكَّةَ وَالْمَدِينَةَ لَيْسَ نَقَبٌ مِنْ نِقَابِهَا إِلا عَلَيْهِ الْمَلائِكَةُ حَافِّينَ تَحْرُسُهَا، فَيَنْزِلُ بِالسَّبْخَةِ فَتَرْجُفُ الْمَدِينَةُ ثَلاثَ رَجَفَاتٍ يَخْرُجُ إِلَيْهِ كُلُّ كَافِرٍ وَمُنَافِقٌ»
১৪ - এবং এই একই সূত্রে, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু হিশাম, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে আইয, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-ওয়ালীদ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আমর, তিনি ইসহাক ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আবি তালহা আল-আনসারী হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমার নিকট বর্ণনা করেছেন আনাস ইবনে মালিক, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «মক্কা ও মদিনা ব্যতীত এমন কোনো জনপদ নেই যা দাজ্জাল পদদলিত করবে না; এর প্রতিটি প্রবেশপথেই ফেরেশতাগণ সারিবদ্ধ হয়ে তাকে পাহারা দিচ্ছেন। অতঃপর সে লবণাক্ত প্রান্তরে অবতরণ করবে, তখন মদিনা তিনবার প্রকম্পিত হবে এবং এর ফলে প্রত্যেক কাফির ও মুনাফিক বের হয়ে তার নিকট চলে যাবে।»
(খণ্ড: ১)
ইসলামু যাইদ বিন হারিসাহ ওয়া গয়রুহু মিন আহাদীসিশ শুয়ুখ
(পৃষ্ঠা: ১৬১)
15 - أَخْبَرَنِي أَبُو عَلِيٍّ مُحَمَّدُ بْنُ هَارُونَ بْنِ شُعَيْبٍ، ثَنَا أَبُو الْحَسَنِ مْحَمَّدُ بْنُ بِشْرِ بْنِ مَامَوَيْهِ، ثَنَا حَاجِبُ بْنُ سُلَيْمَانَ الْمَنْبَجِيُّ، ثَنَا الْحَارِثُ بْنُ عَطِيَّةَ، عَنِ الأَوْزَاعِيِّ، عَنْ عَلْقَمَةَ بْنِ مَرْثَدٍ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ بُرَيْدَةَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «أَهْلُ الْجَنَّةِ عِشْرُونَ وَمِائَةُ صَفٍّ، أُمَّتِي مِنْهَا ثَمَانُونَ صَفًّا»
১৫ - আমাকে সংবাদ দিয়েছেন আবু আলী মুহাম্মদ বিন হারুন বিন শুয়াইব, আমাদের কাছে হাদীস বর্ণনা করেছেন আবুল হাসান মুহাম্মদ বিন বিশর বিন মামাওয়াইহ, আমাদের কাছে হাদীস বর্ণনা করেছেন হাজিব বিন সুলাইমান আল-মানবাজি, আমাদের কাছে হাদীস বর্ণনা করেছেন আল-হারিস বিন আতিয়্যাহ, তিনি আওযায়ী থেকে, তিনি আলকামা বিন মারসাদ থেকে, তিনি সুলাইমান বিন বুরাইদাহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «জান্নাতবাসীরা হবে একশত বিশ কাতার, তার মধ্যে আশি কাতার হবে আমার উম্মত»
(খণ্ড: ১)
ইসলামু যাইদ বিন হারিসাহ ওয়া গয়রুহু মিন আহাদীসিশ শুয়ুখ
(পৃষ্ঠা: ১৬২)
16 - ثَنَا أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ الْحَسَنِ بْنُ أُحَيْدٍ الْبَلْخِيُّ الْقَطَّانُ الْمِلْحِيُّ، فِي مَجْلِسِ أَبِي عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَرْوَانَ سَنَةَ خَمْسِينَ وَثَلاثِ مِائَةٍ، ثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ شَبِيبٍ أَبُو يَعْقُوبَ الْبَامَيَانِيُّ بِالْبَامَيَانِ، ثَنَا أَبُو سَهْلٍ فَارِسُ بْنُ عَمْرِو بْنِ نَاطِرَانَ، ثَنَا أَبُو مُعَاذٍ مَعْرُوفُ بْنُ حَسَّانٍ، ثَنَا عُمَرُ بْنُ ذَرٍّ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «مَنْ جَاءَ مِنْكُمُ الْجُمُعَةَ فَلْيَغْتَسِلْ»
১৬ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবুল হাসান আলী ইবনুল হাসান ইবনে উহাইদ আল-বালখি আল-কাত্তান আল-মিলহি, ৩৫০ হিজরি সনে আবু আব্দুল্লাহ ইবনে মারওয়ানের মজলিসে; তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইসহাক ইবনে শাবিব আবু ইয়াকুব আল-বামিয়ানি, বামিয়ান নামক স্থানে; তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু সাহল ফারিস ইবনে আমর ইবনে নাতিরান; তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু মুয়ায মা’রুফ ইবনে হাসান; তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন উমর ইবনে যারর, নাফে’ থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: «তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি জুমুআর সালাতে আসবে, সে যেন গোসল করে।»
(খণ্ড: ১)
ইসলামু যাইদ বিন হারিসাহ ওয়া গয়রুহু মিন আহাদীসিশ শুয়ুখ
(পৃষ্ঠা: ১৬৩)
17 - ثَنَا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ سُلَيْمَانَ بْنِ يُوسُفَ الرَّبَعِيُّ، ثَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ البَّطَّالِ الصَّفَدِيُّ، ثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ وَهْبٍ الْعَلافُ الْوَاسِطِيُّ، ثَنَا أَبُو مَرْوَانَ يَحْيَى بْنُ زَكَرِيَّا الْغَسَّانِيُّ، ثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عُبَيْدِ اللَّهِ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ عَلْقَمَة، عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «عُمُّوا بِالسَّلامِ، وَعُمُّوا بِالتَّشْمِيتِ»
১৭ - আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে সুলাইমান ইবনে ইউসুফ আর-রাবায়ি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইব্রাহিম ইবনে আল-বাত্তাল আস-সাফাদি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইসহাক ইবনে ওয়াহাব আল-আল্লাফ আল-ওয়াসিতি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু মারওয়ান ইয়াহইয়া ইবনে জাকারিয়া আল-গাসসানি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হাসান ইবনে উবাইদুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইব্রাহিম থেকে, তিনি আলকামা থেকে, তিনি ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «তোমরা ব্যাপকভাবে সালাম প্রদান করো এবং ব্যাপকভাবে তাশমিত (হাঁচিদাতার জবাব) প্রদান করো»
(খণ্ড: ১)
ইসলামু যাইদ বিন হারিসাহ ওয়া গয়রুহু মিন আহাদীসিশ শুয়ুখ
(পৃষ্ঠা: ১৬৪)
18 - وَبِإِسْنَادِهِ ، قَالَ: «كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُسَلِّمُ عَنْ يَمِينِهِ السَّلامُ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَةُ اللَّهِ، وَعَنْ يَسَارِهِ السَّلامُ عَلَيْكُمْ وَرَحِمَهُ اللَّهُ»
১৮ - এবং তাঁর সনদে তিনি বলেন: «আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর ডান দিকে ‘আস-সালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ’ এবং তাঁর বাম দিকে ‘আস-সালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ’ বলে সালাম ফেরাতেন»
(খণ্ড: ১)
ইসলামু যাইদ বিন হারিসাহ ওয়া গয়রুহু মিন আহাদীসিশ শুয়ুখ
(পৃষ্ঠা: ১৬৫)
19 - حَدَثَّنِي أَبِي رحمه الله، حَدَّثَنِي أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عُبَيْدٍ الْحِمْصِيُّ، حَدَّثَنِي أَبِي، ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ حُمَيْرٍ، ثَنَا سَلَمَةُ بْنُ الْعَيَّارِ، عَنْ مُوسَى بْنِ أَبِي عَائِشَةَ، عَنْ يَزِيدَ الرَّقَّاشِيِّ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ: " رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم تَوَضَّأَ فَخَلَّلَ لِحْيَتِهِ بِالْمَاءِ، ثُمَّ قَالَ: هَكَذَا أَمَرَنِي رَبِّي عز وجل "
১৯ - আমার পিতা (রহিমাহুল্লাহ) আমাকে হাদীস শুনিয়েছেন, আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে উবাইদ আল-হিমসি আমাকে হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আমার পিতা আমাকে হাদীস শুনিয়েছেন, মুহাম্মাদ ইবনে হুমাইর আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, সালামাহ ইবনে আল-আইয়্যার আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, মুসা ইবনে আবি আইশা থেকে, তিনি ইয়াজিদ আল-রাক্কাশি থেকে, তিনি আনাস ইবনে মালিক থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "আমি আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে দেখেছি যে, তিনি অজু করলেন এবং পানি দিয়ে তাঁর দাড়ি খিলাল করলেন, অতঃপর বললেন: এভাবেই আমার প্রতিপালক (আজ্জা ওয়া জাল্লা) আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন।"
(খণ্ড: ১)
ইসলামু যাইদ বিন হারিসাহ ওয়া গয়রুহু মিন আহাদীসিশ শুয়ুখ
(পৃষ্ঠা: ১৬৭)
20 - وَبِهِ ، أَخْبَرَنِي أَحْمَدُ بْنُ عِيسَى بْنِ مِسْكِينٍ الْبَلَدِيُّ بِبِلَدٍ، ثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ زُرَيْقٍ الرَّسْعَنِيُّ، ثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ خَالِدٍ الصَّنْعَانِيُّ، ثَنَا سُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ، عَنْ هَارُونَ بْنِ عَنْتَرَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ " يَقْرَأُ عَلَى الْمِنْبَرِ: قُلْ يَا أَيُّهَا الْكَافِرُونَ وقُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ "
২০ - এবং এই একই সূত্রে, আহমদ ইবনে ঈসা ইবনে মিসকিন আল-বালাদি বালাদ শহরে আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইসহাক ইবনে জুরাইক আর-রাসআনি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইব্রাহিম ইবনে খালিদ আস-সানআনি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান আস-সাওরি, হারুন ইবনে আনতারা থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আলী ইবনে আবি তালিব (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) "মিম্বরের উপর তিলাওয়াত করতেন: 'কুল ইয়া আইয়্যুহাল কাফিরুন' (বলুন: হে কাফিররা) এবং 'কুল হুওয়াল্লাহু আহাদ' (বলুন: তিনিই আল্লাহ, একক)'"
(খণ্ড: ১)
ইসলামু যাইদ বিন হারিসাহ ওয়া গয়রুহু মিন আহাদীসিশ শুয়ুখ
(পৃষ্ঠা: ১৬৮)
21 - وَبِهِ ، أَخْبَرَنِي أَحْمَدُ بْنُ عِيسَى، ثَنَا إِسْحَاقُ، ثَنَا إِبْرَاهِيمُ، ثَنَا الثَّوْرِيُّ، عَنْ سَلَمَةَ بْنِ كُهَيْلٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيِّبِ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، وَعَنْ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَالِكٍ الأَسَدِيِّ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم «جَمَعَ بَيْنَ الْمَغْرِبِ وَالْعِشَاءِ بِجَمْعِ صَلاةِ الْمَغْرِبِ ثَلاثًا وَالْعِشَاءِ رَكْعَتَيْنِ بِإِقَامَةٍ وَاحِدَةٍ»
২১ - এবং একই সূত্রে, আমাকে সংবাদ দিয়েছেন আহমাদ ইবনু ঈসা, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন ইসহাক, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন ইবরাহীম, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন সাওরী, তিনি সালামা ইবনু কুহাইল থেকে, তিনি সাঈদ ইবনুল মুসাইয়িব থেকে, তিনি ইবনু উমর (রা.) থেকে; এবং সুফিয়ান সাওরী থেকে, তিনি আবু ইসহাক থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনু মালিক আল-আসাদী থেকে, তিনি ইবনু উমর (রা.) থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম "মুযদালিফায় মাগরিব ও ইশার নামায একত্রে আদায় করেছেন; মাগরিবের নামায তিন রাকাত এবং ইশার নামায দুই রাকাত, এক ইকামতের সাথে।"
(খণ্ড: ১)
ইসলামু যাইদ বিন হারিসাহ ওয়া গয়রুহু মিন আহাদীসিশ শুয়ুখ
(পৃষ্ঠা: ১৬৯)
22 - وَبِهِ ، أَخْبَرَنِي أَحْمَدُ بْنُ عِيسَى، ثَنَا إِسْحَاقُ، ثَنَا إِبْرَاهِيمُ، ثَنَا سُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ: قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: «الْمُتَشَبِّعُ مَا لَمْ يُعْطِ كَلابِسِ ثَوْبَيْ زُورٍ»
২২ - এবং এর মাধ্যমেই, আহমদ বিন ঈসা আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, ইসহাক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইবরাহিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সুফিয়ান আস-সাওরী আমাদের নিকট হিশাম বিন উরওয়াহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «যাকে যা দেওয়া হয়নি তা নিয়ে যে ব্যক্তি নিজেকে পরিতৃপ্ত জাহির করে, সে যেন মিথ্যার দুটি পোশাক পরিধানকারী ব্যক্তি।»
(খণ্ড: ১)
ইসলামু যাইদ বিন হারিসাহ ওয়া গয়রুহু মিন আহাদীসিশ শুয়ুখ
(পৃষ্ঠা: ১৭৬)
23 - وَبِهِ ، أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ عِيسَى، ثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ زُرَيْقٍ، ثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ خَالِدٍ، ثَنَا سُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ، عَنْ أَبِي سِنَانٍ الشَّيْبَانِيِّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْحَارِثِ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ، قَالَ: " مَرَّ رَجُلٌ عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِثَوْبٍ قَدِ اشْتَرَاهُ، فَقَالَ لَهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: بِكَمْ أَخَذْتَهُ؟ فَزَادَ فِي ثَمَنِهِ، فَأَمَرَهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم أَنْ يَتَصَدَّقَ بِالْفَضْلِ "
23 - এবং এই একই সূত্রে, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আহমাদ ইবনে ঈসা, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন ইসহাক ইবনে যুরাইক, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন ইব্রাহিম ইবনে খালিদ, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন সুফিয়ান আস-সাওরি, আবু সিনান আশ-শাইবানি থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনুল হারিস থেকে, তিনি আলি ইবনে আবি তালিব (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "এক ব্যক্তি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট দিয়ে অতিক্রম করলেন এমন একটি কাপড় নিয়ে যা তিনি ক্রয় করেছিলেন। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে জিজ্ঞেস করলেন: তুমি এটি কত দিয়ে কিনেছ? তখন সে তার দাম বাড়িয়ে বলল। ফলে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে নির্দেশ দিলেন (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যেন তিনি অতিরিক্ত অংশটুকু সদকা করে দেন।"