(খণ্ড: ১)
দালাইলুত তাওফীক লিআসাহি তারীক লিজামইস সিদ্দিক
(পৃষ্ঠা: -)
دلائل التوفيق لأصح طريق لجمع الصديق القسم: علوم القرآن وأصول التفسير
الكتاب: دَلَائِلُ التَّوْفِيقِ لِأَصَحِ طَرِيقٍ لِجَمْعِ الصِّدِّيِقِ
المؤلف: عرفة بن طنطاوي
بحث منشور في: مجلة البحوث الإسلامية العدد 67، شعبان 1442 هـ
مجلة البحوث الإسلامية: مصرية محكّمة، بدأت في 1436 هـ، تصدر شهريا، ويرأس تحريرها أ د عبد الفتاح محمود إدريس، أستاذ بقسم الفقه المقارن بكلية الشريعة والقانون جامعة الأزهر
عدد الصفحات: 53
[ترقيم صفحات البحث موافق للمجلة. ورقم الجزء هو رقم العدد]
تاريخ النشر بالشاملة: 24 ذو الحجة 1443
দালাঈলুত তাওফিক লি আসাহহি ত্বরিক লি জাময়িস সিদ্দিক বিভাগ: উলূমুল কুরআন ও উসূলুত তাফসীর
কিতাব: দালাঈলুত তাওফিক লি আসাহহি ত্বরিক লি জাময়িস সিদ্দিক
লেখক: আরাফাহ বিন তানতাউয়ী
গবেষণাপত্রটি প্রকাশিত হয়েছে: মাজাল্লাতুল বুহুস আল-ইসলামিয়্যাহ, সংখ্যা ৬৭, শাবান ১৪৪২ হিজরী
মাজাল্লাতুল বুহুস আল-ইসলামিয়্যাহ: একটি মিশরীয় পিয়ার-রিভিউড জার্নাল, যা ১৪৩৬ হিজরীতে যাত্রা শুরু করে, প্রতি মাসে প্রকাশিত হয় এবং এর প্রধান সম্পাদক হলেন প্রফেসর ড. আব্দুল ফাত্তাহ মাহমুদ ইদ্রিস, অধ্যাপক, তুলনামূলক ফিকহ বিভাগ, শরীয়াহ ও আইন অনুষদ, আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫৩
[গবেষণাপত্রের পৃষ্ঠা সংখ্যা জার্নালের অনুরূপ রাখা হয়েছে. এবং খণ্ড সংখ্যাই হলো সংখ্যা নম্বর]
শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ২৪ জিলহজ ১৪৪৩ হিজরী
(খণ্ড: ৬৭)
দালাইলুত তাওফীক লিআসাহি তারীক লিজামইস সিদ্দিক
(পৃষ্ঠা: ৯৭)
ملخص البحثفهذا بحث بعنوان: " دَلَائِلُ التَّوْفِيقِ لِأَصَحِ طَرِيقٍ لِجَمْعِ الصِّدِّيِقِ"، وهو الجمع الثاني للقرآن الكريم الذي نهض له وقام به وتعاهده الخليفة الراشد أبو بكر الصِّديق بمشورة الفاروق عمر بن الخطاب وتكليف زيد بن ثابت الأنصاري بمهمة رئاسة لجنة الجمع، كما تم الجمع- كذلك- بمشاركة الصحابة رضي الله عنهم أجمعين، وكان ذلك سنة اثنتي عشرة للهجرة.
فقام الصِّديق رضي الله عنه وجَمَعَ فيه القرآنَ بين دفتي لوح واحد بعد أن كان مفرقًا في عهد الجمع النبوي الأول، وكان ذلك إثر مقتل سبعين من القراء في موقعة اليمامة، والتي خُشِيَ من إثراها ذهاب القرآن بذهاب حملته.
وهذا البحث قد جمعه الباحث ورغب في تقديمه في صورة مختصرة تجمع بين التأصيل العلمي، وبين التحقيق والتدقيق، ولا سيما في بعض المسائل التي وقع فيها خلاف بين بعض أهل العلم، وبعض المسائل والقضايا التي كثر تناولها وتداولها دون تثبت حتى أضحت من المسلمات البديهيات، كما اعتنى الباحث بسلاسة الأسلوب وسهولة العبارة وجزالة الألفاظ وحسن وجمال العرض، ليدنيه من نظر طالبيه، ويقربه ويسهل تناوله لراغبيه، راجيًا أن يتقبله الله من عبده الضعيف بقبول حسنٍ ويُنَمِّيه.
গবেষণার সারসংক্ষেপএটি "দালাইলুত তাওফিক লি আসহি ত্বরিক লি জাময়িস সিদ্দিক" শিরোনামের একটি গবেষণা। এটি হলো পবিত্র কুরআনের দ্বিতীয় সংকলন, যা খলিফায়ে রাশেদ আবু বকর সিদ্দিক ফারুক উমর ইবনুল খাত্তাবের পরামর্শে এবং জায়েদ ইবনে সাবিত আনসারীকে সংকলন কমিটির প্রধানের দায়িত্ব প্রদানের মাধ্যমে গ্রহণ করেছিলেন এবং এর তত্ত্বাবধান করেছিলেন। এই সংকলন প্রক্রিয়াটি হিজরি বারো সনে সকল সাহাবী (রাযিয়াল্লাহু আনহুম)-এর অংশগ্রহণে সম্পন্ন হয়েছিল।
অতঃপর সিদ্দিক (রাযিয়াল্লাহু আনহু) কুরআনকে একটি মলাটের মাঝে সংকলন করেন, যা প্রথম নববী সংকলনকালে বিক্ষিপ্ত অবস্থায় ছিল। ইয়ামামার যুদ্ধে সত্তর জন ক্বারীর শাহাদাত বরণের প্রেক্ষাপটে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, যার ফলে কুরআনের ধারকদের বিদায়ের সাথে সাথে পবিত্র কুরআন হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল।
গবেষক এই গবেষণাটি সংকলন করেছেন এবং একে একটি সংক্ষিপ্ত অবয়বে উপস্থাপন করতে চেয়েছেন, যা তাত্ত্বিক ভিত্তি এবং গভীর গবেষণা ও সূক্ষ্ম বিশ্লেষণের এক সমন্বয়। বিশেষ করে সেই সব মাসআলার ক্ষেত্রে যেখানে একদল আলেমের মাঝে মতভেদ রয়েছে এবং এমন কিছু বিষয় যা যথাযথ যাচাই-বাছাই (تثبت) ছাড়াই বহুল চর্চিত হতে হতে স্বতঃসিদ্ধ বিষয়ে পরিণত হয়েছে। এছাড়াও গবেষক এর সাবলীল শৈলী, সহজবোধ্য বাক্য গঠন এবং উপস্থাপনার সৌন্দর্যের প্রতি বিশেষ যত্ন নিয়েছেন, যাতে তা জ্ঞান অন্বেষণকারীদের নিকট সহজবোধ্য ও গ্রহণোপযোগী হয়। আল্লাহর নিকট প্রার্থনা, তিনি যেন তাঁর এই দুর্বল (ضعيف) বান্দার পক্ষ থেকে এটি উত্তমভাবে কবুল করেন এবং এর বরকত বৃদ্ধি করেন।
(খণ্ড: ৬৭)
দালাইলুত তাওফীক লিআসাহি তারীক লিজামইস সিদ্দিক
(পৃষ্ঠা: ৯৮)
المقدمةالْحَمْدُ لِلَّهِ والصلاة والسلام على رسول الله وآله وصحبه ومن والاه
وبعد:
فإن القرآن الكريم، كلام رب العالمين، ووحيه المبين، الذي أنزل الله على خاتم النبين والمرسلين نبينا محمد خير خلقه أجمعين صلى الله عليه وسلم، قد عظَّمه اللهُ أيِّمَا تعظيم، و أجلَّه أيِّمَا إجلال، فوَصَفه بأحسن الصفات، ونعته بأجلِّ وأعظم النعوت، وسماه أجمل الأسماء، وهو سبحانه المبتدئ بتعظيمه وتوقيره وإجلاله، وقد حفظه سبحانه عنده في مكان مصون لا يقربه إلا الملائكة الأطهار، فقال في وصفه سبحانه: (بَلْ هُوَ قُرْآنٌ مَّجِيدٌ. فِي لَوْحٍ مَّحْفُوظٍ) (البروج: 21 - 22)، ثم جَمَعَ وَصْفَهُ ومكانه المصون فيه، وَصِفَةَ الملائكة الذين لا يمسه سواهم، وَصِفَةَ منزله سبحانه في قوله جل في علاه: (إِنَّهُ لَقُرْآنٌ كَرِيمٌ. فِي كِتَابٍ مَكْنُونٍ. لا يَمَسُّهُ إِلاَّ الْمُطَهَّرُونَ. تَنْزِيلٌ مِنْ رَبِّ الْعَالَمِينَ) (الواقعة: 77، 80).
ولعظم قدر كلام ربنا فقد اصطفى سبحانه صفوة ملائكته من أهل السماء لينزل به في أعظم وأشرف بقعةِ من المعمورة، على صفوة خلقه من أهل الأرض، في سيدة الليالي من سيد الشهور.
فقد اصطفى من الملائكة أكرمَهم وأصفاهم لتنزيله فقال سبحان في وصف الملك الكريم الذي نزل بالقرآن: (نَزَلَ بِهِ الرُّوحُ الْأَمِينُ) (الشعراء: 193)، ثم اصطفى أطهر القلوب ليكون محل تنزل كلامه فيسكنه فؤاده لِيَعِيِهِ، ويحفظه له فيه، فيقوم بحقه في نفسه وفي بلاغه لأمته عن ربه ليرضيه، فقال سبحانه عن ذلك المحل الذي أنزله عليه وأودعه فيه: (عَلَى قَلْبِكَ لِتَكُونَ مِنَ الْمُنذِرِينَ) (الشعراء: 194)، وقال سبحانه في ذلك أيضًا: (فَإِنَّهُ نَزَّلَهُ عَلَى قَلْبِكَ بِإِذْنِ اللَّهِ مُصَدِّقًا لِمَا بَيْنَ يَدَيْهِ وَهُدًى وَبُشْرَى لِلْمُؤْمِنِينَ) (البقرة: 97).
وكان ذلك في أعظم ليلة والتي وصفها ربنا بأنها ليلة مباركة فقال سبحانه: (إِنَّا أَنْزَلْنَاهُ فِي لَيْلَةٍ مُبَارَكَةٍ إِنَّا كُنَّا مُنْذِرِينَ) (الدخان: 3)، وتلك الليلة هي ليلة القدر التي قال سبحانه فيها: (إِنَّا أَنْزَلْنَاهُ فِي لَيْلَةِ الْقَدْر وَمَا أَدْرَاكَ مَا لَيْلَةُ الْقَدْرِ لَيْلَةُ الْقَدْرِ خَيْرٌ مِنْ أَلْفِ شَهْرٍ) (القدر: 1 - 3)، وكان ذلك في أفضل شهر كما قال ربنا: (شَهْرُ رَمَضَانَ الَّذِي أُنْزِلَ فِيهِ الْقُرْآنُ هُدًى لِلنَّاسِ وَبَيِّنَاتٍ مِنَ الْهُدَى وَالْفُرْقَانِ) (البقرة: 185)
وجعل بداية ونهاية تنزله في مكة المكرمة عند بيته العتيق الذي قال سبحانه فيه: (إِنَّ أَوَّلَ بَيْتٍ وُضِعَ لِلنَّاسِ لَلَّذِي بِبَكَّةَ مُبَارَكًا وَهُدًى لِلْعَالَمِينَ) (آل عمران: 96)، وجعل مختتم نزوله وتوديع وحيه المنزل في حجة الوداع في شهر حرام
ভূমিকাসকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসুল, তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীগণ এবং যারা তাঁর আনুগত্য করেছেন তাদের প্রতি।
অতঃপর:
নিশ্চয়ই পবিত্র কুরআন বিশ্ব জাহানের প্রতিপালকের বাণী এবং তাঁর সুস্পষ্ট প্রত্যাদেশ (ওহি), যা আল্লাহ তাআলা তাঁর সৃষ্টির মধ্যে সর্বোত্তম ব্যক্তিত্ব, সর্বশেষ নবী ও রাসুল আমাদের নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওপর অবতীর্ণ করেছেন। আল্লাহ তাআলা একে যথাযথভাবে সম্মানিত ও মহিমান্বিত করেছেন। তিনি একে সর্বোত্তম গুণাবলীতে ভূষিত করেছেন, মহান ও শ্রেষ্ঠ বিশেষণে বিশেষায়িত করেছেন এবং একে সুন্দরতম নামে নামকরণ করেছেন। মহান আল্লাহ নিজেই এর সম্মান, মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্ব বর্ণনা শুরু করেছেন। আল্লাহ তাআলা এটি তাঁর নিকট এক সংরক্ষিত স্থানে হিফাজত করেছেন, যেখানে পবিত্র ফেরেশতাগণ ব্যতীত অন্য কেউ পৌঁছাতে পারে না। তিনি এর বর্ণনায় বলেছেন: (বরং এটি এক মহান কুরআন। যা লওহে মাহফুজে সংরক্ষিত) (বুরুজ: ২১ - ২২)। অতঃপর তিনি এর বর্ণনা, এর সংরক্ষিত স্থান, একে স্পর্শকারী পবিত্র ফেরেশতাদের বৈশিষ্ট্য এবং এর অবতীর্ণকারীর বর্ণনা একত্রিত করেছেন তাঁর এই বাণীতে: (নিশ্চয়ই এটি এক সম্মানিত কুরআন। যা এক সুরক্ষিত কিতাবে লিপিবদ্ধ। পবিত্রগণ ব্যতীত কেউ তা স্পর্শ করে না। এটি বিশ্ব জাহানের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে অবতীর্ণ।) (ওয়াকিআ: ৭৭ - ৮০)।
আমাদের রবের বাণীর উচ্চ মর্যাদার কারণে তিনি আকাশবাসীদের মধ্য থেকে তাঁর শ্রেষ্ঠ ফেরেশতাকে নির্বাচন করেছেন একে পৃথিবীর সর্বোত্তম ও সবচেয়ে সম্মানিত স্থানে নিয়ে অবতীর্ণ করার জন্য, পৃথিবীবাসীদের মধ্যে তাঁর শ্রেষ্ঠ সৃষ্টির ওপর, মাসের শ্রেষ্ঠ মাসের শ্রেষ্ঠ রাতে।
তিনি ফেরেশতাদের মধ্য থেকে সর্বাধিক সম্মানিত ও পবিত্রতমকে এটি অবতীর্ণ করার জন্য মনোনীত করেছেন। কুরআন নিয়ে অবতীর্ণ হওয়া সম্মানিত ফেরেশতার বর্ণনায় আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেছেন: (তা নিয়ে অবতীর্ণ হয়েছে বিশ্বস্ত আত্মা) (শুআরা: ১৯৩)। অতঃপর তিনি পবিত্রতম হৃদয়কে নির্বাচন করেছেন তাঁর বাণী অবতীর্ণ হওয়ার স্থান হিসেবে, যাতে সেটি তাঁর অন্তরে গেঁথে যায় ও তিনি তা অনুধাবন করতে পারেন এবং তিনি তা হিফাজত করতে পারেন। অতঃপর তিনি স্বীয় রবের পক্ষ থেকে তাঁর উম্মতের কাছে তা পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে এবং নিজের জীবনে তা প্রয়োগের মাধ্যমে রবের সন্তুষ্টি অর্জনে এর হক আদায় করতে পারেন। আল্লাহ তাআলা সেই স্থানের (হৃদয়ের) ব্যাপারে বলেছেন যেখানে তিনি এটি অবতীর্ণ করেছেন ও গচ্ছিত রেখেছেন: (আপনার হৃদয়ের ওপর, যাতে আপনি সতর্ককারীদের অন্তর্ভুক্ত হন) (শুআরা: ১৯৪)। আল্লাহ তাআলা এ বিষয়ে আরও বলেছেন: (নিশ্চয়ই তিনি (জিবরাইল) আল্লাহর নির্দেশে আপনার হৃদয়ে তা অবতীর্ণ করেছেন, যা তাঁর পূর্ববর্তী কিতাবসমূহের সত্যায়নকারী এবং মুমিনদের জন্য পথনির্দেশ ও সুসংবাদ।) (বাকারা: ৯৭)।
আর এটি ছিল এক মহান রাতে, যাকে আমাদের রব বরকতময় রাত হিসেবে বর্ণনা করেছেন। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেছেন: (নিশ্চয়ই আমি এটি এক বরকতময় রাতে অবতীর্ণ করেছি, নিশ্চয়ই আমি ছিলাম সতর্ককারী) (দুখান: ৩)। আর সেই রাতটি হলো লাইলাতুল কদর, যে সম্পর্কে তিনি বলেছেন: (নিশ্চয়ই আমি এটি কদরের রাতে অবতীর্ণ করেছি। আপনি কি জানেন কদরের রাত কী? কদরের রাত হাজার মাসের চেয়েও উত্তম) (কদর: ১ - ৩)। এটি ছিল শ্রেষ্ঠ মাসে, যেমনটি আমাদের রব বলেছেন: (রমজান মাস, যাতে কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে মানুষের জন্য পথনির্দেশস্বরূপ এবং হেদায়েত ও সত্য-মিথ্যার পার্থক্যের সুস্পষ্ট নিদর্শন হিসেবে) (বাকারা: ১৮৫)।
তিনি এর অবতরণের শুরু এবং শেষ নির্ধারণ করেছেন মক্কাতুল মুকাররামায় তাঁর সেই প্রাচীন ঘরের সান্নিধ্যে, যার সম্পর্কে তিনি বলেছেন: (নিশ্চয়ই মানুষের জন্য সর্বপ্রথম যে ঘরটি নির্মিত হয়েছিল তা মক্কায় অবস্থিত, যা বরকতময় ও বিশ্ববাসীর জন্য পথনির্দেশ) (আল ইমরান: ৯৬)। তিনি এর অবতরণের সমাপ্তি এবং তাঁর অবতীর্ণ ওহির বিদায়লগ নির্ধারণ করেছিলেন বিদায় হজ্জের সময় এক সম্মানিত মাসে।
(খণ্ড: ৬৭)
দালাইলুত তাওফীক লিআসাহি তারীক লিজামইস সিদ্দিক
(পৃষ্ঠা: ৯৯)
بجوار بيته الحرام، قال سبحانه: (الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي وَرَضِيتُ لَكُمُ الْإِسْلَامَ دِينًا) (المائدة: 3).
وعلى هذا الإجلال والتعظيم والتبجيل لكلام رب العالمين رَبَّى النبيُ الكريم أصحابَه رضي الله عنهم، فأحبوا كلام الله وقاموا به في محاربيهم يتلونه زرفانًا ووحدانًا، وعمَّروا به أوقاتهم وتمسكوا بهداه فأحلُّوا حلاله وحرَّموا حرامه وجعلوه مِلْءَ قلوبهم وسمعهم وأبصارهم، وتداوا به من العلل الحسية والمعنوية، وتحاكموا إليه في كل شؤون حياتهم.
وقد انتقل النبيُ صلى الله عليه وسلم إلى الرفيق الأعلى والقرآن لم يجمع في مكان واحد، ولمَّا آلت الخلافة إلى الصِّدِيِق الأول رضي الله عنه وقتل في عهده سبعون من القراء في حرب المرتدين في وقعة اليمامة، وَخُشِيَ ذهاب القرآن بذهاب حملته فهبَّ رضي الله عنه ومعهم جموع الصحابة الكرام رضوان الله عليهم أجمعين للقيام بأعظم عمل من الأعمال التي عرفها تاريخنا المجيد، فجمع القرآن بين دفتي مصحف واحد.
وهذا البحث هو نقل مشهد حِسِّي واقعي لهذا العمل العظيم الذي قام به صِّدِيقُ الأمة الأول وعاونه عليه هؤلاء الأعلام الكبار من السابقين الأولين للإسلام من طليعة هذه الأمة رضوان الله عليهم أجمعين.
خطة البحثوقد ضمَّن الباحثُ بحثَه خطة بحث مكونة من أربعة فصول، وكل فصل مكون من عدة مباحث، وقد بيَّن فيه ما يلي:
أولًا: أهمية موضوع البحث
ثانيًا: أهم الدراسات السابقة وأبرزها
ثالثًا: أسباب ودواعي اختيار موضوع البحث
رابعًا: مشكلة البحث وأهدافه
خامسًا: منهجية البحث
سادسًا: خاتمة البحث، وبيان أهم النتائج التي توصلت لها تلك الدراسة المختصرة.
سابعًا: مجموع الفهارس:
وخطة البحث تشتمل على أربعة فصول على النحو التالي:
الفصل الأول
بواعث جمع أبي بكر وأسبابه ودواعيه
وفيه ثلاثة مباحث:
المبحث الأول: بداية فكرة الجمع في عهد أبي بكر الصديق-رضي الله عنه
المبحث الثاني: موقف الصحابة من جمع أبي بكر للقرآن
المبحث الثالث: أهم بواعث جمع أبي بكر-رضي الله عنه
الفصل الثاني
خصائصه ومزاياه
وفيه أربعة مباحث:
المبحث الأول: أبرز مزايا هذا الجمع
المبحث الثاني: بيان أن ترتيب الآيات في السور توقيفي
المبحث الثالث: عرض الأقوال الواردة في ترتيب السور مع الترجيح بينها
المبحث الرابع: بداية مخالفة ومعارضة الترتيب المصحفي بالترتيب النزولي وبيان مصدره
الفصل الثالث
بيان شروط جمع أبي بكر- رضي الله عنه والصفة التي تم بها
وفيه سبعة مباحث:
তাঁর পবিত্র ঘরের পাশে, মহান আল্লাহ বলেন: (আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণাঙ্গ করলাম এবং তোমাদের ওপর আমার নেয়ামত সম্পন্ন করলাম এবং ইসলামকে তোমাদের দ্বীন হিসেবে মনোনীত করলাম) (আল-মায়িদাহ: ৩)।
রাব্বুল আলামীনের কালামের প্রতি এই সম্মান, শ্রদ্ধা ও মর্যাদার ওপর ভিত্তি করেই সম্মানিত নবী তাঁর সাহাবীদের (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) লালন-পালন করেছেন। ফলে তাঁরা আল্লাহর কালামকে ভালোবেসেছেন এবং তাঁদের মিহরাবগুলোতে তা নিয়ে দাঁড়িয়েছেন, দলবদ্ধভাবে এবং একাকী তা তিলাওয়াত করেছেন। তাঁরা এর মাধ্যমে নিজেদের সময়কে আবাদ করেছেন, এর হিদায়াতকে আঁকড়ে ধরেছেন, এর হালালকে হালাল এবং হারামকে হারাম হিসেবে গ্রহণ করেছেন। তাঁরা একে তাঁদের অন্তর, শ্রবণ ও দৃষ্টির পূর্ণতায় স্থান দিয়েছেন। তাঁরা এর মাধ্যমে ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য ও আত্মিক ব্যাধি থেকে আরোগ্য লাভ করেছেন এবং জীবনের সকল ক্ষেত্রে একেই বিচারক হিসেবে গ্রহণ করেছেন।
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন রফীকুল আলা-র দিকে চলে গেলেন, তখন কুরআন এক স্থানে সংকলিত ছিল না। যখন খিলাফত প্রথম সিদ্দীক (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর কাছে হস্তান্তরিত হলো এবং তাঁর যুগে ইয়ামামার যুদ্ধে মুরতাদদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সত্তরজন কারী (قراء) শহীদ হলেন, তখন কুরআন বহনকারীদের প্রস্থানের সাথে সাথে কুরআন হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিল। তখন তিনি (রাদিয়াল্লাহু আনহু) এবং তাঁর সাথে সম্মানিত সাহাবীগণের জামাত আমাদের গৌরবময় ইতিহাসের শ্রেষ্ঠতম কাজ আঞ্জাম দেওয়ার জন্য এগিয়ে এলেন এবং কুরআনকে এক মুসহাফের (مصحف) দুই মলাটের মাঝে সংকলিত করলেন।
এই গবেষণাটি উম্মাহর প্রথম সিদ্দীক কর্তৃক সম্পাদিত সেই মহান কর্মের একটি বাস্তব ও ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য চিত্র উপস্থাপন করে, যেখানে ইসলামের অগ্রবর্তী মহান ব্যক্তিত্বগণ এবং এই উম্মাহর অগ্রসেনানীগণ তাঁকে সহযোগিতা করেছিলেন (রাদিয়াল্লাহু আনহুম আজমাঈন)।
গবেষণা পরিকল্পনাগবেষক তাঁর গবেষণায় চারটি অধ্যায় (فصول) সম্বলিত একটি গবেষণা পরিকল্পনা অন্তর্ভুক্ত করেছেন এবং প্রতিটি অধ্যায় একাধিক পরিচ্ছেদ (مباحث) নিয়ে গঠিত। এতে তিনি নিম্নোক্ত বিষয়গুলো স্পষ্ট করেছেন:
প্রথমত: গবেষণার বিষয়ের গুরুত্ব
দ্বিতীয়ত: পূর্ববর্তী গুরুত্বপূর্ণ ও উল্লেখযোগ্য অধ্যয়নসমূহ
তৃতীয়ত: গবেষণার বিষয় নির্বাচনের কারণ ও প্রয়োজনীয়তা
চতুর্থত: গবেষণার সমস্যা ও উদ্দেশ্যসমূহ
পঞ্চমত: গবেষণা পদ্ধতি
ষষ্ঠত: গবেষণার উপসংহার এবং এই সংক্ষিপ্ত অধ্যয়ন থেকে প্রাপ্ত গুরুত্বপূর্ণ ফলাফলসমূহের বর্ণনা।
সপ্তমত: নির্ঘণ্টের সমষ্টি:
গবেষণা পরিকল্পনাটি নিম্নোক্ত পদ্ধতিতে চারটি অধ্যায় (فصول) নিয়ে গঠিত:
প্রথম অধ্যায়
আবু বকর (রা.)-এর সংকলনের প্রেক্ষাপট, কারণ ও আবশ্যকতা
এতে তিনটি পরিচ্ছেদ (مباحث) রয়েছে:
প্রথম পরিচ্ছেদ (المبحث الأول): আবু বকর সিদ্দীক (রা.)-এর যুগে সংকলন ভাবনার সূচনা
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ (المبحث الثاني): আবু বকর (রা.)-এর কুরআন সংকলনের ব্যাপারে সাহাবীগণের অবস্থান
তৃতীয় পরিচ্ছেদ (المبحث الثالث): আবু বকর (রা.)-এর সংকলনের প্রধান প্রেক্ষাপটসমূহ
দ্বিতীয় অধ্যায়
এর বৈশিষ্ট্য ও সুবিধাসমূহ
এতে চারটি পরিচ্ছেদ (مباحث) রয়েছে:
প্রথম পরিচ্ছেদ (المبحث الأول): এই সংকলনের উল্লেখযোগ্য সুবিধাসমূহ
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ (المبحث الثاني): সূরাসমূহের আয়াতের বিন্যাস শরীয়ত নির্ধারিত (توقيفي) হওয়ার বর্ণনা
তৃতীয় পরিচ্ছেদ (المبحث الثالث): সূরাসমূহের বিন্যাসের ব্যাপারে বর্ণিত মতভেদসমূহ এবং এর মধ্যে অগ্রাধিকারযোগ্য মতের উপস্থাপন
চতুর্থ পরিচ্ছেদ (المبحث الرابع): নাযিল হওয়ার ক্রম অনুযায়ী মুসহাফের (مصحف) বিন্যাসের বিরোধিতা ও পার্থক্যের সূচনা এবং এর উৎসের বর্ণনা
তৃতীয় অধ্যায়
আবু বকর (রা.)-এর সংকলনের শর্তাবলি এবং যে পদ্ধতিতে তা সম্পন্ন হয়েছে তার বর্ণনা
এতে সাতটি পরিচ্ছেদ (مباحث) রয়েছে:
(খণ্ড: ৬৭)
দালাইলুত তাওফীক লিআসাহি তারীক লিজামইস সিদ্দিক
(পৃষ্ঠা: ১০০)
المبحث الأول: التعريف بـ " زيد بن ثابت " المكلف بالجمع
المبحث الثاني: أبرز المقومات الداعية لاختيار " زيد "
المبحث الثالث: أسباب اختيار " زيد " لهذه المهمة إجمالًا
المبحث الرابع: الدواعي لهذا الجمع
المبحث الخامس: مميزات جمع أبي بكر- رضي الله عنه
المبحث السادس: منهج أبي بكر الذي وضعه لـ " زيد " في جمع وتدوين القرآن الكريم
المبحث السابع: مصير صحف أبي بكر- رضي الله عنه
الفصل الرابع
تاريخ وزمن هذا الجمع وأبرز نتائجه
وفيه مبحثان
المبحث الأول: أبرز نتائج جمع أبي بكر- رضي الله عنه
المبحث الثاني: أوّل من سمى القرآن بالمصحف
منهجية البحث
أولًا: أهمية موضوع البحثإذا كان شرف العلم من شرف المعلوم، فإن موضوع البحث متعلق بأشرف وأعظم وأجل كتاب "القرآن الكريم" هذا على العموم، وعلى الخصوص فإنه متعلق بقضية جمع القرآن في عهد أبي بكر الصديق رضي الله عنه، تلك القضية التي أقلقت مضاجع صفوة الرعيل الأول من جيل الصحابة وهم حماة الدين وورثة علم النبوة وهم خيرة هذه الأمة، فقاموا بحق كتاب ربهم حق قيام ونهضوا لجمعه كما كان في عهده الأول سليمًا من الزيادة والنقصان، سليمًا من التغير والتبديل، وكان جمعهم للقرآن موافقًا للجمع الأول تمامًا، ولكنهم جمعوه في مكان واحد بعد أن كان مفرقًا بين العُسُبِ واللِّخَافِ وغيرها، كما جمعوه من المحفوظ في صُدُورِ الرِّجَالِ كذلك.
والقرآن الكريم قد تكفَّل الله تعالى في بحفظه في كل أطواره تنزله، والشواهد على ذلك من كتاب الله كثيرة منها على سبيل المثال لا الحصر ما يلي:
1 - قال سبحانه في عموم حفظه: (إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لَحَافِظُونَ) (الحجر: 9) أي من أن يُزاد فيه أو يُنقص، وهذا قول عموم أئمة التفسير، ولا يُعلم له مخالف.
2 - ومن ذلك أيضًا قوله سبحانه: (لَا يَأْتِيهِ الْبَاطِلُ مِنْ بَيْنِ يَدَيْهِ وَلَا مِنْ خَلْفِهِ) (فصلت: 42) والباطل: إبليس، لا يستطيع أن ينقص منه حقًا، ولا يزيد فيه باطلًا.
(1).
3 - ومن ذلك أيضًا قوله سبحانه: (وَاتْلُ مَا أُوحِيَ إِلَيْكَ مِنْ كِتَابِ رَبِّكَ لَا مُبَدِّلَ لِكَلِمَاتِهِ وَلَنْ تَجِدَ مِنْ دُونِهِ مُلْتَحَدًا) (الكهف: 27) وقوله: (لا مُبَدِّلَ لِكَلِمَاتِهِ) أي: لا مغير لها، ولا محرِّف، ولا مؤوّل.
(2)، والشواهد العامة على ذلك في كتاب الله تعالى أكثر من أن تُحصى.
والقرآن قد حفظه الله تعالى في كل أطواره تنزله، فأثبته الله تعالى وحفظه في اللوح المحفوظ في السماء قبل نزوله، وحفظه في طريق نزوله إلى الأرض، وحفظه بعد نزوله كذلك إلى الأرض على رسوله صلى الله عليه وسلم، وسيبقى كذلك إلى أن يُرْفَعَ في آخر
--------------------------------------------
প্রথম পরিচ্ছেদ: সংকলনের দায়িত্বে নিয়োজিত "যায়েদ ইবনে সাবিত"-এর পরিচয়
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: "যায়েদ"-কে নির্বাচনের পেছনে প্রধান যোগ্যতাসমূহ
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: সংক্ষেপে এই কাজের জন্য "যায়েদ"-কে নির্বাচনের কারণসমূহ
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: এই সংকলনের প্রয়োজনীয়তা
পঞ্চম পরিচ্ছেদ: আবু বকর (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর সংকলনের বৈশিষ্ট্যসমূহ
ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: পবিত্র কুরআন সংকলন ও লিপিবদ্ধকরণে আবু বকর যায়েদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর জন্য যে পদ্ধতি নির্ধারণ করেছিলেন
সপ্তম পরিচ্ছেদ: আবু বকর (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর পাণ্ডুলিপিগুলোর সর্বশেষ অবস্থা
চতুর্থ অধ্যায়
এই সংকলনের ইতিহাস, সময়কাল এবং এর প্রধান ফলাফলসমূহ
এতে দুটি পরিচ্ছেদ রয়েছে
প্রথম পরিচ্ছেদ: আবু বকর (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর সংকলনের প্রধান ফলাফলসমূহ
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: কুরআনকে সর্বপ্রথম 'মুসহাফ' নামে কে নামকরণ করেছিলেন?
গবেষণার পদ্ধতি
প্রথমত: গবেষণার বিষয়ের গুরুত্বযদি ইলমের মর্যাদা তার বিষয়ের মর্যাদার ওপর নির্ভর করে, তবে অত্র গবেষণার বিষয়টি সাধারণভাবে সর্বাপেক্ষা সম্মানিত, মহান ও উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন কিতাব "পবিত্র কুরআন"-এর সাথে সংশ্লিষ্ট। আর বিশেষভাবে এটি আবু বকর সিদ্দিক (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর যুগে কুরআন সংকলনের বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট। এটি এমন এক বিষয় যা প্রথম প্রজন্মের শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি তথা সাহাবীগণের অন্তরে ভাবনার উদ্রেক করেছিল, যাঁরা ছিলেন দ্বীনের রক্ষক, নবুওয়াতের ইলমের উত্তরাধিকারী এবং এই উম্মতের শ্রেষ্ঠ সন্তান। তাঁরা তাঁদের রবের কিতাবের হক যথাযথভাবে আদায় করেছিলেন এবং তা সংকলনের জন্য সচেষ্ট হয়েছিলেন, যাতে এটি প্রথম যুগের মতোই যেকোনো ধরণের বৃদ্ধি-হ্রাস কিংবা পরিবর্তন-পরিমার্জন থেকে মুক্ত থাকে। তাঁদের এই সংকলনটি সম্পূর্ণভাবে প্রথম সংকলনের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল; তবে তাঁরা একে এক স্থানে একত্রিত করেছিলেন, অথচ ইতিপূর্বে এটি খেজুরের ডাল, পাতলা পাথর এবং অন্যান্য জিনিসের ওপর বিক্ষিপ্ত অবস্থায় ছিল। একইভাবে তাঁরা মানুষের অন্তরে সংরক্ষিত স্মৃতি থেকেও তা সংগ্রহ করেছিলেন।
আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনের অবতরণের প্রতিটি পর্যায়ে তা সংরক্ষণের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। আল্লাহর কিতাবে এর সপক্ষে অনেক প্রমাণ রয়েছে, উদাহরণস্বরূপ (কিন্তু সীমাবদ্ধ নয়) নিম্নোক্ত বিষয়গুলো উল্লেখ করা যায়:
১ - এর সাধারণ সংরক্ষণের ব্যাপারে মহান আল্লাহ বলেন: "নিশ্চয় আমিই যিকির অবতীর্ণ করেছি এবং আমিই এর সংরক্ষণকারী।" (হিজর: ৯)। অর্থাৎ একে বৃদ্ধি করা বা হ্রাস করা থেকে রক্ষা করবেন। মুফাসসির ইমামগণের এটিই সর্বসম্মত অভিমত এবং এর কোনো ভিন্নমত জানা নেই।
২ - এর মধ্যে মহান আল্লাহর এই বাণীও অন্তর্ভুক্ত: "এর সম্মুখ হতে কিংবা এর পশ্চাৎ হতে বাতিল এতে প্রবেশ করতে পারে না।" (ফুসসিলাত: ৪২)। আর 'বাতিল' হলো ইবলিস; সে এতে কোনো সত্য কমাতে পারবে না এবং কোনো মিথ্যা বৃদ্ধি করতে পারবে না।
(১)।
৩ - এর মধ্যে মহান আল্লাহর এই বাণীও রয়েছে: "তোমার প্রতি তোমার রবের কিতাব হতে যা ওহী করা হয়েছে তা তিলাওয়াত করো, তাঁর বাণীসমূহ পরিবর্তন করার কেউ নেই এবং তুমি তাঁকে ছাড়া আর কোনো আশ্রয় পাবে না।" (কাহফ: ২৭)। আর তাঁর বাণী "পরিবর্তন করার কেউ নেই" এর অর্থ হলো: একে পরিবর্তনকারী কেউ নেই, বিকৃতকারী নেই এবং এর ভুল ব্যাখ্যাকারীও নেই।
(২)। আল্লাহর কিতাবে এর সপক্ষে সাধারণ প্রমাণসমূহ গণনা করার মতো অনেক।
আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনের অবতরণের প্রতিটি পর্যায়ে তা সংরক্ষণ করেছেন। আসমান থেকে অবতীর্ণ হওয়ার পূর্বে লওহে মাহফুজে তিনি তা সুপ্রতিষ্ঠিত ও সংরক্ষিত রেখেছেন, পৃথিবীতে অবতীর্ণ হওয়ার পথেও তা সংরক্ষণ করেছেন এবং তাঁর রাসূল (সা.)-এর ওপর পৃথিবীতে অবতীর্ণ হওয়ার পরেও তা সংরক্ষণ করেছেন। এটি এভাবেই থাকবে যতক্ষণ না কিয়ামতের শেষ সময়ে তা উঠিয়ে নেওয়া হবে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ৬৭)
দালাইলুত তাওফীক লিআসাহি তারীক লিজামইস সিদ্দিক
(পৃষ্ঠা: ১০১)
الزمان.
أولًا: حفظ القرآن الكريم في السماء:والقرآن الكريم قبل نزوله محفوظ في اللوح المحفوظ في السماء كما قال ربنا: {بَلْ هُوَ قُرْآنٌ مَجِيدٌ. فِي لَوْحٍ مَحْفُوظٍ} (البروج: 21، 22). فهو في اللوح المحفوظ، مصون مستور عن الأعين، لا يطلع عليه إلاّ الملائكة المقربون، ولا يمسه في السماء إلاّ الملائكة الأطهار، ولا يصل إليه شيطان، ولا يُنال منه.
(1)وقد جعله الله تعالى كتابًا معظمًا في كتاب معظم محفوظ موقر
(2)، وقد أقسم الله تعالى على ذلك في كتابه فقال سبحانه: {فَلا أُقْسِمُ بِمَوَاقِعِ النُّجُومِ. وَإِنَّهُ لَقَسَمٌ لَوْ تَعْلَمُونَ عَظِيمٌ. إِنَّهُ لَقُرْآنٌ كَرِيمٌ. فِي كِتَابٍ مَكْنُونٍ. لا يَمَسُّهُ إِلاَّ الْمُطَهَّرُونَ. تَنْزِيلٌ مِنْ رَبِّ الْعَالَمِينَ} (الواقعة: 75، 80).
ثانيًا: حفظ القرآن الكريم في طريق نزوله إلى الأرضفالذي نزل به ملك منزه مطهر أمين على وحي الله كما قال تعالى: (وَإِنَّهُ لَتَنْزِيلُ رَبِّ الْعَالَمِينَ نَزَلَ بِهِ الرُّوحُ الْأَمِينُ عَلَى قَلْبِكَ لِتَكُونَ مِنَ الْمُنْذِرِينَ بِلِسَانٍ عَرَبِيٍّ مُبِينٍ) (الشعراء: 193 - 195).
فلا يستطيع شيطان الاقتراب من السماء لاستراق السمع طمعًا في الاطلاع على أخبار السماء وقت نزوله كما قال ربنا: {وَحِفْظًا مِنْ كُلِّ شَيْطَانٍ مَارِدٍ لا يَسَّمَّعُونَ إِلَى الْمَلَأِ الْأَعْلَى وَيُقْذَفُونَ مِنْ كُلِّ جَانِبٍ. دُحُورًا وَلَهُمْ عَذَابٌ وَاصِبٌ. إِلاَّ مَنْ خَطِفَ الْخَطْفَةَ فَأَتْبَعَهُ شِهَابٌ ثَاقِبٌ} (الصافات: 7 - 10)، والشياطين لمَّا حاولوا ذلك ما استطاعوا لأن السماء قد حفظت بحراسة مشددة من الملائكة وبالشهب الحارقة، وقد وصف الله تعالى محاولة فئة من الجنِّ ذلك في سورة "الجنِّ" في قوله سبحانه: {وَأَنَّا لَمَسْنَا السَّمَاءَ فَوَجَدْنَاهَا مُلِئَتْ حَرَساً شَدِيدًا وَشُهُبًا. وَأَنَّا كُنَّا نَقْعُدُ مِنْهَا مَقَاعِدَ لِلسَّمْعِ فَمَنْ يَسْتَمِعِ الْآنَ يَجِدْ لَهُ شِهَابًا رَصَدَا. وَأَنَّا لا نَدْرِي أَشَرٌّ أُرِيدَ بِمَنْ فِي الْأَرْضِ أَمْ أَرَادَ بِهِمْ رَبُّهُمْ رَشَدَا} (الجن: 8 - 10)
ثالثًا: حفظ القرآن الكريم بعد نزوله على الأرض على النبي صلى الله عليه وسلم.لقد حفظ الله عز وجل القرآن الكريم كذلك بعد أن أنزله على رسوله صلى الله عليه وسلم والذي قام بحقه خير قيام في حفظه وبلاغه عن ربه، وكان صلى الله عليه وسلم من شدة حرصه على حفظه وتلقيه يحرص على التعجل بتلقيه من فِي جبريل عليه السلام، فقال له ربه: (وَلَا تَعْجَلْ بِالْقُرْآنِ مِنْ قَبْلِ أَنْ يُقْضَى إِلَيْكَ وَحْيُهُ وَقُلْ رَبِّ زِدْنِي عِلْمًا) (طه: 114)، ثم وعده الله تعالى بحفظه له في صدره، فطمأنه ربه بتحقيق وعده فقال له سبحانه: {لا تُحَرِّكْ بِهِ لِسَانَكَ لِتَعْجَلَ بِهِ. إِنَّ عَلَيْنَا جَمْعَهُ وَقُرْآنَهُ. فَإِذَا قَرَأْنَاهُ فَاتَّبِعْ قُرْآنَهُ. ثُمَّ إِنَّ عَلَيْنَا بَيَانَهُ} (القيامة: 16 - 19).
فكان صلى الله عليه وسلم يحرك به لسانه ويتعجل ويبادر بأخذه من فِي جبريل محرِّكًا به شفتيه حين قراءة الملك للقرآن يَخْشى أن يَتَفَلَّتَ منه، فوعده الله أن يجمعه له في
--------------------------------------------
কাল।
প্রথমত: আসমানে মহাগ্রন্থ আল-কুরআনের সংরক্ষণ:মহাগ্রন্থ আল-কুরআন অবতীর্ণ হওয়ার পূর্বে আসমানে সংরক্ষিত ফলক (اللوح المحفوظ)-এ সংরক্ষিত ছিল, যেমনটি আমাদের প্রতিপালক ইরশাদ করেছেন: {বরং এটি এক সুমহান কুরআন। যা সংরক্ষিত ফলক (اللوح المحفوظ)-এ লিপিবদ্ধ।} (সূরা আল-বুরূজ: ২১, ২২)। সুতরাং এটি সংরক্ষিত ফলক (اللوح المحفوظ)-এ আছে, যা লোকচক্ষুর অন্তরালে সুরক্ষিত; সান্নিধ্যপ্রাপ্ত ফেরেশতামণ্ডলী (الملائكة المقربون) ব্যতীত অন্য কেউ তা অবগত হতে পারে না এবং আসমানে পবিত্র ফেরেশতাগণ ব্যতীত অন্য কেউ তা স্পর্শ করে না। সেখানে কোনো শয়তান পৌঁছাতে পারে না এবং এর কোনো ক্ষতিও করতে পারে না।
(১)আল্লাহ তাআলা একে একটি সম্মানিত কিতাব হিসেবে সুমহান কিতাবে সংরক্ষিত ও মর্যাদাপূর্ণ করেছেন
(২)। আল্লাহ তাআলা তাঁর কিতাবে এ বিষয়ে শপথ করে ইরশাদ করেছেন: {আমি নক্ষত্ররাজির পতনস্থলের শপথ করছি। নিশ্চয়ই এটি এক মহা শপথ, যদি তোমরা জানতে! নিশ্চয়ই এটি এক সম্মানিত কুরআন। যা আছে এক সুরক্ষিত কিতাবে। পবিত্রগণ ব্যতীত কেউ তা স্পর্শ করে না। এটি জগতসমূহের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে অবতীর্ণ।} (সূরা আল-ওয়াকিয়া: ৭৫-৮০)।
দ্বিতীয়ত: পৃথিবীতে অবতরণের পথে আল-কুরআনের সংরক্ষণযাঁর মাধ্যমে এটি অবতীর্ণ হয়েছে, তিনি হলেন আল্লাহ তাআলার ওহি (وحي)-র আমানতদার জনৈক পবিত্র ও পরিচ্ছন্ন ফেরেশতা; যেমনটি আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: (নিশ্চয়ই এটি জগতসমূহের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে অবতীর্ণ। আপনার অন্তরে এটি নিয়ে অবতরণ করেছেন বিশ্বস্ত আত্মা (الروح الأمين), যাতে আপনি সতর্ককারীদের অন্তর্ভুক্ত হতে পারেন; সুস্পষ্ট আরবি ভাষায়।) (সূরা আশ-শুআরা: ১৯৩-১৯৫)।
কুরআন অবতরণের সময় আসমানের সংবাদ চুরি করার লোভে কোনো শয়তান আসমানের নিকটেও ঘেঁষতে পারে না, যেমনটি আমাদের প্রতিপালক বলেছেন: {এবং আমি একে প্রত্যেক বিদ্রোহী শয়তান থেকে রক্ষা করেছি। ফলে তারা উচ্চ জগতের ফেরেশতাদের কথা শুনতে পায় না এবং তাদের প্রতি চারদিক থেকে উল্কাপিন্ড নিক্ষেপ করা হয়। বিতাড়নের জন্য এবং তাদের জন্য রয়েছে অবিরাম শাস্তি। তবে কেউ হঠাৎ কিছু শুনে ফেললে প্রদীপ্ত উল্কাপিন্ড তাকে ধাওয়া করে।} (সূরা আস-সাফফাত: ৭-১০)। শয়তানরা যখনই এমন চেষ্টা করেছে, তারা সফল হতে পারেনি; কারণ আসমানকে ফেরেশতাদের কঠোর পাহারায় এবং দহনকারী উল্কাপিন্ড দ্বারা সুরক্ষিত রাখা হয়েছিল। আল্লাহ তাআলা একদল জিনের এই প্রচেষ্টার বর্ণনা দিয়ে সূরা আল-জিনে ইরশাদ করেছেন: {এবং আমরা আসমান স্পর্শ করতে চেয়েছিলাম, কিন্তু আমরা তাকে কঠোর প্রহরী ও উল্কাপিন্ড দ্বারা পূর্ণ পেলাম। আর আমরা আগে সংবাদ শোনার জন্য আসমানের বিভিন্ন ঘাঁটিতে বসতাম, কিন্তু এখন কেউ শুনতে চাইলে সে তার অপেক্ষায় থাকা প্রদীপ্ত উল্কাপিন্ড দেখতে পায়। আর আমরা জানি না যে, জমিনবাসীদের জন্য কোনো অমঙ্গল করার ইচ্ছা করা হয়েছে নাকি তাদের প্রতিপালক তাদের সৎপথ প্রদর্শনের ইচ্ছা করেছেন।} (সূরা আল-জিন: ৮-১০)
তৃতীয়ত: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওপর পৃথিবীতে অবতীর্ণ হওয়ার পর আল-কুরআনের সংরক্ষণ।রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওপর অবতীর্ণ হওয়ার পরও আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা একইভাবে কুরআন সংরক্ষণ করেছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর প্রতিপালকের পক্ষ থেকে প্রাপ্ত এই ওহি সংরক্ষণ ও প্রচারের মহান দায়িত্ব সর্বোত্তমভাবে পালন করেছেন। তিনি এটি গ্রহণ ও মুখস্থ করার ব্যাপারে এতটাই সজাগ ও ব্যগ্র ছিলেন যে, জিবরাঈল আলাইহিস সালাম-এর মুখ থেকে ওহি (وحي) গ্রহণ করার সময় তাড়াহুড়ো করতেন। তখন তাঁর প্রতিপালক তাঁকে বলেন: (আপনার প্রতি আল্লাহর ওহি (وحي) সম্পন্ন হওয়ার আগে আপনি কুরআন পাঠে তাড়াহুড়ো করবেন না এবং বলুন, হে আমার প্রতিপালক! আমার জ্ঞান বৃদ্ধি করে দিন।) (সূরা তাহা: ১১৪)। অতঃপর আল্লাহ তাআলা তাঁর বক্ষে এটি গেঁথে দেওয়ার মাধ্যমে সংরক্ষণের প্রতিশ্রুতি দেন এবং তাঁর এই প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করার বিষয়ে তাঁকে আশ্বস্ত করে ইরশাদ করেন: {তাড়াহুড়ো করে ওহি (وحي) আয়ত্ত করার জন্য আপনি আপনার জিহ্বা সঞ্চালন করবেন না। এর সংরক্ষণ ও পাঠ করানোর দায়িত্ব আমাদেরই। সুতরাং যখন আমরা তা পাঠ করি, তখন আপনি সেই পাঠের অনুসরণ করুন। তারপর এর বিশদ বর্ণনার দায়িত্বও আমাদেরই।} (সূরা আল-কিয়ামাহ: ১৬-১৯)।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফেরেশতার কুরআন তিলাওয়াতের সময় মুখস্থ করার প্রবল আগ্রহে জিবরাঈল আলাইহিস সালাম-এর সাথে সাথে নিজের ঠোঁট ও জিহ্বা সঞ্চালন করতেন—যাতে তা স্মৃতিচ্যুত না হয়ে যায়। তখন আল্লাহ তাআলা তাঁকে প্রতিশ্রুতি দেন যে, তিনি এটি তাঁর অন্তরে জমা করে দেবেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ৬৭)
দালাইলুত তাওফীক লিআসাহি তারীক লিজামইস সিদ্দিক
(পৃষ্ঠা: ১০২)
صدره ويُبيَّنه له على لسانه، ثم يقرأه على الناس من غير أن ينسى منه شيئًا.
وهكذا يتبين لنا أن الله تعالى قد حفظ القرآن الكريم وهو في السماء، وحفظه وقت نزوله منها، وحفظه بعد نزوله إلى الأرض.
ولقد مر جمع القرآن بثلاث مراحل، وكان جمعه في مراحله جميعًا محفوظًا في الصدور مكتوبًا في السطور.
أما المرحلة الأولى: فكانت في عهد النبي صلى الله عليه وسلم، وقد حرص صلى الله عليه وسلم على حفظ القرآن الكريم، وقد جمعه الله له في صدره، كما اعتنى صلى الله عليه وسلم بتعليمه أصحابه ورغبهم في حفظه واستظهاره واتَّخَذَ من صفوة حفَّاظهم كتّابًا للوحي يكتبون كلّ ما ينزل عليه بين يديه، وانتقل النَّبيُ صلى الله عليه وسلم إلى الرفيق الأعلى ولم يُجمع القرآنُ كله في مكان واحد في حياته لا في صحف ولا في مصاحف، بل كُتب مفرقًا بين الرِّقَاع، وَالأَكْتَافِ، وَالْعُسُبِ ونحوها من أدوات الكتابة المستخدمة في هذا العهد المبارك، وكان حرصه صلى الله عليه وسلم على عدم جمع القرآن بين دفتي صحيفة واحدة ترقبًا لتجدد الوحي وتتابع نزول شيء جديد منه حتى وفاته، فلو أنه رتبه أولاً بأول وجمع القرآن في مكان واحد بين دفتي مصحف واحد لحصل من جراء ذلك من المشقة والعنت ما لا يخطر ببال، ولأدى هذا الترتيب إلى حدوث تغيير وتبديل في موضع السور والآيات كلما نزل عليه صلى الله عليه وسلم شيء جديد من الوحي، وفي هذا مالا يخفى من المشقة البالغة التي جاءت الشريعة الغراء برفعها ودفعها.
وأما المرحلة الثانية: فكانت في عهد أبي بكر الصديق رضي الله عنه،
ولقد ظل القرآن الكريم مفرقًا غير مجموع بين دفتي مصحف واحد، إلى أن آلت الخلافة إلى أبي بكر، وقامت حروب الردة، واستحرّ القتل بالقراء في وقعة اليمامة - سنة اثنتي عشرة للهجرة - التي قتل فيها سبعون قارئًا من حفاظ القرآن. فهالَ ذلك الأمر عمر بن الخطاب، وخشي أن يضيع شيء من القرآن بموت حفاظه وقرائه، فأشار على أبي بكر بجمع القرآن خشية ضياع شيء منه بقتل القراء والحفَّاظ، فكان هذا هو الدافع الرئيس لهذا الجمع، فقام الصديق بجمع ما كُتب مفرقًا في بين يدي رسول الله صلى الله عليه وسلم من الرِّقَاع، وَالأَكْتَافِ، وَالْعُسُبِ، واللخاف، والأضلاع، والأقتاب، والأَلواحِ في مكان واحد، فكان جَمْعُهُ رضي الله عنه هو نفس ما كتب في عهد النبوة مرتب الآيات والسور، لكنَّه جَمَعَهُ في مكان واحد بعد أن كان مفرقًا.
وأما المرحلة الثالثة: فكانت في عهد عثمان بن عفان رضي الله عنه.
ولقد اختلفت أسباب الجمع في عهده عن أسباب الجمع في عهد الصدِّيق-رضي الله عنهما؛ ولقد كان الصحابة يقرؤون القرآن على الأحرف السبعة التي أقرأهم عليها رسول الله صلى الله عليه وسلم، إلى أن وقع الاختلاف بين القراء في الفتوحات زمن عثمان رضي الله عنه، ولمّا عظم الخطب أفزع حذيفةَ اختلافُهم في القراءة، فقال حذيفة لعثمان: يا أمير المؤمنين، أدرك هذه الأمة قبل أن يختلفوا في
তাঁর বক্ষে তা জমা করবেন এবং তাঁর জিহ্বার মাধ্যমে তা সুস্পষ্ট করবেন, অতঃপর তিনি তা মানুষের নিকট পাঠ করবেন যেন তার কোনো কিছু তিনি ভুলে না যান।
এভাবেই আমাদের নিকট স্পষ্ট হয় যে, মহান আল্লাহ কুরআনুল কারীমকে আসমানে থাকা অবস্থায় সংরক্ষণ করেছেন, আসমান থেকে অবতীর্ণ হওয়ার সময় সংরক্ষণ করেছেন এবং জমিনে অবতীর্ণ হওয়ার পরও তা সংরক্ষণ করেছেন।
নিশ্চয়ই কুরআন সংকলন তিনটি পর্যায়ের মধ্য দিয়ে অতিক্রান্ত হয়েছে এবং এর সংকলনের প্রতিটি পর্যায়েই তা মানুষের অন্তরে সংরক্ষিত এবং পৃষ্ঠায় লিখিত ছিল।
প্রথম পর্যায়: এটি ছিল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে। তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরআনুল কারীম সংরক্ষণে অত্যন্ত আগ্রহী ছিলেন এবং আল্লাহ তাআলা তা তাঁর বক্ষে জমা করে দিয়েছিলেন। তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবীদের তা শেখানোর ব্যাপারেও যত্নশীল ছিলেন এবং তাঁদেরকে তা মুখস্থ ও আত্মস্থ করার প্রতি উৎসাহিত করতেন। তিনি তাঁদের মধ্য থেকে বাছাইকৃত হাফেজদের (الحفاظ) মধ্য হতে ওহী লেখক হিসেবে নিয়োগ করেছিলেন, যাঁরা তাঁর সামনে অবতীর্ণ হওয়া সবকিছু লিখে রাখতেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মহান রফিকের নিকট চলে যান অথচ তাঁর জীবদ্দশায় পুরো কুরআন এক স্থানে সুবিন্যস্ত অবস্থায় কোনো পত্রে বা মাসহাফে সংকলিত ছিল না। বরং তা চামড়া, উটের কাঁধের হাড়, খেজুরের ডাল এবং এই বরকতময় যুগে ব্যবহৃত অন্যান্য লেখার উপকরণে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে লিখিত অবস্থায় ছিল। কুরআনকে এক মলাটের ভেতরে সংকলন না করার ব্যাপারে তাঁর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আগ্রহের কারণ ছিল ওহী নবায়ন হওয়া এবং তাঁর মৃত্যু পর্যন্ত কুরআনের নতুন নতুন অংশ অবতীর্ণ হওয়ার ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকার অপেক্ষা করা। কেননা তিনি যদি শুরুতেই ধারাবাহিকভাবে তা সাজাতেন এবং কুরআনকে এক স্থানে এক মলাটের ভেতর সংকলন করতেন, তবে তার ফলে এমন কষ্ট ও বিড়ম্বনার সৃষ্টি হতো যা কল্পনাও করা যায় না। আর এই বিন্যাসের ফলে প্রতিবার নতুন ওহী নাজিলের সময় সূরা ও আয়াতের অবস্থানে পরিবর্তন ও রদবদল ঘটতো। এতে অত্যন্ত কষ্টসাধ্য বিষয়ের অবতারণা হতো, যা দূর করার জন্যই এই মহিমান্বিত শরীয়ত এসেছে।
দ্বিতীয় পর্যায়: এটি ছিল আবু বকর সিদ্দিক রাদিয়াল্লাহু আনহুর যুগে,
কুরআনুল কারীম এক মলাটের ভেতরে সংকলিত না হয়ে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় ছিল যতক্ষণ না আবু বকরের নিকট খেলাফতের দায়িত্ব অর্পিত হলো। তখন ধর্মত্যাগের যুদ্ধসমূহ শুরু হয় এবং হিজরি ১২ সনে ইয়ামামার যুদ্ধে কুরআন পাঠকারী কারিদের (القراء) ব্যাপক শাহাদাত ঘটে, যেখানে কুরআনের হাফেজদের (الحفاظ) মধ্য থেকে সত্তরজন কারি (القراء) শহীদ হন। এই বিষয়টি উমর ইবনুল খাত্তাবকে বিচলিত করে তোলে এবং তিনি আশঙ্কা করেন যে, কুরআনের হাফেজ (الحفاظ) ও কারিদের (القراء) মৃত্যুর কারণে কুরআনের কোনো অংশ হারিয়ে যেতে পারে। তাই তিনি আবু বকরের নিকট কুরআন সংকলনের পরামর্শ দেন যাতে কারি (القراء) ও হাফেজদের (الحفاظ) শাহাদাতের ফলে কুরআনের কোনো অংশ হারিয়ে না যায়। এটাই ছিল এই সংকলনের মূল চালিকাশক্তি। অতঃপর সিদ্দিক রাদিয়াল্লাহু আনহু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সামনে চামড়া, হাড়, খেজুরের ডাল, পাতলা পাথর, পাজরের হাড়, পালান এবং তক্তা ইত্যাদি যেসব উপকরণের ওপর কুরআন বিচ্ছিন্নভাবে লেখা হয়েছিল, তা এক স্থানে একত্র করার কাজ সম্পন্ন করেন। তাঁর এই সংকলন ছিল হুবহু তা-ই যা নবুয়তের যুগে আয়াত ও সূরার বিন্যাস অনুযায়ী লিখিত হয়েছিল, তবে তিনি তা বিচ্ছিন্ন অবস্থা থেকে এক স্থানে জমা করেন।
তৃতীয় পর্যায়: এটি ছিল উসমান ইবনে আফফান রাদিয়াল্লাহু আনহুর যুগে।
তাঁর যুগে সংকলনের কারণগুলো সিদ্দিক রাদিয়াল্লাহু আনহুমা-এর যুগের কারণগুলো থেকে ভিন্ন ছিল। সাহাবীগণ কুরআনকে সাত হরফ (الأحرف السبعة) অনুযায়ী পাঠ করতেন যেগুলোর ওপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁদের পাঠ করাতেন। এভাবে চলতে থাকে যতক্ষণ না উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহুর যুগে বিজয়াভিযানসমূহের সময় কারিদের (القراء) মধ্যে কিরাআত বা পাঠরীতি নিয়ে মতপার্থক্য দেখা দেয়। বিষয়টি যখন গুরুতর আকার ধারণ করল, তখন কিরাআতের এই মতপার্থক্য হুজাইফাকে আতঙ্কিত করে তুলল। তখন হুজাইফা উসমানকে বললেন: হে আমিরুল মুমিনিন, এই উম্মতকে রক্ষা করুন তারা ভিন্নমত পোষণ করার আগেই...
(খণ্ড: ৬৭)
দালাইলুত তাওফীক লিআসাহি তারীক লিজামইস সিদ্দিক
(পৃষ্ঠা: ১০৩)
الكتاب اختلاف اليهود والنصارى، فتدارك عثمانُ الأمرَ قبل تفاقمه.
ويكتفي الباحث - هنا- ببيان هذه المرحلة بإيجاز بما رواه البخاري عن أنس بن مالك رضي الله عنه: أن حذيفة بن اليمان قدم على عثمان وكان يغازي أهل الشام في فتح أرمينية وأذربيجان مع أهل العراق، فأفزع حذيفةَ اختلافُهم في القراءة، فقال حذيفة لعثمان: يا أمير المؤمنين، أدرك هذه الأمة قبل أن يختلفوا في الكتاب اختلاف اليهود والنصارى، فأرسل عثمان إلى حفصة: أن أرسلي إلينا بالصحف ننسخها في المصاحف، ثم نردها إليك، فأرسلت بها حفصة إلى عثمان، فأمر زيد بن ثابت، وعبدالله بن الزبير، وسعيد بن العاص، وعبدالرحمن بن الحارث بن هشام فنسخوها في المصاحف، وقال عثمان للرهط القرشيين الثلاثة: إذا اختلفتم أنتم وزيد بن ثابت في شيء من القُرْآن، فاكتبوه بلسان قريش؛ فإنما نزل بلسانهم (يعني ابتداءً)، ففعلوا، حتى إذا نسخوا الصحف في المصاحف، رد عثمانُ الصحفَ إلى حفصة، وأرسل إلى كل أُفُق بمصحف مما نسخوا، وأمر بما سواه من القُرْآن في كل صحيفة أو مصحف أن يحرق.
(1)
ثانيًا: أهم الدراسات السابقة وأبرزهالم يقف الباحث في حدود بحثه الضيق على بحث متأصل تناول جمع الصديق رضي الله عنه ببحث علمي مستقل، ولكن جاء تناوله ضمن جمع القرآن في مراحله الثلاث في عدد من البحوث العلمية، ومن أبرزها ما يلي:
الدراسة الأولى: جمع القران في مراحله التاريخية من العصر النبوي إلى العصر الحديث، تأليف: محمد شرعي أبو زيد، رسالة ماجستير، كلية الشريعة، جامعة الكويت، سنة النشر: 1419 هـ.
وصف البحث:
هذا البحث يُبرِز عناية المسلمين بحفظ القرآن من عهد النبوة إلى الآن، ويُؤكِّد أن نقل القرآن حظِيَ بأقصى درجات العناية من المسلمين، ويرُدُّ على شبهات الطاعِنِين من أعداء الإسلام على نقل القرآن الكريم، ولجودة البحث وحسن صياغته وجودة عرضه وسبك أسلوبه وقوة حجته قد أفاد منه الكثير من الباحثين ونهلوا منه.
الدراسة الثانية: جمع القرآن (دراسة تحليلية لمروياته)، أصل الكتاب رسالة علمية، بكلية العلوم الإسلامية - جامعة بغداد، أشرف عليها الدكتور عمر محمود حسين السامرائي، ومؤلفها الباحث: أكرم عبد خليفة حمد الدليمي الناشر: دار الكتب العلمية - بيروت الطبعة: الأولى، 1427 هـ - 2006 م، عدد الأجزاء: 1.
وصف الكتاب:
وهو عبارة عن أطروحة علمية، قدمها الباحث لكلية العلوم الإسلامية، ولم يحدد المرحلة التي نال شهادتها بهذا البحث. وقد قسم الباحث هذا البحث إلى
--------------------------------------------
কিতাবের বিষয়ে ইহুদি ও নাসারাদের মতপার্থক্যের ন্যায় [মতভেদ সৃষ্টি হওয়ার উপক্রম হয়েছিল], তাই পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ ধারণ করার আগেই উসমান (রা.) বিষয়টি সমাধান করেন।
গবেষক এখানে সংক্ষেপে এই পর্যায়টি বর্ণনা করার ক্ষেত্রে বুখারি যা আনাস বিন মালিক (রা.) থেকে বর্ণনা (رواه) করেছেন তার ওপরই সীমাবদ্ধ থাকছেন: হুজাইফা বিন ইয়ামান (রা.) উসমান (রা.)-এর নিকট আসলেন। তিনি তখন ইরাকবাসীদের সাথে নিয়ে আর্মেনিয়া ও আজারবাইজান বিজয়ের অভিযানে সিরিয়াবাসীদের সাথে যুদ্ধরত ছিলেন। হুজাইফা (রা.) তাদের কিরাআত বা কুরআন পাঠের ভিন্নতা দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। অতঃপর হুজাইফা (রা.) উসমান (রা.)-কে বললেন: হে আমিরুল মুমিনিন, এই উম্মতকে রক্ষা করুন কিতাবের বিষয়ে ইহুদি ও নাসারাদের মতো মতপার্থক্যে লিপ্ত হওয়ার পূর্বেই। উসমান (রা.) হাফসা (রা.)-এর নিকট সংবাদ পাঠালেন যে, আমাদের নিকট মূল পাণ্ডুলিপিগুলো পাঠিয়ে দিন যাতে আমরা সেগুলো কয়েকটি মাসহাফে অনুলিপি করতে পারি, এরপর সেগুলো আমরা আপনার নিকট ফেরত দেব। হাফসা (রা.) সেগুলো উসমান (রা.)-এর নিকট পাঠালেন। তিনি জায়েদ বিন সাবিত, আব্দুল্লাহ বিন জুবাইর, সাঈদ বিন আস এবং আব্দুর রহমান বিন হারিস বিন হিশামকে আদেশ দিলেন এবং তারা সেগুলো মাসহাফসমূহে অনুলিপি করলেন। উসমান (রা.) কুরাইশ দলের ওই তিন ব্যক্তিকে বললেন: যদি আপনারা এবং জায়েদ বিন সাবিত কুরআনের কোনো বিষয়ে একমত হতে না পারেন, তবে তা কুরাইশদের ভাষায় লিখুন; কারণ কুরআন প্রাথমিকভাবে (অর্থাৎ অবতীর্ণ হওয়ার শুরুতে) তাদের ভাষায়ই নাযিল হয়েছে। তারা তাই করলেন। যখন তারা পাণ্ডুলিপিগুলো মাসহাফসমূহে অনুলিপি সম্পন্ন করলেন, উসমান (রা.) মূল পাণ্ডুলিপিগুলো হাফসা (রা.)-এর নিকট ফেরত দিলেন এবং প্রত্যেক দিগন্তে অনুলিপি করা মাসহাফগুলো থেকে একটি করে মাসহাফ পাঠিয়ে দিলেন। এছাড়া অন্য যেসব সহিফা বা মাসহাফে কুরআন লিপিবদ্ধ ছিল, তা পুড়িয়ে ফেলার নির্দেশ দিলেন।
(1)
দ্বিতীয়ত: পূর্ববর্তী গুরুত্বপূর্ণ ও উল্লেখযোগ্য গবেষণাসমূহগবেষক তার এই সীমিত গবেষণার পরিসরে আবু বকর সিদ্দিক (রা.)-এর কুরআন সংকলন নিয়ে স্বতন্ত্র কোনো মৌলিক বৈজ্ঞানিক গবেষণা খুঁজে পাননি, তবে কুরআনের তিন পর্যায়ের সংকলন প্রক্রিয়ার অধীনে বেশ কিছু বৈজ্ঞানিক গবেষণায় বিষয়টি উঠে এসেছে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো নিম্নরূপ:
প্রথম গবেষণা: জামউল কুরআন ফি মারাহিলিহিল তারিখিয়্যাহ মিনাল আসরিন নব্যবি ইলাল আসরিল হাদিস (নবুয়তকাল থেকে বর্তমান যুগ পর্যন্ত ঐতিহাসিক পর্যায়ক্রমে কুরআন সংকলন), লেখক: মুহাম্মাদ শারয়ি আবু জায়েদ, মাস্টার্স থিসিস, শরীয়াহ ফ্যাকাল্টি, কুয়েত বিশ্ববিদ্যালয়, প্রকাশের বছর: ১৪১৯ হিজরি।
গবেষণার বিবরণ:
এই গবেষণাটি নবুয়তের যুগ থেকে বর্তমান পর্যন্ত কুরআন সংরক্ষণে মুসলিমদের গুরুত্ব প্রদানের বিষয়টি ফুটিয়ে তোলে এবং নিশ্চিত করে যে, কুরআনের বর্ণনা বা স্থানান্তর (نقل) প্রক্রিয়া মুসলিমদের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ পর্যায়ের সতর্কতা লাভ করেছে। এটি কুরআন বর্ণনা বা স্থানান্তরের (نقل) বিষয়ে ইসলামের শত্রুদের তোলা সংশয়সমূহের জবাব দেয়। গবেষণার মান, চমৎকার উপস্থাপনা, সাবলীল বর্ণনাভঙ্গি এবং শক্তিশালী যুক্তির কারণে অনেক গবেষক এটি থেকে উপকৃত হয়েছেন এবং এর সাহায্য নিয়েছেন।
দ্বিতীয় গবেষণা: জামউল কুরআন: দিরাসাহ তাহলিলিয়্যাহ লি-মারউইয়্যাতিহ (কুরআন সংকলন: এর বর্ণনাগুলোর (مروياته) একটি বিশ্লেষণমূলক গবেষণা), কিতাবটির মূল উৎস হলো একটি বৈজ্ঞানিক থিসিস, যা বাগদাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক সায়েন্স ফ্যাকাল্টির অধীনে সম্পন্ন হয়েছে। এটি ডক্টর ওমর মাহমুদ হুসাইন আল-সামাররায়ীর তত্ত্বাবধানে রচিত এবং এর লেখক হলেন গবেষক: আকরাম আব্দুল খলিফা হামাদ আদ-দুলাইমি। প্রকাশক: দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ - বৈরুত। প্রথম সংস্করণ: ১৪২৭ হিজরি - ২০০৬ খ্রিস্টাব্দ। খণ্ড সংখ্যা: ১।
বইয়ের বিবরণ:
এটি একটি বৈজ্ঞানিক থিসিস, যা গবেষক ইসলামিক সায়েন্স ফ্যাকাল্টিতে পেশ করেছেন। তবে এই গবেষণার মাধ্যমে তিনি কোন স্তরের ডিগ্রি লাভ করেছেন তা নির্দিষ্ট করেননি। গবেষক এই গবেষণাকে বিভক্ত করেছেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ৬৭)
দালাইলুত তাওফীক লিআসাহি তারীক লিজামইস সিদ্দিক
(পৃষ্ঠা: ১০৪)
مقدمة وأربعة فصول وخاتمة.
وقد تناول بحثه في أربعة فصول، فتناول كتابة القرآن في عهوده الثلاثة، كل مرحلة في فصل مستقل، وقد تابع فيها كثيرًا ممن سبقه، ثم تناول فيه شبهات حول القرآن في الفصل الرابع.
والباحث في هذا البحث تراه ممسكًا من علمين بطرف، هما: علوم القرآن والحديث. لكنه أقرب إلى الحديث ودراسة الأسانيد منه إلى علوم القرآن. وقد جاءت دراسة أسانيده والحكم عليها وتخريجها مختصرة جدًا. وهذا يلحظه المتتبع لتلك المرويات.
وقد بذل الباحث وفقه الله جهد مشكورًا وطرق موضوعًا رائعًا جديرًا بالبحث حاول أعداء الدين التسلل من خلاله للنيل من كتاب الله ومحاولة التشكيك فيه، وقد وفق في عرض شبههم والجواب عنها بأجوبة قريبة يستوعبها كل من يطلع عليها.
(1)الدراسة الثالثة: جمع القرآن الكريم في عهد الخلفاء الراشدين، عبد القيوم بن عبد الغفور السندي، الناشر: مجمع الملك فهد لطباعة المصحف الشريف-المدينة النبوية، الطبعة: الأولى، سنة النشر: 1421 هـ، عدد المجلدات: 1.
وصف الكتاب:
لقد تناول الباحث الجمع في عهديه الثاني والثالث، ولم يتعرض للجمع في العهد النبوي مع أهميته ومكانته لأن بحثه جاء ضمن محاور ندوة خاصة عقدها مجمع الملك فهد لطباعة المصحف الشريف بالمدينة بعنوان: عناية المملكة العربية السعودية بالقرآن الكريم وعلومه، ولكون بحثه هو أحد محاور الندوة ..
وقد اشتمل بحثه على ثلاثة مباحث في مجلد واحد في حدود 72 صفحة، وقد تناول في المبحث الأول: جمع أبي بكر رضي الله عنه، ثم تناول في المبحث الثاني: جمع عثمان رضي الله عنه، وأما المبحث الثالث فلم يسمه، وقد تناوله في مطلبين، أما المطلب الأول فتناول فيه الفروق المميزة بين الجمعين، وأما المطلب الثاني فقد تناول فيه الأحرف السبعة ومراعاتها في الجمعين.
وكان على الباحث مراعاة جوانب هامة والانتباه لها، ومن أبرزها ما يلي:
1 - التقدمة للجمع في العهد النبوي ولو في التمهيد لأنه الأساس الذي بنيت عليه مراحل الجمع كلها، ولارتباط الجمع في عهديه التاليين به ارتباطًا وثيقًا، غير أنه أشار إليه إشارة سريعة في سطرين فحسب.
2 - الانتبهاه لما ذهب إليه أبو عمر الداني في"الأرجوزة المنبهة"إلى أن جبريل عليه السلام كان يعارض النبي صلى الله عليه وسلم كل عام بواحد من الحروف السبعة، حيث يقول:
وكان يعرض على جبريل
… في كل عام جملة التنزيل
فكان يقريه في كل عرضة
… بواحد من الحروف السبعة
حتى إذا كان بقرب الحين
… عرضه عليه مرتين
(2)وهذا التفصيل لا يصح وهو محل نظر عند أهل التحقيق وقد قال به غير
--------------------------------------------
একটি ভূমিকা, চারটি পরিচ্ছেদ এবং একটি উপসংহার।
তিনি তাঁর গবেষণাকে চারটি পরিচ্ছেদে বিন্যস্ত করেছেন। এতে তিনি তিনটি যুগে কুরআন সংকলনের বিষয়টি আলোচনা করেছেন, যেখানে প্রতিটি পর্যায়কে পৃথক পরিচ্ছেদে স্থান দিয়েছেন। এ ক্ষেত্রে তিনি তাঁর পূর্বসূরিদের অনেককেই অনুসরণ করেছেন। এরপর চতুর্থ পরিচ্ছেদে তিনি কুরআন সংক্রান্ত বিভিন্ন সংশয় নিয়ে আলোচনা করেছেন।
এই গবেষণায় গবেষককে দুটি শাস্ত্রের সমন্বয় করতে দেখা যায়, যথা: উলূমুল কুরআন এবং হাদিস। তবে তিনি উলূমুল কুরআনের তুলনায় হাদিস এবং সনদসমূহ (أسانيد) পর্যালোচনার অধিক নিকটবর্তী ছিলেন। তাঁর সনদসমূহ (أسانيد) পর্যালোচনা, সেগুলোর উপর হুকুম প্রদান এবং তাখরীজ (تخريج) অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত হয়েছে। বর্ণনাসমূহ (مرويات) পর্যবেক্ষণকারী যে কেউ এটি লক্ষ্য করবেন।
গবেষক—আল্লাহ তাঁকে তাওফিক দান করুন—একটি প্রশংসনীয় প্রচেষ্টা চালিয়েছেন এবং গবেষণার যোগ্য একটি চমৎকার বিষয় বেছে নিয়েছেন, যার মাধ্যমে দ্বীনের শত্রুরা আল্লাহর কিতাবকে হেয় করার এবং তাতে সংশয় সৃষ্টির অপচেষ্টা চালিয়েছিল। তিনি তাদের সংশয়গুলো উপস্থাপন করতে এবং সেগুলোর এমন সহজবোধ্য উত্তর দিতে সক্ষম হয়েছেন যা পাঠকমাত্রই অনুধাবন করতে পারবেন।
(১)তৃতীয় গবেষণা: খুলাফায়ে রাশেদীনের যুগে পবিত্র কুরআন সংকলন, আব্দুল কাইয়ুম বিন আব্দুল গফুর আস-সিন্ধি, প্রকাশক: কিং ফাহদ কমপ্লেক্স ফর প্রিন্টিং অফ দ্য হোলি কুরআন-মদীনা মুনাওয়ারা, সংস্করণ: প্রথম, প্রকাশের বছর: ১৪২১ হিজরি, খণ্ড সংখ্যা: ১।
বইয়ের বিবরণ:
গবেষক এখানে দ্বিতীয় ও তৃতীয় যুগের সংকলন নিয়ে আলোচনা করেছেন। অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়া সত্ত্বেও তিনি নববী যুগের সংকলন নিয়ে আলোচনা করেননি, কারণ তাঁর এই গবেষণাটি মদীনার কিং ফাহদ কমপ্লেক্স ফর প্রিন্টিং অফ দ্য হোলি কুরআন আয়োজিত একটি বিশেষ সেমিনারের বিষয়বস্তুর অন্তর্ভুক্ত ছিল, যার শিরোনাম ছিল: ‘সৌদি আরব কর্তৃক পবিত্র কুরআন ও এর উলূমের প্রতি যত্ন’। যেহেতু তাঁর গবেষণাটি ছিল সেমিনারের নির্ধারিত বিষয়বস্তুগুলোর একটি...
তাঁর এই গবেষণাটি এক খণ্ডে প্রায় ৭২ পৃষ্ঠার মধ্যে তিনটি মূল পরিচ্ছেদে বিভক্ত। প্রথম পরিচ্ছেদে তিনি আবু বকর (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর সংকলন নিয়ে আলোচনা করেছেন। দ্বিতীয় পরিচ্ছেদে উসমান (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর সংকলন নিয়ে আলোচনা করেছেন। আর তৃতীয় পরিচ্ছেদটির তিনি কোনো শিরোনাম দেননি, যা তিনি দুটি অনুচ্ছেদে বিন্যস্ত করেছেন। প্রথম অনুচ্ছেদে তিনি দুই সংকলনের মধ্যকার বৈশিষ্ট্যপূর্ণ পার্থক্যসমূহ আলোচনা করেছেন এবং দ্বিতীয় অনুচ্ছেদে সাতটি অক্ষর (الأحرف السبعة) এবং দুই সংকলনে সেগুলোর বিবেচনার বিষয়টি তুলে ধরেছেন।
গবেষকের উচিত ছিল গুরুত্বপূর্ণ কিছু দিক বিবেচনা করা এবং সেদিকে লক্ষ্য রাখা, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
১ - নববী যুগের সংকলনের উপর একটি উপক্রমণিকা প্রদান করা, অন্তত ভূমিকা হিসেবে হলেও; কারণ এটিই ছিল সংকলনের পরবর্তী সকল পর্যায়ের ভিত্তি এবং পরবর্তী দুই যুগের সংকলনের সাথে এর গভীর সম্পর্ক বিদ্যমান। তবে তিনি মাত্র দুই লাইনে এর প্রতি একটি সংক্ষিপ্ত ইঙ্গিত দিয়েছেন।
২ - আবু আমর আদ-দানি তাঁর ‘আল-উরজুযাতুল মুনাব্বিহা’ গ্রন্থে যে মত পোষণ করেছেন সেদিকে লক্ষ্য রাখা, যেখানে তিনি উল্লেখ করেছেন যে জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) প্রতি বছর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে সাতটি অক্ষরের (الأحرف السبعة) কোনো একটির মাধ্যমে কুরআন পেশ করতেন। যেখানে তিনি বলেন:
জিবরাঈলের নিকট পেশ করা হতো
… প্রতি বছর অবতীর্ণ সমস্ত ওহী
প্রত্যেকবার তিনি তাঁকে পাঠ করাতেন
… সাতটি অক্ষরের (الأحرف السبعة) কোনো একটির মাধ্যমে
এমনকি যখন অন্তিম সময় ঘনিয়ে এলো
… তখন তিনি তা তাঁর নিকট দুইবার পেশ করলেন
(২)এই বিবরণটি সহিহ (صحيح) নয় এবং এটি গবেষকদের নিকট পর্যালোচনার অবকাশ রাখে। এছাড়া অন্যরাও এটি বলেছেন
--------------------------------------------
(খণ্ড: ৬৭)
দালাইলুত তাওফীক লিআসাহি তারীক লিজামইস সিদ্দিক
(পৃষ্ঠা: ১০৫)
واحد من أهل العلم غير الداني. وإذا تأملنا في زمن الاستزادة من الأحرف السبعة تحقق لدينا أن ذلك كان في المدينة قبيل وفاة النبي صلى الله عليه وسلم بقرابة عام أو عامين اثنين، وقصة عمر وهشام بن حكيم في اختلاف قراءتيهما في سورة الفرقان خير شاهد، وذلك لأن هشامًا من مسلمة الفتح، وأن ذلك كان قُبيل انتقال النبي صلى الله عليه وسلم للرفيق الأعلى بعامين على الأكثر، وكذلك ما وقع لأبي بن كعب مع ابن مسعود في سورة النحل.
فكيف كان يعرض عليه جبريل في كل عام بحرف من الأحرف السبعة! وهي لم تنزل بعد! وهذا خلف من القول من عَلَمٍ كأبي عمرو الداني، ولكن جل من لا يسهو.
3 - الانتباه لكثرة النقول في البحث والتي غيبت وجود قلم الباحث في كثير من مواطن البحث.
وهناك بعض ملاحظات أخرى غير جوهرية، وهذه الملحوظات وغيرها لا تقل من قيمة البحث العلمية ولا من جهدالباحث الذي قد أجاد وأفاد فجزاه الله خيرًا.
الدراسة الرابعة: مواقف المستشرقين من جمع القرآن الكريم ورسمه وترتيبه عرض ونقد، د. أبو بكر كافي، الناشر: مجمع الملك فهد لطباعة المصحف الشريف-المدينة النبوية، نسخة منشورة (بي دي إف)
وصف الكتاب:
في هذا البحث الماتع يستعرض لنا الباحث -أبو بكر كافي- المواقف المشهورة عن كبار المستشرقين من مسألة جمع القرآن الكريم وتدوينه وترتيبه والمراحل التي مر بها، حيث أثار كثير من المستشرقين شبهات ومزاعم باطلة حول هذه المسألة، وفي هذا الكتاب يعرض لنا المؤلف هذه المزاعم والشبهات كما أنه يحلل لنا دوافعها وأهدافها ويتعقبها بالنقد والرد ليدحضها بشكل علمي وموضوعي مبينًا كم الأغاليط الموجودة فيها.
الدراسة الخامسة: جمع القرآن الكريم حفظا وكتابة، أ. د. علي بن سليمان العبيد، الناشر: مجمع الملك فهد لطباعة المصحف الشريف-المدينة النبوية، الطبعة: الأولى، سنة النشر: 1421 هـ، عدد المجلدات: 1.
وصف الكتاب:
لقد تناول الباحث الجمع في عهوده الثلاثة باختصار شديد في قرابة: 73 صفحة، وقد تبع من سبقه، وقد جاء بحثه متميزًا بسهولة الأسلوب ووضوح العبارة، فجزى الله الباحث خيرًا، ولكنه لم يضف إلى بحثه جديد بحث.
الدراسة السادسة: جمع القرآن الكريم في عهد الخلفاء الراشدين، أ. د. فهد بن عبد الرحمن بن سليمان الرومي، عدد الصفحات: 42، مصدر الكتاب: موقع الإسلام.
وصف البحث:
هو بحث مختصر للغاية، غير أن صاحبه له رسوخ في تقديم مادة علمية مؤصلة وإن كانت موجزة.
দানির বাইরে ইলমে দ্বীনের পণ্ডিতদের (أهل العلم) একজন। আর আমরা যদি সাত হরফ (الأحرف السبعة) বৃদ্ধির সময়কাল নিয়ে চিন্তা করি, তবে আমাদের কাছে সুনিশ্চিত হয় যে, তা ছিল মদিনায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ইন্তেকালের প্রায় এক বা দুই বছর আগে। সূরা আল-ফুরকানে উমর ও হিশাম ইবনে হাকিমের কিরাআত (قراءة)-এর ভিন্নতা নিয়ে ঘটা ঘটনাটি এর শ্রেষ্ঠ প্রমাণ; কারণ হিশাম ছিলেন মক্কা বিজয়ের পর ইসলাম গ্রহণকারীদের (مسلمة الفتح) অন্তর্ভুক্ত। আর এই ঘটনাটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মহান রফিকের সান্নিধ্যে গমনের বড়জোর দুই বছর আগের ছিল। তেমনিভাবে সূরা আন-নাহল নিয়ে উবাই ইবনে কাব ও ইবনে মাসউদের মাঝে যা ঘটেছিল তাও এর প্রমাণ।
সুতরাং জিবরাঈল প্রতি বছর তাঁর নিকট সাত হরফ (الأحرف السبعة)-এর একেকটি হরফ দ্বারা কীভাবে পেশ করতেন! অথচ সেগুলো তখনও অবতীর্ণই হয়নি! এটি আবু আমর আদ-দানির মতো একজন ব্যক্তিত্বের কাছ থেকে একটি অসংলগ্ন কথা, তবে মহামহিম আল্লাহ ব্যতীত কে ভুল-ত্রুটির ঊর্ধ্বে!
৩ - গবেষণায় উদ্ধৃতির আধিক্যের প্রতি লক্ষ্য রাখা, যা গবেষণার অনেক স্থানে গবেষকের নিজস্ব লেখনীর উপস্থিতিকে বিলীন করে দিয়েছে।
সেখানে আরও কিছু অমৌলিক পর্যবেক্ষণ রয়েছে, তবে এই পর্যবেক্ষণগুলো বা অন্য কোনো কিছু গবেষণার বৈজ্ঞানিক মান কিংবা গবেষকের প্রচেষ্টাকে বিন্দুমাত্র ক্ষুণ্ণ করে না; যিনি অত্যন্ত নিপুণভাবে কাজ করেছেন এবং উপকৃত করেছেন। আল্লাহ তাকে উত্তম প্রতিদান দিন।
চতুর্থ গবেষণা: কুরআন সংকলন, লিখন পদ্ধতি (رسم) ও বিন্যাস (ترتيب) বিষয়ে প্রাচ্যবিদদের অবস্থান: পর্যালোচনা ও সমালোচনা; ড. আবু বকর কাফি। প্রকাশক: কিং ফাহদ কমপ্লেক্স ফর প্রিন্টিং অফ দ্য হোলি কুরআন-মদিনা মুনাওয়ারা। প্রকাশিত সংস্করণ (পিডিএফ)।
বইয়ের বর্ণনা:
এই চমৎকার গবেষণায় গবেষক আবু বকর কাফি কুরআন সংকলন, লিপিবদ্ধকরণ, বিন্যাস এবং এটি যেসব পর্যায়ের মধ্য দিয়ে অতিক্রান্ত হয়েছে সে সম্পর্কে শীর্ষস্থানীয় প্রাচ্যবিদদের প্রসিদ্ধ অবস্থানগুলো আমাদের সামনে তুলে ধরেছেন। যেখানে অনেক প্রাচ্যবিদ এই বিষয়ে নানাবিধ সংশয় ও মিথ্যা দাবি উত্থাপন করেছেন। এই বইটিতে লেখক সেইসব দাবি ও সংশয়গুলো উপস্থাপন করেছেন, পাশাপাশি তিনি সেগুলোর নেপথ্য কারণ ও উদ্দেশ্য বিশ্লেষণ করেছেন এবং বৈজ্ঞানিক ও বস্তুনিষ্ঠ সমালোচনার মাধ্যমে সেগুলোকে খণ্ডন করে সেখানে বিদ্যমান ভুলভ্রান্তিগুলো ফুটিয়ে তুলেছেন।
পঞ্চম গবেষণা: মুখস্থ ও লেখনীর মাধ্যমে কুরআন সংকলন; প্রফেসর ড. আলী বিন সুলাইমান আল-উবাইদ। প্রকাশক: কিং ফাহদ কমপ্লেক্স ফর প্রিন্টিং অফ দ্য হোলি কুরআন-মদিনা মুনাওয়ারা। সংস্করণ: প্রথম। প্রকাশের সাল: ১৪২১ হিজরি। খণ্ড সংখ্যা: ১।
বইয়ের বর্ণনা:
গবেষক এখানে তিন যুগের সংকলন প্রক্রিয়া নিয়ে প্রায় ৭৩ পৃষ্ঠার মধ্যে অত্যন্ত সংক্ষেপে আলোচনা করেছেন। তিনি তার পূর্ববর্তীদেরই অনুসরণ করেছেন। তার গবেষণাটি সহজ ভঙ্গি ও স্পষ্ট অভিব্যক্তির কারণে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত হয়েছে। আল্লাহ গবেষককে উত্তম প্রতিদান দিন। তবে তিনি তার গবেষণায় নতুন কোনো তাত্ত্বিক বিষয় সংযোজন করেননি।
ষষ্ঠ গবেষণা: খুলাফায়ে রাশেদীনের যুগে কুরআন সংকলন; প্রফেসর ড. ফাহাদ বিন আব্দুর রহমান বিন সুলাইমান আর-রুমি। পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪২। বইয়ের উৎস: ইসলাম ওয়েবসাইট।
গবেষণার বর্ণনা:
এটি অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত একটি গবেষণা, তবে এর লেখক সংক্ষিপ্ত হওয়া সত্ত্বেও একটি সুপ্রতিষ্ঠিত ও মৌলিক (مؤصلة) বৈজ্ঞানিক বিষয়বস্তু উপস্থাপনে পারঙ্গমতা দেখিয়েছেন।
(খণ্ড: ৬৭)
দালাইলুত তাওফীক লিআসাহি তারীক লিজামইস সিদ্দিক
(পৃষ্ঠা: ১০৬)
ثالثًا: أسباب ودواعي اختيار موضوع البحثيُعد تقريب علوم القرآن بأسلوب علمي سهل المأخذ قريب التناول من الأسباب الرئيسة الدافعة لاختيار موضوع البحث، إضافة إلى أن جمع القرآن في عهوده الثلاثة ما يزال يحتاج إلى تقريب وتحقيق وتدقيق في بعض مسائله وتجليتها للعيان، وإلقاء الضوء على ما نقله جيلٌ عن جيلٍ بصورة صحيحة مع التنبيه على مالم تثبت صحته من آثار تتعلق بموضوع البحث، وقد اختار الباحث تناول جمع الصديق بالبحث والدراسة لأنه لم يقف في حدود بحثه على دراسة خاصة بهذا الجمع، كما رغب الباحثُ إبرازَ جانبِ العناية التامة والتحري والدقة التي لاقها جمع القرآن في عهد الصديق وأجمعت عليه الأمةُ سلفًا وخلفًا على صحته ودقته وسلامته.
رابعًا: مشكلة البحث وأهدافههناك إشكالات تتعلق بموضوع البحث من أبرزها ما يلي:
1 - لماذا لم يُجمع القرآن في عهد النبوة في مكان واحد؟
2 - هل اختلف جمع الصديق عن الجمع في عهد النبوة؟
3 - هل جمع القرآن في مكان واحد يُعد من الابتداع في الدين؟
4 - هل اشتمل جمع الصديق رضي الله عنه على الأحرف السبعة؟
5 - هل كان ترتيب الآيات في السور بتوقيف من النبي صلى الله عليه وسلم أم كان باجتهاد من الصحابة رضي الله عنهم.
وكان من أبرز أهداف البحث إبراز هذه الإشكالات الواردة وحلها بإلقاء الضوء عليها وتناولها بالبحث والدراسة والتحقيق والتدقيق.
خامسًا: منهجية البحثلقد سلك الباحث في تناول بحثه أكثر من منهج بحثي ومن أبرز ذلك ما يلي:
1 - المنهج الاستقرائي التحليلي
2 - المنهج النقدي
3 - المنهج التاريخي
ففي الفصل الأول: استقرأ الباحثُ بواعث جمع أبي بكر وأسبابه ودواعيه، وربط العلاقة التي بينه وبين الجمع الأول في العهد النبوي.
وفي الفصل الثاني: عرض الباحثُ خصائصَ هذا الجمع ومزاياه عرضًا تحليليًا باستقراء تلك المزايًا التي ميزة هذا الجمع، ثم تعرَّض لترتيب الآيات في السور، فعرض الأقوال الواردة فيها ثم قام بالترجيح بينها، ثم استقرأ بعد ذلك بداية مخالفة ومعارضة الترتيب المصحفي بالترتيب النزولي وبين مصدره وعرض ذلك كله عرضًا تحليليًا، ثم نقده ونقضه.
তৃতীয়: গবেষণা বিষয় নির্বাচনের কারণ ও যৌক্তিকতাসহজবোধ্য বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে উলূমুল কুরআন বা কুরআন সংশ্লিষ্ট জ্ঞানসমূহকে সহজগম্য করে তোলা এই গবেষণার বিষয়বস্তু নির্বাচনের অন্যতম প্রধান কারণ। অধিকন্তু, তিন যুগে কুরআনের সংকলনের বিষয়টি এখনও এর কিছু মাসআলার ক্ষেত্রে সহজীকরণ, যাচাই-বাছাই (تحقيق) ও সূক্ষ্ম পর্যালোচনার (تدقيق) দাবি রাখে। এছাড়া এক প্রজন্ম থেকে অন্য প্রজন্মে যা ধারাবাহিকভাবে বিশুদ্ধ (صحيح) পন্থায় স্থানান্তরিত হয়েছে সেগুলোর ওপর আলোকপাত করা এবং গবেষণার বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট যেসব বর্ণনার (آثار) বিশুদ্ধতা (صحيح) প্রমাণিত হয়নি সেগুলোর ব্যাপারে সতর্ক করাও এর অন্যতম উদ্দেশ্য। গবেষক সিদ্দীক (রা.)-এর কুরআন সংকলনের বিষয়টি গবেষণা ও পর্যালোচনার জন্য বেছে নিয়েছেন, কারণ তিনি তার গবেষণার সীমানায় এই নির্দিষ্ট সংকলন নিয়ে বিশেষ কোনো কাজ দেখতে পাননি। তদুপরি, সিদ্দীক (রা.)-এর যুগে কুরআন সংকলনের ক্ষেত্রে যে চূড়ান্ত সতর্কতা, অনুসন্ধান ও সূক্ষ্মতা অবলম্বন করা হয়েছিল—যার বিশুদ্ধতা (صحيح), নির্ভুলতা ও ত্রুটিমুক্ত হওয়ার ব্যাপারে পূর্ববর্তী ও পরবর্তী উম্মত একমত হয়েছে—গবেষক সেই দিকটি ফুটিয়ে তুলতে চেয়েছেন।
চতুর্থ: গবেষণার সমস্যা ও উদ্দেশ্যগবেষণার বিষয়বস্তুর সাথে সংশ্লিষ্ট কিছু জটিলতা রয়েছে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
১ - নবুওয়াতের যুগে কেন কুরআন এক স্থানে সংকলিত হয়নি?
২ - সিদ্দীক (রা.)-এর সংকলন কি নবুওয়াত যুগের সংকলন থেকে ভিন্ন ছিল?
৩ - কুরআন এক স্থানে সংকলন করা কি দ্বীনের মধ্যে নব-উদ্ভাবন (ابتداع) হিসেবে গণ্য হবে?
৪ - সিদ্দীক (রা.)-এর সংকলন কি সাত হরফকে (الأحرف السبعة) অন্তর্ভুক্ত করেছিল?
৫ - সূরার ভেতরে আয়াতের বিন্যাস কি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক নির্ধারিত (توقيفي) ছিল, নাকি তা সাহাবী (রা.)-দের গবেষণালব্ধ (اجتهاد) বিষয় ছিল?
গবেষণার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ছিল এই সমস্যাগুলো চিহ্নিত করা এবং গবেষণা, পর্যালোচনা ও সূক্ষ্ম বিশ্লেষণের (تحقيق وتدقيق) মাধ্যমে সেগুলোর সমাধান প্রদান করা।
পঞ্চম: গবেষণা পদ্ধতিগবেষক তার গবেষণা পরিচালনায় একাধিক পদ্ধতি অনুসরণ করেছেন, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
১ - আরোহী বিশ্লেষণাত্মক পদ্ধতি (المنهج الاستقرائي التحليلي)
২ - সমালোচনামূলক পদ্ধতি (المنهজ النقدي)
৩ - ঐতিহাসিক পদ্ধতি (المنهج التاريخي)
প্রথম পরিচ্ছেদে: গবেষক আবু বকর (রা.)-এর কুরআন সংকলনের প্রেক্ষাপট, কারণ ও অনুপ্রেরণাগুলো অনুসন্ধান করেছেন এবং নবুওয়াত যুগের প্রথম সংকলনের সাথে এর সম্পর্ক নিরূপণ করেছেন।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদে: গবেষক এই সংকলনের বৈশিষ্ট্য ও সুবিধাসমূহ বিশ্লেষণাত্মকভাবে উপস্থাপন করেছেন। এরপর তিনি সূরার ভেতরে আয়াতের বিন্যাস সংক্রান্ত আলোচনার অবতারণা করেছেন এবং এ বিষয়ে বর্ণিত মতামতের মধ্যে প্রাধান্যযোগ্যটি (ترجيح) উল্লেখ করেছেন। অতঃপর তিনি মুসহাফের বিদ্যমান বিন্যাসের বিপরীতে অবতীর্ণ হওয়ার ক্রম অনুযায়ী বিন্যাসের সূচনালগ্ন এবং এর উৎস বিশ্লেষণাত্মকভাবে তুলে ধরেছেন এবং পরবর্তীকালে তা খণ্ডন (نقض) ও সমালোচনা (نقد) করেছেন।
(খণ্ড: ৬৭)
দালাইলুত তাওফীক লিআসাহি তারীক লিজামইস সিদ্দিক
(পৃষ্ঠা: ১০৭)
وأما الفصل الثالث: فتعرض الباحثُ فيه لبيان شروط هذا الجمع والصفة التي تم بها، ثم عَرَّفَ بـ " زيد " المكلف بالجمع، ثم استقرأ المقومات الداعية لاختياره، ثم عرض مميزات هذا الجمع والمنهج الذي وُضِعَ فيه لجمع وتدوين القرآن الكريم عرضًا تحليليًا، ثم بين في خاتمته مصير صحف أبي بكر- رضي الله عنه.
وأما الفصل الرابع: فذكر فيه تاريخ هذا الجمع وأنه كان في زمن خلافة الصديق رضي الله عنه، وحدد فترة استغراقه، ثم عرض عرضًا تحليليًا استنتاجيًا لأبرز نتائج هذا الجمع، ثم ختم ببيان أوّل من سمى القرآن بالمصحف، وهو في كل مرحلة من مراحل البحث يقوم بعرض المادة العلمية ويحلل أجزاءها ثم يعرض الأقوال الوارد ويقوم بدراستها دراسة تحليلية نقدية.
الفصل الأولبواعث جمع أبي بكر وأسبابه ودواعيهوفيه ثلاثة مباحث:
بعد موت النبي-صلى الله عليه وسلم وقبل دفنه بُيع أبو بكر الصديق-رضي الله عنه-بالخلافة وكانت مدة خلافته سنتين وبضعة أشهر، وذلك من عام (11 هـ - 13 هـ)، وكانت وفاته في شهر جمادى الآخرة سنة 13 هـ.
المبحث الأول: بداية فكرة الجمع في عهد أبي بكر الصديق-رضي الله عنه-
لقد كانت بداية فكرة جمع القرآن الكريم في عهد أبي بكر- رضي الله عنه في أواسط خلافته: سنة 12 من الهجرة.
وذلك "حينما ارتدت العرب واستشرى القتل بالمسلمين وخاصة يوم اليمامة وقد استحر بقراء القرآن، جاء إليه عمر وقال له: إني أخشى أن يستحر القتل بالقراء في المواطن فيذهب كثير من القراءة والقرآن وإني أرى أن تجمع القرآن؛ وظل يراجع أبا بكر حتى شرح الله صدره لذلك؛ فكان أول من جمع القرآن".
(1)وإنما كان ذلك بعد أن بُيع أبو بكر الصديق- رضي الله عنه وآلة الخلافة إليه بتلك البيعة، بعدها ارتدت أحياء من العرب ومنعوا الزكاة، وقد وقع هذا الأمر الجلل بعد وفاة النبي صلى الله عليه وسلم حينما ارتدَّت العرب عن الإسلام قيل إلا ثلاثة مساجد كما نقل ابن إسحاق، ألا وهي: مسجد المدينة، ومسجد مكة، ومسجد جواثا الذي يصلي فيه بنو عبد القيس.
وذكر القاضي عياض أن أهل الردة في ذلك الوقت على ثلاثة أصناف:
الصنف الأول: صنف كفر بعد إسلامه وعاد لجاهليته، واتبع مسيلمة الكذاب والأسود العنسي وصدَّق بهما.
والصنف الثاني: صنف أقر بالإسلام إلا الزكاة فجحدها.
والصنف الثالث: صنف أقر بوجوبها لكنه امتنع عن دفعها لأبي بكر-رضي الله عنه وقالوا: إن ذلك خاص بالنبي صلى الله عليه وسلم لقوله تعالى: {خُذْ مِنْ أَمْوَالِهِمْ صَدَقَةً تُطَهِّرُهُمْ وَتُزَكِّيهِمْ بِهَا
--------------------------------------------
তৃতীয় পরিচ্ছেদে গবেষক এই সংকলনের শর্তাবলি এবং যে পদ্ধতিতে এটি সম্পন্ন হয়েছে তা বর্ণনা করেছেন। তারপর সংকলনের দায়িত্বপ্রাপ্ত "যায়েদ" (রা.)-এর পরিচয় প্রদান করেছেন। এরপর তাঁকে নির্বাচনের কারণসমূহ অনুসন্ধান করেছেন। অতঃপর এই সংকলনের বৈশিষ্ট্য এবং কুরআন সংকলন ও তা লিপিবদ্ধ করার জন্য নির্ধারিত পদ্ধতির একটি বিশ্লেষণধর্মী উপস্থাপন করেছেন। সবশেষে তিনি তাঁর উপসংহারে আবু বকর (রা.)-এর সংগ্রহকৃত সহিফাগুলোর পরিণতি বর্ণনা করেছেন।
চতুর্থ পরিচ্ছেদে তিনি এই সংকলনের ইতিহাস উল্লেখ করেছেন এবং দেখিয়েছেন যে এটি সিদ্দিক (রা.)-এর খিলাফতকালে ছিল। তিনি এর সময়সীমা নির্ধারণ করেছেন এবং এই সংকলনের প্রধান ফলাফলগুলোর একটি বিশ্লেষণমূলক ও তাত্ত্বিক চিত্র তুলে ধরেছেন। সবশেষে তিনি সর্বপ্রথম কে কুরআনকে 'মুসহাফ' নামে নামকরণ করেছিলেন তা বর্ণনা করেছেন। গবেষণার প্রতিটি স্তরে তিনি বৈজ্ঞানিক উপাত্ত উপস্থাপন করেছেন, তার বিভিন্ন অংশ বিশ্লেষণ করেছেন, বর্ণিত মতামতের পর্যালোচনা করেছেন এবং সেগুলোর ওপর একটি বিশ্লেষণাত্মক ও সমালোচনামূলক গবেষণা পরিচালনা করেছেন।
প্রথম পরিচ্ছেদআবু বকর (রা.) কর্তৃক কুরআন সংকলনের প্রেক্ষাপট, কারণ ও প্রভাবকসমূহএতে তিনটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:
নবী (সা.)-এর ওফাতের পর এবং তাঁর দাফনের পূর্বে আবু বকর সিদ্দিক (রা.)-এর নিকট খিলাফতের বায়আত গ্রহণ করা হয়। তাঁর খিলাফতের মেয়াদ ছিল দুই বছর কয়েক মাস, যা (১১ হিজরি - ১৩ হিজরি) পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। তাঁর মৃত্যু হয়েছিল ১৩ হিজরির জমাদিউল আখিরা মাসে।
প্রথম অনুচ্ছেদ: আবু বকর সিদ্দিক (রা.)-এর যুগে কুরআন সংকলনের ভাবনার সূচনা-
আবু বকর (রা.)-এর যুগে কুরআন সংকলনের চিন্তার সূচনা হয়েছিল তাঁর খিলাফতের মধ্যবর্তী সময়ে, অর্থাৎ ১২ হিজরিতে।
আর তা ছিল— "যখন আরবের গোত্রগুলো ধর্মত্যাগী হয়ে গেল এবং মুসলমানদের মধ্যে হত্যাকাণ্ড ব্যাপক আকার ধারণ করল, বিশেষ করে ইয়ামামার যুদ্ধে যখন অনেক ক্বারী বা কুরআন পাঠকারী শাহাদাত বরণ করলেন, তখন ওমর (রা.) তাঁর কাছে এসে বললেন: আমি আশঙ্কা করছি যে বিভিন্ন যুদ্ধক্ষেত্রে ক্বারীদের শাহাদাত বরণ এভাবে চলতে থাকলে কুরআনের অনেক অংশ হারিয়ে যেতে পারে। তাই আমি মনে করি আপনার কুরআন সংকলন করা উচিত। তিনি আবু বকর (রা.)-এর সাথে এ বিষয়ে আলোচনা চালিয়ে যেতে থাকেন, যতক্ষণ না আল্লাহ তাঁর বক্ষকে এর জন্য উন্মুক্ত করে দিলেন; ফলে তিনিই ছিলেন সর্বপ্রথম ব্যক্তি যিনি কুরআন সংকলন করেছিলেন।"
(1)এটি মূলত তখনই ঘটেছিল যখন আবু বকর সিদ্দিক (রা.)-এর নিকট বায়আত গ্রহণ করা হয় এবং সেই বায়আতের মাধ্যমে খিলাফতের দায়িত্ব তাঁর ওপর ন্যস্ত হয়। এরপর আরবের অনেক গোত্র ধর্মত্যাগী হয়ে যায় এবং যাকাত দিতে অস্বীকার করে। নবী (সা.)-এর ওফাতের পর এই গুরুতর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল যখন আরবের লোকেরা ইসলাম থেকে বিচ্যুত হয়েছিল। ইবনে ইসহাকের বর্ণনা অনুযায়ী, তখন কেবল তিনটি মসজিদ ব্যতীত সবখানে ধর্মত্যাগ ছড়িয়ে পড়েছিল; সেই তিনটি মসজিদ হলো: মদিনার মসজিদ, মক্কার মসজিদ এবং জুওয়াসা মসজিদ যেখানে বনু আবদিল কায়স গোত্র নামাজ আদায় করত।
কাজী আইয়াজ উল্লেখ করেছেন যে, সেই সময়ে মুরতাদ বা ধর্মত্যাগীরা তিন শ্রেণিতে বিভক্ত ছিল:
প্রথম শ্রেণি: যারা ইসলাম গ্রহণের পর কুফরিতে লিপ্ত হয়েছিল এবং তাদের জাহিলিয়াতের যুগে ফিরে গিয়েছিল। তারা চরম মিথ্যাবাদী (كذاب) মুসায়লিমা এবং আসওয়াদ আনসি-কে অনুসরণ করেছিল এবং তাদের (নবুওয়াতের দাবিকে) সত্য বলে বিশ্বাস করেছিল।
দ্বিতীয় শ্রেণি: যারা ইসলামের বিধান স্বীকার করত কিন্তু যাকাতকে অস্বীকার করত এবং তা প্রদান করতে অস্বীকৃতি জানাত।
তৃতীয় শ্রেণি: যারা যাকাত ওয়াজিব হওয়া স্বীকার করত কিন্তু আবু বকর (রা.)-এর কাছে তা প্রদান করতে অসম্মতি জানিয়েছিল। তারা বলেছিল: এটি কেবল নবী (সা.)-এর সাথেই নির্দিষ্ট ছিল, কারণ মহান আল্লাহর বাণী: {আপনি তাদের সম্পদ থেকে সদকা গ্রহণ করুন, যার মাধ্যমে আপনি তাদের পবিত্র ও পরিশুদ্ধ করবেন...}
--------------------------------------------
(খণ্ড: ৬৭)
দালাইলুত তাওফীক লিআসাহি তারীক লিজামইস সিদ্দিক
(পৃষ্ঠা: ১০৮)
وَصَلِّ عَلَيْهِمْ إِنَّ صَلَاتَكَ سَكَنٌ لَّهُمْ} (التوبة: 103).
فرأى أبو بكر والصحابة- رضي الله عنهم قتالهم جميعهم، الصنفان الأولان لكفرهم والثالث لامتناعهم، والامتناع مع الإقرار يختلف حكمًا من الامتناع مع الجحود ولا شك في ذلك أبدًا.
وقد ذكر أبو العباس القرطبي (656 ت: هـ) في "المفهم"رحمه الله:
أن الصنف الثالث هم الذين أُشْكِلَ أمْرُهُم على عمر وراجع فيهم أبا بكر حتى ظهر الحق. ولا يعتبرون كفارًا وإنما بغاة.
(1)وهذا التقسيم الذي ذكره أبو العباس القرطبي قد ذهب إليه جمع من أئمة الإسلام، منهم الإمام الشافعي (ت: 240 هـ) حيث يقول- رحمه الله: -- بنحوه- في "الأم"
"وأهل الردة بعد رسول الله صلى الله عليه وسلم ضربان: منهم قوم كفروا بعد الإسلام، مثل طليحة ومسيلمة والعنسي وأصحابهم، ومنهم قوم تمسكوا بالإسلام ومنعوا الصدقات".
ثم أشار إلى أن أبا بكر وعمر- رضي الله عنهما كانا مجمعين على إن الصنف الثاني ليسوا كفارًا.
فيقول بعد أن ذكر ما دار بينهما من حوار:
"
… معرفتهما معًا بأن ممَّن قاتلوا من هو على التمسك بالإيمان".
(2)وممَّن قرر هذا التقسيم أيضًا الخطابيُّ (ت: 388 هـ) حيث يقول رحمه الله في "معالم السنن"-:
"الذين يلزمهم اسم الردة من العرب كانوا صنفين: صنفًا منهم ارتدَّ عن الدين، ونابذ الملة، وعاودوا الكفر، وهم الذين عناهم أبو هريرة- رضي الله عنه بقوله: (وكفر من كفر من العرب)، وهم أصحاب مسيلمة الكذاب، ومن سلك مذهبهم في إنكار نبوة محمد صلى الله عليه وسلم، وصنفًا آخر: هم الذين فرقوا بين الصلاة والزكاة، وهؤلاء على الحقيقة أهل بغي".
(3)وممَّن قرر هذا التقسيم كذلك ابن حزم الأندلسي (ت: 456 هـ) في محض كلامه عن أصناف المرتدين حيث يقول-رحمه الله في "المحلى":
"
… والقسم الثاني: قوم أسلموا، ولم يكفروا بعد إسلامهم، ولكن منعوا الزكاة من أن يدفعوها إلى أبي بكر رضي الله عنه فعلى هذا قوتلوا".
(4)وقد قرر هذا التقسيم أيضًا جمع من العلماء الأعلام، منهم:
أبو عمر ابن عبد البرـ وابن المنذر، والماوردي صاحب التفسير، والقاضي عياض، وابن العربي المالكي، والبغوي، والنووي، وابن حجر، وغيرهم كثير.
(5)وكذلك هو اختيار شيخ الإسلام ابن تيمية (ت: 728 هـ) رحمه الله، ولقد كان له بعض الأقوال والتقريرات التي يبدو ويظهر منها أنه يرى أن الصحابة- رضي الله عنهم كانوا يفرّقون بين أصناف المرتدين، فيجعلون بعضهم كفارًا، كالمرتدين من أتباع مسيلمة الكذاب، وبعضهم مسلمين بغاة لهم سائر أحكام أهل القبلة كما ذكر ذلك أبو العباس القرطبي في المفهم والنووي في شرحه لمسلم، ومن تلك الأقوال والتقريرات: أنه جعل قتال مانعي الزكاة من جنس قتال أهل القبلة، فقال- رحمه الله:
"والعلماء لهم في قتال من يستحق القتال من أهل القبلة طريقان: منهم من يرى قتالاً علي يوم حروراء ويوم الجمل وصفين كله من باب قتال أهل البغي، وكذلك يجعل قتال أبي بكر لمانعي الزكاة،
--------------------------------------------
"এবং তাদের জন্য প্রার্থনা করুন; নিশ্চয় আপনার প্রার্থনা তাদের জন্য প্রশান্তি।" (আত-তাওবাহ: ১০৩)।
অতঃপর আবু বকর এবং সাহাবীগণ (রা.) তাদের সকলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করাকে সঙ্গত মনে করেছিলেন; প্রথম দুই শ্রেণি তাদের কুফরির (কفر) কারণে এবং তৃতীয় শ্রেণি তাদের যাকাত প্রদানে অস্বীকৃতির কারণে। আর স্বীকৃতির সাথে যাকাত প্রদানে অস্বীকৃতি এবং অস্বীকারের সাথে যাকাত প্রদানে অস্বীকৃতির বিধান যে ভিন্ন, সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই।
আবু আল-আব্বাস আল-কুরতুবী (মৃত্যু: ৬৫৬ হি.) তার 'আল-মুফহিম' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন:
নিশ্চয় তৃতীয় শ্রেণিটি ছিল তারা, যাদের বিষয়টি উমরের কাছে অস্পষ্ট ছিল এবং তিনি আবু বকরের সাথে এই বিষয়ে আলোচনা করেছিলেন যতক্ষণ না সত্য স্পষ্ট হয়। তারা কাফির (كفار) হিসেবে গণ্য নয়, বরং তারা বিদ্রোহী (بغاة)।
(১)আবু আল-আব্বাস আল-কুরতুবী কর্তৃক উল্লিখিত এই বিভাজনটি ইসলামের একদল ইমাম গ্রহণ করেছেন, যাদের মধ্যে অন্যতম হলেন ইমাম শাফিঈ (মৃত্যু: ২০৪ হি.); তিনি তার 'আল-উম্ম' গ্রন্থে অনুরূপ বলেছেন:
"রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর ওফাতের পর মুরতাদ (أهل الردة) বা ধর্মত্যাগীগণ দুই প্রকার ছিল: একদল যারা ইসলামের পরে কুফুরিতে লিপ্ত হয়েছিল, যেমন তুলাইহা, মুসাইলিমা, আল-আনসি এবং তাদের অনুসারীরা; আর অন্যদল যারা ইসলামের ওপর অটল ছিল কিন্তু সদকা (যাকাত) প্রদান করতে অস্বীকার করেছিল।"
অতঃপর তিনি ইঙ্গিত করেছেন যে, আবু বকর এবং উমর (রা.) এই বিষয়ে একমত ছিলেন যে, দ্বিতীয় শ্রেণিটি কাফির (كفار) ছিল না।
তাদের উভয়ের মধ্যে যে আলোচনা হয়েছিল তা উল্লেখ করার পর তিনি বলেন:
"...তাদের উভয়েরই এই জ্ঞান ছিল যে, যাদের বিরুদ্ধে তারা যুদ্ধ করছেন তাদের মধ্যে এমন লোকও ছিল যারা ঈমানের ওপর অটল ছিল।"
(২)এই বিভাজনটি আল-খাত্তাবিও (মৃত্যু: ৩৮৮ হি.) নিশ্চিত করেছেন; তিনি 'মাআলিমুস সুনান' গ্রন্থে বলেছেন:
"আরবদের মধ্যে যাদের ওপর ধর্মত্যাগ (ردة) নামটির প্রয়োগ ঘটেছিল তারা দুই শ্রেণির ছিল: এক শ্রেণি যারা দ্বীন থেকে বিচ্যুত হয়েছিল, মিল্লাত ত্যাগ করেছিল এবং পুনরায় কুফরিতে লিপ্ত হয়েছিল। আবু হুরায়রা (রা.) তার এই বাণীতে তাদেরই উদ্দেশ্য করেছেন: (আরবদের মধ্যে যারা কাফির হওয়ার তারা হয়েছিল); তারা ছিল মুসাইলিমা আল-কাযযাবের অনুসারী এবং যারা মুহাম্মদ (সা.)-এর নবুওয়াত অস্বীকার করার ক্ষেত্রে তাদের পথ অনুসরণ করেছিল। আর অন্য শ্রেণি হলো তারা, যারা সালাত ও যাকাতের মধ্যে পার্থক্য করেছিল; তারা প্রকৃতপক্ষে বিদ্রোহী (أهل بغي)।"
(৩)ইবনে হাজম আল-আন্দালুসিও (মৃত্যু: ৪৫৬ হি.) মুরতাদদের (مرتدين) প্রকারভেদ সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে এই বিভাজনটি সাব্যস্ত করেছেন; তিনি 'আল-মুহাল্লা' গ্রন্থে বলেছেন:
"...এবং দ্বিতীয় ভাগ: এক সম্প্রদায় যারা ইসলাম গ্রহণ করেছিল এবং তাদের ইসলাম গ্রহণের পর তারা কুফুরি করেনি, কিন্তু তারা আবু বকর (রা.)-এর কাছে যাকাত প্রদান করতে অস্বীকার করেছিল, যার ভিত্তিতে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা হয়েছিল।"
(৪)এই বিভাজনটি আরও একদল প্রখ্যাত আলেম নিশ্চিত করেছেন, যাদের মধ্যে রয়েছেন:
আবু উমর ইবনে আব্দুল বার, ইবনুল মুনযির, তাফসীর প্রণেতা আল-মাওয়ার্দি, কাজী আয়াজ, ইবনুল আরাবি আল-মালিকি, আল-বাগাওয়ী, আন-নববী, ইবনে হাজার এবং আরও অনেকে।
(৫)একইভাবে এটি শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (মৃত্যু: ৭২৮ হি.)-এরও অভিমত ছিল। তার কিছু বক্তব্য ও বিশ্লেষণ থেকে এটি স্পষ্ট হয় যে, সাহাবীগণ (রা.) মুরতাদদের (مرتدين) প্রকারভেদের মধ্যে পার্থক্য করতেন। তারা কাউকে কাফির (كفار) হিসেবে গণ্য করতেন, যেমন মুসাইলিমা আল-কাযযাবের অনুসারী মুরতাদগণ; আবার কাউকে মুসলিম বিদ্রোহী (بغاة) হিসেবে গণ্য করতেন যাদের জন্য আহলে কিবলার (أهل القبلة) সকল হুকুম প্রযোজ্য ছিল। যেমনটি আবু আল-আব্বাস আল-কুরতুবী 'আল-মুফহিম'-এ এবং আন-নববী 'শারহু মুসলিম'-এ উল্লেখ করেছেন। সেই সকল বক্তব্যের মধ্যে একটি হলো: তিনি যাকাত অস্বীকারকারীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধকে আহলে কিবলার (أهل القبلة) সাথে যুদ্ধের অন্তর্ভুক্ত করেছেন। তিনি বলেন:
"আহলে কিবলার (أهل القبلة) মধ্যে যারা যুদ্ধের উপযুক্ত, তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের বিষয়ে আলেমদের দুটি পথ রয়েছে: তাদের মধ্যে কেউ কেউ হারুরা দিবস, উষ্ট্রের যুদ্ধ এবং সিফফীনের যুদ্ধকে বিদ্রোহীদের (أهل البغي) বিরুদ্ধে যুদ্ধের অন্তর্ভুক্ত মনে করেন এবং একইভাবে আবু বকর (রা.)-এর যাকাত অস্বীকারকারীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধকেও এর অন্তর্ভুক্ত করেন।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ৬৭)
দালাইলুত তাওফীক লিআসাহি তারীক লিজামইস সিদ্দিক
(পৃষ্ঠা: ১০৯)
وكذلك قتال سائر من قوتل من المنتسبين إلى القبلة، كما ذكر ذلك من ذكره من أصحاب أبي حنيفة والشافعي ومن وافقهم من أصحاب أحمد وغيرهم".
(1)كتاب أبي بكر- رضي الله عنه إلى المرتدين:
ومما يُستأنس به ها هنا أيضًا وبه نختم هذا المبحث الهام: كتاب أبي بكر- رضي الله عنه إلى المرتدين، فقد كتب إليهم كتابًا طويلاً حوى أمورًا شتى ومتنوعة في مضمونها وفحواها، وممَّا ورد في كتابه إليهم قوله- رضي الله عنه:
بسم الله الرحمن الرحيم، من أبي بكر خليفة رسول الله صلى الله عليه وسلم إلى من بلغه كتابي هذا، من عامة وخاصة، أقام على إسلامه أو رجع عنه
(2).
فهذا يدلُّ على إن بعض أهل الردة بقي على إسلامه ولم يخرج عنه، وكلامه قد وجهه إلى فئتين اثنتين، فيُؤخذ ويُفهم ويُستدلُّ منه على أن الذي ارتد عن الإسلام من الفئتين إنما هي فئة واحدة منهما لا الفئتين.
والشاهد الأول مما سبق ذكره:
أن الصديق الأول- رضي الله عنه قام مقام الجبال الرواسي الشامخات ليرد الأمة إلى دينها فحارب وقاتل المرتدين بشجاعة وثبات ورباطة جأش، فالموقف جد عصيب فقد ارتدت جموع غفيرة وأحياء كثيرة من العرب وقد عارضه في ذلك أول الأمر أقرب المقربين ومع هذا كله فقد ثبت رضي الله عنه ثبات الجبال الرواسي واستطاع بعد عون الله وتوفيقه أن يُعيد الأمة إلى رشدها، وأن يعيد للإسلام صولته وقوته ومكانته، فكان- رضي الله عنه للإسلام يوم الردة، كما كان الإمام أحمد للإسلام كذلك يوم المحنة.
ولنتأمل ما رواه البخاري- رحمه الله من حديث أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه قالَ: لَمَّا تُوُفِّيَ رَسُولُ اللّهِ صلى الله عليه وسلم وَاسْتُخْلِفَ أَبُو بَكْرٍ بَعْدَهُ، وَكَفَرَ مَنْ كَفَرَ مِنَ الْعَرَبِ، قَالَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ لأَبِي بَكْرٍ- رضي الله عنهما: كَيْفَ تُقَاتِلُ النَّاسَ، وَقَدْ قَالَ رَسُولُ اللّهِ صلى الله عليه وسلم "أُمِرْتُ أَنْ أُقَاتِلَ النَّاسَ حَتَّى يَقُولُوا: لَا إِلهَ إِلاَّ الله. فَمَنْ قَالَ: لَا إِلهَ إِلاَّ الله فَقَدْ عَصَمَ مِنِّي مَالَهُ وَنَفْسَهُ إِلاَّ بِحَقِّهِ، وَحِسَابُهُ عَلَى الله؟ " فَقَالَ أَبُو بَكْرٍ: وَالله لأُقَاتِلَنَّ مَنْ فَرَّقَ بَيْنَ الصَّلَاةِ وَالزَّكَاةِ، فَإِنَّ الزَّكَاةَ حَقُّ الْمَالِ، وَالله لَوْ مَنَعُونِي عِقَالاً كَانُوا يُؤَدُّونَهُ إِلَى رَسُولِ اللّهِ لَقَاتَلْتُهُمْ عَلَى مَنْعِهِ. فَقَالَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ-رضي الله عنه: فَوَ الله مَا هُوَ إِلاَّ أَنْ رَأَيْتُ اللهَ عز وجل قَدْ شَرَحَ صَدْرَ أَبِي بَكْرٍ لِلْقِتَالِ. فَعَرفتُ أَنَّهُ الْحَقُّ.
(3)ولقد كلف الصديقُ-رضي الله عنه للقيام بهذه المهمة وهذا العمل العظيم -زيد بن ثابت الأنصاري-رضي الله عنه، ولنتأمل خبر تلك الواقعة العظيمة التي قيد الله لها الخليفتين الراشدين الجليلين صاحبي خير الخلق وحبيب الحق محمد- صلى الله عليه وسلم ولندع المجال للإمام البخاري رحمه الله ليقص لنا الخبر على لسان من كُلِفَ بهذه المهمة الهامة الشاقة بنفسه ألا وهو الصحابي الجليل زيد بن ثابت الأنصاري- رضي الله عنه حيث يقول:
" أَرْسَلَ إلَيَّ أبو بَكْرٍ مَقْتَلَ أهْلِ اليَمَامَةِ، فَإِذَا عُمَرُ بنُ الخَطَّابِ عِنْدَهُ، قالَ أبو بَكْرٍ رضي الله عنه: إنَّ عُمَرَ أتَانِي فَقالَ: إنَّ القَتْلَ قَدِ اسْتَحَرَّ يَومَ اليَمَامَةِ بقُرَّاءِ القُرْآنِ، وإنِّي
--------------------------------------------
وكذلك قتال سائر من قوتل من المنتسبين إلى القبلة، كما ذكر ذلك من ذكره من أصحاب أبي حنيفة والشافعي ومن وافقهم من أصحاب أحمد وغيرهم".
(১)মুরতাদদের (مرتدين) প্রতি আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর পত্র:
এখানে এই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার শেষে একটি বিষয় থেকে প্রমাণ গ্রহণ করা যায়: মুরতাদদের (مرتدين) প্রতি আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর পত্র। তিনি তাদের উদ্দেশ্যে একটি দীর্ঘ পত্র লিখেছিলেন যা তার বিষয়বস্তু ও তাৎপর্যের দিক থেকে নানা বৈচিত্র্যপূর্ণ বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করেছিল। তাদের প্রতি তাঁর পত্রে যা বর্ণিত হয়েছে তা হলো— রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন:
বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম। আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খলিফা আবু বকরের পক্ষ থেকে ওই সকল সাধারণ ও বিশেষ ব্যক্তিদের প্রতি যাদের কাছে আমার এই পত্র পৌঁছাবে, চাই সে তার ইসলামে অটল থাকুক অথবা তা থেকে ফিরে গিয়ে (مرتد) থাকুক।
(২)এটি প্রমাণ করে যে, রিদ্দার (ردة) ফিতনার সময় কিছু লোক তাদের ইসলামের ওপর অটল ছিলেন এবং তা থেকে বিচ্যুত হননি। তাঁর বক্তব্যটি দুটি দলের প্রতি নির্দেশিত ছিল। সুতরাং এর দ্বারা এই কথাটি বোঝা ও দলিল হিসেবে গ্রহণ করা যায় যে, ওই দুই দলের মধ্যে যারা ইসলাম থেকে বিচ্যুত (مرتد) হয়েছিল, তারা শুধুমাত্র একটি দল ছিল, উভয় দল নয়।
পূর্বোল্লিখিত আলোচনার প্রথম সাক্ষ্য বা শিক্ষাটি হলো:
প্রথম সিদ্দিক রাদিয়াল্লাহু আনহু উম্মাহকে তাদের দ্বীনের দিকে ফিরিয়ে আনতে সুউচ্চ পাহাড়ের মতো অটল অবস্থান গ্রহণ করেছিলেন। তিনি সাহসিকতা, দৃঢ়তা ও ধৈর্য্যের সাথে মুরতাদদের (مرتدين) বিরুদ্ধে যুদ্ধ ও সংগ্রাম করেছেন। পরিস্থিতি অত্যন্ত কঠিন ছিল, কারণ আরবদের বিশাল এক জনসমষ্টি ও বহু গোত্র মুরতাদ (مرتد) হয়ে গিয়েছিল। শুরুতে তাঁর নিকটতম ব্যক্তিরাও তাঁর এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছিলেন, তবুও তিনি রাদিয়াল্লাহু আনহু সুউচ্চ পাহাড়ের মতো অটল ছিলেন এবং আল্লাহর সাহায্য ও তাওফিকে উম্মাহকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছিলেন। তিনি ইসলামের প্রভাব, শক্তি ও মর্যাদা পুনরুদ্ধার করেছিলেন। রিদ্দার (ردة) দিনে ইসলাম রক্ষায় তাঁর ভূমিকা তেমনই ছিল, যেমনটি ছিল ইমাম আহমাদের ভূমিকা ফিতনা-এ-মিহনার (محنة) দিনে।
আসুন আমরা ইমাম বুখারি রাহিমাহুল্লাহ কর্তৃক আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদিসটি নিয়ে চিন্তা করি, তিনি বলেছেন: যখন আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইন্তেকাল করলেন এবং তাঁর পরে আবু বকর খলিফা নিযুক্ত হলেন, আর আরবদের মধ্যে যারা কাফের হওয়ার তারা কাফের হলো, তখন ওমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহুকে বললেন: "আপনি কীভাবে মানুষের সাথে যুদ্ধ করবেন? অথচ আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: আমাকে মানুষের সাথে যুদ্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যতক্ষণ না তারা বলে— লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ। সুতরাং যে ব্যক্তি লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলবে, সে আমার থেকে তার সম্পদ ও প্রাণ নিরাপদ করে নেবে, অবশ্য হকের বিনিময় ব্যতীত; আর তার হিসাব আল্লাহর জিম্মায়।" তখন আবু বকর বললেন: "আল্লাহর কসম, আমি অবশ্যই ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করব যে নামাজ ও জাকাতের মধ্যে পার্থক্য করবে। কেননা জাকাত হলো সম্পদের হক। আল্লাহর কসম, যদি তারা আমাকে একটি উটের রশি দিতেও অস্বীকার করে যা তারা আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে প্রদান করত, তবে তা অস্বীকার করার কারণে আমি তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করব।" ওমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন: "আল্লাহর কসম, আমি যখন দেখলাম যে আল্লাহ তাআলা যুদ্ধের জন্য আবু বকরের বক্ষ উন্মোচন করে দিয়েছেন, তখন আমি বুঝতে পারলাম যে এটাই সত্য।"
(৩)সিদ্দিক রাদিয়াল্লাহু আনহু এই মহান দায়িত্ব ও কর্ম আঞ্জাম দেওয়ার জন্য জায়েদ ইবনে সাবিত আনসারি রাদিয়াল্লাহু আনহুকে নিযুক্ত করেছিলেন। আসুন আমরা সেই মহান ঘটনার সংবাদ নিয়ে চিন্তা করি, যার জন্য আল্লাহ তাআলা হকের বন্ধু ও সৃষ্টির সেরা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দুই মহান খলিফাকে নির্ধারণ করেছিলেন। আমরা ইমাম বুখারি রাহিমাহুল্লাহকে সুযোগ দিই যাতে তিনি সেই মহান ও কঠিন কাজে নিয়োজিত সাহাবী জায়েদ ইবনে সাবিত আনসারি রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর জবানিতে আমাদের কাছে সংবাদটি বর্ণনা করেন, তিনি বলেন:
"আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু ইয়ামামার যুদ্ধে সাহাবীদের শাহাদাতের ঘটনার পর আমাকে ডেকে পাঠালেন। সেখানে ওমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু উপস্থিত ছিলেন। আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন: ওমর আমার কাছে এসে বলেছে যে, ইয়ামামার যুদ্ধের দিন কুরআন পাঠকদের (قراء) শাহাদাত ব্যাপক আকার ধারণ করেছে, আর আমি..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ৬৭)
দালাইলুত তাওফীক লিআসাহি তারীক লিজামইস সিদ্দিক
(পৃষ্ঠা: ১১০)
أخْشَى أنْ يَسْتَحِرَّ القَتْلُ بالقُرَّاءِ بالمَوَاطِنِ، فَيَذْهَبَ كَثِيرٌ مِنَ القُرْآنِ، وإنِّي أرَى أنْ تَأْمُرَ بجمع القرآن، قُلتُ لِعُمَرَ: كيفَ تَفْعَلُ شيئًا لَمْ يَفْعَلْهُ رَسولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم؟ قالَ عُمَرُ: هذا واللَّهِ خَيْرٌ، فَلَمْ يَزَلْ عُمَرُ يُرَاجِعُنِي حتَّى شَرَحَ اللَّهُ صَدْرِي لذلكَ، ورَأَيْتُ في ذلكَ الذي رَأَى عُمَرُ، قالَ زَيْدٌ: قالَ أبو بَكْرٍ: إنَّكَ رَجُلٌ شَابٌّ عَاقِلٌ لا نَتَّهِمُكَ، وقدْ كُنْتَ تَكْتُبُ الوَحْيَ لِرَسولِ اللَّهِ- صلى الله عليه وسلم، فَتَتَبَّعِ القُرْآنَ فَاجْمَعْهُ، فَوَ اللَّهِ لو كَلَّفُونِي نَقْلَ جَبَلٍ مِنَ الجِبَالِ ما كانَ أثْقَلَ عَلَيَّ ممَّا أمَرَنِي به مِنْ جمع القرآن، قُلتُ: كيفَ تَفْعَلُونَ شيئًا لَمْ يَفْعَلْهُ رَسولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم؟، قالَ: هو واللَّهِ خَيْرٌ، فَلَمْ يَزَلْ أبو بَكْرٍ يُرَاجِعُنِي حتَّى شَرَحَ اللَّهُ صَدْرِي لِلَّذِي شَرَحَ له صَدْرَ أبِي بَكْرٍ وعُمَرَ- رضي الله عنهما، فَتَتَبَّعْتُ القُرْآنَ أجْمَعُهُ مِنَ العُسُبِ واللِّخَافِ، وصُدُورِ الرِّجَالِ، حتَّى وجَدْتُ آخِرَ سُورَةِ التَّوْبَةِ مع أبِي خُزَيْمَةَ الأنْصَارِيِّ لَمْ أجِدْهَا مع أحَدٍ غيرِهِ، {لقَدْ جَاءَكُمْ رَسولٌ مِنْ أنْفُسِكُمْ عَزِيزٌ عليه ما عَنِتُّمْ} [التوبة: 128 - 129] حتَّى خَاتِمَةِ بَرَاءَةَ، فَكَانَتِ الصُّحُفُ عِنْدَ أبِي بَكْرٍ حتَّى تَوَفَّاهُ اللَّهُ، ثُمَّ عِنْدَ عُمَرَ حَيَاتَهُ، ثُمَّ عِنْدَ حَفْصَةَ بنْتِ عُمَرَ رضي الله عنها".
(1)
المبحث الثاني: موقف الصحابة من جمع أبي بكر للقرآنالصحابة- رضي الله عنهم يدركون تمام الإدراك ويتيقنون كمال اليقين في أن الله تعالى وعده لا يتخلف أبدًا، وقد وعد سبحانه بحفظ كتابه من التغيير والتبديل ومن أن يزاد فيه أو يُنقص منه بقوله سبحانه: (إنا نحن نزلنا الذكر وإنا له لحافظون) (الحجر: 9) وهم يدركون كذلك أن سنن الله الكونية لها من الأسباب ما يقوم بها، ويدركون من خلال تلك السنن أيضًا أن هذا الدين لا يقوم بذاته بل لابد أن يكون له أنصار وأعوان من البشر يحملوا على عواتقهم هم نصرته وحمل رسالته والذب عن حياضه، ولهذا قاموا- رضي الله عنهم بواجبهم تجاهه ببذل الأسباب لحفظ كتاب ربهم من الذهاب والضياع، وهذا من قوة إيمانهم بالله ورسوله، ومن سعة علمهم بدين ربهم، وفهمهم لشرعته ومنهاجه، ومن إدراكهم لعظم الأمانة التي في أعناقهم، ولضخامة المسؤولية الملقاة على عواتقهم.
هل يُعد جمع أبي بكر- رضي الله عنه للقرآن من البدعة المحدثة في الدين؟
مفهوم البدعة في اللغة:لنعلم أولًا أن البدعة في اللغة: مأخوذة من البَدْع، وهو الاختراع على غير مثال سابق، ومنه قوله تعالى: {بَدِيعُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ} [البقرة: 117].
أي مخترعها على غير مثال سابق، قوله تعالى: {قُلْ مَا كُنْتُ بِدْعًا مِنَ الرُّسُلِ} [الأحقاف: 9]. أي: ما كنت أول من جاء بالرسالة من الله إلى العباد، بل تقدمني كثير من الرسل.
ويقال: ابتدع فلان بدعة، يعني: ابتدأ طريقة لم يسبق إليها.
والابتداع على قسمين:
القسم الأول: ابتداع في العادات
كابتداع المخترعات الحديثة، وهذا مباح؛ لأن الأصل في العادات الإباحة.
و القسم الثاني: ابتداع في الدين:
وهذا مُحرَّم؛ لأن
--------------------------------------------
"আমি আশঙ্কা করছি যে বিভিন্ন যুদ্ধক্ষেত্রে কারীদের (কুরআন পাঠকদের) নিহতের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে, ফলে কুরআনের একটি বড় অংশ বিলুপ্ত হয়ে যাবে। তাই আমি মনে করি যে, আপনি কুরআন সংকলনের নির্দেশ দেবেন। আমি উমরকে বললাম: আপনি এমন কাজ কীভাবে করবেন যা রাসূলুল্লাহ (সা.) করেননি? উমর বললেন: আল্লাহর কসম, এটি কল্যাণকর। উমর বারবার আমাকে এটি বোঝাতে লাগলেন, শেষ পর্যন্ত আল্লাহ এ বিষয়ের জন্য আমার বক্ষ উন্মোচন করে দিলেন এবং উমর যা অনুধাবন করেছিলেন আমিও তা অনুধাবন করলাম। যায়িদ বলেন: আবু বকর বললেন: আপনি একজন বুদ্ধিমান যুবক, আপনার প্রতি আমাদের কোনো সংশয় নেই। আপনি রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর ওহী লিখতেন। সুতরাং আপনি কুরআন অনুসন্ধান করুন এবং তা সংকলন করুন। আল্লাহর কসম, তাঁরা যদি আমাকে পাহাড়সমূহের মধ্য থেকে কোনো একটি পাহাড় স্থানান্তরের দায়িত্ব দিতেন, তবে তিনি আমাকে কুরআন সংকলনের যে নির্দেশ দিয়েছেন তা আমার কাছে এর চেয়ে বেশি ভারী মনে হতো না। আমি বললাম: আপনারা এমন কাজ কীভাবে করবেন যা রাসূলুল্লাহ (সা.) করেননি? তিনি বললেন: আল্লাহর কসম, এটি কল্যাণকর। আবু বকর বারবার আমাকে এটি বোঝাতে লাগলেন, শেষ পর্যন্ত আল্লাহ আমার বক্ষ সে বিষয়ের জন্য উন্মোচন করে দিলেন যার জন্য তিনি আবু বকর ও উমরের (রা.) বক্ষ উন্মোচন করেছিলেন। এরপর আমি খেজুরের ডাল, পাতলা পাথর এবং মানুষের হৃদয় থেকে কুরআন অনুসন্ধান করে তা সংকলন করতে শুরু করলাম। শেষ পর্যন্ত আমি সূরা আত-তাওবাহর শেষ অংশটি আবু খুযাইমাহ আল-আনসারির কাছে পেলাম, যা তিনি ছাড়া আর কারও কাছে পাইনি। (তা হলো:) {তোমাদের মধ্য থেকেই তোমাদের কাছে একজন রাসূল এসেছেন, তোমাদের যে কষ্ট হয় তা তাঁর জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক...} [তাওবাহ: ১২৮ - ১২৯] ‘বারাআহ’ (তাওবাহ) শেষ হওয়া পর্যন্ত। এরপর এই সহীফাগুলো আবু বকরের কাছে সংরক্ষিত ছিল তাঁর মৃত্যু পর্যন্ত, এরপর উমরের কাছে ছিল তাঁর জীবদ্দশায়, এরপর উমর-কন্যা হাফসার (রা.) কাছে ছিল।"
(১)
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: আবু বকর কর্তৃক কুরআন সংকলনের বিষয়ে সাহাবীগণের অবস্থানসাহাবীগণ (রা.) পূর্ণাঙ্গভাবে উপলব্ধি করতেন এবং দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করতেন যে, মহান আল্লাহর প্রতিশ্রুতি কখনো ব্যর্থ হয় না। আল্লাহ তাআলা তাঁর কিতাবকে পরিবর্তন, বিকৃতি এবং কোনো কিছু বৃদ্ধি বা হ্রাস করা থেকে রক্ষা করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেছেন: (আমিই এই উপদেশ অবতীর্ণ করেছি এবং আমিই এর সংরক্ষক) (হিজর: ৯)। তাঁরা এটাও জানতেন যে, আল্লাহর জাগতিক বিধানে কার্যকারণগত মাধ্যমসমূহ বিদ্যমান থাকে। তাঁরা সেই বিধানগুলোর মাধ্যমে আরও উপলব্ধি করেছিলেন যে, এই দ্বীন স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রতিষ্ঠিত থাকে না, বরং এর জন্য এমন সাহায্যকারী ও সহযোগী প্রয়োজন যারা মানুষের মধ্য থেকে হবে এবং এই দ্বীনের বিজয়, এর বার্তার প্রচার এবং এর প্রতিরক্ষা নিশ্চিত করার মহান দায়িত্ব নিজেদের কাঁধে তুলে নেবে। এই কারণে তাঁরা আল্লাহর কিতাব হারিয়ে যাওয়া ও বিলুপ্ত হওয়া থেকে রক্ষা করার জন্য যথাযথ মাধ্যমগুলো গ্রহণ করে নিজেদের কর্তব্য পালন করেছিলেন। এটি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি তাঁদের ঈমানের দৃঢ়তা, রবের দ্বীন সম্পর্কে তাঁদের গভীর জ্ঞান, তাঁর শরীয়ত ও কর্মপন্থা সম্পর্কে তাঁদের প্রজ্ঞা এবং তাঁদের স্কন্ধে অর্পিত আমানতের মহত্ত্ব ও দায়িত্ববোধের বিশালতার পরিচায়ক।
আবু বকর (রা.) কর্তৃক কুরআন সংকলন কি দ্বীনের মধ্যে নতুন উদ্ভাবিত (محدثة) কোনো বিদা'আত (بدعة) হিসেবে গণ্য হবে?
আভিধানিক অর্থে বিদা'আতের ধারণা:আমাদের প্রথমে জানতে হবে যে, আভিধানিক অর্থে বিদা'আত (بدعة) শব্দটি ‘বাদ’ (البدْع) থেকে আগত, যার অর্থ হলো পূর্ববর্তী কোনো নমুনা ছাড়াই কোনো কিছু উদ্ভাবন করা। যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {তিনি আসমানসমূহ ও জমিনের বিবর্তক (আদি স্রষ্টা)} [বাকারা: ১১৭]।
অর্থাৎ কোনো পূর্ববর্তী নমুনা ছাড়াই তিনি এগুলোর উদ্ভাবক। মহান আল্লাহর বাণী: {বলুন, আমি তো কোনো নতুন (بدعًا) রাসূল নই} [আহকাফ: ৯]। অর্থাৎ আমিই প্রথম রাসূল নই যে আল্লাহর পক্ষ থেকে বান্দাদের কাছে বার্তা নিয়ে এসেছি, বরং আমার আগে অনেক রাসূল অতিক্রান্ত হয়েছেন।
বলা হয়: অমুক ব্যক্তি একটি বিদা'আত (بدعة) উদ্ভাবন করেছে, অর্থাৎ সে এমন একটি পথ বা পদ্ধতি শুরু করেছে যা আগে ছিল না।
উদ্ভাবন দুই প্রকার:
প্রথম প্রকার: পার্থিব অভ্যাসের ক্ষেত্রে উদ্ভাবন
যেমন আধুনিক আবিষ্কারসমূহ। এটি বৈধ; কারণ পার্থিব অভ্যাসের ক্ষেত্রে মূল নীতি হলো বৈধতা।
দ্বিতীয় প্রকার: দ্বীনের মধ্যে উদ্ভাবন:
এটি হারাম (নিষিদ্ধ); কারণ
--------------------------------------------
(খণ্ড: ৬৭)
দালাইলুত তাওফীক লিআসাহি তারীক লিজামইস সিদ্দিক
(পৃষ্ঠা: ১১১)
الأصل فيه التوقيف، قال صلى الله عليه وسلم: "من أحدث في أمرنا هذا ما ليس منه فهو رد" وفي رواية: "من عمل عملًا ليس عليه أمرنا فهو رد".
(1).
(2)
البدعة في المفهوم الاصطلاحي:والبدعة في المفهوم الاصطلاحي كما عرفها الشاطبي (ت: 790 هـ) رحمه الله في الاعتصام هي:
" طريقة في الدين مخترعة، يقصد بالسلوك عليها ما يقصد بالطريقة الشرعية".
(3)وقال شيخ الإسلام ابن تيمية (ت: 728 هـ) -رحمه الله:
" البدعة في الدين هي ما لم يشرعه الله ورسوله- صلى الله عليه وسلم، وهو ما لم يأمر به أمر إيجاب ولا استحباب".
(4)وإذا علمنا أن البدعة هي أمر محدث ومخترع في الدين يُضاهي الشرعية وهي ما لم يشرعه الله ورسوله- صلى الله عليه وسلم يُقصد به التعبد والتقرب إلى الله، على غير مثال سابق، وقد علمنا كذلك أن القرآن قد سبق وأَنْ جُمِعَ في صدور الرجال، وقد جُمِعَ كذلك في ألواحٍ عندهم، فاجتمع له جمعان: جمع في الصدور، وجمع في السطور.
لذا فلا يُعد جمعه في مكان واحد من الأمور المحدثة في الدين، وإن جمع أبي بكر-رضي الله عنه لم يكن من ذلك أبدًا، بدليل إجماع الصحابة- رضوان الله عليهم- على استحسانه، بل والمشارك فيه كذلك، وأن كل ما في الأمر أنه جمعٌ لما كتب مفرقًا في الجمع النبوي الأول فحسب.
قال الحافظ (ت: 852 هـ) في الفتح:
"وقد تسول لبعض الروافض أنه يتوجه الاعتراض على أبي بكر بما فعله من في المصحف فقال: كيف جاز أن يفعل شيئًا لم يفعله الرسول عليه أفضل الصلاة والسلام؟
والجواب: أنه لم يفعل ذلك إلاّ بطريق الاجتهاد السائغ الناشئ عن النصح منه لله ولرسوله ولكتابه ولأئمة المسلمين وعامتهم، وقد كان النبي- صلى الله عليه وسلم أَذِنَ في كتابة القرآن، ونهى أن يكتب معه غيره، فلم يأمر أبو بكر إلاّ بكتابة ما كان مكتوبًا.
ثم قال: وإذا تأمل المنصف ما فعله أبو بكر من ذلك جزم بأنه يعد من فضائله، وينوه بعظيم منقبته لثبوت قوله- صلى الله عليه وسلم " من سن سنة حسنة فله أجرها وأجر من عمل بها "
(5)(6) فما أحدٌ بعده إلاّ وكان له مثل أجره إلى يوم القيامة".
(7)وإن أبرز ما قيل في موافقة الصحابة-رضي الله عنهم-لهذا الجمع قول علي بن أبي طالب-رضي الله عنه:
…"أعظم الناس أجرًا في المصاحف أبو بكر، إن أبا بكر كان أول من جمعه بين اللوحين.
(8)وقد ذكر الباقلاني (ت: 402 هـ) رحمه الله وجوهًا في فعل أبي بكر من أجودها خمسة:
الأول: أن رسول الله-صلى الله عليه وسلم ترك ذلك مصلحة، وفعله أبو بكر للحاجة.
--------------------------------------------
দ্বীনের ক্ষেত্রে মূল হলো ওহীর ওপর নির্ভরশীলতা (توقيف), রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি আমাদের এই দ্বীনের মাঝে এমন কিছু উদ্ভাবন করল যা এর অন্তর্ভুক্ত নয়, তবে তা প্রত্যাখ্যাত (رد)।" অন্য একটি বর্ণনায় (رواية) আছে: "যে ব্যক্তি এমন কোনো কাজ করল যার ব্যাপারে আমাদের নির্দেশ নেই, তবে তা প্রত্যাখ্যাত (رد)।"
(১)।
(২)
পরিভাষাগত অর্থে বিদআত:আল-ইতিসাম গ্রন্থে ইমাম শাতবি (মৃত্যু: ৭৯০ হিজরি) রহ. যেভাবে পরিভাষাগত অর্থে বিদআতের সংজ্ঞা প্রদান করেছেন তা হলো:
"দ্বীনের মাঝে এমন এক উদ্ভাবিত পদ্ধতি, যা অনুসরণের মাধ্যমে শরীয়ত অনুমোদিত পদ্ধতির অনুরূপ লক্ষ্য অর্জনের উদ্দেশ্য রাখা হয়।"
(৩)শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া (মৃত্যু: ৭২৮ হিজরি) রহ. বলেছেন:
"দ্বীনের মধ্যে বিদআত হলো এমন কিছু যা আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বিধান হিসেবে প্রদান করেননি; আর তা এমন বিষয় যার ব্যাপারে তিনি আবশ্যক (إيجاب) বা মুস্তাহাব (استحباب) কোনো নির্দেশই প্রদান করেননি।"
(৪)যদি আমরা জানি যে বিদআত হলো দ্বীনের মধ্যে একটি নতুন (محدث) এবং উদ্ভাবিত (مخترع) বিষয় যা শরীয়তের সদৃশ মনে করা হয় এবং যা আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বিধান হিসেবে দেননি, বরং যার মাধ্যমে পূর্বের কোনো নমুনা ব্যতীত কেবল আল্লাহর ইবাদত ও নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্য রাখা হয়; তবে আমরা এও জানি যে কুরআন পূর্বেই মানুষের অন্তরে সংরক্ষিত ছিল এবং তাদের কাছে থাকা ফলকসমূহেও তা সংকলিত ছিল। ফলে এতে দুই ধরণের সংকলন সমন্বিত হয়েছিল: অন্তরে সংকলন এবং পাতায় বা ফলকে সংকলন।
সুতরাং, এক স্থানে কুরআন সংকলন করা দ্বীনের মধ্যে নতুন (محدث) কোনো বিষয় বলে গণ্য হবে না। আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহুর কুরআন সংকলন করা কখনোই এর অন্তর্ভুক্ত ছিল না; যার প্রমাণ হলো সাহাবায়ে কিরামের (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) এটি উত্তম মনে করার ক্ষেত্রে ঐক্যমত (إجماع), এমনকি এতে তাঁদের অংশগ্রহণ। বরং বিষয়টি ছিল কেবল নবীজির যুগের প্রথম সংকলনের সময় বিক্ষিপ্তভাবে যা লেখা হয়েছিল, তা একত্রিত করা মাত্র।
হাফিজ (মৃত্যু: ৮৫২ হিজরি) ফাতহুল বারী গ্রন্থে বলেন:
"কিছু রাফেযি (روافض) বিভ্রান্তি ছড়াতে পারে যে, আবু বকর মাসহাফে যা করেছেন তার মাধ্যমে তিনি আপত্তির সম্মুখীন হতে পারেন। তারা বলে: রাসূল (আলাইহিস সালাতু ওয়াসাল্লাম) যা করেননি, তা তিনি কীভাবে করতে পারলেন?
এর উত্তর হলো: তিনি তা কেবল জায়েয ইজতিহাদ (الاجتهاد)-এর মাধ্যমেই করেছেন, যা আল্লাহ, তাঁর রাসূল, তাঁর কিতাব এবং মুসলিমদের নেতা ও সাধারণ জনগণের প্রতি তাঁর কল্যাণকামিতা থেকে উদ্ভূত হয়েছিল। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কুরআন লিপিবদ্ধ করার অনুমতি দিয়েছিলেন এবং তাঁর সাথে অন্য কিছু লিখতে নিষেধ করেছিলেন। ফলে আবু বকর কেবল যা পূর্বেই লিখিত ছিল তা-ই একত্রিত করার নির্দেশ দিয়েছিলেন।
এরপর তিনি বলেন: কোনো ন্যায়নিষ্ঠ ব্যক্তি যদি আবু বকরের এই কর্ম নিয়ে চিন্তা করেন, তবে তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করবেন যে এটি তাঁর শ্রেষ্ঠত্বের বহিঃপ্রকাশ এবং তাঁর মহান মর্যাদাকে (منقبة) উচ্চকিত করে। কারণ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর এই বাণী প্রমাণিত: 'যে ব্যক্তি কোনো উত্তম রীতি (سنة حسنة) প্রবর্তন করে, তবে সে তার সওয়াব পাবে এবং যারা এরপর সেই অনুযায়ী আমল করবে তাদের সওয়াবও পাবে'
(৫)(৬) ফলে কিয়ামত পর্যন্ত যারাই এটি পাঠ করবে, তাদের সমপরিমাণ সওয়াব তাঁর আমলনামায় যুক্ত হবে।"
(৭)এই সংকলনের ব্যাপারে সাহাবায়ে কিরামের (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) সম্মতির ক্ষেত্রে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য উক্তি হলো আলী ইবনে আবি তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহুর বক্তব্য:
…"মাসহাফসমূহের (কুরআনের পাণ্ডুলিপি) ক্ষেত্রে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সওয়াবের অধিকারী হলেন আবু বকর। আবু বকরই প্রথম ব্যক্তি যিনি দুই মলাটের মাঝে কুরআন সংকলন করেছেন।"
(৮)আল-বাকিল্লানি (মৃত্যু: ৪০২ হিজরি) রহ. আবু বকরের এই কর্মের স্বপক্ষে বেশ কিছু দিক উল্লেখ করেছেন, যার মধ্যে পাঁচটি অত্যন্ত চমৎকার:
প্রথমত: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কোনো একটি কল্যাণের (مصلحة) কারণে তা ছেড়ে দিয়েছিলেন, আর আবু বকর তা প্রয়োজনের তাগিদে করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ৬৭)
দালাইলুত তাওফীক লিআসাহি তারীক লিজামইস সিদ্দিক
(পৃষ্ঠা: ১১২)
الثاني: أن الله أخبر أنه في الصحف الأولى، وأنه عند محمد صلى الله عليه وسلم في مثلها بقوله: (يتلوا صحفًا مطهرة فيها كتب قيمة) (البينة: 2 - 3)؛ فهذا اقتداء بالله وبرسوله.
الثالث: أنهم قصدوا بذلك تحقيق قول الله: (إنا نحن نزلنا الذكر وإنا له لحافظون) (الحجر: 9)؛ فقد كان عنده محفوظًا، وأخبرنا أن يحفظه بعد نزوله، ومن حِفظِه تيسير الصحابة- رضي الله عنهم لجمعه-، واتفاقهم على تقييده وضبطه.
الرابع: أن النبي-صلى الله عليه وسلم كان يكتُبه كَتَبَتُهُ بإملائه إياه عليهم، وهل يخفى على متصور معنى صحيحًا في قلبه أن ذلك كان تنبيهًا على كتبه وضبطه بالتقييد في الصحف، ولو كان ما ضمنه الله من حفظه لا عمل للأمة فيه لم يكتبه رسول الله-صلى الله عليه وسلم-بعد إخبار الله له بضمان حفظه، ولكن علم أن حفظه من الله بحفظنا وتيسيره ذلك لنا وتعليمه لكتابته وضبطه في الصحف بيننا.
الخامس: أنه ثبت: " أن النبي-صلى الله عليه وسلم نهى عن السفر بالقرآن إلى أرض العدو "
(1)؛ وهذا تنبيه على أنه بين الأمة مكتوب مستصحب في الأسفار.
قال أبو بكر بن العربي (ت: 543 هـ) رحمه الله: في أحكام القرآن هذا من أبين الوجوه عند النظار".
(2)وقال الباقلاني (ت: 402 هـ) رحمه الله أيضًا:
وقد فهم عمر أن ترك النبي-صلى الله عليه وسلم جمعه لا دلالة فيه على المنع، ورجع أبو بكر لما رأى وجه الإصابة في ذلك
…(3)كلام الباقلاني آنفًا كلام نفيس فيه من الدلائل الواضحات والحجج البينات الدامغات ما يُرُدُّ به كلُ الشبهات الواردات. والحمد لله رب الأرض والسموات.
وقال الشاطبي (ت 790 هـ) رحمه الله في الموافقات:
وحاصل الأمر أن جمع المصحف كان مسكوتًا عنه في زمانه- صلى الله عليه وسلم.
(4)والصحابة- رضي الله عنهم خير هذه الأمة وأكثرها تعظيمًا لله ولدينه ولشرعه وأبعدها من الابتداع والإحداث في دينه الله ما ليس منه.
قال شيخ الإسلام ابن تيمية (ت: 728 هـ) رحمه الله:
"
… فهكذا كان الصحابة ومن سلك سبيلهم من التابعين لهم بإحسان وأئمة المسلمين، فلهذا لم يكن أحد منهم يعارض النصوص بمعقوله، ولا يؤسس دينًا غير ما جاء به الرسول، وإذا أراد معرفة شيء من الدين والكلام فيه نظر فيما قاله الله والرسول، فمنه يتعلم وبه يتكلم، وفيه ينظر ويتفكر، وبه يستنير فهذا أصل أهل السنة".
(5)ومشاركة جمعٍ غفيرٍ من الصحابة- رضي الله عنهم في هذا الجمع يُعد إجماعًا سكوتيًا لأنه ليس له أي معارض منهم أبدًا، وذلك وحده كاف في حسم القضية، لأنهم يستحيل اجتماعهم- رضي الله عنهم على ضلالة أبدًا.
والله تعالى قد أجار هذه الأمة من أن تجْتَمِع عَلَى ضَلالَة، ولقد أجمع أهل العلم على ذلك وأن هذه العصمة باقية إلى قيام الساعة.
ولقد صحت السنة الثابتة عن المعصوم-صلى الله عليه وسلم بذلك، فقد ثبت من حديث كَعْبِ
--------------------------------------------
দ্বিতীয়: আল্লাহ সংবাদ দিয়েছেন যে, এটি পূর্ববর্তী সহীফাসমূহে ছিল এবং তা মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকটও অনুরূপ সহীফায় ছিল তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে: (তিনি পবিত্র সহীফাসমূহ তিলাওয়াত করেন, যাতে রয়েছে মূল্যবান কিতাবসমূহ) (আল-বাইয়্যিনাহ: ২-৩); সুতরাং এটি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অনুসরণ।
তৃতীয়: তাঁরা এর মাধ্যমে আল্লাহর এই বাণীর বাস্তবতা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্য পোষণ করেছিলেন: (আমিই জিকির অবতীর্ণ করেছি এবং আমিই তার সংরক্ষণকারী) (আল-হিজর: ৯); নিশ্চয়ই তা তাঁর নিকট সংরক্ষিত ছিল এবং তিনি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যে, অবতীর্ণ হওয়ার পর তিনি তা সংরক্ষণ করবেন। আর তাঁর সংরক্ষণেরই অংশ হলো সাহাবীগণ (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)-এর জন্য তা সংকলন করা সহজ করে দেওয়া এবং তা লিপিবদ্ধ ও সুসংবদ্ধ করার ব্যাপারে তাঁদের একমত হওয়া।
চতুর্থ: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর লেখকদের মাধ্যমে তাঁদের প্রতি শ্রুতলিপি প্রদানের মাধ্যমে এটি লিখাতেন। যার হৃদয়ে সঠিক অর্থ বিদ্যমান, তার কাছে কি এটি অস্পষ্ট থাকতে পারে যে, এটি সহীফাসমূহে লিপিবদ্ধ ও সুসংবদ্ধকরণের মাধ্যমে সংরক্ষণের প্রতি একটি নির্দেশনা ছিল? আল্লাহ তাআলা তাঁর সংরক্ষণের দায়িত্ব নেওয়ার পর যদি উম্মাহর এতে কোনো করণীয় না থাকত, তবে আল্লাহ কর্তৃক সংরক্ষণের নিশ্চয়তা প্রদানের সংবাদের পর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তা লিখাতেন না। কিন্তু তিনি জানতেন যে, আল্লাহর পক্ষ থেকে এর সংরক্ষণ সম্পন্ন হবে আমাদের সংরক্ষণের মাধ্যমে, আমাদের জন্য তা সহজ করে দেওয়ার মাধ্যমে এবং আমাদের মাঝে সহীফাসমূহে তা লিখন ও সুসংবদ্ধ করার পদ্ধতি শিখিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে।
পঞ্চম: এটি প্রমাণিত (ثبت) হয়েছে যে: "নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) শত্রু ভূখণ্ডে কুরআন নিয়ে সফর করতে নিষেধ করেছেন"
(১); এটি এই বিষয়ের প্রতি ইঙ্গিত যে, এটি উম্মাহর মাঝে লিখিত আকারে ছিল যা সফরে সাথে রাখা হতো।
আবু বকর ইবনুল আরাবি (মৃত: ৫৪৩ হি.) রাহিমাহুল্লাহ 'আহকামুল কুরআন' গ্রন্থে বলেন: "গবেষকদের নিকট এটি অন্যতম সুস্পষ্ট দিক।"
(২)আল-বাকিল্লানি (মৃত: ৪০২ হি.) রাহিমাহুল্লাহ আরও বলেন:
উমর (রা.) বুঝতে পেরেছিলেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সংকলন বর্জন করার মধ্যে এর নিষিদ্ধতার কোনো প্রমাণ নেই। আর আবু বকর (রা.) যখন এতে সঠিক দিকটি দেখতে পেলেন, তখন তিনি (উমরের মতে) ফিরে এলেন
…(৩)আল-বাকিল্লানির উপরোক্ত কথাগুলো অত্যন্ত মূল্যবান, যাতে রয়েছে সুস্পষ্ট দলিল ও অকাট্য প্রমাণাদি যার মাধ্যমে আগত সকল সংশয় (شبهات) নিরসন করা সম্ভব। আর সকল প্রশংসা জমিন ও আসমানসমূহের রব আল্লাহর জন্য।
আশ-শাতিবি (মৃত: ৭৯০ হি.) রাহিমাহুল্লাহ 'আল-মুয়াফাকাত' গ্রন্থে বলেন:
সারকথা হলো, মুসহাফ সংকলনের বিষয়টি তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যুগে উহ্য বা নিরব সম্মতির (مسكوت عنه) পর্যায়ে ছিল।
(৪)সাহাবীগণ (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) এই উম্মতের শ্রেষ্ঠ মানুষ এবং আল্লাহ, তাঁর দ্বীন ও শরীয়তের প্রতি সর্বাধিক সম্মান প্রদর্শনকারী এবং আল্লাহর দ্বীনের মধ্যে যা অন্তর্ভুক্ত নয় এমন নব উদ্ভাবন ও বিদআত হতে সর্বাপেক্ষা দূরে অবস্থানকারী।
শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (মৃত: ৭২৮ হি.) রাহিমাহুল্লাহ বলেন:
"
… সাহাবীগণ এবং যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের পথ অনুসরণ করেছেন এমন তাবেঈগণ ও মুসলিম ইমামগণ এভাবেই ছিলেন। এই কারণেই তাঁদের কেউ নস (النصوص) বা দলিলের বিপরীতে নিজের যুক্তি পেশ করতেন না এবং রাসূল (সা.) যা নিয়ে এসেছেন তা ব্যতীত অন্য কোনো কিছুর উপর দ্বীনের ভিত্তি স্থাপন করতেন না। যখন তাঁরা দ্বীনের কোনো বিষয় জানতে বা সে বিষয়ে কথা বলতে চাইতেন, তখন আল্লাহ ও তাঁর রাসূল যা বলেছেন সেদিকে লক্ষ্য করতেন। সেখান থেকেই তাঁরা শিক্ষা নিতেন, তার আলোকেই কথা বলতেন, সে বিষয়ে চিন্তা-ভাবনা করতেন এবং তার মাধ্যমে আলো গ্রহণ করতেন। এটাই হলো আহলে সুন্নাতের মূলনীতি।"
(৫)এই সংকলন কার্যে সাহাবীগণের (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) একটি বিশাল জামাতের অংশগ্রহণ একটি মৌন ইজমা (إجماع سكوتي) হিসেবে গণ্য হয়, কারণ তাঁদের পক্ষ থেকে এর কোনো বিরোধিতাই ছিল না। আর বিষয়টি মীমাংসা করার জন্য এটিই যথেষ্ট, কারণ তাঁদের ভ্রষ্টতার (ضلالة) উপর একমত হওয়া অসম্ভব।
আল্লাহ তাআলা এই উম্মতকে ভ্রষ্টতার (ضلالة) উপর ঐক্যবদ্ধ হওয়া থেকে সুরক্ষা দান করেছেন। উলামায়ে কিরাম এ বিষয়ে একমত (أجمع) হয়েছেন যে, এই সুরক্ষা কিয়ামত পর্যন্ত বহাল থাকবে।
মাসূম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে এ সংক্রান্ত সুসাব্যস্ত সুন্নাহ বিশুদ্ধভাবে (صحت) প্রমাণিত হয়েছে। কাবের হাদিস হতে সাব্যস্ত (ثبت) হয়েছে যে—
--------------------------------------------
(খণ্ড: ৬৭)
দালাইলুত তাওফীক লিআসাহি তারীক লিজামইস সিদ্দিক
(পৃষ্ঠা: ১১৩)
بْنِ عَاصِمٍ (ت: 18 هـ) رضي الله عنه (أنه) قَالَ:
سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم-يَقُولُ: "إِنَّ اللَّهَ تَعَالَى قَدْ أَجَارَ لِي عَلَى أُمَّتِي مِنْ ثَلاثٍ لا يَجُوعُوا، وَلا يَجْتَمِعُوا عَلَى ضَلالَةٍ، وَلا يستباح بيضة المسلمين".
(1)ومن حديث ابن عمر (ت: 73 هـ) رضي الله عنهما:
قال: قال رسول الله- صلى الله عليه وسلم: " إن الله تعالى لا يجمع أمتي على ضلالة ويد الله على الجماعة ").
(2)وعَنْ يُسَيْرِ بْنِ عَمْرٍو قَالَ:
سَمِعْتُ ابن مَسْعُودٍ-رضي الله عنه يَقُولُ: "عَلَيْكُمْ بِالْجَمَاعَةِ فَإِنَّ اللَّهَ لا يَجْمَعُ أُمَّةَ مُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم-على ضلالة".
(3) وهذا لاشك له حكم المرفوع، بل هو موافق له تمامًا.
وعصمة هذه الأمَّة المرحومة إنما هي عصمة عامة تمنعهم من الاجتماعِ على ضلالة؛ أي: إنهم لا يجتمعون على أمرٍ فيه ضلال واضح وبين مخالفٍ للسنَّة يقودُهم إلى الهلكة والضلالة والعمه.
المبحث الثالث: أهم بواعث جمع أبي بكر-رضي الله عنه-
وكان من أهم بواعث هذا الجمع وأسبابه ما يلي:
1 - إن من أهم البواعث التي دفعت الصحابة-رضي الله عنهم لجمع القرآن هو
انقطاع الوحي من السماء بموت النبي- صلى الله عليه وسلم ذاك المصاب العظيم والحدث الجلل الكبير والذي يُخشى على القرآن الضياع بسببه.
2 - ومن أبرزها كذلك تحري القتل في قراء القرآن وحفاظه يوم اليمامة، ويُخشى بقتلهم ذهاب كتاب ربهم، وهم مع ذلك أيضًا معرضون للتفرق والانتشار في الأمصار للجهاد في سبيل الله، وللدعوة إلى الإسلام ونشره في أرجاء المعمورة، ولتعليم الناس أمر دينهم، لأنهم أمة بلاغ وأمة دعوة وجهاد، لا أمة نوم ورقاد.
ولذا كان من قول عمر لأبي بكر- رضي الله عنهما:
"إن القتل قد استحرّ يوم اليمامة بقراء القرآن، وإني أخشى أن يستحرّ القتل بالقراء بالمواطن فيذهب كثير من القرآن". فذهاب بعض القراء قد يعني ذهاب الآخرين، فبهذا العمل أمكن تدارك الأمر منذ بدايته.
(4)"ولقد كانت معركة اليمامة معركة حامية الوطيس استشهد فيها كثير من قراء الصحابة وحفظتهم للقرآن ينتهي عددهم إلى السبعين وأنهاه بعضهم إلى خمسمائة من أجلهم سالم مولى أبي حذيفة. "
(5) فتم "
… تسجيل القرآن وتقييده بالكتابة مجموعًا مرتبًا خشية ذهاب شيء منه بموت حملته وحفاظه".
(6)
الفصل الثانيخصائصه ومزاياهوفيه أربعة مباحث:
المبحث الأول: أبرز مزايا هذا الجمعالمبحث الثاني: بيان أن ترتيب الآيات في السور توقيفي
المبحث الثالث: عرض الأقوال الواردة في ترتيب السور مع الترجيح بينها
المبحث الرابع: بداية مخالفة ومعارضة الترتيب المصحفي بالترتيب النزولي وبيان مصدره
ويذكر الباحث المباحث الأربعة بشيء من الإيضاح والتفصيل على النحو التالي:
المبحث الأول: أبرز مزايا هذا الجمع
اتسم جمع القرآن الكريم في عهد أبي بكر الصديق- رضي الله عنه بخصائص ومزايا عدة، والتي كان من أبرزها ما يلي إجمالًا:
--------------------------------------------
ইবনে আসিম (মৃত: ১৮ হিজরি) রাদিয়াল্লাহু আনহু (থেকে বর্ণিত যে,) তিনি বলেন:
আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: "নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ আমার উম্মতের জন্য তিনটি বিষয় থেকে আশ্রয় দান করেছেন: তারা যেন (গণহারে) দুর্ভিক্ষে ধ্বংস না হয়, তারা যেন পথভ্রষ্টতার ওপর ঐক্যবদ্ধ না হয় এবং তাদের রাষ্ট্রীয় অস্তিত্ব (নিরাপত্তা) যেন সম্পূর্ণভাবে লুণ্ঠিত না হয়।"
(১)এবং ইবনে উমর (মৃত: ৭৩ হিজরি) রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বর্ণিত হাদিসে রয়েছে:
তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা আমার উম্মতকে পথভ্রষ্টতার ওপর একত্রিত করবেন না এবং জামাতের (দলের) ওপর আল্লাহর সাহায্য রয়েছে।"
(২)ইয়ুসাইর ইবনে আমর থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন:
আমি ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহুকে বলতে শুনেছি: "তোমরা জামাতকে (ঐক্যবদ্ধ থাকা) আঁকড়ে ধরো, কারণ আল্লাহ তাআলা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উম্মতকে পথভ্রষ্টতার ওপর একত্রিত করবেন না।"
(৩) নিঃসন্দেহে এটি মারফু (مرفوع) এর হুকুম রাখে, বরং এটি তার (মারফু হাদিসের) সাথে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ।
এই রহমতপ্রাপ্ত উম্মতের এই সুরক্ষা মূলত একটি সাধারণ সুরক্ষা যা তাদেরকে পথভ্রষ্টতার ওপর ঐক্যবদ্ধ হওয়া থেকে রক্ষা করে; অর্থাৎ তারা এমন কোনো বিষয়ের ওপর ঐক্যবদ্ধ হবে না যাতে স্পষ্ট ও প্রকাশ্য পথভ্রষ্টতা রয়েছে এবং যা সুন্নাহর পরিপন্থী, যা তাদেরকে ধ্বংস, বিচ্যুতি ও লক্ষ্যহীনতার দিকে নিয়ে যায়।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহুর কুরআন সংকলনের প্রধান কারণসমূহ-
এই সংকলনের অন্যতম প্রধান কারণ ও উদ্দেশ্যগুলো ছিল নিম্নরূপ:
১ - সাহাবায়ে কেরাম রাদিয়াল্লাহু আনহুমকে কুরআন সংকলনে উদ্বুদ্ধকারী প্রধান কারণগুলোর একটি হলো:
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওফাতের মাধ্যমে আসমান থেকে ওহীর ধারা বন্ধ হয়ে যাওয়া। এটি ছিল এক বিশাল বিপদ ও মহা ঘটনা, যার ফলে কুরআনের কিছু অংশ হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল।
২ - এর মধ্যে অন্যতম আরেকটি কারণ ছিল ইয়ামামার যুদ্ধের দিন বিপুল সংখ্যক ক্বারী ও হাফেজে কুরআন শাহাদাত বরণ করা। তাদের শাহাদাতের ফলে তাদের রবের কিতাব হারিয়ে যাওয়ার ভয় তৈরি হয়েছিল। এছাড়া তারা আল্লাহর পথে জিহাদের উদ্দেশ্যে, ইসলামের দাওয়াত ও তা বিশ্বজুড়ে প্রচারের উদ্দেশ্যে এবং মানুষকে দ্বীন শিক্ষা দেওয়ার জন্য বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ার অবস্থায় ছিলেন। কারণ তারা ছিল প্রচারকারী, দাওয়াত ও জিহাদের উম্মত; ঘুম ও অলসতার উম্মত নয়।
এ কারণেই আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহুর প্রতি উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুর উক্তি ছিল নিম্নরূপ:
"ইয়ামামার যুদ্ধের দিন ক্বারীদের শাহাদাত ব্যাপক রূপ নিয়েছে, আর আমি আশঙ্কা করছি যে বিভিন্ন স্থানে ক্বারীদের শাহাদাত এভাবে বৃদ্ধি পেতে থাকলে কুরআনের অনেক অংশ হারিয়ে যাবে।" সুতরাং কিছু ক্বারীর চলে যাওয়া মানে অন্যদেরও চলে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হওয়া। তাই এই কাজের মাধ্যমে বিষয়টিকে শুরুতেই মোকাবিলা করা সম্ভব হয়েছে।
(৪)"ইয়ামামার যুদ্ধ ছিল এক ভয়াবহ যুদ্ধ যেখানে অনেক সাহাবী ক্বারী ও হাফেজ শহীদ হয়েছিলেন, যাদের সংখ্যা সত্তর পর্যন্ত পৌঁছেছিল এবং কেউ কেউ পাঁচশত পর্যন্ত উল্লেখ করেছেন, যাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন আবু হুজাইফার মুক্তদাস সালিম।"
(৫) ফলে " ... কুরআনকে লিপিবদ্ধ করে এবং সুশৃঙ্খলভাবে সংকলিত করে সংরক্ষণ করা সম্পন্ন হয়, যাতে এর বাহক ও হাফেজদের মৃত্যুর কারণে এর কোনো অংশ হারিয়ে না যায়।"
(৬)
দ্বিতীয় অধ্যায়এর বৈশিষ্ট্য ও বিশেষত্বসমূহএতে চারটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম পরিচ্ছেদ: এই সংকলনের প্রধান বিশেষত্বসমূহদ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: সূরাসমূহে আয়াতের বিন্যাস যে তাওকিফি (তথা ওহী দ্বারা নির্ধারিত) তার বর্ণনা
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: সূরাসমূহের বিন্যাস সম্পর্কে বর্ণিত মতামতের উপস্থাপন ও সেগুলোর মধ্যে প্রাধান্যযোগ্য মত নিরূপণ
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: মুসহাফের বিন্যাসের বিপরীতে নাজিল হওয়ার ক্রম অনুসারে বিন্যাসের সূচনালগ্ন এবং এর উৎসের বর্ণনা
গবেষক নিম্নে উল্লিখিত চারটি পরিচ্ছেদ কিছুটা স্পষ্টীকরণ ও বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করছেন:
প্রথম পরিচ্ছেদ: এই সংকলনের প্রধান বিশেষত্বসমূহ
আবু বকর সিদ্দিক রাদিয়াল্লাহু আনহুর যুগে কুরআন সংকলন বেশ কিছু বৈশিষ্ট্য ও বিশেষত্ব দ্বারা চিহ্নিত ছিল, যার মধ্যে প্রধানগুলো সংক্ষেপে নিচে দেওয়া হলো:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ৬৭)
দালাইলুত তাওফীক লিআসাহি তারীক লিজামইস সিদ্দিক
(পৃষ্ঠা: ১১৪)
أولها: دقته وسلامته
ثانيها: استيفائه لشروط الجمع المتفق عليها وموافقته العرضة الأخيرة
أبرز سمات وخصائص ومزايا جمع أبي بكر-رضي الله عنه تفصيلًا:
أولها: دقته وسلامته
فقد كان التحري والتدقيق والتثبت والاستيثاق لقرآنية كل ما يُجمع من سور القرآن وآياته وثبوت تواتره ومن الاقتصار على ما لم تنسخ تلاوته فحسب، وتجريده عن كل ما ليس بقرآن،
هو أبرز خصائص هذ الجمع، وذلك بإجماع الصحابة- رضي الله عنهم ..
ثانيها: استيفائه لشروط الجمع المتفق عليها وموافقته العرضة الأخيرة
إن كل ما استوفت فيه شروط الجمع المتفق عليها فإنه يضم إلى صحيفة واحدة في مكان واحد وهو ما عِرِف بعد ذلك بالمصحف، وترتب آياته وسوره ترتيبًا مصحفيًا لا ترتيبًا نزوليًا، وذلك وفق العرضة الأخيرة التي أُشِيعَ أن زيد بن ثابت
(1) رضي الله عنه قد شهدها -، وذلك الجمع هو الموافق لما هو مثبت في اللوح المحفوظ.
ثبت عند البخاري وغيره عن عائشة عن فاطمة-رضي الله عنهما أنها قالت:
"أسَرَّ إليَّ النبيُّ صلى الله عليه وسلم أنَّ جبريلَ كانَ يعارضُنِي بالقرآنِ كلَّ سنةٍ وأنهُ عارضَنِي العامَ مرَّتينِ ولا أراهُ إلا حضَرَ أجَلِي".
(2)(3)وفي ذلك يقول أبو عبد الرحمن السُلميّ (ت: 74) رحمه الله:
قرأ زيد بن ثابت على رَسُول اللهِ صلى الله عليه وسلم في العام الذي توفَّاه الله فيه مرتين، وإنَّما سمِّيَت هذه القراءة قراءة زيد بن ثابت؛ لأنه كتبها لرَسُول اللهِ صلى الله عليه وسلم، وقرأها عليه وشهد العرضة الأخيرة، وكان يقرئ الناس بِها حتى مات، ولذلك اعتمده أبو بكر وعمر في جمعه، وولاه عثمان كتبة المصاحف.
(4)وفي نحو ذلك يقول أبو عمرو الداني-رحمه الله في الأرجوزة المنبهة:
(5)وكان يعرض على جبريل
… في كل عام جملة التنزيل
فكان يقريه في كل عرضة
… بواحد من الحروف السبعة
(6)حتى إذا كان بقرب الحين
… عرضه عليه مرتين
(7)ويقول القسطلاني (ت: 923 هـ) رحمه الله:
"وقد كان القرآن كله مكتوبًا في عهده-صلى الله عليه وسلم، لكن غير مجموع في موضع واحد، ولا مرتب السور".
(8)وذلك لأن الدواعي إلى عدم جمعه في موضع واحد مفتقرة إلى ذلك، ولا توجد ضرورة ملحة إليه في ذلك الوقت.
المبحث الثاني: بيان أن ترتيب الآيات في السور توقيفيوترتيب الآيات في السور أمر توقيفي لا مجال للاجتهاد فيه البتة:
قال الزركشي (ت: 794 هـ) رحمه الله:
فأما الآيات في كل سورة، ووضع البسملة في أوائلها، فترتيبها توقيفي بلا شك، ولا خلاف فيه، ولهذا لا يجوز تعكيسها.
(9)وقال السيوطي (ت: 911 هـ) رحمه الله:
الإجماع والنصوص المترادفة على أن ترتيب الآيات
--------------------------------------------
প্রথমত: এর নির্ভুলতা ও নিখুঁত হওয়া।
দ্বিতীয়ত: সংকলনের সর্বসম্মত শর্তাবলি পূরণ করা এবং শেষ আবৃত্তির (العرضة الأخيرة) সাথে সঙ্গতিপূর্ণ হওয়া।
আবু বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর সংকলনের প্রধান বৈশিষ্ট্য ও গুণাবলির বিস্তারিত বিবরণ:
প্রথমত: এর নির্ভুলতা ও নিখুঁত হওয়া।
কুরআনের সংগৃহীত প্রতিটি সুরা ও আয়াতের কুরআনিক হওয়ার ব্যাপারে গভীর অনুসন্ধান, সূক্ষ্ম যাচাই-বাছাই, প্রমাণীকরণ এবং এর নিরবচ্ছিন্নতা (تواتر) নিশ্চিত করা এবং শুধুমাত্র সেই অংশগুলো গ্রহণ করা যার তিলাওয়াত রহিত (منسوخ) হয়ে যায়নি, এবং কুরআন নয় এমন সবকিছু থেকে একে মুক্ত রাখা ছিল এই সংকলনের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য। আর এটি সাহাবায়ে কেরাম (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)-এর সর্বসম্মত মত (إجماع) দ্বারা স্বীকৃত।
দ্বিতীয়ত: সংকলনের সর্বসম্মত শর্তাবলি পূরণ করা এবং শেষ আবৃত্তির (العرضة الأخيرة) সাথে সঙ্গতিপূর্ণ হওয়া।
সংকলনের যে সর্বসম্মত শর্তাবলি ছিল, তার সবকটি পূরণ করে একটি স্থানে একটি পাণ্ডুলিপিতে সবকিছু একত্রিত করা হয়েছিল, যা পরবর্তীতে 'মুসহাফ' নামে পরিচিতি পায়। এর আয়াত ও সুরাগুলো নাজিল হওয়ার ক্রম অনুসারে নয়, বরং মুসহাফের বর্তমান ক্রম অনুসারে সাজানো হয়েছিল। এটি ছিল সেই শেষ আবৃত্তি (العرضة الأخيرة) অনুযায়ী, যাতে জায়েদ বিন সাবিত
(১) (রাদিয়াল্লাহু আনহু) উপস্থিত ছিলেন বলে প্রসিদ্ধ রয়েছে। আর এই সংকলনটি লাওহে মাহফুজে সংরক্ষিত পাঠের অবিকল অনুরূপ ছিল।
বুখারি ও অন্যান্য গ্রন্থে আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে ফাতেমা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) সূত্রে সাব্যস্ত হয়েছে যে তিনি বলেছেন:
"নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) গোপনে আমাকে বললেন যে, জিবরাঈল প্রতি বছর আমার সাথে কুরআনের পুনরাবৃত্তি করতেন, কিন্তু এ বছর তিনি তা দুবার করেছেন। আমি মনে করছি আমার বিদায়ের সময় ঘনিয়ে এসেছে।"
(২)(৩)এই প্রসঙ্গে আবু আবদুর রহমান আল-সুলামি (মৃত্যু: ৭৪ হিজরি) (রহিমাহুল্লাহ) বলেন:
জায়েদ বিন সাবিত রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ইন্তেকালের বছরে তাঁর কাছে দুবার কুরআন তিলাওয়াত করেছিলেন। এই কিরাতকে 'জায়েদ বিন সাবিতের কিরাত' বলা হয় কারণ তিনি তা রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সামনে লিখেছিলেন, তাঁকে পড়ে শুনিয়েছিলেন এবং শেষ আবৃত্তিতে (العرضة الأخيرة) উপস্থিত ছিলেন। তিনি আমৃত্যু মানুষকে এই কিরাত অনুযায়ী শিক্ষা দিতেন। এজন্যই আবু বকর ও উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) সংকলনের কাজে তাঁর ওপর আস্থা রেখেছিলেন এবং উসমান (রাদিয়াল্লাহু আনহু) তাঁকে মুসহাফসমূহ লিখার দায়িত্ব প্রদান করেছিলেন।
(৪)অনুরূপ বিষয়ে আবু আমর আদ-দানি (রহিমাহুল্লাহ) তার 'আল-আরজুযাতুল মুনাব্বিহা' গ্রন্থে বলেন:
(৫)তিনি জিবরাঈলের কাছে পেশ করতেন
… প্রতি বছর অবতীর্ণ সমস্ত অংশ।
তিনি প্রতিবার তাকে তিলাওয়াত করে শোনাতেন
… সাতটি অক্ষরের (الأحرف السبعة)
(৬) যেকোনো একটিতে।
অবশেষে যখন বিদায়কাল ঘনিয়ে এলো
… তখন তিনি তাঁর কাছে দুবার তা পেশ করলেন।
(৭)কাসতালানি (মৃত্যু: ৯২৩ হিজরি) (রহিমাহুল্লাহ) বলেন:
"কুরআনের পুরোটাই রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর যুগে লিখিত ছিল, কিন্তু এক স্থানে সংকলিত এবং সুরাগুলো ক্রমবিন্যস্ত ছিল না।"
(৮)কেননা তখন এক স্থানে সংকলন করার প্রয়োজনীয়তার অভাব ছিল এবং সেই সময়ে এর কোনো জরুরি আবশ্যকতাও বিদ্যমান ছিল ছিল না।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: সুরার ভেতরে আয়াতের বিন্যাস আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত (তওকিফি) হওয়ার বর্ণনাসুরার ভেতরে আয়াতের বিন্যাস একটি তওকিফি (توقيفي) বিষয়, যাতে ইজতিহাদের (اجتهاد) কোনো অবকাশ নেই:
যাররাকাশি (মৃত্যু: ৭৯৪ হিজরি) (রহিমাহুল্লাহ) বলেন:
প্রতিটি সুরার আয়াতসমূহ এবং তাদের শুরুতে বিসমিল্লাহ স্থাপন করার বিন্যাস নিঃসন্দেহে তওকিফি (توقيفي) এবং এ বিষয়ে কোনো মতভেদ নেই। একারণেই এর ক্রম পরিবর্তন করা জায়েজ নয়।
(৯)সুয়ূতি (মৃত্যু: ৯১১ হিজরি) (রহিমাহুল্লাহ) বলেন:
আয়াতের বিন্যাস যে তওকিফি (توقيفي) সে বিষয়ে ইজমা বা সর্বসম্মত মত (إجماع) এবং অসংখ্য বর্ণনা বিদ্যমান রয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ৬৭)
দালাইলুত তাওফীক লিআসাহি তারীক লিজামইস সিদ্দিক
(পৃষ্ঠা: ১১৫)
توقيفي لا شبهة في ذلك، وأما الإجماع فنقله غير واحد منهم الزركشي في البرهان، وأبو جعفر بن الزبير في مناسباته وعبارته: ترتيب الآيات في سورها واقع بتوقيفه صلى الله عليه وسلم وأمره من غير خلاف في هذا بين المسلمين.
(1)ويقول السيوطي (ت: 911 هـ) - أيضًا-رحمه الله:
"والذي نذهب إليه أن جميع القرآن الذي أنزله الله وأمر بإثبات رسمه، ولم ينسخه، ولا رفع تلاوته بعد نزوله، هو الذي بين الدفتين، الذي حواه مصحف عثمان، وأنه لم ينقص منه شيئًا، ولا زيد فيه، وأن ترتيبه، ونظمه ثابت على ما نظمه الله تعالى، ورتبه عليه رسوله صلى الله عليه وسلم من آي السور، لم يقدم من ذلك مؤخر ولم يؤخر مقدم".
(2)وقال الزرقاني (ت: 1367 هـ) رحمه الله:
ولقد" انعقد إجماع العلماء على أن ترتيب الآيات في السورة كان بتوقيف من النبي صلى الله عليه وسلم-عن الله عز وجل، وأنه لا مَجال للرأي والاجتهاد فيه، ولم يُعْلَم في ذلك مُخالفٌ".
(3)وممن قال بالإجماع الذي حكاه السيوطي والزرقاني كذلك كل من:
1 - ابن قدامة المقدسي (ت: 620 هـ) حيث يقول- رحمه الله:
ترتيب الآيات واجب؛ لأن ترتيبها بالنص إجماعًا.
(4)2 - وأبو جعفر الغرناطي (ت: 708 هـ) حيث يقول- رحمه الله:
اعلم أولاً أن ترتيب الآيات في سورها وقع بتوقيفه وأمره-صلى الله عليه وسلم، من غير خلاف في هذا بين المسلمين.
(5)3 - والملا على القاري (ت: 1014 هـ) حيث يقول- رحمه الله:
ترتيب الآيات توقيفي، وعليه الإجماع.
(6)4 - وشهاب الدين النفراوي (ت: 1127 هـ) حيث يقول- رحمه الله:
ترتيب الآيات توقيفي اتفاقًا.
(7)وقد دل على ذلك أيضًا أدلة كثيرة من السنة الصحيحة الثابتة عن المعصوم صلى الله عليه وسلم وهي أكثر من أن تُحصى ونذكر منها على سبيل المثال لا الحصر ما يلي:
1 - منها ما أخرجه البخاري في صحيحه عَنْ ابْنِ أَبِي مُلَيْكَةَ قَالَ قَالَ ابْنُ الزُّبَيْرِ قُلْتُ لِعُثْمَانَ هَذِهِ الْآيَةُ الَّتِي فِي الْبَقَرَةِ (وَالَّذِينَ يُتَوَفَّوْنَ مِنْكُمْ وَيَذَرُونَ أَزْوَاجًا) إِلَى قَوْلِهِ (غَيْرَ إِخْرَاجٍ) (البقرة من آية: 240) قَدْ نَسَخَتْهَا الأُخْرَى فَلِمَ تَكْتُبُهَا قَالَ تَدَعُهَا يَا ابْنَ أَخِي لا أُغَيِّرُ شَيْئًا مِنْهُ مِنْ مَكَانِهِ.
(8)فردُ عثمانَ بن عفان على ابْن الزُّبَيْرِ يُفهم منه أنهم-رضي الله عنهم أجمعين- يعلمون أماكن ترتيب الآيات فتَرَكَهَا عثمان مكانها مثبتةً لأن القرينة تدل عليها، ولأنه هو الذي تعلموه وهو المعمول به لديهم.
2 - ومنها ما رواه مسلم في صحيحه عن عمر قال ما سألت النبي صلى الله عليه وسلم عن شيء أكثر مما سألته عن الكلالة حتى طعن بإصبعه في صدري وقال ألا تكفيك آية الصّيْف التي في آخر سورة النساء.
(9)فآية الكلالة مكانها في نهاية سورة النساء وخواتيمها، ولما سأل عمرُ رضي الله عنه رسولَ الله صلى الله عليه وسلم أرشده إلى مكانها في آخر السورة.
ومن هنا يتبين لنا أمران:
الأمر الأول: أن آيات السورة مرتبة ومتتابعة من أولها وحتى آخرها.
والأمر الثاني: أن ترتيب الآيات كان مما يُعَلِّمهُ النبيُ صلى الله عليه وسلم أصحابهَ الكرام رضي الله عنهم.
--------------------------------------------
এটি ওহি-নির্ধারিত (توقيفي), এতে কোনো সন্দেহ নেই। আর ঐক্যমত্যের (إجماع) বিষয়টি তাদের মধ্য থেকে একাধিক ব্যক্তি বর্ণনা করেছেন, যাদের মধ্যে আল-বুরহান গ্রন্থে যারকাশি এবং তার ‘মুনাসাবাত’ গ্রন্থে আবু জাফর ইবনুল জুবাইর রয়েছেন। তার শব্দগুলো হলো: সুরাসমূহে আয়াতের বিন্যাস রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওহি-নির্ধারিত (توقيفي) নির্দেশনায় সম্পন্ন হয়েছে, এ বিষয়ে মুসলিমদের মধ্যে কোনো মতভেদ নেই।
(১)আল-সুয়ুতি (মৃত্যু: ৯১১ হিজরি) -আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন- আরও বলেন:
"আমরা যে মতটি গ্রহণ করি তা হলো, সম্পূর্ণ কুরআন যা আল্লাহ অবতীর্ণ করেছেন এবং যার লিখনরীতি সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছেন, এবং যা তিনি রহিত করেননি কিংবা অবতীর্ণ হওয়ার পর যার তিলাওয়াত তুলে নেননি—তাহলো এই দুই মলাটের মধ্যবর্তী অংশ, যা উসমানের মুসহাফে সংকলিত হয়েছে। এতে কোনো কিছু কমানো হয়নি এবং বাড়ানোও হয়নি। এর বিন্যাস ও শৃঙ্খলা আল্লাহ তাআলা যেভাবে নির্ধারণ করেছেন এবং তাঁর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সুরাসমূহের আয়াত যেভাবে বিন্যস্ত করেছেন সেভাবেই সাব্যস্ত রয়েছে। এতে পরের অংশ আগে আনা হয়নি এবং আগের অংশ পরে নেওয়া হয়নি।"
(২)আল-জারকানি (মৃত্যু: ১৩৬৭ হিজরি) -আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন- বলেন:
"উলামাদের ঐক্যমত্য (إجماع) প্রতিষ্ঠিত হয়েছে যে, সুরার অভ্যন্তরে আয়াতের বিন্যাস ছিল মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওহি-নির্ধারিত (توقيفي) নির্দেশনার ভিত্তিতে। এতে ব্যক্তিগত মত (رأي) বা ইজতিহাদের (اجتهاد) কোনো অবকাশ নেই এবং এ বিষয়ে কোনো ভিন্নমতাবলম্বীর কথা জানা নেই।"
(৩)আল-সুয়ুতি ও আল-জারকানি যে ঐক্যমত্যের (إجماع) কথা বর্ণনা করেছেন, তাদের ন্যায় আরও যারা এটি বলেছেন তারা হলেন:
১ - ইবনে কুদামা আল-মাকদিসি (মৃত্যু: ৬২০ হিজরি), তিনি বলেন:
আয়াতের বিন্যাস রক্ষা করা ওয়াজিব বা আবশ্যক; কারণ ঐক্যমত্য (إجماع) অনুযায়ী এর বিন্যাস সুনির্দিষ্ট পাঠ (نص) দ্বারা প্রমাণিত।
(৪)২ - আবু জাফর আল-গারনাতি (মৃত্যু: ৭০৮ হিজরি), তিনি বলেন:
প্রথমে জেনে রাখুন যে, সুরাসমূহে আয়াতের বিন্যাস রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নির্দেশ ও ওহি-নির্ধারিত (توقيفي) পন্থায় হয়েছে, এ বিষয়ে মুসলিমদের মধ্যে কোনো মতভেদ নেই।
(৫)৩ - মোল্লা আলী কারী (মৃত্যু: ১০১৪ হিজরি), তিনি বলেন:
আয়াতের বিন্যাস ওহি-নির্ধারিত (توقيفي) এবং এর ওপর ঐক্যমত্য (إجماع) রয়েছে।
(৬)৪ - শিহাবুদ্দিন আল-নাফরাবি (মৃত্যু: ১১২৭ হিজরি), তিনি বলেন:
আয়াতের বিন্যাস সর্বসম্মতভাবে (اتفاقا) ওহি-নির্ধারিত (توقيفي)।
(৭)নিষ্পাপ রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত অসংখ্য বিশুদ্ধ (صحيح) সুন্নাহর দলিলও এর ওপর প্রমাণ পেশ করে, যা গণনা করা অসম্ভব। উদাহরণস্বরূপ কয়েকটি নিচে উল্লেখ করা হলো:
১ - ইমাম বুখারী তার সহিহ গ্রন্থে ইবনে আবি মুলাইকা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, ইবনুল জুবাইর বলেছেন: আমি উসমানকে বললাম, বাকারার এই আয়াতটি— (আর তোমাদের মধ্য থেকে যারা মৃত্যুবরণ করে এবং স্ত্রীদের রেখে যায়...) থেকে (বের করে না দিয়ে...) পর্যন্ত (সুরা বাকারা, আয়াত: ২৪০)—এটি তো অন্য আয়াত দ্বারা রহিত হয়ে গেছে, তবে কেন আপনি এটি লিখছেন? তিনি বললেন: হে ভাতিজা, এটি তার জায়গায় থাকতে দাও, আমি কুরআনের কোনো কিছুই তার নিজ স্থান থেকে পরিবর্তন করব না।
(৮)ইবনে জুবাইরের প্রতি উসমান ইবনে আফফানের এই উত্তর থেকে বোঝা যায় যে, তাঁরা (সাহাবীগণ) আয়াতের বিন্যাসের স্থান সম্পর্কে জানতেন। উসমান (রা.) সেটিকে তার নিজ স্থানেই বহাল রেখেছেন, কারণ প্রাসঙ্গিকতা সেটিই নির্দেশ করে এবং এটিই তাঁরা শিক্ষা করেছেন এবং তাঁদের নিকট এটিই কার্যকর ছিল।
২ - ইমাম মুসলিম তার সহিহ গ্রন্থে ওমরের সূত্রে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে ‘কালালাহ’ (পিতামাতা ও সন্তানহীন মৃত ব্যক্তির উত্তরাধিকার) সম্পর্কে যত বেশি জিজ্ঞাসা করেছি, অন্য কোনো বিষয়ে তত বেশি জিজ্ঞাসা করিনি। এমনকি তিনি তাঁর আঙুল দিয়ে আমার বুকে আঘাত করলেন এবং বললেন: "তোমার জন্য কি সুরা নিসার শেষে অবতীর্ণ গরমকালের আয়াতটিই যথেষ্ট নয়?"
(৯)কালালাহ সংক্রান্ত আয়াতের স্থান হলো সুরা নিসার একদম শেষ ভাগে। ওমর (রা.) যখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলেন, তখন তিনি তাঁকে সুরার শেষে এর অবস্থানের দিকে নির্দেশ করলেন।
এখান থেকে আমাদের কাছে দুটি বিষয় স্পষ্ট হয়:
প্রথমত: সুরার আয়াতসমূহ প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে বিন্যস্ত।
দ্বিতীয়ত: আয়াতের বিন্যাস এমন একটি বিষয় ছিল যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সম্মানিত সাহাবীগণকে শিক্ষা দিতেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ৬৭)
দালাইলুত তাওফীক লিআসাহি তারীক লিজামইস সিদ্দিক
(পৃষ্ঠা: ১১৬)
3 - ومنها ما رواه مسلم في صحيحه عن أبي الدرداء مرفوعًا من حفظ عشر آيات من أول الكهف عصم من الدجال وفي لفظ عنده من قرأ العشر الأواخر من سورة الكهف.
(1)فقوله: (من أول الكهف) وقوله: (العشر الأواخر) واضح الدلالة على ترتيب آيات السورة كما هو شأن آيات القرآن قاطبة.
وكذلك" قراءته صلى الله عليه وسلم للسور المختلفة بمشهد من الصحابة يدلّ على أن ترتيب آياتها توقيفي وما كان الصحابة ليرتبوا ترتيبًا سمعوا النبي- صلى الله عليه وسلم يقرأ على خلافة فبلغ ذلك مبلغ التواتر. "
(2)4 - ومنها ما ثبت عند البخاري من حديث عائشة رضي الله عنها، (أنها) قالت: سمع النبيُ صلى الله عليه وسلم رجلاً يقرأ في المسجد، فقال: "رحمه الله، لقد أَذْكَرَنِي كذا وكذا آية، أَسْقَطْتُهُنَّ من سورة كذا، وكذا"
(3).
فهذا الحديث وأضرابه مما يُستدل به على تعليمه صلى الله عليه وسلم أصحابه- رضوان الله عليهم- أماكن الآيات وترتيبها في السور وأنه أمر توقيفي لا محيد عنه ولا محيص.
وهناك أدلة كثيرة جدًا تقرر هذه المسألة، فسماع النبي صلى الله عليه وسلم للقرآن من أصحابه مرتب الآيات وإقراره صلى الله عليه وسلم لقراءتهم، وكذلك صلاته بهم على مدار مرحلة نزول القرآن في ثلاث وعشرين سنة وقد تكرر ذلك تكرارًا ومرارًا وهو معلوم في دواوين السنة، ففي الإشارة إليه غنية وكفاية.
ومن أراد زيادة فائدة في هذا الباب فليراجع فضائل قراءة بعض آيات من القرآن بعينها في مظانها من كتب السنة كفضل فاتحة الكتاب وهي أكثر من أن تحصى، وكفضائل الآيتين الآخرتين من سورة البقرة
(4)، وكفضل العشر آيات الأُول من سورة الكهف
(5) وكذلك ما واظب رسول الله صلى الله عليه وسلم على قراءته لبعض سور القرآن ولم يغير في آياتها أي شيء، لا بتقديم ولا بتأخير، وذلك كقراءته لسور البقرة، والنساء، وآل عمران، وقراءته، لسورة "ق" في العيد.
(6) وكذلك من فوق المنبر وفي الصلاة كذلك، كما كان يقرأ بـ"المنافقون" في الجمعة
(7).
والنبي صلى الله عليه وسلم مع مواظبته على قراءة هذه السور والآيات فقد واظب صلى الله عليه وسلم كذلك على ترتيبها، فإنه لا يُعْلَم عنه صلى الله عليه وسلم أنه غير شيئًا منها البتة.
ولا ريب أن فعله صلى الله عليه وسلم هذا من أوضح البراهين على أن هذا الترتيب هو ما وافق ترتيبه في اللوح المحفوظ والذي تلقاه عن جبريل-عليه السلام.
أدلة أخرى تؤكد على أن ترتيب الآيات توقيفي:
ومما يؤكد على أن ترتيب الآيات ترتيب توقيفي كذلك ويبرهن عليه نزول عدد من سور القرآن جملة ودفعة واحدة.
وفي تقسيم نزول سور القرآن يذكر السيوطي النوع الثاني، وهو النوع الذي نزل جملة واحدة فيقول- رحمه الله:
"
… وَمِنْ أَمْثِلَةِ الثَّانِي: - ما نزل جملة واحدة - سُورَةُ الْفَاتِحَةِ وَالْإِخْلَاصِ وَالْكَوْثَرِ وَتَبَّتْ وَلَمْ يَكُنْ وَالنَّصْرُ وَالْمُعَوِّذَتَانِ نَزَلَتَا مَعًا. وَمِنْهُ سُورَةُ الصَّفِّ.
(8)ونسوق بعض الأدلة الصحيحة الثابتة في نزول بعض السور جملة واحدة،
--------------------------------------------
৩ - এর মধ্যে অন্যতম হলো যা ইমাম মুসলিম তাঁর সহিহ গ্রন্থে আবু দারদা থেকে মারফু (مرفوع) হিসেবে বর্ণনা করেছেন: "যে ব্যক্তি সুরা আল-কাহাফের প্রথম দশটি আয়াত মুখস্থ করবে, সে দাজ্জাল থেকে নিরাপদ থাকবে।" তাঁর অপর এক বর্ণনায় রয়েছে: "যে ব্যক্তি সুরা আল-কাহাফের শেষ দশটি আয়াত পাঠ করবে।"
(১)সুতরাং তাঁর বাণী: "সুরা কাহাফের প্রথম অংশ থেকে" এবং "শেষ দশটি আয়াত" শব্দগুলো সুরার আয়াতসমূহের বিন্যাস বা ক্রমের ওপর সুস্পষ্ট প্রমাণ বহন করে, যেমনটি কুরআনের সকল আয়াতের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।
একইভাবে সাহাবীগণের উপস্থিতিতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বিভিন্ন সুরা তিলাওয়াত করা একথার প্রমাণ দেয় যে, আয়াতের এই বিন্যাস তাওকিফি (توقيفي) [অর্থাৎ আল্লাহ ও তাঁর রাসূল কর্তৃক নির্ধারিত]। সাহাবীগণ কখনও এমন কোনো বিন্যাস বা ক্রম অনুসরণ করতেন না যা তাঁরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এর বিপরীতে তিলাওয়াত করতে শুনেছেন। ফলে বিষয়টি মুতাওয়াতির (متواتر) পর্যায়ে পৌঁছেছে।
(২)৪ - এর মধ্যে আরও রয়েছে যা ইমাম বুখারির নিকট আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বর্ণিত হাদিস দ্বারা প্রমাণিত, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদে এক ব্যক্তিকে তিলাওয়াত করতে শুনলেন এবং বললেন: "আল্লাহ তাকে রহম করুন, সে আমাকে অমুক অমুক আয়াত স্মরণ করিয়ে দিয়েছে যা আমি অমুক অমুক সুরা থেকে বাদ দিয়েছিলাম।"
(৩).
এই হাদিস এবং এর সমপর্যায়ের বর্ণনাগুলো দ্বারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পক্ষ থেকে তাঁর সাহাবীগণকে—রাদিয়াল্লাহু আনহুম—আয়াতসমূহের স্থান এবং সুরায় সেগুলোর বিন্যাস শিক্ষা দেওয়ার বিষয়টি প্রমাণিত হয়। আর এটি এমন এক তাওকিফি (توقيفي) বিষয় যা থেকে বিচ্যুত হওয়ার বা পাশ কাটিয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
এই বিষয়টি সাব্যস্ত করার জন্য আরও বহু দলিল বিদ্যমান। সাহাবীগণের নিকট থেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুবিন্যস্ত আয়াতসহ কুরআন শ্রবণ এবং তাঁদের তিলাওয়াতের প্রতি তাঁর মৌনসম্মতি প্রদান—এর অন্তর্ভুক্ত। একইভাবে দীর্ঘ তেইশ বছরের ওহি অবতরণকালে তাঁদের নিয়ে সালাত আদায় করা, যা বারবার সংঘটিত হয়েছে এবং সুন্নাহর সংকলনসমূহে সুপরিচিত; এর প্রতি এই ইঙ্গিতটুকুই যথেষ্ট।
আর যারা এই বিষয়ে অতিরিক্ত ফায়দা অর্জন করতে চান, তারা সুন্নাহর কিতাবসমূহে নির্দিষ্ট কিছু আয়াতের তিলাওয়াতের ফজিলত সংশ্লিষ্ট অধ্যায়গুলো দেখতে পারেন। যেমন- সুরা ফাতিহার ফজিলত, যা গণনার অতীত; সুরা বাকারার শেষ দুই আয়াতের ফজিলত
(৪); এবং সুরা কাহাফের প্রথম দশ আয়াতের ফজিলত
(৫)। একইভাবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরআনের নির্দিষ্ট কিছু সুরা তিলাওয়াতের ওপর যে নিয়মিত আমল করতেন এবং এর আয়াতসমূহের বিন্যাসে আগে-পাছে করে কোনো পরিবর্তন করতেন না—সেগুলোও লক্ষণীয়। যেমন- সুরা বাকারা, নিসা ও আল-ইমরান তিলাওয়াত করা; ঈদে সুরা 'ক্বাফ' তিলাওয়াত করা
(৬); মিম্বরে এবং সালাতেও তিলাওয়াত করা, যেমন তিনি জুমুআর সালাতে সুরা 'মুনাফিকুন' তিলাওয়াত করতেন
(৭)।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই সুরা ও আয়াতসমূহ তিলাওয়াতের পাশাপাশি এগুলোর বিন্যাসের ক্ষেত্রেও ধারাবাহিকতা বজায় রাখতেন। কারণ তাঁর থেকে এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায় না যে, তিনি কখনও এর কোনো কিছু পরিবর্তন করেছেন।
এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই আমলটি অন্যতম সুস্পষ্ট প্রমাণ যে—এই বিন্যাস বা ক্রম লওহে মাহফুজের বিন্যাসের অনুরূপ, যা তিনি জিবরাইল আলাইহিস সালামের নিকট থেকে লাভ করেছিলেন।
আয়াতসমূহের বিন্যাস তাওকিফি (توقيفي) হওয়ার ওপর অন্যান্য প্রমাণ:
আয়াতসমূহের বিন্যাস যে তাওকিফি (توقيفي) তথা নির্ধারিত, তার আরও একটি বলিষ্ঠ প্রমাণ হলো কুরআনের বেশ কিছু সুরা একেবারে পূর্ণাঙ্গভাবে একত্রে নাযিল হওয়া।
কুরআন নাযিলের শ্রেণিবিভাগে ইমাম সুয়ূতী রহমাতুল্লাহি আলাইহি দ্বিতীয় প্রকার আলোচনা করতে গিয়ে—যা একেবারে পূর্ণাঙ্গভাবে নাযিল হয়েছিল—বলেন:
"
… দ্বিতীয় প্রকারের উদাহরণ হলো: —যা একত্রে নাযিল হয়েছে— সুরা ফাতিহা, ইখলাস, কাউসার, লাহাব, বাইয়্যিনাহ, নাসর এবং মুআউবিযাতাইন যা একসাথে নাযিল হয়েছে। এর মধ্যে সুরা সাফ-ও অন্তর্ভুক্ত।"
(৮)আমরা এখন কিছু সুরা পূর্ণাঙ্গভাবে একত্রে নাযিল হওয়ার বিষয়ে বর্ণিত সহিহ (صحيح) এবং প্রমাণিত দলিলসমূহ তুলে ধরছি:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ৬৭)
দালাইলুত তাওফীক লিআসাহি তারীক লিজামইস সিদ্দিক
(পৃষ্ঠা: ১১৭)
فمن تلك السور التي نزلت جملة واحدة سورة براءة:
فقد روى البخاري في صحيحه عَنِ البَرَاءِ- رضي الله عنه، قَالَ: " آخِرُ سُورَةٍ نَزَلَتْ كَامِلَةً بَرَاءَةٌ".
(1)وقد رواه البخاري كذلك
(2) بلفظ: " آخِرُ سُورَةٍ نَزَلَتْ بَرَاءَةَ
… "
دون لفظة " كاملة ".
وقد ذهب بعض العلماء إلى أن سورة براءة نزلت مفرقة ولم تنزل جملة واحدة مدعين عدم صحة لفظة "كاملة ".
قال بدر الدين العيني- رحمه الله:
"قَوْله: (كَامِلَة) قَالَ الدَّاودِيّ: لفظ: كَامِلَة، لَيْسَ بِشَيْء لِأَن بَرَاءَة نزلت شَيْئًا بعد شَيْء، قلت: وَلِهَذَا لم يذكر لفظ: كَامِلَة، فِي هَذَا الحَدِيث فِي التَّفْسِير، وَلَفظه هُنَاكَ: آخر سُورَة نزلت بَرَاءَة ".
(3)ولكن الطاهر بن عاشور ذكر في "التحرير والتنوير" أنها نزلت دفعة واحدة وقد عزا هذا القول لجمهور العلماء.
(4)ومن تلك السور التي نزلت جملة واحدة كذلك سورة الفتح:
فقد روى البخاري في صحيحه عن عمر-رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قَالَ: (لَقَدْ أُنْزِلَتْ عَلَيَّ اللَّيْلَةَ سُورَةٌ، لَهِيَ أَحَبُّ إِلَيَّ مِمَّا طَلَعَتْ عَلَيْهِ الشَّمْسُ) ثُمَّ قَرَأَ: (إِنَّا فَتَحْنَا لَكَ فَتْحًا مُبِينًا) (الفتح: 1).
(5)ومن تلك السور التي نزلت جملة واحدة كذلك سورة البينة:
فعَنْ عَمَّارِ بْنِ أَبِي عَمَّارٍ، قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا حَبَّةَ الْبَدْرِيَّ، قَالَ: لَمَّا نَزَلَتْ: (لَمْ يَكُنِ الَّذِينَ كَفَرُوا مِنْ أَهْلِ الْكِتَاب) [البينة: 1] إِلَى آخِرِهَا، قَالَ جِبْرِيلُ-عليه السلام: يَا رَسُولَ اللهِ، إِنَّ رَبَّكَ يَأْمُرُكَ أَنْ تُقْرِئَهَا أُبَيًّا، فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم لِأُبَيٍّ: (إِنَّ جِبْرِيلَ أَمَرَنِي أَنْ أُقْرِئَكَ هَذِهِ السُّورَةَ) قَالَ أُبَيٌّ: وَقَدْ ذُكِرْتُ ثَمَّ يَا رَسُولَ اللهِ؟ قَالَ: (نَعَمْ) قَالَ: فَبَكَى أُبَيٌّ.
(6)وكذلك من السور التي نزلت جملة واحدة سورة الْكَوْثَر:
فعن أنس، قال: بينا رسول الله صلى الله عليه وسلم ذات يوم بين أظهرنا إذ أغفى إغفاءة ثم رفع رأسه متبسمًا، فقلنا: ما أضحكك يا رسول الله قال: "أنزلت علي آنفًا سورة" فقرأ: {بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ إِنَّا أَعْطَيْنَاكَ الْكَوْثَرَ. فَصَلِّ لِرَبِّكَ وَانْحَرْ. إِنَّ شَانِئَكَ هُوَ الْأَبْتَرُ} (الكوثر كاملة: 1 - 3).
(7)وكذلك من السور التي نزلت جملة واحدة سورة النصر:
فعن عبيد الله بن عبد الله بن عتبة، قال: قال لي ابن عباس: تعلم آخر سورة نزلت من القرآن، نزلت جميعًا؟ قلت: " نعم، إذا جاء نصر الله والفتح "، قال: صدقت.
(8)وكذلك من السور التي نزلت جملة واحدة سورة المسد:
ثبت في الصحيحين من حديث عَنِ عَبَّاسٍ رضي الله عنهما، قَالَ: صَعِدَ النَّبِيُّ- صلى الله عليه وسلم الصَّفَا ذَاتَ يَوْمٍ، فَقَالَ: (يَا صَبَاحَاهْ)، فَاجْتَمَعَتْ إِلَيْهِ قُرَيْشٌ، قَالُوا: مَا لَكَ؟ قَالَ: (أَرَأَيْتُمْ لَوْ أَخْبَرْتُكُمْ أَنَّ العَدُوَّ يُصَبِّحُكُمْ أَوْ يُمَسِّيكُمْ، أَمَا كُنْتُمْ تُصَدِّقُونِي؟)
قَالُوا: بَلَى، قَالَ: (فَإِنِّي نَذِيرٌ لَكُمْ بَيْنَ يَدَيْ عَذَابٍ شَدِيدٍ) فَقَالَ أَبُو لَهَبٍ: تَبًّا لَكَ، أَلِهَذَا جَمَعْتَنَا؟ فَأَنْزَلَ اللَّهُ: (تَبَّتْ يَدَا أَبِي لَهَبٍ) (المسد: 1).
(9)--------------------------------------------
সেসব সূরার মধ্যে যা একযোগে অবতীর্ণ হয়েছিল তার অন্তর্ভুক্ত হলো সূরা বারাআত:
ইমাম বুখারি তাঁর সহিহ গ্রন্থে বারা ইবনে আযিব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন (روى), তিনি বলেন: "পূর্ণাঙ্গ (كاملة) হিসেবে সর্বশেষ যে সূরাটি অবতীর্ণ হয়েছিল তা হলো বারাআত।"
(1)বুখারি এটি একইভাবে বর্ণনা করেছেন (رواه)
(2) নিম্নোক্ত শব্দে: "সর্বশেষ অবতীর্ণ সূরা হলো বারাআত..."
"পূর্ণাঙ্গ (كاملة)" শব্দটি ব্যতিরেকে।
কিছু আলেম মনে করেন যে, সূরা বারাআত খণ্ডিতভাবে অবতীর্ণ হয়েছিল এবং তা একযোগে অবতীর্ণ হয়নি; তারা "পূর্ণাঙ্গ (كاملة)" শব্দটির সঠিকতা (صحة) না থাকার দাবি করেছেন।
বদরুদ্দিন আইনি (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন:
"তাঁর উক্তি: (পূর্ণাঙ্গ): দাউদি বলেছেন: 'পূর্ণাঙ্গ (كاملة)' শব্দটির কোনো ভিত্তি নেই (ليس بشيء), কারণ বারাআত অল্প অল্প করে অবতীর্ণ হয়েছে। আমি (আইনি) বলছি: এই কারণেই তাফসির অধ্যায়ে এই হাদিসে 'পূর্ণাঙ্গ (كاملة)' শব্দটি উল্লেখ করা হয়নি এবং সেখানকার শব্দগুলো হলো: 'সর্বশেষ অবতীর্ণ সূরা বারাআত'।"
(3)তবে তাহির ইবনে আশুর তাঁর "আত-তাহরির ওয়াত-তানভির" গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, এটি একযোগেই অবতীর্ণ হয়েছে এবং তিনি এই মতটিকে জমহুর (جمهور) আলেমদের অভিমত হিসেবে গণ্য করেছেন।
(4)একযোগে অবতীর্ণ সূরাগুলোর মধ্যে সূরা আল-ফাতহ-ও রয়েছে:
ইমাম বুখারি তাঁর সহিহ গ্রন্থে উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হতে বর্ণনা করেছেন (روى) যে, তিনি বলেছেন: "আজ রাতে আমার ওপর এমন একটি সূরা অবতীর্ণ হয়েছে যা আমার কাছে সূর্যের আলো পড়ে এমন সবকিছুর চেয়ে বেশি প্রিয়।" এরপর তিনি পাঠ করলেন: "নিশ্চয়ই আমি আপনার জন্য এক সুস্পষ্ট বিজয় ফয়সালা করে দিয়েছি" (সূরা ফাতহ: ১)।
(5)একযোগে অবতীর্ণ সূরাগুলোর মধ্যে সূরা আল-বাইয়্যিনাহ-ও রয়েছে:
আম্মার ইবনে আবি আম্মার থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আবু হাব্বা আল-বাদরিকে বলতে শুনেছি: যখন "লাম ইয়াকুনিল্লাযিনা কাফারু মিন আহলিল কিতাব" [সূরা বাইয়্যিনাহ: ১] শেষ পর্যন্ত অবতীর্ণ হলো, তখন জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) বললেন: হে আল্লাহর রাসুল! আপনার প্রতিপালক আপনাকে নির্দেশ দিচ্ছেন যে, আপনি যেন এটি উবাইকে পাঠ করে শোনান। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) উবাইকে বললেন: "নিশ্চয়ই জিবরাঈল আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন যেন আমি তোমাকে এই সূরাটি পাঠ করে শোনাই।" উবাই বললেন: হে আল্লাহর রাসুল! সেখানে কি আমার নাম নেওয়া হয়েছে? তিনি বললেন: "হ্যাঁ"। তখন উবাই কাঁদতে লাগলেন।
(6)অনুরূপভাবে সূরা আল-কাউসারও সেসব সূরার অন্তর্ভুক্ত যা একযোগে অবতীর্ণ হয়েছে:
আনাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: একদিন আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের মাঝে থাকাবস্থায় তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে পড়লেন, অতঃপর মুচকি হেসে মাথা তুললেন। আমরা বললাম: হে আল্লাহর রাসুল! কিসে আপনাকে হাসালো? তিনি বললেন: "এইমাত্র আমার ওপর একটি সূরা অবতীর্ণ হয়েছে।" এরপর তিনি পাঠ করলেন: {পরম করুণাময় দয়ালু আল্লাহর নামে। নিশ্চয়ই আমি আপনাকে আল-কাউসার দান করেছি। অতএব আপনার প্রতিপালকের উদ্দেশ্যে সালাত আদায় করুন এবং কুরবানি করুন। নিশ্চয়ই আপনার প্রতি বিদ্বেষ পোষণকারীই লেজকাটা বা নির্বংশ।} (সূরা কাউসার পূর্ণাঙ্গ: ১ - ৩)।
(7)অনুরূপভাবে সূরা আন-নাসরও সেসব সূরার অন্তর্ভুক্ত যা একযোগে অবতীর্ণ হয়েছে:
উবায়দুল্লাহ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে উতবাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) আমাকে বললেন: তুমি কি কুরআনের সেই সর্বশেষ সূরাটি সম্পর্কে জানো যা সম্পূর্ণ একযোগে অবতীর্ণ হয়েছে? আমি বললাম: "হ্যাঁ, তা হলো 'ইযা জাআ নাসরুল্লাহি ওয়াল ফাতহ'।" তিনি বললেন: "তুমি ঠিক বলেছো।"
(8)অনুরূপভাবে সূরা আল-মাসাদ-ও সেসব সূরার অন্তর্ভুক্ত যা একযোগে অবতীর্ণ হয়েছে:
সহিহাইন-এ ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বর্ণিত হাদিসে প্রমাণিত হয়েছে যে, তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) একদিন সাফা পাহাড়ে আরোহণ করলেন এবং উচ্চস্বরে বললেন: "ইয়া সাবাহাহ (হে সকাল বেলার বিপদ!)", তখন কুরাইশরা তাঁর নিকট জমায়েত হলো। তারা জিজ্ঞাসা করল: আপনার কী হয়েছে? তিনি বললেন: "তোমরা কী মনে করো, আমি যদি তোমাদের সংবাদ দেই যে শত্রু বাহিনী সকাল অথবা সন্ধ্যায় তোমাদের ওপর আক্রমণ করবে, তবে কি তোমরা আমাকে বিশ্বাস করবে না?"
তারা বলল: "হ্যাঁ, অবশ্যই"। তিনি বললেন: "নিশ্চয়ই আমি তোমাদের জন্য এক ভয়াবহ আজাবের পূর্ব সতর্ককারী।" তখন আবু লাহাব বলল: "তোমার ধ্বংস হোক, একারণেই কি তুমি আমাদের জমায়েত করেছো?" তখন আল্লাহ তাআলা অবতীর্ণ করলেন: "আবু লাহাবের দুই হাত ধ্বংস হোক" (সূরা মাসাদ: ১)।
(9)--------------------------------------------
(খণ্ড: ৬৭)
দালাইলুত তাওফীক লিআসাহি তারীক লিজামইস সিদ্দিক
(পৃষ্ঠা: ১১৮)
وكذلك من السور التي نزلت جملة واحدة سورتا المعوذتين:
فعن عقبة بن عامر، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ألم تر آيات أنزلت الليلة لم ير مثلهن قط، {قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ الْفَلَقِ} و {قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ النَّاسِ}.
(1)والخلاصة فيما سبق:
أن نزول كثير من سور قصار المفصل نزلت جملة واحدة هو أمر ثابت بأدلة صحيحة صريحة، كالفاتحة والقدر والماعون والمسد والكوثر والفيل والنصر والكافرون والإخلاص والفلق والناس. وكذا الفتح.
وأما ما ذكره بعض أهل التفسير من أن سورًا عدة قد نزلت جملة واحدة كذلك ولا سيما من الطوال، فإن أغلب تلك الأقوال محل نظر واجتهاد والخلاف فيها معلوم لأنها أقوال اجتهادية لم تنهض بها حجة واضحة من دليل صحيح صريح ثابت، ولذا لم يذكر الباحث إلا ما ثبت لديه بالدليل الصحيح الثابت الصريح.
هذا: ولابد أن يُعلم أن الأصل في القرآن الكريم أنه جُمع ورتب على أساس موافقته للعرضة الأخيرة، وقد استقرت العرضة الأخيرة لما هو مثبتٌ وموافق لما في اللوح المحفوظ كذلك.
المبحث الثالث: عرض الأقوال الواردة في ترتيب السور مع الترجيح بينهايقول السيوطي- رحمه الله في الإتقان عن الخلاف في ترتيب السور:
وأما ترتيب السور على ما هي عليه الآن في المصحف، فقد اختلف فيه أهل هذا الشأن على ثلاثة مذاهب:
المذهب الأول: وهو مذهب الجمهور الذي يرى أن ترتيب السور هو أمر توفيقي من اجتهاد الصحابة، حيث إن النبي صلى الله عليه وسلم فوَّضَ ذلك إلى أمته من بعده. ومن أبرز من نحا إلى هذا الرأي الإمام مالك.
المذهب الثاني: يرى أن هذا الترتيب توقيف من النبي صلى الله عليه وسلم، وبه قالت طائفة من أهل العلم.
المذهب الثالث: يجنح إلى أن ترتيب أغلب السور كان بتوقيف من النبي صلى الله عليه وسلم وعلم ذلك في حياته، وأن ترتيب بعض السور كان باجتهاد من الصحابة.
(2)مر بنا آنفًا ما ذكره السيوطي من أقوال العلماء في القول بترتيب السور إجمالًا، والخلاف في هذه المسألة واسع جدًا وله أهميته الكبرى لتعلقه بأمر عظيم يتعلق بكلام الله تعالى، وقد ساق أصحاب كل قول أدلة ما يترجح لديهم القول به، ومن تكلم في هذه المسألة أئمة كبار ممن يُعتد برأيهم، والموضوع ليس بحثًا رئيسًا في موضوع بحثنا، والباحث لم يسق أدلة كل فريق لمناقشتها مخافة الإطالة في بحث هو جانبي عن موضوع البحث الرئيس، وإن كان من الأهمية الكبرى بمكان، لمكانته وقدره
--------------------------------------------
একইভাবে একবারে নাযিল হওয়া সূরাসমূহের অন্তর্ভুক্ত হলো মুআউয়াযাতাইন (সূরা ফালাক ও সূরা নাস):
উকবাহ ইবনে আমির (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তোমরা কি দেখনি আজ রাতে এমন কিছু আয়াত নাযিল হয়েছে যার সদৃশ ইতিপূর্বে কখনও দেখা যায়নি? (তা হলো) {বলুন, আমি আশ্রয় গ্রহণ করছি ঊষার রবের} এবং {বলুন, আমি আশ্রয় গ্রহণ করছি মানুষের রবের}।"
(1)পূর্বোক্ত আলোচনার সারসংক্ষেপ হলো:
'মুফাসসাল' অংশের অনেক ছোট ছোট সূরা একবারে নাযিল হওয়ার বিষয়টি বিশুদ্ধ (صحيح) ও সুস্পষ্ট দলিলের মাধ্যমে প্রমাণিত। যেমন: ফাতিহা, কদর, মাউন, মাসাদ, কাউসার, ফীল, নাসর, কাফিরুন, ইখলাস, ফালাক ও নাস। একইভাবে সূরা ফাতহ-ও।
আর কোনো কোনো মুফাসসির দীর্ঘ সূরাসমূহের মধ্য থেকে বেশ কিছু সূরা একইভাবে একবারে নাযিল হওয়ার বিষয়ে যা উল্লেখ করেছেন, সে সকল মতের অধিকাংশ বিষয়ই পর্যালোচনা ও ইজতিহাদের (اجتهاد) দাবি রাখে। এ ক্ষেত্রে মতভেদ সুবিদিত, কারণ এগুলো হলো ইজতিহাদ-নির্ভর (اجتهادية) অভিমত যা বিশুদ্ধ (صحيح), স্পষ্ট ও অকাট্য দলিলের মাধ্যমে প্রমাণিত নয়। এ কারণে গবেষক কেবল তাই উল্লেখ করেছেন যা তাঁর নিকট বিশুদ্ধ (صحيح), অকাট্য ও স্পষ্ট দলিলের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে।
এখানে এটি জেনে রাখা আবশ্যক যে, পবিত্র কুরআনের মূল নীতি হলো এটি 'আরদাহ আখিরাহ' (সর্বশেষ উপস্থাপন)-এর সাথে সামঞ্জস্য রেখে সংকলিত ও বিন্যস্ত করা হয়েছে। আর এই 'আরদাহ আখিরাহ' লওহে মাহফুযে সংরক্ষিত বিন্যাসের অনুরূপ সাব্যস্ত হয়েছে।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: সূরাসমূহের বিন্যাস সম্পর্কিত অভিমতসমূহের উপস্থাপনা ও সেগুলোর মধ্যে অগ্রাধিকার (ترجيح) প্রদানইমাম সুয়ূতী (রহ.) আল-ইতকান গ্রন্থে সূরাসমূহের বিন্যাসের মতভেদ সম্পর্কে বলেন:
বর্তমানে মুসহাফে সূরাসমূহ যে বিন্যাসে রয়েছে, সে বিষয়ে এই শাস্ত্রের পণ্ডিতগণ তিনটি মত পোষণ করেছেন:
প্রথম মত: এটি জুমহুর (جمهور) বা অধিকাংশ আলিমের মত। তাঁরা মনে করেন যে, সূরাসমূহের বিন্যাস হলো সাহাবীগণের ইজতিহাদের (اجتهاد) মাধ্যমে অর্জিত একটি সমন্বয় (توفيقي), যেহেতু নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর পরবর্তী উম্মতের ওপর এই বিষয়টি অর্পণ করেছিলেন। ইমাম মালিক এই মতের অন্যতম প্রবক্তা।
দ্বিতীয় মত: এই বিন্যাস নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কর্তৃক সরাসরি নির্ধারিত (توقيف), একদল আলিম এই মত পোষণ করেছেন।
তৃতীয় মত: এই মত অনুযায়ী অধিকাংশ সূরার বিন্যাস নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সরাসরি নির্দেশনার (توقيف) মাধ্যমে হয়েছে এবং তা তাঁর জীবদ্দশাতেই জানা ছিল; আর কিছু সূরার বিন্যাস সাহাবীগণের ইজতিহাদের (اجتهاد) মাধ্যমে হয়েছে।
(2)সুয়ূতী কর্তৃক আলেমদের যে অভিমতসমূহ উল্লিখিত হয়েছে তা আমরা ইতিপূর্বে সংক্ষেপে আলোচনা করেছি। এই মাসআলায় মতভেদ অত্যন্ত ব্যাপক এবং মহান আল্লাহর কালামের সাথে সম্পৃক্ত হওয়ায় এর গুরুত্ব অপরিসীম। প্রত্যেক মতের অনুসারীরা তাদের নিকট যেটি অগ্রাধিকারযোগ্য (ترجيح) মনে হয়েছে তার সপক্ষে দলিল উপস্থাপন করেছেন। এই বিষয়ে যাঁরা আলোচনা করেছেন তাঁরা হলেন বরেণ্য ইমামগণ যাঁদের মতামত গ্রহণযোগ্য। বিষয়টি আমাদের আলোচনার মূল বিষয়বস্তু নয়, এবং মূল বিষয়ের আলোচনা দীর্ঘ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় গবেষক প্রতিটি দলের দলিল ও তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেননি, যদিও এর গুরুত্ব ও মর্যাদা অপরিসীম।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ৬৭)
দালাইলুত তাওফীক লিআসাহি তারীক লিজামইস সিদ্দিক
(পৃষ্ঠা: ১১৯)
وقدر متعلقه ألا وهو كتاب الله تعالى.
والكثير من الأئمة يرى أن ترتيب سور القرآن الكريم كان ترتيبًا توقيفيًا كما كان ترتيب آياته كذلك، وقد ساقوا من الأدلة الواضحات والحجج الدامعات ما يجعل الباحث يقف عندها طويلًا ويعيد التأمل والبحث والنظر فيها كثيرًا،
ومن أبرز هذه الأقوال ما يلي:
القول الأول: قول الزركشي (ت: 794 هـ) في البرهان رحمه الله:
"قال بعض مشايخنا المحققين: قد وهم من قال: لا يطلب للآية الكريمة مناسبة لأنها على حسب الوقائع المتفرقة وفصل الخطاب أنها على حسب الوقائع تنزيلًا وعلى حسب الحكمة ترتيبًا، فالمصحف كالصحف الكريمة على وفق ما في الكتاب المكنون مرتبة سوره كلها وآياته بالتوقيف
… قلت: وهو مبني على أن ترتيب السور توقيفي وهذا الراجح.
(1)ولاشك أن مثل قول الزركشي له قيمته العلمية وله مكانته وقدره كذلك، لكونه قد ناقش أدلة كل فريق من جهة، ولتمكنه من هذا العلم من جهة ثانية.
القول الثاني: قول السيوطي (ت: 911 هـ) في الإتقان-رحمه الله:
"ومما يدل على أنه توقيفي كون الحواميم رتبت وَلاءً "يعني متوالية" وكذا الطواسين، ولم ترتب المسبحات وَلاءً، بل فصل بين سورها وفصل بين "طسم" الشعراء و"طسم" القصص بـ "طس" مع أنها أقصر منهما، ولو كان الترتيب اجتهادًا لذكرت المسبحات وَلاءً، وأخرت "طس" عن القصص".
(2)القول الثالث: قول أبي بكر الأنباري (ت: 328 هـ) حيث يقول- رحمه الله:
"اتساق السور كاتساق الآيات والحروف كله عن النبي صلى الله عليه وسلم فمن قدم سورة أو أخرها فقد أفسد نظم القرآن".
(3)القول الرابع: قول الكرماني: (ت: 893 هـ) رحمه الله:
"ترتيب السور هكذا هو عند الله في اللوح المحفوظ على هذا الترتيب".
(4)القول الخامس: قول شرف الدين الطيبي (ت: 743 هـ) كذلك- رحمه الله:
"أنزل القرآن أولا جملة واحدة من اللوح المحفوظ إلى السماء الدنيا ثم نزل مفرقًا على حسب المصالح، ثم أثبت في المصاحف على التأليف والنظم المثبت في اللوح المحفوظ. ".
(5)القول السادس: قول محب الدين النُّوَيْري (ت: 857 هـ) حيث يقول- رحمه الله:
وإنما أمرهم-عثمان- بالنسخ من الصحف؛ ليستند مصحفه إلى أصل أبى بكر المستند إلى أصل النبي صلى الله عليه وسلم، وعيّن زيدًا لاعتماد أبى بكر وعمر عليه، وضم إليه جماعة مساعدة له، ولينضم العدد إلى العدالة، وكانوا هؤلاء؛ لاشتهار ضبطهم ومعرفتهم. وكتبوه مائة وأربعة عشر سورة، أولها "الحمد" وآخرها "الناس" على هذا الترتيب.
(6)يتضح من كلام النويري أنه يرى بأن نسخ أبي بكر كان كاملاً مرتب الآيات
--------------------------------------------
এবং এর সংশ্লিষ্ট বিষয়বস্তুর মর্যাদা হলো মহান আল্লাহর কিতাব।
অনেক ইমাম মনে করেন যে, পবিত্র কুরআনের সূরাসমূহের বিন্যাস ছিল ওহি-নির্দেশিত (توقيفي), যেমনটি ছিল এর আয়াতসমূহের বিন্যাস। তারা এমন সব সুস্পষ্ট দলিল এবং অকাট্য যুক্তি উপস্থাপন করেছেন যা একজন গবেষককে এর সামনে দীর্ঘক্ষণ থমকে দাঁড়াতে এবং গভীরভাবে চিন্তা ও গবেষণা করতে বাধ্য করে।
এই অভিমতগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
প্রথম অভিমত: আল-বুরহান গ্রন্থে ইমাম যারকাশী (মৃত্যু: ৭৯৪ হিজরি) রহ.-এর বক্তব্য:
"আমাদের কতিপয় গবেষক মাশায়েখ বলেছেন: যারা মনে করেন যে, পবিত্র আয়াতের মাঝে সামঞ্জস্য খোঁজা উচিত নয়—কারণ এটি বিচ্ছিন্ন ঘটনার ওপর ভিত্তি করে অবতীর্ণ হয়েছে—তারা বিভ্রান্তিতে আছেন। চূড়ান্ত কথা হলো, অবতীর্ণ হওয়ার দিক থেকে এটি ছিল বিভিন্ন ঘটনার প্রেক্ষিতে, কিন্তু বিন্যাসের দিক থেকে এটি ছিল হিকমত বা প্রজ্ঞা অনুযায়ী। সুতরাং মাসহাফ হলো সেই সম্মানিত ফলকসমূহের মতো যা 'কিতাবুন মাকনুন' বা সুরক্ষিত কিতাবে বিদ্যমান। এর সকল সূরা এবং আয়াতের বিন্যাস ওহি-নির্দেশিত (توقيفي)
… আমি বলি: এটি এই ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত যে সূরাসমূহের বিন্যাস ওহি-নির্দেশিত (توقيفي) এবং এটাই অগ্রগণ্য (راجح) অভিমত।"
(১)নিঃসন্দেহে ইমাম যারকাশীর এ ধরনের বক্তব্যের একটি স্বতন্ত্র ইলমি মূল্য ও মর্যাদা রয়েছে। কারণ তিনি একদিকে যেমন প্রতিটি পক্ষের দলিল নিয়ে আলোচনা করেছেন, তেমনি এই ইলমের ওপর তার গভীর বুৎপত্তিও ছিল।
দ্বিতীয় অভিমত: আল-ইতকান গ্রন্থে ইমাম সুয়ূতী (মৃত্যু: ৯১১ হিজরি) রহ.-এর বক্তব্য:
"বিন্যাসটি যে ওহি-নির্দেশিত (توقيفي), তার অন্যতম প্রমাণ হলো 'হা-মীম' যুক্ত সূরাগুলো ক্রমান্বয়ে সজ্জিত করা হয়েছে। একইভাবে 'ত-সীন' যুক্ত সূরাগুলোও। কিন্তু 'মুসাব্বিহাত' সূরাগুলো ক্রমান্বয়ে রাখা হয়নি, বরং এগুলোর মাঝখানে অন্য সূরা দিয়ে ব্যবধান করা হয়েছে। এছাড়া সূরা শুআরা ও সূরা কাসাস-এর 'ত-সীন-মীম'-এর মাঝে 'ত-সীন' দিয়ে ব্যবধান করা হয়েছে, অথচ এটি ওই দুটির চেয়ে ছোট। যদি বিন্যাস ইজতিহাদ বা গবেষণানির্ভর হতো, তবে 'মুসাব্বিহাত' সূরাগুলো একত্রে রাখা হতো এবং 'ত-সীন' সূরাটিকে সূরা কাসাসের পরে রাখা হতো।"
(২)তৃতীয় অভিমত: আবু বকর আল-আনবারী (মৃত্যু: ৩২৮ হিজরি) রহ.-এর বক্তব্য:
"সূরাসমূহের বিন্যাস যেমন, আয়াত ও হরফসমূহের বিন্যাসও তেমন—সবই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে প্রাপ্ত। সুতরাং যে ব্যক্তি কোনো সূরাকে আগে আনবে বা পরে নেবে, সে কুরআনের বিন্যাসকে নষ্ট করবে।"
(৩)চতুর্থ অভিমত: আল-কিরমানী (মৃত্যু: ৮৯৩ হিজরি) রহ.-এর বক্তব্য:
"সূরাসমূহের এই বিন্যাস আল্লাহর কাছে লাওহে মাহফুজে এভাবেই বিদ্যমান।"
(৪)পঞ্চম অভিমত: শরফ উদ্দিন আত-ত্বীবী (মৃত্যু: ৭৪৩ হিজরি) রহ.-এর বক্তব্য:
"কুরআন প্রথমে লাওহে মাহফুজ থেকে দুনিয়ার আসমানে পূর্ণাঙ্গভাবে অবতীর্ণ হয়। এরপর বিভিন্ন মাসলাহাত বা কল্যাণের প্রেক্ষিতে তা পর্যায়ক্রমে নাজিল হয়। অতঃপর মাসহাফগুলোতে সেই বিন্যাস ও শৃঙ্খলা অনুযায়ী সংকলন করা হয় যা লাওহে মাহফুজে সাব্যস্ত ছিল।"
(৫)ষষ্ঠ অভিমত: মুহিব্বুদ্দীন আন-নুওয়াইরী (মৃত্যু: ৮৫৭ হিজরি) রহ.-এর বক্তব্য:
"উসমান রাযিয়াল্লাহু আনহু তাদের পাণ্ডুলিপিগুলো থেকে অনুলিপি তৈরি করতে নির্দেশ দিয়েছিলেন, যাতে তার সংকলিত মাসহাফটি আবু বকর রাযিয়াল্লাহু আনহু-এর মূল পাণ্ডুলিপির ওপর নির্ভরশীল হয়, যা আবার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মূল থেকে প্রাপ্ত। আবু বকর ও উমর রাযিয়াল্লাহু আনহুমা-এর আস্থার কারণে তিনি জায়েদকে এ কাজের জন্য নির্ধারিত করেন এবং তাকে সহযোগিতার জন্য একদল সাহাবীকে অন্তর্ভুক্ত করেন, যাতে সংখ্যার সাথে ন্যায়পরায়ণতার (عدالة) সমন্বয় ঘটে। তারা তাদের সূক্ষ্ম সংরক্ষণ (ضبط) ও জ্ঞানের জন্য সুপরিচিত ছিলেন। তারা ১১৪টি সূরা এভাবেই বিন্যস্ত করে লিখেছিলেন, যার শুরুতে ছিল 'আল-হামদু' এবং শেষে ছিল 'আন-নাস'।"
(৬)নুওয়াইরীর বক্তব্য থেকে স্পষ্ট হয় যে, তিনি মনে করেন আবু বকর রাযিয়াল্লাহু আনহু-এর সংকলনটি ছিল পূর্ণাঙ্গ এবং আয়াতগুলো বিন্যস্ত ছিল...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ৬৭)
দালাইলুত তাওফীক লিআসাহি তারীক লিজামইস সিদ্দিক
(পৃষ্ঠা: ১২০)
والسور أيضًا، وأنه استند إلى المكتوب، والمحفوظ عن رسول الله صلى الله عليه وسلم، لا فرق بين الآيات والسور في التوقيف، ولذا أمرهم-عثمان- بالنسخ منه.
القول السابع: قول أبي جعفر النحاس (ت: 338 هـ) حيث يقول- رحمه الله:
"إن تأليف السور على هذا الترتيب من رسول الله- صلى الله عليه وسلم
(1).
القول الثامن: قول أبي الحسن ابن الحصَّار (ت: 620 هـ) حيث يقول- رحمه الله:
"ترتيب السور ووضع الآيات موضعها إنما كان بالوحي".
(2)القول التاسع: قول البغوي (ت: 516 هـ) حيث يقول- رحمه الله:
إن الصحابة- رضي الله عنهم، جمعوا بين الدفتين القرآن الذي أنزله الله سبحانه وتعالى على رسوله صلى الله عليه وسلم، من غير أن زادوا فيه، أو نقصوا منه شيئًا
… فكتبوه كما سمعوا من رسول الله صلى الله عليه وسلم، من غير أن قدموا شيئًا أو أخروا
… فثبت أن سعي الصحابة كان في جمعه في موضع واحد، لا في ترتيبه، فإن القرآن مكتوب في اللوح المحفوظ على الترتيب الذي هو في مصاحفنا، أنزله الله تعالى جملة واحدة في شهر رمضان ليلة القدر إلى السماء الدنيا، كما قال تعالى: {شَهْرُ رَمَضَانَ الَّذِي أُنْزِلَ فِيهِ الْقُرْآنُ} (البقرة: 185)، وقال تعالى: {إِنَّا أَنْزَلْنَاهُ فِي لَيْلَةِ الْقَدْرِ} (القدر: 1)
(3).
كلام البغوي في غاية الدقة، فهو يرى أن القرآن الذي في أيدينا ما زال كما كان في اللوح المحفوظ، فكان مرتبًا، ونزل مرتبًا إلى السماء الدنيا بكامل آياته وسوره، وأنه وإن نزل منجمًا بعد ذلك على رسول الله صلى الله عليه وسلم، فقد جُمع بالوحي كما كان في اللوح المحفوظ، وكتبه الصحابة- رضي الله عنهم على هذا الجمع الذي تعلموه من رسول الله صلى الله عليه وسلم.
القول العاشر: قول الملا علي القاري
(4) حيث يقول- رحمه الله:
مع أن الأصح أن ترتيب السور توقيفي أيضًا، وإن كانت مصاحفهم مختلفة في ذلك قبل العرضة الأخيرة
… ومما يدل على أنه توقيفي كون الحواميم رتبت وَلَاءً، وكذلك الطواسين، ولم يرتب المسبحات وَلَاءً، بل فصل بين سورها، وكذا اختلاط المكيات بالمدنيات
(5).
وفي قول ودليل "علي القاري"، يتضح أن الترتيب وإن لم يرد فيه نص نظري لكنه كان أوكد من خلال التأمل في التطبيق العملي، الذي يوحي بما لا يدع مجالًا للشك بأن الترتيب كان توقيفيًا. وكلامه فحواه مقتبس من قول السيوطي. ولما سبق لم يتردد العلماء في ترجيح هذا الرأي القائل بالتوقيف، فقد قال أحمد بن عبد الرحمن بن محمد البنا الساعاتي: والصحيح أن ترتيب السور والآيات أمر توقيفي لا مجال للرأي فيه.
(6)ومما نُظم وقيل في ذلك قولُ أبي الحسن بن الحصار (ت: 620 هـ) في كتابه "الناسخ والمنسوخ ":
--------------------------------------------
এবং সুরাসমূহের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। তিনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে প্রাপ্ত লিখিত এবং সংরক্ষিত বিষয়ের ওপর ভিত্তি করেছিলেন। ওহির মাধ্যমে নির্ধারিত হওয়ার (توقيف) ক্ষেত্রে আয়াত এবং সুরাসমূহের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। এই কারণেই উসমান (রা.) তাদেরকে এখান থেকে অনুলিপি প্রস্তুত করার নির্দেশ দিয়েছিলেন।
সপ্তম মত: আবু জাফর আন-নাহহাস (মৃত্যু: ৩৩৮ হি.)-এর মত, তিনি (রহ.) বলেন:
"নিশ্চয়ই সুরাসমূহের এই বিন্যাস অনুযায়ী সংকলন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকেই প্রাপ্ত।"
(১)অষ্টম মত: আবু হাসান ইবনুল হিসসার (মৃত্যু: ৬২০ হি.)-এর মত, তিনি (রহ.) বলেন:
"সুরাসমূহের বিন্যাস এবং আয়াতসমূহকে তাদের নির্দিষ্ট স্থানে স্থাপন করা কেবলমাত্র ওহির মাধ্যমেই হয়েছে।"
(২)নবম মত: আল-বাগাভী (মৃত্যু: ৫১৬ হি.)-এর মত, তিনি (রহ.) বলেন:
নিশ্চয়ই সাহাবায়ে কেরাম (রা.) দুই মলাটের মাঝে সেই কুরআনকেই একত্রিত করেছিলেন যা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওপর অবতীর্ণ করেছিলেন। তারা এতে কোনো কিছু বৃদ্ধি করেননি এবং তা থেকে কোনো কিছু হ্রাসও করেননি... তারা এটি সেভাবেই লিপিবদ্ধ করেছিলেন যেভাবে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট থেকে শুনেছিলেন, তারা কোনো অংশকে আগে বা পরে করেননি... সুতরাং এটি প্রমাণিত হলো যে, সাহাবীগণের প্রচেষ্টা ছিল কুরআনকে এক স্থানে একত্রিত করা, এর বিন্যাস সাজানো নয়। কেননা কুরআন লাওহে মাহফুজে সেই বিন্যাসেই লিখিত আছে যেভাবে আমাদের মাসহাফসমূহে রয়েছে। আল্লাহ তায়ালা রমজান মাসে লাইলাতুল কদরে এটি দুনিয়ার আকাশে একবারে অবতীর্ণ করেছিলেন, যেমনটি তিনি তায়ালা ইরশাদ করেছেন: {রমজান মাসই হলো সেই মাস, যাতে কুরআন অবতীর্ণ করা হয়েছে} (আল-বাকারাহ: ১৮৫), এবং তিনি তায়ালা আরও ইরশাদ করেছেন: {নিশ্চয়ই আমি এটি লাইলাতুল কদরে অবতীর্ণ করেছি} (আল-কদর: ১)
(৩)।
বাগাভীর বক্তব্য অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও সঠিক। তাঁর মতে, আমাদের হাতে বিদ্যমান কুরআন হুবহু লাওহে মাহফুজে সংরক্ষিত কুরআনের মতোই রয়েছে। এটি বিন্যস্ত ছিল এবং এর আয়াত ও সুরাসমূহ পূর্ণাঙ্গ বিন্যস্ত অবস্থায় দুনিয়ার আকাশে অবতীর্ণ হয়েছিল। যদিও পরবর্তীতে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওপর এটি পর্যায়ক্রমে অবতীর্ণ হয়েছে, কিন্তু এটি ওহির মাধ্যমেই একত্রিত করা হয়েছে যেমনটি লাওহে মাহফুজে ছিল। আর সাহাবায়ে কেরাম (রা.) রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট থেকে শেখা সেই বিন্যাস অনুসারেই তা লিপিবদ্ধ করেছিলেন।
দশম মত: মোল্লা আলী কারী
(৪)-এর মত, তিনি (রহ.) বলেন:
যদিও সবচেয়ে বিশুদ্ধ (الأصح) মত হলো সুরাসমূহের বিন্যাসও আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত (توقيفي)। যদিও শেষ উপস্থাপনের আগে সাহাবীগণের মাসহাফসমূহে বিন্যাসের ভিন্নতা ছিল... আর এটি আল্লাহর নির্দেশিত (توقيفي) হওয়ার অন্যতম প্রমাণ হলো ‘হা-মীম’ (حواميم) যুক্ত সুরাসমূহ ধারাবাহিকভাবে বিন্যস্ত হওয়া, অনুরূপভাবে ‘তা-সীন’ (طواسين) যুক্ত সুরাসমূহও। আবার ‘মুসাব্বিহাত’ (مسبحات) সুরাসমূহকে ধারাবাহিকভাবে রাখা হয়নি, বরং সুরাগুলোর মাঝে ব্যবধান রাখা হয়েছে। অনুরূপভাবে মাক্কি (مكي) এবং মাদানি (مدني) সুরাসমূহের সংমিশ্রণও এর প্রমাণ
(৫)।
মোল্লা আলী কারীর বক্তব্য ও প্রমাণের মাধ্যমে এটি স্পষ্ট হয় যে, যদিও বিন্যাসের বিষয়ে কোনো তাত্ত্বিক বা সরাসরি বক্তব্য (نص) বর্ণিত হয়নি, তবুও ব্যবহারিক প্রয়োগের প্রতি গভীরভাবে দৃষ্টি দিলে এটি সুনিশ্চিত হয় যে, এই বিন্যাস আল্লাহর পক্ষ থেকেই নির্ধারিত (توقيفي) ছিল। তাঁর বক্তব্যের সারমর্ম সুয়ূতীর উক্তি থেকে গৃহীত। উপরোক্ত আলোচনার কারণে ওলামায়ে কেরাম এই বিন্যাসকে আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত (توقيفي) বলার মতটিকেই প্রাধান্য দিতে দ্বিধাবোধ করেননি। আহমদ ইবনে আবদুর রহমান ইবনে মুহাম্মদ আল-বান্না আস-সাআতী বলেন: সঠিক (صحيح) মত হলো সুরা ও আয়াতসমূহের বিন্যাস আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত (توقيفي) বিষয়, এতে ব্যক্তিগত মতামতের কোনো অবকাশ নেই।
(৬)এই বিষয়ে আবুল হাসান ইবনুল হিসসার (মৃত্যু: ৬২০ হি.) তাঁর ‘আন-নাসিখ ওয়াল মানসুখ’ গ্রন্থে পদ্যাকারে যা বলেছেন তা হলো:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ৬৭)
দালাইলুত তাওফীক লিআসাহি তারীক লিজামইস সিদ্দিক
(পৃষ্ঠা: ১২১)
يا سائلي عن كتاب الله مجتهدًا
… وعن ترتيب ما يتلى من السور
وكيف جاء بها المختار من مضر
… صلى الإله على المختار من مضر
(1)فابن الحصار يشير إلى أن ترتيب السور جاء بها النبي-صلى الله عليه وسلم وهي إشارة واضحة الدلالة من كلامه بأن ترتيب السور توقيفي منه-صلى الله عليه وسلم
القول الحادي عشر: جملة من أقوال بعض المعاصرين
وقد رجح جمع من المعاصرين القول بالتوقيف كذلك، وهم على سبيل المثال لا الحصر على نحو التالي:
"جاء في التفسير الوسيط: ترتيب السور على ما جاء في المصحف الشريف بأمر الله عز وجل
(2).
1 - قال صاحب التفسير الوسيط:
والذي تميل إليه النفس أن ترتيب السور توقيفي، وأن كل سورة لها موضوعاتها التي نراها بارزة بصورة تميزها عن غيرها
(3).
2 - وقال وَهْبَة بن مصطفى الزُّحَيْلِيّ (ت: 1436 هـ):
ولا خلاف بين العلماء في أن ترتيب آيات السور توقيفي منقول ثابت عن النّبي صلى الله عليه وسلم، كما أن ترتيب السور أيضًا توقيفي على الراجح
(4).
وممن قال به كذلك من المعاصرين محمد عبد الله دراز، أحمد شاكر.
ومن أبرز ما استدل به بعض هؤلاء على توقيف الترتيب المصحفي ما يلي:
1 - إجماع الصحابة-رضي الله عنهم على ترتيب السور في المصحف العثماني،
إذ لو كان هذا الترتيب ترتيبًا اجتهاديًا لما أجمعوا عليه ولتمسكوا بمصاحفهم ولما قدموها للحرق، ولما اجتمعوا على المصحف الإمام.
ولقد" قام عثمان بن عفان- رضي الله عنه بإحراق المصاحف التي وقع فيها الاختلاف، وأبقى لهم المتفَق عليه، كما ثبت في العَرْضة الأخيرة".
(5)وقد ثبت عند البخاري عن أنس بن مالك رضي الله عنه، أن حذيفة بن اليمان رضي الله عنه قدم على عثمان رضي الله عنه، وكان يغازي أهل الشام في فتح إرمينية وأذربيجان مع أهل العراق، فأفزع حذيفةَ اختلافُهم في القراءة، فقال حذيفة لعثمان: يا أمير المؤمنين، أدرِكْ هذه الأمة قبل أن يختلفوا في الكتاب اختلافَ اليهود والنصارى، فأرسل عثمان إلى حفصة: أنْ أرسلي إلينا بالصحف ننسخها في المصاحف، ثم نردها إليك، فأرسلت بها حفصة إلى عثمان، فأمر زيد بن ثابت، وعبدالله بن الزبير، وسعيد بن العاص، وعبدالرحمن بن الحارث بن هشام، فنسخوها في المصاحف، وقال عثمان للرهط القرشيين الثلاثة: إذا اختلفتم أنتم وزيد بن ثابت في شيء من القرآن، فاكتبوه بلسان قريش؛ فإنما نزل بلسانهم (يعني ابتداءً)، ففعلوا حتى إذا نسخوا الصحف في المصاحف، رد عثمان الصحف إلى حفصة، وأرسل إلى كل أفق بمصحف مما نسخوا، وأمر بما سواه من القرآن في كل صحيفة أو مصحف أن يحرق.
(6)(7)--------------------------------------------
يا سائলি عن كتاب الله مجتهدًا
… وعن ترتيب ما يتلى من السور
وكيف جاء بها المختار من مضر
… صلى الإله على المختار من مضر
(১)ইবনুল হিসার ইঙ্গিত করেছেন যে, সূরাসমূহের বিন্যাস স্বয়ং নবী ﷺ এর মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে। এটি তাঁর কথার একটি স্পষ্ট নির্দেশনা যে, সূরাসমূহের বিন্যাস তাঁর (নবী ﷺ) পক্ষ থেকে ওহি দ্বারা নির্ধারিত (توقيفي)।
একাদশ মত: কতিপয় সমসাময়িক আলিমের বক্তব্যের সারসংক্ষেপ
অনেক সমসাময়িক আলিমও সূরাসমূহের বিন্যাস ওহি দ্বারা নির্ধারিত (توقيفي) হওয়ার মতটিকে প্রাধান্য দিয়েছেন। তাঁরা উদাহরণস্বরূপ নিম্নরূপ:
"তাফসির আল-ওয়াসিত-এ এসেছে: পবিত্র মুসহাফে সূরাসমূহের বিন্যাস মহান আল্লাহর নির্দেশ অনুযায়ী হয়েছে
(২)।
১ - তাফসির আল-ওয়াসিত প্রণেতা বলেন:
যে মতের প্রতি মন সায় দেয় তা হলো, সূরাসমূহের বিন্যাস ওহি দ্বারা নির্ধারিত (توقيفي), এবং প্রতিটি সূরার নিজস্ব বিষয়বস্তু রয়েছে যা আমরা এমনভাবে স্পষ্টভাবে দেখতে পাই যা তাকে অন্য সূরা থেকে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত করে
(৩)।
২ - ওয়াহবাহ বিন মুস্তফা আজ-জুহাইলি (মৃত্যু: ১৪৩৬ হিজরি) বলেন:
সূরাসমূহের আয়াতের বিন্যাস যে ওহি দ্বারা নির্ধারিত (توقيفي) এবং নবী ﷺ থেকে বর্ণিত ও প্রমাণিত, সে বিষয়ে আলিমদের মধ্যে কোনো মতভেদ নেই। তেমনিভাবে সূরাসমূহের বিন্যাসও অধিকতর সঠিক মত অনুযায়ী ওহি দ্বারা নির্ধারিত (توقيفي)
(৪)।
সমসাময়িকদের মধ্যে যারা এই মত পোষণ করেছেন তাঁদের মধ্যে মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ দারাজ এবং আহমদ শাকিরও রয়েছেন।
মুসহাফের বিন্যাস ওহি দ্বারা নির্ধারিত (توقيفي) হওয়ার পক্ষে তাদের পেশ করা উল্লেখযোগ্য দলিলসমূহ নিম্নরূপ:
১ - উসমানি মুসহাফে সূরাসমূহের বিন্যাসের ব্যাপারে সাহাবীগণের (রা.) ঐক্যমত (إجماع)।
কারণ, এই বিন্যাস যদি গবেষণালব্ধ (اجتهادي) হতো, তবে তাঁরা এ ব্যাপারে একমত হতেন না এবং তাঁরা নিজেদের কাছে থাকা ব্যক্তিগত মুসহাফগুলো আঁকড়ে ধরতেন, সেগুলো পুড়িয়ে ফেলার জন্য দিতেন না এবং তাঁরা 'মুসহাফুল ইমাম'-এর ওপর ঐক্যবদ্ধ হতেন না।
আর "উসমান বিন আফফান (রা.) সেই মুসহাফগুলো জ্বালিয়ে দিয়েছিলেন যেগুলোতে মতভেদ দেখা দিয়েছিল, এবং তাদের জন্য সেই বিন্যাসটি অবশিষ্ট রেখেছিলেন যার ওপর ঐকমত্য হয়েছিল, যেমনটি শেষ উপস্থাপনায় (العرضة الأخيرة) প্রমাণিত হয়েছে।"
(৫)সহিহ বুখারিতে আনাস বিন মালিক (রা.) থেকে প্রমাণিত হয়েছে যে, হুজাইফা ইবনুল ইয়ামান (রা.) উসমান (রা.) এর নিকট আসলেন। তিনি তখন ইরাকবাসীর সাথে আর্মেনিয়া ও আজারবাইজান বিজয়ের যুদ্ধে লিপ্ত ছিলেন। কিরাত বা পাঠরীতির ভিন্নতা হুজাইফাকে শঙ্কিত করে তুলল। হুজাইফা উসমান (রা.) কে বললেন: হে আমিরুল মুমিনীন! এই উম্মতকে রক্ষা করুন, ইয়াহুদি ও নাসারাদের মতো কিতাব নিয়ে মতভেদে লিপ্ত হওয়ার আগেই। তখন উসমান (রা.) হাফসা (রা.) এর নিকট বার্তা পাঠালেন যে: 'আমাদের কাছে মূল পাণ্ডুলিপিগুলো পাঠিয়ে দিন যাতে আমরা সেগুলোকে মুসহাফগুলোতে নকল করতে পারি, এরপর সেগুলো আপনার নিকট ফেরত দেব।' হাফসা (রা.) সেগুলো উসমান (রা.) এর নিকট পাঠিয়ে দিলেন। তখন তিনি জায়েদ ইবনে সাবিত, আব্দুল্লাহ ইবনে জুবাইর, সাঈদ ইবনুল আস এবং আব্দুর রহমান ইবনে হারিস ইবনে হিশামকে নির্দেশ দিলেন এবং তাঁরা সেগুলো মুসহাফগুলোতে নকল করলেন। উসমান (রা.) তিন কুরাইশি ব্যক্তিকে বললেন: 'যদি তোমরা এবং জায়েদ ইবনে সাবিত কুরআনের কোনো শব্দের ব্যাপারে একমত হতে না পারো, তবে তা কুরাইশদের ভাষায় লেখো; কারণ কুরআন প্রাথমিকভাবে তাদের ভাষাতেই অবতীর্ণ হয়েছে।' তাঁরা তাই করলেন। যখন তাঁরা পাণ্ডুলিপিগুলো মুসহাফে নকল সম্পন্ন করলেন, তখন উসমান (রা.) মূল পাণ্ডুলিপিগুলো হাফসা (রা.) এর নিকট ফেরত দিলেন। তিনি প্রতিলিপিকৃত মুসহাফগুলোর একেকটি একেক অঞ্চলে পাঠিয়ে দিলেন এবং এ ছাড়া অন্য কোনো পাণ্ডুলিপি বা মুসহাফে থাকা কুরআন পুড়িয়ে ফেলার নির্দেশ দিলেন।
(৬)(৭)--------------------------------------------
(খণ্ড: ৬৭)
দালাইলুত তাওফীক লিআসাহি তারীক লিজামইস সিদ্দিক
(পৃষ্ঠা: ১২২)
قال علي بن أبي طالب رضي الله عنه:
" يا أيها الناس، لا تغلوا في عثمان، ولا تقولوا له إلا خيرًا في المصاحف وإحراق المصاحف، فو الله ما فعل الذي فعل في المصاحف إلا عن ملأ منا جميعًا ".
(1)وقول علي بن أبي طالب رضي الله عنه يدل على أنهم قد أجمعوا عليه إجماعًا سكوتيًا-رضي الله عنهم أجمعين-.
موقف ابن مسعود- رضي الله عنه:
قال ابن كثير-رحمه الله:
"روي عن عبدالله بن مسعود أنه غضب لما أخذ منه مصحفه فحرق، وتكلَّم في تقدُّم إسلامه على زيد بن ثابت الذي كتب المصاحف، فكتب إليه عثمان بن عفان- رضي الله عنه يدعوه إلى اتِّباع الصحابة فيما أجمعوا عليه من المصلحة في ذلك، وجمع الكلمة، وعدم الاختلاف، فأناب عبدالله بن مسعود، وأجاب إلى المتابعة، وترك المخالفة-رضي الله عنهم أجمعين-".
(2)وكذلك إجاب ابن مسعود- رضي الله عنه إلى المتابعة في تقديم مصحفه للحرق تعزز ما ذكرناه آنفًا من قول على بن أبي طالب- رضي الله عنه تقوى وتؤكد وتعزز القول بالإجماع السكوتي من جهة، وتقرر الإجماع الفعلي من جهة أخرى كذلك، فرضي الله عنهم أجمعين.
وفي ذلك يقول الزرقاني- (ت: 1367 هـ) في مناهله-وهو يستعرض أدلة القائلين بالتوقيف:
"إن ترتيب السور كلها توقيفي بتعليم الرسول- صلى الله عليه وسلم كترتيب الآيات وأنه لم توضع سورة في مكانها إلا بأمر منه صلى الله عليه وسلم. واستدل أصحاب هذا الرأي بأن الصحابة أجمعوا على المصحف الذي كتب في عهد عثمان ولم يخالف منهم أحد. وإجماعهم لا يتم إلا إذا كان الترتيب الذي أجمعوا عليه عن توقيف لأنه لو كان عن اجتهاد لتمسك أصحاب المصاحف المخالفة بمخالفتهم. لكنهم لم يتمسكوا بها بل عدلوا عنها وعن ترتيبهم وعدلوا عن مصاحفهم وأحرقوها ورجعوا إلى مصحف عثمان وترتيبه جميعا. ثم ساقوا روايات لمذهبهم كأدلة يستند إليها الإجماع".
(3)فلو سلمنا جدلاً أن ترتيب المصحف كان في أول أمره ترتيبًا اجتهاديًا لا توقيفيًا، لقلنا إن إجماع الأمة قد استقر على الترتيب المصحفي، حتى إن كُتب التفسير كلها على هذا الأمر لا نعلم منها أي مخالف عند السلف والخلف، لكن شذ عن ذلك ثلاثة نفر من المعاصرين، وسيأتي ذكرهم في المبحث القادم بإذن الله تعالى، فلا يجوز والحال كذلك خرق هذا العمل الذي أجمعت الأمة عليه، وإنما المعنى بذلك هو كتب التفسير، لأن أمر المصاحف لا يتجرأ أحدُ على مخالفته البتة إلا مما نادى بعض المستشرقين كما سيأتي بيانه.
2 - تحزيب الصحابة-رضي الله عنهم للقرآن
ومما استدلوا به كذلك على أن ترتيب السور توقيفي تحزيب القرآن وفي ذلك
يقول الحافظ ابن حجر (ت: 852 هـ) -رحمه الله تعالى:
"ومما يدل على أن ترتيب
--------------------------------------------
আলী ইবনে আবু তালিব (রা.) বলেছেন:
"হে লোকসকল, তোমরা উসমানের ব্যাপারে অতিরঞ্জন করো না। আর মাসহাফসমূহ (কুরআনের প্রতিলিপি) এবং সেগুলো পুড়িয়ে ফেলার ব্যাপারে তাঁকে নিয়ে কল্যাণকর কথা ব্যতীত কিছু বলো না। আল্লাহর কসম! তিনি মাসহাফসমূহের ব্যাপারে যা কিছু করেছেন, তা আমাদের সকলের উপস্থিতিতে পরামর্শক্রমেই করেছেন।"
(1)আলী ইবনে আবু তালিব (রা.)-এর এই উক্তিটি প্রমাণ করে যে, তাঁরা এ বিষয়ে একটি মৌন ঐক্যমত (إجماع سكوتي) পোষণ করেছিলেন—তাঁদের সকলের প্রতি আল্লাহ সন্তুষ্ট হোন।
ইবনে মাসউদ (রা.)-এর অবস্থান:
ইবনে কাসীর (রহ.) বলেছেন:
"আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, যখন তাঁর থেকে তাঁর মাসহাফটি নিয়ে নেওয়া হলো এবং পুড়িয়ে ফেলা হলো, তখন তিনি রাগান্বিত হয়েছিলেন। আর মাসহাফ সংকলনকারী যায়িদ ইবনে সাবিত (রা.)-এর তুলনায় তাঁর ইসলাম গ্রহণের অগ্রগামিতা নিয়ে কথা বলেছিলেন। তখন উসমান ইবনে আফফান (রা.) তাঁর কাছে চিঠি লিখে তাঁকে সেই মাসলাহাত বা জনকল্যাণের স্বার্থে সাহাবায়ে কিরাম যে বিষয়ে ঐক্যমত (إجماع) পোষণ করেছেন, তার অনুসরণ করার এবং ঐক্যবদ্ধ থাকার ও বিভেদ পরিহার করার আহ্বান জানালেন। ফলে আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) পুনরায় তাঁর সিদ্ধান্তে ফিরে আসলেন এবং আনুগত্যের ডাকে সাড়া দিলেন ও বিরোধিতা বর্জন করলেন—তাঁদের সকলের প্রতি আল্লাহ সন্তুষ্ট হোন।"
(2)অনুরূপভাবে ইবনে মাসউদ (রা.)-এর পক্ষ থেকে তাঁর মাসহাফটি পুড়িয়ে ফেলার জন্য প্রদানের মাধ্যমে আনুগত্য প্রকাশ করা আলী ইবনে আবু তালিব (রা.)-এর ইতিপূর্বে বর্ণিত বক্তব্যকে আরও শক্তিশালী করে। এটি একদিকে যেমন মৌন ঐক্যমত (إجماع سكوتي)-এর দাবিকে জোরালো করে, তেমনি অন্যদিকে কর্মগত ঐক্যমত (إجماع فعلي)-কেও সুপ্রতিষ্ঠিত করে। তাঁদের সকলের প্রতি আল্লাহ সন্তুষ্ট হোন।
এ প্রসঙ্গে আল-যারকানি (মৃ: ১৩৬৭ হি.) তাঁর 'মানাহিল' গ্রন্থে বলেন—যেখানে তিনি 'তাওকিফি' বা ওহী দ্বারা নির্ধারিত (توقيفي) হওয়ার মতাবলম্বীদের দলিলসমূহ পর্যালোচনা করছিলেন:
"নিশ্চয়ই সমস্ত সূরার বিন্যাস রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর নির্দেশনায় ওহী দ্বারা নির্ধারিত (توقيفي), ঠিক যেভাবে আয়াতের বিন্যাস নির্ধারিত। তাঁর নির্দেশ ব্যতীত কোনো সূরাকে তার নির্দিষ্ট স্থানে রাখা হয়নি। এই মতের প্রবক্তারা দলিল পেশ করেন যে, সাহাবায়ে কিরাম উসমান (রা.)-এর যুগে সংকলিত মাসহাফের ওপর ঐক্যমত (إجماع) পোষণ করেছিলেন এবং তাঁদের কেউ এর বিরোধিতা করেননি। আর তাঁদের এই ঐক্যমত (إجماع) ততক্ষণ সম্পন্ন হতো না যতক্ষণ না এই বিন্যাসটি ওহী দ্বারা নির্ধারিত (توقيفي) হতো। কারণ এটি যদি গবেষণাপ্রসূত (اجتهاد) হতো, তবে ভিন্ন বিন্যাসের মাসহাফ যারা রাখতেন তারা নিজেদের বিরোধিতায় অটল থাকতেন। কিন্তু তাঁরা তা করেননি, বরং নিজেদের অবস্থান ও পূর্বের বিন্যাস ত্যাগ করেছেন এবং নিজেদের মাসহাফসমূহ পুড়িয়ে ফেলে সকলে উসমানের মাসহাফ ও তার বিন্যাসের দিকে প্রত্যাবর্তন করেছেন। এরপর তাঁরা তাঁদের এই মতের সপক্ষে এমন কিছু বর্ণনা পেশ করেছেন যা এই ঐক্যমতের (إجماع) ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।"
(3)যদি আমরা তর্কের খাতিরে মেনেও নেই যে, মাসহাফের বিন্যাস শুরুতে ওহী দ্বারা নির্ধারিত (توقيفي) না হয়ে বরং গবেষণাপ্রসূত (اجتهاد) ছিল, তবুও আমরা বলব যে, উম্মতের ঐক্যমত (إجماع) এই মাসহাফী বিন্যাসের ওপরই স্থির হয়েছে। এমনকি তাফসিরের সমস্ত কিতাব এই নিয়মেই রচিত হয়েছে এবং সালাফ ও খালাফদের মধ্যে এর কোনো ব্যতিক্রম আমাদের জানা নেই। তবে বর্তমান সময়ের তিন জন ব্যক্তি এ ব্যাপারে বিচ্ছিন্ন মত (شذوذ) পোষণ করেছেন, যাদের কথা পরবর্তী পরিচ্ছেদে ইনশাআল্লাহ আলোচনা করা হবে। এমতাবস্থায় উম্মত যে বিষয়ের ওপর ঐক্যমত (إجماع) পোষণ করেছে তা লঙ্ঘন করা বৈধ নয়। আর এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো তাফসিরের কিতাবসমূহ; কারণ মাসহাফের বিন্যাসের বিরোধিতা করার দুঃসাহস অন্তত কেউ করে না, কেবল কয়েকজন প্রাচ্যবিশারদের আহ্বান ব্যতীত, যা সামনে স্পষ্ট করা হবে।
2 - সাহাবায়ে কিরাম (রা.) কর্তৃক কুরআনকে বিভিন্ন অংশে বিভক্ত করা (تحزيب)
সূরার বিন্যাস ওহী দ্বারা নির্ধারিত (توقيفي) হওয়ার সপক্ষে তাঁরা কুরআনকে হিযব বা অংশে বিভক্ত করাকেও দলিল হিসেবে গ্রহণ করেছেন। এ প্রসঙ্গে হাফিজ ইবনে হাজার (মৃ: ৮৫২ হি.) (রহ.) বলেন:
"আর যা কিছু এই বিন্যাসের প্রমাণ দেয়...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ৬৭)
দালাইলুত তাওফীক লিআসাহি তারীক লিজামইস সিদ্দিক
(পৃষ্ঠা: ১২৩)
المصحف كان توقيفيًّا ما أخرجه أحمد وأبو داود وغيرهما عن أوس بن أبي أوس حذيفة الثقفي قال: كنت في الوفد الذين أسلموا من ثقيف
… وفيه
… فسألنا أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم قلنا: كيف تحزبون القرآن؟ قالوا: نحزبه ثلاث سور، وخمس سور، وسبع سور، وتسع سور، وإحدى عشرة، وثلاث عشرة، وحزب المفصل من "ق" حتى نختم". ثم قال ابن حجر: "فهذا يدل على أن ترتيب السور على ما هو في المصحف الآن كان في عهد النبي- صلى الله عليه وسلم ".
(1)وهذا أيضًا دليل واضح جلي ذكره الحافظ في الفتح واستدل به على أن ترتيب السور على ما هو عليه في المصحف الأن كان كذلك في عهد تنزله الأول على عهد النبي صلى الله عليه وسلم.
3 - النظم الترتيبي لبعض السور المتشابهة في مفتتحها، وفي ذلك يقول السيوطي -رحمه الله تعالى-:
"ومما يدل على أنه توقيفي كون الحواميم رتبت وَلاءً "يعني متوالية" وكذا الطواسين، ولم ترتب المسبحات وَلاءً، بل فصل بين سورها وفصل بين "طسم" الشعراء و"طسم" القصص بـ "طس" مع أنها أقصر منهما، ولو كان الترتيب اجتهادًا لذكرت المسبحات وَلاءً، وأخرت "طس" عن القصص".
(2) وقد مر ذكره عند عرض أقوال القائلين بتوقيف ترتيب السور.
وهذا الترتيب الدقيق الذي ذكره السيوطي للسور المتشابهات في مفتتحها ومطلعها وصفة ترتيبها وتتابعها بتك الدقة المتناهية من سور "آل حميم" وسور "آل طسم"، إذ إن سور "آل حم" السبع رتبت ترتيبًا متواليًا وكذلك سور "آل طسم" الثلاث، وأما سور المسبحات السبع فرغم تشابه مفتتحها فإنها لم تأت متوالية. وقوله: (وأخرت طس) يعني النمل المفتتحة بـ (طس) فقد أخرت عن القصص فجاءت بعدها، وقد وقعت بين سورتي الشعراء والقصص المتشابهتين في الافتتاح بـ (طسم)، فدلل بذلك على أن ترتيب السور توقيفي بلا شك، وهذا استدلال من السيوطي له قوته ووجاهته وحجيته.
وسور الحواميم هي: سور ذَوات "آل حم".
وسور الطواسين أو الطواسيم هي: السور ذَوات "آل طسم ". وقد جُمِعَتْ على غيرِ قِياس.
أما سور "آل حم": فهي سور "آل حم" السبع التي افتتحت بـ"حم" وهي سور:
1 - غافر
2 - فصلت
3 - الشورى
4 - الزخرف
5 - الدخان
6 - الجاثية
7 - الأحقاف.
قال الكميت بن يزيد
(3):
وجدنا لكم في آل حاميم آية
… تأوّلها منّا تقيّ ومعرب
(4)وهي على الترتيب المصحفي على النحو التالي:
الأولى: (حم (1) تَنْزِيلُ الْكِتابِ مِنَ اللَّهِ الْعَزِيزِ الْعَلِيمِ (2)) [غافر].
الثانية: (حم (1) تَنْزِيلٌ مِنَ الرَّحْمنِ الرَّحِيمِ (2)) [فصلت].
الثالثة: (حم (1) عسق (2)) [الشورى].
--------------------------------------------
মুসহাফের বিন্যাস আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত (توقيفي) ছিল; ইমাম আহমদ, আবু দাউদ এবং অন্যান্যরা আওস বিন আবি আওস হুজাইফা আস-সাকাফি থেকে বর্ণনা করেছেন (أخرجه), তিনি বলেন: "আমি সাকিফ গোত্রের সেই প্রতিনিধি দলের সাথে ছিলাম যারা ইসলাম গ্রহণ করেছিল
… সেখানে আছে
… আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীদের জিজ্ঞাসা করলাম: আপনারা কীভাবে কুরআনকে বিভিন্ন ভাগে বিভক্ত করেন? তাঁরা বললেন: আমরা একে তিন সূরা, পাঁচ সূরা, সাত সূরা, নয় সূরা, এগারো সূরা, তেরো সূরা এবং 'কাফ' থেকে শেষ পর্যন্ত মুফাসসাল (المفصل) অংশে বিভক্ত করি।" এরপর ইবনে হাজার বলেন: "এটি প্রমাণ করে যে, বর্তমানে মুসহাফে সূরার যে বিন্যাস রয়েছে, তা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগেই বিদ্যমান ছিল।"
(১)এটিও একটি অত্যন্ত সুস্পষ্ট ও উজ্জ্বল দলিল যা হাফেজ ইবনে হাজার ফাতহুল বারীতে উল্লেখ করেছেন এবং এর মাধ্যমে প্রমাণ পেশ করেছেন যে, বর্তমানে মুসহাফে সূরার যে বিন্যাস বিদ্যমান, তা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে ওহী নাজিল হওয়ার প্রাথমিক সময়েও তেমনই ছিল।
৩ - কয়েকটি সূরার শুরুর দিকের মিল অনুযায়ী ক্রমানুসারিক বিন্যাস; এ প্রসঙ্গে সুয়ূতী —আল্লাহ তায়ালা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন— বলেন:
"সূরার বিন্যাস যে আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত (توقيفي), তার একটি প্রমাণ হলো 'হাওয়ামিম' সূরাগুলোকে ধারাবাহিকভাবে সাজানো হয়েছে, একইভাবে 'তাওয়াসিন' সূরাগুলোকেও। কিন্তু 'মুসাব্বিহাত' সূরাগুলোকে ধারাবাহিকভাবে সাজানো হয়নি, বরং সেগুলোর মাঝে অন্য সূরা দিয়ে ব্যবধান করা হয়েছে। আবার সূরা শুয়ারা-এর 'তা-সীন-মীম' এবং সূরা কাসাস-এর 'তা-সীন-মীম'-এর মাঝে সূরা নামল-এর 'তা-সীন' দ্বারা ব্যবধান করা হয়েছে, যদিও এটি ওই দুই সূরার চেয়ে ছোট। যদি এই বিন্যাস গবেষণালব্ধ (اجتهاد) হতো, তবে 'মুসাব্বিহাত' সূরাগুলো ধারাবাহিকভাবে সাজানো হতো এবং 'তা-সীন'-কে সূরা কাসাস-এর পরে আনা হতো।"
(২) যারা সূরার বিন্যাস আল্লাহর নির্ধারিত বলে মত পোষণ করেন, তাদের মত উপস্থাপনের সময় ইতিপূর্বে এটি উল্লেখ করা হয়েছে।
সূরার শুরু ও প্রারম্ভের মিল এবং সেগুলোর অত্যন্ত সূক্ষ্ম বিন্যাস ও ধারাবাহিকতার যে বিবরণ সুয়ূতী উল্লেখ করেছেন—যেমন 'আলে হা-মীম' এবং 'আলে তা-সীন-মীম' সূরাসমূহ। সাতটি 'আলে হা-মীম' সূরা ধারাবাহিকভাবে সাজানো হয়েছে এবং তিনটি 'আলে তা-সীন-মীম' সূরাও একইভাবে বিন্যস্ত। কিন্তু সাতটি 'মুসাব্বিহাত' সূরার শুরুর দিকে মিল থাকা সত্ত্বেও সেগুলো ধারাবাহিকভাবে আসেনি। তাঁর উক্তি: "(এবং 'তা-সীন'-কে পরে আনা হয়েছে)" অর্থাৎ সূরা নামল যা 'তা-সীন' দিয়ে শুরু হয়েছে, তাকে সূরা কাসাস-এর পরে আনা হয়েছে এবং এটি সূরা শুয়ারা ও সূরা কাসাস—যে দুটিই 'তা-সীন-মীম' দিয়ে শুরু—এই দুটির মাঝখানে রাখা হয়েছে। এর মাধ্যমে তিনি প্রমাণ করেছেন যে, সূরার বিন্যাস নিঃসন্দেহে আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত (توقيفي); এটি সুয়ূতীর একটি শক্তিশালী, যুক্তিযুক্ত ও প্রামাণিকতা (حجية) সম্পন্ন দলিল।
'হাওয়ামিম' সূরাগুলো হলো: সেই সূরাগুলো যেগুলোর শুরুতে 'আলে হা-মীম' রয়েছে।
'তাওয়াসিন' বা 'তাওয়াসিম' সূরাগুলো হলো: সেই সূরাগুলো যেগুলোর শুরুতে 'আলে তা-সীন-মীম' রয়েছে। এগুলোর বহুবচন ব্যাকরণগত নিয়মের বাইরে করা হয়েছে।
আর 'আলে হা-মীম' বলতে সেই সাতটি সূরাকে বোঝায় যা 'হা-মীম' দিয়ে শুরু হয়েছে, সেগুলো হলো:
১ - গাফির
২ - ফুসসিলাত
৩ - আশ-শূরা
৪ - আজ-জুখরুফ
৫ - আদ-দুখান
৬ - আল-জাসিয়া
৭ - আল-আহকাফ।
কুমাইত বিন যাইদ
(৩) বলেছেন:
আমরা আপনাদের জন্য 'আলে হা-মীম'-এর মাঝে এমন আয়াত পেয়েছি
… যার ব্যাখ্যা (تأويل) আমাদের মধ্যকার মুত্তাকি ও বিশদ বর্ণনাকারীরা করেছেন।
(৪)মুসহাফের বিন্যাস অনুযায়ী সেগুলো নিম্নরূপ:
প্রথমটি: (হা-মীম। কিতাব নাজিল হয়েছে পরাক্রমশালী, সর্বজ্ঞ আল্লাহর পক্ষ থেকে।) [গাফির]।
দ্বিতীয়টি: (হা-মীম। পরম করুণাময়, অসীম দয়ালুর পক্ষ থেকে নাজিলকৃত।) [ফুসসিলাত]।
তৃতীয়টি: (হা-মীম। আইন-সীন-কাফ।) [আশ-শূরা]।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ৬৭)
দালাইলুত তাওফীক লিআসাহি তারীক লিজামইস সিদ্দিক
(পৃষ্ঠা: ১২৪)
الرابعة: (حم (1) وَالْكِتابِ الْمُبِينِ (2)) [الزخرف].
الخامسة: (حم (1) وَالْكِتابِ الْمُبِينِ (2)) [الدخان].
السادسة: (حم (1) تَنْزِيلُ الْكِتابِ مِنَ اللَّهِ الْعَزِيزِ الْحَكِيمِ (2)) [الجاثية].
السابعة: (حم (1) تَنْزِيلُ الْكِتابِ مِنَ اللَّهِ الْعَزِيزِ الْحَكِيمِ (2)) [الأحقاف]
"وقد تجعل "حم" اسمًا للسورة ويدخل الإعراب ولا يصرف".
(1)وأما سور "آل طسم": فهي السور المفتتحة بـ (طسم) أو (طس)، وهي ثلاث سور:
1 - الشعراء
2 - والنمل
3 - والقصص.
وهي على الترتيب المصحفي على النحو التالي:
الأولى: (طسم (1) تِلْكَ آياتُ الْكِتابِ الْمُبِينِ) [الشعراء].
الثانية: (طس تِلْكَ آياتُ الْقُرْآنِ وَكِتابٍ مُبِينٍ) (1) هُدىً وَبُشْرى لِلْمُؤْمِنِينَ (2)) [النمل].
الثالثة: (طسم (1) تِلْكَ آياتُ الْكِتابِ الْمُبِينِ (2)) [القصص].
أنشد أبو عبيدة:
وبالطّواسيم الّتي قد ثلّثت
… وبالحواميم الّتي قد سبّعت
(2)وهو يعني بقوله: " قد ثلّثت" أنها ثلاث سور، وبقوله: " قد سبّعت "أنها سبع سور.
وأما المسبحات فهي السور المفتتحة بالتسبيح، وهي سبع سور:
1 - الإسراء.
2 - الحديد.
3 - الحشر.
4 - الصف.
5 - الجمعة.
6 - التغابن.
7 - الأعلى.
وهي على الترتيب المصحفي على النحو التالي:
الأولى: (سُبْحانَ الَّذِي أَسْرى بِعَبْدِهِ لَيْلًا مِنَ الْمَسْجِدِ الْحَرامِ إِلَى الْمَسْجِدِ الْأَقْصَى الَّذِي بارَكْنا حَوْلَهُ) (1) [الإسراء].
الثانية: (سَبَّحَ لِلَّهِ ما فِي السَّماواتِ وَالْأَرْضِ وَهُوَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ) (1) [الحديد].
الثالثة: (سَبَّحَ لِلَّهِ ما فِي السَّماواتِ وَما فِي الْأَرْضِ وَهُوَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ) (1) [الحشر].
الرابعة: (سَبَّحَ لِلَّهِ ما فِي السَّماواتِ وَما فِي الْأَرْضِ وَهُوَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ) (1) [الصف].
الخامسة: (يُسَبِّحُ لِلَّهِ ما فِي السَّماواتِ وَما فِي الْأَرْضِ الْمَلِكِ الْقُدُّوسِ الْعَزِيزِ الْحَكِيمِ) (1) [الجمعة].
السادسة: (يُسَبِّحُ لِلَّهِ ما فِي السَّماواتِ وَما فِي الْأَرْضِ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ) (1) [التغابن].
السابعة: (سَبِّحِ اسْمَ رَبِّكَ الْأَعْلَى) (1) [الأعلى].
وبعد بيان استعراض أقوال وأدلة القائلين بالقول بأن ترتيب السور توقيفي والحكم عليها يتبين لنا ما يلي:
--------------------------------------------
চতুর্থ: (হা-মীম (১) শপথ সুস্পষ্ট কিতাবের (২)) [আয-যুখরুফ]।
পঞ্চম: (হা-মীম (১) শপথ সুস্পষ্ট কিতাবের (২)) [আদ-দুখান]।
ষষ্ঠ: (হা-মীম (১) এই কিতাবের অবতীর্ণকরণ পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময় আল্লাহর পক্ষ থেকে (২)) [আল-জাসিয়াহ]।
সপ্তম: (হা-মীম (১) এই কিতাবের অবতীর্ণকরণ পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময় আল্লাহর পক্ষ থেকে (২)) [আল-আহকাফ]
"কখনও কখনও 'হা-মীম'-কে সূরার নাম হিসেবে নির্ধারণ করা হয়, ফলে তা শব্দরূপ পরিবর্তনের (الإعراب) অন্তর্ভুক্ত হয় এবং এটি রূপান্তরহীন (لا يصرف) থাকে।"
(১)আর 'আলে তসিম' (آل طسم) সূরাসমূহ: এগুলো হচ্ছে সেই সূরা যা 'ত-সীন-মীম' (طسم) বা 'ত-সীন' (طس) দ্বারা শুরু হয়েছে। এগুলো তিনটি সূরা:
১ - আশ-শুআরা
২ - আন-নামল
৩ - আল-কাসাস।
মুসহাফের ক্রমধারা অনুযায়ী সেগুলো নিম্নরূপ:
প্রথম: (ত-সীন-মীম (১) এগুলো সুস্পষ্ট কিতাবের আয়াত) [আশ-শুআরা]।
দ্বিতীয়: (ত-সীন, এগুলো কুরআনের এবং সুস্পষ্ট কিতাবের আয়াত (১) মুমিনদের জন্য পথনির্দেশ ও সুসংবাদ (২)) [আন-নামল]।
তৃতীয়: (ত-সীন-মীম (১) এগুলো সুস্পষ্ট কিতাবের আয়াত (২)) [আল-কাসাস]।
আবু উবাইদাহ আবৃত্তি করেছেন:
শপথ সেই ত-সীনগুলোর (الطواسيم) যা তিনবার এসেছে... এবং সেই হা-মীমগুলোর (الحواميم) যা সাতবার এসেছে
(২)তিনি "তিনবার এসেছে" বলতে বুঝিয়েছেন যে সেগুলো তিনটি সূরা, আর "সাতবার এসেছে" বলতে বুঝিয়েছেন যে সেগুলো সাতটি সূরা।
আর 'মুসাব্বিহাত' (المسبحات) হলো সেই সব সূরা যা আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণার (তাসবীহ) মাধ্যমে শুরু হয়েছে। এগুলো সাতটি সূরা:
১ - আল-ইসরা।
২ - আল-হাদীদ।
৩ - আল-হাশর।
৪ - আস-সাফ।
৫ - আল-জুমুআহ।
৬ - আত-তাগাবুন।
৭ - আল-আলা।
মুসহাফের ক্রমধারা অনুযায়ী সেগুলো নিম্নরূপ:
প্রথম: (পবিত্র ও মহিমান্বিত তিনি, যিনি তাঁর বান্দাকে রাতে মসজিদে হারাম থেকে মসজিদে আকসা ভ্রমণ করিয়েছিলেন, যার চারপাশকে আমি বরকতময় করেছি) (১) [আল-ইসরা]।
দ্বিতীয়: (আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীতে যা কিছু আছে সবই আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করে এবং তিনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়) (১) [আল-হাদীদ]।
তৃতীয়: (আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীতে যা কিছু আছে সবই আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করে এবং তিনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়) (১) [আল-হাশর]।
চতুর্থ: (আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীতে যা কিছু আছে সবই আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করে এবং তিনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়) (১) [আস-সাফ]।
পঞ্চম: (আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীতে যা কিছু আছে সবই আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করে; যিনি সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী, অতি পবিত্র, পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়) (১) [আল-জুমুআহ]।
ষষ্ঠ: (আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীতে যা কিছু আছে সবই আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করে; সার্বভৌম ক্ষমতা তাঁরই এবং সকল প্রশংসা তাঁরই, আর তিনি সব কিছুর ওপর পূর্ণ ক্ষমতাবান) (১) [আত-তাগাবুন]।
সপ্তম: (আপনি আপনার মহান রবের নামের পবিত্রতা ঘোষণা করুন) (১) [আল-আলা]।
সূরার ক্রমবিন্যাস তাওকীফী (توقيفي) (অর্থাৎ যা ওহীর মাধ্যমে নির্ধারিত) হওয়ার প্রবক্তাদের উক্তি ও প্রমাণাদি পর্যালোচনা এবং সেগুলোর ওপর বিধান প্রদানের পর আমাদের কাছে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো স্পষ্ট হয়:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ৬৭)
দালাইলুত তাওফীক লিআসাহি তারীক লিজামইস সিদ্দিক
(পৃষ্ঠা: ১২৫)
أولًا: قوة أدلتهم وحجيتها ووجاهتها ورجحانها
ثانيًا: أن ترتيب السور المصحفي الذي استقر عليه المصحف الإمام هو الموافق لما هو مثبت في اللوح المحفوظ بلا شك وهو الذي أجمع عليه الصحابة رضي الله عنهم وتلقته الأمة بالقبول وعليه يجب التمسك والاعتصام والعمل به وعدم الحيد عنه سواء كان هذا الترتيب ترتيبًا توقيفيًا أم ترتيبًا اجتهاديًا، مع رد الدعوات المغرضة المنادية بإعادة ترتيب المصحف ترتيبًا نزوليًا أو ترتيبًا موضوعيًا ورد أي دعوة مماثلة لتك الدعاوي الباطلة الهابطة كتلك الدعاوي التي صدرت من بعض المستشرقين الذين سيأتي ذكرهم ومن تأثر بهم وتابعهم ونادى بفكرتهم من بعض المعاصرين كذلك.
المبحث الرابع: بداية مخالفة ومعارضة الترتيب المصحفي بالترتيب النزولي وبيان مصدرهلقد تَعرَّضَ لهذا الترتيب فئة من المستشرقين ولا غرابة في ذلك فهذا شأنهم وديدنهم، ولكن عندما يتعرض لهذا الترتيب فئة من بني جلدتنا وممن ينتمون لقبلتنا فمن هنا يأتي التعجب!.
فقد أحدث ثلاثة نفر خرقًا لهذا الإجمال، فصنفوا تفاسيرهم على الترتيب النزولي، تاركين الترتيب المصحفي الذي عليه عمل السلف واستقر عليه إجماع الأمة.
أما التفاسير الثلاثة فهي:
1 - تفسير بيان المعاني: وهو "تفسير كتاب الله الحكيم حسب النزول لـ" عبد القادر ملا حُوَيِّش" (ت: 1398 هـ)
(1).
2 - التفسير الحديث: لـ" محمد عزة دروزة " (ت: 1404 هـ)
(2).
3 - كتاب "معارج التفكر ودقائق التدبر" لـ" عبد الرحمن حبنكة الميداني" (ت: 1425 هـ).
(3).
أما الشيخ "عبد القادر ملا حُوَيِّش "، والأستاذ "محمد عزة دروزة"، وهما (معاصريين) قد أقرا بأن ترتيب السور في المصحف توقيفي ولا يجوز مخالفة هذا الترتيب، لأنه كان بوحي من الله إلى جبريل إلى رسول الله-صلى الله عليه وسلم ".
(4)ومع ذلك فقد خالفا الترتيب التوقيفي في تفسيريهما، وقد احتجا بأن طريقة تناول التفسير تختلف عن الترتيب المصحفي، وقد قدما أعذارًا لا تقوم بها حجة ولا تضح بها محجة.
ولم يتعرض الباحث هنا لتلك الحجج الواهية ومناقشتها والرد عليها لضعفها ووهنها من جهة وطولها كذلك، ولكونهم لم يقدموا أي أدلة مقنعة يمكن أن تنهض للاحتجاج من جهة أخرى، وقد ناقشها الباحث مع مدارسة التفاسير الثلاثة في بحث خاص.
(5)وقد أملى كل من " حُوَيِّش " و"دروزة" تفسيرًا معاصرًا قد رتبه كل منهما ترتيبًا نزوليًا لا
--------------------------------------------
প্রথমত: তাদের দলিলের শক্তি, প্রামাণিকতা, গ্রহণযোগ্যতা এবং শ্রেষ্ঠত্ব।
দ্বিতীয়ত: মুসহাফে সূরার যে বিন্যাস 'মুসহাফে ইমাম'-এর মাধ্যমে স্থির হয়েছে, তা নিঃসন্দেহে 'লাওহে মাহফুজে' সংরক্ষিত বিন্যাসের অনুরূপ। সাহাবায়ে কেরাম (রা.) এর ওপর ঐক্যবদ্ধ (إجماع) হয়েছেন এবং উম্মত একে গ্রহণযোগ্যতার সাথে গ্রহণ করে নিয়েছে। অতএব, এই বিন্যাস আঁকড়ে ধরা এবং এর ওপর আমল করা ওয়াজিব এবং তা থেকে বিচ্যুত হওয়া জায়েজ নয়; চাই এই বিন্যাস প্রত্যাদেশলব্ধ (توقيفي) হোক বা ইজতিহাদলব্ধ (اجتهادي) হোক। সেই সাথে কুরআনকে অবতীর্ণ হওয়ার ক্রমানুসারে (نزولي) বা বিষয়ভিত্তিক ক্রমানুসারে সাজানোর হীন উদ্দেশ্যে উত্থাপিত আহ্বানসমূহ এবং প্রাচ্যবিদ ও তাদের দ্বারা প্রভাবিত সমসাময়িকদের অনুরূপ বাতিল ও নিকৃষ্ট দাবিগুলোকে প্রত্যাখ্যান করতে হবে।
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: মুসহাফের বিন্যাসের বিপরীতে অবতীর্ণ হওয়ার ক্রমানুসারে (نزولي) বিন্যাস করার সূচনা এবং এর উৎসের বর্ণনাএকদল প্রাচ্যবিদ এই বিন্যাস নিয়ে আপত্তি তুলেছেন এবং এতে কোনো বিস্ময় নেই, কারণ এটাই তাদের কাজ এবং চিরচেনা স্বভাব। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো যখন আমাদের মধ্য থেকে কেউ অথবা আমাদের কিবলার অনুসারী বলে পরিচয় দেয় এমন কেউ এই বিন্যাসের বিরোধিতা করে।
তিনজন ব্যক্তি এই সর্বসম্মত সিদ্ধান্তের (إجماع) পরিপন্থী কাজ করেছেন। তারা তাদের তাফসির গ্রন্থসমূহ অবতীর্ণ হওয়ার ক্রমানুসারে (نزولي) সংকলন করেছেন এবং মুসহাফের বিন্যাস বর্জন করেছেন, যার ওপর সালাফগণ আমল করেছেন এবং উম্মতের ঐক্যবদ্ধ (إجماع) সিদ্ধান্ত স্থির হয়েছে।
সেই তিনটি তাফসির হলো:
১ - তাফসিরে বয়ানুল মা'আনি: এটি আব্দুল কাদির মোল্লা হুওয়াইশ (মৃত্যু: ১৩৯৮ হি.) রচিত 'তাফসিরে কিতাবিল্লাহিল হাকিম হাসাবান নুযুল'।
(১)২ - আত-তাফসিরুল হাদিস: মুহাম্মদ ইজ্জাহ দারওয়াযা (মৃত্যু: ১৪০৪ হি.) রচিত।
(২)৩ - আব্দুর রহমান হাবান্নাকা আল-মাইদানি (মৃত্যু: ১৪২৫ হি.) রচিত 'মাআরিজুত তাফাক্কুর ওয়া দাকাইকুত তাদাব্বুর' নামক গ্রন্থ।
(৩)শেখ আব্দুল কাদির মোল্লা হুওয়াইশ এবং উস্তাদ মুহাম্মদ ইজ্জাহ দারওয়াযা—যারা উভয়েই সমসাময়িক—স্বীকার করেছেন যে, মুসহাফে সূরাগুলোর বিন্যাস প্রত্যাদেশলব্ধ (توقيفي) এবং এর বিরোধিতা করা বৈধ নয়; কারণ এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে জিবরাঈল (আ.)-এর মাধ্যমে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রতি ওহী হিসেবে এসেছিল।
(৪)তা সত্ত্বেও, তারা তাদের তাফসিরদ্বয়ে এই প্রত্যাদেশলব্ধ (توقيفي) বিন্যাসের বিরোধিতা করেছেন। তারা যুক্তি দেখিয়েছেন যে, তাফসির রচনার পদ্ধতি মুসহাফের বিন্যাস থেকে ভিন্ন হতে পারে। তারা এমন কিছু অজুহাত পেশ করেছেন যা কোনো দলিল হতে পারে না এবং যার মাধ্যমে সঠিক পথ স্পষ্ট হয় না।
গবেষক এখানে সেই অসার যুক্তিগুলো নিয়ে আলোচনা বা সেগুলোর খণ্ডন করেননি; একদিকে সেগুলোর দুর্বলতা ও অসারতার কারণে এবং তা দীর্ঘ হওয়ার কারণে, আর অন্যদিকে তারা এমন কোনো সন্তোষজনক দলিল উপস্থাপন করতে পারেননি যা প্রমাণের জন্য যথেষ্ট হতে পারে। গবেষক একটি স্বতন্ত্র গবেষণায় এই তিনটি তাফসির পর্যালোচনার সময় এ নিয়ে আলোচনা করেছেন।
(৫)হুওয়াইশ এবং দারওয়াযা উভয়েই একটি আধুনিক তাফসির লিপিবদ্ধ করেছেন, যেখানে তারা উভয়েই সূরার ক্রমকে অবতীর্ণ হওয়ার ক্রমানুসারে (نزولي) সাজিয়েছেন...
--------------------------------------------